(খণ্ড: ১)
রিসালা ফী ইসবাতিল ইস্তাওয়া ওয়াল ফাওকিয়্যাহ ওয়া মাসআলাতিল হারফি ওয়াস সাওতি ফিল কুরআনিল মাজীদ
(পৃষ্ঠা: -)
رسالة في إثبات الاستواء والفوقية ومسألة الحرف والصوت في القرآن المجيد القسم: العقيدة
الكتاب: رسالة في إثبات الاستواء والفوقية ومسألة الحرف والصوت في القرآن المجيد
المؤلف: عبد الله بن يوسف بن محمد بن حيّويه الجويني، أبو محمد (ت 438هـ)
المحقق: أحمد معاذ بن علوان حقي
الناشر: دار طويق للنشر والتوزيع - الرياض
الطبعة: الأولى، 1419هـ 1998م
عدد الصفحات: 84
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
মজিদ কুরআনে উঠা ও উচ্চতা সাব্যস্তকরণ এবং হরফ ও শব্দের মাসআলা বিষয়ক রিসালা বিভাগ: আকীদাহ
বই: মজিদ কুরআনে উঠা ও উচ্চতা সাব্যস্তকরণ এবং হরফ ও শব্দের মাসআলা বিষয়ক রিসালা
লেখক: আবদুল্লাহ বিন ইউসুফ বিন মুহাম্মদ বিন হাইয়্যুওয়াহ আল-জুওয়াইনী, আবু মুহাম্মদ (মৃত্যু ৪৩৮ হিজরি)
সম্পাদক: আহমদ মুআয বিন আলওয়ান হাক্কী
প্রকাশক: দার তুওয়াইক পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন - রিয়াদ
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৯ হিজরি ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮৪
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
রিসালা ফী ইসবাতিল ইস্তাওয়া ওয়াল ফাওকিয়্যাহ ওয়া মাসআলাতিল হারফি ওয়াস সাওতি ফিল কুরআনিল মাজীদ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
رِسَالَة فِي إِثْبَات الاسْتوَاء والفوقية
بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم وَصلى الله وَسلم على سيدنَا مُحَمَّد الحبيب وعَلى آله وَسلم
الْحَمد لله الَّذِي كَانَ وَلَا مَكَان وَلَا إنس وَلَا جَان وَلَا طَائِر وَلَا حَيَوَان الْمُنْفَرد بوحدانيته فِي قدم أزليته والدائم فِي فردانيته فِي قدس صمدانيته لَيْسَ لَهُ سمي وَلَا وَزِير وَلَا شَبيه وَلَا نَظِير المتفرد بالخلق والتصوير الْمُتَصَرف بِالْمَشِيئَةِ وَالتَّقْدِير {لَيْسَ كمثله شَيْء وَهُوَ السَّمِيع الْبَصِير} لَهُ الرّفْعَة والْعَلَاء وَالْحَمْد وَالثنَاء والعلو والاستواء لَا تحصره الْأَجْسَام وَلَا تصَوره الأوهام وَلَا تقله الْحَوَادِث وَلَا الأجرام وَلَا تحيط بِهِ الْعُقُول وَلَا الأفهام لَهُ الْأَسْمَاء الْحسنى والشرف الأتم الْأَسْنَى والدوام الَّذِي لَا يبيد وَلَا يفنى نصفه بِمَا وصف بِهِ نَفسه من الصِّفَات الَّتِي توجب عَظمته وقدسه مِمَّا أنزلهُ فِي كِتَابه وَبَينه رَسُوله صلى الله عليه وسلم فِي خطابه ونؤمن بِأَنَّهُ الله الَّذِي لَا إِلَه إِلَّا هُوَ الْحَيّ القيوم السَّمِيع الْبَصِير الْعَلِيم الْقَدِير الرَّحْمَن الرَّحِيم الْملك القدوس الْعَظِيم لطيف خَبِير قريب مُجيب مُتَكَلم مُرِيد فعال لما يُرِيد يقبض ويبسط ويرضى ويغضب وَيُحب وَيبغض وَيكرهُ ويضحك وَيَأْمُر وَينْهى ذُو الْوَجْه الْكَرِيم والسمع السَّمِيع وَالْبَصَر الْبَصِير وَالْكَلَام الْمُبين وَالْيَدَيْنِ والقبضتين وَالْقُدْرَة وَالسُّلْطَان وَالْعَظَمَة والامتنان لم يزل كَذَلِك
আরশের উপরে উঠা এবং উচ্চতা প্রমাণের বিষয়ে একটি পুস্তিকা
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে আমাদের নেতা প্রিয় মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তখনও ছিলেন যখন কোনো স্থান ছিল না, ছিল না কোনো মানুষ, জিন, পাখি কিংবা কোনো পশু। যিনি তাঁর অনাদি একত্বে একক এবং তাঁর পবিত্র মুখাপেক্ষীহীনতায় অবিনশ্বর। তাঁর কোনো সমনাম নেই, নেই কোনো উজির বা সাহায্যকারী, তাঁর কোনো সাদৃশ্য নেই এবং নেই কোনো সমকক্ষ। সৃষ্টি ও রূপদান কার্যে তিনি অদ্বিতীয়, নিজের ইচ্ছা ও নির্ধারণ অনুযায়ী তিনি সকল কিছুর নিয়ন্ত্রক। {তাঁর সদৃশ কিছুই নেই এবং তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা}। উচ্চতা, শ্রেষ্ঠত্ব, প্রশংসা, গুণকীর্তন, উচ্চমর্যাদা এবং (আরশের ওপর) উঠা তাঁরই। কোনো শরীর তাঁকে সীমাবদ্ধ করতে পারে না, কোনো কল্পনা তাঁর ছবি আঁকতে পারে না, কোনো সৃষ্ট বস্তু বা কোনো বস্তুপিণ্ড তাঁকে বহন করতে পারে না এবং কোনো বুদ্ধি বা বোধশক্তি তাঁকে বেষ্টন করতে পারে না। তাঁর জন্যই সকল সুন্দর নাম এবং পরিপূর্ণ মহান মর্যাদা, আর এমন স্থায়িত্ব যা কখনো শেষ হবে না বা বিলীন হবে না। আমরা তাঁর গুণাবলি সেভাবেই বর্ণনা করি যেভাবে তিনি তাঁর কিতাবে নিজের গুণগান করেছেন এবং যা তাঁর মহানুভবতা ও পবিত্রতাকে আবশ্যক করে, যা তিনি তাঁর কিতাবে অবতীর্ণ করেছেন এবং তাঁর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর বাণীতে ব্যক্ত করেছেন। আমরা ঈমান রাখি যে, তিনিই আল্লাহ, তিনি ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই; তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক, সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা, সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান, পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু, অধিপতি, অতি পবিত্র, মহান, সূক্ষ্মদর্শী, সম্যক পরিজ্ঞাত, নিকটবর্তী, কবুলকারী, কথা বলেন এমন, ইচ্ছাশক্তিসম্পন্ন, তিনি যা চান তা-ই করেন। তিনি সঙ্কুচিত করেন ও সম্প্রসারিত করেন, সন্তুষ্ট হন ও রাগান্বিত হন, ভালোবাসেন ও ঘৃণা করেন, অপছন্দ করেন ও হাসেন, নির্দেশ দেন ও নিষেধ করেন। তিনি সম্মানিত চেহারা, শ্রবণকারী শ্রবণশক্তি, দর্শনকারী দৃষ্টিশক্তি, সুস্পষ্ট কথা, আল্লাহর দুই হাত, আল্লাহর দুই মুষ্টি, ক্ষমতা, রাজত্ব, মহিমা ও অনুগ্রহের অধিকারী। তিনি সর্বদা এমনই ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
রিসালা ফী ইসবাতিল ইস্তাওয়া ওয়াল ফাওকিয়্যাহ ওয়া মাসআলাতিল হারফি ওয়াস সাওতি ফিল কুরআনিল মাজীদ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وَلَا يزَال اسْتَوَى على عَرْشه فَبَان من خلقه لَا يخفى عَلَيْهِ مِنْهُم خافية علمه بهم مُحِيط وبصره بهم نَافِذ وَهُوَ فِي ذَاته وَصِفَاته لَا يُشبههُ شَيْء من مخلوقاته وَلَا يمثل بِشَيْء من جوارح مبتدعاته وَهِي صِفَات لائقة بجلاله وعظمته لَا تتخيل كيفيتها الظنون وَلَا ترَاهَا فِي الدُّنْيَا الْعُيُون بل نؤمن بحقائقها وثبوتها واتصاف الرب تَعَالَى بهَا وننفي عَنْهَا تَأْوِيل المتأولين وتعطيل الجاحدين وتمثيل المشبهين تبَارك الله أحسن الْخَالِقِينَ فَبِهَذَا الرب نؤمن وإياه نعْبد وَله نصلي ونسجد فَمن قصد بِعِبَادَتِهِ إِلَى إِلَه لَيست لَهُ هَذِه الصِّفَات فَإِنَّمَا يعبد غير الله وَلَيْسَ معبوده ذَلِك بإله فكفرانه لَا غفرانه
ونشهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله وَحده لَا شريك لَهُ وَأَن مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم عَبده وَرَسُوله اصطفاه لرسالته وَاخْتَارَهُ لبريته وَأنزل عَلَيْهِ كِتَابه الْمُبين الَّذِي لَا يَأْتِيهِ الْبَاطِل من بَين يَدَيْهِ وَلَا من خَلفه تَنْزِيل من حَكِيم حميد صلى الله عَلَيْهِ وعَلى آله وَأَصْحَابه أكْرم الْآل وَأفضل العبيد
তিনি সর্বদা তাঁর আরশের উপর উঠেছেন, ফলে তিনি তাঁর সৃষ্টিজগত থেকে পৃথক; তাদের কোনো গোপন বিষয়ই তাঁর কাছে গোপন নয়, তাদের বিষয়ে তাঁর জ্ঞান পরিবেষ্টনকারী এবং তাদের ওপর তাঁর দৃষ্টি কার্যকর। তিনি তাঁর সত্তা ও গুণাবলিতে তাঁর সৃষ্টির কোনো কিছুর সদৃশ নন এবং তাঁর উদ্ভাবিত সৃষ্টির কোনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সাথে তাঁর তুলনা করা হয় না। এগুলো তাঁর মহিমা ও শ্রেষ্ঠত্বের উপযোগী গুণাবলি, কোনো ধারণা এগুলোর ধরণ কল্পনা করতে পারে না এবং দুনিয়াতে কোনো চক্ষু তা দেখতে পায় না। বরং আমরা এগুলোর হাকীকত ও সাব্যস্ত হওয়ার ওপর এবং রব্ব তাআলা এগুলোর দ্বারা গুণান্বিত হওয়ার ওপর ঈমান আনি। আর আমরা এগুলি থেকে অপব্যাখ্যাকারীদের অপব্যাখ্যা, অস্বীকারকারীদের অস্বীকার এবং সাদৃশ্যবাদীদের তুলনাকে নাকচ করি। বরকতময় আল্লাহ, যিনি সর্বোত্তম স্রষ্টা। সুতরাং আমরা এই রব্বের ওপরই ঈমান আনি, তাঁরই ইবাদত করি এবং তাঁর জন্যই সালাত আদায় ও সিজদা করি। অতএব যে ব্যক্তি এমন কোনো উপাস্যের ইবাদতের সংকল্প করে যার এই গুণাবলি নেই, সে মূলত আল্লাহ ছাড়া অন্যের ইবাদত করছে এবং তার সেই উপাস্য কোনো ইলাহ নয়; ফলে তার জন্য রয়েছে কুফরি, কোনো ক্ষমা নয়।
এবং আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আর নিশ্চয়ই মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসূল; তিনি তাঁকে তাঁর রিসালাতের জন্য মনোনীত করেছেন এবং তাঁর সৃষ্টির মধ্য থেকে তাঁকে চয়ন করেছেন। আর তিনি তাঁর ওপর তাঁর সুস্পষ্ট কিতাব নাযিল করেছেন, যার সামনে বা পেছন থেকে কোনো বাতিল আসতে পারে না; এটি প্রজ্ঞাময়, চিরপ্রশংসিত আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর দরুদ বর্ষণ করুন, যারা অত্যন্ত সম্মানিত পরিবার এবং সর্বোত্তম বান্দা।
(খণ্ড: ১)
রিসালা ফী ইসবাতিল ইস্তাওয়া ওয়াল ফাওকিয়্যাহ ওয়া মাসআলাতিল হারফি ওয়াস সাওতি ফিল কুরআনিল মাজীদ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وَبعد فَهَذِهِ نصيحة كتبتها إِلَى إخْوَانِي فِي الله أهل الصدْق والصفاء وَالْإِخْلَاص وَالْوَفَاء لما تعين عَليّ من محبتهم فِي الله ونصيحتهم فِي صِفَات الله عز وجل فَإِن الْمَرْء لَا يكمل إيمَانه حَتَّى يحب لِأَخِيهِ مَا يحب لنَفسِهِ وَفِي الصَّحِيح عَن جرير بن عبد الله البَجلِيّ قَالَ بَايَعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم على إقَام الصَّلَاة وإيتاء الزَّكَاة والنصح لكل مُسلم وَعَن تَمِيم الدَّارِيّ أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ (الدّين النَّصِيحَة ثَلَاثًا) قُلْنَا لمن قَالَ (لله ولكتابه وَلِرَسُولِهِ ولأئمة الْمُسلمين وعامتهم) أعرفهم أَيّدهُم الله
অতঃপর, এটি একটি নসিহত যা আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে আমার সত্যনিষ্ঠা, বিশুদ্ধতা, একনিষ্ঠতা ও বিশ্বস্ততার অধিকারী ভাইদের তরে লিখেছি; কেননা আল্লাহর সন্তুষ্টির খাতিরে তাদের প্রতি ভালোবাসা পোষণ এবং মহান আল্লাহর গুণাবলি সম্পর্কে তাদের নসিহত প্রদান করা আমার জন্য অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। কারণ, কোনো ব্যক্তির ঈমান ততক্ষণ পূর্ণতা পায় না, যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্য তা-ই পছন্দ করে যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে। সহীহ গ্রন্থে জারির ইবনে আব্দুল্লাহ আল-বাজালি থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: "আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট সালাত কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা এবং প্রত্যেক মুসলিমের কল্যাণ কামনার (নসিহত) ওপর বাইয়াত গ্রহণ করেছি।" তামীম আদ-দারী থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "দীন হলো নসিহত" (কথাটি তিনি তিনবার বললেন)। আমরা বললাম: "কার জন্য?" তিনি বললেন: "আল্লাহর জন্য, তাঁর কিতাবের জন্য, তাঁর রাসূলের জন্য, মুসলিমদের নেতৃবৃন্দ এবং তাদের সাধারণ জনগণের জন্য।" আমি তাদের অবহিত করছি—আল্লাহ তাদের সাহায্য করুন—।
(খণ্ড: ১)
রিসালা ফী ইসবাতিল ইস্তাওয়া ওয়াল ফাওকিয়্যাহ ওয়া মাসআলাতিল হারফি ওয়াস সাওতি ফিল কুরআনিল মাজীদ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
تَعَالَى بتأييده ووفقهم لطاعته ومزيده أنني كنت بُرْهَة من الدَّهْر متحيرا فِي ثَلَاث مسَائِل مَسْأَلَة الصِّفَات وَمَسْأَلَة الْفَوْقِيَّة وَمَسْأَلَة الْحَرْف وَالصَّوْت فِي الْقُرْآن الْمجِيد وَكنت متحيرا فِي الْأَقْوَال الْمُخْتَلفَة الْمَوْجُودَة فِي كتب أهل الْعَصْر فِي جَمِيع ذَلِك من تَأْوِيل الصِّفَات وتحريفها أَو إمرارها وَالْوُقُوف فِيهَا أَو إِثْبَاتهَا بِلَا تَأْوِيل وَلَا تَعْطِيل وَلَا تَشْبِيه وَلَا تَمْثِيل فأجد النُّصُوص فِي كتاب الله تَعَالَى وَسنة رَسُوله صلى الله عليه وسلم ناطقة منبئة بحقائق هَذِه الصِّفَات وَكَذَلِكَ فِي إِثْبَات الْعُلُوّ والفوقية وَكَذَلِكَ فِي الْحَرْف وَالصَّوْت ثمَّ أجد الْمُتَأَخِّرين من الْمُتَكَلِّمين فِي كتبهمْ مِنْهُم من يؤول الاسْتوَاء بالقهر والاستيلاء ويؤول النُّزُول بنزول الْأَمر ويؤول الْيَدَيْنِ بالقدرتين أَو النعمتين ويؤول الْقدَم بقدم صدق عِنْد
মহান আল্লাহ তাঁর সাহায্যের মাধ্যমে সমর্থন দান করেন এবং তাঁর আনুগত্য ও উত্তরোত্তর কল্যাণের তৌফিক দান করেন যে, আমি দীর্ঘকাল যাবৎ তিনটি বিষয়ে দ্বিধাগ্রস্ত ছিলাম: সিফাত (গুণাবলী) সংক্রান্ত মাসআলা, ফাওকিয়্যাহ (আল্লাহর উপরে থাকা) সংক্রান্ত মাসআলা এবং মাজিদ কুরআনের হরফ (বর্ণ) ও সাউত (শব্দ) সংক্রান্ত মাসআলা। এ সব বিষয়ে সমসাময়িক যুগের লেখকদের কিতাবে বিদ্যমান বিভিন্ন মতামতের কারণে আমি দ্বিধাগ্রস্ত ছিলাম; তা সিফাতসমূহের অপব্যাখ্যা ও বিকৃতি, অথবা সেগুলোকে ব্যাখ্যাহীনভাবে অতিক্রম করানো ও সে বিষয়ে সিদ্ধান্তহীন থাকা, অথবা কোনো প্রকার অপব্যাখ্যা, অসারকরণ, সাদৃশ্য প্রদান ও উদাহরণ প্রদান ছাড়াই তা সাব্যস্ত করা সংক্রান্ত। আমি মহান আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর দলিলসমূহকে এই সিফাতসমূহের প্রকৃত স্বরূপ সম্পর্কে সুস্পষ্টরূপে বর্ণনা ও সংবাদ প্রদানকারী হিসেবে পাই। একইভাবে উচ্চতা ও উপরে থাকা সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে এবং হরফ ও সাউত সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রেও। এরপর আমি পরবর্তী যুগের কালামশাস্ত্রবিদদের কিতাবসমূহে দেখতে পাই যে, তাদের মধ্যে কেউ কেউ আরশের উপরে ওঠাকে ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব দ্বারা অপব্যাখ্যা করে, আল্লাহর নামাকে তাঁর আদেশের অবতরণ দ্বারা অপব্যাখ্যা করে, আল্লাহর হাতকে আল্লাহর ক্ষমতা বা নেয়ামত দ্বারা অপব্যাখ্যা করে এবং আল্লাহর পা-কে সত্যের পদমর্যাদা হিসেবে অপব্যাখ্যা করে...
(খণ্ড: ১)
রিসালা ফী ইসবাতিল ইস্তাওয়া ওয়াল ফাওকিয়্যাহ ওয়া মাসআলাতিল হারফি ওয়াস সাওতি ফিল কুরআনিল মাজীদ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
رَبهم وأمثال ذَلِك ثمَّ أجدهم مَعَ ذَلِك يجْعَلُونَ كَلَام الله تَعَالَى معنى قَائِما بِالذَّاتِ بِلَا حرف وَلَا صَوت ويجعلون هَذِه الْحُرُوف عبارَة عَن ذَلِك الْمَعْنى الْقَائِم
وَمِمَّنْ ذهب إِلَى هَذِه الْأَقْوَال وَبَعضهَا قوم لَهُم فِي صَدْرِي منزلَة مثل طَائِفَة من فُقَهَاء الأشعرية الشافعيين لِأَنِّي على مَذْهَب الشَّافِعِي رضي الله عنه عرفت فَرَائض ديني وَأَحْكَامه فأجد مثل هَؤُلَاءِ الشُّيُوخ الأجلة يذهبون إِلَى مثل هَذِه الْأَقْوَال وهم شيوخي ولي فيهم الِاعْتِقَاد التَّام لفضلهم وعلمهم ثمَّ إِنَّنِي مَعَ ذَلِك أجد فِي قلبِي من هَذِه التأويلات حزازات لَا يطمئن قلبِي إِلَيْهَا وَأَجد الكدر والظلمة مِنْهَا وَأَجد ضيق الصَّدْر وَعدم
তাদের প্রতিপালক এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো। অতঃপর আমি তাদের দেখি যে, এর পাশাপাশি তারা মহান আল্লাহর কালামকে (কথা) অক্ষর ও শব্দ ব্যতিরেকে সত্তাগতভাবে বিদ্যমান একটি অর্থ হিসেবে গণ্য করে এবং তারা এই অক্ষরগুলোকে সেই বিদ্যমান অর্থের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে সাব্যস্ত করে।
যারা এই সকল মত বা এর কিছু অংশ গ্রহণ করেছেন, তাদের মধ্যে এমন এক সম্প্রদায় রয়েছেন যাদের প্রতি আমার অন্তরে উচ্চ মর্যাদা রয়েছে; যেমন আশআরি শাফেয়ি ফকিহদের একটি দল। কারণ আমি ইমাম শাফেয়ি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর মাযহাব অনুযায়ীই আমার দীনের ফরজ ও বিধানসমূহ জেনেছি। ফলে আমি এই সকল মহান শায়খদের দেখি যে তারা এই ধরণের মত পোষণ করেন, অথচ তারা আমার শিক্ষক এবং তাঁদের শ্রেষ্ঠত্ব ও জ্ঞানের কারণে তাঁদের প্রতি আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে। তাসত্ত্বেও আমি আমার অন্তরে এই ব্যাখ্যাগুলোর কারণে এক প্রকার অস্বস্তি অনুভব করি যাতে আমার অন্তর আশ্বস্ত হয় না। আমি এ থেকে ঘোলাটে ভাব ও অন্ধকার অনুভব করি এবং হৃদয়ে সংকীর্ণতা ও অভাব খুঁজে পাই...
(খণ্ড: ১)
রিসালা ফী ইসবাতিল ইস্তাওয়া ওয়াল ফাওকিয়্যাহ ওয়া মাসআলাতিল হারফি ওয়াস সাওতি ফিল কুরআনিল মাজীদ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
انشراحه مَقْرُونا بهَا فَكنت كالمتحير المضطرب فِي تحيره المتململ من قلبه فِي تقلبه وتغيره
وَكنت أَخَاف من إِطْلَاق القَوْل بِإِثْبَات الْعُلُوّ والاستواء وَالنُّزُول مَخَافَة الْحصْر والتشبيه وَمَعَ ذَلِك فَإِذا طالعت النُّصُوص الْوَارِدَة فِي كتاب الله وَسنة رَسُوله صلى الله عليه وسلم أَجدهَا نصوصا تُشِير إِلَى حقائق هَذِه الْمعَانِي وَأَجد الرَّسُول صلى الله عليه وسلم قد صرح بهَا مخبرا عَن ربه واصفا لَهُ بهَا وَأعلم بالاضطرار أَنه صلى الله عليه وسلم كَانَ يحضر فِي مَجْلِسه الشريف والعالم وَالْجَاهِل والذكي والبليد والأعرابي والجافي ثمَّ لَا أجد شَيْئا يعقب تِلْكَ النُّصُوص الَّتِي كَانَ يصف ربه بهَا لَا نصا وَلَا ظَاهرا مِمَّا يصرفهَا عَن حقائقها ويؤولها كَمَا تأولها هَؤُلَاءِ مشايخي الْفُقَهَاء الْمُتَكَلِّمين مثل تأويلهم الِاسْتِيلَاء بالاستواء ونزول الْأَمر للنزول وَغير ذَلِك وَلم أجد عَنهُ صلى الله عليه وسلم أَنه كَانَ يحذر النَّاس من الْإِيمَان بِمَا يظْهر من كَلَامه فِي صفته لَدَيْهِ من الْفَوْقِيَّة وَالْيَدَيْنِ وَغَيرهَا وَلم ينْقل عَنهُ مقَالَة تدل على أَن لهَذِهِ الصِّفَات مَعَاني أخر باطنة غير مَا يظْهر من مدلولها مثل فوقية الْمرتبَة
তার প্রসন্নতা এর সাথে সম্পৃক্ত ছিল, ফলে আমি ছিলাম বিভ্রান্ত ও অস্থির এক ব্যক্তির মতো, যে তার কিংকর্তব্যবিমূঢ়তায় ছটফট করছিল এবং তার হৃদয়ের পরিবর্তন ও রূপান্তরের কারণে যন্ত্রণাবিদ্ধ ছিল।
আমি উচ্চতা (উলুউ), আরশের উপর উঠা (ইস্তিওয়া) এবং নেমে আসা (নুজুল) সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে স্পষ্ট বক্তব্য প্রদান করতে ভয় পেতাম—সীমাবদ্ধতা ও সৃষ্টির সাথে সাদৃশ্য প্রদানের ভয়ে। তবে তা সত্ত্বেও, আমি যখন আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুন্নাহয় বর্ণিত দলীলসমূহ অধ্যয়ন করতাম, তখন সেগুলোকে এমন পাঠ্য হিসেবে পেতাম যা এই অর্থগুলোর হাকীকত বা প্রকৃত স্বরূপের দিকেই ইঙ্গিত করে। আমি দেখতাম যে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর রব সম্পর্কে সংবাদ প্রদানকারী এবং তাঁকে এসব গুণে গুণান্বিতকারী হিসেবে বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন। আমি অকাট্যভাবে জানি যে, তাঁর সম্মানিত মজলিসে আলেম, জাহেল, বুদ্ধিমান, নির্বোধ, গ্রাম্য মরুবাসী এবং রূঢ় স্বভাবের মানুষ—সকলেই উপস্থিত থাকত। অতঃপর আমি এমন কোনো বর্ণনা বা প্রকাশ্য ইঙ্গিত পেতাম না যা সেই দলীলগুলোকে অনুসরণ করে—যেগুলোর মাধ্যমে তিনি তাঁর রবকে গুণান্বিত করতেন—যা সেগুলোকে তাদের প্রকৃত অর্থ থেকে সরিয়ে দেয় কিংবা সেগুলোর অপব্যাখ্যা করে; যেমনটি আমার উস্তাদ ফকীহ ও কালামশাস্ত্রবিদগণ করেছেন। যেমন: ‘উঠা’ (ইস্তিওয়া)-এর পরিবর্তে ‘কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা’ (ইস্তিলা) এবং ‘নেমে আসা’ (নুজুল)-এর পরিবর্তে ‘আদেশ অবতীর্ণ হওয়া’ ইত্যাদি অপব্যাখ্যা করা। আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে এমন কিছু পাইনি যে, তিনি মানুষকে তাঁর বক্তব্যে রবের যে বৈশিষ্ট্যগুলো প্রকাশ পায়—যেমন আল্লাহর উপরে থাকা (ফাওকিয়্যাহ), আল্লাহর দুই হাত এবং অন্যান্য বিষয়—সেগুলোর প্রকাশ্য অর্থের ওপর ঈমান আনতে সতর্ক করতেন। আর তাঁর থেকে এমন কোনো উক্তিও বর্ণিত হয়নি যা প্রমাণ করে যে, এই গুণগুলোর প্রকাশ্য নির্দেশনার বাইরে অন্য কোনো অভ্যন্তরীণ বা গোপন অর্থ রয়েছে—যেমন ‘মর্যাদাগত উচ্চতা’।
(খণ্ড: ১)
রিসালা ফী ইসবাতিল ইস্তাওয়া ওয়াল ফাওকিয়্যাহ ওয়া মাসআলাতিল হারফি ওয়াস সাওতি ফিল কুরআনিল মাজীদ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
وَيَد النِّعْمَة وَالْقُدْرَة وَغير ذَلِك وَأَجد الله عز وجل يَقُول {الرَّحْمَن على الْعَرْش اسْتَوَى} {خلق السَّمَاوَات وَالْأَرْض فِي سِتَّة أَيَّام ثمَّ اسْتَوَى على الْعَرْش يعلم} {يخَافُونَ رَبهم من فَوْقهم} {إِلَيْهِ يصعد الْكَلم الطّيب} {أأمنتم من فِي السَّمَاء أَن يخسف بكم الأَرْض فَإِذا هِيَ تمور أم أمنتم من فِي السَّمَاء أَن يُرْسل عَلَيْكُم حاصبا} {قل نزله روح الْقُدس من رَبك} {وَقَالَ فِرْعَوْن يَا هامان ابْن لي صرحا لعَلي أبلغ الْأَسْبَاب أَسبَاب السَّمَاوَات فَأطلع إِلَى إِلَه مُوسَى وَإِنِّي لأظنه كَاذِبًا} وَهَذَا يدل على أَن مُوسَى أخبرهُ بِأَن ربه تَعَالَى فَوق السَّمَاء وَلِهَذَا قَالَ وَإِنِّي لأظنه كَاذِبًا وَقَوله تَعَالَى {ذِي المعارج تعرج الْمَلَائِكَة وَالروح إِلَيْهِ فِي يَوْم كَانَ مِقْدَاره خمسين ألف سنة} ثمَّ أجد الرَّسُول صلى الله عليه وسلم لما أَرَادَ الله تَعَالَى أَن يَخُصُّهُ بِقُرْبِهِ عرج بِهِ من سَمَاء إِلَى سَمَاء حَتَّى كَانَ قاب قوسين أَو أدنى ثمَّ قَوْله صلى الله عليه وسلم فِي الحَدِيث الصَّحِيح لِلْجَارِيَةِ (أَيْن الله) فَقَالَت فِي السَّمَاء فَلم يُنكر عَلَيْهَا بِحَضْرَة أَصْحَابه كَيْلا يتوهموا أَن الْأَمر على خلاف مَا هُوَ عَلَيْهِ بل أقرها وَقَالَ (اعتقها فَإِنَّهَا مُؤمنَة) وَفِي
নেয়ামতের হাত, কুদরতের হাত এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয়। আর আমি মহান আল্লাহকে বলতে দেখি: {পরম করুণাময় আরশের উপর উঠেছেন।} {তিনি আসমানসমূহ ও জমিন ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর আরশের উপর উঠেছেন; তিনি জানেন...} {তারা তাদের রবকে ভয় করে, যিনি তাদের উপরে রয়েছেন।} {তাঁরই দিকে পবিত্র বাণীসমূহ আরোহণ করে।} {যিনি আসমানে রয়েছেন, তিনি তোমাদের সহ ভূমি ধসিয়ে দেবেন—এ থেকে কি তোমরা নিরাপদ হয়ে গেছ? তখন ওটা হঠাৎ থরথর করে কাঁপতে থাকবে। অথবা যিনি আসমানে রয়েছেন, তিনি তোমাদের ওপর কঙ্করবর্ষী ঝড় পাঠাবেন—এ থেকে কি তোমরা নিরাপদ হয়ে গেছ?} {বলুন, একে পবিত্র রূহ তোমার রবের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ করেছেন।} {আর ফেরাউন বলল, হে হামান! তুমি আমার জন্য একটি সুউচ্চ প্রাসাদ নির্মাণ করো, যাতে আমি সেই সব পথে পৌঁছাতে পারি—আসমানসমূহের পথে, আর মূসার ইলাহকে উঁকি দিয়ে দেখতে পারি; যদিও আমি অবশ্যই তাকে মিথ্যাবাদী মনে করি।} এবং এটি প্রমাণ করে যে, মূসা তাকে সংবাদ দিয়েছিলেন যে তাঁর মহান রব আসমানের উপরে রয়েছেন, আর এই কারণেই সে বলেছিল, "আর আমি অবশ্যই তাকে মিথ্যাবাদী মনে করি।" এবং মহান আল্লাহর বাণী: {সিঁড়িসমূহের অধিকারী; তাঁর দিকে ফেরেশতা ও রূহ আরোহণ করে এমন এক দিনে, যার পরিমাণ পঞ্চাশ হাজার বছর।} এরপর আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখি, যখন আল্লাহ তাআলা তাঁকে তাঁর নৈকট্যের মাধ্যমে বিশেষিত করার ইচ্ছা করলেন, তখন তাঁকে এক আসমান থেকে অন্য আসমানে আরোহণ করানো হলো, এমনকি তিনি দুই ধনুকের ব্যবধানে বা তারও নিকটবর্তী হলেন। এরপর সহীহ হাদীসে দাসীর প্রতি তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উক্তি: (আল্লাহ কোথায়?) তখন সে বলল: (আসমানে)। তিনি তাঁর সাহাবীদের উপস্থিতিতে তার এই কথা অস্বীকার করেননি, যাতে তারা বিষয়টি এর বিপরীত কোনো কিছু মনে না করে বসে, বরং তিনি তাকে সমর্থন করেছেন এবং বলেছেন: (তাকে মুক্ত করে দাও, কারণ সে একজন মুমিনাহ।) এবং...
(খণ্ড: ১)
রিসালা ফী ইসবাতিল ইস্তাওয়া ওয়াল ফাওকিয়্যাহ ওয়া মাসআলাতিল হারফি ওয়াস সাওতি ফিল কুরআনিল মাজীদ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
حَدِيث جُبَير بن مطعم قَالَ قَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم (إِن الله فَوق عَرْشه فَوق سمواته وسمواته فَوق أرضه مثل الْقبَّة وَأَشَارَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم بِيَدِهِ مثل الْقبَّة) وَقَوله صلى الله عليه وسلم (الراحمون يرحمهم الرَّحْمَن ارحموا أهل الأَرْض
জুবায়ের ইবনে মুতয়িম (রা.) বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর আরশের উপরে, যা তাঁর আসমানসমূহের উপরে; আর তাঁর আসমানসমূহ তাঁর জমিনের উপরে গম্বুজের ন্যায়।” এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর হাত দ্বারা গম্বুজের ন্যায় ইশারা করলেন। এবং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বাণী: “দয়াশীলদের প্রতি পরম দয়াময় দয়া করেন। তোমরা জমিনবাসীদের প্রতি দয়া করো।”
(খণ্ড: ১)
রিসালা ফী ইসবাতিল ইস্তাওয়া ওয়াল ফাওকিয়্যাহ ওয়া মাসআলাতিল হারফি ওয়াস সাওতি ফিল কুরআনিল মাজীদ
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
يَرْحَمكُمْ من فِي السَّمَاء) أخرجه التِّرْمِذِيّ وَقَالَ حسن صَحِيح
যিনি আসমানে আছেন তিনি তোমাদের প্রতি দয়া করবেন) এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন এবং তিনি একে হাসান সহীহ বলেছেন।
(খণ্ড: ১)
রিসালা ফী ইসবাতিল ইস্তাওয়া ওয়াল ফাওকিয়্যাহ ওয়া মাসআলাতিল হারফি ওয়াস সাওতি ফিল কুরআনিল মাজীদ
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
وَعَن مُعَاوِيَة بن الحكم السّلمِيّ قلت يَا رَسُول الله أَفلا أعْتقهَا قَالَ ادعها فدعوتها قَالَ فَقَالَ لَهَا (أَيْن الله) قَالَت فِي السَّمَاء قَالَ (من أَنا) قَالَت أَنْت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ (اعتقها فَإِنَّهَا مُؤمنَة)
رحلى مُسلم وَمَالك فِي موطئة
মুয়াবিয়া ইবনে হাকাম আস-সুলামী (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি তাকে (দাসীটিকে) মুক্ত করে দেব না? তিনি বললেন, তাকে ডাকো। তখন আমি তাকে ডাকলাম। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, "আল্লাহ কোথায়?" সে বলল, "আকাশের উপরে।" তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "আমি কে?" সে বলল, "আপনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)।" তিনি বললেন, "তাকে মুক্ত করে দাও, কেননা সে একজন মুমিন।"
এটি বর্ণনা করেছেন মুসলিম এবং মালেক তাঁর মুয়াত্তায়।
(খণ্ড: ১)
রিসালা ফী ইসবাতিল ইস্তাওয়া ওয়াল ফাওকিয়্যাহ ওয়া মাসআলাতিল হারফি ওয়াস সাওতি ফিল কুরআনিল মাজীদ
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
وَعَن أبي
এবং আবু থেকে
(খণ্ড: ১)
রিসালা ফী ইসবাতিল ইস্তাওয়া ওয়াল ফাওকিয়্যাহ ওয়া মাসআলাতিল হারফি ওয়াস সাওতি ফিল কুরআনিল মাজীদ
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
الدَّرْدَاء قَالَ سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول (من اشْتَكَى مِنْكُم شَيْئا أَو اشْتَكَى أَخ لَهُ فَلْيقل رَبنَا الَّذِي فِي السَّمَاء تقدس أسمك أَمرك فِي السَّمَاء وَالْأَرْض كَمَا رحمتك فِي السَّمَاء اغْفِر لنا حوبنا وخطايانا أَنْت رب الطيبين أنزل رَحْمَة من رحمتك وشفاء من شفائك على الوجع فَيبرأ أخرجه أَبُو دَاوُد
আদ-দারদা বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "তোমাদের মধ্যে কেউ যদি কোনো রোগে আক্রান্ত হয় অথবা তার কোনো ভাই আক্রান্ত হয়, সে যেন বলে: আমাদের রব যিনি আকাশে আছেন, আপনার নাম পবিত্র হোক; আসমান ও জমিনে আপনারই কর্তৃত্ব; আকাশে যেমন আপনার রহমত রয়েছে, আমাদের পাপ ও ত্রুটিসমূহ ক্ষমা করে দিন; আপনি পবিত্র বান্দাদের রব; আপনার রহমত হতে বিশেষ রহমত এবং আপনার আরোগ্য হতে বিশেষ আরোগ্য এই ব্যথার ওপর অবতীর্ণ করুন, যাতে তা সেরে যায়।" এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
রিসালা ফী ইসবাতিল ইস্তাওয়া ওয়াল ফাওকিয়্যাহ ওয়া মাসআলাতিল হারফি ওয়াস সাওতি ফিল কুরআনিল মাজীদ
(পৃষ্ঠা: ৪০)
وَعَن أبي سعيد الْخُدْرِيّ قَالَ بعث عَليّ من الْيمن بذهيبة فِي أَدِيم مقروظ لم تحصل من ترابها فَقَسمهَا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم بَين أَرْبَعَة زيد الْخَيْر والأقرع بن
আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ইয়ামেন থেকে বাবলা ফল দ্বারা পাকা করা চামড়ার থলিতে কিছু স্বর্ণখণ্ড পাঠালেন যা তখনো মাটি থেকে পৃথক করা হয়নি। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা চার ব্যক্তির মধ্যে বণ্টন করে দিলেন: যায়েদ আল-খায়র এবং আল-আকরা ইবনে...
(খণ্ড: ১)
রিসালা ফী ইসবাতিল ইস্তাওয়া ওয়াল ফাওকিয়্যাহ ওয়া মাসআলাতিল হারফি ওয়াস সাওতি ফিল কুরআনিল মাজীদ
(পৃষ্ঠা: ৪১)
حَابِس وعيينة بن حصن وعلقمة بن علاثة أَو عَامر بن الطُّفَيْل شكّ
হাবিস এবং উয়াইনা বিন হিসন এবং আলক্বামাহ বিন উলাসাহ অথবা আমির বিন আল-তুফাইল (সন্দেহ)
(খণ্ড: ১)
রিসালা ফী ইসবাতিল ইস্তাওয়া ওয়াল ফাওকিয়্যাহ ওয়া মাসআলাতিল হারফি ওয়াস সাওতি ফিল কুরআনিল মাজীদ
(পৃষ্ঠা: ৪২)
عمَارَة فَوجدَ من ذَلِك بعض أَصْحَابه وَالْأَنْصَار وَغَيرهم فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم (أَلا تأمنوني وَأَنا أَمِين من فِي السَّمَاء يأتيني خبر من السَّمَاء صباحا وَمَسَاء)
أخرجه البُخَارِيّ وَمُسلم ذِئْب
وَعَن ابْن أبي ذِئْب عَن مُحَمَّد بن عَمْرو بن
...উমারা। এতে তাঁর কিছু সাহাবী, আনসার এবং অন্যান্যরা মনে কিছুটা কষ্ট পেলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তোমরা কি আমাকে আমানতদার মনে করো না, অথচ আমি তাঁর আমানতদার যিনি আসমানে আছেন? সকাল-সন্ধ্যা আমার কাছে আসমান থেকে খবর আসে।"
এটি বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন। যিব।
এবং ইবনে আবি যিব থেকে বর্ণিত, তিনি মুহাম্মদ বিন আমর বিন...
(খণ্ড: ১)
রিসালা ফী ইসবাতিল ইস্তাওয়া ওয়াল ফাওকিয়্যাহ ওয়া মাসআলাতিল হারফি ওয়াস সাওতি ফিল কুরআনিল মাজীদ
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
عَطاء عَن سعيد بن يسَار عَن أبي هُرَيْرَة عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ (إِن الْمَيِّت تحضره الْمَلَائِكَة فَإِذا كَانَ الرجل الصَّالح قَالُوا اخْرُجِي أيتها النَّفس الطّيبَة كَانَت فِي الْجَسَد الطّيب اخْرُجِي حميدة وَأَبْشِرِي بِروح وَرَيْحَان وَرب غير غَضْبَان فَلَا يزَال يُقَال لَهَا ذَلِك حَتَّى تخرج ثمَّ يعرج بهَا إِلَى السَّمَاء فيستفتح لَهَا فَيُقَال من هَذَا فَيَقُول فلَان فَيَقُولُونَ مرْحَبًا بِالنَّفسِ الطّيبَة كَانَت فِي الْجَسَد الطّيب أدخلي حميدة وَأَبْشِرِي بِروح وَرَيْحَان وَرب غير غَضْبَان فَلَا يزَال يُقَال
আতা সাঈদ বিন ইয়াসার থেকে, তিনি আবু হুরাইরা থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: নিশ্চয়ই মৃত ব্যক্তির নিকট ফেরেশতারা উপস্থিত হন। অতঃপর সে যদি নেককার ব্যক্তি হয়, তবে তারা বলেন—হে পবিত্র আত্মা, যা পবিত্র দেহে ছিলে, বের হয়ে এসো। প্রশংসিত অবস্থায় বের হয়ে এসো এবং প্রশস্ততা, সুগন্ধি ও এমন রবের সুসংবাদ গ্রহণ করো যিনি রাগান্বিত নন। তার বের হওয়া পর্যন্ত তাকে এই কথাই বলা হতে থাকে। অতঃপর তাকে নিয়ে আসমানে আরোহণ করা হয় এবং তার জন্য আসমানের দরজা খুলতে বলা হয়। তখন জিজ্ঞাসা করা হয়, 'এ কে?' বলা হয়—'অমুক'। তখন তারা বলেন, 'সুস্বাগতম সেই পবিত্র আত্মার জন্য যা পবিত্র দেহে ছিল। প্রশংসিত অবস্থায় প্রবেশ করো এবং প্রশস্ততা, সুগন্ধি ও এমন রবের সুসংবাদ গ্রহণ করো যিনি রাগান্বিত নন।' তাকে ক্রমাগতভাবে এই কথা বলা হতে থাকে...
(খণ্ড: ১)
রিসালা ফী ইসবাতিল ইস্তাওয়া ওয়াল ফাওকিয়্যাহ ওয়া মাসআলাতিল হারফি ওয়াস সাওতি ফিল কুরআনিল মাজীদ
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
لَهَا ذَلِك حَتَّى تَنْتَهِي إِلَى السَّمَاء الَّتِي فِيهَا الله عز وجل الحَدِيث
وَعَن أبي هُرَيْرَة أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ (وَالَّذِي نَفسِي بِيَدِهِ مَا من رجل يَدْعُو امْرَأَته إِلَى فراشها فتأبى عَلَيْهِ إِلَّا كَانَ الَّذِي فِي السَّمَاء ساخطا عَلَيْهَا حَتَّى يرضى عَنْهَا)
أخرجه البُخَارِيّ وَمُسلم وَقَالَ أَبُو دَاوُد حَدثنَا مُحَمَّد بن الصَّباح حَدثنَا الْوَلِيد بن أبي ثَوْر عَن
তার জন্য এটি হতে থাকে যতক্ষণ না তা সেই আসমান পর্যন্ত পৌঁছে যেখানে আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা রয়েছেন—হাদিস।
আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন, "সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ, কোনো ব্যক্তি যখনই তার স্ত্রীকে তার বিছানায় ডাকে আর সে তা অস্বীকার করে, তখন আসমানে যিনি আছেন তিনি তার ওপর অসন্তুষ্ট থাকেন যতক্ষণ না সে (স্বামী) তার ওপর সন্তুষ্ট হয়।"
এটি বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন। আবু দাউদ বলেন, আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে সাব্বাহ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ওয়ালিদ ইবনে আবি সাওর বর্ণনা করেছেন... থেকে।
(খণ্ড: ১)
রিসালা ফী ইসবাতিল ইস্তাওয়া ওয়াল ফাওকিয়্যাহ ওয়া মাসআলাতিল হারফি ওয়াস সাওতি ফিল কুরআনিল মাজীদ
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
سماك عَن عبد الله بن عميرَة عَن الْأَحْنَف بن قيس عَن الْعَبَّاس بن عبد الْمطلب قَالَ كنت فِي الْبَطْحَاء فِي عِصَابَة فيهم رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم
সিমাক আবদুল্লাহ ইবনে উমাইরা থেকে, তিনি আল-আহনাফ ইবনে কাইস থেকে, তিনি আল-আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি বাতহা নামক স্থানে একদল লোকের মধ্যে ছিলাম, যাঁদের মধ্যে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপস্থিত ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
রিসালা ফী ইসবাতিল ইস্তাওয়া ওয়াল ফাওকিয়্যাহ ওয়া মাসআলাতিল হারফি ওয়াস সাওতি ফিল কুরআনিল মাজীদ
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
فمرت بهم سَحَابَة فَنظر إِلَيْهَا فَقَالَ (مَا تسمون هَذِه) قَالُوا السَّحَاب قَالَ (والمزن) قَالُوا والمزن قَالَ (والعنان) قَالُوا والعنان قَالَ (هَل تَدْرُونَ مَا بعد مَا بَين السَّمَاء وَالْأَرْض) قَالُوا لَا نَدْرِي قَالَ (إِن بعد مَا بَينهمَا إِمَّا وَاحِدَة وَإِمَّا اثْنَتَانِ أَو ثَلَاث وَسَبْعُونَ سنة ثمَّ السَّمَاء فَوق ذَلِك) حَتَّى عد سبع سموات (ثمَّ فَوق السَّمَاء السَّابِعَة بَحر بَين أَسْفَله وَأَعلاهُ مثل مَا بَين سَمَاء إِلَى سَمَاء ثمَّ فَوق ذَلِك ثَمَانِيَة أوعال بَين أظلافهم وركبهم مثل مَا بَين سَمَاء إِلَى سَمَاء ثمَّ على ظُهُورهمْ الْعَرْش بَين أَسْفَله وَأَعلاهُ مثل مَا بَين سَمَاء إِلَى سَمَاء ثمَّ الله عز وجل فَوق ذَلِك
অতঃপর তাদের পাশ দিয়ে একটি মেঘখণ্ড অতিক্রম করল। তিনি সেটির দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “তোমরা একে কী নামে অভিহিত করো?” তারা বলল, “মেঘ।” তিনি বললেন, “এবং আল-মুযন?” তারা বলল, “এবং আল-মুযন।” তিনি বললেন, “এবং আল-আনান?” তারা বলল, “এবং আল-আনান।” তিনি বললেন, “তোমরা কি জানো আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী দূরত্ব কতটুকু?” তারা বলল, “আমরা জানি না।” তিনি বললেন, “নিশ্চয়ই এ দুটির মধ্যবর্তী দূরত্ব একাত্তর, বাহাত্তর অথবা তিয়াত্তর বছরের পথ; তারপর আসমান তার উপরে।” এভাবে তিনি সাতটি আসমান গণনা করলেন। “অতঃপর সপ্তম আসমানের উপরে একটি সমুদ্র রয়েছে, যার তলদেশ ও উপরিভাগের মধ্যবর্তী দূরত্ব এক আসমান থেকে অন্য আসমানের মধ্যবর্তী দূরত্বের সমান। এরপর তার উপরে আটটি পাহাড়ি ছাগল রয়েছে, যাদের খুর ও হাঁটুর মধ্যবর্তী দূরত্ব এক আসমান থেকে অন্য আসমানের মধ্যবর্তী দূরত্বের সমান। তারপর তাদের পিঠের উপরে রয়েছে আরশ, যার তলদেশ ও উপরিভাগের মধ্যবর্তী দূরত্ব এক আসমান থেকে অন্য আসমানের মধ্যবর্তী দূরত্বের সমান। অতঃপর আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তার উপরে।”
(খণ্ড: ১)
রিসালা ফী ইসবাতিল ইস্তাওয়া ওয়াল ফাওকিয়্যাহ ওয়া মাসআলাতিল হারফি ওয়াস সাওতি ফিল কুরআনিল মাজীদ
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
قَالَ الإِمَام الْحَافِظ عبد الْغَنِيّ فِي عقيدته لما ذكر حَدِيث الأوعال قَالَ رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ وَابْن مَاجَه وَقَالَ حَدِيث الرّوح رَوَاهُ
ইমাম হাফেজ আব্দুল গণি তাঁর আকিদাহ গ্রন্থে যখন আওআল (পার্বত্য ছাগল) সংক্রান্ত হাদিসটি উল্লেখ করেন, তখন তিনি বলেন: এটি আবু দাউদ, তিরমিযি ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন। এবং তিনি বলেন, রূহ সংক্রান্ত হাদিসটি বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১)
রিসালা ফী ইসবাতিল ইস্তাওয়া ওয়াল ফাওকিয়্যাহ ওয়া মাসআলাতিল হারফি ওয়াস সাওতি ফিল কুরআনিল মাজীদ
(পৃষ্ঠা: ৫১)
أَحْمد وَالدَّارَقُطْنِيّ وَعَن أبي هُرَيْرَة قَالَ سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول (إِن الله كتب كتابا قبل أَن يخلق الْخلق أَن رَحْمَتي سبقت غَضَبي فَهُوَ عِنْده فَوق الْعَرْش)
أخرجه البُخَارِيّ وَمُسلم
আহমাদ ও দারা কুতনী এবং আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, "নিশ্চয়ই আল্লাহ সৃষ্টিজগত সৃষ্টির পূর্বে একটি কিতাব লিখেছেন যে, 'নিশ্চয়ই আমার রহমত আমার ক্রোধকে ছাড়িয়ে গেছে', আর সেটি তাঁর নিকট আরশের উপরে রয়েছে।"
এটি বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
রিসালা ফী ইসবাতিল ইস্তাওয়া ওয়াল ফাওকিয়্যাহ ওয়া মাসআলাতিল হারফি ওয়াস সাওতি ফিল কুরআনিল মাজীদ
(পৃষ্ঠা: ৫২)
وَأخرج مُحَمَّد بن اسحاق عَن معبد بن كَعْب بن مَالك أَن سعد بن معَاذ لما حكم فِي
এবং মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক মা'বাদ ইবনে কা'ব ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন যে, সা'দ ইবনে মু'আয যখন ফয়সালা প্রদান করলেন...
(খণ্ড: ১)
রিসালা ফী ইসবাতিল ইস্তাওয়া ওয়াল ফাওকিয়্যাহ ওয়া মাসআলাতিল হারফি ওয়াস সাওতি ফিল কুরআনিল মাজীদ
(পৃষ্ঠা: ৫৩)
بني قُرَيْظَة قَالَ لَهُ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم (لقد حكمت حكما حكم الله بِهِ من فَوق سبع أَرقعَة) وَحَدِيث الْمِعْرَاج عَن أنس بن مَالك أَن مَالك بن
বনু কুরাইজা (প্রসঙ্গে), আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, "তুমি অবশ্যই এমন এক ফয়সালা করেছ যা আল্লাহ সাত আসমানের উপর থেকে করেছেন।" এবং আনাস ইবনে মালেক থেকে বর্ণিত মিরাজের হাদিস যে, মালেক ইবনে...
(খণ্ড: ১)
রিসালা ফী ইসবাতিল ইস্তাওয়া ওয়াল ফাওকিয়্যাহ ওয়া মাসআলাতিল হারফি ওয়াস সাওতি ফিল কুরআনিল মাজীদ
(পৃষ্ঠা: ৫৪)
صعصعة حَدثهُ أَن نَبِي الله صلى الله عليه وسلم حَدثهمْ عَن لَيْلَة أسرِي بِهِ وسَاق الحَدِيث إِلَى أَن قَالَ (ثمَّ فرضت عَليّ الصَّلَاة خمسين صَلَاة كل يَوْم فَرَجَعت فمررت على مُوسَى فَقَالَ بِمَ أمرت قَالَ أمرت بِخَمْسِينَ صَلَاة كل يَوْم قَالَ إِن أمتك لَا تَسْتَطِيع خمسين صَلَاة وَإِنِّي قد خبرت النَّاس قبلك وعالجت بني إِسْرَائِيل أَشد المعالجة فَارْجِع إِلَى رَبك فَاسْأَلْهُ التَّخْفِيف لأمتك فَرَجَعت فَوضع عني عشرا فَرَجَعت إِلَى مُوسَى فَقَالَ مثل ذَلِك فَرَجَعت إِلَى رَبِّي فَوضع عني عشرا خمس مَرَّات فِي كلهَا يَقُول فَرَجَعت إِلَى مُوسَى ثمَّ رجعت إِلَى رَبِّي)
أخرجه البُخَارِيّ وَمُسلم
وَحَدِيث أبي هُرَيْرَة أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ (يتعاقبون فِيكُم مَلَائِكَة بِاللَّيْلِ وملائكة بِالنَّهَارِ ويجتمعون فِي صَلَاة الْفجْر وَصَلَاة الْعَصْر ثمَّ يعرج الَّذين باتوا فِيكُم فيسألهم رَبهم وَهُوَ أعلم بهم
সা'সা'আ বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁদের নিকট তাঁর ইসরা বা নৈশ ভ্রমণের রাত সম্পর্কে হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং তিনি হাদিসটি বর্ণনা করে চললেন যতক্ষণ না তিনি বললেন: (অতঃপর আমার ওপর প্রতিদিন পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করা হলো। আমি ফিরে আসলাম এবং মুসার নিকট দিয়ে অতিক্রম করলাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, আপনাকে কী নির্দেশ দেওয়া হয়েছে? তিনি বললেন, আমাকে প্রতিদিন পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বললেন, আপনার উম্মত পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত আদায় করতে সক্ষম হবে না, আর আমি আপনার পূর্বের লোকদের পরীক্ষা করেছি এবং বনী ইসরাঈলের সাথে অত্যন্ত কঠোরভাবে মুআমালা করেছি। সুতরাং আপনি আপনার রবের কাছে ফিরে যান এবং আপনার উম্মতের জন্য তা লাঘব করার আবেদন করুন। অতঃপর আমি ফিরে গেলাম এবং তিনি আমার থেকে দশ ওয়াক্ত কমিয়ে দিলেন। আমি পুনরায় মুসার কাছে ফিরে আসলাম, তিনিও অনুরূপ কথা বললেন। এভাবে আমি আমার রবের কাছে ফিরে গেলাম এবং তিনি আমার থেকে দশ ওয়াক্ত করে পাঁচ বার কমিয়ে দিলেন। এর প্রতিবারই তিনি বর্ণনা করেন যে, অতঃপর আমি মুসার কাছে ফিরে আসলাম এবং পুনরায় আমার রবের কাছে ফিরে গেলাম।)
এটি বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
এবং আবু হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত হাদিস যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (তোমাদের নিকট রাতে একদল ফেরেশতা এবং দিনে একদল ফেরেশতা পালাক্রমে যাতায়াত করেন এবং তাঁরা ফজরের সালাত ও আসরের সালাতে একত্রিত হন। অতঃপর যারা তোমাদের নিকট রাত কাটিয়েছিলেন তাঁরা উপরে আরোহণ করেন, তখন তাঁদের রব তাঁদেরকে জিজ্ঞেস করেন—অথচ তিনি তাঁদের সম্পর্কে অধিক অবগত...)
(খণ্ড: ১)
রিসালা ফী ইসবাতিল ইস্তাওয়া ওয়াল ফাওকিয়্যাহ ওয়া মাসআলাতিল হারফি ওয়াস সাওতি ফিল কুরআনিল মাজীদ
(পৃষ্ঠা: ৫৫)
كَيفَ تركْتُم عبَادي) // مُتَّفق عَلَيْهِ //
وَعَن ابْن عمر قَالَ لما قبض رَسُول الله صلى الله عليه وسلم دخل عَلَيْهِ أَبُو بكر رَضِي الله تَعَالَى عَنهُ فأكب عَلَيْهِ وَقبل جَبهته وَقَالَ بِأبي أَنْت
তোমরা আমার বান্দাদেরকে কেমন অবস্থায় ছেড়ে এসেছ?) // বুখারি ও মুসলিম কর্তৃক সর্বসম্মত //
ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওফাত হলো, তখন আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর নিকট প্রবেশ করলেন। অতঃপর তিনি তাঁর ওপর ঝুঁকে পড়লেন এবং তাঁর কপালে চুম্বন করলেন এবং বললেন, "আমার পিতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোন।"
(খণ্ড: ১)
রিসালা ফী ইসবাতিল ইস্তাওয়া ওয়াল ফাওকিয়্যাহ ওয়া মাসআলাতিল হারফি ওয়াস সাওতি ফিল কুরআনিল মাজীদ
(পৃষ্ঠা: ৫৬)
وَأمي طبت حَيا وَمَيتًا وَقَالَ من كَانَ يعبد مُحَمَّدًا فَإِن مُحَمَّدًا قد مَاتَ وَمن كَانَ يعبد الله فَإِن الله حَيّ فِي السَّمَاء لَا يَمُوت) رَوَاهُ البُخَارِيّ
عَن مُحَمَّد بن فُضَيْل عَن فُضَيْل بن غَزوَان عَن
এবং আমার মা, আপনি জীবিত ও মৃত অবস্থায় পবিত্র ছিলেন। তিনি বললেন, যে ব্যক্তি মুহাম্মাদের ইবাদত করত, তবে নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ মৃত্যুবরণ করেছেন; আর যে ব্যক্তি আল্লাহর ইবাদত করত, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ আসমানে চিরঞ্জীব, তিনি মৃত্যুবরণ করেন না।) এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।
মুহাম্মাদ ইবনে ফুদাইল থেকে, তিনি ফুদাইল ইবনে গাজওয়ান থেকে, তিনি
(খণ্ড: ১)
রিসালা ফী ইসবাতিল ইস্তাওয়া ওয়াল ফাওকিয়্যাহ ওয়া মাসআলাতিল হারফি ওয়াস সাওতি ফিল কুরআনিল মাজীদ
(পৃষ্ঠা: ৫৭)
نَافِع عَن ابْن عمر
وَعَن أنس بن مَالك كَانَت زَيْنَب تَفْخَر على أَزوَاج رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَتقول إِن الله زَوجنِي من السَّمَاء) وَفِي لفظ (زوجكن أهلوكن
নাফে’ ইবনে উমর হতে
এবং আনাস ইবনে মালিক হতে বর্ণিত যে, যায়নাব আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অন্যান্য স্ত্রীদের নিকট গর্ববোধ করতেন এবং বলতেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ আসমান হতে আমার বিবাহ দিয়েছেন।” এবং অন্য এক শব্দে এসেছে, “(তোমাদের বিবাহ দিয়েছে তোমাদের পরিবারবর্গ)”
(খণ্ড: ১)
রিসালা ফী ইসবাতিল ইস্তাওয়া ওয়াল ফাওকিয়্যাহ ওয়া মাসআলাতিল হারফি ওয়াস সাওতি ফিল কুরআনিল মাজীদ
(পৃষ্ঠা: ৫৮)
وزوجني الله من فَوق سبع سموات أخرجه البُخَارِيّ
وَحَدِيث عبد الله بن مَسْعُود قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم (من لم يرحم من فِي الأَرْض لم يرحمه من فِي السَّمَاء) وَحَدِيث ابْن
এবং আল্লাহ আমাকে সাত আসমানের উপর থেকে বিবাহ দিয়েছেন, বুখারী এটি বর্ণনা করেছেন।
আর আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদের হাদীস, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, (যে ব্যক্তি জমিনে বিচরণকারীদের প্রতি দয়া করে না, আসমানে যিনি আছেন তিনি তার প্রতি দয়া করবেন না) এবং ইবনে এর হাদীস...
(খণ্ড: ১)
রিসালা ফী ইসবাতিল ইস্তাওয়া ওয়াল ফাওকিয়্যাহ ওয়া মাসআলাতিল হারফি ওয়াস সাওতি ফিল কুরআনিল মাজীদ
(পৃষ্ঠা: ৫৯)
عَبَّاس أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لما أسرِي بِهِ مرت رَائِحَة طيبَة فَقلت (يَا جِبْرِيل مَا هَذِه الرَّائِحَة فَقَالَ هَذِه رَائِحَة ماشطة ابْنة فِرْعَوْن كَانَت تمشطهَا فَوَقع الْمشْط من يَدهَا فَقَالَت بِسم الله فَقَالَت ابْنَته إِلَى أَبِيهَا فَدَعَا بهَا فَقَالَ هَل لَك رب غَيْرِي قَالَت رَبِّي وَرَبك الله الَّذِي فِي السَّمَاء فَأمر ببقرة نُحَاس فأحميت ثمَّ دَعَا بهَا وَبِوَلَدِهَا فألقاهم فِيهَا الحَدِيث رَوَاهُ الدَّارمِيّ وَغَيره
وروى الدَّارمِيّ أَيْضا بِإِسْنَادِهِ إِلَى أبي صَالح عَن أبي هُرَيْرَة قَالَ
ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে যখন মেরাজে নিয়ে যাওয়া হলো, তখন তিনি একটি চমৎকার সুবাস অনুভব করলেন। আমি বললাম: "হে জিবরীল! এই সুবাস কীসের?" তিনি বললেন: "এটি ফেরাউনের কন্যার কেশবিন্যাসকারিণীর সুবাস। তিনি তাকে চিরুনি করে দিচ্ছিলেন, এমতাবস্থায় তাঁর হাত থেকে চিরুনিটি পড়ে গেল এবং তিনি বললেন: 'বিসমিল্লাহ' (আল্লাহর নামে)। তখন (ফেরাউনের) কন্যা তার পিতার নিকট (এ সংবাদ নিয়ে) গেল। অতঃপর তিনি (ফেরাউন) তাকে ডেকে আনলেন এবং বললেন: 'আমি ছাড়া তোমার কি অন্য কোনো রব আছে?' তিনি বললেন: 'আমার রব এবং তোমার রব হলেন আল্লাহ, যিনি আসমানে আছেন।' তখন সে (ফেরাউন) একটি তামার তৈরি গাভীসদৃশ বিশাল পাত্রের নির্দেশ দিল এবং তা উত্তপ্ত করা হলো। এরপর তাকে ও তার সন্তানদের ডেকে আনা হলো এবং তাদের তাতে নিক্ষেপ করা হলো।" - হাদিসটি দারেমি ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন।
এবং দারেমি একইভাবে তাঁর সনদে আবু সালেহ থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: