(খণ্ড: ১)
ঈদাহুদ দালাইলি ফিল ফারকি বাইনাল মাসাইল
(পৃষ্ঠা: -)
إيضاح الدلائل في الفرق بين المسائل القسم: أصول الفقه
الكتاب: إيضاح الدلائل في الفرق بين المسائل
المؤلف: عبد الرحيم بن عبد الله بن محمد الزريراني الحنبلي (ت 741 هـ)
تحقيق ودراسة: عمر بن محمد السبيل (ت 1423 هـ)، إمام وخطيب المسجد الحرام، وعضو هيئة التدريس بكلية الشريعة في جامعة أم القرى
أصل التحقيق: أطروحة دكتوراة - قسم الدراسات العليا الشرعية بجامعة أم القرى
الناشر: دار ابن الجوزي للنشر والتوزيع، المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1431 هـ
عدد الصفحات: 753
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
মাসআলাসমূহের পার্থক্যের দলীলসমূহের স্পষ্টীকরণ বিভাগ: উসুলুল ফিকহ
গ্রন্থ: মাসআলাসমূহের পার্থক্যের দলীলসমূহের স্পষ্টীকরণ
লেখক: আব্দুর রহীম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আয-যারীরানী আল-হাম্বলী (মৃত্যু ৭৪১ হিজরী)
সম্পাদনা ও গবেষণা: উমর ইবনে মুহাম্মদ আস-সুবাইল (মৃত্যু ১৪২৩ হিজরী), মসজিদে হারামের ইমাম ও খতীব, এবং উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীয়াহ অনুষদের শিক্ষক
সম্পাদনার মূল উৎস: পিএইচডি থিসিস - উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর শরীয়াহ গবেষণা বিভাগ
প্রকাশক: দার ইবনুল জাওযী প্রকাশনী, সৌদি আরব সাম্রাজ্য
সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩১ হিজরী
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭৫৩
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলা-য় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
ঈদাহুদ দালাইলি ফিল ফারকি বাইনাল মাসাইল
(পৃষ্ঠা: -)
رسائل جامعية (89)
إيضاح الدلائل في الفرق بين المسائل
تأليف
العلامة عبد الرحيم بن عبد الله بن محمد الزريراني الحنبلي رحمه الله
(المتوفى سنة 741 هـ)
تحقيق ودراسة
عمر بن محمد السبيل رحمه الله
(المتوفى سنة 1423 هـ)
إمام وخطيب المسجد الحرام
وعضو هيئة التدريس بكلية الشريعة في جامعة أم القرى
একাডেমিক থিসিস (৮৯)
ইদাহুদ দালায়েল ফি আল-ফারকি বাইনাল মাসায়েল (মাসআলাসমূহের পার্থক্যের ক্ষেত্রে প্রমাণাদির বিশদ ব্যাখ্যা)
রচনা
আল্লামা আবদুর রহিম বিন আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-যুরয়রানি আল-হাম্বলি (রহিমাহুল্লাহ)
(মৃত্যু ৭৪১ হিজরি)
সম্পাদনা ও গবেষণা
উমর বিন মুহাম্মদ আস-সাবিল (রহিমাহুল্লাহ)
(মৃত্যু ১৪২৩ হিজরি)
ইমাম ও খতিব, মসজিদুল হারাম
এবং উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীয়াহ অনুষদের শিক্ষক মণ্ডলীর সদস্য
(খণ্ড: ১)
ঈদাহুদ দালাইলি ফিল ফারকি বাইনাল মাসাইল
(পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم
هَذَا الْكتاب رِسَالَة علمية تقدم بهَا الْمُحَقق إِلَى قسم الدراسات الْعليا الشَّرْعِيَّة بجامعة أم الْقرى، وَقد نَالَ بهَا دَرَجَة الدكتوراه بِتَقْدِير ممتاز مَعَ التوصية بالطبع، وَقَامَت الجامعة بطبعه عَام 1414 هـ فِي مجلدين.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
এই গ্রন্থটি একটি গবেষণামূলক অভিসন্দর্ভ যা গবেষক উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীয়াহ উচ্চশিক্ষা বিভাগে পেশ করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি চমৎকার (মুমতাজ) গ্রেডসহ পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেছেন এবং এটি মুদ্রণের সুপারিশ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় এটি ১৪১৪ হিজরি সনে দুই খণ্ডে প্রকাশ করেছে।
(খণ্ড: ১)
ঈদাহুদ দালাইলি ফিল ফারকি বাইনাল মাসাইল
(পৃষ্ঠা: ৩)
إيْضَاحُ الدَّلَائِلِ في الفَرقِ بَيْنَ المَسَائِلِ
মাসআলাসমূহের মধ্যকার পার্থক্যের ক্ষেত্রে দলীলসমূহের স্পষ্টীকরণ
(খণ্ড: ১)
ঈদাহুদ দালাইলি ফিল ফারকি বাইনাল মাসাইল
(পৃষ্ঠা: ৪)
(ح) عمر مُحَمَّد السَّبِيل، 1430 هـ
فهرسة مكتبة الْملك فَهد الوطنية أثْنَاء النشر
الْبَغْدَادِيّ، عبد الرَّحِيم بن عبد الله
إِيضَاح الدَّلَائِل فِي الْفرق بَين الْمسَائِل / عبد الرَّحِيم بن عبد الله الْبَغْدَادِيّ؛ عمر مُحَمَّد السَّبِيل - الدمام، 1430 هـ
760 ص، 17 × 24 سم
ردمك: 3 - 2451 - 00 - 603 - 978
1 - الْفِقْه الْحَنْبَلِيّ
أ - السَّبِيل، عمر مُحَمَّد (مُحَقّق)
ب - العنوان
ديوي 258.4
… 2705/ 1430
حُقُوق الطَّبْع مَحْفُوظَة
الطَّبْعَة الأولى
1431 هـ
حُقُوق الطَّبْع مَحْفُوظَة © 1431 هـ، لَا يسمح بِإِعَادَة نشر هَذَا الْكتاب أَو أَي جُزْء مِنْهُ بِأَيّ شكل من الأشكال أَو حفظه ونسخه فِي أَي نظام ميكانيكي أَو إلكتروني يُمكن من استرجاع الْكتاب أَو تَرْجَمته إِلَى أَي لُغَة أُخْرَى دون الْحُصُول على إِذن خطي مسبق من الناشر.
دَار ابْن الْجَوْزِيّ لِلنّشرْ والتَوزيْع
المملكة الْعَرَبيَّة السعودية: الدمام - طَرِيق الْملك فَهد - ت: 8428146 - 8467593، ص. ب: 2982 - الرَّمْز البريدى: 31461 - فاكس: 8412100
الرياض - تلفاكس: 2107228 - جوال: 0503857988
الإحساء - ت: 5883122
جدة - ت: 6341973 - 6813706
بيروت - هَاتِف: 869600/ 03 - فاكس: 641801/ 01
الْقَاهِرَة - ج. م. ع - مَحْمُول: 01006823783 - تلفاكس: 0244344970
الْبَرِيد الإلكتروني: aljawzi@hotmail.com - www.aljawzi.com
(গ) ওমর মুহাম্মদ আস-সাবিল, ১৪৩০ হিজরি
প্রকাশনাকালে কিং ফাহাদ জাতীয় গ্রন্থাগারের ক্যাটালগিং
আল-বাগদাদী, আবদুর রহিম বিন আবদুল্লাহ
মাসআলাসমূহের পার্থক্যের ক্ষেত্রে দালিলিক ব্যাখ্যা / আবদুর রহিম বিন আবদুল্লাহ আল-বাগদাদী; ওমর মুহাম্মদ আস-সাবিল - দাম্মাম, ১৪৩০ হিজরি
৭৬০ পৃষ্ঠা, ১৭ × ২৪ সে.মি.
আইএসবিএন: ৩ - ২৪৫১ - ০০ - ৬০৩ - ৯৭৮
১ - হাম্বলি ফিকহ
ক - আস-সাবিল, ওমর মুহাম্মদ (সম্পাদক)
খ - শিরোনাম
ডিউই ২৫৮.৪
… ২৭০৫/ ১৪৩০
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রথম সংস্করণ
১৪৩১ হিজরি
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৪৩১ হিজরি, প্রকাশকের পূর্বলিখিত অনুমতি ব্যতীত এই বই বা এর কোনো অংশ কোনো রূপেই পুনরায় প্রকাশ করা অথবা কোনো যান্ত্রিক বা ইলেকট্রনিক সিস্টেমে সংরক্ষণ ও কপি করা যা থেকে বইটি পুনরায় উদ্ধার করা যায়, অথবা অন্য কোনো ভাষায় অনুবাদ করা অনুমোদিত নয়।
দার ইবনুল জাওজি প্রকাশনা ও বিতরণী
সৌদি আরব সাম্রাজ্য: দাম্মাম - কিং ফাহাদ রোড - ফোন: ৮৪২৮১৪৬ - ৮৪৬৭৫৯৩, পো. ব.: ২৯৮২ - পোস্টাল কোড: ৩১৪৬১ - ফ্যাক্স: ৮৪১২১০০
রিয়াদ - টেলিফ্যাক্স: ২১০৭২২৮ - মোবাইল: ০৫০৩৮৫৭৯৮৮
আল-আহসা - ফোন: ৫৮৮৩১২২
জেদ্দা - ফোন: ৬৩৪১৯৭৩ - ৬৮১৩৭০৬
বৈরুত - ফোন: ৮৬৯৬০০/ ০৩ - ফ্যাক্স: ৬৪১৮০১/ ০১
কায়রো - মিশর আরব প্রজাতন্ত্র - মোবাইল: ০১০০৬৮২৩৭৮৩ - টেলিফ্যাক্স: ০২৪৪৩৪৪৯৭০
ইমেইল: aljawzi@hotmail.com - www.aljawzi.com
(খণ্ড: ১)
ঈদাহুদ দালাইলি ফিল ফারকি বাইনাল মাসাইল
(পৃষ্ঠা: ৫)
المقدمةالحمد لله الذي نزل الفرقان على عبده ليكون للعالمين نذيرًا، وداعيًا إلى الله بإذنه وسراجًا منيرًا، أحمده سبحانه حمدًا كثيرًا، كما ينبغي لجلال وجهه، وعظيم سلطانه، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن نبينا محمدًا عبده ورسوله، الذي أنزل عليه الكتاب المبين، الفارق بين الهدى والضلال، والغي والرشاد، والشك واليقين، صلى الله عليه، وعلى آله وأصحابه، وسلم تسليمًا كثيرًا إلى يوم الدين. وبعد:
فإن الفقه من أشرف العلوم قدرًا، وأسماها فخرًا، وأعظمها أجرًا، وأعمها فائدة؛ لأن به يعرف الحلال من الحرام، ويميز بين الجائز والممنوع من الأحكام، ويطلع على أسرار الشريعة ومقاصدها.
وقد احتوى هذا العلم على فروع متعددة، وأنواع متنوعة، وإن من أعظمها نفعًا، وأجلها قدرًا، وأدقها استنباطًا: علم الفروق.
إذ به يطلع على حقائق الفقه ومداركه، وأسراره ومآخذه، وحكمه ومقاصده، ويتمهر في فهمه واستحضاره، ويدرك ما بين فروعه ومسائله من وجوه الاتفاق والاختلاف، فيلحق كل فرع بأصله، ويعطى النظير حكم نظيره، فيجمع بين مؤتلفها، ويفرق بين مختلفها.
لذا، فقد أشاد عدد من العلماء رحمهم الله بأهمية هذا الفن، وبينوا عظيم فائدته، وأوضحوا حاجة الفقيه الماسة إلى معرفته وإدراكه.
فقال العلامة الطوفي الحنبلي: (إن الفرق من عمد الفقه وغيره من العلوم، وقواعدها الكلية، حتى قال قوم: إنما الفقه معرفة الفرق والجمع).
ভূমিকাসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর বান্দার ওপর ফুরকান অবতীর্ণ করেছেন যাতে তিনি বিশ্বজগতের জন্য একজন সতর্ককারী এবং আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ্বানকারী ও এক উজ্জ্বল প্রদীপ হতে পারেন। আমি তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা করছি এবং তাঁর অধিক প্রশংসা করছি, যেমনটি তাঁর চেহারার মহিমা এবং তাঁর রাজত্বের বিশালতার জন্য শোভনীয়। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নবী মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসুল, যাঁর ওপর তিনি সুস্পষ্ট কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, যা হিদায়াত ও গোমরাহি, পথভ্রষ্টতা ও সঠিক পথ এবং সন্দেহ ও নিশ্চিত বিশ্বাসের মধ্যে পার্থক্যকারী। তাঁর ওপর, তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের ওপর কিয়ামত দিবস পর্যন্ত অজস্র ধারায় রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। অতঃপর:
নিশ্চয়ই ফিকহ শাস্ত্র মর্যাদার দিক থেকে অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যা, গৌরবের দিক থেকে সর্বোচ্চ, সওয়াবের দিক থেকে মহানতম এবং উপকারের দিক থেকে সর্বাধিক ব্যাপক; কারণ এর মাধ্যমেই হালাল থেকে হারামকে জানা যায়, বিধানাবলির মধ্যে বৈধ ও নিষিদ্ধের পার্থক্য করা যায় এবং শরিয়তের রহস্য ও উদ্দেশ্যসমূহ সম্পর্কে অবগত হওয়া যায়।
এই বিদ্যা বহু শাখা ও বৈচিত্র্যপূর্ণ প্রকারভেদকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এর মধ্যে উপকারের দিক থেকে অন্যতম মহান, মর্যাদায় শ্রেষ্ঠ এবং উদ্ঘাটনের ক্ষেত্রে সূক্ষ্মতম হলো: পার্থক্য বিষয়ক বিদ্যা।
কারণ এর মাধ্যমে ফিকহ শাস্ত্রের হাকীকত ও উৎসস্থল, এর রহস্য ও ভিত্তি এবং এর হিকমত ও লক্ষ্যসমূহ সম্পর্কে অবগত হওয়া যায়। এর ফলে এটি অনুধাবন ও স্মরণে রাখায় পারদর্শিতা অর্জিত হয় এবং এর শাখা-প্রশাখা ও মাসআলাসমূহের মধ্যে মিল ও অমিলের দিকগুলো উপলব্ধি করা যায়। ফলে প্রতিটি শাখাকে তার মূলের সাথে যুক্ত করা যায় এবং সদৃশ বিষয়কে তার সদৃশ বিষয়টির বিধান প্রদান করা যায়; এভাবে এটি সাদৃশ্যপূর্ণ বিষয়গুলোকে একত্রিত করে এবং বৈসাদৃশ্যপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করে।
তাই অনেক আলেম (আল্লাহ তাঁদের ওপর রহম করুন) এই শাস্ত্রের গুরুত্বের প্রশংসা করেছেন, এর বিশাল উপকারিতা বর্ণনা করেছেন এবং একজন ফকীহর জন্য এটি জানা ও বোঝার অপরিহার্য প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট করেছেন।
আল্লামা তুফী হাম্বলী বলেছেন: (নিশ্চয়ই ‘ফাক’ বা পার্থক্য নিরূপণ হলো ফিকহ ও অন্যান্য বিদ্যার অন্যতম স্তম্ভ এবং সেগুলোর সামগ্রিক মূলনীতি। এমনকি একদল লোক বলেছেন: ফিকহ তো কেবল পার্থক্য ও সমন্বয় চেনার নাম)।
(খণ্ড: ১)
ঈদাহুদ দালাইলি ফিল ফারকি বাইনাল মাসাইল
(পৃষ্ঠা: ৬)
وقال العلامة الإسنوي الشافعي: (إن المطارحة بالمسائل ذوات المآخذ المؤتلفة المتفقة، والأجوبة المختلفة المفترقة، مما يثير أفكار الحاضرين في المسالك، ويبعثها على اقتناص أبكار المدارك، ويميز مواقع أقدار الفضلاء، ومواضع مجال العلماء) (1).
فلما لهذا الفن من أهمية جليلة، وفوائد عظيمة في مجال الدراسات الفقهية الشرعية، حرصت على أن أسهم بعمل علمي في هذا الفن من خلال هذه الأطروحة، فأطلعت في هذا الفن على مصنفات مخطوطة قيمة مفيدة، في المذاهب الأربعة، جديرة بأن تنال اهتمام الباحثين بالنشر والتحقيق، وكان من أميزها في نظري، وعليه وقع اختياري كتاب (إيضاح الدلائل في الفرق بين
المسائل) فرأيت أنه جدير بالعناية والتحقيق، وإبرازه للباحثين والدارسين، وكان من أهم ما دفعني إلى اختياره ما يأتي:
1 - مادة الكتاب العلمية، وأهميتها في مجال الدراسات الفقهية الشرعية.
2 - حسن عرض المصنف لمادة كتابه، وإيضاحه لها بأسلوب علمي رصين، مع غوص على معان دقيقة جليلة، واعتناء بالأدلة النقلية، واهتمام بها، وأمانة علمية متميزة، تضفي على الكتاب مزيدًا من العناية به، والإجلال لمؤلفه.
3 - اشتمال الكتاب على أبواب الفقه كلها تقريبًا.
4 - أنه من أوسع كتب الفروق الفقهية، إذ بلغت فروقه (825) فرقٍ.
5 - قلة المؤلفات في هذا الفن، وقلة المطبوع منها على وجه الخصوص، حيث لا أعرف منها سوى ثلاثة: فروق القرافي المالكي، وفروق
--------------------------------------------
আল্লামা আল-ইসনাওয়ী আশ-শাফিঈ বলেন: "এমন সব মাসআলা নিয়ে আলোচনা করা যেগুলোর উৎস অভিন্ন ও এক হলেও উত্তর ভিন্ন ভিন্ন ও স্বতন্ত্র; যা উপস্থিত ব্যক্তিদের চিন্তাধারাকে বিভিন্ন পথে উদ্দীপ্ত করে, সূক্ষ্ম জ্ঞান আহরণে তাদের অনুপ্রাণিত করে এবং গুণীজনদের মর্যাদার স্তর ও আলিমগণের বিচরণক্ষেত্রকে আলাদা করে চিনিয়ে দেয়।" (১)।
শরয়ী ফিকহী গবেষণার ক্ষেত্রে এই শাস্ত্রের এমন মহান গুরুত্ব এবং অপরিসীম উপকারিতা থাকায়, আমি এই অভিসন্দর্ভের মাধ্যমে এই শাস্ত্রে একটি জ্ঞানতাত্ত্বিক অবদান রাখার ব্যাপারে সচেষ্ট হই। আমি এই শাস্ত্রের ওপর চার মাযহাবের অনেক মূল্যবান ও উপকারী পাণ্ডুলিপি দেখেছি, যা প্রকাশনা ও তাহকীক (সম্পাদনা) করার মাধ্যমে গবেষকদের বিশেষ মনোযোগ পাওয়ার যোগ্য। আমার দৃষ্টিতে সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বিশিষ্ট এবং যার ওপর আমার পছন্দ স্থির হয়েছে, তা হলো ‘ঈযাহুদ দালা-ইল ফীল ফারকি বাইনাল মাসা-ইল’ নামক গ্রন্থটি। আমি মনে করেছি যে, এটি বিশেষ যত্ন ও তাহকীকের উপযুক্ত এবং গবেষক ও শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরার যোগ্য। এটি বেছে নেওয়ার পেছনে প্রধান কারণগুলো ছিল নিম্নরূপ:
১ - গ্রন্থের জ্ঞানগর্ভ বিষয়বস্তু এবং শরয়ী ফিকহী গবেষণার ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব।
২ - গ্রন্থকার কর্তৃক কিতাবের বিষয়বস্তু সুন্দরভাবে উপস্থাপন, মজবুত ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে এর ব্যাখ্যা প্রদান, সাথে গভীর ও সূক্ষ্ম অর্থের উন্মোচন, দলীল-প্রমাণের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ এবং অসাধারণ জ্ঞানগত সততা, যা গ্রন্থটির প্রতি বিশেষ যত্ন ও এর লেখকের প্রতি শ্রদ্ধাবোধকে বাড়িয়ে দেয়।
৩ - কিতাবটিতে ফিকহের প্রায় সকল অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত থাকা।
৪ - এটি ফিকহী পার্থক্য (ফুরুক) বিষয়ক গ্রন্থসমূহের মধ্যে অন্যতম বিস্তৃত গ্রন্থ, কেননা এর আলোচিত পার্থক্যের সংখ্যা (৮২৫)টি পর্যন্ত পৌঁছেছে।
৫ - এই শাস্ত্রে রচিত গ্রন্থের স্বল্পতা, বিশেষ করে মুদ্রিত গ্রন্থের অভাব; আমি এর মধ্যে মালিকী মাযহাবের আল-কারাফীর ‘আল-ফুরুক’ এবং... ছাড়া মাত্র তিনটি গ্রন্থ চিনি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ঈদাহুদ দালাইলি ফিল ফারকি বাইনাল মাসাইল
(পৃষ্ঠা: ৭)
الكرابيسي الحنفي، وعدة البروق في جمع ما في المذهب من الجموع والفروق للونشريسي المالكي.
6 - عدم وجود كتاب مطبوع في هذا الفن في مذهب الحنابلة، بل ولا مخطوط مكتمل، سوى هذا الكتاب على حد علمي.
هذا، ولما بدأت في تحقيق الكتاب واجهتني بعض الصعوبات التي كادت أن تثنيني عن المضي في إتمامه، ومواصلة العمل على تحقيقه، إلا أن الله تعالى أعانني على ذلك ويسر، ومنحني العزم على الاستمرار فيه، حتى تم تحقيق الكتاب بفضل الله وتوفيقه، وكان من أبرز تلك الصعوبات ما يأتي:
1 - عدم تمكني من الحصول إلا على نسخة واحدة، والعمل على نسخة واحدة فيه من المشقة والعناء ما لا يخفى على من مارس التحقيق واشتغل به، وبخاصة إذا لم تخل النسخة من تصحيف، وتحريف، وسقط، كما هو الحال في هذه النسخة - وقل أن تخلو نسخة مخطوطة من ذلك - مما جعلني أعاني في بعض الكلمات والمواضع التي حصل فيها شيء من ذلك معاناة شديدة في سبيل الوصول إلى معرفة صحة الكلمة، أو إتمام السقط الحاصل، وقد يستوقفني البحث عن ذلك في مصنفات الفقه الحنبلي، وغيرها من كتب فروق المذاهب الأخرى ساعات كثيرة، أو ربما أيامًا، حتى أصل إلى قرار تطمئن النفس إلى أنه هو المراد من كلام المصنف فأثبته.
ثم إنه بعد مضي أكثر من ثلاث سنوات من العمل في تحقيق الكتاب استطعت - بفضل الله وتوفيقه - أن أحصل على نسخ من فروق السامري (أصل الكتاب المحقق) فزال بذلك كثير من مواضع الإشكال، واطمئننت إلى صحة ما أثبته، مما حصل عندي فيه تردد في تلك المواضع المشكلة.
2 - أن من منهجي في تحقيق الكتاب توثيق مسائله وفروقه قدر الإمكان، وقد لاقيت في سبيل ذلك عناء ومشقة، وأخذ مني وقتًا طويلًا، وذلك لأن المصنف رحمه الله يورد مسائل دقيقة خفية لم أجدها عند غيره، إلا في أصل الكتاب (فروق السامري)، وليس من الممكن معرفة عدم وجودها في غيره إلا
হানাফি মাজহাবের আল-কারাবিসি এবং মালিকি মাজহাবের আল-ওয়ানশারিসি প্রণীত ‘উদ্দাতুল বুরুক ফি জাময়ি মা ফিল মাজহাবি মিনাল জুমুয়ি ওয়াল ফুরুক’।
৬ - আমার জানামতে, হাম্বলি মাজহাবে এই বিদ্যায় কোনো মুদ্রিত বই নেই, এমনকি কোনো পূর্ণাঙ্গ পাণ্ডুলিপিও নেই, কেবল এই বইটি ছাড়া।
অতঃপর, আমি যখন কিতাবটি সম্পাদনার কাজ শুরু করি, তখন আমাকে এমন কিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে যা আমাকে এর কাজ সম্পন্ন করা ও চালিয়ে যাওয়া থেকে প্রায় ফিরিয়েই দিচ্ছিল। তবে মহান আল্লাহ আমাকে এতে সাহায্য করেছেন ও সহজ করে দিয়েছেন এবং আমাকে এটি অব্যাহত রাখার দৃঢ় সংকল্প দান করেছেন। অবশেষে আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাওফিকে কিতাবটির সম্পাদনা সম্পন্ন হয়েছে। সেই সমস্যাগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল নিম্নরূপ:
১ - একটির বেশি পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ করতে না পারা। আর একটিমাত্র পাণ্ডুলিপি নিয়ে কাজ করার মধ্যে যে কষ্ট ও পরিশ্রম নিহিত রয়েছে, তা তাদের কাছে অস্পষ্ট নয় যারা পাণ্ডুলিপি সম্পাদনার চর্চা করেন ও এতে নিয়োজিত থাকেন। বিশেষ করে যখন সেই পাণ্ডুলিপিটি শব্দের বিকৃতি, পরিবর্তন ও কোনো অংশ বাদ পড়া থেকে মুক্ত না হয়—যেমনটি এই পাণ্ডুলিপির ক্ষেত্রে ঘটেছে (আর পাণ্ডুলিপি এসব থেকে মুক্ত হওয়া বিরল ঘটনা)। এর ফলে কিছু শব্দ ও স্থানে আমাকে অনেক কঠিন পরিশ্রম করতে হয়েছে যাতে করে শব্দের সঠিক রূপ জানা যায় অথবা বাদ পড়া অংশটি পূরণ করা যায়। কখনও কখনও হাম্বলি ফিকহের মূল গ্রন্থসমূহ এবং অন্যান্য মাজহাবের ‘ফুরুক’ বিষয়ক গ্রন্থগুলোতে এ সংক্রান্ত গবেষণায় আমার অনেক ঘণ্টা, এমনকি অনেক দিন ব্যয় হয়েছে, যতক্ষণ না আমি এমন কোনো সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পেরেছি যা আমাকে আশ্বস্ত করেছে যে গ্রন্থকার এটিই বুঝাতে চেয়েছেন, অতঃপর আমি তা সেখানে সাব্যস্ত করেছি।
অতঃপর কিতাবটি সম্পাদনার কাজে তিন বছরেরও বেশি সময় অতিবাহিত হওয়ার পর, আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাওফিকে আমি ‘ফুরুক আস-সামারি’র (সম্পাদিত কিতাবটির মূল উৎস) কিছু অনুলিপি সংগ্রহ করতে সক্ষম হই। ফলে অনেক জটিল স্থান সমাধান হয়ে যায় এবং যেসব সমস্যাপূর্ণ স্থানে আমার দ্বিধা ছিল, সেখানে আমি যা সাব্যস্ত করেছিলাম তার সঠিকতা সম্পর্কে আমি নিশ্চিত হয়েছি।
২ - কিতাবটি সম্পাদনার ক্ষেত্রে আমার পদ্ধতি ছিল এর মাসআলা ও পার্থক্যসমূহকে (ফুরুক) যথাসম্ভব মূল উৎস থেকে প্রামাণিক করা। এ পথে আমি অনেক কষ্ট ও পরিশ্রম করেছি এবং এটি আমার দীর্ঘ সময় নিয়েছে। কারণ গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ) এমন কিছু সূক্ষ্ম ও নিগূঢ় মাসআলা উল্লেখ করেছেন যা আমি মূল কিতাব (ফুরুক আস-সামারি) ব্যতীত অন্য কারও কাছে পাইনি। আর অন্য কোথাও তা না থাকা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয় কেবল...
(খণ্ড: ১)
ঈদাহুদ দালাইলি ফিল ফারকি বাইনাল মাসাইল
(পৃষ্ঠা: ৮)
بعد بحثها في كل ما توفر من كتب المذهب، كما أن بعض ما يورده من مسائل، مظنة لأن تذكر في عدة أبواب، وهذا يتطلب البحث عنها في عدد من الأبواب التي هي مظنة لذكرها فيها، ويكون ذلك بالبحث عنها في كل ما توفر من كتب المذهب المطبوعة - وهي كثيرة بحمد الله - ومن كتب مخطوطة أحيانًا، ثم بعد البحث الطويل قد أجد المسألة في عدد من المصادر، أو في مصدر واحد فأوثقها منه، أو ربما علقت عليها تعليقًا يسيرًا عند الحاجة إلى ذلك، وتارة أخرى وبعد البحث الطويل والجهد المضني لا أجد المسألة في أي كتاب من كتب المذهب، سوى أصل الكتاب (فروق السامري)، فالغالب أن مسائل الكتاب مذكورة فيه، فأوثقها منه، ولكن بعد أن لا أجدها في غيره، والقارئ ربما لا يدرك مدى ما بذل في سبيل ذلك من جهد وعناء، ووقت طويل، فيجد المسألة أمامه موثقة من كتاب أو كتب مشهورة، فيظن أن الاهتداء إليها أمر ميسور.
هذا، وقد اقتضى وضع الرسالة تقسيمها إلى قسمين، يسبقهما مقدمة:
* القسم الأول: الدراسة، ويشتمل على أربعة فصول.
* الفصل الأول: علم الفروق الفقهية.
* الفصل الثاني: عصر المؤلف.
* الفصل الثالث: حياة المصنف، وترجمة صاحب الأصل.
* الفصل الرابع: التعريف بكتاب إيضاح الدلائل في الفرق بين المسائل.
* القسم الثاني: التحقيق.
وقد أوضحت في مقدمة هذا القسم منهجي في تحقيق الكتاب، والخطوات التي سلكتها في ذلك.
فهذا عملي في الكتاب - بين يديك أيها القارئ الكريم - فما كان فيه من صواب فهو من فضل الله وتوفيقه، وما كان فيه من خطأ فهو مني، وجزى الله خيرًا من أبدى لي خطأً، أو أوضح لي عيبًا، وحسبي أني لم أدخر وسعًا في سبيل إظهار هذا العمل على أفضل صورة في مقدوري.
মাযহাবের লভ্য সকল কিতাব অনুসন্ধান করার পর, এবং তিনি যেসব মাসআলা উল্লেখ করেছেন তার মধ্যে কিছু এমন রয়েছে যা একাধিক অধ্যায়ে উল্লেখ করার অবকাশ রাখে। এর জন্য এমন একাধিক অধ্যায়ে সেগুলো তালাশ করার প্রয়োজন হয় যেখানে তা উল্লেখ করার সম্ভাবনা থাকে। আর তা মাযহাবের লভ্য সকল মুদ্রিত কিতাব—যা আল্লাহর প্রশংসায় সংখ্যায় অনেক—এবং কখনও পাণ্ডুলিপি থেকেও তালাশ করার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। অতঃপর দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর আমি হয়তো মাসআলাটি একাধিক উৎসে পাই, অথবা কোনো একটি উৎস থেকে পাই এবং সেখান থেকে তার উদ্ধৃতি প্রদান করি, অথবা প্রয়োজনবোধে কখনও তার ওপর সংক্ষিপ্ত টীকা প্রদান করি। আবার অনেক সময় দীর্ঘ অনুসন্ধান এবং কঠোর পরিশ্রমের পরও মূল কিতাব (ফুরুকুস সামিরী) ব্যতিরেকে মাযহাবের অন্য কোনো কিতাবে আমি মাসআলাটি খুঁজে পাই না। সাধারণত কিতাবটির মাসআলাগুলো এতেই বর্ণিত থাকে, তাই অন্য কোথাও না পেয়ে আমি তা থেকে এর উদ্ধৃতি দিই। পাঠক হয়তো এর পেছনে ব্যয় করা শ্রম, কষ্ট এবং দীর্ঘ সময়ের ব্যাপ্তি অনুধাবন করতে পারবেন না; তিনি হয়তো তার সামনে কোনো একটি প্রসিদ্ধ কিতাব বা একাধিক কিতাব থেকে উদ্ধৃত মাসআলাটি দেখে ভাববেন যে, এর সন্ধান পাওয়া খুবই সহজ বিষয় ছিল।
এই গবেষণাপত্রটির বিন্যাস একে একটি ভূমিকা ও দুটি অংশে বিভক্ত করার দাবি রাখে:
* প্রথম অংশ: গবেষণা; এটি চারটি অধ্যায় নিয়ে গঠিত।
* প্রথম অধ্যায়: ফিকহী পার্থক্য বিষয়ক জ্ঞান।
* দ্বিতীয় অধ্যায়: লেখকের সমসাময়িক কাল।
* তৃতীয় অধ্যায়: গ্রন্থকারের জীবন এবং মূল কিতাবের লেখকের জীবনী।
* চতুর্থ অধ্যায়: ইদাহুল দালা-ইল ফীল ফারকি বাইনাল মাসা-ইল কিতাবের পরিচিতি।
* দ্বিতীয় অংশ: সম্পাদনা।
আমি এই অংশের ভূমিকায় কিতাবটি সম্পাদনার ক্ষেত্রে আমার পদ্ধতি এবং অনুসৃত পদক্ষেপসমূহ স্পষ্ট করেছি।
হে সম্মানিত পাঠক, কিতাবটির ওপর এটিই আমার কাজ যা আপনার সামনে উপস্থিত। এতে যা সঠিক হয়েছে তা আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাওফীক, আর যা ভুল হয়েছে তা আমার পক্ষ থেকে। আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন যিনি আমার কোনো ভুল ধরিয়ে দেবেন বা কোনো ত্রুটি স্পষ্ট করে দেবেন। আমার সামর্থ্য অনুযায়ী এই কাজটিকে সর্বোত্তম রূপে উপস্থাপন করতে আমি কোনো শ্রমেরই ত্রুটি করিনি।
(খণ্ড: ১)
ঈদাহুদ দালাইলি ফিল ফারকি বাইনাল মাসাইল
(পৃষ্ঠা: ৯)
هذا واعترافًا بالفضل لأهله أسجل هنا جزيل شكري، ووافر تقديري لكل من أفادني في عملي في هذه الرسالة.
وأحق هؤلاء بالشكر والاعتراف له بالفضل بعد الله سبحانه وتعالى والدي الجليل الذي حرص على تربيتي وتوجيهي إلى تحصيل العلم الشرعي، وأفادني من علمه وتوجيهه الشيء الكثير، وفي هذه الرسالة على وجه الخصوص، فجزاه الله عني أحسن الجزاء، ومتعه بالصحة والعافية، وبارك في علمه وعمله.
ولشيخي الجليل الأستاذ الدكتور أحمد علي طه ريان شكري الجزيل، حيث أشرف على هذا الرسالة، ومنحني من وقته وتوجيهه شيئًا كثيرًا، فجزاه الله عني خير الجزاء.
كما أشكر كل من أفادني في هذه الرسالة من أساتذة وزملاء، وأخص بالذكر الدكتور سعود الثبيتي على تعاونه الكريم أثناء تحقيق الكتاب، ثم على تفضله بقراءة الكتاب قبيل طبعه، وإفادتي بملحوظات قيمة، كانت محل شكري وتقديري، وأخص أيضًا الأستاذ الدكتور حسين الجبوري، وشقيقي الدكتور عبد العزيز على ما لقيت منهم من إفادة وتعاون، ولجامعة أم القرى المباركة
ثنائي الكثير، وشكري الجزيل على ما تبذله من جهود مشكورة في سبيل العلم وطلابه، وأخص بالشكر المسؤولين في كلية الشريعة وقسم الدراسات العليا، ومركز إحياء التراث الإسلامي على ما يسروا من خدمات جليلة للعلم وطلابه.
وختامًا أسأل الله عز وجل أن يتقبل عملي هذا، وأن يجعله خالصًا لوجهه الكريم إنه سميع مجيب، وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين، وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
এটি গুণের অধিকারীকে স্বীকৃতি প্রদানের নিদর্শন স্বরূপ, আমি এখানে এই গবেষণাপত্রে আমার কাজে যারা আমাকে উপকৃত করেছেন তাদের প্রত্যেকের প্রতি আমার অশেষ কৃতজ্ঞতা ও গভীর প্রশংসা প্রকাশ করছি।
আর মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার পর কৃতজ্ঞতা ও স্বীকৃতি লাভের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি হকদার হলেন আমার সম্মানিত পিতা, যিনি আমাকে শরয়ী জ্ঞান অর্জনে লালন-পালন ও দিকনির্দেশনা প্রদানে সচেষ্ট ছিলেন এবং তাঁর জ্ঞান ও দিকনির্দেশনা থেকে আমাকে অনেক উপকৃত করেছেন, বিশেষত এই গবেষণাপত্রের ক্ষেত্রে। আল্লাহ তাঁকে আমার পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন, তাঁকে সুস্থতা ও নিরাপত্তা প্রদান করুন এবং তাঁর জ্ঞান ও কর্মে বরকত দান করুন।
আর আমার সম্মানিত শিক্ষক প্রফেসর ডক্টর আহমদ আলী ত্বহা রাইয়ানের প্রতি আমার অশেষ কৃতজ্ঞতা, যেহেতু তিনি এই গবেষণাপত্রটি তত্ত্বাবধান করেছেন এবং আমাকে তাঁর সময় ও দিকনির্দেশনা প্রচুর পরিমাণে প্রদান করেছেন। আল্লাহ তাঁকে আমার পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।
আমি আরও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি সেই সকল শিক্ষক ও সহকর্মীদের প্রতি যারা আমাকে এই গবেষণাপত্রে উপকৃত করেছেন। আমি বিশেষভাবে উল্লেখ করছি ডক্টর সাউদ আস-সুবাইতিকে, কিতাবটি তাহকীক করার সময় তাঁর মহানুভব সহযোগিতার জন্য, এবং মুদ্রণের পূর্বে কিতাবটি পাঠ করার সদয় সম্মতি ও মূল্যবান পর্যবেক্ষণ প্রদানের জন্য, যা আমার নিকট গভীর কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসার দাবিদার। আমি আরও বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ প্রফেসর ডক্টর হুসাইন আল-জুবুরী এবং আমার ভ্রাতা ডক্টর আব্দুল আজীজের প্রতি, তাঁদের থেকে প্রাপ্ত সহযোগিতা ও উপকারের জন্য। আর বরকতময় উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি—
—রইল আমার অশেষ প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা সেই সকল প্রশংসনীয় প্রচেষ্টার জন্য যা তারা ইলম ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ব্যয় করছে। আমি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি শরীআহ অনুষদ, উচ্চতর গবেষণা বিভাগ এবং ইসলামিক হেরিটেজ রিভাইভাল সেন্টারের দায়িত্বশীলদের, ইলম ও শিক্ষার্থীদের জন্য তাদের মহান সেবাসমূহ সহজ করার জন্য।
পরিশেষে, আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমার এই কর্মটি কবুল করেন এবং একে কেবল তাঁর সম্মানিত চেহারার জন্য নিবেদিত করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও দুআ কবুলকারী। আমাদের শেষ নিবেদন হলো, সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার ও সকল সাহাবীর ওপর।
(খণ্ড: ১)
ঈদাহুদ দালাইলি ফিল ফারকি বাইনাল মাসাইল
(পৃষ্ঠা: ১১)
القسم الأول
الدراسة
ويشتمل على أربعة فصول:
الفصل الأول: علم الفروق الفقهية.
الفصل الثاني: عصر المؤلف.
الفصل الثالث: حياة المؤلف، وترجمة صاحب الأصل.
الفصل الرابع: التعريف بكتاب إيضاح الدلائل في الفرق بين المسائل.
প্রথম অংশ
গবেষণা ও পর্যালোচনা
এটি চারটি পরিচ্ছেদের ওপর বিন্যস্ত:
প্রথম পরিচ্ছেদ: ফিকহী বৈসাদৃশ্য শাস্ত্র।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: গ্রন্থকারের সমকাল।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: গ্রন্থকারের জীবনচরিত এবং মূল গ্রন্থের লেখকের জীবনী।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: ‘ইযাহুদ দালা-ইল ফীল ফারকি বাইনাল মাসা-ইল’ কিতাবটির পরিচিতি।
(খণ্ড: ১)
ঈদাহুদ দালাইলি ফিল ফারকি বাইনাল মাসাইল
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الفصل الأول علم الفروق الفقهيةويشتمل على المباحث التالية:
المبحث الأول: تعريف الفروق.
المبحث الثاني: أهمية الفروق الفقهية.
المبحث الثالث: مبنى الفرق بين المسائل المتشابهة، وطريق إدراكه.
المبحث الرابع: نشأة الفروق الفقهية.
المبحث الخامس: المصنفات في الفروق الفقهية، ومناهجها.
প্রথম অধ্যায়: ফিকহি পার্থক্য শাস্ত্রএবং এটি নিম্নোক্ত পরিচ্ছেদসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: পার্থক্যের সংজ্ঞা।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ফিকহি পার্থক্যের গুরুত্ব।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সদৃশ মাসআলাসমূহের মধ্যে পার্থক্যের ভিত্তি এবং তা উপলব্ধির উপায়।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: ফিকহি পার্থক্যের উদ্ভব।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: ফিকহি পার্থক্য বিষয়ক রচনাবলি এবং সেগুলোর পদ্ধতি।
(খণ্ড: ১)
ঈদাহুদ দালাইলি ফিল ফারকি বাইনাল মাসাইল
(পৃষ্ঠা: ১৫)
المبحث الأول (*) تعريف الفروقتعريف الفروق لغة:
الفروق جمع فرق، وهو خلاف الجمع، يقال: فرق - بالتخفيف وبالتشديد - الشيء يفرقه فرقًا، إذا فصل أجزاءه.
وفرقت بين الحق والباطل: إذا فصلت (1).
وذهب بعض أهل اللغة إلى التفريق بين فَرَق - بالتخفيف - وفرَّق - بالتشديد - قال في المصباح المنير: (قال ابن الأعرابي: فَرَقت بين الكلامين فافترقا مخفف، وفرَّقت بين العبدين مثقل، فجعل المخفف في المعاني، والمثقل في الأعيان، والذي حكاه غيره: أنهما بمعنى، والتثقيل مبالغة) (2).
ونقل القرافي وجه التفريق بينهما عن بعض مشايخه قائلًا (إن كثرة الحروف عند العرب تقتضي كثرة المعنى، أو زيادته، أو قوته، والمعاني لطيفة
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: ফুরূক (পার্থক্যসমূহ)-এর সংজ্ঞাভাষাগত দিক থেকে ফুরূক-এর সংজ্ঞা:
ফুরূক হলো 'ফারক' শব্দের বহুবচন, যা 'জম' বা একত্রীকরণের বিপরীত। বলা হয়: 'ফারাকা' (হালকা উচ্চারণে) এবং 'ফাররাকা' (তাশদীদ বা দ্বিত্ব উচ্চারণে)—কোনো বস্তুকে সে পৃথক করল, যখন সে এর অংশসমূহকে বিচ্ছিন্ন করল।
এবং আমি সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করলাম: যখন আমি সেগুলোকে পৃথক করলাম (১)।
কোনো কোনো ভাষাবিদ 'ফারাকা' (হালকা উচ্চারণ) এবং 'ফাররাকা' (ভারী উচ্চারণ)-এর মধ্যে পার্থক্যের দিকে গিয়েছেন। 'আল-মিসবাহুল মুনীর' গ্রন্থে বলা হয়েছে: (ইবনুল আ’রাবী বলেছেন: আমি দুটি কথার মধ্যে পার্থক্য করলাম তখন সেগুলো পৃথক হলো—এটি হালকা উচ্চারণ; এবং আমি দুই দাসের মধ্যে পার্থক্য করলাম—এটি ভারী উচ্চারণ। ফলে তিনি হালকা উচ্চারণকে অর্থগত বিষয়ের জন্য এবং ভারী উচ্চারণকে দৃশ্যমান বস্তুর জন্য নির্ধারণ করেছেন। তবে অন্যরা যা বর্ণনা করেছেন তা হলো—উভয়টি একই অর্থে ব্যবহৃত হয়, আর ভারী উচ্চারণ আধিক্য বুঝানোর জন্য আসে) (২)।
আর আল-কারাফী তাঁর জনৈক শিক্ষকের নিকট থেকে এ দুটির মধ্যে পার্থক্যের দিকটি উল্লেখ করে বলেন: (নিশ্চয়ই আরবদের নিকট অক্ষরের আধিক্য অর্থের আধিক্য, বৃদ্ধি বা শক্তির দাবি রাখে; আর অর্থসমূহ সূক্ষ্ম...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ঈদাহুদ দালাইলি ফিল ফারকি বাইনাল মাসাইল
(পৃষ্ঠা: ১৬)
والأجسام كثيفة، فناسبها التشديد، وناسب المعاني التخفيف). ثم عقب على ذلك بقوله: (إنه قد وقع في كتاب الله تعالى خلاف ذلك. قال الله تعالى: {وَإِذْ فَرَقْنَا بِكُمُ الْبَحْرَ} (1) فخفف في البحر وهو جسم، وقال تعالى: {فَافْرُقْ بَيْنَنَا وَبَيْنَ الْقَوْمِ الْفَاسِقِينَ} (2) وجاء على القاعدة قوله تعالى: {وَإِنْ يَتَفَرَّقَا يُغْنِ اللَّهُ كُلًّا مِنْ سَعَتِهِ} (3) وقوله تعالى: {فَيَتَعَلَّمُونَ مِنْهُمَا مَا يُفَرِّقُونَ بِهِ بَيْنَ الْمَرْءِ وَزَوْجِهِ} (4) {تَبَارَكَ الَّذِي نَزَّلَ الْفُرْقَانَ عَلَى عَبْدِهِ} (5) ولا نكاد نسمع من الفقهاء إلا قولهم: ما الفارق بين المسألتين، ولا يقولون ما المفرق بينهما - بالتشديد) (6).
تعريف الفروق الفقهية اصطلاحًا:عرف السيوطي علم الفروق الفقهية بأنه:
(الفن الذي يذكر فيه الفرق بين النظائر المتحدة تصويرًا ومعنى، المختلفة حكمًا وعلة) (7).
وعرفه صاحب الفوائد الجنية بأنه:
(معرفة الأمور الفارقة بين مسألتين متشابهتين بحيث لا يسوى بينهما في الحكم) (8).
ويؤخذ على هذين التعريفين: أنهما تعريفان عامان، غير مانعين من دخول غير المعرف في التعرف، إذ يدخل ضمن هذا التعرف بيان الفروق بين المسائل المتشابهة في أي علم من العلوم، إذ ليس في التعريف ما يفيد تخصيص التفريق بين المسائل الفقهية.
--------------------------------------------
(এবং বস্তুসমূহ হলো স্থূল, তাই সেগুলোর ক্ষেত্রে দ্বিত্বকরণ বা তাশদীদ উপযুক্ত, আর অর্থগুলোর ক্ষেত্রে হালকা করা বা তাখফীফ উপযুক্ত)। এরপর তিনি এই বলে মন্তব্য করেছেন: (আল্লাহ তাআলার কিতাবে এর ব্যতিক্রমও ঘটেছে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর যখন আমি তোমাদের জন্য সমুদ্রকে দ্বিধাবিভক্ত করেছিলাম} (১) এখানে সমুদ্রের ক্ষেত্রে হালকা রূপ বা তাখফীফ ব্যবহার করা হয়েছে, অথচ সমুদ্র একটি বস্তু। আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {অতএব আপনি আমাদের ও এই পাপাচারী সম্প্রদায়ের মধ্যে পার্থক্য করে দিন} (২)। আর নিয়মানুযায়ী এসেছে আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর তারা উভয়ে যদি পৃথক হয়ে যায়, তবে আল্লাহ স্বীয় প্রাচুর্য দ্বারা প্রত্যেককে অভাবমুক্ত করবেন} (৩) এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: {অতঃপর তারা তাদের উভয়ের কাছ থেকে এমন কিছু শিখত, যা দ্বারা তারা স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাত} (৪) {পরম কল্যাণময় তিনি, যিনি তাঁর বান্দার প্রতি ফুরকান (পার্থক্যকারী কিতাব) অবতীর্ণ করেছেন} (৫)। আমরা ফকিহদের কাছ থেকে কেবল এই কথাই শুনতে পাই: এই দুই মাসআলার মধ্যে পার্থক্যকারী (ফারিদ) বিষয়টি কী, তাঁরা মুফাররিক (তাশদীদ বা দ্বিত্বকরণ সহকারে) বলেন না) (৬)।
পারিভাষিক অর্থে ফিকহি পার্থক্যের (ফুরুক আল-ফিকহিয়্যাহ) সংজ্ঞা:সুয়ূতী ফিকহি পার্থক্য বিষয়ক শাস্ত্রের সংজ্ঞা দিয়ে বলেছেন যে, এটি হলো:
(এমন এক শিল্প যেখানে এমন সব সদৃশ বিষয়ের পার্থক্য আলোচনা করা হয় যেগুলো চিত্রায়ন ও অর্থে এক হওয়া সত্ত্বেও বিধান এবং কারণের দিক থেকে ভিন্ন) (৭)।
এবং আল-ফাওয়ায়িদ আল-জানিয়্যাহ গ্রন্থের লেখক এর সংজ্ঞা দিয়েছেন এভাবে:
(দুটি সদৃশ মাসআলার মধ্যবর্তী পার্থক্যকারী বিষয়সমূহ জানা, যাতে করে বিধানের ক্ষেত্রে তাদের উভয়কে সমান গণ্য করা না হয়) (৮)।
এই দুটি সংজ্ঞার ওপর আপত্তি উত্থাপন করা হয় যে: সংজ্ঞা দুটি অতি সাধারণ, যা অ-সংজ্ঞায়িত বিষয়কে সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হওয়া থেকে বাধা প্রদান করে না (গাইরে মানি'), কারণ এই সংজ্ঞার অধীনে যে কোনো শাস্ত্রের সদৃশ মাসআলাগুলোর মধ্যবর্তী পার্থক্য বর্ণনাও অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। যেহেতু সংজ্ঞার মধ্যে এমন কিছু নেই যা কেবল ফিকহি মাসআলাগুলোর মধ্যে পার্থক্য নিরূপণকে নির্দিষ্ট করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ঈদাহুদ দালাইলি ফিল ফারকি বাইনাল মাসাইল
(পৃষ্ঠা: ১৭)
التعريف المختار:وقد حاولت تعريف علم الفروق الفقهية بتعريف جامع لأفراد المعرف، مانع من دخول غيره فيه، فعرفته بقولي:
(العلم ببيان الفرق بين مسألتين فقهيتين، متشابهتين صورة، مختلفتين حكمًا).
ويظهر أن التعريف من الوضوح بمكان، لا يحتاج معه إلى شرح، أو بيان.
মনোনীত সংজ্ঞা:আমি ফিকহী মাসআলাসমূহের বৈসাদৃশ্যের শাস্ত্রকে এমন এক সংজ্ঞার মাধ্যমে সংজ্ঞায়িত করার চেষ্টা করেছি যা সংজ্ঞায়িত বিষয়ের সমস্ত প্রকারকে অন্তর্ভুক্ত করে এবং অন্য বিষয়কে এতে প্রবেশ করতে বাধা দেয়। আমি একে নিম্নোক্তভাবে সংজ্ঞায়িত করেছি:
(এমন জ্ঞান যা বাহ্যিক অবয়বে সদৃশ কিন্তু বিধানে ভিন্ন—এমন দুটি ফিকহী মাসআলার মধ্যকার পার্থক্য বর্ণনা করে)।
এটা স্পষ্ট যে, সংজ্ঞাটি অত্যন্ত স্বচ্ছ, তাই এর জন্য কোনো ব্যাখ্যা বা বিশদ বিবরণের প্রয়োজন নেই।
(খণ্ড: ১)
ঈদাহুদ দালাইলি ফিল ফারকি বাইনাল মাসাইল
(পৃষ্ঠা: ১৮)
المبحث الثاني أهمية علم الفروق الفقهيةلعلم الفروق الفقهية أهمية كبيرة في مجال الدراسات الشرعية؛ لما فيه من الفوائد الجمة، والمنافع المتعددة.
إذ به يطَّلع الفقيه على حقائق الفقه ومداركه، وأسراره ومآخذه، ويتمهر في فهمه واستحضاره (1)، ويكون له بذلك ملكة فقهية تصقل فكره، وتشحذ ذهنه، وتساعده على التمييز بين المسائل المتشابهة، وإدراك ما بينها من وجوه الاتفاق والافتراق، فيكون بيانه لحكم المسألة على أسس واضحة، وبراهين ظاهرة، أقرب إلى إصابة الحق فيها، وأبعد عن الخطأ والزلل.
وقد بيَّن عدد من العلماء أهمية هذا الفن، وعظيم فائدته، ومدى حاجة الفقيه الماسة إلى معرفته وإدراكه، ويحسن الإشارة هنا إلى أقوال بعضهم في معرض الإشادة بهذا الفن وبيان أهميته.
فقد قال السامري في مقدمة فروقه في معرض ذكره للدوافع التي دفعته لتأليف كتابه: (ليتضح للفقيه طرق الأحكام، ويكون قياسه للفروع على الأصول متسق النظام، ولا يلتبس عليه طرق القياس، فيبني حكمه على غير أساس) (2).
وقال الطوفي: (إن الفرق من عمد الفقه وغيره من العلوم، وقواعدها الكلية. حتى قال قوم: إنما الفقه معرفة الجمع والفرق) (3).
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ফিকহি প্রভেদতত্ত্বের গুরুত্বশরয়ি গবেষণার ক্ষেত্রে ফিকহি প্রভেদতত্ত্ব বা ইলমুল ফুরুক আল-ফিকহিয়্যাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; কেননা এতে রয়েছে প্রচুর ফায়দা ও বহুমুখী উপকারিতা।
এর মাধ্যমে একজন ফকিহ ফিকহের প্রকৃত সত্য, উৎস, নিগূঢ় রহস্য ও মাকসাদ সম্পর্কে অবগত হতে পারেন। তিনি ফিকহ বুঝতে ও তা স্মরণে রাখতে পারদর্শী হয়ে ওঠেন (১), এবং এর মাধ্যমে তাঁর মধ্যে এমন এক ফিকহি প্রতিভা তৈরি হয় যা তাঁর চিন্তাধারাকে মার্জিত করে, মেধাকে শাণিত করে এবং সাদৃশ্যপূর্ণ মাসআলাগুলোর মধ্যে পার্থক্য করতে এবং সেগুলোর মধ্যকার মিল ও অমিলের দিকগুলো উপলব্ধি করতে সহায়তা করে। ফলে কোনো মাসআলার বিধান বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁর ভিত্তি হয় সুস্পষ্ট এবং দলিল হয় প্রকাশ্য, যা সত্যের অধিক নিকটবর্তী এবং ভুল ও বিচ্যুতি থেকে অনেক দূরে।
বহু আলেম এই বিদ্যার গুরুত্ব, এর মহান উপকারিতা এবং একজন ফকিহর জন্য এটি জানা ও উপলব্ধি করার একান্ত প্রয়োজনীয়তা বর্ণনা করেছেন। এই শিল্পের প্রশংসা ও এর গুরুত্ব বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁদের কয়েকজনের বক্তব্য এখানে উল্লেখ করা সমীচীন হবে।
আস-সামেরি তাঁর 'ফুরুক' গ্রন্থের ভূমিকায় বইটি রচনার পেছনে তাঁর যে প্রেরণা কাজ করেছে তা উল্লেখ করে বলেন: (যাতে ফকিহর কাছে বিধানের পথগুলো স্পষ্ট হয় এবং মূলনীতির ওপর শাখা-প্রশাখার কিয়াস বা অনুমান সুশৃঙ্খল হয়, আর কিয়াসের পদ্ধতিগুলো যেন তাঁর কাছে অস্পষ্ট না হয়ে যায়, যার ফলে তিনি ভিত্তিহীন কোনো কিছুর ওপর নিজের সিদ্ধান্ত প্রদান না করেন) (২)।
আত-তুফি বলেন: (প্রভেদতত্ত্ব বা 'ফারক' হলো ফিকহ ও অন্যান্য ইলমের অন্যতম স্তম্ভ এবং সেগুলোর সামগ্রিক মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত। এমনকি একদল লোক বলেছেন: ফিকহ তো হলো মূলত একত্রিতকরণ ও পৃথকীকরণ চেনার নাম) (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ঈদাহুদ দালাইলি ফিল ফারকি বাইনাল মাসাইল
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وقال الإسنوي: (إن المطارحة بالمسائل ذوات المآخذ المؤتلفة المتفقة، والأجوبة المختلفة المفترقة، مما يثير أفكار الحاضرين في المسالك، ويبعثها على اقتناص أبكار المدارك، ويميز مواقع أقدار الفضلاء، ومواضع مجال العلماء) (1).
وقال الزركشي في معرض بيانه لأنواع علم الفقه:
(والثاني: معرفة الجمع والفرق، وعليه جل مناظرات السلف حتى قال بعضهم: الفقه فرق وجمع) (2).
--------------------------------------------
আল-ইসনাবী বলেছেন: (পরস্পর সামঞ্জস্যপূর্ণ ও ঐক্যবদ্ধ উৎস এবং ভিন্নধর্মী ও স্বতন্ত্র উত্তর সংবলিত মাসআলাগুলো নিয়ে পরস্পর আলোচনা করা এমন একটি বিষয়, যা উপস্থিত ব্যক্তিদের চিন্তাধারাকে জ্ঞানতাত্ত্বিক পথে উদ্বেলিত করে, সূক্ষ্ম বুদ্ধি ও নবীন জ্ঞান অন্বেষণে তাদের উৎসাহিত করে এবং শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের যোগ্যতার অবস্থান ও আলেমদের বিচরণের ক্ষেত্রসমূহকে স্বতন্ত্রভাবে চিহ্নিত করে) (১)।
আর যারকাশী ফিকহ শাস্ত্রের প্রকারভেদ বর্ণনাকালে বলেছেন:
(এবং দ্বিতীয়টি হলো: সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য সম্পর্কে জ্ঞান রাখা, আর সালাফদের অধিকাংশ বিতর্ক এর ওপরই আবর্তিত হতো, এমনকি তাদের কেউ কেউ বলেছেন: ফিকহ হলো বৈসাদৃশ্য ও সাদৃশ্য নিরুপণের নাম) (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ঈদাহুদ দালাইলি ফিল ফারকি বাইনাল মাসাইল
(পৃষ্ঠা: ২০)
المبحث الثالث مبنى الفرق بين المسائل المتشابهة، وطريق إدراكهالتفريق في الحكم بين مسألتين متشابهتين إما أن يكون مبنيًا على نص ظاهر في التفريق بينهما (1)، كالتفريق بين بول الغلام، وبول الجارية، حيث ورد في الحديث الاكتفاء بنضح الأول، ووجوب غسل الثاني.
وإما أن يكون التفريق بينهم - وهو الغالب - مبنيًا على معنى مستنبط (2) يستند فيه أحيانًا إلى قاعدة أصولية (3)، أو إلى قاعدة فقهية (4).
وأما طريق إدراك الفرق بين المسألتين، فقد أوضح ذلك العلامة الطوفي الحنبلي، ولنفاسة كلامه رأيت نقله بحرفه، فقد قال رحمه الله بعد بيانه أهمية علم الفروق: (إن الأوصاف تنقسم في ذواتها إلى مناسب للحكم، وإلى طردي وهو ما ليس بمناسب، وفي أوضاعها من صور الأحكام إلى جامع وفارق، أي: أن الصورتين مثلًا تشترك في أوصاف تجمعهما، وتتميز بأوصاف يفارق
فيها بعضها بعضًا، إذا عرف هذا، فطريق النظر في الفرق: أن ينظر في الوصف الجامع والفارق، فيعتبر المناسب منهما، ويلغي الطردي بطريق تنقيح المناط أيهما كان، وقد يكونان مناسبين فيغلب أنسبهما، وقد يتجاذبان المناسبة، فيتجه الخلاف، فيقال مثلًا: الجامع بين الأب والأجنبي أنهما قاتلان، فما الفرق بينهما حتى قتل الأجنبي دون الأب؟ فيقال: وصف الأبوة،
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সদৃশ মাসআলাসমূহের মধ্যে পার্থক্যের ভিত্তি এবং তা উপলব্ধির পথদুটি সদৃশ মাসআলার বিধানের মধ্যে পার্থক্য করা হয় হয় তো তাদের মাঝে পার্থক্যের ব্যাপারে কোনো সুস্পষ্ট দলিলের (নস) ভিত্তিতে (১), যেমন শিশু ছেলের পেশাব এবং শিশু মেয়ের পেশাবের মধ্যে পার্থক্য। যেখানে হাদীসে প্রথমটির ক্ষেত্রে পানি ছিটিয়ে দেওয়াকে যথেষ্ট গণ্য করা হয়েছে এবং দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে ধৌত করা ওয়াজিব করা হয়েছে।
আর তাদের মধ্যে পার্থক্যের ভিত্তি—যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে হয়ে থাকে—হয় তো কোনো উদ্ভাবিত অর্থের (Ma’na Mustanbat) ওপর (২), যা কখনো কখনো কোনো উসূলি মূলনীতির (৩) ওপর অথবা কোনো ফিকহী মূলনীতির (৪) ওপর ভিত্তি করে হয়ে থাকে।
আর দুটি মাসআলার মধ্যে পার্থক্য উপলব্ধির পদ্ধতির বিষয়ে আল্লামা তুফী হাম্বলী বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন। তাঁর কথা অত্যন্ত মূল্যবান হওয়ায় আমি তা হুবহু উদ্ধৃত করা সমীচীন মনে করছি। ইলমুল ফুরূকের (পার্থক্য বিষয়ক জ্ঞান) গুরুত্ব বর্ণনা করার পর তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "বৈশিষ্ট্যসমূহ (আওসাফ) মূলগতভাবে বিধানের জন্য উপযুক্ত (মুনাসিব) এবং অপ্রাসঙ্গিক (তারদী—যা উপযুক্ত নয়)—এই দুই ভাগে বিভক্ত। আর বিধানের স্বরূপ অনুসারে সেগুলো ‘সমন্বয়কারী’ (জামি) এবং ‘পার্থক্যকারী’ (ফারিক) ভাগে বিভক্ত। অর্থাৎ, উদাহরণস্বরূপ দুটি বিষয় এমন কিছু বৈশিষ্ট্যে অংশীদার হয় যা তাদের একত্রিত করে, আবার এমন কিছু বৈশিষ্ট্য দ্বারা একে অপর থেকে পৃথক হয়
যাতে তাদের একটি অপরটি থেকে ভিন্ন হয়। এটি জানা হয়ে গেলে পার্থক্যের ক্ষেত্রে পর্যালোচনার পদ্ধতি হলো: সমন্বয়কারী বৈশিষ্ট্য এবং পার্থক্যকারী বৈশিষ্ট্যের দিকে লক্ষ্য করা। অতঃপর ‘তানকীহুল মানাত’ (কার্যকারণ পরিশোধন) পদ্ধতির মাধ্যমে সেগুলোর মধ্য থেকে যা উপযুক্ত তা গ্রহণ করা হবে এবং যা অপ্রাসঙ্গিক তা বর্জন করা হবে, তা যে কোনোটিই হোক না কেন। কখনো উভয় বৈশিষ্ট্যই উপযুক্ত হতে পারে, সেক্ষেত্রে যা অধিকতর উপযুক্ত তাকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। আবার কখনো উভয়ই উপযুক্ততার দাবি করতে পারে, ফলে সেখানে মতপার্থক্য সৃষ্টি হয়। উদাহরণস্বরূপ বলা হয়: পিতা এবং একজন অপরিচিত ব্যক্তির মধ্যে অভিন্ন বিষয় হলো যে তারা উভয়েই হত্যাকারী, তবে তাদের মধ্যে পার্থক্য কী যার কারণে অপরিচিত ব্যক্তিকে হত্যা করা হয় কিন্তু পিতাকে হত্যা করা হয় না? তখন বলা হয়: পিতৃত্বের বৈশিষ্ট্য..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ঈদাহুদ দালাইলি ফিল ফারকি বাইনাল মাসাইল
(পৃষ্ঠা: ২১)
فإنه أشد مناسبة لإسقاط القود من القتل لإثباته من جهة أن شفقة الأب تمنع عادة من تعمد قتل الولد، بخلاف الأجنبي فهذا تغليب أحد المناسبين فارقًا، وأما تغليبه جامعًا فهو: أنه لا فرق عندنا في قتل الأب ولده بين أن يضربه بسيف أو يرميه بسهم أو يذبحه، فإنه لا يقتل به تغليبًا للمعنى الجامع، وهو الإشفاق الوازع، وإلغاء للمعنى الفارق، وهو خصوصية الذبح، إذ هو بالنسبة
إلى الجامع المذكور طردي، ومالكٌ لما رأى خصوصية الذبح مناسبة للقود فرق بينهما؛ لأنه فيما سوى الذبح يحتمل أنه أراد ترويعه تأديبًا، فأفضى إلى قتله خطأ، بخلاف الذبح فإن احتمال التأديب فيه متلاش، وحينئذٍ يقال: قاتل متعمد، فوجب عليه القصاص كالأجنبي، ويلغو وصف الأبوة؛ لأنه وإن كان مناسبًا لعدم القود فمناسبة العمد المحض لإثباته ترجحت عليه.
وأما تقارب الجامع والفارق في المناسبة حتى يتجه الخلاف، فمثاله: إيجاب كفارة الصوم بالأكل، وإيجاب الزكاة في مال الصبي، أما في الصورة الأولى فمن اعتبر عموم إفساد الصوم أوجب الكفارة، وقال: مفسد للعبادة أشبه المجامع، ورأى خصوصية الجماع وصفا طرديًا ألغاه بتنقيح المناط.
ومن اعتبر خصوص الإفساد جعل الجماع فارقًا مؤثرًا بما سبق، فلم يثبت الحكم بدونه.
وأما في الثانية، فلأن بين الصبي والبالغ جامعًا وهو ملك النصاب الزكوي ملكًا تامًا، وهو مناسب لاشتراكهما في تعلق الزكاة بمالهما، وفارقًا وهو كون البالغ مكلفًا بالعبادات، والزكاة عبادة فلزمته، بخلاف الصبي، فمن اعتبر الجامع أوجب الزكاة في مال الصبي، ومن اعتبر الفارق أسقطها عنه.
وعلى هذا النمط تجري مسائل الأحكام في الجمع والفرق، وقد يظهر الفرق ويخفى ويتوسط، فيحتاج إلى نظر بحسبه في ذلك) (1).
--------------------------------------------
কেননা এটি হত্যার ক্ষেত্রে কিসাস রদ করার জন্য অধিক উপযোগী, তার বিপরীতে কিসাস সাব্যস্ত করার চেয়ে; এই দিক থেকে যে, পিতার মমতা সাধারণত সন্তানকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করা থেকে বিরত রাখে, যা পরকীয় ব্যক্তির বিপরীত। এটি হলো পার্থক্যকারী দুই উপযোগী বিষয়ের মধ্যে একটির প্রাধান্য দান। আর ঐক্যবদ্ধকারী হিসেবে প্রাধান্য দানের বিষয়টি হলো: আমাদের নিকট পিতার হাতে সন্তান হত্যার ক্ষেত্রে এটি কোনো পার্থক্য সৃষ্টি করে না যে, তিনি তাকে তলোয়ার দিয়ে আঘাত করেছেন নাকি তীর নিক্ষেপ করেছেন নাকি জবেহ করেছেন। কেননা ঐক্যবদ্ধকারী অর্থের (যা নিবৃত্তকারী মমতা) প্রাধান্য বিবেচনা করে এবং পার্থক্যকারী অর্থকে (যা জবেহ করার বৈশিষ্ট্য) বাতিল গণ্য করে এর কারণে পিতাকে হত্যা করা হবে না। কেননা এটি উল্লিখিত
ঐক্যবদ্ধকারী বিষয়ের তুলনায় অবান্তর (তোরদি)। ইমাম মালিক যখন জবেহ করার বৈশিষ্ট্যকে কিসাসের জন্য উপযোগী মনে করেছেন, তখন তিনি এই দুটির মধ্যে পার্থক্য করেছেন; কারণ জবেহ ব্যতীত অন্য ক্ষেত্রে সম্ভাবনা থাকে যে তিনি তাকে শিক্ষা প্রদানের উদ্দেশ্যে ভয় দেখাতে চেয়েছিলেন, যা শেষ পর্যন্ত ভুলবশত হত্যায় পর্যবসিত হয়েছে। জবেহ করার বিষয়টি এর বিপরীত, কারণ সেখানে শিক্ষা প্রদানের সম্ভাবনা বিলুপ্ত। এমতাবস্থায় বলা হবে: তিনি ইচ্ছাকৃত হত্যাকারী, ফলে পরকীয় ব্যক্তির ন্যায় তার ওপরও কিসাস ওয়াজিব হবে এবং পিতৃত্বের বৈশিষ্ট্যটি বাতিল হয়ে যাবে। কারণ যদিও এটি কিসাস না হওয়ার জন্য উপযোগী, কিন্তু নিছক ইচ্ছাকৃত হত্যার বিষয়টি কিসাস সাব্যস্ত করার জন্য তার ওপর প্রাধান্য পেয়েছে।
আর উপযোগিতার ক্ষেত্রে ঐক্যবদ্ধকারী ও পার্থক্যকারী বিষয়ের নিকটবর্তী হওয়ার উদাহরণ, যার ফলে মতপার্থক্যের সৃষ্টি হয়: পানাহারের মাধ্যমে রোজার কাফফারা ওয়াজিব হওয়া এবং শিশুর সম্পদে জাকাত ওয়াজিব হওয়া। প্রথম সুরত বা ক্ষেত্রে, যিনি রোজা নষ্ট হওয়ার সাধারণ বিষয়টিকে গণ্য করেছেন তিনি কাফফারা ওয়াজিব করেছেন এবং বলেছেন: এটি ইবাদত নষ্টকারী বিধায় সহবাসের সদৃশ। তিনি সহবাসের বৈশিষ্ট্যকে একটি অবান্তর (তোরদি) গুণ হিসেবে গণ্য করেছেন এবং 'তানকীহুল মানাত' বা কারণ বিশোধনের মাধ্যমে তা বাতিল করেছেন।
পক্ষান্তরে যিনি নষ্ট হওয়ার বিশেষ ধরণকে (সহবাস) গণ্য করেছেন, তিনি পূর্বোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে সহবাসকে একটি কার্যকর পার্থক্যকারী বিষয় হিসেবে স্থির করেছেন। ফলে এটি ব্যতীত তিনি বিধান (কাফফারা) সাব্যস্ত করেননি।
দ্বিতীয় ক্ষেত্রে (শিশুর জাকাত), শিশু এবং প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে একটি ঐক্যবদ্ধকারী বিষয় রয়েছে, আর তা হলো জাকাতের নিসাবের পূর্ণ মালিকানা। এটি উভয়ের সম্পদে জাকাত সংশ্লিষ্ট হওয়ার ক্ষেত্রে তাদের অংশীদারিত্বের জন্য উপযোগী। আর একটি পার্থক্যকারী বিষয় হলো প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি ইবাদতের জন্য আদিষ্ট (মুকাল্লাফ), আর জাকাত একটি ইবাদত, তাই এটি তার ওপর আবশ্যক হয়, যা শিশুর ক্ষেত্রে ভিন্ন। সুতরাং যিনি ঐক্যবদ্ধকারী বিষয়টিকে গণ্য করেছেন তিনি শিশুর সম্পদে জাকাত ওয়াজিব করেছেন, আর যিনি পার্থক্যকারী বিষয়টিকে গণ্য করেছেন তিনি তার ওপর থেকে এটি বাদ দিয়েছেন।
এই নিয়মেই সমন্বয় (জম্) ও পার্থক্যের (ফারক) ক্ষেত্রে আহকামের মাসআলাগুলো পরিচালিত হয়। কখনো পার্থক্য সুস্পষ্ট হয়, কখনো অস্পষ্ট থাকে, আবার কখনো মধ্যম পন্থায় থাকে। তাই এই ক্ষেত্রে সে অনুযায়ী পর্যালোচনার প্রয়োজন হয়। (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ঈদাহুদ দালাইলি ফিল ফারকি বাইনাল মাসাইল
(পৃষ্ঠা: ২২)
المبحث الرابع نشأة علم الفروق الفقهيةنشأت الفروق - بصفة عامة - في كل علم مع نشأة العلم ذاته، إذ ما من علم إلا ويقع بين بعض فروعه ومسائله تشابه قد يؤدي إلى التسوية بينها في الأحكام، مع وجود فارق مؤثر بينها قد يخفى، ولا يقف عليه إلا من تضلع في الفن وأدركه، وسبر غوره، وعرف أسراره ودقائقه، وكانت لديه ملكة ذهنية تساعده على ذلك، ثم إنه فيما يبدو لما كثرت مسائل الفروق في بعض العلوم، وخشية من وقوع التداخل بينها في الأحكام؛ أوجد ذلك في نفوس بعض العلماء البارزين في تلك العلوم الحاجة إلى إيضاحه وإبرازه بشكل مستقل كفن قائم بذاته، والتأليف فيه بمؤلفات خاصة ترسم قواعده، وتجمع مسائله، وتظهر فوائده، فوجدت مؤلفات في هذا الفن لفنون متعددة كاللغة (1)، والأصول (2)، وغيرها.
والفقه الإسلامي كغيره من العلوم، ظهرت الفروق فيه منذ نشأته، حيث
--------------------------------------------
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: ফিকহী পার্থক্যবিদ্যার উদ্ভবসাধারণভাবে বলতে গেলে, প্রতিটি শাস্ত্রের সাথেই সেই শাস্ত্রের পার্থক্যের (ফুরুক) ধারণাটির উদ্ভব ঘটে। কারণ এমন কোনো শাস্ত্র নেই যার শাখা ও মাসআলাসমূহের মধ্যে সাদৃশ্য বিদ্যমান নেই, যা হয়তো বিধানের ক্ষেত্রে সেগুলোর মাঝে সমতা আনয়নের দিকে ধাবিত করে; অথচ সেগুলোর মাঝে এমন প্রভাবশালী পার্থক্য বিদ্যমান থাকে যা অনেক সময় গোপন থাকে। আর কেবল সেই ব্যক্তিই এটি উপলব্ধি করতে পারেন যিনি উক্ত বিদ্যায় সুগভীর পাণ্ডিত্য অর্জন করেছেন, তা হৃদয়ঙ্গম করেছেন, এর গভীরতা পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং এর রহস্য ও সূক্ষ্ম বিষয়সমূহ সম্পর্কে অবগত হয়েছেন, আর তা অনুধাবনে যার যথাযথ মানসিক যোগ্যতা রয়েছে। অতঃপর যখন প্রতীয়মান হলো যে, কোনো কোনো শাস্ত্রে পার্থক্যের মাসআলাসমূহ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বিধানের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সংমিশ্রণের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তখন উক্ত শাস্ত্রসমূহের একদল বিশিষ্ট আলিমের অন্তরে একে একটি স্বতন্ত্র ও প্রতিষ্ঠিত বিদ্যা হিসেবে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলার এবং একে পৃথকভাবে প্রকাশ করার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হলো। তারা এ বিষয়ে এমন বিশেষ গ্রন্থ রচনার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন যা এর মূলনীতিসমূহ নির্ধারণ করবে, এর মাসআলাসমূহকে একত্রিত করবে এবং এর উপকারিতাগুলো প্রকাশ করবে। ফলে ভাষা (১), উসুল (২) এবং অন্যান্য বিষয়ের মতো একাধিক শাস্ত্রের ক্ষেত্রে এই বিদ্যায় অনেক গ্রন্থ রচিত হয়েছে।
অন্যান্য শাস্ত্রের মতো ইসলামী ফিকহ শাস্ত্রেও এর সূচনালগ্ন থেকেই পার্থক্যের বিষয়টি প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ঈদাহুদ দালাইলি ফিল ফারকি বাইনাল মাসাইল
(পৃষ্ঠা: ২৩)
ورد في نصوص الكتاب والسنة ما يشير إلى هذا الفن، ويدل على اعتبار الفرق، فالكتاب كقوله تعالى: {ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ قَالُوا إِنَّمَا الْبَيْعُ مِثْلُ الرِّبَا وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا} (1) فقد دلت هذه الآية على وجود التشابه بين البيع والربا في الصورة الظاهرة، إلا أن الله تعالى فرق بينهما في الحكم.
وأما السنة: فكقوله صلى الله عليه وسلم: "يغسل من بول الجارية، وينضح من بول الغلام" (2) ففي الحديث التفريق في الحكم بين شيئين متشابهين في الصورة الظاهرة.
وقد أدرك ذلك الفقهاء الأوائل من الصحابة والتابعين، ومن بعدهم من الأئمة المجتهدين، وتفطنوا إلى الفوارق المؤثرة بين كثير من المسائل المتشابهة، وما اختلافهم في أحكام كثير من المسائل الفقهية إلا نتيجة إدراك بعضهم فروقًا دقيقة، ومعاني خفية مؤثرة، لم يدركها البعض الآخر، أو لم يعتبرها مؤثرة في الحكم.
ومما يدل على ذلك أيضًا ما جاء في خطاب عمر بن الخطاب رضي الله عنه إلى أبي موسى الأشعري رضي الله عنه: (اعرف الأشباه والنظائر وقس الأمور عندك، فاعمد إلى أحبها إلى الله، وأشبهها بالحق فيما ترى. .) قال العلامة السيوطي
تعليقًا على هذا القول: (وفي قوله "فاعمد. . ." إشارة إلى أن من النظائر ما يخالف نظائره في الحكم لمدرك خاص به، وهو الفن المسمى بالفروق) (3).
وبالنظر في مصنفات الفقهاء الأوائل يجد المطالع لها التنبيه على المسائل المتشابهة، والتفريق بينها في الحكم واضحًا في تلك المصنفات، كالمدونة عن الإمام مالك، والأم للإمام الشافعي (4)، والمسائل المروية عن الإمام أحمد، ومن أقدم المصنفات التي ظهر ذلك فيها بكل وضوح: الجامع
--------------------------------------------
কুরআন ও সুন্নাহর ভাষ্যে এমন কিছু বিষয় এসেছে যা এই শাস্ত্রের দিকে ইঙ্গিত করে এবং পার্থক্যের (ফুরূক) নির্ভরযোগ্যতার প্রমাণ দেয়। কুরআনের দলিল যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তা এই কারণে যে, তারা বলেছিল: ক্রয়-বিক্রয় তো সুদের মতোই। অথচ আল্লাহ ক্রয়-বিক্রয়কে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন} (১)। এই আয়াতটি বাহ্যিক আকৃতিতে ক্রয়-বিক্রয় ও সুদের মধ্যে সাদৃশ্য থাকার প্রমাণ দেয়, তবে আল্লাহ তাআলা বিধানের ক্ষেত্রে এই দুটির মধ্যে পার্থক্য করেছেন।
আর সুন্নাহর ক্ষেত্রে: যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "কন্যাশিশুর প্রস্রাব ধুয়ে ফেলতে হয় এবং পুত্রশিশুর প্রস্রাবে পানি ছিটিয়ে দিতে হয়" (২)। এই হাদিসে বাহ্যিক আকৃতিতে সদৃশ দুটি বিষয়ের বিধানের মধ্যে পার্থক্য করা হয়েছে।
সাহাবী, তাবিঈ এবং তাঁদের পরবর্তী মুজতাহিদ ইমামগণের মধ্য থেকে পূর্ববর্তী ফকীহগণ এটি অনুধাবন করেছিলেন এবং তাঁরা অনেক সদৃশ মাসআলার মধ্যে প্রভাব বিস্তারকারী পার্থক্যগুলো উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন। অনেক ফিকহী মাসআলার বিধানে তাঁদের মতপার্থক্য মূলত তাঁদের কারো কারো সূক্ষ্ম পার্থক্য এবং প্রভাব বিস্তারকারী সূক্ষ্ম অর্থগুলো অনুধাবন করারই ফল, যা অন্য কেউ অনুধাবন করতে পারেননি অথবা বিধানের ক্ষেত্রে সেগুলোকে প্রভাবশালী মনে করেননি।
এর আরও একটি প্রমাণ হলো আবূ মূসা আশআরী রাদিয়াল্লাহু আনহুর প্রতি উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর চিঠিতে যা এসেছে: (সদৃশ ও সমজাতীয় বিষয়গুলো চিনুন এবং আপনার নিকট আসা বিষয়গুলোকে সেগুলোর সাথে তুলনা করুন। এরপর আপনার দৃষ্টিতে যা আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় এবং সত্যের সবচেয়ে নিকটবর্তী হয়, তা গ্রহণ করার সংকল্প করুন...) আল্লামা সুয়ূতী
এই উক্তির ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন: ("সংকল্প করুন..." এই কথার মধ্যে ইঙ্গিত রয়েছে যে, কিছু সদৃশ বিষয় এমন আছে যা তার সমজাতীয় বিষয়গুলোর বিধানের বিপরীত হয় বিশেষ কোনো কারণবশত; আর এটিই হচ্ছে সেই শাস্ত্র যাকে 'ফুরূক' বলা হয়) (৩)।
পূর্ববর্তী ফকীহগণের রচনাবলির দিকে দৃষ্টি দিলে পাঠক সেখানে সদৃশ মাসআলাগুলোর ব্যাপারে সতর্কতা এবং বিধানের ক্ষেত্রে সেগুলোর মধ্যকার পার্থক্য অত্যন্ত স্পষ্টভাবে দেখতে পাবেন। যেমন ইমাম মালিক থেকে বর্ণিত 'আল-মুদাওওয়ানা', ইমাম শাফিঈর 'আল-উম্ম' (৪) এবং ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত মাসআলাসমূহ। আর প্রাচীনতম যেসব গ্রন্থে এটি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে তা হলো: আল-জামি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ঈদাহুদ দালাইলি ফিল ফারকি বাইনাল মাসাইল
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الكبير للإمام محمد بن الحسن الشيباني إذ أن في طريقة عرضه للمسائل وبيان أحكامها، تنبيهًا على الفرق بين مسائله المتشابهة (1).
ثم إنه مع نشاط حركة التأليف في الفقه الإسلامي، وتعدد فروعه، وكثرة مسائل الفروق، أحس بعض الفقهاء بالحاجة إلى تدوين مسائل الفروق الفقهية في مدونات خاصة؛ ليكون ذلك أظهر في الإرشاد إليها، وأسهل في الحصول عليها، فبدأ التأليف في هذا الفن في نهاية القرن الثالث وأوائل الرابع الهجري، حينما ألف الإمام أحمد بن سريج الشافعي (ت 306 هـ) كتابه (الفروق)، كما ألف في نفس الفترة العلامة محمد بن صالح الكرابيسي الحنفي (ت 322 هـ) كتابه (الفروق) (2) ثم نشطت حركة
--------------------------------------------
ইমাম মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আশ-শায়বানীর আল-জামি আল-কাবীর; কেননা এতে মাসআলাসমূহ উপস্থাপনের পদ্ধতি এবং সেগুলোর বিধান বর্ণনার ক্ষেত্রে সদৃশ মাসআলাগুলোর মধ্যকার পার্থক্যের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে (১)।
অতঃপর ইসলামী ফিকহ শাস্ত্রে গ্রন্থ রচনার ধারা গতিশীল হওয়ার সাথে সাথে এর শাখা-প্রশাখার বিস্তার এবং পার্থক্য সংক্রান্ত মাসআলার আধিক্যের কারণে কিছু ফকীহ স্বতন্ত্র সংকলনে ফিকহী পার্থক্যের মাসআলাগুলো লিপিবদ্ধ করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন; যাতে করে তা সংশ্লিষ্ট বিষয়ের দিকনির্দেশনার ক্ষেত্রে অধিকতর স্পষ্ট এবং তা খুঁজে পাওয়া সহজতর হয়। ফলে এই শিল্পে গ্রন্থ রচনার সূচনা হয় তৃতীয় হিজরি শতাব্দীর শেষ দিকে এবং চতুর্থ হিজরি শতাব্দীর শুরুতে, যখন ইমাম আহমদ ইবনে সুরাইজ আশ-শাফিয়ী (ওফাত ৩০৬ হি.) তাঁর 'আল-ফুরূক' গ্রন্থটি রচনা করেন। অনুরূপভাবে একই সময়ে আল্লামা মুহাম্মদ ইবনে সালিহ আল-কারাবিসী আল-হানাফীও (ওফাত ৩২২ হি.) তাঁর 'আল-ফুরূক' গ্রন্থটি রচনা করেন (২)। অতঃপর এই ধারা আরও গতিশীল হয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ঈদাহুদ দালাইলি ফিল ফারকি বাইনাল মাসাইল
(পৃষ্ঠা: ২৫)
التأليف في هذا الفن في سائر المذاهب الفقهية، وأصبح في كل مذهب مؤلفات عديدة، منها ما ألف في هذا الفن استقلالًا، ومنها ما ألف فيه ضمن فنون أخرى من فروع علم الفقه، كما سيتضح ذلك من خلال العرض التالي للمصنفات في هذا الفن.
সমস্ত ফিকহী মাযহাবে এই শাস্ত্রের ওপর গ্রন্থনা করা হয়েছে এবং প্রতিটি মাযহাবে অসংখ্য গ্রন্থ রচিত হয়েছে। এগুলোর মধ্যে কোনোটি এই শাস্ত্রে স্বতন্ত্রভাবে সংকলিত হয়েছে, আবার কোনোটি ফিকহ শাস্ত্রের শাখা-প্রশাখার অন্তর্ভুক্ত অন্যান্য বিষয়ের অধীনে রচিত হয়েছে; যা এই শাস্ত্রের গ্রন্থসমূহের নিম্নোক্ত আলোচনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
(খণ্ড: ১)
ঈদাহুদ দালাইলি ফিল ফারকি বাইনাল মাসাইল
(পৃষ্ঠা: ২৬)
المبحث الخامس المصنفات في علم الفروق الفقهية ومناهجهاوبحتوي على مطلبين:
المطلب الأولالمصنفات في علم الفروق الفقهيةاهتم العلماء من مختلف المذاهب الأربعة بعلم الفروق الفقهية منذ العصور الإسلامية الأولى، وصنفوا فيه مصنفات عديدة، إما ضمنًا، أو استقلالًا، وقد رأيت ذكر ما وقفت عليه من هذه المصنفات، مع إعطاء وصف مختصر لما أمكن الإطلاع عليه منها، مرتبًا ذكرها حسب المذاهب الأربعة:
أولًا: المذهب الحنفي:1 - الفروق (1):
تأليف: محمد بن صالح الكرابيسي (ت 322 هـ)، رتب المصنف كتابه على أبواب الفقه، موردًا تحت كل باب طائفة من المسائل المتشابهة، موضحًا الفرق بين كل مسألتين متشابهتين، بأسلوب سهل، وعبارة واضحة.
--------------------------------------------
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: ফিকহী বৈসাদৃশ্য বিজ্ঞান এবং এর পদ্ধতিসমূহ বিষয়ক গ্রন্থাবলিএটি দুটি অনুচ্ছেদের ওপর বিন্যস্ত:
প্রথম অনুচ্ছেদফিকহী বৈসাদৃশ্য বিজ্ঞানের ওপর রচিত গ্রন্থাবলিইসলামের প্রাথমিক যুগ থেকেই চার মাযহাবের পণ্ডিতগণ ফিকহী বৈসাদৃশ্য বিজ্ঞানের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন এবং এ বিষয়ে স্বতন্ত্রভাবে অথবা আনুষঙ্গিকভাবে অনেক গ্রন্থ রচনা করেছেন। আমি এ বিষয়ে যা কিছু অবগত হতে পেরেছি, তা চার মাযহাব অনুযায়ী ধারাবাহিকভাবে এবং প্রাপ্ত তথ্যের সংক্ষিপ্ত বিবরণসহ এখানে উল্লেখ করছি:
প্রথমত: হানাফী মাযহাব:১ - আল-ফুরুক (১):
গ্রন্থকার: মুহাম্মদ ইবন সালিহ আল-কারাবিসি (মৃত্যু ৩২২ হি.)। লেখক তাঁর গ্রন্থটি ফিকহী অধ্যায়সমূহের বিন্যাস অনুযায়ী সাজিয়েছেন এবং প্রতিটি অধ্যায়ের অধীনে একগুচ্ছ সাদৃশ্যপূর্ণ মাসআলা উপস্থাপন করেছেন। তিনি অত্যন্ত সহজ শৈলী ও প্রাঞ্জল ভাষায় প্রতিটি সাদৃশ্যপূর্ণ দুটি বিষয়ের মধ্যকার পার্থক্য স্পষ্ট করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ঈদাহুদ দালাইলি ফিল ফারকি বাইনাল মাসাইল
(পৃষ্ঠা: ২৭)
2 - الأجناس والفروق (1):
تأليف: أحمد بن محمد الناطفي (ت 446 هـ).
3 - الفروق (2):
تأليف: أسعد بن محمد بن الحسين النيسابوري الكرابيسي (ت 570 هـ)، رتب المصنف كتابه على أبواب الفقه، موردًا تحت كل باب طائفة كثيرة من المسائل المتشابهة، موضحًا الفرق بين كل مسألتين متشابهتين، وقد يذكر أكثر من فرق بين المسألتين المتشابهتين، كما أنه ينص أحيانًا على الكتب التي نقل عنها المسألة، أو الفرق، وقد اشتمل الكتاب على (779) فرقٍ (3).
4 - تلقيح العقول في فروق النقول (4):
تأليف: أحمد بن عبيد الله بن إبراهيم المحبوبي (ت 630 هـ). رتب المصنف كتابه على أبواب الفقه، وسلك فيه منهج أسعد الكرابيسي في فروقه.
5 - الفروق (5):
تأليف: أحمد بن عثمان التركماني (744 هـ).
6 - الفروق (6):
تأليف: شيخ بايزيد بن إسرائيل بن حاجي داود مرغايتي. (فرغ من تأليفه سنة 802 هـ).
--------------------------------------------
২ - আল-আজনাস ওয়াল-ফুরুক (১):
রচনা: আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আন-নাতিফি (মৃ. ৪৪৬ হি.)।
৩ - আল-ফুরুক (২):
রচনা: আসআদ বিন মুহাম্মাদ বিন আল-হুসাইন আন-নাইসাবুরি আল-কারাবিসি (মৃ. ৫৭০ হি.)। গ্রন্থকার তার কিতাবটি ফিকহী অধ্যায়সমূহের বিন্যাসে সাজিয়েছেন, যেখানে প্রতিটি অধ্যায়ের অধীনে অনেকগুলো সাদৃশ্যপূর্ণ মাসআলা উল্লেখ করেছেন এবং প্রতিটি দুটি সাদৃশ্যপূর্ণ মাসআলার মধ্যবর্তী পার্থক্য স্পষ্ট করেছেন। কখনও কখনও তিনি দুটি সাদৃশ্যপূর্ণ মাসআলার মধ্যে একাধিক পার্থক্যও উল্লেখ করেছেন। যেমন তিনি মাঝেমধ্যে এমন কিতাবগুলোর নামও উল্লেখ করেছেন যেখান থেকে তিনি মাসআলা বা পার্থক্যটি উদ্ধৃত করেছেন। কিতাবটি (৭৭৯)টি পার্থক্যের ওপর সংবলিত (৩)।
৪ - তালকিহুল উকুল ফি ফুরুকিন নুকুল (৪):
রচনা: আহমাদ বিন উবাইদুল্লাহ বিন ইবরাহিম আল-মাহবুবি (মৃ. ৬৩০ হি.)। গ্রন্থকার তার কিতাবটি ফিকহী অধ্যায় অনুসারে বিন্যস্ত করেছেন এবং এতে তিনি আসআদ আল-কারাবিসির অনুসৃত পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন।
৫ - আল-ফুরুক (৫):
রচনা: আহমাদ বিন উসমান আত-তুর্কমানি (৭৪৪ হি.)।
৬ - আল-ফুরুক (৬):
রচনা: শাইখ বায়েজিদ বিন ইসরাইল বিন হাজি দাউদ মারগায়িতি। (৮০২ হিজরিতে এর রচনা সমাপ্ত হয়েছে)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ঈদাহুদ দালাইলি ফিল ফারকি বাইনাল মাসাইল
(পৃষ্ঠা: ২৮)
مؤلف صغير، سلك مؤلفه منهج أسعد الكرابيسي في فروقه، ونقل عنه عدة فصول، وأسلوب الكتاب ركيك، وفيه لكنة الأعاجم.
7 - تحرير الفروق (1):
تأليف: نجم الدين علي بن أبي بكر النيسابوري.
8 - الفروق (2):
تأليف: أحمد بن محمد الأردستاني.
مؤلف صغير، سلك فيه مؤلفه منهج أسعد الكرابيسي في فروقه.
9 - الفروق على مذهب أبي حنيفة (3):
لمؤلف مجهول.
مؤلف صغير، منهجه كالكتاب الذي قبله.
10 - الأشباه والنطائر (4):
تأليف: زين العابدين إبراهيم بن نجيم (ت 970 هـ).
جعل المؤلف قسمًا خاصًا من كتابه بفن الفروق، وهو الفن السادس، ذكر فيه طائفة من الفروق تحت عدة أبواب، نقلها من فروق المحبوبي، كما أشار هو إلى ذلك (5).
--------------------------------------------
এটি একটি ছোট রচনা, এর লেখক তার 'ফুরূক' (পার্থক্য) বর্ণনায় আসআদ আল-কারাবিসির পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন এবং তার থেকে বেশ কয়েকটি অধ্যায় নকল করেছেন। বইটির রচনাশৈলী দুর্বল এবং এতে অনারবীয় প্রভাব রয়েছে।
৭ - তাহরীরুল ফুরূক (১):
রচনা: নাজমুদ্দীন আলী বিন আবু বকর আন-নাইসাবুরী।
৮ - আল-ফুরূক (২):
রচনা: আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-আরদাস্তানি।
এটি একটি ছোট রচনা, এতে লেখক তার 'ফুরূক' বর্ণনায় আসআদ আল-কারাবিসির পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন।
৯ - আল-ফুরূক আলা মাযহাবি আবি হানিফা (৩):
লেখক অজ্ঞাত।
এটি একটি ছোট রচনা, এর বিন্যাস পদ্ধতি পূর্ববর্তী কিতাবটির মতো।
১০ - আল-আশবাহ ওয়ান নাজাইর (৪):
রচনা: যায়নুল আবিদীন ইবরাহীম বিন নুজাইম (মৃত্যু ৯৭০ হিজরি)।
লেখক তার কিতাবের একটি বিশেষ অংশকে ফুরূক শাস্ত্রের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন, যা ষষ্ঠ শিল্প (অধ্যায়)। এতে তিনি বিভিন্ন পরিচ্ছেদের অধীনে একগুচ্ছ ফুরূক উল্লেখ করেছেন, যা তিনি আল-মাহবুবির 'ফুরূক' থেকে গ্রহণ করেছেন, যেমনটি তিনি নিজেও সেদিকে ইঙ্গিত করেছেন (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ঈদাহুদ দালাইলি ফিল ফারকি বাইনাল মাসাইল
(পৃষ্ঠা: ২৯)
ثانيًا: المذهب المالكي:1 - الفروق في مسائل الفقه (1):
تأليف: القاضي عبد الوهاب بن نصر البغدادي (ت 422 هـ).
قال عنه الطوفي: (وهذا كتاب لطيف، لكنه كثير الفوائد) (2).
2 - النكت والفروق (3):
تأليف: أبي محمد عبد الحق بن محمد القرشي الصقلي (ت 466 هـ).
والكتاب مرتب على أبواب الفقه، فإذا وردت مسألة متشابهة مع غيرها في الظاهر، أوضح الفرق بينهما، وقد اعتمده ونقل عنه كثيرًا الونشريسي في فروقه (4).
3 - الفروق (5):
تأليف: مسلم بن علي بن عبد الله الدمشقي (من تلامذة القاضي عبد الوهاب).
4 - الفروق:
تأليف: أبي عبد الله محمد بن يوسف الأندلسي، الأنصاري، المالكي.
--------------------------------------------
দ্বিতীয়ত: মালিকি মাজহাব:১ - আল-ফুরুক ফি মাসাইলিল ফিকহ (১):
রচনা: কাজি আবদুল ওয়াহাব বিন নাসর আল-বাগদাদি (মৃত্যু ৪২২ হি.)।
তুফি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: (এটি একটি সূক্ষ্ম কিতাব, তবে এটি অনেক উপকারী) (২)।
২ - আন-নুকাওয়াত ওয়াল ফুরুক (৩):
রচনা: আবু মুহাম্মদ আবদুল হক বিন মুহাম্মদ আল-কুরাশি আস-সিকিল্লি (মৃত্যু ৪৬৬ হি.)।
কিতাবটি ফিকহের অধ্যায় অনুযায়ী বিন্যস্ত। বাহ্যিকভাবে কোনো মাসআলা অন্যটির সাথে সদৃশ মনে হলে, তিনি এ দুটির মধ্যকার পার্থক্য স্পষ্ট করেছেন। আল-ওয়ানশারিসি তাঁর 'ফুরুক' গ্রন্থে এটি প্রচুর পরিমাণে ব্যবহার করেছেন এবং এটি থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন (৪)।
৩ - আল-ফুরুক (৫):
রচনা: মুসলিম বিন আলি বিন আবদুল্লাহ আদ-দিমাশকি (কাজি আবদুল ওয়াহাবের ছাত্রদের অন্তর্ভুক্ত)।
৪ - আল-ফুরুক:
রচনা: আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আল-আন্দালুসি, আল-আনসারি, আল-মালিকি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ঈদাহুদ দালাইলি ফিল ফারকি বাইনাল মাসাইল
(পৃষ্ঠা: ৩০)
ذكره الطوفي وقال عنه: (وهو كتاب جامع، كثير الفوائد والمسائل) (1).
5 - عِدَةُ البروق في جمع ما في المذهب من الجموع والفروق (2):
تأليف: أبي العباس أحمد بن يحيى الونشريسي (ت 914 هـ).
رتب المصنف كتابه على أبواب الفقه معنونًا لها بقوله: "فروق كتاب الطهارة، فروق كتاب الصلاة. . وهكذا إلخ. . . وقد احتوى على (1155) فرقٍ.
والمصنف ينص غالبًا على من قال بحكم المسألة، وينسب الفروق إلى قائلها غالبًا، وقد يورد أكثر من فرق بين المسألتين المتشابهتين، كما أنه قد يذكر بعض القواعد الفقهية، موردًا بعض ما يندرج تحتها من مسائل فرعية (3).
6 - أنوار البروق في أنواء الفروق (المشهور بفروق القرافي) (4):
تأليف: أبي العباس أحمد بن إدريس القرافي (ت 684 هـ).
والكتاب في بيان الفروق بين القواعد الفقهية، وقد ذكر مؤلفه: أنه احتوى على (548) قاعدة، وأنه قد أوضح كل قاعدة بما يناسبها من الفروع (5)، وقد تضمن الكتاب بيان الفرق بين كثير من المسائل الفرعية الفقهية، كما قاله المصنف في مقدمته (6).
وقد نال هذا الكتاب اهتمام علماء المالكية، لما له من قيمة علمية كبيرة، فتوالى عليه عدة أعمال علمية من أشهرها:
--------------------------------------------
আত-তূফী এটি উল্লেখ করেছেন এবং এর সম্পর্কে বলেছেন: (এটি একটি সংকলিত গ্রন্থ, অনেক ফায়েদা ও মাসআলা সমৃদ্ধ) (১)।
৫ - ইদ্দাতুল বুরূক ফী জাময়ি মা ফিল মাযহাব মিনাল জুমুয়ি ওয়াল ফুরূক (২):
রচনায়: আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে ইয়াহইয়া আল-ওয়ানশারীসী (মৃত্যু ৯১৪ হিজরি)।
গ্রন্থকার তাঁর কিতাবটি ফিকহের অধ্যায় অনুযায়ী সাজিয়েছেন এবং সেগুলোর শিরোনাম দিয়েছেন এভাবে: "পবিত্রতা অধ্যায়ের পার্থক্যসমূহ, নামাজ অধ্যায়ের পার্থক্যসমূহ... এবং এভাবেই শেষ পর্যন্ত... এতে (১১৫৫)টি পার্থক্য রয়েছে।
গ্রন্থকার অধিকাংশ ক্ষেত্রে মাসআলার বিধান যারা প্রদান করেছেন তাদের নাম উল্লেখ করেন এবং পার্থক্যগুলোকে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাদের প্রবক্তার দিকে সম্বন্ধ করেন। তিনি দুটি সাদৃশ্যপূর্ণ মাসআলার মধ্যে একের অধিক পার্থক্যও উল্লেখ করে থাকেন। কখনো কখনো তিনি কিছু ফিকহি মূলনীতি উল্লেখ করেন এবং এর অধীনে অন্তর্ভুক্ত কিছু আনুষঙ্গিক মাসআলা বর্ণনা করেন (৩)।
৬ - আনওয়ারুল বুরূক ফী আনওয়াইল ফুরূক (যা আল-কারাফীর ফুরূক নামে পরিচিত) (৪):
রচনায়: আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে ইদরীস আল-কারাফী (মৃত্যু ৬৮৪ হিজরি)।
কিতাবটি ফিকহি মূলনীতিগুলোর মধ্যবর্তী পার্থক্য বর্ণনার বিষয়ে। এর লেখক উল্লেখ করেছেন যে, এটি (৫৪৮)টি মূলনীতি ধারণ করে এবং তিনি প্রতিটি মূলনীতিকে তার উপযোগী আনুষঙ্গিক মাসআলার মাধ্যমে স্পষ্ট করেছেন (৫)। গ্রন্থকার তার ভূমিকায় যেমনটি বলেছেন, কিতাবটিতে অনেক আনুষঙ্গিক ফিকহি মাসআলার মধ্যকার পার্থক্য বর্ণনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে (৬)।
এই কিতাবটি মালিকি আলেমদের ব্যাপক মনোযোগ লাভ করেছে এর বিশাল ইলমি মূল্যের কারণে। তাই একে কেন্দ্র করে একের পর এক ইলমি কাজ সম্পাদিত হয়েছে, যার মধ্যে প্রসিদ্ধগুলো হলো:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ঈদাহুদ দালাইলি ফিল ফারকি বাইনাল মাসাইল
(পৃষ্ঠা: ৩১)
أ - ترتيب فروق القرافي (1):
تأليف: محمد بن إبراهيم البقوري المالكي (ت 707 هـ).
ب - مختصر أنوار البروق في أنواء الفروق (2):
تأليف: شمس الدين محمد بن أبي القاسم الربعي، التونسي (ت 715 هـ).
ج - إدرار الشروق على أنواء الفروق (3):
تأليف: قاسم بن عبد الله الأنصاري المشهور بابن الشاط (ت 723 هـ).
وهو كتاب تعقب فيه مصنفه القرافي بالنقد والتصحيح، وقد اعتمده المالكية حتى قال التمبكتي: (عليك بفروق القرافي، ولا تقبل منها إلا ما قبله ابن الشاط) (4).
د - تهذيب الفروق والقواعد السنية في الأسرار الفقهية (5):
تأليف: محمد علي بن حسين المالكي. (ت 1367 هـ).
والكتاب تلخيص، وتهذيب، وترتيب، وتوضيح لفروق القرافي، مع مراعاة استدراكات ابن الشاط، كما نص على هذا مؤلفه (6).
7 - الإحكام في تمييز الفتاوى عن الأحكام وتصرفات القاضي والإمام:
تأليف: أبي العباس أحمد بن إدريس القرافي (7).
--------------------------------------------
ক - তারতিব ফুরুক আল-কারাফি (১):
রচনা: মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম আল-বাকুরি আল-মালিকি (মৃ. ৭০৭ হি.)।
খ - মুখতাসার আনওয়ারুল বুরুক ফি আনওয়াইল ফুরুক (২):
রচনা: শামসুদ্দিন মুহাম্মদ বিন আবি কাসিম আল-রিবয়ি, আল-তুনিসি (মৃ. ৭১৫ হি.)।
গ - ইদরারুশ শুরূক আলা আনওয়াইল ফুরুক (৩):
রচনা: কাসিম বিন আব্দুল্লাহ আল-আনসারী, যিনি ইবনে আশ-শাত নামে পরিচিত (মৃ. ৭২৩ হি.)।
এটি এমন একটি গ্রন্থ যাতে এর লেখক কারাফির সমালোচনা ও সংশোধন করেছেন। মালেকিরা এটিকে এতটাই নির্ভরযোগ্য মনে করেন যে আত-তাম্বাকতি বলেছেন: (তোমরা কারাফির ফুরুক গ্রহণ করো, তবে ইবনে আশ-শাত যা গ্রহণ করেছেন তা ব্যতীত এর কোনো অংশ গ্রহণ করো না) (৪)।
ঘ - তাহজিবুল ফুরুক ওয়াল কাওয়ায়িদুস সানিয়্যাহ ফিল আসরারিল ফিকহিয়্যাহ (৫):
রচনা: মুহাম্মদ আলি বিন হুসাইন আল-মালিকি। (মৃ. ১৩৬৭ হি.)।
বইটি কারাফির ফুরুক-এর সংক্ষেপণ, পরিমার্জন, বিন্যাস এবং ব্যাখ্যা, যেখানে ইবনে আশ-শাতের সংশোধনগুলোও বিবেচনায় রাখা হয়েছে, যেমনটি এর লেখক উল্লেখ করেছেন (৬)।
৭ - আল-ইহকাম ফি তামিযিল ফাতাওয়া আনিল আহকাম ওয়া তাসাররুফাতিল কাজি ওয়াল ইমাম:
রচনা: আবুল আব্বাস আহমদ বিন ইদ্রিস আল-কারাফি (৭)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ঈদাহুদ দালাইলি ফিল ফারকি বাইনাল মাসাইল
(পৃষ্ঠা: ৩২)
وقد رتبه مصنفه على طريقة السؤال والجواب، حيث اشتمل على أربعين سؤالاً، أوضح في إجاباتها أسرار الفروق بين الأحكام المذكورة (1).
8 - الفروق في الأحكام على مذهب المالكية:
لمؤلف مجهول (2).
وقد رتبه مصنفه على أبواب الفقه.
ثالثًا: المذهب الشافعي:1 - الفروق (3):
تأليف: أحمد بن عمر بن سريج الشافعي (ت 306 هـ).
2 - المسكت (4):
تأليف: الزبير بن أحمد بن سليمان بن عبد الله الزبيري (ت 317 هـ)
قال الإسنوي: (وهو مجلد عزيز الوجود)، وقد ذكر أنه اشتمل على فروق فقهية، وعلى فنون فقهية أخرى (5).
3 - المطارحات (6):
تأليف: أحمد بن محمد بن أحمد البغدادي، المعروف بابن القطان (ت 359 هـ).
--------------------------------------------
গ্রন্থকার এটি প্রশ্ন ও উত্তর পদ্ধতিতে বিন্যস্ত করেছেন, যেখানে চল্লিশটি প্রশ্ন রয়েছে। তিনি এগুলোর উত্তরে উল্লিখিত বিধানসমূহের মধ্যকার পার্থক্যের রহস্যসমূহ স্পষ্ট করেছেন (১)।
৮ - মালিকি মাযহাব অনুযায়ী বিধানসমূহের মধ্যকার পার্থক্য:
জনৈক অজ্ঞাত লেখকের (২)।
গ্রন্থকার এটি ফিকহের অধ্যায়সমূহের বিন্যাসে সাজিয়েছেন।
তৃতীয়ত: শাফিঈ মাযহাব:১ - আল-ফুরুক (৩):
রচনা: আহমদ বিন উমর বিন সুরাইজ আশ-শাফিঈ (মৃত্যু ৩০৬ হি.)।
২ - আল-মুসকিত (৪):
রচনা: আয-যুবাইর বিন আহমদ বিন সুলাইমান বিন আব্দুল্লাহ আয-যুবাইরি (মৃত্যু ৩১৭ হি.)
আল-ইসনাভি বলেছেন: (এটি একটি খণ্ড যা দুষ্প্রাপ্য), আর তিনি উল্লেখ করেছেন যে এটি ফিকহি পার্থক্য এবং ফিকহের অন্যান্য শাস্ত্রকে অন্তর্ভুক্ত করে (৫)।
৩ - আল-মুতারাহাত (৬):
রচনা: আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-বাগদাদি, যিনি ইবনুল কাত্তান নামে পরিচিত (মৃত্যু ৩৫৯ হি.)।
--------------------------------------------