(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী ইফহামিল ইয়াহুদ ত আশ-শারকাউয়ী (পৃষ্ঠা: -)
بذل المجهود في إفحام اليهود ت الشرقاوي   (السموأل بن يحيى المغربي)

القسم: العقيدة


الكتاب: إفحام اليهود، وقصة إسلام السموأل، ورؤياه النبي صلى الله عليه وسلم

المؤلف: السموأل بن يحيى بن عباس المغربي (ت نحو 570هـ)

المحقق: الدكتور محمد عبد الله الشرقاوي

الناشر: دار الجيل - بيروت

الطبعة: الثالثة، 1410 - 1990

عدد الصفحات: 189

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ربيع الأول 1432

ইহুদিদের নিরুত্তর করার প্রচেষ্টার উৎসর্গ - আল-শারকাউই সংস্করণ   (সামাওয়াল বিন ইয়াহইয়া আল-মাগরিবী)

বিভাগ: আকিদাহ


বই: ইহুদিদের নিরুত্তর করা، সামাওয়ালের ইসলাম গ্রহণের কাহিনী، এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তাঁর স্বপ্নে দেখা

লেখক: সামাওয়াল বিন ইয়াহইয়া বিন আব্বাস আল-মাগরিবী (মৃত্যু আনুমানিক ৫৭০ হিজরি)

গবেষক ও সম্পাদক: ডক্টর মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল-শারকাউই

প্রকাশক: দার আল-জিল - বৈরুত

সংস্করণ: তৃতীয়، ১৪১০ - ১৯৯০

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৮৯

[বইয়ের নম্বরকরণ মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩২

(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী ইফহামিল ইয়াহুদ ত আশ-শারকাউয়ী (পৃষ্ঠা: ৪৫)
‌‌بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم رب يسر وأعن يَا الله

قَالَ السموأل

بعد حمد الله وَالصَّلَاة على نبيه مُحَمَّد الْمُصْطَفى صلى الله عليه وسلم

إِن الْعِنَايَة الإلهية لتسوقه من تسبق فِي علم الله هدايته حَتَّى يُوجد مِنْهُ الاهتداء فِي الْوَقْت الَّذِي سبق فِي علم الله تَعَالَى وجوده مِنْهُ فِيهِ وَأَنا أذكر سَبَب مَا وفقنى الله لَهُ من الْهِدَايَة وَكَيف انساقت بِي الْحَال مُنْذُ نشأت إِلَيّ انتقالى عَن مَذْهَب الْيَهُود ليَكُون عِبْرَة وموعظة لمن يَقع إِلَيْهِ

وليعلم متأمله أَن اللطف الإلهي أخْفى من أَن يحاط بكنهه فَإِن الله يخص بفضله من يَشَاء وَيُؤْتى الْحِكْمَة من يَشَاء ويهديه صراطا مُسْتَقِيمًا

وَذَلِكَ أَن أَبى كَانَ يُقَال لَهُ الرآب يهوذا بن آبون من مَدِينَة فاس الَّتِي بأقصى الْمغرب
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। হে আল্লাহ, সহজ করে দিন এবং সাহায্য করুন।

সামাউআল বললেন

আল্লাহর প্রশংসা এবং তাঁর মনোনীত নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর দরূদ পাঠের পর—

নিশ্চয়ই ঐশ্বরিক যত্ন তাকেই পরিচালিত করে, যার হিদায়াতের বিষয়টি আল্লাহর জ্ঞানে পূর্বনির্ধারিত ছিল; যতক্ষণ না তার পক্ষ থেকে সেই হিদায়াত প্রাপ্তি ঘটে, যে সময়টির কথা মহান আল্লাহর জ্ঞানে পূর্বেই বিদ্যমান ছিল। আমি এখানে সেই কারণটি উল্লেখ করছি যার মাধ্যমে আল্লাহ আমাকে হিদায়াতের তাওফিক দিয়েছেন এবং আমার শৈশব থেকে ইহুদি ধর্ম ত্যাগ করা পর্যন্ত আমার অবস্থা কীভাবে আবর্তিত হয়েছে তা বর্ণনা করছি, যাতে এটি যার কাছে পৌঁছাবে তার জন্য শিক্ষা ও উপদেশের কারণ হয়।

এবং এর পাঠক যেন জানতে পারে যে, ঐশ্বরিক অনুগ্রহ এর প্রকৃত রূপ অনুধাবন করার চেয়েও অতি সূক্ষ্ম। কেননা আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাঁর অনুগ্রহের জন্য নির্দিষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা হিকমত (প্রজ্ঞা) দান করেন এবং তাকে সরল সঠিক পথে পরিচালিত করেন।

আর বিষয়টি হলো এই যে, আমার পিতাকে রাব্বি ইয়াহুদা বিন আবুন বলা হতো, যিনি সুদূর মাগরিবের (মরক্কো) ফাস শহরের অধিবাসী ছিলেন।
(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী ইফহামিল ইয়াহুদ ত আশ-শারকাউয়ী (পৃষ্ঠা: ৪৬)
والرآب لقب وَلَيْسَ باسم وَتَفْسِيره الحبر وَكَانَ أعلم أهل زَمَانه بعلوم التَّوْرَاة وأقدرهم على التَّوَسُّع فِي الْإِنْشَاء والإعجاز والارتجال لمنظوم العبراني ومنثوره

وَكَانَ اسْمه الْمَدْعُو بِهِ بَين أهل الْعَرَبيَّة أَبَا الْبَقَاء يحيى بن عَبَّاس المغربي وَذَلِكَ أَن أَكثر متخصصيهم يكون لَهُ اسْم عَرَبِيّ غير اسْمه العبري أَو مُشْتَقّ مِنْهُ كَمَا جعلت الْعَرَب الِاسْم غير الكنية

وَكَانَ اتِّصَاله بأمي بِبَغْدَاد وَأَصلهَا من الْبَصْرَة وَهِي إِحْدَى الْأَخَوَات الثَّلَاث المنجبات فِي عُلُوم التَّوْرَاة وَالْكِتَابَة بالقلم العبرى وَهن بَنَات إِسْحَاق بن إِبْرَاهِيم الْبَصْرِيّ الليوى أَعنِي من سبط ليوي وَهُوَ سبط مضبوط النّسَب لِأَن مِنْهُ كَانَ مُوسَى عليه السلام

وَكَانَ إِسْحَاق هَذَا ذَا عُلُوم يدرسها بِبَغْدَاد وَكَانَت أمهن نفيسة بنت أبي نصر الداوودى وَهَذَا من رُؤَسَائِهِمْ الْمَشَاهِير وَذريته إِلَى الْآن بِمصْر

وَكَانَ اسْم أُمِّي باسم أم شموائيل النَّبِي عليه السلام وَكَانَ هَذَا
'আল-রাব' একটি উপাধি, কোনো নাম নয়; এর অর্থ হলো মহাজ্ঞানী পণ্ডিত। তিনি তাঁর সময়ের লোকদের মধ্যে তাওরাতের জ্ঞানে সবচেয়ে বিজ্ঞ ছিলেন এবং হিব্রু পদ্য ও গদ্যের রচনাশৈলী, অলঙ্কার ও তাৎক্ষণিক উদ্ভাবনী শক্তিতে সবচেয়ে বেশি পারদর্শী ছিলেন।

আরবদের মাঝে তিনি যে নামে পরিচিত ছিলেন তা হলো আবুল বাকা ইয়াহইয়া ইবনে আব্বাস আল-মাগরিবি। এর কারণ হলো, তাদের অধিকাংশ বিশেষজ্ঞেরই তাদের হিব্রু নাম ব্যতীত একটি আরবি নাম থাকে অথবা হিব্রু নাম থেকে উদ্ভূত কোনো নাম থাকে, যেমনিভাবে আরবরা নাম ও উপনামকে পৃথক করে থাকে।

বাগদাদে আমার মায়ের সাথে তাঁর যোগাযোগ হয়, যাঁর মূল নিবাস ছিল বসরা। তিনি সেই তিন বিদুষী বোনের একজন ছিলেন যারা তাওরাত শাস্ত্রে এবং হিব্রু লিপিতে লেখায় অত্যন্ত দক্ষ ছিলেন। তাঁরা ছিলেন ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম আল-বসরি আল-লেভির কন্যা, অর্থাৎ লেভি গোত্রের বংশধর। এটি এমন এক সুসংরক্ষিত বংশ যার বংশপরম্পরা সুনিশ্চিত, কারণ মূসা (আলাইহিস সালাম) এই গোত্রেরই ছিলেন।

এই ইসহাক বাগদাদে বিভিন্ন বিষয়ে পাঠ দান করতেন। তাঁদের মাতার নাম ছিল নাফিসা বিনতে আবি নাসর আদ-দাউদি। তিনি ছিলেন তাঁদের অন্যতম প্রসিদ্ধ নেতা এবং তাঁর বংশধরগণ বর্তমানে মিশরে রয়েছেন।

আমার মায়ের নাম ছিল নবী শামুয়াইল (আলাইহিস সালাম)-এর মাতার নামের অনুরূপ এবং এটি ছিল...
(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী ইফহামিল ইয়াহুদ ত আশ-শারকাউয়ী (পৃষ্ঠা: ৪৭)
النَّبِي قد ولد بعد أَن مكثت أمه عاقرا لَا ترزق ولدا وَلَا تحمل عدَّة سِنِين حَتَّى دعت رَبهَا فِي طلب ولد يكون ناسكا لله ودعا لَهَا رجل صَالح من الْأَئِمَّة يُقَال لَهُ عيلى

فرزقت شموائيل النَّبِي وَذَلِكَ كُله مشروح فِي أَوَائِل سفر شموائيل النَّبِي

فَمَكثت أُمِّي عِنْد أبي مُدَّة لَا ترزق ولدا حَتَّى استشعرت العقم فرأت فِي منامها أَنَّهَا تتلو مُنَاجَاة حنة أم شموائيل لِرَبِّهَا فنذرت أَنَّهَا إِن رزقت ولدا ذكرا تسميه شموائيل لِأَن اسْمهَا كَانَ باسم ام شموائيل

فاتفق أَنَّهَا بعد ذَلِك اشْتَمَلت عَليّ وَحين رزقتني دعتني شموائيل وَهُوَ إِذا عرب السموأل وَكَنَّانِي أبي أَبَا نصر وَهِي كنية جدي وشغلنى أبي بِالْكِتَابَةِ بالقلم العبري ثمَّ بعلوم التَّوْرَاة وتفاسيرها حَتَّى أحكمت علم ذَلِك عِنْد كَمَال السّنة الثَّالِثَة عشرَة من مولدِي
নবী (শমুয়েল) জন্মগ্রহণ করেছিলেন তাঁর মা দীর্ঘকাল বন্ধ্যা থাকার পর, যিনি কয়েক বছর যাবত কোনো সন্তান লাভ করেননি এবং গর্ভধারণও করেননি; অবশেষে তিনি তাঁর রবের নিকট এমন এক সন্তানের প্রার্থনা করেন যে আল্লাহর একনিষ্ঠ ইবাদতকারী হবে, এবং ইমামদের মধ্য থেকে আয়লী নামক একজন পুণ্যবান ব্যক্তি তাঁর জন্য দুআ করেন।

অতঃপর তিনি নবী শমুয়েলকে প্রাপ্ত হন এবং এই সবকিছুই নবী শমুয়েলের পুস্তকের প্রারম্ভে বিস্তারিত বর্ণিত রয়েছে।

আমার মা আমার পিতার নিকট দীর্ঘকাল সন্তানহীন অবস্থায় অতিবাহিত করেন, এমনকি তিনি নিজের বন্ধ্যাত্ব অনুভব করতে থাকেন। অতঃপর তিনি স্বপ্নে দেখলেন যে, তিনি শমুয়েলের মাতা হান্নার তাঁর রবের নিকট কৃত মুনাজাত তিলাওয়াত করছেন। তখন তিনি মানত করলেন যে, যদি তিনি পুত্র সন্তান লাভ করেন তবে তাঁর নাম শমুয়েল রাখবেন; কেননা তাঁর নিজের নাম শমুয়েলের মাতার নামের অনুরূপই ছিল।

অতঃপর ঘটনাচক্রে তিনি আমাকে গর্ভে ধারণ করেন এবং যখন আমি জন্মগ্রহণ করি তখন তিনি আমার নাম শমুয়েল রাখেন—যাকে আরবীকরণ করলে 'সামাওয়াল' হয়। আর আমার পিতা আমার উপনাম রাখেন আবু নাসর, যা ছিল আমার পিতামহের উপনাম। আমার পিতা আমাকে হিব্রু লেখনী শিখতে এবং এরপর তাওরাতের জ্ঞান ও এর ব্যাখ্যাসমূহ শিখতে নিয়োজিত করেন, এমনকি আমার জন্মের তেরো বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই আমি সেই বিদ্যায় পূর্ণ দক্ষতা অর্জন করি।
(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী ইফহামিল ইয়াহুদ ত আশ-শারকাউয়ী (পৃষ্ঠা: ৪৮)
فشغلني حِينَئِذٍ بتَعَلُّم الْحساب الْهِنْدِيّ وَحل الزيجات عِنْد الشَّيْخ الْأُسْتَاذ أبي الْحسن بن الدسكري وَقِرَاءَة علم الطِّبّ على الفيلسوف أبي البركات هبة الله بن على والتأمل فِي علاج الْأَمْرَاض ومشاهدة مَا يتَّفق من الْأَعْمَال الصناعية فِي الطِّبّ والمعالجات الَّتِي يعالجها خَالِي أَبُو الْفَتْح بن الْبَصْرِيّ

فَأَما الْحساب الْهِنْدِيّ والزيج فَإِنِّي أحكمت علمهما فِي أقل من سنة وَذَلِكَ حِين كمل لي أَربع عشرَة سنة وَأَنا فِي خلال ذَلِك لَا أقطع الْقِرَاءَة فِي الطِّبّ ومشاهدة علاج الْأَمْرَاض

ثمَّ قَرَأت الْحساب الديواني وَعلم المساحة على الشَّيْخ أبي المظفر الشهرزوري وقرأت الْجَبْر والمقابلة أَيْضا عَلَيْهِ

وترددت إِلَى الْأُسْتَاذ أبي الْحسن بن الدسكري وَأبي الْحسن بن
সেই সময়ে আমি শাইখ আল-উস্তাদ আবুল হাসান বিন আদ-দাসকারী-এর নিকট হিন্দুস্তানি হিসাব শিক্ষা ও জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক সারণি (যীজ) সমাধান করার কাজে এবং দার্শনিক আবুল বারাকাত হিবাতুল্লাহ বিন আলীর নিকট চিকিৎসাশাস্ত্র পাঠে এবং বিভিন্ন রোগের চিকিৎসার বিষয়ে নিবিড় চিন্তা ও পর্যবেক্ষণ এবং আমার মাতুল আবুল ফাতহ বিন আল-বাছরী কর্তৃক সম্পাদিত চিকিৎসা সংক্রান্ত শিল্পগত কার্যাবলি ও উপশমমূলক ব্যবস্থাসমূহ প্রত্যক্ষ করার কাজে নিজেকে ব্যাপৃত রাখি।

হিন্দুস্তানি হিসাব ও জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক সারণির ক্ষেত্রে আমি এক বছরেরও কম সময়ে পূর্ণ দক্ষতা অর্জন করি এবং সেটি ছিল তখন, যখন আমার চৌদ্দ বছর বয়স পূর্ণ হয়েছিল। আর সেই সময়ে আমি চিকিৎসাশাস্ত্র পাঠ এবং রোগের চিকিৎসা পর্যবেক্ষণ থেকে নিবৃত্ত থাকিনি।

অতঃপর আমি শাইখ আবু আল-মুজাফফর আশ-শাহরাযুরীর নিকট দাপ্তরিক হিসাবরক্ষণ ও ভূমি জরিপ বিদ্যা পাঠ করি এবং তাঁর নিকট বীজগণিতও অধ্যয়ন করি।

এবং আমি উস্তাদ আবুল হাসান বিন আদ-দাসকারী ও আবুল হাসান বিন-এর নিকট যাতায়াত করতাম।
(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী ইফহামিল ইয়াহুদ ত আশ-শারকাউয়ী (পৃষ্ঠা: ৪৯)
النقاش لقِرَاءَة الهندسة حَتَّى حللت المقالات الَّتِي كَانَا يحلانها من إقليدس وَأَنا فِي خلال ذَلِك متشاغل بالطب حَتَّى استوعبت مَا عِنْد من ذكرته من الاستاذين من هَذِه الْعُلُوم

وبقى بعض كتاب إقليدس وَكتاب الواسطى فِي الْحساب وَكتاب البديع فِي الْجَبْر والمقابلة للكرخى لَا أجد من يعرف مِنْهُ شَيْئا وَغير
আন-নাক্কাশের নিকট জ্যামিতি পাঠ করতে থাকলাম, এমনকি ইউক্লিডের যে সকল পরিচ্ছেদ তারা দুজন সমাধান করতেন, আমিও তা সমাধান করে ফেললাম। এর পাশাপাশি আমি চিকিৎসাশাস্ত্রেও নিবিষ্ট ছিলাম, শেষ পর্যন্ত উল্লিখিত ঐ দুই শিক্ষকের নিকট এই সকল শাস্ত্রের যা কিছু ছিল, তা আমি সম্পূর্ণরূপে আয়ত্ত করে নিলাম।

তবে ইউক্লিডের কিতাবের কিছু অংশ, পাটিগণিত বিষয়ে আল-ওয়াসিতির কিতাব এবং আল-কারখি রচিত বীজগণিত ও সমীকরণ বিষয়ক 'আল-বাদি' কিতাবটির এমন কিছু বিষয় অবশিষ্ট রয়ে গিয়েছিল যা সম্পর্কে জানে এমন কাউকে আমি খুঁজে পাচ্ছিলাম না, এবং অন্যান্য...
(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী ইফহামিল ইয়াহুদ ত আশ-শারকাউয়ী (পৃষ্ঠা: ৫০)
ذَلِك من الْعُلُوم الرياضية مثل كتاب شُجَاع بن أسلم فِي الْجَبْر والمقابلة وَغَيره

وَكَانَ بِي من الشغف بِهَذِهِ الْعُلُوم والعشق لَهَا مَا يلهيني عَن الْمطعم وَالْمشْرَب إِذا فَكرت فِي بَعْضهَا

فخلوت بنفسي فِي بَيت مُدَّة وحللت جَمِيع تِلْكَ الْكتب وشرحتها ورددت على من أَخطَأ من واضعيها وأظهرت أغلاط مصنفيها وعزمت على ماعجزوا عَن تَصْحِيحه وتحقيقه وأزريت على إقليدس فِي تَرْتِيب أشكال كِتَابه بِحَيْثُ أمكنني إِذا غيرت نظام أشكاله أَن اسْتغنى عَن عدَّة مِنْهَا لَا يبْقى إِلَيْهَا حَاجَة

بعد أَن كَانَ كتاب إقليدس معجزا لسَائِر المهندسين إِذْ لم يحدثوا أنفسهم بتغيير نظام أشكاله وَلَا بالاستغناء عَن بَعْضهَا كل ذَلِك فِي هَذِه السّنة أعنى الثَّامِنَة عشرَة من مولدِي

واتصلت تصانيفي فِي هَذِه الْعُلُوم مُنْذُ تِلْكَ السّنة وَإِلَى الْآن وَفتح الله عَليّ كثيرا مِمَّا ارتج على من سبقني من الْحُكَمَاء المبرزين فدونت ذَلِك لينْتَفع بِهِ من يَقع إِلَيْهِ
এ সব গাণিতিক বিজ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত, যেমন বীজগণিত ও মোকাবিলা বিষয়ে শুজা ইবনে আসলামের কিতাব এবং অন্যান্য।

এই বিজ্ঞানসমূহের প্রতি আমার এমন অনুরাগ ও আসক্তি ছিল যে, এগুলোর কোনোটি নিয়ে চিন্তা করার সময় আমি পানাহার থেকে বিমুখ থাকতাম।

অতঃপর আমি একটি ঘরে কিছুকাল নির্জনে অবস্থান করলাম এবং ওই সকল কিতাব সমাধান ও ব্যাখ্যা করলাম। যারা এগুলোর রচয়িতাদের মধ্যে ভুল করেছিলেন, আমি তাদের রদ (খণ্ডন) করলাম এবং গ্রন্থকারদের ভুলসমূহ প্রকাশ করলাম। তারা যা সংশোধন ও যাচাই করতে অক্ষম হয়েছিলেন, আমি তা সম্পন্ন করার সংকল্প করলাম। আমি ইউক্লিডের কিতাবের জ্যামিতিক চিত্রসমূহের বিন্যাসের সমালোচনা করলাম; আমি যদি এর চিত্রগুলোর বিন্যাস পরিবর্তন করি, তবে বেশ কিছু চিত্র বাদ দেওয়া সম্ভব হয় যার আর কোনো প্রয়োজন অবশিষ্ট থাকে না।

অথচ ইউক্লিডের কিতাবটি অন্যান্য সকল জ্যামিতিবিদের জন্য ছিল এক বিস্ময়কর বিষয়, কারণ তারা কখনো এর বিন্যাস পরিবর্তনের কথা কিংবা এর কিছু অংশ বাদ দেওয়ার কথা ভাবতেও পারেননি। এ সবই আমার জন্মের আঠারোতম বছরে ঘটেছিল।

সেই বছর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত এই বিজ্ঞানসমূহে আমার রচনাধারা অব্যাহত রয়েছে। আল্লাহ আমার জন্য এমন অনেক বিষয় উন্মোচন করেছেন যা আমার পূর্ববর্তী প্রথিতযশা হেকিমদের কাছে রুদ্ধ বা অস্পষ্ট ছিল। অতঃপর আমি সেগুলো লিপিবদ্ধ করেছি যাতে যাদের নিকট এগুলো পৌঁছাবে তারা যেন উপকৃত হতে পারে।
(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী ইফহামিল ইয়াহুদ ত আশ-শারকাউয়ী (পৃষ্ঠা: ৫১)
وَفِي خلال ذَلِك لَيْسَ لي مكسب إِلَّا بصناعة الطِّبّ وَكَانَ لي مِنْهَا أوفر حَظّ إِذا أَعْطَانِي الله من التأييد فِيهَا مَا عرفت بِهِ كل مرض يقبل العلاج من الْأَمْرَاض الَّتِي لَا علاج لَهَا فَمَا عَالَجت مَرِيضا إِلَّا وعوفي وَمَا كرهت علاج مَرِيض إِلَّا وَعجز عَن علاجه سَائِر الْأَطِبَّاء وَكفوا عَن تَدْبيره فَالْحَمْد لله على جزيل نعْمَته وعظيم فَضله

واتضح لي بعد مطالعة مَا طالعته من الْكتب الَّتِي بالعراق وَالشَّام وآذربيجان وكوهستان الطَّرِيق إِلَى اسْتِخْرَاج عُلُوم كَثِيرَة واختراع أدوية لم أعرف أَنِّي سبقت إِلَيْهَا مثل الدرقاق الَّذِي وسمته بالمخلص ذِي الْقُوَّة النافذة وَهُوَ يُبرئ من عدَّة أمراض عسيرة فِي بعض يَوْم وَغَيره من الْأَدْوِيَة الَّتِي ركبتها مِمَّا فِيهِ مَنَافِع وشفاء للنَّاس بِإِذن الله تَعَالَى

وَقد كنت قبل اشتغالي بِهَذِهِ الْعُلُوم وَذَلِكَ فِي السّنة الثَّانِيَة عشرَة وَالثَّالِثَة عشرَة مشغوفا بالأخبار والحكايات شَدِيد الْحِرْص على الِاطِّلَاع على مَا كَانَ فِي الزَّمَان الْقَدِيم والمعرفة بِمَا جرى فِي الْقُرُون الخالية فاطلعت على التصانيف الْمُؤَلّفَة فِي الحكايات والنوادر على اخْتِلَاف فنونها ثمَّ انْتَقَلت من ذَلِك إِلَى محبَّة الأسمار والخرافات الطوَال ثمَّ إِلَى الدَّوَاوِين الْكِبَار مثل ديوَان أَخْبَار عنتر وديوان ذى الهمه والبطال والبطال وأخبار الْإِسْكَنْدَر ذِي القرنين وأخبار
এই সময়ের মধ্যে চিকিৎসা পেশা ছাড়া আমার উপার্জনের অন্য কোনো মাধ্যম ছিল না। এতে আমি অত্যন্ত সৌভাগ্যবান ছিলাম, কারণ আল্লাহ আমাকে এই বিদ্যায় এমন সাহায্য ও সমর্থন দান করেছিলেন যে, আমি চিকিৎসাযোগ্য প্রতিটি রোগকে চিকিৎসার অযোগ্য রোগগুলো থেকে পৃথক করতে পারতাম। ফলে আমি যে রোগীরই চিকিৎসা করেছি সে আরোগ্য লাভ করেছে, আর আমি যে রোগীর চিকিৎসা করতে অপছন্দ করেছি, অন্য সমস্ত চিকিৎসকরা তার চিকিৎসায় অক্ষম হয়ে পড়েছেন এবং তার প্রতিকার থেকে বিরত থেকেছেন। সুতরাং আল্লাহর অগাধ নেয়ামত এবং সুমহান অনুগ্রহের জন্য সমস্ত প্রশংসা তাঁরই।

ইরাক, সিরিয়া, আজারবাইজান এবং কুহিস্তানে যে সকল গ্রন্থ আমি পাঠ করেছি, তা অধ্যয়নের পর আমার নিকট বহু জ্ঞান আহরণ করার এবং এমন সব নতুন ওষুধ উদ্ভাবনের পথ উন্মোচিত হয়েছে যা ইতিপূর্বে আর কেউ করেছে বলে আমার জানা নেই। যেমন ‘আদ-দিরকাক’, যার নাম আমি রেখেছি ‘আল-মুখাল্লিস’ (পরিত্রাণকারী); এটি অত্যন্ত প্রভাবশালী শক্তির অধিকারী এবং এক দিনেরও কম সময়ে বহু কঠিন রোগ থেকে মুক্তি দান করে। এ ছাড়া অন্যান্য যেসব ওষুধ আমি প্রস্তুত করেছি, সেগুলোতে আল্লাহ তায়ালার অনুমতিতে মানুষের জন্য বহু কল্যাণ ও আরোগ্য নিহিত রয়েছে।

এই সকল বিদ্যায় নিয়োজিত হওয়ার পূর্বে, অর্থাৎ আমার বারো-তেরো বছর বয়সে আমি ইতিহাস ও কাহিনীর প্রতি অত্যন্ত আসক্ত ছিলাম। প্রাচীনকালে কী ঘটেছিল এবং গত হওয়া শতাব্দীগুলোতে কী অতিক্রান্ত হয়েছে, তা জানার ব্যাপারে আমার তীব্র আকাঙ্ক্ষা ছিল। ফলে আমি গল্প এবং বিচিত্র বিষয়ক দুর্লভ ঘটনাবলীর ওপর রচিত গ্রন্থসমূহ অধ্যয়ন করি। এরপর আমি রাতের গল্পগুজব ও দীর্ঘ রূপকথার প্রতি অনুরাগী হই এবং পরবর্তীকালে ‘দিওয়ানে আখবারে আনতার’, ‘দিওয়ানে জিল হিম্মা ওয়াল বাত্তাল’, ‘আখবারে ইসকান্দার জুলকারনাইন’ এবং অন্যান্য বৃহৎ ইতিহাস ও কাব্যগ্রন্থের দিকে ধাবিত হই।
(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী ইফহামিল ইয়াহুদ ত আশ-শারকাউয়ী (পৃষ্ঠা: ৫২)
العنقاء وأخبار الطّرف بن لوذان وَغير ذَلِك

ثمَّ إِنِّي لما طالعت ذَلِك اتَّضَح لي أَن أَكْثَره من تأليف المؤرخين فطلبت الْأَخْبَار الصَّحِيحَة فمالت همتي إِلَى التواريخ فَقَرَأت كتاب أبي على بن مسكويه الَّذِي سَمَّاهُ تجارب الْأُمَم وطالعت تَارِيخ الطَّبَرِيّ وَغَيرهمَا من التواريخ فَكَانَت تمر بِي فِي هَذِه التواريخ أَخْبَار النَّبِي صلى الله عليه وسلم وغزواته وَمَا أظهر الله لَهُ من المعجزات وَمَا خصّه بِهِ من الكرامات وحباه بِهِ من النَّصْر والتأييد فِي غَزْوَة بدر وغزوة خَيْبَر وَغَيرهمَا وقصة منشئه فِي الْيُتْم
আনকা এবং তুরাফ ইবনে লুযান সংক্রান্ত সংবাদ ও এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়।

অতঃপর আমি যখন তা পাঠ করলাম, তখন আমার নিকট স্পষ্ট হলো যে, এর অধিকাংশ ছিল ঐতিহাসিকদের রচনা। তাই আমি বিশুদ্ধ বর্ণনাগুলো অনুসন্ধান করলাম এবং ইতিহাসের প্রতি আমার আগ্রহ নিবিষ্ট হলো। ফলে আমি আবু আলি বিন মিসকাওয়াইহের লিখিত কিতাব ‘তাজারিবুল উমাম’ পাঠ করলাম এবং তাবারির ইতিহাসসহ অন্যান্য ইতিহাসগ্রন্থগুলো অধ্যয়ন করলাম। এই ইতিহাসগ্রন্থগুলোতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সংবাদসমূহ, তাঁর যুদ্ধাবলি, আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে যেসব মুজিজা প্রকাশ করেছেন, তাঁকে যেসব বিশেষ মর্যাদা দান করেছেন, বদর ও খয়বরসহ অন্যান্য যুদ্ধে তাঁকে যে সাহায্য ও সমর্থন প্রদান করেছেন এবং এতিম অবস্থায় তাঁর বেড়ে ওঠার ঘটনাবলি আমার সম্মুখে আসতে লাগল।
(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী ইফহামিল ইয়াহুদ ত আশ-শারকাউয়ী (পৃষ্ঠা: ৫৩)
والضعف ومعاداة أَهله لَهُ وإقامته فِيمَا بَين أعدائه يجاهدهم بإنكار دينهم عَلَيْهِم والدعوة إِلَى دينه مُدَّة طَوِيلَة وسنين كَثِيرَة إِلَى أَن أذن الله لَهُ فِي الْهِجْرَة إِلَى دَار غَيرهَا وَمَا جرى للأعداء الَّذين جاهدوه من النكبات ومصرعهم بَين يَدَيْهِ بسيوف أوليائه ببدر وَغَيرهَا وَظُهُور الْآيَة العجيبة فِي هزيمَة الْفرس ورستم الْجَبَّار مَعَهم فِي أُلُوف كَثِيرَة على غَايَة من الحشد وَالْقُوَّة بَين يدى سعد بن أبي وَقاص وهم فِي فِئَة يسيرَة على حَال من الضعْف وَمَدَائِن كسْرَى أنو شرْوَان وانكسار الرّوم وهلاك عساكرهم على يَدي أبي عُبَيْدَة بن الْجراح رَحْمَة الله عَلَيْهِ ثمَّ سياسة أبي بكر وَعمر رضي الله عنهما وعدلهما وزهدهما

এবং দুর্বলতা, তাঁর প্রতি তাঁর স্বজনদের শত্রুতা এবং দীর্ঘকাল ও বহু বছর ধরে তাঁর শত্রুদের মাঝে অবস্থান করে তাদের ধর্মের অসারতা ঘোষণার মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করা এবং নিজের ধর্মের দিকে আহ্বান জানানো, যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁকে অন্য কোনো ভূখণ্ডের দিকে হিজরত করার অনুমতি প্রদান করেন। আর যারা তাঁর বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছিল সেই শত্রুদের ওপর যে সকল বিপদ নেমে এসেছিল এবং বদরসহ অন্যান্য যুদ্ধে তাঁর বন্ধুদের তলোয়ারের আঘাতে তাঁর সামনে তাদের যে শোচনীয় মৃত্যু ঘটেছিল। আর পারসিকদের পরাজয়ের ক্ষেত্রে সেই বিস্ময়কর নিদর্শনের প্রকাশ, যখন প্রবল শক্তিশালী রুস্তম তার হাজার হাজার সৈন্য ও চরম শক্তি নিয়ে সা'দ ইবন আবি ওয়াক্কাসের সামনে উপস্থিত হয়েছিল, অথচ মুসলিমরা ছিল দুর্বল অবস্থায় থাকা একটি ক্ষুদ্র দল মাত্র। আর কিসরা আনুশিরওয়ানের মাদায়েন শহর বিজয় এবং রোমানদের পরাজয় ও আবু উবায়দাহ ইবনুল জাররাহ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)-এর হাতে তাদের সেনাবাহিনীর ধ্বংস হওয়া। এরপর আবু বকর ও উমর (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর শাসননীতি, তাঁদের ন্যায়বিচার ও তাঁদের দুনিয়াবিমুখতা।

(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী ইফহামিল ইয়াহুদ ত আশ-শারকাউয়ী (পৃষ্ঠা: ৫৪)
وَمَعَ ذَلِك فَإِنِّي كنت لِكَثْرَة شغفي بأخبار الوزراء وَالْكتاب قد أكتسبت بِكَثْرَة مطالعتي لحكاياتهم وأخبارهم وَكَلَامهم قُوَّة فِي البلاغة وَمَعْرِفَة بالفصاحة وَكَانَ لي فِي ذَلِك مَا حَمده الفصحاء وتعجب بِهِ البلغاء وَقد يعلم ذَلِك مني من تَأمل كَلَامي فِي بعض الْكتب الَّتِي ألفتها فِي أحد الْفُنُون العلمية

فشاهدت المعجزة الَّتِي لاتباريها الفصاحة الْآدَمِيَّة فِي الْقُرْآن فَعلمت صِحَة إعجازة ثمَّ إِنِّي لما هذبت خاطري بالعلوم الرياضية ولاسيما الهندسية وبراهينها راجعت نَفسِي فِي اخْتِلَاف النَّاس فِي الْأَدْيَان والمذاهب وَكَانَ أبر المحركات لي فِي الْبَحْث عَن ذَلِك مطالعتي كتاب برذويه
তদুপরি, উজির ও লেখকদের খবরাখবরের প্রতি আমার অত্যধিক অনুরাগের কারণে, তাদের কাহিনী, সংবাদ ও বক্তব্যের ব্যাপক অধ্যয়নের মাধ্যমে আমি অলঙ্কারশাস্ত্রে শক্তি এবং বাগ্মিতায় ব্যুৎপত্তি অর্জন করেছিলাম। এ বিষয়ে আমার এমন অর্জন ছিল যা বাগ্মীরা প্রশংসা করতেন এবং অলঙ্কারবিদরা যাতে বিস্ময় প্রকাশ করতেন। আমার রচিত কিছু বৈজ্ঞানিক ও তাত্ত্বিক গ্রন্থাবলি পাঠ করলে এবং তাতে আমার বক্তব্য গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে যে কেউ এই বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারবেন।

অতঃপর আমি কুরআনের মধ্যে এমন অলৌকিকতা প্রত্যক্ষ করেছি, যার সমকক্ষ হতে মানবীয় বাগ্মিতা অক্ষম; ফলে আমি এর অলৌকিকত্বের সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হলাম। এরপর যখন আমি গণিতশাস্ত্র, বিশেষ করে জ্যামিতি ও তার প্রমাণাদি দ্বারা আমার চিন্তাচেতনাকে পরিশুদ্ধ করলাম, তখন মানুষের ধর্ম ও মতাদর্শের মধ্যকার অনৈক্য নিয়ে নিজের মাঝে চিন্তা-ভাবনা শুরু করলাম। আর এ বিষয়ে অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে আমার অন্যতম প্রধান উদ্দীপক ছিল 'বরজুয়াই'-এর কিতাব অধ্যয়ন করা।
(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী ইফহামিল ইয়াহুদ ত আশ-শারকাউয়ী (পৃষ্ঠা: ৫৫)
الطّيب من كتاب كليلة ودمنة وَمَا وجدت فِيهِ

فَعلمت أَن الْعقل حَاكم يجب تحكيمه على كليات أُمُور عالمنا هَذَا إِذا لَوْلَا أَن الْعقل أرشدنا إِلَى اتِّبَاع الْأَنْبِيَاء وَالرسل وتصديق الْمَشَايِخ وَالسَّلَف لما صدقناهم فِي سَائِر مَا تلقيناه عَنْهُم وَعلمت أَنه إِذا كَانَ اصل التَّمَسُّك بالمذاهب الموروثة عَن السّلف وأصل اتِّبَاع الْأَنْبِيَاء مِمَّا أدّى إِلَيْهِ الْعقل فَإِن تحكيم الْعقل على كليات جَمِيع ذَلِك وَاجِب

وَإِذا نَحن حكمنَا الْعقل على مَا نَقَلْنَاهُ عَن الْآبَاء والأجداد علمنَا أَن النَّقْل عَن السّلف لَيْسَ يُوجب الْعقل قبُوله من غير امتحان لصِحَّته بل بِمُجَرَّد كَونه مأخوذا عَن السّلف لَكِن من أجل أَنه يكون أمرا ذَا حَقِيقَة فِي ذَاته وَالْحجّة مَوْجُودَة بِصِحَّتِهِ

فَأَما الْأُبُوَّة والسلفية وَحدهمَا فليستا بِحجَّة إِذْ لَو كَانَتَا حجَّة لكانتا أَيْضا حجَّة لسَائِر الْخُصُوم الْكفَّار كالنصارى فَإِنَّهُم نقلوا عَن أسلافهم أَن عِيسَى ابْن الله وَأَنه الرازق الْمَانِع الضار النافع فَإِن كَانَ تَقْلِيد
কলিলা ওয়া দিমনা গ্রন্থ থেকে উত্তম বিষয়সমূহ এবং আমি এতে যা পেয়েছি।

তখন আমি বুঝতে পারলাম যে আকল (বুদ্ধি) হলো এমন এক বিচারক, যাকে আমাদের এই জগতের সমস্ত সামগ্রিক বিষয়ের ওপর বিচারক নিযুক্ত করা আবশ্যক। কারণ, আকল যদি আমাদের নবী ও রসূলগণের অনুসরণ করতে এবং মাশায়েখ ও সালাফদের সত্য বলে স্বীকার করতে পথপ্রদর্শন না করত, তবে আমরা তাঁদের থেকে যা কিছু গ্রহণ করেছি তার কোনো কিছুতেই তাঁদের বিশ্বাস করতাম না। আর আমি জানতে পারলাম যে, সালাফদের থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত মতাদর্শ আঁকড়ে ধরা এবং নবীগণের অনুসরণের মূল ভিত্তি যদি আকলের নির্দেশনার মাধ্যমেই হয়ে থাকে, তবে সেই সবকিছুর সামগ্রিক বিষয়ের ওপর আকলকে বিচারক নিযুক্ত করা ওয়াজিব।

আর যখন আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদের থেকে প্রাপ্ত বর্ণনার ওপর আকলকে বিচারক নিযুক্ত করি, তখন আমরা জানতে পারি যে, সালাফদের থেকে কোনো কিছু বর্ণিত হওয়াই আকলের জন্য তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া গ্রহণ করা আবশ্যক করে দেয় না, অথবা কেবল সালাফদের থেকে বর্ণিত হওয়ার কারণেই তা গ্রহণ করতে হবে এমন নয়; বরং তা গ্রহণ করতে হবে এজন্য যে বিষয়টি স্বয়ং একটি বাস্তবতা এবং এর শুদ্ধতার পক্ষে প্রমাণ বিদ্যমান।

আর কেবল পিতৃসূত্র বা পূর্বসূরিতা কোনো দলিল হতে পারে না। কারণ যদি তা দলিল হতো, তবে তা কাফের প্রতিপক্ষ যেমন নাসারাদের জন্যও দলিল হতো। কেননা তারাও তাদের পূর্বপুরুষদের থেকে বর্ণনা করে যে, ঈসা আল্লাহর পুত্র এবং তিনি রিযিকদাতা, বাধাদানকারী, অনিষ্টকারী ও কল্যাণকারী। সুতরাং যদি অন্ধ অনুসরণ...
(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী ইফহামিল ইয়াহুদ ত আশ-শারকাউয়ী (পৃষ্ঠা: ৫৬)
الْآبَاء والأسلاف يدل على صِحَة مَا نقل عَنْهُم فَإِن ذَلِك يلْزم مِنْهُ الْإِقْرَار بِصِحَّة مقَالَة النَّصَارَى ومقالة الْمَجُوس

وَإِن كَانَ هَذَا التَّقْلِيد لأسلاف الْيَهُود خَاصَّة دون غَيرهم من الْأُمَم فَلَا يقبل مِنْهُ ذَلِك إِلَّا أَن يَأْتُوا بِدَلِيل على أَن آبَاءَهُم كَانُوا أَعقل من آبَاء الْأُمَم وأسلافهم فَإِن الْيَهُود ادَّعَت ذَلِك فِي حق آبائها وأسلافها فَجَمِيع أَخْبَار أسلافهم ناطقة بتكذيبهم فِي ذَلِك

وَإِذا تركنَا التعصب لَهُم فَنحْن نجْعَل لِآبَائِهِمْ أُسْوَة بِسَائِر آبَاء غَيرهم من الْأُمَم فَإِذا كَانَت آبَاء النَّصَارَى وَغَيرهم قد نقلو عَن آبَائِهِم الْكفْر والضلال الَّذِي تهرب الْعُقُول مِنْهُ وتنفر الطباع السليمة عَنهُ فَلَيْسَ بممتنع أَن يكون
পিতৃপুরুষ ও পূর্বসূরিদের অনুসরণ যদি তাদের থেকে বর্ণিত বিষয়ের বিশুদ্ধতা প্রমাণ করে, তবে এর মাধ্যমে খ্রিস্টান ও অগ্নিপূজকদের বক্তব্যের বিশুদ্ধতা স্বীকার করে নেওয়াও আবশ্যক হয়ে পড়ে।

আর যদি এই অন্ধ অনুসরণ অন্য জাতির পরিবর্তে কেবল ইহুদিদের পূর্বসূরিদের জন্যই নির্দিষ্ট হয়, তবে তাদের পক্ষ থেকে তা গ্রহণযোগ্য হবে না; যতক্ষণ না তারা এই প্রমাণ উপস্থাপন করে যে, তাদের পিতৃপুরুষগণ অন্যান্য জাতির পিতৃপুরুষ ও পূর্বসূরিদের চেয়ে অধিক বুদ্ধিমান ছিলেন। কেননা ইহুদিরা তাদের পিতৃপুরুষ ও পূর্বসূরিদের ব্যাপারে এমন দাবি করলেও তাদের পূর্বসূরিদের সকল ইতিবৃত্ত এই বিষয়ে তাদের মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করে।

আর আমরা যদি তাদের প্রতি অন্ধ পক্ষপাতিত্ব পরিহার করি, তবে আমরা তাদের পিতৃপুরুষদের অন্যান্য জাতির সকল পিতৃপুরুষদের ন্যায় সমপর্যায়ের গণ্য করব। সুতরাং খ্রিস্টান ও অন্যদের পিতৃপুরুষগণ যদি তাদের পূর্বপুরুষদের নিকট থেকে এমন কুফর ও ভ্রষ্টতা বর্ণনা করে থাকে যা থেকে সুস্থ বিবেক পলায়ন করে এবং নির্মল স্বভাব ঘৃণাভরে বিমুখ হয়, তবে এমনটি হওয়া অসম্ভব নয় যে—
(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী ইফহামিল ইয়াহুদ ত আশ-শারকাউয়ী (পৃষ্ঠা: ৫৭)
مَا نَقله الْيَهُود عَن آبَائِهِم أَيْضا بِهَذِهِ الصّفة فَلَمَّا علمت أَن الْيَهُود لَهُم أُسْوَة بغيرهم فِيمَا نقلوه عَن الْآبَاء والأسلاف علمت أَنه لَيْسَ بِأَيْدِيهِم حجَّة
ইহুদিরা তাদের পিতৃপুরুষদের নিকট থেকে যা বর্ণনা করেছে তাও এই অভিন্ন প্রকৃতির। সুতরাং যখন আমি অবগত হলাম যে, তাদের পিতৃপুরুষ ও পূর্বসূরিদের নিকট থেকে বর্ণিত বিষয়ের ক্ষেত্রে ইহুদিদের অবস্থা অন্যদের অনুরূপই, তখন আমি বুঝতে পারলাম যে তাদের নিকট কোনো প্রমাণ নেই।
(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী ইফহামিল ইয়াহুদ ত আশ-শারকাউয়ী (পৃষ্ঠা: ৫৮)
صَحِيحَة بنبوة مُوسَى إِلَّا شَهَادَة التَّوَاتُر

وَهَذَا التَّوَاتُر مَوْجُود لعيسى وَمُحَمّد كوجوده لمُوسَى عليهم السلام أَجْمَعِينَ فَإِن كَانَ التَّوَاتُر يُفِيد تَصْدِيقًا فالثلاثة صَادِقُونَ ونبوتهم مَعًا صَحِيحَة

وَعلمت أَيْضا أَنِّي لم أر مُوسَى بعيني وَلم أشاهد معجزاته وَلَا معجزات غَيره من الْأَنْبِيَاء عليهم السلام وَلَوْلَا النَّقْل وتقليد الناقلين لما عرفنَا شَيْئا من ذَلِك فَعلمت أَنه لَا يجوز للعاقل أَن يصدق بِوَاحِد ويكذب بِوَاحِد من هَؤُلَاءِ الْأَنْبِيَاء عليهم السلام لِأَنَّهُ لم ير أحدهم وَلَا شَاهد أَحْوَاله إِلَّا بِالنَّقْلِ وَشَهَادَة التَّوَاتُر مَوْجُودَة لثلاثتهم فَلَيْسَ من الْعقل وَلَا من الْحِكْمَة أَن يصدق أحدهم ويكذب الْبَاقُونَ بل الْوَاجِب عقلا إِمَّا تَصْدِيق الْكل وَإِمَّا تَكْذِيب الْكل
মুসার নবুওয়াতের সপক্ষে মুতাওয়াতির সাক্ষ্য ছাড়া অন্য কোনো সহিহ বা সঠিক প্রমাণ নেই।

আর এই মুতাওয়াতির বা অবিচ্ছিন্ন বর্ণনা ঈসা ও মুহাম্মাদের ক্ষেত্রেও সেভাবেই বিদ্যমান, যেমনটি তা মুসার ক্ষেত্রে বিদ্যমান রয়েছে—তাঁদের সকলের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। সুতরাং যদি মুতাওয়াতির বর্ণনা সত্যতা নিশ্চিত করে, তবে এই তিনজনই সত্যবাদী এবং তাঁদের সকলের নবুওয়াতই সঠিক।

আমি আরও জানলাম যে, আমি মুসাকে স্বচক্ষে দেখিনি এবং তাঁর মুজিযাসমূহ কিংবা অন্য কোনো নবীর মুজিযাও প্রত্যক্ষ করিনি—তাঁদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। যদি এই বর্ণনা এবং বর্ণনাকারীদের অনুসরণ না থাকত, তবে আমরা এগুলোর কিছুই জানতে পারতাম না। ফলে আমি জানলাম যে, কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তির জন্য এই নবীদের মধ্য থেকে একজনকে বিশ্বাস করা এবং অন্যজনকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা বৈধ নয়—তাঁদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। কারণ সে তাঁদের কাউকেই দেখেনি এবং বর্ণনা ছাড়া তাঁদের অবস্থা প্রত্যক্ষ করেনি, অথচ মুতাওয়াতির সাক্ষ্য এই তিনজনের জন্যই বিদ্যমান। সুতরাং একজনকে বিশ্বাস করা এবং বাকিদের মিথ্যা প্রতিপন্ন করা বুদ্ধি ও প্রজ্ঞার পরিপন্থী। বরং বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে যা আবশ্যক তা হলো—হয় সকলকে বিশ্বাস করা, না হয় সকলকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা।
(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী ইফহামিল ইয়াহুদ ত আশ-শারকাউয়ী (পৃষ্ঠা: ৫৯)
فَأَما تَكْذِيب الْكل فَإِن الْعقل لَا يُوجِبهُ أَيْضا لأَنا إِنَّمَا نجدهم قد أَتَوا بمكارم الْأَخْلَاق وندبوا إِلَى الْفَضَائِل ونهوا عَن الرذائل ولأنا نجدهم ساسوا الْعَالم بسياسة بهَا صَلَاح حَال أَهله

فصح عِنْدِي بِالدَّلِيلِ الْقَاطِع نبوة الْمَسِيح والمصطفى صلى الله عليه وسلم وَآمَنت بهما

فَمَكثت بُرْهَة أعتقد ذَلِك من غير أَن الْتزم الْفَرَائِض الإسلامية مراقبة لأبي وَذَلِكَ أَنه كَانَ شَدِيد الْحبّ لي قَلِيل الصَّبْر عني كثير الْبر بِي وَكَانَ قد أحسن تربيتي إِذا شغلني مُنْذُ أول حداثتي بالعلوم البرهانية وربي ذهني وخاطري فِي الْحساب والهندسة العلمين اللَّذين مدح أفلاطون عقل من يتربى ذهنه فِي النّظر فيهمَا فَمَكثت مُدَّة طَوِيلَة لَا يفتح على وَجه الْهِدَايَة وَلَا تنْحَل عني هَذِه الشُّبْهَة وَهِي مراقبة أبي إِلَى أَن حَالَتْ الْأَسْفَار بيني وَبَينه وبعدت دَاري عَن دَاره وَأَنا مُقيم على مراقبته والتذمم من أَن أفجعه بنفسي

وحان وَقت الْهِدَايَة وجاءتني الموعظة الإلهية برؤيتي للنَّبِي صلى الله عليه وسلم فِي الْمَنَام لَيْلَة الْجُمُعَة تَاسِع ذِي الْحجَّة سنه ثَمَان وَخمسين وخمسائة وَكَانَ ذَلِك بمراغة من آذربيجان وَهَذَا شرح مَا رَأَيْت
আর সকলের নবুওয়াতকে অস্বীকার করাকে বুদ্ধিও অপরিহার্য করে না, কারণ আমরা দেখতে পাই যে, তাঁরা মহৎ চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে এসেছেন, সচ্চরিত্রের প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করেছেন। তদুপরি আমরা দেখতে পাই যে, তাঁরা এমন এক রাজনীতির মাধ্যমে বিশ্ব পরিচালনা করেছেন যার দ্বারা পৃথিবীবাসীর অবস্থার সংশোধন হয়েছে।

অতঃপর অকাট্য দলীলের মাধ্যমে আমার নিকট মাসীহ ও মুস্তফা (আল্লাহর রহমত ও শান্তি তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর নবুওয়াত সত্য প্রমাণিত হয়েছে এবং আমি তাঁদের উভয়ের প্রতি ঈমান এনেছি।

আমি দীর্ঘ সময় এই বিশ্বাসের ওপর অটল ছিলাম কিন্তু পিতার প্রতি লক্ষ্য রেখে ইসলামি ফরযসমূহ পালন করা থেকে বিরত ছিলাম। এর কারণ ছিল তিনি আমাকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন, আমাকে ছাড়া ধৈর্য ধরতে পারতেন না এবং আমার প্রতি অত্যন্ত সদয় ছিলেন। তিনি আমাকে উত্তমভাবে গড়ে তুলেছিলেন, কেননা তিনি শৈশব থেকেই আমাকে যুক্তিনির্ভর বিজ্ঞানসমূহে নিয়োজিত রেখেছিলেন। তিনি গণিত ও জ্যামিতি শিক্ষাদানের মাধ্যমে আমার মেধা ও মননকে বিকশিত করেছিলেন—যে দুটি শাস্ত্র অধ্যয়নকারীর বুদ্ধিমত্তার প্রশংসা স্বয়ং প্লেটো করেছেন। দীর্ঘ সময় আমি এভাবেই অতিবাহিত করি যেখানে হিদায়াতের পথ উন্মোচিত হচ্ছিল না এবং পিতার প্রতি অতি-সতর্ক থাকার এই দ্বিধাও কাটছিল না; পরিশেষে প্রবাস জীবন আমাদের মাঝে দূরত্ব তৈরি করল এবং আমার আবাসস্থল তাঁর থেকে দূরে চলে গেল। তখনও আমি তাঁর প্রতি সজাগ ছিলাম এবং আমাকে কেন্দ্র করে তাঁকে ব্যথিত করাকে পীড়াদায়ক মনে করতাম।

অবশেষে হিদায়াতের সময় ঘনিয়ে এল এবং ৫৫৮ হিজরীর ৯ই জিলহজ জুমুআর রাতে স্বপ্নে নবী (আল্লাহর রহমত ও শান্তি তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-কে দেখার মাধ্যমে আমার নিকট ঐশী নসিহত পৌঁছাল। ঘটনাটি ঘটেছিল আজারবাইজানের মারাঘা অঞ্চলে; আর আমি যা স্বপ্নে দেখেছি এটি তারই বিস্তারিত বর্ণনা।
(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী ইফহামিল ইয়াহুদ ত আশ-শারকাউয়ী (পৃষ্ঠা: ৬০)
‌‌الْمَنَام الأول

رَأَيْت كَأَنِّي فِي صحراء فيحاء مخضرة الأرجاء يلوح من شرقيها شَجَرَة عَظِيمَة وَالنَّاس يهرعون إِلَى تِلْكَ الشَّجَرَة فَسَأَلت بَعضهم عَن حَال النَّاس فَقَالَ إِن تَحت الشَّجَرَة شموائيل النَّبِي جَالس وَالنَّاس يسلمُونَ عَلَيْهِ فسررت بِمَا سمعته وقصدت الشَّجَرَة فَوجدت فِي ظلها شَيخا جسيما بهيا وقورا شَدِيد بَيَاض الشّعْر عَظِيم الهيبة بِيَدِهِ كتاب ينظر فِيهِ فَسلمت عَلَيْهِ وَقلت بِلِسَان عَرَبِيّ السَّلَام عَلَيْك يانبي الله فَالْتَفت إِلَى مُبْتَسِمًا وهش إِلَيّ وَقَالَ وَعَلَيْك السَّلَام يَا شريكنا فِي الِاسْم اجْلِسْ لنعرض عَلَيْك أمرا فَجَلَست بَين يَدَيْهِ فَدفع إِلَيّ الْكتاب الَّذِي بِيَدِهِ وَقَالَ اقْرَأ مَا تَجدهُ بَين يَديك

فَوجدت بَين يَدي هَذِه الْآيَة من التَّوْرَاة نابي أقيم لاهيم مقارب أحيهم كاموخا إيلاويشماعون تَفْسِيره نَبيا أقيم لَهُم من وسط أخوتهم مثلك بِهِ فليؤمنوا
প্রথম স্বপ্ন

আমি দেখলাম যেন আমি এক সুবিস্তৃত ও চারদিকে সবুজ-শ্যামল এক প্রান্তরে রয়েছি, যার পূর্ব দিক থেকে একটি বিশাল বৃক্ষ দৃশ্যমান হচ্ছে এবং মানুষজন সেই বৃক্ষটির দিকে দ্রুত ধাবিত হচ্ছে। আমি তাদের একজনকে মানুষের অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে সে বলল, "নিশ্চয়ই বৃক্ষটির নিচে নবী শামুয়েল উপবিষ্ট আছেন এবং মানুষ তাঁকে সালাম দিচ্ছে।" যা শুনলাম তাতে আমি আনন্দিত হলাম এবং বৃক্ষটির দিকে অগ্রসর হলাম। সেখানে আমি তার ছায়ায় সুঠামদেহী, সুদর্শন, গম্ভীর এবং ধবধবে সাদা চুলের অধিকারী এক অত্যন্ত প্রভাবশালী বৃদ্ধকে দেখতে পেলাম। তাঁর হাতে একটি কিতাব ছিল যা তিনি নিবিষ্টচিত্তে দেখছিলেন। আমি তাঁকে সালাম দিলাম এবং আরবি ভাষায় বললাম, "হে আল্লাহর নবী! আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক।" তিনি হাসিমুখে আমার দিকে ফিরলেন এবং আমাকে সানন্দে অভ্যর্থনা জানিয়ে বললেন, "তোমার ওপরও শান্তি বর্ষিত হোক, হে আমার নামের অংশীদার! বসো, যেন আমি তোমার সামনে একটি বিষয় পেশ করতে পারি।" অতঃপর আমি তাঁর সম্মুখে উপবেশন করলাম। তিনি তাঁর হাতের কিতাবটি আমার দিকে বাড়িয়ে দিলেন এবং বললেন, "তোমার সামনে যা পাচ্ছ তা পাঠ করো।"

আমি আমার সামনে তাওরাতের এই আয়াতটি পেলাম: "নাবি আকিম লাহিম মিকারাব আখাইহিম কামোখা ইলাউ ইয়াশমাউন", যার অনুবাদ হলো: "আমি তাদের জন্য তাদের ভাইদের মধ্য থেকে তোমার মতো একজন নবী আবির্ভূত করব; তারা যেন তাঁর প্রতি ঈমান আনে।"
(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী ইফহামিল ইয়াহুদ ত আশ-শারকাউয়ী (পৃষ্ঠা: ৬১)
وَهَذِه مُنَاجَاة من الله عز وجل لمُوسَى وَكنت أعرف أَن الْيَهُود يَقُولُونَ إِن هَذِه الْآيَة نزلت فِي حق شموائيل النَّبِي لِأَنَّهُ كَانَ مثل مُوسَى يعنون أَنه كَانَ من سبط ليوى وَهُوَ السبط الَّذِي كَانَ مِنْهُ مُوسَى

فَلَمَّا وجدت بَين يَدي هَذَا الْآيَة من التَّوْرَاة قرأتها وظننت أَنه يذهب إِلَى الافتخار بِأَن الله تَعَالَى ذكره فِي التَّوْرَاة وَبشر بِهِ مُوسَى عليه السلام

فَقلت هَنِيئًا لَك يَا نَبِي الله مَا خصك الله بِهِ من هَذِه الْمنزلَة

فَنظر إِلَيّ مغضبا وَقَالَ أَو إيَّايَ أَرَادَ الله بِهَذَا يَا ذكيا مَا أفادتك إِذا الْبَرَاهِين الهندسية

فَقلت يَا نَبِي الله فَمن أَرَادَ الله بِهَذَا

قَالَ الَّذِي أَرَادَ بِهِ فِي قَوْله هُوَ فيع ميهار فاران

وَتَفْسِيره إِشَارَة إِلَى نبوة وعد بنزولها على جبال فاران فَلَمَّا قَالَ لي ذَلِك عرفت أَنه يَعْنِي الْمُصْطَفى صلى الله عليه وسلم لِأَنَّهُ الْمَبْعُوث من جبال فاران وَهِي جبال مَكَّة لِأَن التَّوْرَاة ناطقة نصا بِأَن فاران مسكن آل إِسْمَاعِيل
এটি মহান আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার পক্ষ থেকে মূসার প্রতি একটি নিভৃত সংলাপ। আমি জানতাম যে ইহুদিরা বলে, এই আয়াতটি নবী শমূয়েলের শানে অবতীর্ণ হয়েছে; কারণ তিনি মূসার সদৃশ ছিলেন—অর্থাৎ তিনি ছিলেন লেবি বংশের অন্তর্ভুক্ত, আর এটি সেই বংশ যা থেকে মূসা আবির্ভূত হয়েছিলেন।

অতঃপর যখন আমি আমার সম্মুখে তাওরাতের এই আয়াতটি পেলাম, আমি সেটি পাঠ করলাম এবং ধারণা করলাম যে তিনি হয়তো এ নিয়ে গর্ববোধ করছেন যে, আল্লাহ তাআলা তাওরাতে তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন এবং মূসা আলাইহিস সালামের মাধ্যমে তাঁর সুসংবাদ দিয়েছেন।

তাই আমি বললাম, হে আল্লাহর নবী! আপনার প্রতি মোবারকবাদ, আল্লাহ আপনাকে যে উচ্চ মর্যাদা দ্বারা বিশেষায়িত করেছেন তার জন্য।

তখন তিনি রাগান্বিত হয়ে আমার দিকে তাকালেন এবং বললেন, আল্লাহ কি এর দ্বারা আমাকেই উদ্দেশ্য করেছেন? হে বুদ্ধিমান! তবে জ্যামিতিক প্রমাণাদি তোমার কী উপকারে এল?

আমি বললাম, হে আল্লাহর নবী! তবে এর দ্বারা আল্লাহ কাকে উদ্দেশ্য করেছেন?

তিনি বললেন, যাকে তিনি তাঁর এই বাণীতে উদ্দেশ্য করেছেন: তিনি ফারান পর্বত হতে প্রদীপ্ত হয়েছেন।

আর এর ব্যাখ্যা হলো এমন এক নবুওয়াতের প্রতি ইঙ্গিত যার অবতরণের প্রতিশ্রুতি ফারান পর্বতমালায় দেওয়া হয়েছে। যখন তিনি আমাকে এটি বললেন, তখন আমি বুঝতে পারলাম যে তিনি এর দ্বারা আল-মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বুঝিয়েছেন; কেননা তিনি ফারান পর্বতমালা থেকে প্রেরিত হয়েছেন, আর ফারান হলো মক্কার পাহাড়সমূহ। কারণ তাওরাতে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে যে ফারান হলো ইসমাইল আলাইহিস সালামের বংশধরদের আবাসস্থল।
(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী ইফহামিল ইয়াহুদ ত আশ-শারকাউয়ী (পৃষ্ঠা: ৬২)
وَذَلِكَ قَول التَّوْرَاة ويشب بِمد نَار فاران

تَفْسِيره وَأقَام فِي بَريَّة فاران يَعْنِي إِسْمَاعِيل ولد إِبْرَاهِيم الْخَلِيل عليهما السلام

ثمَّ إِنَّه عَاد والتفت إِلَى وَقَالَ وَأما علمت أَن الله لم يبعثنى بنسخ شَيْء من التَّوْرَاة وَإِنَّمَا بعثنى لأذكرهم بهَا وأحيي شرائعها وأخلصهم من أهل فلسطين

فَقلت بلَى يَا نَبِي الله

قَالَ فَأَي حَاجَة لَهُم إِلَى أَن يوصيهم رَبهم بِاتِّبَاع من لم ينْسَخ دينهم وَلم يُغير شريعتهم أرأيتهم احتاجوا إِلَى أَن يوصيهم بِقبُول نبوة دانيال أَو أرميا أَو حزقيل
আর এটি হলো তাওরাতের বাণী: "এবং তিনি ফারানের আগুনের দীপ্তি নিয়ে আবির্ভূত হলেন।"

এর ব্যাখ্যা হলো: "তিনি ফারান মরুভূমিতে বসবাস করলেন।" অর্থাৎ ইবরাহীম খলীলের সন্তান ইসমাইল (তাদের উভয়ের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক)।

অতঃপর তিনি পুনরায় আমার দিকে ফিরে তাকালেন এবং বললেন: "তুমি কি জানো না যে, আল্লাহ আমাকে তাওরাতের কোনো কিছু রহিত করার জন্য প্রেরণ করেননি, বরং তিনি আমাকে পাঠিয়েছেন তাদেরকে সেই বিষয়ে স্মরণ করিয়ে দিতে, এর বিধানসমূহকে পুনর্জীবিত করতে এবং তাদেরকে ফিলিস্তিনিদের হাত থেকে উদ্ধার করতে?"

আমি বললাম: "হ্যাঁ, হে আল্লাহর নবী।"

তিনি বললেন: "তাহলে তাদের রবের পক্ষ থেকে এমন কাউকে অনুসরণের নির্দেশ দেওয়ার কী প্রয়োজন ছিল, যিনি তাদের দ্বীন রহিত করবেন না এবং তাদের শরীয়ত পরিবর্তন করবেন না? তুমি কি মনে করো যে, দানিয়াল, আরমিয়া কিংবা হিযকীলের নবুওয়াত গ্রহণের অসিয়ত করার তাদের কোনো প্রয়োজন হয়েছিল?"
(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী ইফহামিল ইয়াহুদ ত আশ-শারকাউয়ী (পৃষ্ঠা: ৬৩)
فَقلت لَا لعمري لم يحْتَج إِلَى ذَلِك

ثمَّ أَخذ الْمُصحف من يَدي وَانْصَرف مغضبا فارتعت لغضبه وازدجرت لموعظته واستيقظت مذعورا فَجَلَست وَكَانَ وَقت السحر والمصباح يقد فِي غَايَة استنارته فتذكرت الْمَنَام جَمِيعه فَإِذا أَنا قد تخيلته لَا يذهب عَليّ مِنْهُ شَيْء

فَعلمت أَن ذَلِك لطف من الله سبحانه وتعالى وموعظة لإِزَالَة الشُّبْهَة الَّتِي كَانَت تمنعني من إعلان كلمة الْحق والتظاهر بِالْإِسْلَامِ

فتبت إِلَى الله من ذَلِك واستغفرته وَأَكْثَرت من الصَّلَاة على رَسُول الله الْمُصْطَفى صلى الله عَلَيْهِ وَسلم
আমি বললাম, "না, আমার জীবনের কসম, এর প্রয়োজন ছিল না।"

অতঃপর তিনি আমার হাত থেকে মুসহাফটি গ্রহণ করলেন এবং ক্রুদ্ধ অবস্থায় প্রস্থান করলেন। তাঁর ক্রোধ দেখে আমি বিচলিত হলাম এবং তাঁর উপদেশে আমি সতর্ক হলাম, আর আমি আতঙ্কিত অবস্থায় জেগে উঠলাম। আমি উঠে বসলাম, তখন ছিল শেষরাত এবং প্রদীপটি তার পূর্ণ উজ্জ্বলতায় প্রজ্বলিত ছিল। আমি পুরো স্বপ্নটি স্মরণ করলাম; সেটি আমার স্মৃতিতে এমনভাবে গেঁথে রইল যে, এর কোনো অংশই আমার নিকট অস্পষ্ট থাকল না।

আমি অনুধাবন করলাম যে, এটি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার পক্ষ থেকে এক অনুগ্রহ এবং এমন এক উপদেশ, যা সেই সংশয় নিরসনকল্পে এসেছে যা আমাকে সত্যের বাণী ঘোষণা করতে এবং ইসলাম প্রকাশ করতে বাধা দিচ্ছিল।

অতঃপর আমি আল্লাহর নিকট এর জন্য তাওবা করলাম ও তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলাম এবং মনোনীত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি অধিক পরিমাণে দরুদ পাঠ করলাম।
(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী ইফহামিল ইয়াহুদ ত আশ-শারকাউয়ী (পৃষ্ঠা: ৬৪)
وأسبغت الْوضُوء وَصليت عدَّة رَكْعَات لله عز وجل وَأَنا شَدِيد الْفَرح وَالسُّرُور بِمَا قد انْكَشَفَ لي من الْهِدَايَة

ثمَّ جَلَست مفكرا

فغلب على النّوم عِنْد تفكري ونمت
আমি সুন্দরভাবে ওযু সম্পাদন করলাম এবং মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর উদ্দেশ্যে কয়েক রাকাত সালাত আদায় করলাম; তখন হিদায়াতের যে বিষয়টি আমার নিকট উন্মোচিত হয়েছিল, তাতে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও প্রফুল্ল ছিলাম।

অতঃপর আমি চিন্তামগ্ন হয়ে বসলাম।

আমার চিন্তারত অবস্থায় আমার ওপর নিদ্রা প্রবল হয়ে এল এবং আমি ঘুমিয়ে পড়লাম।
(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী ইফহামিল ইয়াহুদ ত আশ-শারকাউয়ী (পৃষ্ঠা: ৬৫)
‌‌الْمَنَام الثَّانِي

فَرَأَيْت كَأَنِّي جَالس فِي سكَّة عامرة لَا أعرفهَا إِذْ أَتَانِي آتٍ عَلَيْهِ ثِيَاب المتصوفة وزي الْفُقَرَاء فَلم يسلم عَليّ لكنه قَالَ أجب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم

فهبته وَقمت مَعَه مَسْرُورا مسرعا مُسْتَبْشِرًا بلقاء النَّبِي صلى الله عليه وسلم فَسَار بَين يَدي وَأَنا من وَرَائه حَتَّى انْتهى إِلَى بَاب دَار فدخله واستدخلني فَدخلت وَرَاءه وسرت خَلفه فِي دهليز طَوِيل قَلِيل الظلمَة إِلَّا أَنه مظلم

فَلَمَّا انْتَهَيْت إِلَى طرف الدهليز وَعلمت أَنه قد حَان إشراف النَّبِي صلى الله عليه وسلم هبت لقاءه هَيْبَة شَدِيدَة فَأخذت فِي الاستعداد للقائه وَسَلَامه وَذكرت أَنِّي كنت قد قَرَأت فِي أخباره صلى الله عليه وسلم أَنه كَانَ إِذا لَقِي فِي جمَاعَة قيل سَلام عَلَيْكُم وَرَحْمَة الله وَبَرَكَاته

وَإِذا لَقِي وَحده قيل السَّلَام عَلَيْك يَا رَسُول الله وَرَحْمَة الله وَبَرَكَاته

فعزمت على أَنِّي أسلم عَلَيْهِ سَلاما عَاما لتدخل الْجَمَاعَة فِي السَّلَام لِأَنِّي رَأَيْت ذَلِك كَأَنَّهُ الأولى والأليق
দ্বিতীয় স্বপ্ন

আমি দেখলাম যেন আমি একটি জনাকীর্ণ জনপদে বসে আছি যা আমি চিনি না। এমতাবস্থায় এক আগন্তুক আমার কাছে এলেন যার পরনে ছিল সুফিদের পোশাক এবং দরবেশদের বেশ। তিনি আমাকে সালাম দিলেন না, বরং বললেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ডাকে সাড়া দিন।

আমি তাঁকে অত্যন্ত সমীহ করলাম এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাক্ষাতের সুসংবাদে আনন্দিত ও দ্রুতপদে তাঁর সাথে উঠে দাঁড়ালাম। তিনি আমার আগে আগে চলতে লাগলেন এবং আমি তাঁর পেছনে চলতে লাগলাম, যতক্ষণ না তিনি একটি গৃহের দ্বারে পৌঁছালেন। অতঃপর তিনি প্রবেশ করলেন এবং আমাকেও প্রবেশ করতে বললেন। আমি তাঁর পেছনে প্রবেশ করলাম এবং তাঁর অনুগামী হয়ে এক দীর্ঘ ও কিঞ্চিৎ অন্ধকারাচ্ছন্ন অলিন্দ অতিক্রম করলাম।

যখন আমি অলিন্দের শেষ প্রান্তে পৌঁছালাম এবং বুঝতে পারলাম যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দর্শন লাভের সময় আসন্ন, তখন তাঁর উপস্থিতির গাম্ভীর্যে আমি প্রচণ্ড অভিভূত হলাম এবং তাঁর সাথে সাক্ষাৎ ও সালাম প্রদানের প্রস্তুতি নিতে শুরু করলাম। আমার স্মরণে এল যে, আমি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জীবনী ও বর্ণনাসমূহে পড়েছিলাম যে, তাঁকে যখন কোনো জামাত বা দলের মাঝে পাওয়া যেত, তখন বলা হতো: 'আপনাদের ওপর শান্তি, আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক'।

আর যখন তাঁকে একা পাওয়া যেত, তখন বলা হতো: 'হে আল্লাহর রাসূল! আপনার ওপর শান্তি, আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক'।

তাই আমি সংকল্প করলাম যে, আমি তাঁকে সাধারণ বা সামষ্টিক সালাম প্রদান করব যাতে উপস্থিত পুরো দলটি সালামের অন্তর্ভুক্ত হয়; কারণ আমার নিকট এটাই অধিকতর উত্তম ও যথাযথ মনে হলো।
(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী ইফহামিল ইয়াহুদ ত আশ-শারকাউয়ী (পৃষ্ঠা: ৬৬)
ثمَّ أشرفت على صحن الدَّار وَكَانَ مُقَابل الدهليز مجْلِس طَوِيل وَعَن يسرة الدَّاخِل مجْلِس آخر وَلَيْسَ فِي الدَّار غير هذَيْن المجلسين

وَفِي كل وَاحِد من المجلسين رجلَانِ لَا أحقق الْآن صور أُولَئِكَ الرجل إِلَّا أَنِّي أَظن أَكْثَرهم كَانُوا شبانا لكِنهمْ كَانُوا كالمتهيئين للسَّفر

فَمَنعهُمْ من يلبس ثيابًا للسَّفر وأسلحتهم قريبَة مِنْهُم وَرَأَيْت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَائِما فِيمَا بَين المجلسين أَعنِي فِي الزاوية الَّتِي فِي ذَلِك الرُّكْن من أَرْكَان الصحن وَكَأَنَّهُ قد كَانَ فِي شغل وَقد فرغ مِنْهُ وانقلب عَنهُ ليشرع فِي غَيره ففجأته بِالدُّخُولِ عَلَيْهِ قبل شُرُوعه فِي غَيره

وَكَانَ صلى الله عليه وسلم لَا بسا ثيابًا بيضًا وعمامته معتدلة اللطافة وعَلى عُنُقه رِدَاء أَبيض حول عُنُقه وَهُوَ معتدل الْقَامَة نبيل جسيم معتدل اللَّوْن بَين الْبيَاض والحمرة واليسير من السمرَة أسود الحاجبين والعينين وَشعر محاسنه نصف كَأَنَّهُ شعره وشعره ومحاسنه أَيْضا معتدلة بَين الطول وَالْقصر

وَلما دخلت عَلَيْهِ ورأيته الْتفت إِلَى ورآني فَأقبل عَليّ مُبْتَسِمًا وهش إِلَى جدا

فذهلت لهيبته عَمَّا كنت قد عزمت عَلَيْهِ من السَّلَام فَسلمت سَلاما خَاصّا فَقلت السَّلَام عَلَيْك يَا رَسُول الله وَرَحْمَة الله وَبَرَكَاته

وألغيت الْجَمَاعَة فَلم ألتفت ببصري وقلبي إِلَّا إِلَيْهِ
তারপর আমি বাড়ির আঙিনার দিকে তাকালাম। বারান্দার সামনে একটি দীর্ঘ কক্ষ ছিল এবং ভেতরে প্রবেশকারীর বাম দিকে অন্য একটি কক্ষ ছিল। সেই বাড়িতে এই দুটি কক্ষ ছাড়া আর কিছুই ছিল না।

সেই কক্ষ দুটির প্রতিটিতে দুজন করে লোক ছিলেন। আমি এখন সেই ব্যক্তিদের অবয়ব নিশ্চিতভাবে মনে করতে পারছি না, তবে আমার ধারণা তাদের অধিকাংশই যুবক ছিলেন এবং তারা সফরের জন্য প্রস্তুত ছিলেন।

তাদের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছিল তারা সফরের পোশাক পরিহিত এবং তাদের অস্ত্রশস্ত্র তাদের নিকটেই ছিল। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দুই কক্ষের মাঝখানে অর্থাৎ আঙিনার একটি কোণে দণ্ডায়মান অবস্থায় দেখলাম। মনে হচ্ছিল তিনি কোনো কাজে ব্যস্ত ছিলেন এবং তা শেষ করে অন্য কোনো কাজ শুরু করার জন্য ফিরছিলেন। তিনি অন্য কাজ শুরু করার আগেই আমি হঠাৎ তাঁর সামনে উপস্থিত হলাম।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শ্বেত বস্ত্র পরিহিত ছিলেন এবং তাঁর পাগড়ি ছিল পরিমিত সুন্দর ও পরিপাটি। তাঁর ঘাড়ের চারপাশে একটি সাদা চাদর জড়ানো ছিল। তিনি ছিলেন মধ্যম আকৃতির এবং সুঠাম ও মহিমান্বিত দেহের অধিকারী। তাঁর গায়ের রঙ ছিল শ্বেত ও আরক্তিমার মাঝামাঝি এবং তাতে সামান্য শ্যামল আভার সংমিশ্রণ ছিল। তাঁর ভ্রু ও চোখ যুগল ছিল ঘন কালো। তাঁর দাড়ি ছিল ঘন এবং তাঁর চুল ও দাড়ি উভয়ই দৈর্ঘ্য ও হ্রস্বতার মাঝামাঝি সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল।

যখন আমি তাঁর নিকট প্রবেশ করলাম এবং তাঁকে দেখলাম, তিনি আমার দিকে ফিরে তাকালেন এবং আমাকে দেখে মুচকি হেসে আমার দিকে এগিয়ে এলেন এবং অত্যন্ত আনন্দ প্রকাশ করলেন।

তাঁর প্রভাব ও গাম্ভীর্যের কারণে আমি যেভাবে সালাম দেওয়ার সংকল্প করেছিলাম তা ভুলে গেলাম। অতঃপর আমি বিশেষভাবে সালাম নিবেদন করে বললাম, "হে আল্লাহর রাসূল! আপনার ওপর শান্তি, আল্লাহর রহমত ও তাঁর বরকত বর্ষিত হোক।"

আমি উপস্থিত অন্য সকলের কথা ভুলে গেলাম এবং আমার দৃষ্টি ও অন্তর কেবল তাঁর দিকেই নিবদ্ধ রাখলাম।
(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী ইফহামিল ইয়াহুদ ত আশ-শারকাউয়ী (পৃষ্ঠা: ৬৭)
فَقَالَ وَعَلَيْك السَّلَام وَرَحْمَة الله وَبَرَكَاته

وَلم يكن بَين تسليمي عَلَيْهِ وَبَين سعيي إِلَيْهِ توقف ولازمان بل جريت إِلَيْهِ مسرعا وأهويت بيَدي إِلَيّ يَده وَمد يَده الْكَرِيمَة إِلَيّ فأمسكتها بيَدي وَقلت أشهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله وَأَنَّك رَسُول الله

وَذَلِكَ أَنه خطر بقلبي أَن النجَاة مِنْهُم من زعم أَن الْأَسْمَاء الْأَعْلَام هِيَ أعرف المعارف وَمِنْهُم من يَقُول إِن الْأَسْمَاء المضمرة هِيَ أعرف المعارف وَهُوَ الصَّحِيح لِأَن الْكَاف من قولي أَنَّك لَا يُشَارك الْمُخَاطب فِيهِ أحد لِأَنَّهَا لَا تقع إِلَّا عَلَيْهِ وَحده

فرأيته قد ملئ ابتهاجا ثمَّ جلس فِي الزاوية الَّتِي بَين المجلسين وَجَلَست بَين يَدَيْهِ

وَقَالَ تأهب للمسير مَعنا إِلَى غمدان للغزاة

فَلَمَّا قَالَ ذَلِك وَقع فِي نَفسِي أَنه يَعْنِي الْمَدِينَة الْعُظْمَى الَّتِي هِيَ كرْسِي ملك وَأَن الْإِسْلَام لم يستول عَلَيْهَا بعد

وَكنت قد قَرَأت قبل ذَلِك أَن الطَّرِيق الْأَقْرَب المسلوك إِلَى الصين فِي الْبَحْر الْأَخْضَر وَهُوَ أَشد الْبحار أهوالا وَأَعْظَمهَا أخطارا
তিনি বললেন, তোমার ওপরও শান্তি, আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক।

তাকে সালাম প্রদান এবং তার দিকে আমার ছুটে যাওয়ার মাঝে কোনো বিরতি বা সময়ক্ষেপণ ছিল না; বরং আমি দ্রুতগতিতে তার দিকে ধাবিত হলাম এবং আমার হাত তার হাতের দিকে বাড়িয়ে দিলাম। তিনি তার বরকতময় হাতটি আমার দিকে প্রসারিত করলেন, আমি তা আমার হাত দিয়ে আঁকড়ে ধরলাম এবং বললাম, "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আপনি আল্লাহর রাসুল।"

আর এটি একারণে যে, আমার মনে উদিত হয়েছিল যে, তাদের মধ্য থেকেই মুক্তি রয়েছে যারা মনে করে সংজ্ঞাবাচক নামসমূহ হলো সবচেয়ে সুপরিচিত বিশেষ্য; আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেন যে, সর্বনামসমূহ হলো সবচেয়ে সুপরিচিত বিশেষ্য। আর এটিই সঠিক, কারণ আমার উক্তি "নিশ্চয়ই আপনি"-এর মধ্যস্থ 'কাফ' (সম্বোধন)-এ যাকে সম্বোধন করা হচ্ছে তিনি ছাড়া অন্য কারো অংশীদারিত্ব থাকে না, কেননা তা কেবল এককভাবে তাঁর ওপরই প্রযোজ্য হয়।

আমি তাকে দেখলাম যে তিনি আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে উঠলেন, এরপর তিনি দুই মজলিসের মধ্যবর্তী কোণে উপবেশন করলেন এবং আমি তার সামনে বসলাম।

তিনি বললেন, "আমাদের সাথে যুদ্ধের উদ্দেশ্যে গুমদানের দিকে যাত্রার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করো।"

যখন তিনি তা বললেন, তখন আমার অন্তরে উদিত হলো যে, তিনি সেই মহান নগরীকে বুঝিয়েছেন যা রাজসিংহাসন এবং ইসলাম তখনো সেখানে বিজয় লাভ করেনি।

আমি এর পূর্বে পড়েছিলাম যে, চীনের দিকে যাওয়ার নিকটতম পথ হলো সবুজ সমুদ্র হয়ে, আর এটি সমুদ্রসমূহের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ এবং চরম বিপদসংকুল।
(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী ইফহামিল ইয়াহুদ ত আশ-শারকাউয়ী (পৃষ্ঠা: ৬৮)
فَلَمَّا سَمِعت ذَلِك القَوْل من النَّبِي صلى الله عليه وسلم خفت من ركُوب الْبَحْر وَقلت فِي نَفسِي

إِن الْحُكَمَاء لَا يركبون الْبحار فَكيف أركب الْبَحْر

ثمَّ قلت فِي نَفسِي أَيْضا من غير توقف

يَا سُبْحَانَ الله أَنا قد آمَنت بِهَذَا النَّبِي وبايعته أفيأمرني بِأَمْر وَلَا أتابعه فَإِذا أَي مبايعة تكون مبايعتي لَهُ وعزمت على السّمع وَالطَّاعَة

ثمَّ وَقع لي خاطر آخر وَقلت إِذا كَانَ مَعنا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَأَصْحَابه فَإِن الْبر وَالْبَحْر يكونَانِ مسخرين لنا وَلَا خوف علينا من سَائِر الأخطار

وطاب قلبِي بذلك وَحسن يقيني وقبولي

وَأَنا أذكر أَن هَذِه الأفكار والخواطر ظَهرت لي وَأَنا بَين يَدي النَّبِي صلى الله عليه وسلم فِي غير زمَان أعنى من غير توقف يستبطئني بِهِ عَن إجَابَته فَمَا كَانَ بأسرع من ان قلت لَهُ سمعا وَطَاعَة يَا رَسُول الله

فَقَالَ على خيرة الله تَعَالَى

فَقُمْت بَين يَدَيْهِ وَخرجت

فَمَا وجدت فِي الدهليز الظلمَة الَّتِي كَانَت فِيهِ عِنْد الدُّخُول

فَلَمَّا خرجت من الدَّار ومشيت قَلِيلا وجدت كَأَنِّي فِي سوق مراغة فِيمَا بَين الصيارف وَبَين الْمدرسَة القضوية وَكَأَنِّي أرى ثَلَاثَة نفر
যখন আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সেই কথা শুনলাম, তখন সমুদ্রযাত্রার ভয়ে ভীত হলাম এবং মনে মনে বললাম

নিশ্চয়ই প্রাজ্ঞ ব্যক্তিরা সমুদ্রযাত্রা করেন না, তবে আমি কীভাবে সমুদ্রে আরোহণ করব?

অতঃপর আমি অবিলম্বে মনে মনে আরও বললাম

সুবহানাল্লাহ! আমি এই নবীর প্রতি ঈমান এনেছি এবং তাঁর কাছে আনুগত্যের শপথ (বাইয়াত) গ্রহণ করেছি। এমতাবস্থায় তিনি আমাকে কোনো নির্দেশ দেবেন আর আমি তা অনুসরণ করব না? তবে তাঁর প্রতি আমার এই আনুগত্যের শপথ কেমন শপথ হবে? অতঃপর আমি শ্রবণ ও আনুগত্যের দৃঢ় সংকল্প করলাম।

তারপর আমার মনে অন্য একটি চিন্তা উদিত হলো এবং আমি বললাম, যদি আমাদের সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণ থাকেন, তবে স্থল ও জল উভয়ই আমাদের জন্য অনুগত হয়ে যাবে এবং অন্যান্য কোনো বিপদের ভয় আমাদের থাকবে না।

এতে আমার অন্তর আশ্বস্ত হলো এবং আমার দৃঢ় বিশ্বাস ও গ্রহণের মানসিকতা সুন্দর হলো।

আমার স্মরণে আছে যে, এই চিন্তা ও ধারণাগুলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে উপস্থিত থাকাকালীন কোনো সময়ক্ষেপণ ছাড়াই আমার মনে উদিত হয়েছিল; অর্থাৎ আমি তাঁর আহ্বানে সাড়া দিতে কোনো বিলম্ব করিনি। তাই আমি অত্যন্ত দ্রুততার সাথে তাঁকে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি শুনলাম এবং আনুগত্য করলাম।

তিনি বললেন, আল্লাহ তায়ালার প্রদত্ত কল্যাণের ওপর (ভরসা করো)।

অতঃপর আমি তাঁর সামনে থেকে উঠে দাঁড়ালাম এবং বেরিয়ে আসলাম।

প্রবেশের সময় বারান্দায় যে অন্ধকার ছিল, বেরিয়ে আসার সময় আমি আর তা দেখতে পেলাম না।

ঘর থেকে বের হয়ে সামান্য পথ হাঁটার পর নিজেকে যেন মারাগা বাজারের মুদ্রা বিনিময়কারী এবং কাজভিয়া মাদ্রাসার মধ্যবর্তী স্থানে দেখতে পেলাম এবং আমি যেন তিনজন ব্যক্তিকে দেখতে পাচ্ছিলাম।

(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী ইফহামিল ইয়াহুদ ত আশ-শারকাউয়ী (পৃষ্ঠা: ৬৯)
عَلَيْهِم زِيّ المتصوفة وَثيَاب الزهاد

وَمِنْهُم من على بدنه صدرة صوف خشن أسود وعَلى رَأسه مئزر من جِنْسهَا وَبِيَدِهِ قَوس ملفوفة فِي لباد خلق وَبِيَدِهِ الْأُخْرَى حَرْبَة نصابها من سعف النّخل وَالْآخر متقلد سَيْفا غمده من خوص النّخل لِأَنَّهُ كَانَ قد انطبع فِي خيالي مُنْذُ كنت صَغِيرا حِين قَرَأت أَخْبَار ظُهُور دولة الْإِسْلَام كَيفَ كَانَ أَصْحَاب النَّبِي صلى الله عليه وسلم ضعفاء فُقَرَاء وَلَيْسَ لَهُم من الْآلَات إِلَّا شَبِيها بِمَا ذكرنَا وَأَنَّهُمْ كَانُوا مَعَ ذَلِك ينْصرُونَ على الجيوش الكثيفة والخيول العديدة ذوى الشَّوْكَة القوية

فَلَمَّا رَأَيْت النَّفر الثَّلَاثَة قلت

هَؤُلَاءِ هم المجاهدون والغزاة هَؤُلَاءِ أَصْحَاب النَّبِي صلى الله عليه وسلم مَعَ هَؤُلَاءِ أسافر وأغزو

وَكَانَت الدمعة تبدر من عَيْني فِي النّوم لفرط سروري بهم وغبطني إيَّاهُم

ثمَّ استيقظت وَالصُّبْح لم يسفر بعد

فأسبغت الْوضُوء وَصليت الْفجْر وَأَنا شَدِيد الْحِرْص على إشهار كلمة الْحق وإعلان الِانْتِقَال إِلَى دين الْإِسْلَام

وَكنت حِينَئِذٍ بمراغة من آذربيجان فِي ضِيَافَة الصاحب الأمجد فَخر الدّين عبد الْعَزِيز بن مَحْمُود بن سعد بن عَليّ بن حميد المضرى رَحْمَة الله عَلَيْهِ
তাদের পরিধানে ছিল সুফিদের বেশভূষা এবং সংসারত্যাগীদের পোশাক।

তাদের মধ্যে কেউ কেউ এমন ছিল যাদের শরীরে ছিল মোটা কালো পশমের একটি বক্ষবন্ধনী এবং মাথায় ছিল সেই একই জাতীয় কাপড়ের একটি পাগড়ি। তার এক হাতে ছিল জীর্ণ পশমের কাপড়ে মোড়ানো একটি ধনুক এবং অন্য হাতে ছিল একটি ছোট বর্শা, যার হাতল ছিল খেজুরের ডাল দিয়ে তৈরি। অন্যজন একটি তলোয়ার ধারণ করেছিল যার খাপ ছিল খেজুরের পাতা দিয়ে তৈরি। কারণ শৈশব থেকেই আমার কল্পনায় এটি গেঁথে ছিল, যখন আমি ইসলামের আবির্ভাবের ইতিহাস পড়তাম যে, কীভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ দুর্বল ও নিঃস্ব ছিলেন এবং তাঁদের কাছে আমরা যা উল্লেখ করেছি তা ছাড়া অন্য কোনো যুদ্ধ সরঞ্জাম ছিল না; এবং তা সত্ত্বেও তাঁরা বিশাল বাহিনী ও শক্তিশালী প্রভাব-প্রতিপত্তিশালী অসংখ্য অশ্বারোহী বাহিনীর বিরুদ্ধে বিজয়ী হতেন।

যখন আমি ওই তিন ব্যক্তিকে দেখলাম, তখন আমি বললাম—

এরাই হলেন সেই মুজাহিদ ও যোদ্ধা; এরাই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবী। আমি এদের সাথেই সফর করব এবং জিহাদে অংশগ্রহণ করব।

তাদের প্রতি অত্যন্ত আনন্দিত হওয়ার কারণে এবং তাদের অবস্থা লাভের আকাঙ্ক্ষায় ঘুমের ঘোরেই আমার চোখ থেকে অশ্রু ঝরছিল।

তারপর আমি জেগে উঠলাম, তখনও ভোর হয়নি।

অতঃপর আমি পূর্ণাঙ্গরূপে ওযু করলাম এবং ফজরের সালাত আদায় করলাম। তখন আমি সত্যের বাণী প্রচার করতে এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহণের ঘোষণা দিতে অত্যন্ত ব্যাকুল ছিলাম।

সেই সময়ে আমি আজারবাইজানের মারাগা নামক স্থানে মহিমান্বিত বন্ধু ফখর উদ্দীন আবদুল আজিজ ইবনে মাহমুদ ইবনে সাদ ইবনে আলী ইবনে হামিদ আল-মুদারী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর আতিথ্যে ছিলাম।
(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী ইফহামিল ইয়াহুদ ত আশ-শারকাউয়ী (পৃষ্ঠা: ৭০)
وَكَانَ قد ابتلى بِمَرَض قد عافاه الله مِنْهُ ولى بِهِ أنس مُتَقَدم

فَدخلت إِلَيْهِ فِي أَوَائِل نَهَار الْجُمُعَة الْمَذْكُور يَوْمئِذٍ وعرفته أَن الله قد رفع الْحجاب عني وهداني فَمَا أعظم استبشاره يَوْمئِذٍ بذلك

وَقَالَ

الله إِن هَذَا الْأَمر مازلت أتمناه وأترجاه وطالما قد حاورت قَاضِي الْقُضَاة صدر الدّين فِي ذَلِك وَكُنَّا جَمِيعًا نتأسف على علومك وفضائلك أَن لَا تكون إسلامية فَالْحَمْد لله على مَا ألهمك بِهِ من صَلَاح وهداية وعَلى استجابته دعاءنا فِي ذَلِك

فَقل لي

كَيفَ فتح الله ذَلِك عَلَيْك وسهله بعد إرتاجه وامتناعه

فَقلت ذَلِك أَمر أوقعه الله فِي نَفسِي بالإلهام والفكر وَدَلِيله الْعقلِيّ وبرهانه قد كنت قَدِيما أعرفهُ وَدَلِيله فِي التوراه إِلَّا أَنِّي كنت أراقب أبي وأكره أَن أفجعه بنفسي تذمما من الله تَعَالَى والآن قد زَالَت عني هَذِه الشُّبْهَة مد يدك فَأَنا أشهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله وَأشْهد أَن مُحَمَّدًا رَسُول الله

فَقَامَ الصاحب لفرط سروره قَائِما واهتز فَرحا وَكَانَ قبل ذَلِك لَا يقوم إِلَّا بالتكلف وَغَابَ عني واستجلسني إِلَى عودته وأفاض عَليّ من الملابس أجلهَا وحملني من المراكب على أنبلها وَأمر خواصه بالسعي إِلَى الْجَامِع بَين يَدي
তিনি একটি রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন যা থেকে আল্লাহ তাঁকে আরোগ্য দান করেছিলেন এবং তাঁর সাথে আমার পূর্ব-পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা ছিল।

অতঃপর আমি উল্লিখিত সেই জুমার দিনের শুরুর ভাগে তাঁর কাছে প্রবেশ করলাম এবং তাঁকে জানালাম যে আল্লাহ আমার ওপর থেকে পর্দা সরিয়ে দিয়েছেন এবং আমাকে হিদায়াত দিয়েছেন; সেদিন এতে তাঁর আনন্দ কতই না বিশাল ছিল!

এবং তিনি বললেন:

আল্লাহর কসম, আমি সর্বদা এই বিষয়টিই কামনা করতাম ও আশা করতাম। আমি দীর্ঘকাল ধরে কাযি-উল-কুযাত (প্রধান বিচারপতি) সদরুদ্দীনের সাথে এ বিষয়ে আলোচনা করেছি। আমরা সকলেই আপনার জ্ঞান ও শ্রেষ্ঠত্বের জন্য আক্ষেপ করতাম যে তা কেন ইসলামী হলো না। অতএব আল্লাহর প্রশংসা, যিনি আপনাকে সংশোধন ও হিদায়াতের প্রেরণা দিয়েছেন এবং এ বিষয়ে আমাদের দোয়া কবুল করেছেন।

সুতরাং আমাকে বলুন:

আল্লাহ কীভাবে আপনার কাছে এটি উন্মোচন করলেন এবং রুদ্ধ ও অসম্ভব হওয়ার পর তা সহজ করে দিলেন?

আমি বললাম, এটি এমন একটি বিষয় যা আল্লাহ ইলহাম (ঐশ্বরিক প্রেরণা) ও চিন্তার মাধ্যমে আমার অন্তরে গেঁথে দিয়েছেন। এর যৌক্তিক দলিল ও প্রমাণ আমি অনেক আগে থেকেই জানতাম এবং এর প্রমাণ তাওরাতেও বিদ্যমান। তবে আমি আমার পিতার প্রতি লক্ষ্য রাখতাম এবং আল্লাহর প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে নিজের কারণে তাঁকে ব্যথিত করা অপছন্দ করতাম। এখন আমার থেকে সেই সংশয় দূর হয়ে গেছে। আপনার হাত প্রসারিত করুন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল।

সাহিব তাঁর চরম খুশিতে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং আনন্দে রোমাঞ্চিত হলেন; অথচ এর আগে তিনি অনেক কষ্ট ছাড়া দাঁড়াতে পারতেন না। তিনি আমার নিকট থেকে প্রস্থান করলেন এবং তাঁর ফিরে আসা পর্যন্ত আমাকে বসিয়ে রাখলেন। তিনি আমাকে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ পোশাক পরিধান করালেন, শ্রেষ্ঠ সওয়ারিতে আরোহণ করালেন এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ অনুচরদের আমার আগে আগে জামে মসজিদের দিকে যাওয়ার নির্দেশ দিলেন।
(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী ইফহামিল ইয়াহুদ ত আশ-শারকাউয়ী (পৃষ্ঠা: ৭১)
وَكَانَ الصاحب قد تقدم إِلَى الْخَطِيب وَأمره بِالتَّأْخِيرِ والتوقف إِلَى وَقت حضوري فِي الْمَسْجِد لِأَن الْوَقْت ضَاقَ إِلَى أَن فرغ الخياطون من خياطَة الْجُبَّة الَّتِي أَمر الصاحب بتفصيلها

فسرت إِلَى الْجَامِع وَالْجَمَاعَة فِي انتظاري وارتفع التَّكْبِير من جمَاعَة أهل الْمَسْجِد حيف أشرفت عَلَيْهِم

وَارْتجَّ الْمَسْجِد الْجَامِع من صلَاتهم على رَسُول الله صلى الله عليه وسلم ثمَّ رقى الْخَطِيب الْمِنْبَر وَوعظ النَّاس القَاضِي صدر الدّين ملك الوعاظ أَبُو بكر مُحَمَّد بن عبد الله ابْن عبد الرَّحِيم بن لل وَأَطْنَبَ فِي مدحي وإحماد مَا أيدني الله بِهِ من التيقظ وَالْهِدَايَة وَبَالغ فِي ذَلِك مُبَالغَة تجَاوز حد الْوَصْف وَكَانَ أَكثر الْمجْلس مُتَعَلقا بِي

وَفِي عَشِيَّة ذَلِك الْيَوْم أَعنِي عيد النَّحْر ابتدأت بتحرير الْحجَج المفحمة للْيَهُود وألفتها فِي كتاب وسميته بإفحام الْيَهُود

واشتهر ذَلِك الْكتاب وطار خَبره وانتسخ مني فِي عدَّة بقاع نسخ كَثِيرَة بالموصل وأعمالها وديار بكر وَالْعراق وبلد الْعَجم

ثمَّ أضفت إِلَيْهِ بعد وَقت فصولا كَثِيرَة من الِاحْتِجَاج على الْيَهُود
আর সাহেব (মন্ত্রী) ইতিপূর্বে খতীবের নিকট গিয়ে তাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন তিনি মসজিদে আমার উপস্থিত হওয়ার সময় পর্যন্ত বিলম্ব করেন ও থেমে থাকেন। কারণ দর্জিরা সেই জুব্বাটি সেলাই শেষ করা পর্যন্ত সময় অত্যন্ত সংকীর্ণ হয়ে গিয়েছিল, যেটি তৈরির জন্য সাহেব নির্দেশ দিয়েছিলেন।

অতঃপর আমি জামে মসজিদের দিকে রওনা হলাম এবং উপস্থিত জনতা আমার অপেক্ষায় ছিল। আমি যখন তাদের সামনে উপস্থিত হলাম, তখন মসজিদের মুসল্লিদের মধ্য থেকে তাকবীরের ধ্বনি উচ্চকিত হলো।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি তাদের দরুদ পাঠে জামে মসজিদ প্রকম্পিত হয়ে উঠল। অতঃপর খতীব মিম্বরে আরোহণ করলেন এবং উপস্থিত জনতাকে উপদেশ প্রদান করলেন কাজী সদরুদ্দীন মালিকুল ওয়ায়েজীন আবু বকর মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ ইবনু আবদির রহীম বিন লুল্ল। তিনি আমার প্রশংসায় এবং আল্লাহ আমাকে যে সচেতনতা ও হেদায়েত দ্বারা সাহায্য করেছেন তার গুণকীর্তনে দীর্ঘ আলোচনা করলেন। তিনি এক্ষেত্রে বর্ণনাতীত প্রশংসা করলেন এবং মজলিসের অধিকাংশ মানুষের মনোযোগ আমার দিকেই নিবদ্ধ ছিল।

আর সেই দিনের সন্ধ্যায়, অর্থাৎ ঈদুল আযহার দিন, আমি ইহুদীদের নিরুত্তর করার মতো দলিলসমূহ লিপিবদ্ধ করতে শুরু করলাম এবং তা একটি কিতাব আকারে সংকলন করে তার নাম রাখলাম ‘ইফহামুল ইয়াহুদ’।

এই কিতাবটি প্রসিদ্ধি লাভ করল এবং এর খবর সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ল। মসুল ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলসমূহ, দিয়ারে বকর, ইরাক এবং অনারব দেশসমূহের বিভিন্ন স্থানে আমার পাণ্ডুলিপি থেকে এর বহু অনুলিপি তৈরি করা হলো।

অতঃপর কিছুকাল পরে আমি এতে ইহুদীদের বিরুদ্ধে যুক্তি-তর্কের আরও অনেক পরিচ্ছেদ যুক্ত করলাম।
(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী ইফহামিল ইয়াহুদ ত আশ-শারকাউয়ী (পৃষ্ঠা: ৭২)
من التَّوْرَاة حَتَّى صَار كتابا بديعا لم يعْمل فِي الْإِسْلَام مثله فِي مناظرة الْيَهُود الْبَتَّةَ

وَأما الْمَنَام الأول والمنام الثَّانِي فَإِنِّي لم أذكرهما للصاحب وَلَا لغيره من أهل مراغة إِلَى انْقِضَاء أَربع سِنِين من أَوَان رُؤْيَتهمَا

وَكَانَ ذَلِك لشيئين

أَحدهمَا

أَنِّي كرهت أَن أذكر أمرا لَا يقوم عَلَيْهِ الْبُرْهَان فَرُبمَا يسْرع خاطر من يسمعهُ إِلَى تَكْذِيبه لِأَنَّهُ أَمر نَادِر قَلِيلا مَا يتَّفق إِذا كَانَ الْعَاقِل يكره أَن يعرض كَلَامه للتكذيب سرا أَو عَلَانيَة

وَالثَّانِي

أَنِّي كرهت أَن يصل خبر المنامين إِلَى من يحسدني فِي الْبِلَاد على مَا فضلني الله بِهِ من الْعلم وَالْحُرْمَة فَيجْعَل ذَلِك طَرِيقا إِلَى التشنيع عَليّ والإزراء على مذهبي فَيَقُول

إِن فلَانا ترك دينه لمنام رَآهُ وانخدع لأضغاث أَحْلَام

فأخفيت ذَلِك إِلَى أَن اشْتهر كتاب إفحام الْيَهُود وَكَثُرت نسخه وقرأه على جمَاعَة كَثِيرَة من النَّاس
তাওরাত থেকে সংগ্রহ করে শেষ পর্যন্ত তা এমন এক অপূর্ব কিতাবে পরিণত হলো যে, ইসলামে ইহুদিদের সাথে বিতর্কের ক্ষেত্রে এর সমতুল্য কোনো কিতাব ইতিপূর্বে মোটেও রচিত হয়নি।

আর প্রথম ও দ্বিতীয় স্বপ্নের বিষয়টি আমি সেই সাহেব কিংবা মারাগার অন্য কোনো অধিবাসীর কাছে সেগুলো দেখার পর থেকে চার বছর অতিক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত বর্ণনা করিনি।

আর এটি ছিল দুটি কারণে।

তার মধ্যে একটি হলো—

আমি এমন কোনো বিষয় উল্লেখ করা অপছন্দ করেছি যার সপক্ষে কোনো অকাট্য দলিল নেই; ফলে তা শ্রবণকারীর মনে একে অস্বীকার করার দিকে দ্রুত ধাবিত করতে পারে, কারণ এটি একটি বিরল বিষয় যা সচরাচর ঘটে না। আর একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তি তার বক্তব্যকে প্রকাশ্যে বা গোপনে মিথ্যারোপের সম্মুখীন করাকে অপছন্দ করেন।

আর দ্বিতীয়টি হলো—

আমি অপছন্দ করেছি যে, এই স্বপ্নের খবর এমন ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছে যাক যারা আল্লাহ আমাকে যে ইলম ও মর্যাদা দান করেছেন তার কারণে আমার প্রতি হিংসা পোষণ করে; ফলে তারা একে আমার কুৎসা রটানোর এবং আমার আদর্শের অবমাননা করার একটি পথ বানিয়ে নেবে এবং বলবে—

নিশ্চয়ই অমুক ব্যক্তি কেবল একটি স্বপ্ন দেখেই নিজের ধর্ম ত্যাগ করেছে এবং অলীক স্বপ্নের মোহে প্রতারিত হয়েছে।

তাই আমি বিষয়টি গোপন রেখেছিলাম যতক্ষণ না 'ইফহামুল ইয়াহুদ' কিতাবটি প্রসিদ্ধি লাভ করল, এর অনুলিপি সংখ্যা বৃদ্ধি পেল এবং বিপুল সংখ্যক মানুষ তা পাঠ করল।
(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী ইফহামিল ইয়াহুদ ত আশ-শারকাউয়ী (পৃষ্ঠা: ৭৩)
فَلَمَّا تحقق النَّاس أَعنِي أَن التقالي من مَذْهَب الْيَهُود إِنَّمَا كَانَ بِدَلِيل وبرهان وحجج قَطْعِيَّة قَطْعِيَّة عرفتها وَأَنِّي كنت أُخْفِي ذَلِك وَلَا أبوح بِهِ مُدَّة مراقبة لأبي وَبرا بِهِ فَحِينَئِذٍ أظهرت قصَّة المنامين وأوضحت أَنَّهُمَا كَانَا موعظة من الله تَعَالَى وتنبيها على مَا يجب تَقْدِيمه وَلَا يحل لي تَأْخِيره بِسَبَب وَالِد أَو غَيره

وكتبت كتابا إِلَى أبي إِلَى حلب وَأَنا يَوْمئِذٍ بحصن كيفا وأوضحت لَهُ فِي ذَلِك الْكتاب عدَّة حجج وبراهين مِمَّا أعلم أَنه لَا يُنكره وَلَا يقدر على إِبْطَاله وأخبرته أَيْضا بِخَبَر المنامين

فانحدر إِلَى الْموصل ليلقاني وفاجأه مرض جَاءَهُ بالموصل فَهَلَك فِيهِ

فَليعلم الْآن من يقْرَأ هَذِه الأوراق أَن الْمَنَام لم يكن باعثا على ترك الْمَذْهَب الأول فَأن الْعَاقِل لَا يجوز أَن ينخدع عَن أَحْوَاله بالمنامات والأحلام من غير برهَان وَلَا دَلِيل

لكنني كنت قد عرفت قبل ذَلِك بِزَمَان طَوِيل الْحجَج والبراهين والأدلة على نبوة سيدنَا مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم

فَتلك الْحجَج والبراهين هِيَ سَبَب الِانْتِقَال وَالْهِدَايَة وَأما الْمَنَام فَإِنَّمَا كَانَت فَائِدَته الانتباه والازدجار من التَّمَادِي فِي الْغَفْلَة والتربص بإعلان كلمة الْحق بعد هَذَا ارتقابا لمَوْت أبي

فَالْحَمْد لله على الْإِسْلَام وَكلمَة الْحق وَنور الْإِيمَان وَنور الْهِدَايَة

যখন মানুষ নিশ্চিত হলো—আমি বোঝাতে চাচ্ছি যে, ইহুদি মতবাদ ত্যাগ করা ছিল এমন সব দলিল, প্রমাণ এবং অকাট্য যুক্তির ভিত্তিতে যা আমি অবগত ছিলাম এবং আমি তা গোপন রাখতাম ও আমার পিতার প্রতি সম্মান ও সদাচরণের কারণে তা প্রকাশ করতাম না—তখন আমি সেই দুটি স্বপ্নের ঘটনা প্রকাশ করলাম এবং পরিষ্কার করে দিলাম যে, সেই স্বপ্ন দুটি ছিল মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এক উপদেশ এবং এমন বিষয়ে সতর্কবাণী যা অগ্রগণ্য করা আমার জন্য আবশ্যক ছিল এবং পিতা বা অন্য কারো খাতিরে তা বিলম্বিত করা আমার জন্য বৈধ ছিল না।

আর আমি সিরিয়ার আলেপ্পোতে অবস্থানরত আমার পিতার কাছে একটি চিঠি লিখেছিলাম—আমি তখন হিসন কাইফায় ছিলাম—সেই চিঠিতে আমি তার সামনে এমন বেশ কিছু দলিল ও প্রমাণ উপস্থাপন করেছিলাম যা আমি জানতাম যে সে অস্বীকার করতে পারবে না এবং তা খণ্ডন করার ক্ষমতাও তার নেই; আর আমি তাকে সেই দুটি স্বপ্নের সংবাদও জানিয়েছিলাম।

অতঃপর তিনি আমার সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য মোসেলের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলেন, কিন্তু মোসেলে পৌঁছানোর পর তিনি আকস্মিক রোগে আক্রান্ত হলেন এবং তাতেই তার মৃত্যু হলো।

এখন যারা এই লেখাগুলো পড়ছেন তাদের জেনে রাখা উচিত যে, পূর্ববর্তী ধর্ম ত্যাগের মূল কারণ স্বপ্ন ছিল না; কেননা একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তির জন্য দলিল ও প্রমাণ ছাড়া কেবল স্বপ্ন ও কল্পনার মাধ্যমে নিজের জীবনধারা পরিবর্তন করে প্রতারিত হওয়া উচিত নয়।

বরং আমি এর অনেক আগে থেকেই আমাদের নেতা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুওয়াতের সপক্ষে বিভিন্ন যুক্তি, প্রমাণ ও দলিল সম্পর্কে অবগত ছিলাম।

সুতরাং সেই যুক্তি ও প্রমাণগুলোই ছিল সত্য গ্রহণ ও হিদায়াতের প্রকৃত কারণ। আর স্বপ্নের উপকারিতা কেবল এতটুকুই ছিল যে, তা আমাকে গাফিলতির মধ্যে ডুবে থাকা থেকে জাগ্রত করেছে এবং পিতার মৃত্যুর অপেক্ষায় সত্যবাণী প্রকাশে বিলম্ব করার ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শন করেছে।

সুতরাং ইসলাম, সত্যের বাণী, ঈমানের নূর এবং হিদায়াতের নূরের জন্য সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহর।