(খণ্ড: ১)
আল-আকীদাতুল্লাতী হাকাহা আবু ফাদল আত-তামীমী আনিল ইমাম আহমাদ - ত আস-সাইরওয়ান
(পৃষ্ঠা: -)
العقيدة التي حكاها أبو الفضل التميمي عن الإمام أحمد - ت السيروان القسم: العقيدة
الكتاب: العقيدة للإمام أحمد بن حنبل رواية أبي بكر الخلال
[كذا على الغلاف، ومؤلفه هو أبو الفضل التميمي، «ذكر فيه مِن اعتقاد أحمد ما فهمه، ولم يذكر فيه ألفاظه، وإنما ذكر جمل الاعتقاد بلفظ نفسه»، نص على ذلك ابن تيمية، رحمهم الله جميعا]
المحقق: عبد العزيز عز الدين السيروان
الناشر: دار قتيبة - دمشق
الطبعة: الأولى، 1408 هـ
عدد الصفحات: 128
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আকীদা যা আবু আল-ফজল আল-তামিমি ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণনা করেছেন - সম্পাদনায় আস-সাইরওয়ান বিভাগ: আকীদা
গ্রন্থ: আবু বকর আল-খাল্লাল বর্ণিত ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বলের আকীদা
[প্রচ্ছদে এভাবেই আছে, তবে এর লেখক হলেন আবু আল-ফজল আল-তামিমি, «এতে তিনি ইমাম আহমাদের আকীদা থেকে যা বুঝেছেন তা উল্লেখ করেছেন, তাঁর শব্দগুলো উল্লেখ করেননি, বরং তিনি আকীদার মূল বিষয়সমূহ নিজের ভাষায় বর্ণনা করেছেন», ইবনে তাইমিয়্যাহ এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, আল্লাহ তাদের সকলের প্রতি দয়া করুন]
সম্পাদক: আব্দুল আজিজ ইজ্জুদ্দিন আস-সাইরওয়ান
প্রকাশক: দার কুতায়বা - দামেস্ক
সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৮ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২৮
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-আকীদাতুল্লাতী হাকাহা আবু ফাদল আত-তামীমী আনিল ইমাম আহমাদ - ত আস-সাইরওয়ান
(পৃষ্ঠা: ১০১)
بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيمنَص اعْتِقَاد الإِمَام أَحْمد بن حَنْبَل
أخبرنَا الشَّيْخ الإِمَام الْحَافِظ أَبُو مُحَمَّد الْمُبَارك بن عَليّ بن الْحُسَيْن بن عبد الله بن مُحَمَّد الْمَعْرُوف بِابْن الطباخ الْبَغْدَادِيّ رحمه الله فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَة إجَازَة قَالَ حَدثنَا شَيخنَا الإِمَام الْحَافِظ أَبُو الْفضل مُحَمَّد بن النَّاصِر بن مُحَمَّد بن مُحَمَّد بن عَليّ الْبَغْدَادِيّ بهَا قَالَ أخبرنَا الإِمَام جمال الْإِسْلَام أَبُو مُحَمَّد رزق الله بن عبد الْوَهَّاب التَّمِيمِي قَالَ أخبرنَا عمي أَبُو الْفضل عبد الْوَاحِد بن عبد الْعَزِيز التَّمِيمِي بِجَمِيعِ هَذَا الِاعْتِقَاد وَقَالَ جملَة اعْتِقَاد أَحْمد بن حَنْبَل رضي الله عنه وَالَّذِي كَانَ يذهب إِلَيْهِ
مُجمل الِاعْتِقَادإِن الله عز وجل وَاحِد لَا من عدد لَا يجوز عَلَيْهِ التجزؤ وَلَا الْقِسْمَة وَهُوَ وَاحِد من كل جِهَة وَمَا سواهُ وَاحِد من وَجه دون وَجه
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামেইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বলের আকিদার পাঠ
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ ইমাম হাফেজ আবু মুহাম্মদ আল-মুবারক বিন আলী বিন আল-হুসাইন বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ, যিনি ইবনুত তাব্বাখ আল-বাগদাদী নামে পরিচিত—আল্লাহ দুনিয়া ও আখেরাতে তাঁর ওপর রহম করুন—অনুমতি স্বরূপ। তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমাদের শাইখ ইমাম হাফেজ আবু ফজল মুহাম্মদ বিন আন-নাসির বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আলী আল-বাগদাদী সেখানে। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইমাম জামালুল ইসলাম আবু মুহাম্মদ রিজকুল্লাহ বিন আব্দুল ওয়াহহাব আত-তামিমি। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার চাচা আবু ফজল আব্দুল ওয়াহেদ বিন আব্দুল আজিজ আত-তামিমি এই সম্পূর্ণ আকিদা সম্পর্কে। এবং তিনি বলেছেন, এটি হলো ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর আকিদার সারসংক্ষেপ এবং যে মতাদর্শের ওপর তিনি অটল ছিলেন।
আকিদার সংক্ষিপ্তসারনিশ্চয়ই মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহ এক, তবে গণনার এক হিসেবে নয়। তাঁর ক্ষেত্রে খণ্ডায়ন বা বিভাজন জায়েজ নয়। তিনি সবদিক থেকে এক, আর তিনি ছাড়া যা কিছু আছে তা কোনো এক দিক থেকে এক হলেও অন্য দিক থেকে নয়।
(খণ্ড: ১)
আল-আকীদাতুল্লাতী হাকাহা আবু ফাদল আত-তামীমী আনিল ইমাম আহমাদ - ত আস-সাইরওয়ান
(পৃষ্ঠা: ১০২)
وَأَنه مَوْصُوف بِمَا أوجبه السّمع والاجماع وَذَلِكَ دَلِيل إثْبَاته وَأَنه مَوْجُود
قَالَ احْمَد بن حَنْبَل رضي الله عنه من قَالَ إِن الله عز وجل لم يكن مَوْصُوفا حَتَّى وَصفه الواصفون فَهُوَ بذلك خَارج عَن الدّين
تَوْحِيد اللهوَبَيَان ذَلِك أَن يلْزمه أَن لَا يكون وَاحِدًا حَتَّى وَحده الموحدون وَذَلِكَ فَاسد
الله قَادر حَيّ عَالموَعِنْده أَنه قد ثَبت أَن الله تَعَالَى قَادر حَيّ عَالم وَقَرَأَ {هُوَ الْحَيّ لَا إِلَه إِلَّا هُوَ} {وَكَانَ الله على كل شَيْء مقتدرا} {وَكَانَ الله بِكُل شَيْء عليما}
صفته تَعَالَى السَّمِيع الْعَلِيمقَالَ وَفِي صِفَات الله تَعَالَى مَا لَا سَبِيل إِلَى مَعْرفَته إِلَّا بِالسَّمْعِ مثل قَوْله تَعَالَى {وَهُوَ السَّمِيع الْبَصِير} فَبَان بإخباره عَن نَفسه مَا اعتقدته الْعُقُول فِيهِ وَأَن قَوْلنَا سميع بَصِير صفة من لَا يشْتَبه عَلَيْهِ شَيْء كَمَا قَالَ فِي كِتَابه الْكَرِيم وَلَا تكون رُؤْيَة إِلَّا ببصر يَعْنِي من المبصرات بِغَيْر صفة من لَا يغيب عَلَيْهِ وَلَا عَنهُ شَيْء وَلَيْسَ ذَلِك بِمَعْنى الْعلم كَمَا يَقُوله المخالفون أَلا ترى إِلَى قَوْله تَعَالَى لمُوسَى {إِنَّنِي مَعَكُمَا أسمع وَأرى}
আর তিনি সেই সকল বিশেষণে বিশেষিত যা শ্রবণ ও ইজমা সাব্যস্ত করেছে এবং এটিই তাঁর গুণাবলি সাব্যস্তকরণ ও তাঁর অস্তিত্বের প্রমাণ।
আহমাদ ইবন হাম্বল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন, যে ব্যক্তি বলে যে আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা ততক্ষণ পর্যন্ত গুণান্বিত ছিলেন না যতক্ষণ না বর্ণনাকারীরা তাঁর বর্ণনা দিয়েছে, তবে সে এর দ্বারা দ্বীন থেকে বহিষ্কৃত।
আল্লাহর তাওহীদএর ব্যাখ্যা হলো— এটি তাকে এ কথা মানতে বাধ্য করে যে তিনি ততক্ষণ পর্যন্ত এক ছিলেন না যতক্ষণ না একত্ববাদীরা তাঁকে এক বলে স্বীকার করেছে, আর তা বাতিল।
আল্লাহ সর্বশক্তিমান, চিরঞ্জীব ও সর্বজ্ঞতাঁর নিকট এটি সাব্যস্ত হয়েছে যে আল্লাহ তাআলা সর্বশক্তিমান, চিরঞ্জীব ও সর্বজ্ঞ। তিনি পাঠ করেছেন: "তিনিই চিরঞ্জীব, তিনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই", "আর আল্লাহ সর্ববিষয়ে পূর্ণ ক্ষমতাবান" এবং "আর আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ"।
মহান আল্লাহর গুণ: সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞতিনি বলেছেন, আল্লাহ তাআলার গুণাবলির মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা জানার কোনো উপায় নেই শ্রবণ ব্যতীত, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।" সুতরাং তাঁর নিজের সম্পর্কে সংবাদ প্রদানের মাধ্যমে সেই বিষয়গুলো স্পষ্ট হয়েছে যা বিবেক তাঁর সম্পর্কে বিশ্বাস করেছিল। আর আমাদের এই কথা যে তিনি 'সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা'—এটি এমন সত্তার গুণ যার নিকট কোনো কিছু অস্পষ্ট থাকে না, যেমনটি তিনি তাঁর সম্মানিত কিতাবে বলেছেন। আর দর্শনেন্দ্রিয় ব্যতিরেকে কোনো দেখা হয় না—অর্থাৎ দৃশ্যমান বিষয়সমূহের ক্ষেত্রে—এমন সত্তার গুণ হিসেবে যার নিকট কোনো কিছু অনুপস্থিত বা অগোচর থাকে না। আর এটি 'ইলম' বা জ্ঞানের অর্থে নয় যেমনটি বিরোধীরা বলে থাকে। আপনি কি মূসার প্রতি মহান আল্লাহর বাণীটি লক্ষ্য করেন না: "নিশ্চয় আমি তোমাদের উভয়ের সাথে আছি, আমি শুনি এবং আমি দেখি।"
(খণ্ড: ১)
আল-আকীদাতুল্লাতী হাকাহা আবু ফাদল আত-তামীমী আনিল ইমাম আহমাদ - ত আস-সাইরওয়ান
(পৃষ্ঠা: ১০৩)
قَالَ وَقَوله تَعَالَى {وَإِن عزموا الطَّلَاق فَإِن الله سميع عليم} يدل على أَن معنى {السَّمِيع} غير معنى {الْعَلِيم} وَقَالَ {قد سمع الله قَول الَّتِي تُجَادِلك فِي زَوجهَا} وَقَالَ عليه السلام سُبْحَانَ من وسع سَمعه الْأَصْوَات وَمعنى ذَلِك من قَوْله أَنه لَو جَازَ أَن يسمع بِغَيْر سمع جازها أَن يعلم بِغَيْر علم وَذَلِكَ محَال فَهُوَ عَالم بِعلم سميع بسمع
وَجه الله تَعَالَىوَمذهب أبي عبد الله أَحْمد بن حَنْبَل رضي الله عنه أَن لله عز وجل وَجها لَا كالصور المصورة والأعيان المخططة بل وجهة وَصفه بقوله {كل شَيْء هَالك إِلَّا وَجهه} وَمن غير مَعْنَاهُ فقد ألحد عَنهُ وَذَلِكَ عِنْده وَجه فِي الْحَقِيقَة دون الْمجَاز وَوجه الله بَاقٍ لَا يبْلى وَصفَة لَهُ لَا تفنى وَمن ادّعى أَن وَجهه نَفسه فقد ألحد وَمن غير مَعْنَاهُ فقد كفر وَلَيْسَ معنى وَجه معنى جَسَد عِنْده وَلَا صُورَة وَلَا تخطيط وَمن قَالَ ذَلِك فقد ابتدع
তিনি বলেন: এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর যদি তারা তালাকের সংকল্প করে, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ} এটি নির্দেশ করে যে, 'সর্বশ্রোতা'র অর্থ 'সর্বজ্ঞ' এর অর্থ থেকে ভিন্ন। তিনি আরও বলেছেন: {আল্লাহ অবশ্যই সেই নারীর কথা শুনেছেন যে তার স্বামীর বিষয়ে আপনার সাথে বাদানুবাদ করছিল}। এবং নবী (সা.) বলেছেন: "পবিত্র সেই সত্তা, যাঁর শ্রবণেন্দ্রিয় সমস্ত শব্দকে পরিবেষ্টন করে আছে।" তাঁর এই বক্তব্য থেকে অর্থ দাঁড়ায় যে, যদি শ্রবণ-গুণ ব্যতিরেকে শ্রবণ করা সম্ভব হতো, তবে জ্ঞান ব্যতিরেকে জানাও সম্ভব হতো; অথচ তা অসম্ভব। সুতরাং তিনি জ্ঞানের মাধ্যমে জ্ঞানী এবং শ্রবণের মাধ্যমে শ্রবণকারী।
মহান আল্লাহর চেহারাআবু আব্দুল্লাহ আহমাদ বিন হাম্বল (রা.)-এর মাযহাব হলো— মহান আল্লাহর জন্য চেহারা রয়েছে যা অঙ্কিত প্রতিকৃতি বা সীমারেখা বিশিষ্ট বস্তুর মতো নয়। বরং তাঁর চেহারা হলো তা-ই, যা তিনি তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন: {তাঁর চেহারা ব্যতীত সবকিছুই ধ্বংসশীল}। যে ব্যক্তি এর অর্থ পরিবর্তন করল, সে সত্য বিচ্যুত হলো। এটি তাঁর নিকট প্রকৃত অর্থেই চেহারা, রূপক নয়। আল্লাহর চেহারা চিরস্থায়ী যা জীর্ণ হয় না এবং এটি তাঁর এমন এক গুণ যা বিলীন হয় না। যে ব্যক্তি দাবি করল যে তাঁর চেহারা মানেই তিনি নিজে (তাঁর সত্তা), সে সত্য বিচ্যুত হলো। আর যে এর অর্থ পরিবর্তন করল সে কুফরি করল। তাঁর নিকট চেহারার অর্থ দেহ নয়, কোনো আকৃতি নয় এবং কোনো সীমারেখাও নয়; আর যে ব্যক্তি এরূপ বলবে সে বিদআত করল।
(খণ্ড: ১)
আল-আকীদাতুল্লাতী হাকাহা আবু ফাদল আত-তামীমী আনিল ইমাম আহমাদ - ত আস-সাইরওয়ান
(পৃষ্ঠা: ১০৪)
اليدانوَكَانَ يَقُول إِن لله تَعَالَى يدان وهما صفة لَهُ فِي ذَاته ليستا بجارحتين وليستا بمركبتين وَلَا جسم وَلَا جنس من الْأَجْسَام وَلَا من جنس الْمَحْدُود والتركيب والأبعاض والجوارح وَلَا يُقَاس على ذَلِك لَا مرفق وَلَا عضد وَلَا فِيمَا يَقْتَضِي ذَلِك من إِطْلَاق قَوْلهم يَد إِلَّا مَا نطق الْقُرْآن بِهِ أَو صحت عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم السّنة فِيهِ قَالَ الله تَعَالَى {بل يَدَاهُ مبسوطتان} وَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم كلتا يَدَيْهِ يَمِين وَقَالَ الله عز وجل {مَا مَنعك أَن تسْجد لما خلقت بيَدي} وَقَالَ {وَالسَّمَاوَات مَطْوِيَّات بِيَمِينِهِ} وَيفْسد أَن تكون يَده الْقُوَّة وَالنعْمَة والتفضل لِأَن جمع يَد أيد وَجمع تِلْكَ أياد وَلَو كَانَت الْيَد عِنْده الْقُوَّة لسقطت فَضِيلَة آدم وَثبتت حجَّة إِبْلِيس
علم اللهوَكَانَ يَقُول إِن لله تَعَالَى علما وَهُوَ عَالم بِعلم لقَوْله تَعَالَى {وَهُوَ بِكُل شَيْء عليم} وَبِقَوْلِهِ {وَلَا يحيطون بِشَيْء من علمه} وَذَلِكَ فِي الْقُرْآن كثير وَقد بَينه الله عز وجل بَيَانا شافيا بقوله عز وجل {لَكِن الله يشْهد بِمَا أنزل إِلَيْك أنزلهُ بِعِلْمِهِ} وَقَالَ {لم يَسْتَجِيبُوا لكم فاعلموا أَنما أنزل بِعلم الله}
দুই হাততিনি বলতেন যে, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহর দুটি হাত রয়েছে এবং সেগুলো তাঁর সত্তাগত গুণ। হাত দুটি কোনো অঙ্গ নয়, সেগুলো কোনো যৌগিক বস্তু নয়, কোনো দেহ নয় এবং দেহের কোনো শ্রেণীভুক্ত নয়। তা কোনো সীমাবদ্ধ বস্তু, গঠন, অংশ বা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের শ্রেণীভুক্তও নয়। এর ওপর কনুই বা বাহুর তুলনা করা যাবে না এবং 'হাত' শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষ যা বুঝে থাকে, তার কোনো কিছুই এর ওপর প্রযোজ্য হবে না; কেবল কুরআন যা বলেছে অথবা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সুন্নাহর মাধ্যমে যা সহীহভাবে প্রমাণিত হয়েছে তা ছাড়া। মহান আল্লাহ বলেছেন, {বরং তাঁর উভয় হাতই প্রসারিত}। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, {তাঁর উভয় হাতই ডান হাত}। আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা আরও বলেছেন, {আমি যাকে আমার দুই হাত দিয়ে সৃষ্টি করেছি, তার প্রতি সিজদাবনত হতে তোমাকে কিসে বাধা দিল?} এবং তিনি বলেছেন, {আর আসমানসমূহ তাঁর ডান হাতে গুটিয়ে রাখা হবে}। আর আল্লাহর হাতকে 'শক্তি', 'নিয়ামত' বা 'অনুগ্রহ' হিসেবে ব্যাখ্যা করা ভুল; কারণ হাতের বহুবচন হলো 'আইদ', আর নিয়ামতের বহুবচন হলো 'আয়াদি'। যদি তাঁর নিকট হাতের অর্থ 'শক্তি' হতো, তবে আদমের শ্রেষ্ঠত্ব বাতিল হয়ে যেত এবং ইবলিসের যুক্তিই প্রতিষ্ঠিত হতো।
আল্লাহর জ্ঞানতিনি বলতেন যে, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহর জ্ঞান রয়েছে এবং তিনি জ্ঞানের গুণের মাধ্যমেই সর্বজ্ঞ। এর প্রমাণ মহান আল্লাহর বাণী: {আর তিনি সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ}। এবং তাঁর বাণী: {এবং তারা তাঁর জ্ঞানের কোনো কিছুই আয়ত্ত করতে পারে না}। পবিত্র কুরআনে এ বিষয়টি প্রচুর বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করে বলেছেন: {কিন্তু আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যা তিনি আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছেন, তিনি তা তাঁর নিজ জ্ঞান অনুযায়ী অবতীর্ণ করেছেন}। এবং তিনি বলেছেন: {অতঃপর তারা যদি তোমাদের ডাকে সাড়া না দেয়, তবে জেনে রাখো যে, এটি আল্লাহর জ্ঞান অনুযায়ী অবতীর্ণ করা হয়েছে}।
(খণ্ড: ১)
আল-আকীদাতুল্লাতী হাকাহা আবু ফাদল আত-তামীমী আনিল ইমাম আহমাদ - ত আস-সাইরওয়ান
(পৃষ্ঠা: ১০৫)
وَقَالَ {فلنقصن عَلَيْهِم بِعلم} وَهَذَا يدل على أَنه عَالم بِعلم وَأَن علمه بِخِلَاف الْعُلُوم المحدثة الَّتِي يشوبها الْجَهْل ويدخلها التَّغَيُّر ويلحقها النسْيَان ومسكنها الْقُلُوب وتحفظها الضمائر ويقومها الْفِكر وتقويها المذاكرة
وَعلم الله تَعَالَى بِخِلَاف ذَلِك كُله صفة لَهُ لَا تلحقها آفَة وَلَا فَسَاد وَلَا إبِْطَال وَلَيْسَ بقلب وَلَا ضمير وإعتقاد ومسكن وَلَا علمه متغاير وَلَا هُوَ غير الْعَالم بل هُوَ صفة من صِفَاته وَمن خَالف ذَلِك جعل الْعلم لقبا لله عز وجل لَيْسَ تَحْتَهُ معنى مُحَقّق وَهَذَا عِنْد أَحْمد رضي الله عنه 52 ب خُرُوج عَن الْملَّة
قدرَة اللهوَكَانَ يَقُول إِن لله تَعَالَى قدرَة وَهِي صفة فِي ذَاته وَأَنه لَيْسَ بعاجز وَلَا ضَعِيف لقَوْله عز وجل {وَهُوَ على كل شَيْء قدير} وَقَوله تَعَالَى {قل هُوَ الْقَادِر على أَن يبْعَث عَلَيْكُم} وَبِقَوْلِهِ {فقدرنا فَنعم القادرون} وَبِقَوْلِهِ تَعَالَى {أولم يرَوا أَن الله الَّذِي خلقهمْ هُوَ أَشد مِنْهُم قُوَّة} وَبِقَوْلِهِ تَعَالَى {ذُو الْقُوَّة المتين} فَهُوَ قدير وقادر وَعَلِيم وعالم وَلَا يجوز أَن يكون قَدِيرًا وَلَا قدرَة لَهُ وَلَا يجوز أَن يكون عليما وَلَا علم لَهُ
এবং তিনি বলেছেন, {অতঃপর অবশ্যই আমি তাদের নিকট ইলমের (জ্ঞানের) ভিত্তিতে বর্ণনা করব}। আর এটি প্রমাণ করে যে, তিনি ইলমের (জ্ঞানের) মাধ্যমেই মহাজ্ঞানী। এবং তাঁর ইলম সৃষ্ট সেই ইলমগুলোর বিপরীত যা অজ্ঞতা মিশ্রিত, পরিবর্তনশীল এবং বিস্মৃতির শিকার হয়; যার আবাসস্থল হলো অন্তর, যা স্মৃতির গভীরে সংরক্ষিত থাকে, চিন্তা-ভাবনা যাকে প্রতিষ্ঠিত করে এবং আলোচনা যাকে শক্তিশালী করে।
আর মহান আল্লাহর ইলম এই সবকিছুর বিপরীত। এটি তাঁর একটি গুণ (সিফাত), যাতে কোনো দোষ, ত্রুটি বা অসারতা প্রবেশ করতে পারে না। এটি কোনো অন্তর, স্মৃতি, বিশ্বাস বা আবাসস্থলের মুখাপেক্ষী নয়। তাঁর ইলম পরিবর্তনশীল নয় এবং এটি মহাজ্ঞানী সত্তা থেকে পৃথকও নয়। বরং এটি তাঁর গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত একটি গুণ। যে ব্যক্তি এর বিরোধিতা করবে, সে আল্লাহর জন্য 'ইলম' শব্দটিকে একটি অর্থহীন উপাধি সাব্যস্ত করবে, যার কোনো প্রকৃত অর্থ নেই। আর ইমাম আহমাদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর মতে এটি ধর্মাদর্শ থেকে বহিষ্কার হওয়ার শামিল।
আল্লাহর ক্ষমতাতিনি বলতেন: নিশ্চয়ই মহান আল্লাহর কুদরত (ক্ষমতা) রয়েছে, যা তাঁর সত্তাগত একটি গুণ। তিনি অক্ষম বা দুর্বল নন, কারণ মহান আল্লাহর বাণী: {আর তিনি সকল কিছুর ওপর ক্ষমতাবান}। এবং মহান আল্লাহর বাণী: {বলুন, তিনি সামর্থ্যবান যে তোমাদের ওপর (আযাব) পাঠাবেন}। এবং তাঁর বাণী: {অতঃপর আমি নির্ধারণ করেছি, আর আমি কতই না নিপুণ নির্ধারণকারী}। এবং মহান আল্লাহর বাণী: {তারা কি লক্ষ্য করেনি যে, আল্লাহ যিনি তাদের সৃষ্টি করেছেন, তিনি তাদের চেয়েও অধিক শক্তিশালী?} এবং মহান আল্লাহর বাণী: {তিনি প্রবল শক্তিশালী ও সুদৃঢ়}। সুতরাং তিনি অসীম ক্ষমতাবান, সামর্থ্যবান, সর্বজ্ঞ এবং জ্ঞানী। ক্ষমতা ছাড়াই তিনি ক্ষমতাবান হবেন—এটি অসম্ভব। আর জ্ঞান ছাড়াই তিনি জ্ঞানী হবেন—তাও অসম্ভব।
(খণ্ড: ১)
আল-আকীদাতুল্লাতী হাকাহা আবু ফাদল আত-তামীমী আনিল ইমাম আহমাদ - ত আস-সাইরওয়ান
(পৃষ্ঠা: ১০৬)
إِرَادَة اللهوَكَانَ يَقُول إِن الله تَعَالَى لم يزل مرِيدا والإرادة صفة لَهُ فِي ذَاته خَالف بهَا من لَا إِرَادَة لَهُ والإرادة صفة مدح وثناء لِأَن كل ذَات لَا تُرِيدُ مَا تعلم أَنه كَائِن فَهِيَ منقوصة وَالله تَعَالَى مُرِيد لكل مَا علم أَنه كَائِن وَلَيْسَت كإرادات الْخلق وَقد أثبت ذَلِك لنَفسِهِ فَقَالَ {إِنَّمَا قَوْلنَا لشَيْء إِذا أردناه أَن نقُول لَهُ كن فَيكون} وَقَالَ تَعَالَى {إِنَّمَا أمره إِذا أَرَادَ شَيْئا أَن يَقُول لَهُ كن فَيكون} فَلَو كَانَت إِرَادَته مخلوقة كَانَت مُرَادة بِإِرَادَة أُخْرَى وَهَذَا مَا لَا يتناهى وَذَلِكَ فِي الْقُرْآن كثير وَقد دلّت الْعبْرَة على أَن من لَا إِرَادَة لَهُ فَهُوَ مكره
كَلَام اللهوَكَانَ يَقُول إِن لله عز وجل كلَاما هُوَ بِهِ مُتَكَلم وَذَلِكَ صفة لَهُ فِي ذَاته خَالف بهَا الخرس والبكم وَالسُّكُوت وامتدح بهَا نَفسه فَقَالَ عز وجل فِي الَّذين اتَّخذُوا الْعجل {ألم يرَوا أَنه لَا يكلمهم وَلَا يهْدِيهم سَبِيلا اتخذوه وَكَانُوا ظالمين} فعابهم لما عبدُوا إِلَهًا لَا يتَكَلَّم وَلَا كَلَام لَهُ فَلَو كَانَ إلهنا لَا يتَكَلَّم وَلَا كَلَام لَهُ رَجَعَ الْعَيْب عَلَيْهِ وَسَقَطت حجَّته على الَّذين اتَّخذُوا الْعجل من الْوَجْه الَّذِي احْتج عَلَيْهِم بِهِ وَيزِيد ذَلِك أَن إِبْرَاهِيم عليه السلام أنب أَبَاهُ بقوله {يَا أَبَت لم تعبد مَا لَا يسمع وَلَا يبصر وَلَا يُغني عَنْك شَيْئا}
আল্লাহর ইচ্ছাতিনি বলতেন যে, মহান আল্লাহ অনাদিকাল থেকেই ইচ্ছাশক্তিসম্পন্ন এবং ইচ্ছা তাঁর সত্তাগত একটি গুণ, যার দ্বারা তিনি এমন সত্তা থেকে পৃথক হয়েছেন যার কোনো ইচ্ছা নেই। ইচ্ছা একটি প্রশংসা ও স্তুতির গুণ; কারণ যে সত্তা যা ঘটবে বলে জানে অথচ তা ইচ্ছা করে না, তবে সেই সত্তা ত্রুটিযুক্ত। আর মহান আল্লাহ যা কিছু ঘটবে বলে জানেন তার সবকিছুরই ইচ্ছাকারী। তাঁর ইচ্ছা সৃষ্টির ইচ্ছার মতো নয়। তিনি নিজের জন্য এটি সাব্যস্ত করেছেন এবং বলেছেন, "কোনো কিছুকে যখন আমরা ইচ্ছা করি, তখন আমাদের কথা কেবল এই হয় যে, আমরা তাকে বলি 'হও', ফলে তা হয়ে যায়।" আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন, "তাঁর আদেশ তো এই যে, যখন তিনি কোনো কিছুর ইচ্ছা করেন, তখন তিনি তাকে বলেন 'হও', ফলে তা হয়ে যায়।" যদি তাঁর ইচ্ছা সৃষ্টি হতো, তবে সেই ইচ্ছাটি অন্য কোনো ইচ্ছার মাধ্যমে সাব্যস্ত হতো, আর এভাবে তা অসীম পর্যন্ত চলতে থাকত। কুরআনে এই বিষয়ে অনেক বর্ণনা রয়েছে। আর দৃষ্টান্ত ও যুক্তি একথাই প্রমাণ করে যে, যার কোনো ইচ্ছা নেই সে তো বাধ্য বা পরবশ।
আল্লাহর কালাম (কথা)তিনি বলতেন যে, মহান আল্লাহর কালাম রয়েছে যার দ্বারা তিনি কথা বলেন। এটি তাঁর একটি সত্তাগত গুণ, যার মাধ্যমে তিনি মূকতা, বাকহীনতা এবং নীরবতা থেকে ভিন্নতর হয়েছেন। তিনি এর মাধ্যমে নিজের প্রশংসা করেছেন এবং যারা বাছুরকে উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করেছিল তাদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেছেন, "তারা কি দেখল না যে, সেটি তাদের সাথে কথা বলে না এবং তাদের কোনো পথ প্রদর্শন করে না? তারা সেটিকে গ্রহণ করেছিল এবং তারা ছিল জালিম।" সুতরাং তিনি তাদের নিন্দা করেছেন যেহেতু তারা এমন এক মাবুদের ইবাদত করেছিল যে কথা বলে না এবং যার কোনো কালাম নেই। যদি আমাদের ইলাহ কথা না বলতেন এবং তাঁর যদি কোনো কালাম না থাকত, তবে সেই দোষ তাঁর ওপরই বর্তাত এবং যারা বাছুর পূজা করেছিল তাদের বিরুদ্ধে তিনি যে দিক থেকে দলিল পেশ করেছিলেন সেই দলিল অকার্যকর হয়ে যেত। এর সপক্ষে আরও জোরালো প্রমাণ হলো যে, ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম তাঁর পিতাকে এই বলে তিরস্কার করেছিলেন, "হে আমার পিতা! আপনি কেন এমন কিছুর ইবাদত করেন যা শোনে না, দেখে না এবং আপনার কোনো উপকারে আসে না?"
(খণ্ড: ১)
আল-আকীদাতুল্লাতী হাকাহা আবু ফাদল আত-তামীমী আনিল ইমাম আহমাদ - ত আস-সাইরওয়ান
(পৃষ্ঠা: ১০৭)
كَلَام اللهوَحكي عَن ابْن مَسْعُود وَابْن عَبَّاس أَنَّهُمَا فسرا قَوْله عز وجل {قُرْآنًا عَرَبيا غير ذِي عوج لَعَلَّهُم يَتَّقُونَ} قَالَا غير مَخْلُوق
وَكَانَ يَقُول إِن الْقُرْآن كَيفَ تصرف غير مَخْلُوق وَأَن الله تَعَالَى تكلم بالصوت والحرف
وَكَانَ يبطل الْحِكَايَة ويضلل الْقَائِل بذلك وعَلى مذْهبه أَن من قَالَ إِن الْقُرْآن عبارَة عَن كَلَام الله عز وجل فقد جهل وَغلط وَأَن النَّاسِخ والمنسوخ فِي كتاب الله عز وجل دون الْعبارَة عَنهُ وَدون الْحِكَايَة لَهُ وَتبطل الْحِكَايَة عِنْده بقوله عز وجل {وكلم الله مُوسَى تكليما} وتكليما مصدر تكلم يتَكَلَّم فَهُوَ مُتَكَلم وَذَلِكَ يفْسد الْحِكَايَة وَلم ينْقل عَن اُحْدُ من أَئِمَّة الْمُسلمين من الْمُتَقَدِّمين من أَصْحَاب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَالتَّابِعِينَ عليهم السلام القَوْل بالحكاية والعبارة فَدلَّ على أَن ذَلِك من الْبدع المحدثة
إستواؤه جلّ شَأْنهوَكَانَ يَقُول إِن الله عز وجل مستو على الْعَرْش الْمجِيد وَحكى جمَاعَة عَنهُ ان الاسْتوَاء من صِفَات الْفِعْل
আল্লাহর কালামইবনে মাসউদ এবং ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁরা মহান আল্লাহর এই বাণীর ব্যাখ্যায়—{বক্রতাহীন আরবি কুরআন, যাতে তারা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারে}—বলেছেন যে, এটি অসৃষ্ট।
তিনি বলতেন যে, কুরআন যেভাবেও ব্যবহৃত হোক না কেন তা অসৃষ্ট এবং আল্লাহ তাআলা শব্দ ও অক্ষরের মাধ্যমে কথা বলেছেন।
তিনি হিকায়াহ (অনুকরণ) মতবাদকে বাতিল করতেন এবং যে ব্যক্তি তা বলত তাকে পথভ্রষ্ট মনে করতেন। তাঁর মাযহাব অনুযায়ী, যে ব্যক্তি বলে যে কুরআন মহান আল্লাহর কালামের একটি অভিব্যক্তি (ইবারাহ) মাত্র, সে মূর্খতা প্রকাশ করেছে এবং ভুল করেছে। মহান আল্লাহর কিতাবে বিদ্যমান নাসিখ ও মানসুখ (রহিতকারী ও রহিত বিধান) সরাসরি তাঁর কিতাবেই রয়েছে, তা কোনো অভিব্যক্তি বা অনুকরণ নয়। তাঁর নিকট হিকায়াহ মতবাদটি মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে বাতিল হয়ে যায়—{এবং আল্লাহ মূসার সাথে সরাসরি কথা বলেছেন}। এখানে ‘তাকলিমান’ শব্দটি ‘তাকাল্লামা-ইয়াতাকাল্লামু’ থেকে আগত মাসদার (ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য), সুতরাং তিনি একজন মুতাকাল্লিম (কথা বলেন এমন সত্তা)। এটি হিকায়াহ মতবাদকে অসার সাব্যস্ত করে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবী এবং তাবিঈনগণের মতো পূর্ববর্তী কোনো মুসলিম ইমাম থেকে হিকায়াহ বা ইবারাহ সম্পর্কিত কোনো বক্তব্য বর্ণিত হয়নি, যা প্রমাণ করে যে এটি একটি নব আবিষ্কৃত বিদআত।
তাঁর (মহান আল্লাহ) আরশের উপর উঠাতিনি বলতেন যে, আল্লাহ তাআলা মহিমান্বিত আরশের উপর উঠেছেন। একটি জামাত তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আরশের উপর উঠা আল্লাহর কর্মগত গুণাবলীর অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১)
আল-আকীদাতুল্লাতী হাকাহা আবু ফাদল আত-তামীমী আনিল ইমাম আহমাদ - ত আস-সাইরওয়ান
(পৃষ্ঠা: ১০৮)
وَحكى جمَاعَة عَنهُ أَنه كَانَ يَقُول إِن الاسْتوَاء من صِفَات الذَّات
وَكَانَ يَقُول فِي معنى الاسْتوَاء هُوَ الْعُلُوّ والارتفاع وَلم يزل الله تَعَالَى عَالِيا رفيعا قبل أَن يخلق عَرْشه فَهُوَ فَوق كل شَيْء والعالي على كل شَيْء وَإِنَّمَا خص الله الْعَرْش لِمَعْنى فِيهِ مُخَالف لسَائِر الْأَشْيَاء وَالْعرش أفضل الْأَشْيَاء وأرفعها فامتدح الله نَفسه بِأَنَّهُ على الْعَرْش 53 ب أستوى أَي عَلَيْهِ علا وَلَا يجوز أَن يُقَال أستوى بمماسة وَلَا بملاقاة تَعَالَى الله عَن ذَلِك علوا كَبِيرا وَالله تَعَالَى لم يلْحقهُ تغير وَلَا تبدل وَلَا تلْحقهُ الْحُدُود قبل خلق الْعَرْش وَلَا بعد خلق الْعَرْش
وَكَانَ يُنكر على من يَقُول إِن الله فِي كل مَكَان بِذَاتِهِ لِأَن الْأَمْكِنَة كلهَا محدودة وَحكي عَن عبد الرَّحْمَن بن مهْدي عَن مَالك أَن الله تَعَالَى مستو على عَرْشه الْمجِيد كَمَا أخبر وَأَن علمه فِي كل مَكَان وَلَا يخلوا شَيْء من علمه وَعظم عَلَيْهِ الْكَلَام فِي هَذَا واستبشعه
بَائِن من خَلفهفَهُوَ سُبْحَانَهُ عَالم بالأشياء مُدبر لَهَا من غير مُخَالطَة وَلَا موالجة بل هُوَ العالي عَلَيْهَا مُنْفَرد عَنْهَا وَقَرَأَ أَحْمد بن حَنْبَل قَوْله تَعَالَى {وَهُوَ القاهر فَوق عباده} وَقَرَأَ {إِلَيْهِ يصعد الْكَلم الطّيب وَالْعَمَل الصَّالح يرفعهُ} وَقَرَأَ {يدبر الْأَمر من السَّمَاء إِلَى الأَرْض ثمَّ يعرج إِلَيْهِ فِي يَوْم كَانَ مِقْدَاره ألف سنة مِمَّا تَعدونَ}
একদল লোক তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলতেন: নিশ্চয়ই আরশের উপর উঠা (ইস্তিওয়া) সত্তাগত গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত।
তিনি আরশের উপর উঠার অর্থে বলতেন যে, তা হলো উচ্চতা এবং উপরে উঠা। আল্লাহ তাআলা তাঁর আরশ সৃষ্টির পূর্ব থেকেই সদাসর্বদা সুউচ্চ ও সমুন্নত ছিলেন। সুতরাং তিনি প্রতিটি জিনিসের উপরে এবং সব কিছুর ঊর্ধ্বে। আল্লাহ আরশকে বিশেষায়িত করেছেন এমন এক বৈশিষ্ট্যের কারণে যা অন্যান্য বস্তু থেকে ভিন্ন। আরশ হলো সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বোচ্চ বস্তু, তাই আল্লাহ নিজের প্রশংসা করেছেন এই বলে যে তিনি আরশের উপর উঠেছেন (৫৩ খ), অর্থাৎ এর উপরে উচ্চ হয়েছেন। এটা বলা জায়েয নয় যে তিনি স্পর্শ বা মিলিত হওয়ার মাধ্যমে আরশের উপর উঠেছেন; আল্লাহ তাআলা তা থেকে অনেক ঊর্ধ্বে। আল্লাহ তাআলার কোনো পরিবর্তন বা রূপান্তর ঘটেনি, আর আরশ সৃষ্টির পূর্বে বা পরে কোনো সীমা তাঁকে স্পর্শ করে না।
যারা বলে আল্লাহ তাঁর সত্তাসহ সব জায়গায় বিদ্যমান, তিনি তাদের প্রতিবাদ করতেন; কারণ সকল স্থানই সীমাবদ্ধ। আব্দুর রহমান ইবনে মাহদী ইমাম মালেক থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর মহান আরশের উপর উঠেছেন যেমনটি তিনি সংবাদ দিয়েছেন, আর তাঁর জ্ঞান সব জায়গায় পরিব্যাপ্ত এবং কোনো কিছুই তাঁর জ্ঞানের বাইরে নয়। তিনি এই বিষয়ে কথা বলাকে গুরুতর মনে করতেন এবং একে অত্যন্ত জঘন্য গণ্য করতেন।
সৃষ্টি থেকে পৃথকতিনি সুবহানাহু প্রতিটি বিষয় সম্পর্কে অবগত ও সেগুলোর পরিচালক, কোনো প্রকার সংমিশ্রণ বা অনুপ্রবেশ ছাড়াই। বরং তিনি সেগুলোর ঊর্ধ্বে এবং সৃষ্টিজগত থেকে সম্পূর্ণ পৃথক। আহমদ ইবনে হাম্বল আল্লাহ তাআলার বাণী পাঠ করলেন: {তিনিই তাঁর বান্দাদের উপর প্রবল পরাক্রমশালী}। তিনি আরও পাঠ করলেন: {পবিত্র বাক্যসমূহ তাঁর দিকেই আরোহণ করে এবং নেক আমল তিনি উপরে উঠিয়ে নেন}। তিনি আরও পাঠ করলেন: {তিনি আকাশ থেকে পৃথিবী পর্যন্ত সমস্ত বিষয় পরিচালনা করেন, অতঃপর তা তাঁর দিকেই এমন একদিনে আরোহণ করবে যার পরিমাণ তোমাদের গণনা অনুযায়ী এক হাজার বছর}।
(খণ্ড: ১)
আল-আকীদাতুল্লাতী হাকাহা আবু ফাদল আত-তামীমী আনিল ইমাম আহমাদ - ত আস-সাইরওয়ান
(পৃষ্ঠা: ১০৯)
وَقَرَأَ {إِنِّي متوفيك ورافعك إِلَيّ} وَقَرَأَ {يخَافُونَ رَبهم من فَوْقهم ويفعلون مَا يؤمرون}
وَذهب أَحْمد بن حَنْبَل رضي الله عنه إِلَى أَن الله عز وجل يغْضب ويرضى وَأَن لَهُ غضب ورضى وَقَرَأَ أَحْمد قَوْله عز وجل {وَلَا تطغوا فِيهِ فَيحل عَلَيْكُم غَضَبي وَمن يحلل عَلَيْهِ غَضَبي فقد هوى} فأضاف الْغَضَب إِلَى نَفسه وَقَالَ عز وجل {فَلَمَّا آسفونا انتقمنا مِنْهُم} قَالَ ابْن عَبَّاس يَعْنِي أغضبونا وَقَوله أَيْضا {فَجَزَاؤُهُ جَهَنَّم خَالِدا فِيهَا وَغَضب الله عَلَيْهِ ولعنه} وَمثل ذَلِك فِي الْقُرْآن كثير
وَالْغَضَب والرضى صفتان لَهُ من صِفَات نَفسه لم يزل الله تَعَالَى غاضبا على مَا سبق فِي علمه أَنه يكون مِمَّن يعصيه وَلم يزل رَاضِيا على مَا سبق فِي علمه أَنه يكون مِمَّا يرضيه
وَأنكر أَصْحَابه على من يَقُول إِن الرضى وَالْغَضَب مخلوقان
54 - أقالوا من قَالَ ذَلِك لزمَه أَن غضب الله عز وجل على الْكَافرين يفنى وَكَذَلِكَ رِضَاهُ على الْأَنْبِيَاء وَالْمُؤمنِينَ حَتَّى لَا يكون رَاضِيا على
এবং তিনি পাঠ করলেন, "নিশ্চয় আমি তোমাকে মৃত্যু দান করব এবং তোমাকে আমার নিজের দিকে উঠিয়ে নেব" এবং তিনি পাঠ করলেন, "তারা তাদের প্রতিপালককে ভয় করে যিনি তাদের উপরে রয়েছেন এবং তারা যা আদিষ্ট হয় তা-ই করে।"
আর আহমাদ বিন হাম্বল (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) এই মত পোষণ করেছেন যে, আল্লাহ মহান রাগান্বিত হন এবং সন্তুষ্ট হন এবং তাঁর রাগ ও সন্তুষ্টি রয়েছে। আর আহমাদ মহান আল্লাহর এই বাণী পাঠ করলেন, "আর তোমরা তাতে সীমা লঙ্ঘন করো না, অন্যথায় তোমাদের ওপর আমার রাগ অবতীর্ণ হবে; আর যার ওপর আমার রাগ অবতীর্ণ হয়, সে অবশ্যই ধ্বংস হয়ে যায়।" অতঃপর তিনি রাগকে তাঁর নিজের সত্তার দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন। এবং মহান আল্লাহ বলেছেন, "অতঃপর তারা যখন আমাকে রাগান্বিত করল, তখন আমি তাদের থেকে প্রতিশোধ নিলাম।" ইবনে আব্বাস বলেন, এর অর্থ হলো তারা আমাকে রাগান্বিত করেছে। এবং তাঁর বাণী আরও, "তবে তার শাস্তি জাহান্নাম, সেখানে সে চিরকাল থাকবে এবং আল্লাহ তার ওপর রাগান্বিত হয়েছেন এবং তাকে অভিশাপ দিয়েছেন।" আর কুরআনে এরকম উদাহরণ অনেক রয়েছে।
রাগ ও সন্তুষ্টি তাঁর সত্তাগত গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত দুটি গুণ। আল্লাহ তাআলা অনাদিকাল থেকেই তাদের ওপর রাগান্বিত আছেন যাদের সম্পর্কে তাঁর অনাদি জ্ঞানে রয়েছে যে তারা তাঁর অবাধ্য হবে, এবং তিনি অনাদিকাল থেকেই তাদের ওপর সন্তুষ্ট আছেন যাদের সম্পর্কে তাঁর অনাদি জ্ঞানে রয়েছে যে তারা তাঁর সন্তুষ্টির কাজ করবে।
আর তাঁর অনুসারীরা তাদের কঠোর সমালোচনা করেছেন যারা বলে যে, সন্তুষ্টি ও রাগ সৃষ্টি (মাখলুক)।
৫৪ - তাঁরা বললেন, যে ব্যক্তি এমন কথা বলে তার জন্য এটা আবশ্যক হয়ে পড়ে যে, কাফিরদের ওপর আল্লাহ মহানের রাগ নিঃশেষ হয়ে যাবে এবং একইভাবে নবী ও মুমিনদের ওপর তাঁর সন্তুষ্টিও নিঃশেষ হয়ে যাবে, এমনকি শেষ পর্যন্ত তিনি আর কারো ওপর সন্তুষ্ট থাকবেন না।
(খণ্ড: ১)
আল-আকীদাতুল্লাতী হাকাহা আবু ফাদল আত-তামীমী আনিল ইমাম আহমাদ - ত আস-সাইরওয়ান
(পৃষ্ঠা: ১১০)
أوليائه وَلَا ساخطا على أعدائه وَسمي مَا كَانَ عَن الصّفة باسم الصّفة مجَازًا فِي بعض الْأَشْيَاء وسمى عَذَاب الله تَعَالَى وعقابه غَضبا وسخطا لِأَنَّهُمَا عَن الْغَضَب كَانَا
وَقد أجمع الْمُسلمُونَ لَا يتناكرون بَينهم إِذا رَأَوْا الزلازل والأمطار الْعَظِيمَة أَنهم يَقُولُونَ هَذِه قدرَة الله تَعَالَى وَالْمعْنَى أَنَّهَا عَن قدرَة كَانَت وَقد يَقُول الْإِنْسَان فِي دُعَائِهِ اللَّهُمَّ إغفر لنا علمك فِينَا وَإِنَّمَا يُرِيد معلومك الَّذِي كَلمته فيسمى الْمَعْلُوم باسم الْعلم وَكَذَلِكَ سمي المرتضى باسم الرضى وَسمي المغضوب باسم الْغَضَب
إِن لله نفسامَسْأَلَة وَذهب إِلَى أَن لله نفسا وَقَرَأَ أَحْمد بن حَنْبَل {ويحذركم الله نَفسه} وَقَالَ عز وجل {كتب ربكُم على نَفسه الرَّحْمَة} وَقَالَ {واصطنعتك لنَفْسي} وَلَيْسَت كَنَفس الْعباد الَّتِي هِيَ متحركة متصعدة مترددة فِي أبدانهم بل هِيَ صفة لَهُ فِي ذَاته خَالف بهَا النُّفُوس المنفوسة المجعولة فَفَارَقَ الْأَمْوَات وَحكى فِي تَفْسِيره عَن إِبْنِ عَبَّاس فِي قَوْله تَعَالَى {تعلم مَا فِي نَفسِي وَلَا أعلم مَا فِي نَفسك} قَالَ تعلم مَا فِي النَّفس المخلوقة وَلَا أعلم مَا فِي نَفسك الملكوتية
তাঁর বন্ধুদের প্রতি [সন্তুষ্ট] এবং তাঁর শত্রুদের প্রতি অসন্তুষ্ট [সৃষ্টজীবের ন্যায়] নন; বরং সিফাত (গুণ) থেকে যা প্রকাশ পায়, তাকে কিছু ক্ষেত্রে রূপকভাবে সিফাতের নামেই নামকরণ করা হয়েছে। মহান আল্লাহর আযাব ও শাস্তিকে ‘রাগ’ ও ‘অসন্তুষ্টি’ বলা হয়েছে কারণ সেগুলো আল্লাহর রাগ থেকেই সৃষ্টি হয়েছিল।
মুসলিমগণ এ বিষয়ে একমত এবং তাদের মাঝে কোনো দ্বিমত নেই যে, যখন তারা ভূমিকম্প ও প্রবল বৃষ্টিপাত দেখে, তখন তারা বলে যে, ‘এটি মহান আল্লাহর কুদরত (ক্ষমতা)’। এর অর্থ হলো, এটি তাঁর কুদরত থেকে উৎসারিত হয়েছে। মানুষ কখনো কখনো তার দোয়ায় বলে থাকে, ‘হে আল্লাহ! আমাদের সম্পর্কে আপনার ইলম (জ্ঞান) ক্ষমা করুন’। এর দ্বারা সে কেবল তাঁর ‘মালুম’ (জ্ঞাত বিষয়)-কে উদ্দেশ্য করে যেটির ব্যাপারে সে কথা বলছে। সুতরাং জ্ঞাত বিষয়কে ‘ইলম’ (জ্ঞান) নামে অভিহিত করা হয়েছে। অনুরূপভাবে ‘মুরতাজা’ (পছন্দনীয়)-কে ‘রিদা’ (সন্তুষ্টি) এবং ‘মাগদুব’ (যার ওপর রাগ করা হয়েছে)-কে ‘গাদাব’ (রাগ) নামে অভিহিত করা হয়েছে।
নিশ্চয়ই আল্লাহর নফস রয়েছেমাসআলা: তিনি এই মত পোষণ করেছেন যে, আল্লাহর ‘নফস’ (সত্তা) রয়েছে। আহমাদ বিন হাম্বল তিলাওয়াত করেছেন: {আল্লাহ তোমাদেরকে তাঁর নিজের নফস সম্পর্কে সতর্ক করছেন}। মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: {তোমাদের প্রতিপালক নিজের ওপর রহমত লিখে নিয়েছেন}। তিনি আরও বলেছেন: {আমি তোমাকে আমার নিজের জন্য তৈরি করেছি}। আর এটি বান্দাদের নফসের মতো নয় যা তাদের দেহের ভেতরে গতিশীল, ঊর্ধ্বগামী ও বিচরণশীল; বরং এটি তাঁর সত্তাগত একটি সিফাত (গুণ), যার মাধ্যমে তিনি সৃষ্ট ও সৃজিত নফসসমূহ থেকে ভিন্ন হয়েছেন এবং মৃতদের থেকে পৃথক হয়েছেন। তিনি তাঁর তাফসিরে ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে আল্লাহর এই বাণীর বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন: {আপনি জানেন যা আমার নফসে আছে, কিন্তু আমি জানি না যা আপনার নফসে আছে}। তিনি বলেছেন: (এর অর্থ হলো) আপনি জানেন যা সৃষ্টি জগতের নফসে আছে, আর আমি জানি না যা আপনার রাজকীয় নফসে আছে।
(খণ্ড: ১)
আল-আকীদাতুল্লাতী হাকাহা আবু ফাদল আত-তামীমী আনিল ইমাম আহমাদ - ত আস-সাইরওয়ান
(পৃষ্ঠা: ১১১)
{إِنَّك أَنْت علام الغيوب}
لَا يجوز أَن يُسمى جسماوَأنكر على من يَقُول بالجسم وَقَالَ إِن الْأَسْمَاء مَأْخُوذَة بالشريعة واللغة وَأهل اللُّغَة وضعُوا هَذَا الأسم على كل ذِي طول وَعرض وسمك وتركيب وَصُورَة وتأليف وَالله تَعَالَى خَارج عَن ذَلِك كُله فَلم يجز أَن 54 ب يُسمى جسما لِخُرُوجِهِ عَن معنى الجسمية وَلم يجِئ فِي الشَّرِيعَة ذَلِك فَبَطل
وَكَانَ يذهب إِلَى أَن الله تَعَالَى يرى فِي الْآخِرَة بالأبصار وَقَرَأَ {وُجُوه يَوْمئِذٍ ناضرة إِلَى رَبهَا ناظرة} وَلَو لم يرد النّظر بِالْعينِ مَا قرنه بِالْوَجْهِ وَأنكر نظر التعطف وَالرَّحْمَة لِأَن الْخلق لَا يتعطفون على الله تَعَالَى وَلَا يرحمونه وَأنكر الِانْتِظَار من أجل ذكر الْوَجْه وَمن أجل أَنه تبعيض وتكرير وَلِأَنَّهُ أَدخل فِيهِ إِلَى وَإِذا دخلت إِلَى فسد الِانْتِظَار قَالَ الله تَعَالَى {مَا ينظرُونَ إِلَّا صَيْحَة وَاحِدَة} وَقَالَ عز وجل {فناظرة بِمَ يرجع المُرْسَلُونَ} فَلَمَّا أَرَادَ الِانْتِظَار لم يدْخل إِلَى وروى الحَدِيث الْمَشْهُور فِي قَوْله ترَوْنَ ربكُم إِلَى آخِره
{নিশ্চয়ই আপনি অদৃশ্য সম্পর্কে সম্যক পরিজ্ঞাত}
তাঁকে শরীর হিসেবে নামকরণ করা জায়েয নয়এবং তিনি তাদের প্রতিবাদ করেছেন যারা আল্লাহর জন্য শরীরের কথা বলে। তিনি বলেছেন যে, নামসমূহ শরীয়ত এবং ভাষা থেকে গৃহীত। আর ভাষাবিদগণ এই নামটি এমন প্রতিটি বস্তুর ক্ষেত্রে প্রয়োগ করেছেন যার দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, পুরুত্ব, গঠন, আকৃতি ও বিন্যাস রয়েছে; অথচ আল্লাহ তাআলা এই সবকিছুর ঊর্ধ্বে। সুতরাং তাঁকে (৫৪ খ) শরীর নামকরণ করা জায়েয নয়, কারণ তিনি শরীরের বৈশিষ্ট্য থেকে মুক্ত। আর শরীয়তেও এমন কিছু আসেনি, তাই এটি বাতিল।
এবং তিনি এই মত পোষণ করতেন যে, আল্লাহ তাআলাকে পরকালে চর্মচক্ষুর মাধ্যমে দেখা যাবে। তিনি তিলাওয়াত করেছেন: {সেদিন অনেক মুখমণ্ডল উজ্জ্বল হবে, তাদের রবের দিকে তাকিয়ে থাকবে}। আর যদি চোখের মাধ্যমে দেখা উদ্দেশ্য না হতো, তবে তিনি একে মুখমণ্ডলের সাথে যুক্ত করতেন না। এবং তিনি একে করুণা বা রহমতের দৃষ্টি হিসেবে ব্যাখ্যা করাকে অস্বীকার করেছেন, কারণ সৃষ্টিরা আল্লাহ তাআলার প্রতি করুণা বা দয়া প্রদর্শন করে না। তিনি এর দ্বারা 'অপেক্ষা করা'র অর্থকেও প্রত্যাখ্যান করেছেন মুখমণ্ডলের উল্লেখ থাকার কারণে এবং এটি খণ্ডায়ন ও পুনরাবৃত্তি হওয়ার কারণে। তদুপরি এতে 'ইলা' (দিকে) অব্যয়টি যুক্ত করা হয়েছে; আর যখন 'ইলা' যুক্ত হয়, তখন 'অপেক্ষা করা'র অর্থ বাতিল হয়ে যায়। আল্লাহ তাআলা বলেন: {তারা কেবল একটি বিকট শব্দের অপেক্ষা করছে}। এবং তিনি পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত বলেন: {অতঃপর আমি দেখছি দূতগণ কী নিয়ে ফিরে আসে}। সুতরাং যখন তিনি 'অপেক্ষা করা' বুঝাতে চেয়েছেন, তখন 'ইলা' যুক্ত করেননি। এবং তিনি এই মর্মে প্রসিদ্ধ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন: "তোমরা তোমাদের রবকে দেখতে পাবে..." শেষ পর্যন্ত।
(খণ্ড: ১)
আল-আকীদাতুল্লাতী হাকাহা আবু ফাদল আত-তামীমী আনিল ইমাম আহমাদ - ত আস-সাইরওয়ান
(পৃষ্ঠা: ১১২)
الله قديم بصفاته
مَسْأَلَة وَكَانَ يَقُول إِن الله تَعَالَى قديم بصفاته الَّتِي هِيَ مُضَافَة إِلَيْهِ فِي نَفسه
وَقد سُئِلَ هَل الْمَوْصُوف الْقَدِيم وَصفته قديمان فَقَالَ هَذَا سُؤال خطأ لَا يجوز أَن ينْفَرد الْحق عَن صِفَاته وَمعنى مَا قَالَه من ذَلِك أَن الْمُحدث مُحدث بِجَمِيعِ صِفَاته على غير تَفْصِيل وَكَذَلِكَ الْقَدِيم تَعَالَى بِجَمِيعِ صِفَاته
আল্লাহ তাঁর গুণাবলি সহকারে অনাদি
মাসয়ালা: তিনি বলতেন যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা তাঁর সেই গুণাবলি সহকারে অনাদি যা তাঁর নিজের সত্তার সাথে সম্বন্ধযুক্ত।
তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: অনাদি গুণান্বিত সত্তা এবং তাঁর গুণ কি দুটি পৃথক অনাদি বিষয়? তখন তিনি বললেন: এটি একটি ভুল প্রশ্ন; সত্য সত্তা (আল্লাহ)-এর তাঁর গুণাবলি থেকে পৃথক হওয়া বৈধ নয়। এ বিষয়ে তিনি যা বলেছেন তার অর্থ হলো, যা কিছু সৃষ্ট তা তার সকল গুণাবলি সহকারেই কোনো বিস্তারিত পার্থক্য ছাড়াই সৃষ্ট, আর একইভাবে অনাদি মহান আল্লাহও তাঁর সকল গুণাবলি সহকারেই অনাদি।
(খণ্ড: ১)
আল-আকীদাতুল্লাতী হাকাহা আবু ফাদল আত-তামীমী আনিল ইমাম আহমাদ - ত আস-সাইরওয়ান
(পৃষ্ঠা: ১১৩)
الإسم والمسمىمَسْأَلَة وَعظم عَلَيْهِ الْكَلَام فِي الإسم والمسمى وَتكلم أَصْحَابه فِي ذَلِك فَمنهمْ من قَالَ الإسم للمسمى وَمِنْهُم من قَالَ الِاسْم هُوَ الْمُسَمّى وَالْقَوْل الأول قَول جَعْفَر بن مُحَمَّد وَالْقَوْل الثَّانِي قَول جمَاعَة من متكلمي أَصْحَاب الحَدِيث وَالَّذين طلبُوا السَّلامَة أَمْسكُوا وَقَالُوا لَا نعلم
أَفعَال الْعباد مخلوقةوَكَانَ يذهب إِلَى أَن أَفعَال الْعباد مخلوقة لله عز وجل وَلَا يجوز أَن 55 أيخرج شَيْء من أفعالهم عَن خلقه لقَوْله عز وجل {خَالق كل شَيْء} ثمَّ لَو كَانَ مَخْصُوصًا لجَاز مثل ذَلِك التَّخْصِيص فِي قَوْله {لَا إِلَه إِلَّا هُوَ} وَأَن يكون مَخْصُوصًا أَنه إِلَه لبَعض الْأَشْيَاء وَقَرَأَ {وَجَعَلنَا فِي قُلُوب الَّذين اتَّبعُوهُ رأفة وَرَحْمَة} وَقَرَأَ {عَسى الله أَن يَجْعَل بَيْنكُم وَبَين الَّذين عاديتم مِنْهُم مَوَدَّة} وَقَرَأَ {وقدرنا فِيهَا السّير سِيرُوا فِيهَا ليَالِي وأياما آمِنين} وَرُوِيَ عَن عَليّ ابْن أبي طَالب رضي الله عنه أَنه سُئِلَ
নাম ও নামীএকটি মাসআলা: নাম ও নামী (মুসাম্মা) বিষয়ে তাঁর নিকট আলোচনা অত্যন্ত বিস্তারিত হয়েছে এবং তাঁর অনুসারীবৃন্দ এ বিষয়ে কথা বলেছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ বলেছেন, নাম হলো নামীর জন্য; আবার তাঁদের কেউ বলেছেন, নামই হলো নামী। প্রথম বক্তব্যটি হলো জাফর ইবনে মুহাম্মাদের এবং দ্বিতীয় বক্তব্যটি হলো আসহাবে হাদিসের একদল কালাম শাস্ত্রবিদের। আর যাঁরা নিরাপত্তা চেয়েছেন, তাঁরা এ বিষয়ে বিরত থেকেছেন এবং বলেছেন, "আমরা জানি না।"
বান্দাদের কর্মসমূহ সৃষ্টতিনি এই মত পোষণ করতেন যে, বান্দাদের কর্মসমূহ মহান আল্লাহর সৃষ্টি। বান্দাদের কোনো কর্মই তাঁর সৃষ্টির কর্তৃত্ব থেকে বের হওয়া বৈধ নয়, কারণ মহান আল্লাহর বাণী: {তিনি সর্বকিছুর স্রষ্টা}। এরপর যদি এটি বিশেষ কোনো বিষয়ের জন্য হতো, তবে আল্লাহর বাণী {তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই}-এর ক্ষেত্রেও অনুরূপ বিশেষায়ন জায়েজ হয়ে যেত এবং এর অর্থ দাঁড়াত যে তিনি কেবল কিছু জিনিসের ইলাহ। তিনি পাঠ করলেন: {এবং যারা তাঁর অনুসরণ করেছে, আমরা তাদের অন্তরে কোমলতা ও দয়া দান করেছি}। তিনি আরও পাঠ করলেন: {শীঘ্রই আল্লাহ তোমাদের এবং যাদের সাথে তোমাদের শত্রুতা রয়েছে তাদের মাঝে হৃদ্যতা সৃষ্টি করে দেবেন}। তিনি আরও পাঠ করলেন: {এবং আমরা তাতে ভ্রমণের পথ সুনির্দিষ্ট করেছি; তোমরা সেখানে রাত ও দিন নিরাপদে ভ্রমণ করো}। আলি ইবনে আবি তালিব (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণিত যে, তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল—
(খণ্ড: ১)
আল-আকীদাতুল্লাতী হাকাহা আবু ফাদল আত-তামীমী আনিল ইমাম আহমাদ - ত আস-সাইরওয়ান
(পৃষ্ঠা: ১১৪)
عَن أَعمال الْخلق الَّتِي يستوجبون بهَا من الله السخط وَالرِّضَا فَقَالَ هِيَ من الْعباد فعلا وَمن الله تَعَالَى خلقا لَا تسْأَل عَن هَذَا أحدا بعدِي
الإستطاعةوَكَانَ أَحْمد يذهب إِلَى أَن الِاسْتِطَاعَة مَعَ الْفِعْل وَقَرَأَ قَوْله عز وجل {انْظُر كَيفَ ضربوا لَك الْأَمْثَال فضلوا فَلَا يَسْتَطِيعُونَ سَبِيلا} وَقَرَأَ {ذَلِك تَأْوِيل مَا لم تسطع عَلَيْهِ صبرا} وَالْقَوْم لَا آفَة بهم وَكَانَ مُوسَى تَارِكًا للصبر وَقَرَأَ {وَلنْ تستطيعوا أَن تعدلوا بَين النِّسَاء وَلَو حرصتم} فَدلَّ على عجزنا وَدلّ ذَلِك على أَن الْخلق بِهَذِهِ الصّفة لَا يقدرُونَ إِلَّا بِاللَّه وَلَا يصنعون إِلَّا مَا قدره الله تَعَالَى وَقد سمي الْإِنْسَان مستطيعا إِذا كَانَ سليما من الْآفَات
عدل الله تَعَالَىمَسْأَلَة وَكَانَ يَقُول إِن الله تَعَالَى أعدل العادلين وَإنَّهُ لَا يلْحقهُ جور وَلَا يجوز أَن يُوصف بِهِ عز عَن ذَلِك وَتَعَالَى علوا كَبِيرا وَأَنه مَتى كَانَ فِي ملكه مَالا يُريدهُ بطلت الربوبية وَذَلِكَ مثل أَن يكون فِي ملكه مَالا يُعلمهُ تَعَالَى الله علوا كَبِيرا
الْمَشِيئَة للهقَالَ أَحْمد بن حَنْبَل وَلَو شَاءَ الله أَن يزِيل فعل الفاعلين مِمَّا كرهه أزاله وَلَو شَاءَ أَن يجمع خلقه على شَيْء وَاحِد لفعله إِذْ هُوَ قَادر على
সৃষ্টির ঐ সকল আমল সম্পর্কে যার মাধ্যমে তারা আল্লাহর নিকট থেকে ক্রোধ ও সন্তুষ্টির যোগ্য হয়, সে সম্পর্কে তিনি (আহমদ ইবনে হাম্বল) বললেন: "তা বান্দাদের পক্ষ থেকে কাজ (কর্ম) হিসেবে এবং মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে সৃষ্টি হিসেবে। আমার পরে এ বিষয়ে তুমি কাউকে জিজ্ঞাসা করো না।"
সক্ষমতা (ইস্তিতায়াত)আহমদ এই মত পোষণ করতেন যে, সক্ষমতা কাজের সাথেই থাকে। তিনি মহান আল্লাহর বাণী তিলাওয়াত করলেন: {দেখুন, তারা আপনার জন্য কেমন সব উপমা পেশ করে! ফলে তারা পথভ্রষ্ট হয়েছে, তাই তারা কোনো পথ পাওয়ার সক্ষমতা রাখে না।} তিনি আরও তিলাওয়াত করলেন: {এটিই সেই বিষয়ের ব্যাখ্যা যার ওপর আপনি ধৈর্য ধারণ করতে সক্ষম হননি।} অথচ সেই সম্প্রদায়ের কোনো শারীরিক ত্রুটি ছিল না। আর মূসা (আলাইহিস সালাম) ধৈর্য ধারণ করতে পারেননি। তিনি আরও তিলাওয়াত করলেন: {তোমরা কখনোই স্ত্রীদের মধ্যে ন্যায়বিচার করতে সক্ষম হবে না, যদিও তোমরা তা প্রবলভাবে আকাঙ্ক্ষা করো।} এটি আমাদের অক্ষমতার ওপর প্রমাণ পেশ করে এবং এটি নির্দেশ করে যে, মাখলুক বা সৃষ্টি এই বৈশিষ্ট্যের কারণে আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো সামর্থ্য রাখে না এবং তারা তা-ই করে যা মহান আল্লাহ নির্ধারণ করেছেন। আর মানুষকে সক্ষম বলা হয় যখন সে শারীরিক ত্রুটিসমূহ থেকে মুক্ত থাকে।
মহান আল্লাহর ন্যায়বিচার (আদল)মাসআলা: তিনি বলতেন যে, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ বিচারকদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ন্যায়বিচারক। কোনো জুলুম বা অন্যায় তাঁকে স্পর্শ করে না এবং তাঁকে এ গুণে গুণান্বিত করা বৈধ নয়; তিনি তা থেকে অনেক ঊর্ধ্বে এবং সুমহান। আর তাঁর রাজত্বে যদি এমন কিছু ঘটত যা তিনি চান না, তবে তাঁর প্রভুত্ব (রুবুবিয়্যাহ) বাতিল হয়ে যেত। এটি ঠিক তেমন, যেমন তাঁর রাজত্বে এমন কিছু থাকা যা তিনি জানেন না। মহান আল্লাহ তা থেকে অনেক ঊর্ধ্বে এবং সুমহান।
ইচ্ছা (মাশিয়াত) আল্লাহর জন্যআহমদ ইবনে হাম্বল বলেন, আল্লাহ যদি তাঁর অপছন্দনীয় কর্মসমূহ থেকে কর্মীদের কাজকে মিটিয়ে দিতে চাইতেন, তবে অবশ্যই তিনি তা মিটিয়ে দিতেন। আর তিনি যদি তাঁর সমস্ত সৃষ্টিকে একটি বিষয়ের ওপর একত্রিত করতে চাইতেন, তবে তিনি অবশ্যই তা করতেন, যেহেতু তিনি এর ওপর সক্ষম...
(খণ্ড: ১)
আল-আকীদাতুল্লাতী হাকাহা আবু ফাদল আত-তামীমী আনিল ইমাম আহমাদ - ত আস-সাইরওয়ান
(পৃষ্ঠা: ১১৫)
ذَلِك وَلَا يلْحقهُ عجز وَلَا ضعف وَلكنه كَانَ من خلقه مَا علم وَأَرَادَ
55 - فَلَيْسَ بمغلوب وَلَا مقهور وَلَا سَفِيه وَلَا عَاجز بَرِيء من لواحق التَّقْصِير وَقَرَأَ قَوْله تَعَالَى {وَلَو شِئْنَا لآتينا كل نفس هداها} {وَلَو شَاءَ الله لجمعهم على الْهدى} {وَلَو شَاءَ رَبك لآمن من فِي الأَرْض كلهم جَمِيعًا} وَهُوَ عز وجل لَا يُوصف إِذا منع بالبخل لِأَن الْبَخِيل هُوَ الَّذِي يمْنَع مَا وَجب عَلَيْهِ فَأَما من كَانَ متفضلا فَلهُ أَن يفعل وَله أَن لَا يفعل
وَاحْتج رجل من أَصْحَابنَا يعرف بِأبي بكر بن أَحْمد بن هَانِئ الإسكافي الْأَثْرَم فَقَالَ جعل الله تَعَالَى الْعقُوبَة بَدَلا من الجرم الَّذِي كَانَ من عَبده وَهُوَ مُرِيد للعقوبة على الجرم وَفِي ذَلِك دَلِيل وَاضح على أَنه مُرِيد لما أوجب الْعقُوبَة لِأَن كل من أَرَادَ الْبَدَل من الشَّيْء فقد أَرَادَ الْمُبدل ليَصِح بدله وَلَيْسَ يَصح إِرَادَته للبدل حَتَّى يَصح الْبَدَل
وَأَيْضًا فقد خلق الله من يعلم أَنه يكفر وَلم يكن بذلك سَفِيها وَلَا عابثا وَكَذَلِكَ أَيْضا إِذا أَرَادَ سفههم لَا يكون سَفِيها وَلَو جَازَ أَن يَقع من الفاعلين فعل لَا يُريدهُ الله وَلَا يلْحقهُ فِي ذَلِك ضعف وَلَا وَهن وَلَا عجز وَلَا غَلَبَة وَلَا قهر لِأَنَّهُ قَادر أَن يلجئهم إِلَيْهِ كَانَ جَائِزا أَن يَقع مِنْهُ فعل لَا يُريدهُ وَلَا يَقع مِنْهُ ضعف وَلَا وَهن وَلَا تَقْصِير لِأَنَّهُ قَادر على تكوينه وإيقاعه وَإِذا بَطل هَذَا بَطل أَن يكون من الْأَفْعَال مَالا يُريدهُ
সেটি, আর তাকে কোনো অক্ষমতা বা দুর্বলতা স্পর্শ করে না, বরং তাঁর সৃষ্টির ক্ষেত্রে তাই হয়েছিল যা তিনি জানতেন এবং চেয়েছিলেন।
৫৫ - সুতরাং তিনি বিজিত নন, পরাভূত নন, নির্বোধ নন এবং অক্ষমও নন; তিনি ত্রুটির সকল অনুষঙ্গ থেকে মুক্ত। আর তিনি মহান আল্লাহর এই বাণী পাঠ করলেন: {আর যদি আমি চাইতাম, তবে প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার হিদায়াত দান করতাম} {আর যদি আল্লাহ চাইতেন, তবে অবশ্যই তাদেরকে হিদায়াতের ওপর একত্রিত করতেন} {আর তোমার রব যদি চাইতেন, তবে জমিনে যারা আছে তারা সবাই একত্রে ঈমান আনত}। আর তিনি (মহামহিম) যখন কোনো কিছু প্রদান থেকে বিরত থাকেন, তখন তাঁকে কৃপণতার বিশেষণে বিশেষায়িত করা যায় না। কেননা কৃপণ সেই ব্যক্তি, যে তার ওপর ওয়াজিব বা আবশ্যকীয় বিষয় প্রদান করতে অস্বীকার করে। পক্ষান্তরে যিনি অনুগ্রহকারী, তাঁর কোনো কাজ করার যেমন ইখতিয়ার রয়েছে, তেমনি না করারও ইখতিয়ার রয়েছে।
আমাদের সাথীদের মধ্য থেকে আবু বকর ইবন আহমাদ ইবন হানি আল-ইসকাফি আল-আছরাম নামে পরিচিত জনৈক ব্যক্তি দলিল পেশ করে বলেছেন: আল্লাহ তাআলা শাস্তিকে তাঁর বান্দার কৃত অপরাধের বিনিময় নির্ধারণ করেছেন, আর তিনি অপরাধের ওপর শাস্তির ইচ্ছা পোষণ করেন। এর মধ্যে সুস্পষ্ট দলিল রয়েছে যে, তিনি সেই কাজেরও ইচ্ছা পোষণ করেন যা শাস্তিকে আবশ্যক করে। কেননা যে ব্যক্তি কোনো বিষয়ের বিনিময় চায়, সে সেই মূল বিষয়টিরও ইচ্ছা পোষণ করে থাকে, যাতে বিনিময়টি সঠিক হয়। আর মূল বিষয়টি সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত তার বিনিময়ের ইচ্ছা সঠিক হতে পারে না।
অধিকন্তু, আল্লাহ এমন ব্যক্তিকেও সৃষ্টি করেছেন যার ব্যাপারে তিনি জানেন যে সে কুফরি করবে, অথচ এর দ্বারা তিনি নির্বোধ বা নিরর্থক কর্ম সম্পাদনকারী হয়ে যাননি। তদ্রূপ, যখন তিনি তাদের নির্বুদ্ধিতার ইচ্ছা পোষণ করেন, তখন তিনি নিজে নির্বোধ হন না। আর যদি কর্তাদের পক্ষ থেকে এমন কোনো কাজ প্রকাশ পাওয়া সম্ভব হতো যা আল্লাহ চান না, অথচ তাতে তাঁর কোনো দুর্বলতা, ক্লান্তি, অক্ষমতা, পরাভব বা পরাজয় স্পর্শ করত না—যেহেতু তিনি তাদেরকে বাধ্য করতে সক্ষম—তবে তাঁর পক্ষ থেকেও এমন কাজ হওয়া সম্ভব হতো যা তিনি চান না, অথচ তাতে কোনো দুর্বলতা, ক্লান্তি বা ত্রুটি প্রকাশ পেত না। কারণ তিনি তা সৃষ্টি করতে এবং ঘটাতে সক্ষম। আর যখন এটি অসম্ভব প্রমাণিত হলো, তখন এটিও বাতিল হয়ে গেল যে, ক্রিয়াকলাপের মধ্যে এমন কিছু থাকতে পারে যা তিনি চান না।
(খণ্ড: ১)
আল-আকীদাতুল্লাতী হাকাহা আবু ফাদল আত-তামীমী আনিল ইমাম আহমাদ - ত আস-সাইরওয়ান
(পৃষ্ঠা: ১১৬)
عدل الله تَعَالَىوَذهب أَحْمد بن حَنْبَل رَحمَه الله تَعَالَى إِلَى أَن عدل الله عز وجل لَا يدْرك بالعقول فلأجل ذَلِك كَانَ من حمله على عقله جوره
56 - أوشرح بعض أَصْحَابه ذَلِك فَقَالَ مَا كَانَ الله سبحانه وتعالى لَا يتَصَوَّر بالعقول وَلَا يتمثله التَّمْيِيز وَفَاتَ الْعُقُول دركه وَمَعَ ذَلِك فَهُوَ شَيْء ثَابت وَمَا تصور بِالْعقلِ فَالله بِخِلَافِهِ وَكَذَلِكَ صِفَاته فَمن حمل الربوبية وصفاتها على عقله رَجَعَ حسيرا ورام أمرا مُمْتَنعا عسيرا والمخالفون بنوا أصولهم فِي التَّعْدِيل والتجوير على عُقُولهمْ العاجزة عَن دَرك الربوية ففسد عَلَيْهِم النّظر
الطَّاعَة وَالْمَعْصِيَةوَكَانَ أَحْمد بن حَنْبَل رضي الله عنه يَقُول إِن الله تَعَالَى يكره الطَّاعَة من العَاصِي كَمَا يكره الْمعْصِيَة من الطائع حَكَاهُ ابْن أبي دَاوُد وَقَرَأَ
আল্লাহ তাআলার ন্যায়বিচারআহমদ ইবনে হাম্বল (রহিমাহুল্লাহ তাআলা) এই অভিমত পোষণ করতেন যে, আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা-র ন্যায়বিচার বুদ্ধিবৃত্তি দ্বারা উপলব্ধি করা যায় না। এই কারণেই, যে ব্যক্তি একে নিজের বুদ্ধিবৃত্তির মাপকাঠিতে বিচার করতে চায়, তার কাছে তা জুলুম বলে গণ্য হয়।
৫৬ - তাঁর কোনো কোনো সঙ্গী এর ব্যাখ্যায় বলেছেন: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা যেহেতু বুদ্ধিবৃত্তি দ্বারা কল্পনাতীত এবং বিচারবুদ্ধি তাঁর সাদৃশ্য নিরূপণ করতে পারে না, আর বুদ্ধিবৃত্তি তাঁকে উপলব্ধি করতে অক্ষম; তা সত্ত্বেও তিনি এক সাব্যস্ত সত্তা। বুদ্ধিবৃত্তিতে যা কিছু কল্পনা করা যায়, আল্লাহ তা থেকে ভিন্ন, আর তাঁর গুণাবলিও তদ্রূপ। সুতরাং যে ব্যক্তি রুবুবিয়্যাত ও এর গুণাবলিকে স্বীয় বুদ্ধিবৃত্তির ওপর চাপিয়ে দেয়, সে ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত হয়ে ফিরে আসে এবং এমন এক অসম্ভব ও দুরূহ বিষয়ের সংকল্প করে যা সাধ্যাতীত। আর বিরোধীরা ন্যায় ও অন্যায়ের ক্ষেত্রে তাদের মূলনীতিসমূহকে তাদের সেই বুদ্ধিবৃত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করেছে যা রুবুবিয়্যাত উপলব্ধি করতে অক্ষম, ফলে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি কলুষিত হয়ে পড়েছে।
আনুগত্য ও নাফরমানিআহমদ ইবনে হাম্বল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলতেন: আল্লাহ তাআলা পাপাচারীর পক্ষ থেকে আনুগত্যকে তেমনি অপছন্দ করেন যেমনটি তিনি অনুগত ব্যক্তির পক্ষ থেকে নাফরমানিকে অপছন্দ করেন। ইবনে আবি দাউদ এটি বর্ণনা করেছেন এবং পাঠ করেছেন...
(খণ্ড: ১)
আল-আকীদাতুল্লাতী হাকাহা আবু ফাদল আত-তামীমী আনিল ইমাম আহমাদ - ত আস-সাইরওয়ান
(পৃষ্ঠা: ১১৭)
{وَلَو أَرَادوا الْخُرُوج لأعدوا لَهُ عدَّة وَلَكِن كره الله انبعاثهم} وانبعاثهم طَاعَة الله وَالله يكرههُ
الْإِيمَان قَول وَعملوَكَانَ أَحْمد بن حَنْبَل يذهب إِلَى أَن الْإِيمَان قَول بِاللِّسَانِ وَعمل بالأركان واعتقاد بِالْقَلْبِ يزِيد بِالطَّاعَةِ وَينْقص بالمعصية ويقوى بِالْعلمِ ويضعف بِالْجَهْلِ وبالتوفيق يَقع وَأَن الْإِيمَان اسْم يتَنَاوَل مسميات كَثِيرَة من أَفعَال وأقوال وَذكر الحَدِيث عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ الْإِيمَان بضع وَسَبْعُونَ شُعْبَة أفضلهَا قَول لَا إِلَه إِلَّا الله وَأَدْنَاهَا إمَاطَة الْأَذَى عَن الطَّرِيق
وَعِنْده أَن الصَّلَاة يَقع عَلَيْهَا اسْم إِيمَان وَقِرَاءَة الْقُرْآن يَقع عَلَيْهَا اسْم إِيمَان
مَسْأَلَة عَن الْإِيمَانوَسُئِلَ عَن الْإِيمَان أمخلوق أَو غير مَخْلُوق فَقَالَ من قَالَ إِن الْإِيمَان مَخْلُوق فقد كفر لِأَن فِي ذَلِك إيهاما وتعريضا بِالْقُرْآنِ وَمن قَالَ 56 ب إِنَّه غير مَخْلُوق فقد ابتدع لِأَن فِي ذَلِك إيهاما وتعريضا أَن إمَاطَة الْأَذَى
{আর যদি তারা বের হওয়ার সংকল্প করত, তবে অবশ্যই তারা তার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করত, কিন্তু আল্লাহ তাদের অভিযাত্রা অপছন্দ করলেন} আর তাদের এই অভিযাত্রা ছিল আল্লাহর একটি আনুগত্যের কাজ, যা আল্লাহ অপছন্দ করেছেন।
ঈমান হলো বক্তব্য ও কর্মআর আহমদ বিন হাম্বল এই মত পোষণ করতেন যে, ঈমান হলো জিহ্বা দ্বারা উচ্চারণ, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাধ্যমে আমল এবং অন্তরে বিশ্বাস; যা আনুগত্যের মাধ্যমে বৃদ্ধি পায় এবং পাপাচারের মাধ্যমে হ্রাস পায়; ইলমের মাধ্যমে শক্তিশালী হয় এবং অজ্ঞতার মাধ্যমে দুর্বল হয়; আর আল্লাহর তাওফীকের মাধ্যমেই তা সংঘটিত হয়। আর ঈমান এমন একটি নাম যা কাজ ও কথা সম্বলিত অনেক বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে। তিনি নবী (আল্লাহ তাঁর উপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন) থেকে বর্ণিত হাদীস উল্লেখ করেছেন যে, তিনি বলেছেন: ঈমানের সত্তরটিরও বেশি শাখা রয়েছে, যার মধ্যে সর্বোত্তম হলো 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই' বলা এবং তার সর্বনিম্ন হলো পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলা।
আর তাঁর নিকট সালাতের ওপর 'ঈমান' নামটি প্রযোজ্য হয় এবং কুরআন তিলাওয়াতের ওপরও 'ঈমান' নামটি প্রযোজ্য হয়।
ঈমান বিষয়ে একটি মাসআলাআর তাঁকে ঈমান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, তা কি সৃষ্ট নাকি অ-সৃষ্ট? তখন তিনি বললেন: যে ব্যক্তি বলে যে ঈমান সৃষ্ট, সে কুফরী করল; কারণ এর দ্বারা কুরআনের ব্যাপারে সংশয় ও ইঙ্গিত প্রদান করা হয়। আর যে ব্যক্তি ৫৬-খ বলল যে তা অ-সৃষ্ট, সে বিদআত করল; কারণ এতে এই সংশয় ও ইঙ্গিত রয়েছে যে, পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলাও (অ-সৃষ্ট)...
(খণ্ড: ১)
আল-আকীদাতুল্লাতী হাকাহা আবু ফাদল আত-তামীমী আনিল ইমাম আহমাদ - ত আস-সাইরওয়ান
(পৃষ্ঠা: ১১৮)
عَن الطَّرِيق وأفعال الْأَركان غير مخلوقة فَكَأَنَّهُ أنكر على الطَّائِفَتَيْنِ
وَأَصله الَّذِي بنى عَلَيْهِ مذْهبه أَن الْقُرْآن إِذا لم ينْطق بِشَيْء وَلَا رُوِيَ فِي السّنة عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم فِيهِ شَيْء وانقرض عصر الصَّحَابَة وَلم ينْقل فِيهِ عَنْهُم قَول الْكَلَام فِيهِ حدث فِي الْإِسْلَام فلأجل ذَلِك أمسك عَن القَوْل فِي خلق الْإِيمَان وَأَن لَا يقطع على جَوَاب فِي أَنه مَخْلُوق أَو غير مَخْلُوق وَفسق الطَّائِفَتَيْنِ وبدعهما
الْكتب كَلَام اللهوَكَانَ يذهب إِلَى أَن التَّوْرَاة وَالْإِنْجِيل وكل كتاب أنزلهُ الله عز وجل غير مَخْلُوق إِذا سلم لَهُ أَنه كَلَام الله تَعَالَى
الْقُرْآن معجز فِي نَفسهوَكَانَ يكفر من يَقُول إِن الْقُرْآن مَقْدُور على مثله وَلَكِن الله تَعَالَى منع من قدرتهم بل هُوَ معجز فِي نَفسه وَالْعجز قد شَمل الْخلق
الْإِيمَان يزِيد وَينْقصوَكَانَ يَقُول أَن الْإِيمَان يزِيد وَيقْرَأ {ويزداد الَّذين آمنُوا إِيمَانًا} وَيقْرَأ {فَأَما الَّذين آمنُوا فزادتهم إِيمَانًا وهم يستبشرون} وَمَا جَازَ عَلَيْهِ الزِّيَادَة جَازَ عَلَيْهِ النُّقْصَان
الْإِيمَان غير الْإِسْلَاموَكَانَ يَقُول إِن الْإِيمَان غير الْإِسْلَام
সঠিক পথ বিচ্যুতি এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কাজগুলো সৃষ্টি নয়—এভাবে তিনি যেন উভয় দলেরই প্রতিবাদ করেছেন।
এবং তাঁর মাজহাবের মূল ভিত্তি ছিল এই যে, যদি কুরআন কোনো বিষয়ে কিছু না বলে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সুন্নাহতেও সে বিষয়ে কিছু বর্ণিত না হয়, আর সাহাবীদের যুগ অতিবাহিত হয়ে যাওয়ার পর তাদের থেকেও সে বিষয়ে কোনো বক্তব্য বর্ণিত না হয়, তবে সে বিষয়ে কথা বলা ইসলামে একটি নব-উদ্ভাবিত বিষয়। সেই কারণেই তিনি ঈমান সৃষ্টির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকতেন এবং এটি সৃষ্টি নাকি সৃষ্টি নয়—এই উত্তরের ব্যাপারে কোনো অকাট্য সিদ্ধান্ত দিতেন না। তিনি উভয় দলকেই পাপাচারী ও বিদআতি হিসেবে গণ্য করতেন।
আসমানি কিতাবসমূহ আল্লাহর কালামএবং তাঁর অভিমত ছিল যে, তাওরাত, ইঞ্জিল এবং আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালী কর্তৃক নাজিলকৃত প্রতিটি কিতাবই অসৃষ্ট (সৃষ্টি নয়), যখন এটি স্বীকৃত হয় যে তা মহান আল্লাহর কালাম।
কুরআন সত্তাগতভাবেই মুজিজাতিনি সেই ব্যক্তিকে কাফির বলতেন যে বলত যে কুরআনের মতো কিছু তৈরি করা সম্ভব, কিন্তু আল্লাহ তাআলা মানুষকে তা করতে বাধা দিয়েছেন; বরং এটি সত্তাগতভাবেই মুজিজা এবং অক্ষমতা সমস্ত সৃষ্টিকে পরিবেষ্টন করে আছে।
ঈমান বৃদ্ধি পায় ও হ্রাস পায়তিনি বলতেন যে ঈমান বৃদ্ধি পায় এবং তিনি পাঠ করতেন, "যাতে মুমিনগণ তাদের ঈমানের সাথে ঈমান বৃদ্ধি করে নেয়" এবং পাঠ করতেন, "অতঃপর যারা ঈমান এনেছে, এটি তাদের ঈমান বৃদ্ধি করেছে এবং তারা আনন্দিত হচ্ছে।" আর যে বিষয়ের ক্ষেত্রে বৃদ্ধি হওয়া সম্ভব, তার ক্ষেত্রে হ্রাস পাওয়াও সম্ভব।
ঈমান ও ইসলাম এক নয়তিনি বলতেন যে ঈমান এবং ইসলাম ভিন্ন ভিন্ন।
(খণ্ড: ১)
আল-আকীদাতুল্লাতী হাকাহা আবু ফাদল আত-তামীমী আনিল ইমাম আহমাদ - ত আস-সাইরওয়ান
(পৃষ্ঠা: ১১৯)
وَكَانَ يَقُول إِن الله سُبْحَانَهُ قَالَ {فأخرجنا من كَانَ فِيهَا من الْمُؤمنِينَ فَمَا وجدنَا فِيهَا غير بَيت من الْمُسلمين} اسْتثِْنَاء من غير الْجِنْس
وَفرق أَصْحَابه بَين الْإِيمَان وَالْإِسْلَام فَقَالُوا حَقِيقَة الْإِيمَان التَّصْدِيق وَحَقِيقَة الْإِسْلَام الاستسلام فَلَا يفهم من معنى التَّصْدِيق الاستسلام وَلَا يفهم من معنى الاستسلام التَّصْدِيق وَاسْتدلَّ أَحْمد بن حَنْبَل بِحَدِيث الْأَعرَابِي وسؤاله عَن الْإِسْلَام وسؤاله عَن الْإِيمَان وَجَوَاب 57 أَرَسُول الله صلى الله عليه وسلم عَنْهُمَا بجوابين مُخْتَلفين وَاسْتدلَّ أَيْضا بِحَدِيث الْأَعرَابِي الآخر وَقَوله يَا رَسُول الله أَعْطَيْت فلَانا ومنعتني فَقَالَ لَهُ النَّبِي صلى الله عليه وسلم ذَلِك مُؤمن فَقَالَ الْأَعرَابِي وَأَنا مُؤمن فَقَالَ لَهُ النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَو مُسلم وَبِحَدِيث وَفد عبد الْقَيْس وَبِقَوْلِهِ عز وجل {قَالَت الْأَعْرَاب آمنا قل لم تؤمنوا وَلَكِن قُولُوا أسلمنَا}
তিনি বলতেন যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: "অতঃপর সেখানে যারা মুমিন ছিল আমি তাদের বের করে আনলাম। কিন্তু সেখানে আমি মুসলিমদের একটি ঘর ব্যতীত আর কাউকে পেলাম না।" এটি ভিন্ন জাতীয় সত্তা থেকে ব্যতিক্রম করা।
এবং তাঁর সাথীবৃন্দ ঈমান ও ইসলামের মধ্যে পার্থক্য করেছেন। তাঁরা বলেছেন: ঈমানের প্রকৃত অর্থ হলো বিশ্বাস করা এবং ইসলামের প্রকৃত অর্থ হলো আত্মসমর্পণ করা। সুতরাং বিশ্বাসের অর্থ থেকে আত্মসমর্পণ বোঝা যায় না এবং আত্মসমর্পণের অর্থ থেকেও বিশ্বাস করা বোঝা যায় না। আহমাদ বিন হাম্বল গ্রাম্য ব্যক্তির হাদিস এবং ইসলাম ও ঈমান সম্পর্কে তার প্রশ্ন এবং সেই দুটির বিষয়ে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ভিন্ন ভিন্ন উত্তর দ্বারা দলিল পেশ করেছেন। তিনি অন্য এক গ্রাম্য ব্যক্তির হাদিস দ্বারাও দলিল পেশ করেছেন যেখানে সে বলেছিল: "হে আল্লাহর রাসূল! আপনি অমুককে দান করলেন অথচ আমাকে বঞ্চিত করলেন?" তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: "সে তো মুমিন।" তখন গ্রাম্য ব্যক্তিটি বলল: "আমিও মুমিন।" তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: "অথবা বলো মুসলিম।" এছাড়াও তিনি আব্দুল কায়েস প্রতিনিধিদলের হাদিস এবং মহান আল্লাহর বাণী দ্বারা দলিল পেশ করেছেন: "মরুবাসী আরবরা বলে, আমরা ঈমান এনেছি। আপনি বলুন, তোমরা ঈমান আনোনি; বরং তোমরা বলো, আমরা ইসলাম গ্রহণ করেছি।"
(খণ্ড: ১)
আল-আকীদাতুল্লাতী হাকাহা আবু ফাদল আত-তামীমী আনিল ইমাম আহমাদ - ত আস-সাইরওয়ান
(পৃষ্ঠা: ১২০)
لَا يكفر إِلَّا تَارِك الصَّلَاةوَكَانَ لَا يكفر أحدا من أهل الْقبْلَة بذنب كَبِيرا كَانَ أَو صَغِيرا إِلَّا بترك الصَّلَاة فَمن تَركهَا فقد كفر وَحل قَتله قَالَه ابْن حَنْبَل ويستدل بقوله عز وجل {ثمَّ أَوْرَثنَا الْكتاب الَّذين اصْطَفَيْنَا من عبادنَا فَمنهمْ ظَالِم لنَفسِهِ وَمِنْهُم مقتصد وَمِنْهُم سَابق بالخيرات بِإِذن الله} فقد جمع بَينهم فِي الإصطفاء
مسَائِل شَتَّى فِي الْفَضَائِلوَكَانَ لَا يفسق الْفُقَهَاء فِي مسَائِل الْخلاف
وَكَانَ يسلم أَحَادِيث الْفَضَائِل وَلَا ينصب عَلَيْهَا المعيار وينكر على من يَقُول إِن هَذِه الْفَضِيلَة لأبي بكر بَاطِلَة وَهَذِه الْفَضِيلَة لعَلي بَاطِلَة لِأَن الْقَوْم أفضل من ذَلِك وَلَا يتبرأ من عين رَأَتْ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِلَّا أَن يجمع الْمُسلمُونَ على التبرئ مِنْهَا
الْمِيزَانوَيَقُول إِن لله تَعَالَى ميزانا يزن فِيهِ الْحَسَنَات والسيئات وَيرجع إِلَى الحَدِيث الْمَرْوِيّ عَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم
নামায ত্যাগকারী ছাড়া কাউকে কাফির বলা যাবে নাতিনি আহলে কিবলার কাউকেই কোনো গুনাহের কারণে কাফির বলতেন না, তা কবিরা গুনাহ হোক কিংবা সগিরা, কেবল নামায ত্যাগ করা ব্যতীত। সুতরাং যে ব্যক্তি নামায ত্যাগ করল, সে কুফরি করল এবং তাকে হত্যা করা বৈধ হলো; ইবনে হাম্বল এটিই বলেছেন। তিনি মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে দলিল পেশ করতেন: "অতঃপর আমি কিতাবের উত্তরাধিকারী করেছি আমার বান্দাদের মধ্য থেকে যাদের আমি মনোনীত করেছি। তবে তাদের কেউ নিজের প্রতি অত্যাচারী, কেউ মধ্যমপন্থী এবং কেউ আল্লাহর অনুমতিক্রমে কল্যাণের কাজে অগ্রগামী।" এখানে তিনি তাদের সকলকে মনোনয়নের (ইজতিফা) অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
ফযিলত সম্পর্কিত বিবিধ মাসআলাতিনি ইজতিহাদী মতপার্থক্যপূর্ণ মাসআলাসমূহে ফুকাহাগণকে ফাসেক বলতেন না।
তিনি ফযিলত বিষয়ক হাদীসসমূহ মেনে নিতেন এবং সেগুলোর ওপর (কঠোর) মানদণ্ড স্থাপন করতেন না। তিনি ঐ ব্যক্তির প্রতিবাদ করতেন যে বলত, "আবু বকরের এই ফযিলতটি বাতিল" অথবা "আলীর এই ফযিলতটি বাতিল"; কারণ সাহাবীগণ এসকল বর্ণনার চেয়েও শ্রেষ্ঠ মর্যাদার অধিকারী। আর তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছে এমন কোনো চোখ (ব্যক্তি) থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করতেন না, যতক্ষণ না মুসলমানগণ ঐ ব্যক্তির থেকে সম্পর্ক ছিন্নের বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেন।
মীযানতিনি বলতেন যে, মহান আল্লাহর একটি পাল্লা (মীযান) রয়েছে যাতে নেকি এবং গোনাহ ওজন করা হবে; আর এ ক্ষেত্রে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হাদীসের দিকে প্রত্যাবর্তন করতেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আকীদাতুল্লাতী হাকাহা আবু ফাদল আত-তামীমী আনিল ইমাম আহমাদ - ত আস-সাইরওয়ান
(পৃষ্ঠা: ১২১)
الذُّنُوب والإستغفار وَالتَّوْبَةوَيَقُول إِن الذُّنُوب من وَرَائِهَا الاسْتِغْفَار وَالتَّوْبَة وَإِن اخترمته الْمنية قبل الاسْتِغْفَار وَالتَّوْبَة فَأمره مرجى إِلَى الله عز وجل إِن شَاءَ غفر وَإِن شَاءَ عاقب وَيجوز عِنْده أَن يغْفر الله لمن لم يتب وَاسْتدلَّ على ذَلِك 57 ب بقوله {وَإِن رَبك لذُو مغْفرَة للنَّاس على ظلمهم} والتائب لَا يُقَال لَهُ ظَالِم وَاسْتدلَّ بقوله عز وجل {قل يَا عبَادي الَّذين أَسْرفُوا على أنفسهم لَا تقنطوا من رَحْمَة الله} والتائب لَا يُقَال لَهُ مُسْرِف
الشُّهَدَاء أَحيَاء يرْزقُونَوَيَقُول إِن الشُّهَدَاء بعد الْقَتْل باقون يَأْكُلُون أَرْزَاقهم
وَكَانَ يَقُول إِن الْأَنْبِيَاء أَحيَاء فِي قُبُورهم يصلونَ وَأَن الْمَيِّت يعلم بزائره يَوْم الْجُمُعَة بعد طُلُوع الْفجْر وَقبل طُلُوع الشَّمْس وَأَن الله تَعَالَى يعذب قوما فِي قُبُورهم وَيذْهب إِلَى الحَدِيث الْمَرْوِيّ عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم
الصِّرَاطوَأَن لله تَعَالَى صراطا يعبر عَلَيْهِ النَّاس وَأَن عَلَيْهِ حيات تَأْخُذ بالأقدام وَأَن العبور عَلَيْهِ على مقادير الْأَعْمَال مشَاة وسعاة وركبانا وزحفا وَيذْهب إِلَى الحَدِيث الْمَرْوِيّ عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم واستجيدوا ضَحَايَاكُمْ فَإِنَّهَا مَطَايَاكُمْ على الصِّرَاط
পাপ, ক্ষমা প্রার্থনা এবং তওবাতিনি বলেন যে, পাপের পরবর্তী বিষয় হলো ক্ষমা প্রার্থনা ও তওবা। আর যদি ক্ষমা প্রার্থনা ও তওবা করার পূর্বেই তার মৃত্যু ঘটে, তবে তার বিষয়টি মহান আল্লাহর ইচ্ছাধীন; তিনি চাইলে তাকে ক্ষমা করবেন এবং চাইলে শাস্তি দেবেন। তাঁর নিকট এটি বৈধ যে, আল্লাহ তওবা না করা ব্যক্তিকেও ক্ষমা করে দেবেন। তিনি এর সপক্ষে ৫৭ খ পৃষ্ঠায় আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে দলিল পেশ করেন: "নিশ্চয় আপনার প্রতিপালক মানুষের অন্যায়ের পরেও তাদের প্রতি ক্ষমাশীল।" আর তওবাকারীকে জালিম বা অন্যায়কারী বলা হয় না। তিনি মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমেও দলিল পেশ করেন: "বলুন, হে আমার বান্দাগণ, যারা নিজেদের প্রতি বাড়াবাড়ি করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ হয়ো না।" আর তওবাকারীকে সীমালঙ্ঘনকারী বলা হয় না।
শহীদগণ জীবিত এবং তারা জীবিকাপ্রাপ্ত হনতিনি বলেন যে, শহীদগণ নিহত হওয়ার পর অবশিষ্ট থাকেন এবং তারা তাদের জীবিকা ভক্ষণ করেন।
তিনি বলতেন যে, নবীগণ তাঁদের কবরে জীবিত এবং তাঁরা সালাত আদায় করেন। জুমার দিন সুবহে সাদিকের পর এবং সূর্যোদয়ের পূর্বে মৃত ব্যক্তি তাঁর যিয়ারতকারী সম্পর্কে অবগত হন। আল্লাহ তাআলা কবরে কোনো কোনো সম্প্রদায়কে শাস্তি প্রদান করেন এবং তিনি আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) থেকে বর্ণিত হাদিসের পথ অনুসরণ করেন।
সিরাতনিশ্চয় আল্লাহ তাআলার একটি সিরাত রয়েছে যার ওপর দিয়ে মানুষ পার হবে। তার ওপর সাপ রয়েছে যারা মানুষের পা পাকড়াও করবে। তার ওপর দিয়ে পার হওয়া হবে আমল অনুযায়ী; কেউ হেঁটে, কেউ দ্রুতগতিতে, কেউ আরোহী হয়ে আবার কেউ হামাগুড়ি দিয়ে। তিনি আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) থেকে বর্ণিত এই হাদিসের পথ অনুসরণ করেন: "তোমরা তোমাদের কুরবানির পশুগুলোকে হৃষ্টপুষ্ট করো, কেননা সেগুলো সিরাতের ওপর তোমাদের বাহন হবে।"
(খণ্ড: ১)
আল-আকীদাতুল্লাতী হাকাহা আবু ফাদল আত-তামীমী আনিল ইমাম আহমাদ - ত আস-সাইরওয়ান
(পৃষ্ঠা: ১২২)
سُؤال الْملكَيْنِوَأَن لله تَعَالَى ملكَيْنِ يُقَال لأَحَدهمَا مُنكر وَالْآخر نَكِير يلجان إِثْر الْمَيِّت فِي قَبره فإمَّا يبشرانه وَإِمَّا يحذرانه وَيذْهب إِلَى حَدِيث عمر رضي الله عنه كَيفَ بك إِذا نزلا بك وهما فظان غليظان فأقعداك وأجلساك وسألاك فَتغير عمر بن الْخطاب وَقَالَ يَا رَسُول الله وعقلي معي فَقَالَ إِذن كفيتهما وَذكر حَدِيث ابْن عَبَّاس فِي قَوْله عز وجل {لَهُم الْبُشْرَى فِي الْحَيَاة الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَة} قَالَ عِنْد سُؤال مُنكر وَنَكِير
الْإِجَابَةوَكَانَ يَقُول إِن الله تَعَالَى يُجيب دَعْوَة الدَّاعِي الْمُؤمن وَالْكَافِر ويفاوت بَينهم فِي السُّؤَال
مُخَالفَة الْإِجْمَاع والتواتر58 - أوكان يَقُول إِن من خَالف الْإِجْمَاع والتواتر فَهُوَ ضال مضل
দুই ফেরেশতার জিজ্ঞাসাবাদনিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালার দুইজন ফেরেশতা রয়েছেন, যাদের একজনকে মুনকার এবং অন্যজনকে নাকির বলা হয়। তারা মৃত ব্যক্তির অনুগমন করে তার কবরে প্রবেশ করেন; অতঃপর তারা হয় তাকে সুসংবাদ প্রদান করেন অথবা তাকে সতর্ক করেন। আর তিনি উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর বর্ণিত হাদিসের অভিমত পোষণ করেন: "তোমার অবস্থা কেমন হবে যখন তারা তোমার নিকট অবতরণ করবে, অথচ তারা হবে অত্যন্ত রূঢ় ও কঠোর? তারা তোমাকে উঠিয়ে বসাবে এবং তোমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে।" তখন উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর চেহারার রং পরিবর্তিত হয়ে গেল এবং তিনি বললেন, "হে আল্লাহর রাসূল! তখন কি আমার বিবেক-বুদ্ধি আমার সাথেই থাকবে?" তিনি বললেন, "হ্যাঁ, তবেই তুমি তাদের জন্য যথেষ্ট হবে।" আর তিনি মহান আল্লাহর বাণী— {তাদের জন্য রয়েছে সুসংবাদ পার্থিব জীবনে ও পরকালে} প্রসঙ্গে ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিস উল্লেখ করেছেন; তিনি বলেছেন: এটি মুনকার ও নাকিরের জিজ্ঞাসাবাদের সময়ের সুসংবাদ।
দোয়া কবুল হওয়াতিনি বলতেন যে, আল্লাহ তায়ালা মুমিন ও কাফির উভয় আহ্বানকারীর ডাক কবুল করেন এবং তাদের প্রার্থনার ক্ষেত্রে উভয়ের মাঝে পার্থক্য করেন।
ইজমা ও তাওয়াতুরের বিরোধিতা৫৮ - তিনি বলতেন যে, যে ব্যক্তি ইজমা (ঐক্যমত) এবং তাওয়াতুর (অবিচ্ছিন্ন বর্ণনা)-এর বিরোধিতা করে, সে নিজে পথভ্রষ্ট এবং অন্যকে পথভ্রষ্টকারী।
(খণ্ড: ১)
আল-আকীদাতুল্লাতী হাকাহা আবু ফাদল আত-তামীমী আনিল ইমাম আহমাদ - ত আস-সাইরওয়ান
(পৃষ্ঠা: ১২৩)
ويفسق من خَالف خبر الْوَاحِد مَعَ التَّمَكُّن من اسْتِعْمَاله
خير النَّاس بعد الرَّسُول صلى الله عليه وسلموَكَانَ يَقُول إِن خير النَّاس بعد رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَبُو بكر ثمَّ عمر ثمَّ عُثْمَان ثمَّ عَليّ وَإِن عليا عليه السلام رابعهم فِي الْخلَافَة والتفضيل ويتبرأ مِمَّن ضللهم وكفرهم
لَا مَعْصُوم إِلَّا الرَّسُول صلى الله عليه وسلموَكَانَ يَقُول إِنَّه لَا مَعْصُوم إِلَّا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم والأنبياء من قبله وَسَائِر الْأمة يجوز عَلَيْهِم الْخَطَأ
الْإِجْمَاعوَكَانَ يَقُول إِن الْإِجْمَاع إِجْمَاع الصَّحَابَة
وَكَانَ يَقُول إِن صَحَّ إِجْمَاع بعد الصَّحَابَة فِي عصر من الْأَعْصَار قلت بِهِ
الْقدر خَيره وشره من الله تَعَالَىوَكَانَ يَقُول لَو لم يجز أَن يفعل الله تَعَالَى الشَّرّ لما حسنت الرَّغْبَة إِلَيْهِ فِي كشفه
الْمَلَائِكَة الْحفظَةوَأَن للْعَبد مَلَائِكَة يَحْفَظُونَهُ بِأَمْر الله وَأَن الْقَضَاء وَالْقدر يوجبان التَّسْلِيم
وَاجِب الْغَزْووَأَن الْغَزْو مَعَ الْأَئِمَّة وَاجِب وَإِن جاروا
যে ব্যক্তি খবর-ই-ওয়াহিদ (একক বর্ণনা) ব্যবহার করতে সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও তা অমান্য করে, তাকে ফাসেক (পাপাচারী) গণ্য করা হবে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর শ্রেষ্ঠ মানুষতিনি বলতেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলেন আবু বকর, তারপর উমর, তারপর উসমান, তারপর আলী। আর আলী আলাইহিস সালাম খিলাফত ও শ্রেষ্ঠত্বের বিচারে চতুর্থ। যারা তাদেরকে পথভ্রষ্ট বলে বা কাফের সাব্যস্ত করে, তিনি তাদের থেকে নিজেকে মুক্ত ঘোষণা করতেন।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যতীত কেউ নিষ্পাপ ননতিনি বলতেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর পূর্ববর্তী নবীগণ ব্যতীত কেউ মাসুম বা নিষ্পাপ নন। উম্মতের বাকি সকলের পক্ষেই ভুল করা সম্ভব।
ঐকমত্য (ইজমা)তিনি বলতেন যে, ইজমা হলো সাহাবায়ে কেরামের ইজমা।
তিনি বলতেন, যদি সাহাবায়ে কেরামের পরে অন্য কোনো যুগে ইজমা সঠিক বলে সাব্যস্ত হওয়া প্রমাণিত হয়, তবে আমি তা মেনে নিই।
তাকদীরের ভালো ও মন্দ আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকেতিনি বলতেন যে, আল্লাহ তায়ালা যদি অকল্যাণ বা মন্দের স্রষ্টা হওয়া সম্ভব না হতো, তবে তা দূর করার জন্য তাঁর কাছে প্রার্থনা করা সমীচীন হতো না।
হিফাজতকারী ফেরেশতাগণআর বান্দার জন্য এমন ফেরেশতা রয়েছেন যারা আল্লাহর আদেশে তাকে রক্ষা করেন। আর আল্লাহর ফয়সালা ও তাকদীরের প্রতি আত্মসমর্পণ করা আবশ্যক।
জিহাদ বা যুদ্ধ ওয়াজিব হওয়াআর শাসকদের নেতৃত্বে যুদ্ধ (জিহাদ) করা ওয়াজিব, যদিও তারা অত্যাচারী হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-আকীদাতুল্লাতী হাকাহা আবু ফাদল আত-তামীমী আনিল ইমাম আহমাদ - ত আস-সাইরওয়ান
(পৃষ্ঠা: ১২৪)
الامامة
وَقَالَ احْمَد بن حَنْبَل رضي الله عنه وَأرى الصَّلَاة خلف كل بر وَفَاجِر وَقد صلى ابْن عمر خلف الْحجَّاج يَعْنِي الْجُمُعَة وَالْعِيدَيْنِ وَأَن الْفَيْء يقسمهُ الإِمَام فَإِن تناصف الْمُسلمُونَ وقسموه بَينهم فَلَا بَأْس بِهِ وَأَنه إِن بَطل أَمر الإِمَام لم يبطل الْغَزْو وَالْحج
وأ الْإِمَامَة لَا تجوز إِلَّا بشروطها النّسَب وَالْإِسْلَام والحماية وَالْبَيْت والمحتد وَحفظ الشَّرِيعَة وَعلم الْأَحْكَام وَصِحَّة التَّنْفِيذ وَالتَّقوى وإتيان الطَّاعَة وَضبط أَمْوَال الْمُسلمين فَإِن شهد لَهُ بذلك أهل الْحل وَالْعقد من عُلَمَاء الْمُسلمين وثقاتهم أَو أَخذ هُوَ 58 ب ذَلِك لنَفسِهِ ثمَّ رضيه الْمُسلمُونَ جَازَ لَهُ ذَلِك
وَأَنه لَا يجوز الْخُرُوج على إِمَام وَمن خرج على إِمَام قتل الثَّانِي وَيجوز الْإِمَامَة عِنْده لمن اجْتمعت فِيهِ هَذِه الْخِصَال وَإِن كَانَ غَيره أعلم مِنْهُ
وَكَانَ يَقُول إِن الْخلَافَة فِي قُرَيْش مَا أَقَامُوا الصَّلَاة
وَكَانَ يَقُول لَا طَاعَة لَهُم فِي مَعْصِيّة الله تَعَالَى
وَكَانَ يَقُول من دَعَا مِنْهُم إِلَى بِدعَة فَلَا تجيبوه وَلَا كَرَامَة وَإِن قدرتم على خلعه فافعلوا
مسَائِل شَتَّىوَكَانَ يَقُول الدَّار إِذا ظهر فِيهَا القَوْل بِخلق الْقُرْآن وَالْقدر وَمَا يجْرِي مجْرى ذَلِك فَهِيَ دَار كفر
ইমামত
আহমদ ইবনে হাম্বল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: আমি প্রত্যেক পুণ্যবান ও পাপাচারী [ইমামের] পেছনে সালাত আদায় করা বৈধ মনে করি। ইবনে উমর আল-হাজ্জাজের পেছনে সালাত আদায় করেছেন, অর্থাৎ জুমুআ ও দুই ঈদের সালাত। আর 'ফায়' (বিনা যুদ্ধে লব্ধ সম্পদ) ইমাম বণ্টন করবেন; তবে যদি মুসলিমরা ইনসাফ করে তা নিজেদের মধ্যে বণ্টন করে নেয় তবে তাতে কোনো দোষ নেই। আর ইমামের কর্তৃত্ব বাতিল হলেও জিহাদ ও হজ বাতিল হয় না।
আর ইমামত তার শর্তাবলি ব্যতীত বৈধ নয়। শর্তগুলো হলো: বংশমর্যাদা, ইসলাম গ্রহণ, সুরক্ষা প্রদানের সক্ষমতা, সম্ভ্রান্ত পরিবার ও আভিজাত্য, শরিয়ত সংরক্ষণ, আহকাম (বিধিনিষেধ) সংক্রান্ত জ্ঞান, সঠিক বাস্তবায়ন ক্ষমতা, তাকওয়া, আনুগত্য পালন এবং মুসলিমদের ধন-সম্পদ নিয়ন্ত্রণ। যদি মুসলিম আলেম ও বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের মধ্য থেকে 'আহলুল হাল্লি ওয়াল আকদ' (সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম ব্যক্তিবর্গ) তার অনুকূলে সাক্ষ্য দেন, অথবা তিনি নিজেই ক্ষমতা গ্রহণ করেন এবং পরবর্তীতে মুসলিমরা তাতে সন্তুষ্ট হয়, তবে তার জন্য তা বৈধ।
আর ইমামের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা বৈধ নয়। যে ব্যক্তি ইমামের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করবে, সেই দ্বিতীয় ব্যক্তিকে হত্যা করা হবে। তাঁর মতে, যার মধ্যে এই গুণাবলি বিদ্যমান থাকবে তার ইমামত বৈধ হবে, যদিও অন্য কেউ তার চেয়ে অধিক জ্ঞানী হয়।
তিনি বলতেন: খিলাফত কুরাইশদের মধ্যে থাকবে যতক্ষণ তারা সালাত কায়েম রাখবে।
তিনি বলতেন: আল্লাহর অবাধ্যতায় তাদের (শাসকদের) কোনো আনুগত্য নেই।
তিনি বলতেন: তাদের মধ্যে কেউ যদি কোনো বিদআতের দিকে আহ্বান করে তবে তার ডাকে সাড়া দিও না এবং তাকে সম্মান করো না; আর যদি তাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে সক্ষম হও তবে তাই করো।
বিবিধ মাসআলাতিনি বলতেন: কোনো ভূখণ্ডে যদি কুরআন সৃষ্টির মতবাদ, কদর (তাকদির অস্বীকার) এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো প্রকাশ পায়, তবে তা কুফরি ভূখণ্ড (দারুল কুফর)।
(খণ্ড: ১)
আল-আকীদাতুল্লাতী হাকাহা আবু ফাদল আত-তামীমী আনিল ইমাম আহমাদ - ত আস-সাইরওয়ান
(পৃষ্ঠা: ১২৫)
وَكَانَ يَقُول الداعية إِلَى الْبِدْعَة لَا تَوْبَة لَهُ فَأَما من لَيْسَ بداعية فتوبته مَقْبُولَة
وَكَانَ يَقُول إِن الْإِيمَان مَنُوط بِالْإِحْسَانِ وَالتَّوْبَة رَأس مَال الْمُتَّقِينَ
وَكَانَ يَقُول إِن الْفقر أشرف من الْغنى وَإِن الصَّبْر أعظم مرَارَة وانزعاجه أعظم حَالا من الشُّكْر
وَكَانَ يَقُول الْخَيْر فِيمَن لَا يرى لنَفسِهِ خيرا
وَكَانَ يَقُول على العَبْد أَن يقبل الرزق بعد الْيَأْس وَلَا يقبله إِذا تقدمه طمع
وَكَانَ يحب التقلل طلبا لخفة الْحساب
وَكَانَ يَقُول إِن الله تَعَالَى يرْزق الْحَلَال وَالْحرَام ويستدل بقوله عز وجل {كلا نمد هَؤُلَاءِ وَهَؤُلَاء من عَطاء رَبك وَمَا كَانَ عَطاء رَبك مَحْظُورًا} يَعْنِي مَمْنُوعًا
وَكَانَ يَقُول إِن الرزق مقسوم لَا زِيَادَة فِيهِ وَلَا نُقْصَان وَإِن وَجه الزِّيَادَة أَن يلهمه الله تَعَالَى إِنْفَاقه فِي طَاعَة فَيكون ذَلِك زِيَادَة ونماء وَكَذَلِكَ الْأَجَل لَا يُزَاد فِيهِ وَلَا ينقص مِنْهُ وَوجه الزِّيَادَة فِي الْأَجَل أَن 59 أيلهمه الطَّاعَة فَيكون مُطيعًا فِي عمره فبالطاعة يزِيد وبالمعاصي ينقص وَأما الْمدَّة عِنْده فَلَا تزيد وَلَا تنقص وَقَرَأَ {لَا يَسْتَأْخِرُونَ سَاعَة وَلَا يَسْتَقْدِمُونَ}
كرامات الْأَوْلِيَاءوَكَانَ يذهب إِلَى جَوَاز الكرامات للأولياء وَيفرق بَينهَا وَبَين
তিনি বলতেন, বিদআতের দিকে আহ্বানকারীর জন্য কোনো তওবা নেই; কিন্তু যে ব্যক্তি আহ্বানকারী নয়, তার তওবা কবুলযোগ্য।
তিনি বলতেন, ঈমান ইহসানের সাথে সংশ্লিষ্ট এবং তওবা হলো মুত্তাকীদের আসল পুঁজি।
তিনি বলতেন, দারিদ্র্য সচ্ছলতার চেয়ে অধিক মর্যাদাপূর্ণ; আর সবর তিক্ততায় মহান এবং এর ব্যাকুলতা কৃতজ্ঞতার চেয়ে মহত্তর অবস্থা।
তিনি বলতেন, কল্যাণ সেই ব্যক্তির মাঝে নিহিত যে নিজের মধ্যে কোনো কল্যাণ দেখে না।
তিনি বলতেন, বান্দার উচিত নিরাশার পর রিজিক গ্রহণ করা, আর তা গ্রহণ না করা যদি তার পূর্বে লোভ থাকে।
তিনি হিসাবের লঘুতা কামনায় স্বল্পতা অবলম্বন করা পছন্দ করতেন।
তিনি বলতেন, আল্লাহ তাআলা হালাল ও হারাম উভয় রিজিকই দান করেন; আর তিনি মহান আল্লাহর এই বাণী দ্বারা দলিল পেশ করতেন: {আমি এদের এবং ওদের—সকলকেই আপনার রবের দান থেকে সাহায্য করি; আর আপনার রবের দান কখনও নিষিদ্ধ (অর্থাৎ বারিত) নয়}।
তিনি বলতেন, রিজিক বণ্টিত, এতে কোনো হ্রাস-বৃদ্ধি নেই। আর বৃদ্ধির দিকটি হলো এই যে, আল্লাহ তাআলা তাকে তা আনুগত্যের পথে ব্যয়ের অনুপ্রেরণা দেন, ফলে তা বৃদ্ধি ও প্রবৃদ্ধি লাভ করে। তদ্রূপ আয়ুষ্কালেও কোনো হ্রাস-বৃদ্ধি হয় না। আয়ু বৃদ্ধির দিকটি হলো এই যে, ৫৯ তাকে আনুগত্যের তাওফিক দান করেন, ফলে সে তার জীবনে অনুগত থাকে; সুতরাং আনুগত্যের মাধ্যমে তা বৃদ্ধি পায় এবং নাফরমানির মাধ্যমে তা হ্রাস পায়। তবে মেয়াদের দিক থেকে তাঁর নিকট তা বাড়েও না, কমেও না। তিনি তিলাওয়াত করতেন: {তারা এক মুহূর্ত বিলম্ব করতে পারবে না এবং এগিয়েও নিতে পারবে না}।
আউলিয়াগণের কারামততিনি আউলিয়াগণের জন্য কারামত সংঘটিত হওয়া জায়েজ হওয়ার মত পোষণ করতেন এবং সেটির ও এর মধ্যবর্তী বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য করতেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আকীদাতুল্লাতী হাকাহা আবু ফাদল আত-তামীমী আনিল ইমাম আহমাদ - ত আস-সাইরওয়ান
(পৃষ্ঠা: ১২৬)
المعجزة وَذَلِكَ أَن المعجزة توجب التَّحَرِّي إِلَى صدق من جرت على يَده فَإِن جرت على يَدي ولي كتمها وأسرها وَهَذِه الْكَرَامَة وَتلك المعجزة وينكر على من رد الكرامات ويضلله
وَكَانَ يَأْمر بِالْكَسْبِ لمن لَا قوت لَهُ وَيَأْمُر من لَهُ قوت بِالصبرِ ويجعله فَرِيضَة عَلَيْهِ
التَّفَاضُل بَين الْأَنْبِيَاءوَكَانَ يَقُول إِن بعض النَّبِيين أفضل من بعض وَمُحَمّد صلى الله عليه وسلم أفضلهم وَالْمَلَائِكَة أَيْضا بَعضهم أفضل من بعض وَإِن بني آدم أفضل من الْمَلَائِكَة ويخطئ من يفضل الْمَلَائِكَة على بني آدم
الْوَصِيَّةوَيَقُول إِن الْوَصِيَّة قبل الْمَوْت أَخذ بالحزم للقاء الله عز وجل
وَيَقُول إِن التائب من الذُّنُوب كمن لَا ذَنْب لَهُ
الْأَذْكَاروَيَقُول من كَانَ لَهُ ورد فَقَطعه خفت عَلَيْهِ أَن يسلب حلاوة الْعِبَادَة
قَالَ إِبْرَاهِيم الْحَرْبِيّ سَمِعت أَحْمد بن حَنْبَل يَقُول إِن أَحْبَبْت أَن يَدُوم الله لَك على مَا تحب فدم لَهُ على مَا يحب
মুজিজা। আর তা হলো, মুজিজা এমন ব্যক্তির সত্যতা অনুসন্ধানে উদ্বুদ্ধ করে যার হাতে তা সম্পাদিত হয়েছে। সুতরাং যদি তা কোনো ওলির হাতে সম্পাদিত হয় তবে তিনি তা গোপন ও প্রচ্ছন্ন রাখেন, আর এটি হলো কারামত এবং সেটি হলো মুজিজা। যারা কারামত অস্বীকার করে তিনি তাদের প্রত্যাখ্যান করতেন এবং তাদের পথভ্রষ্ট বলতেন।
যার নিকট আহার নেই তাকে তিনি উপার্জনের নির্দেশ দিতেন এবং যার নিকট আহার আছে তাকে ধৈর্য ধারণ করার নির্দেশ দিতেন এবং একে তার ওপর ফরজ সাব্যস্ত করতেন।
নবীদের মাঝে শ্রেষ্ঠত্বের তারতম্যতিনি বলতেন, নিশ্চয়ই কোনো কোনো নবী অন্যের চেয়ে শ্রেষ্ঠ এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ। ফেরেশতাদের মাঝেও একদল অন্য দলের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। আর আদম সন্তানরা ফেরেশতাদের চেয়েও শ্রেষ্ঠ এবং যে ব্যক্তি ফেরেশতাদের আদম সন্তানদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দেয় সে ভুল করে।
ওসিয়ততিনি বলতেন, মৃত্যুর পূর্বে ওসিয়ত করা মহান আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের জন্য সতর্কতা ও দৃঢ়তা অবলম্বন করার নামান্তর।
তিনি বলতেন, পাপ থেকে তওবাকারী ব্যক্তি সেই ব্যক্তির মতো যার কোনো পাপ নেই।
জিকিরসমূহতিনি বলতেন, যার কোনো নিয়মিত আমল ছিল এবং সে তা বর্জন করে, আমি তার ব্যাপারে আশঙ্কা করি যে তার থেকে ইবাদতের মাধুর্য কেড়ে নেওয়া হবে।
ইবরাহিম আল-হারবি বলেন, আমি আহমদ বিন হাম্বলকে বলতে শুনেছি: তুমি যদি চাও যে আল্লাহ তোমার পছন্দনীয় বিষয়ে তোমার প্রতি অনুগ্রহ বজায় রাখুন, তবে আল্লাহর পছন্দনীয় বিষয়ের ওপর অবিচল থাকো।
(খণ্ড: ১)
আল-আকীদাতুল্লাতী হাকাহা আবু ফাদল আত-তামীমী আনিল ইমাম আহমাদ - ত আস-সাইরওয়ান
(পৃষ্ঠা: ১২৭)
الْأَخْلَاق
وَكَانَ يَقُول أهل الصّفة أَعْيَان الصَّحَابَة
وَكَانَ يَقُول الصَّبْر على الْفقر مرتبَة لَا ينالها إِلَّا الأكابر
وَسَأَلَهُ رجل طلبت الْعلم لله فَقَالَ هَذَا شَرط شَدِيد وَلَكِن حبب إِلَيّ شَيْء فجمعته
وَسُئِلَ قبل مَوته بِيَوْم عَن أَحَادِيث الصِّفَات فَقَالَ تمر كَمَا جَاءَت ويؤمن بهَا وَلَا يرد مِنْهَا شَيْء إِذا كَانَت بأسانيد صِحَاح وَلَا 59 ب يُوصف الله بِأَكْثَرَ مِمَّا وصف بِهِ نَفسه بِلَا حد وَلَا غَايَة {لَيْسَ كمثله شَيْء وَهُوَ السَّمِيع الْبَصِير} وَمن تكلم فِي مَعْنَاهُمَا ابتدع
وَكَانَ يَقُول أَصْحَاب الحَدِيث أُمَرَاء الْعلم
وَكَانَ يَقُول إِذا ذكر الحَدِيث فمالك بن أنس هُوَ النَّجْم
وَكَانَ يَقُول سُفْيَان الثَّوْريّ جمع الْحَالين الْعلم والهد
وَكَانَ يَقُول سُفْيَان بن عُيَيْنَة حفظ على النَّاس مَا لولاه لضاع
وَكَانَ يَقُول الشَّافِعِي من أحباب قلبِي
চরিত্রাবলি
তিনি বলতেন, আহলে সুফফা ছিলেন সাহাবীগণের মধ্যে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
তিনি বলতেন, দারিদ্র্যের ওপর ধৈর্য ধারণ করা এমন এক সুউচ্চ স্তর, যা কেবল মহৎ ব্যক্তিগণই লাভ করতে পারেন।
এক ব্যক্তি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, "আমি আল্লাহর জন্য ইলম অন্বেষণ করেছি কি?" তিনি বললেন, "এটি একটি অত্যন্ত কঠিন শর্ত। তবে আমার নিকট একটি বিষয় প্রিয় করে দেওয়া হয়েছিল, তাই আমি তা সংগ্রহ করেছি।"
মৃত্যুর একদিন পূর্বে তাঁকে আল্লাহর গুণাবলি (সিফাত) সংক্রান্ত হাদিসসমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন, "এগুলো যেভাবে বর্ণিত হয়েছে ঠিক সেভাবেই তা অতিক্রম করতে দিতে হবে, এগুলোর ওপর ঈমান আনতে হবে এবং এর কোনো কিছুই প্রত্যাখ্যান করা যাবে না যদি তা সহিহ সনদে বর্ণিত হয়ে থাকে। আল্লাহকে তাঁর নিজের বর্ণিত গুণাবলির অতিরিক্ত কোনো বিশেষণে বিশেষিত করা যাবে না; কোনো সীমা বা পরিসীমা নির্ধারণ ব্যতিরেকেই। {তাঁর সদৃশ কোনো কিছুই নেই, আর তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা।} যে ব্যক্তি এগুলোর অর্থ নিয়ে মনগড়া ব্যাখ্যা প্রদান করবে, সে বিদআতে লিপ্ত হবে।"
তিনি বলতেন, মুহাদ্দিসগণ হলেন ইলমের আমির।
তিনি বলতেন, যখন হাদিসের আলোচনা হয়, তখন মালেক ইবনে আনাস হলেন উজ্জ্বল নক্ষত্র।
তিনি বলতেন, সুফিয়ান আস-সাওরী ইলম এবং যুহদ (দুনিয়াবিমুখতা)—এই উভয় গুণের সমন্বয় ঘটিয়েছিলেন।
তিনি বলতেন, সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনা মানুষের জন্য এমন জ্ঞান সংরক্ষণ করেছেন, যা তিনি না থাকলে বিলুপ্ত হয়ে যেত।
তিনি বলতেন, শাফিঈ আমার হৃদয়ের অত্যন্ত প্রিয়জনদের একজন।
(খণ্ড: ১)
আল-আকীদাতুল্লাতী হাকাহা আবু ফাদল আত-তামীমী আনিল ইমাম আহমাদ - ত আস-সাইরওয়ান
(পৃষ্ঠা: ১২৮)
وَكَانَ يَقُول هَل رَأَتْ عَيْنَاك مثل وَكِيع
وَكَانَ يَقُول أَنا أحب مُوَافقَة أهل الْمَدِينَة
وَكَانَ يحب قِرَاءَة نَافِع لِأَنَّهَا أَكثر اتبَاعا
فَهَذَا وَمَا شاكله مَحْفُوظ عَنهُ وَمَا خَالف ذَلِك فكذب عَلَيْهِ وزور وَكَانَ دعاؤه فِي سُجُوده اللَّهُمَّ من كَانَ من هَذِه الْأمة على غير الْحق وَهُوَ يظنّ أَنه على الْحق فَرده إِلَى الْحق ليَكُون من أهل الْحق
وَكَانَ يَقُول اللَّهُمَّ إِن قبلت عَن عصاة أمة مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم فدَاء فَاجْعَلْنِي فداهم
تمّ الِاعْتِقَاد بِحَمْد الله وَمِنْه وَحسن توفيقه
আর তিনি বলতেন, "তোমার দুই চোখ কি ওয়াকীর মতো কাউকে দেখেছে?"
আর তিনি বলতেন, "আমি মদিনাবাসীদের সিদ্ধান্তের সাথে একমত হওয়া পছন্দ করি।"
আর তিনি নাফে’র কিরাত পছন্দ করতেন, কারণ তা অনুসরণের ক্ষেত্রে অধিক শক্তিশালী ছিল।
সুতরাং এই কথা এবং এর সদৃশ বিষয়গুলোই তাঁর থেকে সংরক্ষিত। আর যা এর পরিপন্থী, তা তাঁর নামে মিথ্যাচার ও জালিয়াতি। আর সিজদায় তাঁর দুআ ছিল: "হে আল্লাহ! এই উম্মতের মধ্যে যারা সত্যের ওপর নেই, অথচ মনে করছে যে তারা সত্যের ওপর আছে, আপনি তাদের সত্যের দিকে ফিরিয়ে দিন যাতে তারা সত্যপন্থীদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।"
আর তিনি বলতেন, "হে আল্লাহ! যদি আপনি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উম্মতের পাপীদের পক্ষ থেকে কোনো মুক্তিপণ কবুল করেন, তবে আমাকেই তাদের মুক্তিপণ বানিয়ে দিন।"
আল্লাহর প্রশংসা, তাঁর অনুগ্রহ এবং উত্তম তাওফিকের মাধ্যমে আকিদা সংক্রান্ত আলোচনা সমাপ্ত হলো।