(খণ্ড: ১)
শারহুস সুদূর বিশারহি হালিল মাওতা ওয়াল কুবূর
(পৃষ্ঠা: -)
شرح الصدور بشرح حال الموتى والقبور (الجلال السيوطي)
القسم: العقيدة
الكتاب: شرح الصدور بشرح حال الموتى والقبور
المؤلف: عبد الرحمن بن أبي بكر، جلال الدين السيوطي (ت 911هـ)
المحقق: عبد المجيد طعمة حلبي
الناشر: دار المعرفة - لبنان
الطبعة: الأولى، 1417هـ - 1996م
عدد الصفحات: 319
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
মৃত ও কবরের অবস্থার বর্ণনায় বক্ষসমূহ প্রশান্তকরণ (আল-জালাল আস-সুয়ূতী)
বিভাগ: আকীদা
গ্রন্থ: মৃত ও কবরের অবস্থার বর্ণনায় বক্ষসমূহ প্রশান্তকরণ
লেখক: আবদুর রহমান ইবনে আবি বকর, জালালুদ্দীন আস-সুয়ূতী (মৃত্যু ৯১১ হিজরী)
সম্পাদক: আব্দুল মাজিদ তুহমাহ হালাবী
প্রকাশক: দারুল মারিফাহ - লেবানন
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৭ হিজরী - ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩১৯
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুদূর বিশারহি হালিল মাওতা ওয়াল কুবূর
(পৃষ্ঠা: ১১)
بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم رب أَنْعَمت فزد مُقَدّمَة الْمُؤلف الْحَمد لله الَّذِي أيقظ من شَاءَ من سنة الْغَفْلَة وَرفع من أحب لقاءه إِلَى عليين وَوضع عَنهُ أوزاره وَثقله وَأشْهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله وَحده لَا شريك لَهُ شَهَادَة عَلَيْهَا من رِدَاء الْإِخْلَاص حلَّة وَأشْهد أَن مُحَمَّدًا عَبده وَرَسُوله الْمَبْعُوث بأشرف مِلَّة الْمَخْصُوص بأكرم خلة صلى الله عليه وسلم وعَلى آله وَأَصْحَابه السَّادة الأجلةهَذَا مَا اشْتَدَّ تشوف النُّفُوس إِلَيْهِ من كتاب شاف فِي علم البرزخ أذكر فِيهِ الْمَوْت وفضله وكيفيته وَصفَة ملك الْمَوْت وأعوانه وَمَا يرد على الْمَيِّت عِنْد الإحتضار وَحَال الرّوح بعد مُفَارقَة الْبدن وصعودها إِلَى الله تَعَالَى وإجتماعها بالأرواح ومقرها بعد ذَلِك وَحَال الْقَبْر وضمته وفتنته وعذابه وسعته وضيقه وَمَا ينفع فِيهِ مستوعبا شرح كل ذَلِك من حِين يبْدَأ فِي مرض الْمَوْت إِلَى أَن ينْفخ فِي الصُّور نَاقِلا لَهُ من الْأَحَادِيث المرفوعة والْآثَار الْمَوْقُوفَة والمقطوعة متتبعا لذَلِك من كتب الحَدِيث مُعْتَمدًا كَلَام أَئِمَّة الحَدِيث فِي ذَلِك محررا مَا وَقع من ذَلِك فِي تذكرة الْقُرْطُبِيّ بالتنقيح والتخريج مَعَ زَوَائِد جمة لم تقع فِي كِتَابه وسميته شرح الصُّدُور بشرح حَال الْمَوْتَى والقبور وَأَرْجُو إِن كَانَ فِي الْأَجَل فسحة أَن أضم إِلَيْهِ كتابا إِن شَاءَ الله تَعَالَى فِي أَشْرَاط السَّاعَة وَآخر فِي أَحْوَال الْبَعْث وَالْقِيَامَة وَصفَة الْجنَّة وَالنَّار على وَجه الإستيعاب أَيْضا حقق الله ذَلِك بمنه وَكَرمه آمينأخرج أَبُو نعيم عَن مُجَاهِد فِي قَوْله تَعَالَى {وَمن ورائهم برزخ إِلَى يَوْم يبعثون} قَالَ مَا بَين الْمَوْت إِلَى الْبَعْث
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। হে প্রতিপালক! আপনি অনুগ্রহ করেছেন, অতএব তা আরও বাড়িয়ে দিন। লেখকের ভূমিকা সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি যাকে চেয়েছেন তাকে গাফেলতির তন্দ্রা থেকে জাগ্রত করেছেন এবং যারা তাঁর সাক্ষাৎ পছন্দ করে তাদেরকে ইল্লিয়্যিনে উন্নীত করেছেন এবং তাদের ভার ও বোঝা নামিয়ে দিয়েছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরিক নেই—এমন এক সাক্ষ্য যার ওপর ইখলাসের চাদরের ভূষণ রয়েছে। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল, যাকে সর্বশ্রেষ্ঠ দ্বীন দিয়ে পাঠানো হয়েছে এবং যাকে সর্বাধিক সম্মানিত বন্ধুত্বের জন্য বিশিষ্ট করা হয়েছে। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও অতিশয় সম্মানিত মহান সাথীদের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।এটি এমন একটি বিষয় যার প্রতি মানুষের প্রাণ তীব্র আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে; বারযাখের জ্ঞান সম্পর্কিত একটি পর্যাপ্ত কিতাব। এতে আমি মৃত্যু, এর ফযীলত, এর ধরন, মালাকুল মাউত ও তাঁর সাহায্যকারীদের বৈশিষ্ট্য এবং মৃত্যুযন্ত্রণার সময় মৃত ব্যক্তির ওপর যা আপতিত হয়—তা উল্লেখ করব। এতে আরও থাকবে দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর রূহের অবস্থা, আল্লাহ তাআলার দিকে এর উড্ডয়ন, অন্যান্য রূহের সাথে এর মিলন ও এরপর এর অবস্থানস্থল। কবরের অবস্থা, এর চাপ, এর ফিতনা (পরীক্ষা), এর আযাব, এর প্রশস্ততা ও সংকীর্ণতা এবং এতে যা উপকারী হবে—সে বিষয়গুলোও আলোচনা করব। মৃত্যুর অসুস্থতা শুরু হওয়া থেকে নিয়ে সিঙ্গায় ফুঁ দেওয়া পর্যন্ত পুরো সময়কাল বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করে এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই সংকলনে আমি মারফূ হাদীস এবং মাওকৃষ্ণ ও মাকতূ আছারসমূহ বর্ণনা করেছি; হাদীসের কিতাবসমূহ থেকে তা অনুসন্ধান করেছি এবং এ বিষয়ে হাদীস বিশারদ ইমামগণের বক্তব্যের ওপর নির্ভর করেছি। ইমাম কুরতুবীর 'তাযকিরা' গ্রন্থে এ বিষয়ে যা এসেছে, তা পরিমার্জন ও তাহরীজ (সূত্র নির্দেশ) সহকারে এখানে বিন্যস্ত করেছি এবং এমন অনেক অতিরিক্ত বিষয় যোগ করেছি যা তাঁর কিতাবে নেই। আমি এর নামকরণ করেছি ‘শারহুস সুদূর বিশরহি হালিল মাওতা ওয়াল কুবূর’ (মৃত ও কবরের অবস্থা বর্ণনায় অন্তরের প্রশান্তি)। আমি আশা করি, যদি আয়ুর ফুরসত পাই তবে এর সাথে ইনশাআল্লাহ কিয়ামতের আলামতসমূহ নিয়ে একটি কিতাব এবং পুনরুত্থান ও কিয়ামতের অবস্থা এবং জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা সম্বলিত অন্য একটি কিতাবও বিস্তারিতভাবে যুক্ত করব। আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহ ও দয়ায় এটি পূর্ণ করার তাওফীক দান করুন। আমীন।আবু নুআইম মুজাহিদ থেকে মহান আল্লাহর বাণী—{এবং তাদের পেছনে এক বারযাখ (আড়াল) রয়েছে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত}—এর ব্যাখ্যায় বর্ণনা করেন যে, তিনি (মুজাহিদ) বলেছেন: “তা হলো মৃত্যু থেকে পুনরুত্থান পর্যন্ত সময়কাল।”
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুদূর বিশারহি হালিল মাওতা ওয়াল কুবূর
(পৃষ্ঠা: ১২)
1 - بَاب بَدْء الْمَوْت 1 - قَالَ إِبْنِ أبي شيبَة فِي المُصَنّف وَالْإِمَام أَحْمد فِي الزّهْد مَعًا حَدثنَا عَفَّان حَدثنَا حَمَّاد بن سَلمَة عَن حبيب بن الشَّهِيد عَن الْحسن قَالَ لما خلق الله تَعَالَى آدم وَذريته قَالَت الْمَلَائِكَة إِن الأَرْض لَا تسعهم فَقَالَ إِنِّي جَاعل موتا قَالُوا إِذا لَا يهنأ لَهُم الْعَيْش قَالَ إِنِّي جَاعل أملا2 - وَأخرج أَبُو نعيم فِي الْحِلْية عَن مُجَاهِد قَالَ لما أهبط آدم عليه الصلاة والسلام إِلَى الأَرْض قَالَ لَهُ ربه ابْن للخراب ولد للفناء2 - بَاب النَّهْي عَن تمني الْمَوْت وَالدُّعَاء بِهِ لضر ينزل بِهِ فِي المَال والجسد 1 - أخرج الشَّيْخَانِ عَن أنس قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لَا يتمنين أحدكُم الْمَوْت لضر نزل بِهِ فَإِن كَانَ لَا بُد متمنيا فَلْيقل اللَّهُمَّ أحيني مَا كَانَت الْحَيَاة خيرا لي وتوفني إِذا كَانَت الْوَفَاة خيرا لي2 - وَأخرج مُسلم عَن أبي هُرَيْرَة قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لَا يتمنين أحدكُم الْمَوْت وَلَا يدع بِهِ من قبل أَن يَأْتِيهِ إِنَّه إِذا مَاتَ أحدكُم إنقطع عمله وَإنَّهُ لَا يزِيد الْمُؤمن من عمره إِلَّا خيرا3 - وَأخرج البُخَارِيّ وَالنَّسَائِيّ عَن أبي هُرَيْرَة قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لَا يتمنين أحدكُم الْمَوْت إِمَّا محسنا فَلَعَلَّهُ أَن يزْدَاد وَإِمَّا مسيئا فَلَعَلَّهُ أَن يستعتب
১ - মৃত্যুর সূচনা অধ্যায় ১ - ইবনু আবি শাইবা 'আল-মুসান্নাফ' গ্রন্থে এবং ইমাম আহমাদ 'আয-যুহদ' গ্রন্থে একত্রে বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আফফান বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট হাম্মাদ বিন সালামাহ বর্ণনা করেছেন হাবীব বিন আশ-শাহীদ থেকে, তিনি হাসান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যখন আল্লাহ তাআলা আদম ও তাঁর বংশধরদের সৃষ্টি করলেন, তখন ফেরেশতারা বললেন, "নিশ্চয় পৃথিবী তাঁদের সংকুলান করতে পারবে না।" তখন তিনি বললেন, "আমি মৃত্যু সৃষ্টি করব।" তাঁরা বললেন, "তাহলে তো তাঁদের জীবন আনন্দময় হবে না।" তিনি বললেন, "আমি দীর্ঘ আশা সৃষ্টি করব।"২ - এবং আবু নুআইম 'আল-হিলইয়া' গ্রন্থে মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যখন আদম আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামকে পৃথিবীতে অবতরণ করানো হলো, তখন তাঁর রব তাঁকে বললেন, "ধ্বংসের জন্য নির্মাণ করো এবং বিলুপ্তির জন্য জন্ম দাও।"২ - সম্পদ ও শরীরে কোনো বিপদ আপতিত হওয়ার কারণে মৃত্যু কামনা করা এবং মৃত্যুর জন্য দোয়া করা নিষিদ্ধ হওয়া সম্পর্কিত অধ্যায় ১ - শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম) আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমাদের কেউ যেন তার ওপর আপতিত কোনো বিপদের কারণে মৃত্যু কামনা না করে। যদি তাকে মৃত্যু কামনা করতেই হয়, তবে সে যেন বলে: হে আল্লাহ! আমাকে জীবিত রাখুন যতক্ষণ পর্যন্ত জীবন আমার জন্য কল্যাণকর হয়, আর আমাকে মৃত্যু দান করুন যখন মৃত্যু আমার জন্য কল্যাণকর হয়।"২ - এবং মুসলিম আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমাদের কেউ যেন মৃত্যু কামনা না করে এবং মৃত্যু আসার আগে তার জন্য দোয়া না করে। কেননা তোমাদের কেউ যখন মারা যায়, তখন তার আমল বন্ধ হয়ে যায়। আর মুমিনের দীর্ঘায়ু কেবল তার কল্যাণই বৃদ্ধি করে।"৩ - এবং বুখারি ও নাসাঈ আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমাদের কেউ যেন মৃত্যু কামনা না করে; কেননা সে যদি সৎকর্মশীল হয়, তবে সম্ভবত সে তার নেক আমল বৃদ্ধি করবে। আর যদি সে পাপাচারী হয়, তবে সম্ভবত সে তওবা করে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের সুযোগ পাবে।"
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুদূর বিশারহি হালিল মাওতা ওয়াল কুবূর
(পৃষ্ঠা: ১৩)
قَالَ فِي الصِّحَاح أعتبني فلَان إِذا عَاد إِلَى مسرتي رَاجعا عَن الْإِسَاءَة واستعتب وأعتب بِمَعْنى4 - وَأخرج أَحْمد وَالْبَزَّار وَأَبُو يعلى وَالْحَاكِم وَالْبَيْهَقِيّ فِي شعب الْإِيمَان عَن جَابر بن عبد الله قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لَا تمنوا الْمَوْت فَإِن هول المطلع شَدِيد وَإِن من السَّعَادَة أَن يطول عمر الْمَرْء حَتَّى يرزقه الله الْإِنَابَةقَالَ فِي النِّهَايَة المطلع بِالتَّشْدِيدِ مَكَان الإطلاع من مَوضِع عَال وَالْمرَاد بِهِ هَا هُنَا مَا يشرف عَلَيْهِ من أَمر الْآخِرَة عقيب الْمَوْت تَشْبِيها بالمطلع الَّذِي يشرف عَلَيْهِ من مَوضِع عَال5 - وَأخرج الشَّيْخَانِ عَن أنس قَالَ لَوْلَا أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم نَهَانَا أَن نتمنى الْمَوْت لتمنيناه6 - وَأخرج البُخَارِيّ عَن قيس بن أبي حَازِم قَالَ دَخَلنَا على خباب نعوده وَقد إكتوى سبع كيات فَقَالَ لَوْلَا أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم نَهَانَا أَن نَدْعُو بِالْمَوْتِ لَدَعَوْت بِهِ7 - وَأخرج الْمروزِي عَن الْقَاسِم مولى مُعَاوِيَة أَن سعد بن أبي وَقاص تمنى الْمَوْت وَرَسُول الله صلى الله عليه وسلم يسمع فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لَا تتمن الْمَوْت فَإِن كنت من أهل الْجنَّة فالبقاء خير لَك وَإِن كنت من أهل النَّار فَمَا يعجلك إِلَيْهَا8 - وَأخرج الْخَطِيب فِي تَارِيخه عَن إِبْنِ عَبَّاس قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لَا يتمن أحدكُم الْمَوْت فَإِنَّهُ لَا يدْرِي مَاذَا قدم لنَفسِهِ9 - وَأخرج أَحْمد وَأَبُو يعلى وَالطَّبَرَانِيّ وَالْحَاكِم عَن أم الْفضل أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم دخل عَلَيْهِم وَعَمه الْعَبَّاس يشتكي فتمنى الْمَوْت فَقَالَ لَهُ يَا عَم لَا تتمن الْمَوْت فَإنَّك إِن كنت محسنا فَإِن تُؤخر وتزداد إحسانا إِلَى إحسانك خير لَك وَإِن كنت مسيئا فَإِن توخر وتستعتب من إساتك خير لَك فَلَا تتمنين الْمَوْت10 - وَأخرج أَحْمد عَن أبي هُرَيْرَة عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ لَا يتمنين أحدكُم الْمَوْت من قبل أَن يَأْتِيهِ وَلَا يدع بِهِ إِلَّا أَن يكون قد وثق بِعَمَلِهِ
'আস-সিহাহ' গ্রন্থে বলা হয়েছে, অমুক ব্যক্তি আমাকে সন্তুষ্ট করেছে যখন সে মন্দ কাজ থেকে ফিরে এসে আমার খুশির দিকে ফিরে আসে। 'ইস্তাতাবা' এবং 'আতাবা' একই অর্থ প্রকাশ করে।৪ - আহমদ, বাজজার, আবু ইয়ালা, হাকীম এবং বাইহাকী 'শুআবুল ঈমান' গ্রন্থে জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: তোমরা মৃত্যু কামনা করো না, কারণ মরণোত্তর পরিস্থিতির ভয়াবহতা অত্যন্ত কঠিন। মানুষের সৌভাগ্যের অন্তর্ভুক্ত হলো তার হায়াত দীর্ঘ হওয়া, যাতে আল্লাহ তাকে তাঁর দিকে ফিরে আসার (তাওবা করার) তাওফীক দান করেন।'আন-নিহায়াহ' গ্রন্থে বলা হয়েছে, 'আল-মুত্তালা' (তাশদীদসহ) বলতে উচ্চ স্থান থেকে দেখার জায়গাকে বোঝায়। এখানে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো মৃত্যুর পর পরকালের যে বিষয়গুলো সামনে আসে, যা উচ্চ স্থান থেকে কোনো কিছু অবলোকন করার সাথে তুলনা করা হয়েছে।৫ - শাইখাইন (বুখারী ও মুসলিম) আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যদি আমাদের মৃত্যু কামনা করতে নিষেধ না করতেন, তবে আমরা অবশ্যই তা কামনা করতাম।৬ - বুখারী কায়েস ইবনে আবু হাযিম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমরা খাব্বাবকে অসুস্থ অবস্থায় দেখতে গেলাম, তখন তার শরীরে সাতটি দাগ (দাগ দেওয়ার চিকিৎসা) দেওয়া হয়েছিল। তিনি বললেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যদি আমাদের মৃত্যুর জন্য দোয়া করতে নিষেধ না করতেন, তবে আমি অবশ্যই এর জন্য দোয়া করতাম।৭ - মারওয়াযী মুয়াবিয়ার মুক্ত দাস কাসিম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, সা'দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস মৃত্যু কামনা করছিলেন এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা শুনছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, মৃত্যু কামনা করো না। কারণ তুমি যদি জান্নাতী হও, তবে বেঁচে থাকা তোমার জন্য কল্যাণকর। আর যদি তুমি জাহান্নামী হও, তবে কেন সেদিকে ত্বরান্বিত হচ্ছ?৮ - খতীব তাঁর 'তারীখ' গ্রন্থে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: তোমাদের কেউ যেন মৃত্যু কামনা না করে, কারণ সে জানে না যে সে নিজের জন্য কী অগ্রিম পাঠিয়েছে।৯ - আহমদ, আবু ইয়ালা, তাবারানী এবং হাকীম উম্মুল ফজল থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের কাছে প্রবেশ করলেন এমতাবস্থায় যে তাঁর চাচা আব্বাস অসুস্থতায় কষ্ট পাচ্ছিলেন এবং মৃত্যু কামনা করছিলেন। তিনি তাকে বললেন, হে চাচা! মৃত্যু কামনা করবেন না। কারণ আপনি যদি নেককার হন, তবে আপনার মৃত্যু বিলম্বিত হওয়া এবং আপনার সৎকাজের সাথে আরও সৎকাজ বৃদ্ধি পাওয়া আপনার জন্য উত্তম। আর যদি আপনি গুনাহগার হন, তবে মৃত্যু বিলম্বিত হওয়া এবং আপনার মন্দ কাজের জন্য তওবা ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অন্বেষণ করা আপনার জন্য উত্তম। সুতরাং আপনি কক্ষনো মৃত্যু কামনা করবেন না।১০ - আহমদ আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: তোমাদের কেউ যেন মৃত্যু আসার আগে কক্ষনো তা কামনা না করে এবং মৃত্যুর জন্য দোয়া না করে, যতক্ষণ না সে তার আমলের ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পারে।
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুদূর বিশারহি হালিল মাওতা ওয়াল কুবূর
(পৃষ্ঠা: ১৪)
3 - بَاب فضل طول الْحَيَاة فِي طَاعَة الله تَعَالَى 1 - وَأخرج أَحْمد وَالتِّرْمِذِيّ وَصَححهُ الْحَاكِم عَن أبي بكرَة أَن رجلا قَالَ يَا رَسُول الله أَي النَّاس خير قَالَ من طَال عمره وَحسن عمله قَالَ فَأَي النَّاس شَرّ قَالَ من طَال عمره وساء عمله2 - وَأخرج الْحَاكِم عَن جَابر قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم خياركم أطولكم أعمارا وَأَحْسَنُكُمْ أعمالا3 - وَأخرج أَحْمد عَن أبي هُرَيْرَة قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم خياركم أطولكم أعمارا وَأَحْسَنُكُمْ أعمالا4 - وَأخرج الطَّبَرَانِيّ عَن عبَادَة بن الصَّامِت أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ أَلا أنبئكم بخياركم قَالُوا بلَى يَا رَسُول الله قَالَ أطولكم أعمارا فِي الْإِسْلَام إِذا سددوا5 - وَأخرج أَيْضا عَن عَوْف بن مَالك قَالَ سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول كلما طَال عمر الْمُسلم كَانَ لَهُ خير6 - وَأخرج أَحْمد وإبن زَنْجوَيْه فِي ترغيبه عَن أبي هُرَيْرَة قَالَ كَانَ رجلَانِ من بني حييّ من قضاعة أسلما مَعَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فاستشهد أَحدهمَا وَأخر الآخر سنة قَالَ طَلْحَة بن عبيد الله فَرَأَيْت الْجنَّة وَرَأَيْت الْمُؤخر مِنْهُمَا أَدخل قبل الشَّهِيد فعجبت من لذَلِك فَأَصْبَحت فَذكرت ذَلِك للنَّبِي صلى الله عليه وسلم فَقَالَ أَلَيْسَ قد صَامَ بعده رَمَضَان وَصلى سِتَّة آلَاف رَكْعَة وَكَذَا وَكَذَا رَكْعَة صَلَاة سنة7 - وَأخرج أَحْمد وَالْبَزَّار عَن طَلْحَة عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ لَيْسَ أحد أفضل عِنْد الله من مُؤمن يعمر فِي الْإِسْلَام لتسبيحه وتكبيره وتهليله8 - وَأخرج أَبُو نعيم عَن سعيد بن جُبَير قَالَ إِن بَقَاء الْمُسلم كل يَوْم غنيمَة لأَدَاء الْفَرَائِض والصلوات وَمَا يرزقه الله من ذكره9 - وَأخرج إِبْنِ أبي الدُّنْيَا عَن إِبْرَاهِيم بن أبي عَبدة قَالَ بَلغنِي أَن الْمُؤمن
৩ - অনুচ্ছেদ: মহান আল্লাহর আনুগত্যে দীর্ঘ জীবনের শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা। ১ - আহমদ, তিরমিযী এবং হাকেম (যিনি একে সহীহ বলেছেন) আবু বাকরাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল! মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম কে? তিনি বললেন: যার হায়াত দীর্ঘ হয়েছে এবং আমল সুন্দর হয়েছে। সে আবার জিজ্ঞেস করল, তবে মানুষের মধ্যে সর্বনিকৃষ্ট কে? তিনি বললেন: যার হায়াত দীর্ঘ হয়েছে এবং আমল মন্দ হয়েছে।২ - হাকেম জাবির থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি যার হায়াত তোমাদের মধ্যে দীর্ঘতম এবং আমল তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর।৩ - আহমদ আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি যার হায়াত তোমাদের মধ্যে দীর্ঘতম এবং আমল তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর।৪ - তাবারানী উবাদাহ ইবনুস সামিত থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আমি কি তোমাদেরকে তোমাদের মধ্যকার শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি সম্পর্কে অবহিত করব না? তাঁরা বললেন, অবশ্যই হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেন: ইসলামে তোমাদের মধ্যে যারা দীর্ঘ হায়াত প্রাপ্ত, যখন তারা সঠিক পথে অবিচল থাকে।৫ - তিনি (তাবারানী) আওফ বিন মালিক থেকেও বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, মুসলমানের হায়াত যত দীর্ঘ হয়, তা তার জন্য মঙ্গলের কারণ হয়।৬ - আহমদ এবং ইবনে যানজুয়াইহ তাঁর ‘তারগীব’-এ আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: কুযাআ গোত্রের বনু হুয়ায়্যি বংশের দুই ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। তাদের একজন শহীদ হলেন এবং অন্যজন এক বছর পর পর্যন্ত বেঁচে থাকলেন। তালহা বিন উবাইদুল্লাহ বলেন: আমি জান্নাত দেখলাম এবং দেখলাম যে, তাদের মধ্যে যে ব্যক্তি পরে ইন্তেকাল করেছেন তাকে শহীদের আগেই জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে। আমি এতে বিস্মিত হলাম। সকালে আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট বিষয়টি উল্লেখ করলাম। তিনি বললেন: সে কি তার পরে রমজানের রোজা রাখেনি এবং এক বছরে ছয় হাজার রাকাত ও অমুক অমুক পরিমাণ রাকাত নামাজ পড়েনি?৭ - আহমদ এবং বাজ্জার তালহা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আল্লাহর কাছে সেই মুমিনের চেয়ে শ্রেষ্ঠ আর কেউ নেই যে ইসলামে দীর্ঘ হায়াত লাভ করে তার তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ), তাকবীর (আল্লাহু আকবার) এবং তাহলীল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) পাঠের কারণে।৮ - আবু নুয়াইম সাঈদ বিন জুবাইর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুসলমানের প্রতিদিন বেঁচে থাকাটা ফরজ ইবাদত ও নামাজ আদায় এবং আল্লাহ তাকে তাঁর জিকিরের যে তাওফিক দান করেন তার জন্য একটি মহা গনীমত।৯ - ইবনে আবিদ দুনিয়া ইব্রাহিম বিন আবি আবদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে মুমিন...
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুদূর বিশারহি হালিল মাওতা ওয়াল কুবূর
(পৃষ্ঠা: ১৫)
إِذا مَاتَ تمنى الرّجْعَة إِلَى الدُّنْيَا لَيْسَ ذَاك إِلَّا ليكبر تَكْبِيرَة أَو يهلل تَهْلِيلَة أَو يسبح تَسْبِيحَة4 - بَاب جَوَاز تمني الْمَوْت وَالدُّعَاء بِهِ لخوف الْفِتْنَة فِي الدّين 1 - أخرج مَالك عَن أبي هُرَيْرَة قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لَا تقوم السَّاعَة حَتَّى يمر الرجل بِقَبْر الرجل فَيَقُول يَا لَيْتَني كنت مَكَانَهُ2 - وَأخرج مَالك وَالْبَزَّار عَن ثَوْبَان أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسأَلك فعل الْخيرَات وَترك الْمُنْكَرَات وَحب الْمَسَاكِين وَإِذا أردْت بِالنَّاسِ فتْنَة فاقبضني إِلَيْك غير مفتون3 - وَأخرج مَالك عَن عمر رضي الله عنه أَنه قَالَ اللَّهُمَّ قد ضعفت قوتي وَكَبرت سني وانتشرت رعيتي فاقبضني إِلَيْك غير مضيع وَلَا مقصر فَمَا جَاوز ذَلِك الشَّهْر حَتَّى قبض4 - وَأخرج إِبْنِ عبد الْبر فِي التَّمْهِيد والمروزي فِي الْجَنَائِز وَأحمد فِي مُسْنده وَالطَّبَرَانِيّ فِي الْكَبِير عَن عليم الْكِنْدِيّ قَالَ كنت مَعَ أبي عبس الْغِفَارِيّ على سطح فَرَأى قوما يتحملون من الطَّاعُون فَقَالَ يَا طاعون خذني إِلَيْك ثَلَاثًا يَقُولهَا فَقَالَ لَهُ عليم لم تَقول هَذَا ألم يقل رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لَا يتمن أحدكُم الْمَوْت فَإِنَّهُ عِنْد ذَلِك إنقطاع عمله وَلَا يرد فيستعتب قَالَ فَقَالَ أَبُو عبس أما سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول بَادرُوا بِالْمَوْتِ سِتا إمرة السُّفَهَاء وَكَثْرَة الشَّرْط وَبيع الحكم وإستخفافا بِالدَّمِ وَقَطِيعَة الرَّحِم ونشوا يتخذون الْقُرْآن مَزَامِير يقدمُونَ الرجل لِيُغنيَهُمْ بِالْقُرْآنِ وَإِن كَانَ أقل مِنْهُم فقها قَالَ فِي الصِّحَاح تحمل بِمَعْنى إرتحل
যখন সে মৃত্যুবরণ করে, তখন সে দুনিয়াতে ফিরে আসার আকাঙ্ক্ষা করে; আর তা কেবল একবার তাকবির বলা, বা একবার তাহলিল বলা, অথবা একবার তাসবিহ পাঠ করার জন্যই।৪ - দ্বীনের ব্যাপারে ফিতনার আশঙ্কায় মৃত্যু কামনা করা এবং তার জন্য দোয়া করার বৈধতা বিষয়ক অধ্যায় ১ - ইমাম মালিক আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত কায়েম হবে না, যতক্ষণ না কোনো ব্যক্তি অন্য কোনো ব্যক্তির কবরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বলবে—হায়, আমি যদি তার জায়গায় হতাম!"২ - ইমাম মালিক ও বাজ্জার সাওবান (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে নেক কাজ করার, মন্দ কাজ বর্জন করার এবং মিসকিনদের ভালোবাসার তাওফিক চাই। আর যখন আপনি মানুষের মাঝে কোনো ফিতনা (বিপর্যয়) সৃষ্টি করতে চান, তখন আমাকে ফিতনামুক্ত অবস্থায় আপনার কাছে তুলে নিন।"৩ - ইমাম মালিক উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছিলেন: "হে আল্লাহ! আমার শক্তি কমে গেছে, আমার বয়স বেড়েছে এবং আমার প্রজাসাধারণ (পুরো রাজ্যে) ছড়িয়ে পড়েছে; সুতরাং আমাকে আপনার কাছে তুলে নিন এমন অবস্থায় যেন আমি (আমার দায়িত্বে) কোনো অপচয়কারী বা ত্রুটি বিচ্যুতি না করি।" অতঃপর সেই মাস পার হওয়ার আগেই তিনি ইন্তেকাল করেন।৪ - ইবনে আব্দুল বার 'আত-তামহীদ' গ্রন্থে, মারওয়াজি 'আল-জানায়িজ' গ্রন্থে, আহমাদ তাঁর 'মুসনাদ'-এ এবং তাবারানি 'আল-মু'জামুল কাবীর'-এ আলিম আল-কিন্দি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু আবস আল-গিফারি (রা.)-এর সাথে একটি ছাদের উপর ছিলাম। তখন তিনি একদল লোককে দেখলেন যারা প্লেগ (মহামারি) থেকে বাঁচার জন্য সরে যাচ্ছিল। তখন তিনি বললেন, "হে প্লেগ! আমাকে নিয়ে নাও"—একথা তিনি তিনবার বললেন। আলিম তাঁকে বললেন, "আপনি কেন এমন বলছেন? রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কি বলেননি যে: 'তোমাদের কেউ যেন মৃত্যু কামনা না করে, কারণ এর ফলে আমল বন্ধ হয়ে যায় এবং সে ফিরে এসে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের সুযোগও পাবে না'?" তিনি (আবু আবস) বললেন, "তুমি কি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শোননি যে: 'ছয়টি জিনিস (প্রকাশ পাওয়ার) আগেই তোমরা মৃত্যুকে ত্বরান্বিত করো: নির্বোধদের শাসন, রক্ষীবাহিনীর (পুলিশের) আধিক্য, বিচার বিক্রি করা, রক্তপাতকে তুচ্ছ জ্ঞান করা, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা এবং এমন এক প্রজন্মের উদ্ভব যারা কুরআনকে বাদ্যযন্ত্রের মতো গ্রহণ করবে; তারা এমন ব্যক্তিকে (ইমাম হিসেবে) আগে বাড়িয়ে দেবে যে তাদের কুরআন গেয়ে শোনাবে, যদিও সে তাদের মধ্যে সবচেয়ে কম ফিকহ বা গভীর জ্ঞানের অধিকারী হয়'?" 'আস-সিহাহ' গ্রন্থে বলা হয়েছে, 'তাহাম্মালা' অর্থ হচ্ছে প্রস্থান করা বা দেশত্যাগ করা।
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুদূর বিশারহি হালিল মাওতা ওয়াল কুবূর
(পৃষ্ঠা: ১৬)
5 - وَأخرج الْحَاكِم عَن الْحسن قَالَ قَالَ الحكم بن عَمْرو يَا طاعون خذني إِلَيْك فَقيل لَهُ لم تَقول هَذَا وَقد سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول لَا يتمنين أحدكُم الْمَوْت قَالَ قد سَمِعت مَا سَمِعْتُمْ وَلَكِنِّي أبادر سِتا بيع الحكم وَكَثْرَة الشَّرْط وإمارة الصّبيان وَسَفك الدِّمَاء وَقَطِيعَة الرَّحِم ونشوا يكونُونَ فِي آخر الزَّمَان قراء يتخذون الْقُرْآن مَزَامِير6 - وَأخرج إِبْنِ سعد فِي الطَّبَقَات عَن حبيب بن أبي فضَالة أَن أَبَا هُرَيْرَة ذكر الْمَوْت فَكَأَنَّهُ تمناه فَقَالَ بعض أَصْحَابه وَكَيف تتمنى الْمَوْت بعد قَول رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لَيْسَ لأحد أَن يتَمَنَّى الْمَوْت لَا بر وَلَا فَاجر إِمَّا بر فَيَزْدَاد برا وَإِمَّا فَاجر فيستعتب فَقَالَ وَكَيف لَا أَتَمَنَّى الْمَوْت وَإِنَّمَا أَخَاف أَن تدركني سِتَّة التهاون بالذنب وَبيع الحكم وتقاطع الْأَرْحَام وَكَثْرَة الشَّرْط ونشوا يتخذون الْقُرْآن مَزَامِير7 - وَأخرج الطَّبَرَانِيّ عَن عمر بن عبسة عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ لَا يتمنين أحدكُم الْمَوْت إِلَّا أَن يَثِق بِعَمَلِهِ فَإِن رَأَيْتُمْ فِي الْإِسْلَام سِتّ خِصَال فتمنوا الْمَوْت وَإِن كَانَت نَفسك فِي يدك فأرسلها إِضَاعَة الدَّم وإمارة الصّبيان وَكَثْرَة الشَّرْط وإمارة السُّفَهَاء وَبيع الحكم ونشوا يتخذون الْقُرْآن مَزَامِير8 - وَأخرج أَبُو نعيم عَن إِبْنِ مَسْعُود قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لَا يخرج الدَّجَّال حَتَّى لَا يكون شَيْء أحب إِلَى مُؤمن من خُرُوج نَفسه9 - وَأخرج إِبْنِ أبي الدُّنْيَا عَن سُفْيَان قَالَ يَأْتِي على النَّاس زمَان يكون الْمَوْت فِيهِ أحب إِلَى قراء ذَلِك الزَّمَان من الذَّهَب الْأَحْمَر10 - وَأخرج عَن أبي هُرَيْرَة قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يُوشك أَن يكون الْمَوْت أحب إِلَى الْمُؤمن من المَاء الْبَارِد يصب عَلَيْهِ الْعَسَل فيشربه11 - وَأخرج عَن أبي ذَر قَالَ ليَأْتِيَن على النَّاس زمَان تمر الْجِنَازَة فيهم فَيَقُول الرجل لَيْت أَنِّي مَكَانهَا12 - وَأخرج إِبْنِ سعد عَن أبي سَلمَة بن عبد الرَّحْمَن قَالَ مرض أَبُو هُرَيْرَة فَأتيت أعوده فَقلت اللَّهُمَّ إشف أَبَا هُرَيْرَة فَقَالَ اللَّهُمَّ لَا ترجعها وَقَالَ يُوشك يَا أَبَا سَلمَة أَن يَأْتِي على النَّاس زمَان يكون الْمَوْت أحب إِلَى أحدهم من الذَّهَب الْأَحْمَر ويوشك يَا أَبَا سَلمَة إِن بقيت إِلَى قريب أَن يَأْتِي الرجل الْقَبْر
৫ - আল-হাকিম হাসান থেকে বর্ণনা করেছেন যে, হাকাম ইবনে আমর বলেছিলেন, "হে মহামারি, আমাকে তোমার কাছে নিয়ে নাও।" তখন তাকে বলা হলো, "আপনি কেন এমন কথা বলছেন? অথচ আপনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছেন যে, তোমাদের কেউ যেন মৃত্যুর আকাঙ্ক্ষা না করে।" তিনি বললেন, "তোমরা যা শুনেছ আমিও তা শুনেছি, কিন্তু আমি ছয়টি বিষয়ের আগেই (মৃত্যু) কামনা করছি: বিচারের কেনাবেচা, পুলিশের আধিক্য, কিশোরদের শাসন, রক্তপাত, আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা এবং শেষ যুগে এমন এক প্রজন্মের আবির্ভাব যারা কুরআনকে বাদ্যযন্ত্র হিসেবে গ্রহণ করবে।"৬ - ইবনে সাদ 'তাবাকাত'-এ হাবীব ইবনে আবি ফাদালাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আবু হুরায়রা (রা.) মৃত্যুর কথা উল্লেখ করলেন এবং মনে হলো তিনি তা কামনা করছেন। তখন তাঁর জনৈক সাথী বললেন, "আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণীর পর আপনি কীভাবে মৃত্যুর আকাঙ্ক্ষা করছেন যে, 'নেককার হোক বা পাপাচারী হোক, কারোরই মৃত্যুর আকাঙ্ক্ষা করা উচিত নয়; কেননা নেককার হলে সে নেক আমল বৃদ্ধি করতে পারবে, আর পাপাচারী হলে সে তওবা করে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের সুযোগ পাবে'?" তখন তিনি বললেন, "আমি কেন মৃত্যুর আকাঙ্ক্ষা করব না অথচ আমি এই ছয়টি বিষয় আমাকে পেয়ে বসার ভয় করছি: পাপকে তুচ্ছ জ্ঞান করা, বিচারের কেনাবেচা, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা, পুলিশের আধিক্য এবং এমন এক প্রজন্মের আবির্ভাব যারা কুরআনকে বাদ্যযন্ত্র হিসেবে গ্রহণ করবে।"৭ - তাবারানি আমর ইবনে আবাসা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের কেউ যেন মৃত্যুর আকাঙ্ক্ষা না করে যদি না সে তার আমলের ব্যাপারে নিশ্চিত হয়। তবে যদি তোমরা ইসলামের মাঝে ছয়টি বৈশিষ্ট্য দেখতে পাও, তবে মৃত্যুর আকাঙ্ক্ষা করো এবং তোমার প্রাণ যদি তোমার হাতে থাকে তবে তা ছেড়ে দাও: রক্তপাত সহজ হয়ে যাওয়া, কিশোরদের শাসন, পুলিশের আধিক্য, নির্বোধদের শাসন, বিচারের কেনাবেচা এবং এমন এক প্রজন্মের আবির্ভাব যারা কুরআনকে বাদ্যযন্ত্র হিসেবে গ্রহণ করবে।"৮ - আবু নুয়াইম ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "দাজ্জাল বের হবে না যতক্ষণ না একজন মুমিনের কাছে নিজের প্রাণ বেরিয়ে যাওয়ার (মৃত্যুর) চেয়ে প্রিয় আর কিছুই থাকবে না।"৯ - ইবনে আবিদ দুনিয়া সুফিয়ান থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: "মানুষের ওপর এমন এক সময় আসবে যখন সেই সময়ের ক্বারিদের কাছে লাল স্বর্ণের চেয়েও মৃত্যু অধিক প্রিয় হবে।"১০ - তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "শীঘ্রই মুমিনের কাছে মৃত্যু সেই শীতল পানির চেয়েও প্রিয় হবে যার সাথে মধু মিশিয়ে সে পান করে।"১১ - তিনি আবু যার (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "মানুষের ওপর অবশ্যই এমন এক সময় আসবে যখন তাদের মধ্য দিয়ে জানাজা নিয়ে যাওয়ার সময় কোনো ব্যক্তি বলবে, হায়! আমি যদি ওই জানাজার স্থানে থাকতাম।"১২ - ইবনে সাদ আবু সালামাহ ইবনে আবদুর রহমান থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আবু হুরায়রা (রা.) অসুস্থ হলে আমি তাকে দেখতে গেলাম এবং বললাম, "হে আল্লাহ! আপনি আবু হুরায়রাকে সুস্থ করে দিন।" তখন তিনি বললেন, "হে আল্লাহ! এই দোয়া ফিরিয়ে নিন (অর্থাৎ আমাকে সুস্থ করবেন না)।" এরপর তিনি বললেন, "হে আবু সালামাহ! অচিরেই মানুষের ওপর এমন এক সময় আসবে যখন লাল স্বর্ণের চেয়েও তাদের কাছে মৃত্যু অধিক প্রিয় হবে। আর হে আবু সালামাহ! তুমি যদি অদূর ভবিষ্যৎ পর্যন্ত জীবিত থাকো, তবে দেখবে যে ব্যক্তি কবরের কাছে আসবে..."
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুদূর বিশারহি হালিল মাওতা ওয়াল কুবূর
(পৃষ্ঠা: ১৭)
فَيَقُول يَا لَيْتَني مَكَانك13 - وَأخرج الْمروزِي فِي الْجَنَائِز عَن مرّة الْهَمدَانِي قَالَ تمنى عبد الله لنَفسِهِ ولأهله الْمَوْت فَقيل لَهُ إِنَّك تمنيت لأهْلك فَلم تتمناه لنَفسك فَقَالَ لَو أَنِّي أعلم أَنكُمْ تسلمون على حالتكم هَذِه لتمنيت أَن أعيش فِيكُم عشْرين سنة14 - وَأخرج عَن أبي عُثْمَان قَالَ بَيْنَمَا إِبْنِ مَسْعُود ذَات يَوْم فِي صفة لَهُ وَتَحْته فُلَانَة وفلانة إمرأتان لَهُ ذواتا منصب وجمال وَله مِنْهُمَا ولد كأحسن الْوَلَد وَإِذ شقشق على رَأسه عُصْفُور ثمَّ قذف دَاء بَطْنه فنكته بِيَدِهِ ثمَّ قَالَ لِأَن يَمُوت آل عبد الله ثمَّ يتبعهُم أحب إِلَيّ من أَن يَمُوت هَذَا العصفور الشقشقة بمعجمتين وقافين صَوت العصفور وهديره15 - وَأخرج الْمروزِي عَن قيس قَالَ كَانَ صبيان لعبد الله يَشْتَدُّونَ بَين يَدَيْهِ فَقَالَ ترَوْنَ هَؤُلَاءِ لَهُم أَهْون عَليّ موتا من عدتهمْ من الْجعلَان الْجعلَان بِكَسْر الْجِيم جمع جعل بضَمهَا وَهِي دويبة16 - وَأخرج عَن الْحسن قَالَ كَانَ فِي مصركم هَذَا رجل عَابِد فَخرج من الْمَسْجِد فَلَمَّا وضع رجله فِي الركاب أَتَاهُ ملك الْمَوْت فَقَالَ لَهُ مرْحَبًا لقد كنت إِلَيْك بالأشواق فَقبض روحه17 - وَأخرج إِبْنِ سعد فِي الطَّبَقَات والمروزي عَن خَالِد بن معدان قَالَ مَا من دَابَّة فِي بر وَلَا بَحر يسرني أَن تفديني من الْمَوْت وَلَو كَانَ الْمَوْت علما يستبق النَّاس إِلَيْهِ مَا سبقني إِلَيْهِ أحد إِلَّا رجل يغلبني بِفضل قوته18 - وَأخرج أَبُو نعيم عَنهُ قَالَ وَالله لَو كَانَ الْمَوْت فِي مَكَان مَوْضُوعا لَكُنْت أول من يسْبق إِلَيْهِ19 - وَأخرج عَن عبد ربه بن صَالح أَنه دخل على مَكْحُول فِي مرض مَوته فَقَالَ لَهُ عافاك الله فَقَالَ كلا اللحوق بِمن يُرْجَى عَفوه خير من الْبَقَاء مَعَ من لَا يُؤمن شَره شياطين الْإِنْس وإبليس وَجُنُوده20 - وَأخرج إِبْنِ عَسَاكِر فِي تَارِيخه عَن أبي مسْهر قَالَ سَمِعت رجلا
তখন তিনি বলতেন, "হায়, আমি যদি তোমার জায়গায় হতাম!"১৩ - আল-মারওয়াযী 'আল-জানায়িয' গ্রন্থে মুররা আল-হামদানী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ (ইবনে মাসউদ) নিজের জন্য এবং নিজের পরিবারের জন্য মৃত্যু কামনা করতেন। তাকে বলা হলো, "আপনি আপনার পরিবারের জন্য মৃত্যু কামনা করলেন, কিন্তু নিজের জন্য কেন তা কামনা করলেন না?" তখন তিনি বললেন, "আমি যদি জানতাম যে আপনারা আপনাদের বর্তমান (ঈমানী) অবস্থাতেই অটল থাকবেন, তবে আমি আপনাদের মাঝে আরও বিশ বছর বেঁচে থাকা কামনা করতাম।"১৪ - আবু উসমান থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: একদিন ইবনে মাসউদ তার একটি বারান্দায় অবস্থান করছিলেন। সেখানে তার সাথে তার দুই স্ত্রী ছিলেন, যারা অত্যন্ত মর্যাদাবান ও সুন্দরী ছিলেন। তাদের গর্ভে তার অত্যন্ত সুন্দর সন্তানও ছিল। এমন সময় একটি চড়ুই পাখি তার মাথার ওপর কিচিরমিচির শব্দ করছিল, অতঃপর সেটি বিষ্ঠা ত্যাগ করল। তিনি তা নিজের হাত দিয়ে ঝেড়ে ফেললেন এবং বললেন, "আবদুল্লাহর পরিবারবর্গ মৃত্যুবরণ করুক এবং আমিও তাদের অনুগামী হই—এটি আমার কাছে এই চড়ুই পাখিটি মারা যাওয়ার চেয়েও অধিক প্রিয়।" 'শাকশাকাহ' (কিচিরমিচির) শব্দটি দুটি 'শিন' এবং দুটি 'ক্বফ' বর্ণের সমন্বয়ে গঠিত, যার অর্থ চড়ুই পাখির শব্দ ও ডাক।১৫ - আল-মারওয়াযী কায়েস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহর ছোট সন্তানরা তার সামনে ছোটাছুটি করছিল। তখন তিনি বললেন, "তোমরা এদের দেখছো? এদের মৃত্যু আমার কাছে সমসংখ্যক গুবরে পোকার মৃত্যুর চেয়েও অধিক সহজ।" 'জু'লান' শব্দটি 'জীম' বর্ণে কাসরা (জের) সহ 'জুআল'-এর বহুবচন, যা একটি ক্ষুদ্র পতঙ্গ বিশেষ।১৬ - হাসান (বসরী) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: তোমাদের এই শহরে একজন ইবাদতকারী ব্যক্তি ছিলেন। তিনি মসজিদ থেকে বের হলেন, অতঃপর যখন তিনি তার পা রেকাবের ওপর রাখলেন, তখন মালাকুল মাউত (মৃত্যুর ফেরেশতা) তার কাছে এলেন। তখন তিনি বললেন, "স্বাগতম! আপনার সাথে সাক্ষাতের জন্য আমি অধীর আগ্রহে প্রতীক্ষায় ছিলাম।" এরপর তিনি তার জান কবজ করলেন।১৭ - ইবনে সাদ 'আত-তাবাকাত' গ্রন্থে এবং আল-মারওয়াযী খালিদ বিন মাদানি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "স্থলে বা জলে এমন কোনো প্রাণী নেই যার বিনিময়ে আমি মৃত্যু থেকে মুক্তি পাওয়া পছন্দ করব। আর মৃত্যু যদি এমন কোনো লক্ষ্যবস্তু হতো যার দিকে মানুষ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়, তবে শারীরিক শক্তির শ্রেষ্ঠত্বের কারণে কেউ আমাকে পরাজিত করা ছাড়া অন্য কেউ আমার আগে সেখানে পৌঁছাতে পারত না।"১৮ - আবু নুআইম তার থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আল্লাহর কসম! যদি মৃত্যু নির্দিষ্ট কোনো স্থানে রাখা থাকত, তবে আমিই হতাম সেই ব্যক্তি যে সবার আগে সেখানে পৌঁছাত।"১৯ - আবদে রাব্বিহি ইবনে সালিহ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি মাকহুলের অন্তিম রোগশয্যায় তার কাছে প্রবেশ করলেন এবং তাকে বললেন, "আল্লাহ আপনাকে সুস্থতা দান করুন।" তখন তিনি বললেন, "কখনই নয়! যাঁর ক্ষমার আশা করা হয় (আল্লাহ), তাঁর সান্নিধ্যে চলে যাওয়া সেইসব সত্তার সাথে বেঁচে থাকার চেয়ে উত্তম যাদের অনিষ্ট থেকে নিরাপদ থাকা যায় না—অর্থাৎ মানুষরূপী শয়তান এবং ইবলিস ও তার বাহিনী।"২০ - ইবনে আসাকির তার 'তারিখ' গ্রন্থে আবু মুসহির থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি এক ব্যক্তিকে বলতে শুনেছি...
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুদূর বিশারহি হালিল মাওতা ওয়াল কুবূর
(পৃষ্ঠা: ১৮)
يَقُول لسَعِيد بن عبد الْعَزِيز التنوخي أَطَالَ الله بَقَاءَك فَغَضب فَقَالَ بل عجل الله بِي إِلَى رَحمته21 - وَأخرج أَبُو نعيم عَن عُبَيْدَة بن المُهَاجر قَالَ لَو قيل من مس هَذَا الْعود مَاتَ لقمت حَتَّى أمسه22 - وَأخرج عَن أبي عبد الله الصنَابحِي قَالَ الدُّنْيَا تَدْعُو إِلَى فتْنَة والشيطان يَدْعُو إِلَى خَطِيئَة ولقاء الله خير من الْإِقَامَة مَعَهُمَا23 - وَأخرج إِبْنِ أبي الدُّنْيَا عَن عَمْرو بن مَيْمُون أَنه كَانَ لَا يتَمَنَّى الْمَوْت قَالَ إِنِّي أُصَلِّي كل يَوْم كَذَا وَكَذَا صَلَاة حَتَّى أرسل إِلَيْهِ يزِيد بن مُسلم فتعنته وَلَقي مِنْهُ فَكَانَ يَقُول اللَّهُمَّ ألحقني بالأخيار وَلَا تخلفني مَعَ الأشرار24 - وَأخرج عَن أم الدَّرْدَاء قَالَت كَانَ أَبُو الدَّرْدَاء إِذا مَاتَ الرجل على الْحَال الصَّالِحَة قَالَ هَنِيئًا لَك يَا لَيْتَني كنت مَكَانك فَقَالَت أم الدَّرْدَاء لَهُ فِي ذَلِك فَقَالَ هَل تعلمين يَا حمقاء أَن الرجل يصبح مُؤمنا ويمسي منافقا يسلب إيمَانه وَهُوَ لَا يشْعر فَأَنا لهَذَا الْمَيِّت أغبط مني لهَذَا بِالْبَقَاءِ فِي الصَّلَاة وَالصِّيَام25 - وَأخرج إِبْنِ أبي شيبَة فِي المُصَنّف وإبن أبي الدُّنْيَا عَن أبي جُحَيْفَة قَالَ مَا من نفس تسرني أَن تفديني من الْمَوْت وَلَا نفس ذُبَاب26 - وَأخرج إِبْنِ أبي الدُّنْيَا والخطيب وإبن عَسَاكِر عَن أبي بكرَة الصَّحَابِيّ رضي الله عنه قَالَ وَالله مَا من نفس تخرج أحب إِلَيّ من نَفسِي هَذِه وَلَا نفس هَذَا الذُّبَاب الطَّائِر فَفَزعَ الْقَوْم فَقَالُوا لم قَالَ إِنِّي أَخَاف أَن أدْرك زَمَانا لَا أَسْتَطِيع أَن آمُر فِيهِ بِمَعْرُوف وَلَا أنهى عَن مُنكر وَمَا خير يَوْمئِذٍ27 - وَأخرج إِبْنِ أبي شيبَة فِي المُصَنّف وإبن سعد وَالْبَيْهَقِيّ فِي شعب الْإِيمَان عَن أبي هُرَيْرَة أَنه مر بِهِ رجل فَقَالَ لَهُ أَيْن تُرِيدُ قَالَ السُّوق قَالَ إِن اسْتَطَعْت أَن تشتري لي الْمَوْت قبل أَن ترجع فافعل28 - وَأخرج إِبْنِ أبي الدُّنْيَا وَالطَّبَرَانِيّ فِي الْكَبِير وإبن عَسَاكِر من طَرِيق عُرْوَة بن رُوَيْم عَن الْعِرْبَاض بن سَارِيَة وَكَانَ شَيخا من أَصْحَاب النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَكَانَ
সাঈদ বিন আব্দুল আজিজ আত-তানুখীকে কেউ একজন বললেন, "আল্লাহ আপনার হায়াত দীর্ঘ করুন।" এতে তিনি রাগান্বিত হয়ে বললেন, "বরং আল্লাহ যেন দ্রুত আমাকে তাঁর রহমতের দিকে নিয়ে যান।"২১ - আবু নুআইম উবাইদাহ বিন মুহাজির থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "যদি বলা হতো যে ব্যক্তি এই কাষ্ঠখণ্ডটি স্পর্শ করবে সে মারা যাবে, তবে আমি তা স্পর্শ করার জন্য দাঁড়িয়ে যেতাম।"২২ - আবু আব্দুল্লাহ আস-সুনাবিহী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "দুনিয়া ফিতনার দিকে আহ্বান করে এবং শয়তান পাপের দিকে আহ্বান করে, আর আল্লাহ তাআলার সাথে সাক্ষাৎ এই দুইয়ের সাথে অবস্থানের চেয়ে উত্তম।"২৩ - ইবনে আবিদ দুনিয়া আমর বিন মাইমুন থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি মৃত্যুর কামনা করতেন না। তিনি বলতেন: "আমি প্রতিদিন এত এত বার সালাত আদায় করি।" শেষ পর্যন্ত ইয়াজিদ বিন মুসলিম তাকে ডেকে পাঠালেন এবং তার পক্ষ থেকে তিনি কঠোরতার সম্মুখীন হলেন। তখন তিনি বলতেন: "হে আল্লাহ! আমাকে নেককারদের অন্তর্ভুক্ত করুন এবং পাপাচারীদের সাথে আমাকে পেছনে ফেলে রাখবেন না।"২৪ - উম্মুদ দারদা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আবু দারদা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) যখন দেখতেন কোনো ব্যক্তি উত্তম অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে, তখন বলতেন: "তোমার জন্য মোবারকবাদ! হায়, আমি যদি তোমার স্থানে হতাম!" উম্মুদ দারদা এ বিষয়ে তাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন: "হে নির্বোধ নারী! তুমি কি জানো না যে, মানুষ সকালে মুমিন থাকে আর বিকেলে মুনাফিক হয়ে যায়? তার অজান্তেই তার ঈমান ছিনিয়ে নেওয়া হয়। তাই এই মৃত ব্যক্তির অবস্থা আমার কাছে সালাত ও সিয়ামে জীবিত ব্যক্তির অবস্থার চেয়ে বেশি ঈর্ষণীয়।"২৫ - ইবনে আবি শাইবাহ 'আল-মুসান্নাফ'-এ এবং ইবনে আবিদ দুনিয়া আবু জুহাইফা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "এমন কোনো প্রাণ নেই যা দিয়ে আমি মৃত্যুর হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করা পছন্দ করব, এমনকি একটি মাছির প্রাণও নয়।"২৬ - ইবনে আবিদ দুনিয়া, খতিব এবং ইবনে আসাকির সাহাবী আবু বাকরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আল্লাহর কসম! আমার এই প্রাণ এবং এই উড়ন্ত মাছির প্রাণের চেয়ে কোনো প্রাণই বের হয়ে যাওয়া আমার নিকট অধিক প্রিয় নয়।" এতে উপস্থিত লোকজন ভীত হয়ে জিজ্ঞেস করল, কেন? তিনি বললেন: "আমি ভয় পাচ্ছি এমন এক সময় না পেয়ে বসি যখন আমি সৎ কাজের আদেশ দিতে পারব না এবং অসৎ কাজে বাধা দিতে পারব না; সে সময়ে আর কোনো কল্যাণ নেই।"২৭ - ইবনে আবি শাইবাহ 'আল-মুসান্নাফ'-এ, ইবনে সাদ এবং বায়হাকী 'শুআবুল ঈমান'-এ আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁর পাশ দিয়ে এক ব্যক্তি যাচ্ছিলেন। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, "কোথায় যাচ্ছ?" সে বলল, "বাজারে।" তিনি বললেন, "তুমি যদি ফিরে আসার আগে আমার জন্য মৃত্যু কিনে আনতে পারো, তবে করো।"২৮ - ইবনে আবিদ দুনিয়া, তাবারানি 'আল-কাবীর'-এ এবং ইবনে আসাকির উরওয়াহ বিন রুয়াইম-এর সূত্রে ইরবাদ বিন সারিয়াহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন—যিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর একজন প্রবীণ সাহাবী ছিলেন এবং তিনি—
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুদূর বিশারহি হালিল মাওতা ওয়াল কুবূর
(পৃষ্ঠা: ১৯)
يحب أَن يقبض فَكَانَ يَدْعُو اللَّهُمَّ كَبرت سني ووهن عظمي فاقبضني إِلَيْك قَالَ فَبَيْنَمَا أَنا يَوْمًا فِي مَسْجِد دمشق وَأَنا أُصَلِّي وأدعو أَن أَقبض فَإِذا أَنا بفتى شَاب من أجمل الرِّجَال وَعَلِيهِ دواج أَخْضَر فَقَالَ مَا هَذَا الَّذِي تَدْعُو بِهِ قلت وَكَيف أَدْعُو يَا ابْن أخي قَالَ قل اللَّهُمَّ حسن الْعَمَل وَبلغ الْأَجَل قلت من أَنْت يَرْحَمك الله قَالَ أَنا رتائيل الَّذِي يستل الْحزن من صُدُور الْمُؤمنِينَ ثمَّ إلتفت فَلم أر أحدا الدواج الَّذِي يلبس ضَبطه الصغاني فِي الشوارد نقلا عَن أبي حَاتِم السجسْتانِي بِضَم الدَّال وَالْوَاو مُشَدّدَة ومخففة5 - بَاب فضل الْمَوْتقَالَ الْعلمَاء الْمَوْت لَيْسَ بِعَدَمِ مَحْض وَلَا فنَاء صرف وَإِنَّمَا هُوَ إنقطاع تعلق الرّوح بِالْبدنِ ومفارقة وحيلولة بَينهمَا وتبدل حَال وإنتقال من دَار إِلَى دَار1 - وَأخرج أَبُو الشَّيْخ فِي تَفْسِيره وَأَبُو نعيم عَن بِلَال بن سعد أَنه قَالَ فِي وعظه يَا أهل الخلود وَيَا أهل الْبَقَاء إِنَّكُم لم تخلقوا للفناء وَإِنَّمَا خلقْتُمْ للخلود والأبد وَإِنَّكُمْ تنقلون من دَار إِلَى دَار2 - وَأخرج الطَّبَرَانِيّ فِي الْكَبِير وَالْحَاكِم فِي الْمُسْتَدْرك عَن عمر بن عبد الْعَزِيز أَنه قَالَ إِنَّمَا خلقْتُمْ لِلْأَبَد والبقاء وَلَكِنَّكُمْ تنقلون من دَار إِلَى دَار3 - وَأخرج إِبْنِ الْمُبَارك فِي الزّهْد وَالطَّبَرَانِيّ فِي الْكَبِير وَالْحَاكِم فِي الْمُسْتَدْرك وَالْبَيْهَقِيّ فِي شعب الْإِيمَان عَن عبد الله بن عَمْرو قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم تحفة الْمُؤمن الْمَوْتوَأخرج الديلمي فِي مُسْند الفردوس من حَدِيث جَابر مثله4 - وَأخرج أَيْضا عَن الْحُسَيْن بن عَليّ أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ الْمَوْت رَيْحَانَة الْمُؤمن5 - وَأخرج الْبَيْهَقِيّ فِي شعب الْإِيمَان وَضَعفه والديلمي أَيْضا عَن عَائِشَة
তিনি মৃত্যু কামনা করছিলেন, তাই তিনি দোয়া করতেন: "হে আল্লাহ! আমার বয়স বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আমার হাড় দুর্বল হয়ে পড়েছে, সুতরাং আপনি আমাকে আপনার কাছে তুলে নিন।" তিনি বলেন: একদিন আমি যখন দামেস্কের মসজিদে নামাজ পড়ছিলাম এবং মৃত্যু চেয়ে দোয়া করছিলাম, হঠাৎ আমি এক যুবককে দেখতে পেলাম যিনি মানুষের মধ্যে অত্যন্ত সুন্দর ছিলেন এবং তার গায়ে ছিল সবুজ চাদর। তিনি বললেন: "আপনি এটি কী দোয়া করছেন?" আমি বললাম: "হে ভ্রাতুষ্পুত্র! তাহলে আমি কীভাবে দোয়া করব?" তিনি বললেন: "আপনি বলুন: হে আল্লাহ! আমার আমলকে সুন্দর করে দিন এবং নির্ধারিত সময়ে মৃত্যু দান করুন।" আমি বললাম: "আল্লাহ আপনার প্রতি দয়া করুন, আপনি কে?" তিনি বললেন: "আমি রাতাইল, যে মুমিনদের অন্তর থেকে দুঃখ দূর করে।" তারপর আমি তাকালাম কিন্তু কাউকে দেখতে পেলাম না। 'দাওয়াজ' (এক প্রকার চাদর) যা পরিহিত ছিল, সাগানী 'আশ-শারওয়াদ' গ্রন্থে আবু হাতিম সিজিস্তানি থেকে বর্ণনা করে এর উচ্চারণ 'দাল' বর্ণে পেশ এবং 'ওয়াও' বর্ণে তাশদীদ অথবা যযম দিয়ে পড়ার কথা উল্লেখ করেছেন।৫ - মৃত্যুর ফযিলত অধ্যায়ওলামায়ে কেরাম বলেন, মৃত্যু নিছক অস্তিত্বহীনতা বা চূড়ান্ত বিনাশ নয়; বরং এটি শরীরের সাথে রুহের সম্পর্কের বিচ্ছিন্নতা, উভয়ের বিচ্ছেদ ও অন্তরাল মাত্র। এটি হলো অবস্থার পরিবর্তন এবং এক ঘর থেকে অন্য ঘরে স্থানান্তর।১ - আবুশ শাইখ তার তাফসির গ্রন্থে এবং আবু নুআইম বিলাল ইবনে সাদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তার ওয়াজে বলতেন: "হে স্থায়িত্বের অধিকারীরা! হে অবিনশ্বরতার অধিকারীরা! তোমরা ধ্বংস হওয়ার জন্য সৃষ্টি হওনি; বরং তোমরা চিরস্থায়ী ও অনন্তকালের জন্য সৃষ্টি হয়েছ। তোমরা কেবল এক ঘর থেকে অন্য ঘরে স্থানান্তরিত হও।"২ - তাবারানি 'আল-কাবীর' গ্রন্থে এবং হাকেম 'আল-মুস্তাদরাক' গ্রন্থে উমর ইবনে আব্দুল আজিজ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "তোমরা কেবল অনন্তকাল ও চিরস্থায়ী হওয়ার জন্যই সৃষ্টি হয়েছ, কিন্তু তোমরা এক ঘর থেকে অন্য ঘরে স্থানান্তরিত হও।"৩ - ইবনুল মুবারক 'যুহদ' গ্রন্থে, তাবারানি 'আল-কাবীর' গ্রন্থে, হাকেম 'আল-মুস্তাদরাক' গ্রন্থে এবং বায়হাকি 'শুআবুল ঈমান' গ্রন্থে আব্দুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "মৃত্যু হলো মুমিনের জন্য উপহার।"দায়লামি 'মুসনাদুল ফিরদাউস' গ্রন্থে জাবের (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিস থেকেও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।৪ - তিনি হুসাইন ইবনে আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকেও বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "মৃত্যু হলো মুমিনের জন্য সুগন্ধি ফুল।"৫ - বায়হাকি 'শুআবুল ঈমান' গ্রন্থে (এবং এটিকে দুর্বল বলেছেন) এবং দায়লামিও আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুদূর বিশারহি হালিল মাওতা ওয়াল কুবূর
(পৃষ্ঠা: ২০)
قَالَت قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم الْمَوْت غنيمَة وَالْمَعْصِيَة مُصِيبَة والفقر رَاحَة والغنى عُقُوبَة وَالْعقل هَدِيَّة من الله وَالْجهل ضَلَالَة وَالظُّلم ندامة وَالطَّاعَة قُرَّة الْعين والبكاء من خشيَة الله النجَاة من النَّار والضحك هَلَاك الْبدن والتائب من الذَّنب كمن لَا ذَنْب لَهُ6 - وَأخرج أَحْمد وَسَعِيد بن مَنْصُور فِي سنَنه بِسَنَد صَحِيح عَن مَحْمُود بن لبيد أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ إثنتان يكرههما إِبْنِ آدم يكره الْمَوْت وَالْمَوْت خير لَهُ من الْفِتْنَة وَيكرهُ قلَّة المَال وَقلة المَال أقل لِلْحسابِ7 - وَأخرج الْبَيْهَقِيّ فِي شعب الْإِيمَان عَن زرْعَة بن عبد الله أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ يحب الْإِنْسَان الْحَيَاة وَالْمَوْت خير لنَفسِهِ وَيُحب الْإِنْسَان كَثْرَة المَال وَقلة المَال أقل لحسابه مُرْسل8 - وَأخرج الشَّيْخَانِ عَن أبي قَتَادَة قَالَ مر على النَّبِي صلى الله عليه وسلم بِجنَازَة فَقَالَ مستريح ومستراح مِنْهُ قَالُوا يَا رَسُول الله مَا المستريح والمستراح مِنْهُ فَقَالَ العَبْد الْمُؤمن يستريح من تَعب الدُّنْيَا وأذاها إِلَى رَحْمَة الله عز وجل وَالْعَبْد الْفَاجِر يستريح مِنْهُ الْبِلَاد والعباد وَالشَّجر وَالدَّوَاب9 - وَأخرج إِبْنِ أبي شيبَة عَن يزِيد بن أبي زِيَاد قَالَ مروا بِجنَازَة على أبي جُحَيْفَة فَقَالَ إستراح وأستريح مِنْهُ10 - وَأخرج إِبْنِ الْمُبَارك وَالطَّبَرَانِيّ عَن عبد الله بن عَمْرو بن الْعَاصِ عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ الدُّنْيَا سجن الْمُؤمن وسنته فَإِذا فَارق الدُّنْيَا فَارق السجْن وَالسّنة السّنة بِفَتْح أَوله الْقَحْط والجدب11 - وَأخرج إِبْنِ الْمُبَارك عَن عبد الله بن عَمْرو قَالَ إِن الدُّنْيَا جنَّة الْكَافِر وسجن الْمُؤمن وَإِنَّمَا مثل الْمُؤمن حِين تخرج نَفسه كَمثل رجل كَانَ فِي سجن فَأخْرج مِنْهُ فَجعل يتقلب فِي الأَرْض ويتفسح فِيهَا12 - وَأخرج إِبْنِ أبي شيبَة فِي المُصَنّف عَن عبد الله بن عَمْرو قَالَ الدُّنْيَا
তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: মৃত্যু একটি গনিমত (পুরস্কার), পাপ একটি বিপদ, দারিদ্র্য প্রশান্তি, প্রাচুর্য শাস্তি, আকল (বুদ্ধি) আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি উপহার, মূর্খতা পথভ্রষ্টতা, জুলুম অনুশোচনা, আনুগত্য চোখের শীতলতা, আল্লাহর ভয়ে ক্রন্দন জাহান্নাম থেকে মুক্তি, হাসি শরীরের ধ্বংস এবং গুনাহ থেকে তওবাকারী সেই ব্যক্তির ন্যায় যার কোনো গুনাহ নেই।৬ - ইমাম আহমাদ এবং সাঈদ ইবনে মানসুর তাঁর সুনান গ্রন্থে সহীহ সনদে মাহমুদ ইবনে লাবিদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: আদম সন্তান দুটি বিষয় অপছন্দ করে; সে মৃত্যুকে অপছন্দ করে অথচ ফিতনা অপেক্ষা মৃত্যু তার জন্য উত্তম। সে সম্পদের স্বল্পতাকে অপছন্দ করে অথচ সম্পদের স্বল্পতা হিসাবের জন্য সহজতর।৭ - বায়হাকী তাঁর শুআবুল ঈমান গ্রন্থে যুরআহ ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: মানুষ জীবনকে ভালোবাসে অথচ মৃত্যু তার নিজের জন্য উত্তম। মানুষ সম্পদের আধিক্যকে ভালোবাসে অথচ সম্পদের স্বল্পতা তার হিসাবের জন্য সহজতর। এটি একটি মুরসাল হাদীস।৮ - শায়খাইন (বুখারী ও মুসলিম) আবু কাতাদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পাশ দিয়ে একটি জানাজা নিয়ে যাওয়া হলো। তখন তিনি বললেন: বিশ্রাম লাভকারী অথবা যা হতে অন্যরা বিশ্রাম পায়। তারা বলল, 'হে আল্লাহর রাসূল! বিশ্রাম লাভকারী এবং যা হতে অন্যরা বিশ্রাম পায় তা কী?' তিনি বললেন: মুমিন বান্দা দুনিয়ার ক্লান্তি ও কষ্ট থেকে মহান আল্লাহর রহমতের দিকে বিশ্রাম লাভ করে। আর পাপিষ্ঠ বান্দা থেকে ভূখণ্ড, মানুষ, গাছপালা এবং চতুষ্পদ প্রাণী বিশ্রাম পায়।৯ - ইবনে আবি শায়বাহ ইয়াযিদ ইবনে আবি যিয়াদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তারা আবু জুহাইফার পাশ দিয়ে একটি জানাজা নিয়ে গেলেন। তখন তিনি বললেন: সে বিশ্রাম লাভ করেছে এবং তার থেকে অন্যরা বিশ্রাম পেয়েছে।১০ - ইবনুল মুবারক ও তাবারানী আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: দুনিয়া মুমিনের জন্য কারাগার এবং দুর্ভিক্ষ। অতঃপর সে যখন দুনিয়া ত্যাগ করে, তখন সে কারাগার ও দুর্ভিক্ষ থেকে মুক্ত হয়। 'আস-সানাহ' প্রথম বর্ণের ফাতহা (যবর) সহযোগে, যার অর্থ দুর্ভিক্ষ ও অনাবৃষ্টি।১১ - ইবনুল মুবারক আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নিশ্চয়ই দুনিয়া কাফেরের জন্য জান্নাত এবং মুমিনের জন্য কারাগার। মুমিনের উদাহরণ যখন তার প্রাণ নির্গত হয় তখন এমন এক ব্যক্তির ন্যায় যে কারাগারে ছিল, অতঃপর তাকে সেখান থেকে বের করা হলো, ফলে সে জমিনে বিচরণ করতে লাগল এবং সেখানে স্বচ্ছন্দে চলাফেরা করতে লাগল।১২ - ইবনে আবি শায়বাহ তাঁর মুসান্নাফ গ্রন্থে আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: দুনিয়া...
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুদূর বিশারহি হালিল মাওতা ওয়াল কুবূর
(পৃষ্ঠা: ২১)
سجن الْمُؤمن وجنة الْكَافِر فَإِذا مَاتَ الْمُؤمن يخلى سربه يسرح فِي الْجنَّة حَيْثُ شَاءَالسرب هُنَا بِفَتْح أَوله الطَّرِيق كَمَا فِي الصِّحَاح13 - وَأخرج أَبُو نعيم عَن إِبْنِ عمر أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ لأبي ذَر يَا أَبَا ذَر إِن الدُّنْيَا سجن الْمُؤمن والقبر أَمنه وَالْجنَّة مصيره يَا أَبَا ذَر إِن الدُّنْيَا جنَّة الْكَافِر والقبر عَذَابه وَالنَّار مصيره16 - وَأخرج النَّسَائِيّ وَالطَّبَرَانِيّ وإبن أبي الدُّنْيَا عَن عبَادَة بن الصَّامِت قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم مَا على وَجه الأَرْض من نفس تَمُوت وَلها عِنْد الله خير تحب أَن ترجع إِلَيْكُم وَلها نعيم الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا إِلَّا الشَّهِيد فَإِنَّهُ يحب أَن يرجع فَيقْتل مرّة أُخْرَى لما يرى من ثَوَاب الله لَهُ17 - وَأخرج إِبْنِ أبي شيبَة فِي المُصَنّف والمروزي فِي الْجَنَائِز وَالطَّبَرَانِيّ عَن إِبْنِ مَسْعُود قَالَ ذهب صفو الدُّنْيَا فَلم يبْق إِلَّا الكدر فالموت تحفة لكل مُسلم18 - وَأخرج الْمروزِي وإبن أبي الدُّنْيَا وَالْبَيْهَقِيّ فِي الشّعب عَن إِبْنِ مَسْعُود قَالَ حبذا المكروهان الْفقر وَالْمَوْت19 - وَأخرج إِبْنِ أبي شيبَة والمروزي عَن طَاوُوس قَالَ لَا يحرز دين الْمَرْء إِلَّا حفرته20 - وَأخرج إِبْنِ أبي شيبَة وإبن الْمُبَارك فِي الزّهْد والمروزي عَن الرّبيع بن خَيْثَم قَالَ مَا من غَائِب ينتظره الْمُؤمن خير لَهُ من الْمَوْت21 - وَأخرج إِبْنِ أبي الدُّنْيَا عَن مَالك بن مغول قَالَ بَلغنِي أَن أول سرُور يدْخل على الْمُؤمن الْمَوْت لما يرى من كَرَامَة الله وثوابه22 - وَأخرج أَحْمد فِي الزّهْد وإبن أبي الدُّنْيَا عَن إِبْنِ مَسْعُود قَالَ لَيْسَ لِلْمُؤمنِ رَاحَة دون لِقَاء الله23 - وَأخرج سعيد بن مَنْصُور وإبن جرير عَن أبي الدَّرْدَاء قَالَ مَا من مُؤمن إِلَّا وَالْمَوْت خير لَهُ وَمَا من هُوَ كَافِر إِلَّا وَالْمَوْت خير لَهُ فَمن لم يصدقني فَإِن
মুমিনের জন্য জেলখানা এবং কাফিরের জন্য জান্নাত; সুতরাং মুমিন যখন মৃত্যুবরণ করে, তখন তার পথ উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় এবং সে জান্নাতের যেখানে ইচ্ছে বিচরণ করে।এখানে 'সারব' শব্দটি প্রথম অক্ষরের ফাতহা (জবর) সহকারে 'পথ' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যেমনটি 'সিহাহ' গ্রন্থে রয়েছে।১৩ - আবু নুয়াইম ইবনে ওমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবু যারকে বললেন: হে আবু যার! নিশ্চয়ই দুনিয়া মুমিনের জন্য জেলখানা, কবর তার জন্য নিরাপদ স্থান এবং জান্নাত তার গন্তব্য। হে আবু যার! নিশ্চয়ই দুনিয়া কাফিরের জন্য জান্নাত, কবর তার জন্য আজাব এবং জাহান্নাম তার গন্তব্য।১৬ - নাসায়ী, তাবারানি এবং ইবনে আবিদ দুনিয়া উবাদাহ ইবনে সামিত থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘ভূপৃষ্ঠে এমন কোনো প্রাণ নেই যে মৃত্যুবরণ করে এবং আল্লাহর কাছে তার জন্য কল্যাণ রয়েছে, আর সে দুনিয়া ও তার মধ্যকার যাবতীয় নেয়ামত লাভের বিনিময়ে তোমাদের কাছে ফিরে আসতে পছন্দ করে; কেবল শহীদ ব্যতীত। কেননা সে পুনরায় ফিরে এসে পুনরায় নিহত হওয়াকে পছন্দ করে, আল্লাহর পক্ষ থেকে তার জন্য নির্ধারিত সওয়াব প্রত্যক্ষ করার কারণে।’১৭ - ইবনে আবি শায়বাহ 'মুসান্নাফ'-এ, মারওয়াযী 'জানায়েজ'-এ এবং তাবারানি ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: দুনিয়ার স্বচ্ছতা চলে গেছে এবং কেবল আবিলতা অবশিষ্ট রয়েছে; সুতরাং মৃত্যু প্রত্যেক মুসলিমের জন্য এক অনন্য উপহার।১৮ - মারওয়াযী, ইবনে আবিদ দুনিয়া এবং বায়হাকী 'শুয়াবুল ইমান'-এ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: অপ্রিয় দুটি বিষয় কতই না চমৎকার; দারিদ্র্য ও মৃত্যু।১৯ - ইবনে আবি শায়বাহ ও মারওয়াযী তাউস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মানুষের দ্বীন তার কবর ব্যতীত অন্য কোথাও সংরক্ষিত হয় না।২০ - ইবনে আবি শায়বাহ, ইবনুল মুবারক 'যুহদ' গ্রন্থে এবং মারওয়াযী রাবী ইবনে খাইসাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুমিন প্রতীক্ষা করে এমন কোনো অনুপস্থিত বিষয় মৃত্যুর চেয়ে উত্তম নয়।২১ - ইবনে আবিদ দুনিয়া মালিক ইবনে মিগওয়াল থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, মুমিনের হৃদয়ে প্রথম যে আনন্দ প্রবেশ করে তা হলো মৃত্যু; কারণ সে তখন আল্লাহর পক্ষ থেকে সম্মান ও সওয়াব প্রত্যক্ষ করে।২২ - ইমাম আহমাদ 'যুহদ' গ্রন্থে এবং ইবনে আবিদ দুনিয়া ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ ব্যতীত মুমিনের জন্য কোনো প্রশান্তি নেই।২৩ - সাঈদ ইবনে মানসুর এবং ইবনে জারীর আবু দারদা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: এমন কোনো মুমিন নেই যার জন্য মৃত্যু কল্যাণকর নয়, এবং এমন কোনো কাফির নেই যার জন্য মৃত্যু কল্যাণকর নয়। সুতরাং যে আমাকে বিশ্বাস করো না, সে যেন...
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুদূর বিশারহি হালিল মাওতা ওয়াল কুবূর
(পৃষ্ঠা: ২২)
الله يَقُول {وَمَا عِنْد الله خير للأبرار} {وَلَا يَحسبن الَّذين كفرُوا أَنما نملي لَهُم خير لأَنْفُسِهِمْ}24 - وَأخرج إِبْنِ أبي شيبَة فِي المُصَنّف وَعبد الرَّزَّاق فِي تَفْسِيره وَالْحَاكِم فِي الْمُسْتَدْرك وَالطَّبَرَانِيّ والمروزي فِي الْجَنَائِز عَن إِبْنِ مَسْعُود قَالَ مَا من نفس برة وَلَا فاجرة إِلَّا وَالْمَوْت خير لَهَا من الْحَيَاة فَإِن كَانَ برا فقد قَالَ الله تَعَالَى {وَمَا عِنْد الله خير للأبرار} وَإِن كَانَ فَاجِرًا فقد قَالَ الله تَعَالَى {وَلَا يَحسبن الَّذين كفرُوا أَنما نملي لَهُم خير لأَنْفُسِهِمْ إِنَّمَا نملي لَهُم ليزدادوا}26 - وَأخرج إِبْنِ الْمُبَارك وَأحمد فِي الزّهْد عَن حَيَّان بن جبلة أَن أَبَا ذَر وَأَبا الدَّرْدَاء قَالَ تلدون للْمَوْت وتعمرون للخراب وتحرصون على مَا يفنى وتذرون مَا يبْقى أَلا حبذا المكروهات الثَّلَاث الْمَوْت وَالْمَرَض والفقر27 - وَأخرج أَحْمد فِي الزّهْد عَن إِبْنِ مَسْعُود قَالَ أَلا حبذا المكروهان الْمَوْت والفقر28 - وَأخرج إِبْنِ أبي الدُّنْيَا عَن جَعْفَر الْأَحْمَر قَالَ من لم يكن لَهُ فِي الْمَوْت خير فَلَا خير لَهُ فِي الْحَيَاة29 - وَأخرج إِبْنِ سعد فِي الطَّبَقَات وَالْبَيْهَقِيّ فِي الشّعب عَن أبي الدَّرْدَاء قَالَ أحب الْفقر تواضعا لرَبي وَأحب الْمَوْت إشتياقا لرَبي وَأحب الْمَرَض تكفيرا لخطيئتي30 - وَأخرج إِبْنِ سعد وإبن أبي شيبَة وَأحمد فِي الزّهْد عَن أبي الدَّرْدَاء أَنه قيل لَهُ مَا تحب لمن تحب قَالَ الْمَوْت قَالُوا فَإِن لم يمت قَالَ يقل مَاله وَولده31 - وَأخرج إِبْنِ أبي شيبَة عَن عبَادَة بن الصَّامِت قَالَ أَتَمَنَّى لحبيبي أَن يقل مَاله ويعجل مَوته32 - وَأخرج أَحْمد فِي الزّهْد وإبن أبي الدُّنْيَا عَن أبي الدَّرْدَاء قَالَ مَا
আল্লাহ বলেন {আর যা আল্লাহর নিকট রয়েছে তা নেককারদের জন্য উত্তম} {আর যারা কুফরি করেছে তারা যেন কিছুতেই মনে না করে যে, আমি তাদের যে অবকাশ দিচ্ছি তা তাদের নিজেদের জন্য কল্যাণকর}24 - ইবনে আবি শায়বা আল-মুসান্নাফ গ্রন্থে, আবদুর রাজ্জাক তার তাফসিরে, হাকিম আল-মুসতাদরাক গ্রন্থে এবং তাবারানি ও মারওয়াযি আল-জানায়েয গ্রন্থে ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: এমন কোনো পুণ্যবান কিংবা পাপিষ্ঠ আত্মা নেই যার জন্য মৃত্যু জীবনের চেয়ে উত্তম নয়। যদি সে পুণ্যবান হয়, তবে আল্লাহ তাআলা বলেছেন {আর যা আল্লাহর নিকট রয়েছে তা নেককারদের জন্য উত্তম}। আর যদি সে পাপিষ্ঠ হয়, তবে আল্লাহ তাআলা বলেছেন {আর যারা কুফরি করেছে তারা যেন কিছুতেই মনে না করে যে, আমি তাদের যে অবকাশ দিচ্ছি তা তাদের নিজেদের জন্য কল্যাণকর; আমি তো তাদের অবকাশ দিচ্ছি যাতে তাদের পাপ বৃদ্ধি পায়।}26 - ইবনুল মুবারক এবং আহমদ আয-যুহদ গ্রন্থে হাইয়ান ইবনে জাবালা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আবু যার ও আবু দারদা বলেছেন: তোমরা মৃত্যুর জন্য সন্তান জন্ম দিচ্ছ, ধ্বংসের জন্য আবাদ করছ, নশ্বর জিনিসের প্রতি লোভ করছ এবং অবিনশ্বর যা তাকে বর্জন করছ। সাবধান! তিনটি অপছন্দনীয় বিষয় কতই না চমৎকার: মৃত্যু, রোগ ও দারিদ্র্য।27 - আহমদ আয-যুহদ গ্রন্থে ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: সাবধান! অপছন্দনীয় দুটি বিষয় কতই না চমৎকার: মৃত্যু ও দারিদ্র্য।28 - ইবনে আবিদ দুনইয়া জাফর আল-আহমার থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মৃত্যুর মধ্যে যার জন্য কোনো কল্যাণ নেই, তার জীবনেও কোনো কল্যাণ নেই।29 - ইবনে সাদ আত-তাবাকাত গ্রন্থে এবং বায়হাকি আশ-শুআব গ্রন্থে আবু দারদা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি দারিদ্র্যকে ভালোবাসি আমার রবের প্রতি বিনয়ী হওয়ার জন্য, আমি মৃত্যুকে ভালোবাসি আমার রবের প্রতি ব্যাকুলতার কারণে এবং আমি রোগকে ভালোবাসি আমার পাপের কাফফারা হিসেবে।30 - ইবনে সাদ, ইবনে আবি শায়বা এবং আহমদ আয-যুহদ গ্রন্থে আবু দারদা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, "আপনি যাকে ভালোবাসেন তার জন্য কী পছন্দ করেন?" তিনি বললেন, "মৃত্যু।" তারা বলল, "যদি সে না মরে?" তিনি বললেন, "তার সম্পদ ও সন্তান কমে যাওয়া।"31 - ইবনে আবি শায়বা উবাদা ইবনুস সামিত থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আমার প্রিয় পাত্রের জন্য কামনা করি যে, তার সম্পদ কমে যাক এবং মৃত্যু ত্বরান্বিত হোক।32 - আহমদ আয-যুহদ গ্রন্থে এবং ইবনে আবিদ দুনইয়া আবু দারদা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: যা...
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুদূর বিশারহি হালিল মাওতা ওয়াল কুবূর
(পৃষ্ঠা: ২৩)
أهْدى إِلَيّ أَخ هَدِيَّة أحب إِلَيّ من السَّلَام وَلَا بَلغنِي عَنهُ خير أعجب إِلَيّ من مَوته33 - وَأخرج إِبْنِ أبي الدُّنْيَا عَن مُحَمَّد بن عبد الْعَزِيز التَّيْمِيّ قَالَ قيل لعبد الْأَعْلَى التَّيْمِيّ مَا تشْتَهي لنَفسك وَلمن تحب من أهلك قَالَ الْمَوْت34 - وَأخرج الطَّبَرَانِيّ عَن أبي مَالك الْأَشْعَرِيّ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم اللَّهُمَّ حبب الْمَوْت إِلَى من يعلم أَنِّي رَسُولك35 - وَأخرج أَحْمد أَن ملك الْمَوْت جَاءَ إِلَى إِبْرَاهِيم صلوَات الله عَلَيْهِ وَسَلَامه ليقْبض روحه فَقَالَ إِبْرَاهِيم يَا ملك الْمَوْت هَل رَأَيْت خَلِيلًا يقبض روح خَلِيله فعرج ملك الْمَوْت إِلَى ربه فَقَالَ قل لَهُ هَل رَأَيْت خَلِيلًا بكره لِقَاء خَلِيله فَرجع قَالَ فاقبض روحي السَّاعَة36 - وَأخرج الْأَصْبَهَانِيّ فِي التَّرْغِيب عَن أنس أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ لَهُ إِن حفظت وصيتي فَلَا يكونن شَيْء أحب إِلَيْك من الْمَوْت37 - وَأخرج إِبْنِ سعد عَن الْحسن قَالَ لما حضر حُذَيْفَة الْمَوْت قَالَ حبيب جَاءَ على فاقة لَا أَفْلح من نَدم الْحَمد لله الَّذِي سبق بِي الْفِتْنَةوَقَالَ سهل بن عبد الله التسترِي لَا يتَمَنَّى الْمَوْت إِلَّا ثَلَاثَة رجل جَاهِل بِمَا بعد الْمَوْت أَو رجل يفر من أقدار الله أَو مشتاق محب للقاء اللهوَقَالَ حَيَّان بن الْأسود الْمَوْت جسر يُوصل الحبيب إِلَى الحبيب وَقَالَ أَبُو عُثْمَان عَلامَة الشوق حب الْمَوْت مَعَ الرَّاحَة وَقَالَ بَعضهم إِن المشتاقين يحسون حلاوة الْمَوْت عِنْد وُرُوده لما قد كشف لَهُم من روح الْوُصُول أحلى من الشهد38 - وَأخرج إِبْنِ عَسَاكِر عَن ذِي النُّون الْمصْرِيّ قَالَ الشوق أَعلَى الدَّرَجَات وَأَعْلَى المقامات إِذا بلغَهَا العَبْد إستبطأ الْمَوْت شوقا إِلَى ربه وحبا للقائه وَالنَّظَر إِلَيْهِ
এক ভাই আমাকে একটি উপহার পাঠালেন যা আমার কাছে সালামের চেয়েও প্রিয়, আর তার পক্ষ থেকে এমন কোনো সংবাদ আমার কাছে পৌঁছেনি যা তার মৃত্যুর সংবাদের চেয়ে আমার কাছে বেশি পছন্দনীয়।৩৩ - ইবনে আবিদ দুনিয়া মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল আজিজ আত-তাইমি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুল আলা আত-তাইমিকে জিজ্ঞেস করা হলো, "আপনি নিজের জন্য এবং আপনার পরিবারের প্রিয়জনদের জন্য কী তামান্না করেন?" তিনি বললেন, "মৃত্যু।"৩৪ - তাবারানি আবু মালিক আল-আশআরি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, "হে আল্লাহ! যে ব্যক্তি বিশ্বাস করে যে আমি আপনার রাসূল, তার নিকট মৃত্যুকে প্রিয় করে দিন।"৩৫ - ইমাম আহমাদ বর্ণনা করেছেন যে, মৃত্যুর ফেরেশতা ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর নিকট তাঁর জান কবজ করার জন্য আসলেন। তখন ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম) বললেন, "হে মৃত্যুর ফেরেশতা, আপনি কি কখনো দেখেছেন যে কোনো বন্ধু তার বন্ধুর জান কবজ করে?" তখন মৃত্যুর ফেরেশতা তাঁর রবের দিকে আরোহণ করলেন এবং বললেন (হে আল্লাহ, ইব্রাহিম এমনটি বলেছেন)। আল্লাহ তাআলা বললেন, "তাকে গিয়ে বলো, তুমি কি কখনো দেখেছ যে কোনো বন্ধু তার বন্ধুর সাথে সাক্ষাৎ করা অপছন্দ করে?" ফেরেশতা ফিরে এসে তা বললে ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম) বললেন, "তাহলে এখনই আমার জান কবজ করো।"৩৬ - আসবাহানি 'আত-তারগীব' গ্রন্থে আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে বলেছেন, "যদি তুমি আমার ওসিয়ত স্মরণ রাখো, তবে মৃত্যুর চেয়ে প্রিয় কোনো কিছুই তোমার নিকট থাকবে না।"৩৭ - ইবনে সাদ হাসান (বাসরি) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন হুজায়ফা (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলো, তখন তিনি বললেন, "এক প্রিয়জন চরম অভাবের মুহূর্তে এসেছে। যে ব্যক্তি (মৃত্যুর আগমনে) লজ্জিত বা অনুতপ্ত হয় সে সফল হয় না। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি ফিতনা আসার আগেই আমাকে নিয়ে যাচ্ছেন।"সাহল বিন আব্দুল্লাহ আত-তুস্তারি বলেন, "তিন প্রকার ব্যক্তি ছাড়া কেউ মৃত্যুর আকাঙ্ক্ষা করে না: এমন ব্যক্তি যে মৃত্যু পরবর্তী অবস্থা সম্পর্কে অজ্ঞ, অথবা এমন ব্যক্তি যে আল্লাহর তকদির থেকে পলায়ন করতে চায়, অথবা এমন ব্যক্তি যে আল্লাহর সাক্ষাতের অতিশয় আগ্রহী ও প্রেমিক।"হাইয়ান বিন আল-আসওয়াদ বলেন, "মৃত্যু হলো একটি সেতু যা এক বন্ধুকে অন্য বন্ধুর সাথে পৌঁছে দেয়।" আবু উসমান বলেন, "আল্লাহর সাক্ষাতের ব্যাকুলতার আলামত হলো প্রশান্তির সাথে মৃত্যুকে ভালোবাসা।" তাঁদের কেউ কেউ বলেন, "আল্লাহর দিদারের ব্যাকুলতা পোষণকারীরা মৃত্যুর আগমনের সময় এক প্রকার মিষ্টতা অনুভব করে, কারণ তাদের সামনে মিলনের যে প্রশান্তি উন্মোচিত হয় তা মধুর চেয়েও অধিক মিষ্টি।"৩৮ - ইবনে আসাকির যুন-নুন আল-মিসরি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "শওক বা ব্যাকুলতা হলো সর্বোচ্চ স্তর ও সুউচ্চ মাকাম। বান্দা যখন এই স্তরে পৌঁছে, তখন সে তার রবের প্রতি ব্যাকুলতা, তাঁর সাক্ষাৎ এবং আল্লাহর দিকে তাকানোর ভালোবাসার তীব্রতায় মৃত্যুকে বিলম্বিত মনে করে (অর্থাৎ সে দ্রুত মৃত্যু কামনা করে)।"
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুদূর বিশারহি হালিল মাওতা ওয়াল কুবূর
(পৃষ্ঠা: ২৪)
39 - وَأخرج إِبْنِ أبي الدُّنْيَا عَن عتبَة الْخَولَانِيّ الصَّحَابِيّ رضي الله عنه أَنه قيل لَهُ إِن عبد الله بن عبد الْملك خرج هَارِبا من الطَّاعُون فَقَالَ إِنَّا لله وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُون مَا كنت أرى أَنِّي أبقى حَتَّى أسمع بِمثل هَذَا أَفلا أخْبركُم عَن خلال كَانَ عَلَيْهَا إخْوَانكُمْ أَولهَا لِقَاء الله تَعَالَى كَانَ أحب إِلَيْهِم من الشهدوَالثَّانيَِة لم يَكُونُوا يخَافُونَ عدوا قلوا أَو كَثُرُواوَالثَّالِثَة لم يَكُونُوا يخَافُونَ عوزا من الدُّنْيَا كَانُوا واثقين بِاللَّه أَن يرزقهموَالرَّابِعَة إِن نزل بهم الطَّاعُون لم يبرحوا حَتَّى يقْضِي الله فيهم مَا قضى40 - وَأخرج أَبُو نعيم فِي الْحِلْية عَن إِبْنِ عبد ربه أَنه قَالَ لمكحول أَتُحِبُّ الْجنَّة قَالَ وَمن لَا يحب الْجنَّة قَالَ فأحبب الْمَوْت فَإنَّك لن ترى الْجنَّة حَتَّى تَمُوت41 - وَأخرج عَن عبد الرَّحْمَن بن يزِيد بن جَابر أَن عبد الله بن أبي زَكَرِيَّا كَانَ يَقُول لَو خيرت بَين أَن أعمر مائَة سنة فِي طَاعَة الله وَأَن أَقبض فِي يومي هَذَا أَو فِي سَاعَتِي هَذِه لاخترت أَن أَقبض فِي يومي هَذَا أَو فِي سَاعَتِي هَذِه شوقا إِلَى الله وَإِلَى رَسُوله وَإِلَى الصَّالِحين من عباده42 - وَأخرج أَبُو نعيم وإبن عَسَاكِر فِي تَارِيخه عَن أَحْمد بن أبي الْحوَاري قَالَ سَمِعت أَبَا عبد الله النباجي يَقُول لَو خيرت بَين أَن تكون لي الدُّنْيَا مُنْذُ يَوْم خلقت أتنعم فِيهَا حَلَالا لَا أسأَل عَنْهَا يَوْم الْقِيَامَة وَبَين أَن تخرج نَفسِي السَّاعَة لاخترت أَن تخرج نَفسِي السَّاعَة أما تحب أَن تلقى من تطيع43 - وَأخرج أَبُو نعيم وَالْبَيْهَقِيّ فِي شعب الْإِيمَان عَن أنس قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم الْمَوْت كَفَّارَة لكل مُسلم صَححهُ إِبْنِ الْعَرَبِيّ قَالَ الْقُرْطُبِيّ وَذَلِكَ لما يلقاه الْمَيِّت فِيهِ من الآلام والأوجاع وَقد قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم مَا من مُسلم يُصِيبهُ أَذَى شَوْكَة فَمَا فَوْقهَا إِلَّا كفر الله بهَا من سيئاته فَمَا ظَنك بِالْمَوْتِ الَّذِي سكرة من سكراته أَشد ثَلَاثمِائَة ضَرْبَة بِالسَّيْفِ
৩৯ - ইবনে আবিদ দুনিয়া সাহাবী উত্বাহ আল-খাওলানী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তাকে বলা হলো, আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল মালিক মহামারী থেকে বাঁচতে পালিয়ে গেছেন। তিনি বললেন, "আমরা আল্লাহরই জন্য এবং তাঁরই দিকে আমাদের ফিরে যেতে হবে। আমি ভাবিনি যে আমি এমন কিছু শোনার জন্য বেঁচে থাকব। আমি কি তোমাদের তোমাদের ভাইদের কিছু বৈশিষ্ট্যের কথা বলব না? তাদের প্রথম বৈশিষ্ট্য ছিল: আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ তাদের কাছে মধুর চেয়েও প্রিয় ছিল।দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য: তারা শত্রুকে ভয় পেতেন না, তারা সংখ্যায় অল্প হোক বা বেশি।তৃতীয় বৈশিষ্ট্য: তারা দুনিয়াবি অভাব-অনটনের ভয় পেতেন না; তারা আল্লাহর ওপর আস্থাশীল ছিলেন যে তিনি তাদের রিযিক দেবেন।চতুর্থ বৈশিষ্ট্য: যদি তাদের মাঝে মহামারী দেখা দিত, তবে আল্লাহ তাদের বিষয়ে যা ফয়সালা করার তা না করা পর্যন্ত তারা সেখান থেকে সরতেন না।৪০ - আবু নুআইম 'হিলইয়াহ' গ্রন্থে ইবনে আবদে রাব্বিহি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি মাকহুলকে বললেন, "আপনি কি জান্নাত ভালোবাসেন?" তিনি বললেন, "জান্নাত কে না ভালোবাসে?" তিনি বললেন, "তাহলে মৃত্যুকে ভালোবাসুন, কারণ মৃত্যু বরণ না করা পর্যন্ত আপনি জান্নাত দেখতে পাবেন না।"৪১ - আব্দুর রহমান ইবনে ইয়াযীদ ইবনে জাবির থেকে বর্ণিত যে, আব্দুল্লাহ ইবনে আবি যাকারিয়া বলতেন, "আমাকে যদি আল্লাহর আনুগত্যের মধ্যে একশ বছর বেঁচে থাকা এবং আজ এই দিনে বা এই মুহূর্তেই প্রাণ ত্যাগ করার মধ্যে পছন্দ করার সুযোগ দেওয়া হয়, তবে আমি আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং তাঁর নেককার বান্দাদের প্রতি ব্যাকুল আকাঙ্ক্ষায় আজ এই দিনে বা এই মুহূর্তেই প্রাণ ত্যাগ করাকে পছন্দ করে নিতাম।"৪২ - আবু নুআইম এবং ইবনে আসাকির তাঁর ইতিহাস গ্রন্থে আহমাদ ইবনে আবিল হাওয়ারী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি আবু আব্দুল্লাহ আন-নাবাজীকে বলতে শুনেছি, "পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকে আজ পর্যন্ত যদি পুরো দুনিয়া আমাকে দেওয়া হতো এবং আমি এতে হালালভাবে ভোগ-বিলাস করতাম যার জন্য কিয়ামতের দিন আমাকে কোনো হিসেব দিতে হতো না, আর যদি এই মুহূর্তে আমার প্রাণ বেরিয়ে যাওয়ার মধ্যে পছন্দ করার সুযোগ দেওয়া হতো, তবে আমি এই মুহূর্তেই প্রাণ বেরিয়ে যাওয়াকে পছন্দ করতাম। আপনি কি তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতে ভালোবাসেন না যার আনুগত্য আপনি করেন?"৪৩ - আবু নুআইম এবং বায়হাকী 'শুআবুল ঈমান'-এ আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "মৃত্যু প্রতিটি মুসলিমের জন্য গুনাহের কাফফারা।" ইবনুল আরাবী একে সহীহ বলেছেন। আল-কুরতুবী বলেন, এটি এজন্য যে, মৃত ব্যক্তি মৃত্যুর সময় যে ব্যথা ও যন্ত্রণা ভোগ করে তার কারণে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরও বলেছেন: "কোনো মুসলিম যখন একটি কাঁটার আঘাত বা তার চেয়েও সামান্য কোনো কষ্টের সম্মুখীন হয়, তবে আল্লাহ তার বিনিময়ে তার গুনাহসমূহ মোচন করে দেন।" তাহলে মৃত্যু সম্পর্কে আপনার ধারণা কী, যার একেকটি যন্ত্রণার তীব্রতা তলোয়ারের তিনশ আঘাতের চেয়েও বেশি ভয়াবহ?
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুদূর বিশারহি হালিল মাওতা ওয়াল কুবূর
(পৃষ্ঠা: ২৫)
44 - وَأخرج إِبْنِ الْمُبَارك فِي الزّهْد وإبن أبي الدُّنْيَا عَن مَسْرُوق قَالَ مَا غبطت شَيْئا بِشَيْء كمؤمن فِي لحده قد أَمن من عَذَاب الله وإستراح من أَذَى الدُّنْيَا45 - وَأخرج إِبْنِ أبي شيبَة بِلَفْظ مَا من شَيْء خير لِلْمُؤمنِ من لحد قد إستراح من هموم الدُّنْيَا وَأمن من عَذَاب الله46 - وَأخرج إِبْنِ الْمُبَارك عَن الْهَيْثَم بن مَالك كُنَّا نتحدث عِنْد أَيفع بن عبد وَعِنْده أَبُو عَطِيَّة الْمَذْبُوح فتذاكروا النَّعيم فَقَالَ من أنعم النَّاس قَالُوا فلَان وَفُلَان فَقَالَ أَيفع مَا تَقول يَا أَبَا عَطِيَّة قَالَ أَنا أخْبركُم بِمن هُوَ أنعم مِنْهُ جَسَد فِي لحد قد أَمن من الْعَذَاب47 - وَأخرج عَن محَارب بن دثار قَالَ قَالَ لي خَيْثَمَة أَيَسُرُّك الْمَوْت قلت لَا قَالَ مَا أعلم أحدا لَا يسره الْمَوْت إِلَّا مَنْقُوص48 - وَأخرج عبد الله بن أَحْمد فِي زَوَائِد الزّهْد بِلَفْظ فَقَالَ إِن هَذَا بك لنَقص كَبِير49 - وَأخرج إِبْنِ الْمُبَارك عَن أبي عبد الرَّحْمَن أَن رجلا قَالَ فِي مجْلِس أبي الْأَعْوَر السّلمِيّ وَالله مَا خلق الله شَيْئا أحب إِلَيّ من الْمَوْت فَقَالَ أَبُو الْأَعْوَر لِأَن أكون مثلك أحب إِلَيّ من حمر النعم50 - وَأخرج إِبْنِ أبي الدُّنْيَا عَن صَفْوَان بن سليم قَالَ فِي الْمَوْت رَاحَة لِلْمُؤمنِ من شَدَائِد الدُّنْيَا وَإِن كَانَ الْمَوْت ذَا غصص وكرب51 - وَأخرج عَن مُحَمَّد بن زِيَاد قَالَ حدثت عَن بعض الْحُكَمَاء أَنه قَالَ للْمَوْت أَهْون على الْعَاقِل من زلَّة عَالم غافل52 - وَأخرج عَن سُفْيَان قَالَ كَانَ يُقَال الْمَوْت رَاحَة العابدين
৪৪ - ইবনুল মুবারক ‘আয-যুহদ’ গ্রন্থে এবং ইবনু আবুদ দুনিয়া মাসরূক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি কোনো কিছুর প্রতি এমন ঈর্ষা পোষণ করিনি যেমনটি সেই মুমিনের প্রতি করি যে তার কবরে আল্লাহর আযাব থেকে নিরাপদ হয়েছে এবং দুনিয়ার কষ্ট থেকে স্বস্তি লাভ করেছে।৪৫ - ইবনু আবী শায়বাহ এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: মুমিনের জন্য কবরের চেয়ে উত্তম কিছু নেই, যেখানে সে দুনিয়ার দুশ্চিন্তা থেকে স্বস্তি পায় এবং আল্লাহর আযাব থেকে নিরাপদ থাকে।৪৬ - ইবনুল মুবারক হাইসাম ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা আয়ফা ইবনে আবদ-এর নিকট আলোচনা করছিলাম, আর তাঁর কাছে আবু আতিয়্যাহ আল-মাযবূহ উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য সম্পর্কে আলোচনা করলেন। আয়ফা বললেন, মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সুখে আছে কে? তাঁরা বললেন, অমুক অমুক। তখন আয়ফা বললেন, হে আবু আতিয়্যাহ, আপনি কী বলেন? তিনি বললেন, আমি তোমাদের এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে বলব যে তাদের চেয়েও বেশি সুখে আছে: কবরের অভ্যন্তরে এমন এক দেহ যে আযাব থেকে নিরাপদ হয়েছে।৪৭ - মুহরিব ইবনে দিসার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: খায়সামাহ আমাকে বললেন, মৃত্যু কি তোমাকে আনন্দিত করে? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, আমি এমন কাউকে জানি না যাকে মৃত্যু আনন্দিত করে না, কেবল ত্রুটিপূর্ণ ব্যক্তি ব্যতীত।৪৮ - আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ ‘যাওয়াইদুয যুহদ’ গ্রন্থে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: তিনি বললেন, তোমার মধ্যে এটি একটি বড় ধরনের ত্রুটি।৪৯ - ইবনুল মুবারক আবু আবদুর রহমান থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এক ব্যক্তি আবু আল-আওয়ার আস-সুলামীর মজলিসে বলল: আল্লাহর কসম, আল্লাহ তাআলা আমার কাছে মৃত্যুর চেয়ে প্রিয় কোনো কিছু সৃষ্টি করেননি। তখন আবু আল-আওয়ার বললেন: আমি তোমার মতো হওয়া আমার কাছে লাল উটের চেয়েও অধিক প্রিয়।৫০ - ইবনু আবুদ দুনিয়া সাফওয়ান ইবনে সুলাইম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মৃত্যুর মধ্যে মুমিনের জন্য দুনিয়ার বিপদ-আপদ থেকে স্বস্তি রয়েছে, যদিও মৃত্যুর যন্ত্রণা ও কষ্ট আছে।৫১ - মুহাম্মদ ইবনে যিয়াদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: জনৈক প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি থেকে আমার কাছে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: একজন প্রজ্ঞাবান ব্যক্তির কাছে মৃত্যু একজন গাফেল আলেমের পদস্খলনের চেয়েও সহজতর।৫২ - সুফিয়ান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: বলা হতো, মৃত্যু হলো ইবাদতকারীদের জন্য স্বস্তি।
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুদূর বিশারহি হালিল মাওতা ওয়াল কুবূর
(পৃষ্ঠা: ২৬)
6 - بَاب ذكر الْمَوْت والإستعداد لَهُ 1 - أخرج التِّرْمِذِيّ وَحسنه وَالنَّسَائِيّ وَابْن ماجة عَن أبي هُرَيْرَة قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَكْثرُوا ذكر هاذم اللَّذَّات يَعْنِي الْمَوْت وَأخرج أَبُو نعيم من حَدِيث عمر بن الْخطاب مثله2 - وَأخرج الْبَزَّار عَن أنس أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ أَكْثرُوا ذكر هاذم اللَّذَّات فَإِنَّهُ مَا ذكره أحد فِي ضيق من الْعَيْش إِلَّا وَسعه عَلَيْهِ وَلَا فِي سَعَة إِلَّا ضيقه عَلَيْهِ3 - وَأخرج ابْن ماجة عَن عمر قَالَ سُئِلَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَي الْمُؤمنِينَ أَكيس قَالَ أَكْثَرهم للْمَوْت ذكرا وَأَحْسَنهمْ لما بعده إستعدادا أُولَئِكَ الأكياس4 - وَأخرج التِّرْمِذِيّ عَن شَدَّاد بن أَوْس قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم الْكيس من دَان نَفسه وَعمل لما بعد الْمَوْت وَالْعَاجِز من أتبع نَفسه هَواهَا وَتمنى على الله5 - وَأخرج إِبْنِ أبي الدُّنْيَا عَن أنس عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَكْثرُوا ذكر الْمَوْت فَإِنَّهُ يمحص الذُّنُوب ويزهد فِي الدُّنْيَا فَإِن ذكرتموه عِنْد الْغنى هَدمه وَإِن ذكرتموه عِنْد الْفقر أرضاكم بعيشكم6 - وَأخرج أَيْضا عَن عَطاء الْخُرَاسَانِي قَالَ مر رَسُول الله صلى الله عليه وسلم بِمَجْلِس قد إستعلاه الضحك فَقَالَ شوبوا مجلسكم بمكدر اللَّذَّات قَالُوا وَمَا مكدر اللَّذَّات قَالَ الْمَوْت7 - وَأخرج أَيْضا عَن سُفْيَان قَالَ حَدثنَا شيخ أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أوصى رجلا فَقَالَ أَكثر ذكر الْمَوْت فَإِن ذكره يسليك عَمَّا سواهُ8 - وَأخرج إِبْنِ أبي الدُّنْيَا وَالْبَيْهَقِيّ فِي شعب الْإِيمَان عَن زيد السليمي أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذا آنس من أَصْحَابه غَفلَة نَادَى فيهم بِصَوْت رفيع أتتكم الْمنية راتبة لَازِمَة إِمَّا بشقاوة وَإِمَّا بسعادة
6 - মৃত্যু স্মরণ এবং এর প্রস্তুতির অধ্যায় 1 - ইমাম তিরমিজি (তিনি একে হাসান বলেছেন), নাসাঈ এবং ইবনে মাজাহ আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমরা স্বাদ বিনষ্টকারী তথা মৃত্যুকে বেশি বেশি স্মরণ করো। আবু নুআইম উমর ইবনুল খাত্তাবের হাদিস থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।2 - বাজ্জার আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমরা স্বাদ বিনষ্টকারীকে বেশি বেশি স্মরণ করো। কেননা, সংকীর্ণ জীবন যাপনকালে কেউ এটি স্মরণ করলে তা তার জন্য প্রশস্ত হয়ে যায়, আর স্বাচ্ছন্দ্যের সময় এটি স্মরণ করলে তা তার জন্য সংকুচিত হয়ে যায়।3 - ইবনে মাজাহ উমর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, মুমিনদের মধ্যে সবচেয়ে বুদ্ধিমান কে? তিনি বললেন: তাদের মধ্যে যারা মৃত্যুকে সবচেয়ে বেশি স্মরণ করে এবং মৃত্যুর পরবর্তী সময়ের জন্য যারা সবচেয়ে উত্তম প্রস্তুতি গ্রহণ করে। তারাই প্রকৃত বুদ্ধিমান।4 - তিরমিজি শাদ্দাদ বিন আউস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: বুদ্ধিমান সেই ব্যক্তি যে নিজের নফসের হিসাব নেয় এবং মৃত্যুর পরবর্তী সময়ের জন্য আমল করে। আর অক্ষম সেই ব্যক্তি যে নিজের নফসের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করে এবং আল্লাহর কাছে মিথ্যা আশা পোষণ করে।5 - ইবনে আবিদ দুনিয়া আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমরা মৃত্যুকে বেশি বেশি স্মরণ করো, কারণ এটি গুনাহসমূহ মোচন করে এবং দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তি তৈরি করে। যদি তোমরা সচ্ছল অবস্থায় এটি স্মরণ করো তবে তা (বিলাসিতার মোহ) চূর্ণ করে দেয়, আর যদি অভাবের সময় এটি স্মরণ করো তবে তা তোমাদের জীবন যাপনে তুষ্ট রাখবে।6 - তিনি আতা আল-খুরাসানি থেকেও বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন এক মজলিসের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যেখানে হাসাহাসি উচ্চমাত্রায় ছিল। তখন তিনি বললেন: তোমাদের মজলিসকে স্বাদ ঘোলাটেকারীর মাধ্যমে মিশ্রিত করো। তারা বলল, স্বাদ ঘোলাটেকারী কী? তিনি বললেন: মৃত্যু।7 - তিনি সুফিয়ান থেকেও বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে একজন শায়খ বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে অসিয়ত করে বললেন: তুমি মৃত্যুকে বেশি বেশি স্মরণ করো, কেননা এর স্মরণ তোমাকে অন্য সবকিছু থেকে বিমুখ বা শান্ত করবে।8 - ইবনে আবিদ দুনিয়া এবং বায়হাকি 'শুয়াবুল ঈমান'-এ জায়েদ আস-সুলাইমি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাঁর সাহাবীদের মধ্যে উদাসীনতা অনুভব করতেন, তখন উচ্চৈঃস্বরে ডেকে বলতেন: তোমাদের কাছে মৃত্যু সমাগত, যা অনিবার্য ও অবধারিত; হয় তা দুর্ভাগ্যের সাথে, নয়তো সৌভাগ্যের সাথে।
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুদূর বিশারহি হালিল মাওতা ওয়াল কুবূর
(পৃষ্ঠা: ২৭)
9 - وَأخرج الْبَيْهَقِيّ عَن الْوَضِين بن عَطاء قَالَ كَانَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِذا أحس من النَّاس بغفلة من الْمَوْت جَاءَ فَأخذ بِعضَادَتَيْ الْبَاب ثمَّ هتف ثَلَاثًا يَا أَيهَا النَّاس يَا أهل الْإِسْلَام أتتكم الْمنية راتبة لَازِمَة جَاءَ الْمَوْت بِمَا جَاءَ بِهِ جَاءَ بِالروحِ والراحة وَالْكَثْرَة الْمُبَارَكَة لأولياء الرَّحْمَن من أهل دَار الخلود الَّذين كَانَ سَعْيهمْ ورغبتهم فِيهَا أَلا إِن لكل ساع غَايَة وَغَايَة كل ساع الْمَوْت سَابق ومسبوق10 - وَأخرج الطَّبَرَانِيّ عَن عمار قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم كفى بِالْمَوْتِ واعظا11 - وَرُوِيَ أَنه قيل يَا رَسُول الله هَل يحْشر مَعَ الشُّهَدَاء أحد قَالَ نعم من يذكر الْمَوْت فِي الْيَوْم وَاللَّيْلَة عشْرين مرّةوَقَالَ السّديّ فِي قَوْله تَعَالَى {خلق الْمَوْت والحياة ليَبْلُوكُمْ أَيّكُم أحسن عملا} قَالَ أَكْثَرَكُم للْمَوْت ذكرا وَأحسن لَهُ إستعدادا وَأَشد خوفًا وحذراوَأخرجه إِبْنِ أبي الدُّنْيَا وَالْبَيْهَقِيّ فِي شعب الْإِيمَان12 - وَأخرج إِبْنِ أبي شيبَة فِي المُصَنّف وَالْإِمَام أَحْمد فِي الزّهْد عَن ابْن سابط قَالَ ذكر عِنْد النَّبِي صلى الله عليه وسلم رجل فأثني عَلَيْهِ فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم كَيفَ ذكره للْمَوْت فَلم يذكر ذَلِك مِنْهُ فَقَالَ مَا هُوَ كَمَا تذكرُونَ وَأخرجه إِبْنِ أبي الدُّنْيَا وَالْبَزَّار مَوْصُولا عَن أنس نَحوه وَأخرجه الطَّبَرَانِيّ عَن سهل بن سعد نَحوه وَقَالَ بَعضهم من أَكثر ذكر الْمَوْت أكْرم بِثَلَاثَة أَشْيَاء تَعْجِيل التَّوْبَة وقناعة الْقلب ونشاط الْعِبَادَة وَمن نسي الْمَوْت عُوقِبَ بِثَلَاثَة أَشْيَاء تسويف التَّوْبَة وَترك الرِّضَا بالكفاف والتكاسل فِي الْعِبَادَةوَقَالَ التَّيْمِيّ شَيْئَانِ قطعا عني لَذَّة الدُّنْيَا ذكر الْمَوْت وَذكر الْوُقُوف بَين يَدي الله تَعَالَى أخرجه إِبْنِ أبي الدُّنْيَا
9 - আল-বাইহাকী ওয়াদীন ইবনে আতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন মানুষের মধ্যে মৃত্যু সম্পর্কে উদাসীনতা লক্ষ্য করতেন, তখন আসতেন এবং দরজার দুই কপাট ধরে তিনবার উচ্চস্বরে ডাক দিয়ে বলতেন, "হে লোকসকল! হে ইসলামের অনুসারীরা! মৃত্যু তোমাদের কাছে অবধারিত ও অনিবার্যরূপে উপস্থিত হয়েছে। মৃত্যু তার সাথে যা নিয়ে আসার তা নিয়ে এসেছে। তা অনন্তকালের আবাসের অধিবাসী দয়াময় আল্লাহর বন্ধুদের জন্য প্রশান্তি, আরাম এবং বরকতময় প্রাচুর্য নিয়ে এসেছে, যাদের প্রচেষ্টা ও আকাঙ্ক্ষা ছিল সেই গৃহের (পরকালের) জন্য। জেনে রেখো, প্রত্যেক প্রচেষ্টাকারীর একটি লক্ষ্য থাকে এবং প্রত্যেক প্রচেষ্টাকারীর লক্ষ্য হলো মৃত্যু; কেউ অগ্রগামী এবং কেউ পশ্চাদগামী।"10 - তাবারানী আম্মার থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "উপদেশদাতা হিসেবে মৃত্যুই যথেষ্ট।"11 - বর্ণিত আছে যে, জিজ্ঞাসা করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল! শহীদদের সাথে কি অন্য কাউকে হাশর করা হবে? তিনি বললেন: "হ্যাঁ, যে ব্যক্তি দিনে ও রাতে বিশবার মৃত্যুকে স্মরণ করে।"সুদ্দী মহান আল্লাহর বাণী—"যিনি মৃত্যু ও জীবন সৃষ্টি করেছেন তোমাদের পরীক্ষা করার জন্য যে, তোমাদের মধ্যে আমলের দিক থেকে কে উত্তম"—এর ব্যাখ্যায় বলেন: "(উত্তম আমলকারী সেই) যে মৃত্যুকে সবচেয়ে বেশি স্মরণ করে, তার জন্য সবচেয়ে উত্তম প্রস্তুতি গ্রহণ করে এবং তাকে সবচেয়ে বেশি ভয় ও সতর্কতা অবলম্বন করে।"এটি ইবনে আবিদ দুনিয়া এবং আল-বাইহাকী 'শুয়াবুল ঈমান'-এ বর্ণনা করেছেন।12 - ইবনে আবি শাইবা 'আল-মুসান্নাফ'-এ এবং ইমাম আহমাদ 'আয-যুহদ'-এ ইবনে সাবিত থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সামনে এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করা হলো এবং তার প্রশংসা করা হলো। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "মৃত্যু সম্পর্কে তার স্মরণ কেমন?" তারা তার মধ্যে এমন কোনো গুণের কথা উল্লেখ করল না। তখন তিনি বললেন: "তোমরা যেমনটা বলছ সে তেমন (মর্যাদার অধিকারী) নয়।" এটি ইবনে আবিদ দুনিয়া এবং আল-বজ্জার আনাস (রা.) থেকে মারফু সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন এবং তাবারানী সাহল ইবনে সাদ (রা.) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। কেউ কেউ বলেছেন: যে ব্যক্তি মৃত্যুকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করে, তাকে তিনটি জিনিসের মাধ্যমে সম্মানিত করা হয়: দ্রুত তওবা করা, অল্পে তুষ্ট অন্তর এবং ইবাদতে উদ্যম। আর যে মৃত্যুকে ভুলে যায়, তাকে তিনটি জিনিসের মাধ্যমে শাস্তি দেওয়া হয়: তওবা করতে বিলম্ব করা, জীবনধারণের জন্য নূন্যতম প্রয়োজনে সন্তুষ্ট না থাকা এবং ইবাদতে অলসতা করা।আত-তাইমী বলেছেন: দুটি বিষয় আমার কাছ থেকে দুনিয়ার স্বাদ কেড়ে নিয়েছে: মৃত্যুর স্মরণ এবং মহান আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোর স্মরণ। এটি ইবনে আবিদ দুনিয়া বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুদূর বিশারহি হালিল মাওতা ওয়াল কুবূর
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وَقَالَ بَعضهم فِي قَوْله تَعَالَى {وَلَا تنس نصيبك من الدُّنْيَا} هُوَ الْكَفَن فَهُوَ وعظ مُتَّصِل بِمَا تقدم من قَوْله {وابتغ فِيمَا آتاك الله الدَّار الْآخِرَة} أَي أطلب فِيمَا أَعْطَاك الله من الدُّنْيَا الْجنَّة بصرفها فِيمَا يُوصل إِلَيْهَا وَلَا تنس أَنَّك تتْرك جَمِيع مَالك إِلَّا نصيبك الَّذِي هُوَ الْكَفَن كَمَا قيل شعر(نصيبك مِمَّا تجمع الدَّهْر كُله … رداءان تلوى فيهمَا وحنوط)13 - وَأخرج أَبُو نعيم عَن أبي هُرَيْرَة قَالَ جَاءَ رجل إِلَى النَّبِي صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُول الله مَا لي لَا أحب الْمَوْت قَالَ لَك مَال قَالَ نعم قَالَ قدمه فَإِن قلب الْمُؤمن مَعَ مَاله إِن قدمه أحب أَن يلْحق بِهِ وَإِن أَخّرهُ أحب أَن يتَأَخَّر مَعَه14 - وَأخرج سعيد بن مَنْصُور عَن أبي الدَّرْدَاء قَالَ موعظة بليغة وغفلة سريعة كفى بِالْمَوْتِ واعظا وَكفى بالدهر مفرقا الْيَوْم فِي الدّور وَغدا فِي الْقُبُور15 - وَأخرج إِبْنِ أبي الدُّنْيَا عَن رَجَاء بن حَيْوَة قَالَ مَا أَكثر عبد ذكر الْمَوْت إِلَّا ترك الْفَرح والحسد16 - وَأخرج إِبْنِ أبي شيبَة فِي المُصَنّف وَأحمد فِي الزّهْد عَن أبي الدَّرْدَاء قَالَ من أَكثر ذكر الْمَوْت قل حسده وَقل فرحه17 - وَأخرج إِبْنِ أبي شيبَة وَأحمد فِي الزّهْد وإبن أبي الدُّنْيَا وَالْبَيْهَقِيّ فِي شعب الْإِيمَان عَن الرّبيع بن أنس قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم كفى بِالْمَوْتِ مزهدا فِي الدُّنْيَا ومرغبا فِي الْآخِرَة18 - وَأخرج الطَّبَرَانِيّ عَن طَارق الْمحَاربي قَالَ قَالَ لي رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إستعد للْمَوْت قبل الْمَوْت19 - وَأخرج إِبْنِ أبي شيبَة عَن عون بن عبد الله قَالَ مَا أحد ينزل الْمَوْت حق مَنْزِلَته إِلَّا عبد عد غَدا لَيْسَ من أَجله كم من مُسْتَقْبل يَوْمًا لَا يستكمله وراج غَدا لَا يبلغهُ إِنَّك لَو ترى الْأَجَل ومسيره لأبغضت الأمل وغروره20 - وَأخرج أَيْضا عَن أبي حَازِم قَالَ أنظر الَّذِي تحب أَن يكون مَعَك فِي الْآخِرَة فقدمه الْيَوْم وَانْظُر الَّذِي تكره أَن يكون مَعَك ثمَّ فَاتْرُكْهُ الْيَوْم
মহান আল্লাহর বাণী {দুনিয়া থেকে তোমার অংশ ভুলে যেও না} সম্পর্কে তাঁদের কেউ কেউ বলেছেন: তা হলো কাফন। সুতরাং এটি পূর্ববর্তী বাণী {আল্লাহ তোমাকে যা দিয়েছেন তা দিয়ে পরকাল অনুসন্ধান করো} এর সাথে সংশ্লিষ্ট একটি উপদেশ। অর্থাৎ আল্লাহ তোমাকে দুনিয়াতে যা দান করেছেন, তা সেই কাজে ব্যয় করার মাধ্যমে জান্নাত অনুসন্ধান করো যা তোমাকে সেখানে পৌঁছে দেবে। আর ভুলে যেও না যে, তোমার অংশ অর্থাৎ কাফন ছাড়া তুমি তোমার সমস্ত সম্পদ ছেড়ে যাবে। যেমন কবিতায় বলা হয়েছে:(সমগ্র জীবন ধরে তুমি যা কিছু সংগ্রহ করো, তার মধ্যে তোমার অংশ হলো … দুটি চাদর যাতে তোমাকে পেঁচানো হবে এবং সুগন্ধি।)১৩ - আবু নুআইম আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমার কী হয়েছে যে আমি মৃত্যুকে ভালোবাসি না? তিনি বললেন: তোমার কি সম্পদ আছে? সে বলল: হ্যাঁ। তিনি বললেন: তা আগে পাঠিয়ে দাও, কারণ মুমিনের অন্তর তার সম্পদের সাথে থাকে; যদি সে তা আগে পাঠিয়ে দেয় তবে সে তার সাথে মিলিত হতে পছন্দ করে, আর যদি তা পেছনে রেখে দেয় তবে সে নিজেও পেছনে পড়ে থাকতে পছন্দ করে।১৪ - সাঈদ ইবনে মানসুর আবু দারদা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: এক মর্মস্পর্শী উপদেশ এবং এক দ্রুত বিস্মৃতি; উপদেশক হিসেবে মৃত্যুই যথেষ্ট এবং বিচ্ছেদকারী হিসেবে কাল-ই যথেষ্ট; আজ ঘরে, তো কাল কবরে।১৫ - ইবনে আবিদ দুনিয়া রাজা ইবনে হাইওয়াহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: কোনো বান্দা যখনই অধিকহারে মৃত্যুকে স্মরণ করে, তখনই সে আনন্দ ও হিংসা পরিত্যাগ করে।১৬ - ইবনে আবি শায়বাহ ‘মুসান্নাফ’-এ এবং আহমাদ ‘যুহদ’-এ আবু দারদা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যে ব্যক্তি অধিকহারে মৃত্যুকে স্মরণ করবে, তার হিংসা ও আনন্দ কমে যাবে।১৭ - ইবনে আবি শায়বাহ, আহমাদ ‘যুহদ’-এ, ইবনে আবিদ দুনিয়া এবং বায়হাকি ‘শুআবুল ঈমান’-এ রাবি ইবনে আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: দুনিয়ার প্রতি নির্লিপ্ত হতে এবং পরকালের প্রতি আগ্রহী হতে মৃত্যুই যথেষ্ট।১৮ - তাবারানি তারিক আল-মুহারিবি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেন: মৃত্যুর আগে মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করো।১৯ - ইবনে আবি শায়বাহ আউন ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মৃত্যুকে সেই বান্দাই সঠিক মর্যাদা দান করে যে আগামীকালকে নিজের সময়ের অন্তর্ভুক্ত মনে করে না। এমন কত লোক আছে যারা দিনের শুরু করে কিন্তু তা শেষ করতে পারে না, আর কত লোক আছে যারা আগামীকালের আশা করে কিন্তু সেখানে পৌঁছাতে পারে না। তুমি যদি মৃত্যুর সময় ও তার গতি দেখতে পেতে, তবে তুমি দীর্ঘ আশা ও তার প্রতারণাকে অবশ্যই ঘৃণা করতে।২০ - তিনি আবু হাযিম থেকেও বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: পরকালে যা কিছু তোমার সাথে থাকুক বলে তুমি পছন্দ করো, তা আজই আগে পাঠিয়ে দাও। আর যা কিছু তোমার সাথে থাকা তুমি অপছন্দ করো, তা আজই বর্জন করো।
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুদূর বিশারহি হালিল মাওতা ওয়াল কুবূর
(পৃষ্ঠা: ২৯)
21 - وَأخرج عَنهُ قَالَ كل عمل كرهت الْمَوْت من أَجله فَاتْرُكْهُ ثمَّ لَا يَضرك مَتى مت22 - وَأخرج أَبُو نعيم عَن عمر بن عبد الْعَزِيز قَالَ من قرب الْمَوْت من قلبه إستكثر مَا فِي يَدَيْهِوَأخرج عَن رَجَاء بن نوح قَالَ كتب عمر بن عبد الْعَزِيز إِلَى بعض أهل بَيته أما بعد فَإنَّك إِن إستشعرت ذكر الْمَوْت فِي ليلك ونهارك بغض إِلَيْك كل فان وحبب إِلَيْك كل بَاقٍ23 - وَأخرج عَن مجمع التَّيْمِيّ قَالَ ذكر الْمَوْت غنى24 - وَأخرج عَن سميط قَالَ من جعل الْمَوْت نصب عَيْنَيْهِ لم يبال بِضيق الدُّنْيَا وَلَا بسعتها25 - وَأخرج عَن كَعْب قَالَ من عرف الْمَوْت هَانَتْ عَلَيْهِ مصائب الدُّنْيَا وغمومها26 - وَأخرج إِبْنِ أبي الدُّنْيَا عَن الْحسن قَالَ مَا ألزم عبد قلبه ذكر الْمَوْت إِلَّا صغرت الدُّنْيَا عِنْده وَهَان عَلَيْهِ جَمِيع مَا فِيهَا وَأخرج عَن قَتَادَة قَالَ كَانَ يُقَال طُوبَى لمن ذكر سَاعَة الْمَوْت27 - وَأخرج عَن مَالك بن دِينَار قَالَ قَالَ حَكِيم كفى بِذكر الْمَوْت للقلوب حَيَاة للْعَمَل28 - وَأخرج عَن صَفِيَّة أَن إمرأة شكت إِلَى عَائِشَة رضي الله عنها الْقَسْوَة فَقَالَت أكثري ذكر الْمَوْت يرق قَلْبك29 - وَأخرج عَن أبي حَازِم قَالَ يَا إِبْنِ آدم بعد الْمَوْت يَأْتِيك الْخَبَر30 - وَأخرج إِبْنِ عَسَاكِر عَن عَليّ بن أبي طَالب رضي الله عنه قَالَ الْقَبْر صندوق الْعَمَل وَبعد الْمَوْت يَأْتِيك الْخَبَر31 - وَأخرج الديلمي عَن أنس قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أفضل الزّهْد فِي
২১ - এবং তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: যে কোনো কাজ যার কারণে তুমি মৃত্যুকে অপছন্দ করো, তা বর্জন করো; অতঃপর তুমি কখন মৃত্যুবরণ করলে তা তোমার কোনো ক্ষতি করবে না।২২ - এবং আবু নুআইম উমর ইবনে আব্দুল আজিজ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যে ব্যক্তি মৃত্যুকে তার হৃদয়ের নিকটবর্তী করে, সে তার হাতে যা আছে তাকেই প্রচুর মনে করে।এবং রাজা ইবনে নূহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: উমর ইবনে আব্দুল আজিজ তাঁর পরিবারের কোনো এক সদস্যের কাছে লিখেছেন: অতঃপর, তুমি যদি তোমার দিবা-রাত্রিতে মৃত্যুকে স্মরণে রাখো, তবে তা তোমার কাছে প্রতিটি নশ্বর বস্তুকে ঘৃণিত করে তুলবে এবং প্রতিটি চিরস্থায়ী বস্তুকে প্রিয় করে তুলবে।২৩ - এবং মুজাম্মি আত-তাইমি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: মৃত্যুকে স্মরণ করাই হলো অভাবহীনতা।২৪ - এবং সুমাইত থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যে ব্যক্তি মৃত্যুকে তার চোখের সামনে রাখে, সে দুনিয়ার সংকীর্ণতা বা প্রশস্ততা নিয়ে পরোয়া করে না।২৫ - এবং কাব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যে ব্যক্তি মৃত্যুকে চিনেছে, দুনিয়ার বিপদাপদ ও দুঃখ-কষ্ট তার কাছে সহজ হয়ে গেছে।২৬ - এবং ইবনে আবিদ দুনিয়া হাসান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: কোনো বান্দাই তার হৃদয়ে মৃত্যুকে স্মরণ রাখাকে আবশ্যক করেনি, তবে তার কাছে দুনিয়া তুচ্ছ হয়ে গেছে এবং এতে যা কিছু আছে তা তার জন্য সহজ হয়ে গেছে। এবং কাতাদাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: বলা হতো: সুসংবাদ তার জন্য যে মৃত্যুর সময়ের কথা স্মরণ করে।২৭ - এবং মালিক ইবনে দিনার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: জনৈক প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি বলেছেন: আমল করার জীবন লাভের জন্য হৃদয়ের জন্য মৃত্যুকে স্মরণ করাই যথেষ্ট।২৮ - এবং সাফিয়্যাহ থেকে বর্ণিত যে, এক মহিলা আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর কাছে অন্তরের কঠোরতা সম্পর্কে অভিযোগ করলেন। তিনি বললেন: অধিক পরিমাণে মৃত্যুকে স্মরণ করো, তোমার অন্তর নরম হবে।২৯ - এবং আবু হাজিম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: হে আদম সন্তান, মৃত্যুর পর তোমার কাছে প্রকৃত সংবাদ আসবে।৩০ - এবং ইবনে আসাকির আলী ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: কবর হলো আমলের সিন্দুক, আর মৃত্যুর পরেই তোমার কাছে প্রকৃত খবর আসবে।৩১ - এবং দাইলামি আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: সর্বোত্তম যুহদ বা সংসারবিরাগ হলো...
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুদূর বিশারহি হালিল মাওতা ওয়াল কুবূর
(পৃষ্ঠা: ৩০)
الدُّنْيَا ذكر الْمَوْت وَأفضل الْعِبَادَة التفكر فَمن أثقله ذكر الْمَوْت وجد قَبره رَوْضَة من رياض الْجنَّةوَقَالَ عَليّ كرم الله وَجهه النَّاس نيام فَإِذا مَاتُوا إنتبهواونظم هَذَا الْمَعْنى الْحَافِظ أَبُو الْفضل الْعِرَاقِيّ فَقَالَ(وَإِنَّمَا النَّاس نيام من يمت … مِنْهُم أَزَال الْمَوْت عَنهُ وسنه)32 - وَأخرج التِّرْمِذِيّ عَن أبي هُرَيْرَة قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم مَا من أحد يَمُوت إِلَّا نَدم قَالُوا وَمَا ندامته يَا رَسُول الله قَالَ إِن كَانَ محسنا نَدم أَن لَا يكون إزداد وَإِن كَانَ مسيئا نَدم أَن لَا يكون نزعقَالَ فِي الصِّحَاح نزع عَن الْأُمُور أَي إنتهى عَنْهَا7 - بَاب مَا يعين على ذكر الْمَوْت 1 - أخرج مُسلم عَن أبي هُرَيْرَة قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم زوروا الْقُبُور فَإِنَّهَا تذكر الْمَوْت2 - وَأخرج ابْن ماجة وَالْحَاكِم عَن إِبْنِ مَسْعُود أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ كنت نَهَيْتُكُمْ عَن زِيَارَة الْقُبُور فزوروها فَإِنَّهَا تزهد فِي الدُّنْيَا وتذكر الْآخِرَة3 - وَأخرج الْحَاكِم عَن أبي سعيد أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ كنت نَهَيْتُكُمْ عَن زِيَارَة الْقُبُور فزوروها فَإِن فِيهَا عِبْرَة4 - وَأخرج أَيْضا عَن أنس مَرْفُوعا كنت نَهَيْتُكُمْ عَن زِيَارَة الْقُبُور أَلا فزوروها فَإِنَّهَا ترق الْقلب وتدمع الْعين وتذكر الْآخِرَة وَلَا تَقولُوا هجرا5 - وَأخرج أَيْضا عَن بُرَيْدَة قَالَ قَالَ رَسُول صلى الله عليه وسلم كنت نَهَيْتُكُمْ عَن زِيَارَة الْقُبُور أَلا فزوروها ولتزدكم زيارتها خيرا
দুনিয়াতে মৃত্যু স্মরণ করা এবং সর্বোত্তম ইবাদত হলো চিন্তা-গবেষণা করা। সুতরাং যাকে মৃত্যুর স্মরণ ভারাক্রান্ত করে, সে তার কবরকে জান্নাতের বাগানসমূহের একটি বাগান হিসেবে পায়।আর আলী (আল্লাহ তাঁর মুখমণ্ডলকে মহিমান্বিত করুন) বলেন, মানুষ ঘুমন্ত, যখন তারা মারা যায় তখন তারা জাগ্রত হয়।আর হাফেজ আবুল ফজল আল-ইরাকি এই মর্মার্থকে ছন্দবদ্ধ করে বলেছেন:(মানুষ তো কেবল ঘুমন্ত, তাদের মধ্যে যে মারা যায় … মৃত্যু তার থেকে তন্দ্রা দূর করে দেয়।)৩২ - ইমাম তিরমিজি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "এমন কেউ নেই যে মৃত্যুবরণ করার পর লজ্জিত হয় না।" সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, "হে আল্লাহর রাসূল! তার লজ্জা কিসের?" তিনি বললেন, "যদি সে পুণ্যবান হয় তবে সে লজ্জিত হয় যে কেন সে আরও বেশি পুণ্য করেনি, আর যদি সে পাপিষ্ঠ হয় তবে সে লজ্জিত হয় যে কেন সে তওবা করে ফিরে আসেনি।"আল-সিহাহ গ্রন্থে বলা হয়েছে, 'نزع عن الأمور' অর্থ হলো তা থেকে বিরত হওয়া বা শেষ করা।৭ - পরিচ্ছেদ: যা মৃত্যু স্মরণে সাহায্য করে ১ - ইমাম মুসলিম আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা কবর জিয়ারত করো, কারণ তা মৃত্যুকে স্মরণ করিয়ে দেয়।"২ - ইবনে মাজাহ ও হাকেম ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমি তোমাদের কবর জিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম, এখন তোমরা তা জিয়ারত করো। কারণ তা দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তি তৈরি করে এবং আখিরাতকে স্মরণ করিয়ে দেয়।"৩ - হাকেম আবু সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমি তোমাদের কবর জিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম, এখন তোমরা তা জিয়ারত করো। কারণ এতে শিক্ষা রয়েছে।"৪ - তিনি আরও আনাস থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন: "আমি তোমাদের কবর জিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম, জেনে রেখো এখন তোমরা তা জিয়ারত করো। কারণ তা অন্তরকে নরম করে, চোখকে অশ্রুসজল করে এবং আখিরাতকে স্মরণ করিয়ে দেয়; আর তোমরা অসংলগ্ন কিছু বলো না।"৫ - তিনি আরও বুরাইদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমি তোমাদের কবর জিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম, জেনে রেখো এখন তোমরা তা জিয়ারত করো এবং তোমাদের এই জিয়ারত যেন তোমাদের কল্যাণ বৃদ্ধি করে।"
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুদূর বিশারহি হালিল মাওতা ওয়াল কুবূর
(পৃষ্ঠা: ৩১)
6 - وَأخرج أَيْضا عَن أبي ذَر قَالَ قَالَ لي رَسُول الله صلى الله عليه وسلم زر الْقُبُور تذكر بهَا الْآخِرَة واغسل الْمَوْتَى فَإِن معالجة جَسَد خاو موعظة بليغة وصل على الْجَنَائِز لَعَلَّ ذَلِك أَن يحزنك فَإِن الحزين فِي ظلّ الله يتَعَرَّض لكل خير8 - بَاب تَحْسِين الظَّن بِاللَّه وَالْخَوْف مِنْهُ 1 - أخرج الشَّيْخَانِ عَن جَابر قَالَ سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول قبل وَفَاته بِثَلَاث لَا يموتن أحدكُم إِلَّا وَهُوَ يحسن الظَّن بِاللَّه2 - وَأخرجه إِبْنِ أبي الدُّنْيَا فِي كتاب حسن الظَّن وَزَاد فَإِن قوما قد أرداهم سوء ظنهم بِاللَّه فَقَالَ تبارك وتعالى لَهُم {وذلكم ظنكم الَّذِي ظننتم بربكم أرداكم فأصبحتم من الخاسرين}3 - وَأخرج أَحْمد وَالتِّرْمِذِيّ وَابْن ماجة عَن أنس أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم دخل على شَاب وَهُوَ فِي الْمَوْت قَالَ كَيفَ تجدك قَالَ أَرْجُو الله وأخاف ذُنُوبِي فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لَا يَجْتَمِعَانِ فِي قلب عبد فِي مثل هَذَا الموطن إِلَّا أعطَاهُ الله مَا يرجوه وأمنه مِمَّا يخَاف4 - وَأخرج التِّرْمِذِيّ الْحَكِيم فِي نَوَادِر الْأُصُول عَن الْحسن قَالَ بَلغنِي عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَنه قَالَ قَالَ ربكُم لَا أجمع على عَبدِي خوفين وَلَا أجمع لَهُ أمنين فَمن خافني فِي الدُّنْيَا أمنته فِي الْآخِرَة وَمن أمنني فِي الدُّنْيَا أخفته فِي الْآخِرَة وَأخرجه أَبُو نعيم مَوْصُولا من حَدِيث شَدَّاد بن أَوْس5 - وَأخرج إِبْنِ الْمُبَارك عَن إِبْنِ عَبَّاس قَالَ إِذا رَأَيْتُمْ الرجل بِالْمَوْتِ فبشروه ليلقى ربه وَهُوَ حسن الظَّن بِاللَّه وَإِذا كَانَ حَيا فخوفوه بربه6 - وَأخرج إِبْنِ عَسَاكِر عَن أنس قَالَ قَالَ رَسُول صلى الله عليه وسلم لَا يموتن أحدكُم حَتَّى يحسن الظَّن بِاللَّه تَعَالَى فَإِن حسن الظَّن بِاللَّه تَعَالَى ثمن الْجنَّة
৬ - এবং তিনি আবু যার (রা.) থেকে আরও বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে বলেছেন, "তুমি কবর যিয়ারত করো, এর মাধ্যমে পরকাল স্মরণ হবে; মৃতদের গোসল করাও, কারণ একটি প্রাণহীন দেহের সেবা করা এক ফলপ্রসূ উপদেশ; এবং জানাজার নামাজ পড়ো, সম্ভবত তা তোমাকে ব্যথিত করবে, কেননা ব্যথিত ব্যক্তি আল্লাহর ছায়াতলে থাকে এবং সকল কল্যাণের সম্মুখীন হয়।"৮ - অধ্যায়: আল্লাহর প্রতি সুধারণা পোষণ এবং তাঁকে ভয় করা। ১ - শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম) জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে তাঁর ইন্তেকালের তিন দিন আগে বলতে শুনেছি, "তোমাদের কেউ যেন আল্লাহর প্রতি সুধারণা পোষণ না করে মৃত্যুবরণ না করে।"২ - ইবনে আবিদ দুনিয়া এটি 'কিতাবু হুসনিজ জন'-এ বর্ণনা করেছেন এবং আরও বাড়িয়ে বলেছেন: "কেননা এক সম্প্রদায়কে আল্লাহর প্রতি তাদের কুধারণা ধ্বংস করে দিয়েছিল, ফলে মহান আল্লাহ তাদের সম্পর্কে বলেছেন: {আর তোমাদের প্রতিপালক সম্পর্কে তোমাদের সেই ধারণাই তোমাদের ধ্বংস করেছে, ফলে তোমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়েছ।}"৩ - আহমদ, তিরমিজি এবং ইবনে মাজাহ আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক যুবকের কাছে গেলেন যখন সে মৃত্যুশয্যায় ছিল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "তুমি নিজেকে কেমন অনুভব করছ?" সে বলল, "আমি আল্লাহর নিকট আশা রাখি এবং আমার পাপসমূহকে ভয় করি।" তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "এমন পরিস্থিতিতে কোনো বান্দার হৃদয়ে এই দুটির (আশা ও ভয়) মিলন ঘটলে আল্লাহ তাকে অবশ্যই তা দান করেন যার সে আশা করে এবং তাকে তা থেকে নিরাপদ রাখেন যা সে ভয় করে।"৪ - তিরমিজি আল-হাকিম 'নাওয়াদিরুল উসুল'-এ হাসান (রহ.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে আমার নিকট খবর পৌঁছেছে যে তিনি বলেছেন, "তোমাদের রব বলেছেন: আমি আমার বান্দার ওপর দুটি ভয় একত্রিত করব না এবং তার জন্য দুটি নিরাপত্তাও একত্রিত করব না। যে দুনিয়াতে আমাকে ভয় করবে, আমি তাকে পরকালে নিরাপদ রাখব; আর যে দুনিয়াতে আমার ব্যাপারে নির্ভয় থাকবে, আমি তাকে পরকালে ভীত করব।" আবু নুআইম শাদ্দাদ ইবনে আউসের হাদিস থেকে এটি নিরবচ্ছিন্ন সূত্রে বর্ণনা করেছেন।৫ - ইবনুল মুবারক ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "যখন তোমরা কোনো ব্যক্তিকে মৃত্যুশয্যায় দেখবে, তখন তাকে সুসংবাদ দিও যেন সে আল্লাহর প্রতি সুধারণা পোষণরত অবস্থায় তার রবের সাথে সাক্ষাৎ করে। আর সে যখন সুস্থ থাকে, তখন তাকে তার রব সম্পর্কে ভীত করো।"৬ - ইবনে আসাকির আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, "তোমাদের কেউ যেন মহান আল্লাহর প্রতি সুধারণা পোষণ না করে মৃত্যুবরণ না করে, কারণ আল্লাহর প্রতি সুধারণা পোষণ করাই হলো জান্নাতের মূল্য।"
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুদূর বিশারহি হালিল মাওতা ওয়াল কুবূর
(পৃষ্ঠা: ৩২)
7 - وَأخرج إِبْنِ أبي الدُّنْيَا عَن إِبْرَاهِيم النَّخعِيّ قَالَ كَانُوا يستحبون أَن يلقنوا العَبْد محَاسِن عمله عِنْد الْمَوْت حَتَّى يحسن ظَنّه بربه8 - وَأخرج إِبْنِ أبي شيبَة فِي المُصَنّف عَن إِبْنِ مَسْعُود قَالَ وَالله الَّذِي لَا إِلَه غَيره لَا يحسن أحد الظَّن بِاللَّه إِلَّا أعطَاهُ الله ظَنّه9 - وَأخرج أَحْمد عَن وَاثِلَة سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول قَالَ الله تَعَالَى أَنا عِنْد ظن عَبدِي بِي فليظن بِي مَا شَاءَ10 - وَأخرج أَحْمد عَن أبي هُرَيْرَة عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ إِن الله تَعَالَى قَالَ أَنا عِنْد ظن عَبدِي بِي فليظن بِي مَا شَاءَ إِن ظن خيرا فَلهُ وَإِن ظن شرا فَلهُ11 - وَأخرج إِبْنِ الْمُبَارك وَأحمد وَالطَّبَرَانِيّ فِي الْكَبِير عَن معَاذ بن جبل أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ إِن شِئْتُم أنبأتكم مَا أول مَا يَقُول الله تَعَالَى للْمُؤْمِنين يَوْم الْقِيَامَة وَمَا أول مَا يَقُولُونَ لَهُ قُلْنَا نعم يَا رَسُول الله قَالَ فَإِن الله يَقُول للْمُؤْمِنين هَل أَحْبَبْتُم لقائي فَيَقُولُونَ نعم يَا رَبنَا فَيَقُول لم فَيَقُولُونَ رجونا عفوك ومغفرتك فَيَقُول قد وَجَبت لكم مغفرتي12 - وَأخرج إِبْنِ الْمُبَارك عَن عقبَة بن مُسلم قَالَ مَا من خصْلَة فِي العَبْد أحب إِلَى الله من أَن يحب لقاءه13 - وَأخرج إِبْنِ أبي الدُّنْيَا وَالْبَيْهَقِيّ فِي شعب الْإِيمَان وإبن عَسَاكِر عَن أبي غَالب صَاحب أبي أُمَامَة قَالَ كنت بِالشَّام فَنزلت على رجل من قيس من خِيَار النَّاس وَله ابْن أَخ مُخَالف لَهُ يَأْمُرهُ وينهاه ويضربه فَلَا يطيعه فَمَرض الْفَتى فَبعث إِلَى عَمه فَأبى أَن يَأْتِيهِ فَأَتَيْته أَنا بِهِ حَتَّى أدخلته عَلَيْهِ فَأقبل عَلَيْهِ يشتمه وَيَقُول أَي عَدو الله ألم تفعل كَذَا قَالَ أَرَأَيْت أَي عَم لَو أَن الله دفعني إِلَى والدتي مَا كَانَت صانعة بِي قَالَ كَانَت وَالله تدخلك الْجنَّة قَالَ فوَاللَّه لله أرْحم بِي من والدتي فَقبض الْفَتى وَدَفنه عَمه فَلَمَّا سوي اللَّبن سَقَطت مِنْهُ لبنة فَوَثَبَ عَمه فَتَأَخر قلت مَا شَأْنك قَالَ ملىء قَبره نورا وفسح لَهُ مد الْبَصَر14 - وَأخرج إِبْنِ أبي الدُّنْيَا وَالْبَيْهَقِيّ فِي شعب الْإِيمَان عَن حميد قَالَ كَانَ لي ابْن أُخْت مرهق فَمَرض فَأرْسلت إِلَيّ أمه فأتيتها فَإِذا هِيَ عِنْد رَأسه
৭ - ইবনে আবিদ দুনিয়া ইব্রাহিম নাখয়ি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: তাঁরা (সালাফগণ) মৃত্যুর সময় বান্দাকে তার নেক আমলসমূহ স্মরণ করিয়ে দেয়া পছন্দ করতেন, যাতে সে তার প্রতিপালক সম্পর্কে সুধারণা পোষণ করতে পারে।৮ - ইবনে আবি শায়বা 'আল-মুসান্নাফ'-এ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর কসম, যিনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই, কোনো ব্যক্তিই আল্লাহর প্রতি সুধারণা পোষণ করে না যাকে আল্লাহ তার সেই ধারণা অনুযায়ী দান করেন না।৯ - ইমাম আহমাদ ওয়াসিলা থেকে বর্ণনা করেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, আল্লাহ তায়ালা বলেন: আমি আমার বান্দার ধারণার নিকটেই থাকি যেমনটি সে আমার প্রতি পোষণ করে, সুতরাং সে আমার প্রতি যা ইচ্ছা ধারণা করতে পারে।১০ - ইমাম আহমাদ আবু হুরায়রা থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহ তায়ালা বলেছেন: আমি আমার বান্দার ধারণার নিকটেই থাকি যেমনটি সে আমার প্রতি পোষণ করে, সুতরাং সে আমার প্রতি যা ইচ্ছা ধারণা করতে পারে। যদি সে ভালো ধারণা করে তবে তার জন্য তাই হবে, আর যদি মন্দ ধারণা করে তবে তার জন্য তাই হবে।১১ - ইবনুল মুবারক, আহমাদ এবং তাবারানি 'আল-কাবীর'-এ মুয়াজ ইবনে জাবাল থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা যদি চাও তবে আমি তোমাদেরকে জানিয়ে দেব যে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তায়ালা মুমিনদেরকে সর্বপ্রথম কী বলবেন এবং তারা তাঁকে সর্বপ্রথম কী বলবে।" আমরা বললাম, "হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল!" তিনি বললেন: "আল্লাহ মুমিনদেরকে বলবেন: তোমরা কি আমার সাথে সাক্ষাৎ করা পছন্দ করতে? তারা বলবে: হ্যাঁ, হে আমাদের রব। তিনি বলবেন: কেন? তারা বলবে: আমরা আপনার ক্ষমা ও মার্জনা প্রত্যাশা করতাম। তখন তিনি বলবেন: তোমাদের জন্য আমার ক্ষমা অবধারিত হয়ে গেল।"১২ - ইবনুল মুবারক উকবা ইবনে মুসলিম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: বান্দার কোনো বৈশিষ্ট্যই আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয় নয় তার সাক্ষাতের আকাঙ্ক্ষা অপেক্ষা।১৩ - ইবনে আবিদ দুনিয়া, বাইহাকি 'শুয়াবুল ঈমান'-এ এবং ইবনে আসাকির আবু উমামার সঙ্গী আবু গালিব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি শামে ছিলাম এবং কায়স গোত্রের এক ব্যক্তির কাছে মেহমান হলাম যে অত্যন্ত নেককার লোক ছিল। তার এক ভাতিজা ছিল যে তার অবাধ্যতা করত। সে তাকে আদেশ করত, নিষেধ করত এবং মারধর করত, কিন্তু সে মানত না। এরপর যুবকটি অসুস্থ হয়ে পড়ল এবং তার চাচার কাছে লোক পাঠাল, কিন্তু তার চাচা আসতে অস্বীকার করল। আমি তাকে সাথে করে নিয়ে তার কাছে গেলাম এবং তাকে ভেতরে প্রবেশ করালাম। তখন চাচা তার প্রতি কটু বাক্য বলতে শুরু করল এবং বলল, "ওরে আল্লাহর শত্রু! তুই কি এটা এটা করিসনি?" যুবকটি বলল, "হে চাচা, আপনার কী মনে হয় যদি আল্লাহ আমাকে আমার মায়ের হাতে সঁপে দিতেন, তবে তিনি আমার সাথে কী করতেন?" তিনি বললেন, "আল্লাহর কসম, তিনি তোমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাতেন।" যুবকটি বলল, "আল্লাহর কসম, আল্লাহ আমার প্রতি আমার মায়ের চেয়েও বেশি দয়ালু।" এরপর যুবকটি ইন্তেকাল করল এবং তার চাচা তাকে দাফন করল। যখন কাঁচা ইট সমান করা হলো, তখন সেখান থেকে একটি ইট খসে পড়ল। তার চাচা দ্রুত সচকিত হয়ে পেছাল। আমি বললাম, "আপনার কী হয়েছে?" তিনি বললেন, "তার কবর নূরে পরিপূর্ণ হয়ে গেছে এবং দৃষ্টির সীমা পর্যন্ত তা প্রশস্ত করে দেয়া হয়েছে।"১৪ - ইবনে আবিদ দুনিয়া এবং বাইহাকি 'শুয়াবুল ঈমান'-এ হুমাইদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার এক ভাগ্নে ছিল যে পাপাচারে লিপ্ত ছিল, সে অসুস্থ হয়ে পড়ল। তার মা আমার কাছে লোক পাঠাল এবং আমি তার কাছে গেলাম, দেখলাম সে তার মাথার পাশে বসে আছে।
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুদূর বিশারহি হালিল মাওতা ওয়াল কুবূর
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
تبْكي فَقَالَ يَا خَال مَا يبكيها قلت مَا تعلم مِنْك قَالَ أَلَيْسَ إِنَّمَا ترحمني قلت بلَى قَالَ فَإِن الله أرْحم بِي مِنْهَا فَلَمَّا مَاتَ أنزلته الْقَبْر مَعَ غَيْرِي فَذَهَبت أسوي لبنة فاطلعت فِي اللَّحْد فَإِذا هُوَ مد بَصرِي فَقلت لصاحبي وَأَنت مَا رَأَيْت مَا رَأَيْت قَالَ نعم فليهنك ذَاك قَالَ فَظَنَنْت أَنه بِالْكَلِمَةِ الَّتِي قَالَهَا9 - بَاب نَذِير الْمَوْت 1 - قَالَ الْقُرْطُبِيّ ورد فِي الْخَبَر أَن بعض الْأَنْبِيَاء قَالَ لملك الْمَوْت أما لَك رَسُول تقدمه بَين يَديك ليَكُون النَّاس على حذر مِنْك قَالَ نعم لي وَالله رسل كَثِيرَة من الإعلال والأمراض والشيب والهرم وتغيير السّمع وَالْبَصَر فَإِذا لم يتَذَكَّر من نزل بِهِ ذَلِك وَلم يتب ناديته إِذا قَبضته ألم أقدم إِلَيْك رَسُولا بعد رَسُول وَنَذِيرا بعد نَذِير فَأَنا الرَّسُول الَّذِي لَيْسَ بعدِي رَسُول وَأَنا النذير الَّذِي لَيْسَ بعدِي نَذِير2 - أخرج أَبُو نعيم فِي الْحِلْية عَن مُجَاهِد قَالَ مَا من مرض يمرضه العَبْد إِلَّا رَسُول ملك الْمَوْت عِنْده حَتَّى إِذا كَانَ آخر مرض يمرضه العَبْد أَتَاهُ ملك الْمَوْت عليه السلام فَقَالَ أَتَاك رَسُول بعد رَسُول ونذير بعد نَذِير فَلم تعبأ بِهِ وَقد أَتَاك رَسُول يقطع أثرك من الدُّنْيَا3 - وَأخرج البُخَارِيّ عَن أبي هُرَيْرَة عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ أعذر الله إِلَى إمرىء أخر أَجله حَتَّى بلغه سِتِّينَ سنةأعذر فِي الْأَمر أَي بَالغ فِيهِ فَلم يتْرك لصَاحبه عذرا10 - بَاب عَلامَة خَاتِمَة الْخَيْر 1 - أخرج التِّرْمِذِيّ وَالْحَاكِم عَن أنس أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ إِذا أَرَادَ الله بِعَبْد خيرا إستعمله فَقيل كَيفَ يَسْتَعْمِلهُ يَا رَسُول الله قَالَ يوفقه لعمل صَالح قبل الْمَوْت
সে কাঁদছে দেখে সে বলল, হে মামা! সে কেন কাঁদছে? আমি বললাম, তোমার অবস্থা দেখে (যা আমি জানি)। সে বলল, সে কি কেবল আমার প্রতি দয়া করছে না? আমি বললাম, হ্যাঁ। সে বলল, নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার প্রতি তার চেয়েও অধিক দয়ালু। অতঃপর যখন সে মারা গেল, আমি তাকে অন্যদের সাথে নিয়ে কবরে নামালাম। আমি যখন কবরের ইট সমান করতে গেলাম এবং লাহাদের (কবরের ভেতরকার গর্ত) দিকে তাকালাম, তখন দেখলাম তা আমার দৃষ্টির সীমা পর্যন্ত বিস্তৃত। আমি আমার সঙ্গীকে বললাম, আমি যা দেখেছি তুমি কি তা দেখনি? সে বলল, হ্যাঁ, এটি তোমার জন্য শুভ সংবাদ। বর্ণনাকারী বলেন, আমার ধারণা হলো এটি তার সেই কথার কারণে (যা সে বলেছিল)।৯ - মৃত্যুর সতর্ককারী অধ্যায় ১ - ইমাম কুরতুবী বলেন, হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, কোনো এক নবী মৃত্যুর ফেরেশতাকে বলেছিলেন, আপনার কি এমন কোনো বার্তাবাহক নেই যাকে আপনি আপনার আগে পাঠান যাতে মানুষ আপনার ব্যাপারে সতর্ক হতে পারে? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আল্লাহর শপথ! আমার অনেক বার্তাবাহক রয়েছে; যেমন অসুস্থতা, রোগব্যাধি, বার্ধক্য, জরা এবং শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তন। সুতরাং যার উপর এগুলো আপতিত হয় সে যদি উপদেশ গ্রহণ না করে এবং তওবা না করে, তবে তার জান কবজ করার সময় আমি তাকে ডেকে বলি: আমি কি তোমার কাছে একের পর এক বার্তাবাহক এবং সতর্ককারী পাঠাইনি? আমিই সেই বার্তাবাহক যার পরে আর কোনো বার্তাবাহক নেই এবং আমিই সেই সতর্ককারী যার পরে আর কোনো সতর্ককারী নেই।২ - আবু নুআয়ম 'আল-হিলয়াহ' গ্রন্থে মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, বান্দা যে কোনো রোগে আক্রান্ত হয় তা মৃত্যুর ফেরেশতার পক্ষ থেকে আসা বার্তাবাহক। এমনকি বান্দা যখন তার জীবনের শেষ রোগে আক্রান্ত হয়, তখন তার কাছে মৃত্যুর ফেরেশতা (আলাইহিস সালাম) আসেন এবং বলেন: তোমার কাছে একের পর এক বার্তাবাহক এবং সতর্ককারী এসেছিল, কিন্তু তুমি তাতে ভ্রুক্ষেপ করোনি। এখন তোমার কাছে এমন এক বার্তাবাহক এসেছে যা দুনিয়া থেকে তোমার চিহ্ন মুছে দেবে।৩ - ইমাম বুখারী আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: আল্লাহ তাআলা সেই ব্যক্তির ওজর পেশ করার আর কোনো সুযোগ রাখেননি যার হায়াত তিনি ষাট বছর পর্যন্ত দীর্ঘ করেছেন।‘আযারা’ অর্থ কোনো বিষয়ে চরম সীমায় পৌঁছানো, ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জন্য আর কোনো ওজর বা অজুহাত অবশিষ্ট থাকে না।১০ - উত্তম পরিণতির নিদর্শন অধ্যায় ১ - তিরমিযী ও হাকেম আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: যখন আল্লাহ কোনো বান্দার কল্যাণ চান, তখন তাকে কাজে লাগান। জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি তাকে কীভাবে কাজে লাগান? তিনি বললেন: তিনি তাকে মৃত্যুর পূর্বে নেক আমল করার তৌফিক দান করেন।
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুদূর বিশারহি হালিল মাওতা ওয়াল কুবূর
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
2 - وَأخرج أَحْمد وَالْحَاكِم عَن عَمْرو بن الْحمق قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِذا أحب الله عبدا عسله قَالُوا وَمَا عسله قَالَ يوفق لَهُ عملا صَالحا بَين يَدي أَجله حَتَّى يرضى عَنهُ جِيرَانه3 - وَأخرج إِبْنِ أبي الدُّنْيَا عَن عَائِشَة رضي الله عنها مَرْفُوعا إِذا أَرَادَ الله بِعَبْد خيرا بعث إِلَيْهِ قبل مَوته بعام ملكا يسدده ويوفقه حَتَّى يَمُوت على خير أحايينه فَيَقُول النَّاس مَاتَ فلَان على خير أحايينه فَإِذا حضر وَرَأى مَا أعد لَهُ جعل يتهوع نَفسه من الْحِرْص على أَن تخرج فهناك أحب لِقَاء الله وَأحب الله لقاءه وَإِذا أَرَادَ الله بِعَبْد شرا قيض لَهُ قبل مَوته بعام شَيْطَانا يضله ويغويه حَتَّى يَمُوت على شَرّ أحايينه فَيَقُول النَّاس قد مَاتَ فلَان على شَرّ أحايينه فَإِذا حضر وَرَأى مَا أعد لَهُ جعل يتبلع نَفسه كَرَاهِيَة أَن تخرج فهناك كره لِقَاء الله وَكره الله لقاءهقَالَ صَاحب الإفصاح فِي معنى هَذَا الحَدِيث إعلم أَن خُرُوج الرّوح عِنْد دُعَاء ملك الْمَوْت لَهُ من جنس دُعَاء حاوي الْحَيَّة من جحرها وَخُرُوج الجسمين عِنْد الدُّعَاء على حد سَوَاء فَأَما الْمُؤمن فيتهوع نَفسه أَي يَسْتَدْعِي إخْرَاجهَا إِذْ التهوع إِنَّمَا هُوَ إستدعاء الْقَيْء للبروز وَأما الْكَافِر فيتبلع روحه والتبلع رد الْجِسْم الَّذِي فِي الْفَم أَو يُرِيد الرُّجُوع إِلَى الْجوف إنتهى فَائِدَةقَالَ بعض الْعلمَاء الْأَسْبَاب الْمُقْتَضِيَة لسوء الخاتمة وَالْعِيَاذ بِاللَّه أَرْبَعَة التهاون بِالصَّلَاةِ وَشرب الْخمر وعقوق الْوَالِدين وأذى الْمُسلمين11 - بَاب من دنا أَجله وكيفيه الْمَوْت وشدتهقَالَ الله تَعَالَى {وَجَاءَت سكرة الْمَوْت بِالْحَقِّ} وَقَالَ تَعَالَى {وَلَو ترى إِذْ الظَّالِمُونَ فِي غَمَرَات الْمَوْت}
২ - ইমাম আহমদ ও হাকেম আমর ইবনুল হামাক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: যখন আল্লাহ কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন, তখন তাকে 'আসাল' (মধুযুক্ত) করেন। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, তাকে 'আসাল' করা কী? তিনি বললেন: তার মৃত্যুর পূর্বে তাকে কোনো নেক আমল করার তাওফিক দান করেন, এমনকি তার প্রতিবেশীরাও তার ওপর সন্তুষ্ট হয়ে যায়।৩ - ইবনে আবিদ দুনিয়া আয়িশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন: যখন আল্লাহ কোনো বান্দার কল্যাণ চান, তখন তার মৃত্যুর এক বছর আগে তার কাছে একজন ফেরেশতা পাঠান, যিনি তাকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন এবং তাওফিক দান করেন, যাতে সে তার জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়ে মৃত্যুবরণ করে। তখন মানুষ বলে, 'অমুক ব্যক্তি তার জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়ে মারা গেছে।' যখন তার মৃত্যুর সময় উপস্থিত হয় এবং সে তার জন্য যা প্রস্তুত করা হয়েছে তা দেখতে পায়, তখন সে প্রাণ বের করার তীব্র আকাঙ্ক্ষায় ব্যাকুল হয়ে পড়ে। সেই মুহূর্তে সে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করতে ভালোবাসে এবং আল্লাহও তার সাথে সাক্ষাৎ করতে ভালোবাসেন। আর যখন আল্লাহ কোনো বান্দার অকল্যাণ চান, তখন তার মৃত্যুর এক বছর আগে তার ওপর এক শয়তানকে চাপিয়ে দেন, যে তাকে পথভ্রষ্ট ও বিভ্রান্ত করে, এমনকি সে তার জীবনের নিকৃষ্টতম সময়ে মৃত্যুবরণ করে। তখন মানুষ বলে, 'অমুক ব্যক্তি তার জীবনের নিকৃষ্টতম সময়ে মারা গেছে।' এরপর যখন তার সামনে মৃত্যু উপস্থিত হয় এবং সে তার জন্য যা প্রস্তুত করা হয়েছে তা দেখতে পায়, তখন সে তার প্রাণ বের হওয়ার প্রতি অপছন্দনীয়তার কারণে তা গিলে ফেলতে চায়। সেই মুহূর্তে সে আল্লাহর সাক্ষাৎ অপছন্দ করে এবং আল্লাহও তার সাথে সাক্ষাৎ অপছন্দ করেন।ইফসাহ গ্রন্থের লেখক এই হাদিসের অর্থে বলেছেন: জেনে রাখুন যে, মালাকুল মাউতের আহ্বানে রুহের বের হওয়া অনেকটা সাপুড়ে কর্তৃক গর্ত থেকে সাপ বের করার ডাকার মতো। ডাকার সময় উভয় দেহের বের হওয়া একই পর্যায়ের। মুমিন ব্যক্তি তার প্রাণকে 'তাহাউ' করে, অর্থাৎ সে তা বের করার আকাঙ্ক্ষা করে, কারণ 'তাহাউ' মূলত নির্গত করার জন্য বমির উদ্রেক করাকে বোঝায়। আর কাফের ব্যক্তি তার রুহকে 'তাবাল্লু' করে; 'তাবাল্লু' হলো মুখে থাকা কোনো বস্তুকে ভেতরে ফিরিয়ে দেওয়া বা উদরের গভীরে ফিরিয়ে নেওয়ার ইচ্ছা করা। সমাপ্ত। ফায়দা।কোনো কোনো আলেম বলেছেন: মন্দ পরিণতির (সুউল খাতিমাহ) কারণসমূহ—আল্লাহ আমাদের তা থেকে রক্ষা করুন—চারটি: নামাজে অবহেলা করা, মদ্যপান করা, পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া এবং মুসলমানদের কষ্ট দেওয়া।১১ - পরিচ্ছেদ: যার মৃত্যুর সময় নিকটবর্তী এবং মৃত্যুর ধরন ও তার কঠোরতা সম্পর্কে।আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আর মৃত্যুযন্ত্রণা সত্যসহ উপস্থিত হয়েছে।" তিনি আরও বলেছেন: "হায়, আপনি যদি দেখতেন যখন জালেমরা মৃত্যুযন্ত্রণার ঘোর আচ্ছন্ন থাকে।"
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুদূর বিশারহি হালিল মাওতা ওয়াল কুবূর
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
) الْآيَة وَقَالَ {فلولا إِذا بلغت الْحُلْقُوم} الْآيَات وَقَالَ {كلا إِذا بلغت التراقي وَقيل من راق} الْآيَات1 - أخرج البُخَارِيّ عَن عَائِشَة رضي الله عنها أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم كَانَت بَين يَدَيْهِ ركوة أَو علبة فِيهَا مَاء فَجعل يدْخل يَده فِي المَاء فيمسح بهَا وَجهه وَيَقُول لَا إِلَه إِلَّا الله إِن للْمَوْت سَكَرَات2 - وَأخرج التِّرْمِذِيّ عَن عَائِشَة رضي الله عنها قَالَت مَا أغبط أحدا بهون موت بعد الَّذِي رَأَيْت من شدَّة موت رَسُول الله صلى الله عليه وسلمالْهون بِفَتْح الْهَاء الرِّفْق3 - وَأخرج البُخَارِيّ عَنْهَا قَالَ لَا أكره شدَّة الْمَوْت لأحد أبدا بعد النَّبِي صلى الله عليه وسلم4 - وَأخرج عبد الله بن الإِمَام أَحْمد فِي زَوَائِد الزّهْد عَن ثَابت أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ وَهُوَ يعالج من كرب الْمَوْت لَو لم يعْمل إِبْنِ آدم إِلَّا لهَذَا لَكَانَ نوله أَن يعْمل5 - وَأخرج عَن لُقْمَان الْحَنَفِيّ ويوسف بن يَعْقُوب الْحَنَفِيّ قَالَا بلغنَا أَن يَعْقُوب عليه السلام لما أَتَاهُ البشير قَالَ لَهُ مَا أَدْرِي مَا أَتَيْتُك الْيَوْم إِلَّا أَنه يهون الله عَلَيْك سكرة الْمَوْت6 - وَأخرج الطَّبَرَانِيّ فِي الْكَبِير وَأَبُو نعيم عَن إِبْنِ مَسْعُود قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِن نفس الْمُؤمن تخرج رشحا وَإِن نفس الْكَافِر تسل كَمَا تسل نفس الْحمار وَإِن الْمُؤمن ليعْمَل الْخَطِيئَة فيشدد بهَا عَلَيْهِ عِنْد الْمَوْت ليكفر بهَا عَنهُ وَإِن الْكَافِر ليعْمَل الْحَسَنَة فيسهل عَلَيْهِ عِنْد الْمَوْت ليجزى بهَا7 - وَأخرج الدينَوَرِي فِي المجالسة عَن وهيب بن الْورْد يَقُول الله تَعَالَى إِنِّي لَا أخرج أحدا من الدُّنْيَا وَأَنا أُرِيد أَن أرحمه حَتَّى أوفيه بِكُل خَطِيئَة كَانَ
(আয়াত)। এবং তিনি বলেছেন {অতঃপর কেন নয়, যখন প্রাণ কণ্ঠাগত হয়} আয়াতসমূহ এবং তিনি বলেছেন {কখনো নয়, যখন প্রাণ ঘাড়ের হাড় পর্যন্ত পৌঁছে যায় এবং বলা হয় কে ঝাড়ফুঁক দেবে?} আয়াতসমূহ।১ - ইমাম বুখারি আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সামনে পানির একটি পাত্র অথবা একটি ছোট চর্মপাত্র ছিল যাতে পানি ছিল। তিনি তাঁর হাত পানির ভেতর প্রবেশ করাচ্ছিলেন এবং তা দিয়ে তাঁর মুখমণ্ডল মুছছিলেন আর বলতেন, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, নিশ্চয়ই মৃত্যুর কঠিন যন্ত্রণা রয়েছে।২ - ইমাম তিরমিজি আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মৃত্যুর যে কঠোরতা আমি দেখেছি, তারপর আর কারো সহজ মৃত্যু দেখে আমি ঈর্ষা করি না।‘আল-হাওন’ হা-বর্ণে ফাতহা (জবর) যোগে, যার অর্থ হলো নম্রতা বা সহজতা।৩ - ইমাম বুখারি তাঁর (আয়েশা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পর আমি আর কখনোই কারো জন্য মৃত্যুর কঠোরতাকে অপছন্দ করি না।৪ - ইমাম আহমদের পুত্র আবদুল্লাহ ‘যাওয়ায়েদুয যুহদ’ গ্রন্থে সাবিত থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন মৃত্যুর কষ্টের প্রতিকার করছিলেন তখন বলেছিলেন, যদি আদম সন্তান কেবল এই সময়ের জন্যই আমল করত, তবে তার জন্য আমল করা বাঞ্ছনীয় হতো।৫ - লুকমান আল-হানাফি ও ইউসুফ বিন ইয়াকুব আল-হানাফি থেকে বর্ণিত হয়েছে, তারা বলেন, আমাদের নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে, ইয়াকুব (আলাইহিস সালাম)-এর নিকট যখন সুসংবাদদাতা এলেন, তখন তিনি তাকে বললেন, আমি জানি না আজ আমি তোমার কাছে কী নিয়ে এসেছি, তবে আল্লাহ যেন তোমার ওপর মৃত্যুর যন্ত্রণা সহজ করে দেন।৬ - তাবারানি ‘আল-মুজামুল কাবীর’ গ্রন্থে এবং আবু নুআইম ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, মুমিনের জান ঘাম হয়ে বের হয়, আর কাফিরের জান এমনভাবে টেনে বের করা হয় যেভাবে গাধার জান বের করা হয়। নিশ্চয়ই মুমিন কোনো পাপ করলে মৃত্যুর সময় তার ওপর কঠোরতা আরোপ করা হয় যাতে এর মাধ্যমে তার পাপ মোচন করা হয়। আর কাফির কোনো ভালো কাজ করলে মৃত্যুর সময় তার জন্য সহজ করে দেয়া হয় যাতে তার প্রতিদান তাকে দিয়ে দেয়া হয়।৭ - দাইনারি ‘আল-মুজালাসাহ’ গ্রন্থে উহাইব ইবনুল ওয়ারদ থেকে বর্ণনা করেছেন, মহান আল্লাহ বলেন, আমি দুনিয়া থেকে এমন কাউকে বের করি না যাকে আমি দয়া করতে চাই, যতক্ষণ না তার করা প্রতিটি পাপের পূর্ণ বিনিময় তাকে দিয়ে দিই...
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুদূর বিশারহি হালিল মাওতা ওয়াল কুবূর
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
عَملهَا سقما فِي جسده ومصيبة فِي أَهله وضيقا فِي معاشه وإقتارا فِي رزقه حَتَّى أبلغ مِنْهُ مَثَاقِيل الذَّر فَإِن بَقِي عَلَيْهِ شَيْء شددت عَلَيْهِ الْمَوْت حَتَّى يُفْضِي إِلَيّ كَيَوْم وَلدته أمه وَعِزَّتِي لَا أخرج عبدا من الدُّنْيَا وَأَنا أُرِيد أَن أعذبه حَتَّى أوفيه بِكُل حَسَنَة عَملهَا صِحَة فِي جسده وسعة فِي رزقه ورغدا فِي عيشه وَأمنا فِي سربه حَتَّى أبلغ مِنْهُ مَثَاقِيل الذَّر فَإِن بَقِي لَهُ شَيْء هونت عَلَيْهِ الْمَوْت حَتَّى يُفْضِي إِلَيّ وَلَيْسَ لَهُ حَسَنَة يَتَّقِي بهَا النَّارقَالَ فِي الصِّحَاح فلَان آمن فِي سربه بِالْكَسْرِ أَي فِي نَفسه8 - وَأخرج إِبْنِ أبي الدُّنْيَا عَن زيد بن أسلم قَالَ إِذا بَقِي على الْمُؤمن من ذنُوبه شَيْء لم يبلغهُ بِعَمَلِهِ شدد عَلَيْهِ من الْمَوْت ليبلغ بسكرات الْمَوْت وشدائده دَرَجَته من الْجنَّة وَإِن الْكَافِر إِذا كَانَ قد عمل مَعْرُوفا فِي الدُّنْيَا هون عَلَيْهِ الْمَوْت ليستكمل ثَوَاب معروفه فِي الدُّنْيَا ثمَّ يصير إِلَى النَّار9 - وَأخرج إِبْنِ مَاجَه عَن عَائِشَة رضي الله عنها قَالَت قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِن الْمُؤمن ليؤجر فِي كل شَيْء حَتَّى فِي الكظ عِنْد الْمَوْت10 - وَأخرج التِّرْمِذِيّ وَحسنه وإبن مَاجَه وَالْحَاكِم وَصَححهُ وَالْبَيْهَقِيّ فِي شعب الْإِيمَان عَن بُرَيْدَة أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ الْمُؤمن يَمُوت بعرق الجبين11 - وَأخرج التِّرْمِذِيّ الْحَكِيم فِي نَوَادِر الْأُصُول وَالْحَاكِم عَن سلمَان الْفَارِسِي قَالَ سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول إرقبوا الْمَيِّت عِنْد مَوته ثَلَاثًا فَأَما إِن رشحت جَبينه وذرفت عَيناهُ وانتشر منخراه فَهِيَ رَحْمَة من الله تَعَالَى قد نزلت بِهِ وَإِن غط غطيط الْبكر المخنوق وخمد لَونه وأزبد شدقاه فَهُوَ عَذَاب من الله تَعَالَى قد حل بِهِ
...তার কৃতকর্মের বিনিময় স্বরূপ তার শরীরে রোগ, তার পরিবারে বিপদ-আপদ, তার জীবনযাত্রায় সংকীর্ণতা এবং তার রিজিকে অভাব-অনটন প্রদান করি, যতক্ষণ না আমি তার থেকে অণু পরিমাণ (পাপ) মিটিয়ে দেই। এরপরও যদি তার ওপর কোনো গুনাহ বাকি থাকে, তবে আমি তার মৃত্যুযন্ত্রণা কঠোর করে দেই যাতে সে আমার কাছে ঐ দিনের মতো (নিষ্পাপ হয়ে) আসে যেদিন তার মা তাকে জন্ম দিয়েছিল। আমার সম্মানের কসম! আমি দুনিয়া থেকে আমার এমন কোনো বান্দাকে বের করি না যাকে আমি শাস্তি দেওয়ার ইচ্ছা করি, যতক্ষণ না তার প্রতিটি নেক আমলের প্রতিদান তাকে পূর্ণরূপে দিয়ে দেই—তার শরীরে সুস্থতা, তার রিজিকে প্রশস্ততা, তার জীবনযাত্রায় প্রাচুর্য এবং তার নিজ সত্তার নিরাপত্তা প্রদানের মাধ্যমে, যতক্ষণ না আমি তার থেকে অণু পরিমাণ (নেকি) পরিশোধ করে দেই। এরপরও যদি তার কোনো নেকি পাওনা থাকে, তবে আমি তার মৃত্যু সহজ করে দেই যাতে সে আমার কাছে এমন অবস্থায় পৌঁছে যে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচার মতো তার নিকট আর কোনো নেকি অবশিষ্ট না থাকে।‘সিহাহ’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: অমুক ব্যক্তি তার ‘সিরবে’ (সীন অক্ষরে কাসরা বা যির যোগে) নিরাপদ, অর্থাৎ নিজের সত্তার ক্ষেত্রে নিরাপদ।৮ - ইবনে আবিদ দুনইয়া যায়দ ইবনে আসলাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুমিনের গুনাহের মধ্যে যদি কিছু বাকি থাকে যা সে আমলের মাধ্যমে মোচন করতে পারেনি, তবে তার ওপর মৃত্যুযন্ত্রণা কঠোর করা হয় যাতে মৃত্যুযন্ত্রণা ও এর কষ্টের বিনিময়ে সে জান্নাতে তার নির্ধারিত স্তরে পৌঁছাতে পারে। আর কাফের যদি দুনিয়াতে কোনো ভালো কাজ করে থাকে, তবে তার মৃত্যু সহজ করে দেওয়া হয় যাতে সে দুনিয়াতেই তার ভালো কাজের পূর্ণ সওয়াব লাভ করে নেয় এবং এরপর জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হয়।৯ - ইবনে মাজাহ আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: মুমিন ব্যক্তি প্রতিটি বিষয়ের জন্য প্রতিদান লাভ করে, এমনকি মৃত্যুর সময়কার কষ্টদায়ক ছটফটানির জন্যও।১০ - তিরমিযী (তিনি একে হাসান বলেছেন), ইবনে মাজাহ, হাকেম (তিনি একে সহীহ বলেছেন) এবং বায়হাকী ‘শুআবুল ঈমান’-এ বুরায়দাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: মুমিন কপালে ঘাম নিয়ে মৃত্যুবরণ করে।১১ - তিরমিযী আল-হাকীম ‘নাওয়াদিরুল উসুল’-এ এবং হাকেম সালমান আল-ফারিসী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলতে শুনেছি: তোমরা মৃত্যুর সময় মৃত ব্যক্তির তিনটি লক্ষণ লক্ষ্য করো। যদি তার কপাল ঘামায়, তার চোখ অশ্রুসজল হয় এবং তার নাসারন্ধ্র প্রসারিত হয়, তবে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে তার ওপর অবতীর্ণ রহমত। আর যদি সে শ্বাসরুদ্ধ উটের বাচ্চার মতো ঘড়ঘড় শব্দ করে, তার শরীরের রঙ ফ্যাকাশে হয়ে যায় এবং তার ঠোঁটের দুই কোণ দিয়ে ফেনা বের হয়, তবে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে তার ওপর আপতিত আযাব।
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুদূর বিশারহি হালিল মাওতা ওয়াল কুবূর
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
الإنتشار الإنتفاخ وذرفت بِمُعْجَمَة وَرَاء مَفْتُوحَة سَالَتْ والغط ترديد الصَّوْت حَيْثُ لَا يجد مساغا وَالْبكْر من الْإِبِل بِمَنْزِلَة الْفَتى من النَّاس12 - وَأخرج سعيد بن مَنْصُور فِي سنَنه والمروزي فِي الْجَنَائِز عَن إِبْنِ مَسْعُود قَالَ إِن الْمُؤمن يبْقى عَلَيْهِ خَطَايَا من خطاياه يجازى بهَا عِنْد الْمَوْت فيعرق لذَلِك جَبينه13 - وَأخرج الْبَيْهَقِيّ فِي شعب الْإِيمَان عَن عَلْقَمَة بن قيس أَنه حضر ابْن عَم لَهُ وَقد حَضرته الْوَفَاة فَمسح جَبينه فَإِذا هُوَ يرشح فَقَالَ الله أكبر حَدثنِي إِبْنِ مَسْعُود عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ موت الْمُؤمن برشح الجبين وَمَا من مُؤمن إِلَّا لَهُ ذنُوب يكافأ بهَا فِي الدُّنْيَا وَيبقى عَلَيْهِ بَقِيَّة يشدد بهَا عَلَيْهِ عِنْد الْمَوْت قَالَ عبد الله وَلَا أحب موتا كموت الْحمار14 - وَأخرج إِبْنِ أبي شيبَة وَالْبَيْهَقِيّ عَن عَلْقَمَة أَنه حضر ابْن أَخ لَهُ لما حضر فَجعل يعرق جَبينه فَضَحِك فَقيل لَهُ مَا يضحكك قَالَ سَمِعت إِبْنِ مَسْعُود يَقُول إِن نفس الْمُؤمن تخرج رشحا وَإِن نفس الْكَافِر أَو الْفَاجِر تخرج من شدقه كَمَا تخرج نفس الْحمار وَإِن الْمُؤمن ليَكُون قد عمل السَّيئَة فيشدد عَلَيْهِ عِنْد الْمَوْت ليكفر بهَا وَإِن الْكَافِر أَو الْفَاجِر ليَكُون قد عمل الْحَسَنَة فيهون عَلَيْهِ عِنْد الْمَوْت ليكفر بهَا15 - وَأخرج الْمروزِي عَن إِبْرَاهِيم النَّخعِيّ قَالَ قَالَ عَلْقَمَة للأسود إحضرني فلقني لَا إِلَه إِلَّا الله فَإِن عرق جبيني فبشرني16 - وَأخرج إِبْنِ أبي شيبَة والمروزي عَن سُفْيَان قَالَ كَانُوا يستحبون الْعرق للْمَيت قَالَ بعض الْعلمَاء إِنَّمَا يعرق جَبينه حَيَاء من ربه لما اقْتَرَف من مُخَالفَته لِأَن مَا سفل مِنْهُ قد مَاتَ وَإِنَّمَا بقيت قوى الْحَيَاة وحركاتها فِيمَا علا وَالْحيَاء فِي الْعَينَيْنِ وَالْكَافِر فِي عمى عَن هَذَا كُله والموحد المعذب فِي شغل عَن هَذَا بِالْعَذَابِ الَّذِي قد حل بِهِ17 - وَأخرج إِبْنِ أبي شيبَة وَالْإِمَام أَحْمد فِي الزّهْد وإبن أبي الدُّنْيَا عَن جَابر بن عبد الله عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ حدثوا عَن بني إِسْرَائِيل فَإِنَّهُ كَانَ فيهم أَعَاجِيب ثمَّ أنشأ يحدثنا قَالَ خرجت طَائِفَة مِنْهُم فَأتوا مَقْبرَة من مقابرهم فَقَالُوا لَو صلينَا رَكْعَتَيْنِ ودعونا الله تَعَالَى ليخرج بعض الْأَمْوَات يخبرنا عَن
আল-ইনতিশার অর্থ প্রসারণ, আল-ইনতিফাখ অর্থ স্ফীত হওয়া। 'যারাফাত' (ذرفت) শব্দটি 'যাল' বর্ণের উপর নুুক্তা এবং 'রা' বর্ণের উপর ফাতহা যোগে গঠিত, যার অর্থ প্রবাহিত হওয়া। 'আল-গাত্ত' অর্থ শব্দের পুনরাবৃত্তি যেখানে কোনো পথ খুঁজে পাওয়া যায় না। উটের ক্ষেত্রে 'আল-বিকর' মানুষের মাঝে যুবকের সমতুল্য।১২ - সাঈদ ইবনে মানসুর তাঁর 'সুনান'-এ এবং মারওয়াযী 'আল-জানাইয'-এ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুমিনের কিছু গুনাহ বাকি থেকে যায় যার বিনিময় তাকে মৃত্যুর সময় প্রদান করা হয়, ফলে এ কারণে তার কপাল ঘামায়।১৩ - বায়হাকী 'শুআবুল ঈমান'-এ আলকামা ইবনে কায়েস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তাঁর এক চাচাতো ভাইয়ের অন্তিম সময়ে উপস্থিত ছিলেন। তিনি তার কপাল মুছলেন এবং দেখলেন তা ঘামছে। তখন তিনি বললেন, আল্লাহু আকবার! ইবনে মাসউদ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: মুমিনের মৃত্যু হয় কপাল ঘামানোর মাধ্যমে। এমন কোনো মুমিন নেই যার কিছু গুনাহ নেই যার বিনিময় তাকে দুনিয়াতে প্রদান করা হয়, আর যদি কিছু অবশিষ্ঠ থাকে তবে মৃত্যুর সময় তার ওপর কঠোরতা করা হয়। আব্দুল্লাহ (ইবনে মাসউদ) বলেন, আমি গাধার মৃত্যুর মতো মৃত্যু পছন্দ করি না।১৪ - ইবনে আবি শায়বাহ ও বায়হাকী আলকামা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তাঁর এক ভাতিজার মৃত্যুকালে উপস্থিত ছিলেন। যখন মৃত্যু উপস্থিত হলো, তখন তার কপাল ঘামাতে লাগল। তিনি (আলকামা) হাসলেন। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, আপনি কেন হাসছেন? তিনি বললেন, আমি ইবনে মাসউদকে বলতে শুনেছি যে, মুমিনের জান ঘাম হয়ে বের হয় এবং কাফির বা পাপাচারীর জান তার চোয়ালের পাশ দিয়ে বের হয় যেমন গাধার জান বের হয়। মুমিন ব্যক্তি কোনো মন্দ কাজ করে থাকলে মৃত্যুর সময় তার ওপর কঠোরতা করা হয় যাতে এর দ্বারা তার গুনাহ মোচন হয়। আর কাফির বা পাপাচারী কোনো ভালো কাজ করে থাকলে মৃত্যুর সময় তার জন্য সহজ করা হয় যাতে এর দ্বারা সে (তার প্রতিদান) পেয়ে যায়।১৫ - মারওয়াযী ইব্রাহিম নাখাঈ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আলকামা আসওয়াদকে বললেন, আমার (মৃত্যুর) সময় উপস্থিত থেকো এবং আমাকে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-এর তালকিন দিয়ো। যদি আমার কপাল ঘামায় তবে আমাকে সুসংবাদ দিয়ো।১৬ - ইবনে আবি শায়বাহ ও মারওয়াযী সুফিয়ান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: তারা মৃত ব্যক্তির কপাল ঘামানোকে পছন্দ করতেন। জনৈক আলেম বলেছেন, তার কপাল মূলত তার প্রতিপালকের অবাধ্যতা করার কারণে তাঁর সামনে লজ্জাবশত ঘামায়; কারণ তার নিচের অংশ তখন মৃত এবং কেবল শরীরের উপরের অংশে জীবনের শক্তি ও নড়াচড়া অবশিষ্ট থাকে, আর লজ্জা থাকে চোখের মধ্যে। কাফির ব্যক্তি এই পুরো বিষয়টি সম্পর্কে অন্ধ থাকে, আর শাস্তিপ্রাপ্ত একত্ববাদী তার ওপর আপতিত শাস্তির কারণে এই বিষয়টি নিয়ে ভাবার অবকাশ পায় না।১৭ - ইবনে আবি শায়বাহ, ইমাম আহমদ 'আয-যুহদ'-এ এবং ইবনে আবিদ দুনইয়া জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: তোমরা বনী ইসরাঈল থেকে বর্ণনা করো, কেননা তাদের মধ্যে বিস্ময়কর ঘটনাবলি ছিল। তারপর তিনি আমাদের কাছে বর্ণনা করতে শুরু করলেন, তিনি বললেন: তাদের একটি দল বের হয়ে তাদের একটি কবরস্থানে গেল এবং বলল, যদি আমরা দুই রাকাত সালাত আদায় করতাম এবং মহান আল্লাহর নিকট দুআ করতাম যেন তিনি কোনো মৃত ব্যক্তিকে বের করে দেন যে আমাদের সংবাদ দেবে...
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুদূর বিশারহি হালিল মাওতা ওয়াল কুবূর
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
الْمَوْت فَفَعَلُوا فَبَيْنَمَا هم كَذَلِك إِذْ طلع رجل أسود اللَّوْن بَين عَيْنَيْهِ أثر السُّجُود فَقَالَ يَا هَؤُلَاءِ مَا أردتم إِلَيّ لقد مت مُنْذُ مائَة سنة فَمَا سكنت عني حرارة الْمَوْت حَتَّى الْآن فَادعوا الله أَن يُعِيدنِي كَمَا كنت18 - وَأخرج أَحْمد فِي الزّهْد عَن عُمَيْر بن حبيب أَن رجلَيْنِ من بني إِسْرَائِيل عبدا حَتَّى سئما الْعِبَادَة فَقَالُوا لَو خرجنَا إِلَى الْقُبُور فجاورناها لَعَلَّنَا أَن نراجع فجاورا الْقُبُور فعبدا الله فنشر لَهما ميت فَقَالَ لَهما لقد مت مُنْذُ ثَمَانِينَ سنة وَإِنِّي لأجد ألم الْمَوْت بعد19 - وَأخرج أَبُو نعيم عَن كَعْب قَالَ لَا يذهب عَن الْمَيِّت الم الْمَوْت مَا دَامَ فِي قَبره وَإنَّهُ لأشد مَا يمر على الْمُؤمن وأهون مَا يُصِيب الْكَافِر20 - وَأخرج إِبْنِ أبي الدُّنْيَا عَن الْأَوْزَاعِيّ قَالَ بلغنَا أَن الْمُؤمن يجد ألم الْمَوْت حَتَّى يبْعَث من قَبره21 - وَأخرج إِبْنِ أبي الدُّنْيَا بِسَنَد رِجَاله ثِقَات عَن الْحسن أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم ذكر ألم الْمَوْت وغصته فَقَالَ هُوَ كَقدْر ثَلَاثمِائَة ضَرْبَة بِالسَّيْفِ22 - وَأخرج عَن الضَّحَّاك بن حَمْزَة قَالَ سُئِلَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم عَن الْمَوْت فَقَالَ أدنى جبذات الْمَوْت بِمَنْزِلَة مائَة ضَرْبَة بِالسَّيْفِ23 - وَأخرج الْخَطِيب فِي التَّارِيخ عَن أنس مَرْفُوعا لمعالجة ملك الْمَوْت أَشد من ألف ضَرْبَة بِالسَّيْفِ24 - وَأخرج إِبْنِ أبي الدُّنْيَا عَن عَليّ بن أبي طَالب رضي الله عنه قَالَ وَالَّذِي نَفسِي بِيَدِهِ لِأَلف ضَرْبَة بِالسَّيْفِ أَهْون من موت على فرَاش25 - وَأخرج أَبُو الشَّيْخ فِي كِتَابه العظمة عَن الْحسن قَالَ قيل لمُوسَى عليه السلام كَيفَ وجدت الْمَوْت قَالَ كسفود دَاخل جوفي لَهُ شعب كَثِيرَة تعلق كل شُعْبَة مِنْهُ بعرق من عروقي ثمَّ انتزع من جوفي نزعا شَدِيدا فَقيل لَهُ لقد هونا عَلَيْك
মৃত্যু। অতঃপর তারা তাই করল। তারা যখন এমতাবস্থায় ছিল, তখন কালো বর্ণের এক ব্যক্তি আবির্ভূত হলো যার দুই চোখের মাঝে সিজদার চিহ্ন ছিল। সে বলল, 'হে লোকসকল, তোমরা আমার কাছে কী চাও? আমি একশ বছর আগে মারা গিয়েছি, কিন্তু মৃত্যুর উত্তাপ এখন পর্যন্ত আমার থেকে প্রশমিত হয়নি। সুতরাং তোমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করো যেন তিনি আমাকে আগের মতো ফিরিয়ে দেন'।১৮ - ইমাম আহমাদ 'কিতাবুয যুহদ'-এ উমায়ের ইবনে হাবীব থেকে বর্ণনা করেছেন যে, বনী ইসরাঈলের দুই ব্যক্তি ইবাদত করতে করতে একপর্যায়ে ক্লান্ত হয়ে পড়ল। তারা বলল, 'আমরা যদি কবরের কাছে যেতাম এবং সেখানে অবস্থান করতাম, তবে হয়তো আমাদের (ইবাদতে) আগ্রহ ফিরে আসত।' অতঃপর তারা কবরের কাছে অবস্থান করে আল্লাহর ইবাদত করতে লাগল। তখন তাদের জন্য একজন মৃত ব্যক্তিকে জীবিত করা হলো। সে তাদের বলল, 'আমি আশি বছর আগে মারা গিয়েছি, অথচ আমি এখনও মৃত্যুর যন্ত্রণা অনুভব করছি'।১৯ - আবু নুআইম কা'ব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, 'মৃত ব্যক্তি যতক্ষণ কবরে থাকে ততক্ষণ তার থেকে মৃত্যুর যন্ত্রণা দূর হয় না। এটি মুমিনের ওপর দিয়ে অতিক্রান্ত হওয়া সবচেয়ে কঠিন বিষয় এবং কাফিরের ওপর আপতিত হওয়া সবচেয়ে হালকা বিষয়'।২০ - ইবনে আবিদ দুনিয়া আওযাঈ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, 'আমাদের কাছে পৌঁছেছে যে, মুমিন ব্যক্তি কবর থেকে পুনরুত্থিত হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর যন্ত্রণা অনুভব করতে থাকে'।২১ - ইবনে আবিদ দুনিয়া নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের সনদে হাসান থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যুর যন্ত্রণা ও তার তীব্রতা সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেছেন, 'তা হলো তিনশত তরবারির আঘাতের সমান'।২২ - যাহহাক ইবনে হামযা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মৃত্যু সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, 'মৃত্যুর সবচেয়ে হালকা টান একশত তরবারির আঘাতের সমতুল্য'।২৩ - খতিব 'তারীখ' গ্রন্থে আনাস থেকে মারফূ সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, 'মৃত্যুদূতের প্রাণহরণের কষ্ট এক হাজার তরবারির আঘাতের চেয়েও কঠিন'।২৪ - ইবনে আবিদ দুনিয়া আলী ইবনে আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন, 'সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তরবারির এক হাজার আঘাত বিছানায় মৃত্যুর চেয়ে অনেক সহজ'।২৫ - আবুশ শায়খ তার 'কিতাবুল আজামাহ' গ্রন্থে হাসান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মুসা আলাইহিস সালামকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, 'আপনি মৃত্যুকে কেমন পেয়েছেন?' তিনি বললেন, 'আমার পেটের ভেতরে থাকা অনেক শাখা-প্রশাখাযুক্ত একটি লোহার শিকের মতো, যার প্রতিটি শাখা আমার প্রতিটি শিরার সাথে আটকে গিয়েছিল। অতঃপর তা আমার ভেতর থেকে অত্যন্ত জোরে টেনে বের করা হলো।' তখন তাঁকে বলা হয়েছিল, 'আমরা আপনার জন্য একে সহজ করে দিয়েছিলাম'।
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুদূর বিশারহি হালিল মাওতা ওয়াল কুবূর
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
26 - وَأخرج إِبْنِ أبي الدُّنْيَا عَن أبي إِسْحَاق قَالَ قيل لمُوسَى كَيفَ وجدت طعم الْمَوْت قَالَ كسفود أَدخل فِي جزة صوف فامتلخ قَالَ يَا مُوسَى لقد هونا عَلَيْك27 - وَأخرج أَحْمد فِي الزّهْد والمروزي فِي الْجَنَائِز عَن ابْن أبي مليكَة أَن إِبْرَاهِيم عليه السلام لما لَقِي الله قيل لَهُ كَيفَ وجدت الْمَوْت قَالَ وجدت نَفسِي كَأَنَّمَا تنْزع بالسلى قيل لَهُ قد يسرنَا عَلَيْك الْمَوْت28 - وَرُوِيَ أَن مُوسَى لما صَارَت روحه إِلَى الله تَعَالَى قَالَ لَهُ ربه يَا مُوسَى كَيفَ وجدت الْمَوْت قَالَ وجدت نَفسِي كالعصفور الْحَيّ حِين يقلى على المقلاة لَا يَمُوت فيستريح وَلَا ينجو فيطير وروى عَنهُ قَالَ وجدت نَفسِي كشاة تسلخ بيد القصاب29 - وَأخرج عَن أنس عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم إِن الْمَلَائِكَة تكتنف العَبْد وتحبسه لَوْلَا ذَلِك لَكَانَ يعدو فِي الصَّحَارِي والبراري من شدَّة سَكَرَات الْمَوْت قَالَ فِي الصِّحَاح إكتنفوا أحاطوا بِهِ30 - وَأخرج أَبُو الشَّيْخ فِي كتاب العظمة عَن الفضيل بن عِيَاض أَنه قيل لَهُ مَا بَال الْمَيِّت تنْزع نَفسه وَهُوَ سَاكِت وإبن آدم يضطرب من القرصة قَالَ إِن الْمَلَائِكَة توثقه31 - وَأخرج إِبْنِ أبي الدُّنْيَا عَن شهر بن حَوْشَب قَالَ سُئِلَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم عَن الْمَوْت وشدته فَقَالَ إِن أَهْون الْمَوْت بِمَنْزِلَة حسكة كَانَت فِي صوف فَهَل تخرج الحسكة من الصُّوف إِلَّا وَمَعَهَا صوف32 - وَأخرج الْمروزِي فِي الْجَنَائِز عَن ميسرَة رَفعه قَالَ لَو أَن قَطْرَة من ألم الْمَوْت وضعت على أهل السَّمَاء وَالْأَرْض لماتوا جَمِيعًا وَإِن فِي الْقِيَامَة سَاعَة تضعف على شدَّة الْمَوْت سبعين ضعفا
২৬ - ইবনে আবিদ দুনইয়া আবু ইসহাক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মূসা (আলাইহিস সালাম)-কে জিজ্ঞাসা করা হলো, আপনি মৃত্যুর স্বাদ কেমন পেলেন? তিনি বললেন, যেন পশমের স্তূপের মধ্যে প্রবেশ করানো একটি উত্তপ্ত লোহার শিক টেনে বের করা হলো। আল্লাহ বললেন, হে মূসা, আমি আপনার জন্য মৃত্যুকে সহজ করে দিয়েছিলাম।২৭ - আহমদ ‘আয-যুহদ’ গ্রন্থে এবং মারওয়াযী ‘আল-জানাইয’ গ্রন্থে ইবনে আবি মুলাইকা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) যখন আল্লাহর সাক্ষাৎ লাভ করলেন, তখন তাঁকে বলা হলো, আপনি মৃত্যুকে কেমন পেলেন? তিনি বললেন, আমি নিজেকে এমন অনুভব করেছি যেন আমাকে কাঁটাযুক্ত ডাল দিয়ে টেনে বের করা হচ্ছে। তাঁকে বলা হলো, আমি আপনার জন্য মৃত্যুকে সহজ করে দিয়েছিলাম।২৮ - বর্ণিত আছে যে, মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর রূহ যখন মহান আল্লাহর নিকট পৌঁছাল, তখন তাঁর রব তাঁকে বললেন, হে মূসা, আপনি মৃত্যুকে কেমন পেলেন? তিনি বললেন, আমি নিজেকে এমন একটি জীবন্ত চড়ুই পাখির মতো অনুভব করেছি যাকে কড়াইয়ে ভাজা হচ্ছে; সে মরেও না যে শান্তি পাবে, আবার মুক্ত হয়ে উড়েও যেতে পারে না। তাঁর থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন: আমি নিজেকে কসাইয়ের হাতে চামড়া ছাড়ানো একটি ভেড়ার মতো অনুভব করেছি।২৯ - আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: নিশ্চয়ই ফেরেশতারা বান্দাকে পরিবেষ্টন করে রাখেন এবং তাকে আটকে রাখেন। যদি তা না হতো, তবে মৃত্যুর যন্ত্রণার তীব্রতায় সে মরুভূমি ও প্রান্তরে দৌড়াতে থাকত। ‘সিহাহ’ গ্রন্থে বলা হয়েছে, ‘ইক্তানাফু’ অর্থ হলো তারা তাকে পরিবেষ্টন করে ফেলেছে।৩০ - আবুশ শাইখ ‘কিতাবুল আযামাহ’ গ্রন্থে ফুদাইল ইবনে ইয়ায থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, কী ব্যাপার যে মৃত ব্যক্তির প্রাণ বের করা হয় অথচ সে শান্ত থাকে, অথচ মানুষ সামান্য চিমটি কাটলে ছটফট করে? তিনি বললেন, নিশ্চয়ই ফেরেশতারা তাকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলেন।৩১ - ইবনে আবিদ দুনইয়া শাহর ইবনে হাওশাব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে মৃত্যু ও এর তীব্রতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, সবচেয়ে সহজ মৃত্যু হলো পশমের মধ্যে থাকা একটি কাঁটার মতো। পশম ছাড়া কি সেই কাঁটা বের হয়ে আসে?৩২ - মারওয়াযী ‘আল-জানাইয’ গ্রন্থে মাইসারাহ থেকে মারফূ সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যদি মৃত্যুর যন্ত্রণার এক ফোঁটা আসমান ও জমিনবাসীর উপর রাখা হতো, তবে তারা সকলেই মারা যেত। আর কিয়ামত দিবসে এমন এক মুহূর্ত রয়েছে যা মৃত্যুর তীব্রতা অপেক্ষা সত্তর গুণ বেশি কঠিন।