(খণ্ড: ১)
কালিমাতুল ইখলাস ওয়া তাহকীকু মানাহা - ত আল-মাকতাবুল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: -)
كلمة الإخلاص وتحقيق معناها - ط المكتب الإسلامي القسم: العقيدة
الكتاب: كلمة الإخلاص وتحقيق معناها
المؤلف: ابن رجب الحنبلي
حققها وراجعها: زهير الشاويش [ت 1434 هـ]
خرج أحاديثها: محمد ناصر الدين الألباني [ت 1420 هـ]
الناشر: المكتب الإسلامي - بيروت
الطبعة: الرابعة، 1397 هـ
عدد الصفحات: 71
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
কালিমাতুল ইখলাস ও এর অর্থের বিশ্লেষণ - আল-মাকতাব আল-ইসলামী প্রকাশনা বিভাগ: আকীদা
কিতাব: কালিমাতুল ইখলাস ও এর অর্থের বিশ্লেষণ
লেখক: ইবনে রজব আল-হাম্বলী
সম্পাদনা ও পর্যালোচনা: জুহাইর আল-শাভিশ [মৃত্যু ১৪৩৪ হিজরি]
হাদীস বিশ্লেষণ করেছেন: মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানী [মৃত্যু ১৪২০ হিজরি]
প্রকাশক: আল-মাকতাব আল-ইসলামী - বৈরুত
সংস্করণ: চতুর্থ، ১৩৯৭ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭১
[কিতাবটির পৃষ্ঠা নম্বরসমূহ মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যুলহিজ্জাহ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
কালিমাতুল ইখলাস ওয়া তাহকীকু মানাহা - ত আল-মাকতাবুল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ৩)
مقدمة النّاشربسم الله الرحمن الرحيم
إن الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله.
أما بعد فهذه رسالة "كلمة الإخلاص وتحقيق معناها"، للإمام الحافظ عبد الرحمن بن رجب الحنبلي نقدمها للناس في زمن هم أحوج ما يكونون فيه إلى إخلاص توحيدهم وعملهم الله سبحانه وتعالى وكلمة: لا إله إلا الله، هي الكلمة التي فطر الله عليها جميع مخلوقاته، وهي التوحيد الذي بعث الله به الرسل جميعًا، فكانت شعار الإسلام والفارق بين الكفر والإيمان؛ فشذ عن تحقيقها كثير من الناس، طغيانًا وكفرًا من بعضهم، وتقليدًا وجهلا من آخرين. وهؤلاء الجهلة المقلدون جعلوا بينهم وبين الحق سدًا لا يحاولون منه خلاصًا ولا لدعوة الحق نفوذا.
প্রকাশকের ভূমিকাপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
অতঃপর, এটি ইমাম হাফেজ আব্দুর রহমান বিন রজব আল-হাম্বলীর "কালিমাতুল ইখলাস ওয়া তাহকীকু মানাহা" (ইখলাসের বাণী ও এর অর্থের বিশ্লেষণ) নামক একটি রিসালাহ। আমরা এটি এমন এক সময়ে মানুষের সামনে পেশ করছি যখন তারা তাদের তাওহীদ ও আমলকে মহান আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ করার ব্যাপারে অত্যন্ত মুখাপেক্ষী। আর 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' হচ্ছে সেই বাণী যার ওপর ভিত্তি করে আল্লাহ তাঁর সমস্ত সৃষ্টিকে সৃষ্টি করেছেন। এটিই সেই তাওহীদ যা নিয়ে আল্লাহ সকল রাসূলকে প্রেরণ করেছেন। ফলে এটি ইসলামের নিদর্শন এবং কুফর ও ঈমানের মধ্যে পার্থক্যকারী হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে। কিন্তু অনেক মানুষই এর হাকীকত বা প্রকৃত বাস্তবায়ন থেকে বিচ্যুত হয়ে গেছে; তাদের কেউ অবাধ্যতা ও কুফরির কারণে, আবার কেউ অন্ধ অনুসরণ ও মূর্খতার কারণে। আর এই মূর্খ ও অন্ধ অনুসারীরা নিজেদের এবং সত্যের মাঝে এমন এক দেয়াল তৈরি করে নিয়েছে যেখান থেকে তারা মুক্তির চেষ্টাও করে না এবং সত্যের দাওয়াতকেও সেখানে প্রবেশ করতে দেয় না।
(খণ্ড: ১)
কালিমাতুল ইখলাস ওয়া তাহকীকু মানাহা - ত আল-মাকতাবুল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ৪)
وهذه الرسالة فيها من الكلم الطيب ما جميع الكثير من معاني هذه الكلمة بأسلوب وعظيّ سهل، معين لمن أراد معرفة الحق والرجوع إليه؛ جعلنا الله من أهل: لا إله إلا الله، المؤمنين بها، الكافرين بما سواها، والعاملين بمقتضاها، إنه نعم المسؤول.
وقد سبق لهذه الرسالة أن طبعت في القاهرة سنة 1950 م ووقع فيها أغلاط شقى نبه عليها بعضهم برسالة منفردة.
وأما نشرتنا هذه فقد اعتمدنا فيها على أصل خطي كتبه محمد بن عبد العزيز المطاوعة رحمه الله سنة 1278 هـ. وهي في ثلاثين صفحة قياس 23 * 19 سم بخط واضح جميل.
وقد قام أستاذنا الجليل محدث الشام الشيخ محمد ناصر الدين الألباني بتخريج أحاديثها - جزاه الله خيرًا -.
والله أسأل أن يرد المسلمين إلى دينهم، والعمل بكتاب ربهم، والكفر بكل معبود سواه. وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.
بيروت 1 ذي القعدة 1396 هـ.
زهير الشاويش
এই পুস্তিকাটিতে অনেক উত্তম বাণী রয়েছে যা একটি সহজ নসিহতমূলক শৈলীতে এই শব্দের অনেক অর্থকে একত্রিত করেছে, যা সত্য জানতে এবং সত্যের দিকে ফিরে আসতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের জন্য সহায়ক; আল্লাহ আমাদের ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’র অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন, যারা এর প্রতি বিশ্বাসী, এটি ছাড়া অন্য সব কিছুকে অস্বীকারকারী এবং এর দাবি অনুযায়ী আমলকারী। নিশ্চয়ই তিনি সর্বোত্তম প্রার্থিত সত্তা।
ইতিপূর্বে এই পুস্তিকাটি ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দে কায়রোতে মুদ্রিত হয়েছিল এবং এতে কিছু বেদনাদায়ক ভুল রয়ে গিয়েছিল, যা নিয়ে কেউ কেউ পৃথক একটি পুস্তিকার মাধ্যমে সতর্ক করেছিলেন।
আর আমাদের এই প্রকাশনার ক্ষেত্রে আমরা একটি পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি যা ১২৭৮ হিজরিতে মুহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ আল-মুতাওয়া (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) লিখেছিলেন। এটি ২৩ * ১৯ সেমি পরিমাপের ত্রিশ পৃষ্ঠার একটি পাণ্ডুলিপি, যা স্পষ্ট ও সুন্দর হস্তাক্ষরে লিখিত।
আমাদের মহান উস্তাদ শামের মুহাদ্দিস শাইখ মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানী এর হাদিসগুলোর তাখরিজ করেছেন—আল্লাহ তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।
আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি মুসলিমদের তাদের দ্বীনের দিকে এবং তাদের রবের কিতাব অনুযায়ী আমল করার দিকে ফিরিয়ে আনেন এবং তিনি ছাড়া অন্য সকল উপাস্যকে অস্বীকার করার তাওফিক দেন। আমাদের শেষ কথা হলো, সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের রব আল্লাহর জন্য।
বৈরুত ১ জিলকদ ১৩৯৬ হিজরি।
জুহাইর আল-শাভিশ
(খণ্ড: ১)
কালিমাতুল ইখলাস ওয়া তাহকীকু মানাহা - ত আল-মাকতাবুল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ৫)
ترجمة المؤلّفهو الإمام الجليل أبو الفرج زين الدين عبد الرحمن بن أحمد بن رجب السّلامي البغدادي ثم الدمشقي الحنبلي.
ولد في بغداد سنة 736 هـ، وقيل: سنة 706. والأول هو الأرجح. ونشأ في دمشق، وفيها تلقى العلم على أكابر علماء الملة، أمثال الامام شمس الدين بن القيم، وزين الدين العراقي.
وكان فقيهًا، محدثًا، واعظًا، مؤرخًا، يميل إلى العزلة والانفراد، كثير العبادة والتهجد. وكان بينه وبين حنابلة زمانه، جفوة، حتى أنه لم يترجم لكثيرين منهم في "ذيل الطبقات" ومنهم آل مفلح وفيهم العلامة إبراهيم بن محمد مؤلف المبدع في شرح المقنع وهو من اعظم كتب الحنابلة في الفقه.
كان رحمه الله يفتي بمقالات شيخ الإسلام ابن تيمية، ويرجع إلى مؤلفاته. وفي مؤلفات ابن رجب نزعة صوفية عصمه الله من الانحدار في مزالقها بما آتاه الله من علم غزير ومنهج سلفي.
ومن مؤلفاته: "القواعد" و "الاستخراج لأحكام الخراج" و "شرح صحيح البخاريّ" ولم يكمله و "شرح الترمذيّ" و "التوحيد" و "وفضل علم السلف على الخلف" و "ذيل طبقات ابن أبي يعلى" وغير ذلك من الكتب المفيدة.
وكانت وفاته عليه رحمه الله في دمشق سنة 795 هـ ودفن في مقبرة الباب الصغير.
লেখকের জীবনীতিনি হলেন মহান ইমাম আবুল ফারাজ যাইনুদ্দিন আবদুর রহমান ইবনে আহমদ ইবনে রজব আস-সালামি আল-বাগদাদি, পরবর্তীতে আদ-দিমাশকি আল-হাম্বলি।
তিনি ৭৩৬ হিজরি সনে বাগদাদে জন্মগ্রহণ করেন, মতান্তরে ৭০৬ হিজরিতে। প্রথম মতটিই অধিকতর গ্রহণযোগ্য। তিনি দামেস্কে বেড়ে ওঠেন এবং সেখানেই মিল্লাতের শ্রেষ্ঠ আলেমদের নিকট ইলম অর্জন করেন, যেমন ইমাম শামসুদ্দিন ইবনুল কায়্যিম এবং যাইনুদ্দিন আল-ইরাকি।
তিনি ছিলেন একজন ফকিহ, মুহাদ্দিস, ওয়ায়েজ এবং ইতিহাসবিদ। তিনি নির্জনতা ও একাকীত্ব পছন্দ করতেন এবং প্রচুর ইবাদত ও তাহাজ্জুদ পালন করতেন। তাঁর ও তাঁর সমসাময়িক হাম্বলিদের মধ্যে কিছুটা দূরত্ব ছিল, এমনকি তিনি ‘যাইলুত তাবাকাত’ গ্রন্থে তাঁদের অনেকের জীবনী উল্লেখ করেননি। তাঁদের মধ্যে আল-মুফলিহ পরিবারও অন্তর্ভুক্ত ছিল, যাদের মধ্যে ছিলেন আল্লামা ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ, যিনি ‘আল-মুকনি’র ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘আল-মুবদি’র রচয়িতা; এটি ফিকহ শাস্ত্রে হাম্বলিদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কিতাব।
তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর মতানুসারে ফতোয়া দিতেন এবং তাঁর রচনাবলীর দিকে প্রত্যাবর্তন করতেন। ইবনে রজবের রচনাবলীতে সূফিবাদী প্রবণতা রয়েছে, তবে আল্লাহ তাআলা তাঁকে তাঁর প্রদত্ত অগাধ ইলম এবং সালাফি মানহাজের মাধ্যমে সেই ভ্রান্তির পথে ধাবিত হওয়া থেকে রক্ষা করেছেন।
তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে: ‘আল-কাওয়ায়িদ’, ‘আল-ইস্তিখরাজ লি আহকামিল খারাজ’, ‘শারহু সহিহিল বুখারি’ (যা তিনি সম্পন্ন করতে পারেননি), ‘শারহুত তিরমিজি’, ‘আত-তাওহিদ’, ‘ফাদলু ইলমিস সালাফ আলাল খালাফ’, ‘যাইলু তাবাকাতি ইবনি আবি ইয়ালা’ এবং আরও অনেক উপকারী কিতাব।
তাঁর মৃত্যু (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) দামেস্কে ৭৯৫ হিজরি সনে হয়েছিল এবং তাঁকে বাবুস সগির কবরস্থানে দাফন করা হয়।
(খণ্ড: ১)
কালিমাতুল ইখলাস ওয়া তাহকীকু মানাহা - ত আল-মাকতাবুল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ৬)
نموذج عنوان النسخة الخطية
نموذج آخر النسخة الخطية
পাণ্ডুলিপির শিরোনামের নমুনা
পাণ্ডুলিপির শেষাংশের নমুনা
(খণ্ড: ১)
কালিমাতুল ইখলাস ওয়া তাহকীকু মানাহা - ত আল-মাকতাবুল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ৭)
بسم الله الرحمن الرحيم
خرج البخاريّ
(1) ومسلم في "الصحيحين" عن أنس رضي الله عنه قال: كان النبيّ صلى الله عليه وسلم ومعاذ رديفه على الرحل، فقال: يا معاذ! قال: لبَّيك يا رسول الله وسعدَيك! قال: يا معاذ! قال: لبيك يا رسول الله وسعديك! قال: يا معاذ! قال: لبيك يا رسول الله وسعديك! سال: ما من عبدٍ يشهد أن لا إله إلا الله، وأن محمدًا عبدُه ورسوله إلا حرَّمه الله على النار. قال: يا رسول الله، ألا أخبر بها الناسَ فيستبشروا؟ قال: إذًا
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ইমাম বুখারী
(১) ও ইমাম মুসলিম "সহীহাইন"-এ আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং মুআয (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর পিছনে বাহনে বসা ছিলেন। তখন তিনি বললেন: হে মুআয! তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমি আপনার সমীপে উপস্থিত এবং আপনার আজ্ঞা পালনে সদা প্রস্তুত! তিনি বললেন: হে মুআয! তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমি আপনার সমীপে উপস্থিত এবং আপনার আজ্ঞা পালনে সদা প্রস্তুত! তিনি বললেন: হে মুআয! তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমি আপনার সমীপে উপস্থিত এবং আপনার আজ্ঞা পালনে সদা প্রস্তুত! তিনি বললেন: যে কোনো বান্দা যখন সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, আল্লাহ তার ওপর জাহান্নামের আগুন হারাম করে দেন। তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমি কি মানুষকে এ বিষয়ে সুসংবাদ দেব না যাতে তারা আনন্দিত হয়? তিনি বললেন: তাহলে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কালিমাতুল ইখলাস ওয়া তাহকীকু মানাহা - ত আল-মাকতাবুল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ৮)
يتَّكلوا. فأخبرَ بها معاذ
(1) عند موته تأثمًا
(2).
وفي "الصحيحين" عن عتبان بن مالك
(3) رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "إن الله حرّم على النار من قال: لا إله إلا الله يبتغي بذلك وجه الله
(4). وفي "صحيح مسلم"، عن أبي هريرة
(5)--------------------------------------------
ভরসা করে বসে থাকে। অতঃপর মুয়াজ
(১) তাঁর মৃত্যুর সময় ইলম গোপন করার গুনাহ থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার জন্য
(২) এটি বর্ণনা করেন।
আর "সহীহাইন"-এ ইতবান ইবনে মালিক
(৩) রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ জাহান্নামের আগুনের জন্য তাকে হারাম করে দিয়েছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর চেহারা (সন্তুষ্টি) কামনায় 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলে
(৪)। আর "সহীহ মুসলিম"-এ আবু হুরায়রা
(৫) থেকে বর্ণিত—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কালিমাতুল ইখলাস ওয়া তাহকীকু মানাহা - ত আল-মাকতাবুল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ৯)
- أو أبي سعيد بالشك
(1) - أنهم كانوا مع النبيّ صلى الله عليه وسلم في غزوة تبوك
(2) فأصابتهم مجاعة، فدعا النبيّ صلى الله عليه وسلم بِنطع فبسطه، ثم دعا بفضل أزوادهم، فجعل الرجل يجيء بكف ذُرةَ، ويجيء الآخر بكف تمر، ويجيء الآخر بكسرة، حتى اجتمع على النطع من ذلك شيء يسير، فدعا رسول الله صلى الله عليه وسلم عليه بالبركة، ثم قال: "خُذوا في أوعيتكم"، فأخذوا في أوعيتهم، حتى ما تركوا في العسكر وعاء إلا ملؤوه، فأكلوا حتى شبعوا، وفضلت فضلة، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم:
أشهد أن لا إله إلا الله، وأني رسول الله، لا يلقى الله بهما عبد غير شاكّ فيها فيُحجبَ عن الجنة".
--------------------------------------------
অথবা আবু সাঈদ থেকে (সন্দেহ সহকারে)
(১) - তাঁরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে তাবুক যুদ্ধে
(২) ছিলেন, এমতাবস্থায় তাঁরা দুর্ভিক্ষের কবলে পড়লেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি চামড়ার দস্তরখান আনানোর নির্দেশ দিলেন এবং তা বিছিয়ে দিলেন। অতঃপর তিনি তাঁদের অতিরিক্ত পাথেয় নিয়ে আসার আহ্বান জানালেন। তখন কেউ এক মুষ্টি ভুট্টা নিয়ে আসতে লাগল, কেউ এক মুষ্টি খেজুর নিয়ে আসতে লাগল, আবার কেউ এক টুকরো রুটি নিয়ে আসতে লাগল; এভাবে দস্তরখানের ওপর সামান্য কিছু খাদ্যসামগ্রী একত্রিত হলো। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাতে বরকতের জন্য দোয়া করলেন। এরপর তিনি বললেন: "তোমরা তোমাদের পাত্রগুলোতে তুলে নাও।" তখন তারা তাদের পাত্রগুলো পূর্ণ করতে শুরু করল, এমনকি তারা সৈন্যদলের এমন কোনো পাত্র বাকি রাখল না যা তারা পূর্ণ করেনি। অতঃপর তারা তৃপ্তি সহকারে আহার করল এবং কিছু খাবার উদ্বৃত্ত থেকে গেল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:
"আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল। যে বান্দা এই দুটির ওপর কোনো প্রকার সন্দেহ পোষণ না করে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে, তাকে জান্নাত থেকে বঞ্চিত করা হবে না।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কালিমাতুল ইখলাস ওয়া তাহকীকু মানাহা - ত আল-মাকতাবুল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১০)
وفي "الصحيحين" عن أبي ذر
(1) رضي الله عنه عن النبيّ صلى الله عليه وسلم قال:
"ما من عبد قال: لا إله إلا الله، ثم مات على ذلك إلا دخل الجنة". قلت: وإن زنى وإن سرق؟!. قال: "وإن زنى، وإن سرق". قلت: وإن زنى وإن سرق؟ قال: "وإن زنى وإن سرق ثلاثًا"
(2). ثم قال في الرابعة: "على رغم أنف أبي ذر"؛ قال: فخرج أبو ذر وهو يقول: وإن رغم أنف أبي ذر.
--------------------------------------------
এবং "সহীহাইন"-এ আবু যার
(১) রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
"এমন কোনো বান্দা নেই যে বলল: 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই', অতঃপর সেই বিশ্বাসের ওপর মৃত্যুবরণ করল, সে জান্নাতে প্রবেশ করবেই।" আমি বললাম: "যদিও সে ব্যভিচার করে এবং যদিও সে চুরি করে?!" তিনি বললেন: "যদিও সে ব্যভিচার করে এবং যদিও সে চুরি করে।" আমি (আবার) বললাম: "যদিও সে ব্যভিচার করে এবং যদিও সে চুরি করে?" তিনি বললেন: "যদিও সে ব্যভিচার করে এবং যদিও সে চুরি করে" - এভাবে তিনবার
(২)। অতঃপর চতুর্থবার তিনি বললেন: "আবু যারের নাক ধুলোমলিন হওয়া সত্ত্বেও (অর্থাৎ তার অনিচ্ছা সত্ত্বেও)"; বর্ণনাকারী বলেন: আবু যার সেখান থেকে বেরিয়ে গেলেন এই বলতে বলতে যে, "যদিও আবু যারের নাক ধুলোমলিন হয়।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কালিমাতুল ইখলাস ওয়া তাহকীকু মানাহা - ত আল-মাকতাবুল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১১)
وفي "صحيح مسلم"، عن عبادة بن الصامت
(1) أنه قال عند موته: سمعتُ رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول:
"من شهد أن لا إله إلا الله، وأن محمدًا رسول الله، حرّمه الله على النار"
(2).
وفي "صحيح مسلم" عن عبادة بن الصامت أنه قال عند موته: سمعتُ رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "من شهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأن محمدًا عبده ورسوله، وأن عيسى عبد الله ورسوله، وكلمته ألقاها إلى مريم، وروح منه، وأن الجنة حق والنار حق، أدخله الله الجنة، على ما كان من العمل".
--------------------------------------------
এবং "সহীহ মুসলিম"-এ উবাদাহ বিন সামিত
(১) থেকে বর্ণিত যে, তিনি তাঁর মৃত্যুর সময় বলেছিলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি:
"যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দিবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো (সত্য) উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, আল্লাহ তার জন্য জাহান্নাম হারাম করে দেবেন"
(২)।
এবং "সহীহ মুসলিম"-এ উবাদাহ বিন সামিত থেকে বর্ণিত যে, তিনি তাঁর মৃত্যুর সময় বলেছিলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দিবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো (সত্য) উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই; এবং মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল; আর ঈসা আল্লাহর বান্দা ও রাসূল এবং তাঁর বাণী যা তিনি মারইয়ামের নিকট পৌঁছে দিয়েছিলেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে রূহ; আর জান্নাত সত্য এবং জাহান্নাম সত্য; আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, তার আমল যা-ই হোক না কেন।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কালিমাতুল ইখলাস ওয়া তাহকীকু মানাহা - ত আল-মাকতাবুল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১২)
وفي هذا المعنى أحاديث كثيرة يطول ذكرها.
وأحاديث هذا الباب نوعان:
أحدهما: ما فيه أنَّ من أتى بالشهادتين دخل الجنة ولم يحجب عنها، وهذا ظاهر؛ فإن النار لا يخلّد فيها أحد من أهل التوحيد الخالص، وقد يدخل الجنة ولا يُحجَب عنها إذا طُهِّر من ذنوبه بالنار.
وحديث أبي ذر معناه: أن الزنى والسرقة لا يمنعان دخول الجنة مع التوحيد، وهذا حق لا مِرْية فيه، ليس فيه أنه لا يعذَّب عليها مع التوحيد.
وفي مسند البزار
(1) عن أبي هريرة رضي الله عنه مرفوعًا:
"من قال: لا إله إلا الله نفعته يومًا من دهره يصيبه قبل ذلك ما أصابه".
الثانيّ: ما فيه أنه يحرم على النار، وهذا قد حمله بعضهم على الخلود فيها، أو على نار يخلّد فيها أهلهُا، وهي ما عدا
--------------------------------------------
এই অর্থ প্রকাশকারী অনেক হাদিস রয়েছে যার বর্ণনা দীর্ঘ হবে।
এই অধ্যায়ের হাদিসগুলো দুই প্রকার:
প্রথমত: যে বিষয়গুলোতে বর্ণিত হয়েছে যে, যে ব্যক্তি শাহাদাতাইন (দুই সাক্ষ্য) প্রদান করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তা থেকে তাকে বঞ্চিত করা হবে না। আর এটি সুস্পষ্ট; কেননা খাঁটি তাওহীদপন্থীদের কেউ জাহান্নামে চিরস্থায়ী হবে না। আর সে জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তা থেকে তাকে বঞ্চিত করা হবে না যখন সে জাহান্নামের আগুনের মাধ্যমে তার পাপসমূহ থেকে পবিত্র হবে।
আবু যর (রা.)-এর হাদিসের অর্থ হলো: ব্যভিচার ও চুরি তাওহীদের সাথে জান্নাতে প্রবেশের পথে চিরস্থায়ী বাধা হবে না। আর এটি সত্য যাতে কোনো সন্দেহ নেই। এতে এমনটি বলা হয়নি যে, তাওহীদ থাকা সত্ত্বেও তাকে এগুলোর কারণে শাস্তি দেওয়া হবে না।
মুসনাদে বাজ্জার-এ
(১) আবু হুরায়রা (রা.) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণিত:
"যে ব্যক্তি বলবে: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তা জীবনের কোনো এক সময়ে তার উপকারে আসবে, তার পূর্বে তার যা প্রাপ্য (শাস্তি) তা তাকে স্পর্শ করবে।"
দ্বিতীয়ত: যাতে বর্ণিত হয়েছে যে, সে জাহান্নামের জন্য হারাম হবে। একে কেউ কেউ জাহান্নামে চিরস্থায়ী হওয়ার ওপর অথবা এমন আগুনের ওপর প্রয়োগ করেছেন যাতে তার অধিবাসীরা চিরস্থায়ী হয়, আর তা হলো—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কালিমাতুল ইখলাস ওয়া তাহকীকু মানাহা - ত আল-মাকতাবুল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الدرك الأعلى فأما الدرك الأعلى يدخله خلق كثير من عصاة الموحدين، بذنوبهم، ثم يخرجون بشفاعة الشافعين، وبرحمة أرحم الراحمين.
وفي "الصحيحين":
"إن الله تعالى يقول: وعزتي وجلالي لأخرجن من النار من قال: لا إله إلا الله".
وقالت طائفة من العلماء: المراد من هذه الأحاديث أن "لا إله إلا الله" سببٌ لدخول الجنة، والنجاة من النار، ومقتضٍ لذلك، ولكن المقتضي لا يعمل عمله إلا باستجماع شروطه وانتفاء موانعه، فقد يتخلف عنه مقتضاه لفوات شرط من شروطه، أو لوجود مانع؛ وهذا قول الحسن
(1) ووهب بن منبه
(2) وهو الأظهر.
--------------------------------------------
সর্বোচ্চ স্তর। আর সর্বোচ্চ স্তরে তাওহীদপন্থী পাপাচারীদের মধ্য থেকে অনেক সৃষ্টি তাদের পাপের কারণে প্রবেশ করবে। অতঃপর তারা সুপারিশকারীদের সুপারিশ এবং পরম দয়ালু আল্লাহর রহমতে সেখান থেকে বের হয়ে আসবে।
এবং "সহীহাইনে" বর্ণিত হয়েছে:
"নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা বলেন: আমার মর্যাদা ও প্রতাপের কসম, আমি অবশ্যই জাহান্নাম থেকে তাকে বের করব, যে বলেছে: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই।"
আলেমদের একটি দল বলেছেন: এই হাদিসগুলোর মর্মার্থ হলো "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ" জান্নাতে প্রবেশ ও জাহান্নাম থেকে মুক্তির একটি কারণ এবং এর জন্য অনিবার্য দাবিদার। কিন্তু কোনো কারণ বা দাবিদার তখনই কার্যকর হয় যখন তার শর্তসমূহ পূর্ণ হয় এবং প্রতিবন্ধকতাগুলো দূরীভূত হয়। সুতরাং কখনও এর ফলাফল প্রকাশে বিলম্ব হতে পারে কোনো শর্ত অনুপস্থিত থাকার কারণে কিংবা কোনো প্রতিবন্ধক বিদ্যমান থাকার কারণে। আর এটিই হাসান
(১) ও ওহাব ইবনে মুনাব্বিহ
(২)-এর অভিমত এবং এটিই অধিক স্পষ্ট।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কালিমাতুল ইখলাস ওয়া তাহকীকু মানাহা - ত আল-মাকতাবুল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وقال الحسن للفرزدق
(1) وهو يدفن امرأته: ما أعددت لهذا اليوم؟. قال: شهادة أن لا إله إلا الله منذ سبعين سنة. قال الحسن: نِعْمَ العُدَّة. لكن لـ (لا إله إلا الله) شروطًا، فإياك وقذفَ المحصنة!.
وقيل للحسن: إن ناسًا يقولون: من قال: لا إله إلا الله دخل الجنة؟ فقال: من قال: لا إله إلا الله، فأدى حقها وفرضها دخل الجنة.
وقال وهب بن منبه لمن سأله: أليس لا إله إلا الله مفتاح الجنة؟ قال: بلى، ولكن ما من مفتاح إلا له أسنان، فإن جئت بمفتاح له أسنان فتح لك، وإلا لم يفتح لك.
وفي هذا الحديث: (إن مفتاح الجنة لا إله إلا الله) خرَّجه الإمام أحمد بإسناد منقطع.
وعن معاذ قال: قال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم: إذا سألك أهل
--------------------------------------------
وقال হাসান ফারাজদাককে
(১) বললেন—যখন তিনি তার স্ত্রীকে দাফন করছিলেন—: "এই দিনের জন্য আপনি কী প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন?" তিনি বললেন: "সত্তর বছর যাবত ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই’ এই সাক্ষ্য।" হাসান বললেন: "উত্তম পাথেয়। তবে ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই’ এর কিছু শর্ত রয়েছে; সুতরাং সতী-সাধ্বী রমণীকে অপবাদ দেওয়া থেকে বেঁচে থাকুন!"
হাসানকে বলা হলো: "কিছু মানুষ বলে, যে ব্যক্তি ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই’ বলবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে?" তিনি বললেন: "যে ব্যক্তি ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই’ বলল, অতঃপর এর হক ও ফরজসমূহ আদায় করল, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।"
ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ তাকে প্রশ্নকারীকে বললেন: "‘আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই’ কি জান্নাতের চাবিকাঠি নয়?" তিনি বললেন: "অবশ্যই, কিন্তু এমন কোনো চাবি নেই যার দাঁত নেই। সুতরাং আপনি যদি দাঁতযুক্ত চাবি নিয়ে আসেন তবে আপনার জন্য (জান্নাতের দরজা) খোলা হবে, নতুবা আপনার জন্য খোলা হবে না।"
এই হাদিসে এসেছে: "জান্নাতের চাবিকাঠি হলো ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই’।" ইমাম আহমাদ এটি বিচ্ছিন্ন সনদে বর্ণনা করেছেন।
মুয়াজ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে বলেছেন: "যখন তোমাকে আহলে কিতাব কওমের লোকেরা জিজ্ঞেস করবে..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কালিমাতুল ইখলাস ওয়া তাহকীকু মানাহা - ত আল-মাকতাবুল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
اليمن عن مِفتاح الجنة، فقل: شهادة أن لا إله إلا الله. ويدل على صحة هذا القول، أن النبيّ صلى الله عليه وسلم رتّب دخول الجنة على الأعمال الصالحة في كثير من النصوص.
كما في "الصحيحين" عن أبي أيوب
(1) أن رجلا قال: يا رسول الله! أخبرني بعمل يُدخلني الجنة. فقال:
"تعبدُ الله لا تشرك به شيئًا، وتقيم الصلاة، وتؤتي الزكاة، وتصل الرحم".
وفي "صحيح مسلم" عن أبي هريرة أن رجلا قال: يا رسول الله! دُلني على عمل إذا عملته دخلت الجنة. قال:
"تعبد الله لا تشرك به شيئًا، وتقيم الصلاة المكتوبة، وتؤدي الزكاة المفروضة، وتصوم رمضان". فقال الرجل: والذي نفسي بيده، لا أزيد على هذا شيئًا، ولا أنقص منه.
--------------------------------------------
ইয়ামেনের (কাউকে) জান্নাতের চাবিকাঠি সম্পর্কে (জিজ্ঞাসা করা হলে), তবে বলো: সাক্ষ্য দেওয়া যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। এবং এই বক্তব্যের সঠিকতার প্রমাণ হলো যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বহু দলিলে জান্নাতে প্রবেশকে নেক আমলের ওপর নির্ভরশীল করেছেন।
যেমনটি "সহীহাইন"-এ আবু আইয়ুব
(১) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে এমন একটি আমলের কথা বলুন যা আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে। তিনি বললেন:
"তুমি আল্লাহর ইবাদত করবে, তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না, সালাত কায়েম করবে, জাকাত প্রদান করবে এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখবে।"
এবং "সহীহ মুসলিম"-এ আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে এমন একটি আমল বাতলে দিন যা করলে আমি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারব। তিনি বললেন:
"তুমি আল্লাহর ইবাদত করবে, তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না, ফরজ সালাত কায়েম করবে, নির্ধারিত জাকাত আদায় করবে এবং রমজানের রোজা রাখবে।" তখন লোকটি বলল: সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ রয়েছে, আমি এর ওপর কোনো কিছু বৃদ্ধি করব না এবং তা থেকে কোনো কিছু হ্রাসও করব না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কালিমাতুল ইখলাস ওয়া তাহকীকু মানাহা - ত আল-মাকতাবুল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১৬)
فقال النبيّ صلى الله عليه وسلم: "من سرّه أن ينظر إلى رجل من أهل الجنة فلينظر إلى هذا".
وفي "المسند" عن بشير بن الخصاصية
(1) قال: أتيت النبيّ صلى الله عليه وسلم لأبايعه فاشترط عليَّ، شهادة أن لا إله إلا الله، وأن محمدًا عبده ورسوله، وأن أُقيم الصلاة، وأن أؤدّي الزكاة، وأن حج حجة الإسلام، وأن أصوم شهر رمضان، وأن أُجاهد في سبيل الله. فقلت: يا رسول الله، أما اثنتين فوالله لا أُطيقها: الجهاد والصدقة فإنهم زعموا أنه من ولَّى الدبر فقد باء بغضب من الله، فأخاف إن حضرت تلك جشمت نفسي وكرهت الموت والصدقة فوالله مالي إلا غنيمة وعشر ذود
(2) هن رسل أهلي
--------------------------------------------
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "যে ব্যক্তি কোনো জান্নাতী মানুষকে দেখে আনন্দিত হতে চায়, সে যেন এই ব্যক্তির দিকে তাকায়।"
এবং "মুসনাদ"-এ বশীর ইবনুল খাসাসিয়্যাহ
(১) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট তাঁর কাছে বায়আত করার জন্য আসলাম। তখন তিনি আমার ওপর শর্ত আরোপ করলেন: এই সাক্ষ্য দেওয়া যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল, সালাত কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা, ইসলামের হজ সম্পাদন করা, রমজান মাসের রোজা রাখা এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করা। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আল্লাহর কসম, এর মধ্যে দুটি কাজ করার সামর্থ্য আমার নেই: জিহাদ এবং সদকা। কারণ লোকেরা মনে করে যে, যে ব্যক্তি যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করবে সে আল্লাহর ক্রোধ নিয়ে ফিরবে। তাই আমি ভয় পাচ্ছি যে, যদি যুদ্ধের ময়দানে উপস্থিত হই তবে আমি ভীত হয়ে পড়ব এবং মৃত্যুকে অপছন্দ করব। আর সদকার ব্যাপারে বলি, আল্লাহর কসম, আমার কাছে অল্প কিছু বকরি এবং দশটি উট ছাড়া আর কিছুই নেই, যা আমার পরিবারের আহারের (দুধের) উৎস।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কালিমাতুল ইখলাস ওয়া তাহকীকু মানাহা - ত আল-মাকতাবুল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وحمولتهن، قال: فقبض رسول الله صلى الله عليه وسلم يده ثم حرَّكها، ثم قال: "فلا جهاد ولا صدقة، فبم تدخل الجنة إذًا؟ ". قلت: يا رسول الله أُبايعك، فبايعته عليهن كلهن (1).
ففي هذا الحديث أن الجهاد والصدقة شرط في دخول الجنة مع حصول التوحيد والصلاة والصيام والحج.
ونظير هذا أن النبيّ صلى الله عليه وسلم قال:
"أُمرت أن أُقاتل الناس حتى يشهدوا أن لا إله إلا الله، وأن محمدًا رسول الله، ففهم عمر
(2) وجماعة من الصحابة أَن من أتى بالشهادتين امتنع من عقوبة الدنيا بمجرد ذلك، فتوقفوا في قتال مانع الزكاة، وفهم الصديق أنه لا يمتنع قتالُه إلا بأداء حقوقها، لقوله صلى الله عليه وسلم:
--------------------------------------------
...এবং তাদের ভারবহনকারী জন্তুসমূহ। বর্ণনাকারী বলেন: তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর হাত গুটিয়ে নিলেন, অতঃপর তা নাড়ালেন এবং বললেন: "জিহাদও নেই, সদকাও নেই; তবে তুমি কীসের মাধ্যমে জান্নাতে প্রবেশ করবে?" আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমি আপনার নিকট বায়আত গ্রহণ করছি। অতঃপর আমি এই সবগুলোর ওপর তাঁর নিকট বায়আত গ্রহণ করলাম (১)।
সুতরাং এই হাদীসে এটি প্রমাণিত হয় যে, তাওহীদ, সালাত, সিয়াম ও হজ্জ অর্জিত হওয়ার সাথে সাথে জিহাদ ও সদকাও জান্নাতে প্রবেশের শর্ত।
এর সদৃশ বিষয় হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এই বাণী:
"আমাকে মানুষের সাথে যুদ্ধ করার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেয় যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল।" তখন উমর
(২) এবং সাহাবীদের একটি দল বুঝতে পেরেছিলেন যে, যে ব্যক্তি কেবল শাহাদাতাইন (দুই সাক্ষ্য) পাঠ করবে, সে এর মাধ্যমেই দুনিয়াবী শাস্তি থেকে নিষ্কৃতি পাবে। তাই তারা যাকাত অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার ব্যাপারে দ্বিধান্বিত ছিলেন। কিন্তু সিদ্দীক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বুঝতে পেরেছিলেন যে, যাকাতের হকসমূহ আদায় করা ব্যতীত তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ থেকে বিরত থাকা যাবে না; কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কালিমাতুল ইখলাস ওয়া তাহকীকু মানাহা - ত আল-মাকতাবুল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১৮)
"فإذا فعلوا ذلك منعوا مني دماءهم إلا بحقها وحسابهم على الله"، وقال: الزكاة حق المال.
وهذا الذي فهمه الصديق قد رواه عن النبيّ صلى الله عليه وسلم صريحًا غيرُ واحد من الصحابة منهم ابن عمر
(1) وأنس وغيرهما وأنه قال:
"أُمرت أن أُقاتل الناس حتى يشهدوا أن لا إله إلا الله، وأن محمدًا رسول الله، ويقيموا الصلاة ويؤتوا الزكاة"، وقد دل على ذلك قولُه تعالى: "فإن تابوا وأقاموا الصلاة وآتوا الزكاة فخلّوا سبيلهم"، كما دل قوله تعالى: "فإن تابوا وأقاموا الصلاة وآتوا الزكاة فإخوانكم في الدين، على أن الأخوة في الدين
--------------------------------------------
"যখন তারা তা করবে, তখন তারা আমার থেকে তাদের জান ও মাল (রক্ত) নিরাপদ করে নেবে, তবে এর হকের বিষয়টি ভিন্ন; আর তাদের হিসাব আল্লাহর জিম্মায়।" এবং তিনি বললেন: যাকাত হলো সম্পদের হক।
সিদ্দীক যা বুঝেছিলেন, তা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে একাধিক সাহাবী স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন, যাদের মধ্যে ইবনে উমর
(১) ও আনাস এবং আরও অনেকে রয়েছেন। আর নিশ্চয়ই তিনি (নবী) বলেছেন:
"আমি মানুষের সাথে লড়াই করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেয় যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, আর তারা সালাত কায়েম করে ও যাকাত প্রদান করে।" আর আল্লাহ তাআলার এই বাণী এর প্রতি নির্দেশ করে: "অতঃপর যদি তারা তওবা করে, সালাত কায়েম করে এবং যাকাত প্রদান করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও।" যেমন আল্লাহ তাআলার এই বাণী নির্দেশ করে: "অতঃপর তারা যদি তওবা করে, সালাত কায়েম করে এবং যাকাত প্রদান করে, তবে তারা তোমাদের দ্বীনি ভাই।" যে দ্বীনি ভ্রাতৃত্বের বিষয়ে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কালিমাতুল ইখলাস ওয়া তাহকীকু মানাহা - ত আল-মাকতাবুল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
لا تثبت إلا بأداء الفرائض مع التوحيد. فإن التوبة من الشرك لا تحصل إلا بالتوحيد.
فلما قرر أبو بكر هذا للصحابة رجعوا إلى قوله، ورأوه صوابًا.
فإذا عُلم أن عقوبة الدنيا لا ترفع عمن أدّى الشهادتين مطلقًا، بل يعاقب بإخلاله بحق من حقوق الإسلام، فكذلك عقوبة الآخرة.
وقد ذهب طائفة إلى أن هذه الأحاديث المذكورة أولًا وما في معناها، كانت قبل نزول الفرائض والحدود، منهم الزهريّ
(1) والثوري
(2) وغيرهما، وهذا بعيد جدًّا، فإن كثيرًا منها كان
--------------------------------------------
তাওহীদের সাথে ফরযসমূহ আদায় করা ছাড়া তা সাব্যস্ত হয় না। কারণ শিরক থেকে তওবা তাওহীদ ব্যতীত সম্পন্ন হয় না।
যখন আবু বকর সাহাবীদের নিকট এটি প্রতিষ্ঠিত করলেন, তখন তাঁরা তাঁর বক্তব্যের দিকে ফিরে আসলেন এবং সেটিকে সঠিক হিসেবে গ্রহণ করলেন।
সুতরাং যখন এটি জানা গেল যে, দুনিয়ার শাস্তি কেবল দুই শাহাদাত পাঠকারীর ওপর থেকে নিঃশর্তভাবে উঠে যায় না, বরং ইসলামের কোনো হকের বিচ্যুতি ঘটানোর কারণে তাকে শাস্তি পেতে হয়, তবে পরকালের শাস্তির বিধানও তদ্রূপ।
একদল এই অভিমত পোষণ করেছেন যে, প্রথমে উল্লিখিত এই হাদীসসমূহ এবং এর সমার্থবোধক বর্ণনাগুলো ফরযসমূহ ও দণ্ডবিধি অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বের ছিল। তাঁদের মধ্যে যুহরী
(১) ও সাওরী
(২) সহ অন্যান্যরা রয়েছেন। তবে এই বিষয়টি অত্যন্ত দূরবর্তী, কেননা এর অধিকাংশই ছিল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কালিমাতুল ইখলাস ওয়া তাহকীকু মানাহা - ত আল-মাকতাবুল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ২০)
بالمدينة بعد نزول الفرائض والحدود، وفي بعضها أنه كان في غزوة تبوك، وهي في آخر حياة النبيّ صلى الله عليه وسلم.
وهؤلاء منهم من يقول في هذه الأحاديث إنها منسوخة
(1).
ومنهم من يقول: هي محكمة، ولكن ضم إليها شرائط ويلتفت هذا إلى أن الزيادة على النص: هل هي نسخ أم لا؟ والخلاف في ذلك بين الأصوليين مشهور، وقد صرَّح الثَّوري وغيره بأنها منسوخة، وأنه نسخها الفرائض والحدود، وقد يكون مرادهم بالنسخ البيان والإيضاح، فإن السلف كانوا يطلقون النسخ على مثل ذلك كثيرًا، ويكون مقصودهم، أن آيات الفرائض والحدود تبين بها توقف دخول الجنة والنجاة من النار على فعل الفرائض واجتناب المحارم، فصارت تلك النصوص منسوخة، أيّ: مبيَّنة مفسَّرة، ونصوص الحدود والفرائض ناسخة أيّ: مفسِّرة لمعنى تلك، موضحة لها.
--------------------------------------------
মদিনায় ফরজ বিধান এবং দণ্ডবিধি নাজিল হওয়ার পর, এবং কোনো কোনো বর্ণনায় এসেছে যে তা ছিল তাবুক যুদ্ধের সময়, আর এটি ছিল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনের শেষভাগের ঘটনা।
এবং তাদের মধ্যে কেউ কেউ এই হাদিসগুলোর ব্যাপারে বলেন যে এগুলো রহিত (মানসুখ) হয়ে গেছে
(১)।
আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেন: এগুলো মুহকাম (সুপ্রতিষ্ঠিত), তবে এর সাথে কিছু শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। আর এটি এই বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করে যে, মূল পাঠের (নস) ওপর অতিরিক্ত কিছু যোগ করা কি রহিতকরণ (নাসখ) হিসেবে গণ্য হবে কি না? এ বিষয়ে উসুলবিদদের মধ্যে মতভেদ প্রসিদ্ধ। সুফিয়ান সাওরি এবং অন্যান্যরা স্পষ্টভাবে বলেছেন যে এগুলো রহিত (মানসুখ), এবং ফরজ বিধান ও দণ্ডবিধি এগুলোকে রহিত করেছে। তবে রহিতকরণ (নাসখ) দ্বারা তাদের উদ্দেশ্য সম্ভবত ব্যাখ্যা ও স্পষ্টীকরণ হতে পারে; কারণ সালাফগণ প্রায়শই এই জাতীয় ক্ষেত্রে 'নাসখ' শব্দটি ব্যবহার করতেন। তাদের উদ্দেশ্য হতে পারে এই যে, ফরজ বিধান ও দণ্ডবিধির আয়াতসমূহের মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, জান্নাতে প্রবেশ এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি নির্ভর করে ফরজ কাজসমূহ সম্পাদন এবং হারাম বিষয়সমূহ বর্জনের ওপর। ফলে ওই পূর্ববর্তী পাঠগুলো 'মানসুখ' বা রহিত হয়েছে—অর্থাৎ সেগুলো ব্যাখ্যাকৃত ও বিশদ করা হয়েছে; আর দণ্ডবিধি ও ফরজ বিধানের পাঠগুলো 'নাসিখ' বা রহিতকারী হয়েছে—অর্থাৎ সেগুলো ওই পাঠগুলোর অর্থের ব্যাখ্যা দানকারী ও স্পষ্টকারী হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কালিমাতুল ইখলাস ওয়া তাহকীকু মানাহা - ত আল-মাকতাবুল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ২১)
وقالت طائفة: تلك النصوص المطلقة قد جاءت مقيَّدة في أحاديث أُخر، ففي بعضها:
"من قال: "لا إله إلا الله مخلصًا"، وفي بعضها: "مستيقنًا"، وفي بعضها: "يصدق لسانه". وفي بعضها: "يقولها حقًّا من قلبه"، وفي بعضها: "قد دل بها لسانه واطمأن بها قلبه".
وهذا كله إشارة إلى عمل القلب، وتحققه بمعنى الشهادتين، فتحقيقُهُ بقول: لا إله إلا الله أن لا يأله القلب غير الله حبًا ورجاءً، وخوفًا، وتوكلًا واستعانة، وخضوعًا وإنابة، وطلبًا. وتحقيقه بأن محمدًا رسول الله، ألا يعبد الله بغير ما شرعه الله على لسان محمد صلى الله عليه وسلم
(1)، وقد جاء هذا المعنى مرفوعًا إلى النبيّ صلى الله عليه وسلم صريحًا أنه قال: "من قال: لا إله إلا الله مخلصًا دخل الجنة.
--------------------------------------------
একদল বলেছেন: সেই নিঃশর্ত বাণীসমূহ অন্যান্য হাদিসে শর্তযুক্ত হয়ে এসেছে, তার কোনোটিতে আছে:
"যে ব্যক্তি একনিষ্ঠভাবে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলবে", কোনোটিতে আছে: "দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে", কোনোটিতে আছে: "তার জিহ্বা সত্যয়ন করবে"। কোনোটিতে আছে: "সেটি তার অন্তর থেকে সত্যতার সাথে বলবে", এবং কোনোটিতে আছে: "তার জিহ্বা এর দিশা দিয়েছে এবং তার অন্তর এতে প্রশান্ত হয়েছে" ।
আর এ সবই অন্তরের আমলের প্রতি ইঙ্গিত এবং শাহাদাতদ্বয়ের অর্থের বাস্তবায়ন। সুতরাং 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলার মাধ্যমে এর বাস্তবায়ন হলো—অন্তর যেন ভালোবাসা, আশা, ভয়, ভরসা, সাহায্য প্রার্থনা, বিনয়, প্রত্যাবর্তন এবং অন্বেষণে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে ইলাহ হিসেবে গ্রহণ না করে। আর 'মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ'-এর বাস্তবায়ন হলো—আল্লাহ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুখে যা শরীয়ত হিসেবে প্রবর্তন করেছেন তা ছাড়া অন্য কোনোভাবে আল্লাহর ইবাদত না করা
(১), এবং এই অর্থটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে স্পষ্টভাবে মারফু সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি একনিষ্ঠভাবে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কালিমাতুল ইখলাস ওয়া তাহকীকু মানাহা - ত আল-মাকতাবুল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ২২)
قيل: ما إخلاصها يا رسول الله؟ قال: أن تَحْجُزَكَ عما حرَّم
--------------------------------------------
বলা হলো: হে আল্লাহর রাসূল! এর একনিষ্ঠতা কী? তিনি বললেন: তা যেন তোমাকে হারাম বিষয়াদি থেকে বিরত রাখে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কালিমাতুল ইখলাস ওয়া তাহকীকু মানাহা - ত আল-মাকতাবুল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الله عليك. وهذا يُروى من حديث أنس بن مالك، وزيد
(1) بن أرقم، ولكن إسنادهما لا يصح
(2). وجاء أيضًا من مراسيل الحسن بنحوه.
وتحقيق هذا المعنى وإيضاحه أن قول العبد: لا إله إلا الله يقتضي أن لا إله له غير الله، وإلآله هو الذي يطاع فلا يُعصى هيبة له وإجلالًا، ومحبة وخوفًا ورجاء، وتوكلًا عليه، وسؤالًا منه، ودعاءً له، ولا يصلح ذلك كله إلا الله عز وجل، فمن أشرك مخلوقًا في شيء من هذه الأمور التي هي من خصائص الآلهية كان ذلك قدحًا في إخلاصه في قول: لا إله إلا الله، ونقصًا في توحيده، وكان فيه من عبودية المخلوق بحسب ما فيه
--------------------------------------------
আল্লাহ আপনার প্রতি সদয় হোন। এটি আনাস বিন মালিক এবং যায়িদ
(১) বিন আরকাম-এর হাদীস থেকে বর্ণিত হয়েছে, কিন্তু তাদের উভয়ের বর্ণনাপরম্পরা বিশুদ্ধ নয়
(২)। অনুরূপ বিষয় হাসানের মুরসাল বর্ণনা থেকেও বর্ণিত হয়েছে।
এই অর্থের বিশ্লেষণ ও স্পষ্টীকরণ হলো যে, বান্দার এই উক্তি: 'আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই' এটি দাবি করে যে, আল্লাহ ছাড়া তার আর কোনো উপাস্য থাকবে না। আর উপাস্য তিনিই যাঁর আনুগত্য করা হয় এবং যাঁর অবাধ্য হওয়া হয় না; তাঁর প্রতি ভয় ও সম্মানের কারণে, এবং ভালোবাসা, শঙ্কা, আশা, তাঁর ওপর ভরসা, তাঁর কাছে প্রার্থনা এবং তাঁর নিকট দোয়ার মাধ্যমে। আর এগুলোর কোনোটিই আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা ব্যতীত অন্য কারো জন্য শোভা পায় না। অতএব, যে ব্যক্তি উপাস্য হওয়ার এই বৈশিষ্ট্যসমূহের কোনো বিষয়ে কোনো সৃষ্টিকে অংশীদার করবে, তা 'আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই' উক্তির ক্ষেত্রে তার একনিষ্ঠতায় আঘাত হানবে এবং তার তাওহীদের ক্ষেত্রে অপূর্ণতা সৃষ্টি করবে। আর তার মধ্যে ঐ সৃষ্টির প্রতি ততটুকু দাসত্ব বিদ্যমান থাকবে যতটুকু সে তাতে লিপ্ত হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কালিমাতুল ইখলাস ওয়া তাহকীকু মানাহা - ত আল-মাকতাবুল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ২৪)
من ذلك، وهذا كله من فروع الشرك، ولهذا ورد إطلاق الكفر والشرك على كثير من المعاصي التي منشؤها من طاعة غير الله أو خوفه أو رجائه، أو التوكل عليه والعمل لأجله، كما ورد إطلاق الشرك على الرياء، وعلى الحلف بغير الله، وعلى التوكل على غير الله والاعتماد عليه، وعلى من سوَّى بين الله وبين المخلوق في المشيئة، مثل أن يقول: ما شاء الله وشاء فلان
(1)، وكذا قوله: ما لي إلا الله وأنت؛ وكذلك ما يقدح في التوحيد وتفرد الله بالنفع والضر كالطيرة، والرقى المكروهة؛ وإتيان الكهانَ وتصديقهم بما يقولون، وكذلك اتّباع هوى النفس فيما نهى الله عنه، قادحٌ في تمام التوحيد وكماله، ولهذا أطلق الشرع على كثير من الذنوب التي منشؤها من هوى النفس أنها كفر وشرك؛ كقتال المسلم، ومن أتى حائضًا أو امرأة في
--------------------------------------------
এগুলোর অন্তর্ভুক্ত, আর এ সবই শিরকের শাখা-প্রশাখা। আর এ কারণেই এমন অনেক পাপাচারের ওপর কুফর ও শিরক শব্দ প্রয়োগ করা হয়েছে যেগুলোর মূল উৎস হলো আল্লাহ ব্যতীত অন্যের আনুগত্য করা, তাকে ভয় করা, তার কাছে আশা রাখা, অথবা তার ওপর ভরসা করা এবং তার সন্তুষ্টির জন্য কাজ করা। যেমন রিয়া (লোক দেখানো ইবাদত), আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে কসম করা, আল্লাহ ছাড়া অন্যের ওপর তাওয়াক্কুল ও নির্ভর করা এবং ইচ্ছার ক্ষেত্রে আল্লাহ ও সৃষ্টির মাঝে সমতা বিধান করার ওপর শিরক শব্দ প্রয়োগ করা হয়েছে। যেমন কারো এই কথা বলা: ‘আল্লাহ যা চেয়েছেন এবং অমুক যা চেয়েছে’
(১), অনুরূপভাবে তার এই উক্তি: ‘আল্লাহ এবং আপনি ছাড়া আমার কেউ নেই’। তেমনিভাবে যা তাওহিদ এবং উপকার ও অপকার করার ক্ষেত্রে আল্লাহর একচ্ছত্র অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করে, যেমন কুলক্ষণ গ্রহণ করা, অপছন্দনীয় ঝাড়ফুঁক, গণকদের কাছে যাওয়া এবং তারা যা বলে তাতে বিশ্বাস করা। একইভাবে আল্লাহ যা নিষেধ করেছেন সে ক্ষেত্রে প্রবৃত্তির অনুসরণ করাও তাওহিদের পূর্ণতার পরিপন্থী। এ কারণেই শরিয়ত এমন অনেক গুনাহকে কুফর ও শিরক বলে অভিহিত করেছে যেগুলোর মূল উৎস হলো কুপ্রবৃত্তি; যেমন মুসলমানের সাথে লড়াই করা এবং ঋতুবর্তী স্ত্রীর সাথে কিংবা কোনো মহিলার সাথে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কালিমাতুল ইখলাস ওয়া তাহকীকু মানাহা - ত আল-মাকতাবুল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ২৫)
دبرها، ومن شرب الخمرة في المرة الرابعة
(1)، وإن كان ذلك لا يخرجه عن الملّة بالكلية، ولهذا قال السلف: كُفر دون كفر، وشرك دون شرك.
وقد ورد إطلاق الآله على الهوى المتَّبَع، قال الله تعالى: (أفرأيت من اتخذ إلهَهُ هواه)
(2)؟. قال: هو الذي لا يهوى شيئًا إلا ركبه. وقال قتادة
(3): هو الذي كلما هَوِيَ شيئًا ركبه،
--------------------------------------------
তার পশ্চাৎদেশ দিয়ে সংগম করা, এবং চতুর্থবার মদ্যপান করা
(১), যদিও এটি তাকে পরিপূর্ণভাবে ধর্মবিশ্বাস থেকে বের করে দেয় না; আর একারণেই সালাফগণ বলেছেন: কুফরের চেয়ে নিম্নতর কুফর, এবং শিরকের চেয়ে নিম্নতর শিরক।
অনুসৃত প্রবৃত্তির ওপর 'উপাস্য' শব্দের প্রয়োগ পাওয়া যায়। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আপনি কি তাকে দেখেছেন, যে তার প্রবৃত্তিকে নিজের উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করেছে?"
(২)। তিনি বলেছেন: সে এমন এক ব্যক্তি যে যা-ই কামনা করে, তা-ই সম্পাদন করে। আর কাতাদাহ
(৩) বলেছেন: সে হলো এমন ব্যক্তি, যে যখনই কোনো কিছু কামনা করে, তা-ই সম্পাদন করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কালিমাতুল ইখলাস ওয়া তাহকীকু মানাহা - ত আল-মাকতাবুল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وكلما اشتهى شيئًا أتاهُ، لا يحجزُه عن ذلك ورعٌ ولا تقوى.
ورُوِي من حديث أبي أمامة
(1) بإسناد ضعيف: "ما تحت ظل سماء إله يعبد أعظم عند الله من هوىَ متَّبع".
وفي حديث آخر: "لا تزال لا إله إلا الله تدْفَع عن أصحابها حتى يؤثروا دنياهم على دينهم، فإذا فعلوا ذلك ردَّت عليهم، ويقال لهم: كذبتم"
(2).
ويشهد لذلك الحديثُ الصحيح عن النبيّ صلى الله عليه وسلم: "تَعِسَ عبدُ الدينار، تعس عبد الدرهم، تعس عبد القطيفة، تعس عبد الخَميصة، تعس وانتكس، وإذا شيِك فلا انتقش". فدل
--------------------------------------------
এবং যখনই সে কোনো কিছুর আকাঙ্ক্ষা করত, সে তা অর্জন করত; পরহেযগারী বা তাকওয়া তাকে তা থেকে বিরত রাখতে পারত না।
আর আবু উমামাহ
(১)-এর হাদীস থেকে দুর্বল সনদে বর্ণিত হয়েছে: "আসমানের ছায়াতলে এমন কোনো উপাস্য নেই যার ইবাদত করা হয়, যা আল্লাহর নিকট অনুসরণকৃত প্রবৃত্তির চেয়ে বড়।"
এবং অন্য একটি হাদীসে রয়েছে: "'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' তার পাঠকারীদের থেকে বিপদ দূর করতে থাকে যতক্ষণ না তারা তাদের দ্বীনের ওপর দুনিয়াকে প্রাধান্য দেয়। যখন তারা তা করে, তখন তা তাদের ওপর ফিরিয়ে দেওয়া হয় এবং তাদের বলা হয়: 'তোমরা মিথ্যা বলেছ'"
(২)।
আর এর স্বপক্ষে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত সহীহ হাদীসটি সাক্ষ্য দেয়: "দীনারের দাস ধ্বংস হোক, দিরহামের দাস ধ্বংস হোক, মখমলের দাস ধ্বংস হোক, চাদরের দাস ধ্বংস হোক। সে ধ্বংস হোক এবং অধঃপতিত হোক, আর তার শরীরে কাঁটা বিঁধলে যেন তা বের না হয়।" সুতরাং তা প্রমাণ করে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কালিমাতুল ইখলাস ওয়া তাহকীকু মানাহা - ত আল-মাকতাবুল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ২৭)
هذا على أن كل من أحب شيئًا وأطاعه، وكان غاية قصده ومطلوبه، ووالى لأجله، وعادى لأجله، فهو عبده، وكان ذلك الشيء معبوده وإلهه.
ويدل عليه أيضًا أن الله تعالى سمَّى طاعة الشيطان في معصيته عبادةً للشيطان، كما قال تعالى: (ألم أعهد إليكم يا بني آدم أن لا تعبدوا الشيطان)
(1). وقال تعالى حاكيًا عن خليله إبراهيم عليه السلام لأبيه: (يا أبت لا تعبد الشيطان إن الشيطان كان للرحمن عِصيًّا)
(2)، فمن لم يتحقق بعبودية الرحمن وطاعته فإنه يعبد الشيطان بطاعته له، ولم يخلُص من عبادة الشيطان إلا من أخلص عبودية الرحمن، وهم الذين قال فيهم: (إن عبادي ليس لك عليهم سلطان)
(3). فهم الذين حققوا قولَ: لا إله إلا الله"، وأخلصوا في قولها، وصدقوا قولهم بفعلهم، فلم يلتفتوا إلى غير الله محبةً ورجاءً وخشية وطاعة وتوكلًا، وهم الذين صدقوا في قول: "لا إله إلا الله"، وهم عباد الله حقًّا؛ فأما من
--------------------------------------------
এটি এই ভিত্তিতে যে, যে ব্যক্তিই কোনো কিছুকে ভালোবাসল এবং তার আনুগত্য করল, আর সেটিই তার চরম লক্ষ্য ও কাম্য হয়ে দাঁড়াল এবং তার জন্যই সে বন্ধুত্ব ও শত্রুতা করল, তবে সে ব্যক্তি তারই দাস; আর সেই বস্তুটিই হলো তার উপাস্য ও ইলাহ।
এর ওপর আরও প্রমাণ বহন করে যে, মহান আল্লাহ তাঁর অবাধ্যতায় শয়তানের আনুগত্য করাকে শয়তানের ইবাদত হিসেবে অভিহিত করেছেন, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: (হে আদম সন্তান! আমি কি তোমাদের নির্দেশ দিইনি যে, তোমরা শয়তানের ইবাদত করো না)
(১)। মহান আল্লাহ তাঁর বন্ধু ইবরাহিম আলাইহিস সালাম কর্তৃক তাঁর পিতাকে উদ্দেশ্য করে বলা বাণীর বর্ণনায় বলেন: (হে আমার পিতা! শয়তানের ইবাদত করবেন না; নিশ্চয় শয়তান পরম দয়াময় রহমানের অতিশয় অবাধ্য)
(২)। সুতরাং যে ব্যক্তি পরম দয়াময় রহমানের দাসত্ব ও আনুগত্যকে যথাযথভাবে অর্জন করেনি, সে মূলত শয়তানের আনুগত্য করার মাধ্যমে শয়তানেরই ইবাদত করছে। আর শয়তানের ইবাদত থেকে কেবল তারাই মুক্তি পেয়েছে যারা রহমানের দাসত্বকে একনিষ্ঠ করেছে; তারা তারাই যাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন: (নিশ্চয় আমার বান্দাদের ওপর তোমার কোনো আধিপত্য নেই)
(৩)। সুতরাং তারাই "আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই" বাণীর বাস্তবায়ন করেছে, এটি উচ্চারণে একনিষ্ঠ হয়েছে এবং নিজেদের কর্মের মাধ্যমে নিজ বক্তব্যকে সত্য প্রমাণিত করেছে। ফলে তারা ভালোবাসা, আশা, ভীতি, আনুগত্য ও তাওয়াক্কুলের ক্ষেত্রে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো প্রতি ভ্রূক্ষেপ করেনি। তারাই "আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই" বাণীতে সত্যবাদী এবং তারাই আল্লাহর প্রকৃত বান্দা। আর যে ব্যক্তি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কালিমাতুল ইখলাস ওয়া তাহকীকু মানাহা - ত আল-মাকতাবুল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ২৮)
قال: "لا إله إلا الله"، بلسانه، ثم أطاع الشيطان وهواه في معصية الله ومخالفته فقد كذّب فعله قوله، ونقص من كمال توحيده بقدر معصية الله في طاعة الشيطان والهوى، (ومن أضل ممن اتّبع هواه بغير هدى من الله؟)
(1) (ولا تتبع الهوى فيضلك عن سبيل الله)
(2).
فيا هذا كن عبد الله لا عبد الهوى، فإن الهوى يهوي بصاحبه في النار: (أأرباب متفرقون خير أم الله الواحد القهار؟)
(3)!
تعسَ عبد الدرهم! تعس عبد الدينار! والله لا ينجو غدًا من عذاب الله إلا من حقق عبودية الله وحده، ولم يلتفت إلى شيء من الأغيار، من علم أن معبودَه الله فرد، فليُفْرده بالعبودية، (ولا يُشرك بعبادة ربه أحدًا)
(4).
كان بعض العارفين يتكلم على أصحابه، على رأس جبل، فقال في كلامه: لا ينال أحد مراده حتى ينفرد فردًا بفرد؛
--------------------------------------------
তিনি বললেন: "আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই", নিজের জিহ্বা দ্বারা, অতঃপর আল্লাহর অবাধ্যতা ও তাঁর বিরুদ্ধাচরণ করে শয়তান ও নিজের প্রবৃত্তির আনুগত্য করল, তবে তার কর্ম তার কথাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল। শয়তান ও প্রবৃত্তির আনুগত্যের মাধ্যমে আল্লাহর নাফরমানি করায় সে তার তাওহীদের পূর্ণতা থেকে ততটুকু বিচ্যুত হলো। (আর সেই ব্যক্তির চেয়ে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে হতে পারে, যে আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা কোনো হিদায়াত ছাড়াই নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে?)
(1) (আর তুমি প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না, অন্যথায় তা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করবে)
(2).
হে ব্যক্তি! তুমি আল্লাহর বান্দা হও, প্রবৃত্তির দাস হয়ো না; কেননা প্রবৃত্তি তার অনুসারীকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করে: (ভিন্ন ভিন্ন বহু প্রতিপালক কি শ্রেষ্ঠ, নাকি পরাক্রমশালী এক আল্লাহ?)
(3)!
দিরহামের দাস ধ্বংস হোক! দিনারের দাস নিপাত যাক! আল্লাহর কসম, আগামীকাল কিয়ামতের দিন আল্লাহর আজাব থেকে সেই ব্যক্তি ছাড়া কেউ মুক্তি পাবে না, যে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর দাসত্ব সাব্যস্ত করেছে এবং অন্য কোনো কিছুর প্রতি ভ্রুক্ষেপ করেনি। যে ব্যক্তি জেনেছে যে তার উপাস্য আল্লাহ একক, সে যেন কেবল তাঁরই ইবাদত করে, (এবং সে যেন তার রবের ইবাদতে অন্য কাউকে শরিক না করে)
(4).
জনৈক আরেফ (আল্লাহভীরু জ্ঞানী) পাহাড়ের চূড়ায় তাঁর সাথীদের উদ্দেশ্যে উপদেশ দিচ্ছিলেন। তিনি তাঁর আলোচনার মাঝে বললেন: "কেউ তার অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে না যতক্ষণ না সে এককের (আল্লাহর) জন্য এককভাবে নিজেকে নিবেদিত করে";
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কালিমাতুল ইখলাস ওয়া তাহকীকু মানাহা - ত আল-মাকতাবুল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ২৯)
فانزعج واضطرب، حتى رأى أصحابُه أن الصخور قد تدكدكت، وبقي على ذلك ساعة، فلما أفاق فكأنه نُشر من قبره.
قول: "لا إله إلا الله" تقتضي أن لا يُحب سواه، فإن الآله هو الذي يطاع، فلا يعصى محبة وخوفًا ورجاءً، ومن تمام محبته محبةُ ما يحبه وكراهة ما يكرهه، فمن أحب شيئًا مما يكرهه الله، أو كره شيئًا مما يحبه الله لم يكمل توحيده وصدقه في قول: لا إله إلا الله، وكان فيه من الشرك الخفي بحسب ما كرهه مما يحبه الله، وما أحبه مما يكرهه الله قال الله تعالى: (ذلك بأنهما اتَّبعوا ما أسخط الله وكرهوا رضوانه فأحبط أعمالهم)
(1).
قال الليث
(2) عن مجاهد
(3) في قوله: (لا يشركون بي
--------------------------------------------
তিনি বিচলিত ও অস্থির হয়ে পড়লেন, এমনকি তাঁর সঙ্গীরা মনে করলেন যে পাথরসমূহ চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেছে। তিনি দীর্ঘ সময় এই অবস্থায় থাকলেন। অতঃপর যখন তিনি জ্ঞান ফিরে পেলেন, তখন মনে হচ্ছিল যেন তাঁকে তাঁর কবর থেকে পুনরুত্থিত করা হয়েছে।
"লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ" (আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই) এই ঘোষণা দাবি করে যে, তিনি ছাড়া অন্য কাউকে ভালোবাসা যাবে না। কারণ ইলাহ বা উপাস্য তিনিই, যাঁর আনুগত্য করা হয়; সুতরাং ভালোবাসা, ভয় ও আশার বশবর্তী হয়ে তাঁর অবাধ্য হওয়া যাবে না। তাঁর প্রতি ভালোবাসার পূর্ণতা হলো তিনি যা ভালোবাসেন তাকে ভালোবাসা এবং তিনি যা অপছন্দ করেন তাকে অপছন্দ করা। সুতরাং কেউ যদি এমন কিছু ভালোবাসে যা আল্লাহ অপছন্দ করেন, অথবা এমন কিছু অপছন্দ করে যা আল্লাহ ভালোবাসেন, তবে "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ" বলার ক্ষেত্রে তার তাওহীদ ও সত্যবাদিতা পূর্ণতা পায়নি। বরং আল্লাহ যা ভালোবাসেন তা অপছন্দ করা এবং আল্লাহ যা অপছন্দ করেন তা ভালোবাসার পরিমাণ অনুযায়ী তার মধ্যে এক প্রকার গোপন শিরক বিদ্যমান ছিল। মহান আল্লাহ বলেছেন: "তা এই জন্য যে, তারা সেই বিষয়ের অনুসরণ করেছে যা আল্লাহর অসন্তুষ্টির কারণ হয় এবং তারা তাঁর সন্তুষ্টিকে অপছন্দ করেছে, ফলে তিনি তাদের আমলসমূহকে নিস্ফল করে দিয়েছেন।"
(১)।
লাইস
(২) মুজাহিদ
(৩) থেকে আল্লাহর এই বাণীর ব্যাপারে বর্ণনা করেছেন: (তারা আমার সাথে কোনো শিরক করবে না
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কালিমাতুল ইখলাস ওয়া তাহকীকু মানাহা - ত আল-মাকতাবুল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ৩০)
شيئًا)
(1) قال: لا يحبون غيري.
وفي صحيح الحاكم
(2) عن عائشة
(3) رضي الله عنها عن النبيّ صلى الله عليه وسلم قال: الشرك في هذه الأمة أخفى من دبيب النمل على الصفا في الليلة الظلماء، وأدناه أن تحب على شيء من الجور، أو تبغض على شيء من العدل، وهل الدين إلا الحب والبغض؟.
--------------------------------------------
কোনো কিছু)
(১) তিনি বলেছেন: তারা আমি ব্যতীত অন্য কাউকে ভালোবাসবে না।
এবং সহীহ আল-হাকিমে
(২) আয়েশা
(৩) রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: এই উম্মতের মাঝে শিরক অন্ধকার রাতে মসৃণ পাথরের ওপর দিয়ে পিঁপড়ার হাঁটার চেয়েও সূক্ষ্ম। আর এর সর্বনিম্ন স্তর হলো কোনো অন্যায়ের প্রতি ভালোবাসা পোষণ করা অথবা কোনো ন্যায়ের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা। আর দ্বীন কি ভালোবাসা ও বিদ্বেষ ছাড়া অন্য কিছু?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কালিমাতুল ইখলাস ওয়া তাহকীকু মানাহা - ত আল-মাকতাবুল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ৩১)
قال الله عز وجل: (قل إن كنتم تحبون الله فاتبعوني يُحببكم الله)
(1).
وهذا نص في أن محبة ما يكرهه الله وبغض ما يحبه متابعة للهوى، والموالاةُ على ذلك والمعاداة فيه من الشرك الخفي.
وقال الحسن: اعلمْ أنك لن تحب الله حتى تحب طاعته!.
وسئل ذو النون
(2): متى أُحبُ ربي؟. قال: إذا كان ما يبغضه عندك أمرَّ من الصبر!.
وقال بشر بن السري
(3): ليس من أعلام الحب أن تحب ما يبغض حبيبُك!.
--------------------------------------------
মহান আল্লাহ বলেছেন: (বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো, তবে আমার অনুসরণ করো, তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন)
(১)।
এটি একটি স্পষ্ট দলিল যে, আল্লাহ যা অপছন্দ করেন তা ভালোবাসা এবং যা তিনি পছন্দ করেন তা ঘৃণা করা হলো প্রবৃত্তির অনুসরণ। আর এর ভিত্তিতে বন্ধুত্ব স্থাপন করা এবং এর কারণে শত্রুতা করা গুপ্ত শিরকের অন্তর্ভুক্ত।
হাসান বলেছেন: জেনে রেখো, তুমি ততক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহকে ভালোবাসতে পারবে না, যতক্ষণ না তাঁর আনুগত্যকে ভালোবাসবে!।
যু-নূনকে
(২) জিজ্ঞেস করা হলো: কখন আমি আমার প্রতিপালককে ভালোবাসব? তিনি বললেন: যখন তাঁর অপছন্দনীয় বিষয় তোমার কাছে সবরের (তিক্ততার) চেয়েও বেশি তিক্ত হবে!।
বিশর ইবনুল সাররি
(৩) বলেছেন: তোমার প্রিয়তম যা অপছন্দ করেন, তুমি তা পছন্দ করবে—এটা ভালোবাসার নিদর্শন নয়!।
--------------------------------------------