(খণ্ড: ১)
আস-সাওয়াইকুল মুহরিকা আলা আহলির রাফদি ওয়াদ-দালালি ওয়ায-যানদাকা
(পৃষ্ঠা: -)
الصواعق المحرقة على أهل الرفض والضلال والزندقة القسم: العقيدة
الكتاب: الصواعق المحرقة على أهل الرفض والضلال والزندقة
المؤلف: أحمد بن محمد بن علي بن حجر الهيتمي السعدي الأنصاري، شهاب الدين شيخ الإسلام، أبو العباس (ت 974هـ)
المحقق: عبد الرحمن بن عبد الله التركي - كامل محمد الخراط
الناشر: مؤسسة الرسالة - لبنان
الطبعة: الأولى، 1417هـ - 1997م
عدد الأجزاء: 2
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আস-সাওয়ায়েকুল মুহরিকা আলা আহলির রাফয ওয়াদ দলাল ওয়ায যানদাকা বিভাগ: আকীদা
গ্রন্থ: আস-সাওয়ায়েকুল মুহরিকা আলা আহলির রাফয ওয়াদ দলাল ওয়ায যানদাকা
লেখক: আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আলী বিন হাজার আল-হাইতামী আস-সা'দী আল-আনসারী, শিহাবুদ্দীন শায়খুল ইসলাম, আবুল আব্বাস (মৃত্যু ৯৭৪ হিজরি)
সম্পাদক: আব্দুর রহমান বিন আব্দুল্লাহ আত-তুর্কী - কামিল মুহাম্মাদ আল-খাররাত
প্রকাশক: মুআসসাসাতুর রিসালাহ - লেবানন
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৭ হিজরি - ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ২
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ١)
আস-সাওয়াইকুল মুহরিকা আলা আহলির রাফদি ওয়াদ-দালালি ওয়ায-যানদাকা
(পৃষ্ঠা: ٥)
بسم الله الرحمن الرحيم
(رب يسر يَا كريم)
الْحَمد لله الَّذِي اخْتصَّ نبيه مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم بأصحاب كَالنُّجُومِ، وَأوجب على الكافة تعظيمهم واعتقاد حقية مَا كَانُوا عَلَيْهِ لما منحوه من حقائق المعارف والعلوم.
وَأشْهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله وَحده لَا شريك لَهُ، شَهَادَة أندرج بهَا فِي سلكهم المنظوم، وَأشْهد أَن سيدنَا مُحَمَّدًا عَبده وَرَسُوله الَّذِي حباه بسره المكتوم، صلى الله عَلَيْهِ وعَلى آله وَأَصْحَابه صَلَاة وَسلَامًا دائمين بدوام الْحَيّ القيوم.
أما بعد؛ فَإِنِّي سُئِلت قَدِيما فِي تأليف كتاب يبين حقية خلَافَة الصّديق، وإمارة ابْن الْخطاب رضي الله عنهما، فأجبت إِلَى ذَلِك مسارعة فِي خدمَة هَذَا الجناب، فجَاء بِحَمْد الله أنموذجا لطيفا، ومنهاجا شريفا، ومسلكا منيفا، ثمَّ سُئِلت قَدِيما فِي إقرائه فِي رَمَضَان سنة خمسين وَتِسْعمِائَة بِالْمَسْجِدِ الْحَرَام؛ لِكَثْرَة الشِّيعَة والرافضة وَنَحْوهمَا الْآن بِمَكَّة المشرفة، أشرف بِلَاد الْإِسْلَام، فأجبت إِلَى ذَلِك، رَجَاء لهداية بعض من زل بِهِ قدمه عَن أوضح المسالك، ثمَّ سنح لي أَن
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(হে দয়ালু প্রভু, সহজ করে দিন)
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে নক্ষত্রতুল্য সাহাবীগণের মাধ্যমে বিশিষ্ট করেছেন এবং তাদের সম্মান করা ও তারা যে সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন তা বিশ্বাস করা সকলের জন্য আবশ্যক করেছেন; কারণ তাদেরকে প্রদান করা হয়েছে প্রকৃত তত্ত্বজ্ঞান ও প্রজ্ঞা।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই; এমন এক সাক্ষ্য যার মাধ্যমে আমি তাঁদের সুশৃঙ্খল কাফেলায় নিজেকে শামিল করতে পারি। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসূল, যাঁকে তিনি তাঁর গোপন রহস্য দ্বারা ভূষিত করেছেন; তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীগণের ওপর এমন রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক যা চিরঞ্জীব ও বিশ্বজগতের ধারক আল্লাহর স্থায়িত্বের ন্যায় চিরস্থায়ী।
অতঃপর; আমাকে দীর্ঘকাল পূর্বে এমন একটি গ্রন্থ রচনার অনুরোধ জানানো হয়েছিল যা সিদ্দীক (আবু বকর)-এর খিলাফত এবং ইবনুল খাত্তাব (উমর)-এর নেতৃত্বের সত্যতা বর্ণনা করবে (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)। এই মহৎ বিষয়ের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে আমি দ্রুত সেই আহ্বানে সাড়া দিয়েছি। ফলে আল্লাহর প্রশংসায় এটি একটি চমৎকার দৃষ্টান্ত, একটি সম্মানিত পন্থা এবং এক সুউচ্চ পথ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। এরপর আমাকে দীর্ঘকাল আগে নয়শত পঞ্চাশ হিজরি সালের রমজান মাসে মসজিদুল হারামে এটি পাঠ করার অনুরোধ করা হয়েছিল; কেননা বর্তমানে ইসলামের সর্বশ্রেষ্ঠ নগরী মক্কা মুকাররমায় শিয়া, রাফেজি ও তাদের সমমনাদের আধিক্য পরিলক্ষিত হচ্ছে। অতঃপর আমি তাদের মধ্য হতে যাদের পদস্খলন ঘটেছে, তাদেরকে সঠিক ও স্পষ্ট পথে হিদায়াত করার আশায় সেই অনুরোধে সাড়া দিয়েছি। এরপর আমার মনে উদয় হলো যে...
(খণ্ড: ١)
আস-সাওয়াইকুল মুহরিকা আলা আহলির রাফদি ওয়াদ-দালালি ওয়ায-যানদাকা
(পৃষ্ঠা: ٦)
أَزِيد عَلَيْهِ أَضْعَاف مَا فِيهِ، وَأبين حقية خلَافَة الْأَئِمَّة الْأَرْبَعَة وفضائلهم، وَمَا يتبع ذَلِك مِمَّا يَلِيق بقوادمه وخوافيه، فجَاء كتابا فِي فنه حافلا، ومطلبا فِي حلل الرصانة وَالتَّحْقِيق رافلا، ومهندا قاصما لحجج المبطلين وأعناق شرار المبتدعين الضَّالّين؛ لما اشْتَمَل عَلَيْهِ من الْبَرَاهِين الْعَقْلِيَّة والأدلة الْوَاضِحَة المنقحة النقلية، الَّتِي يَعْقِلهَا الْعَالمُونَ، وَلَا ينكرها إِلَّا الَّذين هم بآيَات الله يجحدون، نَعُوذ بِاللَّه من أَحْوَالهم، ونسأله السَّلامَة من قبائح أَقْوَالهم وأفعالهم، إِنَّه الْجواد الْكَرِيم الرؤوف الرَّحِيم.
ورتبته على مُقَدمَات ثَلَاث، وَعشرَة أَبْوَاب، وخاتمة.
আমি এতে যা ছিল তার তুলনায় বহুগুণ বৃদ্ধি করেছি এবং চার ইমামের খিলাফতের যথার্থতা ও তাঁদের শ্রেষ্ঠত্ব এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট আনুষঙ্গিক বিষয়াদি বর্ণনা করেছি যা এর জন্য উপযুক্ত। ফলে এটি নিজ বিষয়ে একটি সমৃদ্ধ কিতাব এবং দৃঢ়তা ও গবেষণার অলংকারে সুশোভিত এক কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পরিণত হয়েছে। এটি বাতিলপন্থীদের যুক্তি এবং পথভ্রষ্ট নিকৃষ্ট বিদআতিদের ঘাড় চূর্ণকারী এক শাণিত তলোয়ার; কারণ এটি এমন সব যৌক্তিক প্রমাণাদি এবং সুস্পষ্ট ও পরিমার্জিত বর্ণনাধর্মী দলিলের ওপর ভিত্তি করে রচিত, যা কেবল জ্ঞানীরাই অনুধাবন করতে পারেন এবং যারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করে তারা ব্যতীত অন্য কেউ তা অস্বীকার করে না। আমরা তাদের অবস্থা থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি এবং তাঁদের জঘন্য কথা ও কাজ থেকে নিরাপত্তা কামনা করি। নিশ্চয়ই তিনি পরম দাতা, মহানুভব, স্নেহশীল ও পরম করুণাময়।
আমি একে তিনটি ভূমিকা, দশটি অধ্যায় এবং একটি উপসংহারের ওপর বিন্যস্ত করেছি।
(খণ্ড: ١)
আস-সাওয়াইকুল মুহরিকা আলা আহলির রাফদি ওয়াদ-দালালি ওয়ায-যানদাকা
(পৃষ্ঠা: ١)
الصَّوَاعِق المحرقة
দাহনকারী বজ্রপাতসমূহ
(খণ্ড: ١)
আস-সাওয়াইকুল মুহরিকা আলা আহলির রাফদি ওয়াদ-দালালি ওয়ায-যানদাকা
(পৃষ্ঠা: ١)
1 -
১ -
(খণ্ড: ١)
আস-সাওয়াইকুল মুহরিকা আলা আহলির রাফদি ওয়াদ-দালালি ওয়ায-যানদাকা
(পৃষ্ঠা: ٧)
فالمقدمات
الْمُقدمَة الأولى اعْلَم أَن الْحَامِل الدَّاعِي لي على التَّأْلِيف فِي ذَلِك وَإِن كنت قاصرا عَن حقائق مَا هُنَالك مَا أخرجه الْخَطِيب الْبَغْدَادِيّ فِي الْجَامِع وَغَيره أَنه صلى الله عليه وسلم قَالَ (إِذا ظَهرت الْفِتَن أَو قَالَ الْبدع وسبت أَصْحَابِي فليظهر الْعَالم علمه فَمن لم يفعل ذَلِك فَعَلَيهِ لعنة الله وَالْمَلَائِكَة وَالنَّاس أَجْمَعِينَ لَا يقبل الله مِنْهُ صرفا وَلَا عدلا)
وَمَا أخرجه الْحَاكِم عَن ابْن عَبَّاس رَضِي الله تَعَالَى عَنْهُمَا أَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم
ভূমিকাসমূহ প্রথম ভূমিকা জেনে রাখুন যে, এ বিষয়ে গ্রন্থ রচনায় আমাকে উদ্বুদ্ধকারী ও চালিকাশক্তি হলো—যদিও আমি প্রকৃত সত্যসমূহ প্রকাশে অপর্যাপ্ত—খতীব আল-বাগদাদী তাঁর 'আল-জামি' ও অন্যান্য গ্রন্থে যা বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: (যখন ফিতনা প্রকাশ পাবে—অথবা তিনি বলেছেন: বিদআত—এবং আমার সাহাবীদের গালমন্দ করা হবে, তখন আলেম যেন তার জ্ঞান প্রকাশ করে। যে ব্যক্তি তা করবে না, তার ওপর আল্লাহ, ফেরেশতাকুল এবং সকল মানুষের অভিশাপ। আল্লাহ তার কোনো ফরজ কিংবা নফল ইবাদত কবুল করবেন না।)
এবং যা আল-হাকিম ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)...
(খণ্ড: ١)
আস-সাওয়াইকুল মুহরিকা আলা আহলির রাফদি ওয়াদ-দালালি ওয়ায-যানদাকা
(পৃষ্ঠা: ٨)
قَالَ (مَا ظهر أهل بِدعَة إِلَّا أظهر الله فيهم حجَّته على لِسَان من شَاءَ من خلقه)
وَأخرج أَبُو نعيم أهل الْبدع شَرّ الْخلق والخليقة قيل هما مُتَرَادِفَانِ وَقيل المُرَاد بِالْأولِ الْبَهَائِم وَبِالثَّانِي النَّاس
وَأخرج أَبُو حَاتِم الْخُزَاعِيّ فِي جزئه أَصْحَاب الْبدع كلاب النَّار
والرافعي عمل قَلِيل فِي سنة خير من عمل كثير فِي بِدعَة
তিনি বলেছেন, “যখনই কোনো বিদআতপন্থীদের আবির্ভাব ঘটে, আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির মধ্য হতে যার মাধ্যমে ইচ্ছা তার জিহ্বায় তাদের বিরুদ্ধে তাঁর প্রমাণ প্রকাশ করেন।”
আবু নুআইম বর্ণনা করেছেন, “বিদআতপন্থীরা হলো সৃষ্টি ও সৃজিত কুলের মধ্যে নিকৃষ্টতম।” বলা হয়েছে যে, শব্দ দুটি সমার্থক। আবার বলা হয়েছে যে, প্রথমটি দ্বারা চতুষ্পদ জন্তু এবং দ্বিতীয়টি দ্বারা মানুষ উদ্দেশ্য।
আবু হাতিম আল-খুজায়ি তাঁর ‘জুয’-এ বর্ণনা করেছেন, “বিদআতপন্থীরা হলো জাহান্নামের কুকুর।”
আর রাফেয়ি বর্ণনা করেছেন, “সুন্নাহ অনুযায়ী সামান্য আমল বিদআতের অন্তর্ভুক্ত অনেক আমলের চেয়ে উত্তম।”
(খণ্ড: ١)
আস-সাওয়াইকুল মুহরিকা আলা আহলির রাফদি ওয়াদ-দালালি ওয়ায-যানদাকা
(পৃষ্ঠা: ٩)
وَالطَّبَرَانِيّ من وقر صَاحب بِدعَة فقد أعَان على هدم الْإِسْلَام
وَالْبَيْهَقِيّ وَابْن أبي عَاصِم فِي السّنة أَبى الله أَن يقبل عمل صَاحب بِدعَة حَتَّى يدع بدعته
والخطيب والديلمي إِذا مَاتَ صَاحب بِدعَة فقد فتح فِي الْإِسْلَام فتح
তাবারানি বর্ণনা করেছেন, যে ব্যক্তি কোনো বিদআতিকে সম্মান করল, সে ইসলাম ধ্বংসের কাজে সাহায্য করল।
বায়হাকি এবং ইবনে আবি আসিম 'আস-সুন্নাহ' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, আল্লাহ কোনো বিদআতির আমল কবুল করতে অস্বীকার করেছেন যতক্ষণ না সে তার বিদআত পরিত্যাগ করে।
খাতিব এবং দাইলামি বর্ণনা করেছেন, যখন কোনো বিদআতি মৃত্যুবরণ করে, তখন ইসলামের জন্য একটি বিজয় সূচিত হয়।
(খণ্ড: ١)
আস-সাওয়াইকুল মুহরিকা আলা আহলির রাফদি ওয়াদ-দালালি ওয়ায-যানদাকা
(পৃষ্ঠা: ١٠)
وَالطَّبَرَانِيّ وَالْبَيْهَقِيّ والضياء إِن الله احتجز التَّوْبَة عَن كل صَاحب بِدعَة
وَالطَّبَرَانِيّ إِن الْإِسْلَام يشيع ثمَّ يكون لَهُ فَتْرَة فَمن كَانَت فترته إِلَى غلو وبدعة فَأُولَئِك أهل النَّار
وَالْبَيْهَقِيّ لَا يقبل الله لصَاحب بِدعَة صَلَاة وَلَا صوما وَلَا صَدَقَة وَلَا حجا وَلَا عمْرَة وَلَا جهادا وَلَا صرفا وَلَا عدلا يخرج من الْإِسْلَام كَمَا تخرج الشعرة من الْعَجِين وسيتلى عَلَيْك مَا تعلم مِنْهُ علما قَطْعِيا أَن الرافضة والشيعة وَنَحْوهمَا من
তাবারানি, বায়হাকি এবং জিয়া বর্ণনা করেছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রত্যেক বিদআতি ব্যক্তির তওবা রুদ্ধ করে দিয়েছেন।
তাবারানি বর্ণনা করেছেন, নিশ্চয়ই ইসলাম প্রসারিত হবে, অতঃপর এর একটি স্থবিরতার সময় আসবে; সুতরাং যার স্থবিরতা বাড়াবাড়ি ও বিদআতের দিকে হবে, তারাই জাহান্নামের অধিবাসী।
বায়হাকি বর্ণনা করেছেন, আল্লাহ কোনো বিদআতি ব্যক্তির সালাত, সিয়াম, সদকা, হজ, উমরাহ, জিহাদ এবং কোনো ফরজ বা নফল ইবাদত কবুল করবেন না। সে ইসলাম থেকে এমনভাবে বের হয়ে যায় যেমনভাবে আটার খামির থেকে চুল বের হয়ে আসে। অচিরেই আপনার নিকট এমন কিছু বর্ণনা করা হবে যা থেকে আপনি নিশ্চিতভাবে জানতে পারবেন যে, রাফেজি, শিয়া এবং তাদের অনুরূপ দলগুলো...
(খণ্ড: ١)
আস-সাওয়াইকুল মুহরিকা আলা আহলির রাফদি ওয়াদ-দালালি ওয়ায-যানদাকা
(পৃষ্ঠা: ١١)
أكَابِر أهل الْبِدْعَة فيتناولهم هَذَا الْوَعيد الَّذِي فِي هَذِه الْأَحَادِيث على أَنه ورد فيهم أَحَادِيث بخصوصهم
وَأخرج الْمحَامِلِي وَالطَّبَرَانِيّ وَالْحَاكِم عَن عويم بن سَاعِدَة أَنه صلى الله عليه وسلم قَالَ (إِن الله اختارني وَاخْتَارَ لي أصحابا فَجعل لي مِنْهُم وزراء وأنصارا وأصهارا فَمن سبهم فَعَلَيهِ لعنة الله وَالْمَلَائِكَة وَالنَّاس أَجْمَعِينَ لَا يقبل الله مِنْهُ يَوْم الْقِيَامَة صرفا وَلَا عدلا)
والخطيب عَن أنس إِن الله اختارني وَاخْتَارَ لي أصحابا وَاخْتَارَ لي مِنْهُم أصهارا وأنصارا فَمن حفظني فيهم حفظه الله وَمن آذَانِي فيهم آذاه الله
وَأخرج الْعقيلِيّ فِي الضُّعَفَاء عَن أنس إِن الله اختارني وَاخْتَارَ لي أصحابا وأصهارا وَسَيَأْتِي قوم يسبونهم ويتنقصونهم فَلَا تُجَالِسُوهُمْ وَلَا
বিদআতিদের নেতৃবৃন্দ; এই হাদিসগুলোতে বর্ণিত শাস্তির হুমকি তাদের অন্তর্ভুক্ত করে, যদিও তাদের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট আরও হাদিস বর্ণিত হয়েছে।
আল-মুহামিলি, আত-তাবারানি এবং আল-হাকিম উওয়াইম ইবনে সায়েদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাকে মনোনীত করেছেন এবং আমার জন্য সাহাবীগণকে মনোনীত করেছেন। অতঃপর তাদের মধ্য থেকে আমার জন্য উজির, সাহায্যকারী এবং বৈবাহিক আত্মীয় নির্ধারণ করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি তাদের গালি দেবে, তার ওপর আল্লাহ, ফেরেশতা এবং সকল মানুষের লানত। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার কোনো ফরজ বা নফল ইবাদত কবুল করবেন না।”
এবং আল-খতিব আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন: “নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাকে মনোনীত করেছেন এবং আমার জন্য সাহাবীগণকে মনোনীত করেছেন। তাদের মধ্য থেকে তিনি আমার জন্য বৈবাহিক আত্মীয় এবং সাহায্যকারী মনোনীত করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে আমার মর্যাদা রক্ষা করবে, আল্লাহ তাকে রক্ষা করবেন। আর যে ব্যক্তি তাদের ব্যাপারে আমাকে কষ্ট দেবে, আল্লাহ তাকে কষ্ট দেবেন।”
এবং আল-উকায়লি ‘আদ-দুয়াফা’ গ্রন্থে আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন: “নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাকে মনোনীত করেছেন এবং আমার জন্য সাহাবী ও বৈবাহিক আত্মীয় মনোনীত করেছেন। অচিরেই এমন এক সম্প্রদায়ের আগমন ঘটবে যারা তাদের গালি দেবে এবং তাদের অবমাননা করবে। সুতরাং তোমরা তাদের সাথে বসবে না এবং”
(খণ্ড: ١)
আস-সাওয়াইকুল মুহরিকা আলা আহলির রাফদি ওয়াদ-দালালি ওয়ায-যানদাকা
(পৃষ্ঠা: ١٢)
تشاربوهم وَلَا تؤاكلوهم وَلَا تناكحوهم
وَأخرج الْبَغَوِيّ وَالطَّبَرَانِيّ وَأَبُو نعيم فِي الْمعرفَة وَابْن عَسَاكِر عَن عِيَاض الْأنْصَارِيّ احْفَظُونِي فِي أَصْحَابِي وأصهاري وأنصاري فَمن حفظني فيهم حفظه الله فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَة وَمن لم يحفظني فيهم تخلى الله مِنْهُ وَمن تخلى الله مِنْهُ يُوشك أَن يَأْخُذهُ
وَأخرج أَبُو ذَر الْهَرَوِيّ نَحوه عَن جَابر وَالْحسن بن عَليّ وَابْن عمر رضي الله عنهما
وَأخرج هُوَ والذهبي عَن ابْن عَبَّاس رضي الله عنهم مَرْفُوعا يكون فِي آخر الزَّمَان قوم يسمون الرافضة يرفضون الْإِسْلَام فاقتلوهم فَإِنَّهُم
তোমরা তাদের সাথে পান করো না, তাদের সাথে আহার করো না এবং তাদের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ো না।
এবং বাগাভি, তাবারানি, আবু নুআইম 'আল-মা'রিফা' গ্রন্থে এবং ইবনে আসাকির ইয়াদ আল-আনসারি থেকে বর্ণনা করেছেন: "তোমরা আমার সাহাবী, আমার বৈবাহিক আত্মীয় এবং আমার আনসারদের ব্যাপারে আমার সম্মান রক্ষা করো। সুতরাং যে ব্যক্তি তাদের ব্যাপারে আমার সম্মান রক্ষা করবে, আল্লাহ দুনিয়া ও আখিরাতে তাকে রক্ষা করবেন। আর যে ব্যক্তি তাদের ব্যাপারে আমার সম্মান রক্ষা করবে না, আল্লাহ তার থেকে বিমুখ হবেন। আর আল্লাহ যার থেকে বিমুখ হন, শীঘ্রই তিনি তাকে পাকড়াও করবেন।"
এবং আবু যার আল-হারাবি জাবির, হাসান ইবনে আলী এবং ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
এবং তিনি ও যাহাবি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন: "শেষ যুগে এমন এক সম্প্রদায়ের উদ্ভব হবে যাদের রাফিজি বলা হবে; তারা ইসলামকে বর্জন করবে, সুতরাং তোমরা তাদের হত্যা করো, কারণ তারা..."
(খণ্ড: ١)
আস-সাওয়াইকুল মুহরিকা আলা আহলির রাফদি ওয়াদ-দালালি ওয়ায-যানদাকা
(পৃষ্ঠা: ١٣)
مشركون وَأخرج أَيْضا عَن إِبْرَاهِيم بن حسن بن حسي بن عَليّ عَن أَبِيه عَن جده رضي الله عنهم قَالَ قَالَ عَليّ بن أبي طَالب كرم الله وَجهه قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم (يظْهر فِي أمتِي فِي آخر الزَّمَان قوم يسمون الرافضة يرفضون الْإِسْلَام)
وَأخرج الدَّارَقُطْنِيّ عَن عَليّ عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ (سَيَأْتِي من بعدِي قوم لَهُم نبز يُقَال لَهُم الرافضة فَإِن أدركتهم فاقتلهم فَإِنَّهُم مشركون) قَالَ قلت يَا رَسُول الله مَا الْعَلامَة فيهم قَالَ يقرظونك بِمَا لَيْسَ فِيك ويطعنون على السّلف
وَأخرجه عَنهُ من طَرِيق أُخْرَى نَحوه وَكَذَلِكَ من طَرِيق أُخْرَى وَزَاد عَنهُ
মুশরিক। এবং ইবরাহীম ইবনে হাসান ইবনে হুসাই ইবনে আলী থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা (আল্লাহ তাঁদের সবার প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে যে, আলী ইবনে আবি তালিব (আল্লাহ তাঁর মুখমণ্ডলকে সম্মানিত করুন) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "শেষ যুগে আমার উম্মতের মধ্যে এমন এক সম্প্রদায়ের আবির্ভাব ঘটবে যাদের 'রাফেজি' বলা হবে, তারা ইসলামকে বর্জন করবে।"
আদ-দারাকুতনী আলী থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: "আমার পরে অচিরেই এমন এক সম্প্রদায়ের আগমন ঘটবে যাদের একটি বিশেষ উপনাম থাকবে, তাদের 'রাফেজি' বলা হবে। যদি তুমি তাদের দেখা পাও তবে তাদের হত্যা করো, কারণ তারা মুশরিক।" তিনি (আলী) বলেন, আমি বললাম, "হে আল্লাহর রাসূল! তাদের চেনার নিদর্শন কী?" তিনি বললেন, "তারা তোমার এমন প্রশংসা করবে যা তোমার মাঝে নেই এবং তারা পূর্বসূরিদের (সালাফ) নিন্দা করবে।"
তিনি তাঁর থেকে অন্য সূত্রেও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন, এবং একইভাবে অন্য আরেকটি সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে এবং তাতে অতিরিক্ত অংশ উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ١)
আস-সাওয়াইকুল মুহরিকা আলা আহলির রাফদি ওয়াদ-দালালি ওয়ায-যানদাকা
(পৃষ্ঠা: ١٤)
ينتحلون حبنا أهل الْبَيْت وَلَيْسوا كَذَلِك وَآيَة ذَلِك أَنهم يسبون أَبَا بكر وَعمر رضي الله عنهما
وَأخرج أَيْضا من طرق عَن فَاطِمَة الزهراء وَعَن أم سَلمَة رضي الله عنهما نَحوه قَالَ وَلِهَذَا الحَدِيث عندنَا طرق كَثِيرَة
وروى الطَّبَرَانِيّ عَن ابْن عَبَّاس من سبّ أَصْحَابِي فَعَلَيهِ لعنة الله وَالْمَلَائِكَة وَالنَّاس أَجْمَعِينَ وَعَن عَليّ رضي الله عنه من سبّ الْأَنْبِيَاء قتل وَمن سبّ أَصْحَابِي جلد
والديلمي عَن أنس إِذا أَرَادَ الله بِرَجُل من أمتِي خيرا ألْقى حب أَصْحَابِي فِي قلبه
وَالتِّرْمِذِيّ عَن عبد الله بن مُغفل الله الله فِي أَصْحَابِي لَا تتخذوهم غَرضا بعدِي فَمن احبهم فبحبي أحبهم وَمن أبْغضهُم فببغضي أبْغضهُم وَمن آذاهم
তারা আমাদের আহলে বাইতের প্রতি ভালোবাসার দাবি করে, অথচ তারা তেমন নয়। এর নিদর্শন হলো তারা আবু বকর ও উমর (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হন)-কে গালি দেয়।
আরও বিভিন্ন সূত্রে ফাতিমা আয-যাহরা এবং উম্মে সালামা (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হন) থেকে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন: এই হাদিসের আমাদের কাছে অনেকগুলো সূত্র রয়েছে।
তাবারানি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, যে ব্যক্তি আমার সাহাবীদের গালি দিবে, তার ওপর আল্লাহ, ফেরেশতাকুল এবং সকল মানুষের লানত। আর আলী (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন) থেকে বর্ণিত, যে ব্যক্তি নবীগণকে গালি দিবে তাকে হত্যা করা হবে, আর যে আমার সাহাবীদের গালি দিবে তাকে বেত্রাঘাত করা হবে।
দায়লামি আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, যখন আল্লাহ আমার উম্মতের কোনো ব্যক্তির জন্য কল্যাণ ইচ্ছা করেন, তখন তিনি তার অন্তরে আমার সাহাবীদের ভালোবাসা ঢেলে দেন।
তিরমিযি আবদুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল থেকে বর্ণনা করেছেন, আমার সাহাবীদের ব্যাপারে তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, আল্লাহকে ভয় করো! আমার পর তাদের লক্ষ্যবস্তু বানিও না। সুতরাং যে ব্যক্তি তাদের ভালোবাসবে, সে আমার প্রতি ভালোবাসার কারণেই তাদের ভালোবাসবে; আর যে তাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করবে, সে আমার প্রতি বিদ্বেষের কারণেই তাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করবে। আর যে তাদের কষ্ট দিবে...
(খণ্ড: ١)
আস-সাওয়াইকুল মুহরিকা আলা আহলির রাফদি ওয়াদ-দালালি ওয়ায-যানদাকা
(পৃষ্ঠা: ١٥)
فقد أذاني وَمن آذَانِي فقد آذَى الله وَمن آذَى الله يُوشك أَن يَأْخُذهُ
والخطيب عَن ابْن عمر إِذا رَأَيْتُمْ الَّذين يسبون أَصْحَابِي فَقولُوا لعنة الله على شركم
وَابْن عدي عَن عَائِشَة إِن شرار أمتِي أجرؤهم على أَصْحَابِي
وَابْن مَاجَه عَن عمر احْفَظُونِي فِي أَصْحَابِي ثمَّ الَّذين يَلُونَهُمْ 000 الحَدِيث
والشيرازي فِي الألقاب عَن أبي سعيد احْفَظُونِي فِي أَصْحَابِي فَمن حفظني فيهم كَانَ عَلَيْهِ من الله حَافظ وَمن لم يحفظني فيهم تخلى الله مِنْهُ وَمن تخلى الله مِنْهُ يُوشك أَن يَأْخُذهُ
والخطيب عَن جَابر وَالدَّارَقُطْنِيّ فِي الْأَفْرَاد عَن أبي هُرَيْرَة إِن النَّاس
নিশ্চয়ই সে আমাকে কষ্ট দিল, আর যে আমাকে কষ্ট দিল সে আল্লাহকে কষ্ট দিল, আর যে আল্লাহকে কষ্ট দিল অচিরেই তিনি তাকে পাকড়াও করবেন।
আল-খতিব ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন, যখন তোমরা তাদের দেখবে যারা আমার সাহাবীদের গালি দেয়, তখন তোমরা বলো: তোমাদের মধ্যকার মন্দের ওপর আল্লাহর অভিশাপ বর্ষিত হোক।
ইবনে আদি আয়েশা থেকে বর্ণনা করেছেন, নিশ্চয়ই আমার উম্মতের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট তারা, যারা আমার সাহাবীদের ব্যাপারে অধিক দুঃসাহসী।
ইবনে মাজাহ উমর থেকে বর্ণনা করেছেন, তোমরা আমার সাহাবীদের ব্যাপারে আমার অধিকার রক্ষা করো, অতঃপর যারা তাদের পরবর্তী আসবে... (সম্পূর্ণ হাদিস)।
আল-শিরাজি ‘আল-আলকাব’ গ্রন্থে আবু সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তোমরা আমার সাহাবীদের ব্যাপারে আমার অধিকার রক্ষা করো। সুতরাং যে ব্যক্তি তাদের ব্যাপারে আমার অধিকার রক্ষা করবে, আল্লাহর পক্ষ থেকে তার জন্য একজন রক্ষক থাকবে। আর যে তাদের ব্যাপারে আমার অধিকার রক্ষা করবে না, আল্লাহ তাকে পরিত্যাগ করবেন। আর যাকে আল্লাহ পরিত্যাগ করবেন, অচিরেই তিনি তাকে পাকড়াও করবেন।
আল-খতিব জাবির থেকে এবং আদ-দারাকুতনি ‘আল-আফরাদ’ গ্রন্থে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নিশ্চয়ই মানুষ...
(খণ্ড: ١)
আস-সাওয়াইকুল মুহরিকা আলা আহলির রাফদি ওয়াদ-দালালি ওয়ায-যানদাকা
(পৃষ্ঠা: ١٦)
يكثرون وأصحابي يقلون فَلَا تسبوا أَصْحَابِي فَمن سبهم فَعَلَيهِ لعنة الله
روى الْحَاكِم عَن أبي سعيد أما إِنَّه لَا يدْرك قوم بعدكم صاعكم وَلَا مدكم
وَأخرج ابْن عَسَاكِر عَن الْحسن مُرْسلا مَا شَأْنكُمْ وشأن أَصْحَابِي ذَروا لي أَصْحَابِي فوالذي نَفسِي بِيَدِهِ لَو أنْفق أحدكُم مثل أحد ذَهَبا مَا أدْرك مثل عمل أحدهم يَوْمًا وَاحِدًا
وَأحمد والشيخان وَأَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ عَن أبي سعيد وَمُسلم وَابْن مَاجَه عَن أبي هُرَيْرَة لَا تسبوا أَصْحَابِي فوالذي نَفسِي بِيَدِهِ لَو أَن أحدكُم أنْفق مثل أحد ذَهَبا مَا بلغ مد أحدهم وَلَا نصيفه
وَأحمد وَأَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ عَن ابْن مَسْعُود لَا يبلغنِي أحد عَن أَصْحَابِي
তারা সংখ্যায় বৃদ্ধি পাবে এবং আমার সাহাবীগণ সংখ্যায় কমে যাবে। সুতরাং তোমরা আমার সাহাবীদের গালি দিও না। যে ব্যক্তি তাদের গালি দেবে, তার উপর আল্লাহর লানত।
হাকিম আবু সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন: সাবধান! তোমাদের পরবর্তী কোনো সম্প্রদায় তোমাদের এক ‘সা’ কিংবা এক ‘মুদ’ (পরিমাণ সওয়াব) পর্যন্ত পৌঁছাতে পারবে না।
ইবনে আসাকির হাসান থেকে মুরসাল সূত্রে বর্ণনা করেছেন: তোমাদের এবং আমার সাহাবীদের মাঝে কী হয়েছে? আমার জন্য আমার সাহাবীদের ছেড়ে দাও। যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তাঁর শপথ! তোমাদের কেউ যদি উহুদ পাহাড় সমপরিমাণ স্বর্ণও ব্যয় করে, তবে সে তাদের একদিনের আমলের সমতুল্য হতে পারবে না।
আহমাদ, শায়খান (বুখারি ও মুসলিম), আবু দাউদ ও তিরমিযি আবু সাঈদ থেকে এবং মুসলিম ও ইবনে মাজাহ আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন: তোমরা আমার সাহাবীদের গালি দিও না। যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তাঁর শপথ! তোমাদের কেউ যদি উহুদ পাহাড় সমপরিমাণ স্বর্ণও ব্যয় করে, তবে সে তাদের এক ‘মুদ’ কিংবা তার অর্ধেক পরিমাণ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারবে না।
আহমাদ, আবু দাউদ ও তিরমিযি ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন: আমার সাহাবীদের সম্পর্কে কেউ যেন (কোনো অপ্রীতিকর সংবাদ) আমার কাছে না পৌঁছায়।
(খণ্ড: ١)
আস-সাওয়াইকুল মুহরিকা আলা আহলির রাফদি ওয়াদ-দালালি ওয়ায-যানদাকা
(পৃষ্ঠা: ١٧)
شَيْئا فَإِنِّي أحب أَن أخرج إِلَيْكُم وَأَنا سليم الصَّدْر
وَأحمد عَن أنس دعوا لي أَصْحَابِي فوالذي نَفسِي بِيَدِهِ لَو أنفقتم مثل أحد ذَهَبا مَا بَلغْتُمْ أَعْمَالهم
وَالدَّارَقُطْنِيّ من حفظني فِي أَصْحَابِي ورد عَليّ الْحَوْض وَمن لم يحفظني فِي أَصْحَابِي لم يرد عَليّ الْحَوْض وَلم يرني
وَالطَّبَرَانِيّ وَالْحَاكِم عَن عبد الله بن بسر طُوبَى لمن رَآنِي وآمن بِي طُوبَى لمن رأى من رَآنِي وَلمن رأى من رأى من رَآنِي وآمن بِي طُوبَى لَهُم وَحسن مآب وَعبد بن حميد عَن أبي سعيد وَابْن عَسَاكِر عَن وَاثِلَة طُوبَى لمن
(কোন বিষয়ে) কিছু (বল না), কেননা আমি তোমাদের নিকট প্রশান্ত চিত্তে বের হতে পছন্দ করি।
এবং আহমাদ আনাস (রা.) হতে বর্ণনা করেন: তোমরা আমার জন্য আমার সাহাবীগণকে ছেড়ে দাও। সেই সত্তার কসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ রয়েছে! তোমরা যদি উহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণও ব্যয় করো, তবুও তোমরা তাদের আমলের সমপর্যায়ে পৌঁছাতে পারবে না।
এবং আদ-দারাকুতনী বর্ণনা করেন: যে ব্যক্তি আমার সাহাবীদের ব্যাপারে আমাকে রক্ষা করল, সে হাউজে কাউসারে আমার নিকট উপস্থিত হবে। আর যে ব্যক্তি আমার সাহাবীদের ব্যাপারে আমাকে রক্ষা করল না, সে হাউজে কাউসারে আমার নিকট উপস্থিত হতে পারবে না এবং আমাকে দেখতেও পাবে না।
এবং আত-তাবারানী ও আল-হাকিম আবদুল্লাহ ইবনে বুসর (রা.) হতে বর্ণনা করেন: সুসংবাদ তার জন্য যে আমাকে দেখেছে এবং আমার প্রতি ঈমান এনেছে; সুসংবাদ তার জন্য যে এমন ব্যক্তিকে দেখেছে যে আমাকে দেখেছে; আর সুসংবাদ তার জন্য যে তাকে দেখেছে যে এমন ব্যক্তিকে দেখেছে যে আমাকে দেখেছে এবং আমার প্রতি ঈমান এনেছে। তাদের জন্য সুসংবাদ ও উত্তম প্রত্যাবর্তনস্থল।
এবং আবদ ইবনে হুমাইদ আবু সাঈদ (রা.) হতে এবং ইবনে আসাকির ওয়াসিলা (রা.) হতে বর্ণনা করেন: সুসংবাদ তার জন্য যে...
(খণ্ড: ١)
আস-সাওয়াইকুল মুহরিকা আলা আহলির রাফদি ওয়াদ-দালালি ওয়ায-যানদাকা
(পৃষ্ঠা: ١٨)
رَآنِي وَلمن رأى من رأى من رَآنِي
وَالطَّبَرَانِيّ عَن ابْن عمر لعن الله من سبّ أَصْحَابِي
وَالتِّرْمِذِيّ والضياء عَن بُرَيْدَة مَا من أحد من أَصْحَابِي يَمُوت بِأَرْض إِلَّا بعث قائدا ونورا لَهُم يَوْم الْقِيَامَة
وَأَبُو يعلى عَن أنس مثل أَصْحَابِي فِي أمتِي مثل الْملح فِي الطَّعَام لَا
যে আমাকে দেখেছে এবং তার জন্য যে তাকে দেখেছে যে আমাকে দেখেছে।
এবং তাবরানি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন: যে ব্যক্তি আমার সাহাবীদের গালি দেয় আল্লাহ তাকে লানত (অভিশাপ) করেন।
এবং তিরমিযী ও জিয়া বুরাইদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন: আমার সাহাবীদের মধ্যে যে কেউ কোনো ভূখণ্ডে মৃত্যুবরণ করবে, কিয়ামতের দিন তাকে তাদের (সেই ভূখণ্ডের লোকদের) জন্য নেতা ও নূর হিসেবে উঠানো হবে।
এবং আবু ইয়ালা আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন: আমার উম্মতের মধ্যে আমার সাহাবীদের উদাহরণ খাদ্যে লবণের ন্যায়, না
(খণ্ড: ١)
আস-সাওয়াইকুল মুহরিকা আলা আহলির রাফদি ওয়াদ-দালালি ওয়ায-যানদাকা
(পৃষ্ঠা: ١٩)
يصلح الطَّعَام إِلَّا بالملح
وَأحمد وَمُسلم عَن أبي مُوسَى النُّجُوم أَمَنَة للسماء فَإِذا ذهبت النُّجُوم أَتَى السَّمَاء مَا توعد وَأَنا أَمَنَة لِأَصْحَابِي فَإِذا ذهبت أَنا أَتَى أَصْحَابِي مَا يوعدون وأصحابي أَمَنَة لأمتي فَإِذا ذهب أَصْحَابِي أَتَى أمتِي مَا يوعدون
وَالتِّرْمِذِيّ والضياء عَن جَابر لَا تمس النَّار مُسلما رَآنِي أَو رأى من رَآنِي
وَالتِّرْمِذِيّ وَالْحَاكِم خير الْقُرُون قَرْني ثمَّ الَّذين يَلُونَهُمْ ثمَّ الَّذين يَلُونَهُمْ الحَدِيث
وَالطَّبَرَانِيّ وَالْحَاكِم عَن جعدة بن هُبَيْرَة خير النَّاس قَرْني الَّذِي أَنا فِيهِ ثمَّ
লবণ ব্যতীত খাবার সুস্বাদু হয় না
আহমাদ ও মুসলিম আবু মুসা থেকে বর্ণনা করেছেন, তারকারাজি আকাশের জন্য নিরাপত্তাস্বরূপ। সুতরাং যখন তারকারাজি বিলীন হয়ে যাবে, তখন আকাশের প্রতি যা প্রতিশ্রুত তা আপতিত হবে। আমি আমার সাহাবীদের জন্য নিরাপত্তাস্বরূপ, সুতরাং যখন আমি চলে যাব, তখন আমার সাহাবীদের প্রতি যা প্রতিশ্রুত তা আপতিত হবে। আর আমার সাহাবীরা আমার উম্মতের জন্য নিরাপত্তাস্বরূপ, সুতরাং যখন আমার সাহাবীরা চলে যাবেন, তখন আমার উম্মতের প্রতি যা প্রতিশ্রুত তা আপতিত হবে
তিরমিযী ও দিয়া জাবির থেকে বর্ণনা করেছেন, এমন কোনো মুসলিমকে জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে না যে আমাকে দেখেছে অথবা এমন ব্যক্তিকে দেখেছে যে আমাকে দেখেছে
তিরমিযী ও হাকেম বর্ণনা করেছেন, সর্বোত্তম যুগ হলো আমার যুগ, অতঃপর যারা তাদের পরবর্তী, অতঃপর যারা তাদের পরবর্তী—হাদীসটি
তাবারানী ও হাকেম জাদা ইবনে হুবাইরাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, সর্বোত্তম মানুষ হলো আমার সেই যুগের মানুষ যাতে আমি রয়েছি, অতঃপর...
(খণ্ড: ١)
আস-সাওয়াইকুল মুহরিকা আলা আহলির রাফদি ওয়াদ-দালালি ওয়ায-যানদাকা
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
الَّذين يَلُونَهُمْ ثمَّ الَّذين يَلُونَهُمْ وَالْآخرُونَ أراذل
وَمُسلم عَن أبي هُرَيْرَة خير أمتِي الْقرن الَّذِي بعثت فِيهِ ثمَّ الَّذين يَلُونَهُمْ ثمَّ الَّذين يَلُونَهُمْ الحَدِيث
والحكيم التِّرْمِذِيّ عَن أبي الدَّرْدَاء خير أمتِي أَولهَا وَآخِرهَا وَفِي وَسطهَا الكدر
وَأَبُو نعيم فِي الْحِلْية مُرْسلا خير هَذِه الْأمة أَولهَا وَآخِرهَا أَولهَا فيهم رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَآخِرهَا فيهم عِيسَى ابْن مَرْيَم وَبَين ذَلِك نهج أَعْوَج لَيْسُوا مني وَلست مِنْهُم
وَالطَّبَرَانِيّ عَن ابْن مَسْعُود خير النَّاس قَرْني ثمَّ الثَّانِي ثمَّ الثَّالِث ثمَّ يَجِيء قوم لَا خير فيهم
যারা তাদের নিকটবর্তী, অতঃপর যারা তাদের নিকটবর্তী এবং পরবর্তীগণ হলো নিকৃষ্ট।
এবং ইমাম মুসলিম আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আমার উম্মতের মধ্যে সর্বোত্তম হলো সেই প্রজন্ম যাদের মধ্যে আমি প্রেরিত হয়েছি, অতঃপর যারা তাদের নিকটবর্তী, অতঃপর যারা তাদের নিকটবর্তী—হাদিসের শেষ পর্যন্ত।
এবং আল-হাকিম আত-তিরমিযী আবু দারদা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আমার উম্মতের সর্বোত্তম হলো তাদের প্রথম অংশ এবং তাদের শেষ অংশ, আর তাদের মধ্যভাগে রয়েছে পঙ্কিলতা।
এবং আবু নুআইম 'হিলয়া' গ্রন্থে মুরসাল সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, এই উম্মতের সর্বোত্তম হলো তাদের প্রথম অংশ ও শেষ অংশ। তাদের প্রথমাংশে রয়েছেন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং শেষাংশে রয়েছেন ঈসা ইবনে মারইয়াম। আর এই দুইয়ের মধ্যবর্তী সময়ে রয়েছে বক্র পথ; তারা আমার আদর্শের অনুসারী নয় এবং আমিও তাদের অন্তর্ভুক্ত নই।
এবং আত-তাবারানি ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম হলো আমার যুগের লোক, অতঃপর দ্বিতীয় যুগ, অতঃপর তৃতীয় যুগ, এরপর এমন এক সম্প্রদায়ের আগমন ঘটবে যাদের মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই।
(খণ্ড: ١)
আস-সাওয়াইকুল মুহরিকা আলা আহলির রাফদি ওয়াদ-দালালি ওয়ায-যানদাকা
(পৃষ্ঠা: ٢١)
وَابْن مَاجَه عَن أنس أمتِي على خمس طَبَقَات فأربعون سنة أهل بر وتقوى ثمَّ الَّذين يَلُونَهُمْ إِلَى عشْرين وَمِائَة أهل تواصل وتراحم ثمَّ الَّذين يَلُونَهُمْ إِلَى سِتِّينَ وَمِائَة أهل تدابر وتقاطع ثمَّ الْهَرج والمرج النجا النجا
وَله عَنهُ أَيْضا كل طبقَة أَرْبَعُونَ فَأَما طبقتي وطبقة أَصْحَابِي فَأهل علم وإيمان وَأما الطَّبَقَة الثَّانِيَة مَا بَين الْأَرْبَعين إِلَى الثَّمَانِينَ فَأهل بر وتقوى ثمَّ ذكر نَحوه
وَالْحسن بن سُفْيَان وَابْن مندة وَأَبُو نعيم فِي الْمعرفَة عَن دارم التَّمِيمِي الطَّبَقَة الأولى أَنا وَمن معي أهل علم ويقين إِلَى الْأَرْبَعين والطبقة الثَّانِيَة أهل بر وتقوى إِلَى الثَّمَانِينَ والطبقة الثَّالِثَة أهل تراحم وتواصل إِلَى الْعشْرين وَمِائَة والطبقة الرَّابِعَة أهل تقاطع وتظالم إِلَى السِّتين وَمِائَة والطبقة الْخَامِسَة أهل هرج ومرج إِلَى الْمِائَتَيْنِ وَلابْن عَسَاكِر مثله إِلَّا أَنه قَالَ فطبقتي وطبقة أَصْحَابِي أهل الْعلم وَالْإِيمَان وَقَالَ بدل المرج الحروب
وَكفى فخرا لَهُم أَن الله تبارك وتعالى شهد لَهُم بِأَنَّهُم خير النَّاس حَيْثُ قَالَ تَعَالَى {كُنْتُم خير أمة أخرجت للنَّاس} فَإِنَّهُم أول دَاخل فِي هَذَا الْخطاب كَذَلِك شهد لَهُم رَسُول الله صلى الله عليه وسلم بقوله فِي الحَدِيث الْمُتَّفق على صِحَّته (خير الْقُرُون قَرْني) وَلَا مقَام أعظم من مقَام قوم ارتضاهم الله عز وجل لصحبة نبيه
ইবনে মাজা আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন: আমার উম্মত পাঁচটি স্তরে বিভক্ত; প্রথম চল্লিশ বছর হলো নেকি ও তাকওয়াসম্পন্ন লোক, তারপর যারা তাদের পরবর্তী তারা একশ বিশ বছর পর্যন্ত পারস্পরিক যোগাযোগ ও দয়াসম্পন্ন লোক, তারপর যারা তাদের পরবর্তী তারা একশ ষাট বছর পর্যন্ত পারস্পরিক বিমুখতা ও সম্পর্ক ছিন্নকারী লোক, তারপর হত্যা ও বিশৃঙ্খলা; মুক্তি চাই, মুক্তি চাই।
তাঁর নিকট তাঁর থেকেই আরও বর্ণিত হয়েছে: প্রতিটি স্তর চল্লিশ বছরের। আমার স্তর এবং আমার সাহাবীদের স্তর হলো ইলম ও ঈমানের স্তর। আর দ্বিতীয় স্তর চল্লিশ থেকে আশি বছর পর্যন্ত, তারা হলো নেকি ও তাকওয়াসম্পন্ন লোক; অতঃপর তিনি অনুরূপ উল্লেখ করেছেন।
হাসান বিন সুফিয়ান, ইবনে মানদাহ এবং আবু নুআইম 'আল-মারিফা' গ্রন্থে দারিম আত-তামিমি থেকে বর্ণনা করেছেন: প্রথম স্তর হলো আমি এবং আমার সাথে যারা আছে তারা, যারা ইলম ও ইয়াকিন সম্পন্ন, চল্লিশ বছর পর্যন্ত। দ্বিতীয় স্তর আশি বছর পর্যন্ত নেকি ও তাকওয়াসম্পন্ন লোক। তৃতীয় স্তর একশ বিশ বছর পর্যন্ত পারস্পরিক দয়া ও যোগাযোগ রক্ষা করা লোক। চতুর্থ স্তর একশ ষাট বছর পর্যন্ত পারস্পরিক সম্পর্ক ছিন্নকারী ও একে অপরের ওপর জুলুমকারী লোক। পঞ্চম স্তর দুইশ বছর পর্যন্ত হত্যা ও বিশৃঙ্খলার লোক। ইবনে আসাকিরের নিকটও অনুরূপ বর্ণনা রয়েছে, তবে তিনি বলেছেন: আমার স্তর ও আমার সাহাবীদের স্তর হলো ইলম ও ঈমানওয়ালাদের স্তর, এবং 'বিশৃঙ্খলা' শব্দের পরিবর্তে 'যুদ্ধবিগ্রহ' শব্দ ব্যবহার করেছেন।
তাদের জন্য এই গৌরবই যথেষ্ট যে, আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা তাদের পক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছেন যে তারা সর্বোত্তম মানুষ, যেখানে মহান আল্লাহ বলেছেন: {তোমরাই হলে সর্বোত্তম উম্মত, যাদের মানবজাতির জন্য আবির্ভূত করা হয়েছে}। কেননা তারাই এই সম্বোধনের প্রথম অন্তর্ভুক্ত। একইভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের জন্য সাক্ষ্য দিয়েছেন তাঁর সেই বাণীর মাধ্যমে যা সহীহ হওয়ার ব্যাপারে সকলে একমত: (সর্বোত্তম যুগ হলো আমার যুগ)। আর এমন সম্প্রদায়ের মর্যাদার চেয়ে মহান কোনো মর্যাদা হতে পারে না যাদের আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাঁর নবীর সাহচর্যের জন্য পছন্দ করেছেন।
(খণ্ড: ١)
আস-সাওয়াইকুল মুহরিকা আলা আহলির রাফদি ওয়াদ-দালালি ওয়ায-যানদাকা
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
صلى الله عَلَيْهِ وَسلم ونصرته وَقَالَ تَعَالَى {مُحَمَّد رَسُول الله وَالَّذين مَعَه أشداء على الْكفَّار رحماء بَينهم} الْآيَة وَقَالَ تَعَالَى وَالسَّابِقُونَ الْأَولونَ من الْمُهَاجِرين وَالْأَنْصَار وَالَّذين اتَّبَعُوهُمْ بِإِحْسَان رَضِي الله عَنْهُم وَرَضوا عَنهُ
فَتَأمل ذَلِك فَإنَّك تنجو من قَبِيح مَا اختلقته الرافضة عَلَيْهِم مِمَّا هم بريئون مِنْهُ كَمَا سَيَأْتِي بسط ذَلِك وإيضاحه فالحذر الحذر من اعْتِقَاد أدنى شَائِبَة من شوائب النَّقْص فيهم معَاذ الله لم يخْتَر الله لأكمل أنبيائه إِلَّا أكمل من عداهم من بَقِيَّة الْأُمَم كَمَا أعلمنَا ذَلِك بقوله {كُنْتُم خير أمة أخرجت للنَّاس}
وَمِمَّا يرشدك إِلَى أَن مَا نسبوه إِلَيْهِم كذب مختلق عَلَيْهِم أَنهم لم ينقلوا شَيْئا مِنْهُ بِإِسْنَاد عرفت رِجَاله وَلَا عدلت نقلته وَإِنَّمَا هُوَ شَيْء من إفكهم وحمقهم وجهلهم وافترائهم على الله سبحانه وتعالى فإياك أَن تدع الصَّحِيح وتتبع السقيم ميلًا إِلَى الْهوى والعصبية وسيتلى عَلَيْك عَن عَليّ كرم الله وَجهه وَعَن أكَابِر أهل بَيته من تَعْظِيم الصَّحَابَة سِيمَا الشَّيْخَانِ وَعُثْمَان وَبَقِيَّة الْعشْرَة المبشرين بِالْجنَّةِ مَا فِيهِ مقنع لمن الْهم رشده
وَكَيف يسوغ لمن هُوَ من العترة النَّبَوِيَّة أَو من المتمسكين بحبلهم أَن يعدل عَمَّا تَوَاتر عَن إمَامهمْ عَليّ رضي الله عنه من قَوْله إِن خير هَذِه الْأمة بعد نبيها أَبُو بكر ثمَّ عمر وَزعم الرافضة لعنهم الله أَن ذَلِك تقية سيتكرر عَلَيْك رده
আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক এবং তাঁর সাহায্য। আল্লাহ তাআলা বলেন: {মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল এবং তাঁর সাথে যারা আছে তারা কাফিরদের প্রতি কঠোর ও নিজেদের মধ্যে অত্যন্ত দয়ালু...}—আয়াতের শেষ পর্যন্ত। এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: {মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা প্রথম অগ্রগামী এবং যারা ইহসানের সাথে তাদের অনুসরণ করেছে, আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে।}
অতএব এটি নিয়ে চিন্তা করো, তবেই তুমি রাফেজিদের দ্বারা তাদের বিরুদ্ধে তৈরিকৃত সেই কুৎসিত অপবাদ থেকে মুক্তি পাবে যা থেকে তারা সম্পূর্ণ মুক্ত; যেমনটি সামনে বিস্তারিত ও স্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হবে। সুতরাং তাদের ব্যাপারে বিন্দুমাত্র ত্রুটির বিশ্বাসের ব্যাপারে সাবধান থাকো, অত্যন্ত সাবধান! আল্লাহ রক্ষা করুন; আল্লাহ তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ নবীর জন্য অন্য সকল উম্মতের মধ্যে যারা সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি ছিলেন তাদের ছাড়া অন্য কাউকে নির্বাচন করেননি, যেমনটি তিনি আমাদের জানিয়েছেন তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: {তোমরা হলে শ্রেষ্ঠ উম্মত যাদের মানুষের কল্যাণের জন্য বের করা হয়েছে।}
তারা তাদের (সাহাবীগণের) প্রতি যা নিসবত করে তা যে তাদের নামে মিথ্যা অপবাদ, তার একটি দিকনির্দেশনা হলো এই যে, তারা এর কোনো কিছুই এমন কোনো সনদের মাধ্যমে বর্ণনা করেনি যার বর্ণনাকারীরা পরিচিত অথবা যাদের নির্ভরযোগ্যতা প্রমাণিত। বরং এটি তাদের মিথ্যাচার, বোকামি, মূর্খতা এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার ওপর অপবাদেরই অংশ। সুতরাং খবরদার! প্রবৃত্তি ও গোঁড়ামির বশবর্তী হয়ে সঠিক বিষয় বর্জন করে রুগ্ন বিষয়ের অনুসরণ করো না। আলী (আল্লাহ তাঁর মুখমণ্ডলকে সম্মানিত করুন) এবং তাঁর আহলে বাইতের বড় বড় ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে সাহাবীগণের প্রতি—বিশেষ করে শায়খাইন (আবু বকর ও উমর), উসমান এবং জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত বাকি দশজন সাহাবীর প্রতি—সম্মান প্রদর্শনের যে বর্ণনা সামনে পাঠ করা হবে, তা এমন ব্যক্তির জন্য যথেষ্ট হবে যাকে আল্লাহ সঠিক পথ দেখিয়েছেন।
আর যারা নববী বংশের অন্তর্ভুক্ত কিংবা যারা তাদের আদর্শকে আঁকড়ে ধরে আছে, তাদের জন্য কীভাবে এটি সম্ভব যে, তারা তাদের ইমাম আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে অকাট্যভাবে বর্ণিত এই বাণী থেকে বিমুখ হবে যে—'নবীর পর এই উম্মতের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি হলেন আবু বকর, অতঃপর উমর'। আর রাফেজিরা—আল্লাহ তাদের ওপর লানত করুন—দাবি করে যে এটি ছিল 'তাকিয়া' বা কৌশলগত সতর্কতা, যার খণ্ডন বারবার তোমার সামনে আসবে।
(খণ্ড: ١)
আস-সাওয়াইকুল মুহরিকা আলা আহলির রাফদি ওয়াদ-দালালি ওয়ায-যানদাকা
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
وَبَيَان بُطْلَانه وَأَن ذَلِك أدّى بعض الرافضة إِلَى أَن كفر عليا قَالَ لِأَنَّهُ أعَان الْكفَّار على كفرهم فَقَاتلهُمْ الله مَا أحمقهم وأجهلهم
وروى الطَّبَرَانِيّ وَغَيره عَن عَليّ رضي الله عنه الله الله فِي أَصْحَاب نَبِيكُم صلى الله عليه وسلم فَإِنَّهُ أوصى بهم خيرا
এর অসারতার বর্ণনা এবং এটি কোনো কোনো রাফেযিকে আলীকে কাফের সাব্যস্ত করার দিকে পরিচালিত করেছিল। তারা বলেছিল যে, তিনি কাফেরদেরকে তাদের কুফরির ওপর সাহায্য করেছেন। আল্লাহ তাদের ধ্বংস করুন, তারা কতই না নির্বোধ ও মূর্খ!
তাবারানি ও অন্যান্যরা আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন: তোমাদের নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাহাবিদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো, আল্লাহকে ভয় করো। কেননা তিনি তাঁদের সম্পর্কে কল্যাণের অসিয়ত করেছেন।
(খণ্ড: ١)
আস-সাওয়াইকুল মুহরিকা আলা আহলির রাফদি ওয়াদ-দালালি ওয়ায-যানদাকা
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
الْمُقدمَة الثَّانِيَة اعْلَم أَيْضا أَن الصَّحَابَة رضوَان الله تَعَالَى عَلَيْهِم أَجْمَعِينَ أَجمعُوا على أَن نصب الإِمَام بعد انْقِرَاض زمن النُّبُوَّة وَاجِب بل جَعَلُوهُ أهم الْوَاجِبَات حَيْثُ اشتغلوا بِهِ عَن دفن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَاخْتِلَافهمْ فِي التَّعْيِين لَا يقْدَح فِي الْإِجْمَاع الْمَذْكُور ولتلك الأهمية لما توفّي رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَامَ أَبُو بكر رضي الله عنه خَطِيبًا كَمَا سَيَأْتِي فَقَالَ أَيهَا النَّاس من كَانَ يعبد مُحَمَّدًا فَإِن مُحَمَّدًا قد مَاتَ وَمن كَانَ يعبد الله فَإِن الله حَيّ لَا يَمُوت وَلَا بُد لهَذَا الْأَمر مِمَّن يقوم بِهِ فانظروا وهاتوا آراءكم فَقَالُوا صدقت نَنْظُر فِيهِ
ثمَّ ذَلِك الْوُجُوب عندنَا معشر أهل السّنة وَالْجَمَاعَة وَعند أَكثر الْمُعْتَزلَة بِالسَّمْعِ أَي من جِهَة التَّوَاتُر وَالْإِجْمَاع الْمَذْكُور وَقَالَ كثير بِالْعقلِ وَوجه ذَلِك الْوُجُوب أَنه صلى الله عليه وسلم أَمر بِإِقَامَة الْحُدُود وسد الثغور وتجهيز الجيوش للْجِهَاد وَحفظ بَيْضَة الْإِسْلَام وَمَا لَا يتم الْوَاجِب الْمُطلق إِلَّا بِهِ وَإِن كَانَ مَقْدُورًا فَهُوَ وَاجِب وَلِأَن فِي نَصبه جلب مَنَافِع لَا تحصى وَدفع مضار لَا تستقصى وكل مَا كَانَ كَذَلِك يكون وَاجِبا
أما الصُّغْرَى على مَا فِي شرح الْمَقَاصِد فتكاد تلْحق بالضروريات بل
দ্বিতীয় ভূমিকা আরও জেনে রাখুন যে, সাহাবায়ে কেরাম (আল্লাহ তাআলা তাঁদের সবার প্রতি সন্তুষ্ট হোন) এই বিষয়ে ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে, নবুওয়তের যুগ শেষ হওয়ার পর ইমাম (নেতা) নিযুক্ত করা ওয়াজিব; বরং তাঁরা একে গুরুত্বপূর্ণ ওয়াজিবসমূহের অন্তর্ভুক্ত করেছেন, যে কারণে তাঁরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাফন কার্যের পূর্বে এই কাজে আত্মনিয়োগ করেছিলেন। আর সুনির্দিষ্ট ব্যক্তিকে নির্ধারণের ক্ষেত্রে তাঁদের মতপার্থক্য উক্ত ইজমার কোনো ক্ষতি করে না। এবং সেই গুরুত্বের কারণেই যখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করলেন, তখন আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু খতীব হিসেবে দাঁড়ালেন—যেমনটি সামনে আসবে—এবং বললেন: হে লোকসকল! যে মুহাম্মাদের ইবাদত করত, সে জেনে রাখুক যে মুহাম্মাদ মৃত্যুবরণ করেছেন; আর যে আল্লাহর ইবাদত করত, সে জেনে রাখুক যে আল্লাহ চিরঞ্জীব, তিনি কখনো মৃত্যুবরণ করবেন না। আর এই (রাষ্ট্রীয়) পরিচালনার জন্য এমন কাউকে প্রয়োজন যে এর দায়িত্ব পালন করবে। সুতরাং আপনারা লক্ষ্য করুন এবং আপনাদের মতামত প্রদান করুন। তখন তাঁরা বললেন: আপনি সত্য বলেছেন, আমরা এ বিষয়ে ভেবে দেখছি।
অতঃপর আমাদের আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত এবং অধিকাংশ মুতাজিলাদের মতে এই ওয়াজিব সাব্যস্ত হয়েছে শরয়ী প্রমাণের (সাম'ই) ভিত্তিতে, অর্থাৎ তাওয়াতুর ও উল্লিখিত ইজমার মাধ্যমে। তবে অনেকে একে বিবেকের (আকল) মাধ্যমে ওয়াজিব বলেছেন। এই ওয়াজিব হওয়ার কারণ হলো যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হদসমূহ কায়েম করা, সীমান্ত রক্ষা করা, জিহাদের জন্য সেনাবাহিনী প্রস্তুত করা এবং ইসলামের অস্তিত্ব রক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন। আর যে কাজ ব্যতীত কোনো পরম ওয়াজিব সম্পন্ন হয় না, এবং সেই কাজটি করার সামর্থ্য থাকে, তবে সেই কাজটিও ওয়াজিব। আর একারণেও যে, ইমাম নিযুক্ত করার মধ্যে অসংখ্য কল্যাণ অর্জন এবং অগণিত ক্ষতি প্রতিহত করার বিষয় রয়েছে। আর যা কিছুই এমন বৈশিষ্ট্যমন্ডিত হয়, তা ওয়াজিব হয়ে থাকে।
শারহুল মাকাসিদ-এ যা বর্ণিত হয়েছে সে অনুযায়ী অবরোহী অনুসিদ্ধান্তটি (সুগরা) প্রায় স্বতঃসিদ্ধ বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত, বরং
(খণ্ড: ١)
আস-সাওয়াইকুল মুহরিকা আলা আহলির রাফদি ওয়াদ-দালালি ওয়ায-যানদাকা
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
بالمشاهدات بِشَهَادَة مَا نرَاهُ من الْفِتَن وَالْفساد وانفصام أُمُور الْعباد بِمُجَرَّد موت الإِمَام وَإِن لم يكن على مَا يَنْبَغِي من الصّلاح والسداد
وَأما الْكُبْرَى فبالإجماع عندنَا وبالضرورة عِنْد من قَالَ بِالْوُجُوب عقلا من الْمُعْتَزلَة كابي الْحُسَيْن والجاحظ والخياط والكعبي وَأما مُخَالفَة الْخَوَارِج وَنَحْوهم فِي الْوُجُوب فَلَا يعْتد بهَا لِأَن مخالفتهم كَسَائِر المبتدعة لَا تقدح فِي الْإِجْمَاع وَلَا تخل بِمَا يفِيدهُ من الْقطع بالحكم الْمجمع عَلَيْهِ وَدَعوى أَن فِي نَصبه ضَرَرا من حَيْثُ إِن إِلْزَام من هُوَ مثله بامتثال أوامره فِيهِ إِضْرَار بِهِ فَيُؤَدِّي إِلَى الْفِتْنَة وَمن حَيْثُ إِنَّه غير مَعْصُوم من نَحْو الْكفْر والفسوق فَإِن لم يعتزل أضرّ بِالنَّاسِ وَإِن عزل أدّى إِلَى محاربته وفيهَا ضَرَر أَي ضَرَر بَاطِلَة لَا ينظر إِلَيْهَا لِأَن الْإِضْرَار اللَّازِم من ترك نَصبه أعظم وأقبح بل لَا نِسْبَة بَينهمَا وَدفع الضَّرَر الْأَعْظَم عِنْد التَّعَارُض وَاجِب وَفرض انتظام حَال النَّاس بِدُونِ إِمَام محَال عَادَة كَمَا هُوَ مشَاهد
প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার মাধ্যমে এটি প্রমাণিত, যেমন আমরা ইমামের মৃত্যুর পরপরই ফিতনা, বিশৃঙ্খলা এবং জনগণের শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হতে দেখি, যদিও তিনি কাঙ্ক্ষিত মাত্রার সৎকর্মশীলতা ও সঠিক পথে পরিচালিত না ছিলেন তবুও।
আর প্রধান প্রাঙ্গণটি আমাদের নিকট ইজমার মাধ্যমে এবং মুতাজিলাদের মধ্যে যারা আকলি বা বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে এটি ওয়াজিব বলেন, যেমন আবুল হুসাইন, জাহিজ, খাইয়াত এবং কাবী—তাদের নিকট এটি স্বতঃসিদ্ধভাবে প্রমাণিত। আর এটি ওয়াজিব হওয়ার ক্ষেত্রে খারিজি এবং তাদের ন্যায় অন্যদের বিরোধিতাকে গণ্য করা হবে না। কারণ অন্যান্য বিদআতিদের মতো তাদের বিরোধিতাও ইজমার কোনো ক্ষতি করে না এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ইজমা যে অকাট্য সিদ্ধান্ত প্রদান করে তাতেও কোনো বিঘ্ন ঘটায় না। আর এই দাবি করা যে—ইমাম নিয়োগে ক্ষতি রয়েছে, এই দিক থেকে যে তার সমপর্যায়ের কাউকে তার নির্দেশ পালনে বাধ্য করা তার জন্য ক্ষতিকর এবং যা ফিতনার দিকে পরিচালিত করে; এবং এই দিক থেকে যে তিনি কুফর ও পাপাচারের মতো বিষয় থেকে সুরক্ষিত নন, ফলে তিনি যদি পদত্যাগ না করেন তবে জনগণের ক্ষতি করবেন, আর তাকে অপসারণ করতে গেলে যুদ্ধের পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে যাতে চরম ক্ষতি রয়েছে—এমন দাবি বাতিল এবং তা ধর্তব্য নয়। কেননা ইমাম নিয়োগ না করার ফলে যে ক্ষতি সাধিত হয় তা অধিকতর গুরুতর ও জঘন্য; বরং এই দুই ক্ষতির মাঝে কোনো তুলনাই চলে না। আর সংঘাতের সময় বৃহত্তর ক্ষতি প্রতিহত করা ওয়াজিব। ইমাম ব্যতীত জনগণের অবস্থার শৃঙ্খলা বজায় থাকা জাগতিক নিয়ম অনুসারে অসম্ভব, যেমনটি প্রত্যক্ষ করা যায়।
(খণ্ড: ١)
আস-সাওয়াইকুল মুহরিকা আলা আহলির রাফদি ওয়াদ-দালালি ওয়ায-যানদাকা
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
الْمُقدمَة الثَّالِثَة الْإِمَامَة تثبت إِمَّا بِنَصّ من الإِمَام على اسْتِخْلَاف وَاحِد من أَهلهَا وَإِمَّا بعقدها من أهل الْحل وَالْعقد لمن عقدت لَهُ من أَهلهَا كَمَا سَيَأْتِي بَيَان ذَلِك فِي الْأَبْوَاب وَإِمَّا بِغَيْر ذَلِك كَمَا هُوَ مُبين فِي مَحَله من كتب الْفُقَهَاء وَغَيرهم
وَاعْلَم أَنه يجوز نصب الْمَفْضُول مَعَ وجود من هُوَ افضل مِنْهُ لإِجْمَاع الْعلمَاء بعد الْخُلَفَاء الرَّاشِدين على إِمَامَة بعض من قُرَيْش مَعَ وجود افضل مِنْهُم وَلِأَن عمر رضي الله عنه جعل الْخلَافَة بَين سِتَّة من الْعشْرَة مِنْهُم عُثْمَان وَعلي رَضِي الله تَعَالَى عَنْهُمَا وهما افضل أهل زمانهما بعد عمر فَلَو تعين الْأَفْضَل لعين عمر عُثْمَان فَدلَّ عدم تَعْيِينه أَنه يجوز نصب غير عُثْمَان وَعلي مَعَ وجودهما وَالْمعْنَى فِي ذَلِك أَن غير الْأَفْضَل قد يكون أقدر مِنْهُ على الْقيام بمصالح الدّين وَأعرف بتدبير الْملك وأوفق لانتظام حَال الرّعية وأوثق فِي اندفاع الْفِتْنَة وَاشْتِرَاط الْعِصْمَة فِي الإِمَام وَكَونه هاشميا وَظُهُور معْجزَة على يَدَيْهِ يعلم بهَا صدقه من خرافات نَحْو الشِّيعَة وجهالاتهم لما سَيَأْتِي بَيَانه وإيضاحه من حقية خلَافَة أبي بكر وَعمر وَعُثْمَان رضي الله عنهم مَعَ انْتِفَاء ذَلِك فيهم
وَمن جهالاتهم أَيْضا قَوْلهم إِن غير الْمَعْصُوم يُسمى ظَالِما فيتناوله قَوْله تَعَالَى {لَا ينَال عهدي الظَّالِمين}
তৃতীয় ভূমিকা ইমামত সাব্যস্ত হয় হয় ইমাম কর্তৃক যোগ্য ব্যক্তিদের মধ্য থেকে একজনকে উত্তরাধিকারী হিসেবে মনোনয়নের সুস্পষ্ট ঘোষণার মাধ্যমে, নতুবা যোগ্য ব্যক্তিদের মধ্য থেকে কারো জন্য 'আহলে হল ও আকদ' (নীতিনির্ধারক ও বিজ্ঞজন)-এর মাধ্যমে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার দ্বারা, যেমনটি সামনে অধ্যায়গুলোতে বর্ণিত হবে। অথবা এ ছাড়াও অন্য কোনো উপায়ে, যা ফকিহ ও অন্যান্যদের কিতাবে নিজ নিজ স্থানে বিশদভাবে বর্ণিত হয়েছে।
জেনে রাখুন যে, কোনো অধিকতর উত্তম ব্যক্তির উপস্থিতিতে তার চেয়ে অপেক্ষাকৃত কম উত্তম ব্যক্তিকে ইমাম হিসেবে নিযুক্ত করা জায়েজ। কেননা খুলাফায়ে রাশেদীনের পরবর্তী সময়ে শ্রেষ্ঠতর ব্যক্তি বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও কুরাইশদের কারো কারো ইমামতের ব্যাপারে আলেমগণ ঐক্যমত পোষণ করেছেন। আর একারণেই উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) খিলাফতের বিষয়টি দশজনের মধ্য থেকে ছয়জনের ওপর ন্যস্ত করেছিলেন, যাদের মধ্যে উসমান ও আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) অন্তর্ভুক্ত ছিলেন; অথচ তাঁরা উমরের পরে তৎকালীন সময়ের শ্রেষ্ঠতম ব্যক্তি ছিলেন। যদি সর্বাধিক উত্তম ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট করা অপরিহার্য হতো, তবে উমর অবশ্যই উসমানকে নির্দিষ্ট করে দিতেন। সুতরাং তাঁর কর্তৃক কাউকে নির্দিষ্ট না করা এটাই প্রমাণ করে যে, উসমান ও আলীর উপস্থিতিতে অন্য কাউকে ইমাম নিযুক্ত করা বৈধ। এর অন্তর্নিহিত যুক্তি হলো, অপেক্ষাকৃত কম উত্তম ব্যক্তি কখনও কখনও দ্বীনি স্বার্থ সংরক্ষণে অধিক পারদর্শী এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় অধিক প্রজ্ঞাবান হতে পারেন, যা প্রজাসাধারণের শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য অধিক উপযোগী এবং ফিতনা দমনে অধিক নির্ভরযোগ্য। আর ইমামের জন্য ‘নিষ্পাপ’ (মাসুম) হওয়া, হাশেমী বংশোদ্ভূত হওয়া এবং সত্যতা প্রমাণের জন্য তাঁর হাতে ‘মুজিজা’ বা অলৌকিক কিছু প্রকাশ পাওয়া শর্ত করা শিয়াদের ন্যায় পথভ্রষ্টদের অলীক কল্পনা ও মূর্খতা বৈ কিছু নয়। কারণ সামনে আবু বকর, উমর ও উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর খিলাফতের সত্যতা ও নায্যতা সবিস্তারে বর্ণিত হবে, অথচ তাঁদের মাঝে এই (কথিত) গুণাবলী বিদ্যমান ছিল না।
তাদের মূর্খতাপূর্ণ উক্তিগুলোর মধ্যে একটি হলো তাদের এই দাবি যে, যে ব্যক্তি ‘মাসুম’ বা নিষ্পাপ নয় সে ‘জালেম’ (অত্যাচারী), ফলে মহান আল্লাহর এই বাণী তাকেও অন্তর্ভুক্ত করে: "আমার প্রতিশ্রুতি জালেমদের কাছে পৌঁছাবে না।"
(খণ্ড: ١)
আস-সাওয়াইকুল মুহরিকা আলা আহলির রাফদি ওয়াদ-দালালি ওয়ায-যানদাকা
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
وَلَيْسَ كَمَا زَعَمُوا إِذْ الظَّالِم لُغَة من يضع الشَّيْء فِي غير مَحَله وَشرعا العَاصِي وَغير الْمَعْصُوم قد يكون مَحْفُوظًا فَلَا يصدر عَنهُ ذَنْب أَو يصدر عَنهُ وَيَتُوب مِنْهُ حَالا تَوْبَة نصُوحًا فالآية لَا تتناوله وَإِنَّمَا تتَنَاوَل العَاصِي على أَن الْعَهْد فِي الْآيَة كَمَا يحْتَمل أَن يُرَاد بِهِ الْإِمَامَة الْعُظْمَى يحْتَمل أَيْضا أَن المُرَاد بِهِ النُّبُوَّة أَو الْإِمَامَة فِي الدّين أَو نَحْوهمَا من مَرَاتِب الْكَمَال وَهَذِه الْجَهَالَة مِنْهُم إِنَّمَا اخترعوها ليبنوا عَلَيْهَا بطلَان خلَافَة غير عَليّ وَسَيَأْتِي مَا يرد عَلَيْهِم وَيبين عنادهم وجهلهم وضلالهم نَعُوذ بِاللَّه من الْفِتَن والمحن آمين
আর বিষয়টি তেমন নয় যেমনটি তারা দাবি করেছে; কারণ শাব্দিক অর্থে ‘জালিম’ (অন্যায়কারী) হলো সেই ব্যক্তি, যে কোনো বস্তুকে তার অযোগ্য স্থানে রাখে। আর শরীয়তের পরিভাষায় সে হলো অবাধ্য। আর যে ব্যক্তি নিষ্পাপ নয়, সেও ‘সংরক্ষিত’ হতে পারে; ফলে তার দ্বারা কোনো গুনাহ সংঘটিত হয় না, অথবা গুনাহ সংঘটিত হলেও সে তৎক্ষণাৎ তা থেকে বিশুদ্ধ তাওবা করে নেয়। সুতরাং আয়াতটি তাকে অন্তর্ভুক্ত করে না, বরং তা কেবল অবাধ্য গুনাহগারকেই অন্তর্ভুক্ত করে। তদুপরি, আয়াতে বর্ণিত ‘অঙ্গীকার’ দ্বারা যেমন ‘মহান ইমামত’ উদ্দেশ্য হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তেমনি এর দ্বারা ‘নবুওয়াত’ অথবা দ্বীনি ইমামত কিংবা পূর্ণতার এই জাতীয় অন্যান্য স্তরসমূহ উদ্দেশ্য হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে। তাদের এই মূর্খতাসুলভ বিষয়টি তারা কেবল এজন্যই উদ্ভাবন করেছে, যাতে তারা এর ওপর ভিত্তি করে আলী ব্যতীত অন্য সবার খিলাফতের অসারতা প্রমাণ করতে পারে। অচিরেই এমন আলোচনা আসবে যা তাদের খণ্ডন করবে এবং তাদের হঠকারিতা, মূর্খতা ও ভ্রষ্টতাকে স্পষ্ট করে দেবে। আমরা ফিতনা ও বিপদ-আপদ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আমীন।
(খণ্ড: ١)
আস-সাওয়াইকুল মুহরিকা আলা আহলির রাফদি ওয়াদ-দালালি ওয়ায-যানদাকা
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
الْبَاب الأول فِي بَيَان كَيْفيَّة خلَافَة الصّديق رضي الله عنه وَالِاسْتِدْلَال على حقيتها بالأدلة النقلية والعقلية وَمَا يتبع ذَلِك وَفِيه فُصُول
প্রথম অধ্যায়: সিদ্দিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর খিলাফতের পদ্ধতি বর্ণনা এবং বর্ণনাভিত্তিক ও যুক্তিনির্ভর দলীলসমূহের মাধ্যমে এর যথার্থতা প্রমাণ ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি প্রসঙ্গে; এতে কয়েকটি পরিচ্ছেদ রয়েছে।
(খণ্ড: ١)
আস-সাওয়াইকুল মুহরিকা আলা আহলির রাফদি ওয়াদ-দালালি ওয়ায-যানদাকা
(পৃষ্ঠা: ٣١)
الْفَصْل الأول فِي بَيَان كيفيتها روى الشَّيْخَانِ البُخَارِيّ وَمُسلم فِي صَحِيحَيْهِمَا اللَّذين هما أصح الْكتب بعد الْقُرْآن بِإِجْمَاع من يعْتد بِهِ أَن عمر رضي الله عنه خطب النَّاس مرجعه من الْحَج فَقَالَ فِي خطبَته قد بَلغنِي أَن قَائِلا مِنْكُم يَقُول لَو مَاتَ عمر بَايَعت فلَانا فَلَا يغترن امْرُؤ أَن يَقُول إِن بيعَة أبي بكر كَانَت فلتة أَلا وَإِنَّهَا كَذَلِك إِلَّا أَن الله وقى شَرها وَلَيْسَ فِيكُم الْيَوْم من تقطع إِلَيْهِ الْأَعْنَاق مثل أبي بكر وَإنَّهُ كَانَ من خيارنا حِين توفّي رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِن عليا وَالزُّبَيْر وَمن مَعَهُمَا تخلفوا فِي بَيت فَاطِمَة وَتَخَلَّفت الْأَنْصَار عَنَّا بأجمعها فِي سَقِيفَة بني سَاعِدَة وَاجْتمعَ الْمُهَاجِرُونَ إِلَى أبي بكر فَقلت لَهُ يَا أَبَا بكر انْطلق بِنَا إِلَى إِخْوَاننَا من الْأَنْصَار فَانْطَلَقْنَا نؤمهم أَي نقصدهم حَتَّى لَقينَا رجلَانِ صالحان فذكرا لنا الَّذِي صنع الْقَوْم قَالَا أَيْن تُرِيدُونَ يَا معشر الْمُهَاجِرين فَقُلْنَا نُرِيد إِخْوَاننَا من الْأَنْصَار فَقَالَا لَا عَلَيْكُم أَن لَا تقربوهم واقضوا أَمركُم يَا معشر الْمُهَاجِرين فَقلت وَالله لنأتينهم فَانْطَلقَا حَتَّى جئناهم فِي سَقِيفَة بني سَاعِدَة فَإِذا هم مجتمعون فَإِذا بَين ظهرانيهم رجل مزمل فَقلت من هَذَا قَالُوا سعد بن عبَادَة فَقلت مَا لَهُ قَالُوا وجع فَلَمَّا جلسنا قَامَ خطيبهم فَأثْنى على الله بِمَا هُوَ أَهله وَقَالَ أما بعد فَنحْن أنصار
প্রথম পরিচ্ছেদ: এর পদ্ধতি বর্ণনায় শাইখাইন (দুই ইমাম) বুখারী ও মুসলিম তাঁদের সহীহ গ্রন্থদ্বয়ে বর্ণনা করেছেন—যা নির্ভরযোগ্য ওলামায়ে কেরামের সর্বসম্মতিক্রমে কুরআনের পর সবচেয়ে বিশুদ্ধ কিতাব—উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হজ থেকে ফেরার পথে জনগণের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন। তিনি তাঁর ভাষণে বলেন: আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, তোমাদের মধ্যে জনৈক ব্যক্তি বলছে, 'যদি উমর মারা যান, তবে আমি অমুকের হাতে বায়আত (আনুগত্যের শপথ) গ্রহণ করব।' কোনো ব্যক্তি যেন এই কথা বলে বিভ্রান্ত না হয় যে, আবু বকরের বায়আত ছিল আকস্মিক। জেনে রেখো, এটি তেমনই ছিল, তবে আল্লাহ এর অনিষ্ট থেকে রক্ষা করেছেন। আর তোমাদের মধ্যে বর্তমানে আবু বকরের মতো এমন কেউ নেই যার প্রতি মানুষ (শ্রদ্ধায় ও আনুগত্যে) ধাবিত হবে। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ইন্তেকালের সময় তিনি আমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ছিলেন। আলী, যুবায়ের এবং তাঁদের সাথে যারা ছিলেন তারা ফাতেমার ঘরে অবস্থান করছিলেন, আর আনসাররা আমাদের থেকে পৃথক হয়ে সাকিফাহ বনি সা’ইদাহ-তে সমবেত হয়েছিল। মুহাজিরগণ আবু বকরের কাছে একত্রিত হলেন। তখন আমি তাঁকে বললাম, 'হে আবু বকর, আমাদের নিয়ে আমাদের আনসার ভাইদের কাছে চলুন।' অতঃপর আমরা তাদের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলাম, যতক্ষণ না আমাদের সাথে দুইজন নেককার ব্যক্তির সাক্ষাৎ হলো। তারা আমাদের কাছে লোকেরা যা করছিল তা বর্ণনা করলেন। তারা জিজ্ঞেস করলেন, 'হে মুহাজির সম্প্রদায়, আপনারা কোথায় যেতে চাচ্ছেন?' আমরা বললাম, 'আমরা আমাদের আনসার ভাইদের কাছে যেতে চাচ্ছি।' তারা বললেন, 'আপনাদের সেখানে না যাওয়াই ভালো, আপনারা আপনাদের সিদ্ধান্ত নিয়ে নিন হে মুহাজির সম্প্রদায়।' আমি বললাম, 'আল্লাহর কসম! আমরা অবশ্যই তাদের কাছে যাব।' অতঃপর তাঁরা চলতে লাগলেন এবং আমরা সাকিফাহ বনি সা’ইদাহ-তে তাদের কাছে পৌঁছলাম। সেখানে তারা সবাই সমবেত ছিলেন এবং তাদের মাঝখানে চাদর আবৃত এক ব্যক্তি ছিলেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, 'ইনি কে?' তারা বললেন, 'সা’দ ইবনে উবাদাহ।' আমি জিজ্ঞেস করলাম, 'তাঁর কী হয়েছে?' তারা বললেন, 'তিনি অসুস্থ।' যখন আমরা বসলাম, তখন তাদের বক্তা দাঁড়িয়ে আল্লাহর যথাযথ প্রশংসা করলেন এবং বললেন, 'অতঃপর, আমরা হলাম আনসার...'
(খণ্ড: ١)
আস-সাওয়াইকুল মুহরিকা আলা আহলির রাফদি ওয়াদ-দালালি ওয়ায-যানদাকা
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
الله وكتيبة الْإِسْلَام وَأَنْتُم يَا معشر الْمُهَاجِرين رَهْط منا وَقد دفت دافة مِنْكُم أَي دب قوم مِنْكُم بالاستعلاء والترفع علينا تُرِيدُونَ أَن تخذلونا من أصلنَا وتحضنونا من الْأَمر أَي تنحونا مِنْهُ وتستبدون بِهِ دُوننَا فَلَمَّا سكت أردْت أَن أَتكَلّم وَقد كنت زورت مقَالَة أعجبتني أردْت أَن أقولها بَين يَدي أبي بكر وَقد كنت أداري مِنْهُ بعض الْحَد وَهُوَ كَانَ أحلم مني وأوقر فَقَالَ أَبُو بكر على رسلك فَكرِهت أَن أغضبهُ وَكَانَ أعلم مني وَالله مَا ترك من كلمة أعجبتني فِي تزويري إِلَّا قَالَهَا فِي بديهته وافضل حَتَّى سكت فَقَالَ أما بعد فَمَا ذكرْتُمْ من خير فَأنْتم أَهله وَلم تعرف الْعَرَب هَذَا الْأَمر إِلَّا لهَذَا الْحَيّ من قُرَيْش هم أَوسط الْعَرَب نسبا ودارا وَقد رضيت لكم أحد هذَيْن الرجلَيْن فَبَايعُوا أَيهمَا شِئْتُم وَأخذ بيَدي وبيد أبي عُبَيْدَة بن الْجراح فَلم أكره مَا قَالَ غَيرهَا وَلِأَن وَالله أقدم فَتضْرب عنقِي لَا يقربنِي ذَلِك من إِثْم أحب إِلَيّ من أَن أتأمر على قوم فيهم أَبُو بكر فَقَالَ قَائِل من الْأَنْصَار أَي هُوَ الْحباب بِمُهْملَة مَضْمُومَة فموحدة ابْن الْمُنْذر أَنا جذيلها المحكك وعذيقها المرجب أَي أَنا الَّذِي يشتفى برأيي وتدبيري وَأَمْنَع بجلدتي ولحمتي كل نائبة تنوبهم كَمَا دلّ على ذَلِك مَا فِي كَلَامه من الِاسْتِعَارَة بِالْكِنَايَةِ المخيل لَهَا بِذكر مَا يلائم الْمُشبه بِهِ إِذْ مَوْضُوع الجذيل المحكك وَهُوَ بجيم فمعجمة تَصْغِير جذل عود ينصب فِي العطن لتحتك بِهِ الْإِبِل الجرباء والتصغير للتعظيم والعذق بِفَتْح الْعين النَّخْلَة بحملها فاستعارها لما
আল্লাহ এবং ইসলামের সেনাদল। আর হে মুহাজির সম্প্রদায়, তোমরা আমাদেরই একটি ক্ষুদ্র দল। তোমাদের মধ্য থেকে একদল লোক আমাদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব ও আভিজাত্য প্রদর্শনের মাধ্যমে আমাদের কাছে এসেছে; তোমরা আমাদের মূল ভিত্তি থেকে বিচ্ছিন্ন করতে এবং এই নেতৃত্ব থেকে আমাদের দূরে সরিয়ে দিতে চাচ্ছ, অর্থাৎ তোমরা আমাদের তা থেকে সরিয়ে দিতে এবং আমাদের বাদ দিয়ে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করতে চাচ্ছ। যখন তিনি চুপ হলেন, তখন আমি কথা বলতে চাইলাম। আমি মনে মনে একটি বক্তব্য গুছিয়ে রেখেছিলাম যা আমার পছন্দ হয়েছিল এবং আমি তা আবু বকরের সামনে বলতে চেয়েছিলাম। আমি তাঁর মেজাজের কিছুটা তীব্রতাকে সামলে চলতাম, অথচ তিনি ছিলেন আমার চেয়ে অধিক সহনশীল এবং গম্ভীর প্রকৃতির। আবু বকর বললেন, "স্থির হও।" আমি তাঁকে রাগান্বিত করা অপছন্দ করলাম। তিনি আমার চেয়ে অধিক জ্ঞানী ছিলেন। আল্লাহর কসম, আমার সাজানো বক্তব্যের প্রতিটি কথা তিনি তাঁর উপস্থিত বক্তৃতায় বলে দিলেন, এমনকি তার চেয়েও উত্তমভাবে বললেন, যতক্ষণ না তিনি নীরব হলেন। অতঃপর তিনি বললেন, "অতঃপর, তোমরা নিজেদের যে সব গুণের কথা উল্লেখ করেছ, তোমরা অবশ্যই তার যোগ্য। তবে আরবরা এই নেতৃত্বকে কুরাইশদের এই গোত্র ছাড়া অন্য কারও জন্য স্বীকার করবে না; কারণ কুরাইশরা বংশমর্যাদা এবং বাসস্থানের দিক থেকে আরবদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। আমি তোমাদের জন্য এই দুই ব্যক্তির একজনকে পছন্দ করেছি, তাই তোমরা এই দুইজনের যাকে ইচ্ছা বায়আত প্রদান করো।" এই বলে তিনি আমার এবং আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহর হাত ধরলেন। তাঁর পুরো বক্তব্যের মধ্যে কেবল এই কথাটিই আমার অপছন্দ হলো। আল্লাহর কসম, আমাকে সামনে এগিয়ে দিয়ে আমার গর্দান উড়িয়ে দেওয়া—যদি তা আমাকে কোনো পাপের নিকটবর্তী না করে—তা আমার কাছে এমন এক জাতির ওপর নেতৃত্ব দেওয়ার চেয়ে অধিক প্রিয়, যাদের মধ্যে আবু বকর বিদ্যমান। তখন আনসারদের মধ্য থেকে একজন বক্তা (যিনি হলেন হুবাব ইবনুল মুনযির; হুবাব নামটি 'হা' বর্ণে পেশ এবং 'বা' বর্ণ দিয়ে গঠিত) বললেন, "আমি হচ্ছি সেই চুলকানি মেটানোর কাঠ এবং ঠেস দিয়ে রাখা ফলবান খেজুর গাছ।" অর্থাৎ আমি এমন ব্যক্তি যার পরামর্শ ও পরিকল্পনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান পাওয়া যায় এবং আমি আমার সর্বস্ব দিয়ে তাদের ওপর আপতিত প্রতিটি বিপদ প্রতিহত করি। যেমনটি তাঁর কথার মধ্যকার রূপক ও ইঙ্গিতপূর্ণ অলঙ্কার থেকে বোঝা যায়, যা উপমেয়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে বর্ণনা করা হয়েছে। কারণ 'জুদাইলুল মুহাক্কাক' (যা জিম এবং তার পরের বর্ণ যোগে গঠিত) শব্দটি 'জাযল' শব্দের ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপ; যার অর্থ হলো উটের আস্তাবলে পুঁতে রাখা একটি কাঠ যাতে চুলকানি আক্রান্ত উট শরীর ঘর্ষণ করে। এখানে ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপটি মাহাত্ম্য প্রকাশের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। আর 'আযক' (আইন বর্ণে জবর যোগে) অর্থ হলো ফলভারাবনত খেজুর গাছ। তিনি এটিকে রূপক হিসেবে ব্যবহার করেছেন...
(খণ্ড: ١)
আস-সাওয়াইকুল মুহরিকা আলা আহলির রাফদি ওয়াদ-দালালি ওয়ায-যানদাকা
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
ذَكرْنَاهُ والمرجب بِالْجِيم وَغلط من قَالَ بِالْحَاء من قَوْلهم نَخْلَة رجبية وترجيبها ضم أعذاقها إِلَى سعفاتها وشدها بالخوص لِئَلَّا ينفضها الرّيح أَو يصل إِلَيْهَا آكل منا أَمِير ومنكم أَمِير يَا معشر قُرَيْش وَكثر اللَّغط وَارْتَفَعت الْأَصْوَات حَتَّى خشيت الِاخْتِلَاف فَقلت ابْسُطْ يدك يَا أَبَا بكر فَبسط يَده فَبَايَعته ثمَّ بَايعه الْمُهَاجِرُونَ ثمَّ بَايعه الْأَنْصَار أما وَالله مَا وجدنَا فِيمَا حَضَرنَا أمرا هُوَ أوفق من مبايعة أبي بكر خشينا إِن فارقنا الْقَوْم وَلم تكن بيعَة أَن يحدثوا بَعدنَا بيعَة فإمَّا أَن نبايعهم على مَا لَا نرضى وَإِمَّا أَن نخالفهم فَيكون فِيهِ فَسَاد وَفِي رِوَايَة أَن أَبَا بكر احْتج على الْأَنْصَار بِخَبَر الْأَئِمَّة من قُرَيْش وَهُوَ // حَدِيث صَحِيح // ورد من طرق عَن نَحْو أَرْبَعِينَ صحابيا
وَأخرج النَّسَائِيّ وَأَبُو يعلى وَالْحَاكِم وَصَححهُ عَن ابْن مَسْعُود قَالَ لما قبض رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَت الْأَنْصَار منا أَمِير ومنكم أَمِير فَأَتَاهُم عمر بن الْخطاب فَقَالَ يَا معشر الْأَنْصَار ألستم تعلمُونَ أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قد أَمر أَبَا بكر أَن يؤم النَّاس وَأَيكُمْ تطيب نَفسه أَن يتَقَدَّم أَبَا بكر فَقَالَ الْأَنْصَار نَعُوذ بِاللَّه أَن نتقدم أَبَا بكر
আমরা এটি উল্লেখ করেছি এবং 'আল-মুরাজজাব' জিম (ج) অক্ষর সহযোগে। যারা হা (ح) অক্ষর দিয়ে বলেন তারা ভুল করেছেন। এটি তাদের কথা 'রজবীয় খেজুর গাছ' থেকে আগত এবং এর 'তারজীব' হলো এর কাঁদিগুলোকে ডালপালার সাথে মিলিয়ে দেওয়া এবং খেজুর পাতা দিয়ে বেঁধে রাখা যাতে বাতাস তা ঝরিয়ে না ফেলে অথবা কোনো ভক্ষণকারী তাতে পৌঁছাতে না পারে। "হে কুরাইশ সম্প্রদায়, আমাদের মধ্য থেকে একজন আমির এবং তোমাদের মধ্য থেকে একজন আমির থাকবে।" শোরগোল বেড়ে গেল এবং কণ্ঠস্বর উঁচু হতে লাগল, এমনকি আমি মতপার্থক্যের আশঙ্কা করলাম। তখন আমি বললাম, "হে আবু বকর, আপনার হাত প্রসারিত করুন।" তিনি তাঁর হাত প্রসারিত করলেন এবং আমি তাঁর হাতে বায়আত (আনুগত্যের শপথ) গ্রহণ করলাম। এরপর মুহাজিরগণ তাঁর নিকট বায়আত গ্রহণ করলেন, তারপর আনসারগণ তাঁর নিকট বায়আত গ্রহণ করলেন। আল্লাহর কসম, আমরা যে পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিলাম তাতে আবু বকরের বায়আতের চেয়ে অধিকতর সংগত কোনো বিষয় আমাদের কাছে ছিল না। আমরা আশঙ্কা করেছিলাম যে, আমরা যদি লোকগুলোকে কোনো বায়আত ছাড়াই ত্যাগ করি, তবে তারা আমাদের পরে হয়তো কোনো বায়আত সম্পন্ন করে ফেলবে; এমতাবস্থায় হয় আমাদের এমন কিছুর ওপর বায়আত করতে হতো যাতে আমরা সন্তুষ্ট নই, অথবা আমাদের তাদের বিরোধিতা করতে হতো যার ফলে ফাসাদ (বিশৃঙ্খলা) সৃষ্টি হতো। একটি বর্ণনায় এসেছে যে, আবু বকর আনসারদের বিরুদ্ধে 'ইমামগণ কুরাইশ থেকে হবে' এই সংবাদের মাধ্যমে দলিল পেশ করেছিলেন। এটি একটি সহীহ হাদীস যা প্রায় চল্লিশজন সাহাবীর সূত্রে বিভিন্ন পথে বর্ণিত হয়েছে।
নাসায়ী, আবু ইয়ালা এবং হাকেম এটি বর্ণনা করেছেন এবং হাকেম একে সহীহ বলেছেন। ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করলেন, তখন আনসাররা বলল, "আমাদের মধ্য থেকে একজন আমির এবং তোমাদের মধ্য থেকে একজন আমির থাকবে।" তখন ওমর ইবনুল খাত্তাব তাদের কাছে এসে বললেন, "হে আনসার সম্প্রদায়! তোমরা কি জানো না যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু বকরকে লোকদের ইমামতি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন? তোমাদের মধ্যে কার অন্তর আবু বকরের অগ্রগামী হওয়াকে পছন্দ করবে?" তখন আনসাররা বলল, "আবু বকরের অগ্রগামী হওয়া থেকে আমরা আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।"