(খণ্ড: ১) মাআরিজুল কুদসি ফী মাদারিজ মা’রিফাতিন নাফসি (পৃষ্ঠা: -)
معارج القدس في مدارج معرفه النفس   (أبو حامد الغزالي)

القسم: العقيدة


الكتاب: معارج القدس في مدراج معرفة النفس

المؤلف: أبو حامد محمد بن محمد الغزالي الطوسي (ت 505هـ)

الناشر: دار الآفاق الجديدة - بيروت

الطبعة: الثانية، 1975

عدد الصفحات: 204

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আত্ম-পরিচয়ের সোপানে পবিত্রতার আরোহণ   (আবু হামিদ আল-গাজ্জালী)

বিভাগ: আকীদা


বই: আত্ম-পরিচয়ের সোপানে পবিত্রতার আরোহণ

লেখক: আবু হামিদ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল-গাজ্জালী আত-তুসি (মৃ. ৫০৫ হি.)

প্রকাশক: দারুল আফাক আল-জাদিদাহ - বৈরুত

সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৯৭৫

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২০৪

[বইয়ের পৃষ্ঠা সংখ্যায়ন মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মাআরিজুল কুদসি ফী মাদারিজ মা’রিফাতিন নাফসি (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌مُقَدّمَة فِي مَعَاني الالفاظ المترادفة على النَّفس وَهِي أَرْبَعَة النَّفس وَالْقلب وَالروح وَالْعقل

 

أما النَّفس فَتطلق بمعنيين أَحدهمَا أَن يُطلق وَيُرَاد بِهِ الْمَعْنى الْجَامِع للصفات المذمومة وَهِي القوى الحيوانية المضادة للقوى الْعَقْلِيَّة وَهُوَ الْمَفْهُوم عِنْد اطلاق الصُّوفِيَّة فَيُقَال من أفضل الْجِهَاد أَن تُجَاهِد نَفسك واليه الْإِشَارَة بقول نَبينَا عليه السلام أعدى عَدوك نَفسك الَّتِي بَين جنبيك

وَالثَّانِي أَن يُطلق وَيُرَاد بِهِ حَقِيقَة الْآدَمِيّ وذاته فَإِن نفس كل شَيْء حَقِيقَته وَهُوَ الْجَوْهَر الَّذِي هُوَ مَحل المعقولات وَهُوَ من عَالم الملكوت وَمن عَالم الْأَمر على مَا نبين نعم تخْتَلف أسماؤها باخْتلَاف أحوالها الْعَارِضَة عَلَيْهَا فَإِن اتجهت إِلَى صَوَاب الصَّوَاب وَنزلت عَلَيْهَا السكينات الآلهية وتواترت عَلَيْهَا نفحات فيض الْجُود الإلهي فتطمئن إِلَى ذكر الله عز وجل وتسكن إِلَى المعارف الإلهية وَتَطير إِلَى أَعلَى أفق الملكية فَيُقَال نفس مطمئنة قَالَ الله تَعَالَى {يَا أيتها النَّفس المطمئنة ارجعي إِلَى رَبك راضية مرضية} وان كَانَت مَعَ قواها
নফসের সমার্থক শব্দাবলির অর্থ সংক্রান্ত ভূমিকা; আর তা চারটি: নফস, কলব (অন্তর), রূহ (আত্মা) এবং আকল (বিবেচনাশক্তি)।

 

নফসের ক্ষেত্রে তা দুটি অর্থে ব্যবহৃত হয়। প্রথমটি হলো, এটি প্রয়োগ করা হয় এমন এক অর্থ বোঝাতে যা সমস্ত নিন্দনীয় গুণাবলির সমষ্টি; আর তা হলো পাশবিক শক্তি যা বুদ্ধিবৃত্তিক শক্তির বিপরীত। সুফিদের পরিভাষায় এর প্রয়োগই প্রচলিত। তাই বলা হয়, 'শ্রেষ্ঠ জিহাদ হলো তোমার নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ করা।' আর আমাদের নবী আলাইহিস সালাম-এর বাণীর দিকেই এর ইঙ্গিত রয়েছে: 'তোমার সবচেয়ে বড় শত্রু হলো তোমার সেই নফস, যা তোমার দুই পাঁজরের মাঝখানে অবস্থিত।'

দ্বিতীয়টি হলো, এটি প্রয়োগ করা হয় মানুষের হাকিকত (প্রকৃত সত্তা) এবং তার জাত (অস্তিত্ব) বোঝাতে। কেননা প্রত্যেক বস্তুর নফস হলো তার হাকিকত। এটি এমন এক জওহর (সত্তা) যা বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়ের আধার। এটি মালাকুত জগত এবং আমরের জগত থেকে উৎসারিত, যেমনটি আমরা বর্ণনা করব। হ্যাঁ, এর ওপর আপতিত বিভিন্ন অবস্থার প্রেক্ষিতে এর নাম ভিন্ন ভিন্ন হয়। যদি এটি পরম সত্যের দিকে ধাবিত হয় এবং এর ওপর ঐশী প্রশান্তি নাজিল হয়, আর এর ওপর ঐশী দান ও অনুগ্রহের সুবাতাস ক্রমাগত বইতে থাকে, ফলে তা মহান আল্লাহর জিকিরে আশ্বস্ত হয় এবং ইলাহি মারেফাতের প্রতি স্থির হয় এবং ফেরেশতাকুলের উচ্চ দিগন্তে উড্ডয়ন করে, তখন তাকে 'নফসে মুতমায়িননাহ' (প্রশান্ত আত্মা) বলা হয়। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, {হে প্রশান্ত আত্মা! তুমি তোমার রবের কাছে ফিরে এসো সন্তুষ্ট ও সন্তোষভাজন হয়ে।} আর যদি তা তার শক্তিসমূহের সাথে থাকে...
(খণ্ড: ১) মাআরিজুল কুদসি ফী মাদারিজ মা’রিফাতিন নাফসি (পৃষ্ঠা: ১৬)
وجنودها فِي حراب وقتال وشجار ونزاع وَكَانَت الْحَرْب بَينهمَا سجالا فَتَارَة لَهَا الْيَد عَلَيْهَا وَتارَة للقوى عَلَيْهَا الْيَد فَلَا تكون حَالهَا مُسْتَقِيمَة فَتَارَة تنْزع إِلَى جَانب الْعُقُول فتتلقى المعقولات وَتثبت على الطَّاعَات وَتارَة تستولي عَلَيْهَا القوى فتهبط إِلَى حضيض منَازِل الْبَهَائِم فَهَذِهِ النَّفس نفس لوامة وَهَذِه النَّفس هِيَ حَالَة أَكثر الْخلق فَإِن من ارْتَفع إِلَى أفق الْمَلَائِكَة حَتَّى تحلى بالعلوم والفضائل النفسية والأعمال الْحَسَنَة فَهُوَ ملك جسماني لارتفاعه عَن الإنسانية وَعدم مشاركته للبشر إِلَّا بالصورة التخطيطية وَلِهَذَا قَالَ تَعَالَى ماهذا بشرا إِن هَذَا إِلَّا ملك كريم

وَمن اتضع حَتَّى صَار فِي حضيض الْبَهَائِم فَلَو تصور كلب أَو حمَار منتصب الْقَامَة مُتَكَلم لَكَانَ هُوَ اياه لانسلاخه عَن الْفَضَائِل الانسانية وَعدم مشاركته للانسان إِلَّا بالصورة التخطيطية وَهَذِه هِيَ النَّفس الأمارة بالسوء

فجلهم إِذا فَكرت فيهم … حمير أَو كلاب أَو ذئاب

وَهُوَ من الْأنس الْمَذْكُورين فِي قَوْله تَعَالَى {شياطين الْإِنْس وَالْجِنّ يوحي بَعضهم إِلَى بعض زخرف القَوْل غرُورًا} وَقَالَ أَمِير الْمُؤمنِينَ عَليّ رضي الله عنه يَا أشباه الرِّجَال وَلَا رجال فَمثل هَذِه النَّفس ترَاهُ أبدا عبدا لحجر أَو مدر أَو بَهِيمَة أَو ضعينة وَهَذَا هُوَ الَّذِي أخبر الله سُبْحَانَهُ عَنهُ فَقَالَ {إِن النَّفس لأمارة بالسوء}

أما الْقلب فيطلق أَيْضا بمعنيين أَحدهمَا اللَّحْم الصنوبري الشكل الْمُودع فِي جَوف الْإِنْسَان من جَانب الْيَسَار وَقد عرف ذَلِك بالتشريح وَهُوَ مركب الدَّم الْأسود ومنبع البخار الَّذِي هُوَ مركب الرّوح الطبي الحيواني
এবং তার সেনাবাহিনী যুদ্ধ, লড়াই, ঝগড়া ও বিবাদে লিপ্ত থাকে। তাদের মধ্যকার যুদ্ধ ছিল ফলাফলহীন (কখনও এ পক্ষ জয়ী হয়, কখনও ও পক্ষ)। কখনও আত্মার ওপর কুপ্রবৃত্তির প্রভাব থাকে, আবার কখনও আত্মার ওপর পাশবিক শক্তির প্রাধান্য থাকে। ফলে তার অবস্থা স্থিতিশীল থাকে না। কখনও সে বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়ের দিকে ধাবিত হয়, ফলে যুক্তিনির্ভর বিষয়াবলি গ্রহণ করে এবং আনুগত্যের ওপর অটল থাকে। আবার কখনও কুপ্রবৃত্তি তাকে গ্রাস করে নেয়, ফলে সে চতুষ্পদ জন্তুর স্তরের নিম্নতম পর্যায়ে অধঃপতিত হয়। আর এই আত্মা হলো ‘নাফসে লাওয়ামাহ’ বা তিরস্কারকারী আত্মা। অধিকাংশ মানুষের অবস্থাই এরূপ। যে ব্যক্তি ফেরেশতাদের দিগন্ত পর্যন্ত উন্নীত হয়েছে, এমনকি আত্মিক জ্ঞান, গুণাবলি এবং নেক আমলের মাধ্যমে সুশোভিত হয়েছে, সে তার মানবিকতা থেকে ঊর্ধ্বে ওঠার কারণে এবং অবয়ব ছাড়া অন্য কোনো বিষয়ে মানুষের সাথে অংশীদার না হওয়ার কারণে একজন ‘শারীরিক ফেরেশতা’। আর এ কারণেই মহান আল্লাহ বলেছেন, “এ কোনো মানুষ নয়, এ তো এক সম্মানিত ফেরেশতা।”

আর যে ব্যক্তি নিজেকে এত নিচে নামিয়ে নিয়েছে যে সে চতুষ্পদ জন্তুর নিম্নতম পর্যায়ে পৌঁছে গেছে, এমতাবস্থায় যদি কোনো কুকুর বা গাধাকে সোজা হয়ে দাঁড়ানো এবং কথা বলা অবস্থায় কল্পনা করা হয়, তবে সে ব্যক্তি অবিকল তারই মতো হবে। কেননা সে মানবিক গুণাবলি থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং বাহ্যিক অবয়ব ছাড়া মানুষের সাথে তার আর কোনো সাদৃশ্য নেই। আর এটিই হলো ‘নাফসে আম্মারা’ বা মন্দকর্মে প্ররোচনাকারী আত্মা।

তাদের অধিকাংশকে নিয়ে তুমি যদি চিন্তা করো … তবে তারা গাধা, অথবা কুকুর, অথবা নেকড়ে বাঘ ছাড়া আর কিছু নয়।

সে ঐসব মানুষদের অন্তর্ভুক্ত যাদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেছেন, {মানুষ ও জিনের মধ্য হতে শয়তানরা, যারা প্রতারণার ছলে একে অপরকে চমকপ্রদ কথার কুমন্ত্রণা দেয়}। আর আমিরুল মুমিনীন আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন, “হে পুরুষদের মতো দেখতে কিন্তু প্রকৃতপক্ষে পুরুষ নও।” এ ধরনের আত্মাকে তুমি সর্বদা দেখবে কোনো পাথর, মাটির ঢিলা, চতুষ্পদ জন্তু অথবা নারীর দাসে পরিণত হতে। আর এটিই সেই অবস্থা যা সম্পর্কে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সংবাদ দিয়ে বলেছেন, {নিশ্চয়ই আত্মা মন্দকর্মে অত্যন্ত প্ররোচনাকারী}।

আর ‘ক্বলব’ বা হৃদপিণ্ড শব্দটিও দুটি অর্থে ব্যবহৃত হয়। এর একটি হলো পাইন ফলের মতো আকৃতির গোশতের টুকরো, যা মানুষের শরীরের ভেতরে বাম পার্শ্বে রাখা হয়েছে। ব্যবচ্ছেদ বিদ্যার মাধ্যমে বিষয়টি সম্পর্কে জানা গেছে। এটি কালো রক্তের আধার এবং বাষ্পের উৎস, যা প্রাকৃতিক পাশবিক প্রাণের বাহন।
(খণ্ড: ১) মাআরিজুল কুদসি ফী মাদারিজ মা’রিফাতিন নাফসি (পৃষ্ঠা: ১৭)
وَهَذَا يكون لجَمِيع الْحَيَوَانَات وَلَيْسَ بخاص للانسان وَهُوَ الَّذِي يفنى بِالْمَوْتِ جَمِيع الْحَواس بِسَبَبِهِ

وَالثَّانِي هُوَ الَّذِي نَحن بصدد بَيَانه هُوَ الرّوح الانساني المتحمل لأمانة الله المتحلي بالمعرفة المركوز فِيهِ الْعلم بالفطرة النَّاطِق بِالتَّوْحِيدِ بقوله بلَى فَهُوَ أصل الْآدَمِيّ وَنِهَايَة الكائنات فِي عَالم الْمعَاد قَالَ الله تَعَالَى {قل الرّوح من أَمر رَبِّي} وَقَالَ {أَلا بِذكر الله تطمئِن الْقُلُوب}

وَقَالَ نَبينَا عليه السلام إِن قُلُوب بني آدم كلهَا بَين أصبعين من أَصَابِع الرَّحْمَن الخ وحيثما ورد فِي الشَّرْع الْقلب فيراد بِهِ مَا نَحن بصدد بَيَانه وان أطلق فِي مَوضِع على اللَّحْم الصنوبري فَلِأَنَّهُ مُتَعَلّقه الْخَاص وَأول مُتَعَلّقه كَمَا قَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم إِن جَوف ابْن آدم لمضغة اذا صلحت صلح بهَا سَائِر الْجَسَد وَإِذا فَسدتْ فسد بهَا سَائِر الْجَسَد الا وَهِي الْقلب

أما الرّوح فيطلق وَيُرَاد بِهِ البخار اللَّطِيف الَّذِي يصعد من منبع الْقلب ويتصاعد إِلَى الدِّمَاغ بِوَاسِطَة الْعُرُوق أَيْضا إِلَى جَمِيع الْبدن فَيعْمل فِي كل مَوضِع بِحَسب مزاجه واستعداده عملا وَهُوَ مركب الْحَيَاة فَهَذَا البخار كالسراج والحياة الَّتِي قَامَت بِهِ كالضوء وَكَيْفِيَّة تَأْثِيره فِي الْبدن ككيفية تنوير السراج أَجزَاء الْبَيْت وَيُطلق وَيُرَاد بِهِ الْمُبْدع الصَّادِر من أَمر الله تَعَالَى الَّذِي هُوَ مَحل الْعُلُوم وَالْوَحي والالهام وَهُوَ من جنس الْمَلَائِكَة مفارق للْعَالم الجسماني قَائِم بِذَاتِهِ على مَا نبين

وَيُطلق أَيْضا وَيُرَاد بِهِ الرّوح الَّذِي فِي مُقَابلَة جَمِيع الْمَلَائِكَة وَهُوَ الْمُبْدع الأول وَهُوَ روح الْقُدس
আর এটি সকল প্রাণীর ক্ষেত্রে ঘটে থাকে এবং এটি কেবল মানুষের জন্য বিশেষ নয়। আর মৃত্যুর কারণে এটিই সেই জিনিস যার মাধ্যমে সকল ইন্দ্রিয় বিলুপ্ত হয়ে যায়।

আর দ্বিতীয়টি হলো সেই বিষয় যা আমরা বর্ণনা করার সংকল্প করেছি; তা হলো মানবিক রূহ, যা আল্লাহর আমানত বহনকারী, মা'রিফাত বা জ্ঞান দ্বারা সুশোভিত, যার মধ্যে স্বভাবজাতভাবেই জ্ঞান প্রোথিত এবং যা 'হ্যাঁ' বলার মাধ্যমে তাওহীদের সাক্ষ্য প্রদানকারী। সুতরাং এটিই মানুষের মূল এবং পরকালীন জগতে সৃষ্টিজগতের পরিসমাপ্তি। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, "বলুন, রূহ আমার রবের আদেশ ঘটিত।" আর তিনি বলেছেন, "জেনে রেখো, আল্লাহর জিকিরেই অন্তরসমূহ প্রশান্ত হয়।"

আমাদের নবী (আলাইহিস সালাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আদম সন্তানদের সমস্ত অন্তর দয়াময় আল্লাহর আঙুলসমূহের মধ্য হতে দুটি আঙুলের মাঝে রয়েছে" ইত্যাদি। শরীয়তে যেখানেই 'অন্তর' শব্দ এসেছে, সেখানে তাই উদ্দেশ্য যা আমরা বর্ণনা করার সংকল্প করেছি। আর যদি কোনো স্থানে একে হৃদপিণ্ড সদৃশ মাংসপিণ্ডের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়ে থাকে, তবে তা এই কারণে যে, এটি তার বিশেষ সম্পৃক্ততার স্থান এবং তার প্রথম সম্পৃক্ততা। যেমন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আদম সন্তানের দেহের ভেতরে একটি মাংসপিণ্ড রয়েছে, যদি তা সংশোধিত হয় তবে তার মাধ্যমে পুরো শরীর সংশোধিত হয়, আর যদি তা কলুষিত হয় তবে তার মাধ্যমে পুরো শরীর কলুষিত হয়; জেনে রেখো, সেটিই হলো অন্তর।"

আর রূহ শব্দটির প্রয়োগ কখনও এমন এক সূক্ষ্ম বাষ্পীয় সত্তার ওপর হয়, যা অন্তরের উৎস থেকে উত্থিত হয় এবং ধমনীর মাধ্যমে মস্তিষ্কে ও সমস্ত শরীরে পৌঁছে যায়। ফলে তা প্রতিটি স্থানে তার মেজাজ ও যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ করে এবং এটিই জীবনের বাহন। সুতরাং এই বাষ্পীয় সত্তাটি প্রদীপের মতো এবং এর ওপর প্রতিষ্ঠিত জীবন হলো আলো সদৃশ। আর শরীরে এর প্রভাবের ধরন হলো ঘরের বিভিন্ন অংশে প্রদীপের আলো ছড়িয়ে পড়ার মতো। আবার এটি এমন এক সৃজিত সত্তা অর্থেও ব্যবহৃত হয় যা আল্লাহ তাআলার আদেশ থেকে নিঃসৃত, যা জ্ঞান, ওহী এবং ইলহামের আধার। এটি ফেরেশতাদের শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত, যা বস্তুজগত থেকে বিযুক্ত এবং নিজের সত্তায় প্রতিষ্ঠিত, যেমনটি আমরা বর্ণনা করব।

এটি আবার সেই রূহ অর্থেও ব্যবহৃত হয় যা সকল ফেরেশতার বিপরীতে অবস্থান করে, আর তা হলো প্রথম সৃজিত সত্তা এবং তা হলো রূহুল কুদুস।
(খণ্ড: ১) মাআরিজুল কুদসি ফী মাদারিজ মা’রিফাতিন নাফসি (পৃষ্ঠা: ১৮)
وَيُطلق أَيْضا وَيُرَاد بِهِ الْقُرْآن وعَلى الْجُمْلَة فَهُوَ عبارَة عَمَّا بِهِ حَيَاة مَا على الْجُمْلَة

أما الْعقل فيطلق وَيُرَاد بِهِ الْعقل الاول وَهُوَ الَّذِي يعبر عَنهُ بِالْعقلِ فِي قَول النَّبِي صلى الله عليه وسلم أول مَا خلق الله الْعقل فَقَالَ لَهُ أقبل فَأقبل ثمَّ قَالَ لَهُ أدبر فَأَدْبَرَ أَي أقبل حَتَّى تستكمل بِي وَأدبر حَتَّى يستكمل بك جَمِيع الْعَالم دُونك وَهُوَ الَّذِي قَالَ الله تَعَالَى لَهُ وَعِزَّتِي وَجَلَالِي مَا خلقت خلقا أعز عَليّ وَلَا أفضل مِنْك بك آخذ وَبِك أعطي الحَدِيث وَهُوَ الَّذِي يعبر عَنهُ بالقلم كَمَا قَالَ عليه السلام ان أول مَا خلق الله الْقَلَم فَقَالَ لَهُ اكْتُبْ فَقَالَ وَمَا أكتب قَالَ مَا هُوَ كَائِن الى يَوْم الْقِيَامَة من عمل وَأثر ورزق وَأجل فَكتب مَا يكون وَمَا هُوَ كَائِن إِلَى يَوْم الْقِيَامَة

والاطلاق الثَّانِي أَن يُطلق وَيُرَاد بِهِ النَّفس الإنسانية وَالْإِطْلَاق الثَّالِث أَن يُطلق وَيُرَاد بِهِ صفة النَّفس وَهُوَ بِالنِّسْبَةِ إِلَى النَّفس كالبصر بِالنِّسْبَةِ إِلَى الْعين وَهِي بواسطته مستعدة لادراك المعقولات كَمَا أَن الْعين بِوَاسِطَة الْبَصَر مستعدة لادراك المحسوسات وَهُوَ الَّذِي قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فِيهِ عَن ربه عزوجل وَعِزَّتِي وَجَلَالِي لأكمننك فِيمَن أَحْبَبْت

وَنحن حَيْثُ أطلقنا فِي هَذَا الْكتاب لفظ النَّفس وَالروح وَالْقلب وَالْعقل فنريد بِهِ النَّفس الانسانية الَّتِي هِيَ مَحل المعقولات
এটি (রূহ) কুরআনের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়। মোটের উপর, এটি এমন এক সত্তার পরিভাষা যার মাধ্যমে সামগ্রিকভাবে কোন কিছুর জীবন লাভ ঘটে।

আর বুদ্ধিবৃত্তির (আকল) কথা বলতে গেলে, এটি কখনও 'প্রথম বুদ্ধি' অর্থে ব্যবহৃত হয়। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণীতে বুদ্ধি বলতে যা বোঝানো হয়েছে তা এটাই: "আল্লাহ সর্বপ্রথম যা সৃষ্টি করেছেন তা হলো বুদ্ধি।" অতঃপর তিনি সেটিকে বললেন: "সামনে এসো," ফলে সেটি সামনে এল। এরপর তিনি বললেন: "পিছে যাও," ফলে সেটি পিছে গেল। অর্থাৎ, "সামনে এসো যাতে তুমি আমার মাধ্যমে পূর্ণতা লাভ করো, আর পিছে যাও যাতে তোমার মাধ্যমে তুমি ব্যতিত জগতের বাকি সবকিছু পূর্ণতা পায়।" আর এটি সেই সত্তা যার সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আমার মর্যাদা ও প্রতাপের কসম! আমি তোমার চেয়ে অধিক সম্মানিত ও শ্রেষ্ঠ কোনো মাখলুক সৃষ্টি করিনি। তোমার মাধ্যমেই আমি গ্রহণ করি এবং তোমার মাধ্যমেই আমি প্রদান করি" (হাদিসটির শেষ পর্যন্ত)। আর এটিকেই 'কলম' হিসেবে ব্যক্ত করা হয়, যেমনটি নবী (আলাইহিস সালাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বপ্রথম যা সৃষ্টি করেছেন তা হলো কলম।" এরপর তিনি তাকে বললেন: "লেখো।" সে বলল: "আমি কী লিখব?" তিনি বললেন: "কিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু ঘটবে—কর্ম, কর্মফল, রিযিক এবং আয়ু—সব লেখো।" অতঃপর যা ঘটবে এবং কিয়ামত পর্যন্ত যা হতে থাকবে, তা সে লিখে ফেলল।

দ্বিতীয় ব্যবহার হলো, এর দ্বারা মানুষের নফস (আত্মা) বোঝানো হয়। আর তৃতীয় ব্যবহার হলো, এর দ্বারা নফসের একটি গুণ বা বৈশিষ্ট্য বোঝানো হয়। নফসের সাথে এর সম্পর্ক চোখের সাথে দৃষ্টির সম্পর্কের মতো। এর মাধ্যমেই নফস বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়সমূহ উপলব্ধি করার যোগ্যতা লাভ করে, যেমন দৃষ্টির মাধ্যমে চোখ ইন্দ্রিয়লব্ধ বিষয়সমূহ প্রত্যক্ষ করার যোগ্যতা লাভ করে। এটি সেই সত্তা যার সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর মহামহিম রবের পক্ষ থেকে বর্ণনা করেছেন: "আমার মর্যাদা ও প্রতাপের কসম! আমি অবশ্যই তোমাকে তাদের মধ্যেই নিহিত রাখব যাদের আমি ভালোবাসি।"

আর আমরা যখনই এই কিতাবে নফস, রুহ, কলব এবং আকল শব্দগুলো ব্যবহার করব, তখন এর দ্বারা উদ্দেশ্য হবে মানুষের সেই নফস যা বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়সমূহের আধার।
(খণ্ড: ১) মাআরিজুল কুদসি ফী মাদারিজ মা’রিফাতিন নাফসি (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌بَيَان اثبات النَّفس على الْجُمْلَة

 

النَّفس أظهر من أَن تحْتَاج الى دَلِيل فِي ثُبُوتهَا فان جَمِيع خطابات الشَّرْع تتَوَجَّه لَا على مَعْدُوم بل على مَوْجُود حَيّ يفهم الْخطاب وَلَكِن نَحن نستظهر فِي بَيَانه فَنَقُول من الْمَعْلُوم الَّذِي لَا يرتاب فِيهِ إِن الْأَشْيَاء مهما اشتركت فِي شَيْء وافترقت فِي شَيْء آخر فَإِن الْمُشْتَرك فِيهِ غير المفترق فِيهِ ونصادف كَافَّة الْأَجْسَام مُشْتَركَة فِي أَنَّهَا أجسام يُمكن أَن يفْرض فِيهَا أبعاد ثَلَاثَة متقاطعة ثمَّ نصادفها بعد ذَلِك مفترقة بالتحرك والادراك فَإِن كَانَ تحركها لأجل جسميتها فَيَنْبَغِي أَن يكون كل جسم متحركا لِأَن الْحَقَائِق لَا تخْتَلف وَمَا يجب لنَوْع يجب لجَمِيع مَا يُشَارِكهُ فِي ذَلِك النَّوْع وَتلك الْحَقِيقَة وان كَانَ لِمَعْنى وَرَاء الجسمية فقد ثَبت على الْجُمْلَة مبدأ للْفِعْل فَذَلِك المبدأ هُوَ النَّفس إِلَى أَن يتَبَيَّن انه جَوْهَر أَو عرض مِثَال ذَلِك أَنا نرى الْأَجْسَام النباتية تغتذي وتنمو وتولد الْمثل وتتحرك حركات مُخْتَلفَة من التشعيب والتعريق فَهَذِهِ الْمعَانِي ان كَانَت للجسمية فَيَنْبَغِي أَن تكون جَمِيع الْأَجْسَام كَذَلِك وان كَانَت لغير الجسمية بل لِمَعْنى زَائِد فَذَلِك الْمَعْنى يُسمى نفسا نباتية ثمَّ الْحَيَوَان فِيهِ مَا فِي النَّبَات ويحس ويتحرك بالإرادة ويهتدي إِلَى مصَالح نَفسه وَله طلب لما ينفع وهرب عَمَّا يضر فنعلم قطعا أَن فِيهِ معنى زَائِدا على الْأَجْسَام النباتية ثمَّ نجد الانسان
সাধারণভাবে নফস বা আত্মার অস্তিত্ব প্রমাণের বর্ণনা

 

নফসের অস্তিত্ব এতোটাই সুস্পষ্ট যে, এর সপক্ষে কোনো প্রমাণের আবশ্যকতা নেই। কারণ শরীয়তের সমস্ত সম্বোধন কোনো অবিদ্যমান সত্তার প্রতি নয়, বরং এমন এক জীবন্ত বিদ্যমান সত্তার প্রতি নিবদ্ধ যে সেই সম্বোধন অনুধাবন করতে সক্ষম। তবে আমরা এর বর্ণনার ক্ষেত্রে স্পষ্টতর বিষয়াদি তুলে ধরছি। আমরা বলছি, এটি সুনিশ্চিতভাবে জ্ঞাত যে, বিভিন্ন বস্তু যখন কোনো একটি বিষয়ে একীভূত হয় এবং অন্য বিষয়ে পৃথক হয়, তখন সেই একীভূত হওয়ার বিষয়টি পৃথক হওয়ার বিষয় থেকে ভিন্ন হয়। আমরা লক্ষ্য করি যে, সকল বস্তুই 'দেহ' হওয়ার দিক থেকে একীভূত, যেখানে তিনটি পরস্পরছেদী মাত্রা কল্পনা করা সম্ভব। এরপর আমরা সেগুলোকে গতিশীলতা ও উপলব্ধির ক্ষেত্রে পৃথক দেখতে পাই। যদি এই গতিশীলতা কেবল তাদের দেহ হওয়ার কারণেই হতো, তবে প্রত্যেক দেহেরই গতিশীল হওয়া আবশ্যক ছিল; কেননা প্রকৃত সত্য কখনো ভিন্ন হয় না। আর যা কোনো একটি শ্রেণির জন্য অবধারিত, তা সেই শ্রেণি ও সেই বাস্তবতায় অংশীদার প্রত্যেকের জন্যই অবধারিত। আর যদি তা দেহ হওয়ার অতিরিক্ত অন্য কোনো অর্থের কারণে হয়, তবে সাধারণভাবে ক্রিয়ার একটি মূল নীতি প্রমাণিত হলো; আর সেই মূল নীতিই হলো 'নফস' বা আত্মা—পরবর্তীতে এটি স্পষ্ট হবে যে তা কোনো মৌলিক সত্তা (জওহর) নাকি কোনো উপরিগত গুণ (আরয)। এর উদাহরণ হলো, আমরা উদ্ভিদজাত দেহগুলোকে খাদ্য গ্রহণ করতে, বৃদ্ধি পেতে, সমজাতীয় বস্তু উৎপাদন করতে এবং ডালপালা ও শিকড় বিস্তারের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের গতি প্রাপ্ত হতে দেখি। এই বৈশিষ্ট্যগুলো যদি দেহ হওয়ার কারণেই হতো, তবে সমস্ত দেহের ক্ষেত্রেই তা প্রযোজ্য হওয়া উচিত ছিল। আর যদি তা দেহ হওয়ার কারণে না হয়ে বরং অতিরিক্ত কোনো অর্থের কারণে হয়ে থাকে, তবে সেই অর্থকেই 'উদ্ভিদ-আত্মা' বলা হয়। এরপর প্রাণীর মধ্যে উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্যসমূহ বিদ্যমান থাকার পাশাপাশি সে অনুভব করতে পারে, ইচ্ছাশক্তি দ্বারা চলাফেরা করে এবং নিজ কল্যাণকর বিষয়ের পথ খুঁজে পায়। তার মাঝে হিতকর বিষয় অন্বেষণ এবং ক্ষতিকর বিষয় থেকে পলায়নের প্রবৃত্তি রয়েছে; ফলে আমরা সুনিশ্চিতভাবে জানতে পারি যে, তার মধ্যে উদ্ভিদ-দেহের অতিরিক্ত একটি অর্থ বিদ্যমান। এরপর আমরা মানুষকে দেখতে পাই...
(খণ্ড: ১) মাআরিজুল কুদসি ফী মাদারিজ মা’রিফাতিন নাফসি (পৃষ্ঠা: ২০)
فِيهِ جَمِيع مَا فِي النَّبَات وَالْحَيَوَان من الْمعَانِي ويتميز بادراك الْأَشْيَاء الْخَارِجَة عَن الْحس مثل أَن الْكل أعظم من الْجُزْء فيدرك الجزئيات بالحواس الْخمس وَيدْرك الكليات بالمشاعر الْعَقْلِيَّة ويشارك الْحَيَوَان فِي الْحَواس ويفارقه فِي المشاعر الْعَقْلِيَّة فَإِن الانسان يدْرك الْكُلِّي من كل جزئي وَيجْعَل ذَلِك الْكُلِّي مُقَدّمَة قِيَاس ويستنتج مِنْهُ نتيجة فَلَا الادراك الْكُلِّي يُنكر وَلَا الْمدْرك لذَلِك يجْحَد وَلَا الْعرض وَلَا الْجِسْم الْقَابِل لعرض وَلَا النَّبَات وَلَا الْحَيَوَان غير الانسان يدْرك الْكُلِّي حَتَّى يقوم بِهِ الْكُلِّي فينقسم بأقسام الْجِسْم إِذْ الْكُلِّي لَهُ وَحده خَاصَّة من حَيْثُ هُوَ كلي لَا يَنْقَسِم الْبَتَّةَ فَلَا يكون للانسان الْمُطلق الْكُلِّي نصف وَثلث وَربع فقابل الصُّورَة الْكُلية جَوْهَر لَا جسم وَلَا عرض فِي جسم وَلَا وضع لَهُ وَلَا أَيْن لَهُ فيشار إِلَيْهِ بل وجوده وجود عَقْلِي أخْفى من كل شَيْء عِنْد الْحس وَأظْهر من كل شَيْء لِلْعَقْلِ فَثَبت بِهَذَا وجود النَّفس وَثَبت على الْجُمْلَة أَنه جَوْهَر وَثَبت أَنه منزه عَن الْمَادَّة والصور الجسمانية

‌‌تَقْسِيم يظْهر فِيهِ مباديء الْأَفْعَال

 

فَنَقُول كل مبدأ يصدر مِنْهُ فعل فاما أَن يكون لَهُ شُعُور بِفِعْلِهِ أَو لم يكن فان لم يكن لَهُ شُعُور فَأَما أَن يكون فعله متحدا على نسق وَاحِد وَإِمَّا أَن يكون مُخْتَلفا وَإِن كَانَ لَهُ شُعُور فاما أَن يكون تعقل أَو لم يكن فان كَانَ لَهُ تعقل فاما أَن يكون فعله متحدا على نسق وَاحِد وَإِمَّا أَن يكون مُخْتَلفا فَهَذِهِ خَمْسَة أَقسَام فَمَا كَانَ فعله متحدا وَلَيْسَ لَهُ شُعُور فَذَلِك المبدأ يُسمى مبدأ طبيعيا كَمَا فِي الْأَجْسَام الثَّقِيلَة من الهبوط وَفِي الْخَفِيفَة من الصعُود وان كَانَ فعله مُخْتَلفا وَلَيْسَ لَهُ شُعُور فَهُوَ النَّفس النباتي فان النَّبَات يَتَحَرَّك حركات مُخْتَلفَة
এতে উদ্ভিদ ও প্রাণীর মধ্যে বিদ্যমান সমস্ত তাৎপর্য বর্তমান এবং এটি ইন্দ্রিয়াতীত বিষয়সমূহ উপলব্ধির মাধ্যমে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়, যেমন এই ধারণা যে: সমগ্র অংশ অপেক্ষা বৃহত্তর। এটি পঞ্চেন্দ্রিয়ের মাধ্যমে বিশেষ বিষয়সমূহ উপলব্ধি করে এবং বুদ্ধিভিত্তিক অনুভবের মাধ্যমে সর্বজনীন বিষয়সমূহ উপলব্ধি করে। এটি ইন্দ্রিয়ের ক্ষেত্রে প্রাণীর সাথে অংশীদার, তবে বুদ্ধিভিত্তিক অনুভবের ক্ষেত্রে তার থেকে ভিন্ন। কেননা মানুষ প্রতিটি বিশেষ বিষয় থেকে সর্বজনীন ধারণা লাভ করে এবং সেই সর্বজনীন ধারণাকে যুক্তির ভূমিকা হিসেবে গ্রহণ করে তা থেকে সিদ্ধান্ত নিষ্কাশন করে। অতএব, সর্বজনীন উপলব্ধি যেমন অস্বীকার করা যায় না, তেমনি সেই উপলব্ধি যার মাধ্যমে হয় তাকেও অগ্রাহ্য করা যায় না; এটি কোনো আকস্মিক গুণ নয়, আর না এটি এমন দেহ যা গুণের আধার হতে পারে। উদ্ভিদ কিংবা মানুষ ব্যতীত অন্য কোনো প্রাণী সর্বজনীন বিষয় উপলব্ধি করতে পারে না, যাতে তার মধ্যে সর্বজনীনতা প্রতিষ্ঠিত হয়ে দেহের ন্যায় বিভাজিত হতে পারে। কারণ সর্বজনীন বিষয়ের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য হলো তা সর্বজনীন হওয়ার দিক থেকে একেবারেই অবিভাজ্য। সুতরাং নৈর্ব্যক্তিক সর্বজনীন মানুষের কোনো অর্ধেক, এক-তৃতীয়াংশ বা এক-চতুর্থাংশ হতে পারে না। ফলে সর্বজনীন রূপের গ্রহণকারী হলো একটি সারসত্তা, যা দেহ নয়, দেহের কোনো আকস্মিক গুণও নয় এবং এর কোনো সুনির্দিষ্ট অবস্থান বা দিক নেই যার দিকে ইঙ্গিত করা যায়। বরং এর অস্তিত্ব হলো বুদ্ধিভিত্তিক, যা ইন্দ্রিয়ের কাছে সবকিছুর চেয়ে সূক্ষ্ম কিন্তু বুদ্ধির কাছে সবকিছুর চেয়ে স্পষ্ট। এর মাধ্যমে আত্মার অস্তিত্ব প্রমাণিত হলো এবং সামগ্রিকভাবে এটি প্রমাণিত হলো যে, এটি একটি সারসত্তা এবং এটি জড়পদার্থ ও দৈহিক রূপ থেকে পবিত্র।

‌‌একটি বিভাজন যার মাধ্যমে কার্যাবলীর মূলনীতিসমূহ প্রকাশ পায়

 

আমরা বলি, প্রতিটি মূলনীতি যা থেকে কোনো কাজ সম্পাদিত হয়, হয় তার নিজের কাজের ব্যাপারে সচেতনতা থাকে অথবা থাকে না। যদি তার সচেতনতা না থাকে, তবে হয় তার কাজ একই ধারায় অভিন্ন হবে অথবা ভিন্ন ভিন্ন হবে। আর যদি তার সচেতনতা থাকে, তবে হয় তাতে বুদ্ধিদীপ্ত বিচার ক্ষমতা থাকবে অথবা থাকবে না। যদি বুদ্ধিদীপ্ত বিচার ক্ষমতা থাকে, তবে হয় তার কাজ একই ধারায় অভিন্ন হবে অথবা ভিন্ন ভিন্ন হবে। এ হলো পাঁচটি প্রকার। যার কাজ অভিন্ন এবং যার সচেতনতা নেই, সেই মূলনীতিকে প্রাকৃতিক মূলনীতি বলা হয়, যেমন ভারী বস্তুর নিচে নামা এবং হালকা বস্তুর উপরে ওঠা। আর যদি তার কাজ ভিন্ন ভিন্ন হয় এবং সচেতনতা না থাকে, তবে তা হলো উদ্ভিদ-আত্মা; কারণ উদ্ভিদ বিভিন্ন ধরনের নড়াচড়া করে থাকে।
(খণ্ড: ১) মাআরিজুল কুদসি ফী মাদারিজ মা’রিফাতিন নাফসি (পৃষ্ঠা: ২১)
وان كَانَ لَهُ شُعُور وَلَيْسَ لَهُ تعقل فَهُوَ النَّفس الحيواني وان كَانَ لَهُ تعقل وَمَعَ التعقل اخْتِيَار فِي الْفِعْل وَالتّرْك فَهُوَ النَّفس الإنساني وان كَانَ لَهُ تعقل وَفعله على نهج وَاحِد غير مُخْتَلف فَهُوَ النَّفس الفلكي

‌‌رسوم النُّفُوس الثَّلَاثَة

 

فنرسم النُّفُوس الثَّلَاثَة بمراسمها فَإِن شَرَائِط الْحَد الْحَقِيقِيّ مُتَعَذر الْوُجُود هَهُنَا بل وَفِي كل الموجودات

فَنَقُول أما النَّفس النباتية فَهِيَ الْكَمَال الأول لجسم طبيعي آلي من جِهَة مَا يتغذى وينمو ويولد الْمثل

وَأما النَّفس الحيوانية فَهِيَ الْكَمَال الأول لجسم طبيعي آلي من جِهَة مَا يدْرك الجزئيات ويتحرك بالإرادة

وَأما النَّفس الانسانية فَهِيَ الْكَمَال الأول لجسم طبيعي آلي من جِهَة مَا يفعل الأفاعيل بالأختيار الْعقلِيّ والاستنباط بِالرَّأْيِ وَمن جِهَة مَا يدْرك الْأُمُور الْكُلية

وَقَوْلنَا الْكَمَال الأول أَي من غير وَاسِطَة كَمَال آخر لِأَن الْكَمَال قد يكون أَولا وَقد يكون ثَانِيًا

وَقَوْلنَا لجسم طبيعي أَي غير صناعي لَا فِي الأذهان بل فِي الْأَعْيَان

وَقَوْلنَا آلي أَي ذِي آلَات يَسْتَعِين بهَا ذَلِك الْكَمَال الأول فِي تَحْصِيل الكمالات الثَّانِيَة وَالثَّالِثَة وَلَفظ الْكَمَال أولى من لفظ الْقُوَّة لِأَن الْقُوَّة تكون بِالنِّسْبَةِ إِلَى مَا يصدر عَنْهَا من الْأَفْعَال أَو بِالْقِيَاسِ إِلَى مَا تقبله من الصُّور المحسوسة والمعقولة واطلاق لفظ الْقُوَّة عَلَيْهِمَا يكون باشتراك الِاسْم فَيكون الْحَد مُشْتَمِلًا على لفظ مُشْتَرك وَإِن عني بِالْحَدِّ أَحدهمَا كَانَ الْحَد نَاقِصا
আর যদি তার অনুভূতি থাকে কিন্তু বুদ্ধি না থাকে, তবে তা হলো প্রাণীজ আত্মা। আর যদি তার বুদ্ধি থাকে এবং বুদ্ধির সাথে কর্ম সম্পাদন ও বর্জনের ইখতিয়ার থাকে, তবে তা হলো মানবীয় আত্মা। আর যদি তার বুদ্ধি থাকে কিন্তু তার কর্ম অভিন্ন ও অপরিবর্তনীয় ধারায় চালিত হয়, তবে তা হলো নভোমণ্ডলীয় আত্মা।

‌‌তিন প্রকার আত্মার স্বরূপ

 

আমরা তিন প্রকার আত্মাকে তাদের বর্ণনামূলক সংজ্ঞার মাধ্যমে উপস্থাপন করছি, কারণ এখানে প্রকৃত সংজ্ঞার শর্তাবলি পূরণ করা দুষ্কর, বরং তা সকল বিদ্যমান সত্তার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

আমরা বলি, উদ্ভিদ আত্মা হলো এমন একটি প্রাকৃতিক যান্ত্রিক দেহের প্রথম পূর্ণতা, যা পুষ্টি গ্রহণ করে, বৃদ্ধি পায় এবং স্বীয় সদৃশ বংশবৃদ্ধি করে।

আর প্রাণীজ আত্মা হলো এমন একটি প্রাকৃতিক যান্ত্রিক দেহের প্রথম পূর্ণতা, যা আংশিক বিষয়সমূহ উপলব্ধি করে এবং ইচ্ছাশক্তির মাধ্যমে গতিশীল হয়।

আর মানবীয় আত্মা হলো এমন একটি প্রাকৃতিক যান্ত্রিক দেহের প্রথম পূর্ণতা, যা বুদ্ধিভিত্তিক ইখতিয়ার ও বিচার-বুদ্ধিপ্রসূত উদ্ভাবনের মাধ্যমে কাজ করে এবং যা সার্বিক বিষয়সমূহ উপলব্ধি করে।

আমাদের 'প্রথম পূর্ণতা' বলার অর্থ হলো অন্য কোনো পূর্ণতার মাধ্যম ব্যতীত, কারণ পূর্ণতা কখনো প্রথম হয় আবার কখনো দ্বিতীয় হয়।

আমাদের 'প্রাকৃতিক দেহের জন্য' বলার অর্থ হলো যা কৃত্রিম নয়; যা কেবল মনে নয় বরং বাস্তবে বিদ্যমান।

আমাদের 'যান্ত্রিক' বলার অর্থ হলো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিশিষ্ট, যার সাহায্যে সেই প্রথম পূর্ণতা দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ের পূর্ণতা অর্জনে সহায়তা গ্রহণ করে। আর 'পূর্ণতা' শব্দটি 'শক্তি' শব্দের চেয়ে অধিকতর উপযুক্ত; কারণ শক্তি হলো যা থেকে কর্ম সম্পাদিত হয় তার সাথে সম্পর্কিত, অথবা যা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য ও বুদ্ধিগ্রাহ্য রূপ গ্রহণ করে তার সাথে তুলনীয়। আর উভয়ের ক্ষেত্রে 'শক্তি' শব্দের প্রয়োগ কেবল আক্ষরিক সাদৃশ্যের কারণে হয়ে থাকে, ফলে সংজ্ঞাটি একটি দ্ব্যর্থবোধক শব্দের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়বে। আর যদি সংজ্ঞার মাধ্যমে কেবল একটিকে বোঝানো হয়, তবে সেই সংজ্ঞাটি অপূর্ণাঙ্গ থেকে যাবে।
(খণ্ড: ১) মাআরিজুল কুদসি ফী মাদারিজ মা’রিফাতিন নাফসি (পৃষ্ঠা: ২২)
وَلَفظ الْكَمَال يَشْمَل القوتين بالتواطؤ فَهُوَ أولى فان قيل إِنَّه صُورَة كَانَ ذَلِك بالاضافة إِلَى الْمَادَّة الَّتِي تحلها فيجتمع مِنْهُمَا جَوْهَر نباتي أَو حيواني

وَلَفظ الْكَمَال بِالْقِيَاسِ إِلَى جملَة الْجَوَاهِر ولاستكمال الْجِنْس بِهِ نوع مُحَصل فِي الْأَنْوَاع وَهُوَ نِسْبَة الْخَاص إِلَى الشَّيْء الْعَام الْغَيْر الْبعيد من جوهره فَهُوَ أولى من لفظ الصُّورَة وَيجب أَن يعلم أَنه إِذا قيل نفس أَي اطلق على صُورَة الْفلك وعَلى صُورَة النَّبَات وَالْحَيَوَان والانسان فَإِنَّمَا يُقَال باشتراك الِاسْم فان النُّفُوس الفلكية لَيست تفعل بآلات وَلَا الْحَيَاة فِيهَا حَيَاة التغذي والنمو وَلَا احساسها احساس الْحَيَوَان وَلَا نطقها نطق الانسان
এবং 'পূর্ণতা' শব্দটি উভয় শক্তিকে সমভাবে অন্তর্ভুক্ত করে, তাই এটিই অধিকতর উপযোগী। যদি একে 'আকৃতি' বলা হয়, তবে তা হবে সেই উপাদানের প্রেক্ষিতে যাতে এটি প্রবিষ্ট হয়, ফলে এই দুইয়ের সমন্বয়ে একটি উদ্ভিদজাত বা প্রাণীজ সারসত্তা গঠিত হয়।

আর 'পূর্ণতা' শব্দটি যখন সামগ্রিক সারসত্তাসমূহের সাথে তুলনা করা হয় এবং এর মাধ্যমে কোনো এক জাতীয় সত্তার পূর্ণতা লাভের ফলে বিভিন্ন প্রকারের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট প্রকার অর্জিত হয়, তখন এটি হলো সাধারণ বিষয়ের সাথে বিশেষ বিষয়ের এমন এক সম্বন্ধ যা তার সারসত্তা থেকে বিচ্যুত নয়; তাই এটি 'আকৃতি' শব্দের চেয়ে অধিকতর উপযোগী। আরও জেনে রাখা আবশ্যক যে, যখন 'নফস' (প্রাণ বা আত্মা) শব্দটি বলা হয় অর্থাৎ যখন এটি আকাশমণ্ডলীয় আকৃতি এবং উদ্ভিদ, প্রাণী ও মানুষের আকৃতির ওপর প্রয়োগ করা হয়, তখন তা কেবল সমনামিতার ভিত্তিতেই বলা হয়। কারণ, আকাশমণ্ডলীয় নফসসমূহ কোনো যন্ত্র বা মাধ্যমের সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদন করে না, তাদের জীবন পুষ্টি গ্রহণ ও বৃদ্ধির জীবন নয়, তাদের সংবেদনশীলতা প্রাণীর সংবেদনশীলতার মতো নয় এবং তাদের বাকশক্তিও মানুষের বাকশক্তির মতো নয়।
(খণ্ড: ১) মাআরিজুল কুদসি ফী মাদারিজ মা’রিফাতিন নাফসি (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌بَيَان أَن النَّفس جَوْهَر وَذَلِكَ ثَابت من جِهَة الشَّرْع وَالْعقل

 

أما الشَّرْع فَجَمِيع خطابات الشَّرْع تدل على أَن النَّفس جَوْهَر وَكَذَلِكَ الْعُقُوبَات الْوَارِدَة فِي الشَّرْع بعد الْمَمَات تدل على أَن النَّفس جَوْهَر فان الْأَلَم وَإِن حل بِالْبدنِ فلأجل النَّفس ثمَّ للنَّفس عَذَاب آخر يَخُصُّهُ وَذَلِكَ كالخزي وَالْحَسْرَة وألم الْفِرَاق وَكَذَلِكَ مَا يدل على بَقَائِهِ على مَا سنبين فِيمَا بعد إِن شَاءَ الله تَعَالَى

وَأما من حَيْثُ الْعقل فَمن وَجْهَيْن وَجه عَام يُمكن اثباته مَعَ كل أحد وَوجه خَاص يتفطن لَهُ أهل الْخُصُوص والانصاف

أما الأول فَهُوَ أَن يعلم أَن حَقِيقَة الانسان لَيْسَ عبارَة عَن الْجِسْم فَحسب فانه انما يكون انسانا إِذا كَانَ جوهرا وَأَن يكون لَهُ امتداد فِي أبعاد تفرض طولا وعرضا وعمقا وَأَن يكون مَعَ ذَلِك ذَا نفس وَأَن تكون نَفسه نفسا يغتذي بهَا ويحس ويتحرك بالإرادة وَمَعَ ذَلِك يكون بِحَيْثُ يصلح لِأَن يتفهم المعقولات ويتعلم الصناعات ويعملها إِن لم يكن عائق من خَارج لَا من جِهَة الانسانية فَإِذا التأم جَمِيع هَذَا حصل من جُمْلَتهَا ذَات وَاحِدَة هِيَ ذَات الانسان فاذا ثَبت بِهَذَا أَن حَقِيقَة الانسان لَا تكون عرضا لِأَن الْأَعْرَاض يجوز أَن
নফস যে একটি জাওহার (স্বয়ম্ভু সত্তা) তার বর্ণনা এবং এটি শরীয়ত ও আকলের (বিবেক) মাধ্যমে প্রমাণিত

 

শরীয়তের ক্ষেত্রে বলা যায় যে, শরীয়তের সমস্ত সম্বোধন একথাই প্রমাণ করে যে নফস হলো একটি জাওহার। অনুরূপভাবে, মৃত্যুর পর শরীয়তে বর্ণিত শাস্তিগুলোও প্রমাণ করে যে নফস একটি জাওহার; কেননা যন্ত্রণা যদিও শরীরের ওপর আপতিত হয়, তবে তা নফসের কারণেই হয়ে থাকে। তদুপরি নফসের জন্য বিশেষ এক প্রকার শাস্তি রয়েছে, যেমন— লাঞ্ছনা, অনুশোচনা ও বিচ্ছেদ-বেদনা। এছাড়া নফসের স্থায়িত্বের সপক্ষে যা কিছু দলিল রয়েছে তাও একে জাওহার হিসেবে প্রমাণ করে, যা আমরা ইনশাআল্লাহ তাআলা পরবর্তীতে বিস্তারিত আলোচনা করব।

আর আকল বা যুক্তির দিক থেকে এর প্রমাণ দুটি পন্থায় দেওয়া যায়: একটি সাধারণ দিক যা সবার সামনে প্রমাণ করা সম্ভব, আর অন্যটি বিশেষ দিক যা কেবল বিশিষ্ট ও ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তিরাই অনুধাবন করতে পারেন।

প্রথমটি হলো— এটি জানা যে, মানুষের হাকীকত বা বাস্তবতা কেবল দেহের নাম নয়। কারণ মানুষ তখনই মানুষ হয় যখন সে একটি জাওহার হয় এবং দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও গভীরতা সম্পন্ন মাত্রায় তার বিস্তৃতি থাকে; এবং এর সাথে সাথে সে নফস বা প্রাণের অধিকারী হয়। আর তার সেই নফস এমন হতে হবে যার মাধ্যমে সে পুষ্টি গ্রহণ করে, অনুভব করে এবং ইচ্ছানুসারে চলাফেরা করে। উপরন্তু তাকে এমন হতে হবে যে সে বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়সমূহ বুঝতে সক্ষম হবে এবং শিল্প-কারিগরি বিদ্যা শিক্ষা করে তা প্রয়োগ করতে পারবে— যদি মানবীয় প্রকৃতির বাইরে থেকে কোনো বাহ্যিক প্রতিবন্ধক না থাকে। যখন এই সবকিছুর সমন্বয় ঘটে, তখন তার সামগ্রিক রূপ থেকে একটি একক সত্তার উদ্ভব ঘটে, যা হলো মানুষের সত্তা। সুতরাং যখন এর দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, মানুষের হাকীকত বা বাস্তবতা কোনো ‘আরায’ (আকস্মিক গুণ) হতে পারে না, কারণ আরাযের ক্ষেত্রে সম্ভাবনা থাকে যে...
(খণ্ড: ১) মাআরিজুল কুদসি ফী মাদারিজ মা’রিফাতিন নাফসি (পৃষ্ঠা: ২৪)
تتبدل والحقيقة بِعَينهَا بَاقِيَة فان الْحَقَائِق لَا تتبدل فَإِذا مَا هُوَ ثَابت فِيك مذ كنت فَهُوَ نَفسك ومايطرأ عَلَيْك وَيَزُول فَهُوَ الْأَعْرَاض

وَأما الْوَجْه الثَّانِي وَهُوَ الْبَيَان الْخَاص فَهُوَ الَّذِي يصلح لأهل الفطانة وَمن فِيهِ لطف الْفَهم والاصابة فَهُوَ انك إِذا كنت صَحِيحا مطرحا عَنْك الْآفَات مجنبا عَنْك صدمات الْهوى وَغَيرهَا من الطوارق والآفات فَلَا تتلامس أعضاؤك وَلَا تتماس أجزاؤك وَكنت فِي هَوَاء طلق أَي معتدل فَفِي هَذِه الْحَالة أَنْت لَا تغفل عَن إنيتك وحقيقتك بل وَفِي النّوم أَيْضا فَكل من لَهُ فطانة ولطف وكياسة يعلم أَنه جَوْهَر وانه مُجَرّد عَن الْمَادَّة وعلائقها وانه لَا تعزب ذَاته عَن ذَاته لِأَن معنى التعقل حُصُول مَاهِيَّة مُجَرّدَة للعاقل وذاته مُجَرّدَة لذاته فَلَا يحْتَاج إِلَى تَجْرِيد وتقشير وَلَيْسَ هَهُنَا مَاهِيَّة ثمَّ معقولية بل ماهيته معقوليته ومعقوليته ماهيته وَهَذِه نُكْتَة نفيسة عَظِيمَة وستقف عَلَيْهَا ان شَاءَ الله اشرح من هَذَا

ثمَّ الدَّلِيل على صِحَة هَذَا الْبَيَان الْخَاص أَنه لَو لم يكن الْمدْرك والمشعور بِهِ هُوَ حقيقتك أَي نَفسك بل يكون هُوَ الْبدن وعوارضه لَكَانَ لَا يَخْلُو إِمَّا ان يكون الشُّعُور بِهِ جملَة بدنك أَو بعضه وَبَطل أَن تكون الْجُمْلَة لِأَن الانسان فِي الْفَرْض الْمَذْكُور قد يكون غلا عَن جملَة الْبدن وَهُوَ مدرك نَفسه وان كَانَ بَعْضًا مِنْهُ فَلَا يَخْلُو إِمَّا أَن يكون ظَاهرا أَو بَاطِنا فان كَانَ ظَاهرا فَهُوَ مدرك بالحس وَالنَّفس غير مدركة بالحس كَيفَ وَنحن فِي الْفَرْض الْمَذْكُور قد أَغْفَلنَا الْحَواس عَن أفعالها وفرضنا أَن الاعضاء لَا تتماس وان كَانَ النَّفس والذات عضوا بَاطِنا من قلب أَو دماغ فَلَا يجوز أَيْضا لِأَن الْأَعْضَاء الْبَاطِنَة انما يُوصل اليها بالتشريح فَثَبت أَن مدركك لَيْسَ شَيْئا من هَذِه الْأَشْيَاء فانك قد لَا تدركها وتدرك ذاتك ضَرُورَة فَمَا ألجئت إِلَى ادراكه ضَرُورَة لَا يكون قطعا مَا لَا يدْرك إِلَّا بِالنّظرِ فاذا ثَبت بِهَذَا أَن ذاتك لَيْسَ من عداد ماتدركه بالحس أَو مِمَّا يشبه الْحس بِوَجْه من الْوُجُوه
পরিবর্তিত হয় অথচ হাকীকত নিজে অবশিষ্ট থাকে; কারণ হাকীকতসমূহ পরিবর্তিত হয় না। সুতরাং আপনার অস্তিত্বের শুরু থেকে যা আপনার মধ্যে স্থির রয়েছে, তাই আপনার নফস; আর যা আপনার ওপর আপতিত হয় এবং দূরীভূত হয়, তা হলো আপতিক গুণাবলি।

আর দ্বিতীয় দিকটি হলো বিশেষ বর্ণনা, যা বুদ্ধিমান এবং সূক্ষ্ম বোধশক্তি ও সঠিক উপলব্ধির অধিকারীদের জন্য উপযোগী। তা হলো এই যে, আপনি যখন সুস্থ থাকেন, যাবতীয় ব্যাধি থেকে মুক্ত থাকেন এবং নফসানি প্রবৃত্তি ও অন্যান্য আপতিক দুর্ঘটনা ও বিপদাপদ থেকে দূরে থাকেন, তখন আপনার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ একে অপরের সাথে স্পর্শ করে না এবং আপনার অবয়বগুলোও একে অপরকে স্পর্শ করে না। আর আপনি যদি মুক্ত ও নাতিশীতোষ্ণ বাতাসে থাকেন, তবে এমতাবস্থায় আপনি আপনার 'আমি'ত্ব ও হাকীকত থেকে বিমুখ হন না; বরং ঘুমের মধ্যেও তা বিদ্যমান থাকে। সুতরাং যার মধ্যে বুদ্ধিমত্তা, সূক্ষ্মতা ও চতুরতা রয়েছে, সে জানে যে সে একটি সারবস্তু এবং সে জড় পদার্থ ও এর অনুষঙ্গ থেকে বিমুক্ত। আর তার সত্তা তার নিজের সত্তা থেকে বিলীন হয় না; কারণ বুদ্ধিবৃত্তিক অনুধাবনের অর্থ হলো বুদ্ধিমান সত্তার নিকট একটি বিমূর্ত হাকীকত অর্জিত হওয়া, আর তার সত্তা তার নিজের কাছে বিমূর্ত। সুতরাং এর জন্য নতুন কোনো বিমূর্তকরণ বা উন্মোচনের প্রয়োজন নেই। এখানে এমন নয় যে প্রথমে কোনো হাকীকত থাকে এবং পরে তার বুদ্ধিবৃত্তিক অনুধাবন ঘটে, বরং তার হাকীকতই তার বুদ্ধিবৃত্তিক অনুধাবন এবং তার বুদ্ধিবৃত্তিক অনুধাবনই তার হাকীকত। এটি একটি চমৎকার ও মহান সূক্ষ্ম তত্ত্ব, যা আপনি অচিরেই ইনশাআল্লাহ এর চেয়েও বিস্তারিত জানতে পারবেন।

অতঃপর এই বিশেষ বর্ণনার সঠিকতার প্রমাণ হলো এই যে, যদি উপলব্ধিকৃত ও অনুভূত বিষয়টি আপনার হাকীকত অর্থাৎ আপনার নফস না হয়ে বরং শরীর ও এর আনুষঙ্গিক বিষয়াদি হতো, তবে তা আপনার সমগ্র শরীর অথবা শরীরের কোনো একটি অংশ অনুভূত হওয়া থেকে খালি থাকত না। কিন্তু সমগ্র শরীর হওয়া বাতিল; কারণ উল্লিখিত অনুমানের ক্ষেত্রে মানুষ তার সমগ্র শরীর থেকে বিমুখ থাকতে পারে অথচ সে নিজের সত্তাকে উপলব্ধি করে। আর যদি তা শরীরের কোনো একটি অংশ হয়, তবে তা হয় প্রকাশ্য হবে অথবা অভ্যন্তরীণ হবে। যদি তা প্রকাশ্য হয়, তবে তা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য হবে, অথচ নফস ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য নয়। তা কীভাবে সম্ভব যেখানে আমরা উল্লিখিত অনুমানে ইন্দ্রিয়গুলোকে তাদের কাজ থেকে বিমুখ রেখেছি এবং কল্পনা করেছি যে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গসমূহ পরস্পর স্পর্শ করছে না? আর যদি নফস ও সত্তা হৃৎপিণ্ড বা মস্তিষ্কের মতো কোনো অভ্যন্তরীণ অঙ্গ হতো, তবে তাও বৈধ হবে না; কারণ অভ্যন্তরীণ অঙ্গসমূহ কেবল ব্যবচ্ছেদের মাধ্যমেই উপলব্ধি করা সম্ভব। সুতরাং প্রমাণিত হলো যে, আপনার উপলব্ধিকৃত বিষয়টি এসব জিনিসের কোনোটিই নয়; কারণ আপনি কখনো এসব বিষয় উপলব্ধি করেন না অথচ আপনি আপনার সত্তাকে আবশ্যিকভাবে উপলব্ধি করেন। সুতরাং যা উপলব্ধি করতে আপনি আবশ্যিকভাবে বাধ্য, তা নিশ্চিতভাবেই এমন কিছু হবে না যা কেবল পর্যবেক্ষণ ব্যতীত উপলব্ধি করা যায় না। অতএব এর মাধ্যমে প্রমাণিত হলো যে, আপনার সত্তা এমন কিছুর অন্তর্ভুক্ত নয় যা আপনি ইন্দ্রিয় দিয়ে উপলব্ধি করেন অথবা যা কোনোভাবে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়ের সদৃশ।
(খণ্ড: ১) মাআরিজুল কুদসি ফী মাদারিজ মা’রিফাতিন নাফসি (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌زِيَادَة ايضاح من جِهَة الادراك

 

فَنَقُول إِنَّك تدْرك فِي جَمِيع الْأَحْوَال ذاتك فَمَاذَا تدْرك فَإِنَّهُ لَا بُد من مدرك فَلَا يَخْلُو إِمَّا أَن يكون أحد مشاعرك ظَاهرا أَو عقلك أَو قُوَّة غير مشاعرك فَإِن كَانَ عقلك فَلَا يَخْلُو إِمَّا أَن يكون ذَلِك الادراك بوسط أَو بِقِيَاس أَو بِقُوَّة متوسطة بَين الادراك وَالنَّفس أَو بِغَيْر وسط وَمَا أَظُنك تفْتَقر فِي ذَلِك الى وسط فَإِنَّهُ لَو كَانَ ثمَّ وسط لما أدْركْت ذاتك 4 فانه لَا وسط بَين ذاتك وشعورك بذاتك فَبَقيَ أَن تدْرك بِغَيْر وسط واذا كَانَ كَذَلِك فَلَا يَخْلُو إِمَّا أَن يكون ذَلِك الادراك بمشاعرك أَو بذاتك وَلَا يتَصَوَّر أَن يكون بمشاعرك فَإِن الْحَواس لَا تدْرك إِلَّا الْأَجْسَام وَمَا يتَعَلَّق بالأجسام من الألوان والنغمات وَغير ذَلِك فَبَقيَ أَنَّك تدْرك ذاتك بذاتك فَمن هَذَا ثَبت أَنَّك جَوْهَر مفارق

وَهَذَا الْبَيَان الْخَاص إِمَّا ضائع وَإِمَّا قَاطع ضائع للمغفلين الَّذين لم يلحظوا إِلَّا بِعَين السخط فَإِن من يلحظ مُقَدّمَة بِعَين السخط كَانَ الشَّك أسْرع اليه من المَاء الى الحدور أما للمستبصرين فَهُوَ قَاطع

فَإِن قَالَ قَائِل إِنَّمَا أثبت ذاتي بوسط وَذَلِكَ الْوسط هُوَ فعل من أفعالي فأستدل بأفعالي على وجود النَّفس فَالْجَوَاب عَن هَذَا من وَجْهَيْن أَحدهمَا ان هَذَا لَا يتمشى فِي الْفَرْض الْمَذْكُور فانا جعلناك بمعزل عَن الْأَفْعَال وَمَعَ هَذَا تثبت ذاتك وانيتك وَالثَّانِي ان هَذَا الْفِعْل إِمَّا ان تثبته فعلا مُطلقًا فَيجب ان تثبت بِهِ فَاعِلا مُطلقًا لَا نَفسك وان أثْبته فعلا مُطلقًا فَيجب ان تثبت بِهِ فَاعِلا مُطلقًا لَا نَفسك وَإِن اثبته فعلك وخصصته بالاضافة فقد اثْبتْ اولا نَفسك وادركت اولا ذاتك فَإنَّك اخذت ذاتك جُزْءا من فعلك والشعور بالجزء قبل الشُّعُور بِالْكُلِّ اولا اقل من ان يكون مَعَه فذاتك إِذا مثبتة مَعَه اَوْ قبله لَا بِهِ وَهَذَا فصل لطيف يبتنى عَلَيْهِ بَاب من الْمعرفَة شرِيف كَمَا سنذكر ان شَاءَ الله تَعَالَى
উপলব্ধির দিক থেকে অধিকতর স্পষ্টীকরণ

 

আমরা বলি যে, আপনি সকল অবস্থায় নিজের সত্তাকে উপলব্ধি করেন। অতএব, আপনি আসলে কী উপলব্ধি করেন? কারণ সেখানে অবশ্যই একজন উপলব্ধিযোগ্য সত্তা থাকতে হবে। সুতরাং এটি হয় আপনার বাহ্যিক ইন্দ্রিয়গুলোর কোনো একটি, অথবা আপনার বুদ্ধি, কিংবা আপনার ইন্দ্রিয় বহির্ভূত কোনো শক্তি হওয়া থেকে মুক্ত নয়। যদি তা আপনার বুদ্ধি হয়, তবে সেই উপলব্ধি হয় কোনো মাধ্যমের দ্বারা, অথবা কোনো অনুমানের দ্বারা, অথবা উপলব্ধি ও নফসের (সত্তার) মধ্যবর্তী কোনো শক্তির দ্বারা, কিংবা কোনো মাধ্যম ছাড়াই। আর আমি মনে করি না যে, এ ক্ষেত্রে আপনার কোনো মাধ্যমের প্রয়োজন আছে। কারণ সেখানে যদি কোনো মাধ্যম থাকত, তবে আপনি নিজের সত্তাকে উপলব্ধি করতে পারতেন না। কেননা আপনার সত্তা এবং আপনার সত্তা সম্পর্কে চেতনার মাঝে কোনো মাধ্যম নেই। অতএব, এটিই অবশিষ্ট রইল যে, আপনি মাধ্যম ছাড়াই উপলব্ধি করেন। আর যখন বিষয়টি এরূপ, তখন সেই উপলব্ধি হয় আপনার ইন্দ্রিয়সমূহ দ্বারা অথবা আপনার নিজস্ব সত্তা দ্বারাই হতে হবে। এবং এটি কল্পনা করা যায় না যে তা ইন্দ্রিয় দ্বারা হবে; কারণ ইন্দ্রিয়সমূহ কেবল দেহ এবং দেহের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ যেমন রং, শব্দ এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয় ছাড়া কিছু উপলব্ধি করে না। সুতরাং এটিই প্রমাণিত হলো যে, আপনি আপনার সত্তাকে আপনার সত্তার মাধ্যমেই উপলব্ধি করেন। আর এখান থেকেই সাব্যস্ত হয় যে, আপনি একটি বিমূর্ত জাওহার (মৌলিক সত্তা)।

আর এই বিশেষ বর্ণনাটি হয় নিষ্ফল, না হয় অকাট্য। এটি সেই সব অসতর্ক ব্যক্তিদের জন্য নিষ্ফল যারা কেবল বিদ্বেষের দৃষ্টিতে লক্ষ্য করে। কেননা যে ব্যক্তি কোনো প্রারম্ভিক প্রস্তাবনাকে বিদ্বেষের দৃষ্টিতে দেখে, ঢালু পথে পানি নামার চেয়েও দ্রুত গতিতে সন্দেহ তার দিকে ধাবিত হয়। তবে অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য এটি অকাট্য প্রমাণ।

যদি কেউ বলে, আমি আমার সত্তাকে একটি মাধ্যমের সাহায্যেই সাব্যস্ত করি এবং সেই মাধ্যমটি হলো আমার কার্যাবলীর মধ্য হতে কোনো একটি কাজ; ফলে আমি আমার কাজের মাধ্যমে নফসের (সত্তার) অস্তিত্বের দলিল পেশ করি। এর উত্তর দুইভাবে দেওয়া যায়: প্রথমত, উল্লিখিত অনুমানের ক্ষেত্রে এটি কার্যকর নয়; কারণ আমরা আপনাকে কর্মতৎপরতা থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ধরে নিয়েছি, তাসত্ত্বেও আপনি আপনার সত্তা ও আমিত্বকে উপলব্ধি করছেন। দ্বিতীয়ত, এই কাজটিকে যদি আপনি একটি সাধারণ কাজ হিসেবে সাব্যস্ত করেন, তবে তার মাধ্যমে আপনার নিজেকে নয় বরং একজন সাধারণ কর্তাকে সাব্যস্ত করা আবশ্যক হবে। আর যদি আপনি একে আপনার নিজস্ব কাজ হিসেবে সাব্যস্ত করেন এবং সম্পর্কের মাধ্যমে একে নির্দিষ্ট করেন, তবে তো আপনি প্রথমেই নিজের সত্তাকে সাব্যস্ত করলেন এবং প্রথমেই নিজের সত্তাকে উপলব্ধি করলেন। কেননা আপনি নিজের সত্তাকে আপনার কাজের একটি অংশ হিসেবে গ্রহণ করেছেন। আর অংশ সম্পর্কে সচেতনতা সমগ্র সম্পর্কে সচেতন হওয়ার আগে হয়, অথবা অন্তত তার সাথে সাথেই হয়। অতএব, আপনার সত্তা সেই কাজের সাথে অথবা তার পূর্বেই সাব্যস্ত হয়ে আছে, সেই কাজের দ্বারা নয়। এটি একটি সূক্ষ্ম পরিচ্ছেদ যার ওপর মারেফাতের একটি মর্যাদাপূর্ণ অধ্যায় ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে, যা আমরা ইনশাআল্লাহ তাআলা সামনে উল্লেখ করব।

(খণ্ড: ১) মাআরিজুল কুদসি ফী মাদারিজ মা’রিফাতিন নাফসি (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌بَيَان أَن النَّفس لَيْسَ لَهَا مِقْدَار ومساحة وَلَا تدْرك حسا وَلَا يُدْرِكهَا جسم وَأَن إِدْرَاكهَا لَا يكون بآلات جسمانية فِي حَال

 

وَهَذَا أدق واعصى على الأذهان الزائغة عَن الجادة الآلفة بالخيالات والموجودات الحسية وَلنَا أَن نتوسل إِلَى هَذَا الْمَقْصُود ببراهين قَاطِعَة وَدَلَائِل وَاضِحَة

‌‌الْبُرْهَان الأول

أَن نقُول مَعْلُوم إِنَّا نتلقى المعقولات وندرك الْأَشْيَاء الَّتِي لَا تدخل فِي الْحس والخيال والمعقول مُتحد فلوحل فِي منقسم لانقسم المتحد وَهَذَا محَال وتحقيقه هُوَ أَنه لَو كَانَ النَّفس ذَا مِقْدَار وَحل فِيهِ مَعْقُول فَأَما أَن يحل فِي شَيْء منقسم أَو فِي شَيْء غير منقسم وَمَعْلُوم أَن غير المنقسم انما هُوَ طرف الْخط وَهُوَ نِهَايَة مَالا تميز لَهَا فِي الْوَضع عَن الْخط والمقدار الَّذِي هِيَ مُتَّصِلَة بِهِ حَتَّى يسْتَقرّ فِيهَا شَيْء من غير أَن يكون فِي شَيْء من ذَلِك الْخط بل كَمَا أَن النقطة لَا تنفرد بذاتها وانما هِيَ طرف ذاتي لما هُوَ بِالذَّاتِ مِقْدَار كَذَلِك انما يجوز أَن يُقَال بِوَجْه مَا أَنه يحل فِيهَا طرف شَيْء حَال فِي الْمِقْدَار الَّذِي هِيَ طرفه متقدر بِالْعرضِ فَكَمَا أَنه يتَقَدَّر بِهِ بِالْعرضِ كَذَلِك يتناهى بِالْعرضِ مَعَ النقطة وَلَو كَانَت النقطة مُنْفَرِدَة تقبل شَيْئا من الْأَشْيَاء لَكَانَ يتَمَيَّز لَهَا ذَات
‌বয়ান: আত্মার কোনো পরিমাণ ও আয়তন নেই, এটি ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য নয়, কোনো শরীর একে উপলব্ধি করতে পারে না এবং এর উপলব্ধিকরণ কোনো অবস্থাতেই শারীরিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে হয় না

 

এটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম এবং সেইসব মেধার জন্য দুরূহ যারা সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে কেবল কল্পনাপ্রসূত ও ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য অস্তিত্বে অভ্যস্ত। আমরা অকাট্য যুক্তি ও সুস্পষ্ট দলীলের মাধ্যমে এই উদ্দিষ্ট বিষয়ের দিকে অগ্রসর হব।

‌‌প্রথম প্রমাণ

আমরা বলি যে, এটা সুপরিচিত যে আমরা বুদ্ধিগ্রাহ্য বিষয়সমূহ গ্রহণ করি এবং এমন বিষয়সমূহ উপলব্ধি করি যা ইন্দ্রিয় ও কল্পনার আওতাভুক্ত নয়। বুদ্ধিগ্রাহ্য বিষয় হলো একক ও অবিভাজ্য; সুতরাং তা যদি কোনো বিভাজ্য বস্তুতে অবস্থান করে তবে সেই অবিভাজ্যটিও বিভাজিত হয়ে পড়বে, যা অসম্ভব। এর বিশ্লেষণ হলো: আত্মা যদি পরিমাণবিশিষ্ট হতো এবং তাতে কোনো বুদ্ধিগ্রাহ্য বিষয় অবস্থান করত, তবে তা হয় কোনো বিভাজ্য বস্তুতে অবস্থান করত অথবা অবিভাজ্য কোনো বস্তুতে। এটা বিদিত যে, অবিভাজ্য বস্তু কেবল রেখার প্রান্তবিন্দু মাত্র; আর এটি এমন এক সমাপ্তি যার অবস্থানের দিক থেকে সেই রেখা ও পরিমাণের চেয়ে কোনো পৃথক বৈশিষ্ট্য নেই যার সাথে এটি যুক্ত, যাতে সেই রেখার কোনো অংশে অবস্থান না করেই তাতে কোনো কিছু স্থির হতে পারে। বরং বিন্দু যেমন স্বতন্ত্রভাবে বিদ্যমান থাকে না, বরং যা মূলত পরিমাণবিশিষ্ট তার একটি অপরিহার্য প্রান্ত মাত্র; তেমনিভাবে কেবল একভাবে বলা যায় যে, বিন্দুর মধ্যে এমন কোনো বস্তুর প্রান্ত অবস্থান করে যা সেই পরিমাণের অন্তর্ভুক্ত যার প্রান্ত ঐ বিন্দুটি এবং যা আপতিকভাবে পরিমাপযোগ্য। সুতরাং তা যেমন আপতিকভাবে পরিমাপযোগ্য হয়, তেমনি বিন্দুর সাথে সাথে আপতিকভাবে সমাপ্তও হয়। আর বিন্দু যদি স্বতন্ত্র হয়ে কোনো বস্তু গ্রহণ করত, তবে তার নিজস্ব একটি সত্তাগত বৈশিষ্ট্য থাকত।
(খণ্ড: ১) মাআরিজুল কুদসি ফী মাদারিজ মা’রিফাতিন নাফসি (পৃষ্ঠা: ২৮)
وَكَانَت النقطة حِينَئِذٍ ذَات جِهَتَيْنِ جِهَة مِنْهَا تلِي الْخط وجهة مِنْهَا مُخَالفَة لَهُ مُقَابلَة فَتكون تِلْكَ النقطة نِهَايَة الْخط لَا هَذِه

وَالْكَلَام فِيهَا وَفِي هَذِه النقطة وَاحِد وَيُؤَدِّي هَذَا إِلَى أَن تكون النقطة متشافعة فِي الْخط إِمَّا متناهية وَإِمَّا غير متناهية وَهَذَا أَمر قد بَان فِي مَوْضِعه استحالته ونشير إِلَى رمز مِنْهُ فَنَقُول إِن النقطتين حِينَئِذٍ اللَّتَيْنِ تطبقان بِنُقْطَة وَاحِدَة من جنبتيها إِمَّا أَن تكون هَذِه النقطة المتوسطة تحجز بَينهمَا فَلَا تتماسان فَيلْزم حِينَئِذٍ فِي البديهة الْعَقْلِيَّة الأولية أَن يكون كل وَاحِدَة مِنْهُمَا يخْتَص بِشَيْء من الْوُسْطَى يماسه فتنقسم حِينَئِذٍ الْوُسْطَى وَهَذَا محَال وَإِمَّا أَن تكون الْوُسْطَى لَا تحجز المكتنفتين عَن التمَاس فَحِينَئِذٍ تكون الصُّورَة المعقولة حَالَة فِي جَمِيع النقط وَجَمِيع النقط كنقطة وَاحِدَة وَقد وَضعنَا هَذِه النقطة الْوَاحِدَة الْمُنْفَصِلَة عَن الْخط فللخط من جِهَة مَا ينْفَصل عَنْهَا طرف وَنِهَايَة بهَا ينْفَصل عَنْهَا فَتلك النقطة تكون مباينة لهَذِهِ فِي الْوَضع

وَقد وضعت النقط كلهَا مُشْتَركَة فِي الْوَضع هَذَا خلف فقد بَطل إِذا أَن يكون مَحل المعقولات من الْجِسْم شَيْئا غير منقسم فَبَقيَ أَن يكون من الْجِسْم شَيْئا منقسما فلنفرض صُورَة معقولة فِي شَيْء منقسم فَإِذا فَرضنَا فِي الشَّيْء المنقسم انقساما عرض للصورة أَن تَنْقَسِم فَحِينَئِذٍ لايخلو إِمَّا ان يكون الجزءان متشابهين أَو غير متشابهين فاذا كَانَا متشابهين فَكيف يجْتَمع مِنْهُمَا مَا لَيْسَ بهما إِلَّا أَن يكون ذَلِك الشَّيْء شَيْئا يحصل فيهمَا من جِهَة الْمِقْدَار وَالزِّيَادَة فِي الْعدَد لَا من جِهَة الصُّورَة فَتكون حِينَئِذٍ الصُّورَة المعقولة شكلا مَا أَو عددا مَا وَلَيْسَ كل صُورَة معقولة شكلا وَتصير حِينَئِذٍ الصُّورَة خيالية لَا عقلية

وَأظْهر من ذَلِك أَنه لَيْسَ يُمكن أَن يُقَال إِن كل وَاحِد من الجزأين هُوَ بِعَيْنِه الْكل فِي الْمَعْنى لِأَن الثَّانِي إِذا كَانَ غير دَاخل فِي معنى الْكل فَيجب أَن نضع فِي الِابْتِدَاء لِمَعْنى الْكل هَذَا الْوَاحِد لَا كليهمَا وان كَانَ دَاخِلا فِي مَعْنَاهُ فَمن الْبَين
তখন বিন্দুটি দুই দিকবিশিষ্ট হবে, যার একটি দিক রেখার সংলগ্ন এবং অপর দিকটি তার বিপরীত ও সম্মুখবর্তী। ফলে সেই বিন্দুটি হবে রেখার শেষ প্রান্ত, এটি নয়।

এবং সেটির ব্যাপারে ও এই বিন্দুর ব্যাপারে আলোচনা অভিন্ন। আর এটি এই পরিণতির দিকে নিয়ে যায় যে, রেখার মধ্যে বিন্দুসমূহ জোড়ায় জোড়ায় থাকবে, চাই তা সসীম হোক বা অসীম। এটি এমন একটি বিষয় যার অসম্ভবতা স্বস্থানে স্পষ্ট হয়েছে, আমরা এখান থেকে তার একটি সংকেতের দিকে ইঙ্গিত করছি। আমরা বলছি যে, তখন যে দুটি বিন্দু তার দুই পাশ থেকে একটি বিন্দুর সাথে মিলে থাকে, হয় এই মধ্যবর্তী বিন্দুটি তাদের উভয়ের মধ্যে আড়াল হয়ে থাকবে যার ফলে তারা একে অপরকে স্পর্শ করবে না। এমতাবস্থায় প্রাথমিক বুদ্ধিগত স্বতঃসিদ্ধ অনুযায়ী এটি আবশ্যক হয়ে পড়বে যে, তাদের প্রত্যেকে মধ্যবর্তী বিন্দুর এমন একটি অংশের সাথে বিশিষ্ট হবে যা তাকে স্পর্শ করে। ফলে তখন মধ্যবর্তী বিন্দুটি বিভক্ত হয়ে পড়বে, আর এটি অসম্ভব। অথবা মধ্যবর্তী বিন্দুটি দুই পাশের বিন্দুদ্বয়কে স্পর্শ করা থেকে আড়াল করবে না। এমতাবস্থায় বুদ্ধিগম্য রূপটি সমস্ত বিন্দুর মধ্যে অবস্থান করবে এবং সমস্ত বিন্দু একটি বিন্দুর ন্যায় হয়ে যাবে। অথচ আমরা এই একটি বিন্দুকে রেখা থেকে বিচ্ছিন্ন হিসেবে ধরেছি। সুতরাং রেখা যেদিক থেকে বিন্দুটি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়, তার একটি প্রান্ত ও সমাপ্তি রয়েছে যার মাধ্যমে সেটি বিন্দুটি থেকে পৃথক হয়। ফলে সেই বিন্দুটি অবস্থানের দিক থেকে এই বিন্দুটি থেকে ভিন্ন হবে।

অথচ সমস্ত বিন্দুকে অবস্থানের দিক থেকে অভিন্ন হিসেবে ধরা হয়েছিল; এটি একটি স্ববিরোধিতা। সুতরাং এটি বাতিল হয়ে গেল যে, দেহের মধ্যে বুদ্ধিগম্য বিষয়সমূহের আধার কোনো অবিভাজ্য বস্তু হবে। অতএব অবশিষ্ট রইল যে, তা দেহের কোনো বিভাজ্য অংশ হবে। সুতরাং আমরা একটি বিভাজ্য বস্তুর মধ্যে একটি বুদ্ধিগম্য রূপ কল্পনা করি। যখন আমরা সেই বিভাজ্য বস্তুর মধ্যে বিভাজন কল্পনা করব, তখন সেই রূপটির ক্ষেত্রেও বিভাজন আপতিত হবে। এমতাবস্থায় বিষয়টি দুটি অবস্থা থেকে মুক্ত নয়: হয় অংশদ্বয় সদৃশ হবে অথবা বিসদৃশ হবে। যদি তারা সদৃশ হয়, তবে তাদের উভয়ের সমন্বয়ে এমন কিছু কীভাবে অর্জিত হবে যা তাদের মধ্যে বিদ্যমান নেই? যদি না সেই বিষয়টি এমন কিছু হয় যা তাদের মধ্যে পরিমাপ ও সংখ্যাবৃদ্ধির দিক থেকে অর্জিত হয়, রূপের দিক থেকে নয়। তবে সেক্ষেত্রে বুদ্ধিগম্য রূপটি কোনো একটি আকার বা কোনো একটি সংখ্যা হয়ে দাঁড়াবে; অথচ প্রতিটি বুদ্ধিগম্য রূপ আকার নয়। এমতাবস্থায় রূপটি কল্পনাপ্রসূত হয়ে যাবে, বুদ্ধিগত থাকবে না।

এর চেয়েও স্পষ্ট বিষয় হলো, এটি বলা সম্ভব নয় যে, অংশদ্বয়ের প্রতিটি অর্থগতভাবে হুবহু 'সমগ্র' (সমষ্টি)। কারণ দ্বিতীয় অংশটি যদি সমগ্রের অর্থের অন্তর্ভুক্ত না হয়, তবে আমাদের উচিত শুরুতে সমগ্রের অর্থের জন্য এই একটিকে নির্ধারণ করা, উভয়কে নয়। আর যদি তা তার অর্থের অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে এটি স্পষ্ট যে...
(খণ্ড: ১) মাআরিজুল কুদসি ফী মাদারিজ মা’রিফাতিন নাফসি (পৃষ্ঠা: ২৯)
الْوَاضِح أَن الْوَاحِد مِنْهُمَا وَحده لَيْسَ يدل على نفس معنى التَّمام وان كَانَا غير متشابهين فَلْينْظر كَيفَ يُمكن أَن تكون الصُّورَة المعقولة أَجزَاء غير متشابهة فَإِنَّهُ لَيْسَ يُمكن أَن تكون الاجزاء الْغَيْر المتشابهة إِلَّا أَجزَاء الْحَد الَّتِي هِيَ الْأَجْنَاس والفصول وَيلْزم من هَذَا محالات مِنْهَا أَن كل جُزْء من الْجِسْم يقبل الْقِسْمَة أَيْضا فَيجب أَن تكون الْأَجْنَاس والفصول بِالْقُوَّةِ غير متناهية

وَقد صَحَّ أَن الْأَجْنَاس والفصول الذاتية للشَّيْء الْوَاحِد لَيست فِي الْقُوَّة غير متناهية وَلِأَنَّهُ لَيْسَ يُمكن أَن يكون توهم الْقِسْمَة يفرز الْجِنْس والفصل بل مِمَّا لَا نشك فِيهِ أَنه إِذا كَانَ هُنَاكَ جنس وَفصل يستحقان تميزا فِي الْمحل أَن ذَلِك التميز لَا يتَوَقَّف على توهم الْقِسْمَة فَيجب أَن تكون الْأَجْنَاس والفصول بِالْفِعْلِ ايضا غير متناهية وَقد صَحَّ أَن الْأَجْنَاس والفصول أَو أَجزَاء الْحَد للشَّيْء الْوَاحِد متناهية من كل وَجه وَلَو كَانَت غير متناهية بِالْفِعْلِ هَهُنَا لكَانَتْ توجب أَن يكون الْجِسْم الْوَاحِد انْفَصل بأجزاء غير متناهية بِالْفِعْلِ وَأَيْضًا لتكن الْقِسْمَة وَقعت من جِهَة فأفرزت من جَانب جِنْسا وَمن جَانب فصلا فَلَو غَيرنَا الْقِسْمَة كَانَ يَقع مِنْهَا فِي جَانب نصف جنس وَنصف فصل أَو كَانَ يَنْقَلِب وَكَانَ فَرضنَا الوهمي يَدُور مقَام الْجِنْس والفصل فِيهِ على أَن ذَلِك أَيْضا لَا يُغني فانه يمكننا أَن نوقع قسما فِي قسم وَأَيْضًا كل مَعْقُول يُمكن أَن يقسم إِلَى معقولات أبسط فَإِن هَهُنَا معقولات هِيَ أبسط المعقولات ومبادىء التَّرْكِيب فِي سَائِر المعقولات فَلَيْسَ لَهَا لَا أَجنَاس وَلَا فُصُول وَلَا هِيَ منقسمة فِي الْكمّ وَلَا هِيَ منقسمة فِي الْمَعْنى كالوحدة وَالْعلَّة وَغير ذَلِك فاذا لَيْسَ يُمكن أَن تكون الْأَجْزَاء الْمَفْرُوضَة فِيهِ أَجزَاء متشابهة كل وَاحِد مِنْهَا هُوَ فِي معنى الْكل وَإِنَّمَا يحصل الْكل بالاجتماع فَقَط وَلَا أَيْضا يُمكن أَن تكون غير متشابهة فَلَيْسَ يُمكن أَن تَنْقَسِم الصُّورَة المعقولة وَلَا أَن تحل طرفا من الْمَقَادِير غير منقسم تبين أَن مَحل المعقولات جَوْهَر لَيْسَ بجسم وَلَا أَيْضا قُوَّة فِي جسم فيلحقه مَا يلْحق الْجِسْم من الانقسام ثمَّ يتبعهُ سَائِر المحالات

‌‌الْبُرْهَان الثَّانِي

أَن نقُول الْقُوَّة الْعَقْلِيَّة هُوَ ذَات تجرد المعقولات عَن الْكمّ
এটি স্পষ্ট যে, তাদের মধ্যে কেবল একটি একাকী পূর্ণতার অর্থের ওপর নির্দেশ করে না, যদিও তারা পরস্পর অসদৃশ হয়। সুতরাং দেখা উচিত যে, বুদ্ধিগ্রাহ্য রূপ কীভাবে অসদৃশ অংশসমূহ হতে পারে; কারণ অসদৃশ অংশগুলো কেবল সংজ্ঞার অংশসমূহ হতে পারে, যা হলো শ্রেণি ও বিভেদকসমূহ। এটি থেকে কিছু অসম্ভব বিষয় অনিবার্য হয়ে পড়ে, যার মধ্যে একটি হলো দেহের প্রতিটি অংশই বিভাজন গ্রহণ করে, ফলে শ্রেণি ও বিভেদকসমূহ সম্ভাব্যতার বিচারে অসীম হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে।

এটি প্রমাণিত যে, একটি বস্তুর সত্তাগত শ্রেণি ও বিভেদকসমূহ সম্ভাব্যতার বিচারে অসীম নয়। আর যেহেতু এটি সম্ভব নয় যে, বিভাজনের কল্পনা শ্রেণি ও বিভেদককে পৃথক করবে; বরং আমরা এতে কোনো সন্দেহ পোষণ করি না যে, যখন সেখানে এমন কোনো শ্রেণি ও বিভেদক থাকবে যা আধারে পৃথক হওয়ার যোগ্য, তখন সেই পৃথক হওয়া বিভাজনের কল্পনার ওপর নির্ভর করে না। সুতরাং শ্রেণি ও বিভেদকসমূহকে বাস্তবতার বিচারেও অসীম হতে হবে। অথচ এটি প্রমাণিত যে, একটি বস্তুর শ্রেণি ও বিভেদকসমূহ অথবা সংজ্ঞার অংশসমূহ সকল দিক থেকেই সসীম। আর যদি তা এখানে বাস্তব ক্ষেত্রে অসীম হতো, তবে তা একটি দেহ বাস্তবিকভাবে অসীম অংশে বিভক্ত হওয়াকে অনিবার্য করে দিত। তদুপরি, ধরা যাক বিভাজন এক দিক থেকে সংঘটিত হলো এবং এক পাশে শ্রেণিকে ও অন্য পাশে বিভেদককে পৃথক করল। যদি আমরা বিভাজনের পরিবর্তন করি, তবে এক পাশে অর্ধেক শ্রেণি ও অর্ধেক বিভেদক পড়বে অথবা তা উল্টে যাবে এবং আমাদের কাল্পনিক ধারণা সেখানে শ্রেণি ও বিভেদকের স্থলাভিষিক্ত হবে; যদিও এটিও কোনো উপকারে আসবে না, কারণ আমরা বিভাজনের ভেতর বিভাজন ঘটাতে পারি। তদুপরি, প্রতিটি বুদ্ধিগ্রাহ্য বিষয়কে আরও সরলতর বুদ্ধিগ্রাহ্য বিষয়ে বিভক্ত করা সম্ভব; কারণ এখানে এমন কিছু বুদ্ধিগ্রাহ্য বিষয় রয়েছে যা সরলতম এবং অন্যান্য বুদ্ধিগ্রাহ্য বিষয়ের গঠনের মূল ভিত্তি। এগুলোর কোনো শ্রেণি বা বিভেদক নেই, আর এগুলো পরিমাণের দিক থেকেও বিভাজ্য নয় এবং অর্থের দিক থেকেও বিভাজ্য নয়, যেমন: একত্ব, কারণ ইত্যাদি। সুতরাং এতে কল্পিত অংশগুলো এমন সদৃশ অংশ হওয়া সম্ভব নয় যেগুলোর প্রত্যেকটি সমগ্রের অর্থের ধারক এবং কেবল মিলনের মাধ্যমেই সমগ্রতা অর্জিত হয়। আবার এগুলো অসদৃশ হওয়াও সম্ভব নয়। অতএব বুদ্ধিগ্রাহ্য রূপ বিভাজিত হওয়া সম্ভব নয়, এবং তা পরিমাণের কোনো অবিভাজ্য প্রান্তেও অবস্থান করতে পারে না। এতে স্পষ্ট হলো যে, বুদ্ধিগ্রাহ্য বিষয়সমূহের আধার হলো এমন এক সারসত্তা যা দেহ নয় এবং দেহের কোনো শক্তিও নয়, অন্যথায় দেহের ন্যায় বিভাজন তাকেও স্পর্শ করত এবং অতঃপর অন্যান্য সকল অসম্ভব বিষয় তার অনুগামী হতো।

দ্বিতীয় প্রমাণ

আমরা বলি যে, বুদ্ধিগত শক্তি হলো এমন এক সত্তা যা বুদ্ধিগ্রাহ্য বিষয়সমূহকে পরিমাণ থেকে বিমূর্ত করে।
(খণ্ড: ১) মাআরিজুল কুদসি ফী মাদারিজ মা’রিফাতিন নাফসি (পৃষ্ঠা: ৩০)
الْمَحْدُود والأين والوضع وَسَائِر عوارض الْجِسْم فَيجب أَن نَنْظُر فِي ذَات هَذِه الصُّورَة الْمُجَرَّدَة عَن الْوَضع كَيفَ هِيَ مُجَرّدَة عَنهُ أبالقياس إِلَى الشَّيْء الْمَأْخُوذ مِنْهُ أَو بِالْقِيَاسِ إِلَى الشَّيْء الْآخِذ أَعنِي هَذِه الذَّات المعقولة تتجرد عَن الْوَضع فِي الْوُجُود الْخَارِجِي أَو فِي الْوُجُود المتصور فِي الْجَوْهَر الْعَاقِل ومحال أَن يكون كَذَلِك فِي الْوُجُود الْخَارِجِي فَبَقيَ أَن يكون انما هُوَ مفارق للوضع والأين عِنْد وجوده فِي الْعقل فَإِذا إِذا وجدت فِي الْعقل لم تكن ذَات وضع وبحيث يَقع اليها إِشَارَة تجزؤ وانقسام أَو شَيْء مِمَّا أشبه هَذَا الْمَعْنى فَلَا يُمكن أَن يكون فِي جسم

‌‌الْبُرْهَان الثَّالِث

إِذا انطبعت الصُّورَة الأحدية الْغَيْر المنقسمة الَّتِي لِأَشْيَاء غير منقسمة فِي الْمَعْنى فِي مَادَّة منقسمة ذَات جِهَات فَلَا يَخْلُو إِمَّا أَن لَا تكون لَهَا وَلَا لشَيْء من أَجْزَائِهَا الَّتِي تفرض فِيهَا بِحَسب جهاتها نِسْبَة إِلَى الشَّيْء الْمَعْقُول الْوَاحِد الذَّات الْغَيْر المنقسم المتجرد عَن الْمَادَّة أَو تكون تِلْكَ النِّسْبَة لكل وَاحِد من أَجْزَائِهَا الَّتِي تفرض أَو تكون لبعضها دون بعض فان لم يكن لشَيْء مِنْهَا نِسْبَة فَلَيْسَتْ لبعضها وَلَا لكلها لَا محَالة نِسْبَة فَيَنْبَغِي أَن لاتدرك وَأَن لَا يكون بَين هَذَا الْمَعْقُول ومعقول آخر فرق وَلَيْسَ كَذَلِك فانا نجد تفرقه ضَرُورِيَّة وان كَانَ لبعضها دون بعض نِسْبَة فالبعض الَّذِي لَا نِسْبَة لَهُ لَيْسَ هُوَ من مَعْنَاهُ فِي شَيْء وَيلْزم أَن يكون الشَّيْء الْوَاحِد مَجْهُولا ومعقولا بِالْقِيَاسِ إِلَى البعضين وَهَذَا محَال وَإِن كَانَ لكل جُزْء يفْرض نِسْبَة فإمَّا أَن تكون لكل جُزْء يفْرض نِسْبَة إِلَى الذَّات الْمَعْقُول بأسرها أَو إِلَى جُزْء من الذَّات الْمَعْقُول فَإِن كَانَ لكل جُزْء يفْرض إِلَى الذَّات بأسرها نِسْبَة فَلَيْسَتْ الْأَجْزَاء إِذا أَجزَاء معنى الْمَعْقُول بل كل وَاحِد مِنْهَا مَعْقُول فِي نَفسه مُفْرد وان كَانَ كل جُزْء لَهُ نِسْبَة غير نِسْبَة الآخر إِلَى الذَّات فمعلوم أَن الذَّات منقسمة فِي الْمَعْقُول وَقد وضعناها غير منقسمة هَذَا خلف وَمن هَذَا تبين أَن الصُّورَة المنطبعة فِي
সীাবদ্ধতা, স্থানিকতা, অবস্থান এবং শরীরের অন্যান্য সমস্ত আনুষঙ্গিক গুণাবলি। সুতরাং আমাদের এই অবস্থান-বিবর্জিত রূপটির মূল সত্তা সম্পর্কে লক্ষ্য করা উচিত যে, এটি কীভাবে অবস্থান থেকে মুক্ত; তা কি যে বস্তু থেকে এটি গ্রহণ করা হয়েছে তার সাথে তুলনামূলকভাবে, নাকি গ্রহণকারী বস্তুর সাথে তুলনামূলকভাবে? অর্থাৎ, এই বুদ্ধিবৃত্তিক সত্তাটি কি বাহ্যিক অস্তিত্বে অবস্থান থেকে মুক্ত হয়, নাকি বুদ্ধিমান জওহর বা সারাংশের মধ্যে কল্পিত অস্তিত্বে? বাহ্যিক অস্তিত্বে এমনটি হওয়া অসম্ভব। সুতরাং অবশিষ্ট থাকে যে, এটি কেবল বুদ্ধিতে অস্তিত্বশীল হওয়ার সময়ই অবস্থান ও স্থান থেকে বিচ্ছিন্ন থাকে। অতএব, যখন এটি বুদ্ধিতে পাওয়া যায়, তখন তার কোনো অবস্থান থাকে না এবং এমন কোনো ইঙ্গিত থাকে না যা বিভাজন, খণ্ডন বা এই জাতীয় অর্থের দিকে নির্দেশ করে। সুতরাং এটি কোনো শরীরে থাকা সম্ভব নয়।

‌‌তৃতীয় প্রমাণ

যখন অবিভাজ্য একক রূপটি—যা অর্থে অবিভাজ্য বিষয়সমূহের জন্য—কোনো দিকবিশিষ্ট বিভাজ্য জড়পদার্থে মুদ্রিত হয়, তখন অবস্থাটি এই কয়েকটির বাইরে হবে না: হয় তার জন্য এবং তার দিকসমূহ অনুযায়ী ধার্যকৃত তার অংশগুলোর কোনোটির জন্য ওই একক, অবিভাজ্য ও জড়মুক্ত বুদ্ধিবৃত্তিক বস্তুর সাথে কোনো সম্পর্ক থাকবে না; অথবা তার ধার্যকৃত প্রতিটি অংশের জন্য সেই সম্পর্ক থাকবে; অথবা কিছু অংশের জন্য থাকবে এবং অন্যগুলোর জন্য থাকবে না। যদি তাদের কোনোটির সাথেই সম্পর্ক না থাকে, তবে নিশ্চিতভাবে তার কোনো অংশ বা পূর্ণ সত্তার সাথেই সম্পর্ক নেই। সেক্ষেত্রে সেটি উপলব্ধি করা সম্ভব হবে না এবং এই বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয় ও অন্য বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকবে না। অথচ বিষয়টি তেমন নয়, কারণ আমরা এদের মধ্যে অপরিহার্য পার্থক্য খুঁজে পাই। আর যদি কিছু অংশের জন্য সম্পর্ক থাকে এবং অন্যদের জন্য না থাকে, তবে যে অংশের কোনো সম্পর্ক নেই তা এর অর্থের কোনো কিছুর অন্তর্ভুক্ত নয়। এতে করে একই বস্তু দুটি অংশের সাপেক্ষে একই সাথে অজ্ঞাত এবং বুদ্ধিগ্রাহ্য হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে, যা অসম্ভব। আর যদি প্রতিটি ধার্যকৃত অংশের জন্য সম্পর্ক থাকে, তবে প্রতিটি অংশের জন্য হয় পূর্ণ বুদ্ধিবৃত্তিক সত্তার সাথে সম্পর্ক থাকবে, অথবা বুদ্ধিবৃত্তিক সত্তার কোনো একটি অংশের সাথে সম্পর্ক থাকবে। যদি প্রতিটি ধার্যকৃত অংশের পূর্ণ সত্তার সাথে সম্পর্ক থাকে, তবে ওই অংশগুলো আর বুদ্ধিবৃত্তিক অর্থের অংশ থাকবে না, বরং তাদের প্রতিটি স্বতন্ত্রভাবে একেকটি বুদ্ধিগ্রাহ্য বিষয় হয়ে দাঁড়াবে। আর যদি প্রতিটি অংশের জন্য অন্যটির থেকে ভিন্ন কোনো সম্পর্ক থাকে ওই সত্তার প্রতি, তবে জানা কথা যে সেই সত্তাটি বুদ্ধির মধ্যে বিভাজ্য হবে; অথচ আমরা তাকে অবিভাজ্য হিসেবে গণ্য করেছি, যা একটি স্ববিরোধিতা। আর এখান থেকেই স্পষ্ট হয় যে, যে রূপটি মুদ্রিত হয়...
(খণ্ড: ১) মাআরিজুল কুদসি ফী মাদারিজ মা’রিফাতিন নাফসি (পৃষ্ঠা: ৩১)
الْمَادَّة لَا تكون إِلَّا اشباحا لأمور جزئية منقسمة لكل جُزْء مِنْهَا نِسْبَة بِالْفِعْلِ أَو بِالْقُوَّةِ أَو بِالْقُوَّةِ إِلَى جُزْء مِنْهَا

فان قيل منشأ التلبيس فِي هَذَا الْبُرْهَان قَوْلكُم إِن الْمَعْنى الْمَعْقُول ان كَانَ لَهُ نِسْبَة إِلَى بعض الذَّات فَيكون الْبَعْض الآخر لَيْسَ من معنى الْمَعْقُول فِي شَيْء وَنحن هَكَذَا نقُول فَإِن الْمدْرك منا هُوَ جُزْء وَذَلِكَ الْجُزْء لَا يَنْقَسِم وَهُوَ الْمُسَمّى بالجوهر الْفَرد

قُلْنَا أَنْتُم بَين أَمريْن إِمَّا ان تَقولُوا نِسْبَة الْمَعْقُول إِلَى بعض منقسم أَو إِلَى بعض غير منقسم فَإِن كاننسبته إِلَى بعض منقسم فاذا قسمنا يلْزم انقسام الْمَعْقُول وَيعود الْبُرْهَان الأول بِعَيْنِه وان قُلْتُمْ ينتسب إِلَى جُزْء لَا يَنْقَسِم فَكل جُزْء من الْجِسْم منقسم وَقد برهنا على ذَلِك وَله براهين هندسية لَيْسَ هَهُنَا مَوضِع ذكرهَا

‌‌الْبُرْهَان الرَّابِع

أَن نقُول إِن الْقُوَّة الْعَقْلِيَّة لَو كَانَت تعقل بالآلة الجسدانية حَتَّى يكون فعلهَا انما يستتم بِاسْتِعْمَال تِلْكَ الْآلَة الجسدانية لَكَانَ يجب أَن لَا تعقل ذَاتهَا وان لَا تعقل الْآلَة وان لَا تعقل انها عقلت فَإِنَّهُ لَيْسَ بَينهَا وَبَين ذَاتهَا آلَة وَلَيْسَ بَينهَا وَبَين آلتها آلَة وَلَا بَينهَا وَبَين أَنَّهَا عقلت آلَة لَكِنَّهَا تعقل ذَاتهَا وآلتها وَالَّتِي تدعى آلتها وَأَنَّهَا عقلت فَإِذا تعقل بذاتها لَا بالآلة وَأَيْضًا لَا يَخْلُو إِمَّا أَن يكون تعقلها آلتها إِمَّا لوُجُود ذَات صُورَة آلتها وَإِمَّا أُخْرَى مُخَالفَة لَهَا وَهِي صُورَة أَيْضا فِيهَا وَفِي آلتها أَو لوُجُود صُورَة آلتها فصورة آلتها فِي آلتها بِالشّركَةِ دَائِما فَيجب أَن تعقل آلتها دَائِما الَّتِي كَانَت تعقل لوُجُود صُورَة آلتها وان كَانَ لوُجُود صُورَة غير تِلْكَ الصُّورَة فَإِن الْمُغَايرَة بَين أَشْيَاء تدخل فِي حد وَاحِد إِمَّا لاخْتِلَاف الْموَاد والأعراض وَإِمَّا لاخْتِلَاف مَا بَين الْكُلِّي والجزئي والمجرد عَن الْمَادَّة والوجود فِي الْمَادَّة وَلَيْسَ هَهُنَا اخْتِلَاف مواد وأعراض فَإِن الْمَادَّة وَاحِدَة والاعراض وَاحِدَة وَلَيْسَ هَهُنَا
বস্তু কেবল বিভাজিত আংশিক বিষয়সমূহের প্রতিচ্ছবি ছাড়া আর কিছুই নয়, যার প্রতিটি অংশের সাথে বাস্তবিক বা সম্ভাব্যভাবে, অথবা সম্ভাব্যভাবে তার কোনো একটি অংশের সাথে একটি সম্বন্ধ বিদ্যমান থাকে।

যদি বলা হয় যে, এই যুক্তির বিভ্রান্তির মূলে রয়েছে আপনাদের এই বক্তব্য যে: যদি বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়ের সত্তার কোনো অংশের সাথে সম্পর্ক থাকে, তবে অন্য অংশটি সেই বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়ের কোনো কিছুর অন্তর্ভুক্ত হবে না। আমরাও ঠিক এই কথাই বলি; আমাদের মধ্যে যা উপলব্ধি করে তা হলো একটি অংশ, আর সেই অংশটি বিভাজিত হয় না এবং একেই 'অবিভাজ্য মৌলিক কণা' বলা হয়।

আমরা বলব: আপনারা দুটি বিষয়ের যেকোনো একটির সম্মুখীন। হয় আপনারা বলবেন যে বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়ের সম্বন্ধ একটি বিভাজ্য অংশের দিকে, অথবা একটি অবিভাজ্য অংশের দিকে। যদি তার সম্বন্ধ বিভাজ্য অংশের দিকে হয়, তবে যখন আমরা সেটিকে বিভক্ত করব, তখন বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়টিরও বিভাজিত হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়বে এবং এতে প্রথম যুক্তিটিই হুবহু ফিরে আসবে। আর যদি আপনারা বলেন যে তা একটি অবিভাজ্য অংশের সাথে সম্বন্ধযুক্ত, তবে দেহের প্রতিটি অংশই বিভাজ্য। আমরা ইতিপূর্বে তা প্রমাণ করেছি এবং এর স্বপক্ষে জ্যামিতিক প্রমাণাদি রয়েছে যা এখানে উল্লেখ করার স্থান নয়।

‌‌চতুর্থ প্রমাণ

আমরা বলি যে, বুদ্ধিবৃত্তিক শক্তি যদি শারীরিক অঙ্গের মাধ্যমে উপলব্ধি করত, যাতে তার ক্রিয়া কেবল সেই শারীরিক অঙ্গের ব্যবহারের মাধ্যমেই সম্পন্ন হতো, তবে আবশ্যক হতো যে সেটি নিজের সত্তাকে উপলব্ধি করবে না, ওই অঙ্গটিকেও উপলব্ধি করবে না এবং সে যে উপলব্ধি করেছে সেটিও উপলব্ধি করবে না। কারণ তার ও তার নিজের সত্তার মাঝে কোনো মাধ্যম বা অঙ্গ নেই, তার ও তার অঙ্গের মাঝেও কোনো অঙ্গ নেই, আর সে যে উপলব্ধি করেছে তার মাঝেও কোনো মাধ্যম বা অঙ্গ নেই। কিন্তু সেটি নিজের সত্তাকে, তার অঙ্গকে (যাকে অঙ্গ বলা হচ্ছে) এবং সে যে উপলব্ধি করেছে—সবই উপলব্ধি করে। অতএব, সেটি অঙ্গের মাধ্যমে নয় বরং নিজের সত্তার মাধ্যমেই উপলব্ধি করে। এছাড়াও, তার নিজের অঙ্গকে উপলব্ধি করা দুটি অবস্থা থেকে মুক্ত নয়: হয় তার অঙ্গের রূপের সত্তাগত অস্তিত্বের কারণে, অথবা তার বিপরীত অন্য কোনো রূপের কারণে যা তার মধ্যে এবং তার অঙ্গের মধ্যে বিদ্যমান। অথবা তার অঙ্গের রূপের অস্তিত্বের কারণে; এমতাবস্থায় অঙ্গের রূপ সর্বদা অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে অঙ্গের মধ্যেই থাকে, ফলে তার অঙ্গকে সর্বদা উপলব্ধি করা আবশ্যক হয়ে পড়ে যা অঙ্গের রূপের উপস্থিতির কারণে উপলব্ধি হচ্ছিল। আর যদি তা ওই রূপ ব্যতিরেকে অন্য কোনো রূপের উপস্থিতির কারণে হয়, তবে একই সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলোর মধ্যে ভিন্নতা হয় উপকরণ ও উপসর্গের পার্থক্যের কারণে, অথবা সামষ্টিক ও আংশিকের পার্থক্যের কারণে, কিংবা উপকরণমুক্ত হওয়া এবং উপকরণের মধ্যে বিদ্যমান থাকার পার্থক্যের কারণে। কিন্তু এখানে উপকরণ ও উপসর্গের কোনো ভিন্নতা নেই, কারণ উপকরণ এক এবং উপসর্গও এক, আর এখানে নেই...
(খণ্ড: ১) মাআরিজুল কুদসি ফী মাদারিজ মা’রিফাতিন নাফসি (পৃষ্ঠা: ৩২)
اخْتِلَاف بالتجريد والوجود فِي الْمَادَّة فَإِن كليهمَا فِي الْمَادَّة وَلَيْسَ هَهُنَا اخْتِلَاف الْخُصُوص والعموم لِأَن أَحدهمَا انما يَسْتَفِيد الْجُزْئِيَّة بِسَبَب الْمَادَّة الْجُزْئِيَّة واللواحق الَّتِي تلحقها من جِهَة الْمَادَّة الَّتِي فِيهَا وَهَذَا الْمَعْنى لَا يخْتَص بِأَحَدِهِمَا دون الآخر وَأما ذَات النَّفس فانها تدْرك دَائِما وجودهَا لَا شَيْئا من الْأَجْسَام الَّتِي مَعهَا وفيهَا وَلَا يجوز أَن يكون لوُجُود صُورَة أُخْرَى معقولة غير صُورَة آلتها فان هَذَا أَشد اسْتِحَالَة لِأَن الصُّورَة المعقولة إِذا حلت الْجَوْهَر الْعَاقِل جعلته عَاقِلا لما تِلْكَ الصُّورَة صورته أَو لما تِلْكَ الصُّورَة مُضَافَة اليه فَتكون صُورَة الْمُضَاف دَاخِلَة فِي هَذِه الصُّورَة وَهَذِه الصُّورَة المعقولة لَيست صُورَة هَذِه الْآلَة وَلَا أَيْضا صُورَة شَيْء مُضَاف اليها بِالذَّاتِ لِأَن ذَات هَذِه الْآلَة جَوْهَر وَنحن انما نَأْخُذ ونعتبر صُورَة ذَاته والجوهر فِي ذَاته غير مُضَاف الْبَتَّةَ فَهَذَا برهَان عَظِيم على أَنه لَا يجوز أَن يدْرك الْمدْرك للآلة الَّتِي هِيَ آلَته فِي الْإِدْرَاك وَلِهَذَا فان الْحس انما يحس شَيْئا خارجيا وَلَا يحس ذَاته وَلَا فعله وَلَا آلَته بل إِن تخيل آلَته تخيلها لَا على نَحْو يَخُصُّهُ بِأَنَّهُ لَا محَالة لَهُ دون غَيره إِلَّا أَن يكون الْحس يُورد عَلَيْهِ صُورَة آلَته لَو أمكن فَيكون حِينَئِذٍ إِنَّمَا يَحْكِي خيالا مأخوذا عَن الْحس غير مُضَاف عِنْده إِلَى شَيْء حَتَّى لَو لم تكن آلَته كَذَلِك لم يتخيله

‌‌الْبُرْهَان الْخَامِس

مركب من مَجْمُوع دَلَائِل وَاضِحَة وشواهد لائحة من أحَاط علما يقينيا تَيَقّن قطعا أَن النَّفس لَيست بجسم وَلَا تحل الْأَجْسَام

وَطَرِيقه أَن نقُول إِن النَّفس لَو كَانَت جسما فَلَا يَخْلُو إِمَّا أَن تكون حَالَة فِي الْبدن أَو خَارِجَة الْبدن فَإِن كَانَت خَارِجَة الْبدن فَكيف تُؤثر وَتصرف فِي هَذَا الْجِسْم وَكَيف يكون قوام الْبدن بهَا وَكَيف تتصرف فِي المعارف الْعَقْلِيَّة فِي الْملك والملكوت فتعرف الأول الْحق وتسافر فِي الْعرْفَان الْعقلِيّ وتستوفي المعقولات فِي ذَاتهَا وَإِن كَانَت حَالَة فِي الْبدن فَلَا يَخْلُو إِمَّا أَن تكون حَالَة بِجَمِيعِ الْبدن أَو بِبَعْضِه فَإِن كَانَت حَالَة بِجَمِيعِ الْبدن فَكَانَ يَنْبَغِي إِذا قطع
পদার্থের মধ্যে বিমূর্তায়ন ও অস্তিত্বের ভিন্নতা; কারণ উভয়ই পদার্থের মধ্যে বিদ্যমান। এখানে বিশেষত্ব ও সাধারণত্বের কোনো পার্থক্য নেই। কারণ তাদের মধ্যে একটি কেবল আংশিকতা লাভ করে আংশিক পদার্থ এবং তার সাথে সংশ্লিষ্ট অনুষঙ্গগুলোর কারণে, যা সেই পদার্থের দিক থেকে আসে যাতে সে বিদ্যমান। এই অর্থ তাদের মধ্যে কোনো একজনের জন্য নির্দিষ্ট নয়। আর আত্মার সত্তা সর্বদা নিজের অস্তিত্বকে উপলব্ধি করে, তার সাথে বা তার ভেতরে থাকা কোনো জড়বস্তুকে নয়। কোনো বুদ্ধিবৃত্তিক রূপের অস্তিত্ব তার যন্ত্রের রূপ ব্যতীত অন্য কিছু হওয়া বৈধ নয়; কারণ এটি আরও বেশি অসম্ভব। কেননা বুদ্ধিবৃত্তিক রূপ যখন কোনো বুদ্ধিমান সারসত্তায় প্রবিষ্ট হয়, তখন সে তাকে সেই বিষয়ের ওপর বুদ্ধিমান করে তোলে যার সেই রূপটি রূপ, অথবা যার দিকে সেই রূপটি সম্পর্কিত। ফলে যা সম্পর্কিত তার রূপ এই রূপের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। আর এই বুদ্ধিবৃত্তিক রূপটি এই যন্ত্রের রূপ নয়, এবং এমন কিছুর রূপও নয় যা মূলত তার সাথে সম্পর্কিত। কারণ এই যন্ত্রের সত্তা হলো একটি সারবস্তু, আর আমরা কেবল তার নিজস্ব সত্তার রূপটিকেই গ্রহণ ও বিবেচনা করি। আর সারবস্তু তার নিজস্ব সত্তায় অন্য কিছুর সাথে মোটেও সম্পর্কিত নয়। এটি একটি মহান প্রমাণ যে, যে সত্তা উপলব্ধি করে তার পক্ষে সেই যন্ত্রটিকে উপলব্ধি করা সম্ভব নয় যা তার উপলব্ধির মাধ্যম। এই কারণেই ইন্দ্রিয় কেবল বাহ্যিক কোনো বিষয়কে অনুভব করে, সে নিজের সত্তা, নিজের কর্ম বা নিজের যন্ত্রকে অনুভব করে না। বরং সে যদি তার যন্ত্রকে কল্পনাও করে, তবে তা এমনভাবে করে না যা তাকে অন্যের পরিবর্তে নিজের জন্য নির্দিষ্ট করে দেয়; যদি না ইন্দ্রিয় তার কাছে তার যন্ত্রের রূপ উপস্থাপন করে—যদি তা সম্ভব হতো। সেক্ষেত্রে সে কেবল ইন্দ্রিয় থেকে প্রাপ্ত একটি কল্পনাকেই বর্ণনা করবে যা তার কাছে কোনো কিছুর সাথে সম্পর্কিত নয়, এমনকি যদি তার যন্ত্রটি তেমন না-ও হতো তবুও সে তা কল্পনা করত না।

‌পঞ্চম প্রমাণ

এটি একগুচ্ছ সুস্পষ্ট দলিল ও উজ্জ্বল নিদর্শনের সমষ্টি। যে ব্যক্তি এ বিষয়ে নিশ্চিত জ্ঞান অর্জন করবেন, তিনি অকাট্যভাবে নিশ্চিত হবেন যে আত্মা কোনো দেহ নয় এবং দেহের মধ্যে লীন হয়ে থাকে না।

এর পদ্ধতি হলো আমরা বলব—যদি আত্মা একটি দেহ হতো, তবে তা হয় দেহের অভ্যন্তরে থাকত অথবা দেহের বাইরে থাকত। যদি তা দেহের বাইরে থাকত, তবে কীভাবে তা এই দেহের ওপর প্রভাব বিস্তার করত এবং একে পরিচালনা করত? কীভাবে দেহের স্থায়িত্ব এর মাধ্যমে সম্পন্ন হতো? এবং কীভাবে তা দৃশ্য ও অদৃশ্য জগতের বুদ্ধিবৃত্তিক জ্ঞানসমূহ পরিচালনা করত, যার ফলে সে পরম সত্যকে চিনতে পারে, বুদ্ধিবৃত্তিক মারেফতের পথে পরিভ্রমণ করে এবং নিজের সত্তায় বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়সমূহকে পূর্ণতা দান করে? আর যদি তা দেহের অভ্যন্তরে অবস্থান করত, তবে তা হয় পুরো দেহের মধ্যে ব্যাপ্ত থাকত অথবা দেহের কোনো অংশে থাকত। যদি তা পুরো দেহের মধ্যে ব্যাপ্ত থাকত, তবে উচিত ছিল যখন বিচ্ছিন্ন করা হয়...
(খণ্ড: ১) মাআরিজুল কুদসি ফী মাদারিজ মা’রিফাতিন নাফসি (পৃষ্ঠা: ৩৩)
مِنْهُ طرف أَن تنتقص أَو تنزوي وتنتقل من عُضْو إِلَى عُضْو فَتَارَة تمتد بامتداد الْأَعْضَاء وَتارَة تتقلص بذبول الْأَعْضَاء وَهَذَا كُله محَال عِنْد من لَهُ غريزة صَحِيحَة وفطنة مُسْتَقِيمَة طَاهِرَة عَن شوائب الخيال وان كَانَت حَالَة فِي بعض الْبدن فَذَلِك الْبَعْض منقسم إِمَّا بِالْفِعْلِ أَو بِالْفَرْضِ فَيَنْبَغِي أَن تَنْقَسِم النَّفس إِلَى أَن تَنْتَهِي بالأقسام إِلَى أقل شَيْء وأحقره وَهَذَا مَعْلُوم إحالته على البديهة فَكيف يكون كَذَلِك حَال النَّفس الَّتِي هِيَ مَحل المعارف وَبِه شرف الانسان على جَمِيع الْحَيَوَانَات وَهُوَ المستعد للقاء الله تَعَالَى وَهُوَ الْمُخَاطب وَهُوَ المثاب وَهُوَ المعاقب وَهُوَ الَّذِي إِذا زَكَّاهُ الانسان أَفْلح وَإِذا دساه خَابَ وخسر وَهُوَ خُلَاصَة الموجودات وزبدة الكائنات فِي عَالم الْعود وَهُوَ الَّذِي يبْقى بعد موت الْبدن وَهُوَ الَّذِي كَانَ متحليا بالمعارف وصل إِلَى السَّعَادَة الأبدية فَرحا مُسْتَبْشِرًا بلقاء الله تَعَالَى {أَحيَاء عِنْد رَبهم يرْزقُونَ فرحين بِمَا آتَاهُم الله من فَضله} فَمن كَانَ لَهُ أدنى مسكة من الْعقل يعلم أَن الْجَوْهَر الَّذِي هَذَا مَحَله ومنزلته لَا يكون حَالا فِي الْبدن وَلَا يكون جُزْءا من الْبدن لَا دم وَلَا بخار وَلَا مزاج وَلَا غَيره وَأَيْضًا فَإنَّك تعلم أَن نَفسك مذ كنت لم تتبدل وَمَعْلُوم أَن الْبدن وصفات الْبدن كلهَا تتبدل إِذْ لَو لم تتبدل لَكَانَ لَا يغتذي لِأَن التغذي أَن يحل بِالْبدنِ بدل مَا تحلل فاذا نَفسك لَيْسَ من الْبدن وَصِفَاته فِي شَيْء

وَأَيْضًا لَو كَانَت النَّفس الانسانية منطبعة فِي الْبدن لَكَانَ ضعف فعلهَا مَعَ ضعف الْبدن لَكِنَّهَا لَا تضعف مَعَ ضعف الْبدن فَثَبت أَنَّهَا غير منطبعة فِيهِ وَدَلِيل عدم الضعْف الْمُشَاهدَة فَإِن بعد الْأَرْبَعين تكون الْقُوَّة الْبَدَنِيَّة فِي انحطاط وَالْقُوَّة الْعَقْلِيَّة فِي الزِّيَادَة والارتفاع
এর কোনো অংশ কমে যাওয়া বা সংকুচিত হওয়া এবং এক অঙ্গ থেকে অন্য অঙ্গে স্থানান্তরিত হওয়া অসম্ভব; যার ফলে এটি কখনও অঙ্গপ্রত্যঙ্গের প্রসারণের সাথে প্রসারিত হতো এবং কখনও অঙ্গপ্রত্যঙ্গের জীর্ণতার সাথে সংকুচিত হতো। আর যার সঠিক স্বভাবজাত প্রবৃত্তি এবং কল্পনাপ্রসূত মালিন্যমুক্ত ঋজু ও স্বচ্ছ প্রজ্ঞা রয়েছে, তার নিকট এই সব কিছুই অসম্ভব। আর যদি তা শরীরের কোনো অংশে অবস্থানরত হতো, তবে সেই অংশটি বাস্তবে অথবা অনুকল্পে বিভাজ্য হতো। ফলে আত্মাকেও বিভাজিত হতে হতো, এমনকি বিভাজনের ধারায় তা ক্ষুদ্রতম ও তুচ্ছতম বস্তুতে গিয়ে পর্যবসিত হতো। অথচ এটি স্বতঃসিদ্ধভাবেই অসম্ভব। সুতরাং সেই আত্মার অবস্থা এমন কীভাবে হতে পারে, যা হলো জ্ঞানসমূহের আধার এবং যার মাধ্যমে মানুষ সকল প্রাণীর ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছে? আর সেই আত্মাই আল্লাহ তা'আলার সাক্ষাতের জন্য প্রস্তুত, সেই সম্বোধিত, সেই পুরস্কারপ্রাপ্ত এবং সেই দণ্ডপ্রাপ্ত। আর সেই আত্মাকেই যখন মানুষ পরিশুদ্ধ করে তখন সে সফল হয়, আর যখন তাকে কলুষিত করে তখন সে ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এটি বিদ্যমান বস্তুসমূহের নির্যাস এবং সৃষ্টিজগতের সারবস্তু এবং শরীরের মৃত্যুর পরও এটি অবশিষ্ট থাকে। আর সেই আত্মাই জ্ঞানরাজিতে বিভূষিত হয়ে আল্লাহ তা'আলার সাক্ষাতের আনন্দে উৎফুল্ল ও সুসংবাদপ্রাপ্ত হয়ে শাশ্বত সৌভাগ্যে উপনীত হয়। (যেমন এরশাদ হয়েছে): তারা তাদের রবের নিকট জীবিত, তারা রিযিকপ্রাপ্ত হচ্ছে এবং আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের যা দিয়েছেন তাতে তারা আনন্দিত। সুতরাং যার সামান্যতম কাণ্ডজ্ঞান রয়েছে সে জানে যে, যে সত্তার মর্যাদা ও অবস্থান এরূপ, তা শরীরের ভেতর অবস্থানকারী হতে পারে না এবং শরীরের কোনো অংশ যেমন রক্ত, বাষ্প, মেজাজ বা অন্য কিছু হতে পারে না। তদুপরি আপনি জানেন যে, আপনার জন্মলগ্ন থেকে আপনার আত্মা পরিবর্তিত হয়নি; অথচ এটি সুনিশ্চিত যে, শরীর এবং শরীরের সকল বৈশিষ্ট্য পরিবর্তিত হয়। কারণ শরীর যদি পরিবর্তিত না হতো, তবে তা পুষ্টি গ্রহণ করত না; যেহেতু পুষ্টি গ্রহণের উদ্দেশ্য হলো শরীর থেকে যা ক্ষয় হয়ে গেছে তার স্থলাভিষিক্ত হওয়া। সুতরাং আপনার আত্মা শরীর ও তার গুণাবলির কোনো অংশ নয়।

আরও কথা হলো, মানব আত্মা যদি শরীরের সাথে ওতপ্রোতভাবে মিশে থাকত, তবে শরীরের দুর্বলতার সাথে সাথে তার ক্রিয়াও দুর্বল হয়ে পড়ত। কিন্তু শরীরের দুর্বলতার সাথে সাথে আত্মা দুর্বল হয় না; ফলে প্রমাণিত হলো যে, আত্মা শরীরের সাথে মিশে থাকা কোনো বস্তু নয়। আর দুর্বল না হওয়ার প্রমাণ হলো চাক্ষুষ পর্যবেক্ষণ; কেননা চল্লিশ বছর বয়সের পর শারীরিক শক্তি হ্রাস পেতে থাকে, পক্ষান্তরে বুদ্ধিবৃত্তিক শক্তি উত্তরোত্তর বৃদ্ধি ও উন্নতির দিকে ধাবিত হয়।
(খণ্ড: ১) মাআরিজুল কুদসি ফী মাদারিজ মা’রিফাতিন নাফসি (পৃষ্ঠা: ৩৪)
وَأما الَّذِي يتَوَهَّم من أَن النَّفس تنسى ولاتفعل فعلهَا مَعَ مرض الْبدن وَعند الشيخوخة وان ذَلِك بِسَبَب أَن فعلهَا لَا يتم إِلَّا بِالْبدنِ فَظن غير ضَرُورِيّ وَلَا حق وَذَلِكَ أَنه بعد مَا صَحَّ لنا أَن النَّفس تفعل بذاتها يجب أَن يطْلب السَّبَب فِي هَذَا فان كَانَ قد يُمكن أَن يجْتَمع أَن للنَّفس فعلا بذاتها وانها أَيْضا تتْرك فعلهَا مَعَ مرض الْبدن وَلَا تفعل من غير تنَاقض فَلَيْسَ لهَذَا الِاعْتِرَاض اعْتِبَار

فَنَقُول إِن النَّفس لَهُ فعلان فعل لَهُ بِالْقِيَاسِ إِلَى الْبدن وَهُوَ السياسة وَفعل بِالْقِيَاسِ إِلَى ذَاته وَإِلَى مبادئه وَهُوَ التعقل وهما متعاندان متمانعان فَإِنَّهُ إِذا اشْتغل باحدهما انْصَرف عَن الآخر ويصعب عَلَيْهِ الْجمع بَين الْأَمريْنِ وشواغله من جِهَة الْبدن الاحساس والتخيل والشهوات وَالْغَضَب وَالْخَوْف وَالْغَم والوجع وَأَنت تعلم هَذَا بأنك إِذا أخذت تفكر فِي مَعْقُول تعطل عَلَيْك كل شَيْء من هَذِه إِلَّا أَن تغلب وتقسر النَّفس بِالرُّجُوعِ الى جهاتها

وَأَنت تعلم أَن الْحس يمانع النَّفس عَن التعقل إِذا أكبت على المحسوس من غير أَن يكون أصَاب آلَة التعقل أَو ذَاتهَا آفَة بِوَجْه وَتعلم أَن السَّبَب فِي ذَلِك هُوَ اشْتِغَال النَّفس بِفعل دون فعل فَلهَذَا السَّبَب مَا يتعطل أَفعَال الْعقل عِنْد الْمَرَض وَلَو كَانَت الصُّورَة المعقولة قد بطلت وفسدت لأجل الْآلَة لَكَانَ رُجُوع الْآلَة إِلَى حَالهَا يحوج إِلَى اكْتِسَاب من الرَّأْس وَلَيْسَ الْأَمر كَذَلِك فَإِنَّهُ قد تعود النَّفس إِلَى ملكتها وهيأتها عَاقِلَة بِجَمِيعِ مَا عقلته بِحَالهِ فقد كَانَت إِذا كلهَا مَعهَا إِلَّا أَنَّهَا كَانَت مَشْغُولَة عَنهُ وَلَيْسَ اخْتِلَاف جهتي فعل النَّفس فَقَط يُوجب فِي أَفعاله التمانع بل تكْثر أَفعَال جِهَة وَاحِدَة قد يُوجب هَذَا بِعَيْنِه فان الْخَوْف يغْفل عَن الوجع والشهوة تصد عَن الْغَضَب وَالْغَضَب يصرف عَن الْخَوْف وَالسَّبَب فِي جَمِيع ذَلِك وَاحِد وَهُوَ انصراف النَّفس بِالْكُلِّيَّةِ إِلَى أَمر وَاحِد وَكلهَا قوى النَّفس الْوَاحِدَة وَهِي ملكهَا والقوى رعيتها وجنودها فاذا لَيْسَ يجب اذا لم يفعل شَيْء فعله عِنْد اشْتِغَاله بِحَالَة لشَيْء أَن لَا يكون فَاعِلا فعله إِلَّا عِنْد وجود ذَلِك الشَّيْء
আর যে ব্যক্তি এরূপ ধারণা পোষণ করে যে, শরীরের অসুস্থতা এবং বার্ধক্যের সময় আত্মা বিস্মৃত হয় এবং তার স্বাভাবিক কাজ করতে অক্ষম হয়ে পড়ে, আর এটি এই কারণে যে শরীরের মাধ্যম ব্যতিরেকে আত্মার কাজ সম্পন্ন হয় না; তবে এই ধারণাটি না অপরিহার্য আর না সত্য। কারণ, আমাদের নিকট যখন এটি প্রমাণিত হয়েছে যে আত্মা স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে স্বীয় সত্তার মাধ্যমেই কাজ সম্পাদন করে, তখন এই বিষয়ের কারণ অনুসন্ধান করা আবশ্যক হয়ে পড়ে। সুতরাং যদি কোনো প্রকার স্ববিরোধিতা ছাড়াই এই বিষয়টি একত্রিত হওয়া সম্ভব হয় যে, আত্মার যেমন নিজস্ব সত্তাগত কর্ম রয়েছে, তেমনি শরীরের অসুস্থতার কারণে সে তার কাজ বর্জনও করতে পারে, তবে এই আপত্তির কোনো গুরুত্ব অবশিষ্ট থাকে না।

অতএব আমরা বলি যে, আত্মার দুটি কাজ রয়েছে: একটি কাজ শরীরের সাথে সংশ্লিষ্ট, যা হলো পরিচালনা বা ব্যবস্থাপনা; আর অন্য কাজটি তার আপন সত্তা এবং তার মূল উৎসসমূহের সাথে সংশ্লিষ্ট, যা হলো বুদ্ধিবৃত্তিক অনুধাবন। এই উভয় কাজই একে অপরের বিরোধী এবং প্রতিবন্ধক। কেননা আত্মা যখন এর একটিতে লিপ্ত হয়, তখন অন্যটি থেকে বিমুখ হয়ে যায় এবং উভয় বিষয়ের সমন্বয় করা তার জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। শরীরের পক্ষ থেকে আত্মার ব্যস্ততাসমূহ হলো—অনুভুতি, কল্পনা, প্রবৃত্তি, ক্রোধ, ভয়, দুঃখ ও বেদনা। আপনি এটি জানেন যে, আপনি যখন কোনো বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয় নিয়ে চিন্তা করতে শুরু করেন, তখন এগুলোর প্রতিটিই আপনার নিকট অকেজো হয়ে পড়ে, যদি না আপনি আত্মাকে পরাভূত করে তার নিজস্ব দিকগুলোতে ফিরে যেতে বাধ্য করেন।

আর আপনি জানেন যে, ইন্দ্রিয়ানুভুতি আত্মাকে বুদ্ধিবৃত্তিক অনুধাবন থেকে বিরত রাখে যখন সে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়ের ওপর ঝুঁকে পড়ে, অথচ বুদ্ধিবৃত্তিক যন্ত্রে বা আত্মার সত্তায় কোনো প্রকার ত্রুটি পরিলক্ষিত হয় না। আপনি আরও জানেন যে, এর কারণ হলো আত্মার একটি কাজ ছেড়ে অন্য কাজে লিপ্ত হওয়া। এই কারণেই অসুস্থতার সময় বুদ্ধিবৃত্তিক কর্মসমূহ স্থগিত হয়ে যায়। যদি যন্ত্রের (অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ) কারণে বুদ্ধিবৃত্তিক রূপটি বিলুপ্ত বা বিনষ্ট হয়ে যেত, তবে যন্ত্রটি সুস্থ অবস্থায় ফিরে আসার পর পুনরায় নতুন করে তা অর্জন করার প্রয়োজন হতো। কিন্তু বিষয়টি তেমন নয়; কেননা আত্মা পুনরায় তার সেই সক্ষমতা ও অবস্থায় ফিরে আসে এবং ইতিপূর্বে যা কিছু সে অনুধাবন করেছিল তার সবটুকুই অবিকৃত অবস্থায় ফিরে পায়। সুতরাং সেই সমস্ত জ্ঞান আত্মার নিকট বিদ্যমানই ছিল, কেবল আত্মা তা থেকে অন্যমনস্ক ছিল। কেবল আত্মার কর্মের দুটি ভিন্ন দিকের ভিন্নতাই যে কার্যাবলীর মধ্যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে তা নয়, বরং একই দিকের বহুবিধ কাজের আধিক্যও ঠিক একই অবস্থার সৃষ্টি করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ভয় মানুষের বেদনাকে ভুলিয়ে দেয়, প্রবৃত্তি ক্রোধকে প্রতিহত করে এবং ক্রোধ ভয়কে সরিয়ে দেয়। এই সবকিছুর কারণ একটিই, আর তা হলো আত্মার সম্পূর্ণরূপে কোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের দিকে নিবিষ্ট হওয়া। আর এই সবকিছুই হলো এক এবং অভিন্ন আত্মার বিভিন্ন শক্তি; আত্মা হলো এগুলোর অধিপতি, আর শক্তিসমূহ তার প্রজা ও সৈন্যবাহিনী। অতএব, কোনো অবস্থায় ব্যস্ত থাকার কারণে যদি কোনো কাজ সম্পাদিত না হয়, তবে এর দ্বারা এটি প্রমাণিত হয় না যে, কেবল সেই বস্তুটির উপস্থিতি ব্যতিরেকে কাজটির সম্পাদন সম্ভব নয়।
(খণ্ড: ১) মাআরিজুল কুদসি ফী মাদারিজ মা’রিফাতিন নাফসি (পৃষ্ঠা: ৩৫)
وَلنَا أَن نتوسع فِي بَيَان هَذَا الْبَاب لِأَن هَذَا الْبَاب من أصعب أَبْوَاب النَّفس إِلَّا أَنه بعد بُلُوغ الْكِفَايَة ننسب الازدياد إِلَى تكلّف مَا لَا نحتاج اليه فقد ظهر من أصولنا الَّتِي قَررنَا أَن النَّفس لَيست منطبعة فِي الْبدن وَلَا قَائِمَة بِهِ فَيجب أَن تكون علاقتها مَعَ الْبدن علاقَة التَّدْبِير وَالتَّصَرُّف وَالله تَعَالَى ولي الْهِدَايَة والتوفيق

আমাদের জন্য এই পরিচ্ছেদের বর্ণনায় বিস্তারিত আলোচনা করার সুযোগ রয়েছে; কেননা আত্মা সংক্রান্ত আলোচনার মধ্যে এই পরিচ্ছেদটি অন্যতম কঠিন। তবে পর্যাপ্ত বর্ণনার পর এর অতিরিক্ত কোনো আলোচনাকে আমরা অপ্রয়োজনীয় কৃত্রিমতা হিসেবে গণ্য করি যার প্রয়োজন আমাদের নেই। আমরা যে মূলনীতিসমূহ নির্ধারণ করেছি তা থেকে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, আত্মা দেহের মধ্যে মুদ্রিত নয় এবং তা দেহের মাধ্যমে বিদ্যমানও নয়। সুতরাং দেহের সাথে আত্মার সম্পর্ক অবশ্যই পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের সম্পর্ক হতে হবে। আর আল্লাহ তাআলাই হিদায়াত ও তাওফীক দানকারী।

(খণ্ড: ১) মাআরিজুল কুদসি ফী মাদারিজ মা’রিফাতিন নাফসি (পৃষ্ঠা: ৩৭)
‌‌القوى الحيوانية

 

والقوى الحيوانية تَنْقَسِم محركة ومدركة والمحركة إِمَّا أَن تكون محركة على أَنَّهَا باعثة على الْفِعْل أَو على أَنَّهَا فاعلة والباعثة إِمَّا أَن تكون على جذب النَّفْع أَو على دفع الضّر والباعثة على جذب النَّفْع هُوَ الَّذِي يعبر عَنهُ بالشهوة وَهُوَ الَّذِي اذا ارتسم فِي الخيال معنى يعلم أَنه خبر عِنْده أَو يظنّ يبْعَث الْقُوَّة الفاعلة على جذب ذَلِك النَّفْع

وَأما الباعثة على دفع الضّر فَهِيَ الَّتِي يعبر عَنْهَا بِالْغَضَبِ وَهِي الْقُوَّة الَّتِي اذا ارتسم فِي الخيال مَا يعلم أَو يظنّ أَنه يضر تبْعَث على تَحْرِيك يدْفع بِهِ ذَلِك الضَّرَر أَو المؤذي طلبا للانتقام وَالْغَلَبَة

وَأما الْقُوَّة المحركة على أَنَّهَا فاعلة فَهِيَ قُوَّة تنبعث فِي الأعصاب والعضلات من شَأْنهَا أَن تشنج العضلات فتجذب الأوطار والرباطات الْمُتَّصِلَة بالأعضاء الى نَحْو جِهَة المبدأ أَو ترخيها فَتَصِير الأوطار والرباطات الى خلاف جِهَة المبدأ وَهَذِه الْقُوَّة هِيَ الَّتِي يعبر عَنْهَا بِالْقُدْرَةِ والباعثة هِيَ الْإِرَادَة

وتحرير هَذَا هُوَ أَن كل فعل اخْتِيَاري يدْخل فِي الْوُجُود فَلَا يدْخل مَا لم يَأْتِ إِلَيْهِ رَسُول الْقُدْرَة وَهُوَ ذَلِك الْمَعْنى الْمُودع فِي العضلات وَالْقُدْرَة لَا تنبعث من وطنها ومكامنها بل كَأَنَّهَا فِي دعة ورفاهية مَا لم يَأْتِ اليها رَسُول الْإِرَادَة
প্রাণজ শক্তিসমূহ

 

প্রাণজ শক্তিসমূহ চালিকাশক্তি এবং সংবেদনশীল শক্তি—এই দুই ভাগে বিভক্ত। আর চালিকাশক্তি হয় কাজের জন্য উদ্বুদ্ধকারী হিসেবে থাকে, অথবা কাজের সরাসরি সম্পাদনকারী হিসেবে থাকে। উদ্বুদ্ধকারী শক্তি আবার হয় কল্যাণ অর্জনের জন্য, অথবা ক্ষতি দূর করার জন্য। কল্যাণ অর্জনের জন্য উদ্বুদ্ধকারী শক্তিকে ‘কামনা’ বলা হয়। যখন কল্পনায় এমন কোনো বিষয় বা অর্থ অঙ্কিত হয় যা কল্যাণকর বলে জানা যায় অথবা মনে করা হয়, তখন এই শক্তি সেই কল্যাণ অর্জনের জন্য সম্পাদনকারী শক্তিকে উদ্বুদ্ধ করে।

আর ক্ষতি দূর করার জন্য উদ্বুদ্ধকারী শক্তিকে ‘ক্রোধ’ বলা হয়। এটি এমন এক শক্তি যা কল্পনায় ক্ষতিকারক বা কষ্টদায়ক কোনো বিষয় প্রতিভাত হলে তাকে প্রতিহত করার জন্য এবং প্রতিশোধ ও বিজয় লাভের উদ্দেশ্যে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সঞ্চালনে উদ্বুদ্ধ করে।

আর সরাসরি সম্পাদনকারী হিসেবে চালিকাশক্তি হলো এমন এক শক্তি যা স্নায়ু ও পেশীসমূহে বিচ্ছুরিত হয়। এর কাজ হলো পেশীগুলোকে সংকুচিত করা, যার ফলে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সাথে যুক্ত রগ ও তন্তুগুলো মূল কেন্দ্রের দিকে সংকুচিত হয় অথবা শিথিল হয়ে যায়, যার ফলে রগ ও তন্তুগুলো মূল কেন্দ্রের বিপরীত দিকে চলে যায়। এই শক্তিকেই ‘ক্ষমতা’ বলা হয় এবং এর উদ্বুদ্ধকারী হলো ‘ইচ্ছা’।

এর ব্যাখ্যা হলো এই যে, অস্তিত্ব লাভকারী প্রতিটি ইচ্ছাধীন কাজ ততক্ষণ পর্যন্ত বাস্তবে রূপ নেয় না, যতক্ষণ না ‘ক্ষমতার দূত’ তার কাছে পৌঁছায়। আর তা হলো পেশীসমূহের মধ্যে গচ্ছিত সেই বিশেষ শক্তি। এই ক্ষমতা তার মূল আধার ও সুপ্তাবস্থা থেকে ততক্ষণ বিচ্ছুরিত হয় না—বরং তা যেন প্রশান্তি ও স্বাচ্ছন্দ্যে থাকে—যতক্ষণ না তার নিকট ‘ইচ্ছার দূত’ আগমন করে।
(খণ্ড: ১) মাআরিজুল কুদসি ফী মাদারিজ মা’রিফাতিন নাফসি (পৃষ্ঠা: ৩৮)
أما إِرَادَة جذب النَّفْع أَو ازالة الْأَذَى وَالدَّفْع والارادة لَا تنتهض من مَكَانهَا وَلَا تخرج من مكامنها مَا لم يَأْتِ اليها رَسُول الْعلم فاذا أَتَى وَجزم الحكم انبعثت الْإِرَادَة وَلَا تَجِد بدا من الانقياد والاذعان وَإِذا جزمت الارادة الحكم انبعثت الْقُدْرَة لتحريك الْأَعْضَاء فَلَا تَجِد محيصا وخلاصا من الِامْتِثَال والارتسام بِمُوجب رسمها واذا جزمت الْقُدْرَة الحكم تحركت الْأَعْضَاء بِحَيْثُ لَا تَجِد محيصا من الْحَرَكَة فَمَا دَامَ رَسُول الْعلم مترددا تكون الْإِرَادَة مترددة وَمَا دَامَت الْإِرَادَة مترددة تكون الْقُدْرَة مترددة وَمَا دَامَت الْقُدْرَة مترددة فالأفعال لَا تدخل فِي الْوُجُود وَلَا تظهر على الْأَعْضَاء فاذا اتَّصل الحكم الْجَزْم وجدت الْأَفْعَال زِيَادَة تَحْقِيق

اعْلَم أَن الْحَرَكَة الاختيارية الَّتِي هِيَ خاصية الْحَيَوَان لَهَا مبدأ ووسط وَكَمَال

أما المبدأ فحاجة النَّاقِص الى الْكَمَال واشتياق الطَّالِب

وَأما الْكَمَال فنيل الْمَطْلُوب وَبَينهمَا وسط وَهُوَ السلوك الطلبي فالحركات الاختيارية الَّتِي للحيوان هِيَ حركات مكانية فعلية الى جِهَات مُخْتَلفَة عَن علم وشعور وَطلب بِخِلَاف حركات النَّبَات فَإِنَّهَا لما كَانَت غير اختيارية تَوَجَّهت الى جِهَات مُخْتَلفَة من غير علم وشعور وَطلب للخير وحركاتها تكون حَرَكَة النمو والذبول والحركات الاختيارية للانسان حركات فكرية وحركات قولية وحركات فعلية وَإِنَّمَا جِهَات اختلافها بِخِلَاف حركات الْحَيَوَان فَإِنَّهَا عدمت قسمَيْنِ مِنْهَا وَهِي الفكرية والقولية وَالْحَرَكَة النباتية احْتَاجَت الى حسن تعهد وتشذيب حَتَّى تصل الى كمالها الْمَطْلُوب وَهُوَ الثَّمَرَة وتوليد الْمثل

أما الثَّمَرَة فللانتفاع بشخصه وَأما توليد الْمثل فللانتفاع بنوعه فَلَا يَخْلُو وجوده فِي الْكَوْن عَن نفع جزئي بشخصه وَعَن نفع كلي بنوعه

وَالْحَرَكَة الحيوانية احْتَاجَت أَيْضا إِلَى حسن رِعَايَة وتسخير حَتَّى تصل الى
আর কল্যাণ আহরণ অথবা অনিষ্ট দূরীকরণ ও প্রতিহত করার যে ইচ্ছা, সেই ইচ্ছা ততক্ষণ পর্যন্ত আপন স্থান থেকে জেগে ওঠে না এবং আপন গুপ্তস্থান থেকে বের হয় না, যতক্ষণ না তার কাছে জ্ঞানের দূত আগমন করে। যখন জ্ঞানের দূত আসে এবং ফয়সালা চূড়ান্ত হয়, তখন ইচ্ছা জাগ্রত হয় এবং তা আনুগত্য ও আত্মসমর্পণে বাধ্য হয়ে পড়ে। আর যখন ইচ্ছা ফয়সালাটি চূড়ান্ত করে দেয়, তখন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ পরিচালনার জন্য ক্ষমতা জাগ্রত হয়। তখন অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলো সেই ইচ্ছার নকশা অনুযায়ী আদেশ পালন ও অনুসরণে কোনো বিকল্প পথ খুঁজে পায় না। আর যখন ক্ষমতা ফয়সালা চূড়ান্ত করে, তখন অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলো এমনভাবে আন্দোলিত হয় যে তাদের নড়াচড়া করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না। সুতরাং যতক্ষণ জ্ঞানের দূত দোদুল্যমান থাকে, ইচ্ছাও দোদুল্যমান থাকে। আর যতক্ষণ ইচ্ছা দোদুল্যমান থাকে, ক্ষমতাও দোদুল্যমান থাকে। আর যতক্ষণ ক্ষমতা দোদুল্যমান থাকে, ততক্ষণ কাজগুলো অস্তিত্ব লাভ করে না এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গে প্রকাশ পায় না। যখন চূড়ান্ত ফয়সালা যুক্ত হয়, তখন কাজগুলো পূর্ণরূপে বাস্তবে রূপ লাভ করে।

জেনে রাখুন, ঐচ্ছিক গতি বা নড়াচড়া—যা প্রাণীর বৈশিষ্ট্য—তার একটি শুরু, একটি মধ্যভাগ এবং একটি পূর্ণতা রয়েছে।

শুরু হলো অপূর্ণের পূর্ণতা লাভের প্রয়োজনীয়তা এবং অন্বেষণকারীর আকাঙ্ক্ষা।

আর পূর্ণতা হলো উদ্দেশ্য লাভ করা। এই দুইয়ের মাঝে একটি মধ্যবর্তী অবস্থা রয়েছে, যা হলো অন্বেষণমূলক পথচলা। প্রাণীর ঐচ্ছিক গতিবিধি হলো জ্ঞান, চেতনা ও অন্বেষণের ভিত্তিতে বিভিন্ন দিকে স্থানিক ও বাস্তব নড়াচড়া। পক্ষান্তরে উদ্ভিদের গতিবিধি এর বিপরীত; যেহেতু তা অনৈচ্ছিক, তাই তা জ্ঞান, চেতনা ও কল্যাণ অন্বেষণ ছাড়াই বিভিন্ন দিকে ধাবিত হয়। উদ্ভিদের গতিবিধি হলো বৃদ্ধি পাওয়া ও শুকিয়ে যাওয়ার গতি। আর মানুষের ঐচ্ছিক গতিবিধি হলো চিন্তামূলক গতি, বাচনিক গতি এবং কার্যমূলক গতি। তবে মানুষের গতির বৈচিত্র্যের দিকগুলো প্রাণীর গতির চেয়ে ভিন্ন, কারণ প্রাণীদের মধ্যে প্রথম দুই প্রকার গতির (চিন্তামূলক ও বাচনিক) অভাব রয়েছে। উদ্ভিদের গতির জন্য উত্তম তত্ত্বাবধান ও ছাঁটাইয়ের প্রয়োজন হয়, যাতে তা তার কাঙ্ক্ষিত পূর্ণতা অর্থাৎ ফল দান ও বংশবৃদ্ধিতে পৌঁছাতে পারে।

ফল হলো ব্যক্তিবিশেষের উপকারের জন্য, আর বংশবৃদ্ধি হলো প্রজাতির উপকারের জন্য। সুতরাং মহাবিশ্বে তার অস্তিত্ব ব্যক্তিগত আংশিক উপকার এবং জাতিগত সামগ্রিক উপকার থেকে শূন্য নয়।

আর প্রাণীর গতিবিধির জন্যও উত্তম রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার প্রয়োজন হয়, যাতে তা পৌঁছাতে পারে...
(খণ্ড: ১) মাআরিজুল কুদসি ফী মাদারিজ মা’রিফাতিন নাফসি (পৃষ্ঠা: ৩৯)
كمالها الْمَطْلُوب وَهُوَ الِانْتِفَاع بشخصه حملا وركوبا وأكلا وحراثة وَالِانْتِفَاع بنوعه سوما وتوليدا وانتاجا فَلَا يَخْلُو وجوده فِي الْكَوْن عَن نفع جزئي بشخصه وَعَن نفع كلي بنوعه

وَأما الْحَرَكَة الانسانية فاحتاجت الى حسن عناية وتكليف بتأييد وتسديد وتعريف فان الْحَرَكَة الفكرية يدخلهَا حق وباطل فَيجب أَن يخْتَار الْحق دون الْبَاطِل والحركات القولية يدخلهَا صدق وَكذب فَيجب أَن يخْتَار الصدْق دون الْكَذِب والحركات الفعلية يدخلهَا خير وَشر وَيجب أَن يخْتَار الْخَيْر دون الشَّرّ وَلنْ يتَحَقَّق هَذَا الِاخْتِيَار إِلَّا من تأييد وتسديد وتعريف

فَأَما التأييد فَيظْهر أَثَره فِي الْأَفْعَال حَتَّى يخْتَار من الحركات الفعلية الْخَيْر وَيتْرك الشَّرّ وَأما التسديد فَيظْهر أَثَره فِي الْأَقْوَال حَتَّى يخْتَار من الحركات القولية الصدْق وَيتْرك الْكَذِب واما التَّعْرِيف فَيظْهر اثره فِي الأفكار حَتَّى يخْتَار من الحركات الفكرية الْحق وَيتْرك الْبَاطِل

وَإِنَّمَا هَذِه الْمَرَاتِب الثَّلَاثَة مقدرَة على الْمَرَاتِب الثَّلَاثَة العلوية الَّتِي يعبر عَنْهَا تَارَة بِالْمَلَائِكَةِ المؤيدين وَتارَة بالجدود الروحانيين وَتارَة بالحروف والكلمات فِي عليين وكما أَن الحركات النباتية احْتَاجَت إِلَى تشذيب والحركات الحيوانية إِلَى تَهْذِيب كَذَلِك احْتَاجَت الحركات الانسانية إِلَى تَأْدِيب

وَمن صفت اختياراته فِي حركاته الثَّلَاث عَن شَائِبَة الْبَاطِل وَالْكذب وَالشَّر من كل وَجه فَهُوَ الَّذِي يحِق لَهُ أَن يَقُول أدبني رَبِّي فَأحْسن تأديبي وَهُوَ الَّذِي يسْتَحق أَن يُؤَدب غَيره ويهذب ويزكي ويطهر وَيعلم وَيذكر لقَوْله تَعَالَى {كَمَا أرسلنَا فِيكُم رَسُولا مِنْكُم يَتْلُو عَلَيْكُم آيَاتنَا ويزكيكم ويعلمكم الْكتاب وَالْحكمَة ويعلمكم مَا لم تَكُونُوا تعلمُونَ}
এর কাঙ্ক্ষিত পূর্ণতা হলো এর ব্যক্তিবিশেষের মাধ্যমে ভার বহন, আরোহণ, আহার এবং চাষাবাদের দ্বারা উপকৃত হওয়া; এবং এর প্রজাতির মাধ্যমে চারণ, প্রজনন ও উৎপাদনের দ্বারা উপকৃত হওয়া। সুতরাং মহাবিশ্বে এর অস্তিত্ব এর ব্যক্তিবিশেষের মাধ্যমে আংশিক উপকার এবং এর প্রজাতির মাধ্যমে সামগ্রিক উপকার থেকে মুক্ত নয়।

আর মানবীয় কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে প্রয়োজন সুন্দর যত্ন এবং ঐশ্বরিক সমর্থন, সঠিক পথে পরিচালনা ও পরিচিতিকরণ সম্বলিত দায়বদ্ধতা। কেননা, চিন্তাগত কর্মকাণ্ডে সত্য ও মিথ্যা উভয়ই প্রবেশ করে; তাই মিথ্যার পরিবর্তে সত্যকে বেছে নেওয়া আবশ্যক। বাচনিক কর্মকাণ্ডে সত্য ও মিথ্যা উভয়ই প্রবেশ করে; তাই মিথ্যার পরিবর্তে সত্যবাদিতাকে বেছে নেওয়া আবশ্যক। আর কর্মগত কর্মকাণ্ডে কল্যাণ ও অকল্যাণ উভয়ই প্রবেশ করে; তাই অকল্যাণের পরিবর্তে কল্যাণকে বেছে নেওয়া আবশ্যক। আর এই নির্বাচন ঐশ্বরিক সমর্থন, সঠিক পথে পরিচালনা এবং পরিচিতিকরণ ব্যতীত বাস্তবায়িত হওয়া সম্ভব নয়।

ঐশ্বরিক সমর্থনের প্রভাব কার্যাবলীর ক্ষেত্রে প্রকাশ পায়, যাতে কর্মগত কর্মকাণ্ড থেকে কল্যাণকে গ্রহণ এবং অকল্যাণকে বর্জন করা যায়। সঠিক পথে পরিচালনার প্রভাব কথার ক্ষেত্রে প্রকাশ পায়, যাতে বাচনিক কর্মকাণ্ড থেকে সত্যকে গ্রহণ এবং মিথ্যাকে বর্জন করা যায়। আর পরিচিতিকরণের প্রভাব চিন্তার ক্ষেত্রে প্রকাশ পায়, যাতে চিন্তাগত কর্মকাণ্ড থেকে সত্যকে গ্রহণ এবং মিথ্যাকে বর্জন করা যায়।

এই তিনটি স্তর মূলত তিনটি ঊর্ধ্বজাগতিক স্তরের অনুরূপ; যাকে কখনো সমর্থনকারী ফেরেশতাবৃন্দ, কখনো আধ্যাত্মিক মূলসত্তা এবং কখনো ইল্লিয়্যিনের অক্ষর ও শব্দাবলি দ্বারা ব্যক্ত করা হয়। আর যেভাবে উদ্ভিদের বৃদ্ধিতে ছাঁটাইয়ের প্রয়োজন হয় এবং প্রাণীদের আচরণে সংস্কারের প্রয়োজন হয়, তেমনিভাবে মানুষের কর্মকাণ্ডে শিষ্টাচার শিক্ষার প্রয়োজন হয়।

যার তিন প্রকার কর্মকাণ্ডের নির্বাচন সর্বতোভাবে বাতিল, মিথ্যা ও মন্দের কালিমা থেকে মুক্ত হয়েছে, তিনিই এ কথা বলার প্রকৃত হকদার যে, 'আমার প্রতিপালক আমাকে শিষ্টাচার শিখিয়েছেন এবং অত্যন্ত উত্তমরূপে শিখিয়েছেন'। আর তিনিই অন্যকে শিষ্টাচার শিক্ষা দিতে, সংস্কার করতে, পবিত্র করতে, পরিশুদ্ধ করতে, শিক্ষা দিতে এবং উপদেশ দিতে সক্ষম। কারণ মহান আল্লাহর বাণী: 'যেমন আমি তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের নিকট একজন রসূল পাঠিয়েছি, যে তোমাদের নিকট আমার আয়াতসমূহ পাঠ করে এবং তোমাদের পবিত্র করে এবং তোমাদের কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেয় এবং তোমাদের এমন কিছু শিক্ষা দেয় যা তোমরা জানতে না।'
(খণ্ড: ১) মাআরিজুল কুদসি ফী মাদারিজ মা’রিফাতিন নাফসি (পৃষ্ঠা: ৪১)
‌‌القوى المدركة

 

وَهِي منقسمة بِالْقِسْمَةِ الأولى قسمَيْنِ مدركة من ظَاهر ومدركة من بَاطِن والمدركة من الظَّاهِر تَنْقَسِم خَمْسَة أَقسَام وَهِي الْحَواس الْخمس فنذكرها وَنَذْكُر كَيْفيَّة تأديتها الى الْحس الْمُشْتَرك

اعْلَم أَن أول الْحَواس اتِّصَالًا بِالْحَيَوَانِ وأعمها لجَمِيع الْحَيَوَانَات وأسراها فِي بدن الْحَيَوَان هِيَ حاسة اللَّمْس وَهِي قُوَّة مبثوثة فِي جَمِيع بشرات الْحَيَوَان ولحمه وعرقه وعصبه يدْرك بهَا الْحَرَارَة والبرودة والرطوبة واليبوسة والصلابة والرخاوة واللين والخشونة والخفة والثقل وَالْحَامِل لَهَا جسم لطيف فِي شباك العصب يُسمى روحا ويستمد من الْقلب والدماغ وَشرط ادراكه أَن يَسْتَحِيل كَيْفيَّة الْبشرَة إِلَى ضد الْمدْرك من الْحَرَارَة والبرودة وَغَيرهمَا حَتَّى يصير مدْركا وَلذَلِك لَا يدْرك إِلَّا ماهو أبرد مِنْهُ أَو أسخن أَو أخشن أَو أَلين والمثل قَلما يدْرك والمدركات مُخْتَلفَة وَهِي مَعَ اختلافها تستند الى مدرك وَاحِد وَعند قوم قُوَّة اللَّمْس جنس لأربعة أَنْوَاع من القوى إِحْدَاهَا حاكمة فِي التضاد بَين الْحَار والبارد وَالثَّانيَِة حاكمة فِي التضاد بَين الرطب واليابس وَالثَّالِثَة حاكمة فِي التضاد بَين الصلب واللين وَالرَّابِعَة حاكمة فِي التضاد بَين الخشن والأملس وَرُبمَا يزِيدُونَ على ذَلِك وَهِي الطليعة الأولى للنَّفس وَلَا يَخْلُو جُزْء
উপলব্ধি সক্ষম শক্তিসমূহ

 

এগুলো প্রাথমিক বিভাজন অনুযায়ী দুই প্রকার: বাহ্যিক উপলব্ধি সক্ষম শক্তি এবং অভ্যন্তরীণ উপলব্ধি সক্ষম শক্তি। বাহ্যিক উপলব্ধি সক্ষম শক্তি পাঁচটি ভাগে বিভক্ত, যা হলো পঞ্চেন্দ্রিয়। আমরা এগুলো সম্পর্কে এবং এগুলো কীভাবে সাধারণ সংবেদনশীলতায় (আল-হিস আল-মুশতারাক) তথ্য পৌঁছে দেয় সে সম্পর্কে আলোচনা করব।

জেনে রাখুন, প্রাণীর সাথে সংশ্লিষ্ট প্রথম ইন্দ্রিয় এবং যা সকল প্রাণীর জন্য সবচেয়ে সাধারণ এবং প্রাণীর দেহে সবচেয়ে বেশি ব্যাপ্ত, তা হলো স্পর্শেন্দ্রিয়। এটি এমন এক শক্তি যা প্রাণীর সমস্ত ত্বক, মাংস, শিরা এবং স্নায়ুতে ছড়িয়ে আছে। এর মাধ্যমে তাপ, শৈত্য, আর্দ্রতা, শুষ্কতা, কঠোরতা, শিথিলতা, কোমলতা, রুক্ষতা, লঘুতা এবং ভার অনুভূত হয়। এর বাহক হলো স্নায়ুজালে অবস্থিত এক সূক্ষ্ম দেহ যাকে রূহ বলা হয় এবং যা হৃৎপিণ্ড ও মস্তিষ্ক থেকে শক্তি গ্রহণ করে। এর উপলব্ধির শর্ত হলো ত্বকের গুণাগুণকে অনুভূত বিষয়ের বিপরীত গুণাগুণে (যেমন তাপ, শৈত্য ইত্যাদি) রূপান্তরিত হতে হয়, যাতে তা অনুভূত হয়। এই কারণেই এটি কেবল তার চেয়ে অধিক শীতল, অধিক তপ্ত, অধিক রুক্ষ বা অধিক নরম বিষয়কেই অনুভব করতে পারে; সমগুণসম্পন্ন বিষয় খুব কমই অনুভূত হয়। অনুভূত বিষয়গুলো ভিন্ন ভিন্ন হলেও এই ভিন্নতা সত্ত্বেও তারা একটি মাত্র উপলব্ধিকারীর ওপর নির্ভর করে। কারো কারো মতে, স্পর্শ শক্তি হলো চার প্রকার শক্তির একটি মূল শ্রেণী। এর মধ্যে একটি গরম ও ঠান্ডার মধ্যকার বৈপরীত্য বিচার করে; দ্বিতীয়টি আর্দ্র ও শুষ্কতার মধ্যকার বৈপরীত্য বিচার করে; তৃতীয়টি শক্ত ও নরমের মধ্যকার বৈপরীত্য বিচার করে এবং চতুর্থটি রুক্ষ ও মসৃণতার মধ্যকার বৈপরীত্য বিচার করে। কখনো কখনো তারা এর চেয়েও বেশি উল্লেখ করেন। এটি হলো আত্মার প্রথম অগ্রবর্তী দল এবং দেহের কোনো অংশই [এ থেকে] শূন্য নয়...
(খণ্ড: ১) মাআরিজুল কুদসি ফী মাদারিজ মা’রিফাতিন নাফসি (পৃষ্ঠা: ৪২)
من الْبشرَة عَن قُوَّة اللَّمْس وَلَا يُوجد حَيَوَان إِلَّا وَفِيه قُوَّة اللَّمْس

وَالْحكمَة فِي الْقُوَّة اللمسية هِيَ أَن الْحِكْمَة الإلهية لما اقْتَضَت أَن يكون حَيَوَان يَتَحَرَّك بالارادة مركبا من العناصر وَكَانَ لَا يُؤمن عَلَيْهِ اضرار الْأَمْكِنَة المتعاقبة عَلَيْهِ عِنْد الْحَرَكَة أيد بِالْقُوَّةِ اللمسية حَتَّى يهرب بهَا من الْمَكَان الْغَيْر الملائم ويقصد بهَا الْمَكَان الملائم

ثمَّ يَليهَا من الْحَواس حاسة الشم وَلما كَانَ مثله من الْحَيَوَانَات لَا تَسْتَغْنِي جبلته عَن التغذي وَكَانَ اكتسابه للغذاء بِتَصَرُّف ارادي وَكَانَ من الْأَطْعِمَة مَا لَا يُوَافقهُ وَمِنْهَا مَا يُوَافقهُ أيد بِالْقُوَّةِ الشمية اذا كَانَت الروائح تدل الْحَيَوَان على الأغذية الملائمة دلَالَة قَوِيَّة

وحاسة الشم قُوَّة مبثوثة فِي زائدتي الدِّمَاغ كحلمتي الثدي وَيدْرك بهَا الروائح الْمُخْتَلفَة الطّيبَة مِنْهَا والكريهة وَالْحَامِل لَهَا أَيْضا جسم لطيف فِي الحلمتين والممد لَهَا الْهَوَاء اللَّطِيف لَا على أَنه ينْقل الرَّائِحَة من المتروح إِلَى الحاسة فَقَط بل على أَنه يَسْتَحِيل إِلَيْهِ بالمجاورة كَمَا يَسْتَحِيل بمجاورة النَّار والمبرد والهواء بلطافته أسْرع قبولا للروائح مِنْهُ للحرارة والبرودة وَهَذِه الْقُوَّة فِي الْحَيَوَانَات أَشد وَأكْثر وَأول مَا يتَّصل بالجنين بعد قُوَّة اللَّمْس هُوَ قُوَّة الشم وَلِهَذَا تحفظ الْأُم عَن الروائح الكريهة وَأَن لاتشم شَيْئا من المطعومات إِلَّا أَكلته حَتَّى لَا يظْهر خلل فِي الْجَنِين وَقد يظنّ أَن النملة تحس بحس الشم حبا من الْحُبُوب فَتخرج من الْبَيْت فتطلبه وَتصل اليه وان كَانَ من وَرَاء جِدَار وَلَيْسَ ذَلِك شما مُجَردا بل هُوَ حس وَقُوَّة فِي حس وَكَيف لَا وَالْمَطْلُوب رُبمَا لَا تكون لَهُ رَائِحَة وَقد يعبر كثيرا عَن الْحس بالشم وَفِي الْخَبَر الْأَرْوَاح جنود مجندة تشام كَمَا تشام الْخَيل فَمَا تعارف مِنْهَا ائتلف وَمَا تناكر مِنْهَا اخْتلف وَإِنَّمَا المُرَاد بالتشام الاحساس

اما حاسة الذَّوْق فَهِيَ أَيْضا طَلِيعَة تعرف الطعوم الْمُوَافقَة والمنافية وَهِي قُوَّة
চামড়া থেকে স্পর্শশক্তির মাধ্যমে এবং এমন কোনো প্রাণী নেই যার মধ্যে স্পর্শশক্তি নেই।

স্পর্শশক্তির হিকমত বা রহস্য হলো এই যে, যখন ঐশী প্রজ্ঞা বা মহান আল্লাহর হিকমত দাবি করল যে, এমন এক প্রাণী সৃষ্টি হবে যা নিজ ইচ্ছায় নড়াচড়া করবে এবং যা মৌলিক উপাদানসমূহ দ্বারা গঠিত হবে, আর নড়াচড়ার সময় ক্রমাগত বিভিন্ন স্থানের ক্ষতি থেকে সে নিরাপদ ছিল না, তখন তাকে স্পর্শশক্তির মাধ্যমে সাহায্য করা হয়েছে যাতে এর দ্বারা সে অনুপযোগী স্থান থেকে পলায়ন করতে পারে এবং এর মাধ্যমে উপযোগী স্থানের সংকল্প করতে পারে।

এরপর ইন্দ্রিয়গুলোর মধ্য থেকে ঘ্রাণশক্তির স্থান। আর যেহেতু এই ধরণের প্রাণীদের প্রকৃতি খাদ্য গ্রহণ ছাড়া অচল এবং তার খাদ্য অন্বেষণ হয় ইচ্ছামূলক প্রচেষ্টার মাধ্যমে, আর খাবারসমূহের মধ্যে এমন কিছু আছে যা তার প্রতিকূল এবং এমন কিছু আছে যা তার অনুকূল, তাই তাকে ঘ্রাণশক্তির মাধ্যমে সাহায্য করা হয়েছে; যেহেতু ঘ্রাণ প্রাণীকে তার উপযোগী খাদ্যের প্রতি অত্যন্ত জোরালোভাবে পথপ্রদর্শন করে।

ঘ্রাণশক্তি হলো মস্তিষ্কের বর্ধিত দুটি অংশে স্তনবৃন্তের ন্যায় ছড়িয়ে থাকা একটি শক্তি এবং এর মাধ্যমে সুগন্ধি ও দুর্গন্ধযুক্ত বিভিন্ন ঘ্রাণ উপলব্ধি করা যায়। এর বাহক হলো উক্ত অংশদ্বয়ে অবস্থিত একটি সূক্ষ্ম বস্তু এবং এর সহায়ক হলো সূক্ষ্ম বায়ু; তবে তা কেবল এই অর্থে নয় যে, এটি ঘ্রাণযুক্ত বস্তু থেকে ইন্দ্রিয় পর্যন্ত ঘ্রাণ স্থানান্তর করে, বরং এই অর্থে যে, সান্নিধ্যের কারণে এটি ঘ্রাণে রূপান্তরিত হয় যেমন আগুন ও শীতল বস্তুর সান্নিধ্যে বায়ু রূপান্তরিত হয়। আর বায়ু তার সূক্ষ্মতার কারণে তাপ ও শৈত্যের তুলনায় ঘ্রাণ গ্রহণে অধিক দ্রুতগতিসম্পন্ন। প্রাণীদের মধ্যে এই শক্তি অত্যন্ত তীব্র ও অধিক পরিমাণে থাকে। স্পর্শশক্তির পর ভ্রূণের সাথে সর্বপ্রথম যে শক্তিটি যুক্ত হয় তা হলো ঘ্রাণশক্তি। এজন্যই মাকে দুর্গন্ধযুক্ত ঘ্রাণ থেকে এবং কোনো খাদ্যবস্তুর ঘ্রাণ গ্রহণ করা থেকে (যা তিনি আহার করবেন না) রক্ষা করা হয়, যাতে ভ্রূণের মধ্যে কোনো ত্রুটি প্রকাশ না পায়। কখনও ধারণা করা হয় যে, পিপঁড়া ঘ্রাণশক্তির মাধ্যমে কোনো শস্যদানা অনুভব করে, ফলে সে গর্ত থেকে বের হয়ে তা অন্বেষণ করে এবং তার কাছে পৌঁছে যায়, যদিও তা দেয়ালের আড়ালে থাকে। এটি কেবল নিছক ঘ্রাণ গ্রহণ নয়, বরং এটি একটি অনুভূতি এবং অনুভূতির ভেতরের এক শক্তি। আর কেনই বা তা হবে না অথচ কাঙ্ক্ষিত বস্তুর হয়তো কোনো ঘ্রাণই নেই। অনেক সময় ঘ্রাণ গ্রহণের মাধ্যমে অনুভূতি প্রকাশ করা হয়। হাদীসে এসেছে: "রূহসমূহ সুসংবদ্ধ বাহিনীর মতো, তারা একে অপরকে আঘ্রাণ করে যেমন ঘোড়া একে অপরকে আঘ্রাণ করে; অতঃপর তাদের মধ্যে যাদের পরিচয় বা সাদৃশ্য ঘটে তারা ঐক্যবদ্ধ হয় আর যাদের মধ্যে বৈসাদৃশ্য ঘটে তারা বিচ্ছিন্ন থাকে।" এখানে আঘ্রাণ করা দ্বারা মূলত অনুভূতি বা উপলব্ধি করা উদ্দেশ্য।

আর স্বাদ গ্রহণের ইন্দ্রিয়ও একটি অগ্রবর্তী সেনানী স্বরূপ যা অনুকূল ও প্রতিকূল স্বাদসমূহ চিনিয়ে দেয়। আর তা হলো একটি শক্তি...
(খণ্ড: ১) মাআরিজুল কুদসি ফী মাদারিজ মা’রিফাতিন নাফসি (পৃষ্ঠা: ৪৩)
مرتبَة فِي العصب المفروش على جرم اللِّسَان تدْرك الطعوم المتحللة من الاجرام المماسة لَهَا المخالطة للرطوبة العذبة الَّتِي فِيهِ مُخَالطَة محيلة فانها تَأْخُذ طعم ذِي الطّعْم وتستحيل اليه وَرُبمَا تحيله اليها وَكلما اتَّصل الطّعْم بذلك العصب ادركه العصب وَهِي الَّتِي تتلو الشم وتتصل هَذِه الْقُوَّة بالجنين بعد قُوَّة الشم فتظهر فِيهِ عِنْد الْولادَة فيتحرك الْجَنِين ويحرك لِسَانه ويلعق نَفسه بِنَفسِهِ

اما حاسة الْبَصَر وَوجه مَنْفَعَتهَا فان الْحَيَوَان المتحرك بالارادة لما كَانَ تحركه إِلَى بعض الْمَوَاضِع كمواقد النيرَان وَعَن بعض الْمَوَاضِع كقلل الْجبَال وشطوط الْبحار رُبمَا يُؤَدِّي الى الاضرار بِهِ اوجبت الْعِنَايَة الإلهية اعطاء الْقُوَّة المبصرة فِي اكثر الْحَيَوَان وَهِي قُوَّة مرتبَة فِي الْعصبَة المجوفة تدْرك صُورَة مَا ينطبع فِي الرُّطُوبَة الجليدية من اشباح الْأَجْسَام ذَوَات اللَّوْن المتأدية فِي الْأَجْسَام الشفافة بِالْفِعْلِ الى سطوح الْأَجْسَام الصقيلة

وَلَا تظن أَنه ينْفَصل من المتلون شَيْء ويصل الى الْعين وَلَا أَن ينْفَصل من الْعين شُعَاع فيمتد الى المتلون لَكِن يحدث صُورَة فِي الصَّقِيل المستعد لقبُول الصُّورَة بِشَرْط الْمُقَابلَة المخصوصية وتوسط الشفاف فَإِذا حصلت الصُّورَة فِي الجليدية أفضت إِلَى الْعصبَة المجوفة الَّتِي فِيهَا روح هُوَ جسم لطيف مثل مَا تقع الصُّورَة على المَاء الراكد فيفضي الى ملتقى الأنبوبتين المتصلتين بالعينين فِي مُقَدّمَة الدِّمَاغ فيدرك الْحس الْمُشْتَرك من الصُّورَتَيْنِ المتحدتين صُورَة وَاحِدَة وَإِلَّا كَانَ يجب أَن يرى شَيْئَيْنِ إِذْ الصُّورَة فِي الجليدية صُورَتَانِ وَلما كَانَت الرُّطُوبَة الجليدية كروية وَالَّذِي يُقَابل من سطح الكرة انما يقابلها بالمركز على خطوط موهومة خَارِجَة من السَّطْح الى المركز فَحَيْثُمَا قربت الْمسَافَة بَين الرَّائِي والمرئي كَانَت الخطوط أَكثر والشكل المخروط مِنْهَا الى المركز أقصر والزاوية أكبر وحيثما بَعدت الْمسَافَة كَانَت الخطوط أقل والشكل المخروط مِنْهَا الى المركز أطول والزاوية اصغر وَذَلِكَ بِسَبَب رُؤْيَة الْبعيد صَغِيرا والقريب على هَيئته
এটি জিহ্বার মূল কাঠামোর উপর বিছানো স্নায়ুতে বিন্যস্ত। এটি এর স্পর্শে আসা বস্তুসমূহ থেকে বিগলিত স্বাদগুলো অনুভব করে, যা জিহ্বায় বিদ্যমান সুপেয় আর্দ্রতার সাথে এমনভাবে মিশে যায় যা স্বাদকে রূপান্তরিত করে। ফলে এটি স্বাদযুক্ত বস্তুর স্বাদ গ্রহণ করে এবং তাতে রূপান্তরিত হয়, আবার কখনো কখনো স্বাদযুক্ত বস্তুকে নিজের মাঝে রূপান্তরিত করে। যখনই স্বাদ সেই স্নায়ুর সংস্পর্শে আসে, স্নায়ু তা উপলব্ধি করে। এটি ঘ্রাণশক্তির পরেই অবস্থান করে। ঘ্রাণশক্তির পরে এই শক্তিটি ভ্রূণের সাথে যুক্ত হয় এবং জন্মের সময় তার মাঝে প্রকাশ পায়। ফলে নবজাতক নড়াচড়া করে, তার জিহ্বা নাড়ায় এবং নিজেকে নিজেই চাটতে থাকে।

আর দৃষ্টিশক্তি এবং এর উপযোগিতার দিক হলো এই যে, স্বেচ্ছায় চলাচলকারী প্রাণী যখন আগুনের কুণ্ডলীর মতো কোনো স্থানের দিকে যায়, কিংবা পাহাড়ের চূড়া ও সমুদ্রতীরবর্তী কোনো স্থান থেকে সরে আসে, যা অনেক সময় তার ক্ষতির কারণ হতে পারে, তখন ঐশী তত্ত্বাবধান অধিকাংশ প্রাণীকে দেখার শক্তি প্রদান করা আবশ্যক করেছে। এটি একটি শক্তি যা শূন্যগর্ভ স্নায়ুতে বিন্যস্ত। এটি হিমবৎ আর্দ্রতায় মুদ্রিত সেই প্রতিচ্ছবিগুলো অনুভব করে যা স্বচ্ছ বস্তুর মাধ্যমে প্রকৃতপক্ষে মসৃণ বস্তুর উপরিভাগে পৌঁছে আসা বর্ণিল বস্তুসমূহের ছায়া থেকে উৎপন্ন হয়।

আর আপনি মনে করবেন না যে, বর্ণিল বস্তু থেকে কোনো কিছু বিচ্ছিন্ন হয়ে চোখে পৌঁছায়, অথবা চোখ থেকে কোনো রশ্মি নির্গত হয়ে বর্ণিল বস্তুর দিকে প্রসারিত হয়। বরং নির্দিষ্টভাবে মুখোমুখি হওয়া এবং স্বচ্ছ মাধ্যমের উপস্থিতির শর্তে প্রতিচ্ছবি গ্রহণের জন্য প্রস্তুত মসৃণ বস্তুতে একটি প্রতিচ্ছবি তৈরি হয়। যখন হিমবৎ আর্দ্রতায় প্রতিচ্ছবিটি উৎপন্ন হয়, তখন তা সেই শূন্যগর্ভ স্নায়ুর দিকে প্রবাহিত হয় যার মধ্যে একটি 'রুহ' (প্রাণশক্তি) রয়েছে যা একটি সূক্ষ্ম দেহ সদৃশ—যেমন স্থির পানির উপর প্রতিচ্ছবি পড়ে—অতঃপর তা মস্তিষ্কের সম্মুখভাগে দুই চোখের সাথে যুক্ত দুটি নালীর মিলনস্থলে পৌঁছে। ফলে সাধারণ সংবেদনশীলতা দুটি অভিন্ন প্রতিচ্ছবি থেকে একটি একক প্রতিচ্ছবি উপলব্ধি করে। অন্যথায় দুটি বস্তু দেখা যেত, কারণ হিমবৎ আর্দ্রতায় প্রতিচ্ছবি দুটিই ছিল। যেহেতু হিমবৎ আর্দ্রতা গোলাকার এবং গোলকের উপরিভাগ কেবল কেন্দ্র বরাবর কাল্পনিক রেখার মাধ্যমেই মুখোমুখি হয় যা উপরিভাগ থেকে কেন্দ্রের দিকে নির্গত হয়, তাই যখনই দ্রষ্টা ও দৃশ্যমান বস্তুর মধ্যে দূরত্ব কমে যায়, রেখাগুলো বেশি হয় এবং কেন্দ্র পর্যন্ত গঠিত মোচাকৃতি ছোট হয় ও কোণ বড় হয়। আর যখনই দূরত্ব বেড়ে যায়, রেখাগুলো কম হয় এবং কেন্দ্র পর্যন্ত গঠিত মোচাকৃতি দীর্ঘ হয় ও কোণ ছোট হয়। আর এই কারণেই দূরের বস্তু ছোট এবং কাছের বস্তু তার নিজ আকৃতিতে দেখা যায়।
(খণ্ড: ১) মাআরিজুল কুদসি ফী মাদারিজ মা’রিফাতিন নাফসি (পৃষ্ঠা: ৪৪)
وَأما حاسة السّمع فَهِيَ قُوَّة مرتبَة فِي العصب المتفرق فِي سطح الصماخ تدْرك صُورَة مَا يتَأَدَّى اليه بتموج الْهَوَاء المنضغط من قرع أَو قلع انضغاطا بعنف يحدث مِنْهُ صَوت يتَأَدَّى الى الْهَوَاء المحصور الراكد فِي تجويف الصماخ ويحركه بشكل حركته فتماس الأمواج الْمُخْتَلفَة تِلْكَ الْعصبَة فتتأدى بهَا الى الْحس الْمُشْتَرك

وَقيل إِن تِلْكَ الْعصبَة مفروشة فِي أقْصَى الصماخ ممدودة مد الْجلد على الطبل إِلَّا أَنَّهَا على دقة نسج العنكبوت وصلابة الْجلد المدبوغ

وَقيل إِنَّهَا أعصاب كأوتار الْعود ممدودة فِي جَوَانِب الصماخ وتتحرك تِلْكَ الأوتار بتحرك الْهَوَاء الراكد فِيهِ فَيحصل مِنْهُ طنين وانما يَتَحَرَّك على تَرْتِيب تعاقب الْحُرُوف والأصوات واختلافها فِي الرّفْع والخفض والخفة والثقل والدقة والغلظ وكما أَن الضياء شَرط فِي الْأَبْصَار كَذَلِك الْهَوَاء فِي السّمع

والسمع انما يسمع من مُحِيط الدائرة وَالْبَصَر انما يبصر على خطّ مُسْتَقِيم على أَن تِلْكَ الخطوط المستقيمة تخرج من الْمُحِيط وَتصل الى المركز من الكرة المدورة حَتَّى ظن ظانون أَن تِلْكَ الخطوط أشعة منبعثة من الْبَصَر الى الْقَاعِدَة أَو صور مَقْبُوضَة من الْقَاعِدَة الى الْبَصَر وكلا الْوَجْهَيْنِ خطأ كَمَا ذَكرْنَاهُ

وَالْقُوَّة السامعة تلِي المبصرة فِي النَّفْع وَوجه مَنْفَعَتهَا أَن الْأَشْيَاء الضارة والنافعة قد يسْتَدلّ عَلَيْهَا بخاص أصواتها فأوجبت الْعِنَايَة الإلهية وضع الْقُوَّة السامعة فِي أَكثر الْحَيَوَان على أَن مَنْفَعَة هَذِه الْقُوَّة فِي النَّوْع النَّاطِق من الْحَيَوَان تكَاد تفوق الثَّلَاث

وَأما القوى المدركة من بَاطِن فتنقسم بِالْقِسْمَةِ الأولى ثَلَاثَة أَقسَام مِنْهَا مَا يدْرك وَلَا يحفظ وَمِنْهَا مَا يحفظ وَلَا يعقل وَمِنْهَا مَا يدْرك ويتصرف ثمَّ الْمدْرك إِمَّا أَن يدْرك الصُّورَة أَو الْمَعْنى والحافظ إِمَّا أَن يحفظ الصُّورَة أَو الْمَعْنى والمتصرف تَارَة يتَصَرَّف فِي الصُّورَة وَتارَة فِي الْمَعْنى والمدرك تَارَة
আর শ্রবণ ইন্দ্রিয় হলো কর্ণকুহরের উপরিভাগে বিন্যস্ত স্নায়ুর মধ্যে অবস্থানকারী একটি শক্তি, যা কোনো আঘাত বা আকর্ষণের ফলে প্রবলভাবে সংকুচিত বায়ুর তরঙ্গায়িত গতির মাধ্যমে তার কাছে পৌঁছানো বিষয়ের রূপকে উপলব্ধি করে। এই সংকোচনের ফলে একটি শব্দের উৎপত্তি হয়, যা কর্ণকুহরের ভেতরে আবদ্ধ ও স্থির বায়ু পর্যন্ত পৌঁছায় এবং একে নিজের গতির অনুরূপ গতিতে আন্দোলিত করে। অতঃপর বিভিন্ন তরঙ্গ সেই স্নায়ুকে স্পর্শ করে এবং এর মাধ্যমে তা সাধারণ সংবেদী শক্তিতে (আল-হিস আল-মুশতারাক) পরিবাহিত হয়।

বলা হয়ে থাকে যে, সেই স্নায়ুটি কর্ণকুহরের শেষ প্রান্তে বিছানো থাকে এবং ঢোলের ওপর চামড়া যেভাবে টানটান করে রাখা হয় সেভাবে প্রসারিত থাকে; তবে এটি মাকড়সার জালের মতো সূক্ষ্ম এবং প্রক্রিয়াজাত চামড়ার মতো শক্ত।

আরও বলা হয়ে থাকে যে, এগুলো হলো এক প্রকার স্নায়ু যা বাদ্যযন্ত্রের তারের মতো কর্ণকুহরের পার্শ্বদেশগুলোতে প্রসারিত থাকে। এর ভেতরের স্থির বায়ুর স্পন্দনের ফলে সেই তারগুলো আন্দোলিত হয় এবং তা থেকে অনুরণন সৃষ্টি হয়। এটি মূলত বর্ণের পর্যায়ক্রমিক বিন্যাস, শব্দ এবং উচ্চ-নীচ স্বর, লঘুতা-স্থূলতা ও সূক্ষ্মতা-কঠিনতার বৈচিত্র্য অনুযায়ী আন্দোলিত হয়। আর দৃষ্টিশক্তির জন্য আলো যেমন শর্ত, শ্রবণশক্তির জন্য বায়ুও ঠিক তেমনি একটি শর্ত।

শ্রবণশক্তি বৃত্তের পরিধি থেকে শুনে থাকে, আর দৃষ্টিশক্তি কেবল সরলরেখা বরাবর দেখে থাকে। সেই সরলরেখাগুলো মূলত পরিধি থেকে নির্গত হয়ে গোলকের কেন্দ্রে পৌঁছায়। এমনকি অনেক চিন্তাবিদ ধারণা করেছেন যে, এই রেখাগুলো হলো দৃষ্টিশক্তি থেকে বস্তুর দিকে উৎসারিত আলোক রশ্মি, অথবা বস্তু থেকে দৃষ্টিশক্তির দিকে আসা সংগৃহীত কোনো প্রতিচ্ছবি। তবে আমরা ইতিপূর্বে যেমনটি উল্লেখ করেছি, এই উভয় মতই ভুল।

উপযোগিতার দিক থেকে শ্রবণশক্তির অবস্থান চাক্ষুষ শক্তির পরেই। এর উপযোগিতার দিকটি হলো এই যে, ক্ষতিকারক ও কল্যাণকর বিষয়সমূহ অনেক সময় তাদের বিশেষ শব্দের মাধ্যমে শনাক্ত করা যায়। তাই ঐশী কৃপা অধিকাংশ প্রাণীর মধ্যে শ্রবণশক্তি স্থাপন করাকে আবশ্যক করেছে। তবে প্রাণিকুলের মধ্যে বাকশক্তি সম্পন্ন প্রজাতির (মানুষের) ক্ষেত্রে এই শক্তির উপযোগিতা অন্যান্য তিনটি থেকে প্রায় শ্রেষ্ঠত্বের পর্যায়ে।

আর অভ্যন্তরীণ উপলব্ধিগত শক্তিগুলো প্রাথমিক বিচারে তিন ভাগে বিভক্ত: এর মধ্যে কোনোটি উপলব্ধি করে কিন্তু সংরক্ষণ করে না; কোনোটি সংরক্ষণ করে কিন্তু অনুধাবন করে না; আবার কোনোটি উপলব্ধিও করে এবং তাতে সক্রিয়ভাবে কাজও করে। অতঃপর উপলব্ধিকারী শক্তি হয় রূপ (সুরাত) উপলব্ধি করে অথবা অর্থ (মা'না); সংরক্ষণকারী শক্তি হয় রূপ সংরক্ষণ করে অথবা অর্থ; আর পরিচালনাকারী শক্তি কখনো রূপের ওপর কাজ করে আবার কখনো অর্থের ওপর।
(খণ্ড: ১) মাআরিজুল কুদসি ফী মাদারিজ মা’রিফাতিন নাফসি (পৃষ্ঠা: ৪৫)
يكون لَهُ ادراك أولي من غير وَاسِطَة وَقد يكون لَهُ ادراك وَلَكِن بِوَاسِطَة مدرك آخر

وَالْفرق بَين الصُّورَة وَالْمعْنَى أَن الصُّورَة نعني بهَا فِي هَذَا الْمقَام مَا يُدْرِكهُ الْحس الظَّاهِر ثمَّ يُدْرِكهُ الْحس الْبَاطِن من غير أَن يكون للحس الظَّاهِر فِيهِ مدْخل فَهَذِهِ تقاسيم المدركات على الْجُمْلَة

أما تفصيلها وَبَيَان اثباتها ومحالها فالمدرك للصورة هُوَ الْحس الْمُشْتَرك وَيُسمى بنطاسيا وخازنة الخيال والمدرك للمعنى الْقُوَّة الوهمية وخازنها الحافظة والذاكرة وَالَّذِي يدْرك وَيعْقل هُوَ الْقُوَّة المتخيلة وَمَا لَا يعقل مَا ذَكرْنَاهُ من الْوَهم والحس

أما بَيَان اثباتها فَهُوَ بِحَسب الوجدان أما اثبات الْحس الْمُشْتَرك فَهُوَ أَنَّك تبصر الْقطر النَّازِل خطا مُسْتَقِيمًا والنقطة الدائرة بِسُرْعَة خطا مستديرا كُله على سَبِيل الْمُشَاهدَة لَا على سَبِيل التخيل وَلَو كَانَ الْمدْرك هُوَ الْبَصَر الظَّاهِر لَكَانَ يرى الْقطر كَمَا هُوَ عَلَيْهِ والنقطة كَمَا هِيَ عَلَيْهَا فانه لَا يدْرك إِلَّا الْمُقَابل النَّازِل وَذَلِكَ لَيْسَ بِخَط فَعلمنَا أَن ثمَّ قُوَّة أُخْرَى ارتسم فِيهَا هَيْئَة مَا رأى أَولا وَقبل ان تمحي تِلْكَ الْهَيْئَة لحقتها أُخْرَى واخرى فرآها خطا مُسْتَقِيمًا اَوْ خطا مستديرا وَالدَّلِيل عَلَيْهِ أَنه لَو اديرت النقطة لَا بِسُرْعَة لترى نقطا مُتَفَرِّقَة فعندك إِذا قُوَّة قبل الْبَصَر إِلَيْهَا يُؤَدِّي الْبَصَر مَا يُشَاهِدهُ وَعِنْدهَا تَجْتَمِع المحسوسات فتدركها وَكَذَلِكَ الانسان يحس من نَفسه انه اذا أبْصر شخصا اَوْ سمع كلَاما اِدَّرَكَ المبصر شخصا وَاحِدًا وادرك المسموع كلَاما وَاحِدًا وَمَا فِي الْعين عِنْده شخصان أَعنِي شبحين فِي الْعَينَيْنِ وكلامين فِي الْأُذُنَيْنِ فَعلم يَقِينا أَن مَحل الادراك أَمر وَرَاء الْعَينَيْنِ والأذنين فالقوة المدركة لَهما قُوَّة وَاحِدَة اجْتمعت عِنْدهَا الصورتان أَعنِي الشبحين فِي الْعَينَيْنِ على اتِّفَاقهمَا والمدركان أَعنِي المبصر والمسموع على اخْتِلَافهمَا فَتلك الْقُوَّة مجمع المتماثلات والمختلفات فسميناها الْحس الْمُشْتَرك إِذْ لَا
কখনো তার জন্য কোনো মাধ্যম ছাড়াই প্রাথমিক উপলব্ধি ঘটে, আবার কখনো অন্য কোনো উপলব্ধিকারীর মাধ্যমে উপলব্ধি ঘটে থাকে।

আকার এবং অর্থের মধ্যে পার্থক্য হলো, এই স্থানে আমরা আকার বলতে যা বুঝি তা হলো—যা বাহ্যিক ইন্দ্রিয় উপলব্ধি করে, অতঃপর তা অভ্যন্তরীণ ইন্দ্রিয় উপলব্ধি করে এমনভাবে যে তাতে বাহ্যিক ইন্দ্রিয়ের আর কোনো প্রবেশাধিকার থাকে না। এগুলোই হলো সামগ্রিকভাবে উপলব্ধিযোগ্য বিষয়সমূহের শ্রেণিবিন্যাস।

এগুলোর বিস্তারিত বিবরণ এবং তা সাব্যস্ত করা ও তাদের স্থানের বর্ণনা হলো—আকারের উপলব্ধিকারক হলো সাধারণ সংবেদন বা সাধারণ ইন্দ্রিয় (আল-হিস আল-মুশতারাক), যাকে ফ্যান্টাসিয়া এবং কল্পনার ভাণ্ডার বলা হয়। আর অর্থের উপলব্ধিকারক হলো অনুমান শক্তি (আল-কুওয়াতুল ওয়াহমিয়াহ), যার ভাণ্ডার হলো সংরক্ষণকারী ও স্মরণকারী শক্তি। যা কিছু উপলব্ধি করে ও অনুধাবন করে তা হলো কল্পনাপ্রসূত শক্তি (আল-কুওয়াতুল মুতাখাইয়িলাহ), আর যা অনুধাবন করে না তা হলো আমাদের উল্লিখিত অনুমান ও সংবেদন।

এগুলোর সাব্যস্তকরণের বর্ণনা অনুভূতির মাধ্যমে হয়। সাধারণ সংবেদনের সাব্যস্তকরণ হলো এই যে—আপনি পড়ন্ত বৃষ্টির ফোঁটাকে একটি সরল রেখা হিসেবে দেখেন এবং দ্রুত ঘূর্ণায়মান একটি বিন্দুকে বৃত্তাকার রেখা হিসেবে দেখেন। এই সব কিছুই চাক্ষুষ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ঘটে, নিছক কল্পনার মাধ্যমে নয়। যদি কেবল বাহ্যিক দৃষ্টিশক্তিই এর উপলব্ধিকারক হতো, তবে বৃষ্টির ফোঁটাকে তা যেমন আছে তেমনই দেখত এবং বিন্দুটিকেও তার আসল রূপেই দেখত। কারণ দৃষ্টিশক্তি কেবল ঠিক বিপরীতে থাকা পড়ন্ত বস্তুটিকে উপলব্ধি করতে পারে এবং সেটি কোনো রেখা নয়। সুতরাং আমরা জানতে পারলাম যে, সেখানে অন্য একটি শক্তি রয়েছে যাতে প্রথমে যা দেখা গেছে তার রূপটি অঙ্কিত হয়ে যায়, আর সেই রূপটি মুছে যাওয়ার আগেই পরের এবং তার পরের রূপটি তার সাথে এসে যুক্ত হয়, ফলে সে সেটিকে সরল রেখা বা বৃত্তাকার রেখা হিসেবে দেখতে পায়। এর প্রমাণ হলো—যদি বিন্দুটিকে দ্রুত না ঘুরিয়ে ধীরে ঘুরানো হতো, তবে তা বিচ্ছিন্ন বিন্দু হিসেবেই দেখা যেত। সুতরাং আপনার কাছে দৃষ্টিশক্তির আগে একটি শক্তি রয়েছে যার কাছে দৃষ্টিশক্তি তার পর্যবেক্ষণ পৌঁছে দেয় এবং সেখানে ইন্দ্রিয়জাত বিষয়গুলো একত্রিত হয় ও তা উপলব্ধি করে। তদ্রূপ মানুষ নিজের ভেতর অনুভব করে যে, সে যখন কোনো ব্যক্তিকে দেখে বা কোনো কথা শুনে, তখন সে পরিদৃষ্ট বস্তুটিকে একজন ব্যক্তি হিসেবেই উপলব্ধি করে এবং শ্রুত কথাকে একটি অখণ্ড কথা হিসেবেই পায়। অথচ তার চোখের মধ্যে তখন দুইজন ব্যক্তি থাকে, অর্থাৎ দুই চোখে দুটি অবয়ব এবং দুই কানে দুটি কথা থাকে। সুতরাং এটি নিশ্চিতভাবে জানা গেল যে, উপলব্ধির স্থানটি চোখ ও কানের বাইরে অন্য কিছু। ফলে উভয় বিষয়ের উপলব্ধিকারক শক্তিটি একটিই, যার কাছে চোখের দুটি আকার অর্থাৎ দুই চোখের দুটি প্রতিচ্ছবি তাদের অভিন্নতা সত্ত্বেও একত্রিত হয়, এবং যা দেখা যায় ও যা শোনা যায় সেই দুটি বিষয় তাদের ভিন্নতা সত্ত্বেও সেখানে মিলিত হয়। সুতরাং সেই শক্তিটি হলো সাদৃশ্যপূর্ণ ও বৈসাদৃশ্যপূর্ণ বিষয়সমূহের মিলনস্থল। তাই আমরা এর নাম দিয়েছি সাধারণ সংবেদন (আল-হিস আল-মুশতারাক), যেহেতু...
(খণ্ড: ১) মাআরিজুল কুদসি ফী মাদারিজ মা’রিফাতিন নাফসি (পৃষ্ঠা: ৪৬)
تكون النَّفس مدركة إِلَّا بِهَذِهِ الْقُوَّة وسميناها اللَّوْح إِذْ لَا تَجْتَمِع المحسوسات إِلَّا فِي هَذِه الْقُوَّة وَلَيْسَ لَهَا إِلَّا الادراك فَقَط وانما يكون الارتسام وَالْحِفْظ لقُوَّة اخرى وَمن خَواص هَذِه الْقُوَّة استحضار المحسوسات فِي الْحَواس أَولا ثمَّ إِدْرَاكهَا ثَانِيًا وَمن خواصها انها تدْرك الجزئيات الشخصية دون الكليات الْعَقْلِيَّة وَمن خواصها انها تحس باللذة والألم من المتخيلات كَمَا تحس بالألم واللذة من المحسوسات الظَّاهِرَة

وَأما بَيَان الْقُوَّة الخيالية فانا نعلم أَنا اذا رَأينَا شَيْئا وغبنا عَنهُ أَو غَابَ عَنَّا بقيت صورته فِينَا كأنا نشاهدها ونراها فَهِيَ تحفظ مثل المحسوسات بعد الغيبوبة وبهاتين القوتين يمكنك ان تحكم أَن هَذَا الطّعْم لغير صَاحب هَذَا الْكَوْن وان لصَاحب هَذَا الْكَوْن هَذَا الطّعْم فان القَاضِي بِهَذَيْنِ الْحكمَيْنِ لَا يُمكنهُ الْقَضَاء مالم يحضرهُ الْمقْضِي عَلَيْهِمَا

وَأما بَيَان الْقُوَّة الوهمية فان الْحَيَوَانَات ناطقها وَغير ناطقها تدْرك من الاشخاص الْجُزْئِيَّة المحسوسة مَعَاني جزئية غير محسوسة كَمَا تدْرك الشَّاة أَن هَذَا الذِّئْب عدوها والعداوة والمحبة غير محسوستين وتحكم عَلَيْهِمَا كَمَا تحكم على المحسوس فَعلمنَا ان هَذِه لقُوَّة اخرى وللقوة الوهمية فِي الانسان أَحْكَام خَاصَّة مِنْهَا حملهَا النَّفس ان تمنع وجود أَشْيَاء لَا تتخيل وَلَا ترتسم فِي الخيال مثل الْجَوَاهِر الْعَقْلِيَّة الَّتِي لَا تكون فِي حيّز وَمَكَان وَمِنْهَا اثبات الْخَلَاء محيطا بالعالم وَمِنْهَا مُوَافقَة المبرهن على تَسْلِيم الْمُقدمَات ثمَّ مُخَالفَته فِي النتيجة

وَقد قيل إِن الْقُوَّة الوهمية هِيَ الرئيسة الحاكمة فِي الْحَيَوَان حكما لَيْسَ فصلا كَالْحكمِ الْعقلِيّ وَلَكِن حكما تخيليا مَقْرُونا بالأشياء الْجُزْئِيَّة والصور الحسية
নফ্‌স বা আত্মা এই শক্তি ব্যতিরেকে উপলব্ধি করতে পারে না এবং আমরা একে 'লাওহ' (ফলক) নামে অভিহিত করেছি, কারণ এই শক্তিতেই সমস্ত ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয় একত্রিত হয়। এর কাজ কেবল উপলব্ধি করা মাত্র, আর প্রতিচ্ছবি অঙ্কন এবং সংরক্ষণ অন্য শক্তির কাজ। এই শক্তির একটি বৈশিষ্ট্য হলো, প্রথমে ইন্দ্রিয়গুলোতে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়গুলোকে উপস্থিত করা এবং দ্বিতীয়ত সেগুলোকে উপলব্ধি করা। এর আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো, এটি ব্যক্তিগত বিশেষত্ব বা আংশিক বিষয়গুলো উপলব্ধি করে, বুদ্ধিবৃত্তিক সামষ্টিক বিষয়গুলো নয়। এর আরও একটি বৈশিষ্ট্য হলো, এটি বাহ্যিক ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়গুলোর মতো কাল্পনিক বিষয়গুলো থেকেও আনন্দ ও বেদনা অনুভব করে।

আর কল্পনা শক্তির বর্ণনা হলো—আমরা জানি যে, যখন আমরা কোনো বস্তু দেখি এবং তারপর তা থেকে দূরে সরে যাই অথবা সেটি আমাদের থেকে আড়ালে চলে যায়, তখন তার রূপ বা অবয়ব আমাদের ভেতরে অবশিষ্ট থাকে, যেন আমরা তা সরাসরি অবলোকন করছি ও দেখছি। সুতরাং, এই শক্তিটি ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়ের অগোচরেও তার অনুরূপ বিষয়কে সংরক্ষণ করে। এই দুটি শক্তির মাধ্যমেই আপনি সিদ্ধান্ত নিতে পারেন যে, এই স্বাদটি এই অস্তিত্বের অধিকারীর নয়, অথবা এই অস্তিত্বের অধিকারীর স্বাদ এটিই। কেননা, এই দুটি সিদ্ধান্তের বিচারক ততক্ষণ পর্যন্ত বিচার করতে পারেন না, যতক্ষণ না বিচার্য বিষয় দুটি তার সামনে উপস্থিত হয়।

আর অনুমান শক্তির বর্ণনা হলো—প্রাণীকুল, চাই সে কথা বলা প্রাণী (মানুষ) হোক বা বাকহীন প্রাণী, ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য আংশিক ব্যক্তিসত্তার মধ্য থেকে এমন কিছু আংশিক অর্থ উপলব্ধি করে যা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য নয়। যেমন—একটি ভেড়া বুঝতে পারে যে এই নেকড়েটি তার শত্রু; অথচ শত্রুতা বা ভালোবাসা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য কোনো বিষয় নয়, কিন্তু সে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়ের মতো এগুলোর ওপরও সিদ্ধান্ত আরোপ করে। এতে আমরা জানতে পারলাম যে, এটি অন্য একটি শক্তি। মানুষের ক্ষেত্রে এই অনুমান শক্তির কিছু বিশেষ প্রভাব রয়েছে; তার মধ্যে একটি হলো, এটি নফ্‌সকে এমন জিনিসের অস্তিত্ব অস্বীকার করতে প্ররোচিত করে যা কল্পনা করা যায় না এবং কল্পনায় যার চিত্র অঙ্কিত হয় না, যেমন—বুদ্ধিবৃত্তিক সত্তাসমূহ যা কোনো স্থান বা সীমানার মধ্যে থাকে না। এর আরও একটি কাজ হলো, জগতকে পরিবেষ্টনকারী শূন্যতার প্রমাণ দেয়া এবং প্রমাণকারীর সাথে যুক্তির প্রাথমিক ধাপগুলো মেনে নেয়ার বিষয়ে একমত হওয়া, কিন্তু ফলাফলের ক্ষেত্রে তার বিরোধিতা করা।

বলা হয়ে থাকে যে, অনুমান শক্তিই হলো প্রাণীর প্রধান পরিচালক ও বিচারক; তবে এই বিচার বুদ্ধিবৃত্তিক সিদ্ধান্তের মতো অকাট্য নয়, বরং এটি আংশিক বিষয় ও ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য রূপের সাথে সংশ্লিষ্ট একটি কাল্পনিক সিদ্ধান্ত।