(খণ্ড: ১)
আর-রদ্দু আলা মান যাহাবা ইলা তাসহীহি ইলমিল গাইবি মিন জিহাতিল খাত
(পৃষ্ঠা: -)
الرد على من ذهب إلى تصحيح علم الغيب من جهة الخط القسم: العقيدة
الكتاب: الرد على من ذهب إلى تصحيح علم الغيب من جهة الخط
المؤلف: أبو الوليد محمد بن أحمد بن رشد القرطبي (ت 520 هـ)
المحقق: مشهور حسن سلمان
الناشر: دار ابن حزم - بيروت
الطبعة: الأولى، 1413
عدد الصفحات: 52
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
রেখাঙ্কনের মাধ্যমে অদৃশ্যের জ্ঞান অর্জন করাকে যারা সঠিক মনে করে তাদের খণ্ডন বিভাগ: আকীদা
বই: রেখাঙ্কনের মাধ্যমে অদৃশ্যের জ্ঞান অর্জন করাকে যারা সঠিক মনে করে তাদের খণ্ডন
লেখক: আবু আল-ওয়ালিদ মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন রুশদ আল-কুরতুবী (মৃত্যু ৫২০ হিজরি)
সম্পাদক: মাশহুর হাসান সালমান
প্রকাশক: দার ইবনে হাযম - বৈরুত
সংস্করণ: প্রথম، ১৪১৩
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫২
[বইটির পৃষ্ঠা বিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আর-রদ্দু আলা মান যাহাবা ইলা তাসহীহি ইলমিল গাইবি মিন জিহাতিল খাত
(পৃষ্ঠা: ২৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
وَسُئِلَ رضي الله عنه فِيمَن ذهب إِلَى تَصْحِيح علم الْغَيْب من جِهَة الْخط لما رُوِيَ فِي ذَلِك من أَحَادِيث وَوجه تَأْوِيلهَا
وَنَصّ السُّؤَال مَا تَقول وفقك الله فِي هَذَا الْخط الَّذِي يخطه الْحساب فِي التُّرَاب فِي ضرب الْقرعَة هَل أَخذ الْأُجْرَة عَلَيْهِ حَلَال أم لَا وَهل ضربهَا بِغَيْر أجر مُبَاح أم لَا وعَلى هَذِه الْحجَج الَّتِي يحتجون بهَا هَل تصح أم لَا وَهِي مَا رُوِيَ عَن ابْن عَبَّاس أَنه قَالَ سَأَلت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فِي علم الْخط فِي التُّرَاب فَقَالَ كَانَ نَبِي من الْأَنْبِيَاء يخط فَمن وَافق خطه علم وَمن رِوَايَة مُعَاوِيَة بن الحكم كَذَلِك عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَقَالَ فَمن وَافق فَهُوَ الْخط وَيُقَال إِن النَّبِي
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
এবং তাঁকে (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, যে মাটিতে রেখা টানার মাধ্যমে অদৃশ্যের জ্ঞান অর্জনকে সঠিক সাব্যস্ত করার পথে চলেছে—এ বিষয়ে বর্ণিত হাদিসসমূহ এবং সেগুলোর ব্যাখ্যার প্রেক্ষিতে।
প্রশ্নের মূল পাঠ হলো: আল্লাহ আপনাকে তাওফিক দান করুন, গণনাকারীরা লটারির উদ্দেশ্যে মাটিতে যে রেখা টানে, সে সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? এর বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ করা কি হালাল নাকি নয়? পারিশ্রমিক ছাড়া তা করা কি বৈধ নাকি নয়? এবং তারা যে সকল দলিল পেশ করে সেগুলো কি সঠিক নাকি নয়? দলিলটি হলো যা ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে মাটিতে রেখা টানার বিদ্যা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি, তখন তিনি বললেন: "নবীদের মধ্য থেকে জনৈক নবী রেখা টানতেন; সুতরাং যার রেখা তাঁর রেখার সাথে মিলে যাবে, সে জানতে পারবে।" এবং মুয়াবিয়া ইবনুল হাকাম (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এর সূত্রেও নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে এবং তিনি বলেছেন: "সুতরাং যার (রেখা) মিলে যাবে, সেটিই সেই রেখা।" এবং বলা হয় যে, নিশ্চয়ই নবী
(খণ্ড: ১)
আর-রদ্দু আলা মান যাহাবা ইলা তাসহীহি ইলমিল গাইবি মিন জিহাতিল খাত
(পৃষ্ঠা: ৩০)
الَّذِي كَانَ يخط فِي الرمل كَانَ إِدْرِيس وَيُقَال إِبْرَاهِيم على نَبينَا وَعَلَيْهِمَا السَّلَام {فَنظر نظرة فِي النُّجُوم فَقَالَ إِنِّي سقيم} مَعْنَاهُ فِي الْخط
যিনি বালিতে রেখা টানতেন তিনি ছিলেন ইদরিস, এবং বলা হয় ইবরাহিম—আমাদের নবী এবং তাঁদের উভয়ের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। {অতঃপর সে নক্ষত্ররাজির দিকে একবার দৃষ্টিপাত করল এবং বলল: ‘নিশ্চয়ই আমি অসুস্থ’}, এর অর্থ হলো রেখা অঙ্কন বিদ্যায়।
(খণ্ড: ১)
আর-রদ্দু আলা মান যাহাবা ইলা তাসহীহি ইলমিল গাইবি মিন জিহাতিল খাত
(পৃষ্ঠা: ৩১)
وَذكر عَن إِسْمَاعِيل القَاضِي وَعلي بن الْمثنى وسُفْيَان بن عُيَيْنَة وَصَفوَان بن سليم عَن عَطاء بن يسَار سُئِلَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم عَن الْخط فِي التُّرَاب فَقَالَ علم علمه نَبِي من الْأَنْبِيَاء عليهم السلام فَمن وَافق علمه علم فَقَالَ صَفْوَان فَحدثت بِهِ أَبَا سَلمَة بن عبد الرَّحْمَن فَقَالَ حَدثنِي بِهِ ابْن عَبَّاس
এবং ইসমাইল আল-কাদি, আলী বিন আল-মুসান্না, সুফিয়ান বিন উইয়াইনাহ এবং সাফওয়ান বিন সুলাইম হতে আতা বিন ইয়াসারের সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মাটিতে রেখা টানা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি বললেন: এটি এমন এক জ্ঞান যা নবীদের মধ্য থেকে জনৈক নবীকে শিক্ষা দেওয়া হয়েছিল; সুতরাং যার জ্ঞান তাঁর (সেই নবীর) জ্ঞানের সাথে মিলে যায়, সে জেনে নিল। সাফওয়ান বলেন: আমি এটি আবু সালামাহ বিন আব্দুর রহমানের নিকট বর্ণনা করলে তিনি বললেন: ইবনে আব্বাস আমার নিকট এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আর-রদ্দু আলা মান যাহাবা ইলা তাসহীহি ইলমিল গাইবি মিন জিহাতিল খাত
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
وَرُوِيَ عَن سُفْيَان أَنه أَمر رجلا يخط لَهُ فِي
এবং সুফিয়ান থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি এক ব্যক্তিকে তাঁর জন্য ...-এর মধ্যে লিখে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আর-রদ্দু আলা মান যাহাবা ইলা তাসহীহি ইলমিল গাইবি মিন জিহাতিল খাত
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
الرمل فَسئلَ عَن ذَلِك فَقَالَ لحَدِيث صَفْوَان اقترحت عَلَيْهِ بِأَن يخط لي وَقَالَ عَليّ بن الْمثنى حدثت سُفْيَان أَن مُحَمَّد بن صَدَقَة كَانَ يخط لَهُ فِي الرمل لحَدِيث صَفْوَان
وَقيل فِي قَوْله تَعَالَى {وَلَا يحيطون بِشَيْء من علمه إِلَّا بِمَا شَاءَ} أَنه الْخط فِي الرمل وَقيل فِي قَوْله تَعَالَى {أَو أثارة من علم} أَنه الْخط فِي الرمل قَالَه ابْن عَبَّاس وَأكْثر الْمُفَسّرين كمل السُّؤَال
বালিতে রেখা টানা (রামল)। এ সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি সাফওয়ানের হাদিসের কারণে বললেন: আমি তাঁর কাছে প্রস্তাব করেছিলাম যেন তিনি আমার জন্য রেখা টানেন। আলী ইবনুল মুসান্না বলেন: আমি সুফিয়ানকে বলেছি যে, মুহাম্মদ ইবনে সাদাকা সাফওয়ানের হাদিসের কারণে তাঁর জন্য বালিতে রেখা টানতেন।
আর মহান আল্লাহর বাণী— {এবং তারা তাঁর জ্ঞানের কোনো কিছুই আয়ত্ত করতে পারে না, তবে তিনি যা ইচ্ছা করেন তা ছাড়া}—এর ব্যাপারে বলা হয়েছে যে, এটি হলো বালিতে রেখা টানা। এবং মহান আল্লাহর বাণী— {অথবা জ্ঞানের কোনো অবশিষ্টাংশ}—এর ব্যাপারেও বলা হয়েছে যে, এটি হলো বালিতে রেখা টানা। ইবনে আব্বাস এবং অধিকাংশ মুফাসসির এ কথা বলেছেন। প্রশ্ন সমাপ্ত হলো।
(খণ্ড: ১)
আর-রদ্দু আলা মান যাহাবা ইলা তাসহীহি ইলমিল গাইবি মিন জিহাতিল খাত
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيمفَأجَاب أيده الله على ذَلِك بِهَذَا الْجَواب تصفحت عصمنا الله وَإِيَّاك من الاعتقادات المضلة وَلَا عدل بِنَا وَبِك عَن سَوَاء المحجة وَجَعَلنَا لكتابه متبعين ولهدي أهل السّنة وَالْجَمَاعَة مهتدين سؤالك ووقفت عَلَيْهِ وادعاء مُشَاركَة الله تَعَالَى فِي علم غيبه وَمَا اسْتَأْثر بمعرفته من ذَلِك دون غَيره وَلم يطلع عَلَيْهِ إِلَّا أنبياؤه وَرُسُله بِوَاسِطَة زجر أَو بتنجيم أَو خطّ فِي غُبَار أَو غير ذَلِك أَو بِغَيْر وَاسِطَة والتصديق بِشَيْء مِنْهُ كفر وَقد أكذب الله عز وجل مدعي علم ذَلِك وَأخْبر أَنه المستبد بِعلم مَا كَانَ أَو يكون فِي غير مَا آيَة من كِتَابه فَقَالَ تَعَالَى {عَالم الْغَيْب فَلَا يظْهر على غيبه أحدا إِلَّا من ارتضى من رَسُول فَإِنَّهُ يسْلك من بَين يَدَيْهِ وَمن خَلفه رصدا}
পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামেআল্লাহ তাকে সাহায্য করুন, তিনি এর উত্তরে এই জবাব দিয়েছেন: আমি আপনার প্রশ্নটি আদ্যোপান্ত পাঠ করেছি এবং তা অনুধাবন করেছি। আল্লাহ আমাদের এবং আপনাকে ভ্রান্ত বিশ্বাসসমূহ থেকে রক্ষা করুন, আমাদের এবং আপনাকে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত না করুন এবং আমাদের তাঁর কিতাবের অনুসারী ও আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের হেদায়েতপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আল্লাহর অদৃশ্যের জ্ঞানে এবং যা তিনি অন্য কাউকে না জানিয়ে কেবল নিজের জন্য নির্দিষ্ট রেখেছেন, তাতে তাঁর সাথে অংশীদারিত্বের দাবি করা—যা তিনি তাঁর নবী ও রাসূলগণ ছাড়া কাউকে অবগত করেননি—চাই তা পাখি উড়িয়ে ভাগ্যের সুলক্ষণ-কুলক্ষণ নির্ণয়, জ্যোতিষশাস্ত্র, ধুলোয় রেখা টানা বা এ জাতীয় অন্য কোনো মাধ্যম দ্বারা হোক কিংবা কোনো মাধ্যম ছাড়া হোক; এবং এর কোনো কিছু বিশ্বাস করা কুফরি। মহান আল্লাহ এই ইলম জানার দাবিদারকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করেছেন এবং তাঁর কিতাবের বহু আয়াতে সংবাদ দিয়েছেন যে, যা অতীতে হয়েছে বা ভবিষ্যতে হবে তার একক জ্ঞানের অধিকারী কেবল তিনিই। মহান আল্লাহ বলেছেন: "তিনি অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা, তিনি তাঁর অদৃশ্যের জ্ঞান কারো কাছে প্রকাশ করেন না; তবে তাঁর মনোনীত কোনো রাসূল ব্যতীত। সেক্ষেত্রে তিনি তাঁর সামনে ও পেছনে প্রহরী নিযুক্ত করেন।"
(খণ্ড: ১)
আর-রদ্দু আলা মান যাহাবা ইলা তাসহীহি ইলমিল গাইবি মিন জিহাতিল খাত
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
وَقَالَ تَعَالَى {إِن الله عِنْده علم السَّاعَة وَينزل الْغَيْث وَيعلم مَا فِي الْأَرْحَام وَمَا تَدْرِي نفس مَاذَا تكسب غَدا وَمَا تَدْرِي نفس بِأَيّ أَرض تَمُوت إِن الله عليم خَبِير} وَقَالَ {قل لَا يعلم من فِي السَّمَاوَات وَالْأَرْض الْغَيْب إِلَّا الله وَمَا يَشْعُرُونَ} وَقَالَ تَعَالَى فِي قصَّة عِيسَى {وأنبئكم بِمَا تَأْكُلُونَ وَمَا تدخرون فِي بُيُوتكُمْ إِن فِي ذَلِك لآيَة لكم إِن كُنْتُم مُؤمنين} فَجعل ذَلِك من دَلِيل النُّبُوَّة وَمَا لَا يطلع عَلَيْهِ إِلَّا من أُوحِي بِهِ إِلَيْهِ فادعاء معرفَة مَا يستسر النَّاس بِهِ من أسرارهم وَمَا ينطوون عَلَيْهِ من أخبارهم أَو مَا يحدثه الله من غلاء الأسعار ورخصها ونزول الْمَطَر وَوُقُوع الْقَتْل وحلول الْفِتَن وارتفاعها وَغير
এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন, "নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট কিয়ামতের জ্ঞান রয়েছে, তিনি বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং তিনি জরায়ুতে যা আছে তা জানেন। কোনো ব্যক্তি জানে না আগামীকাল সে কী উপার্জন করবে এবং কোনো ব্যক্তি জানে না কোন ভূমিতে সে মৃত্যুবরণ করবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সম্যক অবহিত।" এবং তিনি বলেছেন, "বলুন, আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে আল্লাহ ব্যতীত আর কেউ অদৃশ্যের জ্ঞান রাখে না এবং তারা তা অনুধাবনও করতে পারে না।" এবং আল্লাহ তাআলা ঈসার কাহিনীতে বলেছেন, "এবং আমি তোমাদের জানিয়ে দিই যা তোমরা আহার করো এবং যা তোমরা তোমাদের ঘরে জমা করে রাখো; নিশ্চয়ই এতে তোমাদের জন্য নিদর্শন রয়েছে যদি তোমরা মুমিন হও।" অতঃপর তিনি একে নবুওয়াতের প্রমাণের অন্তর্ভুক্ত এবং এমন বিষয় হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন যা একমাত্র ওহীপ্রাপ্ত ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কেউ অবগত হতে পারে না। সুতরাং মানুষ যা গোপন করে এমন তাদের রহস্যসমূহ এবং তারা যেসব অভ্যন্তরীণ খবরাখবর নিজেদের মাঝে সংগুপ্ত রাখে তা জানার দাবি করা, অথবা আল্লাহ যা সংঘটিত করেন যেমন—দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও নিম্নগতি, বৃষ্টি বর্ষণ, হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়া এবং ফিতনার প্রাদুর্ভাব ও তার অবসান এবং এজাতীয় অন্যান্য বিষয়সমূহ সম্পর্কে জানার দাবি করা...
(খণ্ড: ১)
আর-রদ্দু আলা মান যাহাবা ইলা তাসহীহি ইলমিল গাইবি মিন জিহাতিল খাত
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
ذَلِك من المغيبات إبِْطَال لدلائل النُّبُوَّة وَتَكْذيب للآيات المنزلات وَقد رُوِيَ عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَنه قَالَ من صدق كَاهِنًا أَو منجما فقد كفر بِمَا أنزل على قلب مُحَمَّد
অদৃশ্য বিষয়াবলি সংক্রান্ত এই বিষয়গুলো নবুওয়াতের প্রমাণাদি বাতিল করার শামিল এবং অবতীর্ণ আয়াতসমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার নামান্তর। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: “যে ব্যক্তি কোনো গণক বা জ্যোতিষীকে বিশ্বাস করল, সে মুহাম্মাদের হৃদয়ে যা অবতীর্ণ হয়েছে তার সাথে কুফরি করল (তা অস্বীকার করল)।”
(খণ্ড: ১)
আর-রদ্দু আলা মান যাহাবা ইলা তাসহীহি ইলমিল গাইবি মিন জিহাতিল খাত
(পৃষ্ঠা: ৪০)
وَقَالَ صلى الله عليه وسلم أصبح من عبَادي مُؤمن بِي وَكَافِر بِي فَأَما من قَالَ مُطِرْنَا بِفضل الله فَذَلِك مُؤمن بِي كَافِر بالكواكب وَأما من قَالَ مُطِرْنَا بكوكب كَذَا وَكَذَا فَذَلِك كَافِر بِي مُؤمن بالكواكب فِي أَمْثَال هَذِه الرِّوَايَات يطول جلبها فَلَا جَائِز أَن يخبر أحد بِشَيْء من المغيبات إِخْبَارًا متواليا من غير أَن يتخلله غلط وَكذب إِلَّا من يخبر عَن الله تَعَالَى من نَبِي
এবং তিনি (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) বলেছেন: আমার বান্দাদের মধ্যে কেউ আমার প্রতি বিশ্বাসী এবং কেউ আমার প্রতি অবিশ্বাসী হিসেবে সকাল করেছে। অতঃপর যে ব্যক্তি বলেছে, ‘আমরা আল্লাহর অনুগ্রহে বৃষ্টিপ্রাপ্ত হয়েছি’, সে আমার প্রতি বিশ্বাসী এবং নক্ষত্রের প্রতি অবিশ্বাসী। আর যে ব্যক্তি বলেছে, ‘আমরা অমুক অমুক নক্ষত্রের মাধ্যমে বৃষ্টিপ্রাপ্ত হয়েছি’, সে আমার প্রতি অবিশ্বাসী এবং নক্ষত্রের প্রতি বিশ্বাসী। এই জাতীয় বর্ণনাগুলো সবিস্তারে উল্লেখ করা দীর্ঘ হবে। সুতরাং আল্লাহর পক্ষ থেকে সংবাদ প্রদানকারী কোনো নবী ব্যতীত অন্য কারো পক্ষে ভুল ও মিথ্যার অনুপ্রবেশ ছাড়া নিরবচ্ছিন্নভাবে অদৃশ্য বিষয়সমূহ সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করা সম্ভব নয়।
(খণ্ড: ১)
আর-রদ্দু আলা মান যাহাবা ইলা তাসহীহি ইলমিল গাইবি মিন জিহাতিল খাত
(পৃষ্ঠা: ৪১)
أَو رَسُول وَاحْذَرْ أَن تشكك فِي ذَلِك أَو يخلط عَلَيْك فِيهِ لِأَن بعض من يَدعِي علم ذَلِك يخبر عَن الشَّيْء فَيكون على مَا يَقُول فَإِنَّمَا يُمكن أَن يُصَادف المغيب فِي بعض الْجمل وأكثرها وَاقع فِيهَا الْغَلَط وَالْكذب وَأما تَفْصِيل شَيْء مِنْهَا فَلَا يعرفهُ وَلَا يدريه وَلَا يُمكنهُ تعاطيه وَهَذِه صفة الحزر التخمين الَّذِي يشاركهم فِيهِ جَمِيع النَّاس كَمثل مَا رُوِيَ أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم خبأ لصاف بن صياد وَكَانَ رجلا يتكهن من سُورَة الدُّخان {يَوْم تَأتي السَّمَاء بِدُخَان مُبين} فَقَالَ هُوَ الدخ فَقَالَ لَهُ النَّبِي عليه السلام اخْسَأْ فَلَنْ تعدو قدرك يُرِيد إِنَّه لَا يمكنك الْإِخْبَار بالشَّيْء على
অথবা রাসুল। আর এ বিষয়ে সংশয় পোষণ করা বা বিভ্রান্তিতে পড়া থেকে সাবধান থেকো। কেননা যারা অদৃশ্যের সংবাদ জানবার দাবি করে, তাদের কেউ কেউ কোনো বিষয়ে সংবাদ দিলে তা তার কথা অনুযায়ী মিলে যেতে পারে। বস্তুত, কিছু ভাসাভাসা বা সাধারণ বিষয়ের ক্ষেত্রেই কেবল অদৃশ্যের সাথে মিলে যাওয়া সম্ভব হতে পারে, অথচ সেগুলোর অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভুল ও মিথ্যা বিদ্যমান থাকে। আর সেগুলোর বিস্তারিত কোনো কিছুই সে জানে না, অবগত নয় এবং তা আয়ত্ত করাও তার পক্ষে সম্ভব নয়। এটি হলো আন্দাজ ও অনুমানের বৈশিষ্ট্য, যাতে সাধারণ মানুষও তাদের অংশীদার। যেমন বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাফ ইবনে সায়্যাদ-এর জন্য একটি বিষয় গোপন রেখেছিলেন; সে ছিল একজন গণক। বিষয়টি ছিল সূরা আদ-দুখান থেকে: {যেদিন আকাশ সুস্পষ্ট ধোঁয়া নিয়ে আসবে}। তখন সে বলেছিল: "তা হলো আদ-দুখ"। তখন নবী (আলাইহিস সালাম) তাকে বললেন: "দূর হ! তুই তোর সীমার বাইরে যেতে পারবি না।" তিনি এর দ্বারা উদ্দেশ্য করেছেন যে, যথাযথভাবে কোনো বিষয়ে সংবাদ প্রদান করা তোমার পক্ষে সম্ভব নয়...
(খণ্ড: ১)
আর-রদ্দু আলা মান যাহাবা ইলা তাসহীহি ইলমিল গাইবি মিন জিহাতিল খাত
(পৃষ্ঠা: ৪২)
تفاصيله كَمَا يخبر بِهِ الْأَنْبِيَاء عليهم السلام وَمثل مَا رُوِيَ عَن هِرقل أَنه أخبر أَنه نظر فِي النُّجُوم رأى ملك الْخِتَان قد ظهر فَإِنَّمَا أخبر بِهَذِهِ الْجُمْلَة المنغلقة الَّتِي أهمته وحيرته وكدرت حَاله وخشي أَن يكون ذَلِك سَببا إِلَى خلع مَمْلَكَته وَلم يعلم من جِهَة نظره فِي النُّجُوم وتخرصه فِي علم الغيوب بِشَيْء من حَال النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَبَعثه وَظُهُور أمره وَمَا يَنْتَهِي إِلَيْهِ شَأْنه حَتَّى يخبر بِهِ على وَجهه لِأَن الله تبارك وتعالى لم يَجْعَل شَيْئا من خلقه دَلِيلا على غيبه وَمَا يحدثه من فعله كَمَا يعْتَقد من أضلّهُ الله وأغواه وَلم يرد هداه أعاذنا الله من الشَّيْطَان الرَّجِيم وَلَا نكب بِنَا على الْمنْهَج الْمُسْتَقيم برحمته إِنَّه هُوَ الغفور الرَّحِيم
وَأما مَا ذكرت أَنه رُوِيَ عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم فِي الْخط فَلَا يَصح عَنهُ من طَرِيق صَحِيح وَإِن صَحَّ فَلَا بُد من أَن يتَأَوَّل
এর বিস্তারিত বিবরণ ঠিক তেমনি, যেমনটি নবীগণ (আলাইহিমুস সালাম) সংবাদ প্রদান করেন। এর দৃষ্টান্ত হলো হিরাক্লিয়াস থেকে যা বর্ণিত হয়েছে; সে সংবাদ দিয়েছিল যে সে নক্ষত্ররাজির দিকে তাকিয়ে দেখেছে খাতনাকারীদের রাজত্বের উদয় হয়েছে। মূলত সে কেবল এই অস্পষ্ট ও জটিল কথাটিই ব্যক্ত করেছিল যা তাকে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ও কিংকর্তব্যবিমূঢ় করে দিয়েছিল এবং তার অবস্থাকে বিষণ্ণ করে তুলেছিল; সে আশঙ্কা করছিল যে এটি হয়তো তার রাজত্ব ছিনিয়ে নেওয়ার কারণ হবে। সে নক্ষত্ররাজির প্রতি তার দৃষ্টিপাত এবং অদৃশ্যের জ্ঞান সম্পর্কে তার অনুমানপ্রসূত আন্দাজ থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অবস্থা, তাঁর নবুওয়াত প্রাপ্তি, তাঁর দ্বীনের বিজয় এবং তাঁর পরিণতির ব্যাপারে কিছুই জানত না যে তা যথাযথভাবে বর্ণনা করতে পারত। কারণ আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা তাঁর সৃষ্টির কোনো কিছুকেই তাঁর অদৃশ্যের বিষয় এবং তিনি তাঁর যে কর্মসমূহ সম্পাদন করেন তার ওপর প্রমাণ হিসেবে নির্ধারণ করেননি, যেমনটি তারা বিশ্বাস করে যাদেরকে আল্লাহ পথভ্রষ্ট ও প্ররোচিত করেছেন এবং যাদের হিদায়াত তিনি চাননি। বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহ আমাদের রক্ষা করুন এবং তাঁর রহমতে আমাদের সরল পথ থেকে বিচ্যুত না করুন; নিশ্চয়ই তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
আর 'খত্ব' (ভূমিতে রেখা টেনে গণনা করা) সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে যা বর্ণিত হয়েছে বলে আপনি উল্লেখ করেছেন, তা কোনো সহীহ সূত্রে তাঁর থেকে প্রমাণিত নয়। আর যদি তা সহীহও হয়, তবে অবশ্যই তার ব্যাখ্যা করতে হবে।
(খণ্ড: ১)
আর-রদ্দু আলা মান যাহাবা ইলা তাসহীহি ইলমিল গাইবি মিন জিহাতিল খাত
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
على مَا يُطَابق الْقُرْآن وَلَا يخرج عَمَّا انْعَقَد عَلَيْهِ بَين أهل السّنة الْإِجْمَاع فَنَقُول إِن معنى قَول النَّبِي صلى الله عليه وسلم فَمن وَافق خطه علم الْإِنْكَار لَا الْإِخْبَار وَذَلِكَ أَن الحَدِيث خرج على سُؤال سَائل سمع أَن نَبيا من الْأَنْبِيَاء كَانَ يخط فَاعْتقد صِحَة معرفَة المغيبات من جِهَة الْخط على مَا كَانَت تعتقده الْعَرَب فَأَجَابَهُ صلى الله عليه وسلم بِكَلَام مَعْنَاهُ الْإِنْكَار لاعْتِقَاده والإنباء أَن ذَلِك من خَواص ذَلِك النَّبِي ومعجزاته الدَّالَّة على نبوته وَهُوَ قَوْله كَانَ نَبِي من الْأَنْبِيَاء يخط فَمن وَافق خطه علم فَقَوله كَانَ نَبِي من الْأَنْبِيَاء يخط إِعْلَام مِنْهُ بذلك وإخبار بِهِ وَقَوله فَمن وَافق خطه علم مَعْنَاهُ أَي لَا يكون ذَلِك فَهُوَ كَلَام ظَاهره الْإِخْبَار وَالْمرَاد بِهِ النَّهْي على اعْتِقَاد ذَلِك وَالْإِنْكَار لَهُ وَمثل هَذَا فِي الْقُرْآن وَفِي السّنَن الْوَارِدَة عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم كثير وَمن ذَلِك قَوْله تَعَالَى
যা কুরআনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং আহলুস সুন্নাহর মাঝে প্রতিষ্ঠিত ইজমায়ের (ঐক্যমত্যের) পরিপন্থী নয়। সুতরাং আমরা বলি যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী—"যার রেখা তার রেখার সাথে মিলে যাবে সে জানতে পারবে"—এর অর্থ হলো অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করা, সংবাদ প্রদান করা নয়। এর কারণ হলো, হাদিসটি এমন একজন প্রশ্নকারীর প্রশ্নের প্রেক্ষিতে এসেছে যে শুনেছিল যে নবীদের মধ্য থেকে কোনো একজন নবী রেখা টানতেন; ফলে সে আরবের প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী রেখা টানার মাধ্যমে অদৃশ্যের বিষয়াদি জানার সত্যতায় বিশ্বাস স্থাপন করেছিল। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে এমন কথার মাধ্যমে উত্তর দিয়েছেন যার অর্থ ছিল তার বিশ্বাসের প্রতি অস্বীকৃতি জানানো এবং এটি অবগত করা যে, বিষয়টি ছিল সেই বিশেষ নবীর বৈশিষ্ট্য এবং তাঁর নবুওয়াতের প্রমাণস্বরূপ তাঁর একটি মুজিজা। আর তা হলো তাঁর বাণী: "নবীদের মধ্য থেকে জনৈক নবী রেখা টানতেন, সুতরাং যার রেখা তাঁর রেখার সাথে মিলে যাবে সে জানতে পারবে।" এখানে তাঁর বাণী: "নবীদের মধ্য থেকে জনৈক নবী রেখা টানতেন"—এর মাধ্যমে তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত করেছেন এবং সংবাদ দিয়েছেন। আর তাঁর বাণী: "যার রেখা তাঁর রেখার সাথে মিলে যাবে সে জানতে পারবে"—এর অর্থ হলো এটি ঘটা সম্ভব নয়। সুতরাং এটি এমন একটি বক্তব্য যার বাহ্যিক রূপ সংবাদ প্রদানের মতো হলেও এর মূল উদ্দেশ্য হলো এ জাতীয় বিশ্বাস পোষণ করতে নিষেধ করা এবং তা প্রত্যাখ্যান করা। কুরআন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত সুন্নাহর মধ্যে এই জাতীয় প্রচুর উদাহরণ রয়েছে। আর এরই অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহর বাণী:
(খণ্ড: ১)
আর-রদ্দু আলা মান যাহাবা ইলা তাসহীহি ইলমিল গাইবি মিন জিহাতিল খাত
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
{قل الله أعبد مخلصا لَهُ ديني فاعبدوا مَا شِئْتُم من دونه} فَظَاهر هَذَا الْكَلَام الْأَمر بِعبَادة مَا شَاءُوا من دون الله وَالْمرَاد بِهِ النَّهْي عَن ذَلِك والوعيد عَلَيْهِ وَمِنْه قَوْله تَعَالَى لإبليس {وأجلب عَلَيْهِم بخيلك ورجلك وشاركهم فِي الْأَمْوَال وَالْأَوْلَاد وعدهم وَمَا يعدهم الشَّيْطَان إِلَّا غرُورًا} فَظَاهره أَيْضا الْأَمر وَالْمرَاد بِهِ النَّهْي والوعيد عَلَيْهِ وَمن ذَلِك مَا رُوِيَ عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم انه قَالَ نَحن أَحَق بِالشَّكِّ من إِبْرَاهِيم فَظَاهر هَذَا الْكَلَام من النَّبِي صلى الله عليه وسلم الْإِخْبَار بتحقيق الشَّك عَلَيْهِ فِي قدرَة الله تَعَالَى على إحْيَاء الْمَوْتَى إِذْ شكّ إِبْرَاهِيم فِي ذَلِك وَالْمرَاد بِهِ تَحْقِيق نفي الشَّك عَن إِبْرَاهِيم
{বলুন, আমি আল্লাহরই ইবাদত করি আমার দ্বীনকে তাঁর প্রতি একনিষ্ঠ করে, সুতরাং তোমরা তাঁকে ছেড়ে যা ইচ্ছা তার ইবাদত করো}। এই বক্তব্যের বাহ্যিক রূপটি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কিছুর ইবাদত করার আদেশ বোঝালেও এর প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো তা থেকে নিষেধ করা এবং এর ওপর কঠোর হুঁশিয়ারি প্রদান করা। মহান আল্লাহর ইবলিসের প্রতি এই বাণীটিও অনুরূপ: {আর তোমার অশ্বারোহী ও পদাতিক বাহিনী নিয়ে তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ো, তাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে অংশীদার হও এবং তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দাও; আর শয়তান তাদেরকে কেবল প্রতারণামূলক প্রতিশ্রুতিই দিয়ে থাকে}। এর বাহ্যিক দিকটিও একটি আদেশ মনে হয়, কিন্তু এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো নিষেধ এবং সতর্কবাণী। এরই অন্তর্ভুক্ত হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হাদীস যেখানে তিনি বলেছেন: "আমরা ইব্রাহিমের চেয়ে সন্দেহের অধিক হকদার।" নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বক্তব্যের বাহ্যিক অর্থ হলো মৃতকে জীবিত করার ব্যাপারে আল্লাহর ক্ষমতার ওপর তাঁর (নবীর) নিজের সন্দেহ সাব্যস্ত হওয়ার সংবাদ দেওয়া, যেহেতু ইব্রাহিম এতে সন্দেহ করেছিলেন। অথচ এর প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর থেকে সন্দেহের বিষয়টিকে নিশ্চিতভাবে নাকচ করা।
(খণ্ড: ১)
আর-রদ্দু আলা মান যাহাবা ইলা তাসহীহি ইলমিল গাইবি মিন জিহাতিল খাত
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
إِذْ لَا يشك هُوَ فِي ذَلِك فَلَو لم يعدل بِهَذِهِ الْأَلْفَاظ الْوَارِدَة فِي الْقرَان وَالسّنَن وَمَا شاكلها عَن ظَاهرهَا بالتأويل إِلَى مَا يَصح من مَعَانِيهَا لعاد الْإِسْلَام شركا وَالدّين لعبا وَمِمَّا يبطل حمل قَوْله عليه السلام فَمن وَافق خطه علم على ظَاهره إبطالا لائحا وَيُؤَيّد تأويلنا فِيهِ أَنه لَيْسَ على طَرِيق الْإِخْبَار تأييدا ظَاهرا أَنه قد رُوِيَ فِي بعض الْأَخْبَار فَمن وَافق خطه علم الَّذِي علم وَفِي بَعْضهَا أَن نَبيا من الْأَنْبِيَاء كَانَ يَأْتِيهِ أمره فِي الْخط فَلَو كَانَ على سَبِيل الْإِخْبَار لوَجَبَ إِذا وَافق خطه أَن يعلم من جِهَته الْأَشْيَاء المغيبات بِأَعْيَانِهَا الَّتِي علم ذَلِك النَّبِي من جِهَة ذَلِك الْخط فِي وقته الَّذِي كَانَ فِيهِ لقَوْله علم الَّذِي علم ولوجب
যেহেতু তিনি এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ পোষণ করেন না, তাই কুরআন ও সুন্নাহ এবং তৎসদৃশ উৎসসমূহে বর্ণিত এই শব্দগুলোকে যদি ব্যাখ্যার (তাবিল) মাধ্যমে তাদের বাহ্যিক অর্থ থেকে সরিয়ে সঠিক ও সঙ্গত অর্থের দিকে ফিরিয়ে নেওয়া না হতো, তবে ইসলাম শিরকে এবং দ্বীন ক্রীড়া-কৌতুকের বস্তুতে পরিণত হতো। আর নবী (আলাইহিস সালাম)-এর বাণী— "যার রেখা (বা লিখন) তাঁর রেখার সাথে মিলে যাবে, সে জানতে পারবে"—একে বাহ্যিক অর্থের ওপর প্রয়োগ করাকে যা সুস্পষ্টভাবে বাতিল করে এবং এ বিষয়ে আমাদের ব্যাখ্যাকে জোরালোভাবে সমর্থন করে তা হলো, এটি নিছক সংবাদ প্রদানের পদ্ধতিতে বর্ণিত হয়নি। এর সুস্পষ্ট সমর্থন এতেও পাওয়া যায় যে, কোনো কোনো বর্ণনায় এসেছে: "যার রেখা তাঁর রেখার সাথে মিলে যাবে, সে তাই জানতে পারবে যা তিনি জেনেছিলেন।" আবার কোনো কোনো বর্ণনায় রয়েছে যে, নবীদের মধ্য থেকে জনৈক নবীর নিকট তাঁর নির্দেশাবলি রেখা বা লিখনের মাধ্যমে আসত। সুতরাং এটি যদি সংবাদ প্রদানের পদ্ধতিতে হতো, তবে আবশ্যিক হতো যে—যখন কারো রেখা তাঁর রেখার সাথে মিলে যাবে, তখন সে সেই রেখার মাধ্যমে সেই নির্দিষ্ট অদৃশ্য (গায়েবি) বিষয়গুলো হুবহু জানতে পারবে যা সেই নবী তাঁর সময়ে ওই রেখার মাধ্যমে জেনেছিলেন; কারণ এখানে বলা হয়েছে "সে তাই জানবে যা তিনি জেনেছিলেন"। এবং এটিও আবশ্যিক হতো...
(খণ্ড: ১)
আর-রদ্দু আলা মান যাহাবা ইলা তাসহীহি ইলমিল গাইবি মিন জিহাতিল খাত
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
أَيْضا إِذا وَافق خطه الَّذِي علم مِنْهُ أَن الله أمره بِكَذَا وَنَهَاهُ عَن كَذَا وَحرم عَلَيْهِ كَذَا على مَا رُوِيَ أَنه يَأْتِيهِ أمره فِي الْخط أَن يعلم هُوَ من جِهَته إِذا وَافقه أَنه مَأْمُور بِمثل ذَلِك ومنهي عَمَّا نهي عَنهُ ومحلل لَهُ مَا أحل لَهُ ومحرم عَلَيْهِ مَا حرم عَلَيْهِ فَيكون بِمَنْزِلَتِهِ فِي النُّبُوَّة فَلَمَّا بَطل هَذَا بَطل أَن يحمل الْكَلَام على ظَاهره وَلزِمَ أَن يتَأَوَّل على مَا قُلْنَاهُ وَعلم إِن صحت هَذِه الْأَحَادِيث أَن الله خص ذَلِك النَّبِي بالخط وَجعل لَهُ فِيهِ عَلَامَات على أَشْيَاء من المغيبات وعَلى مَا يَأْمُرهُ بِهِ من الْعِبَادَات كَمَا جعل فَور التَّنور عَلامَة لنوح على حُلُول الْغَرق لِقَوْمِهِ وكما جعل فقد الْحُوت عَلامَة لمُوسَى صلى الله عليه وسلم على لِقَاء الْخضر وكما جعل منع زَكَرِيَّا من تكليم النَّاس ثَلَاثَة أَيَّام إِلَّا رمزا عَلامَة لَهُ على هبة الْوَلَد
এছাড়াও, যদি তার রেখা সেই বিষয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় যার মাধ্যমে জানা যায় যে আল্লাহ তাকে অমুক বিষয়ের নির্দেশ দিয়েছেন, অমুক বিষয়ে নিষেধ করেছেন এবং অমুক বিষয় তার জন্য হারাম করেছেন—যেমনটি বর্ণিত হয়েছে যে রেখার মাধ্যমেই তাঁর নিকট নির্দেশ আসত—যাতে সে নিজ পক্ষ থেকে জানতে পারে যে, যখন তা মিলে যাবে তখন সে অনুরূপ বিষয়ের আদিষ্ট এবং যা থেকে তাকে নিষেধ করা হয়েছে তা থেকে সে নিষিদ্ধ, তার জন্য যা হালাল করা হয়েছে তা হালাল এবং যা হারাম করা হয়েছে তা হারাম; তবে সে নবুওয়াতের ক্ষেত্রে তাঁর সমমর্যাদাপ্রাপ্ত হবে। যেহেতু এটি বাতিল, সেহেতু কথাটিকে তার বাহ্যিক অর্থের ওপর গ্রহণ করাও বাতিল হয়ে যায় এবং আমরা যা বলেছি সেই অনুযায়ী ব্যাখ্যা করা আবশ্যক হয়ে পড়ে। আর এটি জানা গেল যে, যদি এই হাদিসগুলো সহিহ হয়, তবে আল্লাহ সেই নবীকে রেখার (লিখনের) মাধ্যমে নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য দান করেছেন এবং তাতে তাঁর জন্য অদৃশ্যের বিষয়াবলি ও ইবাদত সংক্রান্ত নির্দেশনাসমূহ নির্ধারণ করেছেন; যেমন তিনি নূহের জন্য চুল্লি উথলে ওঠাকে তাঁর কওমের প্লাবনে নিমজ্জিত হওয়ার নিদর্শন করেছিলেন, এবং মূসা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জন্য মাছ হারিয়ে যাওয়াকে খিজিরের সাথে সাক্ষাতের নিদর্শন করেছিলেন, এবং যাকারিয়ার জন্য ইশারা ছাড়া তিন দিন মানুষের সাথে কথা বলতে না পারাকে তাঁর জন্য সন্তান লাভের নিদর্শন হিসেবে নির্ধারণ করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আর-রদ্দু আলা মান যাহাবা ইলা তাসহীহি ইলমিল গাইবি মিন জিহাতিল খাত
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
لَهُ وكما جعل تَعَالَى لنبينا عليه السلام نَصره إِيَّاه وَالْفَتْح عَلَيْهِ وَدخُول النَّاس فِي الدّين أَفْوَاجًا عَلامَة لَهُ على حُلُول أَجله المغيب عَنهُ على مَا رُوِيَ فِي تَفْسِير سُورَة النَّصْر وَمثل هَذَا لَو تتبع كثير وَهِي كلهَا من خَواص الْأَنْبِيَاء ومعجزاتهم الدَّالَّة على صِحَة نبواتهم
وَأما قَوْلك وَقيل فِي قَوْله تَعَالَى {أَو أثارة من علم} إِنَّه الْخط فِي الرمل فقد يَصح هَذَا التَّأْوِيل على معنى مَا وَهُوَ أَن الْعَرَب كَانُوا أهل عيافة وَهُوَ الْخط وزجر وكهانة فَقَالَ تَعَالَى لنَبيه عَلَيْهِ السَّلَام
তাঁর জন্য এবং যেভাবে মহান আল্লাহ আমাদের নবী আলাইহিস সালামের প্রতি তাঁর সাহায্য, তাঁর বিজয় এবং মানুষের দলে দলে দ্বীনে প্রবেশ করাকে তাঁর নিকট গোপন থাকা মৃত্যু উপস্থিত হওয়ার একটি নিদর্শন হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, যেমনটি সূরা আন-নাসরের তাফসীরে বর্ণিত হয়েছে। এই জাতীয় বিষয়গুলো যদি কেউ অনুসন্ধান করে তবে এমন আরও অনেক কিছু পাওয়া যাবে। এগুলো সবই নবীদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য এবং তাঁদের মুজিযার অন্তর্ভুক্ত যা তাঁদের নবুওয়াতের সত্যতার প্রমাণ দেয়।
আর আপনার বক্তব্য যে মহান আল্লাহর বাণী {অথবা জ্ঞানের কোনো অবশিষ্টাংশ} এর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে যে এটি বালিতে রেখা টানা, তবে এই ব্যাখ্যাটি একটি নির্দিষ্ট অর্থে সঠিক হতে পারে। আর তা হলো আরবরা ছিল ‘আইয়াফাহ’ অর্থাৎ রেখা টানা, ‘জাজর’ এবং গণনার লোক। তাই মহান আল্লাহ তাঁর নবী আলাইহিস সালামকে বললেন...
(খণ্ড: ১)
আর-রদ্দু আলা মান যাহাবা ইলা তাসহীহি ইলমিল গাইবি মিন জিহাতিল খাত
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
{قل} لَهُم يَا مُحَمَّد قل {أَرَأَيْتُم مَا تدعون من دون الله} يُرِيد آلِهَتهم الَّتِي كَانُوا يعْبدُونَ من دون الله {أروني مَاذَا خلقُوا من الأَرْض أم لَهُم شرك فِي السَّمَاوَات ائْتُونِي بِكِتَاب من قبل هَذَا} الْكتاب يشْهد لكم أَن آلِهَتكُم خلقت لكم شَيْئا من ذَلِك فاستحقت من أَجله عبادتكم لَهَا {أَو أثارة من علم} وَهُوَ الْخط على اعتقادكم الَّذِي تعتقدونه ومذهبكم الَّذِي تدينون بِهِ أَي أَنكُمْ لَا تقدرون على إِقَامَة حجَّة على دعواكم أَن آلِهَتكُم تسْتَحقّ الْعِبَادَة بِوَجْه من الْوُجُوه وَالدَّعْوَى إِذا لم تكن مَعهَا حجَّة بطلت فَيصح هَذَا التَّأْوِيل على هَذَا الْمَعْنى الَّذِي ننكر وَلَا نصححه أَن يكون الْخط فِي التُّرَاب والرمل يعلم بِهِ علم الْغَيْب من جِهَة نبوة نَبِي أَو بِتَأْوِيل شَيْء من الْقُرْآن لِأَن النُّصُوص الْوَارِدَة فِيهِ الَّتِي لَا تحْتَمل التَّأْوِيل تبطل ذَلِك
{বলুন} হে মুহাম্মদ, আপনি তাদের বলুন, {তোমরা কি ভেবে দেখেছ আল্লাহ ব্যতীত যাদের তোমরা আহ্বান করো?} এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তাদের সেই উপাস্যরা যাদের তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে ইবাদত করত। {তোমরা আমাকে দেখাও তারা জমিনের কী সৃষ্টি করেছে, অথবা আসমানসমূহে তাদের কি কোনো অংশীদারিত্ব আছে? এর পূর্ববর্তী কোনো কিতাব তোমরা আমার কাছে নিয়ে এসো}—অর্থাৎ এমন কিতাব যা তোমাদের পক্ষে সাক্ষ্য দেবে যে, তোমাদের উপাস্যরা এসবের কোনো কিছু সৃষ্টি করেছে যার ফলে তারা তোমাদের পক্ষ থেকে ইবাদত পাওয়ার অধিকারী হয়েছে—{অথবা জ্ঞানের কোনো অবশিষ্টাংশ}। আর তোমাদের বিশ্বাস অনুযায়ী তোমরা যা পোষণ করো এবং যে মতাদর্শ তোমরা অনুসরণ করো, তা হলো রেখা টানা; অর্থাৎ তোমরা কোনোভাবেই তোমাদের এই দাবির স্বপক্ষে প্রমাণ উপস্থাপনে সক্ষম নও যে, তোমাদের উপাস্যরা কোনো দিক থেকে ইবাদত পাওয়ার যোগ্য। আর কোনো দাবি যখন প্রমাণহীন হয়, তখন তা অসার হয়ে যায়। সুতরাং এই ব্যাখ্যাটি সেই অর্থের ভিত্তিতে সঠিক হতে পারে যা আমরা অস্বীকার করি এবং আমরা তাকে সঠিক মনে করি না—তা হলো কোনো নবীর নবুওয়াতের মাধ্যমে মাটি বা বালুর উপরে রেখা টেনে অদৃশ্যের জ্ঞান অর্জন করা, অথবা কুরআনের কোনো বিষয়ের ব্যাখ্যার মাধ্যমে (তা করা); কারণ কুরআনে বর্ণিত সুস্পষ্ট বক্তব্যসমূহ যা ভিন্ন কোনো ব্যাখ্যার অবকাশ রাখে না, তা এই বিষয়টিকে বাতিল করে দেয়।
(খণ্ড: ১)
আর-রদ্দু আলা মান যাহাবা ইলা তাসহীহি ইলমিল গাইবি মিন জিহাতিল খাত
(পৃষ্ঠা: ৫০)
وَقد قيل فِي قَوْله تَعَالَى {أَو أثارة من علم} مَعْنَاهُ أَو خَاصَّة من علم خصصتم بهَا وَقيل مَعْنَاهُ أَو علم تؤثرونه أَو تستخرجونه وَقيل مَعْنَاهُ أَو بَقِيَّة من علم تأثرونه عَن أحد مِمَّن قبلكُمْ وَقيل مَعْنَاهُ أَو بَيِّنَة من الْأَمر وَقيل مَعْنَاهُ أَو بَقِيَّة من علم وَهَذَا التَّأْوِيل
মহান আল্লাহর বাণী {অথবা অবশিষ্ট কোনো জ্ঞান} সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, এর অর্থ হলো এমন বিশেষ জ্ঞান যা দ্বারা তোমাদের বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করা হয়েছে। আবার বলা হয়েছে যে, এর অর্থ হলো এমন জ্ঞান যা তোমরা বর্ণনা করো অথবা আহরণ করো। আরও বলা হয়েছে যে, এর অর্থ হলো অবশিষ্ট কোনো জ্ঞান যা তোমরা তোমাদের পূর্ববর্তীদের মধ্য থেকে কারও নিকট থেকে বর্ণনা করো। আরও বলা হয়েছে যে, এর অর্থ হলো বিষয়টির কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ। এবং বলা হয়েছে যে, এর অর্থ হলো অবশিষ্ট কোনো জ্ঞান। আর এই ব্যাখ্যাটি...
(খণ্ড: ১)
আর-রদ্দু আলা মান যাহাবা ইলা তাসহীহি ইলমিল গাইবি মিন জিহাতিল খাত
(পৃষ্ঠা: ৫১)
أبين لِأَن الْعَرَب تسمي الْبَقِيَّة أثارة كَمَا قَالَ الشَّاعِر
… وَذَات أثارة أكلت عَلَيْهِ
… نباتا فِي أكمته قفارا
… يُرِيد نَاقَة ذَات بَقِيَّة من شَحم وَبَعض هَذِه التأويلات قريب من بعض لِأَن الْبَقِيَّة شَيْء يُؤثر وتقرأ أَيْضا أَثَرَة وأثرة
এটি অধিকতর স্পষ্ট, কারণ আরবরা অবশিষ্টাংশকে 'আছারা' নামে অভিহিত করে, যেমন কবি বলেছেন
… এবং এমন এক চর্বির অবশিষ্টাংশ বিশিষ্ট উটনী যা ভক্ষণ করেছে
… নির্জন টিলার উদ্ভিদসমূহ
… এখানে তিনি এমন এক উটনীকে বুঝিয়েছেন যার শরীরে চর্বির কিছু অবশিষ্টাংশ রয়েছে। আর এই ব্যাখ্যাগুলোর কতক কতকের নিকটবর্তী, কারণ অবশিষ্টাংশ এমন একটি বস্তু যা নিদর্শন হিসেবে থেকে যায়। এটি 'আছারা' এবং 'আছরা' রূপেও পাঠ করা হয়।
(খণ্ড: ১)
আর-রদ্দু আলা মান যাহাবা ইলা তাসহীহি ইলমিল গাইবি মিন জিহাতিল খাত
(পৃষ্ঠা: ৫২)
وَأما قَوْله عز وجل فِي قصَّة إِبْرَاهِيم {فَنظر نظرة فِي النُّجُوم فَقَالَ إِنِّي سقيم} فلأهل الْعلم بالتأويل فِي ذَلِك غير مَا تَأْوِيل وَاحِد تركت ذكرهَا اختصارا وَلَا أعلم من قَالَ مِنْهُم مَعْنَاهُ الْخط وَإِن قيل فقد دللنا على خطئه
وَأما قَوْله عز وجل {وَلَا يحيطون بِشَيْء من علمه إِلَّا بِمَا شَاءَ وسع كرسيه} فَمَعْنَاه عِنْد أهل الْعلم بالتأويل إِلَّا بِمَا شَاءَ أَن يطلع عَلَيْهِ أنبياؤه وَرُسُله فَلَا يجوز الِاشْتِغَال بِضَرْب الْقرعَة فِي التُّرَاب وَهِي من حبائل الشَّيْطَان وَأخذ الْأُجْرَة عَلَيْهَا حرَام
وَالله أسأله التَّوْفِيق وَالْهدى وَأَعُوذ بِهِ من الضلال والعمى برحمته إِنَّه ولي ذَلِك
আর ইব্রাহীমের কাহিনিতে মহান আল্লাহর বাণী—"অতঃপর সে নক্ষত্ররাজির দিকে একবার তাকাল এবং বলল: আমি অসুস্থ"—সম্পর্কে ব্যাখ্যা বিশারদদের নিকট একাধিক ব্যাখ্যা রয়েছে, যা আমি সংক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে উল্লেখ করা পরিহার করেছি। তাদের মধ্য থেকে কেউ এর অর্থ 'রেখা টানা' (গণনা) বলেছেন বলে আমার জানা নেই, আর যদি এমনটি বলা হয়ে থাকে তবে আমরা ইতিপূর্বেই তার ভুল হওয়ার প্রমাণ দিয়েছি।
আর মহান আল্লাহর বাণী—"এবং তারা তাঁর জ্ঞানের সামান্যতম অংশও পরিবেষ্টন করতে পারে না, তবে তিনি যা ইচ্ছা করেন তা ব্যতীত; তাঁর কুরসি পরিব্যাপ্ত"—সম্পর্কে ব্যাখ্যা বিশারদদের নিকট এর অর্থ হলো: কেবল সেই বিষয়গুলো ছাড়া যা তিনি তাঁর নবী ও রাসূলদের অবহিত করতে চেয়েছেন। সুতরাং মাটিতে দাগ কেটে ভাগ্য গণনায় লিপ্ত হওয়া জায়েজ নয়; এটি শয়তানের মরণফাঁদসমূহের অন্তর্ভুক্ত এবং এর বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ করা হারাম।
আমি আল্লাহর নিকট তাওফিক ও হেদায়েত প্রার্থনা করছি এবং তাঁর রহমতের উসিলায় পথভ্রষ্টতা ও অন্ধত্ব থেকে তাঁর নিকট আশ্রয় চাচ্ছি; নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক।