(খণ্ড: ১) আন-নসীহাহ ফী সিফাতিল রাব্বি জাল্লা ওয়া আলা (পৃষ্ঠা: -)
النصيحة في صفات الرب جل وعلا   (ابن شيخ الحزامين)

القسم: العقيدة


الكتاب: النصيحة في صفات الرب جل وعلا

المؤلف: أحمد بن إبراهيم بن عبد الرحمن بن مسعود، عماد الدين الواسطي البغدادي ثم الدمشقيّ، المعروف: بابن شيخ الحزامين (ت 711 هـ)

المحقق: زهير الشاويش [ت 1434 هـ]

الناشر: المكتب الإسلامي - بيروت

الطبعة: الثانية، 1394

عدد الصفحات: 30

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মহামহিম রবের গুণাবলী সম্পর্কে উপদেশ   (ইবনে শাইখ আল-হিজামাইন)

বিভাগ: আকিদাহ


গ্রন্থ: মহামহিম রবের গুণাবলী সম্পর্কে উপদেশ

লেখক: আহমাদ বিন ইবরাহিম বিন আব্দুর রহমান বিন মাসউদ، ইমাদুদ্দীন আল-ওয়াসিতি আল-বাগদাদি অতঃপর আদ-দিমাশকি، পরিচিত: ইবনে শাইখ আল-হিজামাইন নামে (মৃত্যু ৭১১ হিজরি)

সম্পাদক: জুহাইর আশ-শাভিশ [মৃত্যু ১৪৩৪ হিজরি]

প্রকাশক: আল-মাকতাব আল-ইসলামি - বৈরুত

সংস্করণ: দ্বিতীয়، ১৩৯৪

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩০

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আন-নসীহাহ ফী সিফাতিল রাব্বি জাল্লা ওয়া আলা (পৃষ্ঠা: ৭)
بسم الله الرحمن الرحيم

الْحَمد لله الَّذِي كَانَ وَلَا مَكَان وَلَا إنس وَلَا جَان وَلَا طَائِر وَلَا حَيَوَان المتفرد بوحدانيته فِي قدم أزليته والدائم فِي فردانيته فِي قدس صمدانيته لَيْسَ لَهُ سمي وَلَا وَزِير وَلَا شبه لَهُ وَلَا نَظِير المقتدر بالخلق والتصوير الْمُتَصَرف بِالْمَشِيئَةِ وَالتَّقْدِير لَيْسَ كمثله شَيْء وَهُوَ السَّمِيع الْبَصِير لَهُ الرّفْعَة وَالْحَمْد وَالثنَاء والعلو والاستواء لَا تحصره الْأَجْسَام وَلَا تصَوره الأوهام وَلَا تقله الْحَوَادِث والأجرام وَلَا تحيط بِهِ الْعُقُول والأفهام لَهُ الْأَسْمَاء الْحسنى والشرف الأتم الْأَسْنَى والدوام الَّذِي لَا يبيد وَلَا يفنى نصفه بِمَا وصف بِهِ نَفسه من الصِّفَات الَّتِي توجب عَظمته وقدسه مِمَّا أنزلهُ فِي كِتَابه وَبَينه رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فِي خطابه ونؤمن بِأَنَّهُ الله الَّذِي لَا إِلَه إِلَّا هُوَ الْحَيّ القيوم السَّمِيع الْبَصِير الْعَلِيم الْقَدِير الرَّحْمَن الرَّحِيم الْملك القدوس الْعَظِيم
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি বিদ্যমান ছিলেন যখন কোনো স্থান ছিল না, ছিল না কোনো মানুষ, জিন, পাখি কিংবা কোনো প্রাণী। তিনি তাঁর অনাদি একত্বে একক, এবং তাঁর পবিত্র অমুখাপেক্ষিতার অনন্যতায় চিরস্থায়ী। তাঁর কোনো সমনামী নেই, নেই কোনো উজির, নেই কোনো সাদৃশ্য এবং নেই কোনো সমকক্ষ। তিনি সৃষ্টি ও রূপদানের ক্ষমতাবান, ইচ্ছা ও তাকদিরের মাধ্যমে সকল বিষয়ের পরিচালক। তাঁর সদৃশ কিছুই নেই, আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা। উচ্চমর্যাদা, প্রশংসা, স্তুতি, শ্রেষ্ঠত্ব এবং উঠা তাঁরই জন্য। কোনো দেহ তাঁকে সীমাবদ্ধ করতে পারে না, কোনো কল্পনা তাঁর রূপ চিত্রায়ন করতে পারে না, কোনো সৃষ্ট বস্তু বা পিণ্ড তাঁকে বহন করতে পারে না এবং কোনো বুদ্ধি বা বোধশক্তি তাঁকে পরিবেষ্টন করতে পারে না। তাঁরই জন্য সকল সুন্দর নামসমূহ, পূর্ণতম সুউচ্চ মর্যাদা এবং এমন স্থায়িত্ব যা কখনো শেষ হবে না বা ধ্বংস হবে না। আমরা তাঁকে সেই সকল গুণাবলীতে গুণান্বিত করি, যা দ্বারা তিনি নিজের বর্ণনা দিয়েছেন—যা তাঁর মহিমা ও পবিত্রতাকে অনিবার্য করে—যা তিনি তাঁর কিতাবে অবতীর্ণ করেছেন এবং আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) তাঁর বাণীতে বর্ণনা করেছেন। আর আমরা বিশ্বাস করি যে, তিনিই আল্লাহ, যিনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই; তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক, সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা, সর্বজ্ঞ, ক্ষমতাবান, পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু, অধিপতি, অতি পবিত্র, মহান।
(খণ্ড: ১) আন-নসীহাহ ফী সিফাতিল রাব্বি জাল্লা ওয়া আলা (পৃষ্ঠা: ৮)
لطيف خَبِير قريب مُجيب مُتَكَلم شَاءَ مُتَكَلم شَاءَ مُرِيد فعال لما يُرِيد يقبض ويبسط ويرضى ويغضب وَيُحب وَيبغض وَيكرهُ ويضحك وَيَأْمُر وَينْهى ذُو الْوَجْه الْكَرِيم والسمع السَّمِيع وَالْبَصَر الْبَصِير وَالْكَلَام الْمُبين وَالْيَدَيْنِ والقبضتين والمقدرة وَالسُّلْطَان وَالْعَظَمَة والامتنان لم يزل كَذَلِك وَلَا يزَال اسْتَوَى على عَرْشه فَبَان من خلقه وَلَا يخفى عَلَيْهِ مِنْهُم خافية علمه بهم مُحِيط وبصره بهم نَافِذ وَهُوَ فِي ذَاته وَلَا يُشبههُ شَيْء من مخلوقاته وَلَا تمثل بِشَيْء من جوارح مبتدعاته بل هِيَ صِفَات لائقة بجلاله وعظمته لَا تتخيل كيفيتها الظنون وَلَا ترَاهَا فِي الدُّنْيَا الْعُيُون بل نؤمن بحقائقها وثبوتها وَنصف الرب سبحانه وتعالى بهَا وننفي عَنْهَا تَأْوِيل المتأولين وتعطيل الجاحدين وتمثيل المشبهين تبَارك الله أحسن الْخَالِقِينَ فَبِهَذَا الرب نؤمن وإياه نعْبد وَله نصلي ونسجد فَمن قصد بِعِبَادَتِهِ إِلَى إِلَه لَيست لَهُ هَذِه الصِّفَات فَإِنَّمَا يعبد غير الله وَلَيْسَ معبوده ذَلِك بإله فكفرانه لَا غفرانه وَأشْهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله وَحده لَا شريك لَهُ وَأَن مُحَمَّدًا عَبده وَرَسُوله اصطفاه لرسالته وَاخْتَارَهُ لبريته وَأنزل عَلَيْهِ كِتَابه الْمُبين الَّذِي لَا يَأْتِيهِ الْبَاطِل من بَين يَدَيْهِ وَلَا من خَلفه تَنْزِيل من حَكِيم حميد صلى الله عليه وسلم وعَلى آله وَأَصْحَابه أكْرم آل وَأفضل عبيد وَبعد فَهَذِهِ نصيحة كتبتها إِلَى اخواني فِي الله أهل الصدْق
তিনি সূক্ষ্মদর্শী, সম্যক পরিজ্ঞাত, নিকটবর্তী, কবুলকারী; তিনি যখন ইচ্ছা কথা বলেন, যখন ইচ্ছা কথা বলেন; তিনি ইচ্ছাকারী এবং যা ইচ্ছা তা-ই সম্পাদনকারী। তিনি মুষ্টিবদ্ধ করেন ও প্রসারিত করেন, সন্তুষ্ট হন ও রাগান্বিত হন, ভালোবাসেন ও ঘৃণা করেন, অপছন্দ করেন ও হাসেন, আদেশ করেন ও নিষেধ করেন। তিনি মহিমান্বিত চেহারা, শ্রবণকারী শ্রবণশক্তি, দ্রষ্টা দৃষ্টিশক্তি, সুস্পষ্ট কালাম, আল্লাহর দুই হাত, আল্লাহর দুই মুষ্টি, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, শ্রেষ্ঠত্ব এবং অনুগ্রহের অধিকারী। তিনি সর্বদা এমনই ছিলেন এবং এমনই থাকবেন। তিনি তাঁর আরশের উপর উঠেছেন, ফলে তিনি তাঁর সৃষ্টিজগত থেকে পৃথক এবং তাদের কোনো গোপন বিষয়ই তাঁর কাছে গোপন নয়। তাদের বিষয়ে তাঁর জ্ঞান পরিবেষ্টনকারী এবং তাদের ওপর তাঁর দৃষ্টি প্রখর। তিনি তাঁর সত্তায় স্বতন্ত্র, তাঁর সৃষ্টির কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয় এবং তাঁর কোনো সৃষ্টির অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সাথে তাঁর তুলনা করা যায় না। বরং এগুলো তাঁর মহিমা ও শ্রেষ্ঠত্বের উপযোগী গুণাবলি, যার ধরণ কোনো কল্পনা ধারণা করতে পারে না এবং দুনিয়াতে কোনো চোখ তাঁকে দেখতে পায় না। বরং আমরা এগুলোর হাকিকত ও সাব্যস্ত হওয়ার ওপর ঈমান রাখি এবং রব সুবহানাহু ওয়া তাআলাকে এগুলোর মাধ্যমে গুণান্বিত করি; এবং আমরা এগুলোর ক্ষেত্রে অপব্যাখ্যাকারীদের অপব্যাখ্যা, অস্বীকারকারীদের অস্বীকার এবং সাদৃশ্য প্রদানকারীদের তুলনাকে প্রত্যাখ্যান করি। আল্লাহ বরকতময়, যিনি সর্বোত্তম স্রষ্টা। সুতরাং আমরা এই রবের ওপরই ঈমান রাখি, তাঁরই ইবাদত করি এবং তাঁর উদ্দেশ্যেই সালাত আদায় করি ও সিজদা করি। অতএব যে ব্যক্তি তার ইবাদতের মাধ্যমে এমন কোনো মাবুদকে উদ্দেশ্য করে যার এই গুণাবলি নেই, সে মূলত আল্লাহ ছাড়া অন্যের ইবাদত করছে এবং তার সেই মাবুদ কোনো ইলাহ নয়; বরং তা কেবলই কুফরি, ক্ষমা নয়। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; এবং মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসুল। তিনি তাঁকে তাঁর রিসালাতের জন্য মনোনীত করেছেন, তাঁর সৃষ্টির মধ্য থেকে তাঁকে নির্বাচন করেছেন এবং তাঁর ওপর অবতীর্ণ করেছেন তাঁর সুস্পষ্ট কিতাব, যাতে কোনো মিথ্যা আসতে পারে না—না তার সম্মুখ থেকে, না তার পেছন থেকে; এটি প্রজ্ঞাময়, প্রশংসিত সত্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যারা অত্যন্ত সম্মানিত পরিবার এবং সর্বোত্তম বান্দা। অতপর, এটি একটি নসিহত যা আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আমার সত্যবাদী ভাইদের উদ্দেশ্যে লিখেছি।
(খণ্ড: ১) আন-নসীহাহ ফী সিফাতিল রাব্বি জাল্লা ওয়া আলা (পৃষ্ঠা: ৯)
والصفاء والاخلاص وَالْوَفَاء لما تعين على محبتهم فِي الله ونصيحتهم فِي صِفَات الله فَإِن الْمَرْء لَا يكمل إيمَانه حَتَّى يحب لِأَخِيهِ مَا يحب لنَفسِهِ وَفِي الصَّحِيحَيْنِ عَن جرير بن عبد الله البَجلِيّ قَالَ بَايَعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم على إقَام الصَّلَاة وإيتاء الزَّكَاة والنصح لكل مُسلم وَعَن تَمِيم الدَّارِيّ أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ الدّين النَّصِيحَة ثَلَاثًا قُلْنَا لمن يَا رَسُول الله قَالَ لله ولكتابه وَلِرَسُولِهِ ولائمة الْمُسلمين وعامتهم وأعرفهم أَيّدهُم الله بتأييده ووفقهم لطاعته ومزيده أنني كنت بُرْهَة من الدَّهْر متحيرا فِي ثَلَاث مسَائِل مَسْأَلَة الصِّفَات وَمَسْأَلَة الْفَوْقِيَّة ومسالة الْحَرْف وَالصَّوْت فِي الْقُرْآن الْمجِيد وَكنت متحيرا فِي الْأَقْوَال الْمُخْتَلفَة الْمَوْجُودَة فِي كتب أهل الْعَصْر فِي جَمِيع ذَلِك من تَأْوِيل الصِّفَات وتحريفها أَو إمرارها أَو الْوُقُوف فِيهَا أَو إِثْبَاتهَا بِلَا تَأْوِيل وَلَا تَعْطِيل وَلَا تَشْبِيه وَلَا تَمْثِيل فأجد النُّصُوص فِي كتاب الله وَسنة رَسُوله ناطقة مبينَة لحقائق هَذِه الصِّفَات وَكَذَلِكَ فِي إِثْبَات الْعُلُوّ والفوقية وَكَذَلِكَ فِي الْحَرْف وَالصَّوْت ثمَّ أجد الْمُتَأَخِّرين من الْمُتَكَلِّمين فِي كتبهمْ مِنْهُم من تَأَول الاسْتوَاء بالقهر والاستيلاء وَتَأَول النُّزُول بنزول الْأَمر وَتَأَول اليديدن بالنعمتين والقدرتين وَتَأَول الْقدَم بقدم صدق عِنْد رَبهم وأمثال ذَلِك

এবং পরিচ্ছন্নতা, ইখলাস ও বিশ্বস্ততা সেই বিষয়ের প্রতি যা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে তাঁদের ভালোবাসা এবং আল্লাহর গুণাবলির বিষয়ে তাঁদের নসীহত করার জন্য অপরিহার্য। কেননা কোনো ব্যক্তির ঈমান ততক্ষণ পূর্ণ হয় না, যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্য তা-ই পছন্দ করে যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে। আর সহীহাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এ জারীর বিন আব্দুল্লাহ আল-বাজালী রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট সালাত কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা এবং প্রত্যেক মুসলিমের প্রতি নসীহত বা কল্যাণ কামনার ওপর বায়আত গ্রহণ করেছি। তামীম আদ-দারী রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনবার বললেন: 'দীন হলো নসীহত (একনিষ্ঠতা ও কল্যাণকামনা)'। আমরা বললাম, 'কার জন্য হে আল্লাহর রাসুল?' তিনি বললেন: 'আল্লাহর জন্য, তাঁর কিতাবের জন্য, তাঁর রাসুলের জন্য এবং মুসলিমদের ইমাম ও সাধারণ জনগণের জন্য।' আমি তাদের জানাই—আল্লাহ তাঁদের তাঁর সাহায্যের মাধ্যমে শক্তিশালী করুন এবং তাঁর আনুগত্য ও উত্তরোত্তর কল্যাণের তাওফিক দান করুন—যে, আমি দীর্ঘ কাল ধরে তিনটি বিষয়ে দ্বিধাগ্রস্ত ছিলাম: গুণাবলির (সিফাত) মাসআলা, উপরে থাকার (ফাওকিয়াহ) মাসআলা এবং পবিত্র কুরআনে হরফ ও শব্দের মাসআলা। আমি এ সব বিষয়ে সমকালীন লেখকদের কিতাবসমূহে বিদ্যমান বিভিন্ন মতামতের কারণে বিভ্রান্ত ছিলাম—যেমন গুণাবলির তাবীল (ব্যাখ্যা) ও তাহরীফ (বিকৃতি), অথবা তা হুবহু রেখে দেওয়া, কিংবা সে বিষয়ে নীরবতা পালন করা, অথবা কোনো প্রকার তাবীল, তা’তীল (অস্বীকার), তাশবীহ (সাদৃশ্য) ও তামসীল (উপমা) ছাড়াই সেগুলোকে সাব্যস্ত করার বিষয়ে। অতঃপর আমি আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসুলের সুন্নাহর দলিলগুলোকে এই সিফাতসমূহের হাকিকত বর্ণনার ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট ও প্রবক্তা হিসেবে পেলাম। একইভাবে আল্লাহর উচ্চতা ও উপরে থাকার প্রমাণ এবং হরফ ও শব্দের স্বপক্ষে দলিলসমূহ পেলাম। এরপর আমি পরবর্তী যুগের কালাম শাস্ত্রবিদদের কিতাবসমূহে দেখলাম যে, তাদের মধ্যে কেউ কেউ আল্লাহর 'উঠা'-কে ক্ষমতা ও আধিপত্য বিস্তারের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেছেন, আল্লাহর 'নেমে আসা'-কে তাঁর আদেশের অবতরণ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন, আল্লাহর 'দুই হাত'-কে দুইটি নেয়ামত ও দুইটি শক্তি হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন, এবং আল্লাহর 'পা'-কে তাদের রবের নিকট সত্যের মর্যাদা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন এবং এই জাতীয় আরও অনেক কিছু।

(খণ্ড: ১) আন-নসীহাহ ফী সিফাতিল রাব্বি জাল্লা ওয়া আলা (পৃষ্ঠা: ১০)
ثمَّ اجدهم مَعَ ذَلِك يجْعَلُونَ كَلَام الله معنى قَائِما بِالذَّاتِ بِلَا حرف وَلَا صَوت ويجعلون هَذِه الْحُرُوف عبارَة عَن ذَلِك الْمَعْنى الْقَائِم وَمِمَّنْ ذهب إِلَى هَذِه الْأَقْوَال أَو بَعْضهَا قوم لَهُم فِي صَدْرِي منزلَة مثل بعض فُقَهَاء الاشعرية الشافعيين لِأَنِّي على مَذْهَب الشَّافِعِي رَحمَه الله تَعَالَى عرفت مِنْهُم فَرَائض ديني وَأَحْكَامه فأجد مثل هَؤُلَاءِ الشُّيُوخ الأجلة يذهبون إِلَى مثل هَذِه الْأَقْوَال وهم شيوخي ولي فيهم الِاعْتِقَاد التَّام لفضلهم وعلمهم ثمَّ إِنَّنِي مَعَ ذَلِك أجد فِي قلبِي من هَذِه التأويلات حزازات لَا يطمئن قلبى إِلَيْهَا وَأَجد الكدر والظلمة مِنْهَا وَأَجد ضيق الصَّدْر وَعدم انشراحه مَقْرُونا بهَا فَكنت كالمتحير المضطرب فِي تحيره المتململ من قلبه فِي تقلبه تغيره وَكنت أَخَاف من إِطْلَاق القَوْل بِإِثْبَات الْعُلُوّ والاستواء وَالنُّزُول مَخَافَة الْحصْر والتشبيه وَمَعَ ذَلِك فَإِذا طالعت النُّصُوص الْوَارِدَة فِي كتاب الله وَسنة سوله أَجدهَا نصوصا تُشِير إِلَى حقائق هَذِه الْمعَانِي وَاجِد الرَّسُول صلى الله عليه وسلم قد صرح بهَا مخبرا عَن ربه واصفا لَهُ بهَا وَأعلم بالأضطرار انه كَانَ يحضر فِي مَجْلِسه الشريف الْعَالم وَالْجَاهِل والذكي والبليد والأعرابي الجافي

অতঃপর এর পাশাপাশি আমি তাদের দেখতে পাই যে, তারা আল্লাহর কালামকে সত্তার সাথে বিদ্যমান এমন এক অর্থ হিসেবে গণ্য করে যা অক্ষর ও শব্দ বিবর্জিত; এবং তারা এই অক্ষরসমূহকে সেই বিদ্যমান অর্থের কেবল বহিঃপ্রকাশ মনে করে। যারা এই সব মতবাদ বা এর কিয়দংশের দিকে গিয়েছেন, তাদের মধ্যে এমন একদল লোক রয়েছেন যাদের প্রতি আমার অন্তরে সুউচ্চ মর্যাদা রয়েছে, যেমন আশআরী শাফেঈ ফকীহগণের কতিপয় ব্যক্তিবর্গ। যেহেতু আমি ইমাম শাফেঈ (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহমত বর্ষণ করুন)-এর মাযহাবের অনুসারী, তাই আমি তাঁদের নিকট থেকেই আমার দ্বীনের ফরজসমূহ ও বিধানসমূহ অবগত হয়েছি। ফলে আমি এই সব মহান শায়খদের এমন সব মত পোষণ করতে দেখি, অথচ তাঁরা আমার উস্তাদ এবং তাঁদের শ্রেষ্ঠত্ব ও ইলমের কারণে তাঁদের প্রতি আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে। তা সত্ত্বেও আমি আমার অন্তরে এই সকল ব্যাখ্যার ব্যাপারে এক প্রকার অস্বস্তি অনুভব করি যাতে আমার চিত্ত প্রশান্ত হয় না; বরং আমি এ থেকে একরূপ মালিন্য ও অন্ধকার অনুভব করি এবং এর সাথে বক্ষসংকীর্ণতা ও চিত্তের অপ্রশস্ততা খুঁজে পাই। ফলে আমি ছিলাম সেই বিভ্রান্ত ব্যক্তির ন্যায় যে স্বীয় বিভ্রান্তিতে অস্থির এবং নিজ অন্তরের ওলট-পালট ও পরিবর্তনের কারণে ব্যাকুল। আর আমি পরিবেষ্টন ও সাদৃশ্যারোপের ভয়ে উচ্চতা, আরশের উপর উঠা এবং অবতরণ সাব্যস্ত করার কথা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করতে সংকুচিত হতাম। তা সত্ত্বেও যখন আমি আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহে বর্ণিত প্রমাণাদি পাঠ করি, তখন আমি সেগুলোকে এই অর্থগুলোর প্রকৃত হাকীকতের দিকেই ইঙ্গিতবাহী হিসেবে পাই। এবং আমি দেখি যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর রব সম্পর্কে সংবাদ দিতে গিয়ে এবং তাঁর গুণ বর্ণনা করতে গিয়ে এই বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন। আর আমি অকাট্যভাবে জানি যে, তাঁর সম্মানীত মজলিসে আলেম ও জাহেল, বুদ্ধিমান ও নির্বোধ এবং রূঢ় গ্রাম্য বেদুইনরাও উপস্থিত থাকত।

(খণ্ড: ১) আন-নসীহাহ ফী সিফাতিল রাব্বি জাল্লা ওয়া আলা (পৃষ্ঠা: ১১)
ثمَّ لَا أجد شَيْئا يعقب تِلْكَ النُّصُوص الَّتِي كَانَ صلى الله عليه وسلم يصف بهَا ربه لَا نصا وَلَا ظَاهرا مِمَّا يصرفهَا عَن حقائقها ويؤولها كَمَا تأولها هَؤُلَاءِ مشايخي الْفُقَهَاء المتكلمون مثل تأويلهم الاسْتوَاء بِالِاسْتِيلَاءِ وَالنُّزُول بنزول الْأَمر وَغير ذَلِك وَلم أجد عَنهُ صلى الله عليه وسلم انه كَانَ يحذر النَّاس من الْإِيمَان بِمَا يظْهر من كَلَامه فِي صفة ربه من الْفَوْقِيَّة وَالْيَدَيْنِ وَغَيرهمَا مثل أَن ينْقل عَنهُ مقَالَة تدل على أَن لهَذِهِ الصِّفَات مَعَاني أخر باطنة غير مَا يظْهر من مدلولها مثل فوقية الْمرتبَة وَيَد النِّعْمَة وَغير ذَلِك وَأَجد الله عز وجل يَقُول {الرَّحْمَن على الْعَرْش اسْتَوَى} وَقَالَ {خلق السَّمَاوَات وَالْأَرْض فِي سِتَّة أَيَّام ثمَّ اسْتَوَى على الْعَرْش} فِي سَبْعَة مَوَاضِع وَقَالَ الله تَعَالَى {يخَافُونَ رَبهم من فَوْقهم} وَقَالَ الله تَعَالَى {إِلَيْهِ يصعد الْكَلم الطّيب وَالْعَمَل الصَّالح يرفعهُ} وَقَالَ الله تَعَالَى {بل رَفعه الله إِلَيْهِ} وَقَالَ الله تَعَالَى {أأمنتم من فِي السَّمَاء أَن يخسف بكم الأَرْض فَإِذا هِيَ تمور أم أمنتم من فِي السَّمَاء أَن يُرْسل عَلَيْكُم حاصبا}

এরপর আমি সেই সকল ভাষ্যের পরে এমন কিছু পাই না, যার দ্বারা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর রবের গুণাবলি বর্ণনা করেছেন—এমন কোনো স্পষ্ট পাঠ বা বাহ্যিক প্রমাণ নেই যা সেগুলোকে তাদের প্রকৃত অর্থ থেকে বিচ্যুত করে এবং সেগুলোর অপব্যাখ্যা করে, যেভাবে আমার এই ফকিহ ও কালামশাস্ত্রবিদ শায়খগণ সেগুলোর অপব্যাখ্যা করেছেন। যেমন তাঁরা 'ইস্তিওয়া' (আরশের ওপর ওঠা)-এর ব্যাখ্যা করেন 'ইস্তিলা' (কর্তৃত্ব গ্রহণ) দিয়ে এবং 'নুজুল' (অবতরণ)-এর ব্যাখ্যা করেন আল্লাহর আদেশের অবতরণ দিয়ে এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়। আর আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এমন কিছু পাইনি যে, তিনি মানুষকে তাঁর রবের গুণাবলি—যেমন উচ্চতা, আল্লাহর দুই হাত এবং অন্যান্য বিষয়—সম্পর্কিত তাঁর বাণীর বাহ্যিক অর্থের ওপর ঈমান আনতে সতর্ক করেছেন। অর্থাৎ এমন কোনো বক্তব্য তাঁর থেকে বর্ণিত হয়নি যা নির্দেশ করে যে, এই গুণাবলির বাহ্যিক অর্থের বাইরে অন্য কোনো গোপন অর্থ রয়েছে, যেমন উচ্চ মর্যাদা বা নেয়ামতের হাত এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয়। আর আমি মহান আল্লাহকে বলতে দেখি: "পরম করুণাময় আরশের ওপর উঠেছেন।" এবং তিনি সাতটি স্থানে বলেছেন: "তিনি আসমানসমূহ ও জমিন ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর আরশের ওপর উঠেছেন।" আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: "তারা তাদের রবকে ভয় করে যিনি তাদের উপরে আছেন।" আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: "তাঁরই দিকে পবিত্র বাক্যসমূহ আরোহণ করে এবং সৎকর্ম সেটিকে উন্নীত করে।" আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: "বরং আল্লাহ তাঁকে নিজের দিকে তুলে নিয়েছেন।" আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: "যিনি আকাশে আছেন, তিনি তোমাদের সহ ভূমি ধসিয়ে দেবেন—এ বিষয়ে কি তোমরা নির্ভয় হয়ে গেছ? তখন তা হঠাৎ কাঁপতে থাকবে। অথবা যিনি আকাশে আছেন, তিনি তোমাদের ওপর কঙ্করবর্ষী ঝড় পাঠাবেন—এ বিষয়ে কি তোমরা নির্ভয় হয়ে গেছ?"

(খণ্ড: ১) আন-নসীহাহ ফী সিফাতিল রাব্বি জাল্লা ওয়া আলা (পৃষ্ঠা: ১২)
وَقَالَ الله تَعَالَى {قل نزله روح الْقُدس من رَبك} وَقَالَ الله عَن فِرْعَوْن {يَا هامان ابْن لي صرحا لعَلي أبلغ الْأَسْبَاب أَسبَاب السَّمَاوَات فَأطلع إِلَى إِلَه مُوسَى وَإِنِّي لأظنه كَاذِبًا} وَهَذَا يدل على أَن مُوسَى أخبرهُ بِأَن ربه تَعَالَى فَوق السَّمَاء وَلِهَذَا قَالَ {وَإِنِّي لأظنه كَاذِبًا} وَقَالَ {من الله ذِي المعارج تعرج الْمَلَائِكَة وَالروح إِلَيْهِ فِي يَوْم كَانَ مِقْدَاره خمسين ألف سنة} ثمَّ أجد الرَّسُول صلى الله عليه وسلم لما أَرَادَ الله ان يَخُصُّهُ بِقُرْبِهِ عرج بِهِ من سَمَاء إِلَى سَمَاء حَتَّى كَانَ قاب قوسين أَو أدنى ثمَّ قَوْله صلى الله عليه وسلم فِي الحَدِيث الصَّحِيح لِلْجَارِيَةِ أَيْن الله فَقَالَت فِي السَّمَاء فَلم يُنكر عَلَيْهَا بِحَضْرَة أَصْحَابه كي لَا يتوهموا ان الْأَمر خلاف مَا هُوَ عَلَيْهِ بل أقرها وَقَالَ اعتقها فَإِنَّهَا مُؤمنَة وَعَن مُعَاوِيَة بن الحكم السّلمِيّ قَالَ قلت يَا رَسُول الله أَفلا أعْتقهَا قَالَ ادعها فدعوناها فَقَالَ لَهَا ايْنَ الله قَالَت فِي السَّمَاء قَالَ من أَنا قَالَت انت رَسُول الله قَالَ اعتقها فَإِنَّهَا مُؤمنَة وَقَوله صلى الله عليه وسلم الراحمون يرحمهم الرَّحْمَن إرحموا من فِي الأَرْض يَرْحَمكُمْ من فِي السَّمَاء

মহান আল্লাহ বলেন, "বলুন, আপনার রবের পক্ষ থেকে রুহুল কুদুস একে সত্যসহ অবতীর্ণ করেছেন।" আর আল্লাহ ফেরাউন সম্পর্কে বলেন, "হে হামান, আমার জন্য একটি সুউচ্চ প্রাসাদ নির্মাণ কর, যাতে আমি পৌঁছাতে পারি সেই সব পথে—আকাশসমূহের পথে, অতঃপর আমি মুসার ইলাহকে উঁকি দিয়ে দেখতে পারি; যদিও আমি তাকে মিথ্যাবাদীই মনে করি।" আর এটি একথার প্রমাণ দেয় যে, মুসা তাকে সংবাদ দিয়েছিলেন যে তাঁর মহান রব আকাশের উপরে আছেন, আর একারণেই সে বলেছিল, "যদিও আমি তাকে মিথ্যাবাদীই মনে করি।" তিনি আরও বলেন, "(যা আসবে) সমুচ্চ মাকামসমূহের অধিকারী আল্লাহর পক্ষ থেকে। ফেরেশতাগণ এবং রুহ তাঁর দিকে আরোহণ করে এমন এক দিনে, যার পরিমাণ পঞ্চাশ হাজার বছর।" অতঃপর আমি দেখতে পাই যে, যখন আল্লাহ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর নৈকট্য দ্বারা বিশিষ্ট করতে চাইলেন, তখন তাঁকে এক আসমান থেকে অন্য আসমানে আরোহণ করালেন, এমনকি তিনি দুই ধনুকের ব্যবধান বা তার চেয়েও নিকটে পৌঁছালেন। অতঃপর সহিহ হাদিসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সেই দাসীকে উদ্দেশ্য করে করা প্রশ্ন, "আল্লাহ কোথায়?" সে উত্তরে বলেছিল, "আকাশে।" তখন তিনি তাঁর সাহাবীদের উপস্থিতিতে তার কথা অস্বীকার করেননি, যাতে তারা বিষয়টি বাস্তবতার পরিপন্থী মনে না করেন; বরং তিনি তাকে স্বীকৃতি দিয়েছেন এবং বলেছেন, "তাকে মুক্ত করে দাও, কারণ সে একজন মুমিন।" আর মুআবিয়া বিন হাকাম আস-সুলামি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বললাম, "হে আল্লাহর রাসূল, আমি কি তাকে মুক্ত করে দেব না?" তিনি বললেন, "তাকে ডাকো।" এরপর আমরা তাকে ডাকলে তিনি তাকে বললেন, "আল্লাহ কোথায়?" সে বলল, "আকাশে।" তিনি বললেন, "আমি কে?" সে বলল, "আপনি আল্লাহর রাসূল।" তিনি বললেন, "তাকে মুক্ত করে দাও, কারণ সে একজন মুমিন।" এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "দয়াবানদের ওপর রহমান দয়া করেন। তোমরা জমিনে যারা আছে তাদের ওপর দয়া কর, তবে আকাশে যিনি আছেন তিনি তোমাদের ওপর দয়া করবেন।"

(খণ্ড: ১) আন-নসীহাহ ফী সিফাতিল রাব্বি জাল্লা ওয়া আলা (পৃষ্ঠা: ১৩)
وَعَن أبي الدَّرْدَاء رضي الله عنه قَالَ سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول من اشْتَكَى مِنْكُم بَأْسا أَو اشْتَكَى اخ لَهُ فَلْيقل رَبنَا الله الَّذِي فِي السَّمَاء تقدس اسْمك أَمرك فِي السَّمَاء وَالْأَرْض كَمَا رحمتك فِي السَّمَاء وَالْأَرْض اغْفِر لنا حوبنا وخطايانا أَنْت رب الطيبين أنزل رَحْمَة من رحمتك وشفاء من شفائك على هَذَا الوجع فَيبرأ أخرجه أَبُو دَاوُد وَعَن أبي سعيد الْخُدْرِيّ رضي الله عنه قَالَ بعث عَليّ من الْيمن بذهبية فِي أَدِيم مقروظ لم تحصل فِي ترابها فَقَسمهَا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم بَين أَرْبَعَة زيد الْخَيْر والأقرع بن حَابِس وعيينة بن حصن وعلقمة بن علاثة أَو عَامر بن الطُّفَيْل شكّ عمَارَة فَوجدَ من ذَلِك بعض الصَّحَابَة من الْأَنْصَار وَغَيرهم فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَلا تأمنوني وَأَنا أَمِين من فِي السَّمَاء يأتيني خبر السَّمَاء مسَاء وصباحا أخرجه البُخَارِيّ وَمُسلم وَعَن ابْن ذِئْب عَن مُحَمَّد بن عَمْرو بن عَطاء عَن سعيد بن يسَار عَن أبي هُرَيْرَة رضي الله عنه عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَن الْمَيِّت تحضره الْمَلَائِكَة فَإِذا كَانَ الرجل الصَّالح قَالُوا اخْرُجِي أيتها النَّفس الطّيبَة كَانَت فِي الْجَسَد الطّيب اخْرُجِي حميدة وَأَبْشِرِي بِروح وَرَيْحَان وَرب غير غَضْبَان فَلَا يزَال يُقَال لَهَا ذَلِك حَتَّى تخرج

আবু দারদা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি: তোমাদের মধ্যে কেউ যদি অসুস্থতা বোধ করে অথবা তার কোনো ভাই অসুস্থ হয়, তবে সে যেন বলে— আমাদের রব আল্লাহ, যিনি আকাশে আছেন; আপনার নাম পবিত্র, আসমান ও জমিনে আপনারই কর্তৃত্ব। আসমানে যেমন আপনার রহমত রয়েছে, জমিনেও তেমন আপনার রহমত দান করুন; আমাদের পাপ ও ভুলসমূহ ক্ষমা করুন। আপনি পবিত্র বান্দাদের রব। আপনার রহমতসমূহ হতে বিশেষ রহমত এবং আপনার আরোগ্য দানকারী শেফা হতে এই ব্যথার ওপর অবতীর্ণ করুন, যেন তা সুস্থ হয়ে যায়। এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন।

আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আলী (রা.) ইয়ামেন হতে একটি ট্যান করা চামড়ার থলিতে কিছু স্বর্ণের টুকরো পাঠান যা তখনও আকরিক হতে আলাদা করা হয়নি। রাসূলুল্লাহ (সা.) তা চার ব্যক্তির মধ্যে বণ্টন করে দিলেন: জায়েদ আল-খাইর, আল-আকরা বিন হাবিস, উইয়াইনা বিন হিসন এবং আলকামা বিন উলাসাহ অথবা আমির বিন তোফায়েল (বর্ণনাকারী উমারা এ বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করেছেন)। এতে আনসার ও অন্যান্য সাহাবীদের কেউ কেউ মনে কষ্ট পেলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন: তোমরা কি আমাকে বিশ্বাসযোগ্য মনে করো না? অথচ আমি তাঁর নিকট বিশ্বাসযোগ্য যিনি আকাশে আছেন; সকাল ও সন্ধ্যায় আমার নিকট আসমানের খবর আসে। এটি বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

ইবনে দি’ব হতে বর্ণিত, তিনি মুহাম্মদ বিন আমর বিন আতা হতে, তিনি সাঈদ বিন ইয়াসার হতে এবং তিনি আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: মৃতব্যক্তির নিকট ফেরেশতারা উপস্থিত হয়। যদি সে নেককার ব্যক্তি হয়, তবে তারা বলে— হে পবিত্র আত্মা! যা পবিত্র দেহে ছিলে, প্রশংসিত অবস্থায় বের হয়ে এসো এবং আরাম, উত্তম রিযিক ও এমন রবের সুসংবাদ গ্রহণ করো যিনি রাগান্বিত নন। আত্মা বের হওয়া পর্যন্ত তাকে এই কথাই বলা হতে থাকে।

(খণ্ড: ১) আন-নসীহাহ ফী সিফাতিল রাব্বি জাল্লা ওয়া আলা (পৃষ্ঠা: ১৪)
ثمَّ يعرج بهَا إِلَى السَّمَاء فَيفتح لَهَا فَيُقَال من هَذَا فَيَقُولُونَ فلَان فَيُقَال مرْحَبًا بِالنَّفسِ الطّيبَة كَانَت فِي الْجَسَد الطّيب أدخلي حميدة وَأَبْشِرِي بِروح وَرَيْحَان وَرب غير غَضْبَان فَلَا يزَال يُقَال لَهَا ذَلِك حَتَّى يَنْتَهِي بهَا إِلَى السَّمَاء الَّتِي فِيهَا الله عز وجل الحَدِيث وَعَن أبي هُرَيْرَة رضي الله عنه ان رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ وَالَّذِي نَفسِي بِيَدِهِ مَا من رجل يَدْعُو امْرَأَته إِلَى فرَاشه فتأبى عَلَيْهِ إِلَّا كَانَ الَّذِي فِي السَّمَاء ساخطا عَلَيْهَا حَتَّى يرضى عَنْهَا زَوجهَا أخرجه البُخَارِيّ وَمُسلم وَعَن أبي دَاوُد ثَنَا مُحَمَّد بن الصَّباح ثَنَا الْوَلِيد بن أبي ثَوْر عَن سماك عَن عبد الله بن عميرَة عَن الْأَحْنَف بن قيس عَن الْعَبَّاس بن عبد الْمطلب قَالَ كنت فِي الْبَطْحَاء فِي عِصَابَة فيهم رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فمرت بهم سَحَابَة فَنظر اليها فَقَالَ مَا تسمون هَذِه قَالُوا السَّحَاب قَالَ والمزن قَالُوا والمزن قَالَ والعنان قَالُوا والعنان قَالَ هَل تَدْرُونَ بعد مَا بَين السَّمَاء وَالْأَرْض قَالُوا لَا نَدْرِي قَالَ إِن بعد مَا بَينهمَا إِمَّا وَاحِدَة وَإِمَّا اثْنَتَانِ وَإِمَّا ثَلَاثَة وَسَبْعُونَ سنة ثمَّ السَّمَاء فَوق ذَلِك حَتَّى عد سبع سموات ثمَّ فَوق السَّمَاء السَّابِعَة بَحر بَين أَسْفَله وَأَعلاهُ مثل مَا بَين سَمَاء الى وسماء ثمَّ فَوق ذَلِك ثَمَانِيَة أوعال بَين أظلافهم وركبهم مثل مَا بَين سَمَاء إِلَى سَمَاء ثمَّ على ظُهُورهمْ الْعَرْش أَسْفَله وَأَعلاهُ مثل مَا بَين سَمَاء إِلَى سَمَاء

অতঃপর তা নিয়ে আকাশে আরোহণ করা হয় এবং তার জন্য আকাশের দ্বার খুলে দেওয়া হয়। তখন জিজ্ঞেস করা হয়, "এটি কে?" তারা বলেন, "অমুক।" তখন বলা হয়, "পবিত্র রূহের জন্য সুস্বাগতম, যা পবিত্র দেহে ছিল। প্রশংসিত অবস্থায় প্রবেশ করো এবং সুখবর গ্রহণ করো আরাম, সুগন্ধি ও এমন রবের, যিনি রাগান্বিত নন।" তাকে লক্ষ্য করে এই কথাগুলো বলা হতেই থাকে, যতক্ষণ না তাকে নিয়ে সেই আকাশে পৌঁছানো হয় যেখানে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা রয়েছেন—হাদিসের শেষ পর্যন্ত।

আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ, যখন কোনো ব্যক্তি তার স্ত্রীকে তার বিছানায় ডাকে এবং সে তা অস্বীকার করে, তবে যিনি আকাশে রয়েছেন তিনি তার ওপর রাগান্বিত থাকেন, যতক্ষণ না তার স্বামী তার ওপর সন্তুষ্ট হয়।" এটি বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

আবু দাউদ থেকে বর্ণিত, আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবনুল সাবাহ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ওয়ালিদ ইবনে আবি সাওর বর্ণনা করেছেন সিমাক থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে উমাইরাহ থেকে, তিনি আল-আহনাফ ইবনে কাইস থেকে, তিনি আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি বাতহা নামক স্থানে এক দলের মাঝে ছিলাম যাদের মধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপস্থিত ছিলেন। তখন তাদের উপর দিয়ে একখণ্ড মেঘ অতিবাহিত হলো। তিনি সেটির দিকে তাকিয়ে বললেন, "তোমরা একে কী নামে ডাকো?" তারা বললেন, "আস-সাহাব (মেঘ)।" তিনি বললেন, "এবং আল-মুযন?" তারা বললেন, "এবং আল-মুযন।" তিনি বললেন, "এবং আল-আনান?" তারা বললেন, "এবং আল-আনান।" তিনি বললেন, "তোমরা কি জানো আসমান ও যমীনের মধ্যবর্তী দূরত্ব কতটুকু?" তারা বললেন, "আমরা জানি না।" তিনি বললেন, "নিশ্চয়ই এ দুয়ের মধ্যবর্তী দূরত্ব একাত্তর, বাহাত্তর অথবা তিয়াত্তর বছরের পথ। তারপর প্রতিটি আসমান তার ওপরেরটির থেকে অনুরূপ দূরত্বে—এভাবে তিনি সাতটি আসমান গণনা করলেন। তারপর সপ্তম আসমানের ওপর একটি সমুদ্র রয়েছে, যার তলদেশ ও উপরিভাগের মধ্যবর্তী ব্যবধান এক আসমান থেকে অন্য আসমানের দূরত্বের সমান। তারপর তার ওপর আটটি পাহাড়ী ছাগল সদৃশ ফেরেশতা রয়েছে, যাদের খুর ও হাঁটুর মধ্যবর্তী দূরত্ব এক আসমান থেকে অন্য আসমানের দূরত্বের সমান। এরপর তাদের পিঠের ওপর আরশ রয়েছে, যার নিচের অংশ ও ওপরের অংশের মধ্যবর্তী দূরত্ব এক আসমান থেকে অন্য আসমানের দূরত্বের সমান।"

(খণ্ড: ১) আন-নসীহাহ ফী সিফাতিল রাব্বি জাল্লা ওয়া আলা (পৃষ্ঠা: ১৫)
ثمَّ الله عز وجل فَوق ذَلِك وَعَن أبي هُرَيْرَة رضي الله عنه قَالَ سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول إِن الله كتب كتابا قبل ان يخلق الْخلق ان رَحْمَتي سبقت غَضَبي وَهُوَ عِنْده فَوق الْعَرْش أخرجه البُخَارِيّ وَعَن مُحَمَّد بن إِسْحَاق عَن معبد بن كَعْب بن مَالك أَن سعد بن معَاذ لما حكم فِي بني قُرَيْظَة قَالَ لَهُ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لقد حكمت حكما حكم الله بِهِ من فَوق سَبْعَة ارقعة وَحَدِيث الْمِعْرَاج عَن أنس بن مَالك أَن مَالك بن صعصعة حَدثهمْ أَن نَبِي الله صلى الله عليه وسلم حَدثهمْ على لَيْلَة اسرى بِهِ وسَاق الحَدِيث إِلَى ان قَالَ فرضت عَليّ الصَّلَاة خمسين صَلَاة كل يَوْم وَلَيْلَة فَرَجَعت فمررت على مُوسَى فَقَالَ بِمَ أمرت قَالَ أمرت بِخَمْسِينَ صَلَاة كل يَوْم وَلَيْلَة قَالَ إِن أمتك لَا تَسْتَطِيع خمسين صَلَاة وَإِنِّي قد خبرت النَّاس قبلك وعالجت بني إِسْرَائِيل اشد المعالجة فَارْجِع إِلَى رَبك فأساله التَّخْفِيف لأمتك قَالَ فَرَجَعت فَوضع عني عشرا فَرَجَعت إِلَى مُوسَى فَقَالَ مثل ذَلِك فَرَجَعت الى رَبِّي فَوضع عني عشرا خمس مَرَّات فِي كلهَا يَقُول رجعت إِلَى مُوسَى ثمَّ رجعت إِلَى رَبِّي أخرجه البُخَارِيّ وَمُسلم وَعَن أبي هُرَيْرَة رضي الله عنه ان رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ يتعاقبون فِيكُم مَلَائِكَة بِاللَّيْلِ وملائكة بِالنَّهَارِ ويجتمعون فِي صَلَاة الْفجْر وَصَلَاة الْعَصْر ثمَّ يعرج الَّذين باتوا فِيكُم فيسألهم رَبهم وَهُوَ بهم

অতঃপর আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্ল তার উপরে। আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: “নিশ্চয়ই আল্লাহ সৃষ্টিজগত সৃষ্টির পূর্বে একটি কিতাব লিখেছেন যে, ‘নিশ্চয়ই আমার রহমত আমার রাগের উপর প্রাধান্য পেয়েছে’; আর তা তাঁর কাছে আরশের উপরে রয়েছে।” এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন। মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক থেকে বর্ণিত, তিনি মা'বাদ ইবনে কাব ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেন যে, সা'দ ইবনে মুআয যখন বনু কুরাইজা সম্পর্কে ফয়সালা দিলেন, তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বললেন: “তুমি তাদের বিষয়ে এমন ফয়সালা দিয়েছ যা আল্লাহ সাত আসমানের উপর থেকে দিয়েছেন।” আর আনাস ইবনে মালিক বর্ণিত মিরাজের হাদীস, যেখানে মালিক ইবনে সা'সাআ তাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর ইসরা (নৈশ ভ্রমণ)-এর রাত সম্পর্কে তাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি হাদীসটি বর্ণনা করতে গিয়ে এক পর্যায়ে বললেন: “আমার উপর প্রতিদিন ও রাতে পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করা হলো। অতঃপর আমি ফিরে আসলাম এবং মুসার পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, আপনাকে কী নির্দেশ দেওয়া হয়েছে? আমি বললাম, আমাকে প্রতিদিন ও রাতে পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বললেন, আপনার উম্মত পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত আদায় করতে সক্ষম হবে না। আমি আপনার পূর্বে মানুষের পরীক্ষা নিয়েছি এবং বনী ইসরাঈলকে নিয়ে কঠোরভাবে প্রচেষ্টা চালিয়েছি। সুতরাং আপনি আপনার রবের কাছে ফিরে যান এবং আপনার উম্মতের জন্য সহজ করার আবেদন করুন। তিনি বললেন, অতঃপর আমি ফিরে গেলাম এবং তিনি আমার থেকে দশ ওয়াক্ত কমিয়ে দিলেন। এরপর আমি মুসার কাছে ফিরে আসলাম এবং তিনিও তদ্রূপ বললেন। এভাবে আমি আমার রবের কাছে পাঁচবার ফিরে গেলাম এবং প্রতিবার তিনি আমার থেকে দশ ওয়াক্ত করে কমিয়ে দিলেন। প্রতিবারই আমি মুসার কাছে ফিরে আসতাম এবং পুনরায় আমার রবের কাছে ফিরে যেতাম।” এটি বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন। আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “তোমাদের কাছে রাতে একদল ফেরেশতা এবং দিনে একদল ফেরেশতা পালাক্রমে আসা-যাওয়া করে। তারা ফজর ও আসরের সালাতে একত্রিত হয়। অতঃপর তোমাদের মাঝে যারা রাত কাটিয়েছিল তারা উপরে উঠে যায়। তখন তাদের রব তাদের জিজ্ঞেস করেন, অথচ তিনি তাদের সম্পর্কে সবচেয়ে ভালো অবগত...”

(খণ্ড: ১) আন-নসীহাহ ফী সিফাতিল রাব্বি জাল্লা ওয়া আলা (পৃষ্ঠা: ১৬)
اعْلَم كَيفَ تركْتُم عبَادي الحَدِيث مُتَّفق عَلَيْهِ وَعَن أبن عمر قَالَ لما قبض رَسُول الله صلى الله عليه وسلم دخل عَلَيْهِ ابو بكر فأكب عَلَيْهِ وَقبل وَجهه وَقَالَ بِأبي أَنْت وَأمي طبت حَيا وَمَيتًا وَقَالَ من كَانَ يعبد مُحَمَّدًا فَإِن مُحَمَّدًا قد مَاتَ وَمن كَانَ يعبد الله فَإِن الله فِي السَّمَاء حَيّ لَا يَمُوت رَوَاهُ البُخَارِيّ وَعَن مُحَمَّد بن فضل عَن فُضَيْل بن غَزوَان عَن نَافِع عَن ابْن عمر عَن أنس بن مَالك رضي الله عنه قَالَ كَانَت زَيْنَب تفتخر على أَزوَاج النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَتقول إِن الله زَوجنِي من السَّمَاء وَفِي لفظ زوجكن أهلوكن وزوجني الله من فَوق سبع سموات اخرجه البُخَارِيّ وَفِي حَدِيث جُبَير بن مطعم قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِن الله فَوق عَرْشه فَوق سماواته وسماواته فَوق ارضه مثل الْقبَّة وَأَشَارَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم بِيَدِهِ مثل الْقبَّة وَحَدِيث عبد الله بن مَسْعُود رضي الله عنه قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم من لم يرحم من فِي الأَرْض لم يرحمه من فِي السَّمَاء وَحَدِيث ابْن عَبَّاس رضي الله عنهما أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لما أسرِي بِهِ مرت بِهِ رَائِحَة طيبَة فَقَالَ يَا جِبْرِيل مَا هَذِه الرَّائِحَة فَقَالَ هَذِه رَائِحَة ماشطة ابْنة فِرْعَوْن وَكَانَت تمشطهَا فَوَقع الْمشْط من يَدهَا فَقَالَت بِسم الله فَقَالَت ابْنَته ابي فَقَالَت لَا بل رب أَبِيك فَأخْبرت أَبَاهَا فَدَعَا بهَا فَقَالَ أَلَك رب غَيْرِي قَالَت رَبِّي وَرَبك
জেনে নিন, "তোমরা আমার বান্দাদের কী অবস্থায় ছেড়ে এসেছো?"—এই হাদিসটি মুত্তাফাকুন আলাইহি (বুখারি ও মুসলিম কর্তৃক ঐক্যমত)। ইবনে উমর (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর প্রাণ কবজ করা হলো, তখন আবু বকর (রা.) তাঁর কাছে প্রবেশ করলেন। তিনি তাঁর ওপর ঝুঁকে পড়লেন এবং তাঁর কপালে চুম্বন করলেন। অতঃপর বললেন, "আমার পিতা-মাতা আপনার ওপর উৎসর্গ হোক, আপনি জীবিত ও মৃত উভয় অবস্থায় পবিত্র।" তিনি আরও বললেন, "যে ব্যক্তি মুহাম্মাদের ইবাদত করত, তবে মুহাম্মাদ তো অবশ্যই মৃত্যুবরণ করেছেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর ইবাদত করত, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ আসমানের উপরে চিরঞ্জীব, যাঁর কোনো মৃত্যু নেই।" এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন। মুহাম্মাদ বিন ফজল হতে, তিনি ফুযাইল বিন গাজওয়ান হতে, তিনি নাফে হতে, তিনি ইবনে উমর হতে এবং তিনি আনাস বিন মালিক (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, যয়নব (রা.) নবী (সা.)-এর অন্যান্য স্ত্রীদের সামনে গর্ব করে বলতেন, "নিশ্চয়ই আল্লাহ আসমান থেকে আমার বিবাহ দিয়েছেন।" অন্য শব্দে এসেছে, "তোমাদের পরিবার তোমাদের বিয়ে দিয়েছে, আর আল্লাহ সাত আসমানের ওপর থেকে আমার বিয়ে দিয়েছেন।" এটি বুখারি উদ্ধৃত করেছেন। জুবাইর বিন মুতঈম (রা.)-এর বর্ণিত হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর আরশের ওপর আছেন, আর তাঁর আরশ তাঁর আসমানসমূহের ওপর, আর তাঁর আসমানসমূহ যমীনের ওপর গম্বুজের মতো।" নবী (সা.) তাঁর হাতের মাধ্যমে ইশারা করে গম্বুজের মতো দেখালেন। আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ (রা.)-এর বর্ণিত হাদিসে আছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি যমীনে বসবাসকারীদের প্রতি দয়া করে না, আসমানে যিনি আছেন তিনি তার প্রতি দয়া করবেন না।" ইবনে আব্বাস (রা.)-এর বর্ণিত হাদিসে আছে যে, যখন রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে মিরাজে নিয়ে যাওয়া হলো, তখন তিনি একটি সুগন্ধি অনুভব করলেন। তিনি বললেন, "হে জিবরাইল, এই সুগন্ধি কিসের?" তিনি বললেন, "এটি ফেরাউনের কন্যার কেশবিন্যাসকারীর সুগন্ধি।" তিনি তার চুল আঁচড়ে দিচ্ছিলেন, এমতাবস্থায় তার হাত থেকে চিরুনিটি পড়ে গেল। তখন তিনি বললেন, "বিসমিল্লাহ (আল্লাহর নামে)।" ফেরাউনের মেয়ে বলল, "আমার বাবা?" তিনি বললেন, "না, বরং তোমার বাবার রব (আল্লাহ)।" মেয়েটি তার বাবাকে এ সংবাদ দিলে সে তাকে ডেকে পাঠাল এবং বলল, "আমি ছাড়া তোমার কি অন্য কোনো রব আছে?" তিনি বললেন, "আমার রব এবং তোমার রব (একই আল্লাহ)।"
(খণ্ড: ১) আন-নসীহাহ ফী সিফাতিল রাব্বি জাল্লা ওয়া আলা (পৃষ্ঠা: ১৭)
الله الَّذِي فِي السَّمَاء وَأمر بنقرة نُحَاس فأحميت ثمَّ دَعَا بهَا وَبِوَلَدِهَا فألقاهما فِيهَا الحَدِيث رَوَاهُ الدَّارمِيّ وَغَيره وروى الدَّارمِيّ وَغَيره باسناده إِلَى أبي صَالح عَن أبي هُرَيْرَة رضي الله عنه قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لما ألقِي إِبْرَاهِيم فِي النَّار قَالَ اللَّهُمَّ إِنَّك فِي السَّمَاء وَاحِد وَأَنا فِي الأَرْض وَاحِد أعبدك وَأما الْآثَار عَن الصَّحَابَة فِي ذَلِك فكثيرة مِنْهَا قَول عمر رضي الله عنه عَن خَوْلَة لما استوقفته فَوقف لَهَا فَسئلَ عَنْهَا فَقَالَ هَذِه امْرَأَة سمع الله شكواها من فَوق سبع سموات وَعبد الله بن رَوَاحَة لما وَقع على جَارِيَة لَهُ فَقَالَت امْرَأَته فعلتها فَقَالَ أما أَنا فأقرأ الْقُرْآن فَقَالَت أما أَنْت فَلَا تقْرَأ الْقُرْآن وَأَنت جنب فَقَالَ شهِدت بِأَن وعد الله حق وَأَن النَّار مثوى الكافرينا وان الْعَرْش فَوق المَاء طَاف وَفَوق الْعَرْش رب العالمينا وتحمله مَلَائِكَة كرام مَلَائِكَة الاله مسومينا وَابْن عَبَّاس لما دخل على عَائِشَة رضي الله عنها وَهِي فِي النزع فَقَالَ كنت أحب نسَاء رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِلَى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَلم يكن يحب إِلَّا طيبا وَأنزل الله براءتك من فَوق سبع سموات وَكَذَلِكَ نجد أكَابِر الْعلمَاء ك عبد الله بن الْمُبَارك رضي الله عنه صرح بِمثل ذَلِك روى عُثْمَان بن سعيد الدَّارمِيّ قَالَ حَدثنَا الْحسن بن الصَّباح
আল্লাহ, যিনি আসমানে আছেন এবং তিনি একটি তামার পাত্রের নির্দেশ দিলেন যা উত্তপ্ত করা হলো, অতঃপর তিনি তাকে এবং তার সন্তানকে ডাকলেন এবং তাদের উভয়কে তাতে নিক্ষেপ করলেন। এই হাদিসটি দারেমি এবং অন্যরা বর্ণনা করেছেন। দারেমি এবং অন্যরা তাদের সনদে আবু সালেহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যখন ইবরাহিমকে আগুনের মধ্যে নিক্ষেপ করা হলো, তখন তিনি বললেন, "হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আপনি আসমানে একক এবং আমি জমিনে একক যে আপনার ইবাদত করি।" আর এ বিষয়ে সাহাবীগণের থেকে বর্ণিত বর্ণনাগুলো অনেক। তন্মধ্যে ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর কথা খাওলা সম্পর্কে—যখন তিনি তাঁকে থামিয়েছিলেন এবং তিনি তাঁর জন্য দাঁড়িয়েছিলেন। অতঃপর তাঁকে যখন এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলো তখন তিনি বললেন, "ইনি সেই নারী যাঁর অভিযোগ আল্লাহ সাত আসমানের উপর থেকে শুনেছেন।" আর আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) যখন তাঁর এক দাসীর সাথে মিলিত হলেন, তখন তাঁর স্ত্রী বললেন, "তুমি কি এটা করেছ?" তিনি বললেন, "আমি তো কুরআন পাঠ করছি।" তিনি বললেন, "তুমি অপবিত্র অবস্থায় কুরআন পাঠ করতে পারো না।" তখন তিনি বললেন, "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য এবং জাহান্নাম কাফেরদের আবাসস্থল। আর নিশ্চয়ই আরশ পানির উপরে ভাসমান এবং আরশের উপরে রয়েছেন জগতসমূহের রব। আর একে বহন করছে সম্মানিত ফেরেশতাগণ, ইলাহ-এর চিহ্নিত ফেরেশতাগণ।" আর ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) যখন আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর মুমূর্ষু অবস্থায় তাঁর নিকট প্রবেশ করলেন, তখন তিনি বললেন, "আপনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে তাঁর স্ত্রীদের মধ্যে সবচেয়ে প্রিয় ছিলেন এবং তিনি পবিত্র বস্তু ব্যতীত অন্য কিছু ভালোবাসতেন না। আর আল্লাহ আপনার পবিত্রতা সাত আসমানের উপর থেকে নাযিল করেছেন।" অনুরূপভাবে আমরা বড় বড় আলেমদেরও দেখতে পাই, যেমন আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এ জাতীয় বিষয়ের স্পষ্ট বর্ণনা দিয়েছেন। ওসমান ইবনে সাইদ আদ-দারেমি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, হাসান ইবনুস সাব্বাহ আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আন-নসীহাহ ফী সিফাতিল রাব্বি জাল্লা ওয়া আলা (পৃষ্ঠা: ১৮)
قَالَ ثَنَا عَليّ بن الْحسن بن شَقِيق عَن ابْن الْمُبَارك قيل لَهُ كَيفَ نَعْرِف رَبنَا قَالَ بانه فَوق السَّمَاء على الْعَرْش بَائِن من خلقه

فصل فَلم ازل فِي هَذِه الْحيرَة والاضطرات من اخْتِلَاف الْمذَاهب والأقوال حَتَّى لطف الله بِي وكشف لهَذَا الضَّعِيف عَن وَجه الْحق كشفا اطْمَأَن إِلَيْهِ خاطره وَسكن بِهِ سره وتبرهن الْحق فِي نوره وَأَنا واصف بعض ذَلِك إِن شَاءَ الله تَعَالَى وَالَّذِي شرح الله صَدْرِي لَهُ فِي حكم هَذِه الْمسَائِل الثَّلَاث

الْعُلُوّ والفوقية والاستواء

‌‌الأولى مَسْأَلَة الْعُلُوّ وَهُوَ ان الله عز وجل كَانَ وَلَا مَكَان وَلَا عرش وَلَا مَاء وَلَا فضاء وَلَا هَوَاء وَلَا خلاء وَلَا ملاء وَأَنه كَانَ مُنْفَردا فِي قدمه وأزليته متوحدا فِي فردانيته سبحانه وتعالى فِي تِلْكَ الفردانية لَا يُوصف بِأَنَّهُ فَوق كَذَا إِذْ لَا شَيْء غَيره
আলী ইবনুল হাসান ইবনে শাকীক ইবনুল মুবারক থেকে বর্ণনা করেন যে, তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: আমরা আমাদের রবকে কীভাবে চিনব? তিনি বললেন: তিনি আসমানের উপরে আরশের ওপর, তাঁর সৃষ্টিজগত থেকে পৃথক।

পরিচ্ছেদ: মাযহাব ও মতাদর্শের ভিন্নতার কারণে আমি অনবরত এই সংশয় ও অস্থিরতার মধ্যে ছিলাম, অবশেষে আল্লাহ আমার প্রতি অনুগ্রহ করলেন এবং এই অধমের কাছে সত্যের স্বরূপ এমনভাবে উন্মোচিত করলেন যাতে তার চিত্ত আশ্বস্ত হলো এবং তার অন্তর প্রশান্ত হলো, আর সত্য নিজ নূরে উদ্ভাসিত হলো। আল্লাহ চাইলে আমি এর কিছু অংশ বর্ণনা করব; এই তিনটি বিষয়ের বিধানের ক্ষেত্রে আল্লাহ যে বিষয়ের জন্য আমার বক্ষ উন্মোচন করেছেন তা হলো:

উচ্চতা, উপরিভাগ হওয়া এবং উঠা

‌‌প্রথমটি হলো উচ্চতার মাসআলা; আর তা হলো এই যে, আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা ছিলেন যখন কোনো স্থান ছিল না, আরশ ছিল না, পানি ছিল না, মহাশূন্য ছিল না, বাতাস ছিল না, শূন্যতা ছিল না এবং কোনো পূর্ণতা ছিল না। তিনি তাঁর অনাদিত্ব ও চিরন্তনতায় একক ছিলেন, তাঁর অনন্যতায় অদ্বিতীয় ছিলেন; তিনি পবিত্র ও মহান। সেই একক অবস্থায় তাঁকে কোনো কিছুর 'উপরে' বলে গুণান্বিত করা যেত না, যেহেতু তখন তিনি ছাড়া অন্য কোনো কিছুর অস্তিত্ব ছিল না।
(খণ্ড: ১) আন-নসীহাহ ফী সিফাতিল রাব্বি জাল্লা ওয়া আলা (পৃষ্ঠা: ১৯)
هُوَ سَابق التحت والفوق اللَّذين هما جهتا الْعَالم وهما لَا زمَان لَهُ والرب تَعَالَى فِي تِلْكَ الفردانية منزه عَن لَوَازِم الْحُدُوث فَلَمَّا اقْتَضَت الارادة المقدسة بِخلق الاكوان المحدثة المخلوقة العدودة ذَوَات الْجِهَات اقْتَضَت الارادة أَن يكون الْكَوْن لَهُ جِهَات من الْعُلُوّ والسفل وَهُوَ سُبْحَانَهُ منزه عَن صِفَات الْحُدُوث فكون الأكوان وَجعل لَهَا جهتي الْعُلُوّ والسفل واقتضت الْحِكْمَة الالهية ان يكون الْكَوْن فِي جِهَة التحت لكَونه مربوبا مخلوقا واقتضت العظمة الربانية أَن يكون هُوَ فَوق الْكَوْن بِاعْتِبَار الْكَوْن الْمُحدث لَا بِاعْتِبَار فردانيته إِذْ لَا فَوق فِيهَا وَلَا تَحت والرب سبحانه وتعالى كَمَا كَانَ فِي قدمه وأزليته وفردانيته لم يحدث لَهُ فِي ذَاته وَلَا فِي صِفَاته مَا لم يكن فِي قدمه وأزليته فَهُوَ الْآن كَمَا كَانَ لَكِن لما احدث المربوب الْمَخْلُوق ذَا الْجِهَات وَالْحُدُود والخلاء والملاء والفوقية والتحتية كَانَ مُقْتَضى حكم العظمة للربوبية ان يكون فَوق ملكه وان تكون المملكة تَحْتَهُ بِاعْتِبَار الْحُدُوث من الْكَوْن لَا بِاعْتِبَار الْقدَم من المكون فَإِذا أُشير إِلَيْهِ بِشَيْء يَسْتَحِيل أَن يشار إِلَيْهِ من الْجِهَة التَّحْتِيَّة أَو من جِهَة اليمنة أَو اليسرة بل لَا يَلِيق ان يشار إِلَيْهِ إِلَّا من جِهَة الْعُلُوّ والفوقية ثمَّ الْإِشَارَة هِيَ بِحَسب الْكَوْن وحدوثه وأسفله فالاشارة تقع على أَعلَى جُزْء من الْكَوْن حَقِيقَة وَتَقَع على عَظمَة الرب وَتَعَالَى كَمَا يَلِيق بِهِ لَا كَمَا يَقع على الْحَقِيقَة المعتدلة عندنَا فِي أَعلَى جُزْء من الْكَوْن فَإِنَّهَا إِشَارَة إِلَى جسم وَتلك إِشَارَة إِلَى إِثْبَات إِذا علم ذَلِك فالاستواء صفة لَهُ كَانَت فِي قدمه لَكِن لم يظْهر حكمهَا إِلَّا عِنْد خلق الْعَرْش كَمَا أَن الْحساب صفة قديمَة لَهُ لَا يظْهر حكمهَا إِلَّا فِي الْآخِرَة وَكَذَلِكَ التجلي فِي الْآخِرَة لَا يظْهر حكمه إِلَّا فِي مَحَله فَإِذا علم ذَلِك فَالْأَمْر الَّذِي يهرب المتأولون مِنْهُ حَيْثُ أولُوا

তিনি ওপর এবং নীচের পূর্ববর্তী, যা জগতের দুটি দিক এবং এই দুইটির কোনো কাল নেই। আর মহান রব তাঁর সেই অনন্যতায় সৃষ্টির অপরিহার্য বৈশিষ্ট্যসমূহ থেকে পবিত্র। অতঃপর যখন পবিত্র ইচ্ছা নবসৃষ্ট, মাখলুক, পরিমিত ও দিকবিশিষ্ট মহাবিশ্ব সৃষ্টির দাবি করল, তখন সেই ইচ্ছা জগতের জন্য উচ্চতা ও নিম্নতার দিকসমূহ থাকাকে আবশ্যক করল। আর তিনি সুবহানাহু ওয়াতাআলা সৃষ্টির বৈশিষ্ট্যসমূহ থেকে পবিত্র। সুতরাং তিনি জগতসমূহ সৃষ্টি করলেন এবং সেটির জন্য উচ্চতা ও নিম্নতার দিক নির্ধারণ করলেন। আর ঐশী প্রজ্ঞা দাবি করল যে, জগত বা অস্তিত্ব নীচের দিকে থাকবে যেহেতু এটি পালিত ও সৃষ্ট। আর রব্বানি মহিমা দাবি করল যে, তিনি জগতের উপরে থাকবেন—নবজাত জগতের সাপেক্ষে, তাঁর আপন অনন্যতার সাপেক্ষে নয়; কেননা তাতে কোনো ওপর বা নীচ নেই। আর রব সুবহানাহু ওয়াতাআলা তাঁর অনাদিত্ব ও অনন্যতায় যেমন ছিলেন, তাঁর সত্তা বা গুণাবলিতে এমন কোনো নতুন বিষয়ের উদ্ভব হয়নি যা তাঁর অনাদিত্বে ছিল না। সুতরাং তিনি এখনো তেমনই আছেন যেমন তিনি ছিলেন। কিন্তু যখন দিক, সীমা, শূন্যতা, পূর্ণতা, ঊর্ধ্বমুখিতা এবং নিম্নমুখিতা বিশিষ্ট সৃষ্টি অস্তিত্ব লাভ করল, তখন রুবুবিয়্যাতের মহিমার বিধানের দাবি হলো তিনি তাঁর রাজত্বের উপরে থাকবেন এবং সমগ্র রাজত্ব তাঁর নীচে থাকবে—সৃষ্টির অস্তিত্ব লাভের বিচারে, স্রষ্টার অনাদিত্বের বিচারে নয়। অতএব যখন তাঁর দিকে কোনো কিছুর মাধ্যমে ইশারা করা হয়, তখন নীচের দিক থেকে কিংবা ডানে বা বামের দিক থেকে ইশারা করা অসম্ভব; বরং উচ্চতা ও ঊর্ধ্বের দিক ব্যতীত অন্য কোনো দিক থেকে তাঁর প্রতি ইশারা করা সমীচীন নয়। অতঃপর এই ইশারা হলো জগতের অস্তিত্ব, এর সৃষ্টি এবং এর নিম্নতার বিচারে। সুতরাং ইশারাটি প্রকৃত প্রস্তাবে জগতের সর্বোচ্চ অংশের ওপর পতিত হয় এবং মহান রবের মহিমার ওপর তেমনভাবে নিপতিত হয় যেমনটি তাঁর শানে মানানসই; আমাদের নিকট জগতের সর্বোচ্চ অংশের বাস্তবতার মতো নয়, কারণ সেটি হবে কোনো দেহের দিকে ইশারা, আর এটি হলো সাব্যস্তকরণের ইশারা। যখন এটি জানা গেল, তখন উঠা তাঁর একটি গুণ যা তাঁর অনাদিত্বে ছিল, কিন্তু এর বিধান কেবল আরশ সৃষ্টির সময় প্রকাশিত হয়েছে; যেমন হিসাব নেওয়া তাঁর একটি অনাদি গুণ, কিন্তু এর বিধান কেবল পরকালেই প্রকাশ পাবে। একইভাবে পরকালে তাঁর প্রকাশ, যার বিধান কেবল তার নির্ধারিত স্থানেই প্রকাশ পাবে। যখন এটি জানা গেল, তখন বিষয়টি হলো সেই যা থেকে অপব্যাখ্যাকারীরা পলায়ন করে যখন তারা অপব্যাখ্যা করে...

(খণ্ড: ১) আন-নসীহাহ ফী সিফাতিল রাব্বি জাল্লা ওয়া আলা (পৃষ্ঠা: ২০)
الْفَوْقِيَّة بفوقية الْمرتبَة والاستواء بِالِاسْتِيلَاءِ فَنحْن اشد النَّاس هربا من ذَلِك وتنزيها للباري سبحانه وتعالى عَن الْحَد الَّذِي يحصره فَلَا يحد بِحَدّ يحصره بل بِحَدّ تتَمَيَّز بِهِ عَظمَة ذَاته عَن مخلوقاته والاشارة إِلَى الْجِهَة إِنَّمَا هُوَ بِحَسب الْكَوْن وأسفله إِذْ لَا يُمكن الاشارة إِلَيْهِ إِلَّا هَكَذَا وَهُوَ فِي قدمه سُبْحَانَهُ منزه عَن صِفَات الْحُدُوث وَلَيْسَ فِي الْقدَم فوقية وَلَا تحتية وَإِن من هُوَ مَحْصُور فِي التحت لَا يُمكنهُ معرفَة بارئه إِلَّا من فَوْقه فَتَقَع الاشارة إِلَى الْعَرْش حَقِيقَة إِشَارَة معقولة وتنتهي الْجِهَات عِنْد الْعَرْش وَيبقى مَا وَرَاءه لَا يُدْرِكهُ الْعقل وَلَا يكيفه الْوَهم فَتَقَع الاشارة عَلَيْهِ كَمَا يَلِيق بِهِ مُجملا مثبتا لَا مكيفا وَلَا ممثلا وَجه آخر من الْبَيَان هُوَ أَن الرب سُبْحَانَهُ ثَابت الْوُجُود ثَابت الذَّات لَهُ ذَات مُقَدَّسَة متميزة عَن مخلوقاته يتجلى يَوْم الْقِيَامَة للأبصار وَيُحَاسب الْعَالم فَلَا يجهل ثُبُوت ذَاته وتمييزها عَن مخلوقاته فَإِذا ثَبت ذَلِك فقد أوجد الأكوان فِي مَحل وحيز وَهُوَ سُبْحَانَهُ فِي قدمه منزه عَن الْمحل والحيز فيستحيل شرعا وعقلا عِنْد حُدُوث الْعَالم أَن يحل فِيهِ أَو يخْتَلط بِهِ لِأَن الْقَدِيم لَا يحل فِي الْحَادِث وَلَيْسَ هُوَ محلا للحوادث فَلَزِمَ أَن يكون بَائِنا عَنهُ وَإِذا كَانَ بَائِنا عَنهُ فيستحيل أَن يكون الْعَالم فِي جِهَة الفوق وان يكون الرب سُبْحَانَهُ فِي جِهَة التحت هَذَا محَال شرعا وعقلا فَيلْزم أَن يكون فَوْقه بالفوقية اللائقة بِهِ الَّتِي لَا تكيف وَلَا تمثل بل يعلم من حَيْثُ الْجُمْلَة والثبوت لَا من حَيْثُ التَّمْثِيل والتكييف وَقد سبق الْكَلَام فِي أَن الاشارة إِلَى الْجِهَة إِنَّمَا هُوَ باعتبارنا لأَنا فِي مَحل وحيز وحد والقدم لَا فَوق فِيهِ وَلَا جِهَة واستحالة علوها عَلَيْهِ فَلَا يُمكن مَعْرفَته وَالْإِشَارَة بِالدُّعَاءِ إِلَيْهِ إِلَّا من جِهَة الفوق لِأَنَّهَا أنسب الْجِهَات

উচ্চতাকে মর্যাদাগত উচ্চতা এবং আরশের উপর ওঠাকে (ইস্তিওয়া) আধিপত্য বিস্তার (ইস্তিইলা) দ্বারা ব্যাখ্যা করা থেকে আমরা কঠোরভাবে পলায়ন করি। আমরা সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাকে এমন কোনো সীমা (হাদ্দ) থেকে পবিত্র ঘোষণা করি যা তাকে পরিবেষ্টন করে; ফলে তাকে এমন কোনো সীমার মাধ্যমে সীমাবদ্ধ করা যায় না যা তাকে আবদ্ধ করে ফেলে, বরং এটি এমন এক সীমা যার মাধ্যমে তাঁর সত্তার মহিমা তাঁর সৃষ্টিজগত থেকে পৃথক হয়। আর কোনো দিকের প্রতি ইশারা করা কেবল সৃষ্টিজগত ও এর নিম্নভাগের সাপেক্ষে হয়, কেননা তাঁর দিকে অন্য কোনোভাবে ইশারা করা সম্ভব নয়। তিনি তাঁর অনাদিত্বে (কাদিম হওয়া) সৃষ্টির গুণাবলী থেকে পবিত্র; আর অনাদিত্বের ক্ষেত্রে উচ্চতা বা নিচতা বলে কিছু নেই। নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি নিচের দিকে সীমাবদ্ধ, তার পক্ষে তার স্রষ্টাকে চেনা সম্ভব নয় তাঁর ওপরের দিক ছাড়া। ফলে আরশের দিকে ইশারাটি বাস্তবে একটি বুদ্ধিবৃত্তিক ইশারা হিসেবে গণ্য হয়। আরশের কাছে গিয়ে সকল দিক শেষ হয়ে যায় এবং এরপর যা অবশিষ্ট থাকে, মানব বুদ্ধি তা উপলব্ধি করতে পারে না এবং কল্পনাও তাঁর ধরণ বর্ণনা করতে পারে না। সুতরাং তাঁর প্রতি ইশারা সাব্যস্ত হয় তাঁর শানের উপযোগী করে সংক্ষিপ্তভাবে ও সাব্যস্তকারী হিসেবে, কোনো ধরণ নির্ধারণ (তাকিয়িফ) বা সাদৃশ্য প্রদান (তামসিল) ছাড়াই।

বর্ণনার আরেকটি দিক হলো এই যে, প্রতিপালক সুবহানাহু ওয়া তাআলা অস্তিত্বে ও সত্তায় সুসাব্যস্ত। তাঁর একটি পবিত্র সত্তা রয়েছে যা তাঁর সৃষ্টিজগত থেকে পৃথক। কিয়ামতের দিন তিনি চাক্ষুষভাবে প্রকাশিত হবেন এবং বিশ্বজগতের হিসাব গ্রহণ করবেন; সুতরাং তাঁর সত্তার স্থায়িত্ব এবং সৃষ্টিজগত থেকে এর পৃথক হওয়ার বিষয়টি যেন অজ্ঞাত না থাকে। যখন এটি সাব্যস্ত হলো, তখন তিনি মহাবিশ্বকে স্থান ও পরিধির মধ্যে সৃষ্টি করেছেন, অথচ তিনি তাঁর অনাদিত্বে স্থান ও পরিধি থেকে পবিত্র। সুতরাং জগত সৃষ্টির সময় তিনি তাতে প্রবিষ্ট হবেন বা তাঁর সাথে মিশে যাবেন—এটি শরয়ি ও যৌক্তিকভাবে অসম্ভব। কারণ অনাদি (কাদিম) সত্তা কখনো নশ্বর (হাদিস) বস্তুর মধ্যে প্রবিষ্ট হয় না এবং তিনি নশ্বর বিষয়াবলীর আধারও নন; ফলে এটি আবশ্যক যে তিনি সৃষ্টিজগত থেকে পৃথক (বায়িন) থাকবেন। আর যখন তিনি সৃষ্টি থেকে পৃথক, তখন এটি অসম্ভব যে জগত উপরের দিকে থাকবে আর প্রতিপালক সুবহানাহু ওয়া তাআলা নিচের দিকে থাকবেন—এটি শরয়ি ও যৌক্তিকভাবে অসম্ভব। সুতরাং এটি আবশ্যক যে তিনি তাঁর সৃষ্টির উপরে থাকবেন তাঁর শানের উপযোগী উচ্চতায়, যার কোনো ধরণ নির্ধারণ বা সাদৃশ্য প্রদান করা যায় না। বরং এটি সামগ্রিকভাবে এবং সাব্যস্তকরণের দিক থেকে জানা যায়, সাদৃশ্য প্রদান বা ধরণ নির্ধারণের দিক থেকে নয়। ইতিপূর্বে আলোচনা করা হয়েছে যে, দিকের প্রতি ইশারা করা কেবল আমাদের বিবেচনায়, কারণ আমরা স্থান, পরিধি ও সীমার মধ্যে আবদ্ধ। আর অনাদিত্বের ক্ষেত্রে কোনো উপর বা দিক নেই এবং তাঁর ওপর সৃষ্টির উচ্চতা অর্জন অসম্ভব; ফলে তাঁকে জানা এবং দোয়ার মাধ্যমে তাঁর দিকে ইশারা করা উপরের দিক ছাড়া সম্ভব নয়, কারণ দিকসমূহের মধ্যে এটিই সবচেয়ে উপযুক্ত দিক।

(খণ্ড: ১) আন-নসীহাহ ফী সিফাতিল রাব্বি জাল্লা ওয়া আলা (পৃষ্ঠা: ২১)
إِلَيْهِ وَهُوَ غير مَحْصُور فِيهَا بل هُوَ كَمَا كَانَ فِي أزليته وَقدمه فَإِذا أَرَادَ الْمُحدث أَن يُشِير إِلَى الْقَدِيم فَلَا يُمكنهُ ذَلِك إِلَّا بالاشارة إِلَى الْجِهَة الْفَوْقِيَّة لِأَن المشير فِي مَحل لَهُ فَوق وَتَحْت والمشار إِلَيْهِ قديم بِاعْتِبَار قدمه لَا فَوق هُنَاكَ وَلَا تَحت وَبِاعْتِبَار حدوثنا وتسفلنا هُوَ فَوْقنَا فَإِذا أَشَرنَا إِلَيْهِ تقع الاشارة عَلَيْهِ كَمَا يَلِيق بِهِ لَا كَمَا نتوهمه فِي الْفَوْقِيَّة المنسوبة إِلَى الْأَجْسَام لَكنا نعلمها من جِهَة الاجمال والثبوت لَا جِهَة التَّمْثِيل وَالله الْمُوفق للصَّوَاب وَمن عرف هَيْئَة الْعَالم ومراكزه من علم الْهَيْئَة وَأَنه لَيْسَ لَهُ الا جهتا الْعُلُوّ والسفل ثمَّ اعْتقد بينونية خالقه عَن الْعَالم فَمن لَوَازِم الْبَيْنُونَة أَن يكون فَوْقه لِأَن جَمِيع جِهَات الْعَالم فَوق وَلَيْسَ إِلَّا المراكز وَهُوَ الْوسط

فصل إِذا علمنَا ذَلِك واعتقدناه تخلصنا من شبه التَّأْوِيل وعماوة التعطيل وحماقة التَّشْبِيه والتمثيل وأثبتنا علو رَبنَا وفوقيته واستواءه على عَرْشه كَمَا يَلِيق بجلاله وعظمته وَالْحق وَاضح فِي ذَلِك والصدر ينشرح لَهُ فَإِن التحريف تأباه الْعُقُول الصَّحِيحَة مثل تَأْوِيل الاسْتوَاء بِالِاسْتِيلَاءِ وَغَيره وَالْوُقُوف فِي ذَلِك جهل وعي مَعَ ان الرب سُبْحَانَهُ وصف
তাঁর দিকে; আর তিনি তাতে সীমাবদ্ধ নন, বরং তিনি তেমনই আছেন যেমন তিনি তাঁর অনাদিত্ব ও চিরন্তনতায় ছিলেন। সুতরাং যখন কোনো সৃষ্টি সেই অনাদি সত্তার দিকে ইঙ্গিত করতে চায়, তখন ঊর্ধ্বমুখী দিক নির্দেশ করা ছাড়া তার পক্ষে তা সম্ভব হয় না। কারণ, ইঙ্গিতকারী এমন এক স্থানে রয়েছে যার উপর ও নিচ আছে। আর যাঁর দিকে ইঙ্গিত করা হচ্ছে, তিনি তাঁর অনাদিত্বের বিচারে সেখানে কোনো উপর বা নিচ নেই। কিন্তু আমাদের সৃষ্টি হওয়া এবং আমাদের নিম্নবর্তী হওয়ার বিচারে তিনি আমাদের উপরে। অতএব যখন আমরা তাঁর দিকে ইঙ্গিত করি, সেই ইঙ্গিত তাঁর শানের উপযোগী হয়েই তাঁর ওপর প্রযুক্ত হয়; দেহের সাথে সম্পৃক্ত ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার যে কল্পনা আমরা করি সেরকম নয়। বরং আমরা তা সংক্ষিপ্তভাবে এবং সাব্যস্তকরণের দিক থেকে জানি, সাদৃশ্য প্রদানের দিক থেকে নয়। আর আল্লাহই সঠিক পথের তাওফীকদাতা। আর যে ব্যক্তি জ্যোতির্বিজ্ঞান থেকে জগতের গঠন ও এর কেন্দ্রসমূহ সম্পর্কে অবগত হয়েছে এবং জেনেছে যে, এর কেবল উচ্চ ও নিম্ন—এই দুটি দিকই রয়েছে, অতঃপর তার স্রষ্টা জগত থেকে পৃথক হওয়ার বিশ্বাস পোষণ করেছে, তবে সেই পৃথক হওয়ার অনিবার্য দাবি হলো তিনি জগতের উপরে থাকবেন। কারণ জগতের সকল দিকই 'উপর', আর কেন্দ্র ছাড়া আর কিছুই নেই যা হলো মধ্যভাগ।

পরিচ্ছেদ: যখন আমরা তা জানলাম এবং বিশ্বাস করলাম, তখন আমরা অপব্যাখ্যার সংশয়, অকার্যকরকরণের অন্ধত্ব এবং সাদৃশ্য প্রদান ও উপমা দেওয়ার বোকামি থেকে মুক্তি পেলাম। এবং আমরা আমাদের রবের উচ্চতা, তাঁর উপরে থাকা এবং তাঁর আরশের ওপর উঠাকে সাব্যস্ত করলাম যেমনটি তাঁর মহিমা ও শ্রেষ্ঠত্বের উপযোগী। এ বিষয়ে সত্য অত্যন্ত স্পষ্ট এবং এতে অন্তর প্রশান্ত হয়। কেননা সুস্থ বিবেক বিকৃতিকে প্রত্যাখ্যান করে, যেমন 'উঠা'-কে 'কর্তৃত্ব গ্রহণ' বা অন্য কিছু দ্বারা অপব্যাখ্যা করা। এ বিষয়ে থমকে থাকা হলো মূর্খতা ও অক্ষমতা, অথচ রব সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১) আন-নসীহাহ ফী সিফাতিল রাব্বি জাল্লা ওয়া আলা (পৃষ্ঠা: ২২)
لنا نَفسه بِهَذِهِ الصِّفَات لنعرفه بهَا فوقوفنا عَن إِثْبَاتهَا ونفيها عدُول عَن الْمَقْصُود مِنْهُ فِي تعريفنا إِيَّاه فَمَا وصف لنا نَفسه بهَا الا لنثبت مَا وصف بِهِ نَفسه وَلَا نقف فِي ذَلِك وَكَذَلِكَ التَّشْبِيه والتمثيل حَمَاقَة وجهالة فَمن وَفقه الله للاثبات بِلَا تَحْرِيف وَلَا تكييف وَلَا وقُوف فقد وَقع على الْأَمر الْمَطْلُوب مِنْهُ إِن شَاءَ الله تَعَالَى

فصل وَالَّذِي شرح الله بِهِ صَدْرِي فِي حَال هَؤُلَاءِ الشُّيُوخ الَّذين أولُوا الاسْتوَاء بِالِاسْتِيلَاءِ وَالنُّزُول بنزول الْأَمر وَالْيَدَيْنِ بالنعمتين والقدرتين هُوَ علمي بِأَنَّهُم مَا فَهموا فِي صِفَات الرب إِلَّا مَا يَلِيق بالمخلوقين فَمَا فَهموا عَن الله اسْتِوَاء يَلِيق بِهِ وَلَا نزولا يَلِيق بِهِ وَلَا يدين بعظمته بِلَا تكييف وَلَا تَشْبِيه فَلذَلِك حرفوا الْكَلم عَن موَاضعه وعطلوا مَا وصف الله بِهِ نَفسه وَنَذْكُر بَيَان ذَلِك إِن شَاءَ الله تَعَالَى فَنَقُول لَا ريب إِنَّا نَحن وإياهم متفقون على إِثْبَات صِفَات الْحَيَاة والسمع وَالْبَصَر وَالْعلم وَالْقُدْرَة والإرادة وَالْكَلَام لله تَعَالَى وَنحن قطعا لَا نعقل من الْحَيَاة إِلَّا هَذَا الْعرض الَّذِي يقوم بأجسامنا وَكَذَلِكَ لَا نعقل من السّمع وَالْبَصَر إِلَّا أعراضا تقوم بجوارحنا فَكَمَا أَنهم يَقُولُونَ حَيَاته لَيست بِعرْض وَعلمه كَذَلِك وبصره كَذَلِك هِيَ صِفَات كَمَا يَلِيق بِهِ لَا كَمَا يَلِيق بِنَا
তিনি আমাদের নিকট নিজেকে এই গুণাবলি দ্বারা পরিচিত করেছেন যাতে আমরা এর মাধ্যমে তাঁকে চিনতে পারি। সুতরাং এই গুণাবলি সাব্যস্ত করা অথবা অস্বীকার করা থেকে বিরত থাকা মূলত তাঁকে চেনানোর যে উদ্দেশ্য আমাদের প্রতি রয়েছে তা থেকে বিচ্যুত হওয়া। তিনি নিজেকে আমাদের নিকট এই গুণাবলি দ্বারা কেবল এজন্যই বর্ণনা করেছেন যেন আমরা তা সাব্যস্ত করি যা তিনি নিজের জন্য বর্ণনা করেছেন এবং আমরা যেন এ বিষয়ে থেমে না যাই। অনুরূপভাবে সাদৃশ্য প্রদান এবং উদাহরণ দান করা চরম বোকামি ও অজ্ঞতা। অতএব, আল্লাহ যাকে কোনো বিকৃতি, ধরণ নির্ধারণ এবং থেমে যাওয়া ছাড়াই সাব্যস্ত করার তাওফিক দিয়েছেন, সে কাঙ্ক্ষিত বিষয়টি লাভ করেছে, ইনশাআল্লাহ তায়ালা।

পরিচ্ছেদ: আল্লাহ ঐ সকল শায়খদের ব্যাপারে আমার অন্তরকে যে বিষয়ে প্রশান্ত করেছেন যারা আল্লাহর উঠাকে দখল করা দ্বারা, তাঁর নামাকে নির্দেশের অবতরণ দ্বারা এবং আল্লাহর দুই হাতকে দুটি নেয়ামত ও দুটি ক্ষমতা দ্বারা ব্যাখ্যা করেছেন— তা হলো আমার এই জ্ঞান যে, তারা রবের গুণাবলির ক্ষেত্রে কেবল সৃষ্টিজীবের উপযোগী বিষয়গুলোই অনুধাবন করেছেন। ফলে তারা আল্লাহর জন্য তাঁর উপযোগী উঠা বুঝতে পারেননি, তাঁর উপযোগী নামা বুঝতে পারেননি এবং কোনো ধরণ নির্ধারণ ও সাদৃশ্য ছাড়াই তাঁর মহানুভবতার উপযোগী আল্লাহর দুই হাত বুঝতে পারেননি। এ কারণেই তারা শব্দসমূহকে নিজ স্থান থেকে বিকৃত করেছেন এবং আল্লাহ নিজের জন্য যা বর্ণনা করেছেন তাকে অকার্যকর করে দিয়েছেন। আমরা ইনশাআল্লাহ তায়ালা এর বিস্তারিত বর্ণনা উল্লেখ করব। আমরা বলি, এতে কোনো সন্দেহ নেই যে আল্লাহ তায়ালার জীবন, শ্রবণ, দর্শন, জ্ঞান, ক্ষমতা, ইচ্ছা ও কথা বলার গুণাবলি সাব্যস্ত করার বিষয়ে আমরা ও তারা একমত। অথচ আমরা জীবন বলতে নিশ্চিতভাবে আমাদের দেহে বিদ্যমান এই ক্ষণস্থায়ী বৈশিষ্ট্য ছাড়া অন্য কিছু বুঝি না, অনুরূপভাবে শ্রবণ ও দর্শন বলতে আমাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাধ্যমে সংঘটিত ক্ষণস্থায়ী বৈশিষ্ট্য ছাড়া কিছুই বুঝি না। সুতরাং তারা যেমন বলেন যে তাঁর জীবন কোনো ক্ষণস্থায়ী বৈশিষ্ট্য নয়, তাঁর জ্ঞান ও দর্শনও তদ্রূপ; বরং এগুলো তাঁর জন্য শোভনীয় গুণাবলি, আমাদের জন্য উপযুক্ত বিষয়ের মতো নয়।
(খণ্ড: ১) আন-নসীহাহ ফী সিফাতিল রাব্বি জাল্লা ওয়া আলা (পৃষ্ঠা: ২৩)
فَكَذَلِك نقُول نَحن حَيَاته مَعْلُومَة وَلَيْسَت مكيفة وَعلمه مَعْلُوم وَلَيْسَ مكيفا وَكَذَلِكَ سَمعه وبصره معلومان وَلَيْسَ جَمِيع ذَلِك أعراضا بل هُوَ كَمَا يَلِيق بِهِ وَمثل ذَلِك بِعَيْنِه فوقيته واستواؤه ونزوله ففوقيته مَعْلُومَة أَعنِي ثَابِتَة كثبوت حَقِيقَة السّمع وَحَقِيقَة الْبَصَر فَإِنَّهُمَا معلومان وَلَا يكيفان كَذَلِك فوقيته مَعْلُومَة ثَابِتَة غير مكيفة كَمَا يَلِيق بِهِ واستواؤه على عَرْشه مُعَلّق ثَابت كثبوت السّمع وَالْبَصَر غير مكيف وَكَذَلِكَ نُزُوله ثَابت كعلوم مَعْلُوم غير مكيف بحركة وانتقال يَلِيق بالمخلوق بل كَمَا يَلِيق بعظمته وجلاله وَصِفَاته مَعْلُومَة من حَيْثُ الْجُمْلَة والثبوت غير معقولة لَهُ من حَيْثُ التكييف والتحديد فَيكون الْمُؤمن بهَا مبصرا من وَجه أعمى من وَجه مبصرا من حَيْثُ الاثبات والوجود أعمى من حَيْثُ التكييف والتحديد وَبهَا يحصل الْجمع بَين الاثبات لما وصف الله بِهِ نَفسه وَبَين نفي التحريف والتشبيه وَالْوُقُوف وَذَلِكَ هُوَ مُرَاد الله تَعَالَى منا فِي إبراز صِفَاته لنا لنعرفه بهَا ونؤمن بحقائقها وننفي عَنْهَا التَّشْبِيه وَلَا نعطلها بالتحريف والتأويل وَلَا فرق بَين الاسْتوَاء والسمع وَلَا بَين النُّزُول وَالْبَصَر لِأَن الْكل ورد فِي النَّص فَإِن قَالُوا لنا فِي الاسْتوَاء شبهتم نقُول لَهُم فِي السّمع شبهتم ووصفتم ربكُم بِالْعرضِ وَإِن قَالُوا لَا عرض بل كَمَا يَلِيق بِهِ قُلْنَا فِي الاسْتوَاء وَالنُّزُول وَالْيَد وَالْوَجْه والقدم والضحك والتعجب من التَّشْبِيه

অনুরূপভাবে আমরা বলি, আল্লাহর জীবন সম্পর্কে জানা যায় কিন্তু তার ধরণ অবর্ণনীয়; আল্লাহর জ্ঞান সম্পর্কে জানা যায় কিন্তু তার ধরণ অবর্ণনীয়; অনুরূপভাবে তাঁর শোনা এবং দেখাও জানা বিষয় কিন্তু ধরণ অবর্ণনীয়। এই সব কিছুই আকস্মিক গুণাবলি (আরায) নয়, বরং তা তেমনই যেমনটি তাঁর শানের উপযোগী। ঠিক একইভাবে তাঁর উপরে হওয়া, তাঁর আরশের উপর উঠা এবং তাঁর অবতরণ করা। সুতরাং তাঁর উপরে হওয়া বিষয়টি জানা, অর্থাৎ তা শ্রবণ এবং দর্শনের হাকিকতের (প্রকৃত স্বরূপ) সাব্যস্ত হওয়ার মতোই সাব্যস্ত। কারণ ওই দু'টিও জানা বিষয় কিন্তু সেগুলোর ধরণ নির্ণয় করা যায় না। তেমনিভাবে তাঁর উপরে হওয়া বিষয়টিও জানা ও সাব্যস্ত এবং যার ধরণ অবর্ণনীয় যেমনটি তাঁর শানের উপযোগী।

এবং তাঁর আরশের উপর উঠাও শ্রবণ ও দর্শন সাব্যস্ত হওয়ার মতোই অকাট্যভাবে সাব্যস্ত, যার ধরণ অবর্ণনীয়। অনুরূপভাবে তাঁর অবতরণ করাও একটি জানা বিষয়ের মতোই সাব্যস্ত, যা সৃষ্টির মতো কোনো নড়াচড়া বা স্থান পরিবর্তনের ধরণে নয়; বরং তা তাঁর মহানুভবতা ও মহিমার উপযোগী। আল্লাহর গুণাবলি সামগ্রিক দিক থেকে এবং সাব্যস্ত হওয়ার দিক থেকে জানা বিষয়, কিন্তু ধরণ ও সীমানা নির্ধারণের দিক থেকে তা বুদ্ধিগম্য নয়। ফলে মুমিন ব্যক্তি এগুলোর প্রতি ঈমানের ক্ষেত্রে একদিক দিয়ে চক্ষুষ্মান এবং অন্যদিক দিয়ে অন্ধ হয়। সাব্যস্ত করা এবং অস্তিত্বের দিক থেকে সে চক্ষুষ্মান, আর ধরণ ও সীমানা নির্ধারণের দিক থেকে সে অন্ধ।

এর মাধ্যমেই আল্লাহ নিজের জন্য যে গুণাবলি বর্ণনা করেছেন তা সাব্যস্ত করার পাশাপাশি বিকৃতি (তাহরিফ), সাদৃশ্য প্রদান (তাশবিহ) এবং নিষ্কৃতি (ওয়াকফ) বর্জনের মধ্যে সমন্বয় ঘটে। আল্লাহ তাআলা তাঁর গুণাবলি আমাদের সামনে প্রকাশ করার মাধ্যমে আমাদের কাছ থেকে এটাই চেয়েছেন যে, আমরা যেন সেগুলোর মাধ্যমে তাঁকে চিনে নেই এবং এগুলোর হাকিকতের প্রতি ঈমান আনি, আর এগুলোর থেকে সাদৃশ্য প্রদানকে অস্বীকার করি এবং বিকৃতি ও ব্যাখ্যার মাধ্যমে এগুলোকে অকার্যকর না করি।

আর আরশের উপর উঠা এবং শোনার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই, তেমনিভাবে অবতরণ করা এবং দেখার মধ্যেও কোনো পার্থক্য নেই; কারণ এ সবগুলোই নস (কুরআন-সুন্নাহর পাঠ) দ্বারা প্রমাণিত। যদি তারা আমাদের বলে যে, আরশের উপর উঠার ক্ষেত্রে তোমরা সাদৃশ্য দিয়েছ, তবে আমরা তাদের বলব যে, শোনার ক্ষেত্রে তোমরা সাদৃশ্য দিয়েছ এবং তোমাদের প্রতিপালককে আকস্মিক গুণের (আরায) দ্বারা বিশেষিত করেছ। যদি তারা বলে যে, এটি আকস্মিক গুণ নয় বরং তাঁর শানের উপযোগী, তবে আমরা আরশের উপর উঠা, অবতরণ করা, আল্লাহর হাত, আল্লাহর মুখমণ্ডল, আল্লাহর পা, হাসা এবং আশ্চর্যান্বিত হওয়া—এসব ক্ষেত্রেও সাদৃশ্য প্রদানের অভিযোগ নাকচ করে একইভাবে উত্তর দেব।

(খণ্ড: ১) আন-নসীহাহ ফী সিফাতিল রাব্বি জাল্লা ওয়া আলা (পৃষ্ঠা: ২৪)
نلزمهم بِهِ فِي الْحَيَاة والسمع وَالْبَصَر وَالْعلم فَكَمَا لَا يجعلونها أعراضا كَذَلِك نَحن لَا نَجْعَلهَا جوارح وَلَا مِمَّا يُوصف بِهِ الْمَخْلُوق وَلَيْسَ من الانصاف أَن يفهموا فِي الاسْتوَاء وَالنُّزُول وَالْوَجْه وَالْيَد صِفَات المخلوقين فيحتاجون إِلَى التَّأْوِيل والتحريف فَإِن فَهموا فِي هَذِه الصِّفَات ذَلِك فيلزمهم أَن يفهموا الصِّفَات السَّبع صِفَات المخلوقين من الْأَعْرَاض فَمَا يلزموننا فِي تِلْكَ الصِّفَات من التَّشْبِيه والجسمية نلزمهم فِي هَذِه الصِّفَات من العرضية وَمَا ينزهون رَبهم بِهِ فِي الصِّفَات السَّبع وينفونه عَنهُ من عوارض الْجِسْم فِيهَا فَكَذَلِك نن نعمل فِي تِلْكَ الصِّفَات الَّتِي ينسبوننا فِيهَا الى التشبييه سَوَاء بِسَوَاء وَمن انصف عرف مَا قُلْنَاهُ واعتقده وَقبل نصيحتنا ودان الله بِإِثْبَات جَمِيع صِفَاته هَذِه تِلْكَ وَنفى عَن جَمِيعهَا التعطيل والتشبيه والتأويل وَالْوُقُوف وهذ مُرَاد الله تَعَالَى منا فِي ذَلِك لِأَن هَذِه الصِّفَات وَتلك جَاءَت فِي مَوضِع وَاحِد وَهُوَ الْكتاب وَالسّنة فَإِذا أثبتنا تِلْكَ بِلَا تَأْوِيل وحرفنا هَذِه وأولناها كَانَ كمن آمن بِبَعْض الْكتاب وَكفر بِبَعْض وَفِي هَذَا بَلَاغ وكفاية

জীবন, শ্রবণ, দর্শন এবং জ্ঞানের ক্ষেত্রে আমরা তাদের ওপর তাই আবশ্যিক করি যা তারা আমাদের ওপর করে। যেভাবে তারা এগুলোকে কোনো আপতিক গুণ হিসেবে গণ্য করে না, ঠিক তেমনিভাবে আমরাও সেগুলোকে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কিংবা সৃষ্টির বৈশিষ্ট্য হিসেবে গণ্য করি না। উঠা, নামা, চেহারা এবং আল্লাহর হাতের ক্ষেত্রে সৃষ্টির গুণাবলি কল্পনা করা মোটেই ন্যায়সঙ্গত নয়, যার কারণে তারা রূপক ব্যাখ্যা এবং বিকৃতির মুখাপেক্ষী হয়। যদি তারা এই গুণাবলিগুলোর ক্ষেত্রে এমনটি বোঝে, তবে তাদের জন্য এটিও আবশ্যক হয়ে পড়বে যে, তারা যেন ওই সাতটি গুণকেও সৃষ্টির আপতিক গুণ হিসেবে গণ্য করে। সুতরাং ওই সকল গুণের ক্ষেত্রে তারা আমাদের ওপর সাদৃশ্যকরণ ও দৈহিকতার যে দায় চাপায়, আমরাও এই গুণগুলোর ক্ষেত্রে তাদের ওপর আপতিক গুণের দায় চাপাব। তারা তাদের প্রতিপালককে সাতটি গুণের ক্ষেত্রে যেভাবে পবিত্র ঘোষণা করে এবং সেগুলো থেকে দেহের বৈশিষ্ট্যসমূহকে অস্বীকার করে, আমরাও ঠিক একইভাবে ওই সকল গুণের ক্ষেত্রে কাজ করি যেগুলোর ব্যাপারে তারা আমাদের দিকে সাদৃশ্যকরণের অপবাদ দেয়। যে ব্যক্তি ন্যায়নিষ্ঠ, সে আমাদের কথা অনুধাবন করবে, তা বিশ্বাস করবে, আমাদের উপদেশ গ্রহণ করবে এবং আল্লাহর এই ও ওই—সকল গুণাবলি সাব্যস্ত করার মাধ্যমে তাঁর আনুগত্য করবে; আর সেগুলোর সব কটি থেকে গুণ অস্বীকার করা, সাদৃশ্য প্রদান, রূপক ব্যাখ্যা ও সংশয়কে নাকচ করবে। আর এটাই আমাদের নিকট আল্লাহ তাআলার উদ্দেশ্য। কারণ এই গুণাবলি এবং ওই গুণাবলি একই উৎস থেকে এসেছে, আর তা হলো কিতাব ও সুন্নাহ। অতএব, আমরা যদি ওইগুলোকে ব্যাখ্যা ছাড়া সাব্যস্ত করি আর এইগুলোকে বিকৃত ও রূপক ব্যাখ্যা করি, তবে তা ওই ব্যক্তির মতো হবে যে কিতাবের কিছু অংশের ওপর ঈমান আনল আর কিছু অংশকে অস্বীকার করল। এর মধ্যেই রয়েছে সুস্পষ্ট বার্তা ও পর্যাপ্ততা।

(খণ্ড: ১) আন-নসীহাহ ফী সিফাতিল রাব্বি জাল্লা ওয়া আলা (পৃষ্ঠা: ২৫)
فصل وَإِذا ظهر هَذَا التَّأْوِيل وَبَان انْحَلَّت الثَّلَاث مسَائِل بأسرها وَهِي 1 مَسْأَلَة الصِّفَات من النُّزُول وَالْوَجْه وَالْيَد وأمثالها 2 وَمَسْأَلَة الْعُلُوّ والاستواء 3 مَسْأَلَة الْحَرْف وَالصَّوْت اما مَسْأَلَة الْعُلُوّ فقد مر مَا فَتحه الله تَعَالَى وَأما مَسْأَلَة الصِّفَات فتساق مساق مَسْأَلَة الْعُلُوّ وَلَا يفهم مِنْهَا مَا يفهم من صِفَات المخلوقين بل يُوصف الرب تَعَالَى بهَا كَمَا يَلِيق بجلاله وعظمته فَينزل كَمَا يَلِيق بجلاله وعظمته ويداه كَمَا يَلِيق بجلاله وعظمته وَوجه الْكَرِيم كَمَا يَلِيق بجلاله وعظمته وَكَيف يُنكر الْوَجْه الْكَرِيم ويحرف وَقد قَالَ سبحانه وتعالى {وَيبقى وَجه رَبك ذُو الْجلَال وَالْإِكْرَام} وَقَالَ صلى الله عليهه وَسلم فِي دُعَائِهِ (نَسْأَلك لَذَّة النّظر الى وَجهك) واذا ثبتَتْ صفة الْوَجْه بِهَذَا الحَدِيث وَبِغَيْرِهِ من الْآيَات والنصوص فَكَذَلِك صفة الْيَدَيْنِ والضحك والتعجب وَلَا يفهم من جَمِيع ذَلِك الا مَا يَلِيق بِاللَّه عز وجل بعظمته لَا مَا يَلِيق بالمخلوقات من الْأَعْضَاء والجوارح تَعَالَى الله عَن ذَلِك علوا كَبِيرا

পরিচ্ছেদ: যখন এই ব্যাখ্যা প্রকাশ পেল এবং স্পষ্ট হলো, তখন তিনটি মাসআলা সামগ্রিকভাবে সমাধান হয়ে গেল। সেগুলো হলো: ১. গুণাবলির মাসআলা; যেমন—অবতরণ করা, মুখমণ্ডল, আল্লাহর হাত এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়। ২. উচ্চতা এবং ওঠার মাসআলা। ৩. হরফ ও আওয়াজের মাসআলা। উচ্চতার মাসআলা সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা যা উন্মুক্ত করেছেন তা ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে। আর গুণাবলির মাসআলা উচ্চতার মাসআলার অনুরূপ হিসেবেই গণ্য হবে। এগুলো থেকে এমন কিছু বোঝা যাবে না যা সৃষ্টির গুণাবলি থেকে বোঝা যায়। বরং মহান রবকে সেভাবেই গুণান্বিত করা হবে যা তাঁর মহিমা ও শ্রেষ্ঠত্বের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। অতএব, তিনি অবতরণ করেন যেভাবে তাঁর মহিমা ও শ্রেষ্ঠত্বের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, আল্লাহর দুই হাত তেমন যেমন তাঁর মহিমা ও শ্রেষ্ঠত্বের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং তাঁর সম্মানিত মুখমণ্ডল তেমন যেমন তাঁর মহিমা ও শ্রেষ্ঠত্বের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আর কীভাবে সম্মানিত মুখমণ্ডলকে অস্বীকার ও বিকৃত করা যেতে পারে, অথচ তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: "আপনার রবের মুখমণ্ডল অবশিষ্ট থাকবে, যিনি মহিমা ও মহানুভবতার অধিকারী।" এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দোয়ায় বলেছেন: "আমি আপনার নিকট আপনার মুখমণ্ডলের দিকে তাকানোর স্বাদ প্রার্থনা করছি।" যখন এই হাদিস এবং অন্যান্য আয়াত ও দলিলের মাধ্যমে মুখমণ্ডলের গুণটি সাব্যস্ত হলো, তখন একইভাবে আল্লাহর দুই হাত, হাসা এবং আশ্চর্যান্বিত হওয়ার গুণটিও সাব্যস্ত হবে। এগুলোর কোনোটি থেকেই এমন কিছু বোঝা যাবে না যা আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্ল-এর শ্রেষ্ঠত্বের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ; বরং কেবল তাই বোঝা যাবে যা তাঁর শানের সাথে মানানসই। সৃষ্টির মতো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বা হাত-পা হিসেবে তা বোঝা যাবে না; আল্লাহ তাআলা এসব থেকে অনেক ঊর্ধ্বে।

(খণ্ড: ১) আন-নসীহাহ ফী সিফাতিল রাব্বি জাল্লা ওয়া আলা (পৃষ্ঠা: ২৬)
واذا ثَبت هَذَا الحكم فِي الْوَجْه فَكَذَلِك فِي الْيَدَيْنِ والقبضتين والقدم والضحك والتعجب كل ذَلِك كَمَا يَلِيق بِجلَال الله وعظمته فَيحصل بذلك اثبات مَا وصف الله بِهِ نَفسه فِي كِتَابه وَفِي سنة رَسُوله وَيحصل ايضا نفي التَّشْبِيه والتكييف فِي صِفَاته وَيحصل أَيْضا ترك التَّأْوِيل والتحريف الْمُؤَدِّي إِلَى التعطيل وَيحصل بذلك أَيْضا عدم الْوُقُوف بِإِثْبَات الصِّفَات وحقائقها على مَا يَلِيق بِجلَال الله وعظمته لَا على مَا نعقل نَحن من صِفَات المخلوقين

فصل واما مَسْأَلَة الْحَرْف وَالصَّوْت فتساق هَذَا المساق فَإِن الله تَعَالَى قد نُكَلِّم بِالْقُرْآنِ الْمجِيد بِجَمِيعِ حُرُوفه فَقَالَ تَعَالَى {المص} وَقَالَ {ق وَالْقُرْآن الْمجِيد} وَكَذَلِكَ جَاءَ الحَدِيث فينادي يَوْم الْقِيَامَة بِصَوْت يسمعهُ من بعد كَمَا يسمعهُ من قرب
যখন চেহারার ক্ষেত্রে এই বিধান প্রমাণিত হলো, তখন একইভাবে তা আল্লাহর দুই হাত, দুই মুষ্টি, আল্লাহর পা, হাসা এবং আশ্চর্যান্বিত হওয়ার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। এই সব কিছুই আল্লাহর মহিমা ও শ্রেষ্ঠত্বের সাথে যেভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ সেভাবেই হবে। এর মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর কিতাবে এবং তাঁর রাসূলের সুন্নাহতে নিজের যে গুণাবলি বর্ণনা করেছেন তা সাব্যস্ত হবে। এর মাধ্যমে আল্লাহর গুণাবলির ক্ষেত্রে সাদৃশ্য প্রদান এবং ধরণ নির্ধারণও নাকচ হবে। সেই সাথে এর মাধ্যমে এমন অপব্যাখ্যা এবং বিকৃতি বর্জন করাও সম্ভব হবে যা আল্লাহর গুণাবলি অস্বীকার করার দিকে নিয়ে যায়। এর ফলে আল্লাহর মহিমা ও শ্রেষ্ঠত্বের উপযোগী করে গুণাবলি ও সেগুলোর প্রকৃত স্বরূপ সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে কোনো দ্বিধা থাকবে না; এটা সৃষ্টির গুণাবলি সম্পর্কে আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক ধারণার মতো হবে না।

পরিচ্ছেদ: আর বর্ণ ও শব্দের বিষয়টিও একইভাবে পরিচালিত হবে। কেননা আল্লাহ তাআলা সকল বর্ণসহই মহিমান্বিত কুরআনের মাধ্যমে কথা বলেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আলিফ-লাম-মীম-সোয়াদ" এবং তিনি বলেছেন: "ক্বাফ। শপথ মহিমান্বিত কুরআনের।" একইভাবে হাদিসে এসেছে যে, কিয়ামতের দিন তিনি এমন এক শব্দে আহ্বান করবেন যা দূরের ব্যক্তিও তেমন শুনতে পাবে যেমনটি নিকটের ব্যক্তি শুনতে পায়।
(খণ্ড: ১) আন-নসীহাহ ফী সিফাতিল রাব্বি জাল্লা ওয়া আলা (পৃষ্ঠা: ২৭)
وَفِي الحَدِيث لَا اقول {الم} حرف وَلَكِن الف حرف وَلَام حرف وَمِيم حرف فَهَؤُلَاءِ مَا فَهموا من كَلَام الله إِلَّا مَا فهموه من كَلَام المخلوقين فَقَالُوا إِذا قُلْنَا بالحرف فَإِن ذَلِك يُؤَدِّي إِلَى القَوْل بالجوارح واللهوات وَكَذَلِكَ إِذا قُلْنَا بالصوت أدّى ذَلِك إِلَى الْحلق والحنجرة فعملوا بِهَذَا من التخبيط كَمَا عمِلُوا فِيمَا تقدم من الصِّفَات وَالتَّحْقِيق هُوَ أَن الله تَعَالَى تكلم بالحروف كَمَا يَلِيق بجلاله وعظمته فَإِنَّهُ قَادر والقادر لَا يحْتَاج إِلَى جوارح وَلَا إِلَى لَهَوَات وَكَذَلِكَ لَهُ صَوت يَلِيق بِهِ يسمع وَلَا يفْتَقر ذَلِك الصَّوْت الْمُقَدّس إِلَى الْحلق والحنجرة فَكَلَام الله كَمَا يَلِيق بِهِ وصوته كَمَا يَلِيق بِهِ وَلَا ننفي الْحَرْف وَالصَّوْت عَن كَلَامه سُبْحَانَهُ لافتقارهما منا إِلَى الْجَوَارِح واللهوات فَإِنَّهُمَا فِي جناب الْحق لَا يفتقران إِلَى ذَلِك وَهَذَا ينشرح الصَّدْر لَهُ ويستريح الانسان بِهِ من التعسف والتكلف بقوله هَذَا عبارَة عَن ذَلِك فَإِن قيل هَذَا الَّذِي يَقْرَؤُهُ القارىء هُوَ عين قِرَاءَة الله وَعين تكَلمه هُوَ

হাদিসে এসেছে, আমি বলি না যে {আলিফ লাম মীম} একটি বর্ণ; বরং আলিফ একটি বর্ণ, লাম একটি বর্ণ এবং মীম একটি বর্ণ। সুতরাং তারা আল্লাহর কালাম থেকে কেবল তাই বুঝেছে যা তারা সৃষ্টিজীবের কথা থেকে বুঝে থাকে। ফলে তারা বলেছে যে, যদি আমরা বর্ণের (হরফ) কথা বলি, তবে তা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও আলজিহ্বা সাব্যস্ত করার দিকে ধাবিত করবে। তদ্রূপ যদি আমরা শব্দের (আওয়াজ) কথা বলি, তবে তা কণ্ঠনালী ও স্বরযন্ত্র সাব্যস্ত করার দিকে নিয়ে যাবে। তারা এই ক্ষেত্রে তেমনই বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে যেমনটি তারা ইতিপূর্বে গুণাবলির (সিফাত) ক্ষেত্রে করেছিল। প্রকৃত সত্য হলো, আল্লাহ তাআলা বর্ণের মাধ্যমে কথা বলেছেন যেমনটি তাঁর মহিমা ও মহানত্বের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কেননা তিনি সর্বশক্তিমান, আর সর্বশক্তিমান সত্তা কোনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বা আলজিহ্বার মুখাপেক্ষী নন। একইভাবে তাঁর শব্দ রয়েছে যা তাঁর শানের উপযোগী এবং তা শোনা যায়। সেই পবিত্র শব্দ কণ্ঠনালী ও স্বরযন্ত্রের মুখাপেক্ষী নয়। সুতরাং আল্লাহর কালাম যেমন তাঁর শানের উপযোগী, তাঁর শব্দও তেমন তাঁর শানের উপযোগী। আমাদের ক্ষেত্রে বর্ণ ও শব্দ যেহেতু অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও আলজিহ্বার মুখাপেক্ষী, কেবল সেই কারণে আমরা মহান আল্লাহর কালাম থেকে বর্ণ ও শব্দকে অস্বীকার করি না। কেননা মহান আল্লাহর ক্ষেত্রে এই দুটি বিষয় ওসবের মুখাপেক্ষী নয়। এতে অন্তর প্রশান্ত হয় এবং মানুষ এই অযৌক্তিক ব্যাখ্যা ও কৃত্রিমতা থেকে মুক্তি পায় যে— "এটি হলো ওটির একটি বহিঃপ্রকাশ মাত্র"। যদি প্রশ্ন করা হয়: ক্বারী যা পাঠ করছেন তা কি হুবহু আল্লাহর পাঠ এবং হুবহু তাঁরই কথা বলা?

(খণ্ড: ১) আন-নসীহাহ ফী সিফাতিল রাব্বি জাল্লা ওয়া আলা (পৃষ্ঠা: ২৮)
قُلْنَا لَا بل القارىء يُؤَدِّي كَلَام الله وَالْكَلَام إِنَّمَا ينْسب إِلَى من قَالَه مبتدئا لَا إِلَى من قَالَه مُؤديا مبلغا وَلَفظ القارىء فِي غير الْقُرْآن مَخْلُوق وَفِي الْقُرْآن لَا يتَمَيَّز اللَّفْظ الْمُؤَدى عَن الْكَلَام الْمُؤَدى عَنهُ وَلِهَذَا منع السّلف عَن قَول لَفْظِي بِالْقُرْآنِ مَخْلُوق لِأَنَّهُ لَا يتَمَيَّز كَمَا منعُوا عَن قَول لَفْظِي بِالْقُرْآنِ غير مَخْلُوق فَإِن لفظ العَبْد فِي غير التِّلَاوَة مَخْلُوق وَفِي التِّلَاوَة مسكوت عَنهُ كَيْلا يُؤَدِّي الْكَلَام فِي ذَلِك إِلَى القَوْل بِخلق الْقُرْآن وَمَا أَمر السّلف بِالسُّكُوتِ عَنهُ يجب السُّكُوت عَنهُ وَالله الْمُوفق والمعين

فصل العَبْد إِذا أَيقَن أَن الله تَعَالَى فَوق السَّمَاء عَال على عَرْشه بِلَا حصر وَلَا كَيْفيَّة وانه الْآن فِي صِفَاته كَمَا كَانَ فِي قدمه كَانَ لِقَلْبِهِ قبْلَة فِي صلَاته وتوجهه ودعائه وَمن لَا يعرف ربه بِأَنَّهُ فَوق السَّمَاء على عَرْشه فَإِنَّهُ يبْقى ضائعا لَا يعرف وجهة معبوده لَكِن رُبمَا عرفه بسمعه وبصره وَقدمه وَتلك بِلَا هَذَا معرفَة نَاقِصَة بِخِلَاف من عرف أَن الهه الَّذِي يعبده فَوق الْأَشْيَاء فَإِذا دخل فِي الصَّلَاة وَكبر توجه قلبه والى جِهَة الْعَرْش منزها لَهُ تَعَالَى مُفردا لَهُ كَمَا افرده فِي قدمه وازليته عَالما أَن هَذِه الْجِهَات من حدودنا ولوازمنا وَلَا يمكننا الاشارة إِلَى رَبنَا فِي قدمه وازليته إِلَّا بهَا لأَنا محدثون والمحدث لَا بُد لَهُ فِي اشارته إِلَى جِهَة فَتَقَع تِلْكَ الْإِشَارَة إِلَى ربه كَمَا يَلِيق بعظمته لَا كَمَا يتوهمه هُوَ من نَفسه ويعتقد أَنه فِي علوه قريب من خلقه وَهُوَ مَعَهم بِعِلْمِهِ وسَمعه وبصره واحاطته وَقدرته ومشيئته وذاته فَوق الاشياء فَوق
আমরা বলেছি, না; বরং পাঠক আল্লাহর কালাম আদায় করছে। আর কালামের সম্বন্ধ মূলত তাঁর দিকেই করা হয় যিনি প্রারম্ভিকভাবে তা বলেছেন, তাঁর দিকে নয় যিনি তা কেবল আদায়কারী ও পৌঁছেদানকারী হিসেবে পাঠ করেছেন। কুরআন ব্যতীত অন্য ক্ষেত্রে পাঠকের উচ্চারণ সৃষ্টি, কিন্তু কুরআনের ক্ষেত্রে আদায়কৃত উচ্চারণ ও যে কালাম আদায় করা হচ্ছে তার মধ্যে পার্থক্য করা যায় না। একারণেই সালাফগণ 'কুরআন নিয়ে আমার উচ্চারণ সৃষ্টি'—একথা বলতে নিষেধ করেছেন, যেহেতু একে পৃথক করা যায় না। তেমনিভাবে তাঁরা 'কুরআন নিয়ে আমার উচ্চারণ সৃষ্টি নয়'—একথা বলতেও বারণ করেছেন। কেননা তিলাওয়াত ব্যতীত বান্দার উচ্চারণ সৃষ্টি, তবে তিলাওয়াতের সময় এ বিষয়ে নীরবতা অবলম্বন করা হয়েছে যাতে এই আলোচনা কুরআন সৃষ্টির মতবাদের দিকে নিয়ে না যায়। আর সালাফগণ যে বিষয়ে নীরব থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন, সে বিষয়ে নীরব থাকা ওয়াজিব। আল্লাহই তাওফিকদাতা ও সাহায্যকারী।

পরিচ্ছেদ: বান্দা যখন দৃঢ় বিশ্বাস করে যে, আল্লাহ তাআলা আকাশের উপরে তাঁর আরশের ওপর উঠেছেন—কোনো সীমাবদ্ধতা বা ধরন ব্যতিরেকে; এবং তিনি বর্তমানে তাঁর গুণাবলীতে তেমনই আছেন যেমন তিনি তাঁর অনাদিত্বে ছিলেন, তখন সালাত, মনোযোগ ও দোয়ার সময় তার অন্তরের জন্য একটি কিবলা (দিক) থাকে। আর যে ব্যক্তি তার রবকে এভাবে চেনে না যে তিনি আকাশের উপরে তাঁর আরশের ওপর উঠেছেন, সে বিভ্রান্ত অবস্থায় থাকে এবং তার মাবুদের অভিমুখ চেনে না। তবে হয়তো সে তাঁকে তাঁর শ্রবণ, দর্শন ও আল্লাহর পা এর মাধ্যমে চেনে; কিন্তু এটি ছাড়া ঐ পরিচয় অসম্পূর্ণ। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি জানে যে তার ইলাহ—যার সে ইবাদত করে—সকল কিছুর উপরে, তার বিষয়টি ভিন্ন। সে যখন সালাতে প্রবেশ করে এবং তাকবীর দেয়, তখন তার অন্তর আরশের দিকের অভিমুখে নিবিষ্ট হয়; আল্লাহ তাআলাকে পবিত্র জ্ঞান করে এবং তাঁকে একক মেনে নিয়ে, যেভাবে তিনি তাঁর অনাদিত্ব ও অনন্ত সত্তায় একক ছিলেন। সে জানে যে এই দিকসমূহ আমাদের সীমাবদ্ধতা ও আমাদের জন্য আবশ্যকীয় বিষয়, আর আমাদের অনাদি ও অনন্ত রবকে ইশারা করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয় এই দিকসমূহ ব্যতীত। কারণ আমরা সৃষ্টি, আর সৃষ্টির জন্য ইশারা করার ক্ষেত্রে দিকের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য। ফলে তার রবের প্রতি সেই ইশারাটি তাঁর মহিমার উপযোগী হয়েই নিপতিত হয়, বান্দা নিজের পক্ষ থেকে যেমনটি কল্পনা করে তেমন নয়। সে বিশ্বাস করে যে, তিনি তাঁর সুউচ্চ অবস্থানে থেকেও তাঁর সৃষ্টির অতি নিকটবর্তী। তিনি তাঁর জ্ঞান, শ্রবণ, দর্শন, পরিবেষ্টন, ক্ষমতা ও ইচ্ছার মাধ্যমে তাদের সাথে আছেন, আর তাঁর সত্তা সকল বস্তুর উপরে, উপরে।
(খণ্ড: ১) আন-নসীহাহ ফী সিফাতিল রাব্বি জাল্লা ওয়া আলা (পৃষ্ঠা: ২৯)
الْعَرْش وَمَتى شعر قلبه بذلك فِي الصَّلَاة أشرق قلبه واسنار وأضاء بأنوار الْمعرفَة الْإِيمَان وعكفت أشعة العظمة على قلبه وروحه وَنَفسه فانشرح لذَلِك صَدره وَقَوي إيمَانه ونزه ربه عَن صِفَات خلقه من الْحصْر والحلول وذاق حِينَئِذٍ شَيْئا من أذواق السَّابِقين المقربين بِخِلَاف من لَا يعرف وجهة معبوده وَتَكون الْجَارِيَة راعية الْغنم اعْلَم بِاللَّه مِنْهُ فَإِنَّهَا قَالَت فِي السَّمَاء عَرفته بِأَنَّهُ فِي السَّمَاء لما قَالَ لَهَا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَا جَارِيَة ايْنَ الله قَالَت فِي السَّمَاء واقرها على ذَلِك فَإِن فِي تَأتي بِمَعْنى على كَقَوْلِه {يتيهون فِي الأَرْض} أَي على الارض وَكَقَوْلِه {ولأصلبنكم فِي جُذُوع النّخل} أَي على جُذُوع النّخل فَمن تكون الْجَارِيَة أعلم بِاللَّه مِنْهُ لكَونه لَا يعرف وجهة معبوده فَإِنَّهُ لَا يزَال مظلم الْقلب لَا يَسْتَنِير بأنواع الْمعرفَة وَالْإِيمَان وَمن أنكر هَذَا القَوْل فليؤمن بِهِ وليجرب ولينظر إِلَى مَوْلَاهُ من فَوق عَرْشه بِقَلْبِه مبصرا من وَجه اعمى من وَجه كَمَا سبق مبصرا من جِهَة الاثبات والوجود وَالتَّحْقِيق اعمى من جِهَة الْحصْر والتحديد والتكييف فَإِنَّهُ إِذا علم ذَلِك وجد ثَمَرَته إِن شَاءَ الله تَعَالَى وَوجد بركته ونوره عَاجلا وآجلا وَلَا ينبئك مثل خَبِير وَالله الْمُوفق والمعين

আরশ। সালাতের মধ্যে যখনই তার অন্তর তা অনুভব করে, তার অন্তর ঈমানি মারেফাতের আলোয় উদ্ভাসিত ও আলোকিত হয়ে ওঠে। তার অন্তর, রূহ এবং নফসের ওপর মহান আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্বের জ্যোতি বিচ্ছুরিত হয়, যার ফলে তার বক্ষ উন্মুক্ত হয় এবং ঈমান শক্তিশালী হয়। সে তার প্রতিপালককে সৃষ্টির বৈশিষ্ট্যসমূহ—যেমন সীমাবদ্ধতা এবং কোনো কিছুর মধ্যে প্রবেশ বা বিলীন হওয়া (হুলুল)—থেকে পবিত্র ঘোষণা করে। সেই মুহূর্তে সে অগ্রবর্তী নৈকট্যপ্রাপ্ত বান্দাদের স্বাদের কিয়দাংশ আস্বাদন করে। সেই ব্যক্তির অবস্থা এর বিপরীত, যে তার মাবুদের দিক বা অবস্থান সম্পর্কে অবগত নয়; অথচ একজন মেষপালক দাসীও তার চেয়ে আল্লাহ সম্পর্কে অধিক জ্ঞানী। কারণ যখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, "হে দাসী, আল্লাহ কোথায়?" তখন সে উত্তর দিয়েছিল, "আসমানে।" তিনি তার এই উত্তরকে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। এখানে ‘ফী’ (মধ্যে) শব্দটি ‘আলা’ (উপরে) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে রয়েছে: "তারা জমিনে পরিভ্রমণ করবে," অর্থাৎ জমিনের ওপর। এবং তাঁর বাণী: "আমি অবশ্যই তোমাদের খেজুর গাছের কাণ্ডে শূলে চড়াবো," অর্থাৎ খেজুর গাছের কাণ্ডের ওপর। সুতরাং যার চেয়ে একজন সাধারণ দাসীও আল্লাহ সম্পর্কে অধিক জ্ঞানী—কেননা সে তার মাবুদের অবস্থান জানে না—তার অন্তর সর্বদা অন্ধকারাচ্ছন্ন থাকে এবং বিভিন্ন প্রকার মারেফাত ও ঈমানের দ্বারা তা আলোকিত হয় না। যে ব্যক্তি এই বক্তব্য অস্বীকার করে, তার উচিত এর ওপর ঈমান আনা এবং এটি পরীক্ষা করে দেখা। সে যেন তার অন্তরের মাধ্যমে তার আরশের ওপর অবস্থিত মাওলার দিকে দৃষ্টিপাত করে, যা একদিক থেকে চাক্ষুষ দেখা এবং অন্যদিক থেকে অন্ধ থাকা, যেমনটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ গুণাবলির সাব্যস্তকরণ, অস্তিত্ব ও হাকীকত বা প্রকৃতত্বের দিক থেকে সে প্রত্যক্ষকারী, আর সীমাবদ্ধতা, পরিবেষ্টন এবং ধরণ (কাইফিয়াত) অনুসন্ধানের দিক থেকে সে অন্ধ। যদি সে এটি জানতে পারে, তবে ইনশাআল্লাহ সে এর সুফল লাভ করবে এবং ইহকাল ও পরকালে এর বরকত ও নূর প্রত্যক্ষ করবে। কোনো অভিজ্ঞ সত্তার ন্যায় অন্য কেউ তোমাকে প্রকৃত সংবাদ দিতে পারবে না। আল্লাহই তাওফীকদাতা ও সাহায্যকারী।

(খণ্ড: ১) আন-নসীহাহ ফী সিফাতিল রাব্বি জাল্লা ওয়া আলা (পৃষ্ঠা: ৩০)
فصل وَقد تقرر فِي الْقُرْآن الْمجِيد ذكر الْفَوْقِيَّة كَقَوْلِه يخَافُونَ رَبهم من فَوْقهم {إِلَيْهِ يصعد الْكَلم الطّيب} {وَهُوَ القاهر فَوق عباده} لِأَن فوقيته سبحانه وتعالى وعلوه على كل شَيْء ذاتي لَهُ فَهُوَ الْعلي بِالذَّاتِ والعلو صفته اللائقة بِهِ كَمَا أَن السفول والانحطاط ذاتي للأكوان عَن رُتْبَة ربوبيته وعظمته وعلوه والعلو والسفل حد بَين الْخَالِق والمخلوق يتَمَيَّز بِهِ عَنهُ وَهُوَ سُبْحَانَهُ على بِالذَّاتِ كَمَا كَانَ قبل خلق الأكوان وَمَا سواهُ متسفل بِالذَّاتِ وَهُوَ سُبْحَانَهُ الْعلي على عَرْشه يدبر الْأَمر من السَّمَاء إِلَى الأَرْض ثمَّ يعرج إِلَيْهِ فيحيي هَذَا وَيُمِيت هَذَا ويمرض هَذَا ويشفي هَذَا ويعز هَذَا ويذل هَذَا وَهُوَ الْحَيّ القيوم الْقَائِم بِنَفسِهِ وكل شَيْء قَائِم بِهِ فرحم الله عبدا وصلت إِلَيْهِ هَذِه الرسَالَة وَلم يعالجها بالانكار وافتقر إِلَى ربه فِي كشف الْحق آنَاء اللَّيْل وأطراف النَّهَار وَتَأمل النُّصُوص فِي الصِّفَات وفكر بعقله فِي نُزُولهَا وَفِي الْمَعْنى الَّذِي نزلت لَهُ وَمَا الَّذِي أُرِيد بعلمها من الْمَخْلُوقَات وَمن فتح الله قلبه عرف أَنه لَيْسَ المُرَاد إِلَّا معرفَة الرب بهَا والتوجه اليه مِنْهَا واثباته لَهُ بحقائقها وأعيانها كَمَا يَلِيق بجلاله وعظمته بِلَا تَأْوِيل وَلَا تعطل وَلَا تكييف وَلَا تَمْثِيل وَلَا جمود وَلَا وقُوف وَفِي ذَلِك بَلَاغ لمن اعْتبر وكفاية لمن استبصر

 

‌‌تمت الرسَالَة
পরিচ্ছেদ: পবিত্র কুরআনে 'উপরে হওয়া'র বিষয়টি সাব্যস্ত হয়েছে। যেমন তাঁর বাণী: "তারা তাদের প্রতিপালককে ভয় করে যিনি তাদের উপরে আছেন।" "পবিত্র বাক্যসমূহ তাঁর দিকেই আরোহণ করে।" "আর তিনি তাঁর বান্দাদের উপরে পরাক্রমশালী।" কারণ সুবহানাহু ওয়া তাআলার উপরিভাগে হওয়া এবং সবকিছুর উপরে উচ্চ হওয়া তাঁর সত্তাগত বৈশিষ্ট্য। তিনি স্বয়ং সত্তাগতভাবেই সুউচ্চ এবং উচ্চতা তাঁর সত্তার উপযুক্ত একটি গুণ। যেমনভাবে সৃষ্টিজগতের জন্য তাঁর প্রভুত্ব, মহিমা এবং উচ্চতার তুলনায় নিম্নমুখিতা ও অবনতি সত্তাগত বিষয়। আর উচ্চতা এবং নিম্নতা হলো স্রষ্টা ও সৃষ্টির মধ্যবর্তী একটি সীমা, যার মাধ্যমে তিনি সৃষ্টি থেকে পৃথক হন। আর তিনি সুবহানাহু সৃষ্টিজগত সৃষ্টির পূর্বে যেমন ছিলেন তেমনই সত্তাগতভাবে সুউচ্চ, এবং তিনি ছাড়া অন্য সবকিছুই সত্তাগতভাবে নিম্নগামী। তিনি সুবহানাহু তাঁর আরশের উপরে উচ্চ। তিনি আসমান থেকে জমিন পর্যন্ত সকল কার্য পরিচালনা করেন, এরপর তা তাঁর কাছেই আরোহণ করে। তিনি একে জীবন দান করেন, ওকে মৃত্যু দান করেন; একে অসুস্থ করেন, ওকে আরোগ্য দান করেন; একে সম্মানিত করেন এবং ওকে লাঞ্ছিত করেন। তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক, যিনি স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং প্রতিটি বস্তু তাঁর মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠিত। সুতরাং আল্লাহ সেই বান্দার ওপর দয়া করুন যার কাছে এই পত্রটি পৌঁছেছে এবং সে একে অস্বীকারের মাধ্যমে মোকাবেলা করেনি, বরং রাতের প্রহরে এবং দিনের প্রান্তে সত্য উন্মোচনের জন্য তাঁর প্রতিপালকের মুখাপেক্ষী হয়েছে। আর সে গুণাবলী সম্পর্কিত দলীলসমূহ নিয়ে গভীর চিন্তা করেছে এবং তা অবতীর্ণ হওয়া ও যে অর্থের জন্য তা অবতীর্ণ হয়েছে সে সম্পর্কে নিজের বুদ্ধি খাটিয়ে ভেবেছে, এবং মাখলুকাতের জন্য এর জ্ঞানের দ্বারা কী উদ্দেশ্য তা নিয়ে চিন্তা করেছে। যার অন্তর আল্লাহ খুলে দিয়েছেন সে চিনে নিয়েছে যে, এগুলোর মাধ্যমে কেবল রবকে চেনা, এগুলোর মাধ্যমে তাঁর দিকে ধাবিত হওয়া এবং তাঁর মর্যাদা ও মহিমার উপযোগী করে এগুলোর প্রকৃত ও মূল অর্থেই তাঁর জন্য তা সাব্যস্ত করাই একমাত্র উদ্দেশ্য; কোনো প্রকার অপব্যাখ্যা, অস্বীকার, ধরন নির্ধারণ, সাদৃশ্য প্রদান, জড়তা কিংবা থমকে যাওয়া ছাড়াই। আর এর মধ্যেই উপদেশ গ্রহণকারীর জন্য রয়েছে বার্তা এবং অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তির জন্য পর্যাপ্ত পাথেয়।

 

‌‌রিসালাত সমাপ্ত হলো