(খণ্ড: ১) আত-তাওজীহাতুস সহীহাতু লিন-নাওয়াযিলিল আকিদিয়্যাতিল মুতাআল্লিক্বাতু বি-ওয়াবায়ি কুরূনা (পৃষ্ঠা: -)
التوجيهات الصحيحة للنوازل العقدية المتعلقة بوباء كورونا   (محمد الهمامي)

القسم: العقيدة


الكتاب: التوجيهات الصحيحة للنوازل العقدية المتعلقة بوباء كورونا - كوفيد 19 (COVID-19)

إعداد: د محمد بن صالح بن هادي الهمامي

عام النشر: 1443 هـ - 2021 م

عدد الصفحات: 100

[ترقيم الكتاب موافق للأصل الإلكتروني]

تاريخ النشر بالشاملة: 7 ربيع الآخر 1443

করোনা মহামারি সংশ্লিষ্ট আকিদাগত সমসাময়িক সমস্যার সঠিক দিকনির্দেশনা   (মুহাম্মাদ আল-হাম্মামি)

বিভাগ: আকিদা


বই: করোনা মহামারি - কোভিড-১৯ (COVID-19) সংশ্লিষ্ট আকিদাগত সমসাময়িক সমস্যার সঠিক দিকনির্দেশনা

প্রস্তুতকারী: ড. মুহাম্মাদ বিন সালেহ বিন হাদি আল-হাম্মামি

প্রকাশকাল: ১৪৪৩ হিজরি - ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১০০

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল ইলেকট্রনিক কপির অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৭ রবিউস সানি ১৪৪৩

(খণ্ড: ১) আত-তাওজীহাতুস সহীহাতু লিন-নাওয়াযিলিল আকিদিয়্যাতিল মুতাআল্লিক্বাতু বি-ওয়াবায়ি কুরূনা (পৃষ্ঠা: ১)
التوجيهات الصحيحة

للنوازل العقدية المتعلقة بوباء كورونا

كوفيد 19 (COVID-19)

إعداد:

د. محمد بن صالح بن هادي الهمامي
সঠিক দিকনির্দেশনা

করোনা মহামারী সংশ্লিষ্ট আকীদাহগত নবউদ্ভূত সমস্যাবলীর বিষয়ে

কোভিড-১৯ (COVID-19)

প্রস্তুতকরণে:

ড. মুহাম্মদ বিন সালেহ বিন হাদী আল-হাম্মামী
(খণ্ড: ১) আত-তাওজীহাতুস সহীহাতু লিন-নাওয়াযিলিল আকিদিয়্যাতিল মুতাআল্লিক্বাতু বি-ওয়াবায়ি কুরূনা (পৃষ্ঠা: ২)
حقوق الطبع محفوظة للمؤلف.

1443 هـ- 2021 م.

رقم الفسح الإعلامي: 58325620210921
সর্বস্বত্ব লেখকের নিকট সংরক্ষিত।

১৪৪৩ হিজরি - ২০২১ খ্রিস্টাব্দ।

মিডিয়া ক্লিয়ারেন্স নম্বর: ৫৮৩২৫৬২০২১০৯২১
(খণ্ড: ১) আত-তাওজীহাতুস সহীহাতু লিন-নাওয়াযিলিল আকিদিয়্যাতিল মুতাআল্লিক্বাতু বি-ওয়াবায়ি কুরূনা (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌المقدمة

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله صلى الله عليه وسلم، وعلى آله وصحبه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين، أما بعد.

فحلول الوباء سنة ربانية اقتضتها حكمته عز وجل، وشاء سبحانه بقضائه وقدره فيها، فلا يقع في هذا الكون إلا ما شاء الله وأراد، وهو سبحانه لا يرفع الضر والبلاء عن العباد والبلاد إلا إذا شاء ومتى شاء وكيف شاء.

والوباء من جملة الابتلاء الذي يبتلي به الله عباده، فمن صبر فله الجزاء الحسن في الدنيا، والثواب الكبير في الآخرة، ومن جزع فقد خاب عمله في الدنيا، وخسر ثوابه في الآخرة.

ولابد للعباد عند حلول الوباء من الالتجاء إلى الله وحده، وطلب المعونة والرجاء منه دون سواه، ودعاؤه برفع البلاء دون غيره؛ فلا يقدر على هذا البلاء ولا يدفع هذا الوباء إلا الله، وما سوى ذلك ماهي إلا أسباب رضي بوقوعها وأذن بنفعها سبحانه.

كما يجب عليهم عند حلول الوباء من ضرورة العلم والبصيرة بالشرع فيما يقومون به من عبادات أو اعتقادات، ويجب عليهم الحذر من الابتداع أو فعل ما يخالف مسلمات الدين عند فعل هذه العبادات أو الاعتقادات؛ فبالعلم تزول الشبهات التي تحجب الحق، وتعرف المخالفات التي تسبب الانحراف عن الدين وتبعد عن السنة.

وقد حدثت الأوبئة في بلاد المسلمين في أزمان كثيرة وأماكن متعددة، وكان أول وباء حدث في تاريخ المسلمين هو طاعون عمواس(1) الذي حدث في عهد الخليفة عمر رضي الله عنه.

--------------------------------------------

(1) بلدة في فلسطين بالقرب من بيت المقدس، ومنها كان ابتداء الطاعون في أيام عمر بن الخطاب رضي الله عنه، ثم فشا في أرض الشام فمات فيه خلق كثير لا يحصى من الصحابة رضي الله عنهم، ومن غيرهم، وذلك في سنة (18 هـ). ينظر: معجم البلدان، الحموي، (4/ 157 - 158).
ভূমিকা

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের আমলের মন্দ দিকগুলো থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে হিদায়াত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। তাঁর উপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে—সকলের উপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক। অতঃপর...

মহামারীর প্রাদুর্ভাব একটি রব্বানী সুন্নাহ বা ঐশ্বরিক নিয়ম, যা মহান আল্লাহর হিকমত বা প্রজ্ঞা দাবি করে। তাঁর ফয়সালা ও তকদির অনুযায়ীই তিনি তা নির্ধারণ করেছেন। এই মহাবিশ্বে আল্লাহ যা চান এবং যা ইচ্ছা করেন তা ছাড়া আর কিছুই ঘটে না। তিনি সুবহানাহু ওয়াতায়ালা বান্দা ও ভূখণ্ড থেকে ততক্ষণ পর্যন্ত কষ্ট ও বিপদ দূর করেন না, যতক্ষণ না তিনি চান এবং যখন তিনি চান ও যেভাবে তিনি চান।

আর মহামারী হলো সেই সব পরীক্ষার অন্তর্ভুক্ত যার মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের পরীক্ষা করেন। অতএব, যে ব্যক্তি ধৈর্য ধারণ করবে তার জন্য দুনিয়াতে উত্তম প্রতিদান এবং আখিরাতে বিশাল সওয়াব রয়েছে। আর যে ব্যক্তি অস্থিরতা প্রকাশ করবে, দুনিয়াতে তার আমল বিফল হবে এবং আখিরাতে সে তার সওয়াব হারাবে।

মহামারীর সময় বান্দাদের জন্য অপরিহার্য হলো একমাত্র আল্লাহর দিকেই ধাবিত হওয়া, কেবল তাঁর কাছেই সাহায্য ও আশা প্রার্থনা করা এবং অন্য কারো কাছে নয় বরং কেবল তাঁর কাছেই বিপদ দূর করার জন্য দুআ করা। কেননা আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ এই বিপদ দূর করার ক্ষমতা রাখে না এবং এই মহামারী প্রতিহত করতে পারে না। এছাড়া যা কিছু আছে তা কেবল মাধ্যম বা উপায় মাত্র, যা সংঘটিত হতে তিনি সম্মত হয়েছেন এবং যার উপকারের জন্য তিনি অনুমতি দিয়েছেন।

তেমনি মহামারীর সময় তাদের জন্য আবশ্যক হলো শরীয়ত অনুযায়ী জ্ঞান ও প্রজ্ঞা রাখা—সেসব ইবাদত বা আকিদাহ সম্পর্কে যা তারা সম্পাদন করছে। এই ইবাদত বা আকিদাহ পালন করার সময় কোনো প্রকার বিদআত বা দ্বীনের স্বতঃসিদ্ধ বিষয়ের পরিপন্থী কাজ করা থেকে সতর্ক থাকা ওয়াজিব। কারণ ইলম বা জ্ঞানের মাধ্যমেই সেই সব সংশয় দূর হয় যা সত্যকে আড়াল করে রাখে, এবং সেই সব বিচ্যুতি চেনা যায় যা দ্বীন থেকে বিচ্যুত করে এবং সুন্নাহ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।

মুসলিম ভূখণ্ডে বিভিন্ন সময়ে এবং বিভিন্ন স্থানে বহুবার মহামারীর প্রাদুর্ভাব ঘটেছে। মুসলিম ইতিহাসে প্রথম যে মহামারীটি সংঘটিত হয়েছিল তা হলো 'আমওয়াস' প্লেগ(১) যা খলিফা উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর শাসনামলে হয়েছিল।

--------------------------------------------

(১) ফিলিস্তিনের একটি জনপদ যা বাইতুল মাকদিসের নিকটবর্তী। এখান থেকেই উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর যুগে প্লেগের সূচনা হয়েছিল। অতঃপর তা শাম (সিরিয়া) ভূখণ্ডে ছড়িয়ে পড়ে এবং এতে অসংখ্য সাহাবী রাদিয়াল্লাহু আনহুম ও অন্যান্য মানুষ মৃত্যুবরণ করেন। এটি হিজরি ১৮ সনের ঘটনা। দ্রষ্টব্য: মুজামুল বুলদান, আল-হামাউয়ি, (৪/ ১৫৭ - ১৫৮)।
(খণ্ড: ১) আত-তাওজীহাতুস সহীহাতু লিন-নাওয়াযিলিল আকিদিয়্যাতিল মুতাআল্লিক্বাতু বি-ওয়াবায়ি কুরূনা (পৃষ্ঠা: ৫)
وقد تعامل الصحابة رضي الله عنهم مع هذا الطاعون بأمثل طريق وأفضله؛ فقد كان من عادة الصحابة رضي الله عنهم أنهم إذا نزلت بهم النازلة يجتمعون مع إمامهم ويتشاورون لها، ويتباحثون ويتناقشون فيها، ثم يخرجون عن رأي يوافقون فيه إمامهم ولا يعترضون عليه.

فعندما خرج عمر رضي الله عنه إلى الشام، لقيه أمراء الأجناد، أبو عبيدة بن الجراح وأصحابه، فأخبروه أن الوباء قد وقع بأرض الشام. فقال عمر: ادع لي المهاجرين الأولين، فدعاهم فاستشارهم، وأخبرهم أن الوباء قد وقع بالشام، فاختلفوا، فقال بعضهم: قد خرجت لأمر، ولا نرى أن ترجع عنه، وقال بعضهم: معك بقية الناس وأصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم، ولا نرى أن تقدمهم على هذا الوباء، فقال: ارتفعوا عني، ثم قال: ادعوا لي الأنصار، فدعوتهم فاستشارهم، فسلكوا سبيل المهاجرين، واختلفوا كاختلافهم، فقال: ارتفعوا عني، ثم قال: ادع لي من كان ها هنا من مشيخة قريش من مهاجرة الفتح، فدعوتهم، فلم يختلف منهم عليه رجلان، فقالوا: نرى أن ترجع بالناس ولا تقدمهم على هذا الوباء، فنادى عمر في الناس: إني مصبح على ظهر فأصبحوا عليه. قال أبو عبيدة بن الجراح: أفراراً من قدر الله؟ فقال عمر: لو غيرك قالها يا أبا عبيدة؟ نعم نفر من قدر الله إلى قدر الله، أرأيت لو كان لك إبل هبطت واديا له عدوتان، إحداهما خصبة، والأخرى جدبة، أليس إن رعيت الخصبة رعيتها بقدر الله، وإن رعيت الجدبة رعيتها بقدر الله؟ قال: فجاء عبدالرحمن بن عوف - وكان متغيبا في بعض حاجته - فقال: إن عندي في هذا علما، سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «إذا سمعتم به بأرض فلا تقدموا عليه، وإذا وقع بأرض وأنتم بها فلا تخرجوا فرارا منه» قال: فحمد الله عمر ثم انصرف(1).

وقد توفي في هذا الطاعون الكثير من الصحابة رضي الله عنهم منهم: أبو عبيده بن الجراح، ومعاذ ابن جبل، ويزيد بن أبى سفيان، والحارث بن هشام، وسهيل بن عمرو، وعتبة بن سهيل رضي الله عنه(2)، وقدَّر بعض المؤرخين أن الذي مات من المسلمين بهذا الوباء ما يقرب من خمسة وعشرين ألفاً(3).

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري، في كتاب الطب، باب ما يذكر في الطاعون ح (5729)، (7/ 130)، ومسلم، في كتاب السلام، باب الطاعون والطيرة والكهانة ونحوها، ح (2219)، (4/ 1740).

(2) ينظر: تاريخ الطبري، (4/ 60).

(3) ينظر: البداية والنهاية، ابن كثير، (7/ 107).
সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) এই মহামারির ক্ষেত্রে সর্বোত্তম ও উৎকৃষ্ট পন্থা অবলম্বন করেছিলেন। সাহাবীগণের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) অভ্যাস ছিল যে, যখনই কোনো বিপদ আসত, তাঁরা তাঁদের ইমামের সাথে সমবেত হতেন, পরামর্শ করতেন এবং বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও বিতর্ক করতেন। এরপর তাঁরা এমন একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হতেন যাতে তাঁরা তাঁদের ইমামের সাথে একমত হতেন এবং তাঁর বিরোধিতা করতেন না।

যখন উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) শামের উদ্দেশ্যে বের হলেন, তখন সেনাপ্রধানগণ—আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ ও তাঁর সাথীবর্গ—তাঁকে অভ্যর্থনা জানালেন। তাঁরা তাঁকে অবহিত করলেন যে, শাম দেশে মহামারি দেখা দিয়েছে। উমর বললেন: "আমার কাছে প্রথম সারির মুহাজিরদের ডাকো।" তিনি তাঁদের ডাকলেন এবং তাঁদের সাথে পরামর্শ করলেন। তিনি তাঁদের জানালেন যে শামে মহামারি দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে মতভেদ দেখা দিল। কেউ কেউ বললেন: "আপনি একটি বিশেষ উদ্দেশ্যে বের হয়েছেন, আমরা মনে করি না যে আপনার তা থেকে ফিরে যাওয়া উচিত।" আবার কেউ কেউ বললেন: "আপনার সাথে একদল লোক এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণ রয়েছেন, আমরা মনে করি না যে আপনি তাঁদের নিয়ে এই মহামারির দিকে এগিয়ে যাবেন।" উমর বললেন: "তোমরা আমার নিকট থেকে বিদায় নাও।" এরপর তিনি বললেন: "আনসারদের ডাকো।" আমি তাঁদের ডাকলাম, তিনি তাঁদের সাথে পরামর্শ করলেন। তাঁরাও মুহাজিরদের পথ অনুসরণ করলেন এবং তাঁদের মতোই মতভেদ করলেন। তিনি বললেন: "তোমরা আমার নিকট থেকে বিদায় নাও।" এরপর তিনি বললেন: "বিজয় পরবর্তী হিজরতকারী কুরাইশদের প্রবীণ ব্যক্তিদের ডাকো যারা এখানে আছে।" আমি তাঁদের ডাকলাম। তাঁদের মধ্যে কোনো দুইজন ব্যক্তির মধ্যেও মতভেদ হলো না। তাঁরা বললেন: "আমরা মনে করি আপনার লোকজনকে নিয়ে ফিরে যাওয়া উচিত এবং তাঁদের এই মহামারির মুখে ঠেলে দেওয়া উচিত নয়।" তখন উমর লোকজনের মাঝে ঘোষণা দিলেন: "আমি ভোরে সওয়ারির পিঠে আরোহণ করব (ফিরে যাওয়ার জন্য), সুতরাং তোমরাও সকালে প্রস্তুত থেকো।" আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: "আল্লাহর তকদির থেকে কি পলায়ন?" উমর বললেন: "হে আবু উবাইদাহ! তুমি ছাড়া অন্য কেউ যদি এ কথা বলত! হ্যাঁ, আমরা আল্লাহর এক তকদির থেকে পলায়ন করে আল্লাহর অন্য তকদিরের দিকেই যাচ্ছি। তুমি কি ভেবে দেখেছ, তোমার যদি কিছু উট থাকে যা এমন এক উপত্যকায় অবতীর্ণ হয় যার দুটি দিক আছে—একটি তৃণশ্যামল আর অন্যটি শুষ্ক মরুভূমি; যদি তুমি উটগুলোকে তৃণশ্যামল ভূমিতে চরাও তবে কি তা আল্লাহর তকদির অনুযায়ী চরাবে না? আর যদি শুষ্ক মরুভূমিতে চরাও তবে কি তা আল্লাহর তকদির অনুযায়ী হবে না?" রাবী বলেন: এরপর আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আসলেন—তিনি তাঁর কোনো প্রয়োজনে অনুপস্থিত ছিলেন—তিনি বললেন: "এ বিষয়ে আমার কাছে ইলম (জ্ঞান) আছে। আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: 'যখন তোমরা কোনো ভূখণ্ডে মহামারির কথা শুনবে তখন সেখানে প্রবেশ করো না, আর যদি তোমরা যেখানে আছ সেখানে মহামারি দেখা দেয় তবে তা থেকে পলায়ন করে বের হয়ো না'।" রাবী বলেন: তখন উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আল্লাহর প্রশংসা করলেন এবং ফিরে গেলেন(১)।

এই মহামারিতে অনেক সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) ইন্তেকাল করেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ, মুয়াজ ইবনে জাবাল, ইয়াজিদ ইবনে আবি সুফিয়ান, হারিস ইবনে হিশাম, সুহাইল ইবনে আমর এবং উতবাহ ইবনে সুহাইল (রাদিয়াল্লাহু আনহু)(২)। কোনো কোনো ঐতিহাসিক অনুমান করেছেন যে, এই মহামারিতে প্রায় পঁচিশ হাজার মুসলিম মৃত্যুবরণ করেছিলেন(৩)।

--------------------------------------------

(১) বুখারী কর্তৃক বর্ণিত, চিকিৎসা অধ্যায়, মহামারি সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে পরিচ্ছেদ, হাদিস নং (৫৭২৯), (৭/১৩০); এবং মুসলিম, সালাম অধ্যায়, মহামারি, অশুভ লক্ষণ ও জ্যোতিষী ইত্যাদি পরিচ্ছেদ, হাদিস নং (২২১৯), (৪/১৭৪০)।

(২) দ্রষ্টব্য: তারিখুত তাবারী, (৪/৬০)।

(৩) দ্রষ্টব্য: আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ইবনে কাসীর, (৭/১০৭)।
(খণ্ড: ১) আত-তাওজীহাতুস সহীহাতু লিন-নাওয়াযিলিল আকিদিয়্যাতিল মুতাআল্লিক্বাতু বি-ওয়াবায়ি কুরূনা (পৃষ্ঠা: ৬)
وهذا الطاعون يعتبر هو أول النوازل العقدية المتعلقة بالأوبئة في حياة الصحابة رضي الله عنهم بعد وفاة النبي صلى الله عليه وسلم، وقد كان تعاملهم رضي الله عنهم مع هذا الوباء التعامل الأمثل المبني على التشاور والاجتماع وعلى الاتباع وعدم الابتداع، فلم يحدث منهم أية مخالفة عقدية أو بدعة محدثة تخالف سنة النبي صلى الله عليه وسلم.

وهذا التعامل يجب أن يكون قدوة للأمة عند حلول الأوبئة، ومثال يحتذى عند حصول الحوادث الكونية وتغير الأزمنة.

وبالاستعانة بالله ثم قراءة ما أمكن قراءته من النوازل فقد تم تحديد وحصر أهم هذه النوازل التي وقعت، وتتبع أهم هذه الحوادث التي حدثت مع حلول وباء كورونا.

والمسائل العقدية المتعلقة بوباء كورونا تحتاج إلى دقة في معرفة كونها نازلة أم لا، وإلى تحديد صحيح في كونها جديدة في وقوعها أم متجددة في مضمونها.

وسيتم التعريف بالمصطلحات، والفرق بين الوباء والطاعون، وبيان هذه النوازل، ومناقشة الانحرافات التي حدثت في هذه النوازل، والتوجيه العقدي الصحيح والرد العلمي المؤصل لهذه النوازل بإذن الله.

وهذا بيان بأهم النوازل العقدية المتعلقة بوباء كورونا وهي كالتالي:

* النازلة الأولى: المخالفات العقدية في القبور والأماكن؛ للتداوي من وباء كورونا.

* النازلة الثانية: التلفظ بالأدعية والأذكار المخالفة؛ للتداوي من وباء كورونا.

* النازلة الثالثة: التوسل بغير الله؛ لرفع بلاء وباء كورونا.

* النازلة الرابعة: التنزيل الخاطئ للأدلة الشرعية عند حلول وباء كورونا.

* النازلة الخامسة: ترك الأدلة الشرعية والاعتماد على الأدلة العقلية.

* النازلة السادسة: الدعوة إلى الاعتماد على العلاجات الطبية فقط، وترك كل ماله صلة بالدين.

* النازلة السابعة: الاعتقاد أن وباء كورونا مذكور في القرآن.

* النازلة الثامنة: الزعم بأن وباء كورونا من صنع البشر.

* النازلة التاسعة: التنجيم وادعاء علم الغيب في وباء كورونا.

* النازلة العاشرة: المسائل المتعلقة بالسمع والطاعة لولي الأمر.
এই প্লেগ (তাউন) মহামারিটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পর সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর জীবনে মহামারি সংক্রান্ত প্রথম আকিদাগত সংকট হিসেবে বিবেচিত হয়। এই মহামারির মোকাবিলায় তাঁদের আচরণ ছিল পরামর্শ, ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত, সুন্নাহর অনুসরণ এবং নব-উদ্ভাবন (বিদআত) বর্জনের ওপর ভিত্তি করে এক সর্বোত্তম আদর্শ। ফলে তাঁদের পক্ষ থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ বিরোধী কোনো আকিদাগত বিচ্যুতি বা নব-উদ্ভাবিত কোনো বিদআত প্রকাশ পায়নি।

মহামারির প্রাদুর্ভাবের সময় উম্মতের জন্য এই আচরণটিই আদর্শ হওয়া উচিত এবং মহাজাগতিক দুর্যোগ ও কালের আবর্তনে ঘটে যাওয়া ঘটনাবলির ক্ষেত্রে এটিই অনুসরণযোগ্য উদাহরণ।

আল্লাহর সাহায্য কামনার পর যতটুকু সম্ভব নতুন উদ্ভূত সংকট (নাওয়াজিল) সংক্রান্ত গ্রন্থাদি পাঠ করার মাধ্যমে ইতিপূর্বে ঘটে যাওয়া আকিদাগত সংকটগুলো চিহ্নিত ও শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে এবং করোনা মহামারির সময় ঘটে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি অনুসন্ধান করা হয়েছে।

করোনা মহামারি সংক্রান্ত আকিদাগত বিষয়গুলো নতুন উদ্ভূত সংকট (নাজিলাহ) কি না তা নিরূপণের জন্য সূক্ষ্ম জ্ঞানের প্রয়োজন, এবং এটি কি নতুনভাবে সংঘটিত হয়েছে নাকি এর মূল প্রকৃতি পূর্ব থেকেই বিদ্যমান ছিল—সে বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা জরুরি।

ইনশাআল্লাহ, এখানে পরিভাষাগুলোর পরিচয়, সাধারণ মহামারি (ওবা) ও প্লেগ (তাউন)-এর মধ্যকার পার্থক্য এবং এই সংকটগুলোর বর্ণনা প্রদান করা হবে। সেই সাথে এসকল সংকটের ক্ষেত্রে ঘটিত বিচ্যুতিগুলোর আলোচনা এবং সঠিক আকিদাগত দিকনির্দেশনা ও এর সপক্ষে মৌলিক বৈজ্ঞানিক ও তাত্ত্বিক খণ্ডন উপস্থাপন করা হবে।

করোনা মহামারি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ আকিদাগত সংকটগুলোর বিবরণ নিম্নরূপ:

* প্রথম সংকট: করোনা মহামারি থেকে আরোগ্যের উদ্দেশ্যে কবরের স্থানে এবং নির্দিষ্ট স্থানে গিয়ে আকিদাগত লঙ্ঘন ও বিচ্যুতি।

* দ্বিতীয় সংকট: করোনা মহামারি থেকে নিরাময়ের জন্য শরিয়ত পরিপন্থী দোয়া ও জিকির উচ্চারণ।

* তৃতীয় সংকট: করোনা মহামারির বালা-মসিবত দূর করার জন্য আল্লাহ ব্যতীত অন্যের নিকট সুপারিশ বা উসিলা প্রার্থনা করা।

* চতুর্থ সংকট: করোনা মহামারির প্রেক্ষাপটে শরয়ী দলিলসমূহের ভুল প্রয়োগ।

* পঞ্চম সংকট: শরয়ী দলিল বর্জন করে কেবল বুদ্ধিভিত্তিক প্রমাণের ওপর নির্ভর করা।

* ষষ্ঠ সংকট: কেবল চিকিৎসা বিজ্ঞানের ওপর নির্ভর করার আহ্বান জানানো এবং ধর্ম সংশ্লিষ্ট সবকিছু বর্জন করা।

* সপ্তম সংকট: করোনা মহামারি কুরআনে উল্লেখ আছে বলে বিশ্বাস করা।

* অষ্টম সংকট: করোনা মহামারি মানুষের তৈরি বলে দাবি করা।

* নবম সংকট: করোনা মহামারিকে কেন্দ্র করে জ্যোতিষশাস্ত্র চর্চা এবং অদৃশ্যের জ্ঞানের (ইলমে গায়েব) দাবি করা।

* দশম সংকট: রাষ্ট্রপ্রধান বা উলিল আমরের আনুগত্য ও মান্যকরণ সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি।
(খণ্ড: ১) আত-তাওজীহাতুস সহীহাতু লিন-নাওয়াযিলিল আকিদিয়্যাতিল মুতাআল্লিক্বাতু বি-ওয়াবায়ি কুরূনা (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌التمهيد، وفيه مبحثان:

* أولاً: التعريف بالنوازل العقدية المتعلقة بوباء كورونا.

* ثانياً: الفرق بين وباء كورونا والطاعون.
প্রারম্ভিকা, এবং এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

* প্রথমত: করোনা মহামারি সংশ্লিষ্ট আকিদাগত উদ্ভূত বিষয়াবলির পরিচয়।

* দ্বিতীয়ত: করোনা মহামারি ও প্লেগ-এর মধ্যকার পার্থক্য।
(খণ্ড: ১) আত-তাওজীহাতুস সহীহাতু লিন-নাওয়াযিলিল আকিদিয়্যাতিল মুতাআল্লিক্বাতু বি-ওয়াবায়ি কুরূনা (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌أولاً: التعريف بالنوازل العقدية المتعلقة بوباء كورونا.

‌‌تعريف النوازل:

في اللغة: النون والزاء واللام كلمة صحيحة تدل على هبوط شيء ووقوعه(1)، ونزل به الأمر أي: حل(2).

والنازلة هي الشديدة تنزل عليهم بأمر عظيم(3)، وقيل هي: المصيبة والشدة من شدائد الدهر تنزل بالناس(4)، كما قال الشاعر:

ولرب نازلة يضيق بها الفتى … ذرعا وعند الله منها المخرج(5).

واصطلاحًا: استعمل بعض العلماء مصطلح النازلة على معناها اللغوي المتقدم، فقيل هي: الحادثة التي تحتاج لحكم شرعي(6)، أو الوقائع الجديدة التي لم يَسبق فيها نص أو اجتهاد(7).

وقيل هي: الواقعة والحادثة التي تنزل بالشخص سواء في مجال العبادات أو المعاملات أو السلوك والأخلاق؛ حيث يلجأ هذا الشخص إلى من يفتيه بحكم الشرع في نازلته(8).

وقيل: هي الأمور والقضايا الجديدة التي تحصل مع تطور الأوقات واختلاف الأزمان والأماكن(9).

ولابد في النازلة من أمورًا ثلاثة، هي: وقوعها وعدم افتراضها، وجِدَّتها وعدم تكررها، وشدة إلحاحها في طلب حكم شرعي لها؛ وبناء على ذلك فتعريفها يكون: هي ما استدعى حكمًا شرعيًّا من الوقائع المستجدة(10).

--------------------------------------------

(1) ينظر: مقاييس اللغة، ابن فارس، (5/ 417).

(2) ينظر: المحكم والمحيط الأعظم، ابن سيده، (9/ 47).

(3) ينظر: تهذيب اللغة، الأزهري، (1/ 157).

(4) ينظر: لسان العرب، ابن منظور (11/ 659)، والمصباح المنير، الفيومي، (2/ 600).

(5) القائل هو إبراهيم بن العباس الصولي كما ذكر ذلك التنوخي في كتاب الفرج بعد الشدة، (5/ 15).

(6) ينظر: معجم لغة الفقهاء، قلعه جي وقنيبي، ص (471).

(7) ينظر: منهج استنباط أحكام النوازل الفقهية المعاصرة، مسفر القحطاني، ص (89).

(8) ينظر: فقه النوازل وقيمته التشريعية والفكرية، حسن الفيلالي، ص (230).

(9) ينظر: الفقه العقدي للنوازل، عبدالرحيم صمايل السلمي، ص (3).

(10) ينظر: فقه النوازل دراسة تأصيلية تطبيقية، محمد بن حسين الجيزاني، (1/ 22 - 24).
‌‌প্রথমত: করোনা মহামারি সংক্রান্ত আকিদাগত নওয়াজিল (নতুন উদ্ভূত সমস্যা)-এর পরিচয়.

‌‌নওয়াজিল-এর সংজ্ঞা:

ভাষাগতভাবে: নুন, জা এবং লাম—এই বর্ণত্রয় দ্বারা গঠিত শব্দটি কোনো কিছুর অবতরণ এবং সংঘটিত হওয়াকে নির্দেশ করে(১); আর 'তার ওপর বিষয়টি নাযিল হয়েছে' মানে হলো: তা আপতিত হয়েছে(২)।

আর 'নাজিলাহ' হলো কোনো বড় বিষয়ের কারণে মানুষের ওপর নেমে আসা কঠিন বিপদ(৩)। কেউ কেউ বলেছেন: এটি হলো কালের কঠিন বিপদ ও মুসিবত যা মানুষের ওপর আপতিত হয়(৪), যেমনটি কবি বলেছেন:

এমন অনেক বিপদ রয়েছে যাতে যুবক ব্যক্তি দিশেহারা হয়ে পড়ে … অথচ আল্লাহর কাছেই রয়েছে তা থেকে উত্তরণের পথ(৫)।

পরিভাষাগতভাবে: কোনো কোনো আলেম 'নাজিলাহ' শব্দটি এর পূর্বোক্ত ভাষাগত অর্থেই ব্যবহার করেছেন। সুতরাং বলা হয়েছে: এটি এমন ঘটনা যা শরয়ী বিধানের মুখাপেক্ষী(৬), অথবা এমন নতুন ঘটনা যা নিয়ে ইতিপূর্বে কোনো নস (স্পষ্ট পাঠ) বা ইজতিহাদ বিদ্যমান নেই(৭)।

আবার বলা হয়েছে: এটি এমন ঘটনা বা বিষয় যা কোনো ব্যক্তির ওপর আপতিত হয়, হোক তা ইবাদত, লেনদেন কিংবা আচার-আচরণ ও চরিত্রের ক্ষেত্রে; যেখানে উক্ত ব্যক্তি তার সমস্যার শরয়ী বিধান জানার জন্য ফতোয়া প্রদানকারীর শরণাপন্ন হয়(৮)।

আরও বলা হয়েছে: এটি এমন নতুন বিষয় ও সমস্যা যা সময়ের বিবর্তন এবং কাল ও স্থানের ভিন্নতার সাথে সাথে সৃষ্টি হয়(৯)।

নাজিলাহ হওয়ার জন্য তিনটি বিষয় অপরিহার্য: তা সংঘটিত হওয়া ও কাল্পনিক না হওয়া, তা নতুন হওয়া ও পুনরাবৃত্তি না হওয়া এবং তার শরয়ী বিধান জানার ব্যাপারে তীব্র প্রয়োজনীয়তা থাকা। এর ওপর ভিত্তি করে এর সংজ্ঞা হলো: নতুন উদ্ভূত এমন ঘটনা যা শরয়ী বিধানের দাবি রাখে(১০)।

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: মাকায়িসুল লুগাহ, ইবন ফারিস, (৫/ ৪১৭)।

(২) দ্রষ্টব্য: আল-মুহকাম ওয়াল মুহিতুল আজম, ইবন সিদাহ, (৯/ ৪৭)।

(৩) দ্রষ্টব্য: তাহজিবুল লুগাহ, আজহারী, (১/ ১৫৭)।

(৪) দ্রষ্টব্য: লিসানুল আরব, ইবন মনজুর (১১/ ৬৫৯), এবং আল-মিসবাহুল মুনির, ফাইয়ুমি, (২/ ৬০০)।

(৫) উক্তিটি ইব্রাহিম ইবন আব্বাস আস-সুলির, যেমনটি তানুখি তার 'আল-ফারাজ বা'দাশ শিদ্দাহ' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, (৫/ ১৫)।

(৬) দ্রষ্টব্য: মুজামু লুগাতিল ফুকাহা, কালআজি ও কানয়িবি, পৃষ্ঠা (৪৭১)।

(৭) দ্রষ্টব্য: মানহাজু ইস্তিনবাতি আহকামিন নাওয়াজিলিল ফিকহিয়্যাহ আল-মুআসিরাহ, মিসফার আল-কাহতানি, পৃষ্ঠা (৮৯)।

(৮) দ্রষ্টব্য: ফিকহুন নাওয়াজিলি ওয়া কিমাতুহুুত তাশরিইয়্যাহ ওয়াল ফিকরিইয়্যাহ, হাসান আল-ফিলালি, পৃষ্ঠা (২৩০)।

(৯) দ্রষ্টব্য: আল-ফিকহুল আকাদি লিন-নাওয়াজিল, আবদুর রহিম সামায়েল আস-সুলামি, পৃষ্ঠা (৩)।

(১০) দ্রষ্টব্য: ফিকহুন নাওয়াজিলি দিরাসাতুন তাসিলিয়্যাতুন তাতবিকিয়্যাহ, মুহাম্মদ ইবন হুসাইন আল-জিজানি, (১/ ২২ - ২৪)।
(খণ্ড: ১) আত-তাওজীহাতুস সহীহাতু লিন-নাওয়াযিলিল আকিদিয়্যাতিল মুতাআল্লিক্বাতু বি-ওয়াবায়ি কুরূনা (পৃষ্ঠা: ৯)
ولكن مفهوم النوازل في القضايا والمسائل المعاصرة نادراً ما ينطبق انطباقاً تاماً على وصف النازلة بالجدة المحضة، أي مما لم يسبق وقوعه؛ فالغالب فيما يذكره العلماء في المسائل المعاصرة من نوازل قد يطلق عليها الجدة النسبية، أي تكون مما سبق وقوعه ولكنها متجددة، فبعضها سبق وقوعه ولكنها تطورت أو تغير الواقع المحيط بها أو تغيرت أسبابها أو واحتاج لها الناس من باب الضرورة أو المصلحة؛ فأصبحت بحاجة ماسة لبحثها مرة أخرى.

وعلى ذلك يمكن أن يطلق على أي مسألة عقدية نازلة إذا تحقق فيها سبب من الأسباب التالية:

الأول: تباين أصل المسألة العقدية من بعض الوجوه؛ كتغير أسبابها، وتطورها، وتغير الواقع المحيط بها.

الثاني: وقوع التجدد في أحوال بعض المسائل العقدية، حتى أصبحت كنازلة جديدة.

الثالث: بعض المسائل العقدية الجديدة قد تكون نوازل في عرف بعض العلماء؛ حسب نظرتهم الخاصة للمسألة.

الرابع: عند وجود الحاجة الملحة في تطلب حل شاف لموضوع المسألة العقدية أو مضمونها.

 

‌‌تعريف العقيدة:

في اللغة: مأخوذة من العقد: وهو الربط والشد بقوة، أو العهد، أو الملازمة، أو التأكيد(1)، وعقد قلبه على شيء: لم ينزع عنه(2)، واعتقدت كذا: أي عقدت عليه القلب والضمير، حتى قيل: العقيدة ما يدين الإنسان به(3).

واصطلاحاً: هي الإيمان الجازم بالله، وما يجب له في ألوهيته وربوبيته وأسمائه وصفاته، والإيمان بملائكته وكتبه ورسله واليوم الآخر، وبالقدر خيره وشره، وبكل ما جاءت به النصوص الصحيحة من أصول الدين وأمور الغيب وأخباره، وما أجمع عليه السلف الصالح، والتسليم لله تعالى في الحكم والأمر والقدر والشرع، ولرسوله صلى الله عليه وسلم بالطاعة والاتباع(4).

--------------------------------------------

(1) ينظر: تهذيب اللغة، ابن فارس، (1/ 134)، والقاموس المحيط، الفيروز آبادي، ص (300)، ولسان العرب، (3/ 296).

(2) ينظر: العين، الفراهيدي، (1/ 140).

(3) ينظر: المصباح المنير، (2/ 421).

(4) ينظر: مباحث في عقيدة أهل السنة والجماعة، ناصر العقل، ص (8).
তবে সমকালীন বিষয় ও মাসআলাসমূহে নাওয়াযিল (উদ্ভূত সমস্যা)-এর ধারণাটি কদাচিৎ সম্পূর্ণ নতুন বা আগে কখনো ঘটেনি এমন বর্ণনার সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। সাধারণত সমকালীন বিষয়াবলীতে উলামায়ে কেরাম যে নাওয়াযিল বা উদ্ভূত সমস্যার কথা উল্লেখ করেন, তাকে আপেক্ষিক নতুনত্ব বলা যেতে পারে। অর্থাৎ, এগুলো এমন বিষয় যা আগে সংঘটিত হয়েছে তবে বর্তমানে তা নতুন রূপ পরিগ্রহ করেছে। এর মধ্যে কিছু বিষয় পূর্বে সংঘটিত হলেও বর্তমানে সেগুলোর বিবর্তন ঘটেছে অথবা তার পারিপার্শ্বিক বাস্তবতা পরিবর্তিত হয়েছে কিংবা তার কারণগুলো বদলে গিয়েছে এবং জরুরত বা জনস্বার্থের খাতিরে মানুষের নিকট সেগুলোর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে; ফলে এগুলো পুনরায় পর্যালোচনার জরুরি প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে।

সেই অনুযায়ী, যেকোনো আকিদাগত মাসআলাকে নাওয়াযিল বা উদ্ভূত সমস্যা হিসেবে অভিহিত করা যেতে পারে, যদি তাতে নিম্নোক্ত কারণগুলোর কোনো একটি পাওয়া যায়:

প্রথমত: আকিদাগত মাসআলার মূল ভিত্তির মধ্যে কোনো কোনো দিক থেকে বৈসাদৃশ্য দেখা দেওয়া; যেমন তার কারণসমূহের পরিবর্তন, সেটির বিবর্তন অথবা তার পারিপার্শ্বিক বাস্তবতার পরিবর্তন।

দ্বিতীয়ত: কোনো কোনো আকিদাগত মাসআলার অবস্থায় নতুনত্বের আবির্ভাব ঘটা, ফলে তা একটি নতুন উদ্ভূত সমস্যার মতো হয়ে দাঁড়ানো।

第三ত: কিছু নতুন আকিদাগত মাসআলা কোনো কোনো আলেমের পরিভাষায় বা নিকট উদ্ভূত সমস্যা হিসেবে গণ্য হতে পারে; যা মাসআলাটি সম্পর্কে তাদের বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গির ওপর নির্ভর করে।

চতুর্থত: আকিদাগত কোনো মাসআলার বিষয়বস্তু বা মূল প্রসঙ্গের একটি সন্তোষজনক সমাধানের তীব্র প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে।

 

‌‌আকিদার সংজ্ঞা:

শাব্দিক অর্থে: এটি ‘আকদ’ শব্দ থেকে গৃহীত: যার অর্থ মজবুতভাবে গিঁট দেওয়া ও বাঁধা, অথবা অঙ্গীকার, অথবা অবিচ্ছেদ্য থাকা, অথবা সুনিশ্চিত করা(১)। আর কোনো বিষয়ের ওপর স্বীয় অন্তরকে নিবদ্ধ করার অর্থ হলো: তা থেকে বিচ্যুত না হওয়া(২)। ‘আমি এরূপ বিশ্বাস করেছি’ এর অর্থ হলো: আমি এর ওপর অন্তর ও বিবেককে আবদ্ধ করেছি। এমনকি বলা হয়েছে: আকিদা হলো সেই বিষয় মানুষ যা দ্বীন হিসেবে গ্রহণ করে(৩)।

পারিভাষিক অর্থে: আকিদা হলো আল্লাহর ওপর দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করা এবং তাঁর উলুহিয়্যাত, রুবুবিয়্যাত এবং তাঁর নাম ও গুণাবলির ক্ষেত্রে তাঁর জন্য যা আবশ্যক তার প্রতি বিশ্বাস রাখা; এবং তাঁর ফেরেশতাগণ, কিতাবসমূহ, রাসুলগণ, পরকাল, তকদিরের ভালো-মন্দ এবং দ্বীনের মৌলিক বিষয়সমূহ ও অদৃশ্যের সংবাদ সম্পর্কে সহিহ দলিলের মাধ্যমে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে তার প্রতি এবং সালাফে সালেহীন যে বিষয়গুলোর ওপর ঐক্যমত পোষণ করেছেন সেগুলোর প্রতি সুদৃঢ় ইমান আনা। তদুপরি ফয়সালা, আদেশ, তাকদির ও শরিয়তের বিষয়ে মহান আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ করা এবং আনুগত্য ও অনুসরণের ক্ষেত্রে তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি অনুগত হওয়া(৪)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তাহযীবুল লুগাহ, ইবনু ফারিস, (১/ ১৩৪), এবং আল-কামুসুল মুহিত, আল-ফিরোযাবাদী, পৃ. (৩০০), এবং লিসানুল আরব, (৩/ ২৯৬)।

(২) দেখুন: আল-আইন, আল-ফারাহিদী, (১/ ১৪০)।

(৩) দেখুন: আল-মিসবাহুল মুনীর, (২/ ৪২১)।

(৪) দেখুন: মাবাহিছ ফি আকিদাতি আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ, নাসির আল-আকল, পৃ. (৮)।
(খণ্ড: ১) আত-তাওজীহাতুস সহীহাতু লিন-নাওয়াযিলিল আকিদিয়্যাতিল মুতাআল্লিক্বাতু বি-ওয়াবায়ি কুরূনা (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌تعريف الأوبئة:

في اللغة: مصدر وبؤ ووبئ ووبئ، وأرض وبئة أي: كثيرة الوباء، واستوبأ الأرض: استوخمها ووبأ إليه(1).

واصطلاحاً: هو سرعة الموت وكثرته في الناس(2).

وقيل: كل مرض شديد العدوى، سريع الانتشار من مكان إلى مكان، يصيب الإنسان والحيوان والنبات(3).

والوباء في التعريف الطبي: هو مرض غير مألوف، سريع الانتشار، يصيب جماعة من الناس في منطقة معينة أو مناطق جغرافية معينة في وقت محدد(4).

وبحسب المختصين بعلم الأوبئة لا يطلق على المرض وباءً إلا إذا اجتمعت فيه عدة أمور، هي كالتالي:

1 - أن يكون سريع الانتشار.

2 - أن يصيب جماعة من الناس.

3 - أن يكون في منطقة أو مناطق معينة.

4 - أن يكون في وقت محدد.

5 - أن يكون غير مألوف.

6 - أن يفضي إلى الموت في الغالب(5).

 

‌‌تعريف كورونا:

هي مجموعة من الفيروسات التي يمكنها أن تسبب أمراضًا مثل الزكام والالتهاب التنفسي الحاد الوخيم سارس (SARS)، ومتلازمة الشرق الأوسط التنفسية ميرس (MERS)، وقد تم اكتشاف نوع جديد من فيروسات كورونا بعد أن تم التعرف عليه كمسبب لانتشار أحد

--------------------------------------------

(1) ينظر: المحكم والمحيط الأعظم، (10/ 566).

(2) ينظر: تاج العروس، (1/ 478).

(3) ينظر: معجم اللغة العربية المعاصرة، (3/ 2392).

(4) ينظر: معجم المصطلحات الطبية، (2/ 145).

(5) ينظر: معجم الوبائيات، جون. م. لاست، ص (87).
মহামারীর সংজ্ঞা:

শাব্দিক অর্থে: এটি ‘ওয়াবাআ’, ‘ওয়াবিআ’ এবং ‘ওয়াবুআ’ ক্রিয়ামূলের উৎস (মাসদার)। ‘আরদুন ওয়াবিআহ’ অর্থ: মহামারী আক্রান্ত ভূমি। ‘ইস্তাওবাআল আরদা’ অর্থ: কোনো ভূমিকে অস্বাস্থ্যকর ও ক্ষতিকর মনে করা এবং কোনো কিছুর দিকে ইঙ্গিত করা।(১)

পারিভাষিক অর্থে: এটি হলো মানুষের মধ্যে মৃত্যুর দ্রুততা এবং আধিক্য।(২)

বলা হয়েছে: এটি এমন প্রতিটি রোগ যা অত্যন্ত ছোঁয়াচে, এক স্থান থেকে অন্য স্থানে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং মানুষ, পশু ও উদ্ভিদকে আক্রান্ত করে।(৩)

চিকিৎসা বিজ্ঞানের সংজ্ঞায় মহামারী হলো: এটি একটি অস্বাভাবিক রোগ, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং একটি নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট কোনো অঞ্চলে বা ভৌগোলিক এলাকাগুলোতে একদল মানুষকে আক্রান্ত করে।(৪)

মহামারী বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো রোগকে মহামারী বলা যাবে না যতক্ষণ না তাতে বেশ কিছু বিষয় একত্রিত হয়, যা নিম্নরূপ:

১ - এটি দ্রুত বিস্তার লাভ করবে।

২ - এটি একদল মানুষকে আক্রান্ত করবে।

৩ - এটি নির্দিষ্ট কোনো অঞ্চলে বা এলাকাগুলোতে হবে।

৪ - এটি একটি নির্দিষ্ট সময়ে হবে।

৫ - এটি অস্বাভাবিক হবে।

৬ - এটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে মৃত্যুর দিকে ধাবিত করবে।(৫)

 

করোনার সংজ্ঞা:

এটি ভাইরাসের একটি গোষ্ঠী যা সর্দি-কাশি এবং তীব্র শ্বাসকষ্টজনিত রোগ সার্স (SARS) এবং মিডল ইস্ট রেসপিরেটরি সিনড্রোম মার্স (MERS)-এর মতো রোগ সৃষ্টি করতে পারে। করোনা ভাইরাসের একটি নতুন ধরণ আবিষ্কৃত হয়েছে যখন এটি একটি প্রাদুর্ভাবের অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল...

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: আল-মুহকাম ওয়াল মুহিতুল আযম, (১০/ ৫৬৬)।

(২) দ্রষ্টব্য: তাজুল আরুস, (১/ ৪৭৮)।

(৩) দ্রষ্টব্য: মুজামুল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ আল-মুআসিরাহ, (৩/ ২৩৯২)।

(৪) দ্রষ্টব্য: মুজামুল মুসতালাহাতিত তিব্বিয়্যাহ, (২/ ১৪৫)।

(৫) দ্রষ্টব্য: মুজামুল ওয়াবাইয়াত, জন এম. লাস্ট, পৃষ্ঠা (৮৭)।
(খণ্ড: ১) আত-তাওজীহাতুস সহীহাতু লিন-নাওয়াযিলিল আকিদিয়্যাতিল মুতাআল্লিক্বাতু বি-ওয়াবায়ি কুরূনা (পৃষ্ঠা: ১১)
الأمراض التي بدأت في مديمة ووهان (WHAN)(1) بالصين في عام 2019 م، ويُعرف الفيروس الآن باسم: فيروس المتلازمة التنفسية الحادة الوخيمة كورونا 2، ويسمى المرض الناتج عنه مرض فيروس كورونا (كوفيد 19)(2).

وتشمل العلامات التي تشير إلى مرض كورونا ما يلي: ضيق النفس، انعدام الشهية، التخليط أو التشوش، الألم المستمر أو الشعور بالضغط على الصدر، ارتفاع درجة الحرارة بأكثر من 38 درجة مئوية(3).

--------------------------------------------

(1) ووهان هي عاصمة مقاطعة هوبي وتقع في شرق الصين الأوسط على نهر يانغتزيه، يبلغ عدد سكانها أكثر من: (أحد عشر مليون نسمة)، وتعتبر سابع أكثر المدن الصينية اكتظاظاً بالسكان. ينظر: موقع ويكند https:// www.wikiwand.com/ ar

(2) ينظر: مايو كلينك https:// www.mayoclinic.org/ ar/ diseases-conditions/ coronavirus/ symptoms-causes/ syc-20479963

(3) ينظر: موقع الصحة العالمية https:// www.who.int/ ar/ emergencies/ diseases/ novel-coronavirus-2019/ question-and-answers-hub/ q-a-detail/ coronavirus-disease-covid-1
২০১৯ খ্রিস্টাব্দে চীনের উহান (WHAN)(১) শহরে যে সকল রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটেছিল; বর্তমানে এই ভাইরাসটি 'সিভিয়ার একিউট রেসপিরেটরি সিনড্রোম করোনাভাইরাস ২' নামে পরিচিত এবং এর দ্বারা সৃষ্ট রোগটিকে করোনাভাইরাস রোগ (কোভিড-১৯) বলা হয়(২)।

করোনা রোগের লক্ষণগুলোর অন্তর্ভুক্ত হলো: শ্বাসকষ্ট, অরুচি বা ক্ষুধামন্দা, মানসিক বিভ্রান্তি বা অসংলগ্নতা, বুকে অবিরাম ব্যথা বা চাপের অনুভূতি এবং শরীরের তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হওয়া(৩)।

--------------------------------------------

(১) উহান হলো হুবেই প্রদেশের রাজধানী এবং এটি মধ্য-পূর্ব চীনের ইয়াংজি নদীর তীরে অবস্থিত। এর জনসংখ্যা এগারো মিলিয়নেরও বেশি এবং এটি চীনের সপ্তম জনবহুল শহর হিসেবে বিবেচিত। দ্রষ্টব্য: উইকিওয়ান্ড ওয়েবসাইট https:// www.wikiwand.com/ ar

(২) দ্রষ্টব্য: মেয়ো ক্লিনিক https:// www.mayoclinic.org/ ar/ diseases-conditions/ coronavirus/ symptoms-causes/ syc-20479963

(৩) দ্রষ্টব্য: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওয়েবসাইট https:// www.who.int/ ar/ emergencies/ diseases/ novel-coronavirus-2019/ question-and-answers-hub/ q-a-detail/ coronavirus-disease-covid-1
(খণ্ড: ১) আত-তাওজীহাতুস সহীহাতু লিন-নাওয়াযিলিল আকিদিয়্যাতিল মুতাআল্লিক্বাতু বি-ওয়াবায়ি কুরূনা (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌ثانياً: الفرق بين وباء كورونا والطاعون:

اختلف العلماء قديماً في مسألة التفرقة بين الوباء والطاعون على قولين، وهذه التفرقة تشمل الأوبئة بشكل عام وينطبق عليها وباء كورونا؛ لأنه مصنف من جملة الأوبئة.

وأقوال العلماء حول الفرق بين الطاعون والوباء كالتالي:

 

‌‌القول الأول: أن الطاعون هو الوباء: وهذا القول هو الذي عليه بعض العلماء من أهل اللغة والأطباء العرب المتقدمين.

قال الخليل رحمه الله: الوباء: الطاعون، وقيل: هو كل مرض عام(1).

وقال ابن سيده رحمه الله: الوباء الطاعون، وقيل: هو كل مرض عام(2).

وقال ابن الأثير رحمه الله: المرض العام والوباء الذي يفسد له الهواء فتفسد به الأمزجة والأبدان(3).

وقال ابن منظور رحمه الله: الوبأ: الطاعون بالقصر والمد والهمز. وقيل هو كل مرض عام(4).

وقال الفيومي رحمه الله: والطاعون الموت من الوباء والجمع الطواعين وطعن الإنسان بالبناء للمفعول أصابه الطاعون فهو مطعون(5).

وقال ابن حجر رحمه الله: قال جماعة من الأطباء منهم أبو علي بن سيناء: الطاعون مادة سمية تحدث ورمًا قتالاً يحدث في المواضع الرخوة والمغابن من البدن، وأغلب ما تكون تحت الإبط أو خلف الأذن أو عند الأرنبة. قال: وسببه دم رديء مائل إلى العفونة والفساد يستحيل إلى جوهر سمي يفسد العضو ويغير ما يليه، ويؤدي إلى القلب كيفية رديئة فيحدث القيء والغثيان والغشي والخفقان وهو لرداءته لا يقبل من الأعضاء إلا ما كان أضعف بالطبع وأردؤه ما يقع في الأعضاء الرئيسة، والأسود منه قل من يسلم منه، وأسلمه الأحمر ثم الأصفر، والطواعين تكثر عند الوباء في البلاد الوبئة ومن ثم أطلق على الطاعون وباء وبالعكس(6).

--------------------------------------------

(1) العين، (8/ 418).

(2) المحكم والمحيط الأعظم، (10/ 566).

(3) النهاية في غريب الحديث والأثر، (3/ 127).

(4) لسان العرب، (1/ 189).

(5) المصباح المنير، (2/ 373).

(6) فتح الباري، (10/ 180)، وهو ما ذكره ابن سينا في كتابه القانون، (3/ 164 - 165).
দ্বিতীয়ত: করোনা মহামারি ও প্লেগ মহামারির মধ্যে পার্থক্য:

অতীতকালে আলেমগণ 'ওবা' (সাধারণ মহামারি) ও 'তাউন' (প্লেগ)-এর মধ্যে পার্থক্যের বিষয়ে দুইটি মতে বিভক্ত হয়েছেন। এই পার্থক্যটি সাধারণভাবে সকল মহামারির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য এবং করোনা মহামারির ওপরও তা বর্তায়; কারণ এটিকেও মহামারির অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

মহামারি ও প্লেগের মধ্যকার পার্থক্য সম্পর্কে আলেমদের মতামতসমূহ নিম্নরূপ:

 

প্রথম মত: প্লেগই হলো মহামারি: এই মতটি ভাষা বিশেষজ্ঞ ও পূর্ববর্তী আরব চিকিৎসকদের একটি দলের।

খলীল (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ওবা (মহামারি) হলো প্লেগ। আবার বলা হয়েছে: এটি প্রতিটি ব্যাপক আকার ধারণকারী রোগ।(১)

ইবনে সীদাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ওবা (মহামারি) হলো প্লেগ। আবার বলা হয়েছে: এটি প্রতিটি ব্যাপক আকার ধারণকারী রোগ।(২)

ইবনুল আসীর (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ব্যাপক আকার ধারণকারী রোগ ও মহামারি হলো এমন কিছু যার কারণে বাতাস দূষিত হয়ে যায়, আর এর ফলে মানুষের মেজাজ (শারীরিক অবস্থা) ও দেহসমূহ নষ্ট হয়ে যায়।(৩)

ইবনে মানযূর (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ওবা হলো প্লেগ (এটি কাসর, মাদ এবং হামযাসহ পঠিত হয়)। বলা হয়েছে: এটি প্রতিটি ব্যাপক আকার ধারণকারী রোগ।(৪)

ফাইয়ূমী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: প্লেগ হলো মহামারি থেকে মৃত্যু। এর বহুবচন হলো 'তাওয়াঈন'। আর কোনো ব্যক্তিকে যখন 'তুয়িনা' (কর্মবাচ্যে) বলা হয়, তখন তার অর্থ হলো সে প্লেগ আক্রান্ত হয়েছে, অতএব সে প্লেগাক্রান্ত।(৫)

ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: চিকিৎসকদের একটি দল, যাদের মধ্যে আবু আলী ইবনে সিনা অন্যতম, তারা বলেছেন: প্লেগ হলো একটি বিষাক্ত পদার্থ যা শরীরের নরম অংশ ও ভাঁজযুক্ত স্থানে একটি প্রাণঘাতী টিউমার বা ফোলা তৈরি করে। এর অধিকাংশই বগলের নিচে, কানের পেছনে অথবা নাসারন্ধ্রে হয়ে থাকে। তিনি আরও বলেন: এর কারণ হলো পচনশীল ও দূষিত রক্ত যা একটি বিষাক্ত উপাদানে রূপান্তরিত হয়, যা আক্রান্ত অঙ্গটিকে নষ্ট করে দেয় এবং এর পার্শ্ববর্তী অংশগুলোকেও পরিবর্তিত করে ফেলে। এটি হৃদযন্ত্রে এক মন্দ অবস্থার সৃষ্টি করে যার ফলে বমি, বমি বমি ভাব, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া এবং বুক ধড়ফড়ানি শুরু হয়। এর তীব্রতার কারণে শরীরের অঙ্গগুলোর মধ্যে যা স্বভাবত দুর্বল তা-ই বেশি আক্রান্ত হয়। আর এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ হলো যা প্রধান অঙ্গসমূহে আক্রমণ করে। কালো বর্ণের প্লেগ থেকে খুব কম মানুষই রেহাই পায়। এর চেয়ে কিছুটা নমনীয় হলো লাল বর্ণেরটি এবং এরপর হলুদ বর্ণেরটি। মহামারি কবলিত এলাকাগুলোতে মহামারির সময় প্লেগের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পায়। এই কারণে প্লেগকে মহামারি এবং মহামারিকে প্লেগ হিসেবে অভিহিত করা হয়।(৬)

--------------------------------------------

(১) আল-আইন, (৮/ ৪১৮)।

(২) আল-মুহকাম ওয়াল মুহিতুল আযম, (১০/ ৫৬৬)।

(৩) আন-নিহায়া ফি গারিবিল হাদিস ওয়াল আসার, (৩/ ১২৭)।

(৪) লিসানুল আরব, (১/ ১৮৯)।

(৫) আল-মিসবাহুল মুনীর, (২/ ৩৭৩)।

(৬) ফাতহুল বারী, (১০/ ১৮০), এবং এটি ইবনে সিনা তার 'আল-কানুন' কিতাবেও উল্লেখ করেছেন, (৩/ ১৬৪ - ১৬৫)।
(খণ্ড: ১) আত-তাওজীহাতুস সহীহাতু লিন-নাওয়াযিলিল আকিদিয়্যাতিল মুতাআল্লিক্বাতু বি-ওয়াবায়ি কুরূনা (পৃষ্ঠা: ১৩)
كما قال بهذا القول بعض علماء المالكية والحنفية، يقول القاضي الباجي رحمه الله: الوباء هو الطاعون هو مرض يعم الكثير من الناس في جهة من الجهات دون غيرها بخلاف المعتاد من أحوال الناس وأمراضهم، ويكون مرضهم غالباً مرضاً واحداً بخلاف سائر الأوقات فإن أمراض الناس مختلفة(1).

وقال ابن جزي رحمه الله: الطاعون وهو الوباء، وإذا وقع بأرض فلا يخرج منها من كان فيها فرارا منه، ولا يقدم عليها(2).

وقال ابن عابدين رحمه الله: الوباء اسم لكل مرض عام فكل طاعون في ذلك وباء(3).

 

‌‌القول الثاني: أن الطاعون غير الوباء: وهذا القول الذي عليه بعض علماء الشريعة المحققين من أهل الحديث والفقه.

قال القاضي عياض رحمه الله: أصل الطاعون القروح الخارجة في الجسد، والوباء: عموم الأمراض، فسميت طاعوناً؛ لشبهها بالهلاك بذلك، وإلا فكل طاعون وباء، وليس كل وباء طاعوناً(4).

وقال النووي رحمه الله: والصحيح الذي قاله المحققون أنه مرض الكثيرين من الناس في جهة من الأرض دون سائر الجهات، ويكون مخالفاً للمعتاد من أمراض في الكثرة وغيرها، ويكون مرضهم نوعاً واحداً بخلاف سائر الأوقات فإن أمراضهم فيها مختلفة، قالوا: وكل طاعون وباء وليس كل وباء طاعوناً(5).

وقال ابن القيم رحمه الله: والتحقيق أن بين الوباء والطاعون عموماً وخصوصاً، فكل طاعون وباء، وليس كل وباءً طاعوناً، وكذلك الأمراض العامة أعم من الطاعون، فإنه واحد منها، والطواعين خراجات وقروح وأورام رديئة حادثة في المواضع(6).

--------------------------------------------

(1) المنتقى شرح الموطأ، (7/ 198).

(2) القوانين الفقهية، ص (295).

(3) رد المحتار على الدر المختار، (2/ 181).

(4) إكمال المعلم بفوائد مسلم، (7/ 132).

(5) المنهاج شرح صحيح مسلم، (14/ 204).

(6) الطب النبوي، ص (32).
যেমনটি মালেকী ও হানাফী উলামাদের কেউ কেউ বলেছেন, কাযী আল-বাজী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: ওবা হলো তাউন; এটি এমন একটি রোগ যা কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে, যা মানুষের স্বাভাবিক অবস্থা ও রোগব্যাধির সাধারণ নিয়মের বাইরে। এক্ষেত্রে তাদের রোগটি সাধারণত একই ধরণের হয়ে থাকে, অথচ অন্যান্য সময়ে মানুষের রোগব্যাধি বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে(১).

ইবনে জুযাই (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: তাউন হলো ওবা। যখন এটি কোনো ভূখণ্ডে আপতিত হয়, তখন সেখান থেকে পলায়নের উদ্দেশ্যে কেউ বের হবে না এবং কেউ সেখানে প্রবেশও করবে না(২).

ইবনে আবিদীন (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: ওবা হলো প্রতিটি সাধারণ রোগের নাম। সুতরাং সেই বিচারে প্রতিটি তাউনই ওবা(৩).

 

‌‌দ্বিতীয় মত: তাউন এবং ওবা এক নয়: এটিই সেই মত যার ওপর হাদীস ও ফিকহ শাস্ত্রের একদল গবেষক শরীয়াহ বিশেষজ্ঞ অবস্থান করছেন।

কাযী ইয়াদ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: মূলত তাউন হলো শরীরের উপরিভাগে প্রকাশ পাওয়া ক্ষত। আর ওবা হলো সাধারণ রোগব্যাধি। ধ্বংসাত্মক পরিণতির দিক থেকে সাদৃশ্য থাকার কারণে একে তাউন বলা হয়েছে। নতুবা প্রতিটি তাউনই ওবা, কিন্তু প্রতিটি ওবা তাউন নয়(৪).

ইমাম নববী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: গবেষকগণ যে সঠিক কথাটি বলেছেন তা হলো, এটি পৃথিবীর কোনো এক অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া এমন এক ব্যাধি যা অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় ভিন্ন এবং ব্যাপকতা ও অন্যান্য দিক থেকে তা সাধারণ রোগের তুলনায় অস্বাভাবিক। এক্ষেত্রে আক্রান্তদের রোগটি একই ধরণের হয়; অথচ অন্যান্য সময়ে তাদের রোগব্যাধি ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। তাঁরা বলেছেন: প্রতিটি তাউনই ওবা, কিন্তু প্রতিটি ওবা তাউন নয়(৫).

ইবনুল কায়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ হলো, ওবা এবং তাউন-এর মধ্যে সাধারণ ও বিশেষের সম্পর্ক বিদ্যমান। সুতরাং প্রতিটি তাউনই ওবা, কিন্তু প্রতিটি ওবা তাউন নয়। অনুরূপভাবে ব্যাপক রোগব্যাধিগুলো তাউন-এর চেয়ে অধিক বিস্তৃত, কেননা তাউন সেগুলোরই একটি অংশ। আর তাউনসমূহ হলো শরীরের নির্দিষ্ট স্থানসমূহে উৎপন্ন হওয়া ফোঁড়া, ক্ষত এবং মন্দ ফোলা বা টিউমার বিশেষ(৬).

--------------------------------------------

(১) আল-মুনতাকা শারহুল মুয়াত্তঅ, (৭/ ১৯৮)।

(২) আল-কাওয়ানীন আল-ফিকহিয়্যাহ, পৃষ্ঠা (২৯৫)।

(৩) রাদ্দুল মুহতার আলা আদ-দুররিল মুখতার, (২/ ১৮১)।

(৪) ইকমালুল মুয়াল্লিম বি ফাওয়াইদি মুসলিম, (৭/ ১৩২)।

(৫) আল-মিনহাজ শারহু সহীহ মুসলিম, (১৪/ ২০৪)।

(৬) আত-তিব্বুন নববী, পৃষ্ঠা (৩২)।
(খণ্ড: ১) আত-তাওজীহাতুস সহীহাতু লিন-নাওয়াযিলিল আকিদিয়্যাতিল মুতাআল্লিক্বাতু বি-ওয়াবায়ি কুরূনা (পৃষ্ঠা: ১৪)
وقال ابن حجر رحمه الله: أما الوباء فهو فساد جوهر الهواء الذي هو مادة الروح ومدده، قلت: فهذا ما بلغنا هذا ما بلغنا من كلام أهل اللغة وأهل الفقه والأطباء في تعريفه، والحاصل أن حقيقته ورم ينشأ عن هيجان الدم، أو انصباب الدم إلى عضو فيفسده، وإن غير ذلك من الأمراض العامة الناشئة عن فساد الهواء، يسمى طاعوناً بطريق المجاز؛ لاشتراكهما في عموم المرض، أو كثرة الموت(1).

وقال السيوطي رحمه الله: الوباء غير الطاعون .. ، والطاعون اختص بكونه شهادة ورحمة ودعوة النبي صلى الله عليه وسلم بخلاف الوباء(2).

وقال الهيتمي رحمه الله: وبه يعلم أن الطاعون أخص من الوباء مطلقاً، فكل طاعون وباء، ولا عكس، .. واستدل بعضهم بأنه صح أن المدينة لا يدخلها الطاعون، وصح عن عائشة رضي الله عنها عنها أن المدينة أوبى أرض الله، وعن بلال رضي الله عنه أن المدينة أرض الوباء؛ فيلزم أن الطاعون غير الوباء(3).

والذي يترجح في هذه المسألة والله أعلم هو القول الثاني، أي: قول علماء الشريعة من أهل الحديث والفقه الذين قالوا بالتفريق بين الطاعون والوباء، وأن كل طاعون وباء، وليس كل وباء طاعوناً، وأن الوباء يشمل الطاعون وغيره من الأمراض، وبينهما عموم وخصوص.

ومن الأدلة التي تؤيد هذا القول ما يلي:

 

‌‌أولاً: الطاعون لا يدخل المدينة: فثبت في الأحاديث أن الطاعون لا يدخل المدينة، بينما الوباء يدخل المدينة، وقد ورد أنه دخل المدينة في عهد النبي صلى الله عليه وسلم، كما في الأحاديث التالية:

فعن أبي عسيب رضي الله عنه مولى رسول الله صلى الله عليه وسلم، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «أتاني جبريل بالحمى، والطاعون، فأمسكت الحمى بالمدينة، وأرسلت الطاعون إلى الشام، فالطاعون شهادة لأمتي، ورحمة، ورجس على الكافر»(4).

--------------------------------------------

(1) فتح الباري، (10/ 180 - 181).

(2) ما رواه الواعون في أخبار الطاعون، ص (168).

(3) الفتاوى الفقهية الكبرى، (4/ 21).

(4) رواه أحمد في مسنده، ح (20767)، (34/ 366)، وابن أبي عاصم في الآحاد والمثاني، ح (466)، (1/ 342)، والدولابي في الكنى والأسماء، ح (268)، (1/ 131)، والطبراني في الكبير، ح (974)، (22/ 391)، وقال الألباني في صحيح الجامع، (1/ 73): صحيح، وقال الأرناؤوط في حاشية المسند، (34/ 366): إسناده صحيح.
ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: মহামারীর (ওয়াবা) ক্ষেত্রে বলা যায়, তা হলো বাতাসের উপাদানে এমন বিপর্যয় যা রুহের মূল উপাদান ও সাহায্যকারী শক্তি। আমি বলি: ভাষা বিশেষজ্ঞ, ফকীহগণ ও চিকিৎসকদের কাছ থেকে এর সংজ্ঞায় যা আমরা প্রাপ্ত হয়েছি তা হলো এটি। সারকথা হলো এর প্রকৃত রূপ এমন এক ফোলা যা রক্তের উত্তেজনার ফলে সৃষ্টি হয়, অথবা কোনো অঙ্গে রক্ত প্রবাহিত হয়ে তাকে নষ্ট করে দেয়। আর বাতাসের দূষণ থেকে সৃষ্ট অন্যান্য সাধারণ রোগগুলোকে রূপকভাবে 'তাউন' (প্লেগ) বলা হয়; কারণ অসুস্থতার ব্যাপকতা বা মৃত্যুর আধিক্যের দিক থেকে উভয়ের মধ্যে মিল রয়েছে(১)।

সুয়ূতী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: ওয়াবা এবং তাউন ভিন্ন বিষয়...। প্লেগ বিশেষভাবে শাহাদাত, রহমত এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দুআর অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বৈশিষ্ট্যে অনন্য, যা সাধারণ মহামারীর (ওয়াবা) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়(২)।

হাইতামী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: এর মাধ্যমে জানা যায় যে, তাউন হলো ওয়াবার চেয়ে অধিক সুনির্দিষ্ট; সুতরাং প্রতিটি তাউনই ওয়াবা, কিন্তু প্রতিটি ওয়াবা তাউন নয়...। কেউ কেউ এর সপক্ষে এই দলিল দিয়েছেন যে, সহীহ বর্ণনা অনুযায়ী মদিনায় তাউন (প্লেগ) প্রবেশ করবে না, আবার আয়িশাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে সহীহভাবে বর্ণিত যে, মদিনা আল্লাহর ভূমির মধ্যে সবচেয়ে বেশি মহামারী (ওয়াবা) প্রবণ ছিল। বিলাল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকেও বর্ণিত হয়েছে যে, মদিনা মহামারীর (ওয়াবা) ভূমি; সুতরাং এটি আবশ্যক করে যে তাউন এবং ওয়াবা ভিন্ন ভিন্ন বিষয়(৩)।

এই মাসআলায় যেটি অগ্রাধিকারযোগ্য মত—আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন—তা হলো দ্বিতীয় মতটি। অর্থাৎ হাদীস বিশারদ ও ফকীহগণের মত, যারা তাউন ও ওয়াবার মধ্যে পার্থক্যের কথা বলেছেন। আর প্রতিটি তাউনই ওয়াবা, কিন্তু প্রতিটি ওয়াবা তাউন নয়; আর ওয়াবা শব্দটি তাউন এবং অন্যান্য রোগকেও অন্তর্ভুক্ত করে, এবং এই দুটির মধ্যে সাধারণ ও বিশেষের সম্পর্ক বিদ্যমান।

এই মতটিকে সমর্থনকারী দলিলগুলোর মধ্যে রয়েছে:

 

‌‌প্রথমত: মদিনায় তাউন প্রবেশ করবে না: হাদীসসমূহে প্রমাণিত হয়েছে যে তাউন মদিনায় প্রবেশ করে না, অথচ ওয়াবা (মহামারী) মদিনায় প্রবেশ করে। বর্ণিত হয়েছে যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগে মদিনায় তা প্রবেশ করেছিল, যেমনটি নিচের হাদীসগুলোতে রয়েছে:

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মুক্তদাস আবু আসীব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «জিবরাঈল আমার কাছে জ্বর ও তাউন নিয়ে আসলেন। আমি জ্বরকে মদিনার জন্য রেখে দিলাম এবং তাউনকে শামে পাঠিয়ে দিলাম। সুতরাং তাউন আমার উম্মতের জন্য শাহাদাত ও রহমত এবং কাফেরদের জন্য আযাব»(৪)।

--------------------------------------------

(১) ফাতহুল বারী, (১০/ ১৮০-১৮১)।

(২) মা রাওয়াহুল ওয়াউন ফী আখবারিত তাউন, পৃ. (১৬৮)।

(৩) আল-ফাতাওয়াল ফিকহিয়্যাহ আল-কুবরা, (৪/ ২১)।

(৪) আহমদ এটি তার মুসনাদে বর্ণনা করেছেন, হা. (২০৭৬৭), (৩৪/ ৩৬৬); ইবন আবি আসিম আল-আহাদ ওয়াল মাছানী-তে, হা. (৪৬৬), (১/ ৩৪২); আদ-দুলাবী আল-কুনা ওয়াল আসমা-তে, হা. (২৬৮), (১/ ১৩১); আত-তাবারানী আল-কাবীর-এ, হা. (৯৭৪), (২২/ ৩৯১); আলবানী সহীহুল জামি-এ (১/ ৭৩) বলেছেন: সহীহ; আর আরনাউত মুসনাদ-এর টীকায় (৩৪/ ৩৬৬) বলেছেন: এর সনদ সহীহ।
(খণ্ড: ১) আত-তাওজীহাতুস সহীহাতু লিন-নাওয়াযিলিল আকিদিয়্যাতিল মুতাআল্লিক্বাতু বি-ওয়াবায়ি কুরূনা (পৃষ্ঠা: ১৫)
وعن أبي هريرة رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «لا يدخل المدينة الطاعون ولا الدجال»(1).

وفي رواية: «المدينة ومكة محفوفتان بالملائكة، على كل نقب منها ملك لا يدخلها الدجال، ولا الطاعون»(2).

وورد حديث عن أنس بن مالك رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم دخول الطاعون لم يكن بالجزم بل بتعليق بالمشيئة: «المدينة يأتيها الدجال، فيجد الملائكة يحرسونها، فلا يقربها الدجال» قال: «ولا الطاعون إن شاء الله»(3).

واختُلِف في استثناء «إن شاء الله تعالى»، فقيل: هو للتبرك فيشملهما، وقيل: هو للتعليق، وأنه يختص بالطاعون، وأن مقتضاه جواز دخول الطاعون المدينة(4).

وقيل: عدم دخول الدجال في المدينة متيقنٌ، أما الطاعون فلم يدخل بعدُ فيها، وهو المرجو فيما يأتي(5).

وقد ذكر جمعٌ من العلماء أن الطاعون العام دخل مكة، أما المدينة فلم يُذكر أنه دخلها، وهذا من معجزاته؛ لأن الأطباء عجزوا عن دفع الطاعون عن بلد، بل عن قرية، وقد امتنع الطاعون عن المدينة في العصور المتطاولة(6).

بينما الوباء ورد أنه قد دخل المدينة في عهد النبي صلى الله عليه وسلم، فعن عائشة رضي الله عنها، قالت: لما قدم رسول الله صلى الله عليه وسلم المدينة، وعك أبو بكر، وبلال … ، فكان بلال بقول: اللهم العن شيبة بن ربيعة، وعتبة بن ربيعة، وأمية بن خلف كما أخرجونا من أرضنا إلى أرض الوباء، ثم قال رسول صلى الله عليه وسلم: «اللهم حبب إلينا المدينة كحبنا مكة أو أشد، اللهم بارك لنا في صاعنا وفي مدنا، وصححها لنا، وانقل حماها إلى الجحفة»(7).

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري، ح (1880)، (3/ 22)، ومسلم، ح (1379)، (2/ 1005).

(2) رواه أحمد في المسند، ح (10265)، (16/ 184)، وقال الهيثمي في المجمع، (3/ 309): رواه أحمد، ورجاله ثقات، وقال السيوطي في ما رواه الواعون في أخبار الطاعون، ص (160): إسناده جيد.

(3) رواه البخاري، في كتاب الفتن، باب: لا يدخل الدجال المدينة، ح (7134)، (9/ 61).

(4) ينظر: فتح الباري، (10/ 181، 191).

(5) ينظر: فيض الباري على صحيح البخاري، الكشميري، (6/ 57).

(6) ينظر: فيض القدير المناوي، (4/ 321).

(7) رواه البخاري، في كتاب فضائل المدينة، باب كراهية النبي صلى الله عليه وسلم أن تعرى المدينة، ح (1889)، (3/ 23).
আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «মদিনায় মহামারি এবং দাজ্জাল প্রবেশ করবে না»(১)।

অন্য এক বর্ণনায় এসেছে: «মদিনা ও মক্কা ফেরেশতাদের দ্বারা পরিবেষ্টিত, এর প্রতিটি প্রবেশপথে একজন করে ফেরেশতা রয়েছেন; ফলে সেখানে দাজ্জাল বা মহামারি প্রবেশ করতে পারবে না»(২)।

আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সূত্রে একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে যেখানে মহামারির প্রবেশ না করার বিষয়টি দৃঢ়তার সাথে না বলে বরং আল্লাহর ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে বলা হয়েছে: «মদিনায় দাজ্জাল আসবে, তখন সে ফেরেশতাদের পাহারারত অবস্থায় পাবে, ফলে দাজ্জাল এর নিকটবর্তী হতে পারবে না।» তিনি বললেন: «এবং মহামারিও নয়, ইনশাআল্লাহ (যদি আল্লাহ চান)»(৩)।

«ইনশাআল্লাহ তাআলা» (আল্লাহ যদি চান) এই ব্যতিক্রমী কথাটির ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন: এটি বরকতের জন্য বলা হয়েছে এবং এটি উভয়টির (দাজ্জাল ও মহামারি) ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। আবার কেউ কেউ বলেছেন: এটি আল্লাহর ইচ্ছার ওপর ঝুলিয়ে রাখার জন্য এবং এটি কেবল মহামারির সাথে নির্দিষ্ট, যার অর্থ মদিনায় মহামারি প্রবেশ করা সম্ভব হওয়াকে বুঝায়(৪)।

কেউ কেউ বলেছেন: মদিনায় দাজ্জালের প্রবেশ না করার বিষয়টি সুনিশ্চিত, আর মহামারি এখন পর্যন্ত সেখানে প্রবেশ করেনি এবং ভবিষ্যতেও তা না হওয়ার প্রত্যাশা করা হয়(৫)।

একদল আলেম উল্লেখ করেছেন যে, ব্যাপক মহামারি মক্কায় প্রবেশ করেছিল, তবে মদিনায় প্রবেশের কথা উল্লেখ করা হয়নি। এটি নবীজীর মুজিজাসমূহের অন্তর্ভুক্ত; কারণ চিকিৎসকরা কোনো একটি শহর, এমনকি একটি গ্রাম থেকেও মহামারি ঠেকাতে অক্ষম হয়েছেন, অথচ সুদীর্ঘ কাল ধরে মদিনায় মহামারি প্রবেশ করতে পারেনি(৬)।

পক্ষান্তরে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে মদিনায় সাধারণ ব্যাধি (ওবা) প্রবেশের বর্ণনা পাওয়া যায়। আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মদিনায় আসলেন, তখন আবু বকর ও বিলাল অসুস্থ হয়ে পড়লেন ..., তখন বিলাল বলতেন: হে আল্লাহ! শাইবা ইবনে রাবিয়া, উতবা ইবনে রাবিয়া এবং উমাইয়া ইবনে খালাফের ওপর লানত বর্ষণ করুন, যেমন তারা আমাদের আমাদের মাতৃভূমি থেকে এই ব্যাধিগ্রস্ত ভূমিতে বের করে দিয়েছে। এরপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: «হে আল্লাহ! মদিনাকে আমাদের কাছে প্রিয় করে দিন যেমন আমরা মক্কাকে ভালোবাসি অথবা তার চেয়েও বেশি। হে আল্লাহ! আমাদের সা’ এবং আমাদের মুদ-এ (পরিমাপক যন্ত্রে) বরকত দিন, এর পরিবেশকে আমাদের জন্য স্বাস্থ্যকর করে দিন এবং এর জ্বরকে জুহফায় স্থানান্তরিত করে দিন»(৭)।

--------------------------------------------

(১) বুখারি বর্ণনা করেছেন, হাদিস নং (১৮৮০), (৩/২২), এবং মুসলিম, হাদিস নং (১৩৭৯), (২/১০০৫)।

(২) আহমাদ 'মুসনাদ'-এ বর্ণনা করেছেন, হাদিস নং (১০২৬৫), (১৬/১৮৪), এবং হাইসামি 'মাজমা'-তে (৩/৩০৯) বলেছেন: আহমাদ এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীরা নির্ভরযোগ্য, আর সুয়ুতী 'মা রাওয়াহুল ওয়াউনা ফি আখবারিত তউন' গ্রন্থে (পৃ. ১৬০) বলেছেন: এর সনদ উত্তম।

(৩) বুখারি বর্ণনা করেছেন, 'কিতাবুল ফিতান', অধ্যায়: মদিনায় দাজ্জাল প্রবেশ করবে না, হাদিস নং (৭১৩৪), (৯/৬১)।

(৪) দেখুন: ফাতহুল বারি, (১০/১৮১, ১৯১)।

(৫) দেখুন: ফয়জুল বারি আলা সহিহ আল-বুখারি, কাশ্মীরি, (৬/৫৭)।

(৬) দেখুন: ফয়জুল কাদির, মুনাউয়ি, (৪/৩২১)।

(৭) বুখারি বর্ণনা করেছেন, 'কিতাব ফাযাইলুল মদিনা', অধ্যায়: মদিনা জনশূন্য হওয়া নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অপছন্দ করতেন, হাদিস নং (১৮৮৯), (৩/২৩)।
(খণ্ড: ১) আত-তাওজীহাতুস সহীহাতু লিন-নাওয়াযিলিল আকিদিয়্যাতিল মুতাআল্লিক্বাতু বি-ওয়াবায়ি কুরূনা (পৃষ্ঠা: ১৬)
وفي رواية قالت رضي الله عنها: قدمنا المدينة وهي وبيئة، فاشتكى أبو بكر، واشتكى بلال، فلما رأى رسول الله صلى الله عليه وسلم شكوى أصحابه، قال: «اللهم حبب إلينا المدينة كما حببت مكة أو أشد، وصححها، وبارك لنا في صاعها ومدها، وحول حماها إلى الجحفة»(1).

وعن عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما أنه قال: لما قدمنا المدينة، نالنا وباء من وعكها شديد. فخرج رسول الله صلى الله عليه وسلم على الناس، وهم يصلون في سبحتهم قعودا. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «صلاة القاعد مثل نصف صلاة القائم»(2)، وفي رواية: فشا الوجع على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم، فكثر من يصلي وهو قاعد، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «صلاة القاعد على النصف من صلاة القائم»(3).

وعن أنس بن مالك رضي الله عنه قال: قدم النبي صلى الله عليه وسلم المدينة وهي محمة(4)، فحم الناس، فدخل النبي صلى الله عليه وسلم المسجد، والناس قعود يصلون. فقال النبي صلى الله عليه وسلم: «صلاة القاعد نصف صلاة القائم، فتجشم الناس الصلاة قياماً»(5).

وفي زمننا هذا انتشر وباء كورونا في أكثر دول العالم، ودخل هذا الوباء المدينة كغيرها من المدن، وتم رصد إصابات ووفيات كثيرة في المدينة بعد إصابتهم بهذا الوباء، بينما ذكر بعض العلماء كما تقدم سابقاً أن الطاعون لم يدخل المدينة.

 

‌‌ثانياً: أن الطاعون من وخز الجن: وقد جاء ذلك في الحديث الصحيح عن أبي موسى رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «فناء أمتي بالطعن(6) والطاعون». فقيل: يا رسول الله، هذا الطعن قد عرفناه، فما الطاعون؟ قال: «وخز(7) أعدائكم من الجن وفي كل شهداء»(8).

--------------------------------------------

(1) رواه مسلم، في كتاب الحج، باب الترغيب في سكن المدينة والصبر على لأوائها، ح (1376)، (2/ 1002).

(2) رواه مالك في الموطأ، ح (451)، (2/ 188).

(3) رواه الطبراني في الكبير، ح (14261)، (12/ 420).

(4) محمة: أي ذات حمى، يقال: أحمت الأرض: أي صارت ذات حمى. ينظر: النهاية في غريب الحديث، (1/ 446).

(5) رواه أحمد في مسنده، ح (12395)، (19/ 387)، والبزار في مسنده، ح (6353)، (13/ 40)، وأبو يعلى في مسنده، ح (3583)، (6/ 275)، وقال الأرناؤوط في حاشية المسند، (19/ 387): حديث صحيح.

(6) الطعن: هو النخس في الشيء بما ينفذه، من ذلك الطعن بالرمح. ينظر: مقاييس اللغة، (3/ 413).

(7) الوخز: طعن ليس بنافذ. ينظر: النهاية في غريب الحديث، (5/ 163).

(8) رواه أحمد في المسند، ح (19528)، (32/ 293)، والبزار في مسنده، ح (2986)، (8/ 16)، وأبو يعلى في مسنده، ح (7226)، (13/ 194)، والطبراني في الأوسط، ح (3422)، (3/ 367)، والحاكم في المستدرك، ح (158)، (1/ 114)، وقال الحاكم حديث صحيح على شرط مسلم، ووافقه الذهبي، وصححه الألباني في الصحيحة، (4/ 561).
وفي এক বর্ণনায় তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন) বলেন: আমরা মদিনায় আসলাম এবং সেটি তখন ছিল মহামারি কবলিত স্থান। ফলে আবু বকর অসুস্থ হলেন এবং বিলাল অসুস্থ হলেন। যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর সাহাবীদের অসুস্থতা দেখলেন, তিনি বললেন: «হে আল্লাহ, আমাদের কাছে মদিনাকে প্রিয় করে দিন যেমন মক্কাকে প্রিয় করেছেন অথবা তার চেয়েও বেশি, একে রোগমুক্ত করুন, এর 'সা' ও 'মুদ'-এ বরকত দিন এবং এর জ্বরকে জুহফার দিকে সরিয়ে দিন»(১)।

আবদুল্লাহ ইবনে আমর (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের ওপর সন্তুষ্ট হন) থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেন: যখন আমরা মদিনায় আসলাম, তখন সেখানকার তীব্র জ্বরের মহামারিতে আমরা আক্রান্ত হলাম। এরপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মানুষের নিকট আসলেন যখন তারা বসে নফল সালাত আদায় করছিল। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: «বসে থাকা ব্যক্তির সালাত দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তির সালাতের অর্ধেকের সমান»(২)। অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে রোগ ছড়িয়ে পড়ল, ফলে বসে সালাত আদায়কারীর সংখ্যা বেড়ে গেল। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: «বসে থাকা ব্যক্তির সালাত দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তির সালাতের অর্ধেকের সমান»(৩)।

আনাস ইবনে মালিক (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মদিনায় আসলেন যখন সেটি ছিল জ্বর আক্রান্ত স্থান। ফলে মানুষ জ্বরে আক্রান্ত হলো। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মসজিদে প্রবেশ করলেন এবং দেখলেন মানুষ বসে সালাত আদায় করছে। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: «বসে থাকা ব্যক্তির সালাত দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তির সালাতের অর্ধেক। এরপর মানুষ কষ্ট করে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতে শুরু করল»(৫)।

বর্তমান সময়ে বিশ্বের অধিকাংশ দেশে করোনা মহামারি ছড়িয়ে পড়েছে এবং অন্যান্য শহরের মতো মদিনাতেও এই মহামারি প্রবেশ করেছে। এই মহামারিতে আক্রান্ত হয়ে মদিনায় অনেক সংক্রমণ ও মৃত্যু নথিভুক্ত করা হয়েছে, যদিও কিছু আলেম পূর্বে যেমন উল্লেখ করা হয়েছে যে, তাউন (মহামারি বিশেষ) মদিনায় প্রবেশ করবে না।

 

‌‌দ্বিতীয়ত: তাউন জিনের আঘাতজনিত কারণে হয়: এটি আবু মুসা (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন) থেকে বর্ণিত সহিহ হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «আমার উম্মতের ধ্বংস হবে তলোয়ারের আঘাত(৬) এবং তাউন (মহামারি) দ্বারা»। বলা হলো: হে আল্লাহর রাসূল, তলোয়ারের আঘাত তো আমরা জানি, কিন্তু তাউন কী? তিনি বললেন: «তোমাদের জিন শত্রুদের আঘাত(৭) এবং এর প্রত্যেকটিতে শাহাদাত রয়েছে»(৮)।

--------------------------------------------

(১) মুসলিম বর্ণনা করেছেন, হজ্জ অধ্যায়, মদিনায় বসবাসের প্রতি উৎসাহ দান এবং এর কষ্টের ওপর ধৈর্য ধারণ পরিচ্ছেদ, হাদিস নং (১৩৭৬), (২/১০০২)।

(২) মালিক মুয়াত্তায় বর্ণনা করেছেন, হাদিস নং (৪৫১), (২/১৮৮)।

(৩) তাবারানি আল-কাবিরে বর্ণনা করেছেন, হাদিস নং (১৪২৬১), (১২/৪২০)।

(৪) মুহিম্মাহ: অর্থাৎ জ্বরযুক্ত স্থান। বলা হয়: ভূমিটি 'আহমাতিল আরদু' অর্থাৎ তা জ্বরযুক্ত হয়েছে। দ্রষ্টব্য: আন-নিহায়াহ ফি গারিবিল হাদিস, (১/৪৪৬)।

(৫) আহমাদ তাঁর মুসনাদে বর্ণনা করেছেন, হাদিস নং (১২৩৯৫), (১৯/৩৮৭); আল-বাযযার তাঁর মুসনাদে, হাদিস নং (৬৩৫৩), (১৩/৪০); আবু ইয়ালা তাঁর মুসনাদে, হাদিস নং (৩৫৮৩), (৬/২৭৫); এবং আল-আরনাউত মুসনাদের টিকায় (১৯/৩৮৭) বলেছেন: হাদিসটি সহিহ।

(৬) আত্ব-ত্বা'ন: কোনো বস্তুকে বিদ্ধ করা যা তার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করে, যেমন বর্শার আঘাত। দ্রষ্টব্য: মাকায়িসুল লুগাহ, (৩/৪১৩)।

(৭) আল-ওয়াখয: এমন আঘাত যা ভেতরে প্রবেশ করে না। দ্রষ্টব্য: আন-নিহায়াহ ফি গারিবিল হাদিস, (৫/১৬৩)।

(৮) আহমাদ মুসনাদে বর্ণনা করেছেন, হাদিস নং (১৯৫২৮), (৩২/২৯৩); আল-বাযযার তাঁর মুসনাদে, হাদিস নং (২৯৮৬), (৮/১৬); আবু ইয়ালা তাঁর মুসনাদে, হাদিস নং (৭২২৬), (১৩/১৯৪); তাবারানি আল-আওসাতে, হাদিস নং (৩৪২২), (৩/৩৬৭); হাকেম আল-মুস্তাদরাকে, হাদিস নং (১৫৮), (১/১১৪)। হাকেম বলেছেন হাদিসটি মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী সহিহ, এবং যাহাবি তাঁর সাথে একমত হয়েছেন। আলবানী আস-সহিহাহ গ্রন্থে (৪/৫৬১) একে সহিহ বলেছেন।
(খণ্ড: ১) আত-তাওজীহাতুস সহীহাতু লিন-নাওয়াযিলিল আকিদিয়্যাতিল মুতাআল্লিক্বাতু বি-ওয়াবায়ি কুরূনা (পৃষ্ঠা: ১৭)
وعن عائشة رضي الله عنها قالت: «ذُكر الطاعون فذكرت أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: وخزة تصيب أمتي من أعدائهم من الجن: غدة كغدة الإبل. من أقام عليه كان مرابطاً، ومن أصيب به كان شهيداً، ومن فر منه كالفار من الزحف»(1).

قال ابن حجر رحمه الله: ووصف طعن الجن بأنه وخز؛ لأنه يقع من الباطن إلى الظاهر فيؤثر بالباطن أولاً، ثم يؤثر في الظاهر وقد لا ينفذ، وهذا بخلاف طعن الإنس فإنه يقع من الظاهر إلى الباطن فيؤثر في الظاهر أولاً، ثم يؤثر في الباطن وقد لا ينفذ(2).

وقال الزبيدي رحمه الله: والذي عليه المحققون من الفقهاء والمحدثين أنهما متباينان، فالوباء: وخم يغير الهواء فتكثر بسببه الأمراض في الناس، والطاعون هو الضرب الذي يصيب الإنحس من الجن، وأيدوه بما في الحديث أنه وخز أعدائكم من الجن(3).

وقد حاول بعض الباحثين تفسير الوخز تفسيراً طبياً وذكر بأن المقصود به طعن البراغيث وليس طعن الجن.

فقال: الطعن غير نافد هو طعن البراغيث(4) المستترة، ووخزها المقصودة بلفظ الجن: والواقع أن هذه البراغيث التي تطعن في جلد الإنسان أو الحيوان بفكيها الحادين تطعن طعناً نافذاً، ويسيل دم قليل لا يلاحظه المرء، ويتغذى عليه البرغوث، وفي أثناء ذلك يقيء ما في معدته المسدودة بميكروبات الطاعون التي تنساب من فيه إلى مكان الوخزة، ثم تنتقل عبر الأوعية اللمفاوية إلى الغدد اللمفاوية في المراق أو الإبط أو العنق حسب مكان الوخزة .. ، ولا شك أن هذه البراغيث التي تسبب الطاعون، وهي مما لا يلاحظه الإنسان بل تستتر عنه وتختفي بين الملابس ولا يكاد يراها إلا بعد مشقة البحث عنها، ويمكن أن نطلق عليها لفظ الجن؛ لأن الجن كل مختفي ومستتر، والخلاصة أن لفظ الجن الوارد في الطاعون والمعبر عنه بلفظ وخز الجن، ينبغي أن ينصرف إلى هذه المخلوقات الصغيرة المختفية التي لا تكاد ترى إلا بالبحث عنها، وهي البراغيث. فهي التي تخز، وهي التي تسبب الطاعون وتنقله … ولا علاقة

--------------------------------------------

(1) رواه أبو يعلى في مسنده، ح (4664)، (8/ 125)، وقال الألباني في صحيح الجامع، (2/ 731): حسن.

(2) فتح الباري، (10/ 182).

(3) تاج العروس، (1/ 478).

(4) البرغوث: نوع من الحشرات، من صغار الهوام من فصيلة البرغوثيات، عضوض شديد الوثب، يمتص دم الإنسان والحيوان وينقل إليه الأمراض الخبيثة. ينظر: معجم اللغة العربية المعاصرة، (1/ 191).
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: ‘প্লেগ রোগের কথা আলোচনা করা হলে আমি স্মরণ করলাম যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: এটি আমার উম্মতের ওপর তাদের শত্রু জিনের পক্ষ থেকে এক প্রকার হুল ফোটানো বা সূক্ষ্ম আঘাত, যা উটের গ্রন্থির মতো এক প্রকার গ্রন্থি। যে ব্যক্তি এতে ধৈর্য ধরে অবস্থান করবে সে সীমান্ত পাহারাদার বা মুজাহিদের সওয়াব পাবে, আর যে এতে আক্রান্ত হবে সে শহীদের মর্যাদা পাবে, আর যে ব্যক্তি এটি থেকে পলায়ন করবে সে রণক্ষেত্র থেকে পলায়নকারীর মতো গণ্য হবে।’(১).

ইবনে হাজার রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন: জিনের আঘাতকে 'ওয়খজ' (হুল ফোটানো) হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে; কারণ এটি শরীরের ভেতর থেকে বাইরের দিকে ঘটে, ফলে প্রথমে অভ্যন্তরীণ অংশে প্রভাব ফেলে এবং পরে বাহ্যিক অংশে প্রভাব পড়ে এবং কখনও কখনও তা বাইরে প্রকাশ পায় না। এটি মানুষের আঘাতের বিপরীত, কারণ মানুষের আঘাত বাইরে থেকে ভেতরে ঘটে, ফলে প্রথমে বাইরের অংশে প্রভাব ফেলে এবং পরে ভেতরে প্রভাব ফেলে এবং কখনও কখনও তা ভেতরে পৌঁছায় না।(২).

আজ-জাবিদী রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন: ফকীহ ও মুহাদ্দিসগণের মধ্যে যারা গবেষক, তাদের অভিমত হলো এই যে, মহামারি (ওয়াবা) ও প্লেগ (তাউন) দুটি ভিন্ন বিষয়। মহামারি হলো এমন দূষণ যা বাতাসকে পরিবর্তিত করে দেয়, যার ফলে মানুষের মধ্যে রোগব্যাধি বেড়ে যায়। আর প্লেগ হলো জিনের পক্ষ থেকে আসা সেই আঘাত যা মানুষকে আক্রান্ত করে; তারা এর সপক্ষে দলীল হিসেবে উক্ত হাদিসটি পেশ করেছেন যে, এটি তোমাদের শত্রু জিনের পক্ষ থেকে হুল ফোটানো।(৩).

কোনো কোনো গবেষক এই হুল ফোটানো বা আঘাতের একটি চিকিৎসা-বিজ্ঞানের আলোকে ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো পিশুর কামড়, জিনের আঘাত নয়।

তিনি বলেছেন: অপ্রকাশ্য আঘাত হলো লুক্কায়িত পিশুর কামড়, আর তাদের এই হুল ফোটানোকেই 'জিন' শব্দ দ্বারা বোঝানো হয়েছে। বাস্তবতা হলো, এই পিশুগুলো তাদের ধারালো চোয়াল দিয়ে মানুষ বা প্রাণীর চামড়ায় এমনভাবে কামড় দেয় যা চামড়া ভেদ করে ভেতরে যায় এবং সামান্য রক্ত নির্গত হয় যা মানুষ খেয়াল করে না। পিশু সেই রক্ত আহার করে এবং সেই সময়ে সে তার পাকস্থলী থেকে প্লেগের জীবাণু বমি করে বের করে দেয় যা তার মুখ থেকে কামড়ের স্থানে প্রবেশ করে। এরপর তা লসিকা নালীর মাধ্যমে তলপেট, বগল অথবা ঘাড়ের লসিকা গ্রন্থিতে পৌঁছে যায় কামড়ের স্থানের ওপর ভিত্তি করে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই পিশুগুলোই প্লেগের কারণ এবং এগুলো এমন যা মানুষ খেয়াল করতে পারে না, বরং এগুলো মানুষের অগোচরে থাকে এবং পোশাকের মধ্যে লুকিয়ে থাকে। অনেক খোঁজাখুঁজি ছাড়া এগুলো প্রায় দেখাই যায় না। তাই আমরা এগুলোর ওপর 'জিন' শব্দটি প্রয়োগ করতে পারি; কারণ 'জিন' শব্দের অর্থই হলো যা অদৃশ্য ও লুক্কায়িত। সারকথা হলো, প্লেগ সংক্রান্ত বর্ণনায় যে 'জিন' শব্দ এসেছে এবং যাকে 'জিনের হুল ফোটানো' বলা হয়েছে, তা এই ছোট অদৃশ্য সৃষ্টজীবের দিকেই প্রত্যাবর্তিত হওয়া উচিত যা খোঁজাখুঁজি ছাড়া দেখা যায় না, আর তা হলো পিশু। এগুলোই কামড়ায় এবং এগুলোই প্লেগ সৃষ্টি করে ও ছড়িয়ে দেয়... এবং এর কোনো সম্পর্ক নেই...

--------------------------------------------

(১) আবু ইয়ালা তাঁর মুসনাদে বর্ণনা করেছেন, হাদিস নম্বর (৪৬৬৪), (৮/১২৫) এবং আলবানী সহীহুল জামে’ গ্রন্থে (২/৭৩১) বলেছেন: হাসান।

(২) ফাতহুল বারী, (১০/১৮২)।

(৩) তাজুল আরূস, (১/৪৭৮)।

(৪) পিশু: এটি এক প্রকার কীট বা পোকা, যা ছোট পোকামাকড়ের অন্তর্ভুক্ত এবং ‘সিফোনাক্টেরা’ বর্গের প্রাণী। এটি কামড় দেয় এবং অত্যন্ত উচ্চ লম্ফপ্রদানকারী। এটি মানুষ ও পশুর রক্ত চুষে খায় এবং তাদের শরীরে ক্ষতিকর রোগ ছড়িয়ে দেয়। দ্রষ্টব্য: মু'জামুল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ আল-মুআসিরাহ, (১/১৯১)।
(খণ্ড: ১) আত-তাওজীহাতুস সহীহাতু লিন-নাওয়াযিলিল আকিদিয়্যাতিল মুতাআল্লিক্বাতু বি-ওয়াবায়ি কুরূনা (পৃষ্ঠা: ১৮)
للجن، - المخلوقات النارية - بموضوع الطاعون مطلقاً، وهو الذي ينبغي أن يصار إليه، وإلا فإن العلم يناقض القول بأن سبب الطاعون مخلوقات نارية تسمى الجن؛ فالعلم والطب واللغة كلها تؤيد ما ذهبنا أن لفظ الجن في أحاديث الطاعون المرتبط بالوخز يشير إلى إليه، وهو البراغيث المختفية المتوارية والتي تخز الجلد وخزاً، وتنقل ميكروبات الطاعون في إفرازاتها ورجيعها(1).

وقد رد العلماء قديماً وحديثاً على مثل هذه الدعاوي وفندوها، فقد قال العيني رحمه الله: فإن قلت إن لشارع أخبر بأن الطاعون من وخز الجن فبينه وبين ما ذكر من الأقوال في تفسير الطاعون منافاة ظاهراً، قلت: الحق ما قاله الشارع، والأطباء تكلموا في ذلك على ما اقتضته قواعدهم، وطعن الجن أمر لا يدرك بالعقل فلم يذكروه على أنه يحتمل أن تحدث هذه الأشياء فيمن يطعن عند وخز الجن، ومما يؤيد أن الطاعون من وخز الجن وقوعه غالبا في أعدل الفصول وفي أصح البلاد هواء وأطيبها ماء، ولو كان من فساد الهواء لعم الناس الذين يقع فيهم الطاعون ولطعنت الحيوانات أيضاً(2).

وقال ابن القيم رحمه الله: والرسل تخبر بالأمور الغائبة، وهذه الآثار التي أدركوها من أمر الطاعون ليس معهم ما ينفي أن تكون بتوسط الأرواح، فإن تأثير الأرواح في الطبيعة وأمراضها وهلاكها أمر لا ينكره إلا من هو أجهل الناس بالأرواح وتأثيراتها، وانفعال الأجسام وطبائعها عنها، والله سبحانه قد يجعل لهذه الأرواح تصرفاً في أجسام بني آدم عند حدوث الوباء، وفساد الهواء، كما يجعل لها تصرفاً عند بعض المواد الرديئة التي تحدث للنفوس هيئة رديئة، ولا سيما عند هيجان الدم، والمرة السوداء، وعند هيجان المني، فإن الأرواح الشيطانية تتمكن من فعلها بصاحب هذه العوارض ما لا تتمكن من غيره، ما لم يدفعها دافع أقوى من هذه الأسباب من الذكر، والدعاء، والابتهال والتضرع، والصدقة، وقراءة القرآن، فإنه يستنزل بذلك من الأرواح الملكية ما يقهر هذه الأرواح الخبيثة، ويبطل شرها ويدفع تأثيرها(3).

--------------------------------------------

(1) ينظر: مقدمة د. محمد علي البار لكتاب ما رواه الواعون في أخبار الطاعون للسيوطي، ص (46 - 47).

(2) عمدة القاري شرح صحيح البخاري، (21/ 257).

(3) الطب النبوي، ص (32).
জিনদের—অগ্নিময় সৃষ্টি—প্লেগের বিষয়ের সাথে একেবারেই সম্পৃক্ত করার ব্যাপারে, আর এটিই গ্রহণ করা উচিত। অন্যথায়, বিজ্ঞান এই কথার বিরোধিতা করে যে প্লেগের কারণ জিন নামক অগ্নিময় সৃষ্টি। প্রকৃতপক্ষে বিজ্ঞান, চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং ভাষা সবই আমাদের মতকে সমর্থন করে; আর তা হলো প্লেগ সংক্রান্ত হাদিসগুলোতে 'জিন' শব্দটি—যা দংশন বা ফোঁড়ানোর সাথে সংশ্লিষ্ট—সেই গোপন ও অদৃশ্যমান মাছি বা মাছিজাতীয় পতঙ্গকে (ফ্লী) নির্দেশ করে যা চামড়ায় হুল ফোটায় এবং তাদের নিঃসরণ ও বিষ্ঠার মাধ্যমে প্লেগের জীবাণু ছড়ায়(১).

প্রাচীন ও আধুনিক যুগের আলেমগণ এ ধরনের দাবির জবাব দিয়েছেন এবং তা খণ্ডন করেছেন। ইমাম আইনি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "যদি আপনি বলেন যে, শরিয়তপ্রণেতা সংবাদ দিয়েছেন যে প্লেগ জিনের ফোঁড়ানোর কারণে হয়, অথচ প্লেগের ব্যাখ্যায় ইতিপূর্বে যে সব বক্তব্য দেওয়া হয়েছে তার সাথে এর প্রকাশ্য বৈপরীত্য রয়েছে; তবে আমি বলব: সত্য তাই যা শরিয়তপ্রণেতা বলেছেন। আর চিকিৎসকরা তাদের নিজস্ব নিয়মনীতির ভিত্তিতে এ বিষয়ে কথা বলেছেন। জিনের আঘাত এমন একটি বিষয় যা আকল বা বুদ্ধি দ্বারা উপলব্ধি করা যায় না, তাই তারা এটি উল্লেখ করেননি। তবে সম্ভাবনা রয়েছে যে জিনের ফোঁড়ানোর ফলে আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে ওই বিষয়গুলো সৃষ্টি হয়। প্লেগ যে জিনের ফোঁড়ানোর কারণে হয় তার একটি প্রমাণ হলো—এটি সাধারণত সবচেয়ে নাতিশীতোষ্ণ ঋতুতে এবং নির্মল বাতাস ও সুপেয় পানির জনপদে প্রকাশ পায়। যদি এটি কেবল বাতাসের দূষণের কারণে হতো, তবে ওই এলাকার সকল মানুষ এতে আক্রান্ত হতো এবং পশুপ্রাণীরাও আক্রান্ত হতো"(২).

ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "রাসূলগণ অদৃশ্যের সংবাদ প্রদান করেন। প্লেগের ব্যাপারে তারা চিকিৎসকরা যেসব আলামত প্রত্যক্ষ করেছেন, তাতে এমন কোনো প্রমাণ নেই যা এই প্রভাব রূহ বা আত্মাসমূহের মাধ্যমে হওয়াকে নাকচ করে। প্রকৃতি, রোগব্যাধি এবং ধ্বংসের ক্ষেত্রে রূহ বা আত্মাসমূহের প্রভাব এমন একটি বিষয় যা কেবল রূহ ও তাদের প্রভাব এবং তাদের দ্বারা দেহের প্রভাবিত হওয়া সম্পর্কে অজ্ঞ ব্যক্তিরাই অস্বীকার করতে পারে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা মহামারি এবং বায়ুদূষণের সময় মানবদেহে এই রূহগুলোর ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারেন, যেমনটি তিনি কিছু মন্দ উপাদানের ক্ষেত্রে করেন যা আত্মার ওপর অশুভ প্রভাব ফেলে; বিশেষ করে রক্তচাপ বৃদ্ধি, কৃষ্ণপিত্তের আধিক্য এবং বীর্যের উত্তেজনার সময়। কেননা শয়তানি রূহগুলো এই উপসর্গগুলোতে আক্রান্ত ব্যক্তির ওপর যতটা প্রভাব বিস্তার করতে পারে, অন্যদের ওপর ততটা পারে না। তবে যদি জিকির, দোয়া, মিনতি, ক্রন্দন, দান-সদকা এবং কুরআন তিলাওয়াতের মতো শক্তিশালী কোনো প্রতিরোধের মাধ্যমে তা প্রতিহত করা না হয়। কারণ এর মাধ্যমে ফিরিশতাসুলভ রূহগুলো অবতীর্ণ হয় যা এই খবিশ রূহগুলোকে পরাস্ত করে, তাদের অনিষ্ট বাতিল করে দেয় এবং তাদের প্রভাব দূর করে"(৩).

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: সুয়ূতী রচিত ‘মা রাওয়াহুল ওয়াউনা ফী আখবারিত তউন’ গ্রন্থের ড. মুহাম্মদ আলী আল-বারের ভূমিকা, পৃষ্ঠা (৪৬ - ৪৭)।

(২) উমদাতুল কারী শারহু সহীহিল বুখারী, (২১/ ২৫৭)।

(৩) আত-তিব্বুন নববী, পৃষ্ঠা (৩২)।
(খণ্ড: ১) আত-তাওজীহাতুস সহীহাতু লিন-নাওয়াযিলিল আকিদিয়্যাতিল মুতাআল্লিক্বাতু বি-ওয়াবায়ি কুরূনা (পৃষ্ঠা: ১৯)
وقال ابن حجر رحمه الله: كونه من طعن الجن ولا يخالف ذلك ما قال الأطباء من كون الطاعون ينشأ عن هيجان الدم أو انصبابه؛ لأنه يجوز أن يكون ذلك يحدث عن الطعنة الباطنة فتحدث منها المادة السمية ويهيج الدم بسببها أو ينصب، وإنما لم يتعرض الأطباء لكونه من طعن الجن؛ لأنه أمر لا يدرك بالعقل وإنما يعرف من الشارع، فتكلموا في ذلك على ما اقتضته قواعدهم(1).

 

‌‌ثالثاً: من أوجه الاختلاف بين الطاعون والوباء ما ذكره أهل العلم والطب الحديث بأن هناك فرق بين منشأ الطاعون وتكوينه وبين منشأ الأوبئة وتكوينها ومنها وباء كورونا؛ فالطاعون منشؤه هو البكتيريا(2)، بينما الأوبئة قد يكون منشؤها البكتيريا أو الفيروسات(3).

وقد عرف أهل الطب الحديث الطاعون بأنه مرض يصيب البشر والثدييات وتسببه بكتيريا تسمى يرسينيا بيستيس، وعادة ما يصاب البشر بالطاعون بعد أن يلدغهم برغوث قارض يحمل بكتيريا الطاعون، أو عن طريق التعامل مع حيوان مصاب بالطاعون(4).

وقد يصاب بعض الأفراد بالطاعون الرئوي عن طريق استنشاق الهواء الملوث بميكروب الطاعون(5).

أما وباء كورونا فهو عبارة فيروس من فصيلة فيروسات كورونا الجديد؛ حيث ظهرت أغلب حالات الإصابة به في مدينة ووهان (WHAN) الصينية نهاية ديسمبر (2019 م) على صورة التهاب رئوي حاد، ويُعتقد أن فيروس كورونا الجديد مرتبط بالحيوان؛ حيث إن أغلب الحالات الأولية كان لها ارتباط بسوق للبحريات والحيوانات في مدينة ووهان (WHAN)،

--------------------------------------------

(1) فتح الباري، (10/ 181).

(2) البكتيريا: كائنات مجهرية ذات خلية واحدة، شكلها مستطيل كالعصية أو مكور أو لولبي، تعيش في جميع أجواء البيئة من ماء وتربة وهواء ومواد عضوية حية وغير حية، وتتكاثر بالانقسام إلى شطرين: جرثومة، وميكروب. بعضها مفيد، والبعض الآخر ضار. ينظر: معجم اللغة العربية المعاصرة، (1/ 234).

(3) الفيروس: عبارة عن جزيئات معدية وليست خلايا، وتتألف من مواد وراثية محاطة بغشاء واق من البروتينات ولا تمتلك أجهزة خلوية؛ لتوليد الطاقة وإنتاج البروتينات أو للتكاثر، وهي ليست كائنات حية، ولا يمكن القضاء عليها بواسطة المضادات الحيوية. ينظر: موقع دي دبليو الطبي https:// www.dw.com/ ar

(4) ينظر: موقع سي دي سي الطبي https:// www.cdc.gov/ plague

(5) ينظر: مقدمة د. محمد علي البار لكتاب ما رواه الواعون في أخبار الطاعون للسيوطي، ص (32 - 35).
ইবনু হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: এটি (প্লেগ) জিনের আঘাতের কারণে হওয়া—চিকিৎসকরা প্লেগ রক্তের উত্তেজনা বা নিঃসরণের ফলে সৃষ্টি হওয়ার যে কথা বলেছেন, তার সাথে সাংঘর্ষিক নয়; কারণ এটি সম্ভব যে, অভ্যন্তরীণ আঘাতের ফলেই এমনটি ঘটে, যার ফলে বিষাক্ত উপাদানের সৃষ্টি হয় এবং এর কারণে রক্ত উত্তেজিত বা নিঃসৃত হয়। চিকিৎসকরা এটি জিনের আঘাতের কারণে হওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেননি কারণ এটি এমন বিষয় যা আকল বা বুদ্ধির মাধ্যমে উপলব্ধি করা যায় না, বরং তা কেবল শরয়ি ওহির মাধ্যমেই জানা সম্ভব। ফলে তারা তাদের মূলনীতি অনুযায়ী এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন(১).

 

‌‌তৃতীয়ত: প্লেগ ও মহামারির (ওয়াবা) মধ্যকার পার্থক্যের একটি দিক হলো যা আলেমগণ ও আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান উল্লেখ করেছেন যে, প্লেগের উৎস ও গঠন এবং অন্যান্য মহামারি—যার মধ্যে করোনা মহামারিও অন্তর্ভুক্ত—এর উৎস ও গঠনের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে; প্লেগের উৎস হলো ব্যাকটেরিয়া(২), পক্ষান্তরে মহামারির উৎস ব্যাকটেরিয়া অথবা ভাইরাস হতে পারে(৩)।

আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানিগণ প্লেগকে এমন একটি রোগ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছেন যা মানুষ ও স্তন্যপায়ী প্রাণীদের আক্রান্ত করে এবং এটি 'ইয়ারসিনিয়া পেস্টিস' নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়। সাধারণত মানুষ প্লেগে আক্রান্ত হয় প্লেগ ব্যাকটেরিয়া বহনকারী ইঁদুর জাতীয় প্রাণীর গায়ের মাছির কামড়ের মাধ্যমে, অথবা প্লেগাক্রান্ত পশুর সংস্পর্শে আসার মাধ্যমে(৪)।

কোনো কোনো ব্যক্তি প্লেগ জীবাণু দ্বারা দূষিত বাতাস প্রশ্বাসের সাথে গ্রহণের মাধ্যমেও ফুসফুসীয় প্লেগে আক্রান্ত হতে পারে(৫)।

আর করোনা মহামারি হলো নোভেল করোনাভাইরাস পরিবারের একটি ভাইরাস; ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের শেষের দিকে চীনের উহান (WUHAN) শহরে এর অধিকাংশ সংক্রমণের ঘটনা তীব্র নিউমোনিয়া হিসেবে প্রকাশ পায়। ধারণা করা হয় যে, নোভেল করোনাভাইরাস প্রাণীর সাথে সম্পর্কিত; কারণ শুরুর দিকের অধিকাংশ সংক্রমণের ঘটনার সাথে উহান (WUHAN) শহরের সামুদ্রিক খাবার ও প্রাণীর বাজারের সংশ্লিষ্টতা ছিল।

--------------------------------------------

(১) ফাতহুল বারি, (১০/ ১৮১)।

(২) ব্যাকটেরিয়া: এককোষী অণুবীক্ষণিক জীব, এর আকৃতি দণ্ডাকার, গোলাকার বা সর্পিলাকার। এটি পানি, মাটি, বায়ু এবং জীবিত ও মৃত জৈব উপাদানসহ পরিবেশের সকল অবস্থায় বেঁচে থাকে। এটি দ্বিখণ্ডিত হওয়ার মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে: জীবাণু এবং অণুজীব। এর কিছু উপকারী এবং অন্যগুলো ক্ষতিকর। দেখুন: মুজামুল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ আল-মুআসিরাহ, (১/ ২৩৪)।

(৩) ভাইরাস: এগুলো সংক্রামক কণা, কোনো কোষ নয়। এগুলো প্রোটিনের প্রতিরক্ষামূলক আবরণে ঘেরা বংশগতীয় বস্তু দ্বারা গঠিত। শক্তি উৎপাদন, প্রোটিন তৈরি বা বংশবৃদ্ধির জন্য এদের কোনো কোষীয় অঙ্গাণু নেই। এগুলো জীবন্ত সত্তা নয় এবং অ্যান্টিবায়োটিক দ্বারা এদের নির্মূল করা সম্ভব নয়। দেখুন: ডিডব্লিউ (DW) মেডিকেল সাইট https:// www.dw.com/ ar

(৪) দেখুন: সিডিসি (CDC) মেডিকেল সাইট https:// www.cdc.gov/ plague

(৫) দেখুন: সুয়ূতি রচিত 'মা রাওয়াহুল ওয়াউনা ফি আখবারিত তউন' গ্রন্থের ড. মুহাম্মদ আলী আল-বারের ভূমিকা, পৃ. (৩২ - ৩৫)।
(খণ্ড: ১) আত-তাওজীহাতুস সহীহাতু লিন-নাওয়াযিলিল আকিদিয়্যাতিল মুতাআল্লিক্বাতু বি-ওয়াবায়ি কুরূনা (পৃষ্ঠা: ২০)
وينتقل الفيروس بين البشر من الشخص المصاب بالعدوى إلى شخص آخر عن طريق المخالطة القريبة دون حماية(1).

وبذلك يتضح فيما مضى من أن هناك فرق بين الطاعون والوباء ودليل ذلك من جهة دخوله المدينة ومن جهة سببه ومن جهة الفرق بين منشأه وتكوينه.

--------------------------------------------

(1) ينظر: موقع وزارة الصحة السعودي https:// www.moh.gov.sa/ HealthAwareness/ EducationalContent/ PublicHealth/ Pages/ corona.aspx
মানুষের মধ্যে ভাইরাস সংক্রমিত ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির নিকট সুরক্ষা ব্যতিরেকে ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শের মাধ্যমে স্থানান্তরিত হয়(১).

এর মাধ্যমে ইতিপূর্বে বর্ণিত আলোচনা থেকে এটি স্পষ্ট হয় যে, 'তাউন' (প্লেগ) এবং 'ওয়াবা' (মহামারী)-র মধ্যে পার্থক্য বিদ্যমান। এর প্রমাণ হলো মদিনায় এর প্রবেশের দিক বিবেচনা করে, এর কারণের দিক থেকে এবং এর উৎস ও গঠনের পার্থক্যের দিক থেকে।

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট https:// www.moh.gov.sa/ HealthAwareness/ EducationalContent/ PublicHealth/ Pages/ corona.aspx
(খণ্ড: ১) আত-তাওজীহাতুস সহীহাতু লিন-নাওয়াযিলিল আকিদিয়্যাতিল মুতাআল্লিক্বাতু বি-ওয়াবায়ি কুরূনা (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌النازلة الأولى: المخالفات العقدية في القبور والأماكن؛ للتداوي من وباء كورونا.

من المعتقدات الشركية والمخالفات العقدية التي حدثت مع حلول وباء كورونا: هو الاعتقاد أن زيارة قبور الأولياء والصالحين تمنع الإصابة بالوباء، وأن التمسح بالمراقد والمزارات سبب الشفاء من الأمراض والأوبئة، وأنها تدفع البلاء.

فمع وباء كورونا بادر بعض المخالفين إلى اقحام هذا الوباء ضمن الإنشاد الديني عندهم، ففي محافظة سوهاج بمصر ارتجل أحدهم خلال تواجده بمولد الصحابي عمار بن ياسر رضي الله عنه، وكان من ضمن ما قاله عن فضل آل البيت: هم شفاء .. ، هم الأطباء من أي كورونا .. ، أتينا رحابك يا شيخ الرجال في ساحة جرجا شدينا الرحال.

وختم برسالة إلى أتباعه ومريدية، فقال: يا مريد لا تخاف من أي كورونا(1).

وفي العراق أصدر أحد مراجع الشيعة وهو قاسم الطائي فتوى دعا فيها إلى الاستمرار بزيارة الأماكن الدينية وإقامة صلوات الجماعة والجمعة، وفي رد على استفسار أرسل إليه من قبل أحد اتباعه بشأن غلق بعض المراقد؛ تحسبا من انتشار فايروس كورونا. فقال: إن الفيروس لا يصيب المؤمنين(2).

كما أبدى رجل الدين الشيعي علي الكوراني غضبه من إغلاق السلطات حرم أمير المؤمنين علي بن أبي طالب رضي الله عنه من أجل تعقيمه كإجراء احترازي؛ للوقاية من فيروس كورونا.

وجاء ذلك في تسجيل مصور له تداولته وسائل التواصل الاجتماعي، وقال الكوراني غاضباً: من الأمور التي لا ينقضي تعجبي منها أن حرم أمير المؤمنين رضي الله عنه قد أغلقوا قسماً منه حتى يعقمونه من ميكروب كورونا، وأضاف: الذي مصاب بكورونا يأتي يتمسح بالحرم وسيطيب(3).

--------------------------------------------

(1) ينظر: بوابة الوفد https:// rosaelyoussef.com utm_campaign=nabdapp.com&utm_medium=referral&utm_source=nabdapp.com&ocid=Nabd_App

(2) ينظر: موقع قناة الحرة الإخباري https:// www.alhurra.com/ iraq/

(3) ينظر: موقع أورينت نيوز الإخباري https:// orient-news.net/ ar/ news_show
প্রথম দুর্যোগ: কবর ও স্থানসমূহের ক্ষেত্রে আকিদাগত লঙ্ঘন; করোনা মহামারি থেকে আরোগ্য লাভের উদ্দেশ্যে।

করোনা মহামারির আগমনের সাথে সাথে যেসব শিরকি বিশ্বাস ও আকিদাগত বিচ্যুতি প্রকাশ পেয়েছে তার মধ্যে রয়েছে: এই বিশ্বাস পোষণ করা যে, ওলি এবং নেককার ব্যক্তিদের কবর জিয়ারত মহামারি থেকে রক্ষা করে এবং মাজার ও সমাধিগুলো স্পর্শ করা বা মোছা রোগ ও মহামারি থেকে আরোগ্যের কারণ এবং তা বিপদ দূর করে।

করোনা মহামারির প্রাদুর্ভাবের সাথে সাথে কিছু বিচ্যুত লোক এই মহামারিকে তাদের ধর্মীয় সংগীতের অন্তর্ভুক্ত করতে তৎপর হয়। মিসরের সোহাগ প্রদেশে সাহাবী আম্মার বিন ইয়াসির (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর জন্মোৎসব চলাকালীন এক ব্যক্তি তাৎক্ষণিকভাবে কিছু পঙ্‌ক্তি পাঠ করেন। আহলে বাইতের ফযিলত সম্পর্কে তার বক্তব্যের একাংশ ছিল: "তাঁরাই আরোগ্য... তাঁরাই যেকোনো করোনার চিকিৎসক... হে পুরুষদের শায়খ, আমরা আপনার আঙিনায় এসেছি, গিরজা চত্বরে আমরা আমাদের সফরের সরঞ্জাম বেঁধেছি।"

এবং তিনি তার অনুসারী ও মুরিদদের প্রতি এক বার্তার মাধ্যমে বক্তব্য শেষ করেন, যেখানে তিনি বলেন: "হে মুরিদ, কোনো করোনাকে ভয় করো না।"(১)

ইরাকে শিয়াদের অন্যতম মারজা কাসেম আত-তাঈ একটি ফতোয়া জারি করেন, যেখানে তিনি ধর্মীয় স্থানগুলো জিয়ারত করা এবং জামাতে সালাত ও জুমা কায়েম রাখা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে কিছু মাজার বন্ধ করে দেওয়া সম্পর্কে তার এক অনুসারীর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই এই ভাইরাস মুমিনদের আক্রান্ত করে না।"(২)

অনুরূপভাবে শিয়া ধর্মগুরু আলি আল-কুরানি কর্র্তৃপক্ষ কর্তৃক আমিরুল মুমিনীন আলি বিন আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর রওজা (হারাম) জীবাণুমুক্ত করার জন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বন্ধ করে দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এটি তার একটি ভিডিও রেকর্ডিংয়ে উঠে এসেছে যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। আল-কুরানি রাগান্বিত হয়ে বলেন: "যেসব বিষয়ে আমার বিস্ময় শেষ হয় না তার মধ্যে একটি হলো— আমিরুল মুমিনীন (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর রওজার একাংশ তারা বন্ধ করে দিয়েছে যাতে তারা এটিকে করোনার জীবাণু থেকে মুক্ত করতে পারে।" তিনি আরও যোগ করেন: "যে ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত, সে রওজায় এসে তা স্পর্শ করলে সুস্থ হয়ে যাবে।"(৩)

--------------------------------------------

(১) দেখুন: বাওয়াবাতুল ওয়াফদ https:// rosaelyoussef.com utm_campaign=nabdapp.com&utm_medium=referral&utm_source=nabdapp.com&ocid=Nabd_App

(২) দেখুন: আল-হুররা নিউজ চ্যানেল ওয়েবসাইট https:// www.alhurra.com/ iraq/

(৩) দেখুন: ওরিয়েন্ট নিউজ ওয়েবসাইট https:// orient-news.net/ ar/ news_show
(খণ্ড: ১) আত-তাওজীহাতুস সহীহাতু লিন-নাওয়াযিলিল আকিদিয়্যাতিল মুতাআল্লিক্বাতু বি-ওয়াবায়ি কুরূনা (পৃষ্ঠা: ২২)
التوجيه العقدي الصحيح لهذه النازلة كالآتي:

أولاً: جاءت الآيات الدالة على تحريم دعاء الأموات أو الاستغاثة بهم عند قبورهم؛ لطلب الشفاعة، أو طلب الشفاء من المرض، أو لرفع البلاء، أو لغير ذلك من الحاجات، وقد نصت الآيات على تحريم هذا العمل؛ لأن هذه الأمور من العبادة، والعبادة كلها لله وحده، كما قال سبحانه: {وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ حُنَفَاءَ} [البينة: 5]، وقال تعالى: {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ (56)} [الذاريات: 56]، وقال سبحانه: {وَأَنَّ الْمَسَاجِدَ لِلَّهِ فَلَا تَدْعُو مَعَ اللَّهِ أَحَدًا (18)} [الجن: 19] وقال عز وجل: {فَادْعُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ وَلَوْ كَرِهَ الْكَافِرُونَ (14)} [غافر: 14] وقال سبحانه: {قُلْ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ (162) لَا شَرِيكَ لَهُ وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا أَوَّلُ الْمُسْلِمِينَ (163)} [الأنعام: 162 - 163]، والآيات في هذا المعنى كثيرة.

يقول الشيخ عبدالرحمن بن حسن رحمه الله: وفي هذا من الحجج والبراهين ما يبين بطلان ما يعتقده عباد القبور في الأولياء والصالحين. بل في الطواغيت من أنهم ينفعون من دعاهم، ويمنعون من لاذ بحماهم. فسبحان من حال بينهم وبين فهم الكتاب؛ وذلك عدله سبحانه، وهو الذي يحول بين المرء وقلبه، وبه الحول والقوة(1).

ثانياً: أن الله حذر من صرف شيء من العبادة للمخلوقين؛ لأنهم لا يملكون لأنفسهم ضراً ولا نفعاً، ولو كانوا يملكون شيئاً لأنفسهم لما ماتوا، وما مرضوا، فإذا كانوا لا يملكون ذلك لأنفسهم فكيف يملكونه لغيرهم!!

ومن الآيات الدالة على ذلك قوله تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ تَدْعُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ عِبَادٌ أَمْثَالُكُمْ فَادْعُوهُمْ فَلْيَسْتَجِيبُوا لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ (194)} [الأعراف: 194]، وقال سبحانه: {وَالَّذِينَ تَدْعُونَ مِنْ دُونِهِ لَا يَسْتَطِيعُونَ نَصْرَكُمْ وَلَا أَنْفُسَهُمْ يَنْصُرُونَ (197)} [الأعراف: 197]، وقال تعالى: {قُلِ ادْعُوا الَّذِينَ زَعَمْتُمْ مِنْ دُونِهِ فَلَا يَمْلِكُونَ كَشْفَ الضُّرِّ عَنْكُمْ وَلَا تَحْوِيلًا (56)} [الإسراء: 56]، وقال عز وجل: {قُلِ ادْعُوا الَّذِينَ زَعَمْتُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ لَا

--------------------------------------------

(1) فتح المجيد، ص (188).
এই উদ্ভূত পরিস্থিতির সঠিক আকিদাগত নির্দেশনা নিম্নরূপ:

প্রথমত: মৃত ব্যক্তিদের নিকট দোয়া করা বা তাদের কবরের পাশে তাদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা হারাম হওয়ার ব্যাপারে আয়াতসমূহ এসেছে; চাই তা সুপারিশ কামনায় হোক, বা রোগ থেকে মুক্তি কামনায়, কিংবা বিপদ দূর করার জন্য অথবা অন্য কোনো প্রয়োজনে। আয়াতসমূহ এই কাজের হারাম হওয়ার ব্যাপারে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছে; কারণ এই বিষয়গুলো ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত, আর সকল ইবাদত একমাত্র আল্লাহর জন্য। যেমন মহান আল্লাহ বলেন: “তাদেরকে এছাড়া আর কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি যে, তারা খাঁটি মনে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ইবাদত করবে।” [আল-বায়্যিনাহ: ৫], তিনি আরও বলেন: “আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছি।” [আদ-যারিয়াত: ৫৬], মহান আল্লাহ আরও বলেন: “আর মসজিদসমূহ আল্লাহরই জন্য, সুতরাং তোমরা আল্লাহর সাথে আর কাউকে ডেকো না।” [আল-জিন: ১৮], মহামহিম আল্লাহ বলেন: “অতএব তোমরা আল্লাহকে ডাকো তাঁর আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে, যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে।” [গাফির: ১৪], মহান আল্লাহ আরও বলেন: “বলো, নিশ্চয়ই আমার সালাত, আমার কুরবানি, আমার জীবন ও আমার মরণ সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহরই জন্য। তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি এরই জন্য আদিষ্ট হয়েছি আর আমিই প্রথম মুসলিম।” [আল-আনআম: ১৬২ - ১৬৩], আর এই মর্মে আয়াত অনেক রয়েছে।

শায়খ আবদুর রহমান বিন হাসান (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: “এর মধ্যে এমন সব প্রমাণ ও নিদর্শন রয়েছে যা কবরপূজারীরা অলি-আউলিয়া ও নেককার ব্যক্তিদের ব্যাপারে যে বিশ্বাস পোষণ করে তার অসারতা বর্ণনা করে। বরং তারা সেইসব তাগুতদের ব্যাপারেও যা বিশ্বাস করে যে, তারা তাদের আহ্বানকারীদের উপকার করতে পারে এবং যারা তাদের আশ্রয় প্রার্থনা করে তাদের রক্ষা করতে পারে। সেই সত্তা অতি পবিত্র যিনি তাদের এবং কিতাব বোঝার মাঝে অন্তরায় সৃষ্টি করেছেন; আর এটি মহান আল্লাহর ইনসাফ। তিনিই সেই সত্তা যিনি মানুষ ও তার অন্তরের মাঝে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ান, আর সকল পরিবর্তন ও শক্তি কেবল তাঁরই।”(১)।

দ্বিতীয়ত: আল্লাহ তাআলা মাখলুক বা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ইবাদতের কোনো অংশ নিবেদন করার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন; কারণ তারা নিজেদের জন্য কোনো অপকার বা উপকারের মালিক নয়। তারা যদি নিজেদের জন্য কোনো কিছুর মালিক হতো তবে তারা মারা যেত না এবং অসুস্থ হতো না। সুতরাং তারা যখন নিজেদের জন্যই এগুলোর মালিক নয়, তখন তারা অন্যের জন্য কীভাবে এগুলোর মালিক হবে!!

এই বিষয়ে প্রমাণস্বরূপ আল্লাহ তাআলার বাণী: “নিশ্চয়ই তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের ডাকো, তারা তোমাদের মতোই বান্দা। অতএব তোমরা তাদের ডাকো, তারা যেন তোমাদের ডাকে সাড়া দেয় যদি তোমরা সত্যবাদী হও।” [আল-আরাফ: ১৯৪], মহান আল্লাহ আরও বলেন: “আর তোমরা তাঁকে ছাড়া যাদের ডাকো, তারা তোমাদের সাহায্য করার সামর্থ্য রাখে না এবং তারা নিজেদেরও সাহায্য করতে পারে না।” [আল-আরাফ: ১৯৭], তিনি আরও বলেন: “বলো, তোমরা তাঁকে ছাড়া যাদের (ইলাহ) মনে করো তাদের ডাকো; তখন দেখবে যে, তারা তোমাদের থেকে কষ্ট দূর করার বা তা পরিবর্তন করার কোনো ক্ষমতা রাখে না।” [আল-ইসরা: ৫৬], মহামহিম আল্লাহ বলেন: “বলো, তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের (ইলাহ) মনে করো তাদের ডাকো, তারা...

--------------------------------------------

(১) ফাতহুল মাজিদ, পৃষ্ঠা (১৮৮)।
(খণ্ড: ১) আত-তাওজীহাতুস সহীহাতু লিন-নাওয়াযিলিল আকিদিয়্যাতিল মুতাআল্লিক্বাতু বি-ওয়াবায়ি কুরূনা (পৃষ্ঠা: ২৩)
يَمْلِكُونَ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ فِي السَّمَاوَاتِ وَلَا فِي الْأَرْضِ وَمَا لَهُمْ فِيهِمَا مِنْ شِرْكٍ وَمَا لَهُ مِنْهُمْ مِنْ ظَهِيرٍ (22)} [سبأ: 22]، وقال سبحانه: {ذَلِكُمُ اللَّهُ رَبُّكُمْ لَهُ الْمُلْكُ وَالَّذِينَ تَدْعُونَ مِنْ دُونِهِ مَا يَمْلِكُونَ مِنْ قِطْمِيرٍ (13) إِنْ تَدْعُوهُمْ لَا يَسْمَعُوا دُعَاءَكُمْ وَلَوْ سَمِعُوا مَا اسْتَجَابُوا لَكُمْ وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ يَكْفُرُونَ بِشِرْكِكُمْ وَلَا يُنَبِّئُكَ مِثْلُ خَبِيرٍ (14)} [فاطر: 13].

ثالثاً: أن النبي صلى الله عليه وسلم حذر من اتخاذ القبور وسيلة للشرك وصرف العبادة لغير الله، فعن معاذ رضي الله عنه قال: كنت ردف النبي صلى الله عليه وسلم على حمار يقال له عُفير، فقال: «يا معاذ، هل تدري حق الله على عباده، وما حق العباد على الله؟»، قلت: الله ورسوله أعلم، قال: «فإن حق الله على العباد أن يعبدوه ولا يشركوا به شيئا، وحق العباد على الله أن لا يعذب من لا يشرك به شيئا(1)».

وعن عائشة رضي الله عنها قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم في مرضه الذي لم يقم منه: «لعن الله اليهود والنصارى اتخذوا قبور أنبيائهم مساجد» قالت: «فلولا ذاك أبرز قبره؛ غير أنه خشي أن يتخذ مسجداً(2)».

وعن عمر رضي الله عنه قال: سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول: «لا تطروني(3)، كما أطرت النصارى ابن مريم، فإنما أنا عبده، فقولوا عبد الله، ورسوله(4)».

يقول ابن تيمية رحمه الله: فحرم صلى الله عليه وسلم أن تتخذ قبورهم مساجد بقصد الصلوات فيها كما تقصد المساجد، وإن كان القاصد لذلك إنما يقصد عبادة الله وحده؛ لأن ذلك ذريعة، إلا أن

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري في كتاب الجهاد والسير، باب اسم الفرس والحمار، ح (2856)، (4/ 29)، ومسلم في كتاب الإيمان، باب من لقي الله بالإيمان وهو غير شاك فيه دخل الجنة وحرم على النار، ح (30)، (1/ 58).

(2) رواه البخاري في كتاب الجنائز، باب ما يكره من اتخاذ المساجد على القبور، ح (1330)، (2/ 88)، ومسلم في كتاب المساجد ومواضع الصلاة، باب النهي عن بناء المساجد، على القبور واتخاذ الصور فيها والنهي عن اتخاذ القبور مساجد، ح (529)، (1/ 376).

(3) الإطراء: مجاوزة الحد في المدح، والكذب فيه، وقيل: أطرى فلان فلانا إذا مدحه بما ليس فيه؛ وذلك أنهم مدحوه بما ليس فيه فقالوا: هو ثالث ثلاثة وإنه ابن الله وما أشبهه من شركهم وكفرهم. ينظر: النهاية في غريب الحديث والأثر، ابن الأثير، (3/ 123)، وتهذيب اللغة، الأزهري، (14/ 8).

(4) رواه البخاري في كتاب أحاديث الأنبياء، باب قول الله {وَاذْكُرْ فِي الْكِتَابِ مَرْيَمَ إِذِ انْتَبَذَتْ مِنْ أَهْلِهَا} [مريم: 16]، ح (3445)، (4/ 167).
তারা আসমানসমূহে এবং জমিনে অণু পরিমাণ কোনোকছুর মালিক নয় এবং এ দুটিতে তাদের কোনো অংশীদারিত্ব নেই, আর তাদের মধ্য থেকে তাঁর কোনো সাহায্যকারীও নেই [সাবা: ২২]। এবং তিনি সুবহানাহু বলেছেন: তিনিই আল্লাহ, তোমাদের রব; সার্বভৌমত্ব কেবল তাঁরই। আর তোমরা তাঁকে বাদ দিয়ে যাদেরকে ডাকো, তারা তো খেজুরের আঁটির পাতলা আবরণেরও মালিক নয়। তোমরা তাদের ডাকলে তারা তোমাদের ডাক শুনবে না, আর যদি শুনত তবে তোমাদের ডাকে সাড়া দিত না। আর কিয়ামতের দিন তারা তোমাদের শিরক অস্বীকার করবে। আর সর্বজ্ঞ আল্লাহর মতো কেউ তোমাকে খবর দিবে না [ফাতির: ১৩-১৪]।

তৃতীয়ত: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবরকে শিরকের মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করা এবং আল্লাহ ব্যতীত অন্যের ইবাদত করার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। মুআয রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পেছনে উফায়র নামক একটি গাধার ওপর সওয়ার ছিলাম। তখন তিনি বললেন: «হে মুআয! তুমি কি জানো বান্দার ওপর আল্লাহর হক কী এবং আল্লাহর ওপর বান্দার হক কী?» আমি বললাম: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তিনি বললেন: «বান্দার ওপর আল্লাহর হক হলো তারা কেবল তাঁরই ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কোনো কিছু শরিক করবে না। আর আল্লাহর ওপর বান্দার হক হলো যে ব্যক্তি তাঁর সাথে কোনো কিছু শরিক করবে না, তাকে তিনি শাস্তি দেবেন না(১)»।

আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর যে অসুস্থতায় আর সুস্থ হয়ে ওঠেননি তাতে বলেছেন: «আল্লাহ ইহুদি ও নাসারাদের ওপর লানত বর্ষণ করুন, তারা তাদের নবীদের কবরগুলোকে মাসজিদে পরিণত করেছে»। আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা বলেন: «যদি এই আশঙ্কা না থাকত তবে তাঁর কবরকে উন্মুক্ত রাখা হতো; কিন্তু তিনি আশঙ্কা করেছিলেন যে সেটিকে মাসজিদ হিসেবে গ্রহণ করা হতে পারে(২)»।

উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: «তোমরা আমার অতি প্রশংসা(৩) করো না যেভাবে নাসারারা ইবনে মারইয়ামের অতি প্রশংসা করেছে। আমি তো কেবল তাঁর বান্দা, সুতরাং তোমরা বলো—আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল(৪)»।

ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ বলেন: সুতরাং তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের কবরসমূহকে সালাতের উদ্দেশ্যে মাসজিদ হিসেবে গ্রহণ করা হারাম করেছেন যেমনিভাবে মাসজিদসমূহকে ইবাদতের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়; যদিও সেই ব্যক্তির উদ্দেশ্য কেবল আল্লাহর ইবাদত করাই হয়ে থাকে। কারণ এটি একটি মাধ্যম, তবে

--------------------------------------------

(১) বুখারি কর্তৃক জিহাদ ও সিয়ার কিতাবে বর্ণিত, ঘোড়া ও গাধার নাম পরিচ্ছেদ, হা (২৮৫৬), (৪/২৯); এবং মুসলিম কর্তৃক ঈমান কিতাবে বর্ণিত, যে ব্যক্তি সংশয়হীনভাবে ঈমান নিয়ে আল্লাহর সাথে সাক্ষাত করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তার ওপর জাহান্নাম হারাম হয়ে যাবে পরিচ্ছেদ, হা (৩০), (১/৫৮)।

(২) বুখারি কর্তৃক জানাজা কিতাবে বর্ণিত, কবরের ওপর মাসজিদ তৈরি করা মাকরূহ হওয়া পরিচ্ছেদ, হা (১৩৩০), (২/৮৮); এবং মুসলিম কর্তৃক মাসজিদ ও সালাতের স্থান কিতাবে বর্ণিত, মাসজিদ নির্মাণ ও তাতে ছবি রাখার নিষেধাজ্ঞা এবং কবরকে মাসজিদ হিসেবে গ্রহণ করার নিষেধাজ্ঞা পরিচ্ছেদ, হা (৫২৯), (১/৩৭৬)।

(৩) অতি প্রশংসা (ইতরা): প্রশংসায় সীমা লঙ্ঘন করা এবং এতে মিথ্যা বলা। বলা হয়: অমুক ব্যক্তি অমুকের ‘ইতরা’ করেছে যখন সে এমন বিষয়ে তার প্রশংসা করে যা তার মধ্যে নেই। আর তা হলো তারা নাসারারা নবীর এমন বিষয়ে প্রশংসা করেছিল যা তাঁর মধ্যে নেই; ফলে তারা বলেছিল: তিনি তিনের মধ্যে একজন এবং তিনি আল্লাহর পুত্র ও তাদের শিরক ও কুফরের অনুরূপ কথাবার্তা। দেখুন: আন-নিহায়া ফি গারিবিল হাদিসি ওয়াল আসার, ইবনুল আসির (৩/১২৩) এবং তাহযিবুল লুগাহ, আল-আযহারি (১৪/৮)।

(৪) বুখারি কর্তৃক নবীদের হাদিস কিতাবে বর্ণিত, আল্লাহর বাণী {আর এই কিতাবে মারইয়ামের কথা স্মরণ করো যখন সে তার পরিবার থেকে আলাদা হয়ে নির্জনে গিয়েছিল} [মারইয়াম: ১৬] পরিচ্ছেদ, হা (৩৪৪৫), (৪/১৬৭)।
(খণ্ড: ১) আত-তাওজীহাতুস সহীহাতু লিন-নাওয়াযিলিল আকিদিয়্যাতিল মুতাআল্লিক্বাতু বি-ওয়াবায়ি কুরূনা (পৃষ্ঠা: ২৪)
يقصدوا المسجد لأجل صاحب القبر ودعائه والدعاء به والدعاء عنده، فنهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن اتخاذ هذا المكان لعبادة الله وحده؛ لئلا يتخذ ذريعة إلى الشرك بالله(1).

ويقول ابن عبدالهادي رحمه الله: فكل زيادة تتضمن فعل ما نهى عنه وترك ما أمر به كالتي تتضمن الجزع وقول الهجرة، وترك الصبر، أو تتضمن الشرك أو دعاء وترك إخلاص الدين لله فهي منهي عنها(2).

ويقول الشيخ ابن باز رحمه الله: لا يجوز للمسلم أن يتقرب إلى القبور وأصحاب القبور بالذبح أو النذر، نذر الذبائح أو نذر الصدقات، أو ما أشبه ذلك، أو يستغيث بأهل القبور، أو يسألهم قضاء الحاجة، أو شفاء المريض، أو النصر على الأعداء أو حصول الولد، أو ما أشبه ذلك كل هذا لا يجوز، كله من عبادة غير الله، والله سبحانه أنكر ذلك، وأمر عباده أن يعبدوه، قال سبحانه: {وَقَضَى رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ} [الإسراء: 23]، وقال: {وَأَنَّ الْمَسَاجِدَ لِلَّهِ فَلَا تَدْعُو مَعَ اللَّهِ أَحَدًا (18)} [الجن: 19]، وقال: {إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ (5)} [الفاتحة: 5](3).

رابعاً: أن هدي النبي صلى الله عليه وسلم في زيارة القبور أكمل الهدي وأحسنه، ولم ينقل عنه صلى الله عليه وسلم أن دعا صاحب القبر أو توسل به أو استعان به من دون الله في: كشف الضر، أو جلب النفع.

يقول ابن القيم رحمه الله: كان صلى الله عليه وسلم إذا زار قبور أصحابه يزورها للدعاء لهم، والترحم عليهم، والاستغفار لهم، وهذه هي الزيارة التي سنها لأمته، وشرعها لهم، وأمرهم أن يقولوا إذا زاروها: «السلام عليكم أهل الديار من المؤمنين والمسلمين، وإنا إن شاء الله بكم لاحقون، نسأل الله لنا ولكم العافية(4)».

وكان هديه صلى الله عليه وسلم أن يقول ويفعل عند زيارتها، من جنس ما يقوله عند الصلاة على الميت، من الدعاء والترحم والاستغفار. فأبى المشركون إلا دعاء الميت والإشراك به، والإقسام على الله به، وسؤاله الحوائج، والاستعانة به، والتوجه إليه، بعكس هديه صلى الله عليه وسلم فإنه هدي توحيد وإحسان

--------------------------------------------

(1) مجموع الفتاوى، (1/ 164).

(2) الصارم المنكي في الرد على السبكي، ص (325).

(3) فتاوى نور على الدرب، (2/ 20).

(4) رواه مسلم في كتاب الجنائز، باب ما يقال عند دخول القبور والدعاء لأهلها، ح (975)، (2/ 671).
তারা যেন কবরের অধিপতির উদ্দেশ্যে, তাকে ডাকার জন্য, তার মাধ্যমে দোয়া করার জন্য অথবা তার কবরের নিকট দোয়া করার জন্য মসজিদে না যায়। তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুধুমাত্র আল্লাহর ইবাদতের জন্য নির্ধারিত স্থানেও এই ধরনের কাজ করতে নিষেধ করেছেন; যাতে এটি আল্লাহর সাথে শিরক করার কোনো অসিলায় পরিণত না হয়(১).

ইবন আবদিল হাদী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: প্রত্যেকটি অতিরিক্ত কাজ যা নিষিদ্ধ কাজের অন্তর্ভুক্ত এবং যা পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তা বর্জনের শামিল, যেমন বিলাপ করা, অসংলগ্ন কথাবার্তা বলা এবং ধৈর্য ধারণ না করা; অথবা যাতে শিরক কিংবা (আল্লাহ ছাড়া অন্যের নিকট) দোয়া অন্তর্ভুক্ত থাকে এবং আল্লাহর জন্য দ্বীনকে একনিষ্ঠ করা বর্জিত হয়, তবে তা নিষিদ্ধ(২).

শাইখ ইবন বায (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: কোনো মুসলিমের জন্য পশু জবাই বা মানতের মাধ্যমে কবর এবং কবরবাসীদের নৈকট্য লাভ করা জায়েজ নয়। চাই তা পশু জবাইয়ের মানত হোক বা সদকার মানত হোক কিংবা অনুরূপ কিছু। অথবা কবরবাসীদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা, তাদের কাছে হাজত পূরণ চাওয়া, অসুস্থের আরোগ্য কামনা করা, শত্রুর বিরুদ্ধে সাহায্য চাওয়া অথবা সন্তান লাভ বা এই জাতীয় কিছু চাওয়া—এসবের কোনোটিই জায়েজ নয়। এগুলোর সবই আল্লাহ ছাড়া অন্যের ইবাদত। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এগুলোকে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং তাঁর বান্দাদের কেবল তাঁরই ইবাদত করার নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: "তোমার প্রতিপালক আদেশ দিয়েছেন যে, তোমরা তাঁকে ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করবে না" [আল-ইসরা: ২৩]। তিনি আরও বলেছেন: "আর নিশ্চয়ই মসজিদসমূহ আল্লাহরই জন্য, সুতরাং তোমরা আল্লাহর সাথে অন্য কাউকেও ডেকো না" [আল-জিন: ১৮]। তিনি আরও বলেছেন: "আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি এবং কেবল আপনারই নিকট সাহায্য চাই" [আল-ফাতিহা: ৫](৩).

চতুর্থত: কবর জিয়ারতের ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শই হলো সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ ও সর্বোত্তম আদর্শ। তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এমন কোনো বর্ণনা পাওয়া যায় না যে, তিনি বিপদ দূর করতে বা কল্যাণ লাভের উদ্দেশ্যে আল্লাহকে বাদ দিয়ে কোনো কবরবাসীকে ডেকেছেন কিংবা তার অসিলা ধরেছেন অথবা তার কাছে সাহায্য চেয়েছেন।

ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাঁর সাহাবীদের কবর জিয়ারত করতেন, তখন তিনি তাদের জন্য দোয়া করতে, তাদের প্রতি রহমত কামনা করতে এবং তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে যেতেন। আর এটিই হলো সেই জিয়ারত যা তিনি তাঁর উম্মতের জন্য সুন্নাত হিসেবে নির্ধারণ করেছেন এবং তাদের জন্য বিধিবদ্ধ করেছেন। তিনি তাদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন তারা জিয়ারতের সময় বলে: «হে মুমিন ও মুসলিম গৃহবাসীরা, আপনাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। ইনশাআল্লাহ আমরাও আপনাদের সাথে মিলিত হচ্ছি। আমরা আমাদের ও আপনাদের জন্য আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি(৪)».

কবর জিয়ারতের সময় তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আদর্শ ছিল তাই বলা এবং করা যা তিনি জানাজার নামাজের সময় বলতেন, যেমন—দোয়া করা, রহমত কামনা করা এবং ক্ষমা প্রার্থনা করা। কিন্তু মুশরিকরা মৃত ব্যক্তির কাছে দোয়া করা, তার মাধ্যমে শিরক করা, তার নামে আল্লাহর কাছে কসম কাটা, তার কাছে হাজত পূরণ চাওয়া, তার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করা এবং তার দিকে মনোনিবেশ করা ছাড়া আর কিছুই গ্রহণ করেনি; যা তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আদর্শের সম্পূর্ণ বিপরীত। কেননা তাঁর আদর্শ ছিল তাওহিদ এবং ইহসানের আদর্শ।

--------------------------------------------

(১) মাজমুউল ফাতাওয়া, (১/ ১৬৪)।

(২) আস-সারিমুল মুনকি ফির রাদ্দি আলাস সুবকি, পৃষ্ঠা (৩২৫)।

(৩) ফাতাওয়া নূরুন আলাদ দারব, (২/ ২০)।

(৪) মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন জানাজা কিতাবে, কবরে প্রবেশের সময় যা বলতে হয় এবং কবরবাসীদের জন্য দোয়ার পরিচ্ছেদ, হাদিস নং (৯৭৫), (২/ ৬৭১)।
(খণ্ড: ১) আত-তাওজীহাতুস সহীহাতু লিন-নাওয়াযিলিল আকিদিয়্যাতিল মুতাআল্লিক্বাতু বি-ওয়াবায়ি কুরূনা (পৃষ্ঠা: ২৫)
إلى الميت، وهدي هؤلاء شرك وإساءة إلى نفوسهم، وإلى الميت، وهم ثلاثة أقسام: إما أن يدعوا الميت، أو يدعوا به، أو عنده، ويرون الدعاء عنده أوجب وأولى من الدعاء في المساجد، ومن تأمل هدي رسول الله صلى الله عليه وسلم وأصحابه، تبين له الفرق بين الأمرين(1).

--------------------------------------------

(1) زاد المعاد في هدي خير العباد، (1/ 507 - 508).
মৃত ব্যক্তির প্রতি। আর এই লোকদের এই অনুসৃত পথ বা পদ্ধতি হলো শিরক এবং তা তাদের নিজেদের ও মৃত ব্যক্তির প্রতি এক প্রকার অন্যায়। তারা তিন ভাগে বিভক্ত: হয় তারা মৃত ব্যক্তির নিকট প্রার্থনা করে, অথবা তার মাধ্যমে (অসিলা হিসেবে) দোয়া করে, নতুবা তার কবরের নিকট দোয়া করে; তারা কবরের নিকট দোয়া করাকে মাসজিদে দোয়া করার চেয়ে অধিক আবশ্যক ও উত্তম মনে করে। যে ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণের আদর্শ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করবে, তার কাছে এই দুই বিষয়ের মধ্যকার পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে যাবে(১)।

--------------------------------------------

(১) যাদুল মা'আদ ফী হাদয়ি খাইরিল ইবাদ, (১/ ৫০৭ - ৫০৮)।
(খণ্ড: ১) আত-তাওজীহাতুস সহীহাতু লিন-নাওয়াযিলিল আকিদিয়্যাতিল মুতাআল্লিক্বাতু বি-ওয়াবায়ি কুরূনা (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌النازلة الثانية: التلفظ بالأدعية والأذكار المخالفة؛ للتداوي من وباء كورونا.

من النوازل العقدية التي حدثت مع حلول وباء كورونا هي: الأدعية والأذكار المبتدعة، التي يزعم فيها بعضهم أنها تمنع من الإصابة بالأوبئة، وزعم بعضهم أن المداومة عليها تكون سبباً في رفع البلاء، ومعيناً في الشفاء من الأمراض والأوبئة.

ومن هذه الأدعية والأذكار: ما حدث في المغرب؛ حيث قام عدد من الشخصيات والنشطاء هناك بالخروج في مسيرات جابت شوارع عدد من المدن رافعة شعار «الله أكبر» و «لا إله إلا الله»، زاعمين أن تلك المسيرات يمكن أن تحمى الشعب المغربي من فيروس كورونا(1).

وفي عمان عاصمة الأردن كانت هناك ابتهالات دينية وأدعية على مكبرات مساجد العاصمة؛ لرفع وباء كورونا، وقد بثت مساجد العاصمة الأردنية عمان الأدعية والابتهالات عقب صلاتي المغرب والعشاء، تضرعًا الى الله تعالى؛ لتجاوز وباء فيروس كورونا المُستجد(2).

وانتشرت كذلك دعوات على مواقع التواصل الاجتماعي لإقامة صلاة جماعية بالعديد من دول العالم؛ لرفع بلاء كورونا المستجد، يشارك فيها المسلمين في كل أنحاء المعمورة للدعاء إلى الله؛ للتخلص من فيروس كورونا.

والصلاة ستكون جماعية ركعتين في توقيت موحد على مستوى العالم، يُدعى فيها سبحانه بأن يرفع وباء كورونا عن الأرض ويتضرع له بأن يرحم العالم برحمته(3).

كما نشرت بعض المواقع الإلكترونية أدعية لليلة الإسراء والمعراج لرفع البلاء والوباء من فيروس كورونا، ومن هذه الأدعية: اللهم في تلك اللية المباركة من الإسراء والمعراج تنزل الشفاء على كل مريض يتألم ولم يجد الدواء، وأصرف عنا فيروس كورونا يا أكرم الأكرمين، يا الله يا لطيف بالعباد عجز الأطباء والعلماء عن وجد الدواء فأنت بيدك ملكوت السموات والأرض اشف مرضنا ومرضى المسلمين(4).

--------------------------------------------

(1) ينظر: موقع صحيفة اليوم السابع https:// www.youm 7.com/ story/ 2020/ 3/ 23/ %D 8%A 5%D 8%B 3%D 9

(2) ينظر: موقع النشرة الدولية الإخباري https:// alnashraaldawlia.com/

(3) ينظر: موقع صحيفة الوكالة نيوز https:// elwekalanews.net/ 402392

(4) ينظر: موقع دليل الوطن https:// elwatan 140.com/
দ্বিতীয় আপদ: করোনা মহামারি থেকে নিরাময়ের জন্য (শরিয়ত) পরিপন্থী দুআ ও জিকির উচ্চারণ.

করোনা মহামারির আগমনের সাথে সাথে আকিদাগত যে সকল আপদ বা নতুন সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হলো: বিদআতি দুআ ও জিকিরসমূহ, যেগুলোর ব্যাপারে কেউ কেউ দাবি করে যে এগুলো মহামারিতে আক্রান্ত হওয়া রোধ করে, আর কারো দাবি হলো এগুলো নিয়মিত পাঠ করা বিপদ দূর করার মাধ্যম এবং রোগ ও মহামারি থেকে আরোগ্য লাভে সহায়ক।

এই দুআ ও জিকিরগুলোর মধ্যে রয়েছে: মরক্কোতে যা ঘটেছে; সেখানে বেশ কিছু ব্যক্তিত্ব ও সক্রিয় কর্মী বিভিন্ন শহরের রাস্তায় মিছিলে বের হয়ে 'আল্লাহু আকবার' ও 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' স্লোগান দেয়। তাদের দাবি ছিল যে, এই মিছিলগুলো মরক্কোর জনগণকে করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষা করতে পারে(১)।

জর্ডানের রাজধানী আম্মানে করোনা মহামারি দূর করার জন্য রাজধানীর মসজিদগুলোর মাইকে ধর্মীয় প্রার্থনা ও দুআ প্রচার করা হয়। জর্ডানের রাজধানী আম্মানের মসজিদগুলো মাগরিব ও এশার নামাজের পর করোনা ভাইরাসের নতুন প্রাদুর্ভাব কাটিয়ে ওঠার জন্য আল্লাহর কাছে কাকুতি-মিনতি করে দুআ ও প্রার্থনা প্রচার করেছিল(২)।

একইভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনা ভাইরাসের নতুন বিপদ দূর করার জন্য সম্মিলিত নামাজ আদায়ের আহ্বান ছড়িয়ে পড়ে, যাতে সারা বিশ্বের মুসলিমরা করোনা ভাইরাস থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে দুআ করতে অংশগ্রহণ করে।

এই নামাজটি হবে বিশ্বজুড়ে একই সময়ে দুই রাকাতের জামাত, যেখানে মহান আল্লাহর কাছে পৃথিবী থেকে করোনা মহামারি তুলে নেওয়ার জন্য এবং তাঁর রহমত দ্বারা বিশ্বকে দয়া করার জন্য অনুনয়-বিনয় করা হবে(৩)।

এছাড়াও কিছু ওয়েবসাইট করোনা ভাইরাসের বিপদ ও মহামারি দূর করার জন্য ইসরা ও মেরাজের রাতের কিছু দুআ প্রকাশ করে। এই দুআগুলোর মধ্যে রয়েছে: হে আল্লাহ, ইসরা ও মেরাজের এই বরকতময় রাতে আপনি এমন প্রত্যেক অসুস্থ ব্যক্তির ওপর আরোগ্য নাজিল করুন যে ব্যথায় কাতরাচ্ছে অথচ কোনো ওষুধ পাচ্ছে না; হে সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু, আপনি আমাদের থেকে করোনা ভাইরাস দূর করে দিন; হে আল্লাহ, হে বান্দাদের প্রতি অতি দয়ালু, ডাক্তার ও বিজ্ঞানীরা ওষুধ খুঁজে পেতে অপারগ হয়ে গেছেন, অথচ আসমান ও জমিনের রাজত্ব আপনারই হাতে; আপনি আমাদের অসুস্থদের এবং মুসলিমদের অসুস্থদের সুস্থ করে দিন(৪)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-ইয়াউম আস-সাবি পত্রিকার ওয়েবসাইট https:// www.youm 7.com/ story/ 2020/ 3/ 23/ %D 8%A 5%D 8%B 3%D 9

(২) দেখুন: আন-নাশরহ আদ-দাওলিয়াহ নিউজ ওয়েবসাইট https:// alnashraaldawlia.com/

(৩) দেখুন: আল-ওয়াকালাহ নিউজ পত্রিকার ওয়েবসাইট https:// elwekalanews.net/ 402392

(৪) দেখুন: দালিলুল ওয়াতান ওয়েবসাইট https:// elwatan 140.com/
(খণ্ড: ১) আত-তাওজীহাতুস সহীহাতু লিন-নাওয়াযিলিল আকিদিয়্যাতিল মুতাআল্লিক্বাতু বি-ওয়াবায়ি কুরূনা (পৃষ্ঠা: ২৭)
ونشر بعض المواقع أدعية يزعم قائلوها بأنها محصنة من وباء كورونا، منها الدعاء التالي: اللهم سكن هيبة عظيمة قهرمان الجبروت باللطيفة النازلة الواردة من فيضان الملكوت؛ حتى نتشبث بأذيال لطفك وكرمك ونعتصم بك من إنزال قهرك يا ذا القوة الكاملة والقدرة الشاملة يا الله يا الله يا الله، عز جارك وجل ثناؤك ولا إله غيرك، اللهم إني أعوذ بك من الطعن والطاعون، والوباء والبلاء وسائر الأمراض والفجاءة، وسوء المنقلب في النفس والأهل والمال والولد(1).

--------------------------------------------

(1) ينظر: موقع أهل المنتدى https:// saydatar.ahlamontada.com/ t 23 - topic
কতিপয় ওয়েবসাইট এমন কিছু দুআ প্রচার করেছে যেগুলোর পাঠকারীরা দাবি করে যে সেগুলো করোনা মহামারি থেকে সুরক্ষাকারী, তার মধ্যে নিম্নোক্ত দুআটি অন্যতম: হে আল্লাহ, জাবারুতের মহাপরাক্রমের মহান ভীতিকে প্রশমিত করুন সেই নাজিলকৃত লতিফার মাধ্যমে যা মালাকুতের প্রবাহ থেকে আগত; যেন আমরা আপনার দয়া ও অনুগ্রহের প্রান্তদেশ আঁকড়ে ধরতে পারি এবং আপনার ক্রোধের অবতরণ হতে আপনারই আশ্রয় গ্রহণ করি, হে পূর্ণ শক্তি ও ব্যাপক কুদরতের অধিকারী, হে আল্লাহ, হে আল্লাহ, হে আল্লাহ; আপনার আশ্রয়প্রাপ্ত ব্যক্তি সম্মানিত এবং আপনার প্রশংসা সুমহান, আর আপনি ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই। হে আল্লাহ, নিশ্চয়ই আমি আপনার নিকট বিদ্ধ হওয়া ও প্লেগ, মহামারি ও বালা-মুসিবত এবং অন্যান্য সকল রোগ ও আকস্মিক আপদ হতে এবং জান, মাল, পরিবার ও সন্তানের ক্ষেত্রে অশুভ প্রত্যাবর্তন হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি(১).

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: আহলে মুনতাদা ওয়েবসাইট https:// saydatar.ahlamontada.com/ t 23 - topic
(খণ্ড: ১) আত-তাওজীহাতুস সহীহাতু লিন-নাওয়াযিলিল আকিদিয়্যাতিল মুতাআল্লিক্বাতু বি-ওয়াবায়ি কুরূনা (পৃষ্ঠা: ২৮)
التوجيه العقدي الصحيح لهذه النازلة كالآتي:

أولاً: أن طريقة فعل هذه الأدعية والأذكار مبتدعة في الدين وليس لها دليل يثبتها أو يؤيدها، والله سبحانه بين أنه قد أكمل الدين وأتم النعمة على المؤمنين كما قال سبحانه: {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا} [المائدة: 3]، أي: أكملت لكم أيها المؤمنون، فرائضي عليكم وحدودي، وأمري إياكم ونهيي، وحلالي وحرامي، وتنزيلي من ذلك ما أنزلت منه في كتابي، وتبياني ما بيَّنت لكم منه بوحيي على لسان رسولي، والأدلة التي نصبتُها لكم على جميع ما بكم الحاجة إليه من أمر دينكم، فأتممت لكم جميع ذلك، فلا زيادة فيه بعد هذا اليوم(1).

وقد وردت أدلة دالة على وجوب الالتزام بالأذكار الواردة في الكتاب والسنة، كقوله سبحانه: {قُلِ ادْعُوا اللَّهَ أَوِ ادْعُوا الرَّحْمَنَ أَيًّا مَا تَدْعُو فَلَهُ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى} [الإسراء: 110]، وقوله تعالى: {وَلِلَّهِ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى فَادْعُوهُ بِهَا} [الأعراف: 180]، أي ادعوا الله بأسمائه التي سمى بها نفسه، أو سماه بها رسوله، ففيه دليل على أن أسماء الله تعالى توقيفية لا اصطلاحية، ومما يدل على صحة هذا القول ويؤكده: أنه يجوز أن يقال يا جواد، ولا يجوز أن يقال يا سخي، ويجوز أن يقال يا عالم، ولا يجوز أن يقال يا عاقل(2).

قال القاضي عياض رحمه الله: أذن الله في دعائه وعلم الدعاء في كتابه لخليقته، وعلم النبي صلى الله عليه وسلم الدعاء لأمته، واجتمعت فيه ثلاثة أشياء: العلم بالتوحيد، والعلم باللغة، والنصيحة للأمة، فلا ينبغي لأحد أن يعدل عن دعائه صلى الله عليه وسلم، وقد احتال الشيطان للناس من هذا المقام؛ فقيض لهم قوم سوء يخترعون لهم أدعية يشتغلون بها عن الاقتداء بالنبي صلى الله عليه وسلم(3).

وقال القرطبي رحمه الله: فعلى الإنسان أن يستعمل ما في كتاب الله وصحيح السنة من الدعاء ويدع ما سواه، ولا يقول أختار كذا، فإن الله تعالى قد اختار لنبيه وأوليائه وعلمهم كيف يدعون(4).

--------------------------------------------

(1) ينظر: تفسير الطبري، (9/ 518).

(2) ينظر: لباب التأويل في معاني التنزيل، الخازن، (2/ 276).

(3) الفتوحات الربانية على الأذكار النواوية، ابن علان، (1/ 17).

(4) الجامع لأحكام القرآن، (4/ 231).
এই উদ্ভূত পরিস্থিতির সঠিক আকিদাগত দিকনির্দেশনা নিম্নরূপ:

প্রথমত: এই দুয়া ও জিকিরসমূহ আদায়ের এই পদ্ধতিটি দ্বীনের মধ্যে একটি নব-আবিষ্কৃত বিষয় (বিদআত), যা প্রমাণ বা সমর্থন করার মতো কোনো দলিল নেই। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বর্ণনা করেছেন যে, তিনি দ্বীনকে পূর্ণ করেছেন এবং মুমিনদের ওপর তাঁর নেয়ামত সম্পূর্ণ করেছেন, যেমনটি তিনি সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেছেন: {আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করলাম, তোমাদের ওপর আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম} [আল-মায়িদাহ: ৩]। অর্থাৎ: হে মুমিনগণ! আমি তোমাদের জন্য আমার পক্ষ থেকে অর্পিত ফরজসমূহ, আমার নির্ধারিত সীমারেখা (হুদুদ), আমার আদেশ ও নিষেধ, আমার হালাল ও হারাম এবং এ সংক্রান্ত আমার কিতাবে যা অবতীর্ণ করেছি এবং আমার রাসূলের জবানিতে ওহীর মাধ্যমে যা তোমাদের কাছে স্পষ্ট করেছি, তা পূর্ণ করে দিয়েছি। আর তোমাদের দ্বীনের বিষয়ে তোমাদের প্রয়োজনীয় সকল কিছুর ওপর আমি যে দলিলসমূহ স্থাপন করেছি তাও পূর্ণ করে দিয়েছি। সুতরাং আজকের দিনের পর এতে আর কোনো বৃদ্ধির অবকাশ নেই(১)।

কিতাব ও সুন্নাহতে বর্ণিত জিকিরসমূহ আঁকড়ে ধরার আবশ্যকতা সম্পর্কে বিভিন্ন দলিল বর্ণিত হয়েছে, যেমন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার বাণী: {বলুন, তোমরা ‘আল্লাহ’ নামে ডাকো অথবা ‘রাহমান’ নামে ডাকো, তোমরা যে নামেই ডাকো না কেন, তাঁর জন্যই তো রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ} [আল-ইসরা: ১১০]। এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর আল্লাহর জন্যই রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ, সুতরাং তোমরা তাঁকে সেই নামগুলো দিয়েই ডাকো} [আল-আরাফ: ১৮০]। অর্থাৎ, আল্লাহকে সেই নামগুলো দিয়েই ডাকো যে নামগুলো তিনি নিজে নিজের জন্য রেখেছেন অথবা তাঁর রাসূল তাঁকে যে নামগুলোতে ডেকেছেন। এতে এই মর্মে দলিল রয়েছে যে, মহান আল্লাহর নামসমূহ ‘তাওকিফিয়্যাহ’ (শরীয়ত নির্ধারিত), এটি মানুষের পারিভাষিক বা উদ্ভাবিত কোনো বিষয় নয়। এই মতের বিশুদ্ধতার প্রমাণ ও সমর্থনকারী বিষয় হলো: আল্লাহকে ‘ইয়া জাওয়াদ’ (হে দানশীল) বলা বৈধ, কিন্তু ‘ইয়া সাখী’ বলা বৈধ নয়। একইভাবে তাঁকে ‘ইয়া আলিম’ (হে মহাজ্ঞানী) বলা বৈধ, কিন্তু ‘ইয়া আকিল’ বলা বৈধ নয়(২)।

কাজী ইয়াদ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: আল্লাহ তাঁর কাছে দুয়া করার অনুমতি দিয়েছেন এবং তাঁর কিতাবে তাঁর সৃষ্টির জন্য দুয়া শিক্ষা দিয়েছেন। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর উম্মতকে দুয়া শিক্ষা দিয়েছেন। এতে তিনটি বিষয় একত্রিত হয়েছে: তাওহীদের জ্ঞান, ভাষার জ্ঞান এবং উম্মতের প্রতি শুভকামনা। সুতরাং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর শেখানো দুয়া থেকে বিচ্যুত হওয়া কারো জন্য উচিত নয়। শয়তান এই জায়গা থেকেই মানুষের সাথে প্রতারণা করেছে; সে তাদের জন্য একদল মন্দ লোক ঠিক করে দিয়েছে যারা তাদের জন্য নতুন নতুন দুয়া উদ্ভাবন করে, যাতে তারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অনুসরণের পরিবর্তে সেগুলোতে লিপ্ত থাকে(৩)।

ইমাম কুরতুবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: মানুষের উচিত আল্লাহর কিতাব ও সহীহ সুন্নাহতে বিদ্যমান দুয়াগুলো ব্যবহার করা এবং তা ছাড়া অন্য যা কিছু আছে তা বর্জন করা। সে যেন এমন না বলে যে, ‘আমি এটা পছন্দ করি বা বাছাই করি’, কারণ মহান আল্লাহ তাঁর নবী ও তাঁর বন্ধুদের জন্য সর্বোত্তমটি পছন্দ করেছেন এবং তারা কীভাবে দুয়া করবেন তা শিক্ষা দিয়েছেন(৪)।

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: তাফসীরে তাবারী, (৯/৫১৮)।

(২) দ্রষ্টব্য: লুবাবুত তাবীলে ফী মাআনিত তানজীল, আল-খাযেন, (২/২৭৬)।

(৩) আল-ফুতুহাতে রাব্বানিয়্যাহ আলাল আযকারিন নাওয়াবিয়্যাহ, ইবনে আল্লান, (১/১৭)।

(৪) আল-জামে লি-আহকামিল কুরআন, (৪/২৩১)।
(খণ্ড: ১) আত-তাওজীহাতুস সহীহাতু লিন-নাওয়াযিলিল আকিদিয়্যাতিল মুতাআল্লিক্বাতু বি-ওয়াবায়ি কুরূনা (পৃষ্ঠা: ২৯)
ويقول ابن تيمية رحمه الله: وليس لأحد أن يسن للناس نوعاً من الأذكار والأدعية غير المسنون، ويجعلها عبادة راتبة يواظب الناس عليها كما يواظبون على الصلوات الخمس؛ بل هذا ابتداع دين لم يأذن الله به؛ بخلاف ما يدعو به المرء أحياناً من غير أن يجعله للناس سنة فهذا إذا لم يعلم أنه يتضمن معنى محرما لم يجز الجزم بتحريمه؛ لكن قد يكون فيه ذلك والإنسان لا يشعر به، وهذا كما أن الإنسان عند الضرورة يدعو بأدعية تفتح عليه ذلك الوقت فهذا وأمثاله قريب، وأما اتخاذ ورد غير شرعي واستنان ذكر غير شرعي: فهذا مما ينهى عنه ومع هذا ففي الأدعية الشرعية والأذكار الشرعية غاية المطالب الصحيحة، ونهاية المقاصد العلية، ولا يعدل عنها إلى غيرها من الأذكار المحدثة المبتدعة إلا جاهل أو مفرط أو متعد(1). …

وقد سئل الشيخ محمد بن إبراهيم رحمه الله عن بعض الأذكار والأدعية التي تقال في غير محلها فقال رحمه الله: هذه الأذكار وإن كانت في أصلها شرعية، قال تعالى: {وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ} [غافر: 60]، وقال سبحانه: {قُلِ ادْعُوا اللَّهَ أَوِ ادْعُوا الرَّحْمَنَ أَيًّا مَا تَدْعُو فَلَهُ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى} [الإسراء: 110]، وقال صلى الله عليه وسلم: «الدعاء مخ العبادة»(2)، إلا أنها بتحديدها وكيفيتها أخرجت الذكر المشروع إلى غير مشروع، فارتفع اعتبار المشروع الأصلي، وصارت هذه الأذكار من أنواع البدع، وقد قال صلى الله عليه وسلم: «كل بدعة ضلالة»(3) فهي بدع إضافية(4).

ثانياً: أن الله قد أمر بطاعة النبي صلى الله عليه وسلم وأن أي مخالفة لأمر النبي صلى الله عليه وسلم هو مخالفة لأمر الله ومثل طريقة هذه الأدعية والأذكار هي من المبتدعات التي لم تنقل عن النبي صلى الله عليه وسلم، كما أنها تخالف سنة النبي صلى الله عليه وسلم، والله عز وجل يقول: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ

--------------------------------------------

(1) مجموع الفتاوى (22/ 511).

(2) رواه الترمذي، ح (3371)، (5/ 316)، والطبراني في الأوسط، ح (3196)، (3/ 292)، وقال الأرناؤوط في حاشية المسند، (30/ 299): حسن لشواهده.

(3) رواه أحمد في المسند، ح (17144)، (28/ 373)، وأبو داود، (4607)، (7/ 16)، والترمذي، (2676)، (4/ 341)، وقال الترمذي: هذا حديث حسن صحيح.

(4) فتاوى ورسائل سماحة الشيخ محمد بن إبراهيم بن عبد اللطيف آل الشيخ، (9/ 42).
ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: কোনো ব্যক্তির জন্য শরয়ি দলিল বহির্ভূত কোনো প্রকারের জিকির ও দোয়া মানুষের জন্য প্রবর্তন করা এবং সেটিকে নিয়মিত ইবাদত হিসেবে নির্ধারণ করা বৈধ নয় যা মানুষ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের মতো নিয়মিত পালন করবে; বরং এটি দ্বীনের মধ্যে এমন এক নব উদ্ভাবন যার অনুমতি আল্লাহ প্রদান করেননি। তবে কোনো ব্যক্তি যদি মাঝে মাঝে কোনো দোয়া পাঠ করে যা মানুষের জন্য সুন্নত হিসেবে নির্ধারণ করা হয়নি, তবে সে ক্ষেত্রে যদি দোয়াটির মধ্যে কোনো হারাম অর্থ বিদ্যমান থাকার বিষয়টি জানা না থাকে, তবে তা নিশ্চিতভাবে হারাম বলা যাবে না। কিন্তু কখনও কখনও এতে এমন বিষয় থাকতে পারে যা মানুষ টেরও পায় না। এটি ঠিক তেমন, যেমন কোনো মানুষ নিরুপায় অবস্থায় এমন কোনো দোয়া করে যা সেই মুহূর্তে তার অন্তরে উদয় হয়; তবে এটি এবং এর সমপর্যায়ভুক্ত বিষয়গুলো কাছাকাছি (দোষণীয় নয়)। কিন্তু অ-শরয়ি ওজিফা গ্রহণ করা এবং অ-শরয়ি জিকির প্রবর্তন করা নিষিদ্ধ বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত। এতদসত্ত্বেও শরয়ি দোয়া ও জিকিরসমূহের মধ্যেই রয়েছে সঠিক চাহিদার চূড়ান্ত লক্ষ্য এবং উচ্চতর উদ্দেশ্যসমূহের সমাপ্তি। অজ্ঞ, অবহেলাকারী অথবা সীমা লঙ্ঘনকারী ব্যতীত অন্য কেউ শরয়ি জিকির ত্যাগ করে নব উদ্ভাবিত বিদআতি জিকিরের দিকে ধাবিত হয় না(১)। ...

শায়খ মুহাম্মাদ বিন ইব্রাহিম (রহিমাহুল্লাহ)-কে এমন কিছু জিকির ও দোয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যা তার উপযুক্ত ক্ষেত্র ব্যতিরেকে পাঠ করা হয়। উত্তরে তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: এই জিকিরসমূহ যদিও মূলগতভাবে শরয়ি, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর তোমাদের প্রতিপালক বলেন, তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেবো} [গাফির: ৬০], এবং তিনি আরও বলেছেন: {বলো, তোমরা 'আল্লাহ' নামে ডাকো অথবা 'রাহমান' নামে ডাকো, যে নামেই ডাকো না কেন, সকল সুন্দর নাম তো তাঁরই} [আল-ইসরা: ১১০], এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «দোয়া হলো ইবাদতের মগজ»(২), তবে সেগুলোকে নির্দিষ্ট সংখ্যা ও পদ্ধতির মাধ্যমে সীমাবদ্ধ করার ফলে তা শরয়ি জিকির থেকে অ-শরয়ি জিকিরে রূপান্তরিত হয়েছে। ফলে এর মূল শরয়ি ভিত্তি বিলুপ্ত হয়েছে এবং এই জিকিরসমূহ বিদআতের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়েছে। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «প্রত্যেক বিদআতই ভ্রষ্টতা»(৩), সুতরাং এগুলো হলো সংযোজিত বিদআত(৪)।

দ্বিতীয়ত: আল্লাহ তাআলা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আনুগত্য করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আদেশের যেকোনো প্রকার বিরোধিতা আল্লাহর আদেশেরই বিরোধিতা। এই ধরণের দোয়া ও জিকির করার পদ্ধতিগুলো হলো সেই নব উদ্ভাবিত বিষয় যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়নি, উপরন্তু এগুলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নতের পরিপন্থী। মহান আল্লাহ বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসুলের আনুগত্য করো আর তোমাদের মধ্যকার উলিল আমর (নেতৃত্বদানকারী)-দের। যদি কোনো বিষয়ে তোমাদের মধ্যে মতভেদ দেখা দেয়, তবে তা আল্লাহ ও রাসুলের দিকে ফিরিয়ে দাও, যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে থাকো। এটিই উত্তম

--------------------------------------------

(১) মাজমুউল ফাতাওয়া (২২/৫১১)।

(২) তিরমিযি বর্ণনা করেছেন, হা/ (৩৩৭১), (৫/৩১৬), এবং তাবারানি আল-আউসাত গ্রন্থে, হা/ (৩১৯৬), (৩/২৯২), আর আরনাউত মুসনাদের টীকাভাষ্যে বলেছেন (৩০/২৯৯): এর শাওয়াহিদ বা সমর্থক বর্ণনার ভিত্তিতে এটি হাসান।

(৩) আহমাদ মুসনাদে বর্ণনা করেছেন, হা/ (১৭১৪৪), (২৮/৩৭৩), আবু দাউদ (৪৬০৭), (৭/১৬), এবং তিরমিযি (২৬৭৬), (৪/৩৪১); তিরমিযি বলেছেন: এটি হাসান সহিহ হাদিস।

(৪) ফাতাওয়া ও রাসাইল সামাহাতুশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন ইব্রাহিম বিন আব্দুল লতিফ আল-শায়খ, (৯/৪২)।
(খণ্ড: ১) আত-তাওজীহাতুস সহীহাতু লিন-নাওয়াযিলিল আকিদিয়্যাতিল মুতাআল্লিক্বাতু বি-ওয়াবায়ি কুরূনা (পৃষ্ঠা: ৩০)
وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًا (59)} [النساء: 59]، فطاعة الرسول في حياته: امتثال أمره، واجتناب نهيه، وبعد مماته: اتباع سنته(1).

وقال عز وجل: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَلَا تَوَلَّوْا عَنْهُ وَأَنْتُمْ تَسْمَعُونَ (20)} [الأنفال: 20]، أي: لا تخالفوا أمره، وأنتم تسمعون لقوله، وتزعمون أنكم منه(2).

وعن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «من أطاعني فقد أطاع الله، ومن عصاني فقد عصى الله»(3).

ومعلوم أن نبينا صلى الله عليه وسلم هو أفضل الأنبياء، وخاتمهم، وأكملهم بلاغًا، ونصحًا لعباد الله، فلو كانت الطريقة في فعل هذه الأدعية والأذكار من الدين لبيَّنه صلى الله عليه وسلم لأمته، أو فعله في حياته، وقد حدث وباء في عهده صلى الله عليه وسلم ولم ينقل عنه أو عن أصحابه فعل مثل هذه الطريقة في الأدعية، قال صلى الله عليه وسلم: «إنه لم يكن نبي قبلي إلا كان حقاً عليه أن يدل أمته على خير ما يعلمه لهم، وينذرهم شر ما يعلمه لهم»(4).

كما أن كثيراً من الأدعية السابقة خلاف السنة الواردة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم في تخير جوامع الدعاء، وكان يغلب على بعضها التكلف في السجع؛ مما قد يحمل الداعي إلى الإتيان بأدعية مخترعة.

وقد كره السلف السجع في الدعاء ونهوا عنه، قال ابن عباس رضي الله عنهما لمولاه عكرمة رحمه الله: «انظر السجع من الدعاء فاجتنبه، فإني عهدت رسول الله صلى الله عليه وسلم وأصحابه لا يفعلون إلا ذلك الاجتناب»(5).

قال القرطبي رحمه الله: ومنها أن يدعو بما ليس في الكتاب والسنة فيتخير ألفاظاً مقفرة وكلمات مُسجَّعة قد وجدها في كراريس لا أصل لها ولا معول عليها؛ فيجعلها شعاره ويترك ما

--------------------------------------------

(1) ينظر: زاد المسير، ابن الجوزي، (1/ 423).

(2) ينظر: تفسير الطبري، (13/ 457).

(3) رواه البخاري في كتاب الأحكام، باب قوله تعالى: {أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ} [النساء: 59]، ح (7137)، (9/ 61)، ومسلم في كتاب الإمارة، باب: وجوب طاعة الأمراء في غير معصية، ح (1835)، (3/ 1466).

(4) رواه مسلم في كتاب الإمارة، باب الأمر بالوفاء ببيعة الخلفاء، الأول فالأول، ح (1844)، (3/ 1844).

(5) رواه البخاري في كتاب الدعوات، باب ما يكره من السجع في الدعاء ح (6337)، (8/ 74).
এবং পরিণামে এটিই উত্তম (৫৯)} [আন-নিসা: ৫৯], সুতরাং রাসূলের জীবদ্দশায় তাঁর আনুগত্য হলো: তাঁর আদেশ পালন করা এবং তাঁর নিষেধ বর্জন করা; আর তাঁর মৃত্যুর পর: তাঁর সুন্নাহর অনুসরণ করা।(১)

এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো এবং তাঁর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিও না, অথচ তোমরা শুনছো (২০)} [আল-আনফাল: ২০], অর্থাৎ: তোমরা তাঁর আদেশের বিরোধিতা করো না, এমতাবস্থায় যে তোমরা তাঁর কথা শুনছো এবং দাবি করছো যে তোমরা তাঁর অনুসারী।(২)

আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে আমার আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহর আনুগত্য করল; আর যে আমার অবাধ্য হলো, সে আল্লাহর অবাধ্য হলো»(৩)।

এটি সুপরিচিত যে আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হলেন সর্বশ্রেষ্ঠ নবী, সর্বশেষ নবী এবং আল্লাহর বান্দাদের নিকট দ্বীন পৌঁছানোর ও সদুপদেশ প্রদানের ক্ষেত্রে সর্বাধিক পূর্ণাঙ্গ ব্যক্তি। সুতরাং যদি এই দোআ ও জিকিরসমূহ পালন করার পদ্ধতি দ্বীনের অংশ হতো, তবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অবশ্যই তা তাঁর উম্মতের জন্য বর্ণনা করতেন অথবা তাঁর জীবনে তা আমল করতেন। অথচ তাঁর সময়ে মহামারি দেখা দিয়েছিল, কিন্তু তাঁর থেকে বা তাঁর সাহাবীদের থেকে দোআর ক্ষেত্রে এই ধরণের পদ্ধতির কোনো বর্ণনা পাওয়া যায় না। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই আমার পূর্ববর্তী এমন কোনো নবী ছিলেন না, যাঁর ওপর এ দায়িত্ব ছিল না যে, তিনি তাঁর উম্মতকে তাঁদের জন্য যা কল্যাণকর মনে করেন তার পথ প্রদর্শন করবেন এবং যা তাঁদের জন্য ক্ষতিকর মনে করেন তা থেকে সতর্ক করবেন»(৪)।

অনুরূপভাবে, পূর্বোল্লিখিত অনেক দোআই ব্যাপক অর্থবোধক সংক্ষিপ্ত দোআ নির্বাচনের ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত সুন্নাহর পরিপন্থী। এগুলোর কোনো কোনোটির ক্ষেত্রে কৃত্রিম অনুপ্রাস বা অন্ত্যমিলের (সাজআ) বাড়াবাড়ি প্রাধান্য পেয়েছে, যা দোআকারীকে নতুন নতুন উদ্ভাবিত দোআ নিয়ে আসার দিকে পরিচালিত করতে পারে।

সালাফগণ দোআর মধ্যে কৃত্রিম অনুপ্রাস অপছন্দ করতেন এবং তা থেকে নিষেধ করতেন। ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) তাঁর ছাত্র ইকরিমা (রাহিমাহুল্লাহ)-কে বলেছিলেন: «দোআর ক্ষেত্রে কৃত্রিম অনুপ্রাসের দিকে লক্ষ রাখবে এবং তা বর্জন করবে; কেননা আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও তাঁর সাহাবীদের দেখেছি, তাঁরা তা বর্জন করা ছাড়া আর কিছুই করতেন না»(৫)।

ইমাম কুরতুবি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: দোআর ক্ষেত্রে সীমালঙ্ঘনের একটি হলো—কুরআন ও সুন্নাহতে নেই এমন বিষয় দিয়ে দোআ করা। ফলে সে এমন সব অপরিচিত শব্দ ও ছন্দোবদ্ধ বাক্য বেছে নেয় যা সে বিভিন্ন পুস্তিকায় পেয়েছে, যার কোনো ভিত্তি নেই এবং যার ওপর নির্ভর করা যায় না; অতঃপর সে এগুলোকেই তার নিয়মিত আমল বানিয়ে নেয় এবং যা (কুরআন ও সুন্নাহতে বর্ণিত) তা বর্জন করে।

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: যাদুল মাসীর, ইবনুল জাওজি, (১/৪২৩)।

(২) দ্রষ্টব্য: তাফসীরে তাবারী, (১৩/৪৫৭)।

(৩) বুখারি এটি 'কিতাবুল আহকাম'-এ বর্ণনা করেছেন, পরিচ্ছেদ: মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো এবং তোমাদের দায়িত্বশীলদের} [আন-নিসা: ৫৯], হাদিস নং (৭১৩৭), (৯/৬১); এবং মুসলিম বর্ণনা করেছেন 'কিতাবুল ইমারাহ'-তে, পরিচ্ছেদ: নাফরমানি নয় এমন কাজে আমীরদের আনুগত্য করা ওয়াজিব, হাদিস নং (১৮৩৫), (৩/১৪৬৬)।

(৪) মুসলিম এটি 'কিতাবুল ইমারাহ'-তে বর্ণনা করেছেন, পরিচ্ছেদ: একের পর এক খলিফাদের বায়াত পূর্ণ করার নির্দেশ, হাদিস নং (১৮৪৪), (৩/১৮৪৪)।

(৫) বুখারি এটি 'কিতাবুদ দাওয়াত'-এ বর্ণনা করেছেন, পরিচ্ছেদ: দোআর মধ্যে যা ছন্দোবদ্ধ বাক্য অপছন্দ করা হয়, হাদিস নং (৬৩৩৭), (৮/৭৪)।