(খণ্ড: ১) মাহিয়্যাতুল আক্‌লি ওয়া মানাহু ওয়াখতিলাফুন নাসি ফীহি (পৃষ্ঠা: -)
ماهية العقل ومعناه واختلاف الناس فيه   (الحارث المحاسبي)

القسم: العقيدة


الكتاب: ماهية العقل ومعناه واختلاف الناس فيه

المؤلف: الحارث بن أسد المحاسبي، أبو عبد الله (ت 243هـ)

المحقق: حسين القوتلي

الناشر: دار الكندي , دار الفكر - بيروت

الطبعة: الثانية، 1398

عدد الصفحات: 238

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

বিবেকের স্বরূপ, এর অর্থ এবং এ বিষয়ে মানুষের মতভেদ   (আল-হারিস আল-মুহাসিবি)

বিভাগ: আকিদা


বই: বিবেকের স্বরূপ, এর অর্থ এবং এ বিষয়ে মানুষের মতভেদ

লেখক: আল-হারিস বিন আসাদ আল-মুহাসিবি، আবু আব্দুল্লাহ (মৃত্যু ২৪৩ হিজরি)

গবেষক: হুসাইন আল-কুওয়াতলি

প্রকাশক: দার আল-কিন্দি, দার আল-ফিকর - বৈরুত

সংস্করণ: দ্বিতীয়، ১৩৯৮

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৩৮

[বইয়ের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলার প্রকাশকাল: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মাহিয়্যাতুল আক্‌লি ওয়া মানাহু ওয়াখতিলাফুন নাসি ফীহি (পৃষ্ঠা: ২০১)
‌‌بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم

 

عونك اللَّهُمَّ

قَالَ أَبُو عبد الله الْحَارِث بن أَسد بن عبد الله المحاسبي الْبَصْرِيّ

رَحْمَة الله عَلَيْهِ

سَأَلت عَن الْعقل مَا هُوَ

وَإِنِّي أرجع إِلَيْك فِي اللُّغَة والمعقول من الْكتاب وَالسّنة وتراجع الْعلمَاء فِيمَا بَينهم بِالتَّسْمِيَةِ ثَلَاثَة مَعَاني

أَحدهَا هُوَ مَعْنَاهُ لَا معنى لَهُ غَيره فِي الْحَقِيقَة

والآخران اسمان جوزتهما الْعَرَب إِذْ كَانَا عَنهُ فعلا لَا يكونَانِ إِلَّا بِهِ وَمِنْه وَقد سَمَّاهَا الله تَعَالَى فِي كِتَابه وسمتها الْعلمَاء عقلا

فَأَما مَا هُوَ فِي الْمَعْنى فِي الْحَقِيقَة لَا غَيره فَهُوَ غريزة وَضعهَا
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

 

হে আল্লাহ, আপনার সাহায্য প্রার্থনা করছি

আবু আবদুল্লাহ আল-হারিস ইবনে আসাদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-মুহাসিবী আল-বসরী

আল্লাহর রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক

আপনি আকল (বুদ্ধি) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছেন যে তা আসলে কী।

আমি আপনার নিকট ভাষা এবং কিতাব ও সুন্নাহর যৌক্তিক বক্তব্য এবং ওলামায়ে কেরামের পারস্পরিক আলোচনার আলোকে নামকরণের ক্ষেত্রে তিনটি অর্থ ব্যক্ত করছি।

এর একটি হলো এর প্রকৃত অর্থ, যা ছাড়া বাস্তবে অন্য কোনো অর্থ নেই।

অন্য দুটি হলো এমন নাম যা আরবরা বৈধ রেখেছে, যেহেতু সেগুলো হলো আকল বা বুদ্ধিপ্রসূত কর্ম যা বুদ্ধি ছাড়া এবং তা থেকে উদ্ভূত হওয়া ছাড়া সংঘটিত হওয়া সম্ভব নয়। মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবে সেগুলোকে উল্লেখ করেছেন এবং আলেমগণ সেগুলোকে আকল হিসেবে নামকরণ করেছেন।

অতঃপর প্রকৃত অর্থে আকল বা বুদ্ধি যা অন্য কিছু নয়, তা হলো একটি সহজাত প্রবৃত্তি যা স্থাপন করা হয়েছে...
(খণ্ড: ১) মাহিয়্যাতুল আক্‌লি ওয়া মানাহু ওয়াখতিলাফুন নাসি ফীহি (পৃষ্ঠা: ২০৪)
فَهُوَ غريزة لَا يعرف إِلَّا بفعاله فِي الْقلب والجوارح لَا يقدر أحد أَن يصفه فِي نَفسه وَلَا فِي غَيره بِغَيْر أَفعاله

لَا يقدر أَن يصفه بجسمية وَلَا بطول وَلَا بِعرْض وَلَا طعم وَلَا شم وَلَا مجسة وَلَا لون وَلَا يعرف إِلَّا بأفعاله

وَقَالَ قوم من الْمُتَكَلِّمين هُوَ صفوة الرّوح أَي خَالص الرّوح

وَاحْتَجُّوا باللغة فَقَالُوا لب كل شَيْء خالصه فَمن أجل ذَلِك سمي الْعقل لبا وَقَالَ الله عز وجل {إِنَّمَا يتَذَكَّر أولُوا الْأَلْبَاب} يَعْنِي أولي الْعُقُول

وَلَا نقُول ذَلِك إِذا لم نجد فِيهِ كتابا مسطورا وَلَا حَدِيثا مأثورا

وَقَالَ قوم هُوَ نور وَضعه الله طبعا وغريزة يبصر بِهِ ويعبر بِهِ

نور فِي الْقلب كالنور فِي الْعين وَهُوَ الْبَصَر

فالعقل نور فِي الْقلب وَالْبَصَر نور فِي الْعين
সুতরাং তা একটি সহজাত প্রবৃত্তি, যা অন্তর ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে এর ক্রিয়া ব্যতীত চেনা যায় না। কেউ একে নিজের মাঝে বা অন্যের মাঝে এর কার্যাবলি ব্যতীত অন্যভাবে বর্ণনা করতে সক্ষম নয়।

একে দৈহিকতা, দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, স্বাদ, ঘ্রাণ, স্পর্শ বা বর্ণ দ্বারা বর্ণনা করা সম্ভব নয়; বরং তা কেবল কার্যাবলির মাধ্যমেই পরিচিত হয়।

ইলমে কালামের একদল পণ্ডিত বলেছেন, এটি হলো রুহ বা আত্মার নির্যাস, অর্থাৎ রুহের বিশুদ্ধ অংশ।

তারা ভাষাতাত্ত্বিক যুক্তি প্রদান করে বলেছেন যে, প্রতিটি বস্তুর নির্যাস হলো তার বিশুদ্ধ অংশ। এই কারণেই আকল বা বুদ্ধিকে নির্যাস বলা হয়। আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালী বলেছেন, "নিশ্চয়ই কেবল বোধসম্পন্নরাই উপদেশ গ্রহণ করে", অর্থাৎ বুদ্ধিমান ব্যক্তিরাই।

আমরা তা বলি না যতক্ষণ না এ বিষয়ে কোনো লিপিবদ্ধ কিতাব অথবা কোনো বর্ণিত হাদিস খুঁজে পাই।

অন্য একদল বলেছেন, এটি হলো একটি নূর বা আলো যা আল্লাহ স্বভাবজাত ও সহজাত প্রবৃত্তি হিসেবে স্থাপন করেছেন, যার মাধ্যমে দেখা যায় এবং ব্যক্ত করা যায়।

অন্তরের এই আলো চোখের আলোর মতো, যা হলো দৃষ্টিশক্তি।

সুতরাং আকল হলো অন্তরের আলো এবং দৃষ্টিশক্তি হলো চোখের আলো।
(খণ্ড: ১) মাহিয়্যাতুল আক্‌লি ওয়া মানাহু ওয়াখতিলাফুন নাসি ফীহি (পৃষ্ঠা: ২০৫)
فالعقل غريزة يُولد العَبْد بهَا ثمَّ يزِيد فِيهِ معنى بعد معنى بالمعرفة بالأسباب الدَّالَّة على الْمَعْقُول

وَقد زعم قوم أَن الْعقل معرفَة نظمها الله ووضعها فِي عباده يزِيد ويتسع بِالْعلمِ المكتسب 106 الدَّال على الْمَنَافِع والمضار

وَالَّذِي هُوَ عندنَا أَنه غريزة والمعرفة عَنهُ تكون

وَكَذَلِكَ الْجُنُون والحمق لَا يُسمى نكرَة لِأَنَّهُ لَو كَانَ الْمعرفَة هُوَ الْعقل سمي الْجُنُون نكرَة والحمق نكرَة لِأَن النكرَة ضد الْمعرفَة وَالْجهل ضد الْعلم

فَلَمَّا امْتنع أهل الْعلم أَن يسموا الْمَجْنُون مُنْكرا جَاهِلا وَلَا يسمون الْمُنكر مَجْنُونا وَالْجَاهِل مَجْنُونا وَقَالُوا بِأَنَّهُ مَجْنُون صَحَّ مَا قُلْنَاهُ

وَمِمَّا يدل على أَن الْعقل هُوَ الغريزة الَّتِي بهَا عرف فَأقر وَعرف فَأنْكر أَو ظن فَأنْكر لِأَن الْإِنْكَار فعل فَكَذَلِك ضد الْمعرفَة فعل

فَمِنْهُ فعل عَن طبع يُوجِبهُ الطَّبْع كالضرة كمعرفة
অতএব বুদ্ধি হচ্ছে একটি সহজাত প্রবৃত্তি, যা নিয়ে বান্দা জন্মগ্রহণ করে; অতঃপর বুদ্ধিগম্য বিষয়ের নির্দেশক কারণসমূহের পরিচিতির মাধ্যমে তাতে একের পর এক বোধ বৃদ্ধি পায়।

একদল লোক দাবি করেছেন যে, বুদ্ধি হলো এমন এক পরিচিতি যা আল্লাহ সুশৃঙ্খল করেছেন এবং তাঁর বান্দাদের মধ্যে স্থাপন করেছেন; এটি অর্জিত জ্ঞানের মাধ্যমে বৃদ্ধি পায় ও বিস্তৃত হয় 106 যা উপকার ও অপকার নির্দেশ করে।

আর আমাদের নিকট এটি হলো একটি সহজাত প্রবৃত্তি, এবং তা থেকেই পরিচিতি বা জ্ঞানের উৎপত্তি হয়।

অনুরূপভাবে উন্মাদনা ও নির্বুদ্ধিতাকে অপরিচিতি বলা হয় না। কারণ যদি পরিচিতিই বুদ্ধি হতো, তবে উন্মাদনা ও নির্বুদ্ধিতাকে অপরিচিতি বলা হতো। যেহেতু অপরিচিতি হলো পরিচিতির বিপরীত, আর অজ্ঞতা হলো জ্ঞানের বিপরীত।

সুতরাং যখন জ্ঞানীরা উন্মাদ ব্যক্তিকে অপরিচিত বা অজ্ঞ বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন, এবং তারা অপরিচিত ব্যক্তিকে উন্মাদ বা অজ্ঞ ব্যক্তিকে উন্মাদ বলেন না, বরং তারা তাকে উন্মাদই বলেন, তখন আমরা যা বলেছি তা-ই সঠিক প্রমাণিত হয়।

বুদ্ধি যে একটি সহজাত প্রবৃত্তি তার প্রমাণ হলো—এর মাধ্যমেই মানুষ চিনতে পেরে স্বীকার করে, অথবা চিনতে পেরে অস্বীকার করে, কিংবা ধারণা করে অস্বীকার করে। কারণ অস্বীকার করা একটি কর্ম, ঠিক তেমনি পরিচিতির বিপরীতটিও একটি কর্ম।

এর মধ্যে কিছু কর্ম প্রকৃতিগত যা প্রকৃতিই আবশ্যক করে দেয়, যেমন প্রয়োজন বা পরিচিতির মতো...
(খণ্ড: ১) মাহিয়্যাতুল আক্‌লি ওয়া মানাহু ওয়াখতিলাফুন নাসি ফীহি (পৃষ্ঠা: ২০৮)
وَفِي الصمت ستر العي يَوْمًا وَإِنَّمَا

صحيفَة لب الْمَرْء أَن يتكلما …

 

وَأما الاثنتان اللَّتَان جوزتهما اللُّغَة فِي الْكتاب وَالسّنة وتراجع أهل الْمعرفَة فِيمَا بَينهم بِالتَّسْمِيَةِ فجوزتهما اللُّغَة على حَقِيقَة الْمَعْنى بِأَن سمتهما عقلا إِذْ كَانَا عَن الْعقل لَا عَن غَيره

فإحداهما الْفَهم لإصابة الْمَعْنى وَهُوَ الْبَيَان لكل مَا سمع من الدُّنْيَا وَالدّين أَو مس أَو ذاق أَو شم فَسَماهُ الْخلق عقلا وَسموا فَاعله عَاقِلا

وَقد رُوِيَ فِي التَّفْسِير لما قَالَ الله تَعَالَى لمُوسَى عليه السلام {فاستمع لما يُوحى} قيل اعقل مَا أَقُول لَك

وَهَذِه خصْلَة يشْتَرك فِيهَا أهل غريزة الْعقل الَّتِي خلفهَا الله فيهم من أهل الْهدى وَأهل الضَّلَالَة من بعض أهل الْكتاب لما تقدم عِنْدهم من أهل الدّين

ويجتمع عَلَيْهَا أهل كل إِيمَان وضلال فِي أُمُور الدُّنْيَا خَاصَّة والمطيع والعاصي وَهُوَ فهم الْبَيَان

وَقَالَ الله عز وجل فِي مَا يعيب بِهِ أهل الْكتاب فَقَالَ
নিরবতার মাঝে কোনো একদিন অক্ষমতা ঢাকা পড়ে, আর মূলত

মানুষের বুদ্ধিবৃত্তির পরিচয় হলো কথা বলা ...

 

আর সেই দুইটি বিষয়, যা কিতাব ও সুন্নাহর ভাষা অনুমোদন করেছে এবং বিজ্ঞজনরা একে অপরের মাঝে নামকরণের ক্ষেত্রে তা গ্রহণ করেছেন, ভাষাগতভাবে সেগুলোকে প্রকৃত অর্থেই বৈধ করা হয়েছে এই হিসেবে যে, সেগুলোকে বুদ্ধি হিসেবে নামকরণ করা হয়েছে; যেহেতু সেগুলো বুদ্ধি থেকেই উৎসারিত, অন্য কিছু থেকে নয়।

তার মধ্যে একটি হলো সঠিক অর্থ অনুধাবনের জন্য বোধশক্তি, আর তা হলো দুনিয়া ও দ্বীনের ক্ষেত্রে যা কিছু শোনা হয়, কিংবা স্পর্শ করা হয়, অথবা স্বাদ নেওয়া হয়, অথবা ঘ্রাণ নেওয়া হয়—তার প্রতিটি বিষয়ের বর্ণনা বা উপলব্ধি। তাই সৃষ্টিজগত একে বুদ্ধি হিসেবে নামকরণ করেছে এবং এর অধিকারীকে বুদ্ধিমান বলেছে।

তাফসীরে বর্ণিত হয়েছে যে, যখন মহান আল্লাহ মূসা আলাইহিস সালামকে বললেন: {কাজেই যা ওহী করা হচ্ছে তা মনোযোগ দিয়ে শোনো}, তখন এর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে: আমি তোমাকে যা বলছি তা বুদ্ধি দিয়ে অনুধাবন করো।

আর এটি এমন একটি বৈশিষ্ট্য যাতে সেই বুদ্ধিবৃত্তিক সহজাত প্রবৃত্তি সম্পন্ন ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করে, যা আল্লাহ তাদের মধ্যে সৃষ্টি করেছেন—চাই তারা হেদায়েতপ্রাপ্ত হোক বা পথভ্রষ্ট হোক, কিংবা আহলে কিতাবদের কিছু লোক হোক যারা তাদের পূর্ববর্তী দ্বীনদারদের থেকে এটি লাভ করেছে।

এবং এতে ঈমানদার ও পথভ্রষ্ট সকল লোকই একত্রিত হয়, বিশেষ করে দুনিয়াবী বিষয়ের ক্ষেত্রে, এবং অনুগত ও অবাধ্য উভয়ই; আর তা হলো বর্ণনার বোধগম্যতা।

এবং মহান আল্লাহ আহলে কিতাবদের যে বিষয়ে নিন্দা করেছেন সে সম্পর্কে বলেছেন:
(খণ্ড: ১) মাহিয়্যাতুল আক্‌লি ওয়া মানাহু ওয়াখতিলাফুন নাসি ফীহি (পৃষ্ঠা: ২০৯)
{يسمعُونَ كَلَام الله ثمَّ يحرفونه من بعد مَا عقلوه وهم يعلمُونَ}

وَقَالَ عز وجل {يعرفونه كَمَا يعْرفُونَ أَبْنَاءَهُم}

وَقَالَ {?} يعلمُونَ أَنه الْحق من رَبهم

وَقَالَ {يعلمُونَ أَنه منزل من رَبك بِالْحَقِّ}

فالفهم وَالْبَيَان يُسمى عقلا لِأَنَّهُ عَن الْعقل كَانَ

فَيَقُول الرجل للرجل

أعقلت مَا رَأَيْت أَو سَمِعت

فَيَقُول نعم يَعْنِي أَنِّي قد فهمت وتبينت

وَالْعرب إِنَّمَا سمت الْفَهم عقلا لِأَن مَا فهمته فقد قيدته بعقلك وضبطته كَمَا الْبَعِير قد عقل أَي أَنَّك قد قيدت سَاقه إِلَى فَخذيهِ

وَقَالُوا اعتقل لِسَان فلَان أَي استمسك
{তারা আল্লাহর কালাম শোনে, অতঃপর তা অনুধাবন করার পর জেনে-বুঝে বিকৃত করে।}

এবং তিনি মহান ও পরাক্রমশালী বলেন, {তারা একে তেমনভাবেই চেনে যেমন তারা তাদের সন্তানদের চেনে।}

এবং তিনি বলেন, {তারা জানে যে এটি তাদের রবের পক্ষ থেকে সত্য।}

এবং তিনি বলেন, {তারা জানে যে এটি আপনার রবের পক্ষ থেকে সত্যসহ অবতীর্ণ।}

সুতরাং অনুধাবন ও বর্ণনাকে ‘আকল’ (বুদ্ধি/বিবেচনা) বলা হয়, কারণ তা আকল থেকেই উৎসারিত হয়েছে।

অতঃপর এক ব্যক্তি অন্য ব্যক্তিকে বলে:

তুমি যা দেখেছ বা শুনেছ তা কি হৃদয়াঙ্গম করেছ?

তখন সে বলে: ‘হ্যাঁ’, অর্থাৎ আমি বুঝতে পেরেছি এবং বিষয়টি আমার কাছে স্পষ্ট হয়েছে।

আরবরা অনুধাবনকে কেবল এই কারণেই ‘আকল’ নামকরণ করেছে যে, আপনি যা বুঝতে পেরেছেন তাকে আপনার আকলের মাধ্যমে আবদ্ধ করেছেন এবং নিয়ন্ত্রণ করেছেন; যেমন উটকে ‘আকল’ করা হয় (বাঁধা হয়), অর্থাৎ আপনি তার নলিকে তার উরুর সাথে বেঁধে ফেলেছেন।

এবং তারা বলে: অমুকের জিহ্বা রুদ্ধ হয়ে গেছে, অর্থাৎ আটকে গেছে।
(খণ্ড: ১) মাহিয়্যাতুল আক্‌লি ওয়া মানাহু ওয়াখতিলাফুন নাসি ফীহি (পৃষ্ঠা: ২১০)
وَيُقَال اعقل شَاتك إِذا حبستها وَهُوَ أَن يضع رجله بَين نوفها وفخذها وَيُقَال اعتقل رجل فلَان إِذا صارعه

وَالْمعْنَى الثَّالِث هُوَ البصيرة والمعرفة بتعظيم قدر الْأَشْيَاء النافعة والضارة 107 فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَة وَمِنْه الْعقل عَن الله تَعَالَى

فَمن ذَلِك أَن تعظم مَعْرفَته وبصيرته بعظيم قدر الله تَعَالَى وبقدر نعمه وإحسانه وبعظيم قدر ثَوَابه وعقابه لينال بِهِ النجَاة من الْعقَاب وَالظفر بالثواب

فَإِذا كَانَ لله مُعظما كَانَ لله مجلا هايبا

وَإِذا كَانَ لله مجلا هايبا كَانَ مِنْهُ مستحيا وَإِلَى الله طَاعَته مسارعا ولمساخطه مجانبا

وَإِذا كَانَ مُعظما لما ينَال بِهِ النجَاة من الْعقَاب وَالظفر بالثواب عني بِطَلَب الْعلم وَرغب فِي الْفَهم وَالْعقل عَن الله عز وجل أَكثر همته
বলা হয় 'তোমার বকরিকে আবদ্ধ করো' যখন তুমি তাকে আটকে রাখো। আর তা হলো ব্যক্তি তার পা সেটির পেট ও উরুর মাঝখানে রাখে। আরও বলা হয় 'অমুকের পা আটকে গিয়েছে' যখন সে কুস্তি লড়ে।

তৃতীয় অর্থটি হলো দুনিয়া ও আখেরাতের উপকারী ও ক্ষতিকারক বিষয়সমূহের গুরুত্বের মাহাত্ম্য সম্পর্কে অন্তর্দৃষ্টি ও জ্ঞান ১০৭ এবং এর অন্তর্ভুক্ত হলো আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে অনুধাবন করা।

এর অংশ হলো মহান আল্লাহর সুউচ্চ মর্যাদা, তাঁর নেয়ামত ও অনুগ্রহের গুরুত্ব এবং তাঁর পুরস্কার ও শাস্তির মাহাত্ম্য সম্পর্কে নিজের মারেফত ও অন্তর্দৃষ্টিকে সুমহান করা, যাতে এর দ্বারা শাস্তি থেকে মুক্তি ও সওয়াব অর্জন সম্ভব হয়।

যখন সে আল্লাহকে মহান হিসেবে জানবে, তখন সে আল্লাহর প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও তাঁকে ভয়কারী হবে।

আর যখন সে আল্লাহর প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও তাঁকে ভয়কারী হবে, তখন সে তাঁর প্রতি লজ্জাশীল হবে, তাঁর আনুগত্যের দিকে দ্রুত ধাবিত হবে এবং তাঁর অসন্তুষ্টির বিষয়সমূহ পরিহার করবে।

আর যখন সে ঐসব বিষয়কে মহান জ্ঞান করবে যার মাধ্যমে আজাব থেকে মুক্তি এবং সওয়াব লাভ করা যায়, তখন সে ইলম অন্বেষণে মনোযোগী হবে এবং সঠিক বুঝ ও মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে অনুধাবন করাকেই তার প্রধান সংকল্পে পরিণত করবে।
(খণ্ড: ১) মাহিয়্যাতুল আক্‌লি ওয়া মানাহু ওয়াখতিলাফুন নাসি ফীহি (পৃষ্ঠা: ২১১)
وَإِذا عني بِطَلَب الْعلم بذلك اسْتدلَّ بِهِ على عظم قدر الْمولى وَقدر ثَوَابه وعقابه

وَإِذا اسْتدلَّ على ذَلِك أبْصر وَفهم حقائق مَعَاني الْبَيَان

فَإِذا فهم عقل عَظِيم قدر الله تَعَالَى وَعرضه على الله سُبْحَانَهُ وعقابه وثوابه

وَإِذا عظم قدر ذَلِك هاب الله وَفرق وَرَجا وَرغب واشتاق فَكَأَنَّمَا يعاين ذَلِك كرأي الْعين فَكَانَ عَن الله تَعَالَى عَاقِلا وَسمي ذَلِك مِنْهُ عقلا إِذْ كَانَ بِالْعقلِ طلب ذَلِك وبالعقل فهم ذَلِك وبالعقل لزم ذَلِك وبالعقل جَانب مَا يُزِيلهُ عَن ذَلِك

فَهَذَا الَّذِي عقل عَن ربه

ألم تسمعه عز وجل يَقُول وَتَعيهَا {أذن وَاعِيَة}

قَالَ أذن عقلت عَن الله تَعَالَى يَعْنِي عقل عَن الله مَا سَمِعت أذنَاهُ مِمَّا قَالَ وَأخْبر
যখন এর মাধ্যমে ইলম বা জ্ঞান অন্বেষণের সংকল্প করা হয়, তখন এর দ্বারা মহান প্রতিপালকের সুউচ্চ মর্যাদা এবং তাঁর পুরস্কার ও শাস্তির মাহাত্ম্যের প্রমাণ পেশ করা হয়।

আর যখন এ বিষয়ে প্রমাণ পাওয়া যায়, তখন সে প্রজ্ঞার মর্মার্থের প্রকৃত রূপ অবলোকন করে এবং তা অনুধাবন করতে পারে।

যখন সে তা অনুধাবন করে, তখন আল্লাহ তাআলার সুমহান মর্যাদা, আল্লাহ সুবহানাহুর নিকট নিজেকে উপস্থাপন করা এবং তাঁর শাস্তি ও পুরস্কারের বিষয়টি সে বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে উপলব্ধি করতে পারে।

আর যখন এই বিষয়গুলোর গুরুত্ব তার নিকট বৃদ্ধি পায়, তখন সে আল্লাহকে ভয় পায়, শঙ্কিত হয়, আশা পোষণ করে, আগ্রহী হয় এবং ব্যাকুল হয়ে ওঠে; ফলে সে যেন স্বচক্ষে তা প্রত্যক্ষ করছে। এভাবেই সে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে প্রাপ্ত প্রজ্ঞা লাভ করে এবং তার এই অবস্থাকেই 'আকল' বা বোধশক্তি বলা হয়; কারণ সে আকলের মাধ্যমেই তা অন্বেষণ করেছে, আকলের মাধ্যমেই তা বুঝেছে, আকলের মাধ্যমেই তাতে অবিচল থেকেছে এবং আকলের মাধ্যমেই সেই সব বিষয় পরিহার করেছে যা তাকে তা থেকে বিচ্যুত করে দেয়।

সুতরাং ইনিই সেই ব্যক্তি, যিনি তাঁর প্রতিপালকের পক্ষ থেকে প্রাপ্ত বিষয়গুলো হৃদয়ঙ্গম করেছেন।

আপনি কি মহান আল্লাহকে বলতে শোনেননি: "এবং যাতে সংরক্ষণকারী কান তা সংরক্ষণ করে"?

তিনি বলেন: এমন কান যা আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে আগত সংবাদ উপলব্ধি করে; অর্থাৎ তার দুই কান আল্লাহর বাণী ও সংবাদ থেকে যা শুনেছে, তা সে যথাযথভাবে অনুধাবন করেছে।
(খণ্ড: ১) মাহিয়্যাতুল আক্‌লি ওয়া মানাহু ওয়াখতিলাফুন নাসি ফীহি (পৃষ্ঠা: ২১২)
فَهَذَا هُوَ الْعقل

وَمن زَالَ عَن ذَلِك وَمَعَهُ غريزة الْعقل الَّتِي فرق الله تَعَالَى بهَا بَين الْعُقَلَاء والمجانين فَهُوَ غير عَاقل عَن الله عز وجل وَهُوَ عَاقل للْبَيَان الَّذِي لَزِمته من أَجله الْحجَّة

وَقد وصف الله عز وجل هَذَا فِي كِتَابه عَن رجال وسما لَهُم عقلا فَقَالَ تَعَالَى {لَهُم قُلُوب لَا يفقهُونَ بهَا} يَعْنِي عَنهُ

وَقَالَ الله عز وجل {وَجَعَلنَا لَهُم سمعا وأبصارا وأفئدة} يَعْنِي عقولا {فَمَا أغْنى عَنْهُم سمعهم وَلَا أَبْصَارهم وَلَا أفئدتهم من شَيْء إِذْ كَانُوا يجحدون بآيَات الله} ثمَّ سمى بعض الْكفَّار من أهل الْكتاب عَاقِلا للْبَيَان الَّذِي لزمتهم بِهِ الْحجَّة {يحرفونه من بعد مَا عقلوه وهم يعلمُونَ}

فَأخْبر أَنهم لَا يعْقلُونَ يَعْنِي عَنهُ وَعَن مَا قَالَ من عَظِيم قدره الْمُبين عَنهُ
সুতরাং এটাই হলো বুদ্ধি।

আর যে ব্যক্তি এর থেকে বিচ্যুত হলো, অথচ তার নিকট বুদ্ধির সেই সহজাত প্রবৃত্তি রয়েছে যা দিয়ে আল্লাহ তাআলা বুদ্ধিমান ও উন্মাদদের মধ্যে পার্থক্য করেছেন, তবে সে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার পক্ষ থেকে অনুধাবন করার মতো বুদ্ধিমান নয়; তবে সে ওই সুস্পষ্ট বর্ণনার ক্ষেত্রে বুদ্ধিমান যার কারণে তার ওপর হুজ্জাত বা প্রমাণ আবশ্যক হয়েছে।

আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাঁর কিতাবে এমন কিছু লোক সম্পর্কে এই বর্ণনা দিয়েছেন এবং তাদের বুদ্ধিকে স্বীকৃতি দিয়েছেন, অতঃপর মহান আল্লাহ বলেছেন: {তাদের অন্তর রয়েছে কিন্তু তা দিয়ে তারা অনুধাবন করে না} অর্থাৎ তাঁর পক্ষ থেকে।

আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা আরও বলেছেন: {আর আমি তাদের জন্য দিয়েছিলাম কান, চোখ এবং অন্তর} অর্থাৎ বুদ্ধি {কিন্তু তাদের কান, চোখ এবং অন্তর তাদের কোনো কাজে আসেনি, যখন তারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করছিল} এরপর তিনি আহলে কিতাবের কিছু কাফেরকে সেই বর্ণনার ক্ষেত্রে বুদ্ধিমান বলে অভিহিত করেছেন যার মাধ্যমে তাদের ওপর হুজ্জাত প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল: {তারা তা অনুধাবন করার পর বিকৃত করে ফেলে, অথচ তারা তা জানে।}

সুতরাং তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে তারা অনুধাবন করে না—অর্থাৎ তাঁর পক্ষ থেকে এবং তাঁর সেই মহান সত্তার মাহাত্ম্য সম্পর্কে যা তাঁর পরিচয় সুস্পষ্ট করে।
(খণ্ড: ১) মাহিয়্যাতুল আক্‌লি ওয়া মানাহু ওয়াখতিলাফুন নাসি ফীহি (পৃষ্ঠা: ২১৩)
ثمَّ قَالَ {يحرفونه من بعد مَا عقلوه} يَعْنِي عقل الْبَيَان

وَآخَرُونَ لَهُم عقول الغرايز لَا يعْقلُونَ الْبَيَان وَلَا الْمُبين عَنهُ بالفهم لَهُ إِلَّا أَنهم يسمعُونَ بلغَة يعرفونها كلَاما لَا يعْقلُونَ مَعَانِيه بالفهم لَهُ كمشركي الْعَرَب فَقَالَ {إِن هم إِلَّا كالأنعام بل هم أضلّ سَبِيلا}

فَلم يعقلوا مَا قَالَ عز وجل لإعجابهم برأيهم ولتقليدهم آبَاءَهُم وكبراءهم وَقد كَانَت لَهُم عقول غرايز يعْقلُونَ بهَا أَمر دنياهم

وَلَو تركُوا الْإِعْجَاب بِالرَّأْيِ وتقليد الكبراء ثمَّ تدبروا لعقلوا مَا قَالَ الله وَلَكِن أعجبوا بآرائهم وقلدوا كبراءهم

فَقَالَ عز وجل {وهم يحسبون أَنهم يحسنون صنعا}

وَقَالَ جلّ ثَنَاؤُهُ {أَفَمَن زين لَهُ سوء عمله فَرَآهُ حسنا}

وَقَالَ {وَيَحْسبُونَ أَنهم على شَيْء أَلا إِنَّهُم هم الْكَاذِبُونَ}

فَلم يعقلوا مَا قيل لَهُم كَمَا عقله المحرفون للسان بَعْدَمَا عقلوه
এরপর তিনি বললেন, "তারা তা বিকৃত করে, তা অনুধাবন করার পর।" অর্থাৎ বর্ণনার মর্মার্থ অনুধাবন।

আর অন্য কিছু লোক রয়েছে যাদের সহজাত বুদ্ধি আছে, কিন্তু তারা বর্ণনার মর্মার্থ বা যা বর্ণনা করা হয়েছে তা উপলব্ধির মাধ্যমে অনুধাবন করে না; কেবল তারা এমন একটি ভাষায় কথা শোনে যা তারা চেনে, কিন্তু সঠিক উপলব্ধির মাধ্যমে তার অর্থ বুঝতে পারে না, যেমন আরবের মুশরিকরা। তাই তিনি বলেছেন, "তারা তো পশুর ন্যায়, বরং তারা আরও বেশি পথভ্রষ্ট।"

সুতরাং তারা মহান আল্লাহ যা বলেছেন তা অনুধাবন করেনি নিজেদের মতামতের প্রতি মুগ্ধতা এবং তাদের পিতৃপুরুষ ও নেতাদের অন্ধ অনুকরণের কারণে। অথচ তাদের সহজাত বুদ্ধি ছিল যা দিয়ে তারা তাদের দুনিয়াবি বিষয়াদি বুঝতে পারত।

যদি তারা নিজেদের মতামতের প্রতি মুগ্ধতা এবং নেতাদের অন্ধ অনুকরণ ত্যাগ করত, অতঃপর চিন্তা-গবেষণা করত, তবে আল্লাহ যা বলেছেন তা অবশ্যই বুঝতে পারত। কিন্তু তারা নিজেদের মতামতে মুগ্ধ ছিল এবং তাদের নেতাদের অন্ধ অনুকরণ করেছিল।

মহান আল্লাহ বলেছেন, "আর তারা মনে করে যে তারা সৎকাজ করছে।"

মহান আল্লাহ আরও বলেছেন, "যাকে তার মন্দ আমলগুলো শোভনীয় করে দেখানো হয়েছে, ফলে সে তাকে উত্তম মনে করে।"

তিনি আরও বলেছেন, "আর তারা মনে করে যে তারা কোনো ভিত্তির উপর আছে; জেনে রেখো, তারাই তো মিথ্যাবাদী।"

সুতরাং তাদের যা বলা হয়েছিল তা তারা বুঝতে পারেনি, যেমন বিকৃতকারীরা তাদের ভাষার মর্মার্থ বোঝার পর তা বিকৃত করেছিল।
(খণ্ড: ১) মাহিয়্যাতুল আক্‌লি ওয়া মানাহু ওয়াখতিলাফুন নাসি ফীহি (পৃষ্ঠা: ২১৪)
فهم يعلمُونَ أَمر دنياهم

ودقايق مَعَايشهمْ أدق فِي الغموض من أَعْلَام الدّين فَقَالَ الله جلّ وَعز {يعلمُونَ ظَاهرا من الْحَيَاة الدُّنْيَا وهم عَن الْآخِرَة هم غافلون}

قَالَ حَدثنِي عَفَّان قَالَ حَدثنَا صَخْر بن جوَيْرِية عَن الْحسن فِي قَوْله تَعَالَى {يعلمُونَ ظَاهرا من الْحَيَاة الدُّنْيَا} قَالَ

لَا جرم وَالله لقد بلغ من علم أحدهم بدنياه أَنه يقلب الدِّرْهَم على ظفره ويخبرك بوزنه وَمَا يحسن يُصَلِّي

قَالَ حَدثنِي عَفَّان قَالَ حَدثنَا شُعْبَة عَن شَرْقي فِي
অতএব তারা তাদের পার্থিব বিষয় সম্পর্কে অবগত।

এবং তাদের জীবনযাত্রার সূক্ষ্ম বিষয়গুলো দ্বীনের নিদর্শনসমূহের চেয়েও অধিকতর অস্পষ্ট ও জটিল। আল্লাহ পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত বলেন, {তারা পার্থিব জীবনের বাহ্যিক দিক সম্পর্কে অবগত, অথচ তারা পরকাল সম্পর্কে অসতর্ক।}

তিনি বলেন, আফফান আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, সাখর ইবনে জুওয়াইরিয়াহ আমাদের নিকট হাসান থেকে বর্ণনা করেছেন মহান আল্লাহর বাণী {তারা পার্থিব জীবনের বাহ্যিক দিক সম্পর্কে অবগত} প্রসঙ্গে, তিনি বলেন:

অবশ্যই আল্লাহর কসম, তাদের কারো পার্থিব জ্ঞান এই পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সে তার নখের ওপর দিরহাম ঘুরিয়ে আপনাকে তার ওজন বলে দিতে পারে, অথচ সে সঠিকভাবে সালাত আদায় করতে জানে না।

তিনি বলেন, আফফান আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, শু'বাহ শারকী থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১) মাহিয়্যাতুল আক্‌লি ওয়া মানাহু ওয়াখতিলাফুন নাসি ফীহি (পৃষ্ঠা: ২১৫)
قَوْله {يعلمُونَ ظَاهرا من الْحَيَاة الدُّنْيَا} فَذكر الخراز والخياط وَنَحْوهمَا فَأخْبر الله تَعَالَى أَنهم يعْقلُونَ أَمر دنياهم وَلَو تدبروا وَتركُوا التَّقْلِيد والإعجاب بالآراء لعقلوا أَمر آخرتهم كَمَا عقلوا أَمر دنياهم حِين عنوا بِطَلَب مَنَافِعهَا فِي العواقب وَدفع مضارها فِي العواقب

فَهَذِهِ أَربع فرق

فرقة عقلت عَن الله تَعَالَى عظم قدره وَقدرته وَمَا وعد وتوعد فأطاعت وخشعت

وَفرْقَة عقلت الْبَيَان ثمَّ جحدت كبرا وعنادا لطلب الدُّنْيَا كَمَا وصف عَن إِبْلِيس أَنه تكبر وعاند كبرا وَهُوَ مَعَ ذَلِك يَقُول {فبعزتك لأغوينهم أَجْمَعِينَ} وَوصف الْيَهُود 108 فَقَالَ {ليكتمون الْحق وهم يعلمُونَ}

وَقَالَ {وجحدوا بهَا واستيقنتها أنفسهم ظلما وعلوا}

وَقَالَ {يعلمُونَ أَنه منزل من رَبك بِالْحَقِّ}
তাঁর বাণী {তারা পার্থিব জীবনের বাহ্যিক দিক জানে} প্রসঙ্গে চর্মকার, দর্জি ও তাদের সমজাতীয় পেশাজীবীদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা সংবাদ দিয়েছেন যে, তারা তাদের পার্থিব বিষয়াবলি অনুধাবন করে। যদি তারা চিন্তা-গবেষণা করত এবং অন্ধানুকরণ ও নিজ মতের প্রতি মুগ্ধতা পরিহার করত, তবে তারা তাদের পরকালীন বিষয়গুলোও অনুধাবন করতে পারত, ঠিক যেভাবে তারা পার্থিব বিষয়াদি অনুধাবন করেছে যখন তারা পরিণামফলের ক্ষেত্রে এর উপকারিতা অন্বেষণ ও ক্ষতি দূরীকরণে সচেষ্ট হয়েছিল।

সুতরাং এই হলো চারটি দল:

একদল আল্লাহ তাআলার নিকট থেকে তাঁর সুমহান মর্যাদা, তাঁর ক্ষমতা এবং তাঁর প্রতিশ্রুতি ও হুঁশিয়ারি সম্পর্কে অনুধাবন করেছে, ফলে তারা আনুগত্য করেছে এবং বিনয়াবনত হয়েছে।

অন্য একদল সঠিক বর্ণনাটি অনুধাবন করার পর পার্থিব স্বার্থে অহংকার ও হঠকারিতাবশত তা অস্বীকার করেছে; যেমনটি ইবলিসের ক্ষেত্রে বর্ণনা করা হয়েছে যে, সে দম্ভ ও অহংকারবশত অবাধ্যতা করেছে, অথচ সে বলছে: {আপনার সম্মানের শপথ, আমি অবশ্যই তাদের সবাইকে পথভ্রষ্ট করব}। আর তিনি ইহুদিদের বর্ণনা দিয়ে বলেছেন: {তারা অবশ্যই সত্য গোপন করে, অথচ তারা জানে}।

তিনি আরও বলেছেন: {তারা অন্যায় ও দাম্ভিকতাবশত সেগুলোকে অস্বীকার করল, অথচ তাদের অন্তর তা নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করেছিল}।

তিনি বলেছেন: {তারা জানে যে, তা আপনার রবের পক্ষ থেকে সত্যসহ অবতীর্ণ হয়েছে}।
(খণ্ড: ১) মাহিয়্যাতুল আক্‌লি ওয়া মানাহু ওয়াখতিলাফুন নাসি ফীহি (পৃষ্ঠা: ২১৬)
وَقَالَ {واشتروا بِهِ ثمنا قَلِيلا فبئس مَا يشْتَرونَ}

وَفرْقَة طغت وأعجبت وقلدت فعميت عَن الْحق أَن تتبينه ثمَّ تقر بِهِ ثمَّ تجحده كبرا وَطلبت دنيا بعد عقلهَا للْبَيَان فظنت أَنَّهَا على حق وَدين وَهِي على بَاطِل وَشر وضلال

وَفرْقَة رعة عقلت قدر الله عز وجل فِي تَدْبيره وتفرده بالصنع وَعرفت قدر الْإِيمَان فِي النجَاة بالتمسك بِهِ وَقدر الْعقَاب فِي ضَرَره فِي مجانبة الْإِيمَان فَلم يجحدوا كبرا وَلَا أَنَفَة وَلَا طلب دنيا لعقلها أَن عَاجل الدُّنْيَا يفنى وَعَذَاب الْآخِرَة لَا يفنى فأقرت وَآمَنت وَلم تعقل عَظِيم قدر الله فِي هيبته وجلاله وعظيم قدر ثَوَابه وعقابه فِي إتْيَان مَعَاصيه وَالْقِيَام بفرايضه فعصت وضيعت وغفلت ونسيت إِلَّا أَنَّهَا علمت عَظِيم قدر الْإِيمَان فِي النجَاة وعظيم ضَرَر الْكفْر قد عقلته عَن الله تَعَالَى فَهِيَ قَائِمَة بِهِ دائمة عَلَيْهِ

ثمَّ بعد عقله قدر الْإِيمَان يزْدَاد معرفَة بِقدر الْغَضَب والوعيد والوعد
এবং তিনি বলেছেন: {আর তারা এর বিনিময়ে সামান্য মূল্য গ্রহণ করল; সুতরাং তারা যা ক্রয় করে তা কতই না নিকৃষ্ট!}

এবং একটি দল সীমালঙ্ঘন করেছে, আত্মমুগ্ধ হয়েছে এবং অন্ধ অনুকরণ করেছে; ফলে তারা সত্যকে স্পষ্টভাবে অনুধাবন করতে অন্ধ হয়ে গিয়েছে। এরপর তারা তা স্বীকার করার পর অহংকারবশত অস্বীকার করেছে। সত্যের বর্ণনা অনুধাবন করার পর তারা দুনিয়া অন্বেষণ করেছে; ফলে তারা ধারণা করেছে যে তারা সত্য ও দ্বীনের ওপর রয়েছে, অথচ তারা বাতিল, মন্দ ও গোমরাহীর ওপর ছিল।

আর একটি দল সাবধানী, তারা আল্লাহর ব্যবস্থাপনা এবং সৃষ্টিতে তাঁর এককত্বের মহিমা অনুধাবন করেছে এবং ঈমানকে আঁকড়ে ধরার মাধ্যমে নাজাত লাভের গুরুত্ব এবং ঈমান বিসর্জন দেওয়ার কারণে শাস্তির ক্ষতি সম্পর্কে অবগত হয়েছে। ফলে তারা অহংকার, আভিজাত্যের গৌরব বা দুনিয়া অন্বেষণের কারণে সত্যকে অস্বীকার করেনি; কারণ তারা অনুধাবন করেছিল যে নশ্বর দুনিয়া নিঃশেষ হয়ে যাবে আর পরকালের আযাব শেষ হবে না। তাই তারা স্বীকারোক্তি প্রদান করল এবং ঈমান আনল। তবে তারা আল্লাহর ভীতি ও প্রতাপের সুমহান মর্যাদা এবং তাঁর অবাধ্যতায় লিপ্ত হওয়া ও ফরজসমূহ পালন করার ক্ষেত্রে তাঁর সওয়াব ও শাস্তির বিশালত্ব পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারেনি। ফলে তারা পাপে লিপ্ত হল, হক নষ্ট করল, গাফেল হল এবং বিস্মৃত হল; কিন্তু তারা নাজাতের ক্ষেত্রে ঈমানের সুমহান মর্যাদা এবং কুফরির ভয়াবহ ক্ষতি সম্পর্কে আল্লাহর পক্ষ থেকে জ্ঞান লাভ করেছিল, তাই তারা এর ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং অবিচল থাকল।

এরপর ঈমানের গুরুত্ব অনুধাবন করার পর, আল্লাহর ক্রোধ, ধমক এবং প্রতিশ্রুতির গুরুত্ব সম্পর্কে তাদের জ্ঞান আরও বৃদ্ধি পায়।
(খণ্ড: ১) মাহিয়্যাতুল আক্‌লি ওয়া মানাহু ওয়াখতিলাফুন নাসি ফীহি (পৃষ্ঠা: ২১৭)
فَإِن ازْدَادَ طَائِفَة قَامَ بطَائفَة من الْفُرُوض وَترك بعض الْمعاصِي وَإِلَّا ضيع بعض الْفُرُوض وَركب بعض الْمعاصِي من أجل الْهوى وَمَعَهُ عقل الْبَيَان وَالْإِقْرَار فعقل أَنه مسيء وَلم يرجع عَن إساءته لغَلَبَة الْهوى

وَلَو ازْدَادَ عقلا بعظيم قدر الْغَضَب والرضى وَالثَّوَاب وَالْعِقَاب لاستعمل مَا عقل من الْبَيَان وَأقر بِهِ بِأَنَّهُ حق فَتَابَ وأناب

وَجَمِيع الممتحنين المأمورين من الْعُقَلَاء البالعين كلهم لَهُم عقول يميزون بهَا أُمُور الدُّنْيَا كلهَا الْجَلِيل والدقيق وَأَكْثَرهم للآخرة لَا يعْقلُونَ

ألم تسمعه عز وجل يَقُول {وتراهم ينظرُونَ إِلَيْك وهم لَا يبصرون}

وَقَالَ جلّ ثَنَاؤُهُ {لَهُم قُلُوب لَا يفقهُونَ بهَا وَلَهُم أعين لَا يبصرون بهَا وَلَهُم آذان لَا يسمعُونَ بهَا}

وهم بالدنيا أهل بصر وَسمع وعقل وَلم يعن أَنهم صم خرس مجانين وَإِنَّمَا عذبهم لأَنهم يعْقلُونَ لَو تدبروا مَا يرَوْنَ
যদি কোনো দল (বিবেকের দিক থেকে) বৃদ্ধি পায়, তবে তারা একদল ফরজ আদায় করে এবং কিছু পাপাচার বর্জন করে; অন্যথায় প্রবৃত্তির তাড়নায় তারা কিছু ফরজ নষ্ট করে এবং কিছু পাপাচারে লিপ্ত হয়, অথচ তাদের সাথে বর্ণনামূলক ও স্বীকৃতিপ্রদানকারী বিবেক বিদ্যমান থাকে। ফলে সে বুঝতে পারে যে সে অপরাধী, কিন্তু প্রবৃত্তির প্রবলতার কারণে সে তার অপরাধ থেকে ফিরে আসে না।

আর যদি ক্রোধ, সন্তুষ্টি, প্রতিদান ও শাস্তির মহান মর্যাদা সম্পর্কে তাদের বিবেক আরও বৃদ্ধি পেত, তবে তারা বর্ণনা থেকে যা বুঝতে পেরেছে এবং সত্য বলে স্বীকার করেছে তা কাজে লাগাত; ফলে তারা তওবা করত ও আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করত।

আর প্রাপ্তবয়স্ক বিবেকবানদের মধ্য থেকে আদিষ্ট ও পরীক্ষিত ব্যক্তিদের সকলেরই এমন বিবেক রয়েছে যার মাধ্যমে তারা দুনিয়ার ছোট-বড় সকল বিষয়কে পৃথক করতে পারে; কিন্তু তাদের অধিকাংশ আখেরাতের বিষয়ে জ্ঞান রাখে না।

আপনি কি শোনেননি যে মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ বলছেন: “আপনি তাদের দেখবেন যে তারা আপনার দিকে তাকিয়ে আছে, অথচ তারা দেখতে পায় না।”

যাঁর প্রশংসা মহান, সেই আল্লাহ আরও বলেছেন: “তাদের অন্তর রয়েছে কিন্তু তা দিয়ে তারা উপলব্ধি করে না, তাদের চোখ রয়েছে কিন্তু তা দিয়ে তারা দেখে না এবং তাদের কান রয়েছে কিন্তু তা দিয়ে তারা শোনে না।”

দুনিয়ার ক্ষেত্রে তারা তো দৃষ্টি, শ্রবণ ও বিবেকের অধিকারী। এর অর্থ এই নয় যে তারা বধির, বোবা বা পাগল; বরং তিনি তাদের শাস্তি দেবেন এজন্য যে, তারা যা দেখে তা যদি চিন্তা-গবেষণা করত তবে তারা তা বুঝতে সক্ষম ছিল।
(খণ্ড: ১) মাহিয়্যাতুল আক্‌লি ওয়া মানাহু ওয়াখতিলাফুন নাসি ফীহি (পৃষ্ঠা: ২১৮)
ويسمعون من الدَّلَائِل عَلَيْهِ من آيَات الْكتاب وآثار الصَّنْعَة واتصال التَّدْبِير الَّذِي يدل عَلَيْهِ أَنه وَاحِد لَا شريك لَهُ

وَحكى تَعَالَى قَول أهل النَّار فَقَالَ {وَقَالُوا لَو كُنَّا نسْمع أَو نعقل مَا كُنَّا فِي أَصْحَاب السعير}

وَقد كَانَت لَهُم عقول وأسماع لزمتهم بهَا الْحجَّة لله عز وجل وَإِنَّمَا عَنى عز وجل أَنَّهَا لم تعقل عَن الله فهما لما قَالَ من عَظِيم قدر عَذَابه فندمت وَنَادَتْ بِالْوَيْلِ والندم لَا أَنَّهَا لم تكن تسمع وَلَا تعقل وَلَا كَانُوا بمجانين وَلَكِن يعْقلُونَ أَمر الدُّنْيَا وَلَا يعْقلُونَ عَن الله مَا أخبر عَنهُ ووعد وتوعد

قلت فَمَتَى يُسمى الرجل عَاقِلا عَن الله تَعَالَى

قَالَ إِذا كَانَ مُؤمنا خَائفًا من الله عز وجل

وَالدَّلِيل على ذَلِك أَن يكون قَائِما بِأَمْر الله الَّذِي أوجب عَلَيْهِ الْقيام بِهِ مجانبا لما كره وَنَهَاهُ عَنهُ فَإِذا كَانَ كَذَلِك اسْتحق أَن يُسمى عَاقِلا عَن الله

بل لِأَنَّهُ لَا يُسمى عَاقِلا عَن الله من يعزم على الْقيام بسخطه
তারা তাঁর স্বপক্ষে কিতাবের আয়াতসমূহ, নিপুণ সৃষ্টির নিদর্শনসমূহ এবং নিরবচ্ছিন্ন ব্যবস্থাপনার প্রমাণসমূহ শ্রবণ করে, যা প্রমাণ করে যে তিনি একক এবং তাঁর কোনো শরিক নেই।

এবং মহান আল্লাহ জাহান্নামীদের উক্তি বর্ণনা করে বলেছেন, "আর তারা বলবে: আমরা যদি শুনতাম অথবা বুঝতাম, তবে আমরা প্রজ্বলিত আগুনের অধিবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হতাম না।"

অথচ তাদের বুদ্ধি ও শ্রবণশক্তি ছিল যার মাধ্যমে তাদের ওপর মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। মহান আল্লাহ মূলত এর মাধ্যমে বুঝিয়েছেন যে, তারা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর আযাবের ভয়াবহতা সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তা অনুধাবন করেনি; ফলে তারা অনুতপ্ত হয়েছে এবং দুর্ভোগ ও আক্ষেপ প্রকাশ করেছে। এমন নয় যে তারা শুনতে পেত না বা তাদের জ্ঞান ছিল না, অথবা তারা পাগল ছিল। বরং তারা দুনিয়াবি বিষয়সমূহ বুঝত কিন্তু মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তিনি যা সংবাদ দিয়েছেন এবং যে প্রতিশ্রুতি ও ধমকি দিয়েছেন, তা তারা অনুধাবন করত না।

আমি বললাম: তবে কখন একজন ব্যক্তিকে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে বোধসম্পন্ন বলা হবে?

তিনি বললেন: যখন সে মুমিন হবে এবং মহান আল্লাহকে ভয় করবে।

এর প্রমাণ হলো আল্লাহর সেই নির্দেশের ওপর অটল থাকা যা পালন করা তিনি তার ওপর আবশ্যক করেছেন এবং তিনি যা অপছন্দ করেন ও নিষেধ করেছেন তা বর্জন করা। সে যখন এমন হবে, তখন সে আল্লাহর পক্ষ থেকে বোধসম্পন্ন হিসেবে অভিহিত হওয়ার যোগ্য হবে।

বরং যে ব্যক্তি আল্লাহর অসন্তুষ্টিমূলক কাজের সংকল্প করে, তাকে আল্লাহর পক্ষ থেকে বোধসম্পন্ন বলা হয় না।
(খণ্ড: ১) মাহিয়্যাতুল আক্‌লি ওয়া মানাহু ওয়াখতিলাফুন নাসি ফীহি (পৃষ্ঠা: ২১৯)
فَأَقَامَ على ذَلِك مصرا غير تايب

قلت فَمَتَى يُسمى الْعَاقِل عَن الله كَامِل الْعقل عَن الله تَعَالَى

قَالَ إِن الْعقل عَن الله تَعَالَى لَا غَايَة لَهُ لِأَنَّهُ لَا غَايَة لله عز وجل عِنْد الْعَاقِل بالتحديد بالإحاطة بِالْعلمِ بحقائق صِفَاته وَلَا بعظيم قدر ثَوَابه وَلَا عِقَابه إِذْ لم يعاينها

وَلَو عاين الله جلّ ثَنَاؤُهُ وتقدست أسماؤه بصفاته لما أحَاط بِهِ علما

وَلَكِن وَقد يَقع اسْم الْكَمَال على الْأَغْلَب فِي الْأَسْمَاء فِي الْعقل عَن الله تَعَالَى لَا الْعقل بالكمال الَّذِي لَا يحْتَمل الزِّيَادَة

أَلا ترَاهُ عز وجل يَقُول لرَسُوله صلى الله عليه وسلم {وَقل رب زِدْنِي علما} وَقَالَ {وَلَا يحيطون بِهِ علما}

وَرُوِيَ عَن الْمَلَائِكَة أَنَّهَا تَقول يَوْم الْقِيَامَة رب مَا عبدناك حق عبادتك

فَلَا أحد يُسَاوِي الله عز وجل فِي الْعلم بِنَفسِهِ فَيعرف عَن عَظمته تَعَالَى كَمَال صِفَاته كَمَا يعلم الله عز وجل عَن نَفسه
তিনি তওবা না করে এর ওপর অটল থাকলেন।

আমি বললাম, আল্লাহ তাআলা সম্পর্কে অনুধাবনকারী ব্যক্তিকে কখন আল্লাহর ব্যাপারে পূর্ণ প্রজ্ঞাবান বলা হবে?

তিনি বললেন, আল্লাহ তাআলা সম্পর্কে প্রজ্ঞার কোনো সীমা নেই। কারণ প্রজ্ঞাবানের নিকট আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার কোনো সীমা নেই যে তাঁর গুণাবলির হাকীকত সম্পর্কে জ্ঞানের পরিবেষ্টনের মাধ্যমে তা নির্ধারণ করা যাবে। তেমনিভাবে তাঁর প্রতিদান বা শাস্তির বিশাল পরিমাণ সম্পর্কেও কোনো সীমা নেই, যেহেতু সে তা প্রত্যক্ষ করেনি।

আর যদি সে আল্লাহ জাল্লা সানাউহু এবং তাঁর পবিত্র নামসমূহকে তাঁর গুণাবলি সমেত প্রত্যক্ষও করত, তবুও সে জ্ঞানের মাধ্যমে তাঁকে পরিবেষ্টন করতে পারত না।

তবে আল্লাহ তাআলা সম্পর্কে অনুধাবনের ক্ষেত্রে 'পরিপূর্ণতা' শব্দটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে একটি নামমাত্র প্রয়োগ হয়; এটি এমন চরম পরিপূর্ণতা নয় যা আর বৃদ্ধি হওয়ার অবকাশ রাখে না।

আপনি কি দেখেন না যে, তিনি আযযা ওয়া জাল্লা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলছেন, "এবং আপনি বলুন, হে আমার রব! আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করে দিন" এবং তিনি বলেছেন, "আর তারা জ্ঞানের মাধ্যমে তাঁকে পরিবেষ্টন করতে পারে না।"

ফেরেশতাদের থেকেও বর্ণিত হয়েছে যে, তারা কিয়ামতের দিন বলবে, "হে আমাদের রব! আমরা আপনার ইবাদত করার যথাযথ হক আদায় করতে পারিনি।"

সুতরাং নিজের সম্পর্কে জ্ঞানের ক্ষেত্রে কেউই আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার সমকক্ষ নয়। ফলে তাঁর মাহাত্ম্য থেকে তাঁর গুণাবলির পূর্ণতা সম্পর্কে সেভাবে অবগত হওয়া সম্ভব নয়, যেভাবে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা স্বয়ং নিজের সম্পর্কে অবগত।
(খণ্ড: ১) মাহিয়্যাতুল আক্‌লি ওয়া মানাহু ওয়াখতিলাফুন নাসি ফীহি (পৃষ্ঠা: ২২০)
فأعظم العاقلين عِنْده العارفين عقلا عَنهُ وَمَعْرِفَة بِهِ الَّذين أقرُّوا بِالْعَجزِ أَنهم لَا يبلغون فِي الْعقل والمعرفة كنه مَعْرفَته

وَلَكِن قد يُسمى كَامِلا فِي الْعقل عَن الله 109 فِي مَا غلب عَلَيْهِ من الْأَفْعَال الَّتِي كَانَت عَن الْعَاقِل كَامِلا من كَانَت فِيهِ ثَلَاث خلال

الْخَوْف مِنْهُ وَالْقِيَام بأَمْره وَقُوَّة الْيَقِين بِهِ وَبِمَا قَالَ ووعد وتوعد

وَحسن الْبَصَر بِدِينِهِ بالفقه عَنهُ فِيمَا أحب وَكره من علم مَا أَمر بِهِ وَندب إِلَيْهِ وَالْوُقُوف عِنْد الشُّبُهَات الَّتِي سمى الله الْوُقُوف عَنْهَا رسوخا فِي الْعلم بِهِ

فَإِذا اجْتمع الْخَوْف مِنْهُ وَقُوَّة الْيَقِين بِهِ وَبِمَا قَالَ ووعد وتوعد وَحسن الْبَصَر بدين الله وَالْفِقْه فِي الدّين فقد كمل قُوَّة عقله

وَإِن كَانَ الْخَوْف من الله هُوَ من قُوَّة الْيَقِين بالوعيد فَإِنَّهُ قد يكون خَائفًا وَلَا يكون مَعَه الْيَقِين الْقوي الَّذِي ينَال بِهِ الرضى والتوكل والمحبة والزهد
সুতরাং তাঁর নিকট সর্বাধিক বুদ্ধিমান ব্যক্তি তারা যারা তাঁর পক্ষ হতে প্রাপ্ত বুদ্ধিতে বিজ্ঞতম এবং তাঁর পরিচয় লাভে অগ্রগামী, যারা এই মর্মে নিজেদের অক্ষমতা স্বীকার করেছে যে তারা বুদ্ধি ও জ্ঞানের মাধ্যমে তাঁর পরিচয়ের প্রকৃত হাকীকত পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম নয়।

তবে আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত বুদ্ধির ক্ষেত্রে তাকেই পূর্ণাঙ্গ বলা হতে পারে ১০৯ সেই সব কার্যাবলির ভিত্তিতে যা তার ওপর প্রবল থাকে এবং যা একজন পূর্ণ বুদ্ধিমান ব্যক্তির কাজ হিসেবে গণ্য হয়, যার মধ্যে তিনটি গুণ বিদ্যমান থাকে।

তাঁর প্রতি ভয় পোষণ করা, তাঁর নির্দেশ পালন করা এবং তাঁর প্রতি ও তিনি যা বলেছেন, যে প্রতিশ্রুতি ও ধমকি দিয়েছেন তার প্রতি সুদৃঢ় বিশ্বাস (ইয়াকীন) রাখা।

তাঁর দ্বীন সম্পর্কে উত্তম দূরদর্শিতা অর্জন করা; যা তিনি যা পছন্দ করেন ও অপছন্দ করেন সে বিষয়ে তাঁর থেকে প্রাপ্ত প্রজ্ঞা বা ফিকহ্-এর মাধ্যমে অর্জিত হয়, যেমন—তিনি যা নির্দেশ দিয়েছেন ও যার প্রতি উৎসাহিত করেছেন তা জানা এবং সংশয়পূর্ণ বিষয়সমূহের (শুবুহাত) ক্ষেত্রে থেমে যাওয়া, যাকে আল্লাহ তাঁর জ্ঞানে গভীরতা (রুসূখ) হিসেবে অভিহিত করেছেন।

সুতরাং যখন তাঁর প্রতি ভয়, তাঁর প্রতি ও তিনি যা বলেছেন, যে প্রতিশ্রুতি ও ধমকি দিয়েছেন তার প্রতি সুদৃঢ় বিশ্বাস, এবং আল্লাহর দ্বীন সম্পর্কে উত্তম দূরদর্শিতা ও দ্বীনের গভীর প্রজ্ঞা একত্রিত হয়, তখন তার বুদ্ধির শক্তি পূর্ণতা লাভ করে।

আর যদিও আল্লাহর প্রতি ভয় ধমকির (ওয়াইদ) প্রতি সুদৃঢ় বিশ্বাসের ফল, তবুও কখনও এমন হতে পারে যে ব্যক্তি ভীত ঠিকই, কিন্তু তার মধ্যে সেই প্রবল ইয়াকীন বিদ্যমান নেই যার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি, তাওয়াক্কুল, মহব্বত ও দুনিয়াবিমুখতা (যুহদ) অর্জিত হয়।
(খণ্ড: ১) মাহিয়্যাতুল আক্‌লি ওয়া মানাহু ওয়াখতিলাফুন নাসি ফীহি (পৃষ্ঠা: ২২১)
فَمن ثمَّ قُلْنَا الْخَوْف من الله وَقُوَّة الْيَقِين وَالْبَصَر بِالدّينِ لِأَنَّهُ قد يكون قوي الْيَقِين وَلَيْسَ يحسن الْبَصَر بِالدّينِ وَيكون بَصيرًا بِالدّينِ لَا خَائفًا وَلَا قوي الْيَقِين

وجماع هَذِه الثَّلَاث الْخِصَال قُوَّة الْيَقِين وَحسن الْبَصَر بِالدّينِ

وَإِنَّمَا زِدْنَا ذكر الْخَوْف وَإِن كَانَ من الْيَقِين لِأَنَّهُ قد يكون خَائفًا وَلَيْسَ بِالْقَوِيّ الْيَقِين فِي كَمَال مَا قَالَ الله عز وجل مِمَّا وصف بِهِ نَفسه من قدره وجلاله وعظمته وَمَا وعد وتوعد وحذر وَرَجا وأنعم وابتلى بِهِ

ثمَّ هَذِه الثَّلَاث الْخلال حقائق من الْفِعْل بِالْقَلْبِ والجوارح لِأَنَّهُ إِذا تمّ عقل الْمُؤمن عَن ربه أفرده عز وجل بِالتَّوْحِيدِ لَهُ فِي كل الْمعَانِي فَعلم أَنه مَالك لَهُ لَا غَيره وَأَنه عَتيق مِمَّن سواهُ فتواضع لعظمته واستعبد وخضع لجلاله وَلم يذل لمن سواهُ وعقل عَنهُ أَنه الْكَامِل بِأَحْسَن الصِّفَات المتنزه من كل الْآفَات الْمُنعم بِكُل الأيادي وَالْإِحْسَان فَاشْتَدَّ حبه لَهُ لما يستأهل لعَظيم قدره وكريم فعاله وَحسن أياديه

وعقل عَنهُ أَنه لَا يملك نَفعه وضره فِي دُنْيَاهُ وآخرته إِلَّا هُوَ
এই কারণে আমরা বলেছি যে, আল্লাহর প্রতি ভয়, ইয়াকীনের শক্তি এবং দ্বীনের প্রজ্ঞা (প্রয়োজন); কারণ কখনও কেউ ইয়াকীনে শক্তিশালী হতে পারে কিন্তু দ্বীনের প্রজ্ঞায় দক্ষ নাও হতে পারে, আবার কখনও কেউ দ্বীনের প্রজ্ঞাসম্পন্ন হতে পারে কিন্তু সে ভীতও নয় এবং ইয়াকীনে শক্তিশালীও নয়।

আর এই তিনটি বৈশিষ্ট্যের সমষ্টি হলো ইয়াকীনের শক্তি এবং দ্বীনের উত্তম প্রজ্ঞা।

আমরা ভয়ের বিষয়টি অতিরিক্ত হিসেবে উল্লেখ করেছি যদিও তা ইয়াকীনেরই অন্তর্ভুক্ত; কারণ কখনও কেউ ভীত হতে পারে কিন্তু আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা নিজের সম্পর্কে তাঁর ক্ষমতা, মহিমা ও শ্রেষ্ঠত্বের যে বর্ণনা দিয়েছেন এবং যা কিছু তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, ধমক দিয়েছেন, সতর্ক করেছেন, আশা দিয়েছেন, নিয়ামত দিয়েছেন এবং যা দিয়ে পরীক্ষা করেছেন—সেসবের পূর্ণাঙ্গতার বিষয়ে ইয়াকীনের ক্ষেত্রে সে শক্তিশালী নাও হতে পারে।

অতঃপর এই তিনটি বৈশিষ্ট্য হলো অন্তর ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কর্মের বাস্তবতা। কারণ যখন মুমিনের বুদ্ধি তার রব সম্পর্কে পূর্ণতা পায়, তখন সে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লাকে সকল অর্থে তাওহীদের সাথে একক হিসেবে গণ্য করে। ফলে সে অনুধাবন করে যে, আল্লাহ ছাড়া তার আর কোনো মালিক নেই এবং তিনি ছাড়া অন্য সবার থেকে সে মুক্ত। তাই সে আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্বের সামনে বিনয়ী হয়, দাসত্ব কবুল করে এবং তাঁর মহিমার কাছে মস্তক অবনত করে, আর অন্য কারো কাছে নিজেকে হীন করে না। সে তাঁর সম্পর্কে উপলব্ধি করে যে, তিনি সর্বোত্তম গুণাবলীতে পূর্ণাঙ্গ, সকল দোষ-ত্রুটি থেকে পবিত্র এবং সকল হাত ও ইহসানের মাধ্যমে নিয়ামত দানকারী। ফলে আল্লাহর প্রতি তার মহব্বত তীব্রতর হয়; কারণ তিনি তাঁর সুমহান মর্যাদা, সম্মানিত কর্মসমূহ এবং তাঁর সুন্দর হাতসমূহের কারণে এর যোগ্য।

এবং সে তাঁর সম্পর্কে এও উপলব্ধি করে যে, দুনিয়া ও আখিরাতে নিজের কল্যাণ ও অকল্যাণের ওপর একমাত্র তিনি ব্যতীত আর কারো কোনো মালিকানা নেই।
(খণ্ড: ১) মাহিয়্যাতুল আক্‌লি ওয়া মানাহু ওয়াখতিলাফুন নাসি ফীহি (পৃষ্ঠা: ২২২)
فأفرده بالخوف والرجاء وعده وآمن بِهِ وأيس من جَمِيع خلقه فَهُوَ الموحد لَهُ إِذا عقل وحدانيته وتفرده بِكُل معنى كريم وَوصف جميل وجلال عَظمته ونفاذ قدرته ومضي إِرَادَته وإحاطة علمه وقديم أزليته وأوليته

فَإِذا كَانَ كَذَلِك زايل الْكبر على الْعباد لخضوعه لجلال الله مَوْلَاهُ فتواضع للحق وَلم يحقر مُسلما لشدَّة مَعْرفَته بصغر قدر نَفسه وَلما جنى من الذُّنُوب على نَفسه ولعلمه بِأَن خَوَاتِم الْأَجَل بِسوء العواقب وَحسن الخاتمة من الشَّقَاء والسعادة قد سبق بهما الْعلم ونفذت فيهمَا الْمَشِيئَة

فقد أَمن من عرفه كبره وبغيه وَقد عقل عَن الله جلّ وَعز حججه على خلقه واعتذاره إِلَى خلقه بِأَنَّهُ لَيْسَ لَهُم بظالم وَأَنه قد بدأهم بِالرَّحْمَةِ قبل الْعقُوبَة وَقد سبقت مِنْهُ الأيادي قبل الشُّكْر طَوِيل الْحلم دَائِم التأني جميل السّتْر مقيل العثرات محسن إِلَى من تبغض إِلَيْهِ متقرب إِلَى من تبَاعد مِنْهُ وعقل عَنهُ أمره وآدابه وَأَحْكَامه وعقل دَاء النُّفُوس ودواءها
সুতরাং তিনি ভয় ও আশার ক্ষেত্রে তাঁকে একক সাব্যস্ত করেন, তাঁকে (একমাত্র আশ্রয়) গণ্য করেন, তাঁর প্রতি ঈমান আনেন এবং তাঁর সকল সৃষ্টি থেকে নিরাশ হয়ে যান। অতএব তিনিই আল্লাহর প্রকৃত মুওয়াহহিদ (একত্ববাদী), যখন তিনি আল্লাহর একত্ব এবং প্রত্যেক মহৎ অর্থ, সুন্দর গুণাবলি, তাঁর মহত্ত্বের গাম্ভীর্য, তাঁর ক্ষমতার কার্যকারিতা, তাঁর ইচ্ছার অপ্রতিহত গতি, তাঁর জ্ঞানের পরিব্যাপ্তি এবং তাঁর চিরন্তন অনাদিত্ব ও আদিমত্বের ক্ষেত্রে তাঁর অনন্যতা অনুধাবন করেন।

যখন অবস্থা এমন হয়, তখন তাঁর মাওলা আল্লাহর মহত্ত্বের প্রতি তাঁর আনুগত্যের কারণে বান্দাদের ওপর অহংকার করা দূরীভূত হয়; ফলে তিনি সত্যের প্রতি বিনয়ী হন এবং নিজের মর্যাদার তুচ্ছতা সম্পর্কে গভীর জ্ঞান ও নিজের নফসের ওপর কৃত পাপরাশির কারণে কোনো মুসলিমকে তুচ্ছজ্ঞান করেন না। এছাড়া এই জ্ঞানের কারণেও যে, জীবনের শেষ সময়ে মন্দ পরিণাম বা ভালো সমাপ্তির মাধ্যমে দুর্ভাগ্য ও সৌভাগ্যের বিষয়টি ইতিপূর্বেই আল্লাহর জ্ঞানে নির্ধারিত হয়েছে এবং সে বিষয়ে তাঁর ইচ্ছা কার্যকর হয়ে গেছে।

সুতরাং যে ব্যক্তি তাঁকে চিনেছে, মানুষ তাঁর অহংকার ও সীমালঙ্ঘন থেকে নিরাপদ হয়েছে। সে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর সৃষ্টির ওপর তাঁর প্রমাণসমূহ এবং তাঁর সৃষ্টির প্রতি তাঁর এই ঘোষণা অনুধাবন করেছে যে, তিনি তাদের প্রতি যালিম নন। তিনি শাস্তির পূর্বেই দয়া দিয়ে তাদের সৃষ্টি করেছেন এবং শুকরিয়া আদায়ের পূর্বেই তাঁর পক্ষ থেকে হাতসমূহ অতিবাহিত হয়েছে। তিনি দীর্ঘ সহিষ্ণু, সর্বদা ধীরস্থির, সুন্দরভাবে দোষ গোপনকারী, পদস্খলন ক্ষমাশীল; যে ব্যক্তি তাঁর অপছন্দনীয় কাজ করে তার প্রতিও তিনি অনুগ্রহকারী এবং যে তাঁর থেকে দূরে সরে যায় তিনি তার নিকটবর্তী হন। সে তাঁর নির্দেশ, শিষ্টাচার ও বিধানসমূহ অনুধাবন করেছে এবং আত্মার ব্যাধি ও তার প্রতিকার বুঝে নিয়েছে।
(খণ্ড: ১) মাহিয়্যাতুল আক্‌লি ওয়া মানাহু ওয়াখতিলাফুন নাসি ফীহি (পৃষ্ঠা: ২২৩)
فَمن عرفه أمل الرشد مِنْهُ وَأَن يحيا بمنطقه وَيعْقل عَن الله جلّ ذكره بتأديبه لَهُ

وعقل عَن الله عز وجل مَا عظم من قدر ثَوَابه فِي جنته بدوامه وَطيب الْعَيْش فِيهِ وَزَوَال الْآفَات والتكدير والتنغيص عَنهُ وَأَنه فَوق مَا تحب النُّفُوس لَا يحسن أحد أَن يخْطر بِبَالِهِ ذكر كثير مِمَّا أعد فِيهَا

وَقد قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أعد الله عز وجل فِي جنته مَا لَا عين رَأَتْ وَلَا أذن سَمِعت وَلَا خطر على قلب بشر

وَكَفاك بِاللَّه تَعَالَى واصفا عَمَّا أعد لأوليائه إِذْ يَقُول عز من قَائِل {فَلَا تعلم نفس مَا أُخْفِي لَهُم من قُرَّة أعين}

فقد أخبرنَا أَنه جَازَ فِي الْكَمَال وَالنَّعِيم وقرة الْعُيُون وصف الواصفين وَمَعْرِفَة العارفين وَذكر الذَّاكِرِينَ لجَمِيع النَّعيم فَعظم فِي قلبه جوَار مَوْلَاهُ وَمَا أعد فِيهِ لمن أناب إِلَيْهِ وأطاعه فشخص إِلَيْهِ بعقله فاتصل مَا استودع قلبه من الْعلم بذلك لمشاهدته بعقله حَتَّى أَنه رَأْي عينه عَمَّا قَالَه حَارِثَة فَكَأَنِّي أنظر إِلَى عرش
সুতরাং যে ব্যক্তি তাঁকে চিনেছে, সে তাঁর নিকট থেকে সঠিক পথের প্রত্যাশা করে এবং তাঁর বাণীর মাধ্যমে বেঁচে থাকার এবং তাঁর আদব শিক্ষার মাধ্যমে আল্লাহ জাল্লা জিকরূহু-র পক্ষ থেকে সঠিক উপলব্ধির আশা রাখে।

আর সে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার পক্ষ থেকে জান্নাতে তাঁর প্রতিদানের মাহাত্ম্য সম্পর্কে অনুধাবন করে—তার স্থায়িত্ব, তথাকার পবিত্র জীবন এবং সেখান থেকে সকল বিপদ-আপদ, ক্লেশ ও দুঃখের বিলুপ্তি সম্পর্কে। আর নিশ্চয়ই তা নফস যা আকাঙ্ক্ষা করে তার ঊর্ধ্বে; সেখানে যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে তার অধিকাংশের কথা কারো হৃদয়ে উদয় হওয়াও সম্ভব নয়।

আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, "আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাঁর জান্নাতে এমন সব নিয়ামত প্রস্তুত করে রেখেছেন যা কোনো চোখ দেখেনি, কোনো কান শুনেনি এবং কোনো মানুষের হৃদয়ে কল্পনাও আসেনি।"

আর আল্লাহ তাআলাই তাঁর বন্ধুদের জন্য যা প্রস্তুত রেখেছেন তার বর্ণনাকারী হিসেবে যথেষ্ট, যখন মহান সত্তা বলেন, "কোনো প্রাণীই জানে না তাদের জন্য নয়নপ্রীতিকর কী নিয়ামত লুকিয়ে রাখা হয়েছে।"

তিনি আমাদের অবহিত করেছেন যে, জান্নাতের পূর্ণতা, নিয়ামত ও নয়নপ্রীতিকর বিষয়গুলো বর্ণনাকারীদের বর্ণনা, জ্ঞানীদের জ্ঞান এবং সকল নিয়ামত সম্পর্কে স্মরণকারীদের স্মরণের গণ্ডি ছাড়িয়ে গেছে। ফলে তার অন্তরে তার মাওলার সান্নিধ্য এবং যারা তাঁর দিকে রুজু করে ও তাঁর আনুগত্য করে তাদের জন্য তিনি যা প্রস্তুত রেখেছেন তার মর্যাদা বৃদ্ধি পেল। তখন সে নিজ বিবেকের মাধ্যমে তাঁর দিকে ধাবিত হলো এবং সেই সম্পর্কিত যে জ্ঞান তার অন্তরে গচ্ছিত ছিল তা তার বিবেকজাত দর্শনের সাথে যুক্ত হলো, এমনকি হারেসা যা বলেছিলেন তার ন্যায় এটি যেন চাক্ষুষ দর্শনের মতো হয়ে গেল যে, "আমি যেন আরশের দিকে তাকিয়ে আছি।"
(খণ্ড: ১) মাহিয়্যাতুল আক্‌লি ওয়া মানাহু ওয়াখতিলাফুন নাসি ফীহি (পৃষ্ঠা: ২২৪)
رَبِّي بارزا وَإِلَى أهل الْجنَّة يتزاورون

وكما قَالَ الْحسن وَذكر أَوْلِيَاء الله فِي الدُّنْيَا فَقَالَ صدقُوا بِهِ فَكَأَنَّمَا يرَوْنَ مَا وعدوا رَأْي الْعين

فَلَمَّا اتَّصل عقله بمشاهدة ذَلِك حن واشتاق فَلَمَّا حن واشتاق تعلق قلبه واشتغل فَلَمَّا اشْتغل بالشوق إِلَى جوَار ربه سلا عَن الدُّنْيَا فلهَا عَنْهَا 110 فَمن تفكر فِي دَار الدُّنْيَا أَيْن هِيَ من جوَار ربه إِذْ يَقُول عز وجل {لَعَلَّكُمْ تتفكرون فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَة} قيل فِي التَّفْسِير تَفَكَّرُوا فيهمَا فَعَلمُوا أَن الدُّنْيَا دَار فنَاء وَأَن الْآخِرَة دَار جَزَاء وَبَقَاء فعقل نعت ربه لزوَال الدُّنْيَا وفنائها وَأَن كل مَا أَخذ مِنْهَا لغير الْقرْبَة إِلَى ربه فِي جواره نَاقص من دَرَجَات الْقرب وَكَمَال النَّعيم فِي جوَار ربه وَأَن فِيهِ الْحساب وَالسُّؤَال عَن نعيمها بِالْحَبْسِ عَن السَّبق فِي أَوَائِل الزمر إِلَى جوَار ربه ومولاه وَأَنَّهَا مشغلة لَهُ عَن الِاشْتِغَال بربه مَا دَامَ فِيهَا حَتَّى مَا يعدله من الْأنس بربه وحلاوة مُنَاجَاة سَيّده
আমার প্রতিপালক প্রকাশিত অবস্থায় এবং জান্নাতবাসীরা একে অপরের সাথে সাক্ষাৎ করতে থাকবে।

যেমন হাসান (বসরি) বলেছেন—তিনি দুনিয়াতে আল্লাহর ওলীদের কথা উল্লেখ করে বলেছেন: তারা এতে বিশ্বাস স্থাপন করেছে, ফলে তারা যা প্রতিশ্রুত হয়েছে তা যেন চাক্ষুষ দেখছে।

যখন তার বিবেক সেই পর্যবেক্ষণের সাথে যুক্ত হলো, তখন সে ব্যাকুল হলো এবং তার মধ্যে আকাঙ্ক্ষা জাগ্রত হলো। যখন সে ব্যাকুল হলো এবং আকাঙ্ক্ষা করল, তখন তার অন্তর আসক্ত হলো এবং মগ্ন হলো। যখন সে তার রবের সান্নিধ্যের আকাঙ্ক্ষায় মগ্ন হলো, তখন সে দুনিয়া থেকে মন সরিয়ে নিল এবং তা থেকে বিমুখ হলো ১১০। সুতরাং যে ব্যক্তি দুনিয়ার আবাস নিয়ে চিন্তা করে যে তার রবের সান্নিধ্যের তুলনায় এর অবস্থান কোথায়—যেহেতু মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ বলেছেন: {যাতে তোমরা দুনিয়া ও আখিরাত সম্পর্কে চিন্তা করো}। তাফসীরে বলা হয়েছে: তারা এ দুই বিষয়ে চিন্তা করেছে এবং জেনেছে যে দুনিয়া নশ্বর আবাস আর আখিরাত প্রতিদান ও চিরস্থায়ী আবাস। ফলে সে দুনিয়ার বিলোপ ও ধ্বংসের বিষয়ে তার রবের বর্ণনা অনুধাবন করল এবং এটিও বুঝল যে, তার রবের সান্নিধ্য লাভ ব্যতীত যা কিছু দুনিয়া থেকে গ্রহণ করা হয়, তা রবের সান্নিধ্যের মর্তবা এবং রবের সান্নিধ্যে নিয়ামতের পূর্ণতাকে কমিয়ে দেয়। আর এতে রয়েছে হিসাব এবং এর নিয়ামতরাজি সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ যা তাকে তার রব ও মওলার সান্নিধ্য পানে প্রথম সারির দলগুলোর সাথে অগ্রগামী হতে বাধা দিয়ে আটকে রাখে। আর যতক্ষণ সে এতে (দুনিয়াতে) অবস্থান করে, এটি তাকে তার রবের স্মরণে মগ্ন হওয়া থেকে বিরত রাখে; এমনকি এটি তাকে তার রবের সাথে হৃদ্যতা এবং তার মুনিবের সাথে নিভৃত আলাপের মাধুর্য থেকেও বিচ্যুত করে।
(খণ্ড: ১) মাহিয়্যাতুল আক্‌লি ওয়া মানাহু ওয়াখতিলাফুন নাসি ফীহি (পৃষ্ঠা: ২২৫)
فارتفع قلبه عَنْهَا وَتمنى أَن لَو اسْتغنى أَن يتَنَاوَل مِنْهَا شَيْئا فَلم يجد بدا من الْأَخْذ مِنْهَا مَا يقويه على طَاعَة ربه خوفًا أَن يمسك عَن الْقُوت فَيَنْقَطِع عَن عبَادَة ربه

فَكَانَ نصِيبه مِنْهَا الْقُوت من الْغذَاء وَلم يتَكَلَّف مَا جَازَ بلغَة الْقُوت من غذائه وَستر عَوْرَته وان تكلّف طلبه لم يتَكَلَّف إِلَّا للقربة إِلَى ربه فَإِن ابْتُلِيَ مِنْهَا بِمَا فَوق غذائه وَستر عَوْرَته من مثل مِيرَاث أَو غَيره فمبذول كُله لرَبه يفرح بِإِخْرَاجِهِ ويغتم أَن يمْكث عِنْده أقل من طرفه عين

وعقل عَن الله تَعَالَى آيَاته فِي تَدْبيره وحكمته فِي آثَار صَنعته وَدَلَائِل حسن وَتَقْدِيره فَعلم أَنه بقدرة نَافِذَة قدرهَا وبحكمة كَامِلَة أتقنها وبعلم مُحِيط اخترعها وبسمع نَافِذ سمع حركاتها وببصر مدرك لَهَا دبر لطائف خلقهَا وغوامض كوامنها وَمَا وارته حجبها وسواترها

فاستدل بذلك أَنه الْإِلَه الْعَظِيم الَّذِي لَا إِلَه غَيره وَلَا رب سواهُ فَكَأَن جَمِيع الْأَشْيَاء عين يعْتَبر بهَا ويجل ويعظم لما يرى وَيسمع من مَوْلَاهُ وسيده فدام ذكره وزالت عَن الله عز وجل غفلته وعقل عَن الله تَعَالَى أَنه مَا يبلغهُ غَايَة الْعلم بِهِ وَلَا بلطائف
তাঁর অন্তর দুনিয়া থেকে বিমুখ হয়ে গেল এবং তিনি আকাঙ্ক্ষা করলেন যদি তিনি তা থেকে কিছুই গ্রহণ না করে চলতে পারতেন। কিন্তু তিনি স্বীয় রবের আনুগত্যের ওপর শক্তি লাভের জন্য তা থেকে আহার্য গ্রহণ করা ছাড়া কোনো বিকল্প পেলেন না; এই ভয়ে যে, তিনি যদি জীবনধারণের উপকরণ ত্যাগ করেন তবে তাঁর রবের ইবাদত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বেন।

ফলে দুনিয়া থেকে তাঁর অংশ ছিল কেবল জীবন রক্ষাকারী আহার। তিনি জীবন রক্ষাকারী আহার্য ও সতর ঢাকার প্রয়োজনের অতিরিক্ত কিছুর জন্য কোনো আড়ম্বর করতেন না। আর যদি তিনি কিছু অন্বেষণ করতে সচেষ্ট হতেন, তবে তা কেবল তাঁর রবের নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যেই করতেন। যদি তিনি আহার ও সতর আবরণের অতিরিক্ত কিছুর দ্বারা পরীক্ষিত হতেন—যেমন উত্তরাধিকার বা অন্য কিছু—তবে তা সবটুকুই তাঁর রবের উদ্দেশ্যে বিলিয়ে দিতেন। তিনি তা দান করতে পেরে আনন্দিত হতেন এবং তা যদি চোখের পলকের সমপরিমাণ সময়ের জন্যও তাঁর কাছে থেকে যেত, তবে তিনি ব্যথিত হতেন।

আর তিনি আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে তাঁর পরিচালনাগত নিদর্শনাবলি, তাঁর সৃষ্টির নিপুণতার মধ্যে নিহিত প্রজ্ঞা এবং তাঁর সুন্দর তাকদিরের প্রমাণসমূহ অনুধাবন করলেন। ফলে তিনি জানতে পারলেন যে, আল্লাহ এক কার্যকর ক্ষমতার মাধ্যমে তা নির্ধারণ করেছেন, এক পরিপূর্ণ প্রজ্ঞার মাধ্যমে তা সুনিপুণ করেছেন, এক পরিবেষ্টনকারী জ্ঞানের মাধ্যমে তা উদ্ভাবন করেছেন, এক কার্যকর শ্রবণশক্তির মাধ্যমে সেগুলোর গতিবিধি শুনেছেন এবং এক সর্বদর্শী দৃষ্টির মাধ্যমে সেগুলোর সূক্ষ্ম সৃষ্টিশৈলী, লুকায়িত রহস্য এবং আবরণ ও পর্দার আড়ালে যা কিছু আছে তা পরিচালনা করেছেন।

এর মাধ্যমে তিনি প্রমাণ লাভ করলেন যে, তিনিই সেই মহান ইলাহ, যিনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং তিনি ব্যতীত কোনো প্রতিপালক নেই। তখন সকল বস্তু যেন তাঁর নিকট এক শিক্ষণীয় বিষয়ে পরিণত হলো এবং তিনি তাঁর অভিভাবক ও প্রভুর যা কিছু দেখেন ও শোনেন তার কারণে তাঁকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও মহিমান্বিত করতে লাগলেন। ফলে তাঁর স্মরণ নিরবচ্ছিন্ন হলো এবং মহান আল্লাহ সম্পর্কে তাঁর উদাসীনতা দূর হলো। তিনি আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে এটি অনুধাবন করলেন যে, কোনো সৃষ্টিই তাঁর সম্পর্কে জ্ঞানের চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছাতে পারবে না এবং তাঁর সূক্ষ্ম রহস্যসমূহও অনুধাবন করতে পারবে না।
(খণ্ড: ১) মাহিয়্যাতুল আক্‌লি ওয়া মানাহু ওয়াখতিলাফুন নাসি ফীহি (পৃষ্ঠা: ২২৬)
محابه والقرب إِلَيْهِ والفهم لما كَلمه بِهِ فَكَانَ مَعَ سَيّده اجْتِهَاده ودوام اشْتِغَاله بربه غير تَارِك وَلَا مُنْقَطع عَن طلب الازدياد من الْعلم بربه والتزيد فِي الْفِقْه عَنهُ أَعلَى فِي قلبه وَأعظم عِنْده قدرا من الازدياد من كثير أَعمال النَّوَافِل إِذْ عقل عَن ربه أَن أقل قَلِيل الْمعرفَة يُورث التَّعْظِيم والهيبة وَيبْعَث على الِاجْتِهَاد وَيُورث الطَّاعَات والشغل عَن جَمِيع الْعباد

وعقل عَن الله تَعَالَى أَنه ابْتَدَأَ عباده بِالرَّحْمَةِ والتفضل وَالْإِحْسَان بعد تَقْدِيم الْعلم مِنْهُ لَهُم أَنهم سيعصونه ويخالفون أمره فَلم يمنعهُ ذَلِك عَن ابتدائهم بِالنعَم والتحنن وَالرَّحْمَة وَالْإِحْسَان

وَجعل أفضل أوليائه عِنْده الرُّحَمَاء بخلقه المتحننين على عباده الناصحين لبريته وهم رسله الداعون الْعباد إِلَى نجاتهم والمحذرون لَهُم من هلكتهم المتحملون مِنْهُم الْأَذَى والمتحننون عَلَيْهِم بِالرَّحْمَةِ والنصح والإشفاق مَعَ أذاهم لَهُم وتكذيبهم إيَّاهُم واستهزائهم بهم لَا يكافئونهم بِمثل مَا نالوا مِنْهُم وَلَا يَنْصَرِفُونَ عَن الإشفاق عَلَيْهِم إِذْ سمعُوا الله جلّ ثَنَاؤُهُ يصفهم إِذْ قَالُوا لنوح {إِنَّا لنراك فِي ضلال مُبين}
তাঁর প্রিয় বিষয়সমূহ, তাঁর নৈকট্য অর্জন এবং তিনি যা বলেছেন তা অনুধাবন করা। সুতরাং তিনি তাঁর রবের সাথেই তাঁর সাধনা ও রবের প্রতি তাঁর নিরবচ্ছিন্ন মগ্নতা নিয়ে ছিলেন; তিনি তাঁর রব সম্পর্কে জ্ঞান বৃদ্ধি এবং তাঁর পক্ষ থেকে গভীর উপলব্ধি বা ফিকহ বৃদ্ধির অন্বেষণ ত্যাগ করেননি বা তা থেকে বিচ্ছিন্ন হননি। এটি তাঁর অন্তরে অনেক নফল আমল বৃদ্ধির চেয়েও অধিক উচ্চতর এবং তাঁর নিকট অধিক মর্যাদাপূর্ণ ছিল। কেননা তিনি তাঁর রবের পক্ষ থেকে এ কথা বুঝতে পেরেছিলেন যে, সামান্যতম মা’রিফাত বা পরিচয়ও মহান আল্লাহর প্রতি মহত্ত্ব ও ভীতি উদ্রেক করে, সাধনায় উদ্বুদ্ধ করে এবং আনুগত্য ও অন্য সকল সৃষ্টি থেকে বিমুখ হয়ে আল্লাহর কাজে মগ্ন হওয়ার প্রেরণা জোগায়।

তিনি মহান আল্লাহ সম্পর্কে এটিও বুঝতে পেরেছিলেন যে, তিনি তাঁর বান্দাদের প্রতি দয়া, অনুগ্রহ ও ইহসান দ্বারা শুরু করেছেন, যদিও তাঁর নিকট পূর্ব থেকেই এই জ্ঞান ছিল যে, তারা তাঁর নাফরমানি করবে এবং তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করবে। কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি তাদেরকে নি’য়ামত, মমতা, দয়া ও ইহসান দিয়ে ধন্য করা থেকে বিরত থাকেননি।

আর তিনি তাঁর নিকট তাঁর বন্ধুদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ করেছেন তাদেরকে যারা তাঁর সৃষ্টির প্রতি দয়াবান, তাঁর বান্দাদের প্রতি মমতাশীল এবং তাঁর সৃষ্টির কল্যাণকামী। তাঁরা হলেন তাঁর রাসূলগণ, যারা বান্দাদেরকে তাদের মুক্তির পথে আহ্বান করেন এবং ধ্বংসের ব্যাপারে সতর্ক করেন। তাঁরা মানুষের পক্ষ থেকে আসা কষ্ট সহ্য করেন এবং তাদের পক্ষ থেকে প্রাপ্ত কষ্ট, প্রত্যাখ্যান ও বিদ্রূপ সত্ত্বেও তাদের প্রতি দয়া, নসিহত ও মমতা প্রদর্শন করেন। তাঁরা মানুষের কাছ থেকে প্রাপ্ত আচরণের অনুরূপ প্রতিদান দেন না এবং তাদের প্রতি মমতা প্রদর্শন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন না। কারণ তাঁরা শুনেছেন মহান আল্লাহ তাঁদের বর্ণনা দিয়েছেন যখন তারা নূহকে বলেছিল, "নিশ্চয়ই আমরা তোমাকে স্পষ্ট ভ্রষ্টতার মধ্যে দেখছি।"
(খণ্ড: ১) মাহিয়্যাতুল আক্‌লি ওয়া মানাহু ওয়াখতিলাফুন নাসি ফীহি (পৃষ্ঠা: ২২৭)
وَقَالُوا لهود {إِنَّا لنراك فِي سفاهة}

ثمَّ وصف جوابهما فَقَالَ نوح {لَيْسَ بِي ضَلَالَة وَلَكِنِّي رَسُول من رب الْعَالمين} إِلَى قَوْله {ولعلكم ترحمون}

وَوصف رد هود عَلَيْهِم فَقَالَ {يَا قوم لَيْسَ بِي سفاهة وَلَكِنِّي رَسُول من رب الْعَالمين أبلغكم رسالات رَبِّي وَأَنا لكم نَاصح أَمِين} إِلَى قَوْله {لَعَلَّكُمْ تفلحون} أَي تظفرون بِثَوَاب الله إِن قبلتم مني فَأخْبرهُم بعد تسفيههم لَهُ أَنه لم ينْصَرف من أجل ذَلِك عَن النَّصِيحَة لَهُم لَعَلَّهُم يفلحون

وَقَالَ إِبْرَاهِيم عليه السلام {فَمن تَبِعنِي فَإِنَّهُ مني وَمن عَصَانِي فَإنَّك غَفُور رَحِيم}

وَقَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَوصف نَبيا من الْأَنْبِيَاء شجه قومه فَهُوَ يمسح الدَّم عَن وَجهه وَهُوَ يَقُول رب اغْفِر لقومي فَإِنَّهُم لَا يعلمُونَ

وَرُوِيَ أَن نوحًا عليه السلام كَانَ يخنقه قومه حَتَّى يغشى عَلَيْهِ فَإِذا أَفَاق قَالَ رب اغْفِر لقومي إِنَّهُم لَا يعلمُونَ
এবং তারা হুদকে বলল {নিশ্চয়ই আমরা তোমাকে নির্বুদ্ধিতার মাঝে দেখতে পাচ্ছি}

অতঃপর তিনি তাঁদের উভয়ের উত্তরের বিবরণ দিয়ে বললেন, নূহ বলেছিলেন {আমার মাঝে কোনো ভ্রষ্টতা নেই, বরং আমি বিশ্বজগতের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে প্রেরিত একজন রাসূল} তাঁর এই বাণী পর্যন্ত {এবং যাতে তোমরা রহমত প্রাপ্ত হও}

এবং তিনি তাদের প্রতি হুদের প্রত্যুত্তরের বিবরণ দিয়ে বললেন {হে আমার কওম, আমার মাঝে কোনো নির্বুদ্ধিতা নেই, বরং আমি বিশ্বজগতের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে প্রেরিত একজন রাসূল। আমি তোমাদের কাছে আমার প্রতিপালকের রিসালাত পৌঁছে দিচ্ছি এবং আমি তোমাদের জন্য একজন বিশ্বস্ত হিতাকাঙ্ক্ষী} তাঁর এই বাণী পর্যন্ত {যাতে তোমরা সফলকাম হও}। অর্থাৎ তোমরা আল্লাহর প্রতিদান লাভে জয়ী হবে যদি আমার দাওয়াত গ্রহণ করো। সুতরাং তাদের পক্ষ থেকে তাঁকে নির্বোধ সাব্যস্ত করার পরেও তিনি তাদের সংবাদ দিলেন যে, তিনি এ কারণে তাদের উপদেশ দান হতে বিমুখ হননি, যাতে তারা সফলকাম হতে পারে।

এবং ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম বললেন {সুতরাং যে আমার অনুসরণ করল সে আমার অন্তর্ভুক্ত, আর যে আমার অবাধ্য হলো তবে নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল পরম দয়ালu}

এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আম্বিয়াগণের মধ্য হতে এমন একজন নবীর বিবরণ দিয়েছেন যাঁর কওম তাঁকে আহত করেছিল; এমতাবস্থায় তিনি তাঁর মুখমণ্ডল থেকে রক্ত মুছছিলেন আর বলছিলেন: হে আমার প্রতিপালক, আমার কওমকে ক্ষমা করে দিন, কারণ তারা জানে না।

এবং বর্ণিত আছে যে, নূহ আলাইহিস সালামকে তাঁর কওম শ্বাসরোধ করত যতক্ষণ না তিনি সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়তেন; অতঃপর যখন তিনি জ্ঞান ফিরে পেতেন তখন বলতেন: হে আমার প্রতিপালক, আমার কওমকে ক্ষমা করে দিন, কারণ তারা জানে না।
(খণ্ড: ১) মাহিয়্যাতুল আক্‌লি ওয়া মানাহু ওয়াখতিলাফুন নাসি ফীহি (পৃষ্ঠা: ২২৮)
وَفضل النَّبِي صلى الله عليه وسلم صديق هَذِه الْأمة عَلَيْهَا بِالرَّحْمَةِ لَهَا فَقَالَ أرْحم أمتِي بهَا أَبُو بكر

فَلَمَّا عقل عَن الله عز وجل 111 مَا ابْتَدَأَ الْعباد بِهِ من الرَّحْمَة وَأَنه خص أعظم خلقه عِنْده قدرا وفضله بهَا على جَمِيع الْعباد

ألزم قلبه رَحْمَة الْأمة فَأحب محسنهم وأشفق على مسيئهم ودعا إِلَى الله سُبْحَانَهُ إِذا أمكنه مدبرهم وَلم يدّخر مَالا عَن فقيرهم ففضل مَاله عَلَيْهِم مبذول والمواساة فِي قوته مِنْهُم المجهود من سَأَلَهُ مِنْهُم مَا يقدر عَلَيْهِ لم يتبرم بِطَلَبِهِ وَلم يضجر بإعطائه للرحمة الَّتِي لَهُم فِي قلبه وَمن آذاه وأساء إِلَيْهِ لم يجد فِي نَفسه كَرَاهِيَة للعفو والصفح عَنهُ يعدهم جَمِيعًا كأقرب الْخلق مِنْهُ كَبِيرهمْ مثل أَبِيه وصغيرهم كولده وقرنه كأخيه فَكل هَؤُلَاءِ يحب الْإِحْسَان إِلَيْهِم وَأَن لَا يُفَارق قلبه الشَّفَقَة عَلَيْهِم

وعقل عَن الله تَعَالَى عَظِيم قدره وَقدر مَا يطْلب من ثَوَابه وَمَا يخَاف من عِقَابه وعظيم الأيادي وَكَثْرَة النَّعيم عِنْده وَأَن جَمِيع خلقه من أهل سمواته وأرضه لَو دأبوا جَمِيعًا واجتهدوا عمر الدُّنْيَا كلهَا وأبدا مَا أَدّوا شكر نعمه وَلَا أَدّوا مَا يحِق فِي عَظمته فَكيف بالحلول فِي جواره والنجاة من عَذَابه
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এই উম্মতের সিদ্দীককে তাদের প্রতি দয়ার কারণে এই উম্মতের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন এবং বলেছেন: “আমার উম্মতের মধ্যে উম্মতের প্রতি সবচেয়ে দয়ালু হলেন আবু বকর।”

অতঃপর যখন তিনি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে ১১১ এটি অনুধাবন করলেন যে, তিনি বান্দাদের প্রতি দয়া দিয়ে সূচনা করেছেন এবং তিনি তাঁর নিকট মর্যাদার দিক থেকে তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টিকে এর মাধ্যমে বিশিষ্ট করেছেন এবং সকল বান্দার ওপর তাকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন;

তিনি আপন অন্তরকে উম্মতের প্রতি দয়ার জন্য নিবদ্ধ করলেন। ফলে তিনি তাদের মধ্যকার নেককারদের ভালোবাসতেন, পাপাচারীদের প্রতি মমতা প্রদর্শন করতেন এবং যখনই সম্ভব হতো বিমুখদের পবিত্র আল্লাহর দিকে আহ্বান করতেন। তিনি তাদের দরিদ্রদের থেকে কোনো সম্পদ পুঞ্জীভূত করে রাখতেন না; বরং তার উদ্বৃত্ত সম্পদ তাদের জন্য অবারিত ছিল এবং নিজের জীবনোপকরণ থেকে তাদের প্রতি সহমর্মিতা ছিল সাধ্যমতো। তাদের মধ্যে কেউ তার কাছে সাধ্যের ভেতর কিছু প্রার্থনা করলে তিনি সেই যাচনায় অসন্তুষ্ট হতেন না এবং প্রদানের ক্ষেত্রেও কুণ্ঠিত হতেন না—সেই দয়ার কারণে যা তাদের জন্য তাঁর অন্তরে বিদ্যমান ছিল। আর যে তাকে কষ্ট দিত বা তার প্রতি দুর্ব্যবহার করত, তাকে ক্ষমা ও মার্জনা করতে তিনি মনে কোনো অপছন্দবোধ করতেন না। তিনি তাদের সকলকে নিজের সবচেয়ে নিকটতম সৃষ্টি জ্ঞান করতেন—তাদের বড়দের পিতার মতো, ছোটদের সন্তানের মতো এবং সমবয়সীদের ভাইয়ের মতো। তিনি তাদের সকলের প্রতি ইহসান করা পছন্দ করতেন এবং চাইতেন যেন তাদের প্রতি মমতা তাঁর অন্তর থেকে কখনো বিচ্ছিন্ন না হয়।

তিনি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর সুমহান মর্যাদা, তাঁর নিকট প্রার্থিত সওয়াবের গুরুত্ব, তাঁর যে শাস্তিকে ভয় করা হয় তার ভয়াবহতা এবং তাঁর সুমহান অনুগ্রহ ও নেয়ামতের আধিক্য সম্পর্কে অনুধাবন করেছিলেন। আর এও যে, তাঁর আসমান ও জমিনের সকল সৃষ্টি যদি সারা দুনিয়ার হায়াতব্যাপী এবং অনন্তকাল পর্যন্ত অবিরাম সাধনা ও চেষ্টা করত, তবুও তারা তাঁর নেয়ামতের শোকর আদায় করতে পারত না এবং তাঁর মহত্ত্বের যে হক রয়েছে তাও পূর্ণ করতে পারত না। এমতাবস্থায় তাঁর সান্নিধ্যে স্থান লাভ এবং তাঁর আজাব থেকে নাজাত পাওয়ার বিষয়টি তো আরও অনেক বড় বিষয়।
(খণ্ড: ১) মাহিয়্যাতুল আক্‌লি ওয়া মানাহু ওয়াখতিলাফুন নাসি ফীহি (পৃষ্ঠা: ২২৯)
فقد عقل أَي رب يعبد وَأي ثَوَاب يطْلب وَمن أَي عِقَاب وَعَذَاب يهرب وَأي نعيم يشْكر وَالشُّكْر أَيْضا مِمَّن هُوَ وَمن من بِهِ

فَلَمَّا عقل ذَلِك كُله عَن ربه اسْتَقل واستصغر جَمِيع دؤوبه واجتهاده لعَظيم مَا عقل من جَمِيع ذَلِك

وعقل عَن الله تَعَالَى مَا وصف بِهِ نَفسه أَنَّهَا بالسوء أَمارَة وللذنوب مسولة وَأَنَّهَا هِيَ الَّتِي جنت عَلَيْهِ مَا قد أَحْصَاهُ ربه عَلَيْهِ وَلم يَأْمَن أَن يكون قد حل بِهِ غَضَبه وَأَنه لَا يكَاد يعدل فِي بعض أَحْوَاله أَن يتَعَرَّض لبَعض مساخطه وَأَنه قد لَزِمته عَظِيم حجَّة مَا خص بِهِ من الْعلم وَمَا من عَلَيْهِ بِهِ من الْمعرفَة دون أَكثر الْعَوام فَاسْتَكْثر قَلِيل طاعتهم واستعظمها مَعَ استصغار كثير الطَّاعَات من نَفسه لِأَنَّهُ أعلم بِنَفسِهِ وبذنوبه من ذنوبهم وَأَن الْحجَّة عَلَيْهِ أعظم مِنْهَا عَلَيْهِم

وعقل قدر من عَصَاهُ وَخَالفهُ فِيمَا أمره بِهِ فعقل قدر عَظمَة من عَصَاهُ وَشدَّة غَضَبه وَشدَّة عَذَابه وهول الْمكْث فِي عِقَابه إِن لم يعف عَنهُ
তিনি অনুধাবন করেছেন যে কোন রবের তিনি ইবাদত করছেন, কোন সওয়াব তিনি অন্বেষণ করছেন, কোন শাস্তি ও আযাব থেকে তিনি পলায়ন করছেন এবং কোন নিআমতের জন্য তিনি শুকরিয়া জ্ঞাপন করছেন; আর এই শুকরিয়া কার পক্ষ থেকে এবং কে তাঁর প্রতি এই অনুগ্রহ করেছেন।

যখন তিনি তাঁর রবের পক্ষ থেকে এই সব কিছু অনুধাবন করলেন, তখন তিনি এই সব বিষয়ের যে মাহাত্ম্য অনুধাবন করেছেন তার তুলনায় নিজের সকল নিরলস প্রচেষ্টা ও কঠোর পরিশ্রমকে অতি সামান্য ও তুচ্ছ মনে করলেন।

তিনি আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে তা অনুধাবন করেছেন যা দিয়ে তিনি নফসকে বর্ণনা করেছেন—যে তা মন্দের প্রতি অতিশয় নির্দেশদাতা এবং পাপের প্ররোচনাকারী; আর এটিই তাঁর বিরুদ্ধে সেই অপরাধগুলো করেছে যা তাঁর রব তাঁর আমলনামায় গণনা করে রেখেছেন। তিনি এই বিষয়ে নিশ্চিত নন যে আল্লাহর ক্রোধ তাঁর ওপর আপতিত হয়েছে কি না, এবং তিনি এমন নন যে নিজের সব অবস্থায় তাঁর কোনো না কোনো অসন্তুষ্টির কারণ হওয়া থেকে বেঁচে থাকতে পারেন। অধিকাংশ সাধারণ মানুষের চেয়ে তাঁকে যে বিশেষ ইলম ও মারিফত প্রদান করে অনুগ্রহ করা হয়েছে, তার ফলে তাঁর ওপর এক সুমহান প্রমাণ অবধারিত হয়েছে। ফলে তিনি সাধারণ মানুষের অল্প আনুগত্যকেও অনেক বেশি ও মহান মনে করেন, অথচ নিজের পক্ষ থেকে অধিক ইবাদতকেও তুচ্ছ জ্ঞান করেন; কারণ তিনি তাদের পাপের চেয়ে নিজের নফস ও নিজের পাপ সম্পর্কে অধিক অবগত এবং তাদের তুলনায় তাঁর নিজের ওপর আল্লাহর প্রমাণ বা হুজ্জাত অনেক বড়।

তিনি যাঁর অবাধ্য হয়েছেন এবং যাঁর আদেশের বিরোধিতা করেছেন তাঁর গুরুত্ব অনুধাবন করেছেন; ফলে তিনি যাঁর নাফরমানি করেছেন তাঁর মহিমা, তাঁর কঠোর ক্রোধ, তাঁর কঠোর শাস্তি এবং যদি তিনি তাঁকে ক্ষমা না করেন তবে তাঁর শাস্তির মধ্যে অবস্থানের ভয়াবহতা অনুধাবন করেছেন।
(খণ্ড: ১) মাহিয়্যাতুল আক্‌লি ওয়া মানাহু ওয়াখতিলাফুন নাসি ফীহি (পৃষ্ঠা: ২৩০)
فعقل كَثْرَة ذنُوبه وَسُوء رَغْبَة نَفسه ودناءة همته وَعَجِيب جَهله إِذْ كَانَ قد آثر على رِضَاهُ من العبيد مَا لَا معنى لَهُم فِي دنيا وَلَا آخِرَة بِملك وَلَا نفع وَلَا ضرّ وإيثاره من الدُّنْيَا المكدر المنغص الفاني مِنْهُ والفاني هُوَ عَنهُ وَالْبَاقِي عَلَيْهِ بعد فنائه شدَّة الْحساب وعظيم السُّؤَال عَنهُ ثمَّ لَا يَأْمَن من سخط الله فِي الْآخِرَة على ذَلِك أَن يحل بِهِ

فَلَمَّا عقل عَن الله عز وجل جَمِيع ذَلِك من نَفسه وتستر عَنهُ عَامَّة ذنُوب الْخلق وحقت عَلَيْهِم الْحجَّة بِدُونِ مَا وَجَبت من الله عز وجل من أجل الْعلم الَّذِي استودعه والستر عَلَيْهِ لذنوبه وَمَا حببه إِلَى عباده لم يَأْمَن أَن يكون استدراجا لَهُ وَأَنه وكل بالخوف على نَفسه قبل غَيره وَأَنه لَا يَأْمَن لسالف ذنُوبه وتضييع شكر نعم ربه وعظيم مَا لزمَه من الْحجَّة وَأَن يخْتم لَهُ بِغَيْر دين الْإِسْلَام أَو بعظيم الذُّنُوب مَعَ الْإِيمَان فَلم تقع عينه على أحد وَلم يستمع بِهِ من الْمُسلمين إِلَّا خَافَ أَن ينجوا وَيهْلك هُوَ دونه يكسر قلبه من يرى من أهل الطَّاعَات وَيقطع عَلَيْهِ أَنه خير مِنْهُ ويتمنى أَن يكون مثله ويهيج عَلَيْهِ الْخَوْف من قلبه من رَآهُ دونه فِي الدّين يخَاف أَن يهْلك هُوَ دونه أَو يخْتم لَهُ
অতঃপর সে উপলব্ধি করল তার পাপের আধিক্য, নিজ নফসের কুপ্রবৃত্তি, তার হীন সংকল্প এবং তার অজ্ঞতার বিস্ময়কর অবস্থা। কারণ সে আল্লাহর সন্তুষ্টির ওপর এমন সব বান্দাদের অগ্রাধিকার দিয়েছিল, যাদের দুনিয়া বা আখেরাতে কোনো গুরুত্ব নেই; না আছে তাদের কোনো মালিকানা, না কোনো উপকার বা অপকারের ক্ষমতা। সে দুনিয়ার পঙ্কিল, তিক্ত ও নশ্বর ভোগবিলাসকে অগ্রাধিকার দিয়েছে, যা থেকে সে বিলীন হয়ে যাবে এবং যা তার নিকট থেকে হারিয়ে যাবে। আর এর বিলুপ্তির পর তার জন্য অবশিষ্ট থাকবে কঠোর হিসাব ও সে সম্পর্কে সুমহান জিজ্ঞাসাবাদ। তদুপরি, এর ফলে পরকালে আল্লাহর ক্রোধ তার ওপর আপতিত হওয়া থেকেও সে নিরাপদ নয়।

যখন সে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে নিজের সম্পর্কে এই সব কিছু অনুধাবন করল, আর যখন সাধারণ মানুষের পাপসমূহ তার নিকট গোপন ছিল, অথচ তার ওপর অর্পিত জ্ঞান, তার পাপসমূহের ওপর আল্লাহর আবরণ এবং তাঁর বান্দাদের হৃদয়ে তার প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টির কারণে অন্যদের তুলনায় আল্লাহর পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে দলিল ও প্রমাণাদি আরও জোরালোভাবে সাব্যস্ত হয়েছে; তখন সে শঙ্কিত হলো যে, এটি হয়তো তার জন্য এক প্রকার 'ইস্তিদরাজ' (ধীরে ধীরে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাওয়া)। সে অন্যের পূর্বে নিজ নফসের ব্যাপারে ভয়ে আদিষ্ট হলো। সে তার অতীত পাপরাশি, রবের নেয়ামতের শুকরিয়া আদায়ে অবহেলা এবং তার বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠিত সুমহান প্রমাণের কারণে নিজেকে নিরাপদ মনে করে না। সে ভয় পায় যে, তার মৃত্যু হয়তো ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো অবস্থায় হবে অথবা ঈমান থাকা সত্ত্বেও বড় কোনো পাপের অবস্থায় তার পরিসমাপ্তি ঘটবে। ফলে কোনো মুসলমানের ওপর তার দৃষ্টি পড়লে বা কারো কথা শুনলেই সে এই আশঙ্কায় ভীত হয় যে, হয়তো ওই ব্যক্তি মুক্তি পেয়ে যাবে আর সে নিজে ধ্বংস হয়ে যাবে। যখন সে ইবাদতগুজার ও অনুগত বান্দাদের দেখে, তখন তার অন্তর ভেঙে যায় এবং সে নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করে যে তারা তার চেয়ে উত্তম, আর সে তাদের মতো হওয়ার আকাঙ্ক্ষা করে। আবার যখন সে দ্বীনের ক্ষেত্রে নিজের চেয়ে নিম্নস্তরের কাউকে দেখে, তখনও তার অন্তরে ভয় জেগে ওঠে—সে ভয় পায় যে হয়তো ওই ব্যক্তির পরিবর্তে সে নিজেই ধ্বংস হয়ে যাবে অথবা তার মন্দ পরিণতি হবে।
(খণ্ড: ১) মাহিয়্যাতুল আক্‌লি ওয়া মানাহু ওয়াখতিলাফুন নাসি ফীহি (পৃষ্ঠা: ২৩১)
بأشر الْأَعْمَال لعَظيم حجَّة الْعلم وَجَمِيل السّتْر عَلَيْهِ وَلما أَمر بِهِ من خوف سوء الْخَوَاتِم الَّتِي مَاتَ عَلَيْهَا الأشقياء فَهُوَ متواضع للعباد كلهم لشدَّة ذلة الْخَوْف على نَفسه

وعقل عَن الله عز وجل مَا بَين من قدر الدُّنْيَا وَالْآخِرَة فعقل صفة الْآخِرَة بنعيمها وملكها وشرفها وعزها وعظيم قدر سكانها أَنَّهَا فِي جوَار الْمولى وَمَا وصف بِهِ سوء عَيْش الدُّنْيَا وضعة رفعتها عِنْده يَوْم يُحَاسب عباده وذل الْعَزِيز بهَا عِنْده فِي يَوْم يبْعَث خلقه وحقارة المتكبرين فِي عينه وصنعه بهم يَوْم النشور حَتَّى أَنهم ليحشرون فِي صور الذَّر دون جَمِيع الْعباد

وعقل عَن الله تَعَالَى مَا أمره بِهِ وَأخْبر أَن الْفَقِير من اسْتغنى بالدنيا عَنْهَا وَمن يجازي بِمَا 112 حرمه من خفَّة الْحساب والتصاعد فِي معالي درجاته

فَلَمَّا عقل ذَلِك كُله عَن ربه كَانَ الْفقر فِي الدُّنْيَا أحب إِلَيْهِ من الْغنى بهَا وَكَانَ التَّوَاضُع أحب إِلَيْهِ من الشّرف فِيهَا وَكَانَ الذل أحب إِلَيْهِ من الْعِزّ بهَا
ইলমের সুমহান প্রমাণ এবং তার ওপর আল্লাহর সুন্দর আবরণের কারণে সে নিজ আমলসমূহকে নিকৃষ্ট মনে করে। আর দুর্ভাগারা যে অশুভ পরিণতির ওপর মৃত্যুবরণ করেছে, সেই ভয়ের কারণে তাকে যা নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তজ্জন্য সে নিজের ব্যাপারে তীব্র ভীতি ও হীনম্মন্যতার কারণে সকল বান্দার প্রতি বিনয়ী হয়।

সে আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা থেকে দুনিয়া ও আখিরাতের মর্যাদার বিষয়ে যা বর্ণিত হয়েছে তা অনুধাবন করেছে। ফলে সে আখিরাতের গুণাবলি যথা—এর নিয়ামত, রাজত্ব, মর্যাদা, সম্মান এবং এর অধিবাসীদের সুমহান মর্তবা অনুধাবন করেছে যে, তারা মহান রবের সান্নিধ্যে থাকবে। তদ্রূপ সে দুনিয়ার নিকৃষ্ট জীবন এবং বান্দাদের হিসাব গ্রহণের দিনে আল্লাহর নিকট এর উচ্চমর্যাদার তুচ্ছতা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তা উপলব্ধি করেছে। আরও উপলব্ধি করেছে সৃষ্টিজগতকে পুনরুত্থিত করার দিনে দুনিয়ার ক্ষমতাবানদের হীনতা এবং তাঁর দৃষ্টিতে অহংকারীদের তুচ্ছতা ও হাশরের দিনে তাদের সাথে তাঁর আচরণ সম্পর্কে; এমনকি তাদের অন্য সকল বান্দার তুলনায় ক্ষুদ্র পিপীলিকার অবয়বে সমবেত করা হবে।

সে আল্লাহ তাআলা থেকে তাঁর আদেশসমূহ অনুধাবন করেছে এবং তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, প্রকৃত অভাবী সেই ব্যক্তি যে আল্লাহকে বাদ দিয়ে দুনিয়ার মাধ্যমে অভাবমুক্ত হতে চায়। আর যাকে যা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে, তাকে হিসাবের সহজতা এবং তাঁর উচ্চ মর্তবায় আরোহণের মাধ্যমে প্রতিদান দেওয়া হবে।

যখন সে তার রবের পক্ষ থেকে এই সব কিছু অনুধাবন করল, তখন তার নিকট দুনিয়ার সচ্ছলতার চেয়ে দারিদ্র্য অধিক প্রিয় হলো, এতে উচ্চমর্যাদার চেয়ে বিনয় অধিক প্রিয় হলো এবং এতে সম্মানের চেয়ে হীনতা তার কাছে অধিক পছন্দনীয় হলো।
(খণ্ড: ১) মাহিয়্যাতুল আক্‌লি ওয়া মানাহু ওয়াখতিলাফুন নাসি ফীহি (পৃষ্ঠা: ২৩২)
‌‌مَسْأَلَة فِي الْعقل

الْحجَّة حجتان

عيان ظَاهر أَو خبر قاهر

وَالْعقل مضمن بِالدَّلِيلِ وَالدَّلِيل مضمن بِالْعقلِ

وَالْعقل هُوَ الْمُسْتَدلّ

والعيان وَالْخَبَر هما عِلّة الِاسْتِدْلَال وَأَصله

ومحال كَون الْفَرْع مَعَ عدم الأَصْل وَكَون الِاسْتِدْلَال مَعَ عدم الدَّلِيل

فالعيان شَاهد يدل على غيب

وَالْخَبَر يدل على صدق فَمن تنَاول الْفَرْع قبل إحكام الأَصْل سفه

وَرب حق أَحَق من حق كمن عَفا وَمن اقْتصّ وكاقتضاء
বুদ্ধি বিষয়ক একটি মাসয়ালা

প্রমাণ দুই প্রকার

প্রকাশ্য চাক্ষুষ প্রত্যক্ষ অথবা অকাট্য সংবাদ

আর বুদ্ধি প্রমাণের সাথে সংশ্লিষ্ট এবং প্রমাণ বুদ্ধির সাথে সংশ্লিষ্ট

এবং বুদ্ধিই হলো প্রমাণ অন্বেষণকারী

চাক্ষুষ প্রত্যক্ষ ও সংবাদ হলো প্রমাণ অন্বেষণের কারণ ও মূল ভিত্তি

আর মূল ভিত্তি ব্যতিরেকে শাখা থাকা অসম্ভব এবং প্রমাণ ব্যতিরেকে প্রমাণ অন্বেষণ করাও অসম্ভব

সুতরাং চাক্ষুষ প্রত্যক্ষ হলো এমন এক সাক্ষী যা অদৃশ্যের নির্দেশনা দেয়

আর সংবাদ সত্যতার প্রমাণ দেয়; সুতরাং যে ব্যক্তি মূল ভিত্তি সুদৃঢ় করার আগে শাখা গ্রহণ করে, সে নির্বুদ্ধিতা প্রকাশ করে

আর অনেক ক্ষেত্রে একটি সত্য অন্য সত্যের চেয়ে অধিকতর সংগত হতে পারে, যেমন যে ব্যক্তি ক্ষমা করে এবং যে ব্যক্তি প্রতিশোধ গ্রহণ করে কিংবা পাওনা দাবি করার ন্যায়।
(খণ্ড: ১) মাহিয়্যাতুল আক্‌লি ওয়া মানাহু ওয়াখতিলাফুন নাসি ফীহি (পৃষ্ঠা: ২৩৩)
الدّين سَاعَة مَحَله أَو تَركه قَلِيلا إحسانا إِلَيْهِ فقد أحسن فِي الطّلب

فكم من حسن أحسن من حسن غَيره وقبيح أقبح من قَبِيح وَفرض أوجب من آخر وَفضل أفضل من فضل آخر

وَالْحب والبغض إِذا أفرطا انقصا الِاعْتِدَال وأفسدا الْعقل وصورا الْبَاطِل فِي صُورَة الْحق

فَأهل الشَّرّ لَا يفرقون بَين أئمتهم كَمَا لَا يفرقون بَين إمَامهمْ

وَإِن الْحق فِي كل أَمر بَين وَالْبَاطِل فِي كل حَال داحض إِلَّا أَن كثيرا من النَّاس لَا يعرف وَجه مطلبه وَبَعْضهمْ يعرف بعضه ويجهل بعضه وَمِنْهُم من عرف ثمَّ نسي وَمِنْهُم من يعرف أَكْثَره وَلَا يعرف أسهل طرقه وَأقرب وَجهه

فَجَمِيع الْحق فِي فنون الطَّاعَات وتحذير الْبَاطِل فِي مذاهبه إِذا جمع وَألف وَكَانَ أنشط لحفظه ويفهمه من كَانَ لَا ينشط لِأَن يطْلب عمله حَتَّى يجمعه

والعالم بِهِ يُرِيد جمعه فِي بصيرته وَجمع كل مَذْهَب إِلَّا
ঋণ পরিশোধের সময় পর্যন্ত অবকাশ দেওয়া কিংবা অনুগ্রহবশত ঋণের কিছু অংশ ছেড়ে দেওয়া—নিশ্চয়ই সে উত্তমভাবে তা প্রার্থনা করল।

কতই না সৎকাজ রয়েছে যা অন্য সৎকাজের চেয়েও উত্তম, কতই না মন্দ কাজ রয়েছে যা অন্য মন্দ কাজের চেয়েও জঘন্য; এক ফরজ অন্য ফরজের চেয়ে অধিক আবশ্যক এবং এক ফযিলত অন্য ফযিলতের চেয়ে অধিক শ্রেষ্ঠ।

ভালোবাসা এবং ঘৃণা যখন সীমা অতিক্রম করে, তখন তা ভারসাম্য বিনষ্ট করে, বিবেককে কলুষিত করে এবং মিথ্যাকে সত্যের রূপে চিত্রিত করে।

আর অনিষ্টকারী লোকেরা তাদের ইমামদের মধ্যে কোনো পার্থক্য করতে পারে না, যেমন তারা তাদের নেতার ব্যাপারেও কোনো পার্থক্য করতে জানে না।

নিশ্চয়ই প্রতিটি বিষয়ে সত্য সুস্পষ্ট এবং প্রতিটি অবস্থায় মিথ্যা অপসারিত ও বিলুপ্তপ্রায়। কিন্তু অধিকাংশ মানুষই তাদের অভীষ্টের সঠিক দিকটি সম্পর্কে অবগত নয়। তাদের কেউ কেউ এর কিছু অংশ জানে এবং কিছু অংশ জানে না। তাদের মধ্যে কেউ এমন আছে যে জানার পর তা ভুলে গেছে। আবার কেউ এমনও আছে যে এর অধিকাংশ জানে, কিন্তু এর সহজতম পথ ও নিকটতম দিকটি চেনে না।

সুতরাং আনুগত্যের বিভিন্ন শাখার অন্তর্ভুক্ত যাবতীয় সত্য এবং বাতিলের সকল পথ সম্পর্কে সতর্কবাণী যখন একত্রিত ও সংকলিত হয়, তখন তা মুখস্থ করার জন্য অধিক উদ্দীপনা যোগায়। আর যে ব্যক্তি এটি নিজে সংকলন করা পর্যন্ত আমল অন্বেষণে উদ্যমী ছিল না, সেও তখন এটি বুঝতে সক্ষম হয়।

আর এ বিষয়ে জ্ঞানী ব্যক্তি তার অন্তর্দৃষ্টিতে এটি সঞ্চিত রাখতে চায় এবং প্রতিটি মতবাদকে একত্রিত করতে চায় কেবল...