(খণ্ড: ১)
আল-ফাসলু ফিল মিলালি ওয়াল আহওয়া-ই ওয়ান নিহাল
(পৃষ্ঠা: -)
الفصل في الملل والأهواء والنحل القسم: الفرق والردود
الكتاب: الفصل في الملل والأهواء والنحل
المؤلف: أبو محمد علي بن أحمد بن سعيد بن حزم الأندلسي القرطبي الظاهري (ت 456هـ)
الناشر: مكتبة الخانجي - القاهرة
عدد الأجزاء: 5 × 3
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-ফাসলু ফিল মিলাল ওয়াল আহওয়া ওয়ান নিহাল বিভাগ: ফেরকা এবং খণ্ডনসমূহ
গ্রন্থ: আল-ফাসলু ফিল মিলাল ওয়াল আহওয়া ওয়ান নিহাল
লেখক: আবু মুহাম্মাদ আলী ইবনে আহমাদ ইবনে সাঈদ ইবনে হাজম আল-আন্দালুসি আল-কুরতুবি আজ-জাহিরি (মৃ. ৪৫৬ হিজরি)
প্রকাশক: মাকতাবাতুল খাঞ্জি - কায়রো
খণ্ড সংখ্যা: ৫ × ৩
[গ্রন্থের ক্রমিক নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ١)
আল-ফাসলু ফিল মিলালি ওয়াল আহওয়া-ই ওয়ান নিহাল
(পৃষ্ঠা: ٩)
بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيمقَالَ الإِمَام أَبُو مُحَمَّد عَليّ بن أَحْمد بن حزم رضي الله عنه
الْحَمد لله كثيرا وَصلى الله على مُحَمَّد عَبده وَرَسُوله خَاتم أنبيائه بكرَة وَأَصِيلا أما بعد فَإِن كثيرا من النَّاس كتبُوا فِي افْتِرَاق النَّاس فِي دياناتهم ومقالاتهم كتبا كَثِيرَة جدا فبعض أَطَالَ وأسهب وَأكْثر وهجر وَاسْتعْمل الأغاليط والشغب فَكَانَ ذَلِك شاغلاً عَن الْفَهم قَاطعا دون الْعلم وَبَعض أحذف وَقصر وقلل وَاخْتصرَ وَاضْرِبْ عَن كثير من قوي معارضات أَصْحَاب المقالات فَكَانَ فِي ذَلِك غير منصف لنَفسِهِ فِي أَن يرضى لَهَا بِالْغبنِ فِي الْإِبَانَة وظالماً لخصمه فِي أَن لم يوفه حق اعتراضه وباخساً حق من قَرَأَ كِتَابه إِذا لم يغنه عَن غَيره وَكلهمْ إِلَّا نحلة الْقسم عقد كَلَامه تعقيداً يتَعَذَّر فهمه على كثير من أهل الْفَهم وَحلق على الْمعَانِي من بعد حَتَّى صَار ينسي آخر كَلَامه أَوله وَأكْثر هَذَا مِنْهُم ستائر دون فَسَاد معانيهم فَكَانَ هَذَا مِنْهُم غير مَحْمُود فِي عاجله وآجله
قَالَ أَبُو مُحَمَّد رضي الله عنه فجمعنا كتَابنَا هَذَا مَعَ استخارتنا الله عز وجل فِي جمعه وقصدنا بِهِ قصد إِيرَاد الْبَرَاهِين المنتجة عَن الْمُقدمَات الحسية أَو الراجعة إِلَى الْحس من قرب أَو من بعد على حسب قيام الْبَرَاهِين الَّتِي لَا تخون أصلا مخرجها إِلَى مَا أخرجت لَهُ وَألا يَصح مِنْهُ إِلَّا مَا صححت الْبَرَاهِين الْمَذْكُورَة فَقَط إِذْ لَيْسَ الْحق إِلَّا ذَلِك وبالغنا فِي بَيَان اللَّفْظ وَترك التعقيد راجين من الله تَعَالَى على ذَلِك الْأجر الجزيل وَهُوَ تَعَالَى ولي من تولاه ومعطي من استعطاه لَا إِلَه إِلَّا هُوَ وحسبنا الله وَنعم الْوَكِيل
قَالَ أَبُو مُحَمَّد رضي الله عنه فَنَقُول وَبِاللَّهِ التَّوْفِيق رُؤْس الْفرق الْمُخَالفَة الدّين الْإِسْلَام سِتّ ثمَّ تتفرق كل فرقة من هَذِه الْفرق السِّت على فرق وسأذكر جماهيرها إِن شَاءَ الله عز وجل فَالْفرق السِّت الَّتِي ذَكرنَاهَا على مراتبها فِي الْبعد عَنَّا أَولهَا مبطلوا الْحَقَائِق وهم الَّذين يسميهم المتكلمون السوفسطائية ثمَّ الْقَائِلُونَ بِإِثْبَات الْحَقَائِق إِلَّا أَنهم قَالُوا إِن الْعَالم لم يزل وَأَنه
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।ইমাম আবু মুহাম্মদ আলী বিন আহমদ বিন হাজম (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বলেছেন:
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি প্রশংসিত। সালাত বর্ষিত হোক আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল মুহাম্মদের ওপর, যিনি তাঁর নবীদের সিলমোহর, সকাল এবং সন্ধ্যায়। অতঃপর, অনেক মানুষ মানুষের ধর্ম এবং মতাদর্শের বিভক্তি সম্পর্কে অসংখ্য কিতাব রচনা করেছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ অনেক দীর্ঘ করেছেন, অহেতুক কথা বাড়িয়েছেন, কটু কথা ব্যবহার করেছেন এবং বিভ্রান্তিকর ও বিতর্কিত বিষয়াবলি এনেছেন; যার ফলে তা বুঝার ক্ষেত্রে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং জ্ঞানার্জনে বাধা সৃষ্টি করেছে। আবার কেউ কেউ অতি সংক্ষেপ করেছেন, কমিয়ে ফেলেছেন এবং মতাদর্শীদের শক্তিশালী যুক্তিগুলো এড়িয়ে গিয়েছেন; যার ফলে তিনি বর্ণনার ক্ষেত্রে নিজের প্রতি অবিচার করেছেন, নিজের ঘাটতিতে সন্তুষ্ট থেকেছেন, আর তার প্রতিপক্ষের প্রতিও জুলুম করেছেন তার আপত্তির হক আদায় না করে। এছাড়া যে ব্যক্তি তার কিতাবটি পড়বে, তার প্রতিও তিনি অবিচার করেছেন কারণ সেই কিতাবটি তাকে অন্য কিতাব থেকে অমুখাপেক্ষী করেনি। আর তাদের প্রত্যেকেই—একটি দল ব্যতীত—তাদের বক্তব্যকে এমনভাবে জটিল করেছেন যে, তা অনেক বুদ্ধিমান লোকের পক্ষেও বোঝা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। তারা অর্থের চারপাশে এমনভাবে ঘুরপাক খেয়েছেন যে, তাদের বক্তব্যের শেষ অংশ প্রথম অংশকে ভুলিয়ে দেয়। তাদের এই জটিলতার বড় অংশই ছিল তাদের ভুল মতাদর্শের উপর পর্দা দেওয়ার জন্য। ফলে তাদের এই কাজ ইহকাল ও পরকাল কোনো ক্ষেত্রেই প্রশংসিত নয়।
আবু মুহাম্মদ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বলেন: আমরা আমাদের এই কিতাবটি সংকলন করেছি মহান আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা (কল্যাণ প্রার্থনা) করে। আমরা এতে এমন সব অকাট্য প্রমাণ উপস্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি যা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য ভূমিকা থেকে উদ্ভূত অথবা যা সরাসরি বা পরোক্ষভাবে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়ের দিকে প্রত্যাবর্তন করে—এমন সব প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে যা কখনো ধোঁকা দেয় না এবং যা তার লক্ষ্যের দিকেই নিয়ে যায়। আমরা কেবল সে বিষয়কেই সঠিক বলে গ্রহণ করব যা উল্লিখিত প্রমাণ দ্বারা প্রমাণিত হবে, কারণ সত্য কেবল সেটিই। আমরা শব্দ বর্ণনায় এবং জটিলতা বর্জনে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি, যাতে আল্লাহর কাছ থেকে মহা প্রতিদান পাওয়া যায়। আর তিনি তাঁর বন্ধুদের অভিভাবক এবং তাঁর কাছে প্রার্থনাকারীকে প্রদানকারী। তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, আর আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।
আবু মুহাম্মদ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বলেন: আমরা বলছি—এবং আল্লাহর কাছেই তাওফিক কামনা করছি—ইসলাম ধর্মের বিরোধিতাকারী মূল দলগুলো হলো ছয়টি। অতঃপর এই ছয়টি দলের প্রতিটি আবার বিভিন্ন উপদলে বিভক্ত হয়েছে। আমি ইনশাআল্লাহ তাদের বৃহৎ গোষ্ঠীগুলোর কথা উল্লেখ করব। এই ছয়টি দল যা আমরা উল্লেখ করেছি, আমাদের থেকে দূরত্বের পর্যায় অনুযায়ী সেগুলো হলো: প্রথমত, সত্যকে অস্বীকারকারী দল, যাদেরকে কালাম শাস্ত্রবিদগণ 'সুফাসতায়িয়া' বলেন। এরপর হলো তারা যারা সত্যের অস্তিত্ব স্বীকার করে, তবে তারা বলে যে জগত অনাদি এবং এটি চিরকাল ধরে আছে।
(খণ্ড: ١)
আল-ফাসলু ফিল মিলালি ওয়াল আহওয়া-ই ওয়ান নিহাল
(পৃষ্ঠা: ١٠)
لَا مُحدث لَهُ وَلَا مُدبر ثمَّ الْقَائِلُونَ بِإِثْبَات الْحَقَائِق وَإِن الْعَالم لم يزل وَإِن لَهُ مُدبرا لم يزل ثمَّ الْقَائِلُونَ بِإِثْبَات الْحَقَائِق فبعضهم قَالَ إِن الْعَالم لم يزل وَبَعْضهمْ قَالَ هُوَ مُحدث وَاتَّفَقُوا على أَن لَهُ مُدبرين لم يزَالُوا وَأَنَّهُمْ أَكثر من وَاحِد وَاخْتلفُوا فِي عَددهمْ ثمَّ الْقَائِلين بِإِثْبَات الْحَقَائِق وَإِن الْعَالم مُحدث وَأَن لَهُ خَالِقًا وَاحِدًا لم يزل وأبطلوا النبوات كلهَا ثمَّ الْقَائِلُونَ بِإِثْبَات الْحَقَائِق وَأَن الْعَالم مُحدث وَأَن لَهُ خَالِقًا وَاحِدًا لم يزل وأثبتوا النبوات إِلَّا أَنَّهَا خالفوا فِي بَعْضهَا فأقروا بِبَعْض الْأَنْبِيَاء عليهم السلام وأنكروا بَعضهم
قَالَ أَبُو مُحَمَّد رضي الله عنه وَقد تحدث فِي خلال هَذِه الْأَقْوَال آراء هِيَ منتجة من هَذِه الرؤوس مركبة مِنْهَا فَمِنْهَا مَا قد قَالَت بِهِ طوائف من النَّاس مثل مَا ذهبت إِلَيْهِ فرق من الْأُمَم من القَوْل بتناسخ الْأَرْوَاح أَو القَوْل بتواتر النبوات فِي كل وَقت أَو إِن فِي كل نوع من أَنْوَاع الْحَيَوَان أَنْبيَاء وَمثل مَا قد ذهب إِلَيْهِ جمَاعَة الْقَائِلين بِهِ وناظرتهم عَلَيْهِ من القَوْل بِأَن الْعَالم مُحدث وَإِن لَهُ مُدبرا لم يزل إِلَّا أَن النَّفس وَالْمَكَان الْمُطلق وَهُوَ الْخَلَاء وَالزَّمَان الْمُطلق لم يزل مَعَه
قَالَ أَبُو مُحَمَّد وَهَذَا قَول قد ناظرني عَلَيْهِ عبد الله بن خلف ابْن مَرْوَان الْأنْصَارِيّ وَعبد الله بن مُحَمَّد السّلمِيّ الْكَاتِب وَمُحَمّد بن عَليّ بن أبي الْحُسَيْن الأصبحي الطَّبِيب وَهُوَ قَول يُؤثر عَن مُحَمَّد بن زَكَرِيَّا الرَّازِيّ الطَّبِيب وَلنَا عَلَيْهِ فِيهِ كتاب مُفْرد فِي نقض كِتَابه فِي ذَلِك وَهُوَ الْمَعْرُوف بِالْعلمِ الإلهي وَمثل مَا ذهب إِلَيْهِ قوم من أَن الْفلك لم يزل وَأَنه غير الله تَعَالَى وَأَنه هُوَ الْمُدبر للْعَالم الْفَاعِل لَهُ إجلالاً بزعمهم لله عَن أَن يُوصف بِأَنَّهُ فعل شَيْئا من الْأَشْيَاء وَقد كنى بَعضهم عَن ذَلِك بالعرش
وَمِنْهَا مَا لَا نعلم أَن أحدا قَالَ بِهِ إِلَّا أَنه مِمَّا لَا يُؤمن أَن يَقُول بِهِ قَائِل من الْمُخَالفين عِنْد تضييق الْحجَج عَلَيْهِم فليجئون إِلَيْهَا فَلَا بُد إِن شَاءَ الله تَعَالَى من ذكر مَا يَقْتَضِيهِ مساق الْكَلَام مِنْهَا وَذَلِكَ مثل القَوْل بِأَن الْعَالم مُحدث وَلَا مُحدث لَهُ فَلَا بُد بحول الله تَعَالَى من إِثْبَات الْمُحدث بعد الْكَلَام فِي إِثْبَات الْحُدُوث وَبِاللَّهِ تَعَالَى التَّوْفِيق والعون لَا إِلَه إِلَّا هُوَ
بَاب مُخْتَصر جَامع فِي مَاهِيَّة الْبَرَاهِين الجامعة الموصلة إِلَى معرفَة الْحق فِي كل مَا اخْتلف فِيهِ النَّاس وَكَيْفِيَّة إِقَامَتهَا
قَالَ أَبُو مُحَمَّد رضي الله عنه هَذَا بَاب قد أحكماه فِي كتَابنَا الموسوم
যার কোনো সৃষ্টিকারী নেই এবং কোনো পরিচালকও নেই। অতঃপর সেই সকল ব্যক্তি যারা বাস্তব সত্যকে স্বীকার করে এবং মনে করে যে মহাবিশ্ব অনাদি এবং এর একজন অনাদি পরিচালক রয়েছেন। এরপর সেই সকল ব্যক্তি যারা বাস্তব সত্যকে স্বীকার করে, তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছে যে মহাবিশ্ব অনাদি, আবার কেউ কেউ বলেছে যে তা সৃষ্টি করা হয়েছে; তবে তারা এই বিষয়ে একমত হয়েছে যে মহাবিশ্বের একাধিক অনাদি পরিচালক রয়েছেন এবং তারা তাদের সংখ্যার ব্যাপারে মতভেদ করেছেন। অতঃপর সেই সকল ব্যক্তি যারা বাস্তব সত্যকে স্বীকার করে এবং মনে করে যে মহাবিশ্ব সৃষ্টি করা হয়েছে এবং এর একজন অনাদি একক স্রষ্টা রয়েছেন, কিন্তু তারা সকল নবুওয়াতকে অস্বীকার করেছে। এরপর সেই সকল ব্যক্তি যারা বাস্তব সত্যকে স্বীকার করে এবং মনে করে যে মহাবিশ্ব সৃষ্টি করা হয়েছে এবং এর একজন অনাদি একক স্রষ্টা রয়েছেন; তারা নবুওয়াতকে স্বীকার করেছেন, তবে এই ক্ষেত্রে তারা কিছুটা ভিন্নমত পোষণ করেছেন। ফলে তারা কয়েকজন নবীর (আলাইহিমুস সালাম) ওপর ঈমান এনেছেন এবং কয়েকজনকে অস্বীকার করেছেন।
আবু মুহাম্মদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: এই সকল মতামতের মাঝখানে আরও কিছু মতের উদ্ভব ঘটেছে যা এই মূল মতবাদগুলো থেকেই তৈরি বা এগুলোর সমন্বয়ে গঠিত। এগুলোর মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা মানুষের বিভিন্ন দল বলেছে, যেমন: আত্মার পুনর্জন্মবাদে বিশ্বাসী বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর অভিমত, অথবা প্রত্যেক যুগে নবুওয়াত নিরবচ্ছিন্ন থাকার দাবি, অথবা প্রতিটি প্রাণী প্রজাতির মধ্যেই নবী থাকার দাবি। এবং সেই সকল গোষ্ঠীর মতের ন্যায় যাদের সাথে আমি বিতর্ক করেছি; তাদের বক্তব্য হলো মহাবিশ্ব সৃষ্টি করা হয়েছে এবং এর একজন অনাদি পরিচালক রয়েছেন, তবে আত্মা, পরম স্থান (যা শূন্যতা হিসেবে পরিচিত) এবং পরম কাল তাঁর সাথে অনাদি হিসেবে বিদ্যমান ছিল।
আবু মুহাম্মদ বলেন: এই মতবাদ নিয়ে আমার সাথে বিতর্ক করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে খালাফ ইবনে মারওয়ান আল-আনসারি, লেখক আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আস-সুলামি এবং চিকিৎসক মুহাম্মদ ইবনে আলি ইবনে আবিল হুসাইন আল-আসবাহি। এই মতটি চিকিৎসক মুহাম্মদ ইবনে জাকারিয়া আর-রাজি থেকে বর্ণিত। তার এই বিষয়ক কিতাব—যা ‘আল-ইলম আল-ইলাহি’ (ঐশী জ্ঞান) নামে পরিচিত—তার খণ্ডনে আমাদের একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ রয়েছে। এবং সেই সকল সম্প্রদায়ের মতবাদের ন্যায় যারা মনে করে যে মহাকাশ অনাদি এবং তা আল্লাহ তাআলা থেকে ভিন্ন; আর এই মহাকাশই হলো জগতের পরিচালক ও কর্ম সম্পাদনকারী। তাদের দাবি অনুযায়ী আল্লাহ কোনো কিছু করেন—এমন বর্ণনা থেকে তাঁকে সম্মান জানানোর উদ্দেশ্যেই তারা এই মত পোষণ করে। তাদের কেউ কেউ একে ‘আরশ’ হিসেবেও উল্লেখ করেছে।
এগুলোর মধ্যে এমন কিছু বিষয়ও রয়েছে যা কেউ বলেছে বলে আমাদের জানা নেই; তবে দলিল-প্রমাণের মাধ্যমে যখন বিরোধীদের কোণঠাসা করা হবে, তখন তারা এগুলো বলবে না—এমন নিরাপত্তা নেই। তাই আল্লাহর ইচ্ছায় আলোচনার ধারাবাহিকতার প্রয়োজনে সেগুলোর উল্লেখ করা আবশ্যক। যেমন এই কথা বলা যে, মহাবিশ্ব সৃষ্টি করা হয়েছে কিন্তু এর কোনো সৃষ্টিকারী নেই। সুতরাং আল্লাহর শক্তিতে মহাবিশ্বের সৃষ্টি হওয়ার বিষয়টি প্রমাণের পর এর একজন সৃষ্টিকারী থাকার বিষয়টি প্রমাণ করা অপরিহার্য। আল্লাহর পক্ষ থেকেই তাওফিক ও সাহায্য আসে; তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই।
মানুষের মধ্যকার মতভেদপূর্ণ সকল বিষয়ে সত্য অনুধাবনের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত ও সমন্বিত প্রমাণাদির স্বরূপ এবং তা উপস্থাপনের পদ্ধতি বিষয়ক সংক্ষিপ্ত ও সারগর্ভ অধ্যায়।
আবু মুহাম্মদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: এটি এমন একটি অধ্যায় যা আমরা আমাদের নিম্নোক্ত কিতাবটিতে সুনিপুণভাবে বর্ণনা করেছি...
(খণ্ড: ١)
আল-ফাসলু ফিল মিলালি ওয়াল আহওয়া-ই ওয়ান নিহাল
(পৃষ্ঠা: ١١)
بالتقريب فِي حُدُود الْكَلَام وتقصيناه هُنَالك غَايَة التَّقَصِّي وَالْحَمْد لله رب الْعَالمين إِلَّا أننا نذْكر هَاهُنَا جملَة كَافِيَة فِيهِ لتَكون مُقَدّمَة لما يَأْتِي بعده مِمَّا اخْتلف النَّاس فِيهِ يرجع إِلَيْهَا إِن شَاءَ الله تَعَالَى فَنَقُول وَبِاللَّهِ التَّوْفِيق
إِن الْإِنْسَان يخرج إِلَى هَذَا الْعَالم وَنَفسه قد ذهب ذكرهَا جملَة فِي قَول من يَقُول أَنَّهَا كَانَت قبل ذَلِك ذاكرة أَولا ذكر لَهَا الْبَتَّةَ فِي قَول من يَقُول أَنَّهَا حدثت حِينَئِذٍ أَو أَنَّهَا مزاج عرض إِلَّا أَنه قد حصل أَنه لَا ذكر للطفل حِين وِلَادَته وَلَا تَمْيِيز إِلَّا مَا لسَائِر الْحَيَوَان من الْحس وَالْحَرَكَة الإرادية فَقَط فتراه يقبض رجلَيْهِ ويمدها ويغلب أعضاءه حسب طاقته ويألم إِذا أحس الْبرد أَو الْحر أَو الْجُوع وَإِذا ضرب أَو قرص وَله سوى ذَلِك مِمَّا يُشَارِكهُ فِيهِ الْحَيَوَان والنوامي مِمَّا لَيْسَ حَيَوَانا من طلب الْغذَاء لبَقَاء جِسْمه على مَا هُوَ عَلَيْهِ ولنمائه فَيَأْخُذ الثدي ويميزه بطبعه من سَائِر الْأَعْضَاء بفمه دون سَائِر أَعْضَائِهِ كَمَا تَأْخُذ عروق الشّجر والنبات رطوبات الأَرْض وَالْمَاء لبَقَاء أجسامها على مَا هِيَ عَلَيْهِ ولنمائها
فَإِذا قويت النَّفس على قَول من يَقُول أَنَّهَا مزاج أَو أَنَّهَا حدثت حِينَئِذٍ أَو أخذت يعاودها ذكرهَا وتمييزها فِي قَول من يَقُول أَنَّهَا كَانَت ذاكرة قبل ذَلِك وَأَنَّهَا كالمفيق من مرض فَأول مَا يحدث لَهَا من التَّمْيِيز الَّذِي ينْفَرد بِهِ النَّاطِق من الْحَيَوَان فهم مَا أدْركْت بحواسها الْخمس كعلمها أَن الرَّائِحَة الطّيبَة مَقْبُولَة من طبعها والرائحة الرَّديئَة منافرة لطبعها وكعلمها أَن الْأَحْمَر مُخَالف للأخضر والأصفر والأبيض وَالْأسود
وكالفرق بَين الخشن والأملس والمكتنز والمتهيل واللزج والحار والبارد والدفيء وكالفرق بَين الحلو والحامض والمر والمالح والعفص والزاعق والتفه والعذب والحريف وكالفرق بَين الصَّوْت الحاد والغليظ وَالرَّقِيق والمطرب والمفزع
قَالَ أَبُو مُحَمَّد فَهَذِهِ إدراكات الْحَواس لمحسوساتها والإدراك السَّادِس علمهَا بالبديهيات
فَمن ذَلِك علمهَا بِأَن الْجُزْء أقل من الْكل فَإِن الصَّبِي الصَّغِير فِي أول تَمْيِيزه إِذا أَعْطيته تمرتين بَكَى وَإِذا زِدْته ثَالِثَة سر وَهَذَا علم مِنْهُ بِأَن الْكل
আলোচনার সীমানার মধ্যে মোটামুটিভাবে এবং আমরা সেখানে অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে তা অনুসন্ধান করেছি এবং সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। তবে আমরা এখানে এ বিষয়ে পর্যাপ্ত একটি সারসংক্ষেপ উল্লেখ করব যাতে এটি পরবর্তী বিষয়গুলোর জন্য একটি ভূমিকা হতে পারে যে বিষয়ে মানুষ মতভেদ করেছে, আল্লাহ তাআলা চাইলে সেদিকেই প্রত্যাবর্তন করা হবে। সুতরাং আমরা বলছি এবং আল্লাহর নিকটই তাওফিক।
নিশ্চয়ই মানুষ এই পৃথিবীতে আসে এমন অবস্থায় যে তার নফসের স্মৃতি সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে গেছে—যাদের মতে এটি ইতিপূর্বে স্মৃতিসম্পন্ন ছিল তাদের কথা অনুযায়ী; অথবা তার মোটেও কোনো স্মৃতি ছিল না—যাদের মতে এটি তখনই সৃষ্টি হয়েছে অথবা এটি একটি মেজাজ বা আপতিক গুণ। তবে বাস্তব অবস্থা এই যে, জন্মের সময় শিশুর কোনো স্মৃতি বা বিচারবুদ্ধি থাকে না, কেবল অন্যান্য প্রাণীর ন্যায় অনুভূতি এবং ঐচ্ছিক নড়াচড়া ছাড়া। ফলে আপনি তাকে দেখবেন সে তার পা সংকুচিত করছে এবং প্রসারিত করছে, তার সাধ্যানুযায়ী অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ চালনা করছে। সে কষ্ট পায় যখন শীত, গ্রীষ্ম বা ক্ষুধা অনুভব করে এবং যখন তাকে আঘাত করা হয় বা চিমটি কাটা হয়। এছাড়াও তার মধ্যে এমন কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে যাতে অন্যান্য প্রাণী এবং এমন বর্ধনশীল বস্তু যা প্রাণী নয় (উদ্ভিদ) অংশীদার, যেমন তার শরীরের অস্তিত্ব রক্ষা ও বৃদ্ধির জন্য খাদ্য অন্বেষণ করা। ফলে সে স্তন গ্রহণ করে এবং তার প্রকৃতিগত স্বভাবে মুখ দিয়ে তা অন্যান্য অঙ্গ থেকে আলাদা করে চিনে নেয়, যেমন গাছের শিকড় ও লতাগুল্ম মাটির আর্দ্রতা ও পানি গ্রহণ করে তাদের শরীরের স্থায়িত্ব ও বৃদ্ধির জন্য।
অতঃপর নফস যখন শক্তিশালী হয়—তাদের মতে যারা বলে এটি একটি মেজাজ বা এটি তখনই সৃষ্টি হয়েছে, অথবা তার স্মৃতি ও বিচারবুদ্ধি তার কাছে ফিরে আসে—তাদের মতে যারা বলে যে এটি এর আগে স্মৃতিসম্পন্ন ছিল এবং এটি যেন রোগ থেকে সুস্থ হওয়া ব্যক্তির ন্যায়। তখন বিচারবুদ্ধির মাধ্যমে তার মধ্যে সর্বপ্রথম যা সৃষ্টি হয় যার দ্বারা কথা বলা প্রাণী (মানুষ) অন্যান্য প্রাণী থেকে পৃথক হয়, তা হলো তার পাঁচটি ইন্দ্রিয় দ্বারা যা সে উপলব্ধি করেছে তা বুঝতে পারা। যেমন তার এই জ্ঞান যে সুগন্ধি তার প্রকৃতির কাছে গ্রহণযোগ্য এবং দুর্গন্ধ তার প্রকৃতির কাছে অরুচিকর, এবং তার এই জ্ঞান যে লাল রঙ সবুজ, হলুদ, সাদা ও কালো থেকে ভিন্ন।
এবং যেমন খসখসে ও মসৃণ, নিরেট ও শিথিল, আঠালো, গরম, ঠান্ডা ও ঈষদুষ্ণর মধ্যে পার্থক্য করা। এবং যেমন মিষ্টি, টক, তিতা, নোনতা, কষযুক্ত, তীব্র ঝাঁঝালো, বিস্বাদ, সুপেয় ও ঝালের মধ্যে পার্থক্য করা। এবং যেমন তীক্ষ্ণ, গম্ভীর, সূক্ষ্ম, আনন্দদায়ক ও ভীতিপ্রদ শব্দের মধ্যে পার্থক্য করা।
আবু মুহাম্মদ বলেন: এগুলো হলো ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়সমূহের ক্ষেত্রে ইন্দ্রিয়সমূহের উপলব্ধি। আর ষষ্ঠ উপলব্ধি হলো স্বতঃসিদ্ধ বিষয়সমূহ সম্পর্কে তার জ্ঞান।
এর মধ্যে রয়েছে তার এই জ্ঞান যে, অংশ সমষ্টির চেয়ে কম। কেননা ছোট শিশু তার বোধশক্তির শুরুতে যদি তাকে আপনি দুটি খেজুর দেন তবে সে কাঁদে, আর যখন আপনি তাকে তৃতীয়টি বাড়িয়ে দেন তখন সে খুশি হয়। এটি তার পক্ষ থেকে এই জ্ঞান যে, সমষ্টি...
(খণ্ড: ١)
আল-ফাসলু ফিল মিলালি ওয়াল আহওয়া-ই ওয়ান নিহাল
(পৃষ্ঠা: ١٢)
أَكثر من الْجُزْء وَإِن كَانَ لَا يتَنَبَّه لتحديد مَا يعرف من ذَلِك وَمن ذَلِك علمه بِأَن لَا يجْتَمع المتضادان فَإنَّك إِذا وقفته قسراً بَكَى وَنزع إِلَى الْقعُود علما مِنْهُ بِأَنَّهُ لَا يكون قَائِما قَاعِدا مَعًا
وَمن ذَلِك علمه بِأَن لَا يكون جسم وَاحِد فِي مكانين فَإِنَّهُ إِذا أَرَادَ الذّهاب إِلَى مَكَان مَا فأمسكته قسراً بَكَى وَقَالَ كلَاما مَعْنَاهُ دَعْنِي أذهب علما مِنْهُ بِأَنَّهُ لَا يكون فِي الْمَكَان الَّذِي يُرِيد أَن يذهب إِلَيْهِ مَا دَامَ فِي مَكَان وَاحِد
وَمن ذَلِك علمه بِأَنَّهُ لَا يكون الجسمان فِي مَكَان وَاحِد فَإنَّك ترَاهُ يُنَازع على الْمَكَان الَّذِي يُرِيد أَن يقْعد فِيهِ علما مِنْهُ بِأَنَّهُ لَا يَسعهُ ذَلِك الْمَكَان مَعَ مَا فِيهِ فَيدْفَع من فِي ذَلِك الْمَكَان الَّذِي يُرِيد أَن يقْعد فِيهِ إِذا يعلم أَنه مَا دَامَ فِي الْمَكَان مَا يشْغلهُ فَإِنَّهُ لَا يَسعهُ وَهُوَ فِيهِ
وَإِذا قلت لَهُ ناولني مَا فِي هَذَا الْحَائِط وَكَانَ لَا يُدْرِكهُ قَالَ لست أدْركهُ وَهَذَا علم مِنْهُ بِأَن الطَّوِيل زَائِد على مِقْدَار مَا هُوَ أقصر مِنْهُ وتراه يمشي إِلَى الشَّيْء الَّذِي يُرِيد ليصل إِلَيْهِ وَهَذَا علم مِنْهُ بِأَن ذَا النِّهَايَة يحصر وَيقطع بالعدو وَإِن لم يحسن الْعبارَة بتحديد مَا يدْرِي من ذَلِك
وَمِنْهَا علمه بِأَنَّهُ لَا يعلم الْغَيْب أحد وَذَلِكَ أَنَّك إِذا سَأَلته عَن شيءٍ لَا يعرفهُ أنكر ذَلِك وَقَالَ لَا أَدْرِي
وَمِنْهَا فرقة بَين الْحق وَالْبَاطِل فَإِنَّهُ إِذا أخبر بِخَير تَجدهُ فِي بعض الْأَوْقَات لَا يصدقهُ حَتَّى إِذا تظاهر عِنْده بمخبر آخر وَآخر صدقه وَسكن إِلَى ذَلِك
وَمِنْهَا علمه بِأَنَّهُ لَا يكون شيءٌ إِلَّا فِي زمَان فَإنَّك إِذا ذكرت لَهُ أمرا مَا قَالَ مَتى كَانَ وَإِذا قلت لَهُ لم تفعل كَذَا وَكَذَا قَالَ مَا كنت أَفعلهُ وَهَذَا علم مِنْهُ بِأَنَّهُ لَا يكون شَيْء مِمَّا فِي الْعَالم إِلَّا فِي زمَان
وَيعرف أَن للأشياء طبائع وماهية تقف عِنْدهَا وَلَا تجاوزها فتراه إِذا رأى شَيْئا لَا يعرفهُ قَالَ أَي شَيْء هَذَا فَإِذا شرح لَهُ سكت وَمِنْهَا علمه بِأَنَّهُ لَا يكون فعل إِلَّا لفاعل فَإِنَّهُ إِذا رأى شَيْئا قَالَ من عمل هَذَا وَلَا يقنع الْبَتَّةَ بِأَنَّهُ الْعَمَل دون عَامل وَإِذا رأى بيد آخر شَيْئا قَالَ من أَعْطَاك هَذَا وَمِنْهَا مَعْرفَته بِأَن فِي الْخَبَر صدقا وكذباً فتراه يكذب بعض مَا يخبر بِهِ وَيصدق بعضه ويتوقف فِي بعضه هَذَا كُله مشَاهد من جَمِيع النَّاس فِي مبدأ نشأتهم
قَالَ أَبُو مُحَمَّد فَهَذِهِ أَوَائِل الْعقل الَّتِي لَا يخْتَلف فِيهَا ذُو عقل وَهَا هُنَا أَيْضا أَشْيَاء غير مَا ذكرنَا إِذا فتشت وجدت وميزها كل ذِي عقل من نَفسه وَمن غَيره وَلَيْسَ يدْرِي أحد كَيفَ وَقع الْعلم بِهَذِهِ الْأَشْيَاء كلهَا بِوَجْه من الْوُجُوه وَلَا يشك ذُو تَمْيِيز صَحِيح فِي أَن هَذِه الْأَشْيَاء كلهَا صَحِيحَة لَا امتراء فِيهَا وَإِنَّمَا يشك فِيهَا بعد صِحَة علمه بهَا من دخلت عقله آفَة وَفَسَد تَمْيِيزه أَو مَال إِلَى بعض الآراء الْفَاسِدَة فَكَانَ ذَلِك أَيْضا آفَة دخلت على تَمْيِيزه
كالآفة الدَّاخِلَة على من بِهِ هيجان الصَّفْرَاء فيجد الْعَسَل مرا
وَمن فِي
অংশের তুলনায় পূর্ণতা বা সমষ্টি যে বৃহত্তর (তা সে শিশু জানে), যদিও সে যা জানে তার সংজ্ঞা নির্ধারণের বিষয়ে সে সজাগ নয়। এর অন্তর্ভুক্ত হলো তার এই জ্ঞান যে, দুটি বিপরীত বিষয় একত্রে একত্রিত হতে পারে না। কেননা যখন আপনি তাকে জোরপূর্বক দাঁড় করিয়ে রাখেন, তখন সে কাঁদে এবং বসার চেষ্টা করে; এটি তার এই জ্ঞানেরই বহিঃপ্রকাশ যে, সে একই সাথে দাঁড়িয়ে ও বসে থাকতে পারে না।
আরও রয়েছে তার এই জ্ঞান যে, একটি বস্তু একই সাথে দুটি স্থানে থাকতে পারে না। কেননা সে যখন কোনো স্থানে যেতে চায় আর আপনি তাকে জোরপূর্বক ধরে রাখেন, তখন সে কাঁদে এবং এমন কথা বলে যার অর্থ হলো "আমাকে যেতে দাও"; এটি তার এই জ্ঞানের কারণে যে, সে যতক্ষণ এক স্থানে আছে, ততক্ষণ সে সেই স্থানে থাকতে পারবে না যেখানে সে যেতে ইচ্ছুক।
এর মধ্যে আরও রয়েছে তার এই জ্ঞান যে, দুটি বস্তু একই স্থানে অবস্থান করতে পারে না। আপনি তাকে দেখবেন যে সে যেখানে বসতে চায় সেই স্থানের জন্য ঝগড়া বা কাড়াকাড়ি করছে; কারণ সে জানে যে ওই স্থানে অন্য কিছু থাকলে তা তাকে ধারণ করতে পারবে না। তাই সে ওই স্থানে অবস্থানকারীকে সরিয়ে দেয় যেখানে সে বসতে চায়, যেহেতু সে জানে যে যতক্ষণ ওই স্থানটি অন্য কিছু দ্বারা পূর্ণ থাকবে, ততক্ষণ সেখানে তার সংকুলান হবে না।
আপনি যদি তাকে বলেন, "এই দেয়ালের ওপর যা আছে তা আমাকে দাও" অথচ সে তা নাগাল পাচ্ছে না, তখন সে বলবে "আমি এর নাগাল পাচ্ছি না"। এটি তার এই জ্ঞানেরই প্রমাণ যে, দীর্ঘ বস্তু খাটো বস্তুর পরিমাপের চেয়ে বেশি হয়ে থাকে। তাকে দেখবেন যে সে কোনো কিছুর দিকে হেঁটে যাচ্ছে যাতে সে সেখানে পৌঁছাতে পারে; এটি তার এই জ্ঞানের বহিঃপ্রকাশ যে, সসীম দূরত্ব অতিক্রম করা সম্ভব, যদিও সে যা জানে তা সংজ্ঞার মাধ্যমে সুন্দরভাবে ব্যক্ত করতে সক্ষম নয়।
এর মধ্যে আরও রয়েছে তার এই জ্ঞান যে, কেউই গায়েব বা অদৃশ্য বিষয় জানে না। আর তা হলো, আপনি যখন তাকে এমন কিছু জিজ্ঞেস করেন যা সে জানে না, তখন সে তা অস্বীকার করে এবং বলে "আমি জানি না"।
এগুলোর মধ্যে রয়েছে সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করা। কারণ তাকে যখন কোনো সংবাদ দেওয়া হয়, তখন আপনি দেখবেন যে কোনো কোনো সময় সে তা বিশ্বাস করে না, যতক্ষণ না তার কাছে অন্য এক বা একাধিক সংবাদদাতা তা সমর্থন করে; তখন সে তা বিশ্বাস করে এবং শান্ত হয়।
এর অন্তর্ভুক্ত হলো তার এই জ্ঞান যে, কোনো কিছুই সময় বা কাল ছাড়া সংঘটিত হয় না। কারণ আপনি যখন তাকে কোনো বিষয়ের কথা বলেন, তখন সে বলে "তা কখন হয়েছিল?" আর আপনি যখন তাকে বলেন "তুমি কেন এমনটি করলে?", তখন সে বলে "আমি তো তা করিনি"; এটি তার এই জ্ঞানেরই প্রমাণ যে, জগতের কোনো কিছুই সময় ছাড়া অস্তিত্ব লাভ করে না।
সে আরও জানে যে বস্তুসমূহের নিজস্ব প্রকৃতি ও সত্তা রয়েছে যা একটি নির্দিষ্ট সীমায় গিয়ে থেমে যায় এবং তা অতিক্রম করে না। আপনি দেখবেন যখন সে এমন কিছু দেখে যা সে চেনে না, তখন সে জিজ্ঞেস করে "এটি কী জিনিস?" যখন তাকে তা বুঝিয়ে বলা হয়, তখন সে চুপ হয়ে যায়। এর মধ্যে আরও রয়েছে তার এই জ্ঞান যে, কর্তা ছাড়া কোনো কর্ম সম্পাদিত হয় না। কেননা সে যখন কোনো কিছু দেখে তখন বলে "এটি কে তৈরি করেছে?" এবং সে কোনোভাবেই কর্তা ছাড়া কর্ম হওয়ার বিষয়ে সন্তুষ্ট হয় না। আবার যখন সে অন্যের হাতে কিছু দেখে তখন বলে "এটি তোমাকে কে দিয়েছে?" এছাড়া সংবাদের মধ্যে যে সত্য ও মিথ্যা থাকে সে সম্পর্কেও তার জ্ঞান থাকে; ফলে আপনি দেখবেন সে তাকে দেওয়া কোনো সংবাদকে মিথ্যা মনে করে, কোনোটিকে সত্য মনে করে, আবার কোনোটির ব্যাপারে দ্বিধান্বিত থাকে। এই সবকিছুই সকল মানুষের মধ্যে তাদের বিকাশের সূচনালগ্নে পরিলক্ষিত হয়।
আবু মুহাম্মদ বলেন: এগুলো হলো বিবেকের প্রাথমিক মূলনীতি, যে বিষয়ে কোনো বিবেকবান ব্যক্তিই দ্বিমত পোষণ করেন না। আমরা যা উল্লেখ করেছি তা ছাড়াও এখানে আরও বিষয় রয়েছে যা অনুসন্ধান করলে খুঁজে পাওয়া যাবে এবং প্রতিটি বিবেকবান ব্যক্তি তা নিজের মধ্যে ও অন্যের মধ্যে পৃথক করতে পারে। কেউই জানে না যে কীভাবে এই সমস্ত জিনিসের জ্ঞান কোনো না কোনোভাবে অর্জিত হয়েছে। আর সঠিক বিচারবুদ্ধি সম্পন্ন কোনো ব্যক্তিই এসকল বিষয় সঠিক হওয়ার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ পোষণ করেন না এবং এতে কোনো বিতর্কের অবকাশ নেই। এসকল বিষয়ে সঠিক জ্ঞান লাভের পর কেবলমাত্র তারাই সন্দেহ পোষণ করে যাদের বিবেকের মধ্যে কোনো ব্যাধি প্রবেশ করেছে এবং যাদের বিচারবুদ্ধি নষ্ট হয়ে গেছে অথবা যারা কোনো ভ্রান্ত মতবাদের দিকে ঝুঁকে পড়েছে, যা মূলত তাদের বিচারবুদ্ধিতে প্রবেশ করা একটি ব্যাধি মাত্র।
যেমন পিত্তাধিক্য বা জন্ডিস আক্রান্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে ঘটে থাকে, যার ফলে সে মধুকেও তিক্ত মনে করে। এবং যে ব্যক্তি...
(খণ্ড: ١)
আল-ফাসলু ফিল মিলালি ওয়াল আহওয়া-ই ওয়ান নিহাল
(পৃষ্ঠা: ١٣)
عينه ابْتِدَاء نزُول المَاء فَيرى خيالات لَا حَقِيقَة لَهَا وكسائر الْآفَات الدَّاخِلَة على الْحَواس قَالَ أَبُو مُحَمَّد فَهَذِهِ الْمُقدمَات الَّتِي ذَكرنَاهَا هِيَ الصَّحِيحَة الَّتِي لَا شكّ فِيهَا وَلَا سَبِيل إِلَى أَن يطْلب عَلَيْهَا دَلِيلا إِلَّا مَجْنُون أَو جَاهِل لَا يعلم حقائق الْأَشْيَاء وَمن الطِّفْل أهْدى مِنْهُ وَهَذَا أَمر يَسْتَوِي فِي الْإِقْرَار بِهِ كبار جَمِيع بني آدم وصغارهم فِي أقطار الأَرْض إِلَّا من غالط حسه وكابر عقله فيحلق بالمجانين لِأَن الِاسْتِدْلَال على الشَّيْء لَا يكون إِلَّا فِي زمَان وَلَا بُد ضَرُورَة أَن يعلم ذَلِك بِأول الْعقل لِأَنَّهُ قد علم بضرورة الْعقل أَنه لَا يكون شَيْء مِمَّا فِي الْعَالم إِلَّا فِي وَقت وَلَيْسَ بَين أول أَوْقَات تَمْيِيز النَّفس فِي هَذَا الْعَالم وَبَين إِدْرَاكهَا لكل مَا ذكرنَا مهلة الْبَتَّةَ لَا دقيقة وَلَا جليلة وَلَا سَبِيل على ذَلِك فصح أَنَّهَا ضرورات أوقعهَا الله فِي النَّفس وَلَا سَبِيل إِلَى الِاسْتِدْلَال الْبَتَّةَ إِلَّا من هَذِه الْمُقدمَات وَلَا يَصح شَيْء إِلَّا بِالرَّدِّ إِلَيْهَا فَمَا شهِدت لَهُ مُقَدّمَة من هَذِه الْمُقدمَات بِالصِّحَّةِ فَهُوَ صَحِيح مُتَيَقن وَمَا لم تشهد لَهُ بِالصِّحَّةِ فَهُوَ بَاطِل سَاقِط إِلَّا أَن الرُّجُوع إِلَيْهَا قد يكون من قرب وَمن بعد فَمَا كَانَ من قرب فَهُوَ أظهر إِلَى كل نفس وَأمكن للفهم وَكلما بَعدت الْمُقدمَات الْمَذْكُورَة صَعب الْعَمَل فِي الِاسْتِدْلَال حَتَّى يَقع فِي ذَلِك الْغَلَط إِلَّا للفهم الْقوي الْفَهم والتمييز وَلَيْسَ ذَلِك مِمَّا يقْدَح فِي أَن مَا رَجَعَ إِلَى مُقَدّمَة من الْمُقدمَات الَّتِي ذكرنَا حق كَمَا أَن تِلْكَ الْمُقدمَة حق لَا فرق بَينهمَا فِي أَنَّهُمَا حق وَهَذَا مثل الْأَعْدَاد فَكلما قلت الْأَعْدَاد سهل جمعهَا وَلم يَقع فِيهَا غلط حَتَّى إِذا كثرت الْأَعْدَاد وَكثر الْعَمَل فِي جمعهَا صَعب ذَلِك حَتَّى يَقع فِيهَا الْغَلَط إِلَّا مَعَ الحاسب الْكَافِي الْمجِيد وَكلما قرب من ذَلِك وَبعد فَهُوَ كُله حق وَلَا تفاضل فِي شَيْء من ذَلِك وَلَا تعَارض مُقَدّمَة مِمَّا ذكرنَا مُقَدّمَة أُخْرَى مِنْهَا وَلَا يُعَارض مَا يرجع إِلَى مُقَدّمَة أُخْرَى مِنْهَا رُجُوعا صَحِيحا وَهَذَا كُله يعلم بِالضَّرُورَةِ وَمن علم النَّفس بِأَن علم الْغَيْب لَا يُعَارض صَحَّ ضَرُورَة أَنه لَا يُمكن أَن يَحْكِي أحد خَبرا كَاذِبًا طَويلا فَيَأْتِي من لم يسمعهُ فيحكي ذَلِك الْخَبَر بِعَيْنِه كَمَا هُوَ لَا يزِيد فِيهِ وَلَا ينقص إِذْ لَو أمكن ذَلِك لَكَانَ الحاكي لمثل ذَلِك الْخَبَر عَالما بِالْغَيْبِ لِأَن هَذَا هُوَ علم الْغَيْب نَفسه وَهُوَ الْإِخْبَار عَمَّا لَا يعلم الْمخبر عَنهُ بِمَا هُوَ عَلَيْهِ وَذَلِكَ كَذَلِك بِلَا شكّ فَكل مَا نَقله من الْأَخْبَار اثْنَان فَصَاعِدا مفترقان قد أيقنا أَنَّهُمَا لم يجتمعا وَلَا تشاعرا فَلم يختلفا فِيهِ فبالضرورة يعلم أَنه حق مُتَيَقن مَقْطُوع بِهِ على غيبه وَبِهَذَا علمنَا صِحَة موت من مَاتَ وولادة من ولد وعزل من عزل وَولَايَة من ولى وَمرض من مرض وافاقة من أَفَاق ونكبة من نكب والبلاد الغائبة عَنَّا والوقائع
তার চোখে ছানি পড়ার সূচনা ঘটে, ফলে সে এমন সব প্রতিচ্ছবি দেখতে পায় যার কোনো বাস্তবতা নেই এবং এটি ইন্দ্রিয়সমূহের ওপর আপতিত অন্যান্য ত্রুটির মতোই। আবু মুহাম্মদ বলেন: আমরা যে সকল ভূমিকার কথা উল্লেখ করেছি, সেগুলোই সঠিক যা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। পাগল বা মূর্খ ছাড়া আর কেউ এর ওপর দলিল তলব করার পথ খুঁজে পায় না; এমন মূর্খ যে বস্তুর প্রকৃত স্বরূপ জানে না, এমনকি একটি শিশুও তার চেয়ে বেশি সঠিক পথের দিশারী। এটি এমন একটি বিষয় যার স্বীকৃতির ক্ষেত্রে পৃথিবীর সকল প্রান্তের মানুষেরা—চাই তারা বড় হোক বা ছোট—সমান, তবে সেই ব্যক্তি ব্যতীত যে নিজের ইন্দ্রিয়জাত অনুভূতির সাথে প্রতারণা করে এবং নিজের বিবেকের সাথে দম্ভ প্রদর্শন করে; তাকে পাগলদের সাথে গণ্য করা হবে। কারণ কোনো বিষয়ের ওপর যুক্তি প্রদর্শন কেবল সময়ের মধ্যেই হতে পারে, আর অপরিহার্যভাবে এটি বিবেকের প্রাথমিক স্তরেই জানতে হয়। কারণ বিবেকের অনিবার্য দাবি হচ্ছে, জগতের কোনো কিছুই সময় ছাড়া হতে পারে না। এই জগতে প্রাণের স্বাতন্ত্র্যবোধের প্রথম সময় এবং আমাদের উল্লিখিত বিষয়গুলো উপলব্ধি করার মধ্যে কোনো অবকাশ নেই—তা সূক্ষ্ম হোক বা স্থূল। এর বাইরে কোনো পথ নেই, সুতরাং এটি প্রমাণিত যে এগুলো হলো সেই সকল অনিবার্য সত্য যা আল্লাহ মানুষের অন্তরে গেঁথে দিয়েছেন। এই সকল ভূমিকা ছাড়া দলিল প্রদর্শনের আর কোনো পথ নেই এবং এগুলোর দিকে প্রত্যাবর্তন করা ছাড়া কোনো কিছুই সঠিক হয় না। সুতরাং এই ভূমিকাগুলোর মধ্য থেকে কোনো একটি ভূমিকা যার সত্যতার সাক্ষ্য দেয়, তা-ই সঠিক ও সুনিশ্চিত। আর যার সত্যতার সাক্ষ্য এগুলো দেয় না, তা বাতিল ও অসার। তবে এগুলোর দিকে প্রত্যাবর্তন কখনো নিকটবর্তী হয়, আবার কখনো দূরবর্তী। যা নিকটবর্তী তা প্রত্যেক মানুষের নিকট অধিকতর স্পষ্ট এবং বুঝার জন্য সহজতর। আর এই ভূমিকাগুলো থেকে কোনো সিদ্ধান্ত যত দূরে যাবে, দলিল গ্রহণের প্রক্রিয়া তত কঠিন হবে, এমনকি শক্তিশালী মেধা ও বিচারবুদ্ধি সম্পন্ন ব্যক্তি ছাড়া অন্যদের ক্ষেত্রে তাতে ভুল সংঘটিত হবে। তবে এটি আমাদের উল্লিখিত ভূমিকাগুলোর দিকে যা ফিরে আসে তা সত্য হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে না, যেমন সেই ভূমিকাটিও সত্য; সত্য হওয়ার ক্ষেত্রে উভয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। এটি সংখ্যার মতো; যখন সংখ্যার পরিমাণ কম থাকে তখন তা যোগ করা সহজ হয় এবং তাতে কোনো ভুল হয় না, কিন্তু যখন সংখ্যা অনেক বেশি হয়ে যায় এবং তা যোগ করার কাজ বৃদ্ধি পায়, তখন তা কঠিন হয়ে পড়ে এবং দক্ষ ও নিপুণ গণনাকারী ব্যতীত অন্যদের ক্ষেত্রে তাতে ভুল হয়ে যায়। এর যা কিছুই নিকটবর্তী বা দূরবর্তী হোক না কেন, তার পুরোটাই সত্য এবং এর কোনোটির মধ্যে কোনো শ্রেষ্ঠত্বের ব্যবধান নেই। আমরা যে সকল ভূমিকার কথা উল্লেখ করেছি তার একটির সাথে অন্যটির কোনো বিরোধ নেই, আর কোনো ভূমিকার দিকে যা সঠিকভাবে প্রত্যাবর্তিত হয় তার সাথে অন্য কোনো ভূমিকারও কোনো বিরোধ নেই। এই সব কিছুই অনিবার্যভাবে জানা যায়। আত্মার এই জ্ঞান থেকে যে, অদৃশ্যের জ্ঞান পরস্পরের বিরোধী হয় না, এটি অনিবার্যভাবে প্রমাণিত হয় যে, কেউ দীর্ঘ কোনো মিথ্যা সংবাদ বর্ণনা করবে আর যে তা শোনেনি সে এসে অবিকল সেই সংবাদই বর্ণনা করবে—যাতে সে কিছুই বাড়াবে না বা কমাবে না—এটি অসম্ভব। কারণ যদি এটি সম্ভব হতো, তবে অনুরূপ সংবাদের বর্ণনাকারী অদৃশ্যের জ্ঞানী হতো। কারণ এটিই স্বয়ং অদৃশ্যের জ্ঞান; অর্থাৎ কোনো বিষয় সম্পর্কে এমন সংবাদ দেওয়া যা সংবাদদাতার জানা নেই যে তা বাস্তবে কেমন। এটি সন্দেহাতীতভাবেই সে রকম। সুতরাং যে সকল সংবাদ দুইজন বা তার অধিক পৃথক ব্যক্তি বর্ণনা করে যাদের সম্পর্কে আমরা নিশ্চিত জানি যে তারা একত্রিত হয়নি এবং কোনো যোগসাজশ করেনি, আর তারা সেই সংবাদে কোনো মতভেদও করেনি, তবে তা অনিবার্যভাবে জানা যায় যে এটি সত্য, সুনিশ্চিত এবং অদৃশ্যের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত বিষয়। এর মাধ্যমেই আমরা জানতে পেরেছি যারা মারা গেছে তাদের মৃত্যুর সংবাদ, যারা জন্মগ্রহণ করেছে তাদের জন্মের খবর, যাদের অপসারিত করা হয়েছে তাদের অপসারণ, যাদের শাসক নিযুক্ত করা হয়েছে তাদের নিয়োগ, যারা অসুস্থ হয়েছে তাদের অসুস্থতা, যারা সুস্থ হয়েছে তাদের সুস্থ হওয়ার খবর, যারা বিপদগ্রস্ত হয়েছে তাদের দুর্দশার খবর এবং আমাদের থেকে দূরবর্তী শহর ও ঘটনাবলির সত্যতা।
(খণ্ড: ١)
আল-ফাসলু ফিল মিলালি ওয়াল আহওয়া-ই ওয়ান নিহাল
(পৃষ্ঠা: ١٤)
والملوك والأنبياء عليهم السلام ودياناتهم وَالْعُلَمَاء وأقوالهم والفلاسفة وحكمهم لَا شكّ عِنْد أحد يُوفي عقله حَقه فِي شَيْء مِمَّا نقل من ذَلِك كَمَا ذكرنَا وَبِاللَّهِ تَعَالَى التَّوْفِيق
بَاب الْكَلَام على أهل الْقسم الأول وهم مبطلوا الْحَقَائِق وهم السوفسطائية
قَالَ أَبُو مُحَمَّد ذكر من سلف من الْمُتَكَلِّمين أَنهم ثَلَاثَة أَصْنَاف فصنف مِنْهُم نفى الْحَقَائِق جملَة وصنف مِنْهُم شكوا فِيهَا وصنف مِنْهُم قَالُوا هِيَ حق عِنْد من هِيَ عِنْده حق وَهِي بَاطِل عِنْد من هِيَ عِنْده بَاطِل وعمدة مَا ذكر من اعتراضهم فَهُوَ اخْتِلَاف الْحَواس فِي المحسوسات كإدراك المبصر من بعدٍ عَنهُ صَغِيرا وَمن قربٍ مِنْهُ كَبِيرا وكوجود من بِهِ حمى صفراء حُلْو المطاعم مرا وَمَا يرى فِي الرُّؤْيَا مِمَّا لَا شكّ فِيهِ رائيه أَنه حق من أَنه فِي الْبِلَاد الْبَعِيدَة
قَالَ أَبُو مُحَمَّد وكل هَذَا لَا معنى لَهُ لِأَن الْخطاب وتعاطي الْمعرفَة إِنَّمَا يكون مَعَ أهل الْمعرفَة وحس الْعقل شَاهد بِالْفرقِ بَين مَا يخيل إِلَى النَّائِم وَبَين مَا يُدْرِكهُ المستيقظ إِذْ لَيْسَ فِي الرُّؤْيَا من اسْتِعْمَال الجري على الْحُدُود المستقرة فِي الْأَشْيَاء الْمَعْرُوفَة وَكَونهَا ابداً على صفة وَاحِدَة مَا فِي الْيَقَظَة وَكَذَلِكَ يشْهد الْحس أَيْضا بِأَن تبدل المحسوس عَن صفته اللازمه لَهُ بحث الْحس إِنَّمَا هُوَ لآفة فِي حس الحاس لَهُ لَا فِي المحسوس جَار كل ذَلِك على رُتْبَة وَاحِدَة لَا تتحول وَهَذِه هِيَ الْبِدَايَة والمشاهدات الَّتِي لَا يجوز أَن يطْلب عَلَيْهَا برهَان إِذْ لَو طلب على كل برهَان برهَان لاقتضى ذَلِك وجود موجودات لَا نِهَايَة لَهَا وَوُجُود أَشْيَاء لَا نِهَايَة لَهَا محَال لَا سَبِيل إِلَيْهِ على مَا سنبينه إِن شَاءَ الله تَعَالَى وَالَّذِي يطْلب على الْبُرْهَان برهاناً فَهُوَ نَاطِق بالمحال لِأَنَّهُ لَا يفعل ذَلِك إِلَّا وَهُوَ مُثبت لبرهان مَا فَإِذا وقفنا عِنْد الْبُرْهَان الَّذِي ثَبت لزمَه الإذعان لَهُ فَإِن كَانَ لَا يثبت برهاناً فَلَا وَجه لطلبه مَا لَا يُثبتهُ لَو وجده وَالْقَوْل بِنَفْي الْحَقَائِق مُكَابَرَة لِلْعَقْلِ والحس وَيَكْفِي من الرَّد عَلَيْهِم أَن يُقَال لَهُم قَوْلكُم أَنه لَا حَقِيقَة للأشياء حق هُوَ أم بَاطِل فَإِن قَالُوا هُوَ حق أثبتوا حَقِيقَة مَا وَإِن قَالُوا لَيْسَ هُوَ حَقًا أقرُّوا بِبُطْلَان قَوْلهم وَكفوا خصمهم أَمرهم وَيُقَال للشكاك مِنْهُم وَبِاللَّهِ تَعَالَى التَّوْفِيق أشككم مَوْجُود صَحِيح مِنْكُم أم غير صَحِيح وَلَا مَوْجُود فَإِن قَالُوا هُوَ مَوْجُود صَحِيح منا أثبتوا أَيْضا حَقِيقَة مَا وَإِن قَالُوا غير مَوْجُود نفوا الشَّك وأبطلوه وَفِي إبِْطَال الشَّك إِثْبَات الْحَقَائِق أَو الْقطع على إِبْطَالهَا وَقد قدمنَا بعون الله تَعَالَى إبِْطَال قَول من أبطلها فَلم يبْقى إِلَّا الْإِثْبَات
وَيُقَال وَبِاللَّهِ التَّوْفِيق لمن قَالَ هِيَ حق عِنْد من هِيَ عِنْده حق وَهِي
এবং রাজা-বাদশাহ ও নবীগণ (তাঁদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) এবং তাঁদের ধর্মসমূহ, আলেম সমাজ ও তাঁদের উক্তি এবং দার্শনিকগণ ও তাঁদের প্রজ্ঞাসমূহ—এর মধ্য থেকে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে সে সম্পর্কে এমন কোনো ব্যক্তির মনে সংশয় থাকতে পারে না, যে তার বুদ্ধিবৃত্তিকে যথাযথ মূল্যায়ন করে, যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি। আর আল্লাহর পক্ষ থেকেই তাওফিক অর্জিত হয়।
পরিচ্ছেদ: প্রথম শ্রেণির লোকদের বর্ণনা, যারা বাস্তবতাকে অস্বীকারকারী এবং তারা হলো সোফিস্ট (সফসতায়ী)।
আবু মুহাম্মদ বলেন: পূর্বসূরি কালামশাস্ত্রবিদগণ উল্লেখ করেছেন যে তারা তিন প্রকার। তাদের একদল সামগ্রিকভাবে বাস্তবতাকে অস্বীকার করে; অন্য একদল এতে সন্দেহ পোষণ করে; আর অন্য একদল বলে যে, যা যার কাছে সত্য বলে মনে হয় তা তার কাছে সত্য, আর যা যার কাছে মিথ্যা বলে মনে হয় তা তার কাছে মিথ্যা। তাদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত আপত্তির মূল ভিত্তি হলো অনুভবে প্রাপ্ত বিষয়সমূহে ইন্দ্রিয়জাত উপলব্ধির ভিন্নতা। যেমন, দূর থেকে কোনো দর্শক কোনো কিছুকে ছোট দেখে আর কাছ থেকে তাকে বড় দেখে; আবার পিত্তজ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তির কাছে মিষ্টি স্বাদের খাবার তেতো অনুভূত হওয়া; এবং স্বপ্নে এমন কিছু দেখা যা দ্রষ্টা সত্য বলে মনে করে অথচ সে তখন সুদূর কোনো জনপদে অবস্থান করছে।
আবু মুহাম্মদ বলেন: এসব কথার কোনো অর্থ নেই। কারণ সম্বোধন ও জ্ঞান বিনিময় তো কেবল জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিদের সাথেই সম্ভব। বুদ্ধিবৃত্তিক অনুভূতি এই সাক্ষ্য দেয় যে, স্বপ্নদ্রষ্টার কল্পনা এবং জাগ্রত ব্যক্তির উপলব্ধির মধ্যে পার্থক্য বিদ্যমান। কেননা স্বপ্নে সুপ্রতিষ্ঠিত নিয়ম ও পরিচিত বিষয়াবলির অনুসরণ এবং সেগুলোর সর্বদা একই অবস্থায় বিদ্যমান থাকার বিষয়টি জাগ্রত অবস্থার মতো নয়। তদ্রূপ ইন্দ্রিয় এ সাক্ষ্যও দেয় যে, কোনো ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বস্তুর আবশ্যিক বৈশিষ্ট্য থেকে বিচ্যুতি ঘটা মূলত ইন্দ্রিয় প্রয়োগকারীর ইন্দ্রিয়গত কোনো ত্রুটির কারণে ঘটে, বস্তুর নিজের কারণে নয়। এ সবকিছুই একটি সুসংগত বিন্যাস অনুযায়ী পরিচালিত যা পরিবর্তিত হয় না। আর এগুলোই হলো সেই প্রারম্ভিক জ্ঞান ও প্রত্যক্ষ বিষয়াবলি, যার ওপর কোনো প্রমাণ দাবি করা বৈধ নয়। কারণ যদি প্রতিটি প্রমাণের ওপর অন্য একটি প্রমাণের দাবি করা হয়, তবে তা অসীম পর্যন্ত বিদ্যমান থাকা আবশ্যক হয়ে পড়বে; আর অসীম সংখ্যক জিনিসের বিদ্যমান থাকা অসম্ভব ও অসম্ভবপর, যার বিবরণ আমরা ইনশাআল্লাহ তায়ালা সামনে প্রদান করব। যে ব্যক্তি প্রমাণের ওপর প্রমাণের দাবি করে, সে মূলত অসম্ভব কথা বলছে। কারণ সে এটি তখনই করে যখন সে কোনো একটি প্রমাণকে সাব্যস্ত করে। সুতরাং যখন আমরা সেই সাব্যস্তকৃত প্রমাণের ওপর উপনীত হই, তখন তার জন্য তা মেনে নেয়া অপরিহার্য হয়ে পড়ে। আর সে যদি কোনো প্রমাণই সাব্যস্ত না করে, তবে যা সে স্বীকারই করে না, তা দাবি করার কোনো অর্থ নেই। বাস্তবতাকে অস্বীকার করা বুদ্ধি ও ইন্দ্রিয়ের সাথে স্রেফ হঠকারিতা। তাদের খণ্ডনে এই কথা বলাই যথেষ্ট যে: তোমাদের এই কথা যে 'বস্তুজগতের কোনো বাস্তবতা নেই'—তা কি সত্য নাকি মিথ্যা? তারা যদি বলে এটি সত্য, তবে তারা একটি বাস্তবতাকে সাব্যস্ত করল। আর যদি বলে এটি সত্য নয়, তবে তারা নিজেদের বক্তব্যের অসারতা নিজেই স্বীকার করে নিল এবং প্রতিপক্ষের কাজ সহজ করে দিল। আর তাদের মধ্যে যারা সংশয়বাদী, আল্লাহর তাওফিক কামনায় তাদের বলা হবে: তোমাদের এই সংশয় কি তোমাদের পক্ষ থেকে বিদ্যমান ও সঠিক কোনো বিষয়, নাকি তা সঠিক নয় এবং বিদ্যমানও নয়? তারা যদি বলে এটি আমাদের পক্ষ থেকে বিদ্যমান ও সঠিক একটি বিষয়, তবে তারা পুনরায় একটি বাস্তবতাকে সাব্যস্ত করল। আর যদি বলে এটি বিদ্যমান নয়, তবে তারা সংশয়কেই নাকচ ও বাতিল করল। আর সংশয় বাতিল হওয়ার মাধ্যমেই বাস্তবতার সপ্রমাণ হওয়া অথবা বাস্তবতার অস্বীকৃতি বাতিল হওয়া নিশ্চিত হয়। আর আল্লাহর সাহায্যে আমরা ইতিপূর্বে যারা বাস্তবতাকে বাতিল বলেছিল তাদের মতবাদ খণ্ডন করেছি, ফলে কেবল সত্য সাব্যস্ত হওয়াই অবশিষ্ট রইল।
আর আল্লাহর তাওফিক কামনায় সেই ব্যক্তিকে বলা হবে যে বলেছে: যা যার কাছে সত্য তা তার নিকট সত্য এবং যা...
(খণ্ড: ١)
আল-ফাসলু ফিল মিলালি ওয়াল আহওয়া-ই ওয়ান নিহাল
(পৃষ্ঠা: ١٥)
بَاطِل عِنْد من هِيَ عِنْده بَاطِل أَن الشَّيْء لَا يكون حَقًا باعتقاد من اعْتقد أَنه حق كَمَا أَنه لَا يبطل باعتقاد من اعْتقد أَنه بَاطِل وَإِنَّمَا يكون الشَّيْء حَقًا بِكَوْنِهِ مَوْجُودا ثَابتا سَوَاء اعْتقد أَنه حق أَو اعْتقد أَنه بَاطِل وَلَو كَانَ غير هَذَا لَكَانَ الشَّيْء مَعْدُوما مَوْجُودا فِي حَال وَاحِدَة فِي ذَاته وَهَذَا عين الْمحَال وَإِذا أقرُّوا بِأَن الْأَشْيَاء حق عِنْد من هِيَ عِنْده حق فَمن جملَة تِلْكَ الْأَشْيَاء الَّتِي تعتقد أَنَّهَا حق عِنْد من يعْتَقد أَن الْأَشْيَاء حق بطلَان قَول من قَالَ أَن الْحَقَائِق بَاطِل وَهُوَ هم قد أقرُّوا أَن الْأَشْيَاء حق عِنْد من هِيَ عِنْده حق وَبطلَان قَوْلهم من جملَة تِلْكَ الْأَشْيَاء فقد أقرُّوا بِأَن بطلَان قَوْلهم حق مَعَ أَن هَذِه الْأَقْوَال لَا سَبِيل إِلَى أَن يعتقدها ذُو عقل الْبَتَّةَ إِذْ حسه يشْهد بِخِلَافِهَا وَإِنَّمَا يُمكن أَن يلجأ إِلَيْهَا بعض المنقطعين على سَبِيل الشغب وَبِاللَّهِ تَعَالَى التَّوْفِيق
بَاب الْكَلَام على من قَالَ بِأَن الْعَالم لم يزل وَأَنه لَا مُدبر لَهُ
قَالَ أَبُو مُحَمَّد رضي الله عنه لَا يَخْلُو الْعَالم من أحد وَجْهَيْن إِمَّا أَن يكون لم يزل أَو أَن يكون مُحدثا لم يكن ثمَّ كَانَ فَذَهَبت طَائِفَة إِلَى أَنه لم يزل وهم الدهرية وَذهب سَائِر النَّاس إِلَى أَنه مُحدث فنبتدئ بحول الله تَعَالَى وقوته بإيراد كل حجَّة شغب بهَا الْقَائِلُونَ بِأَن الْعَالم لم يزل وتوفية اعتراضهم بهَا ثمَّ نبين بحوله تَعَالَى نقضهَا وفسادها فَإِذا بَطل القَوْل بِأَن الْعَالم لم يزل وَجب القَوْل بالحدوث وَصَحَّ إِذْ لَا سَبِيل إِلَى وَجه ثَالِث لَكنا لَا نقنع بذلك حَتَّى نأتي بالبراهين الظَّاهِرَة والنتائج الْمُوجبَة والقضايا الضرورية على إِثْبَات حُدُوث الْعَالم وَلَا قُوَّة إِلَّا بِاللَّه الْعلي الْعَظِيم
فَمَا اعْترضُوا بِهِ أَن قَالُوا لم نر شَيْئا حدث إِلَّا من شَيْء أَو فِي شَيْء فَمن ادّعى غير ذَلِك فقد ادّعى مَا لَا يُشَاهد وَلم يُشَاهد وَقَالُوا أَيْضا لَا يَخْلُو مُحدث الْأَجْسَام الْجَوَاهِر والأعراض وَهِي كل مَا فِي الْعَالم إِن كَانَ الْعَالم مُحدثا من أَن يكون أحدثه لِأَنَّهُ أَو إحداثه لعِلَّة
فَإِن كَانَ لِأَنَّهُ فالعالم لم يزل لِأَن محدثه لم يزل وَإِذ هُوَ عِلّة خلقه فالعلة لَا تفارق الْمَعْلُول وَمَا لم يُفَارق من لم يزل فَهُوَ أَيْضا لم يزل هُوَ مثله بِلَا شكّ فالعالم لم يزل وَإِن كَانَ أحدثه لعِلَّة فَتلك الْعلَّة لَا تَخْلُو من أحد وَجْهَيْن إِمَّا أَن تكون لم تزل وَإِمَّا أَن تكون محدثة فَإِن كَانَت لم تزل فمعلولها لم يزل فالعالم لم يزل
যার নিকট সত্য বাতিল, তার কাছে তা বাতিল হওয়ার অর্থ এই নয় যে, কোনো বস্তু কারো সত্য মনে করার কারণে সত্য হয়ে যায়, যেমনটি কোনো বস্তু কারো বাতিল মনে করার কারণে বাতিল হয়ে যায় না। বরং কোনো বিষয় সত্য হয় তার বাস্তব অস্তিত্ব ও সাব্যস্ত হওয়ার মাধ্যমে, চাই কেউ তাকে সত্য মনে করুক বা বাতিল মনে করুক। যদি এর ব্যতিক্রম হতো, তবে কোনো বস্তু একই সত্তাগত অবস্থায় একই সাথে অবিদ্যমান ও বিদ্যমান হতো, যা সম্পূর্ণ অসম্ভব। আর তারা যদি স্বীকার করে যে বস্তুসমূহ তাদের নিকট সত্য যাদের নিকট তা সত্য বলে গণ্য, তবে যারা সত্যকে বাতিল বলে তাদের বক্তব্য যে বাতিল—সেটিও সেই সত্য বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত হবে তাদের নিকট যারা সত্যে বিশ্বাসী। যেহেতু তারা স্বীকার করেছে যে বস্তুসমূহ তাদের নিকট সত্য যাদের নিকট তা সত্য বলে গণ্য, আর তাদের বক্তব্যের অসারতাও সেই সব বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত, তাই তারা প্রকারান্তরে তাদের নিজেদের বক্তব্যের অসারতাকেই সত্য বলে স্বীকার করে নিয়েছে। অথচ এই ধরণের কথা কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তির পক্ষে বিশ্বাস করা মোটেও সম্ভব নয়, কারণ তার ইন্দ্রিয় এর বিপরীতে সাক্ষ্য দেয়। কেবল কিছু কোণঠাসা ব্যক্তি বিতণ্ডার ছলে এর আশ্রয় নিতে পারে। আল্লাহর তাওফীক কাম্য।
পরিচ্ছেদ: বিশ্বজগত অনাদি এবং এর কোনো পরিচালক নেই—এই মত পোষণকারীদের খণ্ডন প্রসঙ্গে।
আবু মুহাম্মদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: বিশ্বজগত দুই অবস্থার বাইরে নয়—হয় তা অনাদি হবে, অথবা তা নবসৃষ্ট হবে যা আগে ছিল না পরে অস্তিত্বে এসেছে। একদল লোক মনে করে যে এটি অনাদি, আর তারা হলো দাহরিয়্যা (বস্তুবাদী); আর বাকি সকল মানুষ মনে করে যে এটি নবসৃষ্ট। সুতরাং আমরা মহান আল্লাহর শক্তি ও সামর্থ্যের ওপর ভরসা করে সেই সব যুক্তির অবতারণা করব যার মাধ্যমে অনাদিবাদে বিশ্বাসীরা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে, এবং তাদের আপত্তিসমূহ যথাযথভাবে তুলে ধরব। এরপর আল্লাহর শক্তিতে আমরা সেগুলোর অসারতা ও ভিত্তিহীনতা প্রমাণ করব। যখন বিশ্বজগত অনাদি হওয়ার বিষয়টি বাতিল হয়ে যাবে, তখন এটি নবসৃষ্ট হওয়ার বিষয়টি সাব্যস্ত ও প্রমাণিত হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়বে, কারণ তৃতীয় কোনো পথ নেই। তবে আমরা এতেই সন্তুষ্ট হবো না, বরং বিশ্বজগত নবসৃষ্ট হওয়ার সপক্ষে সুস্পষ্ট প্রমাণ, অকাট্য ফলাফল এবং অবধারিত যৌক্তিক সিদ্ধান্তসমূহ পেশ করব। সুউচ্চ ও সুমহান আল্লাহ ব্যতীত কোনো শক্তি নেই।
তারা যে আপত্তি উত্থাপন করে তা হলো: আমরা কোনো বস্তুকে অন্য কিছু থেকে বা অন্য কিছুর মধ্যে ব্যতিরেকে সৃষ্টি হতে দেখিনি। সুতরাং যে এর বিপরীত দাবি করবে, সে এমন কিছুর দাবি করল যা প্রত্যক্ষ নয় এবং যা প্রত্যক্ষ করা হয়নি। তারা আরও বলে: যদি বিশ্বজগত নবসৃষ্ট হয়ে থাকে, তবে বস্তুনিচয়—অর্থাৎ জাওহার (মৌলিক সত্তা) ও আরাজ (গুণাবলি), যা বিশ্বজগতের সবকিছুর সমষ্টি—তার স্রষ্টা একে সৃষ্টি করেছেন হয় তাঁর সত্তাগত কারণে অথবা কোনো হেতুর (কারণ) কারণে।
যদি তিনি তাঁর সত্তাগত কারণেই সৃষ্টি করে থাকেন, তবে বিশ্বজগত অনাদি হওয়া আবশ্যক, কারণ স্রষ্টা অনাদি। আর যেহেতু তিনি সৃষ্টির হেতু (কারণ), সেহেতু কারণ তার কার্য থেকে বিচ্ছিন্ন হয় না। আর যা অনাদি থেকে বিচ্ছিন্ন হয় না, তা-ও নিঃসন্দেহে অনাদি এবং তাঁরই অনুরূপ। সুতরাং বিশ্বজগত অনাদি। আর যদি তিনি কোনো হেতুর কারণে একে সৃষ্টি করে থাকেন, তবে সেই হেতু দুই অবস্থার বাইরে নয়—হয় তা অনাদি হবে, নতুবা নবসৃষ্ট হবে। যদি তা অনাদি হয়, তবে তার কার্যও অনাদি হবে, ফলস্বরূপ বিশ্বজগত অনাদি হবে।
(খণ্ড: ١)
আল-ফাসলু ফিল মিলালি ওয়াল আহওয়া-ই ওয়ান নিহাল
(পৃষ্ঠা: ١٦)
وَإِن كَانَت تِلْكَ الْعلَّة محدثة لزم فِي حدوثها مَا لزم فِي حُدُوث سَائِر الْأَشْيَاء من أَنه أحدثها لِأَنَّهُ أَو لعِلَّة فَإِن كَانَ لعِلَّة لزم ذَلِك أَيْضا فِي عِلّة الْعلَّة وَهَكَذَا أبدا وَهَذَا يُوجب وجود محدثات لَا أَوَائِل لَهَا قَالُوا وَهَذَا قَوْلنَا قَالُوا وَإِن كَانَ أحدثها لِأَنَّهُ فَهَذَا يُوجب أَن الْعلَّة لم تزل كَمَا بَينا آنِفا وَقَالُوا أَيْضا إِن كَانَ للأجسام مُحدث لم يخل من أحد ثَلَاثَة أوجه إِمَّا أَن يكون مثلهَا من جَمِيع الْوُجُوه لزم وَإِمَّا أَن يكون خلَافهَا من دميع الْوُجُود وَإِمَّا أَن يكون مثلهَا من بعض الْوُجُوه وخلافها من بعض الْوُجُوه قَالُوا فَلَنْ كَانَ مثلهَا من جَمِيع الْوُجُوه لزم أَن يكون مُحدثا مثلهَا وَهَكَذَا فِي محدثة أَيْضا ابداً وَإِن كَانَ مثلهَا فِي بعض الْوُجُوه لزمَه أَيْضا من مماثلتها فِي ذَلِك الْبَعْض مَا يلْزمه من مماثلته لَهَا فِي جَمِيع الْوُجُوه من الْحُدُوث إِذْ الْحُدُوث اللَّازِم للْبَعْض كازومه للْكُلّ وَلَا فرق وَإِن كَانَ خلَافهَا من جَمِيع الْوُجُوه فمحال أَن يَفْعَلهَا لِأَن هَذَا هُوَ حَقِيقَة الضِّدّ والمناقض إِذْ لَا سَبِيل إِلَى أَن يفعل الشَّيْء خِلَافه من جَمِيع الْوُجُوه كَمَا لَا تفعل النَّار التبريد وَقَالُوا أَيْضا لَا يَخْلُو إِن كَانَ للْعَالم فَاعل من أَن يكون فعله لإحراز مَنْفَعَة أَو لدفع مضرَّة أَو طباعاً أَو لَا لشَيْء من ذَلِك قَالُوا فَإِن كَانَ فعله لإحراز مَنْفَعَة أَو لدفع مضرَّة فَهُوَ مَحل للمنافع والمضار وَهَذِه صفة المحدثات عنْدكُمْ فَهُوَ مُحدث مثلهَا قَالُوا وَإِن كَانَ فعله طباعاً فالطباع مُوجبَة لما حدث بهَا فَفعله لم يزل مَعَه قَالُوا وَإِن كَانَ فعله لَا لشَيْء من ذَلِك فَهَذَا لَا يعقل وَمَا خرج عَن الْمَعْقُول فمحال وَقَالُوا أَيْضا لَو كَانَت الْأَجْسَام محدثة لَكَانَ محدثها قبل أَن يحدثها فَاعِلا لتركها قَالُوا وَتركهَا لَا يَخْلُو من أَن يكو جسما أَو عرضا وَهَذَا يُوجب أَن الْأَجْسَام والأعراض لم تزل مَوْجُودَة
قَالَ أَبُو مُحَمَّد رضي الله عنه فَهَذِهِ المشاغب الْخمس هِيَ كل مَا عول عَلَيْهِ الْقَائِلُونَ بالدهر قد تقصيناها لَهُم وَنحن إِن شَاءَ الله نبدأ بحول الله وقوته فِي مناظرتهم فننقضها وَاحِدًا وَاحِدًا
إِفْسَاد الِاعْتِرَاض الأول قَالَ أَبُو مُحَمَّد رضي الله عنه يُقَال وَبِاللَّهِ التَّوْفِيق والعون لمن قَالَ لم نر شَيْئا حدث إِلَّا من شَيْء أَو فِي شَيْء هَل تدْرك حَقِيقَة شَيْء عنْدكُمْ من غير طَرِيق الرُّؤْيَة والمشاهدة أَو لَا يدْرك شَيْء من الْحَقَائِق إِلَّا من طَرِيق الرُّؤْيَة فَقَط فَإِن قَالُوا إِنَّه قد تدْرك الْحَقَائِق من غير طَرِيق الرُّؤْيَة والمشاهدة تركُوا استدلالهم وأفسدوه إِذْ قد أوجبوا وجود أَشْيَاء من غير طَرِيق الرُّؤْيَة والمشاهدة وَقد نفوا ذَلِك قبل هَذَا فَإِذا صَارُوا إِلَى الِاسْتِدْلَال نُوظِرُوا فِي ذَلِك إِلَّا أَن دليلهم هَذَا على كل حَال قد بَطل بِحَمْد الله تَعَالَى فَإِن قَالُوا لَا بل لَا يدْرك شَيْء إِلَّا من طَرِيق الْمُشَاهدَة قيل لَهُم فَهَل شاهدتم شَيْئا قطّ لم يزل فَلَا بُد من نعم أَو لَا فَإِن قَالُوا لَا
আর যদি সেই কারণটি নতুন সৃষ্ট হয়ে থাকে, তবে তার সৃষ্টির ক্ষেত্রেও তাই অনিবার্য হবে যা অন্যান্য সব জিনিসের সৃষ্টির ক্ষেত্রে অনিবার্য হয়ে থাকে; অর্থাৎ তিনি তা সৃষ্টি করেছেন হয় তিনি স্বয়ং স্রষ্টা হওয়ার কারণে, অথবা অন্য কোনো কারণবশত। যদি অন্য কোনো কারণবশত হয়, তবে সেই কারণের কারণের ক্ষেত্রেও একইভাবে বিষয়টি অনিবার্য হবে এবং এভাবে তা অনন্তকাল ধরে চলতে থাকবে। আর এটি এমন সব নতুন জিনিসের অস্তিত্বকে অনিবার্য করে তোলে যার কোনো শুরু নেই। তারা বলল: এটিই আমাদের বক্তব্য। তারা আরও বলল: আর যদি তিনি তা সৃষ্টি করে থাকেন তিনি স্বয়ং স্রষ্টা হওয়ার কারণে, তবে এটি অনিবার্য করে যে সেই কারণটি অনাদিকাল থেকেই বিদ্যমান ছিল, যেমনটি আমরা একটু আগে বর্ণনা করেছি। তারা আরও বলেছে: যদি বস্তুপুঞ্জের কোনো সৃষ্টিকর্তা থাকে, তবে বিষয়টি তিনটি অবস্থার কোনো একটি থেকে মুক্ত হবে না—হয় তিনি সব দিক থেকে তাদের সমতুল্য হবেন, অথবা সব দিক থেকে তাদের বিপরীত হবেন, নতুবা কোনো কোনো দিক থেকে সমতুল্য এবং কোনো কোনো দিক থেকে বিপরীত হবেন। তারা বলল: যদি তিনি সব দিক থেকে তাদের সমতুল্য হন, তবে তাদের মতো তিনিও নতুন সৃষ্ট হওয়া অনিবার্য হয়ে পড়ে; এবং একইভাবে তাঁর সৃষ্টিকর্তার ক্ষেত্রেও বিষয়টি অনন্তকাল ধরে চলতে থাকবে। আর যদি তিনি কোনো কোনো দিক থেকে সমতুল্য হন, তবে সেই সমরূপতার কারণে তাঁর ক্ষেত্রেও নতুন সৃষ্টি হওয়ার বিষয়টি ঠিক সেভাবেই প্রযোজ্য হবে যেভাবে সব দিক থেকে সমরূপ হওয়ার ক্ষেত্রে হতো; কারণ কোনো অংশের জন্য যা অনিবার্য, তা সমগ্রের জন্যও অনিবার্য, এতে কোনো পার্থক্য নেই। আর যদি তিনি সকল দিক থেকে তাদের বিপরীত হন, তবে তাঁর পক্ষে তাদের সৃষ্টি করা অসম্ভব; কারণ এটিই হলো বিপরীত ও পরিপন্থী বিষয়ের প্রকৃত স্বরূপ। কেননা কোনো সত্তার পক্ষে তাঁর থেকে সকল দিক দিয়ে বিপরীত কোনো কিছু সৃষ্টি করা সম্ভব নয়, ঠিক যেমন আগুন শীতলতা তৈরি করতে পারে না। তারা আরও বলেছে: যদি জগতের কোনো কর্তা থেকে থাকেন, তবে তাঁর কাজ হয় কোনো উপকার হাসিলের জন্য, অথবা ক্ষতি দূর করার জন্য, অথবা স্বভাবজাত কারণে, নতুবা এর কোনোটিই নয়। তারা বলল: যদি তাঁর কাজ কোনো উপকার লাভ বা ক্ষতি প্রতিরোধের জন্য হয়, তবে তিনি উপকার ও অপকারের আধারে পরিণত হলেন; আর আপনাদের মতে এটি তো নতুন সৃষ্ট জিনিসের বৈশিষ্ট্য। ফলে তিনিও তাদের মতোই নতুন সৃষ্ট সত্তা হিসেবে গণ্য হবেন। তারা বলল: আর যদি তাঁর কাজ স্বভাবজাত হয়, তবে স্বভাবজাত প্রবৃত্তি তাকে তা করতে বাধ্য করবে, ফলে তাঁর কাজ অনাদিকাল থেকেই তাঁর সাথে বিদ্যমান ছিল। তারা বলল: আর যদি তাঁর কাজ এর কোনোটি ছাড়াই হয়, তবে তা যুক্তিবহির্ভূত; আর যা যুক্তিবহির্ভূত তা অসম্ভব। তারা আরও বলেছে: যদি বস্তুপুঞ্জ নতুন সৃষ্ট হয়ে থাকে, তবে তাদের সৃষ্টিকর্তা তাদের সৃষ্টি করার আগে তাদের অনস্তিত্বের বা বর্জনের কাজ করছিলেন। তারা বলল: আর এই বর্জন করা বিষয়টি বস্তু অথবা গুণ হওয়া থেকে মুক্ত নয়; এটি প্রমাণ করে যে বস্তু এবং গুণাবলী অনাদিকাল থেকেই বিদ্যমান ছিল।
আবু মুহাম্মদ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বলেন: এই পাঁচটি বিভ্রান্তিকর সংশয়ই হলো সেই মূল ভিত্তি যার ওপর দাহরিয়্যাহগণ (অনাদিবাদে বিশ্বাসী) নির্ভর করে। আমরা তাদের পক্ষ থেকে এগুলো সবিস্তারে তুলে ধরেছি। এখন আমরা আল্লাহর শক্তি ও সামর্থ্যের সাহায্যে তাদের সাথে বিতর্কে প্রবৃত্ত হব এবং ইনশাআল্লাহ একে একে সবগুলো খণ্ডন করব।
প্রথম আপত্তির অসারতা প্রমাণ: আবু মুহাম্মদ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বলেন—আল্লাহর তাওফিক ও সাহায্য কামনা করে তাদের বলা হবে যারা বলে, "আমরা কোনো কিছুই অন্য কোনো কিছু হতে বা অন্য কোনো কিছুর মধ্যে ছাড়া সৃষ্টি হতে দেখিনি": আপনাদের মতে কোনো বিষয়ের প্রকৃত রূপ কি চাক্ষুষ পর্যবেক্ষণ ও দেখা ছাড়া উপলব্ধি করা সম্ভব, নাকি কোনো সত্যই চাক্ষুষ পর্যবেক্ষণ ছাড়া অন্য কোনো উপায়ে উপলব্ধি করা যায় না? যদি তারা বলে যে, চাক্ষুষ পর্যবেক্ষণ ছাড়াও সত্য বা হাকিকত জানা যায়, তবে তারা তাদের নিজেদের যুক্তিই বর্জন করল এবং একে অসার প্রমাণিত করল; কারণ তারা এমন কিছুর অস্তিত্বকে অনিবার্য করে নিল যা চাক্ষুষ পর্যবেক্ষণ ছাড়াই জানা যায়, অথচ ইতিপূর্বে তারা তা অস্বীকার করেছিল। আর তারা যখন অন্য কোনো যুক্তি দেবে, তখন সেই বিষয়ে তাদের সাথে বিতর্ক করা হবে; তবে তাদের এই বর্তমান দলিলটি তো সব দিক দিয়েই বাতিল হয়ে গেল—আলহামদুলিল্লাহ। আর যদি তারা বলে, "না, বরং চাক্ষুষ পর্যবেক্ষণ ছাড়া কিছুই জানা সম্ভব নয়", তবে তাদের জিজ্ঞেস করা হবে: আপনারা কি কখনো এমন কিছু দেখেছেন যা অনাদিকাল থেকে বিদ্যমান ছিল? উত্তরে তারা অবশ্যই 'হ্যাঁ' অথবা 'না' বলবে। যদি তারা বলে, 'না'...
(খণ্ড: ١)
আল-ফাসলু ফিল মিলালি ওয়াল আহওয়া-ই ওয়ান নিহাল
(পৃষ্ঠা: ١٧)
وَصَدقُوا وأبطلوا استدلالهم وَإِن قَالُوا نعم كابروا وَادعوا مَالا سَبِيل إِلَى مشاهدته إِذْ مُشَاهدَة قَائِل هَذَا القَوْل للأشياء هِيَ ذَات أول بِلَا شكّ وَذُو الأول هُوَ غير الَّذِي لم يزل لِأَن الَّذِي لم يزل هُوَ الَّذِي لَا أول لَهُ وَلَا سَبِيل إِلَى أَن يُشَاهد مَاله أول مَالا أول لَهُ مُشَاهدَة مُتَّصِلَة فَبَطل هَذَا الِاسْتِدْلَال على كل وَجه وَالْحَمْد لله رب الْعَالمين
إِفْسَاد الِاعْتِرَاض الثَّانِي قَالَ أَبُو مُحَمَّد رضي الله عنه وَيُقَال لمن قَالَ لَا يَخْلُو من أَن بِفعل لِأَنَّهُ أَو لعِلَّة هَذِه قسْمَة نَاقِصَة وَينْقص مِنْهَا الْقسم الثَّالِث وَهُوَ لِأَنَّهُ فعل لَا لِأَنَّهُ وَلَا لعِلَّة أصلا لَكِن كَمَا شَاءَ لِأَن كلا الْقسمَيْنِ الْمَذْكُورين أَولا وهما أَنه فعل لِأَنَّهُ أَو لعِلَّة قد بطلا بِمَا قدمنَا هُنَالك إِذْ الْعلَّة توجب إِمَّا الْفِعْل أَو التّرْك وَهُوَ تَعَالَى يفعل وَلَا يفعل فصح بذلك أَنه لَا عِلّة لفعله أصلا وَلَا لتَركه الْبَتَّةَ فَبَطل هَذَا الشغب وَالْحَمْد لله رب الْعَالمين
فَإِن قَالُوا إِن ترك الْبَارِي تَعَالَى فِي الْأَزَل فعل مِنْهُ للترك فَفعله الَّذِي هُوَ التّرْك لم يزل قُلْنَا وَبِاللَّهِ تَعَالَى التَّوْفِيق إِن ترك الْبَارِي تَعَالَى الْفِعْل لَيْسَ فعلا أصلا على مَا نبين فِي فَسَاد الِاعْتِرَاض الْخَامِس إِن شَاءَ الله تَعَالَى
إِفْسَاد الِاعْتِرَاض الثَّالِث قَالَ أَبُو مُحَمَّد رضي الله عنه يُقَال لمن قَالَ لَو كَانَ للأجسام مُحدث لم يخل من أحد ثَلَاثَة أوجه إِمَّا أَن يكون مثلهَا من جَمِيع الْوُجُوه أَو من بعض الْوُجُوه لَا من كلهَا أَو خلَافهَا من جَمِيع الْوُجُوه إِلَى انْقِضَاء كَلَامهم بل هُوَ تَعَالَى خلَافهَا من جَمِيع الْوُجُوه وإدخالكم على هَذَا الْوَجْه أَنه حَقِيقَة الضِّدّ والنقيض والضد لَا يفعل ضِدّه كَمَا لَا تفعل النَّار التبريد إِدْخَال فَاسد لِأَن الْبَارِي تَعَالَى لَا يُوصف بِأَنَّهُ ضد لخلقه لِأَن الضِّدّ هُوَ مَا حمل التضاد والتضاد هُوَ اقتسام الشَّيْئَيْنِ طرفِي الْبعد تَحت جنس وَاحِد فَإِذا وَقع أحد الضدين ارْتَفع الآخر وَهَذَا الْوَصْف بعيد عَن الْبَارِي تَعَالَى وَإِنَّمَا التضاد كالخضرة وَالْبَيَاض اللَّذين يجمعهما اللَّوْن أَو الْفَضِيلَة والرذيلة اللَّتَيْنِ يجمعهما الْكَيْفِيَّة والخلق وَلَا يكون الضدان الأعرضين تَحت جنس وَاحِد وَلَا بُد وكل هَذَا منفي عَن الْخَالِق عز وجل فَبَطل بِالضَّرُورَةِ أَن يكون عز وجل ضداً لخلقه
وَأَيْضًا فَإِن قَوْلهم لَو كَانَ خلافًا لخلقه من جَمِيع الْوُجُوه لَكَانَ ضداً لَهُم قَول فَاسد إِذْ لَيْسَ كل خلاف ضداً فالجوهر خلاف الْعرض من كل وَجه حاشا الْحُدُوث فَقَط وَلَيْسَ ضداً لَهُ وَيُقَال أَيْضا لمن قَالَ هَذَا القَوْل هَل تثبت فَاعِلا وفعلاً على وَجه من الْوُجُوه أَو تَنْفِي أَن يُوجد فَاعل وَفعل الْبَتَّةَ فَإِن نفي الْفَاعِل وَالْفِعْل
তারা সত্যই বলেছে এবং তাদের যুক্তিকে বাতিল করেছে। যদি তারা 'হ্যাঁ' বলে, তবে তারা হঠকারিতা করল এবং এমন কিছু দাবি করল যা প্রত্যক্ষ করার কোনো পথ নেই। কেননা, এই কথাটি যে বলছে তার বস্তুসমূহ প্রত্যক্ষ করা নিঃসন্দেহে আদি (শুরু) বিশিষ্ট। আর যার আদি আছে, সে অনাদি সত্তা থেকে ভিন্ন। কারণ, অনাদি সত্তা তিনিই যার কোনো আদি নেই। যার আদি আছে এবং যার আদি নেই—এদের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন প্রত্যক্ষণের কোনো পথ নেই। সুতরাং এই যুক্তিটি সব দিক থেকেই বাতিল হয়ে গেল। সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
দ্বিতীয় আপত্তির খণ্ডন: আবু মুহাম্মদ (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) বলেন, যে ব্যক্তি বলে—কাজটি হয় তাঁর (সত্তার) কারণে অথবা কোনো কারণের (ইল্লাত) জন্য হওয়া থেকে মুক্ত নয়—তাকে বলা হবে: এটি একটি অসম্পূর্ণ বিভাজন। এখান থেকে তৃতীয় একটি ভাগ বাদ পড়েছে, আর তা হলো—তিনি কাজটি করেছেন, তবে তাঁর কারণেও নয় এবং কোনো কারণের জন্যও নয়, বরং যেভাবে তিনি চেয়েছেন। কারণ প্রথমোক্ত দুটি ভাগই—অর্থাৎ কাজটি তাঁর কারণে বা কোনো কারণের জন্য হওয়া—পূর্বেই বাতিল হয়ে গেছে। কেননা কোনো কারণ (ইল্লাত) হয় কাজটি করা অথবা বর্জন করাকে আবশ্যক করে দেয়; অথচ মহান আল্লাহ কাজ করেন আবার করেন না। এতে প্রমাণিত হলো যে, তাঁর কাজের জন্য আদতে কোনো কারণ নেই এবং তাঁর বর্জনের জন্যও কোনো কারণ নেই। সুতরাং এই হট্টগোল বাতিল হয়ে গেল। সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
যদি তারা বলে যে, অনাদিকাল থেকে মহান স্রষ্টার কাজ বর্জন করা মূলত তাঁর পক্ষ থেকে বর্জনের একটি কাজ, ফলে তাঁর সেই কাজ—যা মূলত বর্জন—তা অনাদি ছিল; তবে আমরা আল্লাহর তাওফীক নিয়ে বলব—মহান স্রষ্টার কাজ বর্জন করা আদতে কোনো কাজ নয়, যা আমরা পঞ্চম আপত্তির খণ্ডনে ইনশাআল্লাহ ব্যাখ্যা করব।
তৃতীয় আপত্তির খণ্ডন: আবু মুহাম্মদ (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) বলেন, যে ব্যক্তি বলে—যদি দেহসমূহের কোনো উদ্ভাবক থাকত, তবে তিনি তিনটি অবস্থার একটি থেকে মুক্ত হতেন না: হয় তিনি সব দিক থেকে তাদের মতো হতেন, অথবা সব দিক থেকে নয় বরং কিছু দিক থেকে তাদের মতো হতেন, অথবা সব দিক থেকে তাদের বিপরীত হতেন—তাদের আলোচনার শেষ পর্যন্ত। বরং তিনি সব দিক থেকেই তাদের বিপরীত। আর তোমাদের এই কথা যে, এই অবস্থায় তিনি প্রকৃত অর্থে 'বিপরীত' (দ্বিদ) ও 'পরস্পরবিরোধী' (নাক্বীয) হবেন, আর কোনো বিপরীত সত্তা তার বিপরীত কাজ করতে পারে না যেমন আগুন শীতল করতে পারে না—এটি একটি ভ্রান্ত অনুপ্রবেশ। কারণ মহান স্রষ্টাকে তাঁর সৃষ্টির 'বিপরীত' (দ্বিদ) হিসেবে বিশেষায়িত করা যায় না। কারণ 'বিপরীত' বলতে এমন কিছু বোঝায় যা বৈপরীত্য বহন করে। আর বৈপরীত্য হলো একই শ্রেণির (জিলস) অন্তর্গত দুটি জিনিসের দূরবর্তী দুই প্রান্ত অধিকার করা। যখন একটি বিপরীত সত্তা উপস্থিত হয়, তখন অন্যটি দূর হয়ে যায়। এই বৈশিষ্ট্য মহান স্রষ্টা থেকে অনেক দূরে। বৈপরীত্য মূলত সবুজ ও সাদার মতো, যা 'রঙ' নামক শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত; অথবা গুণ ও দোষের মতো, যা 'কৈফিয়ত' ও চরিত্রের অন্তর্ভুক্ত। দুটি বিপরীত বস্তু একই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত হওয়া অপরিহার্য। আর এই সবকিছুই মহান স্রষ্টা মহিমান্বিত ও পরাক্রমশালী থেকে অপসারিত। সুতরাং মহান আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির 'বিপরীত' (দ্বিদ) হওয়া আবশ্যিকভাবেই বাতিল হয়ে গেল।
আরও কথা হলো, তাদের এই উক্তি—যদি তিনি সব দিক থেকে তাঁর সৃষ্টির বিপরীত হতেন তবে তিনি তাদের প্রতিপক্ষ হতেন—একটি ভ্রান্ত উক্তি। কারণ সব বিপরীত জিনিসই প্রতিপক্ষ (দ্বিদ) নয়। যেমন জওহর (সত্তা) আরয (গুণ) থেকে সব দিক দিয়েই পৃথক, কেবল নতুন হওয়া ছাড়া, কিন্তু সেটি তার প্রতিপক্ষ নয়। এই উক্তি যে ব্যক্তি করে তাকে আরও বলা হবে: তুমি কি কোনোভাবে কর্তা ও কাজ সাব্যস্ত করো, নাকি কর্তা ও কাজের অস্তিত্বকে একেবারেই অস্বীকার করো? যদি কর্তা ও কাজকে অস্বীকার করো...
(খণ্ড: ١)
আল-ফাসলু ফিল মিলালি ওয়াল আহওয়া-ই ওয়ান নিহাল
(পৃষ্ঠা: ١٨)
الْبَتَّةَ كَابر العيان لإنكاره الْمَاشِي والقائم والقاعد والمتحرك والساكن وَمن دفع بِهَذَا كَانَ فِي نِصَاب من لَا يكلم وَإِن أثبت الْفِعْل وَالْفَاعِل فِيمَا بَيْننَا قيل لَهُ هَل بِفعل الْجِسْم إِلَّا الْحَرَكَة والسكون فَلَا بُد من نعم وَالْحَرَكَة والسكون خلاف الْجِسْم وَلَيْسَ ضداً لَهُ إِذْ ليسامعه تَحت جنس وَاحِد أصلا وَإِنَّمَا يجمعها وإياه الْحُدُوث فَقَط فَلَو كَانَ كل خلاف ضداً لَكَانَ الْجِسْم فَاعِلا لضده وَهُوَ الْحَرَكَة أَو السّكُون وَهَذَا هُوَ نفس مَا أبطلوا فصح بِالضَّرُورَةِ أَنه لَيْسَ كل خلاف ضداً وَصَحَّ أَن الْفَاعِل يفعل خِلَافه وَلَا بُد من ذَلِك فَبَطل اعتراضهم وَالْحَمْد لله رب الْعَالمين
إِفْسَاد الِاعْتِرَاض الرَّابِع قَالَ أَبُو مُحَمَّد رضي الله عنه وَيُقَال لمن قَالَ لَا يَخْلُو من أَن يكون مُحدث الْأَجْسَام أحدثها لإحراز مَنْفَعَة أَو لدفع مضرَّة أَو طباعاً أَو لَا لشَيْء من ذَلِك إِلَى انْقِضَاء كَلَامهم
أما الْفِعْل لإحراز مَنْفَعَة أَو لدفع مضرَّة فَإِنَّمَا يُوصف بِهِ المخلوقون المختارون
وَأما فعل الطباع فَإِنَّمَا يُوصف بِهِ المخلوقون غير المختارين وكل صِفَات المخلوقين فَهِيَ منفية عَن الله تَعَالَى الَّذِي هُوَ الْخَالِق لكل مَا دونه
أما الْقسم الثَّانِي وَهُوَ أَنه فعل لَا لشَيْء من ذَلِك فَهَذَا هُوَ قَوْلنَا ثمَّ نقُول لمن قَالَ إِن الْفِعْل لَا لشَيْء من ذَلِك أَمر غير مَعْقُول مَاذَا تَعْنِي بِقَوْلِك غير مَعْقُول أَتُرِيدُ أَنه لَا يعقل حسا أَو مُشَاهدَة أم تَقول أَنه لَا يعقل اسْتِدْلَالا فَإِن قلت أَنه لَا يعقل حسا ومشاهدة قُلْنَا لَك صدقت كَمَا أَن أزلية الْأَشْيَاء لَا نعقل حسا ومشاهدة وَإِن قلت إِنَّه لَا يعقل اسْتِدْلَالا كَانَ ذَلِك دَعْوَى مِنْك مفتقرة إِلَى دَلِيل وَالدَّعْوَى إِذا كَانَت هَكَذَا فَهِيَ سَاقِطَة فالاستدلال بهَا سَاقِط فَكيف وَالْفِعْل لَا لشَيْء من ذَلِك متوهم مُمكن غير دَاخل فِي الْمُمْتَنع وَمَا كَانَ هَكَذَا فالمانع مِنْهُ مُبْطل وَالْقَوْل بِهِ يعقل فَسقط هَذَا الِاعْتِرَاض ثمَّ نقُول لما كَانَ الْبَارِي تَعَالَى بالبراهين الضرورية خلافًا لجَمِيع خلقه من جَمِيع الْوُجُوه كَانَ فعله خلافًا لجَمِيع أَفعَال خلقه من جَمِيع الْوُجُوه وَجَمِيع خلقه لَا نَفْعل إِلَّا طباعاً أَو لاجتلاب مَنْفَعَة أَو لدفع مضرَّة فَوَجَبَ أَن يكون فعله تَعَالَى بِخِلَاف ذَلِك وَبِاللَّهِ التَّوْفِيق
إِفْسَاد الِاعْتِرَاض الْخَامِس قَالَ أَبُو مُحَمَّد رضي الله عنه وَيُقَال لمن قَالَ إِن ترك الْفَاعِل أَن يفعل الْأَجْسَام لَا يَخْلُو من أَن يكون جسماً أَو عرضا إِلَى مُنْتَهى كَلَامهم إِن هَذِه قسْمَة فَاسِدَة بَيِّنَة العوار وَذَلِكَ أَن الْجِسْم هُوَ الطَّوِيل العريض العميق وَترك الْفِعْل لَيْسَ طَويلا وَلَا عريضاً وَلَا عميقاً فَترك الْفِعْل من الله تَعَالَى للجسم وَالْعرض لَيْسَ جسماً وَالْعرض هُوَ الْمَحْمُول
নিশ্চিতভাবেই যে ব্যক্তি চলন্ত, দণ্ডায়মান, উপবিষ্ট, গতিশীল ও স্থির বিষয়কে অস্বীকার করে সে প্রত্যক্ষ দৃশ্যমান সত্যকেই অস্বীকার করল। আর যে ব্যক্তি একে অগ্রাহ্য করে সে এমন পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত যার সাথে কথা বলা বৃথা। যদি আমাদের মধ্যস্থিত কোনো কাজ ও কর্তা সাব্যস্ত করা হয়, তবে তাকে জিজ্ঞেস করা হবে: দেহের কাজ কি গতি ও স্থিতি ছাড়া অন্য কিছু? অবশ্যই উত্তর হবে ‘হ্যাঁ’। আর গতি ও স্থিতি দেহের বিপরীত বিষয়, কিন্তু তার প্রতিদ্বন্দ্বী নয়; কারণ তারা উভয়ে মৌলিকভাবে একই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত নয়। কেবল নশ্বরতা বা নতুনত্ব হওয়ার দিক থেকেই উভয়ের মধ্যে মিল রয়েছে। যদি প্রতিটি ভিন্ন বিষয়ই একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী হতো, তবে দেহ তার প্রতিদ্বন্দ্বীর কর্তা হতো, যা হলো গতি অথবা স্থিতি। আর এটিই তো তারা বাতিল বলে গণ্য করেছে। সুতরাং আবশ্যিকভাবে প্রমাণিত হলো যে, সকল ভিন্ন বিষয়ই প্রতিদ্বন্দ্বী নয়। আর এটিও সাব্যস্ত হলো যে, কর্তা তার ভিন্ন কিছু করতে পারেন এবং এটি অনিবার্য। ফলে তাদের আপত্তি বাতিল হয়ে গেল। আর সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
চতুর্থ আপত্তির অসারতা: আবু মুহাম্মদ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বলেন, যারা বলে যে দেহের উদ্ভাবক (স্রষ্টা) হয় কোনো উপকার লাভের জন্য, অথবা কোনো ক্ষতি দূর করার জন্য, অথবা স্বভাবজাত কারণে, অথবা এর কোনোটি ছাড়াই তা উদ্ভাবন করেছেন—তাদের বক্তব্যের শেষ পর্যন্ত উত্তরে বলা হবে:
কোনো উপকার লাভ বা ক্ষতি দূর করার উদ্দেশ্যে কাজ করা কেবল স্বাধীন ইচ্ছাশক্তিসম্পন্ন সৃষ্টির বৈশিষ্ট্য হতে পারে।
আর স্বভাবজাত (অনিচ্ছাকৃত) কাজ কেবল পরাধীন সৃষ্টির বৈশিষ্ট্য হতে পারে। কিন্তু সৃষ্টির সকল গুণাবলী আল্লাহ তাআলার ক্ষেত্রে অসম্ভব, যিনি তাঁর অধস্থন সবকিছুর স্রষ্টা।
আর দ্বিতীয় ভাগ—অর্থাৎ তিনি এসকল কিছুর কোনো উদ্দেশ্য ছাড়াই কাজ করেছেন—এটাই হলো আমাদের অভিমত। এরপর আমরা তাকে বলব যে বলে ‘এসকল কিছুর কোনো উদ্দেশ্য ছাড়াই কাজ করা একটি অযৌক্তিক বিষয়’: আপনার ‘অযৌক্তিক’ বলার অর্থ কী? আপনি কি এটি বুঝাতে চাচ্ছেন যে এটি ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য নয় বা চাক্ষুষ নয়? নাকি বলছেন যে এটি দলীল-প্রমাণের ভিত্তিতে অযৌক্তিক? যদি বলেন যে এটি ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য ও চাক্ষুষ নয়, তবে আমরা বলব: আপনি সত্য বলেছেন, যেমনটি আমরা জিনিসের অনাদিত্বকেও চাক্ষুষ বা ইন্দ্রিয় দিয়ে বুঝতে পারি না। আর যদি বলেন যে এটি দলীল-প্রমাণের ভিত্তিতে অযৌক্তিক, তবে এটি আপনার একটি দাবি মাত্র যা প্রমাণের মুখাপেক্ষী। আর দাবি যখন প্রমাণহীন হয় তখন তা অসার, তাই এর মাধ্যমে প্রমাণ পেশ করাও অসার। তাছাড়া এসকল কিছু ছাড়া কোনো কাজ করা একটি কল্পনাযোগ্য ও সম্ভবপর বিষয়, যা অসম্ভব কোনো বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত নয়। আর যা এমন হয়, তার ক্ষেত্রে বাধা প্রদানকারী ব্যক্তি বিভ্রান্ত এবং একে যৌক্তিক গণ্য করা হয়। সুতরাং এই আপত্তি বাতিল হলো। অতঃপর আমরা বলব, যেহেতু বারী তাআলা অকাট্য প্রমাণের ভিত্তিতে তাঁর সকল সৃষ্টির থেকে সর্বদিক দিয়ে ভিন্ন, সেহেতু তাঁর কাজও তাঁর সৃষ্টির সকল কাজ থেকে সর্বদিক দিয়ে ভিন্ন হবে। আর তাঁর সকল সৃষ্টি হয় স্বভাবজাত কারণে কাজ করে, নয়তো কোনো উপকার লাভের জন্য অথবা কোনো ক্ষতি দূর করার জন্য। সুতরাং আল্লাহ তাআলার কাজ এর বিপরীত হওয়া আবশ্যক। আর আল্লাহর মাধ্যমেই তাওফীক লাভ হয়।
পঞ্চম আপত্তির অসারতা: আবু মুহাম্মদ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বলেন, যে ব্যক্তি বলে যে কর্তার দেহ সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকা কি দেহ নাকি আরদ (গুণ)?—তাদের বক্তব্যের শেষ পর্যন্ত—উত্তরে বলা হবে: এটি একটি ত্রুটিপূর্ণ ও স্পষ্ট দুর্বল বিভাজন। কারণ দেহ হলো তা যার দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও গভীরতা আছে। অথচ কাজ থেকে বিরত থাকা দীর্ঘও নয়, প্রশস্তও নয় এবং গভীরও নয়। সুতরাং আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে দেহ ও আরদ (গুণ) সৃষ্টি থেকে বিরত থাকা কোনো দেহ নয়। আর আরদ হলো যা অন্যের ওপর আশ্রিত...
(খণ্ড: ١)
আল-ফাসলু ফিল মিলালি ওয়াল আহওয়া-ই ওয়ান নিহাল
(পৃষ্ঠা: ١٩)
فِي الْجِسْم وَترك فعل الله تَعَالَى للجسم وَالْعرض لَيْسَ مَحْمُولا فَلَيْسَ عرضا فَترك فعل الله تَعَالَى للجسم وَالْعرض لَيْسَ هُوَ جسماً وَلَا عرضا وَإِنَّمَا هُوَ عدم والعدم لَيْسَ معنى وَلَا هُوَ شَيْئا وَترك الله تَعَالَى للْفِعْل لَيْسَ فعلا الْبَتَّةَ بِخِلَاف صفة خلقه لِأَن التّرْك من الْمَخْلُوق للْفِعْل فعل برهَان ذَلِك إِن ترك الْمَخْلُوق للْفِعْل لَا يكون إِلَّا بِفعل آخر مِنْهُ ضَرُورَة كتارك الْحَرَكَة لَا يكون إِلَّا بِفعل السّكُون وتارك الأ كل لَا يكون إِلَّا بِاسْتِعْمَال آلَات الْأكل فِي مقاربة بَعْضهَا بَعْضًا أَو فِي مباعدة بَعْضهَا بَعْضًا وبتعويض الْهَوَاء وَغَيره من الشَّيْء الْمَأْكُول وكتارك الْقيام لَا يكون إِلَّا باشتغاله بِفعل آخر من قعُود أَو غَيره فصح أَن فعل الْبَارِي تَعَالَى بِخِلَاف فعل خلقه وَإِن تَركه للْفِعْل لَيْسَ فعلا أصلا فَبَطل استدلالهم وَبِاللَّهِ التَّوْفِيق
قَالَ أَبُو مُحَمَّد رضي الله عنه فَإذْ قد بَطل جَمِيع مَا تعلقوا بِهِ وَلم يبْق لَهُم شغب أصلا بعون الله وتأييده فَنحْن مبتدئون بتأييده عز وجل فِي إِيرَاد الْبَرَاهِين الضرورية على إِثْبَات حُدُوث الْعَالم بعد أَن لم يكون وَتَحْقِيق أَن لَهُ مُحدثا لم يزل لَا إِلَه إِلَّا هُوَ
برهَان أول قَالَ أَبُو مُحَمَّد رضي الله عنه فَنَقُول وَبِاللَّهِ التَّوْفِيق إِن كل شخص فِي الْعَالم وكل عرض فِي شخص وكل زمَان فَكل ذَلِك متناه ذُو أول نشاهد ذَلِك حسا وعياناً لِأَن تناهي الشَّخْص ظَاهر بمساحته بِأول جرمه وَآخره وَأَيْضًا بِزَمَان وجوده وتناهي الْعرض الْمَحْمُول ظَاهر بَين بتناهي الشَّخْص الْحَامِل لَهُ وتناهي الزَّمَان مَوْجُود باستئناف مَا يَأْتِي مِنْهُ بعد الْمَاضِي وفناء كل وَقت بعد وجوده واستئناف آخر يَأْتِي بعده إِذْ كل زمَان فنهايته الْآن وَهُوَ حد الزمانين فَهُوَ نِهَايَة الْمَاضِي وَمَا بعده ابْتِدَاء للمستقبل وَهَكَذَا أبدا يفنى زمَان ويبتدئ آخر وكل جملَة من جمل الزَّمَان فَهِيَ مركبة من أزمنة متناهية ذَات أَوَائِل كَمَا قدمنَا وكل جملَة أشخاص فَهِيَ مركبة من أجزاءٍ متناهية بعددها وَذَوَات أَوَائِل كَمَا قدمنَا وكل مركب من أجزاءٍ متناهية ذَات أَوَائِل فَلَيْسَ هُوَ شَيْئا غير أَجْزَائِهِ إِذْ الْكل لَيْسَ هُوَ شَيْئا غير الْأَجْزَاء الَّتِي ينْحل إِلَيْهَا وأجزاؤه متناهية كَمَا بَينا ذَات أَوَائِل فالجمل كلهَا بِلَا شكّ متناهية ذَات أَوَائِل والعالم كُله إِنَّمَا هُوَ أشخاصه ومكانه وأزمانها ومحمولانها لَيْسَ الْعَالم كُله شَيْئا غير مَا ذَكرْنَاهُ وأشخاصه ومكانه وأزمانها ومحمولانها ذَوَات أَوَائِل كَمَا ذكرنَا فالعالم كُله متناه ذُو أول وَلَا بُد فَإِن كَانَت أجزاؤه كلهَا متناهية ذَات أول بِالْمُشَاهَدَةِ والحس وَكَانَ هُوَ غير ذِي أول وَقد أثبتنا بِالضَّرُورَةِ وَالْعقل والحس أَنه لَيْسَ هُوَ شَيْئا غير
শরীরের মধ্যে; আর আল্লাহ তাআলার শরীর ও গুণ (আরায) সৃষ্টির কাজ ত্যাগ করা কোনো কিছুর উপর নির্ভরশীল নয়, তাই তা গুণ নয়। সুতরাং আল্লাহ তাআলার শরীর ও গুণ সৃষ্টির কাজ ত্যাগ করা নিজে শরীরও নয়, গুণও নয়। বরং তা কেবল অনুপস্থিতি (আদম), আর অনুপস্থিতি কোনো স্বতন্ত্র সত্তা বা অস্তিত্বশীল বিষয় নয়। আর আল্লাহ তাআলার কোনো কাজ ত্যাগ করা আদতেও কোনো কাজ নয়, যা তাঁর সৃষ্টির গুণের বিপরীত। কারণ মাখলুকের কোনো কাজ ত্যাগ করা একটি কাজ হিসেবেই গণ্য। এর প্রমাণ হলো, মাখলুকের কোনো কাজ ত্যাগ করা আবশ্যকভাবে তার অন্য কোনো কাজের মাধ্যমেই ঘটে। যেমন, যে ব্যক্তি গতি ত্যাগ করে, সে তা স্থিরতা অবলম্বনের কাজের মাধ্যমেই করে। আর যে আহার ত্যাগ করে, সে তা আহারের অঙ্গসমূহকে একে অপরের নিকটবর্তী বা দূরবর্তী করার মাধ্যমে এবং ভক্ষিত বস্তুর পরিবর্তে বাতাস বা অন্য কিছু গ্রহণের মাধ্যমেই করে। আবার যে ব্যক্তি দণ্ডায়মান হওয়া ত্যাগ করে, সে তা উপবেশন বা অন্য কোনো কাজে মশগুল হওয়ার মাধ্যমেই করে। সুতরাং এটি প্রমাণিত হলো যে, বারী তাআলার কাজ তাঁর সৃষ্টির কাজের সদৃশ নয় এবং তাঁর কাজ ত্যাগ করা আদতে কোনো কাজ নয়। ফলে তাদের দলিল বাতিল হয়ে গেল। আর আল্লাহর নিকট থেকেই তাওফিক আসে।
আবু মুহাম্মদ (রা.) বলেন, যেহেতু তারা যা কিছু আঁকড়ে ধরেছিল তার সবই বাতিল হয়ে গেছে এবং আল্লাহর সাহায্য ও সমর্থনে তাদের আর কোনো বিভ্রান্তি অবশিষ্ট নেই, তাই আমরা মহান আল্লাহর সমর্থনে বিশ্বজগতের অনস্তিত্ব থেকে অস্তিত্বে আসার এবং এর একজন অনাদি স্রষ্টা রয়েছেন—যিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই—তা সাব্যস্ত করার লক্ষ্যে অকাট্য প্রমাণসমূহ উপস্থাপন শুরু করছি।
প্রথম প্রমাণ: আবু মুহাম্মদ (রা.) বলেন, আমরা আল্লাহর তাওফিক নিয়ে বলছি, জগতের প্রতিটি ব্যক্তি (সত্তা), সত্তার মধ্যকার প্রতিটি গুণ (আরায) এবং প্রতিটি সময়—এসবই সসীম এবং আদি বা শুরু বিশিষ্ট। আমরা ইন্দ্রিয় ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তা প্রত্যক্ষ করি। কারণ কোনো ব্যক্তির সসীম হওয়া তার দেহের শুরু ও শেষ সীমানার আয়তন দ্বারা স্পষ্ট। তদ্রূপ তার অস্তিত্বের সময়কাল দ্বারাও তা প্রমাণিত। আবার কোনো সত্তার ওপর নির্ভরশীল গুণের সসীম হওয়া সেই সত্তার সসীম হওয়ার মাধ্যমেই স্পষ্ট। আর সময়ের সসীম হওয়া প্রমাণিত হয় অতিবাহিত সময়ের পর যা আসছে তার নতুনত্ব এবং প্রতিটি সময়ের অস্তিত্ব লাভের পর তার বিলুপ্তি এবং তারপর আরেকটি নতুন সময়ের আগমনের মাধ্যমে। কারণ প্রতিটি সময়ের শেষ হলো 'বর্তমান মুহূর্ত', যা দুই সময়ের মধ্যবর্তী সীমা। সুতরাং এটি অতীতের শেষ এবং যা পরে আসবে তা ভবিষ্যতের শুরু। এভাবে সর্বদা একটি সময় শেষ হয় এবং অন্যটি শুরু হয়। সময়ের প্রতিটি সমষ্টিই এমন সসীম অংশ দ্বারা গঠিত যেগুলোর শুরু রয়েছে, যেমনটি আমরা আগে উল্লেখ করেছি। আর ব্যক্তিবর্গের প্রতিটি সমষ্টিই সংখ্যাগতভাবে সসীম এবং শুরু বিশিষ্ট অংশ দ্বারা গঠিত। আর সসীম ও শুরু বিশিষ্ট অংশ দ্বারা গঠিত কোনো কিছুই তার অংশগুলোর বাইরে স্বতন্ত্র কিছু নয়। কারণ 'সমষ্টি' তার অংশসমূহ—যাতে তা বিশ্লিষ্ট হয়—তা ছাড়া অন্য কিছু নয়। যেহেতু আমরা বর্ণনা করেছি যে এর অংশসমূহ সসীম ও শুরু বিশিষ্ট, তাই নিঃসন্দেহে সমস্ত সমষ্টিই সসীম ও শুরু বিশিষ্ট। আর সমগ্র জগত কেবল তার অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিবর্গ, স্থান, তাদের সময়কাল এবং তাদের গুণাবলি ছাড়া আর কিছু নয়। এই জগত যা কিছু আমরা উল্লেখ করেছি তার বাইরে কিছু নয়। যেহেতু এর ব্যক্তিবর্গ, স্থান, সময় ও গুণাবলি শুরু বিশিষ্ট, সেহেতু সমগ্র জগতও অনিবার্যভাবে সসীম ও শুরু বিশিষ্ট। অতএব যদি এর প্রতিটি অংশ পর্যবেক্ষণ ও ইন্দ্রিয়লব্ধভাবে সসীম ও শুরু বিশিষ্ট হয়, তবে এটি শুরুহীন হওয়া অসম্ভব। আর আমরা অপরিহার্য জ্ঞান, বুদ্ধি ও ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে এটি প্রমাণ করেছি যে, জগত তার অংশগুলোর বাইরে অন্য কিছু নয়।
(খণ্ড: ١)
আল-ফাসলু ফিল মিলালি ওয়াল আহওয়া-ই ওয়ান নিহাল
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
أَجْزَائِهِ فَهُوَ ذُو أول لَا ذُو أول وَهَذَا عين الْمحَال وَيجب من ذَلِك أَيْضا أَن لأجزائه أَوَائِل محسوسة وأجزاؤه لَيست غَيره وَهُوَ غير ذِي أول فأجزاؤه إِذن لَهَا أول لَيْسَ لَهَا أول وَهَذَا محَال وتخليط فصح بِالضَّرُورَةِ أَن للْعَالم أَولا إِذْ كل أَجْزَائِهِ لَهَا أول وَلَيْسَ هُوَ شَيْئا غير أَجْزَائِهِ وَبِاللَّهِ تَعَالَى التَّوْفِيق
برهَان ثَان قَالَ أَبُو مُحَمَّد رضي الله عنه فَنَقُول كل مَوْجُود بِالْفِعْلِ فقد حصره الْعدَد وأحصته طَبِيعَته وَمعنى الطبيعة وَحدهَا هُوَ أَن تَقول الطبيعة هِيَ الْقُوَّة الَّتِي فِي الشَّيْء فتجري بهَا كيفيات ذَلِك الشَّيْء على مَا هِيَ عَلَيْهِ وَإِن أوجزت قلت هِيَ قُوَّة فِي الشَّيْء يُوجد بهَا على مَا هُوَ عَلَيْهِ وَحصر الْعدَد وإحصاء الطبيعة نِهَايَة صَحِيحَة إِذْ مَا لَا نِهَايَة لَهُ فَلَا إحصاء وَلَا حصر لَهُ إِذْ لَيْسَ معنى الْحصْر والإحصاء الأخم مَا بَين طرفِي المحصي المحصور والعالم مَوْجُود بِالْفِعْلِ وكل مَحْصُور بِالْعدَدِ محصي بالطبيعة فَهُوَ ذُو نِهَايَة فالعالم كُله ذُو نِهَايَة وَسَوَاء فِي ذَلِك مَا وجد فِي مُدَّة وَاحِدَة أَو مدد كَثِيرَة إِذْ لَيست تِلْكَ المدد إِلَّا مُدَّة محصاة إِلَى جنب مُدَّة محصاة فَهِيَ مركبة من مدد محصاة وكل مركب من أَشْيَاء فَهُوَ تِلْكَ الْأَشْيَاء الَّتِي ركب مِنْهَا فَهِيَ كلهَا مدد محصاة كَمَا قدمنَا فِي الدَّلِيل الأول فصح من كل ذَلِك أَن مَا لَا نِهَايَة لَهُ فَلَا سَبِيل إِلَى وجوده بِالْفِعْلِ وَمَا لم يُوجد إِلَّا بعد مَا لَا نِهَايَة لَهُ فَلَا سَبِيل إِلَى وجوده أبدا لِأَن وُقُوع البعدية فِيهِ هُوَ وجود نِهَايَة لَهُ وَمَا لَا نِهَايَة لَهُ فَلَا بعد لَهُ فعلى هَذَا لَا يُوجد شيءٌ بعد شيءٍ أَبَد الْأَبَد والأشياء كلهَا مَوْجُودَة بَعْضهَا بعد بعض فالأشياء كلهَا ذَات نِهَايَة وَهَذَانِ الدليلان قد نبه الله تَعَالَى عَلَيْهِمَا وحصرهما بحجته الْبَالِغَة إِذْ يَقُول وكل شيءٍ عِنْده بِمِقْدَار
برهَان ثَالِث قَالَ أَبُو مُحَمَّد رضي الله عنه مَا لَا نِهَايَة لَهُ فَلَا سَبِيل إِلَى الزِّيَادَة فِيهِ إِذْ معنى الزِّيَادَة إِنَّمَا هُوَ أَن تضيف إِلَى ذِي النِّهَايَة شَيْئا من جنسه يزِيد ذَلِك فِي عدده أَو فِي مساحته فَإِن كَانَ الزَّمَان لَا أول لَهُ يكون بِهِ متناهياً فِي عدده الْآن فَإِذن كل مَا زَاد فِيهِ وَيزِيد مِمَّا يَأْبَى من الْأَزْمِنَة مِنْهُ فَإِنَّهُ لَا يزِيد ذَلِك فِي عدد الزَّمَان شَيْئا وَفِي شَهَادَة الْحس أَن كل مَا وجد من الأعوام على الْأَبَد إِلَى زَمَاننَا هَذَا الَّذِي هُوَ وَقت ولَايَة هِشَام الْمُعْتَمد بِاللَّه هُوَ أَكثر من كل مَا وجد من الأعوام على الْأَبَد إِلَى وَقت هِجْرَة رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَإِن لم يكن هَذَا صَحِيحا فَيجب إِذن أَنه إِذا دَار زحل دورة وَاحِدَة فِي كل ثَلَاثِينَ سنة وزحل لم يزل يَدُور دَار الْفلك الْأَكْبَر فِي تِلْكَ الثَّلَاثِينَ سنة إِحْدَى عشرَة ألف دورة غيرَة خمسين دورة والفلك لم يزل يَدُور وَإِحْدَى عشرَة ألف غير خمسين دورة أَكثر من دورة
তার অংশসমূহ, তবে সেটি আদিবিশিষ্টও হবে আবার আদিহীনও হবে; আর এটি সম্পূর্ণ অসম্ভব। এর থেকে আরও আবশ্যক হয় যে, তার অংশসমূহের ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য আদি রয়েছে, অথচ তার অংশসমূহ সেটিরই অংশ (ভিন্ন কিছু নয়), অথচ বলা হচ্ছে সেটি আদিহীন। সুতরাং তার অংশগুলোর আদি আছে আবার নেই—এটি অসম্ভব ও বিভ্রান্তিকর। অতএব এটি অকাট্যভাবে প্রমাণিত হলো যে, মহাবিশ্বের আদি রয়েছে; যেহেতু তার প্রতিটি অংশের আদি রয়েছে এবং মহাবিশ্ব তার অংশগুলোর অতিরিক্ত ভিন্ন কিছু নয়। আল্লাহর নিকট থেকেই তাওফিক বা সামর্থ্য আসে।
দ্বিতীয় প্রমাণ: আবু মুহাম্মদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, আমরা বলছি—বর্তমানে বিদ্যমান প্রতিটি বস্তুই সংখ্যা দ্বারা সীমাবদ্ধ এবং তার প্রকৃতি দ্বারা পরিবেষ্টিত। প্রকৃতির একক অর্থ হলো এই যে, প্রকৃতি হচ্ছে বস্তুর ভেতরে থাকা এমন একটি শক্তি যার মাধ্যমে ওই বস্তুর গুণাবলী যেভাবে আছে সেভাবেই পরিচালিত হয়। সংক্ষেপে বললে, এটি বস্তুর ভেতরের একটি শক্তি যার মাধ্যমে সেটি নিজ অস্তিত্বে বিদ্যমান থাকে। সংখ্যা দ্বারা সীমাবদ্ধ হওয়া এবং প্রকৃতি দ্বারা পরিবেষ্টিত হওয়া একটি সঠিক পরিসমাপ্তি বা সীমা; কারণ যার কোনো সীমা নেই, তা পরিবেষ্টিত বা সীমাবদ্ধ হওয়া অসম্ভব। যেহেতু সীমাবদ্ধ হওয়া এবং বেষ্টন করার অর্থই হলো সীমাবদ্ধকারীর দুই প্রান্তের মধ্যবর্তী কিছু হওয়া। আর মহাবিশ্ব বর্তমানে বিদ্যমান, এবং সংখ্যা দ্বারা সীমাবদ্ধ ও প্রকৃতি দ্বারা পরিবেষ্টিত প্রতিটি বস্তুই সসীম। সুতরাং সমগ্র মহাবিশ্বই সসীম। চাই তা একই সময়ে বিদ্যমান হোক বা দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে বিদ্যমান হোক; কেননা সেই সময়গুলো কেবল একটি সীমাবদ্ধ সময়ের পাশে আরেকটি সীমাবদ্ধ সময়ের সমষ্টিকরণ মাত্র। সুতরাং তা সীমাবদ্ধ সময়সমূহের সমন্বয়ে গঠিত। আর যা কিছু একাধিক বস্তুর সমন্বয়ে গঠিত, তা মূলত সেই উপাদানগুলোরই সমষ্টি। অতএব, এ সবগুলোই সীমাবদ্ধ সময় যেমনটি আমরা প্রথম দলিলে উল্লেখ করেছি। সুতরাং এই সবকিছু থেকে এটি প্রমাণিত হলো যে, যা অসীম তার বর্তমানে বিদ্যমান থাকার কোনো পথ নেই। আর যা অসীমের পরেই কেবল অস্তিত্ব লাভ করে, তার অস্তিত্ব লাভ করা কখনোই সম্ভব নয়। কারণ কোনো কিছুর "পরে" ঘটা মানেই তার একটি সীমা থাকা। আর যার কোনো সীমা নেই, তার কোনো "পরে" নেই। এই নিয়ম অনুযায়ী, কোনো কিছুর পরে কোনো কিছু চিরকাল ধরে বিদ্যমান হতে পারে না। অথচ প্রতিটি বস্তু একটির পর একটি বিদ্যমান হচ্ছে; সুতরাং প্রতিটি বস্তুই সসীম। মহান আল্লাহ এই দুটি দলিলের দিকে ইঙ্গিত করেছেন এবং তাঁর অকাট্য প্রমাণের মাধ্যমে এগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন, যেখানে তিনি বলেন: "এবং তাঁর নিকট প্রতিটি বস্তু নির্দিষ্ট পরিমাণে।"
তৃতীয় প্রমাণ: আবু মুহাম্মদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, যার কোনো সীমা নেই তাতে কোনো কিছু বৃদ্ধি করার সুযোগ নেই। কেননা বৃদ্ধির অর্থই হলো সসীম কোনো বস্তুর সাথে তার স্বজাতীয় কোনো কিছু যোগ করা যা তার সংখ্যা বা আয়তন বৃদ্ধি করে। যদি সময়ের কোনো শুরু না থাকত যার মাধ্যমে বর্তমান পর্যন্ত তা সসীম হিসেবে গণ্য হতো, তবে অনাগত কাল থেকে যা কিছু তাতে যোগ করা হতো বা হচ্ছে, তা সময়ের সংখ্যায় কোনো বৃদ্ধি ঘটাত না। অথচ ইন্দ্রিয়জাত সাক্ষ্য বলছে যে, অনন্তকাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত—যা হিশাম আল-মুতামিদ বিল্লাহ-এর শাসনকাল—অতিবাহিত হওয়া বছরের সংখ্যা, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হিজরতের সময় পর্যন্ত অতিবাহিত হওয়া বছরের সংখ্যার চেয়ে অধিক। যদি এটি সঠিক না হতো, তবে (একটি দৃষ্টান্ত লক্ষ্য করুন) যখন শনি গ্রহ প্রতি ত্রিশ বছরে একবার আবর্তন করে এবং শনি নিরন্তর ঘুরছে, সেই একই ত্রিশ বছরে ঊর্ধ্বাকাশ বা সর্ববৃহৎ কক্ষপথ এগারো হাজার বার (পঞ্চাশ বার কম) আবর্তন করে—যেখানে আকাশও নিরন্তর ঘুরছে—তাহলে ওই এগারো হাজার বার (পঞ্চাশ কম) আবর্তন এক আবর্তনের চেয়ে বেশি হতো না (যা অসম্ভব)।
(খণ্ড: ١)
আল-ফাসলু ফিল মিলালি ওয়াল আহওয়া-ই ওয়ান নিহাল
(পৃষ্ঠা: ٢١)
وَاحِدَة بِلَا شكّ فَإِذن مَا لَا نِهَايَة لَهُ أَكثر مِمَّا لَا نِهَايَة لَهُ بِنَحْوِ إِحْدَى عشرَة ألف مرّة وَهَذَا محَال لما قدمنَا وَلِأَن مَا لَا نِهَايَة لَهُ فَلَا يُمكن الْبَتَّةَ أَن يكون عدد أَكثر مِنْهُ بِوَجْه من الْوُجُوه فَوَجَبت فِي الزَّمَان من قبل ابْتِدَائه ضَرُورَة وَلَا مخلص مِنْهَا
وَيجب أَيْضا من ذَلِك أَن الْحس يُوجب ضَرُورَة أَن أشخاص الْإِنْس مُضَافَة إِلَى أشخاص الْخَيل أَكثر من أشخاص الْإِنْس مُفْردَة عَن أشخاص الْخَيل وَلَو كَانَت الْأَشْخَاص لَا نِهَايَة لَهَا لوَجَبَ أَن مَا لَا نِهَايَة لَهُ أَكثر مِمَّا لَا نِهَايَة لَهُ وَهَذَا محَال مُمْتَنع لَا يتشكل فِي الْعقل وَلَا يُمكن وَأَيْضًا فَلَا شكّ فِي أَن الزَّمَان مذ كَانَ إِلَى وَقت الْهِجْرَة جُزْء للزمان مذ كَانَ إِلَى وقتنا هَذَا وَبلا شكّ أَيْضا فِي أَن الزَّمَان مذ كَانَ إِلَى وقتنا هَذَا كل للزمان مذ كَانَ إِلَى وَقت الْهِجْرَة وَلما بعده إِلَى وقتنا هَذَا فَلَا يَخْلُو الحكم فِي هَذِه الْقَضِيَّة من أحد ثَلَاثَة أوجه لَا رَابِع لَهَا إِمَّا أَن يكون الزَّمَان مذ كَانَ مَوْجُودا إِلَى وقتنا هَذَا أَكثر من الزَّمَان مذ كَانَ إِلَى عصر الْهِجْرَة وَإِمَّا أَن يكون أقل مِنْهُ وَإِمَّا أَن يكون مُسَاوِيا لَهُ فَإِن كَانَ الزَّمَان مذ كَانَ إِلَى وقتنا هَذَا من الزَّمَان مذ كَانَ إِلَى وَقت الْهِجْرَة فَالْكل أقل من الْجُزْء والجزء أَكثر من الْكل وَهَذَا هُوَ الِاخْتِلَاط وَعين الْمحَال إِذْ لَا يخيل على أحد أَن الْكل أَكثر من الْجُزْء وَهَذَا مَا لَا شكّ فِيهِ ببديهة الْعَمَل وضرورة الْحس وَإِن كَانَ مُسَاوِيا لَهُ فَالْكل مسَاوٍ للجزء وَهَذَا عين الْمحَال والتخليط وَإِن كَانَ أَكثر مِنْهُ وَهَذَا هُوَ الَّذِي لَا شكّ فِيهِ فالزمان مذ كَانَ إِلَى وَقت الْهِجْرَة ذُو نِهَايَة وَمعنى الْجُزْء إِنَّمَا هُوَ إبعاض الشَّيْء وَمعنى الْكل إِنَّمَا هُوَ جملَة الإيعاض فَالْكل والجزء واقعان فِي كل ذِي أبعاض والعالم ذُو أبعاض هَكَذَا تُوجد حاملاته ومحمولاته وأزمانها فالعالم كل لَا بعاضه وإبعاضه أَجزَاء لَهُ وَالنِّهَايَة كَمَا قدمنَا لَازِمَة لكل ذِي كل وَذي أَجزَاء وَالزَّمَان هُوَ مُدَّة بَقَاء الجرم سَاكِنا أَو متحركاً وَلَو فَارقه لم يكن الجرم مَوْجُودا وَلَا كَانَ الزَّمَان أَيْضا مَوْجُودا والجرم وَالزَّمَان موجودان فكلاهما لم يُفَارق صَاحبه
وَالزَّمَان ذُو أول والجرم ذُو أول وَهَذَا مِمَّا لَا انفكاك لَهُ الْبَتَّةَ وَأما مَا لم يَأْتِ بعد من زمَان أَو شخص أَو عرض فَلَيْسَ كل ذَلِك شَيْئا فَلَا يَقع على شَيْء من ذَلِك عدد وَلَا نِهَايَة وَلَا يُوصف بِشَيْء أصلا لِأَنَّهُ لَا وجود لَهُ بعد فَإِذا وجد لزمَه حِينَئِذٍ مَا لزم سَائِر مَا قد وجد من أجناسه وأنواعه من النِّهَايَة وَالْعدَد وَغير ذَلِك من الصِّفَات
وَأَيْضًا فَلَا شكّ فِي أَن مَا وَقع من الزَّمَان وَوجد من الزَّمَان إِلَى يَوْمنَا هَذَا مسَاوٍ لما من يَوْمنَا هَذَا إِلَى مَا وَقع من الزَّمَان معكوساً وواجب فِيهِ الزِّيَادَة بِمَا يَأْتِي من الزَّمَان والمساوى
নিঃসন্দেহে একটি; সুতরাং যা অসীম তা অন্য একটি অসীমের চেয়ে প্রায় এগারো হাজার গুণ বেশি হয়ে যায়। এটি অসম্ভব, যা আমরা আগে উল্লেখ করেছি। কারণ যা অসীম, তা কোনোভাবেই অন্য একটি সংখ্যার চেয়ে বেশি হওয়া সম্ভব নয়। অতএব, সময়ের সূচনার দিক থেকে এর জন্য একটি সীমা থাকা অপরিহার্য এবং এ থেকে পরিত্রাণের কোনো পথ নেই।
এ থেকে এটিও আবশ্যক হয় যে, ইন্দ্রিয়লব্ধ জ্ঞান অপরিহার্যভাবে প্রমাণ করে যে, মানুষের ব্যক্তিদের সাথে ঘোড়ার ব্যক্তিদের যোগ করলে তা কেবল মানুষের ব্যক্তিদের সংখ্যার চেয়ে বেশি হবে। যদি এই ব্যক্তিসমূহ অসীম হতো, তবে আবশ্যক হতো যে একটি অসীম অন্য অসীমের চেয়ে বেশি, যা অসম্ভব ও নিষিদ্ধ; এটি বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে কল্পনা করা যায় না এবং সম্ভবও নয়। আরও কথা হলো, এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সময়ের শুরু থেকে হিজরতের সময় পর্যন্ত যে সময় অতিক্রান্ত হয়েছে, তা সময়ের শুরু থেকে আমাদের বর্তমান সময় পর্যন্ত অতিক্রান্ত সময়ের একটি অংশ। আবার এতেও কোনো সন্দেহ নেই যে, সময়ের শুরু থেকে আমাদের বর্তমান সময় পর্যন্ত অতিক্রান্ত সময়টি হলো সময়ের শুরু থেকে হিজরতের সময় এবং তারপর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত—এই সবটুকুর সমষ্টি বা পূর্ণতা। সুতরাং এই বিষয়ের বিচার তিনটি অবস্থার একটি থেকে খালি নয়, যার চতুর্থ কোনোটি নেই: হয় সময়ের শুরু থেকে আমাদের বর্তমান সময় পর্যন্ত অতিক্রান্ত সময় হিজরতের সময় পর্যন্ত অতিক্রান্ত সময়ের চেয়ে বেশি হবে, অথবা তার চেয়ে কম হবে, অথবা তার সমান হবে। যদি সময়ের শুরু থেকে আমাদের বর্তমান সময় পর্যন্ত সময়টি হিজরতের সময় পর্যন্ত অতিক্রান্ত সময়ের চেয়ে কম হয়, তবে সমষ্টি বা পূর্ণ অংশটি হবে খণ্ডিত অংশের চেয়ে কম, আর খণ্ডিত অংশটি হবে পূর্ণ অংশের চেয়ে বেশি। এটি হলো বিভ্রান্তি এবং স্পষ্ট অসম্ভব বিষয়; কারণ পূর্ণ অংশ খণ্ডিত অংশের চেয়ে বেশি—এ কথা কারও কাছেই অস্পষ্ট নয়। কর্মতৎপরতার স্বতঃস্ফূর্ততা এবং ইন্দ্রিয়লব্ধ জ্ঞানের প্রয়োজনীয়তায় এটি সন্দেহাতীত। আর যদি তা তার সমান হয়, তবে পূর্ণ অংশ খণ্ডিত অংশের সমান হয়ে যায়, যা স্পষ্ট অসম্ভব ও বিভ্রান্তি। আর যদি তা তার চেয়ে বেশি হয়—আর এটাই সেই বিষয় যাতে কোনো সন্দেহ নেই—তবে সময়ের শুরু থেকে হিজরতের সময় পর্যন্ত সময়টি সসীম বা নির্দিষ্ট সীমার অধিকারী। অংশের অর্থ হলো কোনো বস্তুর খণ্ডসমূহ, আর পূর্ণের অর্থ হলো সেই খণ্ডসমূহের সমষ্টি। সুতরাং পূর্ণ ও অংশ প্রতিটি খণ্ডবিশিষ্ট বস্তুর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। আর এই জগত খণ্ডবিশিষ্ট; এভাবেই এর ধারক ও ধৃত বিষয়সমূহ এবং তাদের সময়গুলো বিদ্যমান থাকে। অতএব, জগত হলো তার খণ্ডসমূহের সমষ্টি, আর এর খণ্ডসমূহ হলো এর অংশ। আর সীমা, যেমনটি আমরা আগে উল্লেখ করেছি, প্রতিটি পূর্ণ ও অংশবিশিষ্ট বস্তুর জন্য অপরিহার্য। সময় হলো কোনো বস্তুর স্থির বা গতিশীল অবস্থায় বিদ্যমান থাকার মেয়াদ। যদি সময় বস্তু থেকে পৃথক হয়ে যেত, তবে সেই বস্তুর অস্তিত্ব থাকত না এবং সময়েরও অস্তিত্ব থাকত না। যেহেতু বস্তু ও সময় বিদ্যমান, তাই এদের কেউই একে অপরকে ছেড়ে পৃথক হয়নি।
সময়ের একটি শুরু আছে এবং বস্তুরও একটি শুরু আছে; এটি এমন বিষয় যা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। আর যে সময়, ব্যক্তি বা আপতিক গুণ এখনও আসেনি, তার কোনোটিই বর্তমান কোনো বস্তু নয়। সুতরাং তার ওপর কোনো সংখ্যা বা সীমা প্রযোজ্য হয় না এবং তাকে কোনো কিছু দিয়েই গুণান্বিত করা যায় না; কারণ এখনও তার কোনো অস্তিত্ব নেই। যখন তার অস্তিত্ব আসবে, তখন তার স্বজাতীয় ও স্বশ্রেণীর অন্যান্য বিদ্যমান বস্তুর মতো তার ওপরও সীমা, সংখ্যা ও অন্যান্য গুণাবলি আরোপ করা আবশ্যক হবে।
আরও কথা হলো, এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সময়ের যা কিছু অতিবাহিত হয়েছে এবং আমাদের এই দিন পর্যন্ত সময়ের যা কিছু বিদ্যমান পাওয়া গেছে, তা আমাদের এই দিন থেকে অতীতের দিকে বিপরীতক্রমে হিসাবকৃত সময়ের সমান। আর ভবিষ্যতে আগত সময় এবং তার সমপরিমাণের দ্বারা এতে বৃদ্ধি ঘটা অপরিহার্য।
(খণ্ড: ١)
আল-ফাসলু ফিল মিলালি ওয়াল আহওয়া-ই ওয়ান নিহাল
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
لَا يَقع إِلَّا فِي ذِي نِهَايَة فالزمان متناه ضَرُورَة وَقد ألزمت بعض الْمُلْحِدِينَ وَهُوَ ثَابت بن مُحَمَّد الْجِرْجَانِيّ فِي هَذَا الْبُرْهَان فَأَرَادَ أَن يعكسه عَليّ فِي بَقَاء الْبَارِي عز وجل ووجودنا إِيَّاه فَأَخْبَرته بِأَن هَذَا شغب ضَعِيف مضمحل سَاقِط لِأَن الْبَارِي تَعَالَى لَيْسَ فِي زمَان وَلَا لَهُ مُدَّة لِأَن الزَّمَان إِنَّمَا هُوَ حَرَكَة كل ذِي الزَّمَان وانتقاله من مَكَان إِلَى مَكَان أَو مُدَّة بَقَائِهِ سَاكِنا فِي مَكَان وَاحِد والباري تَعَالَى لَيْسَ متحركاً وَلَا سَاكِنا ولاشك أَنه لَيْسَ فِي زمَان وَلَا لَهُ مُدَّة وَلَا هُوَ فِي مَكَان أصلا وَلَيْسَ هُوَ جرما وَلَا جوهراً وَلَا عرضا وَلَا عددا وَلَا جِنْسا وَلَا نوعا وَلَا فصلا وَلَا شخصا وَلَا متحركاً وَلَا سَاكِنا وَإِنَّمَا هُوَ تَعَالَى حق فِي ذَاته مَوْجُود مُطلق بِمَعْنى أَنه مَعْلُوم لَا إِلَه غَيره وَاحِد لَا وَاحِد فِي الْعَالم سواهُ مخترع للموجودات كلهَا دونه لَا يشبه شَيْئا من خلقه بِوَجْه من الْوُجُوه وَبِاللَّهِ تَعَالَى التَّوْفِيق
قَالَ أَبُو مُحَمَّد رضي الله عنه وَقد نبه الله تَعَالَى على هَذَا الدَّلِيل وحصره فِي قَوْله تَعَالَى يزِيد فِي الْخلق مَا يَشَاء
برهَان رَابِع قَالَ أَبُو مُحَمَّد رضي الله عنه إِن كَانَ الْعَالم لَا أول لَهُ وَلَا نِهَايَة لَهُ فالإحصاء مناله بِالْعدَدِ والطبيعة إِلَى مَا لَا نِهَايَة لَهُ من أَوَائِل الْعَالم الْمَاضِيَة محَال لَا سَبِيل إِلَيْهِ إِذْ لَو أحصى ذَلِك كُله لَكَانَ لَهُ نِهَايَة ضَرُورَة فَإِذا لَا سَبِيل إِلَيْهِ فَكَذَلِك أَيْضا هُوَ محَال أَن تكون الطبيعة وَالْعدَد أحصيا مَا لَا نِهَايَة لَهُ من أَوَائِل الْعَالم الخالية حَتَّى يبلغَا إِلَيْنَا وَإِذا كَانَ ذَلِك محالاً فالعدد والطبيعة إِذا لم يبلغَا إِلَيْنَا وَقد تَيَقنا وُقُوع الْعدَد والطبيعة فِي كل مَا خلا من الْعَالم حَتَّى بلغا إِلَيْنَا بِلَا شكّ فَإِذا قد أحصى الْعدَد والطبيعة كل ماخلا من أَوَائِل الْعَالم إِلَى أَن بلغا إِلَيْنَا فَكَذَلِك الإحصاء منا إِلَى أولية الْعَالم صَحِيح مَوْجُود لَا ضَرُورَة بِلَا شكّ وَإِذ ذَلِك كَذَلِك فللعالم أَو ل ضَرُورَة وَبِاللَّهِ تَعَالَى التَّوْفِيق
برهَان خَامِس قَالَ أَبُو مُحَمَّد رضي الله عنه لَا سَبِيل إِلَى وجود ثَان إِلَّا بعد أول وَلَا إِلَى وجود ثَالِث إِلَّا بعد ثَان وَهَكَذَا أبدا وَلَو لم يكن لأجزاء الْعَالم أول لم يكن ثَان وَلَو لم يكن ثَان لم يكن ثَالِث وَلَو كَانَ الْأَمر هَكَذَا لم يكن عدد وَلَا مَعْدُود وَفِي وجودنا جَمِيع الْأَشْيَاء الَّتِي فِي الْعَالم مَعْدُودَة إِيجَاب أَنَّهَا ثَالِث بعد ثَان وثان بعد أول وَفِي صِحَة هَذَا وجوب أول ضَرُورَة وَقد نبه الله تَعَالَى على هَذَا الدَّلِيل وعَلى الَّذِي قبله وحصرهما فِي قَوْله تَعَالَى وأحصى كل شَيْء عددا وَأَيْضًا فالآخر وَالْأول من بَاب الْمُضَاف فالآخر آخر للْأولِ وَالْأول أول للْآخر وَلَو لم يكن أول لم يكن آخر ويومنا هَذَا بِمَا فِيهِ آخر لكل مَوْجُود قبله إِذْ لم يَأْتِ بعد فَلَيْسَ شَيْئا وَلَا وَقع عَلَيْهِ بعد شَيْء من الْأَوْصَاف فَلهُ أول ضَرُورَة
এটি কেবল সসীম বস্তুর ক্ষেত্রেই ঘটে, তাই সময় আবশ্যিকভাবেই সসীম। আমি জনৈক নাস্তিক—সাবেত বিন মুহাম্মাদ আল-জুরজানিকে এই দলিলের মাধ্যমে নিরুত্তর করেছিলাম। তখন সে এই দলিলটি মহান আল্লাহর স্থায়িত্ব এবং আমাদের তাঁর অস্তিত্ব অনুভব করার ক্ষেত্রে আমার বিপক্ষে ব্যবহার করতে চেয়েছিল। তখন আমি তাকে জানালাম যে, এটি একটি দুর্বল, অসার ও বাতিল বিতর্ক। কারণ আল্লাহ তাআলা কোনো সময়ের মধ্যে নেই এবং তাঁর কোনো সময়কাল নেই। কারণ সময় হলো সময়ভুক্ত প্রতিটি বস্তুর গতি এবং এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তর হওয়া, অথবা কোনো এক স্থানে স্থির হয়ে থাকার সময়কাল। অথচ আল্লাহ তাআলা গতিশীল নন, আবার স্থিরও নন। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তিনি সময়ের অন্তর্ভুক্ত নন, তাঁর কোনো সময়কাল নেই এবং তিনি মূলত কোনো স্থানেও নেই। তিনি কোনো শরীর, সারবস্তু, গুণ, সংখ্যা, লিঙ্গ, প্রজাতি, বিভেদক কিংবা ব্যক্তি নন। তিনি গতিশীলও নন এবং স্থিরও নন। বরং তিনি তাঁর সত্তাগতভাবে পরম সত্য, এক চিরন্তন বিদ্যমান সত্তা—যিনি অদ্বিতীয় এবং তাঁর ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই। তিনি ছাড়া জগতে আর কোনো এক নেই। তিনি ছাড়া অবশিষ্ট সকল বিদ্যমান বস্তুর উদ্ভাবক তিনি। তিনি তাঁর সৃষ্টির কোনো কিছুর সাথেই কোনো দিক থেকেই সদৃশ নন। আল্লাহর পক্ষ থেকেই তৌফিক আসে।
আবু মুহাম্মাদ (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন) বলেন, আল্লাহ তাআলা এই দলিলের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন এবং তা তাঁর এই বাণীতে সীমাবদ্ধ করেছেন: "তিনি সৃষ্টিতে যা ইচ্ছা বৃদ্ধি করেন।"
চতুর্থ প্রমাণ: আবু মুহাম্মাদ (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন) বলেন, যদি জগতের কোনো শুরু এবং কোনো শেষ না থাকত, তবে সংখ্যা ও প্রকৃতির মাধ্যমে জগতের অসীম অতীত আদি ঘটনাবলির নাগাল পাওয়া অসম্ভব হতো, এর কোনো পথ থাকত না। কারণ যদি সেই সব কিছুই গণনা করা যেত, তবে আবশ্যিকভাবেই তার একটি শেষ থাকত। যেহেতু তার কোনো পথ নেই, তাই এটিও অসম্ভব যে প্রকৃতি ও সংখ্যা জগতের অতিক্রান্ত অসীম আদি ঘটনাবলি গণনা করে আমাদের পর্যন্ত পৌঁছেছে। আর যখন এটি অসম্ভব, অথচ আমরা নিশ্চিতভাবে জানি যে সংখ্যা ও প্রকৃতি জগতের অতীত প্রতিটি ক্ষেত্রেই কার্যকর হয়েছে এবং তা নিসন্দেহে আমাদের পর্যন্ত পৌঁছেছে, তবে অবশ্যই সংখ্যা ও প্রকৃতি জগতের আদি থেকে আমাদের পর্যন্ত সবকিছু গণনা করেছে। ঠিক একইভাবে আমাদের থেকে জগতের আদি পর্যন্ত গণনা করাও নিসন্দেহে সঠিক ও বাস্তব। আর যখন বিষয়টি এমন, তখন জগতের অবশ্যই একটি শুরু রয়েছে। আল্লাহর পক্ষ থেকেই তৌফিক আসে।
পঞ্চম প্রমাণ: আবু মুহাম্মাদ (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন) বলেন, প্রথমটির অস্তিত্ব ছাড়া দ্বিতীয়টির অস্তিত্বের কোনো পথ নেই এবং দ্বিতীয়টির অস্তিত্ব ছাড়া তৃতীয়টির অস্তিত্বের কোনো পথ নেই—এভাবেই চিরকাল। যদি জগতের অংশসমূহের কোনো প্রথম না থাকত, তবে দ্বিতীয় থাকত না; আর যদি দ্বিতীয় না থাকত, তবে তৃতীয়ও থাকত না। যদি বিষয়টি এমন হতো, তবে কোনো সংখ্যা বা সংখ্যাভুক্ত বস্তু থাকত না। আমাদের মধ্যে জগতের সকল বস্তু সংখ্যাভুক্ত হিসেবে বিদ্যমান থাকা প্রমাণ করে যে, তা দ্বিতীয়ের পর তৃতীয় এবং প্রথমের পর দ্বিতীয়। এই বিষয়টি সঠিক হওয়ার অর্থ হলো আবশ্যিকভাবেই একটি প্রথম থাকা। আল্লাহ তাআলা এই দলিল এবং এর আগের দলিলের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন এবং তা তাঁর এই বাণীতে অন্তর্ভুক্ত করেছেন: "তিনি প্রতিটি বস্তুকে সংখ্যায় গণনা করে রেখেছেন।" তদুপরি, শেষ এবং প্রথম হলো আপেক্ষিক বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত; সুতরাং শেষ হলো প্রথমের সাপেক্ষে শেষ, আর প্রথম হলো শেষের সাপেক্ষে প্রথম। যদি প্রথম না থাকে তবে শেষ থাকতে পারে না। আমাদের আজকের এই দিনটি তার পূর্ববর্তী প্রতিটি বিদ্যমান বস্তুর জন্য শেষ, কারণ এর পরে যা আসার তা এখনো আসেনি, তাই তা কিছু নয় এবং তার ওপর কোনো বৈশিষ্ট্যও আপতিত হয়নি। সুতরাং আবশ্যিকভাবেই এর একটি প্রথম রয়েছে।
(খণ্ড: ١)
আল-ফাসলু ফিল মিলালি ওয়াল আহওয়া-ই ওয়ান নিহাল
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
قَالَ أَبُو مُحَمَّد رضي الله عنه وَقد أَخْبرنِي بعض أصدقائنا وَهُوَ مُحَمَّد بن عبد الرَّحْمَن بن عقبَة رَحمَه الله تَعَالَى أَنه عَارض بِهَذَا الْبُرْهَان بعض الْمُلْحِدِينَ وَهُوَ عبد الله بن عبد الله بن شنيف فعارضه الملحد فِي قَوْله بخلود الْجنَّة وَالنَّار وأهلهما فَقَالَ لَهُ ابْن عقبَة إِنَّمَا أَخذنَا خُلُود دَاري الْجَزَاء وخلود أهلهما بِلَا نِهَايَة على غير هَذَا الْوَجْه لَكِن على أَن الله تَعَالَى ينشئ لكل ذَلِك بَقَاء محدوداً وحركات حَادِثَة ولذات مترادفة أبدا وقتا بعد وَقت إِلَّا أَن الأول وَالْآخر جاريان حادثان فِي كل مَوْجُود من ذَلِك وَإِذا ثَبت الأول فَغير مُمْتَنع تمادي الزَّمَان حينا بعد حِين أبدا بِلَا نِهَايَة وَهَذَا مثل الْعدَد فَإِنَّهُ لَو لم يكن لَهُ أول لم يقدر أحد على عد أَي شَيْء أبدا فالعدد لَهُ أول ضَرُورَة يعرف ذَلِك بالحس والمشاهدة وَهُوَ قَوْلنَا وَاحِد فَإِن هَذَا مبدأ الْعدَد الَّذِي لَا عدد قبله ثمَّ الْأَعْدَاد يُمكن فِيهَا الزِّيَادَة أَبَد الْأَبَد لَا إِلَى غَايَة لَكِن كلما خرج مِنْهُ جُزْء إِلَى حد الْوُجُود وحد الْفِعْل فَلهُ نِهَايَة وَهَكَذَا أبدا سرمداً وَبِاللَّهِ تَعَالَى التَّوْفِيق فَانْقَطع الشنيفي وَلم يكن عِنْده إِلَّا الشغب
قَالَ أَبُو مُحَمَّد رضي الله عنه وَقد قَالَ بعض اهل الْإِلْحَاد فِي هَذِه الْبَرَاهِين الَّتِي أَوجَبْنَا بهَا اسْتِحَالَة وجود موجودات لَا أَوَائِل لَهَا أتقولون أَن الله تَعَالَى يُوفي أهل الْجنَّة مَا وعدهم من النَّعيم الَّذِي لَا آخر لَهُ وَلَا نِهَايَة أم لَا يوفيهم مَا وعدهم
فَإِن قُلْتُمْ أَنه تَعَالَى يوفيهم إِيَّاه دخل عَلَيْكُم كل مَا أدخلتموه علينا فِي هَذِه الْبَرَاهِين وَلَا فرق
وَإِن قُلْتُمْ أَنه تَعَالَى لَا يوفيهم ذَلِك ألزمتموه خلف الْوَعْد وَهُوَ كفر عنْدكُمْ
قَالَ أَبُو مُحَمَّد رضي الله عنه هَذِه شغيبة قد طالما حذرنا من مثلهَا فِي كتبنَا الَّتِي جمعناها فِي حُدُود الْمنطق وَهِي متفسخة من وَجْهَيْن أَحدهمَا أَن تعلق الْمَرْء بِمَا يَقُول خَصمه ضعف وَإِنَّمَا يلْزم الْمَرْء أَن يخلص قَوْله مُجَردا وَلَا أُسْوَة لَهُ فِي تنَاقض خَصمه بل لَعَلَّ خَصمه لَا يَقُول ذَلِك الثَّانِي أَن المسؤول بهَا إِن كَانَ جهمياً سقط عَنهُ هَذَا السُّؤَال الْمَذْكُور
وَأما نَحن فعلينا بحول الله تَعَالَى بَيَان فَسَاد هَذَا الِاعْتِرَاض وتمويهه فَنَقُول وَبِاللَّهِ التَّوْفِيق إِن من شغب أهل السفسطة إِدْخَال كلمة لَا يؤبه لَهَا يجعلونها مُقَدّمَة وَهِي كذب فيموهون بهَا على
আবু মুহাম্মদ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বলেছেন: আমাদের জনৈক বন্ধু মুহাম্মদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে উকবাহ (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি দয়া করুন) আমাকে অবহিত করেছেন যে, তিনি এই দলিলের মাধ্যমে জনৈক নাস্তিকের মোকাবিলা করেছিলেন, যার নাম ছিল আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে শানিফ। তখন সেই নাস্তিক জান্নাত ও জাহান্নাম এবং সেগুলোর অধিবাসীদের চিরস্থায়ী হওয়ার বিষয়ে তাঁর বিরোধিতা করেছিল। তখন ইবনে উকবাহ তাকে বলেছিলেন: "আমরা তো প্রতিদান স্বরূপ এই দুই আবাস এবং এদের অধিবাসীদের অন্তহীন স্থায়িত্বের বিষয়টি এই দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রহণ করি না; বরং আল্লাহ তাআলা এই সবকিছুর জন্য সময়ের পর সময় সীমিত স্থায়িত্ব, নবসৃষ্ট গতি এবং অনুক্রমিক আনন্দ চিরকাল সৃষ্টি করতে থাকবেন। তবে এগুলোর প্রতিটি বিদ্যমান বস্তুর মধ্যে শুরু এবং শেষ চলমান ও নবসৃষ্ট। আর যেহেতু শুরু সাব্যস্ত হয়েছে, তাই সময়ের পর সময় চিরকাল অন্তহীনভাবে অগ্রসর হওয়া অসম্ভব নয়। এটি সংখ্যার মতো; কারণ যদি সংখ্যার কোনো শুরু না থাকতো, তবে কেউ কোনোদিন কোনো কিছু গণনা করতে সক্ষম হতো না। সুতরাং সংখ্যার আবশ্যিকভাবেই একটি শুরু রয়েছে, যা পঞ্চেন্দ্রিয় এবং পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে জানা যায়; আর তা হলো আমাদের 'এক' বলা। এটিই সংখ্যার শুরু যার আগে কোনো সংখ্যা নেই। অতঃপর সংখ্যার ক্ষেত্রে চিরকাল সীমাহীন বৃদ্ধি সম্ভব; কিন্তু যখনই এর কোনো অংশ অস্তিত্বের সীমায় এবং বাস্তবতার সীমায় আসে, তখন তার একটি সমাপ্তি থাকে। চিরকাল এভাবেই নিরবচ্ছিন্নভাবে চলতে থাকবে। আর আল্লাহ তাআলার মাধ্যমেই সক্ষমতা অর্জিত হয়।" অতঃপর শানিফি নিরুত্তর হয়ে গেল এবং হট্টগোল করা ছাড়া তার আর কিছুই করার ছিল না।
আবু মুহাম্মদ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বলেছেন: কিছু নাস্তিক এই সব দলিলের বিপরীতে বলেছে—যার মাধ্যমে আমরা এমন সব অস্তিত্বের অসম্ভবতা প্রমাণ করেছি যাদের কোনো শুরু নেই—তারা বলে: "তোমরা কি বল যে, আল্লাহ তাআলা জান্নাতবাসীদের সেই নিয়ামত পরিপূর্ণভাবে প্রদান করবেন যার কোনো শেষ বা সীমা নেই, যা তিনি তাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন? নাকি তিনি তাদের দেওয়া সেই প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করবেন না?"
যদি তোমরা বলো যে, তিনি (তাআলা) তাদের তা পূর্ণ মাত্রায় প্রদান করবেন, তবে এই দলিলের মাধ্যমে তোমরা আমাদের বিরুদ্ধে যা কিছু অভিযোগ এনেছ, তা তোমাদের ওপরও বর্তাবে এবং এতে কোনো পার্থক্য থাকবে না।
আর যদি তোমরা বলো যে, তিনি (তাআলা) তাদের তা পূর্ণভাবে প্রদান করবেন না, তবে তোমরা তাঁর প্রতি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ আরোপ করলে, যা তোমাদের নিকট কুফরি।
আবু মুহাম্মদ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বলেছেন: এটি একটি কুযুক্তি যা সম্পর্কে আমরা আমাদের যুক্তিবিদ্যার পরিভাষা বিষয়ক কিতাবসমূহে দীর্ঘকাল আগে থেকেই সতর্ক করে আসছি। এটি দুটি কারণে অসার। প্রথমত, একজন ব্যক্তির নিজের বক্তব্যের সত্যতা প্রমাণের জন্য প্রতিপক্ষের কথার ওপর নির্ভর করা একটি দুর্বলতা। বরং মানুষের উচিত নিজের বক্তব্যকে বিশুদ্ধ ও স্বতন্ত্রভাবে উপস্থাপন করা; প্রতিপক্ষের স্ববিরোধিতার মাঝে নিজের জন্য কোনো নজির নেই, এমনকি হতে পারে তার প্রতিপক্ষ এমন কথা বলেও না। দ্বিতীয়ত, যাকে এই প্রশ্ন করা হয়েছে তিনি যদি জাহমি হন, তবে তার ক্ষেত্রে উল্লিখিত এই প্রশ্নটি কার্যকর হবে না।
আর আমাদের কর্তব্য হলো—আল্লাহ তাআলার শক্তিতে এই আপত্তির অসারতা এবং চাতুর্য স্পষ্ট করা। সুতরাং আমরা আল্লাহর তাওফীকে বলছি: কুতার্কিকদের হট্টগোলের একটি ধরন হলো এমন একটি তুচ্ছ শব্দ অন্তর্ভুক্ত করা যা তারা প্রস্তাবনা হিসেবে পেশ করে, অথচ তা মিথ্যা; এর মাধ্যমে তারা সত্যকে আড়াল করে...
(খণ্ড: ١)
আল-ফাসলু ফিল মিলালি ওয়াল আহওয়া-ই ওয়ান নিহাল
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
الْجُهَّال وَمَا يبنون عَلَيْهَا وَهَذَا الِاعْتِرَاض من هَذَا الْبَاب وَذَلِكَ أَنهم أَرَادوا إلزامنا بِأَن الله عز وجل وعد أهل الْجنَّة أَن يوفيهم نعيماً لَا نِهَايَة لَهُ وَهَذَا خطأ وَكذب وَمَا وعدهم الله عز وجل قطّ بِأَن يوفيهم ذَلِك النَّعيم وَلَو وعدهم بذلك لَكَانَ ذَلِك النَّعيم إِذا استوفي بَطل وفني وانقضى وَإِنَّمَا وعدهم تَعَالَى بنعيم لَا نِهَايَة لَهُ وكل مَا ظهر وَوجد من ذَلِك النَّعيم فَهُوَ مَحْصُور ذُو نِهَايَة وَمَا لم يخرج إِلَى حد الْفِعْل فَهُوَ عدم بعد وَلَا يَقع عَلَيْهِ عدد وَلَا صفة وَهَكَذَا أبدا فقد ظهر أَن لَفْظَة بوفيهم هِيَ الشغيبة الْفَاسِدَة الَّتِي موهوا بهَا فَإِذا أسقطها الْمُعْتَرض من كَلَامه سقط اعتراضه جملَة وَصحت الْقَضِيَّة وَبِاللَّهِ التَّوْفِيق فَإِن قَالَ قَائِل إِن الله تَعَالَى يَقُول وَإِنَّا لموفوهم نصِيبهم غير مَنْقُوص قُلْنَا هَذَا لَا يَخْلُو من أحد وَجْهَيْن لَا ثَالِث لَهما إِمَّا أَن يكون أَرَادَ بذلك نصِيبهم من الْجَزَاء وَيكون أَرَادَ نصبيهم من مساحة الْجنَّة
فَإِن كَانَ عَنى عز وجل بذلك نصِيبهم من الْجَزَاء بالعقاب وَالنَّعِيم فَهُوَ صَحِيح لِأَن كل مَا خرج من ذَلِك إِلَى حد الْوُجُود فَهُوَ مُسْتَوفى بِيَقِين وَهَكَذَا أبدا
وَإِن كَانَ تَعَالَى عَنى بذلك نصيب كل وَاحِد من الْجنَّة وَالنَّار فَهَذَا صَحِيح لِأَن كل مَكَان مِنْهَا متناه من جِهَة المساحة وَإِنَّمَا نَفينَا التوفية الَّتِي توجب الِانْقِضَاء بِلَا زِيَادَة فِيهَا وَقد قَالَ عز وجل فَأَما الَّذين آمنُوا وَعمِلُوا الصَّالِحَات فيوفيهم أُجُورهم ويزيدهم من فَضله وَقَالَ تَعَالَى {إِنَّمَا يُوفى الصَّابِرُونَ أجرهم بِغَيْر حِسَاب} وَهَاتَانِ الْآيَتَانِ تبينان أَن الْأجر المستوفي هُوَ مَا يعطونه من مساحة الْجنَّة وكل مَا خرج إِلَى الْوُجُود من النَّعيم ثمَّ لَا يزَال تَعَالَى يزيدهم من فَضله كَمَا قَالَ تَعَالَى {بِغَيْر حِسَاب} فَهَذَا لَا يَسْتَوْفِي أبدا لِأَنَّهُ لَا نِهَايَة لَهُ وَلَا كل وَلَو استوفي لم يُمكن أَن تكون فِيهِ زِيَادَة إِذْ بِالضَّرُورَةِ يعلم أَن مَا استوفى فَلَا زِيَادَة فِيهِ وَمَا تمكن الزِّيَادَة فِيهِ فَلم يسْتَوْف بعد وَالله تَعَالَى قد نَص على أَن بعد تِلْكَ التوفية زِيَادَة فصح أَنَّهَا تَوْفِيَة لشَيْء مَحْدُود متناه وَأَن مَا لَا نِهَايَة لَهُ فَلَا يسْتَوْفى أبدا فقد ثَبت بِكُل مَا ذكرنَا أَن الْعَالم ذُو أول وَإِذا كَانَ ذَا أول فَلَا بُد ضَرُورَة من أحد ثَلَاثَة أوجه لَا رَابِع لَهَا وَهِي إِمَّا أَن يكون أحدث ذَاته وَإِمَّا أَن يكون حدث بِغَيْر أَن يحدثه غَيره وَبِغير أَن يحدث هُوَ نَفسه وَإِمَّا أَن يكون أحدثه غَيره فَإِن كَانَ هُوَ أحدث ذَاته فَلَا يَخْلُو من أحد أَرْبَعَة وُجُوه لَا خَامِس لَهَا وَهِي إِمَّا أَن يكون أحدث ذَاته وَهُوَ مَعْدُوم وَهِي مَوْجُودَة أَو أحدث ذَاته وَهُوَ مَوْجُود وَهِي مَعْدُومَة أَو أحدثها وَكِلَاهُمَا مَوْجُود أَو أحدثها وَكِلَاهُمَا مَعْدُوم وكل هَذِه الْأَرْبَعَة الْأَوْجه محَال مُمْتَنع لَا سَبِيل إِلَى شَيْء مِنْهَا
মূর্খরা এবং তারা যার ওপর ভিত্তি করে কাজ করে, আর এই আপত্তিটি এই শ্রেণিভুক্ত। তা হলো তারা আমাদেরকে এই বাধ্যবাধকতায় ফেলতে চেয়েছিল যে, আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালী জান্নাতবাসীদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে তিনি তাদেরকে এমন নিয়ামত পূর্ণমাত্রায় দান করবেন যার কোনো শেষ নেই। এটি ভুল ও মিথ্যা। আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালী তাদেরকে কখনো এই প্রতিশ্রুতি দেননি যে তিনি তাদেরকে সেই নিয়ামত পূর্ণমাত্রায় (একবারে) প্রদান করে দেবেন। তিনি যদি তাদেরকে সেই প্রতিশ্রুতি দিতেন, তবে সেই নিয়ামত যখন পূর্ণমাত্রায় প্রদান শেষ হয়ে যেত, তখন তা অসার হয়ে যেত, নিঃশেষ হয়ে যেত এবং ফুরিয়ে যেত। বরং আল্লাহ তাআলা তাদেরকে এমন নিয়ামতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যার কোনো শেষ নেই। আর সেই নিয়ামতের মধ্য থেকে যা কিছু প্রকাশ পায় এবং অস্তিত্ব লাভ করে, তা সীমাবদ্ধ ও সসীম। আর যা কিছু এখনো বাস্তবে প্রকাশিত হয়নি, তা বর্তমানে অবিদ্যমান এবং তার ওপর কোনো সংখ্যা বা বৈশিষ্ট্য আরোপিত হয় না। এভাবেই সর্বদা চলতে থাকবে। সুতরাং এটি স্পষ্ট হলো যে, "তিনি তাদেরকে পূর্ণমাত্রায় দেবেন" শব্দবন্ধটিই হলো সেই ভ্রান্ত প্রতারণা যা দিয়ে তারা বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। সুতরাং যখন কোনো আপত্তিকারী তার বক্তব্য থেকে এটি বাদ দেবে, তখন তার আপত্তিটি সামগ্রিকভাবে ভিত্তিহীন হয়ে যাবে এবং বিষয়টি সঠিকরূপে প্রমাণিত হবে। আর আল্লাহর নিকটই তাওফিক প্রার্থনা করি। যদি কেউ বলে যে আল্লাহ তাআলা বলেন: "এবং আমি অবশ্যই তাদেরকে তাদের প্রাপ্য অংশ কোনো কমতি ছাড়াই পূর্ণমাত্রায় প্রদান করব।" আমরা বলব, এটি দুটি বিষয়ের কোনো একটির বাইরে নয় এবং এর তৃতীয় কোনো পথ নেই: হয় তিনি এর দ্বারা তাদের প্রতিদানের অংশ বুঝিয়েছেন, অথবা জান্নাতের আয়তনের মধ্যে তাদের যে অংশ রয়েছে তা বুঝিয়েছেন।
যদি আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালী এর দ্বারা শাস্তি ও নিয়ামতের মাধ্যমে তাদের প্রতিদানের অংশ বুঝিয়ে থাকেন, তবে তা সঠিক; কারণ এর মধ্য থেকে যা কিছু অস্তিত্বের সীমায় প্রকাশিত হয়, তা নিশ্চিতভাবেই পূর্ণরূপে প্রদান করা হয়, এবং এভাবেই সর্বদা চলতে থাকবে।
আর যদি আল্লাহ তাআলা এর দ্বারা জান্নাত ও জাহান্নামে প্রত্যেকের অংশ বুঝিয়ে থাকেন, তবে তাও সঠিক; কারণ এর প্রতিটি স্থান আয়তনের দিক থেকে সসীম। আমরা তো কেবল সেই পূর্ণমাত্রায় প্রদানকে অস্বীকার করেছি যা কোনো প্রকার বৃদ্ধি ছাড়াই সমাপ্তি ঘটানোকে আবশ্যক করে। আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালী বলেছেন: "তবে যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, তিনি তাদেরকে তাদের পুরস্কার পূর্ণমাত্রায় দেবেন এবং আপন অনুগ্রহে আরও বৃদ্ধি করবেন।" এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "ধৈর্যশীলদেরকে তো তাদের পুরস্কার দেওয়া হবে অপরিমিতভাবে।" এই আয়াত দুটি স্পষ্ট করে দেয় যে, যে পুরস্কারটি পূর্ণমাত্রায় প্রদান করা হয় তা হলো জান্নাতের আয়তনের মধ্য থেকে যা তারা প্রাপ্ত হয় এবং নিয়ামতের মধ্য থেকে যা কিছু অস্তিত্বে প্রকাশিত হয়। এরপর আল্লাহ তাআলা সর্বদা আপন অনুগ্রহে তাদেরকে আরও বৃদ্ধি করতে থাকবেন যেমনটি তিনি বলেছেন: "হিসাবহীনভাবে"। সুতরাং এটি কখনো পূর্ণমাত্রায় শেষ হবে না, কারণ এর কোনো শেষ নেই এবং তা নিঃশেষিত হওয়ার নয়। যদি তা পূর্ণমাত্রায় সমাপ্ত হয়ে যেত, তবে তাতে কোনো বৃদ্ধি ঘটা সম্ভব হতো না; কারণ অনিবার্যভাবে এটি জানা যে, যা পূর্ণমাত্রায় সমাপ্ত হয়ে গেছে তাতে আর কোনো বৃদ্ধি থাকে না। আর যাতে বৃদ্ধি ঘটা সম্ভব, তা এখনো পূর্ণমাত্রায় সমাপ্ত হয়নি। আল্লাহ তাআলা এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, সেই পূর্ণমাত্রায় প্রদানের পর আরও বৃদ্ধি রয়েছে। সুতরাং এটি সঠিক প্রমাণিত হলো যে, তা ছিল কোনো একটি সীমাবদ্ধ ও সসীম জিনিসের পূর্ণ প্রদান, আর যার কোনো শেষ নেই তা কখনো পূর্ণমাত্রায় সমাপ্ত হয় না। আমরা যা উল্লেখ করলাম তার মাধ্যমে প্রমাণিত হলো যে, জগতের একটি শুরু আছে। আর যার শুরু আছে, তার ক্ষেত্রে অনিবার্যভাবে তিনটি অবস্থার কোনো একটি প্রযোজ্য হবে যার কোনো চতুর্থটি নেই: হয় সে নিজের অস্তিত্ব নিজে দান করেছে, অথবা অন্য কারো সৃষ্টি করা ছাড়াই এবং সে নিজে নিজেকে সৃষ্টি করা ছাড়াই সে নিজে নিজে সৃষ্টি হয়েছে, অথবা তাকে অন্য কেউ সৃষ্টি করেছে। যদি সে নিজেই নিজের অস্তিত্ব সৃষ্টি করে থাকে, তবে তা চারটি বিষয়ের কোনো একটি থেকে মুক্ত নয় যার কোনো পঞ্চমটি নেই: হয় সে নিজের অস্তিত্ব দান করেছে যখন সে নিজে অবিদ্যমান ছিল এবং অস্তিত্বটি বিদ্যমান ছিল, অথবা সে নিজের অস্তিত্ব দান করেছে যখন সে বিদ্যমান ছিল এবং অস্তিত্বটি অবিদ্যমান ছিল, অথবা সে অস্তিত্ব দান করেছে এবং উভয়টিই বিদ্যমান ছিল, অথবা সে অস্তিত্ব দান করেছে এবং উভয়টিই অবিদ্যমান ছিল। এই চারটি অবস্থাই অসম্ভব ও অসার, এগুলোর কোনো একটিরও কোনো পথ নেই।
(খণ্ড: ١)
আল-ফাসলু ফিল মিলালি ওয়াল আহওয়া-ই ওয়ান নিহাল
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
لِأَن الشَّيْء وذاته هِيَ هُوَ وَهُوَ هِيَ وكل مَا ذكرنَا من الْوُجُوه يُوجب أَن يكون الشَّيْء غير ذَاته وَهَذَا محَال وباطل بِالْمُشَاهَدَةِ والحس فَهَذَا وَجه قد بَطل ثمَّ نقُول وَإِن كَانَ خرج عَن الْعَدَم إِلَى الْوُجُود بِغَيْر أَن يخرج هُوَ ذَاته أَو يُخرجهُ غَيره فَهَذَا أَيْضا محَال لِأَنَّهُ لَا حَال أولى بِخُرُوجِهِ إِلَى الْوُجُود من حَال أُخْرَى وَلَا حَال أصلا هُنَالك فَإِذا لَا سَبِيل إِلَى خُرُوجه وَخُرُوجه مشَاهد مُتَيَقن فحال الْخُرُوج غير حَال اللاخروج وَحَال الْخُرُوج هِيَ عِلّة كَونه وَهَذَا لَازم فِي تِلْكَ الْحَال أَعنِي إِن حَال الْخُرُوج يلْزم فِي حدوثها مثل مَا لزم فِي حُدُوث الْعَالم من أَن تكون أخرجت نَفسهَا أَو أخرجهَا غَيرهَا أَو خرجت بِغَيْر هذَيْن الْوَجْهَيْنِ وَهَكَذَا فِي كل حَال فَإِن تمادي الْكَلَام وَجب بِمَا قدمْنَاهُ إِلَّا نِهَايَة وَإِلَّا نِهَايَة فِي الْعَالم من مبدئه بَاطِل مُمْتَنع محَال فَإِذا قد بَطل أَن يخرج الْعَالم بِنَفسِهِ وَبَطل أَن يخرج دون أَن يُخرجهُ غَيره فقد ثَبت الْوَجْه الثَّالِث ضَرُورَة إِذْ لم يبْق غَيره الْبَتَّةَ فَلَا بُد من صِحَّته وَهُوَ أَن الْعَالم أخرجه غَيره من الْعَدَم إِلَى الْوُجُود وَبِاللَّهِ تَعَالَى التَّوْفِيق وَأَيْضًا فَإِن الْفلك بِكُل مَا فِيهِ ذُو آثر مَحْمُولَة فِيهِ من نقلة زمانية وحركة دورية فِي كَون كل جُزْء من أَجْزَائِهِ فِي مَكَان الَّذِي يَلِيهِ والأثر مَعَ الْمُؤثر من بَاب الْمُضَاف فَإِن لم يكن أثرٌ لم يكن مؤثرٌ وَإِن لم يكن مُؤثر لم يكن أثرٌ فَوَجَبَ بذلك أَنه لَا بُد لهَذِهِ الْآثَار الظَّاهِرَة من مؤثرٌ أَثَرهَا وَلَا سَبِيل إِلَى أَن يكون الْفلك أَو شَيْء مِمَّا فِيهِ هُوَ الْمُؤثر لِأَنَّهُ يصير هُوَ الْمُؤثر والمؤثر فِيهِ مَعَ أَن الْمُؤثر والأثر من بَاب الْمُضَاف أَيْضا وَمعنى قَوْلنَا أَن الْمُؤثر والأثر والمؤثر فِيهِ من بَاب الْمُضَاف إِنَّمَا هُوَ أَن الْأَثر والمؤثر فِيهِ يقتضيان مؤثرا وَلَا بُد وَلم يرد أَن الْبَارِي تَعَالَى يَقع تَحت الْإِضَافَة فَلَا بُد ضَرُورَة من مُؤثر لَيْسَ مؤثراً فِيهِ وَلَيْسَ هُوَ شَيْئا مِمَّا فِي الْعَالم فَهُوَ بِالضَّرُورَةِ الْخَالِق الأول الْوَاحِد تبارك وتعالى فصح بِهَذَا أَن الْعَالم كُله مُحدث وَأَن لَهُ مُحدثا هُوَ غَيره هَذَا الَّذِي مَا نرَاهُ ويشاهد بالحواس من آثَار الصَّنْعَة الَّتِي لَا يشك فِيهَا ذُو عقل
وَمن بعض ذَلِك تراكيب الأفلاك وتداخلها ودوام دورانها على اخْتِلَاف مراكزها ثمَّ أفلاك تداويرها والبون بَين حَرَكَة أفلاك التداوير والأفلاك الحاملة لَهَا ودوران الأفلاك كلهَا من غرب إِلَى شَرق ودوران الْفلك التَّاسِع الْكُلِّي بِخِلَاف ذَلِك من شَرق إِلَى غرب وإدارته لجَمِيع الأفلاك مَعَ نَفسه كَذَلِك فَحدث من ذَلِك حركتان متعارضتان فِي حَرَكَة وَاحِدَة فالبضرورة نعلم أَن لَهَا محركاً على هَذِه
কারণ কোনো বস্তু ও তার সত্তা মূলত অভিন্ন; আর আমরা ইতিপূর্বে যেসব দিক উল্লেখ করেছি, তা বস্তুকে তার সত্তা থেকে ভিন্ন হওয়ার আবশ্যকতা তৈরি করে। আর এটি পর্যবেক্ষণ ও ইন্দ্রিয়লব্ধ জ্ঞানের বিচারে অসম্ভব ও বাতিল। সুতরাং এই সম্ভাবনাটি বাতিল হয়ে গেল। এরপর আমরা বলি, যদি তা অস্তিত্বহীনতা থেকে অস্তিত্বে বের হয়ে এসে থাকে এমনভাবে যে, না সে নিজে নিজেকে বের করেছে, না অন্য কেউ তাকে বের করেছে, তবে এটিও অসম্ভব। কারণ, এক অবস্থা অন্য অবস্থার চেয়ে অস্তিত্বে আসার জন্য অধিকতর যোগ্য নয়, বরং সেখানে আদৌ কোনো অবস্থা নেই। সুতরাং তার অস্তিত্বে আসার কোনো পথ থাকে না, অথচ তার অস্তিত্বে আসার বিষয়টি প্রত্যক্ষ ও নিশ্চিত। সুতরাং অস্তিত্বে আসার অবস্থা এবং অস্তিত্বে না থাকার অবস্থা ভিন্ন। অস্তিত্বে আসার অবস্থাই হলো তার অস্তিত্বের কারণ। আর এটি সেই অবস্থার ক্ষেত্রে অপরিহার্য। অর্থাৎ, অস্তিত্বে আসার অবস্থাটি তার সূচনার ক্ষেত্রে তেমনই আবশ্যক যেমনটি জগতের সূচনার ক্ষেত্রে আবশ্যক হয়েছিল—তা হলো, হয় সে নিজেকে সৃষ্টি করেছে, অথবা অন্য কেউ তাকে সৃষ্টি করেছে, অথবা এই দুই পন্থার বাইরে সৃষ্টি হয়েছে। প্রত্যেক অবস্থার ক্ষেত্রেই বিষয়টি এমন। আর যদি কথাটি দীর্ঘায়িত হয়, তবে আমাদের পূর্বালোচিত নিয়ম অনুযায়ী তা অসীম পর্যন্ত গড়াবে। অথচ জগতের সূচনার ক্ষেত্রে অসীম পর্যন্ত যাওয়া বাতিল ও অসম্ভব। সুতরাং জগৎ কর্তৃক নিজেকে সৃষ্টি করা যেমন বাতিল হলো, তেমনি অন্য কারো সৃষ্টি করা ব্যতীত সৃষ্টি হওয়াও বাতিল হলো। ফলে অপরিহার্যভাবে তৃতীয় দিকটি প্রমাণিত হলো, যেহেতু এটি ছাড়া আর কোনো পথ অবশিষ্ট নেই। আর তা হলো—অন্য কেউ এই জগতকে অস্তিত্বহীনতা থেকে অস্তিত্বে এনেছেন। আর আল্লাহ তাআলাই তৌফিকদাতা। তদুপরি, আকাশমণ্ডলী এবং এতে যা কিছু আছে তা সময়গত স্থানান্তর এবং আবর্তনিক গতির ন্যায় বিভিন্ন বহনকৃত প্রভাবের আধার; যার প্রতিটি অংশ তার পার্শ্ববর্তী স্থানের অন্তর্ভুক্ত। আর প্রভাব ও প্রভাব বিস্তারকারী মূলত আপেক্ষিক বা সম্বন্ধযুক্ত বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত। যদি প্রভাব না থাকে তবে প্রভাব বিস্তারকারীও থাকে না, আর যদি প্রভাব বিস্তারকারী না থাকে তবে প্রভাবও থাকে না। এর মাধ্যমে এটি আবশ্যক হয়ে গেল যে, এই প্রকাশ্য প্রভাবগুলোর জন্য অবশ্যই একজন প্রভাব বিস্তারকারী থাকতে হবে যিনি এগুলোকে প্রভাবিত করেছেন। আর আকাশমণ্ডলী বা এর ভেতরের কোনো কিছুর পক্ষে প্রভাব বিস্তারকারী হওয়া সম্ভব নয়; কারণ তবে সে নিজেই প্রভাব বিস্তারকারী এবং প্রভাবিত উভয়ই হয়ে পড়বে। অথচ প্রভাব বিস্তারকারী ও প্রভাব—এগুলোও আপেক্ষিক বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত। আমাদের একথা বলার অর্থ হলো যে, প্রভাব বিস্তারকারী, প্রভাব এবং যা প্রভাবিত—এগুলো আপেক্ষিক; অর্থাৎ প্রভাব এবং যা প্রভাবিত তা অবশ্যই একজন প্রভাব বিস্তারকারীর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। এর দ্বারা এটি উদ্দেশ্য নয় যে, মহান স্রষ্টা কোনো আপেক্ষিকতার অধীনে পড়েন। সুতরাং অপরিহার্যভাবে এমন একজন প্রভাব বিস্তারকারী প্রয়োজন যিনি নিজে প্রভাবিত নন এবং তিনি জগতের কোনো বস্তুর সদৃশ নন। অতএব তিনিই অকাট্যভাবে প্রথম স্রষ্টা এবং এক ও অদ্বিতীয়, তিনি বরকতময় ও সুউচ্চ। এর মাধ্যমে এটি শুদ্ধ প্রমাণিত হলো যে, সমগ্র জগৎ সৃষ্ট বা নতুন এবং এর একজন সৃষ্টিকর্তা আছেন যিনি জগৎ থেকে ভিন্ন। এটি এমন এক বিষয় যা আমরা দেখতে পাই এবং নির্মাণশৈলীর সেসব নিদর্শনের মাধ্যমে ইন্দ্রিয় দ্বারা পর্যবেক্ষণ করি, যে বিষয়ে কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তি সন্দেহ পোষণ করে না।
এর কিছু উদাহরণ হলো—আকাশমণ্ডলীর গঠন ও বিন্যাস, তাদের পারস্পরিক প্রবিষ্টতা এবং বিভিন্ন কেন্দ্রের ভিত্তিতে তাদের নিরন্তর আবর্তন। এরপর তাদের আবর্তনশীল কক্ষপথ এবং আবর্তনশীল কক্ষপথ ও সেগুলোকে ধারণকারী আকাশমণ্ডলীর গতির মধ্যবর্তী ব্যবধান, এবং সমস্ত আকাশমণ্ডলীর পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে আবর্তন। পক্ষান্তরে নবম বা সর্ববৃহৎ আকাশমণ্ডলীর আবর্তন এর বিপরীত—অর্থাৎ পূর্ব থেকে পশ্চিম দিকে, যা তার সাথে সমস্ত আকাশমন্ডলীকেও একইভাবে ঘুরাচ্ছে। ফলে এর মাধ্যমে এক গতির ভেতরেই দুটি বিপরীতমুখী গতির উদ্ভব ঘটেছে। সুতরাং আমরা অপরিহার্যভাবে জানি যে, এগুলোর জন্য এই বিশেষ পদ্ধতিতে একজন পরিচালক রয়েছেন।
(খণ্ড: ١)
আল-ফাসলু ফিল মিলালি ওয়াল আহওয়া-ই ওয়ান নিহাল
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
الْوُجُوه الْمُخْتَلفَة
ثمَّ تراكيب أَعْضَاء الْإِنْسَان وَالْحَيَوَان من إِدْخَال الْعِظَام المحدبة فِي المقعرة وتركيب العضل على تِلْكَ المداخل والشد على ذَلِك بالعصب وَالْعُرُوق صناعَة ظَاهِرَة لَا شكّ فِيهَا لَا ينقصها إِلَّا رُؤْيَة الصَّانِع فَقَط
وَمن ذَلِك مَا يظْهر فِي الأصباغ الْمَوْضُوعَة فِي جُلُود كثير من الْحَيَوَان وريشه ووبره وشعره وظفره وقشره على رُتْبَة وَاحِدَة وَوضع وَاحِد لَا تخَالف فِيهِ كاضباغ الحجل والشفانين اليمام وَالسمان والبزاة وَكثير من الطير والسلاحف والحشارت والسمك لَا يخْتَلف تنقيطه الْبَتَّةَ وَلَا تكون أصباغه مَوْضُوعَة إِلَّا وضعا وَاحِدًا كأذناب الطواويس وَفِي السّمك وَالْجَرَاد والحشرات نوعا وَاحِدًا كَالَّذي يصوره المصور بَيْننَا
ثمَّ مِنْهَا مَا يَأْتِي مُخْتَلفا كأصباغ الدَّجَاج وَالْحمام والبط وَكثير من الْحَيَوَان فالبضرورة والحس نعلم أَن لذَلِك صانعاً مُخْتَارًا يفعل ذَلِك كُله كَمَا شَاءَ ويحصيه إحصاء لَا يضطرب أبدا عَمَّا شَاءَ من ذَلِك وَلَيْسَ يُمكن الْبَتَّةَ فِي حس الْعقل أَن تكون هَذِه المختلفات المضبوطة ضبطاً لَا تفَاوت فِيهِ من فعل طبيعة وَلَا بُد لَهَا من صانع قَاصد إِلَى صَنْعَة كل ذَلِك وَمن دري مَا الطبيعة علم أَنَّهَا قُوَّة مَوْضُوعَة فِي الشَّيْء تجْرِي بهَا صِفَاته على مَا هِيَ عَلَيْهِ فَقَط وبالضرورة يعلم أَن لَهَا وَاضِعا ومرتباً وصانعاً لِأَنَّهَا لَا تقوم بِنَفسِهَا وَإِنَّمَا هِيَ يحولة على ذِي الطبيعة وَمِنْهَا مَا نرى فِي لِيف النّخل والدوم من النسج الْمَصْنُوع يَقِينا بنيرين وسدى كَالَّذي يصنعه النساج مَا تنْقصنَا إِلَّا رُؤْيَة الصَّانِع فَقَط وَلَيْسَ هَذَا الْبَتَّةَ من فعل طبيعة وَلَا بنسج ناسج وَلَا بِنَاء وَلَا صانع أصباغ مرتبَة بل صَنْعَة صانع مُخْتَار قَاصد إِلَى ذَلِك غير ذِي طبيعة لكنه قَادر على مَا يَشَاء هَذَا أَمر مَعْلُوم بضرورة الْعقل وأوله يَقِينا كَمَا نعلم أَن الثَّلَاثَة أَكثر من الِاثْنَيْنِ فصح أَنه خَالق أول وَاحِد حق لَا يشبه شَيْئا من خلقه الْبَتَّةَ لَا إِلَه إِلَّا هُوَ الْوَاحِد الأول الْخَالِق عز وجل
بَاب الْكَلَام على من قَالَ إِن الْعَالم لم يزل وَله مَعَ ذَلِك فَاعل لم يزل
قَالَ أَبُو مُحَمَّد رضي الله عنه قد أفسدنا بحول الله وقوته بالبراهين الَّتِي قدمنَا هَذِه الْمقَالة وَلَكِن بَقِي لَهُم اعْتِرَاض وَجب إِيرَاده تقصياً لكل مَا موهوا بِهِ
قَالَ أَبُو مُحَمَّد رضي الله عنه اعْتمد أهل هَذِه الْمقَالة على أَن قَالُوا إِن عِلّة فعل الْبَارِي تَعَالَى إِنَّمَا هُوَ وجوده وحكمته وَقدرته وَهُوَ تَعَالَى لم يزل جواداً حكيماً قَادِرًا فالعالم لم يزل إِذْ علته لم تزل فَهَذَا فَاسد الْبَتَّةَ بِالدّلَالَةِ
বিভিন্ন দিক বা প্রেক্ষিতসমূহ
অতঃপর মানুষ ও প্রাণীর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের গঠনশৈলী—যেখানে উত্তল হাড়কে অবতল হাড়ের ভেতরে স্থাপন করা হয়েছে, সেই সন্ধিস্থলগুলোতে পেশি বিন্যস্ত করা হয়েছে এবং স্নায়ু ও শিরার মাধ্যমে সেগুলোকে সুদৃঢ় করা হয়েছে—তা এক সুস্পষ্ট কারুকার্য যাতে কোনো সন্দেহ নেই। কেবল কারিগরের চাক্ষুষ দর্শন ছাড়া এখানে আর কোনো কিছুরই ঘাটতি নেই।
তদ্রূপ অনেক প্রাণীর চামড়া, পালক, পশম, চুল, নখ ও আবরণে বিন্যস্ত রঙের বৈচিত্র্য যা একটি সুনির্দিষ্ট ক্রম ও বিন্যাস অনুযায়ী বিদ্যমান, যাতে কোনো বৈসাদৃশ্য দেখা যায় না। যেমন—তিতির পাখি, বনকবুতর, ঘুঘু, কোয়েল, বাজপাখি এবং আরও অনেক পাখি, কচ্ছপ, কীটপতঙ্গ ও মাছের গায়ের ছোপ বা তিলকসমূহ মোটেও ভিন্নতর হয় না। এগুলোর রঙের বিন্যাস কেবল একটি নির্দিষ্ট নিয়মেই হয়ে থাকে, যেমন ময়ূরের লেজ কিংবা মাছ, পঙ্গপাল ও কীটপতঙ্গের ক্ষেত্রে দেখা যায়—যেন এটি আমাদের মধ্যকার কোনো এক চিত্রশিল্পীর নিপুণ অঙ্কন।
আবার এদের মধ্যে এমন কিছু আছে যা বৈচিত্র্যময় ও ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে, যেমন—মুরগি, কবুতর, হাঁস ও আরও অনেক প্রাণীর রং। সুতরাং প্রবৃত্তিগত জ্ঞান ও ইন্দ্রিয়লব্ধ চেতনার মাধ্যমে আমরা নিশ্চিতভাবে জানি যে, এর পেছনে একজন ইচ্ছাশক্তি সম্পন্ন স্রষ্টা রয়েছেন, যিনি তাঁর ইচ্ছানুসারে এসব কিছু সৃষ্টি করেন এবং এমন সূক্ষ্মভাবে এগুলো পরিমাপ করেন যা তাঁর ইচ্ছার পরিপন্থী হয়ে কখনোই বিশৃঙ্খল হয় না। যুক্তিগ্রাহ্য অনুভূতির পক্ষে এটি কোনোভাবেই সম্ভব নয় যে, এই সুশৃঙ্খল ও ত্রুটিহীন বৈচিত্র্য কোনো জড় প্রকৃতির ক্রিয়া হতে পারে। বরং অবশ্যই এর পেছনে এমন এক কারিগর রয়েছেন যিনি সুনির্দিষ্ট সংকল্প নিয়ে এসব নিপুণভাবে তৈরি করেছেন। আর যে ব্যক্তি ‘প্রকৃতি’ সম্পর্কে অবগত, সে জানে যে এটি কেবল বস্তুর মধ্যে নিহিত একটি শক্তি যার মাধ্যমে বস্তুটির গুণাবলি কেবল তার নিজস্ব নিয়ম অনুযায়ী পরিচালিত হয়। আর অনিবার্যভাবেই এটি জানা যায় যে, এর একজন স্থাপনকারী, বিন্যাসকারী ও নির্মাতা রয়েছেন। কারণ প্রকৃতি নিজে নিজে প্রতিষ্ঠিত থাকতে পারে না, বরং এটি প্রকৃতির অধিকারী সত্তার ওপর নির্ভরশীল একটি অবস্থা মাত্র। এর মধ্যে আরও রয়েছে খেজুর ও দোম বৃক্ষের তন্তুর মাঝে আমরা যে বুনন দেখতে পাই, যা নিশ্চিতভাবেই টানা ও পোড়েনের মাধ্যমে তৈরি এক সুনিপুণ বুনন—ঠিক যেমনটি একজন তাঁতি বুনে থাকে। এখানে কেবল কারিগরকে স্বচক্ষে দেখাটাই বাকি। এটি কোনোভাবেই জড় প্রকৃতির কাজ নয়, কিংবা কোনো সাধারণ বুননকারী, রাজমিস্ত্রি বা রঙমিস্ত্রির কাজ নয়। বরং এটি একজন ইচ্ছাশক্তি সম্পন্ন সুনিপুণ কারিগরের কাজ, যিনি সুনির্দিষ্ট সংকল্প নিয়ে এটি করেছেন; যিনি জড় প্রকৃতির মতো নন বরং যা ইচ্ছা তা করতে সক্ষম। এটি যুক্তির অনিবার্য দাবি ও এর প্রাথমিক অকাট্য জ্ঞান, ঠিক যেমন আমরা জানি যে তিন সংখ্যাটি দুইয়ের চেয়ে বড়। সুতরাং এটি প্রমাণিত হলো যে, তিনিই হলেন আদি স্রষ্টা, এক ও সত্য, যাঁর সৃষ্টির সাথে তাঁর বিন্দুমাত্র সাদৃশ্য নেই। তিনি ব্যতীত আর কোনো উপাস্য নেই, তিনি এক, অনাদি ও মহান স্রষ্টা।
যারা দাবি করে যে জগত অনাদি এবং সেই সাথে এর একজন অনাদি কর্তা রয়েছেন, তাদের বক্তব্যের খণ্ডন।
আবু মুহাম্মদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: আল্লাহর সাহায্য ও শক্তিতে আমরা ইতিপূর্বে বর্ণিত প্রমাণাদি দ্বারা এই মতবাদকে অসার প্রমাণ করেছি। তবে তাদের কিছু আপত্তি অবশিষ্ট রয়ে গেছে, যা তাদের সকল বিভ্রান্তি উন্মোচনের স্বার্থে উল্লেখ করা আবশ্যক।
আবু মুহাম্মদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: এই মতবাদের অনুসারীরা মূলত এই যুক্তির ওপর নির্ভর করে যে—আল্লাহ তাআলার কাজের কারণ হলো তাঁর অস্তিত্ব, প্রজ্ঞা ও ক্ষমতা। আর তিনি অনাদিকাল থেকেই পরম দাতা, প্রজ্ঞাময় ও ক্ষমতাবান। সুতরাং জগতও অনাদি, কারণ এর পেছনের কারণটি অনাদি। কিন্তু দলিলের ভিত্তিতে এটি সম্পূর্ণ ভ্রান্ত।
(খণ্ড: ١)
আল-ফাসলু ফিল মিলালি ওয়াল আহওয়া-ই ওয়ান নিহাল
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
الَّتِي قدمنَا الَّتِي تضطر إِلَى الْمعرفَة والتيقن بحدوث الْعَالم ثمَّ نقُول أَنه إِنَّمَا يلْزم هَذَا من أقرّ بِهَذِهِ الْمُقدمَة أَعنِي أَن للْعَالم عِلّة وَأما نَحن فَإنَّا نقُول أَنه لَا عِلّة لتكوين الله عز وجل كل مَا كَونه وَأَنه لَا شَيْء غير الْخَالِق وخلقه ثمَّ نقُول على علم هَؤُلَاءِ قولا كَافِيا إِن شَاءَ الله تَعَالَى وَهُوَ أَن الْمَفْعُول هُوَ الْمُنْتَقل من الْعَدَم إِلَى الْوُجُود بِمَعْنى من لَيْسَ إِلَى شَيْء فَهَذَا هُوَ الْمُحدث وَمعنى الْمُحدث هُوَ مَا لم يكن ثمَّ كَانَ وهم يَقُولُونَ أَنه الَّذِي لم يزل وَهَذَا هُوَ خلاف الْمَعْقُول لِأَن الَّذِي لم يكن ثمَّ كَانَ هُوَ غير الَّذِي لم يزل فالعالم إِذا هُوَ غير نَفسه وَهَذَا عين الْمحَال وَبِاللَّهِ تَعَالَى التَّوْفِيق فَإِن قَالَ لنا قَائِل لما كَانَ الْبَارِي تَعَالَى غير فَاعل على قَوْلكُم ثمَّ صَار فَاعِلا فقد لحقته اسْتِحَالَة وَتَعَالَى الله عَن ذَلِك قُلْنَا لَهُ وَبِاللَّهِ التَّوْفِيق هَذَا السُّؤَال رَاجع عَلَيْكُم إِذْ صححتموه فَهُوَ لكم لَازم لَا لنا إِذْ لم نصححه وَذَلِكَ أَنه إِن كَانَ عنْدكُمْ الْفِعْل مِنْهُ بعد أَن كَانَ غير فَاعل يرحب الاستحالة على الْفَاعِل تعال فَإِن فعله لما أحدث من الْإِعْرَاض عنْدكُمْ بعد أَن كَانَ غير مُحدث لَهَا وإعدامه مَا أعدم مِنْهَا بعد أَن كَانَ غير معدم لَهَا مُوجب عَلَيْهِ الاستحالة فأجيبوا عَن سؤلكم الَّذِي صححتموه وَلَا جَوَاب لكم إِلَّا بإفساده وَأما نَحن فَنَقُول إِن الاستحالة لَيست مَا ذكرْتُمْ وَإِنَّمَا معنى الاستحالة أَنه حُدُوث شَيْء فِي المستحيل لم يكن فِيهِ قبل ذَلِك صَار بِهِ مستحيلاً عَن صفته المحمولة عَلَيْهِ إِلَى غَيرهَا وَهَذَا الْمَعْنى منفي عَن الله تَعَالَى أَي أَنه تَعَالَى بِحل عَن أَن يكون حَامِلا لصفة عَلَيْهِ بل بِذَاتِهِ لم يفعل إِن كَانَ غير فَاعل وبذاته فعل إِن فعل وَلَا عِلّة لما فعل وَلَا عِلّة لما لم يفعل وَأَيْضًا فَإِن الَّذِي لم يزل هُوَ الَّذِي لَا فَاعل لَهُ وَلَا مخرج لَهُ من عدم إِلَى وجود فَلَو كَانَ الْعَالم لم يزل لَكَانَ لَا مخرج لَهُ وَلَا فَاعل لَهُ وَقد أقرّ أهل هَذِه الْمقَالة بِأَن الْعَالم لم يزل وَإِن لَهُ فَاعِلا لم يزل يفعل وَهَذَا عين الْمحَال والتخليط وَالْفساد وَبِاللَّهِ تَعَالَى التَّوْفِيق
بَاب الْكَلَام على من قَالَ أَن للْعَالم خَالِقًا لم يزل وَأَن النَّفس وَالْمَكَان الْمُطلق الَّذِي هُوَ الخلا وَالزَّمَان الْمُطلق الَّذِي هُوَ الْمدَّة لم تزل مَوْجُودَة وَأَنَّهَا غير محدثة
قَالَ أَبُو مُحَمَّد رضي الله عنه النَّفس عِنْد هَؤُلَاءِ جَوْهَر قَائِم بِنَفسِهِ حَامِل لأعراضه لَا متحرك وَلَا منقسم وَلَا مُتَمَكن أَي لَا فِي مَكَان وَقد ناظرني قوم من أهل هَذَا الرَّأْي ورأيته كالغالب على ملحدي أَهلِي زَمَاننَا فألزمتهم إلزامات لم ينفكوت مِنْهَا أظهرت بطلَان قَوْلهم بعون الله تَعَالَى
যা আমরা পূর্বে পেশ করেছি, যা বিশ্বের নব্যসৃষ্ট হওয়ার বিষয়ে জ্ঞান ও দৃঢ় বিশ্বাস অর্জনে বাধ্য করে। এরপর আমরা বলব যে, এটি কেবল তাদের জন্যই আবশ্যক হয় যারা এই প্রাঙ্গণটি স্বীকার করে নেয়, অর্থাৎ বিশ্বের একটি কারণ (ইল্লাত) রয়েছে। আর আমাদের কথা হলো, মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ যা কিছু সৃষ্টি করেছেন, তাঁর সেই সৃষ্টির কোনো কারণ নেই; এবং সৃষ্টিকর্তা ও তাঁর সৃষ্টি ছাড়া আর কিছুই নেই। অতঃপর আমরা তাদের মতবাদের ওপর একটি পর্যাপ্ত বক্তব্য প্রদান করব, ইনশাআল্লাহ। আর তা হলো এই যে, 'মাফউল' (কৃত কর্ম বা বস্তু) হচ্ছে তা-ই যা অবিদ্যমানতা থেকে বিদ্যমানতায় স্থানান্তরিত হয়, অর্থাৎ 'কিছুই না' থেকে 'কিছু একটা' হওয়া। এটিই হলো নব্যসৃষ্ট (মুহদাস), আর মুহদাস-এর অর্থ হলো যা পূর্বে ছিল না অতঃপর অস্তিত্ব লাভ করেছে। অথচ তারা বলে যে, তা অনাদি; আর এটি যুক্তিবিরুদ্ধ কথা। কারণ, যা ছিল না অতঃপর অস্তিত্ব লাভ করেছে, তা আর যা অনাদি—তা এক হতে পারে না। সুতরাং এমতাবস্থায় বিশ্ব তার নিজের সত্তা থেকেই ভিন্ন হয়ে যায়, যা স্পষ্টত অসম্ভব। আর আল্লাহর পক্ষ থেকেই তাওফিক আসে। যদি কেউ আমাদের প্রশ্ন করে যে, "তোমাদের কথা অনুযায়ী যখন মহান স্রষ্টা প্রথমে 'কর্তা' (ফায়েল) ছিলেন না, অতঃপর কর্তা হলেন, তবে তো তাঁর মধ্যে পরিবর্তন বা রূপান্তর (ইসতিহালাহ) ঘটে গেল"—অথচ আল্লাহ এ থেকে অনেক ঊর্ধ্বে। আমরা তাকে বলব—আর আল্লাহর পক্ষ থেকেই তাওফিক আসে—এই প্রশ্নটি তোমাদের ওপরই বর্তায়; যেহেতু তোমরা একে সঠিক বলে গণ্য করেছ, তাই এটি তোমাদের জন্যই আবশ্যকীয় হয়, আমাদের জন্য নয়, কারণ আমরা একে সঠিক মনে করি না। আর তা এই কারণে যে, যদি তোমাদের নিকট 'কর্তা' না থাকার পর কর্ম সম্পাদন করা কর্তার জন্য পরিবর্তনকে আবশ্যক করে তোলে, তবে তোমাদের নিকট তিনি যখন কোনো আপতিত গুণাবলি (আরাজ) সৃষ্টি করেন যা পূর্বে ছিল না, অথবা কোনো বিদ্যমান বস্তুকে ধ্বংস করেন যা পূর্বে ধ্বংসপ্রাপ্ত ছিল না, তবে তাও তো তাঁর ওপর পরিবর্তন আবশ্যক করে। অতএব তোমরা তোমাদের নিজেদের করা প্রশ্নের উত্তর দাও এবং একে বাতিল করা ছাড়া তোমাদের নিকট আর কোনো উত্তর নেই। আর আমাদের বক্তব্য হলো, তোমরা যা উল্লেখ করেছ তা পরিবর্তন (ইসতিহালাহ) নয়। বরং পরিবর্তনের অর্থ হলো পরিবর্তনশীল বস্তুর মধ্যে এমন কিছু নতুনভাবে উদ্ভব হওয়া যা পূর্বে ছিল না, যার ফলে সে তার পূর্বের আরোপিত গুণাবলি থেকে অন্য গুণে রূপান্তরিত হয়। আর এই অর্থটি মহান আল্লাহর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। অর্থাৎ আল্লাহ তায়ালা কোনো নতুন গুণের আধার হওয়া থেকে পবিত্র। বরং তিনি যখন কর্তা ছিলেন না তখন তিনি তাঁর নিজ সত্তার মাধ্যমেই কর্ম সম্পাদন করেননি, এবং তিনি যখন কর্ম সম্পাদন করেছেন তখন তাঁর নিজ সত্তার মাধ্যমেই করেছেন। তিনি যা করেছেন তার কোনো কারণ নেই, আর তিনি যা করেননি তারও কোনো কারণ নেই। তাছাড়া, যা অনাদি তা-ই যার কোনো কর্তা নেই এবং যাকে অবিদ্যমানতা থেকে অস্তিত্বে আনার কেউ নেই। সুতরাং বিশ্ব যদি অনাদি হতো, তবে এর কোনো অস্তিত্বদানকারী বা কর্তা থাকত না। অথচ এই মতবাদের অনুসারীরা স্বীকার করে যে বিশ্ব অনাদি, আবার এ-ও বলে যে এর একজন কর্তা আছেন যিনি অনাদিকাল থেকে কাজ করে যাচ্ছেন। এটি চরম অসম্ভব, বিভ্রান্তি ও ভ্রষ্টতা। আর আল্লাহর পক্ষ থেকেই তাওফিক আসে।
পরিচ্ছেদ: যারা বলে যে বিশ্বের একজন অনাদি স্রষ্টা আছেন এবং আত্মা, নিরঙ্কুশ স্থান (যা শূন্যতা) ও নিরঙ্কুশ সময় (যা সময়কাল) অনাদিকাল থেকে বিদ্যমান এবং এগুলো নব্যসৃষ্ট নয়—তাদের বক্তব্যের আলোচনা।
আবু মুহাম্মদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: তাদের মতে আত্মা হলো এমন এক সত্তা যা স্বয়ংসম্পূর্ণ, যা নিজ গুণের আধার, কিন্তু তা গতিশীল নয়, বিভাজ্য নয় এবং স্থান দখলকারী নয়—অর্থাৎ তা কোনো স্থানে নেই। এই মতবাদের অনুসারী একদল লোক আমার সাথে বিতর্কে লিপ্ত হয়েছিল এবং আমি দেখেছি যে আমাদের যুগের নাস্তিকদের মধ্যে এই মতবাদটিই প্রবল। অতঃপর আমি তাদের ওপর এমন কিছু অকাট্য যুক্তি আরোপ করেছি যা থেকে তারা বের হতে পারেনি এবং আল্লাহর সাহায্যে তাদের বক্তব্যের অসারতা স্পষ্ট করে দিয়েছি।
(খণ্ড: ١)
আল-ফাসলু ফিল মিলালি ওয়াল আহওয়া-ই ওয়ান নিহাল
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
وقوته وَلم نر أحدا مِمَّن تكلم قبلنَا ذكر هَذِه الْفرْقَة فَجمعت مَا نظرتهم بِهِ وأضفت إِلَيْهِ مَا وَجَبت إِضَافَته إِلَيْهِ مِمَّا فِيهِ تزييف وَقَوْلهمْ وَمَا توفيقنا إِلَّا بِاللَّه وَهَذَا الزَّمَان وَالْمَكَان عِنْدهم هما غير الْمَكَان الْمَعْهُود عندنَا وَغير الزَّمَان الْمَعْهُود عندنَا لِأَن الْمَكَان الْمَعْهُود عندنَا هُوَ الْمُحِيط بالتمكن فِيهِ من جهاته أَو من بَعْضهَا وَهُوَ يَنْقَسِم إِلَى قسمَيْنِ أما مَكَان يتشكل المتمكن فِيهِ بشكله كالبر أَو المَاء فِي الخابية وَمَا أشبه ذَلِك وَإِمَّا مَكَان يتشكل هُوَ بشكل المتمكن فِيهِ كَالْمَاءِ لما حل بِهِ من الْأَجْسَام وَمَا أشبهه وَالزَّمَان الْمَعْهُود عندنَا هُوَ مُدَّة وجود الجرم سَاكِنا أَو متحركاً أَو مُدَّة وجود الْعرض فِي الْجِسْم ويعمه أَن نقُول هُوَ مُدَّة وجود الْفلك وَمَا فِيهِ من الْحَوَامِل والمحمولات وهم يَقُولُونَ أَن الزَّمَان الْمُطلق وَالْمَكَان الْمُطلق هما غير مَا حددناه آنِفا من الزَّمَان وَالْمَكَان وَيَقُولُونَ أَنَّهُمَا شَيْئا متغايران وَلَقَد كَانَ يَكْفِي من بطلَان قَوْلهم إقرارهم بمَكَان غير مَا يعْهَد وزمان غير مَا يعْهَد بِدَلِيل على ذَلِك وَلَكِن لَا بُد من إِيرَاد الْبَرَاهِين على إبِْطَال دَعوَاهُم فِي ذَلِك بحول الله وقوته فَيُقَال لَهُم وَبِاللَّهِ تَعَالَى التَّوْفِيق أخبرونا عَن هَذَا الْخَلَاء الَّذِي أثبتم وقلتم أَنه كَانَ مَوْجُودا قبل حُدُوث الْفلك وَمَا فِيهِ هَل بَطل بحدوث الْفلك مَا كَانَ مِنْهُ فِي مَكَان الْفلك قبل أَن يحدث الْفلك أَو لم يبطل فَإِن قَالُوا لم يبطل وَبِذَلِك أجابني بَعضهم فَيُقَال لَهُم فَإِن كَانَ لم يبطل فَهَل انْتقل عَن ذَلِك الْمَكَان بحدوث الْفلك فِي ذَلِك الْمَكَان أَو لم ينْتَقل فَإِن قَالُوا لم ينْتَقل وَهُوَ قَوْلهم قيل لَهُم فَإِذا لم يبطل وَلَا انْتقل فَأَيْنَ حُدُوث الْفلك وَقد كَانَ فِي مَوْضِعه قبل حُدُوثه عنْدكُمْ معنى ثَابت قَائِم بِنَفسِهِ مَوْجُود وَهل حدث الْفلك فِي ذَلِك الْمَكَان الْمُطلق الَّذِي هُوَ الْخَلَاء أم فِي غَيره فَإِن كَانَ حدث فِي غَيره فها هُنَا إِذا مَكَان آخر غير الَّذِي سميتموه خلاء وَهُوَ إِمَّا مَعَ الَّذِي ذكرْتُمْ فِي حيّز وَاحِد أم هُوَ فِي حيّز آخر فَإِن كَانَ مَعَه فِي حيّز وَاحِد فالفلك فِيهِ حدث ضَرُورَة وَقد قُلْتُمْ أَنه لم يحدث فِيهِ فَهُوَ وَإِذا حَادث فِيهِ غير حَادث فِيهِ وَهَذَا تنَاقض ومحال وَإِن كَانَ فِي حيّز آخر فقد أنبتم النِّهَايَة للحلاء إِذْ الحيز
...এবং তাঁর শক্তিতে। আমাদের পূর্বে যারা এই বিষয়ে কথা বলেছেন, তাদের কাউকে এই সম্প্রদায়ের কথা উল্লেখ করতে দেখিনি। তাই আমি তাদের সাথে আমার বিতর্কের বিষয়গুলো সংকলন করেছি এবং এর সাথে যা যোগ করা আবশ্যক ছিল তা যোগ করেছি, যার মধ্যে তাদের মতবাদের অসারতা ও বক্তব্য রয়েছে। আর আমাদের তাওফিক কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই। এই কাল ও স্থান তাদের নিকট আমাদের পরিচিত স্থান ও পরিচিত কাল থেকে ভিন্ন। কারণ আমাদের নিকট পরিচিত স্থান হলো তা, যা কোনো কিছুর অবস্থানকে তার সকল দিক থেকে বা কিছু দিক থেকে পরিবেষ্টন করে থাকে। এটি দুই ভাগে বিভক্ত: প্রথমত, এমন স্থান যেখানে অবস্থানকারী বস্তুটি সেই স্থানের আকার ধারণ করে, যেমন কলসিতে থাকা মাটি বা পানি এবং এই জাতীয় বস্তু। দ্বিতীয়ত, এমন স্থান যা নিজেই অবস্থানকারী বস্তুর আকার ধারণ করে, যেমন পানির মধ্যে কোনো স্থূল বস্তু প্রবেশ করলে পানি সেই বস্তুর আকার গ্রহণ করে এবং এই জাতীয়। আর আমাদের নিকট পরিচিত কাল হলো কোনো স্থূল বস্তুর স্থির বা গতিশীল অবস্থায় বিদ্যমান থাকার সময়কাল, অথবা কোনো বস্তুর মধ্যে কোনো গুণের বিদ্যমান থাকার সময়কাল। একে সাধারণভাবে বলা যায় যে, এটি হলো আসমানি গোলক এবং তার মধ্যে অবস্থিত ধারক ও ধৃত বস্তুসমূহের বিদ্যমান থাকার সময়কাল। আর তারা বলে যে, পরম কাল ও পরম স্থান হলো কাল ও স্থানের সেই সংজ্ঞা থেকে ভিন্ন যা আমরা মাত্র প্রদান করেছি। তারা বলে যে, এই দুটি ভিন্ন ভিন্ন সত্তা। তাদের এই দাবির অসারতার জন্য এটাই যথেষ্ট ছিল যে, তারা কোনো প্রমাণ ছাড়াই এমন স্থান ও কালের স্বীকৃতি দিয়েছে যা পরিচিত নয়। তবে আল্লাহর শক্তি ও সামর্থ্যে তাদের এই দাবি বাতিলের স্বপক্ষে প্রমাণাদি উপস্থাপন করা আবশ্যক। সুতরাং তাদের উদ্দেশ্যে বলা হবে—আর আল্লাহর কাছেই তাওফিক প্রার্থনা করছি—তোমরা আমাদের এই শূন্যস্থান সম্পর্কে জানাও যা তোমরা সাব্যস্ত করেছ এবং বলেছ যে আসমানি গোলক ও তার অভ্যন্তরে যা আছে তা সৃষ্টির পূর্বেও তা বিদ্যমান ছিল। আসমানি গোলক সৃষ্টির ফলে গোলকের সেই স্থানে ইতিপূর্বে যা বিদ্যমান ছিল তা কি বিলুপ্ত হয়ে গেছে, নাকি বিলুপ্ত হয়নি? যদি তারা বলে যে বিলুপ্ত হয়নি—এবং তাদের কেউ কেউ আমাকে এমন উত্তরই দিয়েছে—তবে তাদের বলা হবে: যদি তা বিলুপ্ত না হয়ে থাকে, তবে আসমানি গোলক সেই স্থানে সৃষ্টি হওয়ার কারণে তা কি সেই স্থান থেকে স্থানান্তরিত হয়েছে, নাকি স্থানান্তরিত হয়নি? তারা যদি বলে যে স্থানান্তরিত হয়নি—আর এটাই তাদের বক্তব্য—তবে তাদের বলা হবে: যদি তা বিলুপ্তও না হয় এবং স্থানান্তরিতও না হয়, তবে আসমানি গোলকের নতুন সৃষ্টি কোথায় হলো? অথচ সেটি সৃষ্টি হওয়ার পূর্বেই তোমাদের মতে সেখানে একটি বিদ্যমান, স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং প্রতিষ্ঠিত সত্তা বিদ্যমান ছিল। আর এই আসমানি গোলক কি সেই পরম স্থানে সৃষ্টি হয়েছে যা শূন্যস্থান, নাকি অন্য কোথাও? যদি অন্য কোথাও সৃষ্টি হয়ে থাকে, তবে তোমরা যাকে শূন্যস্থান বলেছ তা ব্যতীত এখানে অন্য একটি স্থানের অস্তিত্ব প্রমাণিত হয়। সেটি কি তোমাদের উল্লিখিত স্থানের সাথে একই পরিধিতে অবস্থিত নাকি অন্য কোনো পরিধিতে? যদি একই পরিধিতে হয়, তবে আসমানি গোলকটি অবশ্যই তাতে সৃষ্টি হয়েছে। অথচ তোমরা বলেছ যে সেটি তাতে সৃষ্টি হয়নি। ফলে এটি একই সাথে সেখানে সৃষ্টি হয়েছে আবার সেখানে সৃষ্টি হয়নি—যা একটি স্ববিরোধিতা ও অসম্ভব বিষয়। আর যদি অন্য পরিধিতে হয়, তবে তোমরা শূন্যস্থানের জন্য একটি সীমা নির্ধারণ করে দিলে, কারণ পরিধি...
(খণ্ড: ١)
আল-ফাসলু ফিল মিলালি ওয়াল আহওয়া-ই ওয়ান নিহাল
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
الآخر الَّذِي حدث فِيهِ الْفلك لَيْسَ هُوَ فِي ذَلِك الْخَلَاء وَهَذَا ينطوي فِيهِ بِالضَّرُورَةِ نِهَايَة الْخَلَاء الَّذِي ذكرْتُمْ فَهُوَ متناهٍ لَا متناهٍ وَهَذَا تنَاقض وتخليط وَإِذا بَطل أَن يكون غير متناهٍ وَثَبت أَنه متناه فَهُوَ الْمَكَان الْمَعْهُود الْمُضَاف إِلَى المتمكن فِيهِ وَهَذَا هُوَ الْمَكَان الَّذِي لَا يعرف ذُو عقل سواهُ وَإِن كَانَ الْفلك حدث فِيهِ والفلك ملاء بِلَا شكّ وَلم ينْتَقل الْخَلَاء عنْدكُمْ وَلَا بَطل فالفلك إِذا خلاءٌ وملاءٌ مَعًا فِي مَكَان وَاحِد وَهَذَا محَال وتخليط فَإِن قَالُوا بَطل بحدوث الْفلك مَا كَانَ مِنْهُ فِي مَوضِع الْفلك قبل حُدُوث الْفلك أَو قَالُوا انْتقل فقد أوجبوا لَهُ النِّهَايَة ضَرُورَة إِمَّا من طَرِيق الْوُجُود بِالْبُطْلَانِ إِذْ يفْسد وَيبْطل إِلَّا مَا كَانَ حَادِثا لَا مَا لم يزل وَإِمَّا من طَرِيق المساحة بالنقلة إِذْ لَو لم يجد أَيْن ينْتَقل لم تكن لَهُ نقلة إِذْ معنى النقلَة إِنَّمَا هُوَ تصيير الجرم إِلَى مَكَان لم يكن فِيهِ قبل ذَلِك أَو إِلَى صفة لم يكن عَلَيْهَا قبل ذَلِك ووجوده مَكَانا ينْتَقل إِلَيْهِ مُوجب أَنه لم يكن فِي ذَلِك الْمَكَان الَّذِي انْتقل إِلَيْهِ من قبل انْتِقَاله إِلَيْهِ وَهَذَا هُوَ إِثْبَات النِّهَايَة ضَرُورَة فَهَذَا هُوَ الَّذِي أبطلوا ويلزمهم فِي ذَلِك أَيْضا أَن يكون متحيزا لِأَن الَّذِي بَطل مِنْهُ غير الَّذِي لم يبطل وَالَّذِي انْتقل هُوَ غير الَّذِي لم ينْتَقل وَهُوَ إِذا كَانَ كَذَلِك فإمَّا هُوَ جسم ذُو أَجزَاء وَإِمَّا هُوَ مَحْمُول فِي جسم فَهُوَ يَنْقَسِم بانقسام الْجِسْم وَقد أثبتنا النِّهَايَة للجسم فِي غير هَذَا الْمَكَان من كتَابنَا هَذَا بِمَا فِيهِ الْبَيَان الضَّرُورِيّ وَالْحَمْد لله رب الْعَالمين وَأَيْضًا فَإِن كَانَ لم يبطل فَالَّذِي كَانَ مِنْهُ فِي مَوضِع الْفلك ثمَّ لم يبطل وَلَا انْتقل لحدوث الْفلك فِيهِ فَهُوَ والفلك إِذا موجودان فِي حيّز وَاحِد مَعًا فَهُوَ إِذا لَيْسَ مَكَانا بالفلك لِأَن الْمَكَان لَا يكون مَعَ المتمكن فِيهِ فِي مَكَان وَاحِد وَهَذَا يعرف بأولية الْعقل وَلَو كَانَ ذَلِك لَكَانَ الْمَكَان مَكَانا لنَفسِهِ وَلما كَانَ وَاحِد مِنْهُمَا أولى بِأَن يكون مَكَانا للْآخر من الآخر بذلك وَلَا كَانَ أَحدهمَا أولى أَيْضا بِأَن يكون مُتَمَكنًا فِي الآخر من الآخر فِيهِ وكل هَذَا فَاسد ومحال بِالضَّرُورَةِ وَأَيْضًا فَإِن الْخَلَاء عِنْدهم مَكَان لَا مُتَمَكن فِيهِ والفلك عِنْدهم مَوْجُود فِي الْخَلَاء إِذْ لَا نِهَايَة للخلاء عِنْدهم من طَرِيق المساحة فَإِذا كَانَ الْفلك مُتَمَكنًا فِي الْخَلَاء عِنْدهم والخلاء عِنْدهم مَكَان لَا مُتَمَكن فِيهِ فالخلاء إِذا مَكَان فِيهِ مُتَمَكن لَيْسَ فِيهِ مُتَمَكن وَهَذَا محَال وتخليط وَهَذَا بِعَيْنِه لَازم فِي قَوْلهم إِن ذَلِك الْجُزْء من الْخَلَاء لم ينْتَقل لحدوث الْفلك فَفِيهِ فَإِن قَالُوا انْتقل فَإِنَّمَا صَار إِلَى مَكَان لم يكن فِيهِ قبل ذَلِك خلاء وَلَا ملاك فقد ثَبت عدم الْخَلَاء والملاء فِيمَا فَوق الْفلك ضَرُورَة وَهَذَا خلاف قَوْلهم وَإِن
অপর অংশটি যাতে মহাকাশীয় গোলক উৎপন্ন হয়েছে, তা সেই শূন্যস্থানের (খালা) অন্তর্ভুক্ত নয়। এটি অনিবার্যভাবে আপনাদের উল্লিখিত সেই শূন্যস্থানের সসীমতাকেই নির্দেশ করে। ফলে এটি একই সাথে সসীম ও অসীম হয়ে পড়ে, যা একটি বৈপরীত্য ও বিভ্রান্তি। আর যখন এটি অসীম হওয়া বাতিল হয়ে গেল এবং সসীম হওয়া প্রমাণিত হলো, তখন এটি সেই পরিচিত স্থান (মাকান) হিসেবে গণ্য হবে যা সেখানে অবস্থানকারীর সাথে সম্পর্কিত। বুদ্ধিমান কোনো ব্যক্তিই এর বাইরে অন্য কোনো স্থানের কথা জানেন না। যদি মহাকাশীয় গোলকটি সেখানে উৎপন্ন হয়ে থাকে এবং গোলকটি নিঃসন্দেহে একটি পূর্ণতা (বস্তুপূর্ণ স্থান), আর আপনাদের মতে শূন্যস্থানটি অপসারিতও হয়নি এবং বাতিলও হয়নি, তবে সেই গোলকটি একই স্থানে একই সাথে শূন্যতা ও পূর্ণতা হয়ে দাঁড়ায়। এটি অসম্ভব এবং বিভ্রান্তিকর। তারা যদি বলে যে, মহাকাশীয় গোলক সৃষ্টির পূর্বে সেই স্থানে যা ছিল তা গোলকটি সৃষ্টির মাধ্যমে বিলুপ্ত হয়ে গেছে, অথবা তারা যদি বলে যে সেটি অপসারিত হয়েছে, তবে তারা অনিবার্যভাবে এর সসীমতাকেই স্বীকার করে নিল। হয় বিলুপ্ত হওয়ার মাধ্যমে অস্তিত্বের দিক থেকে—কারণ যা কিছু নশ্বর ও বিলুপ্ত হয় তা মূলত সৃষ্টি বা নতুন উৎপন্ন বস্তু, অনাদি বা চিরন্তন কিছু নয়। অথবা স্থানান্তরের মাধ্যমে পরিমাপের দিক থেকে। কারণ যদি এটি স্থানান্তরিত হওয়ার জন্য কোনো জায়গা না পেত, তবে এর স্থানান্তর সম্ভব হতো না। কেননা স্থানান্তরের অর্থই হলো কোনো বস্তুকে এমন এক স্থানে নিয়ে যাওয়া যেখানে সে আগে ছিল না, অথবা এমন এক অবস্থায় নিয়ে যাওয়া যা তার আগে ছিল না। যে স্থানে এটি স্থানান্তরিত হয় সেই স্থানের অস্তিত্বই প্রমাণ করে যে, স্থানান্তরের আগে এটি সেখানে ছিল না। আর এটিই হলো অনিবার্যভাবে সসীমতার প্রমাণ। সুতরাং এটিই তারা বাতিল করেছে। অথচ এর ফলে তাদের জন্য এটিও আবশ্যিক হয়ে পড়ে যে তা স্থান দখলকারী (মুতাহাইয়িয) হবে; কারণ যে অংশটি বিলুপ্ত হয়েছে তা অবশিষ্ট অংশের থেকে ভিন্ন, আর যা স্থানান্তরিত হয়েছে তা স্থানান্তর না হওয়া অংশের থেকে ভিন্ন। আর বিষয়টি যখন এমন হয়, তখন এটি হয় কোনো অংশবিশিষ্ট বস্তু (জিসম), অথবা এটি কোনো বস্তুর আশ্রয়ে বিদ্যমান। এমতাবস্থায় বস্তুর বিভাজনের সাথে সাথে এটিও বিভাজিত হবে। আমরা আমাদের এই কিতাবের অন্য স্থানে বস্তুর সসীমতা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় ও অকাট্য বর্ণনা দ্বারা তা প্রমাণ করেছি। সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। এছাড়াও, যদি এটি বিলুপ্ত না হয়ে থাকে, তবে মহাকাশীয় গোলকের স্থানে এর যে অংশটি ছিল—যা গোলকটি সৃষ্টির ফলে বিলুপ্ত হয়নি এবং স্থানান্তরিতও হয়নি—তবে সেই অংশটি এবং গোলকটি উভয়ই একসাথে একই স্থানে (হায়্যিয) বিদ্যমান। সেক্ষেত্রে এটি গোলকের জন্য 'স্থান' হতে পারে না। কারণ স্থান এবং স্থানে অবস্থানকারী একই সাথে একই স্থানে অবস্থান করতে পারে না। এটি বুদ্ধিবৃত্তিক প্রাথমিক স্বতঃসিদ্ধ জ্ঞান দ্বারা জানা যায়। যদি তা-ই হতো, তবে স্থান স্বয়ং নিজের জন্য স্থান হয়ে পড়ত। আর তাদের উভয়ের কেউই একে অপরের জন্য স্থান হওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পেত না। আবার তাদের কেউই অন্যের মধ্যে অবস্থান করার ক্ষেত্রে অপরের তুলনায় বেশি যোগ্য হতো না। আর এসবই অনিবার্যভাবে ভ্রান্ত ও অসম্ভব। তদুপরি, তাদের মতে 'শূন্যস্থান' হলো এমন একটি জায়গা যেখানে কোনো অবস্থানকারী নেই। আবার তাদের মতে এই মহাকাশীয় গোলকটি সেই শূন্যস্থানেই বিদ্যমান, যেহেতু পরিমাপের দিক থেকে তাদের নিকট শূন্যস্থানের কোনো শেষ নেই। এখন গোলকটি যদি তাদের মতে সেই শূন্যস্থানে অবস্থান করে, আর শূন্যস্থানটি যদি এমন হয় যাতে কোনো অবস্থানকারী নেই, তবে দাঁড়াল এই যে—শূন্যস্থানটি এমন একটি স্থান যেখানে অবস্থানকারী আছে অথচ সেখানে কোনো অবস্থানকারী নেই। এটি অসম্ভব ও বিভ্রান্তিকর। তাদের এই বক্তব্য—যে মহাকাশীয় গোলকটি সৃষ্টির কারণে শূন্যস্থানের সেই অংশটি অপসারিত হয়নি—তার ক্ষেত্রেও ঠিক একই কথা প্রযোজ্য। আর তারা যদি বলে যে সেটি স্থানান্তরিত হয়েছে, তবে সেটি এমন এক স্থানে গিয়ে পৌঁছেছে যেখানে এর আগে কোনো শূন্যতা বা পূর্ণতা কিছুই ছিল না। এর দ্বারা অনিবার্যভাবে গোলকের ঊর্ধ্বে শূন্যতা ও পূর্ণতা উভয়েরই অবিদ্যমানতা প্রমাণিত হলো। এটি তাদের নিজেদের দাবিরই পরিপন্থী। আর যদি...
(খণ্ড: ١)
আল-ফাসলু ফিল মিলালি ওয়াল আহওয়া-ই ওয়ান নিহাল
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
قَالُوا بَطل لَزِمَهُم أَيْضا أَنه قد عدته المدد ضَرُورَة فَإِذا أعدته المدد فقد تناهى من أَوله بالمبدأ ضَرُورَة فَإِن قَالُوا بل لم يحدث الْفلك فِي شَيْء من ذَلِك الْمَكَان الَّذِي هُوَ الْخَلَاء فقد أثبتوا حيزاً آخر للفلك غير الْخَلَاء الشَّامِل عِنْدهم وَإِذا كَانَ ذَلِك فقد تناهى كلا المكانين من جِهَة تلاقيهما ضَرُورَة وَإِذا تناهيا من جِهَة تلاقيهما لزمتهما المساحة وَوَجَب تناهيهما لتناهي ذرعهما ضَرُورَة ويسألون أَيْضا عَن هَذَا الْخَلَاء الَّذِي هُوَ عِنْدهم مَكَان لَا مُتَمَكن فِيهِ هَل لَهُ مبدأ مُتَّصِل بصفحات الْفلك الْأَعْلَى أم لَا مبدأ لَهُ من هُنَالك وَلَا بُد من أحد الْأَمريْنِ ضَرُورَة فَإِن قَالُوا لَا مبدأ لَهُ وَهُوَ قَوْلهم قيل لَهُم إِن قَول الْقَائِل مَكَان إِنَّمَا يفهم مِنْهُ مَا يتَمَثَّل فِي النَّفس من الْمَقْصُود بِهَذِهِ اللَّفْظَة وموضعها فِي اللُّغَة لتَكون عبارَة للتفاهم عَن المُرَاد بهَا أَنَّهَا ساحة وَلَا بُد للساحة من الذرع ضَرُورَة وَلَا بُد للذروع من مبدأ لِأَنَّهُ كمية والكمية أعداد مركبة من الْآحَاد فَإِن لم يكن لَهُ مبدأ من وَاحِد اثْنَيْنِ ثَلَاثَة لم يكن عدد وَإِذا لم يكن عدد لم يكن ذرع أصلا وَإِذا لم يكن ذرع لم تكن مساحة وَلَا انفساح وَلَا مَسَافَة وكل هَذِه أَلْفَاظ وَاقعَة إِمَّا على ذرع المذروع وَإِمَّا على مذروع بالذرع ضَرُورَة فَإِن قَالُوا لَهُ مبدأ من هُنَالك وَجَبت لَهُ النِّهَايَة ضَرُورَة لحصر الْعدَد لمساحته بِوُجُود المبدأ لَهُ ويسألون أَيْضا أمماس هَذَا الْفلك أم غير مماس وباين عَنهُ أم غير باين فَإِن قَالُوا لَا مماس وَلَا باين فَهَذَا أَمر لَا يعقل بالحس وَلَا يتشكل فِي النَّفس وَلَا يقوم على صِحَّته برهَان أبدا إِلَّا فِي الْأَعْرَاض المحمولة فِي الْأَجْسَام وهم لَا يَقُولُونَ أَن الْخَلَاء عرض مَحْمُول فِي جسم وكل دَعْوَى لم يقم عَلَيْهَا دَلِيل فَهِيَ بَاطِلَة مَرْدُودَة وَإِن أثبتوا المماسة أَو المباينة وَجب عَلَيْهِم ضَرُورَة إِثْبَات النِّهَايَة لَهُ كَمَا لزم بِإِثْبَات المبدأ إِذْ النِّهَايَة منطوية فِي ذكر المبدأ والمماسة أَو المباينة ضَرُورَة لَا شكّ فِيهِ وَبِاللَّهِ التَّوْفِيق ويسألون أَيْضا عَن هَذَا الْخَلَاء الَّذِي يذكرُونَ وَالزَّمَان الَّذِي يثبتون أمحمولان هما أم حاملان أم أَحدهمَا مَحْمُول وَالثَّانِي حَامِل أم كِلَاهُمَا لَا حَامِل وَلَا مَحْمُول فَأَيّهمَا أجابوا فِيهِ فَإِنَّهُ حَامِل بِلَا شكّ فِي أَن محموله غَيره إِذْ لَا يكون الشَّيْء حَامِلا لنَفسِهِ فَلهُ إِذا مَحْمُول لم يزل وَهُوَ غير الزَّمَان فَإِن قَالُوا ذَلِك كلموا بِمَا قدمنَا قبل على أهل الدَّهْر قائلين بأزلية الْعَالم وَأَيْضًا فَإِن كَانَ الْمَكَان حَامِلا فَلَا يَخْلُو ضَرُورَة من أحد وَجْهَيْن إِمَّا أَن يكون حَامِلا لجرم مُتَمَكن فِيهِ وَهَذَا يُوجب النِّهَايَة نِهَايَة لَهُ لوُجُوب نِهَايَة لوُجُوب الجرم المتمكن فِيهِ بِالدّلَالَةِ الَّتِي قدمنَا فِي إِثْبَات نهايات الأجرام وَإِمَّا أَن يكون حَامِلا لكيفياته
তারা যদি বলে এটি অসার, তবে তাদের জন্য এটিও আবশ্যক হয়ে পড়ে যে, তা অবশ্যই সময়কাল দ্বারা পরিগণিত। আর যদি সময়কাল তাকে পরিগণিত করে, তবে সূচনার দিক থেকে তা অবশ্যই সসীম। যদি তারা বলে যে, মহাকাশীয় গোলকটি (ফলক) সেই শূন্যস্থানে (খলা) সৃষ্টি হয়নি যা তাদের মতে পরিব্যাপ্ত, তবে তারা গোলকটির জন্য সেই শূন্যস্থান ব্যতীত অন্য একটি আধার বা স্থান সাব্যস্ত করল। আর যদি বিষয়টি এমন হয়, তবে উভয় স্থানই তাদের মিলনস্থলের দিক থেকে অবশ্যই সসীম। আর যদি মিলনস্থলের দিক থেকে উভয়ই সসীম হয়, তবে তাদের ক্ষেত্রে পরিমাপ (ক্ষেত্রফল) আবশ্যক হয়ে পড়ে; আর তাদের দৈর্ঘ্য-প্রস্থ সসীম হওয়ার কারণে তাদের সসীম হওয়াও অনিবার্য।
তাদেরকে এই শূন্যস্থান (খলা) সম্পর্কেও জিজ্ঞাসা করা হবে, যা তাদের মতে এমন এক স্থান যেখানে কোনো অবস্থানকারী নেই: এর কি এমন কোনো সূচনা আছে যা সর্বোচ্চ গোলকের (আল-ফলক আল-আ'লা) পৃষ্ঠদেশের সাথে সংযুক্ত, নাকি সেখান থেকে এর কোনো সূচনা নেই? অবশ্যই এই দুই অবস্থার যেকোনো একটি হওয়া অনিবার্য। যদি তারা বলে এর কোনো সূচনা নেই—আর এটিই তাদের বক্তব্য—তবে তাদের বলা হবে: 'স্থান' (মাকান) শব্দটির বক্তার কথা থেকে কেবল সেটাই বোঝা যায় যা এই শব্দের উদ্দেশ্য হিসেবে মনে উদিত হয় এবং ভাষায় যার প্রয়োগ রয়েছে, যাতে উদ্দেশ্যটি অনুধাবনের অভিব্যক্তি হিসেবে কাজ করে যে তা একটি প্রাঙ্গণ বা বিস্তার। আর বিস্তারের জন্য অবশ্যই পরিমাপ (দৈর্ঘ্য-প্রস্থ) থাকা অনিবার্য। আর পরিমাপের জন্য অবশ্যই একটি সূচনা থাকতে হবে, কারণ তা একটি পরিমাণ (কাম্মিয়্যাহ); আর পরিমাণ হলো এককের সমন্বয়ে গঠিত সংখ্যা। সুতরাং যদি এক, দুই, তিন থেকে এর কোনো সূচনা না থাকে, তবে তা সংখ্যাই হতে পারে না। আর যদি সংখ্যা না হয়, তবে আদতেই কোনো পরিমাপ থাকতে পারে না। আর যদি পরিমাপ না থাকে, তবে কোনো ক্ষেত্রফল, প্রশস্ততা বা দূরত্ব থাকবে না। এই শব্দগুলোর প্রতিটিই হয় পরিমাপকৃত বস্তুর পরিমাপের ওপর প্রযোজ্য, নতুবা পরিমাপের মাধ্যমে যা পরিমাপ করা হয়েছে তার ওপর প্রযোজ্য।
যদি তারা বলে যে সেখান থেকে এর সূচনা আছে, তবে অবশ্যই এর সমাপ্তি বা সসীমতা সাব্যস্ত হবে; কারণ সূচনা থাকার ফলে এর ক্ষেত্রফলের সংখ্যাটি সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। তাদেরকে আরও জিজ্ঞাসা করা হবে: এই গোলকটি কি তার (শূন্যস্থানের) সাথে লেগে আছে (মুমাস), নাকি তা থেকে পৃথক ও বিচ্ছিন্ন (বায়িন)? যদি তারা বলে যে তা লেগেও নেই আবার বিচ্ছিন্নও নয়, তবে এটি এমন এক বিষয় যা ইন্দ্রিয় দ্বারা বোঝা যায় না, মনে কল্পনা করা যায় না এবং এর সত্যতার ওপর কোনো প্রমাণও প্রতিষ্ঠিত হয় না—কেবল দেহের ওপর আশ্রিত গুণের (আরদ) ক্ষেত্র ব্যতীত। অথচ তারা বলে না যে শূন্যস্থান কোনো দেহের ওপর আশ্রিত গুণ। আর যে দাবির স্বপক্ষে কোনো দলিল নেই, তা বাতিল ও প্রত্যাখ্যাত। আর যদি তারা স্পর্শ করা (মুমাসাত) অথবা বিচ্ছিন্ন থাকা (মুবায়নাত) সাব্যস্ত করে, তবে তাদের জন্য এর সসীমতা সাব্যস্ত করা অনিবার্য হয়ে পড়ে; যেমনটি সূচনা সাব্যস্ত করার কারণে আবশ্যক হয়েছিল। কেননা সমাপ্তি বা সসীমতার ধারণাটি সূচনার আলোচনার মধ্যেই নিহিত থাকে। আর স্পর্শ করা বা বিচ্ছিন্ন থাকা যে অনিবার্য, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। আল্লাহই তাওফিকদাতা।
তাদেরকে তাদের উল্লিখিত এই শূন্যস্থান এবং তাদের সাব্যস্তকৃত সময় (জামান) সম্পর্কেও জিজ্ঞাসা করা হবে: তারা কি অন্য কিছুকে ধারণ করে (হামিল), নাকি অন্য কিছু দ্বারা ধৃত (মাহমুল)? অথবা তাদের একজন ধারণকারী এবং অন্যজন ধৃত? নাকি তারা কেউই ধারণকারী বা ধৃত নয়? তারা এর যে উত্তরই দিক না কেন, তা নিঃসন্দেহে ধারণকারী হবে এবং এর ধারণকৃত বস্তু (মাহমুল) তা থেকে ভিন্ন হবে; কারণ কোনো বস্তু নিজেই নিজের আধার বা ধারণকারী হতে পারে না। সুতরাং এর জন্য এমন এক ধৃত বা ধারণকৃত বস্তু রয়েছে যা অনাদি, আর তা সময় ব্যতীত অন্য কিছু। তারা যদি এমনটি বলে, তবে তাদের সাথে সেই দাহরিয়্যাহ বা নাস্তিকদের মতো আলোচনা করা হবে যারা মহাবিশ্বের অনাদিত্বের (আজালিয়্যাহ) প্রবক্তা। তদুপরি, স্থান যদি আধার বা ধারণকারী হয়, তবে তা অবশ্যই দুটি অবস্থার যেকোনো একটি থেকে মুক্ত নয়: হয় এটি তাতে অবস্থিত কোনো পিণ্ড বা দেহকে (জার্ম) ধারণ করে আছে—আর এটি তার জন্য সসীমতা সাব্যস্ত করে, কারণ আমরা ইতিপূর্বে পিণ্ডের সসীমতা প্রমাণের যে দলিল পেশ করেছি তার ভিত্তিতে তাতে অবস্থিত দেহের সসীম হওয়া অনিবার্য—অথবা এটি তার গুণাবলিকে (কায়ফিয়্যাত) ধারণ করে আছে।
(খণ্ড: ١)
আল-ফাসলু ফিল মিলালি ওয়াল আহওয়া-ই ওয়ান নিহাল
(পৃষ্ঠা: ٣١)
فَإِن كَانَ حَامِلا لكيفياته فَهُوَ مركب من هيولاه وأعراضه وجنسه وفصوله وبالضرورة يعلم كل ذِي حس سليم أَن كل مركب فَهُوَ متناه بالجرم وَالزَّمَان بالدلائل الَّتِي قدمنَا وَلَا سَبِيل إِلَى حمل ثَالِث وَأيهمَا قَالُوا فِيهِ أَنه مَحْمُول فَإِنَّهُ يَقْتَضِي حَامِلا وبعكس الدَّلِيل الَّذِي ذكرنَا آنِفا سَوَاء بِسَوَاء وَأيهمَا قَالُوا فِيهِ أَنه حَامِل مَحْمُول وَجب كل مَا ذكرنَا فِيهِ أَيْضا بعكسه وَأيهمَا قَالُوا فِيهِ لَا حَامِل وَلَا مَحْمُول فَلَا يَخْلُو من أَن يكون بَاقِيا أَو يكون بَقَاء فَإِن كَانَ بَاقِيا فَهُوَ مفتقرا إِلَى بقاءٍ وَهُوَ مدَّته إِذْ لَا بَاقِي إِلَّا بِبَقَاء وَإِن كَانَ بَقَاء فَلَا بُد لَهُ من بَاقٍ وَهُوَ من بَاب الْإِضَافَة والمدة هِيَ الْبَقَاء إِنَّمَا هِيَ مَحْمُولَة وناعتة للْبَاقِي بهَا ضَرُورَة هَذَا الَّذِي لَا يقوم فِي الْعقل سواهُ وَلَا يقوم برهَان إِلَّا عَلَيْهِ ويسألون أَيْضا عَن هَذَا الزَّمَان الَّذِي يذكرُونَ هَل زَاد فِي مُدَّة اتِّصَاله مذ حدث الْفلك إِلَى يَوْمنَا هَذَا أَو لم يزدْ ذَلِك فِي أمده فَإِن قَالُوا لم يزدْ ذَلِك فِي أمده كَانَت مُكَابَرَة لِأَنَّهَا مُدَّة مُتَّصِلَة بهَا مُضَافَة إِلَيْهَا وَعدد زَائِد على عدد فَإِن قَالُوا زَاد ذَلِك فِي أمده سئلوا مَتى كَانَت تِلْكَ الْمدَّة أطول أقبل الزِّيَادَة أم هِيَ وَهَذِه الزِّيَادَة مَعًا فَإِن قَالُوا هِيَ وَالزِّيَادَة مَعهَا فقد أثبتوا النِّهَايَة ضَرُورَة إِذْ مَا لَا نِهَايَة لَهُ فَلَا يَقع فِيهِ زِيَادَة وَلَا نقص وَلَا يكون شَيْء مُسَاوِيا لَهُ وَلَا أَكثر مِنْهُ وَلَا أنقص مِنْهُ وَلَا يكون هُوَ أَيْضا مفصلا أصلا فَلَا يكون مُسَاوِيا لنَفسِهِ كَمَا هُوَ وَلَا أَكثر من نَفسه وَلَا أقل مِنْهَا فَإِن قَالُوا لَيست هِيَ وَالزِّيَادَة مَعهَا أطول مِنْهَا قبل الزِّيَادَة فقد أثبتوا أَن الشَّيْء وَغَيره مَعَه لَيْسَ أَكثر مِنْهُ وَحده وَهَذَا بَاطِل وهم يَقُولُونَ إِن الحلاء وَالزَّمَان الْمُطلق شيئآن متعايران فَيُقَال لَهُم فَإِذا هما كَذَلِك فَبِأَي شَيْء انْفَصل بعضهما من بعض فَإِن قَالُوا انْفَصل بِشَيْء مَا وَذكروا فِي ذَلِك أَي شَيْء ذَكرُوهُ فقد أثبتوا لَهما التَّرْكِيب من جنسهما وفصلهما وَأَيْضًا فجعلهم لَهما شَيْئَيْنِ إِيقَاع مِنْهُم للعدد عَلَيْهِمَا وكل عدد فَهُوَ متناه مَحْصُور وكل مَحْصُور فقد سلكته الطبيعة وكل مَا سلكته الطبيعة فَهُوَ متناه ضَرُورَة فَإِن أَرَادوا ألزامنا فِي الْبَارِي تَعَالَى مثل مَا ألزمناهم فِي هَذَا السُّؤَال فَقَالُوا أَيّمَا أَكثر الْبَارِي تَعَالَى وَحده أم الْبَارِي وخلقه مَعًا قُلْنَا هَذَا سُؤال فَاسد بالبرهان الضَّرُورِيّ لِأَن هَذَا الْبُرْهَان إِنَّمَا هُوَ على وجوب حُدُوث الزَّمَان وَمَا لم يَنْفَكّ من الزَّمَان وعَلى حُدُوث النوامي وَأَيْضًا فَإِن الْبَارِي تَعَالَى لَيْسَ عددا وَلَا بعض عدد وَلَيْسَ هُوَ أَيْضا معدوداً وَلَا بَعْضًا لمعدود لِأَن وَاحِدًا لَيْسَ عددا بالبرهان الَّذِي نورده فِي الْبَاب الَّذِي يَتْلُو هَذَا الْبَاب إِن شَاءَ الله تَعَالَى وَلَا وَاحِد على الحققة إِلَّا الله عز وجل فَقَط فَهُوَ الَّذِي لَا يكترث الْبَتَّةَ وَلَا ينضاف إِلَى
অতএব যদি তিনি তাঁর অবস্থার ধারক হন, তবে তিনি তাঁর হিউলি (উপাদান), গুণাবলী, লিঙ্গ এবং বৈশিষ্ট্যের সমন্বয়ে গঠিত। আর সুস্থ বিবেকসম্পন্ন মাত্রই আবশ্যিকভাবে জানেন যে, আমরা ইতিপূর্বে যে প্রমাণসমূহ পেশ করেছি সেই অনুযায়ী প্রতিটি যৌগিক বস্তুই বস্তুগত এবং কালগত দিক থেকে সসীম। আর তৃতীয় কোনো পন্থার অবকাশ নেই। তারা যার সম্পর্কেই বলুক যে তা বাহিত (মাহমুল), তা অনিবার্যভাবে একজন ধারক (হামিল) দাবি করে, যা আমরা এইমাত্র যে প্রমাণ উল্লেখ করেছি তার ঠিক উল্টো। আর তারা যার সম্পর্কেই বলুক যে সেটি ধারক ও বাহিত উভয়ই, তবে আমরা যা উল্লেখ করেছি তা বিপরীতভাবে সেখানেও প্রযোজ্য হবে। আর তারা যার সম্পর্কেই বলুক যে সেটি ধারকও নয় আবার বাহিতও নয়, তবে সেটি হয় বিদ্যমান (বাকি) হবে অথবা বিদ্যমানতা (বাকা) হবে। যদি তা বিদ্যমান হয়, তবে তা একটি বিদ্যমানতার মুখাপেক্ষী হবে, যা তার স্থিতিকাল; কারণ কোনো কিছুই বিদ্যমানতা ব্যতীত বিদ্যমান থাকতে পারে না। আর যদি তা বিদ্যমানতা হয়, তবে তার জন্য একজন বিদ্যমান থাকা অপরিহার্য, যা সম্পর্কের (ইদাফাহ) পর্যায়ভুক্ত। আর স্থিতিকালই হলো বিদ্যমানতা, যা আবশ্যিকভাবে বিদ্যমান সত্তার উপর আরোপিত এবং তার গুণ হিসেবে গণ্য। বিচারবুদ্ধিতে এ ছাড়া অন্য কিছু স্থির হয় না এবং এ ছাড়া অন্য কিছুর সপক্ষে কোনো প্রমাণও দাঁড়ায় না। তাদের আরও জিজ্ঞাসা করা হবে যে কাল সম্পর্কে তারা উল্লেখ করছে, মহাকাশ সৃষ্টির পর থেকে আমাদের বর্তমান দিন পর্যন্ত তার নিরবচ্ছিন্ন স্থিতিকাল কি বৃদ্ধি পেয়েছে, নাকি তার মেয়াদ বাড়েনি? যদি তারা বলে যে তার মেয়াদ বাড়েনি, তবে তা হবে হঠকারিতা; কারণ এটি একটি নিরবচ্ছিন্ন স্থিতিকাল যার সাথে সময় যুক্ত হচ্ছে এবং এটি একটি সংখ্যার ওপর বর্ধিত সংখ্যা। আর যদি তারা বলে যে তার মেয়াদ বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে তাদের জিজ্ঞাসা করা হবে: কখন সেই স্থিতিকালটি দীর্ঘ ছিল—বৃদ্ধির আগে, নাকি বৃদ্ধির পরের অংশসহ? যদি তারা বলে যে বৃদ্ধির পরের অংশসহ তা দীর্ঘ হয়েছে, তবে তারা আবশ্যিকভাবে এর সসীমতা (নিহায়াহ) স্বীকার করে নিল। কারণ যার কোনো শেষ নেই, তাতে কোনো বৃদ্ধি বা হ্রাস ঘটে না এবং কোনো কিছুই তার সমান, বেশি বা কম হতে পারে না। এমনকি তা কোনোভাবেই বিভাজ্য নয়, ফলে তা নিজের সাথে সমান, বা নিজের চেয়ে বেশি বা কম হতে পারে না। আর যদি তারা বলে যে বৃদ্ধির অংশসহ সেটি বৃদ্ধির আগের চেয়ে দীর্ঘ নয়, তবে তারা এটাই সাব্যস্ত করল যে কোনো বস্তু এবং তার সাথে অতিরিক্ত অংশ থাকা সত্ত্বেও তা একক বস্তুর চেয়ে বেশি নয়; আর এটি বাতিল বা অসার। তারা বলে যে শূন্যতা (খালা) এবং পরম কাল (যামান আল-মুতলাক) দুটি ভিন্ন বিষয়। তখন তাদের বলা হবে: যদি তারা এমনই হয়, তবে কোন জিনিসের মাধ্যমে তারা একে অপর থেকে পৃথক হয়েছে? যদি তারা বলে যে কোনো কিছুর মাধ্যমে পৃথক হয়েছে এবং তারা যাই উল্লেখ করুক না কেন, তবে তারা উভয়ের ক্ষেত্রে তাদের স্বজাতি এবং পার্থক্যের সমন্বয়ে গঠিত হওয়াকে (তারকিব) স্বীকার করে নিল। অধিকন্তু, তাদের এই দুটি হিসেবে গণ্য করা মানেই তাদের ওপর সংখ্যা আরোপ করা। আর প্রতিটি সংখ্যাই সসীম ও সীমাবদ্ধ। আর যা কিছু সীমাবদ্ধ তা প্রকৃতির নিয়মের অন্তর্গত। আর যা কিছু প্রকৃতির নিয়মের অন্তর্গত, তা আবশ্যিকভাবে সসীম। তারা যদি মহান স্রষ্টা সম্পর্কে আমাদের সেই একই প্রশ্নে বিদ্ধ করতে চায় যা আমরা তাদের করেছি, আর প্রশ্ন করে যে কোনটি বেশি—এককভাবে মহান স্রষ্টা নাকি মহান স্রষ্টা ও তাঁর সৃষ্টিজগত একত্রে? তবে আমরা বলব: অকাট্য প্রমাণের ভিত্তিতে এটি একটি ত্রুটিযুক্ত প্রশ্ন। কারণ এই প্রমাণটি মূলত সময়ের নতুনভাবে সৃষ্টি হওয়া (হুদুথ), সময় থেকে যা বিচ্ছিন্ন হতে পারে না এবং পরিবর্তনশীল বস্তুসমূহের নতুনত্বের আবশ্যকতা প্রমাণের জন্য। অধিকন্তু, মহান স্রষ্টা কোনো সংখ্যা নন এবং সংখ্যার কোনো অংশও নন; তিনি গণনাকৃত কোনো বিষয়ও নন এবং গণনাকৃত কিছুর অংশও নন। কারণ 'এক' কোনো সংখ্যা নয়—এই প্রমাণের ভিত্তিতে যা আমরা পরবর্তী পরিচ্ছেদে উল্লেখ করব, ইনশাআল্লাহ। আর বাস্তবে আল্লাহ আজ্জা ওয়াজাল্লা ব্যতীত কেউ 'এক' নয়। তিনিই সেই সত্তা যিনি কোনো কিছুর দ্বারা প্রভাবিত হন না এবং কোনো কিছুর সাথে যুক্ত হন না...
(খণ্ড: ١)
আল-ফাসলু ফিল মিলালি ওয়াল আহওয়া-ই ওয়ান নিহাল
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
سواهُ إِذْ لَا يجمعه مَعَ شَيْء سواهُ عدد وَلَا صفة الْبَتَّةَ لِأَن كل مَا وَقع عَلَيْهِ اسْم وَاحِد مِمَّا دونه تَعَالَى فَإِنَّمَا هُوَ مجَاز لَا حَقِيقَة لِأَنَّهُ إِذا قسم استبان أَنه كَانَ كثيرا لَا وَاحِدًا فَلذَلِك وَقع الْعدَد على الأجرام والأعداد الْمُسَمَّاة آحاداً فِي الْعَالم وَأما الْوَاحِد فِي الْحَقِيقَة فَهُوَ الَّذِي لَيْسَ كثيرا أصلا وَلَا يتكثر بِوَجْه من الْوُجُوه فَلَا يَقع عَلَيْهِ عدد بِوَجْه من الْوُجُوه لِأَنَّهُ يكون حِينَئِذٍ وَاحِدًا إِلَّا وَاحِدًا كثيرا إِلَّا كثيرا وَهَذَا تَخْلِيط ومحال وممتنع لَا سَبِيل إِلَيْهِ فَلَا يجوز أَن يُضَاف الْوَاحِد الأول إِلَى شَيْء مِمَّا دونه لَا فِي عدد وَلَا كمية وَلَا فِي جنس وَلَا فِي صفة وَلَا فِي معنى من الْمعَانِي أصلا وَبِاللَّهِ تَعَالَى التَّوْفِيق فَإِن ذكر ذَاكر قَول الله تَعَالَى مَا يكون من نجوى ثَلَاثَة إِلَّا هُوَ رابعهم وَلَا خَمْسَة إِلَّا هُوَ سادسهم وَلَا أدنى من ذَلِك وَلَا أَكثر إِلَّا هُوَ مَعَهم أَيْنَمَا كَانُوا فَمَعْنَى قَوْله تَعَالَى هُوَ رابعهم وَهُوَ سادسهم إِنَّمَا هُوَ فعل فعله فيهم وَهُوَ أَن ربعهم بإحاكته بهم لَا بِذَاتِهِ وسدسهم بإحاطته لَا بِذَاتِهِ أَو قد يربعهم بِملك يشرف عَلَيْهِم ويسدسهم كَذَلِك وبرهان هَذَا القَوْل أَن الله تبارك وتعالى إِنَّمَا عَنى بِهَذِهِ الْآيَة بِلَا خلاف بل بضرورة الْعقل من كل سامع أَنه لَا يخفي عَلَيْهِ نَجوَاهُمْ وَهَذَا نَص الْآيَة لِأَنَّهُ تَعَالَى افتتحها بِذكر نجوى المتناجين إِنَّمَا أَرَادَ عز وجل علمه بنجواهم إِلَّا أَنه مَعْدُود مَعَهم بِذَاتِهِ إِلَى ذواتهم حاشى لله من ذَلِك إِذْ من الْمحَال الْمُمْتَنع الْخَارِج عَن رُتْبَة الْأَعْدَاد والمعدودين أَن يكون الله عز وجل معبودا بِذَاتِهِ مَعَ ثَلَاثَة بِالْهِنْدِ وَمَعَ ثَلَاثَة بالسند وَمَعَ ثَلَاثَة بالعراق وَمَعَ ثَلَاثَة بالصين فِي وَقت وَاحِد لِأَنَّهُ لَو كَانَ ذَلِك لَكَانَ الَّذين هُوَ رابعهم بِالْهِنْدِ مَعَ الثَّلَاثَة الَّذين هُوَ رابعهم بالصين ثَمَانِيَة لأَنهم أَرْبَعَة وَأَرْبَعَة بِلَا شكّ فَكَأَن تَعَالَى حِينَئِذٍ يكون اثْنَيْنِ وَأكْثر وَهَذَا محَال وَكَذَلِكَ إِذا كَانَ بِذَاتِهِ سادساً لخمسة هَا هُنَا سِتَّة ورابعاً لثَلَاثَة هُنَالك فهم أَرْبَعَة فهم كلهم بِلَا شكّ عشرَة فَهُوَ إِذا اثْنَان وَكَذَلِكَ قَوْله تَعَالَى فِي الْآيَة نَفسهَا إِلَّا هُوَ مَعَهم أَيْنَمَا كَانُوا إِنَّمَا أضَاف الأينية إِلَيْهِم لَا إِلَى نَفسه تَعَالَى مَعْنَاهُ أَيْنَمَا كَانُوا فَهُوَ تَعَالَى مَعَهم بإحاطته إِذْ محَال أَن يكون بِذَاتِهِ فِي مكانين فَبَطل اعتراضهم وَالْحَمْد لله رب الْعَالمين كثيرا وَلَيْسَ قَول الْقَائِل الله وَرَسُوله أَو الله وَعمر مِمَّا يعْتَرض بِهِ علينا لأننا لم نمْنَع من ضم اسْمه تَعَالَى إِلَى اسْم غَيره لِأَن الِاسْم كلمة مركبة من حُرُوف الهجاء وَإِنَّمَا منعنَا من أَن تعد ذَاته تَعَالَى مَعَ شَيْء غَيره إِذْ الْعدَد إِنَّمَا هُوَ جمع شَيْء إِلَى غَيره فِي قَضِيَّة مَا وَالله تَعَالَى لَا يجمعه وخلقه شَيْء أصلا فصح انْتِفَاء الْعدَد عَنهُ تَعَالَى وَإِذا صَحَّ انْتِفَاء الْعدَد عَنهُ صَحَّ أَنه لَيْسَ معدوداً الْبَتَّةَ وَالْحَمْد لله رب الْعَالمين ويسألون أَيْضا هَذَا الزَّمَان وَالْمَكَان اللَّذَان
তিনি ব্যতীত অন্য কিছুর সাথে কোনো সংখ্যা বা গুণাবলী তাঁকে মোটেই একত্রিত করতে পারে না, কারণ আল্লাহ তাআলা ব্যতীত অন্য যা কিছুর ওপর 'এক' নাম প্রযুক্ত হয়, তা কেবল রূপক, প্রকৃত নয়; কারণ তাকে যখন বিভক্ত করা হয় তখন স্পষ্ট হয়ে যায় যে তা বহু ছিল, এক নয়। এই কারণেই জগতের বস্তুসমূহ এবং 'একক' নামে অভিহিত সংখ্যাগুলোর ওপর সংখ্যার ধারণাটি প্রযুক্ত হয়। আর প্রকৃত 'এক' হলেন তিনি, যিনি আদতেই বহু নন এবং কোনোভাবেই বহুত্ব গ্রহণ করেন না। সুতরাং তাঁর ওপর কোনোভাবেই সংখ্যা প্রযোজ্য হয় না, অন্যথায় তিনি তখন একই সাথে 'এক কিন্তু এক নন' এবং 'বহু কিন্তু বহু নন' হয়ে পড়বেন। এটি একটি বিভ্রান্তি, অসম্ভব এবং অগ্রহণযোগ্য বিষয় যার কোনো উপায় নেই। অতএব প্রথম অদ্বিতীয় সত্তাকে তাঁর নিম্নের কোনো কিছুর সাথে সংখ্যা, পরিমাণ, জাতি, গুণ বা কোনো অর্থেই যুক্ত করা বৈধ নয়। আর আল্লাহর পক্ষ থেকেই তাওফিক আসে।
যদি কোনো ব্যক্তি মহান আল্লাহর এই বাণী উল্লেখ করে যে, "তিন ব্যক্তির এমন কোনো গোপন পরামর্শ হয় না যাতে তিনি তাদের চতুর্থ না হন, আর পাঁচ ব্যক্তিরও না যাতে তিনি তাদের ষষ্ঠ না হন, আর তার চেয়ে কম বা বেশিও না, কিন্তু তিনি তাদের সাথেই থাকেন তারা যেখানেই থাকুক না কেন"—তবে মহান আল্লাহর বাণী 'তিনি তাদের চতুর্থ' এবং 'তিনি তাদের ষষ্ঠ' এর অর্থ হলো তাঁর একটি কাজ যা তিনি তাদের মধ্যে করেছেন; আর তা হলো তিনি তাদের পরিবেষ্টন করে রাখার মাধ্যমে চতুর্থ হয়েছেন, তাঁর সত্তার মাধ্যমে নয়; এবং একইভাবে তাদের পরিবেষ্টন করার মাধ্যমেই ষষ্ঠ হয়েছেন, তাঁর সত্তার মাধ্যমে নয়। অথবা তিনি হয়তো কোনো ফেরেশতার মাধ্যমে তাদের জন্য চতুর্থ হয়েছেন যে তাদের পর্যবেক্ষণ করে, একইভাবে ষষ্ঠ হয়েছেন।
এই বক্তব্যের প্রমাণ হলো যে, আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা এই আয়াতের মাধ্যমে কোনো দ্বিমত ছাড়াই—বরং প্রত্যেক শ্রবণকারীর বুদ্ধিবৃত্তিক অনিবার্যতায়—একথাই বুঝিয়েছেন যে তাদের গোপন পরামর্শ তাঁর কাছে গোপন থাকে না। আর এটিই আয়াতের মূল পাঠ, কারণ আল্লাহ তাআলা এটি শুরুই করেছেন গোপন পরামর্শকারীদের আলোচনার মাধ্যমে। মহান আল্লাহ কেবল তাদের গোপন পরামর্শ সম্পর্কে তাঁর জ্ঞানের কথা বুঝিয়েছেন। এমন নয় যে তিনি তাঁর সত্তার মাধ্যমে তাদের সত্তার সাথে গণনার অন্তর্ভুক্ত; আল্লাহ এ থেকে পরম পবিত্র। কারণ সংখ্যা এবং গণনাকৃত বস্তুসমূহের ঊর্ধ্বে থাকা মহান আল্লাহর পক্ষে একই সময়ে হিন্দুস্তানে তিনজনের সাথে সত্তাগতভাবে থাকা, এবং সিন্ধুতে তিনজনের সাথে, ইরাকে তিনজনের সাথে এবং চীনে তিনজনের সাথে থাকা অসম্ভব ও অগ্রহণযোগ্য। কেননা যদি তেমনটি হতো, তবে হিন্দুস্তানে তিনি যাদের চতুর্থ ছিলেন এবং চীনে যাদের চতুর্থ ছিলেন, তারা সকলে মিলে নিঃসন্দেহে আটজন হতো; যেহেতু তারা চার এবং চার। তখন আল্লাহ তাআলা দুই বা তার অধিক হয়ে যেতেন, যা অসম্ভব। অনুরূপভাবে, যদি তিনি এখানে পাঁচজনের সাথে সত্তাগতভাবে ষষ্ঠ এবং ওখানে তিনজনের সাথে চতুর্থ হন, তবে তারা সকলে মিলে নিঃসন্দেহে দশজন হবে, তখন তিনিও দুজন হয়ে পড়বেন।
একইভাবে ওই আয়াতেরই অংশ "তিনি তাদের সাথেই আছেন তারা যেখানেই থাকুক না কেন"—এখানে অবস্থানের বিষয়টি তাদের প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে, মহান আল্লাহর নিজের প্রতি নয়। এর অর্থ হলো তারা যেখানেই থাকুক না কেন, মহান আল্লাহ তাঁর পরিবেষ্টনের মাধ্যমে তাদের সাথে আছেন। কেননা একই সাথে তাঁর সত্তার দুই স্থানে থাকা অসম্ভব। সুতরাং তাদের আপত্তি অসার প্রমাণিত হলো। আর সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
কোনো বক্তার উক্তি 'আল্লাহ ও তাঁর রাসূল' বা 'আল্লাহ ও ওমর'—এগুলো আমাদের ওপর কোনো আপত্তি নয়। কারণ আমরা মহান আল্লাহর নামকে অন্যের নামের সাথে মেলাতে নিষেধ করিনি, যেহেতু নাম হলো বর্ণমালা দিয়ে গঠিত একটি শব্দ মাত্র। আমরা কেবল মহান আল্লাহর সত্তাকে অন্য কোনো কিছুর সাথে গণনা করতে নিষেধ করেছি; কারণ সংখ্যা হলো কোনো একটি বিষয়ে একটি বস্তুকে অন্যটির সাথে যুক্ত করা, অথচ মহান আল্লাহ এবং তাঁর সৃষ্টির মাঝে কোনো কিছুই সাধারণ নয়। অতএব তাঁর থেকে সংখ্যার ধারণা নাকচ হওয়া প্রমাণিত হলো। আর যখন সংখ্যা নাকচ হওয়া প্রমাণিত হলো, তখন তিনি যে মোটেও গণনার যোগ্য নন তাও সাব্যস্ত হলো। সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। তারা আরও প্রশ্ন করে যে, এই কাল ও স্থান যা...
(খণ্ড: ١)
আল-ফাসলু ফিল মিলালি ওয়াল আহওয়া-ই ওয়ান নিহাল
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
يذكران أَهما واقعان تَحت الْأَجْنَاس والأنواع أم لَا وَهل هما واقعان تَحت المقولات الْعشْر أم لَا فَإِن قَالُوا لَا فقد نفوهما أصلا وأعدموهما الْبَتَّةَ إِذْ لَا مقول من الموجودات إِلَّا هُوَ وَاقع تحتهَا وَتَحْت الْأَجْنَاس والأنواع حاشى الْحق الأول الْوَاحِد الْخَالِق عز وجل الَّذِي علم بضرورة الدَّلَائِل وَوَجَب بهَا خُرُوجه عَن الْأَجْنَاس والأنواع والمقولات وَبِالْجُمْلَةِ شاؤا أَو أَبَوا فالخلاء وَالزَّمَان الْمُطلق اللَّذَان يذكران كَانَا موجودين فهما واقعان تَحت جنس الكمية وَالْعدَد ضروررة فَإِذا كَانَ ذَلِك كَذَلِك فَهَذَا الزَّمَان الَّذِي ندريه نَحن وهم وَذَلِكَ الزَّمَان الَّذِي يَدعُونَهُ هما واقعان جَمِيعًا تَحت جنس وَاحِد مَتى وَكَذَلِكَ الْمَكَان الَّذِي يَدعُونَهُ وَاقع مَعَ الْمَكَان الَّذِي نعرفه نَحن وهم تَحت جنس أَيْن وبالضرورة يجب أَن مَا لزم بعض مَا نحت الْجِنْس مِمَّا يُوجِبهُ لَهُ الْجِنْس فَإِنَّهُ لَازم لكل مَا تَحت ذَلِك الْجِنْس وَإِذ لَا شكّ فِي هَذَا فهما مركبان وَالنِّهَايَة فيهمَا مَوْجُودَة ضَرُورَة إِذْ المقولات كلهَا كَذَلِك وَأَيْضًا فَإِن الْمَكَان لَا بُد لَهُ من مُدَّة يُوجد فِيهَا ضَرُورَة فنسألهم هَل تِلْكَ الْمدَّة هِيَ الزَّمَان الَّذِي يَدعُونَهُ أم هِيَ غَيره فَإِن كَانَت هِيَ هُوَ فَهُوَ زمَان للمكان فَهُوَ مَحْمُول فِي الْمَكَان فَهُوَ ككل زمَان لذِي الزَّمَان فَلَا فرق وَإِن كَانَت غَيره فها هُنَا إِذن زمَان ثَالِث غير مُدَّة ذَلِك الْمَكَان وَغير الزَّمَان الَّذِي ندريه نَحن وهم وَهَذِه وساوس لَا يعجز عَن ادعائها كل من لم يبال بِمَا يَقُول وَلَا استحيا من فضيحة وَيُقَال لَهُم إِذْ لَيْسَ الْمَكَان الَّذِي تَدعُونَهُ وَالزَّمَان الَّذِي تَدعُونَهُ واقعين مَعَ الْمَكَان الْمَعْهُود وَالزَّمَان الْمَعْهُود تَحت جنس وحدٍ وَاحِد فَلم سميتموه مَكَانا وزماناً وهلا سميتموهما باسمين مفردين لَهما ليبعدا بذلك عَن الْإِشْكَال والتلبيس والسفسطة بالتخليط بالأسماء المشركة فَإِن كَانَا مَعَ الزَّمَان وَالْمَكَان المعهودين تَحت حد وَاحِد فقد بطلت دعواكم زَمَانا ومكاناً غير الزَّمَان وَالْمَكَان المعهودين بِالضَّرُورَةِ وَبِاللَّهِ تَعَالَى التَّوْفِيق ويسألون أَيْضا عَن هَذَا الزَّمَان وَالْمَكَان غير المعهودين أَهما دَاخل الْفلك أم خَارجه فَإِن قَالُوا هما دَاخل الْفلك فالخلاء إِذا هُوَ الملاء وَالْمَكَان إِذا فِي التَّمَكُّن يَعْنِي فِي دَاخله وَهَذَا محَال وَالزَّمَان إِذن هُوَ الَّذِي لَا يعرف غَيره وَإِن قَالُوا هما خَارج الْفلك أوجبوا لَهما نِهَايَة ابْتِدَاء مِمَّا هُوَ خَارج الْفلك وَإِن قَالُوا لَا خَارج وَلَا دَاخل فَهَذِهِ دَعْوَى مفتقرة إِلَى برهَان وَلَا برهَان على صِحَّتهَا فَهِيَ بَاطِل فَإِن قَالُوا أَنْتُم تَقولُونَ هَذَا فِي البارىء تَعَالَى قُلْنَا لَهُم نعم لِأَن الْبُرْهَان قد قَامَ على وجوده فَلَمَّا صَحَّ وجوده تَعَالَى قَامَ الْبُرْهَان بِوُجُوب خِلَافه لكل مَا فِي الْعَالم على أَنه لَا دَاخل وَلَا خَارج وَأَنْتُم لم يَصح لكم برهَان على وجود الْخَلَاء وَالزَّمَان الَّذِي تَدعُونَهُ فَصَارَ كلامكم
তারা কি উল্লেখ করে যে এ দুটি কি সাধারণ বর্গ ও প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত কি না, এবং এ দুটি কি দশটি ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত কি না? যদি তারা বলে যে না, তবে তারা মূলত এ দুটির অস্তিত্বকেই অস্বীকার করল এবং এগুলোকে সম্পূর্ণরূপে অস্তিত্বহীন করে দিল। কারণ বিদ্যমান বস্তুসমূহের মধ্যে এমন কোনো কিছু নেই যা এই ক্যাটাগরিগুলোর এবং সাধারণ বর্গ ও প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত নয়; কেবল মহান সত্য, এক ও অদ্বিতীয় স্রষ্টা (আযযা ওয়া জাল্লা) ব্যতীত, যাঁর সম্পর্কে অকাট্য দলিলের মাধ্যমে জানা গেছে যে তিনি সাধারণ বর্গ, প্রজাতি এবং ক্যাটাগরিগুলোর ঊর্ধ্বে থাকা আবশ্যক। মোটকথা, তারা চাক বা না চাক, যে শূন্যতা এবং পরম সময়ের কথা তারা উল্লেখ করে, যদি সেগুলো বিদ্যমান থাকে তবে সেগুলো অবশ্যই পরিমাপ ও সংখ্যার বর্গের অধীনে পড়বে। যদি বিষয়টি এমনই হয়, তবে আমরা ও তারা যে সময় সম্পর্কে জানি এবং তারা যে সময়ের দাবি করে, এ উভয়ই একটি সাধারণ বর্গের অধীনে পড়বে, যা হলো 'কখন' (সময়)। একইভাবে তারা যে স্থানের দাবি করে, তা আমরা ও তারা যে স্থান চিনি তার সাথে 'কোথায়' (স্থান) নামক বর্গের অধীনে পড়বে। আর এটি অবশ্যম্ভাবী যে, বর্গের অধীনে থাকা কোনো অংশের জন্য যা সেই বর্গের কারণে অবধারিত হয়, তা ঐ বর্গের অধীনে থাকা সবকিছুর জন্যই অবধারিত। যেহেতু এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই, তাই এ দুটিও যৌগিক এবং এগুলোতে অবশ্যই সসীমতা বিদ্যমান, কারণ সকল ক্যাটাগরিই অনুরূপ। এছাড়া স্থানের জন্য অবশ্যই এমন একটি স্থায়িত্বকাল থাকতে হবে যাতে এটি বিদ্যমান থাকে। আমরা তাদের জিজ্ঞেস করি, সেই স্থায়িত্বকাল কি তাদের দাবিকৃত সময় নাকি অন্য কিছু? যদি তা ঐ সময় হয়, তবে তা হবে ঐ স্থানের জন্য একটি সময় এবং তা ঐ স্থানের মধ্যে ধৃত হবে; ফলে এটি হবে সময়বিশিষ্ট বস্তুর সাধারণ সময়ের মতোই, এতে কোনো পার্থক্য নেই। আর যদি তা অন্য কিছু হয়, তবে এখানে তৃতীয় এক সময়ের উদ্ভব হবে, যা ঐ স্থানের স্থায়িত্বকাল এবং আমরা ও তারা যে সময় জানি তা থেকে ভিন্ন হবে। এগুলো এমন সব ভ্রান্ত ধারণা যা প্রকাশ করতে এমন যে কেউ সক্ষম যে তার বক্তব্যের পরোয়া করে না এবং লজ্জিত হতে লজ্জাবোধ করে না। তাদের বলা হবে, যেহেতু আপনাদের দাবিকৃত স্থান ও আপনাদের দাবিকৃত সময় পরিচিত স্থান ও সময়ের সাথে একই বর্গের ও সংজ্ঞার অধীনে পড়ে না, তবে আপনারা এগুলোর নাম কেন 'স্থান' ও 'সময়' রাখলেন? কেন আপনারা এ দুটিকে আলাদা নামে অভিহিত করলেন না যাতে পরিভাষার গোলযোগ ও সংশয় দূর হতো এবং সমার্থক শব্দের মিশ্রণের মাধ্যমে সৃষ্ট কুযুক্তি থেকে রক্ষা পাওয়া যেত? যদি এ দুটি পরিচিত সময় ও স্থানের সাথে একই সংজ্ঞার অধীনে হয়, তবে আপনাদের পরিচিত সময় ও স্থানের বাইরে অন্য কোনো সময় ও স্থানের দাবি অবশ্যই বাতিল হয়ে যাবে। আর আল্লাহর তাওফীকেই সকল সাফল্য। তাদের কাছে এই অপরিচিত সময় ও স্থান সম্পর্কে আরও জিজ্ঞেস করা হবে যে, এ দুটি কি মহাকাশের অভ্যন্তরে নাকি বাইরে? যদি তারা বলে এ দুটি মহাকাশের অভ্যন্তরে, তবে শূন্যতা আসলে পূর্ণতা হয়ে গেল, আর স্থান হয়ে গেল স্থানের ভেতরেই, যা অসম্ভব। আর সময় তখন কেবল পরিচিত সময়টিই হবে। আর যদি তারা বলে এ দুটি মহাকাশের বাইরে, তবে তারা এ দুটির জন্য মহাকাশের বাইরে থেকে একটি শুরুর প্রান্ত বা সসীমতা নির্ধারণ করল। আর যদি তারা বলে না বাইরে না ভেতরে, তবে এটি এমন এক দাবি যার স্বপক্ষে প্রমাণ প্রয়োজন, আর এর সত্যতার কোনো প্রমাণ নেই, সুতরাং এটি অসার। যদি তারা বলে, আপনারা তো মহান আল্লাহ সম্পর্কেও এমনটিই বলেন, আমরা তাদের বলব: হ্যাঁ, কারণ তাঁর অস্তিত্বের স্বপক্ষে প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যখন মহান আল্লাহর অস্তিত্ব সাব্যস্ত হলো, তখন মহাবিশ্বের সকল বস্তু থেকে তাঁর ভিন্ন হওয়া আবশ্যক হওয়ার স্বপক্ষেও প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হলো যে, তিনি জগতের ভেতরেও নন এবং বাইরেও নন। কিন্তু আপনাদের দাবিকৃত শূন্যতা ও সময়ের অস্তিত্বের ব্যাপারে কোনো প্রমাণ সাব্যস্ত হয়নি, ফলে আপনাদের কথা হয়ে গেল...
(খণ্ড: ١)
আল-ফাসলু ফিল মিলালি ওয়াল আহওয়া-ই ওয়ান নিহাল
(পৃষ্ঠা: ٣٤)
كُله دَعْوَى وَبِاللَّهِ التَّوْفِيق
قَالَ أَبُو مُحَمَّد رضي الله عنه وَلم نجد لَهُم سؤالاً أصلا وَلَا أتونا قطّ بِدَلِيل فنورده عَنْهُم وَلَا وجدنَا لَهُم شَيْئا يُمكن الشغب بِهِ فِي أزلية الْخَلَاء والمدة فنورده عَنْهُم وَإِن لم ينتبهوا وَإِنَّمَا هُوَ رَأْي قلدوا فِيهِ بعض قدماء الْمُلْحِدِينَ فَقَط وَبِاللَّهِ التَّوْفِيق
قَالَ أَبُو مُحَمَّد رضي الله عنه وَمِمَّا يبطل بِهِ الْخَلَاء الَّذِي سموهُ مَكَانا مُطلقًا وَذكروا أَنه لايتناهي وَأَنه مَكَان مُتَمَكن فِيهِ برهَان ضَرُورِيّ لانفكاك مِنْهُ وأطرف شَيْء أَنه برهانهم الَّذِي موهوا بِهِ وشغبو بإيراده وَأَرَادُوا بِهِ إِثْبَات الْخَلَاء وَهُوَ أننا نرى الأَرْض وَالْمَاء والأجسام الترابية من الصخور والزئبق وَنَحْو ذَلِك طباعها السّفل أبدا وَطلب الْوسط والمركز وَأَنَّهَا لَا تفارق هَذَا الطَّبْع فتصعد إِلَّا بقسر يغلبها وَيدخل عَلَيْهَا كرفعنا المَاء وَالْحجر قهرا فَإِذا رفعناهما ارتفعا فَإِذا تركناهما عادا إِلَى طبعهما بالرسوب ونجد النَّار والهواء طبعهما الصعُود والبعد عَن المركز وَالْوسط وَلَا يفارقان هَذَا الطَّبْع إِلَّا بحركة قسراً تدخل عليهمو وَيرى ذَلِك عيَانًا كالزق المنفوخ والإناء المجوف المصوب فِي المَاء فَإِذا زَالَت تِلْكَ الْحَرَكَة القسرية رجعا إِلَى طبعهما ثمَّ نجد الْإِنَاء الْمُسَمّى سارقة المَاء يبقي المَاء فِيهَا صعداً وَلَا ينسفك ونجد الزراقة ترفع التُّرَاب والزئبق وَالْمَاء ونجد الزرافة ترفع التُّرَاب والزئبق وَالْمَاء ونجد إِذا حفرنا بِئْرا امْتَلَأَ هَوَاء وسفل الْهَوَاء حِينَئِذٍ ونجد المحجمة تمس الْجِسْم الأرضي إِلَى نَفسهَا فَلَيْسَ كل هَذَا إِلَّا لأحد وَجْهَيْن لَا ثَالِث لَهما إِمَّا عدم الْخَلَاء جملَة كَمَا نقُول نَحن وَإِمَّا لِأَن طبع الْخَلَاء يجتذب هَذِه الْأَجْسَام إِلَى نَفسه كَمَا يَقُول من يثبت الْخَلَاء فَنَظَرْنَا فِي قَوْلهم أَن طبع الْخَلَاء يجتذب هَذِه الْأَجْسَام إِلَى نَفسه كَمَا يَقُول من يثبت الْخَلَاء فوجدناه دَعْوَى بِلَا دَلِيل فَسقط ثمَّ تأملناه أُخْرَى فوجدناه عَائِدًا عَلَيْهِم لِأَنَّهُ إِذا اجتذبت الْأَجْسَام وَلَا بُد فقد صَار ملاء فالملاء حَاضر مَوْجُود والخلاء دَعْوَى لَا برهَان عَلَيْهَا فَسَقَطت وَثَبت عدم الْخَلَاء ثمَّ نَظرنَا فِي قَوْلنَا فوجدناه يعلم بِالْمُشَاهَدَةِ وَذَلِكَ أننا لم نجد إِلَّا بالحس وَلَا بتوهم الْعقل بالإمكان مَكَانا يبْقى خَالِيا قطّ دون مُتَمَكن فصح الملاء بِالضَّرُورَةِ وَبَطل الْخَلَاء إِذْ لم يقم عَلَيْهِ دَلِيل وَلَا وجد قطّ وَبِاللَّهِ تَعَالَى التَّوْفِيق
ثمَّ نقُول لَهُم إِن كَانَ خَارج الْفلك خلاء على قَوْلكُم فَلَا يَخْلُو من أَن يكون من جنس هَذَا الْخَلَاء الَّذِي تدعون أَنه يجتذب الْأَجْسَام بطبعه أَو يكون من غير جنسه وَلَا بُد من أحد هذَيْن الْوَجْهَيْنِ ضررة وَلَا سَبِيل إِلَى ثَالِث الْبَتَّةَ فَإِن قَالُوا هُوَ من جنسه
এসবই কেবল দাবি মাত্র, আর আল্লাহর সাহায্যেই সফলতা লাভ হয়।
আবু মুহাম্মদ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বলেন, আমরা তাদের পক্ষ থেকে মূলগতভাবে কোনো প্রশ্নই পাইনি এবং তারা কখনোই আমাদের কাছে কোনো প্রমাণ পেশ করেনি যা আমরা তাদের পক্ষ থেকে উল্লেখ করতে পারি। আর শূন্যতা ও মহাকালের অনাদিত্বের বিষয়ে আমরা তাদের এমন কিছু পাইনি যা নিয়ে বিতর্ক করা যায়, ফলে আমরা তাদের পক্ষ থেকে তা উল্লেখ করতাম যদি তারা সেদিকে ভ্রূক্ষেপও না করত। এটি কেবল একটি মত যা অনুসরণ করতে গিয়ে তারা প্রাচীন নাস্তিকদের অনুকরণ করেছে মাত্র। আর আল্লাহর সাহায্যেই সফলতা লাভ হয়।
আবু মুহাম্মদ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বলেন, যাকে তারা 'পরম স্থান' নামে অভিহিত করেছে, সেই শূন্যতাকে বাতিল করার পেছনে এমন এক অকাট্য প্রমাণ রয়েছে যা থেকে নিষ্কৃতির কোনো পথ নেই। সবচেয়ে কৌতূহলোদ্দীপক বিষয় হলো যে, এটি তাদেরই সেই প্রমাণ যা দ্বারা তারা বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে, বিতর্কের সৃষ্টি করেছে এবং এর মাধ্যমে শূন্যতা প্রমাণ করতে চেয়েছে। আর তা হলো, আমরা পৃথিবী, পানি এবং মাটিজাত বস্তু যেমন পাথর, পারদ ও এই জাতীয় বিষয়গুলোকে দেখি যে, এগুলোর প্রকৃতি সর্বদা নিচের দিকে ধাবিত হওয়া এবং কেন্দ্র ও মধ্যস্থল অনুসন্ধান করা। আর এগুলো এই প্রকৃতি ত্যাগ করে উপরে উঠে না যতক্ষণ না কোনো বাহ্যিক শক্তি সেগুলোর ওপর প্রবল হয় এবং তা চাপিয়ে দেয়; যেমন আমরা জোরাজুরি করে পানি বা পাথর উপরে উঠাই। ফলে যখন আমরা সেগুলোকে উপরে উঠাই তখন সেগুলো উপরে উঠে, আর যখন ছেড়ে দেই তখন সেগুলো থিতিয়ে পড়ার মাধ্যমে নিজ নিজ প্রকৃতির দিকে ফিরে যায়। আবার আমরা আগুন ও বাতাসকে দেখি যে, সেগুলোর প্রকৃতি হলো উপরে ওঠা এবং কেন্দ্র ও মধ্যস্থল থেকে দূরে সরে যাওয়া। আর এগুলো এই প্রকৃতি পরিহার করে না যতক্ষণ না কোনো বাহ্যিক বলপ্রয়োগের মাধ্যমে গতি সৃষ্টি করা হয়। এটি চাক্ষুষ দেখা যায়, যেমন বাতাস ভর্তি মশক বা পানির নিচে ডুবিয়ে রাখা ফাঁপা পাত্র। ফলে যখন সেই বলপ্রয়োগকৃত গতি দূর হয়ে যায়, তখন সেগুলো পুনরায় নিজেদের স্বাভাবিক প্রকৃতির দিকে ফিরে যায়। অতঃপর আমরা ‘পানি চোর’ নামক পাত্রটিতে দেখি যে, তাতে পানি উপরে স্থির থাকে এবং ঝরে পড়ে না। আমরা আরও দেখি যে, পিচকারি মাটি, পারদ ও পানি উপরে টেনে তোলে। আর আমরা যখন কোনো কূপ খনন করি, তখন তা বাতাসে পূর্ণ হয়ে যায় এবং সেই বাতাস তখন নিচে অবস্থান করে। আবার আমরা দেখি যে, শিঙা লাগানো যন্ত্রটি পার্থিব বস্তুকে নিজের দিকে টেনে ধরে। এই সমস্ত বিষয় দুটি কারণের বাইরে নয় এবং এর তৃতীয় কোনো পথ নেই। হয় শূন্যতা বলতে আদতে কিছুই নেই—যেমনটা আমরা বলি; অথবা শূন্যতার ধর্মই হলো এই বস্তুগুলোকে নিজের দিকে আকর্ষণ করা—যেমনটা শূন্যতার অস্তিত্বে বিশ্বাসীরা বলে থাকে। অতঃপর আমরা তাদের এই বক্তব্যের ওপর দৃষ্টিপাত করলাম যে, শূন্যতার প্রকৃতি এই বস্তুগুলোকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে; আমরা দেখতে পেলাম এটি প্রমাণহীন একটি দাবি মাত্র, ফলে তা বাতিল হয়ে গেল। এরপর আমরা বিষয়টি নিয়ে পুনরায় গভীরভাবে চিন্তা করলাম এবং দেখতে পেলাম যে এটি তাদের বিরুদ্ধেই যাচ্ছে; কারণ যদি কোনো স্থান বস্তুকে আকর্ষণ করে, তবে তা অবশ্যই পূর্ণতায় পরিণত হয়। সুতরাং পূর্ণতা বিদ্যমান ও উপস্থিত, আর শূন্যতা হলো এমন এক দাবি যার স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ নেই; ফলে তা বাতিল হলো এবং শূন্যতার অস্তিত্বহীনতা প্রমাণিত হলো। অতঃপর আমরা আমাদের বক্তব্যের ওপর দৃষ্টিপাত করলাম এবং একে পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে প্রমাণিত পেলাম। আর তা হলো, আমরা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য অভিজ্ঞতায় বা যুক্তিনির্ভর কল্পনায় এমন কোনো স্থান পাইনি যা দখলদার বস্তু ছাড়াই সর্বদা শূন্য থাকে। সুতরাং অপরিহার্যভাবেই ‘পূর্ণতা’ সত্য প্রমাণিত হলো এবং ‘শূন্যতা’ বাতিল হয়ে গেল; যেহেতু এর ওপর কোনো দলিল প্রতিষ্ঠিত হয়নি এবং বাস্তবেও এর অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। আর মহান আল্লাহর সাহায্যেই সফলতা লাভ হয়।
অতঃপর আমরা তাদের বলি, তোমাদের বক্তব্য অনুযায়ী যদি আসমানের বাইরে শূন্যতা থাকে, তবে তা হয় এই জাতীয় শূন্যতা হবে যা তোমাদের দাবি অনুযায়ী বস্তুসমূহকে স্বভাবগতভাবে আকর্ষণ করে, অথবা তা হবে অন্য কোনো প্রকৃতির। এই দুটি অবস্থার বাইরে তৃতীয় কোনো পথ নেই। যদি তারা বলে যে তা একই প্রকৃতির।
(খণ্ড: ١)
আল-ফাসলু ফিল মিলালি ওয়াল আহওয়া-ই ওয়ান নিহাল
(পৃষ্ঠা: ٣٥)
وَهُوَ قَوْلهم فقد أقرُّوا بِأَن طبع هَذَا الْخَلَاء الْغَالِب بِجَمِيعِ الطبائع هُوَ أَن يجتذب المتمكنات إِلَى نَفسه فيمتلىء بهَا حَتَّى أَنه يحِيل قوى العناصر عَن طباعها فَوَجَبَ أَن يكون ذَلِك الْخَلَاء الْخَارِج عَن الْفلك لذَلِك أَيْضا ضَرُورَة لِأَن هَذِه صفة طبعه وجنسه فَوَجَبَ بذلك ضَرُورَة أَن يكون مُتَمَكنًا فِيهِ وَلَا بُد وَإِذا كَانَ هَذَا وَذَلِكَ الْخَلَاء عِنْدهم لَا نِهَايَة لَهُ فالجسم الماليء لَهُ أَيْضا لَا نِهَايَة لَهُ وَقد قدمنَا الْبَرَاهِين الضرورية أَنه لَا يجوز وجود جسم لَا نِهَايَة لَهُ فالخلاء بَاطِل وَلَو كَانَ ذَلِك أَيْضا لَكَانَ مَلأ لَهُ خلاء وَهَذَا خلاف قَوْلهم فَإِن قَالُوا بل ذَلِك الْخَلَاء هُوَ من غير جنس هَذَا الْخَلَاء يُقَال لَهُم فَبِأَي شَيْء عرفتموه وَبِمَ استدللتم عَلَيْهِ وَكَيف وَجب أَن تسموه خلاء وَهُوَ لَيْسَ خلاء وَهَذَا لَا مخلص مِنْهُ وَبِاللَّهِ تَعَالَى التَّوْفِيق وهم فِي هَذَا سَوَاء وَمن قَالَ أَن فِي مَكَان خَارج من الْعَالم نَاسا لَا يحدون بِحَدّ النَّاس وَلَا هم كهؤلاء النَّاس أَو من قَالَ أَن فِي خَارج الْفلك نَارا محرقة لَيست من جنس هَذِه النَّار وكل هَذَا حمق وهوس
الْكَلَام على من قَالَ أَن فَاعل الْعَالم ومدبره أَكثر من وَاحِد قَالَ أَبُو مُحَمَّد رضي الله عنه افترق الْقَائِلُونَ بِأَن فَاعل الْعَالم أَكثر من وَاحِد فرقا ثمَّ ترجع هَذِه الْفرق إِلَى فرْقَتَيْن فإحدى الْفرْقَتَيْنِ تذْهب إِلَى أَن الْعَالم غير مدبريه وهم الْقَائِلُونَ بتدبير الْكَوَاكِب السَّبْعَة وأزليتها وهم الْمَجُوس فَإِن الْمُتَكَلِّمين ذكرُوا عَنْهُم أَنهم يَقُولُونَ أَن الْبَارِي عز وجل لما طَالَتْ وحدته استوحش فَلَمَّا استوحش فكر فكرة سوءٍ فتجسمت فاستحالت ظلمَة فَحدث مِنْهَا اهرمن وَهُوَ إِبْلِيس فرام البارىء تَعَالَى إبعاده عَن نَفسه يسْتَطع فتحرز مِنْهُ بِخلق الْخيرَات وَشرع اهرمن فِي خلق الشَّرّ وَلَهُم فِي ذَلِك تَخْلِيط كثير
قَالَ أَبُو مُحَمَّد رضي الله عنه وَهَذَا أَمر لَا تعرفه الْمَجُوس قَوْلهم الظَّاهِر هُوَ أَن الْبَارِي تَعَالَى وَهُوَ أورمن وابليس وَهُوَ اهرمن وكام وَهُوَ الزَّمَان وجام وَهُوَ الْمَكَان وَهُوَ الْخَلَاء أَيْضا ونوم وَهُوَ الْجَوْهَر وَهُوَ أَيْضا الهيولي وَهُوَ أَيْضا الطينة والخميرة خَمْسَة لم تزل وَإِن اهرمن هُوَ فَاعل الشرور وَإِن اورمن فَاعل الْخيرَات وَإِن نوم هُوَ الْمَفْعُول فِيهِ كل ذَلِك
وَقد أفردنا فِي نقض هَذِه الْمقَالة كتابا جمعناه فِي نقض كَلَام مُحَمَّد بن زَكَرِيَّا الرَّازِيّ الطَّبِيب فِي كِتَابه الموسوم بِالْعلمِ الإلهي وَالْمَجُوس يعظمون الْأَنْوَار والنيران والمياه إِلَّا أَنهم يقرونَ بنبوة زرادشت وَلَهُم شررائع يضيفونها إِلَيْهِ وَمِنْهُم
এটিই তাদের বক্তব্য, তারা স্বীকার করেছে যে এই শূন্যতার প্রকৃতি—যা সকল প্রকৃতির ওপর প্রবল—তা হলো এটি স্থান দখলকারী বস্তুসমূহকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে এবং তার দ্বারা পূর্ণ হয়ে যায়, এমনকি এটি মৌলিক উপাদানসমূহের শক্তিকেও তাদের নিজস্ব প্রকৃতি থেকে বিচ্যুত করে দেয়। সুতরাং আবশ্যিকভাবেই আকাশমণ্ডলের বাইরের সেই শূন্যতাও অনুরূপ হতে হবে, কারণ এটিই তার প্রকৃতি ও শ্রেণীর বৈশিষ্ট্য। ফলে আবশ্যিকভাবেই সেখানে কোনো কিছুর অবস্থান থাকা অপরিহার্য। আর যদি বিষয়টি এমন হয় এবং তাদের মতে সেই শূন্যতা অসীম হয়, তবে তাকে পূর্ণকারী বস্তুও অসীম হতে হবে। অথচ আমরা ইতোমধ্যেই অকাট্য প্রমাণাদি উপস্থাপন করেছি যে, অসীম কোনো বস্তুর অস্তিত্ব থাকা অসম্ভব; সুতরাং শূন্যতার এই ধারণা বাতিল। আর যদি বিষয়টি এমন হতো, তবে তার পূর্ণতা হতো শূন্যতা দিয়ে, যা তাদের নিজেদের বক্তব্যেরই পরিপন্থী। যদি তারা বলে যে, সেই শূন্যতা এই শূন্যতার সমগোত্রীয় নয়, তবে তাদের জিজ্ঞেস করা হবে: তোমরা কিসের মাধ্যমে তা জানলে এবং কিসের ভিত্তিতে এর সপক্ষে দলিল দিলে? আর কেনই বা তোমরা তাকে শূন্যতা বললে অথচ তা শূন্যতা নয়? এর থেকে নিষ্কৃতির কোনো পথ নেই। আর আল্লাহর সাহায্যেই তাওফিক লাভ হয়। এ বিষয়ে তারা সবাই সমান। যে ব্যক্তি বলে যে জগতের বাইরে এমন কোনো স্থানে মানুষ রয়েছে যাদের মানুষের সংজ্ঞায় সংজ্ঞায়িত করা যায় না এবং তারা এই মানুষদের মতোও নয়, অথবা যে বলে যে আকাশমণ্ডলের বাইরে এমন এক দহনকারী আগুন রয়েছে যা এই আগুনের সমজাতীয় নয়—এসবই মূর্খতা ও অলীক কল্পনা।
জগতের স্রষ্টা ও পরিচালক একের অধিক—এই মত পোষণকারীদের খণ্ডন আবু মুহাম্মদ রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, যারা জগতের স্রষ্টা একের অধিক বলে দাবি করে, তারা বিভিন্ন দলে বিভক্ত। অতঃপর এই দলগুলো প্রধান দুটি ভাগে ফিরে যায়। এক ভাগ মনে করে যে জগৎ তার পরিচালকগণ থেকে ভিন্ন; তারা সাতটি গ্রহের পরিচালনা ও সেগুলোর অনাদিত্বে বিশ্বাসী। তারা হলো মজুসী; কারণ কালাম শাস্ত্রবিদগণ তাদের সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন যে তারা বলে: মহান স্রষ্টা যখন দীর্ঘকাল একা ছিলেন, তখন তিনি একাকীত্ব অনুভব করলেন। যখন তিনি একাকীত্ব অনুভব করলেন, তখন তিনি একটি মন্দ চিন্তা করলেন, যা ঘনীভূত হয়ে অন্ধকারে রূপান্তরিত হলো। ফলে তা থেকে আহরিমান বা ইবলিসের উৎপত্তি হলো। তখন মহান স্রষ্টা তাকে নিজের থেকে দূরে সরিয়ে দিতে চাইলেন কিন্তু পারলেন না। তাই তিনি কল্যাণ সৃষ্টির মাধ্যমে তার থেকে আত্মরক্ষা করতে চাইলেন এবং আহরিমান অকল্যাণ সৃষ্টিতে লিপ্ত হলো। এ বিষয়ে তাদের আরও অনেক বিভ্রান্তিকর কথাবার্তা রয়েছে।
আবু মুহাম্মদ রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, এটি এমন একটি বিষয় যা সাধারণ মজুসীরাও জানে না। তাদের প্রকাশ্য বক্তব্য হলো: মহান স্রষ্টা (যিনি অরমাজদ), ইবলিস (যিনি আহরিমান), কাল (যিনি কাম), স্থান বা শূন্যতা (যিনি জাম), এবং মূল উপাদান বা আদি উপাদান (যিনি নুম)—এই পাঁচটি সত্তা অনাদি। আহরিমান হলো অমঙ্গলের কারক, অরমাজদ হলো মঙ্গলের কারক এবং নুম হলো সেই আধার যেখানে এই সবকিছু ঘটে।
আমরা এই মতবাদ খণ্ডনে একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছি, যাতে চিকিৎসক মুহাম্মদ ইবনে জাকারিয়া আর-রাযীর আল-ইলমুল ইলাহি নামক গ্রন্থের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। মজুসীরা আলো, আগুন ও পানিকে সম্মান করে, তবে তারা জরথুস্ত্রের নবুয়ত স্বীকার করে এবং তাদের কিছু বিধান রয়েছে যা তারা তার দিকে সম্বন্ধ করে। তাদের মধ্য থেকে...
(খণ্ড: ١)
আল-ফাসলু ফিল মিলালি ওয়াল আহওয়া-ই ওয়ান নিহাল
(পৃষ্ঠা: ٣٦)
المزدقية وهم أَصْحَاب مزدق الموبذ وهم الْقَائِلُونَ بالمساواة فِي المكاسب وَالنِّسَاء والخزمية أَصْحَاب بابك وهم فرقة من فرق المزدقية وهم أَيْضا سر مَذْهَب الإسماعيليلة وَمن كَانَ على قَول القرامطة وَبني عبيد وعنصرهم وَقد يُضَاف إِلَى جملَة من قَالَ أَن مُدبر الْعَالم أَكثر من وَاحِد الصابئون وهم يَقُولُونَ بقدم الأصليين على مَا قدمنَا نَحن قَول الْمَجُوس إِلَّا أَنهم يَقُولُونَ بتعظيم الْكَوَاكِب السَّبْعَة والبروج الاثْنَي عشر ويصورونها فِي هياكلهم ويقربون الذَّبَائِح والدخن وَلَهُم صلوَات خمس فِي الْيَوْم وَاللَّيْلَة تقرب من صلوَات الْمُسلمين وَيَصُومُونَ شهر رَمَضَان ويستقبلون فِي صلَاتهم الْكَعْبَة وَالْبَيْت الْحَرَام ويعظمون مَكَّة والكعبة ويحرمون الْميتَة وَالدَّم وَلحم الْخِنْزِير ويحرمون من القرائب مَا يحرم على الْمُسلمين وعَلى نَحْو هَذِه الطَّرِيقَة تفعل الْهِنْد بالبددة فِي تصويرها على أَسمَاء الْكَوَاكِب وتعظيمها وَهُوَ كَانَ أصل الْأَوْثَان فِي الْعَرَب والدقاقرة فِي السودَان حَتَّى آل الْأَمر مَعَ طول الزَّمَان إِلَى عِبَادَتهم إِيَّاهَا وَكَانَ الَّذِي يَنْتَحِلهُ الصائبون أقدم الْأَدْيَان على وَجه الدَّهْر وَالْغَالِب على الدُّنْيَا إِلَى أَن أَحْدَثُوا فِيهِ الْحَوَادِث وبدلوا شرائعه بِمَا ذكرنَا فَبعث الله عز وجل إِلَيْهِم إِبْرَاهِيم خَلِيله صلى الله عليه وسلم بدين الْإِسْلَام الَّذِي نَحن عَلَيْهِ الْآن وَتَصْحِيح مَا أفسدوه
মাজদাকিয়া হলো মুবায মাজদাকের অনুসারী এবং তারা উপার্জন ও নারীদের ক্ষেত্রে সাম্যবাদের প্রবক্তা। খুররামিয়া হলো বাবকের অনুসারী এবং তারা মাজদাকিয়াদেরই একটি উপদল; তারা ইসমাইলি মতবাদের গোপন রহস্য এবং যারা কারামিতা ও বনী উবাইদের মতাদর্শে বিশ্বাসী তাদের মূল ভিত্তি। আর বিশ্ব-পরিচালক একের অধিক বলে যারা দাবি করে, তাদের সাথে সাবেয়ীদের অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে; তারা মূল উপাদানসমূহের অনাদিত্বের প্রবক্তা—যেমনটি আমরা অগ্নিপূজকদের মতবাদ সম্পর্কে পূর্বে উল্লেখ করেছি। তবে পার্থক্য এই যে, তারা সাতটি গ্রহ ও বারোটি রাশিচক্রের মহিমা কীর্তন করে। তারা তাদের মন্দিরে এগুলোর প্রতিকৃতি তৈরি করে এবং সেগুলোর নিকট পশু বলি ও ধূপ নিবেদন করে। দিন ও রাতে তাদের পাঁচটি প্রার্থনা রয়েছে যা মুসলমানদের নামাজের কাছাকাছি; তারা রমজান মাসে রোজা রাখে এবং তাদের প্রার্থনায় কাবা ও বাইতুল হারামের অভিমুখী হয়। তারা মক্কা ও কাবাকে সম্মান করে এবং মৃত জন্তু, রক্ত ও শূকরের মাংস হারাম জ্ঞান করে। আত্মীয়দের মধ্য থেকে যাদের সাথে বিবাহ মুসলমানদের জন্য হারাম, তারাও তাদের হারাম মনে করে। একইভাবে হিন্দুস্থানের লোকেরা গ্রহের নামে বুদ্ধদের প্রতিকৃতি তৈরি ও সম্মান প্রদর্শন করে। এটাই ছিল আরবে মূর্তিপূজার মূল ভিত্তি এবং সুদানের দাকাকিরদের অবস্থা, যা দীর্ঘকাল অতিবাহিত হওয়ার পর তাদের উপাসনার পর্যায়ে পর্যবসিত হয়। সাবেয়ীরা যে ধর্মটি অনুসরণ করত তা ছিল পৃথিবীর প্রাচীনতম ধর্মগুলোর একটি এবং পৃথিবীতে প্রভাবশালী, যতক্ষণ না তারা এতে নতুন সব অনাচার সৃষ্টি করল এবং এর বিধানসমূহকে আমাদের উল্লিখিত বিষয়গুলো দ্বারা পরিবর্তন করে ফেলল। অতঃপর মহান আল্লাহ তাদের নিকট তাঁর খলিল ইবরাহিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সেই ইসলাম ধর্মসহ প্রেরণ করলেন যার ওপর আমরা বর্তমানে প্রতিষ্ঠিত আছি এবং তারা যা কলুষিত করেছিল তা সংশোধন করার দায়িত্ব দিলেন।
(খণ্ড: ١)
আল-ফাসলু ফিল মিলালি ওয়াল আহওয়া-ই ওয়ান নিহাল
(পৃষ্ঠা: ٣٧)
بالحنفية السمحة الَّتِي أَتَى بهَا مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم من عِنْد الله تَعَالَى فَبين لَهُم كَمَا نَص فِي الْقُرْآن بطلَان مَا أحدثوه من تَعْظِيم الْكَوَاكِب وعبادتها وَعبادَة الْأَوْثَان فلقي مِنْهُم مَا نَصه الله فِي كِتَابه وَكَانُوا فِي ذَلِك الزَّمَان وَبعده يسمون الحنفاء وَمِنْهُم الْيَوْم بقايا بحران وهم قَلِيل جدا فَهَذِهِ فرقة
وَيدخل من هَذِه الْفرْقَة من وَجه وَيخرج مِنْهَا من وَجه آخر النَّصَارَى فَأَما الْوَجْه الَّذِي يدْخلُونَ بِهِ فَهُوَ قَوْلهم بالتثليث وَأَن خَالق الْخلق ثَلَاثَة وَأما الْوَجْه الَّذِي يخرجُون بِهِ فَهُوَ أَن للصابئين شرائع يسندونها إِلَى هرمس وَيَقُولُونَ أَنه إِدْرِيس وَإِلَى قوم آخر يذكرُونَ أَنهم أَنْبيَاء كايلون وَيَقُولُونَ أَنه نوح عليه السلام واسفلانيوس صَاحب الهيكل الْمَوْصُوف وعاظميون ويوداسف وَغَيرهم وَالنَّصَارَى لَا يعْرفُونَ هَؤُلَاءِ لَكِن يقرونَ بنبوة نَبِي تعرفه من بني إِسْرَائِيل وَإِبْرَاهِيم وَإِسْحَاق وَيَعْقُوب عليهم السلام وَلَا يعْرفُونَ نبوة إِسْمَاعِيل وَصَالح وَهود وَشُعَيْب وَيُنْكِرُونَ نبوة مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم وعَلى إخْوَته الْأَنْبِيَاء عليهم السلام والصابئون لَا يقرونَ بنبوة أحد مِمَّن ذكرنَا أصلا وَكَذَلِكَ الْمَجُوس لَا يعْرفُونَ إِلَّا زرادشت فَقَط
وَأما الْفرْقَة الثَّانِيَة فَإِنَّهَا تذْهب إِلَى أَن الْعَالم هُوَ مدبروه لَا غَيرهم الْبَتَّةَ وهم الديصانية والمزقونية والمانية الْقَائِلُونَ بأزلية الطبائع الْأَرْبَع بسائط غير ممتزجة ثمَّ حدث الامتزاج فَحدث الْعَالم بامتزاجها فَأَما المانية فَإِنَّهُم يَقُولُونَ أَن أصلين لم يَزَالَا وهما نور الظلمَة وَأَن النُّور والظلمة حَيَّة وَأَن كليهمَا غير متناه إِلَّا من الْجِهَة الَّتِي لَاقَى مِنْهَا الآخر وَأما من جهاته الْخمس فَغير متناه وأنهما جرمان وَثمّ لَهُم فِي وصف امتزاجهم أَشْيَاء شَبيهَة بالخرافات وهم أَصْحَاب ماني
وَقَالَ المتكلمون أَن ديصان كَانَ تلميذ ماني وَهَذَا خطأٌ بل كَانَ أقدم من ماني لِأَن ماني ذكره فِي كتبه ورد عَلَيْهِ وهما متفقان فِي كل مَا ذكرنَا إِلَّا أَن الظلمَة عِنْد ماني حَيَّة
وَقَالَ ديصان هِيَ موَات وَكَانَ ماني رَاهِبًا بحران وأحدث هَذَا الدّين وَهُوَ الَّذِي قَتله الْملك بهْرَام بن بهْرَام إِذْ ناظره بِحَضْرَتِهِ إذرباذ بن ماركسفند موبذ مو بذان فِي مَسْأَلَة قطع النَّسْل وتعجيل فرَاغ الْعَام فَقَالَ لَهُ الموبذ أَنْت الَّذِي تَقول بِتَحْرِيم النِّكَاح ليستعجل فنَاء الْعَالم وَرُجُوع كل شكل إِلَى شكله وَأَن ذَلِك حق وَاجِب فَقَالَ لَهُ ماني وَاجِب أَن يعان النُّور على خلاصه بِقطع النَّسْل مِمَّا هُوَ فِيهِ من الامتزاج فَقَالَ لَهُ أذر باذ فَمن الْحق الْوَاجِب أَن يعجل لَك هَذَا الْخَلَاص الَّذِي تَدْعُو إِلَيْهِ وتعان على إبِْطَال هَذَا الامتزاج المذموم فَانْقَطع ماني فَأمر بهْرَام بقتل ماني فَقتل هُوَ وَجَمَاعَة
সেই সহজ ও উদার হানিফী আদর্শের মাধ্যমে যা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে নিয়ে এসেছেন। তিনি তাদের সামনে সুস্পষ্ট করে দিয়েছেন, যেমনটি কুরআনের বর্ণনায় এসেছে, তাদের উদ্ভাবিত নক্ষত্র পূজা, নক্ষত্রকে সম্মান প্রদর্শন এবং মূর্তিপূজার অসারতা। তাদের পক্ষ থেকে তিনি তেমনই আচরণের সম্মুখীন হয়েছেন যা আল্লাহ তাঁর কিতাবে বর্ণনা করেছেন। সেই যুগে এবং পরবর্তী সময়ে তারা 'হুনাফা' (একনিষ্ঠ একেশ্বরবাদী) নামে অভিহিত হতো। বর্তমানে হাররানে তাদের কিছু অবশিষ্ট অংশ রয়েছে, তবে তারা সংখ্যায় অতি নগণ্য। এটি হলো একটি দল।
খ্রিষ্টান সম্প্রদায় একদিক থেকে এই দলের অন্তর্ভুক্ত হয় এবং অন্যদিক থেকে এটি থেকে বেরিয়ে যায়। যে দিক থেকে তারা অন্তর্ভুক্ত হয় তা হলো তাদের ত্রিত্ববাদী মতবাদ এবং এই বিশ্বাস যে সৃষ্টির স্রষ্টা তিনজন। আর যে দিক থেকে তারা বেরিয়ে যায় তা হলো—সাবেয়ীদের এমন কিছু শরীয়ত বা বিধান রয়েছে যা তারা হরমিসের দিকে সম্বন্ধ করে থাকে এবং বলে যে তিনি হলেন ইদ্রিস (আলাইহিস সালাম)। আবার তারা অন্য এমন এক জাতির দিকেও সম্বন্ধ করে যাদেরকে তারা নবী হিসেবে উল্লেখ করে, যেমন আইলুন—যাকে তারা নূহ (আলাইহিস সালাম) বলে দাবি করে, বর্ণিত হাইকালের অধিপতি আসফালানিউস, আজামিউন, ইউদাসাফ এবং অন্যান্যরা। খ্রিষ্টানরা এদের চেনে না, তবে তারা বনী ইসরাইলের এমন নবীদের নবুওয়াত স্বীকার করে যাদের আপনি চেনেন, যেমন ইব্রাহিম, ইসহাক এবং ইয়াকুব (আলাইহিমুস সালাম)। কিন্তু তারা ইসমাইল, সালিহ, হূদ ও শুয়াইব (আলাইহিমুস সালাম)-এর নবুওয়াত স্বীকার করে না এবং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর ভ্রাতৃপ্রতিম নবীগণের নবুওয়াত অস্বীকার করে। অন্যদিকে সাবেয়ীরা আমরা যাদের কথা উল্লেখ করেছি তাদের কারোরই নবুওয়াত মোটেও স্বীকার করে না। তদ্রূপ অগ্নিপূজকরাও কেবল জরথুস্ত্র ছাড়া আর কাউকে চেনে না।
আর দ্বিতীয় দলটি এই মত পোষণ করে যে, এই জগত নিজেই নিজের পরিচালক, এছাড়া অন্য কেউই এর পরিচালক নয়। তারা হলো দাইসানিয়া, মারকুনিয়া এবং মানাবিয়্যাহ সম্প্রদায়; যারা চারটি সরল অবিমিশ্র প্রকৃতির অনাদিত্বের প্রবক্তা। তাদের মতে, পরবর্তীতে এগুলোর সংমিশ্রণ ঘটে এবং সেই সংমিশ্রণের ফলেই জগতের সৃষ্টি হয়। মানাবিয়্যাহদের বক্তব্য হলো, দুটি মূল সত্তা অনাদিকাল থেকে বিদ্যমান, আর তা হলো আলো ও অন্ধকার। আলো ও অন্ধকার উভয়ই জীবন্ত এবং প্রত্যেকেই অসীম, কেবল যে দিক দিয়ে একে অপরের সাথে মিলিত হয়েছে সেদিক ছাড়া। অন্য পাঁচটি দিক থেকে তারা অসীম। তারা উভয়ই জড়পিণ্ড। তাদের সংমিশ্রণের বর্ণনায় তাদের এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা রূপকথার গল্পের মতো। তারা হলো মানীর অনুসারী।
মুতাকাল্লিমগণ (ধর্মতাত্ত্বিকগণ) বলেছেন যে দাইসান মানীর ছাত্র ছিল, কিন্তু এটি ভুল। বরং সে মানীর চেয়েও প্রাচীন ছিল, কারণ মানী তার কিতাবসমূহে তার উল্লেখ করেছেন এবং তার প্রতিবাদ করেছেন। আমরা যা কিছু উল্লেখ করেছি সেগুলোর ক্ষেত্রে তারা উভয়েই একমত, তবে পার্থক্য হলো—মানীর মতে অন্ধকার জীবন্ত।
দাইসান বলেছে যে অন্ধকার হলো মৃত। মানী হাররানের একজন সন্ন্যাসী ছিল এবং সে এই ধর্মের উদ্ভাবন করে। বাদশাহ বাহরাম বিন বাহরাম তাকে হত্যা করেন। যখন তার উপস্থিতিতে আজরাবাদ বিন মারকাসফান্দ (পুরোহিতদের পুরোহিত) মানীর সাথে বংশধারা বিলোপ করা এবং জগতের সমাপ্তি ত্বরান্বিত করার বিষয়ে বিতর্ক করেন। তখন প্রধান পুরোহিত তাকে বললেন, "আপনিই কি সেই ব্যক্তি যিনি বিবাহ করা হারাম বলেন যাতে জগতের বিনাশ ত্বরান্বিত হয় এবং প্রতিটি রূপ তার মূল রূপের দিকে ফিরে যায় এবং একে আপনি অবধারিত সত্য মনে করেন?" মানী তাকে বললেন, "আলো যে মিশ্রিত অবস্থায় আছে তা থেকে তাকে মুক্ত করার জন্য বংশধারা বিলোপের মাধ্যমে সাহায্য করা অপরিহার্য।" তখন আজরাবাদ তাকে বললেন, "তাহলে তো সেই অবধারিত সত্য হলো আপনার জন্য সেই মুক্তি ত্বরান্বিত করা যার দিকে আপনি আহ্বান জানাচ্ছেন এবং এই নিন্দনীয় মিশ্রণ বিলোপের ক্ষেত্রে আপনাকে সাহায্য করা (অর্থাৎ আপনাকে হত্যা করা)।" মানী তখন নিরুত্তর হয়ে গেলেন। অতঃপর বাহরাম মানীকে হত্যার নির্দেশ দিলেন এবং সে ও তার একদল অনুসারীকে হত্যা করা হলো।