(খণ্ড: ১) তাবয়ীনু কাযিবিল মুফতারী ফীমা নুসিবা ইলাল আশআরী (পৃষ্ঠা: -)
تبيين كذب المفتري فيما نسب إلى الأشعري   (أبو القاسم ابن عساكر)

القسم: الفرق والردود


الكتاب: تبيين كذب المفتري فيما نسب إلى الإمام أبي الحسن الأشعري

المؤلف: ثقة الدين، أبو القاسم علي بن الحسن بن هبة الله المعروف بابن عساكر (ت 571هـ)

الناشر: دار الكتاب العربي - بيروت

الطبعة: الثالثة، 1404

عدد الصفحات: 432

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইমাম আশআরীর প্রতি যা আরোপ করা হয়েছে সে বিষয়ে মিথ্যাবাদীর মিথ্যার স্বরূপ উন্মোচন   (আবুল কাসিম ইবনে আসাকির)

বিভাগ: সম্প্রদায় ও খণ্ডনতত্ত্ব


গ্রন্থ: ইমাম আবুল হাসান আল-আশআরীর প্রতি যা নিসবত করা হয়েছে সে বিষয়ে মিথ্যা আরোপকারীর মিথ্যা বর্ণনা

লেখক: সিকাতুদ্দীন, আবুল কাসিম আলী ইবনুল হাসান ইবনে হিবাতুল্লাহ, যিনি ইবনে আসাকির নামে পরিচিত (মৃত্যু ৫৭১ হিজরি)

প্রকাশক: দারুল কিতাব আল-আরাবি - বৈরুত

সংস্করণ: তৃতীয়, ১৪০৪

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৩২

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) তাবয়ীনু কাযিবিল মুফতারী ফীমা নুসিবা ইলাল আশআরী (পৃষ্ঠা: ২৩)
رِوَايَة وَلَده الْحَافِظ أبي مُحَمَّد الْقَاسِم عَنهُ

رِوَايَة الشَّيْخ الْمسند المعمر نَاصح الدّين أبي الْغَيْث فرج بن عبد الله الحبشي مولى الإِمَام أبي جَعْفَر احْمَد بن عَليّ الْقُرْطُبِيّ

سَماع مِنْهُ لعبد الله بن يحيى بن أبي بكر بن يُوسُف الجزائري
তাঁর থেকে তাঁর পুত্র আল-হাফিজ আবু মুহাম্মদ আল-কাসিমের বর্ণনা

শায়খ, আল-মুসনিদ, দীর্ঘজীবী নাসিহ আদ-দীন আবু আল-গাইস ফারাজ বিন আব্দুল্লাহ আল-হাবাশি-এর বর্ণনা, যিনি ইমাম আবু জাফর আহমদ বিন আলী আল-কুরতুবির আযাদকৃত দাস ছিলেন

তাঁর নিকট থেকে আব্দুল্লাহ বিন ইয়াহইয়া বিন আবু বকর বিন ইউসুফ আল-জাজায়িরির শ্রবণ
(খণ্ড: ১) তাবয়ীনু কাযিবিল মুফতারী ফীমা নুসিবা ইলাল আশআরী (পৃষ্ঠা: ২৪)
بسم الله الرحمن الرحيم

الْحَمد لِلَّه الَّذِي منح أهل التَّحْقِيق فِي توحيده بصائر وأحلاما وَشرح صُدُورهمْ للتصديق بتمجيده تَوْفِيقًا مِنْهُ وإلهاما وَفتح أقفال قُلُوبهم للْإيمَان بِهِ بِالْغَيْبِ وَكَانَ لغيبها علاما وَمسح عَنْهَا بِلُطْفِهِ من الشَّك والارتياب فِي أمره أسقاما أَحْمَده على نعمه الَّتِي تظاهرت على خلقه عظاما وَمِنْه الَّتِي تَوَاتَرَتْ من أدوار رزقه جِسَامًا وَأشْهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله هُوَ إلهنا أحدا فَردا صمدا قدوسا سَلاما قاهرا قَادِرًا عَظِيما عليما خَبِيرا قَدِيرًا حَيا قيَاما وَأشْهد أَن مُحَمَّدًا عَبده وَرَسُوله الَّذِي محق بِهِ أوثانًا وأصنَامًا وأزهق ببعثته رَسُولا أنصابا وأزلاما وَغفر بِهِ لمن آمن بنبوته واقتدى بِشَرِيعَتِهِ آصارا وآثاما وَكفر عَمَّن صدقه فِي دَعوته إِيجَابا لشفاعته ذنوبا وإجراما صلى اللَّه عَلَيْهِ وعَلى آله وَصَحبه مَا أساغ طاعم طَعَاما واستعذب ظمآن شرابًا والتذ مسهد منَاما
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি স্বীয় তাওহীদের সত্যানুসন্ধিৎসুদের অন্তর্দৃষ্টি ও প্রজ্ঞা দান করেছেন এবং স্বীয় তৌফিক ও ইলহাম প্রদানের মাধ্যমে তাঁর মহিমা সত্যায়নের নিমিত্তে তাদের বক্ষসমূহ উন্মোচিত করেছেন। তিনি অদৃশ্যের প্রতি বিশ্বাস স্থাপনের জন্য তাদের হৃদয়ের তালাসমূহ উন্মুক্ত করে দিয়েছেন এবং তিনি তাদের অদৃশ্যের বিষয়ে সম্যক পরিজ্ঞাত। তিনি স্বীয় করুণায় তাদের অন্তর থেকে তাঁর কুদরত বিষয়ক যাবতীয় সন্দেহ ও সংশয়ের ব্যাধি দূরীভূত করেছেন। আমি তাঁর ঐ সকল নিয়ামতের জন্য তাঁর প্রশংসা করছি যা তাঁর সৃষ্টির ওপর সুমহানভাবে প্রকাশিত হয়েছে এবং তাঁর সেই সব অনুগ্রহের জন্য যা রিযিকের পর্যায়ক্রমে নিরবচ্ছিন্ন ও বৃহৎভাবে বর্ষিত হয়েছে। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই; তিনি আমাদের ইলাহ, তিনি একক, অদ্বিতীয়, অমুখাপেক্ষী, অতি পবিত্র, শান্তিদাতা, পরাক্রমশালী, ক্ষমতাধর, মহান, সর্বজ্ঞ, সম্যক অবহিত, সর্বশক্তিমান, চিরঞ্জীব ও চিরস্থায়ী। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, যাঁর মাধ্যমে আল্লাহ মূর্তিসমূহ ও প্রতিমাসমূহকে চূর্ণ করেছেন এবং যাঁর নবুওয়াত প্রদানের মাধ্যমে বলিদানের বেদী ও ভাগ্যনির্ধারক তীরসমূহকে বিলুপ্ত করেছেন। তাঁর মাধ্যমে আল্লাহ ঐ ব্যক্তির গুরুভার ও পাপসমূহ ক্ষমা করে দিয়েছেন যে তাঁর নবুওয়াতের প্রতি ঈমান এনেছে এবং তাঁর শরীয়তের অনুসরণ করেছে। আর তাঁর সুপারিশ অবধারিত করার মাধ্যমে তিনি ঐ ব্যক্তির গুনাহ ও অপরাধসমূহ মিটিয়ে দিয়েছেন যে তাঁর দাওয়াতকে সত্য বলে গ্রহণ করেছে। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সঙ্গীসাথীদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন—যতকাল কোনো ভক্ষণকারী আহার গ্রহণ করবে, কোনো তৃষ্ণার্ত সুপেয় পানি পান করবে এবং কোনো বিনিদ্র ব্যক্তি নিদ্রার স্বাদ গ্রহণ করবে।
(খণ্ড: ১) তাবয়ীনু কাযিবিল মুফতারী ফীমা নুসিবা ইলাল আশআরী (পৃষ্ঠা: ২৫)
أما بعد فَإِن اللَّه سُبْحَانَهُ خص من بريته بنبوته أَقْوَامًا وجعلهم على خليقته فِي الدُّعَاء إِلَى شَرِيعَته قوّاما وَأحكم مَا شرع لَهُم من الدّين القويم إحكاما وَجعل لكل نَبِي مِنْهُم بالقسطاس الْمُسْتَقيم شرعة وأحكاما وَفرض على الأنَام الِاقْتِدَاء بهداهم وشرعتهم إلزاما والاقتفاء بنهجهم فِيمَا نهجوه لَهُم نقضا وإبراما وَاصْطفى مِنْهُم مُحَمَّدا صلى الله عليه وسلم وَجعله لِلنَّبِيِّينَ كلهم ختاما ونصبه لِلْمُتقين إِمَامًا وَاخْتَارَ لَهُ مِلَّة أَبِيه إِبْرَاهِيم وسماعها إسلاما وَأوجب على الْخلق طَاعَته انقيادا لَهُ واستسلاما فجلا بِنور فجره من غياهب الشّرك ظلاما وأذهب بِيَقِين برهانه من سباسب الشَّك قتاما وأسبغ بِهِ على كَافَّة الْمُسلمين نعْمَته برا بهم وإنعاما حَتَّى أوضح لَهُم مَا أَبَاحَ حَلَالا وَمَا حظر حَرَامًا فصلى اللَّه عَلَيْهِ وَعَلَيْهِم صلوَات تزداد على ممر الْأَوْقَات دواما ولقّاهم يَوْم يلقونه فِي الفردوس تَحِيَّة وَسلَامًا وجزاهم الْجنَّة بِمَا صَبَرُوا فكم تحملوا فِي طَاعَته مِمَّن خالفهم متاعب وآلاما وأحلهم دَار المقامة بفضله وَحسنت مُسْتَقرًّا ومقاما ثمَّ إِن اللَّه وَله الْحَمد أكمل دينه وأتمه إتماما وَنصب لَهُ من الْعلمَاء بِهِ أَئِمَّة يقْتَدى بهم وأعلاما وآتاهم بصائر نَافذة عِنْد الشُّبُهَات ورزقهم أفهاما فانتدبوا التبصير المستبصرين حِين أَصْبحُوا متحيرين إيضاحا وإفهاما لما همى سَحَاب الْبَاطِل وهطل بَعْدَمَا صَار ركاما وَقَامَ سوق الْبدع عِنْد وُلَاة الْمُسلمين فِي الْخَافِقين قيَاما وحاد أهل الاعتزال عَن سنَن الِاعْتِدَال جرْأَة مِنْهُم على رد السّنَن وإقداما فنفوا عَن الرب سُبْحَانَهُ مَا أثبت لنَفسِهِ من صِفَاته فَلم يثبتوا صفة وَلَا كلَاما وَتَمَادَى أهل التَّشْبِيه فِي طرق التمويه

অতঃপর, মহান আল্লাহ তাঁর সৃষ্টিজগত থেকে একদল মানুষকে তাঁর নবুওয়াতের জন্য বিশিষ্ট করেছেন এবং তাঁর সৃষ্টির মাঝে তাঁদেরকে তাঁর শরীয়তের দিকে আহ্বানকারী হিসেবে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তিনি তাঁদের জন্য যে সুদৃঢ় দ্বীন বিধিবদ্ধ করেছেন তাকে করেছেন অত্যন্ত সুসংহত, এবং তাঁদের মধ্য থেকে প্রত্যেক নবীর জন্য ন্যায়নিষ্ঠ মানদণ্ডের ভিত্তিতে নির্ধারণ করেছেন শরীয়ত ও বিধিবিধান। তিনি মানবজাতির ওপর তাঁদের হেদায়াত ও শরীয়তের অনুসরণ বাধ্যতামূলক করেছেন এবং সকল বিষয়ে তাঁদের অনুসৃত পথের পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসরণকে অপরিহার্য করেছেন। তিনি তাঁদের মধ্য থেকে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মনোনীত করেছেন এবং তাঁকে সকল নবীর সমাপ্তিকারক ও মুত্তাকীদের ইমাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তিনি তাঁর জন্য তাঁর পিতা ইব্রাহিমের আদর্শ নির্বাচন করেছেন এবং এর নামকরণ করেছেন ইসলাম; আর সৃষ্টিজগতের ওপর তাঁর আনুগত্য করাকে পূর্ণ আনুগত্য ও আত্মসমর্পণ হিসেবে অপরিহার্য করেছেন। অতঃপর তিনি তাঁর নূরের প্রভাতের মাধ্যমে শিরকের ঘনীভূত অন্ধকার দূরীভূত করেছেন এবং তাঁর অকাট্য প্রমাণের নিশ্চিত জ্ঞানের দ্বারা সন্দেহের মরুভূমির ধূলিধুসরতা দূর করেছেন। তিনি তাঁর মাধ্যমে সকল মুসলিমের ওপর নিজের নিআমতকে পূর্ণতা দান করেছেন তাঁদের প্রতি মমতা ও অনুগ্রহ স্বরূপ; এমনকি তিনি তাঁদের সামনে যা বৈধ করেছেন তা হালাল হিসেবে এবং যা নিষিদ্ধ করেছেন তা হারাম হিসেবে সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। অতএব, আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক তাঁর ওপর এবং তাঁদের সকলের ওপর—এমন রহমত যা সময়ের আবর্তনে চিরস্থায়ীভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকে; এবং তিনি যেন তাঁদেরকে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের দিনে জান্নাতুল ফিরদাউসে অভিবাদন ও শান্তিতে সিক্ত করেন। তাঁদের ধৈর্যের বিনিময়ে তিনি তাঁদেরকে জান্নাত দান করেছেন; কেননা তাঁর আনুগত্য করতে গিয়ে বিরোধীদের পক্ষ থেকে তাঁরা কতোই না কষ্ট ও যাতনা সহ্য করেছেন! তিনি তাঁর অনুগ্রহে তাঁদেরকে চিরস্থায়ী আবাসে অধিষ্ঠিত করেছেন, যা অত্যন্ত উত্তম অবস্থানস্থল ও আবাসভূমি। অতঃপর নিশ্চয়ই আল্লাহ—সকল প্রশংসা যাঁর প্রাপ্য—তাঁর দ্বীনকে পূর্ণতা দিয়েছেন এবং একে যথাযথভাবে সম্পূর্ণ করেছেন। আর তিনি এই দ্বীনের সংরক্ষণে আলিমগণের মধ্য থেকে এমন ইমাম ও পথিকৃৎ স্থাপন করেছেন যাঁদের অনুসরণ করা হয়। তিনি তাঁদেরকে সংশয়ের মুহূর্তে তীক্ষ্ণ অন্তর্দৃষ্টি দান করেছেন এবং দান করেছেন গভীর প্রজ্ঞা। সুতরাং সত্যানুসন্ধানীরা যখন কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছিল, তখন তাঁরা সত্যকে স্পষ্ট করার ও বুঝানোর মাধ্যমে তাঁদের দৃষ্টি উম্মোচনে ব্রতী হয়েছিলেন; আর তা ছিল সেই সময়ে যখন বাতিলের মেঘমালা পুঞ্জীভূত হওয়ার পর প্রবল বর্ষণ শুরু করেছিল। যখন মুসলিম বিশ্বের পূর্ব ও পশ্চিম দিগন্তের শাসকবর্গের নিকট বিদআতের বাজার সরগরম হয়ে উঠেছিল, এবং মুতাযিলা সম্প্রদায় সুন্নাহ প্রত্যাখ্যানের ধৃষ্টতা ও দুঃসাহস দেখিয়ে মধ্যপন্থা থেকে বিচ্যুত হয়েছিল। ফলে তারা মহান প্রতিপালকের সত্তা থেকে সেই সমস্ত গুণাবলী অস্বীকার করেছিল যা তিনি নিজের জন্য সাব্যস্ত করেছেন; তারা তাঁর কোনো গুণ কিংবা কালাম (বাণী) সাব্যস্ত করেনি। অন্যদিকে সাদৃশ্যবাদীরা বিভ্রান্তির পথে সীমা লঙ্ঘন করেছিল।

(খণ্ড: ১) তাবয়ীনু কাযিবিল মুফতারী ফীমা নুসিবা ইলাল আশআরী (পৃষ্ঠা: ২৬)
وأحجموا عَن الْحق إحجاما فشبهوا رَبهم حَتَّى توهموه جسما يقبل تحيزا وإفتراقا وانضماما وغلوا فِي إِثْبَات كَلَامه حَتَّى حسبوه يحْتَمل بجهلهم تجزيا وانقساما وظنوا اسْم اللَّه الْقَدِيم ألفا وهاء تتلو لاما ولاما فامتعض الْعلمَاء من المثبتين من تفَاوت مذهبيهم واعتصموا بِالسنةِ اعتصاما وألجموا الْعَوام عَن الْخَوْض فِي علم الْكَلَام خوف العثار إلجاما فَكَانَ الْأَشْعَرِيّ رَحْمَة اللَّه عَلَيْهِ ورضوانه أَشَّدهم بذلك اهتماما وألدهم لمن حاول الْإِلْحَاد فِي أَسمَاء اللَّه وَصِفَاته خصاما وأمدهم سنَانًا لمن عاند السّنة وأحدهم حساما وأمضاهم جنَانًا عِنْد وُقُوع المحنة وأصعبهم مراما ألزم الْحجَّة لمن خَالف السّنة والمحجة إلزاما فَلم يسرف فِي التعطيل وَلم يغل فِي التَّشْبِيه وابتغى بَين ذَلِك قواما وألهمه اللَّه نصْرَة السّنة بحجج الْعُقُول حَتَّى انتظم شَمل أَهلهَا بِهِ انتظاما وَقسم الموجودات من المحدثات أعراضا وجواهر وأجساما وأثبتت لله سُبْحَانَهُ مَا أثْبته لنَفسِهِ من السَّمَاء وَالصِّفَات إعظاما وَنفى عَنهُ مَا لَا يَلِيق بجلاله من شبه خلقه إجلالا لَهُ وإكراما ونزهه عَن سمات الْحَدث تغيرا وانتقَالا وإدبارا وإقبالا وأعضاء وأجراما وائتم بِهِ من وَفقه الله إتباع الْحق فِي التَّمَسُّك بِالسنةِ ائتماما فَلَمَّا انتقم من أصنَاف أهل الْبدع بإيضاح الْحجَج والأدلة انتقاما ووجدوه لَدَى الْحجَّاج فِي تَبْيِين الِاحْتِجَاج عَلَيْهِم فِيمَا ابتدعوه هماما قَالُوا فِيهِ حسدا من الْبُهْتَان مَا لَا يجوز لمُسلم أَن ينْطق

তারা সত্য হতে সম্পূর্ণরূপে বিমুখ হলো এবং তাদের প্রতিপালককে সৃষ্টির সাথে এমনভাবে তুলনা করল যে, শেষ পর্যন্ত তাঁকে এমন এক দেহ হিসেবে কল্পনা করতে লাগল যা স্থান গ্রহণ, বিভাজন ও পুঞ্জীভূত হওয়া গ্রহণ করে। তারা আল্লাহর কালাম (বাণী) সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে এমন অতিশয়তা প্রদর্শন করল যে, নিজদের অজ্ঞতাবশত তারা একে খণ্ডায়ন ও বিভাজনযোগ্য বলে মনে করল। তারা আল্লাহর অনাদি নামকে কেবল আলিফ ও হা বর্ণের সমষ্টি মনে করল, যা দুটি লাম বর্ণের অনুগামী। ফলে সত্যনিষ্ঠ আলিমগণ তাদের এই মতাদর্শগত বিচ্যুতিতে ব্যথিত হলেন এবং সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরলেন। তারা সাধারণ মানুষকে ইলমে কালামের সূক্ষ্ম ও জটিল আলোচনায় লিপ্ত হওয়া থেকে কঠোরভাবে নিবৃত্ত করলেন, যাতে তারা পদস্খলিত না হয়। ইমাম আশআরী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও সন্তুষ্টি বর্ষণ করুন) এই বিষয়ে সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করেছিলেন। আল্লাহর নাম ও গুণাবলির ক্ষেত্রে যারা বিকৃতি বা বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করেছিল, তাদের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন কঠোরতম তার্কিক। সুন্নাহর বিরোধীদের মোকাবিলায় তিনি ছিলেন তীক্ষ্ণতম বর্শা এবং শাণিত কৃপাণ। সংকটের মুহূর্তে তিনি ছিলেন অকুতোভয় হৃদয়ের অধিকারী এবং অপরাজেয় লক্ষ্যসম্পন্ন। যারা সুন্নাহ ও সত্যপথের বিরোধিতা করেছিল, তাদের ওপর তিনি অকাট্য যুক্তি-প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। তিনি আল্লাহর গুণাবলি অস্বীকার করার ক্ষেত্রে যেমন সীমা অতিক্রম করেননি, তেমনি সাদৃশ্য প্রদানের ক্ষেত্রেও কোনো বাড়াবাড়ি করেননি; বরং তিনি এই দুইয়ের মাঝে এক সুষম মধ্যপন্থা অবলম্বন করেছিলেন। আল্লাহ তাঁকে যৌক্তিক প্রমাণের মাধ্যমে সুন্নাহর সমর্থনে অনুপ্রাণিত করেছিলেন, যার ফলে সুন্নাহর অনুসারীরা তাঁর মাধ্যমে সুসংগঠিত হতে পেরেছিল। তিনি নব্যসৃষ্ট অস্তিত্বসমূহকে আকস্মিক গুণ (আরায), মৌলিক সত্তা (জাওহার) ও দেহ (জিসম)—এই তিন ভাগে বিন্যস্ত করেন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা নিজের জন্য যেসব নাম ও গুণাবলি সাব্যস্ত করেছেন, তিনি মহান রবের মহিমা প্রকাশার্থে সেগুলো সেভাবেই সাব্যস্ত করেছেন। আর মহান আল্লাহর মাহাত্ম্য ও মর্যাদার খাতিরে সৃষ্টির সাদৃশ্য থেকে তাঁকে পবিত্র ঘোষণা করেছেন। তিনি আল্লাহকে নশ্বর সৃষ্টির সকল বৈশিষ্ট্য—যেমন পরিবর্তন, স্থানান্তর, পশ্চাৎপসরণ, সম্মুখগমন, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ এবং স্থূল অবয়ব থেকে বিমুক্ত ঘোষণা করেছেন। আল্লাহ যাদের সত্য অনুসরণের তাওফিক দিয়েছেন, তারা সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার ক্ষেত্রে তাঁকে ইমাম হিসেবে অনুসরণ করেছেন। অতঃপর যখন তিনি অকাট্য দলিল ও প্রমাণের দ্বারা বিদআতিদের বিভিন্ন গোষ্ঠীকে পরাভূত করলেন এবং তারা তাদের উদ্ভাবিত বিদআতের বিরুদ্ধে তাঁকে এক বলিষ্ঠ বীর হিসেবে দেখতে পেল, তখন তারা হিংসাবশত তাঁর বিরুদ্ধে এমন অপবাদ রটনা করল যা কোনো মুসলমানের পক্ষে উচ্চারণ করাও সমীচীন নয়।

(খণ্ড: ১) তাবয়ীনু কাযিবিল মুফতারী ফীমা নুসিবা ইলাল আশআরী (পৃষ্ঠা: ২৭)
بِهِ استعظاما وقذفوه بِنَحْوِ مَا قذفت بِهِ الْيَهُود عَبْد اللَّهِ بن سَلام وأباه سَلاما فَلم ينقصوه بذلك عِنْد أهل التَّحْقِيق بل زادوه بِمَا قَالُوا فِيهِ تَمامًا ومدحوه بِنَفس ذمهم وَقد قيل فِي الْمثل لن تعدم الحسنَاء ذاما وقلما انْفَكَّ عصر من الْأَعْصَار من غاو يقْدَح فِي الدّين ويغوي إبهاما وغاو يجرح بِلِسَانِهِ أَئِمَّة الْمُسلمين ويعوي إيهاما ويستزل من الْعَامَّة طوائف جُهَّالًا وزعانف أغتاما وَيحمل بجهله على سبّ الْعلمَاء والتشنيع عَلَيْهِم سُفَهَاء طغاما لَكِن الْعلمَاء إِذَا سمعُوا بمكرهم عدوه مِنْهُم عراما وَإِذا مَا مروا بلغوهم فِي الْكِبَار من الْأَئِمَّة مروا كراما وَإِذا خاطبهم الجاهلون مِنْهُم قَالُوا لَهُم سَلاما وَلنْ يعبأ اللَّه بتقولهم فِيهِ وتكذيبهم عَلَيْهِ فَسَوف يكون لزاما وَلَوْلَا سُؤال من رَأَيْت لحق سُؤَاله إيَّايَ ذماما فألزمت نَفسِي امْتِثَال مَا أَشَارَ بِهِ عَليّ احتراما لصدفت عَن ذكر وقيعة ذَوي الْجَهْل فِي الْأَئِمَّة احتشاما لكني اغتنمت الثَّوَاب فِي إِيضَاح الصَّوَاب فِي علو مرتبته اغتنَاما وَمَعَ مَا عرف من تشنيعهم فأصحاب الْحق بِحَمْد اللَّه قد أَصْبحُوا على أعدائهم ظَاهِرين وَلمن تأواهم من أَصْحَاب الْبدع مِمَّن خالفهم فِي جَمِيع الْبِلَاد قاهرين وعَلى الانتقام مِمَّن يظْهر لَهُم الْعَدَاوَة للعنَاد قَادِرين وَكَيف لَا يكونُونَ كَذَلِك واللَّه مَوْلَاهُم ونَاصرهم وَهُوَ

তার মাধ্যমে বিষয়টিকে অতিশয়োক্তি করার চেষ্টা করেছে এবং তাঁর প্রতি এমন অপবাদ আরোপ করেছে যেমনটি ইহুদিরা আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম এবং তাঁর পিতা সালামের প্রতি করেছিল। সত্যনিষ্ঠ গবেষকদের নিকট এতে তাঁর মর্যাদা বিন্দুমাত্র হ্রাস পায়নি, বরং তারা যা বলেছে তা তাঁর পূর্ণতাকেই বৃদ্ধি করেছে এবং তাদের নিন্দাই তাঁর প্রশংসায় রূপ নিয়েছে। প্রবাদে বলা হয়, "রূপসী রমণী কখনো নিন্দুকহীন হয় না।" কোনো যুগই এমন পথভ্রষ্ট থেকে মুক্ত ছিল না যে দ্বীনের মাঝে ছিদ্রান্বেষণ করে এবং বিভ্রান্তি ছড়ায়, কিংবা এমন কোনো পাপিষ্ঠ যে তার জিহ্বা দিয়ে মুসলিম আইম্মাদের সম্মানহানি করে এবং সংশয় তৈরির উদ্দেশ্যে হাহাকার করে। সে সাধারণ মানুষের মধ্য থেকে একদল মূর্খ ও নিচ স্তরের লোককে পদস্খলিত করে এবং তার অজ্ঞতার কারণে নির্বোধ ও ইতর লোকদের উলামাদের গালি দিতে ও তাঁদের প্রতি অপবাদ আরোপ করতে প্ররোচিত করে। কিন্তু উলামায়ে কেরাম যখন তাদের চক্রান্তের কথা শোনেন, তখন তারা একে তাদের দুরাচার বলে গণ্য করেন; আর যখন তারা মহান ইমামদের বিরুদ্ধে তাদের অসার প্রলাপের পাশ দিয়ে অতিক্রম করেন, তখন অত্যন্ত মর্যাদার সাথে তা এড়িয়ে যান। আর যখন মূর্খরা তাদের সম্বোধন করে, তখন তারা বলে ‘সালাম’। আল্লাহ তাআলা তাঁর ব্যাপারে তাদের অপপ্রচার ও মিথ্যারোপের পরোয়া করবেন না, অচিরেই তা তাদের জন্য অনিবার্য হয়ে পড়বে। যার অনুরোধ রক্ষা করা আমার জন্য কর্তব্য, তাঁর অনুরোধ যদি না থাকত এবং তাঁর নির্দেশ পালনকে আমি সম্মানবশত নিজের জন্য আবশ্যক না করতাম, তবে ইমামদের শানে মূর্খদের এই কুৎসা বর্ণনা করা থেকে আমি বিমুখ থাকতাম। কিন্তু আমি তাঁর সুউচ্চ মর্যাদা ও সত্য স্পষ্ট করার মাধ্যমে সওয়াব হাসিলের এই সুযোগটিকে সুবর্ণ সুযোগ মনে করেছি। তাদের এই কুখ্যাত অপপ্রচার সত্ত্বেও, আল্লাহর শুকরিয়া যে সত্যপন্থীরা তাদের শত্রুদের ওপর বিজয়ী হয়েছেন এবং সকল জনপদে তাদের বিরুদ্ধাচরণকারী বিদআতপন্থীদের ওপর তারা প্রবল হয়ে আছেন। যারা হঠকারিতাবশত শত্রুতা পোষণ করে, তাদের থেকে প্রতিশোধ নিতে তারা সক্ষম। আর তারা কেনই বা এমন হবেন না, যেখানে আল্লাহই তাদের অভিভাবক ও সাহায্যকারী; আর তিনি...

(খণ্ড: ১) তাবয়ীনু কাযিবিল মুফতারী ফীমা নুসিবা ইলাল আশআরী (পৃষ্ঠা: ২৮)
خير النَاصرين وَقدر أَبِي الْحسن رَحْمَة اللَّه عَلَيْهِ عَمَّا يرمونه بِهِ أَعلَى وَذكر فضائله والترحم عَلَيْهِ من الانتقاص لَهُ عِنْد الْعلمَاء أولى وَمحله عِنْد فُقَهَاء الْأَمْصَار فِي جَمِيع الأقطار مَشْهُور وَهُوَ بالتبريز على من عاصره من أهل صنَاعته فِي الْعلم مَذْكُور مَوْصُوف بِالدّينِ والرجاجة والنبل ومعروف بشرف الأَبُوة وَالْأَصْل وَكَلَامه فِي حدث الْعَالم مِيرَاث لَهُ عَن آبَائِهِ وأجداده وَتلك رُتْبَة ورثهَا أَبُو مُوسَى الْأَشْعَرِيّ رضي الله عنه لأولاده

وتصانيفه بَين أهل الْعلم مَشْهُورَة مَعْرُوفَة وبالإجادة والإصابة للتحقيق عِنْد الْمُحَقِّقين مَوْصُوفَة وَمن وقف على كِتَابه الْمُسَمّى بالإبانة عرف مَوْضِعه من الْعلم والديانة وَمن عرف كِتَابه الَّذِي أَلفه فِي تَفْسِير
উত্তম সাহায্যকারী (আল্লাহ)। আবুল হাসান—আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—এর মর্যাদা তিনি সে সমস্ত বিষয় থেকে অনেক ঊর্ধ্বে যা তারা তাঁর প্রতি আরোপ করে। আলেমদের নিকট তাঁর অবমাননা করার চেয়ে তাঁর গুণাবলি আলোচনা করা এবং তাঁর জন্য রহমতের দোয়া করাই অধিকতর বাঞ্ছনীয়। সকল ভূখণ্ডের ফকীহদের নিকট তাঁর সুউচ্চ মাকাম সুপ্রসিদ্ধ। নিজ শাস্ত্রীয় জ্ঞানে তিনি তাঁর সমসাময়িকদের তুলনায় শ্রেষ্ঠত্বের জন্য সুপরিচিত। তিনি ধর্মনিষ্ঠা, বুদ্ধিবৃত্তিক দৃঢ়তা ও আভিজাত্যের গুণে গুণান্বিত এবং পিতৃপুরুষ ও বংশমর্যাদার জন্য সুপরিচিত। জগতের নশ্বরতা বিষয়ে তাঁর বক্তব্য মূলত তাঁর পিতা ও পিতামহদের থেকে প্রাপ্ত এক উত্তরাধিকার; এটি এমন এক মর্যাদা যা আবু মুসা আল-আশআরি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর সন্তানদের জন্য উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে গেছেন।

আলেমদের নিকট তাঁর গ্রন্থসমূহ সুপ্রসিদ্ধ ও সুপরিচিত এবং গবেষকগণের নিকট সেগুলো পাণ্ডিত্য ও নিঁখুত গবেষণার জন্য সমাদৃত। যে ব্যক্তি তাঁর 'আল-ইবানাহ' নামক গ্রন্থটি পর্যবেক্ষণ করেছে, সে তাঁর ইলম ও দ্বীনদারির সুউচ্চ মাকাম সম্পর্কে অবগত হয়েছে। আর যে ব্যক্তি তাঁর সেই গ্রন্থটি সম্পর্কে জেনেছে যা তিনি তাফসীর বিষয়ে রচনা করেছেন—
(খণ্ড: ১) তাবয়ীনু কাযিবিল মুফতারী ফীমা নুসিবা ইলাল আশআরী (পৃষ্ঠা: ২৯)
الْقُرْآن وَالرَّدّ على من خَالف الْبَيَان من أهل الْإِفْك والبهتان علم كَونه من ذَوي الاتّباع والاستقامة واستحقاقه التَّقَدُّم فِي الْفضل والإمامة وسأذكرها مَا حضرني من ذكره وَأبين مَا وَقع إِلَيّ من أمره رَاغِبًا إِلَى اللَّه فِي إِيضَاح التَّحْقِيق وطالبا مِنْهُ المعونة والتوفيق وَهُوَ جدير بتحقيق الرَّجَاء قدير على استجابة الدُّعَاء وَهُوَ حسبنَا وَنعم الْوَكِيل وَعَلِيهِ فِي كل ملم مؤلم التعويل

وَاعْلَم يَا أخي وفقنَا الله وَإِيَّاك لمرضاته مِمَّن يخشاه ويتقيه حق تُقَاته إِن لُحُوم الْعلمَاء رَحْمَة اللَّه عَلَيْهِم مَسْمُومَة وَعَادَة اللَّه فِي هتك أَسْتَار منتقصيهم مَعْلُومَة لِأَن الوقيعة فيهم بِمَا هم مِنْهُ برَاء أمره عَظِيم والتنَاول لأعراضهم بالزور والافتراء مرتع وخيم والاختلاق على من اخْتَارَهُ اللَّه مِنْهُم لنعش الْعلم خلق ذميم والاقتداء بِمَا مدح اللَّه بِهِ قَول المتبعين من الاسْتِغْفَار لمن سبقهمْ وصف كريم إِذْ قَالَ مثنيا عَلَيْهِم فِي كِتَابه وَهُوَ بمكارم الْأَخْلَاق وصدها عليم {وَالَّذين جاؤوا مِنْ بَعْدِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالإِيمَانِ وَلا تَجْعَلْ فِي قُلُوبِنَا غِلا للَّذين آمنُوا رَبنَا إِنَّك رؤوف رَحِيم} والارتكاب لنهي النَّبِي صَلَّى
কুরআন এবং অপবাদ ও মিথ্যাচারী সম্প্রদায়ের মধ্য থেকে যারা সত্য বর্ণনার বিরোধিতা করেছে তাদের খণ্ডন করার মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয় যে, তিনি ছিলেন নিষ্ঠাবান অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত এবং মর্যাদা ও নেতৃত্বের ক্ষেত্রে অগ্রগণ্য হওয়ার যোগ্য। আমি তাঁর সম্পর্কে আমার স্মৃতিতে যা আছে তা উল্লেখ করব এবং তাঁর বিষয়াদি সম্পর্কে আমার নিকট যা পৌঁছেছে তা বর্ণনা করব। এ ক্ষেত্রে আমি আল্লাহর নিকট সত্য উন্মোচনের আকাঙ্ক্ষা করছি এবং তাঁর কাছে সাহায্য ও তাওফিক প্রার্থনা করছি। তিনি আশা পূরণের যোগ্য এবং দোয়া কবুল করতে সক্ষম। তিনি আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং উত্তম কর্মবিধায়ক; আর প্রতিটি বেদনাদায়ক সংকটে তাঁর ওপরই ভরসা।

হে আমার ভাই—আল্লাহ আমাদের ও আপনাকে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের তাওফিক দান করুন এবং তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করুন যারা তাঁকে যথাযথভাবে ভয় ও তাকওয়া অবলম্বন করে—জেনে রাখুন যে, আলেমগণের (আল্লাহ তাঁদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন) গোশত বিষাক্ত, আর যারা তাঁদের অবমাননা করে তাদের পর্দা উন্মোচন করে দেওয়া আল্লাহর একটি সুপরিচিত নিয়ম। কেননা, তাঁরা যে দোষ থেকে মুক্ত সে বিষয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে বিষোদগার করা অত্যন্ত গুরুতর বিষয়, আর মিথ্যা ও অপবাদের মাধ্যমে তাঁদের সম্মানহানি করা এক ধ্বংসাত্মক চারণভূমি। জ্ঞান পুনরুজ্জীবনের জন্য আল্লাহ যাঁদের মনোনীত করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা রটনা করা একটি জঘন্য স্বভাব। পক্ষান্তরে, আল্লাহ তাঁর কিতাবে অনুসারীদের যে গুণটির প্রশংসা করেছেন—অর্থাৎ তাঁদের পূর্বসূরিদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা—তা একটি মহৎ বৈশিষ্ট্য। যেহেতু তিনি তাঁদের প্রশংসা করে বলেছেন—আর তিনি সচ্চরিত্র ও তার পরিপন্থী আচরণ সম্পর্কে সম্যক অবগত: {আর যারা তাদের পরে এসেছে তারা বলে, ‘হে আমাদের রব, আমাদের ও আমাদের সেই ভাইদের ক্ষমা করে দিন যারা ঈমানে আমাদের অগ্রবর্তী হয়েছে এবং মুমিনদের প্রতি আমাদের অন্তরে কোনো বিদ্বেষ রাখবেন না। হে আমাদের রব, নিশ্চয়ই আপনি পরম দয়ালু ও অতিশয় মেহেরবান।'} আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করা...
(খণ্ড: ১) তাবয়ীনু কাযিবিল মুফতারী ফীমা নুসিবা ইলাল আশআরী (পৃষ্ঠা: ৩০)
الله عَلَيْهِ وَسلم عَن لإغتياب وَسَب الْأَمْوَات جسيم فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ وَقد رُوِيَ عَنهُ صلى الله عليه وسلم فِيمَن كتم مَا عِنْده من الْعلم عِنْد لعن آخر هَذِه الْأمة أَو لَهَا مَاله من الْوزر وَالْإِثْم وَذَلِكَ فِيمَا أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ الْمُسْلِمِ السُّلَمِيُّ بِدِمَشْقَ نَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الْعَزِيزِ بن أَحْمد الصُّوفِي املاء أَنا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بُنْ طَلْحَةَ بن هرون الْمُنَقِّيُّ نَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الشَّافِعِيُّ وَأَخْبَرَنَا الشَّيْخَانِ أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَليّ الْخَطِيب أَنا أَحْمد بن مُحَمَّد ابْن رِزْقٍ نَا أَبُو سَهْلٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زِيَادٍ الْقَطَّانُ قَالَ نَا مُحَمَّدُ بْنُ الْفَرَجِ الأَزْرَقُ نَا خلف بن تيم نَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ السَّرِيِّ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ عَنْ جَابِرٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ وَفِي حَدِيثِ السُّلَمِيِّ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ

إِذَا لَعَنَتْ آخِرُ هَذِهِ الأُمَّةِ أَوَّلَهَا فَمَنْ كَانَ عِنْدَهُ عِلْمٌ فَلْيُظْهِرْهُ فَإِنَّ كَاتِمَ الْعِلْمِ يَوْمَئِذٍ كَكَاتِمِ مَا أُنْزِلَ عَلَى مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم تَابَعَهُ سُرَيْجُ بْنُ يُونُسَ وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحِيمِ صَاعِقَةُ عَنْ خَلَفٍ وَرَوَاهُ غَيْرُهُ عَنِ ابْنِ السَّرِيِّ فَزَادَ فِي إِسْنَادِهِ ثَلاثَةَ أَنْفُسٍ أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ ابْن أَحْمَدَ بْنِ مَنْصُورٍ الْفَقِيهُ وَأَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ الْحَسِنِ بْنِ سعيد بِدِمَشْق قالانا وَأَبُو النَّجْمِ الشِّيحِيُّ بِبَغْدَادَ قَالَ أَنا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ بن ثَابت الْحَافِظ أَنا أَبُو الْحَسَنِ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الأَصْفَهَانِيُّ بِهَا قَالَ نَا سُلَيْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ الطَّبَرَانِيُّ نَا أَحْمَدُ بْنُ خَلِيلٍ الْحَلَبِيُّ قَالَ نَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ السَّرِيِّ الأَنْطَاكِيُّ نَا سعيد بن زَكَرِيَّا الميداني عَنْ عَنْبَسَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَن مُحَمَّد
আল্লাহর পক্ষ থেকে গীবত (পরনিন্দা) ও মৃতদের গালমন্দ করার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। সুতরাং যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো বিপর্যয় নেমে আসবে অথবা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আসবে। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে, এই উম্মতের শেষ ভাগের লোকেরা যখন তাদের পূর্বসূরিদের অভিশাপ দেবে, তখন যার নিকট জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও সে তা গোপন করবে, তার ওপর যে গুনাহ ও পাপ বর্তাবে—সেটি সেই বর্ণনা অনুযায়ী যা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ আবুল হাসান আলী ইবনুল মুসলিম আস-সুলামী দামেস্কে; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুহাম্মদ আবদুল আজিজ ইবনে আহমদ আস-সুফী শ্রুতলিপির মাধ্যমে; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমদ ইবনে তালহা ইবনে হারুন আল-মুনাক্কী; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আশ-শাফিঈ; এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন দুই শায়খ— আবুল হাসান আলী ইবনে আহমদ ইবনে আলী আল-খতিব; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে রিজক; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু সাহল আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে যিয়াদ আল-কাত্তান; তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আল-ফারাজ আল-আজরাক; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন খালাফ ইবনে তায়ম; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে আস-সারী, মুহাম্মদ ইবনুল মুনকাদির থেকে, তিনি জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন—এবং সুলামীর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:

"যখন এই উম্মতের শেষ ভাগের লোকেরা তাদের প্রথম ভাগের লোকদের (পূর্বসূরিদের) অভিশাপ দেবে, তখন যার নিকট জ্ঞান রয়েছে সে যেন তা প্রকাশ করে। কেননা সেদিন জ্ঞান গোপনকারী ব্যক্তি যেন মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর যা অবতীর্ণ হয়েছে তা-ই গোপন করল।" সুরাইজ ইবনে ইউনুস এবং মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহিম সা-ইকাহ খালাফ থেকে এই বর্ণনায় অনুসরণ করেছেন। আর ইবনে আস-সারী থেকে অন্য একজন এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি এর সনদে আরও তিন ব্যক্তিকে যুক্ত করেছেন। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ আবুল হাসান আলী ইবনে আহমদ ইবনে মনসুর আল-ফকিহ এবং আবুল হাসান আলী ইবনুল হাসান ইবনে সাঈদ দামেস্কে, তাঁরা উভয়ে এবং বাগদাদে আবু নাজম আশ-শীহী বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমদ ইবনে আলী ইবনে সাবিত আল-হাফিজ; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু হাসান আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-আসফাহানি সেখানে; তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুলাইমান ইবনে আহমদ আত-তাবারানি; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে খলিল আল-হালাবি; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে আস-সারী আল-আনতাকি; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাঈদ ইবনে যাকারিয়া আল-মাইদানি, আমবাসা ইবনে আবদুর রহমান থেকে, তিনি মুহাম্মদ থেকে...
(খণ্ড: ১) তাবয়ীনু কাযিবিল মুফতারী ফীমা নুসিবা ইলাল আশআরী (পৃষ্ঠা: ৩১)
ابْن زَاذَانَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ عَنْ جَابِرٍ رضي الله عنه قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم

إِذَا لَعَنَ آخِرُ هَذِهِ الأُمَّةِ أَوَّلَهَا فَمَنْ كَانَ عِنْدَهُ عِلْمٌ فَلْيُظْهِرْهُ فَإِنَّ كَاتِمَ الْعِلْمِ يَوْمَئِذٍ كَكَاتِمِ مَا أُنْزِلَ عَلَى مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم وَهَكَذَا رَوَاهُ أَبُو هرون مُوسَى بن العنعمان الْمصْرِيّ عَن عبد الله ابْن السَّرِيِّ أَخْبَرَنَاهُ أَبُو الْحَسَنِ بْنُ قبيس قَالَ نَا وَأَبُو النَّجْم التَّاجِر قَالَ أَنا أَبُو بَكْرٍ الْخَطِيبُ قَالَ نَا ابْن رزق أَنا أَبُو إِسْمَاعِيلَ بْنُ زِيَادٍ حَدَّثَنِي أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ بْنِ بِشْرٍ الْهَرَوِيُّ نَا مُوسَى بْنُ النُّعْمَانِ الْمِصْرِيُّ أَبُو هرون نَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ السَّرِيِّ بِأَنْطَاكِيَةَ قَالَ نَا سَعِيدُ بْنُ زَكَرِيَّا المدايني عَن عَنْبَسَة ابْن عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ زَاذَان عَن مُحَمَّد بن المكدر عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم

إِذَا لَعَنَتْ آخِرُ هَذِهِ الأُمَّةِ أَوَّلَهَا ثُمَّ ذَكَرَ الْحَدِيثَ وَأَخْبَرَنَا الشَّرِيفُ أَبُو الْقَاسِمِ عَلِيُّ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْعَبَّاسِيِّ الْعَلَوِيُّ الْخَطِيبُ بِدِمَشْقَ نَا أَبُو الْحَسَنِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عُثْمَانَ بْنِ الْقَاسِمِ بْنِ أَبِي نَصْرٍ التَّمِيمِيُّ قَالَ انا الْقَاضِي أَبُو بَكْرٍ يُوسُفُ بْنُ الْقَاسِمِ بْنِ يُوسُفَ بْنِ فَارِسِ بْنِ سَوَّارٍ الْمَيَانَجِيُّ وَأَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو الْقَاسِمِ زَاهِرُ بْنُ طَاهِرِ بن مُحَمَّد بْنِ مُحَمَّدٍ الْمُعَدَّلُ الشَّحَّامِيُّ بِنَيْسَابُورَ قَالَ قرىء عَلَى أَبِي عُثْمَانَ سَعِيدِ بْنِ مُحَمَّد بن حمدَان الْحِيرِيِّ وَأَنَا حَاضِرٌ قِيلَ لَهُ أَخْبَرَكُمْ أَبُو عَمْرٍو مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمد بن حمدَان الْحِيرِي قالانا مُحَمَّد ابْن اسحق بْنِ إِبْرَاهِيمَ الثَّقَفِيُّ قَالَ نَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ قَالَ نَا عُبَيْسُ بْنُ مَيْمُونٍ عَنْ عَسَلِ بْنِ سُفْيَانَ عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ رضي الله عنه قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم

مَنْ كَتَمَ علما ألْجمهُ الله
ইবনে জাযান বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনুল মুনকাদির থেকে, তিনি জাবির (রা.) থেকে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন—

“যখন এই উম্মতের শেষভাগের লোকেরা এর প্রথমভাগের লোকদের অভিশাপ দেবে, তখন যার নিকট জ্ঞান আছে সে যেন তা প্রকাশ করে। কেননা সেদিন জ্ঞান গোপনকারী ব্যক্তি মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর যা অবতীর্ণ হয়েছে তা গোপনকারীর সমতুল্য হবে।” এবং এভাবেই এটি বর্ণনা করেছেন আবু হারুন মুসা ইবনুল নুমান আল-মিসরি আবদুল্লাহ ইবনুস সারি থেকে। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান ইবনে কুবাইস, তিনি বলেন—আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু নাজম আত-তাজির, তিনি বলেন—আমাদের খবর দিয়েছেন আবু বকর আল-খাতিব, তিনি বলেন—আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে রিজক, আমাদের খবর দিয়েছেন আবু ইসমাইল ইবনে যিয়াদ, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ ইবনে বিশর আল-হারাবি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুসা ইবনুল নুমান আল-মিসরি আবু হারুন, আমাদের নিকট আন্তাকিয়া নামক স্থানে বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনুস সারি, তিনি বলেন—আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাঈদ ইবনে জাকারিয়া আল-মাদায়িনি, তিনি আনবাসা ইবনে আবদুর রহমান থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে জাযান থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনুল মুনকাদির থেকে, তিনি জাবির ইবনে আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন—

“যখন এই উম্মতের শেষাংশ এর প্রথমাংশকে অভিশাপ দেবে...” অতঃপর তিনি পূর্ণ হাদিসটি উল্লেখ করেন। এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আশ-শরিফ আবুল কাসিম আলী ইবনে ইব্রাহিম ইবনুল আব্বাসি আল-আলাউয়ি, যিনি দামেস্কের খতিব, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল হাসান মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে উসমান ইবনুল কাসিম ইবনে আবি নাসর আত-তামিমি, তিনি বলেন—আমাদের খবর দিয়েছেন বিচারক আবু বকর ইউসুফ ইবনুল কাসিম ইবনে ইউসুফ ইবনে ফারিস ইবনে সাওয়ার আল-মায়ানিজি। এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ আবুল কাসিম যাহির ইবনে তাহির ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ আল-মুআদ্দাল আশ-শাহামি নিশাপুরে, তিনি বলেন—আবু উসমান সাঈদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হামদান আল-হিরির নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম। তাঁকে বলা হলো, আবু আমর মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনে হামদান আল-হিরি কি আপনাদের সংবাদ দিয়েছেন? তিনি বলেন—আমাদের খবর দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম আস-সাকাফি, তিনি বলেন—আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কুতাইবা ইবনে সাঈদ, তিনি বলেন—আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উবাইস ইবনে মাইমুন, তিনি আসাল ইবনে সুফিয়ান থেকে, তিনি আতা ইবনে আবি রাবাহ থেকে, তিনি জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন—

“যে ব্যক্তি জ্ঞান গোপন করবে, আল্লাহ তাকে (কিয়ামতের দিন আগুনের) লাগাম পরিয়ে দেবেন।”
(খণ্ড: ১) তাবয়ীনু কাযিবিল মুফতারী ফীমা নুসিবা ইলাল আশআরী (পৃষ্ঠা: ৩২)
عزوجل بِلِجَامٍ مِنْ نَارٍ لَفْظُ حَدِيثِ الْمَيَانَجِيِّ أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مَنْصُورِ بْنِ قبيس الغساني قَالَ ونا أَبُو مَنْصُورٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُحَمَّد ابْن عَبْدِ الْوَاحِدِ بْنِ زُرَيْقٍ الشَّيْبَانِيُّ قَالَ أَنا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ بن ثَابت الْخَطِيب قَالَ أَنا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ رِزْقٍ وَالْحَسَنُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ قَالا نَا عبد الله ابْن اسحق الْبغَوِيُّ ح قَالَ أَبُو بَكْرٍ وَأَخْبَرَنِي هِلالُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْحَفَّارُ نَا أَبُو عَلِيٍّ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ الصَّوَّافِ قَالا نَا بِشْرُ بْنُ مُوسَى نَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ الْفَرَجِ بْنِ فَضَالَةَ عَنْ أَبِيهِ الْفَرَجِ بْنِ فَضَالَةَ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ الأَنْصَارِيِّ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ عَنِ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم

إِذَا فَعَلَتْ أُمَّتِي خَمْسَ عَشْرَةَ خِصْلَةً حَلَّ بِهَا الْبَلاءُ قيل يارسول اللَّهِ وَمَا هِيَ قَالَ إِذَا كَانَ الْمَغْنَمُ دُوَلا وَالأَمَانَةُ مَغْنَمًا وَالزَّكَاةُ مَغْرَمًا وَأَطَاعَ الرَّجُلُ زَوْجَتَهُ وَعَقَّ أُمَّهُ وَبَرَّ صَدِيقَهُ وَجَفَا أَبَاهُ وَأَكْرَمَ الرَّجُلَ مَخَافَةَ شَرِّهِ وَكَانَ زَعِيمُ الْقَوْمِ أَرْذَلَهُمْ وَارْتَفَعَتِ الأَصْوَاتُ فِي الْمَسَاجِدِ وَشُرِبَ الْخَمْرُ وَلُبِسَ الْحَرِيرُ وَاتَّخَذُوا الْقِيَانَ وَاتَّخَذُوا الْمَعَازِفَ وَلَعَنَ آخِرُ هَذِهِ الأُمَّةُ أَولهَا فترقبوا عِنْد ذَلِك ثلثا رِيحًا حَمْرَاءَ وَخَسْفًا وَمْسَخًا وَاللَّفْظُ لِحَدِيثِ ابْنِ الصَّوَّافِ وَأَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو سَهْلٍ مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ سَعْدَوَيْهِ الأَصْبَهَانِيُّ الْمعدل بِبَغْدَاد أَنا أَبُو الْفضل مُحَمَّد ابْن الْفَضْلِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الله الحلاوي الْحَافِظ انا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُوسَى بْنِ مَرْدَوَيْهِ الْحَافِظُ نَا سُلَيْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ قَالَ نَا بَكْرُ بن سهل أَنا مُوسَى ابْن مُحَمَّدٍ الْبَلْقَاوِيُّ قَالَ نَا زَيْدُ بْنُ الْمُسَوِّرِ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم

مَا
মহান আল্লাহ তাকে আগুনের লাগাম পরিয়ে দেবেন। আল-মায়ানাজির হাদিসের শব্দাবলি নিম্নরূপ: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হাসান আলী বিন আহমদ বিন মনসুর বিন কুবাইস আল-গাসসানি, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মনসুর আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ বিন জুরাইক আশ-শাইবানি, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমদ বিন আলী বিন সাবিত আল-খতিব, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন রিজক এবং আল-হাসান বিন আবি বকর, তাঁরা উভয়ে বলেন আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আব্দুল্লাহ ইবনে ইসহাক আল-বাগাওয়ি (হ)। আবু বকর বলেন, এবং আমাকে সংবাদ দিয়েছেন হিলাল বিন মুহাম্মদ আল-হাফফার, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু আলী মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আল-হাসান বিন আল-সাউয়াফ, তাঁরা বলেন আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন বিশর বিন মুসা, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আল-ফারাজ বিন ফাদালাহ, তিনি তাঁর পিতা ফারাজ বিন ফাদালাহ থেকে, তিনি ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-আনসারি থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন আলী থেকে, তিনি আলী বিন আবি তালিব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:

যখন আমার উম্মত পনেরটি কাজে লিপ্ত হবে, তখন তাদের ওপর বিপদ আপতিত হবে। জিজ্ঞাসা করা হলো, হে আল্লাহর রাসুল! সেগুলো কী কী? তিনি বললেন: যখন রাষ্ট্রীয় সম্পদকে একদল মানুষের হাতে আবর্তিত সম্পদ (ব্যক্তিগত সম্পত্তি) মনে করা হবে, আমানতকে লুণ্ঠিত সম্পদ হিসেবে গণ্য করা হবে এবং জাকাতকে জরিমানা মনে করা হবে। যখন পুরুষ তার স্ত্রীর আনুগত্য করবে আর মায়ের অবাধ্যতা করবে, বন্ধুর সাথে সদ্ব্যবহার করবে আর পিতার সাথে রূঢ় আচরণ করবে। যখন কোনো ব্যক্তিকে তার অনিষ্টের ভয়ে সম্মান করা হবে এবং জাতির নিকৃষ্টতম ব্যক্তি তাদের নেতা হবে। যখন মসজিদে উচ্চস্বরে শোরগোল হবে, মদ্যপান করা হবে এবং রেশমি বস্ত্র পরিধান করা হবে। যখন গায়িকা ও বাদ্যযন্ত্র গ্রহণ করা হবে এবং এই উম্মতের পরবর্তী প্রজন্ম তাদের পূর্ববর্তীদের অভিশাপ দেবে। সেই সময় তোমরা রক্তিম ঝড়, ভূমিধস এবং আকৃতি বিকৃতির প্রতীক্ষা করো। এই শব্দগুলো ইবনুল সাউয়াফের বর্ণিত হাদিসের অনুরূপ। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ আবু সাহল মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ বিন সাদওয়াইহ আল-ইসফাহানি আল-মুআদ্দিল বাগদাদে, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফজল মুহাম্মদ ইবনুল ফজল বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-হালাউয়ি আল-হাফিজ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমদ বিন মুসা বিন মারদাওয়াইহ আল-হাফিজ, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন সুলাইমান বিন আহমদ, তিনি বলেন আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন বকর বিন সাহল, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুসা ইবনে মুহাম্মদ আল-বালকাউয়ি, তিনি বলেন আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন জায়েদ বিন আল-মুসাওয়ির, যুহরি থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:

যা...
(খণ্ড: ১) তাবয়ীনু কাযিবিল মুফতারী ফীমা নুসিবা ইলাল আশআরী (পৃষ্ঠা: ৩৩)
آتَى اللَّهُ عَالِمًا عِلْمًا إِلا أَخَذَ عَلَيْهِ الْمِيثَاقَ أَلا يَكْتُمَهُ فالإقدام على الْغَيْبَة مَعَ الْعلم بتحريمها أَمر كَبِير وَمَا ورد فِي النَّهْي عَنهُ وَعَن سبّ الْأَمْوَات كثير واستقصاء ذكره وَالرِّوَايَة بِطرقِهِ وَأَسَانِيده عسير والسعيد من كف عَن ذَلِك وَكَفاهُ عَن ذكره الْيَسِير أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحُسَيْنُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ الْحُسَيْنِ الأَدِيبِ بِأَصْبَهَانَ أَنا أَبُو طَاهِرٍ أَحْمَدُ بْنُ مَحْمُودِ بن أَحْمد الثَّقَفِيّ الأديب أَنا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بن عَليّ بن القري أَنا أَبُو يَعْلَى أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ الْمَوْصِلِيُّ نَا الْحَكَمُ بْنُ مُوسَى بن مُحَمَّدِ بْنِ سَلَمَةَ نَا مُحَمَّدُ ابْن اسحق عَنْ عَمِّهِ مُوسَى بْنِ يَسَارٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم

مَنْ أَكَلَ مِنْ لَحْمِ أَخِيهِ فِي الدُّنْيَا قُرِّبَ لَهُ لَحْمُهُ فِي الآخِرَةِ فَيُقَالُ لَهُ كُلْهُ مَيِّتًا كَمَا أَكَلْتَهُ حَيًّا قَالَ فَيَأْكُلُهُ وَيَكْلَحُ وَيَصِيحُ وَأَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو الْأَعَز قراتكين بن السعد بْنِ الْمَذْكُورِ الأَزَجِيُّ بِبَغْدَادَ قَالَ أَنا أَبُو مُحَمَّدٍ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيِّ بن مُحَمَّد الْجَوْهَرِي أَنا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ لُؤْلُؤٍ الْوَرَّاقُ قَالَ نَا مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَبَانٍ السَّرَّاجُ نَا يَحْيَى بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ الْحِمَّانِيُّ نَا أَبُو بكر ابْنَ عَيَّاشٍ عَنِ الأَعْمَشِ عَنْ سَعِيدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جُرَيْجٍ عَنْ أَبِي بَرْزَةَ رضي الله عنه قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم

يَا مَعْشَرَ مَنْ آمَنَ بِلِسَانِهِ وَلما يُؤْمِنْ بِقَلْبِهِ لَا تَتَّبِعُوا عَوَرَاتِ الْمُسْلِمِينَ وَلا عَثَرَاتِهِمْ فَإِنَّ مَنْ تَتَبَّعَ عَثَرَاتِ الْمُسْلِمِينَ تَتَبَّعَ اللَّهُ عَثْرَتَهُ وَمَنْ تَتَبَّعَ اللَّهُ عَثْرَتَهُ يَفْضَحْهُ وَإِنْ كَانَ فِي بَيْتِهِ رَوَاهُ الإِمَامُ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ فِي مُسْنَدِهِ عَنْ أَسْوَدَ بْنِ عَامِرٍ عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَيَّاش وَأخْبرنَا الشَّيْخَانِ أَبُو الْقسم اسماعيل
আল্লাহ কোনো আলেমকে জ্ঞান দান করেন না যতক্ষণ না তার নিকট থেকে এই অঙ্গীকার গ্রহণ করেন যে তিনি তা গোপন করবেন না। সুতরাং গীবত বা পরনিন্দার অবৈধতা সম্পর্কে অবগত থাকা সত্ত্বেও তাতে লিপ্ত হওয়া একটি অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। গীবত করা এবং মৃত ব্যক্তিদের গালি দেওয়া থেকে বারণ করার বিষয়ে অনেক বর্ণনা রয়েছে; এর পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ এবং এর সকল সূত্র ও সনদ বর্ণনা করা দুরূহ কাজ। সেই ব্যক্তিই সৌভাগ্যবান যে এসব থেকে বিরত থাকে, আর তার জন্য এই সামান্য বর্ণনাই যথেষ্ট। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন ইবনে আব্দুল মালিক ইবনুল হুসাইন আল-আদিব ইস্পাহানে, তিনি বলেন— আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তাহের আহমদ ইবনে মাহমুদ ইবনে আহমদ আস-সাকাফি আল-আদিব, তিনি বলেন— আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে আলী ইবনুল ক্বারি, তিনি বলেন— আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইয়ালা আহমদ ইবনে আলী আল-মাওসেলি, তিনি বলেন— আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন হাকাম ইবনে মুসা ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সালামাহ, তিনি বলেন— আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক, তাঁর চাচা মুসা ইবনে ইয়াসার থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন:

যে ব্যক্তি দুনিয়াতে তার ভাইয়ের মাংস ভক্ষণ করবে (অর্থাৎ গীবত করবে), কিয়ামতের দিন তার নিকট সেই মাংস উপস্থিত করা হবে এবং তাকে বলা হবে— 'এটি মৃত অবস্থায় ভক্ষণ করো যেমনটি তুমি জীবিত অবস্থায় ভক্ষণ করেছিলে।' বর্ণনাকারী বলেন— অতঃপর সে তা ভক্ষণ করবে এবং ব্যথায় মুখ বিকৃত করবে ও চিৎকার করতে থাকবে।

এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন বাগদাদের শায়খ আবুল আ’আয ক্বরাতাকিন ইবনে সাদ ইবনে মাযকুর আল-আজাজি, তিনি বলেন— আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আল-হাসান ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মদ আল-জাওহারি, তিনি বলেন— আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে লুলু আল-ওয়াররাক, তিনি বলেন— আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে আবান আস-সাররাজ, তিনি বলেন— আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুল হামিদ আল-হিমমানি, তিনি বলেন— আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু বকর ইবনে আইয়্যাশ, আ’মাশ থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি আবু বারযাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন:

হে সেই সকল লোক যারা কেবল মুখে ঈমান এনেছ কিন্তু অন্তরে এখনো ঈমান দৃঢ়ভাবে প্রবেশ করেনি! তোমরা মুসলমানদের দোষ-ত্রুটি ও গোপন বিষয়গুলো অন্বেষণ করো না। কারণ, যে ব্যক্তি মুসলমানদের দোষ-ত্রুটি অন্বেষণ করবে, আল্লাহ তার দোষ-ত্রুটি অন্বেষণ করবেন। আর আল্লাহ যার দোষ-ত্রুটি অন্বেষণ করবেন, তাকে তিনি তার ঘরের ভেতরে থাকলেও লাঞ্ছিত ও অপমানিত করবেন। ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল এটি তাঁর মুসনাদে আসওয়াদ ইবনে আমির-এর সূত্রে আবু বকর ইবনে আইয়্যাশ থেকে বর্ণনা করেছেন। এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন দুই শায়খ— আবুল কাসিম ইসমাইল...

(খণ্ড: ১) তাবয়ীনু কাযিবিল মুফতারী ফীমা নুসিবা ইলাল আশআরী (পৃষ্ঠা: ৩৪)
ابْن أَحْمَدَ بْنِ عُمَرَ بْنِ السَّمْرَقَنْدِيِّ وأَبُو جَعْفَر مُحَمَّد بن عَلِيِّ بن مُحَمَّد بن السماني الْوَكِيل بِبَغْدَاد قَالَا أَنا أَبُو مُحَمَّدِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الصريفيني أَنا عُبْيَدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حَبَابَةَ الْبَزَّازُ قَالَ نَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ الْبَغَوِيُّ نَا عَلِيُّ بْنُ الْجَعْد عَن شعيبة عَنِ الأَعْمَشِ عَنْ مُجَاهِدٍ عَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها عَنِ النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ

لَا تَسُبُّوا الأَمْوَاتَ فَإِنَّهُمْ قَدْ أَفْضَوْا إِلَى مَا قَدَّمُوا وَلم يقل فِيهِ عَليّ أحبرناه رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ فِي الصَّحِيحِ عَنْ عَلِيِّ بْنِ الْجَعْدِ وَهَذَا الْقدر فِي هَذَا المعني كَاف ولصدر من وفْق للِانْتِفَاع بِهِ شاف

بَاب ذكر تَسْمِيَة أَبِي الْحسن الْأَشْعَرِيّ وَنسبه وَالْأَمر الَّذِي فَارق عقد أهل الاعتزال بِسَبَبِهِ

أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ الْفَضْلِ بْنِ أَحْمَدَ الْفُرَاوِيُّ الْفَقِيه بنيسابور قَالَ أَنا الإِمَامُ أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ عَلِيٍّ الْبَيْهَقِيُّ الْحَافِظُ قَالَ رَأَيْت فِي كتب أَصْحَابِنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ إِسْحَاقَ بْنِ سَالِمِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُوسَى بْنِ بِلالِ بْنِ أَبِي بُرْدَةَ بْنِ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ وَأَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ قبيس بِدِمَشْقَ وَأَبُو مَنْصُورٍ مُحَمَّدُ بْنُ عبد الْملك بن خيرون الْمقري بِبَغْدَادَ قَالا قَالَ لَنَا الإِمَامُ أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ بْنِ ثَابِتٍ الْخَطِيبُ الْحَافِظُ الْبَغْدَادِيُّ عَلِيُّ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي بشر وإسمه اسحق بْنِ سَالِمِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ
ইবনে আহমদ বিন উমর বিন আস-সামারকান্দি এবং বাগদাদের প্রতিনিধি আবু জাফর মুহাম্মদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন আস-সাম্মানি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আস-সারিফিনি। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উবাইদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন হাবাবাহ আল-বাযযার। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ আল-বাগাউয়ি। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী বিন আল-জাদ, শু'বাহ থেকে, তিনি আমাশ থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন:

“তোমরা মৃতদের গালি দিও না, কারণ তারা যা অগ্রে প্রেরণ করেছে (কর্মফল) তার নিকট পৌঁছে গেছে।” আর আলী এতে 'আমাদের সংবাদ দিয়েছেন' কথাটি উল্লেখ করেননি। ইমাম বুখারী এটি আলী বিন আল-জাদ থেকে তাঁর সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। এই বিষয়ে এতটুকু বর্ণনাই যথেষ্ট এবং যার জন্য এটি থেকে উপকৃত হওয়া সহজ করা হয়েছে, তার হৃদয়ের আরোগ্য লাভের জন্য এটিই পর্যাপ্ত।

পরিচ্ছেদ: আবুল হাসান আল-আশ’আরীর নামকরণ, তাঁর বংশপরিচয় এবং যে কারণে তিনি মুতাজিলা মতবাদ ত্যাগ করেছিলেন তার বর্ণনা।

নিশাপুরের ফকীহ শায়খ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আল-ফজল বিন আহমদ আল-ফুরাওয়ি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: ইমাম হাফিজ আবু বকর আহমদ বিন আল-হুসাইন বিন আলী আল-বায়হাকী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: আমি আমাদের সঙ্গীদের কিতাবসমূহে দেখেছি: আবু আল-হাসান আলী বিন ইসমাইল বিন ইসহাক বিন সালিম বিন ইসমাইল বিন আব্দুল্লাহ বিন মুসা বিন বিলাল বিন আবু বুরদা বিন আবু মুসা আল-আশ’আরী। দামেশকে শায়খ আবু আল-হাসান আলী বিন আহমদ বিন কুবাইস এবং বাগদাদে ক্বারী আবু মনসুর মুহাম্মদ বিন আব্দুল মালিক বিন খাইরুন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তাঁরা উভয়ে বলেন: হাফিজ ইমাম আবু বকর আহমদ বিন আলী বিন সাবিত আল-খতিব আল-বাগদাদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: আলী বিন ইসমাইল বিন আবু বিশর—আর তাঁর নাম হলো ইসহাক—বিন সালিম বিন ইসমাইল বিন আব্দুল্লাহ বিন...
(খণ্ড: ১) তাবয়ীনু কাযিবিল মুফতারী ফীমা নুসিবা ইলাল আশআরী (পৃষ্ঠা: ৩৫)
مُوسَى بْنِ بِلالِ بْنِ أَبِي بُرْدَةَ بْنِ أَبِي مُوسَى أَبُو الْحَسَنِ الأَشْعَرِيُّ الْمُتَكَلِّمُ صَاحِبُ الْكُتُبِ والتصانيف فِي الرَّدِّ عَلَى الْمُلْحِدَةِ وَغَيْرِهِمْ مِنَ الْمُعْتَزِلَةِ وَالرَّافِضَةِ وَالْجَهْمِيَّةِ وَالْخَوَارِجِ وَسَائِرِ أَصْنَافِ الْمُبْتَدِعَةِ وَهُوَ بَصْرِيُّ سَكَنَ بَغْدَادَ إِلَى أَنْ تُوُفِّيَ بِهَا وَكَانَ يَجْلِسُ أَيَّامَ الْجُمُعَاتِ فِي حَلقَة أبي اسحق المرزوي الْفَقِيهِ مِنْ جَامِعِ الْمَنْصُورِ وَذَكَرَ الإِمَامُ أَبُو بَكْرِ بْنُ فُورَكٍ أَنَّ أَبَاهُ هُوَ أَبُو بِشْرٍ اسماعيل بن اسحق وَأَنَّهُ كَانَ سُنِّيًّا جَمَاعِيًّا حَدِيثِيًّا أَوْصَى عِنْدَ وَفَاتِهِ إِلَى زَكَرِيَّا بْنِ يَحْيَى السَّاجِيِّ رحمه الله وَهُوَ إِمَام الْفَقِيه وَالْحَدِيثِ وَلَهُ كُتُبٌ مِنْهَا كِتَابُ اخْتِلافِ الْفُقَهَاءِ وَكَانَ يَذْهَبُ مَذْهَبَ الشَّافِعِيِّ وَقَدْ رَوَى عَنْهُ الشَّيْخُ أَبُو الْحَسَنِ الأَشْعَرِيُّ فِي كِتَابِ التَّفْسِير أَحَادِيث كَثِيرَة يَعْنِي المساجي قلت وَالصَّحِيح أَن أَبَا بشر جده اسحق كَمَا سبق وَفِي نِسْبَة أَصْحَابه أَبَاهُ إِلَى أَبِي بشر تَكْذِيب لأبي عَليّ الْأَهْوَازِي فِيمَا اختلق فَإِنَّهُ زعم أَنه غير صَحِيح النّسَب وَأَنه مَا كنى عَن اسْم أَبِيه إِلَّا لهَذَا السَّبَب وَلَو كَانَت لَهُ بأسماء الرِّجَال وأنسابهم عنَاية لفرَّق بَين قولنَا كنية وكنَاية وَفِي إطباق النَّاس على تَسْمِيَته بالأشعري تَكْذِيب لما قَالَه هَذَا المفتري وَقد ورد عَن الرَّسُول المنتجب فِيمَن يطعن بِغَيْر علم فِي النّسَب مَا أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو الْقسم زَاهِر بن طَاهِر الشحامي انا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بن عَليّ الْبَيْهَقِيّ انا أَبُو بكر ابْن فورك أَنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ نَا يُونُسُ بْنُ حَبِيبٍ نَا أَبُو دَاوُدَ نَا شُعْبَةُ وَالْمَسْعُودِيُّ عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ الْحَضْرَمِيِّ عَنْ أَبِي الرَّبِيعِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ

أربح من أَمر الْجَاهِلِيَّة لن يدعن
মুসা ইবনে বিলাল ইবনে আবি বুরদাহ ইবনে আবি মুসা আবুল হাসান আল-আশআরি; তিনি ছিলেন একজন ইলমুল কালাম শাস্ত্রবিদ এবং নাস্তিক, মুতাজিলা, রাফিজি, জাহমিয়া, খাওয়ারিজ ও অন্যান্য সকল বিদআতি গোষ্ঠীর খণ্ডনে বহু গ্রন্থ ও রচনার লেখক। তিনি বসরাবাসী ছিলেন এবং মৃত্যু পর্যন্ত বাগদাদে বসবাস করেছেন। তিনি জুমার দিনগুলোতে মানসুর জামে মসজিদে ফকিহ আবু ইসহাক আল-মারওয়াজির মজলিসে বসতেন। ইমাম আবু বকর ইবনে ফুরাক উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর পিতা ছিলেন আবু বিশর ইসমাইল ইবনে ইসহাক। তিনি ছিলেন সুন্নি, জামাতি ও হাদিসপন্থী। তিনি মৃত্যুর সময় ফিকহ ও হাদিসের ইমাম জাকারিয়া ইবনে ইয়াহইয়া আস-সাজির (রহিমাহুল্লাহ) প্রতি অসিয়ত করে যান। তাঁর অনেক গ্রন্থ রয়েছে, যার মধ্যে 'ইখতিলাফুল ফুকাহা' অন্যতম। তিনি শাফেয়ী মাজহাবের অনুসারী ছিলেন। শায়খ আবুল হাসান আল-আশআরি তাঁর তাফসির গ্রন্থে আস-সাজির থেকে বহু হাদিস বর্ণনা করেছেন। আমি (গ্রন্থকার) বলছি, সঠিক কথা হলো—ইতিপূর্বে যেমন অতিক্রান্ত হয়েছে—আবু বিশর ছিলেন তাঁর দাদা ইসহাক। তাঁর সঙ্গীদের পক্ষ থেকে তাঁর পিতাকে আবু বিশরের দিকে সম্বন্ধ করা আবু আলী আল-আহওয়াজির সেই মিথ্যাচারেরই খণ্ডন যা তিনি উদ্ভাবন করেছেন; কেননা তিনি দাবি করেছিলেন যে তাঁর বংশধারা সঠিক নয় এবং তিনি কেবল এই কারণেই তাঁর পিতার নাম গোপন করে উপনাম (কুনিয়া) ব্যবহার করেছেন। যদি রিজাল শাস্ত্রের ব্যক্তিবর্গের নাম ও বংশপরিচয় সম্পর্কে তাঁর সামান্যতম জ্ঞান থাকত, তবে তিনি আমাদের উক্তি 'উপনাম' (কুনিয়া) এবং 'ইঙ্গিত' (কিনায়া)-এর মধ্যে পার্থক্য করতে পারতেন। মানুষের মাঝে তাঁকে 'আশআরি' নামে অভিহিত করার সর্বজনীন স্বীকৃতিই এই অপবাদদানকারীর দাবির অসারতা প্রমাণ করে। বংশপরিচয় সম্পর্কে না জেনে যারা অপবাদ দেয়, তাদের বিষয়ে মনোনীত রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে হাদিস বর্ণিত হয়েছে। যেমনটি আমাদের জানিয়েছেন শায়খ আবুল কাসিম জাহির বিন তাহির আশ-শাহামি; তিনি আবু বকর আহমদ বিন আল-হুসাইন বিন আলী আল-বাইহাকি থেকে; তিনি আবু বকর ইবনে ফুরাক থেকে; তিনি আবদুল্লাহ বিন জাফর থেকে; তিনি ইউনুস বিন হাবিব থেকে; তিনি আবু দাউদ থেকে; তিনি শু'বাহ ও আল-মাসউদি থেকে; তাঁরা আলকামা বিন মারসাদ আল-হাদরামি থেকে; তিনি আবু রাবি থেকে; তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে; তিনি নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন:

জাহিলিয়াতের বিষয়গুলোর মধ্যে চারটি এমন যা তারা ত্যাগ করবে না।
(খণ্ড: ১) তাবয়ীনু কাযিবিল মুফতারী ফীমা নুসিবা ইলাল আশআরী (পৃষ্ঠা: ৩৬)
النَّاسُ الطَّعْنُ فِي الأَنْسَابِ وَالنِّيَاحَةُ عَلَى الْمَيِّتِ وَالأَنْوَاءُ وَالإِعْدَاءُ أَجْرَبَ بَعِيرٌ فَأَجْرَبَ مِائَةً فَمَنْ أَجْرَبَ الْبَعِيرَ الأَوَّلَ

فَأَمَّا نَسَبُ جَدِّهِ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ رضي الله عنه فَأخْبرنَا الشَّيْخ أَبُو الْقسم إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ السَّمَرْقَنْدِيِّ أَنا أَبُو الْحُسَيْنِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ ابْن أَحْمد بن النقور الْبَزَّاز أَنا ابو الْقسم عِيسَى بْنُ عَلِيِّ بْنِ عِيسَى الْكَاتِب أَنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ قَالَ حَدَّثَنِي عَمِّي يَعْنِي عَلِيَّ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ عَن أبي عبيد قَالَ أَبُو مُوسَى عَبْدُ اللَّهِ بْنُ قَيْسٍ مِنْ وَلَدِ الْجَمَاهِرِ بْنِ الأَشْعَرِ بن أُدَدٍ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ وَقَالَ غَيْرُ أَبِي عُبَيْدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ قَيْسِ ابْن سُلَيْمِ بْنِ حَضَارِ بْنِ حَرْبِ بْنِ عَامِرِ بْنِ عِتْرِ بْنِ بكر بن عَامر بن عذر بْنِ وَائِلِ بْنِ نَاجِيَةَ بْنِ الجماهير بْنِ الأَشْعَرِ وَهُوَ نَبْتُ بْنُ أُدَدِ بْنِ يَشْجُبَ بْنِ عُرَيْبِ بْنِ زَيْدِ بْنِ كَهْلانَ بْنِ سبابن يَشْجُبَ بْنِ يَعْرُبَ بْنِ قَحْطَانَ وَأُمُّ أَبِي مُوسَى ظَبْيَةُ بِنْتُ وَهْبِ بْنِ عَكٍّ كَانَتْ أَسْلَمَتْ وَمَاتَتْ بِالْمَدِينَةِ وَأَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو الْبَرَكَاتِ عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ الْمُبَارَكِ ابْن أَحْمَدَ الأَنْمَاطِيُّ الْحَافِظُ بِبَغْدَادَ قَالَ انا أَبُو طَاهِرٍ أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ أَحْمَدَ وَأَبُو الْفَضْلِ أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ خَيْرُونَ الْبَاقِلانِيَّانِ وَأَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو الْعِزِّ ثَابِتُ بْنُ مَنْصُورِ بْنِ الْمُبَارَكِ الْكَيْلِيُّ بِبَغْدَاد أَنا ابو طَاهِر أَحْمد ابْن الْحسن قَالَا أَنا أَبُو الْحُسَيْنِ مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ مُوسَى ابْن عمرَان الْأَصْبَهَانِيّ أَنا أَبُو الْحُسَيْنِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بن اسحق أَنا أَبُو حَفْصٍ
মানুষের মধ্যে বংশমর্যাদায় অপবাদ দেওয়া, মৃতের জন্য বিলাপ করা, নক্ষত্রের প্রভাবে বৃষ্টি প্রার্থনা করা এবং সংক্রমণের ধারণা পোষণ করা—যেমন একটি উট চর্মরোগগ্রস্ত হলো এবং তার ফলে আরও একশটি উট আক্রান্ত হলো, তবে প্রথম উটটিকে কে রোগগ্রস্ত করেছিল?

আর তাঁর পিতামহ আবু মুসা আল-আশআরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর বংশপরিচয়ের বিষয়ে শেখ আবুল কাসিম ইসমাইল ইবনে আহমদ ইবনে আস-সামারকান্দি আমাদের অবহিত করেছেন। তিনি বলেন, আবুল হুসাইন আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে আন-নাকুর আল-বায্যায আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন, আবুল কাসিম ঈসা ইবনে আলী ইবনে ঈসা আল-কাতিব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল আজিজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমার চাচা অর্থাৎ আলী ইবনে আবদুল আজিজ আবু উবাইদ সূত্রে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, আবু মুসা আবদুল্লাহ ইবনে কায়েস ছিলেন জিমাহির ইবনে আল-আশআর ইবনে উদাদ-এর বংশধর। আবদুল্লাহ বলেন, আবু উবাইদ ব্যতীত অন্য একজন বলেছেন, তিনি হলেন আবদুল্লাহ ইবনে কায়েস ইবনে সুলাইম ইবনে হাযার ইবনে হারব ইবনে আমির ইবনে ইতর ইবনে বকর ইবনে আমির ইবনে উযর ইবনে ওয়ায়িল ইবনে নাজিয়া ইবনে জিমাহির ইবনে আল-আশআর। আর আল-আশআর হলেন নাবত ইবনে উদাদ ইবনে ইয়াশজুব ইবনে উরাইব ইবনে যাইদ ইবনে কাহলান ইবনে সাবা ইবনে ইয়াশজুব ইবনে ইয়ারুব ইবনে কাহতান। আর আবু মুসার মাতা ছিলেন যাবইয়াহ বিনতে ওয়াহাব ইবনে আক্ক; তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন এবং মদিনায় মৃত্যুবরণ করেন। আর বাগদাদের হাফিজ শেখ আবুল বারাকাত আবদুল ওয়াহাব ইবনে আল-মুবারক ইবনে আহমদ আল-আনমাতি আমাদের অবহিত করেছেন। তিনি বলেন, আবু তাহির আহমদ ইবনে আল-হাসান ইবনে আহমদ এবং আবুল ফজল আহমদ ইবনে আল-হাসান ইবনে খাইরুন আল-বাকিল্লানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। বাগদাদের শেখ আবু আল-ইয্য সাবিত ইবনে মানসুর ইবনে আল-মুবারক আল-কাইলিও আমাদের অবহিত করেছেন। তিনি বলেন, আবু তাহির আহমদ ইবনে আল-হাসান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তাঁরা উভয়ে বলেন, আবুল হুসাইন মুহাম্মদ ইবনে আল-হাসান ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুসা ইবনে ইমরান আল-আসবাহানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন, আবুল হুসাইন মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে ইসহাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন, আবু হাফস...
(খণ্ড: ১) তাবয়ীনু কাযিবিল মুফতারী ফীমা নুসিবা ইলাল আশআরী (পৃষ্ঠা: ৩৭)
عمر بن احْمَد بن اسحق الهوازي نَا شَبَّابٌ خَلِيفَةُ بْنُ خَيَّاطٍ الْعُصْفُرِيُّ نَا هِشَامُ بْنُ الْكَلْبِيِّ عَنْ أَبِيهِ قَالَ يَقُولُونُ وَلَدَ قَحْطَانُ الْمُرْعَفَ وَهُوَ يَعْرُبُ فَوَلَدَ يَعْرُبُ يَشْجُبَ فَوَلَدَ يَشْجُبُ سَبَأً وَهُوَ عَامِرُ فَوَلَدَ سَبَأُ كَهْلانَ فَوَلَدَ كَهْلانُ زَيْدًا فَوَلَدَ زَيْدُ عُرَيْبًا فَوَلَدَ عُرَيْبُ يَشْجُبَ فَوَلَدَ يَشْجُبُ بْنُ عُرَيْبٍ زَيْدًا فَوَلَدَ زَيْدُ أُدَدَ بْنَ زَيْدٍ فَوَلَدَ أدد بن زيد نَبْتًا وَهُوَ الأَشْعَرُ قَالَ شَبَّابٌ فَمِنَ الأَشْعَرِيِّينَ أَبُو مُوسَى الأَشْعَرِيُّ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ قَيْسِ بْنِ سُلَيْمِ بْنِ حَضَارِ بْنِ حَرْبِ بْنِ عَامِرِ بْنِ عِتْرِ بْنِ بكر بن عَامر بن عذر ابْن وَائِلِ بْنِ نَاجِيَةَ بْنِ جَمَاهِرِ بْنِ الأَشْعَرِ بْنِ أُدَدِ بْنِ زَيْدٍ وَلِيَ الْبَصْرَةَ لِعُمَرَ وَعُثْمَانَ رضي الله عنهما وَلَهُ بِهَا فُتُوحٌ كَثِيرَةٌ وَوَلِيَ الْكُوفَةَ وَلَهُ بِهَا دَارٌ وَوَلَدٌ حَضْرَةَ الْمَسْجِدِ الْجَامِعِ قَالَ شَبَّابٌ وَنَا هِشَامُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ السَّائِبِ الْكَلْبِيُّ قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَحْطَانُ مِنْ وَلَدِ إِسْمَاعِيلَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ وَبَيْنَهُ وَبَيْنَ إِسْمَاعِيلَ ثَلاثُونَ أَبًا قَالَ وَقَالَ أَبِي لَمْ يَزَلْ قَحْطَانُ يَعْرِفُونَ ذَلِكَ وَيَنْتَسِبُونَ إِلَيْهِ حَتَّى كَانَ زَمَنُ الْحَجَّاجِ كَذَا قَالَ وَالصَّوَابُ ثَلاثَةُ آبَاءٍ أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْبَاقِي بن مُحَمَّدٍ الْأنْصَارِيّ بِبَغْدَاد أَنا أَبُو مُحَمَّدٍ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيِّ بن مُحَمَّد الْجَوْهَرِي أَنا أَبُو عُمَرَ مُحَمَّدُ بْنُ الْعَبَّاسِ بن حيويه الخزازنا أَبُو الْحَسَنِ أَحْمَدُ بْنُ مَعْرُوفِ ابْن بِشْرٍ الْخَشَّابُ نَا الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْفَهْمِ الْفَقِيهُ نَا مُحَمَّدُ بْنُ سَعْدٍ كَاتِبُ الْوَاقِدِيُّ قَالَ إِلَى قَحْطَانَ جِمَاعُ الْيَمَنِ فَمَنْ نَسَبَهُ إِلَى إِسْمَاعِيلَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ قَالَ قَحْطَانُ بْنُ الْهَمَيْسَعِ بْنِ تَيْمِ بن نبت بن اسماعيل ابْن إِبْرَاهِيمَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِمَا هَكَذَا كَانَ يَنْسِبُهُ هِشَامُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ السَّائِبِ

উমর ইবনে আহমাদ ইবনে ইসহাক আল-হাওয়াযী আমাদের বর্ণনা করেছেন, শাব্বাব খলিফা ইবনে খাইয়্যাত আল-উসফুরি আমাদের বর্ণনা করেছেন, হিশাম ইবনুল কালবী তার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: তারা বলে যে, কাহতান থেকে আল-মুর'আফ জন্মগ্রহণ করেছেন, আর তিনি হলেন ইয়ারুব। অতঃপর ইয়ারুব থেকে ইয়াশজুব জন্মগ্রহণ করেন। ইয়াশজুব থেকে সাবা জন্মগ্রহণ করেন, আর তিনি হলেন আমির। সাবা থেকে কাহলান জন্মগ্রহণ করেন। কাহলান থেকে যায়েদ জন্মগ্রহণ করেন। যায়েদ থেকে উরাইব জন্মগ্রহণ করেন। উরাইব থেকে ইয়াশজুব জন্মগ্রহণ করেন। উরাইব-পুত্র ইয়াশজুব থেকে যায়েদ জন্মগ্রহণ করেন। যায়েদ থেকে উদাদ ইবনে যায়েদ জন্মগ্রহণ করেন। উদাদ ইবনে যায়েদ থেকে নাবত জন্মগ্রহণ করেন, আর তিনি হলেন আল-আশআর। শাব্বাব বলেন, আশআরী বংশীয়দের অন্তর্ভুক্ত হলেন আবু মুসা আল-আশআরী আবদুল্লাহ ইবনে কায়েস ইবনে সুলাইম ইবনে হাদার ইবনে হারব ইবনে আমির ইবনে ইতর ইবনে বকর ইবনে আমির ইবনে উজর ইবনে ওয়ায়েল ইবনে নাজিয়াহ ইবনে জামাহির ইবনে আল-আশআর ইবনে উদাদ ইবনে যায়েদ। তিনি উমর ও উসমান (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) এর পক্ষ থেকে বসরার শাসনকর্তা নিযুক্ত হয়েছিলেন এবং সেখানে তাঁর বহু বিজয় অর্জিত হয়েছিল। তিনি কুফারও শাসনকর্তা ছিলেন এবং সেখানে জামে মসজিদের সন্নিকটে তাঁর গৃহ ও সন্তানসন্ততি ছিল। শাব্বাব বলেন, হিশাম ইবনে মুহাম্মদ ইবনুস সাইব আল-কালবী আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আবু সালিহ-এর সূত্রে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: কাহতান হলেন ইব্রাহিমের পুত্র ইসমাইলের বংশধর এবং তাঁর ও ইসমাইলের মাঝে ত্রিশজন পিতৃপুরুষ রয়েছেন। তিনি বলেন: আমার পিতা বলেছেন যে, কাহতান গোত্রীয়রা সর্বদা এটি জানতেন এবং সেই বংশের সাথে নিজেদের সম্পৃক্ত করতেন হাজ্জাজের সময়কাল পর্যন্ত। তিনি (বর্ণনাকারী) এভাবেই বলেছেন, তবে সঠিক তথ্য হলো তিন জন পিতৃপুরুষ। বাগদাদে শায়খ আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আবদিল বাকি ইবনে মুহাম্মদ আল-আনসারী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু মুহাম্মদ আল-হাসান ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মদ আল-জাওহারী আমাদের জানিয়েছেন, আবু উমর মুহাম্মদ ইবনে আব্বাস ইবনে হাইয়্যাহ আল-খায্যায আমাদের জানিয়েছেন, আবু হাসান আহমাদ ইবনে মারুফ ইবনে বিশর আল-খাশ্শাব আমাদের বর্ণনা করেছেন, হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনুল ফাহম আল-ফকিহ আমাদের বর্ণনা করেছেন, ওয়াকিদির লেখক মুহাম্মদ ইবনে সাদ আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: কাহতান হলেন ইয়ামেনের সকল বংশধারার মূল কেন্দ্র। সুতরাং যারা তাঁকে ইব্রাহিম-পুত্র ইসমাইলের বংশের সাথে সম্পৃক্ত করেন, তারা বলেন যে, তিনি হলেন কাহতান ইবনুল হামায়সা ইবনে তাইম ইবনে নাবত ইবনে ইসমাইল ইবনে ইব্রাহিম (তাঁদের উভয়ের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক)। হিশাম ইবনে মুহাম্মদ ইবনুস সাইব এভাবেই তাঁর বংশতালিকাকে বর্ণনা করতেন।

(খণ্ড: ১) তাবয়ীনু কাযিবিল মুফতারী ফীমা নুসিবা ইলাল আশআরী (পৃষ্ঠা: ৩৮)
الْكَلْبِيُّ عَنْ أَبِيهِ وَيَذْكُرُ عَنْ أَبِيهِ أَنَّهُ أَدْرَك أَهْلَ النَّسَبِ وَالْعِلْمِ يَنْسِبُونَ قَحْطَانَ إِلَى إِسْمَاعِيلَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ وَمَنْ نَسَبَهُ إِلَى غير ذَلِك قَالَ قحطان ابْن فالغ بن عَابِر بن أرفخشذ بْنِ سَامِ بْنِ نُوحٍ صلى الله عليه وسلم وَأَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو الْقَاسِم بن السَّمرقَنْدِي أَنا أَبُو أَبُو الْحُسَيْن بن النقور أَنا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمُخْلِصُ أَنا رَضْوَانُ بْنُ أَحْمَدَ الصَّيْدَلانِيُّ نَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الْجَبَّارِ الْعُطَارِدِيُّ نَا يُونُسُ بْنُ بُكَيْرٍ عَنِ ابْن اسحق قَالَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ آذَرَ وَهُوَ فِي التَّوْرَاة تارخ بن ناحور بن أرغو بن سارخ بن فالغ بن عَابِر بن شالخ بن أرفخشذ بْنِ سَامِ بْنِ نُوحِ بْنِ لمك بن متوشلخ بن حنوخ بن يربن مهلاييل ابْن قمعان بْنِ أَنُوشِ بْنِ شِيثِ بْنِ آدَمَ أَبِي الْبَشَرِ عليه السلام وَقَالَ عيرة قينان وَقد اخْتلف فِي نسب إِبْرَاهِيم عَلَيْهِ أفضل السَّلَام وَقَول ابْن اسحق نكتفي بِهِ عَن قَول غَيره من عُلَمَاء الْإِسْلَام

فَأَما سَبَب رُجُوع أَبِي الْحسن عَمَّا كَانَ عَلَيْهِ وتبريه مِمَّا كَانَ يَدْعُو إِلَيْهِ فَأَخْبَرَنِي الشَّيْخُ أَبُو الْمُظَفَّرِ أَحْمَدُ بْنُ أَبِي الْعَبَّاسِ الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْبِسْطَامِيُّ الشُّعَيْرِيُّ بِبِسْطَامَ قَالَ أَنا جَدِّي لأُمِّي الشَّيْخُ الزَّاهِدُ أَبُو الْفَضْلِ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ أَحْمَدَ بن الْحُسَيْنِ بْنِ سَهْلٍ السَّهْلَكِيُّ الْبِسْطَامِيُّ قَالَ سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنُ عَلِيِّ بْنِ أَحْمَدَ بن الْحُسَيْنِ الْوَاعِظُ رحمه الله يَقُولُ سَمِعْتُ أَحْمَدَ بْنَ الْحُسَيْنِ الْمُتَكَلِّمَ قَالَ سَمِعْتُ بَعْضَ أَصْحَابِنَا يَقُولُ إِنَّ الشَّيْخَ أَبَا الْحَسَنِ رحمه الله لَمَّا تَبَحَّرَ فِي كَلامِ الاعْتِزَالِ وَبَلَغَ غَايَةً كَانَ يُورِدُ الأَسْئِلَةَ عَلَى أُسْتَاذَيْهِ فِي الدَّرْسِ وَلا يَجِدُ فِيهَا جَوَابًا شَافِيًا فَتَحَيَّرَ فِي ذَلِكَ فَحَكَى عَنْهُ أَنَّهُ قَالَ وَقَعَ فِي صَدْرِي فِي
কালবি তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন, এবং তিনি তাঁর পিতার পক্ষ থেকে উল্লেখ করেন যে, তিনি বংশবিদ্যা ও জ্ঞান বিশারদদের এমন অবস্থায় পেয়েছেন যে তাঁরা কাহতানের বংশধারাকে ইব্রাহিমের পুত্র ইসমাইলের সাথে সম্পর্কিত করতেন। আর যারা তাঁকে অন্য কারো বংশধর হিসেবে গণ্য করেছেন, তারা বলেছেন যে কাহতান হলেন ফালিগ বিন আবের বিন আরফাখশাদ বিন সাম বিন নূহ (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক)-এর পুত্র। এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শেখ আবু আল-কাসিম বিন আস-সামারকান্দি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হুসাইন বিন আন-নাকুর, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল-মুখলিস, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন রাদওয়ান বিন আহমদ আস-সাইদালানি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন আব্দুল জাব্বার আল-উতারিদি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইউনুস বিন বুকাইর ইবনে ইসহাকের সূত্রে, তিনি বলেন: ইব্রাহিম বিন আযর—আর তাওরাতে তিনি হলেন তারিখ বিন নাহুর বিন আরগু বিন সারুখ বিন ফালিগ বিন আবের বিন শালিহ বিন আরফাখশাদ বিন সাম বিন নূহ বিন লামক বিন মাতুশালাখ বিন আনুশ বিন ইয়ারদ বিন মাহলাইল বিন কাইনান বিন আনুশ বিন শিথ বিন আদম—যিনি মানবজাতির পিতা (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক)। আর তিনি কাইনান সম্পর্কে ভিন্ন মত ব্যক্ত করেছেন। ইব্রাহিম (তাঁর ওপর সর্বোত্তম শান্তি বর্ষিত হোক)-এর বংশপরিচয় নিয়ে মতভেদ রয়েছে, তবে ইবনে ইসহাকের বক্তব্যই অন্যান্য মুসলিম আলেমদের বক্তব্যের তুলনায় আমাদের জন্য যথেষ্ট।

আর আবুল হাসানের (পুরানো মতবাদ থেকে) ফিরে আসা এবং তিনি যে মতবাদের দিকে আহ্বান জানাতেন তা থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করার কারণ সম্পর্কে আমাকে জানিয়েছেন শেখ আবু আল-মুজাফ্ফর আহমদ বিন আবু আল-আব্বাস আল-হাসান বিন মুহাম্মদ আল-বিস্তামি আল-শুআইরি বিস্তাম নগরে; তিনি বলেন: আমাকে আমার মাতামহ শেখ যাহেদ আবু আল-ফাদল মুহাম্মদ বিন আলি বিন আহমদ বিন আল-হুসাইন বিন সাহল আল-সাহলাকি আল-বিস্তামি জানিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি মুহাম্মদ বিন আলি বিন আহমদ বিন আল-হুসাইন আল-ওয়াইজকে (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক) বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আহমদ বিন আল-হুসাইন আল-মুতাকাল্লিমকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আমাদের জনৈক সাথীকে বলতে শুনেছি যে, শেখ আবুল হাসান (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক) যখন মুতাজিলা মতবাদের ইলমুল কালামে গভীর ব্যুৎপত্তি লাভ করলেন এবং তার চূড়ান্ত শিখরে পৌঁছালেন, তখন তিনি পাঠদানকালে তাঁর শিক্ষকদের কাছে নানা প্রশ্ন উত্থাপন করতেন এবং তার কোনো সন্তোষজনক উত্তর পেতেন না। এতে তিনি অত্যন্ত সংশয়ে নিপতিত হলেন। তাঁর পক্ষ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছিলেন: "আমার অন্তরে এই বিষয়টি উদয় হলো যে..."
(খণ্ড: ১) তাবয়ীনু কাযিবিল মুফতারী ফীমা নুসিবা ইলাল আশআরী (পৃষ্ঠা: ৩৯)
بَعْضِ اللَّيَالِي شَيْءٌ مِمَّا كُنْتُ فِيهِ مِنَ الْعَقَائِدِ فَقُمْتُ وَصَلَّيْتُ رَكْعَتَيْنِ وَسَأَلْتُ اللَّهَ تَعَالَى أَنْ يَهْدِيَنِي الطَّرِيقَ الْمُسْتَقِيمَ وَنِمْتُ فَرَأَيْتُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْمَنَامِ فَشَكَوْتُ إِلَيْهِ بَعْضَ مَا بِي مِنَ الأمْرِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَيْكَ بِسُنَّتِي فَانْتَبَهْتُ وَعَارَضْتُ مَسَائِلَ الْكَلامِ بِمَا وَجَدْتُ فِي الْقُرْآنِ وَالأَخْبَارِ فَأَثْبَتُّهُ وَنَبَذْتُ مَا سِوَاهُ وَرَائِي ظِهْرِيًّا وَذكر أَبُو الْقسم حجاج بن مُحَمَّد الطرابلسي من أهل طرابلس الْمغرب قَالَ سَأَلت أَبَا بكر إِسْمَاعِيل بن أَبِي مُحَمَّد بن اسحق الْأَزْدِيّ القيراوني الْمَعْرُوف بابْن عزْرَة رحمه الله عَنْ أَبِي الْحسن الْأَشْعَرِيّ رَحْمَة اللَّه فَقلت لَهُ قيل لي عَنهُ إِنَّه كَانَ معتزليا وَإنَّهُ لما رَجَعَ عَن ذَلِك أُبْقِي للمعتزلة نكتا لم ينقضها فَقَالَ لي الْأَشْعَرِيّ شيخنَا وإمامنَا وَمن عَلَيْهِ معولنا قَامَ على مَذَاهِب الْمُعْتَزلَة أَرْبَعِينَ سنة وَكَانَ لَهُم إِمَامًا ثمَّ غَابَ عَن النَّاس فِي بَيته خَمْسَة عشر يَوْمًا فَبعد ذَلِك خرج إِلَى الْجَامِع فَصَعدَ الْمِنْبَر وَقَالَ معاشر النَّاس إِنِّي إِنَّمَا تغيبت عَنْكُم فِي هَذِهِ الْمدَّة لِأَنِّي نظرت فتكافأت عِنْدِي الْأَدِلَّة وَلم يتَرَجَّح عِنْدِي حق على بَاطِل وَلَا بَاطِل على حق فاستهديت اللَّه تبارك وتعالى فهداني إِلَى اعْتِقَاد مَا أودعته فِي كتبي هَذِهِ وانخلعت من جَمِيع مَا كنت أعتقده كَمَا انخلعت من ثوبي هَذَا وانخلع من ثوب كَانَ عَلَيْهِ وَرمى بِهِ وَدفع الْكتب إِلَى النَّاس فَمِنْهَا كتاب اللمع وَكتاب أظهر فِيهِ عوار الْمُعْتَزلَة سَمَّاهُ بِكِتَاب كشف الْأَسْرَار وهتك الأستار وَغَيرهمَا فَلَمَّا قَرَأَ تِلْكَ الْكتب أهل الحَدِيث وَالْفِقْه من أهل السّنة وَالْجَمَاعَة أخذُوا بِمَا فِيهَا وانتحلوه واعتقدوا تقدمه واتخذوه إِمَامًا حَتَّى
কোন এক রাতে আমি আমার পূর্ববর্তী আকীদাসমূহের কোনো একটি বিষয়ে সংশয়ে ছিলাম। তখন আমি দাঁড়িয়ে দু-রাকাত সালাত আদায় করলাম এবং মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করলাম যেন তিনি আমাকে সঠিক পথ প্রদর্শন করেন। এরপর আমি ঘুমিয়ে পড়লাম এবং স্বপ্নে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখতে পেলাম। আমি তাঁর কাছে আমার কিছু সমস্যার কথা জানালাম। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "তুমি আমার সুন্নাহ আঁকড়ে ধরো।" ফলে আমি জাগ্রত হলাম এবং ইলমুল কালামের মাসআলাগুলোকে কুরআন ও হাদিসে প্রাপ্ত জ্ঞানের সাথে তুলনা করলাম। অতঃপর যা (কুরআন-সুন্নাহর অনুকূলে) সঠিক পেলাম তা গ্রহণ করলাম এবং অবশিষ্ট বিষয়গুলোকে পুরোপুরি বর্জন করলাম। মাগরেবের ত্রিপোলি নিবাসী আবুল কাসিম হাজ্জাজ বিন মুহাম্মদ আত-তরাবুলসি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি বলেন: আমি আবু বকর ইসমাইল বিন আবি মুহাম্মদ বিন ইসহাক আল-আজদি আল-কায়রাওয়ানি—যিনি ইবনে উজরাহ নামে পরিচিত (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)—তাকে আবুল হাসান আল-আশআরি (আল্লাহর রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। আমি তাকে বললাম, তাঁর সম্পর্কে আমাকে বলা হয়েছে যে, তিনি একজন মুতাজিলা ছিলেন এবং যখন তিনি তা থেকে ফিরে এসেছিলেন, তখন তিনি মুতাজিলাদের কিছু সূক্ষ্ম বিষয় বর্জন করেননি। তখন তিনি আমাকে বললেন: আল-আশআরি আমাদের শায়খ, আমাদের ইমাম এবং আমাদের প্রধান নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি। তিনি চল্লিশ বছর মুতাজিলা মতবাদের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন এবং তাদের ইমাম ছিলেন। অতঃপর তিনি পনের দিন লোকচক্ষুর অন্তরালে নিজগৃহে অবস্থান করেন। এরপর তিনি জামে মসজিদে বেরিয়ে এসে মিম্বরে আরোহণ করলেন এবং বললেন: হে লোকসকল! আমি এই সময়ে তোমাদের থেকে অনুপস্থিত ছিলাম কারণ আমি পর্যালোচনা করে দেখেছি যে, আমার কাছে দলীলসমূহ সমপর্যায়ের মনে হয়েছে; সত্যের ওপর বাতিলের কিংবা বাতিলের ওপর সত্যের কোনো প্রাধান্য পরিলক্ষিত হয়নি। ফলে আমি মহান আল্লাহর নিকট হেদায়াত প্রার্থনা করলাম এবং তিনি আমাকে সেই বিশ্বাসের দিকে পরিচালিত করলেন যা আমি আমার এই কিতাবসমূহে লিপিবদ্ধ করেছি। আর আমি আমার পূর্বের যাবতীয় বিশ্বাস থেকে সেভাবেই মুক্ত হলাম যেভাবে আমি আমার এই পরিধেয় বস্ত্রটি ত্যাগ করছি। এরপর তিনি তাঁর পরিহিত একটি বস্ত্র খুলে ছুড়ে দিলেন এবং কিতাবগুলো মানুষের হাতে তুলে দিলেন। সেগুলোর মধ্যে ছিল 'কিতাবুল লুমা' এবং মুতাজিলাদের কলঙ্ক উন্মোচনকারী একটি কিতাব যার নাম তিনি দিয়েছিলেন 'কাশফুল আসরার ওয়া হাতকুল আস্তার' এবং আরও অন্যান্য কিতাব। যখন আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের হাদিস বিশারদ ও ফকীহগণ সেই কিতাবগুলো পাঠ করলেন, তখন তাঁরা এতে যা আছে তা গ্রহণ করলেন এবং তা নিজেদের আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করলেন। তাঁরা তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করলেন এবং তাঁকে ইমাম হিসেবে গ্রহণ করলেন, এমনকি...
(খণ্ড: ১) তাবয়ীনু কাযিবিল মুফতারী ফীমা নুসিবা ইলাল আশআরী (পৃষ্ঠা: ৪০)
نسب مَذْهَبهم إِلَيْهِ قَالَ لي أَبُو بكر فَصَارَ عِنْد الْمُعْتَزلَة كَكِتَابِيٍّ أَسْلَمَ وَأظْهر عوار مَا تَركه فَهُوَ أعدى الْخلق إِلَى أهل الذِّمَّة وَكَذَلِكَ الْأَشْعَرِيّ أعدى الْخلق إِلَى الْمُعْتَزلَة فهم يشنعون عَلَيْهِ من الأشانيع وينسبون إِلَيْهِ الأباطيل أخبرنَا الشَّيْخ ابو الْقسم بن أَبِي الْعَبَّاس بن أَبِي مُحَمَّد بن آدم قَالَ أَنا جدي أَبُو مُحَمَّد بن أَبِي نصر الْمقري قَالَ سَمِعت الْحسن بن عَلِيِّ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الْفَارِسِي يَقُول سَمِعت أَبَا عَبْد اللَّهِ الحمراني يَقُول لم نشعر يَوْم الْجُمُعَة وَإِذا بالأشعري قد طلع على مِنْبَر الْجَامِع بِالْبَصْرَةِ بعد صَلَاة الْجُمُعَة وَمَعَهُ شريط شده فِي وَسطه ثمَّ قطعه وَقَالَ اشْهَدُوا عَليّ أَنِّي كنت على غير دين الْإِسْلَام وَإِنِّي قد أسلمت السَّاعَة وَإِنِّي تائب مِمَّا كنت فِيهِ من القَوْل بالاعتزال ثمَّ نزل الحمراني مَجْهُول وَذكر أَبُو عمر وَعُثْمَان بن أَبِي بكر بن حمود بن أَحْمد السفاقسي المغربي وَكَانَ فهما فَاضلا لبيبا عَاقِلا وَقدم دمشق وَسمع مِنْهُ شُيُوخ شيوخنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَحْمَدَ الكتاني الْحَافِظ وَغَيره قَالَ سَمِعت الإِمَام أَبَا عَبْد اللَّهِ الْحُسَيْن بن مُحَمَّد يَقُول سَمِعت غير وَاحِد من أئمتنَا يَحْكِي كَيفَ كَانَ بَدْء رُجُوع الإِمَام المبرأ من الزيغ والتضليل أَبِي الْحسن عَليّ بن إِسْمَاعِيلَ أَنه قَالَ بينَا أنَا نَائم فِي الْعشْر الأول من شهر رَمَضَان رَأَيْت الْمُصْطَفى صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا عَليّ انصر الْمذَاهب المروية عني فَإِنَّهَا الْحق فَلَمَّا استيقظت دخل عَلَيَّ أَمر عَظِيم وَلم أزل مفكرا مهموما لرؤياي وَلما أنَا عَلَيْهِ من إِيضَاح الْأَدِلَّة فِي خلاف ذَلِك حَتَّى كَانَ الْعشْر الْأَوْسَط فَرَأَيْت النَّبِي صلى الله عليه وسلم فِي المنَام فَقَالَ لي مَا فعلت فِيمَا أَمرتك

তাদের মাযহাব বা মতাদর্শ তাঁর দিকেই সম্বন্ধযুক্ত। আবু বকর আমাকে বললেন, ফলে মুতাজিলাদের নিকট তাঁর অবস্থা এমন হলো যেমন একজন আহলে কিতাব ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করে এবং সে যা পরিত্যাগ করে এসেছে তার দোষত্রুটিগুলো প্রকাশ করে দেয়। ফলে সে জিম্মিদের জন্য সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে বড় শত্রুতে পরিণত হয়। তদ্রূপ আল-আশআরিও মুতাজিলাদের জন্য সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে বড় শত্রুতে পরিণত হলেন। তাই তারা তাঁর বিরুদ্ধে নানাবিধ কুৎসা রটনা করে এবং তাঁর প্রতি ভিত্তিহীন সব কথা আরোপ করে। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ আবুল কাসিম ইবন আবিল আব্বাস ইবন আবি মুহাম্মদ ইবন আদম, তিনি বলেন, আমার দাদা আবু মুহাম্মদ ইবন আবি নাসর আল-মুখরি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আমি হাসান ইবন আলী ইবন ইব্রাহিম আল-ফারিসিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি আবু আবদুল্লাহ আল-হামরানিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমরা জুমার দিন টেরও পাইনি, হঠাৎ দেখলাম আল-আশআরি জুমার নামাজের পর বসরার জামে মসজিদের মিম্বারে আরোহণ করেছেন। তাঁর কোমরে একটি সুতা বাঁধা ছিল, তিনি তা ছিঁড়ে ফেললেন এবং বললেন: আপনারা সাক্ষী থাকুন যে, আমি ইসলামের বহির্ভূত একটি দ্বীনের উপর ছিলাম, আর আমি এইমাত্র ইসলাম গ্রহণ করলাম। ইতিপূর্বে আমি যে মুতাজিলা মতবাদের প্রবক্তা ছিলাম তা থেকে আমি তওবা করছি। এরপর তিনি মিম্বার থেকে নেমে এলেন। তবে আল-হামরানি একজন অজ্ঞাত ব্যক্তি। এবং আবু উমর উসমান ইবন আবি বকর ইবন হামুদ ইবন আহমদ আল-সাফাকুসি আল-মাগরিবি—যিনি অত্যন্ত মেধাবী, গুণী, বুদ্ধিমান ও প্রজ্ঞাবান ছিলেন, দামেস্কে আগমন করেছিলেন এবং আমাদের শায়খদের শায়খ আবু মুহাম্মদ আবদুল আজিজ ইবন আহমদ আল-কাত্তানি আল-হাফিজ ও অন্যান্যেরা তাঁর থেকে শ্রবণ করেছেন—তিনি বর্ণনা করেন যে, আমি ইমাম আবু আবদুল্লাহ আল-হুসাইন ইবন মুহাম্মদকে বলতে শুনেছি, আমি আমাদের ইমামদের একাধিক ব্যক্তিকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, বিচ্যুতি ও পথভ্রষ্টতা থেকে পবিত্র ইমাম আবুল হাসান আলী ইবন ইসমাইলের প্রত্যাবর্তনের সূচনা কীভাবে হয়েছিল। তিনি বলেন: রমজান মাসের প্রথম দশকে আমি যখন ঘুমন্ত ছিলাম, স্বপ্নে মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখতে পেলাম। তিনি বললেন: হে আলী! আমার থেকে বর্ণিত মাযহাবসমূহকে সাহায্য করো, কারণ সেগুলোই সত্য। যখন আমি জাগ্রত হলাম, তখন আমার ওপর এক বিশাল বিষয় চেপে বসল। আমি আমার স্বপ্নের ব্যাপারে এবং আমি বর্তমানে যে দলিলের মাধ্যমে এর বিপরীত বিষয়ের স্পষ্ট ব্যাখ্যায় লিপ্ত রয়েছি, তা নিয়ে নিরন্তর চিন্তিত ও বিচলিত হয়ে পড়লাম। এরপর যখন রমজানের দ্বিতীয় দশক উপস্থিত হলো, আমি পুনরায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে স্বপ্নে দেখলাম। তিনি আমাকে বললেন: আমি তোমাকে যা আদেশ করেছিলাম, সে বিষয়ে তুমি কী করলে?

(খণ্ড: ১) তাবয়ীনু কাযিবিল মুফতারী ফীমা নুসিবা ইলাল আশআরী (পৃষ্ঠা: ৪১)
بِهِ فَقلت يارسول اللَّه وَمَا عَسى أَن أفعل وَقد خرجت للمذاهب المروية عَنْك وُجُوهًا يحتملها الْكَلَام وَاتَّبَعت الْأَدِلَّة الصَّحِيحَة الَّتِي يجوز إِطْلَاقهَا على الْبَارِي عز وجل فَقَالَ لي انصر الْمذَاهب المروية عني فَإِنَّهَا الْحق فَاسْتَيْقَظت وأنَا شَدِيد الأسف والحزن فأجمعت على ترك الْكَلَام وَاتَّبَعت الحَدِيث وتلاوة الْقُرْآن فَلَمَّا كَانَت لَيْلَة سبع وَعشْرين وَفِي عادتنَا بِالْبَصْرَةِ أَن يجْتَمع الْقُرَّاء وَأهل الْعلم وَالْفضل فيختمون الْقُرْآن فِي تِلْكَ اللَّيْلَة مكثت فيهم على مَا جرت عادتنَا فأخذني من النعاس مَا لم أتمالك مَعَه أَن قُمْت فَلَمَّا وصلت إِلَى الْبَيْت نمت وَبِي من الأسف على مَا فَاتَنِي من ختم تِلْكَ اللَّيْلَة أَمر عَظِيم فَرَأَيْت النَّبِي صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لي مَا صنعت فِيمَا أَمرتك بِهِ فَقلت قد تركت الْكَلَام ولزمت كتاب الله وسنتك فَقَالَ لي انا أَمرتك بترك الْكَلَام إِنَّمَا أَمرتك بنصرة الْمذَاهب المروية عني فَإِنَّهَا الْحق فَقلت يارسول اللَّه كَيفَ أدع مذهبا تصورت مسَائِله وَعرفت أدلته مُنْذُ ثَلَاثِينَ سنة لرؤية فَقَالَ لي لَوْلَا أَنِّي أعلم أَن اللَّه تَعَالَى يمدك بمدد من عِنْده لما قُمْت عَنْك حَتَّى أبين لَك وجوهها وكأنك تعد إتياني إِلَيْك هَذَا رُؤْيا أَو رُؤْيَايَ جِبْرِيل كَانَت رُؤْيا إِنَّك لَا تراني فِي هَذَا المعني بعْدهَا فجد فِيهِ فَإِن اللَّه سيمدك بمدد من عِنْده قَالَ فَاسْتَيْقَظت وَقلت مَا بعد الْحق إِلَّا الضلال وَأخذت فِي نصْرَة الْأَحَادِيث فِي الرُّؤْيَة والشفاعة وَالنَّظَر وَغير ذَلِك فَكَانَ يأتيني شَيْء واللَّه مَا سمعته من خصم قطّ وَلَا رَأَيْته فِي كتاب فَعلمت أَن ذَلِك من مدد اللَّه تَعَالَى الَّذِي بشرني بِهِ رَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَرَأْتُ فِيمَا رَوَاهُ الشَّيْخُ

সে বিষয়ে আমি বললাম, "হে আল্লাহর রাসূল! আমি কী-ই বা করতে পারি? আপনার পক্ষ থেকে বর্ণিত মতাদর্শগুলোর (মাযহাবসমূহ) বিপরীতে কালাম শাস্ত্রের (যুক্তিবিদ্যার) নিরিখে সম্ভবপর নানা ব্যাখ্যা আমি ইতোমধ্যেই দাঁড় করিয়েছি এবং আমি এমন সব সহীহ দলিল অনুসরণ করেছি যা মহান রব্বুল আলামীনের শানে প্রয়োগ করা বৈধ।" তখন তিনি আমাকে বললেন, "আমার পক্ষ থেকে বর্ণিত মতাদর্শগুলোকেই সাহায্য করো; কেননা তা-ই সত্য।" অতঃপর আমি অত্যন্ত অনুতাপ ও দুঃখ নিয়ে জাগ্রত হলাম এবং ইলমুল কালাম বর্জন করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলাম। এরপর থেকে আমি হাদিস অনুসরণ ও কুরআন তিলাওয়াতে মনোনিবেশ করলাম।

অতঃপর যখন সাতাশতম রাত এল—আর বসরায় আমাদের নিয়ম ছিল যে, ক্বারীগণ এবং ইলম ও ফযীলতের অধিকারী ব্যক্তিবর্গ একত্রিত হয়ে সেই রাতে কুরআন খতম করতেন—আমিও প্রথানুসারে তাঁদের মাঝে অবস্থান করলাম। কিন্তু আমার ওপর এমন তন্দ্রাচ্ছন্নতা আচ্ছন্ন হলো যে, আমি নিজেকে সামলাতে না পেরে উঠে পড়লাম। যখন বাড়ি পৌঁছে ঘুমালাম, তখন সেই রাতের কুরআন খতমের মজলিসে উপস্থিত থাকতে না পারার কারণে আমার মনে প্রচণ্ড আক্ষেপ অনুভূত হচ্ছিল। এমতাবস্থায় আমি পুনরায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে স্বপ্নে দেখলাম। তিনি আমাকে বললেন, "আমি তোমাকে যা আদেশ করেছিলাম, সে বিষয়ে তুমি কী করলে?" আমি বললাম, "আমি কালাম শাস্ত্র ত্যাগ করেছি এবং আল্লাহর কিতাব ও আপনার সুন্নাহকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরেছি।" তখন তিনি আমাকে বললেন, "আমি তোমাকে কালাম শাস্ত্র ত্যাগ করতে বলিনি; বরং আমি তোমাকে নির্দেশ দিয়েছিলাম আমার পক্ষ থেকে বর্ণিত মতাদর্শগুলোকে সাহায্য করার জন্য, কেননা তা-ই সত্য।"

আমি আরজ করলাম, "হে আল্লাহর রাসূল! তিরিশ বছর যাবত যে মতাদর্শের মাসআলাসমূহ আমি আত্মস্থ করেছি এবং যার দলিলসমূহ আমার নখদর্পণে, কেবল একটি স্বপ্নের কারণে আমি তা কীভাবে পরিত্যাগ করব?" তিনি আমাকে বললেন, "আমি যদি না জানতাম যে আল্লাহ তাআলা তাঁর পক্ষ থেকে বিশেষ সাহায্য দিয়ে তোমাকে শক্তিশালী করবেন, তবে এর প্রতিটি দিক তোমার কাছে স্পষ্ট না করা পর্যন্ত আমি তোমার কাছ থেকে যেতাম না। তুমি কি আমার এই আগমনকে কেবল একটি সাধারণ স্বপ্ন মনে করছ? জিবরাঈলের (আলাইহিস সালাম) আমাকে দেখা কি স্বপ্ন ছিল? এই বিষয়ের ওপর তুমি এরপর আমাকে আর দেখবে না। সুতরাং এই কাজে সচেষ্ট হও; নিশ্চয়ই আল্লাহ অচিরেই তোমাকে তাঁর পক্ষ থেকে বিশেষ সাহায্য প্রদান করবেন।"

তিনি (ইমাম আশআরী) বলেন, অতঃপর আমি জাগ্রত হলাম এবং বললাম, "সত্যের পর বিভ্রান্তি ছাড়া আর কিছু নেই।" এরপর আমি আল্লাহর দীদার (দর্শন), শাফাআত ও অন্যান্য বিষয়ে বর্ণিত হাদিসসমূহের সপক্ষে ও সমর্থনে কাজ শুরু করলাম। এরপর আল্লাহর কসম! আমার কাছে এমন সব তত্ত্ব ও যুক্তির দ্বার উন্মোচিত হতে শুরু করল যা আমি ইতিপূর্বে কখনো কোনো প্রতিপক্ষের নিকট থেকে শুনিনি এবং কোনো কিতাবেও দেখিনি। তখন আমি নিশ্চিতভাবে উপলব্ধি করলাম যে, এটি আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে সেই ঐশী সাহায্য, যার সুসংবাদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে দিয়েছিলেন। শায়খ যা বর্ণনা করেছেন আমি তাতে পড়েছি যে—

(খণ্ড: ১) তাবয়ীনু কাযিবিল মুফতারী ফীমা নুসিবা ইলাল আশআরী (পৃষ্ঠা: ৪২)
الزَّاهِدُ أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الْقَادِرِ بْنُ مُحَمَّدٍ الصَّدَفِيُّ الْقَيْرَوَانِيُّ الْمَعْرُوفُ بِابْن الْخياط قَالَ أَنا الشَّيْخُ الْفَقِيهُ أَبُو بَكْرٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْقُرَشِيُّ الْقَيْرَوَانِيُّ قَالَ نَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحُسَيْنُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حَاتِمٍ الأَزْدِيُّ صَاحِبُ الْقَاضِي الْجَلِيلِ أَبِي بَكْرِ بْنِ الْبَاقِلانِيِّ قَالَ كَانَ الشَّيْخُ أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الأَشْعَرِيُّ رِضْوَانُ اللَّهِ عَلَيْهِ فِي الأَصْلِ مُعْتَزِلِيًّا فَحَكَى لَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحُسَيْنُ الْمُتَكَلّم الرَّازِيّ قَالَ أَنا أَبُو الْحَسَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ بِطَبَرِسْتَانَ قَالَ حَكَى لَنَا الشَّيْخُ أَبُو الْحَسَنِ رضي الله عنه قَالَ كَانَ الدَّاعِي إِلَى رُجُوعِي عَنِ الاعْتِزَالِ وَإِلَى النَّظَرِ فِي أدلتهم واستخراج فسادهم أَنِّي رَأَيْت رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي مَنَامِي فِي أَوَّلِ شَهْرِ رَمَضَانَ فَقَالَ لِي يَا أَبَا الْحسن كتبت الحَدِيث فَقَالَت بلَى يارسول اللَّهِ فَقَالَ أَوَ مَا كَتَبْتَ أَنَّ اللَّهَ تَعَالَى يُرَى فِي الآخِرَةِ فَقُلْتُ بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ فَقَالَ لِي صلى الله عليه وسلم فَمَا الَّذِي يَمْنَعُكَ مِنَ الْقَوْلِ بِهِ قُلْتُ أَدِلَّةُ الْعُقُولِ مَنَعَتْنِي فَتَأَوَّلْتُ الأَخْبَارَ فَقَالَ لِي وَمَا قَامَتْ أَدِلَّةُ الْعُقُولِ عِنْدَكَ عَلَى أَنَّ اللَّهَ تَعَالَى يُرَى فِي الآخِرَةِ فَقُلْتُ بَلَى يارسول اللَّهِ فَإِنَّمَا هِيَ شُبَهٌ فَقَالَ لِي تَأَمَّلْهَا وَانْظُرْ فِيهَا نَظَرًا مُسْتَوْفًى فَلَيْسَتْ بِشُبَهٍ بَلْ هِيَ أَدِلَّةٌ وَغَابَ عَنِّي صلى الله عليه وسلم قَالَ أَبُو الْحَسَنِ فَلَمَّا انْتَبَهْتُ فَزِعْتُ فَزَعًا شَدِيدًا وَأَخَذْتُ أَتَأَمَّلُ مَا قَالَهُ صلى الله عليه وسلم وَاسْتَثْبَتُّ فَوَجَدْتُ الأَمْرَ كَمَا قَالَ فَقَوِيَتْ أَدِلَّةُ الإِثْبَاتِ فِي قَلْبِي وَضَعُفَتْ أَدِلَّةُ النَّفْي فَسكت وَلم أظهر للنَّاس شَيْئًا وَكُنْتُ مُتَحِيَّرًا فِي أَمْرِي فَلَمَّا دَخَلْنَا فِي الْعُشْرِ الثَّانِي مِنْ رَمَضَانَ رَأَيْتُهُ صلى الله عليه وسلم قَدْ أَقْبَلَ فَقَالَ يَا أَبَا الْحَسَنِ أَيَّ شَيْءٍ عَمِلْتَ فِيمَا قُلْتُ لَكَ فَقُلُتْ يارسول اللَّهِ الأَمْرُ كَمَا قُلْتَ

জাহিদ আবু মুহাম্মদ আব্দুল কাদির বিন মুহাম্মদ আস-সাদাফি আল-কায়রাওয়ানি, যিনি ইবনুল খাইয়াত নামে পরিচিত, বর্ণনা করেন: আমাদের নিকট শাইখুল ফকিহ আবু বকর আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-কুরাশি আল-কায়রাওয়ানি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন বিন আব্দুল্লাহ বিন হাতিম আল-আজদি বর্ণনা করেছেন, যিনি মহান কাজি আবু বকর বিন আল-বাকিল্লানির সহচর ছিলেন। তিনি বলেন: শাইখ আবুল হাসান আলি বিন ইসমাইল আল-আশআরি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) মূলত মুতাজিলা মতাদর্শী ছিলেন। অতঃপর মুতাকাল্লিম আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন আর-রাজি আমাদের নিকট বর্ণনা করেন; তিনি বলেন: তাবারিস্থানে আমাদের নিকট আবুল হাসান বিন মাহদি বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: শাইখ আবুল হাসান (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "মুতাজিলা মতবাদ ত্যাগ করার এবং তাদের দলিলসমূহ পরীক্ষা করে সেগুলোর অসারতা উদ্ঘাটন করার পেছনে মূল কারণ ছিল এই যে, আমি রমজান মাসের শুরুতে স্বপ্নে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে দর্শন করলাম। তিনি আমাকে বললেন, 'হে আবুল হাসান, তুমি কি হাদিস লিপিবদ্ধ করেছ?' আমি আরজ করলাম, 'জি হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসুল।' তিনি বললেন, 'তুমি কি এ কথা লিপিবদ্ধ করনি যে, মহান আল্লাহকে পরকালে দেখা যাবে?' আমি আরজ করলাম, 'জি হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসুল।' তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে বললেন, 'তবে এই সত্য কথাটি বলতে তোমাকে কিসে বাধা দিচ্ছে?' আমি বললাম, 'যুক্তিবিদ্যার দলিলসমূহ আমাকে বাধা দিয়েছে, ফলে আমি এ সংক্রান্ত বর্ণনাগুলোর রূপক ব্যাখ্যা করেছি।' তিনি আমাকে বললেন, 'তোমার নিকট কি বুদ্ধিবৃত্তিক দলিলসমূহ এ কথা প্রমাণ করেনি যে, মহান আল্লাহকে পরকালে দেখা যাবে?' আমি আরজ করলাম, 'জি হ্যাঁ হে আল্লাহর রাসুল, তবে সেগুলো তো সংশয় মাত্র।' তখন তিনি আমাকে বললেন, 'সেগুলো নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা ও পূর্ণাঙ্গরূপে পর্যবেক্ষণ করো; সেগুলো সংশয় নয়, বরং সেগুলোই অকাট্য দলিল।' এরপর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার নিকট থেকে অদৃশ্য হয়ে গেলেন।" আবুল হাসান বলেন: "আমি যখন জাগ্রত হলাম, তখন ভীষণভাবে বিচলিত হয়ে পড়লাম এবং রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা বলেছিলেন তা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা ও যাচাই করতে শুরু করলাম। পরিশেষে আমি বিষয়টি ঠিক তেমনই পেলাম যেমনটি তিনি বলেছিলেন। ফলে আল্লাহকে দেখার সপক্ষে দলিলগুলো আমার অন্তরে শক্তিশালী হলো এবং তা অস্বীকার করার যুক্তিগুলো দুর্বল হয়ে পড়ল। তবে আমি তখনো নীরবতা অবলম্বন করলাম এবং মানুষের নিকট কিছুই প্রকাশ করলাম না; আমি নিজের এই বিষয়টি নিয়ে কিংকর্তব্যবিমূঢ় ছিলাম। অতঃপর যখন আমরা রমজানের দ্বিতীয় দশকে প্রবেশ করলাম, আমি পুনরায় তাঁকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) স্বপ্নে দেখলাম যে তিনি সম্মুখে এসে বললেন, 'হে আবুল হাসান, আমি তোমাকে যা বলেছিলাম সে বিষয়ে তুমি কী করলে?' আমি আরজ করলাম, 'হে আল্লাহর রাসুল, বিষয়টি আপনি ঠিক যেমনটি বলেছিলেন তেমনই'।"

(খণ্ড: ১) তাবয়ীনু কাযিবিল মুফতারী ফীমা নুসিবা ইলাল আশআরী (পৃষ্ঠা: ৪৩)
صَلَّى اللَّهُ عَلَيْكَ وَالْقُوَّةُ فِي جَانِبِ الإِثْبَاتِ فَقَالَ لِي تَأَمَّلْ سَائِرَ الْمَسَائِلِ وَتَذَكَّرْ فِيهَا فَانْتَبَهْتُ فَقُمْت وجمعت حميع مَا كَانَ بَيْنَ يَدَيَّ مِنَ الْكُتُبِ الْكَلامِيَّاتِ وَضَبَّرْتُهَا وَرَفَعْتُهَا وَاشْتَغَلْتُ بِكُتُبِ الْحَدِيثِ وَتَفْسِيرِ الْقُرْآنِ وَالْعُلُومِ الشَّرْعِيَّةِ وَمَعَ هَذَا فَإِنِّي كُنْتُ أَتَفَكَّرُ فِي سَائِرِ الْمَسَائِلِ لأَمْرِهِ صلى الله عليه وسلم إِيَّايَ بِذَلِكَ قَالَ فَلَمَّا دَخَلْنَا فِي الْعُشْرِ الثَّالِثِ رَأَيْتُهُ لَيْلَةَ الْقَدْرِ فَقَالَ لِي وَهُوَ كَالْحَرَدَانِ مَا عَمِلْتَ فِيمَا قُلْتُ لَكَ فَقُلُتْ يارسول اللَّهِ أَنَا مُتَفَكِّرٌ فِيمَا قُلْتَ وَلَا أدع التفكر وَالْبَحْثَ عَلَيْهَا إِلا أَنِّي قَدْ رَفَضْتُ الْكَلامَ كُلَّهُ وَأَعْرَضْتُ عَنْهُ وَاشْتَغَلْتُ بِعُلُومِ الشَّرِيعَةِ فَقَالَ لِي مُغْضَبًا وَمَنِ الَّذِي أَمَرَكَ بِذَلِكَ صَنِّفْ وَانْظُرْ هَذِهِ الطَّرِيقَةَ الَّتِي أَمَرْتُكَ بِهَا فَإِنَّهَا دِينِي وَهُوَ الْحَقُّ الَّذِي جِئْتُ بِهِ وَانْتَبَهْتُ قَالَ لِي أَبُو الْحَسَنِ فَأَخَذْتُ فِي التصانيف والنصرة وأظهرت الْمَذْهَب فَهَذَا سَبَبُ رُجُوعِهِ عَنْ مَذَاهِبِ الْمُعْتَزِلَةِ إِلَى مَذَاهِبِ أَهْلِ السُّنَّةِ وَالْجَمَاعَةِ رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَيْهِ وَرَضْوَانُهُ

فَإِن قيل كَيفَ يبرأ من الْبِدْعَة من كَانَ رَأْسا فِيهَا وَهل يثبت لِلَّه الصِّفَات من كَانَ دهره ينفيها وَهل رَأَيْتُمْ بدعيا رَجَعَ عَن اعْتِقَاد الْبِدْعَة أَو حكم لمن أظهر الرُّجُوع مِنْهَا بِصِحَّة الرّجْعَة وَقد قيل إِن تَوْبَة البدعي غير مَقْبُولَة وفيئته إِلَى الْحق بعد الضلال لَيست بمأمولة وهب أَنَّا قلنَا بِقبُول تَوْبَته إِذَا أظهرها أفما ينقص ذَلِك من رتبته عِنْد من خَبَرهَا قلنَا هَذَا قَول عري عَن الْبُرْهَان وقائله بعيد من التَّحْقِيق عِنْد الامتحان بل التَّوْبَة مَقْبُولَة من كل من تَابَ وَالْعَفو من اللَّه مأمول عَن كل من أناب والاحاديث الَّتِي رويت فِي ذَلِك غير قَوِيَّة عِنْد
আপনার ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক। আর শক্তি (সত্য) হলো সাব্যস্তকরণের (ইসবাত) দিকে। অতঃপর তিনি (রাসূলুল্লাহ ﷺ) আমাকে বললেন: "তুমি অন্যান্য মাসআলাগুলো সম্পর্কে চিন্তা-গবেষণা করো এবং সেগুলো স্মরণ করো।" তখন আমি জাগ্রত হলাম এবং দাঁড়ালাম। আমার সামনে ইলমুল কালামের যেসব কিতাব ছিল, আমি সেগুলো একত্রিত করলাম এবং গুছিয়ে দূরে সরিয়ে রাখলাম। অতঃপর আমি হাদিসের কিতাবসমূহ, কুরআনের তাফসির এবং শরয়ি জ্ঞানার্জনে আত্মনিয়োগ করলাম। এতৎসত্ত্বেও আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নির্দেশ পালনকল্পে অন্যান্য মাসআলাগুলো সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করতাম। বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর যখন আমরা (রমজানের) শেষ দশকে প্রবেশ করলাম, তখন লাইলাতুল কদরের রাতে আমি তাঁকে স্বপ্নে দেখলাম। তিনি রাগান্বিত ব্যক্তির ন্যায় আমাকে বললেন: "আমি তোমাকে যা বলেছিলাম, সে ব্যাপারে তুমি কী করেছ?" আমি বললাম: "হে আল্লাহর রাসূল! আপনি যা বলেছেন আমি সে সম্পর্কে চিন্তা করছি, আর এ ব্যাপারে চিন্তা ও গবেষণা আমি ত্যাগ করিনি; তবে আমি কালাম শাস্ত্র সম্পূর্ণরূপে বর্জন করেছি এবং তা থেকে বিমুখ হয়ে শরয়ি জ্ঞানচর্চায় মগ্ন হয়েছি।" তিনি রাগান্বিত হয়ে আমাকে বললেন: "তোমাকে এ নির্দেশ কে দিয়েছে? গ্রন্থ রচনা করো এবং আমি তোমাকে যে পদ্ধতির নির্দেশ দিয়েছি তা লক্ষ করো; কেননা এটাই আমার দ্বীন এবং এটাই সেই সত্য যা নিয়ে আমি প্রেরিত হয়েছি।" তখন আমি জাগ্রত হলাম। আবুল হাসান আমাকে বললেন: "অতঃপর আমি গ্রন্থ রচনা ও (সুন্নাহর) সমর্থনে আত্মনিয়োগ করলাম এবং মাযহাবকে প্রকাশ করলাম।" আর এটাই ছিল মুতাজিলা মতবাদ থেকে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের মাযহাবে তাঁর প্রত্যাবর্তনের কারণ; তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও সন্তুষ্টি বর্ষিত হোক।

যদি প্রশ্ন করা হয়: যে ব্যক্তি বিদআতের প্রধান ছিল, সে কীভাবে বিদআত থেকে মুক্ত হতে পারে? আর যে ব্যক্তি সারাজীবন আল্লাহর গুণাবলি অস্বীকার করেছে, সে কীভাবে তা সাব্যস্ত করতে পারে? আপনারা কি কোনো বিদআতিকে দেখেছেন যে তার বিদআতি আকিদা থেকে ফিরে এসেছে, কিংবা যে ব্যক্তি ফিরে আসার কথা প্রকাশ করেছে, তার প্রত্যাবর্তনের বিশুদ্ধতার ব্যাপারে কি কোনো ফয়সালা দেওয়া হয়েছে? বলা হয়ে থাকে যে, বিদআতির তওবা কবুল হয় না এবং পথভ্রষ্টতার পর তার সত্যে ফিরে আসা আশা করা যায় না। আর আমরা যদি তার তওবা প্রকাশের পর তা কবুল হওয়ার কথা মেনেও নেই, তবে যারা তার পূর্বাবস্থা সম্পর্কে অবগত, তাদের নিকট কি তার মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হবে না? আমরা বলব: এ কথাটি প্রমাণহীন এবং এর প্রবক্তা যাঁচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সত্য থেকে দূরে। বরং যে তওবা করে, প্রত্যেকের তওবাই কবুলযোগ্য; আর যে আল্লাহর দিকে ফিরে আসে, প্রত্যেকের জন্যই আল্লাহর ক্ষমা প্রত্যাশিত। আর এ বিষয়ে (তওবা কবুল না হওয়া সম্পর্কে) যেসব হাদিস বর্ণিত হয়েছে, সেগুলো মুহাদ্দিসগণের নিকট শক্তিশালী নয়।
(খণ্ড: ১) তাবয়ীনু কাযিবিল মুফতারী ফীমা নুসিবা ইলাল আশআরী (পৃষ্ঠা: ৪৪)
أَرْبَاب النَّقْل وَالْقَوْل بذلك مُسْتَحِيل أَيْضا من طَرِيق الْعقل فَإِن الْبِدْعَة لَا تكون أعظم من الشّرك وَمن ادّعى ذَلِك فَهُوَ من أهل الْإِفْك وَمَعَ ذَلِك فَيقبل إِسْلَام الْكِتَابِيّ وَالْمُرْتَدّ وَالْكَافِر الْأَصْلِيّ فَكيف يَسْتَحِيل عنْدكُمْ قبُول تَوْبَة المبتدع الملي وَقد قَالَ اللَّه عز وجل {إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاء} والبدعة إِذَا كشفت عَن حَقِيقَتهَا وَجدتهَا دون الشّرك مِمَّا هُنَاكَ فَإِذا كَانَ يقبل الرُّجُوع عَن الشّرك الَّذِي لَا يغفره فَكيف لَا تقبل تَوْبَة مُبْتَدع لَا يُشْرك بِهِ وَلَا يكفره وَأكْثر الْعلمَاء من أهل التَّحْقِيق على القَوْل بِقبُول تَوْبَة الزنديق مَعَ مَا ينطوي عَلَيْهِ إعتقاده الردئ من الْخبث وَمَا يَعْتَقِدهُ من جحود الصَّانِع وإنكار الْبَعْث والمبتدع لَا يجْحَد الربوبية ولاينكر العظمة الإلهية وَإِنَّمَا يتْرك بعض مَا يجب عَلَيْهِ أَن يَعْتَقِدهُ لشبه وَقعت لَهُ فنكب فِيهَا رشده وَقد سمعنَا بِجَمَاعَة من الْأَئِمَّة كَانُوا على أَشْيَاء رجعُوا عَنْهَا وتركوها بعد ماسلكوها وتبرأوا مِنْهَا فَلم ينقصهم مَا كَانُوا عَلَيْهِ من الابتداع لما أقلعوا عَنهُ وَرَجَعُوا إِلَى الإتباع وَقد كَانُوا أَكثر الصَّحَابَة الْكِرَام يدينون بِعبَادة الْأَوْثَان والأصنَام ثمَّ صَارُوا بعد سادة أهل الْإِسْلَام وقادة الْمُسلمين فِي الْأُمُور الْعِظَام وَقد أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو الأَعَزِّ قَرَاتَكِينُ بْنُ الأسعد قَالَ الْحسن بن عَليّ الْجَوْهَرِي انا ابو الْحسن عَليّ ابْن عبد الْعَزِيز بن مردك انا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الرَّحْمَن بن أَبِي حَاتِم الرَّازِيّ قَالَ أَخْبرنِي أَبُو عُثْمَان الْخَوَارِزْمِيّ نزيل مَكَّة فِيمَا كتب إِلَى قَالَ قَالَ أَبُو ثَوْر كنت انا واسحق بن رَاهَوَيْه وحسين الْكَرَابِيسِي وَذكر جمَاعَة من
বর্ণনা শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞগণ এবং যুক্তির নিরিখেও এমন কথা বলা অসম্ভব। কেননা বিদআত শিরকের চেয়ে বড় হতে পারে না; আর যে ব্যক্তি এমন দাবি করে সে মিথ্যা রটনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত। তা সত্ত্বেও আহলে কিতাব, মুরতাদ এবং জন্মগত কাফিরের ইসলাম গ্রহণ যেখানে কবুল করা হয়, সেখানে আপনাদের নিকট মিল্লাতভুক্ত (মুসলিম) বিদআতীর তওবা কবুল হওয়া কেন অসম্ভব মনে হয়? অথচ মহান আল্লাহ বলেছেন: “নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শরীক করা ক্ষমা করেন না, তবে এ ছাড়া অন্য যা কিছু তা যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন।” বিদআতের প্রকৃত রূপ উদ্ঘাটন করলে আপনি তাকে শিরকের তুলনায় লঘুই পাবেন। সুতরাং যে শিরক আল্লাহ ক্ষমা করেন না, তা থেকে প্রত্যাবর্তন যদি গ্রহণযোগ্য হয়, তবে এমন বিদআতীর তওবা কেন কবুল হবে না যে আল্লাহর সাথে শিরক করে না এবং তাঁকে অস্বীকারও করে না? অধিকাংশ গবেষক আলেমদের মত হলো যিনদিকের তওবাও কবুল হবে, যদিও তার মন্দ আকিদায় নানাবিধ কলুষতা নিহিত থাকে এবং সে স্রষ্টার অস্তিত্ব ও পুনরুত্থান অস্বীকার করার মতো বিশ্বাস পোষণ করে। অন্যদিকে বিদআতী ব্যক্তি রুবুবিয়্যত (প্রভুত্ব) অস্বীকার করে না এবং মহান আল্লাহর মহিমাকেও অস্বীকার করে না; বরং তার নিকট কিছু সংশয় উপস্থিত হওয়ায় সে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং তার প্রজ্ঞা হোঁচট খেয়েছে, ফলে সে এমন কিছু বিষয় বর্জন করেছে যা বিশ্বাস করা তার ওপর আবশ্যক ছিল। আমরা এমন একদল ইমামের কথা শুনেছি যারা ইতিপূর্বে কিছু বিষয়ের ওপর ছিলেন, পরবর্তীতে তারা তা থেকে ফিরে এসেছেন এবং সেগুলো অনুসরণ করার পর বর্জন করেছেন ও তা থেকে তওবা করেছেন। যখন তারা বিদআত পরিত্যাগ করে সুন্নাহর অনুসরণের দিকে ফিরে এসেছেন, তখন পূর্বের সেই বিদআত তাদের মর্যাদায় কোনো ঘাটতি সৃষ্টি করেনি। অথচ অধিকাংশ সম্মানিত সাহাবীগণও মূর্তিপূজা ও প্রতিমা পূজায় লিপ্ত ছিলেন, অতঃপর তারাই ইসলামের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিতে পরিণত হন এবং মহান বিষয়াবলিতে মুসলমানদের নেতৃত্বে আসীন হন। শায়খ আবুল আআযয কারাতাকীন ইবনুল আসআদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: হাসান বিন আলী আল-জাওহারী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবুল হাসান আলী ইবনে আব্দুল আজিজ ইবনে মারদাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু মুহাম্মদ আব্দুর রহমান ইবনে আবি হাতেম আল-রাযী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মক্কাবাসী আবু উসমান আল-খাওয়ারিযমী আমাকে এক পত্রে জানিয়েছেন যে, আবু সাওর বলেছেন: আমি, ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহি এবং হুসাইন আল-কারাবিসী ছিলাম—আর তিনি একদল লোকের কথা উল্লেখ করলেন—
(খণ্ড: ১) তাবয়ীনু কাযিবিল মুফতারী ফীমা নুসিবা ইলাল আশআরী (পৃষ্ঠা: ৪৫)
الْعِرَاقِيّين مَا تركنَا بدعتنَا حَتَّى رأينَا الشَّافِعِي قَالَ أَبُو عُثْمَان وَحدثنَا ابو عبد الله الْفَسَوِي عَنْ أَبِي ثَوْر قَالَ لما ورد الشَّافِعِي الْعرَاق جَاءَنِي حُسَيْن الْكَرَابِيسِي وَكَانَ يخْتَلف معي إِلَى أَصْحَاب الرَّأْي فَقَالَ قد ورد رجل من أَصْحَاب الحَدِيث يتفقه فَقُمْ بنَا نسخر بِهِ فَقُمْت وذهبنَا حَتَّى دخلنَا عَلَيْهِ فَسَأَلَهُ الْحُسَيْن عَن مَسْأَلَة فَلم يزل الشَّافِعِي يَقُول قَالَ اللَّه وَقَالَ رَسُول اللَّه صلى الله عليه وسلم حَتَّى أظلم علينَا الْبَيْت وتركنَا بدعتنَا واتبعنَاه

بَاب مَا رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم من بشارته بقدوم أبي مُوسَى مناهل الْيمن وإشارته إِلَى مَا يظْهر من علم أَبِي الْحسن

أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي مَسْعُود الصاعدي أنبا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ الْحُسَيْنِ الخسروجردي أبنا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ ثَنَا أَبُو الْعَبَّاس مُحَمَّد
ইরাকবাসীগণ বলেন: আমরা আমাদের বিদআত ত্যাগ করিনি যতক্ষণ না আমরা শাফিঈকে দেখেছি। আবু উসমান বলেন, আবু আবদুল্লাহ আল-ফাসাবি আমাদের নিকট আবু সাওর হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন শাফিঈ ইরাকে পদার্পণ করলেন, তখন হুসাইন আল-কারাবিসি আমার নিকট আসলেন—তিনি আমার সাথে আহলুর রায়ের (যুক্তিপন্থীদের) নিকট যাতায়াত করতেন। তিনি বললেন, আহলুল হাদিসের মধ্য হতে এমন এক ব্যক্তি এসেছেন যিনি ফিকহ চর্চা করেন; চলো আমরা গিয়ে তাকে বিদ্রূপ করি। অতঃপর আমি উঠলাম এবং আমরা তার নিকট উপস্থিত হলাম। এরপর হুসাইন তাকে একটি মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তখন শাফিঈ অবিরতভাবে বলতে থাকলেন, ‘আল্লাহ তাআলা বলেছেন’ এবং ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন’, এমনকি আমাদের ওপর ঘরটি অন্ধকার হয়ে এল (অর্থাৎ দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলো)। পরিশেষে আমরা আমাদের বিদআত বর্জন করলাম এবং তাঁর অনুসরণ করলাম।

পরিচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে ইয়ামেনের প্রস্রবণসমূহ থেকে আবু মুসার আগমনের সুসংবাদ এবং আবু আল-হাসানের ইলম থেকে যা প্রকাশ পাবে সে সম্পর্কে তাঁর ইঙ্গিত প্রদান সংক্রান্ত বর্ণনা।

আবু আবদুল্লাহ বিন আবি মাসউদ আস-সাঈদী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর আহমদ বিন আল-হুসাইন আল-খসরুজিরদী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আল-হাফিজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আল-আব্বাস মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১) তাবয়ীনু কাযিবিল মুফতারী ফীমা নুসিবা ইলাল আশআরী (পৃষ্ঠা: ৪৬)
ابْن يَعْقُوب ثَنَا مُحَمَّد بن اسحق ثَنَا عبد الله بن بكير ثَنَا حُمَيْدٌ عَنْ أَنَسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم

يَقْدُمُ عَلَيْكُمْ قَوْمٌ هَمْ أَرَقُّ أَفْئِدَةً مِنْكُمْ فَلَمَّا دَنُوا مِنَ الْمَدِينَةِ جَعَلوا يَرْتَجِزُونَ غَدًا نَلْقَى الأَحِبَّةَ مُحَمَّدًا وَحِزْبَهُ فَقِدَمُ الأشعريون مَعَهم أَبُو مُوسَى أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو الْقسم هِبَة اللَّهِ بن عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْوَاحِدِ بْنِ الْحصين الشيبانى بِبَغْدَاد أنبا أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيِّ بن مُحَمَّد التَّمِيمِي أنبأ أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرِ بن حمدَان الْقطيعِي ثَنَا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَبْدُ اللَّهِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ حَنْبَلٍ حَدَّثَنِي أَبِي رحمه الله ثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ عَنْ حُمَيْدٍ عَنْ أَنَسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم

يَقْدِمُ عَلَيْكُمْ أَقْوَامٌ هَمْ أَرَقُّ مِنْكُمْ قُلُوبًا قَالَ فَقَدِمَ الأَشْعَرِيُّونَ فيهم أَبُو مُوسَى الأَشْعَرِيُّ فَلَمِّا دَنُوا من الْمَدِينَة كَانُوا يرتجزون يَقُولُونَ غَدًا نَلْقَى الأَحِبَّةَ مُحَمَّدًا وَحِزْبَهُ اسْمُ ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بَصْرُيُّ ثِقَةٌ قَالَ وثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ قَالَ ثَنَا أبي قَالَ ثَنَا يَحْيَى عَنْ حُمَيْدٍ وَيَزِيدَ قَالَ أنبأ حُمَيْدٌ عَنْ أَنَسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم

يَقْدَمُ عَلَيْكُمْ أَقْوَامٌ أَرَقُّ مِنْكُمْ أَفْئِدَةً فَقَدِمَ الأَشْعَرِيُّونَ فِيهِمْ أَبُو مُوسَى فَجَعَلُوا لَمَّا دَنُوا مِنَ الْمَدِينَةِ يَرْتَجِزُونَ غَدًا نَلْقَى الأَحِبَّةَ مُحَمَّدًا وَحِزْبَهُ أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو الْمُظَفَّرِ عَبْدُ الْمُنْعِمِ بْنُ عبد الْكَرِيم أبنأ أَبُو سعد مُحَمَّد ابْن عبد الرَّحْمَن أنبأ أَبُو عَمْرٍو مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَمْدَانَ وَأَخْبَرَتْنَا الشَّرْيِفَةُ أَمُّ الْمُجْتَبِي فَاطِمَةُ بِنْتُ نَاصِرِ بْنِ الْحَسَنِ الْحُسَيْنِيَّةُ وَأُمُّ الْبَهَاءِ فَاطِمَةُ بنت مُحَمَّد ابْن أَحْمَدَ بْنِ الْبَغْدَادِيِّ بِأَصْبَهَانَ قَالَتَا أنبأ أَبُو الْقسم إِبْرَاهِيمُ بْنُ مَنْصُورٍ سِبْطُ بَحْرَوَيْهِ أنبأ أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بن الْمقري قَالَ أنبأ أَبُو يَعْلَى
ইবনে ইয়াকুব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ বিন ইসহাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ বিন বুকাইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হুমায়দ আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:

"তোমাদের নিকট এমন এক সম্প্রদায় আসবে যারা তোমাদের চেয়েও অধিক কোমল হৃদয়ের অধিকারী।" অতঃপর তারা যখন মদীনার নিকটবর্তী হলো, তখন তারা ছন্দোবদ্ধ কবিতা (রাজায) আবৃত্তি করতে লাগল: "আগামীকাল আমরা প্রিয়জনদের সাথে মিলিত হব—মুহাম্মাদ ও তাঁর দলের সাথে।" এরপর আশআরিগণ আগমন করলেন এবং তাদের সাথে আবু মুসা (রা.) ছিলেন। বাগদাদে শায়খ আবুল কাসিম হিবাতুল্লাহ বিন আলী বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন আল-হুসাইন আশ-শায়বানি আমাদের অবহিত করেছেন যে, আবু আলী আল-হাসান বিন আলী বিন মুহাম্মাদ আল-তামিমি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর আহমদ বিন জাফর বিন হামদান আল-কাতিয়ী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আব্দুর রহমান আব্দুল্লাহ বিন আহমদ বিন মুহাম্মাদ বিন হাম্বল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) আমাকে বর্ণনা করেছেন, ইবনে আবি আদি হুমায়দ থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:

"তোমাদের নিকট এমন কিছু সম্প্রদায় আসবে যারা তোমাদের চেয়েও অধিক কোমল হৃদয়ের অধিকারী।" বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর আশআরিগণ আগমন করলেন, তাদের মধ্যে আবু মুসা আল-আশআরি (রা.) ছিলেন। যখন তারা মদীনার নিকটবর্তী হলো, তারা ছন্দোবদ্ধ কবিতা আবৃত্তি করছিল এবং বলছিল: "আগামীকাল আমরা প্রিয়জনদের সাথে মিলিত হব—মুহাম্মাদ ও তাঁর দলের সাথে।" ইবনে আবি আদির নাম হলো মুহাম্মাদ বিন ইব্রাহিম, তিনি বসরার অধিবাসী এবং একজন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী। তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ বিন আহমদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া হুমায়দ ও ইয়াজিদ থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি (ইয়াজিদ) বলেন, হুমায়দ আনাস (রা.) থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:

"তোমাদের নিকট এমন কিছু সম্প্রদায় আসবে যারা তোমাদের চেয়েও অধিক কোমল হৃদয়ের অধিকারী।" এরপর আশআরিগণ আগমন করলেন এবং তাদের মাঝে আবু মুসা (রা.) ছিলেন। তারা যখন মদীনার নিকটবর্তী হলো, তখন তারা রাজায আবৃত্তি করতে লাগল: "আগামীকাল আমরা প্রিয়জনদের সাথে মিলিত হব—মুহাম্মাদ ও তাঁর দলের সাথে।" শায়খ আবু মুজাফফর আব্দুল মুনিম বিন আব্দুল কারিম আমাদের অবহিত করেছেন, আবু সাদ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুর রহমান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আমর মুহাম্মাদ বিন আহমদ বিন হামদান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। এবং শারিফাহ উম্মুল মুজতাবা ফাতিমা বিনতে নাসির বিন আল-হাসান আল-হুসাইনিয়্যাহ ও উম্মুল বাহা ফাতিমা বিনতে মুহাম্মাদ ইবনে আহমদ বিন আল-বাগদাদী ইসফাহানে আমাদের অবহিত করেছেন; তাঁরা উভয়ে বলেন, আবুল কাসিম ইব্রাহিম বিন মানসুর সিবত বাহরুওয়াইহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর মুহাম্মাদ বিন ইব্রাহিম বিন আল-মুকরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আবু ইয়ালা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) তাবয়ীনু কাযিবিল মুফতারী ফীমা নুসিবা ইলাল আশআরী (পৃষ্ঠা: ৪৭)
أَحْمد بن عَليّ التَّمِيمِي ثَنَا زُهَيْر بن حَرْب ثَنَا يزِيد هُوَ ابْن هرون قَالَ أنبأ وَقَالَ ابْن حمدَان ثَنَا حُمَيْدٌ عَنِ أَنَسٍ رضي الله عنه أَنّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ

يَقْدِمُ قَوْمٌ هَمْ أَرَقُّ أَفْئِدَةً مِنْكُمْ فَقَدِمَ الأَشْعَرِيُّونَ فِيهِمْ أَبُو مُوسَى فَجعلُوا يرتجزون يَقُولُونَ غَدًا نَلْقَى الأَحِبَّةَ مُحَمَّدًا وَحِزْبَهُ رَوَاهُ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ النَّسَائِيُّ فِي سُنَنِهِ عَنِ ابْنِ مُثَنَّى عَن خَالِد ابْن الْحَارِثِ عَنْ حُمَيْدٍ أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ الْفضل الْفَقِيه أنبأ أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ مَنْصُورِ بن خلف الْبَزَّاز أنبأ أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدٍ الشَّيْبَانِيُّ الْجَوْزَقِيُّ أنبأ أَبُو حَامِد بن الشَّرْقِي ثَنَا مُحَمَّد بن حيويه ثَنَا أَبُو الْيَمَان أنبأ شُعَيْب قَالَ أنبأ أَبُو الزِّنَادِ عَنِ الأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم

أَتَاكُمْ أَهْلُ الْيَمَنِ هُمْ أَضْعَفُ قُلُوبًا وَأَرَقُّ أَفْئِدَةً الإِيمَانُ يَمَانٍ وَالْحِكْمَةُ يَمَانِيَّةٌ وَرَأْسُ الْكُفْرِ نَحْوَ الْمَشْرِقِ وَالْفَخْرُ وَالْخُيَلَاء فِي الْفَدَّادِينَ وَالْخُيَلاءُ فِي أَهْلِ الْخَيْلِ وَالإِبِلِ الْفَدَّادِينَ أَهْلُ الْوَبَرِ وَالسَّكِينَةُ فِي أَهْلِ الْغَنَمِ أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحُسَيْنُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ الْخَلالُ قَالَ أنبأ أَبُو الْقسم إِبْرَاهِيم بن مَنْصُور ابْن إِبْرَاهِيم السّلمِيّ أنبأ أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بن عَليّ الْمقري أنبأ أَبُو يَعْلَى أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ بن الْمثنى الْموصِلِي ثَنَا أَبُو خثيمَةَ ثَنَا جَرِيرٌ عَنِ الأَعْمَشِ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم

الإِيمَانُ يَمَانٍ وَالْحِكْمَةُ يَمَانِيَّةٌ أَتَاكُمْ أَهْلُ الْيَمَنِ هُمْ أَرَقُّ أَفْئِدَةً وَأَلْيَنُ قُلُوبًا أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ وَمُسْلِمٌ فِي صَحِيحِهِمَا فَرَوَاهُ مُسلم عَن أبي خثيمَةَ أَخْبَرَنَاهُ أَبُو بَكْرٍ عَبْدُ الْغَفَّارِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحُسَيْنِ الشِّيرَوِيُّ فِي
আহমাদ ইবনে আলী আত-তামীমী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যুহাইর ইবনে হারব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াযীদ —যিনি ইবনে হারুন— আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। এবং ইবনে হামদান বলেছেন: আমাদের নিকট হুমাইদ আনাস (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বলেছেন:

“তোমাদের নিকট এমন এক কওম আসবে যাদের অন্তর তোমাদের চেয়েও অধিক কোমল।” অতঃপর আশআরীগণ আগমন করলেন, যাদের মধ্যে আবু মুসাও ছিলেন। তাঁরা ছন্দময় কবিতা আবৃত্তি করতে করতে আসছিলেন এবং বলছিলেন: “আগামীকাল আমরা আমাদের প্রিয়জনদের সাথে মিলিত হব—মুহাম্মাদ ও তাঁর দলের সাথে।” এটি আবু আব্দুর রহমান আন-নাসায়ী তাঁর সুনানে ইবনে মুসান্না হতে, তিনি খালিদ ইবনুল হারিস হতে এবং তিনি হুমাইদ হতে বর্ণনা করেছেন। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনুল ফজল আল-ফকীহ, তিনি আবু বকর আহমাদ ইবনে মনসুর ইবনে খালাফ আল-বাযযার হতে, তিনি আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ আশ-শাইবানী আল-জাওযাকী হতে, তিনি আবু হামিদ ইবনে আশ-শারকী হতে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনে হাইওয়াহ হতে, তিনি আবু আল-ইয়ামান হতে, তিনি শুআইব হতে, তিনি আবুয যিনাদ হতে, তিনি আল-আ'রাজ হতে এবং তিনি আবু হুরাইরাহ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) হতে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বলেছেন:

“তোমাদের নিকট ইয়ামেনবাসীরা এসেছে, তারা হৃদয়ের দিক থেকে অত্যন্ত কোমল এবং অন্তরের দিক থেকে অত্যন্ত দয়ালু। ঈমান ইয়ামেনী এবং প্রজ্ঞা ইয়ামেনী। আর কুফরের মূল উৎস হলো পূর্ব দিকে। অহংকার ও দম্ভ হলো উট ও ঘোড়া পালনকারী উচ্চকণ্ঠ শোরগোলকারীদের মধ্যে, আর উচ্চকণ্ঠ যাযাবর পশুপালকদের মধ্যে রয়েছে দম্ভ; আর প্রশান্তি হলো মেষপালকদের মধ্যে।” আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন ইবনে আব্দুল মালিক আল-খাল্লাল, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-কাসিম ইব্রাহিম ইবনে মনসুর ইবনে ইব্রাহিম আস-সুলামী, তিনি আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে আলী আল-মুকরী হতে, তিনি আবু ইয়ালা আহমাদ ইবনে আলী ইবনুল মুসান্না আল-মাওসিলী হতে, তিনি আবু খাইসামাহ হতে, তিনি জারীর হতে, তিনি আল-আ'মাশ হতে, তিনি আবু সালিহ হতে এবং তিনি আবু হুরাইরাহ হতে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বলেছেন:

“ঈমান ইয়ামেনী এবং প্রজ্ঞা ইয়ামেনী। তোমাদের নিকট ইয়ামেনবাসীরা এসেছে, তারা হৃদয়ের দিক থেকে অত্যন্ত কোমল এবং অন্তরের দিক থেকে অত্যন্ত নরম।” এটি বুখারী ও মুসলিম তাঁদের সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। ইমাম মুসলিম এটি আবু খাইসামাহ থেকে বর্ণনা করেছেন। আমাদের এটি সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আব্দুল গাফফার ইবনে মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন আশ-শিরওয়ী...
(খণ্ড: ১) তাবয়ীনু কাযিবিল মুফতারী ফীমা নুসিবা ইলাল আশআরী (পৃষ্ঠা: ৪৮)
كِتَابِهِ وَحَدَّثَنِي أَبُو الْمَحَاسِنِ عَبْدُ الرَّزَّاق بن مُحَمَّد الطبسي بِنَيْسَابُورَ عَنهُ قَالَ أنبأ الْقَاضِي أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ أَحْمَدَ الْحِيرِيُّ وَأَخْبَرَنَاهُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ الْفضل أنبأ أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ الْحُسَيْنِ أنبأ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ قَالا ثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ ثَنَا أَحْمد بن عبد الْجَبَّار ثَنَا أَبُو معوية عَنِ الأَعْمَشِ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم

أَتَاكُمْ أَهْلُ الْيَمَنِ هُمْ أَلْيَنُ قُلُوبًا وَأَرَقُّ أَفْئِدَةً الإِيمَانُ يَمَانٍ وَالْحِكْمَةُ يَمَانِيَّةٌ زَادَ الْحِيرِيُّ قَالَ أَبُو معوية أَرَاهُ قَالَ رَأْسُ الْكُفْرِ قِبَلَ الْمَشْرِقِ أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ عَلِيِّ بن إِبْرَاهِيم الْمقري بِبَغْدَاد ثَنَا الْقَاضِي الشَّرِيفُ أَبُو الْحَسَنِ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الصَّمَدِ بن الْمُهْتَدي بِاللَّه أنبأ أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ عُمَرَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ شادان السكرِي الْحَرْبِيّ قَالَ ثَنَا أَبُو خُبَيْبٍ الْعَبَّاسُ بْنُ أَحْمَدَ بن مُحَمَّد بن عِيسَى ثَنَا اسمعيل ابْن بنت البسري ثَنَا حُسَيْنُ بْنُ عِيسَى عَنْ مَعْمَرٍ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ أَبِي حَازِمٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما قَالَ بَيَّنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْمَدِينَةِ إِذْ قَالَ

اللَّهُ أَكْبَرُ قَدْ جَاءَ نَصْرُ اللَّهَ وَالْفَتْحُ وَجَاء اهل الْيمن قيل يارسول الله وَمَا أَهْلُ الْيَمَنِ قَالَ

قَوْمٌ رَقِيقَةٌ قُلُوبُهُمْ لَيِّنَةٌ طَاعَتُهُمْ وَالإِيمَانُ يمَان وَالْفِقْه يمَان وَالْحكمَة يَمَانِيَّةٌ أَخْبَرَنَا أَبُو مَسْعُودٍ عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ عَلِيِّ بْنِ حَمَدٍ أنبأ أَبُو عَليّ الْحداد أنبأ أَبُو نعيم الْحَافِظ ثَنَا سُلَيْمَان بن أَحْمد ثَنَا أَحْمد بن عَمْرو القطراني ثَنَا سُلَيْمَان بن حَرْب ح وَأخْبرنَا أَبُو نعيم قَالَ وثنا الغطريفي ثَنَا أَبُو خَلِيفَةَ قَالَ نَا الْحَوْضِيُّ قَالَا ثَنَا
তাঁর কিতাবে এবং আমার নিকট নিসাবুরে আবুল মাহাসিন আবদুর রাজ্জাক ইবনে মুহাম্মদ আত-তবাসি তাঁর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন কাজী আবু বকর আহমদ ইবনুল হাসান ইবনে আহমদ আল-হিরি; এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনুল ফজল, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমদ ইবনুল হুসাইন, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ আল-হাফিজ। তাঁরা উভয়ে বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল আব্বাস মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে আবদুল জাব্বার, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুয়াবিয়া, তিনি আমাশ থেকে, তিনি আবু সালেহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:

তোমাদের নিকট ইয়ামনবাসীরা এসেছে; তারা অত্যন্ত কোমল হৃদয়ের ও দয়ার্দ্র অন্তরের অধিকারী। ঈমান ইয়ামনি এবং প্রজ্ঞা (হিকমত) ইয়ামনি। আল-হিরি অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, আবু মুয়াবিয়া বলেছেন, আমার মনে হয় তিনি বলেছেন: কুফরির মূল হলো পূর্ব দিকে। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ আবু বকর মুহাম্মদ ইবনুল হাসান ইবনে আলি ইবনে ইবরাহিম আল-মুকরি বাগদাদে, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কাজী শরিফ আবুল হাসান মুহাম্মদ ইবনে আলি ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উবাইদুল্লাহ ইবনে আবদুস সামাদ ইবনুল মুহতাদি বিল্লাহ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আলি ইবনে উমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল হাসান ইবনে শাদান আস-সুক্কারি আল-হারবি, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু খুবাইব আব্বাস ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ঈসা, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাঈল ইবনে বিনতে আল-বিসরি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হুসাইন ইবনে ঈসা, তিনি মা’মার থেকে, তিনি যুহরি থেকে, তিনি আবু হাযেম থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মদিনায় ছিলেন, তখন তিনি বললেন:

আল্লাহু আকবার! আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় এসেছে এবং ইয়ামনবাসীরা এসেছে। জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! ইয়ামনবাসীরা কারা? তিনি বললেন:

তারা এমন এক জাতি যাদের অন্তর অত্যন্ত কোমল, তাদের আনুগত্য নম্রতাপূর্ণ; ঈমান ইয়ামনি, ফিকহ (গভীর জ্ঞান) ইয়ামনি এবং প্রজ্ঞা (হিকমত) ইয়ামনি। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মাসউদ আবদুর রহিম ইবনে আলি ইবনে হামাদ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলি আল-হাদ্দাদ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু নুয়াইম আল-হাফিজ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুলাইমান ইবনে আহমদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে আমর আল-কাতরানি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুলাইমান ইবনে হারব (হ); এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু নুয়াইম, তিনি বলেন এবং আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-গতরিফি, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু খলিফা, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হাওযি, তাঁরা উভয়ে বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১) তাবয়ীনু কাযিবিল মুফতারী ফীমা নুসিবা ইলাল আশআরী (পৃষ্ঠা: ৪৯)
شُعْبَةُ عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ عَنْ عِيَاضٍ الأَشْعَرِيِّ قَال لَمَّا نَزَلَتْ {فَسَوْفَ يَأْتِي اللَّهُ بِقَوْمٍ يُحِبهُمْ وَيُحِبُّونَهُ} قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم

هُمْ قَوْمُ هَذَا وَضَرَبَ بِيَدِهِ عَلَى ظَهْرِ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ قَالَ أَبُو نُعَيْمٍ رَوَاهُ إِدْرِيسُ الأَوْدِيُّ عَنْ سِمَاكٍ أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الْكَرِيم ابْن حَمْزَةَ بْنِ الْخِضْرِ السُّلَمِيُّ بِدِمَشْقَ ثَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَحْمد الْحَافِظ أنبأ أَبُو الْقسم تَمَّامُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الله الرَّازِيّ ثَنَا ابي رحمه الله ثَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ الْجَعْدِ الوشاء بِبَغْدَاد ثَنَا أَبُو معمر اسمعيل بن إِبْرَاهِيم الْقطيعِي ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ عَنْ عِيَاضٍ الأَشْعَرِيِّ عَنْ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ قَالَ قُرِئَتْ عِنْدَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم

{فَسَوْفَ يَأْتِي اللَّهُ بِقَوْمٍ يُحِبُّهُمْ وَيُحِبُّونَهُ} قَالَ

هُمْ قَوْمُكَ أَهْلُ الْيَمَنِ أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ ابْن الْفضل الْفَقِيه أنبا أَبُو بكر الخسر وجردي أنبأ أَبُو طَاهِر الْفَقِيه أنبأ أَبُو عبد الله الصفار ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَل حَدثنِي أَبُو معمر ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ عَنْ عِيَاضٍ الأَشْعَرِيِّ عَنْ أَبِي مُوسَى قَالَ تُلِيَتْ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم

{فَسَوْفَ يَأْتِي اللَّهُ بِقَوْمٍ يُحِبُّهُمْ وَيُحِبُّونَهُ} فَقَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم

هُمْ قَوْمُكَ ياأبا مُوسَى أَهْلُ الْيَمَنِ أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ الْفضل الفراوي أنبا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ الْحُسَيْنِ الْبَيْهَقِيُّ الْحَافِظُ قَالَ أَمَّا بَعْدُ فَإِنَّ بَعْضَ أَئِمَّةِ الأَشْعَرِيِّينَ رضي الله عنهم ذاكرني بمتن الحَدِيث الَّذِي أخبرناه أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ عبد الله الْحَافِظ قَالَ ثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ
শু’বাহ সিমাক ইবনে হারব থেকে, তিনি ইয়াদ আল-আশ’আরী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন {অচিরেই আল্লাহ এমন এক সম্প্রদায়কে নিয়ে আসবেন যাদের তিনি ভালবাসবেন এবং তারাও তাঁকে ভালবাসবে} আয়াতটি অবতীর্ণ হলো, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:

তারা এই ব্যক্তির সম্প্রদায় এবং তিনি তাঁর হাত দিয়ে আবু মুসা আল-আশ’আরীর পিঠে টোকা দিলেন। আবু নুয়াইম বলেন: এটি ইদরিস আল-আওদী সিমাক থেকে বর্ণনা করেছেন। দামেস্কে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শেখ আবু মুহাম্মদ আব্দুল কারীম ইবন হামজা ইবনুল খিজর আস-সুলামী, আমাদের বর্ণনা করেছেন আবু মুহাম্মদ আব্দুল আজিজ ইবন আহমদ আল-হাফিয, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম তাম্মাম ইবন মুহাম্মদ ইবন আব্দুল্লাহ আর-রাজি, আমাদের বর্ণনা করেছেন আমার পিতা (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন), আমাদের বর্ণনা করেছেন বাগদাদে আবু বকর আহমদ ইবন মুহাম্মদ ইবন আব্দুল আজিজ ইবনুল জা’দ আল-ওয়াশশা, আমাদের বর্ণনা করেছেন আবু মা’মার ইসমাইল ইবন ইব্রাহিম আল-কাতীয়ী, আমাদের বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবন ইদরিস তাঁর পিতা থেকে, তিনি সিমাক ইবন হারব থেকে, তিনি ইয়াদ আল-আশ’আরী থেকে, তিনি আবু মুসা আল-আশ’আরী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট পাঠ করা হলো

{অচিরেই আল্লাহ এমন এক সম্প্রদায়কে নিয়ে আসবেন যাদের তিনি ভালবাসবেন এবং তারাও তাঁকে ভালবাসবে}। তিনি বললেন:

তারা তোমার সম্প্রদায় ইয়ামেনের অধিবাসী। শেখ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনুল ফজল আল-ফকীহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর আল-খসরুজরদি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু তাহির আল-ফকীহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আব্দুল্লাহ আস-সাফফার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আব্দুল্লাহ ইবন আহমদ ইবন হাম্বল আমাদের বর্ণনা করেছেন, আবু মা’মার আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, আব্দুল্লাহ ইবন ইদরিস তাঁর পিতা থেকে, তিনি সিমাক ইবন হারব থেকে, তিনি ইয়াদ আল-আশ’আরী থেকে, তিনি আবু মুসা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট তিলাওয়াত করা হলো

{অচিরেই আল্লাহ এমন এক সম্প্রদায়কে নিয়ে আসবেন যাদের তিনি ভালবাসবেন এবং তারাও তাঁকে ভালবাসবে}। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন:

হে আবু মুসা! তারা তোমার সম্প্রদায় ইয়ামেনবাসী। শেখ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনুল ফজল আল-ফারাবি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর আহমদ ইবনুল হুসাইন আল-বায়হাকী আল-হাফিয আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: অতঃপর কথা হলো, আশ’আরী ইমামগণের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) জনৈক ব্যক্তি আমার কাছে সেই হাদীসের মূল পাঠটি আলোচনা করেন যা আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবন আব্দুল্লাহ আল-হাফিয আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: আবুল আব্বাস মুহাম্মদ ইবন...
(খণ্ড: ১) তাবয়ীনু কাযিবিল মুফতারী ফীমা নুসিবা ইলাল আশআরী (পৃষ্ঠা: ৫০)
يَعْقُوب ثَنَا إِبْرَاهِيم بن مَرْزُوق ثَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ وَأَبُو عَامِرٍ الْعَقدي قَالَا ثَنَا شُعْبَةُ عَنْ سِمَاكٍ وَأَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ عَبْدُ الْغَفَّارِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحُسَيْنِ الشِّيرَوِيُّ فِي كِتَابِهِ وحَدثني أَبُو المحاسن عبد الرَّزَّاق بن مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي نَصْرٍ الطَّبَسِّيُ بنيسابور عَنهُ قَالَ أنبا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ الْحِيرِي ثَنَا مُحَمَّد ابْن يَعْقُوب ثَنَا إِبْرَاهِيم بن مَرْزُوق ثَنَا وهب عَن شُعْبَة قَالَ وثنا إِبْرَاهِيم ثَنَا أَبُو عَامِرٍ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ عَنْ عِيَاضٍ الأَشْعَرِيِّ قَال لَمَّا نَزَلَتْ {فَسَوْفَ يَأْتِي اللَّهُ بِقَوْمٍ يُحِبُّهُمْ وَيُحِبُّونَهُ} أَوْمَأَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِلَى أَبِي مُوسَى رضي الله عنه فَقَالَ

هَمْ قَوْمُ هَذَا قَالَ الْبَيْهَقِيّ وَذَلِكَ لما وجد فِيهِ من الْفَضِيلَة الجليلة والمرتبة الشَّرِيفَة للْإِمَام أَبِي الْحسن الْأَشْعَرِيّ رضي الله عنه فَهُوَ من قوم أَبِي مُوسَى وَأَوْلَاده الَّذين أُوتُوا الْعلم ورزقوا الْفَهم مَخْصُوصًا من بَينهم بتقوية السّنة وقمع الْبِدْعَة بِإِظْهَار الْحجَّة ورد الشُّبْهَة وَالْأَشْبَه أَن يكون رَسُول اللَّه صَلَّى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّمَا جعل قوم أَبِي مُوسَى من قوم يُحِبهُمْ اللَّه وَيُحِبُّونَهُ لما علم من صِحَة دينهم وَعرف من قُوَّة يقينهم فَمن نحا فِي علم الْأُصُول نحوهم وَتبع فِي نفى التَّشْبِيه مَعَ مُلَازمَة الْكتاب وَالسّنة قَوْلهم جعل من جُمْلَتهمْ وعد من حسابهم بِمَشِيئَة اللَّه وإذنه أعاننَا اللَّه تَعَالَى على ذَلِك بمنه وَختم لنَا بالسعادة وَالشَّهَادَة بجوده وليعلم الْمنصف من أصحابِنَا صنع اللَّه تَعَالَى فِي تَقْدِيم هَذَا الأَصْل الشريف لما ذخر لِعِبَادِهِ من هَذَا الْفَرْع المنيف الَّذِي أَحْيَا بِهِ السّنة وأمات بِهِ الْبِدْعَة وَجعله خلف حق السّلف صدق أَخْبَرَنَا أَبُو الْفَتْحِ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْمِصْرِيِّ وَأَبُو بَكْرٍ نَاصِرُ بْنُ أَبِي الْعَبَّاسِ بْنِ
ইয়াকুব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইব্রাহিম ইবনে মারযুক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ওয়াহাব ইবনে জারির এবং আবু আমির আল-আকাদি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: শু'বা আমাদের নিকট সিমাক থেকে বর্ণনা করেছেন। এবং আবু বকর আব্দুল গাফফার ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-হুসাইন আল-শিরাওয়ি তাঁর কিতাবে আমাদের অবহিত করেছেন এবং নিশাপুরে আবুল মাহাসিন আব্দুর রাজ্জাক ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবি নাসর আত-তাবাসি তাঁর থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আবু বকর আহমদ ইবনে আল-হাসান আল-হিরি আমাদের অবহিত করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইব্রাহিম ইবনে মারযুক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ওয়াহাব শু'বা থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। এবং ইব্রাহিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, আবু আমির আমাদের নিকট শু'বা থেকে, তিনি সিমাক ইবনে হারব থেকে, তিনি ইয়াদ আল-আশআরি থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: যখন এই আয়াত অবতীর্ণ হলো—"অচিরেই আল্লাহ এমন এক সম্প্রদায় নিয়ে আসবেন যাদের তিনি ভালোবাসবেন এবং তাঁরাও তাঁকে ভালোবাসবে"—তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবু মুসা (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর দিকে ইশারা করে বললেন:

"তারা হলো এই ব্যক্তির সম্প্রদায়।" ইমাম বায়হাকি বলেন: এটি এই কারণে যে, এতে ইমাম আবুল হাসান আল-আশআরি (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর জন্য এক মহান ফযিলত ও সুউচ্চ মর্যাদা নিহিত রয়েছে। কেননা তিনি আবু মুসার বংশধর ও তাঁর কওমের অন্তর্ভুক্ত, যাঁদেরকে জ্ঞান দান করা হয়েছে এবং প্রজ্ঞা নসিব করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে তিনি বিশেষভাবে সুন্নাহর শক্তি বৃদ্ধি এবং অকাট্য দলিল উপস্থাপনের মাধ্যমে বিদআত দমন ও সংশয় নিরসনে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছেন। অধিকতর সামঞ্জস্যপূর্ণ কথা হলো এই যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবু মুসার সম্প্রদায়কে সেই দলের অন্তর্ভুক্ত করেছেন যাঁদের আল্লাহ ভালোবাসেন এবং যাঁরা আল্লাহকে ভালোবাসে—তাঁদের দীনের বিশুদ্ধতা এবং তাঁদের দৃঢ় বিশ্বাসের প্রবলতা সম্পর্কে অবগত হয়েই। সুতরাং ইলমে উসুল বা মূলনীতিশাস্ত্রে যারা তাঁদের পথ অনুসরণ করবে এবং কুরআন ও সুন্নাহর অনুবর্তিতার সাথে আল্লাহর সাথে সৃষ্টির সাদৃশ্যারোপ (তাশবিহ) বর্জনে তাঁদের মতাদর্শ অনুসরণ করবে, আল্লাহর ইচ্ছা ও অনুমতিক্রমে তাঁদেরই অন্তর্ভুক্ত গণ্য করা হবে। আল্লাহ তাআলা তাঁর দয়ায় আমাদের এ কাজে সাহায্য করুন এবং তাঁর মহানুভবতায় আমাদের শেষ পরিণতি যেন সৌভাগ্য ও শাহাদাতের সাথে হয়। আর আমাদের সঙ্গীদের মধ্যে যারা ন্যায়নিষ্ঠ, তারা যেন জেনে রাখেন যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের জন্য সঞ্চিত রাখা এই মহান উত্তরসূরির (শাখা) মাধ্যমে এই সুউচ্চ মূলনীতিকে অগ্রগণ্য করে কী অপূর্ব কার্য সম্পাদন করেছেন, যা দ্বারা তিনি সুন্নাহকে পুনর্জীবিত করেছেন এবং বিদআতকে নিশ্চিহ্ন করেছেন, আর তাঁকে পূর্বসূরিদের এক সত্যনিষ্ঠ স্থলাভিষিক্ত বানিয়েছেন। আবুল ফাতহ মুহাম্মদ ইবনে আলি ইবনে আব্দুল্লাহ আল-মিসরি এবং আবু বকর নাসির ইবনে আবিল আব্বাস ইবনে... আমাদের অবহিত করেছেন।
(খণ্ড: ১) তাবয়ীনু কাযিবিল মুফতারী ফীমা নুসিবা ইলাল আশআরী (পৃষ্ঠা: ৫১)
عَلِيٍّ الصَّيْدَلانِيُّ بِهَرَاةَ قَالا أنبأ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ الْفَارِسِيُّ انبأ عبد الرَّحْمَن ابْن أَحْمَدَ بْنِ أَبِي شُرَيْحٍ قَالَ نَا يَحْيَى بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ صاعد ثَنَا أَبُو سعيد الْأَشَج ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ عَنْ لَيْثٍ عَنْ مُجَاهِدٍ فِي قَوْلِهِ عزوجل {فَسَوْفَ يَأْتِي اللَّهُ بِقَوْمٍ يُحِبُّهُمْ وَيُحِبُّونَهُ} قَالَ قَوْمُ سَبْأٍ وَالأَشْعَرِيُّونَ قَوْمٌ مِنْ سَبَأٍ وَأَكْرِمْ بِذَلِكَ أَصْلا ونسبا

أخبرنَا الشَّيْخَانِ أَبُو الْقسم عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دَاوُدَ الْمَغْرِبِيُّ وَأَبُو غَالِبٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ عَلِيِّ الْبَصْرِيّ الْمَاوَرْدِيّ بِبَغْدَاد قَالَا أنبأ أَبُو عَلِيٍّ عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بن عَليّ التسترِي بِالْبَصْرَةِ ثَنَا القَاضِي الشريف أَبُو عمر الْقسم بْنُ جَعْفَرِ بْنِ عَبْدِ الْوَاحِدِ الْهَاشِمِي ثَنَا أَبُو عَلِيٍّ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بن عَمْرو اللؤْلُؤِي ثَنَا أَبُو دَاوُدَ سُلَيْمَانُ بْنُ الأَشْعَثِ السِّجِسْتَانِيُّ فِي كِتَابِ السُّنَنِ قَالَ ثَنَا سُلَيْمَان بن دَاوُد الْمهرِي أنبا ابْنُ وَهْبٍ أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ أَبِي أَيُّوبَ عَنْ شُرَاحِيلَ بْنِ يَزِيدَ الْمَعَافِرِيِّ عَنْ أَبِي عَلْقَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ فِيمَا أَعْلَمُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ

إِنَّ اللَّهَ عزوجل يَبْعَثُ لِهَذِهِ الأُمَّةِ عَلَى رَأْسِ كُلِّ مِائَةٍ سَنَةٍ مَنْ يُجَدِّدُ لَهَا دِينَهَا قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ شُرَيْحٍ الإِسْكَنْدَرَانِيُّ لَمْ يُخْبِرْ بِهِ شُرَاحِيلَ أخبرناه الشَّيْخ أَبُو الْقسم إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ السَّمَرْقَنْدِيِّ انا أَبُو الْقسم إِسْمَاعِيلُ بْنُ مَسْعَدَةَ الْجُرْجَانِيُّ بِبَغْدَادَ أَنا أَبُو الْقسم حَمْزَة بن يُوسُف السَّهْمِي أَنا أَبُو أَحْمَدَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عدي الْجِرْجَانِيّ انا الْعَبَّاسُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْعَبَّاسِ الْبَصْرِيّ وَالْقسم بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَهْدِيٍّ نَا حميم قَالا نَا عَمْرُو بْنُ سَوَادٍ السرحي ح قَالَ أَبُو أَحْمَدَ بْنُ عَدِيٍّ ونا يَحْيَى بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بن
হেরাতে আলী আস-সাইদালানী—তাঁরা উভয়ে বলেন: মুহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ আল-ফারিসি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আব্দুর রহমান ইবনে আহমদ বিন আবি শুরাইহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মদ বিন সায়েদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু সাঈদ আল-আশাজ্জ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ বিন ইদ্রিস লাইস থেকে এবং তিনি মুজাহিদ থেকে মহান আল্লাহর বাণী প্রসঙ্গে বর্ণনা করেন: {অচিরেই আল্লাহ এমন এক সম্প্রদায় নিয়ে আসবেন যাদেরকে তিনি ভালোবাসবেন এবং তাঁরাও তাঁকে ভালোবাসবে}। তিনি (মুজাহিদ) বলেন: তারা হলো সাবা গোত্র, আর আশআরীগণ সাবারই একটি অংশ; কতই না শ্রেষ্ঠ সেই মূল ও বংশধারা।

দুই শায়খ—আবু আল-কাসিম আব্দুল মালিক বিন আব্দুল্লাহ বিন দাউদ আল-মাগরিবি এবং আবু গালিব মুহাম্মদ বিন আল-হাসান বিন আলী আল-বাসরি আল-মাওয়ার্দি আমাদের বাগদাদে সংবাদ দিয়েছেন, তাঁরা বলেন: আবু আলী আলী বিন আহমদ বিন আলী আত-তুস্তারি আমাদের বসরায় সংবাদ দিয়েছেন, শরীফ কাদী আবু উমর আল-কাসিম বিন জাফর বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-হাশেমি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আলী মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আমর আল-লুলুয়ি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু দাউদ সুলাইমান বিন আল-আশআস আস-সিজিস্তানি স্বীয় 'সুনান' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুলাইমান বিন দাউদ আল-মাহরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে ওয়াহাব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, সাঈদ বিন আবি আইয়ুব শুরাহিল বিন ইয়াজিদ আল-মুয়াফিরি থেকে আমার নিকট সংবাদ দিয়েছেন, তিনি আবু আলকামা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে—আমার জানামতে—রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন:

নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ এই উম্মতের জন্য প্রতি একশত বছরের শিরোভাগে এমন একজনকে পাঠাবেন যিনি তাদের জন্য তাদের দ্বীনকে সংস্কার (তাজদীদ) করবেন। আবু দাউদ বলেন: এটি আব্দুর রহমান বিন শুরাইহ আল-ইসকান্দারানি বর্ণনা করেছেন, তিনি শুরাহিলের ঊর্ধ্বে আর কারো নাম উল্লেখ করেননি। শায়খ আবু আল-কাসিম ইসমাইল বিন আহমদ বিন আস-সামারকন্দি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আল-কাসিম ইসমাইল বিন মাসআদাহ আল-জোরজানি আমাদের বাগদাদে সংবাদ দিয়েছেন, আবু আল-কাসিম হামজাহ বিন ইউসুফ আস-সাহমি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আহমদ আব্দুল্লাহ বিন আদি আল-জোরজানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আব্বাস বিন মুহাম্মদ বিন আব্বাস আল-বাসরি এবং কাসিম বিন আব্দুল্লাহ বিন মাহদি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে হুমাইম তাঁদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: আমর বিন সাওয়াদ আস-সারহি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। (হাদিস পরিবর্তন সূত্র) আবু আহমদ বিন আদি বলেন: ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া বিন... আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন।