(খণ্ড: ১)
আত-তাআররুফু লি-মাযহাবি আহলিত তাসাউউফ
(পৃষ্ঠা: -)
التعرف لمذهب أهل التصوف القسم: العقيدة
الكتاب: التعرف لمذهب أهل التصوف
المؤلف: أبو بكر محمد بن أبي إسحاق بن إبراهيم بن يعقوب الكلاباذي البخاري الحنفي (ت 380هـ)
الناشر: دار الكتب العلمية - بيروت
سنة النشر:
عدد الصفحات: 161
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
সুফীগণের মতাদর্শ পরিচিতি বিভাগ: আক্বিদা
গ্রন্থ: সুফীগণের মতাদর্শ পরিচিতি
লেখক: আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আবি ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম ইবনে ইয়াকুব আল-কালাবাদি আল-বুখারি আল-হানাফি (মৃত্যু ৩৮০ হি.)
প্রকাশক: দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ - বৈরুত
প্রকাশের বছর:
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৬১
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আত-তাআররুফু লি-মাযহাবি আহলিত তাসাউউফ
(পৃষ্ঠা: ৩)
التصوف وَكتاب التعرفيَقُول الْعَلامَة الصُّوفِي أَبُو سُلَيْمَان الدَّارَانِي الْقلب الصُّوفِي قد رأى الله وكل شَيْء يرى الله لَا يَمُوت فَمن رأى الله فقد خلد
وكل كلمة خطها الصوفيه كَانَت خالده كالقلب الصُّوفِي خالدة لَا تَمُوت لِأَنَّهَا ارتبطت بِاللَّه واستهدفت رِضَاهُ واقتست من هداه وأشرقت بحبه وأضاءت بنوره
ومادة التصوف سَوَاء أَكَانَت أَخْلَاقًا أَو معرفه أَو سلوكا أَو تعبيرا عَن مُشَاهدَة اَوْ تصويرا لمناجاه أَو تذوقا لتجليات أَو تحليقا حول أشرافات فَهِيَ مَادَّة موصله بِاللَّه قَائِمَة بِهِ وَله فانية فِيهِ سُبْحَانَهُ
وَلِهَذَا آمن الصوفيه بِأَنَّهُم أحباب الله وأصفياؤه وأولياؤه وصفوه عبَادَة وحراس ينابيعه وآياته
كَمَا آمنُوا بِأَن أَعْمَالهم وحركاتهم ومعارفهم وأذواقهم ومقاماتهم كلهَا هبات الله وفيض عطاياه
إِن مَوْلَاهُم سُبْحَانَهُ هُوَ مربيهم ومعلمهم وهاديهم ومرشدهم إِنَّه الحبيب الْقَرِيب الْمُجيب الْآخِذ بنواصيهم إِلَى وَجهه الْكَرِيم
তাসাউফ ও কিতাবুত তা’আররুফসুফি আল্লামা আবু সুলায়মান আদ-দারানী বলেন, সুফি হৃদয় আল্লাহকে দেখেছে; আর যা কিছু আল্লাহকে দেখে তা মরে না, সুতরাং যে আল্লাহকে দেখেছে সে অমর হয়ে গেছে।
সুফিদের লিখিত প্রতিটি শব্দই সুফি হৃদয়ের মতো শাশ্বত, তা অমর ও অবিনশ্বর কারণ তা আল্লাহর সাথে সম্পৃক্ত, তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে নিবেদিত, তাঁর হিদায়াত থেকে আহরিত, তাঁর ভালোবাসায় উদ্ভাসিত এবং তাঁর নূরে আলোকিত।
তাসাউফের বিষয়বস্তু—তা চরিত্র হোক বা মারিফাত (প্রজ্ঞা), আধ্যাত্মিক পথচলা হোক বা দর্শনের প্রকাশ, নিভৃত আলাপের চিত্রায়ন হোক বা ঐশ্বরিক জ্যোতির আস্বাদন অথবা জ্যোতির্ময়তার পরিভ্রমণ—তা আল্লাহর দিকে পৌঁছে দেওয়ার এমন এক মাধ্যম যা তাঁরই মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত, তাঁরই জন্য এবং তাঁর মধ্যেই বিলীন, তিনি অতি পবিত্র।
এ কারণেই সুফিরা বিশ্বাস করতেন যে তাঁরা আল্লাহর প্রিয়পাত্র, তাঁর মনোনীত বান্দা, তাঁর ওলি ও বান্দাদের মধ্যে অগ্রগণ্য এবং তাঁর ঝরনাধারা ও নিদর্শনাবলির রক্ষক।
তেমনি তাঁরা বিশ্বাস করতেন যে তাঁদের আমল, তৎপরতা, জ্ঞান, আধ্যাত্মিক স্বাদ ও মাকামসমূহ—সবই আল্লাহর দান ও তাঁর করুণার ফলশ্রুতি।
নিশ্চয়ই তাঁদের মাওলা পবিত্র মহান, তিনিই তাঁদের লালনকারী, শিক্ষক, পথপ্রদর্শক ও মুরশিদ। নিশ্চয়ই তিনি অত্যন্ত প্রিয়, নিকটবর্তী, প্রার্থনা কবুলকারী এবং তিনি তাঁদের ললাট ধরে তাঁর সম্মানিত চেহারার দিকে নিয়ে যান।
(খণ্ড: ১)
আত-তাআররুফু লি-মাযহাবি আহলিত তাসাউউফ
(পৃষ্ঠা: ৪)
قيل لمعروف الْكَرْخِي أخبرنَا عَن الْمحبَّة أى شئ هِيَ قَالَ يَا أخي لَيست الْمحبَّة من تَعْلِيم النَّاس الْمحبَّة من تَعْلِيم الحبيب
وَبِهَذَا الارتباط المشتعل بالوجد وَالْحب وملهمات الْأنس والقرب أصبح الصُّوفِي أَيْنَمَا تولى فثم وَجه الله لايرى سواهُ
وكل شئ فِي الْوُجُود مرآه يرى فِيهَا الصُّوفِي وَجه الله وآياته وَقدرته وَرَحمته يَقُول ذُو النُّون فِي مناجاته
إلهي مَا أصغيت الى صَوت حَيَوَان وَلَا إِلَى حفيف شجر وَلَا خرير مَاء وَلَا ترنم طَائِر وَلَا تنغم طل وَلَا دوى ريح وَلَا قعقعة رعد إِلَّا وَجدتهَا شاهدة بوحدانيتك داله على أَنه لَيْسَ كمثله شئ
وَمن هُنَا لم تَتَحَدَّث طائفه من النَّاس عَن الْحبّ الإلهي وَعَن الفناء فِي الله كَمَا تحدث الصوفيه
والفناء الصُّوفِي فَوق سموهُ الإيماني مَذْهَب فِي التربية والأخلاق لَا يماثله مَذْهَب آخر من مَذَاهِب التربية والأخلاق
وعَلى ضوء علم النَّفس الحَدِيث وعَلى هدى الْمذَاهب العلمية التربوية يجب أَن نَنْظُر إِلَى الفناء الصُّوفِي على أَنه مَنْهَج للكمال والتسامي لَا يطاوله غَيره وَلَا يُغني عَنهُ سواهُ
إِنَّه إفناء المشاعر والرغبات الأرضية فِي شئ أكبر وَأعظم من الْمثل الْأَعْلَى المصطلح عله خلقيا وتربويا
إِنَّه إفناء هوى النفوص وشهواتها وعواطفها وكل مَا تحب فِيمَا يُحِبهُ الله ويريده وَيَأْمُر بِهِ ليعيش الصُّوفِي متخلقا بِخلق الله أَو كَمَا يَقُول الإِمَام الْجُنَيْد فَتكون
মারূফ আল-কারখীকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, "আমাদের মহব্বত সম্পর্কে বলুন, তা কী?" তিনি বললেন, "হে আমার ভাই, মহব্বত মানুষের শেখানো কোনো বিষয় নয়; মহব্বত হলো প্রিয়তমের পক্ষ থেকে দেওয়া শিক্ষা।"
আর ভাবাবেগ, প্রেম এবং সখ্য ও নৈকট্যের অনুপ্রেরণায় প্রজ্বলিত এই সংযোগের কারণে সূফি যেখানেই মুখ ফেরান না কেন, সেখানেই আল্লাহর চেহারা দেখতে পান; তিনি আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছু দেখেন না।
অস্তিত্বের প্রতিটি বস্তুই একটি আয়না, যার মধ্যে সূফি আল্লাহর চেহারা, তাঁর নিদর্শনাবলি, তাঁর ক্ষমতা এবং তাঁর রহমত দেখতে পান। যুন-নূন তাঁর মুনাজাতে বলেন:
"হে আমার ইলাহ! আমি কোনো প্রাণীর আওয়াজ, গাছের পাতার মরমর শব্দ, পানির কলকল ধ্বনি, পাখির গুঞ্জন, শিশিরের মৃদু সুর, বাতাসের গর্জন কিংবা বজ্রের কড়কড়ানি—যা-ই শুনেছি, তার প্রতিটিকেই আপনার একত্বের সাক্ষী এবং এর প্রমাণ হিসেবে পেয়েছি যে, কোনো কিছুই আপনার সদৃশ নয়।"
এখান থেকেই বোঝা যায় যে, মানুষের কোনো দলই ঐশী প্রেম এবং আল্লাহর মধ্যে লীন হওয়া সম্পর্কে সূফিদের মতো করে আলোচনা করেনি।
সূফিতাত্ত্বিক 'ফানা' তার ইমানি উচ্চতার ঊর্ধ্বে চরিত্র গঠন ও দীক্ষার এমন এক মতাদর্শ, যার সমতুল্য অন্য কোনো মতাদর্শ নেই।
আধুনিক মনোবিজ্ঞান এবং বৈজ্ঞানিক শিক্ষা-পদ্ধতির আলোকে আমাদের সূফিতাত্ত্বিক 'ফানা'কে পূর্ণতা ও উৎকর্ষ সাধনের এমন এক পথ হিসেবে দেখা উচিত, যার সমকক্ষ অন্য কিছু হতে পারে না এবং যা ছাড়া অন্য কিছু এর বিকল্প হতে পারে না।
এটি হলো পার্থিব অনুভূতি ও কামনা-বাসনাকে এমন এক বৃহত্তর ও মহত্তর বিষয়ের মধ্যে বিলীন করে দেওয়া, যা নৈতিক ও শিক্ষাগত পরিভাষায় ব্যবহৃত 'আদর্শ' অপেক্ষা অনেক বড়।
এটি হলো নফসের খেয়াল-খুশি, কামনা-বাসনা, আবেগ এবং প্রিয় সবকিছুকে আল্লাহর পছন্দ, ইচ্ছা এবং নির্দেশের মধ্যে বিলীন করে দেওয়া, যাতে সূফি আল্লাহর গুণে গুণান্বিত হয়ে জীবন অতিবাহিত করতে পারেন; অথবা ইমাম জুনায়েদ যেমনটি বলেছেন যে, তখন তুমি হবে...
(খণ্ড: ১)
আত-তাআররুফু লি-মাযহাবি আহলিত তাসাউউফ
(পৃষ্ঠা: ৫)
كل حركاته فِي موافقه الْحق دون مخالفاته فَيكون فانيا عَن المخالفات بَاقِيا فِي الموافقات
إِنَّه إِذن استبدال خلق بشري بِخلق رباني وَذَلِكَ ارْتِفَاع بالبشرية لَا نعرفه وَلَا تعرفه الدُّنْيَا لغير الصُّوفِيَّة الإسلامية 2
فالفناء الصُّوفِي لَيْسَ فنَاء جَسَد فِي جَسَد وَلَا فنَاء روح فِي روح إِنَّه فنَاء إِرَادَة فِي إِرَادَة وفناء أَخْلَاق فِي اخلاق وصفات فِي صفيات أَو كَمَا يَقُول الصُّوفِيَّة فانيا عَن أَوْصَافه بَاقِيا بأوصاف الْحق
إِنَّه لتصعيد للكمال تصعيد تخفق أجنحته فِي أفق قدسي علوى ثمَّ تخفق صاعدة صاعدة حَتَّى تنَال شرف التخلق بأخلاق الصِّفَات الإلهية
وَهَذَا الفناء هُوَ الَّذِي عبر عَنهُ الحَدِيث النبوى تخلقوا بأخلاق الله وصوره الحَدِيث الْقُدسِي
كنت سَمعه الَّذِي يسمع بِهِ وبصره الَّذِي يبصر بِهِ
وَبِهَذَا الفناء يحس الصُّوفِي إحساس ذوق ووجدان وقلب وروح بِإِذن الله سُبْحَانَهُ مَعَه وَفِي ضَمِيره وحركاته وكلماته
يَقُول الْعَلامَة الكلاباذي وَمن فنَاء الحظوظ حَدِيث عبد الله بن مَسْعُود قَالَ مَا علمت أَن فِي أَصْحَاب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم من يُرِيد الدُّنْيَا حَتَّى قَالَ الله تَعَالَى {مِنْكُم من يُرِيد الدُّنْيَا ومنكم من يُرِيد الْآخِرَة} فَكَانَ عبد الله فِي هَذَا الْمقَام فانيا عَن إِرَادَة الدُّنْيَا
لقد فنى الصوفيه فِي حب مَوْلَاهُم وتخلقوا باخلاقه وتأدبوا بآدابه وتربوا فِي محاربيه وعاشوا فِي ذكره ومناجاته فعلمهم وطهرهم وزكاهم واصطفاهم واجتباهم وأحبهم ورضى عَنْهُم فَفتح لقُلُوبِهِمْ ملكوت السَّمَوَات وَالْأَرْض يُرِيهم عجائب كَونه وبدائع قدرته وبدائع قدرته
তাঁর যাবতীয় নড়াচড়া সত্যের (হক) অনুকূলে থাকে, তার বিপরীতে নয়। সুতরাং তিনি অবাধ্যতা থেকে ফানা (বিলুপ্ত) এবং আনুগত্যে বাক্বি (অবশিষ্ট) হন।
এটি তখন মানবিক চরিত্রের পরিবর্তে রব্বানী (ঐশী) চরিত্রের স্থলাভিষিক্ত হওয়া। আর এটি হলো মানবতার এমন এক উচ্চতা যা আমরা জানি না এবং ইসলামী সুফিবাদ ছাড়া এই পৃথিবী অন্য কারো ক্ষেত্রে তা চেনে না।
সুফিদের পরিভাষায় ফানা বলতে কোনো দেহের মাঝে দেহের বিলোপ হওয়া নয়, কিংবা কোনো রূহের মাঝে রূহের বিলোপ হওয়াও নয়; বরং তা হলো ইচ্ছার মধ্যে ইচ্ছার ফানা, চরিত্রের মধ্যে চরিত্রের ফানা এবং গুণাবলির মধ্যে গুণাবলির ফানা। অথবা সুফিরা যেমন বলেন: স্বীয় গুণাবলি থেকে ফানা হয়ে হকের গুণাবলি নিয়ে বাক্বি থাকা।
এটি পূর্ণতার দিকে এক আরোহণ; এমন এক আরোহণ যার ডানাগুলো পবিত্র সুউচ্চ দিগন্তে ঝাপটায়, এরপর তা উপরে উঠতে উঠতে একসময় আল্লাহর গুণাবলির চরিত্রে চরিত্রবান হওয়ার মর্যাদা লাভ করে।
আর এই ফানা-কেই নবীজির হাদীসে এভাবে ব্যক্ত করা হয়েছে— "তোমরা আল্লাহর গুণে গুণান্বিত হও" এবং যা হাদীসে কুদসীতে চিত্রিত হয়েছে—
"আমি তাঁর কান হয়ে যাই যা দিয়ে তিনি শোনেন এবং তাঁর চোখ হয়ে যাই যা দিয়ে তিনি দেখেন।"
এই ফানার মাধ্যমেই সুফি তাঁর রুচি, উপলব্ধি, অন্তর ও রূহের মাধ্যমে অনুভব করেন যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর সাথেই আছেন এবং তাঁর বিবেক, নড়াচড়া ও কথা-বার্তায় বিরাজমান।
আল্লামা কালাবাদি বলেন: জাগতিক স্বার্থ বিলুপ্ত হওয়ার (ফানা আল-হুজুজ) দৃষ্টান্ত হলো আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদের বর্ণিত হাদীস। তিনি বলেন, "আমি জানতাম না যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের মধ্যে কেউ দুনিয়া কামনা করে, যতক্ষণ না আল্লাহ তাআলা এই আয়াত নাযিল করলেন— 'তোমাদের মধ্যে কেউ দুনিয়া চায় এবং কেউ আখিরাত চায়'।" সুতরাং আবদুল্লাহ এই অবস্থানে (মাকামে) দুনিয়ার ইচ্ছা থেকে ফানা ছিলেন।
সুফিরা তাঁদের মাওলার ভালোবাসায় ফানা হয়ে গেছেন, তাঁর চরিত্রে চরিত্রবান হয়েছেন, তাঁর শিষ্টাচারে সুশোভিত হয়েছেন, তাঁর ইবাদতগাহে লালিত-পালিত হয়েছেন এবং তাঁর যিকির ও মুনাজাতে জীবন অতিবাহিত করেছেন। ফলে তিনি তাঁদেরকে জ্ঞান দান করেছেন, পবিত্র করেছেন, পরিশুদ্ধ করেছেন, মনোনীত করেছেন, নির্বাচন করেছেন, তাঁদের ভালোবেসেছেন এবং তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন। অতঃপর তিনি তাঁদের অন্তরের জন্য আসমান ও যমীনের রাজত্ব উন্মুক্ত করে দিয়েছেন যাতে তিনি তাঁদেরকে তাঁর সৃষ্টির বিস্ময়াবলি ও তাঁর কুদরতের অপূর্ব কারুকার্য দেখাতে পারেন।
(খণ্ড: ১)
আত-তাআররুফু লি-মাযহাবি আহলিত তাসাউউফ
(পৃষ্ঠা: ৬)
وأسرار خليقته وأفاض عَلَيْهِم هداياه وعطاياه علوما وأذواقا أَو كَمَا يَقُول الصوفيه أَخَذْتُم علمكُم مَيتا عَن ميت وأخذنا علمنَا من الْحَيّ الَّذِي لَا يَمُوت
وَمن هَذَا الفناء جَاءَهُم الخلود وَبِهَذَا التخلق أَصْبحُوا ائمة يهْدُونَ إِلَى الله بأَمْره ويقفون حراسا على آيَاته ومشاهده مبشرين بكلماته متحدثين عَن حضراته داعين إِلَى محبته ومناجاته مترنمين فِي آفاقه وجدا وشوقا بتسبيحه وَذكره
يَقُول الْعَلامَة الإِمَام الكلاباذي واصفا لمقاماتهم وأحوالهم سبقت لَهُم من الله الْحسنى وألزمهم كلمة التَّقْوَى وعزف بنفوسهم عَن الدُّنْيَا صدقت مجاهداتهم فنالوا عُلُوم الدراسة وخلصت علها معاملاتهم فمنحوا عُلُوم الوراثه وصفت سرائرهم فأكرموا بِصدق الفراسة ثبتَتْ أَقْدَامهم وزكت أفهامهم أنارت أعلامهم فَهموا عَن الله وَسَارُوا إِلَى الله وأعرضوا عَمَّا سوى الله خرقت الْحجب أنوارهم وجالت حول الْعَرْش أسرارهم وجلت عِنْد ذِي الْعَرْش أخطارهم وعميت عَمَّا دون الْعَرْش ابصارهم فهم أجسام روحانيون وَفِي الارض سماويون وَمَعَ الْخلق ربانيون سكُوت نظار غيب حضار مُلُوك تَحت أطمار أنزاع قبائل وَأَصْحَاب فَضَائِل وأنوار دَلَائِل آذانهم واعيه وأسرارهم صَافِيَة ونعوتهم خافيه صفوية صوفيه نورية صَفيه ودائع الله بَين خليقته وصفوته فِي بريته ووصاياه لنَبيه وخباياه عِنْد صَفيه هم فِي حَيَاته أهل صفته وَبعد وَفَاته خِيَار أمته لم يزل يَدْعُو الأول الثَّانِي وَالسَّابِق التَّالِي بِلِسَان فعله أغناه ذَلِك عَن قَوْله
تِلْكَ لمحة عَن التصوف والصوفيه الَّذين رَأَتْ قُلُوبهم الله فَلم تمت قُلُوبهم بعد الْمُشَاهدَة بل خلدت تنبض بالحب وتقتات بِالذكر وتنعم بِالْهدى وَالرِّضَا وَترسل الشعاع الَّذِي ينير طَرِيق السالكين الى رَبهم
এবং তাঁর সৃষ্টির রহস্যসমূহ। তিনি তাঁদের ওপর জ্ঞান ও অনুভূতিরূপে তাঁর হিদায়াত ও দানসমূহ বর্ষণ করেছেন। অথবা সুফিগণ যেমন বলেন, "তোমরা তোমাদের জ্ঞান গ্রহণ করেছ এক মৃত ব্যক্তির নিকট থেকে অপর মৃত ব্যক্তির মাধ্যমে, আর আমরা আমাদের জ্ঞান গ্রহণ করেছি সেই চিরঞ্জীব সত্তার নিকট থেকে যাঁর কোনো মৃত্যু নেই।"
এই ফানা বা বিলীন হওয়া থেকেই তাঁদের মাঝে অমরত্ব এসেছে। এই চারিত্রিক গুণাবলির মাধ্যমেই তাঁরা এমন ইমামে পরিণত হয়েছেন যারা আল্লাহর আদেশে তাঁর দিকে পথপ্রদর্শন করেন। তাঁরা আল্লাহর নিদর্শন ও সাক্ষ্যসমূহের প্রহরী হিসেবে দণ্ডায়মান, তাঁর বাণীর সুসংবাদদাতা, তাঁর সান্নিধ্য সম্পর্কে আলোচনাকারী, তাঁর ভালোবাসা ও মুনাজাতের দিকে আহ্বানকারী এবং তাঁর তাসবিহ ও জিকিরের মাধ্যমে পরম প্রেম ও ব্যাকুলতায় দিগন্তজুড়ে গুঞ্জনরত।
আল্লামা ইমাম কালাবাদি তাঁদের মাকাম ও হালত বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন: আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁদের জন্য পূর্বেই কল্যাণ নির্ধারিত হয়েছে, তিনি তাঁদের তাকওয়ার কালিমায় অবিচল রেখেছেন এবং তাঁদের নফসকে দুনিয়া থেকে বিমুখ করেছেন। তাঁদের মুজাহাদা বা সাধনা সত্যে পরিণত হয়েছে, ফলে তাঁরা পঠন-পাঠনলব্ধ জ্ঞান অর্জন করেছেন; তাঁদের লেনদেন ও কর্মসমূহ একনিষ্ঠ হয়েছে, ফলে তাঁদের উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত জ্ঞান দান করা হয়েছে। তাঁদের অন্তঃকরণ স্বচ্ছ হয়েছে, ফলে তাঁদের সত্য অন্তর্দৃষ্টির মাধ্যমে সম্মানিত করা হয়েছে। তাঁদের পা সুদৃঢ় হয়েছে, তাঁদের বোধশক্তি পবিত্র হয়েছে এবং তাঁদের নিশানসমূহ আলোকিত হয়েছে। তাঁরা আল্লাহর পক্ষ থেকে অনুধাবন করেছেন, আল্লাহর দিকে পরিভ্রমণ করেছেন এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য সবকিছু থেকে বিমুখ হয়েছেন। তাঁদের জ্যোতিসমূহ পর্দাগুলো ছিন্ন করেছে, তাঁদের রহস্যসমূহ আরশের চারপাশে পরিভ্রমণ করেছে, আরশের অধিপতির নিকট তাঁদের মর্যাদা মহান হয়েছে এবং আরশের নিচে যা কিছু আছে তা থেকে তাঁদের দৃষ্টি অন্ধ হয়ে গেছে। তাঁরা দেহধারী হয়েও আধ্যাত্মিক সত্তা, পৃথিবীতে থেকেও আসমানি এবং সৃষ্টির মাঝে থেকেও রব্বানি। তাঁরা নীরব অথচ দর্শক, অদৃশ্যে থেকেও উপস্থিত, জীর্ণবস্ত্র পরিহিত সম্রাট, বিভিন্ন গোত্র থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া অনন্য ব্যক্তি, ফযিলতের অধিকারী এবং প্রমাণের আলোকবর্তিকা। তাঁদের কান সজাগ, তাঁদের গোপন রহস্যসমূহ স্বচ্ছ এবং তাঁদের গুণাবলি নিভৃত। তাঁরা মনোনীত সুফি, জ্যোতির্ময় ও বিশুদ্ধ। তাঁরা সৃষ্টির মাঝে আল্লাহর গচ্ছিত আমানত এবং তাঁর মাখলুকের মধ্যে বাছাইকৃত অংশ। তাঁরা তাঁর নবীর প্রতি তাঁর অসিয়ত এবং তাঁর বন্ধুর নিকট তাঁর গুপ্ত রহস্য। নবীর জীবদ্দশায় তাঁরা ছিলেন সুফফাহর অধিবাসী এবং তাঁর ওফাতের পর তাঁরা তাঁর উম্মতের শ্রেষ্ঠ জন। অগ্রবর্তীগণ অনুবর্তীগণকে এবং পূর্ববর্তীগণ পরবর্তীগণকে নিরন্তর তাঁদের কর্মের ভাষায় আহ্বান করে চলেছেন, যা তাঁদের বাচনিক বক্তব্যের মুখাপেক্ষীহীন করেছে।
এটি হলো তাসাউফ ও সেই সুফিদের সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত আলোকপাত, যাঁদের অন্তর আল্লাহকে দর্শন করেছে। তাই সেই দর্শনের পর তাঁদের অন্তর মরে যায়নি, বরং তা ভালোবাসায় স্পন্দিত হয়ে এবং জিকিরের মাধ্যমে জীবনরস গ্রহণ করে অমর হয়ে আছে। তাঁরা হিদায়াত ও সন্তুষ্টির নেয়ামত উপভোগ করছেন এবং এমন জ্যোতি বিচ্ছুরিত করছেন যা তাঁদের রবের দিকে ধাবমান পথচারীদের পথকে আলোকিত করে।
(খণ্ড: ১)
আত-তাআররুফু লি-মাযহাবি আহলিত তাসাউউফ
(পৃষ্ঠা: ৭)
وخلد مَعَ الْقلب الحى الطَّاهِر كل مَا صدر عَنهُ من كلم حى طَاهِر طيب مُرْتَبِط بِاللَّه مَوْصُول بِهِ
وَإِن من أخلد مَا كتب عَن التصوف والصوفية لكتاب التعرف لمَذْهَب أهل التصوف للْإِمَام الْعَالم الْعَارِف تَاج الْإِسْلَام أبي بكر مُحَمَّد بن إِسْحَاق البخارى الكلاباذي المتوفي سنة 380 هـ 990 م
وَهُوَ من أقدم وأدق وأنقى وأصفى مَا كتب عَن هَذَا الْعلم وَرِجَاله
كتبه الْعَارِف الكلاباذي فِي الْعَصْر الذَّهَبِيّ للتصوف فِي أَوَائِل الْقرن الرَّابِع لِلْهِجْرَةِ الْقرن الَّذِي بلغ فِيهِ التصوف كَمَاله العلمي والفني واستكمل فِيهِ التصوف علومه ومناهجه وآدابه وسلوكه ومقاماته
وَجَاء كتاب الكلاباذي صُورَة كَامِلَة لعصره الذَّهَبِيّ بل صُورَة للتصوف فِي أَعلَى ذراه وأنقى موارده وَأهْدى معارجه
وَالْكتاب بعد هَذَا صُورَة ورسالة يقوم على مَنْهَج وغايه فِي دقة وَأَمَانَة وبراعة علمية وكفاءة فنية يزينه ويجليه اسلوب عبقرى فِيهِ إشراق ومرونة لَا يعرف الحشو والتطرف وَلَا البهرج الْمُتَكَلف بل يقْصد إِلَى غَايَته بأرشق الْكَلِمَات وأحلاها وأعلاها فِي غير إِسْرَاف أَو تَطْوِيل أَو خُرُوج عَن الهدف والمنهج
وَلِهَذَا كَانَ هَذَا الْكتاب مَعَ قله صفحاته موسوعة علمية صوفية كبرى يُغني عَن غَيره من الموسوعات الْكُبْرَى وَلَا يُغني غَيره عَنهُ حَتَّى قَالَ عُلَمَاء التصوف القدامى لَوْلَا التعرف لما عرف التصوف
والكلاباذي لَيْسَ مؤرخا فِي هَذَا الْكتاب فَحسب بل هُوَ عَالم عَارِف ذائق يُدْلِي بِرَأْيهِ وحجته ثمَّ هُوَ معاصر وصديق للثقات الْأَئِمَّة الَّذين اضاءوا آفَاق التصوف
জীবন্ত ও পবিত্র হৃদয়ের সাথে তার থেকে নির্গত প্রতিটি জীবন্ত, পবিত্র ও উত্তম বাণী যা আল্লাহর সাথে সম্পৃক্ত ও তাঁর সাথে যুক্ত, তাও অমর হয়ে থাকে।
নিশ্চয়ই তাসাউফ ও সুফিদের সম্পর্কে লিখিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ অমর কাজ হলো ইমাম, আলেম, আরিফ, তাজুল ইসলাম আবু বকর মুহাম্মদ বিন ইসহাক বুখারি আল-কালাবাদি (মৃত্যু ৩৮০ হিজরি / ৯৯০ খ্রিস্টাব্দ) রচিত 'কিতাবুত তাআর্রুফ লি-মাযহাবি আহলিত তাসাউফ'।
এটি এই ইলম (জ্ঞান) এবং এর মনীষীদের সম্পর্কে লিখিত প্রাচীনতম, নির্ভুলতম এবং বিশুদ্ধ ও স্বচ্ছতম গ্রন্থগুলোর একটি।
আরিফ আল-কালাবাদি এটি তাসাউফের স্বর্ণযুগে তথা চতুর্থ হিজরি শতাব্দীর শুরুর দিকে রচনা করেছেন। এটি এমন এক শতাব্দী যখন তাসাউফ তার ইলমি (জ্ঞানতাত্ত্বিক) ও পদ্ধতিগত পূর্ণতায় পৌঁছেছিল এবং তাসাউফ তার জ্ঞান, কর্মপদ্ধতি, আদব, সুলুক ও মাকামাতসমূহকে সুসংহত করেছিল।
আল-কালাবাদির এই কিতাবটি তার স্বর্ণযুগের এক পূর্ণাঙ্গ প্রতিচ্ছবি হয়ে আবির্ভূত হয়েছে; বরং এটি তাসাউফের সর্বোচ্চ শিখর, এর বিশুদ্ধতম উৎস এবং হিদায়াতপূর্ণ সোপানসমূহের এক প্রতিকৃতি।
তদুপরি, এই কিতাবটি একটি চিত্র ও বার্তা যা অত্যন্ত সূক্ষ্মতা, আমানতদারি, ইলমি পারদর্শিতা এবং শৈল্পিক দক্ষতার ওপর ভিত্তি করে একটি সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি ও লক্ষ্য নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। একে সৌন্দর্যমণ্ডিত ও স্পষ্ট করেছে এক প্রতিভাদীপ্ত শৈলী, যাতে রয়েছে উজ্জ্বলতা ও নমনীয়তা। এতে নেই কোনো বাহুল্য বা চরমপন্থা, কিংবা কৃত্রিম অলঙ্কার; বরং এটি আতিশয্য, দীর্ঘসূত্রতা অথবা লক্ষ্য ও পদ্ধতির বাইরে না গিয়ে অত্যন্ত মার্জিত, সুমিষ্ট এবং উচ্চাঙ্গের শব্দের মাধ্যমে এর অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছায়।
একারণেই পৃষ্ঠা সংখ্যায় কম হওয়া সত্ত্বেও এই কিতাবটি একটি বৃহৎ তাসাউফ-তাত্ত্বিক ইলমি বিশ্বকোষ। এটি অন্য সব বৃহৎ বিশ্বকোষের অভাব পূরণ করে, কিন্তু অন্য কোনো কিছু এর অভাব পূরণ করতে পারে না। এমনকি প্রাচীন তাসাউফ বিশেষজ্ঞগণ বলতেন: "যদি 'তাআর্রুফ' না থাকত, তবে তাসাউফ জানাই যেত না।"
আল-কালাবাদি এই কিতাবে কেবল একজন ইতিহাসবিদ নন; বরং তিনি একজন আলেম, আরিফ এবং আধ্যাত্মিক স্বাদ গ্রহণকারী, যিনি তার নিজস্ব মতামত ও দলিল পেশ করেন। তদুপরি তিনি সেই সব নির্ভরযোগ্য ইমামদের সমসাময়িক ও বন্ধু ছিলেন যারা তাসাউফের দিগন্তকে আলোকিত করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আত-তাআররুফু লি-মাযহাবি আহলিত তাসাউউফ
(পৃষ্ঠা: ৮)
فِي عصره الذَّهَبِيّ وَلِهَذَا يَقُول فِي كِتَابه وَهُوَ يعرض لأحاديث الصفوة الاعلام سمعنَا أَو قَالَ لنا
ويحدثنا الكلاباذي عَن منهجه فِي كِتَابه فَيَقُول
فدعاني ذَلِك إِلَى أَن رسمت فِي كتابي هَذَا وصف طريقتهم وَبَيَان نحلتهم وسيرتهم من القَوْل فِي التَّوْحِيد وَالصِّفَات وَسَائِر مَا يتَّصل بِهِ مِمَّا وَقعت فِيهِ الشُّبْهَة عِنْد من لم يعرف مذاهبهم وَلم يخْدم مشايخهم وكشفت بِلِسَان الْعلم مَا أمكن كشفه ووصفت بِظَاهِر الْبَيَان مَا صلح وَصفه ليفهمه من يفهم إشاراتهم ويدركه من لم يدْرك عباراتهم وينتفي عَنْهُم خرص المتخرصين وَسُوء تَأْوِيل الْجَاهِلين وَيكون بَيَانا لمن أَرَادَ سلوك طَرِيقه مفتقرا إِلَى الله تَعَالَى فِي بُلُوغ تَحْقِيقه بعد أَن تصفحت كتب الجذاق فِيهِ وتتبعت حكايات المتحققين لَهُ بعد الْعشْرَة لَهُم وَالسُّؤَال عَنْهُم
ثمَّ لَا يَكْتَفِي الكلاباذي فِي كِتَابه بِهَذَا إِن لَهُ لشخصيته وَعلمه واستنباطه واجتهاده وَإنَّهُ ليسخر كل ملكاته ليقدم لنا الْمعرفَة الصُّوفِيَّة فِي صُورَة كَامِلَة من تَحْصِيله وتصويره
وَهُوَ مَنْهَج فِي التَّأْلِيف قل نَظِيره فِي قدامى المؤرخين يَقُول الكلاباذي هَذَا مَا تحققناه وَصَحَّ عندنَا من مَذَاهِب الْقَوْم من أقاويلهم فِي كتبهمْ مِمَّن ذكرنَا اسماءهم ابْتِدَاء مَا سمعناه من الثِّقَات مِمَّن عرف أصولهم وَتحقّق مذاهبهم وَالَّذِي فهمناه من رموزهم وإشاراتهم فِي ضمن كَلَامهم قَالَ وَلَيْسَ كل ذَلِك مسطورا لَهُم على حسب مَا حكيناه وَأكْثر مَا ذكرنَا من الْعِلَل والاحتجاج فَمن كلامنا عبارَة عَمَّا حصلناه من كتبهمْ ورسائلهم
তাঁর স্বর্ণযুগে, এবং এই কারণেই তিনি তাঁর গ্রন্থে বলেন—যেখানে তিনি বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের হাদীসসমূহ পেশ করছেন—'আমরা শুনেছি' অথবা 'তিনি আমাদের বলেছেন'।
আর আল-কালাবাদি তাঁর গ্রন্থে তাঁর পদ্ধতি সম্পর্কে আমাদের অবহিত করেন, তিনি বলেন:
এটিই আমাকে উদ্বুদ্ধ করেছে যেন আমি আমার এই গ্রন্থে তাঁদের তরিকার বর্ণনা এবং তাঁদের মতাদর্শ ও জীবনচরিতের ব্যাখ্যা প্রদান করি; বিশেষ করে তাওহীদ, সিফাত (গুণাবলি) এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ে তাঁদের বক্তব্যসমূহ, যেগুলোতে ওইসব ব্যক্তিদের মাঝে সংশয় তৈরি হয়েছে যারা তাঁদের মাযহাব সম্পর্কে অবগত নয় এবং তাঁদের মাশায়েখদের খেদমত করেনি। আমি ইলমের ভাষায় যতটুকু উন্মোচন করা সম্ভব তা করেছি এবং সুস্পষ্ট বর্ণনায় যা বর্ণনাযোগ্য তা ব্যক্ত করেছি, যাতে যাঁরা তাঁদের ইশারা-ইঙ্গিত বোঝেন তাঁরা তা বুঝতে পারেন এবং যাঁরা তাঁদের বাক্যসমূহ অনুধাবন করতে পারেননি তাঁরাও যেন তা হৃদয়ঙ্গম করতে পারেন। এর মাধ্যমে তাঁদের সম্পর্কে মিথ্যাবাদীদের মিথ্যাচার এবং মূর্খদের অপব্যাখ্যা দূর হবে। আর যে ব্যক্তি এই পথে চলতে চায়, তার জন্য এটি হবে একটি দিকনির্দেশনা, আল্লাহ তাআলার কাছে তাঁর মাকসুদ হাসিলের জন্য মুখাপেক্ষী হয়ে; এবং এটি আমি করেছি এই শাস্ত্রের দক্ষ ব্যক্তিদের কিতাবসমূহ পর্যালোচনার পর এবং তাঁদের সাথে মেলামেশা ও তাঁদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এই পথের সুপ্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিদের ঘটনাবলি অনুসরণের পর।
অতঃপর আল-কালাবাদি তাঁর গ্রন্থে কেবল এতেই ক্ষান্ত হননি; বরং তাঁর নিজস্ব ব্যক্তিত্ব, জ্ঞান, উদ্ভাবনী ক্ষমতা ও ইজতিহাদ রয়েছে। তিনি তাঁর সমস্ত মেধা ও প্রতিভাকে নিয়োজিত করেছেন যেন সুফি জ্ঞানকে তাঁর অর্জিত এবং চিত্রিত একটি পূর্ণাঙ্গ রূপে আমাদের সামনে উপস্থাপন করতে পারেন।
এটি গ্রন্থ রচনার এমন এক পদ্ধতি যা প্রাচীন ইতিহাসবিদদের মধ্যে বিরল। আল-কালাবাদি বলেন: এটিই সেই বিষয় যা আমরা সুনিশ্চিতভাবে জেনেছি এবং আমাদের নিকট এই কওমের মাযহাব হিসেবে সহীহ বলে প্রমাণিত হয়েছে; তাঁদের কিতাবসমূহে বর্ণিত তাঁদের বক্তব্যসমূহ থেকে এবং যাদের নাম আমরা শুরুতে উল্লেখ করেছি তাঁদের থেকে, যা আমরা এমন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের নিকট থেকে শুনেছি যারা তাঁদের মূলনীতিসমূহ জানেন এবং তাঁদের মাযহাব সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছেন; আর যা আমরা তাঁদের কথার মাঝে বিদ্যমান সংকেত ও ইশারা-ইঙ্গিত থেকে বুঝতে পেরেছি। তিনি আরও বলেন: আমরা যেভাবে বর্ণনা করেছি, এই সবকিছু তাঁদের কিতাবে হুবহু একইভাবে লিপিবদ্ধ নেই। আমরা যে সকল কারণ ও যুক্তি প্রদর্শন করেছি, তার অধিকাংশ আমাদের নিজস্ব বক্তব্য, যা তাঁদের কিতাব ও রিসালাসমূহ থেকে আমাদের অর্জিত নির্যাস।
(খণ্ড: ১)
আত-তাআররুফু লি-মাযহাবি আহলিত তাসাউউফ
(পৃষ্ঠা: ৯)
وَمن تدبر كَلَامهم وتفحص كتبهمْ علم صِحَة مَا حكيناه وَلَوْلَا أَنا كرهنا الإطالة لَكنا نذْكر مَكَان ماحكيناه من كَلَامهم فِي كتبهمْ نصا وَدلَالَة إِذْ لَيْسَ كل ذَلِك مرسوما فِي الْكتب على التَّصْرِيح
وَكتاب التعرف لَيْسَ كتابا من كتب الطَّبَقَات وَلَيْسَ موسوعة تحمع اشتاتا من المعارف لَا ترابط بَينهَا إِنَّه مَادَّة الْعلم الصُّوفِي وجوهره مَعَ الدَّلِيل والتحليل والبرهان الَّذِي لَا يرقى اله شكّ وَلَا يشوبه غموض
فَإِذا تحدث الكلاباذي عَن المقامات مثلا رَاح فِي علم وذوق يحللها ويجليها ويكشف عَن أسرارها ومعانيها وَيقدم لَهَا الدَّلِيل تلو الدَّلِيل من الْكتاب وَالسّنة والمنطق الإسلامي
يَقُول الكلاباذي فِي حَدِيثه عَن المقامات ثمَّ لكل مقَام بَدْء وَنِهَايَة وَبَينهمَا أَحْوَال متفاوته وَلكُل مقَام علم وَإِلَى كل حَال إِشَارَة وَمَعَ كل مقَام إِثْبَات وَنفي وَلَيْسَ كل مَا نفي فِي مقَام كَانَ منفيا فِيمَا قبله وَلَا كل مَا أثبت فِيهِ كَانَ مثبتا فِيمَا دونه
وَهُوَ كَمَا روى عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَنه قَالَ
لَا إِيمَان لمن لَا أَمَانَة لَهُ
فنفي إِيمَان الْأَمَانَة لَا إِيمَان العقد والمخاطبون أدركوا ذَلِك إِذْ كَانُوا قد حلوا مقَام الْأَمَانَة أَو جاوزوه إِلَى مَا فَوْقه وَكَانَ عليه السلام مشرفا على أَحْوَالهم فَصرحَ لَهُم
فَأَما من لم يشرف على أَحْوَال السامعين وَعبر عَن مقَام فنفى فِيهِ واثبت جَازَ ان يكون فِي السامعين من لم يصل ذَلِك الْمقَام وَكَانَ الَّذِي نَفَاهُ الْقَائِل مثبتا فِيهِ فِي
যারা তাদের কথা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করবে এবং তাদের কিতাবসমূহ অনুসন্ধান করবে, তারা আমাদের বর্ণিত তথ্যের সঠিকতা জানতে পারবে। যদি আমরা দীর্ঘায়িত করা অপছন্দ না করতাম, তবে আমরা তাদের কিতাব থেকে তাদের বক্তব্যের উদ্ধৃতি ও নির্দেশনার স্থানসমূহ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতাম; কারণ এর সবকিছু কিতাবগুলোতে স্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ নেই।
আর আত-তাআরুফ কিতাবটি কেবল জীবনীমূলক কোনো কিতাব নয় এবং এটি এমন কোনো বিশ্বকোষও নয় যা কোনো যোগসূত্রহীন বিচ্ছিন্ন জ্ঞানসমূহকে একত্র করেছে। বরং এটি সুফি ইলমের উপাদান ও নির্যাস, যার সাথে রয়েছে এমন দলিল, বিশ্লেষণ ও প্রমাণ যাতে কোনো সন্দেহ নেই এবং যা কোনো অস্পষ্টতায় আচ্ছন্ন নয়।
যখন কালাবাজি উদাহরণস্বরূপ মাকামাত (স্তরসমূহ) নিয়ে কথা বলেন, তখন তিনি ইলম ও আধ্যাত্মিক স্বাদের মাধ্যমে তা বিশ্লেষণ ও বিকশিত করেন এবং এর রহস্য ও অর্থসমূহ উন্মোচন করেন। তিনি এর স্বপক্ষে কুরআন, সুন্নাহ এবং ইসলামি যুক্তিবিদ্যার একের পর এক দলিল উপস্থাপন করেন।
কালাবাজি মাকামাত সম্পর্কে তাঁর আলোচনায় বলেন: অতঃপর প্রতিটি মাকামের একটি শুরু ও শেষ রয়েছে এবং এই উভয়ের মাঝে বিভিন্ন অবস্থা (আহওয়াল) রয়েছে। প্রতিটি মাকামের নির্দিষ্ট জ্ঞান আছে এবং প্রতিটি অবস্থার দিকে ইঙ্গিত আছে। প্রতিটি মাকামের সাথে সাব্যস্তকরণ ও অস্বীকার রয়েছে। কোনো মাকামে যা কিছু অস্বীকার করা হয়েছে, তা তার আগের মাকামে হয়তো অস্বীকার করা হয়নি; আবার যাতে যা কিছু সাব্যস্ত করা হয়েছে, তা তার নিচের স্তরে সাব্যস্ত করা হয়নি।
এটি ঠিক তেমনি যেমন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন:
যার মধ্যে আমানতদারি নেই, তার কোনো ঈমান নেই।
এখানে আমানতদারির ঈমানকে অস্বীকার করা হয়েছে, ঈমানের মূল অঙ্গীকারকে নয়। সম্বোধিত ব্যক্তিরা তা বুঝতে পেরেছিলেন কারণ তারা আমানতদারির মাকামে উপনীত হয়েছিলেন অথবা তা অতিক্রম করে তার চেয়েও উচ্চতর স্তরে পৌঁছেছিলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের অবস্থা সম্পর্কে অবগত ছিলেন, তাই তিনি তাদের কাছে তা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন।
পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি শ্রোতাদের অবস্থা সম্পর্কে অবগত নয় এবং কোনো মাকাম সম্পর্কে বর্ণনা করতে গিয়ে সেখানে কোনো কিছু অস্বীকার বা সাব্যস্ত করল, তবে এমন হওয়া সম্ভব যে শ্রোতাদের মধ্যে এমন কেউ আছে যে সেই মাকামে পৌঁছায়নি, আর বক্তা যা অস্বীকার করেছেন তা তার কাছে সাব্যস্ত ছিল।
(খণ্ড: ১)
আত-তাআররুফু লি-মাযহাবি আহলিত তাসাউউফ
(পৃষ্ঠা: ১০)
مقَام السَّامع فَيَسْبق إِلَى وهم السَّامع أَنه نفى مَا أثْبته الْعلم فخطأ قَائِله أَو بدعه وَرُبمَا كفره
فَلَمَّا كَانَ الْأَمر كَذَلِك اصطلحت هَذِه الطَّائِفَة على أَلْفَاظ فِي علومها تعارفوها بَينهم ورمزوا بهَا فادركه صَاحبه وخفي على السَّامع الَّذِي لم يحل مقَامه فإمَّا أَن يحسن ظَنّه بالقائل فيقبله وَيرجع إِلَى نَفسه فَيحكم عَلَيْهَا بقصور فهمه عَنهُ أَو يسوء طنه بِهِ فيهوس قَائِله وينسبه إِلَى الهذيان وَهَذَا أسلم لَهُ من رد حق وإنكاره
ذَلِك هُوَ منطق الكلاباذي فِي عرضه العلمي وتحليله الصُّوفِي وَهَذَا منهجه فِي سَائِر مَا يتَنَاوَل فِي كِتَابه من دقائق وَلِهَذَا كَانَ كِتَابه صُورَة صَادِقَة لاسمه التعرف لمَذْهَب أهل التصوف
وَلَقَد وقفنا طَويلا عِنْد هَذِه التَّسْمِيَة وأخذنا نتساءل أهذه التَّسْمِيَة دقيقة لقد أثارت فِي قوه انتباهنا إِلَيْهَا ككل وأثارت فِي عنف انتباهنا إِلَى كل كلمة من كلماتها
إِن الْمُؤلف قَالَ التعرف وَلم يقل دراسة أَو بحث اَوْ شرح وَقَالَ مَذْهَب بِصِيغَة الْمُفْرد وَلم يقل مَذَاهِب وَقَالَ اهل التصوف وَلم يقل الصُّوفِيَّة مثلا وَكَانَ من الْمُمكن أَن تكون التَّسْمِيَة هَكَذَا دراسة مَذَاهِب الصُّوفِيَّة
هَل الْتزم الْمُؤلف الدقة فِي هَذَا العنوان وتروى فِي كَلِمَاته
إِن الْمُؤلف من أَعْلَام الصُّوفِيَّة فَإِذا عبر عَن التصوف فَإِنَّمَا يعبر عَن شُعُور وذوق إِنَّه يعبر عَن تجربة مر بهَا فَلَا يُمكن إِلَّا أَن يكون دَقِيقًا
ثمَّ هُوَ فَقِيه حَنَفِيّ وَمن خَصَائِص فُقَهَاء الأحناف الْمنطق الدَّقِيق وَالِاسْتِدْلَال الْعقلِيّ
শ্রোতার মাকাম (অবস্থান); ফলে শ্রোতার ধারণায় এমনটি আসে যে, তিনি (বক্তা) হয়তো ইলম (জ্ঞান) যা সাব্যস্ত করেছে তা অস্বীকার করছেন। ফলশ্রুতিতে তিনি বক্তাকে ভুল প্রতিপন্ন করেন অথবা তাকে বিদআতি আখ্যা দেন, এমনকি কখনো কখনো তাকে কাফিরও মনে করেন।
বিষয়টি যখন এমন হলো, তখন এই সুফি জামাত তাদের ইলমের ক্ষেত্রে এমন কিছু পরিভাষার ব্যাপারে একমত হয়েছে যা তারা নিজেদের মধ্যে ব্যবহার করে এবং ইঙ্গিতে প্রকাশ করে। ফলে তাদের সমগোত্রীয় ব্যক্তিরা তা অনুধাবন করতে পারে, কিন্তু সেই শ্রোতার কাছে তা অস্পষ্ট থেকে যায় যে তাদের মাকামে পৌঁছায়নি। এমতাবস্থায় সে হয় বক্তার প্রতি সুধারণা পোষণ করে এবং তা গ্রহণ করে নিজের দিকে প্রত্যাবর্তন করে এবং নিজের বুঝের সীমাবদ্ধতার কারণে নিজের ওপর হুকুম দেয়; অথবা তার সম্পর্কে কুধারণা পোষণ করে এবং বক্তাকে ভ্রান্ত মনে করে তাকে প্রলাপ বকবার অপবাদ দেয়। এটি তার জন্য সত্যকে প্রত্যাখ্যান ও অস্বীকার করার চেয়ে অধিক নিরাপদ।
এটিই হলো তার ইলমি উপস্থাপন ও সুফি বিশ্লেষণে কালাবাজির যুক্তি। তার কিতাবের অন্যান্য সূক্ষ্ম বিষয়াবলী আলোচনার ক্ষেত্রেও এটিই ছিল তার অনুসৃত পদ্ধতি। আর এ কারণেই তার কিতাবটি তার নাম 'আত-তাআররুফ লি-মাযহাবি আহলিত তাসাউফ' (সুফিদের মতাদর্শ পরিচিতি)-এর একটি বাস্তব প্রতিচ্ছবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আমরা এই নামকরণের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় থেমেছি এবং নিজেদের জিজ্ঞাসা করতে শুরু করেছি যে, এই নামকরণটি কি যথার্থ? এটি সামগ্রিকভাবে আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এবং এর প্রতিটি শব্দের প্রতি আমাদের প্রখর মনোযোগকে উদ্বুদ্ধ করেছে।
লেখক 'আত-তাআররুফ' (পরিচিতি) বলেছেন, তিনি 'দিরাসাহ' (অধ্যয়ন), 'বাহস' (গবেষণা) বা 'শারহ' (ব্যাখ্যা) বলেননি। তিনি একবচনে 'মাযহাব' (মতাদর্শ) বলেছেন, 'মাযাহিব' (মতাদর্শসমূহ) বলেননি। তিনি 'আহলুত তাসাউফ' (তাসাউফ পন্থীগণ) বলেছেন, উদাহরণস্বরূপ 'সুফিয়্যাহ' (সুফিবর্গ) বলেননি। অথচ নামকরণটি এমন হওয়া সম্ভব ছিল যে, 'সুফিদের মতাদর্শসমূহের অধ্যয়ন'।
লেখক কি এই শিরোনামের ক্ষেত্রে সূক্ষ্মতা বজায় রেখেছেন এবং এর শব্দ চয়নে ধীরস্থিরভাবে চিন্তা করেছেন?
লেখক সুফিদের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব। সুতরাং তিনি যখন তাসাউফ নিয়ে কথা বলেন, তখন তিনি মূলত অনুভূতি ও রুচিবোধ থেকেই তা ব্যক্ত করেন। তিনি তার নিজের অতিক্রান্ত অভিজ্ঞতার বর্ণনা দেন, তাই তার পক্ষে সূক্ষ্ম হওয়া ছাড়া অন্য কিছু হওয়া সম্ভব নয়।
অধিকন্তু তিনি একজন হানাফি ফকিহ; আর হানাফি ফকিহদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো সূক্ষ্ম যুক্তি ও বুদ্ধিবৃত্তিক দলীল পেশ করা।
(খণ্ড: ১)
আত-তাআররুফু লি-মাযহাবি আহলিত তাসাউউফ
(পৃষ্ঠা: ১১)
والمؤلف إِذن جمع بَين الشُّعُور الذوقي والإتقان المنطقي وَكتابه إِذن إِنَّمَا صدر عَن تجربة وَعَن منطق وَيظْهر ذَلِك بوضوح فِي كل صفحة من صفحات الْكتاب
وَلَكِن أيظهر ذَلِك فِي العنوان أَيْضا الْوَاقِع أننا بعد ان أطلنا التفكير فِي العنوان دهشنا لدقته الدقيقة وإحكامه الْمُحكم
إِن أَمر التصوف فِي الْوَاقِع لَيْسَ أَمر جدل أَو بحث اَوْ أَخذ ورد وَإِنَّمَا هُوَ تعرف
وَالْقِيَاس فِيهِ والمنطق وَالِاسْتِدْلَال والبحث والدراسة والأسلوب العلمي يصب ظَاهرا مِنْهُ وشكلا أَو رسما وَرُبمَا كَانَت حِجَابا أَو ظلمَة تبعد الدارس عَن النُّور بدل أَن تغمره بلألائه
وَمن الْمُؤَكّد أَن الَّذين لَا يعلمُونَ إِلَّا ظَاهرا من الْأَمر هم عَن الْحَقِيقَة محجوبون
والتصوف تجربة والتجربة شُعُور والشعور لَيْسَ منطقا وَلَا برهانا إِنَّمَا هُوَ تعرف
وحينما دخل الْمنطق والبرهان فِي التصوف وَكَانَ أوضح مثل لذَلِك دراسات المستشرقين وَمن لف لفهم من الشرقيين أفسد ذَلِك التصوف لِأَنَّهُ حول النبع المتدفق إِلَى ركود آسن وحول السناء المتلألئ إِلَى طلمة حالكة وأرجع فضل الله وَنعمته إِلَى مرض من الْأَمْرَاض يعالج بالمادة ويشفي بالعقاقير
إِن التصوف لَيْسَ علما وَإِذا تدخل الْعلم فِيهِ أفْسدهُ كإفساد الْعلم المزيف للدّين حينما تدخل فِي الْوَحْي والنبوة والألوهية ونقول الْعلم المزيني لِأَن الْعلم
সুতরাং লেখক এখানে স্বজ্ঞাত অনুভূতি এবং যৌক্তিক নিপুণতার সমন্বয় ঘটিয়েছেন। ফলে তাঁর এই গ্রন্থটি অভিজ্ঞতা ও যুক্তির সংমিশ্রণে রচিত হয়েছে এবং এটি গ্রন্থের প্রতিটি পৃষ্ঠায় স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
কিন্তু এটি কি শিরোনামেও প্রকাশ পেয়েছে? বাস্তবতা হলো, আমরা শিরোনামটি নিয়ে দীর্ঘ চিন্তা করার পর এর সূক্ষ্ম নিখুঁততা এবং সুদৃঢ় বিন্যাস দেখে বিস্মিত হয়েছি।
প্রকৃতপক্ষে তাসাউউফের বিষয়টি বিতর্ক, গবেষণা কিংবা বাদানুবাদের বিষয় নয়, বরং তা হলো পরিচিতি লাভ (তাআ'রুফ)।
এতে অনুমান, যুক্তি, প্রমাণিকরণ, অনুসন্ধান, অধ্যায়ন এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি কেবল এর বাহ্যিক দিক, অবয়ব বা রেখাচিত্রই প্রকাশ করে; যা অনেক সময় একটি পর্দা বা অন্ধকারে পরিণত হয়, যা শিক্ষার্থীকে নূরের আভায় সিক্ত করার পরিবর্তে সেই নূর থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।
এটা সুনিশ্চিত যে, যারা কেবল কোনো বিষয়ের বাহ্যিক দিক অবগত, তারা প্রকৃত সত্য থেকে বঞ্চিত।
আর তাসাউউফ হলো একটি অভিজ্ঞতা, আর অভিজ্ঞতা হলো অনুভূতি, আর অনুভূতি কোনো যুক্তি বা প্রমাণ নয়, বরং তা হলো পরিচিতি লাভ।
যখন তাসাউউফের মধ্যে যুক্তি ও প্রমাণের অনুপ্রবেশ ঘটল—যার স্পষ্ট উদাহরণ হলো প্রাচ্যবিদদের গবেষণা এবং তাদের অনুসারী প্রাচ্যদেশীয়দের কাজ—তা তাসাউউফকে কলুষিত করে দিল। কারণ এটি প্রবহমান ঝরনাকে স্থবির বদ্ধ জলাশয়ে এবং উজ্জ্বল জ্যোতিকে ঘনীভূত অন্ধকারে রূপান্তরিত করেছে। এটি আল্লাহর অনুগ্রহ ও নেয়ামতকে এমন এক রোগে পর্যবসিত করেছে যার চিকিৎসা বস্তু দিয়ে করা হয় এবং যা ওষুধের মাধ্যমে নিরাময়যোগ্য মনে করা হয়।
প্রকৃতপক্ষে তাসাউউফ কোনো বিজ্ঞান নয়; আর যখন এতে বিজ্ঞানের অনুপ্রবেশ ঘটে, তখন তা একে ঠিক সেভাবেই কলুষিত করে যেভাবে মিথ্যা বিজ্ঞান দ্বীনকে কলুষিত করে যখন তা ওহি, নবুওয়াত এবং উলুহিয়্যাতের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে। আমরা একে 'মিথ্যা বিজ্ঞান' বলছি কারণ বিজ্ঞান...
(খণ্ড: ১)
আত-তাআররুফু লি-মাযহাবি আহলিত তাসাউউফ
(পৃষ্ঠা: ১২)
الصَّحِيح لَا يتَعَدَّى حُدُوده وللعلم الصَّحِيح دائراته وَهِي التجربة المادية الَّتِي لَا يتعداها
والتصوف تجربة روحية وَلَيْسَ للمادة شَأْن بِالروحِ فَلَيْسَ للْعلم بِالْمَعْنَى الحَدِيث إِذن شَأْن بالتصوف
إِن الْعلم أَرض ومادة وحس والتصوف سَمَاء وروح وذوق وَأمر التصوف فِي النِّهَايَة تعرف لَا دراسة أَو جدل أَو علم
وَإِذا مَا وصلنا إِلَى هَذِه النتيجة الَّتِي هِيَ فِي رَأينَا صَحِيحَة كل الصِّحَّة فَإِن معنى ذَلِك أَن من لَا يشْعر بالشعور الصُّوفِي فَإِنَّهُ لَا يتعرف عَلَيْهِ كَمَا أَن من لم يسْلك طَرِيقا معينا بِالذَّاتِ وَلَو مرّة وَاحِدَة فَإِنَّهُ لَا يتعرف على مَا فِيهِ من ظلّ ظَلِيل أَو زهور ناضرات
وقديما قَالُوا من ذاق عرف وبالتالي فَإِن من لم يذقْ لَا يعرف وَكتاب الْمُؤلف إِذن لَيْسَ إِلَّا محاولة للتعبير بالألفاظ عَن الشُّعُور المتدفق الْفَيَّاض وَهَذَا التَّعْبِير لَا يفهمهُ حق فهمه إِلَّا من شعر بِهِ وَمعنى فهمه لَهُ أَنه تعرف عله وفهمه إِذن إِنَّمَا هُوَ تعرف فَحسب
والمؤلف يَقُول مَذْهَب وَفِي النَّاس من يرى أَن التصوف مَذَاهِب وَفرق وَطَوَائِف وَلَكِن هَذَا التفكير المنحرف تأتى إِلَى الْقَائِلين بِهِ من نظرتهم إِلَى علم الْكَلَام وَإِلَى الفلسفة فَفِي علم الْكَلَام أشاعرة ومعتزلة ومشتبهة وَفِي الفلسفة أرسطيون وإفلاطونيون وديكارتيون
وَأمر الطوائف وَالْفرق يتَجَاوَز علم الْكَلَام والفلسفة إِلَى الاقتصاد وَعلم النَّفس وَعلم الِاجْتِمَاع والنفوس مهيأة لقبُول فكرة الطوائف فِي جَمِيع الْعُلُوم النظرية
সঠিক বিজ্ঞান তার সীমা লঙ্ঘন করে না এবং সঠিক বিজ্ঞানের নিজস্ব পরিমণ্ডল রয়েছে, যা হলো বস্তুতান্ত্রিক অভিজ্ঞতা যা সে অতিক্রম করে না।
আর তাসাউফ হলো একটি আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা এবং আত্মার সাথে বস্তুর কোনো কারবার নেই, সুতরাং আধুনিক অর্থে বিজ্ঞানের সাথে তাসাউফের কোনো সম্পর্ক নেই।
নিশ্চয়ই বিজ্ঞান হলো ভূমি, বস্তু ও ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য জগত; আর তাসাউফ হলো আকাশ, আত্মা ও আধ্যাত্মিক স্বাদ। পরিশেষে তাসাউফের বিষয়টি হলো পরিচিতি লাভ, কোনো পাঠ্য-অধ্যয়ন, বিতর্ক বা নিছক বিদ্যা নয়।
আমরা যখন এই সিদ্ধান্তে উপনীত হলাম—যা আমাদের দৃষ্টিতে সর্বতোভাবে সঠিক—তখন এর অর্থ এই দাঁড়ায় যে, যার মাঝে সুফিবাদী অনুভূতির সঞ্চার হয় না, সে একে চিনতে পারে না। ঠিক যেমন কেউ যদি নির্দিষ্ট কোনো পথে অন্তত একবারও পথ না চলে, তবে সে সেই পথের স্নিগ্ধ ছায়া বা প্রস্ফুটিত পুষ্পরাজি সম্পর্কে সম্যক পরিচয় পায় না।
প্রাচীনকাল থেকেই মনিষীগণ বলে আসছেন: "যে আস্বাদন করেছে সে চিনেছে"। ফলে যে আস্বাদন করেনি সে চিনে না। সুতরাং লেখকের এই গ্রন্থটি সেই প্রবহমান ও উচ্ছ্বসিত অনুভূতিকে শব্দের মাধ্যমে ব্যক্ত করার একটি প্রয়াস মাত্র। আর এই প্রকাশভঙ্গি সেই ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কেউ যথাযথভাবে অনুধাবন করতে সক্ষম নয় যে নিজে তা অনুভব করেছে। আর তার এই অনুধাবন করার অর্থ হলো সে এটি চিনতে পেরেছে; সুতরাং তার এই অনুধাবন মূলত কেবল পরিচিতি লাভই।
লেখক একটি 'মতবাদ' (মাজহাব) এর কথা বলেন, অথচ মানুষের মাঝে এমন কেউ কেউ আছেন যারা মনে করেন তাসাউফ হলো নানাবিধ মতবাদ, দল ও উপদলের সমষ্টি। কিন্তু এই বিচ্যুত চিন্তাধারা সেই প্রবক্তাদের নিকট এসেছে ইলমুল কালাম ও দর্শনের প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গির কারণে। কেননা ইলমুল কালামে আশআরি, মুতাজিলা ও মুসাব্বিহা রয়েছে; আর দর্শনে রয়েছে এরিস্টটলবাদী, প্লেটোবাদী ও দেকার্তবাদী।
আর দল ও উপদলের বিষয়টি ইলমুল কালাম ও দর্শনকে ছাড়িয়ে অর্থনীতি, মনোবিজ্ঞান এবং সমাজবিজ্ঞান পর্যন্ত ব্যাপ্ত। আর মানুষের মন সকল তাত্ত্বিক বিষয়ে দল-উপদলের ধারণা গ্রহণ করার জন্য প্রস্তুত থাকে।
(খণ্ড: ১)
আত-তাআররুফু লি-মাযহাবি আহলিত তাসাউউফ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وَلَقَد خلط الكاتبون بَين هَذِه الدراسات والتصوف فزعموا أَن فِي التصوف مَذَاهِب وفرقا وَطَوَائِف
وَلَو أنعموا النّظر لعرفوا أَن التصوف تجربة روحية وَلَيْسَ نظرا عقليا وَذَا كَانَ النّظر الْعقلِيّ يفرق الناظرين إِلَى طوائف وَفرق فَإِن التجربة لَا يخْتَلف فِيهَا اثْنَان وَإِذا كَانَت الفلسفة لِأَنَّهَا نظر عَقْلِي مَذَاهِب مُتعَدِّدَة فَإِن التصوف وَهُوَ تجربة مَذْهَب وَاحِد لَا تعدد فِيهِ وَلَا اخْتِلَاف
وكما أَنه لَا يستساغ الْخلطَة بَين الْوَسَائِل والغايات فِي أَي ميدان من الميادين فَإِنَّهُ لَا يستساغ الْخَلْط بَين طرق التصوف وَهِي وَسَائِل وَبَين الْغَايَة وَهِي التصوف نَفسه
فطرق التصوف مُتعَدِّدَة مُخْتَلفَة وَبَعضهَا أوفق من بعض وَبَعضهَا أسْرع من غَيرهَا وَلكنهَا على اختلافها وتعددها تُؤدِّي إِلَى هذف وَاحِد وَغَايَة وَاحِدَة
التصوف إِذن مَذْهَب بِصِيغَة الْمُفْرد لَا مَذَاهِب بِصِيغَة الْجمع وتعبير الْمُؤلف اذا مُسْتَقِيم كل الاسْتقَامَة
وَيَقُول الْمُؤلف أهل التصوف وللتصوف حَقِيقَة أَهله وذووه أما أَهله وذووه فهم هَؤُلَاءِ الَّذين وهبهم الله حسا مرهفا وذكاء حادا وفطرة روحانية وصفاء يكَاد يكون فِي صفاء الْمَلَائِكَة وطبيعة تكَاد تكون مخلوقة من النُّور
وَالنَّاس معادن والطبائع مُخْتَلفَة فَمِنْهَا مَا يرقى إِلَى الطبيعة الملائكية وَكَأَنَّهُ فِي طَبِيعَته قبس خَالص من نور الله وَمِنْهَا مَا يسفل ويسفل إِلَى أَن يصبح أَو يكَاد فِي مستوى السَّائِمَة
লেখকরা এই অধ্যয়নগুলো এবং তাসাউফের মধ্যে সংমিশ্রণ ঘটিয়েছেন, ফলে তারা দাবি করেছেন যে তাসাউফের মধ্যে বিভিন্ন মতবাদ, দল ও উপদল রয়েছে।
তারা যদি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতেন, তবে জানতে পারতেন যে তাসাউফ হলো একটি আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা এবং এটি কোনো বুদ্ধিবৃত্তিক তত্ত্ব নয়। আর যেহেতু বুদ্ধিবৃত্তিক তত্ত্ব পর্যবেক্ষকদের বিভিন্ন উপদল ও দলে বিভক্ত করে, তবে অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রে দু’জন মানুষের মধ্যে কোনো মতভেদ থাকে না। দর্শন যেহেতু একটি বুদ্ধিবৃত্তিক তত্ত্ব তাই এর বিভিন্ন মতবাদ রয়েছে, কিন্তু তাসাউফ যেহেতু একটি অভিজ্ঞতা, তাই এটি একটি একক পথ যার মধ্যে কোনো বহুত্ব বা মতভেদ নেই।
আর যেভাবে যে কোনো ক্ষেত্রেই মাধ্যম এবং উদ্দেশ্যের মধ্যে সংমিশ্রণ করা সমীচীন নয়, সেভাবেই তাসাউফের বিভিন্ন তরিকা—যা মাধ্যম মাত্র—এবং মূল উদ্দেশ্য—যা স্বয়ং তাসাউফ—এ দুয়ের মধ্যে সংমিশ্রণ করাও সমীচীন নয়।
তাসাউফের তরিকাগুলো বহুবিধ ও ভিন্ন ভিন্ন; এর মধ্যে কোনটি অন্যটির তুলনায় অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং কোনটি অন্যটির চেয়ে দ্রুততর। কিন্তু সেগুলো ভিন্ন ও বহু হওয়া সত্ত্বেও একটি অভিন্ন লক্ষ্য ও একক উদ্দেশ্যের দিকে পরিচালিত করে।
অতএব, তাসাউফ হলো একবচন রূপে একটি মতবাদ বা পথ, বহুবচন রূপে কোনো মতবাদসমূহ নয়; সুতরাং লেখকের এই অভিব্যক্তি সম্পূর্ণ সঠিক।
লেখক 'তাসাউফপন্থী' কথাটি বলেন। তাসাউফের প্রকৃত অধিকারী ও সম্পৃক্ত ব্যক্তিবর্গ রয়েছে। আর এর অধিকারী ও সম্পৃক্ত ব্যক্তিবর্গ হলেন তারাই, যাদেরকে আল্লাহ সূক্ষ্ম অনুভূতি, তীক্ষ্ণ মেধা, একটি আধ্যাত্মিক স্বভাব এবং এমন এক পরিচ্ছন্নতা দান করেছেন যা প্রায় ফেরেশতাদের পরিচ্ছন্নতার মতো এবং এমন এক প্রকৃতি দান করেছেন যা প্রায় নূর থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে।
আর মানুষ হলো খনিজ পদার্থের ন্যায় এবং তাদের প্রকৃতি ভিন্ন ভিন্ন। তাদের মধ্যে কেউ ফেরেশতাসুলভ প্রকৃতিতে উন্নীত হয়, যেন তার প্রকৃতি হলো আল্লাহর নূরের একটি বিশুদ্ধ স্ফুলিঙ্গ। আবার তাদের মধ্যে কেউ অধঃপতিত হতে হতে এমন স্তরে পৌঁছায় যে সে চতুষ্পদ জন্তুর পর্যায়ে চলে যায় বা প্রায় তার কাছাকাছি পৌঁছে যায়।
(খণ্ড: ১)
আত-তাআররুফু লি-মাযহাবি আহলিত তাসাউউফ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وَلَقَد صور رَسُول الله صلى الله عليه وسلم طبائع النَّاس فِي تقبل النُّور الإلهي فَقَالَ
إِن مثل مَا بَعَثَنِي الله بِهِ من الْهدى وَالْعلم كَمثل غيث أصَاب أَرضًا فَكَانَ مِنْهَا طَائِفَة طيبَة قبلت المَاء فأنبتت الْكلأ والعشب الْكثير وَكَانَ مِنْهَا أجادب امسكت المَاء فنفع الله تَعَالَى بهَا النَّاس فَشَرِبُوا مِنْهَا وَسقوا وزرعوا وَأصَاب طَائِفَة مِنْهَا أُخْرَى إِنَّمَا هِيَ قيعان لَا تمسك مَاء وَلَا تنْبت كلأ فَذَلِك مثل من فقه فِي دين الله تَعَالَى ونفعه مَا بَعَثَنِي الله تَعَالَى بِهِ فَعلم وَعلم وَمثل من لم يرفع بذلك وَلم يقبل هدى الله الَّذِي أرْسلت بِهِ
وَفِي الْقُرْآن صور رائعة للطبائع الْمُخْتَلفَة وَالْآيَة الْآتِيَة تصور تِلْكَ الطبائع يَقُول الله تَعَالَى لرَسُوله الْكَرِيم {واصبر نَفسك مَعَ الَّذين يدعونَ رَبهم بِالْغَدَاةِ والعشي يُرِيدُونَ وَجهه وَلَا تعد عَيْنَاك عَنْهُم تُرِيدُ زِينَة الْحَيَاة الدُّنْيَا وَلَا تُطِع من أَغْفَلنَا قلبه عَن ذكرنَا وَاتبع هَوَاهُ وَكَانَ أمره فرطا} وَمن أروع الصُّور القرآنية للَّذين نزلت طبائعهم إِلَى مستوى السَّائِمَة قَوْله تَعَالَى {واتل عَلَيْهِم نبأ الَّذِي آتيناه آيَاتنَا فانسلخ مِنْهَا فَأتبعهُ الشَّيْطَان فَكَانَ من الغاوين وَلَو شِئْنَا لرفعناه بهَا وَلكنه أخلد إِلَى الأَرْض وَاتبع هَوَاهُ فَمثله كَمثل الْكَلْب إِن تحمل عَلَيْهِ يَلْهَث أَو تتركه يَلْهَث ذَلِك مثل الْقَوْم الَّذين كذبُوا بِآيَاتِنَا فاقصص الْقَصَص لَعَلَّهُم يتفكرون}
وَاخْتِلَاف الطبائع مسالة بديهية وَمَا دَامَ التصوف نورا وهداية فَإِن لَهُ أَهله وَذَوِيهِ الَّذين اصْطفى الله واجتبى
التعرف لمَذْهَب أهل التصوف إِنَّه عنوان هادف كَمَا أَنه كتاب هادف
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐশী নূর গ্রহণের ক্ষেত্রে মানুষের স্বভাবসমূহকে চিত্রিত করে বলেছেন:
“আল্লাহ আমাকে যে হিদায়াত ও ইলম দিয়ে পাঠিয়েছেন তার উদাহরণ হলো সেই বৃষ্টির মতো যা ভূমিতে পতিত হয়। তার মধ্যে এক প্রকার ভূমি ছিল উর্বর, যা পানি গ্রহণ করেছে এবং প্রচুর ঘাস ও লতাগুল্ম উৎপাদন করেছে। আর এক প্রকার ভূমি ছিল শুষ্ক ও শক্ত, যা পানি ধরে রেখেছে এবং মহান আল্লাহ তা দ্বারা মানুষের উপকার করেছেন; ফলে তারা তা থেকে পান করেছে, অন্যকে পান করিয়েছে এবং চাষাবাদ করেছে। আর সেই বৃষ্টির পানি অন্য এক প্রকার ভূমিতেও পতিত হয়েছে যা ছিল সমতল ও অনুর্বর, যা পানিও ধরে রাখেনি এবং ঘাসও জন্মায়নি। এটি হলো সেই ব্যক্তির উদাহরণ যে আল্লাহর দ্বীনে প্রজ্ঞা লাভ করেছে এবং আল্লাহ আমাকে যা দিয়ে পাঠিয়েছেন তা তাকে উপকৃত করেছে; ফলে সে নিজে শিখেছে এবং অন্যকে শিখিয়েছে। আর এটি সেই ব্যক্তিরও উদাহরণ যে এর প্রতি ভ্রুক্ষেপ করেনি এবং আল্লাহর সেই হিদায়াত গ্রহণ করেনি যা নিয়ে আমি প্রেরিত হয়েছি।”
আর কুরআনে বিভিন্ন স্বভাবের চমৎকার চিত্রায়ণ রয়েছে এবং পরবর্তী আয়াতটি সেই স্বভাবসমূহকে চিত্রিত করে। মহান আল্লাহ তাঁর সম্মানিত রাসূলকে বলছেন: {আপনি আপনার নিজেকে তাদের সাথে ধৈর্যশীল রাখুন যারা সকাল ও সন্ধ্যায় তাদের রবকে ডাকে, তারা আল্লাহর চেহারা (সন্তুষ্টি) কামনা করে। আর পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য কামনায় আপনার দুই চোখ যেন তাদের থেকে সরে না যায়। আর আপনি এমন ব্যক্তির অনুসরণ করবেন না যার অন্তরকে আমি আমার স্মরণ থেকে গাফেল করে দিয়েছি, যে তার খেয়াল-খুশির অনুসরণ করে এবং যার কর্মকাণ্ড সীমা লঙ্ঘন করেছে।} আর যাদের স্বভাব গবাদি পশুর স্তরে নেমে গেছে, তাদের সম্পর্কে কুরআনের অন্যতম চমৎকার চিত্রায়ণ হলো মহান আল্লাহর এই বাণী: {আর আপনি তাদের কাছে সেই ব্যক্তির সংবাদ পাঠ করুন যাকে আমি আমার নিদর্শনাবলী দান করেছিলাম, অতঃপর সে তা থেকে বিচ্যুত হয়ে যায়, এরপর শয়তান তার পিছু নেয় এবং সে পথভ্রষ্টদের অন্তর্ভুক্ত হয়। আর আমি ইচ্ছা করলে এর মাধ্যমে তাকে উচ্চ মর্যাদা দান করতাম, কিন্তু সে দুনিয়ার মোহে মাটির দিকে ঝুঁকে পড়ে এবং তার খেয়াল-খুশির অনুসরণ করে। সুতরাং তার উদাহরণ হলো কুকুরের মতো; যদি আপনি তাকে তাড়া করেন তবে সে হাঁপাতে থাকে, আর যদি তাকে ছেড়ে দেন তবুও সে হাঁপাতে থাকে। এটি ঐ সম্প্রদায়ের উদাহরণ যারা আমার নিদর্শনাবলীকে অস্বীকার করেছে। সুতরাং আপনি কাহিনী বর্ণনা করুন যাতে তারা চিন্তা-ভাবনা করে।}
স্বভাবের ভিন্নতা একটি স্বতঃসিদ্ধ বিষয়। আর যেহেতু তাসাউফ হলো নূর ও হিদায়াত, তাই এর এমন কিছু যোগ্য ব্যক্তি ও অনুসারী রয়েছেন যাদেরকে আল্লাহ মনোনীত ও নির্বাচিত করেছেন।
‘আত-তাআরিফ লি-মাযহাবি আহলিত তাসাউফ’ (তাসাউফপন্থীদের মতাদর্শের সাথে পরিচিতি) - এটি যেমন একটি উদ্দেশ্যমূলক শিরোনাম, তেমনি এটি একটি উদ্দেশ্যমূলক গ্রন্থ।
(খণ্ড: ১)
আত-তাআররুফু লি-মাযহাবি আহলিত তাসাউউফ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وَلِهَذَا حرصنا كل الْحِرْص على أَن نقدمه مصححا محققا إِلَى الْعَالم الإسلامي بعد أَن راجعناه على نسختين خطيتين ليَكُون قبسا من نور وَقَبضه من شُعَاع وفيضا من علم وأخلاق وطهر وَصُورَة من مَنْهَج رسم الطَّرِيق الصاعد للْعَالم الإسلامي فِي ماضيه الْمشرق الْعَظِيم ويرسم الطَّرِيق الصاعد للْعَالم الإسلامي فِي حاضره أَو فجره الَّذِي تتراءى انواره فِي الْآفَاق مبشرة بغد يسامق ماضيه فِي الْإِشْرَاق والعزة وَالْقُوَّة
আর এই কারণেই আমরা এটিকে দুটি পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখার পর মুসলিম বিশ্বের নিকট সংশোধিত ও সম্পাদিত রূপে পেশ করতে সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি, যাতে এটি নূরের একটি শিখা, আলোকচ্ছটার এক মুষ্টি এবং জ্ঞান, নৈতিকতা ও পবিত্রতার এক প্রবাহ হতে পারে। আর এটি এমন এক পদ্ধতির প্রতিচ্ছবি যা মুসলিম বিশ্বের মহান উজ্জ্বল অতীতে উন্নতির পথ অঙ্কন করেছিল এবং বর্তমান সময়ে কিংবা সেই উষালগ্নেও অগ্রগতির পথ অঙ্কন করছে যার জ্যোতি দিগন্তজুড়ে দৃশ্যমান হচ্ছে; যা এমন এক আগামীকালের সুসংবাদ দিচ্ছে যা উজ্জ্বলতা, মর্যাদা ও শক্তিতে তার অতীতকেও ছাড়িয়ে যাবে।
(খণ্ড: ১)
আত-তাআররুফু লি-মাযহাবি আহলিত তাসাউউফ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
لجنة نشر الْأُصُول الصُّوفِيَّة وَكتاب التعرفإِن الْمَدِينَة العالمية الْحَاضِرَة إِنَّمَا هِيَ مَدَنِيَّة الْمَادَّة وَإِن أدنى نظرة فِيهَا ترى بوضوح أَن الرّوح المادية مسيطرة طاغية حَتَّى لقد حددت دَائِرَة الْعلم فِيهَا بدائرة مادية واتجه الْبَحْث نتيجة لذَلِك إِلَى الْمَادَّة على الْخُصُوص ومنذ أَن أرسى بيكون قَوَاعِد الاستقراء والملاحظة والتجربة اتجه الباحثون إِلَى اتِّخَاذ ذَلِك وَحده منهجا للبحث عَن الْحَقِيقَة وحينما نشا ملاحدة الْقرن الثَّامِن عشر وَالتَّاسِع عشر موهوا على النَّاس فصوروا لَهُم الدائرة المادية على أَنَّهَا الدائرة الثَّابِتَة الَّتِي تتكشف فِيهَا الْحَقَائِق أما مَا عدا هَذِه الدائرة مِمَّا وَرَاء الطبيعة وَمن الْغَيْب فَإِنَّهَا زيف كلهَا وسراب خداع
وَقَامَ فِي الغرب كَمَا قَامَ فِي الشرق أفذاذ مصلحون ينادون بِأَن طغيان الرّوح المادية يتنافى مَعَ الانسانية وَمَعَ الْأَخْلَاق وَمَعَ الدّين أى دين كَانَ وَلَكِن صرخاتهم تلاشت أَمَام الغرائز الجامحة والشهوات الملحة والأهواء الغلابة وسادت الرّوح المادية فِي الحضارة الراهنة وَكَانَ من نتيجة ذَلِك الْحَرْب الْكُبْرَى الأولى وَالْحَرب الْكُبْرَى الثَّانِيَة اللَّتَان لم تدعا قطرا من الأقطار أَو إقليما من الأقاليم إِلَّا ونثرتا فِيهِ الشَّقَاء الوانا شقاء الْفقر أَو شقاء الْمَوْت والهلاك والدمار
واذا سادت الرّوح المادية أَصبَحت الأهداف والغايات مادية اصبحت استعمارا وامتصاص دِمَاء وسيطرة بِالْقُوَّةِ واغتصابا بل أَصبَحت سلبا ونهبا واستعباد دولة لدولة وإلقاء بِكُل المعايير الأخلاقية والإنسانية إِلَى موطئ الْأَقْدَام
وكل ذَلِك فِي الْوَاقِع هُوَ الحضارة الحالية بل إِن الْوَاقِع أدهى من ذَلِك وأفظع وَأي قلم يُمكنهُ أَن يصور مأساة هيروشيما وناجازاكي الَّتِي تولى كبرها وباء بإثمها من يَزْعمُونَ أَنهم حَملَة مشعل حضارة الْقرن الْعشْرين
সুফিতত্ত্বের মূলনীতি ও কিতাবুত তাআররুফ প্রকাশনা কমিটিবর্তমান বৈশ্বিক সভ্যতা মূলত একটি জড়বাদী সভ্যতা। এতে সামান্য দৃষ্টিপাত করলেই স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, জড়বাদী চিন্তা ও চেতনা সেখানে চরমভাবে আধিপত্য বিস্তার করে আছে। এমনকি সেখানে বিজ্ঞানের পরিধিকে কেবল জড়বাদী গণ্ডির মধ্যেই সীমাবদ্ধ করে ফেলা হয়েছে। এর ফলে গবেষণার ধারা বিশেষভাবে জড়বস্তুর দিকেই ধাবিত হয়েছে। আর ফ্রান্সিস বেকন যখন থেকে আরোহী পদ্ধতি, পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষণের ভিত্তি স্থাপন করেছেন, তখন থেকেই গবেষকগণ সত্য অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে একেই একমাত্র পদ্ধতি হিসেবে গ্রহণ করার দিকে ঝুঁকেছেন। যখন আঠারো ও উনিশ শতকের নাস্তিকদের উত্থান ঘটল, তারা মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে জড়বাদী গণ্ডিকেই এমন এক ধ্রুব ক্ষেত্র হিসেবে চিত্রায়িত করল যেখানে সমস্ত সত্য উন্মোচিত হয়। আর এই গণ্ডির বাইরে অতীন্দ্রিয় জগত এবং অদৃশ্য বা গায়েবি বিষয়গুলোকে তারা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং মরীচিকা সদৃশ প্রতারণা হিসেবে সাব্যস্ত করল।
প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যে এমন অনেক অসাধারণ সংস্কারকের আবির্ভাব ঘটেছিল যারা উচ্চকণ্ঠে ঘোষণা করেছিলেন যে, এই জড়বাদী চেতনার আধিপত্য মানবতা, নৈতিকতা এবং যে কোনো ধর্মের পরিপন্থী। কিন্তু লাগামহীন প্রবৃত্তি, তীব্র লালসা এবং প্রবল খামখেয়ালিপনার সামনে তাদের সেই আর্তনাদ বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমান সভ্যতায় জড়বাদী চিন্তা ও চেতনা বিজয়ী হয়েছে এবং এর অনিবার্য পরিণতি হিসেবে সংঘটিত হয়েছে প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। এই যুদ্ধগুলো বিশ্বের এমন কোনো অঞ্চল বা ভূখণ্ড বাকি রাখেনি যেখানে বিভিন্ন ধরনের দুর্গতি ছড়িয়ে দেয়নি—তা সে দারিদ্র্যের যাতনা হোক কিংবা মৃত্যু, ধ্বংস ও বিনাশের বিভীষিকা।
যখন জড়বাদী চেতনা প্রাধান্য পায়, তখন লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহও বৈষয়িক হয়ে ওঠে। তা রূপ নেয় উপনিবেশবাদ, রক্তশোষণ, শক্তির দ্বারা আধিপত্য বিস্তার এবং জবরদখলে। বরং তা লুণ্ঠন, হরণ এবং এক রাষ্ট্র কর্তৃক অন্য রাষ্ট্রকে দাসে পরিণত করা এবং সমস্ত নৈতিক ও মানবিক মানদণ্ডকে পদতলে পিষ্ট করার নামান্তর হয়ে দাঁড়ায়।
প্রকৃতপক্ষে বর্তমান সভ্যতার স্বরূপ এটাই। বরং বাস্তবতা এর চেয়েও অনেক বেশি ভয়াবহ ও লোমহর্ষক। হিরোশিমা ও নাগাসাকির সেই বিয়োগান্তক ট্র্যাজেডি কোন কলম চিত্রায়িত করতে পারে? যার মূল দায়ভার গ্রহণ করেছে এবং পাপে নিমজ্জিত হয়েছে তারা—যারা নিজেদের বিশ শতকের সভ্যতার মশালধারী বলে দাবি করে।
(খণ্ড: ১)
আত-তাআররুফু লি-মাযহাবি আহলিত তাসাউউফ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وَأي قلم يُمكنهُ أَن يصور نتائج مخترعات الدمار الَّتِي تتبارى الشعوب فِيهَا وتتنافس وتنفق عَلَيْهَا آلَاف الملايين يجمعونها من كدح الْعمَّال وتعبهم المضني لينفقوها فِي هَلَاك الْعَالم وتدمير الإنسانية
القنبلة الذُّرِّيَّة القنبلة الهدروجينية الكوبالت أشعة الْمَوْت حَرْب الميكروبات حَرْب الغازات
وَمَعَ كل هَذِه الْوَسَائِل التدميرية العالمية تَأتي وَسَائِل أَشد فتكا بِالروحِ الإنساني والقيم الأخلاقية والمباديء الإيمانية
تَأتي الْمذَاهب الإلحادية الْفَاجِرَة والفلسفات الوجودية الداعرة والشهوات المسعورة السافرة
إِنَّهَا المدنية الْحَاضِرَة إِنَّهَا الحضارة الراهنة حضارة الشَّيْطَان الَّتِي خلا لَهَا وَجه الْعَالم أَو أوشك
وَنحن ابناء الْقُرْآن لنا حضارة عريقة وَلنَا رِسَالَة إنسانية عالمية هِيَ رِسَالَة الرّوح وَالْإِيمَان والأخلاق والأخوة الإنسانية
حضارة لَا تخضع للغرائز وَلَا تسلم قيادها للشهوات وَلَا تسْجد للشَّيْطَان وَلَا تتبع خطواته فِي الْإِفْسَاد والاستعباد والتدمير
وَإِنَّهَا لتسمو على هَذَا كُله لِأَن هدفها الأول والأخير إِيجَاد الْإِنْسَان الْفَاضِل وَالظفر برضوان الله وحبه
وَإِنَّهَا لرسالة يجب أَن يتكاتف الْمُؤْمِنُونَ على الْقيام بهَا وَفتح الْآفَاق لأنوارها وكشف الْحجب عَن روحها
يجب أَن نضئ مصابيحها وَأَن نبرز مناهجها وأهدافها وَأَن نقدم زَادهَا الروحي والخلقي والإيماني للنَّاس كَافَّة ليجدوا فِيهِ نجاتهم وعصمتهم مِمَّا يعده رسل الْجَاهِلِيَّة الشيطانية من تدمير وإفساد
কোন কলম কি সেই ধ্বংসাত্মক উদ্ভাবনসমূহের পরিণাম চিত্রিত করতে সক্ষম, যেগুলোতে জাতিসমূহ একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত এবং যেগুলোর পেছনে তারা হাজার হাজার কোটি ব্যয় করছে? তারা শ্রমিকদের হাড়ভাঙা খাটুনি ও ক্লান্তিকর পরিশ্রম থেকে এসব অর্থ সঞ্চয় করে, যেন তা বিশ্বের বিনাশ এবং মানবতার ধ্বংসের পেছনে ব্যয় করতে পারে।
পারমাণবিক বোমা, হাইড্রোজেন বোমা, কোবাল্ট, মৃত্যু-রশ্মি, জীবাণু যুদ্ধ, গ্যাস যুদ্ধ।
এই সমস্ত বিশ্বব্যাপী ধ্বংসাত্মক উপকরণের সাথে সাথে এমন কিছু উপায়ও আবির্ভূত হচ্ছে যা মানুষের আত্মা, নৈতিক মূল্যবোধ এবং ঈমানি আদর্শের জন্য আরও বেশি মারাত্মক।
আবির্ভূত হচ্ছে পাপাচারী নাস্তিক্যবাদী মতবাদসমূহ, কদর্য অস্তিত্ববাদী দর্শনসমূহ এবং বেপরোয়া উন্মত্ত ও নগ্ন লালসা।
এটিই আধুনিক নাগরিক সভ্যতা, এটিই বর্তমান সংস্কৃতি—শয়তানের সভ্যতা, যা সমগ্র বিশ্বের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছে অথবা গ্রহণের উপক্রম হয়েছে।
আর আমরা কুরআনের অনুসারী, আমাদের রয়েছে এক প্রাচীন গৌরবময় সভ্যতা এবং আমাদের রয়েছে এক বিশ্বজনীন মানবিক বার্তা; যা হলো আত্মা, ঈমান, নৈতিকতা এবং মানবিক ভ্রাতৃত্বের বার্তা।
এমন এক সভ্যতা যা আদিম প্রবৃত্তির বশীভূত হয় না, লালসার হাতে নিজের লাগাম সঁপে দেয় না, শয়তানের সামনে সেজদাবনত হয় না এবং বিপর্যয় সৃষ্টি, দাসত্ব ও ধ্বংসের পথে তার পদাঙ্ক অনুসরণ করে না।
আর এই সভ্যতা এই সবকিছুর ঊর্ধ্বে আরোহণ করে, কারণ এর আদি ও অন্ত লক্ষ্য হলো একজন সচ্চরিত্র ও শ্রেষ্ঠ মানুষ তৈরি করা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি ও ভালোবাসা অর্জন করা।
এটি এমন এক বার্তা যার বাস্তবায়নে মুমিনদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে আসা উচিত এবং এর আলোর প্রসারে দিগন্ত উন্মোচন করা ও এর মূল চেতনার ওপর থেকে পর্দা সরিয়ে দেওয়া কর্তব্য।
আমাদের উচিত এর প্রদীপগুলো প্রজ্বলিত করা, এর কর্মপন্থা ও লক্ষ্যসমূহ তুলে ধরা এবং এর আধ্যাত্মিক, নৈতিক ও ঈমানি পাথেয় সমস্ত মানুষের সামনে পেশ করা; যেন তারা এতে নিজেদের মুক্তি ও সুরক্ষা খুঁজে পায় সেই ধ্বংস ও বিপর্যয় থেকে, যা শয়তানি জাহেলিয়াতের দূতরা প্রস্তুত করছে।
(খণ্ড: ১)
আত-তাআররুফু লি-মাযহাবি আহলিত তাসাউউফ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وَإِن فِي تِلْكَ الحركات العلمية والإصلاحية الحركات الْحَيَّة الْفتية الَّتِي تمشي على وَجه الْحَيَاة فِي الْعَالم الإسلامي لبشرى لمن يرجون أَيَّام الله ويرتقبون عودة الحضارة الإيمانية إِلَى الْحَيَاة
وَفِي سَبِيل الحضارة الإيمانية الربانية وَبَين يَديهَا نطلق تِلْكَ الأشعة الصُّوفِيَّة الَّتِي تعمق الاتجاه الروحي فِي النُّفُوس القلقة وَتثبت الْإِيمَان وتنميه فِي الْقُلُوب الحائرة
وَفِي سَبِيل عَالم أسمى وإنسانية أهْدى ورضوان من الله أكبر قمنا بنشر سلسلة الْأُصُول الصُّوفِيَّة الْكُبْرَى الَّتِي تضم روائع التراث الروحي الإسلامي
وَمِمَّا يبْعَث الْغِبْطَة والأمل فِي قُلُوبنَا أَن الْكثير من الْكتب الَّتِي نشرناها وَالَّتِي نَحن بسبيل نشرها قد ترْجم تَرْجَمَة صَحِيحَة إِلَى اللُّغَات العالمية
وَنحن نرجو أَن يكون انتشارها فِي الشرق والغرب مَعًا أساسا لقبس من النُّور وَالْهِدَايَة نَدْعُو الله أَن يكْتب لَهُ النمو والانتشار حَتَّى يتم ضوؤه ويعم نوره فَيكون طَلِيعَة بعث جَدِيد لحضارة جَدِيدَة أقوم قيلا وَأهْدى سَبِيلا
وَنحن كَمَا يرى الْقَارئ كعهدنا لم نحاول أَن نظهر تعالما زائفا يحشد الْكثير من الهوامش الَّتِي لَا ضَرُورَة لَهَا
وَإِنَّمَا كَانَ هدفنا أَن ننشر النَّص صَحِيحا محققا محررا وَأَن نيسره للقارئ الْعَرَبِيّ كَمَا نيسر تَرْجَمته للقارئ الغربي
عبد الْحَلِيم مَحْمُود طه عبد الْبَاقِي سرُور
ইসলামি বিশ্বে যে সকল সজীব ও প্রাণবন্ত ইলমি ও সংস্কারমূলক আন্দোলন জীবনের পথে ধাবিত হচ্ছে, তার মধ্যে অবশ্যই ঐসব ব্যক্তিদের জন্য সুসংবাদ রয়েছে যারা আল্লাহর দিনগুলোর আশা রাখে এবং জীবনে ঈমানি সভ্যতার প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় থাকে।
রব্বানি ঈমানি সভ্যতার পথে এবং তার সম্মুখে আমরা সেই সুফি বিচ্ছুরণসমূহ উন্মোচিত করছি, যা উদ্বিগ্ন নফসসমূহের মাঝে আধ্যাত্মিক প্রবণতাকে গভীর করে এবং দ্বিধাগ্রস্ত অন্তরের মাঝে ঈমানকে সুদৃঢ় ও বিকশিত করে।
এক উন্নততর পৃথিবী, সুপথপ্রাপ্ত মানবতা এবং আল্লাহর মহান সন্তুষ্টির পথে আমরা ‘সিলসিলাতুল উসুলিস সুফিয়্যাহ আল-কুবরা’ (প্রধান সুফি মূলনীতিমালা সিরিজ) প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছি, যা ইসলামি আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের শ্রেষ্ঠ নিদর্শনসমূহকে ধারণ করে।
আমাদের অন্তরে আনন্দ ও আশার সঞ্চার করে এমন একটি বিষয় হলো, আমরা যে সকল কিতাব প্রকাশ করেছি এবং যেগুলো প্রকাশের পথে রয়েছে, সেগুলোর অনেকগুলোই বিশ্বজুড়ে প্রচলিত বিভিন্ন ভাষায় নির্ভুলভাবে অনূদিত হয়েছে।
আমরা আশা করি যে, প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য উভয় দিকেই এর প্রচার-প্রসার নূর ও হিদায়াতের একটি উৎসের ভিত্তি হবে। আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করি তিনি যেন এর প্রবৃদ্ধি ও বিস্তার দান করেন, যতক্ষণ না এর আলো পূর্ণতা পায় এবং এর জ্যোতি সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে; ফলে এটি এমন এক নতুন সভ্যতার নতুন জাগরণের অগ্রদূত হবে যা বক্তব্যে অধিক সুদৃঢ় এবং পথে অধিক সঠিক।
পাঠক যেমনটি দেখছেন, আমরা আমাদের চিরাচরিত রীতি অনুযায়ী অপ্রয়োজনীয় টীকা বা ফুটনোটের পাহাড় জমা করে কোনো কৃত্রিম পাণ্ডিত্য প্রদর্শনের চেষ্টা করিনি।
বরং আমাদের লক্ষ্য ছিল মূল পাঠকে সঠিক, সম্পাদিত ও পরিমার্জিত রূপে প্রকাশ করা এবং আরবি পাঠকের জন্য তা সহজবোধ্য করা, যেমনটি আমরা পশ্চিমা পাঠকের জন্য এর অনুবাদকে সহজতর করি।
আব্দুল হালিম মাহমুদ, ত্বহা আব্দুল বাকি সুরুর।
(খণ্ড: ১)
আত-তাআররুফু লি-মাযহাবি আহলিত তাসাউউফ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
بسم الله الرحمن الرحيم
التعرف لمَذْهَب أهل التصوفالْحَمد الله المحتجب بكبريائه عَن دَرك الْعُيُون المتعزز بجلاله وجبروته عَن لواحق الظنون المتفرد بِذَاتِهِ عَن شبه ذَوَات المخلوقين المتنزه بصفاته عَن صِفَات الْمُحدثين الْقَدِيم الَّذِي لم يزل وَالْبَاقِي الَّذِي لَا يزَال المتعالي عَن الْأَشْبَاه والأضداد والأشكال الدَّال لخلقه على وحدانيته باعلامه وآياته المتعرف إِلَى اوليائه بأسمائه ونعوته وَصِفَاته المقرب أسرارهم مِنْهُ والعاطف بقلوبهم عَلَيْهِ الْمقبل عَلَيْهِم بِلُطْفِهِ الجاذب لَهُم إِلَيْهِ بعطفه طهر عَن أدناس النُّفُوس أسرارهم وَأجل عَن مُوَافقَة الرسوم اقدارهم اصْطفى من شَاءَ مِنْهُم لرسالته وانتخب من أَرَادَ لوحيه وسفارته انْزِلْ عَلَيْهِم كتبا أَمر فِيهَا وَنهى ووعد من أطَاع وأوعد من عصى أبان فَضلهمْ على جَمِيع الْبشر وَرفع درجاتهم أَن يبلغهَا قدر ذِي خطر ختمهم بِمُحَمد عَلَيْهِ وَعَلَيْهِم الصَّلَاة وَالسَّلَام وَأمر بِالْإِيمَان بِهِ وَالْإِسْلَام فدينه خير الْأَدْيَان وَأمته خير الْأُمَم لَا نسخ لشريعته وَلَا أمة بعد أمته حعل فيهم صفوة وأخيارا ونجباء وأبرارا سبقت لَهُم من الله الْحسنى وألزمهم كلمة التَّقْوَى وعزف بنفوسهم عَن الدُّنْيَا صدقت مجاهداتهم فنالوا عُلُوم الدراسة وخلصت عَلَيْهَا معاملاتهم فمنحوا عُلُوم الوراثة وصفت سرائرهم فأكرموا بِصدق الفراسة ثبتَتْ أَقْدَامهم وزكت أفهامهم وأنارت أعلامهم فَهموا عَن الله وَسَارُوا إِلَى الله وأعرضوا عَمَّا سوى الله خرقت الْحجب أنوارهم وجالت حول الْعَرْش أسرارهم وجلت عِنْد ذِي الْعَرْش أخطارهم وعميت عَمَّا دون الْعَرْش ابصارهم فهم أجسام روحانيون وَفِي الأَرْض سماويون وَمَعَ الْخلق بانيون سكُوت نظار غيب حضار مُلُوك تَحت أطمار انزاع قبائل
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
তাসাউফপন্থীদের মতাদর্শের পরিচিতিসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর মহিমার কারণে চক্ষুর অন্তরালে রয়েছেন, যিনি তাঁর মর্যাদা ও পরাক্রমের কারণে ধারণার অতীত, যিনি তাঁর সত্তায় সৃষ্টিজগতের সদৃশ হওয়া থেকে একক, যিনি তাঁর গুণাবলিতে নশ্বর সৃষ্টির গুণাবলি থেকে পবিত্র; তিনি অনাদি যিনি সর্বদা ছিলেন, এবং অনন্ত যিনি সর্বদা থাকবেন। তিনি উপমা, বৈপরীত্য ও আকৃতি থেকে ঊর্ধ্বে। তিনি তাঁর নিদর্শন ও চিহ্নের মাধ্যমে সৃষ্টিজগতকে নিজের একত্বের দিকে পরিচালিত করেন। তিনি তাঁর নাম, গুণাগুণ ও সিফাতের মাধ্যমে তাঁর বন্ধুদের নিকট নিজেকে পরিচিত করেছেন। তিনি তাঁদের অন্তঃকরণকে তাঁর নিকটবর্তী করেছেন এবং তাঁদের হৃদয়কে তাঁর প্রতি অনুরাগী করেছেন। তিনি স্বীয় করুণায় তাঁদের দিকে ধাবিত হন এবং স্বীয় মমতায় তাঁদের নিজের দিকে আকর্ষণ করেন। তিনি তাঁদের অন্তঃকরণকে নফসের কলুষতা থেকে পবিত্র করেছেন এবং প্রথাগত আচরণের অনুসরণ থেকে তাঁদের মর্যাদাকে উচ্চতর করেছেন। তিনি তাঁদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা স্বীয় রিসালাতের জন্য মনোনীত করেছেন এবং যাকে চেয়েছেন স্বীয় ওহি ও দূতিয়ালির জন্য নির্বাচন করেছেন। তিনি তাঁদের প্রতি কিতাবসমূহ অবতীর্ণ করেছেন, যাতে আদেশ ও নিষেধ রয়েছে, এবং আনুগত্যকারীদের জন্য পুরস্কারের ও অবাধ্যদের জন্য শাস্তির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি সমস্ত মানুষের ওপর তাঁদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করেছেন এবং তাঁদের মর্যাদা এমন স্তরে উন্নীত করেছেন যেখানে কোনো উচ্চাভিলাষী পৌঁছাতে পারে না। তিনি মুহাম্মদ (তাঁর এবং তাঁদের সবার ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক) এর মাধ্যমে তাঁদের পরিসমাপ্তি ঘটিয়েছেন এবং তাঁর প্রতি ঈমান ও ইসলামের আদেশ দিয়েছেন। তাঁর দ্বীন সর্বোত্তম ধর্ম এবং তাঁর উম্মত সর্বোত্তম জাতি; তাঁর শরিয়ত রহিত হওয়ার নয় এবং তাঁর উম্মতের পর আর কোনো উম্মত নেই। তিনি তাঁদের মধ্যে খাঁটি, পছন্দনীয়, মহৎ ও পুণ্যবান লোক সৃষ্টি করেছেন, যাঁদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে পূর্বেই কল্যাণ নির্ধারিত হয়েছে এবং তিনি তাঁদের তাকওয়ার বাণীতে অবিচল রেখেছেন এবং তাঁদের নফসকে দুনিয়া থেকে বিমুখ করেছেন। তাঁদের সাধনা সত্যনিষ্ঠ ছিল, ফলে তাঁরা পাঠলব্ধ জ্ঞান অর্জন করেছেন এবং তাঁদের আমলসমূহ একনিষ্ঠ ছিল, ফলে তাঁদের উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত জ্ঞান দান করা হয়েছে। তাঁদের অন্তরসমূহ নির্মল ছিল, ফলে তাঁদের সত্য অন্তর্দৃষ্টির মাধ্যমে সম্মানিত করা হয়েছে। তাঁদের পদক্ষেপসমূহ দৃঢ় হয়েছে, তাঁদের বোধশক্তি পবিত্র হয়েছে এবং তাঁদের নিদর্শনসমূহ আলোকিত হয়েছে। তাঁরা আল্লাহর পক্ষ থেকে উপলব্ধি করেছেন, আল্লাহর দিকে যাত্রা করেছেন এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য সব কিছু থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। তাঁদের নূরসমূহ পর্দা বিদীর্ণ করেছে এবং তাঁদের রহস্যসমূহ আরশের চারপাশে পরিভ্রমণ করেছে। আরশের অধিপতির নিকট তাঁদের মর্যাদা সুমহান হয়েছে এবং আরশের নিচস্থ সমস্ত বস্তু থেকে তাঁদের দৃষ্টি বিমুখ হয়েছে। তাঁরা দেহধারী হয়েও আধ্যাত্মিক সত্তা, পৃথিবীতে বসবাস করেও আসমানি এবং সৃষ্টির মাঝে থেকেও তাঁদের সঙ্গে সম্পর্কহীন। তাঁরা নিরব ও পর্যবেক্ষণকারী, অনুপস্থিত থাকলেও উপস্থিত, জীর্ণবস্ত্রের নিচে অবস্থানকারী রাজা এবং গোত্রসমূহ থেকে বিচ্ছিন্ন নির্জনতাপ্রিয়।
(খণ্ড: ১)
আত-তাআররুফু লি-মাযহাবি আহলিত তাসাউউফ
(পৃষ্ঠা: ২০)
وَأَصْحَاب فَضَائِل وأنوار دَلَائِل آذانهم وَاعِيَة وأسرارهم صَافِيَة ونعوتهم خافية صفوية صوفية نورية صَفِيَّة ودائع الله بَين خليقته وصفوته فِي بريته ووصاياه لنَبيه وخباياه عِنْد صَفيه هم فِي حَيَاته أهل صفته وَبعد وَفَاته خِيَار أمته لم يزل يَدْعُو الأول الثَّانِي وَالسَّابِق التَّالِي بِلِسَان فعله أعناه ذَلِك عَن قَوْله
حَتَّى قل الرغب وفتر الطّلب فَصَارَ الْحَال أجوبة ومسائل وكتبا ورسائل فالمعاني لأربابها قريبَة والصدور لفهمها رحيبة
إِلَى أَن ذهب الْمَعْنى وبقى الِاسْم وَغَابَتْ الْحَقِيقَة وَحصل الرَّسْم فَصَارَ التَّحْقِيق حلية والتصديق زِينَة وادعاه من لم يعرفهُ وتحلى بِهِ من لم يصفه وَأنْكرهُ بِفِعْلِهِ من أقرّ بِهِ بِلِسَانِهِ وكتمه بصدقه من أظهره ببيانه وَأدْخل فِيهِ مَا لَيْسَ مِنْهُ وَنسب إِلَيْهِ مَا لَيْسَ فِيهِ فَجعل حَقه بَاطِلا وسمى عالمه جَاهِلا وَانْفَرَدَ المتحقق فِيهِ ضنا بِهِ وَسكت الواصف لَهُ غيرَة عَلَيْهِ فنفرت الْقُلُوب مِنْهُ وانصرفت النَّفس عَنهُ فَذهب الْعلم وَأَهله وَالْبَيَان وَفعله فَصَارَ الْجُهَّال عُلَمَاء وَالْعُلَمَاء أذلاء
فدعاني ذَلِك إِلَى أَن رسمت فِي كتابي هَذَا وصف طريقتهم وَبَيَان نحلتهم وسيرتهم من القَوْل فِي التَّوْحِيد وَالصِّفَات وَسَائِر مَا يتَّصل بِهِ مِمَّا وَقعت فِيهِ الشُّبْهَة عِنْد من لم يعرف مذاهبهم وَلم يخْدم مشايخهم وكشفت بِلِسَان الْعلم مَا أمكن كشفه ووصفت بِظَاهِر الْبَيَان مَا صلح وَصفه ليفهمه من لم يفهم إشاراتهم ويدركه من لم يدْرك عباراتهم وينتفي عَنْهُم خرص المتخرصين وَسُوء تَأْوِيل الْجَاهِلين وَيكون بَيَانا لمن أَرَادَ سلوك طَرِيقه مفتقرا إِلَى الله تَعَالَى فِي بُلُوغ تَحْقِيقه بعد أَن تصفحت كتب الحذاق فِيهِ وتتبعت حكايات المتحققين لَهُ بعد الْعشْرَة لَهُم وَالسُّؤَال عَنْهُم
وسميته بِكِتَاب التعرف لمَذْهَب أهل التصوف إِخْبَارًا عَن الْغَرَض بِمَا فِيهِ بِمَا فِيهِ
তারা ফযিলত এবং প্রমাণের নূরের অধিকারী, তাদের কর্ণ শ্রবণকারী এবং তাদের রহস্যসমূহ স্বচ্ছ, তাদের গুণাবলী নিভৃত। তারা পছন্দনীয়, সুফি, নূরানি এবং নির্বাচিত। তারা সৃষ্টির মাঝে আল্লাহর আমানত এবং মাখলুকের মাঝে তাঁর মনোনীত বান্দা। তারা তাঁর নবীর প্রতি ওয়াসিয়ত এবং তাঁর প্রিয়ভাজনের নিকট গচ্ছিত রহস্য। তাঁর জীবদ্দশায় তারা ছিলেন আহলে সুফফা এবং তাঁর ওফাতের পর তারা তাঁর উম্মতের শ্রেষ্ঠজন। পূর্ববর্তীগণ পরবর্তীগণকে এবং অগ্রগামীগণ অনুসারীগণকে নিরন্তর নিজ কর্মের ভাষায় আহ্বান জানিয়েছেন, যা তাদের মৌখিক ভাষা থেকে অমুখাপেক্ষী করে দিয়েছে।
পরিশেষে অনুরাগ কমে গেল এবং অন্বেষা শিথিল হয়ে পড়ল। ফলে অবস্থা দাঁড়াল কেবল প্রশ্নোত্তর এবং কিতাব ও পত্রাবলীতে। তবে এর অর্থসমূহ তার অধিকারীদের কাছে নিকটবর্তী ছিল এবং তা অনুধাবনের জন্য বক্ষসমূহ ছিল প্রশস্ত।
অবশেষে মূল অর্থ চলে গেল এবং কেবল নাম অবশিষ্ট রইল। হাকীকত বিলীন হলো এবং নিছক আচার-প্রথা অর্জিত হলো। ফলে তাহকীক কেবল অলঙ্কারে এবং তাসদীক কেবল সাজসজ্জায় পরিণত হলো। যে ব্যক্তি একে চিনে না সে একে দাবি করতে শুরু করল, আর যে গুণের অধিকারী নয় সে এর দ্বারা সুসজ্জিত হওয়ার ভান করল। যে ব্যক্তি মুখে স্বীকার করল, সে তার কাজের মাধ্যমে তা অস্বীকার করল। আর যে তা বর্ণনার মাধ্যমে প্রকাশ করল, সে তার অন্তরের সত্যতা দিয়ে তা গোপন রাখল। এতে এমন কিছু অন্তর্ভুক্ত করা হলো যা এর অংশ নয় এবং এর দিকে এমন কিছু সম্বন্ধ করা হলো যা এতে নেই। ফলে এর সত্যকে বাতিল প্রতিপন্ন করা হলো এবং এর আলিমকে জাহিল হিসেবে আখ্যায়িত করা হলো। এর গূঢ় রহস্যে অভিজ্ঞ ব্যক্তি একে রক্ষার জন্য নির্জনতা বেছে নিলেন এবং বর্ণনাকারী ব্যক্তি এর প্রতি সম্মানবশত নীরব হলেন। ফলে মানুষের অন্তরগুলো এর থেকে দূরে সরে গেল এবং নফস বিমুখ হলো। এভাবেই ইলম ও ইলমের অধিকারীগণ এবং বর্ণনা ও তার প্রয়োগ বিদায় নিল। অতঃপর মূর্খরা আলিমে পরিণত হলো আর আলিমরা লাঞ্ছিত হলো।
এই পরিস্থিতিই আমাকে উদ্বুদ্ধ করেছে আমার এই কিতাবে তাদের তরীকার বর্ণনা এবং তাদের মাযহাব ও জীবনচরিত লিপিবদ্ধ করতে। এতে রয়েছে তাওহীদ, সিফাত এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ে তাদের মতামত, যে সকল ক্ষেত্রে তাদের মাযহাব সম্পর্কে অজ্ঞ এবং তাদের মাশায়েখদের খেদমত না করা ব্যক্তিদের মনে সংশয় তৈরি হয়েছে। আমি ইলমের ভাষায় যতটুকু উন্মোচন করা সম্ভব তা উন্মোচন করেছি এবং সুস্পষ্ট বর্ণনার মাধ্যমে যা বর্ণনা করা সমীচীন তা বর্ণনা করেছি, যাতে যারা তাদের ইশারা-ইঙ্গিত বোঝেনি তারা তা বুঝতে পারে এবং যারা তাদের সূক্ষ্ম ভাষ্য উপলব্ধি করেনি তারা তা অর্জন করতে পারে। এর ফলে অনুমানকারীদের মিথ্যা অপবাদ এবং মূর্খদের কু-ব্যাখ্যা তাদের থেকে দূর হয়ে যাবে। আর যারা তাদের পথে চলতে চায়, তাদের জন্য এটি একটি সুস্পষ্ট পথনির্দেশ হবে। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি যাতে তিনি আমাকে সত্যে পৌঁছাতে সাহায্য করেন। আমি এই শাস্ত্রের দক্ষ ব্যক্তিদের কিতাবসমূহ পর্যালোচনা করার পর এবং এতে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিদের সান্নিধ্য লাভ ও তাদের জিজ্ঞাসার মাধ্যমে তাদের বর্ণনাগুলো অনুসরণ করার পর এটি সংকলন করেছি।
এবং আমি এর বিষয়বস্তুর উদ্দেশ্য ব্যক্ত করার মানসে এর নামকরণ করেছি 'সুফীগণের মাযহাব পরিচিতি বিষয়ক গ্রন্থ'।
(খণ্ড: ১)
আত-তাআররুফু লি-মাযহাবি আহলিত তাসাউউফ
(পৃষ্ঠা: ২১)
وَبِاللَّهِ أستعين وَعَلِيهِ أتوكل وعَلى نبيه أُصَلِّي وَبِه أتوسل وَلَا حول وَلَا قُوَّة إِلَّا بِاللَّه الْعلي الْعَظِيم
الْبَاب الأول
قَوْلهم فِي الصُّوفِيَّة لم سميت الصُّوفِيَّة صوفيةقَالَت طَائِفَة إِنَّمَا سميت الصُّوفِيَّة صوفية لصفاء أسرارها ونقاء اثارها
وَقَالَ بشر بن الْحَارِث الصُّوفِي من صفا قلبه لله
وَقَالَ بَعضهم الصوفى من صفت لله مُعَامَلَته فصفت لَهُ من الله عز وجل كرامته
وَقَالَ قوم إِنَّمَا سموا صوفية لأَنهم فِي الصَّفّ الأول بَين يَدي الله جلّ وَعز بارتفاع هممهم إِلَيْهِ وإقبالهم بقلوبهم عَلَيْهِ ووقوفهم بسرائرهم بَين يَدَيْهِ
وَقَالَ قوم إِنَّمَا سموا صوفية لقرب أوصافهم من أَوْصَاف أهل الصّفة الَّذين كَانُوا كَانُوا على عهد رَسُول الله صلى الله عليه وسلم
وَقَالَ قوم إِنَّمَا سموا صوفية للبسهم الصُّوف
وَأما من نسبهم إِلَى الصّفة وَالصُّوف فَإِنَّهُ عبر عَن ظَاهر أَحْوَالهم وَذَلِكَ أَنهم قوم قد تركُوا الدُّنْيَا فَخَرجُوا عَن الأوطان وهجروا الاخدان وساحوا فِي الْبِلَاد وأجاعوا الأكباد وأعروا الأجساد لم يَأْخُذُوا من الذنيا إِلَّا مَالا يجوز تَركه من ستر عَورَة وسد جوعة
فلخروجهم عَن الأوطان سموا غرباء
ولكثرة أسفارهم سموا سياحين
وَمن سياحتهم فِي البراري وإيوائهم إِلَى الكهوف عِنْد الضرورات سماهم بعض أهل الديار شكفتية والشكفت بلغتهم الْغَار والكهف
আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করছি, তাঁরই ওপর ভরসা করছি, তাঁর নবীর ওপর দরূদ পাঠ করছি এবং তাঁর মাধ্যমেই উসিলা তালাশ করছি। সুউচ্চ ও মহান আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো উপায় ও ক্ষমতা নেই।
প্রথম অধ্যায়
সুফিদের সম্পর্কে বক্তব্য; কেন সুফিদের সুফিয়া নামকরণ করা হয়েছেএকদল বলেছেন, সুফিয়াদের নামকরণ 'সুফিয়া' করা হয়েছে তাঁদের অন্তঃকরণের স্বচ্ছতা এবং তাঁদের কর্মসমূহের বিশুদ্ধতার কারণে।
বিশর ইবনে হারিস বলেছেন, সুফি সেই যার অন্তর আল্লাহর জন্য স্বচ্ছ হয়ে গেছে।
তাঁদের কেউ কেউ বলেছেন, সুফি সেই যার আল্লাহর সাথে লেনদেন স্বচ্ছ হয়েছে, ফলে মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর পক্ষ থেকে তার প্রতি প্রাপ্ত সম্মানও স্বচ্ছ হয়েছে।
অন্য এক দল বলেছেন, তাঁদেরকে 'সুফিয়া' বলা হয়েছে কারণ তাঁরা তাঁদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা দ্বারা তাঁর দিকে ধাবিত হওয়া, অন্তর দিয়ে তাঁর অভিমুখী হওয়া এবং নিজ অন্তরাত্মা দিয়ে তাঁর সামনে দণ্ডায়মান হওয়ার মাধ্যমে মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর সামনে প্রথম সারিতে অবস্থান করেন।
আরেক দল বলেছেন, তাঁদের 'সুফিয়া' নামকরণ করা হয়েছে কারণ তাঁদের গুণাবলি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগের আহলে সুফফার গুণাবলির নিকটবর্তী।
অন্য এক দল বলেছেন, পশমি বস্ত্র পরিধান করার কারণে তাঁদের 'সুফিয়া' নামকরণ করা হয়েছে।
আর যারা তাঁদেরকে সুফফা অথবা পশমের (সুফ) দিকে সম্বন্ধ করেছেন, তারা মূলত তাঁদের বাহ্যিক অবস্থার বর্ণনা দিয়েছেন। আর তা হলো, তাঁরা এমন এক কওম যারা দুনিয়া ত্যাগ করেছেন, স্বদেশ ভূমি থেকে বেরিয়ে পড়েছেন, বন্ধুদের পরিত্যাগ করেছেন এবং দেশ-দেশান্তরে ভ্রমণ করেছেন। তাঁরা নিজেদের কলিজাকে ক্ষুধার্ত রেখেছেন এবং শরীরকে আবৃতহীন রেখেছেন। সতর ঢাকা এবং ক্ষুধা নিবারণের জন্য যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকু ব্যতীত তাঁরা দুনিয়া থেকে কিছুই গ্রহণ করেননি।
স্বদেশ ত্যাগ করার কারণে তাঁদেরকে অপরিচিত মুসাফির বলা হয়েছে।
অধিক ভ্রমণের কারণে তাঁদেরকে পরিব্রাজক বলা হয়েছে।
মরু প্রান্তরে তাঁদের ভ্রমণ এবং প্রয়োজনে গুহাসমূহে আশ্রয় নেওয়ার কারণে কোনো কোনো জনপদের মানুষ তাঁদের শিকাফতিয়া বলত; আর তাদের ভাষায় শিকাফত অর্থ হলো গর্ত বা গুহা।
(খণ্ড: ১)
আত-তাআররুফু লি-মাযহাবি আহলিত তাসাউউফ
(পৃষ্ঠা: ২২)
وَأهل الشَّام سموهم جوعية لأَنهم إِنَّمَا ينالون من الطَّعَام قدر مَا يُقيم الصلب للضَّرُورَة كَمَا قَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم بِحَسب ابْن آدم أكلات يقمن صلبه
وَقَالَ السرى السقطى ووصفهم فَقَالَ أكلهم اكل المرضى ونومهم نوم الغرقى وَكَلَامهم كَلَام الخرقى وَمن تخليهم عَن الْأَمْلَاك سموا فُقَرَاء قيل لبَعْضهِم من الصُّوفِي قَالَ الَّذِي لَا يملك وَلَا يملك يعْنى لَا يسترقه الطمع وَقَالَ آخر هُوَ الَّذِي لَا يملك شَيْئا وَإِن ملكه بذله
وَمن لبسهم وزيهم سموا صوفية لأَنهم لم يلبسوا لحظوظ النَّفس مالان مَسّه وَحسن منظره وَإِنَّمَا لبسوا لستر الْعَوْرَة فتجزوا بالخشن من الشّعْر والغليظ من الصُّوف
ثمَّ هَذِه كلهَا أَحْوَال أهل الصّفة الَّذين كَانُوا على عهد رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَإِنَّهُم كَانُوا غرباء فُقَرَاء مُهَاجِرين أخرجُوا من دِيَارهمْ وَأَمْوَالهمْ ووصفهم ابو هُرَيْرَة وفضالة بن عبيد فَقَالَا يخرون من الْجُوع حَتَّى تحسبهم الْأَعْرَاب مجانين وَكَانَ لباسهم الصُّوف حَتَّى إِن كَانَ بَعضهم يعرق فِيهِ فيوجد مِنْهُ ريح الضَّأْن إِذا أَصَابَهُ الْمَطَر هَذَا وصف بَعضهم لَهُم حَتَّى قَالَ عُيَيْنَة بن حصن للنَّبِي صلى الله عليه وسلم إِنَّه ليؤدينى ريح هَؤُلَاءِ أما يُؤْذِيك ريحهم
ثمَّ الصُّوف لِبَاس الْأَنْبِيَاء وزى الْأَوْلِيَاء
وَقَالَ أَبُو مُوسَى الْأَشْعَرِيّ عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم إِنَّه مر بالصخرة من الروحاء سَبْعُونَ نَبيا حُفَاة عَلَيْهِم العباء يأمون الْبَيْت الْعَتِيق وَقَالَ الْحسن الْبَصْرِيّ كَانَ عِيسَى علية السَّلَام يلبس الشّعْر وَيَأْكُل من الشَّجَرَة ويبيت حَيْثُ أَمْسَى وَقَالَ أَبُو مُوسَى كَانَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم يلبس الصُّوف ويركب
শামবাসী (সিরিয়াবাসী) তাঁদের 'জুয়্যিয়্যাহ' (ক্ষুধার্ত সম্প্রদায়) নামে অভিহিত করেছেন, কারণ তাঁরা খাদ্য থেকে কেবল ততটুকুই গ্রহণ করতেন যা জীবনধারণের প্রয়োজনে মেরুদণ্ড সোজা রাখার জন্য অত্যাবশ্যক ছিল, যেমনটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আদম সন্তানের জন্য অল্প কয়েক লোকমা খাবারই যথেষ্ট যা তার মেরুদণ্ড সোজা রাখবে।"
সাররি আস-সাকাতি তাঁদের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছেন: "তাঁদের আহার রোগীদের আহারের মতো, তাঁদের নিদ্রা নিমজ্জিত ব্যক্তিদের নিদ্রার মতো এবং তাঁদের কথা জ্ঞানহীনদের কথার মতো।" ধন-সম্পদ ও মালিকানা থেকে বিমুখ থাকার কারণে তাঁদের 'ফুকরা' (দরিদ্র) বলা হতো। তাঁদের একজনকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: "সুফি কে?" তিনি বললেন: "যিনি কোনো কিছুর মালিক হন না এবং যাকে কেউ দাসে পরিণত করতে পারে না," অর্থাৎ লোভ যাকে দাসে পরিণত করতে পারে না। অন্য একজন বলেছেন: "সুফি সেই ব্যক্তি, যাঁর নিজের বলতে কিছু নেই এবং যদি কিছু মালিকানায় আসে তবে তা বিলিয়ে দেন।"
তাঁদের পোশাক ও পরিচ্ছদের কারণে তাঁদের 'সুফিয়া' (সুফি) নামকরণ করা হয়েছে, কারণ তাঁরা নফসের লালসা মেটানোর জন্য কোমল স্পর্শ ও দৃষ্টিনন্দন পোশাক পরিধান করতেন না। বরং তাঁরা কেবল লজ্জাস্থান আবৃত করার জন্য পোশাক পরতেন, তাই পশুর খসখসে পশম ও মোটা পশমী কাপড়েই তুষ্ট থাকতেন।
অতঃপর এই সব গুণাবলি ছিল 'আহলে সুফ্ফা'র অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিদের, যাঁরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে ছিলেন। তাঁরা ছিলেন প্রবাসী, নিঃস্ব এবং মুহাজির, যাঁদেরকে তাঁদের ঘরবাড়ি ও ধন-সম্পদ থেকে বিতাড়িত করা হয়েছিল। আবু হুরায়রা ও ফাদ্বালাহ বিন উবায়েদ তাঁদের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছেন: "তাঁরা ক্ষুধার তীব্রতায় মাটিতে লুটিয়ে পড়তেন, এমনকি বেদুইনরা তাঁদের পাগল মনে করত।" তাঁদের পোশাক ছিল পশমী (সুফ), এমনকি তাঁদের কেউ যখন সেই পোশাকে ঘেমে যেতেন এবং বৃষ্টির পানি তাতে লাগত, তখন তা থেকে ভেড়ার দেহের গন্ধ বের হতো। এটি ছিল তাঁদের সম্পর্কে কারো কারো বর্ণনা, এমনকি উয়ায়না বিন হিসন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলেছিলেন: "এদের দেহের গন্ধ আমাকে কষ্ট দিচ্ছে, এদের গন্ধ কি আপনাকে কষ্ট দেয় না?"
তাছাড়া পশমী পোশাক ছিল নবীদের পরিধেয় এবং ওলীদের বেশভূষা।
আবু মুসা আল-আশআরী নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে: "রাওহা নামক স্থানের পাথরের পাশ দিয়ে সত্তরজন নবী অতিক্রান্ত হয়েছেন, যাঁরা খালি পায়ে ছিলেন এবং তাঁদের পরিধানে ছিল জুব্বা; তাঁরা বাইতুল আতিকের (কাবা ঘর) উদ্দেশ্যে যাত্রা করছিলেন।" হাসান বসরী বলেন: "ঈসা (আলাইহিস সালাম) পশমী কাপড় পরিধান করতেন, গাছের ফল বা লতাপাতা ভক্ষণ করতেন এবং যেখানে সন্ধ্যা হতো সেখানেই রাত কাটাতেন।" আবু মুসা বলেন: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পশমী কাপড় পরিধান করতেন এবং সওয়ারিতে আরোহণ করতেন।"
(খণ্ড: ১)
আত-তাআররুফু লি-মাযহাবি আহলিত তাসাউউফ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الْحمار وَيَأْتِي مدعاة الضَّعِيف وَقَالَ الْحسن الْبَصْرِيّ لقد أدْركْت سبعين بَدْرِيًّا مَا كَانَ لباسهم إِلَّا الصُّوف
فَلَمَّا كَانَت هَذِه الطَّائِفَة بِصفة أهل الصّفة فِيمَا ذكرنَا ولبسهم وزيهم زِيّ أَهلهَا سموا صَفِيَّة وصوفية
وَمن نسبهم إِلَى الصّفة والصف الأول فَإِنَّهُ عبر عَن أسرارهم وبواطنهم وَذَلِكَ أَن من ترك الدُّنْيَا وزهد فِيهَا وَأعْرض عَنْهَا صفى الله سره وَنور قلبه قَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم اذ دخل النُّور فِي الْقلب انْشَرَحَ وَانْفَسَحَ قيل وَمَا عَلامَة ذَلِك يَا رَسُول الله قَالَ التَّجَافِي عَن دَار الْغرُور والإنابة إِلَى دَار الخلود والاستعداد للْمَوْت قبل نُزُوله فَأخْبر النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَن من نجافي عَن الدُّنْيَا نور الله قلبه وَقَالَ حارثه حِين سَأَلَهُ النَّبِي صلى الله عليه وسلم مَا حَقِيقَة إيمانك قَالَ عزفت بنفسي عَن الدُّنْيَا فأظمأت نهاري وأسهرت ليلِي وَكَأَنِّي أنظر إِلَى عرش رَبِّي بارزا وَكَأَنِّي أنظر إِلَى أهل الْجنَّة يتزاورون وَإِلَى أهل النَّار يتعادون
فَأخْبر أَنه لما عزف عَن الدُّنْيَا نور الله قلبه فَكَانَ مَا غَابَ مِنْهُ بِمَنْزِلَة مَا يُشَاهِدهُ وَقَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم من أحب أَن ينظر إِلَى عبد نور الله قلبه فَلْينْظر إِلَى حَارِثَة فَأخْبر أَنه منور الْقلب
وَسميت هَذِه الطَّائِفَة نورية لهَذِهِ الْأَوْصَاف
وَهَذَا أَيْضا من أَوْصَاف أهل الصّفة قَالَ الله تَعَالَى {فِيهِ رجال يحبونَ أَن يَتَطَهَّرُوا وَالله يحب المطهرين}
والتطهر بالظواهر عَن الأنجاس وبالبواطن عَن الأهجاس وَمَا يَتَحَرَّك فِي الضَّمِير من الخواطر
গাধার পিঠে আরোহণ করতেন এবং দুর্বলের আহ্বানে সাড়া দিতেন। হাসান বসরী (রহ.) বলেন, আমি সত্তরজন বদরী সাহাবীকে প্রত্যক্ষ করেছি যাদের পরিধেয় বস্ত্র পশম ব্যতীত অন্য কিছু ছিল না।
সুতরাং যখন এই দলটি আমাদের বর্ণিত ‘আহলুস সুফফাহ’র গুণে গুণান্বিত হলো এবং তাদের পোশাক ও বেশভূষা সুফফাবাসীদের সদৃশ হলো, তখন তাদের ‘সাফিয়্যাহ’ এবং ‘সুফিয়্যাহ’ নামে নামকরণ করা হলো।
আর যারা তাদের ‘সুফফাহ’ এবং ‘সাফফুল আওয়াল’ (প্রথম কাতার)-এর দিকে সম্বন্ধ করেন, তারা মূলত তাদের অভ্যন্তরীণ রহস্য ও আধ্যাত্মিক অবস্থারই বহিঃপ্রকাশ ঘটান। আর তা এই যে, যে ব্যক্তি দুনিয়া পরিত্যাগ করে, তাতে অনাগ্রহী হয় এবং তা থেকে বিমুখ থাকে, আল্লাহ তার অভ্যন্তরীণ সত্তাকে পরিচ্ছন্ন করেন এবং তার অন্তরকে আলোকিত করেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যখন নূর অন্তরে প্রবেশ করে, তখন তা প্রশস্ত ও উন্মুক্ত হয়ে যায়।” জিজ্ঞাসা করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! এর নিদর্শন কী? তিনি বললেন, “প্রতারণার আবাসস্থল (দুনিয়া) থেকে বিমুখ হওয়া, চিরস্থায়ী আবাসের দিকে প্রত্যাবর্তন করা এবং মৃত্যু আসার পূর্বেই তার প্রস্তুতি গ্রহণ করা।” সুতরাং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সংবাদ প্রদান করলেন যে, যে ব্যক্তি দুনিয়া থেকে নির্লিপ্ত হয়, আল্লাহ তার অন্তরকে নূরে উদ্ভাসিত করেন। হারিসাহ যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কর্তৃক জিজ্ঞাসিত হলেন যে, “তোমার ঈমানের হাকীকত কী?” তিনি উত্তরে বললেন, “আমি আমার নফসকে দুনিয়া থেকে বিমুখ করেছি, ফলে আমি আমার দিবসগুলোকে পিপাসার্ত রেখেছি এবং আমার রাতগুলোকে জাগ্রত রেখেছি। আর আমি যেন আমার রবের আরশকে স্পষ্টভাবে প্রকাশিত অবস্থায় দেখতে পাচ্ছি। আমি যেন জান্নাতবাসীদের একে অপরের সাথে সাক্ষাৎ করতে দেখছি এবং জাহান্নামীদের একে অপরের সাথে শত্রুতা করতে দেখছি।”
তিনি সংবাদ দিলেন যে, যখন তিনি দুনিয়া থেকে বিমুখ হলেন, আল্লাহ তার অন্তরকে নূরানি করে দিলেন; ফলে তার নিকট যা অদৃশ্য ছিল, তা তার নিকট প্রত্যক্ষ করার সমতুল্য হয়ে গেল। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি এমন কোনো বান্দার দিকে তাকাতে পছন্দ করে যার অন্তরকে আল্লাহ নূরে উদ্ভাসিত করেছেন, সে যেন হারিসাহর দিকে তাকায়।” এভাবে তিনি সংবাদ দিলেন যে, হারিসাহ হলেন নূরে আলোকিত হৃদয়ের অধিকারী।
এই গুণাবলির কারণেই এই দলটিকে ‘নূরানিয়্যাহ’ নামে অভিহিত করা হয়।
এটিও সুফফাবাসীদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, “তাতে এমন সব ব্যক্তি রয়েছেন যারা পবিত্রতা অর্জন করতে ভালোবাসেন এবং আল্লাহ পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালোবাসেন।”
আর বাহ্যিক পবিত্রতা হলো নাপাকি থেকে মুক্ত হওয়া এবং অভ্যন্তরীণ পবিত্রতা হলো কুমন্ত্রণা ও অন্তরে উদিত হওয়া সকল প্রকার মন্দ চিন্তা ও কল্পনা থেকে মুক্ত থাকা।
(খণ্ড: ১)
আত-তাআররুফু লি-মাযহাবি আহলিত তাসাউউফ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وَقَالَ الله تَعَالَى {رجال لَا تُلْهِيهِمْ تِجَارَة وَلَا بيع عَن ذكر الله}
ثمَّ لصفاء أسرارهم تصدق فراستهم قَالَ أَبُو امامة الْبَاهِلِيّ رضى الله عَنهُ عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم
اتَّقوا فراسة الْمُؤمن فَإِنَّهُ ينظر بِنور الله وَقَالَ أَبُو بكر الصّديق رضى الله عَنهُ ألْقى فِي روعى أَن ذَا بطن بنت خَارِجَة فَكَانَ كَمَا قَالَ وَقَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم
إِن الْحق لينطق على لِسَان عمر وَقَالَ أويس الْقَرنِي لهرم بن حَيَّان حِين سلم عَلَيْهِ وَعَلَيْك السَّلَام يَا هرم بن حَيَّان وَلم يكن رَآهُ قبل ذَلِك ثمَّ قَالَ لَهُ عرف روحي روحك وَقَالَ ابو عبد الله الْأَنْطَاكِي اذا حالستم أهل الصدْق فجالسوهم بِالصّدقِ فَإِنَّهُم جواسيس الْقُلُوب يدْخلُونَ فِي أسراركم وَيخرجُونَ من هممكم
ثمَّ من كَانَ بِهَذِهِ الصّفة من صفوة سره وطهارة قلبه وَنور صَدره فَهُوَ فِي الصَّفّ الأول لِأَن هَذِه أوصفاف السَّابِقين قَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم
يدْخل من أمتِي الْجنَّة سَبْعُونَ ألفا بِغَيْر حِسَاب ثمَّ وَصفهم وَقَالَ
الَّذين لَا يرقون وَلَا يسْتَرقونَ وَلَا يكوون وَلَا يَكْتَوُونَ وعَلى رَبهم يَتَوَكَّلُونَ
فلصفاء أسرارهم وَشرح صُدُورهمْ وضياء قُلُوبهم صحت معارفهم بِاللَّه فَلم يرجِعوا إِلَى الْأَسْبَاب ثِقَة بِاللَّه عز وجل وتوكلا عَلَيْهِ ورضا بِقَضَائِهِ
فقد اجْتمعت هَذِه الْأَوْصَاف كلهَا ومعاني هَذِه الْأَسْمَاء كلهَا فِي أسامى الْقَوْم وألقابهم وَصحت هَذِه الْعبارَات وَقربت هَذِه المآخذ
وَإِن كَانَت هَذِه الْأَلْفَاظ متغيرة فِي الظَّاهِر فَإِن الْمعَانِي متفقة لِأَنَّهَا إِن أخذت من الصفاء والصفوة كَانَت صفوية
وَإِن أضيفت إِلَى الصَّفّ أَو الصّفة كَانَت صَفِيَّة أَو صَفِيَّة وَيجوز أَن يكون
আল্লাহ তাআলা বলেছেন, "এমন কিছু লোক, যাদেরকে ব্যবসা ও ক্রয়-বিক্রয় আল্লাহর স্মরণ হতে বিচ্যুত করে না।"
অতঃপর তাদের অন্তরের বিশুদ্ধতার কারণে তাদের অন্তর্দৃষ্টি সত্য হয়। আবু উমামা আল-বাহিলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন:
"তোমরা মুমিনের অন্তর্দৃষ্টিকে ভয় করো, কারণ সে আল্লাহর নূরের সাহায্যে দেখে।" আবু বকর আস-সিদ্দিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন, "আমার অন্তরে এই উদয় হয়েছে যে, বিনতে খারিদজার গর্ভে যা আছে তা একটি কন্যা।" এবং তা তেমনই হয়েছিল যেমনটি তিনি বলেছিলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
"নিশ্চয়ই সত্য উমরের জিহ্বায় উচ্চারিত হয়।" উওয়াইস আল-কারানি যখন হারাম বিন হাইয়ানকে সালাম দিলেন তখন বললেন, "হে হারাম বিন হাইয়ান, আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক।" অথচ তিনি ইতিপূর্বে তাকে দেখেননি। তারপর তিনি তাকে বললেন, "আমার রূহ আপনার রূহকে চিনে নিয়েছে।" আবু আবদুল্লাহ আল-আন্তাকি বলেছেন, "যখন তোমরা সত্যনিষ্ঠ ব্যক্তিদের সাথে বসবে, তখন সত্যের সাথেই বসবে। কারণ তারা হৃদয়ের গোয়েন্দা; তারা তোমাদের গোপন রহস্যে প্রবেশ করে এবং তোমাদের সংকল্পসমূহ সম্পর্কে অবগত হয়।"
অতঃপর যার মধ্যে তার রহস্যের বিশুদ্ধতা, অন্তরের পবিত্রতা এবং বক্ষের নূরের কারণে এই বৈশিষ্ট্য থাকবে, সে প্রথম সারিতে অবস্থান করবে। কারণ এগুলো হলো অগ্রবর্তীদের বৈশিষ্ট্য। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
"আমার উম্মতের মধ্য থেকে সত্তর হাজার ব্যক্তি বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে।" তারপর তিনি তাদের বর্ণনা দিয়ে বললেন:
"যারা ঝাড়ফুঁক করে না, ঝাড়ফুঁক গ্রহণ করে না, লোহা পুড়িয়ে দাগ দেয় না এবং তারা তাদের রবের ওপর ভরসা করে।"
সুতরাং তাদের রহস্যের বিশুদ্ধতা, বক্ষের প্রশস্ততা এবং হৃদয়ের উজ্জ্বলতার কারণে আল্লাহর প্রতি তাদের মারিফত বা পরিচিতি সঠিক হয়েছে। ফলে তারা মহান আল্লাহর প্রতি আস্থা, তাঁর ওপর ভরসা এবং তাঁর ফয়সালার প্রতি সন্তুষ্টির কারণে জাগতিক উপায়-উপকরণের দিকে ফিরে তাকায়নি।
বস্তুত এই সমস্ত বৈশিষ্ট্য এবং এই সমস্ত সংজ্ঞার অর্থসমূহ এই সম্প্রদায়ের নাম ও উপাধিতে একত্রিত হয়েছে এবং এই বর্ণনাগুলো সঠিক ও এই উৎসগুলো নিকটতর হয়েছে।
যদিও এই শব্দগুলো বাহ্যিকভাবে ভিন্ন, তবুও এদের অর্থ অভিন্ন। কারণ যদি এগুলো 'সাফা' (স্বচ্ছতা) এবং 'সাফওয়াহ' (বিশুদ্ধতা) থেকে নেওয়া হয়, তবে তা হবে 'সাফওয়িয়্যাহ'।
আর যদি একে 'সাফ' (সারি) বা 'সিফাত' (গুণ) এর সাথে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়, তবে তা হবে 'সাফিয়্যাহ' বা 'সুফিয়্যাহ'। আর এটি হওয়াও সম্ভব যে...
(খণ্ড: ১)
আত-তাআররুফু লি-মাযহাবি আহলিত তাসাউউফ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
تَقْدِيم الْوَاو على الْفَاء فِي لفظ الصُّوفِيَّة وزيادتها فِي لفظ الصفية والصفية إِنَّمَا كَانَت من تداول الألسن
وَإِن جعل مأخذه من الصُّوف استقام اللَّفْظ وَصحت الْعبارَة من حَيْثُ اللُّغَة وَجَمِيع الْمعَانِي كلهَا من التخلى عَن الدُّنْيَا وعزوف النَّفس عَنْهَا وَترك الأوطان وَلُزُوم الْأَسْفَار وَمنع النُّفُوس حظوظها وصفاء الْمُعَامَلَات وصفوة الْأَسْرَار وانشراح الصُّدُور وَصفَة السباق وَقَالَ بنْدَار بن الْحُسَيْن الصوفى من اخْتَارَهُ الْحق لنَفسِهِ فصافاه وَعَن نَفسه برأه وَلم يردهُ إِلَى تعْمل وتكلف بِدَعْوَى
وصوفي على زنة عوفي أَي عافاه الله فَعُوفِيَ وكوفي أَي كافاه الله فكوفى وجوزى أَي جازاه الله فَفعل الله بِهِ ظَاهر فِي اسْمه وَالله المتفرد بِهِ
وَقَالَ أَبُو عَليّ الزوذباري وَسُئِلَ عَن الصوفى فَقَالَ من لبس الصُّوف على الصفاء وَأطْعم الْهوى ذوق الْجفَاء وَكَانَت الدُّنْيَا مِنْهُ على الْقَفَا وسلك منهاج الْمُصْطَفى
وَسُئِلَ سهل بن عبد الله التسترِي من الصُّوفِي فَقَالَ من صفا من الكدر وامتلأ من الْفِكر وَانْقطع إِلَى الله من الْبشر واستوى عِنْده الذَّهَب والمدر
وَسُئِلَ أَبُو الْحسن النوري مَا التصوف فَقَالَ ترك كل حَظّ للنَّفس
وَسُئِلَ الْجُنَيْد عَن التصوف فَقَالَ تصفية الْقلب عَن مُوَافقَة الْبَريَّة ومفارقة الْأَخْلَاق الطبيعية وإخماد الصِّفَات البشرية ومجانبة الدَّوَاعِي النفسانية ومنازلة الصِّفَات الروحانية والتعلق بالعلوم الْحَقِيقِيَّة وَاسْتِعْمَال مَا هُوَ أولى على الأبدية والنصح لجَمِيع الْأمة وَالْوَفَاء لله على الْحَقِيقَة وَاتِّبَاع الرَّسُول صلى الله عليه وسلم فِي الشَّرِيعَة
وَقَالَ يُوسُف بِي الْحُسَيْن لكل أمة صفوة وهم وَدِيعَة الله الَّذين أخفاهم عَن خلقه فَإِن يكن مِنْهُم فِي هَذِه الْأمة فهم الصُّوفِيَّة
'সুফী' শব্দে 'ফা'-এর আগে 'ওয়াও'-এর প্রাধান্য এবং 'সাফিয়্যাহ' ও 'সাফিয়্যাহ' শব্দে এর আধিক্য মূলত মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত হওয়ার কারণে ঘটেছে।
আর যদি এর ব্যুৎপত্তি 'সুফ' (পশম) থেকে ধরা হয়, তবে আভিধানিক দিক থেকে শব্দটি সুসংগত হয় এবং এর বর্ণনাও সঠিক হয়। এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকল অর্থ—যেমন দুনিয়া ত্যাগ করা, প্রবৃত্তি বিমুখ হওয়া, স্বদেশ ত্যাগ করা, ভ্রমণে নিরন্তর থাকা, প্রবৃত্তিকে তার স্বাদ থেকে বঞ্চিত করা, লেনদেনের স্বচ্ছতা, রহস্যের বিশুদ্ধতা, হৃদয়ের প্রশস্ততা এবং প্রতিযোগিতার বৈশিষ্ট্য—সবই এর অন্তর্ভুক্ত। বুন্দার বিন আল-হুসাইন বলেন: সুফী হলেন তিনি, যাকে সত্য (আল্লাহ) নিজের জন্য মনোনীত করেছেন এবং তাকে স্বচ্ছ করেছেন, তাকে তার নিজের আমিত্ব থেকে মুক্ত করেছেন এবং কোনো দাবি বা কৃত্রিম লৌকিকতার দিকে তাকে ফিরিয়ে দেননি।
'সুফী' শব্দটি 'উফী' এর ওজনে, অর্থাৎ আল্লাহ তাকে নিরাপত্তা দিয়েছেন তাই তিনি নিরাপদ হয়েছেন; এবং 'কুফী' এর মতো, অর্থাৎ আল্লাহ তাকে পর্যাপ্ত দিয়েছেন তাই তিনি পর্যাপ্ততা পেয়েছেন; এবং 'জুযী' এর মতো, অর্থাৎ আল্লাহ তাকে প্রতিদান দিয়েছেন। সুতরাং তার প্রতি আল্লাহর কর্ম তার নামের মধ্যেই প্রকাশমান, আর আল্লাহই এতে একক সত্তা।
আবু আলী আর-রূদবারী-কে সুফী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: যিনি পবিত্রতার সাথে পশম পরিধান করেন, প্রবৃত্তিকে কঠোরতার স্বাদ আস্বাদন করান, দুনিয়াকে নিজের পিঠের পিছনে ফেলে দেন এবং মুস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পথ অনুসরণ করেন।
সাহল বিন আবদুল্লাহ আত-তুস্তারিকে জিজ্ঞাসা করা হলো সুফী কে? তিনি বললেন: যিনি পঙ্কিলতা থেকে পবিত্র হয়েছেন, চিন্তায় নিমগ্ন হয়েছেন, মানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আল্লাহর দিকে মনোনিবেশ করেছেন এবং যার নিকট স্বর্ণ ও মাটির ঢিলা সমান হয়ে গেছে।
আবুল হাসান আন-নূরীকে তাসাউফ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: প্রবৃত্তির সকল প্রকার স্বাদ বা সুযোগ ত্যাগ করা।
জুনায়েদ (রহ.)-কে তাসাউফ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: সৃষ্টিজগতের সাথে একাত্ম হওয়া থেকে অন্তরকে পরিচ্ছন্ন করা, পাশবিক স্বভাব বর্জন করা, মানবীয় নিম্নতর গুণাবলীকে নির্বাপিত করা, নফসের তাড়না থেকে দূরে থাকা, আধ্যাত্মিক গুণাবলী অর্জন করা, প্রকৃত ইলমের সাথে সম্পৃক্ত হওয়া, অনন্তকালের জন্য যা সর্বোত্তম তা পালন করা, সমগ্র উম্মতের কল্যাণ কামনা করা, আল্লাহর সাথে প্রকৃত সত্যের ওপর অটল থাকা এবং শরীয়তের ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অনুসরণ করা।
ইউসুফ ইবনুল হুসাইন বলেন: প্রত্যেক উম্মতেরই কিছু মনোনীত ব্যক্তি থাকে, তারা আল্লাহর গচ্ছিত আমানত যাদেরকে তিনি তাঁর সৃষ্টিজগত থেকে গোপন রেখেছেন। যদি এই উম্মতের মধ্যে তেমন কেউ থেকে থাকে, তবে তারা হলো সুফী সম্প্রদায়।
(খণ্ড: ১)
আত-তাআররুফু লি-মাযহাবি আহলিত তাসাউউফ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
قَالَ رجل لسهل بن عبد الله التسترِي من أصحب من طوائف النَّاس فَقَالَ عَلَيْك بالصوفية فَإِنَّهُم لَا يستكثرون وَلَا يستنكرون شَيْئا وَلكُل فعل عِنْدهم تَأْوِيل فهم يعذرونك على كل حَال
وَقَالَ يُوسُف بن الْحُسَيْن سَأَلت ذَا النُّون من أصحب فَقَالَ من لَا يملك وَلَا يُنكر عَلَيْك حَالا من أحوالك وَلَا يتَغَيَّر بتغيرك وَإِن كَانَ عَظِيما فَإنَّك أحْوج مَا تكون إِلَيْهِ أَشد مَا كنت تغيرا
وَقَالَ ذُو النُّون رَأَيْت امْرَأَة بِبَعْض سواحل الشَّام فَقلت لَهَا من أَيْن اقبلت رَحِمك الله قَالَت من عِنْد أَقوام تَتَجَافَى جنُوبهم عَن الْمضَاجِع يدعونَ رَبهم خوافا وَطَمَعًا قلت وَأَيْنَ تريدين قَالَت إِلَى رجال لَا تُلْهِيهِمْ تِجَارَة وَلَا بيع عَن ذكر الله قلت صفيهم لي فانشأت تَقول
… قوم همومهم بِاللَّه قد علقت
… فَمَا لَهُم همم تسمو إِلَى أحد
… فمطلب الْقَوْم مَوْلَاهُم وسيدهم
… يَا حسن مطلبهم للْوَاحِد الصَّمد
… مَا إِن تنارعهم دنيا وَلَا شرف
… من المطاعم وَاللَّذَّات وَالْولد
… وَلَا للبس ثِيَاب فائق أنق
… وَلَا لروح سرُور حل فِي بلد
… إِلَّا مسارعة فِي إِثْر منزلَة
… قد قَارب الخطو فِيهَا باعد الابد
… فهم رهائن غُدْرَان وأودية
… وَفِي الشوامخ تلقاهم مَعَ الْعدَد
…
এক ব্যক্তি সাহল বিন আবদুল্লাহ আত-তুস্তারিকে জিজ্ঞাসা করলেন, মানুষের বিভিন্ন দলের মধ্যে আমি কার সাহচর্য অবলম্বন করব? তিনি বললেন, তোমার জন্য সুফীদের সাহচর্য আবশ্যক, কেননা তারা কোনো কিছুকে অতিশয় মনে করে না এবং কোনো কিছুকে অস্বীকার করে না। তাদের নিকট প্রতিটি কাজেরই একটি ব্যাখ্যা থাকে, তাই তারা তোমাকে প্রতিটি অবস্থায় মার্জনা করে।
ইউসুফ বিন আল-হুসাইন বলেন, আমি যুন-নুনকে জিজ্ঞাসা করলাম, আমি কার সাহচর্য লাভ করব? তিনি বললেন, এমন ব্যক্তির, যে তোমার উপর কোনো কর্তৃত্ব দাবি করে না, তোমার কোনো অবস্থাকেই অস্বীকার করে না এবং তোমার পরিবর্তনের কারণে যে পরিবর্তিত হয়ে যায় না, যদিও তা গুরুতর হয়; কেননা তোমার যখন অধিক পরিবর্তন ঘটে, তখনই তুমি তার সবচেয়ে বেশি মুখাপেক্ষী হও।
যুন-নুন বলেন, আমি শামের কোনো এক উপকূলে এক নারীকে দেখলাম এবং তাকে বললাম, আল্লাহ তোমার প্রতি রহম করুন, তুমি কোথা থেকে এসেছ? সে বলল, এমন এক সম্প্রদায়ের নিকট থেকে যাদের পার্শ্বদেশ বিছানা থেকে আলাদা থাকে এবং যারা তাদের প্রতিপালককে ভয় ও আশা নিয়ে আহ্বান করে। আমি বললাম, তুমি কোথায় যাওয়ার সংকল্প করেছ? সে বলল, এমন পুরুষদের নিকট যাদেরকে ব্যবসা-বাণিজ্য ও ক্রয়-বিক্রয় আল্লাহর জিকির থেকে গাফেল করতে পারে না। আমি বললাম, তাদের গুণাবলি আমার কাছে বর্ণনা করো। তখন সে বলতে লাগল
… তারা এমন এক সম্প্রদায় যাদের সমস্ত চিন্তা আল্লাহর সাথে নিবদ্ধ
… অন্য কারো দিকে তাদের উচ্চাশা ধাবিত হয় না
… এই সম্প্রদায়ের অন্বেষণের বস্তু হলো তাদের মাওলা ও তাদের সায়্যিদ
… কতই না উত্তম তাদের সেই অন্বেষণ অদ্বিতীয় ও অমুখাপেক্ষী সত্তার সন্তুষ্টির জন্য
… কোনো দুনিয়া বা কোনো মর্যাদা তাদের প্রলুব্ধ করে না
… না কোনো খাদ্যদ্রব্য, না কোনো স্বাদ-আহ্লাদ, আর না কোনো সন্তানাদি
… না কোনো অতি চমৎকার ও সুদৃশ্য পোশাক পরিধানের স্পৃহা
… আর না কোনো জনপদে অবস্থানরত সুখ-শান্তি
… বরং তারা কেবল সেই উচ্চ মাকাম হাসিলের জন্য দ্রুত ধাবমান
… যার অভিমুখে কদমে কদমে অগ্রসর হওয়া সুদূর অনন্তকালকে নিকটবর্তী করে দেয়
… তারা প্রান্তর ও উপত্যকাগুলোর নির্জনতায় আবদ্ধ
… এবং সুউচ্চ পর্বতশৃঙ্গে অল্প সংখ্যক লোকের মাঝে তাদের দেখা মেলে
…
(খণ্ড: ১)
আত-তাআররুফু লি-মাযহাবি আহলিত তাসাউউফ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الْبَاب الثَّانِي
فِي رجال الصُّوفِيَّةمِمَّن نطق بعلومهم وَعبر عَن مواجيدهم وَنشر مقاماتهم وَوصف أَحْوَالهم قولا وفعلا بعد الصَّحَابَة رضوَان الله عَلَيْهِم عَليّ بن الْحُسَيْن زين العابدين وَابْنه مُحَمَّد بن عَليّ الباقر وَابْنه جَعْفَر بن مُحَمَّد الصَّادِق رضى الله عَنْهُم بعد عَليّ وَالْحسن وَالْحُسَيْن رضى الله عَنْهُم وأويس الْقَرنِي وهرم بن حَيَّان وَالْحسن بن أبي الْحسن الْبَصْرِيّ وَأَبُو حَازِم سَلمَة بن دِينَار الْمَدِينِيّ وَمَالك بن دِينَار وَعبد الْوَاحِد بن زيد وَعتبَة الْغُلَام وَإِبْرَاهِيم بن أدهم والفضيل بن عِيَاض وَابْنه عَليّ بن الفضيل وَدَاوُد الطَّائِي وسُفْيَان بن سعيد الثَّوْريّ
দ্বিতীয় অধ্যায়
সুফি ব্যক্তিবর্গের পরিচিতি প্রসঙ্গেসাহাবীগণের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) পরে যাঁরা কথা ও কাজের মাধ্যমে তাঁদের ইলমসমূহ ব্যক্ত করেছেন, তাঁদের আধ্যাত্মিক ভাবাবেগ প্রকাশ করেছেন, তাঁদের মাকামসমূহ প্রচার করেছেন এবং তাঁদের অবস্থাসমূহ বর্ণনা করেছেন, তাঁরা হলেন—আলী, হাসান ও হুসাইনের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) পরবর্তী যুগে—আলী ইবনুল হুসাইন যয়নুল আবেদীন, তাঁর পুত্র মুহাম্মাদ ইবনে আলী আল-বাকির এবং তাঁর পুত্র জাফর ইবনে মুহাম্মাদ আস-সাদিক (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)। আরও রয়েছেন উওয়াইস আল-কারানি, হারাম ইবনে হাইয়ান, হাসান ইবনে আবিল হাসান আল-বাসরি, আবু হাজিম সালামাহ ইবনে দীনার আল-মাদানি, মালিক ইবনে দীনার, আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে যায়েদ, উতবাহ আল-গুলাম, ইব্রাহিম ইবনে আদহাম, ফুদাইল ইবনে ইয়াদ ও তাঁর পুত্র আলী ইবনুল ফুদাইল, দাউদ আত-তাঈ এবং সুফিয়ান ইবনে সাঈদ আস-সাওরি।
(খণ্ড: ১)
আত-তাআররুফু লি-মাযহাবি আহলিত তাসাউউফ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وسُفْيَان بن عيينه وَأَبُو سُلَيْمَان الدَّارَانِي وَابْنه سُلَيْمَان وَأحمد بن الْحوَاري الدِّمَشْقِي وَأَبُو الْفَيْض ذُو النُّون بن إِبْرَاهِيم الْمصْرِيّ وَأَخُوهُ ذُو الكفل والسرى ابْن الْمُغلس السَّقطِي وَبشر بن الْحَارِث الحافي ومعروف الْكَرْخِي وأبوحذيفة المرعشي وَمُحَمّد بن الْمُبَارك الصُّورِي ويوسف بن أَسْبَاط رَحِمهم الله
সুফিয়ান ইবন উয়ায়নাহ, আবু সুলাইমান আদ-দারানি, তাঁর পুত্র সুলাইমান, আহমাদ ইবনুল হাওয়ারি আদ-দিমাশকি, আবুল ফায়দ যুন নুন ইবন ইবরাহিম আল-মিসরি, তাঁর ভাই যুল কিফল, আস-সিররি ইবনুল মুগাল্লিস আস-সাকতি, বিশর ইবনুল হারিস আল-হাফি, মারুফ আল-কারখি, আবু হুযায়ফা আল-মারআশি, মুহাম্মাদ ইবনুল মুবারক আস-সুরি এবং ইউসুফ ইবন আসবাত, আল্লাহ তাঁদের প্রতি দয়া করুন।
(খণ্ড: ১)
আত-তাআররুফু লি-মাযহাবি আহলিত তাসাউউফ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وَمن أهل خُرَاسَان والجبل أَبُو يزِيد طيفور بن عِيسَى البسطامي وَأَبُو حَفْص الْحداد النَّيْسَابُورِي وَأحمد بن خضرويه الْبَلْخِي وَسَهل بن عبد الله التسترِي ويوسف بن الْحُسَيْن الرَّازِيّ وَأَبُو بكر بن طَاهِر الْأَبْهَرِيّ وَعلي بن سهل بن الْأَزْهَر الْأَصْفَهَانِي وعَلى بن مُحَمَّد الْبَارِزِيّ وابو بكر الْكِنَانِي الدينَوَرِي وَأَبُو مُحَمَّد بن الْحسن بن مُحَمَّد الرحاني وَالْعَبَّاس بن الْفضل بن قُتَيْبَة ابْن مَنْصُور الدينَوَرِي وكهمس بن عَليّ الْهَمدَانِي وَالْحسن بن عَليّ بن يزدانيار رضي الله عنهم أَجْمَعِينَ
এবং খোরাসান ও জাবাল অঞ্চলের অধিবাসীদের মধ্যে রয়েছেন আবু ইয়াজিদ তাইফুর বিন ঈসা আল-বিস্তামি, আবু হাফস আল-হাদ্দাদ আন-নিসাবুরি, আহমদ বিন খাদরাওয়াইহ আল-বালখি, সাহল বিন আব্দুল্লাহ আত-তুস্তারি, ইউসুফ বিন আল-হুসাইন আর-রাজি, আবু বকর বিন তাহির আল-আবহারি, আলী বিন সাহল বিন আল-আজহার আল-ইসফাহানি, আলী বিন মুহাম্মদ আল-বারিজি, আবু বকর আল-কিনানি আদ-দিনাওয়ারি, আবু মুহাম্মদ বিন আল-হাসান বিন মুহাম্মদ আর-রাহানি, আব্বাস বিন আল-ফজল বিন কুতাইবাহ বিন মানসুর আদ-দিনাওয়ারি, কাহমাস বিন আলী আল-হামদানি এবং আল-হাসান বিন আলী বিন ইয়াজদানিওয়ার, আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন।
(খণ্ড: ১)
আত-তাআররুফু লি-মাযহাবি আহলিত তাসাউউফ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
الْبَاب الثَّالِث
فِيمَن نشر عُلُوم الْإِشَارَة كتبا ورسائلأَبُو الْقَاسِم الْجُنَيْد بن مُحَمَّد بن الْجُنَيْد الْبَغْدَادِيّ وَأَبُو الْحُسَيْن أَحْمد بن مُحَمَّد ابْن عبد الصَّمد النوري وَأَبُو سعيد أَحْمد بن عِيسَى الخراز وَيُقَال لَهُ لِسَان التصوف وابو مُحَمَّد رُوَيْم بن مُحَمَّد وَأَبُو الْعَبَّاس أَحْمد بن عَطاء الْبَغْدَادِيّ
তৃতীয় অধ্যায়
যাঁরা কিতাব ও রিসালার মাধ্যমে ইশারা-সংক্রান্ত ইলম (উলুমুল ইশারা) প্রচার করেছেন প্রসঙ্গেআবুল কাসিম আল-জুনায়েদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন আল-জুনায়েদ আল-বাগদাদি এবং আবু আল-হুসাইন আহমদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন আবদুস সামাদ আল-নূরী এবং আবু সাঈদ আহমদ ইবন ঈসা আল-খাররাজ—যাঁকে তাসাউফ-এর মুখপত্র বলা হয়—এবং আবু মুহাম্মাদ রুয়াইম ইবন মুহাম্মাদ এবং আবু আল-আব্বাস আহমদ ইবন আতা আল-বাগদাদি।
(খণ্ড: ১)
আত-তাআররুফু লি-মাযহাবি আহলিত তাসাউউফ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
وَأَبُو عبد الله عَمْرو بن عُثْمَان الْمَكِّيّ وَأَبُو يَعْقُوب يُوسُف بن حمدَان السُّوسِي وابو يَعْقُوب إِسْحَاق بن مُحَمَّد بن أَيُّوب النهرجورى وَأَبُو مُحَمَّد الْحسن بن مُحَمَّد الْجريرِي وَأَبُو عبد الله مُحَمَّد بن عَليّ الكتاني وَأَبُو إِسْحَاق إِبْرَاهِيم بن أَحْمد الْخَواص وَأَبُو عَليّ الأوراجي وَأَبُو بكر مُحَمَّد بن مُوسَى الوَاسِطِيّ وَأَبُو عبد الله الْهَاشِمِي وَأَبُو عبد الله هيكل الْقرشِي وَأَبُو عَليّ الرُّوذَبَارِي وَأَبُو بكر القحطي
এবং আবু আবদুল্লাহ আমর ইবনে উসমান আল-মাক্কি, এবং আবু ইয়াকুব ইউসুফ ইবনে হামদান আস-সুসি, এবং আবু ইয়াকুব ইসহাক ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আইয়ুব আন-নাহরাজুরি, এবং আবু মুহাম্মদ আল-হাসান ইবনে মুহাম্মদ আল-জুরারি, এবং আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আলি আল-কাত্তানি, এবং আবু ইসহাক ইবরাহিম ইবনে আহমদ আল-খাওয়াস, এবং আবু আলি আল-আওরাজি, এবং আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-ওয়াসিতি, এবং আবু আবদুল্লাহ আল-হাশেমি, এবং আবু আবদুল্লাহ হাইকাল আল-কুরাশি, এবং আবু আলি আর-রুজাবারি এবং আবু বকর আল-কাহতি।