(খণ্ড: ১) রিসালা ফী আন্নাল কুরআনা গায়রু মাখলূক (পৃষ্ঠা: -)
رسالة في أن القرآن غير مخلوق   (إبراهيم الحربي)

القسم: العقيدة


الكتاب: رسالة في أن القرآن غير مخلوق ويليه رسالة الإمام أحمد إلى الخليفة المتوكل في مسألة القرآن

المؤلف: أبو إسحاق إبراهيم بن إسحاق بن إبراهيم بن بشير بن عبد الله البغدادي الحَرْبي (ت 285هـ)

المحقق: علي بن عبد العزيز علي الشبل

الناشر: دار العاصمة للنشر والتوزيع - الرياض

الطبعة: الأولى، 1416هـ - 1995م

عدد الصفحات: 61

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

কুরআন সৃষ্টি নয় মর্মে একটি পুস্তিকা   (ইবরাহীম আল-হারবী)

বিভাগ: আকীদা


বই: কুরআন সৃষ্টি নয় মর্মে একটি পুস্তিকা এবং এর সাথে কুরআন সংক্রান্ত বিষয়ে খলীফা মুতাওয়াক্কিলের প্রতি ইমাম আহমাদ-এর পত্র

লেখক: আবু ইসহাক ইবরাহীম বিন ইসহাক বিন ইবরাহীম বিন বাশীর বিন আব্দুল্লাহ আল-বাগদাদী আল-হারবী (মৃত্যু ২৮৫ হি.)

সম্পাদক: আলী বিন আব্দুল আযীয আলী আশ-শিবল

প্রকাশক: দারুল আসিমাহ প্রকাশনা ও বিতরণ - রিয়াদ

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৬ হি. - ১৯৯৫ খ্রি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬১

[বইয়ের পৃষ্ঠা সংখ্যা ছাপানো সংস্করণের অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল-হিজ্জাহ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) রিসালা ফী আন্নাল কুরআনা গায়রু মাখলূক (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم

 

1 - أخبرنَا أَبُو الْفَتْح أَحْمد بن عمر بن سعيد بن مَيْمُون الجهارى قِرَاءَة مني عَلَيْهِ قَالَ ثَنَا أَبُو الْفضل جَعْفَر بن إِدْرِيس الْقزْوِينِي بِمَكَّة سنة اثْنَتَيْنِ وَخمسين وثلثمائة قَالَ قَرَأت على
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

 

১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফাতহ আহমদ বিন উমর বিন সাঈদ বিন মাইমুন আল-জাহারী—তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে—তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল ফজল জাফর বিন ইদরিস আল-কাজভিনী মক্কায়, তিনশত বায়ান্ন হিজরী সনে; তিনি বলেন: আমি পাঠ করেছি...
(খণ্ড: ১) রিসালা ফী আন্নাল কুরআনা গায়রু মাখলূক (পৃষ্ঠা: ৩২)
إِبْرَاهِيم الْحَرْبِيّ بِبَغْدَاد وَكَانَ يُصَلِّي بِنَا فِي شهر رَمَضَان قَالَ كنت جَالِسا عِنْد أَحْمد بن حَنْبَل إِذْ جَاءَهُ رجل فَقَالَ يَا أَبَا عبد الله إِن عندنَا قوما يَقُولُونَ إِن ألفاظهم بِالْقُرْآنِ مخلوقة

فَقَالَ أَحْمد بن حَنْبَل يتَوَجَّه العَبْد بِالْقُرْآنِ إِلَى الله لخمسة أوجه كلهَا غير مخلوقة حفظ بقلب وتلاوة بِلِسَان وَسمع بآذان وَنظر ببصر وَخط بيد فالقلب مَخْلُوق وَالْمَحْفُوظ غير مَخْلُوق والتلاوة مخلوقة والمتلو غير مَخْلُوق وَالنَّظَر مَخْلُوق والمنظور إِلَيْهِ غير مَخْلُوق قَالَ إِبْرَاهِيم فَمَاتَ أَحْمد بن حَنْبَل فرأيته فِي النّوم وَعَلِيهِ ثِيَاب خضر وبيض وعَلى رَأسه تَاج من الذَّهَب مكلل بالجوهر وَفِي رجلَيْهِ نَعْلَانِ من ذهب يخط فَقلت مَا فعل الله بك فَقَالَ لي قربني وأدناني وَقَالَ قد غفرت لَك فَقلت لَهُ يَا رب
বাগদাদের ইব্রাহীম আল-হারবী—যিনি রমজান মাসে আমাদের সালাতে ইমামতি করতেন—তিনি বলেন: আমি আহমদ ইবনে হাম্বলের নিকট উপবিষ্ট ছিলাম, এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি তাঁর নিকট এসে বলল, "হে আবু আব্দুল্লাহ! আমাদের এখানে এমন একদল লোক রয়েছে যারা বলে যে, তাদের মুখনিসৃত কুরআনের শব্দসমূহ মাখলুক (সৃষ্ট)।"

তখন আহমদ ইবনে হাম্বল বললেন: "বান্দা কুরআনের মাধ্যমে পাঁচটি পদ্ধতিতে আল্লাহর দিকে ধাবিত হয়, যার প্রতিটিই অ-সৃষ্ট: অন্তরের মাধ্যমে হিফজ করা, জিহ্বার মাধ্যমে তিলাওয়াত করা, কানের মাধ্যমে শ্রবণ করা, চোখের মাধ্যমে দর্শন করা এবং হাতের মাধ্যমে লিখন। সুতরাং অন্তর মাখলুক (সৃষ্ট), কিন্তু যা সংরক্ষিত (হিফজকৃত) তা মাখলুক নয়; তিলাওয়াত মাখলুক, কিন্তু যা পাঠ করা হয় তা মাখলুক নয়; এবং দর্শন মাখলুক, কিন্তু যা দেখা হয় তা মাখলুক নয়।" ইব্রাহীম বলেন: আহমদ ইবনে হাম্বল যখন ইন্তেকাল করলেন, তখন আমি তাঁকে স্বপ্নে দেখলাম যে, তাঁর পরিধানে সবুজ ও সাদা বর্ণের বস্ত্র এবং তাঁর মস্তকে জহরত খচিত স্বর্ণমুকুট রয়েছে। তাঁর দুই পায়ে ছিল স্বর্ণের দুটি পাদুকা যা দিয়ে তিনি হাঁটছিলেন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, "আল্লাহ আপনার সাথে কী আচরণ করেছেন?" তিনি আমাকে বললেন, "তিনি আমাকে তাঁর নিকটবর্তী করেছেন এবং কাছে টেনে নিয়েছেন এবং বলেছেন, ‘আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিয়েছি’।" অতঃপর আমি তাঁকে বললাম, "হে আমার রব!"
(খণ্ড: ১) রিসালা ফী আন্নাল কুরআনা গায়রু মাখলূক (পৃষ্ঠা: ৩৩)
بِمَاذَا فَقَالَ بِقَوْلِك إِن كَلَامي غير مَخْلُوق
কীসের মাধ্যমে? তিনি বললেন: তোমার এই উক্তির মাধ্যমে যে, নিশ্চয়ই আমার বাণী সৃষ্টি নয়।
(খণ্ড: ১) রিসালা ফী আন্নাল কুরআনা গায়রু মাখলূক (পৃষ্ঠা: ৩৪)
2 - أخبرنَا أَبُو الْعَبَّاس أَحْمد بن عَليّ بن إِسْحَاق الْمَعْرُوف بالكسائي الْمصْرِيّ إجَازَة بِخَطِّهِ قَالَ ثَنَا أَبُو الْحُسَيْن بوانة أَحْمد بن عِيسَى بن بوانه الْموصِلِي إملاء من كِتَابه بِلَفْظِهِ وَأَنا أسمع قَالَ ثَنَا أَبُو جَعْفَر مُحَمَّد بن الْحسن بن مَرْوَان بن بدينا قَالَ ثَنَا أَبُو
২ - আবু আব্বাস আহমদ বিন আলী বিন ইসহাক, যিনি আল-কিসায়ী আল-মিসরি নামে পরিচিত, তাঁর স্বহস্তে লিখিত ইজাযতের মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; তিনি বলেন: আবুল হুসাইন বুওয়ানা আহমদ বিন ঈসা বিন বুওয়ানা আল-মাওসিলি তাঁর কিতাব থেকে স্বীয় শব্দ উচ্চারণের মাধ্যমে শ্রুতিলিখনে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন এবং আমি তা শ্রবণ করছিলাম; তিনি বলেন: আবু জাফর মুহাম্মদ বিন আল-হাসান বিন মারওয়ান বিন বুদায়না আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আবু
(খণ্ড: ১) রিসালা ফী আন্নাল কুরআনা গায়রু মাখলূক (পৃষ্ঠা: ৩৫)
الْفضل صَالح بن أَحْمد قَالَ سَمِعت أبي يَقُول

افْتَرَقت الْجَهْمِية على فرق فرقة قَالُوا الْقُرْآن مَخْلُوق وَفرْقَة قَالُوا كَلَام الله وسكتت وَفرْقَة قَالُوا لفظنا بِالْقُرْآنِ مَخْلُوق قَالَ الله تَعَالَى فِي كِتَابه {فَأَجره حَتَّى يسمع كَلَام الله}

فجبرئيل عليه السلام تسمع من الله تَعَالَى ليسمعه النَّبِي صلى الله عليه وسلم من جبرئيل ويسمعه أَصْحَاب النَّبِي صلى الله عليه وسلم من النَّبِي صلى الله عليه وسلم فالقرآن كَلَام الله
ফজল সালেহ ইবনে আহমাদ বলেন, আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি

জাহমিয়্যাহরা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে; একদল বলেছে কুরআন সৃষ্ট, একদল বলেছে এটি আল্লাহর কালাম এবং (সৃষ্ট কি না সে বিষয়ে) তারা নীরব থেকেছে, এবং অন্য একদল বলেছে কুরআন পাঠে আমাদের উচ্চারণ সৃষ্ট। আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে বলেছেন, {অতঃপর তাকে আশ্রয় দাও যাতে সে আল্লাহর কালাম শুনতে পায়।}

সুতরাং জিবরাঈল আলাইহিস সালাম আল্লাহ তাআলার নিকট থেকে তা শ্রবণ করেছেন যাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিবরাঈলের নিকট থেকে শুনতে পান এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ তা নবীর নিকট থেকে শুনতে পান। অতএব কুরআন আল্লাহর কালাম।
(খণ্ড: ১) রিসালা ফী আন্নাল কুরআনা গায়রু মাখলূক (পৃষ্ঠা: ৩৬)
غير مَخْلُوق

3 - وَحدثنَا قَالَ ثَنَا بوانة قَالَ ثَنَا أَبُو جَعْفَر قَالَ سَأَلت أَبَا عبد الله أَحْمد بن حَنْبَل رَحْمَة الله عَلَيْهِ قلت يَا أَبَا عبد الله أَنا رجل من أهل الْموصل وَالْغَالِب على بلدنا الْجَهْمِية وَفِيهِمْ أهل سنة نفر يسير وَقد وَقعت مَسْأَلَة الْكَرَابِيسِي فافتتنهم قَول الْكَرَابِيسِي لَفْظِي بِالْقُرْآنِ مَخْلُوق فَقَالَ لي أَبُو عبد الله إياك وَإِيَّاك هَذَا الْكَرَابِيسِي
অসৃষ্ট

৩ - তিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বুওয়ানা। তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু জাফর। তিনি বলেন, আমি আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ বিন হাম্বল (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)-কে জিজ্ঞাসা করলাম। আমি বললাম, হে আবু আব্দুল্লাহ, আমি মউসেল শহরের একজন অধিবাসী এবং আমাদের শহরে জাহমিয়্যাহদেরই প্রাধান্য। আর তাদের মাঝে আহলে সুন্নাতের লোক রয়েছেন খুব সামান্য। বর্তমানে সেখানে কারাবিসীর বিষয়টি দেখা দিয়েছে এবং কারাবিসীর এই বক্তব্য তাদেরকে ফিতনায় ফেলেছে যে, 'আমার কুরআন পাঠের উচ্চারণ সৃষ্টি করা হয়েছে'। তখন আবু আব্দুল্লাহ আমাকে বললেন, সাবধান! তুমি এই কারাবিসী থেকে সতর্ক থেকো।
(খণ্ড: ১) রিসালা ফী আন্নাল কুরআনা গায়রু মাখলূক (পৃষ্ঠা: ৩৮)
لَا تكَلمه وَلَا تكلم من يكلمهُ ثَلَاث مَرَّات أَو أَربع إِلَّا أَن فِي كتابي أَربع قلت يَا أَبَا عبد الله فَهَذَا القَوْل وَمَا جانسه يرجع إِلَى قَول جهم قَالَ هَذَا كُله قَول جهم

4 - وَحدثنَا قَالَ ثَنَا بوانة قَالَ ثَنَا أَبُو جَعْفَر قَالَ ثَنَا صَالح قَالَ ثَنَا أبي وَقَالَ رجل للْحكم بن عَيْنِيَّة مَا حمل أهل الْأَهْوَاء على هَذَا قَالَ الْخُصُومَات
তুমি তার সাথে কথা বলবে না এবং যে তার সাথে কথা বলে তার সাথেও কথা বলবে না—তিনি এটি তিন বার বা চার বার বললেন—তবে আমার কিতাবে চার বার রয়েছে। আমি বললাম: হে আবু আব্দুল্লাহ, এই বক্তব্য এবং এর সদৃশ বক্তব্যগুলো কি জাহমের মতবাদের দিকেই ফিরে যায়? তিনি বললেন: এ সবই জাহমের মতবাদ।

৪ - এবং তিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: বুওয়ানা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সালিহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন এবং এক ব্যক্তি আল-হাকাম বিন আয়নিয়্যাহকে জিজ্ঞাসা করলেন: প্রবৃত্তিপূজারীদের কিসে এই পথে পরিচালিত করেছে? তিনি বললেন: ঝগড়া-বিবাদ।
(খণ্ড: ১) রিসালা ফী আন্নাল কুরআনা গায়রু মাখলূক (পৃষ্ঠা: ৩৯)
5 - قَالَ مُعَاوِيَة بن قُرَّة وَكَانَ أَبوهُ مِمَّن أَتَى النَّبِي صلى الله عليه وسلم إيَّاكُمْ فَهَذِهِ الْخُصُومَات فَإِنَّهُمَا تحبط الْعَمَل

6 - وَقَالَ أَبُو قلَابَة وَكَانَ أدْرك غير وَاحِد من أَصْحَاب النَّبِي صلى الله عليه وسلم لَا تجالسوا أَصْحَاب الْأَهْوَاء وَقَالَ أَصْحَاب الْخُصُومَات فَإِنِّي لَا آمن أَن يغمسوكم فِي ضلالتهم ويلبسوا عَلَيْكُم بعض مَا يعْرفُونَ
৫ - মুআবিয়াহ ইবনে কুররাহ বলেন—আর তাঁর পিতা তাঁদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যাঁরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসেছিলেন—তোমরা এই ঝগড়া-বিবাদ থেকে বেঁচে থাকো, কারণ এগুলো আমলকে বিনষ্ট করে দেয়।

৬ - আবু ক্বিলাবাহ বলেন—যিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর একাধিক সাহাবীর সাক্ষাৎ পেয়েছিলেন—তোমরা প্রবৃত্তিপূজারীদের সাথে বসো না; তিনি ঝগড়া-বিবাদকারীদের সম্পর্কেও (অনুরূপ) বলেছেন। কারণ আমি নিরাপদ বোধ করি না যে, তারা তোমাদেরকে তাদের ভ্রষ্টতায় নিমজ্জিত করবে অথবা তোমরা যা জানো সে বিষয়ে তোমাদেরকে বিভ্রান্তিতে ফেলে দেবে।
(খণ্ড: ১) রিসালা ফী আন্নাল কুরআনা গায়রু মাখলূক (পৃষ্ঠা: ৪০)
7 - وَدخل رجلَانِ من أهل الْأَهْوَاء إِلَى مُحَمَّد بن سِيرِين فَقَالَا يَا أَبَا بكر تحدثنا بِحَدِيث قَالَ لَا

قَالَا فنقرأ عَلَيْك آيَة من كتاب الله تبارك وتعالى قَالَ لَا ليقومان عني أَو لأقومن قَالَ فَقَامَ الرّجلَانِ فَخَرَجَا فَقَالَ بعض الْقَوْم يَا أَبَا بكر مَا عَلَيْك أَن يقرءا عَلَيْك آيَة من كتاب الله تَعَالَى قَالَ فَقَالَ مُحَمَّد بن سِيرِين إِنِّي خشيت أَن يقرءا عَليّ آيَة فيحرفانها فَيقر ذَلِك فِي قلبِي قَالَ مُحَمَّد رحمه الله لَو أَنِّي أعلم
৭ - এবং প্রবৃত্তিপূজারীদের মধ্য হতে দুজন ব্যক্তি মুহাম্মদ ইবনে সিরিনের নিকট প্রবেশ করল এবং বলল, "হে আবু বকর, আপনি কি আমাদের নিকট একটি হাদিস বর্ণনা করবেন?" তিনি বললেন, "না।"

তারা বলল, "তাহলে আমরা কি আপনার নিকট আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার কিতাব থেকে একটি আয়াত পাঠ করব?" তিনি বললেন, "না। তোমরা হয় আমার এখান থেকে উঠে যাবে, নতুবা আমিই উঠে যাব।" বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর লোক দুটি উঠে চলে গেল। তখন উপস্থিত লোকদের কেউ বলল, "হে আবু বকর, তারা আপনার নিকট আল্লাহর কিতাব থেকে একটি আয়াত পাঠ করলে আপনার কী ক্ষতি হতো?" মুহাম্মদ ইবনে সিরিন বললেন, "আমি ভয় পাচ্ছিলাম যে, তারা হয়তো আমার নিকট কোনো আয়াত পাঠ করবে এবং তা বিকৃত করবে, আর সেই বিকৃতি আমার অন্তরে গেঁথে যাবে।" মুহাম্মদ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, "যদি আমি জানতাম..."
(খণ্ড: ১) রিসালা ফী আন্নাল কুরআনা গায়রু মাখলূক (পৃষ্ঠা: ৪১)
أَنى أكون قبل هَذِه السَّاعَة لتركتموها

8 - وَقَالَ رجل من أهل الْبدع لأيوب بن أبي تَمِيمَة الشيحاني يَا أَبَا بكر أَسأَلك عَن كلمة فولى وَهُوَ يَقُول لَا وَلَا نصف كلمة
আমি যদি এই সময়ের পূর্বে হতাম, তবে তোমরা তা বর্জন করতে।

৮ - বিদআতপন্থীদের অন্তর্ভুক্ত এক ব্যক্তি আইয়ুব ইবনে আবি তামি মাহ আশ-শাইহানি-কে বললেন, "হে আবু বকর! আমি আপনাকে একটি কথা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে চাই।" তখন তিনি মুখ ফিরিয়ে চলে গেলেন এবং বলতে থাকলেন, "না, এমনকি অর্ধেক কথাও নয়।"
(খণ্ড: ১) রিসালা ফী আন্নাল কুরআনা গায়রু মাখলূক (পৃষ্ঠা: ৪২)
9 - وَقَالَ ابْن طَاوس لِابْنِ لَهُ يكلم رجل من أهل الْبدع يَا بني ضع إصبعيك فِي أذنيك حَتَّى لَا تسمع مَا يَقُول ثمَّ قَالَ اشْدُد اشْدُد

10 - قَالَ وَقَالَ إِبْرَاهِيم النَّخعِيّ إِن الْقَوْم لم يدّخر عَنْهُم شَيْء ختئ لكم لفضل عنْدكُمْ قَالَ وَكَانَ
৯ - ইবনে তাউস তাঁর এক পুত্রকে একজন বিদআতি ব্যক্তির সাথে কথা বলতে দেখে বললেন, হে বৎস, তোমার দুই কানে তোমার দুই আঙুল প্রবেশ করাও যাতে সে যা বলছে তা তুমি না শোনো। এরপর তিনি বললেন, আরও শক্তভাবে চেপে ধরো, আরও শক্তভাবে চেপে ধরো।

১০ - তিনি বলেন, ইবরাহীম আন-নাখায়ি বলেছেন, নিশ্চয়ই সেই সম্প্রদায়ের (সালাফদের) নিকট থেকে এমন কিছু গোপন রাখা হয়নি যা তোমাদের কোনো শ্রেষ্ঠত্বের কারণে কেবল তোমাদের জন্যই সঞ্চিত রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, এবং তিনি ছিলেন
(খণ্ড: ১) রিসালা ফী আন্নাল কুরআনা গায়রু মাখলূক (পৃষ্ঠা: ৪৩)
11 - الْحسن الْبَصْرِيّ يَقُول شَرّ دَاء خالط قلبا يَعْنِي الْأَهْوَاء قَالَ وَقد رُوِيَ عَن غير وَاحِد مِمَّن مضى من سلفنا أَنهم
১১ - হাসান বসরী বলতেন, অন্তরে মিশে যাওয়া সবচেয়ে নিকৃষ্ট ব্যাধি হলো প্রবৃত্তি। তিনি বলেন, আমাদের অতিবাহিত হওয়া সালাফদের মধ্য থেকে একাধিক ব্যক্তি হতে বর্ণিত হয়েছে যে তাঁরা
(খণ্ড: ১) রিসালা ফী আন্নাল কুরআনা গায়রু মাখলূক (পৃষ্ঠা: ৪৪)
كَانُوا يَقُولُونَ الْقُرْآن كَلَام الله لَيْسَ بمخلوق وَهُوَ الَّذِي أذهب إِلَيْهِ وَلست بِصَاحِب الْكَلَام وَلَا ارى الْكَلَام فِي شَيْء من هَذَا إِلَّا مَا كَانَ من كتاب الله تَعَالَى وَحَدِيث رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَعَن أَصْحَابه أَو عَن التَّابِعين رَحْمَة الله عَلَيْهِم فَأَما غير ذَلِك فَإِن الْكَلَام فِيهِ غير مَحْمُود وَالله المعبود فالقرآن من علم الله وَعلم الله غير مَخْلُوق وَالدَّلِيل على ذَلِك قَوْله {وَلَئِن اتبعت أهواءهم بعد الَّذِي جَاءَك من الْعلم}

نسْأَل الله أَن يجعلنا من العاملين بكتابه وَجَمِيع الْمُسلمين إِنَّه على مَا يَشَاء قدير
তারা বলতেন যে কুরআন আল্লাহর বাণী, তা সৃষ্টি নয়। আর এটিই সেই মত যা আমি অনুসরণ করি। আমি তর্কশাস্ত্রের অনুসারী নই এবং আল্লাহর কিতাব, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস এবং সাহাবী বা তাবেয়ীদের (আল্লাহর রহমত তাঁদের ওপর বর্ষিত হোক) থেকে বর্ণিত বিষয় ব্যতীত অন্য কোনো ক্ষেত্রে আমি এ জাতীয় আলোচনা বা বিতর্ক সমীচীন মনে করি না। এ ছাড়া অন্য ক্ষেত্রে বিতর্ক প্রশংসনীয় নয়; আর আল্লাহই একমাত্র উপাস্য। সুতরাং কুরআন আল্লাহর জ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত, আর আল্লাহর জ্ঞান সৃষ্টি নয়। এর প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: "তোমার নিকট জ্ঞান আসার পর যদি তুমি তাদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করো"।

আমরা আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের এবং সকল মুসলিমকে তাঁর কিতাব অনুযায়ী আমল করার তাওফিক দান করেন। নিশ্চয়ই তিনি যা ইচ্ছা করেন তা করতে সক্ষম।
(খণ্ড: ১) রিসালা ফী আন্নাল কুরআনা গায়রু মাখলূক (পৃষ্ঠা: ৪৭)
‌‌رِسَالَة الإِمَام أَحْمد إِلَى الْخَلِيفَة المتَوَكل فِي مَسْأَلَة الْقُرْآن

 

بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم وَصلى الله على سيدنَا مُحَمَّد وَآله

حَدثنَا صَالح قَالَ كتب عبيد الله بن يحيى إِلَى أبي رَحْمَة الله عَلَيْهِ يُخبرهُ أَن أَمِير الْمُؤمنِينَ أَمرنِي أَن أكتب إِلَيْك أَسأَلك عَن أَمر الْقُرْآن لَا مَسْأَلَة امتحان وَلَكِن مَسْأَلَة معرفَة وبصيرة فأملى عَليّ أبي
কুরআনের মাসআলা প্রসঙ্গে খলিফা মুতাওয়াক্কিলের নিকট ইমাম আহমদের পত্র

 

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি এবং আমাদের নেতা মুহাম্মদ ও তাঁর পরিবারের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।

সালিহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উবায়দুল্লাহ ইবনে ইয়াহইয়া আমার পিতা—আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন—এর নিকট লিখে জানিয়েছেন যে, আমিরুল মুমিনীন আমাকে আপনার নিকট লিখতে নির্দেশ দিয়েছেন যাতে আমি আপনাকে কুরআনের বিষয়টি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি; এটি কোনো পরীক্ষার উদ্দেশ্যে নয়, বরং জ্ঞান ও অন্তর্দৃষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে। অতঃপর আমার পিতা আমার নিকট এটি শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে প্রদান করলেন।
(খণ্ড: ১) রিসালা ফী আন্নাল কুরআনা গায়রু মাখলূক (পৃষ্ঠা: ৪৮)
رَحمَه الله إِلَى عبيد الله أحسن الله عاقبتك أَبَا الْحُسَيْن فِي الْأُمُور كلهَا وَدفع عَنْك مكاره الدُّنْيَا وَالْآخِرَة برحمته قد كتبت إِلَيْك رَضِي الله عَنْك بِالَّذِي سَأَلَ عَنهُ أَمِير الْمُؤمنِينَ بِأَمْر الْقُرْآن بِمَا حضرني وَإِنِّي أسأَل الله أَن يديم توفيق أَمِير الْمُؤمنِينَ فقد كَانَ النَّاس فِي خوض من الْبَاطِل وَاخْتِلَاف شَدِيد يغتمسون فِيهِ حَتَّى أفضت
আল্লাহ তাকে রহম করুন। ওবায়দুল্লাহর প্রতি; হে আবুল হুসাইন, আল্লাহ আপনার সকল বিষয়ের পরিণাম শুভ করুন এবং তাঁর রহমতে আপনার থেকে দুনিয়া ও আখেরাতের যাবতীয় অনিষ্ট দূর করুন। আল্লাহ আপনার প্রতি সন্তুষ্ট হোন; আমীরুল মুমিনীন কুরআনের মাসআলা সম্পর্কে যা জানতে চেয়েছেন, সে বিষয়ে আমার কাছে যা উপস্থিত ছিল তা আমি আপনার নিকট লিখে পাঠিয়েছি। আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমীরুল মুমিনীনকে তাওফীক দান অব্যাহত রাখেন। কেননা ইতিপূর্বে মানুষ বাতিলের গভীরে নিমজ্জিত ছিল এবং তারা এমন এক তীব্র মতভেদে লিপ্ত ছিল যার মধ্যে তারা হাবুডুবু খাচ্ছিল, যতক্ষণ না বিষয়টি গড়িয়েছে...
(খণ্ড: ১) রিসালা ফী আন্নাল কুরআনা গায়রু মাখলূক (পৃষ্ঠা: ৪৯)
الْخلَافَة إِلَى أَمِير الْمُؤمنِينَ فنفى الله بأمير الْمُؤمنِينَ كل بِدعَة وانجلى عَن النَّاس مَا كَانُوا فِيهِ من الذل وضيق المحابس فصرف الله ذَلِك كُله وَذهب بِهِ أَمِير الْمُؤمنِينَ

وَوَقع ذَلِك من الْمُسلمين موقعا عَظِيما ودعوا الله لأمير الْمُؤمنِينَ فأسأل الله أَن يُجيب فِي أَمِير الْمُؤمنِينَ صَالح الدُّعَاء وَأَن يتم ذَلِك لأمير الْمُؤمنِينَ وَيزِيد فِي نِيَّته ويعينه على مَا هُوَ عَلَيْهِ

وَقد ذكر عَن عبد الله بن عَبَّاس رحمت الله عَلَيْهِ أَنه قَالَ لَا تضربوا كتاب الله بعضه بِبَعْض فَإِن ذَلِك يُوقع الشَّك فِي قُلُوبكُمْ

وَذكر عبد الله بن عَمْرو أَن نَفرا كَانُوا جُلُوسًا بِبَاب النَّبِي صلى الله عليه وسلم فَقَالَ بَعضهم ألم يقل الله كَذَا وَقَالَ بَعضهم ألم يقل الله كَذَا قَالَ فَسمع ذَلِك رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَخرج فَكَأَنَّمَا فقيء على وَجهه حب الرُّمَّان فَقَالَ (أَبِهَذَا أمرْتُم أَن تضربوا كتاب الله بعضه بِبَعْض إِنَّمَا ضلت الْأُمَم قبلكُمْ فِي مثل هَذَا إِنَّكُم لَسْتُم مِمَّا هَاهُنَا فِي شَيْء انْظُرُوا الَّذِي أمرْتُم بِهِ فاعملوا بِهِ وانظروا الَّذِي نهيتم عَنهُ
খিলাফতের দায়িত্ব আমীরুল মুমিনীনের নিকট হস্তান্তরিত হলো। অতঃপর আল্লাহ আমীরুল মুমিনীনের মাধ্যমে সকল বিদআত নির্মূল করলেন এবং মানুষ যে লাঞ্ছনা ও সংকীর্ণ কারাবাসের মধ্যে ছিল তা দূরীভূত হলো। আল্লাহ এই সব কিছু অপসারণ করলেন এবং আমীরুল মুমিনীন তা দূর করে দিলেন।

মুসলমানদের নিকট এটি অত্যন্ত গুরুত্ববহ হিসেবে বিবেচিত হলো এবং তারা আমীরুল মুমিনীনের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করলেন। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমীরুল মুমিনীনের বিষয়ে নেক দোয়া কবুল করেন, আমীরুল মুমিনীনের জন্য এই বিষয়টিকে পূর্ণতা দান করেন, তাঁর নিয়তকে আরও বৃদ্ধি করেন এবং তিনি যে পথে আছেন তাতে তাঁকে সাহায্য করেন।

আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন, "তোমরা আল্লাহর কিতাবের এক অংশকে অন্য অংশের মুখোমুখি দাঁড় করিও না (সংঘর্ষে লিপ্ত করো না); কারণ তা তোমাদের অন্তরে সংশয় সৃষ্টি করবে।"

আব্দুল্লাহ ইবনে আমর বর্ণনা করেছেন যে, একদল লোক নবী (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর দরজার সামনে বসা ছিল। তাদের কেউ কেউ বলল, "আল্লাহ কি এমনটি বলেননি?" আবার অন্য কেউ বলল, "আল্লাহ কি এমনটি বলেননি?" তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) তা শুনতে পেলেন এবং বাইরে বেরিয়ে এলেন; রাগে তাঁর মুখমণ্ডল এমন লাল হয়ে গিয়েছিল যেন তাতে বেদানার দানা নিংড়ে দেওয়া হয়েছে। অতঃপর তিনি বললেন, "তোমাদের কি একারণেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে তোমরা আল্লাহর কিতাবের এক অংশকে অন্য অংশের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত করবে? তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতগণ এই রূপ আচরণের কারণেই পথভ্রষ্ট হয়েছে। এই সব বিষয়ে তোমাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তোমাদের যা আদেশ করা হয়েছে তা দেখো এবং সেই অনুযায়ী আমল করো, আর যা থেকে তোমাদের নিষেধ করা হয়েছে।"
(খণ্ড: ১) রিসালা ফী আন্নাল কুরআনা গায়রু মাখলূক (পৃষ্ঠা: ৫০)
فَانْتَهوا عَنهُ

وَرُوِيَ عَن أبي هُرَيْرَة رضي الله عنه عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ لَا تماروا فِي الْقُرْآن فَإِن مراء فِيهِ كفر

وَقَالَ عبد الله بن عَبَّاس رضي الله عنهما قدم على عمر بن الْخطاب رضي الله عنه رجل فَجعل عمر يسْأَله عَن النَّاس فَقَالَ يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ قد قَرَأَ الْقُرْآن مِنْهُم كَذَا وَكَذَا
সুতরাং তোমরা তা থেকে বিরত থাকো।

আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, "তোমরা কুরআনের বিষয়ে বিবাদ করো না, কেননা কুরআনের বিষয়ে বিবাদ করা কুফরি।"

আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট জনৈক ব্যক্তি আসলেন। তখন উমর তাকে লোকজনের অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে লাগলেন। সে বলল, "হে আমিরুল মুমিনীন! তাদের মধ্যে এত এত সংখ্যক লোক কুরআন পাঠ করেছে।"
(খণ্ড: ১) রিসালা ফী আন্নাল কুরআনা গায়রু মাখলূক (পৃষ্ঠা: ৫১)
فَقَالَ ابْن عَبَّاس فَقلت وَالله مَا أحب أَن يتسارعوا يومهم هَذَا فِي الْقُرْآن هَذِه المسارعة قَالَ فزيرني عمر ثمَّ قَالَ مَه فَانْطَلَقت إِلَى منزلي مكتئبا حَزينًا فَبَيْنَمَا أَنا كَذَلِك إِذْ أَتَانِي رجل فَقَالَ أجب أَمِير الْمُؤمنِينَ فَخرجت فَإِذا هُوَ بِالْبَابِ ينتظرني وَأخذ بيَدي فَخَلا بِي وَقَالَ مَا الَّذِي كرهت مِمَّا قَالَ الرجل فَقلت يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ إِن كنت أَسَأْت فَإِنِّي اسْتغْفر الله عز وجل وَأَتُوب إِلَيْهِ وَأنزل حَيْثُ أَحْبَبْت قَالَ لتحدثني مَا الَّذِي كرهت مِمَّا قَالَ الرجل قَالَ إِنَّمَا قلت يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ مَتى يتسارعوا هَذِه المسارعة يتحقوا وَمَتى يتحقوا يختصموا وَمَتى يختصموا يَخْتَلِفُوا وَمَتى يَخْتَلِفُوا يقتتلوا قَالَ لله أَبوك وَالله إِن كنت لأكتمها النَّاس حَتَّى جِئْت بهَا

وَرُوِيَ عَن جَابر بن عبد الله رضي الله عنهما قَالَ كَانَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم يعرض نَفسه على النَّاس بالموقف فَيَقُول هَل من رجل
ইবনে আব্বাস বললেন, তখন আমি বললাম, আল্লাহর কসম, আমি পছন্দ করি না যে তারা আজ কুরআনের বিষয়ে এইভাবে তাড়াহুড়ো করুক। তিনি (রা.) বলেন, ওমর আমাকে ধমক দিলেন এবং বললেন, থামো। ফলে আমি বিষণ্ণ ও চিন্তিত মনে আমার বাড়িতে চলে গেলাম। আমি যখন ওই অবস্থায় ছিলাম, তখন এক ব্যক্তি আমার কাছে এসে বলল, আমিরুল মুমিনিনের ডাকে সাড়া দিন। আমি বের হয়ে দেখলাম তিনি দরজায় আমার জন্য অপেক্ষা করছেন। তিনি আমার হাত ধরলেন এবং আমার সাথে নির্জনে বসলেন। তিনি বললেন, ওই ব্যক্তি যা বলেছে তার মধ্যে তুমি কী অপছন্দ করলে? আমি বললাম, হে আমিরুল মুমিনিন, যদি আমি মন্দ কিছু করে থাকি তবে আমি মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাঁর কাছে তওবা করছি; আপনি আমাকে যেখানে ইচ্ছা সেই অবস্থানে রাখুন। তিনি বললেন, তুমি অবশ্যই আমাকে বলবে ওই ব্যক্তির কথার মধ্যে তোমার কাছে কী অপছন্দনীয় মনে হয়েছে। তিনি (ইবনে আব্বাস) বললেন, আমি শুধু এটাই বলেছিলাম যে, হে আমিরুল মুমিনিন, যখন তারা এই রকম তাড়াহুড়ো করবে তখন তারা নিজেদের সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত মনে করে বাড়াবাড়ি করবে, আর যখন তারা এমনটি করবে তখন তারা বিবাদে লিপ্ত হবে, আর যখন তারা বিবাদে লিপ্ত হবে তখন তারা মতভেদে জড়িয়ে পড়বে, আর যখন তারা মতভেদে জড়িয়ে পড়বে তখন তারা একে অপরের সাথে লড়াই করবে। তিনি (ওমর) বললেন, সাবাশ তোমার প্রতি! আল্লাহর কসম, আমি বিষয়টি মানুষের কাছে গোপন রাখছিলাম যতক্ষণ না তুমি তা প্রকাশ করলে।

জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হজের মৌসুমে অবস্থানের জায়গায় নিজেকে মানুষের কাছে পেশ করতেন এবং বলতেন, এমন কি কোনো ব্যক্তি আছে...
(খণ্ড: ১) রিসালা ফী আন্নাল কুরআনা গায়রু মাখলূক (পৃষ্ঠা: ৫২)
يحملني إِلَى قومه فَإِن قُريْشًا قد مَنَعُونِي أَن أبلغ كَلَام رَبِّي

وَرُوِيَ عَن جُبَير بن نفير قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِنَّكُم لن ترجعوا إِلَى الله بِشَيْء أفضل مِمَّا خرج مِنْهُ يَعْنِي الْقُرْآن

وَرُوِيَ عَن أبي أُمَامَة عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ (مَا تقرب الْعباد إِلَى
যিনি আমাকে তাঁর কওমের নিকট নিয়ে যাবেন, কারণ কুরাইশরা আমাকে আমার রবের বাণী পৌঁছাতে বাধা দিয়েছে।

জুবাইর ইবনে নুফাইর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: নিশ্চয়ই তোমরা আল্লাহর নিকট এমন কিছুর চেয়ে উত্তম বস্তু নিয়ে ফিরে যেতে পারবে না যা তাঁর থেকে নির্গত হয়েছে, অর্থাৎ কুরআন।

এবং আবু উমামা থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন: (বান্দারা আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে এমন কিছুর দ্বারা অগ্রসর হতে পারে না যা
(খণ্ড: ১) রিসালা ফী আন্নাল কুরআনা গায়রু মাখলূক (পৃষ্ঠা: ৫৩)
الله بِمثل مَا خرج مِنْهُ يَعْنِي الْقُرْآن

وَرُوِيَ عَن عبد الله بن مَسْعُود أَنه قَالَ جردوا الْقُرْآن وَلَا تكْتبُوا فِيهِ شَيْئا إِلَّا كَلَام الله
আল্লাহ তাঁর থেকে যা নির্গত হয়েছে তার সদৃশ কিছু দ্বারা (নৈকট্য লাভ করা হয়), অর্থাৎ কুরআন।

এবং আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন, তোমরা কুরআনকে অমিশ্রিত রাখো এবং এতে আল্লাহর কালাম ব্যতীত অন্য কিছু লিখো না।
(খণ্ড: ১) রিসালা ফী আন্নাল কুরআনা গায়রু মাখলূক (পৃষ্ঠা: ৫৪)
وَرُوِيَ عَن عمر بن الْخطاب أَنه قَالَ إِن هَذَا الْقُرْآن كَلَام الله فضعوه على موَاضعه

وَقَالَ رجل لِلْحسنِ الْبَصْرِيّ يَا أَبَا سعيد إِذا قَرَأت كتاب الله
উমর ইবনুল খাত্তাব থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: “নিশ্চয়ই এই কুরআন আল্লাহর কালাম, সুতরাং তোমরা একে এর যথাযথ স্থানে রাখো।”

এক ব্যক্তি হাসান বসরীকে বললেন: “হে আবু সাঈদ! যখন আমি আল্লাহর কিতাব পাঠ করি...”
(খণ্ড: ১) রিসালা ফী আন্নাল কুরআনা গায়রু মাখলূক (পৃষ্ঠা: ৫৫)
وتدبرته وَنظرت فِي عَمَلي كدت أَن أيأس وَيَنْقَطِع رجائي قَالَ فَقَالَ لَهُ الْحسن إِن الْقُرْآن كَلَام الله وأعمال بني آدم إِلَى الضعْف وَالتَّقْصِير فاعمل وأبشر

وَقَالَ فَرْوَة بن نَوْفَل الْأَشْجَعِيّ كنت جارا لخباب وَهُوَ من أَصْحَاب النَّبِي صلى الله عليه وسلم فَخرجت مَعَه يَوْمًا من الْمَسْجِد وَهُوَ آخذ بيَدي فَقَالَ يَا هناة تقرب إِلَى الله بِمَا اسْتَطَعْت فَإنَّك لن تقرب إِلَيْهِ بِشَيْء أحب إِلَيْهِ من كَلَامه
আমি এটি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করলাম এবং আমার আমলের প্রতি দৃষ্টিপাত করলাম, তখন আমি প্রায় হতাশ হয়ে যাচ্ছিলাম এবং আমার আশা ছিন্ন হয়ে যাচ্ছিল। তিনি বলেন: তখন হাসান তাঁকে বললেন, নিশ্চয়ই কুরআন আল্লাহর কালাম, আর বনী আদমের আমলসমূহ দুর্বলতা ও ত্রুটিপূর্ণ। অতএব আপনি আমল করে যান এবং সুসংবাদ গ্রহণ করুন।

ফারওয়া ইবনে নাওফাল আল-আশজায়ি বলেন, আমি খাব্বাবের প্রতিবেশী ছিলাম, আর তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। একদিন আমি তাঁর হাত ধরা অবস্থায় তাঁর সাথে মসজিদ থেকে বের হলাম। তখন তিনি বললেন: হে অমুক! তোমার সাধ্য অনুযায়ী আল্লাহর নৈকট্য অন্বেষণ করো। কেননা তুমি আল্লাহর নিকট তাঁর কালামের চেয়ে অধিক প্রিয় আর কোনো কিছুর মাধ্যমে তাঁর নৈকট্য লাভ করতে পারবে না।
(খণ্ড: ১) রিসালা ফী আন্নাল কুরআনা গায়রু মাখলূক (পৃষ্ঠা: ৫৬)
وَقَالَ رجل للْحكم بن عُيَيْنَة مَا حمل أهل الْأَهْوَاء على هَذَا قَالَ الْخُصُومَات

وَقَالَ مُعَاوِيَة بن قُرَّة وَكَانَ أَبوهُ مِمَّن أَتَى النَّبِي صلى الله عليه وسلم إيَّاكُمْ وَهَذِه الْخُصُومَات فَإِنَّهَا تحبط الْأَعْمَال

وَقَالَ أَبُو قلَابَة وَكَانَ أدْرك غير وَاحِد من أَصْحَاب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لَا تجالسوا أَصْحَاب الْأَهْوَاء أَو قَالَ أَصْحَاب الْخُصُومَات فَإِنِّي لَا آمن أَن يغمسوكم فِي ضلالتهم ويلبسوا عَلَيْكُم بعض مَا تعرفُون

وَدخل رجلَانِ من أَصْحَاب الْأَهْوَاء على مُحَمَّد بن سِيرِين فَقَالَا يَا أَبَا بكر نحدثك بِحَدِيث قَالَ لَا قَالَ فنقرأ عَلَيْك آيَة من كتاب الله قَالَ لَا لتقومان عني أَو لأقومنه

قَالَ فَقَامَ الرّجلَانِ فَخَرَجَا فَقَالَ بعض الْقَوْم يَا أَبَا بكر مَا كَانَ عَلَيْك أَن يقْرَأن عَلَيْك آيَة من كتاب الله فَقَالَ مُحَمَّد بن سِيرِين إِنِّي خشيت أَن يقرآن عَليّ آيَة فيحرفانها فَيقر ذَلِك فِي قلبِي فَقَالَ مُحَمَّد لَو أعلم أَنِّي أكون مثل السَّاعَة لتركتهما
এক ব্যক্তি হাকাম ইবনে উয়ায়নাহকে জিজ্ঞাসা করলেন, "প্রবৃত্তি পূজারীদের কিসে এই কাজে প্ররোচিত করেছে?" তিনি বললেন, "তর্ক-বিতর্ক।"

মুয়াবিয়া ইবনে কুররাহ—যার পিতা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট আগমন করেছিলেন—বলেন, "তোমরা এই সকল তর্ক-বিতর্ক থেকে সাবধান থেকো, কারণ তা আমলসমূহকে বিনষ্ট করে দেয়।"

আবু কিলাবাহ—যিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর একাধিক সাহাবীর সান্নিধ্য লাভ করেছিলেন—বলেন, "তোমরা প্রবৃত্তি পূজারীদের সাথে অথবা (তিনি বলেছিলেন) তর্ক-বিতর্ককারীদের সাথে বসো না। কেননা, আমি এ বিষয়ে শঙ্কামুক্ত নই যে তারা তোমাদের তাদের পথভ্রষ্টতায় নিমজ্জিত করবে এবং তোমাদের জানা সত্যের বিষয়ে তোমাদের সংশয়ে ফেলে দিবে।"

মুহাম্মদ ইবনে সীরীনের নিকট প্রবৃত্তি পূজারীদের মধ্য হতে দুইজন ব্যক্তি প্রবেশ করল এবং বলল, "হে আবু বকর! আমরা কি আপনাকে একটি হাদিস শোনাব?" তিনি বললেন, "না।" তারা বলল, "তাহলে কি আমরা আল্লাহর কিতাব থেকে আপনাকে একটি আয়াত পাঠ করে শোনাব?" তিনি বললেন, "না। হয় তোমরা আমার নিকট থেকে উঠে যাবে, নতুবা আমিই উঠে যাব।"

বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর লোক দুটি উঠে বেরিয়ে গেল। উপস্থিত লোকদের কেউ কেউ বলল, "হে আবু বকর! তারা আপনাকে আল্লাহর কিতাবের একটি আয়াত পাঠ করে শোনালে আপনার কী ক্ষতি হতো?" মুহাম্মদ ইবনে সীরীন বললেন, "আমি ভয় পাচ্ছিলাম যে তারা হয়তো আমার নিকট কোনো আয়াত পাঠ করবে এবং তাতে বিকৃতি ঘটাবে, ফলে সেই বিকৃত বিষয়টি আমার অন্তরে গেঁথে যাবে।" মুহাম্মদ আরও বললেন, "আমি যদি জানতাম যে আমি সর্বাবস্থায় বর্তমান অবস্থার মতো অটল থাকব, তবে আমি তাদের বাধা দিতাম না।"
(খণ্ড: ১) রিসালা ফী আন্নাল কুরআনা গায়রু মাখলূক (পৃষ্ঠা: ৫৭)
وَقَالَ رجل من أهل الْبدع لأيوب السّخْتِيَانِيّ يَا أَبَا بكر أَسأَلك عَن كلمة فولى وَهُوَ يَقُول بِيَدِهِ وَلَا نصف كلمة

وَقَالَ ابْن طَاوُوس لِابْنِ لَهُ وَتكلم رجل من أهل الْبدع أَدخل إصبعيك فِي أذنيك حَتَّى لَا تسمع مَا يَقُوله ثمَّ قَالَ اشْدُد اشْدُد

وَقَالَ عمر بن عبد الْعَزِيز من جعل دينه عرضا للخصومات أَكثر التنقل
জনৈক বিদআতি ব্যক্তি আইয়ুব সাখতিয়ানীকে বললেন, "হে আবু বকর, আমি আপনাকে একটি শব্দ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে চাই।" তখন তিনি পিঠ ফিরিয়ে চলে গেলেন এবং হাত দিয়ে ইশারা করে বললেন, "অর্ধেক শব্দও নয়।"

ইবনে তাউস তাঁর এক পুত্রকে বলেছিলেন—যখন জনৈক বিদআতি ব্যক্তি কথা বলছিল— "তোমার দুই কানে আঙুল দাও যাতে সে যা বলছে তা শুনতে না পাও।" অতঃপর তিনি বললেন, "শক্ত করে চেপে ধরো, শক্ত করে চেপে ধরো।"

উমর ইবনে আব্দুল আজীজ বলেছেন, "যে ব্যক্তি নিজের দ্বীনকে বিতর্কের লক্ষ্যবস্তু বানায়, সে অধিক হারে মত পরিবর্তন করে।"
(খণ্ড: ১) রিসালা ফী আন্নাল কুরআনা গায়রু মাখলূক (পৃষ্ঠা: ৫৮)
وَقَالَ إِبْرَاهِيم النَّخعِيّ إِن الْقَوْم لم يدّخر عَنْهُم شَيْء خبئ لكم لفضل عنْدكُمْ

وَكَانَ الْحسن الْبَصْرِيّ يَقُول شَرّ دَاء خالط قلبا يَعْنِي الْهوى

وَقَالَ حُذَيْفَة بن الْيَمَان وَكَانَ من أَصْحَاب النَّبِي صلى الله عليه وسلم اتَّقوا الله معاشر الْقُرَّاء خُذُوا طَرِيق من كَانَ قبلكُمْ وَالله لَئِن اسْتَقَمْتُمْ لقد سبقتم سبقا بَعيدا وَلَئِن تَرَكْتُمُوهُ يَمِينا وَشمَالًا لقد ضللتم ضلالا بَعيدا أَو قَالَ مُبينًا

وَإِنَّمَا تركت ذكر الْأَسَانِيد لما تقدم من الْيَمين الَّتِي حَلَفت بهَا
ইবরাহীম নাখয়ী বলেছেন যে, নিশ্চয়ই সেই সম্প্রদায় (সাহাবীগণ) থেকে এমন কিছু গোপন রাখা হয়নি যা তোমাদের কোনো শ্রেষ্ঠত্বের কারণে তোমাদের জন্য জমিয়ে রাখা হয়েছে।

হাসান বসরী বলতেন: হৃদয়ে মিশে যাওয়া নিকৃষ্টতম ব্যাধি হলো প্রবৃত্তি।

হুযায়ফা ইবনুল ইয়ামান (যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অন্যতম সাহাবী ছিলেন) বলেছেন: হে ক্বারী সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। তোমাদের পূর্ববর্তীদের পথ অনুসরণ করো। আল্লাহর কসম, তোমরা যদি সঠিক পথে অটল থাকো তবে তোমরা বহুদূর অগ্রগামী হবে। আর যদি তোমরা ডানে ও বামে সরে গিয়ে সেই পথ বর্জন করো, তবে তোমরা ঘোর বিভ্রান্তিতে নিপতিত হবে (অথবা তিনি বলেছিলেন—স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে)।

আমি কেবল সেই শপথের কারণে সনদসমূহের উল্লেখ বর্জন করেছি যা আমি ইতিপূর্বে করেছিলাম।
(খণ্ড: ১) রিসালা ফী আন্নাল কুরআনা গায়রু মাখলূক (পৃষ্ঠা: ৫৯)
مِمَّا قد علمه أَمِير الْمُؤمنِينَ لَوْلَا ذَلِك ذكرتها بأسانيدها وَقد قَالَ الله جلّ ثَنَاؤُهُ {وَإِن أحد من الْمُشْركين استجارك فَأَجره حَتَّى يسمع كَلَام الله} وَقَالَ {أَلا لَهُ الْخلق وَالْأَمر}

وَأخْبر تبارك وتعالى بالخلق ثمَّ قَالَ وَالْأَمر فَأخْبر أَنه الْأَمر غير الْخلق

وَقَالَ تبارك وتعالى (الرَّحْمَن علم الْقُرْآن خلق الْإِنْسَان علمه الْبَيَان) فَأخْبر تبارك وتعالى أَن الْقُرْآن من علمه وَقَالَ {وَلنْ}
এটি এমন বিষয় যা আমিরুল মুমিনীন ইতিপূর্বেই অবগত হয়েছেন; যদি তা না হতো তবে আমি একে এর বর্ণনাসূত্রসহ উল্লেখ করতাম। আর আল্লাহ—যাঁর প্রশংসা অতি মহান—বলেছেন, “আর মুশরিকদের কেউ যদি আপনার কাছে আশ্রয় চায়, তবে তাকে আশ্রয় দিন যাতে সে আল্লাহর বাণী শুনতে পায়।” এবং তিনি বলেছেন, “জেনে রেখো, সৃষ্টি ও আদেশ তাঁরই।”

মহিমান্বিত ও সুউচ্চ আল্লাহ সৃষ্টি সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন, এরপর আদেশের কথা উল্লেখ করেছেন; ফলে তিনি সংবাদ দিলেন যে আদেশ সৃষ্টির চেয়ে ভিন্ন বিষয়।

মহিমান্বিত ও সুউচ্চ আল্লাহ বলেছেন, “পরম করুণাময়, তিনি কুরআন শিক্ষা দিয়েছেন, মানুষ সৃষ্টি করেছেন, তাকে ভাব প্রকাশের ভাষা শিখিয়েছেন।” সুতরাং তিনি মহিমান্বিত ও সুউচ্চ আল্লাহ সংবাদ দিলেন যে কুরআন তাঁর জ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত। এবং তিনি বলেছেন, “এবং কখনোই...”
(খণ্ড: ১) রিসালা ফী আন্নাল কুরআনা গায়রু মাখলূক (পৃষ্ঠা: ৬০)
ترْضى عَنْك الْيَهُود وَلَا النَّصَارَى حَتَّى تتبع ملتهم قل إِن هدى الله هُوَ الْهدى وَلَئِن اتبعت أهواءهم بعد الَّذِي جَاءَك من الْعلم مَالك من الله من ولي وَلَا نصير)

وَقَالَ {وَلَئِن أتيت الَّذين أُوتُوا الْكتاب بِكُل آيَة مَا تبعوا قبلتك وَمَا أَنْت بتابع قبلتهم وَمَا بَعضهم بتابع قبْلَة بعض وَلَئِن اتبعت أهواءهم من بعد مَا جَاءَك من الْعلم إِنَّك إِذا لمن الظَّالِمين}

وَقَالَ {وَكَذَلِكَ أَنزَلْنَاهُ حكما عَرَبيا وَلَئِن اتبعت أهواءهم بعد مَا جَاءَك من الْعلم مَا لَك من الله من ولي وَلَا واق}

فالقرآن علم الله

وَفِي هَذِه الْآيَات دَلِيل على أَن الَّذِي جَاءَهُ صلى الله عليه وسلم هُوَ الْقُرْآن لقَوْله {وَلَئِن اتبعت أهواءهم بعد الَّذِي جَاءَك من الْعلم}

وَقد رُوِيَ عَن غير وَاحِد مِمَّن مضى من سلفنا أَنهم كَانُوا يَقُولُونَ الْقُرْآن كَلَام الله لَيْسَ بمخلوق وَهُوَ الَّذِي أذهب إِلَيْهِ
(ইহুদি ও খ্রিস্টানরা আপনার প্রতি কখনোই সন্তুষ্ট হবে না যতক্ষণ না আপনি তাদের ধর্মাদর্শ অনুসরণ করেন। আপনি বলুন, আল্লাহর হিদায়াতই প্রকৃত হিদায়াত। আর আপনার কাছে জ্ঞান আসার পর যদি আপনি তাদের খেয়ালখুশির অনুসরণ করেন, তবে আল্লাহর পক্ষ থেকে আপনার কোনো অভিভাবক বা সাহায্যকারী থাকবে না।)

এবং তিনি বলেছেন {আর আপনি যদি কিতাবধারীদের কাছে সমস্ত নিদর্শন নিয়ে আসেন, তবুও তারা আপনার কিবলার অনুসরণ করবে না; আর আপনিও তাদের কিবলার অনুসারী নন, এবং তারা নিজেরাও একে অপরের কিবলার অনুসারী নয়। আর আপনার কাছে জ্ঞান আসার পর যদি আপনি তাদের খেয়ালখুশির অনুসরণ করেন, তবে নিশ্চয়ই আপনি জালিমদের অন্তর্ভুক্ত হবেন।}

এবং তিনি বলেছেন {আর এভাবেই আমি একে আরবি ভাষায় বিধান হিসেবে অবতীর্ণ করেছি। আর আপনার কাছে জ্ঞান আসার পর যদি আপনি তাদের খেয়ালখুশির অনুসরণ করেন, তবে আল্লাহর পক্ষ থেকে আপনার কোনো অভিভাবক বা রক্ষাকারী থাকবে না।}

সুতরাং কুরআন হলো আল্লাহর জ্ঞান।

এই আয়াতগুলোতে এই বিষয়ের দলিল রয়েছে যে, তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিকট যা এসেছে তা হলো কুরআন; কারণ আল্লাহর বাণী: {আর আপনার কাছে জ্ঞান আসার পর যদি আপনি তাদের খেয়ালখুশির অনুসরণ করেন।}

আমাদের অতীত সালাফদের অনেকের থেকেই বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁরা বলতেন: কুরআন আল্লাহর কালাম, তা সৃষ্টি নয়; আর আমি এই মতটিই পোষণ করি।
(খণ্ড: ১) রিসালা ফী আন্নাল কুরআনা গায়রু মাখলূক (পৃষ্ঠা: ৬১)
وَلست بِصَاحِب كَلَام وَلَا أرى الْكَلَام فِي شَيْء من هَذَا إِلَّا مَا كَانَ من كتاب الله أَو فِي حَدِيث عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم وشرعه أَو عَن أَصْحَابه رَحْمَة الله عَلَيْهِم أَو عَن التَّابِعين فَأَما غير ذَلِك فَإِن الْكَلَام فِيهِ غير مَحْمُود

وَإِنِّي أسأَل الله أَن يُطِيل بَقَاء الْأَمِير وَأَن يُثبتهُ ويمده مِنْهُ بمعونة إِنَّه على كل شَيْء قدير
আমি ইলমুল কালামের (তর্কশাস্ত্র) অনুসারী নই এবং আমি এসকল বিষয়ে কালাম বা বিতর্কের অবকাশ দেখি না, কেবল যা আল্লাহর কিতাব থেকে অথবা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিস ও তাঁর শরীয়ত থেকে অথবা তাঁর সাহাবীগণের (আল্লাহ তাঁদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন) পক্ষ থেকে অথবা তাবিঈনদের পক্ষ থেকে বর্ণিত হয়েছে। এ ব্যতীত অন্য সব ক্ষেত্রে বিতর্ক বা কালাম প্রশংসনীয় নয়।

আর আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি যেন তিনি আমিরের দীর্ঘায়ু দান করেন এবং তাঁকে সুদৃঢ় রাখেন ও তাঁর পক্ষ থেকে বিশেষ সাহায্যের দ্বারা তাঁকে সহায়তা করেন; নিশ্চয়ই তিনি সব কিছুর ওপর সর্বশক্তিমান।