(খণ্ড: ১)
আত-তানবীহু ওয়ার রাদ্দু আলা আহলিল আহওয়া-ই ওয়াল বিদা
(পৃষ্ঠা: -)
التنبيه والرد على أهل الأهواء والبدع القسم: العقيدة
الكتاب: التنبيه والرد على أهل الأهواء والبدع
المؤلف: أبو الحسين، محمد بن أحمد بن عبد الرحمن المَلَطي الشافعي (ت 377 هـ)
الناشر: المكتبة الأزهرية للتراث - بالقاهرة، سنة 1388 هـ - 1968 م
وصَوّرَتْها: مكتبة المثنى ببغداد - ومكتبة المعارف ببيروت - وأُعيد تصويرها مِرارا بتواريخ متأخرة
عدد الصفحات: 219 مع الفهارس
إعداد وتقديم: فتحي جاير -بالياء- العقيلي
معتمدًا على: الطبعة الأولى سنة 1368 هـ 1949 م في 215 صفحة مع الفهارس، التي قدّم لها وعلّق عليها (محمد زاهد بن الحسن الكوثري، ت 1371 هـ)، ومُيّزَتْ تعليقاتُه بحرف (ز) في آخرها، وعُني بنشرها وراجَعها ووقف على طبعها (عِزّت العطار الحسيني، ت 1376 هـ) وله تعليقات يسيرة أيضًا مهملة عن التمييز
وزادتْ الطبعة الأزهرية على تعليقاتهما: تعليقات جديدة أيضا
[تنبيه]: للمكتبة الأزهرية طبعة لاحقة سنة 1428 هـ- 2007 م بصف حديث في 168 صفحة فقط، وأعادتْ طبعها تصويرًا لاحقًا أيضا
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আত-তানবিহ ওয়ার রাদ্দু আলা আহলিল আহওয়ায়ি ওয়াল বিদা (প্রবৃত্তি পূজারী ও বিদআতিদের ব্যাপারে সতর্কীকরণ ও তাদের খণ্ডন) বিভাগ: আকিদা (বিশ্বাসমালা)
গ্রন্থ: আত-তানবিহ ওয়ার রাদ্দু আলা আহলিল আহওয়ায়ি ওয়াল বিদা
লেখক: আবু আল-হুসাইন، মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আব্দুর রহমান আল-মালাতি আশ-শাফিয়ি (মৃত্যু: ৩৭৭ হিজরি)
প্রকাশক: আল-মাকতাবাতুল আজহারিয়া লিত-তুরাস - কায়রো، সন ১৩৮৮ হিজরি - ১৯৬৮ খ্রিস্টাব্দ
পুনর্মুদ্রণ করেছে: বাগদাদের মাকতাবাতুল মুসান্না - এবং বৈরুতের মাকতাবাতুল মাআরিফ - এবং পরবর্তী বিভিন্ন সময়ে এটি বারবার পুনর্মুদ্রিত হয়েছে
পৃষ্ঠা সংখ্যা: সূচিপত্রসহ ২১৯ পৃষ্ঠা
প্রস্তুতি ও উপস্থাপনা: ফাতহি জায়ের -ইয়া যোগে- আল-উকাইলি
ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে: ১৩৬৮ হিজরি ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দের প্রথম সংস্করণকে যা সূচিপত্রসহ ২১৫ পৃষ্ঠার ছিল، যার ভূমিকা ও টীকা লিখেছিলেন (মুহাম্মদ জাহিদ বিন আল-হাসান আল-কাওসারি، মৃত্যু: ১৩৭১ হিজরি)، এবং তার টীকাগুলোকে শেষে (য) অক্ষর দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছে، এটি প্রকাশ ও পর্যালোচনার গুরুত্ব দিয়েছেন এবং মুদ্রণ তত্ত্বাবধান করেছেন (ইজ্জাত আল-আত্তার আল-হুসাইনি، মৃত্যু: ১৩৭৬ হিজরি) এবং তারও কিছু সামান্য টীকা রয়েছে যা চিহ্নিত করা হয়নি
আজহারিয়া সংস্করণটি তাদের টীকার ওপর আরও যুক্ত করেছে: নতুন আরও কিছু টীকা
[সতর্কবার্তা]: আল-মাকতাবাতুল আজহারিয়ার ১৪২৮ হিজরি- ২০০৭ খ্রিস্টাব্দের একটি পরবর্তী সংস্করণ রয়েছে যা আধুনিক কম্পোজে মাত্র ১৬৮ পৃষ্ঠার، এবং পরবর্তীতে তারা এটি পুনরায় ফটো প্রিন্ট হিসেবে প্রকাশ করেছে
[গ্রন্থের পৃষ্ঠাসংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১ হিজরি
(খণ্ড: ১)
আত-তানবীহু ওয়ার রাদ্দু আলা আহলিল আহওয়া-ই ওয়াল বিদা
(পৃষ্ঠা: ১)
بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم قَالَ أخبرنَا الحصري يُونُس بن الْخضر أَنا مُحَمَّد بن إِبْرَاهِيم الحصري البغراسي حَدثنِي أَبُو عَليّ الْحسن بن هبة الله الرَّمْلِيّ قَالَ قَرَأت على أبي الْحُسَيْن مُحَمَّد بن أَحْمد الْمَلْطِي رضي الله عنه
الْحَمد لله أول كل مقَال ومبدأ كل سُؤال وَله الْمَنّ والإفضال وَصلى الله على مُحَمَّد النَّبِي الْمُخْتَار وعَلى آله الطيبين الأخيار وَسلم تَسْلِيمًا وَبِاللَّهِ نستعين وَهُوَ حَسبنَا وَنعم الْوَكِيل
قَالَ أَبُو الْحُسَيْن مُحَمَّد بن أَحْمد الملطى الْمَعْرُوف بالطرائفي رسمت لكم فِي كتَابنَا هَذَا الملقب بِكِتَاب التَّنْبِيه مَا فِيهِ دَلِيل يغنى وكفة تقنع متدبرها إِن شَاءَ الله وشرطي فِيهِ الِاخْتِيَار وَلَيْسَ تكراري للْبَيَان بمخرجي فِيهِ إِلَى تَطْوِيل فَلَا تنسبني فِيهِ إِلَى ذَلِك وَإِنَّمَا تكراري للْبَيَان وجمعي لَهُ فِي مَوضِع وتلويحي بِهِ فِي آخر لألفاظ ترد مُخْتَلفَة وَأَشْيَاء لَا وجة لتركي لَهَا ملقاة على سَبِيل الحذر من التَّطْوِيل وَقد أثبت فِي هَذَا الْجُزْء الثَّالِث بعد حمد الله وَالثنَاء عَلَيْهِ وَالصَّلَاة على نبيه صلى الله عليه وسلم واستعانتي بِهِ ومسألتي إِيَّاه التَّوْفِيق مَا يسر المتعلم والعالم وينفع الْجَاهِل سَمَاعه وَيزِيد الْبَصِير بَصِيرَة وأردفته برابع فِيهِ الْحجَّاج وَالدَّلِيل على الْخلَافَة الَّتِي ينكرها الغالون وشرحت نصا من الْمُحكم وَأَيْضًا من الْخَبَر
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে তিনি বলেন: আল-হুসারি ইউনুস ইবনুল খিদর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম আল-হুসারি আল-বাগরাসি আমাকে জানিয়েছেন যে, আবু আলী আল-হাসান ইবনে হিবাতুল্লাহ আর-রামলি আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু আল-হুসাইন মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-মালতি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর নিকট পাঠ করেছি।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি প্রতিটি বাণীর সূচনা এবং প্রতিটি জিজ্ঞাসার আদি উৎস; সমস্ত অনুগ্রহ ও দান কেবল তাঁরই। আল্লাহর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক মনোনীত নবী মুহাম্মদের ওপর এবং তাঁর পবিত্র ও শ্রেষ্ঠ বংশধরদের ওপর, এবং বর্ষিত হোক অবারিত সালাম। আমরা আল্লাহর নিকটই সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট ও কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।
আত-তারাঈফি নামে পরিচিত আবু আল-হুসাইন মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-মালতি বলেন: আমি আপনাদের জন্য ‘কিতাবুত তানবিহ’ নামক আমার এই গ্রন্থে এমন কিছু লিপিবদ্ধ করেছি যাতে পর্যাপ্ত দলিল রয়েছে এবং যা চিন্তা অর্জনকারীর জন্য যথেষ্ট হবে, যদি আল্লাহ চান। এতে আমার শর্ত হলো সংক্ষেপ চয়ন করা, আর বর্ণনার ক্ষেত্রে আমার পুনরাবৃত্তি আমাকে দীর্ঘসূত্রিতার দিকে নিয়ে যাবে না; সুতরাং আপনারা আমাকে সেই দোষে অভিযুক্ত করবেন না। বরং আমার পুনরাবৃত্তি কেবল সুস্পষ্ট করার জন্য, এবং কোনো একটি বিষয় এক স্থানে একত্র করা এবং অন্য স্থানে সেদিকে ইঙ্গিত করা কেবল ভিন্ন ভিন্ন শব্দের ব্যবহারের কারণে এবং এমন কিছু বিষয়ের কারণে যা দীর্ঘ হওয়ার ভয়ে বর্জন করার কোনো উপায় ছিল না। আমি আল্লাহর প্রশংসা ও গুণকীর্তন, তাঁর নবীর (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) ওপর দরুদ পাঠ, তাঁর সাহায্য প্রার্থনা এবং তাঁর কাছে তাওফিক কামনার পর এই তৃতীয় খণ্ডে এমন কিছু সাব্যস্ত করেছি যা শিক্ষার্থী ও আলিমকে আনন্দিত করবে, অজ্ঞ ব্যক্তির জন্য যার শ্রবণ উপকারী হবে এবং যা অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তির অন্তর্দৃষ্টি বৃদ্ধি করবে। আমি এর সাথে চতুর্থ একটি খণ্ড যুক্ত করেছি যাতে সেই খিলাফতের পক্ষে যুক্তি ও প্রমাণ রয়েছে যা উগ্রপন্থীরা অস্বীকার করে, এবং আমি এতে সুনিশ্চিত দলিল ও বর্ণনা থেকে ব্যাখ্যা প্রদান করেছি।
(খণ্ড: ১)
আত-তানবীহু ওয়ার রাদ্দু আলা আহলিল আহওয়া-ই ওয়াল বিদা
(পৃষ্ঠা: ২)
فَمن الدَّلِيل أَيْضا على خلاف الشراة مَا قَالَ على عليه السلام إِن الله عز وجل عَاتب من حول الْمَدِينَة من الْأَعْرَاب عَام الْحُدَيْبِيَة فَقَالَ {قل للمخلفين من الْأَعْرَاب} عَنْك فِي الْحُدَيْبِيَة {ستدعون إِلَى قوم أولي بَأْس شَدِيد} إِلَى أهل الرِّدَّة فِي خلَافَة أبي بكر عليه السلام وَإِلَى فَارس وَالروم فِي خلَافَة عمر عليه السلام أولى بَأْس شَدِيد {تقاتلونهم أَو يسلمُونَ فَإِن تطيعوا} الخليفتين فِي حروبهما {يُؤْتكُم الله أجرا حسنا وَإِن تَتَوَلَّوْا كَمَا توليتم من قبل} يَعْنِي يَوْم الْحُدَيْبِيَة {يعذبكم عذَابا أَلِيمًا} قَالَ عَليّ رضي الله عنه فَأوجب الله عز وجل طَاعَة الخليفتين فِي حروبهما بعده
قَالَ أَبُو الْحُسَيْن المطلى الْبيعَة الَّتِي كَانَت تَحت الشَّجَرَة أعنى بيعَة الرضْوَان كَانَت الشَّجَرَة مثمرة وَكَانَ ذَلِك عَام الْحُدَيْبِيَة والسكينة فِي اللُّغَة الطُّمَأْنِينَة وَيُقَال الرَّحْمَة وَيُقَال السكينَة ريح لَهَا رَأس كرأس الْهِرَّة وَقَالَ الضَّحَّاك الرَّحْمَة {وأثابهم فتحا قَرِيبا} وَهِي خَيْبَر وَكَذَلِكَ قَالَ مقسم وَقَتَادَة وَالْأول قَول ابْن عَبَّاس
وَعَن الْمسور بن مخرمَة ومروان بن الحكم قَالَا خرج رَسُول الله صلى الله عليه وسلم عَام الْحُدَيْبِيَة وبضع عشر وَمِائَة من أَصْحَابه حَتَّى إِذا كَانُوا بِذِي
শুরাহদের (খারেজিদের) মতের বিপরীতে আরেকটি দলিল হলো যা আলী (আলাইহিস সালাম) বলেছেন যে, আল্লাহ আযযা ওয়া জাল হুদায়বিয়ার বছর মদীনার চারপাশের বেদুইনদের ভর্ৎসনা করে বলেছিলেন: {আপনি আপনার থেকে হুদায়বিয়ার পেছনে রয়ে যাওয়া বেদুইনদের বলে দিন: অচিরেই তোমাদের এক অত্যন্ত পরাক্রমশালী যোদ্ধার কওমের দিকে আহ্বান করা হবে} অর্থাৎ আবু বকর (আলাইহিস সালাম)-এর খিলাফতকালে মুরতাদদের বিরুদ্ধে এবং ওমর (আলাইহিস সালাম)-এর খিলাফতকালে পারস্য ও রোমবাসীদের বিরুদ্ধে যারা ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী। {তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ করবে অথবা তারা ইসলাম গ্রহণ করবে। অতঃপর যদি তোমরা আনুগত্য করো} অর্থাৎ এই দুই খলিফার যুদ্ধসমূহে তাঁদের অনুসরণ করো, {তবে আল্লাহ তোমাদের উত্তম প্রতিদান দান করবেন। আর যদি তোমরা বিমুখ হও যেভাবে তোমরা ইতিপূর্বে বিমুখ হয়েছিলে} অর্থাৎ হুদায়বিয়ার দিনে, {তবে তিনি তোমাদের যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রদান করবেন}। আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: অতঃপর আল্লাহ আযযা ওয়া জাল তাঁর পরবর্তী যুদ্ধসমূহে এই দুই খলিফার আনুগত্য করা আবশ্যক করে দিয়েছেন।
আবু আল-হুসাইন আল-মালাতি বলেন, যে বায়আতটি গাছের নিচে হয়েছিল—অর্থাৎ বায়আতে রিদওয়ান—সেই গাছটি ছিল ফলবতী এবং তা ছিল হুদায়বিয়ার বছর। আভিধানিক অর্থে 'সাকিনাহ' হলো প্রশান্তি। বলা হয়ে থাকে এটি রহমত। আরও বলা হয় যে সাকিনাহ হলো এমন এক বায়ু যার মস্তক বিড়ালের মস্তকের মতো। দাহহাক বলেছেন এটি রহমত। {এবং তিনি তাদের পুরস্কার স্বরূপ এক নিকটবর্তী বিজয় দান করলেন} আর তা হলো খয়বার। মিকসাম ও কাতাদাহও অনুরূপ বলেছেন এবং প্রথমটি ইবনে আব্বাসের উক্তি।
মিসওয়ার বিন মাখরামা ও মারওয়ান বিন আল-হাকাম থেকে বর্ণিত, তাঁরা বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হুদায়বিয়ার বছর তাঁর একশ দশ জনেরও অধিক সাহাবীকে নিয়ে বের হলেন, যতক্ষণ না তাঁরা যুল- (হুলাইফায় পৌঁছালেন)।
(খণ্ড: ১)
আত-তানবীহু ওয়ার রাদ্দু আলা আহলিল আহওয়া-ই ওয়াল বিদা
(পৃষ্ঠা: ৩)
الحليفة قلد رَسُول الله صلى الله عليه وسلم الْهدى وَأَشْعرهُ وَأحرم بِالْعُمْرَةِ وَبعث بَين يَدَيْهِ عينا لَهُ من خُزَاعَة يُخبرهُ عَن قُرَيْش وَسَار رَسُول الله صلى الله عليه وسلم حَتَّى إِذا كَانَ بغدير الأشطاط قَرِيبا من عسفان أَتَاهُ الْخُزَاعِيّ فَقَالَ إِنِّي تركت كَعْب بن لؤَي وعامر بن لؤَي قد جمعُوا لَك الْأَحَابِيش وجمعوا لَك جموعا وهم مقاتلوك وصادوك عَن الْبَيْت فَقَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَشِيرُوا على أَتَرَوْنَ أَن أميل على ذَرَارِي هَؤُلَاءِ الَّذين أَعَانُوهُم فَنصِيبهُمْ فَإِن قعدوا قعدوا موتورين وَإِن نَجوا تكون عنقًا قطعهَا الله أم ترَوْنَ أَن نَؤُم الْبَيْت فَمن صدنَا عَنهُ قَاتَلْنَاهُ قَالَ أَبُو بكر رضي الله عنه الله وَرَسُوله أعلم إعلم يَا بني الله إِنَّمَا جِئْنَا معتمرين وَلم نجىء لقِتَال أحد وَلَكِن من حَال بَيْننَا وَبَين الْبَيْت قَاتَلْنَاهُ قَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم فروحوا فراحوا حَتَّى إِذا كَانُوا بِبَعْض الطَّرِيق قَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم إِن خَالِد بن الْوَلِيد بالغميم فِي خيل لقريش طَلِيعَة فَخُذُوا ذَات الْيَمين قَالَ فوَاللَّه مَا شعر بهم خَالِد حَتَّى إِذا هُوَ بقترة الْجَيْش فَانْطَلق يرْكض يُرِيد الْعَرَب وَسَار رَسُول الله صلى الله عليه وسلم حَتَّى إِذا كَانَ بالثنية الَّتِي يهْبط عَلَيْهِم مِنْهَا بَركت بِهِ رَاحِلَته فَقَالَ النَّاس حل حل فألحت فَقَالُوا خلأت النصواء خلأت الْقَصْوَاء فَقَالَ النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم
যুল-হুলাইফাতে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হাদয় (কুরবানীর পশু)-কে মালা পরালেন এবং চিহ্নিত করলেন, আর উমরার জন্য ইহরাম বাঁধলেন। তিনি তাঁর সামনে খুযাআ গোত্রের একজন গোয়েন্দা পাঠালেন কুরাইশদের সংবাদ সংগ্রহের জন্য। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পথ চললেন, অবশেষে যখন তিনি উসফানের নিকটবর্তী গাদীর আল-আশতাতে পৌঁছালেন, তখন সেই খুযাঈ ব্যক্তিটি তাঁর কাছে এসে বলল: আমি কা'ব ইবনে লুওয়াই এবং আমির ইবনে লুওয়াইকে এমন অবস্থায় রেখে এসেছি যে, তারা আপনার বিরুদ্ধে হাবশী গোত্রসমূহকে একত্রিত করেছে এবং বিশাল এক বাহিনী সংগ্রহ করেছে। তারা আপনার সাথে যুদ্ধ করবে এবং আপনাকে বায়তুল্লাহ থেকে বাধা প্রদান করবে। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: তোমরা আমাকে পরামর্শ দাও। তোমরা কি মনে করো যে, আমরা ওই সকল লোকদের পরিবার-পরিজনের ওপর আক্রমণ করব যারা তাদের সাহায্য করতে এসেছে? যদি তারা বসে থাকে, তবে তারা ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় বসে থাকবে, আর যদি তারা রক্ষা পায় তবে সেটি হবে এমন এক দল যাকে আল্লাহ ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছেন। নাকি তোমাদের অভিমত এই যে, আমরা বায়তুল্লাহর উদ্দেশ্যে যাত্রা করব এবং যে আমাদের বাধা দেবে তার সাথে যুদ্ধ করব? আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই সবচেয়ে ভালো জানেন। হে আল্লাহর নবী! আমরা কেবল উমরা পালনের উদ্দেশ্যে এসেছি এবং কারো সাথে যুদ্ধের উদ্দেশ্যে আসিনি। তবে আমাদের এবং বায়তুল্লাহর মাঝে যে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে, আমরা তার সাথে যুদ্ধ করব। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: তাহলে রওনা হও। তাঁরা রওনা হলেন। যখন তাঁরা পথের একটি অংশে পৌঁছালেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ কুরাইশদের একটি অগ্রগামী অশ্বারোহী দল নিয়ে গামিম নামক স্থানে অবস্থান করছে, সুতরাং তোমরা ডান দিক দিয়ে চলো। বর্ণনাকারী বলেন: আল্লাহর কসম, খালিদ তাঁদের টের পাননি যতক্ষণ না তিনি সেনাবাহিনীর ধূলি উড়তে দেখলেন। তখন তিনি দ্রুত ঘোড়া ছুটিয়ে কুরাইশদের খবর দিতে চলে গেলেন। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পথ চললেন, অবশেষে যখন তিনি সেই গিরিপথে পৌঁছালেন যেখান থেকে নিচে নামতে হয়, তখন তাঁর উষ্ট্রীটি বসে পড়ল। মানুষ বলতে লাগল: 'হাল, হাল' (উষ্ট্রীকে চালানোর শব্দ), কিন্তু সেটি অনড় হয়ে বসে রইল। তখন তারা বলতে লাগল: কাসওয়া জেদ ধরে বসে পড়েছে, কাসওয়া বসে পড়েছে। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন...
(খণ্ড: ১)
আত-তানবীহু ওয়ার রাদ্দু আলা আহলিল আহওয়া-ই ওয়াল বিদা
(পৃষ্ঠা: ৪)
(مَا خلأت وَمَا ذَاك لَهَا بِخلق لَكِن حَبسهَا حَابِس الْفِيل ثمَّ قَالَ وَالَّذِي نَفسِي بِيَدِهِ لَا يَسْأَلُونِي خطة يعظمون فِيهَا حرمات الله إِلَّا أَعطيتهم إِيَّاهَا ثمَّ زجرها فَوَثَبت بِهِ قَالَ فَعدل عَنْهُم حَتَّى نزل بأقصى الْحُدَيْبِيَة على ثَمد قَلِيل المَاء يتبرضه النَّاس تبرضا فَلم يلبثه النَّاس حَتَّى نَزَحُوهُ فَشكى إِلَى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم الْعَطش فَانْتزع سَهْما من كِنَانَته ثمَّ أَمرهم أَن يَجْعَلُوهُ فِيهِ فوَاللَّه مَا زَالَ يَجِيش لَهُم بالرى حَتَّى صدرُوا عَنهُ فَبَيْنَمَا هم على ذَلِك إِذْ جَاءَ بديل بن وَرْقَاء الْخُزَاعِيّ فِي نفر من قومه من خُزَاعَة فَقَالَ إِنِّي تركت كَعْب بن لؤَي وعامر بن لؤَي نزلُوا أعداد مياه الْحُدَيْبِيَة مَعَهم العوذ المطافيل وهم مقاتلوك وصادوك عَن الْبَيْت فَقَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم إِنَّا لم نجىء لقِتَال أحد وَلَكِن جِئْنَا معتمرين وَإِن قُريْشًا قد نهكتهم الْحَرْب وأضرت بهم فَإِن شَاءُوا ماددتهم مُدَّة ويخلوا بيني وَبَين النَّاس فَإِن أظهر فَإِن شَاءُوا أَن يدخلُوا فِيمَا دخل فِيهِ النَّاس فعلوا وَإِلَّا فقد جموا وَإِن هم أَبَوا فوالذي نَفسِي بِيَدِهِ لأقاتلنهم على أَمْرِي هَذَا حَتَّى تنفرد سالفتي ولينفذن
“সে (কাসওয়া উটটি) বসে পড়েনি এবং এটি তার স্বভাবও নয়; বরং তাকে তিনি আটকে দিয়েছেন যিনি হাতিকে (মক্কায় প্রবেশ থেকে) আটকে দিয়েছিলেন।” তারপর তিনি বললেন, “সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ রয়েছে! তারা যদি আমার কাছে এমন কোনো প্রস্তাব চায় যাতে আল্লাহর পবিত্র বিষয়গুলোর প্রতি সম্মান প্রদর্শিত হয়, তবে আমি অবশ্যই তাদের তা প্রদান করব।” এরপর তিনি তাকে (উটটিকে) ধমক দিলেন, তখন সে লাফিয়ে উঠল। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তিনি তাদের থেকে সরে গিয়ে হুদাইবিয়ার শেষ প্রান্তে অল্প পানি বিশিষ্ট একটি কূপের পাশে অবতরণ করলেন, যেখান থেকে মানুষ সামান্য পরিমাণে পানি সংগ্রহ করছিল। মানুষ অল্প সময়ের মধ্যেই তা নিঃশেষ করে ফেলল। এরপর তারা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে তৃষ্ণার অভিযোগ করল। তখন তিনি তাঁর তূণীর থেকে একটি তীর বের করলেন এবং তাদের নির্দেশ দিলেন সেটি সেই কূপে নিক্ষেপ করতে। আল্লাহর শপথ! সেটি তাদের জন্য ততক্ষণ পর্যন্ত পানি উথলে দিতে থাকল যতক্ষণ না তারা তৃপ্ত হয়ে ফিরে এল। তারা যখন এই অবস্থায় ছিল, তখন খুযাআহ গোত্রের একদল লোকসহ বুদাইল ইবনে ওয়ারকা আল-খুযাঈ সেখানে উপস্থিত হলেন। তিনি বললেন, “আমি কাব ইবনে লুআই এবং আমির ইবনে লুআইকে হুদাইবিয়ার প্রচুর পানিপূর্ণ জলাশয়গুলোর পাশে রেখে এসেছি। তাদের সাথে দুগ্ধবতী উট ও তাদের শাবকগুলোও রয়েছে। তারা আপনার সাথে যুদ্ধ করতে এবং আপনাকে বায়তুল্লাহ থেকে বাধা দিতে বদ্ধপরিকর।” তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “আমরা কারও সাথে যুদ্ধ করতে আসিনি; বরং আমরা উমরাহ করতে এসেছি। নিশ্চয়ই কুরাইশরা যুদ্ধের কারণে ক্লান্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। তারা চাইলে আমি তাদের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করতে পারি, যাতে তারা আমার এবং সাধারণ মানুষের মধ্যকার পথ ছেড়ে দেবে। যদি আমি জয়ী হই, তবে তারা যদি চায় তবে অন্য মানুষরা যা গ্রহণ করেছে (ইসলাম), তারাও তা গ্রহণ করতে পারবে। আর তারা যদি তা না হয়, তবে তারা অন্তত কিছুটা অবকাশ পাবে। আর তারা যদি তা অস্বীকার করে, তবে সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ রয়েছে! আমি আমার এই দ্বীনের ওপর তাদের বিরুদ্ধে ততক্ষণ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাব যতক্ষণ না আমার গর্দান দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং অবশ্যই আল্লাহর নির্দেশ বাস্তবায়িত হবে।”
(খণ্ড: ১)
আত-তানবীহু ওয়ার রাদ্দু আলা আহলিল আহওয়া-ই ওয়াল বিদা
(পৃষ্ঠা: ৫)
الله أمره فَقَالَ بديل سأبلغهم مَا تَقول وَانْطَلق حَتَّى أَتَى قُريْشًا فَقَالَ إِنَّا قد جئناكم من عِنْد هَذَا الرجل وسمعته يَقُول قولا فَإِن شِئْتُم أَن نعرضه عَلَيْكُم فعلنَا فَقَالَ سفهاؤهم لَا حَاجَة لنا فِي أَن تحدثنا عَنهُ بِشَيْء وَقَالَ ذووا الرَّأْي مِنْهُم هَات مَا سمعته يَقُول سمعته يَقُول كَذَا وَكَذَا فَحَدثهُمْ بِمَا قَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم فَقَالَ عُرْوَة بن مَسْعُود الثَّقَفِيّ ألستم بالوالد قَالُوا بلَى قَالَ أَو لست بِالْوَلَدِ قَالُوا بلَى قَالَ فَهَل تتهموني قَالُوا لَا قَالَ ألستم تعلمُونَ أَنِّي استنفرت أهل عكاظ فَلَمَّا بلحوا على جِئتُكُمْ بأهلى وَوَلَدي وَمن أَطَاعَنِي قَالُوا بلَى قَالَ فَإِنَّهُ عرض عَلَيْكُم خطة رشد فاقبلوها ودعوني آته قَالُوا ائته فَأَتَاهُ فَجعل يكلم النَّبِي صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لَهُ النَّبِي صلى الله عليه وسلم نَحْو قَوْله لبديل فَقَالَ عُرْوَة عِنْد ذَلِك أَي مُحَمَّد أَرَأَيْت إِن استأصلت قَوْمك هَل سَمِعت بِأحد من الْعَرَب اجتاح أَهله قبلك وَإِن تكن الْأُخْرَى فوَاللَّه إِنِّي لأرى وُجُوهًا وَأرى أشوابا من النَّاس خلقاء أَن يَفروا عَنْك ويدعوك فَقَالَ أَبُو بكر رضي الله عنه امصص بظر اللات والعزى أَنَحْنُ نفر عَنهُ وندعه فَقَالَ من ذَا قَالُوا أَبُو بكر فَقَالَ أما وَالَّذِي نَفسِي بِيَدِهِ لَوْلَا يَد كَانَت لَك عِنْدِي لم أجزك بهَا لأجبتك قَالَ وَجعل يكلم النَّبِي صلى الله عليه وسلم فَكلما كَلمه مد يَده إِلَى لحيته والمغيرة بن شُعْبَة قَائِم على رَأس رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَمَعَهُ السَّيْف وَعَلِيهِ المغفر فَكلما أَهْوى عُرْوَة
আল্লাহর নির্দেশ। অতঃপর বুদাইল বললেন, আপনি যা বলছেন আমি তা তাদের নিকট পৌঁছে দেব। এরপর তিনি রওয়ানা হয়ে কুরাইশদের কাছে আসলেন এবং বললেন, আমরা তোমাদের কাছে এই ব্যক্তির নিকট থেকে এসেছি এবং আমি তাঁকে কিছু কথা বলতে শুনেছি। যদি তোমরা চাও যে আমরা তা তোমাদের সামনে পেশ করি, তবে আমরা তা করব। তখন তাদের মধ্যকার নির্বোধরা বলল, আমাদের কাছে তাঁর সম্পর্কে কিছু বলার কোনো প্রয়োজন নেই। আর তাদের মধ্যকার বুদ্ধিমানরা বলল, তিনি কী বলেছেন তা আমাদের শোনাও। তিনি বললেন, আমি তাঁকে এই এই কথা বলতে শুনেছি। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেছিলেন তা তিনি তাদের নিকট বর্ণনা করলেন। তখন উরওয়াহ ইবনে মাসউদ আস-সাকাফী বললেন, আপনারা কি আমার পিতার মতো নন? তারা বলল, অবশ্যই। তিনি বললেন, আর আমি কি আপনাদের সন্তানের মতো নই? তারা বলল, অবশ্যই। তিনি বললেন, আপনারা কি আমাকে কোনো বিষয়ে সন্দেহ করেন? তারা বলল, না। তিনি বললেন, আপনারা কি জানেন না যে আমি উকাজের অধিবাসীদের সাহায্যের জন্য আহ্বান করেছিলাম, অতঃপর তারা যখন আমাকে সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানাল, তখন আমি আমার পরিবার, সন্তান এবং যারা আমার আনুগত্য করেছে তাদের নিয়ে আপনাদের কাছে চলে এসেছি? তারা বলল, অবশ্যই। তিনি বললেন, নিশ্চয়ই তিনি তোমাদের সামনে একটি সঠিক প্রস্তাব পেশ করেছেন, সুতরাং তোমরা তা গ্রহণ করো এবং আমাকে তাঁর কাছে যাওয়ার অনুমতি দাও। তারা বলল, আপনি তাঁর কাছে যান। অতঃপর তিনি তাঁর কাছে আসলেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে কথা বলতে লাগলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বুদাইলের ন্যায় অনুরূপ কথা বললেন। তখন উরওয়াহ বললেন, হে মুহাম্মদ! আপনি কি ভেবে দেখেছেন, যদি আপনি আপনার কওমকে সমূলে ধ্বংস করে দেন, তবে আপনার পূর্বে আরবের কোনো ব্যক্তি কি তার নিজ বংশকে সমূলে বিনাশ করেছে বলে শুনেছেন? আর যদি পরিস্থিতি অন্যরকম হয়, তবে আল্লাহর শপথ! আমি এখানে অনেক মুখাবয়ব দেখছি এবং মানুষের এমন এক মিশ্রিত জনতাকে দেখছি যারা আপনাকে ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার এবং আপনাকে একাকী ফেলে রাখারই যোগ্য। তখন আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, তুমি লাত ও উযযার লজ্জাস্থান চোষণ করো! আমরা কি তাঁকে ছেড়ে পালিয়ে যাব এবং তাঁকে একা ফেলে রাখব? উরওয়াহ বললেন, এ কে? তারা বলল, আবু বকর। তখন উরওয়াহ বললেন, শোনো! সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে (আল্লাহর হাত) আমার প্রাণ রয়েছে, যদি তোমার এমন কোনো অনুগ্রহ আমার ওপর না থাকত যার প্রতিদান আমি এখনো দিতে পারিনি, তবে আমি অবশ্যই তোমার এই কথার জবাব দিতাম। বর্ণনাকারী বলেন, উরওয়াহ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে কথা বলতে থাকলেন এবং প্রতিবার কথা বলার সময় তিনি তাঁর দাড়ি মোবারকের দিকে নিজের হাত বাড়াচ্ছিলেন। এমতাবস্থায় মুগীরা ইবনে শু'বাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাথার কাছে তলোয়ার হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং তাঁর মাথায় শিরস্ত্রাণ ছিল। যখনই উরওয়াহ হাত বাড়াচ্ছিলেন...
(খণ্ড: ১)
আত-তানবীহু ওয়ার রাদ্দু আলা আহলিল আহওয়া-ই ওয়াল বিদা
(পৃষ্ঠা: ৬)
بِيَدِهِ إِلَى لحية رَسُول الله صلى الله عليه وسلم ضرب يَده بنعل السَّيْف وَقَالَ أخر يدك عَن لحية رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَرفع عُرْوَة رَأسه فَقَالَ من هَذَا قَالُوا الْمُغيرَة بن شُعْبَة فَقَالَ أَي غدر أَلَسْت أسعى فِي غدرتك وَكَانَ الْمُغيرَة رحمه الله صحب قوما فِي الْجَاهِلِيَّة فَقَتلهُمْ وَأخذ أَمْوَالهم ثمَّ أسلم فَقَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم أما الْإِسْلَام فَأقبل وَأما المَال فلست مِنْهُ فِي شَيْء ثمَّ إِن عُرْوَة جعل يرمق صحابة النَّبِي صلى الله عليه وسلم بِعَيْنِه قَالَ فوَاللَّه مَا تنخم رَسُول الله صلى الله عليه وسلم نخامة إِلَّا وَقعت فِي كف رجل مِنْهُم فَذَلِك بهَا وَجهه وَجلده وَإِذا أَمرهم ابتدروا أمره وَإِذا تَوَضَّأ كَادُوا يقتتلون على وضوئِهِ وَإِذا تكلمُوا خفضوا أَصْوَاتهم عِنْده وَمَا يحدون النّظر إِلَيْهِ تَعْظِيمًا لَهُ فَرجع عُرْوَة إِلَى أَصْحَابه فَقَالَ أَي قومِي وَالله لقد وفدت على الْمُلُوك ووفدت على كسْرَى وَقَيْصَر وَالنَّجَاشِي وَالله إِن رَأَيْت ملكا يعظمه أَصْحَابه مَا يعظم أَصْحَاب مُحَمَّد مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم وَالله إِن تنخم نخامة إِلَّا وَقعت فِي كف رجل مِنْهُم فدلك بهَا وَجهه وَجلده وَإِذا أَمرهم ابتدروا أمره وَإِذا تَوَضَّأ كَادُوا يقتتلون على وضوءه وَإِذا تكلمُوا خفضوا أَصْوَاتهم عِنْده وَمَا يحدون النّظر إِلَيْهِ تَعْظِيمًا لَهُ وَإنَّهُ قد عرض عَلَيْكُم خطة رشد فاقبلوها قَالَ ثمَّ قَالَ رجل من بني كنَانَة دَعونِي آته فَلَمَّا أشرف على النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَأَصْحَابه رَحْمَة الله عَلَيْهِم قَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم إِنَّه من قوم يعظمون الْبدن فابعثوها لَهُ فَبعثت لَهُ واستقبله النَّاس يلبون فَلَمَّا رأى
(উরওয়া) তার হাত দিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাড়ির দিকে অগ্রসর হলে, (মুগীরা) তলোয়ারের বাট দিয়ে তার হাতে আঘাত করলেন এবং বললেন, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাড়ি থেকে তোমার হাত সরিয়ে নাও।” উরওয়া তার মাথা তুলে বললেন, “এ ব্যক্তি কে?” তারা বললেন, “মুগীরা ইবনে শু'বাহ।” তখন উরওয়া বললেন, “হে বিশ্বাসঘাতক! আমি কি আজও তোমার সেই বিশ্বাসঘাতকতার দায়ভার বহন করে তা সংশোধনের চেষ্টা করছি না?” মুগীরা (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) জাহেলিয়াত যুগে এক সম্প্রদায়ের সঙ্গী ছিলেন, অতঃপর তিনি তাদের হত্যা করে তাদের ধন-সম্পদ কেড়ে নেন এবং পরে ইসলাম গ্রহণ করেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন, “তোমার ইসলাম তো আমি গ্রহণ করলাম, কিন্তু ওই সম্পদের সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।” অতঃপর উরওয়া নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের দিকে লক্ষ্য করতে লাগলেন। তিনি বললেন, “আল্লাহর কসম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখনই কফ ফেলতেন, তা তাদের কারো না কারো হাতের তালুতেই পড়ত এবং তা দিয়ে সে নিজের মুখ ও শরীর মেখে নিত। তিনি কোনো আদেশ দিলে তারা তা পালনে প্রতিযোগিতা করত। তিনি যখন ওজু করতেন, তখন তার ব্যবহৃত ওজুর পানির জন্য তারা প্রায় যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে যেত। তারা যখন তার সামনে কথা বলত, তখন নিজেদের কণ্ঠস্বর নিচু রাখত এবং অতি সম্মানের কারণে তারা তার দিকে পূর্ণ দৃষ্টিতে তাকাত না।”
অতঃপর উরওয়া তার সঙ্গীদের কাছে ফিরে গিয়ে বললেন, “হে আমার কওম! আল্লাহর কসম, আমি রাজা-বাদশাহদের দরবারে গিয়েছি, কিসরা, কায়সার ও নাজ্জাশীর দরবারে গিয়েছি। কিন্তু আল্লাহর কসম, আমি কোনো রাজাকে তার অনুসারীদের কাছে তেমন সম্মানিত হতে দেখিনি, যেমন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর সাহাবীদের নিকট সম্মানিত হতে দেখেছি। আল্লাহর কসম, তিনি যখনই কফ ফেলেন, তা তাদের কারো না কারো হাতের তালুতেই পড়ে এবং সে তা দিয়ে নিজের মুখ ও শরীর মেখে নেয়। তিনি তাদের কোনো নির্দেশ দিলে তারা তা পালনে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তিনি যখন ওজু করেন, তখন তাঁর ব্যবহৃত ওজুর পানির জন্য তারা যেন মারামারি করতে উদ্যত হয়। তারা তাঁর সামনে কথা বলার সময় নিজেদের আওয়াজ নিচু রাখে এবং তাঁকে সম্মান প্রদর্শনার্থে তাঁর দিকে পূর্ণ দৃষ্টিতে তাকায় না। তিনি তোমাদের নিকট একটি সঠিক প্রস্তাব পেশ করেছেন, সুতরাং তোমরা তা গ্রহণ করো।”
বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর বনু কিনানা গোত্রের এক ব্যক্তি বলল, “আমাকে তাঁর কাছে যেতে দাও।” সে যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীদের (রহমাতুল্লাহি আলাইহিম) সামনে উপস্থিত হলো, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “এ ব্যক্তি এমন এক গোত্রের লোক যারা কোরবানির পশুকে সম্মান করে, সুতরাং তোমরা সেগুলো তার সামনে পাঠিয়ে দাও।” তখন সেগুলো তার উদ্দেশ্যে পাঠানো হলো এবং সাহাবীরা তালবিয়া পাঠ করতে করতে তাকে অভ্যর্থনা জানালেন। সে যখন তা দেখল...
(খণ্ড: ১)
আত-তানবীহু ওয়ার রাদ্দু আলা আহলিল আহওয়া-ই ওয়াল বিদা
(পৃষ্ঠা: ৭)
ذَلِك قَالَ سُبْحَانَ الله مَا يَنْبَغِي لَهُم أَن يصدوا عَن الْبَيْت فَلَمَّا رَجَعَ إِلَى أَصْحَابه قَالَ رَأَيْت الْبدن قد قلدت وأشعرت فَمَا أرى أَن يصدوا عَن الْبَيْت
فَقَالَ رجل مِنْهُم يُقَال لَهُ مكرز بن حَفْص دَعونِي آته قَالُوا ائته فَلَمَّا أشرف عَلَيْهِم قَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم هَذَا مكرز بن حَفْص وَهُوَ رجل فَاجر فَجعل يكلم النَّبِي صلى الله عليه وسلم فَبَيْنَمَا هُوَ يكلمهُ إِذْ جَاءَ سُهَيْل بن عَمْرو فَقَالَ هَات اكْتُبْ بَيْننَا وَبَيْنكُم كتابا فَدَعَا الْكَاتِب فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم اكْتُبْ بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم فَقَالَ سُهَيْل أما الرَّحْمَن فوَاللَّه مَا أدرى مَا هُوَ وَلَكِن اكْتُبْ بِاسْمِك اللَّهُمَّ كَمَا كنت تكْتب فَقَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم بِاسْمِك اللَّهُمَّ ثمَّ قَالَ هَذَا مَا قاضى عَلَيْهِ مُحَمَّد رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَقَالَ سُهَيْل وَالله لَو كُنَّا نعلم أَنَّك رَسُول الله صلى الله عليه وسلم مَا صَدَدْنَاك عَن الْبَيْت وَلَا قَاتَلْنَاك وَلَكِن اكْتُبْ مُحَمَّد بن عبد الله فَقَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَالله إِنِّي لرَسُول الله وَإِن كذبتموني اكْتُبْ مُحَمَّد بن عبد الله قَالَ الزُّهْرِيّ وَذَلِكَ لقَوْله وَالله لَا يَسْأَلُونِي خطة يعظمون فِيهَا حرمات الله إِلَّا أَعطيتهم إِيَّاهَا فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم على أَن تخلوا بَيْننَا وَبَين الْبَيْت نطوف بِهِ فَقَالَ سُهَيْل وَالله لَا تَتَحَدَّث الْعَرَب أَنا اخذنا ضغطة وَلَكِن لَك من الْعَام الْمقبل فَكتب فَقَالَ سُهَيْل وعَلى أَن لَا يأيتك منا رجل وَإِن كَانَ على دينك إِلَّا رَددته إِلَيْنَا فَقَالَ الْمُسلمُونَ سُبْحَانَ الله كَيفَ نرده إِلَى الْمُشْركين وَقد جَاءَ مُسلما
তা দেখে তিনি বললেন, সুবহানাল্লাহ! তাদের জন্য কাবাঘর থেকে বাধা দেওয়া সমীচীন নয়। অতঃপর তিনি যখন তাঁর সঙ্গীদের কাছে ফিরে গেলেন, তখন বললেন, আমি কুরবানির পশুগুলোকে গলায় মালা পরিহিত এবং চিহ্নিত অবস্থায় দেখেছি; তাই আমি মনে করি না যে তাদের কাবাঘর থেকে বাধা দেওয়া উচিত।
তখন তাদের মধ্য থেকে মিকরাজ বিন হাফস নামক এক ব্যক্তি বলল, আমাকে তার কাছে যেতে দাও। তারা বলল, তার কাছে যাও। সে যখন তাঁদের সামনে উপস্থিত হলো, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এ হলো মিকরাজ বিন হাফস, আর সে একজন দুরাচার ব্যক্তি। অতঃপর সে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে কথা বলতে লাগল। এমতাবস্থায় সুহাইল বিন আমর এল এবং বলল, এসো, আমাদের ও তোমাদের মধ্যে একটি চুক্তিপত্র লেখ। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) লেখককে ডাকলেন এবং বললেন, লেখ: পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে। সুহাইল বলল, আল্লাহর কসম, 'আর-রাহমান' (পরম করুণাময়) কী তা আমি জানি না। বরং তুমি লেখ: 'হে আল্লাহ! আপনার নামে', যেমনটি আপনি আগে লিখতেন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, 'হে আল্লাহ! আপনার নামে'। অতঃপর তিনি বললেন, এটি সেই বিষয় যার ওপর আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সন্ধি করছেন। সুহাইল বলল, আল্লাহর কসম, আমরা যদি জানতাম যে আপনি আল্লাহর রাসূল, তবে আমরা আপনাকে কাবাঘর থেকে বাধা দিতাম না এবং আপনার সাথে যুদ্ধও করতাম না। বরং আপনি লেখ: মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আল্লাহর কসম, নিশ্চয়ই আমি আল্লাহর রাসূল, যদিও তোমরা আমাকে অস্বীকার করছ। (লেখককে বললেন:) লেখ: মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ। যুহরী বলেন, এটি তাঁর এই বাণীর কারণে ছিল যে: আল্লাহর কসম, তারা আমার কাছে এমন কোনো প্রস্তাব চাইবে না যাতে আল্লাহর পবিত্র বস্তুগুলোর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হয়, তবে আমি অবশ্যই তাদের তা প্রদান করব। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এ শর্তে যে তোমরা আমাদের ও কাবাঘরের মধ্যবর্তী পথ ছেড়ে দেবে, যাতে আমরা তা তওয়াফ করতে পারি। সুহাইল বলল, আল্লাহর কসম, আরবরা যেন এমন কথা না বলে যে আমরা চাপের মুখে পড়েছি। তবে আগামী বছর থেকে আপনাদের জন্য এ সুযোগ থাকবে। অতঃপর তা লেখা হলো। সুহাইল আরও বলল, এই শর্তেও যে, আমাদের মধ্য থেকে কোনো ব্যক্তি যদি আপনার কাছে আসে, যদিও সে আপনার দ্বীনের অনুসারী হয়, তবে তাকে অবশ্যই আমাদের কাছে ফেরত দিতে হবে। তখন মুসলিমগণ বললেন, সুবহানাল্লাহ! সে মুসলিম হয়ে আসার পর আমরা তাকে কীভাবে মুশরিকদের কাছে ফেরত দেব?
(খণ্ড: ১)
আত-তানবীহু ওয়ার রাদ্দু আলা আহলিল আহওয়া-ই ওয়াল বিদা
(পৃষ্ঠা: ৮)
فَبَيْنَمَا هُوَ كَذَلِك إِذْ جَاءَ أَبُو جندل بن سُهَيْل بن عَمْرو يرسف فِي قيوده قد خرج من أَسْفَل مَكَّة حَتَّى رمى بِنَفسِهِ بَين أظهر الْمُسلمين فَقَالَ سُهَيْل يَا مُحَمَّد هَذَا أول مَا أقاضيك عَلَيْهِ ترده إِلَى فَقَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم إِنَّا لم نمض الْكتاب بعد قَالَ فوَاللَّه إِذا لَا أصالحك على شَيْء أبدا قَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم فأجزه لي قَالَ مَا أَنا بمجيزه لَك قَالَ بلَى فافعل قَالَ مَا أَنا بفاعل فَقَالَ مكرز بلَى قد أجزناه لَك فَقَالَ أَبُو جندل أَي معشر الْمُسلمين أرد إِلَى الْمُشْركين وَقد جِئْت مُسلما أما ترَوْنَ مَا قد لقِيت فِي الله وَكَانَ قد عذب عذَابا شَدِيدا
قَالَ عمر بن الْخطاب رضي الله عنه أَلَسْت نَبيا حَقًا فَقَالَ بلَى فَقَالَ أَلسنا على الْحق وعدونا على الْبَاطِل قَالَ بلَى قَالَ فَلم نعطى الدنية فِي ديننَا إِذا قَالَ إِنِّي رَسُول الله وَلَيْسَت أعصيه وَهُوَ ناصري قَالَ أَو لست كنت تحدثنا أَنا سنأتي الْبَيْت فنطوف بِهِ قَالَ بلَى أفحدثنك أَنَّك تَأتيه الْعَام قَالَ لَا قَالَ فَإنَّك آتيه ومطوف بِهِ قَالَ الزُّهْرِيّ قَالَ عمر بن الْخطاب فَعمِلت لذَلِك أعمالا
قَالَ فَلَمَّا فرغ من قَضِيَّة الْكتاب قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لأَصْحَابه قومُوا فَانْحَرُوا ثمَّ احْلقُوا فوَاللَّه مَا قَامَ مِنْهُم رجل حَتَّى قَالَ ذَلِك ثَلَاث مَرَّات قَالَ فَلَمَّا لم يقم مِنْهُم أحد قَامَ فَدخل على أم سَلمَة رضي الله عنها فَذكر لَهَا مَا لقى من النَّاس فَقَالَت أم سَلمَة يَا نَبِي الله أَتُحِبُّ ذَلِك اخْرُج ثمَّ لَا تكلم
তিনি যখন এই অবস্থায় ছিলেন, এমতাবস্থায় সুহায়ল ইবনে আমরের পুত্র আবু জান্দাল তার শিকলে বাঁধা অবস্থায় হেলেদুলে এগিয়ে এলেন। তিনি মক্কার নিম্নভূমি থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত মুসলমানদের মাঝে নিজেকে সঁপে দিলেন। তখন সুহায়ল বললেন, "হে মুহাম্মদ! এটিই প্রথম বিষয় যার ভিত্তিতে আমি আপনার সাথে চুক্তির দাবি জানাচ্ছি যে, আপনি তাকে আমার কাছে ফেরত দেবেন।" নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, "আমরা তো এখনও চুক্তিপত্রটি চূড়ান্ত করিনি।" তিনি বললেন, "তাহলে আল্লাহর কসম, আমি আপনার সাথে আর কখনোই কোনো বিষয়ে সন্ধি করব না।" নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, "একে আমার খাতিরে মঞ্জুর করুন (ছেড়ে দিন)।" তিনি বললেন, "আমি তাকে আপনার জন্য ছাড়ব না।" নবী বললেন, "হ্যাঁ, আপনি এটি করুন।" তিনি বললেন, "আমি এটি করব না।" তখন মিকরাজ বললেন, "হ্যাঁ, আমরা তাকে আপনার জন্য মঞ্জুর করলাম।" আবু জান্দাল বললেন, "হে মুসলিম সমাজ! আমাকে কি মুশরিকদের কাছে ফেরত পাঠানো হবে, অথচ আমি মুসলিম হয়ে এসেছি? আপনারা কি দেখছেন না আল্লাহর পথে আমাকে কী নিদারুণ যাতনা ভোগ করতে হয়েছে?" তাকে অত্যন্ত কঠোরভাবে নির্যাতন করা হয়েছিল।
ওমর ইবনে খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, "আপনি কি বাস্তবিকই আল্লাহর সত্য নবী নন?" তিনি বললেন, "হ্যাঁ।" ওমর বললেন, "আমরা কি সত্যের ওপর এবং আমাদের শত্রুরা কি মিথ্যার ওপর নয়?" তিনি বললেন, "হ্যাঁ।" ওমর বললেন, "তবে কেন আমরা আমাদের দ্বীনের ব্যাপারে হীনতা স্বীকার করব?" তিনি বললেন, "নিশ্চয়ই আমি আল্লাহর রাসূল এবং আমি তাঁর অবাধ্য হই না, আর তিনিই আমার সাহায্যকারী।" ওমর বললেন, "আপনি কি আমাদের বলতেন না যে আমরা অচিরেই বাইতুল্লাহতে যাব এবং তা তাওয়াফ করব?" তিনি বললেন, "হ্যাঁ, তবে আমি কি আপনাকে সংবাদ দিয়েছিলাম যে আপনি এই বছরই সেখানে পৌঁছাবেন?" ওমর বললেন, "না।" তিনি বললেন, "নিশ্চয়ই আপনি সেখানে যাবেন এবং তা তাওয়াফ করবেন।" জুহরী বলেন, ওমর ইবনে খাত্তাব বলেছেন, "আমি (আমার সেই আচরণের বিপরীতে) অনেক (নেক) আমল করেছি।"
বর্ণনাকারী বলেন, যখন চুক্তিপত্রের বিষয়াদি শেষ হলো, তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর সাহাবীদের বললেন, "তোমরা ওঠো, পশু কোরবানি করো এবং এরপর মাথা মুণ্ডন করো।" আল্লাহর কসম, তাঁদের মধ্য থেকে একজন লোকও দাঁড়ালেন না, এমনকি তিনি তিনবার এ কথা বললেন। যখন তাঁদের মধ্য থেকে কেউ দাঁড়ালেন না, তখন তিনি উম্মে সালামাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-র কাছে প্রবেশ করলেন এবং মানুষের পক্ষ থেকে যা পেয়েছেন (অনাগ্রহ) তা তাঁর কাছে উল্লেখ করলেন। উম্মে সালামাহ বললেন, "হে আল্লাহর নবী! আপনি কি তা-ই পছন্দ করেন? তবে আপনি বাইরে যান এবং কারো সাথে কথা বলবেন না..."
(খণ্ড: ১)
আত-তানবীহু ওয়ার রাদ্দু আলা আহলিল আহওয়া-ই ওয়াল বিদা
(পৃষ্ঠা: ৯)
أحدا مِنْهُم كلمة حَتَّى تنحر بدنتك وَتَدْعُو حالقك فيحلقك فَقَامَ فَخرج فَلم يكلم أحدا مِنْهُم بِكَلِمَة حَتَّى فعل ذَلِك نحر بدنه ودعا حالقه فحلقه فَلَمَّا رَأَوْا ذَلِك قَامُوا فنحروا وَجعل بَعضهم يحلق بَعْضًا حَتَّى كَاد يقتل بَعضهم بَعْضًا
ثمَّ جَاءَ نسْوَة مؤمنات فَأنْزل الله عز وجل {يَا أَيهَا الَّذين آمنُوا إِذا جَاءَكُم الْمُؤْمِنَات مهاجرات فامتحنوهن} حَتَّى بلغ {بعصم الكوافر} فَطلق عمر امْرَأتَيْنِ كَانَتَا لَهُ فِي الشّرك فَتزَوج إِحْدَاهمَا مُعَاوِيَة بن أبي سُفْيَان وَالْأُخْرَى صَفْوَان بن أُميَّة
ثمَّ رَجَعَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِلَى المدنية فَجَاءَهُ أَبُو بَصِير رجل من قُرَيْش وَهُوَ مُسلم فأرسلوا فِي طلبه رجلَيْنِ فَقَالَا الْعَهْد الَّذِي جعلت لنا فَدفعهُ النَّبِي صلى الله عليه وسلم إِلَى الرجلَيْن فَخَرَجَا بِهِ حَتَّى بلغا ذَا الحليفة فنزلوا يَأْكُلُون من تمر لَهُم تزودوه فَقَالَ أَبُو نصير لأحد الرجلَيْن وَالله إِنِّي لأرى سَيْفك يَا فلَان هَذَا جيدا فاستله الآخر فَقَالَ أجل وَالله إِنَّه لجيد لقد جربته ثمَّ جربته فَقَالَ أَبُو نصير أَرِنِي أنظر إِلَيْهِ فأمكنه مِنْهُ فَضَربهُ حَتَّى برد وفر الآخر حَتَّى أَتَى الْمَدِينَة فَدخل الْمَسْجِد يعدو فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لقد رأى هَذَا ذعرا فَلَمَّا انْتهى إِلَى النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ قتل وَالله صَاحِبي وَإِنِّي لمقتول فجَاء أَبُو بَصِير فَقَالَ يَا رَسُول الله قد وَالله أوفى الله ذِمَّتك قد رددتني إِلَيْهِم ثمَّ أنجاني الله مِنْهُم فَقَالَ النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم
তাদের কারো সাথে কোনো কথা বলবেন না যতক্ষণ না আপনি আপনার উট কোরবানি করেন এবং আপনার নাপিতকে ডাকেন যাতে সে আপনার মাথা মুণ্ডন করে দেয়। অতঃপর তিনি উঠে বের হলেন এবং তাদের কারো সাথে কোনো কথা বললেন না যতক্ষণ না তিনি তা করলেন—তিনি তাঁর উট কোরবানি করলেন এবং তাঁর নাপিতকে ডাকলেন, সে তাঁর মাথা মুণ্ডন করে দিল। যখন তারা তা দেখলেন, তারা উঠে দাঁড়ালেন এবং কোরবানি করলেন। তারা একে অপরের মাথা মুণ্ডন করতে শুরু করলেন, এমনকি ভিড়ের কারণে তারা একে অপরকে প্রায় মেরে ফেলার উপক্রম করেছিলেন।
অতঃপর কিছু মুমিন নারী আসলেন। তখন মহান আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন: {হে মুমিনগণ! যখন তোমাদের কাছে মুমিন মহিলারা হিজরত করে আসে, তখন তোমরা তাদের পরীক্ষা করো...} {কাফির নারীদের সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক বজায় রেখো না} পর্যন্ত। তখন উমর (রা.) তাঁর দুই স্ত্রীকে তালাক দিলেন যারা শিরকের ওপর ছিল। তাদের একজনকে মুআবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান এবং অন্যজনকে সাফওয়ান ইবনে উমাইয়া বিয়ে করলেন।
অতঃপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মদীনায় ফিরে আসলেন। তখন কুরাইশদের আবু বাসীর নামক এক ব্যক্তি মুসলমান হয়ে তাঁর কাছে আসলেন। কুরাইশরা তাঁকে ফেরত নেওয়ার জন্য দুজন লোক পাঠাল। তারা বলল: আপনি আমাদের সাথে যে অঙ্গীকার করেছেন (তা পূরণ করুন)। ফলে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে ঐ দুই ব্যক্তির হাতে সোপর্দ করলেন। তারা তাকে নিয়ে বের হলো এবং যুল-হুলাইফা পৌঁছালে সেখানে অবতরণ করে তাদের সাথে থাকা খেজুর খেতে লাগল। আবু বাসীর ঐ দুই ব্যক্তির একজনকে বললেন: হে অমুক! আল্লাহর কসম, আমি তোমার এই তলোয়ারটি বেশ চমৎকার দেখছি। অপরজন সেটি কোষমুক্ত করল এবং বলল: হ্যাঁ, আল্লাহর কসম, এটি সত্যিই চমৎকার, আমি এটি বারবার পরীক্ষা করেছি। আবু বাসীর বললেন: আমাকে দাও তো, আমি একটু দেখি। সে তাকে সেটি দেখতে দিল। তখন তিনি তাকে এমন আঘাত করলেন যে সে মারা গেল। অপরজন পালিয়ে মদীনায় চলে আসল এবং দৌড়ে মসজিদে প্রবেশ করল। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে দেখে বললেন: এ ব্যক্তি তো ভীতিকর কিছু দেখেছে। সে যখন নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কাছে পৌঁছাল, তখন বলল: আল্লাহর কসম, আমার সাথীকে হত্যা করা হয়েছে এবং আমিও নিশ্চিতভাবে নিহত হব। তখন আবু বাসীর আসলেন এবং বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর কসম, আল্লাহ আপনার জিম্মাদারি পূর্ণ করেছেন। আপনি আমাকে তাদের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন, অতঃপর আল্লাহ আমাকে তাদের থেকে রক্ষা করেছেন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন:
(খণ্ড: ১)
আত-তানবীহু ওয়ার রাদ্দু আলা আহলিল আহওয়া-ই ওয়াল বিদা
(পৃষ্ঠা: ১০)
ويل أمه إِنَّه مسعر حَرْب لَو كَانَ لَهُ أحد فَلَمَّا سمع ذَلِك عرف أَنه سيرده إِلَيْهِم فَخرج حَتَّى أَتَى سيف الْبَحْر قَالَ وينفلت مِنْهُم أَبُو جندل بن سُهَيْل فلحق بِأبي بَصِير فَجعل لَا يخرج من قُرَيْش رجل قد أسلم إِلَّا لحق بِأبي بَصِير حَتَّى اجْتمعت مِنْهُم عِصَابَة قَالَ فوَاللَّه مَا يسمعُونَ بعير خرجت لقريش إِلَى الشأم إِلَّا اعْترضُوا لَهُم نقتلوهم وَأخذُوا أَمْوَالهم فَأرْسلت قُرَيْش إِلَى النَّبِي صلى الله عليه وسلم تناشده الله وَالرحم لما أرسل إِلَيْهِم فَمَنعهُمْ فَمن أَتَى مِنْهُم فَهُوَ آمن فَأرْسل النَّبِي صلى الله عليه وسلم إِلَيْهِم فَأنْزل الله عز وجل وَهُوَ الَّذِي كف أَيْديهم عَنْكُم وَأَيْدِيكُمْ عَنْهُم بِبَطن مَكَّة من بعد أَن أَظْفَرَكُم عَلَيْهِم وَكَانَ الله بِمَا تَعْمَلُونَ بَصيرًا هم الَّذين كفرُوا وصدوكم عَن الْمَسْجِد الْحَرَام وَالْهدى معكوفا أَن يبلغ مَحَله وَلَوْلَا رجال مُؤمنُونَ وَنسَاء مؤمنات لم تعملوهم أَن تطؤهم فتصيبكم مِنْهُم معرة بِغَيْر علم ليدْخل الله فِي رَحمته من يَشَاء لَو تزيلوا لعذبنا الَّذين كفرُوا مِنْهُم عذَابا أَلِيمًا إِذْ جعل الَّذين كفرُوا فِي قُلُوبهم الحمية حمية الْجَاهِلِيَّة فَكَانَت حميتهم أَنهم لم يَقُولُوا إِنَّه نَبِي وَلم يقرُّوا بِبسْم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم وحالوا بَينه وَبَين الْبَيْت
قَالَ ابو الْحُسَيْن الملطى رحمه الله إِنَّمَا سقت هَذَا الحَدِيث وَمَا أشبهه لتعرف كَيفَ كَانَ بَدْء هَذَا الدّين وَتعلم الْمَشَقَّة فِيهِ وَمَا لقى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم من جهال قومه وَكَيف كَانَت قُلُوب الْمُؤمنِينَ من التعزيز والتوقير وَكَيف لم يلوهم عَن الْحق أحد وَلم يؤثروا على الله شَيْئا وَبلغ الْمَكْرُوه مِنْهُم مَا قد تسمع بعضه
তার মায়ের দুর্ভাগ্য হোক! সে তো যুদ্ধের আগুন প্রজ্জ্বলনকারী, যদি তার সাথে কেউ থাকত। যখন তিনি (আবু বসীর) তা শুনলেন, তিনি বুঝতে পারলেন যে তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে তাদের কাছে ফেরত পাঠিয়ে দেবেন। তাই তিনি বেরিয়ে পড়লেন এবং সমুদ্র উপকূলে পৌঁছালেন। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর আবু জানদাল ইবনে সুহাইল তাদের কাছ থেকে পালিয়ে গিয়ে আবু বসীরের সাথে মিলিত হলেন। এরপর কুরাইশদের মধ্য থেকে কোনো ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করে বের হলেই সে আবু বসীরের সাথে গিয়ে মিলিত হতো। এভাবে তাদের একটি শক্তিশালী দল জমায়েত হয়ে গেল। তিনি বলেন, আল্লাহর কসম, যখনই তারা কুরাইশদের কোনো কাফেলার কথা শুনতেন যে তা সিরিয়ার দিকে যাচ্ছে, তখনই তারা তাদের পথরোধ করতেন, তাদের হত্যা করতেন এবং তাদের ধন-সম্পদ গ্রহণ করতেন। তখন কুরাইশরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে আল্লাহ এবং আত্মীয়তার দোহাই দিয়ে লোক পাঠাল যে, তিনি যেন তাদের কাছে লোক পাঠিয়ে এদেরকে নিয়ে আসেন এবং তাদের বিরত রাখেন; আর (অঙ্গীকার করল যে) এরপর তাদের মধ্য থেকে যে আসবে সে নিরাপদ থাকবে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের কাছে লোক পাঠালেন। অতঃপর আল্লাহ আযযা ওয়া জাল নাযিল করলেন: 'আর তিনিই মক্কা উপত্যকায় তাদের হাত তোমাদের থেকে এবং তোমাদের হাত তাদের থেকে বিরত রেখেছেন, তোমাদেরকে তাদের ওপর বিজয়ী করার পর। আর তোমরা যা কিছু করো আল্লাহ তার সম্যক দ্রষ্টা। তারাই তো কুফরি করেছে এবং তোমাদেরকে মসজিদুল হারাম থেকে বাধা দিয়েছে এবং কুরবানীর পশুগুলোকে তাদের নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছাতে বাধা প্রদান করেছে। আর যদি এমন কিছু মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারী না থাকত যাদেরকে তোমরা চিনতে না, ফলে তোমরা অজান্তেই তাদের পদদলিত করতে আর তাতে তোমাদের ওপর অজ্ঞাতসারে গোনাহ বর্তাত (তবে আল্লাহ যুদ্ধের অনুমতি দিতেন); যাতে আল্লাহ যাকে ইচ্ছা নিজ রহমতে প্রবেশ করান। যদি তারা পৃথক হয়ে থাকত তবে আমি তাদের মধ্যে যারা কুফরি করেছে তাদের যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দিতাম। যখন কাফিররা তাদের অন্তরে গোঁড়ামি পোষণ করল— জাহেলি যুগের গোঁড়ামি। তখন তাদের গোঁড়ামি ছিল এই যে, তারা স্বীকার করল না যে তিনি নবী এবং তারা বিসমিল্লাহির রহমানির রহীমকেও মেনে নিল না এবং তারা নবী ও বাইতুল্লাহর মধ্যে অন্তরায় সৃষ্টি করল'
আবু আল-হুসাইন আল-মালাতি (আল্লাহ তার প্রতি দয়া করুন) বলেন, আমি এই হাদিস এবং এর সমজাতীয় বর্ণনাগুলো কেবল এজন্যই উল্লেখ করেছি যাতে আপনি জানতে পারেন যে এই দ্বীনের সূচনা কীভাবে হয়েছিল এবং এতে কত কষ্ট ছিল, আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার সম্প্রদায়ের মূর্খদের কাছ থেকে কী কষ্টের সম্মুখীন হয়েছিলেন। আরও যেন জানতে পারেন যে মুমিনদের অন্তরে সম্মান ও শ্রদ্ধার চেতনা কেমন ছিল এবং কীভাবে কোনো কিছুই তাদেরকে সত্য থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি এবং তারা আল্লাহর ওপর অন্য কোনো কিছুকে প্রাধান্য দেয়নি। আর তাদের যে কষ্টের সম্মুখীন হতে হয়েছিল তার কিছু অংশ তো আপনি শুনলেনই।
(খণ্ড: ১)
আত-তানবীহু ওয়ার রাদ্দু আলা আহলিল আহওয়া-ই ওয়াল বিদা
(পৃষ্ঠা: ১১)
فَأَيْنَ أَنْت يَا بطال من هَؤُلَاءِ السَّابِقين وَأَيْنَ عَمَلك من أَعْمَالهم وَهل بَقِي عمل لعامل فِي عصرنا هَذَا بِوَقْت أَو لَحْظَة من أوقاتهم وسبقهم وَإِنَّمَا نالوا الشّرف بسبقهم إِلَى الْإِسْلَام وبذلهم النُّفُوس وَالْكل فِي الله حَتَّى أيد الله بهم نبيه صلى الله عليه وسلم وَأظْهر بهم دينه وأعلن بهم الْحق وَأظْهر بهم الصدْق فَكيف يَجْسُر على الطعْن عَلَيْهِم من عرف الله سَاعَة فِي عمره أم كَيفَ يجترىء على سبهم من يزْعم أَنه مُسلم وَالله سبحانه وتعالى يَقُول للْفُقَرَاء الْمُهَاجِرين الَّذين أخرجُوا من دِيَارهمْ وَأَمْوَالهمْ يَبْتَغُونَ فضلا من الله ورضوانا وينصرون الله وَرَسُوله أُولَئِكَ هم الصادقون وَالَّذين تبوؤا الدَّار وَالْإِيمَان من قبلهم يحبونَ من هَاجر إِلَيْهِم وَلَا يَجدونَ فِي صُدُورهمْ حَاجَة مِمَّا أُوتُوا ويؤثرون على أنفسهم وَلَو كَانَ بهم خصَاصَة وَمن يُوقَ شح نقسه فَأُولَئِك هم المفلحون وَالَّذين جَاءُوا من بعدهمْ يَقُولُونَ رَبنَا اغْفِر لنا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذين سبقُونَا بِالْإِيمَان وَلَا تجْعَل فِي قُلُوبنَا غلا للَّذين آمنُوا رَبنَا إِنَّك غَفُور رَحِيم
فَأَيْنَ أَنْت وَأَيْنَ لَك وَأهل عصرك من هَؤُلَاءِ هَيْهَات أَن تدْرك بعض شَأْنهمْ أَو أَن تبلغ مد أحدهم أَو نصيفه فَكيف وَأَنت ترجع فِي أَمرك كُله إِلَى عقلك الْفَاسِد ورأيك الْأَعْرَج فَتَقول قد فعل فلَان وَلم كَانَ ومم كَانَ وَأَنت يَا جَاهِل قد ضارع قَوْلك قَول إِبْلِيس حِين قَاس فَقَالَ {خلقتني من نَار وخلقته من طين} فَأَنت تعَارض كَمَا عَارض وليك الشَّيْطَان ثمَّ من أدل الْأَدِلَّة أَنَّك لَو تقطعت وَاجْتَهَدت لم يَصح لَك أصل تعتمد عَلَيْهِ إِلَّا أَن تكذب وتنقل الْكَذِب لتستريح إِلَيْهِ وَلَا رَاحَة لكذاب وَالله عز وجل يَقُول {قتل الخراصون} أَي لعن الكذابون وَقَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم من كذب على مُعْتَمدًا فَليَتَبَوَّأ مَقْعَده من النَّار
হে অলস ব্যক্তি, এই অগ্রগামীদের তুলনায় আপনি কোথায়? তাদের আমলের তুলনায় আপনার আমল কোথায়? আমাদের এই যুগের কোনো আমলকারীর আমল কি তাদের সময়ের এক মুহূর্ত বা তাদের অগ্রগামিতার সমকক্ষ হতে পারে? তারা তো কেবল ইসলামের দিকে অগ্রগামী হওয়ার মাধ্যমে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজেদের জীবন ও সবকিছু বিসর্জন দেওয়ার মাধ্যমেই এই মর্যাদা লাভ করেছেন; এমনকি আল্লাহ তাদের মাধ্যমে তাঁর নবীকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাহায্য করেছেন, তাদের মাধ্যমে তাঁর দ্বীনকে বিজয়ী করেছেন, সত্যকে সুউচ্চ করেছেন এবং সত্যবাদিতাকে প্রকাশ করেছেন। তবে যে ব্যক্তি সারা জীবনে কেবল এক মুহূর্তের জন্য আল্লাহকে চিনেছে, সে কীভাবে তাদের ওপর কলঙ্ক লেপন করার দুঃসাহস দেখায়? অথবা যে নিজেকে মুসলিম বলে দাবি করে, সে কীভাবে তাদের গালি দেওয়ার সাহস পায়? আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন: “(এই সম্পদ) সেই অভাবগ্রস্ত মুহাজিরদের জন্য, যারা নিজেদের ঘরবাড়ি ও সহায়-সম্পদ থেকে বিতাড়িত হয়েছে, যারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি অনুসন্ধান করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে সাহায্য করে। তারাই সত্যবাদী। আর যারা তাদের আগে এই জনপদে (মদিনায়) বসবাস করেছে এবং ঈমান গ্রহণ করেছে, তারা তাদের নিকট হিজরত করে আসা লোকদের ভালোবাসে এবং মুহাজিরদের যা দেওয়া হয়েছে তার জন্য নিজেদের অন্তরে কোনো আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে না, বরং নিজেরা অভাবগ্রস্ত হওয়া সত্ত্বেও তাদের নিজেদের ওপর অগ্রাধিকার দেয়। আর যাদের অন্তরের কার্পণ্য থেকে রক্ষা করা হয়েছে, তারাই সফলকাম। আর যারা তাদের পরে এসেছে, তারা বলে: হে আমাদের রব! আমাদের এবং আমাদের সেই ভাইদের ক্ষমা করুন যারা ঈমানের পথে আমাদের অগ্রগামী হয়েছে, আর যারা ঈমান এনেছে তাদের প্রতি আমাদের অন্তরে কোনো বিদ্বেষ রাখবেন না। হে আমাদের রব! নিশ্চয়ই আপনি অত্যন্ত দয়ালু ও পরম করুণাময়।”
সুতরাং আপনি কোথায় এবং আপনার ও আপনার যুগের লোকদের অবস্থান তাদের তুলনায় কোথায়? তাদের মর্যাদার সামান্যতম অংশ পাওয়া কিংবা তাদের একজনের এক মুদ (এক অঞ্জলি পরিমাণ দান) বা তার অর্ধেক পর্যন্ত পৌঁছানো আপনার জন্য অসম্ভব। তবে আপনার অবস্থা এমন কীভাবে হলো যে, আপনি আপনার যাবতীয় বিষয়ে আপনার কলুষিত বুদ্ধি ও পঙ্গু মতামতের দিকে প্রত্যাবর্তন করেন? আপনি বলেন, “অমুক এই কাজ করেছে, কেন করেছে আর কী কারণেই বা করেছে?” হে জাহেল, আপনার কথা তো ইবলিসের কথার সদৃশ হয়ে গেছে যখন সে যুক্তি প্রদর্শন করে বলেছিল, {আপনি আমাকে আগুন থেকে সৃষ্টি করেছেন আর তাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে}। সুতরাং আপনিও সেভাবেই বিরোধিতা করছেন যেভাবে আপনার বন্ধু শয়তান বিরোধিতা করেছিল। অতঃপর অন্যতম অকাট্য দলিল এই যে, আপনি যদি নিজেকে ছিন্নভিন্ন করে ফেলেন এবং আপ্রাণ চেষ্টা করেন, তবুও আপনার নির্ভর করার মতো কোনো ভিত্তি খুঁজে পাবেন না; কেবল মিথ্যা বলা এবং মিথ্যার প্রসারের মাধ্যমে সান্ত্বনা খোঁজা ছাড়া। আর মিথ্যাবাদীর জন্য কোনো প্রশান্তি নেই। আল্লাহ আজযা ওয়া জাল্লা বলেন: {মিথ্যাবাদীরা ধ্বংস হোক}, অর্থাৎ মিথ্যাবাদীদের ওপর লানত বর্ষিত হোক। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যারোপ করে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।”
(খণ্ড: ১)
আত-তানবীহু ওয়ার রাদ্দু আলা আহলিল আহওয়া-ই ওয়াল বিদা
(পৃষ্ঠা: ১২)
وَأَيْضًا فتأويلك الْقُرْآن على غير تَأْوِيله وقولك فِيهِ بِرَأْيِك الْفَقِير ومخالفتك للسلف وخروجك من الْعلم ورجوعك إِلَى الْجَهْل الَّذِي هُوَ أولى بك وقولك فِي حجتك روى سديف الصَّيْرَفِي وَفُلَان وَفُلَان كَذَا وَكَذَا وَأهل الْعلم فِي الْآفَاق يردون ذَلِك ويكذبونك من لدن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِلَى أَن تقوم السَّاعَة فَأَنت ضال مضل تركت السوَاد الْأَعْظَم وَتركت الطَّرِيق الْوَاضِحَة وَالله تَعَالَى يَقُول وَإِن هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبعُوهُ وَلَا تتبعوا السبل فَتفرق بكم عَن سَبيله ذَلِكُم وَصَّاكُم بِعْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُون
فَهَل عقلت هَذَا عَن الله عز وجل أم أَنْت من الأخسرين الَّذين يُؤمنُونَ بِبَعْض الْكتاب ويكفرون بِبَعْض وَاعْلَم أَن من كفر بِآيَة من الْكتاب فقد كفر بِجَمِيعِهِ وَمن كفر بِحَدِيث وَاحِد فَهُوَ كَافِر بِصَاحِب الشَّرِيعَة وَلنْ يَنْفَعهُ عمل وَلَا لَهُ مصير إِلَّا إِلَى النَّار
فَالله الله فِي نَفسك انتبه ودع مَا يريبك لما لَا يريبك وَلَا تتبع هَوَاك فَلَيْسَ على وَجه الأَرْض شخص يعدل عَن السّنة وَالْجَمَاعَة والألفة إِلَّا كَانَ مُتبعا لهواه نَاقِصا عقله خَارِجا من الْعلم والتعارف فَالْزَمْ الْحق ترشد إِن شَاءَ الله
وَأَنا أذكر لَك فِي هَذَا الْجُزْء الثَّالِث الْفرق الأثنتين وَالسبْعين فرقة وَمن هِيَ بأسمائها وَمَا تنتحل من كفرها وعدوانها وَأَنَّهَا بانتحالها وفعالها فِي النَّار كَمَا قَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم عِنْد ذكره الْأُمَم فَقَالَ افْتَرَقت الْيَهُود على إِحْدَى وَسبعين
আরও আপনার কুরআনের ব্যাখ্যা এর প্রকৃত ব্যাখ্যার বিপরীতে করা, এতে আপনার তুচ্ছ মতামতের প্রয়োগ, সালাফদের বিরোধিতা করা, জ্ঞান থেকে বিচ্যুতি এবং মূর্খতার দিকে প্রত্যাবর্তন করা যা আপনার জন্যই অধিক মানানসই। আপনার দলিলে সুদায়েফ আস-সাইরাফি এবং অমুক অমুকের থেকে এমন এমন বর্ণনা করা—অথচ পৃথিবীর দিগদিগন্তের আলেমগণ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগ থেকে কিয়ামত হওয়া পর্যন্ত তা প্রত্যাখ্যান করেন ও আপনাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেন। অতএব আপনি ভ্রান্ত ও বিভ্রান্তকারী, আপনি সওয়াদে আজমকে (বৃহত্তর জনগোষ্ঠী) ত্যাগ করেছেন এবং স্পষ্ট পথ বর্জন করেছেন। অথচ মহান আল্লাহ বলেন: 'নিশ্চয় এটিই আমার সরল পথ, সুতরাং এর অনুসরণ করো এবং অন্যান্য পথের অনুসরণ করো না, কারণ তা তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে। তিনি তোমাদের এই নির্দেশ দিয়েছেন যেন তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করো।'
আপনি কি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এটি উপলব্ধি করেছেন, নাকি আপনি সেই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত যারা কিতাবের একাংশের ওপর ঈমান আনে এবং অন্য অংশকে অস্বীকার করে? জেনে রাখুন, যে ব্যক্তি কিতাবের একটি আয়াতের সাথে কুফরি করল, সে মূলত পুরো কিতাবেরই কুফরি করল। আর যে ব্যক্তি একটি হাদিস অস্বীকার করল, সে শরিয়ত প্রণেতার (রাসূলের) প্রতি কুফরি করল। তার কোনো আমলই ফলদায়ক হবে না এবং জাহান্নাম ছাড়া তার কোনো গন্তব্য নেই।
সুতরাং নিজের প্রাণের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করুন, সচেতন হোন এবং সংশয়যুক্ত বিষয় ছেড়ে সংশয়হীন বিষয়ের দিকে মনোনিবেশ করুন। নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করবেন না; কেননা পৃথিবীতে এমন কোনো ব্যক্তি নেই যে সুন্নাহ, জামাআত এবং ঐক্য থেকে বিচ্যুত হয়ে স্বীয় প্রবৃত্তির অনুসরণকারী, বিবেকহীন এবং ইলম ও পরিচিত পথ থেকে বহির্গত না হয়েছে। অতএব হকের ওপর অবিচল থাকুন, ইনশাআল্লাহ আপনি সুপথ পাবেন।
আর আমি আপনার নিকট এই তৃতীয় খণ্ডে বাহাত্তরটি ফেরকার কথা উল্লেখ করব—তাদের নামসমূহ, তাদের কুফরি ও অবাধ্যতামূলক আকিদাহসমূহ, এবং কেন তারা তাদের ভ্রান্ত বিশ্বাস ও কর্মের কারণে জাহান্নামি হবে, যেমনটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিভিন্ন উম্মতের বর্ণনায় বলেছিলেন: 'ইয়াহুদিরা একাত্তর দলে বিভক্ত হয়েছিল...'
(খণ্ড: ১)
আত-তানবীহু ওয়ার রাদ্দু আলা আহলিল আহওয়া-ই ওয়াল বিদা
(পৃষ্ঠা: ১৩)
فرقة فرقة نَاجِية وَسَبْعُونَ فِي النَّار وافترقت النَّصَارَى على اثْنَتَيْنِ وَسبعين فرقة فرقة نَاجِية وَإِحْدَى وَسَبْعُونَ فِي النَّار نذْكر نَاجِية الْيَهُود من أَصْحَاب مُوسَى عليه السلام والحواريين من الْمُسلمين من أَصْحَاب عِيسَى عليه السلام وَقَالَ بعد ذَلِك وتفترق أمتِي على ثَلَاث وَسبعين فرقة وَاحِدَة نَاجِية وَاثْنَتَانِ وَسَبْعُونَ فِي النَّار فَقيل من النَّاجِية يَا رَسُول الله قَالَ مَا أَنا وأصحابي عَلَيْهِ الْيَوْم وَقَالَ عَلَيْكُم بِالسَّوَادِ الْأَعْظَم وَأَنت أَيهَا المبتدع لَا ترْضى بذلك وَلَا تقبل أمره عليه السلام وَقَالَ أَيْضا لَا تَجْتَمِع أمتِي على ضَلَالَة وَسَمَّاهُمْ الصَّادِقين وَأَنت تكفر الصَّحَابَة كلهم إِلَّا سلمَان وَعمَّارًا والمقداد وابا ذَر رحمهم الله فَمن دلك على هَذَا وَأي علم نطق بِهِ وَأي سَبِيل إِلَى هَذَا غير الْهوى وَالْكفْر الْمَحْض وَإِنَّا لله وَإِنَّا إِلَيْهِ راجعوان
وَأَنا أذكر فِي هَذَا الْجُزْء الْفرق على مَا انبأتك إِن شَاءَ الله وأختم الْكتاب بِجُزْء رَابِع فِيهِ الْحجَّاج على الْجَمِيع وأختصر فِي الْحجَّاج فِي هَذَا الْجُزْء وقدمت فِي الْجُزْء الأول وَالثَّانِي من الذّكر وسقت النّسَب ودللتك على مَنْهَج السَّلامَة وَجعلت كتابي هَذَا معقلا للْمُسلمين إِن شَاءَ الله تَعَالَى فَمن نظر فِيهِ متفهما لمعانيه محتفظا لأصوله ومحتجا بفصوله وناظر فِيهِ ازْدَادَ بَصِيرَة إِذْ الِاجْتِهَاد منى فِي ذَلِك قد انْتهى وَإِذ الْأُصُول الَّتِي تكلم فِيهَا الأفاضل من الْمُسلمين قد سقتها وَمِنْهَا مَا قد أوضحته شرحا وَمِنْهَا مَا قد اكتفيت عَن شَرحه بِمَا اعدت من ذكره فجَاء فِي مَوْضِعه على كَمَاله وَفِي مَوضِع على التَّلْوِيح بِهِ بِدَلِيل فِيهِ قَائِم أردْت بذلك أَن يَأْخُذ بحظ مِنْهُ من كتبه عَن آخِره وَمن كتب
একটি দল নাজাতপ্রাপ্ত এবং সত্তরটি দল জাহান্নামে। আর নাসারারা (খ্রিস্টানরা) বাহাত্তর দলে বিভক্ত হয়েছে, যার মধ্যে একটি দল নাজাতপ্রাপ্ত এবং একাত্তরটি দল জাহান্নামে। আমরা মুসা আলাইহিস সালামের সাথীদের মধ্য থেকে ইয়াহুদীদের নাজাতপ্রাপ্ত দলের কথা এবং ঈসা আলাইহিস সালামের সাথীদের মধ্য থেকে মুসলিম হাওয়ারীদের কথা উল্লেখ করি। তিনি (রাসূলুল্লাহ) এরপর বলেছেন: "আর আমার উম্মত তিয়াত্তর দলে বিভক্ত হবে, একটি দল নাজাতপ্রাপ্ত এবং বাহাত্তরটি দল জাহান্নামে।" জিজ্ঞেস করা হলো: "হে আল্লাহর রাসূল! নাজাতপ্রাপ্ত কারা?" তিনি বললেন: "আজ আমি এবং আমার সাহাবীরা যার ওপর প্রতিষ্ঠিত আছি।" তিনি আরও বলেছেন: "তোমরা সর্ববৃহৎ দলের (সাওয়াদে আজম) সাথে থাকো।" অথচ হে বিদআতি! তুমি এতে সন্তুষ্ট নও এবং তাঁর (রাসূলের) নির্দেশ গ্রহণ করো না। তিনি আরও বলেছেন: "আমার উম্মত ভ্রষ্টতার ওপর ঐক্যবদ্ধ হবে না" এবং তিনি তাদেরকে সত্যবাদী হিসেবে অভিহিত করেছেন। অথচ তুমি সালমান, আম্মার, মিকদাদ এবং আবু যার (আল্লাহ তাদের ওপর রহম করুন) ব্যতীত সকল সাহাবীকে কাফির বলো। কে তোমাকে এই বিষয়ের দিশা দিয়েছে? কোন জ্ঞান এই কথা বলে? প্রবৃত্তি এবং নিছক কুফরি ব্যতীত এর আর কোন পথ আছে? নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর এবং নিশ্চয়ই আমরা তাঁরই নিকট প্রত্যাবর্তনকারী।
আর আমি এই খণ্ডে দলগুলো সম্পর্কে বর্ণনা করব যেমনটি আমি আপনাকে জানিয়েছি, ইনশাআল্লাহ। এবং আমি গ্রন্থটি চতুর্থ একটি খণ্ডের মাধ্যমে সমাপ্ত করব যেখানে সকলের ওপর প্রমাণাদি থাকবে, আর এই খণ্ডে আমি প্রমাণের ক্ষেত্রে সংক্ষিপ্ততা অবলম্বন করব। প্রথম এবং দ্বিতীয় খণ্ডে আমি বর্ণনার কাজ সম্পন্ন করেছি এবং বংশপরম্পরা উল্লেখ করেছি এবং আপনাকে নিরাপত্তার পথের দিশা দিয়েছি। আমি আমার এই গ্রন্থটিকে মুসলিমদের জন্য একটি দুর্গ হিসেবে তৈরি করেছি, ইনশাআল্লাহ। সুতরাং যে ব্যক্তি এর অর্থসমূহ অনুধাবন করে, এর মূলনীতিসমূহ হৃদয়ে গেঁথে এবং এর পরিচ্ছেদগুলো দ্বারা দলিল পেশ করে এটি পাঠ করবে, তার অন্তর্দৃষ্টি বৃদ্ধি পাবে। কেননা এক্ষেত্রে আমার পক্ষ থেকে গবেষণার কাজ সমাপ্ত হয়েছে এবং মুসলিমদের মধ্যকার শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিবর্গ যে সকল মূলনীতি সম্পর্কে আলোচনা করেছেন, আমি সেগুলো উল্লেখ করেছি। তার মধ্যে কিছু বিষয় আমি ব্যাখ্যাসহ স্পষ্ট করেছি, আবার কিছু বিষয়ে পুনরায় উল্লেখ করার মাধ্যমেই ব্যাখ্যা প্রদানের প্রয়োজনীয়তা দূর করেছি। ফলে সেগুলো নিজ স্থানে পূর্ণাঙ্গরূপে এসেছে এবং কোথাও প্রতিষ্ঠিত প্রমাণের মাধ্যমে ইঙ্গিত হিসেবে এসেছে। এর মাধ্যমে আমি চেয়েছি যেন সে ব্যক্তি এর থেকে তার অংশ লাভ করে যে এটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত লিখেছে এবং যে লিখেছে...
(খণ্ড: ১)
আত-তানবীহু ওয়ার রাদ্দু আলা আহলিল আহওয়া-ই ওয়াল বিদা
(পৃষ্ঠা: ১৪)
بعضه أَن يدْرك بعض مَا فَاتَهُ من كَمَاله فَإلَى هَذَا عزوت وَإِلَيْهِ أَشرت فَلَا يَقُولَن أحد ينظر فِي كتَابنَا هَذَا إِنَّه قد كرر فِيهِ مَا قد أَتَى بِهِ فِي مَوضِع قد كفى ذَلِك عَن تكراره فأعلمتك مَا قصدت ودللتك على مَا أردْت لتزيل ببياني شَيْئا إِن خامرك شَيْء من ذَلِك ولتعلم أَنه لم يخف على ذَلِك وَإِنِّي لعمرك أحب الإيجاز فِي الْأَمر كُله وَلَكِن رَأَيْت من صعوبة الزَّمَان تجرد قوم فِي بغض أهل السّنة وبحثهم عَلَيْهِم وقصدهم مَا ساءهم من قَول وَفعل فَجعلت ذَلِك على مَا قدرت عَلَيْهِ بمعونة الله وَالله ممد لأهل السّنة بالمعونة الدائمة والكفاية الشاملة والعز الْمُتَّصِل وَالْجَلالَة فِي أعين عباده والكلاءة فِي الْأَنْفس والأهل وَالْأَوْلَاد وَالْأَمْوَال وَحسن الْعَاقِبَة فِي الْمعَاد ومبلغهم مَا هُوَ أَهله من لطائفه وإحسانه فهم فِي عصرنا هَذَا هم الأطواد الشامخة والبدور الزاهرة والسادة الَّذين شملهم الله بعونه وستره فوجوههم بالعون زاهرة وألسنتهم بِالصّدقِ ناطقة {إِن الله مَعَ الَّذين اتَّقوا وَالَّذين هم محسنون}
بَاب مَا شرح من بَيَان السّنة
قَالَ أَبُو الْحُسَيْن رحمه الله وَالَّذِي ثَبت عَن مُحَمَّد بن عكاشة أَن أصُول السّنة مِمَّا اجْتمع عَلَيْهِ الْفُقَهَاء وَالْعُلَمَاء مِنْهُم عَليّ بن عَاصِم وسُفْيَان بن عُيَيْنَة
এর মাধ্যমে কেউ তার অসম্পূর্ণতার কিছু অংশ পূর্ণ করতে পারে। আমি এ দিকেই ইঙ্গিত করেছি এবং এর প্রতিই লক্ষ্য করেছি। সুতরাং আমাদের এই কিতাবের পাঠক যেন এ কথা না বলেন যে, এতে এমন কিছুর পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে যা অন্য স্থানে আলোচিত হয়েছে এবং তা সেই পুনরাবৃত্তি থেকে যথেষ্ট ছিল। আমি যা ইচ্ছা করেছি তা আপনাকে জানিয়ে দিয়েছি এবং যা চেয়েছি তার প্রতি আপনাকে পথনির্দেশ করেছি, যেন আমার বর্ণনার মাধ্যমে আপনার মনে যদি এমন কিছু উদয় হয়ে থাকে তবে তা দূরীভূত হয়। আর আপনি যেন জানতে পারেন যে, বিষয়টি আমার কাছে গোপন ছিল না। আপনার জীবনের শপথ! আমি সকল বিষয়ে সংক্ষিপ্ততা পছন্দ করি; কিন্তু আমি বর্তমান সময়ের কঠিন অবস্থা প্রত্যক্ষ করেছি যে, একদল লোক আহলে সুন্নাহর প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করার জন্য এবং তাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চালানোর জন্য এবং কথা ও কাজের মাধ্যমে তাদের অনিষ্ট করার উদ্দেশ্যে কোমর বেঁধে নেমেছে। ফলে আল্লাহর সাহায্যে যতটুকু সম্ভব হয়েছে আমি তা সংকলন করেছি। আর আল্লাহ তাআলা আহলে সুন্নাহকে স্থায়ী সাহায্য, ব্যাপক স্বয়ংসম্পূর্ণতা, নিরবচ্ছিন্ন মর্যাদা, তাঁর বান্দাদের চোখে মহিমা এবং জান-মাল, পরিবার-পরিজন ও সন্তান-সন্ততির নিরাপত্তা এবং পরকালে উত্তম পরিণাম দানকারী। তিনি তাদেরকে তাঁর অনুগ্রহ ও ইহসান থেকে এমন স্তরে পৌঁছে দেন যার যোগ্য তিনি স্বয়ং। আমাদের এই যুগে তারাই সুউচ্চ পর্বত, প্রদীপ্ত পূর্ণিমা এবং এমন নেতা যাদেরকে আল্লাহ তাঁর সাহায্য ও হেফাজত দ্বারা আবৃত করেছেন। ফলে আল্লাহর সাহায্যে তাদের চেহারাগুলো উজ্জ্বল এবং তাদের জিহ্বা সত্যের বর্ণনায় মুখর। {নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের সাথে আছেন যারা তাকওয়া অবলম্বন করে এবং যারা সৎকর্মশীল।}
সুন্নাহর ব্যাখ্যার বর্ণনার অধ্যায়
আবুল হুসাইন (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, মুহাম্মাদ বিন উকাশাহ থেকে যা প্রমাণিত তা হলো—সুন্নাহর মূলনীতিসমূহ এমন বিষয় যার ওপর ফকীহ ও উলামাগণ একমত হয়েছেন, যাদের মধ্যে আলী বিন আসিম এবং সুফইয়ান বিন উয়াইনাও রয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
আত-তানবীহু ওয়ার রাদ্দু আলা আহলিল আহওয়া-ই ওয়াল বিদা
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وَمُحَمّد بن يُوسُف الْفرْيَابِيّ وَشُعَيْب وَمُحَمّد بن عمر الْوَاقِدِيّ وشابة بن سوار وَالْفضل بن دُكَيْن الْكُوفِي وَعبد الْعَزِيز بن ابان الْكُوفِي وَعبد الله بن دَاوُد ويعلى بن قبيصَة وَسَعِيد بن عُثْمَان وازهر وابو عبد الرَّحْمَن المقرى وَزُهَيْر ابْن نعيم وَالنضْر بن شُمَيْل وَأحمد بن خَالِد الدِّمَشْقِي والوليد بن مُسلم الْقرشِي والرواد بن الْجراح الْعَسْقَلَانِي وَيحيى بن يحيى وَإِسْحَاق بن رَاهَوَيْه وَيحيى بن سعيد الْقطَّان وَعبد الرَّحْمَن بن مهْدي وَأَبُو مُعَاوِيَة الضَّرِير كلهم يَقُولُونَ رَأينَا أَصْحَاب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم كَانُوا يَقُولُونَ
الرِّضَا بِقَضَاء الله وَالتَّسْلِيم لأمر الله وَالصَّبْر على حكم الله وَالْأَخْذ بِمَا أَمر الله النَّهْي عَمَّا نهى الله عَنهُ وَالْإِخْلَاص بِالْعَمَلِ لله وَالْإِيمَان بِالْقدرِ خَيره وشره من الله وَترك المراء والجدال والخصومات فِي الدّين وَالْمسح على الْخُفَّيْنِ وَالْجهَاد مَعَ أهل الْقبْلَة وَالصَّلَاة على من مَاتَ من أهل الْقبْلَة سنة وَالْإِيمَان يزِيد وَينْقص قَول وَعمل وَالْقُرْآن كَلَام الله وَالصَّبْر تَحت لِوَاء السُّلْطَان على مَا كَانَ مِنْهُم من عدل أَو جور وَلَا يخرج على الْأُمَرَاء بِالسَّيْفِ وَإِن جاروا وَلَا ينزل أحد من أهل التَّوْحِيد جنَّة وَلَا نَارا وَلَا يكفر أحد من أهل التَّوْحِيد بذنب وَإِن عمِلُوا الْكَبَائِر والكف عَن اصحاب مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم وَأفضل النَّاس بعد رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَبُو بكر ثمَّ عمر ثمَّ عُثْمَان ثمَّ عَليّ رضي الله عنهم أَجْمَعِينَ
بَاب فِيمَن أَرَادَ أَن يرى النَّبِي صلى الله عليه وسلم فِي مَنَامه
قَالَ مُحَمَّد بن عكاشة رحمه الله أَخْبرنِي مُعَاوِيَة بن حَمَّاد الْكرْمَانِي عَن
মুহাম্মদ ইবন ইউসুফ আল-ফিরইয়াবি, শুআইব, মুহাম্মদ ইবন উমর আল-ওয়াকিদি, শাববা ইবন সাওয়ার, আল-ফাদল ইবন দুকাইন আল-কুফি, আবদুল আজিজ ইবন আবান আল-কুফি, আবদুল্লাহ ইবন দাউদ, ইয়ালা ইবন কাবিদাহ, সাঈদ ইবন উসমান, আযহার, আবু আবদুর রহমান আল-মুকরি, যুহাইর ইবন নুআইম, আন-নাদর ইবন শুমাইল, আহমাদ ইবন খালিদ আদ-দিমাশকি, আল-ওয়ালিদ ইবন মুসলিম আল-কুরাইশি, আর-রাওয়াদ ইবন আল-জাররাহ আল-আসকালানি, ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, ইসহাক ইবন রাহওয়াইহ, ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ আল-কাত্তান, আবদুর রহমান ইবন মাহদি এবং আবু মুআবিয়া আদ-দারির—তাঁরা সবাই বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের দেখেছি, তাঁরা বলতেন
আল্লাহর ফয়সালার প্রতি সন্তুষ্ট থাকা, আল্লাহর আদেশের প্রতি আত্মসমর্পণ করা, আল্লাহর হুকুমের ওপর ধৈর্য ধারণ করা, আল্লাহ যা আদেশ করেছেন তা গ্রহণ করা, আল্লাহ যা নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত থাকা, আল্লাহর জন্য আমলের ক্ষেত্রে ইখলাস অবলম্বন করা, ভাগ্যের ভালো ও মন্দ আল্লাহর পক্ষ থেকে হওয়ার ওপর ঈমান রাখা, দ্বীনের বিষয়ে বিতর্ক, ঝগড়া ও বিবাদ বর্জন করা, চামড়ার মোজার ওপর মাসাহ করা, আহলে কিবলার সাথে জিহাদ করা, আহলে কিবলার মধ্য থেকে যারা মৃত্যুবরণ করে তাদের জানাযার সালাত আদায় করা সুন্নাহ, ঈমান বৃদ্ধি পায় ও হ্রাস পায় এবং তা কথা ও কাজের সমষ্টি, কুরআন আল্লাহর কালাম, শাসকের পতাকাতলে ধৈর্য ধারণ করা—চাই তাদের পক্ষ থেকে ইনসাফ প্রকাশ পাক বা জুলুম, শাসকদের বিরুদ্ধে তলোয়ার নিয়ে বিদ্রোহ না করা যদিও তারা অন্যায় করে, আহলে তাওহীদের কাউকেই জান্নাতি বা জাহান্নামী হিসেবে সুনিশ্চিত করে আখ্যায়িত না করা, কোনো আহলে তাওহীদকে পাপের কারণে কাফির না বলা যদিও তারা কবিরা গুনাহে লিপ্ত হয়, এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের সমালোচনা থেকে বিরত থাকা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলেন আবু বকর, তারপর উমর, তারপর উসমান, এরপর আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম আজমাইন)।
অনুচ্ছেদ: যে ব্যক্তি স্বপ্নে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখতে চায়
মুহাম্মদ ইবন উকাশাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: মুআবিয়া ইবন হাম্মাদ আল-কিরমানি আমাকে খবর দিয়েছেন... থেকে।
(খণ্ড: ১)
আত-তানবীহু ওয়ার রাদ্দু আলা আহলিল আহওয়া-ই ওয়াল বিদা
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الزُّهْرِيّ قَالَ من اغْتسل لَيْلَة الْجُمُعَة وَصلى رَكْعَتَيْنِ يقْرَأ فيهمَا {قل هُوَ الله أحد} ألف مرّة رأى النَّبِي صلى الله عليه وسلم فِي مَنَامه قَالَ مُحَمَّد بن عكاشة قدمت عَلَيْهِ كل لَيْلَة جُمُعَة أصلى الرَّكْعَتَيْنِ أَقرَأ فيهمَا {قل هُوَ الله أحد} ألف مرّة طَمَعا أَن ارى النَّبِي صلى الله عليه وسلم فِي مَنَامِي فَأَعْرض عَلَيْهِ هَذِه الْأُصُول فَأَتَت على لَيْلَة بَارِدَة فاغتسلت وَصليت رَكْعَتَيْنِ ثمَّ اخذت مضجعي فَأَصَابَنِي حلم فَقُمْت ثَانِيَة فاغتسلت وَصليت رَكْعَتَيْنِ وفرغت مِنْهُمَا قَرِيبا من الْفجْر فاستندت إِلَى الْحَائِط ووجهي إِلَى الْقبْلَة إِذْ دخل على النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَوَجهه كَالْقَمَرِ لَيْلَة الْبَدْر وعنقه كإبريق فضَّة فِيهِ قضبان الذَّهَب على النَّعْت وَالصّفة وَعَلِيهِ بردتان من هَذِه البرود اليمانية قد اتزر بِوَاحِدَة وارتدى بِأُخْرَى فجَاء واستوفز على رجله الْيُمْنَى وَأقَام الْيُسْرَى فَأَرَدْت أَن أَقُول حياك الله فبادرني وَقَالَ حياك الله وَكنت أحب أَن أرى رباعيته الْمَكْسُورَة فَتَبَسَّمَ فَنَظَرت إِلَى رباعيته فَقلت يَا رَسُول الله إِن الْفُقَهَاء وَالْعُلَمَاء قد اخْتلفُوا على وَعِنْدِي أصُول من السّنة اعرضها عَلَيْك فَقَالَ نعم فَقلت
الرِّضَا بِقَضَاء الله وَالتَّسْلِيم لأمر الله وَالصَّبْر على حكم الله وَالْأَخْذ بِمَا أَمر الله وَالنَّهْي عَمَّا نهى الله عَنهُ وَالْإِخْلَاص بِالْعَمَلِ لله وَالْإِيمَان بِالْقدرِ خَيره وشره من الله وَترك المراء والجدال والخصومات فِي الدّين وَالْمسح على الْخُفَّيْنِ وَالْجهَاد مَعَ أهل الْقبْلَة وَالصَّلَاة على من مَاتَ من أهل الْقبْلَة سنة وَالْإِيمَان يزِيد وَينْقص قَول وَعمل وَالْقُرْآن كَلَام الله وَالصَّبْر تَحت لِوَاء السُّلْطَان على مَا كَانَ فِيهِ من
যুহরি বলেন, "যে ব্যক্তি জুমার রাতে গোসল করবে এবং দুই রাকাত সালাত আদায় করবে, যাতে প্রতি রাকাতে এক হাজার বার 'কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ' (সুরা ইখলাস) পাঠ করবে, সে স্বপ্নে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে দেখতে পাবে।" মুহাম্মদ বিন উকাশা বলেন, "আমি প্রতি জুমার রাতে নিয়মিত এই দুই রাকাত সালাত আদায় করতাম এবং তাতে এক হাজার বার 'কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ' পাঠ করতাম এই আশায় যে, স্বপ্নে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে দেখতে পাব এবং তাঁর নিকট এই মূলনীতিসমূহ পেশ করব। একদা এক শীতের রাত আসল, আমি গোসল করলাম এবং দুই রাকাত সালাত আদায় করলাম। এরপর আমি আমার বিছানায় গেলাম কিন্তু আমার স্বপ্নদোষ হয়ে গেল। তখন আমি পুনরায় উঠলাম এবং দ্বিতীয়বার গোসল করে দুই রাকাত সালাত আদায় করলাম। আমি যখন তা শেষ করলাম তখন ফজরের নিকটবর্তী সময়। আমি কিবলামুখী হয়ে দেয়ালে হেলান দিয়ে বসলাম। এমন সময় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার নিকট প্রবেশ করলেন; তাঁর চেহারা ছিল পূর্ণিমার চাঁদের মতো এবং তাঁর ঘাড় ছিল যেন রুপার পাত্র যাতে স্বর্ণের কারুকার্য রয়েছে—ঠিক যেমনটি তাঁর গুণাবলি ও বর্ণনায় পাওয়া যায়। তাঁর পরনে ছিল ইয়ামানি চাদর জোড়া; একটি তিনি লুঙ্গি হিসেবে পরিধান করেছিলেন এবং অপরটি চাদর হিসেবে জড়িয়েছিলেন। তিনি আসলেন এবং তাঁর ডান পায়ের ওপর ভর দিয়ে বসলেন এবং বাম পা খাড়া করে রাখলেন। আমি তাঁকে 'হাইয়াকাল্লাহ' (আল্লাহ আপনাকে শান্তিতে রাখুন) বলতে চাইলাম, কিন্তু তিনি নিজেই আগে আমাকে বললেন, 'হাইয়াকাল্লাহ'। আমি তাঁর সেই (ওহুদ যুদ্ধে) ভেঙে যাওয়া সামনের দাঁতটি দেখতে চাচ্ছিলাম। তখন তিনি মুচকি হাসলেন এবং আমি তাঁর সেই সামনের দাঁতটি দেখতে পেলাম। আমি বললাম, 'হে আল্লাহর রাসুল! ফকিহ ও উলামাগণ আমার নিকট বিভিন্ন বিষয়ে মতভেদ করেছেন। আমার নিকট সুন্নাহর কিছু মূলনীতি রয়েছে যা আমি আপনার কাছে পেশ করতে চাই।' তিনি বললেন, 'হ্যাঁ।' তখন আমি বললাম—
আল্লাহর ফয়সালার প্রতি সন্তুষ্ট থাকা, আল্লাহর আদেশের প্রতি আত্মসমর্পণ করা, আল্লাহর বিধানের ওপর ধৈর্য ধারণ করা, আল্লাহ যা আদেশ করেছেন তা গ্রহণ করা, আল্লাহ যা নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত থাকা, আল্লাহর জন্য আমলকে একনিষ্ঠ করা, ভাগ্যের ভালো ও মন্দের ওপর ঈমান রাখা যা আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত, দ্বীনের বিষয়ে বাকবিতণ্ডা, বিতর্ক ও ঝগড়া বর্জন করা, চামড়ার মোজার ওপর মাসেহ করা, আহলে কিবলার সাথে জিহাদ করা, আহলে কিবলার মধ্য থেকে যারা মৃত্যুবরণ করে তাদের জানাজা পড়া সুন্নাত, ঈমান বৃদ্ধি পায় ও হ্রাস পায় এবং তা কথা ও কাজের সমষ্টি, কুরআন আল্লাহর কালাম এবং সুলতানের (শাসক) পতাকাতলে ধৈর্য ধারণ করা, তার মধ্যে যা-ই বিদ্যমান থাকুক না কেন...
(খণ্ড: ১)
আত-তানবীহু ওয়ার রাদ্দু আলা আহলিল আহওয়া-ই ওয়াল বিদা
(পৃষ্ঠা: ১৭)
جور وَعدل وَلَا يخرج على الامراء بِالسَّيْفِ وَإِن جاروا وَلَا ينزل أحد من أهل التَّوْحِيد جنَّة وَلَا نَارا وَلَا يكفر أحد من أهل التَّوْحِيد بذنب وان عمِلُوا الْكَبَائِر والكف عَن أَصْحَاب مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا أتيت والكف عَن أَصْحَاب مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم بَكَى حَتَّى علا صَوته وَأفضل النَّاس بعد رَسُول صلى الله عليه وسلم أَبُو بكر ثمَّ عمر ثمَّ عُثْمَان ثمَّ عَليّ قَالَ مُحَمَّد بن عكاشة فَقلت فِي نَفسِي فِي عَليّ ابْن عَمه وَخَتنه فَتَبَسَّمَ عليه السلام كَأَنَّهُ قد علم مَا فِي نَفسِي قَالَ مُحَمَّد فدمت ثَلَاث لَيَال مُتَوَالِيَات أعرض عَلَيْهِ هَذِه الْأُصُول كل ذَلِك أَقف عِنْد عُثْمَان وَعلي فَيَقُول لي عليه السلام ثمَّ عُثْمَان ثمَّ عَليّ ثمَّ عُثْمَان ثمَّ عَليّ ثَلَاث مَرَّات قَالَ وَكنت أعرض عَلَيْهِ هَذِه الْأُصُول وَعَيناهُ تهملان بالدموع قَالَ فَوجدت حلاوة فِي قلبِي وفمي فَمَكثت ثَمَانِيَة أَيَّام لَا آكل طَعَاما وَلَا أشْرب شرابًا حَتَّى ضعفت عَن صَلَاة الْفَرِيضَة فَلَمَّا أكلت ذهبت تِلْكَ الْحَلَاوَة واللذة وَالله شَاهد على وَكفى بِاللَّه شَهِيدا
وَقَالَ أَمِير الْمُؤمنِينَ المتَوَكل رحمه الله لِأَحْمَد بن حَنْبَل رضى الله عَنهُ يَا أَحْمد إِنِّي أُرِيد أَن أجعلك بينى وَبَين الله حجَّة فأظهرني على السّنة وَالْجَمَاعَة وَمَا كتبته عَن أَصْحَابك عَمَّا كتبوه عَن التَّابِعين مِمَّا كتبوه عَن أَصْحَاب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فحدثه بِهَذَا الحَدِيث
অবিচার ও ন্যায়বিচার এবং শাসকদের বিরুদ্ধে তলোয়ার ধারণ করে বিদ্রোহ না করা, যদিও তারা অবিচার করে। তাওহীদপন্থীদের মধ্য থেকে কাউকে (নির্দিষ্টভাবে) জান্নাতী বা জাহান্নামী বলে আখ্যায়িত না করা এবং তাওহীদপন্থীদের কাউকে কোনো পাপের কারণে কাফের সাব্যস্ত না করা, যদিও তারা কবীরা গুনাহ করে থাকে। আর মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীদের সমালোচনা থেকে বিরত থাকা। যখন আমি ‘মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীদের সমালোচনা থেকে বিরত থাকা’র বিষয়টি উল্লেখ করলাম, তখন তিনি উচ্চৈঃস্বরে কেঁদে উঠলেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পর মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলেন আবু বকর, তারপর উমর, তারপর উসমান, তারপর আলী। মুহাম্মদ বিন উকাশাহ বলেন, আমি আলী সম্পর্কে মনে মনে বললাম যে তিনি তো তাঁর চাচাতো ভাই ও জামাতা; তখন তিনি (আলাইহিস সালাম) মুচকি হাসলেন যেন তিনি আমার মনের কথা জেনে ফেলেছেন। মুহাম্মদ বলেন, আমি টানা তিন রাত তাঁর কাছে এই মূলনীতিগুলো পেশ করতে থাকলাম; প্রতিবার আমি উসমান ও আলীর কাছে এসে থামতাম, আর তিনি (আলাইহিস সালাম) আমাকে বলতেন: “তারপর উসমান, তারপর আলী; তারপর উসমান, তারপর আলী”—এভাবে তিনবার বললেন। তিনি বলেন, আমি যখন তাঁর কাছে এই মূলনীতিগুলো পেশ করছিলাম তখন তাঁর দুচোখ বেয়ে অশ্রু ঝরছিল। তিনি বললেন, আমি আমার অন্তরে ও মুখে এক প্রকার মিষ্টতা অনুভব করলাম, ফলে আমি টানা আট দিন কোনো খাবার বা পানীয় গ্রহণ না করে কাটালাম, এমনকি আমি ফরজ সালাত আদায়ে দুর্বল হয়ে পড়লাম। এরপর যখন আমি খাবার খেলাম, তখন সেই মিষ্টতা ও স্বাদ চলে গেল। আল্লাহ আমার ওপর সাক্ষী এবং সাক্ষী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট।
আর আমীরুল মুমিনীন আল-মুতাওয়াক্কিল (রাহিমাহুল্লাহ) আহমাদ বিন হাম্বল (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বললেন, “হে আহমাদ! আমি আমার ও আল্লাহর মাঝে আপনাকে হুজ্জাত (প্রমাণ) হিসেবে গ্রহণ করতে চাই। অতএব আপনি আমাকে সুন্নাহ ও জামাআত এবং আপনি আপনার সাথীদের থেকে যা লিপিবদ্ধ করেছেন—যা তারা তাবিঈদের থেকে এবং তারা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীদের থেকে লিপিবদ্ধ করেছেন—সে সম্পর্কে অবহিত করুন।” অতঃপর তিনি তাঁকে এই হাদীসটি বর্ণনা করলেন।
(খণ্ড: ১)
আত-তানবীহু ওয়ার রাদ্দু আলা আহলিল আহওয়া-ই ওয়াল বিদা
(পৃষ্ঠা: ১৮)
بَاب ذكر الرافضة وأصناف اعْتِقَادهم
قَالَ أَبُو الْحُسَيْن الملطى رحمه الله إِن أهل الضلال الرافضة ثمانى عشرَة فرقة يتلقبون بالإمامية وَأَنا أذكرها إِن شَاءَ الله على رتبها
فأولهم الْفرْقَة الغالية من السبئية وَغَيرهم وهم أَصْحَاب عبد الله بن سبأ قَالُوا لعَلي عليه السلام أَنْت أَنْت قَالَ وَمن أَنا قَالُوا الْخَالِق البارئ فاستتابهم فَلم يرجِعوا فَأوقد لَهُم نَارا ضخمة وَأَحْرَقَهُمْ وَقَالَ مرتجزا
(لما رَأَيْت الْأَمر أمرا مُنْكرا
… أججت نارى ودعوت قنبرا)
فِي أَبْيَات لَهُ عليه السلام وَقد بَقِي مِنْهُم إِلَى الْيَوْم طوائف يَقُولُونَ ذَلِك ويتلون من الْقُرْآن {إِن علينا جمعه وقرآنه فَإِذا قرأناه فَاتبع قرآنه} وهم يَقُولُونَ إِن عليا مَا مَاتَ وَلَا يجوز عَلَيْهِ الْمَوْت وَهُوَ حَيّ لَا يَمُوت وَيُقَال لما جَاءَهُم نعى على إِلَى الْكُوفَة رَحْمَة الله عَلَيْهِ قَالُوا لَو أتيتمونا بدماغه فِي سبعين قَارُورَة لم نصدق بِمَوْتِهِ فَبلغ ذَلِك الْحسن بن عَليّ رضي الله عنهما فَقَالَ فَلم ورثنا مَاله وَتزَوج نساؤه
والفرقة الثَّانِيَة من السبئية يَقُولُونَ إِن عليا لم يمت وَإنَّهُ فِي السَّحَاب وَإِذا نشأت سَحَابَة بَيْضَاء صَافِيَة منيرة مبرقة مرعدة قَامُوا إِلَيْهَا يبتهلون ويتضرعون وَيَقُولُونَ قد مر عَليّ بِنَا فِي السَّحَاب
والفرقة الثَّالِثَة من السبئية هم الَّذين يَقُولُونَ إِن عليا قد مَاتَ وَلَكِن
রাফেযী এবং তাদের আকিদার বিভিন্ন প্রকারের বর্ণনার পরিচ্ছেদ
আবু আল-হুসাইন আল-মালাতী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বলেন, পথভ্রষ্ট রাফেযীরা আঠারোটি উপদলে বিভক্ত। তারা ‘ইমামিয়্যাহ’ উপাধিতে পরিচিত। আমি ইনশাআল্লাহ তাদের ক্রমানুযায়ী উল্লেখ করব।
তাদের মধ্যে প্রথম হলো সাবায়িয়্যাহ ও অন্যদের অন্তর্ভুক্ত চরমপন্থী দল। তারা হলো আবদুল্লাহ ইবনে সাবার অনুসারী। তারা আলীকে (আলাইহিস সালাম) বলেছিল, ‘আপনিই তিনি (অর্থাৎ ইলাহ)’। তিনি বললেন, ‘আমি কে?’ তারা বলল, ‘সৃষ্টিকর্তা ও উদ্ভাবক’। অতঃপর তিনি তাদের তওবা করতে বললেন, কিন্তু তারা ফিরে এল না। ফলে তিনি তাদের জন্য বিশাল আগুন জ্বালালেন এবং তাদের পুড়িয়ে দিলেন। তিনি বীরত্বব্যঞ্জক ছন্দে বলেছিলেন:
(যখন আমি দেখলাম বিষয়টি চরম গর্হিত
… তখন আমি আগুন জ্বালালাম এবং কানবারকে ডাকলাম)
এটি তাঁর (আলাইহিস সালাম) রচিত কিছু কবিতা পঙক্তির অংশ। তাদের মধ্য থেকে আজ পর্যন্ত কিছু দল অবশিষ্ট আছে যারা এ কথা বলে এবং কুরআনের এই আয়াতটি পাঠ করে: {নিশ্চয়ই এটি সংগ্রহ ও পাঠ করানোর দায়িত্ব আমাদেরই। অতএব যখন আমি তা পাঠ করি, তখন আপনি সেই পাঠের অনুসরণ করুন}। তারা বলে যে, আলী মৃত্যুবরণ করেননি এবং তাঁর মৃত্যু হওয়া সম্ভব নয়; তিনি জীবিত এবং কখনো মরবেন না। বলা হয়ে থাকে যে, যখন আলীর (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) ইন্তেকালের সংবাদ কুফায় পৌঁছাল, তখন তারা বলেছিল, “তোমরা যদি সত্তরটি বোতলে ভরে তাঁর মগজও আমাদের কাছে নিয়ে আসো, তবুও আমরা তাঁর মৃত্যু বিশ্বাস করব না।” এ সংবাদ যখন হাসান ইবনে আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) এর কাছে পৌঁছাল, তখন তিনি বললেন, “তবে কেন আমরা তাঁর সম্পদের উত্তরাধিকারী হলাম এবং কেন তাঁর স্ত্রীরা বিয়ে করলেন?”
সাবায়িয়্যাহদের দ্বিতীয় দলটি বলে যে, আলী মৃত্যুবরণ করেননি এবং তিনি মেঘের মধ্যে আছেন। যখন কোনো উজ্জ্বল, স্বচ্ছ, জ্যোতির্ময়, বিদ্যুৎ চমকানো ও গর্জনশীল মেঘ দেখা দেয়, তখন তারা সেটির দিকে দাঁড়িয়ে বিনীত হয়ে প্রার্থনা করে এবং বলে, “আলী মেঘের মাঝে আমাদের ওপর দিয়ে অতিক্রম করলেন।”
সাবায়িয়্যাহদের তৃতীয় দলটি হলো তারা যারা বলে যে আলী মৃত্যুবরণ করেছেন কিন্তু...
(খণ্ড: ১)
আত-তানবীহু ওয়ার রাদ্দু আলা আহলিল আহওয়া-ই ওয়াল বিদা
(পৃষ্ঠা: ১৯)
يبْعَث قبل الْقِيَامَة وَيبْعَث مَعَه أهل الْقُبُور حَتَّى يُقَاتل الدَّجَّال وَيُقِيم الْعدْل والقسط فِي الْعباد والبلاد وَهَؤُلَاء لَا يَقُولُونَ إِن عليا هُوَ الله وَلَكِن يَقُولُونَ بالرجعة
والفرقة الرَّابِعَة من السبئية يَقُولُونَ بإمامة مُحَمَّد بن عَليّ وَيَقُولُونَ هُوَ فِي جبال رضوى حَتَّى لم يمت ويحرسه على بَاب الْغَار الَّذِي هُوَ فِيهِ تنين وَأسد وَإنَّهُ صَاحب الزَّمَان يخرج وَيقتل الدَّجَّال وَيهْدِي النَّاس من الضَّلَالَة وَيصْلح الأَرْض بعد فَسَادهَا
وَهَؤُلَاء الْفرق كلهم يَقُولُونَ بالبداء إِن الله تبدو لَهُ البداوات وكلاما لَا استجيز شَرحه فِي كتاب وَلَا أقدم النُّطْق بِهِ وَهَؤُلَاء كلهم أحزاب الْكفْر وَفرق الْجَهْل فَمَتَى لم يقرُّوا بِمَوْت مُحَمَّد وَعلي عليهما السلام فالضرورة إِلَى المكابرة وأينما كَانُوا لَا حجَّة لَهُم وَأما قَوْلهم إِن عليا هُوَ الْإِلَه الْقَدِيم فقد ضاهوا بذلك قَول النَّصَارَى وَقد تقدم بِالرَّدِّ على النسطورية من النَّصَارَى أَن ذَا جسم وَكَيْفِيَّة لَا يكون إِلَهًا فَكَذَلِك قَوْلهم فِي الرّجْعَة أكذبهم فِيهِ قَول الله تبارك وتعالى {وَمن ورائهم برزخ إِلَى يَوْم يبعثون} يخبر أَن أهل الْقُبُور لَا يبعثون إِلَى يَوْم النشور فَمن خَالف لحكم الْقُرْآن فقد كفر
وَقَوْلهمْ عَليّ فِي السَّحَاب فَإِنَّمَا ذَلِك قَول النَّبِي صلى الله عليه وسلم لعَلي أقبل وَهُوَ معتم بعمامة النَّبِي صلى الله عليه وسلم كَانَت تدعى السَّحَاب فَقَالَ صلى الله عليه وسلم قد أقبل عَليّ فِي السَّحَاب يَعْنِي فِي تِلْكَ الْعِمَامَة الَّتِي تسمى السَّحَاب
তিনি কিয়ামতের পূর্বে পুনরুত্থিত হবেন এবং তাঁর সাথে কবরবাসীরাও পুনরুত্থিত হবে যাতে তিনি দাজ্জালের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন এবং বান্দাদের মধ্যে ও জনপদে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করেন। তারা এ কথা বলে না যে আলি-ই আল্লাহ, বরং তারা পুনরাবর্তনের (রাজআহ) আকিদায় বিশ্বাস করে।
সাবাঈয়্যাহর চতুর্থ উপদল মুহাম্মদ ইবনে আলির ইমামতের প্রবক্তা। তারা বলে যে, তিনি রাদওয়া পাহাড়ে অবস্থান করছেন এবং এখনও মৃত্যুবরণ করেননি। তিনি যে গুহায় আছেন, তার প্রবেশদ্বারে একটি ড্রাগন ও একটি সিংহ তাঁকে পাহারা দিচ্ছে। তিনিই ‘সাহিবুয যামান’ (যুগের অধিপতি), যিনি আত্মপ্রকাশ করবেন, দাজ্জালকে হত্যা করবেন, মানুষকে গোমরাহি থেকে হিদায়াতের পথে আনবেন এবং বিপর্যয়গ্রস্ত পৃথিবীকে সংশোধন করবেন।
এই দলগুলোর সবাই ‘বাদা’ (আল্লাহর জন্য নতুন কোনো বিষয় প্রকাশ হওয়া) আকিদায় বিশ্বাস করে; অর্থাৎ তারা বলে যে আল্লাহর জন্য নতুন নতুন বিষয় প্রকাশ পায়। তারা এমন সব কথা বলে যা কোনো কিতাবে ব্যাখ্যা করা আমি বৈধ মনে করি না এবং তা মুখে উচ্চারণ করতেও আমি প্রস্তুত নই। এরা সবাই কুফরি ও মূর্খতার দল। যখন তারা মুহাম্মদ ও আলি (তাঁদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক)-এর মৃত্যুকেই স্বীকার করে না, তখন এটি কেবল সত্য অস্বীকার করার একগুঁয়েমি। তারা যেখানেই থাকুক না কেন, তাদের কোনো দলিল নেই। আর তাদের এই দাবি যে আলি-ই হলো অনাদি ইলাহ (উপাস্য), এর মাধ্যমে তারা খ্রিস্টানদের কথার সাদৃশ্য গ্রহণ করেছে। ইতিপূর্বে খ্রিস্টানদের নাস্তুরিয়াহ উপদলের প্রতিবাদে বলা হয়েছে যে, দেহ ও আকৃতি বিশিষ্ট সত্তা কখনও ইলাহ হতে পারে না। একইভাবে তাদের পুনরাবর্তনের দাবিকেও আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার এই বাণী মিথ্যা প্রতিপন্ন করে— “তাদের সামনে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত একটি পর্দা (বারযাখ) থাকবে।” এই আয়াত সংবাদ দিচ্ছে যে, কবরবাসীরা পুনরুত্থান দিবস ব্যতীত পুনরুত্থিত হবে না। সুতরাং যে ব্যক্তি কুরআনের বিধানের বিরোধিতা করল, সে কুফরি করল।
আর তাদের এই উক্তি যে ‘আলি মেঘের মধ্যে আছেন’, এর কারণ হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলিকে উদ্দেশ্য করে এই কথা বলেছিলেন যখন তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এমন একটি পাগড়ি পরে আসছিলেন যেটির নাম ছিল ‘আস-সাহাব’ (মেঘ)। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন, “আলি মেঘের মধ্যে (অর্থাৎ মেঘ নামক পাগড়ি পরিহিত অবস্থায়) আসছে।” অর্থাৎ তিনি সেই পাগড়িটিকেই বুঝিয়েছিলেন যার নাম ছিল ‘সাহাব’।
(খণ্ড: ১)
আত-তানবীহু ওয়ার রাদ্দু আলা আহলিল আহওয়া-ই ওয়াল বিদা
(পৃষ্ঠা: ২০)
فتأولوه هَؤُلَاءِ على غير تَأْوِيله
الْفرْقَة الْخَامِسَة هم القرامطة والديلم وهم يَقُولُونَ إِن الله نور علوى لَا تشبهه الْأَنْوَار وَلَا يمازجه الظلام وَإنَّهُ تولد من النُّور العلوى النُّور الشعشاني فَكَانَ مِنْهُ الْأَنْبِيَاء وَالْأَئِمَّة فهم بِخِلَاف طبائع النَّاس وهم يعلمُونَ الْغَيْب ويقدرون على كل شَيْء وَلَا يعجزهم شَيْء ويقهرون وَلَا يقهرون ويعلمون وَلَا يعلمُونَ وَلَهُم عَلَامَات معجزات وأمارات ومقدمات قبل مجيئهم وظهورهم وَبعد ظُهُورهمْ يعْرفُونَ بهَا وهم مباينون لسَائِر النَّاس فِي صورهم وأطباعهم وأخلاقهم وأعمالهم وَزَعَمُوا أَنه تولد من النُّور الشعشعاني نور ظلامي وَهُوَ النُّور الَّذِي ترَاهُ فِي الشَّمْس وَالْقَمَر وَالْكَوَاكِب وَالنَّار والجواهر الَّذِي يخالطه الظلام وَتجوز عَلَيْهِ الْآفَات وَالنُّقْصَان وَتحل عَلَيْهِ الآلام والأوصاب وَيجوز عَلَيْهِ السَّهْو والغفلات وَالنِّسْيَان والسيئات والشهوات والمنكرات غير أَن الْخلق كُله تولد من الْقَدِيم البارىء وَهُوَ النُّور العلوى الَّذِي لم يزل وَلَا يزَال وَلَا يَزُول سبق الْحَوَادِث وأبدع الْخلق من غير شَيْء كَانَ قبله قدره نَافِذ وَعلمه سَابق وَإنَّهُ حَيّ لَا بحياة وقادر لَا بقدرة وَسميع بَصِير لَا يسمع وَلَا يبصر ومدبر لَا بجوارح وَلَا آلَة فيصفون الْإِلَه جلّ وَعز كَمَا يصفه الموحدون مَعَ قَوْلهم إِنَّه نور لَا يشبه الْأَنْوَار ثمَّ يَزْعمُونَ أَن الصَّلَاة وَالزَّكَاة وَالصِّيَام وَالْحج وَسَائِر الْفَرَائِض نَافِلَة لَا فرض وَإِنَّمَا هُوَ شكر للمنعم وَأَن الرب لَا يحْتَاج إِلَى عبَادَة خلقه وَإِنَّمَا ذَلِك شكرهم فَمن شَاءَ فعل وَمن شَاءَ لم يفعل وَالِاخْتِيَار فِي ذَلِك إِلَيْهِم وَزَعَمُوا أَنه لَا جنَّة وَلَا نَار وَلَا بعث وَلَا نشور أَن من مَاتَ بلَى جسده وَلحق روحه بِالنورِ الَّذِي تولد مِنْهُ حَتَّى يرجع كَمَا كَانَ
তারা এটিকে এর সঠিক ব্যাখ্যা ব্যতীত অন্যভাবে ব্যাখ্যা করেছে।
পঞ্চম দলটি হলো কারামিতা এবং দাইলাম। তারা বলে যে, আল্লাহ এক ঊর্ধ্বজগতীয় নূর, যার সদৃশ অন্য কোনো নূর নেই এবং যার সাথে কোনো অন্ধকার মিশ্রিত হয় না। এবং সেই ঊর্ধ্বজগতীয় নূর থেকে 'শা'শানি নূর' (উজ্জ্বল জ্যোতি) জন্ম নিয়েছে; সেই নূর থেকেই নবীগণ ও ইমামগণ এসেছেন। ফলে তারা মানুষের সাধারণ প্রকৃতির বিপরীত। তারা অদৃশ্যের জ্ঞান রাখেন এবং সবকিছুর ওপর ক্ষমতা রাখেন। কোনো কিছুই তাদেরকে অক্ষম করতে পারে না। তারা পরাভূত করেন কিন্তু পরাভূত হন না; তারা জানেন অথচ কেউ তাদের অগোচরে কিছু রাখতে পারে না। তাদের আগমনের পূর্বে এবং প্রকাশের আগে ও পরে বিভিন্ন অলৌকিক নিদর্শন, চিহ্ন ও পূর্বাভাস রয়েছে যার মাধ্যমে তাদের চেনা যায়। তারা আকৃতি, স্বভাব, চরিত্র ও কর্মের দিক থেকে অন্য সাধারণ মানুষের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। তারা দাবি করে যে, সেই শা'শানি নূর থেকে এক অন্ধকারাচ্ছন্ন নূর জন্ম নিয়েছে; এটি সেই নূর যা সূর্য, চন্দ্র, নক্ষত্ররাজি, আগুন ও মণি-মুক্তার মাঝে দেখা যায়, যার সাথে অন্ধকার মিশ্রিত থাকে এবং যাতে আপদ ও ত্রুটি প্রবেশ করা সম্ভব। এতে ব্যথা-বেদনা ও রোগ-ব্যাধি আপতিত হয় এবং এতে ভুল-ভ্রান্তি, গাফিলতি, বিস্মৃতি, মন্দ কাজ, কুপ্রবৃত্তি ও অপছন্দীয় বিষয়সমূহ ঘটা সম্ভব। তবে সমস্ত সৃষ্টি সেই অনাদি স্রষ্টা থেকে জন্ম নিয়েছে, আর তিনি হলেন সেই ঊর্ধ্বজগতীয় নূর—যিনি চিরকাল ছিলেন এবং চিরকাল থাকবেন। তিনি নশ্বর ঘটনাবলির পূর্ববর্তী এবং তাঁর পূর্বে কিছু না থাকা সত্ত্বেও তিনি শূন্য থেকে সৃষ্টিজগত উদ্ভাবন করেছেন। তাঁর নির্দেশ কার্যকর এবং তাঁর জ্ঞান অনাদি। তিনি চিরঞ্জীব কিন্তু কোনো জীবনের (হায়াত) মাধ্যমে নয়, তিনি ক্ষমতাশালী কিন্তু কোনো ক্ষমতার (কুদরত) মাধ্যমে নয় এবং তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা কিন্তু শোনেন না ও দেখেন না। তিনি কোনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও যন্ত্র ছাড়াই সকল বিষয়ের পরিচালক। তারা মহান আল্লাহর বর্ণনা সেভাবেই দেয় যেভাবে একত্ববাদীরা দিয়ে থাকেন, যদিও তাদের দাবি হলো যে তিনি এমন এক নূর যার সদৃশ কোনো নূর নেই। অতঃপর তারা দাবি করে যে নামাজ, জাকাত, রোজা, হজ ও অন্যান্য সমস্ত ফরজ বিধানসমূহ নফল মাত্র, ফরজ নয়। বরং এগুলো কেবল নিয়ামতদাতার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন। আর রব তাঁর সৃষ্টির ইবাদতের মুখাপেক্ষী নন, বরং এগুলো কেবল তাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ। সুতরাং যার ইচ্ছা সে পালন করবে এবং যার ইচ্ছা সে পালন করবে না; এ বিষয়ে ইখতিয়ার বা স্বাধীনতা তাদের ওপর ন্যস্ত। তারা আরও দাবি করে যে জান্নাত, জাহান্নাম, পুনরুত্থান ও হাশর বলতে কিছু নেই। যে মারা যায় তার দেহ বিলীন হয়ে যায় এবং তার আত্মা সেই নূরের সাথে মিলিত হয় যা থেকে এটি উৎপন্ন হয়েছিল, যতক্ষণ না তা পূর্বাবস্থায় ফিরে যায়।
(খণ্ড: ১)
আত-তানবীহু ওয়ার রাদ্দু আলা আহলিল আহওয়া-ই ওয়াল বিদা
(পৃষ্ঠা: ২১)
وَقوم مِنْهُم يَقُولُونَ بتناسخ الرّوح ونذكره إِذا أَتَيْنَا عَلَيْهِم وَزَعَمُوا أَن كل مَا ذكر الله عز وجل فِي كِتَابه من جنَّة ونار وحساب وميزان وَعَذَاب ونعيم فَإِنَّمَا هُوَ فِي الْحَيَاة الدُّنْيَا فَقَط من الْأَبدَان الصَّحِيحَة والألوان الْحَسَنَة والطعوم اللذيذة والروائح الطّيبَة والأشياء المبهجة الَّتِي تنعم فِيهَا النُّفُوس
وَالْعَذَاب هُوَ الْأَمْرَاض والفقر والآلام والأوصاب وَمَا تتأذى بِهِ النُّفُوس وَهَذَا عِنْدهم الثَّوَاب وَالْعِقَاب على الْأَعْمَال وَهُوَ يَقُولُونَ بالناسوت فِي اللاهوت على قَول النَّصَارَى سَوَاء يَزْعمُونَ أَن الْإِنْسَان هُوَ الرّوح فَقَط وَأَن الْبدن هُوَ مثل الثَّوْب الَّذِي هُوَ لابسه فَقَط ويزعمون أَن كل مَا يخرج من جَوف وَاحِد مِنْهُم من مخاط ونخاع ورجيع وَبَوْل ونطفة ومذى وَدم وقيح وصديد وعرق فَهُوَ طَاهِر نظيف حَتَّى رُبمَا أَخذ بَعضهم من رجيع بعض فَأَكله لعلمه أَنه طَاهِر نظيف
وَزَعَمُوا أَن من قَالَ بِهَذَا قَول واعتقد هَذَا الْمَذْهَب فَهُوَ مُؤمن وَنِسَاؤُهُمْ مؤمنات محقنو الدِّمَاء محقنو الْأَمْوَال وَمن خالفهم فِي قَوْلهم واعتقادهم فَهُوَ كَافِر مُشْرك حَلَال الدَّم وَالْمَال والسبى وَيُسمى بَعضهم بَعْضًا الْمُؤمنِينَ وَالْمُؤْمِنَات وَزَعَمُوا أَن نسَاء بَعضهم حَلَال لبَعض وَكَذَلِكَ أَوْلَادهم وأبدانهم مُبَاحَة من بَعضهم لبَعض لَا تحظير بَينهم وَلَا منع فَهَذَا عِنْدهم مَحْض الْإِيمَان حَتَّى لَو طلب رجل مِنْهُم من امْرَأَة نَفسهَا أَو من رجل أَو من غُلَام فَامْتنعَ عَلَيْهِ فَهُوَ كَافِر عِنْدهم خَارج من شريعتهم وَإِذا أمكن من نَفسه فَهُوَ مُؤمن مواس
তাদের মধ্যে একদল আত্মার পুনর্জন্মে বিশ্বাস করে এবং আমরা তাদের আলোচনায় পৌঁছালে তা উল্লেখ করব। তারা দাবি করে যে, আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাঁর কিতাবে জান্নাত, জাহান্নাম, হিসাব, মিযান (দাঁড়িপাল্লা), শাস্তি ও নেয়ামত সম্পর্কে যা কিছু উল্লেখ করেছেন, তা সবই কেবল পার্থিব জীবনের সুস্থ শরীর, সুন্দর বর্ণ, সুস্বাদু খাদ্য, সুগন্ধি এবং আনন্দদায়ক বস্তুসমূহ যার মাধ্যমে আত্মা সুখ লাভ করে।
আর শাস্তি হলো রোগব্যাধি, দারিদ্র্য, যাতনা, দীর্ঘস্থায়ী পীড়া এবং এমন সব বিষয় যা আত্মাকে কষ্ট দেয়। তাদের নিকট কর্মের প্রতিদান ও শাস্তি হলো এটাই। তারা খ্রিস্টানদের মতবাদের মতোই লাহুত (ঐশ্বরিক সত্তা) এর মধ্যে নাসুত (মানবীয় সত্তা) প্রবেশের কথা বলে। তারা দাবি করে যে, মানুষ কেবল আত্মাই; আর শরীর হলো কেবল পরিহিত পোশাকের মতো। তারা আরও দাবি করে যে, তাদের শরীরের ভেতর থেকে যা কিছু নির্গত হয়—যেমন শ্লেষ্মা, মজ্জা, মল, মূত্র, বীর্য, মজি, রক্ত, পুঁজ, ক্ষত নিঃসৃত রস ও ঘাম—তা সবই পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন। এমনকি তারা কখনো একে অপরের মল গ্রহণ করে ভক্ষণ করে, এই বিশ্বাসে যে তা পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন।
তারা দাবি করে যে, যে ব্যক্তি এই কথা বলবে এবং এই মতাদর্শে বিশ্বাস করবে, সে মুমিন এবং তাদের নারীরা মুমিনা—যাদের রক্ত ও সম্পদ সুরক্ষিত। আর যারা তাদের কথা ও বিশ্বাসের বিরোধিতা করবে, তারা কাফির ও মুশরিক—যাদের রক্ত, সম্পদ ও বন্দি করা হালাল। তারা একে অপরকে মুমিন ও মুমিনা বলে সম্বোধন করে। তারা আরও দাবি করে যে, তাদের একজনের স্ত্রী অন্যের জন্য হালাল, তেমনিভাবে তাদের সন্তান ও দেহ একে অপরের জন্য উন্মুক্ত; তাদের মধ্যে কোনো বাধা বা বারণ নেই। তাদের নিকট এটাই হলো খাঁটি ঈমান। এমনকি তাদের কোনো পুরুষ যদি কোনো নারী, পুরুষ বা বালকের কাছে নিজেকে নিবেদন করতে চায় এবং সে যদি তা প্রত্যাখ্যান করে, তবে সে তাদের নিকট কাফির এবং তাদের শরীয়ত থেকে বিচ্যুত। আর যদি সে নিজেকে বিলিয়ে দেয়, তবে সে সহমর্মী মুমিন।
(খণ্ড: ১)
আত-তানবীহু ওয়ার রাদ্দু আলা আহলিল আহওয়া-ই ওয়াল বিদা
(পৃষ্ঠা: ২২)
فَاضل وَالْمَفْعُول بِهِ من الرِّجَال وَالنِّسَاء أفضل عِنْدهم من الْفَاعِل حَتَّى يقوم الْوَاحِد مِنْهُم من فَوق الْمَرْأَة الَّتِي لَهَا زوج وَلَيْسَت بِمحرم فَيَقُول لَهَا طوباك يَا مُؤمنَة وَهَكَذَا يَقُولُونَ للرجل والغلام إِذا أمكن من نَفسه وَكَذَلِكَ أَمْوَالهم وأملاكهم لَا يحظرونها من بعض على بعض مُبَاحَة بَينهم وهم فِي الْحَرْب لَا يدبرون حَتَّى يقتلُوا وَيَقُولُونَ حَيَاة بعد الْقَتْل وَالْمَوْت إِنَّا نخلص أَرْوَاحنَا من قذر الْأَبدَان وشهواتها ونلحق بِالنورِ وهم يرَوْنَ قتل من خالفهم لَا يتحاشون من قتل النَّاس وَلَيْسَ عِنْدهم فِي ذَلِك شَيْء يكرهونه
فَأَما شرب الْخُمُور وَالْمُنكر والملاهي وَسَائِر مَا يَفْعَله العصاة فَهُوَ عِنْدهم شهوات إِن شَاءَ فعلهَا وَإِن شَاءَ تَركهَا وَلَا يرَوْنَ فِيهَا وعيدا وَلَا فِي تَركهَا ثَوابًا وَهَؤُلَاء قوم سبيلهم سَبِيل المانية سَوَاء وَالرَّدّ عَلَيْهِم فِي النُّور كالرد على المانية وهم ظاهرو الْجَهْل والعماء
والفرقة السَّادِسَة هم اصحاب التناسخ وهم فرقة من هَؤُلَاءِ الحلولية يَقُولُونَ إِن الله عز وجل نور على الْأَبدَان والأماكن زَعَمُوا أَن أَرْوَاحهم مُتَوَلّدَة من الله الْقَدِيم وَأَن الْبدن لِبَاس لَا روح فِيهِ وَلَا ألم عَلَيْهِ وَلَا لَذَّة لَهُ وَأَن الْإِنْسَان إِذا فعل الْخَيْر وَمَات صَار روحه إِلَى حَيَوَان ناعم مثل فرس وطير وثور مُودع يتنعم فِيهِ ثمَّ يرجع إِلَى بدن الْإِنْسَان بعد مُدَّة وَإِذا كَانَ نفسا خبيثة شريرة وَمَات صَار روحه فِي بدن حمَار دبر أَو كلب جرب يعذب فِيهِ بِمِقْدَار أَيَّام عصيانه ثمَّ يرد إِلَى بدن الْإِنْسَان لم تزل الدُّنْيَا هَكَذَا وَلَا تزَال تكون هَكَذَا
وَهَذَا مَذْهَب الخرمية سَوَاء وَسَنذكر الْحجَّة على الْجَمِيع فِي موضعهَا إِن شَاءَ الله
وَأما الْفرْقَة السَّابِعَة من الحلولية فهم الَّذين يَقُولُونَ إِن الله تبارك وتعالى بعث
পুরুষ ও নারীদের মধ্যে যাদের সাথে কর্মটি করা হয়, তারা তাদের নিকট কর্তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ। এমনকি তাদের কেউ যখন কোনো বিবাহিতা নারীর উপর থেকে উঠে যে তার মাহরাম নয়, তখন সে তাকে বলে: 'হে মুমিন নারী, তোমার জন্য সুসংবাদ'। একইভাবে তারা পুরুষ ও বালকদের ক্ষেত্রেও বলে যখন তারা নিজেদের বিলিয়ে দেয়। অনুরূপভাবে তাদের ধন-সম্পদ ও বিষয়-সম্পত্তি তারা একে অপরের থেকে নিষিদ্ধ করে না, বরং তা তাদের মধ্যে অবাধ। তারা যুদ্ধে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে না যতক্ষণ না নিহত হয়। তারা হত্যা ও মৃত্যুর পর জীবন সম্পর্কে বলে: 'আমরা আমাদের আত্মাকে দেহের অপবিত্রতা ও কামলিপ্সা থেকে মুক্ত করি এবং নূরের সাথে মিলিত হই'। তারা তাদের বিরোধীদের হত্যা করা বৈধ মনে করে, মানুষ হত্যায় তারা কুণ্ঠাবোধ করে না এবং এতে তাদের নিকট অপছন্দনীয় কিছুই নেই।
আর মদ্যপান, অপকর্ম, খেল-তামাশা এবং পাপাচারীরা যা করে, তা তাদের নিকট নফসের চাহিদা মাত্র; চাইলে কেউ তা করবে, আর চাইলে ছেড়ে দিবে। তারা এতে কোনো শাস্তির পরোয়া করে না এবং তা ত্যাগে কোনো সওয়াবও দেখে না। এই কওমের পথ আর মানি (মানুবিয়া) সম্প্রদায়ের পথ হুবহু এক। নূরের ব্যাপারে তাদের খণ্ডন মানি সম্প্রদায়ের খণ্ডনের মতোই। তারা স্পষ্ট মূর্খতা ও অন্ধত্বের মধ্যে রয়েছে।
ষষ্ঠ দলটি হলো জন্মান্তরবাদী (আসহাবুত তানাসুখ)। তারা এই হুলুলিয়াদেরই একটি দল। তারা বলে যে, আল্লাহ তায়ালা দেহ ও স্থানসমূহের উপর এক নূর। তারা দাবি করে যে, তাদের আত্মা অনাদি আল্লাহ থেকে উদ্ভূত এবং দেহ হলো একটি পোশাক মাত্র যাতে কোনো প্রাণ নেই, এর কোনো বেদনা নেই এবং কোনো স্বাদও নেই। মানুষ যখন ভালো কাজ করে মারা যায়, তখন তার আত্মা কোনো আরামদায়ক প্রাণীর দেহে স্থানান্তরিত হয়, যেমন ঘোড়া, পাখি কিংবা হৃষ্টপুষ্ট ষাঁড়, যেখানে সে সুখ ভোগ করে। এরপর নির্দিষ্ট সময় পর পুনরায় মানুষের দেহে ফিরে আসে। আর যদি আত্মাটি খবিস ও দুরাচার হয় এবং মারা যায়, তবে তার আত্মা কোনো ক্ষতবিক্ষত পিঠের গাধা কিংবা চর্মরোগী কুকুরের দেহে চলে যায় এবং সেখানে তার নাফরমানির দিনগুলোর সমপরিমাণ শাস্তি ভোগ করে। এরপর পুনরায় মানুষের দেহে ফিরে আসে। পৃথিবী এভাবেই ছিল এবং এভাবেই চলতে থাকবে।
এটি হুবহু খুররামিয়াদের মতবাদ। আমরা ইনশাআল্লাহ যথাস্থানে সবার বিরুদ্ধে দলিল-প্রমাণ উল্লেখ করব।
আর হুলুলিয়াদের সপ্তম দলটি হলো তারা, যারা বলে যে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা প্রেরণ করেছেন
(খণ্ড: ১)
আত-তানবীহু ওয়ার রাদ্দু আলা আহলিল আহওয়া-ই ওয়াল বিদা
(পৃষ্ঠা: ২৩)
جِبْرِيل إِلَى عَليّ فغلط جِبْرِيل وَصَارَ إِلَى مُحَمَّد عليه السلام فاستحيا الرب وَترك النُّبُوَّة فِي مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم وَجعل عليا وزيره والخليفة بعده
والفرقة الثَّامِنَة من الحلولية زَعَمُوا أَن عليا ومحمدا عليهما السلام شريكان فِي النُّبُوَّة وَأَن الرسَالَة إِلَيْهِمَا وَأَن طاعتهما ومعصيتهما وَاحِد لَا فرق بَينهمَا وَأَن عليا نَبِي بعد مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم وَاحْتَجُّوا بقول النَّبِي عليه السلام أَنْت منى بِمَنْزِلَة هَارُون من مُوسَى وَهَؤُلَاء جهال وَقد خالفوا الْأمة وَالْكتاب وَالسّنة وَالْعقل وَالْحجّة عَلَيْهِم آخر كتَابنَا هَذَا فِي بَاب الْحجَّاج
والفرقة التَّاسِعَة هم المختارية الَّذين يَقُولُونَ بنبوة الْمُخْتَار بن أبي عبيد وينحون نَحْو التناسخية من الحلولية
والفرقة الْعَاشِرَة هم السمعانية الَّذين يَقُولُونَ بنبوة ابْن سمْعَان وينحون نَحْو التناسخ أَيْضا وَقد ذكرت مذاهبهم أَولا وآخرا لتعرفوا ذَلِك وتحذروا إِن شَاءَ الله
الْفرْقَة الْحَادِيَة عشرَة هم الجارودية وهم بَين الغالية والتناسخية لَا يفصحون بالغلو وَيَقُولُونَ إِن الله عز وجل نور وأرواح الْأَئِمَّة والأنبياء مِنْهُ مُتَوَلّدَة وينحون نَحْو التناسخ وَلَا يَقُولُونَ بانتقال الرّوح من جَسَد إِنْسَان إِلَى جَسَد غير إِنْسَان بل يَقُولُونَ بانتقال الرّوح من جَسَد إِنْسَان ردىء إِلَى جَسَد إِنْسَان مؤلم ممرض فتعذب فِيهِ مُدَّة بِمَا عمل من الشَّرّ وَالْفساد ثمَّ تنقل إِلَى جَسَد إِنْسَان متنعم فتتنعم فِيهِ طول مَا بقيت فِي الْجَسَد الأول
وَزَعَمُوا أَن هَذَا يُسمى الكور فَيكون معذبا أَو مُقَيّدا فِي جَسَد هرم أَو ممرض أَو مسقم أَو يكون منعما فِي جَسَد شَاب حسن متلذذ وَاحْتَجُّوا فِي ذَلِك بقول الله {أفعيينا بالخلق الأول بل هم فِي لبس من خلق جَدِيد}
জিবরাঈল আলাইহিস সালাম আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর নিকট প্রেরিত হয়েছিলেন, কিন্তু জিবরাঈল ভুলবশত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট চলে যান। ফলে রব লজ্জিত হলেন এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মধ্যেই নবুওয়াত বহাল রাখলেন এবং আলীকে তাঁর উজির ও তাঁর পরবর্তী খলিফা নিযুক্ত করলেন।
হুলুলিয়্যাহদের অষ্টম দলটি দাবি করে যে, আলী ও মুহাম্মাদ আলাইহিমাস সালাম নবুওয়াতের ক্ষেত্রে অংশীদার এবং রিসালাত তাঁদের উভয়ের প্রতিই ছিল। তাঁদের উভয়ের আনুগত্য ও অবাধ্যতা একই বিষয়, তাঁদের মাঝে কোনো পার্থক্য নেই। তারা আরও দাবি করে যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পরে আলী নবী। তারা নবী আলাইহিস সালামের এই বাণীর মাধ্যমে দলিল পেশ করে যে: "মুসার নিকট হারুনের যে মর্যাদা ছিল, আমার নিকট তোমার মর্যাদা ঠিক সেরূপ।" এরা মূর্খ এবং তারা উম্মত, কিতাব, সুন্নাহ ও আকলের বিরোধিতা করেছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ আমাদের এই কিতাবের শেষে বিতর্ক অধ্যায়ে প্রদান করা হবে।
নবম দলটি হলো মুখতারিয়্যাহ, যারা মুখতার বিন আবি উবাইদের নবুওয়াতের কথা বলে এবং তারা হুলুলিয়্যাহদের মধ্য থেকে জন্মান্তরবাদীদের পথ অনুসরণ করে।
দশম দলটি হলো সামআনিয়্যাহ, যারা ইবনে সামআনের নবুওয়াতের কথা বলে এবং তারাও জন্মান্তরবাদের পথ অনুসরণ করে। আমি তাদের মতবাদসমূহ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত উল্লেখ করেছি যাতে আপনারা তা জানতে পারেন এবং সতর্ক থাকতে পারেন, ইনশাআল্লাহ।
একাদশ দলটি হলো জারুদিয়্যাহ। তারা চরমপন্থী (গালিয়া) ও জন্মান্তরবাদীদের (তানাসুখিয়া) মধ্যবর্তী এক স্তর। তারা চরমপন্থা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে না। তারা বলে যে, আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা হলেন নূর এবং ইমাম ও নবীদের আত্মা তাঁর থেকেই উৎপন্ন। তারা জন্মান্তরবাদের দিকে ঝুঁকে থাকে, তবে তারা মানুষের আত্মা মানুষের দেহ থেকে অন্য প্রাণীর দেহে স্থানান্তরের কথা বলে না। বরং তারা বলে, আত্মা কোনো মন্দ মানুষের দেহ থেকে কোনো যন্ত্রণাদায়ক ও রুগ্ন মানুষের দেহে স্থানান্তরিত হয় এবং তাতে কৃত মন্দ কাজ ও পাপাচারের কারণে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত শাস্তি ভোগ করে। অতঃপর তা কোনো সুখী ও সম্পদশালী মানুষের দেহে স্থানান্তরিত হয় এবং তাতে সে পর্যন্ত সুখ ভোগ করে যতক্ষণ সে পূর্বের দেহে (শাস্তি) ছিল।
তারা দাবি করে যে, একে 'কাওর' বলা হয়। ফলে সে কোনো জরাগ্রস্ত, রুগ্ন বা ব্যাধিগ্রস্ত দেহে শাস্তিপ্রাপ্ত অথবা আবদ্ধ থাকে, অথবা কোনো সুন্দর ও আনন্দপ্রিয় যুবকের দেহে নেয়ামতপ্রাপ্ত হয়। এ বিষয়ে তারা আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে দলিল পেশ করে: "আমি কি প্রথমবার সৃষ্টি করেই ক্লান্ত হয়ে পড়েছি? বরং তারা নতুন সৃষ্টির বিষয়ে সন্দেহে রয়েছে।"
(খণ্ড: ১)
আত-তানবীহু ওয়ার রাদ্দু আলা আহলিল আহওয়া-ই ওয়াল বিদা
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وَهَؤُلَاء قد غلطوا فِي تَأْوِيل هَذِه الْآيَة وَإِنَّمَا تَأْوِيلهَا أَن قُريْشًا ومشركي الْعَرَب كَانُوا يَشكونَ فِي النشأة الْآخِرَة ويوقنون بالنشأة الأولى وَلَا يجيزون قدرَة الله عز وجل على إحْيَاء الْمَوْتَى فَقَالَ الله عز وجل يحْتَج عَلَيْهِم بالنشأة الأولى قَوْله {أفعيينا} أَي عجزنا {بالخلق الأول} يَعْنِي أَن ابتدعته من غير شَيْء وهم لَا يَشكونَ فِيهِ {بل هم فِي لبس} أَي شكّ {من خلق جَدِيد} أَي ابتداع الشَّيْء أقرب فِي الْوَهم من إِعَادَته وَهَؤُلَاء تأولوه على الأكوار
وَاعْلَم أَن هَؤُلَاءِ الْفرق من الإمامية الَّذين ذَكَرْنَاهُمْ ونذكرهم أَيْضا كفار غَالِيَة قد خَرجُوا من التَّوْحِيد وَالْإِسْلَام وسأذكر الْحجَّة عَلَيْهِم فِي الْحجَّاج على أَصْنَاف الْمُلْحِدِينَ
الْفرْقَة الثَّانِيَة عشرَة من الإمامية هم أَصْحَاب هِشَام بن الحكم يعْرفُونَ بالهشامية وهم الرافضة الَّذين روى فيهم الْخَبَر عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَنهم يرفضون الدّين وهم مشتهرون بحب عَليّ رضي الله عنه فِيمَا يَزْعمُونَ وَكذب أَعدَاء الله وأعداء رَسُوله وَأَصْحَابه وَإِنَّمَا يحب عليا من يحب غَيره وهم أَيْضا ملحدون لِأَن هشاما كَانَ ملحدا دهريا ثمَّ انْتقل إِلَى الثنوية والمانية ثمَّ غَلبه الْإِسْلَام فَدخل فِي الْإِسْلَام كَارِهًا فَكَانَ قَوْله فِي الْإِسْلَام بالتشبيه والرفض وسأذكر الرَّد على المشبهة إِن شَاءَ الله
وَأما قَوْله بالامامة فَلم نعلم أَن أحدا نسب إِلَى على رضى الله عَنهُ وَولده عَيْبا مثل هِشَام لَعنه الله وَالله نحمده قد نزع عَن على وَولده عليهم السلام الْعُيُوب والأرجاس وطهرهم تَطْهِيرا
وَمَا قصد هِشَام بقوله فِي الْإِمَامَة قصد التَّشَيُّع وَلَا محبَّة أهل الْبَيْت وَلَكِن طلب بذلك هد أَرْكَان الْإِسْلَام والتوحيد والنبوة فَأَرَادَ هَدمه وَانْتَحَلَ فِي
এবং এরা এই আয়াতের ব্যাখ্যায় ভুল করেছে। এর প্রকৃত ব্যাখ্যা হলো, কুরাইশ এবং আরবের মুশরিকরা পরকালীন পুনরুত্থান সম্পর্কে সন্দিহান ছিল এবং প্রথম সৃষ্টির বিষয়ে নিশ্চিত ছিল। তারা মৃতদের পুনর্জীবিত করার বিষয়ে মহান আল্লাহর সক্ষমতাকে স্বীকার করত না। তাই মহান আল্লাহ প্রথম সৃষ্টির মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ পেশ করে ইরশাদ করেছেন: {তবে কি আমি ক্লান্ত হয়ে পড়েছি} অর্থাৎ আমি কি অক্ষম হয়েছি {প্রথম সৃষ্টিতে?} অর্থাৎ আমি তা কোনো কিছু ছাড়াই অনস্তিত্ব থেকে অস্তিত্বে এনেছি, আর এ বিষয়ে তারা সন্দিহান নয়। {বরং তারা বিভ্রান্তিতে রয়েছে} অর্থাৎ সন্দেহে রয়েছে {নতুন সৃষ্টি সম্পর্কে}। অর্থাৎ কোনো বস্তুর সূচনা করা মানুষের ধারণায় তাকে পুনরায় ফিরিয়ে আনার চেয়েও অধিক সহজ বিষয়। আর এই লোকেরা একে ‘আকওয়ার’ বা সৃষ্টির চক্র হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে।
জেনে রাখুন যে, ইমামিয়াদের মধ্য থেকে যে দলগুলোর কথা আমরা উল্লেখ করেছি এবং আরও উল্লেখ করব, তারা চরমপন্থী কাফের। তারা তাওহীদ ও ইসলাম থেকে বের হয়ে গেছে। আমি অচিরেই নাস্তিকদের বিভিন্ন প্রকারের সাথে বিতর্কের অধ্যায়ে তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণাদি উল্লেখ করব।
ইমামিয়াদের দ্বাদশ দলটি হলো হিশাম ইবনে হাকামের অনুসারী, যারা ‘হিশামিয়া’ নামে পরিচিত। তারাই হলো সেই রাফেযী দল, যাদের সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা পাওয়া যায় যে, তারা দ্বীনকে প্রত্যাখ্যান করবে। তারা আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর ভালোবাসার জন্য প্রসিদ্ধ—যেমনটি তারা দাবি করে থাকে। আল্লাহর শত্রু এবং তাঁর রাসূল ও সাহাবীগণের শত্রুরা মিথ্যা বলেছে। আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুকে কেবল তারাই ভালোবাসে যারা তাঁর বাইরে অন্যদেরও (অন্যান্য সাহাবীগণকে) ভালোবাসে। তারাও নাস্তিক, কারণ হিশাম ছিল একজন দাহরি বা কালবাদী নাস্তিক। এরপর সে দ্বিবাদ ও মানিবাদে স্থানান্তরিত হয়। এরপর ইসলাম তার ওপর প্রবল হয় এবং সে অনিচ্ছাসত্ত্বেও ইসলামে প্রবেশ করে। তাই ইসলামে তার অবস্থান ছিল আল্লাহর সাথে সৃষ্টির সাদৃশ্য প্রদান (তাশবীহ) এবং সাহাবীবিদ্বেষ বা রাফয-এর ওপর ভিত্তি করে। ইনশাআল্লাহ, অচিরেই আমি সাদৃশ্যবাদীদের খণ্ডন সম্পর্কে আলোচনা করব।
আর ইমামতের বিষয়ে তার বক্তব্যের কথা বলতে গেলে, হিশাম—আল্লাহ তাকে অভিশাপ দিন—আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু ও তাঁর সন্তানদের প্রতি যেরূপ দোষারোপ করেছে, সেরূপ আর কাউকে করতে দেখিনি। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি, তিনি আলী ও তাঁর সন্তানদের (আলাইহিমুস সালাম) যাবতীয় দোষ ও অপবিত্রতা থেকে মুক্ত রেখেছেন এবং তাঁদেরকে পূর্ণরূপে পবিত্র করেছেন।
হিশাম তার ইমামত সংক্রান্ত বক্তব্যের মাধ্যমে শিয়াপ্রীতি বা আহলে বায়তের ভালোবাসা উদ্দেশ্য করেনি; বরং এর মাধ্যমে সে ইসলাম, তাওহীদ ও নবুওয়তের স্তম্ভসমূহ উপড়ে ফেলতে চেয়েছিল। সে একে ধ্বংস করতে চেয়েছিল এবং এর ছদ্মবেশ ধারণ করেছিল...
(খণ্ড: ১)
আত-তানবীহু ওয়ার রাদ্দু আলা আহলিল আহওয়া-ই ওয়াল বিদা
(পৃষ্ঠা: ২৫)
التَّوْحِيد التَّشْبِيه فهدم ركن التَّوْحِيد وساوى بَين الْخَالِق والمخلوق ثمَّ انتحل محبَّة أهل الْبَيْت وَنشر عَنْهُم وَطعن على الْكتاب وَالسّنة وَكفر الْأمة الَّتِي هِيَ حجَّة الله على خلقه بعد وَفَاة رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فكفرهم وَنسب إِلَيْهِم الرِّدَّة والنفاق فَعمل على هدم الْإِسْلَام الْعَمَل الَّذِي لم يقدم عَلَيْهِ أحد من أَعدَاء الْإِسْلَام فَالله يحكم فِيهِ يَوْم الْقِيَامَة بِسوء كَيده
فَزعم هِشَام لَعنه الله أَن النَّبِي عليه الصلاة والسلام نَص على إِمَامَة على إِمَامَة على فِي حَيَاته بقوله من كنت مَوْلَاهُ فعلى مَوْلَاهُ وَبِقَوْلِهِ لعلى أَنْت منى بِمَنْزِلَة هَارُون من مُوسَى إِلَّا أَنه لَا نَبِي بعدِي وَبِقَوْلِهِ أَنا مَدِينَة الْعلم وعَلى بَابهَا وَبِقَوْلِهِ لعلى تقَاتل على تَأْوِيل الْقُرْآن كَمَا قَاتَلت على تَنْزِيله وَأَنه وصّى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وخليفته فِي ذُريَّته وَهُوَ خَليفَة الله فِي أمته وَأَنه أفضل الْأمة وأعلمهم وَأَنه لَا يجوز عَلَيْهِ السَّهْو وَلَا الْغَفْلَة وَلَا الْجَهْل وَلَا الْعَجز وَأَنه مَعْصُوم وَأَن الله عز وجل نَصبه لِلْخلقِ إِمَامًا لكى لَا يهملهم وَأَن الْمَنْصُوص على إِمَامَته كالمنصوص على الْقبْلَة وَسَائِر الْفَرَائِض وَأَن الْأمة بأسرها من الطَّبَقَة الأولى بَايعُوا أَبَا بكر الصّديق رضى الله عَنهُ فَكَفرُوا وَارْتَدوا وزاغوا عَن الدّين وَأَن الْقُرْآن نسخ وَصعد بِهِ إِلَى السَّمَاء لردتهم وَأَن السّنة لَا تثبت بنقلهم إِذْ هم كفار وَأَن الْقُرْآن الَّذِي فِي أَيدي النَّاس قد انْتقل وَوضع أَيَّام عُثْمَان وأحرق الْمَصَاحِف الَّتِي كَانَت قبل وَأَن الْأمة قد داهنت وغيرت وبدلت وَنَافَقَتْ لأحقاد كَانَت لعلى فيهم من قَتله آبَاءَهُم وعشيرتهم مَعَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم فِي غَزَوَاته وَأَن أَبَا بكر الصّديق رضي الله عنه وَعمر وَعُثْمَان وَطَلْحَة وَالزُّبَيْر وَعَائِشَة رضي الله عنهم أَجْمَعِينَ عِنْدهم من شَرّ الْأمة وأكفرها يلعنوهم ويتبرؤن مِنْهُم وَأَنه مَا بَقِي مَعَ على على الْإِسْلَام إِلَّا أَرْبَعَة سلمَان وعمار وَأَبُو ذَر والمقداد بن الْأسود وَأَن أَبَا بكر مر بفاطمة عليها السلام فرفس فِي بَطنهَا فَأسْقطت
তাওহিদকে সাদৃশ্যপূর্ণ করার (তাশবিহ) মাধ্যমে তিনি তাওহিদের মূল ভিত্তি ধ্বংস করে দিয়েছেন এবং স্রষ্টা ও সৃষ্টির মধ্যে সমতা স্থাপন করেছেন। এরপর তিনি আহলে বাইতের প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শন করার ভান করেছেন এবং তাদের পক্ষ থেকে (মিথ্যা) প্রচারণা চালিয়েছেন। তিনি কিতাব ও সুন্নাহর নিন্দা করেছেন এবং সেই উম্মতকে কাফির সাব্যস্ত করেছেন, যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইনতিকালের পর তাঁর সৃষ্টির ওপর আল্লাহর হুজ্জাত (প্রমাণ)। তিনি তাদেরকে কাফির বলেছেন এবং তাদের প্রতি ধর্মত্যাগ (রিদ্দাহ) ও মুনাফিকির অপবাদ দিয়েছেন। এভাবে তিনি ইসলামকে ধ্বংস করার এমন কাজ করেছেন যা ইসলামের শত্রুদের কেউ এর আগে করেনি। সুতরাং কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা তার মন্দ চক্রান্তের বিচার করবেন।
হিশাম—আল্লাহর লানত তার ওপর হোক—দাবি করেছে যে, নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম তাঁর জীবদ্দশাতেই আলীর ইমামতের বিষয়ে অকাট্য নির্দেশ দিয়েছিলেন এই বলে যে, "আমি যার মাওলা, আলীও তার মাওলা", এবং আলীকে উদ্দেশ্য করে তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: "আমার কাছে তোমার মর্যাদা তেমন, যেমন মুসার কাছে হারুনের ছিল, তবে আমার পরে আর কোনো নবী নেই", এবং তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: "আমি ইলমের শহর আর আলী তার দরজা", এবং আলীকে উদ্দেশ্য করে তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: "তুমি কুরআনের তাউইলের (ব্যাখ্যা) ওপর লড়াই করবে যেমন আমি এর তানজিলের (অবতরণ) ওপর লড়াই করেছি"। সে আরও দাবি করেছে যে, আলী হলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওসি (উত্তরাধিকারী) এবং তাঁর বংশধরদের মধ্যে তাঁর খলিফা, এবং তাঁর উম্মতের মধ্যে আল্লাহর খলিফা। সে উম্মতের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বাধিক জ্ঞানী। তার ক্ষেত্রে ভুল-ভ্রান্তি, গাফিলতি, মূর্খতা বা অক্ষমতা অসম্ভব। সে মাসুম (নিষ্পাপ)। আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাকে সৃষ্টির জন্য ইমাম হিসেবে নিযুক্ত করেছেন যাতে তিনি তাদেরকে অবহেলায় ছেড়ে না দেন। তার ইমামতের বিষয়ে অকাট্য নির্দেশ কিবলার নির্দেশ এবং অন্যান্য ফরজ বিধানের নির্দেশের মতো। প্রথম প্রজন্মের সমগ্র উম্মত আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাতে বাইয়াত গ্রহণ করেছে, ফলে তারা কুফরি করেছে, মুরতাদ হয়েছে এবং দ্বীন থেকে বিচ্যুত হয়েছে। তাদের ধর্মত্যাগের কারণে কুরআন রহিত হয়ে গেছে এবং আসমানে তুলে নেওয়া হয়েছে। তাদের বর্ণনার মাধ্যমে সুন্নাহ প্রমাণিত হয় না, যেহেতু তারা কাফির। মানুষের হাতে যে কুরআন রয়েছে তা উসমানের সময়ে পরিবর্তিত ও সংকলিত হয়েছে এবং তিনি আগের পাণ্ডুলিপিগুলো পুড়িয়ে ফেলেছেন। উম্মত আপস করেছে, পরিবর্তন ও রদবদল করেছে এবং মুনাফিকি করেছে আলীর প্রতি সেই বিদ্বেষের কারণে যা তাদের মনে ছিল, কারণ আলী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে থেকে বিভিন্ন যুদ্ধে তাদের বাবা ও আত্মীয়-স্বজনদের হত্যা করেছিলেন। তাদের মতে আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু, উমর, উসমান, তালহা, জুবাইর এবং আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহুম আজমাইন উম্মতের মধ্যে নিকৃষ্টতম ও বড় কাফির; তারা তাদেরকে অভিশাপ দেয় এবং তাদের থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দেয়। আলীর সাথে ইসলামে অবিচল মাত্র চারজন অবশিষ্ট ছিল: সালমান, আম্মার, আবু যার এবং মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদ। আর আবু বকর ফাতেমা আলাইহাস সালামের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তার পেটে লাথি মারেন, ফলে তার গর্ভপাত ঘটে।
(খণ্ড: ১)
আত-তানবীহু ওয়ার রাদ্দু আলা আহলিল আহওয়া-ই ওয়াল বিদা
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وَكَانَ سَبَب علتها وموتها وَأَنه غصبهَا فدك فَذكر أَشْيَاء كَثِيرَة مِمَّا كاذ بهَا الْإِسْلَام من المخاريق والأباطيل والزور الَّتِي لَا تجوز عِنْد الْعلمَاء وَلَا تخفى إِلَّا على أهل الْعَمى والغباء
وَأَنه لَيْسَ لله حجَّة على خلقه فِي الدّين والشريعة فِي كتاب ولاسنة وَلَا إِجْمَاع إِلَّا من قبل الإِمَام الَّذِي اختصه الله لدينِهِ على كتمان وتقية وإخفاء لَا يتَكَلَّم لله بِحَق وَلَا يقوم لله بِحجَّة مَخَافَة على نَفسه أَن تقتل وخشية على الْإِسْلَام أَن يهتك
فأباح بِهَذَا القَوْل الْمَحَارِم وَأطلق كل مَحْذُور إِذْ لَا حجَّة لأحد بِزَعْمِهِ فِي حَلَال وَلَا حرَام مَعَ أَشْيَاء كَثِيرَة يطول ذكرهَا من نَحْو هَذَا الْكَلَام الَّذِي فِيهِ هدم الدّين
يُقَال لَهُم أخبرونا عَن قَول الله تَعَالَى وتبارك {الْيَوْم أكملت لكم دينكُمْ} هَل أكمل الله دينه فِي حَيَاة رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَو بعده أَو الْيَوْم الَّذِي أنزل هَذِه الْآيَة فِيهِ
فَإِن قَالُوا لَا مَا أكمل الله دينه قطّ ظهر جهلهم وكفرهم وَإِن قَالُوا بل أكمل الله لَهُم الدّين وَأتم عَلَيْهِم النِّعْمَة فِي حَيَاة النَّبِي عليه الصلاة والسلام فَلَمَّا مَاتَ النَّبِي عليه الصلاة والسلام غيروا وبدلوا وخذلهم الله وَنسخ الْقُرْآن مِنْهُم وسلبهم الدّين
يُقَال لَهُم هَذَا دَعْوَى مِنْكُم بِلَا حجَّة مَا غير وَلَا بدل من الدّين وَالْكتاب وَالسّنة شَيْء بل هُوَ على مَا كَانَ عَلَيْهِ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فِي حَيَاته
আর তার অসুস্থতা ও মৃত্যুর কারণ এবং তিনি যে ফাদাক দখল করে নিয়েছিলেন সে সম্পর্কে; তিনি এমন অনেক কিছুর কথা উল্লেখ করেছেন যার মাধ্যমে ইসলামের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করা হয়েছে। এগুলো এমন সব অলীক কল্পনা, অসারতা ও মিথ্যাচার যা আলেমদের নিকট গ্রহণযোগ্য নয় এবং অন্ধ ও নির্বোধ ছাড়া কারো কাছে অস্পষ্ট নয়।
আর এই যে, দ্বীন ও শরীয়তের ক্ষেত্রে আল্লাহর কিতাব, সুন্নাহ বা ইজমার মাধ্যমে তাঁর সৃষ্টির ওপর কোনো প্রমাণ নেই, কেবল সেই ইমাম ব্যতীত যাকে আল্লাহ তাঁর দ্বীনের জন্য গোপনীয়তা, তাকিয়া এবং লুক্কায়িত অবস্থার জন্য নির্দিষ্ট করেছেন। তিনি নিজের জীবননাশের আশঙ্কায় এবং ইসলাম কলঙ্কিত হওয়ার ভয়ে আল্লাহর কোনো সত্য কথা বলেন না এবং আল্লাহর কোনো দলিলও উপস্থাপন করেন না।
এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি হারাম বিষয়গুলোকে বৈধ করে দিয়েছেন এবং সকল নিষিদ্ধ বিষয়কে অবারিত করে দিয়েছেন; কারণ তার দাবি অনুযায়ী হালাল বা হারামের ব্যাপারে কারো কোনো প্রমাণ নেই। এর পাশাপাশি অনুরূপ আরও অনেক বিষয় রয়েছে যা দ্বীন ধ্বংসের শামিল এবং দীর্ঘ আলোচনার দাবি রাখে।
তাদের বলা হবে: মহান ও বরকতময় আল্লাহর বাণী "আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম" সম্পর্কে আমাদের বলুন। আল্লাহ কি তাঁর দ্বীনকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জীবদ্দশায় পূর্ণ করেছেন, নাকি তাঁর পরে, নাকি সেই দিনে যখন এই আয়াত নাজিল হয়েছিল?
যদি তারা বলে, 'না, আল্লাহ কখনই তাঁর দ্বীন পূর্ণ করেননি,' তবে তাদের মূর্খতা ও কুফর প্রকাশ পেয়ে যাবে। আর যদি তারা বলে, 'বরং আল্লাহ তাদের জন্য দ্বীন পূর্ণ করেছেন এবং নবী (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর জীবদ্দশায় তাদের ওপর নেয়ামত সম্পন্ন করেছেন; অতঃপর যখন নবী (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) ইন্তেকাল করলেন, তারা পরিবর্তন ও রদবদল করল এবং আল্লাহ তাদের লাঞ্ছিত করলেন এবং তাদের থেকে কুরআন তুলে নিলেন ও তাদের থেকে দ্বীন ছিনিয়ে নিলেন।'
তাদের বলা হবে: এটি তোমাদের দলিলবিহীন দাবি। দ্বীন, কিতাব এবং সুন্নাহর কোনো কিছুই পরিবর্তিত বা রদবদল হয়নি; বরং তা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জীবদ্দশায় যেমন ছিল তেমনই রয়ে গেছে।
(খণ্ড: ১)
আত-তানবীহু ওয়ার রাদ্দু আলা আহলিল আহওয়া-ই ওয়াল বিদা
(পৃষ্ঠা: ২৭)
المنصوصات كالقبلة وَالصَّوْم وَالصَّلَاة وَغير ذَلِك من منصوصات الدّين فَمن أَيْن قلت إِنَّه غير وَبدل بعد تَمَامه وكماله فَإِن حاول حجَّة على دَعْوَاهُ لم يجد
وَيُقَال لَهُم قَالَ الله عز وجل وَالسَّابِقُونَ الْأَولونَ من الْمُهَاجِرين وَالْأَنْصَار وَالَّذين أتبعوهم بِإِحْسَان رَضِي الله عَنْهُم وَرَضوا عَنهُ وَأعد لَهُم جنَّات تجْرِي من تحتهَا الْأَنْهَار خَالِدين فِيهَا أبدا ذَلِك الْفَوْز الْعَظِيم
فَمن أَيْن قُلْتُمْ أَنْتُم إِنَّهُم غيروا وبدلوا وَكَفرُوا وَالله يمدحهم بِهَذَا المديح ويصفهم بِوَصْف الْإِيمَان وَقَالَ عز وجل {يَا أَيهَا الَّذين آمنُوا من يرْتَد مِنْكُم عَن دينه فَسَوف يَأْتِي الله بِقوم يُحِبهُمْ وَيُحِبُّونَهُ أَذِلَّة على الْمُؤمنِينَ أعزة على الْكَافرين يجاهدون فِي سَبِيل الله وَلَا يخَافُونَ لومة لائم} فَكَانَ أَبُو بكر الصّديق وَالَّذين مَعَه قَاتلُوا أهل الرِّدَّة حَتَّى رجعُوا إِلَى الدّين بعد وَفَاة النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَقَالَ الله عز وجل وعد الله الَّذين آمنُوا مِنْكُم وَعمِلُوا الصَّالِحَات ليَستَخْلِفنهم فِي الأَرْض كَمَا اسْتخْلف الَّذين من قبلهم وليمكنن لَهُم دينهم الَّذِي ارتضى لَهُم وليبدلنهم من بعد خوفهم أمنا يعبدونني وَلَا يشركُونَ بِي شَيْئا
فمكن بِحَمْدِهِ بعد وَفَاة رَسُول الله صلى الله عليه وسلم خلفاءه وَأمته فِي أرضه يعبدونه لَا يشركُونَ بِهِ شَيْئا
وَقَالَ عز وجل {هُوَ الَّذِي أرسل رَسُوله بِالْهدى وَدين الْحق لِيظْهرهُ على الدّين كُله وَلَو كره الْمُشْركُونَ}
দ্বীনের অকাট্য বিধানসমূহ যেমন কিবলা, সিয়াম, সালাত এবং দ্বীনের অন্যান্য অকাট্য বিধানসমূহ; আপনি কোথা থেকে বললেন যে, এর পূর্ণতা ও সমাপ্তির পর তা পরিবর্তিত ও রূপান্তরিত হয়ে গেছে? সে যদি তার দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ পেশ করার চেষ্টা করে, তবে তা পাবে না।
আর তাদের বলা হবে, মহান আল্লাহ বলেছেন: “মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা প্রথম অগ্রগামী এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসরণ করেছে, আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে। তিনি তাদের জন্য প্রস্তুত করেছেন এমন জান্নাত যার তলদেশ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। এটাই মহা সাফল্য।”
তবে আপনারা কোথা থেকে বললেন যে, তারা (দ্বীনকে) পরিবর্তন ও রূপান্তর করেছে এবং কুফরি করেছে? অথচ আল্লাহ এই প্রশংসার মাধ্যমে তাদের প্রশংসা করছেন এবং তাদের ঈমানের গুণাবলীতে ভূষিত করছেন। এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: “হে মুমিনগণ! তোমাদের মধ্যে কেউ যদি নিজ দ্বীন থেকে ফিরে যায়, তবে অচিরেই আল্লাহ এমন এক সম্প্রদায় নিয়ে আসবেন যাদের তিনি ভালোবাসেন এবং তারাও তাঁকে ভালোবাসে; যারা মুমিনদের প্রতি নম্র এবং কাফেরদের প্রতি কঠোর, তারা আল্লাহর পথে জিহাদ করবে এবং কোনো নিন্দুকের নিন্দার ভয় করবে না।” সুতরাং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তেকালের পর আবু বকর সিদ্দিক এবং তাঁর সাথে যারা ছিলেন তারা ধর্মত্যাগীদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন যতক্ষণ না তারা দ্বীনে ফিরে আসে। আর মহান আল্লাহ বলেছেন: “তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, আল্লাহ তাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, তিনি অবশ্যই তাদের পৃথিবীতে প্রতিনিধিত্ব দান করবেন, যেমন তিনি তাদের পূর্ববর্তীদের প্রতিনিধিত্ব দান করেছিলেন। আর তিনি অবশ্যই তাদের জন্য তাদের সেই দ্বীনকে সুদৃঢ় করবেন যা তিনি তাদের জন্য পছন্দ করেছেন এবং তাদের ভয়ের পর অবশ্যই তাদের নিরাপত্তায় পরিবর্তন করে দেবেন; তারা আমার ইবাদত করবে এবং আমার সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না।”
সুতরাং আল্লাহর প্রশংসায়, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তেকালের পর তিনি তাঁর পৃথিবীতে তাঁর খলিফাগণ এবং তাঁর উম্মতকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন, তারা তাঁর ইবাদত করে এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করে না।
এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: “তিনিই তাঁর রাসূলকে হেদায়েত ও সত্য দ্বীনসহ পাঠিয়েছেন যাতে তিনি একে সকল দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেন, যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে।”
(খণ্ড: ১)
আত-তানবীহু ওয়ার রাদ্দু আলা আহলিল আহওয়া-ই ওয়াল বিদা
(পৃষ্ঠা: ২৮)
فَكيف قُلْتُمْ إِن الْأمة كفرت بعد رسولها وارتدت وغيرت وبدلت وَالله أظهر بهم حجَّته على الْأَدْيَان كلهَا فَمَا من دين إِلَى يَوْم الْقِيَامَة إِلَّا وَالْإِسْلَام ظَاهر عَلَيْهِ وَقد ظهر عَلَيْهِ وأكد حجَّته عَلَيْهِ كَمَا قَالَ عز وجل
فَيُقَال لَهُم هَذَا مُحكم الْقُرْآن لَا متشابه فِيهِ فَكيف تَقولُونَ أَنْتُم فِيهِ فَإِن قَالُوا هُوَ صدق وَهُوَ قُرْآن تركُوا قَوْلهم الْخَبيث وَرَجَعُوا إِلَى الْحق وَإِن قَالُوا لَيْسَ هَذَا بقرآن بل هُوَ شَيْء وضعوه وافتعلوه فَإِنَّهُم قوم يطعنون على الْقُرْآن وَحِينَئِذٍ لَا يكلمون إِلَّا فِي الْقُرْآن وَلَا يكلمون فِي الْإِمَامَة لِأَن الْإِمَامَة فرع وَالْقُرْآن أصل فَمن طعن فِي الأَصْل لَا يكلم فِي الْفَرْع
يُقَال لَهُم أخبرونا عَن الْقُرْآن الَّذِي هُوَ الْيَوْم بَين الدفتين وَفِي صُدُور الْأمة ويتلونه فِي صلواتهم وأيامهم وأوقاتهم يحفظون حُرُوفه وحدوده ومتشابهه ومحكمه وتأويله وتنزيله وَلَا يسْقط عَلَيْهِم مِنْهُ شَيْء وَهُوَ مائَة وَأَرْبع عشرَة سُورَة مَعْلُومَة مَحْفُوظَة أهوَ الْقُرْآن الَّذِي أنزلهُ الله على رَسُوله أم لَا فَإِن قَالُوا لَا بل ذَلِك الْقُرْآن صعد بِهِ إِلَى السَّمَاء وَنسخ من قُلُوبهم حِين ارْتَدُّوا يُقَال لَهُم فَإِذا كَانَ الْقُرْآن مَعَ نقل الْأمة طبقَة عَن طبقَة وَجَمَاعَة عَن جمَاعَة لَا يَصح نَقله فَمن أَيْن لكم هَذِه الْأَخْبَار الَّتِي تدعونها حجَّة لكم فِي إِثْبَات الْإِمَامَة وَمن أَيْن علمْتُم أَن النَّبِي عليه الصلاة والسلام نَص على إِمَامَة عَليّ وَكَيف خَالَفت الْأمة أعلمكُم من جِهَة سمع أم من جِهَة عقل فَإِن قَالُوا من جِهَة عقل غلطوا وأخطأوا فَإِن هَذَا لَا يعرف من جِهَة الْعقل لِأَنَّهُ خبر عَمَّا كَانَ فِي الْقَدِيم وَإِن قَالُوا من جِهَة سمع وَنقل عَرفْنَاهُ قيل لَهُم فَكيف يكون قَوْلكُم صَحِيحا وَقَول غَيْركُمْ خطأ أسرفتم فِيمَا تجيزون لأنفسكم وَلَا تجيزون مثله لغيركم هَذَا ظلم فِي الْجِدَال لَا يجوز لكم
وَإِن قَالُوا نقلكم صَحِيح بَطل قَوْلهم فِي الْقُرْآن بالطعن عَلَيْهِ بِأَنَّهُ نسخ وَغير وَبدل وَالْقُرْآن معجز قد تحدى بِهِ الْعَرَب ثَلَاثًا وَعشْرين سنة أَن
সুতরাং আপনারা কীভাবে বলছেন যে উম্মত তাদের রাসূলের পরে কুফরি করেছে, ধর্মত্যাগ করেছে এবং পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করেছে, অথচ আল্লাহ তাদের মাধ্যমেই সমস্ত ধর্মের ওপর তাঁর প্রমাণকে প্রকাশ করেছেন? কিয়ামত পর্যন্ত এমন কোনো ধর্ম নেই যার ওপর ইসলাম বিজয়ী নয়; এবং ইসলাম ইতিমধ্যে তার ওপর বিজয়ী হয়েছে এবং তার ওপর নিজ প্রমাণ সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন
তাদের বলা হবে, এটি কুরআনের মুহকাম (সুস্পষ্ট) আয়াত, এতে কোনো মুতাশাবিহ (অস্পষ্টতা) নেই। সুতরাং এ বিষয়ে তোমরা কী বলো? তারা যদি বলে যে এটি সত্য এবং এটিই কুরআন, তবে তারা তাদের জঘন্য বক্তব্য পরিত্যাগ করল এবং সত্যের দিকে ফিরে এল। আর যদি তারা বলে যে এটি কুরআন নয়, বরং এটি এমন কিছু যা তারা নিজেরা তৈরি ও উদ্ভাবন করেছে, তবে তারা এমন কওম যারা কুরআনের ওপর অপবাদ আরোপ করে। এমতাবস্থায় তাদের সাথে কুরআন ব্যতীত অন্য কোনো বিষয়ে আলোচনা করা হবে না, এবং ইমামত বিষয়েও কোনো কথা হবে না; কারণ ইমামত হলো শাখা আর কুরআন হলো মূল। সুতরাং যে ব্যক্তি মূল বিষয়ের ওপর অপবাদ দেয়, তার সাথে শাখা বিষয়ে কোনো আলোচনা করা চলে না
তাদের বলা হবে, আমাদের সেই কুরআন সম্পর্কে সংবাদ দাও যা আজ দুই মলাটের মাঝে এবং উম্মতের অন্তরে সংরক্ষিত রয়েছে, যা তারা তাদের সালাতে, দিনে ও সময়ে তিলাওয়াত করে; যার অক্ষর, সীমা, মুতাশাবিহ, মুহকাম, তাবিল (ব্যাখ্যা) এবং তানজিল (অবতরণ) তারা মুখস্থ রাখে এবং যার কোনো অংশই তাদের নিকট থেকে হারিয়ে যায়নি। আর এটি হলো সুপরিচিত ও সংরক্ষিত একশ চৌদ্দটি সূরা। এটি কি সেই কুরআন যা আল্লাহ তাঁর রাসূলের ওপর অবতীর্ণ করেছেন, নাকি নয়? তারা যদি বলে, 'না, বরং সেই কুরআন আসমানে তুলে নেওয়া হয়েছে এবং যখন তারা মুরতাদ হয়ে গিয়েছিল তখন তাদের অন্তর থেকে তা মুছে দেওয়া হয়েছে', তবে তাদের বলা হবে: যদি উম্মতের প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে এবং এক দল থেকে অন্য দলের কাছে ধারাবাহিকভাবে বর্ণিত কুরআনের বর্ণনা সঠিক না হয়, তবে তোমরা যে সংবাদগুলোকে ইমামত প্রমাণের সপক্ষে দলিল হিসেবে দাবি করছ সেগুলো তোমাদের কাছে কোথা থেকে এল? আর তোমরা কীভাবে জানলে যে নবী (সালাম) আলীর ইমামতের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং কীভাবে উম্মত তাঁর বিরোধিতা করেছিল? তোমরা কি এটি শ্রুতির (বর্ণনা) মাধ্যমে জেনেছ নাকি বিবেকের মাধ্যমে? তারা যদি বলে 'বিবেকের মাধ্যমে', তবে তারা ভুল করল এবং ভ্রান্তিতে নিপতিত হলো; কারণ এটি বিবেকের মাধ্যমে জানা সম্ভব নয়, যেহেতু এটি অতীত সংবাদের অন্তর্ভুক্ত। আর যদি তারা বলে, 'আমরা এটি শ্রুতি ও বর্ণনার মাধ্যমে জেনেছি', তবে তাদের বলা হবে: তবে তোমাদের কথা কীভাবে সঠিক হবে আর অন্যদের কথা কীভাবে ভুল হবে? তোমরা নিজেদের জন্য যা বৈধ করছ, অন্যের জন্য তা বৈধ না করে সীমালঙ্ঘন করেছ। এটি বিতর্কের ক্ষেত্রে এক প্রকার জুলুম যা তোমাদের জন্য জায়েজ নয়
আর যদি তারা বলে যে, 'তোমাদের বর্ণনা সঠিক', তবে কুরআনের ওপর অপবাদ আরোপ করে তাদের এই দাবি বাতিল হয়ে যাবে যে এটি রহিত, পরিবর্তিত বা পরিবর্ধিত হয়েছে। অথচ কুরআন একটি মুজিজা (অলৌকিকত্ব), যার মাধ্যমে আরবদের তেইশ বছর ধরে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে যে
(খণ্ড: ১)
আত-তানবীহু ওয়ার রাদ্দু আলা আহলিল আহওয়া-ই ওয়াল বিদা
(পৃষ্ঠা: ২৯)
يَأْتُوا بِسُورَة مِنْهُ فَلم يقدروا وعجزوا وَبَان عجزهم إِلَى الْيَوْم وأبدا ظَاهر عجز الْخلق عَن الْقُرْآن
وَكَيف يكون الْقُرْآن مفتعلا وَهُوَ الْقُرْآن الَّذِي عجز عَنهُ الْخلق وَأَيْضًا فَإِن الْمَصَاحِف لم يكْتب فِيهَا إِلَّا مَا كَانَ نَص الْقُرْآن لِأَن الْقُرْآن كَانَ مَحْفُوظًا مَعْلُوما وَإِنَّمَا الْمَصَاحِف لمن لَا يحفظ وَكَانَ أَصْحَاب النَّبِي صلى الله عليه وسلم الْجَمَاعَات الْكَثِيرَة يحفظون الْقُرْآن وَكَذَلِكَ من جَاءَ بعدهمْ من التَّابِعين وَأَتْبَاع التَّابِعين حفظوا الْقُرْآن وأدوه إِلَى من بعدهمْ وَلم يزل الْقُرْآن مَحْفُوظًا مَعْلُوما إِلَى يَوْمنَا هَذَا لم ينْسَخ مِنْهُ شَيْء وَلَا زَالَ مِنْهُ شَيْء وَفِيه حجَّة الله على خلقه
وَيُقَال لَهُم قَالَ الله عز وجل {إِنَّا نَحن نزلنَا الذّكر وَإِنَّا لَهُ لحافظون} هَل صدق الله فِي قَوْله أم لَا فَإِن قَالُوا لَا كذبُوا الله وَكَفرُوا بتكذيبهم رَبهم
وَإِن قَالُوا صدق الله هُوَ أنزلهُ وَهُوَ حفظه علينا تركُوا قَوْلهم وَإِن قَالُوا حفظه النَّبِي صلى الله عليه وسلم فَأَما بعد النَّبِي فقد نسخه وعرج بِهِ فقد ادعوا شَيْئا بِلَا حجَّة وسبيلهم من تعدى بِلَا حجَّة وَلَا بَيَان
وَيُقَال لَهُم أخبرونا عَن الْقُرْآن أهوَ كَلَام الله عز وجل أم كَلَام الْبشر فَإِن قَالُوا كَلَام الله مَا فِيهِ كَلَام الْبشر قَالُوا بِالْحَقِّ وَتركُوا الطعْن على الْقُرْآن
وَيُقَال لَهُم أَيْضا الْإِجْمَاع أَن هَذَا الْقُرْآن الَّذِي أنزل على مُحَمَّد رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لم يُغير وَلم يُبدل وَلم ينْسَخ مِنْهُ شَيْء فَمن أَيْن خالفتم الْإِجْمَاع وقلتم إِن الْقُرْآن غير وَبدل وَنسخ وَمن خَالف الْإِجْمَاع ضل لِأَن النَّبِي
যাতে তারা এর মতো একটি সূরা নিয়ে আসে, কিন্তু তারা সক্ষম হয়নি এবং অপারগ হয়েছে। আজ পর্যন্ত এবং চিরকাল কুরআনের ব্যাপারে সৃষ্টির অপারগতা সুস্পষ্ট হয়ে আছে।
আর কুরআন কীভাবে বানোয়াট হতে পারে, অথচ এটি এমন কুরআন যার ব্যাপারে সৃষ্টিজগত অপারগ হয়েছে? তাছাড়া মুসহাফসমূহে কেবল কুরআনের মূল পাঠই লেখা হয়েছে, কারণ কুরআন সংরক্ষিত ও সুপরিজ্ঞাত ছিল। মুসহাফসমূহ কেবল তাদের জন্য যারা মুখস্থ রাখেনি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিপুল সংখ্যক সাহাবী কুরআন মুখস্থ রাখতেন এবং একইভাবে তাঁদের পরবর্তী তাবিঈ এবং তাবি-তাবিঈগণ কুরআন মুখস্থ করেছিলেন এবং তাঁদের পরবর্তীদের কাছে তা পৌঁছে দিয়েছিলেন। আজ পর্যন্ত কুরআন সংরক্ষিত ও সুপরিজ্ঞাত অবস্থায় বিদ্যমান রয়েছে, এর কোনো কিছুই রহিত হয়নি এবং এর কোনো কিছুই বিলুপ্ত হয়নি। এতে তাঁর সৃষ্টির ওপর আল্লাহর প্রমাণ বিদ্যমান।
তাদেরকে বলা হবে, মহান আল্লাহ বলেছেন: "নিশ্চয়ই আমিই উপদেশ অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষণকারী।" আল্লাহ কি তাঁর কথায় সত্য বলেছেন নাকি না? যদি তারা বলে 'না', তবে তারা আল্লাহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল এবং তাদের রবকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার কারণে তারা কুফরি করল।
আর যদি তারা বলে, আল্লাহ সত্য বলেছেন, তিনি তা অবতীর্ণ করেছেন এবং তিনি আমাদের জন্য তা সংরক্ষণ করেছেন, তবে তারা তাদের পূর্বের বক্তব্য পরিত্যাগ করল। আর যদি তারা বলে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটি সংরক্ষণ করেছিলেন, কিন্তু নবীর পর তা রহিত করা হয়েছে এবং তুলে নেয়া হয়েছে, তবে তারা প্রমাণহীন একটি দাবি করল। আর তাদের পথ হলো এমন ব্যক্তির পথ যে প্রমাণ ও স্পষ্ট বর্ণনা ছাড়াই সীমালঙ্ঘন করে।
তাদেরকে আরও বলা হবে, আমাদের কুরআন সম্পর্কে সংবাদ দাও, এটি কি মহান আল্লাহর কালাম নাকি মানুষের কালাম? যদি তারা বলে, এটি আল্লাহর কালাম, এতে মানুষের কোনো কালাম নেই, তবে তারা সত্য কথা বলল এবং কুরআনের প্রতি অপবাদ দেয়া বর্জন করল।
তাদেরকে আরও বলা হবে, এ ব্যাপারে সর্বসম্মত ঐক্য রয়েছে যে, আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর যে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে তা পরিবর্তিত হয়নি, বিকৃত হয়নি এবং এর কোনো কিছুই রহিত হয়নি। তাহলে তোমরা কোন ভিত্তিতে ইজমার বিরোধিতা করলে এবং বললে যে, কুরআন পরিবর্তিত, বিকৃত ও রহিত হয়েছে? আর যে ব্যক্তি ইজমার বিরোধিতা করল সে পথভ্রষ্ট হলো, কারণ নবী...