(খণ্ড: ১)
আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: -)
الفرق بين الفرق القسم: الفرق والردود
الكتاب: الفرق بين الفرق وبيان الفرقة الناجية
المؤلف: عبد القاهر بن طاهر بن محمد بن عبد الله البغدادي التميمي الأسفراييني، أبو منصور (ت 429هـ)
الناشر: دار الآفاق الجديدة - بيروت
الطبعة: الثانية، 1977
عدد الصفحات: 355
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক বিভাগ: ফিরকা ও খণ্ডনসমূহ
গ্রন্থ: আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক ওয়া বায়ানুল ফিরকাতিন নাজিয়াহ
লেখক: আব্দুল কাহির বিন তাহির বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-বাগদাদি আল-তামিমি আল-ইসফরাইনি, আবু মানসুর (মৃ. ৪২৯ হিজরি)
প্রকাশক: দারুল আ ফাক আল-জাদিদাহ - বৈরুত
সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৯৭৭
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৫৫
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ সংস্করণের অনুরূপ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: ১)
بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم رب يسر وَلَا تعسرالْحَمد لله فاطر الْخلق وموجده ومظهر الْحق ومنجده الَّذِي جعل الْحق وزرا لمن اعتقده وعمرا لمن اعْتَمدهُ وَجعل الْبَاطِل مزلا لمن ابتغاه ومذلا لمن اقْتَضَاهُ وَالصَّلَاة وَالسَّلَام على الصفوة الصافية والقدوة الهادية مُحَمَّد وَآله خِيَار الورى ومنار الْهدى
سَأَلْتُم أسعدكم الله مطلوبكم شرح معنى الْخَبَر الْمَأْثُور عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم فِي افْتِرَاق الامة ثَلَاثًا وَسبعين فرقة مِنْهَا وَاحِدَة نَاجِية تصير الى جنَّة عاليه وبواقيها عَادِية تصير الى الهاوية وَالنَّار الحامية وطلبتم الْفرق بَين الْفرْقَة النَّاجِية الَّتِي لَا يزل بهَا الْقدَم وَلَا تَزُول عَنْهَا النعم وَبَين فرق الضلال الَّذين يرَوْنَ ظلام الظُّلم نورا واعتقاد الْحق ثبورا وسيصلون سعيرا وَلَا يَجدونَ من الله نَصِيرًا
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। হে প্রতিপালক! আপনি সহজ করে দিন এবং কঠিন করবেন না।সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সৃষ্টির উন্মেষকারী ও অস্তিত্বদানকারী এবং সত্যের প্রকাশকারী ও সাহায্যকারী। তিনি সত্যকে তার বিশ্বাসীদের জন্য আশ্রয়স্থল এবং তার ওপর নির্ভরকারীদের জন্য প্রাণশক্তি হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। আর তিনি মিথ্যাকে তার অন্বেষণকারীদের জন্য পদস্খলন এবং তার অনুসারীদের জন্য লাঞ্ছনার কারণ করেছেন। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক পুত-পবিত্র মনোনীত সত্তা এবং পথপ্রদর্শক আদর্শ মুহাম্মাদ ও তাঁর পরিবারবর্গের প্রতি, যাঁরা সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ এবং হিদায়াতের আলোকবর্তিকা।
আপনারা (আল্লাহ আপনাদের সৌভাগ্য দান করুন) আমার কাছে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত সেই হাদিসের ব্যাখ্যা জানতে চেয়েছেন যেখানে উম্মতের তিয়াত্তরটি দলে বিভক্ত হওয়ার কথা বলা হয়েছে; যার মধ্যে একটি দল নাজাতপ্রাপ্ত যারা উচ্চ জান্নাতে প্রবেশ করবে, আর অবশিষ্টরা হবে সীমালঙ্ঘনকারী যারা হাবিয়া ও উত্তপ্ত অগ্নিতে প্রবেশ করবে। আপনারা জানতে চেয়েছেন সেই নাজাতপ্রাপ্ত দলের মধ্যকার পার্থক্য যাদের পদস্খলন হয় না এবং যাদের নেয়ামত বিলীন হয় না, আর সেই পথভ্রষ্ট দলগুলোর মধ্যকার পার্থক্য যারা জুলুমের অন্ধকারকে আলো মনে করে এবং সত্য বিশ্বাসকে ধ্বংস মনে করে; অচিরেই তারা প্রজ্বলিত অগ্নিতে প্রবেশ করবে এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো সাহায্যকারী পাবে না।
(খণ্ড: ১)
আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: ৩)
فَرَأَيْت إسعافكم بمطلوبكم من الْوَاجِب فِي إبانة الدّين القويم والصراط الْمُسْتَقيم وتمييزها من الْأَهْوَاء المنكوسة والآراء المعكوسة ليهلك من هلك عَن بَيِّنَة ويحيا من يحيا عَن بَيِّنَة فأودعت مطلوبكم مَضْمُون هَذَا الْكتاب وَقسمت مضمونه خَمْسَة ابواب هَذِه ترجمتها
بَاب فِي بَيَان الحَدِيث الْمَأْثُور فِي افْتِرَاق الْأمة ثَلَاثًا وَسبعين فرقة
بَاب فِي بَيَان فرق الْأمة على الْجُمْلَة وَمن لَيْسَ مِنْهَا على الْجُمْلَة
بَاب فِي بَيَان فضائح كل فرقة من فرق الاهواء الضَّالة
بَاب فِي بَيَان الْفرق الَّتِي انتسبت الى الاسلام وَلَيْسَت مِنْهَا
بَاب فِي بَيَان الْفرْقَة النَّاجِية وَتَحْقِيق نجاتها وَبَيَان محَاسِن دينه فَهَذِهِ جملَة ابواب هَذَا الْكتاب وَسَنذكر فِي كل بَاب مِنْهَا مُقْتَضَاهُ على شَرطه إِن شَاءَ الله تَعَالَى
সুসংহত দ্বীন ও সরল পথ স্পষ্ট করা এবং বিভ্রান্ত প্রবৃত্তি ও বিকৃত মতামত থেকে একে পৃথক করার আবশ্যকতা বিবেচনা করে আমি আপনাদের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা সমীচীন মনে করেছি; যাতে যে ধ্বংস হয় সে যেন সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে ধ্বংস হয় এবং যে জীবন লাভ করে সে যেন সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে জীবন লাভ করে। অতএব, আপনাদের কাম্য বিষয়টি আমি এই গ্রন্থের বিষয়বস্তুতে সন্নিবেশিত করেছি এবং এর বিষয়বস্তুকে পাঁচটি অধ্যায়ে বিভক্ত করেছি, যার শিরোনামসমূহ নিম্নরূপ:
উম্মাহর তিয়াত্তর ফেরকায় বিভক্ত হওয়া সংক্রান্ত বর্ণিত হাদীসের ব্যাখ্যা বিষয়ক অধ্যায়
উম্মাহর দলসমূহের সামগ্রিক বিবরণ এবং সামগ্রিকভাবে যারা এর অন্তর্ভুক্ত নয় তাদের পরিচয় বিষয়ক অধ্যায়
পথভ্রষ্ট প্রবৃত্তি পূজারী প্রতিটি দলের কলঙ্কসমূহ বর্ণনা বিষয়ক অধ্যায়
সেই সকল দলের বিবরণ যারা ইসলামের সাথে নিজেদের সম্পৃক্ত করে অথচ তারা ইসলামের অন্তর্ভুক্ত নয়
নাজাতপ্রাপ্ত দল, তাদের মুক্তির যথার্থতা এবং তাদের দ্বীনের সৌন্দর্য বর্ণনা বিষয়ক অধ্যায়। এগুলোই এই গ্রন্থের অধ্যায়সমূহের সমষ্টি। আমরা প্রতিটি অধ্যায়ে নির্ধারিত শর্তানুসারে সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি আলোচনা করব, ইনশাআল্লাহ তাআলা।
(খণ্ড: ১)
আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: ৪)
الْبَاب الاول فِي بَيَان الحَدِيث الْمَأْثُور فِي افْتِرَاق الْأمة
أخبرنَا أَبُو سهل بشر بن أَحْمد بن بشار الإسفراءينى قَالَ أخبرنَا عبد الله بن نَاجِية قَالَ حَدثنَا وهب بن بَقِيَّة عَن خَالِد ابْن عبد الله عَن مُحَمَّد بن عَمْرو عَن أبي سَلمَة عَن أبي هُرَيْرَة قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم افْتَرَقت الْيَهُود على إِحْدَى وَسبعين فرقة وَتَفَرَّقَتْ النَّصَارَى على اثْنَتَيْنِ وَسبعين فرقة وتفترق أمتى على ثَلَاث وَسبعين فرقة أخبرنَا أَبُو مُحَمَّد عبد الله بن مُحَمَّد بن على بن زِيَاد السميذى الْعدْل الثِّقَة قَالَ أخبرنَا أَحْمد بن الْحسن بن عبد الْجَبَّار قَالَ حَدثنَا الْهَيْثَم بن خَارِجَة قَالَ حَدثنَا إِسْمَاعِيل بن عَبَّاس عَن عبد الرَّحْمَن بن زِيَاد بن أنعم عَن عبد الله بن يزِيد عَن عبد الله بن عَمْرو قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم ليَأْتِيَن على أمتى مَا أَتَى على بنى إِسْرَائِيل تفرق بَنو اسرائيل على اثْنَتَيْنِ وَسبعين مِلَّة وَسَتَفْتَرِقُ امتى على ثَلَاث وَسبعين مِلَّة تزيد عَلَيْهِم
প্রথম পরিচ্ছেদ: উম্মতের বিভক্তি সম্পর্কে বর্ণিত হাদিসের বিবরণে।
আবু সাহল বিশর ইবনে আহমদ ইবনে বাশার আল-ইসফরাইনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে নাজিয়া আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ওয়াহাব ইবনে বাকিয়্যাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন খালিদ ইবনে আবদুল্লাহ থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে আমর থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: ইহুদিরা একাত্তরটি দলে বিভক্ত হয়েছিল এবং খ্রিস্টানরা বাহাত্তরটি দলে বিভক্ত হয়েছিল, আর অচিরেই আমার উম্মত তেহাত্তরটি দলে বিভক্ত হবে। আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে জিয়াদ আল-সামিদি আল-আদল আল-সিকাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আহমদ ইবনে হাসান ইবনে আবদুল জব্বার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: হাইসাম ইবনে খারি জাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি ইসমাইল ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে জিয়াদ ইবনে আনয়ুম থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে ইয়াজিদ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: বনী ইসরাঈলের ওপর যা আপতিত হয়েছিল, আমার উম্মতের ওপরও ঠিক তাই আপতিত হবে। বনী ইসরাঈল বাহাত্তরটি মতাদর্শে বিভক্ত হয়েছিল, আর অচিরেই আমার উম্মত তেহাত্তরটি মতাদর্শে বিভক্ত হবে, যা তাদের সংখ্যার চেয়েও একটি অধিক।
(খণ্ড: ১)
আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: ৫)
مِلَّة كلهم فِي النَّار الا مِلَّة وَاحِدَة قَالُوا يَا رَسُول الله من الْملَّة الْوَاحِدَة الَّتِي تنْقَلب قَالَ مَا أَنا عَلَيْهِ وأصحابي أخبرنَا القَاضِي أَبُو مُحَمَّد عبد الله بن عمر الْمَالِكِي قَالَ حَدثنَا أبي عَن أَبِيه قَالَ حَدثنَا الْوَلِيد بن مسلمة قَالَ حَدثنَا الاوزاعي قَالَ حَدثنَا قَتَادَة عَن انس عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ إِن بنى إِسْرَائِيل افْتَرَقت على إِحْدَى وَسبعين فرقة وَإِن امتى سَتَفْتَرِقُ على ثِنْتَيْنِ وَسبعين فرقة كلهَا فِي النَّار إِلَّا وَاحِدَة وهى الْجَمَاعَة قَالَ عبد القاهر للْحَدِيث الْوَارِد فِي افْتِرَاق الامة أَسَانِيد كَثِيرَة وَقد رَوَاهُ عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم جمَاعَة من الصَّحَابَة كأنس بن مَالك وَأبي هُرَيْرَة وَأبي الدَّرْدَاء وَجَابِر وَأبي سعيد الْخُدْرِيّ وَأبي بن كَعْب وَعبد الله بن عَمْرو بن الْعَاصِ وَأبي امامة ووائله بن الاسقع وَغَيرهم وَقد روى عَن الْخُلَفَاء الرَّاشِدين أَنهم ذكرُوا افْتِرَاق الامة بعدهمْ فرقا وَذكروا أَن الْفرْقَة النَّاجِية مِنْهَا فرقة وَاحِدَة وسائرها على الضلال فِي الدُّنْيَا والبوار فِي الْآخِرَة وروى عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم ذمّ الْقَدَرِيَّة وَأَنَّهُمْ مجوس هَذِه الامة وروى عَنهُ ذمّ المرجئة مَعَ الْقَدَرِيَّة وروى عَنهُ أَيْضا ذمّ المارقين وهم الْخَوَارِج وروى عَن أَعْلَام
আদর্শ, তাদের সবাই জাহান্নামী হবে কেবল একটি দল ব্যতীত। তাঁরা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! সেই একটি দল কোনটি যারা মুক্তি পাবে? তিনি বললেন, আমি এবং আমার সাহাবীগণ যার ওপর প্রতিষ্ঠিত। বিচারক আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে ওমর আল-মালিকী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা তাঁর পিতার সূত্রে আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, ওয়ালিদ ইবনে মাসলামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আওযায়ী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, কাতাদাহ আনাস (রা.)-এর সূত্রে নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: নিশ্চয়ই বনী ইসরাঈল একাত্তরটি দলে বিভক্ত হয়েছিল, আর অচিরেই আমার উম্মত বাহাত্তরটি দলে বিভক্ত হবে, যার সবকটিই জাহান্নামী হবে কেবল একটি ব্যতীত, আর সেটি হলো ‘আল-জামাআহ’।
আব্দুল কাহের বলেন, উম্মাহর বিভক্তি সম্পর্কে বর্ণিত এই হাদীসটির বহু সনদ রয়েছে। সাহাবীগণের এক বিশাল জামাত এটি নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, যেমন— আনাস ইবনে মালেক, আবু হুরায়রা, আবু দারদা, জাবির, আবু সাঈদ খুদরী, উবাই ইবনে কাব, আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস, আবু উমামা এবং ওয়াসিলা ইবনুল আসকা ও অন্যান্যগণ। খুলাফায়ে রাশেদীন থেকেও বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁরা তাঁদের পরবর্তী সময়ে উম্মাহর বিভিন্ন দলে বিভক্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। তাঁরা জানিয়েছেন যে, এর মধ্যে কেবল একটি দলই ‘নাজাতপ্রাপ্ত’ (মুক্তিপ্রাপ্ত) এবং অন্য সব দলই দুনিয়াতে ভ্রষ্টতার ওপর এবং আখেরাতে ধ্বংসের সম্মুখীন হবে। নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে কাদারিয়া সম্প্রদায়ের নিন্দা বর্ণিত হয়েছে যে, তারা এই উম্মতের ‘মাজুসি’ (অগ্নিউপাসক)। তদ্রূপ কাদারিয়াদের সাথে মুরজিয়া সম্প্রদায়ের নিন্দাও তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে। তাঁর থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে ‘মারিকীন’ বা ধর্মত্যাগী তথা খারেজীদের নিন্দা। এছাড়াও প্রখ্যাত ইমামগণের থেকে বর্ণিত হয়েছে যে...
(খণ্ড: ১)
আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: ৬)
الصَّحَابَة ذمّ الْقَدَرِيَّة والمرجئة والخوارج المارقة وَقد ذكرهم على رضى الله عَنهُ فِي خطبَته الْمَعْرُوفَة بالزهراء وبرىء فِيهَا من اهل الاديموات وَقد علم كل ذِي عقل من أَصْحَاب المقالات المنسوبة الى أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم عليه السلام لم يرد بِالْفرقِ المذمومة الَّتِي أهل النَّار فرق الْفُقَهَاء الَّذين اخْتلفُوا فِي فروع الْفِقْه مَعَ اتِّفَاقهم على اصول الدّين لَان الْمُسلمين فِيمَا اخْتلفُوا فِيهِ من فروع الْحَلَال وَالْحرَام على قَوْلَيْنِ أَحدهمَا قَول من يرى تصويب الْمُجْتَهدين كلهم فِي فروع الْفِقْه وَفرق الْفِقْه كلهَا عِنْدهم مصيبون وَالثَّانِي قَول من يرى فِي كل فرع تصويب وَاحِد من المتخلفين فِيهِ وتخطئة البَاقِينَ من غير تضليل مِنْهُ للمخطىء فِيهِ وَإِنَّمَا فصل النَّبِي عليه السلام بِذكر الْفرق المذمومة فرق أَصْحَاب الْأَهْوَاء الضَّالة الَّذين خالفوا الْفرْقَة النَّاجِية فِي ابواب الْعدْل والتوحيد أَو فِي الْوَعْد والوعيد أَو فِي بابى الْقدر والاستطاعة أَو فِي تَقْدِير الْخَيْر وَالشَّر أَو فِي بَاب الْهِدَايَة والضلالة أَو فِي بَاب الْإِرَادَة والمشيئة أَو فِي بَاب الروية والإدراك أَو فِي بَاب صِفَات
সাহাবীগণ কদরিয়া, মুরজিয়া এবং ধর্মচ্যুত খারিজিদের নিন্দা করেছেন। আলী (রাদিআল্লাহু আনহু) তাঁর 'আয-যাহরা' নামে পরিচিত সুপ্রসিদ্ধ ভাষণে তাদের কথা উল্লেখ করেছেন এবং সেখানে তিনি বিভ্রান্ত প্রবৃত্তিপূজারীদের থেকে নিজেকে দায়মুক্ত ঘোষণা করেছেন। আকিদাগত বিষয়ে অভিজ্ঞ প্রত্যেক বুদ্ধিমান ব্যক্তিই অবগত আছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জাহান্নামী ও নিন্দিত দল বলতে সেই ফকিহ বা আইনবিদদের উদ্দেশ্য করেননি যারা দ্বীনের মূলনীতিতে একমত থাকা সত্ত্বেও ফিকহের শাখা-প্রশাখার মাসয়ালাসমূহে মতভেদ করেছেন। কেননা হালাল ও হারামের শাখাগত বিষয়ে মুসলিমদের ইজতিহাদি মতভেদ দুই ধরনের: প্রথমত, যারা মনে করেন ফিকহি মাসয়ালাসমূহে সকল মুজতাহিদই সঠিক এবং তাদের সকল মাযহাবই সত্যের অনুসারী। দ্বিতীয়ত, যারা মনে করেন প্রতিটি শাখাগত মাসয়ালায় মতভেদকারীদের মধ্যে কেবল একজনই সঠিক এবং অন্য সকলে ভুল করেছেন, তবে তিনি ভুলকারীকে পথভ্রষ্ট বলেন না। মূলত নবী (আলাইহিস সালাম) নিন্দিত দল বলতে সেই সকল বিভ্রান্ত প্রবৃত্তিপূজারী দলকে পৃথক করে বুঝিয়েছেন, যারা ‘নাজাতপ্রাপ্ত দল’ বা মুক্তিপ্রাপ্ত দলের বিরোধিতা করেছে— মহান আল্লাহর ইনসাফ ও তাওহীদ, জান্নাতের প্রতিশ্রুতি ও জাহান্নামের হুঁশিয়ারি, তাকদীর ও মানুষের সক্ষমতা, কল্যাণ ও অকল্যাণের নির্ধারণ, হিদায়াত ও পথভ্রষ্টতা, আল্লাহর ইচ্ছা ও অভিপ্রায়, এবং পরকালে আল্লাহর দর্শন ও অনুধাবন কিংবা মহান আল্লাহর গুণাবলি সংক্রান্ত বিষয়সমূহে।
(খণ্ড: ১)
আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: ৭)
لله عز وجل وأسمائه وأوصافه أَو فِي بَاب من أَبْوَاب التَّعْدِيل والتجويز أَو فِي بَاب من أَبْوَاب النُّبُوَّة وشروطها وَنَحْوهَا من الابواب الَّتِي اتّفق عَلَيْهَا أهل السّنة وَالْجَمَاعَة من فريقى الرأى والْحَدِيث على أصل وَاحِد خالفهم فِيهَا أهل الْأَهْوَاء الضَّالة من الْقَدَرِيَّة والخوارج وَالرَّوَافِض والنجارية والجهمية والمجسمة والمشبهة وَمن جرى من فرق الضلال فان الْمُخْتَلِفين فِي الْعدْل والتوحيد والقبور والاسلاف متحدو الروية وَالصِّفَات وَالتَّعْدِيل والتجويز وفى شُرُوط النُّبُوَّة والإمامة يكفر بَعضهم بَعْضًا فصح تَأْوِيل الحَدِيث المروى فِي افْتِرَاق الْأمة ثَلَاثًا وَسبعين فرقة الى هَذَا النَّوْع من الِاخْتِلَاف دون الانواع الَّتِي اخْتلفت فِيهَا ائمة الْفِقْه من فروع الاحكام فِي أَبْوَاب الْحَلَال وَالْحرَام أَو لَيْسَ فِيمَا بَينهم تَكْفِير وَلَا تضليل فِيمَا اخْتلفُوا فِيهِ من احكام الْفُرُوع وَسَنذكر الْفرق الَّتِي رَجَعَ اليهم تَأْوِيل الْخَبَر المروى فِي افْتِرَاق الامة فِي الْبَاب الَّذِي يلى مَا نَحن فِيهِ إِن شَاءَ الله عز وَجل
মহান আল্লাহ, তাঁর নামসমূহ ও গুণাবলী সম্পর্কে, অথবা ন্যায়বিচার ও যৌক্তিকতা (তাদীল ও তাজউইজ) সংক্রান্ত কোনো অধ্যায়ে, অথবা নবুওয়াত ও এর শর্তাবলী এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয়ে—যে বিষয়গুলোতে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের উভয় ধারা (আহলুর রায় ও আহলুল হাদিস) একটি অভিন্ন মূলনীতির ওপর একমত হয়েছে এবং যেগুলোতে ভ্রান্ত প্রবৃত্তিপূজারী দল যেমন—কাদারিয়্যাহ, খাওয়ারিজ, রাওয়াফিজ, নাজ্জারিয়্যাহ, জাহমিয়্যাহ, মুজাসসিমা, মুশাব্বিহা এবং অন্যান্য পথভ্রষ্ট দলগুলো তাদের বিরোধিতা করেছে। কারণ যারা আদল (ন্যায়বিচার), তাওহীদ, কবরের বিষয়াদি এবং সালাফদের (পূর্বসূরী) ব্যাপারে ভিন্নমত পোষণ করে, তারা আল্লাহর দর্শন (রুইয়াহ), গুণাবলী, তাদীল ও তাজউইজ এবং নবুওয়াত ও ইমামতের শর্তাবলীর ক্ষেত্রে একে অপরকে কাফির সাব্যস্ত করে। ফলে উম্মতের তিয়াত্তর দলে বিভক্ত হওয়ার যে হাদিস বর্ণিত হয়েছে, তার সঠিক ব্যাখ্যা এই ধরনের মতপার্থক্যের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হওয়া যুক্তিযুক্ত; ফিকহ শাস্ত্রের ইমামগণের হালাল-হারাম সংক্রান্ত শাখা-প্রশাখাগত বিধানের মতপার্থক্যের ক্ষেত্রে নয়। কেননা তাঁদের মধ্যকার শাখা-প্রশাখাগত মতবিরোধের কারণে কেউ কাউকে কাফির কিংবা পথভ্রষ্ট আখ্যা দেননি। মহান আল্লাহ চাহেন তো আমরা পরবর্তী অধ্যায়ে সেই দলগুলোর পরিচয় উল্লেখ করব, যাদের ক্ষেত্রে উম্মতের বিভক্তি সংক্রান্ত বর্ণিত খবরের ব্যাখ্যাটি প্রযোজ্য হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: ৮)
الْبَاب الثَّانِي من أَبْوَاب هَذَا الْكتاب
فِي كَيْفيَّة افْتِرَاق الامة ثَلَاثًا وَسبعين وفى ضمنه بَيَان الْفرق الَّذين يجمعهُمْ اسْم مِلَّة الاسلام فِي الْجُمْلَة يَقع فِي هَذَا الْبَاب فصلان أَحدهمَا فِي بَيَان الْمَعْنى الْجَامِع للْفرق الْمُخْتَلفَة فِي اسْم مِلَّة الاسلام فِي الْجُمْلَة والفصل الثَّانِي فِي بَيَان كَيْفيَّة اخْتِلَاف الامة وَتَحْصِيل عدد فرقها الثَّلَاث وَسبعين وَسَنذكر فِي كل وَاحِد من هذَيْن الْفَصْلَيْنِ مُقْتَضَاهُ ان شَاءَ الله عز وجل
الْفَصْل الاولفِي بَيَان الْمَعْنى الْجَامِع للْفرق الْمُخْتَلفَة فِي اسْم مِلَّة الاسلام على الْجُمْلَة قبل التَّفْصِيل اخْتلف المنتسبون الى الاسلام فِي الَّذين يدْخلُونَ بِالِاسْمِ الْعَام فِي مِلَّة الاسلام فَزعم أَبُو الْقَاسِم الكعبى فِي مقالاته أَن قَول الْقَائِل امة الاسلام تقع على كل مقرّ بنبوة مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم وان كل مَا
এই কিতাবের অধ্যায়সমূহের মধ্যে দ্বিতীয় অধ্যায়
উম্মাহর তিয়াত্তর দলে বিভক্ত হওয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে এবং এর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ঐ সকল দলসমূহের বর্ণনা যাদেরকে সামগ্রিকভাবে ইসলামি মিল্লাতের নাম অন্তর্ভুক্ত করে। এই অধ্যায়ে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে। প্রথমটি হলো সামগ্রিকভাবে ইসলামি মিল্লাতের অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন দলসমূহের সমন্বিত অর্থের বর্ণনায়, আর দ্বিতীয় পরিচ্ছেদটি হলো উম্মাহর মতপার্থক্যের ধরন এবং এর তিয়াত্তরটি দলের সংখ্যার বিন্যাস সম্পর্কে। ইনশাআল্লাহ মহান আল্লাহ চাইলে আমরা এই উভয় পরিচ্ছেদের প্রত্যেকটিতে এর উদ্দেশ্য বর্ণনা করব।
প্রথম পরিচ্ছেদবিস্তারিত আলোচনার পূর্বে সামগ্রিকভাবে ইসলামি মিল্লাতের নামের অধীনে বিভিন্ন দলসমূহের সমন্বিত অর্থের বর্ণনায়। ইসলামের প্রতি সম্বন্ধযুক্ত ব্যক্তিবর্গ ঐ সকল লোক সম্পর্কে মতভেদ করেছেন যারা ইসলামি মিল্লাতের সাধারণ নামের অন্তর্ভুক্ত হবে। আবু আল-কাসিম আল-কাব্বি তার 'মাকালাত' গ্রন্থে দাবি করেছেন যে, কোনো বক্তার 'ইসলামি উম্মাহ' কথাটি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নবুওয়াত স্বীকারকারী প্রত্যেকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে এবং যা কিছু...
(খণ্ড: ১)
আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: ৯)
جَاءَ بِهِ حق كَائِنا قَوْله بعد ذَلِك مَا كَانَ وَزعم قوم أَن أمة الْإِسْلَام كل من يرى وجوب الصَّلَاة الى جِهَة الْكَعْبَة وَزَعَمت الكرامية مجسمة خُرَاسَان أَن امة الاسلام جَامِعَة لكل من أقرّ بشهادتي الاسلام لفظا وَقَالُوا كل من قَالَ لَا اله الا الله مُحَمَّد رَسُول الله فَهُوَ مُؤمن حَقًا وَهُوَ من أهل مِلَّة الاسلام سَوَاء كَانَ مخلصا فِيهِ أَو منافقا مُضْمر الْكفْر فِيهِ والزندقة وَلِهَذَا زَعَمُوا أَن الْمُنَافِقين فِي عهد رَسُول الله صلى الله عليه وسلم كَانُوا مُؤمنين حَقًا وَكَانَ ايمانهم كايمان جِبْرِيل وميكاءيل والانبياء وَالْمَلَائِكَة مَعَ اعْتِقَادهم النِّفَاق وَإِظْهَار الشَّهَادَتَيْنِ وَهَذَا القَوْل مَعَ قَول الكعبى فِي تفسيراته الاسلام ينْتَقض بقول العيسوية من يهود أَصْبَهَان فانهم يقرونَ بنبوة نَبينَا مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم وَبِأَن كل مَا جَاءَ بِهِ حق وَلَكنهُمْ زَعَمُوا انه بعث الى الْعَرَب لَا الى بنى اسرائيل وَقَالُوا ايضا مُحَمَّد رَسُول الله وَمَا هم معدودين فِي فرق الاسلام وَقوم من شاركانية الْيَهُود حكوا عَن زعيمهم الْمَعْرُوف بشاركان أَنه قَالَ أَن مُحَمَّدًا رَسُول الله الى الْعَرَب والى سَائِر النَّاس مَا خلا الْيَهُود وَأَنه قَالَ أَن الْقُرْآن حق وكل الاذان وَالْإِقَامَة والصلوات الْخمس وَصِيَام شهر رَمَضَان
তিনি যা সত্য নিয়ে এসেছেন, তাঁর সেই কথাটি পরবর্তীতে যা-ই হোক না কেন। একদল লোক মনে করেন যে, ইসলামী উম্মাহর অন্তর্ভুক্ত হলো সেই প্রত্যেক ব্যক্তি, যে কাবার দিকে মুখ করে সালাত আদায় করাকে আবশ্যক বলে মনে করে। আর খুরাসানের মুজাসসিমা (দেহবাদী) কাররামিয়া সম্প্রদায় দাবি করে যে, ইসলামী উম্মাহ সেই সব ব্যক্তির সমষ্টি যারা মৌখিকভাবে ইসলামের দুই শাহাদাত (সাক্ষ্যবাণী) স্বীকার করে। তারা বলে, যে ব্যক্তি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ পাঠ করে, সে-ই প্রকৃত মুমিন এবং সে ইসলামের মিল্লাতের অন্তর্ভুক্ত, চাই সে অন্তরে একনিষ্ঠ হোক কিংবা মুনাফিক হোক যে ভেতরে কুফর ও যিন্দিকপনা (ধর্মহীনতা) গোপন রেখেছে। এই কারণেই তারা দাবি করে যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগের মুনাফিকরা প্রকৃত মুমিন ছিল এবং তাদের ঈমান ছিল জিবরাঈল, মিকাঈল, নবীগণ এবং ফেরেশতাদের ঈমানের মতো—তা সত্ত্বেও যে তারা অন্তরে নিফাক (কপটতা) পোষণ করত এবং কেবল মুখে শাহাদাত প্রকাশ করত। ইসলামের ব্যাখ্যায় এই বক্তব্য এবং কা'বীর বক্তব্য—উভয়টিই আসফাহানের ইহুদিদের ঈসাউইয়া সম্প্রদায়ের মতের দ্বারা অসার প্রমাণিত হয়। কারণ তারা আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুয়তের স্বীকৃতি দেয় এবং তিনি যা নিয়ে এসেছেন তাকে সত্য বলে মানে, কিন্তু তাদের দাবি হলো—তিনি আরবদের কাছে প্রেরিত হয়েছিলেন, বনী ইসরাঈলের কাছে নয়। তারা আরও বলে যে, ‘মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল’, কিন্তু তারা ইসলামের কোনো দলের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে গণ্য নয়। ইহুদিদের শারকানিয়া সম্প্রদায়ের একটি দল তাদের শারকান নামে পরিচিত নেতার থেকে বর্ণনা করে যে, তিনি বলেছেন: মুহাম্মদ আরবদের জন্য এবং ইহুদি ব্যতীত অন্য সব মানুষের জন্য আল্লাহর রাসুল। তিনি আরও বলেছেন যে, কুরআন সত্য এবং আযান, ইকামাত, পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ও রমজান মাসের রোজা—সবই সত্য।
(খণ্ড: ১)
আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: ১০)
وَحج الْكَعْبَة كل ذَلِك حق غير أَنه مَشْرُوع للْمُسلمين دون الْيَهُود وَرُبمَا فعل ذَلِك بعض الشاركانية قد أقرُّوا بشهادتي أَن لَا اله الا الله وَأَن مُحَمَّدًا رَسُول الله واقروا بِأَن دينه حق وَمَا هم مَعَ ذَلِك من أمة الاسلام لقَولهم بَان شَرِيعَة الاسلام لَا تلزمهم وَأما قَول من قَالَ ان اسْم مِلَّة الاسلام امْر وَاقع على كل من يرى وجوب الصَّلَاة الى الْكَعْبَة المنصوبة بِمَكَّة فقد رضى بعض فُقَهَاء الْحجاز هَذَا القَوْل وَأنْكرهُ أَصْحَاب الرأى لما روى عَن أبي حنيفَة أَن صحّح إِيمَان من أقرّ بِوُجُوب الصَّلَاة الى الْكَعْبَة وَشك فِي موضعهَا وَأَصْحَاب الحَدِيث لَا يصححون إِيمَان من شكّ فِي مَوضِع الْكَعْبَة كَمَا لَا يصححون إِيمَان من شكّ فِي وجوب الصَّلَاة الى الْكَعْبَة
وَالصَّحِيح عندنَا أَن أمة الاسلام تجمع المقرين بحدوث الْعَالم وتوحيد صانعه وَقدمه وَصِفَاته وعدله وحكمته وَنفى التَّشْبِيه عَنهُ وبنبوة مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم ورسالته الى الكافة وبتأييد شَرِيعَته وَبِأَن كل مَا جَاءَ بِهِ حق وَبِأَن الْقُرْآن منبع أَحْكَام الشَّرِيعَة وَأَن الْكَعْبَة هِيَ الْقبْلَة الَّتِي تجب الصَّلَاة اليها فَكل من أقرّ بذلك كُله وَلم يشبه ببدعة تُؤَدّى الى الْكفْر فَهُوَ السنى الموحد وَأَن ضم الى الاقوال بِمَا ذَكرْنَاهُ بِدعَة شنعاء نظر فَإِن
এবং কাবার হজ্জ—এই সবই সত্য, তবে তা ইহুদিদের বাদ দিয়ে কেবল মুসলমানদের জন্য বিধিবদ্ধ। সম্ভবত শারকানিয়াহ সম্প্রদায়ের কিছু লোক এমনটি করে থাকে যারা এই সাক্ষ্য প্রদান করেছে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল; তারা স্বীকার করেছে যে তাঁর দ্বীন সত্য, কিন্তু তা সত্ত্বেও তারা ইসলামি উম্মাহর অন্তর্ভুক্ত নয়। কারণ তাদের দাবি হলো—ইসলামের শরীয়ত পালন করা তাদের জন্য আবশ্যক নয়। আর যারা বলেন যে, 'ইসলামি মিল্লাত' বা মুসলিম উম্মাহ শব্দটি এমন প্রত্যেকের ওপর প্রযোজ্য যারা মক্কায় অবস্থিত কাবার দিকে মুখ করে সালাত আদায় করা ওয়াজিব মনে করে—এই মতটি হিজাজের কিছু ফকীহ পছন্দ করেছেন, তবে আহলুর রায় (যুক্তিবাদী ফকীহগণ) একে অস্বীকার করেছেন। কারণ ইমাম আবু হানিফা (রহ.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি সেই ব্যক্তির ঈমানকে সঠিক বলেছেন যে কাবার দিকে সালাত আদায় করা ওয়াজিব বলে স্বীকার করে কিন্তু এর প্রকৃত অবস্থান সম্পর্কে সংশয়ে থাকে। পক্ষান্তরে আহলুল হাদিসগণ কাবার অবস্থান সম্পর্কে সন্দিহান ব্যক্তির ঈমানকে সহীহ বলেন না, ঠিক যেমন তারা কাবার দিকে সালাত আদায়ের আবশ্যকতা নিয়ে সন্দিহান ব্যক্তির ঈমানকেও সহীহ বলেন না।
আমাদের নিকট সঠিক সিদ্ধান্ত এই যে, ইসলামি উম্মাহ ঐ সমস্ত ব্যক্তিদের সমষ্টি যারা মহাবিশ্বের নশ্বরতা বা সৃষ্ট হওয়া, এর স্রষ্টার একত্ববাদ, তাঁর অনাদিত্ব, তাঁর গুণাবলি, তাঁর ন্যায়বিচার ও প্রজ্ঞা এবং তাঁর থেকে সৃষ্টির সাদৃশ্য নাকচ করার স্বীকৃতি দেয়; সেই সাথে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুওয়াত, সমগ্র জগতের প্রতি তাঁর রিসালাত, তাঁর শরীয়তের সমর্থন এবং তিনি যা কিছু নিয়ে এসেছেন তা সত্য হওয়ার স্বীকৃতি দেয়; আরও বিশ্বাস করে যে কুরআন হলো শরীয়তের বিধানের উৎস এবং কাবা হলো সেই কিবলা যার দিকে সালাত আদায় করা ওয়াজিব। অতএব, যে ব্যক্তি এই সবকিছুর স্বীকৃতি দেবে এবং কুফুর পর্যন্ত নিয়ে যায় এমন কোনো বিদআতে লিপ্ত হবে না, সেই হলো সুন্নী একত্ববাদী। আর যদি আমাদের উল্লিখিত বিষয়গুলোর সাথে কোনো জঘন্য বিদআত যুক্ত করে, তবে তা খতিয়ে দেখা হবে, কারণ...
(খণ্ড: ১)
আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: ১১)
كَانَ على بِدعَة الباطنية أَو البيانية أَو الْمُغيرَة اَوْ الخطابية الَّذين يَعْتَقِدُونَ إلهية الائمة اَوْ إلهية بعض الْأَئِمَّة اَوْ كَانَ على مَذَاهِب الْحُلُول أَو على بعض مَذَاهِب اهل التناسخ اَوْ على مَذْهَب الميمونية من الْخَوَارِج الَّذين أباحوا نِكَاح بَنَات الْبَنَات وَبَنَات الْبَنِينَ أَو على مَذْهَب اليزيدية من الاباضية فِي قَوْلهَا بَان شَرِيعَة الاسلام تنسخ فِي آخر الزَّمَان أَو أَبَاحَ مَا نَص الْقُرْآن على تَحْرِيمه أَو حرم مَا أَبَاحَهُ الْقُرْآن نصا لَا يحْتَمل التَّأْوِيل فَلَيْسَ هُوَ من أمة الاسلام وَلَا كَرَامَة لَهُ وان كَانَت بدعته من جنس بدع الْمُعْتَزلَة أَو الْخَوَارِج أَو الرافضة الامامية أَو الزيدية أَو من بدع البخارية أَو الْجَهْمِية أَو الضرارية أَو المجسمة فَهُوَ من الامة فِي بعض الاحكام وَهُوَ جَوَاز دَفنه فِي مَقَابِر الْمُسلمين وفى أَلا يمْنَع حَظه من الفىء وَالْغنيمَة ان غزا مَعَ الْمُسلمين وَفِي أَلا يمْنَع من الصَّلَاة فِي الْمَسَاجِد وَلَيْسَ من الامة فِي احكام سواهَا وَذَلِكَ أَلا تجوز الصَّلَاة عَلَيْهِ وَلَا خَلفه وَلَا تحل ذَبِيحَته وَلَا نِكَاحه لامْرَأَة سنية وَلَا يحل للسنى أَن يتَزَوَّج الْمَرْأَة مِنْهُم اذا كَانَت على اعْتِقَادهم وَقد قَالَ عَليّ بن أبي طَالب رضي الله عنه للخوارج علينا ثَلَاث لَا نبدؤكم بِقِتَال وَلَا نمنعكم مَسَاجِد الله أَن تَذكرُوا فِيهَا اسْم الله وَلَا نمنعكم من الفىء مَا دَامَت أَيْدِيكُم مَعَ أَيْدِينَا وَالله أعلم
যে ব্যক্তি বাতিনিয়া, বায়ানিয়া, মুগিরিয়া কিংবা খাত্তাবিয়াদের বিদআতের ওপর বিশ্বাসী হয়—যারা ইমামগণের বা কোনো কোনো ইমামের উপাস্য হওয়ার বিশ্বাস পোষণ করে—অথবা যারা হুলুল (সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টিতে লীন হওয়া) বা জন্মান্তরবাদে বিশ্বাসী, কিংবা খাওয়ারিজদের মায়মুনিয়া উপদলের অন্তর্ভুক্ত—যারা নাতনিদের (কন্যার কন্যা ও পুত্রের কন্যা) সাথে বিবাহ বৈধ মনে করে—অথবা ইবাদিয়াদের ইয়াজিদিয়া উপদলের অন্তর্ভুক্ত—যারা মনে করে শেষ যমানায় ইসলামি শরিয়ত রহিত হয়ে যাবে—কিংবা কুরআনে স্পষ্টভাবে হারাম ঘোষিত কোনো বিষয়কে হালাল মনে করে অথবা দ্ব্যর্থহীনভাবে হালাল ঘোষিত কোনো বিষয়কে হারাম মনে করে যা কোনো অপব্যাখ্যার অবকাশ রাখে না—তবে সে ইসলামি উম্মাহর অন্তর্ভুক্ত নয় এবং তার কোনো মর্যাদা নেই।
আর যদি তার বিদআত মুতাজিলা, খাওয়ারিজ, রাফেজি ইমামিয়া, জাইদিয়া কিংবা বুখারিয়া, জাহমিয়া, দিরারিয়া অথবা মুজাসসিমাদের বিদআতের পর্যায়ের হয়, তবে সে কিছু বিধানের ক্ষেত্রে উম্মাহর অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবে। তা হলো—তাকে মুসলিমদের কবরস্থানে দাফন করা যাবে, মুসলিমদের সাথে যুদ্ধে অংশ নিলে তাকে ‘ফায়’ ও গনিমতের (যুদ্ধলব্ধ সম্পদ) অংশ থেকে বঞ্চিত করা হবে না এবং তাকে মসজিদে নামাজ আদায় করতে বাধা দেওয়া হবে না। কিন্তু অন্যান্য বিধানের ক্ষেত্রে সে উম্মাহর অন্তর্ভুক্ত নয়। তা হলো—তার জানাজার নামাজ পড়া যাবে না, তার পেছনে নামাজ পড়া বৈধ নয়, তার জবেহ করা পশুর মাংস হালাল নয় এবং কোনো সুন্নি নারীর সাথে তার বিবাহ জায়েজ নয়। অনুরূপভাবে, তাদের কোনো নারী যদি উক্ত আকিদায় বিশ্বাসী হয়, তবে কোনো সুন্নি পুরুষের জন্য তাকে বিবাহ করাও হালাল নয়।
আলি ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) খাওয়ারিজদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন: “তোমাদের প্রতি আমাদের তিনটি দায়বদ্ধতা রয়েছে—আমরা আগে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করব না, তোমাদেরকে আল্লাহর মাসজিদসমূহে আল্লাহর নাম স্মরণ করতে বাধা দেব না এবং যতক্ষণ পর্যন্ত তোমাদের হাত আমাদের সাথে থাকবে (একত্র থাকবে), ততক্ষণ তোমাদেরকে ‘ফায়’ থেকে বঞ্চিত করব না।” আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১)
আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: ১২)
الْفَصْل الثَّانِي من هَذَا الْبَابفِي بَيَان كَيْفيَّة اخْتِلَاف الامة وَتَحْصِيل عدد فرقها الثَّلَاث وَالسبْعين كَانَ الْمُسلمُونَ عِنْد وَفَاة رَسُول الله صلى الله عليه وسلم على منهاج وَاحِد فِي اصول الدّين وفروعه غير من أظهر وفَاقا وأضمر نفَاقًا وَأول خلاف وَقع مِنْهُم اخْتلَافهمْ فِي موت النَّبِي عليه السلام فَزعم قوم مِنْهُم أَنه لم يمت وَإِنَّمَا أَرَادَ الله تَعَالَى رَفعه اليه كَمَا رفع عِيسَى بن مَرْيَم اليه وَزَالَ هَذَا الْخلاف وَأقر الْجَمِيع بِمَوْتِهِ حِين تَلا عَلَيْهِم أَبُو بكر الصّديق قَول الله لرَسُوله عليه السلام إِنَّك ميت وَإِنَّهُم ميتون وَقَالَ لَهُم من كَانَ يعبد مُحَمَّدًا فان مُحَمَّدًا قد مَاتَ وَمن كَانَ يعبد رب مُحَمَّد فانه حَيّ لَا يَمُوت ثمَّ اخْتلفُوا بعد ذَلِك فِي مَوضِع دفن النَّبِي صلى الله عليه وسلم فَأَرَادَ أهل مَكَّة رده الى مَكَّة لانها مولده ومبعثه وقبلته وَمَوْضِع نَسْله وَبهَا قبر جده إِسْمَاعِيل عليه السلام وَأَرَادَ أهل الْمَدِينَة دَفنه بهَا لِأَنَّهَا دَار هجرته وَدَار أنصاره وَقَالَ آخَرُونَ بنقله الى أَرض الْقُدس
এই অধ্যায়ের দ্বিতীয় পরিচ্ছেদউম্মাহর মধ্যকার মতপার্থক্যের ধরন এবং এর তিয়াত্তরটি উপদলের সংখ্যার বিবরণ প্রসঙ্গে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইনতিকালের সময় মুসলমানগণ দ্বীনের মূলনীতি (উসুল) এবং শাখা-প্রশাখায় (ফুরু) একই আদর্শের ওপর অবিচল ছিলেন; তবে তাদের কথা ভিন্ন যারা প্রকাশ্যে আনুগত্য প্রকাশ করলেও গোপনে মুনাফিকি পোষণ করত। তাদের মধ্যে প্রথম যে মতপার্থক্যটি দেখা দেয় তা ছিল নবী আলাইহিস সালাম-এর ইনতিকাল কেন্দ্রিক। তাদের একদল দাবি করেছিল যে, তিনি ইনতিকাল করেননি; বরং মহান আল্লাহ তাঁকে নিজের দিকে তুলে নিতে চেয়েছেন যেমনটি তিনি ঈসা ইবনে মারিয়াম আলাইহিস সালাম-কে নিজের দিকে তুলে নিয়েছিলেন। এ মতভেদের অবসান ঘটে এবং সকলেই তাঁর ইনতিকালের বিষয়টি স্বীকার করে নেন যখন আবু বকর সিদ্দিক তাদের সামনে রাসূল আলাইহিস সালাম-এর প্রতি আল্লাহর এই বাণী পাঠ করেন: "নিশ্চয়ই আপনি মরণশীল এবং তারাও মরণশীল।" এবং তিনি তাদের উদ্দেশ্যে বলেন: "যে ব্যক্তি মুহাম্মাদের ইবাদত করত সে জেনে রাখুক যে, নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ ইনতিকাল করেছেন; আর যে ব্যক্তি মুহাম্মাদের রবের ইবাদত করত, তবে তিনি চিরঞ্জীব, তাঁর মৃত্যু নেই।" এরপর তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দাফনের স্থান নিয়ে মতবিরোধে লিপ্ত হন। মক্কাবাসী চাইলেন তাঁকে মক্কায় ফিরিয়ে নিতে, কারণ এটি তাঁর জন্মস্থান, নবুওয়াত প্রাপ্তির স্থান, তাঁর কিবলা এবং তাঁর বংশধরের উৎপত্তিস্থল এবং সেখানেই তাঁর পিতামহ ইসমাইল আলাইহিস সালাম-এর কবর অবস্থিত। মদিনাবাসী তাঁকে সেখানেই দাফন করতে চাইলেন কারণ এটি তাঁর হিজরতের স্থান এবং তাঁর আনসারদের আবাসভূমি। আবার অন্য একদল তাঁকে পবিত্র ভূমি আল-কুদসে স্থানান্তরের প্রস্তাব দিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وَدَفنه بِبَيْت الْمُقَدّس عِنْد قبر جده إِبْرَاهِيم الْخَلِيل عليه السلام وَزَالَ هَذَا الْخلاف بِأَن روى لَهُم أَبُو بكر الصّديق عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم إِن الْأَنْبِيَاء يدفنون حَيْثُ يقبضون فدفنوه فِي حجرته بِالْمَدِينَةِ ثمَّ اخْتلفُوا بعد ذَلِك فِي الامامة وأذعنت الانصار الى الْبيعَة لسعد بن عبَادَة الخزرجي وَقَالَت قُرَيْش ان الْإِمَامَة لَا تكون الا فِي قُرَيْش ثمَّ أذعنت الانصار لقريش لما روى لَهُم قَول النَّبِي صلى الله عليه وسلم الْأَئِمَّة من قُرَيْش وَهَذَا الْخلاف بَاقٍ الى الْيَوْم لَان ضِرَارًا اَوْ الْخَوَارِج قَالُوا بِجَوَاز الْإِمَامَة فِي غير قُرَيْش ثمَّ اخْتلفُوا بعد ذَلِك فِي شَأْن فدك وفى تَوْرِيث التركات عَن الانبياء عليهم السلام ثمَّ نفذ فِي ذَلِك قَضَاء ابي بكر بروايته عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم ان الانبياء لَا يورثون ثمَّ اخْتلفُوا بعد ذَلِك فِي مَا نعى وجوب الزَّكَاة ثمَّ اتَّفقُوا على رَأْي أبي بكر فِي وجوب قِتَالهمْ ثمَّ اشتغلوا بعد ذَلِك بِقِتَال طليحة حِين تبنى وارتد حَتَّى انهزم الى الشَّام ثمَّ رَجَعَ فِي أَيَّام عمر الى الاسلام وَشهد مَعَ سعد بن أبي وَقاص حَرْب الْقَادِسِيَّة وَشهد بعد ذَلِك حَرْب نهاوند وَقتل بهَا شَهِيدا ثمَّ اشتغلوا بعد ذَلِك بِقِتَال مُسَيْلمَة الْكذَّاب الى أَن كفى الله تَعَالَى امْرَهْ
এবং বায়তুল মুকাদ্দাসে তাঁর পিতামহ ইবরাহিম খলীল (আলাইহিস সালাম)-এর কবরের পাশে তাঁকে দাফন করার বিষয়টি; আর এই মতভেদ দূরীভূত হয় যখন আবু বকর সিদ্দিক তাঁদের নিকট নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, "নিশ্চয়ই নবীগণ সেখানেই সমাহিত হন যেখানে তাঁদের মৃত্যু হয়।" ফলে তাঁরা তাঁকে মদিনায় তাঁর কক্ষেই দাফন করেন। এরপর তাঁরা ইমামত (নেতৃত্ব) নিয়ে মতভেদ করেন। আনসারগণ সা'দ ইবনে উবাদাহ আল-খাজরাজির আনুগত্যের দিকে ঝুঁকেছিলেন, আর কুরাইশগণ বলেছিল যে, ইমামত কেবল কুরাইশদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। পরবর্তীতে আনসারগণ কুরাইশদের প্রতি অনুগত হয় যখন তাঁদের নিকট নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এই বাণী বর্ণিত হয় যে, "ইমামগণ কুরাইশ থেকে হবেন।" এই মতভেদ আজ পর্যন্ত বিদ্যমান, কারণ দিরার অথবা খারিজিরা কুরাইশ ব্যতীত অন্যদের ইমামত বৈধ বলে মনে করে। এরপর তাঁরা ফাদাক এবং নবীগণের (আলাইহিমুস সালাম) মিরাস বা উত্তরাধিকার নিয়ে মতভেদ করেন। অতঃপর আবু বকরের দেওয়া ফয়সালা কার্যকর হয়, যিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, "নবীগণের কোনো উত্তরাধিকারী হয় না।" এরপর তাঁরা জাকাত দানে অস্বীকারকারীদের নিয়ে মতভেদ করেন এবং পরে তাঁদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার ব্যাপারে আবু বকরের রায়ের ওপর ঐকমত্য পোষণ করেন। এরপর তাঁরা তুলায়হার বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হন যখন সে নবুওয়াতের দাবি করে মুরতাদ হয়ে গিয়েছিল, এমনকি সে পরাজিত হয়ে সিরিয়ায় পালিয়ে যায়। অতঃপর উমরের যুগে সে পুনরায় ইসলামে ফিরে আসে এবং সা'দ ইবনে আবি ওয়াক্কাসের সাথে ক্বাদিসিয়ার যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। এরপর সে নিহাওয়ান্দের যুদ্ধে অংশ নেয় এবং সেখানে শহীদ হিসেবে নিহত হয়। এরপর তাঁরা ভণ্ড মুসাইলামার বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হন যতক্ষণ না আল্লাহ তাআলা তার আপদ থেকে রক্ষা করেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وَأمر سجَاح المتنبية وَأمر الاسود بن زيد العنسى ثمَّ اشتغلوا بعد ذَلِك بقتل سَائِر الْمُرْتَدين الى أَن كفى الله تَعَالَى أَمرهم ثمَّ اشتغلوا بعد ذَلِك بِقِتَال الرّوم والعجم وَفتح الله تَعَالَى لَهُم الْفتُوح وهم فِي اثناء ذَلِك كُله على كلمة وَاحِدَة فِي أَبْوَاب الْعدْل والتوحيد والوعد والوعيد وفى سَائِر اصول الدّين وانما كَانُوا يَخْتَلِفُونَ فِي فروع الْفِقْه كميراث الْجد مَعَ الاخوة وَالْأَخَوَات مَعَ الْأَب وَالأُم اَوْ مَعَ الْأَب وكمسائل الْعدْل والكلالة وَالرَّدّ وتعصيب الْأَخَوَات من الْأَب وَالأُم اَوْ من الْأَب مَعَ الْبِنْت اَوْ بنت الابْن وكاختلافهم فِي جر الولا وفى مسئلة الْحَرَام وَنَحْوهَا مِمَّا لم يُورث اخْتلَافهمْ فِيهِ تضليلا وَلَا تفسيقا وَكَانُوا على هَذِه الْجُمْلَة فِي ايام أبي بكر وَعمر وست سِنِين من خلَافَة عُثْمَان ثمَّ اخْتلفُوا بعد ذَلِك فِي أَمر عُثْمَان لِأَشْيَاء نقموها مِنْهُ حَتَّى أقدم لاجلها ظالموه على قَتله ثمَّ اخْتلفُوا بعد قَتله فِي قاتليه وخاذليه اخْتِلَافا بَاقِيا الى يَوْمنَا هَذَا ثمَّ اخْتلفُوا بعد ذَلِك فِي شَأْن على واصحاب الْجمل وَفِي شَأْن مُعَاوِيَة واهل صفّين وَفِي حكم الْحكمَيْنِ أبي مُوسَى الْأَشْعَرِيّ وَعَمْرو بن الْعَاصِ اخْتِلَافا بَاقِيا الى الْيَوْم ثمَّ حدث فِي زمَان الْمُتَأَخِّرين من الصَّحَابَة خلاف الْقَدَرِيَّة فى الْقدر والاستطاعة من معبد الْجُهَنِىّ وغيلان الدِّمَشْقِي والجعد بن دِرْهَم
মিথ্যা নবুওয়াত দাবিদার সাজাহ ও আসওয়াদ বিন যাইদ আল-আনসির বিষয়; অতঃপর তারা অন্যান্য সকল মুরতাদদের দমনে ব্যাপৃত হলেন, যতক্ষণ না আল্লাহ তাআলা তাদের সেই সংকট থেকে নিষ্কৃতি দিলেন। এরপর তারা রোমান ও অনারবদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মনোনিবেশ করলেন এবং আল্লাহ তাআলা তাদের জন্য নানাবিধ বিজয়ের দ্বার উন্মোচন করে দিলেন। এই সমস্ত সময়কালে তারা আদল (ন্যায়বিচার), তাওহীদ (একত্ববাদ), ওয়াদা (প্রতিশ্রুতি) ও ওয়াঈদ (সতর্কবাণী) এবং দ্বীনের অন্যান্য সকল মৌলিক বিষয়ে একই মূলনীতির ওপর ঐক্যবদ্ধ ছিলেন। তারা কেবল ফিকহের শাখা-প্রশাখামূলক মাসআলায় মতভেদ করতেন; যেমন ভাই-বোনদের সাথে দাদার মিরাস (উত্তরাধিকার), পিতা-মাতা উভয় দিক থেকে বা কেবল পিতার দিক থেকে হওয়া ভাই-বোনদের বিষয়, আওল (বণ্টন সমতা), কালালাহ, রাদ্দ (অবশিষ্টাংশ বণ্টন), কন্যা বা নাতনির উপস্থিতিতে সহোদর বা বৈমাত্রেয় বোনদের আসাবা হওয়া, দাসের ওয়ালা (মালিকানা সঙ্ক্রান্ত অধিকার) স্থানান্তর এবং হারাম সঙ্ক্রান্ত মাসআলা ও অনুরূপ অন্যান্য বিষয়। এসব বিষয়ে তাদের মতপার্থক্য কাউকে পথভ্রষ্ট বা ফাসিক সাব্যস্ত করার কারণ হয়নি। আবু বকর ও উমরের সমগ্র শাসনামলে এবং উসমানের খিলাফতের প্রথম ছয় বছর পর্যন্ত তারা এই সামগ্রিক স্থিতিশীলতার ওপর অটল ছিলেন। অতঃপর তারা উসমানের কিছু বিষয়ের ব্যাপারে দ্বিমত পোষণ করলেন যা তারা অপছন্দ করেছিলেন, যার ফলশ্রুতিতে জালেমরা তাকে হত্যার দুঃসাহস দেখাল। তার শাহাদাতের পর তারা তার হত্যাকারী এবং তাকে সহায়তাকারীদের বিষয়ে এমন মতভেদে লিপ্ত হলেন যা আজ অবধি বিদ্যমান। এরপর তারা আলী ও জঙ্গে জামালের সাথীদের বিষয়ে, মুয়াবিয়া ও সিফফিনের অধিবাসীদের বিষয়ে এবং দুই সালিস আবু মুসা আল-আশআরী ও আমর ইবনুল আসের ফয়সালার বিষয়ে মতভেদ করলেন, যা আজও অবশিষ্ট রয়েছে। এরপর সাহাবীগণের পরবর্তী যুগে মাবাদ আল-জুহানি, গাইলান আদ-দিমাশকি এবং জাদ বিন দিরহামের পক্ষ থেকে তাকদীর (ভাগ্য) ও সক্ষমতা (ইস্তিতাআত) বিষয়ে কাদারিয়াদের মতভেদের উদ্ভব ঘটে।
(খণ্ড: ১)
আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وتبرأ مِنْهُم الْمُتَأَخّرُونَ من الصَّحَابَة كَعبد الله بن عمر وَجَابِر بن عبد الله وَأبي هُرَيْرَة وَابْن عَبَّاس وَأنس بن مَالك وَعبد الله ابْن ابى اوفى وَعقبَة بن عَامر الْجُهَنِيّ وأقرانهم واوصوا اخلافهم بِأَن لَا يسلمُوا على الْقَدَرِيَّة وَلَا يصلوا على جنائزهم وَلَا يعودوا مرضاهم ثمَّ اخْتلفت الْخَوَارِج بعد ذَلِك فِيمَا بَينهَا فَصَارَت مِقْدَار عشْرين فرقة كل وَاحِدَة تكفر سائرها ثمَّ حدث فِي ايام الْحسن الْبَصْرِيّ خلاف وَاصل بن عطا الغزال فِي الْقدر وفى الْمنزلَة بَين المنزلتين وانضم اليه عَمْرو بن عبيد بن بَاب فِي بدعته فطردهما الْحسن عَن مَجْلِسه فاعتزلا عَن سَارِيَة من سواري مَسْجِد الْبَصْرَة فَقيل لَهما ولاتباعهما معتزلة لاعتزالهم قَول الامة فِي دَعْوَاهَا ان الْفَاسِق من امة الْإِسْلَام لَا مُؤمن وَلَا كَافِر
واما الروافض فان السبابية مِنْهُم اظهروا بدعتهم فِي زمَان على رضي الله عنه فَقَالَ بَعضهم لعلى انت الامة فاحرق عَليّ قوما مِنْهُم وَنفى ابْن سبأ الى ساباط الْمَدَائِن وَهَذِه الْفرْقَة لَيست من فرق امة الاسلام لتسميتهم عليا الها ثمَّ افْتَرَقت الرافضة بعد زمَان عَليّ رضي الله عنه اربعة اصناف زيدية وإمامية وكيسانية وغلاة وافترقت الزيدية فرقا والامامية فرقا
সহাবীদের মধ্যে যাঁরা পরবর্তী সময় পর্যন্ত জীবিত ছিলেন, যেমন আবদুল্লাহ বিন উমর, জাবির বিন আবদুল্লাহ, আবু হুরায়রা, ইবনে আব্বাস, আনাস বিন মালিক, আবদুল্লাহ ইবনে আবি আওফা, উকবা বিন আমের আল-জুহানি এবং তাঁদের সমসাময়িকগণ তাঁদের (কাদারিয়াদের) থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দেন। তাঁরা তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মকে এই মর্মে নির্দেশ দিয়ে যান যে, তারা যেন কাদারিয়াদের সালাম না দেয়, তাদের জানাজায় অংশ না নেয় এবং তাদের অসুস্থদের দেখতে না যায়। এরপর খারেজীরা নিজেদের মধ্যে মতবিরোধে লিপ্ত হয়ে প্রায় বিশটি উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়ে, যাদের প্রতিটি দল অন্য দলকে কাফের ঘোষণা করত। অতঃপর হাসান বসরীর যুগে তাকদীর এবং 'দুই অবস্থানের মধ্যবর্তী অবস্থান' (আল-মানজিলাতু বাইনাল মানজিলাতাইন) সংক্রান্ত বিষয়ে ওয়াসিল বিন আতা আল-গাজ্জালের পক্ষ থেকে বিরোধের সূত্রপাত হয়। আমর বিন উবাইদ বিন বাব তার এই বিদআতে তার সাথে যোগ দিলে হাসান বসরী তাঁদের উভয়কে তাঁর মজলিস থেকে বহিষ্কার করেন। তখন তাঁরা বসরা মসজিদের একটি স্তম্ভের নিকট পৃথক হয়ে অবস্থান নেন। উম্মাহর প্রচলিত অভিমত ত্যাগ করে তাদের এই দাবির কারণে যে—ইসলামের অন্তর্ভুক্ত কোনো ফাসেক ব্যক্তি মুমিনও নয় আবার কাফেরও নয়—তাদেরকে এবং তাদের অনুসারীদের 'মুতাযিলা' (বিচ্ছিন্ন দল) বলা হতে থাকে।
আর রাফেযীদের অন্তর্ভুক্ত সাবায়িয়্যাহ গোষ্ঠী আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর যুগে তাদের বিদআত প্রকাশ করে। তাদের কেউ কেউ আলীকে বলেছিল, 'আপনিই ইলাহ' (উপাস্য)। ফলে আলী তাদের একদলকে আগুনে পুড়িয়ে মারেন এবং ইবনে সাবাকে মাদায়েনের সাবাতে নির্বাসিত করেন। এই দলটি ইসলামী উম্মাহর কোনো ফেরকার অন্তর্ভুক্ত নয়, কারণ তারা আলীকে উপাস্য হিসেবে গণ্য করেছিল। অতঃপর আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সময়ের পরে রাফেযীরা চার শ্রেণিতে বিভক্ত হয়ে পড়ে: যায়দিয়া, ইমামিয়া, কায়সানিয়া এবং গুলাত (চরমপন্থী)। পরবর্তীতে যায়দিয়া ও ইমামিয়া দলগুলোও আরও অনেক উপদলে বিভক্ত হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: ১৬)
والغلاة فرقا كل فرقة مِنْهَا تكفر سائرها وَجَمِيع فرق الغلاة مِنْهُم خارجون عَن فرق الْإِسْلَام فاما فرق الزيدية وَفرق الامامية فمعدودون فِي فرق الامة وافترقت البخارية بِنَاحِيَة الرّيّ بعد الزَّعْفَرَانِي فرقا يكفر بَعْضهَا بَعْضًا وَظهر خلاف البكرية من بكر من اخت عبد الْوَاحِد بن زِيَاد وَخلاف الضرارية من ضرار بن عَمْرو وَخلاف الْجَهْمِية من جهم بن صَفْوَان وَكَانَ ظُهُور جهم وَبكر وَضِرَار فِي ايام ظُهُور وَاصل بن عطا فِي ضلالته وَظَهَرت دَعْوَة الباطنية فِي ايام الْمَأْمُون من حمْرَان قومط وَمن عبد الله بن مَيْمُون القداح وَلَيْسَت الباطنية من فرق مِلَّة الاسلام بل هِيَ من فرق الْمَجُوس على مَا نبينه بعد هَذَا وظهروا فِي ايام مُحَمَّد بن طَاهِر بن عبد الله بن طَاهِر بخراسان خلاف الكرامية المجسمة
فاما الزيدية من الرافضة فمطمعها ثَلَاث فرق وهى الجارودية والسليمانية وَقد يُقَال الحريرية ايضا والبترية وَهَذِه الْفرق الثَّلَاث يجمعها القَوْل بإمامة زيد بن على بن الْحُسَيْن بن على بن ابى طَالب فِي ايام خُرُوجه وَكَانَ ذَلِك فِي زمَان هِشَام بن عبد الْملك والكيسانية مِنْهُم فرق كَثِيرَة ترجع عَن التَّحْصِيل الى فرْقَتَيْن إِحْدَاهمَا تزْعم ان مُحَمَّد بن الْحَنَفِيَّة
চরমপন্থীরা (গুলাত) বিভিন্ন উপদলে বিভক্ত, যাদের প্রতিটি উপদল অন্যকে কাফির সাব্যস্ত করে। আর চরমপন্থীদের সকল উপদলই ইসলামের বহির্ভূত। তবে জায়দিয়া ও ইমামিয়া সম্প্রদায় উম্মাহর অন্তর্ভুক্ত দল হিসেবে পরিগণিত। জাফরানির পরে রায় অঞ্চলে বুখারিয়া সম্প্রদায় এমন সব উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়ে যারা একে অপরকে কাফির সাব্যস্ত করত। আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে জিয়াদের ভাগ্নে বকরের মাধ্যমে বকরিয়া মতবাদ, দিরার ইবনে আমরের মাধ্যমে দিরারিয়া মতবাদ এবং জাহম ইবনে সাফওয়ানের মাধ্যমে জাহমিয়া মতবাদের বিরোধিতা প্রকাশ পায়। জাহম, বকর ও দিরারের আবির্ভাব ঘটেছিল ওয়াসিল ইবনে আতার বিভ্রান্তি ও পথভ্রষ্টতা প্রকাশের সমসাময়িক কালে। আল-মামুনের শাসনামলে হামদান কারমাত ও আবদুল্লাহ ইবনে মাইমুন আল-কাদ্দাহর মাধ্যমে বাতিনিয়া মতবাদের দাওয়াত প্রকাশ পায়। বাতিনিয়া সম্প্রদায় ইসলামি মিল্লাতের অন্তর্ভুক্ত কোনো দল নয়, বরং তারা মাজুসি বা অগ্নিউপাসক সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত, যা আমরা পরবর্তীতে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করব। মুহাম্মাদ ইবনে তাহির ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে তাহিরের শাসনামলে খুরাসানে মুজাসসিমা কাররামিয়াদের বিরোধের সূত্রপাত হয়।
রাফিযিদের অন্তর্ভুক্ত জায়দিয়াদের প্রধানত তিনটি শাখা রয়েছে: জারুদিয়া, সুলাইমানিয়া (যাদের হারিরিয়াও বলা হয়) এবং বুতরিয়া। এই তিনটি উপদলই হিশাম ইবনে আবদিল মালিকের শাসনকালে যায়েদ ইবনে আলী ইবনুল হুসাইন ইবনে আলী ইবনে আবি তালিবের বিদ্রোহের সময় তাঁর ইমামতের বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করে। তাদের মধ্যে কায়সানিয়াদের অনেক উপদল রয়েছে যা নিবিড় বিশ্লেষণের পর দুটি প্রধান ধারায় পর্যবসিত হয়। তাদের একটি দল দাবি করে যে, মুহাম্মাদ ইবনুল হানাফিয়্যাহ...
(খণ্ড: ১)
আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: ১৭)
هِيَ لم يمت وهم على انْتِظَاره ويزعمون انه المهدى المنتظر والفرقة الثَّانِيَة مِنْهُم مقرون باماميته فِي وقته وبموته وينقلون الْإِمَامَة بعد مَوته الى غَيره ويختلفون بعد ذَلِك فِي الْمَنْقُول اليه
واما الامامية الْمُفَارقَة للزيدية والكسائية والغلاة فانها خمس عشرَة فرقة وَهن المحمدية والباقرية والناوسية والشميطية والعمارية والاسماعيلية والمباركية والموسوية والقطعية والاثنى عشرِيَّة والهشامية من اتِّبَاع هِشَام بن الحكم اَوْ من اتِّبَاع هِشَام بن سَالم الجواليقى والزرارية من اتِّبَاع زُرَارَة بن أعين واليونسية من اتِّبَاع يُونُس القمى والشيطانية من اتِّبَاع شَيْطَان الطاق والكاملية من اتِّبَاع أبي كَامِل وَهُوَ أفحشهم قولا فى على وفى سَائِر الصَّحَابَة رضى الله عَنْهُم فَهَذِهِ عشرُون فرقة من فرق الروافض مِنْهَا ثَلَاث زيدية وفرقتان من الكيسانية وَخمْس عشرَة فرقة من الإمامية فاما غلاتهم الَّذين قَالُوا بإلهية الائمة واباحوا مُحرمَات الشَّرِيعَة واسقطوا وجوب فَرَائض الشَّرِيعَة كالبيانية والمغيرية والجناحية والمنصورية والخطابية والحلولية وَمن جرى مجراهم فَمَا هم من فرق الاسلام وان كَانُوا منتسبين اليه وسنذكرها فِي بَاب مُفْرد بعد هَذَا الْبَاب
وَأما الْخَوَارِج فانها لما اخْتلفت صَارَت عشْرين فرقة وَهَذِه أسماؤها المحكمة الاولى والازارقة ثمَّ النجدات ثمَّ الصفرية
তারা দাবি করে যে তিনি মারা যাননি এবং তারা তাঁর অপেক্ষায় রয়েছে, আর তাদের ধারণা যে তিনিই প্রতীক্ষিত মাহদী। তাদের মধ্যে দ্বিতীয় দলটি তাঁর জীবদ্দশায় তাঁর ইমামত এবং তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি স্বীকার করে, কিন্তু তারা তাঁর মৃত্যুর পর ইমামত অন্য কারো কাছে স্থানান্তরিত হওয়ার কথা বর্ণনা করে এবং এরপর তারা সেই ব্যক্তি সম্পর্কে দ্বিমত পোষণ করে যার কাছে ইমামত স্থানান্তরিত হয়েছে।
আর যায়দিয়া, কায়সানিয়া ও চরমপন্থীদের (গুলাত) থেকে পৃথক ইমামিয়া সম্প্রদায় পনেরটি উপদলে বিভক্ত। সেগুলো হলো: মুহাম্মাদিয়া, বাকিরিয়া, নাউসিয়া, শুমাইতিয়া, আম্মারিয়া, ইসমাইলিয়া, মুবারাকিয়া, মুসাওয়িয়া, কাতইয়্যা, ইসনা আশারিয়া (দ্বাদশ ইমামি), হিশাম ইবনে হাকাম অথবা হিশাম ইবনে সালিম জাওয়ালিকির অনুসারী হিশামিয়া, যুরারাহ ইবনে আয়ানের অনুসারী যুরারিয়া, ইউনুস কুম্মির অনুসারী ইউনুসিয়া, শয়তানুত তাকের অনুসারী শয়তানিয়া এবং আবু কামিলের অনুসারী কামিলিয়া—আর এই আবু কামিল আলী এবং অন্যান্য সাহাবায়ে কেরাম (আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) সম্পর্কে অত্যন্ত জঘন্য ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে থাকে। সুতরাং রাফেজিদের মোট বিশটি উপদল হলো—যাদের মধ্যে তিনটি যায়দিয়া, দুইটি কায়সানিয়া এবং পনেরটি ইমামিয়া। তবে তাদের মধ্যে যারা চরমপন্থী, যারা ইমামদের ঈশ্বরত্বে বিশ্বাস করে, শরীয়তের নিষিদ্ধ বিষয়গুলোকে বৈধ করে নিয়েছে এবং শরীয়তের ফরজ কার্যাবলীর আবশ্যকতা বাতিল করে দিয়েছে—যেমন বায়ানিয়া, মুগিরিয়া, জানাহিয়া, মানসুরিয়া, খাত্তাবিয়া, হুলুলিয়া এবং তাদের সমমনা দলসমূহ—তারা ইসলামের কোনো দলভুক্ত নয়, যদিও তারা নিজেদেরকে ইসলামের সাথে সম্পর্কিত বলে দাবি করে। আমরা এ অধ্যায়ের পরে একটি স্বতন্ত্র অধ্যায়ে তাদের সম্পর্কে আলোচনা করব।
আর খাওয়ারেজদের মধ্যে যখন মতভেদ দেখা দেয়, তখন তারা বিশটি উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এগুলোর নাম হলো: প্রথম মুহাক্কিমা, আজারিকা, এরপর নাজদাত, তারপর সুফরিয়া।
(খণ্ড: ১)
আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: ১৮)
ثمَّ العجاردة وَقد افْتَرَقت العجاردة فِيمَا بَينهَا فرقا كَثِيرَة مِنْهَا الخازمية والشعيبية والمعلومية والمجهولية والمعبدية والرشيدية والمكرمية والحمزية والابراهيمية والواقفة وافترقت الأباضية مِنْهَا فرقا حفصية وحارثية ويزيدية واصحاب طَاعَة لَا يُرَاد الله بهَا واليزيدية مِنْهُم اتِّبَاع ابْن يزِيد بن أنيس لَيست من فرق الاسلام لقولها بَان شَرِيعَة الاسلام تنسخ فِي آخر الزَّمَان بنبى يبْعَث من الْعَجم وَكَذَلِكَ فِي جملَة العجاردة فرقة يُقَال لَهَا الميمونية لَيست من فرق الاسلام لانها أَبَاحَتْ نِكَاح بَنَات الْبَنَات وَبَنَات الْبَنِينَ كَمَا أباحته الْمَجُوس وَسَنذكر اليزيدية والميمونية فِي جملَة الَّذين انتسبوا الى الاسلام وَمَا هم مِنْهُم وَلَا من فرقهم
واما الْقَدَرِيَّة الْمُعْتَزلَة عَن الْحق فقد افْتَرَقت عشْرين فرقة كل فرقة مِنْهَا تكفر سائرها وَهَذِه اسماء فرقها واصلية وعمرية والهذيلية والنظامية والاموارية والعمرية والثمامية والجاحظية والحايطية والحمارية والخياطية والسحامية واصحاب صَالح قبَّة والمويسية والكعبية والجبائية والبهشيمية المنسوبة الى أبي هَاشم ابْن الجبائى فَهِيَ ثِنْتَانِ وَعِشْرُونَ فرقة ثِنْتَانِ مِنْهَا ليستا من فرق الاسلام وهما الحايطية والحمارية وسنذكرهما فِي الْفرق الَّتِي انتسبت الى الاسلام وَلَيْسَت مِنْهَا
অতঃপর আজারিদাহ; আর আজারিদাহ নিজেদের মধ্যে অনেকগুলো উপদলে বিভক্ত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে খাযিমিয়াহ, শুয়াইবিয়াহ, মালুমিয়াহ, মাজহুলিয়াহ, মাবাদিইয়াহ, রাশিদিয়াহ, মুকরামিয়াহ, হামযিয়াহ, ইবরাহিমিয়াহ এবং ওয়াকিফাহ। ইবাদিয়াহ দলটিও কতগুলো উপদলে বিভক্ত হয়েছে, যথা: হাফসিয়াহ, হারিসিয়াহ, ইয়াজিদিয়াহ এবং এমন এক আনুগত্যের অনুসারী যার দ্বারা আল্লাহর সন্তুষ্টি উদ্দেশ্য নয়। তাদের মধ্যে ইবনে ইয়াজিদ ইবনে আনিসের অনুসারী ইয়াজিদিয়াহরা ইসলামের অন্তর্ভুক্ত কোনো দল নয়; কারণ তাদের দাবি হলো—শেষ জামানায় অনারবদের মধ্য থেকে প্রেরিত একজন নবীর মাধ্যমে ইসলামের শরীয়ত রহিত হয়ে যাবে। একইভাবে আজারিদাহদের অন্তর্ভুক্ত মাইমুনিয়াহ নামক একটি দলও ইসলামের কোনো দল নয়, কেননা তারা অগ্নিউপাসকদের ন্যায় নাতনিদের (কন্যার কন্যা ও পুত্রের কন্যা) সাথে বিবাহ বৈধ মনে করে। আমরা ইয়াজিদিয়াহ এবং মাইমুনিয়াহদের সেই সব দলের তালিকায় উল্লেখ করব যারা নিজেদের ইসলামের সাথে সম্পর্কিত দাবি করে কিন্তু তারা মূলত ইসলামের অন্তর্ভুক্ত নয় এবং ইসলামের কোনো ফেরকার মধ্যেও পড়ে না।
আর সত্য বিচ্যুত ক্বাদারিয়া মুতাজিলাগণ বিশটি উপদলে বিভক্ত হয়েছে, যাদের প্রতিটি দল অন্য দলকে কাফির মনে করে। তাদের উপদলগুলোর নাম হলো: ওয়াসিলিয়াহ, আমরিয়াহ, হুযাইলিয়াহ, নাজ্জামিয়াহ, আমওয়ারিয়াহ, আমরিয়াহ, সুমামিয়াহ, জাহিযিয়াহ, হায়েতিয়াহ, হিমারিইয়াহ, খাইয়াতিয়াহ, সাহামিইয়াহ, সালিহ কুব্বার অনুসারীগণ, মুইসিয়াহ, কাবিইয়াহ, জুব্বাইয়াহ এবং আবু হাশিম ইবনুল জুব্বাইয়ের দিকে সম্বন্ধযুক্ত বাহশামিইয়াহ। সুতরাং তারা মোট বাইশটি ফেরকা; এদের মধ্যে দুটি দল ইসলামের অন্তর্ভুক্ত নয় এবং তারা হলো হায়েতিয়াহ ও হিমারিইয়াহ। আমরা এ দুটি দলকে সেই সব ফেরকার বর্ণনায় উল্লেখ করব যারা ইসলামের সাথে নিজেদের সম্বন্ধ প্রকাশ করলেও মূলত ইসলামের অংশ নয়।
(খণ্ড: ১)
আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وَأما المرجئة فَثَلَاثَة اصناف صنف مِنْهُم قَالُوا بالإرجاء فِي الايمان وبالقدر على مَذَاهِب الْقَدَرِيَّة فهم معدودون فِي الْقَدَرِيَّة والمرجئة كَأبي شمر المرجىء وَمُحَمّد بن شبيب البصرى والخالدى وصنف مِنْهُم قَالُوا بالإرجاء فِي الايمان ومالوا الى قَول جهم فِي الاعمال والاكساب فهم من جملَة الْجَهْمِية والمرجئة وصنف مِنْهُم خَالِصَة فِي الإرجاء من غير قدروهم خمس فرق يونسية وغسانية وثوبانية وتومنية ومريسية وَأما النجارية فانها الْيَوْم بِالريِّ اكثر من عشر فرق ومرجعها فِي الأَصْل الى ثَلَاث فرق برغونية زغفرانية ومستدركة وَأما البكرية والضرارية فَكل وَاحِدَة مِنْهَا فرقة وَاحِدَة لَيْسَ لَهَا تبع كثير والجهمية ايضا فرقة وَاحِدَة والكرامية بخراسان ثَلَاث فرق حقاقية وطرايقية واسحافية لَكِن هَذِه الْغَرق الثَّلَاث مِنْهَا لَا يكفر بَعْضهَا بَعْضًا فعددناها كلهَا فرقة وَاحِدَة فَهَذِهِ الْجُمْلَة الَّتِي ذَكرنَاهَا تشْتَمل على ثِنْتَيْنِ وَسبعين فرقة مِنْهَا عشرُون روافض وَعِشْرُونَ خوارج وَعِشْرُونَ قدرية وَعشر مرجئة وَثَلَاث نجارية وبكرية وضرارية وجهمية وكرامية فَهَذِهِ ثِنْتَانِ وَسَبْعُونَ فرقة فاما الْفرْقَة الثَّالِثَة وَالسَّبْعُونَ فَهِيَ أهل السّنة وَالْجَمَاعَة من فريقى الرَّأْي والْحَدِيث دون من يشترى لَهو الحَدِيث وفقهاء هذَيْن الْفَرِيقَيْنِ وقراؤهم ومحدثوهم ومتكلمو
মুরজিয়া সম্প্রদায় তিন শ্রেণিতে বিভক্ত। তাদের এক শ্রেণি ঈমানের ক্ষেত্রে ইরজা (কর্মকে ঈমান থেকে পৃথক করা) এবং তাকদীরের ক্ষেত্রে ক্বাদারিয়াদের মতবাদ পোষণ করে; তারা ক্বাদারিয়া ও মুরজিয়া উভয় দলের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে গণ্য। যেমন—আবু শামির আল-মুরজি, মুহাম্মদ ইবনে শাবীব আল-বাসরি এবং আল-খালিদি। দ্বিতীয় এক শ্রেণি ঈমানের ক্ষেত্রে ইরজা পোষণ করে এবং আমল ও কাসব (উপার্জন)-এর ক্ষেত্রে জহম ইবনে সাফওয়ানের মতবাদের দিকে ঝুঁকে থাকে; তারা জাহমিয়া ও মুরজিয়াদের অন্তর্ভুক্ত। অপর এক শ্রেণি হলো খাঁটি মুরজিয়া যারা ক্বাদারি আকিদা পোষণ করে না; তারা পাঁচটি উপদলে বিভক্ত: ইউনুসিয়া, গাসসানিয়া, সাওবানিয়া, তুমানিয়া এবং মারিসিইয়া। আর নাজ্জারিয়াদের কথা বলতে গেলে, বর্তমানে রাই শহরে তাদের দশটিরও বেশি উপদল রয়েছে, তবে মূলে তারা তিনটি প্রধান দলে বিভক্ত: বারগুনিয়া, যা’ফরানিয়া এবং মুস্তাদরিকা। আর বাকরিয়া ও দিরারিয়া—এদের প্রত্যেকেই একটি একক দল, যাদের অনুসারী খুব বেশি নেই। তদ্রূপ জাহমিয়াও একটি একক দল। আর খোরাসানে কাররামিয়াদের তিনটি উপদল রয়েছে: হাক্কাকিয়া, তারায়িকিয়া এবং ইসহাকিয়া। তবে এই তিনটি উপদলের কেউ কাউকে কাফির সাব্যস্ত করে না, তাই আমরা এগুলোকে সমষ্টিগতভাবে একটি দল হিসেবেই গণ্য করেছি। সুতরাং আমাদের উল্লিখিত এই সমষ্টি বাহাত্তরটি দলের অন্তর্ভুক্ত, যার মধ্যে বিশটি রাফেযি, বিশটি খাওয়ারিজ, বিশটি ক্বাদারিয়া, দশটি মুরজিয়া, তিনটি নাজ্জারিয়া এবং বাকরিয়া, দিরারিয়া, জাহমিয়া ও কাররামিয়া (একটি করে)। এই হলো মোট বাহাত্তরটি দল। আর তেয়াত্তরতম দলটি হলো আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত; যারা মূলত আহলুর রায় এবং আহলুল হাদীস—এই উভয় গোষ্ঠীভুক্ত, তবে তারা নয় যারা অসার হাদীস অন্বেষণ করে। এই দুই গোষ্ঠীর ফকীহগণ, ক্বারীগণ, মুহাদ্দিসগণ এবং মুতাকাল্লিমগণ এর অন্তর্ভুক্ত...
(খণ্ড: ১)
আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: ২০)
أهل الحَدِيث مِنْهُم كلهم متفقون على مقَالَة وَاحِدَة فِي تَوْحِيد الصَّانِع وَصِفَاته وعدله وحكمته وَفِي اسمائه وَصِفَاته وفى ابواب النُّبُوَّة والإمامة وفى احكام العقبى وفى سَائِر اصول الدّين وانما يَخْتَلِفُونَ فِي الْحَلَال وَالْحرَام من فروع الاحكام وَلَيْسَ بَينهم فِيمَا اخْتلفُوا فِيهِ مِنْهَا تضليل وَلَا تفسيق وهم الْفرْقَة النَّاجِية ويجمعها الاقرار بتوحيد الصَّانِع وَقدمه وَقدم صِفَاته الأزلية واجازة رُؤْيَته من غير تَشْبِيه وَلَا تَعْطِيل مَعَ الاقرار بكتب الله وَرُسُله وبتأييد شَرِيعَة الاسلام واباحة مَا أَبَاحَهُ الْقُرْآن وَتَحْرِيم مَا حرمه الْقُرْآن مَعَ قيود مَا صَحَّ من سنة رَسُول الله صلى الله عليه وسلم واعتقاد الْحَشْر والنشر وسؤال الْملكَيْنِ فِي الْقَبْر والاقرار بالحوض وَالْمِيزَان فَمن قَالَ بِهَذِهِ الْجِهَة الَّتِي ذَكرنَاهَا وَلم يخلط ايمانه بهَا بِشَيْء من بدع الْخَوَارِج وَالرَّوَافِض والقدرية وَسَائِر اهل الاهواء فَهُوَ من جملَة الْفرْقَة النَّاجِية ان ختم الله لَهُ بهَا وَقد دخل فِي هَذِه الْجُمْلَة جُمْهُور الامة وسوادها الْأَعْظَم من اصحاب مَالك وَالشَّافِعِيّ وأبى حنيفَة والأوزاعى والثورى وَأهل الظَّاهِر فَهَذَا بَيَان مَا اردنا بَيَانه فِي هَذَا الْبَاب وَنَذْكُر فِي الْبَاب الَّذِي يَلِيهِ تَفْصِيل مقَالَة كل فرقة من فرق الاهواء الَّذين ذَكَرْنَاهُمْ ان شَاءَ الله عز وَجل
আহলে হাদিস বা হাদিস বিশারদগণের সকলেই সৃষ্টিকর্তার একত্ববাদ, তাঁর গুণাবলি, ন্যায়বিচার ও প্রজ্ঞা এবং তাঁর নাম ও সিফাতসমূহের বর্ণনায় একমত। একইভাবে নবুয়ত, ইমামত, পরকালীন বিধানসমূহ এবং দ্বীনের অন্যান্য সকল মূলনীতির (উসুল) ক্ষেত্রেও তারা ঐক্যবদ্ধ। তারা কেবল আহকামের শাখা-প্রশাখা তথা হালাল ও হারামের খুঁটিনাটি বিষয়ে মতভেদ করে থাকেন। তবে তাদের এই মতভেদপূর্ণ বিষয়গুলোতে তারা একে অপরকে ভ্রষ্টতা কিংবা পাপাচারের অপবাদ দেন না। তারাই হলো মুক্তিলাভকারী দল (আল-ফিরকাহ আন-নাজিয়াহ)। সৃষ্টিকর্তার একত্ববাদ ও অনাদিত্ব, তাঁর চিরন্তন গুণাবলির অনাদিত্ব এবং কোনো প্রকার সাদৃশ্য প্রদান (তাশবিহ) কিংবা গুণাবলি অস্বীকার (তা'তিল) ছাড়াই পরকালে তাঁর দর্শনের সম্ভাব্যতা স্বীকার করার মাধ্যমে তারা ঐক্যবদ্ধ থাকে। এর পাশাপাশি আল্লাহর কিতাবসমূহ ও তাঁর প্রেরিত রাসুলদের প্রতি স্বীকৃতি প্রদান, ইসলামি শরিয়তের সমর্থন, কুরআন কর্তৃক হালালকৃত বিষয়কে বৈধ জ্ঞান করা এবং কুরআন কর্তৃক হারামকৃত বিষয়কে অবৈধ জ্ঞান করার পাশাপাশি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সহিহ সুন্নাহর বিধিনিষেধসমূহকে স্বীকার করাও তাদের অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া হাশর-নশর (পুনরুত্থান), কবরে দুই ফেরেশতার জিজ্ঞাসাবাদ এবং হাউজ ও মিজানের প্রতি বিশ্বাস রাখাও এর অবিচ্ছেদ্য অংশ। সুতরাং যে ব্যক্তি আমাদের উল্লেখিত এই পন্থা অনুসরণ করবে এবং নিজের ঈমানকে খারেজি, রাফেজি, কাদারিয়া ও অন্যান্য প্রবৃত্তি পূজারীদের (আহলুল আহওয়া) কোনো বিদআতের সাথে কলুষিত করবে না, সে-ই মুক্তিলাভকারী দলের অন্তর্ভুক্ত হবে—যদি আল্লাহ তার শেষ পরিণতি এই বিশ্বাসের ওপরই নির্ধারিত করে থাকেন। আর উম্মতের সাধারণ জনসমষ্টি এবং বিশাল অংশ (সওয়াদে আজম) এই মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত, যার মধ্যে ইমাম মালিক, শাফেয়ী, আবু হানিফা, আওজাই, সাওরি এবং আহলে জাহেরের অনুসারীগণ শামিল রয়েছেন। এই অধ্যায়ে আমরা যা বর্ণনা করতে চেয়েছিলাম তা এখানেই সমাপ্ত হলো। পরবর্তী অধ্যায়ে আমরা উল্লিখিত প্রতিটি ভ্রান্ত সম্প্রদায়ের মতবাদের বিস্তারিত বিবরণ প্রদান করব, ইনশাআল্লাহ।
(খণ্ড: ১)
আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: ২১)
الْبَاب الثَّالِث من أَبْوَاب هَذَا الْكتاب
فِي بَيَان تَفْصِيل مقالات فرق الاهواء وَبَيَان فضائح كل فرقة مِنْهَا على التَّفْصِيل هَذَا بَاب يشْتَمل على فُصُول ثَمَانِيَة وَهَذِه ترجمتها
فصل فِي بَيَان مقالات فرق الرقض
فصل فِي بَيَان مقالات فرق الْخَوَارِج
فصل فِي بَيَان مقالات فرق الاعتزال وَالْقدر
فصل فِي بَيَان مقالات الضرارية والبكرية والجهمية
فصل فِي بَيَان مقالات الكرامية
فصل فِي بَيَان مقالات المشبهة الدَّاخِلَة فِي غمار الْفرق الَّتِي ذَكرنَاهَا وَسَنذكر فِي كل فصل مِنْهَا مُقْتَضَاهُ على شَرطه ان شَاءَ الله عز وَجل
এই গ্রন্থের অধ্যায়সমূহের মধ্যে তৃতীয় অধ্যায়
বিভ্রান্ত ও কুপ্রবৃত্তিপরায়ণ দলসমূহের মতবাদের বিস্তারিত বিবরণ এবং তাদের প্রতিটি উপদলের কলঙ্কিত দিকসমূহের বিশদ আলোচনার বর্ণনা। এই অধ্যায়টি আটটি পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত এবং এগুলোর শিরোনাম নিম্নরূপ:
রাফেযী দলসমূহের মতবাদের বিবরণে একটি পরিচ্ছেদ
খাওয়ারিজ দলসমূহের মতবাদের বিবরণে একটি পরিচ্ছেদ
মুতাজিলা ও কাদারিয়া দলসমূহের মতবাদের বিবরণে একটি পরিচ্ছেদ
যেরারিয়া, বকরীয়া এবং জাহমিয়া দলসমূহের মতবাদের বিবরণে একটি পরিচ্ছেদ
কাররামিয়া দলসমূহের মতবাদের বিবরণে একটি পরিচ্ছেদ
আমরা ইতিপূর্বে যে দলগুলোর কথা উল্লেখ করেছি, তাদের অন্তর্ভুক্ত মুশাব্বিহা (সাদৃশ্যবাদী) দলগুলোর মতবাদের বিবরণে একটি পরিচ্ছেদ; এবং আমরা ইনশাআল্লাহ মহান আল্লাহ্র ইচ্ছায় প্রতিটি পরিচ্ছেদে নির্ধারিত শর্তানুসারে তার বিষয়বস্তু বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করব।
(খণ্ড: ১)
আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: ২২)
الْفَصْل الاول من فُصُول هَذَا الْبَاب فِي بَيَان مقالات فرق الرَّفْضقد ذكرنَا قبل هَذَا ان الزيدية مِنْهُم ثَلَاث فرق والكيسانية مِنْهُم فرقتان والامامية مِنْهُم خمس عشرَة فرقة ونبدأ بِذكر الزيدية ثمَّ الامامية ثمَّ الكيسانية على التَّرْتِيب ان شَاءَ الله عز وجل
ذكر الجارودية من الزيدية اولا اتِّبَاع الْمَعْرُوف بِأبي الْجَارُود وَقد زَعَمُوا ان النَّبِي صلى الله عليه وسلم نَص على امامة على بِالْوَصْفِ دون الِاسْم وَزَعَمُوا ايضا ان الصَّحَابَة كفرُوا بتركهم بيعَة على وَقَالُوا ايضا ان الْحسن بن على كَانَ هُوَ الامام بعد على ثمَّ أخوة الْحُسَيْن كَانَ إِمَامًا بعد الْحسن وافترقت الجارودية فِي هَذَا التَّرْتِيب فرْقَتَيْن فرقة قَالَت إِن عليا نَص على إِمَامَة ابْنه الْحسن ثمَّ نَص الْحسن على إِمَامَة أَخِيه الْحُسَيْن بعده ثمَّ صَارَت الامامة بعد الْحسن وَالْحُسَيْن شُورَى فِي وَلَدي الْحسن وَالْحُسَيْن فَمن خرج مِنْهُم شاهرا سَيْفه دَاعيا الى دينه وَكَانَ عَالما ورعا فَهُوَ الإِمَام وَزَعَمت الْفرْقَة الثَّانِيَة مِنْهُم أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم هُوَ الَّذِي نَص على إِمَامَة الْحسن بعد على وإمامة الْحُسَيْن بعد
এই অধ্যায়ের পরিচ্ছেদসমূহের মধ্যে প্রথম পরিচ্ছেদ, রাফেজি ফিরকাগুলোর মতাদর্শের বর্ণনায়আমরা এর পূর্বে উল্লেখ করেছি যে, জাইদিয়াদের মধ্যে তিনটি দল, কাইসানিয়াদের মধ্যে দুটি দল এবং ইমামিয়াদের মধ্যে পনেরটি দল রয়েছে। মহান আল্লাহর ইচ্ছায় আমরা পর্যায়ক্রমে প্রথমে জাইদিয়া, তারপর ইমামিয়া এবং এরপর কাইসানিয়াদের আলোচনা শুরু করব।
জাইদিয়াদের অন্তর্ভুক্ত জারুদিয়া সম্প্রদায়ের আলোচনা প্রথমে করা হচ্ছে; যারা আবু জারুদ হিসেবে পরিচিত ব্যক্তির অনুসারী। তারা দাবি করে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলীর নাম উল্লেখ না করে তাঁর গুণের বর্ণনার মাধ্যমে তাঁর ইমামতের সুস্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন। তারা আরও দাবি করে যে, সাহাবায়ে কেরাম আলীর হাতে বায়আত গ্রহণ বর্জন করার কারণে কাফির হয়ে গিয়েছিলেন। তারা আরও বলে যে, আলীর পর হাসান বিন আলী ইমাম ছিলেন, অতঃপর হাসানের পর তাঁর ভাই হোসাইন ইমাম ছিলেন। এই ধারাক্রমের ক্ষেত্রে জারুদিয়া সম্প্রদায় দুটি দলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে: একদল বলে যে, আলী তাঁর পুত্র হাসানের ইমামতের ব্যাপারে সুস্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন, অতঃপর হাসান তাঁর পর তাঁর ভাই হোসাইনের ইমামতের ব্যাপারে সুস্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন। এরপর ইমামত হাসান ও হোসাইনের সন্তানদের মধ্যে পরামর্শের ভিত্তিতে সাব্যস্ত হবে; সুতরাং তাঁদের সন্তানদের মধ্যে যে ব্যক্তি তলোয়ার ধারণ করে নিজের দ্বীনের দিকে আহ্বান জানাবেন এবং তিনি যদি জ্ঞানী ও পরহেজগার হন, তবে তিনিই হবেন ইমাম। দ্বিতীয় দলটি দাবি করে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই আলীর পর হাসানের ইমামত এবং হাসানের পর হোসাইনের ইমামতের ব্যাপারে সুস্পষ্ট ঘোষণা প্রদান করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الْحسن ثمَّ افْتَرَقت الجارودية بعد هَذَا فِي الامام المنتظر فرقا مِنْهُم من لم يعين وَاحِدًا بالانتظار وَقَالَ كل من شهر سَيْفه ودعا الى دينه من ولدى الْحسن وَالْحُسَيْن فَهُوَ الامام وَمِنْهُم من ينْتَظر مُحَمَّد بن عبد الله بن الْحسن بن على بن أبي طَالب وَلَا يصدق بقتْله وَلَا بِمَوْتِهِ وَيَزْعُم انه هُوَ المهدى المنتظر الَّذِي يخرج فَيملك الارض وَقَول هَؤُلَاءِ فِيهِ كَقَوْل المحمدية من الإمامية فِي انتظارها مُحَمَّد بن عبد الله بن الْحسن بن على وَمِنْهُم من ينْتَظر مُحَمَّد بن الْقَاسِم صَاحب الطالقان وَلَا يصدق بِمَوْتِهِ وَمِنْهُم من ينْتَظر مُحَمَّد بن عمر الَّذِي خرج بِالْكُوفَةِ وَلَا يصدق بقتْله وَلَا بِمَوْتِهِ فَهَذَا قَول الجارودية وتكفيرهم وَاجِب لتكفيرهم اصحاب رَسُول الله عليه السلام
ذكر السليمانية أَو الجريرية مِنْهُم هَؤُلَاءِ اتِّبَاع سُلَيْمَان بن جرير الزيدي الَّذِي قَالَ ان الْإِمَامَة شُورَى وَأَنَّهَا تَنْعَقِد بِعقد رجلَيْنِ من خِيَار الامة وَأَجَازَ إِمَامَة الْمَفْضُول واثبت إِمَامَة ابي بكر وَعمر وَزعم أَن الامة تركت الاصلح فِي الْبيعَة لَهما لَان عليا كَانَ اولى بِالْإِمَامَةِ مِنْهُمَا الا أَن الْخَطَأ فِي بيعتهما لم يُوجب كفرا وَلَا فسقا وَكفر سُلَيْمَان بن جرير بالاحداث الَّتِي نقمها الناقمون مِنْهُ وَأهل السّنة يكفرون سُلَيْمَان بن جرير من اجل
আল-হাসান; অতঃপর জারুদিয়া সম্প্রদায় এরপর প্রতীক্ষিত ইমামের বিষয়ে কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে পড়ে। তাদের মধ্যে একদল প্রতীক্ষার জন্য নির্দিষ্ট কাউকে মনোনীত করেনি এবং তারা বলে: হাসান ও হুসাইনের বংশধরদের মধ্যে যে কেউ তলোয়ার ধারণ করবেন এবং তাঁর দ্বীনের দিকে দাওয়াত দেবেন, তিনিই ইমাম। তাদের মধ্যে কেউ কেউ মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে হাসান ইবনে আলী ইবনে আবি তালিবের প্রতীক্ষায় রত এবং তারা তাঁর নিহত হওয়া বা মৃত্যু বরণ করাকে বিশ্বাস করে না। তারা দাবি করে যে তিনিই সেই প্রতীক্ষিত মাহদী যিনি আবির্ভূত হবেন এবং পৃথিবীর শাসনভার গ্রহণ করবেন। তাঁর সম্পর্কে এদের বক্তব্য ইমামিয়াদের অন্তর্ভুক্ত মুহাম্মদীয়াদের বক্তব্যের অনুরূপ, যারা মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে হাসান ইবনে আলীর প্রতীক্ষা করে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ তালকানের অধিপতি মুহাম্মদ ইবনুল কাসিমের প্রতীক্ষা করে এবং তাঁর মৃত্যু বিশ্বাস করে না। আবার কেউ কেউ মুহাম্মদ ইবনে ওমরের প্রতীক্ষা করে, যিনি কুফায় বিদ্রোহ করেছিলেন, এবং তারা তাঁর নিহত হওয়া বা মৃত্যুকে সত্য বলে মনে করে না। এটিই জারুদিয়াদের বক্তব্য, এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণকে কাফের বলার কারণে তাদের কাফের ঘোষণা করা ওয়াজিব।
সুলাইমানিয়া বা জারিরিয়াদের আলোচনা: তারা হলো সুলাইমান ইবনে জারির আজ-জাইদির অনুসারী, যিনি বলেছিলেন যে ইমামত হলো পরামর্শভিত্তিক এবং উম্মতের সর্বোত্তম ব্যক্তিদের মধ্য থেকে দুইজন ব্যক্তির চুক্তির মাধ্যমে এটি সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি অপেক্ষাকৃত কম মর্যাদাবান ব্যক্তির ইমামতকেও বৈধ গণ্য করেছেন এবং আবু বকর ও ওমরের ইমামতকে সাব্যস্ত করেছেন। তিনি দাবি করেন যে উম্মত এই দুইজনের নিকট বায়আত হওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোত্তম ব্যক্তিকে বর্জন করেছিল, কারণ আলী তাঁদের দুজনের চেয়ে ইমামতের জন্য অধিক হকদার ছিলেন; তবে তাঁদের বায়আতের ক্ষেত্রে এই ত্রুটি কুফর বা ফাসিকি সাব্যস্ত করে না। সুলাইমান ইবনে জারির সেই সব ঘটনার কারণে (উসমান রা.-কে) কাফের সাব্যস্ত করেছিলেন যেগুলোর কারণে সমালোচকরা তাঁর সমালোচনা করত। আর আহলে সুন্নাত সুলাইমান ইবনে জারিরকে কাফের গণ্য করেন এই কারণে...
(খণ্ড: ১)
আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: ২৪)
أَنه كفر عُثْمَان رضي الله عنه
ذكر البترية مِنْهُم هَؤُلَاءِ اتِّبَاع رجلَيْنِ أَحدهمَا الْحسن بن صَالح بن حَيّ والاخير كثير المنوا الملقب بالأبتر وَقَوْلهمْ كَقَوْل سُلَيْمَان بن جرير فِي هَذَا الْبَاب غير أَنهم توقفوا فِي عُثْمَان وَلم يقدموا على ذمَّة وَلَا على مدحه وَهَؤُلَاء احسن حَالا عِنْد أهل السّنة من أَصْحَاب سُلَيْمَان بن جرير وَقد أخرج مُسلم بن الْحجَّاج حَدِيث الْحسن بن صَالح بن حَيّ فِي مُسْنده الصَّحِيح وَلم يخرج مُحَمَّد بن اسماعيل البُخَارِيّ حَدِيثه فِي الصَّحِيح وَلكنه قَالَ فِي كتاب التَّارِيخ الْكَبِير الْحسن بن صَالح بن حَيّ الكوفى سمع سماك بن حَرْب وَمَات سنة سبع وَسِتِّينَ وَمِائَة وَهُوَ من ثغور همذان وكنيته ابو عبد الله
قَالَ عبد القاهر هَؤُلَاءِ البترية والسليمانية من الزيدية كلهم يكفرون الجارودية من الزيدية لاقرار الجارودية على تَكْفِير أبي بكر وَعمر والجارودية يكفرون السليمانية والبترية لتركهما تَكْفِير أبي بكر وَعمر وَحكى شَيخنَا أَبُو الْحسن الاشعري فِي مقَالَته عَن قوم من الزيدية يُقَال لَهُم اليعقوبية اتِّبَاع رجل اسْمه يَعْقُوب أَنهم كَانُوا يتولون ابا بكر وَعمر وَلَكنهُمْ لَا
তিনি উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে কাফির সাব্যস্ত করেছেন।
তাদের মধ্য হতে বুতরিয়া সম্প্রদায়ের বিবরণ; তারা দুইজন ব্যক্তির অনুসারী। তাদের একজন হলেন হাসান ইবনে সালিহ ইবনে হাই এবং অপরজন কাসীর আল-নাওয়া, যাকে ‘আল-আবতার’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে। এই পরিচ্ছেদে তাদের বক্তব্য সুলায়মান ইবনে জারীরের বক্তব্যের অনুরূপ, তবে তারা উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর ব্যাপারে নিরবতা অবলম্বন করেছেন এবং তাঁর নিন্দা বা প্রশংসা কোনোটিই করেননি। আহলে সুন্নাতের নিকট সুলায়মান ইবনে জারীরের অনুসারীদের তুলনায় এই দলটি অধিকতর উত্তম অবস্থায় রয়েছে। মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ তাঁর ‘সহীহ’ গ্রন্থে হাসান ইবনে সালিহ ইবনে হাই-এর হাদীস সংকলন করেছেন। যদিও মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল আল-বুখারী তাঁর ‘সহীহ’ গ্রন্থে তাঁর হাদীস বর্ণনা করেননি, তবে তিনি তাঁর ‘আত-তারীখ আল-কাবীর’ গ্রন্থে বলেছেন: হাসান ইবনে সালিহ ইবনে হাই আল-কুফী; তিনি সিমাক ইবনে হারব থেকে (হাদীস) শুনেছেন এবং ১৬৭ হিজরীতে হামাদানের সীমান্ত এলাকায় মৃত্যুবরণ করেন; তাঁর উপনাম ছিল আবু আব্দুল্লাহ।
আব্দুল কাহের বলেন, যায়দিয়াদের অন্তর্ভুক্ত এই বুতরিয়া ও সুলায়মানিয়া উভয় গোষ্ঠীই জারুদিয়াদের কাফির মনে করে, যেহেতু জারুদিয়ারা আবু বকর ও উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে কাফির বলে স্বীকার করে। আবার জারুদিয়ারা সুলায়মানিয়া ও বুতরিয়াদের কাফির সাব্যস্ত করে, যেহেতু তারা আবু বকর ও উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে কাফির মনে করতে অস্বীকৃতি জানায়। আমাদের শায়খ আবুল হাসান আল-আশআরী তাঁর ‘মাকালাত’ গ্রন্থে যায়দিয়াদের একটি দল সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন যাদের ইয়াকুবিয়া বলা হয়; তারা ইয়াকুব নামক জনৈক ব্যক্তির অনুসারী। তারা আবু বকর ও উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর প্রতি আনুগত্য পোষণ করতেন, কিন্তু তারা...
(খণ্ড: ১)
আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: ২৫)
يتبرءون مِمَّن تَبرأ مِنْهُمَا قَالَ عبد القاهر اجْتمعت الْفرق الثَّلَاث الَّذين ذَكَرْنَاهُمْ من الزيدية على القَوْل بِأَن أَصْحَاب الْكَبَائِر من الامة يكونُونَ مخلدين فِي النَّار فهم من هَذَا الْوَجْه كالخوارج الَّذين أيأسوا أسراء المذنبين من رَحْمَة الله تَعَالَى وَلَا ييأس من روح الله الا الْقَوْم الْكَافِرُونَ إِنَّمَا قيل لهَذِهِ الْفرق الثَّلَاث واتباعها زيدية لقَولهم بإمامة زيد بن عَليّ بن الْحسن بن على بن ابى طَالب فِي وقته وإمامة ابْنه يحيى بن زيد بعد زيد وَكَانَ زيد ابْن عَليّ قد بَايعه على إِمَامَته خَمْسَة عشر ألف رجل من أهل الْكُوفَة وَخرج بهم على والى الْعرَاق وَهُوَ يُوسُف بن عمر الثقفى عَامل هِشَام بن عبد الْملك على الْعِرَاقِيّين فَلَمَّا اسْتمرّ الْقِتَال بَينه وَبَين يُوسُف بن عمر الثقفى قَالُوا لَهُ انا ننصرك على اعدائك بعد أَن تخبرنا بِرَأْيِك فِي أبي بكر وَعمر اللَّذين ظلما جدك على ابْن أبي طَالب فَقَالَ زيد إِنِّي لَا أَقُول فيهمَا إِلَّا خيرا وَمَا سَمِعت أبي يَقُول فيهمَا الا خيرا وانما خرجت على بنى امية الَّذين قَاتلُوا جدى الْحُسَيْن وأغاروا على الْمَدِينَة يَوْم الْحرَّة ثمَّ رموا بَيْتا لله بِحجر المنجنيق وَالنَّار ففارقوه عِنْد ذَلِك حَتَّى قَالَ لَهُم رفضتموني وَمن يَوْمئِذٍ سموا رافضة وَثَبت مَعَه نصر بن حريمة العنسى وَمُعَاوِيَة بن اسحاق بن يزِيد بن حَارِثَة فِي مِقْدَار مائتى رجل
তারা তাদের থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করে যারা ওই দু’জন (আবু বকর ও উমর) থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করেছিল। আব্দুল কাহির বলেন: জাইদিয়াদের মধ্য থেকে আমরা যে তিনটি দলের কথা উল্লেখ করেছি, তারা এই বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছে যে, উম্মতের মধ্যে যারা কবীরা গুনাহে লিপ্ত হবে তারা চিরস্থায়ীভাবে জাহান্নামে অবস্থান করবে। এ দিক থেকে তারা খারিজিদের মতো, যারা পাপাচারী বন্দিদের আল্লাহর তায়ালার রহমত থেকে নিরাশ করেছে; অথচ কাফির সম্প্রদায় ব্যতীত কেউই আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয় না। মূলত এই তিনটি দল ও তাদের অনুসারীদের ‘জাইদিয়া’ বলা হয়, কারণ তারা স্বীয় যুগে জাইদ ইবনে আলী ইবনুল হাসান ইবনে আলী ইবনে আবি তালিবের ইমামত এবং জাইদের পর তাঁর পুত্র ইয়াহিয়া ইবনে জাইদের ইমামতের প্রবক্তা ছিল। জাইদ ইবনে আলীর ইমামতের ওপর কুফার অধিবাসীদের মধ্য থেকে পনেরো হাজার ব্যক্তি বায়আত গ্রহণ করেছিল। তিনি তাদের নিয়ে ইরাকের গভর্নর ইউসুফ ইবনে উমর আস-সাকাফির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন, যিনি হিশাম ইবনে আব্দুল মালিকের পক্ষ থেকে ইরাকবাসীদের শাসক নিযুক্ত ছিলেন। অতঃপর যখন তাঁর ও ইউসুফ ইবনে উমর আস-সাকাফির মধ্যে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলো, তখন তারা তাঁকে বলল: আমরা আপনার শত্রুদের বিরুদ্ধে আপনাকে সাহায্য করব, তবে তার আগে আবু বকর ও উমর সম্পর্কে আপনার অভিমত আমাদের জানান, যারা আপনার পিতামহ আলী ইবনে আবি তালিবের ওপর জুলুম করেছিলেন। জাইদ বললেন: আমি তাঁদের সম্পর্কে কল্যাণ ছাড়া আর কিছুই বলি না এবং আমি আমার পিতাকেও তাঁদের সম্পর্কে কল্যাণকর কথা ব্যতীত অন্য কিছু বলতে শুনিনি। আমি কেবল বনু উমাইয়ার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছি যারা আমার পিতামহ হুসাইনকে হত্যা করেছে, হাররার দিবসে মদিনায় আক্রমণ চালিয়েছে এবং মিনজানিক দিয়ে আল্লাহর ঘরে পাথর ও আগুন নিক্ষেপ করেছে। তখন তারা তাঁকে বর্জন করল, এমনকি তিনি তাদের উদ্দেশ্যে বললেন: ‘তোমরা কি আমাকে প্রত্যাখ্যান করলে?’ সেই দিন থেকেই তাদের ‘রাফিজি’ নামে অভিহিত করা হয়। তবে নসর ইবনে হুরাইমা আল-আনসি এবং মুয়াবিয়া ইবনে ইসহাক ইবনে ইয়াজিদ ইবনে হারিসাসহ প্রায় দুইশত লোক তাঁর সাথে অবিচল থাকলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وقاتلوا جند يُوسُف بن عمر الثقفى حَتَّى قتلوا عَن آخِرهم وَقتل زيد ثمَّ نبش من قَبره وصلب ثمَّ أحرق بعد ذَلِك وهرب ابْنه يحيى بن يزِيد الى خُرَاسَان وَخرج بِنَاحِيَة الجوزجانى على نصر بن بشار والى خُرَاسَان فَبعث نصر بن بشار اليه مُسلم ابْن احوز المازنى فِي ثَلَاثَة آلَاف رجل فَقتلُوا يحيى بن زيد ومشهده بجوزجان مَعْرُوف قَالَ عبد القاهر روافض الْكُوفَة موصوفون بالغدر وَالْبخل وَقد سَار الْمثل بهم فيهمَا حَتَّى قيل أبخل من كوفى وأغدر من كوفى وَالْمَشْهُور من غدرهم ثَلَاثَة أَشْيَاء أَحدهَا أَنهم بعد قتل على رضي الله عنه بَايعُوا ابْنه الْحسن فَلَمَّا توجه لقِتَال مُعَاوِيَة غدروا بِهِ فِي ساباط الْمَدَائِن فطعنه سِنَان الجعفى فِي جنبه فصرعه عَن فرسه وَكَانَ ذَلِك أحد أَسبَاب مصالحته مُعَاوِيَة وَالثَّانِي أَنهم كاتبوا الْحُسَيْن بن عَليّ رضي الله عنه وَدعوهُ الى الْكُوفَة لينصروه على يزِيد بن مُعَاوِيَة فاغتر بهم وَخرج اليهم فَلَمَّا بلغ كربلاء غدروا بِهِ وصاروا مَعَ عبيد الله بن زِيَاد يدا وَاحِدَة عَلَيْهِ حَتَّى قتل الْحُسَيْن وَأكْثر عشيرته بكربلاء وَالثَّالِث غدرهم يزِيد بن على بن الْحُسَيْن بن على بن أبي طَالب بعد أَن خَرجُوا مَعَه على يُوسُف بن عمر ثمَّ نكثوا بيعَته وأسلموه عِنْد اشتداد الْقِتَال حَتَّى قتل وَكَانَ من امْرَهْ مَا كَانَ
তারা ইউসুফ ইবনে উমর আল-সাকাফির সৈন্যদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যান যতক্ষণ না তারা শেষ ব্যক্তি পর্যন্ত নিহত হন। জায়েদ নিহত হন, অতঃপর তাঁর কবর খনন করে তাঁকে বের করা হয় এবং ক্রুশবিদ্ধ করা হয়, এরপর তাঁকে পুড়িয়ে ফেলা হয়। তাঁর পুত্র ইয়াহইয়া ইবনে জায়েদ খোরাসানে পালিয়ে যান এবং জুযজান অঞ্চলে খোরাসানের গভর্নর নাসর ইবনে বাশারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন। তখন নাসর ইবনে বাশার তাঁর বিরুদ্ধে মুসলিম ইবনে আহওয়াজ আল-মাযিনিকে তিন হাজার সৈন্যসহ প্রেরণ করেন। তারা ইয়াহইয়া ইবনে জায়েদকে হত্যা করে এবং জুযজানে তাঁর সমাধি সুপরিচিত।
আব্দুল কাহের বলেন: কুফার রাফেযিরা বিশ্বাসঘাতকতা ও কৃপণতার জন্য বিশেষায়িত। তাদের এই দুটি গুণের ব্যাপারে এমন প্রবাদ প্রচলিত হয়ে গেছে যে, শেষ পর্যন্ত বলা হতে থাকে— "কুফাবাসীর চেয়েও বড় কৃপণ" এবং "কুফাবাসীর চেয়েও বড় বিশ্বাসঘাতক"। তাদের বিশ্বাসঘাতকতার ঘটনাগুলোর মধ্যে তিনটি সর্বাধিক প্রসিদ্ধ।
প্রথমটি হলো: আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর শাহাদাতের পর তারা তাঁর পুত্র হাসান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাতে বায়আত গ্রহণ করে। অতঃপর তিনি যখন মুয়াবিয়া (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন, তখন তারা মাদায়েনের সাবাত নামক স্থানে তাঁর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে। সিনান আল-জু’ফি তাঁর পার্শ্বদেশে বর্শা দিয়ে আঘাত করে এবং তাঁকে ঘোড়া থেকে ফেলে দেয়। এটিই ছিল মুয়াবিয়া (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাথে তাঁর সন্ধি করার অন্যতম কারণ।
দ্বিতীয়টি হলো: তারা হুসাইন ইবনে আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট পত্র লেখে এবং ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়ার বিরুদ্ধে তাঁকে সাহায্য করার জন্য কুফায় আমন্ত্রণ জানায়। তিনি তাদের আশ্বাসে আশ্বস্ত হয়ে তাদের উদ্দেশ্যে বের হন। কিন্তু যখন তিনি কারবালায় পৌঁছালেন, তখন তারা তাঁর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে এবং ওবায়দুল্লাহ ইবনে জিয়াদের সাথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। শেষ পর্যন্ত কারবালায় হুসাইন (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এবং তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্য শহীদ হন।
তৃতীয়টি হলো: জায়েদ ইবনে আলী ইবনে হুসাইন ইবনে আলী ইবনে আবি তালিবের সাথে তাদের বিশ্বাসঘাতকতা। তারা ইউসুফ ইবনে উমরের বিরুদ্ধে তাঁর সাথে বিদ্রোহে যোগ দিয়েছিল, কিন্তু পরবর্তীতে তারা বায়আত ভঙ্গ করে এবং যুদ্ধের ভয়াবহ মুহূর্তে তাঁকে একাকী ফেলে রেখে চলে যায়। শেষ পর্যন্ত তিনি শহীদ হন এবং তাঁর পরিণতি তাই হয়েছিল যা হওয়ার ছিল।
(খণ্ড: ১)
আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: ২৭)
ذكر الكيسانية من الرافضة هَؤُلَاءِ اتِّبَاع الْمُخْتَار بن ابى عبيد الثقفى الَّذِي قَامَ بثأر الْحُسَيْن بن على بن ابي طَالب وَقتل اكثر الَّذين قتلوا حُسَيْنًا بكربلاء وَكَانَ الْمُخْتَار وَيُقَال لَهُ كيسَان وَقيل أَنه أَخذ مقَالَته عَن مولى لعلى رضي الله عنه كَانَ اسْمه كيسَان وافترقت الكيسابية فرقا يجمعها شَيْئَانِ أَحدهمَا قَوْلهم بإمامة مُحَمَّد ابْن الْحَنَفِيَّة وَإِلَيْهِ كَانَ يَدْعُو الْمُخْتَار بن ابى عبيد وَالثَّانِي قَوْلهم بِجَوَاز البدء على الله عز وجل ولهذه البدعه قَالَ بتكفيرهم كل من لَا يُجِيز البدء على الله سُبْحَانَهُ وَاخْتلفت الكيسانية فِي سَبَب إِمَامَة مُحَمَّد ابْن الْحَنَفِيَّة فَزعم بَعضهم أَنه كَانَ إِمَامًا بعد أَبِيه على بن أَبى طَالب رضى الله عَنهُ وَاسْتدلَّ على ذَلِك بَان عليا دفع إِلَيْهِ الرَّايَة يَوْم الْجمل وَقَالَ لَهُ ابيك تحمد لَا خير فِي الْحَرْب اذا لم تزبك كَذَا وَقَالَ آخَرُونَ مِنْهُم إِن الامامة بعد على كَانَت لِابْنِهِ الْحسن ثمَّ للحسين بعد الْحسن ثمَّ صَارَت الى مُحَمَّد بن الْحَنَفِيَّة بعد اخيه الْحُسَيْن بِوَصِيَّة اخيه الْحُسَيْن اليه حِين هرب من الْمَدِينَة الى مَكَّة حِين طُولِبَ بالبيعة ليزِيد بن مُعَاوِيَة ثمَّ افترق الَّذين قَالُوا بإمامة مُحَمَّد ابْن الْحَنَفِيَّة فَزعم قوم مِنْهُم يُقَال لَهُم الكربية اصحاب ابى كرب الضَّرِير ان مُحَمَّد بن الْحَنَفِيَّة حى لم يمت وانه فِي جبل رضوى وَعِنْده عين من المَاء وَعين من الْعَسَل يَأْخُذ مِنْهُمَا رزقه وَعَن
রাফেজিদের অন্তর্ভুক্ত কায়সানিয়া সম্প্রদায়ের বিবরণ: এরা হলো মুখতার ইবনে আবি উবাইদ আস-সাকাফির অনুসারী, যিনি হুসাইন ইবনে আলি ইবনে আবি তালিবের হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণ করেছিলেন এবং কারবালায় হুসাইনকে হত্যাকারীদের অধিকাংশকেই হত্যা করেছিলেন। মুখতারকে ‘কায়সান’ নামেও অভিহিত করা হতো। আবার বলা হয় যে, তিনি তাঁর এই মতবাদটি আলি (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ‘কায়সান’ নামক জনৈক মুক্তদাসের কাছ থেকে গ্রহণ করেছিলেন। কায়সানিয়া সম্প্রদায় বিভিন্ন উপদলে বিভক্ত হলেও দুটি বিষয় তাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ করে: প্রথমত, মুহাম্মাদ ইবনুল হানাফিয়ার ইমামতে বিশ্বাস করা, যার দিকে মুখতার ইবনে আবি উবাইদ মানুষকে আহ্বান করতেন; এবং দ্বিতীয়ত, মহান আল্লাহর ক্ষেত্রে ‘বাদা’ (পূর্ব নির্ধারিত সিদ্ধান্তের পরিবর্তন) জায়েজ বা সম্ভব বলে মনে করা। এই বিদআতি বিশ্বাসের কারণে যারা আল্লাহর শানে ‘বাদা’ হওয়া অসম্ভব মনে করেন, তারা এদেরকে কাফের বলে অভিহিত করেছেন। মুহাম্মাদ ইবনুল হানাফিয়ার ইমামত সাব্যস্ত হওয়ার কারণ নিয়ে কায়সানিয়াদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তাদের কেউ কেউ দাবি করে যে, তিনি তাঁর পিতা আলি ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর পরপরই ইমাম ছিলেন। এর স্বপক্ষে তারা এই যুক্তি দেয় যে, জিমলের যুদ্ধের দিন আলি (রা.) তাঁর হাতেই যুদ্ধের ঝাণ্ডা অর্পণ করেছিলেন এবং তাকে বলেছিলেন: “তোমার পিতার প্রশংসা করা হবে; যুদ্ধে কোনো কল্যাণ নেই যদি তা তোমাকে কঠিনভাবে নাড়া না দেয়।” তাদের মধ্যে অন্য একটি দল বলে যে, আলির পর ইমামত তাঁর পুত্র হাসানের প্রাপ্য ছিল, এরপর হাসানের পর হুসাইনের, অতঃপর ভাই হুসাইনের অসিয়ত মোতাবেক ইমামত মুহাম্মাদ ইবনুল হানাফিয়ার নিকট স্থানান্তরিত হয়। যখন ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়ার আনুগত্যের শপথ গ্রহণের চাপের মুখে হুসাইন (রা.) মদিনা থেকে মক্কায় চলে যান, তখনই তিনি এই অসিয়ত করেছিলেন। পরবর্তীতে যারা মুহাম্মাদ ইবনুল হানাফিয়ার ইমামতের প্রবক্তা ছিল, তারা নিজেরাও বহু দলে বিভক্ত হয়ে পড়ে। তাদের মধ্যে ‘কারবিয়া’ নামক একটি দল—যারা আবু কারব আদ-দারির-এর অনুসারী—দাবি করে যে, মুহাম্মাদ ইবনুল হানাফিয়া জীবিত আছেন, তিনি মৃত্যুবরণ করেননি। তিনি বর্তমানে রাদওয়া পাহাড়ে অবস্থান করছেন এবং সেখানে তাঁর নিকট একটি পানির ঝরনা ও একটি মধুর ঝরনা রয়েছে, যেখান থেকে তিনি তাঁর জীবিকা গ্রহণ করেন। এবং...
(খণ্ড: ১)
আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: ২৮)
يَمِينه أَسد وَعَن يسَاره نمر يحفظانه من أعدائه الى وَقت خُرُوجه وَهُوَ المهدى 2 المنتظر وَذهب الْبَاقُونَ من الكيسانية الى الاقرار بِمَوْت مُحَمَّد بن الْحَنَفِيَّة وَاخْتلفُوا فِي الامام بعده فَمنهمْ من زعم أَن الامامة بعده رجعت الى ابْن اخيه على بن الْحُسَيْن زين العابدين وَمِنْهُم من قَالَ برجوعها بعده الى ابى هَاشم عبد الله ابْن مُحَمَّد بن الْحَنَفِيَّة وَاخْتلف هَؤُلَاءِ فِي الامام بعد ابى هَاشم فَمنهمْ من نقلهَا الى أبي مُحَمَّد بن على بن عبد الله بن عَبَّاس بن عبد الْمطلب بِوَصِيَّة ابى هَاشم اليه وَهَذَا قَول الروندية وَمِنْهُم من زعم أَن الامامة بعد أبي هَاشم صَارَت الى بَيَان بن سمْعَان وَزَعَمُوا أَن روح الله تَعَالَى كَانَت فِي ابى هَاشم ثمَّ انْتَقَلت مِنْهُ الى بَيَان وَمِنْهُم من زعم ان تِلْكَ الرّوح انْتَقَلت من ابي هَاشم الى عبد الله بن عَمْرو بن حَرْب وَادعت هَذِه الْفرْقَة إلهية عبد الله بن عَمْرو بن حَرْب والبيانية والحربية كلتاهما من فرق الغلاة نذكرهما فِي الْبَاب الَّذِي نذْكر فِيهِ فرق الغلاة وَكَانَ كثير الشَّاعِر على مَذْهَب الكيسانية الَّذين ادعوا حَيَاة مُحَمَّد بن الْحَنَفِيَّة وَلم يصدقُوا بِمَوْتِهِ وَلذَا قَالَ فِي قصيدة لَهُ
… أَلا إِن الْأَئِمَّة من قُرَيْش
وُلَاة الْحق أَرْبَعَة سَوَاء
… على وَالثَّلَاثَة من بنيه هم الاسباط لَيْسَ بهم خَفَاء
…
তাঁর ডান পার্শ্বে একটি সিংহ এবং বাম পার্শ্বে একটি চিতা রয়েছে, যারা তাঁর বহিঃপ্রকাশের সময় পর্যন্ত তাঁকে শত্রুদের থেকে রক্ষা করবে; আর তিনিই হলেন প্রতীক্ষিত ২ মাহদী। কায়সানিয়াদের অবশিষ্টাংশ মুহাম্মাদ ইবনুল হানাফিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছেন এবং তাঁর পরবর্তী ইমামের ব্যাপারে তাঁরা মতভেদ করেছেন। তাঁদের মধ্য হতে কেউ কেউ দাবি করেছেন যে, তাঁর পর ইমামত তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র আলী ইবনুল হুসাইন যয়নুল আবেদীনের নিকট ফিরে এসেছে। আবার তাঁদের মধ্যে অন্য একদল বলেছে যে, ইমামত তাঁর পর আবু হাশিম আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনুল হানাফিয়ার নিকট প্রত্যাবর্তন করেছে। আবু হাশিমের পরবর্তী ইমামের বিষয়েও এই গোষ্ঠীটি মতভেদ করেছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ আবু হাশিমের অসিয়ত অনুযায়ী ইমামতকে আবু মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিবের অনুকূলে স্থানান্তর করেছে; আর এটিই হলো রাওয়ান্দিয়াদের অভিমত। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ দাবি করেছে যে, আবু হাশিমের পর ইমামত বায়ান ইবনে সামআনের নিকট ন্যস্ত হয়েছে। তারা ধারণা করত যে, মহান আল্লাহর রূহ আবু হাশিমের মধ্যে বিদ্যমান ছিল এবং অতঃপর তা তাঁর থেকে বায়ানের নিকট স্থানান্তরিত হয়েছে। আবার তাদের মধ্যে একদল দাবি করেছে যে, উক্ত রূহ আবু হাশিম থেকে আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে হারবের মধ্যে স্থানান্তরিত হয়েছে। এই দলটি আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে হারবের উপাস্য হওয়ার দাবি করেছিল। বায়ানিয়া ও হারবিয়া উভয়ই চরমপন্থী বা গুলাত সম্প্রদায়ভুক্ত; আমরা চরমপন্থী দলগুলোর বর্ণনায় নিবেদিত অধ্যায়ে তাদের কথা আলোচনা করব। কবি কুসাইয়ির কায়সানিয়া মতবাদের অনুসারী ছিলেন, যারা মুহাম্মাদ ইবনুল হানাফিয়া জীবিত আছেন বলে দাবি করত এবং তাঁর মৃত্যুর সংবাদ বিশ্বাস করত না। এই প্রেক্ষিতেই তিনি তাঁর এক কাসিদায় বলেছেন:
... জেনে রেখো, কুরাইশ বংশীয় ইমামগণ এবং সত্যের পতাকাবাহীগণ হলেন সুনির্দিষ্ট চারজন
আলী এবং তাঁর তিন পুত্র; তাঁরাই সেই মর্যাদাবান বংশধর যাঁদের ব্যাপারে কোনো সংশয় নেই
...
(খণ্ড: ১)
আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: ২৯)
فسبط سبط ايمان وبر
وسبط غيبته كربلاء
… وسبط لَا يَذُوق الْمَوْت حَتَّى
يَقُود الْخَيل يقدمهَا اللِّوَاء
… تغيب لَا يرى فيهم زَمَانا
برضوى عِنْده عسل وَمَاء
… قَالَ عبد القاهر أجبناه عَن أبياته هَذِه بقولنَا
… وُلَاة الْحق أَرْبَعَة وَلَكِن
لثاني اثْنَيْنِ قد سبق الْعَلَاء
… وفاروق الورى أضحى إِمَامًا
وَذُو النونين بعد لَهُ الْوَلَاء
… على بعدهمْ أضحى إِمَامًا
بترتيبي لَهُم نزل الْقَضَاء
… ومبغض من ذَكرْنَاهُ لعين
وفى نَار الْجَحِيم لَهُ الْجَزَاء
… وَأهل الرَّفْض قوم كالنصارى
حيار بِي مَا لحيرتهم دَوَاء
… وَقَالَ كثير أَيْضا فِي رفضه
… بَرِئت الى الْإِلَه من ابْن أروى
وَمن دين الْخَوَارِج أجمعينا
… وَمن عمر بَرِئت وَمن عَتيق
غَدَاة دعى أَمِير المؤمنينا
… وَقد أجبناه عَن هذَيْن الْبَيْتَيْنِ
… بَرِئت من الْإِلَه ببغض قوم
بهم أَحْيَا الْإِلَه المؤمنينا
… وَمَا ضرّ ابْن أروى مِنْك بغض
وبغض الْبر دين الكافرينا
… ابو بكر بِهِ جدلى إِمَام
على زعم الروافض اجمعينا
… وفاروق الورى عمر بِحَق
يُقَال لَهُ أَمِير المؤمنينا
…
অতঃপর এক পৌত্র ঈমান ও কল্যাণের পৌত্র
এবং অন্য পৌত্র, কারবালায় যার অন্তর্ধান ঘটেছে
… আর এক পৌত্র, যে মৃত্যু আস্বাদন করবে না যতক্ষণ না
সে অশ্বারোহী বাহিনীকে নেতৃত্ব দিবে, যার অগ্রভাগে থাকবে ঝাণ্ডা
… সে অদৃশ্য হয়েছে, দীর্ঘকাল তাদের মাঝে তাকে দেখা যায় না
রাদওয়া পাহাড়ে, তার নিকট আছে মধু ও পানি
… আবদুল কাহির বলেন: আমরা তার এই পঙক্তিগুলোর উত্তর দিয়েছি আমাদের এই বক্তব্যের মাধ্যমে
… হকের অধিকারী শাসক চারজন, তবে
দ্বিতীয় জনের সাথীর (আবু বকর) শ্রেষ্ঠত্ব অগ্রগামী হয়েছে
… এবং সৃষ্টির মাঝে যিনি ফারুক (ওমর), তিনি ইমাম হয়েছেন
আর এরপর জুন-নুরাইন (উসমান)-এর প্রতি রয়েছে আনুগত্য
… তাঁদের পরে আলী ইমাম হিসেবে স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন
আমার এই বিন্যাস অনুযায়ীই খোদায়ী ফয়সালা অবতীর্ণ হয়েছে
… আর আমরা যাদের কথা উল্লেখ করেছি তাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারী অভিশপ্ত
এবং জাহান্নামের অগ্নিই হবে তার প্রতিদান
… আর রাফেযী সম্প্রদায় নাসারাদের ন্যায় এক গোষ্ঠী
বিভ্রান্তিতে দিশেহারা, যাদের বিভ্রান্তির কোনো ঔষধ নেই
… কুসাইয়ির তার রাফেযী মতবাদে আরও বলেছেন
… আমি আল্লাহর নিকট ইবনে আরওয়া (উসমান) থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করছি
এবং সকল খারেজীদের ধর্ম থেকেও
… আর আমি সম্পর্ক ছিন্ন করছি ওমর এবং আতীক (আবু বকর) থেকে
সেই প্রভাতে যখন তাঁকে আমীরুল মুমিনীন বলে সম্বোধন করা হয়েছিল
… আমরা তার এই দুটি পঙক্তির উত্তর দিয়েছি এভাবে
… তুমি তো আল্লাহর করুণা থেকে বঞ্চিত হয়েছ এমন এক সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ পোষণের কারণে
যাদের মাধ্যমে আল্লাহ মুমিনদের জীবন দান করেছেন
… আর তোমার বিদ্বেষ ইবনে আরওয়ার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না
এবং পুণ্যবানদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ তো কাফেরদেরই রীতি
… আবু বকর, যাঁর মাধ্যমে আমার গৌরব ও ইমামত প্রতিষ্ঠিত
সমস্ত রাফেযীদের ভ্রান্ত দাবির বিপরীতে
… এবং সৃষ্টির মাঝে ফারুক তথা ওমর যথার্থই
তাঁকেই আমীরুল মুমিনীন বলা হয়
…
(খণ্ড: ১)
আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: ৩০)
أَلا قل للوصى فدتك نَفسِي
أطلت بذلك الْجَبَل المقاما
… أضرّ بمعشر والوك منا
وسموك الْخَلِيفَة والإماما
… وعادوا فِيك اهل الأَرْض طرا
مقامك عِنْدهم سِتِّينَ عَاما
… ثمَّ قَالَ فِي هَذِه القصيدة
… وَمَا ذاق بن خَوْلَة طعم موت
وَلَا وارت لَهُ ارْض عظاما
… لقد أَمْسَى بمجرى شعب رضوى
تراجعه الْمَلَائِكَة الكلاما
… وَإِن لَهُ لرزقا من إِمَامًا
وأشربة يعل بهَا الطعاما
… وَقد أجبناه عَن هَذَا الشّعْر بقولنَا
… لقد أفنيت عمرك بانتظار
لمن وارى التُّرَاب لَهُ عظاما
… فَلَيْسَ بشعب رضواء إِمَام
تراجعه الْمَلَائِكَة الكلاما
… وَلَا من عِنْده عسل وَمَاء
وأشربة يعل بهَا الطعاما
… وَقد ذاق ابْن خَوْلَة طعم موت
كَمَا قد ذاق وَالِده الحماما
… وَلَو خلد أمرؤ لعلو مجد
لعاش الْمُصْطَفى ابدا وداما
… وَكَانَ الشَّاعِر الْمَعْرُوف بالسيد الحميرى ايضا على مَذْهَب الكيسانية الَّذين ينتظرون مُحَمَّد بن الْحَنَفِيَّة ويزعمون أَنه مَحْبُوس بجبل رضوى الى أَن يُؤذن لَهُ بِالْخرُوجِ وَلِهَذَا قَالَ فِي شعر لَهُ
… وَلَكِن كل من فى الأَرْض فان
بذا حكم الذى خلق الإماما
… وَكَانَ أول من قَامَ بدعوة الكيسائية الى إِمَامَة مُحَمَّد بن 2
সাবধান! সেই অসি-কে (উত্তরাধিকারী) বলুন, আপনার জন্য আমার প্রাণ উৎসর্গ হোক,
আপনি কি সেই পাহাড়ে আপনার অবস্থান দীর্ঘায়িত করেছেন?
… এটি আমাদের মধ্য থেকে সেই দলের ক্ষতি করেছে যারা আপনাকে বন্ধু মেনেছিল
এবং আপনাকে খলিফা ও ইমাম বলে সম্বোধন করেছিল
… আর আপনার কারণে সমস্ত জগতের মানুষ তাদের শত্রু হয়ে গিয়েছে,
তাদের নিকট আপনার এই অবস্থান ষাট বছর অতিক্রান্ত হয়েছে।
… অতঃপর তিনি এই কবিতায় বলেন
… ইবনে খাওলা মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করেননি,
আর মাটিও তাঁর অস্থিগুলোকে সমাহিত করেনি।
… তিনি রাদওয়া পাহাড়ের উপত্যকায় অবস্থান করছেন,
ফেরেশতারা তাঁর সাথে কথোপকথন করেন।
… নিশ্চয়ই তাঁর জন্য ইমামের পক্ষ থেকে আহারের ব্যবস্থা রয়েছে,
এবং এমন পানীয় রয়েছে যা দিয়ে তিনি খাদ্য গ্রহণ করেন।
… এবং আমরা তাঁর এই কবিতার উত্তর দিয়েছি আমাদের এই বক্তব্যের মাধ্যমে
… আপনি আপনার জীবন অতিবাহিত করেছেন এমন একজনের প্রতীক্ষায়,
যাঁর অস্থিগুলোকে মাটি ইতোমধ্যেই ঢেকে ফেলেছে।
… রাদওয়া পাহাড়ের উপত্যকায় এমন কোনো ইমাম নেই,
যাঁর সাথে ফেরেশতারা কথোপকথন করেন।
… আর না সেখানে এমন কেউ আছে যাঁর কাছে মধু ও পানি রয়েছে,
এবং এমন পানীয় রয়েছে যা দিয়ে তিনি খাদ্য গ্রহণ করেন।
… ইবনে খাওলা অবশ্যই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করেছেন,
যেমনিভাবে তাঁর পিতা মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করেছিলেন।
… যদি মর্যাদার উচ্চতার কারণে কোনো মানুষ অমর হতো,
তবে মুস্তাফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) চিরকাল জীবিত ও স্থায়ী থাকতেন।
… সুপরিচিত কবি আস-সাইয়্যিদ আল-হিমইয়ারিও কায়সানিয়া মতবাদের অনুসারী ছিলেন, যারা মুহাম্মদ ইবনুল হানাফিয়্যার প্রতীক্ষা করে এবং দাবি করে যে, তিনি রাদওয়া পাহাড়ে বন্দি অবস্থায় আছেন যতক্ষণ না তাঁকে বের হওয়ার অনুমতি প্রদান করা হয়। এই কারণেই তিনি তাঁর এক কবিতায় বলেছিলেন
… কিন্তু জমিনের বুকে যা কিছু আছে সবই নশ্বর;
এটি তাঁরই ফয়সালা যিনি ইমামকে সৃষ্টি করেছেন।
… এবং মুহাম্মদ ইবনে ২ এর ইমামতের দিকে কায়সানিয়া দাওয়াত নিয়ে সর্বপ্রথম যিনি দাঁড়িয়েছিলেন তিনি হলেন...