(খণ্ড: ১)
ইতি কাদাতু ফিরাকিল মুসলিমীনা ওয়াল মুশরিকীন
(পৃষ্ঠা: -)
اعتقادات فرق المسلمين والمشركين (الفخر الرازي)
القسم: العقيدة
الكتاب: اعتقادات فرق المسلمين والمشركين
المؤلف: أبو عبد الله محمد بن عمر بن الحسن بن الحسين التيمي الرازي الملقب بفخر الدين الرازي خطيب الري (ت 606هـ)
المحقق: علي سامي النشار
الناشر: دار الكتب العلمية - بيروت
سنة النشر:
عدد الصفحات: 94
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
মুসলিম ও মুশরিকদের দলসমূহের বিশ্বাসসমূহ (আল-ফখর আল-রাজি)
বিভাগ: আকীদা
বই: মুসলিম ও মুশরিকদের দলসমূহের বিশ্বাসসমূহ
লেখক: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন উমর বিন আল-হাসান বিন আল-হুসাইন আত-তৈমি আর-রাজি, ফখরুদ্দিন আর-রাজি উপাধিতে পরিচিত, রাই-এর খতিব (মৃত্যু ৬০৬ হিজরি)
সম্পাদক: আলী সামি আল-নাশার
প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ - বৈরুত
প্রকাশকাল:
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৪
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ করা হয়েছে]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
ইতি কাদাতু ফিরাকিল মুসলিমীনা ওয়াল মুশরিকীন
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
بسم الله الرحمن الرحيمكتاب الْفرق فِي شرح أَحْوَال مَذَاهِب الْمُسلمين وَالْمُشْرِكين وَهُوَ مُرَتّب على عشرَة أَبْوَابالْبَاب الأولفِي شرح فرق الْمُعْتَزلَةوَفِيه ثَلَاثَة فُصُولالْفَصْل الأولفِي بَيَان مَا يشْتَرك فِيهِ سَائِر فرق الْمُعْتَزلَةأعلم أَن الْمُعْتَزلَة كلهم متفقون على نفي صِفَات الله تَعَالَى من الْعلم وَالْقُدْرَة وعَلى أَن الْقُرْآن مُحدث ومخلوق وَأَن الله تَعَالَى لَيْسَ خَالِقًا لأفعال العَبْد
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।কিতাবুল ফিরক (উপদলসমূহের কিতাব): মুসলিম ও মুশরিকদের মাযহাবসমূহের অবস্থা বর্ণনায়, যা দশটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত।প্রথম অধ্যায়মুতাজিলাদের উপদলসমূহের বর্ণনায়এবং এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছেপ্রথম পরিচ্ছেদমুতাজিলাদের সমস্ত উপদল যে বিষয়গুলোতে একমত, তার বিবরণেজেনে রাখুন যে, মুতাজিলারা সবাই মহান আল্লাহর জ্ঞান ও ক্ষমতার মতো গুণাবলি অস্বীকার করার বিষয়ে, কুরআন অভিনব ও সৃষ্ট হওয়ার বিষয়ে এবং আল্লাহ তাআলা বান্দার কাজের স্রষ্টা নন—এই বিষয়গুলোতে একমত।
(খণ্ড: ১)
ইতি কাদাতু ফিরাকিল মুসলিমীনা ওয়াল মুশরিকীন
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
الْفَصْل الثَّانِيفِي أَنهم لم سموا معتزلةكَانَ وَاصل بن عَطاء وَعَمْرو بن عبيد من تلامذة الْحسن الْبَصْرِيّ رَحل وَلما أحدثا مذهبا وَهُوَ أَن الْفَاسِق لَيْسَ بِمُؤْمِن وَلَا كَافِر اعتزلا حَلقَة الْحسن الْبَصْرِيّ وجلسا نَاحيَة فِي الْمَسْجِد فَقَالَ النَّاس إنَّهُمَا إعتزلا حَلقَة الْحسن الْبَصْرِيّ فسموا معتزلة لذَلِك قَالَ القَاضِي عبد الْجَبَّار وَهُوَ رَئِيس الْمُعْتَزلَة كلما ورد فِي الْقُرْآن من لفظ الأعتزال فَإِن المُرَاد مِنْهُ الأعتزال عَن الْبَاطِل فَعلم أَن اسْم الإعتزال مدح وَهَذَا فَاسد لقَوْله تَعَالَى {وَإِن لم تؤمنوا لي فاعتزلون} فَإِن المُرَاد من هَذَا الإعتزال هُوَ الْكفْر
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদকেন তাদের মুতাজিলা নামকরণ করা হয়েছে সে প্রসঙ্গেওয়াসিল বিন আতা এবং আমর বিন উবাইদ হাসান বসরীর ছাত্রগণের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। যখন তারা একটি নতুন মতবাদ উদ্ভাবন করলেন—আর তা হলো ফাসেক ব্যক্তি মুমিনও নয় এবং কাফেরও নয়—তখন তারা হাসান বসরীর পাঠদান মজলিস থেকে পৃথক হয়ে গেলেন এবং মসজিদের এক কোণে গিয়ে বসলেন। তখন লোকেরা বলল যে, তারা হাসান বসরীর মজলিস থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে, তাই এ কারণে তাদের মুতাজিলা নামকরণ করা হয়েছে। মুতাজিলাদের প্রধান কাযী আব্দুল জব্বার বলেন, কুরআনে ‘বিচ্ছিন্ন হওয়া’ শব্দের যেখানেই ব্যবহার হয়েছে, তার দ্বারা বাতিল থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়াই উদ্দেশ্য; সুতরাং জানা গেল যে, ‘বিচ্ছিন্ন হওয়া’ বা মুতাজিলা নামটি একটি প্রশংসা। অথচ এই দাবিটি অসার, কারণ মহান আল্লাহর বাণী: {আর যদি তোমরা আমার প্রতি ঈমান না আনো, তবে আমার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাও}। এখানে এই ‘বিচ্ছিন্ন হওয়া’ দ্বারা কুফরই উদ্দেশ্য।
(খণ্ড: ১)
ইতি কাদাতু ফিরাকিল মুসলিমীনা ওয়াল মুশরিকীন
(পৃষ্ঠা: ৪০)
الْفَصْل الثَّانِيفِي فرق الْمُعْتَزلَةإعلم أَنهم سبع عشرَة فرقةالْفرْقَة الأولى الغيلانيةأَتبَاع غيلَان الدِّمَشْقِي وَهَؤُلَاء يجمعُونَ بَين الأعتزال والإرجاء وغيلان هَذَا هُوَ الَّذِي قَتله هِشَام بن عبد الْملك سَابِع خلفاء بني مَرْوَانالْفرْقَة الثَّانِيَة الواصليةأَتبَاع وَاصل بن عَطاء الغزال وَهُوَ أول من قَالَ إِن الْفَاسِق لَيْسَ بِمُؤْمِن وَلَا كَافِر وَلَا مُنَافِق وَلَا مُشْرك وَمن مَذْهَبهم أَن عليا وَطَلْحَة رَضِي لَو شَهدا فِي شَيْء وَاحِد فشهادتهما غير مَقْبُولَة وَإِن شهد فِيهِ كل وَاحِد مِنْهُمَا مَعَ شخص آخر فشهادته مَقْبُولَةالْفرْقَة الثَّالِثَة العمريةأَتبَاع عَمْرو بن عبيد وَمن قَوْلهم إِن شَهَادَة طَلْحَة وَالزُّبَيْر غير مَقْبُولَة بِوَجْه مَا
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদমুতাযিলাদের উপদলসমূহ সম্পর্কেজেনে রাখুন যে, তারা সতেরোটি উপদলপ্রথম উপদল: গাইলানিয়্যাহগাইলান আদ-দিমাশকির অনুসারী। তারা ই'তিযাল (মুতাযিলা মতবাদ) ও ইরজার সংমিশ্রণ ঘটায়। এই গাইলানকেই বনু মারওয়ানের সপ্তম খলিফা হিশাম বিন আব্দুল মালিক হত্যা করেছিলেন।দ্বিতীয় উপদল: ওয়াসিলিয়্যাহওয়াসিল বিন আতা আল-গাজ্জালের অনুসারী। তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি বলেছিলেন যে, ফাসেক ব্যক্তি মুমিন নয়, কাফের নয়, মুনাফিক নয় এবং মুশরিকও নয়। তাদের মতবাদ হলো—যদি আলী ও তালহা (রা.) কোনো একটি বিষয়ে একত্রে সাক্ষ্য দেন, তবে তাদের সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়; কিন্তু যদি তাদের প্রত্যেকে অন্য কোনো ব্যক্তির সাথে সাক্ষ্য দেন, তবে তাদের সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হবে।তৃতীয় উপদল: আমরিয়্যাহআমর বিন উবাইদের অনুসারী। তাদের বক্তব্য হলো—তালহা ও যুবাইরের সাক্ষ্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
(খণ্ড: ১)
ইতি কাদাতু ফিরাকিল মুসলিমীনা ওয়াল মুশরিকীন
(পৃষ্ঠা: ৪১)
الْفرْقَة الرَّابِعَة الهزيليةأَتبَاع أبي الهزيل وَمن مَذْهَبهم أَن خالقيه الله تَعَالَى قد انْتَهَت الى حد لَا يقدر أَن يخلق شَيْئا آخرالْفرْقَة الْخَامِسَة النظاميةاتِّبَاع إِبْرَاهِيم بن سيار النظام وَمن مَذْهَبهم أَن العَبْد قَادر على أَشْيَاء لَا يقدر الله تَعَالَى على خلقهَا وَالْإِجْمَاع وَخبر الْوَاحِد وَالْقِيَاس لَيْسَ بِحجَّة عِنْد هَؤُلَاءِ وَلَا يذكرُونَ الصَّحَابَة
চতুর্থ দল: হুজাইলিয়্যাহআবু আল-হুজাইলের অনুসারীবৃন্দ এবং তাদের মতাদর্শের অন্তর্ভুক্ত হলো এই যে, মহান আল্লাহর সৃজনক্ষমতা এমন এক সীমায় পৌঁছে শেষ হয়ে গিয়েছে যে, তিনি আর নতুন কিছু সৃষ্টি করতে সক্ষম নন।পঞ্চম দল: নাজ্জামিয়্যাহইব্রাহিম বিন সাইয়ার আন-নাজ্জামের অনুসারীবৃন্দ এবং তাদের মতাদর্শের অন্তর্ভুক্ত হলো এই যে, বান্দা এমন কিছু বিষয়ের ক্ষমতা রাখে যা সৃষ্টি করতে মহান আল্লাহ সক্ষম নন; আর তাদের নিকট ইজমা, খবরে ওয়াহিদ ও কিয়াস কোনো দলিল নয় এবং তারা সাহাবীগণের উল্লেখ করে না।
(খণ্ড: ১)
ইতি কাদাতু ফিরাকিল মুসলিমীনা ওয়াল মুশরিকীন
(পৃষ্ঠা: ৪২)
وَلَا عليا رضى بِسوءالْفرْقَة السَّادِسَة الثماميةأَتبَاع ثُمَامَة بن أَشْرَس وَكَانَ فِي زمن الْمَأْمُون وَمن مَذْهَبهم أَن الْفِعْل يَصح من غير الْفَاعِلالْفرْقَة السَّابِعَة البشريةأَتبَاع بشر بن معمر بن عباد السّلمِيّ وهم يثبتون النَّفس الناطقة كَمَا هُوَ مَذْهَب الفلاسفة ويثبتون فِي الْجِسْم مَعَاني غير متناهيةالْفرْقَة التَّاسِعَة المزداريةأَتبَاع أبي مُوسَى بن عِيسَى بن مسيح المزدار وَهُوَ تلميذ
এবং আলীকে (রাযিয়াল্লাহু আনহু) মন্দভাবে উল্লেখ করে না।ষষ্ঠ দল: আল-ছুমামিয়া।ছুমামাহ ইবনে আশরাসের অনুসারী; তিনি আল-মামুনের সময়ে ছিলেন। তাদের মতবাদসমূহের একটি হলো—কর্তা ছাড়াও কর্ম সংঘটিত হওয়া সম্ভব।সপ্তম দল: আল-বিশরিয়া।বিশর ইবনে মুয়াম্মার ইবনে আব্বাদ আস-সুলামীর অনুসারী। তারা দার্শনিকদের মতবাদের ন্যায় ‘নাফসে নাতিকা’ (বাক্-সম্পন্ন আত্মা) স্বীকার করে এবং দেহের মধ্যে অসীম অর্থ (গুণাবলি) সাব্যস্ত করে।নবম দল: আল-মুজদারিয়া।আবু মুসা ইবনে ঈসা ইবনে মাসীহ আল-মুজদারের অনুসারী, এবং তিনি ছিলেন জনৈক ব্যক্তির ছাত্র...
(খণ্ড: ১)
ইতি কাদাতু ফিরাকিল মুসলিমীনা ওয়াল মুশরিকীন
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
بشر وأستاذه جَعْفَر بن الْحَرْث وجعفر بن المبشرالْفرْقَة الْعَاشِرَة الهشاميةأَتبَاع هِشَام بن عَمْرو القوطي وَقد كَانَ يمْنَع من قَول حَسبنَا الله وَنعم الْوَكِيل لِأَنَّهُ لَا يجوز إِطْلَاق اسْم الْوَكِيل على الله تَعَالَىالْفرْقَة الْحَادِيَة عشرَة الجاحظيةأَتبَاع عَمْرو بن بَحر الجاحظ وَمن قَوْلهم إِن المعارف ضَرُورِيَّةالْفرْقَة الثَّانِيَة عشرَة الجبائيةاتِّبَاع أبي عَليّ مُحَمَّد بن عبد الْوَهَّاب الجبائي وَمن مَذْهَبهم أَنه يجوز أَن يكون الْعرض الْوَاحِد فِي حَالَة وَاحِدَة مَوْجُودا ومعدوما مَعًا والتزموا هَذَا من كَلَام الله تَعَالَى
বিশর এবং তাঁর শিক্ষক জাফর ইবনুল হারিস ও জাফর ইবনুল মুবাশশির।দশম উপদল: হিশামিয়্যাহতারা হিশাম বিন আমর আল-ফুতি-র অনুসারী। তিনি 'আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক' বলা নিষিদ্ধ করতেন; কারণ তাঁর মতে আল্লাহ তাআলার ওপর 'ওয়াকিল' (কর্মবিধায়ক) নাম প্রয়োগ করা বৈধ নয়।একাদশ উপদল: জাহিজিয়্যাহতারা আমর বিন বাহর আল-জাহিজ-এর অনুসারী এবং তাদের বক্তব্য হলো, সকল জ্ঞানই আবশ্যিক বা অনৈচ্ছিক (জরুরিয়্যাহ)।দ্বাদশ উপদল: জুব্বাইয়্যাহআবু আলী মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব আল-জুব্বাইয়ের অনুসারী। তাদের মতবাদের অন্তর্ভুক্ত হলো এই যে, একই অবস্থায় একটি আকস্মিক গুণ (আরায) একই সাথে বিদ্যমান ও অবিদ্যমান থাকা সম্ভব। তারা মহান আল্লাহর বাণীর (কালাম) ক্ষেত্রে এই বিষয়টি আবশ্যক করে নিয়েছে।
(খণ্ড: ১)
ইতি কাদাতু ফিরাকিল মুসলিমীনা ওয়াল মুশরিকীন
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
الْفرْقَة الرَّابِعَة عشرَة البهشميةأَتبَاع أبي بهشم عبد السَّلَام بن أبي على الجبائي وهم يثبتون الْحَال ويجوزون أَن يُعَاقب الله تَعَالَى العَبْد من غير أَن يصدر عَنهُ ذَنْبالْفرْقَة الْخَامِسَة عشرَة الأحشديةأَتبَاع أحشد بن أبي بكر تلميذ مُحَمَّد بن عمر الصَّيْمَرِيّ وهم يكفرون أَبَا هَاشم وَأَتْبَاعهالْفرْقَة السَّادِسَة عشرَة الخياطيةأَتبَاع أبي الْحسن عبد الرَّحِيم الْخياط وَهُوَ استاذ أبي الْقَاسِم الكعبي وهم يَقُولُونَ إِن الْجِسْم فِي الْعَدَم جسم حَتَّى أَنهم ألزموه أَن يكون رَاكِبًا فرسا مَعْدُوما فالتزم ذَلِك وجوزوه
চতুর্দশ দল: বাহশামিয়াতারা আবু হাশিম আব্দুস সালাম বিন আবি আলি আল-জুব্বায়ীর অনুসারী। তারা 'হাল' (অবস্থা) সাব্যস্ত করে এবং তারা মনে করে যে, কোনো গুনাহ সংঘটিত হওয়া ছাড়াই আল্লাহ তাআলা বান্দাকে শাস্তি প্রদান করতে পারেন।পঞ্চদশ দল: আহশাদিয়াতারা মুহাম্মাদ বিন উমর আস-সাইমারীর ছাত্র আহশাদ বিন আবি বকরের অনুসারী। তারা আবু হাশিম এবং তার অনুসারীদের কাফির বলে গণ্য করে।ষোড়শ দল: খাইয়াতিয়াতারা আবুল হাসান আব্দুর রাহিম আল-খাইয়াতের অনুসারী, যিনি আবুল কাসিম আল-কাবীর উস্তাদ। তারা বলে যে, অস্তিত্বহীন অবস্থায়ও দেহ দেহ হিসেবেই থাকে; এমনকি তারা তাকে এ কথা মেনে নিতে বাধ্য করেছিল যে, কোনো ব্যক্তি একটি অস্তিত্বহীন ঘোড়ার পিঠে আরোহী হতে পারে। তিনি তা মেনে নিয়েছিলেন এবং তারা একে সম্ভবপর বলে সাব্যস্ত করেছিল।
(খণ্ড: ১)
ইতি কাদাতু ফিরাকিল মুসলিমীনা ওয়াল মুশরিকীন
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
الْفرْقَة السَّابِعَة عشرَة الحسينيةأَتبَاع أبي الْحُسَيْن عَليّ بن مُحَمَّد الْبَصْرِيّ وَهُوَ تلميذ القَاضِي عبد الْجَبَّار بن أَحْمد ثمَّ خَالفه وَنفى الْحَال والمعدوم والمعاني وَجوز كرامات الْأَوْلِيَاء وَنفى المريدية وَتوقف فِي السّمع وَالْبَصَر وَلم يبْق فِي زَمَاننَا من سَائِر فرق الْمُعْتَزلَة إِلَّا هَاتَانِ الفرقتان أَصْحَاب أبي هَاشم وَأَصْحَاب أبي الْحُسَيْن الْبَصْرِيّ
সপ্তদশ দল: আল-হুসাইনিয়্যাহআবু আল-হুসাইন আলী বিন মুহাম্মদ আল-বসরীর অনুসারীগণ। তিনি কাজী আবদুল জব্বার বিন আহমদের ছাত্র ছিলেন, অতঃপর তিনি তাঁর বিরোধিতা করেন। তিনি 'হাল' (অবস্থা), 'মাদুম' (অস্তিত্বহীন) এবং 'মাআনি' (ভাবার্থসমূহ) অস্বীকার করেন। তিনি ওলিদের কারামত হওয়াকে বৈধ মনে করতেন এবং 'মুরিদিয়্যাহ' (ইচ্ছাশীল হওয়া) অস্বীকার করেন। শ্রবণ ও দর্শনের (আল্লাহর সিফাতের) বিষয়ে তিনি কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া থেকে বিরত থাকেন। আমাদের বর্তমান সময়ে মুতাজিলাদের সকল দলের মধ্যে কেবল এই দুটি দলই অবশিষ্ট আছে: আবু হাশিমের অনুসারী এবং আবু আল-হুসাইন বসরীর অনুসারীগণ।
(খণ্ড: ১)
ইতি কাদাতু ফিরাকিল মুসলিমীনা ওয়াল মুশরিকীন
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
الْبَاب الثَّانِيفِي شرح فرق الْخَوَارِجساير فرقهم متفقون على أَن العَبْد يصير كَافِرًا بالذنب وهم يكفرون عُثْمَان وعليا رضى وَطَلْحَة وَالزُّبَيْر وَعَائِشَة ويعظمون أَبَا بكر وَعمر رضىالْفرْقَة الأولى المحكميةوهم الَّذين قَالَ لعَلي رضى لما حكم الْحَاكِمين إِن كنت تعلم أَنَّك الإِمَام حَقًا فَلم أمرتنا بالمحاربة ثمَّ انفصلوا عَنهُ بِهَذَا السَّبَب وَكَفرُوا عليا وَمُعَاوِيَة رضىالْفرْقَة الثَّانِيَة الْأزَارِقَةأَتبَاع أبي نَافِع رَاشد بن الْأَزْرَق وَمن مَذْهَبهم أَن قتل من خالفهم جَائِز
দ্বিতীয় অধ্যায়খারেজী উপদলসমূহের বর্ণনায়তাদের অন্যান্য সকল উপদল এই বিষয়ে একমত যে, কোনো বান্দা গুনাহ করার কারণে কাফির হয়ে যায়। তারা উসমান, আলী (রা.), তালহা, যুবাইর ও আয়েশাকে কাফির সাব্যস্ত করে এবং আবু বকর ও উমর (রা.)-কে সম্মান করে।প্রথম উপদল: মুহাক্কিমিয়্যাহতারা ঐ সকল লোক যারা আলী (রা.)-কে বলেছিল, যখন তিনি দুই বিচারককে নিযুক্ত করেছিলেন— "যদি আপনি জেনে থাকেন যে আপনিই প্রকৃত ইমাম, তবে কেন আমাদের যুদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন?" অতঃপর এই কারণে তারা তাঁর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং আলী ও মুয়াবিয়া (রা.)-কে কাফির সাব্যস্ত করে।দ্বিতীয় উপদল: আযারির্কাহতারা আবু নাফে রাশিদ ইবনুল আযরাকের অনুসারীবৃন্দ। তাদের মতাদর্শের অন্তর্ভুক্ত হলো এই যে, তাদের বিরুদ্ধাচারীদের হত্যা করা বৈধ।
(খণ্ড: ১)
ইতি কাদাতু ফিরাকিল মুসলিমীনা ওয়াল মুশরিকীন
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
الْفرْقَة الثَّالِثَة النجداتأَتبَاع نجدة بن عَامر النَّخعِيّ وهم يرَوْنَ أَن قتل من خالفهم وَاجِب وَأكْثر الْخَوَارِج بنجستان على مقَالَتهالْفرْقَة الرَّابِعَة البيهيةأَتبَاع أبي بيهس ومذهبهم أَن من لَا يعرف الله تَعَالَى وأسماءه وتفاصيل الشَّرِيعَة فَهُوَ كَافِرالْفرْقَة الْخَامِسَة العجاردةأَتبَاع عبد الْكَرِيم بن عجرد وَعِنْدهم أَن سُورَة يُوسُف لَيست الْقُرْآن لِأَنَّهَا فِي شرح الْعِشْق والعاشق والمعشوق وَمثل هَذَا لَا يجوز أَن يكون كَلَام الله تَعَالَى
তৃতীয় দল: নাজদাততারা নাজদাহ ইবনে আমির আন-নাখায়ির অনুসারী। তারা মনে করে যে, যারা তাদের বিরুদ্ধাচরণ করবে তাদের হত্যা করা ওয়াজিব। সিজিস্তানের অধিকাংশ খারেজি তার মতবাদের অনুসারী।চতুর্থ দল: বাইহিয়্যাহতারা আবু বাইহাসের অনুসারী। তাদের মতবাদ হলো, যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ, তাঁর নামসমূহ এবং শরীয়তের বিস্তারিত বিধিবিধান জানে না, সে কাফের।পঞ্চম দল: আজারিদাহতারা আব্দুল কারিম ইবনে আজরাদের অনুসারী। তাদের মতে সূরা ইউসুফ কুরআনের অন্তর্ভুক্ত নয়; কারণ এতে প্রেম, প্রেমিক এবং প্রেমিকার বিবরণ রয়েছে। আর এই ধরণের বিষয় মহান আল্লাহর কালাম হওয়া সম্ভব নয়।
(খণ্ড: ১)
ইতি কাদাতু ফিরাকিল মুসলিমীনা ওয়াল মুশরিকীন
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
الْفرْقَة السَّادِسَة الصلتيةأَتبَاع عُثْمَان بن أبي الصَّلْت وَعِنْدهم أَن من دخل فِي مَذْهَبهم فَهُوَ مُسلم وَإِنَّمَا يحكمون بِإِسْلَام الْأَطْفَال من حِين بلوغهمالْفرْقَة السَّابِعَة الميمونيةوَهُوَ مَيْمُون بن عمرَان ليتبعوه وهم يجوزون نِكَاح بناتهم وَلَا يرَوْنَ أَن الشَّرّ من الله تَعَالَىالْفرْقَة الثَّامِنَة الحمزيةأَتبَاع حَمْزَة بن أدْرك وهم يقطعون بِأَن أَطْفَال الْكفَّار فِي النَّارالْفرْقَة التَّاسِعَة الخلفيةأَتبَاع خلف وهم لَا يرَوْنَ أَن الْخَيْر وَالشَّر من الله تَعَالَىالْفرْقَة الْعَاشِرَة الأطرافيةوهم يَقُولُونَ إِن من لم يعلم أَحْكَام الشَّرِيعَة من أَصْحَاب أَطْرَاف الْعَالم فَهُوَ غير مَعْذُور
ষষ্ঠ উপদল: সলতিয়্যাহতারা উসমান বিন আবিল সলতের অনুসারী। তাদের মতে, যে ব্যক্তি তাদের মতাদর্শে প্রবেশ করবে সে-ই মুসলিম এবং তারা শিশুদের ইসলামের ব্যাপারে কেবল তাদের প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার সময় থেকে ফয়সালা দেয়।সপ্তম উপদল: মাইমুনিয়্যাহতিনি হলেন মাইমুন বিন ইমরান, যার তারা অনুসরণ করে। তারা তাদের নিজ কন্যাদের বিবাহ করা বৈধ মনে করে এবং তারা মনে করে না যে মন্দ আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়।অষ্টম উপদল: হামযিয়্যাহহামযা বিন আদরাকের অনুসারী। তারা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে কাফিরদের শিশুরা জাহান্নামে যাবে।নবম উপদল: খলাফিয়্যাহখলফের অনুসারী। তারা মনে করে না যে কল্যাণ ও অকল্যাণ আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে।দশম উপদল: আতরাফিয়্যাহতারা বলে যে, বিশ্বের প্রান্তিক অঞ্চলে বসবাসকারী যারা শরীয়তের বিধানাবলি জানে না, তারা ওজরগ্রস্ত বা ক্ষমাযোগ্য নয়।
(খণ্ড: ১)
ইতি কাদাতু ফিরাকিল মুসলিমীনা ওয়াল মুশরিকীন
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
الْفرْقَة الْحَادِيَة عشرَة الشعبيبةأَصْحَاب شُعَيْب بن مُحَمَّد وهم يَقُولُونَ إِن العَبْد مكتسب وَلَا يَقُولُونَ إِنَّه موجد غير أَنهم يوافقون بَقِيَّة الْخَوَارِج فِيمَا عدا هَذَا من الْبدعالْفرْقَة الثَّانِيَة عشرَة الحازميةأَصْحَاب حَازِم وهم يَقُولُونَ بالموافاةالْفرْقَة الثَّالِثَة عشرَة الثعلبيةوَهُوَ ثَعْلَب بن عَامر وهم على ولَايَة الْأَطْفَال إِلَّا إِن ظهر مِنْهُم بَاطِل فِي وَقت التَّكْلِيفالْفرْقَة الرَّابِعَة عشرَة الأخنسيةأَصْحَاب أخنس بن قيس وهم يتبرءون من كل من لَا يوافقهم
একাদশ দল: শুআইবিয়্যাহশুআইব বিন মুহাম্মাদ-এর অনুসারী; তারা বলে যে বান্দা (তার কর্মের) উপার্জনকারী এবং তারা তাকে (কর্মের) উদ্ভাবক বলে না; তবে তারা এই বিষয়টি ব্যতীত অন্যান্য বিদআতের ক্ষেত্রে অবশিষ্ট খারেজিদের সাথে একমত পোষণ করে।দ্বাদশ দল: হাযিমিয়্যাহহাযিমের অনুসারী এবং তারা মুয়াফাত (মৃত্যুর সময়ের ঈমানই ধর্তব্য হওয়া) তত্ত্বে বিশ্বাসী।ত্রয়োদশ দল: সা'লাবিয়্যাহতিনি হলেন সা'লাব বিন আমির; তারা শিশুদের সাথে বন্ধুত্ব বা বিলায়াতের পক্ষে, যতক্ষণ না তাদের পক্ষ থেকে শরয়ী দায়িত্বপালনের (তাকলিফ) সময় কোনো বাতিল বিষয় প্রকাশ পায়।চতুর্দশ দল: আখনাছিয়্যাহআখনাছ বিন কায়সের অনুসারী; তারা ঐ প্রত্যেক ব্যক্তি থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দেয়, যে তাদের সাথে একমত পোষণ করে না।
(খণ্ড: ১)
ইতি কাদাতু ফিরাকিল মুসলিমীনা ওয়াল মুশরিকীন
(পৃষ্ঠা: ৫০)
وَلَا يسكن فِي بِلَاد مخالفهمالْفرْقَة الْخَامِسَة عشرَة المعبديةأَصْحَاب معبد وهم لَا يجوزون نِكَاح كل إمرأة تخَالف الدّينالْفرْقَة السَّادِسَة عشرَة الرشيديةيوجبون الْعشْر فِي المعشرات سَوَاء كَانَ السَّقْي من السَّمَاء أَو من الداليةالْفرْقَة السَّابِعَة عشرَة المكرميةأَصْحَاب مكرم وهم يَقُولُونَ إِن تَارِك الصَّلَاة كَافِر لَا أَنه
এবং তারা তাদের বিরোধীদের ভূখণ্ডে বসবাস করে না।পঞ্চদশ দল: মা’বাদিয়াতারা মা’বাদের অনুসারী এবং তারা দ্বীনের বিরুদ্ধাচরণকারী কোনো নারীকে বিবাহ করা বৈধ মনে করে না।ষোড়শ দল: রাশিদিয়াতারা ঊশরি সম্পদে দশমাংশ প্রদান করা ওয়াজিব মনে করে, চাই সেটির সেচ আকাশ থেকে হোক কিংবা জলযন্ত্রের সাহায্যে হোক।সপ্তদশ দল: মাকরামিয়াতারা মাকরামের অনুসারী এবং তারা বলে যে, সালাত পরিত্যাগকারী ব্যক্তি কাফের, এমনটি নয় যে সে
(খণ্ড: ১)
ইতি কাদাতু ফিরাকিল মুসলিমীনা ওয়াল মুশরিকীন
(পৃষ্ঠা: ৫১)
ترك الصَّلَاة بل لِأَنَّهُ جَاهِل بِاللَّهالْفرْقَة الثَّامِنَة عشرَة المعلومية والمجهوليةأما المعلومية فَيَقُولُونَ من لم يعرف الله تَعَالَى بِسَائِر أَسْمَائِهِ فَهُوَ كَافِر وَأما المجهولية فَيَقُولُونَ إِن معرفَة جَمِيع الْأَسْمَاء لَيست بواجبةالْفرْقَة التَّاسِعَة عشرَة الأباضيةأَتبَاع عبد الله بن أباض ظهر فِي زمن مَرْوَان بن مُحَمَّد آخر مُلُوك بني أُميَّة وَقتل عَاقِبَة الْأَمرالْعشْرُونَ الأصفريةأَتبَاع زِيَاد بن الْأَصْفَر يجوزون التقية فِي القَوْل دون الْعَمَلالْفرْقَة الْحَادِيَة وَالْعشْرُونَ الحفصيةهُوَ أَبُو جَعْفَر بن أبي الْمِقْدَام يَقُولُونَ إِن بَين الْإِيمَان والشرك خصْلَة أُخْرَى وَهِي معرفَة الله تَعَالَى
সালাত ত্যাগ করার কারণে নয়, বরং এজন্য যে সে আল্লাহ সম্পর্কে অজ্ঞ।অষ্টাদশ দল: আল-মালুমিয়্যাহ এবং আল-মাজহুলিয়্যাহমালুমিয়্যাহদের বক্তব্য হলো, যে ব্যক্তি মহান আল্লাহকে তাঁর সকল নামসমূহ দ্বারা চেনে না, সে কাফির। আর মাজহুলিয়্যাহরা বলে যে, সকল নাম জানা আবশ্যক নয়।উনবিংশ দল: আল-ইবাদিয়্যাহতারা আবদুল্লাহ ইবনে ইবাদের অনুসারী। তিনি বনু উমাইয়ার শেষ শাসক মারওয়ান ইবনে মুহাম্মাদের আমলে আবির্ভূত হন এবং শেষ পর্যন্ত তাকে হত্যা করা হয়।বিংশতম দল: আল-আসফারিয়্যাহতারা যিয়াদ বিন আল-আসফারের অনুসারী। তারা কথার ক্ষেত্রে তাকিয়া (কৌশলে আত্মগোপন) বৈধ মনে করে, কিন্তু কাজের ক্ষেত্রে নয়।একুশতম দল: আল-হাফসিয়্যাহতিনি হলেন আবু জাফর বিন আবি আল-মিকদাম। তারা বলে যে, ঈমান এবং শিরকের মাঝে অন্য একটি স্তর রয়েছে, আর তা হলো মহান আল্লাহর পরিচয় লাভ করা।
(খণ্ড: ১)
ইতি কাদাতু ফিরাকিল মুসলিমীনা ওয়াল মুশরিকীন
(পৃষ্ঠা: ৫২)
الْبَاب الثَّالِثالروافضإِنَّمَا سموا بالروافض لِأَن زيد بن عَليّ بن الْحُسَيْن بن عَليّ بن أبي طَالب رضى خرج على هِشَام بن عبد الْملك فطعن عسكره عَن أبي بكر فَمَنعهُمْ من ذَلِك فرفضوه وَلم يبْق مَعَه إِلَّا مِائَتَا فَارس فَقَالَ لَهُم أَي زيد بن عَليّ رفضتموني قَالُوا نعم فبقى عَلَيْهِم هَذَا الإسم وهم أَربع طوائف الزيدية الإمامية الكيسانية أما الزيدية هم المنسبون الى زيد بن عَليّ زين العابدين فَثَلَاث طوائفالأولى الجاروديةأَتبَاع أبي الْجَارُود وهم يطعنون فِي أبي بكر وَعمر رضىالثَّانِيَة السليمانيةهُوَ سُلَيْمَان بن جرير وهم يعظمون أَبَا بكر وَعمر رضى ويكفورن
তৃতীয় অধ্যায়রাফেজি সম্প্রদায়নিশ্চয়ই তাদের রাফেজি নামে অভিহিত করা হয়েছে কারণ যায়েদ ইবনে আলী ইবনুল হুসাইন ইবনে আলী ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হিশাম ইবনে আবদুল মালিকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলেন। তখন তাঁর সৈন্যবাহিনী আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) সম্পর্কে কটূক্তি করলে তিনি তাদের তা থেকে নিষেধ করেন। ফলে তারা তাঁকে বর্জন করে এবং তাঁর সাথে মাত্র দুইশ অশ্বারোহী অবশিষ্ট থাকে। তখন যায়েদ ইবনে আলী তাদের বললেন, "তোমরা কি আমাকে বর্জন করলে?" তারা বলল, "হ্যাঁ।" অতঃপর তাদের ওপর এই নাম রয়ে গেল। তারা চার দল: যায়েদিয়া, ইমামিয়া ও কায়সানিয়া। যায়েদিয়াদের সম্পর্কে বলা যায়, তারা যায়েদ ইবনে আলী জয়নুল আবেদিনের অনুসারী এবং তারা তিন উপদলে বিভক্ত।প্রথম উপদল হলো জারুদিয়া।তারা আবু জারুদের অনুসারী এবং তারা আবু বকর ও উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর নিন্দা করে।দ্বিতীয় উপদল হলো সুলাইমানিয়া।তিনি হলেন সুলাইমান ইবনে জারির। তারা আবু বকর ও উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে সম্মান করে এবং তারা কাফের সাব্যস্ত করে
(খণ্ড: ১)
ইতি কাদাতু ফিরাকিল মুসলিমীনা ওয়াল মুশরিকীন
(পৃষ্ঠা: ৫৩)
عُثْمَان رضوَأما الأمامية فهم فرقالأولى يَقُولُونَ إِن عبد الرَّحْمَن بن ملجم لم يقتل عليا بل الْمَقْتُول حَنى رَبِّي فِي صُورَة عَليّ وَصعد على الى السَّمَاء وسينزل وَسَيَجِيءُ أَبَا بكر وَعمر وينتقم مِنْهُمَا ويزعمون أَن الرَّعْد صَوت على رضى والبرق صَوته وهم إِذا سمعُوا صَوت الرَّعْد يَقُولُونَ عَلَيْك السَّلَام يَا أَمِير الْمُؤمنِينَالثَّالِثَة الباقريةوهم يَقُولُونَ إِن الْإِمَامَة لما بلغت الى مُحَمَّد بن عَليّ الباقر حتمت عَلَيْهِ وَهُوَ لم يمت وَلَا يَمُوت لكنه غَائِبالثَّانِيَة الناموسيةوهم يَقُولُونَ إِن جعفرا لم يمت لكنه غايب وَهُوَ الإِمَام
উসমান (রা.)আর ইমামিয়াদের প্রসঙ্গে বলা যায় যে, তারা বিভিন্ন উপদলে বিভক্ত।প্রথম উপদলটি বলে যে, আবদুর রহমান ইবনে মুলজাম আলীকে হত্যা করেনি; বরং যাকে হত্যা করা হয়েছে সে ছিল আলীর আকৃতিতে আমার প্রতিপালকের (সৃষ্ট) কোনো জিন। আলী আকাশে উঠে গেছেন এবং অচিরেই তিনি অবতরণ করবেন। তিনি আবু বকর ও উমরকে উপস্থিত করবেন এবং তাঁদের নিকট থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করবেন। তারা দাবি করে যে, বজ্রধ্বনি হলো আলী (রা.)-এর কণ্ঠস্বর এবং বিদ্যুৎ হলো তাঁর কণ্ঠস্বর। তারা যখন বজ্রের শব্দ শোনে, তখন বলে: ‘হে আমিরুল মুমিনিন, আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক।’তৃতীয় উপদলটি হলো বাকিরিয়্যাহ।তারা বলে যে, ইমামত যখন মুহাম্মদ ইবনে আলী আল-বাকিরের নিকট পৌঁছেছে, তখন তা তাঁর জন্য নির্ধারিত হয়ে গেছে। তিনি মৃত্যুবরণ করেননি এবং করবেনও না, বরং তিনি বর্তমানে অন্তর্ধান অবস্থায় আছেন।দ্বিতীয় উপদলটি হলো নামুসিয়্যাহ।তারা বলে যে, জাফর মৃত্যুবরণ করেননি বরং তিনি অন্তর্ধান অবস্থায় আছেন এবং তিনিই ইমাম।
(খণ্ড: ১)
ইতি কাদাতু ফিরাকিল মুসলিমীনা ওয়াল মুশরিকীন
(পৃষ্ঠা: ৫৪)
الرَّابِعَة الْعمادِيَّةوهم يَقُولُونَ إِن الإِمَام بعد جَعْفَر الصَّادِق وَلَده مُوسَىالْخَامِسَة الشمطيةوهم يَقُولُونَ إِن الإِمَام بعد جَعْفَر الصَّادِق وَلَده مُوسَىالسَّادِسَة الأسماعيليةوهم يَقُولُونَ إِن الإِمَام بعد جَعْفَر الصَّادِق إِسْمَاعِيل بن جَعْفَر وَلَكِن لما مَاتَ إِسْمَاعِيل فِي حَال حَيْوَة أَخِيه عَادَتْ الْإِمَامَة الى أَخِيهالسَّابِعَة المباركيةوهم يَقُولُونَ إِن إِسْمَاعِيل لما مَاتَ انْتَهَت الْإِمَامَة الى وَلَده مُحَمَّد بن إِسْمَاعِيل دون أَخِيه الثَّامِنَة الممطوريةوهم قوم يَقُولُونَ إِن مُوسَى بن جَعْفَر لم يمت بل هُوَ غَائِب وَإِنَّمَا سموا بِهَذَا الِاسْم لما أظهرُوا هَذِه الْمقَالة قَالَ لَهُم قوم وَالله مَا أَنْتُم إِلَّا كلاب ممطورة يَعْنِي أَنهم كالكلاب المبتلة من غَايَة ركاكة هَذِه الْمقَالةالتَّاسِعَة القطعيةوهم يقطعون بدعوة مُوسَى بن جَعْفَر
চতুর্থ: ইমাদিয়্যাহতারা বলে যে, জাফর আস-সাদিকের পর ইমাম হলেন তার পুত্র মুসা।পঞ্চম: শামতিয়্যাহতারা বলে যে, জাফর আস-সাদিকের পর ইমাম হলেন তার পুত্র মুসা।ষষ্ঠ: ইসমাইলিয়্যাহতারা বলে যে, জাফর আস-সাদিকের পর ইমাম হলেন ইসমাইল বিন জাফর, কিন্তু ইসমাইল যখন তার ভাইয়ের জীবদ্দশায় মারা যান তখন ইমামত তার ভাইয়ের দিকে প্রত্যাবর্তিত হয়।সপ্তম: মুবারাকিয়্যাহতারা বলে যে, ইসমাইল যখন মৃত্যুবরণ করেন তখন ইমামত তার ভাই ব্যতীত তার পুত্র মুহাম্মদ বিন ইসমাইলের নিকট গিয়ে সমাপ্ত হয়। অষ্টম: মামতুরিইয়্যাহতারা এমন এক দল যারা বলে যে, মুসা বিন জাফর মারা যাননি বরং তিনি অদৃশ্য রয়েছেন। তারা যখন এই মতবাদ প্রকাশ করে তখন তাদের এই নামকরণ করা হয়। একদল লোক তাদের বলেছিল, "আল্লাহর কসম, তোমরা তো বৃষ্টিতে ভেজা কুকুর ব্যতীত আর কিছুই নও।" অর্থাৎ এই মতবাদের চরম অসারতার কারণে তারা বৃষ্টিতে ভেজা কুকুরের ন্যায়।নবম: কাতইয়্যাহতারা মুসা বিন জাফরের দাওয়াতের ব্যাপারে সুনিশ্চিত।
(খণ্ড: ১)
ইতি কাদাতু ফিরাকিল মুসলিমীনা ওয়াল মুশরিকীন
(পৃষ্ঠা: ৫৫)
الْعَاشِرَةوهم الَّذين وقفُوا على عَليّ بن مُوسَى الرِّضَا لما مَاتَ وَلم ينقلوا الْإِمَامَة الى وَلَدهالْحَادِيَة عشرَة العسكريةوهم قوم يعترفون بإمامة الْحسن العسكريوَالثَّانيَِة عشرَة الجعفريةيَقُولُونَ إِن الْإِمَامَة انْتَقَلت من الْحسن العسكري الى أَخِيه جَعْفَرالثَّالِثَة عشرَة أَصْحَاب الِانْتِظَاروهم الَّذين يَقُولُونَ إِن الإِمَام بعد الْحسن العسكري وَلَده مُحَمَّد بن الْحسن العسكري وَهُوَ غَائِب وسيحضر وَهُوَ الْمَذْهَب الَّذِي عَلَيْهِ إمامية زَمَاننَا هَذَا فَإِنَّهُم يَقُولُونَ اللَّهُمَّ صلى على مُحَمَّد الْمُصْطَفى وعَلى
দশম দলতারা হলো ঐ সকল লোক যারা আলী বিন মুসা আর-রিজার মৃত্যুর পর থেমে গিয়েছিল এবং তারা ইমামতকে তার পুত্রের নিকট স্থানান্তরিত করেনি।একাদশ দল, আসকারিয়্যাহতারা এমন এক সম্প্রদায় যারা আল-হাসান আল-আসকারির ইমামতকে স্বীকার করে।দ্বাদশ দল, জাফরিয়্যাহতারা বলে যে, ইমামত আল-হাসান আল-আসকারি থেকে তার ভাই জাফরের নিকট স্থানান্তরিত হয়েছে।ত্রয়োদশ দল, আসহাবুল ইনতিজার (অপেক্ষমাণ গোষ্ঠী)তারা হলো ঐ সকল লোক যারা বলে যে, আল-হাসান আল-আসকারির পরবর্তী ইমাম হলেন তার পুত্র মুহাম্মদ বিন আল-হাসান আল-আসকারি। তিনি বর্তমানে অনুপস্থিত এবং অচিরেই উপস্থিত হবেন। এটিই সেই মাযহাব যার ওপর আমাদের বর্তমান সময়ের ইমামিয়্যাহগণ প্রতিষ্ঠিত, কেননা তারা বলে: হে আল্লাহ, আপনি মুহাম্মদ আল-মুস্তফা এবং... এর ওপর দরুদ বর্ষণ করুন।
(খণ্ড: ১)
ইতি কাদাতু ফিরাকিল মুসলিমীনা ওয়াল মুশরিকীন
(পৃষ্ঠা: ৫৬)
المرتضى وَفَاطِمَة الزهراء وَخَدِيجَة الْكُبْرَى وَالْحسن الزكي وَالْحُسَيْن الشَّهِيد بكربلا وزين العابدين وَمُحَمّد بن عَليّ الباقر وجعفر بن مُحَمَّد الصَّادِق ومُوسَى بن جَعْفَر الكاظم وَعلي بن مُوسَى الرِّضَا وَمُحَمّد بن عَليّ التقي وَعلي بن مُحَمَّد النقي وَالْحسن بن عَليّ وَمُحَمّد بن الْحسن العسكري الإِمَام الْقَائِم المنتظر والإمامية يَزْعمُونَ أَن المعصومين مِنْهُم أَرْبَعَة عشر وَأَن الْأَئِمَّة أثنا عشر وهم يكفرون الصَّحَابَة رضى وَيَقُولُونَ إِن الْخلق قد كفرُوا بعد النَّبِي صلى إِلَّا عليا وَفَاطِمَة وَالْحسن وَالْحُسَيْن وَالزُّبَيْر وَعمَّارًا وسلمان وَأَبا ذَر ومقدادا وبلالا وصهيبا وَهَذَا الَّذِي ذَكرْنَاهُ فِي الإمامية قَطْرَة من بَحر لِأَن بعض الروافض قد صنف كتابا وَذكر فِيهِ ثلثا وَسبعين فرقة من الإماميةوَأما الغلاة مِنْهُم فهم فرق كَثِيرَة
আল-মুরতাদা, ফাতিমা আয-যাহরা, খাদীজা আল-কুবরা, আল-হাসান আয-জাকী, কারবালায় শহীদ আল-হুসাইন, যায়নুল আবেদীন, মুহাম্মদ ইবনে আলী আল-বাকির, জাফর ইবনে মুহাম্মদ আস-সাদিক, মূসা ইবনে জাফর আল-কাযিম, আলী ইবনে মূসা আর-রিদা, মুহাম্মদ ইবনে আলী আত-তাকী, আলী ইবনে মুহাম্মদ আন-নাকী, আল-হাসান ইবনে আলী এবং মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আল-আসকারী—যিনি কায়েম ও প্রতীক্ষিত ইমাম। ইমামিয়্যাহরা দাবি করে যে তাদের মধ্য থেকে মাসুম বা নিষ্পাপ ব্যক্তি হলেন চৌদ্দজন এবং ইমাম হলেন বারোজন। তারা সাহাবীগণের (আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) প্রতি কুফরির অপবাদ দেয় এবং বলে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পর আলী, ফাতিমা, হাসান, হুসাইন, যুবাইর, আম্মার, সালমান, আবু যর, মিকদাদ, বিলাল এবং সুহাইব ব্যতীত সকল সৃষ্টি কাফের হয়ে গিয়েছে। ইমামিয়্যাহদের সম্পর্কে আমরা যা উল্লেখ করেছি তা সমুদ্রের এক বিন্দুমাত্র, কারণ জনৈক রাফেযী একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং তাতে ইমামিয়্যাহদের তিয়াত্তরটি উপদলের কথা উল্লেখ করেছেন।আর তাদের মধ্যকার চরমপন্থীরা অনেকগুলো উপদলে বিভক্ত।
(খণ্ড: ১)
ইতি কাদাতু ফিরাকিল মুসলিমীনা ওয়াল মুশরিকীন
(পৃষ্ঠা: ৫৭)
الْفرْقَة الأولى السبابيةأَتبَاع عبد الله بن سبا وَكَانَ يزْعم أَن عليا هُوَ الله تَعَالَى وَقد أحرق على رض مِنْهُم جمَاعَة وَقَالَ إِنِّي إِذا رَأَيْت أمرا مُنْكرا أججت نَارا ودعوت قبراالثَّانِيَة البنانيةأَصْحَاب بنان بن اسماعيل الْهِنْدِيّ ويزعمون أَن الله تَعَالَى حل فِي عَليّ رضى وَأَوْلَاده وَأَن أَعْضَاء الله تَعَالَى تعدم كلهَا مَا خلا وَجهه لقَوْله تَعَالَى {كل من عَلَيْهَا فان وَيبقى وَجه رَبك ذُو الْجلَال وَالْإِكْرَام}
প্রথম দল সাবায়িয়্যাহআবদুল্লাহ বিন সাবার অনুসারীগণ। সে দাবি করত যে আলী-ই মহান আল্লাহ। আলী (রা.) তাদের মধ্য থেকে এক দলকে পুড়িয়ে ফেলেছিলেন এবং বলেছিলেন: "আমি যখন কোনো গর্হিত বিষয় দেখি, তখন আগুন প্রজ্বলিত করি এবং কাম্বারকে ডাকি।"দ্বিতীয় দল বুনানিয়্যাহবুনান বিন ইসমাইল আল-হিন্দির অনুসারীগণ। তারা দাবি করে যে আল্লাহ তাআলা আলী (রা.) ও তাঁর সন্তানদের মধ্যে প্রবিষ্ট হয়েছেন এবং আল্লাহ তাআলার মুখমণ্ডল ব্যতীত তাঁর সকল অঙ্গ বিলুপ্ত হয়ে যাবে; কারণ মহান আল্লাহর বাণী: {ভূপৃষ্ঠে যা কিছু আছে সবই নশ্বর, এবং আপনার মহিমাময় ও মহানুভব রবের মুখমণ্ডলই অবশিষ্ট থাকবে।}
(খণ্ড: ১)
ইতি কাদাতু ফিরাকিল মুসলিমীনা ওয়াল মুশরিকীন
(পৃষ্ঠা: ৫৮)
الثَّالِثَة الحطابيةوهم يَزْعمُونَ أَن الله تَعَالَى حل فِي عَليّ ثمَّ فِي الْحسن ثمَّ فِي الْحُسَيْن ثمَّ فِي زين العابدين ثمَّ فِي الباقر فِي الصَّادِق وَتوجه هَؤُلَاءِ الى مَكَّة فِي زمن جَعْفَر الصَّادِق وَكَانُوا يعبدونه فَلَمَّا سمع الصَّادِق بذلك فأبلغ ذَلِك أَبَا الْخطاب وَهُوَ رئيسهم فَزعم أَن الله تَعَالَى قد انْفَصل عَن جَعْفَر وَحل فِيهِ وَأَنه هُوَ أكمل من الله تَعَالَى ثمَّ إِنَّه قتلالرَّابِعَة المغيريةأَتبَاع مغبرة بن سعيد الْعجلِيّ ادّعى الإلهية ثمَّ أحرقوا بالنفط وَالنَّارالْخَامِسَة المنصوريةأَتبَاع أبي مَنْصُور الْعجلِيّ وَكَانُوا على مقَالَة المغيرية وَزَادُوا عَلَيْهِم بِأَن أباحوا الزِّنَا واللواطه ثمَّ إِنَّهُم قتلوا
তৃতীয়: খাত্তাবিয়াতারা দাবি করে যে, আল্লাহ তাআলা আলীর মধ্যে অনুপ্রবিষ্ট হয়েছেন, অতঃপর হাসানের মধ্যে, অতঃপর হুসাইনের মধ্যে, অতঃপর যয়নুল আবেদীনের মধ্যে, অতঃপর বাকিরের মধ্যে এবং সাদিকের মধ্যে। জাফর আস-সাদিকের যুগে তারা মক্কার অভিমুখে রওনা হয়েছিল এবং তারা তাকে পূজা করত। যখন আস-সাদিক এই সংবাদ শুনতে পেলেন, তখন তিনি তাদের নেতা আবুল খাত্তাবকে তা জানালেন। তখন সে দাবি করল যে, আল্লাহ তাআলা জাফর থেকে পৃথক হয়ে গেছেন এবং তার (আবুল খাত্তাবের) মধ্যে অনুপ্রবিষ্ট হয়েছেন এবং সে আল্লাহ তাআলা অপেক্ষা অধিক পূর্ণ। অতঃপর তাকে হত্যা করা হয়।চতুর্থ: মুগিরিয়াএরা মুগীরা ইবনে সাঈদ আল-ইজলীর অনুসারী। সে উপাস্য হওয়ার দাবি করেছিল। অতঃপর তাদের পেট্রোল ও আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারা হয়।পঞ্চম: মানসুরিয়াএরা আবু মানসুর আল-ইজলীর অনুসারী। তারা মুগিরিয়াদের মতাদর্শের ওপরই প্রতিষ্ঠিত ছিল এবং তারা অতিরিক্ত হিসেবে জিনা ও সমকামিতাকে বৈধ করে নিয়েছিল। অতঃপর তাদের হত্যা করা হয়।
(খণ্ড: ১)
ইতি কাদাতু ফিরাকিল মুসলিমীনা ওয়াল মুশরিকীন
(পৃষ্ঠা: ৫৯)
السَّادِسَة الجناحيةأَتبَاع عبد الله بن الجناحين كَانُوا يَزْعمُونَ أَن الْمعرفَة إِذا حصلت لم يبْق شَيْء من الطَّاعَات وَاجِبَةالسَّابِعَة المفوضيةوهم قوم يَزْعمُونَ أَن الْبَارِي تَعَالَى خلق روح عَليّ وأرواح أَوْلَاده وفوض الْعَالم إِلَيْهِم فخلقوا هم الْأَرْضين وَالسَّمَوَات قَالُوا وَمن هَهُنَا قُلْنَا فِي الرُّكُوع سُبْحَانَ رَبِّي الْعَظِيم وَفِي السُّجُود سُبْحَانَ رَبِّي الْأَعْلَى لِأَن الْإِلَه هُوَ على وَأَوْلَاده وَأما الْإِلَه الْأَعْظَم فَهُوَ الَّذِي فوض إِلَيْهِم الْعَالمالثَّامِنَة الغرابيةقَالُوا عَليّ بِمُحَمد أشبه من الْغُرَاب بالغراب وَقَالُوا إِن الله تَعَالَى أرسل جِبْرِيل الى عَليّ فغلط جِبْرِيل وَأدّى الرسَالَة الى مُحَمَّد
ষষ্ঠ: জানাহিয়্যাহআবদুল্লাহ ইবনুল জানাহাইনের অনুসারীগণ; তারা দাবি করত যে, যখন মা'রিফাত বা পরিচয় অর্জিত হয়ে যায়, তখন ইবাদত-আনুগত্যের আর কোনো কিছুই আবশ্যক থাকে না।সপ্তম: মুফাওওয়িদ্বাহতারা এমন এক সম্প্রদায় যারা দাবি করে যে, স্রষ্টা তা'আলা আলী ও তাঁর সন্তানদের রূহসমূহ সৃষ্টি করেছেন এবং বিশ্বজগতের পরিচালনার দায়িত্ব তাঁদের ওপর অর্পণ করেছেন; ফলে তাঁরাই আসমানসমূহ ও যমীনসমূহ সৃষ্টি করেছেন। তারা বলত: এই কারণেই আমরা রুকুতে 'আমার মহান প্রতিপালকের পবিত্রতা ঘোষণা করছি' এবং সিজদাহয় 'আমার সর্বোচ্চ প্রতিপালকের পবিত্রতা ঘোষণা করছি' পাঠ করি; কেননা আলী ও তাঁর সন্তানেরাই হলেন উপাস্য। আর মহান উপাস্য হলেন তিনি, যিনি তাঁদের নিকট বিশ্বজগতের পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করেছেন।অষ্টম: গুরাবিয়্যাহতারা বলত: আলী মুহাম্মাদ-এর সাথে একটি কাক অন্য একটি কাকের যতটুকু সদৃশ হয় তার চেয়েও অধিক সদৃশ ছিলেন। তারা আরও বলত যে, আল্লাহ তা'আলা জিবরাঈলকে আলীর নিকট পাঠিয়েছিলেন, কিন্তু জিবরাঈল ভুলবশত মুহাম্মাদ-এর নিকট রিসালাত পৌঁছে দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
ইতি কাদাতু ফিরাকিল মুসলিমীনা ওয়াল মুশরিকীন
(পৃষ্ঠা: ৬০)
لتأكد المشابهة بَين عَليّ وَمُحَمّد عليه السلامالتَّاسِعَةوهم يَزْعمُونَ أَن جِبْرِيل عليه السلام أزاغ الرسَالَة عَن عَليّ الى مُحَمَّد عمدا وقصدا لَا غَلطا وسهوا وَهَؤُلَاء يسيئون القَوْل فِي جِبْرِيل عليه السلامالْعَاشِرَة وهم يَزْعمُونَ أَن جِبْرِيل ع م أزاغ الرسَالَة الى عَليّ لَكِن مُحَمَّدًا كَانَ أكبر سنا من عَليّ فاستعان عَليّ بِهِ ثمَّ إِن مُحَمَّدًا اسْتَقل بِالْأَمر ودعى الْخلق الى نَفسه وَهَؤُلَاء يسيئون القَوْل فِي النَّبِي ع مالْحَادِي الْحَادِيَة عشرَة الكامليةأَتبَاع أبي كَامِل وهم يَزْعمُونَ أَن الصَّحَابَة كلهم كفرُوا لما فَوضُوا الْخلَافَة الى أبي بكر وَكفر عَليّ أَيْضا حَيْثُ لم يحارب أَبَا بكر
আলী ও মুহাম্মদ (আলাইহিস সালাম)-এর মধ্যে সাদৃশ্য নিশ্চিত করার জন্য।নবম:তারা দাবি করে যে, জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) ইচ্ছাকৃতভাবে ও সজ্ঞানে রিসালাতকে আলীর পরিবর্তে মুহাম্মদের দিকে সরিয়ে দিয়েছেন, কোনো ভুল বা বিস্মৃতিবশত নয়। এরা জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ কথা বলে।দশম: তারা দাবি করে যে, জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) আলীর প্রতিই রিসালাত নিয়ে এসেছিলেন, কিন্তু মুহাম্মদ আলীর চেয়ে বয়সে বড় ছিলেন বলে আলী তাঁর সাহায্য গ্রহণ করেন। অতঃপর মুহাম্মদ বিষয়টি এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করেন এবং সৃষ্টিজগতকে নিজের দিকে আহ্বান করেন। এরা নবী (আলাইহিস সালাম) সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ কথা বলে।একাদশ: আল-কামিলিয়্যাহ।আবু কামিলের অনুসারীগণ; তারা দাবি করে যে, সমস্ত সাহাবী কুফরি করেছেন যখন তারা আবু বকরের নিকট খিলাফত অর্পণ করেছিলেন। আলীও কুফরি করেছেন যেহেতু তিনি আবু বকরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেননি।
(খণ্ড: ১)
ইতি কাদাতু ফিরাকিল মুসলিমীনা ওয়াল মুশরিকীন
(পৃষ্ঠা: ৬১)
الثَّانِيَة عشرَة النصرية وهم يَزْعمُونَ أَن الله تَعَالَى كَانَ يحل فِي عَليّ فِي بعض الْأَوْقَات وَفِي الْيَوْم الَّذِي قلع عَليّ بَاب خَيْبَر كَانَ الله تَعَالَى قد حل فِيهِالثَّالِثَة عشرَة الأسجافية وهم على هَذِه الْمقَالة وَهَذِه الطَّائِفَة بَاقِيَة فِي حلب وَفِي نواحي الشَّام الى يَوْمنَا هَذَاالرَّابِعَة عشرَة الأزلية وهم يَزْعمُونَ أَن عليا قديم أزلى وَكَذَلِكَ عمر بن الْخطاب أَيْضا قديم أزلي إِلَّا أَن عليا كَانَ خيرا مَحْضا وَعمر كَانَ شرا مَحْضا وَكَانَ يُؤْذِي عليا دَائِما وَكَأَنَّهُم اقتبسوا هَذِه الْمقَالة من الْمَجُوسالْخَامِسَة عشرَة الكيالية أَتبَاع أَحْمد الكيال الملحد وَقد كَانَ ضَالًّا مضلا وَقد صنف كتبا فِي الضَّلَالَة والترهات
দ্বাদশ দল হলো নুসাইরিয়া। তারা দাবি করে যে, আল্লাহ তাআলা কোনো কোনো সময়ে আলীর মধ্যে অবতীর্ণ হতেন এবং যে দিন আলী খায়বরের ফটক উপড়ে ফেলেছিলেন, সেদিন আল্লাহ তাআলা তাঁর মধ্যে অবতীর্ণ হয়েছিলেন।ত্রয়োদশ দল হলো আসজাফিয়া। তারা এই একই মত পোষণ করে এবং এই গোষ্ঠীটি আজও আলেপ্পো ও সিরিয়ার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোতে অবশিষ্ট রয়েছে।চতুর্দশ দল হলো আযালিয়্যা। তারা দাবি করে যে আলী অনাদি ও চিরন্তন, এবং অনুরূপভাবে উমর ইবনুল খাত্তাবও অনাদি ও চিরন্তন। তবে আলী ছিলেন নিছক কল্যাণস্বরূপ আর উমর ছিলেন নিছক অকল্যাণস্বরূপ; তিনি সর্বদা আলীকে কষ্ট দিতেন। মনে হয় যেন তারা এই মতটি অগ্নিপূজকদের থেকে গ্রহণ করেছে।পঞ্চদশ দল হলো কায়্যালিয়া। তারা নাস্তিক আহমাদ আল-কায়্যালের অনুসারী। সে নিজে পথভ্রষ্ট ছিল এবং অন্যদেরও পথভ্রষ্টকারী ছিল। সে পথভ্রষ্টতা ও অসার বিষয়ে অনেক কিতাব রচনা করেছে।
(খণ্ড: ১)
ইতি কাদাতু ফিরাকিল মুসলিমীনা ওয়াল মুশরিকীন
(পৃষ্ঠা: ৬২)
الكيسانيةوهم الَّذين يَقُولُونَ إِن الْإِمَامَة كَانَت حَقًا لمُحَمد بن الْحَنَفِيَّة وَهَؤُلَاء الطَّائِفَة يفترقون فرقاالأولى الكربية أَتبَاع أبي كرب الضَّرِير وهم يَزْعمُونَ أَن الإِمَام من بعد عَليّ هُوَ مُحَمَّد بن الْحَنَفِيَّة وَهُوَ حَيّ لم يمت ومأواه رضوى وَعَن يَمِينه أَسد وَعَن يسَاره نمر وَكَانَ السَّيِّد الْحِمْيَرِي الشَّاعِر وَكثر الشَّاعِر عَليّ هَذَا الرَّأْيالثَّانِيَة المختارية أَتبَاع الْمُخْتَار بن أبي عبيد الثَّقَفِيّ وهم يَقُولُونَ إِن الإِمَام بعد الْحُسَيْن هُوَ مُحَمَّد بن الْحَنَفِيَّة ثمَّ زعم الْمُخْتَار أَنه نَائِب مُحَمَّد ودعى الْخلق الى الضَّلَالَة وَأَرَادَ مُحَمَّد أَن يقْصد نَحوه ويمنعه عَن ذَلِك فَلَمَّا علم الْمُخْتَار إِنَّه يُرِيد قَصده صعد الْمِنْبَر وَقَالَ يَا قوم قد ذكر أَن إمامكم قد قصد نحوكم وَمن إمارات الإِمَام أَن لَا يُؤثر فِيهِ السَّيْف فَإِذا أَتَى فجربوا هَذَا فَلَمَّا بلغ ذَلِك مُحَمَّدًا وَأَنه قد قصد بذلك قَتله هرب
কায়সানিয়্যাহতারা হলেন সেই সকল লোক যারা বলে যে, ইমামত ছিল মুহাম্মাদ ইবনুল হানাফিয়্যাহর ন্যায্য অধিকার। আর এই দলটি কয়েকটি উপদলে বিভক্ত।প্রথমটি হলো কারবিয়্যাহ, যারা আবু কারিব আদ-দরীরের অনুসারী। তারা দাবি করে যে, আলীর পরে ইমাম হলেন মুহাম্মাদ ইবনুল হানাফিয়্যাহ এবং তিনি জীবিত, মৃত্যুবরণ করেননি; তাঁর আবাসস্থল হলো রাদওয়া পর্বত। তাঁর ডানদিকে একটি সিংহ এবং বামদিকে একটি চিতা থাকে। কবি সাইয়্যেদ আল-হিময়ারি এবং কবি কুসাইয়্যির এই মতবাদের ওপর ছিলেন।দ্বিতীয়টি হলো মুখতারিয়্যাহ, যারা মুখতার ইবনে আবি উবাইদ আস-সাকাফির অনুসারী। তারা বলে যে, হুসাইনের পরে ইমাম হলেন মুহাম্মাদ ইবনুল হানাফিয়্যাহ। অতঃপর মুখতার দাবি করেন যে তিনি মুহাম্মাদের প্রতিনিধি এবং তিনি মানুষকে ভ্রষ্টতার দিকে আহ্বান করেন। মুহাম্মাদ (ইবনুল হানাফিয়্যাহ) তাঁর নিকট যাওয়ার এবং তাঁকে তা থেকে বিরত রাখার ইচ্ছা পোষণ করলেন। যখন মুখতার জানতে পারলেন যে তিনি তাঁর নিকট আসার ইচ্ছা করেছেন, তখন তিনি মিম্বরে আরোহণ করলেন এবং বললেন: হে কওম! এটি উল্লেখ করা হয়েছে যে তোমাদের ইমাম তোমাদের দিকে আসার ইচ্ছা করেছেন। আর ইমামের অন্যতম নিদর্শন হলো তাঁর ওপর তলোয়ার কোনো প্রভাব ফেলবে না; সুতরাং তিনি যখন আসবেন, তখন তোমরা এটি পরীক্ষা করে দেখো। যখন এই সংবাদ মুহাম্মাদের কাছে পৌঁছাল এবং তিনি জানতে পারলেন যে এর মাধ্যমে তাঁকে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়েছে, তখন তিনি পলায়ন করলেন।
(খণ্ড: ১)
ইতি কাদাতু ফিরাকিল মুসলিমীনা ওয়াল মুশরিকীন
(পৃষ্ঠা: ৬৩)
الثَّالِثَة الهاشمية وهم يَزْعمُونَ أَن الإِمَام بعد مُحَمَّد هُوَ أَبُو هَاشم عبد الله بن مُحَمَّد وهم يَقُولُونَ انه قد مَاتَ وَأوصى بالخلافة الى مُحَمَّد بن عَليّ بن عبد الله بن الْعَبَّاس وَلما بلغ هَؤُلَاءِ الْقَوْم الى خرسان ودعوا الْخلق الى هَذِه الْمقَالة كَانَ أَبُو مُسلم صَاحب الدعْوَة حَاضرا فَقبل تِلْكَ الدعْوَة وَلَا جرم أَنه لما استفحل أمره دَعَا الْخلق الى بني الْعَبَّاس ونتزع الْخلَافَة من بني أُميَّة وَجعلهَا فيهمالرَّابِعَة الروندية أَتبَاع أبي هديدة الروندي وهم يَزْعمُونَ أَن الأمامة كَانَت أَولا حَقًا للْعَبَّاس وَفرق الكيسانية كَثِيرَة وَفِي هَذَا الْقدر الَّذِي ذَكرْنَاهُ كِفَايَة اعْلَم أَن الْيَهُود أَكْثَرهم مشبهة وَكَانَ بَدو ظُهُور التَّشْبِيه فِي الْإِسْلَام من الروافض مثل بنان بن سمْعَان الَّذِي كَانَ يثبت لله تَعَالَى
তৃতীয় হলো হাশেমিয়া সম্প্রদায়। তারা দাবি করে যে, মুহাম্মাদ (ইবনুল হানাফিয়্যাহ)-এর পর ইমাম হলেন আবু হাশেম আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ। তারা বলে যে, তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন এবং মুহাম্মাদ বিন আলী বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-আব্বাসের অনুকূলে খিলাফতের অসিয়ত করে গেছেন। যখন এই দলটি খোরাসানে পৌঁছাল এবং মানুষকে এই মতবাদের দিকে আহ্বান করল, তখন দাওয়াতের কর্ণধার আবু মুসলিম সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি সেই দাওয়াত গ্রহণ করলেন। নিশ্চিতভাবেই যখন তার ক্ষমতা সুসংহত হলো, তখন তিনি মানুষকে বনু আব্বাসের প্রতি আহ্বান জানালেন এবং বনু উমাইয়াদের থেকে খিলাফত ছিনিয়ে নিয়ে তা তাদের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত করলেন।চতুর্থ হলো রাওয়ান্দিয়া সম্প্রদায়, যারা আবু হাদিদাহ আর-রাওয়ান্দির অনুসারী। তারা দাবি করে যে, ইমামত প্রাথমিকভাবে আব্বাসের প্রাপ্য অধিকার ছিল। কায়সানিয়াদের উপদল অনেক এবং আমরা যা উল্লেখ করেছি তা-ই যথেষ্ট। জেনে রাখুন যে, ইহুদিদের অধিকাংশই সাদৃশ্যবাদী। ইসলামে সাদৃশ্যবাদের আবির্ভাবের সূচনা হয়েছিল রাফেজিদের মাধ্যমে, যেমন বানান বিন সামআন, যে আল্লাহ তাআলার জন্য সাব্যস্ত করত...
(খণ্ড: ১)
ইতি কাদাতু ফিরাকিল মুসলিমীনা ওয়াল মুশরিকীন
(পৃষ্ঠা: ৬৪)
الْأَعْضَاء والجوارح وَهِشَام بن الحكم وَهِشَام بن سَالم الجواليقي وَيُونُس بن عبد الرَّحْمَن القمي وَأَبُو جَعْفَر الْأَحول الَّذِي كَانَ يدعى شَيْطَان الطاق وَهَؤُلَاء رُؤَسَاء عُلَمَاء الروافض ثمَّ تهافت فِي ذَلِك المحدثون مِمَّن لم يكن لَهُم نصيب من علم المعقولات وَنحن نذْكر فرقهم على التَّرْتِيبالْحكمِيَّة وهم أَصْحَاب هِشَام بن الحكم وَكَانَ يزْعم أَن الله تَعَالَى جسم وَغير مذْهبه فِي سنة وَاحِدَة عدَّة تغيرات فَزعم تَارَة أَن الله تَعَالَى كالسبيكة الصافية وَزعم مرّة أُخْرَى أَنه كالشمع الَّذِي من أَي جَانب نظرت اليه كَانَ ذَلِك الْجَانِب وَجهه وَاسْتقر رَأْيه عَاقِبَة الْأَمر على أَنه سَبْعَة أَشْيَاء لِأَن هَذَا الْمِقْدَار أقرب الى الِاعْتِدَال من سَائِر الْمَقَادِيرالثَّانِيَة الجواليقية أَتبَاع هِشَام بن سَالم الجواليقي الرافضي وهم يَزْعمُونَ أَنه تَعَالَى
অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও শরীরের অবয়ব; এবং হিশাম বিন আল-হাকাম, হিশাম বিন সালিম আল-জাওয়ালিকি, ইউনুস বিন আবদুর রহমান আল-কুম্মি এবং আবু জাফর আল-আহওয়াল—যাকে শয়তানুত তাক বলে ডাকা হতো। এরা রাফেজি আলেমদের প্রধান। এরপর বুদ্ধিবৃত্তিক বিদ্যায় যাদের কোনো অংশ ছিল না, এমন মুহাদ্দিসগণও এই বিষয়ে বিভ্রান্তিতে নিপতিত হন। আমরা ক্রমানুসারে তাদের উপদলগুলো উল্লেখ করছি।আল-হিকমিয়্যাহ: তারা হিশাম বিন আল-হাকামের অনুসারী। সে দাবি করত যে আল্লাহ তায়ালা একটি দেহ। সে এক বছরের মধ্যেই নিজের মতবাদে বেশ কয়েকবার পরিবর্তন এনেছিল। কখনো সে দাবি করত যে আল্লাহ তায়ালা একটি স্বচ্ছ ধাতব পিণ্ডের মতো। আবার কখনো দাবি করত যে তিনি মোমের মতো, যার যেকোনো দিক থেকে তাকালে সেই দিকটিই তাঁর মুখ হিসেবে গণ্য হয়। পরিশেষে তার সিদ্ধান্ত এই মতের ওপর স্থির হয় যে, তিনি সাতটি জিনিসের সমান, কারণ অন্যান্য পরিমাপের তুলনায় এই পরিমাণটিই অধিকতর ভারসাম্যপূর্ণ হওয়ার নিকটবর্তী।দ্বিতীয়ত: জাওয়ালিকিয়্যাহ। এরা রাফেজি হিশাম বিন সালিম আল-জাওয়ালিকির অনুসারী। তারা দাবি করে যে মহান আল্লাহ...
(খণ্ড: ১)
ইতি কাদাতু ফিরাকিল মুসলিমীনা ওয়াল মুশরিকীন
(পৃষ্ঠা: ৬৫)
لَيْسَ بجسم لَكِن صورته صُورَة الْآدَمِيّ وَهُوَ مركب من الْيَد وَالرجل وَالْعين لِأَن أعضاءه لَيست من لحم وَلَا دمالثَّالَّةِ اليونسية أَتبَاع يُونُس بن عبد الرَّحْمَن القمي وهم يَزْعمُونَ أَن النّصْف الْأَعْلَى من على من الله مجوف وَأَن النّصْف الْأَدْنَى مِنْهُ مصمتالرَّابِعَة الشيطانية أَتبَاع شَيْطَان الطاق وهم يَزْعمُونَ أَن الْبَارِي تَعَالَى مُسْتَقر على الْعَرْش وَالْمَلَائِكَة يحملون الْعَرْش وهم وَإِن كَانُوا ضعفاء بِالنِّسْبَةِ الى الله تَعَالَى لَكِن الضَّعِيف قد يحمل الْقوي كَرجل الديك الَّتِي تحمل مَعَ دقتها جثة الديكالْخَامِسَة الحوارية أَصْحَاب دَاوُد الْحوَاري وَهُوَ يثبت الْأَعْضَاء وَالْحَرَكَة
তিনি শরীর নন, তবে তাঁর আকৃতি মানুষের আকৃতির মতো এবং তিনি হাত, পা ও চোখের সমন্বয়ে গঠিত; কেননা তাঁর অঙ্গপ্রত্যঙ্গ মাংস বা রক্ত দিয়ে তৈরি নয়।তৃতীয়টি হলো ইউনুসিয়া, যারা ইউনুস ইবনে আবদুর রহমান আল-কুম্মীর অনুসারী। তারা দাবি করে যে, আল্লাহর ঊর্ধ্বাংশ ফাঁপা এবং তাঁর নিম্নাংশ নিরেট।চতুর্থটি হলো শায়তানিয়া, যারা শায়তান আত-তাকের অনুসারী। তারা দাবি করে যে, মহান আল্লাহ আরশের ওপর স্থির হয়ে আছেন এবং ফেরেশতারা আরশ বহন করেন। ফেরেশতারা যদিও মহান আল্লাহর তুলনায় দুর্বল, তবুও দুর্বল অনেক সময় সবলকে বহন করতে পারে; যেমন মোরগের পা, যা চিকন হওয়া সত্ত্বেও মোরগের দেহ বহন করে।পঞ্চমটি হলো হাওয়ারিয়া, যারা দাউদ আল-হাওয়ারীর অনুসারী। তিনি আল্লাহর জন্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও নড়াচড়া সাব্যস্ত করেন।
(খণ্ড: ১)
ইতি কাদাতু ফিরাকিল মুসলিমীনা ওয়াল মুশরিকীন
(পৃষ্ঠা: ৬৬)
والسكون وَالسَّعْي لله تَعَالَى وَكَانَ يَقُول سلوني عَن شرح سَائِر أَعْضَائِهِ تَعَالَى مَا عدا شرح فرجه ولحيتهفصلاعْلَم أَن جمَاعَة من الْمُعْتَزلَة ينسبون التَّشْبِيه الى الإِمَام أَحْمد بن حَنْبَل رحمه الله واسحق بن رَاهَوَيْه وَيحيى بن معِين وَهَذَا خطأ فَإِنَّهُم منزهون فِي أعتقادهم عَن التَّشْبِيه والتعطيل لكِنهمْ كَانُوا لَا يَتَكَلَّمُونَ فِي المتشابهات بل كَانُوا يَقُولُونَ آمنا وصدقنا مَعَ أَنهم كَانُوا يجزمون بِأَن الله تَعَالَى لَا شَبيه لَهُ وَلَيْسَ كمثله شَيْء وَمَعْلُوم أَن هَذَا الِاعْتِقَاد بعيد جدا عَن التَّشْبِيه
এবং মহান আল্লাহর জন্য স্থিরতা ও সচলতা। আর তিনি বলতেন, তাঁর (আল্লাহর) লজ্জাস্থান ও দাড়ি ব্যতিরেকে তাঁর অন্যান্য সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের বর্ণনা সম্পর্কে আমাকে জিজ্ঞাসা করো।পরিচ্ছেদজেনে রেখো যে, মুতাজিলাদের একটি দল ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন), ইসহাক বিন রাহওয়াইহ এবং ইয়াহইয়া বিন মাঈনের দিকে সাদৃশ্যারোপের সম্বন্ধ জুড়ে দেয়। আর এটি ভুল; কেননা তাঁরা তাঁদের বিশ্বাসে সাদৃশ্যারোপ এবং গুণাবলি অস্বীকার করা থেকে পবিত্র ছিলেন। তবে তাঁরা অস্পষ্ট বিষয়াদি নিয়ে কোনো কথা বলতেন না, বরং তাঁরা বলতেন, ‘আমরা ঈমান আনলাম এবং সত্য বলে গ্রহণ করলাম’। এর পাশাপাশি তাঁরা এই বিষয়ে দৃঢ় নিশ্চিত ছিলেন যে, মহান আল্লাহর কোনো সদৃশ নেই এবং তাঁর মতো কিছুই নেই। আর এটি সুপরিচিত যে, এই বিশ্বাস সাদৃশ্যারোপ থেকে অনেক দূরে।