(খণ্ড: ১) আল-মুনতাকা মিন মিনহাজিল ইতিদাল (পৃষ্ঠা: -)
المنتقى من منهاج الاعتدال   (شمس الدين الذهبي)

القسم: العقيدة


الكتاب: المنتقى من منهاج الاعتدال في نقض كلام أهل الرفض والاعتزال

المؤلف: شمس الدين أبو عبد الله محمد بن أحمد بن عثمان بن قَايْماز الذهبي (ت 748 هـ)

المحقق: محب الدين الخطيب [ت 1389 هـ]

عدد الصفحات: 562

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-মুনতাকা মিন মিনহাজিল ইতিদাল   (শামসুদ্দিন আদ-দাহাবি)

বিভাগ: আকিদাহ


গ্রন্থ: আল-মুনতাকা মিন মিনহাজিল ইতিদাল ফী নাকদি কালামি আহলির রাফদি ওয়াল ইতিজাল (শিয়া ও মুতাজিলাদের মতবাদ খণ্ডনে ভারসাম্যপূর্ণ পথের সারসংক্ষেপ)

লেখক: শামসুদ্দিন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন উসমান বিন কায়মাজ আদ-দাহাবি (মৃত্যু ৭৪৮ হিজরি)

সম্পাদক: মুহিব্বুদ্দিন আল-খাতিব [মৃত্যু ১৩৮৯ হিজরি]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৬২

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-মুনতাকা মিন মিনহাজিল ইতিদাল (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم

 

‌‌وَبِه نستعين

 

الْحَمد لله المنقذ من الضلال المرشد إِلَى الْحق

الْهَادِي من يَشَاء إِلَى صراطه الْمُسْتَقيم

أما بعد فَهَذِهِ فَوَائِد ونفائس اخترتها من كتاب منهاج الإعتدال فِي نقض كَلَام أهل الرَّفْض والإعتزال تأليف شَيخنَا الإِمَام الْعَالم أبي الْعَبَّاس أَحْمد بن تَيْمِية رَحمَه الله تَعَالَى

فَذكر أَنه أحضر إِلَيْهِ كتاب لبَعض الرافضة فِي عصرنا يَعْنِي ابْن المطهر
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

 

এবং আমরা তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করি

 

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি বিভ্রান্তি থেকে উদ্ধারকারী এবং সত্যের দিকে পথপ্রদর্শক।

যিনি যাকে ইচ্ছা তাঁর সরল পথের দিকে পরিচালিত করেন।

অতঃপর, এগুলো হলো কতিপয় ফায়দা ও মূল্যবান রত্ন যা আমি আমাদের শাইখ, ইমাম, বিজ্ঞ আলেম আবু আল-আব্বাস আহমাদ বিন তাইমিয়াহ (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) রচিত ‘মিনহাজুল ই’তিদাল ফি নাকদি কালামি আহলির রাফদি ওয়াল ই’তিযাল’ গ্রন্থ থেকে চয়ন করেছি।

তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর নিকট বর্তমান যুগের জনৈক রাফেযীর একটি কিতাব পেশ করা হয়েছিল, অর্থাৎ ইবনুল মুতাহহির।
(খণ্ড: ১) আল-মুনতাকা মিন মিনহাজিল ইতিদাল (পৃষ্ঠা: ১৮)
منفقا لهَذِهِ البضاعة يَدْعُو بهَا إِلَى مَذْهَب الإمامية أهل الْجَاهِلِيَّة مِمَّن قلت معرفتهم بِالْعلمِ وَالدّين

فصنفه للْملك الْمَعْرُوف الَّذِي سَمَّاهُ فِيهِ خدا بنده

فالأدلة إِمَّا نقلية

وَإِمَّا عقلية
এই মতবাদের প্রচারক হিসেবে তিনি এর মাধ্যমে জাহিলিয়াতপন্থী ইমামিয়্যাহ মাযহাবের দিকে আহ্বান জানাচ্ছেন, যাদের ইলম ও দীন সম্পর্কে জ্ঞান অতি নগণ্য।

অতঃপর তিনি এটি সেই সুপরিচিত বাদশাহর জন্য রচনা করেছেন, যাকে তিনি এতে ‘খোদাবান্দাহ’ নামে অভিহিত করেছেন।

সুতরাং প্রমাণসমূহ হয় বর্ণনাভিত্তিক

অথবা বুদ্ধিভিত্তিক।
(খণ্ড: ১) আল-মুনতাকা মিন মিনহাজিল ইতিদাল (পৃষ্ঠা: ১৯)
وَالْقَوْم من أكذب النَّاس فِي النقليات

وأجهل النَّاس فِي العقليات

وَلِهَذَا كَانُوا عِنْد الْعلمَاء أَجْهَل الطوائف وَقد دخل مِنْهُم على الدّين من الْفساد مَا لَا يُحْصِيه إِلَّا رب الْعباد

والنصيرية والإسماعيلية والباطنية من بابهم دخلُوا

وَالْكفَّار والمرتدة بطريقهم وصلوا

فاستولوا على بِلَاد الْإِسْلَام وَسبوا الْحَرِيم وسفكوا الدَّم الْحَرَام

وَهَذَا المُصَنّف سمى كِتَابه منهاج الْكَرَامَة فِي معرفَة الْإِمَامَة

والرافضة فقد
এই জাতি বর্ণিত জ্ঞানের ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে সর্বাপেক্ষা বড় মিথ্যাবাদী।

এবং যুক্তিভিত্তিক বিষয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি অজ্ঞ।

আর একারণেই আলেমদের নিকট তারা সকল গোষ্ঠীর মধ্যে সবচেয়ে মূর্খ দল হিসেবে গণ্য; এবং তাদের পক্ষ থেকে দ্বীনের মধ্যে এমন বিপর্যয় প্রবেশ করেছে যা বান্দাদের প্রতিপালক ছাড়া আর কেউ গণনা করতে পারবে না।

নুসাইরিয়া, ইসমাইলিয়া এবং বাতেনিয়ারা তাদের এই দরজা দিয়েই প্রবেশ করেছে।

আর কাফির ও মুরতাদরা তাদের পথ ধরেই পৌঁছেছে।

ফলে তারা মুসলিম ভূখণ্ডগুলো দখল করেছে, নারীদের বন্দি করেছে এবং নিষিদ্ধ রক্ত প্রবাহিত করেছে।

আর এই গ্রন্থকার তার কিতাবের নাম রেখেছেন ‘মিনহাজুল কারামাহ ফী মারিফাতিল ইমামাহ’।

আর রাফেজিরা মূলত
(খণ্ড: ১) আল-মুনতাকা মিন মিনহাজিল ইতিদাল (পৃষ্ঠা: ২০)
شابهوا الْيَهُود فِي الْخبث والهوى

وشابهوا النَّصَارَى فِي الغلو وَالْجهل

وَهَذَا المُصَنّف سلك مَسْلَك سلفه كإبن النُّعْمَان الْمُفِيد

والكراجكي

وَأبي الْقَاسِم الموسوي

والطوسي فَإِن الرافضة فِي الأَصْل لَيْسُوا أهل خبْرَة بطرِيق المناظرة وَمَعْرِفَة الْأَدِلَّة
তারা নীচতা ও প্রবৃত্তিপূজায় ইহুদিদের সদৃশ হয়েছে।

এবং তারা অতিরঞ্জন ও মূর্খতায় খ্রিস্টানদের সদৃশ হয়েছে।

আর এই গ্রন্থকার তার পূর্বসূরিদের পথ অনুসরণ করেছেন যেমন ইবনুন নুমান আল-মুফিদ

আল-কারাজাকি

আবুল কাসিম আল-মুসাভি

এবং আত-তুসি; কারণ মূলত রাফেজিরা বিতর্ক পদ্ধতি ও দলিল সম্পর্কে অভিজ্ঞ নয়।
(খণ্ড: ১) আল-মুনতাকা মিন মিনহাজিল ইতিদাল (পৃষ্ঠা: ২১)
وَمَا يدْخل فِيهَا من الْمَنْع والمعارضة

كَمَا أَنهم جهلة بالمنقولات

وَإِنَّمَا عمدتهم على تواريخ مُنْقَطِعَة الْإِسْنَاد

وَكثير مِنْهَا من وضع المعروفين بِالْكَذِبِ فيعتمدون على نقل أبي مخنف لوط بن يحيى وَهِشَام بن الْكَلْبِيّ

قَالَ يُونُس بن عبد الْأَعْلَى قَالَ أَشهب سُئِلَ مَالك رضي الله عنه عَن الرافضة فَقَالَ لَا تكلمهم وَلَا ترو عَنْهُم

فَإِنَّهُم يكذبُون

وَقَالَ حَرْمَلَة

سَمِعت الشَّافِعِي رضي الله عنه يَقُول لم أر أحدا أشهد بالزور من الرافضة
এবং এতে যা কিছু নিষেধ ও আপত্তির অন্তর্ভুক্ত হয়।

যেমন তারা বর্ণনাভিত্তিক জ্ঞান (মানকুলাত) সম্পর্কে অজ্ঞ।

তাদের মূল ভিত্তি হলো কেবল বিচ্ছিন্ন সনদবিশিষ্ট ইতিহাসের ওপর।

এবং এর মধ্যে অনেক কিছুই মিথ্যাবাদী হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের দ্বারা জালকৃত; ফলে তারা আবু মিখনাফ লুত বিন ইয়াহইয়া এবং হিশাম বিন আল-কালবির বর্ণনার ওপর নির্ভর করে।

ইউনুস বিন আব্দুল আ'লা বলেন, আশহাব বলেছেন: ইমাম মালিক (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-কে রাফেজিদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেছিলেন, "তোমরা তাদের সাথে কথা বলো না এবং তাদের থেকে কোনো বর্ণনা গ্রহণ করো না।"

কারণ তারা মিথ্যা বলে।

এবং হারমালা বলেন:

আমি ইমাম শাফেয়ী (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলতেন: "আমি রাফেজিদের চেয়ে অধিক মিথ্যা সাক্ষ্য দানকারী আর কাউকে দেখিনি।"
(খণ্ড: ১) আল-মুনতাকা মিন মিনহাজিল ইতিদাল (পৃষ্ঠা: ২২)
وَقَالَ مُؤَمل بن إهَاب سَمِعت يزِيد بن هَارُون يَقُول يكْتب عَن كل مُبْتَدع إِذا لم يكن دَاعِيَة إِلَّا الرافضة

فَإِنَّهُم يكذبُون

وَقَالَ مُحَمَّد بن سعيد الْأَصْفَهَانِي سَمِعت شَرِيكا يَقُول احْمِلْ الْعلم عَن كل من لَقيته إِلَّا الرافضة

فَإِنَّهُم يضعون الحَدِيث ويتخذونه دينا

وَقَالَ أَبُو مُعَاوِيَة سَمِعت الْأَعْمَش يَقُول أدْركْت النَّاس وَمَا يسمونهم إِلَّا الْكَذَّابين يَعْنِي أَصْحَاب الْمُغيرَة بن سعيد

ورد شَهَادَة من عرف بِالْكَذِبِ مُتَّفق عَلَيْهِ

وَمن تَأمل كتب الْجرْح وَالتَّعْدِيل رأى الْمَعْرُوف عِنْد مصنفيها بِالْكَذِبِ فِي الشِّيعَة أَكثر مِنْهُم فِي جَمِيع الطوائف

والخوارج مَعَ مروقهم من الدّين فهم من أصدق النَّاس
মুআম্মাল ইবনে ইহাব বলেন, আমি ইয়াজিদ ইবনে হারুনকে বলতে শুনেছি: প্রত্যেক বিদআতি থেকে (হাদিস) লিখে নেওয়া যাবে যদি সে তার বিদআতের দিকে আহ্বানকারী না হয়, তবে রাফেজিদের কথা ভিন্ন।

কেননা তারা মিথ্যা বলে।

মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ আল-আসফাহানি বলেন, আমি শারিককে বলতে শুনেছি: তুমি যার সাথেই সাক্ষাৎ করো তার থেকেই ইলম গ্রহণ করো, তবে রাফেজিদের থেকে নয়।

কেননা তারা হাদিস জাল করে এবং একেই নিজেদের ধর্ম হিসেবে গ্রহণ করে।

আবু মুআবিয়া বলেন, আমি আমাশকে বলতে শুনেছি: আমি লোকজনকে পেয়েছি যখন তারা তাদের 'চরম মিথ্যাবাদী' ছাড়া অন্য কিছু বলত না, অর্থাৎ মুগিরা ইবনে সাঈদের অনুসারীদের।

আর যার মিথ্যাচারিতা সুপরিচিত তার সাক্ষ্য প্রত্যাখ্যান করা একটি সর্বসম্মত বিষয়।

যে ব্যক্তি 'জারহ ও তাদিল' (হাদিস বর্ণনাকারীদের সমালোচনা ও মূল্যায়ন) বিষয়ক গ্রন্থসমূহ পর্যবেক্ষণ করবে, সে দেখতে পাবে যে এই শাস্ত্রের লেখকদের নিকট শিয়াদের মধ্যে মিথ্যাবাদী হিসেবে পরিচিতদের সংখ্যা অন্য সকল দলের তুলনায় অনেক বেশি।

আর খারিজিরা দ্বীন থেকে বিচ্যুত হওয়া সত্ত্বেও তারা মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সত্যবাদী।
(খণ্ড: ১) আল-মুনতাকা মিন মিনহাজিল ইতিদাল (পৃষ্ঠা: ২৩)
حَتَّى قيل إِن حَدِيثهمْ من أصح الحَدِيث

والرافضة يقرونَ بِالْكَذِبِ حَيْثُ يَقُولُونَ ديننَا التقية

وَهَذَا هُوَ النِّفَاق

ثمَّ يَزْعمُونَ أَنهم هم الْمُؤْمِنُونَ ويصفون السَّابِقين الْأَوَّلين بِالرّدَّةِ والنفاق فهم كَمَا قيل رمتني بدائها وانسلت
এমনকি বলা হয়েছে যে, তাদের বর্ণিত হাদিস সবচেয়ে বিশুদ্ধ হাদিসসমূহের অন্তর্ভুক্ত।

আর রাফেজিরা মিথ্যাচারকে স্বীকার করে নেয়, যেহেতু তারা বলে যে আমাদের দ্বীন হলো তাকিয়া।

আর এটিই হলো নিফাক।

অতঃপর তারা দাবি করে যে তারাই মুমিন, অথচ তারা প্রথম যুগের অগ্রবর্তীদের ধর্মত্যাগ ও নিফাকের গুণে চিত্রিত করে; সুতরাং তাদের দৃষ্টান্ত হলো যেমন প্রবাদে বলা হয়: "সে নিজের রোগ আমার ওপর চাপিয়ে দিয়ে নিজে সটকে পড়ল।"
(খণ্ড: ১) আল-মুনতাকা মিন মিনহাজিল ইতিদাল (পৃষ্ঠা: ২৪)
ثمَّ عمدتهم فِي العقليات الْيَوْم على كتب الْمُعْتَزلَة فوافقوهم فِي الْقدر وسلب الصِّفَات وَمَا فِي الْمُعْتَزلَة من يطعن فِي خلَافَة الشَّيْخَيْنِ

بل جمهورهم يعظمونهما ويفضلونهما

وَكَانَ متكلموا الشِّيعَة كهشام بن الحكم وَهِشَام الجواليقي وَيُونُس بن عبد الرَّحْمَن القمى يبالغون فِي إِثْبَات الصِّفَات ويجسمون
অতঃপর বর্তমানে বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়াবলিতে তাদের প্রধান নির্ভরতা হলো মুতাযিলাদের কিতাবসমূহের ওপর। ফলে তারা তাকদীর এবং সিফাত বা গুণাবলি অস্বীকারের ক্ষেত্রে তাদের সাথে ঐকমত্য পোষণ করেছে। আর মুতাযিলাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যে শায়খাইন (আবু বকর ও উমর)-এর খিলাফতের ব্যাপারে কটাক্ষ করে।

বরং তাদের অধিকাংশ তাঁদের উভয়কে সম্মান করে এবং তাঁদের শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করে।

আর শিয়া কালামশাস্ত্রবিদগণ যেমন হিশাম বিন আল-হাকাম, হিশাম আল-জাওয়ালিকী এবং ইউনুস বিন আবদুর রহমান আল-কুম্মী সিফাত বা গুণাবলি সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে অতিরঞ্জন করত এবং আল্লাহকে দেহধারী সাব্যস্ত (তাজসীম) করত।
(খণ্ড: ১) আল-মুনতাকা মিন মিনহাজিল ইতিদাল (পৃষ্ঠা: ২৫)
قَالَ المُصَنّف ابْن المطهر أما بعد فَهَذِهِ رِسَالَة شريفة ومقالة لَطِيفَة إشتملت على أهم المطالب فِي أَحْكَام الدّين وأشرف مسَائِل الْمُسلمين

وَهِي مَسْأَلَة الْإِمَامَة الَّتِي يحصل بِسَبَب إِدْرَاكهَا نيل دَرَجَة الْكَرَامَة

وَهِي أحد أَرْكَان الْإِيمَان الْمُسْتَحق بِسَبَبِهِ الخلود فِي الْجنان

فقد قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم من مَاتَ وَلم يعرف إِمَام زَمَانه مَاتَ ميتَة جَاهِلِيَّة خدمت بِهِ خزانَة السُّلْطَان الْأَعْظَم ملك مُلُوك طوائف الْعَرَب والعجم شاهنشاه غياث الْملَّة وَالدّين خدا بنده ورتبتها على فُصُول الأول فِي نقل الْمذَاهب فِي هَذِه الْمَسْأَلَة

الثَّانِي أَن مَذْهَب الإمامية وَاجِب الإتباع

الثَّالِث فِي الْأَدِلَّة على إِمَامَة عَليّ

الرَّابِع فِي الإثنى عشر

الْخَامِس فِي إبِْطَال خلَافَة أبي بكر وَعمر وَعُثْمَان رضي الله عنهم

فَيُقَال الْكَلَام على هَذَا من وُجُوه

فَقَوله إِن مَسْأَلَة الْإِمَامَة أهم المطالب كذب بِالْإِجْمَاع

إِذْ الْإِيمَان أهم فَمن الْمَعْلُوم بِالضَّرُورَةِ أَن الْكفَّار على عهد النَّبِي صلى الله عليه وسلم كَانُوا إِذا أَسْلمُوا أجْرى عَلَيْهِم أَحْكَام الْإِسْلَام وَلم تذكر لَهُم الْإِمَامَة بِحَال

فَكيف تكون أهم المطالب

أم كَيفَ يكون الْإِيمَان بإمامة مُحَمَّد بن الْحسن المنتظر من أَرْبَعمِائَة ونيف وَسِتِّينَ سنة ليخرج من سرداب سامراء أهم من الْإِيمَان بِاللَّه وَمَلَائِكَته وَكتبه وَرُسُله ولقائه

وَيُقَال للرافضة إِن كَانَ مَا بِأَيْدِيكُمْ كَافِيا فِي الدّين فَلَا حَاجَة إِلَى المنتظر وَإِن لم يكن كَافِيا فقد أقررتم بِالنَّقْصِ والشقاء حَيْثُ كَانَت سعادتكم مَوْقُوفَة على أَمر آمُر لَا تعلمُونَ بِمَاذَا أَمر

وَكَانَ ابْن الْعود الحلى يَقُول إِذا اخْتلفت الإمامية على قَوْلَيْنِ أَحدهمَا يعرف قَائِله وَالْآخر لَا يعرف قَائِله فَالْقَوْل الَّذِي لَا يعرف قَائِله هُوَ الْحق لِأَن المنتظر الْمَعْصُوم فِي تِلْكَ الطَّائِفَة فَأنْظر إِلَى هَذَا الْجَهْل فَإِنَّهُ بِتَقْدِير وجود المنتظر لَا يعلم أَنه قَالَ ذَلِك القَوْل

وَلم يَنْقُلهُ عَنهُ أحد فَمن أَيْن نجزم بِأَنَّهُ قَوْله فَأصل دين هَؤُلَاءِ مبْنى على مَجْهُول ومعدوم

فالمقصود من الإِمَام طَاعَة أمره وَلَا سَبِيل إِلَى معرفَة أمره فَلَا فَائِدَة فِيهِ أصلا لَا بعقل وَلَا بِنَقْل

فأوجبوا وجود المنتظر وعصمته

قَالُوا لِأَن مصلحَة الدّين وَالدُّنْيَا لَا تحصل إِلَّا بِهِ وهم فَمَا حصلت لَهُم بالمنتظر مصلحَة قطّ

وَالَّذين أنكروه لم تفتهم مصلحَة فِي الدّين وَلَا فِي الدُّنْيَا وَللَّه الْحَمد
গ্রন্থকার ইবনুল মুতাহহার বলেন: পরম করুণাময় আল্লাহর নামে শুরু করছি। অতঃপর, এটি একটি মর্যাদাপূর্ণ রিসালাহ এবং সূক্ষ্ম প্রবন্ধ যা দ্বীনের বিধানসমূহের মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলী এবং মুসলমানদের শ্রেষ্ঠতম মাসআলাগুলো অন্তর্ভুক্ত করে।

আর তা হলো ইমামতের মাসআলা, যা উপলব্ধি করার মাধ্যমে মর্যাদার স্তরে পৌঁছানো সম্ভব হয়।

এটি ঈমানের অন্যতম রুকন, যার কারণে জান্নাতে চিরস্থায়ী হওয়া নিশ্চিত হয়।

কেননা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, "যে ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করল অথচ তার সময়ের ইমামকে চিনল না, সে জাহেলিয়াতের মৃত্যু বরণ করল।" আমি এটি সুলতানে আযম, আরব ও অনারবের বিভিন্ন গোত্রের সম্রাট, শাহানশাহ গিয়াসুল মিল্লাত ওয়া দ্বীন খোদা বান্দাহর পাঠাগারের খিদমতে পেশ করেছি এবং একে কয়েকটি পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত করেছি। প্রথম: এই মাসআলায় বিভিন্ন মতবাদের বর্ণনা।

দ্বিতীয়: ইমামীয়া মাযহাব অনুসরণ করা ওয়াজিব।

তৃতীয়: আলীর ইমামতের স্বপক্ষে দলিলসমূহ।

চতুর্থ: বারোজন ইমাম প্রসঙ্গে।

পঞ্চম: আবু বকর, উমর ও উসমানের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) খিলাফত বাতিলের বিষয়ে।

এর উত্তরে বিভিন্ন দিক থেকে আলোচনা করা হলো:

তার এই দাবি যে, ইমামতের মাসআলা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—তা সর্বসম্মতিক্রমে একটি মিথ্যা কথা।

কেননা ঈমানই হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটি দ্বীনের অকাট্য বিষয় হিসেবে সুপরিচিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে কাফেররা যখন ইসলাম গ্রহণ করত, তখন তাদের ওপর ইসলামের বিধানসমূহ প্রয়োগ করা হতো এবং তাদের কাছে কোনো অবস্থাতেই ইমামতের কথা উল্লেখ করা হতো না।

সুতরাং এটি কীভাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে?

অথবা মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আল-মুনতাজার (প্রতীক্ষিত)—যিনি চারশ ষাটেরও বেশি বছর আগে সামাররার ভূগর্ভস্থ কক্ষে আত্মগোপন করেছেন—তার ইমামতের প্রতি ঈমান আনা কীভাবে আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাকুল, কিতাবসমূহ, রাসূলগণ এবং পরকালের সাক্ষাতের প্রতি ঈমানের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে?

রাফেজীদের বলা হবে: তোমাদের হাতে যা আছে তা যদি দ্বীনের জন্য যথেষ্ট হয়, তবে এই 'প্রতীক্ষিত ইমামের' কোনো প্রয়োজন নেই। আর যদি তা যথেষ্ট না হয়, তবে তোমরা মূলত নিজেদের অপূর্ণতা ও দুর্ভাগ্যের কথাই স্বীকার করে নিলে; কারণ তোমাদের মুক্তি ও সৌভাগ্য এমন একজনের নির্দেশের ওপর নির্ভরশীল হয়ে আছে, যার সম্পর্কে তোমরা জানোই না যে তিনি কী নির্দেশ দিয়েছেন।

ইবনুল আউদ আল-হিল্লি বলতেন: যখন ইমামীয়াদের মধ্যে দুটি মত নিয়ে মতভেদ তৈরি হয়, যার একটির প্রবক্তা পরিচিত এবং অন্যটির প্রবক্তা অপরিচিত, তখন যে মতের প্রবক্তা অপরিচিত সেটিই সত্য; কারণ সেই অজানা পক্ষের মধ্যেই 'প্রতীক্ষিত নিষ্পাপ ইমাম' অবস্থান করছেন। এই মূর্খতা লক্ষ্য করুন! কেননা সেই প্রতীক্ষিত ব্যক্তির অস্তিত্ব ধরে নিলেও তো এটি জানার কোনো উপায় নেই যে তিনি ওই কথাটি বলেছেন।

কেউ তো তার কাছ থেকে এটি বর্ণনা করেনি, তাহলে আমরা কীভাবে নিশ্চিত হব যে এটি তার কথা? সুতরাং তাদের দ্বীনের মূলভিত্তিই হলো অজ্ঞাত এবং অস্তিত্বহীন বিষয়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত।

মূলত ইমামের উদ্দেশ্যই হলো তার নির্দেশের আনুগত্য করা, অথচ তার নির্দেশ জানারই কোনো পথ নেই। সুতরাং যুক্তি বা বর্ণনা কোনো দিক থেকেই এর কোনো সার্থকতা নেই।

অতঃপর তারা প্রতীক্ষিত ইমামের অস্তিত্ব ও তার নিষ্পাপ হওয়াকে আবশ্যক করে নিয়েছে।

তারা বলে: দ্বীন ও দুনিয়ার কল্যাণ তাকে ছাড়া অর্জিত হওয়া সম্ভব নয়। অথচ এই প্রতীক্ষিত ব্যক্তির মাধ্যমে তাদের কোনো কল্যাণই কখনও অর্জিত হয়নি।

পক্ষান্তরে যারা তাকে অস্বীকার করেছে, দ্বীন বা দুনিয়ার কোনো কল্যাণই তাদের হাতছাড়া হয়নি, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ১) আল-মুনতাকা মিন মিনহাজিল ইতিদাল (পৃষ্ঠা: ২৬)
فَإِن قُلْتُمْ إيمَاننَا بِهِ كَإِيمَانِ كثير من الصَّالِحين والزهاد بإلياس وَالْخضر والغوث والقطب مِمَّن لَا يعرف وجودهم وَلَا أَمرهم وَلَا نهيهم

قُلْنَا لَيْسَ الْإِيمَان بوجودهم وَاجِبا عِنْد أحد من الْعلمَاء فَمن أوجب الْإِيمَان بوجودهم كَانَ قَوْله مردودا كقولكم وَغَايَة مَا يَقُوله الزهاد فِي أُولَئِكَ أَن الْمُصدق بوجودهم أكمل وَأفضل مِمَّن يُنكر وجودهم وَمَعْلُوم بالإضطرار من الدّين أَن نَبِي الله صلى الله عليه وسلم لم يشرع لأمته التَّصْدِيق بِوُجُود هَؤُلَاءِ

فَأَما من زعم أَن القطب أَو الْغَوْث هُوَ الَّذِي يمد أهل الأَرْض فِي هدَاهُم ونصرهم ورزقهم وَأَن هَذِه الْأُمُور لَا تصل إِلَى أحد من أهل الأَرْض إِلَّا بواسطته فَهَذَا ضال يشبه قَوْله قَول النَّصَارَى فِي الْبَاب وَهَذَا كَمَا قَالَ بعض الجهلة فِي النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَفِي شيوخهم أَن علم أحدهم ينطبق على علم الله وَقدرته فَيعلم مَا يُعلمهُ الله وَيقدر مَا يقدره الله

ثمَّ الَّذِي عَلَيْهِ الْمُحَقِّقُونَ أَن الْخضر وإلياس مَاتَا

وَلَقَد خلا بِي بعض الإمامية وَطلب أَن أَتكَلّم مَعَه فقررت لَهُ قَوْلهم من أَن الله تَعَالَى أَمر الْعباد ونهاهم فَيجب أَن يفعل بهم اللطف وَالْإِمَام لطف لِأَن النَّاس إِذا كَانَ لَهُم إِمَام يَأْمُرهُم بِالْوَاجِبِ وينهاهم عَن الْقَبِيح كَانُوا أقرب إِلَى فعل الْمَأْمُور فَيجب أَن يكون لَهُم إِمَام وَلَا بُد أَن يكون مَعْصُوما ليحصل الْمَقْصُود بِهِ

وَلم تدع الْعِصْمَة لأحد بعد الرَّسُول صلى الله عليه وسلم إِلَّا لعَلي فَتعين أَن يكون إِيَّاه للْإِجْمَاع على أَن غَيره لَيْسَ بمعصوم وَعلي قد نَص على الْحسن وَالْحسن على الْحُسَيْن رضي الله عنهم إِلَى أَن انْتَهَت النّوبَة إِلَى مُحَمَّد بن الْحسن المنتظر

فاعترف بِأَن هَذَا تَقْرِير جيد
যদি তোমরা বলো যে, তাঁর প্রতি আমাদের ঈমান হলো ইলিয়াস, খিজির, গাওস এবং কুতুবের প্রতি অনেক নেককার ও দুনিয়াবৈরাগীদের ঈমানের মতো, যাদের অস্তিত্ব, আদেশ বা নিষেধ সম্পর্কে কিছুই জানা যায় না।

আমরা বলব, আলেমদের কারো মতেই তাদের অস্তিত্বের প্রতি ঈমান আনা ওয়াজিব নয়। সুতরাং যে ব্যক্তি তাদের অস্তিত্বের প্রতি ঈমান আনাকে ওয়াজিব মনে করে, তার কথা তোমাদের কথার মতোই প্রত্যাখ্যাত। আর ঐ ব্যক্তিদের ব্যাপারে দুনিয়াবৈরাগীরা বড়জোর যা বলে তা হলো, তাদের অস্তিত্বে বিশ্বাসী ব্যক্তি তাদের অস্তিত্ব অস্বীকারকারীর চেয়ে অধিক পূর্ণাঙ্গ ও উত্তম। অথচ দ্বীনের অকাট্য বিষয় হিসেবে এটি সুপরিচিত যে, আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মতের জন্য এদের অস্তিত্বের প্রতি বিশ্বাস স্থাপনের কোনো বিধান দেননি।

তবে যে ব্যক্তি মনে করে যে, কুতুব বা গাওসই হলো সেই সত্তা যে পৃথিবীবাসীকে তাদের হেদায়াত, সাহায্য ও রিজিকে মদদ দেয় এবং এই বিষয়গুলো তার মাধ্যম ছাড়া পৃথিবীবাসীর কারো কাছে পৌঁছায় না, তবে সে একজন পথভ্রষ্ট। তার এই কথাটি এই বিষয়ে খ্রিষ্টানদের কথার সদৃশ। এটি ঠিক তেমনই যেমন কিছু মূর্খ ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাদের পীর-মাশায়েখদের ব্যাপারে বলে থাকে যে, তাদের কারো জ্ঞান আল্লাহর জ্ঞান ও কুদরতের সাথে হুবহু মিলে যায়; ফলে আল্লাহ যা জানেন সেও তা জানে এবং আল্লাহ যা করতে পারেন সেও তা করতে পারে।

অতঃপর মুহাক্কিক আলেমদের সিদ্ধান্ত হলো এই যে, খিজির ও ইলিয়াস উভয়েই মৃত্যুবরণ করেছেন।

জনৈক ইমামিয়া আমার সাথে নির্জনে সাক্ষাৎ করে কথা বলতে চাইলেন। তখন আমি তার সামনে তাদের মতবাদটি এভাবে তুলে ধরলাম যে: আল্লাহ তাআলা বান্দাদের আদেশ ও নিষেধ করেছেন, তাই তাদের প্রতি অনুগ্রহ বা লুত্বফ করা তাঁর ওপর আবশ্যক। আর ইমাম হলেন সেই অনুগ্রহ স্বরূপ। কারণ মানুষের যখন একজন ইমাম থাকে যিনি তাদের ওয়াজিব পালনের আদেশ দেন এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করেন, তখন তারা আদিষ্ট বিষয়গুলো পালনের নিকটবর্তী হয়। সুতরাং তাদের জন্য একজন ইমাম থাকা আবশ্যক এবং উদ্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য তাকে অবশ্যই মাসুম বা নিষ্পাপ হতে হবে।

আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর আলী ব্যতীত অন্য কারো জন্য মাসুম হওয়ার দাবি করা হয়নি। সুতরাং তিনিই ইমাম হওয়া নির্ধারিত হয়ে যায়, কারণ তিনি ছাড়া অন্য কেউ মাসুম নন—এ বিষয়ে ইজমা বা সর্বসম্মতি রয়েছে। আলী আবার হাসানকে এবং হাসান হুসাইনকে (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) স্থলাভিষিক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন, এভাবে পর্যায়ক্রমে তা মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান আল-মুনতাজার পর্যন্ত পৌঁছেছে।

তখন তিনি স্বীকার করলেন যে, এটি একটি চমৎকার উপস্থাপনা।
(খণ্ড: ১) আল-মুনতাকা মিন মিনহাজিল ইতিদাল (পৃষ্ঠা: ২৭)
قلت فانا وَأَنت طالبان للْعلم وَالْحق وَالْهدى وهم يَقُولُونَ من لم يُؤمن بالمنتظر فَهُوَ كَافِر فَهَل رَأَيْته أَو رَأَيْت من رَآهُ أَو سَمِعت لَهُ بِخَبَر أَو تعرف شَيْئا من كَلَامه قَالَ لَا

قلت فَأَي فَائِدَة فِي إيمَاننَا بِهَذَا وَأي لطف حصل لنا بِهِ وَكَيف يكلفنا الله تَعَالَى بِطَاعَة شخص لَا نعلم مَا يَأْمر بِهِ وَلَا مَا ينْهَى عَنهُ وَلَا طَرِيق لنا إِلَى معرفَة ذَلِك أصلا

وهم من أَشد النَّاس إنكارا لتكليف مَا لَا يُطَاق فَهَل فِي تَكْلِيف مَا لَا يُطَاق أبلغ من هَذَا

فَقَالَ إِثْبَات هَذَا مَبْنِيّ على تِلْكَ الْمُقدمَات

قلت لَكِن الْمَقْصُود مِنْهَا لنا مَا يتَعَلَّق بِنَا نَحن وَإِلَّا فَمَا علينا مِمَّا مضى إِذا لم يتَعَلَّق بِنَا مِنْهُ أَمر وَلَا نهي

وَإِذا كَانَ كلامنا فِي تِلْكَ الْمُقدمَات لَا يحصل لنا فَائِدَة وَلَا لطفا علم أَن الْإِيمَان بالمنتظر من بَاب الْجَهْل لَا من بَاب اللطف والمصلحة

وَالَّذِي عِنْد الإمامية من النَّقْل عَن آبَائِهِ إِن كَانَ حَقًا محصلا للسعادة فَلَا حَاجَة إِلَى المنتظر وَإِن لم يكن محصلا للنجاة والسعادة فَمَا نفعهم المنتظر

ثمَّ مُجَرّد معرفَة الْإِنْسَان إِمَام وقته أَو رُؤْيَته لَا يسْتَحق بِهِ الْكَرَامَة إِن لم يُوَافق أمره وَنَهْيه فَمَا هُوَ بأبلغ من الرَّسُول صلى الله عليه وسلم

فَكيف بِمن عرف الإِمَام وَهُوَ مضيع للفرائض مُعْتَد مُتَعَدٍّ للحدود
আমি বললাম, আমি এবং আপনি উভয়ই জ্ঞান, সত্য ও সঠিক পথের অন্বেষী। আর তারা বলে যে ব্যক্তি প্রতীক্ষিত ইমামের প্রতি ঈমান আনবে না সে কাফির। তো আপনি কি তাকে দেখেছেন, অথবা এমন কাউকে দেখেছেন যে তাকে দেখেছে, অথবা তার কোনো সংবাদ শুনেছেন, অথবা তার কোনো কথা সম্পর্কে কিছু জানেন? তিনি বললেন, না।

আমি বললাম, তবে আমাদের এই ঈমানের ফায়দা কী এবং এর দ্বারা আমাদের কী অনুগ্রহ অর্জিত হলো? মহান আল্লাহ কীভাবে আমাদের এমন এক ব্যক্তির আনুগত্যের দায়িত্ব দিলেন যার আদেশ-নিষেধ সম্পর্কে আমাদের কোনো জ্ঞান নেই এবং তা জানারও আমাদের কোনো উপায় নেই?

অথচ তারা সাধ্যাতীত দায়িত্ব প্রদানের কট্টর বিরোধী। তো সাধ্যাতীত দায়িত্ব দেওয়ার এর চেয়ে বড় উদাহরণ আর কী হতে পারে?

তিনি বললেন, এটি সাব্যস্ত হওয়া ঐ সকল ভূমিকার ওপর নির্ভরশীল।

আমি বললাম, কিন্তু আমাদের কাছে এর উদ্দেশ্য হলো আমাদের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি; অন্যথায় যা অতীত হয়ে গেছে তা নিয়ে আমাদের কী আসে যায়, যদি তা থেকে আমাদের জন্য কোনো আদেশ বা নিষেধ না থাকে?

আর যদি ঐ সকল ভূমিকা নিয়ে আমাদের আলোচনায় কোনো ফায়দা বা অনুগ্রহ অর্জিত না হয়, তবে বোঝা গেল যে প্রতীক্ষিত ইমামের প্রতি ঈমান আনাটা অজ্ঞতার পর্যায়ভুক্ত, কোনো অনুগ্রহ বা কল্যাণের পর্যায়ভুক্ত নয়।

আর ইমামিয়াদের কাছে তার পূর্বপুরুষদের থেকে যে সকল বর্ণনা রয়েছে, সেগুলো যদি সত্য হয় এবং সৌভাগ্য লাভের জন্য যথেষ্ট হয়, তবে প্রতীক্ষিত ইমামের কোনো প্রয়োজন নেই। আর যদি সেগুলো মুক্তি ও সৌভাগ্য অর্জনের জন্য যথেষ্ট না হয়, তবে প্রতীক্ষিত ইমাম তাদের কী উপকারে আসবে?

অধিকন্তু, কেবল নিজের সময়ের ইমামকে চেনা বা তাকে দেখলেই কোনো মানুষ মর্যাদার অধিকারী হতে পারে না, যতক্ষণ না সে তার আদেশ ও নিষেধের অনুসারী হয়। কারণ তিনি তো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চেয়ে বড় বা মহৎ নন।

তাহলে ঐ ব্যক্তির অবস্থা কেমন হবে যে ইমামকে চেনে অথচ সে ফরযসমূহ বিনষ্টকারী এবং আল্লাহর নির্ধারিত সীমালঙ্ঘনকারী?
(খণ্ড: ১) আল-মুনতাকা মিন মিনহাজিল ইতিদাল (পৃষ্ঠা: ২৮)
وَهُوَ يَقُولُونَ حب عَليّ رضي الله عنه حَسَنَة لَا يضر مَعهَا سَيِّئَة فَإِن كَانَت السَّيِّئَات لَا تضر مَعَ حب عَليّ فَلَا حَاجَة إِلَى الإِمَام الْمَعْصُوم

وقولك إِن الْإِمَامَة أحد أَرْكَان الْإِيمَان جهل وبهتان فَإِن النَّبِي صلى الله عليه وسلم فسر الْإِيمَان وشعبه وَلم يذكر الْإِمَامَة فِي أَرْكَانه وَلَا جَاءَ ذَلِك فِي الْقُرْآن بل قَالَ تَعَالَى الْأَنْفَال (إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذين إِذا ذكر الله وجلت قُلُوبهم إِلَى قَوْله أُولَئِكَ هم الْمُؤْمِنُونَ حَقًا) وَقَالَ تَعَالَى الحجرات 15 (إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذين آمنُوا بِاللَّه وَرَسُوله ثمَّ لم يرتابوا وَجَاهدُوا بِأَمْوَالِهِمْ وأنفسهم فِي سَبِيل الله أُولَئِكَ هم الصادقون) وَقَالَ تَعَالَى الْبَقَرَة 177 (لَيْسَ الْبر أَن توَلّوا وُجُوهكُم إِلَى قَوْله وَأُولَئِكَ هم المتقون) إِلَى غير ذَلِك من الْآيَات

وَلم يذكر الْإِمَامَة وَلَا أَنَّهَا من أَرْكَان الْإِسْلَام

وَأما قَوْلك فِي الحَدِيث من مَاتَ وَلم يعرف إِمَام زَمَانه مَاتَ ميتَة جَاهِلِيَّة فَنَقُول من روى هَذَا وَأَيْنَ إِسْنَاده بل وَالله مَا قَالَه الرَّسُول صلى الله عليه وسلم هَكَذَا

وَإِنَّمَا الْمَعْرُوف مَا روى مُسلم أَن ابْن عمر جَاءَ إِلَى عبد الله بن مُطِيع حِين كَانَ من أَمر الْحرَّة مَا كَانَ فَقَالَ اطرحوا لأبي عبد الرَّحْمَن وسَادَة فَقَالَ إِنِّي لم آتِك لأجلس أَتَيْتُك لأحدثك حَدِيثا سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول من خلع يدا من طَاعَة لَقِي الله يَوْم الْقِيَامَة وَلَا حجَّة لَهُ وَمن مَاتَ وَلَيْسَ فِي عُنُقه بيعَة مَاتَ ميتَة جَاهِلِيَّة

وَهَذَا حَدِيث حدث بِهِ إِبْنِ عمر لما خلعوا أَمِير وقتهم يزِيد مَعَ مَا كَانَ عَلَيْهِ من الظُّلم فَدلَّ الحَدِيث
তারা বলে, আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর প্রতি ভালোবাসা এমন এক পুণ্য যার সাথে কোনো পাপ ক্ষতি করে না। সুতরাং যদি আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর প্রতি ভালোবাসার সাথে পাপসমূহ ক্ষতি না-ই করে, তবে মাসুম (নিষ্পাপ) ইমামের আর কোনো প্রয়োজন থাকে না।

আর আপনার এই কথা যে—ইমামত ঈমানের অন্যতম রুকন (স্তম্ভ)—তা একটি অজ্ঞতা ও অপবাদ। কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঈমান ও এর শাখাগুলোর ব্যাখ্যা করেছেন এবং এর রুকনসমূহের মধ্যে ইমামতকে উল্লেখ করেননি, আর কুরআনেও তা আসেনি। বরং আল্লাহ তাআলা সূরা আনফালে বলেছেন: "মুমিন তো তারাই, যখন আল্লাহর জিকির করা হয় তখন তাদের অন্তরসমূহ কেঁপে ওঠে..." "তারাই হলো প্রকৃত মুমিন" পর্যন্ত। এবং আল্লাহ তাআলা সূরা হুজুরাতের ১৫ নং আয়াতে বলেছেন: "মুমিন তো তারাই যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান এনেছে, অতঃপর কোনো সন্দেহ পোষণ করেনি এবং তাদের মাল ও জান দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে; তারাই হলো সত্যবাদী।" এবং আল্লাহ তাআলা সূরা বাকারার ১৭৭ নং আয়াতে বলেছেন: "তোমাদের মুখমণ্ডল (পূর্ব বা পশ্চিম দিকে) ফিরানোর মধ্যে কোনো পুণ্য নেই..." "আর তারাই হলো মুত্তাকী" পর্যন্ত এবং এই ধরনের আরও অনেক আয়াত রয়েছে।

তিনি ইমামতকে উল্লেখ করেননি এবং এটিও বলেননি যে তা ইসলামের রুকনসমূহের অন্তর্ভুক্ত।

আর হাদিস সম্পর্কে আপনার এই দাবি—"যে ব্যক্তি মারা গেল অথচ তার সমসাময়িক ইমামকে চিনল না, সে জাহিলিয়াতের মৃত্যু বরণ করল"—এর উত্তরে আমরা বলি: এটি কে বর্ণনা করেছেন? আর এর সনদ কোথায়? বরং আল্লাহর কসম, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কথাটি এভাবে বলেননি।

বরং প্রসিদ্ধ হলো যা ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন যে, হাররার যুদ্ধের ঘটনার সময় ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) যখন আব্দুল্লাহ বিন মুতী’-এর নিকট এলেন, তখন তিনি বললেন: "আবু আব্দুর রহমানের জন্য একটি বালিশ পেতে দাও।" তখন তিনি (ইবনে উমর) বললেন: "আমি আপনার কাছে বসতে আসিনি; বরং আমি আপনার কাছে একটি হাদিস বর্ণনা করতে এসেছি যা আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি। তিনি বলছিলেন: যে ব্যক্তি আনুগত্য থেকে হাত সরিয়ে নিল, কিয়ামতের দিন সে আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করবে যে তার পক্ষে কোনো দলিল থাকবে না। আর যে ব্যক্তি এমন অবস্থায় মারা গেল যে তার গলায় কোনো বাইয়াত (আনুগত্যের অঙ্গীকার) নেই, সে জাহিলিয়াতের মৃত্যু বরণ করল।"

এটি এমন একটি হাদিস যা ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তখন বর্ণনা করেছিলেন যখন লোকেরা সেই সময়ের আমির ইয়াজিদকে—তার ওপর অর্পিত জুলুম সত্ত্বেও—ক্ষমতাচ্যুত করেছিল। সুতরাং হাদিসটি প্রমাণ করে...
(খণ্ড: ১) আল-মুনতাকা মিন মিনহাজিল ইতিদাল (পৃষ্ঠা: ২৯)
على أَن من لم يكن مُطيعًا لولاة الْأَمر أَو خرج عَلَيْهِم بِالسَّيْفِ مَاتَ ميتَة جَاهِلِيَّة

وَهَذَا ضد حَال الرافضة فَإِنَّهُم أبعد النَّاس عَن طَاعَة الْأُمَرَاء إِلَّا كرها وَهَذَا الحَدِيث يتَنَاوَل من قَاتل فِي العصبية والرافضة رُءُوس هَؤُلَاءِ وَلَكِن لَا يكفر الْمُسلم بالإقتتال فِي العصبية فَإِن خرج عَن الطَّاعَة ثمَّ مَاتَ ميتَة جَاهِلِيَّة لم يكن كَافِرًا

وَفِي صَحِيح مُسلم عَن جُنْدُب البَجلِيّ مَرْفُوعا من قتل تَحت راية عمية يَدْعُو إِلَى عصبية أَو ينصر عصبية فَقتلته جَاهِلِيَّة

وَفِي مُسلم عَن أبي هُرَيْرَة من خرج من الطَّاعَة وَفَارق الْجَمَاعَة ثمَّ مَاتَ مَاتَ ميتَة جَاهِلِيَّة

فطالما خرجت الرافضة عَن الطَّاعَة وَفَارَقت الْجَمَاعَة

وَفِي الصَّحِيحَيْنِ عَن ابْن عَبَّاس عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ من رأى من أميره شَيْئا يكرههُ فليصبر فَإِن من فَارق الْجَمَاعَة شبْرًا فَمَاتَ إِلَّا مَاتَ ميتَة جَاهِلِيَّة

ثمَّ لَو صَحَّ الحَدِيث الَّذِي أوردته لَكَانَ عَلَيْكُم فَمن مِنْكُم يعرف إِمَام الزَّمَان أَو رَآهُ أَو رأى من رَآهُ أَو حفظ عَنهُ مَسْأَلَة بل تدعون إِلَى صبي ابْن ثَلَاث أَو خمس سِنِين
তদুপরি, যে ব্যক্তি শাসকবর্গের অনুগত নয় অথবা তাদের বিরুদ্ধে তলোয়ার নিয়ে বিদ্রোহ করে, সে জাহেলিয়াতের মৃত্যু বরণ করে।

আর এটি রাফেযীদের অবস্থার বিপরীত, কারণ তারা বাধ্য না হওয়া পর্যন্ত শাসকদের আনুগত্য করা থেকে মানুষের মাঝে সবচেয়ে দূরে। এই হাদিসটি তাদের অন্তর্ভুক্ত করে যারা গোত্রপ্রীতির কারণে লড়াই করে, আর রাফেযীরা এদের প্রধান। তবে গোত্রপ্রীতির কারণে লড়াই করার জন্য কোনো মুসলিমকে কাফির বলা হবে না। কেননা সে যদি আনুগত্য থেকে বের হয়ে যায় এবং জাহেলিয়াতের মৃত্যু বরণ করে, তবুও সে কাফির নয়।

সহীহ মুসলিমে জুনদুব আল-বাজালী হতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, যে ব্যক্তি কোনো লক্ষ্যহীন পতাকাতলে নিহত হয়, যে গোত্রপ্রীতির দিকে আহ্বান করে অথবা গোত্রপ্রীতিতে সাহায্য করে, তার মৃত্যু জাহেলিয়াতের মৃত্যু।

সহীহ মুসলিমে আবু হুরায়রা হতে বর্ণিত, যে ব্যক্তি আনুগত্য থেকে বের হয়ে যায় এবং জামাআত ত্যাগ করে, অতঃপর মৃত্যুবরণ করে, সে জাহেলিয়াতের মৃত্যু বরণ করে।

আর রাফেযীরা তো দীর্ঘকাল যাবত আনুগত্য থেকে বের হয়ে আছে এবং জামাআত ত্যাগ করে আছে।

সহীহাইন-এ ইবনে আব্বাস হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: যে ব্যক্তি তার আমিরের পক্ষ থেকে অপছন্দনীয় কিছু দেখে সে যেন ধৈর্য ধারণ করে। কারণ যে ব্যক্তি জামাআত থেকে এক বিঘত পরিমাণ দূরে সরে যায় এবং সেই অবস্থায় মারা যায়, সে জাহেলিয়াতের মৃত্যু বরণ করে।

অতঃপর, আপনি যে হাদিসটি উল্লেখ করেছেন তা যদি সহীহও হয়, তবে তা আপনাদের বিরুদ্ধেই যাবে। কারণ আপনাদের মধ্যে কে বর্তমান সময়ের ইমামকে চেনে? অথবা কে তাকে দেখেছে? অথবা কে এমন কাউকে দেখেছে যে তাকে দেখেছে? অথবা তার থেকে কোনো মাসআলা মুখস্থ করেছে? বরং আপনারা তিন বা পাঁচ বছর বয়সী এক বালকের দিকে আহ্বান জানাচ্ছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুনতাকা মিন মিনহাজিল ইতিদাল (পৃষ্ঠা: ৩০)
دخل سردابا من أَرْبَعمِائَة وَسِتِّينَ عَاما وَلم ير لَهُ عين وَلَا أثر وَلَا سمع لَهُ حس وَلَا خبر

وَإِنَّمَا أمرنَا بِطَاعَة أَئِمَّة موجودين معلومين لَهُم سُلْطَان وَأَن نطيعهم فِي الْمَعْرُوف دون الْمُنكر وَلمُسلم عَن عَوْف بن مَالك عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ خِيَار أئمتكم الَّذين تحبونهم ويحبونكم وتصلون عَلَيْهِم وَيصلونَ عَلَيْكُم وشرار أئمتكم الَّذين تبغضونهم ويبغضونكم وتلعنونهم ويلعنونكم

قُلْنَا يَا رَسُول الله أَفلا ننابذهم عِنْد ذَلِك قَالَ

لَا مَا أَقَامُوا فِيكُم الصَّلَاة

لَا مَا أَقَامُوا فِيكُم الصَّلَاة

أَلا من ولي عَلَيْهِ وَال فَرَآهُ يَأْتِي شَيْئا من مَعْصِيّة الله فليكره مَا يَأْتِي من مَعْصِيّة الله وَلَا ينزعن يدا من طَاعَة

وَفِي الْبَاب أَحَادِيث عدَّة تدل على أَن الْأَئِمَّة لَيْسُوا بمعصومين

ثمَّ الأمامية يسلمُونَ أَن مَقْصُود الْإِمَامَة إِنَّمَا هُوَ فِي الْفُرُوع أما الْأُصُول فَلَا يحْتَاج فِيهَا إِلَى الإِمَام وَهِي أهم وأشرف

وَإِمَام الزَّمَان اعْتَرَفُوا بِأَنَّهُ مَا حصلت بِهِ بعد مصلحَة أصلا فَأَي سعي أضلّ من سعي من يتعب التَّعَب الطَّوِيل وَيكثر القال والقيل

وَيُفَارق جمَاعَة الْمُسلمين

ويلعن السَّابِقين

ويعين الْكفَّار وَالْمُنَافِقِينَ

ويحتال بأنواع الْحِيَل

ويسلك أوعر السبل

ويعتضد بِشُهُود الزُّور

ويدلي أَتْبَاعه بِحَبل الْغرُور

ومقصودة
তিনি চারশ ষাট বছর পূর্বে একটি সুড়ঙ্গে প্রবেশ করেছেন, অথচ তার কোনো অস্তিত্ব বা চিহ্ন দেখা যায়নি এবং তার সম্পর্কে কোনো শব্দ বা সংবাদ শোনা যায়নি।

প্রকৃতপক্ষে আমাদের এমন বিদ্যমান ও পরিচিত ইমামদের আনুগত্য করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাদের কর্তৃত্ব রয়েছে, এবং আমরা যেন তাদের আনুগত্য করি সৎকাজে, অসৎকাজে নয়। ইমাম মুসলিম আউফ ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: তোমাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ইমাম তারা যাদের তোমরা ভালোবাসো এবং যারা তোমাদের ভালোবাসে, এবং তোমরা তাদের জন্য দোয়া করো ও তারা তোমাদের জন্য দোয়া করে। আর তোমাদের মধ্যে নিকৃষ্ট ইমাম তারা যাদের তোমরা ঘৃণা করো এবং যারা তোমাদের ঘৃণা করে, এবং তোমরা তাদের অভিশাপ দাও ও তারা তোমাদের অভিশাপ দেয়।

আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি তখন তাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করব না? তিনি বললেন:

না, যতক্ষণ তারা তোমাদের মধ্যে সালাত কায়েম রাখবে।

না, যতক্ষণ তারা তোমাদের মধ্যে সালাত কায়েম রাখবে।

সাবধান! যার ওপর কোনো শাসক নিযুক্ত হয় এবং সে তাকে আল্লাহর কোনো অবাধ্যতামূলক কাজ করতে দেখে, তবে সে যেন তার সেই অবাধ্যতামূলক কাজটিকে ঘৃণা করে, কিন্তু আনুগত্য থেকে যেন হাত গুটিয়ে না নেয়।

এই বিষয়ে আরও অনেক হাদিস রয়েছে যা প্রমাণ করে যে ইমামগণ নিষ্পাপ নন।

অতঃপর ইমামিয়্যাহ সম্প্রদায়ও স্বীকার করে যে, ইমামতের উদ্দেশ্য কেবল শাখা-প্রশাখা সংক্রান্ত বিষয়াদিতে; কিন্তু মৌলিক বিষয়গুলোতে (উসুল) ইমামের কোনো প্রয়োজন নেই, অথচ সেই বিষয়গুলোই অধিক গুরুত্বপূর্ণ ও মহিমান্বিত।

আর জামানার ইমাম সম্পর্কে তারা স্বীকার করে যে, তার মাধ্যমে এখন পর্যন্ত কোনো কল্যাণই সাধিত হয়নি। সুতরাং সেই ব্যক্তির প্রচেষ্টার চেয়ে অধিক পথভ্রষ্ট প্রচেষ্টা আর কার হতে পারে যে দীর্ঘকাল পরিশ্রম করে এবং বহু বাকবিতণ্ডায় লিপ্ত হয়?

এবং মুসলিম জামাত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়।

এবং পূর্ববর্তীদের অভিশাপ দেয়।

এবং কাফের ও মুনাফিকদের সাহায্য করে।

এবং বিভিন্ন প্রকার প্রতারণার আশ্রয় নেয়।

এবং অত্যন্ত দুর্গম পথে চলে।

এবং মিথ্যা সাক্ষীদের দ্বারা সাহায্য প্রার্থনা করে।

এবং তার অনুসারীদের ধোঁকার রশিতে ঝুলিয়ে রাখে।

এবং তার উদ্দেশ্য...
(খণ্ড: ১) আল-মুনতাকা মিন মিনহাজিল ইতিদাল (পৃষ্ঠা: ৩১)
بذلك أَن يكون لَهُ إِمَام يدله على أَحْكَام الله تَعَالَى وَمَا حصل لَهُ من جِهَته مَنْفَعَة وَلَا مصلحَة إِلَّا ذهَاب نَفسه حسرات وارتكب الأخطاء وَطول الْأَسْفَار وأدمن الإنتظار وعادي أمة مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم لداخل فِي سرداب لَا عمل لَهُ وَلَا خطاب

وَلَو كَانَ مُتَيَقن الْوُجُود لما حصل لَهُم بِهِ مَنْفَعَة فَكيف وعقلاء الْأمة يعلمُونَ أَنه لَيْسَ مَعَهم إِلَّا الإفلاس وَأَن الْحسن بن عَليّ العسكري رضي الله عنه لم يعقب كَمَا ذكره مُحَمَّد بن جرير الطَّبَرِيّ وَعبد الْبَاقِي بن قَانِع وَغَيرهمَا من النسابين

ثمَّ يَقُولُونَ دخل السرداب وَله إِمَّا سنتَانِ وَإِمَّا ثَلَاث وَإِمَّا خمس وَهَذَا يَتِيم بِنَصّ الْقُرْآن تجب حضانته وَحفظ مَاله

فَإِذا صَار لَهُ سبع سِنِين أَمر بِالصَّلَاةِ

فَمن لَا تَوَضَّأ وَلَا صلى وَهُوَ تَحت الْحجر لَو كَانَ مَوْجُودا فَكيف يكون إِمَام أهل الأَرْض وَكَيف تضيع مصلحَة الْإِمَامَة مَعَ طول الدهور
এর মাধ্যমে এমন একজন ইমাম থাকা সাব্যস্ত হলো যিনি তাকে মহান আল্লাহর বিধানাবলির দিকে পথপ্রদর্শন করবেন, অথচ তাঁর পক্ষ থেকে কোনো উপকার বা কল্যাণ অর্জিত হয়নি। বরং এর ফলে প্রাণ কেবল আক্ষেপেই নিঃশেষ হয়েছে, মানুষ ভুলের শিকার হয়েছে, দীর্ঘ সফর করেছে এবং অপেক্ষার নেশায় মত্ত হয়েছে। আর মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উম্মতের সাথে শত্রুতা পোষণ করেছে এমন একজনের জন্য যে একটি সুরঙ্গে প্রবেশ করেছে, যার কোনো কাজ নেই এবং কোনো কথা নেই।

আর যদি তাঁর অস্তিত্ব নিশ্চিতও হতো, তবুও তাদের কোনো উপকার সাধিত হতো না। তাহলে এখন কী অবস্থা হবে যখন উম্মতের বুদ্ধিমান ব্যক্তিগণ জানেন যে, তাদের কাছে নিঃস্বতা ছাড়া আর কিছুই নেই এবং হাসান ইবনে আলী আল-আসকারী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কোনো উত্তরসূরি রেখে যাননি, যেমনটি মুহাম্মদ ইবনে জারীর আল-তাবারী, আবদুল বাকী ইবনে কানি এবং অন্যান্য বংশবিশারদগণ উল্লেখ করেছেন।

অতঃপর তারা বলে যে, সে সুরঙ্গে প্রবেশ করেছে যখন তার বয়স ছিল হয় দুই বছর, অথবা তিন বছর, অথবা পাঁচ বছর। অথচ কুরআনের ভাষ্য অনুযায়ী সে একজন এতিম, যার লালন-পালন করা এবং সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণ করা ওয়াজিব।

অতঃপর যখন তার বয়স সাত বছর হবে, তখন তাকে সালাতের আদেশ দেওয়া হবে।

সুতরাং যে ব্যক্তি ওযু করেনি এবং সালাতও আদায় করেনি এবং সে অভিভাবকত্বের অধীনে রয়েছে—যদি সে বিদ্যমান থাকতো—তবে সে কীভাবে পৃথিবীবাসীর ইমাম হতে পারে? আর দীর্ঘ কাল অতিবাহিত হওয়ার সাথে সাথে ইমামতের এই মহৎ উদ্দেশ্য কীভাবে এভাবে নষ্ট হতে পারে?
(খণ্ড: ১) আল-মুনতাকা মিন মিনহাজিল ইতিদাল (পৃষ্ঠা: ৩২)
‌‌الْفَصْل الأول فِي نقل الْمذَاهب فِي هَذِه الْمَسْأَلَة

 

قَالَ الْمُؤلف الرافضي ذهبت الإمامية إِلَى أَن الله عدل حَكِيم لَا يفعل قبيحا وَلَا يظلم وَأَنه رءوف بالعباد يفعل لَهُم مَا هُوَ الْأَصْلَح لَهُم إِلَى أَن قَالَ ثمَّ أرْدف الرسَالَة بعد موت الرَّسُول بِالْإِمَامَةِ فنصب أَوْلِيَاء معصومين ليأمن النَّاس من غلطهم وسهوهم وَلِئَلَّا يخلي الله الْعَالم من لطفه وَرَحمته وَأَنه لما بعث مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم قَامَ بثقل الرسَالَة وَنَصّ على أَن الْخَلِيفَة من بعده عَليّ ثمَّ من بعد عَليّ وَلَده الْحسن ثمَّ على وَلَده الْحُسَيْن ثمَّ على عَليّ بن الْحُسَيْن ثمَّ على مُحَمَّد ثمَّ على جَعْفَر ثمَّ على مُوسَى بن جَعْفَر ثمَّ على عَليّ بن مُوسَى ثمَّ على مُحَمَّد بن عَليّ الْجواد ثمَّ على عَليّ بن مُحَمَّد الْهَادِي ثمَّ على الْحسن بن عَليّ العسكري ثمَّ على الْحجَّة مُحَمَّد بن الْحسن

وَأَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم لم يمت إِلَّا عَن وَصِيَّة بِالْإِمَامَةِ

وَأهل السّنة ذَهَبُوا إِلَى خلاف ذَلِك كُله فَلم يثبتوا الْعدْل وَالْحكمَة فِي أَفعاله تَعَالَى وجوزوا عَلَيْهِ فعل الْقَبِيح والإخلال بِالْوَاجِبِ وَأَنه تَعَالَى لَا يفعل لغَرَض بل أَفعاله كلهَا لَا لغَرَض من الْأَغْرَاض وَلَا لحكمة وَأَنه يفعل الظُّلم والعبث وَأَنه لَا يفعل الْأَصْلَح لِعِبَادِهِ بل مَا هُوَ الْفساد فِي الْحَقِيقَة كَفعل الْمعاصِي وأنواع الْكفْر فَجَمِيع أَنْوَاع الْفساد الْوَاقِعَة فِي الْعَالم مُسندَة إِلَيْهِ

وَأَن الْمُطِيع لَا يسْتَحق ثَوابًا والعاصي لَا يسْتَحق عقَابا قد يعذب النَّبِي ويثيب إِبْلِيس وَفرْعَوْن

وَأَن الْأَنْبِيَاء غير معصومين بل قد يَقع مِنْهُم الْخَطَأ وَالْفِسْق وَالْكذب

وَأَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم لم ينص على إِمَامَة بل مَاتَ عَن غير وَصِيَّة وَأَن الإِمَام بعده أَبُو بكر بمبايعة عمر وبرضا أَرْبَعَة أبي عُبَيْدَة وَسَالم مولى أبي حُذَيْفَة وَأسيد بن حضير وَبشير بن سعد

ثمَّ من بعده عمر بِنَصّ أبي بكر

ثمَّ عُثْمَان
প্রথম পরিচ্ছেদ: এই মাসআলায় মাযহাবসমূহের বর্ণনা

 

রাফেজি লেখক বলেছেন, ইমামিয়াদের মত হলো আল্লাহ ন্যায়পরায়ণ ও প্রজ্ঞাবান, তিনি কোনো মন্দ কাজ করেন না এবং যুলুম করেন না। তিনি বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু, তিনি তাদের জন্য যা অধিকতর কল্যাণকর তাই করেন। লেখক আরও বলেন, রাসূলের ইন্তেকালের পর তিনি রিসালাতের অনুবর্তী হিসেবে ইমামতকে যুক্ত করেছেন। ফলে তিনি নিষ্পাপ ইমামদের নিযুক্ত করেছেন যাতে মানুষ তাঁদের ভুলভ্রান্তি থেকে নিরাপদ থাকে এবং আল্লাহ যেন বিশ্বজগতকে তাঁর অনুগ্রহ ও রহমত থেকে শূন্য না রাখেন। আর যখন তিনি মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে পাঠালেন, তখন তিনি রিসালাতের গুরুভার বহন করলেন এবং স্পষ্টভাবে ঘোষণা করলেন যে, তাঁর পরবর্তী খলিফা হলেন আলী, অতঃপর আলীর পর তাঁর সন্তান হাসান, অতঃপর তাঁর সন্তান হুসাইন, অতঃপর আলী ইবনে হুসাইন, অতঃপর মুহাম্মাদ, অতঃপর জাফর, অতঃপর মুসা ইবনে জাফর, অতঃপর আলী ইবনে মুসা, অতঃপর মুহাম্মাদ ইবনে আলী আল-জাওয়াদ, অতঃপর আলী ইবনে মুহাম্মাদ আল-হাদী, অতঃপর হাসান ইবনে আলী আল-আসকারী এবং অতঃপর আল-হুজ্জাহ মুহাম্মাদ ইবনে হাসান।

আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইমামতের অসিয়ত না করে ইন্তেকাল করেননি।

অন্যদিকে আহলে সুন্নাত এ সবকিছুর বিপরীত পথ অবলম্বন করেছে। তারা মহান আল্লাহর কার্যাবলীর ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার ও প্রজ্ঞাকে সাব্যস্ত করেনি এবং তারা তাঁর ক্ষেত্রে মন্দ কাজ করা ও ওয়াজিব পরিহার করাকে বৈধ গণ্য করেছে। (তাদের মতে) আল্লাহ তাআলা কোনো উদ্দেশ্য সাধনের জন্য কাজ করেন না, বরং তাঁর সকল কাজই কোনো লক্ষ্য বা প্রজ্ঞা ছাড়াই হয়ে থাকে। তিনি যুলুম ও অনর্থক কাজ করেন এবং তিনি তাঁর বান্দাদের জন্য যা অধিকতর কল্যাণকর তা করেন না, বরং যা প্রকৃতপক্ষে অনিষ্টকর—যেমন পাপাচার ও কুফরির নানা প্রকার—সেগুলোই করেন। ফলে জগতে সংঘটিত সব ধরণের অনিষ্ট তাঁর দিকেই সম্বন্ধযুক্ত করা হয়।

এবং (তাদের মতে) অনুগত ব্যক্তি কোনো সওয়াবের অধিকারী হয় না আর পাপিষ্ঠ ব্যক্তি কোনো শাস্তির প্রাপ্য হয় না; তিনি চাইলে নবীকে শাস্তি দিতে পারেন এবং ইবলিস ও ফেরাউনকে পুরস্কৃত করতে পারেন।

এবং নবীগণ নিষ্পাপ নন, বরং তাঁদের থেকে ভুল, পাপাচার ও মিথ্যা প্রকাশ পেতে পারে।

আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইমামত বিষয়ে কোনো স্পষ্ট নির্দেশ প্রদান করেননি, বরং তিনি কোনো অসিয়ত ছাড়াই ইন্তেকাল করেছেন। তাঁর পরবর্তী ইমাম হলেন আবু বকর, যা ওমরের বাইয়াত এবং চারজন অর্থাৎ আবু উবাইদাহ, আবু হুজাইফার মুক্তদাস সালেম, উসাইদ ইবনে হুদাইর ও বাশির ইবনে সা’দের সম্মতির মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়েছে।

অতঃপর আবু বকরের স্পষ্ট মনোনয়নের মাধ্যমে তাঁর পরে ওমর।

অতঃপর উসমান।
(খণ্ড: ১) আল-মুনতাকা মিন মিনহাজিল ইতিদাল (পৃষ্ঠা: ৩৩)
ينص عمر على سِتَّة هُوَ أحدهم فأختاره بَعضهم

ثمَّ عَليّ بمبايعة الْخلق لَهُ ثمَّ اخْتلفُوا فَقَالَ بَعضهم إِن الإِمَام بعده حسن وَبَعْضهمْ قَالَ مُعَاوِيَة ثمَّ ساقوا الْإِمَامَة فِي بني أُميَّة إِلَى أَن ظهر السفاح

قُلْنَا هَذَا النَّقْل لمَذْهَب أهل السّنة والرافضة فِيهِ من التحريف وَالْكذب مَا نذكرهُ

فَمِنْهُ أَن إِدْخَال الْقدر وَالْعدْل فِي هَذَا الْبَاب بَاطِل من الْجَانِبَيْنِ إِذْ كل قَول مِنْهُ قد قَالَ بِهِ طوائف من السّنة والشيعة

فالشيعة مِنْهُم طوائف تثبت الْقدر وتنكر التَّعْدِيل والتجوير

وَالَّذين يقرونَ بخلافة أبي بكر وَعمر وَعُثْمَان رضي الله عنهم فيهم طوائف تَقول بالتعديل والتجوير

فَإِن الْمُعْتَزلَة أصل هَذَا

وَإِن شُيُوخ الرافضة كالمفيد والموسوى والطوسي والكراجكي إِنَّمَا أخذُوا ذَلِك من الْمُعْتَزلَة وَإِلَّا فالقدماء من الشِّيعَة لَا يُوجد فِي كَلَامهم شَيْء من هَذَا فَذكره الْقدر فِي مسَائِل الْإِمَامَة لَا مدْخل لَهُ بِوَجْه

وَمَا نَقله عَن الإمامية لم يحرره فَإِن من تَمام قَوْلهم إِن الله لم يخلق شَيْئا من أَفعَال الْحَيَوَان بل تحدث الْحَوَادِث بِغَيْر قدرته وَلَا خلقه

وَمن قَوْلهم إِن الله لَا يقدر أَن يهدي ضَالًّا وَلَا يقدر أَن يضل مهتديا

وَلَا يحْتَاج أحد من الْبشر إِلَى أَن يهديه الله بل الله قد هدَاهُم هدى الْبَيَان وَأما الإهتداء فقد يَهْتَدِي بِنَفسِهِ لَا بمعونة الله لَهُ وَمن قَوْلهم
উমর ছয়জন ব্যক্তির নাম নির্দিষ্ট করেছিলেন যাদের মধ্যে তিনি (উসমান) একজন ছিলেন, অতঃপর তাঁদের কেউ কেউ তাঁকে নির্বাচন করেন।

অতঃপর জনগণের বায়আতের মাধ্যমে আলী আসীন হন। এরপর তারা মতভেদ করে; তাদের কেউ কেউ বলে যে তাঁর পরবর্তী ইমাম হলেন হাসান এবং কেউ কেউ বলে মুয়াবিয়া। অতঃপর তারা বনু উমাইয়ার ধারায় ইমামতকে পরিচালিত করে যতক্ষণ না সাফফাহ-এর আবির্ভাব ঘটে।

আমরা বলি: আহলুস সুন্নাহর মাযহাব সম্পর্কে এই বর্ণনাটি রাফিযীদের পক্ষ থেকে বিকৃতি ও মিথ্যাচারে পরিপূর্ণ যা আমরা উল্লেখ করছি।

তন্মধ্যে একটি বিষয় হলো—এই অধ্যায়ে কদর (তকদির) ও আদল (ন্যায়বিচার)-কে অন্তর্ভুক্ত করা উভয় পক্ষ থেকেই অসার। কারণ এর অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি মতই সুন্নি ও শিয়াদের বিভিন্ন দল ইতিপূর্বে ব্যক্ত করেছে।

শিয়াদের মধ্যে এমন কিছু দল রয়েছে যারা তকদিরকে সাব্যস্ত করে এবং ‘তাদীল’ ও ‘তাজওয়ীর’ (আল্লাহর কার্যাবলিতে ইনসাফ ও জুলুমের ধারণা)-কে অস্বীকার করে।

আর যারা আবু বকর, উমর ও উসমান (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হন)-এর খিলাফত স্বীকার করেন, তাদের মধ্যে এমন কিছু দল রয়েছে যারা ‘তাদীল’ ও ‘তাজওয়ীর’-এর কথা বলে।

কেননা মুতাযিলাগণই হলো এই মতবাদের মূল উৎস।

আর রাফিযী শায়খগণ যেমন মুফীদ, মুসাবী, তুসী এবং কারাজাকী মূলত এগুলো মুতাযিলাদের থেকেই গ্রহণ করেছেন। অন্যথায় প্রাচীন শিয়াদের বক্তব্যে এই জাতীয় কোনো কিছুর অস্তিত্ব পাওয়া যায় না। সুতরাং ইমামতের মাসআলায় তকদিরের আলোচনার কোনো অবকাশই নেই।

আর তিনি ইমামিয়াদের সম্পর্কে যা বর্ণনা করেছেন তা তিনি সঠিকভাবে যাচাই করেননি। কেননা তাদের পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য হলো—আল্লাহ প্রাণীকুলের কোনো কাজই সৃষ্টি করেননি, বরং ঘটনাসমূহ তাঁর ক্ষমতা ও সৃষ্টি ব্যতিরেকেই সংঘটিত হয়।

তাদের বক্তব্যের অন্তর্ভুক্ত হলো—আল্লাহ কোনো পথভ্রষ্টকে পথপ্রদর্শন করতে সক্ষম নন এবং কোনো পথপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে পথভ্রষ্ট করতেও সক্ষম নন।

কোনো মানুষেরই আল্লাহ কর্তৃক তাকে পথপ্রদর্শন করার প্রয়োজন নেই, বরং আল্লাহ তো তাদের কেবল বর্ণনামূলক হিদায়াত প্রদান করেছেন। আর হিদায়াতপ্রাপ্ত হওয়ার বিষয়টি সে আল্লাহর সাহায্য ছাড়াই নিজের প্রচেষ্টায় অর্জন করে। তাদের বক্তব্যের মধ্যে আরও রয়েছে—
(খণ্ড: ১) আল-মুনতাকা মিন মিনহাজিল ইতিদাল (পৃষ্ঠা: ৩৪)
إِن هدى الله للْمُؤْمِنين وَالْكفَّار سَوَاء لَيْسَ على الْمُؤمنِينَ نعْمَة فِي الدّين أعظم من نعْمَته على الْكَافرين بل قد هدي عليا بِمَا هدي أَبَا جهل بِمَنْزِلَة الْأَب الَّذِي يُعْطي أحد إبنيه دَرَاهِم وَيُعْطِي الآخر مثلهَا فأنفقها هَذَا فِي الطَّاعَة وَهَذَا فِي الْمعْصِيَة

وَمن أَقْوَالهم إِنَّه يَشَاء مَا لَا يكون وَيكون مَا لَا يَشَاء فَلَا يثبتون لله مَشِيئَة عَامَّة وَلَا قدرَة تَامَّة وَلَا خلقا متناولا لكل حَادث

وَهَذَا نَص قَول الْمُعْتَزلَة

وَلِهَذَا كَانَت الشِّيعَة فِي هَذَا على قَوْلَيْنِ

وَقَوله انه نصب أَوْلِيَاء معصومين لِئَلَّا يخلي الله الْعَالم من لطفه فهم يَقُولُونَ إِن الْأَئِمَّة المعصومين مقهورون مظلومون عاجزون لَيْسَ لَهُم سُلْطَان وَلَا قدرَة حَتَّى أَنهم يَقُولُونَ ذَلِك فِي عَليّ رضي الله عنه مُنْذُ مَاتَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم إِلَى أَن اسْتخْلف وَفِي الإثني عشر ويقرون أَن الله مَا مكنهم وَلَا ملكهم وَقد قَالَ تَعَالَى {فقد آتَيْنَا آل إِبْرَاهِيم الْكتاب وَالْحكمَة وآتيناهم ملكا عَظِيما}

فَإِن قيل المُرَاد بنصبهم أَنه أوجب عَلَيْهِم طاعتهم فَإِذا أطاعوهم هدوهم وَلَكِن الْخلق عصوهم

فَيُقَال لم يحصل بِمُجَرَّد ذَلِك فِي الْعَالم لَا لطف وَلَا رَحْمَة بل إِنَّمَا حصل تَكْذِيب النَّاس لَهُم ومعصيتهم إيَّاهُم

والمنتظر مَا انْتفع بِهِ من أقرّ بِهِ وَلَا من جَحده

وَأما سَائِر الإثني عشر سوى عَليّ رضي الله عنه فَكَانَت الْمَنْفَعَة بأحدهم كالمنفع بأمثاله من أَئِمَّة الدّين وَالْعلم

وَأما الْمَنْفَعَة الْمَطْلُوبَة من أولى الْأَمر فَلم تحصل بهم

فَتبين أَن مَا ذكره من اللطف تلبيس وَكذب

وَقَوله إِن أهل السّنة لم يثبتوا الْعدْل وَالْحكمَة إِلَخ نقل بَاطِل عَنْهُم من وَجْهَيْن أَحدهمَا أَن كثيرا من أهل النّظر الَّذين يُنكرُونَ النَّص يثبتون الْعدْل وَالْحكمَة كالمعتزلة وَمن وافقهم

ثمَّ سَائِر أهل السّنة مَا فيهم من يَقُول إِنَّه تَعَالَى لَيْسَ بِحَكِيم وَلَا إِنَّه يفعل قبيحا فَلَيْسَ فِي الْمُسلمين من يتَكَلَّم بِإِطْلَاق هَذَا إِلَّا حل دَمه

وَلَكِن مَسْأَلَة الْقدر فِيهَا نزاع فِي الْجُمْلَة فَقَوْل الْمُعْتَزلَة ذهب إِلَيْهِ متأخرو الإمامية وَجُمْهُور الْمُسلمين من الصَّحَابَة وَالتَّابِعِينَ وَأهل الْبَيْت فتنازعوا فِي تَفْسِير عدل الله وحكمته وَالظُّلم الَّذِي يجب تنزيهه عَنهُ وَفِي تَعْلِيل أَفعاله وَأَحْكَامه فَقَالَت طَائِفَة إِن الظُّلم مُمْتَنع
নিশ্চয়ই মুমিন ও কাফিরদের জন্য আল্লাহর হিদায়াত সমান। দ্বীনের ক্ষেত্রে মুমিনদের ওপর এমন কোনো নিআমত নেই যা কাফিরদের ওপর তাঁর নিআমতের চেয়ে বড়। বরং তিনি আলীকে তা-ই দিয়ে হিদায়াত করেছেন যা দিয়ে আবু জাহলকে করেছেন; ঠিক সেই পিতার ন্যায় যে তার এক সন্তানকে দিরহাম দেয় এবং অন্যজনকেও সমপরিমাণ দেয়, এরপর একজন তা আনুগত্যের কাজে ব্যয় করে আর অন্যজন অবাধ্যতার কাজে।

তাদের অন্যতম কথা হলো, তিনি এমন কিছু ইচ্ছা করেন যা ঘটে না, আবার এমন কিছু ঘটে যা তিনি ইচ্ছা করেন না। ফলে তারা আল্লাহর জন্য কোনো সার্বিক ইচ্ছা, পূর্ণ ক্ষমতা এবং প্রতিটি ঘটনার অন্তর্ভুক্ত কোনো সৃষ্টি সাব্যস্ত করে না।

এটিই মুতাজিলাদের বক্তব্যের মূল ভাষ্য।

এ কারণেই শিয়াদের এ বিষয়ে দুটি মত রয়েছে।

এবং তাঁর কথা যে, তিনি মাসুম (নিষ্পাপ) ওলিদের নিযুক্ত করেছেন যাতে আল্লাহ জগতকে তাঁর লুতফ (অনুগ্রহ) হতে শূন্য না রাখেন; অথচ তারা বলে যে, মাসুম ইমামগণ পরাজিত, মজলুম ও অক্ষম ছিলেন, তাঁদের কোনো কর্তৃত্ব বা ক্ষমতা ছিল না। এমনকি তারা এ কথা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকাল থেকে শুরু করে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর খিলাফত লাভ পর্যন্ত তাঁর সম্পর্কে এবং বারোজন ইমামের সম্পর্কেও বলে থাকে। তারা স্বীকার করে যে, আল্লাহ তাঁদেরকে কোনো সক্ষমতা বা রাজত্ব দান করেননি, অথচ মহান আল্লাহ বলেছেন: {নিশ্চয়ই আমি ইবরাহিমের বংশধরদের কিতাব ও হিকমত দান করেছি এবং তাঁদেরকে বিশাল রাজত্ব দান করেছি}।

যদি বলা হয় যে, তাঁদের নিযুক্ত করার অর্থ হলো তিনি তাঁদের আনুগত্য করা ওয়াজিব করেছেন, ফলে মানুষ যদি তাঁদের আনুগত্য করত তবে তাঁরা তাঁদের পথপ্রদর্শন করতেন, কিন্তু সৃষ্টিজগত তাঁদের অবাধ্য হয়েছে।

এর উত্তরে বলা হবে: কেবল এটুকু দ্বারা জগতে কোনো লুতফ বা রহমত অর্জিত হয়নি, বরং এর মাধ্যমে কেবল মানুষের পক্ষ থেকে তাঁদের মিথ্যাপ্রতিপন্ন করা এবং তাঁদের অবাধ্যতাই প্রকাশ পেয়েছে।

আর যাঁর প্রতীক্ষা করা হচ্ছে (ইমাম মুনতাজার), তাঁর দ্বারা না তারা উপকৃত হয়েছে যারা তাঁকে স্বীকার করে, আর না তারা যারা তাঁকে অস্বীকার করে।

আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু ব্যতীত অন্য বারোজন ইমামের ক্ষেত্রে অবস্থা এই যে, তাঁদের মাধ্যমে প্রাপ্ত উপকার ছিল দ্বীন ও ইলমের অন্যান্য ইমামদের মাধ্যমে অর্জিত উপকারের মতোই।

আর উলুল আমর বা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে যে উপকার কাম্য, তা তাঁদের মাধ্যমে অর্জিত হয়নি।

সুতরাং স্পষ্ট হলো যে, তিনি লুতফ বা অনুগ্রহের যে কথা উল্লেখ করেছেন তা প্রতারণা ও মিথ্যা বৈ কিছু নয়।

আর তাঁর এ দাবি যে আহলুস সুন্নাহ ইনসাফ ও হিকমত সাব্যস্ত করেনি ইত্যাদি—এটি তাঁদের সম্পর্কে দুটি কারণে একটি বাতিল বর্ণনা। প্রথমত, তাত্ত্বিকদের মধ্যে যারা নস (দলিল) অস্বীকার করে তাদের অনেকেই ইনসাফ ও হিকমত সাব্যস্ত করে, যেমন মুতাজিলা ও তাদের অনুসারীগণ।

তাছাড়া আহলুস সুন্নাহর বাকিদের মধ্যে এমন কেউ নেই যে বলবে—মহান আল্লাহ প্রজ্ঞাবান নন অথবা তিনি মন্দ কাজ করেন। মুসলমানদের মধ্যে এমন কেউ নেই যে স্পষ্টভাবে এ জাতীয় কথা বলবে, বললে তার রক্ত হালাল হয়ে যাবে।

তবে তাকদীরের মাসআলায় সামগ্রিকভাবে মতভেদ রয়েছে। মুতাজিলাদের মতটি পরবর্তী ইমামিয়াগণ গ্রহণ করেছে; আর সাহাবী, তাবিঈ ও আহলে বায়তসহ জুমহুর মুসলিমগণ আল্লাহর ইনসাফ ও হিকমত এবং যে যুলুম থেকে তাঁকে পবিত্র রাখা ওয়াজিব তার ব্যাখ্যায় এবং তাঁর কাজ ও বিধিবিধানের কারণ বর্ণনায় মতভেদ করেছেন। একদল বলেছে যে, আল্লাহর ক্ষেত্রে যুলুম হওয়া অসম্ভব।
(খণ্ড: ১) আল-মুনতাকা মিন মিনহাজিল ইতিদাল (পৃষ্ঠা: ৩৫)
عَلَيْهِ وَهُوَ محَال لذاته كالجمع بَين الضدين وَأَن كل مُمكن مَقْدُور فَلَيْسَ هُوَ ظلما

وَهَؤُلَاء يَقُولُونَ إِنَّه لَو عذب المطيعين وَنعم العصاة لم يكن ظلما

وَقَالُوا الظُّلم التَّصَرُّف فِيمَا لَيْسَ لَهُ وَالله لَهُ كل شَيْء وَهَذَا قَول كثير من أهل الْكَلَام الْمُؤمنِينَ بِالْقدرِ وَقَول عدَّة من الْفُقَهَاء وَقَالَت طَائِفَة بل الظُّلم مَقْدُور مُمكن وَالله لَا يَفْعَله لعدله وَبِهَذَا مدح نَفسه إِذْ يَقُول يُونُس 44 {إِن الله لَا يظلم النَّاس شَيْئا} والمدح إِنَّمَا يكون بترك الْمَقْدُور وَقَالُوا وَقد قَالَ (وَمن يعْمل من الصَّالِحَات وَهُوَ مُؤمن فَلَا يخَاف ظلما وَلَا هضما) وَقَالَ تَعَالَى {وَقضي بَينهم بِالْحَقِّ وهم لَا يظْلمُونَ} وَقَالَ {وَمَا أَنا بظلام للعبيد} وَإِنَّمَا نزه نَفسه عَن أَمر يقدر عَلَيْهِ لَا على المستحيل

وَثَبت فِي الصَّحِيح عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم

أَن الله يَقُول يَا عبَادي إِنِّي حرمت الظُّلم على نَفسِي فقد حرم الظُّلم على نَفسه كَمَا {كتب على نَفسه الرَّحْمَة} وَفِي الصَّحِيح إِن الله لما قضى الْخلق كتب فِي كتاب فَهُوَ عِنْده فَوق الْعَرْش إِن رَحْمَتي غلبت غَضَبي وَمَا كتبه على نَفسه أَو حرمه على نَفسه فَلَا يكون إِلَّا مَقْدُورًا لَهُ فالممتنع لنَفسِهِ لَا يَكْتُبهُ على نَفسه وَلَا يحرمه على نَفسه وَهَذَا قَول أَكثر أهل السّنة والمثبتين للقدر من أهل الحَدِيث وَالتَّفْسِير وَالْفِقْه وَالْكَلَام والتصوف

وعَلى هَذَا القَوْل فَهَؤُلَاءِ هم الْقَائِلُونَ بِعدْل الله وإحسانه دون من يَقُول من الْقَدَرِيَّة إِن من فعل كَبِيرَة حَبط إيمَانه فَهَذَا نوع من الظُّلم الَّذِي نزه الله نَفسه عَنهُ وَهُوَ الْقَائِل (فَمن يعْمل مِثْقَال ذرة خيرا يره وَمن يعْمل مِثْقَال ذرة شرا يره) فَمن إعتقد أَن مِنْهُ على الْمُؤمن بالهداية دون الْكَافِر ظلم فَهَذَا جهل لوَجْهَيْنِ أَحدهمَا أَن هَذَا تَفْضِيل قَالَ الله تَعَالَى {بل الله يمن عَلَيْكُم أَن هدَاكُمْ للْإيمَان إِن كُنْتُم صَادِقين} وكما قَالَت الْأَنْبِيَاء {إِن نَحن إِلَّا بشر مثلكُمْ وَلَكِن الله يمن على من يَشَاء} فَهُوَ تَعَالَى إِلَّا يضع الْعقُوبَة إِلَّا فِي الْمحل الَّذِي يَسْتَحِقهَا لَا يضع الْعقُوبَة على محسن
তাঁর ওপর, এবং এটি তাঁর সত্তাগতভাবে অসম্ভব যেমন দুই বিপরীত বিষয়কে একত্র করা; আর যেহেতু প্রতিটি সম্ভাব্য বিষয়ই তাঁর ক্ষমতার আয়ত্তাধীন, তাই তা জুলুম নয়।

আর তারা বলেন যে, তিনি যদি অনুগতদের শাস্তি প্রদান করতেন এবং অবাধ্যদের নেয়ামত দান করতেন, তবে তাও জুলুম হতো না।

তাঁরা বলেন, জুলুম হলো এমন বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা যা ব্যক্তির নিজের নয়, অথচ সবকিছুর মালিকানা আল্লাহর। এটি তাকদিরে বিশ্বাসী ইলমে কালামের অনেক বিশেষজ্ঞ এবং বেশ কয়েকজন ফকিহ-এর অভিমত। অন্য একদল বলেন, বরং জুলুম করা আল্লাহর ক্ষমতার আওতাধীন ও সম্ভব, কিন্তু তাঁর ইনসাফের কারণে তিনি তা করেন না। এই বিষয়ের মাধ্যমেই তিনি নিজের প্রশংসা করেছেন যখন তিনি বলেন (ইউনুস: ৪৪) {নিশ্চয়ই আল্লাহ মানুষের প্রতি বিন্দুমাত্র জুলুম করেন না}। আর প্রশংসা কেবল তখনই হয় যখন সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও কোনো কাজ বর্জন করা হয়। তাঁরা আরও বলেন যে, তিনি বলেছেন: {আর যে ব্যক্তি মুমিন অবস্থায় সৎকাজ করবে, সে কোনো জুলুম বা হকের অবমূল্যায়নের ভয় করবে না}। মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: {তাদের মধ্যে সত্যের সাথে বিচার করা হবে এবং তাদের প্রতি জুলুম করা হবে না}। তিনি আরও বলেছেন: {আমি বান্দাদের প্রতি মোটেও জুলুমকারী নই}। তিনি নিজেকে এমন বিষয় থেকে পবিত্র ঘোষণা করেছেন যা করার ক্ষমতা তাঁর আছে, অসম্ভব কোনো বিষয় থেকে নয়।

আর সহিহ হাদিসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে—

যে আল্লাহ বলেন, হে আমার বান্দারা, আমি নিজের ওপর জুলুমকে হারাম করে নিয়েছি। সুতরাং তিনি নিজের ওপর জুলুম হারাম করেছেন ঠিক যেমন {তিনি নিজের ওপর রহমত অবধারিত করেছেন}। সহিহ হাদিসে আছে, আল্লাহ যখন সৃষ্টিজগত সৃষ্টির সিদ্ধান্ত নিলেন, তখন তিনি একটি কিতাবে লিখে দিলেন, যা তাঁর নিকট আরশের উপরে রয়েছে: ‘নিশ্চয়ই আমার রহমত আমার রাগের ওপর প্রবল হয়েছে’। আর যা তিনি নিজের ওপর অবধারিত করেছেন বা নিজের ওপর হারাম করেছেন, তা অবশ্যই তাঁর ক্ষমতার আওতাধীন। যা সত্তাগতভাবে অসম্ভব, তা তিনি নিজের ওপর অবধারিত বা হারাম করেন না। এটিই অধিকাংশ আহলে সুন্নাত এবং মুহাদ্দিস, মুফাসসির, ফকিহ, কালামশাস্ত্রবিদ ও সুফিদের মধ্য থেকে যারা তাকদিরে বিশ্বাসী তাদের অভিমত।

এই অভিমত অনুযায়ী, এরাই হলেন আল্লাহর ইনসাফ ও ইহসানে বিশ্বাসী; কদরিয়াদের মতো নয় যারা বলে যে, কেউ কবিরা গুনাহ করলে তার ঈমান নষ্ট হয়ে যায়। এটি এক ধরণের জুলুম যা থেকে আল্লাহ নিজেকে পবিত্র রেখেছেন, আর তিনিই বলেছেন: {অতঃপর কেউ অণু পরিমাণ নেক আমল করলে তা দেখতে পাবে এবং কেউ অণু পরিমাণ মন্দ আমল করলে তাও দেখতে পাবে}। সুতরাং কেউ যদি মনে করে যে, কাফেরের পরিবর্তে মুমিনকে হিদায়াত দিয়ে অনুগ্রহ করা জুলুম, তবে এটি দুটি কারণে অজ্ঞতা; প্রথমত, এটি হলো শ্রেষ্ঠত্ব দান বা বিশেষ অনুগ্রহ। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {বরং আল্লাহই তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন যে তিনি তোমাদের ঈমানের পথ দেখিয়েছেন, যদি তোমরা সত্যবাদী হও}। আর যেমন নবীরা বলেছিলেন: {আমরা তোমাদের মতো মানুষ ছাড়া আর কিছু নই, কিন্তু আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার প্রতি ইচ্ছা অনুগ্রহ করেন}। সুতরাং মহান আল্লাহ কেবল সেই স্থানেই শাস্তি দেন যা শাস্তির যোগ্য, তিনি কোনো মহৎকর্মশীলের ওপর শাস্তি আরোপ করেন না।
(খণ্ড: ১) আল-মুনতাকা মিন মিনহাজিল ইতিদাল (পৃষ্ঠা: ৩৬)
أبدا وَلِهَذَا قيل

كل نعْمَة مِنْهُ فضل وكل نقمة مِنْهُ عدل وَلِهَذَا يخبر أَنه يُعَاقب النَّاس بِذُنُوبِهِمْ وَأَن إنعامه عَلَيْهِم إِحْسَان مِنْهُ وَفِي الصَّحِيح فَمن وجد خيرا فليحمد الله وَمن وجد غير ذَلِك فَلَا يَلُومن إِلَّا نَفسه وَقَالَ تَعَالَى (مَا أَصَابَك من حَسَنَة فَمن الله) أَي مَا أَصَابَك من نعم تحبها كالنصر والرزق فَالله أنعم بذلك عَلَيْك وَمَا أَصَابَك من نقم تكرهها فبذنوبك وخطاياك

فالحسنات والسيئات هُنَا النعم والمصائب كَمَا قَالَ (وبلوناهم بِالْحَسَنَاتِ والسيئات) وَقَالَ {إِن تصبك حَسَنَة تسؤهم} وَقَالَ {إِن تمسسكم حَسَنَة تسؤهم وَإِن تصبكم سَيِّئَة يفرحوا بهَا}

وَأجْمع الْمُسلمُونَ على أَنه تَعَالَى مَوْصُوف بالحكمة فَقَالَت طَائِفَة مَعْنَاهَا رَاجع إِلَى الْعلم بِأَفْعَال الْعباد وإيقاعها على الْوَجْه الَّذِي أَرَادَهُ وَقَالَ جُمْهُور السّنة

بل هُوَ حَكِيم فِي خلقه وَأمره

وَالْحكمَة لَيست هِيَ مُطلق الْمَشِيئَة إِذْ لَو كَانَ كَذَلِك لَكَانَ كل مُرِيد حكيما

وَمَعْلُوم أَن الْإِرَادَة تَنْقَسِم إِلَى إِرَادَة محمودة ومذمومة بل الْحِكْمَة مَا فِي خلقه وَأمره من العواقب المحمودة

وَأَصْحَاب القَوْل الأول كالأشعري وَمن وَافقه من الْفُقَهَاء يَقُولُونَ لَيْسَ فِي الْقُرْآن لَام التَّعْلِيل فِي أَفعَال الله بل لَيْسَ فِيهِ إِلَّا لَام الْعَاقِبَة

وَأما الْجُمْهُور فَيَقُولُونَ

بل لَام التَّعْلِيل دَاخِلَة فِي أَفعاله وَأَحْكَامه

وَهَذِه الْمَسْأَلَة لَا تتَعَلَّق بِالْإِمَامَةِ أصلا وَأكْثر أهل السّنة على إِثْبَات الْحِكْمَة وَالتَّعْلِيل فَمن أنكر ذَلِك احْتج بحجتين

إِحْدَاهمَا أَن ذَلِك يلْزم التسلسل فَإِنَّهُ إِذا فعل لعِلَّة فَتلك الْعلَّة أَيْضا حَادِثَة وتفتقر إِلَى عِلّة إِن وَجب أَن يكون لكل حَادث عِلّة وَإِن عقل الإحداث بِلَا عِلّة لم يحْتَج إِلَى إِثْبَات عِلّة

الثَّانِيَة أَنهم قَالُوا من فعل لعِلَّة كَانَ مستكملا بهَا لِأَنَّهُ لَو لم يكن حُصُول الْعلَّة أولى من عدمهَا لم تكن عِلّة والمتكمل بِغَيْرِهِ نَاقص بِنَفسِهِ وَذَلِكَ مُمْتَنع على الله

وأوردوا على الْمُعْتَزلَة حجَّة تقطعهم على أصولهم فَقَالُوا الْعلَّة
চিরকাল। আর একারণেই বলা হয়েছে:

তাঁর পক্ষ থেকে প্রতিটি নেয়ামত হলো অনুগ্রহ এবং প্রতিটি শাস্তি হলো ন্যায়বিচার। একারণেই তিনি সংবাদ প্রদান করেন যে, তিনি মানুষকে তাদের পাপের কারণে শাস্তি দেন এবং তাদের প্রতি তাঁর নেয়ামত প্রদান হলো তাঁর পক্ষ থেকে ইহসান। সহীহ হাদীসে এসেছে: "অতঃপর যে ব্যক্তি কল্যাণ লাভ করে, সে যেন আল্লাহর প্রশংসা করে। আর যে ব্যক্তি এর ভিন্ন কিছু লাভ করে, সে যেন কেবল নিজেকেই তিরস্কার করে।" আল্লাহ তাআলা বলেছেন: (আপনার কাছে যে কল্যাণ পৌঁছে, তা আল্লাহর পক্ষ থেকে) অর্থাৎ বিজয় ও রিযিকের মতো যেসব নেয়ামত আপনি পছন্দ করেন, আল্লাহ তা আপনাকে নেয়ামত হিসেবে দান করেছেন। আর আপনার কাছে যে বিপদ পৌঁছে যা আপনি অপছন্দ করেন, তা আপনার পাপ ও ভুল-ত্রুটির কারণে।

সুতরাং এখানে হাসানাত ও সাইয়িআত হলো নেয়ামত ও বিপদসমূহ, যেমনটি তিনি বলেছেন: (এবং আমি তাদেরকে কল্যাণ ও অকল্যাণ দ্বারা পরীক্ষা করেছি)। তিনি আরও বলেছেন: {যদি আপনার কোনো কল্যাণ হয়, তবে তা তাদেরকে কষ্ট দেয়} এবং বলেছেন: {যদি তোমাদের কোনো কল্যাণ স্পর্শ করে, তবে তা তাদেরকে ব্যথিত করে; আর যদি তোমাদের কোনো অকল্যাণ পৌঁছায়, তবে তারা তাতে আনন্দিত হয়}।

মুসলিমগণ এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, আল্লাহ তাআলা হিকমত গুণ দ্বারা গুণান্বিত। একদল বলেছেন, এর অর্থ হলো বান্দাদের কার্যাবলি সম্পর্কে জ্ঞান রাখা এবং তিনি যেভাবে চেয়েছেন সেভাবে তা সংঘটিত করা। আহলুস সুন্নাহর জুমহুর ওলামাগণ বলেছেন:

বরং তিনি তাঁর সৃষ্টি এবং আদেশ—উভয় ক্ষেত্রেই প্রজ্ঞাময়।

হিকমত কেবল নিরঙ্কুশ ইচ্ছা নয়; কেননা যদি তা-ই হতো, তবে প্রত্যেক ইচ্ছাকারীই প্রজ্ঞাময় হতো।

এটি সুবিদিত যে, ইচ্ছা প্রশংসনীয় ও নিন্দনীয়—এই দুই ভাগে বিভক্ত। বরং হিকমত হলো তাঁর সৃষ্টি ও আদেশের মধ্যে বিদ্যমান প্রশংসনীয় পরিণতিসমূহ।

প্রথম মতের অনুসারীরা, যেমন আল-আশআরী এবং তাঁর সাথে একমত পোষণকারী ফকীহগণ বলেন: আল্লাহর কার্যাবলির ক্ষেত্রে কুরআনে কোনো কারণবাচক 'লাম' (লামুত তালীলি) নেই, বরং এতে কেবল পরিণতিবাচক 'লাম' (লামুল আকিবাহ) রয়েছে।

পক্ষান্তরে জুমহুর ওলামাগণ বলেন:

বরং তাঁর কার্যাবলি ও বিধানসমূহে কারণবাচক 'লাম' অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এই বিষয়টি মূলত ইমামত বা নেতৃত্বের সাথে আদতেই সংশ্লিষ্ট নয়। আহলুস সুন্নাহর অধিকাংশ আলিম হিকমত ও কারণবাচকতা সাব্যস্ত করার পক্ষে। যারা এটি অস্বীকার করেন, তারা দুটি দলীল উপস্থাপন করেন:

প্রথমটি হলো: এটি তাসালসুল বা অবিরাম পরম্পরার দিকে নিয়ে যায়। কেননা তিনি যদি কোনো কারণের জন্য কাজ করেন, তবে সেই কারণটিও নতুন এবং তার জন্য অন্য একটি কারণের প্রয়োজন হবে—যদি প্রতিটি নতুন বিষয়ের জন্য কারণ থাকা আবশ্যক হয়। আর যদি কারণ ছাড়াই কোনো কিছু সৃষ্টি করা বুদ্ধিগ্রাহ্য হয়, তবে কারণ প্রমাণের কোনো প্রয়োজন নেই।

দ্বিতীয়টি হলো: তারা বলেন, যে সত্তা কোনো কারণের ভিত্তিতে কাজ করে, সে সেই কারণের মাধ্যমে পূর্ণতা লাভ করে। কেননা কারণটির অস্তিত্ব যদি না-থাকার চেয়ে অগ্রাধিকারযোগ্য না হতো, তবে তা কারণ হতো না। আর যে অন্যের মাধ্যমে পূর্ণতা লাভ করে, সে নিজে অপূর্ণ; যা আল্লাহর ক্ষেত্রে অসম্ভব।

তারা মুতাযিলাদের বিরুদ্ধে এমন এক প্রমাণ পেশ করেছেন যা তাদের নিজস্ব মূলনীতির আলোকেই তাদের যুক্তি খণ্ডন করে; তারা বলেন, কারণটি হলো...
(খণ্ড: ১) আল-মুনতাকা মিন মিনহাজিল ইতিদাল (পৃষ্ঠা: ৩৭)
الَّتِي فعل لأَجلهَا إِن كَانَ وجودهَا وَعدمهَا بِالنِّسْبَةِ إِلَيْهِ سَوَاء امْتنع أَن تكون عِلّة وَإِن كَانَ وجودهَا أولى فَإِن كَانَت عَنهُ مُنْفَصِلَة لزم أَن تستكمل بِغَيْرِهِ وَإِن كَانَت قَائِمَة بِهِ لزم أَن يكون محلا للحوادث

وَأما المجوزون للتَّعْلِيل فهم متنازعون فالمعتزلة تثبت من التَّعْلِيل مَا لَا يعقل وَهُوَ فعل لعِلَّة مُنْفَصِلَة عَن الْفَاعِل مَعَ كَون وجودهَا وَعدمهَا إِلَيْهِ سَوَاء

وَأما الْقَائِلُونَ بِالتَّعْلِيلِ فَإِنَّهُم يَقُولُونَ إِن الله يحب ويرضى وَذَلِكَ أخص من الْإِرَادَة

وَأما الْمُعْتَزلَة وَأكْثر الأشعرية فَيَقُولُونَ الْمحبَّة والرضاء والإرداة سَوَاء

فجمهور السّنة يَقُولُونَ لَا يحب الْكفْر وَلَا يرضاه وَإِن كَانَ دَاخِلا فِي مُرَاده كَمَا دخلت سَائِر الْمَخْلُوقَات لما فِي ذَلِك من الْحِكْمَة

وَهُوَ وَإِن كَانَ شرا بِالنِّسْبَةِ إِلَى الْفَاعِل فَلَيْسَ كل مَا كَانَ شرا بِالنِّسْبَةِ إِلَى الْفَاعِل يكون عديم الْحِكْمَة بل لله فِي مخلوقاته حكم قد تخفى

ويجيبون عَن التسلسل بجوابين أَحدهمَا أَن يُقَال هَذَا تسلسل الْحَوَادِث فِي الْمُسْتَقْبل لَا فِي الْحَوَادِث الْمَاضِيَة فَإِنَّهُ إِذا فعل فعلا لحكمة كَانَت الْحِكْمَة حَاصِلَة بعد الْفِعْل فَإِذا كَانَت تِلْكَ الْحِكْمَة يطْلب مِنْهَا حِكْمَة أُخْرَى بعْدهَا كَانَ تسلسلا فِي الْمُسْتَقْبل وَهُوَ جَائِز عِنْد جَمَاهِير الْأمة فَإِن نعيم الْجنَّة وَعَذَاب النَّار دائمان مَعَ تجدّد الْحَوَادِث فيهمَا وَإِنَّمَا أنكر ذَلِك جهم

زعم أَن الْجنَّة وَالنَّار تفنيان

وَأَبُو الْهُذيْل
যা যার জন্য তিনি (কাজটি) করেছেন, যদি তাঁর সাপেক্ষে সেটির অস্তিত্ব ও অনস্তিত্ব সমান হয়, তবে তা কারণ (ইল্লাত) হওয়া অসম্ভব। আর যদি তার অস্তিত্ব অধিকতর শ্রেয় হয়, তবে তা যদি তাঁর সত্তা হতে পৃথক হয়, তবে আবশ্যক হয় যে তিনি অন্য কিছুর দ্বারা পূর্ণতা লাভ করেন। আর যদি তা তাঁর সত্তায় বিদ্যমান থাকে, তবে আবশ্যক হয় যে তিনি পরিবর্তনশীল বিষয়সমূহের (হাওয়াদ্দিস) আধার।

পক্ষান্তরে যারা কারণের (তা’লীল) বৈধতা দেন, তারা এ বিষয়ে মতভেদ করেছেন। মুতাযিলাগণ এমন এক প্রকার কারণ সাব্যস্ত করে যা বুদ্ধিগ্রাহ্য নয়; আর তা হলো কর্তার থেকে পৃথক কোনো কারণের নিমিত্তে কাজ করা, অথচ তাঁর নিকট সেটির অস্তিত্ব ও অনস্তিত্ব সমান।

আর যারা কারণের (তা’লীল) প্রবক্তা, তারা বলেন যে আল্লাহ ভালোবাসেন এবং সন্তুষ্ট হন, আর তা সাধারণ ইচ্ছার (ইরাদা) চেয়ে আরও সুনির্দিষ্ট।

পক্ষান্তরে মুতাযিলা এবং অধিকাংশ আশআরিগণ বলেন যে, ভালোবাসা (মহব্বত), সন্তুষ্টি (রিদা) এবং ইচ্ছা (ইরাদা) একই বিষয়।

সুতরাং আহলে সুন্নাতের জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠ আলিমগণ বলেন, তিনি কুফরকে ভালোবাসেন না এবং তাতে সন্তুষ্টও হন না, যদিও তা তাঁর ইচ্ছার (মুরাদ) অন্তর্ভুক্ত, যেমন হিকমতের (প্রজ্ঞা) কারণে অন্যান্য সকল সৃষ্টিই তাঁর ইচ্ছার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

আর তা কর্তার দিক থেকে মন্দ হলেও, যা কিছু কর্তার দিক থেকে মন্দ তার সবকিছুই প্রজ্ঞাহীন নয়; বরং আল্লাহর সৃষ্টিরাজিতে এমন অনেক প্রজ্ঞা রয়েছে যা অনেক সময় গোপন থাকতে পারে।

তারা তাসালসুল (অবিরাম ধারা) সম্পর্কে দুটি উত্তর প্রদান করেন। তার একটি হলো, এটি ভবিষ্যতে পরিবর্তনশীল ঘটনাবলির (হাওয়াদ্দিস) ধারা, অতীতে ঘটে যাওয়া ঘটনাবলির ধারা নয়। কেননা তিনি যখন কোনো প্রজ্ঞার কারণে কোনো কাজ করেন, তখন সেই প্রজ্ঞাটি কাজের পর অর্জিত হয়। অতঃপর যদি সেই প্রজ্ঞা থেকে পরবর্তীতে অন্য কোনো প্রজ্ঞার দাবি উত্থাপিত হয়, তবে তা হবে ভবিষ্যতের তাসালসুল বা ধারা, যা উম্মাহর জমহুরের নিকট বৈধ। কেননা জান্নাতের নিয়ামত এবং জাহান্নামের আজাব উভয়ই সেখানে নতুন নতুন ঘটনাপ্রবাহের সাথে সাথে চিরস্থায়ী হবে। কেবল জাহম এটি অস্বীকার করেছে।

সে দাবি করেছে যে জান্নাত ও জাহান্নাম উভয়ই নিঃশেষ হয়ে যাবে।

এবং আবুল হুযাইল (ও অনুরূপ মত পোষণ করেছেন)।
(খণ্ড: ১) আল-মুনতাকা মিন মিনহাজিল ইতিদাল (পৃষ্ঠা: ৩৮)
العلاف زعم أَن حركات أهل الْجنَّة وَالنَّار تَنْقَطِع ويبقون فِي سُكُون دَائِم وَذَلِكَ أَنهم اعتقدوا أَن التسلسل فِي الْحَوَادِث مُمْتَنع فِي الْمَاضِي فَفِيهِ أَيْضا قَولَانِ لأهل الْإِسْلَام فَمنهمْ من يَقُول إِن الله لم يزل متكلما إِذا شَاءَ وَلم يزل فعالا مَعَ قَوْلهم إِن كل مَا سواهُ مُحدث وَأَنه لَيْسَ فِي الْعَالم شَيْء قديم مساوق لله تَعَالَى كَمَا تَقول الفلاسفة الْقَائِلُونَ بقدم الأفلاك وَأَن الْمُبْدع عِلّة تَامَّة مُوجب بِذَاتِهِ وَهَذَا ضلال إِذْ الْعلَّة تَسْتَلْزِم معلولها وَلَا يجوز تأخرها عَنهُ والحوادث مَشْهُورَة فِي الْعَالم فَلَو كَانَ الصَّانِع مُوجبا بِذَاتِهِ عِلّة تَامَّة مستلزمة لمعلولها لما حدث شَيْء من الْحَوَادِث فِي الْوُجُود إِذْ الْحَادِث يمْتَنع أَن يكون صادرا عَن عِلّة تَامَّة أزلية فَلَو كَانَ الْعَالم قَدِيما لَكَانَ مبدعه عِلّة تَامَّة وَالْعلَّة التَّامَّة لَا يتَخَلَّف عَنْهَا شَيْء من معلولها فحدوث الْحَوَادِث دَلِيل على أَن فاعلها لَيْسَ بعلة تَامَّة وَإِذا انْتَفَت الْعلَّة التَّامَّة فِي الْأَزَل بَطل القَوْل بقدم الْعَالم لَكِن لَا يَنْفِي أَن الله لم يزل متكلما إِذا شَاءَ وَلم يزل فعالا لما يَشَاء

وعمدة الفلاسفة فِي قدم الْعَالم قَوْلهم يمْتَنع حُدُوث الْحَوَادِث بِلَا سَبَب حَادث فَيمْتَنع تَقْدِير ذَات معطلة عَن الْفِعْل لم تفعل ثمَّ فعلت من غير حُدُوث سَبَب أصلا وَهَذَا لَا يدل على قدم شَيْء بِعَيْنِه إِنَّمَا يدل على أَنه لم يزل فعالا

فَإِذا قدر أَنه فعال لأفعال تقوم بِنَفسِهِ أَو مفعولات
আল-আল্লাফ দাবি করেছেন যে, জান্নাত ও জাহান্নামবাসীদের নড়াচড়া বন্ধ হয়ে যাবে এবং তারা স্থায়ী স্থিরতায় থেকে যাবে। আর এটি এ কারণে যে, তারা বিশ্বাস করত যে অতীতে ঘটনার পরম্পরা (তাসালসুল) অসম্ভব; এ বিষয়েও ইসলামপন্থীদের মধ্যে দুটি অভিমত রয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেন যে, আল্লাহ যখন চান তখন কথা বলা থেকে কখনো বিরত হননি এবং তিনি সর্বদা কর্মশীল। এর পাশাপাশি তারা বলেন যে, আল্লাহ ব্যতীত অন্য সবকিছুই নতুন সৃষ্টি এবং মহাবিশ্বে এমন কোনো অনাদি বস্তু নেই যা মহান আল্লাহর সমান্তরাল, যেমনটি সেই দার্শনিকরা বলে থাকে যারা আকাশমন্ডলীর অনাদিত্বের প্রবক্তা এবং মনে করে যে উদ্ভাবক হলেন এক 'পূর্ণ কারণ' (ইল্লাতে তাম্মাহ) যা নিজ সত্তাগতভাবেই কার্যকর। আর এটি একটি ভ্রষ্টতা, কারণ 'কারণ' তার 'ফল'কে (মা'লুল) অপরিহার্য করে তোলে এবং তা থেকে পিছিয়ে থাকা জায়েজ নয়। অথচ জগতে নতুন নতুন ঘটনার উদ্ভব সুপরিচিত। সুতরাং স্রষ্টা যদি তাঁর সত্তাগতভাবেই কার্যকর কোনো পূর্ণ কারণ হতেন যা তাঁর ফলকে অপরিহার্য করে তোলে, তবে অস্তিত্বের জগতে নতুন কোনো কিছুরই উদ্ভব হতো না। কারণ কোনো নতুন ঘটনা অনাদি পূর্ণ কারণ থেকে নিঃসৃত হওয়া অসম্ভব। যদি জগত অনাদি হতো, তবে এর উদ্ভাবক হতেন এক পূর্ণ কারণ, আর পূর্ণ কারণ থেকে তার ফল কখনো পৃথক হয় না। সুতরাং নতুন নতুন ঘটনার উদ্ভব এই প্রমাণ বহন করে যে, এর কর্তা কোনো পূর্ণ কারণ নন। আর যখন অনাদিকালে পূর্ণ কারণের অস্তিত্ব নাকচ হয়ে গেল, তখন জগতের অনাদিত্বের দাবিও বাতিল হয়ে গেল। তবে এটি আল্লাহ যখন চান তখন কথা বলা এবং যা চান তা সর্বদা করার বিষয়টিকে নাকচ করে না।

জগতের অনাদিত্বের বিষয়ে দার্শনিকদের মূল ভিত্তি হলো তাদের এই দাবি যে, নতুন কোনো কারণ ছাড়াই নতুন কোনো ঘটনার উদ্ভব হওয়া অসম্ভব। সুতরাং এমন এক সত্তার কল্পনা করা অসম্ভব যিনি কর্মহীন ছিলেন, কোনো কাজ করেননি, অতঃপর কোনো প্রকার নতুন কারণ ছাড়াই কাজ শুরু করেছেন। আর এটি নির্দিষ্ট কোনো জিনিসের অনাদিত্ব নির্দেশ করে না, বরং এটি কেবল এটাই নির্দেশ করে যে তিনি সর্বদা কর্মশীল ছিলেন।

অতঃপর যদি ধরা হয় যে তিনি এমন সব কাজের ক্ষেত্রে কর্মশীল যা তাঁর নিজের সত্তার সাথে প্রতিষ্ঠিত অথবা এমন সব সৃষ্টি...
(খণ্ড: ১) আল-মুনতাকা মিন মিনহাজিল ইতিদাল (পৃষ্ঠা: ৩৯)
حَادِثَة شَيْئا بعد شَيْء كَانَ ذَلِك وَفَاء بِمُوجب هَذِه الْحجَّة مَعَ القَوْل بِأَن كل مَا سوى الله كَائِن بعد أَن لم يكن

قَالَ هَؤُلَاءِ فقد أخبر تَعَالَى بِأَنَّهُ (خَالق كل شَيْء) وَلَا يكون الْمَخْلُوق إِلَّا مَسْبُوقا بِالْعدمِ فَلَيْسَ شَيْء من الْمَخْلُوقَات مُقَارنًا لله كَمَا تَقوله الفلاسفة إِن الْعَالم مَعْلُول لَهُ وَهُوَ مُوجب لَهُ مفيض لَهُ وَهُوَ مُتَقَدم عَلَيْهِ بالشرف والعلية والطبع لَا بِالزَّمَانِ

إِلَى أَن قَالَ الْوَجْه الثَّانِي لَا بُد أَن يكون الْفَاعِل مَوْجُودا عِنْد وجود الْمَفْعُول لَا يجوز عَدمه عِنْد ذَلِك إِذْ الْمَعْدُوم لَا يفعل مَوْجُودا وَنَفس إِيجَابه وَفعله واقتضائه وإحداثه لَا يكون ثَابتا بِالْفِعْلِ إِلَّا عِنْد وجود الْمَفْعُول فَلَو قدر أَن فعله اقْتَضَاهُ فَوجدَ بعد عَدمه لزم أَن يكون فعله وإيجابه عِنْد عدم الْمَفْعُول الْمُوجب وَإِذا كَانَ كَذَلِك فالموجب لحدوث الْحَوَادِث إِذا قدر أَنه يفعل الثَّانِي بعد الأول من غير أَن تحدث لَهُ صفة يكون بهَا فَاعِلا للثَّانِي كَانَ الْمُؤثر التَّام مَعْدُوما عِنْد وجود الْأَثر وَهَذَا محَال

وَالْوَاحد من النَّاس إِذا قطع مَسَافَة وَكَانَ قطعه للجزء الثَّانِي مَشْرُوطًا بِالْأولِ فَإِنَّهُ إِذا قطع الأول حصل لَهُ أُمُور تقوم بِهِ من قدرَة وَإِرَادَة وَغَيرهمَا تقوم بِذَاتِهِ بهَا يصير حَاصِلا فِي الْجُزْء الثَّانِي لَا أَنه لمُجَرّد عدم الأول صَار قَاطعا للثَّانِي فَإِذا شبهوا فعله للحوادث بِهَذَا لَزِمَهُم أَن تتجدد لله أَحْوَال تقوم بِهِ عِنْد إِحْدَاث الْحَوَادِث وَإِلَّا إِذا كَانَ هُوَ لم يَتَجَدَّد لَهُ حَال وَإِنَّمَا وجد عدم الأول فحاله قبل وَبعد سَوَاء فإختصاص أحد الْوَقْتَيْنِ بالإحداث لَا بُد لَهُ من مُخَصص وَنَفس صُدُور الْحَوَادِث لَا بُد لَهُ من فَاعل وَالتَّقْدِير أَنه على حَال وَاحِدَة من الْأَزَل إِلَى الْأَبَد فَيمْتَنع مَعَ هَذَا التَّقْدِير إختصاص وَقت دون وَقت بِشَيْء مِنْهَا

وَابْن سينا وَغَيره من الْقَائِلين بقدم الْعَالم بِهَذَا احْتَجُّوا على الْمُعْتَزلَة فَقَالُوا إِذا كَانَ فِي الْأَزَل
একের পর এক ঘটনা ঘটা এই প্রমাণের দাবি পূরণ করে, এই বক্তব্যের সাথে যে আল্লাহ ব্যতীত অন্য সবকিছুই অস্তিত্বহীন থাকার পর অস্তিত্বে এসেছে।

তাঁরা বলেন, মহান আল্লাহ সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি "প্রত্যেক বস্তুর স্রষ্টা"। আর সৃষ্টি কেবল তখনই হয় যখন তা ইতিপূর্বে অস্তিত্বহীন থাকে। অতএব সৃষ্টির কোনো কিছুই আল্লাহর সাথে অনাদি বা সমসাময়িক নয়, যেমনটি দার্শনিকরা দাবি করেন যে, জগৎ তাঁর কার্যফল এবং তিনি এর আবশ্যিক কারণ ও উৎস। তাঁদের মতে, আল্লাহ জগতের অগ্রবর্তী কেবল মর্যাদা, কার্যকারণ এবং প্রকৃতিগত দিক থেকে, সময়ের বিচারে নয়।

...পর্যন্ত, তিনি বলেন, দ্বিতীয় দিকটি হলো: কর্ম সংঘটিত হওয়ার সময় অবশ্যই কর্তা উপস্থিত থাকতে হবে; সেই সময় কর্তার অনুপস্থিতি বৈধ নয়। কেননা অস্তিত্বহীন কোনো সত্তা কোনো অস্তিত্বশীল কিছু সৃষ্টি করতে পারে না। তাঁর আবশ্যিক করা, কাজ করা, চাহিদা এবং উদ্ভাবন তখনই বাস্তবে সাব্যস্ত হয় যখন কর্ম বা সৃষ্টি অস্তিত্ব লাভ করে। যদি ধরে নেওয়া হয় যে তাঁর কাজ সেটির দাবি করেছে ফলে তা না থাকার পর অস্তিত্ব লাভ করেছে, তবে এর অর্থ দাঁড়ায় যখন আবশ্যিক কর্মটি অনুপস্থিত ছিল তখনই তাঁর কাজ ও আবশ্যিকতা বিদ্যমান ছিল। আর বিষয়টি যদি এমন হয়, তবে নব্য বিষয়াদি ঘটার কারণ হিসেবে যদি মনে করা হয় যে তিনি প্রথমটির পর দ্বিতীয়টি করেন অথচ তাঁর মধ্যে এমন কোনো বৈশিষ্ট্য তৈরি হয়নি যার মাধ্যমে তিনি দ্বিতীয়টির কর্তা হন, তবে এর অর্থ দাঁড়াবে যখন প্রভাব প্রকাশ পেল তখন পরিপূর্ণ প্রভাব বিস্তারকারী সত্তা অনুপস্থিত ছিল। আর এটি অসম্ভব।

কোনো ব্যক্তি যখন কোনো পথ অতিক্রম করে এবং দ্বিতীয় অংশ অতিক্রম করা প্রথম অংশের ওপর নির্ভরশীল হয়, তবে প্রথম অংশ অতিক্রম করার ফলে তার মধ্যে ক্ষমতা, ইচ্ছা ও অন্যান্য এমন কিছু বিষয় অর্জিত হয় যা তার সত্তার সাথে বিদ্যমান থাকে এবং যার মাধ্যমে সে দ্বিতীয় অংশে পৌঁছায়। শুধু প্রথম অংশ শেষ হওয়ার কারণেই সে দ্বিতীয় অংশ অতিক্রমকারী হয়ে যায় না। যদি তাঁরা নব্য বিষয়াদির ক্ষেত্রে আল্লাহর কাজকে এর সাথে তুলনা করেন, তবে তাঁদের জন্য এটি মেনে নেওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে যে, নব্য বিষয়াদি সৃষ্টির সময় আল্লাহর সত্তায় নতুন অবস্থার উদ্ভব ঘটে। অন্যথায়, যদি তাঁর মধ্যে নতুন কোনো অবস্থা তৈরি না হয় এবং কেবল প্রথমটির অনুপস্থিতিই ঘটে, তবে সৃষ্টির পূর্বের ও পরের অবস্থা সমানই থাকল। এমতাবস্থায় দুটি সময়ের মধ্য থেকে একটি বিশেষ সময়কে সৃষ্টির জন্য সুনির্দিষ্ট করার ক্ষেত্রে অবশ্যই একজন নির্দিষ্টকারীর প্রয়োজন। আর নব্য বিষয়াদি প্রকাশের জন্য অবশ্যই একজন কর্তার প্রয়োজন। অথচ ধারণাটি হলো তিনি অনাদিকাল থেকে অনন্তকাল একই অবস্থায় আছেন; এই ধারণার পরিপ্রেক্ষিতে একটি সময়কে বাদ দিয়ে অন্য একটি নির্দিষ্ট সময়কে কোনো কিছুর জন্য সুনির্দিষ্ট করা অসম্ভব।

ইবনে সিনা এবং জগতের অনাদিত্বের প্রবক্তা অন্যান্যরা মুতাজিলাদের বিরুদ্ধে এই যুক্তিই পেশ করেছেন। তাঁরা বলেছেন, যদি অনাদিকালে...
(খণ্ড: ১) আল-মুনতাকা মিন মিনহাজিল ইতিদাল (পৃষ্ঠা: ৪০)
لَا يفعل وَهُوَ الْآن على حَاله فَهُوَ الْآن لَا يفعل وَقد فرض فَاعِلا هَذَا خلف وَإِنَّمَا لزم ذَلِك من تَقْدِير ذَات معطلة عَن الْفِعْل

فَيُقَال لَهُم ذَا بِعَيْنِه حجَّة عَلَيْكُم فِي إِثْبَات ذَات بسيطة لَا يقوم بهَا فعل وَلَا وصف مَعَ صُدُور الْحَوَادِث عَنْهَا وَإِن كَانَت بوسائط لَازِمَة لَهَا فالوسط اللَّازِم لَهَا قديم بقدمها وَقد قَالُوا إِنَّه يمْتَنع صُدُور الْحَوَادِث عَن قديم هُوَ على حَال وَاحِدَة كَمَا كَانَ

الْوَجْه الثَّالِث أَنهم قَالُوا إِن الْوَاجِب فياض دَائِم الْفَيْض وَإِنَّمَا يتخصص بعض الْأَوْقَات بالحدوث لما يَتَجَدَّد من حُدُوث الإستعداد وَالْقَبُول وحدوث الإستعداد وَالْقَبُول هُوَ سَبَب حُدُوث الحركات

فَهَذَا بَاطِل إِذْ هَذَا إِنَّمَا يتَصَوَّر إِذا كَانَ الفعال الدَّائِم الْفَيْض لَيْسَ هُوَ الْمُحدث لإستعداد الْقبُول كَمَا تَدعُونَهُ فِي الْعقل الفعال فتقولون إِنَّه دَائِم الْفَيْض وَلَكِن يحدث إستعداد القوابل بِسَبَب حُدُوث الحركات الفلكية والإتصالات الكوكبية وَتلك لَيست صادرة عَن الْعقل الفعال

وَأما فِي الْمُبْدع الأول فَهُوَ الْمُبْدع لكل مَا سواهُ فَعَنْهُ يصدر الإستعداد وَالْقَبُول

إِلَى أَن قَالَ وَإِذا كَانَ هُوَ سُبْحَانَهُ الْفَاعِل لذَلِك كُله امْتنع أَن يكون عِلّة تَامَّة أزلية مستلزمة لمعلولها لِأَن ذَلِك يُوجب أَن يكون معلوله كُله أزليا وكل مَا سواهُ معول لَهُ فَيلْزم أَن يكون مَا سواهُ أزليا

وَهَذِه مُكَابَرَة للحس وَفَسَاد هَذَا مَعْلُوم بِالضَّرُورَةِ

وَإِنَّمَا عظمت حجتهم على أهل الْكَلَام المذموم الَّذين إعتقدوا أَن الرب تَعَالَى كَانَ فِي الْأَزَل يمْتَنع مِنْهُ الْفِعْل وَالْكَلَام بقدرته ومشيئته وَكَانَ حَقِيقَة قَوْلهم إِنَّه لم يكن قَادِرًا فِي الْأَزَل
তিনি কোনো কাজ করেন না অথচ তিনি বর্তমানেও তাঁর সেই অবস্থায় আছেন, এমতাবস্থায় তিনি এখন কাজ করেন না অথচ তাকে ‘কর্তা’ হিসেবে ধরে নেওয়া হয়েছে; এটি একটি স্ববিরোধিতা। মূলত কর্মহীন এক সত্তার কল্পনা থেকেই এই অনিবার্য পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

তাদেরকে বলা হয়: এটিই আপনাদের বিরুদ্ধে একটি অকাট্য দলিল যে, আপনারা এমন এক অখণ্ড সত্তা প্রমাণ করতে চাচ্ছেন যার সাথে কোনো কাজ বা গুণাবলী সংশ্লিষ্ট নয়, অথচ তা থেকেই নতুন ঘটনাবলির উদ্ভব ঘটছে; যদিও তা তাঁর জন্য আবশ্যকীয় মাধ্যমসমূহের দ্বারা হয়। কেননা তাঁর জন্য আবশ্যকীয় সেই মাধ্যমসমূহ তাঁর অনাদিত্বের মতোই অনাদি। অথচ তারা নিজেরাই বলেছে যে, এমন অনাদি সত্তা থেকে নশ্বর ঘটনাবলির উদ্ভব অসম্ভব যিনি পূর্বের ন্যায় একই অবস্থায় অবিচল থাকেন।

তৃতীয় দিক: তারা বলেছে যে, অনিবার্য সত্তা হলেন সদা প্রবহমান এবং অবিরত দানকারী। কোনো বিশেষ সময় নতুন ঘটনার সৃষ্টির জন্য নির্ধারিত হওয়া মূলত যোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতার নতুন করে সৃষ্টির কারণেই ঘটে। আর এই যোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতার নতুন উদ্ভবই হলো গতির সৃষ্টির কারণ।

এটি অসার; কারণ এটি কেবল তখনই কল্পনা করা সম্ভব যদি সেই সর্বদা প্রবহমান দাতা সত্তা নিজে সেই যোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতার স্রষ্টা না হন, যেমনটি আপনারা ‘সক্রিয় বুদ্ধি’র ক্ষেত্রে দাবি করেন। আপনারা বলেন যে এটি সর্বদা প্রবহমান, তবে গ্রহ-নক্ষত্রের গতিবিধি এবং এদের সংযোগের কারণে গ্রহণকারীদের যোগ্যতা তৈরি হয়, আর সেগুলো এই সক্রিয় বুদ্ধি থেকে উৎসারিত নয়।

কিন্তু প্রথম উদ্ভাবকের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন, কারণ তিনি তাঁর সত্তা ব্যতিরেকে অন্য সবকিছুরই উদ্ভাবক; ফলে যোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা তাঁর থেকেই উৎসারিত হয়।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি বলেন: আর মহান আল্লাহ যখন সেই সবকিছুরই কর্তা, তখন তাঁর পক্ষে এমন এক পূর্ণ অনাদি কারণ হওয়া অসম্ভব যা তাঁর কার্য বা ফলকে অনাদি হতে বাধ্য করে। কারণ এটি দাবি করে যে, তাঁর সকল কার্য বা সৃষ্টি অনাদি হবে। আর তাঁর সত্তা ছাড়া অন্য সবকিছুই যেহেতু তাঁর সৃষ্টি, তাই তাঁর সত্তা ব্যতীত অন্য সবকিছুকেও অনাদি হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে।

এটি প্রত্যক্ষ অনুভূতির সাথে একগুঁয়েমি করা এবং এর অসারতা অকাট্যভাবেই প্রমাণিত।

তাদের এই যুক্তি মূলত নিন্দিত ইলমুল কালামের অনুসারীদের বিরুদ্ধেই জোরালো হয়েছে, যারা এই বিশ্বাস পোষণ করত যে, মহান রব অনাদিকাল থেকে তাঁর ক্ষমতা ও ইচ্ছায় কাজ করা এবং কথা বলা থেকে বিরত ছিলেন। তাদের এই কথার প্রকৃত অর্থ দাঁড়ায় এই যে, তিনি অনাদিকালে সক্ষম ছিলেন না।
(খণ্ড: ১) আল-মুনতাকা মিন মিনহাজিল ইতিদাল (পৃষ্ঠা: ৪১)
على الْكَلَام وَالْفِعْل بمشيئته وَقدرته لكَون ذَلِك مُمْتَنعا لنَفسِهِ والممتنع لَا يدْخل تَحت الْمَقْدُور وَأَنه صَار قَادِرًا على الْفِعْل وَالْكَلَام بعد أَن لم يكن قَادِرًا عَلَيْهِ وَأَنه إنقلب من الإمتناع الذاتي إِلَى الْإِمْكَان الذاتي

وَهَذَا قَول الْمُعْتَزلَة وَمن وافقهم والشيعة والكرامية

وَأما الْكَلَام فَلَا يدْخل تَحت الْقُدْرَة والمشيئة بل هُوَ شَيْء وَاحِد لَازم لذاته

وَهُوَ قَول ابْن كلاب والأشعري

وَقَالَ طوائف من أهل الْكَلَام وَالْفِقْه والْحَدِيث ويعزى ذَلِك إِلَى السالمية وَحَكَاهُ الشهرستاني عَن السّلف والحنابلة إِنَّه حُرُوف أَو حُرُوف وأصوات قديمَة الْأَعْيَان لَا تتَعَلَّق بمشيئته وَقدرته

وَلَيْسَ هَذَا قَول جُمْهُور أَئِمَّة الْحَنَابِلَة
তাঁর ইচ্ছা ও ক্ষমতা অনুযায়ী কথা বলা ও কাজ করার সক্ষমতার বিষয়টি, কারণ তা সত্তাগতভাবে অসম্ভব ছিল; আর যা অসম্ভব তা ক্ষমতার আওতাভুক্ত হয় না। এবং তিনি কাজ ও কথার ওপর সক্ষম হয়েছেন আগে সক্ষম না থাকার পর, এবং তিনি সত্তাগত অসম্ভবতা থেকে সত্তাগত সম্ভবতায় রূপান্তরিত হয়েছেন।

আর এটি হলো মুতাজিলা, তাদের অনুসারীগণ, শিয়া এবং কাররামিয়াদের মত।

আর কালাম (কথা) ক্ষমতা ও ইচ্ছার অন্তর্ভুক্ত নয়, বরং তা একটি একক বিষয় যা তাঁর সত্তার জন্য অপরিহার্য।

এবং এটি ইবনে কুল্লাব ও আশআরীর মত।

কালাম, ফিকহ ও হাদিস শাস্ত্রবিদদের বিভিন্ন দল বলেছেন—এবং এটি সালমিয়াদের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়, আর শাহরাস্তানি একে সালাফ ও হাম্বলিদের থেকে বর্ণনা করেছেন—যে তা হলো অক্ষর অথবা অক্ষর ও শব্দ যা সত্তাগতভাবে অনাদি এবং তা তাঁর ইচ্ছা ও ক্ষমতার সাথে সংশ্লিষ্ট নয়।

আর এটি হাম্বলি ইমামগণের সংখ্যাগরিষ্ঠের মত নয়।
(খণ্ড: ১) আল-মুনতাকা মিন মিনহাজিল ইতিদাল (পৃষ্ঠা: ৪২)
وَلكنه قَول طَائِفَة مِنْهُم وَمن الْمَالِكِيَّة وَالشَّافِعِيَّة وَقَالُوا دلّ الدَّلِيل على أَن دوَام الْحَوَادِث مُمْتَنع وَأَنه يجب أَن يكون للحوادث مبدأ وأنكروا حوادث لَا أول لَهَا وَقَالُوا وَجب أَن يكون كل مَا تقارنه الْحَوَادِث مُحدثا فَيمْتَنع أَن يكون الْبَارِي لم يزل فَاعِلا متكلما بمشيئته بل إمتنع أَن يكون لم يزل قَادِرًا على ذَلِك لِأَن الْقُدْرَة فِي الْمُمْتَنع ممتنعة

قَالُوا وَبِهَذَا يعلم حُدُوث الْجِسْم لِأَنَّهُ لَا يَخْلُو عَن الْحَوَادِث وَمَا لَا يَخْلُو عَن الْحَوَادِث فَهُوَ حَادث

وَمَا فرقوا بَين مَا لَا يَخْلُو عَن نوع الْحَوَادِث وَبَين مَا لَا يَخْلُو عَن عين الْحَوَادِث

فَيُقَال لَهُم الفلاسفة وَغَيرهم فَهَذَا الدَّلِيل الَّذِي أثبتم بِهِ حُدُوث الْعَالم هُوَ يدل على إمتناع حُدُوث الْعَالم فَكَانَ مَا ذكرتموه إِنَّمَا يدل على نقيض مَا قصدتموه وَذَلِكَ لِأَن الْحَادِث لَا بُد أَن يكون مُمكنا والممكن لَا يتَرَجَّح أحد طَرفَيْهِ على الآخر إِلَّا بمرجح تَامّ والإمكان لَيْسَ لَهُ وَقت مَحْدُود فَمَا من وَقت يقدر إِلَّا والإمكان ثَابت قبله

فَيجب أَن الْفِعْل لم يزل مُمكنا جَائِزا فَيلْزم أَنه لم يزل الرب تَعَالَى قَادِرًا عَلَيْهِ فَيلْزم جَوَاز حوادث لَا أول لَهَا وَلَا نِهَايَة

وَقَالَت الْقَدَرِيَّة والمعتزلة نَحن لَا نسلم أَن إِمْكَان الْحَوَادِث لَا بداية لَهُ لَكِن نقُول الْحَوَادِث يشْتَرط كَونهَا مسبوقة بِالْعدمِ لَا بداية لَهَا

وَذَلِكَ لِأَن الْحَوَادِث عندنَا يمْتَنع أَن تكون قديمَة النَّوْع بل يجب حُدُوث نوعها لَكِن لَا يجب الْحُدُوث فِي وَقت بِعَيْنِه

فالحوادث يشْتَرط كَونهَا مسبوقة بالعدو لَا أول لَهَا بِخِلَاف جنس الْحَوَادِث

إِلَى أَن قَالَ هَل لِإِمْكَان الْحَوَادِث إنتهاء أم لَا فَكَمَا أَن هَذَا يسْتَلْزم الْجمع بَين النقيضين فِي النِّهَايَة فَكَذَلِك الأول يسْتَلْزم الْجمع بَين النقيضين فِي الْبِدَايَة إِلَى
কিন্তু এটি তাদের মধ্য থেকে এক দলের এবং মালিকি ও শাফিঈদের মধ্য থেকে এক দলের বক্তব্য। তারা বলেছে, প্রমাণ এ বিষয়ের প্রতি নির্দেশ করে যে, ঘটনাবলীর অনাদি হওয়া অসম্ভব এবং ঘটনাবলীর অবশ্যই একটি শুরু থাকতে হবে। তারা এমন সব ঘটনাবলীকে অস্বীকার করেছে যার কোনো শুরু নেই। তারা বলেছে, যার সাথে ঘটনাবলী যুক্ত থাকে তাকে অবশ্যই নব্য হতে হবে। সুতরাং স্রষ্টা অনাদিকাল থেকে তাঁর ইচ্ছানুযায়ী কারক ও কথা বলা অবস্থায় থাকা অসম্ভব। বরং অনাদিকাল থেকে এর ওপর সক্ষম থাকাটাও অসম্ভব, কারণ যা অসম্ভব তার ওপর সক্ষমতা থাকা অসম্ভব।

তারা বলেছে, এর মাধ্যমেই দেহের নব্যতা জানা যায়, কারণ এটি ঘটনাবলী থেকে মুক্ত নয়, আর যা ঘটনাবলী থেকে মুক্ত নয় তা নব্য।

আর তারা যা ঘটনাবলীর ধরন থেকে মুক্ত নয় এবং যা নির্দিষ্ট কোনো ঘটনা থেকে মুক্ত নয়, এ দুয়ের মধ্যে পার্থক্য করেনি।

তখন দার্শনিক ও অন্যরা তাদের উদ্দেশ্যে বলে, তোমরা যে প্রমাণের মাধ্যমে জগতের নব্যতা সাব্যস্ত করেছ, তা জগতের নব্যতা অসম্ভব হওয়ারই প্রমাণ দেয়। ফলে তোমরা যা উল্লেখ করেছ তা তোমাদের উদ্দেশ্যের বিপরীত বিষয়েরই প্রমাণ দিচ্ছে। আর তা এ কারণে যে, যা নব্য তা অবশ্যই সম্ভাব্য হতে হবে। আর সম্ভাব্য বিষয়ের এক দিক অন্য দিকের ওপর প্রাধান্য পায় না কোনো পূর্ণ প্রাধান্য দানকারী ব্যতিরেকে। আর সম্ভাব্যতা-এর কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই; ফলে যখনই কোনো সময়ের ধারণা করা হোক না কেন, তার পূর্বেও সম্ভাব্যতা বিদ্যমান থাকে।

সুতরাং এটি অনিবার্য হয়ে পড়ে যে, কর্ম অনাদিকাল থেকেই সম্ভাব্য ও বৈধ ছিল। ফলে এটি আবশ্যক হয়ে পড়ে যে, মহান প্রতিপালক অনাদিকাল থেকেই তার ওপর সক্ষম ছিলেন। এর মাধ্যমে এমন সব ঘটনাবলীর বৈধতা আবশ্যক হয়ে পড়ে যার কোনো শুরু নেই এবং কোনো শেষ নেই।

কাদারিয়্যাহ ও মুতাযিলারা বলেছে, আমরা এটি মেনে নেই না যে ঘটনাবলীর সম্ভাব্যতা শুরুরহিত। বরং আমরা বলি, ঘটনাবলীর শর্ত হলো তা অভাব পরবর্তী হওয়া, যার কোনো শুরু নেই এমন নয়।

আর তা এজন্য যে, আমাদের নিকট ঘটনাবলী ধরনগতভাবে অনাদি হওয়া অসম্ভব, বরং এর ধরনটিও নব্য হওয়া আবশ্যক। তবে কোনো নির্দিষ্ট সময়েই তা সৃষ্ট হওয়া আবশ্যক নয়।

সুতরাং ঘটনাবলীর শর্ত হলো তা অভাব পরবর্তী হওয়া, শুরুরহিত হওয়া নয়; যা ঘটনাবলীর সমষ্টির বিপরীত।

পরিশেষে তিনি বলেন, ঘটনাবলীর সম্ভাব্যতার কি কোনো সমাপ্তি আছে নাকি নেই? তো এটি যেভাবে সমাপ্তির ক্ষেত্রে দুটি বিপরীত বিষয়কে একত্রিত করা আবশ্যক করে তোলে, তেমনিভাবে প্রথমটি শুরুর ক্ষেত্রেও দুটি বিপরীত বিষয়কে একত্রিত করা আবশ্যক করে তোলে...
(খণ্ড: ১) আল-মুনতাকা মিন মিনহাজিল ইতিদাল (পৃষ্ঠা: ৪৩)
أَن قَالَ والقادر الْمُخْتَار هُوَ الَّذِي إِن شَاءَ فعل وَإِن شَاءَ ترك فَمَا شَاءَ الله كَانَ وَمَا لم يَشَأْ لم يكن

إِلَى أَن قَالَ وَالْمَقْصُود هُنَا أَن الفلاسفة إِن جوزوا حوادث بِلَا سَبَب حَادث بطلت عمدتهم فِي قدم الْعَالم وَإِن منعُوا ذَلِك إمتنع خلو الْعَالم عَن الْحَوَادِث وهم لَا يسلمُونَ أَنه لم يخل من الْحَوَادِث

وَإِذا كَانَ كل مَوْجُود معِين من مرادات الْخَالِق مُقَارنًا للحوادث مستلزما لَهَا إمتنع إِرَادَته دون إِرَادَة لوازمه الَّتِي لَا يَنْفَكّ عَنْهَا

وَالله رب كل شَيْء وخالقه فَيمْتَنع أَن يكون بعض ذَلِك بإرادته وَبَعضه بِإِرَادَة غَيره

بل الْجَمِيع بإرادته

وَحِينَئِذٍ فالإرادة الأزلية إِمَّا أَن لَا تكون مستلزمة لمقارنة المُرَاد وَإِمَّا أَن تكون كَذَلِك

فَإِن كَانَ الأول لزم أَن يكون المُرَاد ولوازمه قديمَة أزلية والحوادث لَازِمَة لكل مَصْنُوع فَوَجَبَ أَن تكون مُرَادة لَهُ وَأَن تكون أزلية إِذْ التَّقْدِير أَن المُرَاد مُقَارن للإرادة فَيلْزم أَن تكون جَمِيع الْحَوَادِث المتعاقبة قديمَة أزلية وَهَذَا مُمْتَنع لذاته

وَإِن قيل إِن الْإِرَادَة الْقَدِيمَة لَيست مستلزمة لمقارنة مرادها لَهَا لم يجب أَن يكون المُرَاد قَدِيما أزليا وَلَا يجوز أَن يكون حَادِثا لِأَن حُدُوثه بعد أَن لم يكن يفْتَقر إِلَى سَبَب حَادث كَمَا تقدم وَإِن كَانَ أَن يُقَال إِن الْحَوَادِث تحدث بالإرادة الْقَدِيمَة من غير تجدّد أَمر من الْأُمُور كَمَا يَقُوله كثير من الأشعرية والكرامية وَمن وافقهم من أَصْحَاب مَالك وَالشَّافِعِيّ وَأحمد كَانَ هَذَا
তিনি বলেন যে, সক্ষম ও ইখতিয়ারসম্পন্ন সত্তা তিনিই, যিনি ইচ্ছা করলে কাজ করেন এবং ইচ্ছা করলে তা বর্জন করেন। অতএব আল্লাহ যা চান তা-ই হয়, আর যা তিনি চান না তা হয় না।

...পর্যন্ত যে, তিনি বলেন: এখানে উদ্দেশ্য হলো যে, দার্শনিকগণ যদি নবউদ্ভূত কোনো কারণ ব্যতিরেকেই নতুন ঘটনার (হাওয়াদিছ) উদ্ভব হওয়াকে সিদ্ধ মনে করেন, তবে মহাবিশ্বের অনাদিত্বের (ক্বিদামুল আলাম) সপক্ষে তাদের মূল যুক্তিই অসার হয়ে যায়। আর যদি তারা তা অস্বীকার করেন, তবে জগত এই সকল নতুন ঘটনা হতে মুক্ত হওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে; অথচ তারা এটা মেনে নেন না যে জগত এই নতুন ঘটনাবলী থেকে মুক্ত ছিল না।

আর স্রষ্টার প্রতিটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য যখন নতুন ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত হয় এবং তাকে অপরিহার্য করে তোলে, তখন সেই অবিচ্ছেদ্য অনুষঙ্গসমূহের ইচ্ছা ব্যতীত মূল বিষয়টির ইচ্ছা করা অসম্ভব।

আল্লাহ প্রতিটি বস্তুর রব ও স্রষ্টা। সুতরাং এর কিয়দংশ তাঁর ইচ্ছায় আর অবশিষ্টাংশ অন্য কারোর ইচ্ছায় হওয়া অসম্ভব।

বরং সবকিছুই তাঁর ইচ্ছাধীন।

এমতাবস্থায়, অনাদি ইচ্ছা হয় তাঁর উদ্দিষ্ট বস্তুর সাথে সহাবস্থানকে অপরিহার্য করবে না, নতুবা তা করবে।

যদি প্রথমটি হয়, তবে উদ্দিষ্ট বস্তু এবং তার অনুষঙ্গসমূহকে অনাদি ও চিরন্তন হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে। অথচ নতুন ঘটনাসমূহ প্রতিটি সৃষ্ট বস্তুর জন্য অপরিহার্য। সুতরাং সেই নতুন ঘটনাসমূহকেও তাঁর ইচ্ছাধীন এবং অনাদি হওয়া আবশ্যক, যেহেতু ধারণাটি হলো উদ্দিষ্ট বস্তু ও ইচ্ছা পরস্পর সহাবস্থানকারী; ফলে একের পর এক ঘটে যাওয়া সকল নতুন ঘটনাকে অনাদি ও চিরন্তন হতে হয়, যা স্বতসিদ্ধভাবেই অসম্ভব।

আর যদি বলা হয় যে, অনাদি ইচ্ছা তার অভীষ্টের সাথে সহাবস্থানকে অপরিহার্য করে না, তবে অভীষ্ট বস্তুকে অনাদি হওয়া আবশ্যক নয়। আবার তা নতুনভাবে সৃষ্ট হওয়াও বৈধ নয়, কারণ পূর্বে অস্তিত্বহীন থাকার পর নতুনভাবে অস্তিত্বলাভের জন্য একটি নতুন কারণের প্রয়োজন, যেমনটি পূর্বে গত হয়েছে। আর যদি বলা হয় যে, নতুন ঘটনাসমূহ কোনো নতুন বিষয় সৃষ্টি হওয়া ছাড়াই অনাদি ইচ্ছার মাধ্যমে সূচিত হয়—যেমনটি অনেক আশআরি ও কাররামিয়্যাহ এবং ইমাম মালিক, শাফিঈ ও আহমাদ-এর অনুসারীদের মধ্য থেকে যারা তাদের সাথে একমত হয়েছেন তারা বলেন—তবে এটি...
(খণ্ড: ১) আল-মুনতাকা মিন মিনহাজিল ইতিদাল (পৃষ্ঠা: ৪৪)
مُبْطلًا لحجة هَؤُلَاءِ الفلاسفة على قدم الْعَالم

فَإِن أصل حجتهم أَن الْحَوَادِث لَا تحدث إِلَّا بِسَبَب حَادث فَإِذا جوزوا حدوثها عَن الْقَادِر الْمُخْتَار بِلَا حَادث أَو جوزوا حدوثها بالإرادة الْقَدِيمَة بطلت عمدتهم وهم لَا يجوزون ذَلِك

وأصل هَذَا الدَّلِيل أَنه لَو كَانَ شَيْء من الْعَالم قَدِيما للَزِمَ أَن يكون صدر عَن مُؤثر تَامّ سَوَاء سمى عِلّة تَامَّة أَو مُوجبا بِالذَّاتِ أَو قيل إِنَّه قَادر مُخْتَار وإختياره أزلي مُقَارن لمراده

وسر ذَلِك أَن مَا كَانَ كَذَلِك لزم أَن يقارنه أَثَره الْمُسَمّى معلولا أَو مرَادا أَو مُوجبا بِالذَّاتِ أَو مبدعا أَو غير ذَلِك من الْأَسْمَاء لَكِن مُقَارنَة ذَلِك لَهُ فِي الْأَزَل تَقْتَضِي أَن لَا يحدث عَنهُ شَيْء بعد أَن لم يكن حَادِثا وَلَو لم يكن كَذَلِك لم يكن للحوادث فَاعل بل كَانَت حَادِثَة بِنَفسِهَا لَا سِيمَا قَول من يَقُول إِن الْعَالم صدر عَن ذَات بسيطة لَا تقوم بهَا صفة وَلَا فعل كإبن سينا وَغَيره

إِلَى أَن قَالَ شَيخنَا وَإِنَّمَا الْقَصْد هُنَا التَّنْبِيه على أصل مَسْأَلَة التَّعْلِيل

فَإِن هَذَا المبتدع أَخذ يشنع على أهل السّنة بمسائل لَا يذكر حَقِيقَتهَا وَلَا أدلتها وينقلها على الْوَجْه الْفَاسِد وَمَا يَنْقُلهُ عَن أهل السّنة خطأ أَو كذب عَلَيْهِم أَو على كثير مِنْهُم وَمَا صدق فِيهِ فَقَوْلهم فِيهِ خير من قَوْله

فَإِن غَالب شناعته هُنَا على الأشعرية وهم خير من الْمُعْتَزلَة والرافضة

وَيَقُولُونَ لَهُم لما كَانَ هَذَا الدَّلِيل عمدتكم إستطال عَلَيْكُم الدهرية والفلاسفة وَابْن سينا

وَهَذَا الدَّلِيل منَاف فِي الْحَقِيقَة لحدوث الْعَالم لَا مُسْتَلْزم لَهُ فَإِذا كَانَ هَذَا الْحَادِث لَا بُد لَهُ من سَبَب حَادث وَكَانَ هَذَا الدَّلِيل مستلزما لحدوث بِلَا سَبَب لزم أَن لَا يكون
জগতের অনাদিত্বের বিষয়ে এই দার্শনিকদের যুক্তিবাদকে বাতিল ঘোষণা করে।

কেননা তাদের যুক্তির মূল ভিত্তি হলো এই যে, কোনো নতুন সৃষ্টি (حادث) অপর কোনো নতুন কারণ ব্যতীত সৃষ্টি হতে পারে না। ফলে তারা যদি কোনো নতুন কারণ ছাড়াই স্বাধীন ক্ষমতাবান সত্তা থেকে কোনো সৃষ্টির উদ্ভবকে বৈধ মনে করত, কিংবা অনাদি ইচ্ছার মাধ্যমে সৃষ্টির উদ্ভবকে বৈধ বলত, তবে তাদের প্রধান খুঁটিটিই বাতিল হয়ে যেত; অথচ তারা এটাকে বৈধ মনে করে না।

এই দলিলের মূল কথা হলো, জগতের কোনো কিছু যদি অনাদি হতো, তবে তা কোনো পূর্ণ প্রভাবক থেকে নির্গত হওয়া অপরিহার্য হতো; চাই তাকে ‘পূর্ণ কারণ’ (ইল্লাতে তাম্মা) বলা হোক, কিংবা ‘সত্তাভিত্তিক অপরিহার্যকারী’ (মুজিবে বিজ-জাত) বলা হোক, অথবা তাকে এমন ‘স্বাধীন ক্ষমতাবান’ বলা হোক যার ইচ্ছা অনাদি এবং তা তার অভীষ্ট লক্ষ্যের সাথে যুগপৎ বিদ্যমান।

এর রহস্য হলো, যা এরূপ হবে, তার সাথে তার প্রভাব বা ফলাফল যুক্ত থাকা আবশ্যক, যাকে কার্য (মা’লুল), অভীষ্ট (মুরাদ), সত্তাভিত্তিক অপরিহার্যকারী বা উদ্ভাবিত বস্তু কিংবা অন্য কোনো নামে অভিহিত করা হয়। কিন্তু অনাদিকাল থেকে এর সাথে ফলাফল লেগে থাকার অর্থ হলো এই যে, পূর্বে অস্তিত্বহীন থাকার পর নতুন করে আর কিছুই তা থেকে উদ্ভূত হবে না। আর যদি বিষয়টি এমন না হতো, তবে নব্য সৃষ্টিসমূহের কোনো কর্তা থাকত না, বরং সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে সৃষ্টি হতো; বিশেষ করে তাদের বক্তব্য অনুযায়ী যারা বলে যে, জগত এমন এক সরল সত্তা থেকে নির্গত হয়েছে যার সাথে কোনো গুণ বা কর্ম বিদ্যমান নেই, যেমন ইবনে সিনা ও অন্যান্যরা।

যতক্ষণ না আমাদের শায়খ বলেছেন: এখানে মূল উদ্দেশ্য হলো কার্যকারণতত্ত্বের (তালীল) মাসআলার মূল ভিত্তির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা।

কেননা এই বিদআতি ব্যক্তি আহলুস সুন্নাহর বিরুদ্ধে এমন সব মাসআলায় নিন্দা করতে শুরু করেছে যার প্রকৃত রূপ বা দলিল সে উল্লেখ করে না এবং তা বিকৃতভাবে বর্ণনা করে। সে আহলুস সুন্নাহর পক্ষ থেকে যা বর্ণনা করে তা হয় ভুল, অথবা তাদের ওপর কিংবা তাদের অনেকের ওপর মিথ্যাচার; আর যেটুকুতে সে সত্য বলেছে, সেখানে তাদের বক্তব্যই তার বক্তব্যের চেয়ে উত্তম।

কেননা এখানে তার অধিকাংশ নিন্দা ও কুৎসা আশআরিদের বিরুদ্ধে, অথচ তারা মুতাযিলা এবং রাফেজিদের চেয়ে উত্তম।

এবং তারা তাদের বলে: যখন এই দলিলই তোমাদের মূল ভিত্তি ছিল, তখন দাহরিয়াহ (বস্তুবাদী), দার্শনিক এবং ইবনে সিনা তোমাদের ওপর চড়াও হওয়ার সুযোগ পেয়েছে।

প্রকৃতপক্ষে এই দলিল জগতের নতুনভাবে সৃষ্টির পরিপন্থী, এর সপক্ষে অপরিহার্য কোনো প্রমাণ নয়। সুতরাং এই নতুন সৃষ্টির জন্য যদি একটি নতুন কারণ থাকা আবশ্যক হয়, আর এই দলিল যদি কারণ ছাড়াই সৃষ্টির উদ্ভবকে অনিবার্য করে, তবে তা হওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে।
(খণ্ড: ১) আল-মুনতাকা মিন মিনহাজিল ইতিদাল (পৃষ্ঠা: ৪৫)
الله أحدث شَيْئا

وَإِذا جَوَّزنَا تَرْجِيح أحد طرفِي الْمُمكن بِلَا مُرَجّح أنسد طَرِيق إِثْبَات الصَّانِع الَّذِي سلكتموه

وَيَقُولُونَ أَيْضا للمعتزلة أَنْتُم مَعَ هَذَا عللتم أَفعَال الله بعلل حَادِثَة فَيُقَال لكم هَل توجبون للحوادث سَببا حَادِثا أم لَا فَإِن قُلْتُمْ نعم لزم تسلسل الْحَوَادِث وَبَطل مَا ذكرتموه وَإِن لم توجبوا ذَلِك قيل لكم وَكَذَلِكَ لَيْسَ لَهَا غَايَة حَادِثَة بعْدهَا إِذْ الْفَاعِل الْمُحدث لَا بُد لفعله من سَبَب وَلَا بُد لَهُ من غَايَة

فَإِن قُلْتُمْ لَا سَبَب لإحداثه قيل لكم وَلَا غَايَة مَطْلُوبَة لَهُ بِالْفِعْلِ

فَإِن قُلْتُمْ لَا يعقل فَاعل لَا يُرِيد حِكْمَة إِلَّا وَهُوَ عابث قيل لكم وَلَا يعقل فَاعل يحدث شَيْئا بِغَيْر سَبَب حَادث أصلا بل ذَا أَشد إمتناعا فِي الْعقل من ذَاك

فَقَوْل من يَقُول إِنَّه يفعل لمحض الْمَشِيئَة بِلَا عِلّة خير من قَوْلكُم فِي حكمته فَإِن هَذَا سلم من التسلسل وَسلم من كَونه يفعل لحكمة مُنْفَصِلَة عَنهُ والمعتزلة تسلم لَهُ إمتناع التسلسل

وَأما من قَالَ بِالتَّعْلِيلِ من أهل السّنة والْحَدِيث فقد سلم من هَذَا وَهَذَا

وَأما قَوْلك جوزوا عَلَيْهِ فعل الْقَبِيح والإخلال بِالْوَاجِبِ فَمَا قَالَ مُسلم قطّ إِن الله يفعل قبيحا أَو يخل بِوَاجِب وَلَكِنَّكُمْ معشر النفاة للقدر توجبون على الله من جنس مَا يجب على الْعباد وتحرمون عَلَيْهِ مَا يحرم عَلَيْهِم فتقيسونه على خلقه

فَأنْتم مشبهة للأفعال فَأَما المثبتون للقدر من السّنة والشيعة فمتفقون على أَن الله تَعَالَى لَا يُقَاس بِنَا فِي أَفعاله كَمَا لَا يُقَاس بِنَا فِي ذَاته وَصِفَاته

فَلَيْسَ مَا وَجب علينا أَو حرم علينا يجب أَو يحرم عَلَيْهِ وَلَا مَا قبح منا قبح مِنْهُ

وَاتَّفَقُوا على أَنه إِذا وعد بِشَيْء كَانَ وُقُوعه وَاجِبا بِحكم وعده لقَوْله تَعَالَى {إِن الله لَا يخلف الميعاد} وَكَذَا لَا يعذب أنبياءه وَلَا أولياءه بل يدخلهم جنته كَمَا أخبر

لَكِن تنازعوا فِي مَسْأَلَتَيْنِ

إِحْدَاهمَا أَن الْعباد هَل يعلمُونَ بعقولهم حسن بعض الْأَفْعَال ويعلمون أَن الله متصف بِفِعْلِهِ

ويعلمون قبح بعض الْأَفْعَال ويعلمون أَن الله منزه عَنهُ على قَوْلَيْنِ أَحدهمَا أَن الْعقل لَا يعلم بِهِ حسن وَلَا قبح

أما فِي حق الله فَلِأَن الْقَبِيح مِنْهُ مُمْتَنع لذاته وَأما فِي حق الْعباد فَلِأَن الْحسن والقبح لَا يثبت إِلَّا بِالشَّرْعِ قَالَه الإشعرية وَكثير من الْفُقَهَاء وهم
আল্লাহ নতুন কিছু সৃষ্টি করেছেন।

আর আমরা যদি কোনো প্রভাবক ছাড়াই কোনো সম্ভাব্য বিষয়ের এক প্রান্তকে অন্যটির ওপর প্রাধান্য দেওয়া বৈধ মনে করি, তবে স্রষ্টাকে সাব্যস্ত করার সেই পথ রুদ্ধ হয়ে যাবে যা আপনারা অনুসরণ করেছেন।

তারা মুতাজিলাদের আরও বলে যে, আপনারা এর সাথে আল্লাহর কার্যাবলীর জন্য নতুন নতুন কারণ পেশ করেছেন। তবে আপনাদের জিজ্ঞাসা করা হয়, আপনারা কি নতুন কোনো ঘটনার জন্য নতুন কোনো কারণকে অপরিহার্য মনে করেন কি না? যদি আপনারা বলেন 'হ্যাঁ', তবে ঘটনার পরম্পরা অনিবার্য হয়ে পড়বে এবং আপনারা যা উল্লেখ করেছেন তা বাতিল হয়ে যাবে। আর যদি আপনারা তা অপরিহার্য মনে না করেন, তবে আপনাদের বলা হবে: অনুরূপভাবে এর পরে নতুন কোনো লক্ষ্যও নেই, যেহেতু কোনো নতুন কর্তার কাজের জন্য অবশ্যই একটি কারণ ও একটি লক্ষ্য থাকতে হয়।

যদি আপনারা বলেন যে, তাঁর সৃষ্টির কোনো কারণ নেই, তবে আপনাদের বলা হবে যে, সেই কাজের পেছনে কাঙ্ক্ষিত কোনো লক্ষ্যও নেই।

যদি আপনারা বলেন যে, এমন কোনো কর্তার কথা কল্পনা করা যায় না যিনি কোনো প্রজ্ঞার উদ্দেশ্য করেন না অথচ তিনি অনর্থক কাজ করেন না, তবে আপনাদের বলা হবে যে, এমন কোনো কর্তার কথাও কল্পনা করা যায় না যিনি কোনো নতুন কারণ ছাড়াই কোনো কিছু সৃষ্টি করেন; বরং এটি বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে ওই বিষয়ের চেয়েও অসম্ভব।

সুতরাং যারা বলে যে তিনি কোনো কারণ ছাড়াই নিছক ইচ্ছার মাধ্যমে কাজ করেন, তাদের কথা আপনাদের প্রজ্ঞা সংক্রান্ত কথার চেয়ে উত্তম; কারণ এটি পরম্পরা (তাসালসুল) থেকে মুক্ত এবং এটি আল্লাহ তাঁর থেকে পৃথক কোনো প্রজ্ঞার জন্য কাজ করা থেকেও মুক্ত। আর মুতাজিলারাও তাসালসুলের অসম্ভবতাকে স্বীকার করে।

আর আহলুস সুন্নাহ ওয়াল হাদিসের মধ্যে যারা কারণ (তালীলের) প্রবক্তা, তারা উভয়টি থেকেই মুক্ত।

আর আপনার এই উক্তি যে, তারা আল্লাহর ওপর মন্দ কাজ করা এবং ওয়াজিব পালনে ত্রুটি করাকে বৈধ মনে করে—তবে কোনো মুসলিমই কখনো বলেনি যে আল্লাহ মন্দ কাজ করেন বা ওয়াজিব পালনে ত্রুটি করেন। কিন্তু হে তাকদির অস্বীকারকারী গোষ্ঠী! আপনারা আল্লাহর ওপর সেই জাতীয় বিষয়গুলো ওয়াজিব করেন যা বান্দাদের ওপর ওয়াজিব হয় এবং তাঁর ওপর তা হারাম করেন যা তাদের ওপর হারাম করা হয়; ফলে আপনারা তাঁকে তাঁর সৃষ্টির সাথে তুলনা করেন।

তাই আপনারা কর্মের ক্ষেত্রে সাদৃশ্য দানকারী (মুশাব্বিহা)। পক্ষান্তরে সুন্নাহ ও শিয়াদের মধ্য থেকে যারা তাকদিরে বিশ্বাসী, তারা এ বিষয়ে একমত যে, মহান আল্লাহর কার্যাবলীকে আমাদের সাথে তুলনা করা যাবে না, যেমন তাঁর সত্তা ও গুণাবলীর ক্ষেত্রে আমাদের সাথে তুলনা করা যায় না।

সুতরাং আমাদের ওপর যা ওয়াজিব বা হারাম, তা তাঁর ওপর ওয়াজিব বা হারাম নয় এবং আমাদের জন্য যা মন্দ, তা তাঁর জন্য মন্দ নয়।

তারা এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, তিনি যখন কোনো কিছুর প্রতিশ্রুতি দেন, তখন তাঁর প্রতিশ্রুতির বিধান অনুযায়ী সেটি ঘটা অবধারিত, কারণ মহান আল্লাহ বলেছেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রতিশ্রুতির খেলাফ করেন না}। তদ্রূপ তিনি তাঁর নবীগণ বা ওলিদের শাস্তি দেবেন না, বরং সংবাদ অনুযায়ী তাঁদের জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।

কিন্তু তাঁরা দুটি বিষয়ে মতভেদ করেছেন।

তার মধ্যে একটি হলো: বান্দারা কি তাদের বিবেকের মাধ্যমে কিছু কাজের ভালো দিক জানতে পারে এবং জানতে পারে যে আল্লাহ সেই কাজ করার গুণে গুণান্বিত?

এবং তারা কি কিছু কাজের মন্দ দিক জানতে পারে এবং জানতে পারে যে আল্লাহ তা থেকে পবিত্র? এ বিষয়ে দুটি মত রয়েছে: প্রথমটি হলো বিবেক দিয়ে কোনো কাজের ভালো বা মন্দ জানা যায় না।

আল্লাহর হকের ব্যাপারে কথা হলো, তাঁর পক্ষ থেকে মন্দ হওয়া তাঁর সত্তাগতভাবেই অসম্ভব। আর বান্দাদের হকের ব্যাপারে কথা হলো, ভালো এবং মন্দ কেবল শরিয়তের মাধ্যমেই সাব্যস্ত হয়। আশআরিগণ এবং ফকিহদের একটি বড় অংশ এই কথা বলেছেন এবং তারা হলেন...