(খণ্ড: ১) কিতাবুল আসনাম (পৃষ্ঠা: -)
كتاب الأصنام   (ابن الكلبي)

القسم: العقيدة


الكتاب: كتاب الأصنام

المؤلف: أبو المنذر هشام بن محمد أبي النضر ابن السائب ابن بشر الكلبي (ت 204هـ)

المحقق: أحمد زكي باشا

الناشر: دار الكتب المصرية - القاهرة

الطبعة: الرابعة، 2000م

عدد الصفحات: 64

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

কিতাবুল আসনাম   (ইবনে আল-কালবি)

বিভাগ: আকিদাহ


বই: কিতাবুল আসনাম (প্রতিমা সম্পর্কিত গ্রন্থ)

লেখক: আবু আল-মুনজির হিশাম বিন মুহাম্মদ আবি আন-নদর ইবনে আস-সাইব ইবনে বিশর আল-কালবি (মৃত্যু ২০৪ হিজরি)

মুহাক্কিক (সম্পাদক): আহমাদ জাকি পাশা

প্রকাশক: দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ - কায়রো

সংস্করণ: চতুর্থ, ২০০০ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৪

[বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত সংস্করণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) কিতাবুল আসনাম (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم

أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو الْحُسَيْنِ الْمُبَارَكُ بْنُ عَبْدِ الْجَبَّار بن أَحْمد الصَّيْرَفِي قرى عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ قَالَ أَخْبَرَنَا أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْمُسْلِمَةِ فِي سَنَةِ 463 قَالَ أَخْبَرَنَا أَبُو عُبَيْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ عمرَان بن مُوسَى الْمَرْزُبَانِيُّ إِجَازَةً قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْجَوْهَرِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ عُلَيْلٍ الْعَنَزِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ الصَّبَّاحِ بْنِ الْفُرَاتِ الْكَاتِبُ قَالَ قَرَأْتُ عَلَى هِشَام بن محمدٍ الْكَلْبِيّ فِي سنة 201 قَالَ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ আবুল হুসাইন আল-মুবারক ইবনে আব্দুল জাব্বার ইবনে আহমদ আস-সাইরাফি, তাঁর নিকট (কিতাবটি) পাঠ করা হয়েছে এবং আমি তা শুনছিলাম; তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনুল মুসলিমাহ ৪৬৩ হিজরি সালে; তিনি বলেন, আমাদের ইজাজতসূত্রে সংবাদ দিয়েছেন আবু উবাইদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইমরান ইবনে মুসা আল-মারজুবানি; তিনি বলেন, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-জাওহারি; তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আলি আল-হাসান ইবনে উলাইল আল-আনাজি; তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল হাসান আলি ইবনুস সাব্বাহ ইবনুল ফুরাত আল-কাতিব; তিনি বলেন, আমি হিশাম ইবনে মুহাম্মদ আল-কালবি-র নিকট ২০১ হিজরি সালে পাঠ করেছি; তিনি বলেন—
(খণ্ড: ১) কিতাবুল আসনাম (পৃষ্ঠা: ৬)
حَدثنَا أَبِي وَغَيْرُهُ وَقَدْ أَثْبَتَ حَدِيثَهُمْ جَمِيعًا أَنَّ إِسْمَاعِيلَ بْنَ إِبْرَاهِيمَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِمَا لَمَّا سكن مَكَّة وَولد لَهُ بهَا أَوْلَاد كثير حَتَّى ملأوا مَكَّةَ وَنَفَوْا مَنْ كَانَ بِهَا مِنَ الْعَمَالِيقِ ضَاقَتْ عَلَيْهِمْ مَكَّةُ وَوَقَعَتْ بَيْنَهُمُ الْحُرُوبُ وَالْعَدَاوَاتُ واخرج بَعضهم بَعْضًا فتفسحوا فِي الْبِلَاد والتماس الْمَعَاشِ

وَكَانَ الَّذِي سَلَخَ بِهِمْ إِلَى عِبَادَةِ الْأَوْثَان وَالْحِجَارَة أَنه كَانَ لَا يظعن من مَكَّة ظَاعِنٌ إِلا احْتَمَلَ مَعَهُ حَجَرًا مِنْ حِجَارَةِ الْحَرَمِ تَعْظِيمًا لِلْحَرَمِ وَصَبَابَةً بِمَكَّةَ

فَحَيْثُمَا حَلُّوا وضعوه وطافوا بِهِ كطوافهم بالكعة تيمنا مِنْهُم بهَا وصبابة بِالْحرم وحبا بهَا وَهُمْ بَعْدُ يُعَظِّمُونَ الْكَعْبَةَ وَمَكَّةَ وَيَحُجُّونَ وَيَعْتَمِرُونَ عَلَى إِرْثِ إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ عليهما السلام ثُمَّ سَلَخَ ذَلِكَ بِهِمْ إِلَى أَنْ عَبَدُوا مَا اسْتَحَبُّوا وَنَسُوا مَا كَانُوا عَلَيْهِ وَاسْتَبْدَلُوا بِدِينِ إِبْرَاهِيم وَإِسْمَاعِيل غَيره قعبدوا الأَوْثَانَ وَصَارُوا إِلَى مَا كَانَتْ عَلَيْهِ الأُمَمُ مِنْ قَبْلِهِمْ وَانْتَجَثُوا مَا كَانَ يَعْبُدُ قَوْمُ نوحٍ عليه السلام مِنْهَا عَلَى إِرْثِ مَا بَقِي فيبم مِنْ ذِكْرِهَا وَفِيهِمْ عَلَى ذَلِكَ بَقَايَا مِنْ عَهْدِ إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ يَتَنَسَّكُونَ بِهَا مِنْ تَعْظِيمِ الْبَيْتِ وَالطَّوَافِ بِهِ وَالْحَجِّ وَالْعُمْرَةِ وَالْوُقُوفِ عَلَى عَرَفَةَ وَمُزْدَلِفَةَ وَإِهْدَاءِ الْبُدْنِ وَالإِهْلالِ بِالْحَجِّ وَالْعُمْرَةِ مَعَ إدخالهم فِيهِ مَا لَيْسَ مِنْهُ
আমার পিতা এবং অন্যান্যরা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন—এবং তাঁদের সকলের বর্ণনা এটিই সাব্যস্ত করে যে—ইবরাহীমের পুত্র ইসমাঈল (তাঁদের উভয়ের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) যখন মক্কায় বসবাস করলেন এবং সেখানে তাঁর অনেক সন্তান জন্মগ্রহণ করল, এমনকি তারা মক্কাকে জনপূর্ণ করে ফেলল এবং সেখানে বসবাসরত আমালেক সম্প্রদায়কে বিতাড়িত করল, তখন মক্কা তাদের জন্য সংকীর্ণ হয়ে পড়ল। তখন তাদের মধ্যে যুদ্ধ ও শত্রুতা দেখা দিল এবং তারা একে অপরকে বহিষ্কার করল। ফলে তারা জীবিকার সন্ধানে বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ল।

আর যে বিষয়টি তাদের মূর্তিপূজা ও পাথর পূজার দিকে ধাবিত করেছিল তা হলো, মক্কা থেকে যখনই কেউ সফরে বের হতো, সে হারামের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং মক্কার প্রতি অনুরাগের কারণে হারামের পাথরসমূহ থেকে একটি পাথর সাথে নিয়ে যেত।

অতঃপর তারা যেখানেই অবতরণ করত, সেটি স্থাপন করত এবং বরকত লাভের আশায় ও হারামের প্রতি অনুরাগ ও ভালোবাসার কারণে কাবার তওয়াফ করার মতোই তার চারদিকে তওয়াফ করত। তা সত্ত্বেও তারা কাবা ও মক্কাকে সম্মান করত এবং ইবরাহীম ও ইসমাঈল (আলাইহিমাস সালাম)-এর উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত আদর্শ অনুযায়ী হজ ও উমরাহ পালন করত। অতঃপর এই বিষয়টিই কালক্রমে তাদের এমন পর্যায়ে নিয়ে গেল যে, তারা নিজেদের পছন্দমতো জিনিসের পূজা শুরু করল এবং তারা যে সত্যের ওপর ছিল তা ভুলে গেল। তারা ইবরাহীম ও ইসমাঈলের দ্বীনকে অন্য কিছু দ্বারা পরিবর্তন করে ফেলল; ফলে তারা প্রতিমা পূজা শুরু করল এবং তাদের পূর্ববর্তী জাতিসমূহ যে শিরকি অবস্থায় লিপ্ত ছিল, তারাও সেই অবস্থায় উপনীত হলো। নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর সম্প্রদায় যেগুলোর পূজা করত, তাদের নিকট অবশিষ্ট থাকা সেগুলোর স্মৃতির ভিত্তিতে তারা সেগুলোকেও গ্রহণ করে নিল। তবে এসবের মধ্যেও তাদের মাঝে ইবরাহীম ও ইসমাঈলের যুগের এমন কিছু অবশিষ্টাংশ বিদ্যমান ছিল যার মাধ্যমে তারা উপাসনা করত; যেমন—বায়তুল্লাহর সম্মান করা, তা তওয়াফ করা, হজ ও উমরাহ পালন করা, আরাফাহ ও মুযদালিফায় অবস্থান করা, কোরবানির পশু উৎসর্গ করা এবং হজ ও উমরাহর তালবিয়াহ পাঠ করা—যদিও তারা এগুলোর মধ্যে এমন অনেক মনগড়া বিষয় প্রবিষ্ট করেছিল যা এই দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল আসনাম (পৃষ্ঠা: ৭)
فَكَانَت نزار تَقُولُ إِذَا مَا أَهَلَّتْ لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ لبيْك لَا شريك لَك إِلَّا شريك هُوَ لَكَ تَمْلِكُهُ وَمَا مَلَكَ وَيُوَحِّدُونَهُ بِالتَّلْبِيَةِ ويدخلون مَعَه آلِهَتِهِمْ وَيَجْعَلُونَ مِلْكَهَا بِيَدِهِ يَقُولُ اللَّهُ عز وجل لِنَبِيِّهِ صلى الله عليه وسلم {وَمَا يُؤمن أَكْثَرهم بِاللَّه إِلَّا وهم مشركون}

أَيْ مَا يُوَحِّدُونَنِي بِمَعْرِفَةِ حَقِّي إِلا جَعَلُوا مَعِي شَرِيكًا مِنْ خَلْقِي

وَكَانَتْ تَلْبِيَةُ عَكَّ إِذا خَرجُوا حجاجاً قدمُوا أمامهم غُلامَيْنِ أَسْوَدَيْنِ مِنْ غِلْمَانِهِمْ فَكَانَا أَمَامَ رَكْبِهِمْ

فَيَقُولَانِ … نَحن غرابا عك

فَنَقُول عَكُّ مِنْ بَعْدِهِمَا … عَكُّ إِلَيْكَ عَانِيَةْ عِبَادُكَ الْيَمَانِيَةْ كَيْمَا نَحُجُّ الثَّانِيَةْ … وَكَانَتْ رَبِيعَةُ إِذَا حجت فقضت الْمَنَاسِك ووقفت فِي الْمَوَاقِفَ نَفَرَتْ فِي النَّفَرِ الأَوَّلِ وَلَمْ تَقُمْ إِلَى آخر التَّشْرِيق
নিযার গোত্র যখন ইহরাম বাঁধত বা তালবিয়া পাঠ করত, তখন তারা বলত: "আমি উপস্থিত হে আল্লাহ, আমি উপস্থিত, আপনার কোনো অংশীদার নেই, তবে এমন এক অংশীদার ব্যতীত যে আপনারই অনুগত; আপনি তার মালিক এবং সে যার মালিক তারও মালিক আপনি।" তারা তালবিয়ার মাধ্যমে তাঁর একত্ব ঘোষণা করত ঠিকই, কিন্তু তাঁর সাথে তাদের উপাস্যদের অন্তর্ভুক্ত করত এবং সেগুলোর মালিকানাকে আল্লাহর হাতে ন্যস্ত করত। মহান আল্লাহ তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে লক্ষ্য করে বলেন, {আর তাদের অধিকাংশ আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে না শিরক করা ব্যতীত।}

অর্থাৎ, তারা আমার হকের পরিচয়ের মাধ্যমে আমাকে এক সাব্যস্ত করে না, বরং তারা আমার সৃষ্টির মধ্য থেকে কাউকে আমার সাথে অংশীদার স্থির করে।

আর আক্ক গোত্রের তালবিয়া ছিল এরূপ যে, যখন তারা হজযাত্রী হিসেবে বের হতো, তারা তাদের দুজন কৃষ্ণাঙ্গ গোলামকে আগে পাঠিয়ে দিত। তারা কাফেলার অগ্রভাগে থাকত।

তখন তারা দুজন বলত … "আমরা আক্ক গোত্রের দুই কাক।"

অতঃপর আক্ক গোত্র তাদের পেছনে বলত … "আক্ক আপনার দিকে বিনীতভাবে ধাবিত, আপনার ইয়েমেনি বান্দাগণ, যাতে আমরা পুনরায় হজ করতে পারি।" … আর রবিআ গোত্র যখন হজ করত এবং হজের নিয়মাবলি সম্পন্ন করত ও নির্ধারিত স্থানসমূহে অবস্থান করত, তখন তারা প্রথম দফাতেই প্রস্থান করত এবং তাশরিকের শেষ দিন পর্যন্ত অবস্থান করত না।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল আসনাম (পৃষ্ঠা: ৮)
فَكَانَ أَوَّلُ مَنْ غَيَّرَ دِينَ إِسْمَاعِيلَ عليه السلام فَنَصَبَ الأَوْثَانَ وَسَيَّبَ السَّائِبَةَ وَوَصَلَ الْوَصِيلَةَ وَبَحَرَ الْبَحِيرَةَ وَحَمَى الْحَامِيَةَ عَمْرَو بْنَ رَبِيعَةَ وَهُوَ لحى بن حَارِثَة ابْن عَمْرِو بْنِ عَامِرٍ الأَزْدِيُّ

وَهُوَ أَبُو خُزَاعَةَ

وَكَانَتْ أُمُّ عَمْرِو بْنِ لُحَيٍّ فُهَيْرَةَ بِنْتَ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ

وَيُقَالُ قَمَعَةُ بِنْتُ مُضَاضٍ الْجُرْهُمِيُّ

وَكَانَ الْحَارِثُ هُوَ الَّذِي يَلِي أَمْرَ الْكَعْبَةِ

فَلَمَّا بَلَغَ عَمْرَو بْنَ لُحَيٍّ نَازَعَهُ فِي الْولَايَة وَقَاتل جرهما بِبَنِي إِسْمَاعِيلَ

فَظَفَرَ بِهِمْ وَأَجْلاهُمْ عَنِ الْكَعْبَةِ

وَنَفَاهُمْ مِنَ بِلادِ مَكَّةَ وَتَوَلَّى حِجَابَةَ الْبَيْتِ بَعْدَهُمْ

ثُمَّ إِنَّهُ مَرِضَ مَرَضًا شَدِيدًا فَقِيلَ لَهُ إِنَّ بِالْبَلْقَاءِ مِنَ الشَّامِ حَمَّةً إِنْ أَتَيْتَهَا بَرَأْتَ

فَأَتَاهَا فَاسْتَحَمَّ بِهَا فَبَرَأَ

وَوَجَدَ أَهْلَهَا يَعْبُدُونَ الأَصْنَامَ فَقَالَ مَا هَذِهِ فَقَالُوا نستسقي بِهَا الْمَطَرَ وَنَسْتَنْصِرُ بِهَا عَلَى الْعَدُوِّ

فَسَأَلَهُمْ أَنْ يُعْطُوهُ مِنْهَا فَفَعَلُوا

فَقَدِمَ بِهَا مَكَّةَ ونصبها حول الْكَعْبَة
ইসমাঈল আলাইহিস সালামের ধর্ম পরিবর্তনকারী প্রথম ব্যক্তি ছিলেন আমর ইবনে রাবিআ; যিনি মূর্তিপূজা প্রবর্তন করেন এবং সায়িবা, ওয়াসিলা, বাহিরা ও হামি প্রথার প্রচলন করেন। তিনি হলেন লুহাই বিন হারিসা ইবনে আমর ইবনে আমির আল-আযদি।

তিনিই ছিলেন খুযাআ গোত্রের আদি পিতা।

আমর ইবনে লুহাইয়ের মাতা ছিলেন ফুহাইরা বিনতে আমর ইবনুল হারিস।

কারো মতে তিনি ছিলেন কামআ বিনতে মুদাদ আল-জুরহুমি।

হারিসই কাবার ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।

আমর ইবনে লুহাই যখন প্রাপ্তবয়স্ক হলেন, তখন তিনি তাঁর সাথে কর্তৃত্ব নিয়ে বিবাদে জড়ালেন এবং বনু ইসমাঈলকে সাথে নিয়ে জুরহুম গোত্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করলেন।

তিনি তাদের ওপর বিজয়ী হলেন এবং তাদের কাবার চত্বর থেকে বহিষ্কার করলেন।

তিনি তাদের মক্কা ভূখণ্ড থেকে তাড়িয়ে দিলেন এবং তাদের পর বায়তুল্লাহর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব গ্রহণ করলেন।

অতঃপর তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বলা হলো যে, সিরিয়ার বালকা অঞ্চলে একটি উষ্ণ প্রস্রবণ রয়েছে, সেখানে গেলে আপনি আরোগ্য লাভ করবেন।

তিনি সেখানে গেলেন এবং তাতে গোসল করলেন, ফলে তিনি সুস্থ হয়ে উঠলেন।

সেখানে তিনি অধিবাসীদের মূর্তিপূজা করতে দেখে জিজ্ঞেস করলেন, "এগুলো কী?" তারা বলল, "এগুলোর মাধ্যমে আমরা বৃষ্টির প্রার্থনা করি এবং শত্রুর বিরুদ্ধে সাহায্য চাই।"

তিনি তাদের কাছে এর মধ্য থেকে কিছু চাইলেন এবং তারা তাকে তা প্রদান করল।

তিনি সেগুলো নিয়ে মক্কায় আসলেন এবং কাবার চারপাশ জুড়ে তা স্থাপন করলেন।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল আসনাম (পৃষ্ঠা: ৯)
قَالَ أَبُو الْمُنْذِرِ هِشَامُ بْنُ محمدٍ فَحَدَّثَ الْكَلْبِيُّ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ إِسَافًا وَنَائِلَةَ رَجُلٌ مِنْ جُرْهُمٍ يُقَالُ لَهُ إِسَافُ بْنُ يَعْلَى وَنَائِلَةُ بِنْتُ زيدٍ مِنْ جُرْهُمٍ وَكَانَ يَتَعَشَّقُهَا فِي أَرْضِ الْيَمَنِ فَأَقْبَلُوا حُجَّاجًا فَدَخَلا الْكَعْبَةَ فَوَجَدَا غَفْلَةً مِنَ النَّاس وخلوة فِي الْبَيْتِ فَفَجَرَ بِهَا فِي الْبَيْتِ فَمُسِخَا

فَأَصْبَحُوا فوجدوهما مسخين

فأخرجوهما فوضعوهما موضعهما

فعبدتهما خُزَاعَة وَقُرَيْشٌ وَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ بَعْدُ مِنَ الْعَرَبِ

وَكَانَ أَوَّلُ مَنِ اتَّخَذَ تِلْكَ الأَصْنَامَ مِنْ ولد إِسْمَاعِيل وَغَيرهم من النَّاس وسموها بِأَسْمَائِهَا عَلَى مَا بَقِيَ فِيهِمْ مِنْ ذِكْرِهَا حِينَ فَارَقُوا دِينَ إِسْمَاعِيلَ هُذَيْلُ بْنُ مُدْرَكَةَ اتَّخَذُوا سُوَاعًا

فَكَانَ لَهُمْ برهاطٍ مِنْ أَرْضِ يَنْبع وينبع عرض من أَعْرَاض
আবু আল-মুনজির হিশাম বিন মুহাম্মদ বলেন, আল-কালবি আবু সালিহ থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, ইসাফ এবং নায়িলা ছিল জুরহুম গোত্রের এক পুরুষ ও এক নারী। পুরুষটির নাম ছিল ইসাফ বিন ইয়ালা এবং নারীটি ছিল নায়িলা বিনতে যায়েদ। ইসাফ ইয়ামেন ভূখণ্ডে থাকাকালীন তাকে ভালোবাসত। অতঃপর তারা হজ্জ পালনের উদ্দেশ্যে আগমন করল এবং কাবার ভেতরে প্রবেশ করল। সেখানে তারা মানুষের অসতর্কতা ও নির্জনতা খুঁজে পেয়ে কাবার ভেতরেই পাপাচার করল, ফলে তারা পাথরে রূপান্তরিত হয়ে গেল।

ভোর হলে মানুষ তাদেরকে পাথরে রূপান্তরিত অবস্থায় দেখতে পেল।

অতঃপর তারা তাদের সেখান থেকে বের করল এবং তাদের (নির্ধারিত) স্থানে স্থাপন করল।

এরপর খুজাআ, কুরাইশ এবং আরবদের মধ্য থেকে যারা পরবর্তীতে কাবার হজ্জ করতে আসত, তারা তাদের পূজা শুরু করল।

ইসমাইলের বংশধর এবং অন্যান্যদের মধ্যে যারা সর্বপ্রথম সেই মূর্তিগুলো গ্রহণ করেছিল এবং ইসমাইলের দ্বীন ত্যাগ করার পর তাদের মাঝে বিদ্যমান স্মৃতি অনুযায়ী সেগুলোর নামকরণ করেছিল, তারা হলো হুযাইল বিন মুদরিকাহ; তারা 'সুওয়া'কে গ্রহণ করেছিল।

সেটি ইয়ানবু অঞ্চলের রাহাত নামক স্থানে তাদের জন্য সংরক্ষিত ছিল, আর ইয়ানবু হলো অনেকগুলো উপত্যকা বা বসতির সমন্বয়ে গঠিত একটি অঞ্চল।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল আসনাম (পৃষ্ঠা: ১০)
الْمَدِينَة

وَكَانَت سَدَنَتَهُ بَنُو لِحْيَانَ

وَلَمْ أَسْمَعْ لهذيلٍ فِي أَشْعَارِهَا لَهُ ذِكْرًا إِلا شِعْرَ رجلٍ مِنَ الْيَمَنِ

وَاتَّخَذَتْ كَلْبٌ وَدًّا بِدُومَةِ الْجَنْدَلِ

وَاتَّخَذَتْ مذ حج وَأهل حرش يَغُوثَ

وَقَالَ الشَّاعِرُ … حَيَّاكَ وَدٌّ فَإِنَّا لَا يَحِلُّ لَنَا … لَهْوُ النِّسَاءِ وَإِنَّ الدِّينَ قَدْ عَزَمَا …

وَقَالَ الآخَرُ … وَسَارَ بِنَا يَغُوثُ إِلَى مرادٍ … فَنَاجَزْنَاهُمْ قَبْلَ الصَّبَاحِ …

وَاتَّخَذَتْ خَيْوَانُ يَعُوقَ

فَكَانَ بِقَرْيَةٍ لَهُمْ يُقَالُ لَهَا خَيْوَانُ مِنْ صنعاء على لَيْلَتَيْنِ مِمَّا بلَى مَكَّةَ

وَلَمْ أَسْمَعْ هَمْدَانَ سَمَّتْ بِهِ وَلا غَيْرَهَا مِنَ الْعَرَبِ وَلَمْ أَسْمَعْ لَهَا وَلا لغَيْرهَا فِيهِ شِعْرًا

وَأَظُنُّ ذَلِكَ لأَنَّهُمْ قَرُبُوا مِنْ صَنْعَاءَ وَاخْتَلَطُوا بِحِمْيَرَ فَدَانُوا مَعَهُمْ بِالْيَهُودِيَّةِ أَيَّامَ تَهَوَّدَ ذُو نواسٍ فَتَهَوَّدُوا مَعَهُ
মদীনা

এবং এর রক্ষণাবেক্ষণকারী ছিল বনু লিহইয়ান।

আমি হুযায়ল গোত্রের কাব্যসমূহে এর কোনো উল্লেখ শুনিনি, কেবল ইয়ামেনের এক ব্যক্তির কবিতা ব্যতীত।

কালব গোত্র দুমাতুল জান্দালে ‘ওয়াদ্দ’-কে (উপাস্য হিসেবে) গ্রহণ করেছিল।

মাজহিজ এবং জুরাশের অধিবাসীরা ‘ইয়াগূস’-কে গ্রহণ করেছিল।

কবি বলেন ... ওয়াদ্দ তোমাকে অভিবাদন জানাক, কারণ আমাদের জন্য বৈধ নয় ... নারীদের আমোদ-প্রমোদ, আর দ্বীন সুদৃঢ় সংকল্পবদ্ধ হয়েছে ...

অন্য একজন বলেন ... ইয়াগূস আমাদের নিয়ে মুরাদ গোত্রের দিকে অগ্রসর হলো ... অতঃপর আমরা ভোরের আগেই তাদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হলাম ...

খায়ওয়ান গোত্র ‘ইয়াঊক’-কে গ্রহণ করেছিল।

এটি তাদের একটি গ্রামে ছিল যাকে খায়ওয়ান বলা হতো, যা সানআ থেকে মক্কার দিকে দুই রাতের দূরত্বে অবস্থিত।

আমি হামদান গোত্র বা অন্য কোনো আরবকে এর নামে নামকরণ করতে শুনিনি এবং তাদের বা অন্য কারও পক্ষ থেকে এর সম্পর্কে কোনো কবিতাও শুনিনি।

আমি মনে করি এর কারণ হলো তারা সানআর নিকটবর্তী ছিল এবং হিমইয়ার গোত্রের সাথে মিশে গিয়েছিল, ফলে যু নুওয়াস যখন ইহুদী ধর্ম গ্রহণ করেন তখন তারাও তার সাথে সেই ধর্ম গ্রহণ করে তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল আসনাম (পৃষ্ঠা: ১১)
وَاتَّخَذَتْ حِمْيَرُ نَسْرًا

فَعَبَدُوهُ بِأَرْضٍ يُقَالُ لَهَا بَلْخَعٌ

وَلَمْ أَسْمَعْ حِمْيَرَ سَمَّتْ بِهِ أَحَدًا وَلَمْ أَسْمَعْ لَهُ ذِكْرًا فِي أَشْعَارِهَا وَلا أشعار أحدٍ من الْعَرَبِ

وَأَظُنُّ ذَلِكَ كَانَ لانْتِقَالِ حِمْيَرَ أَيَّامَ تبعٍ عَنْ عِبَادَةِ الأَصْنَامِ إِلَى الْيَهُودِيَّةِ

وَكَانَ لِحِمْيَرَ أَيْضًا بَيْتٌ بِصَنْعَاءَ يُقَالُ لَهُ ريَامُ يُعَظِّمُونَهُ وَيَتَقَرَّبُونَ عِنْدَهُ بِالذَّبَائِحِ
হিমইয়ার (গোত্র) নাসরকে (মূর্তি হিসেবে) গ্রহণ করেছিল।

তারা বালখা নামক এক স্থানে এর উপাসনা করত।

আমি শুনিনি যে হিমইয়ারবাসী এই নামে কারও নামকরণ করেছে এবং তাদের কবিতায় কিংবা আরবদের অন্য কারও কবিতায় আমি এর কোনো উল্লেখ পাইনি।

আমার ধারণা, তুব্বার শাসনামলে হিমইয়ার গোত্র মূর্তিপূজা ত্যাগ করে ইহুদি ধর্মে স্থানান্তরিত হওয়ার কারণেই এমনটি হয়েছিল।

সানআতে হিমইয়ার গোত্রের 'রিয়াম' নামক একটি ঘরও ছিল, যেটিকে তারা অত্যন্ত সম্মান করত এবং সেখানে পশু বলিদানের মাধ্যমে নৈকট্য অনুসন্ধান করত।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল আসনাম (পৃষ্ঠা: ১২)
وَكَانُوا فِيمَا يَذْكُرُونَ يُكْلَمُونَ مِنْهُ

فَلَمَّا انْصَرَفَ تبع من مسيره الَّذِي سَار فِيهِ إِلَى الْعِرَاقِ قَدِمَ مَعَهُ الْحَبْرَانِ اللَّذَانِ صَحِبَاهُ من الْمَدِينَة

فأمراه بهدم رئام

قَالَ شَأْنَكُمَا بِهِ

فَهَدَمَاهُ وَتَهَوَّدَ تُبَّعُ وَأَهْلُ الْيمن

فَمن ثمَّ لم أسمع بِذكر رئام وَلَا نسرٍ فِي شئ مِنَ الأَشْعَارِ وَلا الأَسْمَاءِ

وَلَمْ تَحْفَظِ الْعَرَبُ مِنْ أَشْعَارِهَا إِلا مَا كَانَ قُبَيْلَ الإِسْلامِ
তারা যা উল্লেখ করত সে বিষয়ে সেখান থেকে তাদের সাথে কথা বলা হতো।

অতঃপর তুব্বা যখন ইরাকের পথে তার সেই সফর থেকে ফিরে আসলেন, তখন মদিনা থেকে তার সঙ্গী হওয়া সেই দুই পণ্ডিতও তার সাথে আসলেন।

তাঁরা তাকে রিআম ধ্বংস করার আদেশ দিলেন।

তিনি বললেন, তোমাদের যা ইচ্ছা তা-ই করো।

অতঃপর তাঁরা সেটি ধ্বংস করলেন এবং তুব্বা ও ইয়েমেনবাসী ইহুদি ধর্ম গ্রহণ করলেন।

এরপর থেকে আমি আর কোনো কবিতা বা নামের মধ্যে রিআম কিংবা নাসরের উল্লেখ শুনিনি।

আর আরবরা তাদের কবিতা থেকে কেবল ইসলামের ঠিক পূর্ববর্তী সময়ের অংশগুলোই সংরক্ষণ করেছে।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল আসনাম (পৃষ্ঠা: ১৩)
قَالَ هِشَامٌ أَبُو الْمُنْذِرِ وَلَمْ أَسْمَعْ فِي رئام وَحْدَهُ شِعْرًا وَقَدْ سَمِعْتُ فِي الْبَقِيَّةِ

هَذِهِ الْخَمْسَة الْأَصْنَام الَّتِي كَانَت يَعْبُدهَا قوم نوحٍ فَذكرهَا الله عز وجل فِي كِتَابه فِيمَا أَنْزَلَ عَلَى نَبِيِّهِ عليه السلام {قَالَ نُوحٌ رَبِّ إِنَّهُمْ عَصَوْنِي وَاتَّبَعُوا مَنْ لَمْ يَزِدْهُ مَالُهُ وَوَلَدُهُ إِلا خَسَارًا وَمَكَرُوا مَكْرًا كُبَّارًا وَقَالُوا لَا تَذَرُنَّ آلِهَتَكُمْ وَلا تَذَرُنَّ وَدًّا وَلا سُوَاعًا وَلا يَغُوثَ وَيَعُوقَ وَنَسْرًا وَقَدْ أَضَلُّوا كَثِيرًا وَلا تَزِدِ الظَّالِمِينَ إِلا ضلالا}

فَلَمَّا صَنَعَ هَذَا عَمْرُو بْنُ لُحَيٍّ دَانَتِ الْعَرَب للأصنام وعبدوها واتخذوها

فَكَانَ أقدمها كلهَا مَنَاة

وَقد كَانَت الْعَرَب تسمى عبد مناه وَزيد مَنَاةَ

وَكَانَ مَنْصُوبًا عَلَى سَاحِلِ الْبَحْرِ مِنْ نَاحِيَةِ الْمُشَلَّلِ بِقُدَيْدٍ بَيْنَ الْمَدِينَةِ وَمَكَّةَ

وَكَانَتِ الْعَرَب جَمِيعًا تعظمه وتذبح حوله

وَكَانَتِ الأَوْسُ وَالْخَزْرَجُ وَمَنْ يَنْزِلُ الْمَدِينَةَ وَمَكَّةَ وَمَا قَارَبَ مِنَ الْمَوَاضِعِ يُعَظِّمُونَهُ وَيَذْبَحُونَ لَهُ ويهدون لَهُ

وَكَانَ أَوْلادُ مَعْدٍ عَلَى بقيةٍ مِنْ دِينِ إِسْمَاعِيلَ عليه السلام

وَكَانَتْ رَبِيعَةُ وَمُضَرُ عَلَى بقيةٍ مِنْ دِينِهِ

وَلَمْ يَكُنْ أَحَدٌ أَشَدَّ إِعْظَامًا لَهُ مِنَ الأَوْسِ وَالْخَزْرَجِ
হিশাম আবুল মুনযির বলেন, আমি কেবল রিআম সম্পর্কে কোনো কবিতা শুনিনি, তবে বাকিগুলো সম্পর্কে শুনেছি।

এই পাঁচটি মূর্তি যাদেরকে নূহ আলাইহিস সালাম-এর সম্প্রদায় পূজা করত, আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাঁর নবীর ওপর যা নাযিল করেছেন তাতে তাদের কথা উল্লেখ করেছেন: {নূহ বললেন, হে আমার প্রতিপালক! তারা আমাকে অমান্য করেছে এবং এমন ব্যক্তির অনুসরণ করেছে যার সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কেবল তার ক্ষতিই বৃদ্ধি করেছে। তারা মহা ষড়যন্ত্র করেছে এবং বলেছে, তোমরা কখনও তোমাদের উপাস্যদের পরিত্যাগ করো না এবং কখনও পরিত্যাগ করো না ওয়াদ্দ, সুওয়া, ইয়াগূস, ইয়াঊক ও নাসরকে। তারা তো অনেককে বিভ্রান্ত করেছে। আর আপনি জালিমদের কেবল পথভ্রষ্টতাই বৃদ্ধি করুন।}

যখন আমর ইবনে লুহাই এটি করল, তখন আরবরা মূর্তিদের বশ্যতা স্বীকার করল, সেগুলোর ইবাদত শুরু করল এবং সেগুলোকে গ্রহণ করল।

সেগুলোর মধ্যে সবচাইতে প্রাচীন ছিল মানাত।

আরবরা আবদে মানাত ও যায়েদ মানাত নাম রাখত।

এটি মদীনা ও মক্কার মধ্যবর্তী কুদাইদ নামক স্থানের মুশাল্লাল অঞ্চলের সমুদ্র উপকূলে স্থাপিত ছিল।

সমস্ত আরবরা একে সম্মান করত এবং এর চারপাশে পশু জবাই করত।

আওস, খাজরাজ এবং মদীনা ও মক্কায় বসবাসকারী ও নিকটবর্তী এলাকার অধিবাসীরা একে সম্মান করত, এর উদ্দেশ্যে পশু জবাই করত এবং এর প্রতি হাদিয়া পেশ করত।

মা'দ-এর বংশধরগণ ইসমাঈল আলাইহিস সালাম-এর দ্বীনের অবশিষ্টাংশের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল।

রাবিআ ও মুদার তাঁর দ্বীনের অবশিষ্টাংশের ওপর ছিল।

আওস ও খাজরাজ গোত্রের চাইতে একে অধিক সম্মানকারী আর কেউ ছিল না।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল আসনাম (পৃষ্ঠা: ১৪)
قَالَ أَبُو الْمُنْذِر هِشَامُ بْنُ مُحَمَّدٍ

وَحَدَّثَنَا رَجُلٌ مِنْ قُرَيْشٍ عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي عُبَيْدَةَ بْنِ عَمَّارِ ابْن يَاسِرٍ وَكَانَ أَعْلَمَ النَّاسِ بِالأَوْسِ وَالْخَزْرَجِ قَالَ كَانَتِ الأَوْسُ وَالْخَزْرَجُ وَمَنْ يَأْخُذُ بِأَخْذِهِمْ مِنْ عَرَبِ أَهْلِ يَثْرِبَ وَغَيْرِهَا فَكَانُوا يَحُجُّونَ فَيَقِفُونَ مَعَ النَّاسِ الْمَوَاقِفَ كُلَّهَا وَلا يَحْلِقُونَ رُءُوسَهُمْ

فَإِذَا نَفَرُوا أَتَوْهُ فَحَلَقُوا رُءُوسَهُمْ عِنْدَهُ وَأَقَامُوا عِنْده

لَا يرَوْنَ لحجهم تَمَامًا إِلا بِذَلِكَ

فَلإِعْظَامِ الأَوْسِ وَالْخَزْرَجِ يَقُولُ عَبْدُ الْعُزَّى بْنُ وَدِيعَةَ الْمُزَنِيُّ أَوْ غَيْرُهُ مِنَ الْعَرَبِ … إِنِّي حَلَفْتُ يَمِينَ صدقٍ بَرَّةً … بِمَنَاةَ عِنْدَ مَحَلِّ آلِ الْخَزْرَجِ … وَكَانَتِ الْعَرَبُ جَمِيعًا فِي الْجَاهِلِيَّةِ يُسَمُّونَ الأَوْسَ وَالْخَزْرَجَ جَمِيعًا الْخَزْرَجَ

فَلِذَلِكَ يَقُولُ عِنْدَ مَحَلِّ آلِ الْخَزْرَجِ

وَمَنَاة هَذِه الَّتِي ذَكَرَهَا اللَّهُ عز وجل فَقَالَ {وَمَنَاةَ الثَّالِثَة الْأُخْرَى}

وَكَانَتْ لهذيلٍ وَخُزَاعَةَ
আবু আল-মুনযির হিশাম ইবনে মুহাম্মদ বলেন—

কুরাইশ বংশীয় এক ব্যক্তি আবু উবাইদাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবু উবাইদাহ ইবনে আম্মার ইবনে ইয়াসির থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন—যিনি আউস ও খাযরাজ গোত্র সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সর্বাধিক জ্ঞানী ছিলেন। তিনি বলেন, আউস ও খাযরাজ এবং ইয়াসরিবের আরব ও অন্যান্যদের মধ্যে যারা তাদের রীতিনীতি অনুসরণ করত, তারা হজ্জ পালন করত এবং মানুষের সাথে (হজ্জের) সকল স্থানে অবস্থান করত, কিন্তু তারা তাদের মাথা মুণ্ডন করত না।

অতঃপর যখন তারা (মিনা থেকে) প্রস্থান করত, তখন তারা তার (মানাত মূর্তির) নিকট আসত এবং সেখানে তাদের মাথা মুণ্ডন করত ও তার সন্নিকটে অবস্থান করত।

তারা মনে করত যে, এটি ব্যতিরেকে তাদের হজ্জ পূর্ণ হবে না।

আউস ও খাযরাজের গুরুত্বের কারণে আবদ আল-উযযা ইবনে ওয়াদিয়া আল-মুযানী অথবা আরবদের অন্য কেউ বলেন: ... আমি এক সত্য ও নিষ্ঠাপূর্ণ শপথ করেছি ... খাযরাজ বংশের বসতিস্থলে মানাতের নামে ... আর জাহেলিয়াতের যুগে সমগ্র আরব আউস ও খাযরাজ উভয়কে একত্রে ‘খাযরাজ’ বলে সম্বোধন করত।

এই কারণেই কবি বলেছেন, ‘খাযরাজ বংশের বসতিস্থলে’।

আর এই মানাত হলো সেই প্রতিমা যার কথা মহান আল্লাহ উল্লেখ করে বলেছেন: {এবং তৃতীয় আরেকটি মানাত}।

এটি হুযাইল ও খুযাআহ গোত্রের জন্যও ছিল।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল আসনাম (পৃষ্ঠা: ১৫)
وَكَانَتْ قُرَيْشٌ وَجَمِيعُ الْعَرَبِ تُعَظِّمُهُ

فَلَمْ يَزَلْ على ذَلِكَ حَتَّى خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم من الْمَدِينَة سنة ثمانٍ من الْهِجْرَة وَهُوَ عَامُ فَتَحَ اللَّهُ عَلَيْهِ

فَلَمَّا سَارَ مِنَ الْمَدِينَةِ أَرْبَعَ ليالٍ أَوْ خَمْسَ ليالٍ بَعَثَ عَلِيًّا إِلَيْهَا فَهَدَمَهَا وَأَخَذَ مَا كَانَ لَهَا

فَأَقْبَلَ بِهِ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم

فَكَانَ فِيمَا أَخَذَ سَيْفَانِ كَانَ الْحَارِثُ بْنُ أَبِي شمرٍ الْغَسَّانِيُّ مَلِكُ غَسَّانَ أهداهما لَهَا أَحَدُهُمَا يُسَمَّى مِخْذَمًا وَالآخَرَ رَسُوبًا

وَهُمَا سَيْفَا الْحَارِثِ اللَّذَانِ ذَكَرَهُمَا عَلْقَمَةُ فِي شِعْرِهِ فَقَالَ … مُظَاهِرُ سِرْبَالَيْ حديدٍ عَلَيْهِمَا … عَقِيلا سيوفٍ مِخْذَمٌ وَرَسُوبُ …

فَوَهَبَهُمَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لِعَلِيٍّ رضي الله عنه

فَيُقَالُ إِنَّ ذَا الْفِقَارِ سَيْفٌ عَلَى أَحَدِهِمَا

وَيُقَالُ إِنَّ عَلِيًّا وجد هذَيْن السيفين فِي الْفلس وَهُوَ صنم ظيى حَيْثُ بَعَثَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فهدمه
কুরাইশ এবং সমগ্র আরব জাতি একে সম্মান করত।

হিজরির অষ্টম বছর, যে বছর আল্লাহ তাঁকে বিজয় দান করেছিলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদিনা থেকে বের হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি এমনই ছিল।

যখন তিনি মদিনা থেকে চার বা পাঁচ রাত পথ অতিক্রম করলেন, তখন তিনি আলীকে সেখানে পাঠালেন। অতঃপর তিনি তা ধ্বংস করলেন এবং সেখানে যা কিছু ছিল তা হস্তগত করলেন।

অতঃপর তিনি সেগুলো নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট আসলেন।

তিনি যা কিছু হস্তগত করেছিলেন তার মধ্যে দুটি তলোয়ার ছিল, যা গাসসানের রাজা হারিস ইবনে আবু শামির আল-গাসসানি সেখানে উপহার হিসেবে পাঠিয়েছিলেন। তাদের একটির নাম ছিল মিখযাম এবং অন্যটির নাম রাসুব।

এই দুটি হলো হারিসের সেই তলোয়ার যা আলকামা তাঁর কবিতায় উল্লেখ করে বলেছিলেন: … তাদের ওপর লোহার দুটি বর্ম পরিহিত ছিল … তলোয়ারগুলোর মধ্যে অত্যন্ত মূল্যবান হলো মিখযাম এবং রাসুব …

অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তলোয়ার দুটি আলীকে (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) দান করলেন।

বলা হয়ে থাকে যে, যুলফিকার ছিল এই দুটিরই একটি।

আরও বলা হয় যে, আলী এই তলোয়ার দুটি ফালস-এ পেয়েছিলেন, যা ছিল তায়্যি গোত্রের একটি প্রতিমা; যেখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে পাঠিয়েছিলেন এবং তিনি তা ধ্বংস করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল আসনাম (পৃষ্ঠা: ১৬)
ثُمَّ اتَّخَذُوا اللاتَ

وَاللاتُ بِالطَّائِفِ وَهِيَ أَحْدَثُ من مَنَاة

وَكَانَت صَخْرَةً مُرَبَّعَةً

وَكَانَ يَهُودِيٌّ يَلُتُّ عِنْدَهَا السَّوِيقَ

وَكَانَ سَدَنَتَهَا مِنْ ثَقِيفٍ بَنُو عَتَّابِ بْنِ مالكٍ

وَكَانُوا قَدْ بَنَوْا عَلَيْهَا بِنَاءً

وَكَانَتْ قُرَيْش وَجَمِيع الْعَرَب تعظمها

وَبهَا كَانَت الْعَرَب تسمى زيد اللات وتيم اللاتِ

وَكَانَتْ فِي مَوْضِعِ مَنَارَةِ مَسْجِدِ الطَّائِفِ الْيُسْرَى الْيَوْمَ

وَهِيَ الَّتِي ذَكَرَهَا اللَّهُ فِي الْقُرْآن فَقَالَ {أَفَرَأَيْتُم اللات والعزى}

وَلها يَقُول عَمْرو بن الجعيد … فإنى وَتَرْكِي وَصْلِ كأسٍ لَكَالَّذِي … تَبَرَّأَ مِنْ لاتٍ وَكَانَ يَدِينُهَا … وَلَهُ يَقُولُ الْمُتَلَمِّسُ فِي هِجَائِهِ عَمْرِو بْنِ الْمُنْذِرِ … أَطْرَدْتَنِي حَذَرَ الْهِجَاءِ وَلا … وَاللاتِ وَالأَنْصَابِ لَا تَئِلُ …
অতঃপর তারা লাতকে গ্রহণ করল।

আর লাত ছিল তায়েফে এবং এটি মানাতের চেয়ে পরবর্তী সময়ের।

এটি ছিল একটি চতুষ্কোণ পাথর।

এক ইহুদি এর নিকটে ছাতু গুলতেন।

এর রক্ষণাবেক্ষণকারী ছিল সাকীফ গোত্রের বনু আত্তাব ইবনে মালিক।

তারা এর ওপর একটি ইমারত নির্মাণ করেছিল।

কুরাইশ এবং সমগ্র আরব একে সম্মান করত।

এর নামানুসারেই আরবরা যায়েদ আল-লাত এবং তয়ম আল-লাত নাম রাখত।

এটি বর্তমান তায়েফ মসজিদের বাম দিকের মিনারের স্থানে অবস্থিত ছিল।

এটিই সেই মূর্তী যার কথা আল্লাহ কুরআনে উল্লেখ করে বলেছেন: "তোমরা কি লাত ও উযযা সম্পর্কে ভেবে দেখেছ?"

এর উদ্দেশ্যেই আমর ইবনুল জুআইদ বলেন ... নিশ্চয়ই আমার পানপাত্রের সংসর্গ ত্যাগ করা সেই ব্যক্তির মতো ... যে লাত থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করল অথচ সে এর প্রতি অনুগত ছিল। ... আর আল-মুতালম্মিস আমর ইবনুল মুনযিরের নিন্দায় বলেন ... নিন্দার ভয়ে তুমি আমাকে বিতাড়িত করেছ; তবে শোনো ... লাত ও পাথরের বেদীসমূহের শপথ, তুমি নিস্তার পাবে না। ...
(খণ্ড: ১) কিতাবুল আসনাম (পৃষ্ঠা: ১৭)
فَلَمْ تَزَلْ كَذَلِكَ حَتَّى أَسْلَمَتْ ثَقِيفٌ فَبَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمُغِيرَةَ بْنَ شُعْبَةَ فَهَدَمَهَا وَحَرَّقَهَا بِالنَّارِ

وَفِي ذَلِكَ يَقُولُ شَدَّادُ بْنُ عارضٍ الْجُشَمِيُّ حِينَ هُدِمَتْ وَحرقت ينْهَى ثقيفاً عَن الْعود إِلَيْهَا وَالْغَضَب لَهَا … لَا تنصر وَا اللاتَ إِنَّ اللَّهَ مُهْلِكُهَا … وَكَيْفَ نَصْرُكُمْ مَنْ لَيْسَ يَنْتَصِرُ

إِنَّ الَّتِي حُرِّقَتْ بِالنَّارِ فَاشْتَعَلَتْ … وَلَمْ تُقَاتِلْ لَدَى أَحْجَارِهَا هَدَرُ

إِنَّ الرَّسُولَ مَتَى يَنْزِلُ بِسَاحَتِكُمْ … يَظْعَنُ وَلَيْسَ بِهَا مِنْ أَهْلِهَا بَشَرُ

… وَقَالَ أَوْسُ بْنُ حجرٍ يَحْلِفُ بِاللاتِ … وَبِاللاتِ وَالْعُزَّى وَمَنْ دَانَ دِينَهَا … وَبِاللَّهِ إِنَّ اللَّهَ مِنْهُنَّ أَكْبَرُ … ثُمَّ اتَّخَذُوا الْعُزَّى

وَهِيَ أَحْدَثُ مِنَ اللاتِ وَمَنَاةَ

وَذَلِكَ أَنِّي سَمِعت الْعَرَب سمت بهما قبل الْعُزَّى
সেটি এভাবেই রয়ে গেল যতক্ষণ না সাকিফ গোত্র ইসলাম গ্রহণ করল। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুগীরা ইবনে শু'বাকে পাঠালেন; তিনি সেটি ধ্বংস করলেন এবং আগুনে পুড়িয়ে দিলেন।

আর এ বিষয়ে শাদ্দাদ ইবনে আরিয আল-জুশামি—যখন সেটি ধ্বংস ও দগ্ধ করা হচ্ছিল—সাকিফ গোত্রকে সেটির দিকে পুনরায় ফিরে আসা এবং সেটির জন্য ক্ষুব্ধ হওয়া থেকে নিষেধ করে বলেন: … তোমরা লাতকে সাহায্য করো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ সেটি ধ্বংসকারী … আর তোমরা তাকে কীভাবে সাহায্য করবে যে নিজেকেই সাহায্য করতে অক্ষম?

নিশ্চয়ই যা আগুনে দগ্ধ হলো এবং প্রজ্জ্বলিত হলো … তার পাথরের পাশে কোনো লড়াই ছাড়াই তা বৃথা গেল।

নিশ্চয়ই রাসূল যখনই তোমাদের প্রাঙ্গণে অবতরণ করবেন … তিনি প্রস্থান করবেন এমন অবস্থায় যখন সেখানে অধিবাসীদের কেউ থাকবে না।

… আর আউস ইবনে হাজার লাতের নামে কসম করে বলেছিলেন: … শপথ লাত ও উযযার এবং যারা তাদের ধর্ম পালন করে … আর আল্লাহর শপথ, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের সবার চেয়ে মহান … অতঃপর তারা উযযাকে গ্রহণ করল।

আর এটি (উযযা) লাত ও মানাত অপেক্ষা পরবর্তীকালের।

আর তা একারণে যে, আমি শুনেছি আরবরা উযযার পূর্বেই ওই দুটির নামকরণ করেছিল।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল আসনাম (পৃষ্ঠা: ১৮)
فَوجدت تَمِيم بن مر سمى ابْنه زَيْدَ مَنَاةَ بْنَ تَمِيمِ بْنِ مُرِّ بْنِ أد بن طابخة وَعبد مَنَاة بن أد وباسم اللات سمى ثَعْلَبَة بن عكابة ابْنه تيم اللات وتيم اللات بن رفيدة بن ثَوْر وزَيْدِ اللاتِ بْنِ رُفَيْدَةَ بْنِ ثَوْرِ بْنِ وبرة بن مر بن أد ابْن طابخة وتيم اللات بن النمر بن قاسط وَعبد الْعُزَّى بن كَعْب بن سعد ابْن زَيْدِ مَنَاةَ بْنِ تَمِيمٍ

فَهِيَ أَحْدَثُ مِنَ الْأَوليين

وَعبد الْعُزَّى بْنُ كَعْبٍ مِنْ أَقْدَمِ مَا سَمَّتْ بِهِ الْعَرَبُ

وَكَانَ الَّذِي اتَّخَذَ الْعُزَّى ظَالِمُ بْنُ أَسْعَدَ

كَانَتْ بوادٍ مِنْ نَخْلَةِ الشَّامِيَّةِ يُقَال لَهُ حُرَاضٌ بِإِزَاءِ الْغُمَيْرِ عَنْ يَمِينِ الْمُصْعِدِ إِلَى الْعِرَاقِ مِنْ مَكَّةَ

وَذَلِكَ فَوْقَ ذَاتِ عرقٍ إِلَى الْبُسْتَانِ بِتِسْعَةِ أَمْيَالٍ

فَبَنَى عَلَيْهَا بَسًّا يُرِيدُ بَيْتًا

وَكَانُوا يَسْمَعُونَ فِيهِ الصَّوْتَ

وَكَانَتِ الْعَرَب وقريش تسمى بهَا عبد الْعُزَّى

وَكَانَت أَعْظَمَ الأَصْنَامِ عِنْدَ قُرَيْشٍ

وَكَانُوا يَزُورُونَهَا وَيُهْدُونَ لَهَا وَيَتَقَرَّبُونَ عِنْدَهَا بِالذَّبْحِ
আমি পেয়েছি যে, তামীম বিন মুর তার পুত্রের নাম রেখেছিল যায়দ মানাত বিন তামীম বিন মুর বিন উদ্দ বিন তাবিখা; এবং আবদ মানাত বিন উদ্দ। লাত-এর নামে সালাবা বিন উকাবা তার পুত্রের নাম রেখেছিল তায়মুল লাত; এবং তায়মুল লাত বিন রুফায়দাহ বিন সাওর; এবং যায়দুল লাত বিন রুফায়দাহ বিন সাওর বিন ওয়াবরাহ বিন মুর বিন উদ্দ বিন তাবিখা; এবং তায়মুল লাত বিন আন-নামির বিন কাসিত; এবং আবদ আল-উযযা বিন কাব বিন সাদ বিন যায়দ মানাত বিন তামীম।

এটি প্রথম দুটির তুলনায় পরবর্তীকালের (অর্বাচীন)।

আর আবদ আল-উযযা বিন কাব হলো আরবদের রাখা প্রাচীনতম নামগুলোর অন্যতম।

আর যিনি উযযাকে (উপাস্য হিসেবে) গ্রহণ করেছিলেন, তিনি ছিলেন জালিম বিন আসআদ।

এটি নাখলাহ আশ-শামিয়্যাহর একটি উপত্যকায় ছিল যাকে হুরাজ বলা হতো; যা আল-গুমায়েরের বিপরীতে, মক্কা থেকে ইরাকগামী যাত্রীর ডান দিকে অবস্থিত ছিল।

আর তা জাতু ইরক থেকে আল-বুস্তানের দিকে নয় মাইল উপরে অবস্থিত।

তিনি তার ওপর একটি 'বাস্সান' নির্মাণ করেছিলেন, যার অর্থ একটি ঘর।

আর তারা সেখানে আওয়াজ শুনতে পেত।

আরব এবং কুরাইশগণ এর নামে আবদ আল-উযযা নামকরণ করত।

আর এটি কুরাইশদের কাছে সর্ববৃহৎ মূর্তি ছিল।

তারা এটি দর্শন করত, এর উদ্দেশ্যে উপঢৌকন প্রদান করত এবং এর নিকট পশু বলিদানের মাধ্যমে নৈকট্য অন্বেষণ করত।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল আসনাম (পৃষ্ঠা: ১৯)
وَقَدْ بَلَغَنَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَكَرَهَا يَوْمًا فَقَالَ لَقَدْ أَهْدَيْتُ لِلْعُزَّى شَاةً عَفْرَاءَ وَأَنَا عَلَى دِينِ قَوْمِي

وَكَانَتْ قُرَيْشٌ تَطُوفُ بِالْكَعْبَةِ وَتَقُولُ … وَاللاتِ وَالْعُزَّى وَمَنَاةَ الثَّالِثَةِ الأُخْرَى … فَإِنَّهُنَّ الْغَرَانِيقُ الْعُلَى وَإِنَّ شفاعتهن لَتُرْتَجَى … كَانُوا يَقُولُونَ بَنَاتُ اللَّهِ عز وجل عَنْ ذَلِكَ وَهُنَّ يَشْفَعْنَ إِلَيْهِ

فَلَمَّا بَعَثَ اللَّهُ رَسُولَهُ أَنْزَلَ عَلَيْهِ {أَفَرَأَيْتُمُ اللَّاتَ وَالْعُزَّى وَمَنَاةَ الثَّالِثَةَ الأُخْرَى أَلَكُمُ الذَّكَرُ وَلَهُ الأُنْثَى تِلْكَ إِذًا قِسْمَةٌ ضِيزَى إِنْ هِيَ إِلا أَسْمَاءٌ سَمَّيْتُمُوهَا أَنْتُمْ وَآبَاؤُكُمْ مَا أَنْزَلَ اللَّهُ بهَا من سُلْطَان}

وَكَانَتْ قُرَيْشٌ قَدْ حَمَتْ لَهَا شِعْبًا مِنْ وَادِي حراضٍ يُقَالُ لَهُ سقَامٌ

يُضَاهُونَ بِهِ حرم الْكَعْبَة

فَذَاك قَوْلُ أَبِي جندبٍ الْهُذَلِيِّ ثمَّ القردي فِي امْرَأَة كَانَ يهواها فَذكر حَلفهَا لَهُ بِهَا … لَقَدْ حَلَفْتُ جَهْدًا يَمِينًا غَلِيظَةً … بِفَرْعِ الَّتِي أحمت فروع سقام

لَئِن أَنْت لَمْ تُرْسِلْ ثِيَابِي فَأَنْطَلِقْ … أُبَادِيكِ أُخْرَى عَيْشَنَا بِكَلامِ

يَعُزُّ عَلَيْهِ صَرْم أُمِّ حويرثٍ … فَأَمْسَى يَرُومُ الأَمْرَ كُلَّ مَرَامِ

… وَلَهَا يَقُولُ دِرْهَمُ بْنُ زيدٍ الأَوْسِيُّ … إِنِّي وَرَبِّ الْعُزَّى السَّعِيدَةِ وَاللَّهِ الَّذِي دُونَ بَيْتِهِ سَرَفُ
আমাদের নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একদিন উযযা সম্পর্কে আলোচনা করেন এবং বলেন, "আমি উয্যার উদ্দেশ্যে একটি লালচে-সাদা বর্ণের মেষ উৎসর্গ করেছিলাম যখন আমি আমার কওমের দ্বীনের ওপর ছিলাম।"

কুরাইশরা কাবার তাওয়াফ করত এবং বলত … লাত, উযযা এবং তৃতীয় অন্যটি মানাত … নিশ্চয়ই তারা সুউচ্চ মর্যাদাশীল এবং নিশ্চয়ই তাদের সুপারিশ প্রত্যাশা করা হয় … তারা বলত যে তারা মহান আল্লাহর কন্যা—আল্লাহ এসব থেকে পবিত্র—এবং তারা তাঁর নিকট সুপারিশ করবে।

অতঃপর যখন আল্লাহ তাঁর রাসূলকে প্রেরণ করলেন, তখন তাঁর ওপর নাযিল করলেন: {তোমরা কি ভেবে দেখেছ লাত ও উযযা সম্পর্কে? এবং তৃতীয় অন্যটি মানাত সম্পর্কে? তবে কি তোমাদের জন্য পুত্র সন্তান এবং আল্লাহর জন্য কন্যা সন্তান? তবে তো এটি একটি অন্যায্য বণ্টন। এগুলো কেবল কিছু নাম যা তোমরা এবং তোমাদের পিতৃপুরুষরা রেখেছ, যার স্বপক্ষে আল্লাহ কোনো প্রমাণ নাযিল করেননি।}

কুরাইশরা উয্যার জন্য 'হিরাদ' উপত্যকার একটি গিরিপথ সংরক্ষিত করে রেখেছিল যাকে 'সুকাম' বলা হতো।

এর মাধ্যমে তারা কাবার হারামের অনুকরণ করত।

সেটিই ছিল আবু জুনদুব আল-হুযালী, অতঃপর আল-কুরদী-এর বক্তব্য এমন এক মহিলার ব্যাপারে যাকে তিনি ভালোবাসতেন। তিনি তার নিকট সেই দেবীর নামে শপথ করার কথা উল্লেখ করে বলেন … "আমি পূর্ণ প্রচেষ্টায় এক সুদৃঢ় শপথ করেছি … সেই দেবীর শাখার কসম, যে সুকামের শাখাগুলোকে সংরক্ষিত করেছে।"

"যদি তুমি আমার বস্ত্র ছেড়ে না দাও যাতে আমি চলে যেতে পারি … তবে আমি আমাদের জীবনের অবশিষ্ট সময় তোমার সাথে বাক্যালাপ বর্জন করব।"

উম্মে হুয়াইরিসের সাথে বিচ্ছেদ তার নিকট অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে দাঁড়াল … ফলে সে সর্বতোভাবে বিষয়টি অর্জনের চেষ্টা করতে লাগল।

… তার উদ্দেশ্যেই দিরহাম ইবনে যায়েদ আল-আওসী বলেন … "নিশ্চয়ই আমি সৌভাগ্যবতী উয্যার রবের শপথ করছি এবং সেই আল্লাহর শপথ করছি যাঁর গৃহের নিকটেই সারাফ অবস্থিত।"
(খণ্ড: ১) কিতাবুল আসনাম (পৃষ্ঠা: ২০)
وَكَانَ لَهَا مَنْحَرٌ يَنْحَرُونَ فِيهِ هَدَايَاهَا يُقَالُ لَهُ الْغَبْغَبُ

فَلَهُ يَقُولُ الْهُذَلِيُّ وَهُوَ يَهْجُو رَجُلا تَزَوَّجَ امْرَأَةً جَمِيلَةً يُقَالُ لَهَا أَسْمَاءُ … لَقَدْ أُنْكِحَتْ أَسْمَاءُ لِحَى بقيرةٍ … مِنَ الأُدْمِ أَهْدَاهَا امْرُؤٌ مِنْ بَنِي غَنْمِ

رَأَى قَذَعًا فِي عَيْنِهَا إِذْ يَسُوقُهَا … إِلَى غَبْغَبِ الْعُزَّى فَوَضَعَ فِي الْقَسْمِ …

فَكَانُوا يَقْسِمُونَ لُحُومَ هَدَايَاهُمْ فِيمَنْ حَضَرَهَا وَكَانَ عِنْدَهَا
আর সেই (মূর্তির) জন্য একটি কোরবানির স্থান ছিল যেখানে তারা তাদের উৎসর্গীকৃত পশুসমূহ জবাই করত, যাকে ‘গাবগাব’ বলা হতো।

এই প্রসঙ্গে হুযালী (গোত্রের কবি) বলেছেন, যখন তিনি আসমা নামক এক সুন্দরী নারীকে বিবাহকারী জনৈক ব্যক্তিকে বিদ্রূপ করছিলেন … নিশ্চয়ই আসমাকে বিবাহ দেওয়া হয়েছে এক চর্মসার গাভীর চোয়ালের সাথে … যা বনী গানম গোত্রের এক ব্যক্তি হাদিয়া হিসেবে পাঠিয়েছে।

সে যখন সেটিকে হাঁকিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল তখন তার চোখে খুঁত দেখতে পেল … উযযার গাবগাবের (কোরবানির স্থানের) দিকে, অতঃপর সে তা বণ্টনের জন্য রাখল …

অতঃপর তারা সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে তাদের উৎসর্গীকৃত পশুর গোশত বণ্টন করে দিত।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল আসনাম (পৃষ্ঠা: ২১)
فلغبغبٍ يَقُولُ نُهَيْكَةُ الْفَزَارِيُّ لِعَامِرِ بْنِ الطُّفَيْلِ … يَا عَامُ لَوْ قَدَرَتْ عَلَيْكَ رِمَاحُنَا … وَالرَّاقِصَاتُ إِلَى منى فالغبغب

لتقيت بالوجعاء طعنة فاتكٍ … مران أَوْ لَثَوَيْتَ غَيْرَ مُحْسَبِ …

وَلَهُ يَقُولُ قَيْسُ بْنُ مُنْقِذِ بْنِ عُبَيْدِ بْنِ ضَاطِرِ بْنِ حبشية بن سلول الْخُزَاعِيّ وَلَدَتْهُ امْرَأَةٌ مِنْ بَنِي حُدَادٍ مِنْ كِنَانَةَ وَنَاسٌ يَجْعَلُونَهَا مِنْ حُدَادِ محاربٍ وَهُوَ قَيْسُ بن الحدادية الْخُزَاعِيّ … تلينا بَيت اللَّهِ أَوَّلَ حلفةٍ … وَإِلا فأنصابٍ يَسِرْنَ بِغَبْغَبِ …

وَكَانَتْ قُرَيْشٌ تَخُصُّهَا بِالإِعْظَامِ

فَلِذَلِكَ يَقُولُ زَيْدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ نُفَيْلٍ وَكَانَ قَدْ تَأَلَّهَ فِي الْجَاهِلِيَّة وَترك عبادتها وَعِبَادَةَ غَيْرِهَا مِنَ الأَصْنَامِ
গাবগাব সম্পর্কে নুহাইকা আল-ফাজারি আমির ইবনে তুফাইলকে লক্ষ্য করে বলেন … হে আমির, যদি আমাদের বর্শাগুলো তোমাকে পেয়ে যেত … এবং মিনার দিকে দ্রুতগামী উষ্ট্রীসমূহ ও গাবগাবের শপথ।

তবে তুমি এক দুঃসাহসী যোদ্ধার যন্ত্রণাদায়ক বর্শাঘাতের সম্মুখীন হতে … অথবা তুমি সেখানে তুচ্ছ অবস্থায় পড়ে থাকতে …

এবং এর (গাবগাবের) বিষয়ে কায়স ইবনে মুনকিজ ইবনে উবাইদ ইবনে দাতির ইবনে হাবাশিয়া ইবনে সালুল আল-খুজায়ি বলেন—বনু কিনানার হুদাদ গোত্রের এক নারী তাকে জন্ম দিয়েছিলেন, আর কেউ কেউ তাকে মুহারিবের হুদাদ বংশীয় মনে করেন; তিনি কায়স ইবনে আল-হাদ্দাদিয়া আল-খুজায়ি নামে পরিচিত— … আমরা প্রথম শপথ হিসেবে আল্লাহর ঘরের তত্ত্বাবধান গ্রহণ করেছি … অন্যথায় গাবগাবে বিদ্যমান মূর্তিসমূহের শপথ …

কুরাইশরা একে বিশেষভাবে সম্মান প্রদর্শন করত।

এই কারণেই যায়েদ ইবনে আমর ইবনে নুফায়েল বলেন—যিনি জাহেলি যুগে একত্ববাদী হয়েছিলেন এবং এর ও অন্যান্য প্রতিমার উপাসনা পরিত্যাগ করেছিলেন—
(খণ্ড: ১) কিতাবুল আসনাম (পৃষ্ঠা: ২২)
تَرَكْتُ اللاتَ وَالْعُزَّى جَمِيعًا … كَذَلِكَ يَفْعَلُ الْجَلِدُ الصَّبُورُ

فَلا الْعُزَّى أَدِينُ وَلا ابْنَتَيْهَا … وَلا صَنَمَيْ بَنِي غنمٍ أَزُورُ

وَلا هُبَلا أَزُورُ وَكَانَ رَبًّا … لَنَا فِي الدَّهْرِ إِذْ حِلْمِي صَغِيرُ …

وَكَانَ سَدَنَةَ الْعُزَّى بَنُو شَيْبَانَ بْنِ جَابر بن مرّة بن عبس بن رِفَاعَة بن الْحَارِث ابْن عتبَة بن سليم بن مَنْصُور من بني سليم

وَكَانَ آخر من سدنها مِنْهُم دبية ابْن حرمى السّلمِيّ

وَله يَقُول أَبُو خراشٍ الْهُذلِيّ وَكَانَ قدم عَلَيْهِ فحذاه نَعْلَيْنِ جيدتين فَقَالَ … حذانى بعد مَا خذمت نِعَالِي … دُبَيَّةُ إِنَّهُ نِعْمَ الْخَلِيلُ

مُقَابِلَتَيْنِ مِنْ صِلْوَيْ مَشَبٍّ … مِنَ الثِّيرَانِ وَصْلُهُمَا جَمِيلُ …
আমি লাত ও উজ্জা উভয়কেই বর্জন করেছি … শক্তিশালী ও ধৈর্যশীল ব্যক্তি এমনই করে থাকে।

আমি না উজ্জার আনুগত্য করি আর না তার দুই কন্যার … এবং আমি বনু গানামের প্রতিমা দুটির কাছেও যাই না।

আর না আমি হুবালের কাছে যাই, যা আমাদের উপাস্য ছিল … সেই অতীতে যখন আমার বুদ্ধি ছিল অপরিপক্ক …

আর উজ্জার রক্ষণাবেক্ষণকারী ছিল বনু সুলাইম গোত্রের বনু শায়বান ইবনে জাবির ইবনে মুররাহ ইবনে আবস ইবনে রিফায়া ইবনুল হারিস ইবনে উতবাহ ইবনে সুলাইম ইবনে মানসুর।

তাদের মধ্যে এর সর্বশেষ রক্ষক ছিল দুবাইয়্যাহ ইবনে হারমি আস-সুলামি।

তার সম্পর্কে আবু খিরাশ আল-হুজালি বলেছেন—তিনি তার নিকট এসেছিলেন এবং তিনি তাকে এক জোড়া উন্নতমানের জুতা পরিয়েছিলেন—অতঃপর তিনি বলেন … আমার জুতা ছিঁড়ে যাওয়ার পর দুবাইয়্যাহ আমাকে জুতা পরিয়েছে … সে কতই না চমৎকার বন্ধু!

তেজি ষাঁড়ের কোমরের দুই পাশের চামড়া দিয়ে তৈরি এক জোড়া জুতা … যাদের জোড়া লাগানো অত্যন্ত সুনিপুণ …
(খণ্ড: ১) কিতাবুল আসনাম (পৃষ্ঠা: ২৩)
فَنِعْمَ مُعَرَّسُ الأَضْيَافِ تَذْحَى … رِحَالُهُمُ شَآمِيَّةٌ بَلِيلُ

يُقَاتل جُوعَهُمْ بمكللاتٍ … مِنَ الْفُرْنِيِّ يَرْعَبُهَا الْجَمِيلُ … فَلَمْ تَزَلِ الْعُزَّى كَذَلِكَ حَتَّى بَعَثَ اللَّهُ نَبِيَّهُ صلى الله عليه وسلم فَعَابَهَا وَغَيَّرَهَا مِنَ الأَصْنَامِ وَنَهَاهُمْ عَنْ عِبَادَتِهَا وَنَزَلَ الْقُرْآنُ فِيهَا

فَاشْتَدَّ ذَلِكَ عَلَى قُرَيْشٍ

وَمَرِضَ أَبُو أُحَيْحَةَ وَهُوَ سعيد بن الْعَاصِ بن أُميَّة ابْن عَبْدِ شَمْسِ بْنِ عَبْدِ مَنَافٍ مَرَضَهُ الَّذِي مَاتَ فِيهِ

فَدَخَلَ عَلَيْهِ أَبُو لهبٍ يَعُودُهُ فَوَجَدَهُ يَبْكِي

فَقَالَ مَا يُبْكِيكَ يَا أَبَا أُحَيْحَةَ أَمِنَ الْمَوْتِ تَبْكِي وَلا بُدَّ مِنْهُ قَالَ لَا

وَلَكِنِّي أَخَاف أَن لَا تُعْبَدَ الْعُزَّى بَعْدِي

قَالَ أَبُو لَهَبٍ وَاللَّه مَا عُبِدَتْ حَيَاتَكَ لأَجْلِكَ وَلا تُتْرَكُ عِبَادَتُهَا بعْدك لموتك فَقَالَ أَبُو أُحَيْحَةَ الآنَ عَلِمْتُ أَنَّ لِي خَلِيفَةً وَأَعْجَبَهُ شِدَّةَ نَصَبِهِ فِي عِبَادَتِهَا
অতিথিদের জন্য এটি কতই না চমৎকার বিশ্রামের স্থান, যখন তাদের আসবাবপত্র সিক্ত হয় … সিরীয় অঞ্চলের আর্দ্র ও শীতল বাতাসে।

তিনি তাদের ক্ষুধার বিরুদ্ধে লড়াই করেন উপচে পড়া বড় পাত্র দিয়ে … যা গলিত চর্বি দ্বারা সিক্ত রুটি দ্বারা পূর্ণ থাকে। … এভাবেই উজ্জা (মূর্তির সম্মান) অটুট ছিল যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে প্রেরণ করলেন। তিনি এর ত্রুটি বর্ণনা করলেন এবং অন্যান্য মূর্তির সাথে এর পরিবর্তন আনলেন, তাদের এর ইবাদত করতে নিষেধ করলেন এবং এ বিষয়ে কুরআন অবতীর্ণ হলো।

এটি কুরাইশদের নিকট অত্যন্ত অসহনীয় হয়ে উঠল।

অতঃপর আবু উহাইহা—যিনি হলেন সাঈদ ইবনুল আস ইবনে উমাইয়্যাহ ইবনে আবদে শামস ইবনে আবদে মানাফ—সেই রোগে আক্রান্ত হলেন যাতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

আবু লাহাব তাকে দেখতে আসলেন এবং তাকে ক্রন্দনরত অবস্থায় পেলেন।

তিনি বললেন, "হে আবু উহাইহা, কিসে আপনাকে কাঁদাচ্ছে? আপনি কি মৃত্যুর ভয়ে কাঁদছেন, অথচ তা তো অনিবার্য?" তিনি বললেন, "না।"

"তবে আমি আশঙ্কা করছি যে, আমার পরে আর উজ্জার ইবাদত করা হবে না।"

আবু লাহাব বললেন, "আল্লাহর কসম, আপনার জীবদ্দশায় তো আপনার খাতিরে এর ইবাদত করা হয়নি, আর আপনার মৃত্যুর কারণে আপনার পরেও এর ইবাদত ছেড়ে দেওয়া হবে না।" তখন আবু উহাইহা বললেন, "এখন আমি জানলাম যে আমার একজন উত্তরসূরি আছে।" উজ্জার ইবাদতের প্রতি আবু লাহাবের এই কঠোর মনোভাব দেখে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত হলেন।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল আসনাম (পৃষ্ঠা: ২৪)
فَلَمَّا كَانَ عَامُ الْفَتْحِ دَعَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم خَالِدَ بْنَ الْوَلِيدِ فَقَالَ انْطَلِقْ إِلَى شجرةٍ بِبَطْنِ نَخْلَةٍ فَاعْضُدْهَا

فَانْطَلَقَ فَأَخَذَ دُبَيَّةَ فَقَتَلَهُ وَكَانَ سَادِنَهَا

فَقَالَ أَبُو خِرَاشٍ الْهُذَلِيُّ فِي دُبَيَّةَ يَرْثِيهِ … مَا لِدُبَيَّةَ مُنْذُ الْيَوْمِ لَمْ أَرَهُ … وَسْطَ الشُّرُوبِ وَلَمْ يُلْمِمْ وَلَمْ يَطِفِ

لَوْ كَانَ حَيًّا لَغَادَاهُمْ بمترعةٍ … مِنَ الرَّوَاوِيقِ مِنْ شِيزَى بَنِي الْهَطِفِ

ضَخْمُ الرَّمَادِ عَظِيمُ الْقِدْرِ جَفْنَتُهُ … حِينَ الشِّتَاءِ كحوض المنهل اللقف

أَمْسَى سقام خلاءً لَا أنيس بِهِ … إِلَّا السبَاع وَمر الرّيح بالغرف …
অতঃপর যখন মক্কা বিজয়ের বছর উপস্থিত হলো, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খালিদ বিন ওয়ালিদকে ডেকে বললেন, "বাতনে নাখলায় অবস্থিত গাছটির নিকট যাও এবং সেটি কেটে ফেলো।"

অতঃপর তিনি যাত্রা করলেন এবং দুবাইয়াহকে পাকড়াও করে হত্যা করলেন; সে ছিল সেই স্থানের তত্ত্বাবধায়ক।

তখন আবু খিরাশ আল-হুযালী দুবাইয়াহর স্মরণে শোকগাথা পাঠ করে বললেন … আজ থেকে দুবাইয়াহর কী হলো যে আমি তাকে আর দেখছি না? … পানকারীদের মজলিসের মাঝেও তাকে দেখা যায় না, সে তো কাছেও আসলো না এবং আশেপাশে প্রদক্ষিণও করলো না।

যদি সে জীবিত থাকত, তবে অবশ্যই সে সকালবেলা তাদের নিকট সুরাপূর্ণ পাত্র নিয়ে আসত … বনী হাতাফের তৈরিকৃত কালো কাঠের পাত্রে রাখা পরিশ্রুত পানীয় হতে।

সে ছিল প্রচুর ছাই এবং বিশাল ডেকচির অধিকারী (অত্যধিক দানশীল), আর তার বড় খাদ্যপাত্রটি … শীতকালে কানায় কানায় পূর্ণ জলাধারের ন্যায় থাকত।

সুকাম উপত্যকা আজ জনশূন্য হয়ে পড়েছে যেখানে কোনো সঙ্গী নেই … হিংস্র পশু এবং কক্ষগুলোর ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া বাতাস ব্যতীত …
(খণ্ড: ১) কিতাবুল আসনাম (পৃষ্ঠা: ২৫)
قَالَ أَبُو الْمُنْذِرِ يَطِيفُ مِنَ الطُّوفَانِ مِنْ طَافَ يَطِيفُ وَالهَطِفُ بَطْنٌ مِنْ بَنِي عَمْرِو بن أسدٍ اللقف الْحَوْض المنكسر الَّذِي يضْرب أَصله المَاء فيتثلم يُقَال قد لقف الْحَوْض

حَدَّثَنَا الْعَنَزِيُّ أَبُو عَلِيٍّ قَالَ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الصَّبَّاحِ قَالَ أَخْبَرَنَا أَبُو الْمُنْذِرِ قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ

كَانَتِ الْعُزَّى شَيْطَانَةً تَأْتِي ثَلاثَ سمراتٍ بِبَطْنِ نَخْلَةٍ

فَلَمَّا افْتَتَحَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مَكَّةَ بَعَث خَالِدَ بْنَ الْوَلِيد فَقَالَ لَهُ إيت بَطْنَ نَخْلَةٍ فَإِنَّكَ تَجِدُ ثَلاثَ سمراتٍ فَاعْضُدِ الأولى فَأَتَاهَا فعضدها

فَلَمَّا جَاءَ إِلَيْهِ عليه السلام قَالَ هَلْ رَأَيْتَ شَيْئًا قَالَ لَا

قَالَ فَاعْضُدِ الثَّانِيَةَ فَأَتَاهَا فَعَضَدَهَا

ثُمَّ أَتَى النَّبِيَّ عليه السلام فَقَالَ هَلْ رَأَيْتَ شَيْئًا قَالَ لَا

قَالَ فَاعْضُدِ الثَّالِثَةَ فَأَتَاهَا

فَإِذَا هُوَ بِحَبَشِيَّةٍ نافشةٍ شعرهَا واضعةٍ يَديهَا على عاتقها تصرف بأنيابها وَخَلفهَا دبية بن حرمى الشَّيْبَانِيّ ثمَّ السُّلَمِيُّ وَكَانَ سَادِنَهَا

فَلَمَّا نَظَرَ إِلَى خالدٍ قَالَ
আবু মুনজির বলেন, 'ইয়াতিফু' শব্দটি 'তুফান' থেকে এসেছে যা 'তাফা-ইয়াতিফু' ধাতু থেকে উদ্ভূত। আল-হাতিফ হলো বনু আমর ইবনে আসাদ গোত্রের একটি শাখা। 'লাকাফ' হলো সেই ভগ্ন পানির চৌবাচ্চা যার তলদেশে পানি আঘাত করে এবং ফলে সেটি ক্ষয়ে যায়; বলা হয় 'চৌবাচ্চাটি লাকাফ হয়েছে' (ভেঙে গেছে)।

আল-আনাযি আবু আলী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আলী ইবনুল সাব্বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবু মুনজির আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা আমার নিকট আবু সালিহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

'উয্যা' ছিল এক নারী শয়তান, যে নাখলা উপত্যকায় তিনটি বাবলা গাছের কাছে আসত।

যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মক্কা বিজয় করলেন, তখন তিনি খালিদ ইবনে ওয়ালিদকে পাঠালেন এবং তাকে বললেন, "তুমি নাখলা উপত্যকায় যাও, সেখানে তুমি তিনটি বাবলা গাছ পাবে। তুমি প্রথমটি কেটে ফেলো।" তিনি সেখানে গেলেন এবং সেটি কেটে ফেললেন।

যখন তিনি নবী (আলাইহিস সালাম)-এর কাছে ফিরে এলেন, তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "তুমি কি কিছু দেখেছিলে?" তিনি বললেন, "না।"

তিনি বললেন, "তাহলে দ্বিতীয়টি কাটো।" তিনি সেখানে গেলেন এবং সেটি কেটে ফেললেন।

এরপর তিনি নবী (আলাইহিস সালাম)-এর কাছে এলেন, নবী (আলাইহিস সালাম) জিজ্ঞেস করলেন, "তুমি কি কিছু দেখেছিলে?" তিনি বললেন, "না।"

তিনি বললেন, "তাহলে তৃতীয়টি কাটো।" তিনি সেখানে গেলেন।

হঠাৎ তিনি এক হাবশী নারীকে দেখতে পেলেন যার চুল ছিল উস্কোখুস্কো, সে তার দুই হাত তার কাঁধের উপর রেখেছিল এবং দাঁত কিড়মিড় করছিল। তার পেছনে ছিল দুবিয়া ইবনে হারামি আশ-শায়বানি, অতঃপর আস-সুলামি, যে ছিল সেই প্রতিমার তত্ত্বাবধায়ক।

যখন সে খালিদের দিকে তাকাল, তখন সে বলল-
(খণ্ড: ১) কিতাবুল আসনাম (পৃষ্ঠা: ২৬)
أعزاء شُدِّي شَدَّةً لَا تَكْذِبِي … عَلَى خالدٍ أَلْقِي الْخِمَارَ وَشَمِّرِي

فَإِنَّكِ إِلا تَقْتُلِي الْيَوْمَ خَالِدًا … تبوئى بذل عَاجلا وَتُنْصَرِي …

فَقَالَ خَالِدٌ … يَا عِزُّ كُفْرَانَكِ لَا سُبْحَانَكِ … إِنِّي رَأَيْتُ اللَّهَ قَدْ أَهَانَكِ … ثُمَّ ضَرَبَهَا فَفَلَقَ رَأْسَهَا فَإِذَا هِيَ حُمَمَةٌ ثُمَّ عَضَدَ الشَّجَرَةَ وَقَتَلَ دُبَيَّةَ السَّادِنَ

ثُمَّ أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرَهُ

فَقَالَ تِلْكَ الْعُزَّى وَلا عُزَّى بَعْدَهَا لِلْعَرَبِ أَمَا إِنَّهَا لَنْ تُعْبَدَ بَعْدَ الْيَوْمِ
হে উজ্জা, প্রবল শক্তিতে আক্রমণ করো, মোটেও মিথ্যা করো না … খালিদের ওপর তোমার ওড়না ছুড়ে দাও এবং প্রস্তুত হও।

কেননা আজ যদি তুমি খালিদকে হত্যা করতে না পারো … তবে তুমি অতি দ্রুত লাঞ্ছনা বরণ করবে এবং সে বিজয়ী হবে …

অতঃপর খালিদ বললেন … হে উজ্জা, তোমার প্রতি আমার অবিশ্বাস, কোনো স্তুতি নয় … আমি দেখেছি যে আল্লাহ তোমাকে লাঞ্ছিত করেছেন … তারপর তিনি তাকে আঘাত করলেন এবং তার মাথা দ্বিখণ্ডিত করে ফেললেন, তখন দেখা গেল সে একটি কালো কয়লার মতো। এরপর তিনি গাছটি কেটে ফেললেন এবং এর খাদেম দুবাইয়াহকে হত্যা করলেন।

অতঃপর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলেন এবং তাঁকে বিষয়টি অবহিত করলেন।

তিনি বললেন, "সেটিই ছিল উজ্জা, আর আরবদের জন্য এরপর আর কোনো উজ্জা নেই। জেনে রেখো, আজকের পর আর কখনোই তার উপাসনা করা হবে না।"
(খণ্ড: ১) কিতাবুল আসনাম (পৃষ্ঠা: ২৭)
فَقَالَ أَبُو خرٍاش فِي دُبَيَّةَ الشِّعْرَ الَّذِي تَقَدَّمَ

قَالَ أَبُو الْمُنْذِرِ وَلَمْ تَكُنْ قُرَيْشٌ بِمَكَّةَ وَمَنْ أَقَامَ بِهَا مِنَ الْعَرَبِ يُعَظِّمُونَ شَيْئًا مِنَ الأَصْنَامِ إِعْظَامَهُمُ الْعُزَّى ثُمَّ اللاتَ ثُمَّ مَنَاةَ

فَأَمَّا الْعُزَّى فَكَانَتْ قُرَيْشٌ تَخُصُّهَا دُونَ غَيْرِهَا بِالزِّيَارَةِ وَالْهَدِيَّةِ

وَذَلِكَ فِيمَا أَظُنُّ لقربها كَانَ مِنْهَا

وَكَانَتْ ثَقِيفٌ تَخُصُّ اللاتَ كَخَاصَّةِ قريشٍ الْعُزَّى

وَكَانَتِ الأَوْسُ وَالْخَزْرَجُ تَخُصُّ مَنَاةَ كَخَاصَّةِ هَؤُلَاءِ الآخرين

وَكلهمْ كَانَ مُعظما لَهَا أَي للعزى

وَلَمْ يَكُونُوا يَرَوْنَ فِي الْخَمْسَةِ الأَصْنَامِ الَّتِي دَفعهَا عَمْرو بن لحى وَهِي الَّتِي ذكرهَا الله تَعَالَى فِي الْقُرْآن الْمجِيد حَيْثُ قَالَ وَلا تَذَرُنَّ وَدًّا وَلا سُوَاعًا وَلا يَغُوثَ ويعوق ونسراً

كَرَأْيِهِمْ فِي هَذِهِ وَلا قَرِيبًا مِنْ ذَلِكَ

فَظَنَنْت أَن ذَلِك كَانَ لبعدها مِنْهُم

وَكَانَت قُرَيْش تعظمها وَكَانَت غنى وباهلة يعبدونها مَعَهم

فَبعث النَّبِي خَالِد ابْن الْوَلِيد فَقطع الشّجر وَهدم الْبَيْت وَكسر الوثن

وَكَانَت لقريش أصنام فِي جَوف الْكَعْبَة وحولها

وَكَانَ أَعْظَمُهَا عِنْدَهُمْ هُبَلَ
আবু খিরাশ দুবাইয়্যাহ সম্পর্কে সেই কবিতাটি আবৃত্তি করলেন যা ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

আবুল মুনজির বলেন, মক্কায় কুরাইশরা এবং সেখানে বসবাসকারী আরবরা আল-উজ্জা, এরপর আল-লাত এবং এরপর মানাতকে যতটা সম্মান করত, অন্য কোনো মূর্তিকে ততটা সম্মান করত না।

আর উজ্জার ক্ষেত্রে কুরাইশরা একে যিয়ারত করা এবং এখানে হাদিয়া বা উপঢৌকন প্রদানের জন্য অন্য সবকিছুর তুলনায় বিশেষভাবে নির্দিষ্ট করে নিয়েছিল।

আমার ধারণা মতে এটি ছিল তাদের থেকে এর নৈকট্যের কারণে।

সাকিফ গোত্র লাতকে সেভাবেই বিশেষ গুরুত্ব দিত যেভাবে কুরাইশরা উজ্জাকে দিত।

আউস ও খাজরাজ গোত্র মানাতকে সেভাবেই বিশেষ গুরুত্ব দিত যেভাবে তারা (অন্যরা) ওই অপর মূর্তিদের দিত।

এবং তারা সবাই উজ্জাকে অত্যন্ত সম্মানকারী ছিল।

আর আমর ইবনে লুহাই যে পাঁচটি মূর্তির প্রচলন করেছিল—যেগুলো সম্পর্কে মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে উল্লেখ করেছেন: "তোমরা কখনো ত্যাগ করো না ওয়াদ্দ, সুওয়া, ইয়াগুস, ইয়াউক ও নাসরকে"—সেগুলোর ব্যাপারে তাদের ধারণা বা ভক্তি এমন ছিল না।

অর্থাৎ এই মূর্তিদের প্রতি তাদের যে মনোভাব ছিল, সেগুলোর ব্যাপারে তেমনটি ছিল না, এমনকি তার কাছাকাছিও ছিল না।

আমি মনে করি এর কারণ ছিল তাদের থেকে ওই মূর্তিগুলোর দূরত্ব।

কুরাইশরা একে সম্মান করত এবং গানি ও বাহিলা গোত্রও তাদের সাথে এর পূজা করত।

অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খালিদ ইবনে ওয়ালিদকে প্রেরণ করলেন; তিনি গাছগুলো কেটে ফেললেন, ঘরটি গুঁড়িয়ে দিলেন এবং মূর্তিটি ভেঙে ফেললেন।

কাবার অভ্যন্তরে এবং এর চারপাশে কুরাইশদের আরও অনেক মূর্তি ছিল।

তাদের কাছে সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় ছিল হুবাল।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল আসনাম (পৃষ্ঠা: ২৮)
وَكَانَ فِيمَا بَلَغَنِي مِنْ عَقِيقٍ أَحْمَرَ عَلَى صُورَةِ الإِنْسَانِ مَكْسُورَ الْيَدِ الْيُمْنَى

أَدْرَكَتْهُ قُرَيْشٌ كَذَلِكَ فَجَعَلُوا لَهُ يَدًا مِنْ ذهبٍ

وَكَانَ أَوَّلُ مَنْ نَصَبَهُ خُزَيْمَةَ بْنَ مُدْرِكَةَ بْنِ إِلْيَاسَ بْنِ مُضَرَ

وَكَانَ يُقَالُ لَهُ هُبَلُ خُزَيْمَةَ

وَكَانَ فِي جَوْفِ الْكَعْبَةِ قُدَّامَهُ سَبْعَةُ أقدحٍ

مَكْتُوبٌ فِي أَوَّلِهَا صَرِيحٌ وَالآخَرُ مُلْصَقٌ فَإِذا شكوا فِي مَوْلُود أَهَدَوْا لَهُ هَدِيَّةً ثُمَّ ضَرَبُوا بِالْقِدَاحِ

فَإِن خرج صَرِيح ألحقوه وَإِن خرج ملصق دَفَعُوهُ

وَقِدْحٌ عَلَى الْمَيِّتِ وَقِدْحٌ عَلَى النِّكَاحِ وَثَلاثَةٌ لَمْ تُفَسَّرْ لِي عَلَى مَا كَانَتْ

فَإِذَا اخْتَصَمُوا فِي أمرٍ أَوْ أَرَادُوا سَفَرًا أَوْ عَمَلا أَتَوْهُ فَاسْتَقْسَمُوا بِالْقِدَاحِ عِنْدَهُ

فَمَا خَرَجَ عَمِلُوا بِهِ وَانْتَهَوْا إِلَيْهِ

وَعِنْدَهُ ضَرَبَ عبد الْمطلب بِالْقداحِ على ابْنه عبد الله وَالِد النَّبِي صلى الله عليه وسلم

وَهُوَ الَّذِي يَقُولُ لَهُ أَبُو سُفْيَانَ بْنُ حربٍ حِينَ ظَفِرَ يَوْمَ أحدٍ اعْلُ هُبَلُ أَيْ عَلا دِينُكَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم اللَّهُ أَعْلَى وَأَجَلُّ
আমার কাছে যে সংবাদ পৌঁছেছে তাতে এটি ছিল মানুষের আকৃতিতে লাল আকিক পাথরের তৈরি, যার ডান হাতটি ছিল ভাঙা।

কুরাইশরা একে এই অবস্থায় পেয়েছিল, তাই তারা এর জন্য সোনার একটি হাত তৈরি করে দেয়।

আর একে প্রথম স্থাপন করেছিলেন খুজাইমা ইবনে মুদরিকা ইবনে ইলিয়াস ইবনে মুদার।

একে খুজাইমার হুবাল বলা হতো।

এটি ছিল কাবার অভ্যন্তরে এবং এর সামনে সাতটি ভাগ্যনির্ধারক তীর ছিল।

তাদের প্রথমটিতে লেখা ছিল 'সুস্পষ্ট' এবং অন্যটিতে 'সংযুক্ত'। যখন তারা কোনো নবজাতকের বংশপরিচয় নিয়ে সন্দেহ করত, তখন তারা এর নামে উপঢৌকন দিত এবং তীরগুলো দিয়ে লটারি করত।

যদি 'সুস্পষ্ট' লেখা তীর বের হতো তবে তাকে বংশের অন্তর্ভুক্ত করত, আর যদি 'সংযুক্ত' লেখা তীর বের হতো তবে তাকে প্রত্যাখ্যান করত।

একটি তীর ছিল মৃত ব্যক্তি সম্পর্কে, একটি বিবাহের বিষয়ে, আর বাকি তিনটি কী উদ্দেশ্যে ছিল তা আমার কাছে ব্যাখ্যা করা হয়নি।

যখন তারা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হতো অথবা সফর বা কোনো কাজের ইচ্ছা করত, তখন তারা এর কাছে আসত এবং এর সামনে তীরগুলো দিয়ে ভাগ্য নির্ধারণ করত।

যা ফলাফল বের হতো তারা সে অনুযায়ী কাজ করত এবং তার ওপরই স্থির থাকত।

এর কাছেই আব্দুল মুত্তালিব তাঁর পুত্র এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পিতা আবদুল্লাহর ব্যাপারে ভাগ্যনির্ধারক তীর নিক্ষেপ করেছিলেন।

এটি সেই মূর্তি যাকে উদ্দেশ্য করে আবু সুফিয়ান ইবনে হারব উহুদ যুদ্ধের দিন বিজয়ী হয়ে বলেছিল, 'হুবাল উন্নত হোক', অর্থাৎ তোমার দ্বীন জয়ী হোক। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন, 'আল্লাহ অধিক উন্নত এবং সুমহান'।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল আসনাম (পৃষ্ঠা: ২৯)
وَكَانَ لَهُمْ إِسَافٌ وَنَائِلَةُ لَمَّا مُسِخَا حَجَرَيْنِ وُضِعَا عِنْدَ الْكَعْبَةِ لِيَتَّعِظَ النَّاسُ بِهِمَا

فَلَمَّا طَالَ مُكْثُهُمَا وَعُبِدَتِ الأَصْنَامُ عُبِدَا مَعَهَا

وَكَانَ أَحدهمَا بلصق الْكَعْبَة وَالْآخر فِي مَوضِع زَمْزَم

فنقلت قُرَيْش الَّذِي كَانَ بِلِصْقِ الْكَعْبَةِ إِلَى الآخَرِ

فَكَانُوا يَنْحَرُونَ وَيَذْبَحُونَ عِنْدَهُمَا

فَلَهُمَا يَقُولُ أَبُو طَالِبٍ وَهُوَ يَحْلِفُ بِهِمَا حِينَ تَحَالَفَتْ قُرَيْشٌ عَلَى بَنِي هَاشِمٍ فِي أَمْرِ النَّبِيِّ عليه السلام … أَحْضَرْتُ عِنْدَ الْبَيْتِ رَهْطِي وَمَعْشَرِي … وَأَمْسَكْتُ مِنْ أَثْوَابِهِ بِالْوَصَائِلِ

وَحَيْثُ يُنِيخُ الأَشْعَرُونَ رِكَابَهُمْ … بِمُفْضَى السُّيُولِ مِنْ إسافٍ ونائل …

قَالَ والوصائل البرود

ولإسافٍ يَقُول بشر بن أَبى خازم الْأَسدي … عَلَيْهِ الطَّيْرُ مَا يَدْنُونَ مِنْهُ … مَقَامَاتِ الْعَوَارِكِ من إساف …
তাদের নিকট ইসাফ ও নায়িলা ছিল। যখন তারা দুটি পাথরে রূপান্তরিত হয়েছিল, তখন তাদের কাবার নিকটে রাখা হয়েছিল যাতে মানুষ তাদের দেখে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে।

অতঃপর যখন তাদের অবস্থানের সময় দীর্ঘ হলো এবং মূর্তিপূজা শুরু হলো, তখন অন্যান্য মূর্তির সাথে তাদেরও পূজা করা হতে লাগল।

তাদের একজন ছিল কাবার সংলগ্ন এবং অপরজন ছিল যমযমের স্থানে।

অতঃপর কুরাইশরা কাবার সংলগ্ন মূর্তিটিকে অন্যটির নিকট সরিয়ে নিয়ে গেল।

তারা তাদের নিকট (পশু) নহর ও যবাই করত।

তাদের সম্বন্ধেই আবু তালিব বলেছিলেন, যখন তিনি তাদের নামে শপথ করছিলেন সেই মুহূর্তে যখন কুরাইশরা নবী আলাইহিস সালামের ব্যাপারে বনু হাশিমের বিরুদ্ধে পরস্পর চুক্তিবদ্ধ হয়েছিল … আমি বাইতুল্লাহর নিকট উপস্থিত করেছি আমার স্বজন ও গোষ্ঠীকে … এবং আমি এর বস্ত্রসমূহের মধ্য হতে 'ওয়াসাইল' (এক প্রকার চাদর) আঁকড়ে ধরেছি।

এবং যেখানে আশআরিরা তাদের সওয়ারিগুলো বসায় … ইসাফ ও নায়িলার নিকটবর্তী ঢালু উপত্যকায় …

তিনি বলেন, ওয়াসাইল হলো ইয়ামেনি চাদর।

আর ইসাফের উদ্দেশ্যে বিশর ইবনে আবি খাযিম আল-আসাদি বলেন … তার ওপর পাখিগুলো এমন স্থির থাকে যে তারা নড়ে না … ইসাফের নিকটে ঋতুবতী মহিলাদের অবস্থানের ন্যায় …
(খণ্ড: ১) কিতাবুল আসনাম (পৃষ্ঠা: ৩০)
وَقد كَانَت الْعَرَبُ تُسَمِّي بِأَسْمَاءٍ يَعْبُدُونَهَا

لَا أَدْرِي أَعَبَدُوهَا للأصنام أم لَا مِنْهَا عبد يَا ليل وَعبد غنم وَعبد كلال وَعبد رِضًى

وَذَكَرَ بَعْضُ الرُّوَاةِ أَنَّ رِضًى كَانَ بَيْتًا لِبَنِي رَبِيعَةَ بْنِ كَعْبِ بْنِ سَعْدِ بْنِ زَيْدِ مَنَاةَ فَهَدَمَهُ الْمُسْتَوْغِرُ

وَهُوَ عَمْرُو بْنُ رَبِيعَةَ بْنِ كَعْبِ بْنِ سَعْدِ بْنِ زَيْدِ مَنَاةَ بْنِ تَمِيمٍ

وَإِنَّمَا سُمِّيَ الْمُسْتَوْغِرَ لأَنَّهُ قَالَ … يَنِشُّ الْمَاءُ فِي الرَّبَلات مِنْهَا … نشيش الرضف فِي اللَّبَنِ الْوَغِيرِ …

قَالَ الْوَغِيرُ الْحَارُّ

وَقَالَ الْمُسْتَوْغِرُ فِي كَسْرِهِ رِضًى فِي الإِسْلامِ فَقَالَ … وَلَقَدْ شَدَدْتُ عَلَى رِضَاءَ شَدَّةً … فَتَرَكْتُهَا تَلا تُنَازِعُ أَسْحَمَا

… وَدَعَوْتُ عَبْدَ اللَّهِ فِي مَكْرُوهِهَا … وَلِمِثْلِ عَبْدِ اللَّهِ يُغْشَى الْمَحْرَمَا … وَقَالَ ابْنُ أَدْهَمَ رَجُلٌ مِنْ بَنِي عَامِرِ بْنِ عوفٍ مِنْ كَلْبٍ … وَلَقَدْ لَقِيتُ فَوَارِسًا مِنْ قَوْمِنَا … غَنَظُوكَ غَنْظَ جَرَادَةِ الْعَيَّارِ

وَلَقَدْ رَأَيْتُ مَكَانَهُمْ فَكَرِهْتُهُمْ … كَكَرَاهَةِ الْخِنْزِيرِ لِلإِيغَارِ …
আরবরা এমন সব নামে নামকরণ করত যাদের তারা উপাসনা করত।

আমি জানি না তারা এগুলো মূর্তির কারণে উপাসনা করত কি না; এগুলোর মধ্যে রয়েছে আবদে ইয়া লাইল, আবদে গনাম, আবদে কালাল এবং আবদে রিদা।

কোনো কোনো বর্ণনাকারী উল্লেখ করেছেন যে, রিদা ছিল বনু রাবীআ ইবনে কাব ইবনে সাদ ইবনে যায়েদ মানাতের একটি উপাসনালয়, যা আল-মুস্তাওগির ধ্বংস করেছিলেন।

তিনি হলেন আমর ইবনে রাবীআ ইবনে কাব ইবনে সাদ ইবনে যায়েদ মানাত ইবনে তামীম।

তাঁকে আল-মুস্তাওগির নামকরণ করার কারণ হলো তিনি বলেছিলেন: … উরুর মাংসে পানি টগবগ করছে … যেমন তপ্ত দুধে গরম পাথরের শব্দ হয় …

তিনি বলেন, ওয়াগির অর্থ অত্যন্ত উত্তপ্ত।

ইসলামের যুগে রিদা ধ্বংস করার ব্যাপারে আল-মুস্তাওগির বলেন: … আমি রিদার ওপর এক প্রচণ্ড আক্রমণ চালিয়েছিলাম … অতঃপর আমি তাকে এমন অবস্থায় ছেড়ে এসেছি যে সে কৃষ্ণবর্ণ শিখার সাথে মিশে যাচ্ছিল (ভস্মীভূত হচ্ছিল)।

… এবং তার বিপদের সময় আমি আব্দুল্লাহকে ডেকেছিলাম … আর আব্দুল্লাহর মতো বীরের জন্যই নিষিদ্ধ স্থানে প্রবেশ করা হয় … কালব গোত্রের বনু আমির ইবনে আউফ-এর জনৈক ব্যক্তি ইবনে আধহাম বলেছেন: … আমি আমাদের সম্প্রদায়ের এমন অশ্বারোহীদের সাথে সাক্ষাৎ করেছি … যারা তোমাকে আইয়ারের পঙ্গপালের মতো যন্ত্রণাবিদ্ধ করেছে।

আমি তাদের আবাসস্থল দেখেছি এবং তাদের অপছন্দ করেছি … যেমন শূকর উত্তপ্ত হওয়াকে অপছন্দ করে …
(খণ্ড: ১) কিতাবুল আসনাম (পৃষ্ঠা: ৩১)
قَالَ

الإِيغَارُ الْمَاءُ الْحَارُّ

وَالْعَيَّارُ رَجُلٌ مِنْ كلبٍ وَقَعَ فِي غداةٍ قرةٍ عَلَى جرادٍ

وَكَانَ أَثْرَمَ

فَجَعَلَ يَأْكُلُ الْجَرَادَ

فَخَرَجَتْ وَاحِدَةٌ مِنْ ثُرْمَتِهِ

فَقَالَ هَذِهِ وَاللَّهِ حَيَّةٌ يَعْنِي لم تمت

وغنظوك دفعوك دفع الجرادة الْعيار

فَلَمَّا ظهر رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ فَتْحِ مَكَّةَ دَخَلَ الْمَسْجِدَ وَالأَصْنَامُ مَنْصُوبَةٌ حَوْلَ الْكَعْبَةِ

فَجَعَلَ يَطْعَنُ بِسِيَةِ قَوْسِهِ فِي عُيُونِهَا وَوُجُوهِهَا وَيَقُولُ {جَاءَ الْحَقُّ وَزَهَقَ الْبَاطِلُ إِنَّ الْبَاطِل كَانَ زهوقاً}

ثُمَّ أَمَرَ بِهَا فَكُفِئَتْ عَلَى وُجُوهِهَا

ثُمَّ أخرجت من الْمَسْجِد فَحُرِّقَتْ

فَقَالَ فِي ذَلِكَ رَاشِدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ السُّلَمِيُّ … قَالَتْ هَلُمَّ إِلَى الْحَدِيثِ فَقُلْتُ لَا … يَأْبَى الْإِلَه عَلَيْك وَالْإِسْلَام

أَو مَا رَأَيْتِ مُحَمَّدًا وَقَبِيلَهُ … بِالْفَتْحِ حِينَ تُكْسَرُ الأَصْنَامُ

لَرَأَيْتِ نُورَ اللَّهِ أَضْحَى سَاطِعًا … وَالشِّرْكُ يَغْشَى وَجهه الإظلام …
তিনি বললেন

ইগার হলো উত্তপ্ত পানি

আর আইয়্যার ছিল কালব গোত্রের এক ব্যক্তি, যে এক হাড়কাঁপানো শীতের সকালে কিছু পঙ্গপালের দেখা পেয়েছিল

সে ছিল সামনের দাঁত ভাঙা

সে পঙ্গপালগুলো খেতে শুরু করল

তখন তার দাঁতের ফাঁক দিয়ে একটি পঙ্গপাল বেরিয়ে গেল

সে বলল, আল্লাহর কসম এটি তো জীবিত, অর্থাৎ এটি মারা যায়নি

আর ‘তারা তোমাকে কষ্ট দিল’ অর্থ তারা তোমাকে আইয়্যারের পঙ্গপালের মতো সজোরে ধাক্কা দিয়ে তাড়িয়ে দিল

অতঃপর যখন মক্কা বিজয়ের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিজয়ী হলেন, তখন তিনি মসজিদে প্রবেশ করলেন এবং তখন কাবার চারদিকে মূর্তিসমূহ স্থাপিত ছিল

তিনি তাঁর ধনুকের অগ্রভাগ দিয়ে সেগুলোর চোখ ও মুখে আঘাত করতে লাগলেন এবং বলতে লাগলেন, {সত্য এসেছে এবং মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে; নিশ্চয় মিথ্যা বিলুপ্ত হওয়ারই বিষয়}

এরপর তিনি সেগুলোর ব্যাপারে নির্দেশ দিলেন এবং সেগুলো উপুড় করে ফেলে দেওয়া হলো

অতঃপর সেগুলো মসজিদ থেকে বের করে পুড়িয়ে ফেলা হলো

এ বিষয়ে রাশিদ ইবনে আবদুল্লাহ আস-সুলামি বললেন … সে (নারী) বলল, এসো আলাপ করি, আমি বললাম, না … আল্লাহ এবং ইসলাম তোমার এই প্রস্তাবে অসম্মতি জানায়

তুমি কি মুহাম্মদ এবং তাঁর বাহিনীকে দেখনি … বিজয়ের মুহূর্তে যখন মূর্তিসমূহ চূর্ণবিচূর্ণ করা হচ্ছিল

তবে তুমি আল্লাহর নূরকে উজ্জ্বলভাবে বিকিরিত হতে দেখতে পেতে … আর শিরকের মুখমণ্ডলকে অন্ধকার আচ্ছন্ন করে দিচ্ছিল …
(খণ্ড: ১) কিতাবুল আসনাম (পৃষ্ঠা: ৩২)
قَالَ وَكَانَ لَهُم أَيْضا منَاف

فبه كَانَتْ تُسَمِّي قُرَيْشٌ عَبْدَ مَنَافٍ

وَلا أَدْرِي أَيْنَ كَانَ وَلا مَنْ نَصَبَهُ وَلَمْ تَكُنِ الْحُيَّضُ مِنَ النِّسَاءِ تَدْنُو مِنْ أَصْنَامِهِمْ وَلا تمسح بهَا

إِنَّمَا كَانَت تَقِفُ نَاحِيَةً مِنْهَا

فَفِي ذَلِكَ يَقُولُ بَلْعَاءُ بْنُ قَيْسِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَعْمُرَ وَهُوَ الشَّدَّاخُ اللَّيْثِيُّ وَكَانَ أَبْرَصَ

قَالَ هِشَامُ بْنُ مُحَمَّدٍ أَبُو الْمُنْذِرِ وَحَدَّثَنِي خَالِدُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ الْعَاصِ عَنْ أِبيِه قَالَ قِيلَ لَهُ مَا هَذَا يَا بَلْعَاءُ قَالَ هَذَا سيف الله جلاه … تركت ابْن الحريز على ذمام … وصحبته تلوذ بِهِ العوافي

وَلم يصرف صُدُور الْخَيل إِلَّا … صوايح من أياتيم ضِعَاف

وقرنٍ قَدْ تَرَكْتُ الطَّيْرُ مِنْهُ … كَمُعْتَنِزِ الْعَوَارِكِ من منَاف …
তিনি বলেন, তাদের 'মনাফ' নামেও একটি প্রতিমা ছিল।

এর নামানুসারেই কুরাইশরা 'আবদ মানাফ' নাম রাখত।

আমি জানি না এটি কোথায় অবস্থিত ছিল এবং কে এটি স্থাপন করেছিল। আর ঋতুবতী মহিলারা তাদের প্রতিমাগুলোর নিকটবর্তী হতো না এবং সেগুলো স্পর্শ করত না।

তারা কেবল সেগুলোর এক পাশে দাঁড়িয়ে থাকত।

এই বিষয়েই বালআ ইবনে কায়স ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে ইয়ামুর বলেন—যিনি আশ-শাদ্দাখ আল-লাইসি নামে পরিচিত ছিলেন এবং তিনি ধবলরোগী ছিলেন—

হিশাম ইবনে মুহাম্মদ আবুল মুনজির বলেন, খালিদ ইবনে সাঈদ ইবনুল আস তাঁর পিতার সূত্রে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, হে বালআ! এটি কী? তিনি বললেন: এটি আল্লাহর তলোয়ার যা তিনি উজ্জ্বল করেছেন … আমি ইবনুল হারিযকে আশ্রিত অবস্থায় ছেড়েছি … আর তার সাহচর্যে অভাবগ্রস্তরা আশ্রয় নেয়।

আর ঘোড়াগুলোর সম্মুখভাগ কেবল তখনই ফিরেছে যখন … দুর্বল এতিমদের আর্তনাদ শোনা গেছে।

আর এমন এক প্রতিদ্বন্দ্বী, যার দেহকে আমি এমন অবস্থায় ফেলে এসেছি যে তার ওপর পাখি উড়ছে … যেন মনাফ প্রতিমা থেকে দূরে সরে থাকা ঋতুবতী নারী …
(খণ্ড: ১) কিতাবুল আসনাম (পৃষ্ঠা: ৩৩)
قَالَ وَكَانَ لأَهْلِ كُلِّ دارٍ مِنْ مَكَّةَ صنم فِي دَارهم يَعْبُدُونَهُ

فَإِذَا أَرَادَ أَحَدُهُمُ السَّفَرَ كَانَ آخِرَ مَا يَصْنَعُ فِي مَنْزِلِه أَنْ يَتَمَسَّحَ بِهِ وَإِذَا قَدِمَ مِنْ سَفَرِهِ كَانَ أَوَّلَ مَا يَصْنَعُ إِذَا دَخَلَ مَنْزِلَهُ أَنْ يَتَمَسَّحَ بِهِ أَيْضًا

فَلَمَّا بَعَثَ اللَّهُ نَبِيَّهُ وَأَتَاهُمْ بِتَوْحِيدِ اللَّهِ وَعِبَادَتِهِ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ قَالُوا أَجَعَلَ الآلِهَةَ إِلَهًا وَاحِدًا إِنَّ هَذَا لِشَيْءٍ عُجَابٍ يَعْنُونَ الأَصْنَامَ

وَاسْتَهْتَرَتِ الْعَرَبُ فِي عِبَادَةِ الأَصْنَامِ فَمِنْهُمْ مَنِ اتَّخَذَ بَيْتًا وَمِنْهُمْ مَنِ اتَّخَذَ صَنَمًا وَمَنْ لَمْ يَقْدِرْ عَلَيْهِ وَلا عَلَى بِنَاءِ بيتٍ نَصَبَ حَجَرًا أَمَامَ الْحَرَمِ وَأَمَامَ غَيْرِهِ مِمَّا اسْتَحْسَنَ ثُمَّ طَافَ بِهِ كطوافه بِالْبَيْتِ

وسموها الأنصاب

فَإِذا كَانَتْ تَمَاثِيلَ دَعَوْهَا الأَصْنَامَ وَالأَوْثَانَ وَسَمَّوْا طَوَافَهُمْ الدَّوَارَ

فَكَانَ الرَّجُلُ إِذَا سَافَرَ فَنَزَلَ مَنْزِلا أَخَذَ أَرْبَعَةَ أَحْجَارٍ فَنَظَرَ إِلَى أَحْسَنِهَا فَاتَّخَذَهُ رَبًّا وَجَعَلَ ثَلاثَ أَثَافِي لِقِدْرِهِ وَإِذَا ارْتَحَلَ تَركه

فَإِذا نَزَلَ مَنْزِلا آخَرَ فَعَلَ مِثْلَ ذَلِكَ

فَكَانُوا يَنْحَرُونَ وَيَذْبَحُونَ عِنْدَ كُلِّهَا وَيَتَقَرَّبُونَ إِلَيْهَا وَهُمْ على ذَلِك عَارِفُونَ بِفَضْلِ الْكَعْبَةِ عَلَيْهَا يَحُجُّونَهَا وَيَعْتَمِرُونَ إِلَيْهَا

وَكَانَ الَّذين يَفْعَلُونَ من ذَلِكَ فِي أَسْفَارِهِمْ إِنَّمَا هُوَ لِلاقْتِدَاءِ مِنْهُمْ بِمَا يَفْعَلُونَ عِنْدَهَا وَلِصَبَابَةٍ بِهَا
তিনি বলেন, মক্কার প্রতিটি ঘরের অধিবাসীদের জন্য তাদের ঘরে একটি করে মূর্তি ছিল, যার তারা উপাসনা করত।

যখন তাদের কেউ সফরে যাওয়ার ইচ্ছা করত, তখন নিজ ঘরে তার সর্বশেষ কাজ হতো সেই মূর্তিকে স্পর্শ করা। আবার যখন সে সফর থেকে ফিরে আসত, তখন ঘরে প্রবেশ করে তার সর্বপ্রথম কাজ হতো পুনরায় সেই মূর্তিকে স্পর্শ করা।

অতঃপর যখন আল্লাহ তাঁর নবীকে প্রেরণ করলেন এবং তিনি তাদের কাছে আল্লাহর তাওহীদ এবং শরিকহীনভাবে কেবল তাঁরই ইবাদতের বিধান নিয়ে আসলেন, তখন তারা বলল: "সে কি বহু উপাস্যের পরিবর্তে মাত্র একজন ইলাহ সাব্যস্ত করেছে? নিশ্চয়ই এটি এক বিস্ময়কর ব্যাপার।" এখানে তারা মূর্তিসমূহকে উদ্দেশ্য করেছিল।

আর আরবরা মূর্তি পূজায় মত্ত ছিল। তাদের মধ্যে কেউ মন্দির বা উপাসনাগৃহ তৈরি করেছিল, কেউ নির্দিষ্ট মূর্তি গ্রহণ করেছিল। আর যে ব্যক্তি মূর্তির সামর্থ্য রাখত না অথবা ঘর নির্মাণের সক্ষমতা রাখত না, সে হারাম শরীফের সামনে অথবা অন্য কোনো পছন্দনীয় স্থানে একটি পাথর স্থাপন করত, অতঃপর কাবার তাওয়াফের মতো সেই পাথরের তাওয়াফ করত।

তারা এগুলোর নাম দিয়েছিল 'আনসাব'।

যখন সেগুলো কোনো প্রতিকৃতি বা অবয়ববিশিষ্ট হতো, তখন তারা সেগুলোকে 'আসনাম' ও 'আওসান' (মূর্তি) বলে ডাকত। আর তারা তাদের সেই প্রদক্ষিণের নাম দিয়েছিল 'দাওয়ার'।

কোনো ব্যক্তি যখন সফরে বের হয়ে কোনো স্থানে অবতরণ করত, তখন সে চারটি পাথর সংগ্রহ করত। অতঃপর সেগুলোর মধ্যে যেটি সবচেয়ে সুন্দর দেখাত, সেটিকে সে তার রব (উপাস্য) হিসেবে গ্রহণ করত এবং বাকি তিনটি পাথরকে চুলার পায়া হিসেবে ব্যবহার করত। আর যখন সে সেখান থেকে প্রস্থান করত, তখন সেটি ফেলে চলে যেত।

আবার যখন সে অন্য কোনো স্থানে অবতরণ করত, তখন পুনরায় সেরূপই করত।

তারা সেগুলোর প্রত্যেকের নিকট পশু নহর ও যবেহ করত এবং সেগুলোর নৈকট্য অন্বেষণ করত। অথচ তারা এর পাশাপাশি সেগুলোর তুলনায় কাবার শ্রেষ্ঠত্বের ব্যাপারেও পূর্ণ অবগত ছিল এবং তারা কাবার হজ ও উমরা পালন করত।

সফরে তাদের এই কাজগুলো করার উদ্দেশ্য ছিল মূলত কাবার নিকট তারা যা করে তার অনুকরণ করা এবং কাবার প্রতি তাদের গভীর আসক্তি ও অনুরাগের কারণে।