(খণ্ড: ১) শারহুস সুন্নাহ লিল মুযানী (পৃষ্ঠা: -)
شرح السنة للمزني   (المزني)

القسم: العقيدة


الكتاب: شرح السنة معتقد إسماعيل بن يحيى المزني

المؤلف: إسماعيل بن يحيى بن إسماعيل، أبو إبراهيم المزني (ت 264هـ)

المحقق: جمال عزون

الناشر: مكتبة الغرباء الأثرية - السعودية

الطبعة: الأولى، 1415هـ - 1995م

عدد الصفحات: 92

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-মুজানীর শারহুস সুন্নাহ   (আল-মুজানী)

বিভাগ: আক্বীদা


গ্রন্থ: শারহুস সুন্নাহ: ইসমাঈল বিন ইয়াহইয়া আল-মুজানীর আকিদাহ

লেখক: ইসমাঈল বিন ইয়াহইয়া বিন ইসমাঈল, আবু ইবরাহিম আল-মুজানী (মৃত্যু ২৬৪ হিজরী)

সম্পাদক: জামাল আজজুন

প্রকাশক: মাকতাবাতুল গুরবা আল-আসারিয়্যাহ - সৌদি আরব

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৫ হিজরী - ১৯৯৫ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯২

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) শারহুস সুন্নাহ লিল মুযানী (পৃষ্ঠা: ৭১)
‌‌بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم

 

أخبرنَا الْفَقِيه الإِمَام شمس الدّين أَبُو الْعِزّ يُوسُف بن عمر بن أبي نصر الهكاري فِي شهر صفر سنة سِتّ عشرَة وسِتمِائَة قَالَ حَدثنَا الشَّيْخ الإِمَام الْحَافِظ الثِّقَة بَقِيَّة السّلف أَبُو إِسْحَاق إِبْرَاهِيم بن عُثْمَان بن عِيسَى بن درباس الماراني من لَفظه بالموصل فِي تَاسِع عشر من جُمَادَى الأولى سنة إِحْدَى عشرَة وسِتمِائَة قَالَ أخبرنَا الشَّيْخ الصَّالح الْعَالم أَبُو عبد الله مُحَمَّد بن أَحْمد بن حمد بن مفرج بن غياث الأرتاحي راءتي عَلَيْهِ بفسطاط مصر قَالَ أخبرنَا الشَّيْخ الْمسند الْعَالم أَبُو الْحسن عَليّ بن الْحُسَيْن بن عمر الْموصِلِي الْفراء فِيمَا أذن فِيهِ لي ح

قَالَ الشَّيْخ إِبْرَاهِيم بن عُثْمَان وَأخْبرنَا الشَّيْخ الإِمَام الْفَقِيه الْحَافِظ أَبُو طَاهِر أَحْمد بن مُحَمَّد بن أَحْمد بن مُحَمَّد بن إِبْرَاهِيم بن سلفة الْأَصْبَهَانِيّ السلَفِي فِي كِتَابه إِلَيْنَا من الْإسْكَنْدَريَّة فِي ربيع الآخر سنة أَربع وَسبعين وَخَمْسمِائة
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

 

ফকিহ ইমাম শামসুদ্দীন আবুল ইয ইউসুফ ইবনে উমর ইবনে আবি নাসর আল-হাক্কারি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ছয়শ ষোল হিজরির সফর মাসে। তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শায়খ ইমাম হাফেজ বিশ্বস্ত সালাফদের যোগ্য উত্তরসূরি আবু ইসহাক ইবরাহিম ইবনে উসমান ইবনে ঈসা ইবনে দারবাস আল-মারানি তাঁর নিজ মুখে মুসিলে ছয়শ এগারো হিজরির উনিশে জুমাদাল উলা তারিখে। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন নেককার আলেম শায়খ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে হামদ ইবনে মুফাররিজ ইবনে গিয়াস আল-আরতাহি, মিসরের ফুসতাতে তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুসনিদ আলেম শায়খ আবুল হাসান আলি ইবনে হুসাইন ইবনে উমর আল-মাওসিলি আল-ফাররা, সেই বিষয়ে যা তিনি আমাকে প্রদানের অনুমতি দিয়েছেন (হ)।

শায়খ ইবরাহিম ইবনে উসমান বলেন, আর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ ইমাম ফকিহ হাফেজ আবু তাহির আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে সিলাফাহ আল-আসফাহানি আস-সিলাফি আলেকজান্দ্রিয়া থেকে আমাদের নিকট প্রেরিত তাঁর পত্রে পাঁচশ চুয়াত্তর হিজরির রবিউল আখের মাসে।
(খণ্ড: ১) শারহুস সুন্নাহ লিল মুযানী (পৃষ্ঠা: ৭২)
قَالَ أخبرنَا الشريف أَبُو مُحَمَّد عبد الْملك بن الْحسن بن بتنة الْأنْصَارِيّ بِمَكَّة بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ فِي سنة تسع وَتِسْعين وَأَرْبَعمِائَة قَالَا أخبرنَا ابو عبد الله الْحُسَيْن ابْن عَليّ النسوى الْفَقِيه قدم علينا مَكَّة اخبرنى أَبُو مُحَمَّد إِسْمَاعِيل بن رَجَاء ابْن سعيد الْعَسْقَلَانِي بعسقلان أَخْبرنِي أَبُو الْحُسَيْن مُحَمَّد بن أَحْمد بن عبد الرَّحْمَن الْمَلْطِي وَأَبُو أَحْمد مُحَمَّد بن مُحَمَّد بن عبد الرَّحِيم القيسراني قَالَا أخبرنَا أَحْمد بن بكر اليازوري قَالَ حَدثنِي الْحسن بن عَليّ اليازوري الْفَقِيه حَدثنِي عَليّ بن عبد الله الْحلْوانِي قَالَ كنت بطرابلس الْمغرب فَذكرت أَنا وَأَصْحَاب لنا السّنة إِلَى أَن ذكرنَا أَبَا
তিনি বলেন, শরীফ আবু মুহাম্মদ আব্দুল মালিক ইবনুল হাসান ইবনে বাতনা আল-আনসারী চারশত নিরানব্বই হিজরি সনে মক্কায় তাঁর নিকট আমার পাঠকালে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তাঁরা উভয়ে বলেন, ফকিহ আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন ইবনে আলী আন-নাসাওয়ী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যখন তিনি মক্কায় আমাদের নিকট আগমন করেন। আবু মুহাম্মদ ইসমাইল ইবনে রাজা ইবনে সাঈদ আল-আসকালানী আসকালানে আমাকে সংবাদ দিয়েছেন। আবু আল-হুসাইন মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনে আব্দুর রহমান আল-মালতী এবং আবু আহমাদ মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুর রহিম আল-কায়সারানী আমাকে সংবাদ দিয়েছেন। তাঁরা উভয়ে বলেন, আহমাদ ইবনে বাকর আল-ইয়াজুরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ফকিহ হাসান ইবনে আলী আল-ইয়াজুরি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন। আলী ইবনে আব্দুল্লাহ আল-হুলওয়ানি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মাগরেবের ত্রিপোলিতে ছিলাম, তখন আমি ও আমার সাথীরা সুন্নাহ সম্পর্কে আলোচনা করছিলাম, এক পর্যায়ে আমরা আবু...
(খণ্ড: ১) শারহুস সুন্নাহ লিল মুযানী (পৃষ্ঠা: ৭৩)
إِبْرَاهِيم الْمُزنِيّ رحمه الله فَقَالَ بعض أَصْحَابنَا بَلغنِي أَنه كَانَ يتَكَلَّم فِي الْقُرْآن وَيقف عِنْده وَذكر آخر أَنه يَقُوله إِلَى ان اجْتمع مَعنا قوم آخَرُونَ فغم النَّاس ذَلِك غما شَدِيدا فكتبنا إِلَيْهِ كتابا نُرِيد أَن نستعلم مِنْهُ يكْتب إِلَيْنَا شرح السّنة فِي الْقدر والإرجاء وَالْقُرْآن والبعث والنشور والموازين وَفِي النّظر فَكتب إِلَيْنَا
ইবরাহীম আল-মুযানী (রাহিমাহুল্লাহ); আমাদের কিছু সাথী বললেন: আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে, তিনি কুরআন সম্পর্কে কথা বলতেন এবং এ বিষয়ে স্থবিরতা অবলম্বন করতেন (ওয়াকফ করতেন)। অন্য একজন উল্লেখ করলেন যে, তিনি এটি বলতেন। পরিশেষে আমাদের সাথে আরও একদল লোক সমবেত হলেন এবং বিষয়টি মানুষকে অত্যন্ত ব্যথিত করল। তখন আমরা তাঁর নিকট একটি পত্র লিখলাম; আমরা তাঁর থেকে জানতে চাচ্ছিলাম যে, তিনি যেন আমাদের নিকট তাকদীর, ইরজা, কুরআন, পুনরুত্থান, হাশর, মীযান এবং (আল্লাহর) দর্শনের বিষয়ে সুন্নাহর ব্যাখ্যা লিখে পাঠান। অতঃপর তিনি আমাদের নিকট লিখলেন:
(খণ্ড: ১) শারহুস সুন্নাহ লিল মুযানী (পৃষ্ঠা: ৭৪)
‌‌بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم

 

عصمنا الله وَإِيَّاكُم بالتقوى ووفقنا وَإِيَّاكُم لموافقة الْهدى أما بعد فَإنَّك أصلحك الله سَأَلتنِي أَن أوضح لَك من السّنة أمرا تصبر نَفسك على التَّمَسُّك بِهِ وتدرأ بِهِ عَنْك شبه الْأَقَاوِيل وزيغ محدثات الضَّالّين وَقد شرحت لَك منهاجا موضحا منيرا لم آل نَفسِي وَإِيَّاك فِيهِ نصحا بدأت فِيهِ بِحَمْد الله ذِي الرشد والتسديد

الْحَمد لله أَحَق من ذكر وَأولى من شكر وَعَلِيهِ أثني الْوَاحِد الصَّمد الَّذِي لَيْسَ لَهُ صَاحِبَة وَلَا ولد جلّ عَن المثيل فَلَا شَبيه لَهُ وَلَا عديل السَّمِيع الْبَصِير الْعَلِيم الْخَبِير المنيع الرفيع
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

আল্লাহ আমাদের এবং আপনাদের তাকওয়ার মাধ্যমে রক্ষা করুন এবং আমাদের ও আপনাদের হিদায়াতের অনুসারী হওয়ার তাওফীক দান করুন। অতঃপর, আল্লাহ আপনাকে সংশোধন করুন; আপনি আমার কাছে সুন্নাহর এমন একটি বিষয় স্পষ্ট করার অনুরোধ করেছেন যার ওপর আপনি নিজেকে আঁকড়ে ধরার মাধ্যমে ধৈর্যশীল রাখবেন এবং এর দ্বারা আপনার থেকে নানা মতবাদের সংশয় ও পথভ্রষ্টদের নবউদ্ভাবিত বিচ্যুতি দূর করবেন। আমি আপনার জন্য একটি স্পষ্ট ও উজ্জ্বল পথ ব্যাখ্যা করেছি, যেখানে আমি নিজের ও আপনার উপদেশে কোনো ত্রুটি করিনি। আমি এটি শুরু করেছি সঠিক পথ ও সুদৃঢ়করণের অধিপতি আল্লাহর প্রশংসার মাধ্যমে।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি স্মরণের সবচেয়ে বেশি হকদার এবং কৃতজ্ঞতা পাওয়ার সর্বাধিক যোগ্য। আমি তাঁরই গুণগান করি; তিনি এক, অমুখাপেক্ষী, যাঁর কোনো স্ত্রী বা সন্তান নেই। তিনি সদৃশ থেকে ঊর্ধ্বে, সুতরাং তাঁর কোনো সমতুল্য বা সমকক্ষ নেই। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা, সর্বজ্ঞ, সম্যক অবহিত, অপরাজেয় ও সুউচ্চ।
(খণ্ড: ১) শারহুস সুন্নাহ লিল মুযানী (পৃষ্ঠা: ৭৫)
‌‌الْعُلُوّ

 

1 - عَال على عَرْشه فِي مجده بِذَاتِهِ وَهُوَ دَان بِعِلْمِهِ من خلقه أحَاط علمه بالأمور وأنفذ فِي خلقه سَابق الْمَقْدُور وَهُوَ الْجواد الغفور {يعلم خَائِنَة الْأَعْين وَمَا تخفي الصُّدُور}
উচ্চতা

 

১ - তিনি স্বীয় মহিমায় নিজ সত্তায় তাঁর আরশের উপর উচ্চ। তিনি তাঁর জ্ঞানের মাধ্যমে তাঁর সৃষ্টির নিকটবর্তী। তাঁর জ্ঞান সকল বিষয়কে পরিবেষ্টন করে আছে এবং তিনি তাঁর সৃষ্টির মাঝে পূর্ব-নির্ধারিত তাকদীর কার্যকর করেছেন। তিনি অত্যন্ত দাতা ও পরম ক্ষমাশীল। {তিনি চোখের খেয়ানত এবং অন্তর যা গোপন করে তা জানেন।}
(খণ্ড: ১) শারহুস সুন্নাহ লিল মুযানী (পৃষ্ঠা: ৭৬)
‌‌الْقَضَاء وَالْقدر

 

2 - فالخلق عاملون بسابق علمه ونافذون لما خلقهمْ لَهُ من خير وَشر لَا يملكُونَ لأَنْفُسِهِمْ من الطَّاعَة نفعا وَلَا يَجدونَ إِلَى صرف الْمعْصِيَة عَنْهَا دفعا

‌‌الْمَلَائِكَة

 

3 - خلق الْخلق بمشيئته عَن غير حَاجَة كَانَت بِهِ فخلق الْمَلَائِكَة جَمِيعًا لطاعته وجبلهم على عِبَادَته فَمنهمْ مَلَائِكَة بقدرته للعرش حاملون وَطَائِفَة مِنْهُم حول عَرْشه يسبحون وَآخَرُونَ بِحَمْدِهِ يقدسون وَاصْطفى مِنْهُم رسلًا إِلَى رسله وَبَعض مدبرون لأَمره

‌‌آدم عليه السلام

 

4 - ثمَّ خلق آدم بِيَدِهِ وَأَسْكَنَهُ جنته وَقبل ذَلِك للْأَرْض خلقه وَنَهَاهُ عَن
ভাগ্য ও তাকদীর

 

২ - সৃষ্টিজগত তাঁর পূর্বজ্ঞানের ভিত্তিতেই আমল করে এবং তিনি তাদের ভালো ও মন্দের যে বিষয়ের জন্য সৃষ্টি করেছেন, তা-ই তারা বাস্তবায়ন করে। তারা আনুগত্যের মাধ্যমে নিজেদের জন্য কোনো উপকারের মালিক নয় এবং তারা নিজেদের থেকে পাপাচার সরিয়ে দেওয়ার কোনো ক্ষমতাও রাখে না।

‌ফেরেশতাগণ

 

৩ - তিনি কোনো প্রয়োজন ছাড়াই স্বীয় ইচ্ছায় সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তিনি সকল ফেরেশতাকে তাঁর আনুগত্যের জন্য সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের তাঁর ইবাদতের ওপর স্বভাবজাতভাবে গড়ে তুলেছেন। তাদের মধ্যে কিছু ফেরেশতা তাঁর শক্তিবলে আরশ বহনকারী, একদল তাঁর আরশের চারদিকে তাসবীহ পাঠ করে এবং অন্যরা তাঁর প্রশংসার সাথে তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা করে। তিনি তাদের মধ্য থেকে তাঁর রাসুলগণের নিকট রাসুল হিসেবে মনোনীত করেছেন এবং কেউ কেউ তাঁর আদেশের ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত।

‌আদম আলাইহিস সালাম

 

৪ - অতঃপর তিনি আদমকে তাঁর হাত দিয়ে সৃষ্টি করলেন এবং তাঁকে তাঁর জান্নাতে বসবাস করতে দিলেন। অথচ এর পূর্বেই তিনি তাঁকে পৃথিবীর জন্য সৃষ্টি করেছিলেন এবং তাঁকে নিষেধ করেছিলেন...

(খণ্ড: ১) শারহুস সুন্নাহ লিল মুযানী (পৃষ্ঠা: ৭৭)
شَجَرَة قد نفذ قَضَاؤُهُ عَلَيْهِ بأكلها ثمَّ ابتلاه بِمَا نَهَاهُ عَنهُ مِنْهَا ثمَّ سلط عَلَيْهِ عدوه فأغواه عَلَيْهَا وَجعل أكله لَهَا إِلَى الأَرْض سَببا فَمَا وجد إِلَى ترك أكلهَا سَبِيلا وَلَا عَنهُ لَهَا مذهبا

‌‌الْجنَّة وَالنَّار

 

5 - ثمَّ خلق للجنة من ذُريَّته أَهلا فهم بأعمالها بمشيئته عاملون وبقدرته وبإرادته ينفذون

وَخلق من ذُريَّته للنار أَهلا فخلق لَهُم أعينا لَا يبصرون بهَا وآذانا لَا يسمعُونَ بهَا وَقُلُوبًا لَا يفقهُونَ بهَا فهم بذلك عَن الْهدى محجوبون وبأعمال أهل النَّار بسابق قدره يعْملُونَ

‌‌الْإِيمَان

 

6 - وَالْإِيمَان قَول وَعمل مَعَ اعْتِقَاده بالجنان قَول بِاللِّسَانِ وَعمل
একটি বৃক্ষ যার ব্যাপারে তাঁর ফয়সালা কার্যকর হয়েছিল যে তিনি তা ভক্ষণ করবেন, অতঃপর তিনি তাঁকে যা থেকে নিষেধ করেছিলেন তার মাধ্যমে পরীক্ষা করলেন। এরপর তিনি তাঁর ওপর তাঁর শত্রুকে লেলিয়ে দিলেন এবং সে তাঁকে সে বিষয়ে প্রলুব্ধ করল। আর তিনি তাঁর সেই ভক্ষণকে পৃথিবীতে গমনের কারণ হিসেবে নির্ধারণ করলেন, ফলে তিনি তা ভক্ষণ বর্জন করার কোনো পথ পাননি এবং তা থেকে বিমুখ হওয়ার কোনো উপায়ও তাঁর ছিল না।

‌‌জান্নাত ও জাহান্নাম

 

৫ - অতঃপর তিনি তাঁর বংশধরদের মধ্য থেকে জান্নাতের জন্য একদল যোগ্য লোক সৃষ্টি করলেন; তাঁরা তাঁরই ইচ্ছায় জান্নাতবাসীদের আমলসমূহ সম্পাদন করেন এবং তাঁরই ক্ষমতা ও ইচ্ছায় তা সম্পন্ন করেন।

এবং তিনি তাঁর বংশধরদের মধ্য থেকে জাহান্নামের জন্য একদল লোক সৃষ্টি করেছেন; তিনি তাঁদের জন্য এমন চোখ সৃষ্টি করেছেন যা দিয়ে তাঁরা দেখে না, এমন কান যা দিয়ে তাঁরা শোনে না এবং এমন অন্তর যা দিয়ে তাঁরা অনুধাবন করে না। ফলে তাঁরা এর মাধ্যমে হিদায়াত থেকে বঞ্চিত এবং তাঁর পূর্বনির্ধারিত তাকদির অনুযায়ী জাহান্নামীদের আমলসমূহ করে থাকেন।

‌‌ঈমান

 

৬ - আর ঈমান হলো অন্তরের বিশ্বাসের সাথে মৌখিক স্বীকৃতি ও আমল; অর্থাৎ জিহ্বা দিয়ে বলা ও কাজ করা।
(খণ্ড: ১) শারহুস সুন্নাহ লিল মুযানী (পৃষ্ঠা: ৭৮)
بالجوارح والأركان وهما سيان ونظامان وقرينان لَا نفرق بَينهمَا لَا إِيمَان إِلَّا بِعَمَل وَلَا عمل إِلَّا بِإِيمَان

والمؤمنون فِي الْإِيمَان يتفاضلون وبصالح الْأَعْمَال هم متزايدون وَلَا يخرجُون بِالذنُوبِ من الْإِيمَان وَلَا يكفرون بركوب كَبِيرَة وَلَا عصيان وَلَا نوجب لمحسنهم الْجنان بعد من أوجب لَهُ النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَلَا نشْهد على مسيئهم بالنَّار

‌‌الْقُرْآن

 

7 - وَالْقُرْآن كَلَام الله عز وجل وَمن لَدنه وَلَيْسَ بمخلوق
অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও স্তম্ভগুলোর মাধ্যমে (আমল করা)। এই উভয়টি (ঈমান ও আমল) সমান, সুশৃঙ্খল এবং একে অপরের সাথী। আমরা এই দুটির মধ্যে কোনো পার্থক্য করি না। আমল ছাড়া কোনো ঈমান নেই এবং ঈমান ছাড়া কোনো আমল নেই।

মুমিনগণ ঈমানের ক্ষেত্রে একে অপরের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেন এবং সৎকাজের মাধ্যমে তারা বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হন। তারা পাপাচারের কারণে ঈমান থেকে বের হয়ে যান না এবং কবিরা গুনাহ বা নাফরমানিতে লিপ্ত হওয়ার দরুন তারা কাফির হয়ে যান না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাদের জন্য জান্নাত অবধারিত করেছেন, তাদের পর আমরা তাদের মধ্যকার কোনো নেককার ব্যক্তির জন্য জান্নাত অবধারিত মনে করি না এবং তাদের পাপাচারীদের ব্যাপারে জাহান্নামের সাক্ষ্য প্রদান করি না।

‌‌কুরআন

 

৭ - আর কুরআন মহান আল্লাহর বাণী, যা তাঁর পক্ষ থেকে আগত এবং তা সৃষ্ট নয়।
(খণ্ড: ১) শারহুস সুন্নাহ লিল মুযানী (পৃষ্ঠা: ৭৯)
فيبيد

‌‌الصِّفَات

 

8 - وكلمات الله وقدرة الله ونعته وَصِفَاته كاملات غير مخلوقات دائمات أزليات وَلَيْسَت بمحدثات فتبيد وَلَا كَانَ رَبنَا نَاقِصا فيزيد

جلت صِفَاته عَن شبه صِفَات المخلوقين وَقصرت عَنهُ فطن
বিলীন হয়ে যাবে

‌‌সিফাতসমূহ

 

৮ - আল্লাহর বাণীসমূহ, আল্লাহর কুদরত এবং তাঁর গুণাবলি ও সিফাতসমূহ পরিপূর্ণ, অসৃষ্ট, চিরস্থায়ী ও অনাদি। সেগুলো নতুন সৃষ্ট নয় যে বিলীন হয়ে যাবে; আর আমাদের প্রতিপালক অপূর্ণ ছিলেন না যে তিনি বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হবেন।

তাঁর সিফাতসমূহ মাখলুকের সিফাতের সাদৃশ্য থেকে সুমহান এবং মানবপ্রজ্ঞা তা উপলব্ধি করতে অক্ষম।
(খণ্ড: ১) শারহুস সুন্নাহ লিল মুযানী (পৃষ্ঠা: ৮০)
الواصفين قريب بالإجابة عِنْد السُّؤَال بعيد بالتعزز لَا ينَال

عَال على عَرْشه بَائِن من خلقه مَوْجُود وَلَيْسَ بمعدوم وَلَا بمفقود

‌‌الْآجَال

 

9 - والخلق ميتون بآجالهم عِنْد نفاد أَرْزَاقهم وَانْقِطَاع آثَارهم

‌‌الْقَبْر

 

10 - ثمَّ هم بعد الضغطة فِي الْقُبُور مساءلون
বর্ণনাকারীদের বর্ণনার ঊর্ধ্বে, প্রার্থনার সময় সাড়া প্রদানে তিনি নিকটবর্তী, স্বীয় মহিমায় সুদূর যে তাঁকে আয়ত্ত করা যায় না।

তিনি তাঁর আরশের ওপর উচ্চ, তাঁর সৃষ্টি হতে পৃথক, তিনি বিদ্যমান; তিনি অস্তিত্বহীন বা নিরুদ্দেশ নন।

‌আয়ুষ্কাল

 

৯ - আর সৃষ্টিজগত তাদের নির্ধারিত সময়েই মৃত্যুবরণ করে, যখন তাদের রিজিক শেষ হয়ে যায় এবং তাদের কর্মতৎপরতা বন্ধ হয়ে যায়।

‌কবর

 

১০ - অতঃপর কবরের চাপের পর তারা জিজ্ঞাসিত হবে।
(খণ্ড: ১) শারহুস সুন্নাহ লিল মুযানী (পৃষ্ঠা: ৮১)
‌‌النشور والحساب

 

11 - وَبعد البلى منشورون وَيَوْم الْقِيَامَة إِلَى رَبهم مَحْشُورُونَ ولدى الْعرض عَلَيْهِ محاسبون بِحَضْرَة الموازين وَنشر صحف الدَّوَاوِين أَحْصَاهُ الله ونسوه فِي يَوْم كَانَ مِقْدَاره خمسين ألف سنة لَو كَانَ غير الله عز وجل الْحَاكِم بَين خلقه لكنه الله يَلِي الحكم بَينهم بعدله بِمِقْدَار القائلة فِي الدُّنْيَا وَهُوَ أسْرع الحاسبين كَمَا بدأه لَهُم من شقاوة
পুনরুত্থান ও হিসাব

 

11 - পচাগলে নিঃশেষ হওয়ার পর তারা পুনরুত্থিত হবে এবং কিয়ামতের দিন তাদের রবের নিকট সমবেত হবে। তাঁর নিকট পেশ করার সময় তাদের হিসাব গ্রহণ করা হবে তুলাদণ্ডের উপস্থিতিতে এবং আমলনামার দপ্তরসমূহ উন্মুক্ত করার মাধ্যমে। আল্লাহ তা গণনা করে রেখেছেন, অথচ তারা তা ভুলে গিয়েছে। এমন এক দিনে, যার পরিমাণ পঞ্চাশ হাজার বছর—যদি মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ ব্যতীত অন্য কেউ তাঁর সৃষ্টির মাঝে বিচারক হতেন (তবে দীর্ঘ সময় লাগত)। কিন্তু আল্লাহ স্বয়ং তাঁর ন্যায়বিচারের মাধ্যমে দুনিয়ার দ্বিপ্রহরের বিশ্রামের সমপরিমাণ সময়ে তাদের মাঝে বিচারের ফয়সালা করবেন। আর তিনি দ্রুততম হিসাব গ্রহণকারী, যেমনটি তিনি তাদের দুর্ভাগ্যের সূচনা করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) শারহুস সুন্নাহ লিল মুযানী (পৃষ্ঠা: ৮২)
وسعادة يَوْمئِذٍ يعودون فريق فِي‌‌ الْجنَّة وفريق فِي السعير

الْجنَّة

 

12 - وَأهل الْجنَّة يَوْمئِذٍ فِي الْجنَّة يتنعمون وبصنوف اللَّذَّات يتلذذون وبأفضل الكرامات يحبرون

‌‌الرُّؤْيَة

 

13 - فهم حِينَئِذٍ إِلَى رَبهم ينظرُونَ لَا يمارون فِي النّظر إِلَيْهِ وَلَا يَشكونَ فوجوههم بكرامته ناضرة وأعينهم بفضله إِلَيْهِ ناظرة فِي نعيم دَائِم مُقيم و {لَا يمسهم فِيهَا نصب وَمَا هم مِنْهَا بمخرجين}
আর সেদিন তারা সৌভাগ্যের সাথে প্রত্যাবর্তন করবে, একদল জান্নাতে এবং একদল প্রজ্বলিত অগ্নিতে।

জান্নাত

 

১২ - জান্নাতবাসীরা সেদিন জান্নাতে নেয়ামত ভোগ করবে, বিভিন্ন প্রকারের স্বাদে তৃপ্ত হবে এবং সর্বোত্তম সম্মান ও মর্যাদায় আনন্দিত হবে।

দর্শন (আল্লাহকে দেখা)

 

১৩ - তারা তখন তাদের রবের দিকে তাকিয়ে থাকবে, তাঁকে দেখার ব্যাপারে তারা কোনো বিতণ্ডা করবে না এবং কোনো সন্দেহ করবে না। ফলে তাদের মুখমণ্ডল তাঁর সম্মানে উজ্জ্বল হবে এবং তাদের চোখগুলো তাঁর অনুগ্রহে তাঁর দিকে তাকিয়ে থাকবে এক চিরস্থায়ী ও শাশ্বত নেয়ামতের মধ্যে। আর {সেখানে কোনো ক্লান্তি তাদের স্পর্শ করবে না এবং সেখান থেকে তাদের বেরও করে দেওয়া হবে না}।
(খণ্ড: ১) শারহুস সুন্নাহ লিল মুযানী (পৃষ্ঠা: ৮৩)
أكلهَا دَائِم وظلها تِلْكَ عُقبى الَّذِي اتَّقوا وعقبى الْكَافرين النَّار وَأهل الْجحْد {عَن رَبهم يَوْمئِذٍ لمحجوبون} وَفِي النَّار يسجرون {لبئس مَا قدمت لَهُم أنفسهم أَن سخط الله عَلَيْهِم وَفِي الْعَذَاب هم خَالدُونَ} و {لَا يقْضى عَلَيْهِم فيموتوا وَلَا يُخَفف عَنْهُم من عَذَابهَا كَذَلِك نجزي كل كفور} الْآيَة خلا من شَاءَ الله من الْمُوَحِّدين إخراجهم مِنْهَا
তার ফলসমূহ চিরস্থায়ী এবং তার ছায়াও; এটি তাদের পরিণাম যারা তাকওয়া অবলম্বন করেছে, আর কাফিরদের পরিণাম হলো আগুন। আর সত্য অস্বীকারকারীরা {সেদিন তারা তাদের প্রতিপালক থেকে পর্দার আড়ালে থাকবে} এবং আগুনের মধ্যে তারা দগ্ধ হবে। {তাদের নফস তাদের জন্য যা অগ্রিম পাঠিয়েছে তা কতই না মন্দ—আল্লাহ তাদের ওপর রাগান্বিত হয়েছেন এবং তারা আজাবের মধ্যে চিরকাল অবস্থান করবে} এবং {তাদের জন্য মৃত্যুর ফয়সালা করা হবে না যে তারা মারা যাবে, আর তাদের থেকে জাহান্নামের আজাবও লাঘব করা হবে না। এভাবেই আমরা প্রত্যেক অকৃতজ্ঞকে প্রতিফল দিয়ে থাকি}—আয়াতটি। তবে তাওহিদপন্থীদের মধ্যে আল্লাহ যাদের বের করার ইচ্ছা করবেন তারা ব্যতীত।
(খণ্ড: ১) শারহুস সুন্নাহ লিল মুযানী (পৃষ্ঠা: ৮৪)
‌‌طَاعَة الْأَئِمَّة والأمراء وَمنع الْخُرُوج عَلَيْهِم

 

14 - وَالطَّاعَة لأولي الْأَمر فِيمَا كَانَ عِنْد الله عز وجل مرضيا وَاجْتنَاب مَا كَانَ عِنْد الله مسخطا

وَترك الْخُرُوج عِنْد تعديهم وجورهم وَالتَّوْبَة إِلَى الله عز وجل كَيْمَا يعْطف بهم على رعيتهم

‌‌الْإِمْسَاك عَن تَكْفِير أهل الْقبْلَة

 

15 - والإمساك عَن تَكْفِير أهل الْقبْلَة والبراءة مِنْهُم فِيمَا
ইমামগণ ও আমিরদের আনুগত্য এবং তাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা নিষিদ্ধ হওয়া

 

১৪ - আর উলুল আমর (কর্তৃত্বশীল)-দের আনুগত্য করা ঐসব বিষয়ে যা মহান আল্লাহর নিকট সন্তোষজনক এবং যা মহান আল্লাহর নিকট অসন্তোষজনক তা বর্জন করা।

তাদের সীমালঙ্ঘন ও জুলুমের সময় তাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা বর্জন করা এবং মহান আল্লাহর নিকট তওবা করা, যেন আল্লাহ তাদের অন্তরকে তাদের প্রজাদের প্রতি দয়াদ্র করে দেন।

আহলে কিবলাকে কাফির বলা হতে বিরত থাকা

 

১৫ - আর আহলে কিবলাকে কাফির সাব্যস্ত করা এবং তাদের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করা হতে বিরত থাকা যে বিষয়ে...
(খণ্ড: ১) শারহুস সুন্নাহ লিল মুযানী (পৃষ্ঠা: ৮৫)
أَحْدَثُوا مَا لم يبتدعوا ضلالا فَمن ابتدع مِنْهُم ضلالا كَانَ على أهل الْقبْلَة خَارِجا وَمن الدّين مارقا ويتقرب إِلَى الله عز وجل بِالْبَرَاءَةِ مِنْهُ ويهجر ويحتقر وتجتنب غدته فَهِيَ أعدى من غُدَّة الجرب

‌‌الصَّحَابَة

 

16 - وَيُقَال بِفضل خَليفَة رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أبي بكر الصّديق رضي الله عنه فَهُوَ أفضل الْخلق وأخيرهم بعد النَّبِي صلى الله عليه وسلم ونثني بعده بالفاروق وَهُوَ عمر بن الْخطاب رضي الله عنه فهما وزيرا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وضجيعاه فِي قَبره وجليساه فِي الْجنَّة ونثلث بِذِي النورين
তারা এমন অনেক নতুন বিষয় প্রবর্তন করেছে যা ইতিপূর্বে তারা ভ্রষ্টতা হিসেবে উদ্ভাবন করেনি। অতএব তাদের মধ্য থেকে যে ব্যক্তি ভ্রষ্টতা উদ্ভাবন করবে, সে আহলে কিবলার গণ্ডি থেকে বহির্গত এবং দ্বীন থেকে বিচ্যুত বলে গণ্য হবে। তার সাথে সম্পর্কচ্ছেদের মাধ্যমেই মহান আল্লাহর নৈকট্য অন্বেষণ করা হবে; তাকে বর্জন ও তুচ্ছজ্ঞান করা হবে এবং তার সংক্রামক ব্যাধি এড়িয়ে চলা হবে, কেননা তা চুলকানির ক্ষতের চেয়েও বেশি সংক্রামক।

‌‌সাহাবীগণ

 

১৬ - আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খলিফা আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহুর শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করা হবে। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পর সৃষ্টির মাঝে সর্বোত্তম ও শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি। তাঁর পরে আমরা ফারুক তথা উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর প্রশংসা করি। তাঁরা উভয়ে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দুই উজির, তাঁর কবরে তাঁর দুই পার্শ্বশায়ী এবং জান্নাতে তাঁর দুই সঙ্গী। এরপর আমরা তৃতীয় স্থানে যুন-নূরাইন-এর কথা উল্লেখ করি।
(খণ্ড: ১) শারহুস সুন্নাহ লিল মুযানী (পৃষ্ঠা: ৮৬)
عُثْمَان بن عَفَّان رضي الله عنه ثمَّ بِذِي الْفضل والتقى عَليّ بن أبي طَالب رضي الله عنهم أَجْمَعِينَ

ثمَّ البَاقِينَ من الْعشْرَة الَّذين أوجب لَهُم رَسُول الله صلى الله عليه وسلم الْجنَّة ونخلص لكل رجل مِنْهُم من الْمحبَّة بِقدر الَّذِي أوجب لَهُم رَسُول الله صلى الله عليه وسلم من التَّفْضِيل ثمَّ ل سَائِر أَصْحَابه من بعدهمْ رضي الله عنهم أَجْمَعِينَ
উসমান বিন আফফান (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন), অতঃপর মর্যাদা ও তাকওয়ার অধিকারী আলী বিন আবি তালিব (আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)।

অতঃপর জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত সেই দশজনের অবশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, যাঁদের জন্য আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জান্নাত অবধারিত করেছেন। আমরা তাঁদের প্রত্যেকের প্রতি সেই পরিমাণ ভালোবাসা পোষণ করি, যে পরিমাণ শ্রেষ্ঠত্ব আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁদের জন্য নির্ধারণ করেছেন; অতঃপর তাঁদের পরবর্তী অন্যান্য সকল সাহাবীর প্রতিও (অনুরূপ ভালোবাসা পোষণ করি), আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন।
(খণ্ড: ১) শারহুস সুন্নাহ লিল মুযানী (পৃষ্ঠা: ৮৭)
وَيُقَال بفضلهم ويذكرون بمحاسن أفعالهم ونمسك عَن الْخَوْض فِيمَا شجر بَينهم فهم خِيَار أهل الأَرْض بعد نَبِيّهم ارتضاهم الله عز وجل لنَبيه وخلقهم أنصارا لدينِهِ فَم أَئِمَّة الدّين وأعلام الْمُسلمين ف رَحْمَة الله عَلَيْهِم أَجْمَعِينَ

‌‌الصَّلَاة وَرَاء الْأَئِمَّة وَالْجهَاد مَعَهم وَالْحج

 

18 - وَلَا يتْرك حُضُور صَلَاة الْجُمُعَة وصلاتها مَعَ بر هَذِه الْأمة وفاجرها لَازم مَا كَانَ من الْبِدْعَة بريا فَإِن ابتدع ضلالا فَلَا صَلَاة
তাদের শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করতে হবে এবং তাদের নেক আমলসমূহ স্মরণ করতে হবে। আর তাদের মধ্যে যে বিবাদ সৃষ্টি হয়েছিল, সে বিষয়ে আলোচনা করা থেকে বিরত থাকতে হবে। তারা তাদের নবীর পরে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম মানুষ। আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাঁদেরকে তাঁর নবীর সাহচর্য লাভের জন্য মনোনীত করেছেন এবং তাঁর দ্বীনের সাহায্যকারী হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। তাঁরাই দ্বীনের ইমাম এবং মুসলিমদের পথপ্রদর্শক। তাঁদের সকলের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।

‌‌ইমামদের পিছনে সালাত আদায়, তাঁদের সাথে জিহাদ এবং হজ

 

১৮ - জুমার সালাতে উপস্থিত হওয়া বর্জন করা যাবে না। এই উম্মতের নেককার হোক কিংবা পাপাচারী, সকলের পিছনেই সালাত আদায় করা আবশ্যক, যতক্ষণ পর্যন্ত তা বিদআত থেকে মুক্ত থাকে। কিন্তু যদি সে পথভ্রষ্টকারী বিদআতে লিপ্ত হয়, তবে তার পিছনে কোনো সালাত নেই।
(খণ্ড: ১) শারহুস সুন্নাহ লিল মুযানী (পৃষ্ঠা: ৮৮)
خَلفه وَالْجهَاد مَعَ كل إِمَام عدل أَو جَائِر وَالْحج
তার পিছনে (সালাত আদায়), এবং প্রত্যেক ন্যায়পরায়ণ বা অত্যাচারী ইমামের সাথে জিহাদ ও হজ সম্পাদন করা।
(খণ্ড: ১) শারহুস সুন্নাহ লিল মুযানী (পৃষ্ঠা: ৮৯)
‌‌قصر الصَّلَاة وَالِاخْتِيَار بَين الصّيام والإفطار فِي الْأَسْفَار

 

19 - وإقصار الصَّلَاة فِي الْأَسْفَار وَالِاخْتِيَار فِيهِ بَين الصّيام والإفطار فِي الْأَسْفَار إِن شَاءَ صَامَ وَإِن شَاءَ أفطر

‌‌اجْتِمَاع أَئِمَّة الْهدى الماضين على هَذِه المقالات

 

20 - هَذِه مقالات وأفعال اجْتمع عَلَيْهَا الماضون الْأَولونَ من أَئِمَّة الْهدى وبتوفيق الله اعْتصمَ بهَا التابعون قدوة ورضى وجانبوا التَّكَلُّف فِيمَا كفوا فسددوا بعون الله ووفقوا لم يَرْغَبُوا عَن الِاتِّبَاع فيقصروا وَلم يُجَاوِزُوهُ تزيدا فيعتدوا

فَنحْن بِاللَّه واثقون وَعَلِيهِ متوكلون وَإِلَيْهِ فِي اتِّبَاع آثَارهم راغبون
সফরে সালাত কসর করা এবং রোজা রাখা ও না রাখার মাঝে ইখতিয়ার

 

১৯ - সফরে সালাত সংক্ষিপ্ত (কসর) করা এবং সফরে রোজা রাখা ও না রাখার মাঝে ইখতিয়ার; ইচ্ছা করলে তিনি রোজা রাখবেন এবং ইচ্ছা করলে রোজা রাখবেন না।

‌এই সকল বক্তব্যের ওপর অতীত হেদায়েতের ইমামগণের ঐকমত্য

 

২০ - এগুলো এমন সব বক্তব্য ও কর্ম যার ওপর হেদায়েতের ইমামগণের পূর্বসূরিগণ ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন এবং আল্লাহর তাওফিকে তাবেঈগণ আদর্শ ও সন্তুষ্টির সাথে তা আঁকড়ে ধরেছেন। যে বিষয়ে তাদের নিবৃত্ত রাখা হয়েছে সে ক্ষেত্রে তারা লৌকিকতা পরিহার করেছেন, ফলে আল্লাহর সাহায্যে তারা সঠিক পথে পরিচালিত হয়েছেন ও তাওফিকপ্রাপ্ত হয়েছেন। তারা অনুসরণ থেকে বিমুখ হননি যে তাতে কোনো ত্রুটি করবেন, আর তারা তা অতিক্রমও করেননি যে অতিরঞ্জিত করার মাধ্যমে সীমালঙ্ঘন করবেন।

আমরা আল্লাহর ওপর আস্থাশীল, তাঁরই ওপর ভরসাকারী এবং তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণে আগ্রহী।
(খণ্ড: ১) শারহুস সুন্নাহ লিল মুযানী (পৃষ্ঠা: ৯০)
‌‌الْمُحَافظَة على أَدَاء الْفَرَائِض والرواتب وَاجْتنَاب الْمُحرمَات

 

ف هَذَا شرح السّنة تحريت كشفها وأوضحتها فَمن وَفقه الله للْقِيَام بِمَا أبنته مَعَ معونته لَهُ بِالْقيامِ على أَدَاء فَرَائِضه بِالِاحْتِيَاطِ فِي النَّجَاسَات وإسباغ الطَّهَارَة على الطَّاعَات وَأَدَاء الصَّلَوَات على الاستطاعات وإيتاء الزَّكَاة على أهل الْجدَّات وَالْحج على أهل الْجدّة والاستطاعات وَصِيَام الشَّهْر لأهل الصحات وَخمْس صلوَات سنّهَا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم من بعد الصَّلَوَات صَلَاة الْوتر فِي كل لَيْلَة
ফরয ও রাতিবা সুন্নাতসমূহ আদায় এবং হারাম বর্জন করার ক্ষেত্রে যত্নশীল হওয়া

 

এটি সুন্নাহর ব্যাখ্যা, আমি একে উন্মোচিত করার প্রয়াস পেয়েছি এবং সুস্পষ্ট করেছি। সুতরাং আমি যা বর্ণনা করেছি তা পালন করার জন্য আল্লাহ যাকে তাওফীক দান করেন এবং তাঁর সাহায্যের মাধ্যমে ফরযসমূহ আদায়ের ক্ষেত্রে যে ব্যক্তি যত্নবান হয়—যেমন নাপাকি থেকে বেঁচে থাকার বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা, ইবাদতের জন্য পূর্ণাঙ্গরূপে পবিত্রতা অর্জন করা, সামর্থ্য অনুযায়ী সালাতসমূহ আদায় করা, বিত্তবানদের যাকাত প্রদান করা, সচ্ছল ও সক্ষম ব্যক্তিদের হজ্জ পালন করা এবং সুস্থ ব্যক্তিদের মাসের সিয়াম পালন করা। আর ফরয সালাতসমূহের অতিরিক্ত আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে পাঁচটি সালাত সুন্নাত হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, তন্মধ্যে প্রতি রাতে বিতর সালাত।
(খণ্ড: ১) শারহুস সুন্নাহ লিল মুযানী (পৃষ্ঠা: ৯১)
وركعتي الْفجْر وَصَلَاة الْفطر والنحر وَصَلَاة كسوف الشَّمْس وَالْقَمَر إِذا نزل وَصَلَاة الاسْتِسْقَاء مَتى وَجب

وَاجْتنَاب الْمَحَارِم والاحتراز من النميمة وَالْكذب والغيبة وَالْبَغي بِغَيْر الْحق وَأَن يُقَال على الله مَا لَا يعلم كل هَذَا كَبَائِر مُحرمَات

والتحري فِي المكاسب والمطاعم والمحارم والمشارب والملابس وَاجْتنَاب الشَّهَوَات فَإِنَّهَا دَاعِيَة لركوب الْمُحرمَات

فَمن رعى حول الْحمى فَإِنَّهُ يُوشك أَن يواقع الْحمى

فَمن يسر لهَذَا فَإِنَّهُ من الدّين على هدى وَمن الرَّحْمَة على رَجَاء ووفقنا الله وَإِيَّاك إِلَى سَبيله الأقوم بمنه الجزيل الأقدم وجلاله الْعلي
ফজরের দুই রাকাত সালাত, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার সালাত, সূর্য ও চন্দ্রগ্রহণের সালাত যখন তা সংঘটিত হয় এবং যখন তা আবশ্যক হয় বৃষ্টির জন্য ইস্তিসকার সালাত।

এবং হারাম বিষয়সমূহ বর্জন করা; চোগলখুরি, মিথ্যা, গীবত, অন্যায়ভাবে সীমালঙ্ঘন এবং আল্লাহ সম্পর্কে এমন কিছু বলা যা সম্পর্কে জ্ঞান নেই—এ থেকে বেঁচে থাকা; এই সবগুলিই কবিরা গুনাহ ও নিষিদ্ধ বিষয়।

উপার্জন, খাদ্য, পানীয়, পোশাক এবং নিষিদ্ধ বিষয়সমূহের ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই ও সতর্কতা অবলম্বন করা এবং কুপ্রবৃত্তি বর্জন করা, কারণ তা হারাম কাজে লিপ্ত হওয়ার দিকে ধাবিত করে।

কেননা যে ব্যক্তি সংরক্ষিত সীমানার আশেপাশে বিচরণ করে, সে অচিরেই সেই সংরক্ষিত সীমানায় পতিত হওয়ার উপক্রম হয়।

সুতরাং যার জন্য এই পথ সহজসাধ্য করা হয়েছে, সে দীনের হেদায়েতের ওপর রয়েছে এবং রহমতের প্রত্যাশী। আল্লাহ তাঁর সুমহান প্রাচীন অনুগ্রহ ও সুউচ্চ মহিমার উসিলায় আমাদের ও আপনাকে তাঁর অত্যন্ত সুদৃঢ় ও সঠিক পথের তাওফীক দান করুন।
(খণ্ড: ১) শারহুস সুন্নাহ লিল মুযানী (পৃষ্ঠা: ৯২)
الأكرم وَالسَّلَام عَلَيْكُم وَرَحْمَة الله وَبَرَكَاته وعَلى من قَرَأَ علينا السَّلَام وَلَا ينَال سَلام الله الضَّالّين وَالْحَمْد لله رب الْعَالمين

نجزت الرسَالَة بِحَمْد الله وَمِنْه وصلواته على مُحَمَّد وَآله وَأَصْحَابه وأزواجه الطاهرات وَسلم كثيرا كثيرا
অতি মহীয়ান। এবং আপনাদের ওপর শান্তি এবং আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক এবং যারা আমাদের প্রতি সালাম পাঠ করেছেন তাদের ওপরও; আর আল্লাহর সালাম পথভ্রষ্টদের নিকট পৌঁছে না। এবং সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

আল্লাহর প্রশংসা ও অনুগ্রহে এই পুস্তিকাটি সমাপ্ত হলো এবং তাঁর অজস্র দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ, তাঁর সঙ্গীসাথী এবং তাঁর পবিত্র সহধর্মিণীগণের ওপর।