(খণ্ড: ১) মানা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ - আয-যারকাশী (পৃষ্ঠা: -)
معنى لا إله إلا الله - الزركشي   (بدر الدين الزركشي)

القسم: العقيدة


الكتاب: معنى لا إله إلا الله

المؤلف: أبو عبد الله بدر الدين محمد بن عبد الله بن بهادر الزركشي الشافعي (ت 794هـ)

المحقق: علي محيي الدين علي القرة راغي

الناشر: دار الاعتصام - القاهرة

الطبعة: الثالثة، 1405هـ/ 1985م

عدد الصفحات: 158

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর অর্থ - আজ-যারকাশি   (বদরুদ্দীন আজ-যারকাশি)

বিভাগ: আকিদাহ


বই: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর অর্থ

লেখক: আবু আব্দুল্লাহ বদরুদ্দীন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন বাহাদুর আজ-যারকাশি আশ-শাফিঈ (মৃত্যু ৭৯৪ হিজরি)

সম্পাদক: আলী মহিউদ্দীন আলী আল-কাররা দাগি

প্রকাশক: দারুল ইতিসাম - কায়রো

সংস্করণ: তৃতীয়, ১৪০৫ হিজরি/ ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৫৮

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মানা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ - আয-যারকাশী (পৃষ্ঠা: ৫৯)
‌‌بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم

 

وصل اللَّهُمَّ على سيدنَا مُحَمَّد وعَلى آله وَصَحبه وَسلم

الْحَمد لله حمدا يوافي نعمه ويكافىء مزيده وَالصَّلَاة وَالسَّلَام على سيدنَا مُحَمَّد ذُو المناقب الحميدة وعَلى آله وَأَصْحَابه مَا دَار الزَّمَان بسيطة ومديده

وَبعد فَهَذِهِ فَوَائِد جمة وفرائد يعْنى بهَا ذُو الهمة غالبها أبكار أبكار عزيزة الْوُجُود رخيصة الأسعار تتَعَلَّق بِكَلِمَة لَا إِلَه إِلَّا الله علقتها فِي لَيْلَة أقلقني فِيهَا رائد الْفِكر وتشعبات النّظر لَيْسَ لي فِيهَا سمير غير المحبرة والسراج وَلَا أنيس غير الْفِكر الْوَهَّاج هَذَا وبحره شَدِيد
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

 

হে আল্লাহ, আপনি আমাদের নেতা মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সঙ্গীদের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এমন প্রশংসা যা তাঁর নেয়ামতসমূহের সমান এবং তাঁর অধিক অনুগ্রহের সমকক্ষ। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদের ওপর, যিনি প্রশংসনীয় গুণাবলির অধিকারী, এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সঙ্গীদের ওপর, যতদিন মহাকাল সংকীর্ণ ও বিস্তৃতভাবে আবর্তিত হবে।

অতঃপর, এগুলো হলো প্রচুর ফায়দা ও দুর্লভ মুক্তাসমূহ, যা উচ্চাকাঙ্ক্ষী ব্যক্তিরা গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। এর অধিকাংশ বিষয়ই অতি নতুন ও অনন্য, যা পাওয়া দুষ্কর কিন্তু মূল্যে সস্তা। এগুলো 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই' (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) কালেমার সাথে সংশ্লিষ্ট। আমি এগুলো এমন এক রাতে লিখেছি যখন চিন্তার পথিক ও দৃষ্টিভঙ্গির শাখা-প্রশাখা আমাকে অস্থির করে তুলেছিল। সেই রাতে কালিপাত্র ও প্রদীপ ছাড়া আমার কোনো সহমর্মী ছিল না এবং প্রোজ্জ্বল চিন্তা ছাড়া কোনো বন্ধু ছিল না। এর বিষয়বস্তু ও এর সমুদ্র অত্যন্ত গভীর ও উত্তাল।
(খণ্ড: ১) মানা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ - আয-যারকাশী (পৃষ্ঠা: ৬০)
الأمواج سريع الْأزْوَاج إِلَى أَن أَسْفر الصُّبْح فأعلن بالابتهاج وأنتجت مقدماته أشرف الإنتاج فسرت من عَالم الأفكار إِلَى عَالم الاستبصار واستغفرت الْعَزِيز الْغفار

ورتبته على فُصُول الأول لَا نَافِيَة للْجِنْس مَحْمُولَة فِي الْعَمَل على نقيضها إِن
ঢেউসমূহ দ্রুত জোড়ায় জোড়ায় মিলিত হতে থাকল যতক্ষণ না প্রভাত উদ্ভাসিত হয়ে আনন্দের ঘোষণা দিল এবং এর প্রারম্ভিক বিষয়গুলো শ্রেষ্ঠতম ফলাফল বয়ে আনল। তখন আমি চিন্তার জগত থেকে অন্তর্দৃষ্টির জগতে উপনীত হলাম এবং মহাপরাক্রমশালী ও অতিশয় ক্ষমাশীলের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলাম।

এবং আমি একে বিভিন্ন পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত করেছি। প্রথমটি হলো শ্রেণি অস্বীকারকারী 'না', যা ব্যাকরণিক প্রয়োগের ক্ষেত্রে তার বিপরীত 'ইন্না'-এর অনুগামী হিসেবে বিবেচিত।
(খণ্ড: ১) মানা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ - আয-যারকাশী (পৃষ্ঠা: ৬১)
وَاسْمهَا مُعرب ومبني فيبنى إِذا كَانَ مُفردا نكرَة على مَا كَانَ ينصب بِهِ
এবং এর ইসম মু’রাব ও মাবনি হয়; সুতরাং তা মাবনি হবে যখন তা মুফরাদ ও নাকেরা হবে, সেই চিহ্নের ওপর যার দ্বারা তা মানসূব হতো।
(খণ্ড: ১) মানা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ - আয-যারকাশী (পৃষ্ঠা: ৬২)
وَسبب بنائِهِ تضمنه معنى الْحَرْف وَهُوَ من الاستغراقية

يدل على ذَلِك ظُهُورهَا فِي قَول الشَّاعِر

(فَقَامَ يذود النَّاس عَنْهَا بِسَيْفِهِ … وَقَالَ أَلا لَا من سَبِيل إِلَى هِنْد)

وَقيل بني لتركبه مَعهَا تركيب خَمْسَة عشر
এবং এটি মাবনি হওয়ার কারণ হলো এতে হরফের অর্থ অন্তর্ভুক্ত থাকা এবং এটি হলো সামগ্রিকতা প্রকাশক ‘মিন’।

কবির উক্তিতে এর প্রকাশ পাওয়া এ বিষয়ের ওপর প্রমাণ পেশ করে:

(অতঃপর সে তার তলোয়ার দিয়ে লোকজনকে তার থেকে সরিয়ে দিতে দাঁড়াল … এবং বলল, সাবধান! হিন্দের কাছে যাওয়ার কি কোনো পথ নেই?)

আর বলা হয়েছে যে, এটি পনেরো (১৫) সংখ্যার গঠনের ন্যায় তার সাথে যুক্ত হওয়ার কারণে মাবনি হয়েছে।
(খণ্ড: ১) মানা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ - আয-যারকাশী (পৃষ্ঠা: ৬৩)
وَعَن السيرافي والزجاج أَن حَرَكَة لَا رجل وَنَحْوه حَرَكَة إِعْرَاب وَإِنَّمَا حذف التَّنْوِين تَخْفِيفًا وَيدل على ذَلِك الرُّجُوع إِلَى
আস-সিরাফী এবং আয-যাজ্জাজ থেকে বর্ণিত যে, ‘লা রাজুলা’ এবং তদ্রূপ শব্দসমূহের হরকত হলো ই‘রাব-এর হরকত। মূলত সহজীকরণের উদ্দেশ্যেই এখান থেকে তানভীন বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং এর দিকে প্রত্যাবর্তন করাই তা নির্দেশ করে।
(খণ্ড: ১) মানা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ - আয-যারকাশী (পৃষ্ঠা: ৬৪)
هَذَا الأَصْل فِي الضَّرُورَة كَقَوْلِه

(أَلا رجلا جزاه الله خيرا … يدل على محصلة تبيت)
আবশ্যকতা বা কাব্যের প্রয়োজনে এটিই মূল নীতি, যেমন তাঁর উক্তি:

(হায়! এমন কোনো ব্যক্তি কি নেই যাকে আল্লাহ উত্তম প্রতিদান দেবেন … এটি এমন এক অর্জিত বিষয়কে নির্দেশ করে যা রাত অতিবাহিত করে)
(খণ্ড: ১) মানা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ - আয-যারকাশী (পৃষ্ঠা: ৬৫)
وَلَا حجَّة فِيهِ لِأَن التَّقْدِير أَلا تروني رجلا وَإِن لم يكن مُفردا وأعني بِهِ الْمُضَاف والمشبه بِهِ أعرب نصبا نَحْو لَا خيرا من زيد

الثَّانِي لَا هَذِه تخَالف إِن من أوجه أَحدهَا أَنَّهَا لَا تعْمل إِلَّا فِي النكرات بِخِلَاف إِن

الثَّانِي أَن اسْمهَا إِذا لم يكن عَاملا كَمَا فِي لَا إِلَه إِلَّا الله فَإِنَّهُ يبْنى وَقد تقدم السَّبَب فِي عِلّة بنائِهِ
এতে কোনো প্রমাণ নেই, কারণ এখানে উহ্য অর্থ হলো "তোমরা কি আমাকে একজন পুরুষ হিসেবে দেখছ না?" এবং এটি যদি একক শব্দ (মুফরাদ) না হয়—অর্থাৎ আমি এর দ্বারা মুদাফ (সম্বন্ধিত পদ) এবং মুদাফ সদৃশ উদ্দেশ্য নিচ্ছি—তবে তা নসব প্রাপ্ত হবে, যেমন: "যায়েদের চেয়ে উত্তম কেউ নেই"।

দ্বিতীয়ত, এই ‘লা’ (না-বাচক অব্যয়) কয়েকটি দিক থেকে ‘ইন্না’ এর বিপরীত। তার মধ্যে একটি হলো, এটি কেবল অনির্দিষ্ট বিশেষ্যের (নাকেরা) ক্ষেত্রেই আমল করে, যা ‘ইন্না’ এর বিপরীত।

দ্বিতীয়ত, এর ইসিম (বিশেষ্য) যখন আমলকারী হয় না—যেমন "আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই" (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ)-এর মধ্যে রয়েছে—তখন তা মাবনি (অপরিবর্তনীয়) হয়। আর এর মাবনি হওয়ার কারণ ও যুক্তি ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) মানা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ - আয-যারকাশী (পৃষ্ঠা: ৬৬)
الثَّالِث أَن ارْتِفَاع خَبَرهَا عِنْد إِفْرَاد اسْمهَا نَحْو لَا رجل قَائِم بِمَا كَانَ مَرْفُوعا بِهِ قبل دُخُولهَا لَا بهَا وَهُوَ قَول سِيبَوَيْهٍ وَخَالفهُ الْأَكْثَرُونَ وَلَا خلاف بَين الْبَصرِيين أَن ارتفاعه بهَا إِذا كَانَ عَاملا
তৃতীয়টি হলো এই যে, যখন এর ইসিম মুফরাদ হয়, যেমন: "কোনো পুরুষ দণ্ডায়মান নেই", তখন এর খবরের মারফু হওয়া সেই আমিলের কারণে হয় যার দ্বারা তা এটি প্রবেশের পূর্বে মারফু ছিল, এটি দ্বারা নয়। আর এটিই হলো সিবওয়াইহ-এর অভিমত, এবং অধিকাংশ ব্যাকরণবিদ তাঁর বিরোধিতা করেছেন। তবে বসরীয়দের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই যে, যখন এটি আমিল হিসেবে কাজ করে, তখন এর মারফু হওয়া এর মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়।
(খণ্ড: ১) মানা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ - আয-যারকাশী (পৃষ্ঠা: ৬৭)
الرَّابِع أَن خَبَرهَا لَا يتَقَدَّم على اسْمهَا وَلَو كَانَ ظرفا أَو مجرورا

الْخَامِس أَنه يجوز إلغاؤها إِذا تَكَرَّرت نَحْو لَا حول وَلَا قُوَّة إِلَّا بِاللَّه وَلَك فتح الاسمين ورفعهما والمغايرة بَينهمَا

السَّادِس أَنه يكثر حذف خَبَرهَا إِذا علم نَحْو {قَالُوا لَا ضير}
চতুর্থটি হলো এই যে, এর খবর তার ইসমের অগ্রবর্তী হয় না, যদিও তা জরফ বা মাজরুর হয়।

পঞ্চমটি হলো এই যে, যখন এটি পুনরাবৃত্ত হয় তখন তার আমল বাতিল করা বৈধ, যেমন: ‘আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো উপায় নেই এবং কোনো শক্তি নেই’; এমতাবস্থায় আপনার জন্য ইসম দুটিকে ফাতাহ প্রদান করা, উভয়কে রাফা প্রদান করা অথবা উভয়ের মাঝে ভিন্নতা বজায় রাখা বৈধ।

ষষ্ঠটি হলো এই যে, যখন খবরটি জানা থাকে তখন তার খবর অধিকহারে বিলুপ্ত হয়, যেমন: {তারা বলল, কোনো ক্ষতি নেই}।
(খণ্ড: ১) মানা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ - আয-যারকাশী (পৃষ্ঠা: ৬৮)
وَتَمِيم لَا تذكره حِينَئِذٍ

الثَّالِث اعْلَم أَن لَا لفظ مُشْتَرك بَين النَّفْي وَهِي فِيهِ على قسمَيْنِ قسم تَنْفِي مَعَه الْجِنْس فتعمل عمل إِن كَمَا تقدم
এবং তামীম গোত্র তখন তা উল্লেখ করে না।

তৃতীয়ত: জেনে রাখুন যে, 'লা' শব্দটি নেতিবাচকতার ক্ষেত্রে একটি সাধারণ শব্দ এবং তা দুই প্রকার। এক প্রকার হলো যার মাধ্যমে জাতীয়ভাবে নেতিবাচকতা প্রকাশ পায় এবং তা 'ইন্না'-এর ন্যায় আমল করে, যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) মানা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ - আয-যারকাশী (পৃষ্ঠা: ৬৯)
وَقسم تَنْفِي فِيهِ الْوحدَة وتعمل حِينَئِذٍ عمل لَيْسَ وَبَين النَّهْي وَالدُّعَاء فتجزم فعلا وَاحِدًا

قلت هَكَذَا ادّعى جمَاعَة من النَّحْوِيين أَن لَا العاملة عمل لَيْسَ لَا تكون إِلَّا نَافِيَة للوحدة لَا غير

ورد عَلَيْهِم بِنَحْوِ قَوْله

(تعز فَلَا شَيْء على الأَرْض بَاقِيا … )
এবং এমন এক প্রকার যা এককত্বকে অস্বীকার করে এবং সেই মুহূর্তে এটি 'লাইসা'-এর ন্যায় আমল করে; আর (অন্যটি) নিষেধ ও প্রার্থনার অর্থে ব্যবহৃত হয়, যা একটি মাত্র ক্রিয়াকে জজম প্রদান করে।

আমি বলি, একদল ব্যাকরণবিদ এ রূপ দাবি করেছেন যে, 'লাইসা'-এর মতো আমলকারী 'লা' কেবল এককত্ব অস্বীকারকারী হিসেবেই হয়ে থাকে, অন্য কিছু নয়।

তাদের এই মতের বিপক্ষে কবির নিম্নোক্ত বাণীর ন্যায় উদাহরণ দিয়ে খণ্ডন করা হয়েছে:

(ধৈর্য ধারণ করো, কারণ পৃথিবীর বুকে কোনো কিছুই চিরস্থায়ী নয় … )
(খণ্ড: ১) মানা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ - আয-যারকাশী (পৃষ্ঠা: ৭০)
وَلَا هَذِه العاملة عمل لَيْسَ تخَالف لَيْسَ من وُجُوه أَحدهَا أَن عَملهَا قَلِيل

الثَّانِي أَن ذكر خَبَرهَا قَلِيل
এবং ‘লাইসা’-এর ন্যায় আমলকারী এই ‘লা’ কয়েকটি দিক থেকে ‘লাইসা’ হতে ভিন্নতর; তার মধ্যে একটি হলো এর আমল অত্যন্ত কম

দ্বিতীয়টি হলো এর খবরের উল্লেখ থাকা অত্যন্ত কম।
(খণ্ড: ১) মানা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ - আয-যারকাশী (পৃষ্ঠা: ৭১)
الثَّالِث أَنَّهَا لَا تعْمل إِلَّا فِي النكرات خلافًا لِابْنِ جني وَعَلِيهِ قَول النَّابِغَة

(وحلت سَواد الْقلب لَا أَنا بَاغِيا … سواهَا وَلَا عَن حبها متراخيا)
তৃতীয়ত, ইবনে জিন্নীর মতের বিপরীতে এটি কেবল অনির্দিষ্ট বিশেষ্যসমূহের ক্ষেত্রে কার্যকর হয় এবং এ বিষয়ে আন-নাবিগাহর উক্তিটি হলো:

(সে হৃদয়ের অন্তঃস্থলে বসতি স্থাপন করেছে, আমি তাকে ব্যতীত অন্য কারো অন্বেষণকারী নই … এবং তার ভালোবাসার ব্যাপারে আমি শিথিল নই)
(খণ্ড: ১) মানা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ - আয-যারকাশী (পৃষ্ঠা: ৭২)
وَعَلِيهِ بنى المتنبي قَوْله

(إِذا الْجُود لم يرْزق خلاصا من الْأَذَى … فَلَا الْحَمد مكسوبا وَلَا المَال بَاقِيا)

وَقد ترد لَا زَائِدَة تَقْوِيَة للْكَلَام نَحْو {مَا مَنعك إِذْ رَأَيْتهمْ ضلوا أَلا تتبعن} {مَا مَنعك أَلا تسْجد} وتوضحه الْآيَة
এর ওপর ভিত্তি করেই আল-মুতানাব্বি তাঁর উক্তিটি সাজিয়েছেন

(যখন দানশীলতা কষ্ট দেওয়া থেকে নিষ্কৃতি পায় না … তখন প্রশংসাও অর্জিত হয় না আর সম্পদও অবশিষ্ট থাকে না)

আর কখনো কখনো 'লা' শব্দটি বক্তব্যকে শক্তিশালী করার জন্য অতিরিক্ত হিসেবে আসে; যেমন— {যখন আপনি তাদেরকে পথভ্রষ্ট হতে দেখলেন, তখন আপনাকে আমার অনুসরণ করা থেকে কিসে বাধা দিল?} {আপনাকে সিজদা করা থেকে কিসে বাধা দিল?} এবং আয়াতটি একে স্পষ্ট করে দেয়।
(খণ্ড: ১) মানা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ - আয-যারকাশী (পৃষ্ঠা: ৭৩)
الْأُخْرَى {مَا مَنعك أَن تسْجد}

الرَّابِع إِذا عرف أَن لَا فِي كلمة الْإِخْلَاص نَافِيَة للْجِنْس فإله اسْمهَا وَمذهب سِيبَوَيْهٍ أَنَّهَا وَاسْمهَا فِي مَحل رفع بِالِابْتِدَاءِ وَلَا عمل لَهَا فِي الْخَبَر وَمذهب الْأَخْفَش أَن اسْمهَا فِي مَحل رفع وَهِي عاملة فِي الْخَبَر
অন্যটি: {তোমাকে কিসে বাধা দিল যে তুমি সিজদা করবে?}

চতুর্থত: যখন এটি জানা যায় যে কালেমায়ে ইখলাসে বিদ্যমান 'লা' শব্দটি হলো 'নাফিয়া লিল জিনস' (শ্রেণিবাচক না-বোধক অব্যয়), তবে 'ইলাহ' হলো এর ইসম (বিশেষ্য); আর সিবাওয়াইহ-এর অভিমত হলো যে, এটি এবং এর ইসম উভয়ই 'ইবতিদা' (প্রারম্ভিকতা) এর কারণে রাফা-এর স্থলাভিষিক্ত এবং খবরের ক্ষেত্রে এর কোনো কার্যকারিতা নেই; আর আল-আখফাশ-এর অভিমত হলো যে, এর ইসম রাফা-এর স্থলাভিষিক্ত এবং এটি খবরের ওপর আমলকারী।
(খণ্ড: ১) মানা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ - আয-যারকাশী (পৃষ্ঠা: ৭৪)
الْخَامِس قَول لَا إِلَه إِلَّا الله قدر فِيهِ الْأَكْثَرُونَ خبر لَا محذوفا فَقدر بَعضهم الْوُجُود وَبَعْضهمْ لنا وَبَعْضهمْ بِحَق قَالَ لِأَن آلِهَة الْبَاطِل مَوْجُودَة فِي الْوُجُود كالوثن وَالْمَقْصُود نفي مَا عدا إِلَه الْحق وَنَازع فِيهِ بَعضهم وَنفى الْحَاجة إِلَى قيد مُقَدّر محتجا بِأَن نفي الْمَاهِيّة من غير قيد أَعم من نَفيهَا بِقَيْد

পঞ্চম বিষয়টি হলো ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বাণীটি। অধিকাংশ বিদ্বান এতে ‘লা’-এর খবরকে উহ্য ধরেছেন। ফলে তাদের কেউ কেউ ‘অস্তিত্ব’ (মওজুদ), কেউ কেউ ‘আমাদের জন্য’ এবং কেউ কেউ ‘সত্যিকার অর্থে’ (বিহাক্কিন) শব্দটিকে উহ্য বলে নির্ধারণ করেছেন। তিনি বলেন, কারণ বাতিল উপাস্যসমূহ বাস্তবে বিদ্যমান, যেমন মূর্তিসমূহ; আর উদ্দেশ্য হলো সত্য ইলাহ ব্যতীত অন্য সবকিছুকে অস্বীকার করা। কেউ কেউ এ বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেছেন এবং কোনো উহ্য শর্তারোপের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করেছেন। তাদের যুক্তি হলো, কোনো শর্ত ছাড়াই মূল সত্তা বা মাহিয়্যাহকে অস্বীকার করা কোনো শর্তযুক্ত অস্বীকারের চেয়ে অধিক ব্যাপক।

(খণ্ড: ১) মানা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ - আয-যারকাশী (পৃষ্ঠা: ৭৫)
وَالتَّقْدِير أولى جَريا على الْقَاعِدَة الْعَرَبيَّة فِي تَقْدِير الْخَبَر وعَلى هَذَا فَالْأَحْسَن تَقْدِير الْأَخير لما ذكر ولتكون الْكَلِمَة جَامِعَة لثُبُوت مَا يَسْتَحِيل نَفْيه وَنفي مَا يَسْتَحِيل ثُبُوته
আরবি ব্যাকরণিক নিয়ম অনুযায়ী খবর উহ্য ধরার ধারা অনুসরণ করে উহ্য মানাটাই অধিকতর অগ্রগণ্য। এবং এর ওপর ভিত্তি করে, উল্লেখিত কারণে শেষোক্ত বিষয়টি উহ্য মানাই উত্তম; যেন এই বাক্যটি এমন বিষয় সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে ব্যাপক হয় যার অস্বীকৃতি অসম্ভব এবং এমন বিষয় অস্বীকার করার ক্ষেত্রে ব্যাপক হয় যার সাব্যস্তকরণ অসম্ভব।
(খণ্ড: ১) মানা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ - আয-যারকাশী (পৃষ্ঠা: ৭৬)
السَّادِس ذكر بَعضهم أَن إِلَّا فِي كلمة الشَّهَادَة بِمَعْنى غير وَاسْتدلَّ بقوله تَعَالَى {لَو كَانَ فيهمَا آلِهَة إِلَّا الله لفسدتا} ثمَّ بقول الشَّاعِر
ষষ্ঠত: তাদের কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন যে, শাহাদাহ্ কালিমায় ‘ইল্লা’ শব্দটি ‘গাইর’ (ব্যতীত) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। তিনি মহান আল্লাহর এই বাণী দ্বারা দলিল পেশ করেছেন: “যদি আকাশ ও পৃথিবীতে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোনো ইলাহ থাকত, তবে উভয়ই ধ্বংস হয়ে যেত।” অতঃপর কবির উক্তি দ্বারা [দলিল দিয়েছেন]:
(খণ্ড: ১) মানা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ - আয-যারকাশী (পৃষ্ঠা: ৭৭)
(وكل أَخ مفارقه أَخُوهُ … لعمر أَبِيك إِلَّا الفرقدان)

فَإِنَّهُ لَو حمل إِلَّا على الِاسْتِثْنَاء الصَّرِيح لم يكن اللَّفْظ بِالْكَلِمَةِ الشَّرِيفَة توحيدا مَحْضا فَإِن تَقْدِير الْكَلَام لَا إِلَه مُسْتَثْنى عَنهُ الله فَلَا يكون نفيا لآلهة لَا يسْتَثْنى عَنْهَا الله وَهَذَا لَيْسَ بتوحيد

وَهَذَا الْقَائِل مُنَازع فِي هَذَا الْفَهم وَإِجْمَاع الْعلمَاء على أَنه
(এবং প্রত্যেক ভাই তার ভাই থেকে বিচ্ছিন্ন হবে … তোমার পিতার জীবনের কসম, কেবল ফারকাদাইন ব্যতীত)

কারণ যদি 'ইল্লা' (ব্যতীত) শব্দটিকে কেবল স্পষ্ট ব্যতিক্রম হিসেবে গ্রহণ করা হতো, তবে এই মহান বাণীর উচ্চারণ বিশুদ্ধ তাওহীদ হতো না। কেননা তখন বাক্যের মর্মার্থ হতো: এমন কোনো উপাস্য নেই যা থেকে আল্লাহকে ব্যতিক্রম করা হয়েছে; ফলে এটি এমন সব উপাস্যদের অস্বীকার করা হতো না যাদের থেকে আল্লাহকে ব্যতিক্রম করা হয়নি, আর এটি তাওহীদ নয়।

আর এই প্রবক্তার এই উপলব্ধির বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করা হয়েছে এবং ওলামায়ে কেরামের ঐকমত্য হলো যে—
(খণ্ড: ১) মানা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ - আয-যারকাশী (পৃষ্ঠা: ৭৮)
يُفِيد التَّوْحِيد الْمَحْض وَإِطْلَاق الشَّارِع لَهَا غير مُقَيّدَة بِقَيْد لَا سِيمَا فِي مَوضِع الْبَيَان وَالتَّفْسِير دَلِيل قَطْعِيّ على أَنه صَرِيح فِيهِ

وَأما حمل الْآيَة على معنى غير فَظَاهر لِأَنَّهَا مَرْفُوعَة نعتا لآلهة لَا أَن المُرَاد بهَا الِاسْتِثْنَاء إِذْ المُرَاد نفي الْمَعِيَّة لانْتِفَاء التمانع الْمَنْفِيّ لانْتِفَاء غير الله تَعَالَى وَهُوَ الَّذِي أوردهُ المتكلمون فِي صُورَة التَّقْسِيم الْمُسَمّى عِنْدهم برهَان الْخلف
এটি বিশুদ্ধ তাওহীদ প্রদান করে এবং বিশেষত বর্ণনা ও ব্যাখ্যার স্থলে কোনো প্রকার শর্তারোপ ব্যতিরেকে শরীয়ত প্রণেতার পক্ষ থেকে এর নিঃশর্ত প্রয়োগ এই বিষয়ে একটি অকাট্য দলীল যে এটি এতে সুস্পষ্ট।

আর আয়াতটিকে ভিন্ন অর্থে গ্রহণ করা স্পষ্টত অপ্রাসঙ্গিক, কারণ এটি 'আলিহা' (উপাস্যসমূহ) শব্দের বিশেষণ হিসেবে মারফু (পেশযুক্ত) অবস্থায় রয়েছে, এর দ্বারা ব্যতিক্রম বা ইস্তিসনা উদ্দেশ্য নয়। কেননা এখানে উদ্দেশ্য হলো সহাবস্থান অস্বীকার করা, যাতে মহান আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো অনুপস্থিতির কারণে পারস্পরিক বিরোধের যে অসম্ভাব্যতা তা প্রমাণিত হয়। আর এটিই সেই বিষয় যা মুতাকাল্লিমগণ বিভাজন আকারে উপস্থাপন করেছেন এবং তাদের নিকট এটি 'বুরহানে খুলফ' (বিরোধাত্মক প্রমাণ) হিসেবে পরিচিত।
(খণ্ড: ১) মানা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ - আয-যারকাশী (পৃষ্ঠা: ৭৯)
وَأما مَجِيء كلمة التَّوْحِيد بإلا فلأدائها معنى الْوحدَة وَتَقْدِير
আর 'ইল্লা' যোগে তাওহিদের কালিমার আগমন হলো একত্বের অর্থ প্রদান এবং [উহ্য মান] নির্ধারণ করার জন্য।
(খণ্ড: ১) মানা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ - আয-যারকাশী (পৃষ্ঠা: ৮০)
لَفْظَة غير فِي الْآيَة لوُجُوب نفي مُدبر لَهما إِلَّا وَاحِد وَوُجُوب أَن لَا يكون ذَلِك الْوَاحِد إِلَّا الله تَعَالَى وَحده

قَالَ الزَّمَخْشَرِيّ فَإِن قلت لم وَجب الْأَمْرَانِ قلت لعلمنا أَن الرّعية لتفسد بتدبير الْملكَيْنِ لما يحدث بَينهمَا من التغالب
আয়াতে 'গাইর' (ব্যতীত) শব্দটি ব্যবহারের কারণ হলো—উভয়ের (আসমান ও জমিনের) জন্য একমাত্র সত্তা ব্যতীত অন্য কোনো পরিচালক থাকাকে অস্বীকার করা অপরিহার্য হওয়া এবং এই বিষয়টিও অপরিহার্য হওয়া যে সেই একক সত্তা মহান আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ নন।

যামাখশারী বলেন, আপনি যদি প্রশ্ন করেন: কেন এই দুটি বিষয় আবশ্যক হলো? আমি বলব: কারণ আমরা জানি যে, দুই রাজার পরিচালনার কারণে প্রজাসাধারণের মধ্যে বিপর্যয় দেখা দেয়, যেহেতু তাদের উভয়ের মধ্যে একে অপরের ওপর আধিপত্য বিস্তারের প্রতিযোগিতা তৈরি হয়।
(খণ্ড: ১) মানা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ - আয-যারকাশী (পৃষ্ঠা: ৮১)
وَالِاخْتِلَاف وَهُوَ معنى مَا أردنَا بِانْتِفَاء التمانع

السَّابِع قَالَ بعض الْمُتَكَلِّمين تصور الْإِثْبَات مُتَقَدم على تصور النَّفْي بِدَلِيل إِمْكَان تصور الْإِثْبَات مُجَردا عَن تصور الْعَدَم دون الْعَكْس فَمَا مُوجب مُخَالفَته فِي كلمة الشَّهَادَة وَأجَاب بِأَن نفي الوجوبية عَن الْغَيْر ثمَّ إِثْبَاتهَا لله تَعَالَى آكِد من الْإِثْبَات
এবং এই ভিন্নতা; আর এটিই হলো সেই অর্থ যা আমরা পরস্পর প্রতিবন্ধকতার অনুপস্থিতি দ্বারা উদ্দেশ্য নিয়েছি।

সপ্তম: জনৈক কালাম শাস্ত্রবিদ বলেছেন, কোনো বিষয় সাব্যস্ত করার ধারণা সেটিকে অস্বীকার করার ধারণার অগ্রবর্তী; এর প্রমাণ হলো যে, অবিদ্যমানতার ধারণা ছাড়াই কেবল সাব্যস্ত করার ধারণা করা সম্ভব, কিন্তু এর বিপরীতটি নয়। তবে কালিমায়ে শাহাদাতে কেন এর বিপরীত পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়েছে? এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, অন্য সত্তা হতে অস্তিত্বের আবশ্যকতাকে নাকচ করে অতঃপর তা আল্লাহ তা‘আলার জন্য সাব্যস্ত করা কেবল সাব্যস্ত করার চেয়ে অধিক জোরালো।
(খণ্ড: ১) মানা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ - আয-যারকাশী (পৃষ্ঠা: ৮২)
وَأهل الْمعَانِي يَقُولُونَ إِنَّمَا بدا بِالنَّفْيِ لِأَن النَّفْي تَفْرِيغ الْقلب فَإِذا كَانَ خَالِيا كَانَ أقرب إِلَى ارتسام التَّوْحِيد فِيهِ وإشراق نور الله تَعَالَى عَلَيْهِ

وَفِي كَلَام بَعضهم أَنه إِنَّمَا بَدَأَ بِالنَّفْيِ لتطهير الْقلب من الأغيار وصقل جوهره لاستجلاء الْأَنْوَار وَحُصُول الْأَسْرَار وَقُوَّة الْأَبْصَار وَهَذَا أشبه بمعارف الصُّوفِيَّة وأليق بمعاني الْأَسْرَار الربانية

الثَّامِن قَول لَا إِلَه إِلَّا الله فِيهِ خاصيتان إِحْدَاهمَا أَن جَمِيع حروفها جوفية لَيْسَ فِيهَا من الْحُرُوف الشفهية للْإِشَارَة إِلَى الْإِتْيَان بهَا من خَالص جَوْفه وَهُوَ
অর্থ বিশারদগণ বলেন, নিশ্চয়ই নাস্তিবাচকতা (নাফি) দ্বারা শুরু করা হয়েছে কারণ নাস্তিবাচকতা হলো অন্তরকে শূন্য করা; আর যখন অন্তর শূন্য হয়, তখন তা তাওহীদের প্রতিচ্ছবি গ্রহণ করার এবং মহান আল্লাহর নূরের উদ্ভাসিত হওয়ার অধিকতর উপযোগী হয়।

তাদের কারো কারো বক্তব্যে এসেছে যে, নাস্তিবাচকতা দ্বারা শুরু করা হয়েছে যেন অন্তরকে গায়রুল্লাহ থেকে পবিত্র করা যায় এবং এর মূল সত্তাকে নূরের প্রকাশ, রহস্য অর্জন ও অন্তর্দৃষ্টির প্রখরতার জন্য মার্জিত করা যায়। এটি সূফীগণের মারিফাতের সাথে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ এবং রব্বানী রহস্যের অর্থের সাথে অধিক মানানসই।

অষ্টম: 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বাণীর দুটি বিশেষত্ব রয়েছে। এর একটি হলো, এর বর্ণগুলোর সবকটিই অন্তস্থল বা কণ্ঠনালীর গভীর থেকে উচ্চারিত (জাওফিয়্যাহ), এতে কোনো ওষ্ঠ্য বর্ণ নেই। এটি এর প্রতি ইঙ্গিত করার জন্য যে, এই বাণী যেন হৃদয়ের গভীর থেকে উচ্চারিত হয়, আর তা হলো—
(খণ্ড: ১) মানা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ - আয-যারকাশী (পৃষ্ঠা: ৮৩)
الْقلب لَا من الشفتين

الثَّانِيَة انه لَيْسَ فِيهَا حرف مُعْجم بل جَمِيعهَا متجردة عَن النقط إِشَارَة إِلَى التجرد عَن كل معبود سوى الله تَعَالَى

التَّاسِع قَول لَا إِلَه إِلَّا الله أَي على هَذِه الصِّيغَة الْخَاصَّة الجامعة بَين النَّفْي وَالْإِثْبَات ليدل على حصر الإلهية لله تَعَالَى فَإِن الْجمع بَين النَّفْي وَالْإِثْبَات أبلغ صِيغ الْحصْر وَقد ثَبت الْعلم الضَّرُورِيّ بالاكتفاء بِهَذِهِ الْكَلِمَة الشَّرِيفَة فِي إِثْبَات التَّوْحِيد لله تَعَالَى من غير نظر إِلَى وَاسِطَة بَين النَّفْي وَالْإِثْبَات وَلَا انضمام لفظ آخر إِلَيْهِ
অন্তর থেকে, ঠোঁট থেকে নয়।

দ্বিতীয়ত, এতে কোনো বিন্দুযুক্ত অক্ষর নেই, বরং এর সবগুলোই বিন্দুহীন; এটি আল্লাহ তাআলা ব্যতীত অন্য সকল উপাস্য থেকে বিমুক্ত হওয়ার প্রতি ইঙ্গিতবাহী।

নবমটি হলো, 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই' বলা, অর্থাৎ না-সূচক ও হাঁ-সূচক বিষয়ের সমন্বয়কারী এই বিশেষ কাঠামোর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার জন্য উপাস্য হওয়ার গুণকে সীমাবদ্ধ করা। কেননা না-সূচক ও হাঁ-সূচক বাক্যের সমন্বয় সীমাবদ্ধকরণের সবচেয়ে জোরালো পদ্ধতি। আল্লাহ তাআলার তাওহিদ প্রমাণের ক্ষেত্রে না-সূচক ও হাঁ-সূচক বিষয়ের মাঝে অন্য কোনো মাধ্যম বা অন্য কোনো শব্দ যুক্ত করা ছাড়াই শুধুমাত্র এই সম্মানিত কালিমাই যথেষ্ট হওয়ার বিষয়টি অকাট্য জ্ঞান দ্বারা প্রমাণিত।
(খণ্ড: ১) মানা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ - আয-যারকাশী (পৃষ্ঠা: ৮৪)
لَكِن هَل إفادتها لهَذَا الْإِثْبَات بِوَضْع لغَوِيّ أَو شَرْعِي أَو أَنَّهَا إِنَّمَا تفِيد نفي شركَة إِلَه آخر

فَأَما إِثْبَات الإلهية لله تَعَالَى فَإِنَّهُ مَعْلُوم بِالْعلمِ الضَّرُورِيّ
কিন্তু এই সাব্যস্তকরণের ক্ষেত্রে এর নির্দেশ কি ভাষাগত কিংবা শরয়ী প্রয়োগের মাধ্যমে, নাকি এটি কেবল অন্য কোনো ইলাহের অংশীদারিত্বকে নাকচ করার অর্থ প্রদান করে?

পক্ষান্তরে, আল্লাহ তাআলার জন্য ইলাহিয়্যাত সাব্যস্ত হওয়ার বিষয়টি তো আবশ্যিক জ্ঞানের মাধ্যমেই জ্ঞাত।
(খণ্ড: ১) মানা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ - আয-যারকাশী (পৃষ্ঠা: ৮৫)
الْحَاصِل فِي الطباع لكل عَاقل وَعند هَذَا الْقَائِل الْمَقْصُود بالإثبات ثُبُوت صفة مدح لله تَعَالَى وَادّعى بَعضهم أَن هَذَا الْإِثْبَات حصل بِالْقَرِينَةِ مَعَ اللَّفْظ والقرينة حُصُول الْعلم بِأَن الْمَطْلُوب من الْخلق على أَلْسِنَة الرُّسُل إِثْبَات التَّوْحِيد فَدلَّ بِالْقَرِينَةِ على أَن النَّاطِق بِالشَّهَادَةِ إِنَّمَا يُرِيد هَذَا الْمَعْنى وَهَذَا يقرب من القَوْل بِأَن الِاسْتِثْنَاء من النَّفْي لَيْسَ إِثْبَاتًا متمسكا بِأَن الْأَلْفَاظ مَوْضُوعَة للدلالة على الْأَحْكَام الذهنية لَا على الْأُمُور الخارجية وَالْحق أَن خطاب الْمُكَلّفين بِهَذِهِ الْكَلِمَة

প্রত্যেক বুদ্ধিমান ব্যক্তির স্বভাবজাত বিষয় এই যে এবং এই প্রবক্তার মতে 'সাব্যস্তকরণ' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আল্লাহ তাআলার জন্য প্রশংসামূলক গুণের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা। তাদের কেউ কেউ দাবি করেছেন যে, এই সাব্যস্তকরণটি শব্দের পাশাপাশি প্রাসঙ্গিক প্রমাণের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে। আর সেই প্রাসঙ্গিক প্রমাণটি হলো এই জ্ঞান লাভ করা যে, রসূলগণের মুখে সৃষ্টির নিকট যা চাওয়া হয়েছে তা হলো আল্লাহর একত্ববাদ সাব্যস্ত করা। সুতরাং এটি প্রাসঙ্গিক প্রমাণের মাধ্যমে একথাই নির্দেশ করে যে, সাক্ষ্য প্রদানকারী ব্যক্তি মূলত এই অর্থটিই উদ্দেশ্য করেন। এটি ওই মতের নিকটবর্তী যাতে বলা হয় যে, না-বোধক বাক্য থেকে কোনো কিছুকে ব্যতিক্রম করাটি কোনো কিছু সাব্যস্তকরণ নয়; এই যুক্তিতে অটল থেকে যে, শব্দসমূহ মূলত মানসিক ধারণা প্রকাশের জন্য প্রণীত হয়েছে, বাহ্যিক বাস্তবতার জন্য নয়। আর প্রকৃত সত্য হলো এই যে, শরীয়তের বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তিদের প্রতি এই বাণীর মাধ্যমে সম্বোধন...

(খণ্ড: ১) মানা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ - আয-যারকাশী (পৃষ্ঠা: ৮৬)
الشَّرِيفَة وتكليفهم إِيَّاهَا لَيْسَ إِلَّا لإِثْبَات إلهية الله تَعَالَى وَحده لاكتفاء الشَّارِع صلى الله عليه وسلم بهَا من غير اعْتِبَار لفظ زَائِد عَلَيْهَا
সেই মহিমান্বিত বাণী এবং তাদের ওপর তা অর্পণ করার উদ্দেশ্য কেবল আল্লাহ তাআলার একক উলুহিয়্যাত সাব্যস্ত করা; কারণ শরীয়ত প্রণেতা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর মাধ্যমেই সন্তুষ্ট থেকেছেন এবং এর অতিরিক্ত কোনো শব্দ বিবেচনায় নেননি।
(খণ্ড: ১) মানা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ - আয-যারকাশী (পৃষ্ঠা: ৮৭)
وَلَوْلَا إفادتها التَّوْحِيد لوَجَبَ بَيَان الْوَاجِب الزَّائِد عَلَيْهَا فَإِن التَّوْحِيد هُوَ الْمَقْصُود الْأَصْلِيّ من بعثة الرُّسُل واتفاق الْخَاصَّة والعامة سلفا وخلفا أَن مدلولها إِثْبَات التَّوْحِيد وإطلاقهم عَلَيْهَا كلمة التَّوْحِيد إِجْمَاع مِنْهُم فدعوى زَائِد على ذَلِك تشغيب على الشَّرْع بالمصطلحات الجدلية وَهُوَ غير مُعْتَبر وَلَا جَائِز

وَقد اسْتدلَّ أَيْضا على عدم الْوَاسِطَة بِأَن النكرَة بعد لَا لنفي
যদি এটি তাওহীদ প্রদান না করত, তবে এর অতিরিক্ত যে বিষয়টি ওয়াজিব তা স্পষ্ট করা আবশ্যক হতো; কেননা রাসূলগণের প্রেরণের মূল উদ্দেশ্যই হলো তাওহীদ। আর পূর্ববর্তী ও পরবর্তী বিশিষ্ট এবং সাধারণ সকল স্তরের মানুষের ঐকমত্য হলো যে, এর মর্মার্থ তাওহীদ সাব্যস্ত করা। একে তাওহীদের বাণী হিসেবে তাদের অভিহিত করাও তাদের একটি সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত। সুতরাং এর অতিরিক্ত কোনো দাবি উত্থাপন করা তর্কমূলক পরিভাষার মাধ্যমে শরীয়তের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টির নামান্তর, যা গ্রহণযোগ্য নয় এবং বৈধও নয়।

এবং মধ্যস্থতাকারী না থাকার স্বপক্ষে এই যুক্তিও প্রদান করা হয়েছে যে, না-বোধক অব্যয়ের পরবর্তী অনির্দিষ্ট বিশেষ্য অস্বীকৃতি বা নেতিবাচক অর্থ জ্ঞাপনের জন্য ব্যবহৃত হয়।