(খণ্ড: ১)
ঈজাহুদ দালীল ফী কাতয়ি হুজাজি আহলিত তাতীল
(পৃষ্ঠা: -)
إيضاح الدليل في قطع حجج أهل التعطيل القسم: العقيدة
الكتاب: إيضاح الدليل في قطع حجج أهل التعطيل
المؤلف: أبو عبد الله، محمد بن إبراهيم بن سعد الله بن جماعة الكناني الحموي الشافعي، بدر الدين (ت 733هـ)
المحقق: وهبي سليمان غاوجي الألباني
الناشر: دار السلام للطباعة والنشر - مصر
الطبعة: الأولى، 1410هـ - 1990م
عدد الصفحات: 234
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইদাহুল দালীল ফী ক্বাতয়ি হুজাজি আহলিত তা’তীল (বিপথগামীদের যুক্তি খণ্ডনে প্রমাণের স্পষ্টীকরণ) বিভাগ: আকিদাহ
বই: ইদাহুল দালীল ফী ক্বাতয়ি হুজাজি আহলিত তা’তীল
লেখক: আবু আব্দুল্লাহ، মুহাম্মাদ বিন ইবরাহিম বিন সা’দুল্লাহ বিন জামাআহ আল-কিনানি আল-হামাভি আশ-শাফিয়ি، বদরুদ্দীন (মৃত্যু ৭৩৩ হিজরি)
সম্পাদক: ওয়াহবী সুলাইমান গাওজী আল-আলবানী
প্রকাশক: দারুস সালাম মুদ্রণ ও প্রকাশনা - মিশর
সংস্করণ: প্রথম، ১৪১০ হিজরি - ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৩৪
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
ঈজাহুদ দালীল ফী কাতয়ি হুজাজি আহলিত তাতীল
(পৃষ্ঠা: ৭)
بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم
مُقَدّمَة فِي علم التَّوْحِيد علم التَّوْحِيد علم يعْنى بِمَعْرِِفَة الله تَعَالَى وَالْإِيمَان بِهِ، وَمَعْرِفَة مَا يجب لَهُ سُبْحَانَهُ وَمَا يَسْتَحِيل عَلَيْهِ وَمَا يجوز سَائِر مَا هُوَ من أَرْكَان الْإِيمَان السِّتَّة وَيلْحق بهَا وَهُوَ أشرف الْعُلُوم وَأَكْرمهَا على الله تَعَالَى لِأَن شرف الْعلم يتبع شرف الْمَعْلُوم لَكِن بِشَرْط أَن لَا يخرج عَن مَدْلُول الْكتاب وَالسّنة الصَّحِيحَة وَإِجْمَاع الْعُدُول وَفهم الْعُقُول السليمة فِي حُدُود الْقَوَاعِد الشَّرْعِيَّة وقواعد اللُّغَة الْعَرَبيَّة الأصيلة
لقد أنزل الله تَعَالَى الْقُرْآن على الْعَرَب وَغَيرهم بِلِسَان الْعَرَب وأسلوبهم وبيانهم مَعَ إعجازه هُوَ دون كَلَامهم ففهموه وعقلوا مَعَانِيه وَفسّر لَهُم رَسُول الله صلى الله عليه وسلم بعض مَا احتاجوا إِلَى تَفْسِيره مِنْهُ
وتحدث إِلَيْهِم رَسُول الله صلى الله عليه وسلم على أسلوب الْعَرَب وبيانهم فِيمَا جَاءَ بِهِ الْقُرْآن الْكَرِيم شرحا وبيانا تقريرا وتفسيرا تَخْصِيصًا وتقييدا كَمَا تحدث بمسائل وَأَحْكَام لم تأت فِي كتاب الله تَعَالَى ففهموا ذَلِك مِنْهُ صلى الله عليه وسلم وعقلوه
ثمَّ حِين دخل فِي الْإِسْلَام غير الْعَرَب لُغَة وجنسا وخفى عَلَيْهِم بعض أساليب الْقُرْآن الْكَرِيم وأعاريبه ومعاني بعض أَلْفَاظه ومقاصدها وَأخذت سليقة الْعَرَبيَّة فِي الْفساد عِنْد بعض الْعَرَب فَدخل لُغَة الْجمع من الطَّرفَيْنِ اللّحن وَالْخَطَأ ألهم الله تَعَالَى عمر وعليا رضي الله عنهما بالتوجه إِلَى تَقْرِير قَوَاعِد الْعَرَبيَّة وأعاريبها فَظهر علم النَّحْو ثمَّ ظَهرت سَائِر عُلُوم الْعَرَبيَّة من صرف وبلاغة ورتبت عُلُوم الْعَرَبيَّة واتسعت وتعددت موضوعاتها حَتَّى أضحى علم الْعَرَبيَّة علما لَهُ قَوَاعِده وأصوله وأساليبه وميادينه وأغراضه ومراميه وَله أَهله وأساتذته وَظَهَرت بِقصد خدمَة كِتَابه الْقُرْآن الْكَرِيم خَاصَّة نقط بعض الْحُرُوف وَوَصلهَا وشكلها وَفصل الْآي والتحزيب وَمَا إِلَى ذَلِك فَكَانَت بذلك الْفَائِدَة الْعُظْمَى فِي حفظ اللُّغَة الْعَرَبيَّة وخدمة كتابها الأول والأعظم
وَإِن ذَلِك من مَعَاني قَوْله تَعَالَى {إِنَّا نَحن نزلنَا الذّكر وَإِنَّا لَهُ لحافظون} وَالْحَمْد لله
পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে তাওহীদ শাস্ত্রের ভূমিকা তাওহীদ শাস্ত্র এমন এক জ্ঞান যা আল্লাহ তাআলার পরিচয় ও তাঁর প্রতি ঈমান আনা এবং মহান আল্লাহর জন্য যা আবশ্যক, যা অসম্ভব এবং যা জায়েয সে সম্পর্কে জানার সাথে সম্পৃক্ত। সেই সাথে ঈমানের ছয়টি রুকন এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াদিও এর অন্তর্ভুক্ত। এটি মহান আল্লাহর নিকট সবচেয়ে সম্মানিত ও শ্রেষ্ঠ জ্ঞান, কারণ জ্ঞানের শ্রেষ্ঠত্ব নির্ভর করে যার সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা হচ্ছে তার শ্রেষ্ঠত্বের ওপর। তবে শর্ত হলো, একে কিতাব (কুরআন), সহীহ সুন্নাহ, ন্যায়নিষ্ঠ আলেমদের ইজমা, শারয়ি নীতিমালা এবং বিশুদ্ধ আরবি ভাষার ব্যাকরণগত সীমানার ভেতরে থেকে সুস্থ বিবেকের উপলব্ধির বহির্ভূত হওয়া যাবে না।
আল্লাহ তাআলা আরব ও অনারবদের নিকট কুরআন অবতীর্ণ করেছেন আরবি ভাষায়, তাদের নিজস্ব শৈলী ও অলংকারের মাধ্যমে, যদিও এটি তাদের কথা বা রচনার ঊর্ধ্বে এক মুজিজা বা অলৌকিকত্ব বহন করে। ফলে তারা এর মর্ম উপলব্ধি করত এবং অর্থ বুঝতে পারত। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের নিকট কুরআনের সেই অংশগুলো ব্যাখ্যা করে দিতেন যা বোঝার জন্য তাদের ব্যাখ্যার প্রয়োজন হতো।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পবিত্র কুরআনের বিষয়বস্তুগুলোকে আরবদের বাকরীতি ও অলংকার অনুযায়ী ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণ, সমর্থন, তাফসীর, সুনির্দিষ্টকরণ এবং সীমাবদ্ধকরণের মাধ্যমে তাদের কাছে তুলে ধরতেন। একইভাবে তিনি এমন অনেক বিষয় ও বিধিবিধান নিয়ে আলোচনা করেছেন যা সরাসরি আল্লাহ তাআলার কিতাবে আসেনি। সাহাবীগণ তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিকট থেকে তা অনুধাবন ও উপলব্ধি করতেন।
অতঃপর যখন ভিন্ন ভাষা ও বংশের অনারবরা ইসলামে প্রবেশ করল এবং তাদের কাছে পবিত্র কুরআনের কিছু বাকরীতি, ব্যাকরণ এবং কিছু শব্দের অর্থ ও উদ্দেশ্য অস্পষ্ট হয়ে পড়ল, আর কিছু আরবের মাঝেও সহজাত আরবি ভাষার শুদ্ধতা নষ্ট হতে শুরু করল, ফলে উভয় পক্ষের ভাষায় ভুল ও বিচ্যুতি প্রবেশ করল; তখন আল্লাহ তাআলা উমর ও আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে আরবি ভাষার ব্যাকরণ ও এর প্রয়োগবিধি নির্ধারণের প্রতি মনোনিবেশ করার প্রেরণা দান করলেন। এর ফলে নাহু শাস্ত্রের উদ্ভব হলো। অতঃপর সরফ ও বালাগাতসহ আরবি ভাষার অন্যান্য শাখাগুলো আত্মপ্রকাশ করল। আরবি ভাষার জ্ঞান সুশৃঙ্খল হলো এবং এর পরিধি ও বিষয়বস্তু বিস্তৃত ও বহুমুখী হয়ে উঠল, এমনকি এটি এমন এক শাস্ত্রে পরিণত হলো যার নির্দিষ্ট নিয়ম-কানুন, মূলনীতি, শৈলী, ক্ষেত্র, উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য নির্ধারিত হলো এবং এর জন্য বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষক তৈরি হলো। বিশেষভাবে পবিত্র কুরআনের খিদমতের উদ্দেশ্যে হরফসমূহে নুকতা প্রদান, হরফ যুক্তকরণ, হরকত প্রদান, আয়াত বিভাজন, পারা বা মানজিল বিন্যাস ইত্যাদি বিষয়ের উদ্ভব হলো। এর ফলে আরবি ভাষা সংরক্ষণ এবং এর প্রধান ও মহান কিতাবের খিদমতে এক বিশাল উপকার সাধিত হলো।
আর এটি আল্লাহ তাআলার এই বাণীরই অন্যতম মর্মার্থ: "নিশ্চয় আমিই এই যিকর অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষক।" আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ১)
ঈজাহুদ দালীল ফী কাতয়ি হুজাজি আহলিত তাতীল
(পৃষ্ঠা: ৮)
وَحين اتَّصل الْمُسلمُونَ الْعَرَب بِغَيْر الْعَرَب من الشعوب مِمَّن أَسْلمُوا واطمأنت بِالْإِسْلَامِ قُلُوبهم أَو مِمَّن تظاهروا بِالْإِسْلَامِ ليكيدوا لَهُ من الدَّاخِل وصلت إِلَى مسامع الْمُسلمين الْأَوَائِل أُولَئِكَ عقائد ومعارف دينية غير الَّتِي عرفوها فِي الْقُرْآن وَالسّنة ألهم الله تَعَالَى كبار التَّابِعين وأتباعهم التَّوَجُّه إِلَى تَقْرِير قَوَاعِد الْإِسْلَام وأركان الْإِيمَان ومسائلها وبسطها وَضرب الْأَمْثِلَة عَلَيْهَا بِمَا يُوضح ويحقق الْيَقِين عِنْد غير الْعَرَب السَّابِقين خَاصَّة فِي قضايا الإعتقاد ومسائل الْإِيمَان ووفق الله تَعَالَى بعض أُولَئِكَ التَّابِعين لعرض مسَائِل عقائد الآخرين وَبَيَان فَسَادهَا وضلالها من خلال الْقُرْآن وَالسّنة وَالْعقل والفكر السَّلِيم فَظهر علم التَّوْحِيد أَو مَا سمي بِعلم الْكَلَام
وكما كَانَت كتابات اللُّغَة الْعَرَبيَّة أول أمرهَا وجيزة ويسيرة ثمَّ توسعت وتعمقت كَذَلِك كَانَ الْأَمر فِي علم التَّوْحِيد وَمَا يُقَال فِي هذَيْن العلمين يُقَال فِي سَائِر الْعُلُوم من التَّفْسِير وعلوم الْقُرْآن من الْفِقْه والْحَدِيث والسيرة والتاريخ
فَبعد أَن كتب التَّابِعِيّ الْجَلِيل الإِمَام أَبُو حنيفَة رَحمَه الله تَعَالَى (الْفِقْه الْأَكْبَر) الَّذِي لَا يزِيد على سِتّ صفحات من أصُول مسَائِل الإعتقاد رَأينَا بعد ذَلِك من توسع فِيهِ - تبعا للْحَاجة - فشرح الْمَوْجُود وأضاف مَا يرَاهُ من البحوث والموضوعات الَّتِي لَهَا علاقَة بِعلم التَّوْحِيد
وَبعد أَن كتب الْمُحدث الْفَقِيه الإِمَام أَبُو جَعْفَر الطَّحَاوِيّ رَحمَه الله تَعَالَى رسَالَته فِي العقيدة وسماها (بَيَان السّنة وَالْجَمَاعَة) فِي عشر صفحات جَاءَ من يشرحها بعدة بقرون بعشرات من الصفحات ومئاتها وَهَكَذَا ثمَّ توسع وَشرح وأفاض فِي الْكِتَابَة فِي علم التَّوْحِيد الإمامان الجليلان أَبُو الْحسن الْأَشْعَرِيّ وَأَبُو مَنْصُور الماتريدي رحمهمَا الله تَعَالَى وهما - وَإِلَى الْآن - الْعُمْدَة لمن كتب بعدهمَا فِي علم التَّوْحِيد مثل الباقلاني وَالْغَزالِيّ وَالْفَخْر وَإِمَام الْحَرَمَيْنِ وَغَيرهم
قَالَ ابْن حجر الهيتمي رَحمَه الله تَعَالَى نسب علم الْكَلَام إِلَى الْأَشْعَرِيّ لِأَنَّهُ بَين مناهج الْأَوَّلين ولخص موارد الْبَرَاهِين وَلم يحدث فِيهِ بعد السّلف إِلَّا مُجَرّد الألقاب والإصطلاحات وَقد حدث ذَلِك فِي كل فن من فنون الْعلم وَمثل ذَلِك قَوْله
যখন আরব মুসলমানরা অনারব জাতিগোষ্ঠীর সাথে মিলিত হলেন—যাঁদের হৃদয় ইসলাম গ্রহণ করে প্রশান্ত হয়েছিল অথবা যাঁরা ইসলামের বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্রের উদ্দেশ্যে ইসলাম গ্রহণের ভান করেছিলেন—তখন সেই প্রথম যুগের মুসলমানদের কানে এমন সব আকিদা ও ধর্মীয় জ্ঞান পৌঁছাল যা তাঁরা কুরআন ও সুন্নাহতে জানতেন না। আল্লাহ তাআলা প্রবীণ তাবেয়ি ও তাঁদের অনুসারীদের ইসলামের মূলনীতি, ইমানের রুকনসমূহ এবং এর আনুষঙ্গিক মাসআলাগুলো সুসংহত করার, তা বিস্তারিত বর্ণনা করার এবং সেগুলোর ওপর এমন উদাহরণ পেশ করার ইলহাম দান করেন যা পূর্ববর্তী অনারবদের নিকট, বিশেষ করে আকিদা ও ইমানের বিষয়গুলোতে দৃঢ় বিশ্বাস স্পষ্ট ও প্রতিষ্ঠিত করে। আল্লাহ তাআলা সেই তাবেয়িদের মধ্য থেকে কয়েকজনকে কুরআন, সুন্নাহ, যুক্তি এবং সঠিক চিন্তাধারার মাধ্যমে অন্যদের আকিদাগত বিষয়সমূহ উপস্থাপন করার এবং সেগুলোর অসারতা ও ভ্রান্তি বর্ণনার তাওফিক দান করেন। এর মাধ্যমেই তাওহিদ শাস্ত্র বা যা ইলমুল কালাম নামে পরিচিত, তার উদ্ভব ঘটে।
আর আরবি ভাষার লেখনীসমূহ যেমন প্রাথমিক অবস্থায় সংক্ষিপ্ত ও সহজ ছিল, অতঃপর তা বিস্তৃত ও গভীর হয়েছে, তাওহিদ শাস্ত্রের ক্ষেত্রেও বিষয়টি তেমনই ছিল। আর এই দুই শাস্ত্রের ব্যাপারে যা বলা হয়, তা তাফসির, উলুমুল কুরআন, ফিকহ, হাদিস, সিরাত ও ইতিহাসসহ অন্যান্য সকল শাস্ত্রের ক্ষেত্রেও সমভাবে প্রযোজ্য।
অতএব, মহান তাবেয়ি ইমাম আবু হানিফা (রহিমাহুল্লাহ) যখন আকিদার মৌলিক বিষয়াবলির ওপর 'আল-ফিকহুল আকবার' লিখলেন, যা ছয় পৃষ্ঠার বেশি নয়, এরপর আমরা দেখলাম যে প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তীতে অনেকে এতে বিস্তৃতি ঘটিয়েছেন—ফলে বিদ্যমান বিষয়গুলোর ব্যাখ্যা করেছেন এবং তাওহিদ শাস্ত্রের সাথে সম্পৃক্ত বিভিন্ন গবেষণা ও বিষয়বস্তু এতে যুক্ত করেছেন যা তাঁরা প্রয়োজনীয় মনে করেছেন।
মুহাদ্দিস ও ফকিহ ইমাম আবু জাফর আত-তহাবি (রহিমাহুল্লাহ) যখন আকিদার ওপর তাঁর রিসালাহ লিখলেন এবং যার নাম দিলেন 'বায়ানুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ' যা ছিল মাত্র দশ পৃষ্ঠার, কয়েক শতাব্দী পর এমন সব লোক এলেন যারা এর ব্যাখ্যা দশ-দশ বা শত শত পৃষ্ঠায় করেছেন। এভাবেই পরবর্তীতে দুই মহান ইমাম—আবু হাসান আল-আশআরি ও আবু মনসুর আল-মাতুরিদি (রহিমাহুমাল্লাহ)—তাওহিদ শাস্ত্রের লেখনীতে ব্যাপক বিস্তৃতি, ব্যাখ্যা ও বিশদ আলোচনা করেন। তাঁরা দুজনই—বর্তমান সময় পর্যন্ত—তাওহিদ শাস্ত্রের ওপর তাঁদের পরবর্তী লেখকদের জন্য মূল ভিত্তি হিসেবে গণ্য, যেমন: আল-বাকিলানি, আল-গাজালি, আল-ফাখর, ইমামুল হারামাইন এবং অন্যান্যগণ।
ইবনে হাজার আল-হাইতামি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, ইলমুল কালামকে আশআরি-র দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয় কারণ তিনি পূর্ববর্তীদের পদ্ধতিসমূহ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন এবং প্রমাণের উৎসসমূহ সংক্ষিপ্তসারে তুলে ধরেছেন। সালাফদের যুগের পর এতে কেবল কিছু উপাধি ও পরিভাষার উদ্ভব হয়েছে মাত্র; আর এটি ইলমের প্রতিটি শাখাতেই ঘটেছে। আর এর উদাহরণ হলো তাঁর কথা-
(খণ্ড: ১)
ঈজাহুদ দালীল ফী কাতয়ি হুজাজি আহলিত তাতীল
(পৃষ্ঠা: ৯)
الإِمَام عَليّ الْقَارِي فِي الإِمَام الماتريدي فِي (الثِّمَار الجنية) لَهُ
لقد عرض الْقُرْآن الْكَرِيم لعقائد بعض أهل الشَّرَائِع والعقائد السَّابِقَة بأسلوبه الْخَاص وبإيجاز وَبَين فَسَادهَا وبطلانها بأسلوبه الْخَاص وبإيجاز كَذَلِك فخاطب الْمَلَاحِدَة المعطلة الَّذين يُنكرُونَ الْخَالِق قَائِلا أم خلقُوا من غير شَيْء أم هم الْخَالِقُونَ. أم خلقُوا السَّمَوَات وَالْأَرْض بل لَا يوقنون
وَقد حكى الله تَعَالَى محاورة إِبْرَاهِيم عليه السلام قومه ومحاورته الْجَبَّار نمرودا وَكَيف أفحمهم إِبْرَاهِيم عليه السلام {فبهت الَّذِي كفر وَالله لَا يهدي الْقَوْم الظَّالِمين}
كَمَا حكى سُبْحَانَهُ محاورة مُوسَى عليه السلام للظاغية فِرْعَوْن حَتَّى إِذا قَامَت الْحجَّة على فِرْعَوْن وَقَومه وَلم يبْق لَهُ سلَاح سوى الْبَطْش وَأَرَادَ ذَلِك أهلكه الله تَعَالَى وَمن مَعَه فِي الْبَحْر الَّذِي لَا تغرف فِيهِ بطة ثمَّ لَفظه الْبَحْر ليَكُون آيَة على قدرَة الله تَعَالَى وَصدق مُوسَى عليه السلام وَفَسَاد راي فِرْعَوْن ودعوته
وَلما جَاءَ أبي بن خلف رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَمَعَهُ عظم بَال يفتته وَقَالَ مستهزئا يامحمد أَتَرَى رَبك يحيي هَذَا بعد مَا رم وبلي قَالَ لَهُ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فِي صدق ويقين نعم وَيَبْعَثُك الله وَيُدْخِلك النَّار وَأنزل الله سُبْحَانَهُ خَوَاتِيم سُورَة ياسين وَضرب لنا مثلا وَنسي خلقه قَالَ من يحي الْعِظَام وَهِي رَمِيم. قل يُحْيِيهَا الَّذِي أَنْشَأَهَا أول مرّة وَهُوَ بِكُل خلق عليم
هَذَا وَأَمْثَاله من مسَائِل الِاعْتِقَاد يجب على الْمُسلمين أَن يعرفوه ويعقلوه إِجْمَالا على الْعَامَّة وتفصيلا على أهل الْعلم والدعوة وعَلى أهل الْقَلَم أَن يكتبوا فِيهِ وينشرو بَين النَّاس
إِلَّا أَنه قد دخل (علم التَّوْحِيد) بعد الْقرن الثَّالِث مَا عده بعض أهل الْعلم فِي وَقت مَا ضَرُورِيًّا من اساليب عقلية وقضايا منطقية فكرية، وفلسفية فِي بعض مسَائِل
ইমাম আলী আল-কারি তাঁর রচিত 'আস-সিমার আল-জানিয়্যাহ' গ্রন্থে ইমাম মাতুরিদি সম্পর্কে বলেছেন:
পবিত্র কুরআন পূর্ববর্তী কিছু শরীয়ত ও আকিদার অনুসারীদের বিশ্বাসগুলোকে তার নিজস্ব শৈলী ও সংক্ষেপে উপস্থাপন করেছে এবং একইভাবে তার নিজস্ব শৈলী ও সংক্ষেপে সেগুলোর অসারতা ও অকার্যকরতা স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। অতঃপর এটি সেইসব নাস্তিক ও সৃষ্টিকর্তাকে অস্বীকারকারীদের সম্বোধন করে বলেছে যারা স্রষ্টাকে অস্বীকার করে: "তারা কি কোনো কিছু ছাড়াই সৃষ্টি হয়েছে, নাকি তারা নিজেরাই নিজেদের স্রষ্টা? নাকি তারা আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছে? বরং তারা দৃঢ় বিশ্বাসী নয়।"
আল্লাহ তাআলা ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের তাঁর কওমের সাথে বিতর্ক এবং স্বৈরাচারী নমরূদের সাথে তাঁর তর্কের ঘটনা বর্ণনা করেছেন এবং দেখিয়েছেন কীভাবে ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম তাদের নিরুত্তর করে দিয়েছিলেন: "অতঃপর যে কুফরি করেছিল সে হতভম্ব হয়ে গেল; আর আল্লাহ জালিম সম্প্রদায়কে হিদায়াত দান করেন না।"
তেমনিভাবে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা জালেম ফেরাউনের সাথে মুসা আলাইহিস সালামের তর্কের কথা উল্লেখ করেছেন। পরিশেষে যখন ফেরাউন ও তার কওমের বিরুদ্ধে প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হলো এবং তার কাছে শক্তিপ্রয়োগ ছাড়া আর কোনো হাতিয়ার বাকি রইল না এবং সে সেটিই করতে চাইল, তখন আল্লাহ তাআলা তাকে এবং তার সাথে যারা ছিল তাদের সবাইকে সমুদ্রে ধ্বংস করলেন যাতে কোনো হাঁসও ডুব দিতে পারত না। এরপর সমুদ্র তাকে বের করে দিল যেন সে আল্লাহর ক্ষমতা, মুসা আলাইহিস সালামের সত্যতা এবং ফেরাউনের মতবাদ ও আহ্বানের অসারতার নিদর্শন হয়ে থাকে।
যখন উবাই ইবনে খালাফ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে একটি জীর্ণ হাড় নিয়ে এল এবং সেটি গুঁড়ো করতে করতে উপহাস করে বলল, "হে মুহাম্মদ! তুমি কি মনে করো তোমার রব এটিকে জীবিত করবেন যখন এটি পচে গলে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে?" রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পূর্ণ সত্যতা ও দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে তাকে বললেন, "হ্যাঁ, এবং আল্লাহ তোমাকে পুনরুত্থিত করবেন ও জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন।" তখন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সূরা ইয়াসিনের শেষ আয়াতগুলো নাযিল করেন: "সে আমার জন্য উপমা পেশ করল, অথচ নিজের সৃষ্টির কথা ভুলে গেল। সে বলল, হাড়গুলো যখন পচে গলে যাবে তখন কে সেগুলোকে জীবিত করবে? বলো, সেগুলোকে তিনিই জীবিত করবেন যিনি প্রথমবার সেগুলোকে সৃষ্টি করেছেন এবং তিনি প্রত্যেকটি সৃষ্টি সম্পর্কে সম্যক অবগত।"
এটি এবং আকিদা সংক্রান্ত অনুরূপ বিষয়গুলো সম্পর্কে জ্ঞান রাখা ও অনুধাবন করা মুসলিমদের জন্য আবশ্যক; সাধারণ মানুষের জন্য সংক্ষিপ্তভাবে এবং আলেম ও দাঈদের জন্য বিস্তারিতভাবে। আর লেখকদের উচিত এ বিষয়ে লেখা এবং মানুষের মাঝে তা প্রচার করা।
তবে তৃতীয় শতাব্দীর পর 'তাওহীদ বিদ্যায়' এমন কিছু বিষয় প্রবেশ করেছে যেগুলোকে কোনো কোনো আলেম কোনো এক সময় নির্দিষ্ট কিছু সমস্যার ক্ষেত্রে যৌক্তিক পদ্ধতি, তাত্ত্বিক ও দার্শনিক যুক্তির নিরিখে প্রয়োজনীয় বলে গণ্য করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
ঈজাহুদ দালীল ফী কাতয়ি হুজাজি আহলিত তাতীল
(পৃষ্ঠা: ১০)
الِاعْتِقَاد وَأَحْكَامه مثل إِثْبَات وجوب وجود الْخَالِق وحدوث مَا سواهُ يواجهون بذلك أساليب أَعدَاء الْإِسْلَام ليحاجوهم ويلزموهم الْحق من بَاب (من فمك أدينك) فأضحى علم التَّوْحِيد فِي ذَلِك الْعَصْر عِنْد بعض أهل الْعلم علما معقد الأسلوب معقد الفكرة تقلب الصفحات العديدة فِيهِ دون أَن تقْرَأ فِيهَا آيَة أَو حَدِيثا وابتعد بذلك عَن أسلوب الْقُرْآن الَّذِي يُخَاطب الْعقل والوجدان مَعًا وَيُقِيم الْحجَّة وَيَدْعُو إِلَى الانضواء تَحت لِوَاء الْإِسْلَام قلبا وقالبا وَكفى بِبَيَان كتاب الله تَعَالَى بَيَانا
كَانَ ذَلِك أسلوب الْوَقْت - ولوقت معِين - وَمن جماعات مُعينَة اجْتِهَادًا مِنْهَا ونظرا والمجتهد - أهل الإجتهاد - مثاب أصَاب فِي إجتهاده أَو أَخطَأ
فَإِنَّهُ لَا ريب أَن أسلوب الْقُرْآن وَبَيَان الْقُرْآن وأسلوب الرَّسُول صلى الله عليه وسلم وَمَا يهديان إِلَيْهِ هما أجدى وَأقرب إِلَى الْحجَّة الْإِقْنَاع فِي ذَلِك الْعَصْر وَفِي كل عصر حَتَّى تقوم السَّاعَة وَالْحَمْد لله
ذكرت أَن بعض التَّابِعين كتبُوا كتابات وجيزة فِي علم التَّوْحِيد إِذْ لم يرَوا أَن يبينوا سوى الْحق بإيجاز وعَلى قدر الْحَاجة فَمن يَقُول إِن السّلف الصَّالح لم يخوضوا فِي علم التَّوْحِيد وَلم يكتبوا فِيهِ وَإِن ذَلِك بِدعَة ضَلَالَة هم مخطئون لِأَن الْإِسْلَام دين الخلود وَمن مُقْتَضى خلوده - وَهُوَ وَحده الْحق - أَن يُقرر كل حَقِيقَة وَأَن يدْفع كل فكرة ضَالَّة أَو عقيدة فَاسِدَة تنشأ فِي الْمُسلمين أَو نحلة ضَالَّة تجابه عقيدة الْإِسْلَام وعقائده وَأَهله وَيسْعَى أَن يضفي بنوره على قُلُوب النَّاس عَامَّة بِإِذن الله تَعَالَى
نعم إِن بعض السّلف كره الْخَوْض فِي محاورة أهل الْأَهْوَاء والضلالات لما فِي ذلكمن نقل أَقْوَالهم ثمَّ تفنيدها وَذَلِكَ مِمَّا يشغل الْقلب وَقد يَظْلمه ويشغل عَن الأهم من الْعُلُوم عِنْدهم - كَمَا نقل من إِنْكَار الإِمَام أَحْمد بن حَنْبَل على الإِمَام الْحَارِث المحاسبي رحمهمَا الله تَعَالَى خوضه فِي مسَائِل الإعتقاد وَالرَّدّ على أهل الضلال - وَأما إِذا حقت الْمَسْأَلَة وتحققت الْحَاجة فهم يَقُولُونَ فِيهَا بعقولهم الْعَظِيمَة من خلال أصُول الدّين لِأَن حفظ العقائد أهم الْعُلُوم وأولاها وَلَقَد سمى الإِمَام أَبُو حنيفَة رَحمَه الله تَعَالَى علم التَّوْحِيد الْفِقْه الْأَكْبَر وَلَقَد قيل إِن الإِمَام أَحْمد بن حَنْبَل رَحمَه الله تَعَالَى كتب رِسَالَة فِي الرَّد على الْجَهْمِية وَالله أعلم بِصِحَّة ذَلِك
বিশ্বাস ও তার বিধিবিধান, যেমন স্রষ্টার অস্তিত্বের আবশ্যকতা এবং তাঁর সত্তা ব্যতীত্ব অন্য সবকিছুর নশ্বরতা সাব্যস্ত করার মাধ্যমে তারা ইসলামের শত্রুদের কর্মপন্থার মোকাবিলা করতেন, যাতে তাদের সাথে বিতর্ক করা যায় এবং ‘তোমার নিজ মুখ দিয়েই তোমাকে পরাস্ত করব’—এই নীতির আলোকে তাদের সত্য গ্রহণে বাধ্য করা যায়। ফলে সেই যুগে কিছু আলেমদের নিকট তাওহীদ শাস্ত্র এমন এক বিদ্যায় পরিণত হলো যার বর্ণনাভঙ্গি ও চিন্তাধারা ছিল অত্যন্ত জটিল; যেখানে বহু পৃষ্ঠা উল্টালেও কোনো একটি আয়াত বা হাদিস খুঁজে পাওয়া যেত না। এর মাধ্যমে এটি কুরআনের সেই পদ্ধতি থেকে দূরে সরে গিয়েছিল যা একই সাথে বিবেক ও অনুভূতিকে সম্বোধন করে, অকাট্য দলিল পেশ করে এবং মনে-প্রাণে ইসলামের পতাকাতলে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানায়। আর আল্লাহ তাআলার কিতাবের বর্ণনা অপেক্ষা শ্রেষ্ঠতর কোনো বর্ণনা হতে পারে না।
এটি ছিল সেই সময়ের একটি বিশেষ পদ্ধতি—যা একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এবং নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠীর ইজতিহাদ ও গবেষণার ফল। আর মুজতাহিদ—যিনি ইজতিহাদ করার যোগ্যতা রাখেন—তিনি সওয়াব প্রাপ্ত হন, চাই তিনি তাঁর ইজতিহাদে সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হন কিংবা ভুল করেন।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, কুরআনের পদ্ধতি ও বর্ণনা এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পদ্ধতি ও তাঁরা যে পথের দিকে আহ্বান করেন, তাই সেই যুগে এবং কিয়ামত পর্যন্ত আগত প্রতিটি যুগে অকাট্য যুক্তি ও সন্তোষজনক প্রমাণের ক্ষেত্রে অধিকতর ফলপ্রসূ ও নিকটতর। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
আমি উল্লেখ করেছি যে, কিছু তাবিঈ তাওহীদ শাস্ত্রের বিষয়ে সংক্ষিপ্ত কিছু রচনা লিখেছিলেন। কারণ তাঁরা প্রয়োজন অনুযায়ী সংক্ষেপে সত্য বর্ণনা করা ছাড়া অন্য কিছু সমীচীন মনে করেননি। সুতরাং যারা বলে যে, সালাফে সালেহীন তাওহীদ শাস্ত্র নিয়ে আলোচনা করেননি বা এতে কিছু লেখেননি এবং একে ভ্রষ্ট বিদআত মনে করে, তারা ভুল পথে আছে। কারণ ইসলাম একটি শাশ্বত ধর্ম; আর এর শাশ্বত হওয়ার দাবিই হলো—যা নিজেই একমাত্র সত্য—এটি প্রতিটি সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করবে এবং মুসলমানদের মধ্যে সৃষ্ট প্রতিটি ভ্রান্ত চিন্তা বা কলুষিত আকিদাকে প্রতিহত করবে, কিংবা ইসলামের আকিদা ও অনুসারীদের মোকাবিলায় আসা প্রতিটি ভ্রষ্ট মতবাদকে রুখে দেবে এবং আল্লাহর ইচ্ছায় সাধারণ মানুষের অন্তরে হেদায়াতের নূর ছড়িয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা চালাবে।
হ্যাঁ, কিছু সালাফ প্রবৃত্তি পূজারি ও ভ্রষ্টদের সাথে বিতর্কে লিপ্ত হওয়া অপছন্দ করতেন। কারণ এতে প্রথমে তাদের বক্তব্য উদ্ধৃত করতে হয় এবং পরে তা খণ্ডন করতে হয়, যা অন্তরকে বিক্ষিপ্ত করে তোলে এবং কখনো অন্তরকে অন্ধকারাচ্ছন্ন করে দেয়; এছাড়া এটি তাদের নিকট আরও গুরুত্বপূর্ণ ইলম অর্জনে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। যেমন ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল কর্তৃক ইমাম হারিস আল-মুহাসিবী (আল্লাহ তাঁদের ওপর রহম করুন)-কে আকিদার বিষয়ে আলোচনা ও ভ্রষ্টদের খণ্ডনে লিপ্ত হওয়ার কারণে নিষেধ করার কথা বর্ণিত হয়েছে। তবে যখন বিষয়টি অপরিহার্য হয়ে দাঁড়াত এবং প্রয়োজন দেখা দিত, তখন তাঁরা দ্বীনের মূলনীতির আলোকে তাঁদের মহান প্রজ্ঞার মাধ্যমে সে বিষয়ে কথা বলতেন। কারণ আকিদা রক্ষা করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও অগ্রাধিকারযোগ্য ইলম। ইমাম আবু হানিফা (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) তাওহীদ শাস্ত্রকে ‘আল-ফিকহুল আকবার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। আরও বর্ণিত আছে যে, ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) জাহমিয়াদের খণ্ডনে একটি পুস্তিকা লিখেছেন; তবে এর সত্যতা আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১)
ঈজাহুদ দালীল ফী কাতয়ি হুজাজি আহলিত তাতীল
(পৃষ্ঠা: ১১)
قَالَ القَاضِي أَبُو الْمَعَالِي عبد الْملك من أعتقد أَن السّلف الصَّالح رضي الله عنهم نهوا عَن معرفَة الْأُصُول وتجنبوها أَو تغافلوا عَنْهَا وأهملوها فقد اعْتقد فيهم عَجزا وأساء بهم ظنا لِأَنَّهُ يَسْتَحِيل فِي الْعقل وَالدّين عِنْد كل من أنصف من نَفسه أَن الْوَاحِد مِنْهُم يتَكَلَّم فِي مَسْأَلَة الْعَوْل وقضايا الْجد - مِيرَاث - وكمية الْحُدُود وَكَيْفِيَّة الْقصاص بفصول ويباهل عَلَيْهَا ويلاعن ويجافي فِيهَا ويبالغ أَو يذكر على إِزَالَة النَّجَاسَات عشْرين دَلِيلا لنَفسِهِ وللمخالف ويشقق الشّعْر فِي النّظر ثمَّ لَا يعرف ربه الْآمِر خلقه بالتحليل وَالتَّحْرِيم والمكلف عباده للترك والتعظيم
فهيهات أَن يكون ذَلِك وَأَنَّهُمْ أهملوا تَحْرِير أدلته وَإِقْرَار أسئلته وأجوبته فَإِن الله تَعَالَى بعث مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم فأيده بِالْآيَاتِ الباهرة والمعجزات الْقَاهِرَة حَتَّى أوضح الشَّرِيعَة وَبَينهَا وعلمهم مواقيتها وعينها فَلم يتْرك لَهُم أصلا من الْأُصُول إِلَّا بناه وشيده وَلَا حكما من الْأَحْكَام إِلَّا أوضحه ومهده لقَوْله سُبْحَانَهُ وأنزلنا إِلَيْك الذّكر لتبين للنَّاس مَا نزل إليم ولعلهم يتفكرون فاطمأنت قُلُوب الصَّحَابَة لما عاينوا من عجائب الرَّسُول صلى الله عليه وسلم وشاهدوا من صدق التَّنْزِيل ببدائة الْعُقُول والشريعة غضة طريه متداولة بَينهم فِي مواسمهم ومجالسهم يعْرفُونَ التَّوْحِيد مُشَاهدَة بِالْوَحْي وَالسَّمَاع ويتكلمون فِي أَدِلَّة الوحدانية بالطباع مستغنين عَن تَحْرِير أدلتها وتقويم حجتها وعللها كَمَا أَنهم كَانُوا يعْرفُونَ تَفْسِير الْقُرْآن ومعاني الشّعْر وَالْبَيَان وترتيب النَّحْو وَالْعرُوض وفتاوي النَّوَافِل والفروض من غير تَحْرِير الْعلَّة وَلَا تَقْوِيم الْأَدِلَّة
ثمَّ لما انقرضت أيامهم وتغيرت طباع من بعدهمْ وَكَلَامهم وخالطهم أَقوام من غير جنسهم وَطَالَ بالسلف الصَّالح وَالْعرب العرباء عَهدهم وأشكل عَلَيْهِم تَفْسِير الْقُرْآن ومرن عَلَيْهِم غلط اللِّسَان وَكثر المخالفون فِي الْأُصُول وَالْفُرُوع واضطروا إِلَى جمع الْعرُوض والنحو وتمييز الْمَرَاسِيل من المسانيد والآحاد من التَّوَاتُر وصنفوا التَّفْسِير وَالتَّعْلِيق وبينوا التدقيق وَالتَّحْقِيق وَلم يقل أحد إِن هَذِه كلهَا بدع ظَهرت وَأَنَّهَا محالات جمعت ودونت بل هُوَ الشَّرْع الصَّحِيح والرأي القويم وَكَذَلِكَ هَذِه الطَّائِفَة - يَعْنِي عُلَمَاء التَّوْحِيد - كثر الله عَددهمْ وقوى عَددهمْ بل هَذِه الْعُلُوم أولى
কাযী আবুল মাআলি আব্দুল মালিক বলেছেন: যে ব্যক্তি বিশ্বাস করে যে সালাফে সালেহীন (পুণ্যবান পূর্বসূরিগণ) —আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন— দ্বীনের মূলনীতিসমূহ (উসুল) সম্পর্কে জানা থেকে বারণ করেছেন এবং সেগুলো এড়িয়ে চলেছেন অথবা সে সম্পর্কে গাফেল থেকেছেন এবং তা উপেক্ষা করেছেন, তবে সে তাঁদের সম্পর্কে অক্ষমতার ধারণা পোষণ করল এবং তাঁদের প্রতি মন্দ ধারণা পোষণ করল। কারণ, বিবেক ও ধর্মের বিচারে এমন প্রতিটি ব্যক্তির নিকট এটি অসম্ভব যে নিজের প্রতি ইনসাফ করে, যে তাঁদের কেউ মিরাসের 'আওল' মাসআলা, দাদার অংশীদারিত্বের বিষয়সমূহ, দণ্ডবিধির পরিমাণ এবং কিসাস বা প্রতিশোধের পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত পরিচ্ছেদে আলোচনা করবেন, এ নিয়ে মুবাহালা করবেন, লানত করবেন, কঠোর অবস্থান নেবেন এবং অতিশয়োক্ত করবেন, অথবা অপবিত্রতা দূর করার বিষয়ে নিজের পক্ষে এবং প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বিশটি করে দলীল উল্লেখ করবেন এবং সূক্ষ্ম চুলচেরা বিশ্লেষণ করবেন, অথচ তিনি তাঁর সেই রবকে চিনবেন না যিনি তাঁর সৃষ্টিকে হালাল ও হারামের আদেশ দিয়েছেন এবং তাঁর বান্দাদের (নিষিদ্ধ বিষয়) বর্জন ও (তাঁর) মহত্ত্ব বর্ণনার দায়িত্ব দিয়েছেন।
সুতরাং এমনটা হওয়া অসম্ভব যে তাঁরা এর দলীলসমূহ সংকলন ও বিন্যস্ত করা এবং এর সওয়াল-জওয়াব নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে অবহেলা করেছেন। কেননা আল্লাহ তাআলা মুহাম্মদ (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-কে প্রেরণ করেছেন এবং তাঁকে সুষ্পষ্ট নিদর্শন ও অকাট্য মুজিযা দ্বারা শক্তিশালী করেছেন, যাতে তিনি শরীয়তকে সুষ্পষ্ট ও ব্যাখ্যা করেন এবং তাঁদেরকে শরীয়তের সময়সমূহ শিখিয়েছেন ও নির্ধারণ করে দিয়েছেন। তিনি তাঁদের জন্য মূলনীতিসমূহের মধ্য থেকে এমন কোনো মূলনীতি বাকি রাখেননি যা তিনি ভিত্তি দান করেননি এবং সুদৃঢ় করেননি, আর বিধানাবলির মধ্য থেকে এমন কোনো বিধান বাকি রাখেননি যা তিনি স্পষ্ট করেননি এবং সুগম করেননি; মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে: "আর আমি আপনার প্রতি যিকির (কুরআন) নাযিল করেছি যাতে আপনি মানুষের জন্য তা স্পষ্ট করে দেন যা তাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে এবং যাতে তারা চিন্তা-ভাবনা করে।" ফলে সাহাবীগণের অন্তরসমূহ প্রশান্ত হয়েছিল যখন তাঁরা রাসূল (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর বিস্ময়কর বিষয়সমূহ প্রত্যক্ষ করেছিলেন এবং সুস্থ বিবেকের মাধ্যমে ওহীর সত্যতা প্রত্যক্ষ করেছিলেন। তখন শরীয়ত ছিল সতেজ ও প্রাণবন্ত যা তাঁদের বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও মজলিসগুলোতে চর্চিত হতো। তাঁরা ওহী ও শ্রবণ করার মাধ্যমে চাক্ষুষভাবে তাওহীদ সম্পর্কে জানতেন এবং স্বভাবজাতভাবেই একত্ববাদের দলীলসমূহ নিয়ে আলোচনা করতেন; যার ফলে সেগুলোর দলীল সংকলন এবং যুক্তি ও কারণসমূহ সুবিন্যস্ত করার কোনো প্রয়োজন তাঁদের ছিল না। যেমন তাঁরা কুরআনের তাফসীর, কবিতার অর্থ ও অলঙ্কারশাস্ত্র, ব্যাকরণ ও ছন্দতত্ত্বের বিন্যাস এবং নফল ও ফরয ইবাদতের ফতোয়া সম্পর্কে জানতেন কোনো কারণ বিশ্লেষণ বা দলীল বিন্যস্ত করা ছাড়াই।
অতঃপর যখন তাঁদের যুগ শেষ হলো এবং পরবর্তী প্রজন্মের স্বভাব ও কথাবার্তায় পরিবর্তন এলো, আর ভিন্ন জাতির লোকেরা তাঁদের সাথে মিশে গেল এবং সালাফে সালেহীন ও বিশুদ্ধ ভাষাভাষী আরবদের থেকে তাঁদের দূরত্ব বেড়ে গেল; তখন তাঁদের কাছে কুরআনের তাফসীর করা কঠিন হয়ে পড়ল এবং জিহ্বায় ভাষাগত ভুলের প্রচলন ঘটল। তাছাড়া মূলনীতি ও শাখা-প্রশাখায় বিরুদ্ধবাদীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেল। ফলে তাঁরা ছন্দতত্ত্ব ও ব্যাকরণ সংকলন করতে এবং মুরসাল হাদীস থেকে মুসনাদ হাদীস এবং আহাদ হাদীস থেকে মুতাওয়াতির হাদীসকে পৃথক করতে বাধ্য হলেন। তাঁরা তাফসীর ও টীকা রচনা করলেন এবং সূক্ষ্ম ও গভীর বিষয়সমূহ বিশ্লেষণ করলেন। আর কেউ বলেনি যে এগুলো সব প্রকাশিত নব-উদ্ভাবিত বিষয় (বিদআত) কিংবা এগুলো অসম্ভব সব বিষয়ের সংকলন ও লিপিবদ্ধকরণ; বরং এটিই হলো সঠিক শরীয়ত এবং নির্ভুল মত। ঠিক তেমনিভাবে এই জামাত—অর্থাৎ তাওহীদের আলেমগণ—আল্লাহ তাঁদের সংখ্যা বৃদ্ধি করুন এবং তাঁদের শক্তি বাড়িয়ে দিন—বরং এই ইলমসমূহ (শেখা ও সংকলন করা) অধিক অগ্রগণ্য।
(খণ্ড: ১)
ঈজাহুদ দালীল ফী কাতয়ি হুজাজি আহলিত তাতীল
(পৃষ্ঠা: ১২)
تجمعها لحُرْمَة علومها فَإِن مَرَاتِب الْعُلُوم تترتب على حسب معلوماتها والصنائع تكرم على قدر مصنوعاتها فَهِيَ من فَرَائض الْأَعْيَان وَغَيرهَا إِمَّا فَرَائض الكفايات أَو كالمندوب وَالْمُسْتَحب فَإِن من جهل صفة من صِفَات معلومه لم يعرف الْمَعْلُوم على مَا هُوَ بِهِ وَمن لم يعرف الْبَارِي سُبْحَانَهُ على مَا هُوَ بِهِ لم يسْتَحق اسْم الْإِيمَان وَلَا الْخُرُوج يَوْم الْقِيَامَة من النيرَان
وَقَالَ الإِمَام الْجُوَيْنِيّ رَحمَه الله تَعَالَى رَأَيْت إِبْرَاهِيم الْخَلِيل عليه الصلاة والسلام فِي الْمَنَام فَأَهْوَيْت لِأَن أقبل رجلَيْهِ فَمَنَعَنِي من ذَلِك تكريما لي فاستدبرت فَقبلت عَقِبَيْهِ فَأَوَّلْته الرّفْعَة وَالْبركَة تبقى فِي عَقبي ثمَّ قلت يَا خَلِيل الله مَا تَقول فِي (علم الْكَلَام) فَقَالَ يدْفع بِهِ الشّبَه والأباطيل
وَأحب أَن أنبه إِلَى أَمر هام وَهُوَ أَنهم يعنون بِعلم التَّوْحِيد الْوَاجِب على الْمُسلم تَحْصِيله أَنه لَا يجب على الْمُسلم معرفَة مصطلحات علم التَّوْحِيد أَو الْكَلَام من الصَّانِع والهيولي والجوهر وَالْعرض وأمثالها بل الْمَقْصُود أَنه يجب على الْمُكَلف أَن يعرف الصَّانِع المعبود سُبْحَانَهُ بدلائله الَّتِي نصبها على توحيده سُبْحَانَهُ واستحقاقه جل جلاله نعوت الربوبية وَالْمَقْصُود حُصُول النّظر وَالِاسْتِدْلَال الْمُؤَدِّي إِلَى معرفَة الله تَعَالَى وَإِنَّمَا اسْتعْمل المتكلمون تِلْكَ الْأَلْفَاظ من الْجَوْهَر وَالْعرض على سَبِيل التَّقْرِيب والتسهيل على المتعلمين وَالسَّلَف الصَّالح وَإِن لم يستعملوا هَذِه الْأَلْفَاظ فَلم يكن فِي معارفهم خلل وَالْخلف الَّذين استعملوا هَذِه الْأَلْفَاظ لم يكن ذَلِك لطريق الْحق مباينة
… وَلَا فِي الدّين بِدعَة كَمَا أَن الْمُتَأَخِّرين من الْفُقَهَاء عَن زمن الصَّحَابَة وَالتَّابِعِينَ رضوَان الله عَلَيْهِم استعملوا أَلْفَاظ الْفُقَهَاء من الْعلَّة والمعلول وَالْقِيَاس ثمَّ لم يكن استعمالهم لذَلِك بِدعَة وَقل مثل ذَلِك فِي الْمُحدثين الَّذين أوجدوا مصطلحات وعناوين مُعينَة فِي رُوَاة الحَدِيث وفنونها من حَيْثُ الْقُوَّة والضعف وَالْقَبُول والرفض وَلم يكن اسْتِعْمَال ذَلِك مِنْهُم بِدعَة مُنكرَة معَاذ الله وَإِنَّمَا هِيَ اصْطِلَاحَات خَاصَّة قَامَت بِكُل فن وَلَا مشاحة فِي الِاصْطِلَاح
এই জ্ঞানসমূহকে একত্রিত করা হয়েছে এর মর্যাদার কারণে। কেননা জ্ঞানের স্তর নির্ধারিত হয় তা যা সম্পর্কে জ্ঞান প্রদান করে তার ওপর ভিত্তি করে, আর শিল্প বা কর্মসমূহ সম্মানিত হয় তার উৎপাদিত বস্তুর ওপর ভিত্তি করে। সুতরাং এটি (তাওহীদ বা আল্লাহর পরিচয় সংক্রান্ত জ্ঞান) ফরজে আইন, আর অন্যান্য জ্ঞান হয় ফরজে কিফায়া অথবা মানদুব ও মুস্তাহাব পর্যায়ের। কেননা যে ব্যক্তি তার পরিচিত সত্তার কোনো গুণ সম্পর্কে অজ্ঞ থাকে, সে মূলত সেই সত্তাকে যথাযথভাবে চিনতে পারেনি। আর যে ব্যক্তি স্রষ্টাকে (সুবহানাহু) যথাযথভাবে চিনে না, সে ঈমান নামের যোগ্য নয় এবং কিয়ামতের দিন জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তিরও যোগ্য নয়।
ইমাম জুওয়াইনী (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) বলেন, আমি স্বপ্নে ইব্রাহীম খলিল (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-কে দেখেছি। আমি তাঁর পা চুম্বন করতে উদ্যত হলাম, কিন্তু আমাকে সম্মান জানিয়ে তিনি আমাকে তা করতে বাধা দিলেন। তখন আমি তাঁর পিছনের দিকে গিয়ে তাঁর দুই গোড়ালি চুম্বন করলাম। আমি এর ব্যাখ্যা করলাম উচ্চ মর্যাদা এবং বরকত হিসেবে যা আমার বংশধরের মধ্যে অবশিষ্ট থাকবে। এরপর আমি বললাম, হে আল্লাহর খলিল, ‘ইলমুল কালাম’ সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? তিনি বললেন, এর মাধ্যমে সংশয় ও বাতিল বিষয়সমূহকে প্রতিহত করা হয়।
এবং আমি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সতর্ক করতে চাই, আর তা হলো—তারা তাওহীদের যে ইলম অর্জন করা একজন মুসলিমের ওপর ওয়াজিব বলে গণ্য করেন, তার অর্থ এটি নয় যে, একজন মুসলিমের জন্য ‘সানি’ (সৃষ্টিকর্তা), ‘হায়ূলা’, ‘জাওহার’ (সত্তা) এবং ‘আরাজ’ (গুণ) ও এই জাতীয় ইলমুল তাওহীদ বা ইলমুল কালামের পরিভাষাগুলো জানা ওয়াজিব। বরং উদ্দেশ্য হলো, মুকাল্লাফ (শরীয়তের বিধান পালনে দায়বদ্ধ ব্যক্তি) তার ইবাদতযোগ্য স্রষ্টাকে (সুবহানাহু) সেইসব প্রমাণের মাধ্যমে চিনবেন যা তিনি তাঁর একত্ববাদ এবং রুবুবিয়্যাতের গুণাবলির প্রমাণ হিসেবে স্থাপন করেছেন। এখানে মূল উদ্দেশ্য হলো চিন্তা ও গবেষণার মাধ্যমে এমন জ্ঞান অর্জন করা যা আল্লাহ তায়ালার পরিচয়ের দিকে নিয়ে যায়। আর মুতাকাল্লিমগণ ‘জাওহার’ ও ‘আরাজ’ এর মতো শব্দগুলো কেবল শিক্ষার্থীদের বোঝানোর সুবিধার্থে এবং সহজীকরণের জন্য ব্যবহার করেছেন। সালাফে সালেহীন যদিও এই শব্দগুলো ব্যবহার করেননি, তবুও তাদের আল্লাহ সংক্রান্ত জ্ঞানে কোনো ত্রুটি ছিল না। আর পরবর্তী যুগের (খালাফ) যারা এই শব্দগুলো ব্যবহার করেছেন, তা সত্যের পথ থেকে বিচ্যুতি ছিল না
… কিংবা দ্বীনের মধ্যে কোনো বিদআতও ছিল না। যেমন সাহাবী এবং তাবেয়ীন (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর যুগের পরবর্তী ফকীহগণ ‘ইল্লত’, ‘মা’লুল’ এবং ‘কিয়াস’-এর মতো ফিকহী পরিভাষা ব্যবহার করেছেন, অথচ তাদের এই ব্যবহার বিদআত ছিল না। একইভাবে সেই মুহাদ্দিসগণের ক্ষেত্রেও বলা যায়, যারা হাদিসের বর্ণনাকারী এবং এর শাস্ত্রসমূহের সবলতা, দুর্বলতা, গ্রহণযোগ্যতা ও বর্জনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিভাষা ও শিরোনাম উদ্ভাবন করেছেন; তাদের এই ব্যবহার কোনো নিন্দনীয় বিদআত ছিল না, আল্লাহ রক্ষা করুন! বরং এগুলো হলো প্রতিটি শাস্ত্রের সাথে সংশ্লিষ্ট বিশেষ পরিভাষা, আর পরিভাষা ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনো বিতর্ক নেই।
(খণ্ড: ১)
ঈজাহুদ দালীল ফী কাতয়ি হুজাজি আহলিত তাতীল
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وَسُئِلَ الإِمَام عبد الْكَرِيم الْقشيرِي رَحمَه الله تَعَالَى فَقيل لَهُ أَرْبَاب التَّوْحِيد هَل يتفاوتون فِيهِ فَقَالَ إِن فرقت بَين مصل ومصل وَعلمت أَن هَذَا يُصَلِّي وَقَلبه مشحون بالفضلات وَذَاكَ يُصَلِّي وَقَلبه حَاضر فَفرق بَين عَالم وعالم هَذَا لَو طرأت عَلَيْهِ مشكلة لم يُمكنهُ الْخُرُوج مِنْهَا وَهَذَا يُقَاوم كل عَدو لِلْإِسْلَامِ وَيحل كل معضلة تعز فِي مقَام الْخِصَام وَهَذَا هُوَ الْجِهَاد الْأَكْبَر فَإِن الْجِهَاد فِي الظَّاهِر مَعَ أَقوام مُعينين وَهَذَا جِهَاد جَمِيع أَعدَاء الدّين وَهُوَ آيَات بَيِّنَات فِي صُدُور الَّذين أُوتُوا الْعلم وللخراج فِي الْبلدَانِ قانون مَعْرُوف إِذا أشكل خراج بقْعَة رَجَعَ النَّاس إِلَى ذَلِك القانون وقانون الْعلم بِاللَّه قُلُوب العارفين فرواة الْأَخْبَار خزان الشَّرْع والقراء من الْخَواص وَالْفُقَهَاء حفظَة الشَّرْع وعلماء أصُول الدّين هم الَّذين يعْرفُونَ مَا يجب ويستحيل وَيجوز فِي حق الصَّانِع وهم الأقلون الْيَوْم
(رمى الدَّهْر بالفتيان حَتَّى كَأَنَّهُمْ
… بِأَكْنَافِ أَطْرَاف السَّمَاء نُجُوم)
(وَقد كُنَّا نعدهم قَلِيلا
… فقد صَارُوا أقل من الْقَلِيل)
السّلف الصَّالح يَخُوضُونَ فِي علم التَّوْحِيد حِين أخظ يظْهر فِي أَيَّام الصَّحَابَة رضوَان الله عَلَيْهِم شَيْء من التشويش على مسَائِل من علم التَّوْحِيد انبروا لبَيَان الْحق وردع الْبَاطِل وقمعه
أ - قَالَ الإِمَام الْقُرْطُبِيّ رَحمَه الله تَعَالَى فِي تَفْسِيره الْعَظِيم عِنْد قَوْله تَعَالَى وَأما الَّذين فِي قُلُوبهم زيغ فيتبعون مَا تشابه مِنْهُ ابْتِغَاء الْفِتْنَة وابتغاء تَأْوِيله الرَّابِع الحكم فِيهِ الْأَدَب البليغ كَمَا فعله عمر بصبيغ وَقَالَ أَبُو بكر الْأَنْبَارِي وَقد كَانَ الْأَئِمَّة من السّلف يعاقبون من يسْأَل عَن تَفْسِير الْحُرُوف والمشكلات فِي الْقُرْآن لِأَن السَّائِل إِن كَانَ يَبْغِي بسؤاله تخليد الْبِدْعَة وإثارة الْفِتْنَة فَهُوَ حقيق بالنكير وَأعظم التعزيز وَإِن لم يكن ذَلِك قَصده اسْتحق العتب بِمَا اجترم من الذَّنب إِذْ أوجد لِلْمُنَافِقين الْمُلْحِدِينَ فِي
ইমাম আব্দুল কারীম কুশায়রী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, তাওহীদপন্থীগণ কি এতে তারতম্য বা পার্থক্যের অধিকারী হন? তিনি বললেন: যদি তুমি একজন নামাযী ও অপর একজন নামাযীর মধ্যে পার্থক্য করো এবং জানো যে, এই ব্যক্তি নামায পড়ছে অথচ তার অন্তর আবর্জনায় পূর্ণ, আর ঐ ব্যক্তি নামায পড়ছে এবং তার অন্তর উপস্থিত রয়েছে; তবে তুমি একজন আলেম ও অপর আলেমের মধ্যেও পার্থক্য করো। এই আলেম এমন যে, তার ওপর কোনো সমস্যা আপতিত হলে সে তা থেকে বের হতে পারে না, আর ঐ আলেম ইসলামের সকল শত্রুর মোকাবেলা করেন এবং তর্কের ময়দানে দুর্লভ প্রতিটি জটিল সমস্যার সমাধান করেন। আর এটিই হলো বড় জিহাদ (জিহাদে আকবর)। কেননা বাহ্যিক জিহাদ নির্দিষ্ট কিছু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে হয়, কিন্তু এটি হলো দ্বীনের সকল শত্রুর বিরুদ্ধে জিহাদ। আর এটিই হলো সেই সুস্পষ্ট নিদর্শন যা তাদের বক্ষে রয়েছে যাদের জ্ঞান দান করা হয়েছে। প্রতিটি দেশে খাজনা আদায়ের একটি পরিচিত কানুন থাকে; যখন কোনো ভূখণ্ডের খাজনা নিয়ে অস্পষ্টতা দেখা দেয়, তখন মানুষ সেই কানুনের দিকে ফিরে যায়। আর আল্লাহকে চেনার কানুন হলো আরিফদের অন্তর। সুতরাং বর্ণনাকারীরা হলেন শরীয়তের ভাণ্ডারী, আর ক্বারীগণ হলেন বিশিষ্টজনদের অন্তর্ভুক্ত, ফকীহগণ হলেন শরীয়তের রক্ষক এবং উসূলে দ্বীনের আলেমগণ হলেন তারা, যারা স্রষ্টার হকের ক্ষেত্রে যা ওয়াজিব, যা অসম্ভব এবং যা জায়েজ তা জানেন; আর বর্তমানে তারা সংখ্যায় অতি নগণ্য।
(কালচক্র যুবকদের এমনভাবে নিক্ষেপ করেছে যে তারা যেন
… আকাশের দিগন্তের প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা নক্ষত্ররাজি)
(আর আমরা তাদের সংখ্যা অল্প মনে করতাম
… কিন্তু এখন তারা অল্প থেকেও অল্প হয়ে গেছে)
সালাফে সালেহীন তাওহীদ শাস্ত্রের আলোচনায় লিপ্ত হতেন যখন সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর যুগে তাওহীদ শাস্ত্রের মাসয়ালাগুলোতে কোনো প্রকার বিভ্রান্তি দেখা দিত, তখন তারা সত্য প্রকাশ করতে এবং বাতিলকে প্রতিহত ও নির্মূল করতে এগিয়ে আসতেন।
ক - ইমাম কুরতুবী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) তাঁর মহান তাফসীরে আল্লাহ তাআলার এই বাণীর অধীনে বলেন: "পক্ষান্তরে যাদের অন্তরে বক্রতা রয়েছে, তারা ফিতনা সৃষ্টি ও অপব্যাখ্যার উদ্দেশ্যে যা অস্পষ্ট তার অনুসরণ করে।" চতুর্থত: এর বিধান হলো কঠোর শাস্তি প্রদান করা, যেমনটি উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) সাবিগ-এর সাথে করেছিলেন। আবু বকর আল-আনবারী বলেন, সালাফদের মধ্য থেকে ইমামগণ কুরআনের শব্দাবলী এবং অস্পষ্ট বিষয়গুলোর তাফসীর সম্পর্কে প্রশ্নকারীকে শাস্তি প্রদান করতেন। কারণ প্রশ্নকারী যদি তার প্রশ্নের মাধ্যমে বিদআতকে স্থায়ী করতে এবং ফিতনা উস্কে দিতে চায়, তবে সে ধিক্কার ও কঠোরতম শাস্তির উপযুক্ত। আর যদি তার উদ্দেশ্য তা না-ও হয়, তবে সে যে অপরাধ করেছে তার জন্য তিরস্কারের যোগ্য, যেহেতু সে মুনাফিক ও নাস্তিকদের জন্য পথ তৈরি করে দিয়েছে।
(খণ্ড: ১)
ঈজাহুদ দালীল ফী কাতয়ি হুজাজি আহলিত তাতীল
(পৃষ্ঠা: ১৪)
ذَلِك الْوَقْت سَبِيلا إِلَى أَن يقصدوا ضعفة الْمُسلمين بالتشكيك والتضليل فِي تَحْرِيف الْقُرْآن عَن مناهج التَّنْزِيل وحقائق التَّأْوِيل فَمن ذَلِك مَا حَدثنَا إِسْمَاعِيل بن إِسْحَاق القَاضِي أَنبأَنَا سُلَيْمَان بن حَرْب عَن حَمَّاد بن زيد عَن يزِيد بن حَازِم عَن سُلَيْمَان بن يسَار أَن صبيغ بن عسل قدم الْمَدِينَة فَجعل يسْأَل عَن متشابه الْقُرْآن وَعَن أَشْيَاء فَبلغ ذَلِك عمر رضي الله عنه فَبعث إِلَيْهِ عمر فَأحْضرهُ وَقد أعد لَهُ عراجين من عراجين النّخل فَلَمَّا حضر قَالَ لَهُ عمر من أَنْت قَالَ أَنا عبد الله صبيغ فَقَالَ عمر رضي الله عنه وَأَنا عبد الله عمر ثمَّ قَامَ إِلَيْهِ فَضرب رَأسه بعرجون فَشَجَّهُ ثمَّ تَابع ضربه حَتَّى سَالَ دَمه على وَجهه فَقَالَ حَسبك يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ فقد ذهب - وَالله - مَا كنت أجد فِي رَأْسِي
ب - قَالَ يحيى بن يعمر رَحمَه الله تَعَالَى كَانَ أول من قَالَ فِي الْقدر بِالْبَصْرَةِ معبد الْجُهَنِيّ فَانْطَلَقت أَنا وَحميد بن عبد الرَّحْمَن الْحِمْيَرِي حاجين أَو معتمرين فَقُلْنَا لَو لَقينَا أحدا من أَصْحَاب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَسَأَلْنَاهُ عَمَّا يَقُول هَؤُلَاءِ فِي الْقدر فوفق لنا عبد الله بن عمر دَاخِلا الْمَسْجِد فاكتنفته أَنا وصاحبى أَحَدنَا عَن يَمِينه وَالْآخر عَن شِمَاله فَظَنَنْت أَن صَاحِبي سيكل الْكَلَام إِلَيّ فَقلت يَا ابا عبد الرَّحْمَن إِنَّه قد ظهر قبلنَا نَاس يقرءُون الْقُرْآن ويتقفرون الْعلم وَذكر من شَأْنهمْ وَأَنَّهُمْ زَعَمُوا أَن لَا قدر - أَي الله تَعَالَى لم يقدر الْأَشْيَاء أَنَّهَا حِين تكون بإرادته كَيفَ تكون وَأَن الْأَمر أنف - فَقَالَ إِذا لقِيت أُولَئِكَ فَأخْبرهُم أَنِّي بَرِيء مِنْهُم وهم بَرَاءَة مني وَالَّذِي يحلف بِهِ ابْن عمر لَو لأَحَدهم مثل أحد ذَهَبا فأنفقه مَا قبله الله مِنْهُ حَتَّى يُؤمن بِالْقدرِ ثمَّ ذكر حَدِيث الْإِيمَان وَالْإِسْلَام وَالْإِحْسَان وَفِيه (أَن تؤمن بِالْقدرِ) رَوَاهُ مُسلم وَأَصْحَاب السّنَن
ج - وَظهر فِي عهد عَليّ رضي الله عنه الْخَوَارِج الَّذين يكفرون بالذنب، فَمن مَاتَ مذنبا عِنْدهم فَهُوَ إِلَى النَّار مَعَ الْكَافرين المنكرين وأنكروا شَفَاعَته صلى الله عليه وسلم فِي الْمُسلمين المذنبين
قَالَ يزِيد بن صُهَيْب الْفَقِير كَانَ قد شغفني رَأْي من رأى الْخَوَارِج وَكنت رجلا شَابًّا فخرجنا فِي عِصَابَة ذَوي عدد نُرِيد أَن نحج ثمَّ نخرج على النَّاس قَالَ فمررنا
সেই সময় তারা দুর্বল মুসলিমদের সংশয় ও বিভ্রান্তিতে ফেলার এবং আল-কুরআনকে তার অবতীর্ণ হওয়ার পথ ও ব্যাখ্যার হাকিকত থেকে সরিয়ে বিকৃত করার লক্ষ্য হিসেবে বেছে নেওয়ার পথ খুঁজে পায়। এর মধ্যে রয়েছে যা আমাদের কাছে ইসমাঈল বিন ইসহাক আল-কাদি বর্ণনা করেছেন, তিনি সুলাইমান বিন হারব থেকে, তিনি হাম্মাদ বিন যায়েদ থেকে, তিনি ইয়াযিদ বিন হাযিম থেকে, তিনি সুলাইমান বিন ইয়াসার থেকে বর্ণনা করেন যে, সাবিগ বিন আসল মদিনায় এসে কুরআনের মুতাশাবিহ (অস্পষ্ট) বিষয়াদি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে শুরু করল। এই খবর ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর কাছে পৌঁছালে তিনি তাকে ডেকে পাঠালেন এবং তার জন্য খেজুর গাছের শাখা প্রস্তুত করে রাখলেন। যখন সে উপস্থিত হলো, ওমর তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, "তুমি কে?" সে বলল, "আমি আল্লাহর বান্দা সাবিগ।" ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, "আর আমি আল্লাহর বান্দা ওমর।" অতঃপর তিনি তার দিকে এগিয়ে গেলেন এবং খেজুরের ডাল দিয়ে তার মাথায় আঘাত করলেন, ফলে তার মাথা ফেটে গেল। তিনি আঘাত করতে থাকলেন এমনকি তার মুখমণ্ডল দিয়ে রক্ত প্রবাহিত হতে শুরু করল। তখন সে বলল, "হে আমিরুল মুমিনিন, আপনার জন্য এটিই যথেষ্ট, আল্লাহর কসম, আমার মাথায় যা (সংশয়) ছিল তা দূর হয়ে গেছে।"
খ - ইয়াহইয়া বিন ইয়ামার রাহিমাহুল্লাহু তাআলা বলেন, বসরায় সর্বপ্রথম তাকদির সম্পর্কে যে ব্যক্তি বিভ্রান্তি ছড়িয়েছিল সে হলো মাবাদ আল-জুহানি। আমি এবং হুমাইদ বিন আব্দুর রহমান আল-হিময়ারি হজ অথবা উমরার উদ্দেশ্যে বের হলাম। আমরা বললাম, যদি আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো সাহাবীর দেখা পেতাম, তবে তাকদির সম্পর্কে এই লোকেরা যা বলে সে বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করতাম। আল্লাহ তাআলা আমাদের জন্য আব্দুল্লাহ বিন ওমরকে মিলিয়ে দিলেন যখন তিনি মসজিদে প্রবেশ করছিলেন। আমি এবং আমার সাথী তাকে মাঝখানে নিয়ে তার দুই পাশে চললাম, একজন তার ডানে এবং অন্যজন তার বামে। আমি ধারণা করলাম যে আমার সাথী কথা বলার দায়িত্ব আমাকেই সোপর্দ করবে। তাই আমি বললাম, "হে আবু আব্দুর রহমান, আমাদের এলাকায় এমন কিছু মানুষের উদ্ভব হয়েছে যারা কুরআন পাঠ করে এবং জ্ঞান অন্বেষণ করে (এরপর তিনি তাদের অবস্থা বর্ণনা করলেন)। তারা দাবি করে যে, তাকদির বলে কিছু নেই—অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা কোনো বিষয় ঘটার পূর্বে তা নির্ধারণ করেননি এবং বিষয়টি আকস্মিকভাবে ঘটে।" তিনি (ইবনে ওমর) বললেন, "যখন তুমি তাদের সাথে সাক্ষাৎ করবে, তখন তাদের জানিয়ে দিও যে, আমি তাদের থেকে মুক্ত এবং তারাও আমার থেকে মুক্ত। যাঁর নামে ইবনে ওমর শপথ করেন, তাঁর কসম—যদি তাদের কারো কাছে ওহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণ থাকে এবং সে তা ব্যয় করে ফেলে, তবুও আল্লাহ তার পক্ষ থেকে তা কবুল করবেন না যতক্ষণ না সে তাকদিরে বিশ্বাস স্থাপন করবে।" অতঃপর তিনি ঈমান, ইসলাম ও ইহসান সংক্রান্ত হাদিসটি উল্লেখ করলেন, যার মধ্যে রয়েছে (তাকদিরে বিশ্বাস করা)। এটি ইমাম মুসলিম এবং সুনান গ্রন্থকারগণ বর্ণনা করেছেন।
গ - আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর শাসনকালে খারিজিদের উদ্ভব ঘটে যারা কবিরা গুনাহের কারণে মানুষকে কাফের সাব্যস্ত করে। তাদের মতে, যে ব্যক্তি পাপী অবস্থায় মারা যাবে, সে কাফের ও সত্য অস্বীকারকারীদের সাথে চিরকাল জাহান্নামে থাকবে। তারা পাপী মুসলিমদের জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শাফায়াতকেও (সুপারিশ) অস্বীকার করে।
ইয়াযিদ বিন সুহাইব আল-ফাকির বলেন, খারিজিদের মতাদর্শ আমাকে দারুণভাবে আকৃষ্ট করেছিল এবং আমি তখন এক যুবক ছিলাম। আমরা একটি বড় দল নিয়ে হজের উদ্দেশ্যে বের হলাম এবং এরপর মানুষের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার সংকল্প করলাম। তিনি বলেন, পথিমধ্যে আমরা যখন অতিক্রম করছিলাম...
(খণ্ড: ১)
ঈজাহুদ দালীল ফী কাতয়ি হুজাজি আহলিত তাতীল
(পৃষ্ঠা: ১৫)
بِالْمَدِينَةِ - على ساكنها الصَّلَاة وَالسَّلَام - فَإِذا جَابر بن عبد الله يحدث الْقَوْم من حَدِيث رَسُول الله صلى الله عليه وسلم جَالس إِلَى سَارِيَة وَإِذ قد ذكر الجهنميون فَقلت لَهُ يَا صَاحب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم مَا الَّذِي يحدثُونَ وَالله تَعَالَى يَقُول {رَبنَا إِنَّك من تدخل النَّار فقد أخزيته} و {كلما أَرَادوا أَن يخرجُوا مِنْهَا أعيدوا فِيهَا} فَمَا هَذَا الَّذِي يَقُولُونَ قَالَ أَي بني أَتَقْرَأُ الْقُرْآن قلت نعم قَالَ سَمِعت بمقام مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم الْمَحْمُود الَّذِي يَبْعَثهُ الله يَوْم الْقِيَامَة فِيهِ قلت نعم قَالَ فَإِنَّهُ مقَام مُحَمَّد الْمَحْمُود الَّذِي يخرج الله بِهِ من يخرج من النَّار قَالَ ثمَّ نعت وضع الصِّرَاط وَمر النَّاس عَلَيْهِ قَالَ الرَّاوِي فَأَخَاف أَن لَا أكون حفظت ذَاك غير أَنه قد زعم أَن قوما يخرجُون من النَّار بعد أَن يَكُونُوا فِيهَا كَأَنَّهُمْ عيدَان السماسم قَالَ فَيدْخلُونَ نَهرا من أَنهَار الْجنَّة فيغتسلون فِيهِ فَيخْرجُونَ كَأَنَّهُمْ الْقَرَاطِيس الْبيض قَالَ فرجعنا فَقُلْنَا وَيحكم أَتَرَوْنَ هَذَا الشَّيْخ يكذب على رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ فرجعنا فرجعنا فوَاللَّه مَا خرج منا أحد غير رجل وَاحِد وَفِي رِوَايَة أُخْرَى قَالَ جَابر رضي الله عنه الشَّفَاعَة بيّنت فِي كتاب الله تَعَالَى {مَا سلككم فِي سقر قَالُوا لم نك من الْمُصَلِّين وَلم نك نطعم الْمِسْكِين وَكُنَّا نَخُوض مَعَ الخائضين وَكُنَّا نكذب بِيَوْم الدّين حَتَّى أَتَانَا الْيَقِين فَمَا تنفعهم شَفَاعَة الشافعين} يَعْنِي أَن الشَّفَاعَة تدْرك الْمُسلمين دون الْكَافرين
ثمَّ حِين ظهر فِي الْمُسلمين من نفى رُؤْيَة الْمُؤمنِينَ رَبهم فِي الْجنَّة وَمن زعم أَن الْقُرْآن الَّذِي هُوَ كَلَام الله مَخْلُوق وَمن زعم أَن الْإِنْسَان لَا اخْتِيَار لَهُ وَلَا كسب بل هُوَ كالريشة فِي مهب الرّيح كَمَا ظهر من وصف الله تَعَالَى بِصِفَات من الْجِسْم والطول وَالْعرض والعمق وَمن نفى باسم التنزية بعض صِفَات الله تَعَالَى الثَّابِتَة لَهُ فِي الْقُرْآن وَالسّنة وَغير ذَلِك
فَكَانَ كلما ذَر فِي حَيَاة الْمُسلمين قرن الْفِتْنَة والبدعة قَامَ عُلَمَاء الْمُسلمين يثبتون الْحق ويظهرونه ويردون الْبَاطِل ويقمعونه فأتبع بذلك مَادَّة علم التَّوْحِيد وَكَثُرت مسَائِله قَالَ الونشريسي وَأجْمع السّلف وَالْخلف من أثمة الْهدى على حِكَايَة مقالات
মদিনায়—তাঁর অধিবাসীর উপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক—জাবির ইবন আব্দুল্লাহকে দেখা গেল তিনি একটি খুঁটির পাশে বসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিস থেকে লোকদের নিকট বর্ণনা করছেন। এমতাবস্থায় যখন ‘জাহান্নামী’দের (জাহান্নাম থেকে মুক্তিপ্রাপ্তদের) কথা উল্লেখ করা হলো, তখন আমি তাঁকে বললাম, হে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবী! তারা এসব কী বর্ণনা করছে? অথচ আল্লাহ তাআলা বলছেন: “হে আমাদের রব! নিশ্চয় আপনি যাকে আগুনে প্রবেশ করান, তাকে তো আপনি লাঞ্ছিত করলেন” এবং “যখনই তারা সেখান থেকে বের হতে চাইবে, তখনই তাদের সেখানে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।” সুতরাং তারা যা বলছে তা কী? তিনি বললেন: হে বৎস! তুমি কি কুরআন পাঠ করো? আমি বললাম: হ্যাঁ। তিনি বললেন: তুমি কি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সেই ‘মাকামে মাহমুদ’ (প্রশংসিত স্থান) সম্পর্কে শুনেছ যাতে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাঁকে উত্থিত করবেন? আমি বললাম: হ্যাঁ। তিনি বললেন: নিশ্চয়ই সেটিই হলো মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সেই মাকামে মাহমুদ, যার মাধ্যমে আল্লাহ জাহান্নাম থেকে তাদেরকে বের করবেন যাদের তিনি বের করতে চান। তিনি বলেন: এরপর তিনি সিরাত স্থাপন এবং তার ওপর দিয়ে মানুষের পারাপারের বর্ণনা দিলেন। বর্ণনাকারী বলেন: আমার ভয় হচ্ছে যে আমি তা হুবহু মুখস্থ রাখতে পারিনি, তবে তিনি বর্ণনা করেছেন যে, একদল লোক জাহান্নামে থাকার পর সেখান থেকে বের হবে, তারা যেন তিল গাছের শুকনা কাঠির মতো (কালো হয়ে যাবে)। তিনি বললেন: এরপর তারা জান্নাতের নদীগুলোর একটিতে প্রবেশ করবে এবং সেখানে গোসল করবে। ফলে তারা সাদা কাগজের মতো নির্মল হয়ে বের হয়ে আসবে। বর্ণনাকারী বলেন: এরপর আমরা ফিরে আসলাম এবং বললাম: তোমাদের জন্য আক্ষেপ! তোমরা কি মনে করো এই শাইখ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নামে মিথ্যা বলছেন? তিনি বলেন: এরপর আমরা ফিরে আসলাম, অতঃপর আমরা ফিরে আসলাম; আল্লাহর কসম! আমাদের মধ্য থেকে কেবল একজন ব্যক্তি ছাড়া আর কেউ (পূর্বের ভ্রান্ত মতে) অটল রইল না। অন্য এক বর্ণনায় জাবির (রা.) বলেন: শাফায়াত বা সুপারিশের বিষয়টি আল্লাহ তাআলার কিতাবে স্পষ্ট করা হয়েছে: “তোমাদের কিসে সাকার-এ (জাহান্নামে) নিক্ষেপ করেছে? তারা বলবে, আমরা সালাত আদায়কারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না, আমরা অভাবীদের অন্ন দান করতাম না, আমরা অনর্থক আলোচনায় লিপ্তদের সাথে লিপ্ত থাকতাম এবং আমরা প্রতিদান দিবসকে অস্বীকার করতাম, যে পর্যন্ত না আমাদের নিকট নিশ্চিত বিশ্বাস (মৃত্যু) উপস্থিত হলো। সুতরাং সুপারিশকারীদের সুপারিশ তাদের কোনো উপকারে আসবে না।” অর্থাৎ শাফায়াত কেবল মুসলিমদের জন্যই কার্যকর হবে, কাফেরদের জন্য নয়।
অতঃপর যখন মুসলিমদের মাঝে এমন সব মতবাদের উদ্ভব ঘটল যারা জান্নাতে মুমিনদের নিজ রবকে দেখার বিষয়টি অস্বীকার করল, এবং যারা দাবি করল যে কুরআন—যা আল্লাহর কালাম—তা সৃষ্ট (মাখলুক), এবং যারা দাবি করল যে মানুষের কোনো ইচ্ছাশক্তি বা উপার্জন (কাসব) নেই, বরং সে বাতাসের মুখে একটি পালকের মতো; যেমনটি প্রকাশ পেয়েছে আল্লাহ তাআলাকে শরীর, দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও গভীরতার মতো গুণাবলি দ্বারা বিশেষিত করার মাধ্যমে, এবং যারা পবিত্রতা ঘোষণার দোহাই দিয়ে কুরআন ও সুন্নাহতে আল্লাহর জন্য প্রমাণিত কিছু গুণাবলিকে অস্বীকার করল, এছাড়াও অন্যান্য বিষয়।
ফলে যখনই মুসলিমদের জীবনে ফিতনা ও বিদআতের কোনো উপদ্রব দেখা দিয়েছে, মুসলিম উলামাগণ সত্যকে সুপ্রতিষ্ঠিত ও প্রকাশিত করতে এবং বাতিলকে প্রত্যাখ্যান ও দমন করতে সচেষ্ট হয়েছেন। এর ফলেই ইলমুত তাওহীদের বিষয়বস্তু সমৃদ্ধ হয়েছে এবং এর মাসয়ালাসমূহ বৃদ্ধি পেয়েছে। আল-ওয়ানশারিসি বলেন: হিদায়াতের ইমামদের মধ্য থেকে সালাফ ও খালাফগণ বিভিন্ন মতবাদ বর্ণনার ওপর ঐকমত্য পোষণ করেছেন...
(খণ্ড: ১)
ঈজাহুদ দালীল ফী কাতয়ি হুজাজি আহলিত তাতীল
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الْكَفَرَة والملحدين فِي كتبهمْ ومجالسهم وبينوها للنَّاس وينقضوا شبهها وَإِن كَانَ وَقع لِأَحْمَد بن حَنْبَل إِنْكَار لبَعض هَذَا على الْحَارِث المحاسبي فقد صنع احْمَد مثله فِي رده على الْجَهْمِية والقائلين بالمخلوق هَذِه الْوُجُوه السَّابِقَة حِكَايَة عَنْهَا فَأَما ذكرهَا على غير هَذَا من حِكَايَة سبه أَو الإزدراء بمنصبه على وَجه الحكايات والأسمار والطرف وَأَحَادِيث النَّاس ومقالاتهم فِي الغث والسمين ومضاحك المجان ونوادر السخفاء والخوض فِي قيل وَقَالَ وَمَا لَا يَعْنِي فَكل هَذَا مَمْنُوع وَبَعضه أَشد فِي الْعقُوبَة من بعض
فَهَل يعاب على عُلَمَاء الْمُسلمين الْأَوَائِل أَن كتبُوا فِي علم التَّوْحِيد وبينوا وحققوا ومحصوا وحفظوا عقائد الْمُسلمين سليمَة نقية كلا وَهل يعاب على عُلَمَاء الْمُسلمين أَن يكتبوا على كل حَال فِي علم التَّوْحِيد ويحققوا العقائد والأفكار ليحفظوا عقائد الْمُسلمين كلا ثمَّ كلا
أَقُول إِنَّه من الْحق الْوَاجِب الْيَوْم أَيْضا أَن ينبري عُلَمَاء الْمُسلمين ليبينوا الْحق ويمحصوه أَمَام تِلْكَ الأفكار والنحل والمعتقدات المادية والروحية الَّتِي خرج بهَا فِي الْمُسلمين جهال مِنْهُم ومنحرفون ضلال دخلاء عَلَيْهِم أَو كفار مَا رقون يُرِيدُونَ أَن يدخلُوا ذَلِك الْفساد فِي عقائد الْمُسلمين أَو يجعلوها تعيش مَعَ عقائدهم فِي قلب وَاحِد وَذَلِكَ محَال وأنى يجْتَمع النُّور والظلام فِي مَكَان أَو يجْتَمع فِيهِ الْكفْر وَالْإِيمَان
قَالَ الشَّيْخ الْفَقِيه الْمُحدث مُحَمَّد زاهد الكوثري رَحمَه الله تَعَالَى وَفِي كَلَام الْمُتَقَدِّمين من الْمُتَكَلِّمين مَا يجب أَن يسترشد بِهِ القائمون بالدفاع عَن الدّين فِي كل عصر وَمن الْبَين أَن طرق الدفاع عَن عقائد الْإِسْلَام ووسائل الْوِقَايَة من تسرب الْفساد إِلَى الْأَخْلَاق وَالْأَحْكَام مِمَّا يَتَجَدَّد فِي كل عصر تجدّد أساليب الأخصام وَهِي فِي نَفسهَا ثَابِتَة عِنْد حد الشَّرْع لَا تتبدل حقائقها فَيجب على الْمُسلمين فِي جَمِيع أدوار بقائهم أَن يتفرغ مِنْهُم جمَاعَة لتتبع الآراء السائدة فِي طوائف الْبشر والعلوم المنتشرة بَينهم وفحص كل مَا يُمكن أَن يَأْتِي من قبله ضَرَر على الْمُسلمين لَا سِيمَا فِي المعتقد الَّذِي لَا يزَال ينبوع كل خير راسخا رصينا وَيصير منشأ كل فَسَاد إِن اسْتَحَالَ واهنا واهيا فيدرسون هَذِه الآراء
কাফের ও নাস্তিকদের সম্পর্কে তাদের কিতাব ও মজলিসে এবং মানুষের সামনে বর্ণনা করা এবং তাদের সংশয়সমূহ খণ্ডন করা; যদিও আহমদ ইবনে হাম্বল থেকে হারিস আল-মুহাসিবীর ক্ষেত্রে এর কিছু বিষয়ের প্রতি অস্বীকৃতি প্রকাশ পেয়েছে, তবে আহমদ নিজেও জাহমিয়্যাহ এবং (কুরআন) সৃষ্টি হওয়ার প্রবক্তাদের খণ্ডন করতে গিয়ে এর অনুরূপ কাজ করেছেন যা এসব পূর্ববর্তী বিষয়গুলোরই বর্ণনা। তবে এ ছাড়া অন্যভাবে এগুলো উল্লেখ করা—যেমন গালিগালাজ বা তার মর্যাদাকে খাটো করার উদ্দেশ্যে গল্পের ছলে, আড্ডায়, মজার কথা হিসেবে, মানুষের গল্প-গুজব ও আজেবাজে কথা হিসেবে, মূর্খদের হাসি-তামাশা এবং নির্বোধদের কৌতুক হিসেবে এবং অনর্থক বাদানুবাদ ও যা ফলদায়ক নয় তাতে লিপ্ত হওয়া—এসবই নিষিদ্ধ। আর এর কোনো কোনোটি শাস্তির বিচারে অন্যটির চেয়ে গুরুতর।
মুসলিমদের পূর্ববর্তী আলেমদের কি এই দোষ দেওয়া যায় যে, তারা তাওহীদ শাস্ত্রে কিতাব লিখেছেন এবং বর্ণনা করেছেন, সুনিশ্চিত করেছেন, সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ করেছেন এবং মুসলিমদের আকীদাসমূহকে ত্রুটিহীন ও বিশুদ্ধ অবস্থায় সংরক্ষণ করেছেন? কক্ষনোই না। আর মুসলিম আলেমদের কি কোনো অবস্থায় এই দোষ দেওয়া যায় যে, তারা তাওহীদ শাস্ত্রে লিখবেন এবং আকীদা ও চিন্তাধারাকে সুসংহত করবেন যাতে মুসলিমদের আকীদাসমূহ সংরক্ষিত থাকে? কক্ষনোই না, আবারও বলছি কক্ষনোই না।
আমি বলি: বর্তমানেও এটি একটি অনিবার্য কর্তব্য যে, মুসলিম আলেমগণ সেই সব বস্তুগত ও আত্মিক চিন্তাধারা, মতবাদ ও বিশ্বাসের সামনে সত্যকে স্পষ্ট করতে এবং যাচাই করতে এগিয়ে আসবেন, যা মুসলিমদের মধ্যে তাদেরই কিছু মূর্খ, পথভ্রষ্ট বিচ্যুত, অনুপ্রবেশকারী অথবা ধর্মত্যাগী কাফেরদের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তারা মুসলিমদের আকীদার মধ্যে সেই বিপর্যয় ঢুকিয়ে দিতে চায় অথবা সেগুলোকে তাদের বিশ্বাসের সাথে একই অন্তরে সহাবস্থান করাতে চায়; অথচ তা অসম্ভব। এক স্থানে আলো ও অন্ধকার কীভাবে মিলিত হতে পারে, অথবা সেখানে কুফর ও ঈমান কীভাবে একত্রিত হতে পারে?
ফকীহ ও মুহাদ্দিস শাইখ মুহাম্মদ জাহিদ আল-কাওসারী (রহমতুল্লাহি আলাইহি) বলেছেন: পূর্ববর্তী ধর্মতত্ত্ববিদদের বক্তব্যের মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা দ্বারা প্রতিটি যুগে ধর্ম রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিদের পথপ্রদর্শন গ্রহণ করা আবশ্যক। এটি স্পষ্ট যে, ইসলামের আকীদা রক্ষার পথ এবং চরিত্র ও বিধানের মধ্যে বিপর্যয়ের অনুপ্রবেশ থেকে সুরক্ষার মাধ্যমসমূহ প্রতিটি যুগে প্রতিপক্ষের কৌশলের পরিবর্তনের সাথে সাথে নতুন রূপ নেয়। তবে এগুলো স্বয়ং শরীয়তের সীমানায় অটল থাকে, এগুলোর হাকীকত বা মূল সত্য পরিবর্তিত হয় না। সুতরাং মুসলিমদের অস্তিত্বের সকল পর্যায়ে তাদের মধ্য থেকে একটি দলকে মানবজাতির বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে প্রচলিত মতবাদ ও তাদের মাঝে প্রচারিত জ্ঞান-বিজ্ঞান অনুসরণে নিবেদিত হতে হবে এবং এমন প্রতিটি বিষয় পরীক্ষা করতে হবে যার পক্ষ থেকে মুসলিমদের কোনো ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে, বিশেষ করে আকীদার ক্ষেত্রে; যা সুদৃঢ় ও মজবুত থাকলে সর্বদা সকল কল্যাণের উৎস হিসেবে গণ্য হয়, আর তা যদি দুর্বল ও অসার হয়ে যায় তবে সকল বিপর্যয়ের মূলে পরিণত হয়। ফলে তারা এই মতবাদগুলো অধ্যয়ন করবেন।
(খণ্ড: ১)
ঈজাহুদ দালীল ফী কাতয়ি হুজাজি আহলিত তাতীল
(পৃষ্ঠা: ১৭)
والعلوم دراسة أَصْحَابهَا أَو فَوق دراستهم ليجدوا فِيهَا مَا يدْفَعُونَ بِهِ الشكوك الَّتِي يستثيرها أَعدَاء الدّين بوسائط عصرية حَتَّى إِذا فَوق مقتصد سَهْما مِنْهَا نَحْو التعاليم الإسلامية من مُعْتَقد وَأَحْكَام وأخلاق ردوهَا إِلَى نَحره اعْتِمَادًا على حقائق تِلْكَ الْعُلُوم وتجاربها واستنادا على إبداء نظريات تقضي على نظريات المشككين - وَجل الدّين الإسلامي أَن يصطدم مَعَ حقائق الْعُلُوم - وَأَقَامُوا دون تسرب تلبيساتهم سورا حصينا واقيا وعبأوا حزب الله على أنظمة يتطلبها الزَّمن فِي غير هوادة وَلَا توان ودونوا مَا استخلصوه من تِلْكَ الْعُلُوم من طرائق الدفاع فِي كتب خَاصَّة بأسلوب يعلق بالخاطر وتستسيغه الْعَامَّة لتَكون سدا محكما مدى الدَّهْر دون مفاجأة جوارف الشكوك وَإِن لم يَفْعَلُوا ذَلِك يسهل على الْأَعْدَاء أَن يَجدوا سَبِيلا إِلَى مَوَانِع خصبة بَين الْمُسلمين تنْبت فِيهَا بذور تلبيساتهم بِحَيْثُ يصعب اجتثاث عروقها الفوضوية بل تسري سموم الْإِلْحَاد فِي قُلُوب خَالِيَة تتمكن فِيهَا فَيهْلك الْحَرْث والنسل وقانا الله تَعَالَى شَرّ ذَلِك وأيقظنا من رقدتنا
أَقُول وَلَا حول وَلَا قُوَّة إِلَّا بِاللَّه فَلَقَد غزت قُلُوب كثير من الْمُسلمين عقائد وأفكار وَنحل ومبادىء وَأَحْكَام وآراء واستولت على بعض تِلْكَ الْقُلُوب الَّتِي زين لَهَا الشَّيْطَان أَن لَا تعَارض بَين تِلْكَ الآراء والعقائد وَبَين الْإِسْلَام وَأَن لَا حرج على الْمُسلم أَن يكون مُسلما وشيوعيا فِي آن
… حَتَّى خرج الْإِسْلَام من تِلْكَ الْقُلُوب وَتمكن فِيهَا الْإِلْحَاد والزندقة معَاذ الله وَإِن على كثير من الْمُسلمين القادرين علما وقلما نَصِيبا من الْمُؤَاخَذَة على مَا آل إِلَيْهِ قُلُوب كثير من الْمُسلمين إِن لم يَقُولُوا وَلم يدرسوا وَلم يكتبوا وينشروا
وَمن الْحق أَن يقْرَأ عُلَمَاؤُنَا خَاصَّة ويقرئوا فِي دروسهم ويقولوا ذَلِك فِي خطبهم مِمَّا هُوَ حق وصريح فِي رد الْإِلْحَاد وقمعه وَفِي هَذَا الْعَصْر الْكتب التالية موقف الْعقل وَالْعلم لشيخ الْإِسْلَام مصطفى صبري رَحمَه الله تَعَالَى فِي أَربع مجلدات وقصة الْإِيمَان للشَّيْخ نديم الجسر رَحمَه الله تَعَالَى فِي مُجَلد وصراع مَعَ الْمَلَاحِدَة حَتَّى الْعظم والعقيدة
এবং এই বিজ্ঞানসমূহ এমনভাবে চর্চা করা আবশ্যক যা তাদের বিশেষজ্ঞদের চর্চাকেও ছাড়িয়ে যায়, যাতে তারা এর মধ্যে এমন উপাদান খুঁজে পায় যা দিয়ে ধর্মের শত্রুদের আধুনিক পন্থায় উত্থাপিত সংশয়সমূহ নিরসন করা যায়। এমনকি যদি কোনো আক্রমণকারী ইসলামি আকিদা, বিধান ও আখলাকের দিকে কোনো তীরের নিশানা করে, তবে তারা যেন ওই বিজ্ঞানের বাস্তব সত্য ও অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে এবং সংশয়বাদীদের তত্ত্বসমূহকে ধুলিসাৎকারী পাল্টা যুক্তি উপস্থাপনের মাধ্যমে তা আক্রমণকারীর কণ্ঠনালিতেই ফেরত পাঠিয়ে দেয়। আর ইসলামি দ্বীন বিজ্ঞানের বাস্তব সত্যের সাথে সাংঘর্ষিক হওয়া থেকে বহু ঊর্ধ্বে। তারা তাদের বিভ্রান্তি প্রবেশের পথে এক অভেদ্য সুরক্ষাপ্রাচীর নির্মাণ করেছে এবং আল্লাহর দলকে সময়ের চাহিদানুযায়ী কোনো প্রকার শিথিলতা বা বিলম্ব ছাড়াই সজ্জিত করেছে। তারা এই বিজ্ঞানসমূহ থেকে সংগৃহীত আত্মরক্ষার পদ্ধতিগুলো বিশেষ কিতাবসমূহে সংকলন করেছে এমন এক শৈলীতে যা অন্তরে গেঁথে যায় এবং সাধারণ মানুষও তা সহজে গ্রহণ করতে পারে, যাতে এটি মহাকালের প্রবাহে সংশয়ের প্লাবন থেকে সুরক্ষায় একটি মজবুত বাঁধ হয়ে দাঁড়ায়। যদি তারা এটি না করে, তবে শত্রুদের জন্য মুসলমানদের মাঝে এমন উর্বর ক্ষেত্র খুঁজে পাওয়া সহজ হবে যেখানে তাদের বিভ্রান্তির বীজ বপন করা যাবে, যার ফলে ওই বিশৃঙ্খলার শেকড় উপড়ানো কঠিন হয়ে পড়বে। বরং নাস্তিকতার বিষ এমন শূন্য হৃদয়ে প্রবেশ করবে যে সেখানে তা জেঁকে বসবে, ফলে ফসল ও বংশধারা ধ্বংস হয়ে যাবে। আল্লাহ তাআলা আমাদের এর অনিষ্ট থেকে রক্ষা করুন এবং আমাদের গাফলতের ঘুম থেকে জাগ্রত করুন।
আমি বলছি—আর আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো শক্তি বা ক্ষমতা নেই—নিশ্চয়ই অনেক মুসলমানের অন্তরে এমন সব আকিদা, চিন্তা, মতবাদ, আদর্শ, হুকুম ও রায় হানা দিয়েছে এবং এমন কিছু অন্তরের ওপর আধিপত্য বিস্তার করেছে যাদের কাছে শয়তান এটি সুশোভিত করেছে যে, ওইসব মতবাদ ও আকিদার সাথে ইসলামের কোনো বিরোধ নেই এবং একজন মুসলমানের একই সাথে মুসলিম ও কমিউনিস্ট হতে কোনো বাধা নেই
... এমনকি ইসলাম ওইসব অন্তর থেকে বের হয়ে গেছে এবং সেখানে নাস্তিকতা ও ধর্মহীনতা জেঁকে বসেছে, আল্লাহ রক্ষা করুন! আর অনেক যোগ্য আলেম ও লেখকের ওপর অনেক মুসলমানের অন্তরের এই পরিণতির দায়ভার বর্তায়, যদি তারা হক কথা না বলেন, গবেষণা না করেন এবং কিতাব লিখে প্রকাশ না করেন।
আর এটিই যথার্থ যে, বিশেষ করে আমাদের আলেমগণ নিজেরা পাঠ করবেন এবং তাদের পাঠদানে তা পড়াবেন এবং তাদের খুতবাগুলোতে নাস্তিকতা খণ্ডন ও দমনে যা সত্য ও স্পষ্ট তা ব্যক্ত করবেন। বর্তমান যুগে এই বিষয়ে নিম্নোক্ত কিতাবসমূহ উল্লেখযোগ্য: শায়খুল ইসলাম মোস্তফা সবরী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর চার খণ্ডের 'মাওকিফুল আকল ওয়াল ইলম' (বিবেক ও বিজ্ঞানের অবস্থান), শায়খ নাদীম আল-জিসর (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর এক খণ্ডের 'কিসসাতুল ঈমান' (ঈমানের গল্প) এবং 'সিরাউন মাআল মালাহিদা হাত্তাল আজম' (নাস্তিকদের সাথে হাড়কাঁপানো লড়াই) ও আল-আকিদা।
(খণ্ড: ১)
ঈজাহুদ দালীল ফী কাতয়ি হুজাজি আহলিত তাতীল
(পৃষ্ঠা: ১৮)
الإسلامية كِلَاهُمَا للشَّيْخ البحاثة عبد الرَّحْمَن حبنكة الْمدرس بجامعة أم الْقرى بِمَكَّة المكرمة وكبرى اليقينياتونقض الماديه الجدليه كِلَاهُمَا للشَّيْخ الدكتور مُحَمَّد سعيد رَمَضَان البوطي الْأُسْتَاذ بجامعة دمشق وأمثالها من الْكتب النافعة فَإِن فِيهَا خيرا كثيرا ونورا مُبينًا إِن شَاءَ الله تَعَالَى
نموذج علمي فِي بَيَان بطلَان أكذوبة مَا تزَال تعيش فِي أفكار المثقفين من الْمُسلمين على أَنَّهَا حَقِيقَة علمية معَاذ الله قَالَ الْأُسْتَاذ فيصل تليلاني من كَلَام إِن الإكتشاف العلمي الَّذِي هدم نظرية دارون من أساسها هُوَ اكتشاف وحدات الوراثة الَّتِي أَثْبَتَت اسْتِحَالَة تطور الْكَائِن الْحَيّ وتحوله من نوع إِلَى آخر هُنَاكَ عوامل وراثية فِي خلية كل نوع تحتفظ لَهُ بخصائص نَوعه وتحتم أَن يظل فِي دَائِرَة النَّوْع الَّذِي نَشأ مِنْهُ وَلَا يخرج قطّ عَن نَوعه وَلَا يتطور إِلَى نوع جَدِيد فالقط أَصله قطّ وسيظل قطا على توالي الْقُرُون وَالْكَلب كلب والثور ثَوْر والحصان والقرد وَالْإِنْسَان وكل مَا يُمكن أَن يَقع حسب نظرية الوراثة هُوَ الإرتقاء فِي حُدُود النَّوْع نَفسه دون الإنتقال إِلَى نوع آخر هَذَا الاكتشاف العلمي الَّذِي أعدم نظرية دارون وأقبرها وَقضى عَلَيْهَا، وَهُوَ مَا أَشَارَ إِلَيْهِ الفيلسوف برتراندراسل حِين قَالَ فِي كِتَابه (النظرية العلمية) لقد أَخطَأ دارون فِي قوانين الوراثة حَتَّى غيرتها قوانين منْدَل تغييرا كليا وَقَالَ والاس إِن من المستحيل أَن يكون الْإِنْسَان قد تمّ تكوينه على طَريقَة التطور والإرتقاء حَيْثُ إِن الإرتقاء بالانتخاب الطبيعي لَا يصدق على الْإِنْسَان وَقَالَ الدكتور الفسيولوجي إيلي دوستون الداروينية لَا تقوم إِلَّا على حكايات مخترعة لَا تعلو قيمتهَا العلمية على قيمَة حكايات المرضعات
لقد رفع مدير مَرْكَز الأبحاث العلمية فِي سان ديجو دَعْوَى قضائية على إدارة مدرسة إبتدائية بِاعْتِبَارِهِ أَبَا لأحد تلاميذها وحجته فِي دَعْوَاهُ أَن الْمدرسَة تقوم بتدريس نظرية دارون فِي النشوء والإرتقاء فِي علم الْأَحْيَاء دون الْمُقَارنَة أَو الْإِشَارَة إِلَى أصل الْخلق الإلهي للكائنات الَّذِي جَاءَ فِي التَّوْرَاة وَالْإِنْجِيل
… فَمَاذَا يجب أَن يَقُول وَيفْعل الْآبَاء الْمُسلمُونَ وَعِنْدهم الْكتاب الْحق وَالَّذِي فِيهِ {لقد خلقنَا الْإِنْسَان فِي أحسن تَقْوِيم} وهم يرَوْنَ أَوْلَادهم يدرسون تِلْكَ النظرية وَلَو كَانُوا فِي الْحَرَمَيْنِ
উভয়টিই মক্কার পবিত্র উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক শেখ আব্দুর রহমান হাবাননাকার এবং 'কুবরা আল-ইয়াকিনিয়্যাত' ও 'নাকদুল মাদ্দিয়্যাহ আল-জাদালিয়্যাহ' উভয়টিই দামেস্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডক্টর মুহাম্মদ সাঈদ রমজান আল-বুতীর এবং এ জাতীয় অন্যান্য উপকারী গ্রন্থসমূহ; কেননা এতে ইনশাআল্লাহ তায়ালা অনেক কল্যাণ এবং সুস্পষ্ট আলো রয়েছে।
এমন একটি মিথ্যার অসারতা বর্ণনায় একটি বৈজ্ঞানিক নমুনা, যা মুসলিম শিক্ষিত মহলের চিন্তাধারায় এখনও একটি বৈজ্ঞানিক সত্য হিসেবে টিকে আছে—আল্লাহর কাছে পানাহ চাই। অধ্যাপক ফয়সাল তালিলানী তাঁর বক্তব্যে বলেছেন, যে বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার ডারউইন তত্ত্বকে এর মূল ভিত্তি থেকে ধ্বংস করে দিয়েছে, তা হলো বংশগতিবিদ্যার একক (জিন) আবিষ্কার; যা প্রমাণ করেছে যে জীবন্ত প্রাণীর বিবর্তন এবং এক প্রজাতি থেকে অন্য প্রজাতিতে রূপান্তর অসম্ভব। প্রতিটি প্রজাতির কোষে এমন কিছু বংশগত উপাদান থাকে যা তার প্রজাতির বৈশিষ্ট্যসমূহকে সংরক্ষণ করে এবং তাকে সেই প্রজাতির গণ্ডির মধ্যেই থাকতে বাধ্য করে যেখান থেকে তার উদ্ভব হয়েছে; সে কখনোই নিজ প্রজাতির বাইরে যায় না এবং নতুন কোনো প্রজাতিতে বিবর্তিত হয় না। সুতরাং বিড়াল মূলত বিড়ালই এবং যুগ যুগ ধরে তা বিড়ালই থাকবে; কুকুর কুকুরই, ষাঁড় ষাঁড়ই, ঘোড়া, বানর এবং মানুষও তাই। বংশগতিবিদ্যার তত্ত্ব অনুযায়ী যা ঘটা সম্ভব তা হলো কেবল নিজ প্রজাতির সীমানার ভেতরেই উন্নতি বা বিকাশ ঘটা, অন্য প্রজাতিতে স্থানান্তরিত হওয়া নয়। এটিই সেই বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার যা ডারউইন তত্ত্বকে বিলুপ্ত ও সমাহিত করেছে এবং একে নির্মূল করে দিয়েছে। এটিই সেই বিষয় যার দিকে দার্শনিক বারট্রান্ড রাসেল ইঙ্গিত করেছেন যখন তিনি তাঁর 'সায়েন্টিফিক থিওরি' (বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব) গ্রন্থে বলেছেন যে, ডারউইন বংশগতির নিয়মে ভুল করেছিলেন, এমনকি মেন্ডেলের নিয়মাবলী তা পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। ওয়ালেস বলেছেন যে, মানুষের বিবর্তন ও ক্রমবিকাশের পদ্ধতিতে গঠিত হওয়া অসম্ভব, যেহেতু প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে ক্রমবিকাশ মানুষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। ফিজিওলজির ডক্টর ইলি ডস্টন বলেছেন: ডারউইনবাদ কেবল কিছু উদ্ভাবিত গল্পের ওপর দাঁড়িয়ে আছে, যার বৈজ্ঞানিক মূল্য ধাত্রীমাদের রূপকথার গল্পের চেয়ে বেশি নয়।
সান ডিয়েগোর একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক একজন শিক্ষার্থীর পিতা হিসেবে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। তাঁর মামলার যুক্তি ছিল যে, বিদ্যালয়টি জীববিজ্ঞানে ডারউইনের বিবর্তন ও ক্রমবিকাশ তত্ত্ব শিক্ষা দিচ্ছে, কিন্তু তাওরাত ও ইঞ্জিলে বর্ণিত প্রাণীকুলের ঐশ্বরিক সৃষ্টির মূল তত্ত্বের সাথে কোনো তুলনা বা ইঙ্গিত প্রদান করছে না
… এমতাবস্থায় মুসলিম পিতাদের কী বলা ও করা উচিত যখন তাদের কাছে সত্য কিতাব (আল-কুরআন) রয়েছে যাতে বর্ণিত হয়েছে: {অবশ্যই আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি সর্বোত্তম অবয়বে}, অথচ তারা দেখছে তাদের সন্তানরা সেই (বিবর্তন) তত্ত্বটি পড়ছে, এমনকি তারা পবিত্র দুই হারাম (মক্কা ও মদিনা) এলাকায় থাকলেও।
(খণ্ড: ১)
ঈজাহুদ দালীল ফী কাতয়ি হুজাজি আহলিত তাতীল
(পৃষ্ঠা: ১৯)
فصل
الْكَلَام فِي ذَات الله تَعَالَى وَصِفَاته اتّفق أهل الْعقل والفطرة السليمة من الْجِنّ وَالْإِنْس على وجود الله تَعَالَى بل وجوب وجوده سُبْحَانَهُ وكما دلّ على هَذِه الْحَقِيقَة الْكُبْرَى الْفطْرَة السليمة المودعة فِي النُّفُوس والعقول الْخَالِصَة من الْهوى والمودعة فِي الرؤوس فقد دلّ كَذَلِك البراهيم والحجج الْقَائِمَة فِي الْإِنْسَان من جسم وَنَفس وروح وعقل وعاطفة وَفِي الْحَيَوَان والنبات وَفِي الأَرْض والرمل وَالتُّرَاب وَالْحجر والسهل والجبل وَفِي السَّمَاء من ريَاح وأمطار وليل ونهار فِي جَمِيعهَا آيَات تدل على الْخَالِق الْوَاحِد الْأَحَد سُبْحَانَهُ
جَمِيع الْمَخْلُوقَات مهيأة بالفطرة لوظيفة فِي حَيَاتهَا يحفظها ويقيها المهالك مَا استقامت على الْفطْرَة إِلَى مَا شَاءَ الله تَعَالَى قَالَ الله تَعَالَى وَمَا من دَابَّة فِي الأَرْض وَلَا طَائِر يطير بجناحيه إِلَّا أُمَم أمثالكم مَا فرطنا فِي الْكتاب من شَيْء
فَكل الْأَحْيَاء من حشرات وزواحف وفقاريات وَمن طَائِر يطير بجناحيه فِي الْهَوَاء وَمن حَيَوَان مائي وبرمائي وبري وجبلي مَا من مَخْلُوق من هَذِه الْمَخْلُوقَات إِلَّا وَهِي تنتظم فِي أمة ذَات خَصَائِص وَاحِدَة وَطَرِيقَة فِي الْحَيَاة وَاحِدَة خلقت مفطورة على اتجاه معِين فِي الْحَيَاة ونظمت خلايا تكوينها على شكل لَا يُمكن أَن يخرج بِسَبَبِهَا حَيَوَان من فطرته ونظامه وَلَا نَبَات عَن جنسه وَمَا أودع الله تَعَالَى فِيهِ فَلَنْ يَنْقَلِب كَمَا لم يحصل قطّ القط إِلَى كلب وَلَا السّمك إِلَى حَيَوَان بري وَلَا الثوم بصلا وَلَا الْبَصَر كراثا
وَمن يقْرَأ فِي الْإِنْسَان الْإِنْسَان ذَلِك الْمَجْهُول والطب محراب للْإيمَان وَفِي أعماق الْإِنْسَان يجد مَا يُقَوي يقينه فِي الْخَالِق البارىء سُبْحَانَهُ وَمن يقْرَأ مَعَ الله فِي السَّمَاء وَمَعَ الله فِي الأَرْض والجائزة أَو لماذا أومن وَحِكْمَة الْمَخْلُوقَات للْإِمَام الْغَزالِيّ وَالْعلم يزحف تأليف جيمس ستوكلي وآيات الْخَالِق الكونية والنفسية للأستاذ رشيد رشدي العابري وأمثالها يَزُول عَن عقله كل لوثة شُبْهَة فِي وجود الْخَالِق البارىء المصور سُبْحَانَهُ {الَّذِي خلق فسوى} وَلَكِن من سبقت لَهُ الشقاوة فركن إِلَى الْهوى وَلم
পরিচ্ছেদ
আল্লাহ তাআলার সত্তা ও তাঁর গুণাবলি প্রসঙ্গে আলোচনা জিন ও মানুষের মধ্য থেকে বিবেকবান এবং সুস্থ স্বভাবের অধিকারী ব্যক্তিবর্গ আল্লাহ তাআলার অস্তিত্বের ব্যাপারে, বরং তাঁর অস্তিত্ব যে অনিবার্য সে বিষয়ে একমত হয়েছেন। মানুষের অন্তরে গচ্ছিত সুস্থ স্বভাব এবং প্রবৃত্তি থেকে মুক্ত মস্তিষ্কের বিশুদ্ধ চিন্তা যেমন এই মহান সত্যের প্রতি নির্দেশ করে, তেমনি মানুষের শরীর, নফস, রুহ, বিবেক ও আবেগের মধ্যে বিদ্যমান প্রমাণাদি এবং দলিলসমূহও এর সাক্ষ্য দেয়। এছাড়াও পশুপাখি, উদ্ভিদ, জমিন, বালু, মাটি, পাথর, সমতল ভূমি ও পাহাড়-পর্বতের মাঝে এবং আসমানের বায়ু, বৃষ্টি, রাত ও দিনের মাঝে যে সকল নিদর্শনাদি রয়েছে, তার প্রতিটিই সেই একক ও অদ্বিতীয় মহান স্রষ্টার অস্তিত্বের প্রমাণ বহন করে।
সকল সৃষ্টিই তাদের জীবনের নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালনের জন্য স্বভাবজাতভাবে প্রস্তুত, যা তাদের জীবন রক্ষা করে এবং ধ্বংস থেকে বাঁচিয়ে রাখে, যতক্ষণ তারা আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী সেই স্বভাবের ওপর অটল থাকে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: “ভূপৃষ্ঠে বিচরণশীল এমন কোনো প্রাণী নেই এবং এমন কোনো পাখি নেই যা তার দুই ডানা দিয়ে উড়ে বেড়ায়, যারা তোমাদের মতো একেকটি উম্মত বা জাতি নয়। আমি কিতাবে কোনো কিছুই বাদ দিইনি।”
সুতরাং কীটপতঙ্গ, সরীসৃপ, মেরুদণ্ডী প্রাণী, আকাশে ডানা মেলে উড়া পাখি এবং জলচর, উভচর ও স্থলচর প্রাণীদের প্রতিটিই এমন এক একটি উম্মত বা জাতির অন্তর্ভুক্ত, যাদের বৈশিষ্ট্য ও জীবন পদ্ধতি অভিন্ন। এদেরকে জীবনের একটি নির্দিষ্ট গতিপথের ওপর সৃষ্টি করা হয়েছে এবং এদের গঠনের কোষসমূহকে এমনভাবে বিন্যস্ত করা হয়েছে যে, কোনো প্রাণীই তার সহজাত প্রবৃত্তি ও নিয়ম থেকে বিচ্যুত হতে পারে না এবং কোনো উদ্ভিদও তার স্বজাতীয় বৈশিষ্ট্য ও আল্লাহ প্রদত্ত গুণাবলি থেকে বের হতে পারে না। ফলে বিড়াল কখনোই কুকুরে পরিণত হয় না, মাছ কখনোই স্থলচর প্রাণীতে রূপান্তরিত হয় না, রসুন পেঁয়াজে এবং পেঁয়াজ কুঁড়িতে পরিণত হয় না।
আর যে ব্যক্তি ‘মানুষ’ সম্পর্কে পাঠ করে—সেই মানুষ যা এক অজানা রহস্য, এবং ‘চিকিৎসাবিজ্ঞান হলো ঈমানের মিহরাব’—সে মানুষের অন্তরের গভীরতম প্রদেশে এমন কিছু খুঁজে পাবে যা মহান স্রষ্টা ও উদ্ভাবকের প্রতি তার বিশ্বাসকে সুদৃঢ় করবে। আর যে ব্যক্তি পাঠ করবে ‘আল্লাহর সাথে আসমানে’ এবং ‘আল্লাহর সাথে জমিনে’, ‘পুরস্কার’ অথবা ‘কেন আমি বিশ্বাস করি’, ইমাম গাজালীর ‘সৃষ্টির হিকমত’, জেমস স্টোকলির ‘বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রা’, উস্তাদ রশিদ রুশদি আল-আবিরির ‘স্রষ্টার মহাজাগতিক ও মনস্তাত্ত্বিক নিদর্শনসমূহ’ এবং এই জাতীয় গ্রন্থসমূহ, তবে স্রষ্টা, উদ্ভাবক ও রূপদানকারী মহান আল্লাহর অস্তিত্বের ব্যাপারে তার মন থেকে সকল প্রকার সংশয় ও সন্দেহের কালিমা দূর হয়ে যাবে। “যিনি সৃষ্টি করেছেন এবং সুবিন্যস্ত করেছেন।” কিন্তু যার কপালে দুর্ভাগ্য লেখা রয়েছে, সে প্রবৃত্তির নিকট আত্মসমর্পণ করে এবং...
(খণ্ড: ১)
ঈজাহুদ দালীল ফী কাতয়ি হুজাজি আহলিত তাতীল
(পৃষ্ঠা: ২০)
يسمع نِدَاء الله تَعَالَى وَلم يعقل آيَات الله تَعَالَى المودعة فِي كل شَيْء لَا يجدي مَعَه دَلِيل وَلَا يثنيه عَن باطله أَيَّة آيَة {وَقَالُوا لَو كُنَّا نسْمع أَو نعقل مَا كُنَّا فِي أَصْحَاب السعير فَاعْتَرفُوا بذنبهم فسحقا لأَصْحَاب السعير} الْملك
من لَا يُؤمن بِاللَّه تَعَالَى اخْتِيَارا فيفوز بسعادة الدُّنْيَا وَالْآخِرَة يُؤمن بِهِ عملا وضرورة فجسمه وحواسه وقوته وَضَعفه وسقمه وشيخوخته وَمَوته كل ذَلِك يخضع لنظام وَضعه الله تَعَالَى لَهُ وَلَا يُمكن لذَلِك الْإِنْسَان الكنود أَن يخرج على ذَلِك النظام بِحَال
وَلَا عجب أَن يَقُول الله تَعَالَى بعد ذَلِك فِي الْإِنْسَان الْكَافِر {إِن شَرّ الدَّوَابّ عِنْد الله الصم الْبكم الَّذين لَا يعْقلُونَ وَلَو علم الله فيهم خيرا لأسمعهم وَلَو أسمعهم لتولوا وهم معرضون} لَكِن الله تَعَالَى غيب لَا تُدْرِكهُ الْأَبْصَار وَلَا تحيط بِهِ الْعُقُول وَلَوْلَا أَنه سُبْحَانَهُ عرف عباده على نَفسه مَا عرفوه كَمَا هُوَ لقد عرف الله تَعَالَى عباده على نَفسه من خلال أَسْمَائِهِ وَصِفَاته وَلَوْلَا تَعْرِيفه نَفسه بذلك إِلَى خلقه مَا عرفوه سُبْحَانَهُ كَمَا هُوَ لذا كَانَ من الْخَطَأ والخطر والمجازفة وَالْخُرُوج على الْحُدُود أَن يَقُول الْإِنْسَان فِي حق الله تَعَالَى سوى مَا قَالَ عَن نَفسه فَلَا يُسَمِّيه سُبْحَانَهُ بسوى مَا سمى بِهِ نَفسه أَو سَمَّاهُ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم من الْأَسْمَاء وَلَا يُسَمِّيه طبيعة وَلَا رَحْمَة وَلَا سَمَاء وَلَا غيبا وَلَا وَالِد وَلَا ولد لَا مهندسا للكون وَلَا عَارِفًا وَلَا يصفه كَذَلِك بسوى مَا وصف بِهِ نَفسه أَو وصف بِهِ رَسُوله صلى الله عليه وسلم من الصِّفَات وَلَا يصفه بالجرأة والتعلم وَالْحَاجة والتعب والراحة والندم والبكاء وَلَا بالتبدل من حَال إِلَى حَال والانتقال من مَكَان إِلَى مَكَان لَيْسَ كمثله شَيْء وَهُوَ السَّمِيع الْبَصِير الشورى 11
وَإِذا كَانَ الله تَعَالَى كَمَا قَالَ لَيْسَ كمثله شَيْء وَهُوَ السَّمِيع الْبَصِير فَحق على الْمُؤمن أَن يقف عِنْد حُدُود مَا ذكر لَهُ فِي ذَلِك فِي الْقُرْآن وَالسّنة الصَّحِيحَة ويؤمن بِاللَّه تَعَالَى وأسمائه وَصِفَاته دون محاولة تَشْبِيه الله تَعَالَى بخلقه أَو تَشْبِيه اُحْدُ من خلقه بِهِ سُبْحَانَهُ {قل هُوَ الله أحد الله الصَّمد لم يلد وَلم يُولد وَلم يكن لَهُ كفوا أحد} سُورَة الْإِخْلَاص
ثمَّ يحِيل مَا يَتْلُو من نُصُوص متشابهات فِي صِفَات الله تَعَالَى إِلَى النُّصُوص الواضحات
তিনি মহান আল্লাহর আহ্বান শোনেন কিন্তু সবকিছুর মধ্যে নিহিত মহান আল্লাহর নিদর্শনসমূহ অনুধাবন করেন না। কোনো প্রমাণই তাঁর উপকারে আসে না এবং কোনো নিদর্শনই তাঁকে তাঁর বাতিল পথ থেকে ফিরিয়ে আনে না। {আর তারা বলবে, "যদি আমরা শুনতাম অথবা বুঝতাম, তবে আমরা প্রজ্বলিত আগুনের অধিবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হতাম না।" অতঃপর তারা তাদের অপরাধ স্বীকার করবে, সুতরাং ধ্বংস প্রজ্বলিত আগুনের অধিবাসীদের জন্য।} আল-মুলক।
যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় মহান আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে না—যাতে সে দুনিয়া ও আখেরাতের সৌভাগ্য অর্জন করতে পারে—সে কার্যত এবং আবশ্যিকভাবেই তাঁর ওপর ঈমান রাখে। কেননা তার শরীর, তার ইন্দ্রিয়সমূহ, তার শক্তি, তার দুর্বলতা, তার অসুস্থতা, তার বার্ধক্য এবং তার মৃত্যু—এসবই মহান আল্লাহ তার জন্য নির্ধারিত এক ব্যবস্থার অধীন। এই অকৃতজ্ঞ মানুষের পক্ষে কোনো অবস্থাতেই সেই ব্যবস্থার বাইরে যাওয়া সম্ভব নয়।
এতে কোনো বিস্ময় নেই যে, মহান আল্লাহ এরপর কাফির মানুষ সম্পর্কে বলেছেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট নিকৃষ্টতম প্রাণী হলো সেই বধির ও বোবারা যারা বোঝে না। আর আল্লাহ যদি তাদের মধ্যে কোনো কল্যাণ জানতেন, তবে তিনি অবশ্যই তাদের শোনাতেন। আর যদি তিনি তাদের শোনাতেনও, তবুও তারা বিমুখ হয়ে মুখ ফিরিয়ে নিত।} কিন্তু মহান আল্লাহ হলেন অদৃশ্যের সত্তা, যাকে দৃষ্টিসমূহ প্রত্যক্ষ করতে পারে না এবং বুদ্ধি ও জ্ঞান দ্বারা তাঁকে পরিবেষ্টন করা যায় না। তিনি যদি স্বয়ং তাঁর বান্দাদের নিকট নিজের পরিচয় না দিতেন, তবে তারা তাঁকে তাঁর প্রকৃত সত্তায় চিনতে পারত না। মহান আল্লাহ তাঁর নামসমূহ ও গুণাবলির মাধ্যমে তাঁর বান্দাদের নিকট নিজের পরিচয় দিয়েছেন। সৃষ্টির কাছে যদি তিনি এভাবে নিজের পরিচয় না দিতেন, তবে তারা তাঁকে তাঁর প্রকৃত সত্তায় চিনতে পারত না। তাই মহান আল্লাহর শানে তিনি নিজের সম্পর্কে যা বলেছেন তার বাইরে কিছু বলা ভুল, বিপজ্জনক, হঠকারিতা এবং সীমালঙ্ঘন। সুতরাং তিনি নিজেকে যে সকল নামে অভিহিত করেছেন অথবা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে যে সকল নামে অভিহিত করেছেন, তা ছাড়া অন্য কোনো নামে তাঁকে নামকরণ করা যাবে না। তাঁকে 'প্রকৃতি', 'রহমত', 'আকাশ', 'অদৃশ্য', 'পিতা', 'সন্তান', 'মহাবিশ্বের প্রকৌশলী' কিংবা 'আরিফ' (জ্ঞাতা) বলা যাবে না। একইভাবে, তিনি নিজের জন্য যে সকল গুণাবলি বর্ণনা করেছেন অথবা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জন্য যে সকল গুণাবলি বর্ণনা করেছেন, তা ছাড়া অন্য কোনো গুণে তাঁকে গুণান্বিত করা যাবে না। তাঁকে দুঃসাহসিকতা, শিক্ষা গ্রহণ, মুখাপেক্ষিতা, ক্লান্তি, বিশ্রাম, অনুশোচনা ও ক্রন্দন দ্বারা বিশেষিত করা যাবে না; এবং এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় পরিবর্তন কিংবা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরের মাধ্যমেও নয়। {কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়, আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।} আশ-শূরা: ১১।
আর মহান আল্লাহ যেমনটি বলেছেন যে, তাঁর সদৃশ কিছুই নেই এবং তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা, তাই একজন মুমিনের ওপর আবশ্যক হলো কুরআন ও সহীহ সুন্নাহতে এ বিষয়ে যা উল্লেখ করা হয়েছে তার সীমানার মধ্যে অবস্থান করা এবং মহান আল্লাহ ও তাঁর নামসমূহ ও গুণাবলির ওপর ঈমান আনা। এক্ষেত্রে মহান আল্লাহকে তাঁর সৃষ্টির সাথে তুলনা করার কিংবা তাঁর সৃষ্টির কাউকে তাঁর সাথে তুলনা করার কোনো চেষ্টা করা যাবে না। {বলুন, তিনি আল্লাহ, এক। আল্লাহ অমুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও জন্ম দেয়া হয়নি। আর তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই।} সূরা আল-ইখলাস।
অতঃপর তিনি মহান আল্লাহর গুণাবলি সম্পর্কিত যে সকল অস্পষ্ট বর্ণনা তিলাওয়াত করেন, সেগুলোকে সুস্পষ্ট বর্ণনাসমূহের দিকে প্রত্যাবর্তন করান।
(খণ্ড: ১)
ঈজাহুদ দালীল ফী কাতয়ি হুজাজি আহলিত তাতীল
(পৃষ্ঠা: ২১)
المحكمات مِنْهَا فَإِنَّهُنَّ {أم الْكتاب} كَمَا قَالَ سُبْحَانَهُ
قَالَ الإِمَام أَبُو حنيفَة رَحمَه الله تَعَالَى لَا يَنْبَغِي لأحد أَن ينْطق فِي الله تَعَالَى بِشَيْء من ذَاته وَلَكِن يصفه بِمَا وصف بِهِ نَفسه وَلَا يَقُول فِيهِ شَيْئا بِرَأْيهِ تبَارك الله رب الْعَالمين نَقله القَاضِي أَبُو عَلَاء صاعد بن مُحَمَّد فِي كتاب الِاعْتِقَاد عَن أبي يُوسُف عَن الإِمَام أبي حنيفَة رَحمَه الله تَعَالَى من قَوْله
فَائِدَة قَالَ الإِمَام أَبُو مَنْصُور عبد القاهر بن طَاهِر التَّمِيمِي الْبَغْدَادِيّ الْمُتَوفَّى سنة 429 فِي كِتَابه الْعَظِيم (أصُول الدّين) مَا يَلِي
الْمَسْأَلَة الْعَاشِرَة فِي تَرْتِيب أَئِمَّة الدّين فِي علم الْكَلَام
أول متكلمي أهل السّنة من الصَّحَابَة عَليّ بن أبي طَالب لمناظرته الْخَوَارِج فِي مسَائِل الْوَعْد والوعيد ومناظرته الْقَدَرِيَّة فِي الْقدر وَالْقَضَاء والمشيئة والاستطاعة ثمَّ عبد الله ابْن عمر فِي كَلَامه على الْقَدَرِيَّة وبراءته مِنْهُم وَمن زعيمهم الْمَعْرُوف بمعبد الجهمي وَادعت الْقَدَرِيَّة أَن عليا كَانَ مِنْهُم وَزَعَمُوا أَن زعيمهم وَاصل بن عَطاء المعتزلي أَخذ مذْهبه من مُحَمَّد وَعبد الله ابْني عَليّ رضي الله عنه وَهَذَا من بهتهم وَمن الْعَجَائِب أَن يكون ابْنا عَليّ قد علما واصلا رد شَهَادَة عَليّ وَطَلْحَة وَالشَّكّ فِي عَدَالَة عَليّ أفتراهما علماه إبِْطَال شَفَاعَة عَليّ شَفَاعَة صهر الْمُصْطَفى صلى الله عليه وسلم
وَأول متكلمي أهل السّنة من التَّابِعين عمر بن عبد الْعَزِيز وَله رِسَالَة بليغة فِي الرَّد على الْقَدَرِيَّة ثمَّ زيد بن عَليّ بن الْحُسَيْن بن عَليّ بن أبي طَالب وَله كتاب فِي الرَّد على الْقَدَرِيَّة من الْقُرْآن ثمَّ الْحسن الْبَصْرِيّ وَقد ادَّعَتْهُ الْقَدَرِيَّة فَكيف يَصح لَهَا هَذِه الدَّعْوَى مَعَ رسَالَته إِلَى عمر بن عبد الْعَزِيز فِي ذمّ الْقَدَرِيَّة وَمَعَ طرده واصلا عَن مَجْلِسه عِنْد إِظْهَاره بدعته ثمَّ الشّعبِيّ وَكَانَ من أَشد النَّاس على الْقَدَرِيَّة ثمَّ الزُّهْرِيّ وَهُوَ الَّذِي أفتى عبد الْملك بن مَرْوَان بدماء الْقَدَرِيَّة
وَمن بعد هَذِه الطَّبَقَة جَعْفَر بن مُحَمَّد الصَّادِق وَله كتاب فِي الرَّد على الْقَدَرِيَّة وَكتاب فِي الرَّد على الْخَوَارِج ورسالة فِي الرَّد على الغلاة من الروافض وَهُوَ الَّذِي قَالَ أَرَادَت الْمُعْتَزلَة أَن توَحد رَبهَا فألحدت وأرادت التَّعْدِيل فنسبت الْبُخْل إِلَى رَبهَا
সেগুলোর মধ্যে যেগুলো সুস্পষ্ট (মুহকামাত), সেগুলোই হলো কিতাবের মূল, যেমনটি তিনি মহান মহিমান্বিত সত্তা বলেছেন।
ইমাম আবু হানিফা (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) বলেছেন: মহান আল্লাহ সম্পর্কে তাঁর সত্তার কোনো বিষয়ে কথা বলা কারো জন্য সঙ্গত নয়; বরং আল্লাহ নিজের গুণাবলি যেভাবে বর্ণনা করেছেন, সেভাবেই তাঁকে গুণান্বিত করতে হবে এবং তাঁর সম্পর্কে নিজের খেয়ালখুশি মতো কোনো কথা বলা যাবে না। মহান আল্লাহ বরকতময়, যিনি বিশ্বজগতের প্রতিপালক। কাজী আবু আলা সাঈদ বিন মুহাম্মদ তাঁর 'কিতাবুল ইতিকাদ'-এ আবু ইউসুফ থেকে এবং তিনি ইমাম আবু হানিফা (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা)-এর উক্তি হিসেবে এটি বর্ণনা করেছেন।
জ্ঞাতব্য: ইমাম আবু মনসুর আব্দুল কাদির ইবনে তাহির আত-তামিমি আল-বাগদাদি (মৃত্যু ৪২৯ হিজরি) তাঁর সুপ্রসিদ্ধ গ্রন্থ 'উসুলুদ দ্বীন'-এ নিম্নোক্ত বিষয়টি উল্লেখ করেছেন:
দশম মাসআলা: ইলমুল কালামে দ্বীনের ইমামগণের বিন্যাস প্রসঙ্গে।
সাহাবীদের মধ্যে আহলুস সুন্নাহর প্রথম মুতাকাল্লিম (তত্ত্ববিদ) হলেন আলী ইবনে আবু তালিব। কারণ তিনি প্রতিশ্রুতি ও শাস্তির (ওয়াদ ও ওয়াইদ) বিষয়ে খারেজীদের সাথে বিতর্ক করেছিলেন এবং তাকদীর, ফয়সালা, ইচ্ছা ও সক্ষমতার বিষয়ে কাদারিয়াদের সাথে বিতর্ক করেছিলেন। অতঃপর আব্দুল্লাহ ইবনে উমর, কাদারিয়াদের বিরুদ্ধে তাঁর বক্তব্য এবং তাদের ও তাদের নেতা মাবাদ আল-জুহানি থেকে তাঁর সম্পর্কচ্ছেদের কারণে। কাদারিয়া সম্প্রদায় দাবি করে যে আলী তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং তারা ধারণা করে যে তাদের নেতা ওয়াসিল ইবনে আতা আল-মুতাযিলি তাঁর মাযহাব গ্রহণ করেছেন আলীর দুই পুত্র মুহাম্মদ ও আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে। এটি তাদের একটি অপবাদ। আশ্চর্যের বিষয় হলো, আলীর দুই পুত্র কি ওয়াসিলকে আলীর ও তালহার সাক্ষ্য প্রত্যাখ্যান করা এবং আলীর ন্যায়পরায়ণতা সম্পর্কে সন্দেহ করা শিখিয়েছিলেন? আপনি কি মনে করেন যে তাঁরা তাঁকে মুস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জামাতা আলীর শাফায়াত বাতিল করা শিখিয়েছিলেন?
তাবেয়ীদের মধ্যে আহলুস সুন্নাহর প্রথম মুতাকাল্লিম হলেন উমর ইবনে আব্দুল আজীজ। কাদারিয়াদের খণ্ডনে তাঁর একটি সাবলীল পত্র রয়েছে। এরপর যায়িদ ইবনে আলী ইবনে হুসাইন ইবনে আলী ইবনে আবু তালিব, কুরআনের আলোকে কাদারিয়াদের খণ্ডনে তাঁর একটি গ্রন্থ রয়েছে। এরপর হাসান বসরী। কাদারিয়া সম্প্রদায় তাঁকে নিজেদের লোক বলে দাবি করে থাকে, কিন্তু উমর ইবনে আব্দুল আজীজের নিকট কাদারিয়াদের নিন্দা জানিয়ে প্রেরিত তাঁর পত্র এবং ওয়াসিল যখন তার বিদআত প্রকাশ করে তখন তাকে নিজের মজলিস থেকে বিতাড়িত করার ঘটনার পর তাদের এই দাবি কীভাবে সঠিক হতে পারে? এরপর ইমাম শাবী, যিনি কাদারিয়াদের ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোর ছিলেন। এরপর যুহরী, যিনি আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ানকে কাদারিয়াদের রক্ত বৈধ হওয়ার ফতোয়া দিয়েছিলেন।
এই স্তরের পরবর্তী ব্যক্তি হলেন জাফর ইবনে মুহাম্মদ আস-সাদিক। কাদারিয়াদের খণ্ডনে তাঁর একটি গ্রন্থ রয়েছে, খারেজীদের খণ্ডনে একটি গ্রন্থ রয়েছে এবং রাফেজীদের চরমপন্থীদের খণ্ডনে একটি পত্র রয়েছে। তিনিই বলেছিলেন: মুতাযিলারা তাদের রবের একত্ববাদ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল কিন্তু তারা পথভ্রষ্টতায় লিপ্ত হয়েছে; আর তারা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল কিন্তু তারা তাদের রবের প্রতি কার্পণ্য আরোপ করেছে।
(খণ্ড: ১)
ঈজাহুদ দালীল ফী কাতয়ি হুজাজি আহলিত তাতীল
(পৃষ্ঠা: ২২)
وَأول متكلميهم من الْفُقَهَاء وأرباب الْمذَاهب أَبُو حنيفَة وَالشَّافِعِيّ فَإِن ابا حنيفَة لَهُ كتاب فِي الرَّد على الْقَدَرِيَّة سَمَّاهُ الْفِقْه الْأَكْبَر وَله رِسَالَة أملاها فِي نصْرَة قَول أهل السّنة إِن الإستطاعة مَعَ الْفِعْل وَلكنه قَالَ إِنَّهَا تصلح للضدين وعَلى هَذَا قوم من أَصْحَابنَا وَقَالَ صَاحبه أَبُو يُوسُف فِي الْمُعْتَزلَة إِنَّهُم زنادقة وَللشَّافِعِيّ كِتَابَانِ فِي الْكَلَام أَحدهمَا فِي تَصْحِيح النُّبُوَّة وَالرَّدّ على البراهمة، وَالثَّانِي فِي الرَّد على أهل الْأَهْوَاء وَذكر طرفا من هَذَا النَّوْع فِي كتاب الْقيَاس وَأَشَارَ فِيهِ إِلَى رُجُوعه عَن قبُول شَهَادَة الْمُعْتَزلَة وَأهل الْأَهْوَاء
فَأَما المريسي من اصحاب أبي حنيفَة فَإِنَّمَا وَافق الْمُعْتَزلَة فِي خلق الْقُرْآن وأكفرهم فِي خلق الْأَفْعَال ثمَّ من بعد الشَّافِعِي تلامذته الجامعون بَين الْفِقْه وَالْكَلَام كالحارث ابْن أَسد المحاسبي وَأبي عَليّ الْكَرَابِيسِي وحرملة الْبُوَيْطِيّ وَدَاوُد الْأَصْبَهَانِيّ وعَلى كتاب الْكَرَابِيسِي فِي المقالات معول الْمُتَكَلِّمين فِي معرفَة مَذَاهِب الْخَوَارِج وَسَائِر أهل الْأَهْوَاء وعَلى كتبه فِي الشُّرُوط وَفِي علل الحَدِيث وَالْجرْح وَالتَّعْدِيل معول الْفُقَهَاء وحفاظ الحَدِيث وعَلى كتب الْحَارِث بن أَسد فِي الْكَلَام وَالْفِقْه والْحَدِيث معول متكلمي أَصْحَابنَا وفقهائهم وصوفيتهم
ولداود صَاحب الظَّاهِر كتب كَثِيرَة فِي أصُول الدّين مَعَ كَثْرَة كتبه فِي الْفِقْه وَابْنه أَبُو بكر جَامع بَين الْفِقْه وَالْكَلَام وَالْأُصُول وَالْأَدب وَالشعر
وَكَانَ أَبُو الْعَبَّاس بن شُرَيْح أنزع الْجَمَاعَة فِي هَذِه الْعُلُوم وَله نقض كتاب الجاروف على الْقَائِلين بتكافؤ الْأَدِلَّة وَهُوَ أشْبع من نقض ابْن الراوندي عَلَيْهِم فَأَما تصانيفه فِي الْفِقْه فَالله يحصيها
وَمن متكلمي أهل السّنة فِي أَيَّام الْمَأْمُون عبد الله بن سعيد التَّمِيمِي الَّذِي دمر علم الْمُعْتَزلَة فِي مجْلِس الْمَأْمُون وَفَضَحَهُمْ ببيانه وآثار بَيَانه فِي كتبه وَهُوَ أَخُو يحيى بن سعيد الْقطَّان وَارِث علم الحَدِيث وَصَاحب الْجرْح وَالتَّعْدِيل وَمن تلامذة عبد الله بن
فقহবিদ এবং মাযহাবের ইমামদের মধ্যে তাঁদের প্রথম ধর্মতাত্ত্বিক বা ইলমে কালামের পণ্ডিত হলেন আবু হানিফা এবং শাফেয়ী। কেননা আবু হানিফা কাদারিয়াদের খণ্ডনে একটি কিতাব লিখেছেন যার নাম দিয়েছেন 'আল-ফিকহুল আকবার'। এবং তাঁর একটি রিসালা (পুস্তিকা) রয়েছে যা তিনি আহলুস সুন্নাহর এই মতের সমর্থনে লিখিয়েছেন যে, সক্ষমতা (ইস্তিতাত) কর্মের সাথেই থাকে; তবে তিনি বলেছেন যে এটি বিপরীত দুটি বিষয়ের জন্যই প্রযোজ্য হতে পারে এবং আমাদের একদল সাথী এই মতেরই অনুসারী। তাঁর সঙ্গী আবু ইউসুফ মুতাজিলাদের সম্পর্কে বলেছেন যে তারা যিনদিক (ধর্মত্যাগী)। শাফেয়ীর ইলমে কালামের ওপর দুটি কিতাব রয়েছে: একটি নবুওয়াত প্রমাণ এবং ব্রাহ্মণদের খণ্ডনে, আর দ্বিতীয়টি বিভ্রান্ত মতাবলম্বীদের (আহলুল আহওয়া) খণ্ডনে। তিনি 'কিতাবুল কিয়াস'-এ এই বিষয়ের কিছু অংশ উল্লেখ করেছেন এবং সেখানে মুতাজিলা ও বিভ্রান্ত মতাবলম্বীদের সাক্ষ্য গ্রহণ থেকে তাঁর ফিরে আসার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন।
আর আবু হানিফার অনুসারীদের মধ্যে আল-মারীসী কেবল কুরআন সৃষ্টির বিষয়ে মুতাজিলাদের সাথে একমত পোষণ করেছেন, কিন্তু কর্ম সৃষ্টি সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি তাদের কাফির আখ্যা দিয়েছেন। অতঃপর শাফেয়ীর পর তাঁর সেই সব ছাত্ররা আসলেন যারা ফিকহ এবং কালাম শাস্ত্র উভয়কে একত্রিত করেছেন, যেমন হারিস ইবন আসাদ আল-মুহাসিবী, আবু আলী আল-কারাবিসী, হারমালাহ আল-বুওয়াইতী এবং দাউদ আল-আসবাহানী। খারিজি এবং অন্যান্য বিভ্রান্ত মতাবলম্বীদের মতাদর্শ জানার ক্ষেত্রে কালাম শাস্ত্রের পণ্ডিতদের প্রধান নির্ভরতা হলো 'মাকালাত' বিষয়ে কারাবিসীর কিতাবের ওপর। আর শর্তাবলী (শুরাত), হাদিসের ত্রুটি (ইলালুল হাদিস) এবং জারহ ও তাদীল বিষয়ে তাঁর কিতাবসমূহের ওপর ফকিহ এবং হাদিস হাফেজদের প্রধান নির্ভরতা। আর ইলমে কালাম, ফিকহ এবং হাদিসের ক্ষেত্রে হারিস ইবন আসাদের কিতাবসমূহের ওপর আমাদের সাথীদের মধ্য থেকে কালাম শাস্ত্রবিদ, ফকিহ এবং সুফিগণ নির্ভর করেন।
যাহিরী মাযহাবের প্রবর্তক দাউদের ফিকহ শাস্ত্রের অনেক কিতাবের পাশাপাশি উসূলুদ্দীন বা ধর্মতত্ত্বের ওপরও বহু কিতাব রয়েছে। এবং তাঁর পুত্র আবু বকর ফিকহ, কালাম, উসূল, সাহিত্য ও কবিতার সমন্বয়কারী ছিলেন।
আর আবু আব্বাস ইবন শুরাইহ ছিলেন এই সকল জ্ঞানে এই জামাতের মধ্যে সর্বাধিক পারদর্শী। যারা দলীলের সমতা বা সামঞ্জস্যের (তাকাফাউল আদিল্লাহ) কথা বলে, তাদের বিরুদ্ধে তিনি 'কিতাবুল জারুফ'-এর খণ্ডন লিখেছেন, যা ইবনুর রাওয়ান্দীর খণ্ডনের চেয়েও অধিক পূর্ণাঙ্গ। আর ফিকহ শাস্ত্রে তাঁর রচনার সংখ্যা কেবল আল্লাহই পরিমাপ করতে পারেন।
খলিফা মামুনের আমলে আহলুস সুন্নাহর কালাম শাস্ত্রবিদদের মধ্যে ছিলেন আবদুল্লাহ ইবন সাঈদ আত-তামীমী, যিনি মামুনের মজলিসে মুতাজিলাদের জ্ঞানকে ধূলিসাৎ করে দিয়েছিলেন এবং তাঁর বাগ্মিতা ও লেখনীর মাধ্যমে তাদের লাঞ্ছিত করেছিলেন। তিনি ছিলেন ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ আল-কাত্তানের ভাই, যিনি ছিলেন হাদিস শাস্ত্রের উত্তরাধিকারী এবং জারহ ও তাদীল বিশেষজ্ঞ; আর তিনি ছিলেন আবদুল্লাহ ইবন এর ছাত্রদের মধ্য থেকে...
(খণ্ড: ১)
ঈজাহুদ দালীল ফী কাতয়ি হুজাজি আহলিত তাতীল
(পৃষ্ঠা: ২৩)
سعيد عبد الْعَزِيز الْمَكِّيّ الْكِنَانِي الَّذِي فَضَح الْمُعْتَزلَة فِي مجْلِس الْمَأْمُون
وتلميذه الْحُسَيْن بن فضل البَجلِيّ صَاحب الْكَلَام وَالْأُصُول وَصَاحب التَّفْسِير والتأويل وعَلى نكته فِي الْقُرْآن معول الْمُفَسّرين وَهُوَ الَّذِي استصحبه عبد الله بن طَاهِر وَالِي خُرَاسَان إِلَى خُرَاسَان فَقَالَ النَّاس إِنَّه قد أخرج علم الْعرَاق كُله إِلَى خُرَاسَان
وَمن تلامذة عبد الله بن سعيد أَيْضا الْجُنَيْد شيخ الصُّوفِيَّة وَإِمَام الْمُوَحِّدين وَله فِي التَّوْحِيد رِسَالَة على شَرط الْمُتَكَلِّمين وَعبارَة الصُّوفِيَّة
ثمَّ بعْدهَا شيخ النّظر وَإِمَام الْآفَاق فِي الجدل وَالتَّحْقِيق أَبُو الْحسن عَليّ بن إِسْمَاعِيل الْأَشْعَرِيّ الَّذِي صَار شجا فِي حلوق الْقَدَرِيَّة والنجارية والجهمية والجسمية وَالرَّوَافِض والخوارج وَقد مَلأ الدُّنْيَا كتبه وَمَا رزق أحد من الْمُتَكَلِّمين من التبع مَا قد رزق لِأَنَّهُ جَمِيع أهل الحَدِيث وكل من لم يتعزل من أهل الرَّأْي على مذْهبه وَمن تلامذته الْمَشْهُورين أَبُو الْحسن الْبَاهِلِيّ وَأَبُو عبد الله بن مُجَاهِد وهما اللَّذَان أثمرا تلامذة هم إِلَى الْيَوْم شموس الزَّمَان وأثمة الْعَصْر كَأبي بكر مُحَمَّد بن الطّيب قَاضِي قُضَاة الْعرَاق والجزيرة وَفَارِس وكرمان وَسَائِر حُدُود هَذِه النواحي وَأبي بكر مُحَمَّد بن الْحُسَيْن بن فورك وَأبي إِسْحَاق إِبْرَاهِيم بن مُحَمَّد المهراني وقبلهم أَبُو الْحسن عَليّ بن مهْدي الطَّبَرِيّ صَاحب الْفِقْه وَالْكَلَام وَالْأُصُول وَالْأَدب والنحو والْحَدِيث وَمن آثاره تلميذ مثل أبي عبد الله بن الْحُسَيْن بن مُحَمَّد البزازي صَاحب الجدل والتصانيف فِي كل بَاب من الْكَلَام
وَقبل هَذِه الطَّبَقَة شيخ الْعُلُوم على الْخُصُوص والعموم أَبُو عَليّ الثَّقَفِيّ وَفِي زَمَانه كَانَ
সাঈদ আব্দুল আযীয আল-মাক্কী আল-কিনানী, যিনি মামুনের মজলিসে মুতাজিলাদের অপদস্থ করেছিলেন।
এবং তাঁর ছাত্র হুসাইন ইবনে ফজল আল-বাজালী, যিনি ইলমুল কালাম ও উসূলের বিশেষজ্ঞ এবং তাফসীর ও তাবীল শাস্ত্রের পণ্ডিত ছিলেন। কুরআনের বিষয়ে তাঁর সূক্ষ্ম গবেষণার ওপর মুফাসসিরগণ নির্ভর করেন। তিনিই সেই ব্যক্তি যাঁকে খোরাসানের গভর্নর আব্দুল্লাহ ইবনে তাহির তাঁর সাথে খোরাসানে নিয়ে গিয়েছিলেন। তখন লোকেরা বলেছিল যে, তিনি ইরাকের সমস্ত ইলম খোরাসানে নিয়ে এসেছেন।
আব্দুল্লাহ ইবনে সাঈদের ছাত্রদের মধ্যে আরও ছিলেন সুফীদের শাইখ ও একত্ববাদীদের ইমাম জুনাইদ; তাওহীদের বিষয়ে তাঁর একটি রিসালা (পত্র) রয়েছে যা মুতাকাল্লিমদের পদ্ধতি এবং সুফীদের পরিভাষা অনুযায়ী রচিত।
অতঃপর তাঁর পরবর্তী স্তরে ছিলেন সূক্ষ্মদর্শী শাইখ এবং তর্কশাস্ত্র ও গবেষণায় বিশ্ববিখ্যাত ইমাম আবুল হাসান আলী ইবনে ইসমাইল আল-আশআরী, যিনি কাদারিয়া, নাজ্জারিয়া, জাহমিয়া, জাসমিয়া, রাফেজি ও খাওয়ারিজদের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। তাঁর রচিত কিতাবসমূহ পুরো পৃথিবী ভরে দিয়েছে। মুতাকাল্লিমদের মধ্যে আর কেউ তাঁর মতো এত অনুসারী পাওয়ার সৌভাগ্য লাভ করেনি; কারণ সমস্ত আহলে হাদীস এবং আহলে রায়ের মধ্যে যারা মুতাজিলা হয়নি, তারা সবাই তাঁর মাযহাবের অনুসারী। তাঁর প্রখ্যাত ছাত্রদের মধ্যে রয়েছেন আবুল হাসান আল-বাহিলী এবং আবু আব্দুল্লাহ ইবনে মুজাহিদ; এই দুজন এমন সব ছাত্র তৈরি করেছেন যারা আজ অবধি জামানার সূর্য এবং যুগের ইমাম হিসেবে পরিচিত। যেমন—ইরাক, জাজিরা, পারস্য, কিরমান এবং এসব অঞ্চলের প্রধান বিচারপতি আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে তাইয়্যেব; আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আল-হুসাইন ইবনে ফুরাক; এবং আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ আল-মিহরানী। তাঁদের পূর্বে ছিলেন ফিকহ, কালাম, উসূল, আদব, নাহু ও হাদীস শাস্ত্রের পণ্ডিত আবুল হাসান আলী ইবনে মাহদী আত-তাবারী। তাঁর অন্যতম অবদান হলো আবু আব্দুল্লাহ ইবনে আল-হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ আল-বাযযাযীর মতো ছাত্র, যিনি ইলমুল কালামের প্রতিটি বিষয়ে তর্কশাস্ত্র ও গ্রন্থ রচনার অধিকারী ছিলেন।
এই স্তরের পূর্বে ছিলেন জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিশেষ ও সাধারণ সকল শাখার শাইখ আবু আলী আস-সাকাফী, যাঁর সময়ে ছিলেন—
(খণ্ড: ১)
ঈজাহুদ দালীল ফী কাতয়ি হুজাজি আহলিত তাতীল
(পৃষ্ঠা: ২৪)
إِمَام أهل السّنة ابو الْعَبَّاس القلانسي الَّذِي زَادَت تصانيفه فِي الْكَلَام على مائَة وَخمسين كتابا وتصانيف الثَّقَفِيّ ونقوضه على أهل الْأَهْوَاء زَائِدَة على مائَة كتاب
وَقد أدركنا مِنْهُم فِي عصرنا أَبَا عبد الله بن مُحَمَّد وَمُحَمّد بن الطّيب قَاضِي الْقُضَاة وَمُحَمّد بن الْحُسَيْن بن فورك وَإِبْرَاهِيم بن مُحَمَّد المهراني وَالْحُسَيْن بن مُحَمَّد البزازي وَعلي منوال هَؤُلَاءِ الَّذين أدركناهم شَيخنَا وَهُوَ لإحياء الْحق كل وعَلى أعدائه غل
وَقَالَ الْعِزّ بن عبد السَّلَام عبد الْعَزِيز عِنْد حَدِيث قلب الْمُؤمن بَين أصبعين من أَصَابِع الرَّحْمَن إِن لله مستول عَلَيْهِ بقدرته وتصريفه كَيفَ يَشَاء من كفر وإيمان
… إِلَى أَن قَالَ وَلَيْسَ الْكَلَام فِي هَذَا بِدعَة قبيحة وَإِنَّمَا الْكَلَام فِيهِ بِدعَة حَسَنَة وَاجِبَة لما ظَهرت الشُّبْهَة وَإِنَّمَا سكت السّلف عَن الْكَلَام فِيهِ إِذْ لم يكن فِي عصرهم من يحمل كَلَام الله وَكَلَام رَسُوله على مَالا يجوز حمله وَلَو ظَهرت فِي عصرهم شُبْهَة لكذبوهم وأنكروا عَلَيْهِم غَايَة الْإِنْكَار فقد رد الصَّحَابَة وَالسَّلَف على الْقَدَرِيَّة لما أظهرُوا بدعتهم وَلم يَكُونُوا قبل ظُهُورهمْ يَتَكَلَّمُونَ فِي ذَلِك وَلَا يردون على قَائِله وَلَا نقل عَن أحد من الصَّحَابَة شَيْء من ذَلِك إِذْ لَا تَدْعُو الْحَاجة إِلَيْهِ
… وَالله أعلم الفتاوي لَهُ ص 56
আহলে সুন্নতের ইমাম আবুল আব্বাস আল-কালানিসি, কালাম শাস্ত্রের ওপর যাঁর রচনাবলি একশ পঞ্চাশটিরও বেশি এবং আস-সাকাফির রচনাবলি ও প্রবৃত্তি পূজারীদের বিরুদ্ধে তাঁর খণ্ডনসমূহ একশটিরও বেশি।
এবং আমরা আমাদের যুগে তাঁদের মধ্য থেকে আবু আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ, কাযিউল কুযাত মুহাম্মদ বিন আল-তাইয়্যিব, মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন বিন ফুরাক, ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ আল-মিহরানি এবং আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ আল-বাজ্জাজিকে পেয়েছি। আর যাঁদেরকে আমরা পেয়েছি তাঁরা আমাদের শায়খের পথ অনুসরণকারী, যিনি সত্যকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য নিবেদিত এবং তাঁর শত্রুদের জন্য তিনি শৃঙ্খলস্বরূপ।
আল-ইজ্জ বিন আবদুস সালাম আবদুল আজিজ 'মুমিনের অন্তর রহমানের আঙ্গুলসমূহের মধ্য থেকে দুটি আঙ্গুলের মাঝে' -এই হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেছেন যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর কুদরত ও যেভাবে ইচ্ছা পরিবর্তন করার ক্ষমতার মাধ্যমে এর ওপর কর্তৃত্বশীল, চাই তা কুফর হোক বা ঈমান হোক
… তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে আলোচনা করা কোনো মন্দ বিদআত নয়, বরং সন্দেহ দেখা দেওয়ার কারণে এ বিষয়ে আলোচনা করা একটি আবশ্যকীয় উত্তম বিদআত। সালাফগণ এ বিষয়ে কথা বলা থেকে বিরত ছিলেন কারণ তাঁদের যুগে এমন কেউ ছিল না যারা আল্লাহর কালাম ও তাঁর রাসূলের বাণীকে এমন অর্থে গ্রহণ করত যা গ্রহণ করা বৈধ নয়। আর যদি তাঁদের যুগে কোনো সন্দেহ দেখা দিত, তবে তাঁরা তাঁদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করতেন এবং কঠোরভাবে তাঁদের প্রতিবাদ করতেন। কেননা সাহাবায়ে কেরাম ও সালাফগণ কাদারিয়াদের প্রতিবাদ করেছিলেন যখন তারা তাদের বিদআত প্রকাশ করেছিল, অথচ তাদের আবির্ভাবের আগে তাঁরা এ বিষয়ে কথা বলতেন না এবং এ জাতীয় কথা বলনেওয়ালার প্রতিবাদও করতেন না। আর সাহাবায়ে কেরামের কারো কাছ থেকে এ ধরণের কিছু বর্ণিত হয়নি কারণ তখন এর প্রয়োজনীয়তা ছিল না
… আল্লাহই সর্বজ্ঞ। আল-ফাতাওয়া (তাঁর কিতাব), পৃষ্ঠা ৫৬।
(খণ্ড: ১)
ঈজাহুদ দালীল ফী কাতয়ি হুজাজি আহলিত তাতীল
(পৃষ্ঠা: ২৫)
فصل
افْتِرَاق أمة رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَكَانَ مَا لَا بُد أَن يكون وَوَقع مَا قدر الله تَعَالَى وُقُوعه وقضاه وَهُوَ أَن تفترق أمة رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِلَى ثَلَاث وَسبعين فرقة كلهَا فِي النَّار إِلَّا وَاحِدَة وَهِي الَّتِي كَانَ عَلَيْهَا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وصحابته رضي الله عنهم
ونجد أَخْبَار تِلْكَ الْفرق فِي كتاب الإِمَام أبي الْحسن الْأَشْعَرِيّ مقالات الإسلاميين وَكتاب الإِمَام عبد القاهر الْبَغْدَادِيّ الْفرق بَين الْفرق والفصل فِي الْملَل والأهواء والنحل لِابْنِ حزم والملل والنحل للشهرستاني وَغَيرهَا
وَالَّذِي ندير فِيهِ الحَدِيث هُنَا أَن تِلْكَ الْفرق يُمكن بِشَيْء من التمحل والتنزل أَن تجْعَل طرفين حادين وهما منحرفان ووسط هُوَ الْعدْل وَالْحق
الطرفان أَحدهمَا المشبهة والمجسمة الَّذين يشبهون الله تَعَالَى بخلقه وَيدعونَ أَنه جسم كالأجسام أَولا كالأجسام
وَالثَّانِي المعطلة ونعني بهم هُنَا الَّذين يعطلون الله تَعَالَى فينفون عَنهُ صِفَات وينسبون إِلَيْهِ النَّقْص وَمِنْهُم طَائِفَة متعقلون يجْعَلُونَ الْعقل حكما وحاكما يردون بعض نُصُوص الْقُرْآن الْكَرِيم وَالسّنة الصَّحِيحَة المثبتة لصفات الله تَعَالَى بعقولهم وأفكارهم
وَالْوسط السَّلِيم الْمُسْتَقيم يُؤمن بِاللَّه تَعَالَى وَصِفَاته جَمِيعهَا وينزهه سُبْحَانَهُ عَن المشابهة والجسمية وَيثبت لله تَعَالَى من الصِّفَات مَا أثْبته لنَفسِهِ وأثبته لَهُ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَهَذَا هُوَ الَّذِي بعث رَسُول الله صلى الله عليه وسلم بِهِ وَعلم أَصْحَابه إِيَّاه وَهُوَ الَّذِي خلف عَلَيْهَا أَصْحَابه ثمَّ
পরিচ্ছেদ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতের বিভক্তি যা হওয়ার ছিল তা-ই হয়েছে এবং মহান আল্লাহ যা ঘটার জন্য নির্ধারণ ও ফয়সালা করেছিলেন তা সংঘটিত হয়েছে। আর তা হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মত তেহাত্তর দলে বিভক্ত হবে, যাদের একটি বাদে সবাই জাহান্নামে যাবে। আর সেই দলটি হলো তারা, যার ওপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) ছিলেন।
আমরা এই দলগুলোর বিবরণ ইমাম আবুল হাসান আল-আশআরীর ‘মাকালাতুল ইসলামিয়্যিন’, ইমাম আবদুল ক্বাহির আল-বাগদাদীর ‘আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক’, ইবনে হাজমের ‘আল-ফাসলু ফিল মিলাল ওয়াল আহওয়াই ওয়ান নিহাল’, শাহরাস্তানির ‘আল-মিলাল ওয়ান নিহাল’ এবং অন্যান্য গ্রন্থে পাই।
এখানে আমরা যে বিষয়ে আলোচনা করছি তা হলো, কিঞ্চিৎ বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনার মাধ্যমে এই দলগুলোকে দুটি চরম প্রান্তে বিভক্ত করা সম্ভব, যা উভয়ই বিচ্যুত; আর একটি হলো মধ্যমপন্থা, যা ন্যায় ও সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
দুই প্রান্তের একটি হলো মুসাব্বিহা ও মুজাসসিমা, যারা মহান আল্লাহকে তাঁর সৃষ্টির সাথে তুলনা করে এবং দাবি করে যে তিনি অন্যান্য দেহের মতো দেহধারী অথবা এমন এক দেহ যা অন্যান্য দেহের মতো নয়।
দ্বিতীয়টি হলো মুআত্তিঁলা; এখানে আমরা তাদের বুঝিয়েছি যারা মহান আল্লাহর গুণাবলিকে অস্বীকার করে অকার্যকর করে দেয় এবং তাঁর প্রতি অপূর্ণতা আরোপ করে। তাদের মধ্যে একদল যুক্তিবাদী রয়েছে যারা বিবেক-বুদ্ধিকে বিচারক ও সিদ্ধান্তদাতা হিসেবে গণ্য করে এবং তারা তাদের বুদ্ধি ও চিন্তার মাধ্যমে পবিত্র কুরআনের কিছু বক্তব্য ও আল্লাহর গুণাবলি সাব্যস্তকারী সহীহ সুন্নাহকে প্রত্যাখ্যান করে।
আর নিরাপদ ও সরল সঠিক মধ্যমপন্থা হলো মহান আল্লাহ এবং তাঁর সকল গুণাবলির ওপর ঈমান আনা, তাঁকে সাদৃশ্য ও দেহসত্তা হওয়া থেকে পবিত্র রাখা এবং মহান আল্লাহর জন্য সেই সকল গুণাবলি সাব্যস্ত করা যা তিনি নিজের জন্য সাব্যস্ত করেছেন এবং যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জন্য সাব্যস্ত করেছেন। এটিই সেই আদর্শ যা নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রেরিত হয়েছিলেন এবং যা তিনি তাঁর সাহাবীগণকে শিখিয়েছিলেন। আর এটিই সেই পথ যার ওপর তিনি তাঁর সাহাবীগণকে রেখে গিয়েছিলেন, অতঃপর...
(খণ্ড: ১)
ঈজাহুদ দালীল ফী কাতয়ি হুজাজি আহলিত তাতীল
(পৃষ্ঠা: ২৬)
خِيَار التَّابِعين وَالْعُلَمَاء الفاقهين وَمِنْهُم الْأَئِمَّة الْأَرْبَعَة ومدارسهم وأمثالهم من الْعلمَاء الصَّالِحين فِي زمانهم وَبعد زمانهم وَهُوَ وسط صَحِيح حق بَاقٍ إِلَى قرب قيام السَّاعَة بِإِذن الله تَعَالَى والساعة لَا تقوم وَفِي النَّاس مَا يَقُول الله الله كَمَا جَاءَ فِي صَحِيح مُسلم
وكما قيض الله تَعَالَى للْجمع بَين طرفِي الرَّأْي وَالنَّص نَاصِر السّنة الإِمَام مُحَمَّد بن إِدْرِيس الشَّافِعِي رَحمَه الله تَعَالَى، فِيمَا سمي فِي كتب الْأُصُول بالتوفيق بَين أهل الرَّأْي وَأهل الحَدِيث فقد قيض الله تَعَالَى نَاصِر السّنة الإِمَام أَبَا الْحسن الْأَشْعَرِيّ لإِظْهَار سلوك الْوسط السَّلِيم الْمُسْتَقيم وَذَلِكَ برد المعطلة من الْمَلَاحِدَة ونفاة الصِّفَات من جِهَة والمشبهة والمجسمة من جِهَة أُخْرَى إِلَى الجادة الْوسط فَأثْبت رُؤْيَة الْمُؤمنِينَ لله تَعَالَى فِي الْجنَّة جعلنَا الله مِنْهُم وَمَعَهُمْ وَنفى التَّشْبِيه والكيفية وَأثبت كَلَام الله تَعَالَى وَقَالَ إِن كَلَام الله تَعَالَى غير مَخْلُوق وَإِن فعل العَبْد فِي الْقُرْآن من الْقِرَاءَة وَالْكِتَابَة مَخْلُوق وَأثبت سَائِر صِفَات الله تَعَالَى مَعَ التَّنْزِيه عَن المشابهة لأحد من خلقه أَو مشابهة أحد من خلقه لَهُ سُبْحَانَهُ وأمثال ذَلِك كثير
وَلَقَد جمع الله تَعَالَى جُمْهُور الْمُسلمين على توجهه وتوجيهه فَكَانَ رَحمَه الله تَعَالَى آيَة من آيَات الله وَحجَّة من حججه على خلقه قَالَ ابْن حجر الهيثمي رَحمَه الله تَعَالَى نسب علم الْكَلَام إِلَى الْأَشْعَرِيّ لِأَنَّهُ جمع مناهج الْأَوَّلين ولخص موارد الْبَرَاهِين وَلم يحدث فِيهِ بعد السّلف إِلَّا مُجَرّد الألقاب والإصطلاحات وَقد حدث ذَلِك فِي كل فن من فنون الْعلم
وَلَقَد كتب رَحمَه الله تَعَالَى فِي بَيَان الطَّرِيق الْوسط التآليف العديدة مِنْهَا مَا هِيَ صَحَائِف وَمِنْهَا مَا هِيَ أَجزَاء ومجلدات وَحين خرج من الدُّنْيَا كَانَ قد خلف أَكثر من مائَة وَخمسين كتابا فِي بَيَان عقيدة أهل السّنة وَالْجَمَاعَة ورد وَإِبْطَال مَا سواهَا وَالْحَمْد لله
وَحقّ أَن يُقَال فِيهِ مَا ذكره ابْن خلكان أَنه نُودي يَوْم وَفَاة الْأَشْعَرِيّ الْيَوْم مَاتَ
শ্রেষ্ঠ তাবেয়িগণ এবং বিজ্ঞ আলেমগণ, যাদের অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন চার ইমাম, তাঁদের মাযহাবসমূহ এবং তাঁদের সমসাময়িক ও পরবর্তীকালের নেককার আলেমগণ। এটি একটি সঠিক ও সত্য মধ্যপন্থা যা আল্লাহর ইচ্ছায় কিয়ামতের নিকটবর্তী সময় পর্যন্ত অবশিষ্ট থাকবে। আর কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ মানুষের মাঝে এমন কেউ থাকবে যে ‘আল্লাহ আল্লাহ’ বলে, যেমনটি সহীহ মুসলিম-এ বর্ণিত হয়েছে।
এবং মহান আল্লাহ যেভাবে রায় (বিবেচনা) ও নস (শরয়ি পাঠ)-এর দুই প্রান্তের মাঝে সমন্বয় সাধনের জন্য সুন্নাহর সাহায্যকারী ইমাম মুহাম্মদ বিন ইদরিস আশ-শাফিয়ী (রহিমাহুল্লাহ)-কে নির্ধারিত করেছিলেন—যাকে উসূলের কিতাবসমূহে ‘আহলুর রায়’ ও ‘আহলুল হাদিস’-এর মধ্যে সমন্বয় বলা হয়েছে—তেমনিভাবে মহান আল্লাহ সুন্নাহর সাহায্যকারী ইমাম আবুল হাসান আল-আশআরীকে একটি নিরাপদ ও সঠিক মধ্যপন্থা প্রদর্শনের জন্য মনোনীত করেছিলেন। আর তা ছিল একদিকে নাস্তিক্যবাদী ‘মুয়াত্তালা’ (গুণাবলি অস্বীকারকারী) ও গুণাবলি প্রত্যাখ্যানকারীদের এবং অন্যদিকে ‘মুশাব্বিহা’ ও ‘মুজাসসিমা’দের (সাদৃশ্য দানকারী ও দেহবাদী) সঠিক মধ্যপন্থায় ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে। তিনি জান্নাতে মুমিনদের জন্য মহান আল্লাহর দিদার (দর্শন) সাব্যস্ত করেছেন—আল্লাহ আমাদের তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করুন এবং তাঁদের সাথে রাখুন—এবং তিনি কোনো প্রকার সাদৃশ্য ও ধরণকে (কাইফিয়াত) অস্বীকার করেছেন। তিনি মহান আল্লাহর কালামকে সাব্যস্ত করেছেন এবং বলেছেন যে, আল্লাহর কালাম সৃষ্টি নয়; তবে কুরআন তিলাওয়াত ও লিখনীর ক্ষেত্রে বান্দার কাজ সৃষ্টি। তিনি আল্লাহর সৃষ্টির কারো সাথে তাঁর সদৃশ হওয়া অথবা তাঁর সাথে তাঁর সৃষ্টির কারো সদৃশ হওয়া থেকে পবিত্রতা ঘোষণার সাথে সাথে আল্লাহর অন্যান্য সমস্ত গুণাবলি সাব্যস্ত করেছেন। এ জাতীয় উদাহরণ অনেক রয়েছে।
আল্লাহ তাআলা মুসলিম জনসাধারণের বড় অংশকে তাঁর পথ ও নির্দেশনার ওপর ঐক্যবদ্ধ করেছেন। তিনি (রহিমাহুল্লাহ) ছিলেন আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে অন্যতম এক নিদর্শন এবং তাঁর সৃষ্টির ওপর তাঁর পক্ষ থেকে এক শক্তিশালী প্রমাণ। ইবনে হাজার আল-হাইতামি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ইলমে কালামকে আশআরীর দিকে সম্পর্কিত করা হয় কারণ তিনি পূর্ববর্তীদের পদ্ধতিসমূহকে একত্রিত করেছেন এবং প্রমাণের উৎসগুলোকে সারসংক্ষেপ করেছেন। তিনি সালফে সালেহীনের পর এতে কেবল কিছু উপাধি ও পরিভাষাই নতুন যুক্ত করেছেন, যা জ্ঞানের প্রতিটি শাখাতেই ঘটেছে।
তিনি (রহিমাহুল্লাহ) মধ্যপন্থা বর্ণনায় অসংখ্য কিতাব রচনা করেছেন; যার কোনোটি পুস্তিকা আকারে, আবার কোনোটি খণ্ড ও বড় ভলিউম আকারে। যখন তিনি ইহকাল ত্যাগ করেন, তখন তিনি আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদা বর্ণনা এবং এর বিরোধী মতবাদসমূহের খণ্ডন ও বাতিলের ওপর ১৫০-এর অধিক কিতাব রেখে গিয়েছিলেন। আলহামদুলিল্লাহ।
তাঁর সম্পর্কে ইবনে খাল্লিকান যা উল্লেখ করেছেন তা বলা যথার্থ, আর তা হলো—আশআরীর ইন্তেকালের দিন ঘোষণা করা হয়েছিল: আজ ইন্তেকাল করেছেন...
(খণ্ড: ১)
ঈজাহুদ দালীল ফী কাতয়ি হুজাজি আহলিত তাতীল
(পৃষ্ঠা: ২৭)
نَاصِر السّنة رَحمَه الله تَعَالَى وَرَضي الله عَنهُ وأرضاه وَكَانَ ذَلِك سنة 323
الطّرف الأول المشبهة والمجسمة وهم الَّذين نسبوا الله تَعَالَى إِلَى الجسمية وأسندوا إِلَيْهِ سُبْحَانَهُ كثيرا مِمَّا يسند إِلَى الْجِسْم معَاذ الله
وَقد نقل الإِمَام أَبُو الْحسن الْأَشْعَرِيّ فِي كِتَابه الشَّامِل مقالات الإسلاميين عَن بَعضهم كلَاما فِي حق الله تَعَالَى رُبمَا دلّ على التنقيص والاستهزاء بِاللَّه تَعَالَى فضلا عَن التجسيم وَلَا صلَة لَهُ بِالْعلمِ وَلَا بِالدَّلِيلِ فَقَالَ رَحمَه الله تَعَالَى وَاخْتلفت الروافض أَصْحَاب الْإِمَامَة فِي التجسيم وهم سِتّ فرق فالفرقة الأولى الهشامية أَصْحَاب هِشَام بن الحكم الرافضي يَزْعمُونَ أَن معبودهم جسم وَله نِهَايَة وحد طَوِيل عريض عميق طوله مثل عرضه وَعرضه مثل عمقه لَا يُوفى بعضه على بعض ص 31 وَذكر أَبُو الْهُذيْل فِي بعض كتبه أَن هِشَام بن الحكم قَالَ لَهُ إِن ربه جسم ذَاهِب جَاءَ فيتحرك تَارَة ويسكن أُخْرَى وَيقْعد مرّة وَيقوم أُخْرَى وَإنَّهُ طَوِيل عريض عميق لِأَن مالم يكن كَذَلِك دخل فِي حد التلاشي قَالَ فَقلت لَهُ إيما أعظم إلهك أم هَذَا الْجَبَل وأومأت إِلَى أبي قبيس جبل بِمَكَّة المكرمة قَالَ فَقَالَ إِن هَذَا الْجَبَل يُوفي عَلَيْهِ أَي هُوَ أعظم مِنْهُ
وَذكر ايضا ابْن الراوندي أَن هِشَام بن الحكم كَانَ يَقُول إِن بَين إلهه وَبَين الْأَجْسَام الْمُشَاهدَة تشابها من جِهَة من الْجِهَات وَلَوْلَا ذَلِك مَا دلّت عَلَيْهِ ص 32 وَزعم الْوراق أَن بعض أَصْحَاب هِشَام أَجَابَهُ مرّة أَن الله عز وجل على الْعَرْش مماس لَهُ وَأَنه لَا يفضل عَن الْعَرْش وَلَا يفضل الْعَرْش عَنهُ ص 33
وَقَالَ الذَّهَبِيّ رَحمَه الله تَعَالَى فِي تَرْجَمَة أبي عَامر الْعَبدَرِي مُحَمَّد بن سعدون قَالَ ابْن عَسَاكِر بَلغنِي أَنه أَي الْعَبدَرِي قَالَ إِن أهل الْبدع يَعْنِي أهل السّنة يحتجون بقوله تَعَالَى لَيْسَ كمثله شَيْء أَي فِي الإلهية فَأَما الصُّورَة فمثلنا ثمَّ يحْتَج بقوله تَعَالَى {لستن كَأحد من النِّسَاء إِن اتقيتن} أَي فِي الْحُرْمَة العبر فِي خبر من غبر
وَزعم بَيَان بن سمْعَان التَّمِيمِي أَن معنى قَوْله تَعَالَى (كل شَيْء هَالك إِلَّا وَجهه) أَن
সুন্নাহর সাহায্যকারী, আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন এবং আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন ও তাঁকে সন্তুষ্ট করুন; আর এটি ছিল ৩২৩ হিজরি সনে।
প্রথম পক্ষ: মুশাব্বিহা ও মুজাসসিমা (সাদৃশ্যদানকারী ও দেহবাদীগণ) তারা হচ্ছে ঐ সকল লোক যারা আল্লাহ তাআলার দিকে দেহবাদিতার সম্বন্ধ করে এবং সুবহানাহু ওয়া তাআলার প্রতি এমন অনেক বিষয় আরোপ করে যা দেহের প্রতি আরোপ করা হয়; আল্লাহর কাছে এ থেকে আশ্রয় চাই।
ইমাম আবুল হাসান আল-আশআরি তাঁর 'মাকালাতুল ইসলামিয়্যীন' নামক ব্যাপক গ্রন্থে তাদের কারো কারো পক্ষ থেকে আল্লাহ তাআলার শানে এমন কথা বর্ণনা করেছেন যা দেহবাদিতা ছাড়াও সম্ভবত আল্লাহ তাআলার অবমাননা ও উপহাসের ইঙ্গিত বহন করে, যার সাথে জ্ঞান বা দলিলের কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন) বলেন, রাফেজি ইমামীয়া গোষ্ঠীসমূহ দেহবাদিতার বিষয়ে মতভেদ করেছে এবং তারা ছয়টি উপদলে বিভক্ত। প্রথম উপদল হলো হিশামিয়্যাহ, যারা হিশাম ইবনে হাকাম রাফেজির অনুসারী। তারা দাবি করে যে, তাদের উপাস্য হলো একটি দেহ, এবং তাঁর শেষ ও সীমা আছে; তিনি দীর্ঘ, প্রশস্ত ও গভীর; তাঁর দৈর্ঘ্য তাঁর প্রস্থের মতো এবং তাঁর প্রস্থ তাঁর গভীরতার মতো; এর কোনো অংশ অন্য অংশের চেয়ে বেশি নয়। (পৃ. ৩১) আবুল হুযাইল তাঁর কোনো কোনো কিতাবে উল্লেখ করেছেন যে, হিশাম ইবনে হাকাম তাকে বলেছিলেন যে, তাঁর রব একটি দেহ, যিনি যাতায়াত করেন, ফলে কখনো নড়াচড়া করেন আবার কখনো স্থির থাকেন, একবার বসেন আবার একবার দাঁড়ান; আর তিনি দীর্ঘ, প্রশস্ত ও গভীর, কারণ যা এরূপ নয় তা বিলীন হওয়ার সীমানায় প্রবেশ করে। তিনি (আবুল হুযাইল) বলেন, তখন আমি তাকে বললাম: তোমার ইলাহ বড় নাকি এই পাহাড়টি বড়? —আমি মক্কা মুকাররমার আবু কুবাইস পাহাড়ের দিকে ইশারা করলাম। তিনি বলেন, তখন সে (হিশাম) বলল: নিশ্চয়ই এই পাহাড়টি তাঁর চেয়ে বড়।
ইবনুল রাওয়ান্দি আরও উল্লেখ করেছেন যে, হিশাম ইবনে হাকাম বলতেন যে, তাঁর ইলাহ এবং দৃশ্যমান দেহসমূহের মধ্যে কোনো না কোনো দিক থেকে সাদৃশ্য রয়েছে; আর যদি তা না হতো তবে ঐ দেহসমূহ তাঁর (ইলাহের) অস্তিত্বের প্রমাণ হতো না। (পৃ. ৩২) আল-ওয়াররাক দাবি করেছেন যে, হিশামের জনৈক অনুসারী তাকে একবার উত্তর দিয়েছিল যে, আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা আরশের উপর এর সাথে লেগে আছেন, আর তিনি আরশের চেয়ে অতিরিক্ত নন এবং আরশও তাঁর চেয়ে অতিরিক্ত নয়। (পৃ. ৩৩)
ইমাম জাহাবি (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন) আবু আমির আল-আবদারি মুহাম্মদ ইবনে সাদুনের জীবনীতে বলেন, ইবনে আসাকির বলেছেন: আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, তিনি (অর্থাৎ আল-আবদারি) বলেছেন: নিশ্চয়ই বিদআতিরা —অর্থাৎ আহলুস সুন্নাহ —আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে দলিল পেশ করে যে, "তাঁর সদৃশ কিছুই নেই"; অর্থাৎ ইলাহ হওয়ার ক্ষেত্রে, কিন্তু সুরত বা আকৃতির ক্ষেত্রে তিনি আমাদের মতোই। অতঃপর তিনি আল্লাহ তাআলার এই বাণীর মাধ্যমে দলিল পেশ করেন: "তোমরা অন্য কোনো নারীর মতো নও যদি তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করো"; অর্থাৎ মর্যাদার ক্ষেত্রে। (আল-ইবার ফি খাবারি মান গাবার)
বায়ান ইবনে সামআন আত-তামিমি দাবি করেছে যে, আল্লাহ তাআলার বাণী "তাঁর চেহারা ব্যতীত সবকিছুই ধ্বংসশীল"-এর অর্থ হলো যে...
(খণ্ড: ১)
ঈজাহুদ দালীল ফী কাতয়ি হুজাজি আহলিত তাতীল
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الله تَعَالَى يُدْرِكهُ الْهَلَاك وَأَنه لَا يبْقى مِنْهُ إِلَّا وَجهه وَلَا حول وَلَا قُوَّة إِلَّا بِاللَّه
وَأكْثر مَا أُتِي هَؤُلَاءِ كَانَ من
1 - غفلتهم عَن تَنْزِيه الله تَعَالَى عَن مشابهة الْخلق ومشابهة أحد من الْخلق لَهُ سُبْحَانَهُ كَمَا قَالَ جل جلاله لَيْسَ كمثله شَيْء وَهُوَ السَّمِيع الْبَصِير {قل هُوَ الله أحد الله الصَّمد لم يلد وَلم يُولد وَلم يكن لَهُ كفوا أحد} وَأَن مَا نسب الله تَعَالَى إِلَى نَفسه من صِفَات وأفعال فَإِنَّمَا هِيَ على وفْق مُرَاده سُبْحَانَهُ فَإِن كَانَ الْعباد يجهلون حَقِيقَة ذَات الله تَعَالَى فأحر بهم أَن يجهلوا صِفَاته فَعَلَيْهِم أَن يُؤمنُوا ويسلموا ويسكتوا لكِنهمْ غفلوا فشبهوا الْخَالِق بخلقه حَتَّى جِسْمه بَعضهم كَمَا رَأينَا.
2 - وَكَانَ من جِهَة بعض النُّصُوص المكذوبة على رَسُول الله صلى الله عليه وسلم مثل
- إِذا كَانَ يَوْم الْجُمُعَة ينزل الله تَعَالَى بَين الآذان وَالْإِقَامَة عَلَيْهِ رِدَاء مَكْتُوب عَلَيْهِ إِنَّنِي أَنا الله لَا إِلَه إِلَّا أَنا يقف فِي قبْلَة كل مصل مُقبلا عَلَيْهِ إِلَى أَن يفرغ من صلَاته لَا يسْأَل الله عبد تِلْكَ السَّاعَة شَيْئا إِلَّا أعطَاهُ إِيَّاه فَإِذا سلم إلامام فِي صلَاته صعد إِلَى السَّمَاء رَوَاهُ ابْن عَسَاكِر من حَدِيث أنس من طَرِيق أبي عَليّ الْأَهْوَازِي وَهُوَ الْمُتَّهم بِهِ
- رَأَيْت رَبِّي بمنى يَوْم النَّفر على جمل أَوْرَق عَلَيْهِ جُبَّة صوف أَمَام النَّاس أبن عَسَاكِر من حَدِيث لَقِيط بن عَامر من طَرِيق الْأَهْوَازِي أَيْضا وَقَالَ فِيهِ وَفِي الَّذِي قبله كتبهما الْخَطِيب عَن الْأَهْوَازِي تَعَجبا من نكارتهما وهما باطلان
- إِذا أَرَادَ الله أَن ينزل إِلَى السَّمَاء الدُّنْيَا ينزل عَن عَرْشه بِذَاتِهِ أَبُو نعيم فِي التَّارِيخ من حَدِيث أنس عَن طَرِيق مُحَمَّد بن عِيسَى الطرسوسي عَن نعيم بن حَمَّاد عَن جرير عَن اللَّيْث بن أبي سليم عَن بشر عَن أنس ونعيم يَأْتِي بالطامات فَلَا يدْرِي الْبلَاء مِنْهُ أَو من الطرسوسي قلت قَالَ الذَّهَبِيّ فِي كتاب الْعَرْش وَبشر لَا يدْرِي من هُوَ وَلَعَلَّ هَذَا مَوْضُوع
আল্লাহ তাআলা ধ্বংসের সম্মুখীন হবেন এবং তাঁর চেহারা ব্যতীত তাঁর আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না; আর আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো ক্ষমতা বা শক্তি নেই।
এবং এদের অধিকাংশের বিপথগামী হওয়ার কারণ ছিল
১ - আল্লাহ তাআলাকে সৃষ্টির সদৃশ হওয়া থেকে এবং কোনো সৃষ্টি তাঁর সদৃশ হওয়া থেকে পবিত্র ঘোষণা করার বিষয়ে তাদের উদাসীনতা, যেমনটি আল্লাহ মহান ইরশাদ করেছেন: "তাঁর সদৃশ কিছুই নেই এবং তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।" {বলুন, তিনিই আল্লাহ, একক। আল্লাহ অমুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও জন্ম দেওয়া হয়নি। আর তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই।} এবং আল্লাহ তাআলা নিজের জন্য যেসব গুণাবলী ও কার্যাবলী নিসবত করেছেন, সেগুলো তাঁরই ইচ্ছা অনুযায়ী। যদি বান্দারা আল্লাহ তাআলার সত্তার হাকীকত সম্পর্কে অজ্ঞ হয়, তবে তাঁর গুণাবলী সম্পর্কে অজ্ঞ থাকাটাই তাদের জন্য সংগত। সুতরাং তাদের উচিত হলো ঈমান আনা, আত্মসমর্পণ করা এবং চুপ থাকা; কিন্তু তারা উদাসীন হয়েছে এবং স্রষ্টাকে তাঁর সৃষ্টির সাথে তুলনা করেছে, এমনকি তাদের কেউ কেউ তাঁকে দেহধারী হিসেবে কল্পনা করেছে, যেমনটি আমরা দেখেছি।
২ - এবং এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নামে প্রচলিত কিছু মিথ্যা টেক্সটের কারণেও ছিল, যেমন:
- যখন জুমার দিন আসে, তখন আল্লাহ তাআলা আযান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ে নিচে নামেন, তাঁর ওপর একটি চাদর থাকে যাতে লেখা থাকে "নিশ্চয়ই আমিই আল্লাহ, আমি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই", তিনি প্রত্যেক সালাত আদায়কারীর কিবলার দিকে তার অভিমুখে অবস্থান করেন যতক্ষণ না সে তার সালাত থেকে অবসর হয়। সেই মুহূর্তে কোনো বান্দা আল্লাহর কাছে যা-ই প্রার্থনা করে, তিনি তাকে তা দান করেন। অতঃপর যখন ইমাম সালাতে সালাম ফেরান, তখন তিনি আসমানের দিকে উঠে যান। এটি ইবনে আসাকির আনাস-এর হাদীস থেকে আবু আলী আল-আহওয়াজীর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, আর সে-ই এই বর্ণনার ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তি।
- আমি আমার রবকে মিনায় প্রত্যাবর্তনের দিনে একটি ধূসর উটের ওপর পশমী জুব্বা পরিহিত অবস্থায় মানুষের সামনে দেখেছি। ইবনে আসাকির এটি লাকীত বিন আমির-এর হাদীস থেকে আল-আহওয়াজীর মাধ্যমেই বর্ণনা করেছেন। আর তিনি এই হাদীস এবং এর আগেরটি সম্পর্কে বলেছেন: খতীব এগুলো আল-আহওয়াজী থেকে তাদের আপত্তিকর বৈশিষ্ট্যের কারণে বিস্ময় প্রকাশ করে লিপিবদ্ধ করেছেন এবং এ দুটিই বাতিল।
- যখন আল্লাহ দুনিয়ার আসমানে নামার ইচ্ছা করেন, তখন তিনি স্বয়ং তাঁর আরশ থেকে নিচে নামেন। আবু নুআইম 'তারীখ' গ্রন্থে আনাস-এর হাদীস থেকে মুহাম্মাদ বিন ঈসা আত-তারসূসী, নুইম বিন হাম্মাদ, জারীর, লাইস বিন আবি সুলাইম, বিশর ও আনাস-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। নুইম বড় বড় আপত্তিকর বর্ণনা নিয়ে আসতেন, ফলে বোঝা যায় না যে আপদটি তাঁর থেকে নাকি তারসূসীর থেকে। আমি বলি: যাহাবী 'কিতাবুল আরশ' গ্রন্থে বলেছেন যে, বিশর কে তা জানা যায় না এবং সম্ভবত এটি একটি জাল বর্ণনা।
(খণ্ড: ১)
ঈজাহুদ দালীল ফী কাতয়ি হুজাজি আহলিত তাতীল
(পৃষ্ঠা: ২৯)
- وروى عبيد بن حنين قَالَ بَيْنَمَا أَنا جَالس فِي الْمَسْجِد إِذْ جَاءَ قَتَادَة بن النُّعْمَان فَجَلَسَ يتحدث ثمَّ قَالَ أَن انْطلق بِنَا إِلَى أبي سعيد الْخُدْرِيّ فَإِنَّهُ قد أخْبرت أَنه اشْتَكَى فَانْطَلَقْنَا حَتَّى دَخَلنَا على أبي سعيد فوجدناه مُسْتَلْقِيا وَاضِعا رجله الْيُمْنَى على الْيُسْرَى فسلمنا عَلَيْهِ وَجَلَسْنَا فَرفع قَتَادَة يَده إِلَى رجل أبي سعيد الْخُدْرِيّ وقرصها قرصة شَدِيدَة فَقَالَ أَبُو سعيد سُبْحَانَ الله يَا ابْن آدم أوجعتني قَالَ ذَلِك أردْت لِأَن الله تَعَالَى لما قضى خلقه اسْتلْقى ثمَّ وضع إِحْدَى رجلَيْهِ على الْأُخْرَى ثمَّ قَالَ لَا يَنْبَغِي لأحد من خلقي أَن يفعل هَذَا قَالَ أَبُو سعيد لَا جرم لَا أَفعلهُ أبدا رَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ فِي الْأَسْمَاء وَالصِّفَات ثمَّ قَالَ هَذَا // حَدِيث مُنكر // وَفِيه فليح بن سُلَيْمَان لَا يحْتَج بحَديثه قَالَ عبد الله بن أَحْمد بن حَنْبَل مَا رَأَيْت هَذَا الحَدِيث فِي دواوين الشَّرِيعَة الْمُعْتَمد عَلَيْهَا وَعبيد بن حنين قَالَ فِيهِ البُخَارِيّ لَا يَصح حَدِيثه وَفِي الحَدِيث عِلّة أُخْرَى وَهِي أَن قَتَادَة بن النُّعْمَان مَاتَ فِي خلَافَة عمر رضي الله عنه وَعبيد بن حنين مَاتَ سنة خمس وَمِائَة وَله خمس وَسَبْعُونَ سنة فِي قَول الْوَاقِدِيّ فَتكون رِوَايَته عَن قَتَادَة بن النُّعْمَان مُنْقَطِعَة قَالَ الإِمَام أَحْمد ثمَّ لَو صَحَّ طَرِيقه احْتمل أَن يكون رَسُول الله صلى الله عليه وسلم حدث بِهِ عَن بعض أهل الْكتاب من طَرِيق الْإِنْكَار عَلَيْهِم فَلم يفهم قَتَادَة إِنْكَاره
قلت يرحم الله أَحْمد بن حَنْبَل مَا كَانَ أعظم عقله وَهُوَ يقرا وَيسمع حَدِيث رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَلم يكن حَاطِب ليل لَا يَقُول بِكُل مَا يقْرَأ وَيسمع من الحَدِيث حَتَّى يعرضه على الْأُصُول
وَلَقَد ثَبت فِي البُخَارِيّ عَن عباد بن تَمِيم عَن عَمه أَنه رأى النَّبِي صلى الله عليه وسلم مُسْتَلْقِيا فِي الْمَسْجِد وَاضِعا إِحْدَى رجلَيْهِ على الْأُخْرَى // صَحِيح البُخَارِيّ // كتاب الصَّلَاة واللباس وَمُسلم فِي اللبَاس وَأَبُو دَاوُد فِي الْأَدَب
وَقَالَ الإِمَام الْقُرْطُبِيّ رَحمَه الله تَعَالَى فِي تَفْسِيره عِنْد قَوْله تَعَالَى {وَلَقَد خلقنَا السَّمَاوَات وَالْأَرْض وَمَا بَينهمَا فِي سِتَّة أَيَّام وَمَا مسنا من لغوب} ق 38 مَا نَصه قَالَ قَتَادَة والكلبي هَذِه الْآيَة نزلت فِي يهود الْمَدِينَة زَعَمُوا أَن الله تَعَالَى خلق السَّمَوَات وَالْأَرْض فِي سِتَّة أَيَّام أَولهَا الْأَحَد وَآخِرهَا يَوْم الْجُمُعَة واستراح يَوْم السبت فجعلوه
উবাইদ বিন হুনায়ন থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি যখন মসজিদে বসা ছিলাম, তখন কাতাদাহ বিন নুমান আসলেন এবং বসে কথা বলতে লাগলেন। তারপর তিনি বললেন, চলুন আমরা আবু সাঈদ আল-খুদরীর কাছে যাই, কারণ আমাকে জানানো হয়েছে যে তিনি অসুস্থ। এরপর আমরা রওনা হলাম এবং আবু সাঈদের কাছে প্রবেশ করলাম। আমরা তাকে চিৎ হয়ে শোয়া অবস্থায় পেলাম, তিনি তার ডান পা বাম পায়ের উপরে রেখেছিলেন। আমরা তাকে সালাম দিলাম এবং বসলাম। তখন কাতাদাহ তার হাত আবু সাঈদ আল-খুদরীর পায়ের দিকে বাড়িয়ে দিলেন এবং সেখানে জোরে একটি চিমটি দিলেন। আবু সাঈদ বললেন, সুবহানাল্লাহ! হে আদম সন্তান, আপনি আমাকে কষ্ট দিলেন। তিনি (কাতাদাহ) বললেন, আমি এটাই চেয়েছিলাম; কারণ আল্লাহ তাআলা যখন সৃষ্টিজগত সম্পন্ন করলেন, তখন তিনি চিৎ হয়ে শুলেন, তারপর তাঁর এক পা অপরটির উপর রাখলেন। এরপর তিনি বললেন, আমার সৃষ্টির কারো জন্য এরূপ করা শোভনীয় নয়। আবু সাঈদ বললেন, অবশ্যই আমি আর কখনো এটি করব না। এটি বায়হাকী আল-আসমা ওয়া আস-সিফাত গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। অতঃপর তিনি বলেছেন, এটি একটি মুনকার (অস্বীকৃত) হাদিস। এর বর্ণনাকারীদের মধ্যে ফুলয়াহ বিন সুলাইমান রয়েছেন, যার হাদিস দলিল হিসেবে গ্রহণ করা যায় না। আবদুল্লাহ বিন আহমদ বিন হাম্বল বলেছেন, নির্ভরযোগ্য শরীয়ত গ্রন্থসমূহে আমি এই হাদিসটি দেখিনি। উবাইদ বিন হুনায়ন সম্পর্কে বুখারী বলেছেন, তার হাদিস সহীহ নয়। এই হাদিসে আরও একটি ত্রুটি রয়েছে, আর তা হলো কাতাদাহ বিন নুমান উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর খিলাফতকালে ইন্তেকাল করেন, আর উবাইদ বিন হুনায়ন ইন্তেকাল করেন ১০৫ হিজরিতে—ওয়াকিদীর মতে তার বয়স তখন পঁচাত্তর বছর ছিল। সুতরাং কাতাদাহ বিন নুমান থেকে তার বর্ণনাটি বিচ্ছিন্ন (মুনকাতি)। ইমাম আহমদ বলেছেন, যদি এর সনদ সহীহও হতো, তবে সম্ভাবনা ছিল যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আহলে কিতাবদের কোনো কথা তাদের প্রতি অস্বীকৃতি জানানোর জন্য উল্লেখ করেছিলেন, কিন্তু কাতাদাহ সেই অস্বীকৃতিটি বুঝতে পারেননি।
আমি বলি, আল্লাহ তাআলা আহমদ বিন হাম্বলের প্রতি রহম করুন, তাঁর প্রজ্ঞা কতই না মহান ছিল। তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদিস পড়তেন ও শুনতেন, কিন্তু তিনি 'রাতের কাঠকুড়ানি' (যাচাই-বাছাই ছাড়া সংগ্রাহক) ছিলেন না। তিনি যা পড়তেন বা শুনতেন তার সবকিছুই বর্ণনা করতেন না, যতক্ষণ না তা মূলনীতিসমূহের (উসূল) আলোকে যাচাই করতেন।
বুখারীতে আব্বাদ বিন তামীম থেকে তাঁর চাচার সূত্রে প্রমাণিত হয়েছে যে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে মসজিদে চিৎ হয়ে শোয়া অবস্থায় এবং তাঁর এক পা অপর পায়ের ওপর রাখা অবস্থায় দেখেছিলেন। (সহীহ বুখারী: সালাত ও পোশাক অধ্যায়; মুসলিম: পোশাক অধ্যায়; এবং আবু দাউদ: আদব অধ্যায়)।
ইমাম কুরতুবী (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর তাফসীরে আল্লাহ তাআলার এই বাণীর ব্যাখ্যায়—"আমি আসমানসমূহ, যমীন এবং এ দুটির মধ্যবর্তী সবকিছু ছয় দিনে সৃষ্টি করেছি এবং আমাকে কোনো ক্লান্তি স্পর্শ করেনি" (সূরা ক্বাফ: ৩৮)—বলেন: কাতাদাহ ও কালবী বলেছেন, এই আয়াতটি মদীনার ইহুদিদের সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। তারা দাবি করত যে, আল্লাহ তাআলা আসমান ও যমীন ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, যার শুরু ছিল রবিবার এবং শেষ ছিল শুক্রবার, আর তিনি শনিবার বিশ্রাম নিয়েছিলেন। ফলে তারা সেটিকে...
(খণ্ড: ১)
ঈজাহুদ দালীল ফী কাতয়ি হুজাজি আহলিত তাতীল
(পৃষ্ঠা: ৩০)
يَوْم رَاحَة فأكذبهم الله تَعَالَى فِي ذَلِك
قَالَ الْحَافِظ أَبُو الْفرج بن الْجَوْزِيّ بَاب ذكر الْأَحَادِيث الَّتِي سَموهَا أَخْبَار الصِّفَات
الحَدِيث التَّاسِع وَالثَّلَاثُونَ من سِتِّينَ حَدِيثا رُوِيَ عَن عَائِشَة رضي الله عنها قَالَت سُئِلَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم عَن الْمقَام الْمَحْمُود فَقَالَ صلى الله عليه وسلم وَعَدَني رَبِّي عز وجل بالقعود على الْعَرْش هَذَا حَدِيث لَا يَصح عَن رَسُول الله وَقَالَ ابْن عمر {وَإِن لَهُ عندنَا لزلفى وَحسن مآب} قَالَ ذكر الدنو مِنْهُ حَتَّى يمس بعضه وَهَذَا كذب على ابْن عمر
قلت هَذَا الْخَبَر وَقَول مُجَاهِد وَسَيَأْتِي ذكره ذكره الذَّهَبِيّ فِي الْعُلُوّ وانْتهى فِيهِ بعد الْكَلَام الطَّوِيل إِلَى تَقْرِير أَنه بَاطِل وَكَذَا فعل مُخْتَصره السلَفِي مُحَمَّد نَاصِر الدّين الألباني وَالْحَمْد لله
قلت وَكَانَ الإِمَام مُحَمَّد زاهد الكوثري رَحمَه الله تَعَالَى قد سبق السلَفِي مُحَمَّد نَاصِر الدّين إِلَى الحكم بِوَضْع الأبيات الْمَذْكُورَة مَعَ خبر مُجَاهِد وتنسب إِلَى الإِمَام الدَّارَقُطْنِيّ فِي الإقعاد وافترائها عَلَيْهِ رَحمَه الله تَعَالَى والأبيات المفتراة هِيَ
(حَدِيث الشَّفَاعَة عَن أَحْمد
… إِلَى أَحْمد الْمُصْطَفى مُسْنده)
(وَجَاء الحَدِيث بإقعاده
… على الْعَرْش أَيْضا فَلَا نجحده)
(أمروا الحَدِيث على وَجهه
… وَلَا تدْخلُوا فِيهِ مَا يُفْسِدهُ)
(وَلَا تنكروا أَنه قَاعد
… ولاتنكروا أَنه يقعده)
وَقد نَسَبهَا ابْن الْقيم فِي كِتَابه بَدَائِع الْفَوَائِد إِلَى الدَّارَقُطْنِيّ وَلم يذكر بطلَان تِلْكَ النِّسْبَة وَكَذَلِكَ فعل صَاحب كتاب مفاهيم يجب أَن تصحح قَالَ الإِمَام الْقُرْطُبِيّ عِنْد تَفْسِير قَوْله تَعَالَى {عَسى أَن يَبْعَثك رَبك مقَاما مَحْمُودًا} الْإِسْرَاء 79 اختف فِي الْمقَام الْمَحْمُود على اربعة أَقْوَال الأول وَهُوَ أَصَحهَا الشَّفَاعَة للنَّاس يَوْم الْقِيَامَة قَالَه حُذَيْفَة بن الْيَمَان وَفِي البُخَارِيّ عَن ابْن عمر رضي الله عنهما قَالَ إِن
বিশ্রামের দিন, অতঃপর আল্লাহ তাআলা তাদের এই বিষয়ে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছেন।
হাফেজ আবুল ফরাজ ইবনুল জাওজি বলেছেন: অনুচ্ছেদ - সেই হাদিসগুলোর বর্ণনা যেগুলোকে তারা সিফাত সংক্রান্ত সংবাদ হিসেবে নামকরণ করেছে।
ষাটটি হাদিসের মধ্যে উনচল্লিশতম হাদিস; আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে প্রশংসিত স্থান (মাকামে মাহমুদ) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: "আমার মহান পালনকর্তা আমাকে আরশের উপর বসানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।" এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত একটি সহিহ হাদিস নয়। ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, "আর নিশ্চয়ই আমাদের কাছে তার জন্য রয়েছে নৈকট্য ও শুভ পরিণাম"। তিনি বলেন, এর দ্বারা তাঁর (আল্লাহর) নিকটবর্তী হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে এমনকি তাঁর কিছু অংশ স্পর্শ করা পর্যন্ত। আর এটি ইবনে ওমরের নামে একটি মিথ্যাচার।
আমি বলছি, এই সংবাদটি এবং মুজাহিদের উক্তি - যার বর্ণনা সামনে আসবে - ইমাম জাহাবি তাঁর ‘আল-উলুউ’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং দীর্ঘ আলোচনার পর এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে এটি বাতিল। অনুরূপভাবে এর সারসংক্ষেপকারী সালাফি মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আলবানীও তাই করেছেন, আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর।
আমি বলছি, ইমাম মুহাম্মদ জাহিদ আল-কাওসারি রহমতুল্লাহি আলাইহি সালাফি মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিনের পূর্বেই মুজাহিদের সংবাদের সাথে উল্লিখিত কবিতাগুলোকে জাল বলে রায় প্রদানের ক্ষেত্রে অগ্রগামী ছিলেন। এই কবিতাগুলো ‘আল-ইকআদ’ (বসানো) বিষয়ে ইমাম দারা কুতনির দিকে সম্বন্ধ করা হয়, অথচ এটি তাঁর ওপর একটি অপবাদ। অপবাদমূলক কবিতাগুলো হলো:
(আহমদ থেকে বর্ণিত শাফায়াতের হাদিস
… আহমদ মুস্তফা পর্যন্ত এর সনদ রয়েছে)
(আর তাঁকে বসানোর ব্যাপারেও হাদিস এসেছে
… আরশের উপর, সুতরাং আমরা তা অস্বীকার করি না)
(হাদিসকে তার বাহ্যিক রূপেই চলতে দাও
… আর এতে এমন কিছু প্রবেশ করাও না যা একে কলুষিত করে)
(আর তোমরা অস্বীকার করো না যে তিনি উপবিষ্ট
… আর তোমরা অস্বীকার করো না যে তিনি তাঁকে বসাবেন)
ইবনুল কাইয়্যিম তাঁর ‘বাদায়িউল ফাওয়ায়িদ’ গ্রন্থে এগুলোকে দারা কুতনির দিকে সম্বন্ধ করেছেন এবং এই সম্বন্ধের অসারতা উল্লেখ করেননি। অনুরূপভাবে ‘মাফাহিম ইয়াজিবু আন তুসাহহা’ কিতাবের লেখকও করেছেন। ইমাম কুরতুবি আল্লাহ তাআলার বাণী— "হয়তো শীঘ্রই তোমার পালনকর্তা তোমাকে প্রশংসিত স্থানে (মাকামে মাহমুদ) উঠাবেন" (আল-ইসরা: ৭৯)—এর তাফসিরের সময় বলেছেন: প্রশংসিত স্থান নিয়ে চারটি মত রয়েছে। প্রথম মতটি—যা সর্বাধিক সঠিক—তা হলো কিয়ামতের দিন মানুষের জন্য শাফায়াত করা। এটি হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন এবং বুখারিতে ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, নিশ্চয়ই...
(খণ্ড: ১)
ঈজাহুদ দালীল ফী কাতয়ি হুজাজি আহলিত তাতীল
(পৃষ্ঠা: ৩১)
النَّاس يصيرون يَوْم الْقِيَامَة جثا جماعات أمة تتبع نبيها تَقول يَا فلَان اشفع حَتَّى تَنْتَهِي الشَّفَاعَة إِلَى النَّبِي صلى الله عليه وسلم فَذَلِك يَوْم يَبْعَثهُ الله الْمقَام الْمَحْمُود وَذكر الْقُرْطُبِيّ خمس شفاعات للنَّبِي صلى الله عليه وسلم ثمَّ قَالَ القَوْل الثَّانِي إِن الْمقَام الْمَحْمُود إِعْطَاؤُهُ لِوَاء الْحَمد يَوْم الْقِيَامَة قلت وَهَذَا القَوْل لَا تنافر بَينه وَبَين الأول فَإِنَّهُ يكون بِيَدِهِ لِوَاء الْحَمد ويشفع روى التِّرْمِذِيّ عَن أبي سعيد قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَنا سيد ولد آدم يَوْم الْقِيَامَة وَلَا فَخر وَبِيَدِي لِوَاء الْحَمد وَلَا فَخر وَمَا من نَبِي يَوْمئِذٍ آدم فَمن سواهُ إِلَّا تَحت لِوَائِي الجديث
القَوْل الثَّالِث مَا حَكَاهُ الطَّبَرِيّ عَن فرقة مِنْهَا مُجَاهِد أَنَّهَا قَالَت الْمقَام الْمَحْمُود هُوَ أَن يجلس الله تَعَالَى مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم مَعَه على كرسيه وروت فِي ذَلِك حَدِيثا هُوَ حَدِيث عَائِشَة وَتقدم أَنه لَا يَصح وعضد الطَّبَرِيّ جَوَاز ذَلِك بشطط من القَوْل وَهُوَ لَا يخرج إِلَّا على تلطف فِي الْمَعْنى وَفِيه بعد وَلَا يُنكر مَعَ ذَلِك أَن يرْوى وَالْعلم يتأوله وَذكر النقاش عَن أبي دَاوُد السجسْتانِي أَنه قَالَ من أنكر هَذَا الحَدِيث فَهُوَ عندنَا مُتَّهم مَا زَالَ أهل الْعلم يتحدثون بِهَذَا من أنكر جَوَازه على تَأْوِيله قَالَ أَبُو عمر وَمُجاهد وَإِن كَانَ أحد الْأَئِمَّة يتَأَوَّل الْقُرْآن فَإِن لَهُ قَوْلَيْنِ مهجورين عِنْد أهل الْعلم أَحدهمَا هَذَا وَالثَّانِي فِي تَأْوِيل قَوْله تَعَالَى {وُجُوه يَوْمئِذٍ ناضرة إِلَى رَبهَا ناظرة} قَالَ تنْتَظر الثَّوَاب لَيْسَ من النّظر قلت ذكر هَذَا فِي بَاب ابْن شهَاب فِي حَدِيث التَّنْزِيل وَرُوِيَ عَن مُجَاهِد أَيْضا فِي هَذِه الْآيَة قَالَ يجلسه على الْعَرْش وَهَذَا تَأْوِيل غير مُسْتَحِيل لِأَن الله تَعَالَى كَانَ قبل خلقه الْأَشْيَاء كلهَا وَالْعرش قَائِما بِذَاتِهِ ثمَّ خلق الْأَشْيَاء من غير حَاجَة إِلَيْهَا بل إِظْهَارًا لقدرته وحكمته وليعرف وجوده وتوحيده وَكَمَال قدرته وَعلمه بِكُل أَفعاله المحكمة وَخلق لنَفسِهِ عرشا اسْتَوَى عَلَيْهِ كَمَا شَاءَ من غير أَن صَار مماسا لَهُ أَو كَانَ الْعَرْش لَهُ مَكَانا قيل هُوَ الْآن على الصّفة الَّتِي كَانَ عَلَيْهَا من قبل أَن يخلق الْمَكَان وَالزَّمَان فعلى هَذَا القَوْل سَوَاء فِي الْجَوَاز أقعد مُحَمَّد على الْعَرْش أَو على الأَرْض لِأَن اسْتِوَاء الله تَعَالَى على الْعَرْش لَيْسَ بِمَعْنى الِانْتِقَال والزوال وتحويل الْأَحْوَال من الْقيام وَالْقعُود وَالْحَال الَّتِي تشغل الْعَرْش بل هُوَ مستو على عَرْشه كَمَا أخبر
কিয়ামতের দিন মানুষ হাঁটু গেড়ে উবু হয়ে দলে দলে বিভক্ত হবে; প্রতিটি উম্মত তাদের নবীর অনুসরণ করবে। তারা বলবে, "হে অমুক, সুপারিশ করুন," এভাবে সুপারিশের আবেদন শেষ পর্যন্ত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট পৌঁছাবে। সেটিই হবে সেই দিন যেদিন আল্লাহ তাঁকে মাকামে মাহমুদে বা প্রশংসিত স্থানে উত্থিত করবেন। আল-কুরতুবী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য পাঁচটি সুপারিশের কথা উল্লেখ করেছেন। অতঃপর তিনি বলেছেন, দ্বিতীয় অভিমতটি হলো মাকামে মাহমুদ হলো কিয়ামতের দিন তাঁকে প্রশংসার পতাকা (লিওয়াউল হামদ) দান করা। আমি বলি, এই মত এবং প্রথম মতের মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই; কারণ তাঁর হাতেই প্রশংসার পতাকা থাকবে এবং তিনিই সুপারিশ করবেন। তিরমিযী আবু সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "আমি কিয়ামতের দিন আদম সন্তানদের সরদার এবং এতে কোনো অহংকার নেই। আমার হাতে থাকবে প্রশংসার পতাকা এবং এতেও কোনো অহংকার নেই। সেদিন আদম এবং তাঁর পরবর্তী সকল নবী আমার পতাকাতলে থাকবেন।"
তৃতীয় অভিমত হলো যা তাবারী মুজাহিদ সহ একটি দল থেকে বর্ণনা করেছেন যে, মাকামে মাহমুদ হলো আল্লাহ তাআলা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর সাথে তাঁর কুরসিতে বসাবেন। এই বিষয়ে তারা একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন যা আয়েশার হাদীস, তবে এটি যে সহীহ নয় তা আগেই বর্ণিত হয়েছে। তাবারী এই বিষয়ের বৈধতাকে কঠোর বক্তব্যের মাধ্যমে সমর্থন করেছেন যা কেবল অর্থের সূক্ষ্ম ব্যাখ্যার মাধ্যমেই গ্রহণ করা সম্ভব এবং এতে দূরবর্তিতা রয়েছে। তা সত্ত্বেও এটি বর্ণনা করাকে অস্বীকার করা যায় না এবং ইলম এর ব্যাখ্যা প্রদান করে। আন-নাক্কাশ আবু দাউদ আস-সিজিস্তানি থেকে উল্লেখ করেছেন যে তিনি বলেছেন, "যে ব্যক্তি এই হাদীসটি অস্বীকার করে সে আমাদের নিকট অভিযুক্ত।" আহলে ইলমগণ সর্বদা এটি নিয়ে আলোচনা করতেন। যারা এর ব্যাখ্যার ভিত্তিতে এর বৈধতা অস্বীকার করেছেন, তারা বলেছেন যে আবু উমর ও মুজাহিদ যদিও কুরআন ব্যাখ্যার অন্যতম ইমাম ছিলেন, তবুও আহলে ইলমের নিকট তাঁর দুটি অভিমত বর্জনীয়। এর একটি হলো এইটি, আর দ্বিতীয়টি হলো মহান আল্লাহর বাণী— "সেদিন কিছু মুখমণ্ডল উজ্জ্বল হবে, তাদের রবের দিকে তাকিয়ে থাকবে"—এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেছেন, "তারা সওয়াবের অপেক্ষায় থাকবে", এটি দেখার অর্থে নয়। আমি বলি, এটি ইবনে শিহাবের অধ্যায়ে অবতরণ সংক্রান্ত হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে। মুজাহিদ থেকে এই আয়াত সম্পর্কে আরও বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন, "আল্লাহ তাঁকে আরশের ওপর বসাবেন।" এটি একটি অসম্ভব ব্যাখ্যা নয়, কারণ আল্লাহ তাআলা সমস্ত বস্তু সৃষ্টির পূর্বে বিদ্যমান ছিলেন এবং আরশ তাঁর স্বীয় সত্তায় কায়েম ছিল। অতঃপর তিনি কোনো প্রয়োজন ছাড়াই বরং নিজের ক্ষমতা ও প্রজ্ঞা প্রকাশের জন্য এবং তাঁর অস্তিত্ব, তাওহীদ এবং তাঁর সকল নিপুণ কার্যাবলীর প্রতি তাঁর ক্ষমতার পূর্ণতা ও জ্ঞানের পরিচয় দেওয়ার জন্য বস্তুসমূহ সৃষ্টি করেছেন। তিনি নিজের জন্য একটি আরশ সৃষ্টি করেছেন যার ওপর তিনি যেভাবে চেয়েছেন সেভাবে উঠেছেন, এতে তিনি আরশের সাথে স্পর্শযুক্ত হননি কিংবা আরশ তাঁর জন্য কোনো স্থানও হয়নি। বলা হয়েছে যে, স্থান ও কাল সৃষ্টির পূর্বে তিনি যে বৈশিষ্ট্যে ছিলেন, এখনও সেভাবেই আছেন। সুতরাং এই অভিমত অনুযায়ী, মুহাম্মদকে আরশের ওপর বসানো হোক বা জমিনের ওপর, তা বৈধ হওয়ার ক্ষেত্রে সমান; কারণ আল্লাহর আরশের ওপর উঠা কোনো স্থানান্তর হওয়া, সরে যাওয়া কিংবা দাঁড়ানো বা বসা থেকে অবস্থার পরিবর্তনের অর্থে নয় যা আরশকে পরিবেষ্টন করে। বরং তিনি তাঁর আরশের ওপর উঠেছেন ঠিক যেমন তিনি সংবাদ দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
ঈজাহুদ দালীল ফী কাতয়ি হুজাজি আহলিত তাতীল
(পৃষ্ঠা: ৩২)
عَن نَفسه بِلَا كَيفَ وَلَيْسَ إقعاده مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم مُوجبا لَهُ صفة الربوبية أَو مخرجا لَهُ عَن صفة الْعُبُودِيَّة بل هُوَ رفع لمحله وتشريف لَهُ على خلقه وَأما قَوْله فِي الْأَخْبَار مَعَه فَهُوَ بِمَنْزِلَة قَوْله {إِن الَّذين عِنْد رَبك} آخر الْأَعْرَاف و {رب ابْن لي عنْدك بَيْتا فِي الْجنَّة} التَّحْرِيم 11 و {وَإِن الله لمع الْمُحْسِنِينَ} آخر العنكبوت وَنَحْو ذَلِك كل ذَلِك عَائِد إِلَى الرُّتْبَة والمنزلة والحظوة والدرجة الرفيعة لَا إِلَى الْمَكَان
أَقُول إِنَّمَا نقلت كَلَام الْقُرْطُبِيّ على طوله فِيمَا نقل عَن مُجَاهِد مَعَ أَنه مَبْنِيّ على أصل بَاطِل لَا يَصح ويعارض الصَّحِيح من الحَدِيث وَقد بلغ التَّوَاتُر الْمَعْنَوِيّ من أجل أَن يُقَاس عَلَيْهِ فِيمَا يَصح مِمَّا يجب تَأْوِيله تَنْزِيها لله تَعَالَى عَن مشابهة الْخلق وَذكر السُّيُوطِيّ فِي كِتَابه تحذير الْخَواص من أَحَادِيث الْقصاص تَحْقِيق الدكتور مُحَمَّد الصَّباح أَن الإِمَام الطَّبَرِيّ بلغه أَن قَاصا جلس فِي بَغْدَاد فروى فِي تَفْسِير قَوْله تَعَالَى {عَسى أَن يَبْعَثك رَبك مقَاما مَحْمُودًا} أَنه يجلسه على عَرْشه فَلَمَّا بلغه ذَلِك احتد على ذَلِك وَبَالغ فِي إِنْكَاره وَقَالَ إِن حَدِيث الْجُلُوس على الْعَرْش محَال ثمَّ أنْشد
(سُبْحَانَ من لَيْسَ لَهُ أنيس
… وَلَا لَهُ فِي عَرْشه جليس)
والقصة على طرافتها ذكرهَا ياقوت الْحَمَوِيّ فِي مُعْجم الْبلدَانِ 18 - 57 وَأَبُو حَيَّان فِي الْبَحْر الْمُحِيط 6 \ 72، 73 ونعوذ بِاللَّه من الخذلان
قَالَ ابْن حزم الظَّاهِرِيّ ذهبت طَائِفَة إِلَى القَوْل بِأَن الله تَعَالَى جسم وحجتهم فِي ذَلِك أَنه لَا يقوم فِي الْمَعْقُول إِلَّا جسم أَو غَرَض فَلَمَّا بَطل أَن يكون تَعَالَى عرضا ثَبت أَنه جسم وَقَالُوا إِن الْفِعْل لَا يَصح إِلَّا من جسم وَإِن الْبَارِي تَعَالَى فَاعل فَوَجَبَ أَنه جسم فَأجَاب أما فَسَاد قَوْلهم إِنَّه لَا يقوم فِي الْمَعْقُول إِلَّا جسم أَو عرض فَإِنَّهَا قسْمَة نَاقِصَة وَإِنَّمَا الصَّوَاب أَنه لَا يُوجد فِي الْعَالم إِلَّا جسم أَو عرض وَكِلَاهُمَا يَقْتَضِي بطبيعته وجود مُحدث لَهُ فبالضرورة نعلم أَنه لَو كَانَ مُحدثا جسما أَو عرضا لَكَانَ يَقْتَضِي فَاعِلا فعله ولابد فَوَجَبَ بِالضَّرُورَةِ أَن فَاعل الْجِسْم وَالْعرض لَيْسَ جسما وَلَا عرضا وَهَذَا
তাঁর নিজের পক্ষ থেকে কোনো ধরণ ছাড়াই। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বসানো তাঁর জন্য রুবুবিয়াত বা প্রভুত্বের গুণকে অপরিহার্য করে না, কিংবা তাঁকে দাসত্বের গুণ থেকে বেরও করে দেয় না। বরং এটি তাঁর মর্যাদাকে উন্নীত করা এবং তাঁর সৃষ্টির ওপর তাঁকে সম্মানিত করার নামান্তর। আর হাদীসসমূহে তাঁর 'সাথে' থাকার যে বর্ণনা এসেছে, তা মহান আল্লাহর এই বাণীর মতোই: "নিশ্চয়ই যারা তোমার রবের নিকট রয়েছে" (সূরা আরাফ-এর শেষ আয়াত), "হে আমার রব! তোমার নিকট জান্নাতে আমার জন্য একটি ঘর নির্মাণ করো" (সূরা তাহরীম ১১), এবং "নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎকর্মশীলদের সাথে আছেন" (সূরা আনকাবূত-এর শেষ আয়াত) এবং এই জাতীয় আয়াতসমূহ। এগুলোর সবকিছুই মর্যাদা, সম্মান, সৌভাগ্য এবং উচ্চ স্তরের দিকে নির্দেশ করে, কোনো ভৌগোলিক স্থানের দিকে নয়।
আমি বলি, মুজাহিদ থেকে বর্ণিত ইমাম কুরতুবীর বক্তব্যটি দীর্ঘ হওয়া সত্ত্বেও আমি উদ্ধৃত করেছি এই কারণে যে, যদিও এটি একটি বাতিল ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত যা সহীহ নয় এবং যা এমন সব সহীহ হাদীসের পরিপন্থী যা অর্থগতভাবে মুতাওয়াতির বা সুনিশ্চিত পর্যায়ে পৌঁছেছে; তবুও যেন মহান আল্লাহকে সৃষ্টির সাদৃশ্য থেকে পবিত্র রাখার জন্য যেখানে ব্যাখ্যা করা আবশ্যক, সেখানে এর মাধ্যমে তুলনা করা যায়। ইমাম সুয়ুতী তাঁর 'তাহযীরুল খাওয়ারিস মিন আহাদিসিল কুসসাস' কিতাবে (ডক্টর মুহাম্মদ সাবাহর তাহকীক অনুযায়ী) উল্লেখ করেছেন যে, ইমাম তাবারীর নিকট সংবাদ পৌঁছালো যে বাগদাদে জনৈক গল্পকার বসেছেন এবং তিনি আল্লাহর এই বাণীর তাফসীরে: "হয়তো তোমার রব তোমাকে প্রশংসিত স্থানে উঠাবেন" বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহ তাঁকে তাঁর আরশের ওপর বসাবেন। যখন ইমাম তাবারীর কাছে এই সংবাদ পৌঁছালো, তিনি এতে অত্যন্ত রাগান্বিত হলেন এবং কঠোরভাবে তা প্রত্যাখ্যান করলেন। তিনি বললেন: আরশের ওপর বসানোর হাদীসটি অসম্ভব। অতঃপর তিনি আবৃত্তি করলেন:
(পবিত্র সেই সত্তা যাঁর কোনো সঙ্গী নেই... এবং তাঁর আরশে তাঁর কোনো উপবেশনকারী নেই)
গল্পটি অদ্ভুত হলেও এটি ইয়াকুত আল-হামাভী 'মুজামুল বুলদান' (১৮/৫৭) এবং আবু হাইয়ান 'আল-বাহরুল মুহীত' (৬/৭২, ৭৩) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। আমরা আল্লাহর নিকট লাঞ্ছনা ও অপমান থেকে আশ্রয় চাই।
ইবনে হাজম আয-যাহিরী বলেছেন, একদল এই মত পোষণ করেছে যে আল্লাহ তাআলা একটি দেহ। তাদের যুক্তি হলো যে, মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তায় দেহ অথবা বৈশিষ্ট্য ব্যতীত কোনো কিছুর অস্তিত্ব নেই। যেহেতু মহান আল্লাহ বৈশিষ্ট্য হওয়া বাতিল হয়ে গেছে, তাই প্রমাণিত হলো যে তিনি একটি দেহ। তারা আরও বলেছে যে, দেহ ব্যতীত কোনো কাজ সম্পাদন করা সম্ভব নয় এবং আল্লাহ তাআলা যেহেতু একজন কর্তা, তাই তিনি দেহ হওয়া আবশ্যক। তিনি এর জবাবে বললেন: "বুদ্ধিতে দেহ বা বৈশিষ্ট্য ব্যতীত আর কিছু নেই"—তাদের এই কথাটি ভুল কারণ এটি একটি অসম্পূর্ণ বিভাজন। বরং সঠিক কথা হলো যে, এই মহাবিশ্বে দেহ অথবা বৈশিষ্ট্য ব্যতীত অন্য কিছু নেই, এবং এই উভয়টিই স্বভাবগতভাবে একজন সৃষ্টিকর্তার মুখাপেক্ষী। সুতরাং আমরা নিশ্চিতভাবে জানি যে, যদি সৃষ্টিকর্তা দেহ বা বৈশিষ্ট্য হতেন, তবে তাঁর জন্যও একজন কর্তার প্রয়োজন হতো যিনি তাঁকে সৃষ্টি করেছেন। ফলে এটি নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হলো যে, দেহ ও বৈশিষ্ট্যের স্রষ্টা কোনো দেহ বা বৈশিষ্ট্য নন। আর এটি...
(খণ্ড: ১)
ঈজাহুদ দালীল ফী কাতয়ি হুজাজি আহলিত তাতীল
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
برهَان يضْطَر إِلَيْهِ كل ذِي حس بضرورة الْعقل وَلَا بُد
وَأَيْضًا فَلَو كَانَ الْبَارِي تَعَالَى عَن إلحادهم جسما لاقتضى ذَلِك ضَرُورَة أَن يكون لَهُ زمَان وَمَكَان وهما غَيره وَهَذَا إبِْطَال التَّوْحِيد وَإِيجَاب الشّرك مَعَه تَعَالَى لشيئين سواهُ وَإِيجَاب أَشْيَاء مَعَه غير مخلوقة وَهَذَا كفر الْفَصْل فِي الْملَل والأهواء والنحل \ 2
وَقَالَ أَبُو الْفضل التَّمِيمِي رَئِيس الْحَنَابِلَة بِبَغْدَاد أنكر أَحْمد من قَالَ بالجسم وَقَالَ إِن الْأَسْمَاء مَأْخُوذَة من الشَّرِيعَة واللغة وَأهل اللُّغَة وضعُوا هَذَا الِاسْم على ذِي طول وَعرض وسمك وتركيب وَصُورَة وتأليف وَالله سُبْحَانَهُ خَارج عَن ذَلِك وَلم يَجِيء فِي الشَّرِيعَة ذَلِك فَبَطل نَقله الْبَيْهَقِيّ فِي مَنَاقِب الإِمَام أَحْمد ص 42
وَقَالَ عبد القاهر الْبَغْدَادِيّ رَحمَه الله تَعَالَى الْمَسْأَلَة الْحَادِيَة عشرَة من هَذَا الْفَصْل فِي حكم المجسمة والمشبهة كل من شبه ربه بِصُورَة الْإِنْسَان من البيانية والمغيرية والجواربية والهشامية المنسوبة إِلَى هِشَام بن سَالم الجواليقي فَإِنَّمَا يعبد إنْسَانا مثله وَيكون حكمه فِي الذَّبِيحَة وَالنِّكَاح كَحكم عَبدة الْأَوْثَان فِيهَا وَكَذَلِكَ من زعم أَن بعض النَّاس إِلَه أَو أدعى حُلُول روح الْإِلَه فِيهِ على مَذْهَب الحلولية كَمَا قالته الخطابية فِي جَعْفَر الصَّادِق وكما قالته الزرامية فِي أبي مُسلم صَاحب دَعْوَة بني الْعَبَّاس وكما قالته المبيضة فِي الْمقنع فَهُوَ عَابِد وثن وَأما جسمية خُرَاسَان من الكرامية فتكفيرهم وَاجِب لقَولهم إِن الله تَعَالَى لَهُ حد وَنِهَايَة من جِهَة السّفل وَمِنْهَا يماس عَرْشه ولقولهم بِأَن الله تَعَالَى مَحل للحوادث وَإِنَّمَا يرى الشَّيْء بِرُؤْيَة تحدث فيهويدرك مَا يسمعهُ بِإِدْرَاك يحدث تَعَالَى الله عَمَّا يصفونَ وَلَوْلَا حُدُوث الْإِدْرَاك فِيهِ لم يكن مدْركا لصوت وَلَا لمرئي وَقد افسدوا بِإِجَازَة حُلُول الْحَوَادِث فِي ذَات الله تَعَالَى لأَنْفُسِهِمْ دلَالَة الْمُوَحِّدين على حُدُوث الْأَجْسَام بحلول الْحَوَادِث وَإِذا لم يَصح على أصولهم حُدُوث الْعَالم لم يكن لَهُم طَرِيق إِلَى معرفَة صانع الْعَالم فصاروا جاهلين بِهِ وَكَيف يحكم بإيمَانهمْ وهم يَقُولُونَ إِنَّه لَيْسَ فِي قلب أحد إِيمَان وَكَيف يكون مُؤمنا من يَقُول إِن إيمَانه كأيمان الْمُنَافِقين الْكَفَرَة باعتقاد الْكفْر وَسَائِر فرق الْأمة يكفرونهم وهم يرَوْنَ
এটি এমন এক প্রমাণ যা প্রতিটি বিবেকসম্পন্ন ব্যক্তি বিচারবুদ্ধির প্রয়োজনে স্বীকার করতে বাধ্য।
এছাড়া, স্রষ্টা—যিনি তাদের নাস্তিক্যবাদী ধারণা থেকে পবিত্র—যদি দেহ হতেন, তবে আবশ্যিকভাবে তাঁর জন্য সময় ও স্থানের প্রয়োজন হতো, আর এ দুটি বিষয় তিনি ছাড়া অন্য কিছু। এটি তাওহীদকে বাতিল করা এবং মহান আল্লাহর সাথে অন্য দুটি বিষয়ের অংশীদারিত্ব সাব্যস্ত করার নামান্তর। একই সাথে এর মাধ্যমে তাঁর সাথে এমন কিছু বিষয় সাব্যস্ত করা হয় যা সৃষ্টি নয়; আর এটি কুফরি। (আল-ফাসল ফিল মিলাল ওয়াল আহওয়া ওয়ান নিহাল, খণ্ড ২)।
বাগদাদের হাম্বলিদের প্রধান আবুল ফজল আত-তামিমি বলেছেন, ইমাম আহমাদ সেই ব্যক্তিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন যে (আল্লাহর জন্য) ‘দেহ’ শব্দ ব্যবহার করে। তিনি বলেছেন যে, নামসমূহ শরিয়ত ও ভাষা থেকে গৃহীত। ভাষাবিদগণ এই নামটি (দেহ) দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, পুরুত্ব, গঠন, আকৃতি ও বিন্যাসবিশিষ্ট বস্তুর ক্ষেত্রে নির্ধারণ করেছেন; অথচ মহান আল্লাহ এসব থেকে পবিত্র। আর শরিয়তেও এমন কিছু আসেনি। সুতরাং এটি বাতিল। (বায়হাকি এটি বর্ণনা করেছেন ‘মানাকিবুল ইমাম আহমাদ’ গ্রন্থে, পৃষ্ঠা ৪২)।
আব্দুল কাহের আল-বাগদাদী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: এই পরিচ্ছেদের একাদশ মাসয়ালাটি হলো দেহবাদী ও সাদৃশ্যদানকারীদের বিধান প্রসঙ্গে। বায়ানিয়া, মুগিরিয়া, জাওয়ারিবিয়া এবং হিশাম ইবনে সালিম আল-জাওয়ালিকির সাথে সম্পৃক্ত হিশামিয়াদের মধ্যে যারা তাদের প্রতিপালককে মানুষের আকৃতির সাথে তুলনা করেছে, তারা মূলত তাদের মতো একজন মানুষেরই ইবাদত করছে। জবাই করা পশুর গোশত এবং বিবাহের ক্ষেত্রে তাদের বিধান মূর্তিপূজারীদের বিধানের মতোই। একইভাবে, যারা দাবি করে যে কোনো কোনো মানুষ উপাস্য অথবা যারা হুলুলিয়াদের মতানুসারে মানুষের মধ্যে আল্লাহর রুহ প্রবেশের দাবি করে—যেমন খাত্তাবিয়াগণ জাফর আস-সাদিক সম্পর্কে বলেছে, জুররামিয়াগণ আব্বাসীয় আন্দোলনের নেতা আবু মুসলিম সম্পর্কে বলেছে এবং মুবাইয়িদাহগণ আল-মুকান্না সম্পর্কে বলেছে—তারাও মূর্তিপূজারী। আর খোরাসানের কাররামিয়াদের দেহবাদী আকিদার কারণে তাদের কাফির সাব্যস্ত করা ওয়াজিব; কারণ তারা বলে যে মহান আল্লাহর নিচের দিকে সীমা ও সমাপ্তি রয়েছে এবং সেখান থেকে তিনি তাঁর আরশ স্পর্শ করেন। তারা আরও বলে যে আল্লাহ তায়ালা নশ্বর ঘটনাবলির আধার, এবং তিনি কোনো কিছু দেখেন তাঁর মধ্যে সৃষ্ট দর্শনের মাধ্যমে, আর কোনো কিছু শোনেন তাঁর মধ্যে সৃষ্ট শ্রবণের মাধ্যমে। মহান আল্লাহ তারা যা বর্ণনা করে তা থেকে অনেক ঊর্ধ্বে ও পবিত্র। তাদের মতে, তাঁর মধ্যে এই উপলব্ধির সৃষ্টি না হলে তিনি কোনো শব্দ শুনতে পেতেন না বা কোনো কিছু দেখতে পেতেন না। আল্লাহর সত্তায় নশ্বর বিষয়াবলির অনুপ্রবেশের বৈধতা দিয়ে তারা মূলত তাওহীদপন্থীদের সেই প্রমাণকেই নষ্ট করে ফেলেছে, যার মাধ্যমে দেহের নশ্বরতা সাব্যস্ত করা হয়। যদি তাদের মূলনীতি অনুযায়ী জগতের নশ্বরতাই সাব্যস্ত না হয়, তবে তাদের কাছে জগতের স্রষ্টাকে চেনার কোনো পথই অবশিষ্ট থাকে না। ফলে তারা তাঁর সম্পর্কে অজ্ঞই থেকে যায়। আর তাদের ইমান আছে বলে কীভাবে বিচার করা হবে যখন তারা বলে যে কারো অন্তরে ইমান নেই? আর সে কীভাবে মুমিন হতে পারে যে বলে তার ইমান কুফরের বিশ্বাস পোষণকারী মুনাফিক কাফিরদের ইমানের মতো? উম্মতের অন্যান্য সকল দল তাদের কাফির মনে করে, আর তারাও মনে করে...
(খণ্ড: ১)
ঈজাহুদ দালীল ফী কাতয়ি হুজাজি আহলিত তাতীল
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
جَمِيع فرق الْأمة من أهل الْجنَّة ويزعمون أَن أهل الْأَهْوَاء بعد الْعقَاب يصيرون إِلَى الْجنَّة وَلَا يَدُوم عقابهم وَجَمِيع مخالفيهم على أَنهم من أهل النَّار فصاروا من هَذِه الْجِهَة شَرّ الْفرق عِنْد الْأَئِمَّة
قَالَ ابْن حزم من قَالَ إِن الله تَعَالَى جسم لَا كالأجسام فَلَيْسَ مشبها وَلكنه ألحد فِي اسماء الله تَعَالَى إِذْ سَمَّاهُ عز وجل بِمَا لم يسم بِهِ نَفسه وَأما من قَالَ إِنَّه تَعَالَى كالأجسام فَهُوَ ملحد فِي أَسْمَائِهِ ومشبه الْفَصْل فِي الْملَل والأهواء والنحل 1 / 120
وَقَالَ نعيم بن حَمَّاد أحد شُيُوخ البُخَارِيّ وَهُوَ صَدُوق يخطىء كثيرا من شبه الله تَعَالَى بخلقه كفر وَمن جحد مَا وصف الله نَفسه فقد كفر
الطّرف الثَّانِي: المعطلة هم الَّذين زَعَمُوا أَن الله تَعَالَى لَا يُوصف بِمَا وصف بِهِ نَفسه فِي الْقُرْآن الْكَرِيم أَو وَصفه بِهِ رَسُوله مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم فِي صَحِيح السّنة وَأكْثر مَا ذكر هَذَا الزَّعْم الْبَاطِل عِنْد الْمُسَمّى جهم بن صَفْوَان وَقد قتل سنة 130 وَالْحَمْد لله بِسيف الْإِسْلَام وَقد انطفأت فتنته بعد قَتله بِقَلِيل وَأكْثر مَا نجد الاتهام بِهِ عِنْد بعض الْمُتَكَلِّمين بعد فَإِنَّمَا هُوَ نبز قَالَ الْأَشْعَرِيّ وَكَانَ جهم ينتحل الْأَمر بِالْمَعْرُوفِ وَالنَّهْي عَن الْمُنكر وَقتل جهم قَتله سلم ابْن أحوز الْمَازِني فِي آخر ملك بني أُميَّة ويحكى أَنه كَانَ يَقُول لَا أَقُول الله سُبْحَانَهُ شَيْء لِأَن ذَلِك تَشْبِيه لَهُ بالأشياء وَكَانَ يَقُول إِن علم الله سُبْحَانَهُ مُحدث فِيمَا يحْكى عَنهُ وَيَقُول بِخلق الْقُرْآن وَإنَّهُ لَا يُقَال إِن الله لم يزل عَالما بالأشياء قبل ان تكون
وَقَالَ الشَّيْخ أنور الكشميري رَحمَه الله تَعَالَى جهم بن صَفْوَان رجل مُبْتَدع نَشأ فِي ترمذ فِي أَوَاخِر عهد التَّابِعين قَالَ أَبُو معَاذ الْبَلْخِي كَانَ جهم على معبر ترمذ وَكَانَ كُوفِي الأَصْل فصيحا وَلم يكن لَهُ علم وَلَا مجالسة أهل الْعلم فَقيل لَهُ صف لنا رَبك فَدخل الْبَيْت وَلم يخرج ثمَّ خرج بعد أَيَّام فَقَالَ هَذَا هُوَ الْهَوَاء مَعَ كل شَيْء
উম্মতের সকল ফিরকা জান্নাতী এবং তারা দাবি করে যে প্রবৃত্তি পূজারীরা শাস্তির পর জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তাদের শাস্তি স্থায়ী হবে না, আর তাদের সকল বিরোধীরা জাহান্নামী। এ কারণে তারা ইমামদের নিকট এই দিক থেকে নিকৃষ্টতম ফিরকা হিসেবে গণ্য হয়েছে।
ইবনে হাযম বলেন, যে ব্যক্তি বলে যে মহান আল্লাহ এমন দেহ যা অন্যান্য দেহের মতো নয়, সে মুসাব্বিহ (সাদৃশ্যদানকারী) নয়, তবে সে আল্লাহর নামসমূহের ব্যাপারে ইলহাদ (বিকৃতি) করেছে। কেননা সে মহান আল্লাহকে এমন নামে অভিহিত করেছে যা দ্বারা তিনি নিজেকে অভিহিত করেননি। আর যে ব্যক্তি বলে যে তিনি অন্যান্য দেহের মতোই, সে তাঁর নামসমূহের ব্যাপারে বিকৃতি সাধনকারী এবং সাদৃশ্যদানকারী। (আল-ফাসল ফিল মিলাল ওয়াল আহওয়া ওয়ান নিহাল ১/১২০)
ইমাম বুখারীর অন্যতম উস্তাদ নুআইম ইবনে হাম্মাদ—যিনি সত্যবাদী ছিলেন তবে অনেক ভুল করতেন—বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলাকে তাঁর সৃষ্টির সাথে তুলনা করল সে কুফরি করল। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ নিজেকে যে গুণে গুণান্বিত করেছেন তা অস্বীকার করল সে-ও কুফরি করল।
দ্বিতীয় পক্ষ: মুআত্তিলা তারা হলো ঐ সকল লোক যারা দাবি করে যে, মহান আল্লাহ নিজেকে পবিত্র কুরআনে যে গুণে গুণান্বিত করেছেন অথবা তাঁর রাসূল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সহীহ সুন্নাহতে তাঁকে যে গুণে গুণান্বিত করেছেন, তিনি সে সব গুণে গুণান্বিত নন। এই বাতিল দাবিটি জহম বিন সাফওয়ান নামক ব্যক্তির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি উল্লিখিত। সে ১৩০ হিজরিতে ইসলামের তলোয়ারের মাধ্যমে নিহত হয়েছে—সকল প্রশংসা আল্লাহর—এবং তার হত্যার অল্প সময় পরেই তার ফিতনা নিভে যায়। পরবর্তীকালে কিছু মুতাকাল্লিমদের মধ্যে এই অভিযোগটি যা পাওয়া যায়, তা মূলত একটি উপাধি বা গালি বিশেষ। ইমাম আশআরী বলেন, জহম সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধের নীতি গ্রহণ করত। বনু উমাইয়া রাজত্বের শেষ দিকে সালাম ইবনে আহওয়ায আল-মাযিনী জহমকে হত্যা করেন। বর্ণিত আছে যে সে বলত, "আমি মহান আল্লাহকে কোনো বস্তু বলব না, কারণ এতে তাঁকে অন্যান্য বস্তুর সাথে সাদৃশ্য দেওয়া হয়।" তার থেকে আরও বর্ণিত আছে যে সে বলত, আল্লাহর জ্ঞান হলো নব্য সৃষ্টি। সে কুরআন সৃষ্টির মতবাদ পোষণ করত এবং বলত যে, আল্লাহ বস্তুসমূহ সৃষ্টি হওয়ার পূর্বে অনাদিকাল থেকে সে সম্পর্কে অবগত ছিলেন—এমনটি বলা যাবে না।
শায়খ আনোয়ার শাহ কাশ্মীরী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, জহম বিন সাফওয়ান একজন বিদআতী ব্যক্তি ছিল, যে তাবিঈদের শেষ যুগে তিরমিযে বেড়ে উঠেছিল। আবু মুআয আল-বালখী বলেন, জহম তিরমিযের একটি পারাপারের ঘাটে থাকত। সে কুফায় জন্মগ্রহণকারী একজন সুবক্তা ছিল, কিন্তু তার কোনো ইলম ছিল না এবং সে আলেমদের মজলিসেও বসত না। তাকে বলা হলো, "আমাদের নিকট আপনার রবের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করুন।" তখন সে ঘরে প্রবেশ করল এবং বের হলো না। কয়েক দিন পর বের হয়ে সে বলল, "তিনি হলেন এই বাতাস, যা প্রতিটি বস্তুর সাথে রয়েছে।"
(খণ্ড: ১)
ঈজাহুদ দালীল ফী কাতয়ি হুজাজি আহলিত তাতীল
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
وَفِي كل شَيْء وَلَا يَخْلُو مِنْهُ شَيْء
وَقَالَ أَحْمد بن حجر الْعَسْقَلَانِي رَحمَه الله تَعَالَى وَأما الْجَهْمِية فلايختلف أحد مِمَّن صنف فِي المقالات أَنهم ينفون الصِّفَات حَتَّى نسبوا إِلَى التعطيل قَالَ والجهمية أَتبَاع جهم بن صَفْوَان الَّذِي قَالَ بالإجبار والإضطرار إِلَى الْأَعْمَال وَقَالَ لَا فعل لأحد غير الله تَعَالَى وَزعم أَن علم الله تَعَالَى حَادث وَامْتنع عَن وصف الله تَعَالَى بِأَنَّهُ شَيْء أَو عَالم مُرِيد حَتَّى قَالَ لَا أصفه بِوَصْف يجوز إِطْلَاقه على غَيره
وَثَبت عَن أبي حنيفَة رَحمَه الله تَعَالَى أَنه قَالَ بَالغ جهم فِي نفي التَّشْبِيه حَتَّى قَالَ إِن الله لَيْسَ بِشَيْء وَفِي كتاب المسايرة لِابْنِ الْهمام عَن أبي حنيفَة رَحمَه الله تَعَالَى أَنه قَالَ لَهُ بعد مَا ناظره أخرج عني يَا كَافِر وَهُوَ الْقَائِل بِفنَاء الْجنَّة وَالنَّار فيض الْبَارِي 4 / 513 وَانْظُر المقالات 626
قلت وَهُوَ أول من قَالَ بوحدة الْوُجُود بَين الْمُسلمين وَلَا حول وَلَا قُوَّة إِلَّا بِاللَّه
قَالَ الشَّافِعِي رَحمَه الله تَعَالَى لله أَسمَاء وصفات لَا يسع أحدا ردهَا وَمن خَالف بعد ثُبُوت الْحجَّة عَلَيْهِ فقد كفر وَأما قبل قيام الْحجَّة فَإِنَّهُ يعْذر بِالْجَهْلِ لِأَن علم ذَلِك لَا يدْرك بِالْعقلِ وَلَا الروية والفكر ذكره أَبُو حَاتِم فِي مَنَاقِب الشَّافِعِي عَنهُ من رِوَايَة يُونُس بن عبد الْأَعْلَى
لقد زعم الشقي جهم أَنه يَنْفِي صِفَات عَن الله تَعَالَى أثبتها سُبْحَانَهُ لنَفسِهِ ينزه الله جل جلاله فَكَانَ بنفيه ذَلِك وبأفكاره الرَّديئَة الْأُخْرَى ضلاله وكفره وارتداده حَتَّى قتل على ذَلِك
وَكَانَ على شَيْء من تَعْطِيل الله تَعَالَى عَن بعض صِفَاته طَائِفَة الْمُعْتَزلَة المنتسبين إِلَى
এবং সবকিছুর মধ্যে রয়েছেন এবং কোনো কিছুই তাঁর থেকে খালি নয়।
আহমদ ইবনে হাজার আল-আসকালানী রহমাতুল্লাহি তা'আলা বলেছেন: আর জাহমিয়্যাহদের ব্যাপারে মতবাদ বিষয়ে গ্রন্থ রচয়িতাদের কেউই দ্বিমত পোষণ করেননি যে, তারা গুণাবলি অস্বীকার করে, এমনকি তাদের গুণাবলি অস্বীকারকারী (তা'তীল) হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। তিনি বলেন, জাহমিয়্যাহরা হলো জাহম ইবনে সাফওয়ানের অনুসারী, যে আমলের ক্ষেত্রে জবর (বাধ্যবাধকতা) ও ইজতিরার (অসহায়ত্ব)-এর কথা বলত। সে বলত যে, আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত আর কারো কোনো কাজ নেই এবং সে দাবি করত যে আল্লাহ তা'আলার ইলম (জ্ঞান) নব্যসৃষ্ট। সে আল্লাহ তা'আলাকে 'কোনো কিছু' অথবা 'জ্ঞানী' বা 'ইচ্ছাকারী' হিসেবে বর্ণনা করতে বিরত থাকত, এমনকি সে বলত: "আমি তাঁকে এমন কোনো বিশেষণে বিশেষিত করব না যা অন্য কারো ক্ষেত্রে ব্যবহার করা বৈধ।"
আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি তা'আলা থেকে প্রমাণিত আছে যে তিনি বলেছেন: "জাহম সাদৃশ্য অস্বীকারের ক্ষেত্রে এত বাড়াবাড়ি করেছে যে সে বলে ফেলেছে নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো কিছুই নন।" ইবনুল হুমামের 'আল-মুসাইয়ারা' কিতাবে আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি তা'আলা থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি তার সাথে বিতর্কের পর তাকে বলেছিলেন: "হে কাফির, আমার কাছ থেকে বের হয়ে যাও।" আর সে-ই জান্নাত ও জাহান্নাম বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার প্রবক্তা। (ফয়জুল বারী ৪/৫১৩ এবং দেখুন আল-মাকালাত ৬২৬)
আমি বলছি, সে-ই মুসলিমদের মধ্যে সর্বপ্রথম ওয়াহদাতুল ওজুদ (অস্তিত্বের অদ্বৈতবাদ)-এর কথা বলেছে। আর আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো শক্তি ও সামর্থ্য নেই।
শাফিয়ী রহমাতুল্লাহি তা'আলা বলেছেন: "আল্লাহর এমন কিছু নাম ও গুণাবলি রয়েছে যা প্রত্যাখ্যান করার অবকাশ কারো নেই। যার কাছে দলিল সাব্যস্ত হওয়ার পর সে এর বিরোধিতা করবে, সে কুফরি করল। তবে দলিল প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে মূর্খতার কারণে সে ওজরপ্রাপ্ত হবে, কারণ এর জ্ঞান কেবল বুদ্ধি, বিবেচনা বা চিন্তার মাধ্যমে অর্জন করা সম্ভব নয়।" আবু হাতিম 'মানাকিবুশ শাফিয়ী' গ্রন্থে ইউনুস ইবনে আবদিল আলা-এর বর্ণনায় এটি তাঁর থেকে উল্লেখ করেছেন।
হতভাগা জাহম দাবি করেছিল যে সে আল্লাহ তা'আলার সেই গুণাবলি অস্বীকার করছে যা মহান আল্লাহ নিজের জন্য সাব্যস্ত করেছেন; সে আল্লাহ জাল্লা জালালুহুর পবিত্রতা বর্ণনা করতে চেয়েছিল, কিন্তু তার এই অস্বীকার এবং অন্যান্য নিকৃষ্ট চিন্তাধারার কারণেই তার পথভ্রষ্টতা, কুফর এবং মুরতাদ হওয়া সাব্যস্ত হয়েছে, এমনকি এ কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
আর আল্লাহ তা'আলার কিছু গুণাবলি অস্বীকার করার ক্ষেত্রে মু'তাযিলা সম্প্রদায়ও অন্তর্ভুক্ত ছিল, যারা নিজেদের সম্বন্ধ করে...