(খণ্ড: ১) আল-ইলামু বিমা ফী দীনিন নাসারা মিনাল ফাসাদি ওয়াল আওহাম (পৃষ্ঠা: -)
الإعلام بما في دين النصارى من الفساد والأوهام   (القرطبي)

القسم: الفرق والردود


الكتاب: الإعلام بما في دين النصارى من الفساد والأوهام وإظهار محاسن الإسلام

المؤلف: أبو عبد الله محمد بن أحمد بن أبي بكر بن فرح الأنصاري الخزرجي شمس الدين القرطبي (ت 671هـ)

المحقق: د. أحمد حجازي السقا

الناشر: دار التراث العربي - القاهرة

سنة النشر:

عدد الصفحات: 498

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

নাসারাদের ধর্মের বিকৃতি ও বিভ্রান্তির স্বরূপ উন্মোচন   (আল-কুরতুবী)

বিভাগ: ভ্রান্ত মতবাদ ও খণ্ডন


কিতাব: আল-ইলাম বিমা ফি দ্বীনিন নাসারা মিনাল ফাসাদি ওয়াল আওহাম ওয়া ইজহারু মাহাসিনিল ইসলাম (খ্রিস্টধর্মের বিভ্রান্তি ও ভ্রান্ত ধারণাসমূহ এবং ইসলামের সৌন্দর্য প্রকাশ)

লেখক: আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আবু বকর বিন ফারাহ আল-আনসারী আল-খাযরাজী শামসুদ্দিন আল-কুরতুবী (মৃত্যু: ৬৭১ হি.)

তাহকীক: ড. আহমদ হিজাজী আল-সাক্কা

প্রকাশক: দারুত তুরাছ আল-আরাবী - কায়রো

প্রকাশকাল:

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৯৮

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-ইলামু বিমা ফী দীনিন নাসারা মিনাল ফাসাদি ওয়াল আওহাম (পৃষ্ঠা: ৪৩)
‌‌بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم

رب يسر وأعن يَا ألله

الْحَمد لله الَّذِي من علينا بتوحيده وَجَعَلنَا من أفضل عبيده الَّذِي جنبنا الْأَهْوَاء المذلة والآراء المضلة أرانا الْحق إِذْ هدَانَا لبرهانه وَدَلِيله وَأظْهر لنا الْبَاطِل وتفضل علينا بالعدول عَن سَبيله نحمده بمحامده الَّتِي لَا تحصى ونشكره على الْآيَة الَّتِي لم تزل تترى ونسأله الصَّلَاة على نجبه من كَافَّة الورى أنبيائه وَرُسُله أَئِمَّة الْهدى وخصوصا الْمَبْعُوث إِلَى الثقلَيْن الْمفضل على الْعَالمين الْمُؤَيد بِالْآيَاتِ الصادعة والبراهين القاطعة موضح الْحق بواضحات الدَّلَائِل ومرهق الْكفْر وَالْبَاطِل صلى الله عَلَيْهِ وعَلى آله الطيبين وعَلى جَمِيع النَّبِيين وَالْمُرْسلِينَ ورضى الله عَن خلفائه الرَّاشِدين وَعَن صحابته أَجْمَعِينَ وَالتَّابِعِينَ لَهُم بِإِحْسَان إِلَى يَوْم الدّين

أما بعد

فقد وقفت وفقك الله على كتاب كتب بِهِ بعض المنتحلين لدين الْملَّة النَّصْرَانِيَّة سَمَّاهُ كتاب تثليث الوحدانية بعث بِهِ من طليطلة أَعَادَهَا الله إِلَى مَدِينَة قرطبة حرسها الله متعرضا فِيهِ لدين الْمُسلمين نائلا فِيهِ من عِصَابَة الْحق الْمُوَحِّدين سَائِلًا عَمَّا لَا يعنيه ومتكلما بِمَا لَا يدريه فأمعنت النّظر فِيهِ فَإِذا بالمتكلم يهرف بِمَا لَا يعرف وينطق بِمَا لَا يُحَقّق نَاقض وَلم يشْعر وعمى من حَيْثُ يظنّ أَنه يستبصر {أم تحسب أَن أَكْثَرهم يسمعُونَ أَو يعْقلُونَ إِن هم إِلَّا كالأنعام بل هم أضلّ} يلحن إِذا كتب ويعجم مَتى أعرب … وَذي خطل فِي القَوْل تحسب أَنه

مُصِيب فَمَا يلمم بِهِ فَهُوَ قَائِله …

 

دلّ بقوله على ضعف عقله وبمكاتبته على سوء محاولته تعاطى دَرَجَة النظار وسود بأباطيله ذَلِك الطومار ليستزل بِهِ الأغبياء
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

হে প্রভু, সহজ করে দিন এবং সাহায্য করুন, হে আল্লাহ

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের প্রতি তাঁর একত্ববাদের মাধ্যমে অনুগ্রহ করেছেন এবং আমাদের তাঁর শ্রেষ্ঠ বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন; যিনি আমাদের লাঞ্ছনাকর প্রবৃত্তি এবং বিভ্রান্তিকর মতবাদসমূহ থেকে দূরে রেখেছেন; তিনি যখন আমাদের তাঁর অকাট্য দলিল ও প্রমাণের দিকে পরিচালিত করেছেন তখন আমাদের নিকট সত্যকে উন্মোচিত করেছেন এবং আমাদের নিকট মিথ্যাকে স্পষ্ট করেছেন এবং মিথ্যার পথ বর্জন করার তাওফিক দিয়ে আমাদের ধন্য করেছেন। আমরা তাঁর প্রশংসা করি এমন সব প্রশংসার মাধ্যমে যা গণনা করা সম্ভব নয় এবং তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি সেই নিদর্শনের জন্য যা অবিরাম বর্ষিত হচ্ছে। আমরা তাঁর নিকট প্রার্থনা করি তাঁর সকল সৃষ্টির মধ্যে মনোনীত ব্যক্তিবর্গের ওপর রহমত বর্ষণের জন্য—যাঁরা তাঁর নবী ও রাসূল এবং হেদায়াতের ইমাম; বিশেষত তাঁর ওপর, যাঁকে মানব ও জিন জাতির নিকট প্রেরণ করা হয়েছে, যিনি জগতসমূহের ওপর শ্রেষ্ঠত্বপ্রাপ্ত, যিনি সুস্পষ্ট নিদর্শন ও অকাট্য প্রমাণের মাধ্যমে সমর্থিত, যিনি স্পষ্ট দলিলের মাধ্যমে সত্যকে ব্যাখ্যাকারী এবং কুফর ও বাতিলকে পর্যুদস্তকারী। আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক তাঁর ওপর, তাঁর পবিত্র পরিবারবর্গের ওপর এবং সকল নবী ও রাসূলগণের ওপর। আর আল্লাহ সন্তুষ্ট হোন তাঁর খোলাফায়ে রাশেদীন, তাঁর সকল সাহাবী এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে তাদের ওপর।

অতঃপর

আল্লাহ আপনাকে তাওফিক দান করুন; আমি এমন একটি কিতাব অবগত হয়েছি যা খ্রিষ্টধর্মাবলম্বী হওয়ার দাবিদার জনৈক ব্যক্তি রচনা করেছে এবং যার নাম দিয়েছে 'একত্বের ত্রিত্ববাদ' বিষয়ক গ্রন্থ। সেটি তোলেদাহ থেকে—আল্লাহ একে পুনরায় মুসলিমদের অধিকারে ফিরিয়ে দিন—কুরতুবাহ নগরীতে—আল্লাহ একে হেফাযত করুন—প্রেরণ করা হয়েছে। লেখক তাতে মুসলিমদের দ্বীন নিয়ে কটাক্ষ করেছে এবং একত্ববাদী সত্যপন্থীদের দলটিকে আক্রমণ করেছে। সে এমন বিষয়ে প্রশ্ন করেছে যা তার জন্য অনাবশ্যক এবং এমন বিষয়ে কথা বলেছে যা সে জানে না। আমি এতে গভীরভাবে দৃষ্টিপাত করেছি এবং দেখলাম যে, এই বক্তা এমন বিষয়ে প্রলাপ বকছে যা সে জানে না এবং এমন কথা বলছে যা সে যাচাই করেনি। সে নিজের অজান্তেই স্ববিরোধী কথা বলছে এবং যেখানে সে মনে করছে যে সে অন্তর্দৃষ্টি লাভ করেছে, সেখানেই সে অন্ধ হয়ে গেছে। {অথবা আপনি কি মনে করেন যে তাদের অধিকাংশ শোনে বা বোঝে? তারা তো চতুষ্পদ জন্তুর মতো; বরং তারা আরও বেশি পথভ্রষ্ট।} সে যখন লেখে তখন ব্যাকরণগত ভুল করে এবং যখন শুদ্ধ রূপ দিতে চায় তখন তা অস্পষ্ট হয়ে যায় … আর সেই বাচাল ব্যক্তির কথা তুমি মনে করো যে সে

সঠিক বলছে, অথচ সে যা নিয়ে কথা বলছে তাতে কোনো সারবত্তা নেই …

 

সে তার কথার মাধ্যমে নিজের বুদ্ধির দুর্বলতা এবং তার পত্রের মাধ্যমে নিজের অসৎ উদ্দেশ্যের প্রমাণ দিয়েছে। সে বিচার-বিশ্লেষকদের মর্যাদা দাবি করেছে এবং নিজের মিথ্যাচারের মাধ্যমে সেই কাগজকে কলঙ্কিত করেছে, যাতে নির্বোধদের বিভ্রান্ত করতে পারে।
(খণ্ড: ১) আল-ইলামু বিমা ফী দীনিন নাসারা মিনাল ফাসাদি ওয়াল আওহাম (পৃষ্ঠা: ৪৪)
الأغمار وَيحصل بذلك على مآكله شنار {فويل لَهُم مِمَّا كتبت أَيْديهم وويل لَهُم مِمَّا يَكْسِبُونَ} وليته إِذا ادّعى النّظر سلك طَرِيقه وألتزم شُرُوطه فاعترف بالبديهيات وَلم ينظر الضروريات الَّتِي هِيَ أصُول النظريات وَلَكِن حل من عُنُقه ربقة الْعُقُول فَهُوَ فِي كل جَهَالَة يجول وإليها يَدْعُو وَبهَا يَقُول فليته لَو دفن من عواره مَا كَانَ مسطورا وَلَكِن كَانَ ذَلِك عَلَيْهِ فِي الْكتاب مسطورا … وَإِن لِسَان الْمَرْء مَا لم تكن لَهُ

حَصَاة على عوراته لدَلِيل …

 

فاستخرت الله تَعَالَى فِي جَوَابه على تَخْلِيط مَعَانِيه وتثبيج خطابه بعد أَن أَقُول لَهُ اعْلَم يَا هَذَا إِن الْبُغَاة بأرضنا لَا تستنسر والتمييز عندنَا بَين الْفضة والقصة متيسر وَهَا أَنا إِن شَاءَ الله تَعَالَى أجاوبك على مَا كتبت حرفا حرفا وَأبين فَسَاده الَّذِي لَا يكَاد يخفى على أَنهم لَو فتح عَلَيْهِم بَابا من السَّمَاء {فظلوا فِيهِ يعرجون لقالوا إِنَّمَا سكرت أبصارنا بل نَحن قوم مسحورون} فَكيف لَا وَقد ركبُوا من اسْتِحَالَة الإتحاد والتثليث والحلول مَا يدْرك فَسَاده بضرورة الْعُقُول وَقد قَالُوا فِي الآب والإبن والأقانيم مَا تمجه بفطرته الأولى كل ذِي فهم مُسْتَقِيم وَلَا يَتَّسِع لقبوله قلب ذِي عقل سليم … وَمن كَانَ اللعين لَهُ لِسَانا

فَكل جداله زور ونكر

فَكل مقالهم إفْك وزيغ

وَنَصّ كِتَابهمْ شرك وَكفر …

 

وَمن أعظم مَا ظهر عَلَيْهِم من الْفَاسِد فصرفوا لذَلِك عَن التَّوْفِيق والرشاد إنكارهم مَا يدل على نبوة نَبينَا من المعجزات وواضح الدلالات وَقد قاربت الضرورات حَتَّى أَنْكَرُوا مَا جَاءَ فِي كتبهمْ من الْإِعْلَام على نبوته وَإِيجَاب إتباع شَرِيعَته فَلَقَد كانو يجدونه مَكْتُوبًا عِنْدهم ويعرفونه كَمَا يعْرفُونَ أَبْنَاءَهُم وسأذكر إِن شَاءَ الله تَعَالَى مَا وَقع فِي أَنَاجِيلهمْ من وَصفه وصحيح نَعته وَلما تبين للعقلاء عنادهم سقط لذَلِك إرشادهم وَوَجَب حملهمْ على السَّيْف وجهادهم فقد يفعل الله بِالسَّيْفِ وَاللِّسَان مَا لَا يفعل بالبرهان وَمن كَلَام الْحُكَمَاء يزغ الله بالسلطان مَالا يزغ بِالْقُرْآنِ فَأَعْرض الْعُقَلَاء عَنْهُم
অনভিজ্ঞ ব্যক্তিগণ, এর মাধ্যমে তিনি নিজের জীবিকা অর্জন করেন যা লজ্জাজনক; {সুতরাং তাদের হস্তলিপি যা লিখেছে তার জন্য তাদের প্রতি আক্ষেপ এবং তারা যা উপার্জন করে তার জন্যও তাদের প্রতি আক্ষেপ।} হায়, তিনি যদি পাণ্ডিত্যের দাবিই করেন তবে যেন সে পথেই চলতেন এবং এর শর্তাবলি মেনে চলতেন। তিনি যেন স্বতঃসিদ্ধ বিষয়গুলোকে স্বীকার করতেন এবং সেই আবশ্যিক বিষয়গুলোকে অবজ্ঞা না করতেন যা তাত্ত্বিক জ্ঞানের মূল ভিত্তি। কিন্তু তিনি স্বীয় গ্রীবা হতে বিচারবুদ্ধির বন্ধন খুলে ফেলেছেন। ফলে তিনি প্রতিটি মূর্খতার মধ্যে বিচরণ করছেন, সেদিকেই আহ্বান করছেন এবং সেই অনুযায়ী কথা বলছেন। হায়, তিনি যদি তার নথিবদ্ধ কলঙ্কগুলো গোপন রাখতেন! কিন্তু কিতাবে তা তার বিরুদ্ধেই লিখিত হয়ে আছে … আর মানুষের জিহ্বা—যদি তার দোষত্রুটি দমনে ধৈর্য না থাকে—তবে তা বিপদের পথপ্রদর্শক মাত্র …

 

অতঃপর আমি আল্লাহর নিকট তার অসংলগ্ন অর্থ এবং বিশৃঙ্খল বক্তব্যের উত্তর প্রদানের বিষয়ে ইস্তিখারা করেছি; তাকে এটি বলার পর যে—হে ব্যক্তি! জেনে রেখো, আমাদের ভূমিতে সাধারণ চড়ুই কখনো ঈগল হয় না, আর আমাদের নিকট খাঁটি রূপা ও কৃত্রিম পাথরের মধ্যকার পার্থক্য নিরূপণ করা অত্যন্ত সহজ। আর এখন আমি, ইনশাআল্লাহ তাআলা, তোমার প্রতিটি লিখিত কথার বর্ণে বর্ণে উত্তর প্রদান করব এবং এর এমন অসারতা প্রমাণ করব যা গোপন থাকার নয়। যদিও তাদের জন্য আকাশের কোনো দ্বার উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় {অতঃপর তারা তাতে আরোহণ করতে থাকে, তবুও তারা বলবে—আমাদের দৃষ্টি তো আবিষ্ট করা হয়েছে, বরং আমরা এক জাদুগ্রস্ত সম্প্রদায়।} কেনই বা তা হবে না? অথচ তারা ‘ইত্তিহাদ’ (একত্ব), ‘তাসলিস’ (ত্রিত্ববাদ) এবং ‘হুলুল’ (অবতারবাদ)-এর ন্যায় এমন অসম্ভব বিষয়সমূহ অবলম্বন করেছে, যার অসারতা সাধারণ বিচারবুদ্ধিতেই স্পষ্ট। তারা পিতা, পুত্র এবং তিন সত্তা (আকানিমে সালাসা) সম্পর্কে এমন সব কথা বলেছে যা সুস্থ প্রকৃতির অধিকারী প্রতিটি বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন ব্যক্তি ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে এবং সুস্থ হৃদয়ের অধিকারীদের পক্ষে তা গ্রহণ করা সম্ভব নয় … যার জিহ্বা হয়েছে অভিশপ্ত শয়তানের প্ররোচনাধীন,

তার প্রতিটি বিতর্কই মিথ্যা ও মন্দ।

তাদের প্রতিটি বক্তব্যই মিথ্যাচার ও বিভ্রান্তি,

আর তাদের কিতাবের মূল পাঠ শিরক ও কুফরিতে পূর্ণ। …

 

তাদের মধ্যে প্রকাশিত ভ্রান্ত বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম মহত্তম ভ্রান্তি—যা তাদের আল্লাহর তাওফিক ও সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত করেছে—তা হলো আমাদের নবীর নবুওয়তের সপক্ষে বিদ্যমান মুজিযা ও স্পষ্ট প্রমাণসমূহ অস্বীকার করা। বিষয়টি সত্যের এতোটাই কাছাকাছি যে, এমনকি তারা তাদের নিজস্ব কিতাবে বর্ণিত নবীর আগমনের সুসংবাদ এবং তাঁর শরিয়তের অনুসরণের আবশ্যকতাও অস্বীকার করেছে। অথচ তারা তাঁকে তাদের কাছে লিখিত পেত এবং তাঁকে ঠিক সেভাবেই চিনত যেভাবে তারা তাদের সন্তানদের চিনে থাকে। আর আমি ইনশাআল্লাহ তাআলা তাদের ইঞ্জিলসমূহে বর্ণিত তাঁর গুণাবলি এবং সঠিক বর্ণনাসমূহ উল্লেখ করব। যখন জ্ঞানীদের নিকট তাদের হঠকারিতা স্পষ্ট হয়ে উঠল, তখন তাদের সৎপথ প্রদর্শনের প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে গেল এবং তাদের বিরুদ্ধে তরবারি ধারণ ও জিহাদ করা আবশ্যক হয়ে পড়ল। কেননা আল্লাহ তাআলা তরবারি এবং জিহ্বা দিয়ে এমন কিছু সংশোধন করেন যা কেবল অকাট্য প্রমাণ দ্বারা সম্ভব হয় না। মনীষীদের উক্তি অনুযায়ী—আল্লাহ রাষ্ট্রশক্তির মাধ্যমে এমন সব বিষয় দমন করেন যা কেবল কুরআনের উপদেশের মাধ্যমে দমিত হয় না। ফলে বিবেকবান ব্যক্তিগণ তাদের থেকে বিমুখ হলেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইলামু বিমা ফী দীনিন নাসারা মিনাল ফাসাদি ওয়াল আওহাম (পৃষ্ঠা: ৪৫)
واكتفوا من الرَّد عَلَيْهِم بحكاية مَذْهَبهم ووكلوا النَّاظر فِيهِ لظُهُور تناقضه وَفَسَاد مَعَانِيه

وَقد كنت عزمت على الإقتداء بالعقلاء فِي الْإِعْرَاض حَتَّى أَكثر هَذَا الْمُتَكَلّم من التَّعَرُّض والإعتراض فَتعين لذَلِك الْجَواب وَأَنا أسأَل الله التَّوْفِيق للصَّوَاب ومجانبة الْخَطَأ وَمَا يُوجب العتاب أَنه ولى التَّوْفِيق وَهُوَ بإجابة السَّائِلين حقيق

فصل لتعلم يَا هَذَا المنتسب لدين الْمَسِيح أَنى أجاوبك إِن شَاءَ الله تَعَالَى بمنطق عَرَبِيّ فصيح أسلك فِيهِ مَسْلَك الأنصاف وأترك طَرِيق التعصب والإعتساف على أَن كلامك لَا يسْتَحق الإصغاء إِلَيْهِ وَلَا الْجَواب عَنهُ لِأَنَّك لَا تحسن السُّؤَال وَلَا تعرف تَرْتِيب الْمقَال بل تَقول مَا لَا تفهم وتكتفي بأنك تَتَكَلَّم وَلكَون كلامك هَذَا كثير الْغَلَط ظَاهر التَّنَاقُض والشطط وَأَنت مَعَ ذَلِك لَا تعرف مَذَاهِب النَّصَارَى الْمُتَقَدِّمين الَّذين كَانُوا بِنَوْع نظر مُتَمَسِّكِينَ وَإِن كَانُوا عَن مَذْهَب الْحق ناكبين حَتَّى أَنهم لَو سمعُوا كثيرا مِمَّا ذكرته لتبرأوا عَنهُ ولأنفوا مِنْهُ إِذْ لَا ينْسب أَكثر ذَلِك إِلَى من تكايس مِنْهُم وَلَا يرْوى بِحَال عَنْهُم على أَنهم فِي أصُول عقائدهم مُخْتَلفُونَ وَفِي ورطة الْجَهْل مرتبكون وسنبين لَك ذَلِك كُله إِن شَاءَ الله تَعَالَى

وَلما تبين ذَلِك مِنْك أعرض الْمُسلمُونَ عَن جوابك ونزهوا أنفسهم عَن خطابك إِذْ الْأَعْرَاض عَن الْجَاهِلين شرعة رب الْعَالمين على لِسَان سيد الْمُرْسلين وَأَيْضًا فَمن لم يعرف شُرُوط النّظر وَلم يسْلك مسالك الْبَحْث والعبر فَالْكَلَام مَعَه ضرب فِي حَدِيد بَارِد وَعمل لَيْسَ لَهُ جدوى وَلَا عايد

وَلما أَعرضُوا عَنْك لجهالتك تبجحت بذلك عِنْد عصابتك فَظَنَنْت أَن سكوتنا عَنْك إِنَّمَا هُوَ لرهبة مِنْك حَتَّى لقد أبلغتنا عَنْك نكرا وَقلت فِي كتابك هَذَا فحشا وهجرا فَنحْن وَإِيَّاك كَمَا قَالَ … سكت عَن السَّفِيه فَظن أَنى

عييت عَن الْجَواب وَمَا عييت …

 

فَعظم هَذَا الْأَمر حِين نمى خَبره إِلَى مَعَ أَنه رغب إِلَى فِي ذَلِك جمَاعَة من الإخوان فَصَارَ ذَلِك على كَأَنَّهُ من فروض الْأَعْيَان فاغتنمتها
তারা তাদের খণ্ডনে কেবল তাদের মতবাদ বর্ণনা করার মাধ্যমেই ক্ষান্ত হয়েছেন এবং বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন ব্যক্তির ওপরই এর ভার অর্পণ করেছেন; কেননা তাদের মতবাদের বৈপরীত্য ও অর্থহীনতা অত্যন্ত সুস্পষ্ট।

আমি জ্ঞানীদের অনুসরণ করে এই বিষয়টিকে উপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, যতক্ষণ না এই বক্তা অযাচিত হস্তক্ষেপ ও আপত্তির মাত্রা ছাড়িয়ে গেল। ফলে তখন উত্তর দেওয়া অনিবার্য হয়ে দাঁড়ালো। আমি আল্লাহর নিকট সঠিক পথের তাওফিক এবং ভুল ও তিরস্কারযোগ্য বিষয় থেকে বেঁচে থাকার প্রার্থনা করছি; নিশ্চয়ই তিনি তাওফিক প্রদানের মালিক এবং প্রার্থনাকারীদের ডাকে সাড়া দেওয়ার যোগ্য।

পরিচ্ছেদ: হে খ্রিষ্টধর্মের অনুসারী! জেনে রেখো যে, আমি আল্লাহ তাআলার ইচ্ছায় তোমার উত্তর প্রদান করব এক সাবলীল যুক্তিশৈলীর মাধ্যমে, যেখানে আমি ইনসাফের পথ অনুসরণ করব এবং গোঁড়ামি ও অবিচারের পথ বর্জন করব। যদিও তোমার কথাগুলো কর্ণপাত করার বা উত্তর দেওয়ার যোগ্য নয়; কেননা তুমি না জানো প্রশ্ন করার নিয়ম, না জানো আলোচনার ধারাবাহিকতা। বরং তুমি এমন কিছু বলো যা তুমি নিজেই বোঝো না এবং কেবল কথা বলাটাকেই যথেষ্ট মনে করো। তদুপরি তোমার বক্তব্য ভুলভ্রান্তিতে পূর্ণ, বৈপরীত্য ও বাড়াবাড়িতে ভরপুর। উপরন্তু তুমি পূর্ববর্তী খ্রিষ্টানদের মতবাদ সম্পর্কেও অবগত নও, যারা সত্যের পথ থেকে বিচ্যুত হওয়া সত্ত্বেও অন্তত এক প্রকার বিচারবুদ্ধির অনুসারী ছিলেন। এমনকি তুমি যা উল্লেখ করেছ তার অনেক কিছু যদি তারা শুনতেন, তবে তারা তা থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করতেন এবং ঘৃণাভরে তা প্রত্যাখ্যান করতেন। কেননা তাদের মধ্যকার বুদ্ধিমান ব্যক্তিদের প্রতি এর অধিকাংশ বিষয়ই আরোপ করা যায় না এবং কোনো অবস্থাতেই তাদের থেকে এমন কিছু বর্ণিত হয়নি। অথচ তারাও তাদের মৌলিক বিশ্বাসে মতভেদে লিপ্ত এবং মূর্খতার অতল গহ্বরে নিমজ্জিত। আল্লাহ তাআলা চাইলে আমি তোমার সামনে এর সবই সবিস্তারে তুলে ধরব।

তোমার এই অসারতা প্রকাশ পাওয়ার পর মুসলিমগণ তোমার উত্তর দেওয়া থেকে বিরত রয়েছেন এবং তোমার সাথে কথা বলা থেকে নিজেদের দূরে রেখেছেন। কেননা জাহেলদের উপেক্ষা করা রাব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে সাইয়্যেদুল মুরসালিনের মাধ্যমে প্রবর্তিত একটি বিধান। এছাড়া যে ব্যক্তি পর্যালোচনার শর্তাবলি জানে না এবং অনুসন্ধান ও শিক্ষালাভের পথ অনুসরণ করে না, তার সাথে কথা বলা যেন ঠান্ডা লোহায় হাতুড়ি পেটানো—যার কোনো ফলাফল বা কার্যকারিতা নেই।

তোমার অজ্ঞতার কারণে তারা যখন তোমাকে উপেক্ষা করলেন, তখন তুমি তোমার স্বগোত্রীয়দের নিকট তা নিয়ে বড়াই করতে লাগলে। তুমি ধারণা করলে যে, আমাদের এই নীরবতা কেবল তোমার ভয়ের কারণে। এমনকি তুমি আমাদের পর্যন্ত অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ খবর পাঠালে এবং তোমার এই কিতাবে অশ্লীল ও অসংলগ্ন কথা বললে। সুতরাং আমাদের ও তোমার অবস্থা সেই কবিতার মতোই যেমন বলা হয়েছে: … আমি নির্বোধের সামনে নীরব থাকলাম, ফলে সে মনে করল যে আমি

উত্তর দিতে অপারগ, অথচ আমি অপারগ ছিলাম না …

 

যখন এই বিষয়টি আমার কানে এল, তখন আমার নিকট এটি অত্যন্ত গুরুতর বলে অনুভূত হলো। তাছাড়া একদল ভাই আমাকে এই বিষয়ে অনুরোধ করলেন, ফলে আমার নিকট এটি যেন ফরজে আইন বা ব্যক্তিগত আবশ্যিক কর্তব্যে পরিণত হলো। তাই আমি এই সুযোগটিকে লুফে নিলাম।
(খণ্ড: ১) আল-ইলামু বিমা ফী দীনিন নাসারা মিনাল ফাসাদি ওয়াল আওহাম (পৃষ্ঠা: ৪৬)
فرْصَة وسررت بهَا قصَّة لعلمي أَن النكاية فِي الْعَدو بالبرهان وَاللِّسَان أوقع من نكاية السَّيْف والسنان

والرجا من مَالك الدَّاريْنِ الْجمع بَين الْأَمريْنِ واحراز أجر العملين على أَنى لَا أتعرضهم بقزع السباب وَلَا أنزل مَعَهم إِلَّا إعتذار وعتاب وَإِنَّمَا هُوَ إِظْهَار جهلهم وتناقض مَذْهَبهم وَقَوْلهمْ

فأذكر كَلَام هَذَا السَّائِل كَمَا بَلغنِي وَأبين من خطئه وتناقضه مَا شَاءَ الله أَن يفهمني فأناقشه فِي لَفظه وَأظْهر سوء نَقله وَحفظه

فَتَارَة أسأله وَأُخْرَى أجاوبه ليعلم أَن النَّاقِد بَصِير والباحث خَبِير وليتبين عيه وجهله للكبير وَالصَّغِير ثمَّ من بعد الْفَرَاغ من تتبع كَلَامه أعطف بالمناظرة على أقسته ورهبانه فأحكى مذاهبهم كَمَا دونوها فِي كتبهمْ وعَلى مَا تلقفوها من أسقاقفتهم ثمَّ أسبرها على محك الْعرض وَأبين بعض مافيها من الْفساد والنقض وَمَا توفيقي إِلَّا بِاللَّه وَهُوَ حسبي وَنعم الْوَكِيل

وَقد استخرت الله تَعَالَى فِي أَن أجمل هَذَا الْكتاب على صدر وَأَرْبَعَة أَبْوَاب

الْبَاب الأول فِي الْكَلَام على الأقانيم الْبَاب الثَّانِي: فِي الِاتِّحَاد والحلول

الْبَاب الثَّالِث فِي الْكَلَام على النبوات وَإِثْبَات نبوة نَبينَا عليه الصلاة والسلام

الْبَاب الرَّابِع فِي جمل من فروع أحكامهم أبين فِيهَا أَن لَيْسَ لَهُم فِي أحكامهم مُسْتَند إِلَّا مَحْض الْهوى والتحكم واللدد

وكل بَاب من هَذِه الْأَبْوَاب يتَضَمَّن فصولا وَأَنا أسأَل الله تَعَالَى أَن يُطلق ألسنتنا بِالْحَقِّ وَالْحكمَة ويخرسها عَن الْبَاطِل والفتنة أَنه ذُو الْفضل وَالنعْمَة وَالْعَفو وَالرَّحْمَة
এটি একটি সুযোগ এবং এতে আমি আনন্দিত হয়েছি; কেননা আমার জানা আছে যে, প্রমাণ ও জিহ্বার মাধ্যমে শত্রুকে পরাস্ত করা তলোয়ার ও বল্লমের আঘাতের চেয়েও অধিক কার্যকর।

আর উভয় জগতের অধিপতির নিকট আশা রাখি যেন তিনি উভয় বিষয়ের সমন্বয় ঘটান এবং উভয় কর্মের পুণ্য দান করেন; আর আমি তাদের প্রতি কোনো অশালীন গালিগালাজ করব না এবং তাদের সাথে ওজরখাহি ও অনুযোগ ব্যতীত অন্য কোনো আচরণ করব না। বরং এর উদ্দেশ্য হলো তাদের অজ্ঞতা এবং তাদের মতাদর্শ ও বক্তব্যের স্ববিরোধিতা প্রকাশ করা।

সুতরাং এই প্রশ্নকারীর বক্তব্য যেভাবে আমার নিকট পৌঁছেছে আমি তা উল্লেখ করব এবং তার ভুল ও স্ববিরোধিতার মধ্য থেকে আল্লাহ আমাকে যা বোঝার তৌফিক দান করবেন তা স্পষ্ট করব। আমি তার শব্দচয়ন নিয়ে বিতর্ক করব এবং তার বর্ণনা ও মুখস্থবিদ্যার ত্রুটিসমূহ তুলে ধরব।

কখনও আমি তাকে প্রশ্ন করব, আবার কখনও উত্তর প্রদান করব—যাতে প্রতীয়মান হয় যে সমালোচক দূরদর্শী এবং গবেষক অভিজ্ঞ; আর যেন আবালবৃদ্ধবনিতার নিকট তার অক্ষমতা ও অজ্ঞতা স্পষ্ট হয়ে যায়। অতঃপর তার বক্তব্যের চুলচেরা বিশ্লেষণ শেষে আমি তাদের যাজক ও সন্ন্যাসীদের সাথে বিতর্কে অবতীর্ণ হব। আমি তাদের মতবাদগুলো সেভাবেই বর্ণনা করব যেভাবে তারা তাদের কিতাবসমূহে লিপিবদ্ধ করেছে এবং যেভাবে তারা তাদের বিশপগণের নিকট থেকে গ্রহণ করেছে। এরপর আমি সেগুলো উপস্থাপনের কষ্টিপাথরে যাচাই করব এবং সেগুলোর মধ্যকার অসারতা ও অসংগতিসমূহ তুলে ধরব। আমার এই তাওফিক কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই; তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট এবং কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।

আর আমি আল্লাহ তাআলার নিকট ইস্তিখারা করেছি এই কিতাবটি একটি ভূমিকা ও চারটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করার বিষয়ে।

প্রথম অধ্যায়: আকানিম (ত্রিত্ববাদের মূলনীতি) প্রসঙ্গে। দ্বিতীয় অধ্যায়: ইত্তিহাদ (একীভূত হওয়া) ও হুলুল (অবতারবাদ) প্রসঙ্গে।

তৃতীয় অধ্যায়: নবুয়ত এবং আমাদের নবী—তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক—এর নবুয়ত প্রমাণের আলোচনা প্রসঙ্গে।

চতুর্থ অধ্যায়: তাদের বিধিবিধানের শাখাসমূহ প্রসঙ্গে, যেখানে আমি স্পষ্ট করব যে, তাদের বিধানসমূহের পেছনে নিছক খেয়ালখুশি, স্বেচ্ছাচারিতা ও হঠকারিতা ব্যতীত কোনো নির্ভরযোগ্য ভিত্তি নেই।

এই অধ্যায়গুলোর প্রত্যেকটি একাধিক পরিচ্ছেদ সংবলিত। আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি যেন তিনি আমাদের জিহ্বাকে সত্য ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে সচল রাখেন এবং মিথ্যা ও ফিতনা থেকে বোবা করে দেন। নিশ্চয়ই তিনি অসীম অনুগ্রহ, নিয়ামত, ক্ষমা ও দয়ার আধার।
(খণ্ড: ১) আল-ইলামু বিমা ফী দীনিন নাসারা মিনাল ফাসাদি ওয়াল আওহাম (পৃষ্ঠা: ৪৭)
‌‌صدر الْكتاب

نذْكر فِي هَذَا الصَّدْر كَلَام هَذَا السَّائِل فِي خطْبَة كِتَابه وَالْجَوَاب عَلَيْهَا إِن شَاءَ الله تَعَالَى

‌‌فصل

فِي حِكَايَة كَلَام السَّائِل فِي خطْبَة كِتَابه

قَالَ كتاب تثليث الوحدانية فِي معرفَة الله ثمَّ قَالَ الْحَمد لله بَالغ القوى الَّتِي فطرنا عَلَيْهَا وأمرنا بِحَمْدِهِ فَنحْن نحمده ونشكره ونعظمه بِمثل تعارفنا فِي الْحَمد وَالشُّكْر والتعظيم لملوكنا وَأهل الرهبة من ذَوي السُّلْطَان منا فرضا لَهُ شاكرين حامدين معظمين غير واقفين على ذَاته وَلَا مدركين لشَيْء مِنْهُ وَإِنَّمَا نقع على أَسمَاء أَفعاله فِي خليقته وتدبيره فِي ربوبيته

الْجَواب عَن تَرْجَمته أما قَوْله تثليث الوحدانية فَكَلَام متناقض لفظا وفاسد معنى بَيَان ذَلِك أَن قَوْله تثليث الوحدانية كَلَام مركب من مُضَاف ومضاف إِلَيْهِ وَلَا يفهم الْمُضَاف مَا لم يفهم الْمُضَاف إِلَيْهِ فَأَقُول لفظ الوحدانية مَأْخُوذ من الْوحدَة وَمَعْنَاهَا رَاجع إِلَى نفى التَّعَدُّد وَالْكَثْرَة فَهِيَ إِذن من أَسمَاء السلوب فَإِذا وَصفنَا بهَا مَوْجُودا فقد نَفينَا عَنهُ التَّعَدُّد وَالْكَثْرَة والتثليث مَعْنَاهُ تعدد وَكَثْرَة فَإِذا أضَاف هَذَا الْقَائِل التَّثْلِيث للوحدة فَكَأَنَّهُ قَالَ تَكْثِير مَالا يتكثر وتكثير مَالا يتكثر بَاطِل بِالضَّرُورَةِ فَأول كلمة تكلم بهَا هَذَا السَّائِل متناقضة وباطلة بِالضَّرُورَةِ

وَأما قَوْله فِي معرفَة الله فَقَوْل لم يحط بِمَعْنَاهُ وَلَا فهم مُسَمَّاهُ وَإِلَّا فَمَا حد الْمعرفَة وَكم أقسامها وَهل يَصح أَن تكون مكتسبة لنا وَهل يجوز عقلا أَن يكلفنا بهَا الْأَنْبِيَاء وَإِن جَازَ ذَلِك فَمَا طَرِيق تَحْصِيلهَا

ثمَّ هول بِهَذَا اللَّفْظ وأوهم أَنه حصل مِنْهَا على حَظّ فَإِن كَانَ دليلك يَا هَذَا على معرفَة الله تَعَالَى مَا ضممته كتابك فابك على مصابك واقرع
গ্রন্থের সূচনা

আমরা এই সূচনায় উক্ত প্রশ্নকর্তার স্বীয় গ্রন্থের ভূমিকায় উপস্থাপিত বক্তব্য এবং তার উত্তর উল্লেখ করব, ইনশাআল্লাহ (আল্লাহ তাআলা যদি চান)।

পরিচ্ছেদ

প্রশ্নকর্তার গ্রন্থের ভূমিকার বক্তব্য বর্ণন প্রসঙ্গে।

তিনি (প্রশ্নকর্তা) বলেন: "আল্লাহর পরিচয় প্রসঙ্গে একত্ববাদের ত্রিত্বকরণ বিষয়ক গ্রন্থ।" অতঃপর তিনি বলেন: "সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সেই শক্তির পূর্ণতাদানকারী যার ওপর ভিত্তি করে তিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন এবং আমাদের তাঁর প্রশংসার নির্দেশ দিয়েছেন। অতএব আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি এবং তাঁকে সেভাবেই মহিমান্বিত করি যেভাবে আমাদের রাজন্যবর্গ এবং আমাদের মধ্য হতে যারা ভীতিপ্রদ ক্ষমতার অধিকারী তাদের ক্ষেত্রে আমরা প্রশংসা, কৃতজ্ঞতা ও সম্মান প্রদর্শনে অভ্যস্ত; আমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশকারী, প্রশংসাকারী ও মহিমান্বিতকারী হিসেবে তাঁর প্রতি এটি অবশ্যকর্তব্য মনে করি। আমরা তাঁর সত্তার স্বরূপ সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞাত নই এবং তাঁর সত্তার কোনো অংশই অনুধাবন করতে সক্ষম নই; বরং আমরা কেবল তাঁর সৃষ্টিজগতে তাঁর কর্মসমূহের নামসমূহ এবং তাঁর প্রভুত্বের ব্যবস্থাপনার সাথেই পরিচিত হই।"

তাঁর শিরোনামের উত্তর: তাঁর এই উক্তি 'একত্ববাদের ত্রিত্বকরণ'—শাব্দিকভাবে স্ববিরোধী এবং অর্থগতভাবে ভ্রান্ত। এর ব্যাখ্যা হলো, তাঁর এই 'একত্ববাদের ত্রিত্বকরণ' কথাটি সম্বন্ধপদ এবং সম্বন্ধীপদ দ্বারা গঠিত একটি যৌগিক বাক্য। সম্বন্ধীপদ না বুঝলে সম্বন্ধপদটি বোঝা সম্ভব নয়। আমি বলছি: 'একত্ববাদ' শব্দটি 'একত্ব' থেকে গৃহীত, যার অর্থ হলো বহুত্ব ও আধিক্যকে অস্বীকার করা। সুতরাং এটি নেতিবাচক গুণবাচক নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত। যখন আমরা কোনো সত্তাকে এর দ্বারা বিশেষিত করি, তখন আমরা তাঁর থেকে বহুত্ব ও আধিক্যকে অস্বীকার করি। পক্ষান্তরে, 'ত্রিত্বকরণ' শব্দের অর্থ হলো বহুত্ব ও আধিক্য। অতএব যখন এই বক্তা ত্রিত্বকরণকে একত্বের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করলেন, তখন বিষয়টি এমন দাঁড়ালো যেন তিনি বললেন: 'যা বহুত্ব গ্রহণ করে না তাকে বহু করা'। আর যা বহুত্ব গ্রহণ করে না তাকে বহু করা অনিবার্যভাবে অসার। সুতরাং এই প্রশ্নকর্তা প্রথম যে কথাটি উচ্চারণ করেছেন তা স্ববিরোধী এবং অকাট্যভাবেই বাতিল।

আর 'আল্লাহর পরিচয় প্রসঙ্গে' তাঁর এই উক্তির ক্ষেত্রে বলা যায়, তিনি এর অর্থের গভীরতা অনুধাবন করতে পারেননি এবং এর মর্মার্থও বুঝতে সক্ষম হননি। নতুবা, পরিচয়ের সংজ্ঞা কী? এর প্রকারভেদ কয়টি? আমাদের জন্য তা কি অর্জনযোগ্য হওয়া সম্ভব? বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে কি আম্বিয়া কিরাম কর্তৃক আমাদের এই বিষয়ে দায়বদ্ধ করা বৈধ? আর যদি বৈধ হয়ই, তবে তা অর্জনের পন্থা কী?

এরপর তিনি এই শব্দের মাধ্যমে এক ভীতিকর আড়ম্বর সৃষ্টি করেছেন এবং এমন বিভ্রম তৈরি করেছেন যেন তিনি এর থেকে বড় কোনো অংশ লাভ করেছেন। হে লোক! আল্লাহ তাআলার পরিচয় সম্পর্কে যদি আপনার প্রমাণ তাই হয় যা আপনি আপনার গ্রন্থে সন্নিবেশিত করেছেন, তবে আপনার এই দুর্দশায় আপনি রোদন করুন এবং দুঃখে করাঘাত করুন।
(খণ্ড: ১) আল-ইলামু বিমা ফী দীনিন নাসারা মিনাল ফাসাদি ওয়াল আওহাম (পৃষ্ঠা: ৪৮)
أسفا على عقل نابك فَإِن الْوَاقِف على مَعْنَاهُ المقتحم لفحواه علم على الْقطع والقط أَنَّك لم تعرف الله تَعَالَى قطّ لِأَنَّك لم تذكر فِيهِ دَلِيلا صَحِيحا نعم وَلَا قولا فصيحا وَإِن كَانَ لَك دَلِيل آخر على معرفَة الله تَعَالَى لم تذكره هُنَا فَهَذِهِ تَرْجَمَة بِلَا معنى وَاسم يهول بِلَا مُسَمّى كلامك ياهذا كفارع حمص خلى من الْمَعْنى وَلَكِن يجمع … ثمَّ نظم هَذِه التَّرْجَمَة على مَا أبديناه من التَّنَاقُض أَن يُقَال تَكْثِير مَا لَا يتكثر فِي معرفَة الله وَأي رابط بِهَذَا الْكَلَام وَهل هَذَا إِلَّا مضحكة الْخَاص وَالْعَام وعار لم يصل إِلَيْهِ أحد من عقلاء الْأَنَام

ثمَّ بعد ذَلِك شرع هَذَا الْقَائِل فِي الخطابة وصنعة الْكِتَابَة فسحب على سحبان ثوب النسْيَان وأنسى أبان كل مَا أبان وصير فصيح وَائِل أعيا من بَاقِل فَقَالَ الْحَمد لله بَالغ القوى الَّتِي فطرنا عَلَيْهَا فيا للعجب وَيَا لضيعة الدّين وَالْأَدب … دع المكارم لَا ترحل لبغيتها

واقعد فَإنَّك أَنْت الجائع العاري …

 

أما قَوْله الْحَمد لله فَكَلَام حق ومقال صدق عِنْد من عرف مَعْنَاهُ وَفهم فحواه وَأما عنْدك فَكَلَام سمعته وَمَا وعيته وَكَيف تعيه أَو تطمع فِي أَنَّك تدريه وَأَنت بمعزل عَن اللِّسَان عرى عَن تَحْصِيل شَرَائِط الْبُرْهَان

دَلِيل ذَلِك أَن الْحَمد لله يتَوَجَّه لأسئلة وَأَنت لَا تهتدي لفهمها فَكيف لحلها مِنْهَا لفظية وَمِنْهَا معنوية فأولها حَده وَإِلَى مَاذَا يرجع وَمَا الْفرق بَينه وَبَين الشُّكْر وَهل هُوَ فِي هَذَا الْموضع عَام أم لَا وَهل يَصح أَن يُطلق على غير الله وَإِن أطلق فَهَل بِالْحَقِيقَةِ أم بالمجاز وعَلى أَي وَجه يُضَاف إِلَى الله تَعَالَى أَعلَى جِهَة الْملك أَو على جِهَة الإستحقاق أَو غَيرهمَا من أَنْوَاع الْإِضَافَة ولأي شَيْء يوضع فِي أَوَائِل الْكتب وَلَا يَكْتَفِي عَنهُ بِالتَّسْمِيَةِ

وَأما قَوْلك بَالغ القوى فَكَلَام مختل صدر عَمَّن لم يحصل تَنْزِيل مَفْهُومه على فَائِدَة لِأَن الْمُتَكَلّم بِهِ عمل بَالغ مَوضِع مبلغ ثمَّ ذهب
আফসোস তোমার সেই বুদ্ধিবৃত্তির ওপর যা তোমাকে গ্রাস করেছে! কারণ, যে ব্যক্তি এর অর্থের ওপর দাঁড়িয়ে এর অন্তর্নিহিত মর্ম অনুধাবন করবে, সে নিশ্চিতভাবে ও অকাট্যভাবে জানতে পারবে যে, তুমি মহান আল্লাহকে বিন্দুমাত্র চিনতে পারোনি। কারণ তুমি এতে কোনো সঠিক দলিল উপস্থাপন করোনি, এমনকি কোনো প্রাঞ্জল কথা পর্যন্ত বলোনি। আর যদি মহান আল্লাহর পরিচয়ে তোমার কাছে অন্য কোনো দলিল থেকেও থাকে যা তুমি এখানে উল্লেখ করোনি, তবে এই শিরোনামটি অর্থহীন এবং এমন এক নাম যা কোনো সত্তা ছাড়াই আতঙ্ক ছড়ায়। হে ব্যক্তি! তোমার কথা তো হিমসের উচ্চতার মতো, যা সারবস্তুহীন কিন্তু যা জমা করে … অতঃপর আমরা যে বৈপরীত্য প্রকাশ করেছি তার ওপর ভিত্তি করে এই শিরোনামটির বিন্যাস দাঁড়ায় ‘আল্লাহর পরিচয়ে যা সংখ্যাতীত তাকে সংখ্যায়িত করা’। এই কথার সাথে কিসের সম্পর্ক? এটি কি বিশিষ্টজন ও সাধারণ মানুষের নিকট একটি হাস্যকর বিষয় নয় এবং এমন এক লজ্জা যা মানবজাতির জ্ঞানীদের মধ্যে কেউ কখনো স্পর্শ করেনি?

অতঃপর এই বক্তা বক্তৃতা ও লেখনীর শিল্পে প্রবৃত্ত হলেন। তিনি যেন সাহবানের ওপর বিস্মৃতির চাদর টেনে দিলেন, আবান যা স্পষ্ট করেছিলেন তা ভুলিয়ে দিলেন এবং ওয়াইলের প্রাঞ্জল বক্তাকে বাকিলের চেয়েও বেশি বাকরুদ্ধ করে তুললেন। তিনি বললেন: ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সেই শক্তিগুলোর পূর্ণতাদানকারী যার ওপর তিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন’। হায় আশ্চর্য! হায় দ্বীন ও শিষ্টাচারের কী অপচয়! … মহত্ত্বের অন্বেষণ ছেড়ে দাও, এর উদ্দেশ্যে যাত্রা করো না।

বসে থাকো, কারণ তুমি তো ক্ষুধার্ত ও বস্ত্রহীন …

 

তার ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য’ উক্তিটি একটি সত্য কথা এবং যথার্থ বাণী তার নিকট যে এর অর্থ জানে এবং এর মর্ম বুঝে। কিন্তু তোমার নিকট এটি এমন এক কথা যা তুমি শুনেছ মাত্র, কিন্তু হৃদয়ঙ্গম করোনি। তুমি কীভাবে তা বুঝবে কিংবা তা জানার লালসা পোষণ করবে, যেখানে তুমি ভাষাজ্ঞান থেকে বিচ্যুত এবং যুক্তিপ্রমাণের শর্তাবলী অর্জনের যোগ্যতা থেকে রিক্ত?

এর প্রমাণ হলো এই যে, ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য’ বাক্যটি কয়েকটি প্রশ্নের সম্মুখীন হয়, যার মর্ম বুঝতেই তুমি পথ পাও না, তবে তার সমাধান কীভাবে করবে? এর কিছু আভিধানিক এবং কিছু অর্থগত। প্রথমত: এর সংজ্ঞা কী এবং এটি কিসের দিকে ফিরে যায়? প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতার মধ্যে পার্থক্য কী? এই স্থানে কি এটি সাধারণ অর্থ বহন করে নাকি নয়? আল্লাহ ব্যতীত অন্যের ক্ষেত্রে কি এটি ব্যবহার করা বৈধ? যদি ব্যবহৃত হয় তবে তা কি প্রকৃত অর্থে নাকি রূপক অর্থে? কোন দিক থেকে এটি মহান আল্লাহর দিকে সম্বন্ধযুক্ত হয়—মালিকানার দিক থেকে, নাকি যোগ্যতার দিক থেকে, নাকি অন্য কোনো প্রকার সম্বন্ধের কারণে? আর কেনইবা এটি কিতাবসমূহের শুরুতে রাখা হয় এবং শুধু বিসমিল্লাহ দ্বারা কেন তা যথেষ্ট হয় না?

আর তোমার কথা ‘শক্তিগুলোর পূর্ণতাদানকারী’ হলো একটি অসংলগ্ন কথা যা এমন একজনের কাছ থেকে নির্গত হয়েছে যে এর ধারণাকে কোনো উপকারে প্রয়োগ করতে পারেনি। কারণ বক্তা এখানে ‘পৌঁছাদানকারী’ শব্দের স্থলে ‘পূর্ণতাদানকারী’ শব্দটিকে ব্যবহার করেছেন, অতঃপর প্রস্থান করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইলামু বিমা ফী দীনিন নাসারা মিনাল ফাসাদি ওয়াল আওহাম (পৃষ্ঠা: ৪৯)
بمبلغ إِلَى معنى خَالق وَالْعرب الَّذين تكلم هَذَا السَّائِل بكلامهم وتعاطى مَفْهُوم خطابهم لَا يَتَكَلَّمُونَ بَالغ فِي معنى الْخَالِق لتباين اللَّفْظَيْنِ وإختلاف المفهومين وَمعنى الْخلق الْمَشْهُور عِنْدهم إختراع مَا لم يكن والإبلاغ هُوَ أَيْضا لَهُ كَائِن إِلَى غَايَة مَا فَإِن أنكر هَذَا الْمُتَكَلّم أَن يكون أَرَادَ هَذَا فقد شهد على نَفسه بالغلط واعترف بِأَن كَلَامه من أرذل أرذل السقط

ثمَّ أضَاف بَالغ إِلَى القوى والقوى جمع قُوَّة وَهِي الْقُدْرَة والشدة فَإِن كنت تُرِيدُ هَذَا فَأَي فَائِدَة للفظك وَأي لَطِيفَة لِقَوْلِك الَّتِي فطرنا عَلَيْهَا وَفِي الثيران والأباعير وَالْحمير من هُوَ أَشد مِنْك وَأقوى فقد فَضلهَا عَلَيْك حَيْثُ أبلغهَا من الشدَّة أَكثر مِمَّا أبلغك

وَلَقَد كَانَ يَنْبَغِي لَك يَا هَذَا أَن تذكر من نعم الله عَلَيْك النِّعْمَة الْخَاصَّة بالإنسان وَهُوَ الْمَعْنى الَّذِي بِهِ تميز عَن أَصْنَاف الْحَيَوَان ثمَّ من عَجِيب أَمر هَذَا السَّائِل وأدل دَلِيل على بلادته وجهله أَن هَذِه الْخطْبَة الَّتِي صدر بهَا كِتَابه على مَا هِيَ عَلَيْهِ من تثبيج النّظم وَعدم الفصاحة إِنَّمَا نقلهَا من رِسَالَة عبد الرَّحْمَن بن عصن ختن شبيب الَّتِي كَانَ أساقفة النَّصَارَى كتبُوا بهَا إِلَى الإِمَام الزَّاهِد أبي مَرْوَان بن ميسرَة ونسبوها لعبد الرَّحْمَن وَكَانُوا قد اجْتَمعُوا على كتَابَتهَا بطليطلة أَعَادَهَا الله فَلَمَّا كتبوها بعثوا بهَا إِلَى القَاضِي أبي مَرْوَان بن ميسرَة فَبعد أَن بذلوا جدهم وأجهدوا جهدهمْ كتبُوا لَهُ رِسَالَة مفتتحها هَذِه الْخطْبَة فِي بطاقة صَغِيرَة عدد أسطارها نَحْو ثَلَاثِينَ لحنوا فِيهَا وصحفوا فِي تِسْعَة وَعشْرين موضعا مِنْهَا وَمَعَ ذَلِك فأخلوا بالْكلَام وَلم يتَحَصَّل لَهُم من سُؤَالهمْ مطلب وَلَا مرام فأجابهم الإِمَام القَاضِي رحمه الله وَأحسن فِي الْجَواب وَأظْهر لَهُم جهلهم وتبلدهم فِي ذَلِك الْكتاب

فَلَو كَانَ هَذَا السَّائِل عَارِفًا بمصالحه مُمَيّزا بَين محاسنه ومقابحه لاكتفى بإفحام أساقفته الْمُتَقَدّمَة وعثرته الجاهلة المضممة ولكان يستر ظَاهر خطاياهم وركيك كَلَامهم وَلَكِن أَرَادَ الله تَجْدِيد مَا قدم لَهُم من الفضيحة بمقالة صابية صَحِيحَة ثمَّ ليته إِذْ نقل إِلَى كِتَابه كَلَامهم لم يُفَسر الْمَعْنى وَلم يُغير اللَّفْظ بل غَيره تغييرا يدل على عدم الهجاء وَقلة الْحِفْظ فَقَالَ الحمدلله بَالغ القوى وَهِي فِي كِتَابهمْ الْمُتَقَدّم الذّكر الَّذِي نقل مِنْهُ الحمدلله بألغ القوى وَبَين مَفْهُوم كَلَامه
'স্রষ্টা' শব্দের অর্থে 'বালুগ' (উপনীত হওয়া) শব্দটিকে ব্যবহার করা প্রসঙ্গে: এই প্রশ্নকর্তা যে আরবদের ভাষায় কথা বলছেন এবং যাদের সম্বোধনরীতি অনুসরণ করার দাবি করছেন, তারা 'স্রষ্টা' অর্থে 'বালুগ' শব্দটিকে ব্যবহার করেন না। কারণ এই দুটি শব্দের ব্যুৎপত্তি ও অন্তর্নিহিত অর্থ সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাদের নিকট 'সৃষ্টি' শব্দের প্রসিদ্ধ অর্থ হলো এমন কিছুর উদ্ভাবন যা পূর্বে বিদ্যমান ছিল না; অন্যদিকে 'পৌঁছানো' বা 'উপনীত হওয়া' বলতে কোনো নির্দিষ্ট সীমা বা গন্তব্যে পৌঁছানোকে বোঝায়। যদি এই বক্তা অস্বীকার করেন যে তিনি এই অর্থ বুঝাতে চাননি, তবে তিনি নিজেই নিজের ভুলের সাক্ষ্য দিলেন এবং স্বীকার করে নিলেন যে তার বক্তব্য নিকৃষ্টতম প্রলাপের অন্তর্ভুক্ত।

অতঃপর তিনি 'বালুগ' শব্দটিকে 'শক্তিসমূহ'-এর সাথে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন। 'শক্তিসমূহ' হলো শক্তির বহুবচন, যার অর্থ সামর্থ্য ও কঠোরতা। আপনি যদি এটাই উদ্দেশ্য করে থাকেন, তবে আপনার এই শব্দের সার্থকতা কোথায়? আর "যার ওপর তিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন" - আপনার এই বক্তব্যের গূঢ় রহস্যই বা কী? কারণ বৃষ, উট ও গাধার মাঝে এমন অনেকে আছে যারা আপনার চেয়েও অধিক শক্তিশালী ও কঠোর। আল্লাহ তাদের আপনার ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন যেহেতু তিনি তাদের আপনার চেয়েও বেশি শক্তি ও কঠোরতা দান করেছেন।

হে ব্যক্তি, আপনার উচিত ছিল আল্লাহর সেই বিশেষ নেয়ামতের কথা উল্লেখ করা যা তিনি কেবল মানুষকে দান করেছেন এবং যার মাধ্যমে মানুষ অন্যান্য প্রাণী থেকে পৃথক হয়। এছাড়া এই প্রশ্নকর্তার চরম নির্বুদ্ধিতা ও মূর্খতার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো, তিনি তার গ্রন্থের শুরুতে যে ভূমিকাটি প্রদান করেছেন—যা অত্যন্ত অসংলগ্ন ও সাবলীলতাহীন—তা মূলত তিনি আব্দুর রহমান ইবনে আসান (শাবীবের জামাতা)-এর একটি পত্র থেকে নকল করেছেন। সেই পত্রটি খ্রিষ্টান বিশপরা জাহিদ ইমাম আবু মারওয়ান ইবনে মাইসারার নিকট লিখেছিলেন এবং তা আব্দুর রহমানের নামে চালিয়ে দিয়েছিলেন। তারা স্পেনের তলেদোতে (আল্লাহ তা মুসলিমদের নিকট ফিরিয়ে দিন) সমবেত হয়ে এটি লিখেছিলেন। যখন তারা এটি লিখে শেষ করলেন, তখন তা কাজী আবু মারওয়ান ইবনে মাইসারার নিকট পাঠিয়ে দিলেন। তারা তাদের সর্বোচ্চ মেধা ও শ্রম ব্যয় করে প্রায় ত্রিশ লাইনের একটি ছোট চিরকুটে এই ভূমিকার মাধ্যমে পত্রটি শুরু করেছিলেন। অথচ সেই ত্রিশ লাইনের মধ্যে উনত্রিশটি স্থানেই তারা ব্যাকরণগত ও ভাষাগত ভুল করেছিল। তা সত্ত্বেও তাদের বক্তব্যে কোনো শৃঙ্খলা ছিল না এবং তাদের প্রশ্নের কোনো উদ্দেশ্য বা লক্ষ্যও অর্জিত হয়নি। অতঃপর ইমাম কাজী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) তাদের চমৎকার উত্তর প্রদান করেন এবং সেই পত্রে তাদের মূর্খতা ও জড়বুদ্ধিতা প্রকাশ করে দেন।

এই প্রশ্নকর্তা যদি নিজের কল্যাণ বুঝতেন এবং ভালো-মন্দের পার্থক্য করতে পারতেন, তবে তার পূর্ববর্তী বিশপদের লাঞ্ছনা এবং তাদের অজ্ঞতাপ্রসূত পদস্খলনেই তিনি সন্তুষ্ট থাকতেন। তিনি তাদের প্রকাশ্য ভুল এবং জঘন্য বাক্যগুলোকে গোপন রাখতেন। কিন্তু আল্লাহ চাইলেন তাদের পূর্বের সেই কেলেঙ্কারিকে একটি সঠিক ও জোরালো বক্তব্যের মাধ্যমে পুনরায় প্রকাশ করতে। তদুপরি, আফসোস! তিনি যখন তার গ্রন্থে তাদের কথাগুলো নকল করলেন, তখন যদি তিনি অর্থের ব্যাখ্যা না করতেন এবং শব্দের পরিবর্তন না করতেন! বরং তিনি শব্দটিকে এমনভাবে পরিবর্তন করেছেন যা তার বানান ভুলের পরিচয় দেয় এবং স্মৃতিশক্তির দুর্বলতাকে প্রকাশ করে। তিনি লিখেছেন "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি শক্তিসমূহ অর্জনকারী", অথচ সেই পূর্বোক্ত গ্রন্থ যেখান থেকে তিনি নকল করেছেন সেখানে ছিল "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি শক্তিসমূহকে পূর্ণতা দান করেছেন" এবং সেখানে বক্তব্যের অর্থও স্পষ্ট করা হয়েছিল।
(খণ্ড: ১) আল-ইলামু বিমা ফী দীনিন নাসারা মিনাল ফাসাদি ওয়াল আওহাম (পৃষ্ঠা: ৫০)
وَكَلَامهم مَا بَين الْقرن والقدم وَمَا بَين فصاحة الْعَرَب ورطانة الْعَجم

وَأما قَوْلك وأمرنا بِحَمْدِهِ فَقَوْل لَا تعرف حَقِيقَته وَلَا تسلك طَرِيقَته حَتَّى تعرف إِن كَانَ الله آمرا أم لَا وَإِن كَانَ آمرا فَمَا حَقِيقَة أمره وَإِلَى مَاذَا يرجع وَهل هُوَ قديم أَو حَادث إِلَى أسئلة كَثِيرَة لَا تعرف أَنَّك مَأْمُون من جِهَة الله تَعَالَى حَتَّى تعرفها فأعد للمسائل جَوَابا وللسائل خطابا

وَأما قَوْله فَنحْن نحمده ونشكره ونعظمه بِمثل تعارفنا فِي الْحَمد وَالشُّكْر فَكَلَام يَدُور على اللِّسَان وَلم يسْتَقرّ لَك شَيْء مِنْهُ بالجنان وَكَيف يحمد الله من ينتقصه وَكَيف يشكره من يكفره وَهل الْحَمد وَالنُّقْصَان وَالشُّكْر والكفران إِلَّا أَمْرَانِ متناقضان

بَيَان ذَلِك أَنكُمْ تَجْعَلُونَ لله مَا تَكْرَهُونَ لأنفسكم وتنتقصون بِهِ أَبنَاء جنسكم هَا أَنْتُم تَكْرَهُونَ لرهبانكم وأقستكم إتخاذ الزَّوْجَة وَالْولد لِئَلَّا يتلطخ برذيلة مجْرى الْبَوْل وَدم الْحيض أَو تتشبه نِسْبَة الزَّوْجَة وَالْولد ثمَّ إِنَّكُم بجهالتكم تَزْعُمُونَ أَن اللاهوت تدرع بناسوت الْمَسِيح وَسكن فِي ظلمَة الرَّحِم مُدَّة ثمَّ خرج على مجْرى الْبَوْل وَدم الْحيض وتعلقت نِسْبَة الْوَلَد وَالزَّوْجَة وَأَنْتُم تَجْعَلُونَ لله مَا تَكْرَهُونَ وتصف أَلْسِنَتكُم الْكَذِب لَا جرم أَن لكم النَّار وأنكم مفرطون وَكَيف يعظمه من يعبد غَيره ويعظم سواهُ وَيُخَالِفهُ فِي أمره ويرتكب مَا عَصَاهُ وَهَا أَنْتُم قد اتخذتم الْمَسِيح إِلَهًا أَو شطر إِلَه وعبدتم من دون الله غَيره وعظمتم سواهُ وخالفتم فِي ذَلِك قَول الْمَسِيح عليه السلام وعصيتم أَمر خالقه ومرسله ذِي الْجلَال وَالْإِكْرَام وَأَنْتُم تقرأون فِي كتابكُمْ عَن أشعياء عليه السلام أَنه قَالَ عَن الله مبشرا بالمسيح عليه السلام هَذَا غلامي الْمُصْطَفى وحبيبي الَّذِي ارتضت بِهِ نَفسِي وَكَذَلِكَ تقرأون فِي إنجيل ماركش أَن الْمَسِيح قَالَ
তাদের বাক্যমালা অনাদি ও অনন্তের মধ্যবর্তী এবং আরবদের প্রাঞ্জলতা ও অনারবদের অস্পষ্ট উচ্চারণের মধ্যবর্তী।

আর আপনার কথা—"আমাদেরকে তাঁর প্রশংসার আদেশ দেওয়া হয়েছে"—এমন এক উক্তি যার হাকীকত বা বাস্তবতা আপনি জানেন না এবং আপনি এর পথে চলেন না; যতক্ষণ না আপনি জানবেন যে আল্লাহ আদেশদাতা কি না, আর যদি তিনি আদেশদাতা হন তবে তাঁর আদেশের স্বরূপ কী এবং তা কোন বিষয়ের দিকে প্রত্যাবর্তন করে, আর তা কি অনাদি নাকি নশ্বর? এই জাতীয় বহু প্রশ্নের উত্তর না জানা পর্যন্ত আপনি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে নিরাপদ কি না তা জানতে পারবেন না। সুতরাং এই প্রশ্নগুলোর উত্তর প্রস্তুত করুন এবং প্রশ্নকর্তার জন্য সঠিক বক্তব্য তৈরি করুন।

আর তাঁর উক্তি—"আমরা তাঁর প্রশংসা করি, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি এবং তাঁকে মহিমান্বিত করি আমাদের প্রচলিত প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতার ন্যায়"—এটি কেবল জিহ্বায় উচ্চারিত শব্দমালা মাত্র, যার বিন্দুমাত্র আপনার অন্তরে স্থিত হয়নি। যে ব্যক্তি আল্লাহর শানে ত্রুটি আরোপ করে সে কীভাবে তাঁর প্রশংসা করবে? আর যে তাঁকে অস্বীকার করে সে কীভাবে তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে? প্রশংসা ও ত্রুটি আরোপ, এবং কৃতজ্ঞতা ও কুফরি কি দুটি পরস্পরবিরোধী বিষয় নয়?

এর ব্যাখ্যা হলো, আপনারা আল্লাহর জন্য এমন বিষয় সাব্যস্ত করেন যা আপনারা নিজেদের জন্য অপছন্দ করেন এবং যার দ্বারা আপনারা আপনাদের সমগোত্রীয়দের হেয় প্রতিপন্ন করেন। দেখুন, আপনারা আপনাদের সন্ন্যাসী ও যাজকদের জন্য স্ত্রী ও সন্তান গ্রহণ করা অপছন্দ করেন, পাছে তারা মূত্রনালী ও ঋতুস্রাবের রক্তের ন্যায় নীচতায় কলঙ্কিত হয় অথবা স্ত্রী ও সন্তানের সম্পর্কের সাথে সাদৃশ্য সৃষ্টি হয়। অথচ আপনারা আপনাদের অজ্ঞতাবশত দাবি করেন যে, 'লাহুত' (দিব্যসত্তা) মসীহের 'নাসুত' (মানবীয় সত্তা)-এর পোশাক পরিধান করেছে এবং জরায়ুর অন্ধকারে একটি নির্দিষ্ট সময় অবস্থান করেছে, অতঃপর মূত্রনালী ও ঋতুস্রাবের রক্তের পথ দিয়ে নির্গত হয়েছে এবং এতে সন্তান ও স্ত্রীর সম্পর্ক যুক্ত হয়েছে। আপনারা আল্লাহর জন্য তাই সাব্যস্ত করছেন যা আপনারা ঘৃণা করেন এবং আপনাদের জিহ্বা মিথ্যার বর্ণনা দিচ্ছে। নিঃসন্দেহে আপনাদের জন্য রয়েছে অগ্নি এবং আপনারা সীমা লঙ্ঘনকারী। যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্যের ইবাদত করে, অন্যকে মহিমান্বিত করে, তাঁর আদেশের বিরোধিতা করে এবং তাঁর অবাধ্যতায় লিপ্ত হয়, সে কীভাবে তাঁকে মহিমান্বিত করবে? এই তো আপনারা মসীহকে ইলাহ বা ইলাহ-এর অংশ হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং আল্লাহ ছাড়া অন্যের উপাসনা করেছেন ও অন্যকে মহিমান্বিত করেছেন। এই ক্ষেত্রে আপনারা স্বয়ং মসীহ আলাইহিস সালামের বাণীর বিরোধিতা করেছেন এবং তাঁর মহান ও মহিমান্বিত স্রষ্টা ও প্রেরকের আদেশের অবাধ্য হয়েছেন। অথচ আপনারা আপনাদের কিতাবে ইশাইয়া আলাইহিস সালাম থেকে পাঠ করেন যে, তিনি মসীহ আলাইহিস সালাম সম্পর্কে সুসংবাদ দিতে গিয়ে আল্লাহর পক্ষ থেকে বলেছেন: "ইনি আমার মনোনীত সেবক এবং আমার প্রিয়তম, যার প্রতি আমার আত্মা সন্তুষ্ট।" তদ্রূপ আপনারা মার্কের ইঞ্জিলেও পাঠ করেন যে, মসীহ বলেছিলেন:
(খণ্ড: ১) আল-ইলামু বিমা ফী দীনিন নাসারা মিনাল ফাসাদি ওয়াল আওহাম (পৃষ্ঠা: ৫১)
للْعَالم الَّذِي سَأَلَهُ عَن أول العهود إِن السَّيِّد إلهك إِلَه وَاحِد وَذكر كلَاما فَقَالَ لَهُ الْعَالم قلت الْحق يَا معلم إِن الله وَحده وَلَا إِلَه غَيره فَالله تَعَالَى يَقُول عَن الْمَسِيح هُوَ غلامي وَأَنْتُم تَقولُونَ هُوَ ولدك والمسيح يَقُول لَا إِلَه إِلَّا الله وَأَنْتُم تَقولُونَ أَنْت إِلَه آخر فتعالى الله عَمَّا تَقولُونَ وسبحانه عَمَّا تصفون وَسَيَأْتِي الْكَلَام على هَذَا إِن شَاءَ الله تَعَالَى فها أَنْتُم قد خالفتم أَمر الله وعظمتم سوى الله وَهَذَا إنجيل متاؤوش يشْهد عَلَيْكُم بِخِلَاف مَا إِلَيْهِ صرتم فَإِن فِيهِ أَن الْمَسِيح قَالَ لإبليس حِين رام خديعته قد صَار مَكْتُوبًا أَن تعبد السَّيِّد إلهك وتخدمه وَحده وَأَنْتُم تَعْبدُونَ غير الله وتسجدون لسواه تتحكمون فِي ذَلِك بأهوائكم وتخالفون قَول أنبيائكم {وَمن أضلّ مِمَّن اتبع هَوَاهُ بِغَيْر هدى من الله} وَتقول بالعظائم على الله

وَأما قَوْلك بِمثل تعارفنا فِي الْحَمد فَإِن كَانَ وضع تعارف مَوضِع معرفَة فقد أخل بِالْمَعْنَى وَخَالف اللُّغَة وَلَو كَانَ يشم رَائِحَة من كَلَام الفصحاء لوبخ نَفسه على القالة هَذِه الشنعاء وَلَو نزلناه على أَنه أَرَادَ مَا تعارفه مخاطبوه فِيمَا بَينهم فِي معنى حمدالله لَكَانَ كَلَامه أَيْضا متناقضا وفاسدا وَعَن الصَّوَاب حايدا فَإِن حمد الله عِنْدهم ذمّ وشكرهم لَهُ كفر كَمَا تقدم وَمن كَانَ حَمده لله ذما
সেই আলিমের প্রতি, যিনি তাঁকে প্রথম বিধান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে, 'নিশ্চয়ই প্রভু তোমার ইলাহ এক ইলাহ।' তিনি আরও কিছু কথা উল্লেখ করলেন, তখন সেই আলিম তাঁকে বললেন, 'হে শিক্ষক! আপনি সত্য বলেছেন, আল্লাহ এক এবং তিনি ব্যতীত অন্য কোনো ইলাহ নেই।' সুতরাং আল্লাহ তাআলা মাসীহ সম্পর্কে বলছেন যে, তিনি তাঁর বান্দা; অথচ তোমরা বলছ যে, তিনি তাঁর পুত্র। আর মাসীহ বলছেন, 'আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই', অথচ তোমরা বলছ যে, 'তুমি অন্য এক ইলাহ'। সুতরাং তোমরা যা বলছ তা থেকে আল্লাহ সুউচ্চ এবং তোমরা যা বর্ণনা করছ তা থেকে তিনি অতি পবিত্র। ইনশাআল্লাহ (আল্লাহ তাআলা চাইলে) এ বিষয়ে সামনে বিস্তারিত আলোচনা আসবে। দেখ, তোমরা আল্লাহর আদেশের বিরোধিতা করেছ এবং আল্লাহ ব্যতীত অন্যকে মহিমান্বিত করেছ। এই মথি লিখিত ইঞ্জিল তোমাদের বিরুদ্ধেই সাক্ষ্য দিচ্ছে যে, তোমরা যা করছ তা এর পরিপন্থী। কেননা এতে বর্ণিত হয়েছে যে, মাসীহ ইবলিসকে বলেছিলেন—যখন সে তাঁকে প্রলুব্ধ করতে চেয়েছিল— 'লিখন রয়েছে যে, তুমি তোমার প্রভু ইলাহের ইবাদত করবে এবং কেবল তাঁরই দাসত্ব করবে।' অথচ তোমরা আল্লাহ ছাড়া অন্যের ইবাদত করছ এবং তাঁকে ছাড়া অন্যকে সিজদা করছ। তোমরা এ ক্ষেত্রে নিজেদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করছ এবং তোমাদের নবীগণের বাণীর বিরোধিতা করছ: {আল্লাহর পক্ষ হতে কোনো হিদায়াত ছাড়া যে ব্যক্তি নিজ প্রবৃত্তির অনুসরণ করে, তার চেয়ে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে?} এবং তোমরা আল্লাহর শানে গুরুতর মিথ্যা অপবাদ আরোপ করছ।

আর প্রশংসার ক্ষেত্রে 'আমাদের প্রথাগত ব্যবহারের' (তাআরুফ) অনুরূপ হওয়ার ব্যাপারে তোমার যে উক্তি—যদি সেখানে 'পরিচয় বা জ্ঞান' (মা’রিফাত)-এর স্থলে 'প্রথাগত ব্যবহার' (তাআরুফ) শব্দটি বসানো হয়ে থাকে, তবে তা অর্থকে বিঘ্নিত করেছে এবং ভাষারীতির বিরুদ্ধাচরণ করেছে। যদি তার মধ্যে বিশুদ্ধভাষীদের বাণীর সামান্যতম ঘ্রাণও থাকত, তবে সে এই জঘন্য উক্তির জন্য নিজেকেই তিরস্কার করত। আর যদি আমরা ধরেও নেই যে, সে আল্লাহর প্রশংসার অর্থে তার সম্বোধিত ব্যক্তিদের মধ্যে প্রচলিত প্রথাটিই বুঝাতে চেয়েছে, তবুও তার কথাটি স্ববিরোধী, অসার এবং সত্য থেকে বিচ্যুত। কেননা তাদের কাছে আল্লাহর প্রশংসা করা মূলত নিন্দারই নামান্তর এবং তাঁর প্রতি তাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কুফর বৈ কিছু নয়, যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। আর যার পক্ষ থেকে আল্লাহর প্রশংসা মূলত নিন্দা...
(খণ্ড: ১) আল-ইলামু বিমা ফী দীনিন নাসারা মিনাল ফাসাদি ওয়াল আওহাম (পৃষ্ঠা: ৫২)
وشكره لَهُ كفرا وَكَانَ مَعْرفَته مثل شكره وحمده فقد حصل من الْعلم على ضِدّه وَخرج من الشُّكْر عَن حَده

وَأما قَوْلك والتعظيم لملوكنا وَأهل الرهبة من ذَوي السُّلْطَان منا فَقَوْل لَا يدل على زهدك فِي الدُّنْيَا وإقتدائك بورع الْمَسِيح عِيسَى وبخشية المعمد يحيى عظمت الْمُلُوك لملكهم طَمَعا فِي نيل سحت ملكهم وأعرضت عَن القسيسين ونسكهم وَلَو هديت السَّبِيل لَكَانَ الْأَنْبِيَاء والحواريون أَحَق وَأولى بالثناء والتبجيل لَكِن استهواك الطمع وإستفزك الجشع فآثرت الدُّنْيَا عَن الْآخِرَة فصفقتك اذن خاسرة وتجارتك بائرة

وَأما قَوْلك فرضا لَهُ شاكرين حامدين معظمين فَكَلَام غير مُنْتَظم وَلَيْسَ لَهُ مَفْهُوم ملتئم ذهب مَعْنَاهُ لِكَثْرَة لحنه يمجه الْعَاقِل ببديهة ذهنه أتلفت مَعْنَاهُ رضانة الْعَجم فَكَأَنَّهُ تبقى فِي نفس قائلة مكتتم

وَأما قَوْلك غير واقفين على ذَاته وَلَا مدركين لشَيْء مِنْهُ فلعمري لقد صدقت وَبِمَا أَنْت عَلَيْهِ من الْجَهْل بمعبودك نطقت فَأَيْنَ هَذَا من قَوْلك كتاب تثليث الوحدانية فِي معرفَة الله فقد جعلت هَذَا الْكتاب بزعمك موصلا إِلَى معرفَة الله ثمَّ لم ترجع النَّفس حَتَّى شهِدت على نَفسك بِالْجَهْلِ بِاللَّه فَظهر تنَاقض إعتقادك على لسَانك وَفِي تقييدك وَكَذَلِكَ يفعل الله بِكُل جَاهِل مهذار وَكَيف يعرف الله من لم يقف على معرفَة ذَاته وَلَا علم شَيْئا من صِفَاته وَهل ذَاته تَعَالَى إِلَّا عبارَة عَن وجوده فَإِن الموجودات الْمَوْجُود من غير مزِيد على مَا يعرف فِي مَوْضِعه بالبرهان فَمن لم يعرف ذَاته تَعَالَى لم يعرف وجوده وَمن لم يعرف وجوده فإمَّا شَاك وَإِمَّا جَاهِل

وَأما قَوْله وَإِنَّمَا نقع على أَسمَاء أَفعاله فِي خليقته وتدبيره فِي ربوبيته فَكَلَام لم يُورِدهُ فصيحا وَلَا فهمه صَحِيحا دَلِيل أَنه لم يردهُ فصيحا أَنه أَرَادَ بقوله نقع نَعْرِف وَإِلَّا لم يستقم كَلَامه فَكَأَنَّهُ قَالَ وَإِنَّمَا نَعْرِف أَسمَاء أَفعاله وَأَيْنَ نَعْرِف من نقع وَأي جَامع بَينهمَا عِنْد من عقل وَسمع فَإِن مَفْهُوم وَقع وَحَقِيقَته سقط الشَّيْء من أَعلَى إِلَى أَسْفَل وَلَيْسَ لهَذَا الْمَعْنى فِي كَلَامه مدْخل وَأما أَنه لم يفهمهُ صَحِيحا فَيدل عَلَيْهِ أَنه لَا يُجيب إِذا سُئِلَ عَنهُ فأصخ يَا هَذَا
আর তাঁর প্রতি তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কুফরে পরিণত হয়েছে। যদি তাঁর সম্পর্কে তার জ্ঞান, তাঁর প্রতি তার কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসার অনুরূপ হয়ে থাকে, তবে সে জ্ঞানের বিপরীত বস্তুই অর্জন করেছে এবং কৃতজ্ঞতার সীমা লঙ্ঘন করেছে।

আর তোমার এ কথা— "আমাদের রাজন্যবর্গ এবং আমাদের মধ্যকার ক্ষমতাসীন প্রভাবশালী ব্যক্তিদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন"—এমন এক বক্তব্য যা দুনিয়ার প্রতি তোমার অনাসক্তি কিংবা মসীহ ঈসার তাকওয়া ও বাপ্তিস্মদাতা ইয়াহইয়ার আল্লাহভীতির অনুসরণের প্রমাণ দেয় না। তুমি রাজাদের শাসনক্ষমতার কারণে তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেছ তাদের রাজত্বের অবৈধ সম্পদ লাভের লোভে, আর পাদ্রিদের থেকে ও তাদের কৃচ্ছ্রসাধন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছ। তুমি যদি সঠিক পথের দিশা পেতে, তবে নবীগণ ও তাঁদের সঙ্গীগণই প্রশংসার ও মর্যাদার অধিকতর যোগ্য ও উপযুক্ত হতেন। কিন্তু লোভ তোমাকে মোহগ্রস্ত করেছে এবং লালসা তোমাকে প্ররোচিত করেছে; ফলে তুমি পরকালের পরিবর্তে দুনিয়াকে অগ্রাধিকার দিয়েছ। সুতরাং তোমার এই লেনদেন অত্যন্ত লোকসানজনক এবং তোমার এই ব্যবসা ধ্বংসাত্মক।

আর তোমার এ উক্তি— "ফলে সন্তুষ্টচিত্তে আমরা তাঁর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনকারী, প্রশংসাকারী ও মহিমা ঘোষণাকারী"—এটি একটি অসংলগ্ন কথা যার কোনো সুসংগত অর্থ নেই। ব্যাকরণগত ভুলের আধিক্যের কারণে এর অর্থ হারিয়ে গেছে, যা একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তি তার সহজাত বিচারবুদ্ধি দিয়েই প্রত্যাখ্যান করবেন। অনারবীয় ভাষার জড়তা এর অর্থকে বিনাশ করেছে, ফলে মনে হয় কথাটি বক্তার মনেই অপ্রকাশিত রয়ে গেছে।

আর তোমার এ উক্তি— "তাঁর সত্তা সম্পর্কে অবগত নই এবং তাঁর কোনো কিছুই উপলব্ধি করতে পারি না"—আমার জীবনের কসম! তুমি সত্যই বলেছ এবং তোমার উপাস্য সম্পর্কে তোমার যে মূর্খতা রয়েছে, তুমি তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছ। তোমার এই কথার সাথে "আল্লাহর পরিচয় লাভে একত্বের ত্রিত্ববাদ বিষয়ক গ্রন্থ" নামক উক্তির কী সম্পর্ক? তোমার দাবি অনুযায়ী তুমি এই গ্রন্থটিকে আল্লাহর পরিচয় লাভের মাধ্যম হিসেবে নির্ধারণ করেছ, অথচ তুমি ক্ষান্ত হওয়ার আগেই নিজের অজ্ঞতার কথা স্বীকার করে নিজের বিরুদ্ধে নিজেই সাক্ষ্য দিলে। ফলে তোমার বিশ্বাস ও লেখনীর স্ববিরোধিতা তোমার মুখেই প্রকাশ পেল। আর আল্লাহ প্রত্যেক বাচাল মূর্খের সাথে এমনই আচরণ করেন। যে ব্যক্তি আল্লাহর সত্তা সম্পর্কে অবগত নয় এবং তাঁর গুণাবলি সম্পর্কে কিছুই জানে না, সে কীভাবে আল্লাহর পরিচয় লাভ করবে? আর মহান আল্লাহর সত্তা তো তাঁর অস্তিত্বেরই বহিঃপ্রকাশ। কেননা যা অস্তিত্বমান তার অস্তিত্বই মূল, এর অতিরিক্ত কিছু নয়, যা যথাস্থানে যুক্তির মাধ্যমে প্রমাণিত। সুতরাং যে ব্যক্তি মহান আল্লাহর সত্তা সম্পর্কে জানে না, সে তাঁর অস্তিত্ব সম্পর্কেও জানে না; আর যে তাঁর অস্তিত্ব সম্পর্কে জানে না, সে হয় সংশয়বাদী নয়তো মূর্খ।

আর তার এ উক্তি— "সৃষ্টিজগতে তাঁর কর্মসমূহের নাম এবং তাঁর প্রভুত্বের ব্যবস্থাপনার সাথেই কেবল আমরা পরিচিত হই"—এটি এমন এক বক্তব্য যা সে সাবলীলভাবে উপস্থাপন করতে পারেনি এবং সঠিকভাবে বুঝতেও পারেনি। তার এই উপস্থাপনা যে প্রাঞ্জল নয় তার প্রমাণ হলো, সে ‘নাকাউ’ (পতিত হওয়া) শব্দ দিয়ে ‘নারিফু’ (জানা) বুঝাতে চেয়েছে, অন্যথায় তার বক্তব্য সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় না। সে যেন বলতে চেয়েছে, "আমরা কেবল তাঁর কর্মসমূহের নাম সম্পর্কে জানতে পারি।" কিন্তু ‘জানা’ এবং ‘পতিত হওয়া’র মধ্যে কী সম্পর্ক? বুদ্ধিমান ও শ্রবণশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তির কাছে এ দুটির মধ্যে সংযোগ কোথায়? কেননা ‘ওয়াকাআ’ শব্দের মূল অর্থ ও বাস্তবতা হলো কোনো বস্তু উপর থেকে নিচে পড়ে যাওয়া, আর তার বক্তব্যে এই অর্থের কোনো স্থান নেই। আর সে যে বিষয়টি সঠিকভাবে বোঝেনি, তার প্রমাণ হলো যখন তাকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হয় তখন সে কোনো উত্তর দিতে পারে না। সুতরাং হে ব্যক্তি! মনোযোগ দিয়ে শোনো।
(খণ্ড: ১) আল-ইলামু বিমা ফী দীনিন নাসারা মিনাল ফাসাদি ওয়াল আওহাম (পৃষ্ঠা: ৫৩)
سَمعك واستعن ملاك جمعك فَإِنِّي أَسأَلك وإياهم عَن حد الإسم وَحَقِيقَته وَهل هُوَ الْمُسَمّى أَو غَيره فَإِن كَانَ غَيره فَمَا حد الإسم وَمَا حد الْمُسَمّى وَمَا حد التَّسْمِيَة ثمَّ هَل يَنْقَسِم الإسم بِالْإِضَافَة إِلَى الْمُسَمّى أم لَا يَنْقَسِم فَإِن انقسم فعلى كم قسم وَإِنَّمَا أوردت عَلَيْهِ هَذِه الأسئلة كَيْلا لَهُ بضَاعَة وليكون ذَلِك أبلغ فِي دَفعه وأقطع لنزاعه ثمَّ إِنَّه أضَاف أَسمَاء إِلَى أَفعَال الله وَلَا يشك عَاقل فاهم فِي أَن أَفعَال الله تَعَالَى إِنَّمَا يُرَاد بهَا مخلوقاته ومخلوقاته وخليقته وَاحِد فِي الْمَعْنى فَكَأَنَّهُ قَالَ على مَا يَقْتَضِيهِ ظَاهر كَلَامه وَإِنَّمَا نقع على أَسمَاء مخلوقاته فِي مخلوقاته فأبدل لفظ مخلوقاته بأفعاله وَهَذَا كَلَام قَلِيل العائدة بل عديم الْفَائِدَة ثمَّ أَسمَاء أَفعاله إِنَّمَا هِيَ عبارَة عَن الْأَلْفَاظ الدَّالَّة على أَفعاله وأفعاله كَمَا قُلْنَا مخلوقاته كَلَفْظِ السَّمَاء وَالْأَرْض وَغير ذَلِك فَمن عرف الْأَلْفَاظ الدَّالَّة على هَذِه الْمَخْلُوقَات أَي شَيْء يحصل لَهُ بِسَبَبِهَا من معرفَة الله تَعَالَى وَأي دلَالَة وَأي نِسْبَة بَين معرفَة اللَّفْظ الَّذِي يدل على السَّمَاء فِي التخاطب مثلا وَبَين معرفَة الله تَعَالَى وَهل قَوْله هَذَا إِلَّا هذيان من القَوْل وارتباك فِي ورطة الْجَهْل

وأا قَوْله وتدبيره فِي ربوبيته فَالظَّاهِر من لفظ التَّدْبِير السَّابِق مِنْهُ إِلَى الْفَهم أَنه عبارَة عَن التفكر النَّفْسِيّ وَالتَّقْدِير الذهْنِي والباري سُبْحَانَهُ متعال عَن التَّدْبِير الَّذِي هُوَ التفكر وَالتَّقْدِير فَإِنَّهُ لَا يتَصَوَّر إِلَّا فِي حق من جهل شَيْئا فَأَرَادَ أَن يسْتَعْمل فكرة فِي تَحْصِيل الْعلم بِهِ وَالْجهل على الله محَال فالتدبير بِمَعْنى الْفِكر عَلَيْهِ محَال فَإِن أَرَادَ السَّائِل بِكَلَامِهِ غير هَذَا فَلَا بُد من بَيَانه وإيضاح برهانه

وَأما الربوبية فَلفظ مُشْتَقّ من لفظ الرب والرب فِي مُسْتَعْمل كَلَام الْعَرَب لَهُ مَعْنيانِ مستعملان أَحدهمَا السَّيِّد وَالثَّانِي الْمَالِك فَإِن أَرَادَ بِهِ الْمَعْنى الأول الَّذِي يرجع إِلَى السؤدد والشرف فَهُوَ خطأ من حَيْثُ أَن سؤدده وَاجِب لَهُ فَلَا يحْتَاج فِي تَحْصِيله إِلَى سَبَب من تَدْبِير وَلَا مُقْتَضى تفكير وَمُقْتَضى كَلَامه وَمَفْهُومه أَنه دبر فِي ربوبيته وأوجدها عَن تَدْبيره لنَفسِهِ وَهَذَا جهل بواح وَكفر صراح وَإِن أَرَادَ بِهِ الْمَعْنى الثَّانِي الَّذِي يرجع مَعْنَاهُ إِلَى الْملك فَلَا يَسْتَقِيم أَيْضا على ظَاهر كَلَامه فَإِنَّهُ يكون معنى كَلَامه أَنه دبر فِي ملكه وأوجده
আপনার কর্ণপাত নিবদ্ধ করুন এবং আপনার পূর্ণ মনোযোগের সাহায্য গ্রহণ করুন। আমি আপনার নিকট এবং তাদের নিকট 'নাম' (ইসম)-এর সংজ্ঞা ও তার হাকিকত সম্পর্কে জানতে চাইছি—তা কি স্বয়ং 'নামধারী' (মুসাম্মা) নাকি অন্য কিছু? যদি তা অন্য কিছু হয়, তবে নাম, নামধারী এবং নামকরণের (তাসমিয়াহ) সংজ্ঞা কী? অতঃপর, নামধারীর প্রতি সম্বন্ধের ভিত্তিতে নাম কি বিভক্ত হয় নাকি হয় না? যদি বিভক্ত হয়, তবে তা কত প্রকার? আমি তার নিকট এই প্রশ্নগুলো কেবল এজন্যই উত্থাপন করেছি যাতে স্পষ্ট হয় যে তার নিকট কোনো (জ্ঞানতাত্ত্বিক) পুঁজি নেই এবং এটি যেন তাকে প্রতিহত করতে অধিকতর প্রভাবশালী এবং তার বিতর্ক নিরসনে চূড়ান্ত হয়। অতঃপর সে আল্লাহর কার্যাবলীর (আফ'আল) সাথে কিছু নামকে সংশ্লিষ্ট করেছে। অথচ কোনো বুদ্ধিমান ও সমঝদার ব্যক্তি এ বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করেন না যে, আল্লাহ তাআলার 'কার্যাবলী' বলতে তাঁর 'সৃষ্টিজগত' (মাখলুকাত)-ই উদ্দেশ্য। অর্থগত দিক থেকে তাঁর কার্যাবলী ও সৃষ্টি এক ও অভিন্ন। সুতরাং তার কথার বাহ্যিক দাবি অনুযায়ী বিষয়টি এমন দাঁড়ায় যে—সে যেন বলতে চাইছে—আমরা কেবল তাঁর সৃষ্টির মাঝেই তাঁর সৃষ্টির নামসমূহ খুঁজে পাই; এখানে সে 'সৃষ্টি' শব্দের পরিবর্তে 'কার্যাবলী' শব্দটি প্রতিস্থাপন করেছে। এটি অতি সামান্য উপকারসম্পন্ন কথা, বরং এটি সম্পূর্ণ নিরর্থক। অধিকন্তু, তাঁর কার্যাবলীর নামসমূহ মূলত তাঁর কার্যাবলীর পরিচায়ক শব্দাবলি মাত্র। আর তাঁর কার্যাবলী—যেমনটি আমরা বলেছি—হলো তাঁর সৃষ্টিসমূহ, যেমন আকাশ ও পৃথিবী ইত্যাদি শব্দ। সুতরাং যে ব্যক্তি এই সৃষ্টিগুলোর পরিচায়ক শব্দসমূহ জানল, এর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার মারিফাত বা পরিচয় লাভের ক্ষেত্রে তার কী অর্জিত হলো? উদাহরণস্বরূপ, পারস্পরিক কথোপকথনে 'আকাশ' নির্দেশকারী শব্দটি জানা এবং মহান আল্লাহর পরিচয়ের মধ্যে কী তাত্ত্বিক প্রমাণ বা কী সম্পর্ক বিদ্যমান? তার এই উক্তি কি প্রলাপ এবং মূর্খতার আবর্তে বিভ্রান্তি ছাড়া আর কিছু?

আর তার এই উক্তি—"তাঁর রুবুবিয়্যাত বা প্রভুত্বের ক্ষেত্রে তাঁর তদবির (ব্যবস্থাপনা)"—প্রসঙ্গে বলা যায় যে, 'তদবির' শব্দটির মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে যা বোধগম্য হয় তা হলো মানসিক চিন্তাভাবনা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক পরিকল্পনা। অথচ স্রষ্টা সুবহানাহু ওয়া তাআলা এমন তদবির থেকে পবিত্র যা চিন্তাভাবনা ও অনুমানের অর্থ বহন করে। কারণ, এটি কেবল এমন সত্তার ক্ষেত্রেই কল্পনা করা যায় যার কোনো বিষয়ে অজ্ঞতা রয়েছে এবং সে বিষয়টি সম্পর্কে জ্ঞান লাভের জন্য চিন্তাশক্তি প্রয়োগ করতে চায়। আল্লাহর ক্ষেত্রে অজ্ঞতা অসম্ভব, তাই চিন্তাভাবনার অর্থে তদবিরও তাঁর জন্য অসম্ভব। যদি প্রশ্নকারী তার বক্তব্যের মাধ্যমে অন্য কিছু উদ্দেশ্য করে থাকেন, তবে তার বর্ণনা ও প্রমাণের স্পষ্টীকরণ আবশ্যক।

আর 'রুবুবিয়্যাত' বিষয়টি হলো 'রব' শব্দ থেকে উদ্ভূত একটি শব্দ। আরবদের ভাষাগত ব্যবহারে 'রব' শব্দের দুটি অর্থ প্রচলিত: প্রথমটি হলো নেতা বা শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী (সাইয়্যিদ), এবং দ্বিতীয়টি হলো মালিক বা স্বত্বাধিকারী। যদি সে এর দ্বারা প্রথম অর্থটি উদ্দেশ্য করে থাকে যা মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের দিকে প্রত্যাবর্তন করে, তবে তা ভুল। কারণ আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ও মহিমা তাঁর জন্য অপরিহার্য ও আবশ্যিক; তা অর্জনের জন্য কোনো প্রকার তদবির বা চিন্তাভাবনার মুখাপেক্ষিতা নেই। অথচ তার বক্তব্যের দাবি ও মর্মার্থ হলো—তিনি তাঁর রুবুবিয়্যাত নিয়ে তদবির করেছেন এবং নিজের জন্য নিজের তদবিরের মাধ্যমে তা অস্তিত্বে এনেছেন। এটি চরম মূর্খতা এবং প্রকাশ্য কুফর। আর যদি সে দ্বিতীয় অর্থটি তথা মালিকানা উদ্দেশ্য করে থাকে, তবে তাও তার কথার বাহ্যিক কাঠামোর সাথে সংগতিপূর্ণ হয় না; কারণ সেক্ষেত্রে তার কথার অর্থ দাঁড়াবে—তিনি তাঁর মালিকানার ক্ষেত্রে তদবির করেছেন এবং তা অস্তিত্বে এনেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইলামু বিমা ফী দীনিন নাসারা মিনাল ফাসাদি ওয়াল আওহাম (পৃষ্ঠা: ৫৪)
عَن التَّدْبِير الَّذِي هُوَ روية وتفكير ويتعالى عَن ذَلِك الْخَالِق الْقَدِير المنزه عَن خواطر النَّفس وهواجس الضَّمِير

ثمَّ لما فرغ هَذَا السَّائِل من خطبَته الغراء البديعة الْإِنْشَاء الَّتِي من وقف عَلَيْهَا علم أَنه عَن المعارف مَصْرُوف وَأَنه لَا يفهم الْمعَانِي وَلَا يحسن كِتَابَة الْحُرُوف شرع فِي طَريقَة الْجِدَال وَكَيْفِيَّة الإستدلال فَكَأَنَّهُ فِي نظم مقعولاته الطوسى وَفِي آدَاب جدله البروى ولعمر الله لَو كَانَ هَذَا السَّائِل عَاقِلا لستر عواره وَلم يبد غَارة

وَلكنه جهل فَقَالَ وَحَيْثُ وَجب أَن يسكن جال

وَلَقَد كَانَ يَنْبَغِي لهَذَا السَّائِل أَلا يتَكَلَّم فِي شَيْء من عُلُوم الإعتقاد حَتَّى يحسن شُرُوط النّظر وَيحكم مَا يحْتَاج إِلَيْهِ من الْموَاد والفكر وَلما بَادر إِلَى الْكَلَام فِي ذَلِك من غير تَحْصِيل شَيْء مِمَّا هُنَالك تثبج عَلَيْهِ كَلَامه وصعب عَلَيْهِ مرامه فَرُبمَا كَانَ الْمَعْنى الَّذِي يَقْصِدهُ قَرِيبا فيبعده أَو مجتمعا فيبدده وسيتبين ذَلِك فِي كَلَامه

وَلما كَانَ ذَلِك رَأَيْت أَنى إِن تتبعت كَلَامه كَمَا تتبعت خطبَته خرج الْأَمر الإعتدال وَأدّى ذَلِك إِلَى الكسل والملال وضياع الزَّمن فِي ضروب الهذيان هُوَ غَايَة الخسران فَرَأَيْت أَن أعرض عَن آحَاد كَلِمَاته وأناقشه فِي مَعَانِيهَا ومفهوماتها ثمَّ إِنِّي رُبمَا لَا أَتكَلّم مَعَه حَتَّى أحكى مذْهبه وَأبين لَهُ مَا أَرَادَهُ بِكَلَام حسن وجيز ليَكُون ذَلِك أبلغ فِي الْفَهم وَأمكن فِي التَّمْيِيز وَإِلَى الله عز وجل أَرغب وَعَلِيهِ أتوكل فِي أَن يشْرَح صدورنا وييسر علينا أمورنا ويستعملنا فِيمَا يقربنا مِنْهُ وينفعنا عِنْده أَنه ولى ذَلِك الْقَادِر عَلَيْهِ

تمّ الصَّدْر والآن نشرع فِي الْأَبْوَاب
সেই পরিচালনা বা তদ্বীর হতে তিনি পবিত্র যা মূলত চিন্তা ও গবেষণালব্ধ বিষয়; পরাক্রমশালী স্রষ্টা এর বহু ঊর্ধ্বে, তিনি নফসের কুমন্ত্রণা ও অন্তরের দ্বিধা-দ্বন্দ্ব হতে বিমুক্ত।

অতঃপর এই প্রশ্নকারী যখন তার সেই জাঁকজমকপূর্ণ ও অলঙ্কারবহুল রচনার ভূমিকা শেষ করল—যা পাঠ করলে যে কেউ বুঝতে পারবে যে সে প্রকৃত জ্ঞান হতে বিমুখ এবং সে না বোঝে গূঢ় অর্থ, আর না জানে বর্ণ বিন্যাস—তখন সে বিতর্কের পথ ও দলিল উপস্থাপনের পদ্ধতিতে লিপ্ত হলো। যেন সে তার যুক্তি বিন্যাসে তূসী আর তর্কের আদব রক্ষায় বারবী হয়ে উঠেছে! আল্লাহর কসম, এই প্রশ্নকারী যদি বুদ্ধিমান হতো তবে সে নিজের ত্রুটিগুলো গোপন রাখত এবং নিজের নির্বুদ্ধিতাকে এভাবে প্রকাশ করত না।

কিন্তু সে ছিল অজ্ঞ, তাই সে এমন কথা বলেছে যে, যেখানে তার স্থির থাকা উচিত ছিল সেখানে সে অস্থিরতা প্রদর্শন করেছে।

এই প্রশ্নকারীর জন্য সমীচীন ছিল আকিদাহ শাস্ত্রের কোনো বিষয়ে ততক্ষণ কথা না বলা, যতক্ষণ না সে গভীর পর্যবেক্ষণের শর্তাবলীতে ব্যুৎপত্তি লাভ করে এবং প্রয়োজনীয় বুদ্ধিবৃত্তিক উপাদান ও চিন্তার পদ্ধতিতে দক্ষতা অর্জন করে। কিন্তু যখন সে প্রয়োজনীয় জ্ঞান অর্জন ছাড়াই এ বিষয়ে কথা বলতে উদ্যত হলো, তখন তার বক্তব্য অসংলগ্ন হয়ে পড়ল এবং তার লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে দাঁড়াল। ফলে দেখা যায়, সে অনেক সহজবোধ্য বিষয়কে দূরূহ করে ফেলেছে অথবা সুসংবদ্ধ বিষয়কে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে; অচিরেই তার বক্তব্যের বিশ্লেষণে বিষয়টি স্পষ্ট হবে।

এমতাবস্থায় আমি অনুভব করলাম যে, তার ভূমিকার মতো যদি তার প্রতিটি বক্তব্যের পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসরণ করি, তবে তা পরিমিতিবোধের সীমা অতিক্রম করবে এবং ক্লান্তি ও বিরক্তির উদ্রেক করবে। আর অর্থহীন প্রলাপে সময় নষ্ট করা চূড়ান্ত ক্ষতিগ্রস্ততা বৈ কিছু নয়। তাই আমি তার প্রতিটি শব্দ ধরে আলোচনার পরিবর্তে তার মূল বক্তব্য ও মর্মার্থ নিয়ে পর্যালোচনাই সমীচীন মনে করেছি। আমি তার মতবাদ বর্ণনা করা এবং সে যা বোঝাতে চেয়েছে তা সুন্দর ও সংক্ষিপ্ত ভাষায় স্পষ্ট করা ব্যতিরেকে তার সাথে কোনো আলোচনা করব না, যাতে বিষয়টি অনুধাবনে অধিকতর কার্যকর হয় এবং পার্থক্য নিরূপণে সহায়ক হয়। মহান আল্লাহর নিকট আমি প্রার্থনা করি এবং তাঁর ওপরই ভরসা রাখি যেন তিনি আমাদের বক্ষসমূহ উন্মোচিত করে দেন, আমাদের কার্যাদি সহজ করে দেন এবং আমাদের সেই কাজে নিয়োজিত করেন যা তাঁর নৈকট্য দান করে ও তাঁর দরবারে আমাদের জন্য ফলপ্রসূ হয়। নিশ্চয়ই তিনি এর অধিপতি এবং এর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান।

ভূমিকা সমাপ্ত হলো; এখন আমরা মূল অধ্যায়সমূহের আলোচনা শুরু করছি।
(খণ্ড: ১) আল-ইলামু বিমা ফী দীনিন নাসারা মিনাল ফাসাদি ওয়াল আওহাম (পৃষ্ঠা: ৫৫)
الْبَاب الأول

‌‌فِي بَيَان مذاهبهم فِي الأقانيم وَإِبْطَال قَوْلهم فِيهَا

الأقانيم أَسمَاء وأفعال

‌‌أقانيم الْقُدْرَة وَالْعلم والحياة

تَعْلِيل التَّثْلِيث

‌‌دَلِيل التَّثْلِيث

فِي بَيَان اخْتلَافهمْ فِي الأقانيم
প্রথম অধ্যায়

‌‌আকানিম (মৌলিক ব্যক্তিসত্তা) প্রসঙ্গে তাদের মতবাদসমূহের বর্ণনা এবং এ বিষয়ে তাদের বক্তব্যের অসারতা প্রমাণ

আকানিম হলো নাম ও কার্যাবলি

‌‌ক্ষমতা, জ্ঞান ও জীবনের আকানিমসমূহ

ত্রিত্ববাদের যৌক্তিক বিশ্লেষণ

‌‌ত্রিত্ববাদের প্রমাণ

আকানিম বিষয়ে তাদের মতভেদের বিবরণ প্রসঙ্গে
(খণ্ড: ১) আল-ইলামু বিমা ফী দীনিন নাসারা মিনাল ফাসাদি ওয়াল আওহাম (পৃষ্ঠা: ৫৭)
‌‌الْفَصْل الأول

الأقانيم أَسمَاء أَفعَال

‌‌فِي حِكَايَة كَلَام السَّائِل وَ‌‌الْجَوَاب عَنهُ

قَالَ السَّائِل

الْآن وَجب على أَن أَسأَلك فِي أَمر التَّثْلِيث عَن خلق الله لجَمِيع مَا خلق إِن كَانَ خلقهمْ بقدرة وَعلم وَإِرَادَة أم خلقهمْ بِغَيْر هَذَا فَإِذا اضطرتك الْمَسْأَلَة إِلَى القَوْل بهَا فإنى أَسأَلك إِن كَانَت أَسمَاء لذاته أَو أَسمَاء لأفعاله فَإِن قلت هِيَ أَسمَاء لذاته فقد نقضت وجعلتها أَسمَاء للذات وَوَقعت فِيمَا أنْكرت من الْجِسْم وَإِن قلت من أَسمَاء أَفعاله الَّتِي مِنْهَا سمى قَادر عَالم مُرِيد فَهُوَ التَّثْلِيث الَّذِي أمرنَا بِهِ

الْجَواب عَنهُ

سَأَلت يَا هَذَا الْمِقْدَام بعد إعجام واستبهام هَل خلق الله تَعَالَى الْخلق بقدرة وَعلم وَإِرَادَة أم بغيرهم وَهَذَا السُّؤَال كَانَ يَنْبَغِي لَك أَلا تسْأَل عَنهُ حَتَّى تفرغ من معرفَة الْمَرَاتِب الَّتِي قبله وَذَلِكَ أَنَّك لَا تصل إِلَى مَا سَأَلت عَنهُ حَتَّى تعرف معنى الْخلق وَهل الْعَالم مَخْلُوق وَإِن كَانَ مخلوقا فَهَل يحْتَاج إِلَى خَالق أم لَا فَإِذا بلغت إِلَى هُنَا وَقطعت هَذِه المفاوز الَّتِي لَا تقطع بالمنى وَلَا يتَخَلَّص مِنْهَا بالهويني وَلَا يَكْتَفِي فِي تَحْصِيل الْعلم بذلك بالتقليد بل بِالنّظرِ الشَّديد والبرهان العتيد

حِينَئِذٍ كَانَ يَنْبَغِي أَن تسْأَل عَمَّا سَأَلت عَنهُ لكنك يجهلك بطريقة النّظر قدمت وأخرت {وَفعلت فعلتك الَّتِي فعلت} وَلَو كَانَت مِمَّن لَهُ فِي النّظر نصيب لضَرَبْت فِيهِ بِسَهْم مُصِيب ولاقتديت بمعلمكم الأزعم وأسقفكم الْأَعْظَم أغشتين فها هُوَ يَقُول فِي مصحف الْعَالم
প্রথম পরিচ্ছেদ

আকানিম বা ত্রিত্ববাদ হলো কার্যাবলীর নামসমূহ

প্রশ্নকর্তার বক্তব্য ও তার উত্তর প্রসঙ্গে

প্রশ্নকর্তা বললেন

এখন আল্লাহর সমস্ত সৃষ্টির সৃজনক্রিয়ার প্রেক্ষিতে ত্রিত্ববাদ সম্পর্কে আপনাকে প্রশ্ন করা আমার জন্য আবশ্যক হয়েছে; তিনি কি তাদের ক্ষমতা, জ্ঞান ও ইচ্ছার মাধ্যমে সৃষ্টি করেছেন, নাকি এগুলো ব্যতীত অন্য কিছুর মাধ্যমে? যদি এই মাসআলাটি আপনাকে এগুলো স্বীকার করতে বাধ্য করে, তবে আমি আপনাকে জিজ্ঞেস করছি যে, এগুলো কি তাঁর সত্তাগত নাম নাকি তাঁর কর্মগত নাম? যদি আপনি বলেন এগুলো তাঁর সত্তাগত নাম, তবে আপনি নিজের বক্তব্যেরই বিরোধিতা করলেন এবং এগুলোকে সত্তার নাম হিসেবে সাব্যস্ত করে সেই শারীরিক অবয়বের ধারণায় লিপ্ত হলেন যা আপনি ইতিপূর্বে অস্বীকার করেছিলেন। আর যদি আপনি বলেন এগুলো তাঁর কর্মগত নাম—যদ্দরুন তাঁকে ক্ষমতাবান, সর্বজ্ঞ ও ইচ্ছাশক্তিমান বলা হয়—তবে এটাই হলো সেই ত্রিত্ববাদ যার আদেশ আমাদের দেয়া হয়েছে।

এর উত্তর

হে দুঃসাহসী ব্যক্তি! অস্পষ্টতা ও জটিলতার পর আপনি প্রশ্ন করেছেন যে, আল্লাহ তাআলা সৃষ্টিজগতকে ক্ষমতা, জ্ঞান ও ইচ্ছার মাধ্যমে সৃষ্টি করেছেন কি না। আপনার জন্য সমীচীন ছিল না এই প্রশ্নটি করা, যতক্ষণ না আপনি এর পূর্ববর্তী স্তরগুলোর জ্ঞান অর্জন সম্পন্ন করতেন। কেননা আপনি যা জিজ্ঞাসা করেছেন সেখানে পৌঁছানো সম্ভব নয় যতক্ষণ না আপনি সৃষ্টির অর্থ এবং এই জগতটি সৃষ্ট কি না তা জানতে পারেন। আর যদি তা সৃষ্টই হয়, তবে কি এর কোনো স্রষ্টার প্রয়োজন আছে কি নেই? যখন আপনি এই স্তরে পৌঁছাবেন এবং এই দুর্গম পথগুলো অতিক্রম করবেন—যা কেবল অলীক আকাঙ্ক্ষা দিয়ে পাড়ি দেওয়া যায় না এবং যা থেকে অবহেলায় নিষ্কৃতি পাওয়া সম্ভব নয়, আর এ সংক্রান্ত জ্ঞান অর্জনে অন্ধ অনুসরণ যথেষ্ট নয়, বরং গভীর পর্যবেক্ষণ ও অকাট্য প্রমাণের প্রয়োজন—

তখনি আপনার জন্য উপযুক্ত হতো সেই বিষয়ে প্রশ্ন করা যা সম্পর্কে আপনি জিজ্ঞাসা করেছেন। কিন্তু চিন্তাধারা ও পর্যালোচনার পদ্ধতি সম্পর্কে আপনার অজ্ঞতার কারণে আপনি অগ্র-পশ্চাৎ গুলিয়ে ফেলেছেন এবং "আপনি সেই কাজই করেছেন যা আপনি করেছেন"। যদি আপনার পর্যালোচনার সামান্য সক্ষমতাও থাকত, তবে আপনি সঠিক নিশানায় আঘাত করতে পারতেন এবং আপনাদের প্রধান শিক্ষক ও মহান বিশপ অগাস্টিনকে অনুসরণ করতেন; কারণ তিনি 'বিশ্বের গ্রন্থ'-এ বলছেন:
(খণ্ড: ১) আল-ইলামু বিমা ফী দীনিন নাসারা মিনাল ফাসাদি ওয়াল আওহাম (পৃষ্ঠা: ৫৮)
الْكَائِن فِي أول ورقة مِنْهُ يَنْبَغِي أَن يَجْعَل الْكَلَام فِي النظريات على منَازِل ودرجات ليَكُون من اجْتمع مَعنا فِي الدرجَة الأولى تكلمنا مَعَه فِي الدرجَة الثَّانِيَة وَمن اجْتمع مَعنا فِي الدرجَة الثَّانِيَة تكلمنا مَعَه فِي الدرجَة الثَّالِثَة ثمَّ نمضى كَذَلِك إِلَى أقْصَى نهايات الْكَلَام فَإِنَّمَا يكون فَسَاد الْكَلَام وتناقضه وإشتباهه من قبل النَّقْص فِي معرفَة هَذَا الدرج لأَنا مَتى ناظرنا فِي الدرجَة الثَّانِيَة من لم يجْتَمع مَعنا فِي الأولى لم يبلغ الْكَلَام غَايَة وَلم يقف على نِهَايَة

وعَلى منواله نسج حَفْص بن الْبر فِي أَقْوَاله وَلَقَد كَانَ لَك فيهمَا أُسْوَة لَو كنت أَهلا للقدوة فبينك وَبَين من سؤالك هَذَا ثَلَاثَة أدراج حارت فِيهَا عقول كثير من النظار وفنيت أزمان ونفدت أَعمار فكلامك يَا هَذَا فَاسد هجين بِشَهَادَة قسيسكم أغشتين

وَأما قَوْلك فَإِذا اضطرتك الْمَسْأَلَة إِلَى القَوْل بهَا فَقَوْل غير صَحِيح وَالْجهل على قَائِله يلوح وَكَيف تضطر الْمَسْأَلَة مَعَ نظر سقيم أخذت مقدماته بالتحكم وَالتَّسْلِيم وَإِنَّمَا كَانَ يلْزم ذَلِك لَو نزلت فِي
এর প্রথম পৃষ্ঠায় যা বিদ্যমান, তা হলো: তাত্ত্বিক আলোচনাকে বিভিন্ন স্তর ও পর্যায়ক্রমে বিন্যস্ত করা উচিত। ফলে যারা প্রথম স্তরে আমাদের সাথে একমত হবেন, তাদের সাথে আমরা দ্বিতীয় স্তরে আলোচনা করব; এবং যারা দ্বিতীয় স্তরে একমত হবেন, তাদের সাথে তৃতীয় স্তরে আলোচনা করব। এভাবেই আমরা আলোচনার চূড়ান্ত সীমা পর্যন্ত অগ্রসর হব। মূলত আলোচনার বিভ্রান্তি, স্ববিরোধিতা ও অস্পষ্টতা তৈরি হয় এই স্তরবিন্যাস সম্পর্কে জ্ঞানের অভাবের কারণে। কেননা, আমরা যখন দ্বিতীয় স্তরে এমন কারও সাথে বিতর্ক করি যে প্রথম স্তরে আমাদের সাথে একমত হয়নি, তখন সেই আলোচনা কোনো লক্ষ্যে পৌঁছায় না এবং কোনো উপসংহারেও উপনীত হয় না।

হাফস ইবনুল বার্র তার বক্তব্যসমূহকে এই একই ধারায় বিন্যস্ত করেছেন। আপনার জন্য তাদের মধ্যে উত্তম আদর্শ ছিল, যদি আপনি অনুসরণ করার যোগ্য হতেন। আপনার এবং আপনার এই প্রশ্নের মাঝখানে তিনটি পর্যায় রয়েছে, যাতে বহু চিন্তাবিদদের বুদ্ধি দিশেহারা হয়েছে, যুগ অতিবাহিত হয়েছে এবং জীবন নিঃশেষ হয়েছে। হে ব্যক্তি! আপনার কথা ভ্রান্ত ও অসার, যা আপনাদের পাদ্রী অগাস্টিনের সাক্ষ্য দ্বারাই প্রমাণিত।

আর আপনার বক্তব্য: "যখন বিষয়টি আপনাকে এটি বলতে বাধ্য করে", তবে এটি একটি অশুদ্ধ কথা এবং এর প্রবক্তার মূর্খতা এতে সুস্পষ্ট। এমন রুগ্ন দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে কোনো বিষয় কীভাবে বাধ্য করতে পারে, যার ভূমিকা বা প্রাঙ্গণসমূহ কেবল জবরদস্তি ও অন্ধ অনুকরণের ওপর ভিত্তি করে গৃহীত হয়েছে? এটি কেবল তখনই আবশ্যক হতো যদি আপনি...
(খণ্ড: ১) আল-ইলামু বিমা ফী দীনিন নাসারা মিনাল ফাসাদি ওয়াল আওহাম (পৃষ্ঠা: ৫৯)
كلامك على شَرط السبر والتقسيم ونهجت مَنْهَج النّظر القويم والا فَبِمَ تنكر على الدهرى حَيْثُ يَقُول لَا أسلم أَن الْعَالم مَخْلُوق وَبِمَ تنكر على الفلسفي حَيْثُ يَقُول أسلم أَنه مَخْلُوق لَكِن لَا أسلم أَنه مُحْتَاج إِلَى خَالق مخترعه بعد الْعَدَم وَبِمَ تنكر على الطبيعي حَيْثُ يَقُول لَا يحْتَاج عَالم الطبائع إِلَى خَالق ذِي قدرَة وَعلم وَإِرَادَة وحياة ثمَّ لأي شَيْء تحكمت وَقلت إِنَّهَا ثَلَاثَة فلعلها أَكثر أَو أقل وَلَا بُد لَك من معرفَة إبِْطَال مَذَاهِب هَؤُلَاءِ بالبرهان وَحِينَئِذٍ تحصل على مرتبَة الإيقان وَهَذَا لَيْسَ بغشك فاضطجع على نمشك … خلى الطَّرِيق لمن يبْنى الْمنَار بِهِ

واقعد ببرزة حَيْثُ اضطرك الْقدر …

 

وَأما قَوْلك فَإِنِّي أَسأَلك إِن كَانَت أَسمَاء لذاته أَو أَسمَاء لأفعاله فَإِن قلت هِيَ أَسمَاء لذاته هِيَ أَسمَاء لذاته فقد نقضت وجعلتها أَسمَاء للذات وَوَقعت فِيمَا أنْكرت من الْجِسْم فسؤال لَا يسْتَحق أَن يسمع وَلَا لصَاحبه فِي الْعقل مطمع قسمت وسبرت وَبقيت عَلَيْك أَقسَام وَمَا شَعرت إِذْ لقَائِل أَن يَقُول لَيست هَذِه الْأَسْمَاء من أَسمَاء الذَّات وَلَا من أَسمَاء الْأَفْعَال بل هِيَ قسم آخر وَهُوَ أَسمَاء الصِّفَات والتقسيم مَتى لم يكن دائرا بَين النفى وَالْإِثْبَات فَهُوَ معرض للنقوض والآفات ثمَّ أطرف من العنقاء شرعة فِي أول كَلَامه فِي المسميات ثمَّ أَخذه فِي الْكَلَام فِي الْأَسْمَاء وَلم يفرق بَين الإسم والمسمى فَهُوَ جَاهِل أعمى

ثمَّ انْظُر بله هَذَا السَّائِل وَعدم حسه فَلَقَد خرج بجهله عَن أَبنَاء جنسه كَيفَ قَالَ فَإِن قلت هِيَ أَسمَاء لذاته فقد نقضت وجعلتها أسما للذات وَأي فرق بَين قَوْله فِي الْمُقدم وَبَين قَوْله فِي التَّالِي وَهل هَذَا إِلَّا بِمَثَابَة من يَقُول إِن قلت هَذَا الْيَوْم نَهَارا فقد نقضت وَجَعَلته نَهَارا

فَمَا أعرفك يَا هَذَا بنتيجة الشرطى الْمُتَّصِل وحدوده وبحد النقيض وشروطه فَلَو استرزقت الله عقلا لَكَانَ الأحرى بك من الْكَلَام فِي المعتقدات وَالْأولَى ثمَّ أعجب من ذَلِك كُله أَنَّك لَزِمت من قَالَ إِن الْعلم وَالْقُدْرَة والإرادة أَسمَاء للذات القَوْل بالتجسيم وَهَذَا نتيجة الْجَهْل الصميم والفهم الْمُسْتَقيم وَهَذَا من أَيْن يلْزم
আপনার কথা তো বিশ্লেষণ ও শ্রেণিকরণের শর্তানুসারী এবং আপনি সঠিক যুক্তিনির্ভর পথ অনুসরণ করেছেন। নতুবা, আপনি কোন্ যুক্তিতে বস্তুবাদীকে অস্বীকার করবেন যখন সে বলে: "আমি বিশ্ব সৃষ্টি হয়েছে বলে মেনে নিই না"? আর দার্শনিককেই বা কী করে অস্বীকার করবেন যখন সে বলে: "আমি মেনে নিই যে বিশ্ব সৃষ্টি হয়েছে, কিন্তু এটি মানি না যে অনস্তিত্বের পর এর একজন উদ্ভাবক স্রষ্টার প্রয়োজন আছে"? আর প্রকৃতিবাদীকে কীভাবে খণ্ডন করবেন যখন সে বলে: "প্রকৃতি জগতের জন্য ক্ষমতা, জ্ঞান, ইচ্ছা ও জীবনসম্পন্ন কোনো স্রষ্টার প্রয়োজন নেই"? অতঃপর আপনি কিসের ভিত্তিতে হুকুম দিলেন যে এগুলো তিনটি? সম্ভবত এগুলো এর চেয়ে বেশি বা কমও হতে পারে। দলিলের মাধ্যমে এই দলগুলোর মতবাদ বাতিল করার পদ্ধতি আপনাকে অবশ্যই জানতে হবে; তবেই আপনি নিশ্চিত বিশ্বাসের স্তরে পৌঁছাতে পারবেন। আর এটি আপনার জন্য কোনো ধোঁকা নয়, বরং আপনার আরামদায়ক শয্যায় শুয়ে থাকাই শ্রেয় ... যে ব্যক্তি এর দ্বারা আলোকস্তম্ভ নির্মাণ করবে তার জন্য পথ ছেড়ে দিন

আর যেখানে ভাগ্য আপনাকে বাধ্য করেছে সেখানেই একান্তে বসে থাকুন। ...

 

আর আপনার এই উক্তি প্রসঙ্গে—আমি আপনাকে জিজ্ঞাসা করি: এগুলো কি তাঁর সত্তার নাম নাকি তাঁর কার্যাবলির নাম? আপনি যদি বলেন এগুলো তাঁর সত্তার নাম, তবে তো আপনি নিজের কথা নিজেই লঙ্ঘন করলেন এবং এগুলোকে সত্তার নাম হিসেবে নির্ধারণ করলেন; ফলে আপনি সেই দেহবাদের (জিসম) মধ্যেই নিপতিত হলেন যা আপনি অস্বীকার করেছিলেন। আপনার এই প্রশ্নটি এমন যা শোনার যোগ্য নয় এবং বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে এর প্রবক্তার কোনো প্রাপ্তি নেই। আপনি বিশ্লেষণ ও শ্রেণিকরণ করেছেন ঠিকই, কিন্তু আপনি কিছু শ্রেণি বিন্যাস বাদ রেখেছেন যা আপনি টেরই পাননি। কেননা কোনো বক্তা বলতেই পারে যে, এই নামগুলো সত্তার নামের অন্তর্ভুক্ত নয় এবং কার্যাবলির নামেরও অন্তর্ভুক্ত নয়; বরং এটি অন্য একটি শ্রেণি, আর তা হলো গুণাবলির নাম (আসমাউস সিফাত)। আর শ্রেণিকরণ যতক্ষণ নেতিবাচকতা ও ইতিবাচকতার মধ্যে আবর্তিত না হয়, ততক্ষণ তা খণ্ডন ও ত্রুটির সম্মুখীন হয়। অতঃপর আশ্চর্যের বিষয় হলো, সে তার আলোচনার শুরুতে 'নামধারী' সম্পর্কে কথা বলতে শুরু করল, তারপর সে 'নাম' নিয়ে আলোচনা করতে লাগল। সে নাম ও নামধারীর মধ্যে কোনো পার্থক্য করেনি; অতএব সে একজন অন্ধ জাহিল।

অতঃপর এই প্রশ্নকর্তার মূর্খতা ও সংবেদনহীনতার দিকে লক্ষ্য করুন; সে তার অজ্ঞতার কারণে নিজ শ্রেণির মানুষ থেকেও বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সে কীভাবে বলল: "যদি আপনি বলেন এগুলো তাঁর সত্তার নাম, তবে আপনি নিজের কথা ভঙ্গ করলেন এবং সেটিকে সত্তার নাম হিসেবে সাব্যস্ত করলেন"? তার পূর্ববর্তী বাক্য ও পরবর্তী বাক্যের মধ্যে পার্থক্য কী? এটি তো অনেকটা সেই ব্যক্তির মতো যে বলে: "যদি তুমি বলো যে আজ দিন, তবে তো তুমি তোমার কথা ভঙ্গ করলে এবং একে দিন হিসেবে সাব্যস্ত করলে!"

হে ব্যক্তি, শর্তযুক্ত অবিচ্ছিন্ন অনুমানের ফলাফল ও এর সীমা এবং বিপরীত ধর্মী বিষয়ের সীমা ও শর্তাবলি সম্পর্কে আপনার জ্ঞান কতই না সামান্য! যদি আপনি আল্লাহর কাছে বুদ্ধির প্রার্থনা করতেন, তবে আকিদাগত বিষয়ে কথা বলার চেয়ে সেটিই আপনার জন্য অধিকতর উপযোগী ও উত্তম হতো। এরপর সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, যে ব্যক্তি বলে যে জ্ঞান, ক্ষমতা ও ইচ্ছা হলো সত্তার নাম, আপনি তার জন্য অবধারিতভাবে দেহবাদের মতবাদকে আবশ্যক করেছেন! এটি চরম মূর্খতা ও বক্র বুঝের বহিঃপ্রকাশ। এটি কোন্ যুক্তি থেকে অনিবার্য হতে পারে?
(খণ্ড: ১) আল-ইলামু বিমা ফী দীনিন নাসারা মিনাল ফাসাদি ওয়াল আওহাম (পৃষ্ঠা: ৬০)
أَمن نقيض التَّالِي أَو عين الْمُقدم فوالذي خص الأذكياء بالعقول لقد أربيت فِي جهلك على كل جهول وأتيت بِمَا لَيْسَ بِمَفْهُوم وَلَا مَعْقُول

وَأما قَوْلك وَإِن قلت من أَسمَاء أَفعاله الَّتِي مِنْهَا سمى قَادر عَالم مُرِيد فَهُوَ التَّثْلِيث الَّذِي أمرنَا بالْقَوْل بِهِ فَيقْضى أَن الأقانيم من أَسمَاء الْأَفْعَال فَهَذَا قَول لَا يَقُول بِهِ المجانين وَلَا الْأَطْفَال فَإِن معنى تَسْمِيَة الله تَعَالَى بأسماء الْأَفْعَال إِنَّمَا مَعْنَاهَا عِنْد الْعُقَلَاء أَن يخلق الله فعلا يُسمى ذَلِك الْفِعْل باسم فيشتق لله تَعَالَى من ذَلِك الْفِعْل إسم مِثَال ذَلِك خَالق ورازق يقالان على الله تَعَالَى بِاعْتِبَار خلق الْخلق ورزق الرزق فَإِن أردْت هَذَا الْمَعْنى كَانَ ذَلِك محالا على الصِّفَات العلى فَإِن صِفَاته سبحانه وتعالى لَيست بمخلوقة على مَا يعرف فِي مَوْضِعه وَأَيْضًا فَلَو جَازَ أَن يُسمى بِعلم يخلقه عَالما وبإرادة يخلقها مرِيدا وبقدرة يخلقها قَادِرًا جَازَ أَن يُسمى بحركة يخلقها متحركا وبصوت يخلقه مصوتا وَذَلِكَ مجْرى إِلَى جهالات لَا يَقُول بهَا عَاقل فَإِن أَرَادَ هَذَا السَّائِل بأسماء الْأَفْعَال أَمر آخر فَهُوَ إِنَّمَا اصْطلحَ مَعَ نَفسه فَكَانَ يَنْبَغِي لَهُ أَن يُفَسر مَا يَقُول إِذْ لم يتَكَلَّم بِمَا اصْطلحَ عَلَيْهِ أَرْبَاب الْعُقُول

وَأما قَوْلك فَهُوَ التَّثْلِيث الَّذِي أمرنَا بالْقَوْل بِهِ فَقَوْل فِيهِ كذبت وعَلى الله وَرُسُله افتريت فَإِن الرُّسُل عليهم السلام لم تَأمر بإعتقاد التَّثْلِيث لأحد من الْأَنَام بل قَالَت الْأَنْبِيَاء عليهم السلام مَا يعرفهُ الْخَاص وَالْعَام {فآمنوا بِاللَّه وَرُسُله وَلَا تَقولُوا ثَلَاثَة} وَلَقَد حصل للعقلاء بالتواتر وَعَلمُوا بالوراثة أَن الله تَعَالَى قَالَ {لقد كفر الَّذين قَالُوا إِن الله ثَالِث ثَلَاثَة} ثمَّ قَوْلك هَذَا تُرِيدُ بِهِ أَنكُمْ أمرْتُم بإعتقاد آلِهَة ثَلَاثَة وَإِنَّكُمْ قيل لكم اعتقدوا فِي الله تَعَالَى أَنه آلِهَة ثَلَاثَة إِلَه وَاحِد وَقُولُوا بِهِ وَلَيْسَ الْأَمر كَذَلِك عِنْد رهبانكم الْمُتَقَدِّمين وأساقفتكم الماضين

هَذَا أغشتين يَقُول بعد أَن تكلم فِي الأقانيم مَا تثبت أَنَّهَا صِفَات على مَا يَقْتَضِيهِ كَلَامه ذَلِك أَنه قَالَ وَهَذَا قَوْلنَا فِي الأقانيم الثَّلَاثَة الَّتِي لَا يُمكن جَحدهَا مِنْهُ وَلَا وَصفه بغَيْرهَا وَهَذَا تَصْرِيح
পরবর্তিটির বিপরীত (consequent) থেকে নাকি পূর্ববর্তিটির (antecedent) মূল অস্তিত্ব থেকে? সেই সত্তার শপথ, যিনি মেধাবীদের বুদ্ধি দ্বারা বিশিষ্ট করেছেন, আপনি আপনার মূর্খতায় সকল অজ্ঞ ব্যক্তিকে ছাড়িয়ে গেছেন এবং এমন কিছু নিয়ে এসেছেন যা বোধগম্য কিংবা বুদ্ধিগ্রাহ্য নয়।

আর আপনার এই বক্তব্য—"যদি আমি বলি যে এগুলো তাঁর কার্যাবলীর নাম যা থেকে তিনি ক্ষমতাবান, সর্বজ্ঞ ও ইচ্ছাকারী নামে অভিহিত হয়েছেন, তবে এটিই হলো সেই ত্রিত্ববাদ যা আমাদের বিশ্বাস করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে; ফলে এটি সাব্যস্ত করে যে আকানিম (ব্যক্তিসত্তা) হলো কার্যাবলীর নামের অন্তর্ভুক্ত"—এটি এমন এক কথা যা কোনো পাগল কিংবা শিশুও বলবে না। কেননা, বুদ্ধিমানদের নিকট আল্লাহ তাআলাকে কার্যাবলীর নাম দ্বারা অভিহিত করার অর্থ হলো, আল্লাহ এমন একটি কাজ সৃষ্টি করবেন যে কাজটি কোনো নামে নামাঙ্কিত হবে এবং সেই কাজ থেকে আল্লাহ তাআলার জন্য একটি নাম নিষ্পন্ন হবে। এর উদাহরণ হলো ‘স্রষ্টা’ ও ‘রিযিকদাতা’, যা সৃষ্টির সৃষ্টি এবং রিযিকের সংস্থানের নিরিখে আল্লাহ তাআলার ক্ষেত্রে বলা হয়। সুতরাং আপনি যদি এই অর্থ উদ্দেশ্য করেন, তবে তা সুউচ্চ গুণাবলীর ক্ষেত্রে অসম্ভব হবে। কারণ মহান আল্লাহর গুণাবলী কোনো সৃষ্ট বিষয় নয়, যেমনটি স্বস্থানে সুপরিচিত। অধিকন্তু, যদি আল্লাহ তাআলা কোনো জ্ঞান সৃষ্টি করার কারণে ‘সর্বজ্ঞ’, কোনো ইচ্ছা সৃষ্টি করার কারণে ‘ইচ্ছাকারী’ এবং কোনো ক্ষমতা সৃষ্টি করার কারণে ‘ক্ষমতাবান’ হিসেবে অভিহিত হওয়া জায়েয হতো, তবে তাঁর দ্বারা সৃষ্ট কোনো গতির কারণে তাঁকে ‘গতিশীল’ এবং কোনো শব্দ সৃষ্টির কারণে তাঁকে ‘শব্দকারী’ বলাও জায়েয হতো। আর এটি এমন এক মূর্খতার দিকে ধাবিত করে যা কোনো বিবেকবান ব্যক্তি বলে না। আর এই প্রশ্নকারী যদি ‘কার্যাবলীর নাম’ দ্বারা অন্য কিছু বুঝিয়ে থাকেন, তবে তিনি কেবল নিজের সাথেই পরিভাষা স্থির করেছেন। এমতাবস্থায় তার উচিত ছিল তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা করা, যেহেতু তিনি এমন ভাষায় কথা বলেননি যা জ্ঞানীদের নিকট প্রচলিত পরিভাষা।

আর আপনার এই কথা—"এটিই হলো সেই ত্রিত্ববাদ যা আমাদের বলতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে"—এটি এমন এক উক্তি যাতে আপনি মিথ্যাচার করেছেন এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলদের প্রতি অপবাদ আরোপ করেছেন। কারণ রাসূলগণ (আলাইহিমুস সালাম) মানবজাতির কাউকে ত্রিত্ববাদে বিশ্বাসের নির্দেশ দেননি। বরং নবীগণ (আলাইহিমুস সালাম) তা-ই বলেছেন যা বিশিষ্ট ও সাধারণ সকলে অবগত আছে: "অতএব তোমরা আল্লাহর প্রতি ও তাঁর রাসূলগণের প্রতি ঈমান আনো এবং বলো না যে, আল্লাহ তিনজন"। বিবেকবানদের নিকট এটি অবিচ্ছিন্ন সংবাদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং তারা উত্তরাধিকার সূত্রে জেনেছেন যে মহান আল্লাহ বলেছেন: "নিশ্চয়ই তারা কুফরী করেছে যারা বলেছে আল্লাহ তিনজনের একজন"। এরপর আপনার এই কথার দ্বারা যদি আপনি এটি বুঝাতে চান যে আপনাদেরকে তিনটি উপাস্যে বিশ্বাসের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং আপনাদেরকে বলা হয়েছে যে, আপনারা আল্লাহ তাআলার ব্যাপারে বিশ্বাস করুন যে তিনি তিনজন উপাস্য—একই সাথে এক উপাস্য—এবং এটি প্রচার করুন, তবে বিষয়টি আপনাদের পূর্ববর্তী পাদ্রী ও যাজকদের নিকটও এমন ছিল না।

এই যে অগাস্টিন, তিনি আকানিমের ব্যাপারে আলোচনার পর যা সাব্যস্ত করেছেন তা মূলত গুণাবলীই, যেমনটি তাঁর কথার দাবি। তিনি বলেছেন: "তিনটি আকানিমের ব্যাপারে এটিই আমাদের বক্তব্য, যা তাঁর সত্তা থেকে অস্বীকার করা সম্ভব নয় এবং তাঁকে অন্য কোনো বিশেষণে বিশেষিত করাও যায় না।" আর এটি একটি সুস্পষ্ট ঘোষণা।
(খণ্ড: ১) আল-ইলামু বিমা ফী দীনিন নাসারা মিনাল ফাসাদি ওয়াল আওহাম (পৃষ্ঠা: ৬১)
مِنْهُ بِأَنَّهَا صِفَات ثمَّ قَالَ بعد ذَلِك فَهَذَا قَوْلنَا فِي التَّثْلِيث الَّذِي وَصفه الْإِنْجِيل وأمرنا بِالْإِيمَان بِهِ وَسَيَأْتِي نَص كَلَامه وَلم يقل أمرنَا بِأَن نعتقد أَن الله وَاحِد ثَلَاثَة فَإِن الْوَاحِد لَا يكون ثَلَاثَة وَالثَّلَاثَة لَا تكون وَاحِدًا كَمَا قد تبين فَسَاده بل مَفْهُوم قَوْله أَن الْإِنْجِيل وصف أَن الله تَعَالَى مَوْصُوف بِهَذِهِ الصِّفَات وأمرنا بالتصديق بذلك وَلَو أنكتم عَن أَلْسِنَتكُم أَمر التَّثْلِيث واعتقدتم أَن الله تَعَالَى وَاحِد مَوْصُوف بِصِفَات الْكَمَال ونعوت الْجلَال لوفقتم فِي هَذِه الْمَسْأَلَة للصَّوَاب ولحصلتم مِنْهَا على الْحق بِلَا ارتياب وَلَكِن من حرم التَّوْفِيق استدبر الطَّرِيق وَنكل عَن التَّحْقِيق

على أَن مَا ذكرته فِي أَمر التَّثْلِيث لَا يَسْتَقِيم على رَأْي الْمُتَقَدِّمين من أحباركم هَذَا صَاحب كتاب الْمسَائِل السَّبع وَالْخمسين يَقُول فِيهَا لَا نقُول إِن التَّثْلِيث ممتزج فِي أقنوم وَاحِد كَقَوْل شباليش وَلَا إلهية متحدة أَو متبعضة الذَّات كفرية آريش بل أَن أقنوم الآب غير أقنوم الإبن وأقنوم الإبن غير الرّوح لَكِن التَّثْلِيث الْمُقَدّس ذَات وَاحِدَة فَإِذا لم تكن ممتزجة وَكَانَ كل أقنوم مِنْهَا غير الآخر والأقنوم مَعْنَاهُ عنْدكُمْ الشَّيْء المستغنى بِذَاتِهِ عَن أصل جوهره فِي إِقَامَة خَاصَّة جوهريته فَكيف يَتَّسِع عقل لِأَن يَقُول إِن هَذِه الثَّلَاثَة المتغايرة الَّتِي هِيَ على مَا ذكر وَاحِد وَهل قَائِله إِلَّا معتوه أَو معاند

...এর মধ্য থেকে যে এগুলো গুণাবলি। অতঃপর তিনি এরপরে বলেন, "ত্রিত্ববাদ সম্পর্কে এটিই আমাদের বক্তব্য যা ইনজিল বর্ণনা করেছে এবং আমাদের তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে।" তাঁর বক্তব্যের মূল পাঠ সামনে আসবে। তিনি এ কথা বলেননি যে, আমাদের এই বিশ্বাস রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে আল্লাহ একই সাথে এক এবং তিন; কারণ এক কখনো তিন হয় না এবং তিন কখনো এক হতে পারে না, যেমনটি এর অসারতা ইতিপূর্বেই প্রমাণিত হয়েছে। বরং তাঁর বক্তব্যের মর্মার্থ হলো, ইনজিল বর্ণনা করেছে যে আল্লাহ তাআলা এই গুণাবলির দ্বারা বিশেষিত এবং আমাদের তা সত্য বলে স্বীকার করে নেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছে। যদি তোমরা তোমাদের মুখে ত্রিত্ববাদের কথা উচ্চারণ করা থেকে বিরত থাকতে এবং এই বিশ্বাস পোষণ করতে যে আল্লাহ তাআলা এক এবং তিনি পূর্ণতার গুণাবলি ও মহিমার বৈশিষ্ট্যে ভূষিত, তবে তোমরা এই মাসআলায় সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হতে এবং নিঃসন্দেহে সত্যের দেখা পেতে। কিন্তু যাকে তাওফিক থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে, সে সত্যের পথ থেকে বিমুখ হয় এবং প্রকৃত সত্য অনুসন্ধান করতে অস্বীকার করে।

তাছাড়া ত্রিত্ববাদ বিষয়ে আপনি যা উল্লেখ করেছেন, তা আপনাদের পূর্ববর্তী ধর্মতাত্ত্বিক পণ্ডিতদের মতানুসারেও সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এই যে 'সাতান্নটি মাসআলা' নামক গ্রন্থের প্রণেতা, তিনি এতে বলেছেন: "আমরা বলি না যে ত্রিত্ববাদ একটিমাত্র অকনুমের মধ্যে সংমিশ্রিত, যেমনটি শাবালিশের বক্তব্য; আর না আমরা এমন কোনো ঐশ্বরিকতার প্রবক্তা যা একীভূত অথবা সত্তাগতভাবে খণ্ডিত, যেমনটি আরিশের কুফরি বক্তব্য। বরং পিতা-অকনুম পুত্র-অকনুম থেকে ভিন্ন এবং পুত্র-অকনুম পবিত্র আত্মা থেকে ভিন্ন; তবে এই পবিত্র ত্রিত্ব হলো এক সত্তা।" এখন প্রশ্ন হলো, যদি তারা সংমিশ্রিত না হয় এবং তাদের প্রতিটি অকনুম যদি অন্যটি থেকে ভিন্ন হয়—আর আপনাদের পরিভাষায় 'অকনুম' মানে হলো এমন এক সত্তা যা আপন মৌলিক সারসত্তার স্বরূপ বজায় রাখার ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র ও স্বয়ংসম্পূর্ণ—তবে কোনো সুস্থ বিবেক কীভাবে এটি গ্রহণ করতে পারে যে, এই পরস্পর ভিন্ন তিনটি সত্তা আসলে এক? এর প্রবক্তা কি কোনো বিচারবুদ্ধিহীন উন্মাদ কিংবা সত্যবিমুখ হঠকারী ব্যতীত অন্য কেউ হতে পারে?

(খণ্ড: ১) আল-ইলামু বিমা ফী দীনিন নাসারা মিনাল ফাসাদি ওয়াল আওহাম (পৃষ্ঠা: ৬৩)
‌‌الْفَصْل الثَّانِي

أقانيم الْقُدْرَة وَالْعلم والحياة

‌‌فِي حِكَايَة كَلَامه أَيْضا

قَالَ

فَإِن قلت لم لَا تَقولُونَ بِسم الْعَالم الْقَادِر المريد إِذا قُلْتُمْ بإسم الآب والإبن وَالروح الْقُدس فيتبين آب وَابْن وروح الْقُدس ثَالِثا

اعْلَم أَن الْمَسِيح لما بعث الحواريين إِلَى جَمِيع الْأَجْنَاس قَالَ لَهُم من آمن مِنْهُم فعمدوه على اسْم الآب والإبن وَالروح الْقُدس وَإِنَّمَا خاطبنا بِمثل تعاقلنا فَجعل هَذِه الْأَسْمَاء كاختلاف قضايا تِلْكَ الْأَفْعَال ثمَّ وَاسِط ثمَّ أخر

فَأول القضايا خلق الله الْجَمِيع بيد سَمَّاهَا أَبَا وأضافها إِلَى الْقُدْرَة وأضاف قَضِيَّة وعظ الْمَسِيح للنَّاس إِلَى الْعلم وَسَماهُ ابْنا لِأَن الْعلم لَا يُوقع عَلَيْهِ حَتَّى يتَوَلَّد كلَاما وأضاف قَضِيَّة فنَاء جَمِيع الدُّنْيَا ومكافأة أَهلهَا بأعمالهم إِلَى الْإِرَادَة وسماها روح الْقُدس الَّذِي هُوَ قَادر عَالم مُرِيد اسْما للْوَاحِد الَّذِي لَا يتكثر

‌‌وَالْجَوَاب عَن قَوْله

اعْلَم يَا هَذَا إِنَّك لم تحسن السُّؤَال وَلَا حصلت مِنْهُ على صَوَاب مقَال بل حصل مِنْهُ فِي عُنُقك غل وَفِي رجليك عقال قلبت السُّؤَال وَلم تشعر وجهلت من حَيْثُ ظَنَنْت أَنَّك تستبصر اردت أَن تَقول فِي الإعتراض الَّذِي وجهته على نَفسك لم لَا تكتفون باسم الْقَادِر الْعَالم المريد وَلَا تَقولُونَ باسم الآب والإبن وروح الْقُدس فَقدمت وأخرت وباللفظ وَالْمعْنَى أخللت
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

ক্ষমতা, জ্ঞান ও জীবনের উকনুমসমূহ

তার বক্তব্যের বিবরণ প্রসঙ্গে

তিনি বললেন

যদি আপনি বলেন, যখন আপনারা পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে বলেন, তখন আপনারা কেন মহাজ্ঞানী, সর্বশক্তিমান ও ইচ্ছাময় সত্তার নামে বলেন না? ফলে পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মা—এই ত্রয়ীর বিষয়টি সুস্পষ্ট হয়ে উঠত।

জেনে রাখুন যে, মসীহ যখন তাঁর শিষ্যদের সকল জাতির নিকট প্রেরণ করলেন, তখন তিনি তাদের বলেছিলেন: "তাদের মধ্যে যারা ঈমান আনবে, তাদের পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে বাপ্তাইজ করো।" তিনি মূলত আমাদের সাথে আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক ধারণক্ষমতা অনুযায়ী কথা বলেছেন। ফলে তিনি এই নামগুলোকে ঐ সকল কর্মের পর্যায়ক্রমিক রূপ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন—প্রথমে মূল, তারপর মাধ্যম এবং সবশেষে সমাপ্তি।

বিষয়ের প্রথমটি হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে এক হাত দ্বারা সবকিছুর সৃষ্টি, যাকে তিনি 'পিতা' নামে অভিহিত করেছেন এবং একে 'ক্ষমতা'র (কুদরত) সাথে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন। আর মসীহের মানুষকে নসিহত করার বিষয়টিকে তিনি 'জ্ঞান' (ইলম)-এর সাথে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন এবং একে 'পুত্র' নামে অভিহিত করেছেন; কারণ জ্ঞান যতক্ষণ না বাণীতে রূপান্তরিত হয়, ততক্ষণ তা প্রকাশিত হয় না। আর সমগ্র জগতের বিলোপ এবং এর অধিবাসীদের তাদের কর্মের প্রতিফল প্রদানের বিষয়টিকে তিনি 'ইচ্ছা'র সাথে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন এবং একে 'পবিত্র আত্মা' নামে অভিহিত করেছেন। আর তিনিই হলেন সেই সর্বশক্তিমান, মহাজ্ঞানী ও ইচ্ছাময় সত্তা, যা মূলত এক ও অদ্বিতীয়ের নাম, যাতে কোনো বহুত্ব নেই।

তার বক্তব্যের উত্তর

হে ব্যক্তি, জেনে রাখুন যে, আপনি প্রশ্নটি সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারেননি এবং এর মাধ্যমে কোনো সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি। বরং এর ফলে আপনার গ্রীবায় একটি জোয়াল এবং চরণে একটি শৃঙ্খল আরোপিত হয়েছে। আপনি প্রশ্নটিকে উল্টে ফেলেছেন অথচ অনুধাবন করতে পারেননি; এবং আপনি যখন নিজেকে প্রজ্ঞাবান মনে করছিলেন, ঠিক তখনই অজ্ঞতার পরিচয় দিয়েছেন। আপনি নিজের ওপর উপস্থাপিত আপত্তিতে বলতে চেয়েছিলেন যে, কেন আপনারা সর্বশক্তিমান, মহাজ্ঞানী ও ইচ্ছাময় সত্তার নামেই তৃপ্ত থাকছেন না এবং কেন পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে বলছেন না? কিন্তু আপনি অগ্র-পশ্চাৎ গুলিয়ে ফেলেছেন এবং শব্দ ও অর্থের ক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলা ঘটিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইলামু বিমা ফী দীনিন নাসারা মিনাল ফাসাদি ওয়াল আওহাম (পৃষ্ঠা: ৬৪)
ثمَّ أنتجت النتيجة قبل ذكر الْمُقدمَات فَصَارَ لذَلِك كلامك من أرك الترهات فَقلت فِيهَا فيتبين آب وَابْن وروح الْقُدس ثَالِثا وَهَذَا كَلَام مختل نَاقص مشوب بِالْفَسَادِ غير خَالص وَإِنَّمَا كَانَ صَوَابه أَن يَقُول فيتبين أَنه آب وَابْن ثمَّ قلت ثَالِثا بِالنّصب بخطك ضَبطه مشعرا بأنك أعربته بل بالإتفاق كتبته وَلم تشعر بأنك قلبته وَأما قَوْلك إِن الْمَسِيح لما بعث الحواريين إِلَى جَمِيع الْأَجْنَاس فكلاما نقلته مُدعيًا أَنَّك رويته وَنحن يجب علينا أَن نتوقف فِي أخباركم وَلَا نقطع بتصديقكم وَلَا بأكذابكم بل نقُول مَا أمرنَا بِهِ الرَّسُول وبلغنا على أَلْسِنَة النقلَة الْعُدُول آمنا بِاللَّه وَرُسُله فَإِن صَدقْتُمْ لم نكذبكم وَإِن كَذبْتُمْ لم نصدقكم وَمَعَ تَسْلِيم ذك جدلا فَلَا بُد أَن نباحثكم فِيمَا نقلتم ونتفقه فِيمَا حكيتم

فَنَقُول ظَاهر قَوْلك هَذَا يفهم مِنْهُ أَن رِسَالَة عِيسَى كَانَت عَامَّة لجَمِيع الْأَجْنَاس وَلَيْسَ الْأَمر على مَا زعمتم وَسَيَأْتِي الْكَلَام على هَذَا فِي بَاب النبوات وَكَذَا الْكَلَام على المعمودية وَمَا يلْزم عَلَيْهَا يأتى فِي بَاب الْكَلَام على أحكامهم إِن شَاءَ الله تَعَالَى

وَأما استدلالاته على اعْتِقَاد وجوب الآب والإبن وَالروح الْقُدس وَإِطْلَاق القَوْل بذلك بِمَا قَالَه عِيسَى للحواريين فَلَا حجَّة لَك فِيهِ إِذْ لَيْسَ بِنَصّ قَاطع بل هُوَ مِمَّا تَقولُونَ أَنْتُم فِيهِ متشابه فَإِنَّهُ يحْتَمل أَن يكون مُرَاده بِهِ عمدوهم على تَركهم هَذَا القَوْل كَمَا يَقُول الْقَائِل كل على اسْم الله وامش على اسْم الله أَي على بركَة اسْم الله وَلم يعين الآب والإبن من هما وَلَا مَا الْمَعْنى المُرَاد بهما فَلَعَلَّهُ أَرَادَ بِالْأَبِ هُنَا الْملك الَّذِي نفخ فِي مَرْيَم أمه الرّوح إِذْ نفخه سَبَب علوق أمه وحبلها بِهِ وَأَرَادَ بالإبن نَفسه إِذْ خلقه الله تَعَالَى من نفخة الْملك فالنفخة لَهُ بِمَثَابَة النُّطْفَة فِي حق غَيره
এরপর আপনি ভূমিকা উল্লেখ করার পূর্বেই সিদ্ধান্ত টেনেছেন, ফলে আপনার কথাগুলো অসার প্রলাপে পর্যবসিত হয়েছে। আপনি তাতে বলেছেন: "এভাবে পিতা, পুত্র এবং পবিত্র আত্মা—তৃতীয় হিসেবে—স্পষ্ট হয়ে যায়।" এটি একটি অসংলগ্ন, ত্রুটিপূর্ণ এবং দূষিত বক্তব্য যা স্বচ্ছ নয়। বরং সঠিক বক্তব্য হতো এটি বলা যে, "স্পষ্ট হয় যে তিনি পিতা ও পুত্র"। এরপর আপনি আপনার স্বহস্তে 'তৃতীয়' শব্দটি নসব (যবর) যোগে লিখেছেন, যেন আপনি এটি ব্যাকরণগতভাবে বিশ্লেষণ করেছেন; অথচ বাস্তবে আপনি কেবল প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী এটি লিখেছেন এবং অনুধাবন করতে পারেননি যে আপনি একে উল্টে ফেলেছেন। আর আপনার এই দাবি যে, মসীহ যখন তাঁর শিষ্যদের (হাওয়ারীদের) সকল জাতির নিকট প্রেরণ করেছিলেন—এটি এমন একটি বর্ণনা যা আপনি পেশ করেছেন এবং দাবি করেছেন যে আপনি তা বর্ণনা করেছেন। আমাদের জন্য আপনাদের সংবাদসমূহের ক্ষেত্রে বিরত থাকা (তাওয়াক্কুফ করা) আবশ্যক; আমরা আপনাদের সত্যয়ন বা মিথ্যায়ন—কোনটির পক্ষেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিই না। বরং আমরা তাই বলি যা রসূল আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন এবং নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের মাধ্যমে আমাদের নিকট পৌঁছেছে: "আমরা আল্লাহ এবং তাঁর রসূলগণের প্রতি ঈমান এনেছি।" সুতরাং আপনারা যদি সত্য বলে থাকেন তবে আমরা আপনাদের মিথ্যা প্রতিপন্ন করছি না, আর যদি আপনারা মিথ্যা বলে থাকেন তবে আমরা আপনাদের সত্য মনে করছি না। তবে তর্কের খাতিরে তা মেনে নিলেও, আপনাদের বর্ণিত বিষয় নিয়ে আমাদের আলোচনা করা এবং আপনাদের বর্ণিত আখ্যান নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করা আবশ্যক।

আমরা বলি, আপনার এই বক্তব্যের বাহ্যিক রূপ থেকে বোঝা যায় যে ঈসার রিসালাত সমস্ত জাতির জন্য ব্যাপক ছিল; অথচ বিষয়টি আপনাদের দাবির অনুরূপ নয়। এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা নবুয়ত অধ্যায়ে আসবে। একইভাবে 'বাপ্তিস্ম' (Baptism) এবং এর আনুষঙ্গিক বিধানাবলির আলোচনা ইনশাআল্লাহ তাদের বিধিবিধান সংক্রান্ত অধ্যায়ে আসবে।

পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার অস্তিত্বের আবশ্যকতা এবং ঈসা তাঁর শিষ্যদের যা বলেছিলেন তা দিয়ে এর স্বপক্ষে প্রমাণ পেশ করার ক্ষেত্রে আপনার জন্য কোনো দলিল নেই; কারণ এটি কোনো সুনিশ্চিত দলিল (নসসে কাতি) নয়। বরং এটি এমন একটি বিষয় যাকে আপনারাই অস্পষ্ট বা রূপক (মুতাশাবিহ) বলে থাকেন। কারণ হতে পারে এর দ্বারা তাঁর উদ্দেশ্য ছিল—তাদের এই কথা বর্জনের ওপর দীক্ষিত করা; যেমনটি কেউ বলে থাকে, "আল্লাহর নামে আহার করো" বা "আল্লাহর নামে চলো", যার অর্থ হলো আল্লাহর নামের বরকতে। তিনি নির্দিষ্ট করেননি যে পিতা ও পুত্র বলতে আসলে কে এবং এ শব্দ দুটি দ্বারা কী অর্থ উদ্দেশ্য। সম্ভবত তিনি এখানে 'পিতা' দ্বারা সেই ফেরেশতাকে বুঝিয়েছেন যিনি তাঁর মাতা মারইয়ামের মধ্যে রূহ ফুঁকে দিয়েছিলেন; যেহেতু তাঁর ফুঁৎকারই ছিল তাঁর মাতার গর্ভধারণের কারণ। আর 'পুত্র' দ্বারা তিনি নিজেকেই বুঝিয়েছেন, কারণ আল্লাহ তাআলা তাঁকে ফেরেশতার ফুঁৎকার থেকে সৃষ্টি করেছেন; সুতরাং তাঁর ক্ষেত্রে এই ফুঁৎকারটি অন্যদের ক্ষেত্রে শুক্রাণুর (নুৎফাহ) স্থলাভিষিক্ত।
(খণ্ড: ১) আল-ইলামু বিমা ফী দীনিন নাসারা মিনাল ফাসাদি ওয়াল আওহাম (পৃষ্ঠা: ৬৫)
ثمَّ لَا يبعد أَيْضا فِي التَّأْوِيل إِن صَحَّ عَن عِيسَى عليه السلام أَنه كَانَ يُطلق على الله لفظ الْأَب أَن يكون مُرَاده بِهِ أَنه ذُو حفظ لَهُ وَذُو رَحْمَة وحنان عَلَيْهِ وعَلى عباده الصَّالِحين فَهُوَ لَهُم بِمَنْزِلَة الْأَب الشفيق الرَّحِيم وهم لَهُ فِي الْقيام بحقوقه وعبادته بِمَنْزِلَة الْوَلَد الْبَار وَيحْتَمل أَن يكون تجوز بِإِطْلَاق هَذَا اللَّفْظ على الله تَعَالَى لِأَنَّهُ معلمه وهاديه ومرشده كَمَا يُقَال الْمعلم أَبُو المتعلم وَمن هَذَا قَوْله تَعَالَى فِي كتَابنَا {مِلَّة أبيكم إِبْرَاهِيم هُوَ سَمَّاكُم الْمُسلمين من قبل} على أحد تأويلاته

وَمن هذَيْن التَّأْويلَيْنِ يَصح حل مَا وَقع فِي أَنَاجِيلهمْ من هَذَا اللَّفْظ بل هَذَانِ التأويلان ظاهران وسائعان فهيا وَيشْهد لهذين التَّأْويلَيْنِ قَول عِيسَى للحواريين على مَا جَاءَ فِي سُورَة الْوَصِيَّة حَيْثُ قَالَ لَهُم

إِذا صليتم فَقولُوا يَا أَبَانَا السماوي تقدس إسمك وَقرب ملكك ثمَّ قَالَ بعد كَلَام ووصايا فَإِذا كُنْتُم أَنْتُم على شرتكم تعرفُون إِعْطَاء الْخيرَات أَوْلَادكُم فَكيف أبوكم السماوي

وَكَذَلِكَ وَقع فِي إنجيل يوحنا يحيى أَن عِيسَى قَالَ للْيَهُود أَنا عَالم أَن من نسل إِبْرَاهِيم وَلَكِن تُرِيدُونَ قَتْلَى لأنكم
অধিকন্তু, ঈসা (আলাইহিস সালাম) থেকে যদি আল্লাহ তাআলার প্রতি ‘পিতা’ শব্দের প্রয়োগ প্রমাণিত হয়, তবে এর ব্যাখ্যায় এটি অসম্ভব নয় যে, তাঁর উদ্দেশ্য হলো আল্লাহ তাঁর হিফাযতকারী এবং তাঁর ও তাঁর নেককার বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত দয়া ও মমতাশীল। সুতরাং তিনি তাঁদের জন্য একজন স্নেহশীল ও দয়ালু পিতার তুল্য এবং তাঁরা আল্লাহর হক আদায় ও ইবাদতের ক্ষেত্রে একজন অনুগত সন্তানের ন্যায়। এবং এটিও সম্ভাবনা রাখে যে, আল্লাহ তাআলার ক্ষেত্রে এই শব্দের প্রয়োগ রূপক অর্থে হয়েছে; কেননা তিনি তাঁর শিক্ষক, পথপ্রদর্শক ও নির্দেশক, যেমনটি বলা হয়ে থাকে: ‘শিক্ষক হলেন ছাত্রের পিতা’। আমাদের কিতাবে মহান আল্লাহর বাণী: “তোমাদের পিতা ইবরাহিমের মিল্লাত; তিনিই তোমাদের নামকরণ করেছেন মুসলিম ইতিপূর্বে”—এর অন্যতম একটি ব্যাখ্যা এই অর্থেরই অনুগামী।

এই দুটি ব্যাখ্যার মাধ্যমেই তাঁদের ইনজিলসমূহে এই শব্দের যা কিছু উল্লেখ হয়েছে তার সমাধান করা সম্ভব। বরং এই দুটি ব্যাখ্যা অত্যন্ত স্পষ্ট ও গ্রহণযোগ্য। এই দুই ব্যাখ্যার সমর্থনে ‘সূরতুল অসিয়্যাহ’ বা অসিয়ত অধ্যায়ে বর্ণিত হাওয়ারিদের প্রতি ঈসার এই বাণীটি সাক্ষ্য দেয়, যেখানে তিনি তাঁদের বলেছিলেন:

“যখন তোমরা প্রার্থনা করবে, তখন বলবে: হে আমাদের আসমানি পিতা, তোমার নাম পবিত্র হোক এবং তোমার রাজ্য নিকটবর্তী হোক।” অতঃপর কিছু কথা ও অসিয়তের পর তিনি বললেন: “যদি তোমরা মন্দ হওয়া সত্ত্বেও তোমাদের সন্তানদের উত্তম দান দিতে জানো, তবে তোমাদের আসমানি পিতা কতই না বেশি (উত্তম দান দিবেন)!”

তদ্রূপ ইউহান্না (যোহন) এর ইনজিলে এসেছে যে, ঈসা ইহুদিদের বলেছিলেন: “আমি জানি যে তোমরা ইবরাহিমের বংশধর, কিন্তু তোমরা আমাকে হত্যা করতে চাও কারণ তোমাদের মাঝে আমার বাণীর কোনো স্থান নেই।”
(খণ্ড: ১) আল-ইলামু বিমা ফী দীনিন নাসারা মিনাল ফাসাদি ওয়াল আওহাম (পৃষ্ঠা: ৬৬)
لَا تعلق بكم وصيتي فأعلمكم بِمَا رَأَيْت عِنْد الآب وَأَنْتُم إِنَّمَا تَعْمَلُونَ مَا رَأَيْتُمْ من أبيكم فَأَجَابُوهُ وَقَالُوا إِنَّمَا أَبونَا إِبْرَاهِيم فَقَالَ لَهُم إِن كُنْتُم بنى إِبْرَاهِيم فاقفوا أَثَره وَلَا تريدوا قَتْلَى على أَنى رجل وذنبي إِلَيْكُم الْحق الَّذِي سَمِعت عَن الله وَلم يفعل إِبْرَاهِيم غير هَذَا إِنَّكُم تقفون آثَار أبيكم فَقَالُوا بِهِ لسنا أَوْلَاد زنا وَإِنَّمَا نَحن بَنو الله فَقَالَ لَهُم لَو كَانَ الله أَبَاكُم لحفظتموني لأنني مِنْهُ

ثمَّ نقُول لِأَنَّهُ عليه السلام وَإِن كَانَ يُطلق هَذِه الْأَسْمَاء فَإِنَّمَا كَانَ يطلقهَا متمثلا بهَا وَهَكَذَا أَكثر كَلَامه الَّذِي يحكون فِي إنجيلهم

ثمَّ قد نهى عَن إِطْلَاقهَا فِي الْإِنْجِيل الحواريين قَالَ فِي إنجيل لوقا للحواريين مَا تَقولُونَ أَنْتُم فَأَجَابَهُ سمعون بيطر وَقَالَ لَهُ أَنْت الْمَسِيح ابْن الله فنهاهم وَكَذَلِكَ كَانَ يَقُول إِذا كَانَ يخرج الْجُنُون عَن المجانين فَكَانَت تخرج وَهِي تَقول أَنْت ابْن الله فَكَانَ ينتهرهم ويمنعهم من هَذَا القَوْل
আমার উপদেশ তোমাদের হৃদয়ে কোনো প্রভাব ফেলে না, তাই আমি তোমাদের তা-ই অবহিত করি যা আমি পিতার নিকট দেখেছি; আর তোমরা তা-ই করো যা তোমরা তোমাদের পিতার নিকট হতে দেখেছো। তখন তারা তাঁকে উত্তর দিয়ে বলল: আমাদের পিতা তো ইবরাহিম। তিনি তাদের বললেন: যদি তোমরা ইবরাহিমের সন্তান হতে, তবে তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করতে এবং আমাকে হত্যা করার সংকল্প করতে না; অথচ আমার অপরাধ কেবল এই যে, আমি আল্লাহর নিকট থেকে যা শুনেছি সেই সত্য তোমাদের কাছে ব্যক্ত করেছি। ইবরাহিম তো এমনটি করেননি। বরং তোমরা তোমাদের পিতারই পদাঙ্ক অনুসরণ করছ। তারা তাঁকে বলল: আমরা ব্যভিচারজাত সন্তান নই, বরং আমরা আল্লাহর সন্তান। তিনি তাদের বললেন: আল্লাহ যদি তোমাদের পিতা হতেন, তবে তোমরা আমাকে মহব্বত করতে (বা হিফাজত করতে); কারণ আমি তাঁর পক্ষ হতেই এসেছি।

অতঃপর আমরা বলি যে, তিনি (আলাইহিস সালাম) যদিও এই নামসমূহ ব্যবহার করতেন, তবে তিনি তা কেবল দৃষ্টান্ত বা রূপক অর্থেই ব্যবহার করতেন। তাঁদের ইঞ্জিলে বর্ণিত তাঁর অধিকাংশ বাণীর বিষয়বস্তুও অনুরূপ।

তদুপরি, তিনি ইঞ্জিলে হাওয়ারীদের এই নামসমূহ ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন। লূক ইঞ্জিলে হাওয়ারীদের উদ্দেশ্যে বর্ণিত আছে যে, তিনি জিজ্ঞেস করলেন: তোমরা (আমার সম্পর্কে) কী বলো? তখন শিমোন পিতর তাঁকে উত্তর দিলেন: আপনিই আল্লাহর পুত্র মসীহ। তখন তিনি তাঁদেরকে (এই কথা বলতে) নিষেধ করলেন। একইভাবে তিনি যখন আবিষ্ট ব্যক্তিদের থেকে অশুভ আত্মা দূর করতেন তখন সেগুলো বের হওয়ার সময় বলত: আপনি আল্লাহর পুত্র। তখন তিনি তাদের ধমক দিতেন এবং এই কথা বলতে বাধা প্রদান করতেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইলামু বিমা ফী দীনিন নাসারা মিনাল ফাসাদি ওয়াল আওহাম (পৃষ্ঠা: ৬৭)
فَهَذَا يدل دلَالَة بَيِّنَة على أَن الْمَسِيح كَانَ يُطلق لفظ الآب على الله تَعَالَى بِالْمَعْنَى الَّذِي يُطلق على إِبْرَاهِيم عليه السلام أَنه أَب وَذَلِكَ بِمَعْنى الْمعلم الشفيق وَكَذَلِكَ جَاءَ اللَّفْظ فِي كتَابنَا {مِلَّة أبيكم إِبْرَاهِيم} وَبِذَلِك الْمَعْنى تَقول الْيَهُود وَالنَّصَارَى فِي إِبْرَاهِيم وَلَيْسَ على حَقِيقَة الْأُبُوَّة وَمَعَ ذَلِك ف {مَا كَانَ إِبْرَاهِيم يَهُودِيّا وَلَا نَصْرَانِيّا وَلَكِن كَانَ حَنِيفا مُسلما وَمَا كَانَ من الْمُشْركين}

وَكَذَلِكَ فِي الْإِنْجِيل فِي غير مَا مَوضِع قَالَ لكم أبوكم وَقلت لأبي وَيلْزم على مساق هَذَا أَلا يخص الْمَسِيح باسم الإبن وَلَا الله تَعَالَى باسم الْأَب

وَمَا بالنا نطول الأنفاس مَعَ هَؤُلَاءِ الْجُهَّال فَإِنَّهُ إِذا احْتمل هَذِه التأويلات كَانَ من المتشابهات وَلَا يَنْبَغِي أَن يصير إِلَيْهِ فِي الإحتجاجات وخصوصا فِي الإعتقادات ثمَّ نقُول لَا يَخْلُو الْمُسْتَدلّ بذلك أَو مَا يُقَارِبه على الْمَعْنى الْمُتَقَدّم أما أَن يُرِيد بِهِ حَقِيقَة الْأَب والإبن أَو لَا يُرِيد ذَلِك فَإِن أَرَادَ الْحَقِيقَة كَانَ محالا وباطلا فَإِن حَقِيقَة الْأَب عِنْد الْعُقَلَاء حَيَوَان ولد من نُطْفَة حَيَوَان هُوَ من نَوعه وبهذه النِّسْبَة وَالصّفة تفهم حَقِيقَة الإبن وَهَذَانِ الوصفان محالان على الْقُدْرَة وَالْعلم فَإِن الْعلم لَيْسَ بحيوان مَوْلُود من نُطْفَة حَيَوَان وَلَا الْقُدْرَة حَيَوَان يخرج مِنْهَا نُطْفَة يتَوَلَّد مِنْهَا حَيَوَان وَهَذَا مَعْلُوم الْبطلَان بِالضَّرُورَةِ
এটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, মসীহ আল্লাহ তাআলার ক্ষেত্রে 'পিতা' শব্দটি সেই অর্থেই ব্যবহার করতেন যে অর্থে ইবরাহিম আলাইহিস সালামকে পিতা বলা হয়, অর্থাৎ পরম দয়ালু শিক্ষক ও অভিভাবক অর্থে। অনুরূপভাবে আমাদের কিতাবেও এই শব্দটি এসেছে: "তোমাদের পিতা ইবরাহিমের আদর্শ।" ইহুদি ও খ্রিস্টানরাও ইবরাহিম আলাইহিস সালামের ক্ষেত্রে এই অর্থেই শব্দটি ব্যবহার করে, প্রকৃত পিতৃত্বের অর্থে নয়। তা সত্ত্বেও, "ইবরাহিম ইহুদি বা খ্রিস্টান ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন একনিষ্ঠ মুসলিম এবং তিনি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না।"

তেমনিভাবে ইঞ্জিলের বিভিন্ন স্থানে বলা হয়েছে— "তোমাদের পিতা তোমাদের বলেছেন" এবং "আমি আমার পিতাকে বলেছি"। এই প্রসঙ্গের দাবি হলো, মসীহকে 'পুত্র' নামে এবং আল্লাহ তাআলাকে 'পিতা' নামে এককভাবে বিশেষায়িত করা যাবে না।

এই মূর্খদের সাথে আমাদের দীর্ঘ বিতর্কের প্রয়োজন কী? কেননা, যখন বিষয়টি এমন সব ব্যাখ্যার সম্ভাবনা রাখে, তখন তা অস্পষ্ট ও রূপক বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হবে। আর দলিল উপস্থাপনের ক্ষেত্রে, বিশেষ করে আকিদাগত বিষয়ে, এমন বিষয়ের আশ্রয় নেওয়া সংগত নয়। অতঃপর আমরা বলব: উল্লিখিত অর্থের ভিত্তিতে এটি বা এর সমজাতীয় কোনো বিষয় দিয়ে দলিল পেশকারী ব্যক্তি দুটি অবস্থার বাইরে নয়— হয় সে এর দ্বারা প্রকৃত পিতা ও পুত্রের অর্থ গ্রহণ করেছে, অথবা করেনি। যদি সে প্রকৃত অর্থ উদ্দেশ্য করে থাকে, তবে তা অসম্ভব ও বাতিল। কারণ জ্ঞানীদের নিকট 'পিতা'র প্রকৃত অর্থ হলো এমন এক জীব, যার বীর্য থেকে তার সমজাতীয় অন্য এক জীবের জন্ম হয়েছে; আর এই সম্বন্ধ ও গুণের মাধ্যমেই 'পুত্র'র প্রকৃত স্বরূপ অনুধাবন করা যায়। অথচ এই দুটি বৈশিষ্ট্য (আল্লাহর) কুদরত ও ইলমের ক্ষেত্রে অসম্ভব। কেননা 'ইলম' কোনো জীব নয় যা অন্য কোনো জীবের বীর্য থেকে জন্ম নেয়, আর 'কুদরত' এমন কোনো জীব নয় যা থেকে বীর্য নির্গত হয় এবং তা থেকে কোনো জীবের জন্ম হয়। এর অসারতা স্বতঃসিদ্ধভাবেই প্রমাণিত।
(খণ্ড: ১) আল-ইলামু বিমা ফী দীনিন নাসারা মিনাল ফাসাদি ওয়াল আওহাম (পৃষ্ঠা: ৬৮)
وَإِن أَرَادَ بذلك الْمجَاز فَلَا يَصح لَهُ حمله على الْمجَاز حَتَّى يجْتَمع الْمجَاز والحقيقة فِي أَمر مَا فَإنَّك إِذا قلت زيد أَسد إِنَّمَا تجوزت بِلَفْظ الْأسد وأطلقته على زيد لأجل الشجَاعَة الجامعة بَين الْأسد وَزيد وَلَوْلَا ذَلِك لما صَحَّ الْمجَاز فَإِذن لَا بُد لهَذَا المتجوز من جَامع بَين الْحَقِيقَة وَالْمجَاز فَمَا الْجَامِع الَّذِي لأَجله تجوز هَذَا المحتج فَإِن قَالَ الْأَمر الْجَامِع أَن الْقُدْرَة أصل الْعلم وَقد قَالَ ذَلِك فِي دَاخل كِتَابه منعنَا ذَلِك وَلم نَسْأَلهُ وَقُلْنَا الْمَفْهُوم من الْقُدْرَة والمعقول مِنْهَا عِنْد الْعُقَلَاء صفة بهَا يُوجد مَا لم يكن مَوْجُودا والمعقول من الْعلم أَنه صفة كاشفة نَفسهَا ومعلومها يصدر عَنْهَا الْأَحْكَام والإتقان وهما فِي حق الله تَعَالَى أزليان عندنَا وَعِنْدهم وَإِذا كَانَا كَذَلِك فَلَا يتَقَدَّم أَحدهمَا على الآخر فِي الْوُجُود وَإِذا لم يَصح ذَلِك فَلَا يكون أَحدهمَا أصلا للْآخر فَإِن أَرَادَ هَذَا الْقَائِل التَّقَدُّم فِي الذِّهْن فالعلم هُوَ الْمُتَقَدّم فِي الذِّهْن لِأَنَّهُ لَا يَصح فعل اخْتِيَاري من غير عَالم فَإِن الْعلم شَرط الإيجاد وَالشّرط مُتَقَدم فِي الذِّهْن على فَعلم ويتحقق هَذَا الْمَعْنى على الْقطع عِنْد من عرف الْفرق بَين الْعلم الْمَشْرُوط بِالضَّرُورَةِ وَكَذَلِكَ نقُول علم زيد فَقدر وَلَا نقُول قدر الفعلى والإنفعالي وَلَو عكستم مَا ذكرْتُمْ فسميتم الْعلم أَبَا وَالْقُدْرَة ابْنا لَكَانَ أَحَق بذلك وَأولى

ثمَّ نقُول لأي شَيْء صرتم إِلَى الْجَامِع بَين الْحَقِيقَة وَالْمجَاز هُوَ الَّذِي ذكرْتُمْ وَبِمَ تنكرون على من يزْعم أَن هُنَالك وَجها آخر لم تطلعوا عَلَيْهِ ثمَّ تحكمتم بِتَعْيِين هَذَا الْوَجْه الَّذِي ذكرْتُمْ

ثمَّ نقُول أَنْتُم قاطعون بِتَعْيِين هَذَا الْوَجْه الَّذِي أبديتم أَو غير قاطعين فَإِن زَعَمُوا أَنهم قاطعون فَمَا مُسْتَند قطعهم فَلَا بُد من إبدائه وَلَا شكّ فِي أَنهم يَجدونَ فِي هَذَا الْمَعْنى نصا قَاطعا فَإِن زَعَمُوا أَنهم لَيْسُوا بقاطعين فقد اعْتَرَفُوا بِأَنَّهُم شاكون فِي إعتقادهم وَقد كفونا مُؤنَة الْكَلَام مَعَهم فَإِنَّهُم أسندوا إعتقاداتهم إِلَى الشَّك وَكفى بذلك زورا وإفكا ثمَّ يلْزمهُم على تَسْلِيم مَا ذَكرُوهُ من الْجَامِع الَّذِي أبدعون أَن يكون الْبَارِي تَعَالَى وتنزه وتقدس أَبَا لكل الْمَخْلُوقَات إِذْ هُوَ أصل كل المحدثات أَي موجدها ومخترعها

وَأما قَوْلك فَجعل هَذِه الْأَسْمَاء ثَلَاثًا فيفهم مِنْهُ أَن هَذِه الثَّلَاثَة لأقانيم الَّذِي تقدم ذكرهَا مجعولة وَأَن الله تَعَالَى هُوَ الَّذِي جعلهَا

আর যদি তিনি এর মাধ্যমে রূপক অর্থ গ্রহণ করতে চান, তবে তাঁর জন্য একে রূপক হিসেবে গণ্য করা সঠিক হবে না যতক্ষণ না রূপক ও প্রকৃত অর্থের মাঝে কোনো একটি সাধারণ বিষয় বিদ্যমান থাকে। কেননা আপনি যখন বলেন 'যায়েদ একজন সিংহ', তখন আপনি 'সিংহ' শব্দটি রূপক হিসেবে ব্যবহার করেছেন এবং যায়েদের ওপর তা প্রয়োগ করেছেন সেই বীরত্বের কারণে যা সিংহ ও যায়েদ উভয়ের মধ্যেই বিদ্যমান। যদি এমনটি না হতো, তবে রূপকটি শুদ্ধ হতো না। সুতরাং এই রূপক ব্যবহারকারীর জন্য প্রকৃত অর্থ ও রূপক অর্থের মাঝে একটি সমন্বয়কারী বিষয়ের (জামে‘) উপস্থিতি অনিবার্য। তাহলে সেই সমন্বয়কারী বিষয়টি কী যার কারণে এই বিবাদী রূপক প্রয়োগ করেছেন? যদি তিনি বলেন যে, সমন্বয়কারী বিষয়টি হলো ক্ষমতা (কুদরত) হচ্ছে জ্ঞানের (ইলম) মূল বা উৎস—আর তিনি তাঁর কিতাবের ভেতরে এমনটি বলেছেনও—তবে আমরা তা মেনে নেব না এবং এ বিষয়ে তাকে প্রশ্নও করব না। বরং আমরা বলব, বিবেকবানদের নিকট ক্ষমতার অর্থ ও এর বুদ্ধিবৃত্তিক রূপ হলো এমন এক গুণ যার মাধ্যমে কোনো অনস্তিত্বশীল বস্তুকে অস্তিত্ব দান করা হয়। আর জ্ঞানের বুদ্ধিবৃত্তিক রূপ হলো এমন এক গুণ যা স্বয়ং নিজেকে ও তার বিষয়বস্তুকে উন্মোচিত করে, যা থেকে সুশৃঙ্খল বিধান ও নিপুণতা প্রকাশিত হয়। আর এই উভয় গুণই আল্লাহ তাআলার ক্ষেত্রে আমাদের ও তাদের নিকট অনাদি (আযালী)। যখন বিষয়টি এমনই, তখন অস্তিত্বের ক্ষেত্রে একটি অপরটির অগ্রগামী হতে পারে না। আর যখন এটি সম্ভব নয়, তখন একটি অপরটির মূল হতে পারে না। যদি এই বক্তা মানসিকভাবে অগ্রগামী হওয়ার কথা বুঝাতে চান, তবে জ্ঞানই মানসিকভাবে অগ্রগামী; কারণ কোনো প্রাজ্ঞ সত্তার জ্ঞান ব্যতীত স্বেচ্ছাধীন কোনো কাজ সংঘটিত হওয়া সম্ভব নয়। কেননা জ্ঞান হলো অস্তিত্ব দানের পূর্বশর্ত, আর শর্ত মানসিকভাবে কাজের পূর্বে অবস্থান করে। যারা আবশ্যিক জ্ঞানের সাথে শর্তযুক্ত জ্ঞানের পার্থক্য জানেন, তাদের নিকট এই বিষয়টি অকাট্যভাবে প্রমাণিত। অনুরূপভাবে আমরা বলি, 'যায়েদ জানল, অতঃপর সে সক্ষম হলো'; কিন্তু আমরা বলি না যে, সে সক্ষম হলো অতঃপর জানল। তোমরা যা উল্লেখ করেছ তা যদি উল্টে দিতে এবং জ্ঞানকে 'পিতা' ও ক্ষমতাকে 'পুত্র' আখ্যা দিতে, তবে তা অধিকতর সংগত ও যুক্তিযুক্ত হতো।

অতঃপর আমরা বলি, রূপক ও প্রকৃত অর্থের মধ্যে সমন্বয়কারী হিসেবে তোমরা যেটিকে উল্লেখ করেছ, সেটির দিকেই কেন তোমরা ধাবিত হলে? আর যে ব্যক্তি দাবি করে যে এখানে অন্য কোনো দিক রয়েছে যা তোমাদের গোচরীভূত নয়, তাকে তোমরা কীভাবে অস্বীকার করবে? অতঃপর তোমরা তোমাদের উল্লিখিত এই বিশেষ দিকটি নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে একগুঁয়েমি করেছ।

অতঃপর আমরা বলি, তোমরা কি তোমাদের প্রদর্শিত এই দিকটি নির্ধারণ করার ব্যাপারে সুনিশ্চিত, নাকি সুনিশ্চিত নও? যদি তারা দাবি করে যে তারা সুনিশ্চিত, তবে তাদের এই নিশ্চয়তার ভিত্তি কী? তা অবশ্যই প্রদর্শন করতে হবে। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তারা এই বিষয়ে কোনো অকাট্য দলিল খুঁজে পাবে না। আর যদি তারা দাবি করে যে তারা সুনিশ্চিত নয়, তবে তারা স্বীকার করে নিল যে তারা তাদের বিশ্বাসের ব্যাপারে সন্দিহান। আর এটিই তাদের সাথে আমাদের বিতর্কের দায়ভার লাঘব করে দেয়; কারণ তারা তাদের বিশ্বাসকে সন্দেহের ওপর প্রতিষ্ঠিত করেছে, আর মিথ্যা ও অপবাদের জন্য এটুকুই যথেষ্ট। অতঃপর, তারা যে সমন্বয়কারী বিষয়ের উদ্ভাবন করেছে তা মেনে নিলে তাদের জন্য এটি অনিবার্য হয়ে পড়বে যে, আল্লাহ তাআলা—তিনি পরম পবিত্র ও মহান—সমস্ত সৃষ্টির 'পিতা' হবেন; যেহেতু তিনি সকল নব্যসৃষ্ট বস্তুর মূল, অর্থাৎ সেগুলোর অস্তিত্বদানকারী ও উদ্ভাবক।

আর তোমার কথা—'অতঃপর এই নামগুলোকে তিনটিতে বিন্যস্ত করা হয়েছে'—এ থেকে বোঝা যায় যে, এই তিনটি নাম পূর্বে উল্লেখিত অকুনুম বা মূল সত্তাত্রয়ের জন্য নির্ধারিত (সৃষ্ট) এবং আল্লাহ তাআলাই সেগুলোকে নির্ধারণ করেছেন।

(খণ্ড: ১) আল-ইলামু বিমা ফী দীনিন নাসারা মিনাল ফাসাদি ওয়াল আওহাম (পৃষ্ঠা: ৬৯)
وَإِن كَانَت بِجعْل الله فَهِيَ بخلقه وَمَا كَانَ بخلقه فَهُوَ مُحدث فيلزمك على ظَاهر قَوْلك أَن هَذِه الأقانيم محدثة باختراعه تَعَالَى وَأَنْتُم تَقولُونَ أَنَّهَا أزليات قديمَة

وَأما قَوْلك الَّتِي هِيَ أَسمَاء أَفعاله فقد أبطلناه فِيمَا تقدم حَيْثُ بَينا حَقِيقَة أَسمَاء الْأَفْعَال وَمن وقف على ذَلِك تبين بُطْلَانه هُنَالك وَأما قَوْلك مُخْتَلفَة الْأَسْمَاء كاختلاف قضايا تِلْكَ الْأَفْعَال ثمَّ وَاسِط ثمَّ أخر فَكَلَام لَا يروقك منظره وَلَا يُعِيد فَائِدَة مخبره يشْهد على قَائِله بالجنون ويضحك من عدم فَائِدَته وارتباطه العاقلون أَرَادَ هَذَا الْجَاهِل أَن يتَكَلَّم فخرس وَكَذَلِكَ يفعل الله بِكُل مُبْطل إِذا نكس وَإِنَّمَا أَرَادَ هَذَا الْمُبْطل وَلم تطاوعه الْعبارَة لما لم يحصل أَن هَذِه الأقانيم الثَّلَاثَة إِنَّمَا سميت أَبَا وإبنا وروح الْقُدس بِاعْتِبَار قضايا ثَلَاث وَذَلِكَ أَن الْقُدْرَة إِنَّمَا سميت أَبَا بِاعْتِبَار أَنَّهَا أصل الموجودات إِذْ بهَا وجدت وَإِنَّمَا سمى الْعلم ابْنا بِاعْتِبَار أَنه اتَّحد بالإبن الَّذِي هُوَ الْمَسِيح وَصدر عَنهُ وَإِنَّمَا سميت الْإِرَادَة روح الْقُدس بِاعْتِبَار مُكَافَأَة الْخلق فِي الدَّار الْآخِرَة بالنعيم

فَإِن زعمت أَنَّك لم ترد هَذَا فكلامك غير مَعْقُول وقولك لَيْسَ بمقبول وَهَذَا الَّذِي أبديته فِي هَذَا الْكَلَام لم يقل بِهِ أحد فِيمَا علمت من عقلاء نَصَارَى الْأَنَام وَكفى بِقَوْلِك عارا مُبين مُخَالفَته لأسقفكم أغشتين فها هُوَ يَقُول فِي مصحف الْعَالم الْكَائِن إِنَّمَا سمى الْعلم ابْنا بإضافته إِلَى الْقُدْرَة إِذْ الْقُدْرَة أَصله وكما صَار التعارف الأعجمي أَن تسمى الْقُدْرَة الَّتِي هِيَ الأَصْل والدا كَذَلِك صَار التعارف فِي ذَلِك اللِّسَان أَن يُسمى الْعلم الْمَنْسُوب إِلَيْهَا ابْنا فَقَوله هَذَا مُخَالف لِقَوْلِك ورأيه غير مُوَافق لرأيك على أَنه غلط فِي قَوْله أَن الْقُدْرَة أصل الْعلم ويتبين غلطه عِنْد من وقف على مَا قَدمته قبل لكنه وَإِن كَانَ قد غلط فَالْأَمْر عَلَيْهِ أقرب وَالْخلاف مَعَه أَهْون لِأَنَّهُ رَجَعَ الْخلاف مَعَه إِلَى إِطْلَاق لفظ وَلَيْسَ وَرَاء ذَلِك كثير حَظّ

وَأما قَوْلك لِأَن الْعلم لَا يُوقع عَلَيْهِ حَتَّى يتَوَلَّد كلَاما فَكَلَام حطيط يُنبئ عَن جهل وتخليط فَإِن الْعلم لَا يتَوَلَّد كلَاما إِذْ لَو جَازَ ذَلِك لانقلبت حَقِيقَة الْعلم وَلَو جَازَ انقلاب حَقِيقَة وَاحِدَة لجَاز انقلاب كل حَقِيقَة فيقلب الْقَدِيم حَادِثا والحادث قَدِيما والجسم عرضا
আর যদি তা আল্লাহর নির্ধারণে হয়ে থাকে, তবে তা তাঁর সৃষ্টির অন্তর্ভুক্ত; আর যা তাঁর সৃষ্টির অন্তর্ভুক্ত, তা নবসৃষ্ট বা নশ্বর। সুতরাং আপনার বক্তব্যের বাহ্যিক মর্ম অনুযায়ী এটি আবশ্যক হয়ে পড়ে যে, এই মৌলিক সত্তাসমূহ (আকানিম) মহান আল্লাহর উদ্ভাবনের মাধ্যমে নবসৃষ্ট, অথচ আপনারা দাবি করেন যে এগুলো অনাদি ও চিরন্তন।

আর আপনার এই বক্তব্য যে, এগুলো তাঁর ক্রিয়াগত নামসমূহ, তা আমরা ইতিপূর্বেই বাতিল করে দিয়েছি; যেখানে আমরা ক্রিয়াগত নামসমূহের প্রকৃত স্বরূপ ব্যাখ্যা করেছি। যারা তা অনুধাবন করেছেন, তাদের নিকট সেখানে এর অসারতা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। আর আপনার এই উক্তি যে—নামগুলোর ভিন্নতা সেই ক্রিয়াগত বিষয়গুলোর ভিন্নতার মতো, অতঃপর মাধ্যম, অতঃপর অন্য কিছু—এসব এমন অর্থহীন কথা যার বাহ্যিক রূপ যেমন অরুচিকর, তেমনি এর সংবাদদাতার জন্য কোনো উপকার বয়ে আনে না। এটি প্রবক্তার উন্মাদনার সাক্ষ্য দেয় এবং এর অসারতা ও অসংলগ্নতা দেখে বুদ্ধিমানরা উপহাস করে। এই জাহেল ব্যক্তি কথা বলতে চেয়েছিল, কিন্তু সে বোবা হয়ে গিয়েছে; আল্লাহ প্রত্যেক বাতিলপন্থীর সাথেই এরূপ করেন যখন সে সত্যবিচ্যুত হয়। মূলত এই বাতিলপন্থী ব্যক্তি যা বুঝাতে চেয়েছিলেন কিন্তু শব্দচয়ন সঠিক না হওয়ায় তা সফল হয়নি, তা হলো: এই তিনটি মূলসত্তাকে (আকানিমে সলাসা) পিতা, পুত্র এবং পবিত্র আত্মা নামকরণ করা হয়েছে তিনটি বিষয়ের প্রেক্ষিতে। তা হলো—'ক্ষমতা'-কে 'পিতা' বলা হয়েছে এই বিবেচনায় যে এটি সকল অস্তিত্বশীল বস্তুর মূল, কেননা এরই মাধ্যমে সবকিছুর অস্তিত্ব ঘটেছে; 'জ্ঞান'-কে 'পুত্র' বলা হয়েছে এই বিবেচনায় যে এটি পুত্রের সাথে একীভূত হয়েছে যিনি হলেন মসীহ এবং তাঁর থেকে উৎসারিত হয়েছে; আর 'ইচ্ছা'-কে 'পবিত্র আত্মা' বলা হয়েছে পরকালে সৃষ্টিজগতকে নেয়ামত দ্বারা পুরস্কৃত করার প্রেক্ষিতে।

যদি আপনি দাবি করেন যে আপনি এটি বুঝাতে চাননি, তবে আপনার কথা যুক্তিগ্রাহ্য নয় এবং আপনার বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। আপনি যা প্রকাশ করেছেন, তা আমার জানামতে খ্রিস্টানদের কোনো জ্ঞানবান ব্যক্তি বলেনি। আপনার বক্তব্যের জন্য এই স্পষ্ট অপমানই যথেষ্ট যে, তা আপনাদের বিশপ অগাস্টিনেরও পরিপন্থী। তিনি তাঁর বর্তমান জগতের গ্রন্থে বলেছেন: 'জ্ঞান'-কে 'পুত্র' নামকরণ করা হয়েছে 'ক্ষমতা'র সাথে তার সম্পর্কের কারণে, যেহেতু ক্ষমতা হলো তার মূল। আর অনারব পরিভাষায় যেমন ক্ষমতাকে—যা কি না মূল—'পিতা' ডাকার প্রচলন হয়েছে, তেমনি সেই ভাষায় ক্ষমতার সাথে সম্পৃক্ত জ্ঞানকে 'পুত্র' ডাকার প্রচলন হয়েছে। সুতরাং তাঁর এই উক্তি আপনার বক্তব্যের বিরোধী এবং তাঁর মত আপনার মতের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। যদিও তাঁর এই কথা ভুল যে ক্ষমতা হলো জ্ঞানের মূল—আর যারা আমার পূর্ববর্তী আলোচনা পড়েছেন তাদের কাছে তাঁর এই ভুল স্পষ্ট হয়ে যাবে—তবে তিনি ভুল করলেও তাঁর বিষয়টি সত্যের অধিক নিকটবর্তী এবং তাঁর সাথে বিতর্ক অপেক্ষাকৃত সহজ। কারণ তাঁর সাথে বিরোধটি কেবল শব্দ প্রয়োগের ক্ষেত্রে পর্যবসিত হয়েছে, যার পেছনে গভীর কোনো তাৎপর্য নেই।

আর আপনার এই উক্তি যে—'কেননা জ্ঞানের প্রয়োগ ততক্ষণ হয় না যতক্ষণ না তা বাক্যে জন্ম নেয়'—তা একটি অতি নিম্নমানের কথা, যা অজ্ঞতা ও বিভ্রান্তির পরিচায়ক। কেননা জ্ঞান থেকে বাক্য জন্ম নেয় না; যদি এটি সম্ভব হতো তবে জ্ঞানের প্রকৃত স্বরূপই পরিবর্তিত হয়ে যেত। আর যদি একটি সত্তার প্রকৃত স্বরূপ পরিবর্তন হওয়া বৈধ হয়, তবে প্রতিটি সত্তার স্বরূপ পরিবর্তন হওয়াও বৈধ হয়ে পড়বে; ফলে অনাদি সত্তা নশ্বর হয়ে যাবে, নশ্বর বস্তু অনাদিতে পরিণত হবে এবং বস্তু বা দেহ গুণাবলীতে রূপান্তরিত হবে।
(খণ্ড: ১) আল-ইলামু বিমা ফী দীনিন নাসারা মিনাল ফাসাদি ওয়াল আওহাম (পৃষ্ঠা: ৭০)
والسواد بَيَاضًا إِلَى غير ذَلِك من أَنْوَاع إنقلاب الْحَقَائِق ثمَّ قَوْلك فَاسد وباطل بِالضَّرُورَةِ فَإنَّا نعلم أمورا من غير كَلَام موصل إِلَى ذَلِك فقولنا بِوُجُود أَنْفُسنَا وبإلهنا ولذاتنا ومحسوساتنا بديهيات

ثمَّ قد صرحت بِلَفْظ التولد وَهُوَ بَاطِل من أَصله فَإِن المتولدات ممكنات وكل مُمكن مَقْدُور بقدرة الله تَعَالَى فَكل المولدات مقدورة بقدرة الله تَعَالَى وَإِنَّمَا ثَبت أَنَّهَا حدثت بقدرة الله تَعَالَى فَلَا يُقَال أَنَّهَا متولدات

أَقُول هَذَا وَالْكَلَام شجون وَالْعلم فنون على أَنِّي أعرف أَنَّك لَا تفهم مَا أَقُول وَإِنَّمَا أخاطب أهل الْفَهم والعقول

وَأما قَوْلك الَّذِي هُوَ قَادر عَالم مُرِيد اسْما للْوَاحِد الَّذِي لَا يتكثر فَقَوْل يدل على تخبطك وَسُوء تناولك نقضت بِهِ مَا تقدم من قَوْلك حَيْثُ جعلت الأقانيم أَسمَاء أَفعَال بزعمك ثمَّ قد صرحت هَا هُنَا بِأَنَّهَا أَسمَاء للْوَاحِد الَّذِي لَا يتكثر وَلَو حكى مثل هَذَا الْكَلَام عَن المستغرقين النوام لقيل هَذَا أضغاث أَحْلَام

وَبعد هَذَا فلتعلم أَنِّي تجاوزت عَنْك فِي هَذَا الْفَصْل وَلم أؤاخذك بِكُل مَا فِيهِ من خطل القَوْل خشيَة طول الْكَلَام وتبدد الْمطلب وَبعد المرام وَأول ذَلِك أَنَّك لحنت وصحفت فِي ثَمَانِيَة مَوَاضِع تتبين للناشئين بل المراضع
এবং কৃষ্ণবর্ণ শুভ্রতায় পরিণত হওয়া—এই প্রকারের আরও অন্যান্য মৌলিক সত্যের রূপান্তর। অতঃপর আপনার দাবিটি অনিবার্যভাবেই ভ্রান্ত ও অসার। কেননা আমরা এমন অনেক বিষয় জানি যেগুলোর জন্য কোনো মধ্যস্থতাকারী ভাষ্যের প্রয়োজন পড়ে না; যেমন—আমাদের নিজেদের অস্তিত্ব, আমাদের ইলাহ, আমাদের ইন্দ্রিয়ানুভূতি এবং আনন্দ-বেদনা সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান হলো স্বতঃসিদ্ধ।

অতঃপর আপনি 'তাওয়াল্লুদ' (স্বতঃস্ফূর্ত উদ্ভব) শব্দটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, যা মূলতই অসার। কেননা যা কিছু উদ্ভূত তা সম্ভাব্য বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত, আর প্রতিটি সম্ভাব্য বিষয়ই আল্লাহ তাআলার কুদরতের অধীন। সুতরাং সমস্ত উদ্ভূত বিষয়ই আল্লাহ তাআলার কুদরতের মাধ্যমেই সাধিত হয়। যেহেতু এটি প্রমাণিত যে এগুলোর সৃষ্টি আল্লাহ তাআলার কুদরতের দ্বারাই সম্পন্ন হয়েছে, তাই এগুলোকে 'তাওয়াল্লুদ' বলা সমীচীন নয়।

আমি এ কথাগুলো বলছি এমন অবস্থায় যখন আলোচনার অনেক শাখা-প্রশাখা রয়েছে এবং জ্ঞান হলো বিভিন্ন বিষয়ের সমাহার। যদিও আমি জানি যে, আমি যা বলছি তা আপনি অনুধাবন করতে পারছেন না; আমি কেবল প্রজ্ঞা ও বিচারবুদ্ধি সম্পন্ন ব্যক্তিদের উদ্দেশ্য করেই বলছি।

আর আপনার এই দাবি যে—'যিনি ক্ষমতাবান, মহাজ্ঞানী ও ইচ্ছাশক্তিসম্পন্ন, তিনি মূলত সেই এককেরই নাম যা বহুত্ব গ্রহণ করে না'—এই উক্তিটি আপনার বিভ্রান্তি ও অসংলগ্ন উপস্থাপনারই প্রমাণ দেয়। এর মাধ্যমে আপনি আপনার পূর্ববর্তী বক্তব্যকেই খণ্ডন করেছেন, যেখানে আপনি আপনার ধারণা অনুযায়ী 'আকানিমে'র সংজ্ঞা দিয়েছিলেন কার্যাবলীর নাম হিসেবে; অথচ এখন আপনি স্পষ্টভাবে বলছেন যে এগুলো সেই অদ্বৈত সত্তারই নাম যিনি বহুত্ব থেকে মুক্ত। যদি গভীর ঘুমে নিমগ্ন কোনো ব্যক্তির পক্ষ থেকে এমন কথা বর্ণিত হতো, তবে একে নির্ঘাত অসার স্বপ্ন হিসেবে আখ্যায়িত করা হতো।

এর বাইরে আপনার জেনে রাখা উচিত যে, আমি এই পরিচ্ছেদে আপনাকে ছাড় দিয়েছি এবং আপনার সমস্ত ভুলভ্রান্তি ও অসংলগ্ন বক্তব্যের জন্য আপনাকে পাকড়াও করিনি; পাছে আলোচনা দীর্ঘ হয়ে যায় এবং মূল উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য বিভ্রান্ত হয়। এর প্রাথমিক উদাহরণ হলো, আপনি আটটি স্থানে ব্যাকরণগত ভুল ও শব্দগত বিকৃতি ঘটিয়েছেন, যা কেবল নবীন শিক্ষার্থীদের কাছে নয়, বরং দুগ্ধপোষ্য শিশুদের কাছেও অত্যন্ত স্পষ্ট।
(খণ্ড: ১) আল-ইলামু বিমা ফী দীনিন নাসারা মিনাল ফাসাদি ওয়াল আওহাম (পৃষ্ঠা: ৭১)
‌‌الْفَصْل الثَّالِث

تَعْلِيل التَّثْلِيث

‌‌فِي حِكَايَة كَلَامه أَيْضا

ثمَّ قَالَ

فَإِن قلت بالتثليث لِأَنَّهَا أَسمَاء أَفعَال الله فأسماء أَفعاله أَكثر من ثَلَاثَة فَقولُوا بهَا كقولكم بالتثليث لِأَن عَزِيز وقوى وغلوب وَسميع وقاهر وبصير وغفور وراضي وساخط ومعاقب وَغَيرهَا من أَسمَاء أَفعاله فَقولُوا بهَا أجمع كقولكم بالتثليث قلت لَك هَذِه الَّتِي ذركناها هِيَ أصُول جَمِيع التَّسْمِيَة وَمِنْهَا تنبثق وفيهَا تندعم فعزير وَقَوي وغلوب وقاهر وَمَا أشبههَا أَصْلهَا الْقُدْرَة وَمِنْهَا تنبثق وَفِيمَا تندغم وغفور وَرَحِيم وراضي وساخط ومعاقب أَصْلهَا الْإِرَادَة مِنْهَا تنبثق وفيهَا تندغم فَإِن قلت فقديم وَحي لَيست منبثقة مِنْهَا وَلَا مندغمة فِيهَا فَقولُوا بالتخميس قلت لَك إِن قديم وَحي أَسمَاء ذَات لَا أَسمَاء أَفعَال وكل اسْم للذات إِنَّمَا يُؤَدِّي معنى وَاحِدًا لنفي ضِدّه فقديم لنفي مُحدث وحى لنفي ميت وَرب لنفى مربوب وإله لنفى مألوه فَكل اسْم من هَذِه الْقُدْرَة وَالْعلم والإرادة الَّتِي هِيَ أَسمَاء أَفعَال ثَلَاثَة لذات وَاحِدَة لَا يتكثر وكما أَنا قد فهمنا أَن نفس الْإِنْسَان لَا يقوم لَهَا فعل إِلَّا عَن ثَلَاثَة إِن نقص مِنْهَا وَاحِد لم يتم لَهُ فعل وَإِن زَاد فِيهَا رَابِع لم يتَّفق كَذَلِك فهمنا عَن خالقنا أَن تَدْبيره بِنَا عَن ثَلَاثَة وَذَلِكَ أَن الْإِنْسَان لَا يقوم لَهُ فعل دون الثَّلَاثَة وَذَلِكَ الْقُدْرَة وَالْعلم والإرادة وَلَا رَابِع مِنْهَا فَإِن عجزت مِنْهَا وَاحِدَة لم يتم لَهُ بالإثنين فعل لِأَنَّهُ إِن علم وَأَرَادَ وَلم يقدر فقد عجز وَإِن قدر وَعلم وَلم يُرِيد فَلَا يتم لَهُ شَيْء إِلَّا بالإرادة وَإِن قدر وَلم يعلم لم يتم لَهُ فعل بِالْجَهْلِ فَقرب لنا الْكتاب معرفَة الْخَالِق بخلقه لَهُم بِمثل تعارفنا فِي أَنْفُسنَا أَن الْقُدْرَة وَالْعلم والإرادة خَواص قَائِمَة هِيَ المتممة للْفِعْل منا وَإِنَّهَا لذات وَاحِدَة وَكَذَلِكَ التَّثْلِيث فِي الله وَاحِد

‌‌الْجَواب عَن مَا ذكر

اعْلَم يَا هَذَا أَنَّك اعترضت على نَفسك بِمَا يدل على كلال ذهنك وَعدم حدسك لِأَنَّك أخللت بالسؤال وتحكمت فِي
তৃতীয় পরিচ্ছেদ

ত্রিত্ববাদের কারণ নিরূপণ

পুনরায় তার বক্তব্য বর্ণনার প্রসঙ্গে

অতঃপর তিনি বললেন:

যদি তুমি ত্রিত্ববাদের প্রবক্তা হও এই কারণে যে এগুলো আল্লাহর কার্যাবলির নাম, তবে তাঁর কার্যাবলির নাম তো তিনটির চেয়ে অনেক বেশি। সুতরাং তোমরা সেই সব নামগুলোর ভিত্তিতেও বহুত্বের কথা বলো, যেভাবে তোমরা ত্রিত্ববাদের কথা বলে থাকো। কেননা পরাক্রমশালী, শক্তিশালী, বিজয়ী, শ্রবণকারী, দমনকারী, দ্রষ্টা, ক্ষমাশীল, সন্তুষ্ট, অসন্তুষ্ট, দণ্ডদানকারী এবং এই জাতীয় আরও অনেক নাম তাঁর কার্যাবলির অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং সেগুলোর সমন্বয়েও একই কথা বলো যেভাবে তোমরা ত্রিত্ববাদের ক্ষেত্রে বলো। আমি তোমাকে বলব: আমরা যেগুলোর (তিনটির) কথা উল্লেখ করেছি, সেগুলো হলো সকল নামকরণের মূল ভিত্তি; সেগুলো থেকেই অন্যান্য নাম উৎসারিত হয় এবং সেগুলোর মধ্যেই পর্যবসিত হয়। সুতরাং পরাক্রমশালী, শক্তিশালী, বিজয়ী, দমনকারী এবং এই জাতীয় নামসমূহের মূল উৎস হলো 'ক্ষমতা'; সেগুলো এখান থেকেই বিচ্ছুরিত হয় এবং এর মধ্যেই একীভূত হয়। আবার ক্ষমাশীল, দয়ালু, সন্তুষ্ট, অসন্তুষ্ট ও দণ্ডদানকারী—এগুলোর মূল হলো 'ইচ্ছা'; এগুলো সেখান থেকেই নির্গত হয় এবং সেখানেই লীন হয়। যদি তুমি বলো যে, 'অনাদি' এবং 'চিরঞ্জীব' তো এগুলোর থেকে উৎসারিত নয় এবং এগুলোর মধ্যে একীভূতও হয় না, তবে তো তোমাদের 'পঞ্চত্ববাদ' স্বীকার করা উচিত। আমি উত্তরে বলব: 'অনাদি' ও 'চিরঞ্জীব' হলো সত্তাবাচক নাম, কর্মবাচক নাম নয়। সত্তার প্রতিটি নাম মূলত তার বিপরীত অবস্থাকে নাকচ করার অর্থ প্রকাশ করে। সুতরাং 'অনাদি' হলো 'সৃষ্ট' হওয়াকে নাকচ করার জন্য, 'চিরঞ্জীব' হলো 'মৃত' হওয়াকে নাকচ করার জন্য, 'প্রতিপালক' হলো 'অধীনস্থ' হওয়াকে নাকচ করার জন্য এবং 'উপাস্য' হলো 'উপাসিত' হওয়াকে নাকচ করার জন্য। অতএব ক্ষমতা, জ্ঞান এবং ইচ্ছা—যা তিনটি কর্মবাচক নাম—তা মূলত এক ও অদ্বিতীয় সত্তার জন্যই প্রযোজ্য, যা বহুত্ব গ্রহণ করে না। আমরা যেমনটি উপলব্ধি করি যে, মানুষের আত্মা থেকে কোনো কাজই তিনটি বিষয় ছাড়া সম্পাদিত হয় না; যদি এর মধ্য থেকে একটির অভাব ঘটে তবে কাজ পূর্ণ হয় না, আর যদি চতুর্থ কোনো বিষয় যোগ করা হয় তবে তা সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় না। অনুরূপভাবে আমরা আমাদের স্রষ্টা সম্পর্কে অনুধাবন করেছি যে, আমাদের প্রতি তাঁর পরিচালনা এই তিনটি বিষয়ের মাধ্যমেই সাধিত হয়। আর তা হলো: ক্ষমতা, জ্ঞান এবং ইচ্ছা; এগুলোর বাইরে চতুর্থ কোনো বিষয় নেই। যদি এগুলোর কোনো একটি অনুপস্থিত থাকে তবে বাকি দুটির দ্বারা কোনো কাজই সম্পন্ন হবে না। কারণ যদি কারো জ্ঞান ও ইচ্ছা থাকে কিন্তু ক্ষমতা না থাকে তবে সে অক্ষম। যদি ক্ষমতা ও জ্ঞান থাকে কিন্তু ইচ্ছা না থাকে তবে ইচ্ছা ব্যতীত কিছুই সম্পন্ন হবে না। আর যদি ক্ষমতা থাকে কিন্তু জ্ঞান না থাকে তবে অজ্ঞতার কারণে কোনো কর্ম সুচারুভাবে সম্পাদিত হবে না। সুতরাং আসমানি কিতাব সৃষ্টির নিরিখে স্রষ্টার পরিচয়কে আমাদের নিকট এভাবে সহজবোধ্য করেছে, যেমনটি আমরা আমাদের নিজেদের মাঝে অনুভব করি যে—ক্ষমতা, জ্ঞান ও ইচ্ছা আমাদের পক্ষ থেকে কর্মকে পূর্ণতাদানকারী অপরিহার্য গুণাবলি এবং এগুলো একই সত্তার অন্তর্ভুক্ত। তেমনিভাবে আল্লাহর ক্ষেত্রেও ত্রিত্ব মূলত এক-ই।

উল্লিখিত বিষয়ের উত্তর

হে ব্যক্তি, জেনে রেখো যে, তুমি নিজের ওপর এমন আপত্তি উত্থাপন করেছ যা তোমার মেধার স্থবিরতা এবং সঠিক অনুধাবনের অভাবকেই নির্দেশ করে। কারণ তুমি প্রশ্ন উত্থাপনে ত্রুটি করেছ এবং স্বৈরচারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছ...
(খণ্ড: ১) আল-ইলামু বিমা ফী দীনিন নাসারা মিনাল ফাসাদি ওয়াল আওহাম (পৃষ্ঠা: ৭২)
الإنفصال أما إخلالك بالسؤال فَأول ذَلِك أَنَّك لحنت فِي هَذَا الْفَصْل فِي ثَمَانِيَة عشر موضعا وَذَلِكَ بَين عِنْد من تَأمل مكتوبك وثانية أَنه كَانَ يَنْبَغِي لَك أَن تقدم قبل هَذَا السُّؤَال النّظر فِي حد هَذِه الأقانيم وحقيقتها ثمَّ فِي الدَّلِيل على وجودهَا فَإِن النّظر فِي كَون الشَّيْء وَاحِدًا أَو كثيرا إِنَّمَا يُصَار إِلَيْهِ بعد معرفَة حَقِيقَته وَمَعْرِفَة وجوده فَإِذا فرغت من ذَلِك نظرت فِيهَا هَل وجودهَا زَائِد على الذَّات أعنى ذَات الْفَاعِل أم هُوَ عين الذَّات فَإِذا عرفت هَذِه المطالب كلهَا حِينَئِذٍ كَانَ يمكنك أَن تنظر هَل هِيَ وَاحِدَة أم كَثِيرَة أَو هَل ترجع إِلَى شَيْء أَو يرجع إِلَيْهَا شَيْء لَا بُد لكل نَاظر ينظر فِيهَا نظرت أَنْت فِيهِ أَن تعرف قبله مَا ذكرته بالبراهين القاطعة وَإِلَّا فَكيف تَتَكَلَّم فِي فرع لم يثبت عنْدك أَصله وَلَو كنت فِي نظرك من المتفطنين لنظرت على الطَّرِيقَة الَّتِي علمهَا لكم أغشتين

وَأما تحكم فِي الإنفصال فَإِنَّمَا يتَبَيَّن إِذا حكيت كلامك وفهمت مرادك وَذَلِكَ أَنَّك وجهت على نَفسك كَانَ قَائِلا قَالَ لَك لم جعلت الأقانيم ثَلَاثَة وَأَسْمَاء الله تَعَالَى أَكثر من ذَلِك قانفصلت عَن ذَلِك وَقلت أَسمَاء اللة تَعَالَى وَإِن كَانَت كَثِيرَة فَإِنَّمَا ترجع إِلَى هَذِه الثَّلَاثَة فقاهر وَقَوي وغلوب وَمَا أشبههَا رَاجع إِلَى الْقُدْرَة وغفور وَرَحِيم وَمَا أشبههما رَاجع إِلَى الْإِرَادَة هَذَا مُقْتَضى كلامك بعد التّكْرَار والإكثار وَهَذَا كُله مِنْك تحكم بِمَا لم يقم لَك عَلَيْهِ دَلِيل وَلَا يشْهد لَهُ من كلامك نظر وَلَا تَعْلِيل

وَإِلَّا فَمَا الَّذِي يدلك على أَن أَسمَاء مُخْتَلفَة المفهومات والحقائق رَاجِعَة إِلَى معنى وَاحِد وَإِن جَازَ أَن ترد الْأَسْمَاء الْمُخْتَلفَة المفهومات إِلَى معنى وَاحِد بالتحكم جَازَ أَن تقضى بعكس ذَلِك وَهُوَ أَن ترد الْأَسْمَاء المترادفة على معنى وَاحِد إِلَى معَان مُخْتَلفَة وَذَلِكَ لَا يَقُوله الغبي الْجَاهِل بله الْكيس الْفَاضِل تَقول على جِهَة السُّؤَال وَبِه يظْهر تحكمك فِي الإنفصال بِمَ تنكر على من يزْعم أَن جَمِيع صِفَات الْكَمَال مثل الْقُدْرَة وَالْعلم والإرادة والسمع وَالْبَصَر وَالْكَلَام والحياة والقدم والبقاء وَغير ذَلِك من صِفَات الْكَمَال والإستغناء هِيَ أقانيم الموجودات وأصولها فَإِن الممكنات إِنَّمَا يتبدل عدمهَا بوجودها بإيجاد موجد متصف بِصِفَات الْكَمَال ومنزه عَن صِفَات النَّقْص والإفتقار وَإِن اتّصف بِصِفَات النَّقْص والإفتقار كَانَ مُحْتَاجا إِلَى مزيل النَّقْص
উত্তর প্রদানের ক্ষেত্রে আপনার ত্রুটি প্রসঙ্গে প্রথমত কথা হলো, আপনি এই পরিচ্ছেদে আঠারোটি স্থানে ভাষাগত ভুল করেছেন, যা আপনার লেখাটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে যে কারো কাছে স্পষ্ট হয়ে যাবে। দ্বিতীয়ত, আপনার উচিত ছিল এই প্রশ্নের আগে এই আকানিমসমূহের (ব্যক্তিসত্তা) সংজ্ঞা ও প্রকৃত স্বরূপ এবং তারপর সেগুলোর অস্তিত্বের প্রমাণের বিষয়ে অনুসন্ধান করা। কারণ কোনো বিষয় এক না একাধিক, তা নিয়ে আলোচনা কেবল তার স্বরূপ ও অস্তিত্ব উপলব্ধির পরেই সম্ভব। যখন আপনি সেই পর্যায় শেষ করবেন, তখন অনুসন্ধান করবেন যে সেগুলোর অস্তিত্ব কি মূল সত্তার (অর্থাৎ স্রষ্টার সত্তার) অতিরিক্ত কোনো কিছু, নাকি তা খোদ সেই সত্তাই? আপনি যখন এই সকল উদ্দেশ্য সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান লাভ করবেন, কেবল তখনই আপনার পক্ষে দেখা সম্ভব হবে যে সেগুলো কি এক নাকি বহু, অথবা সেগুলো কি অন্য কোনো কিছুর দিকে প্রত্যাবর্তন করে, নাকি অন্য কিছু সেগুলোর দিকে প্রত্যাবর্তন করে। আপনি যে বিষয়ে অনুসন্ধান করছেন, প্রত্যেক অনুসন্ধানকারীর জন্য অপরিহার্য হলো তার পূর্বে আমার উল্লিখিত বিষয়গুলো অকাট্য প্রমাণের মাধ্যমে জেনে নেওয়া। অন্যথায়, যে বিষয়ের মূল ভিত্তিই আপনার কাছে প্রমাণিত নয়, তার শাখা-প্রশাখা নিয়ে আপনি কীভাবে কথা বলেন? আপনি যদি আপনার বিচারে বিচক্ষণ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত হতেন, তবে অগাস্টিন আপনাদের যে পদ্ধতি শিখিয়েছেন, সেই পথেই অনুসন্ধান পরিচালনা করতেন।

আর উত্তর প্রদানে আপনার হঠকারিতা তখনই স্পষ্ট হবে যখন আমি আপনার বক্তব্য উদ্ধৃত করব এবং আপনার উদ্দেশ্য বিশ্লেষণ করব। আর তা হলো এই যে, আপনি নিজের ওপর একটি কাল্পনিক প্রশ্ন আরোপ করেছেন যেন কেউ আপনাকে বলছে: "আপনি কেন আকানিমকে তিনে সীমাবদ্ধ করলেন, অথচ মহান আল্লাহর নামসমূহ তো এর চেয়েও অনেক বেশি?" এরপর আপনি তার উত্তরে বলেছেন যে, মহান আল্লাহর নামসমূহ বহু হলেও সেগুলো মূলত এই তিনটির দিকেই প্রত্যাবর্তন করে। যেমন— পরাক্রমশালী, শক্তিশালী, বিজয়ী এবং তদ্রূপ নামসমূহ 'ক্ষমতা'র দিকে প্রত্যাবর্তন করে। আর ক্ষমাশীল, দয়ালু এবং এর সদৃশ নামগুলো 'ইচ্ছা'র দিকে প্রত্যাবর্তন করে। আপনার দীর্ঘ বক্তব্য ও পুনরাবৃত্তির সারকথা এটাই। আর এই পুরো বিষয়টিই আপনার পক্ষ থেকে এমন এক স্বেচ্ছাচারিতা যার সপক্ষে কোনো প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত নেই এবং আপনার বক্তব্যে কোনো যৌক্তিক চিন্তাধারা বা কার্যকারণও এর সাক্ষ্য দেয় না।

অন্যথায়, কোন বিষয়টি আপনাকে এই পথ দেখাচ্ছে যে, ভিন্ন ভিন্ন ধারণা ও স্বরূপ বিশিষ্ট নামসমূহ একটি মাত্র অর্থের দিকেই ফিরে যাবে? যদি ভিন্ন ভিন্ন ধারণার নামসমূহকে স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে একটি অর্থের দিকে ফিরিয়ে নেওয়া বৈধ হয়, তবে তো এর বিপরীত সিদ্ধান্ত নেওয়াও বৈধ হওয়া উচিত; আর তা হলো অভিন্ন অর্থের সমার্থক নামসমূহকে ভিন্ন ভিন্ন অর্থে ফিরিয়ে নেওয়া। এমন কথা কোনো স্থূলবুদ্ধি অজ্ঞ ব্যক্তিও উচ্চারণ করবে না, কোনো বুদ্ধিমান ও গুণী ব্যক্তির কথা তো বলাই বাহুল্য। আপনি প্রশ্নের আকারে বলছেন—আর এর মাধ্যমেই উত্তর দানে আপনার হঠকারিতা স্পষ্ট হয়—আপনি সেই ব্যক্তির দাবিকে কীভাবে খণ্ডন করবেন যে মনে করে যে সমস্ত পূর্ণতার গুণাবলি যেমন— ক্ষমতা, জ্ঞান, ইচ্ছা, শ্রবণ, দর্শন, বাক্য, জীবন, অনাদিত্ব, স্থায়িত্ব এবং অপরাপর পূর্ণতা ও অমুখাপেক্ষিতার গুণসমূহ হলো বিদ্যমান বস্তুজগতের ব্যক্তিসত্তা (আকানিম) ও তাদের মূল ভিত্তি? কেননা সম্ভাব্য বিষয়সমূহের অভাব থেকে অস্তিত্বে রূপান্তর কেবল এমন একজন অস্তিত্বদাতার মাধ্যমেই সম্ভব যিনি পূর্ণতার গুণাবলি দ্বারা গুণান্বিত এবং ত্রুটি ও মুখাপেক্ষিতা থেকে পবিত্র। আর তিনি যদি ত্রুটি ও অভাবের গুণে গুণান্বিত হতেন, তবে তিনি নিজেই সেই ত্রুটি দূরকারী কোনো সত্তার মুখাপেক্ষী হতেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইলামু বিমা ফী দীনিন নাসারা মিনাল ফাসাদি ওয়াল আওহাম (পৃষ্ঠা: ৭৩)
عَنهُ وَمن كَانَ مُحْتَاجا كَانَ مُمكنا وكل مُمكن فلابد أَن يسْتَند وُجُوبه إِلَى سَبَب وَاجِب الْوُجُود فَحصل من هَذَا أَن صِفَات الْكَمَال والإستغناء كلهَا لَا يَصح إِيجَاد مَوْجُود مُحدث إِلَّا مِمَّن اتّصف بمجموعها وَأَن من لم يَتَّصِف بهَا فَلَا يَصح مِنْهُ إِيجَاد مَوْجُود فَإِذن هِيَ أصُول الموجودات الممكنة فَإِذن هِيَ أقانيم على قَوْلك

وَسَيَأْتِي مزِيد كَلَام فِي الأقانيم ثمَّ نقُول إِن قضيت بِرُجُوع هَذِه الْأَسْمَاء بَعْضهَا إِلَى بعض مَعَ تبَاين مفهوماتها وَاخْتِلَاف مَعَانِيهَا فَلم لَا تقضى بِرُجُوع الْإِرَادَة إِلَى الْعلم وبرجوع الْعلم إِلَى التجرد عَن الْمَادَّة كَمَا زعمت الفلاسفة وَلم لَا تقضى بِرُجُوع الْقُدْرَة إِلَى الْوُجُود كَمَا قد ذهب إِلَيْهِ طوائف من النَّصَارَى الْمُتَقَدِّمين فقد كَانَ طوائف مِنْهُم لَا يعدون الْقُدْرَة أقنوما وَكَانُوا يردونها إِلَى الْوُجُود وَكَانُوا يردون الْإِرَادَة للحياة فالأقانيم عِنْدهم الْوُجُود وَالْعلم والحياة وَسَيَأْتِي حِكَايَة مَذْهَبهم إِن شَاءَ الله تَعَالَى

وَهَذَا كُله يدل على أَنكُمْ فِي عقائدكم متحكمون لَا ترجعون فِيهَا إِلَى أصل عَلَيْهِ تعولون

وَأما سؤالك الثَّانِي الَّذِي وجهت على نَفسك فوارد عَلَيْك ولازم لَك وَلم تنفصل عَنهُ على أَنَّك أخللت بِهِ فَإِن الَّذِي يعْتَرض بِهِ عَلَيْك أَكثر من قديم وَحي اذ قد يرد عَلَيْك الْوُجُود فان اصل الاقانيم ة السّمع وَالْبَصَر فَإِن لَا يَصح رُجُوعهَا بِحَال إِلَى الْعلم فَإِن الْعلم لَا يَنُوب عَن الْإِدْرَاك فَأَنا بِالضَّرُورَةِ نعلم الْفرق بَين الْعلم بالصوت وَسَمَاع الصَّوْت وَبَين الْعلم بالمرئى ورؤية المرئى مِثَال ذَلِك أَنا نعلم مَعْلُوما على غَايَة مَا يُمكن من الْعلم ثمَّ إِذا رَأَيْنَاهُ حصل لنا بِالضَّرُورَةِ مزِيد وضوح ومزيد بَيِّنَة على الْعلم بِهِ وَكَذَلِكَ فِي المسموع فَذَلِك الْمَزِيد وَتلك الْمَزِيد أما أَن نقُول أَن الله تبارك وتعالى مدرك لَهَا أَو لَيْسَ مدْركا لَهَا فَإِن لم يُدْرِكهَا فقد فَاتَهُ بعض المزايا وَلم يحصل لَهُ ذَلِك الوضوح فَيكون من يُدْرِكهَا وحصلت لَهُ أكمل مِمَّن لم تحصل لَهُ فَيُؤَدِّي إِلَى أَن يكون الْمَخْلُوق أكمل من الْخَالِق والمصنوع أشرف وَأتم من الصَّانِع وَذَلِكَ محَال وَإِن كَانَ مدْركا لَهَا فبذلك الْإِدْرَاك يُسمى بَصيرًا سمعيا وَهُوَ زَائِد على الْعلم فَإِن الْعلم لَا يغنى عَنهُ كَمَا تقدم ولسنا تشْتَرط فِيهَا بنية مَخْصُوصَة وَلَا جارحة وَلَا

তা থেকে; আর যে অভাবী সে সম্ভবপর, আর প্রতিটি সম্ভবপর সত্তার অস্তিত্বের আবশ্যকতা কোনো আবশ্যকীয় অস্তিত্বের (ওয়াজিবুল উজুদ) কারণের ওপর নির্ভরশীল হওয়া অনিবার্য। এর থেকে প্রতীয়মান হয় যে, পূর্ণতা এবং অমুখাপেক্ষিতার সকল গুণাবলি ব্যতিরেকে কোনো নতুন অস্তিত্বের উদ্ভব সম্ভব নয়, যতক্ষণ না স্রষ্টা সেই সকল গুণের সমষ্টি দ্বারা বিভূষিত হন। আর যে এই গুণাবলি দ্বারা বিভূষিত নয়, তার পক্ষে কোনো অস্তিত্ব সৃষ্টি করা সম্ভব নয়। অতএব, এগুলোই হলো সম্ভবপর সৃষ্টিজগতের মূল ভিত্তি। সুতরাং আপনার বক্তব্য অনুযায়ী এগুলোই হলো আকানিয়িম (hypostases)।

আকানিয়িম সম্পর্কে সামনে বিস্তারিত আলোচনা আসবে। এরপর আমরা বলি, যদি আপনি এই নামগুলোর ধারণা ও অর্থের ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও একটিকে অন্যটির দিকে প্রত্যাবর্তনশীল বলে সিদ্ধান্ত নেন, তবে কেন আপনি ইচ্ছাকে জ্ঞানের দিকে এবং জ্ঞানকে বস্তুহীনতার দিকে প্রত্যাবর্তনশীল বলে সাব্যস্ত করেন না, যেমনটি দার্শনিকরা দাবি করেছেন? আর কেনইবা আপনি ক্ষমতাকে অস্তিত্বের দিকে প্রত্যাবর্তিত করেন না, যেমনটি প্রাচীন খ্রিস্টানদের একদল মনে করত? তাদের মধ্যে এমন কিছু উপদল ছিল যারা ক্ষমতাকে স্বতন্ত্র আকনাম হিসেবে গণ্য করত না, বরং তারা একে অস্তিত্বের দিকে ফিরিয়ে নিত; আর ইচ্ছাকে জীবনের দিকে ফিরিয়ে নিত। ফলে তাদের মতে আকানিয়িম হলো—অস্তিত্ব, জ্ঞান এবং জীবন। আল্লাহ তাআলা চাইলে সামনে তাদের মতবাদের বিবরণ আসবে।

এই সবকিছুই প্রমাণ করে যে, আপনারা আপনাদের ধর্মবিশ্বাসের ক্ষেত্রে কেবল খেয়ালখুশি চরিতার্থ করেন; আপনারা এমন কোনো মূলনীতির দিকে প্রত্যাবর্তন করেন না যার ওপর আপনারা নির্ভর করতে পারেন।

আপনার দ্বিতীয় প্রশ্নটি যা আপনি নিজের দিকেই উত্থাপন করেছেন, তা আপনার জন্যই প্রযোজ্য এবং আপনার ওপরই আবশ্যকীয়; আপনি এটি থেকে নিষ্কৃতি পাননি বরং এতে ত্রুটি করেছেন। কেননা আপনার ওপর যে বিষয়ে আপত্তি আসে তা কেবল অনাদি ও জীবন্ত হওয়ার চেয়েও ব্যাপক। এখানে অস্তিত্বের প্রসঙ্গও চলে আসে; কেননা আকানিয়িমের মূল ভিত্তির ক্ষেত্রে শ্রবণ ও দর্শন অন্তর্ভুক্ত। এগুলোকে কোনোভাবেই কেবল জ্ঞানের দিকে ফিরিয়ে নেওয়া সঠিক নয়। কেননা জ্ঞান কখনই উপলব্ধির স্থলাভিষিক্ত হতে পারে না। আমরা স্বতঃসিদ্ধভাবেই শব্দের জ্ঞান এবং শব্দ শোনার মধ্যে পার্থক্য বুঝি; ঠিক তেমনি কোনো দৃশ্যমান বস্তু সম্পর্কে জানা এবং সেই দৃশ্যমান বস্তুকে দেখার মধ্যেও পার্থক্য অনুভব করি। উদাহরণস্বরূপ, আমরা কোনো একটি বিষয় সম্পর্কে সম্ভাব্য সর্বোচ্চ জ্ঞান অর্জন করার পর যখন সেটি দেখি, তখন স্বতঃসিদ্ধভাবেই আমাদের নিকট সেই জ্ঞান অপেক্ষা অধিকতর স্পষ্টতা ও প্রামাণিকতা অর্জিত হয়। শ্রবণযোগ্য বিষয়ের ক্ষেত্রেও অনুরূপ। এখন এই যে অতিরিক্ত স্পষ্টতা, সে সম্পর্কে আমরা কি বলব যে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা তা উপলব্ধি করেন, নাকি করেন না? যদি তিনি তা উপলব্ধি না করেন, তবে তাঁর থেকে কিছু শ্রেষ্ঠত্ব বাদ পড়ল এবং সেই স্পষ্টতা তাঁর অর্জিত হলো না। এমতাবস্থায় যে তা উপলব্ধি করে এবং যার কাছে সেই স্পষ্টতা অর্জিত হয়, সে ওই সত্তার চেয়ে অধিক পূর্ণাঙ্গ হবে যার কাছে তা অর্জিত হয়নি। এটি এই পরিণতির দিকে নিয়ে যায় যে সৃষ্টি স্রষ্টার চেয়ে অধিক পূর্ণাঙ্গ এবং শিল্পকর্ম শিল্পীর চেয়ে অধিক শ্রেষ্ঠ ও পূর্ণাঙ্গ সাব্যস্ত হয়—যা অসম্ভব। আর যদি তিনি তা উপলব্ধি করেন, তবে সেই উপলব্ধির কারণেই তাঁকে সর্বদ্রষ্টা ও সর্বশ্রোতা বলা হয়। আর এটি জ্ঞানের অতিরিক্ত একটি বিষয়, কেননা ইতিপূর্বে যেমন আলোচিত হয়েছে, জ্ঞান তার বিকল্প হতে পারে না। আর আমরা এক্ষেত্রে কোনো বিশেষ দৈহিক কাঠামো বা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কিংবা অন্য কিছুর শর্তারোপ করি না।