(খণ্ড: ১)
তানযীহুল আম্বিয়া আম্মা নুসিবা ইলাইহিম হুসালাতুল আগবিয়া
(পৃষ্ঠা: -)
تنزيه الأنبياء عما نسب إليهم حثالة الأغبياء القسم: العقيدة
الكتاب: تنزيه الأنبياء عما نسب إليهم حثالة الأغبياء
المؤلف: أبو الحسن علي بن أحمد السبتي الأموي المعروف بـ «ابن خمير» (ت 614هـ)
المحقق: محمد رضوان الداية
الناشر: دار الفكر المعاصر - لبنان
الطبعة: الأولى، 1411هـ - 1990م
عدد الصفحات: 170
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
মূর্খদের অপবাদ থেকে নবীগণের পবিত্রতা ঘোষণা বিভাগ: আকিদাহ
গ্রন্থ: মূর্খদের অপবাদ থেকে নবীগণের পবিত্রতা ঘোষণা
লেখক: আবু হাসান আলী বিন আহমদ আস-সাবতি আল-উমাউয়ি, যিনি «ইবনে খামির» নামে পরিচিত (মৃত্যু ৬১৪ হিজরি)
গবেষক: মুহাম্মাদ রিদওয়ান আদ-দাইয়া
প্রকাশক: দারুল ফিকর আল-মুয়াসির - লেবানন
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১১ হিজরি - ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭০
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
তানযীহুল আম্বিয়া আম্মা নুসিবা ইলাইহিম হুসালাতুল আগবিয়া
(পৃষ্ঠা: ২৩)
بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم
وَصلى الله على سيدنَا مُحَمَّد وَآله
رب يسر وَلَا تعسر الْحَمد لله الْعلي الْعَظِيم الْعَزِيز الْحَكِيم الَّذِي فطرنا باقتداره وطورنا بِاخْتِيَارِهِ ووب صورنا فِي أحسن تَقْوِيم وَمن علينا بِالْعقلِ السَّلِيم وهدانا إِلَى الصِّرَاط الْمُسْتَقيم وقض لنا من السَّادة الْأَعْيَان المؤيدين بواضح الْبُرْهَان المعصومين من كل صَغِير وكبير من اللمم والعصيان سفرة من خَاصَّة الأخيار الْمُرْسلين الْأَبْرَار الْمَشْهُود لَهُم بخالصة ذكرى الدَّار ليفصلوا بَين الْحَرَام والحلال وَالتّرْك والامتثال واختصنا مِنْهُم بِخَاتم النَّبِيين وَسيد الْمُرْسلين مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم وَعَلَيْهِم أَجْمَعِينَ وعَلى آلهم الطيبين الطاهرين من عهد آدم إِلَى يَوْم الدّين
أما بعد فإنني قد استخرت الله تَعَالَى فِي إملاء شرح بعض آيَات رغب فِي إملائها بعض الطّلبَة المحتاطين على الدّين غيرَة مِنْهُم على أَعْرَاض النَّبِيين لِأَن لَاحَ فِي ضمنهَا بعض عتاب لَهُم فِي بعض فقرات لَا تغض من
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
আমাদের নেতা মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক
হে প্রতিপালক, সহজ করে দিন এবং কঠিন করবেন না সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সুউচ্চ, মহান, পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়; যিনি তাঁর শক্তিবলে আমাদের সৃজন করেছেন এবং তাঁর ইচ্ছানুযায়ী আমাদের বিকশিত করেছেন এবং আমাদের সর্বোত্তম অবয়বে গঠন করেছেন। আর সুস্থ বুদ্ধির মাধ্যমে আমাদের ধন্য করেছেন এবং সরল পথের দিকে হিদায়াত দান করেছেন। এবং আমাদের জন্য এমন মহান ব্যক্তিত্বদের নির্ধারিত করেছেন যারা সুস্পষ্ট দলীল-প্রমাণের মাধ্যমে সমর্থিত এবং ছোট-বড় সকল প্রকার পাপ ও অবাধ্যতা থেকে নিষ্পাপ; তারা পুণ্যবান রাসূলগণের মধ্য থেকে বিশেষ মনোনীত দূত, যাদের আখেরাতের একনিষ্ঠ স্মরণে ভূষিত করা হয়েছে; যাতে তারা হারাম ও হালাল এবং বর্জন ও পালনের মধ্যে পার্থক্য সুস্পষ্ট করতে পারেন। এবং তিনি তাঁদের মধ্য থেকে আমাদেরকে শেষ নবী ও সকল রাসূলের সর্দার মুহাম্মাদ (আল্লাহর রহমত ও শান্তি তাঁর ওপর এবং তাঁদের সকলের ওপর বর্ষিত হোক) এবং আদম থেকে কিয়ামত পর্যন্ত তাঁদের পবিত্র ও বিশুদ্ধ বংশধরদের মাধ্যমে বিশিষ্টতা দান করেছেন।
অতপর, আমি মহান আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করেছি কিছু আয়াতের ব্যাখ্যা লিপিবদ্ধ করার বিষয়ে, যা একদল দ্বীনদার ছাত্র লিপিবদ্ধ করার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছে। নবীদের সম্মানের প্রতি তাঁদের চরম মর্যাদাবোধের কারণেই তাঁরা এটি চেয়েছে; কারণ (কুরআনের) কিছু বাক্যের মধ্যে তাঁদের প্রতি সামান্য তিরস্কারের আভাষ পাওয়া যায়, যা তাঁদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করে না...
(খণ্ড: ১)
তানযীহুল আম্বিয়া আম্মা নুসিবা ইলাইহিম হুসালাতুল আগবিয়া
(পৃষ্ঠা: ২৪)
أقدارهم وَلَا تنقص من كمالهم وَلَا تقدح فِي عصمتهم وكريم أَحْوَالهم بِمَا من الله بِهِ من فَضله على من يَشَاء من عباده وَذَلِكَ لما سلط الله على سَادَات الْمُرْسلين من غثاء الْفرق المضلين من أوباش المعطلة الضَّالّين وأراذل الْيَهُود وَالنَّصَارَى ومقلدة المؤرخين وَالْقصاص المجازفين الْجَاهِلين بِحَقِيقَة النُّبُوَّة وَمَا يجوز على أَنْبيَاء الله تَعَالَى وَمَا يَسْتَحِيل وَمَا يجب على الكافة من تعزيرهم وتوقيرهم وتدقيق النّظر فِي اسْتِخْرَاج مناقبهم على أتم الْكَمَال وأعمه فتراهم يتركون مَا أوجب الله عَلَيْهِم من التفقة فِي آي الْقُرْآن من تَوْحِيد بارئهم وتنزيهه عَن النقائص وَوَصفه تَعَالَى بِمَا يجب لَهُ من صِفَات الْكَمَال والجلال وَوصف أنبيائه بِالصّدقِ والعصمة والتنزيه من الْخَطَأ والخطل وَكَذَلِكَ مَا جاؤوا بِهِ من وظائف الْعِبَادَات وَمَا أخبروا بِهِ من المغيبات والمواعظ بالوعد والوعيد وَالنَّظَر فِي الْفرق بَين الْحَلَال وَالْحرَام والمشتبهات إِلَى غير ذَلِك مِمَّا لَا تحويه الرقوم وَلَا تحيط بِهِ ثاقبات الفهوم وَمَا عَسى أَن أَقُول فِيمَا قَالَ الله تَعَالَى فِيهِ وَلَو أَن مَا فِي الأَرْض من شَجَرَة أَقْلَام وَالْبَحْر يمده من بعده سَبْعَة أبحر مَا نفدت كَلِمَات الله الْآيَة وَقَوله تَعَالَى وَلَو أَن قُرْآنًا سيرت بِهِ الْجبَال أَو قطعت بِهِ الأَرْض اَوْ كلم بِهِ الْمَوْتَى الْآيَة وَقَوله تَعَالَى {لَو أنزلنَا هَذَا الْقُرْآن على جبل لرأيته خَاشِعًا متصدعا} الْآيَة إِلَى غير ذَلِك فترى بهائم قد صرف الله قُلُوبهم وطبع عَلَيْهَا بِطَابع النِّفَاق ينكبون عَن هَذِه الواضحات من الحكم الْبَالِغَة والبراهين الصادعة ويقصدون إِلَى أَقْوَال وأفعال لَهُم
তাদের মর্যাদা, এবং তা তাদের পূর্ণতায় কোনো ঘাটতি ঘটায় না, না তাদের নিষ্পাপতায় কোনো আঘাত হানে, আর না তাদের মহৎ অবস্থার কোনো হানি করে; এটি আল্লাহর সেই অনুগ্রহের অংশ যা তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা দান করেছেন। আর তা একারণে যে, আল্লাহ রাসুলদের সরদারদের ওপর বিভ্রান্ত দলগুলোর আবর্জনা, পথভ্রষ্ট মুয়াত্তিলাদের (গুণাবলী অস্বীকারকারী) ইতর শ্রেণি, ইহুদি ও নাসারাদের নিকৃষ্ট অংশ, ঐতিহাসিকদের অন্ধ অনুসারী এবং নবুওয়তের বাস্তবতা সম্পর্কে অজ্ঞ ও সীমালঙ্ঘনকারী কিচ্ছা-কাহিনীকারদের চাপিয়ে দিয়েছেন; অথচ নবুওয়তের হাকিকত, আল্লাহর নবীদের জন্য যা জায়েজ, যা অসম্ভব এবং তাদের সম্মান ও মর্যাদা প্রদর্শন এবং অত্যন্ত নিখুঁত ও পূর্ণাঙ্গভাবে তাদের শ্রেষ্ঠত্বসমূহ উদ্ঘাটনের জন্য গভীর দৃষ্টি নিবদ্ধ করা সকলের ওপর ওয়াজিব। ফলে আপনি তাদের দেখবেন যে, আল্লাহ তাদের ওপর কুরআনের আয়াতসমূহ নিয়ে ফিকহ অর্জন করা যা ফরয করেছেন—যেমন তাদের স্রষ্টার তাওহিদ, তাঁকে সকল ত্রুটি থেকে পবিত্র রাখা এবং আল্লাহ তাআলার জন্য অপরিহার্য তাঁর পূর্ণতা ও মহিমার গুণাবলীতে ভূষিত করা, এবং তাঁর নবীদের সত্যবাদিতা, নিষ্পাপতা, ভুল ও ত্রুটি থেকে পবিত্র হিসেবে বর্ণনা করা, সেই সাথে তারা ইবাদতের যে দায়িত্বসমূহ নিয়ে এসেছেন, অদৃশ্যের যে সংবাদসমূহ প্রদান করেছেন, জান্নাতের প্রতিশ্রুতি ও জাহান্নামের হুমকির যে ওয়াজ-নসিহত করেছেন, এবং হালাল, হারাম ও অস্পষ্ট বিষয়সমূহের মধ্যে পার্থক্যের প্রতি দৃষ্টিদান—এই সবকিছু তারা পরিত্যাগ করে। অথচ এসকল বিষয় এমন যা কোনো লেখনী ধারণ করতে পারে না এবং কোনো তীক্ষ্ণ মেধা তা আয়ত্ত করতে সক্ষম নয়। আর আমিই বা সে সম্পর্কে কী বলব, যা সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আর পৃথিবীতে যত গাছ আছে তা যদি কলম হয় এবং সমুদ্রের সাথে আরও সাতটি সমুদ্র যুক্ত হয়, তবুও আল্লাহর বাণীসমূহ শেষ হবে না।" (আয়াত)। এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: "যদি এমন কোনো কুরআন হতো যার দ্বারা পাহাড় চালিত হতো অথবা যার দ্বারা জমিন বিদীর্ণ হতো অথবা যার দ্বারা মৃতদের সাথে কথা বলা যেত।" (আয়াত)। এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: {যদি আমি এই কুরআন কোনো পাহাড়ের ওপর অবতীর্ণ করতাম, তবে অবশ্যই তুমি তাকে বিনীত ও বিদীর্ণ হতে দেখতে} (আয়াত), ইত্যাদি। সুতরাং আপনি এমন সব পশুতুল্য লোক দেখতে পাবেন যাদের অন্তরসমূহকে আল্লাহ সত্যবিমুখ করে দিয়েছেন এবং তার ওপর নিফাকের মোহর লাগিয়ে দিয়েছেন। তারা এসকল সুস্পষ্ট প্রজ্ঞাপূর্ণ ও অকাট্য দলিলসমূহ থেকে বিমুখ হয়ে পড়ে এবং তাদের মনগড়া কিছু কথা ও কাজের দিকে ধাবিত হয়।
(খণ্ড: ১)
তানযীহুল আম্বিয়া আম্মা নুসিবা ইলাইহিম হুসালাতুল আগবিয়া
(পৃষ্ঠা: ২৫)
يتخيلونها مثالب فِي حَقهم فيهلكون وَيهْلِكُونَ من حَيْثُ لَا يَشْعُرُونَ
فلنذكر الْآن مَا نذْكر مِنْهَا لكَوْنهم يستعملون ذكرهَا لتَحْصِيل أغراض لَهُم فَاسِدَة ثمَّ نعطف على مَا بَقِي مِنْهَا فِيمَا بعد إِن شَاءَ الله تَعَالَى
فَمِنْهَا قصَّة دَاوُود عليه السلام مَعَ زوج أوريا وقصة سُلَيْمَان عليه السلام مَعَ زَوْجَة جَرَادَة وَمَا كَانَ من قصَّة الْجَسَد والكرسي وقصة يُوسُف عليه السلام مَعَ امْرَأَة الْعَزِيز فِي الْهم والمراودة وقصة نَبينَا عليه الصلاة والسلام مَعَ زيد بن حَارِثَة وَزَيْنَب بنت جحش بن أُميَّة فيتأولونها تَأْوِيل من حل من عُنُقه ريقة الشَّرِيعَة ويئس من رَحْمَة الله ثمَّ ينسبون بعض هَذِه الْأَقْوَال إِلَى كبار الصَّحَابَة وَالتَّابِعِينَ ليموهوا بهَا على الْعَوام لِئَلَّا يردوها عَلَيْهِم ويقدحوا فِيهَا ثمَّ تراهم يَتَرَدَّدُونَ فِي نقل تِلْكَ الخرافات بالتكرار على أوجه مُخْتَلفَة تورعا فِي نقل الرِّوَايَة تورع الْكَلْب الَّذِي يرفع رجله عِنْد الْبَوْل وفمه فِي أعماق الجيفة ثمَّ قد قيض الله لتِلْك الحكايات فِي هَذَا الْوَقْت المنكوب شرذمة من المقلدة المنتمين إِلَى الْإِرَادَة وَالْقصاص المدعين فِي غرائب الْعلم وبواطن الْمعَانِي المنتمين إِلَى الْوَعْظ والتذكير فتراهم ينتقلون من الْمَزَابِل إِلَى المنابر فيطرحون الْكَلَام فِي وظائف التَّوْحِيد ومزعجات الْوَعْد والوعيد وأقسام أهل الدَّاريْنِ فِي الدَّرَجَات والدركات ويخوضون فِي أَحْوَال الْأَنْبِيَاء عليهم السلام ويتمندلون بأعراضهم على رُؤُوس الْعَوام والطغام وَلَا مُشفق على دين
তারা সেগুলোকে তাঁদের ব্যাপারে দোষত্রুটি বলে কল্পনা করে, ফলে তারা নিজেরা ধ্বংস হয় এবং এমনভাবে অন্যদের ধ্বংস করে যা তারা বুঝতেও পারে না।
সুতরাং আমরা এখন এগুলোর মধ্য থেকে কিছু বিষয় উল্লেখ করব, কারণ তারা তাদের অসৎ উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য এগুলোকে ব্যবহার করে থাকে; এরপর আমরা অবশিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে ইনশাআল্লাহ পরবর্তীতে আলোচনা করব।
এর মধ্যে রয়েছে দাউদ আলাইহিস সালাম ও উরিয়্যার স্ত্রীর ঘটনা, সুলাইমান আলাইহিস সালাম ও জারাদার স্ত্রীর ঘটনা এবং দেহ ও সিংহাসন সম্পর্কিত যা বর্ণিত হয়েছে তা, আজিজের স্ত্রীর সাথে ইউসুফ আলাইহিস সালামের আসক্তি ও প্ররোচনার ঘটনা এবং যায়েদ বিন হারিসা ও জয়নব বিনতে জাহাশ বিন উমাইয়ার সাথে আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঘটনা। তারা এগুলোকে এমনভাবে ব্যাখ্যা করে যেভাবে শরীয়তের শৃঙ্খলমুক্ত এবং আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ ব্যক্তিরা করে থাকে। এরপর তারা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য এসব কথার কিছু অংশ বড় বড় সাহাবী ও তাবিঈদের দিকে সম্পর্কিত করে, যাতে সাধারণ মানুষ তা প্রত্যাখ্যান না করে এবং এর সমালোচনা না করে। অতঃপর আপনি তাদের দেখবেন যে, তারা সেই রূপকথাগুলোকে বারবার বিভিন্নভাবে বর্ণনা করছে। তাদের এই বর্ণনাভঙ্গি এমন এক ধরণের সতর্কতা প্রদর্শনের মতো, যেমন সেই কুকুরের সতর্কতা যে প্রস্রাব করার সময় তার পা উঁচিয়ে রাখে অথচ তার মুখ থাকে পচা মৃতদেহের গভীরে। এরপর এই বিপদগ্রস্ত সময়ে আল্লাহ এসব গল্পের জন্য এমন একদল অন্ধ অনুসারী জুটিয়ে দিয়েছেন যারা নিজেদের আধ্যাত্মিক সাধক ও গল্পকথক বলে দাবি করে, ইলমের বিরল ও গূঢ় রহস্যের দাবিদার সাজে এবং নিজেদের ওয়াজ ও নসিহতের সাথে সম্পৃক্ত মনে করে। ফলে আপনি তাদের দেখবেন যে তারা আবর্জনার স্তূপ থেকে মিম্বরের ওপর চলে আসে; এরপর তারা তাওহীদের গুরুত্ব, পরকালের পুরস্কার ও শাস্তির ভীতিপ্রদ বর্ণনা এবং পরকালে মানুষের বিভিন্ন স্তর ও পর্যায় নিয়ে কথাবার্তা বলতে শুরু করে। তারা আম্বিয়া আলাইহিস সালামগণের অবস্থা নিয়ে অহেতুক আলোচনায় লিপ্ত হয় এবং সাধারণ ও ইতর শ্রেণীর মানুষের সামনে তাঁদের সম্মান নিয়ে খেলতামাশা করে; অথচ দ্বীনের ব্যাপারে তাদের মধ্যে কোনো মমতা নেই।
(খণ্ড: ১)
তানযীহুল আম্বিয়া আম্মা নুসিবা ইলাইহিম হুসালাতুল আগবিয়া
(পৃষ্ঠা: ২৬)
الله تَعَالَى وَلَا محتاط على أغمار المقلدة وَلَا زاجر ذَا سُلْطَان حَتَّى كأننا مِلَّة أُخْرَى وَلَا نغار على ذمهم وَلَا نرقب فِي أعراضهم إِلَّا وَلَا ذمَّة
وغرض هَؤُلَاءِ الفسقة فِي سرد تِلْكَ الحكايات المورطة قَائِلهَا وناقلها فِي سخط الله تَعَالَى أَن يهونوا الفسوق والمعاصي على بله الْعَوام ويتسللوا إِلَى الْفُجُور بِالنسَاء بذكرها لوذا حَتَّى ترى الْمَرْأَة تخرج من مجْلِس الْوَاعِظ إِلَى منزله فتسأله على التَّفْصِيل فيزيدها أقبح مِمَّا أسمعها فِي الْجُمْهُور يَقُول لَهَا هَذَا أَمر مَا سلم مِنْهُ عُظَمَاء الْمُرْسلين فَكيف نَحن فَلَا يزَال يهون عَلَيْهَا مَا كَانَ يصعب من قبل ف {إِنَّا لله وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُون} {وَسَيعْلَمُ الَّذين ظلمُوا أَي مُنْقَلب يَنْقَلِبُون}
আল্লাহ তাআলা, আর না আছে অজ্ঞ অনুসারীদের ওপর কোনো সতর্ককারী, আর না আছে কোনো ক্ষমতাধর বাধা প্রদানকারী, এমনকি আমাদের অবস্থা এমন হয়েছে যেন আমরা ভিন্ন কোনো ধর্মাদর্শের অন্তর্ভুক্ত। আমরা না তাদের নিন্দার বিষয়ে আত্মমর্যাদাবোধ করি, আর না তাদের সম্মানের ক্ষেত্রে কোনো আত্মীয়তা বা দায়বদ্ধতা রক্ষা করি।
আর এই পাপাচারীদের উদ্দেশ্য—ঐসব কাহিনী বর্ণনার মাধ্যমে যা বক্তা ও বর্ণনাকারীকে আল্লাহ তাআলার ক্রোধে নিপতিত করে—হলো মূর্খ সাধারণ মানুষের নিকট পাপাচার ও অবাধ্যতাকে সহজ করে তোলা। তারা এগুলোর আলোচনার আড়ালে নারীদের সাথে ব্যভিচারের পথ সুগম করে, এমনকি দেখা যায় যে, কোনো নারী ওয়াজকারীর মজলিস থেকে তার ঘরে গিয়ে বিস্তারিত মাসআলা জিজ্ঞাসা করে, তখন সে তাকে জনসম্মুখে যা শুনিয়েছিল তার চেয়েও জঘন্যতর কুরুচিপূর্ণ বিষয় শুনিয়ে দেয়। সে তাকে বলে: "এটি এমন এক বিষয় যা থেকে মহান রাসূলগণও রক্ষা পাননি, তাহলে আমাদের কী দশা!" এভাবে সে অনবরত সেই নারীর নিকট এমন বিষয়কে তুচ্ছ করতে থাকে যা ইতিপূর্বে তার নিকট অত্যন্ত কঠিন ও গর্হিত মনে হতো। অতএব, নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং নিশ্চয়ই আমরা তাঁরই নিকট প্রত্যাবর্তনকারী। আর যারা জুলুম করেছে তারা শীঘ্রই জানতে পারবে তারা কোন গন্তব্যে প্রত্যাবর্তন করবে।
(খণ্ড: ১)
তানযীহুল আম্বিয়া আম্মা নুসিবা ইলাইহিম হুসালাতুল আগবিয়া
(পৃষ্ঠা: ২৭)
ذكر مَا اختلقوه فِي قصَّة دَاوُود عليه السلام فَمن شنيع تخرصهم فِي قصَّته عليه السلام مَعَ امْرَأَة أوريا وَقلة مُرَاعَاتهمْ مَعَ من جعله الله تَعَالَى خَليفَة فِي الأَرْض وشدد ملكه وآتاه الْحِكْمَة وَفصل الْخطاب وسخر لَهُ الْجبَال يسبحْنَ مَعَه وَالطير وألان لَهُ الْحَدِيد فمما اختلقوه عَلَيْهِ أَن قَالُوا
إِنَّه أشرف يَوْمًا من كوَّة كَانَت فِي محرابه فَرَأى امْرَأَة تَغْتَسِل فِي حُجْرَتهَا فأعجبه حسنها ولين جَانبهَا ورخامة دلها فشغفه حبها فالتفتت إِلَيْهِ فأسبلت شعرهَا على جَسدهَا لتستتر مِنْهُ فزاده ذَلِك شغفا بهَا ثمَّ أرسل إِلَيْهَا يسْأَلهَا من بَعْلهَا فَأَخْبَرته أَنه أوريا فَأرْسل إِلَيْهِ فَسَأَلَهُ أَن ينزل لَهُ عَنْهَا بِطَلَاقِهَا فَأبى فَأمره بِالْخرُوجِ إِلَى الْغَزْو وَأرْسل إِلَى صَاحب الْجَيْش أَن يغزيه ويقدمه لِلْقِتَالِ فِي كل مأزق فَفعل صَاحب الْجَيْش بِهِ ذَلِك مَرَّات حَتَّى قتل فَلَمَّا بلغ دَاوُود عليه السلام أَنه قتل أرسل إِلَيْهَا ليتزوجها فأسعفته فَتَزَوجهَا وَكَانَ لَهُ مئة امْرَأَة إِلَّا وَاحِدَة فَأَتمَّ بهَا المئة فَأرْسل الله إِلَيْهِ إِذْ ذَاك الْمَلَائِكَة فاختصموا عِنْده فأفتاهم بِمَا يؤول دركه عَلَيْهِ فخصموه ثمَّ قَالَ أَحدهمَا للْآخر قُم فقد حكم الرجل على نَفسه وصعدا إِلَى السَّمَاء وَهُوَ ينظر إِلَيْهِمَا فتفطن إِذْ ذَاك أَنهم مَلَائِكَة وَأَنه فتن وَأَخْطَأ فَاسْتَغْفر ربه وخر رَاكِعا وأناب
দাউদ আলাইহিস সালাম-এর কাহিনীতে তারা যা উদ্ভাবন করেছে তার বর্ণনা ওরিয়ার স্ত্রীর সাথে তাঁর (আলাইহিস সালাম) কাহিনীতে তাদের জঘন্য মিথ্যাচার এবং সেই সত্তার প্রতি তাদের সম্মানবোধের অভাব—যাকে আল্লাহ তাআলা জমিনে খলিফা নিযুক্ত করেছেন, তাঁর রাজত্বকে শক্তিশালী করেছেন, তাঁকে হিকমত ও অকাট্য কথা বলার ক্ষমতা দান করেছেন এবং তাঁর জন্য পাহাড়সমূহ ও পাখিদের অনুগত করে দিয়েছেন যারা তাঁর সাথে তাসবিহ পাঠ করত, আর তাঁর জন্য লোহাকে নরম করে দিয়েছিলেন—এসবেরই অন্তর্ভুক্ত হলো সেই কথা যা তারা তাঁর ব্যাপারে উদ্ভাবন করেছে যে, তারা বলেছিল:
নিশ্চয়ই তিনি একদিন তাঁর মেহরাবের একটি গবাক্ষ দিয়ে উঁকি দিলেন। তখন তিনি এক মহিলাকে তার কক্ষে গোসল করতে দেখলেন। তার সৌন্দর্য, কমনীয়তা ও লাবণ্য তাঁকে মুগ্ধ করল এবং তার ভালোবাসা তাঁকে আচ্ছন্ন করল। তখন মহিলাটি তাঁর দিকে ফিরে তাকাল এবং নিজেকে আড়াল করার জন্য তার চুলগুলো শরীরের ওপর এলিয়ে দিল, যা তাঁর অন্তরে তার প্রতি আকর্ষণ আরও বাড়িয়ে দিল। এরপর তিনি তার কাছে লোক পাঠিয়ে তার স্বামী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। সে জানাল যে তার স্বামী ওরিয়া। তখন তিনি ওরিয়ার কাছে লোক পাঠিয়ে তাকে অনুরোধ করলেন যেন সে তাকে তালাক দিয়ে তাঁর জন্য ছেড়ে দেয়, কিন্তু সে অস্বীকার করল। এরপর তিনি তাকে যুদ্ধে যাওয়ার নির্দেশ দিলেন এবং সেনাপতির কাছে বার্তা পাঠালেন যেন তাকে যুদ্ধে লিপ্ত করে এবং প্রতিটি সংকটপূর্ণ রণক্ষেত্রে তাকে লড়াইয়ের জন্য সামনে এগিয়ে দেয়। সেনাপতি তার সাথে কয়েকবার এমনটিই করল যতক্ষণ না সে নিহত হলো। যখন দাউদ আলাইহিস সালাম-এর কাছে খবর পৌঁছাল যে সে নিহত হয়েছে, তখন তিনি তাকে বিয়ের প্রস্তাব পাঠালেন। সে তাতে সাড়া দিলে তিনি তাকে বিয়ে করলেন। ইতিপূর্বে তাঁর নিরানব্বইজন স্ত্রী ছিল, এর মাধ্যমে তিনি একশত পূর্ণ করলেন। তখন আল্লাহ তাঁর কাছে ফেরেশতাদের পাঠালেন এবং তারা তাঁর কাছে বিবাদে লিপ্ত হলো। তিনি তাদের এমন ফয়সালা দিলেন যার দায়ভার তাঁর নিজের ওপরই বর্তায়, ফলে তারা তাঁকে তর্কে পরাস্ত করল। এরপর তাদের একজন অন্যজনকে বলল, 'উঠো, নিশ্চয়ই এই লোকটি নিজের বিরুদ্ধেই ফয়সালা দিয়েছে।' আর তিনি তাদের দিকে তাকিয়ে থাকা অবস্থায়ই তারা আসমানে উঠে গেল। তখন তিনি বুঝতে পারলেন যে তারা ছিল ফেরেশতা এবং তিনি পরীক্ষায় পড়েছেন ও ভুল করেছেন। তখন তিনি তাঁর রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলেন, রুকুতে লুটিয়ে পড়লেন এবং বিনীতভাবে তাঁর দিকে ফিরে এলেন।
(খণ্ড: ১)
তানযীহুল আম্বিয়া আম্মা নুসিবা ইলাইহিম হুসালাতুল আগবিয়া
(পৃষ্ঠা: ২৮)
فَهَذِهِ من أَقْوَالهم أقل شناعة وبشاعة مِمَّا سواهَا من الْأَقْوَال فِي كتب الْقَصَص والتواريخ وَبَعض التفاسير الْفَاسِدَة
فصل وَالَّذِي يَنْبَغِي أَن يعول عَلَيْهِ فِي هَذِه الْقِصَّة وَمَا يضاهيها من الْقَصَص مَا جَاءَ بِهِ الْكتاب الْعَزِيز أَو مَا صَحَّ عَن الرَّسُول عليه السلام من الْخَبَر وَمَا سوى ذَلِك فيطرح هُوَ ومختلقه وَرَاوِيه إِلَى حَيْثُ أَلْقَت رَحلهَا أم قشعم
فصل
فَأَما قصَّة دَاوُود عليه السلام فَهِيَ مَذْكُورَة على الْكَمَال مفصلة فِي قَوْله تَعَالَى {وَهل أَتَاك نبأ الْخصم إِذْ تسوروا الْمِحْرَاب} إِلَى قَوْله {وخر رَاكِعا وأناب}
قَالَ تَعَالَى {وَهل أَتَاك نبأ الْخصم}
اعْلَم رَحِمك الله أَن اسْتِفْهَام الله تَعَالَى لخلقه لَا يجوز الْآيَة يحمل على حَقِيقَة الِاسْتِفْهَام لوُجُوب احاطة علمه تَعَالَى بِجَمِيعِ المعلومات على أتم التَّفْصِيل فَلم يبْق إِلَّا أَن يكون الِاسْتِفْهَام هُنَا بِمَعْنى التَّقْرِير والتنبيه لنَبيه عليه السلام ليتهيأ لقبُول الْخطاب وليتفهم مَا يلقى إِلَيْهِ من غرائب الْعلم وعجائب الكائنات وَأما إِفْرَاد الْخصم وهما خصمان فالعرب تسمي الْوَاحِد بِالْجمعِ وَالْجمع بِالْوَاحِدِ على وَجه مَا فَنَقُول
সুতরাং তাদের এই উক্তিগুলো সেইসব উক্তি অপেক্ষা কম জঘন্য ও কদর্য যা কিচ্ছা-কাহিনীর কিতাবসমূহ, ইতিহাস গ্রন্থসমূহ এবং কিছু ভ্রান্ত তাফসীরে বর্ণিত হয়েছে।
পরিচ্ছেদ এই কাহিনী এবং এর সদৃশ অন্যান্য কাহিনীর ক্ষেত্রে যা কিছুর ওপর নির্ভর করা উচিত তা হলো যা মহাগ্রন্থ আল-কুরআনে এসেছে অথবা রাসূলুল্লাহ (আলাইহিস সালাম)-এর পক্ষ থেকে সহীহ সূত্রে বর্ণিত সংবাদ। এ ছাড়া যা কিছু আছে তা এবং তার উদ্ভাবক ও বর্ণনাকারীকে এমন স্থানে নিক্ষেপ করা উচিত যেখানে 'উম্মু কাশআম' তার আসবাবপত্র নামিয়েছিল (অর্থাৎ তা চিরতরে বর্জন করা উচিত)।
পরিচ্ছেদ
আর দাউদ (আলাইহিস সালাম)-এর কাহিনী মহান আল্লাহর এই বাণীতে পূর্ণাঙ্গ ও বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে: {আপনার কাছে কি সেই বিবাদকারীদের সংবাদ পৌঁছেছে? যখন তারা প্রাচীর টপকে ইবাদতখানায় ঢুকে পড়েছিল} থেকে শুরু করে {এবং তিনি রুকুতে লুটিয়ে পড়লেন ও অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর অভিমুখী হলেন} পর্যন্ত।
মহান আল্লাহ বলেন: {আপনার কাছে কি বিবাদকারীদের সংবাদ পৌঁছেছে?}
আল্লাহ আপনার ওপর রহম করুন, জেনে রাখুন যে, সৃষ্টির প্রতি মহান আল্লাহর প্রশ্নকে আক্ষরিক জিজ্ঞাসার ওপর প্রয়োগ করা সমীচীন নয়; কারণ সকল জ্ঞাত বিষয়ের ওপর পূর্ণাঙ্গ ও বিস্তারিতভাবে মহান আল্লাহর জ্ঞানের পরিব্যাপ্তি থাকা আবশ্যক। সুতরাং এখানে এই প্রশ্নটি 'স্বীকৃতি আদায়' এবং তাঁর নবী (আলাইহিস সালাম)-কে 'সতর্ক' করার অর্থেই ব্যবহৃত হয়েছে, যাতে তিনি সম্বোধন গ্রহণের জন্য প্রস্তুত হন এবং তাঁর প্রতি জ্ঞানরাজ্যের সূক্ষ্ম রহস্য ও সৃষ্টিজগতের বিস্ময়কর বিষয়াদি যা পেশ করা হচ্ছে তা যথাযথভাবে অনুধাবন করতে পারেন। আর 'বিবাদী' শব্দটিকে একবচনে ব্যবহার করা প্রসঙ্গে বলা যায় যে, যদিও তারা দুইজন বিবাদী ছিল, তবুও আরবরা একবচনকে বহুবচনের অর্থে এবং বহুবচনকে একবচনের অর্থে ব্যবহার করে থাকে, তাই আমরা বলি-
(খণ্ড: ১)
তানযীহুল আম্বিয়া আম্মা নুসিবা ইলাইহিম হুসালাতুল আগবিয়া
(পৃষ্ঠা: ২৯)
خصما للْوَاحِد وَالْجمع كَمَا تَقول ضيفا للْوَاحِد وَالْجمع وَقَالَ الله تَعَالَى {هَل أَتَاك حَدِيث ضيف إِبْرَاهِيم الْمُكرمين إِذْ دخلُوا عَلَيْهِ} فسماهم باسم الْوَاحِد ونعتهم بِالْجمعِ فِي قَوْله {الْمُكرمين} وَكَذَلِكَ {إِذْ دخلُوا عَلَيْهِ}
وَمعنى {تسوروا الْمِحْرَاب} أَتَوْهُ من أعاليه وَلم يأتوه من بَابه وَلذَلِك فزع مِنْهُم فَإِنَّهُ خَافَ أَن يَكُونُوا لصوصا أَو يكون بعض رَعيته ثَارُوا عَلَيْهِ والمحراب فِي اللِّسَان صدر الْمجْلس وَأحسن مَا فِيهِ وَلذَلِك سمي محراب الْمَسْجِد محرابا وَقبل الْمِحْرَاب الغرفة وَفِي فزعه مِنْهُم وَكَانُوا مَلَائِكَة دَلِيل على أَنه لَيْسَ من شَرط النُّبُوَّة أَن يعرف النَّبِي كل من يَأْتِيهِ من الْمَلَائِكَة حَتَّى يعرف بِهِ وَفِيه أَيْضا دَلِيل على أَن الْمَلَائِكَة يتصورون على صور الْآدَمِيّين بِأَمْر رَبهم وَقدرته لَا بقدرتهم وَفِي تصورهم كَذَلِك عريض من القَوْل لسنا الْآن لَهُ لَكِن الَّذِي يَصح مِنْهَا وَجْهَان
إِمَّا انهم ينسلخون من أبعاضهم
اَوْ تنعدم من أجسامهم بالإمساك عَن خلق الْأَعْرَاض فِيهَا مَا شَاءَ الله وَتبقى مَا شَاءَ ثمَّ يعيدهم إِلَى مقامهم كَمَا كَانُوا قيل فَإِنَّهُ لَيْسَ من شَرط الْحَيّ الْعَالم أَن تكْثر أجزاؤه وَلَا أَن تقل فَإِن الْعَالم مِنْهُ جُزْء فَرد
وَأما قَوْله {لَا تخف خصمان} وَلم يَكُونَا خصمين على الْحَقِيقَة وَلَا بغى بَعضهم على بعض وَلَا أتفق لَهما مِمَّا ذكرَاهُ شَيْء فَفِيهِ دَلِيل
'প্রতিপক্ষ' শব্দটি একবচন ও বহুবচন উভয়ের জন্যই ব্যবহৃত হয়, যেমন আপনি একবচন ও বহুবচন উভয়ের জন্য 'অতিথি' শব্দটিকে ব্যবহার করেন। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, "আপনার কাছে কি ইব্রাহীমের সম্মানিত অতিথিদের বৃত্তান্ত পৌঁছেছে? যখন তারা তার নিকট প্রবেশ করল।" এখানে তিনি তাদের একবচনের নাম (অতিথি) দ্বারা অভিহিত করেছেন এবং তাঁর বাণী "সম্মানিত ব্যক্তিগণ"-এ তাদের বহুবচনের বিশেষণে বিশেষিত করেছেন; অনুরূপভাবে "যখন তারা তার নিকট প্রবেশ করল" বাক্যটিতেও বহুবচন ব্যবহার করা হয়েছে।
"তারা প্রাচীর ডিঙিয়ে মিহরাবে প্রবেশ করল" এর অর্থ হলো তারা এর উপরিভাগ দিয়ে এসেছিল এবং এর দরজা দিয়ে আসেনি। এই কারণেই তিনি তাদের দেখে আতঙ্কিত হয়েছিলেন, কারণ তিনি আশঙ্কা করেছিলেন যে তারা চোর হতে পারে অথবা তার প্রজাদের কেউ তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছে। ভাষাগতভাবে 'মিহরাব' হলো মজলিসের সম্মুখভাগ এবং তার সর্বোত্তম স্থান। এই কারণেই মসজিদের সম্মুখভাগকে মিহরাব বলা হয়। আবার মিহরাব বলতে কক্ষকেও বোঝানো হয়। তারা ফেরেশতা হওয়া সত্ত্বেও তাদের দেখে তাঁর ভীত হওয়ার মধ্যে এই দলিল রয়েছে যে, নবুওয়াতের জন্য এটি শর্ত নয় যে নবী তাঁর কাছে আগত প্রত্যেক ফেরেশতাকে চিনবেন, যতক্ষণ না তাকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। এতে আরও দলিল রয়েছে যে, ফেরেশতারা তাদের রবের নির্দেশে এবং তাঁর কুদরতে মানুষের রূপ ধারণ করতে পারে, তাদের নিজস্ব ক্ষমতায় নয়। তাদের এভাবে রূপ ধারণের বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা রয়েছে যা এখন আমাদের উদ্দেশ্য নয়, তবে এর মধ্যে দুটি দিক সঠিক হতে পারে।
হয় তারা তাদের কোনো কোনো অংশ থেকে বিমুক্ত হয়।
অথবা আল্লাহ তাআলা তাদের দেহে যতটুকু চান ততটুকু আপতিক গুণাবলি সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে তাদের দেহের অংশসমূহ বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং যতটুকু চান ততটুকু অবশিষ্ট থাকে। এরপর তিনি তাদের পুনরায় তাদের পূর্বের স্থানে বা অবস্থায় ফিরিয়ে নেন যেমন তারা ছিল। বলা হয়েছে যে, কোনো জীবিত ও জ্ঞানী সত্তার জন্য তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অধিক হওয়া শর্ত নয়, আবার কম হওয়াও শর্ত নয়; কেননা জ্ঞানী সত্তার মূল বিষয় হলো অবিভাজ্য একক অংশ।
আর আল্লাহর বাণী "ভয় পাবেন না, আমরা দুই বিবাদী"—অথচ তারা প্রকৃতপক্ষে বিবাদী ছিল না এবং তাদের একজন অন্যজনের ওপর জুলুমও করেনি এবং তারা যা বর্ণনা করেছিল তার কিছুই তাদের ক্ষেত্রে ঘটেনি—এর মধ্যে দলিল রয়েছে যে...
(খণ্ড: ১)
তানযীহুল আম্বিয়া আম্মা নুসিবা ইলাইহিম হুসালাতুল আগবিয়া
(পৃষ্ঠা: ৩০)
على أَن الْكَذِب أَنما يقبح شرعا فَمن أمره الله تَعَالَى أَن يخبر بِمَا وَقع وَبِمَا لم يَقع فَأخْبر بِهِ فَهُوَ مُطِيع ممتثل فَاعل الْحسن وَلذَلِك جَازَ لَهُم أَن يَقُولُوا للمعصوم {فاحكم بَيْننَا بِالْحَقِّ وَلَا تشطط} والشطط الْجور مَعَ علمهمْ بِأَن الْمَعْصُوم يحكم بِالْحَقِّ وَلَا يجور فِي الحكم فَتخرج لَهُم هَذِه الْأَقْوَال إِذْ هم مَلَائِكَة وسفرة معصومون مخرج أَقْوَال يُوسُف عليه السلام إِذْ أَمر مناديه فَنَادَى {أيتها العير إِنَّكُم لسارقون} وَمَا كَانُوا بسارقين وَقَوله عليه السلام لإخوته {أَنْتُم شَرّ مَكَانا} وَلم يَكُونُوا كَذَلِك وَأخذ أَخَاهُم على حكمهم لَا على حكم الْملك وَمَا كَانَ لَهُ أَن يَأْخُذهُ فِي دين الْملك فَإِن الْملك كَانَ يقتل السَّارِق وَلَا فِي دين إخْوَته فِي شريعتهم فَإِنَّهُم كَانُوا يستعبدون السَّارِق وَأَخُوهُ لم يكن سَارِقا
وَجَاء فِي الْأَخْبَار أَنه كَانَ ينقر فِي الصواع وَيَقُول إِن صواعي هَذَا يُخْبِرنِي بِكَذَا وَكَذَا والصواع لَا يخبر حَتَّى قَالَ لَهُ بنيامين أَخُوهُ أَيهَا الْملك سل صواعك يُخْبِرك أَحَي أخي يُوسُف أم ميت
فَنقرَ فِي الصواع فَقَالَ هُوَ حَيّ وَإنَّك لتراه وتلقاه إِلَى غير ذَلِك فَأَقَامَ الله تَعَالَى عذره فِي كل مَا أخبر عَنهُ وَفعله بقوله كَذَلِك كدنا
তদুপরি মিথ্যা কেবল শরীয়তগতভাবেই নিন্দনীয়। সুতরাং আল্লাহ তাআলা যাকে যা ঘটেছে এবং যা ঘটেনি সে সম্পর্কে সংবাদ দিতে নির্দেশ দিয়েছেন, আর সে সংবাদ দিয়েছে, সে অনুগত, আদেশ পালনকারী এবং উত্তম কর্ম সম্পাদনকারী। আর এ কারণেই তাদের পক্ষে নিষ্পাপ ব্যক্তির উদ্দেশ্যে বলা জায়েয হয়েছে যে, "আমাদের মাঝে ন্যায়ের সাথে ফয়সালা করুন এবং অবিচার করবেন না।" আর 'শাতাত' তথা অবিচার সম্পর্কে তাদের জানা ছিল যে, নিষ্পাপ ব্যক্তি ন্যায়ের সাথেই ফয়সালা করেন এবং বিচারে অবিচার করেন না। সুতরাং তাদের এই কথাগুলো যেহেতু তারা ফেরেশতা ও নিষ্পাপ দূত ছিল, তা ইউসুফ আলাইহিস সালামের কথার পর্যায়ভুক্ত; যখন তিনি তাঁর ঘোষককে নির্দেশ দিয়েছিলেন, ফলে সে ঘোষণা করেছিল যে, "হে কাফেলার লোকেরা, তোমরা নিশ্চয়ই চোর", অথচ তারা চোর ছিল না। এবং তাঁর ভাইদের উদ্দেশ্যে তাঁর কথা যে, "তোমরা অবস্থানে অত্যন্ত মন্দ", অথচ তারা তেমন ছিল না। আর তিনি তাঁর ভাইকে তাদের ফয়সালা অনুযায়ী গ্রহণ করেছিলেন, বাদশাহর ফয়সালা অনুযায়ী নয়। আর বাদশাহর আইনে তাকে গ্রহণ করা তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিল না, কারণ বাদশাহ চোরকে হত্যা করতেন। আবার তাঁর ভাইদের শরীয়তের বিধানেও নয়, কারণ তারা চোরকে দাস বানাতেন, অথচ তাঁর ভাই চোর ছিল না।
বর্ণনায় এসেছে যে, তিনি পানপাত্রে টোকা দিতেন এবং বলতেন, "আমার এই পানপাত্রটি আমাকে এমন এমন সংবাদ দিচ্ছে।" অথচ পানপাত্র কোনো সংবাদ দেয় না। এমনকি তাঁর ভাই বিনয়ামিন তাঁকে বলেছিলেন, "হে বাদশাহ, আপনার পানপাত্রকে জিজ্ঞাসা করুন, সে আপনাকে বলে দেবে আমার ভাই ইউসুফ জীবিত নাকি মৃত।"
অতঃপর তিনি পানপাত্রে টোকা দিলেন এবং বললেন, "সে জীবিত এবং অচিরেই তুমি তাকে দেখতে পাবে ও তার সাথে সাক্ষাৎ করবে।" এই প্রকার আরও অনেক কিছু বর্ণিত হয়েছে। অতঃপর আল্লাহ তাআলা তাঁর বলা সকল সংবাদ ও কৃতকর্মের ওজর বা যৌক্তিকতা প্রতিষ্ঠা করেছেন তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: "এভাবেই আমি কৌশল করেছিলাম।"
(খণ্ড: ১)
তানযীহুল আম্বিয়া আম্মা নুসিবা ইলাইহিম হুসালাতুল আগবিয়া
(পৃষ্ঠা: ৩১)
ليوسف) وَمَعْنَاهُ بذلك أمرناه وأردنا مِنْهُ
وارتفع الِاعْتِرَاض على أَنه مَا أخبر الْمَلَائِكَة عليهم السلام لداوود عليه السلام إِنَّمَا كَانَ على جِهَة التَّجَوُّز وَضرب الْمِثَال بأخوة الْإِيمَان إِذْ لَيْسَ فِي الْمَلَائِكَة ولادَة وَإِذا لم يكن ولادَة فَلَا أخوة نسب
وَتَسْمِيَة النِّسَاء نعاجا لتأنيثهن وضعفهن و {أكفلنيها} كِنَايَة عَن نِكَاحهَا {وعزني فِي الْخطاب} بِمَعْنى غلبني وَهَذَا آخر خطاب الْخصم فَقَالَ لَهُ دَاوُود عليه السلام {لقد ظلمك} ثمَّ قيد الظُّلم بسؤال النعجة إِذْ قَالَ لَهُم {إِن كثيرا من الخلطاء ليبغي بَعضهم على بعض إِلَّا الَّذين آمنُوا وَعمِلُوا الصَّالِحَات وَقَلِيل مَا هم} وَهَذَا آخر خطابه للخصم
فصل اعلموا أحسن الله إرشادنا وَإِيَّاكُم أَن كل من تكلم فِي هَذِه الْقِصَّة بِمَا صَحَّ فِي حق دَاوُود عليه السلام وَبِمَا لم يَصح إِنَّمَا بنوه على أس هَذِه الْخمس كَلِمَات الَّتِي هِيَ {أكفلنيها} {وعزني فِي الْخطاب} و {لقد ظلمك} و {ليبغي بَعضهم على بعض} {وَقَلِيل مَا هم} وَهِي بِحَمْد
(ইউসুফের জন্য) এবং এর অর্থ হলো এর মাধ্যমে আমরা তাকে নির্দেশ দিয়েছি এবং তার থেকে এটিই চেয়েছি।
আর এই আপত্তিটিও অপসারিত হলো যে, ফেরেশতাগণ (তাঁদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) দাউদ (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক)-কে যা সংবাদ দিয়েছিলেন তা মূলত রূপক অর্থে এবং ঈমানী ভ্রাতৃত্বের উপমা হিসেবে ছিল; যেহেতু ফেরেশতাদের মধ্যে কোনো জন্মপ্রক্রিয়া নেই, আর যেখানে জন্মপ্রক্রিয়া নেই সেখানে বংশগত ভ্রাতৃত্বও নেই।
আর নারীদের 'ভেরি' হিসেবে নামকরণ করা হয়েছে তাদের নারীত্ব ও দুর্বলতার কারণে। আর "সেটি আমাকে দিয়ে দাও" কথাটি বিবাহের রূপক অর্থ প্রকাশ করে। "তর্কে সে আমাকে পরাস্ত করেছে" এর অর্থ হলো সে আমার ওপর বিজয়ী হয়েছে। এটিই ছিল বিবাদীর বক্তব্যের শেষ অংশ। তখন দাউদ (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) তাকে বললেন, "সে নিশ্চিতভাবেই তোমার প্রতি জুলুম করেছে।" এরপর তিনি এই জুলুমকে সেই ভেরি চাওয়ার বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট করলেন, যখন তিনি তাদের বললেন, "নিশ্চয় অংশীদারদের অনেকে একে অপরের ওপর জুলুম করে থাকে, তবে তারা ব্যতীত যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে; আর তারা সংখ্যায় খুবই কম।" এটি ছিল বিবাদীর প্রতি তাঁর বক্তব্যের শেষ অংশ।
পরিচ্ছেদ আপনারা জেনে রাখুন—আল্লাহ আমাদের ও আপনাদের সঠিক পথপ্রদর্শনকে সুন্দর করুন—যে ব্যক্তিই এই কাহিনীর ব্যাপারে এমন কিছু বলেছেন যা দাউদ (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক)-এর ক্ষেত্রে সঠিক কিংবা যা সঠিক নয়, তারা মূলত এই পাঁচটি বাক্যের ভিত্তির ওপরই তা গড়েছেন, যা হলো: "সেটি আমাকে দিয়ে দাও", "তর্কে সে আমাকে পরাস্ত করেছে", "সে তোমার প্রতি জুলুম করেছে", "অনেকে একে অপরের ওপর জুলুম করে থাকে" এবং "তারা সংখ্যায় খুবই কম"। আর তা আল্লাহর প্রশংসায়...
(খণ্ড: ১)
তানযীহুল আম্বিয়া আম্মা নুসিবা ইলাইহিম হুসালাতুল আগবিয়া
(পৃষ্ঠা: ৩২)
الله تخرج لَهُ على مَذْهَب أهل الْحق بأجمل مَا يَنْبَغِي لَهُ وأكمله وَالله الْمُسْتَعَان
فَأول مَا يَنْبَغِي أَن نقدم قبل الْخَوْض فِي هَذِه الْمسَائِل وَمَا يضاهيها ثَلَاث مُقَدمَات
إِحْدَاهَا مَا صَحَّ من إِجْمَاع الْأمة قاطبة على عصمَة الْأَنْبِيَاء من الْكَبَائِر
وَالثَّانيَِة أَن كل مَحْظُور كَبِيرَة على قَول من قَالَ بذلك من أَئِمَّة السّنة وَهُوَ الصَّحِيح لاتحاده فِي الْحَظْر وَإِنَّمَا يتَصَوَّر كَبِير وأكبر بالتحريض على تَركهَا وتأكيد الْوَعيد على فعل بَعْضهَا دون بعض
وَالثَّالِثَة شرح هَذِه الْأَقْوَال وَمَا يضاهيها من الْقَصَص الْمَوْعُود بهَا على مَذْهَب من قَالَ بتنزيه الْأَنْبِيَاء عليهم السلام عَن الصَّغَائِر وَأَنَّهُمْ لَا يواقعون صَغِيرَة من الذُّنُوب وَلَا كَبِيرَة وَأَن غَايَة أَقْوَالهم وأفعالهم الَّتِي وَقع فِيهَا العتاب من الله تَعَالَى لمن عاتبه مِنْهُم أَن يكون على فعل مُبَاح كَانَ غَيره من الْمُبَاحَات أولى مِنْهُ فِي حق مناصبهم السّنيَّة
وسنبين ذَلِك فِي سِيَاق الْكَلَام إِن شَاءَ الله تَعَالَى
فصل فَأَما قولة دَاوُود عليه السلام {أكفلنيها} فَهَذَا بِمَعْنى أنزل لي عَنْهَا بِطَلَاق وأتزوجها بعْدك وَهَذَا من القَوْل الْمَأْذُون فِي فعله وَتَركه ومباح أَن يَقُول الرجل لِأَخِيهِ أَو صديقه انْزِلْ لي عَن زَوجك بإضمار إِن شِئْت وَهَذَا بِمَثَابَة من يَقُول لصَاحبه أَو أَخِيه بِعْ مني أمتك إِن شِئْت وَهَذَا قَول مُبَاح لَيْسَ بمحظور فِي الشَّرْع وَلَا مَكْرُوه وَمن ادّعى حظره أَو كَرَاهَته فِي الشَّرْع فَعَلَيهِ الدَّلِيل وَلَا دَلِيل لَهُ عَلَيْهِ كَيفَ وَقد جَاءَ فِي
সত্যের অনুসারীদের (আহলে হক) মাযহাব অনুযায়ী আল্লাহর জন্য তা সর্বোত্তম ও পূর্ণাঙ্গভাবে প্রকাশ পায় যা তাঁর জন্য শোভনীয় এবং আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি।
সুতরাং এই বিষয়গুলো এবং এর অনুরূপ অন্যান্য বিষয়ে আলোচনার গভীরে প্রবেশের আগে আমাদের তিনটি ভূমিকা প্রদান করা উচিত।
প্রথমটি হলো, নবীদের কবিরা গুনাহ (বড় পাপ) থেকে নিষ্পাপ হওয়ার বিষয়ে সমগ্র উম্মাহর সর্বসম্মত ইজমা বা ঐকমত্য যা সহীহভাবে প্রমাণিত।
দ্বিতীয়টি হলো, সুন্নাহর ইমামগণের মাঝে যারা এই মত পোষণ করেছেন যে প্রতিটি নিষিদ্ধ কাজই কবিরা গুনাহ, এবং এটিই সঠিক মত; কারণ নিষেধাজ্ঞার দিক থেকে তা অভিন্ন। তবে বর্জনের জন্য উৎসাহ দান এবং কয়েকটির পরিবর্তে অন্য কয়েকটির ব্যাপারে কঠোর শাস্তির অঙ্গীকারের ভিত্তিতে 'বড়' ও 'অধিকতর বড়' হওয়ার বিষয়টি কল্পনা করা যায়।
তৃতীয়টি হলো, যারা নবীগণকে (আলাইহিমুস সালাম) সগিরা গুনাহ থেকেও পবিত্র রাখার মত পোষণ করেন তাদের মাযহাব অনুযায়ী এই বক্তব্যসমূহ এবং এর সদৃশ বর্ণিত কাহিনীগুলোর ব্যাখ্যা প্রদান করা। তাদের মতে, তাঁরা সগিরা বা কবিরা কোনো গুনাহেই লিপ্ত হন না। আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে তাঁদের মধ্যে যাঁদের প্রতি তিরস্কার এসেছে, তাঁদের সেই কথা ও কাজ বড়জোর এমন কোনো মুবাহ (বৈধ) কাজ ছিল, যা তাঁদের উচ্চ মর্যাদার খাতিরে অন্যান্য মুবাহ কাজের তুলনায় কম শ্রেয় ছিল।
ইনশাআল্লাহ তাআলা আলোচনার ধারাবাহিকতায় আমরা তা ব্যাখ্যা করব।
পরিচ্ছেদ দাউদ আলাইহিস সালামের কথা {এটি আমাকে দিয়ে দাও} প্রসঙ্গে বলা যায়, এর অর্থ হলো—তালাকের মাধ্যমে তাকে আমার জন্য ছেড়ে দাও এবং তোমার পর আমি তাকে বিয়ে করব। এটি এমন একটি কথা যা করা বা না করার অনুমতি রয়েছে। কোনো ব্যক্তির জন্য তার ভাই বা বন্ধুকে এ কথা বলা বৈধ যে, 'তোমার স্ত্রীকে আমার জন্য ছেড়ে দাও' (যদি তুমি চাও—এই কথাটি মনে মনে রেখে)। এটি সেই ব্যক্তির মতো যে তার সাথী বা ভাইকে বলে, 'তোমার দাসীটি আমার কাছে বিক্রি করো, যদি তুমি চাও'। এটি একটি বৈধ কথা, শরিয়তে এটি নিষিদ্ধও নয় আবার মাকরুহও নয়। যে ব্যক্তি শরিয়তে এর নিষিদ্ধতা বা অপছন্দনীয়তার দাবি করবে, প্রমাণ দেওয়ার দায়িত্ব তার উপর; অথচ এ বিষয়ে তার কাছে কোনো প্রমাণ নেই। এটি কীভাবে (নিষিদ্ধ হতে পারে) যেখানে বর্ণিত হয়েছে যে...
(খণ্ড: ১)
তানযীহুল আম্বিয়া আম্মা নুসিবা ইলাইহিম হুসালাতুল আগবিয়া
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
الصَّحِيح أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم لما واخى بَين سعد بن الرّبيع وَبَين عبد الرَّحْمَن بن عَوْف قَالَ لَهُ الْأنْصَارِيّ لي كَذَا وَكَذَا من المَال أشاطرك فِيهِ ولي زوجان أنزل لَك عَن إِحْدَاهمَا فَقَالَ لَهُ عبد الرَّحْمَن بَارك الله لَك فِي أهلك وَمَالك أَرِنِي طَرِيق السُّوق
وَوجه الِاسْتِدْلَال بِهَذَا الحَدِيث قَوْله بَين يَدي النَّبِي صلى الله عليه وسلم أنزل لَك عَن إِحْدَاهمَا فأقره النَّبِي صلى الله عليه وسلم على هَذَا القَوْل وَلم يُنكره عَلَيْهِ وَهُوَ لَا يقر على مُنكر وَهُوَ الْمعلم الْأَكْبَر صلوَات الله عَلَيْهِ وتسليمه فَلم يبْق إِلَّا الْإِبَاحَة لَكِن تَركهَا بِمَعْنى الأولى والأحرى فِي كَمَال منصب النُّبُوَّة كَانَ أولى وَأتم
وَأما قَوْله {وعزني فِي الْخطاب} أَي غلبني فَنزلت لَهُ عَنْهَا فَهُوَ غلب الحشمة لَا غلب الْقَهْر لعظم منزلَة السَّائِل فِي قلب المسؤول وَلَا غلب الْحس بالقهر الْمنْهِي عَنهُ فَإِنَّهُ ظلم مَنْهِيّ عَنهُ شرعا تتحاشى عَنهُ الْأَنْبِيَاء عليهم السلام كَمَا تقدم
فَإِن قيل كَانَ دَاوُود عليه السلام خَليفَة وَصَاحب سيف وَالْمَطْلُوب مِنْهُ رعية وَمن شَأْن الرّعية هَيْبَة الْمُلُوك والمبادرة لقَضَاء حوائجهم لكَوْنهم قاهرين لَهُم فيقضون حوائجهم باللين خوفًا من العنف وَالْإِكْرَاه وَفِي سُؤال دَاوُود عليه السلام حمل على المسؤول من هَذَا الْبَاب
قُلْنَا صَحِيح مَا اعترضت بِهِ إِلَّا أَن هَذَا الْحمل على المسؤول لَا يتَصَوَّر إِلَّا فِيمَن عهد مِنْهُ الظُّلم وَالْغَصْب من الْأُمَرَاء وَأما من عهد نه الْعدْل وَالْإِحْسَان كخلفاء الصَّحَابَة وَالتَّابِعِينَ لَهُم بِإِحْسَان فَلَا يتَصَوَّر ذَلِك فِي حَقهم إِذا منعُوا الْمُبَاحَات وَإِذا لم يتَصَوَّر ذَلِك فِي حَقهم مَعَ عدم الْعِصْمَة فَمَا ظَنك بالمعصومين المنزهين عَن الْخَطَايَا تَنْزِيه الْوُجُوب كَمَا تقدم فَبَطل اعْتِرَاض هَذِه القولة فِي حق دَاوُود عليه السلام فِي هَذَا الْبَاب
বিশুদ্ধ বর্ণনা এই যে, যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাদ ইবনে রাবি এবং আব্দুর রহমান ইবনে আউফের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন করে দিলেন, তখন সেই আনসারী (সাদ) তাকে বললেন, "আমার এত এত সম্পদ আছে, আমি আপনার সাথে তা অর্ধেক করে ভাগ করে নেব। আর আমার দুই স্ত্রী আছে, আমি আপনার জন্য তাদের একজনের থেকে নিজেকে সরিয়ে নেব (তালাক দেব)।" তখন আব্দুর রহমান তাকে বললেন, "আল্লাহ আপনার পরিবার ও সম্পদে বরকত দান করুন। আমাকে বাজারের পথ দেখিয়ে দিন।"
এই হাদিস থেকে দলীল গ্রহণের দিকটি হলো, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সামনেই তার এই কথা বলা যে, "আমি আপনার জন্য তাদের একজনের থেকে নিজেকে সরিয়ে নেব।" নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে এই কথার ওপর বহাল রেখেছিলেন এবং এটি অস্বীকার করেননি। অথচ তিনি কোনো অন্যায় বা মন্দ কাজের ওপর কাউকে বহাল রাখেন না, কারণ তিনি হলেন মহান শিক্ষক (তার ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক)। সুতরাং এটি বৈধ হওয়াই অবশিষ্ট থাকে। তবে নবুওয়াতের মর্যাদার পূর্ণতার বিচারে এটি ত্যাগ করাই ছিল অধিক উত্তম ও শ্রেষ্ঠতর।
আর তাঁর বাণী {এবং সে তর্কে আমাকে পরাজিত করেছে} এর অর্থ হলো সে আমার ওপর প্রবল হয়েছিল, ফলে আমি তার জন্য তাকে (মাদি ভেড়াকে) ছেড়ে দিয়েছিলাম। এটি ছিল শ্রদ্ধাবোধ ও কুণ্ঠাবোধের কারণে প্রবল হওয়া, জবরদস্তিমূলক বা দমনমূলক প্রবল হওয়া নয়; কারণ উত্তরদাতার অন্তরে আবেদনকারীর সুউচ্চ মর্যাদা ছিল। এটি জবরদস্তিমূলক শারীরিক বিজয় নয় যা নিষিদ্ধ; কারণ সেটি শরিয়ত অনুযায়ী নিষিদ্ধ জুলুম, যা থেকে নবীগণ (আলাইহিমুস সালাম) দূরে থাকেন, যেমনটি পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে।
যদি বলা হয় যে, দাউদ (আলাইহিস সালাম) খলিফা ও ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন এবং যার কাছে চাওয়া হয়েছিল সে ছিল প্রজাসুলভ। আর প্রজাদের স্বভাব হলো রাজাদের প্রতি ভীতি প্রদর্শন করা এবং তাদের প্রয়োজন পূরণে ত্বরান্বিত হওয়া, কারণ রাজারা তাদের ওপর ক্ষমতাশীল। ফলে তারা কঠোরতা ও বাধ্যবাধকতার ভয়ে নম্রতার সাথে তাদের প্রয়োজন পূরণ করে থাকে। দাউদ (আলাইহিস সালাম)-এর চাওয়ার মধ্যে উত্তরদাতার ওপর এ ধরনের একটি চাপ কাজ করার অবকাশ রয়েছে।
আমরা বলব: আপনার এই আপত্তিটি সঠিক হতে পারত, তবে উত্তরদাতার ওপর এমন চাপের কল্পনা কেবল সেই সকল শাসকদের ক্ষেত্রেই করা সম্ভব যাদের পক্ষ থেকে জুলুম ও জবরদস্তির অভ্যাস জানা থাকে। কিন্তু যাদের থেকে ইনসাফ ও সদাচার প্রকাশ পায়—যেমন সাহাবী খলিফাগণ এবং তাদের একনিষ্ঠ অনুসারী তাবেয়ীনগণ—তাদের ক্ষেত্রে এমনটি কল্পনা করা যায় না যখন তারা বৈধ বিষয়গুলো থেকে বিরত থাকেন। আর যদি নিষ্পাপ (মাসুম) না হওয়া সত্ত্বেও তাদের ক্ষেত্রে এমনটি কল্পনা করা না যায়, তবে তাদের ব্যাপারে আপনার ধারণা কী হতে পারে যারা নিষ্পাপ এবং ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে পবিত্র থাকা যাদের জন্য আবশ্যক, যেমনটি আগে উল্লেখ করা হয়েছে? সুতরাং দাউদ (আলাইহিস সালাম)-এর ক্ষেত্রে এ বিষয়ে উত্তাপিত এই আপত্তিটি বাতিল প্রমাণিত হলো।
(খণ্ড: ১)
তানযীহুল আম্বিয়া আম্মা নুসিবা ইলাইহিম হুসালাতুল আগবিয়া
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
وَأما قَوْله للخصم {لقد ظلمك بسؤال نعجتك إِلَى نعاجه} فَفِيهِ اعْتِرَاض من وَجه آخر نتخلص مِنْهُ وَنَرْجِع إِلَى مَا نَحن بسبيله
قَالُوا كَيفَ يكون دَاوُود عليه السلام من خلف الله فِي أرضه وَيقطع على الظُّلم بقول الْوَاحِد قبل أَن يسمع قَول الآخر
فَالْجَوَاب عَن هَذَا يتَصَوَّر من وَجْهَيْن
أَحدهمَا أَنه سمع من الآخر حجَّة لَا تخلصه فَقَالَ للْأولِ {لقد ظلمك} أَو صدقه الآخر فِي قَوْله فَقَالَ للْأولِ {لقد ظلمك}
وَالثَّانِي أَن يَقُول {لقد ظلمك} بإضمار إِن كَانَ حَقًا مَا تَقول وَهَذَا سَائِغ وَأما أَن يَقُول لَهُ {لقد ظلمك} من غير أَن يسمع حجَّة الآخر فَهَذَا لَا نسوغه فِي حق عَاقل منصف فَكيف فِي حق من آتَاهُ الله الْحِكْمَة وَفصل الْخطاب
أَلا ترى موقف يَعْقُوب عليه السلام لما جَاءَهُ بنوه عشيا يَبْكُونَ وهم جمَاعَة فَقَالُوا مَا قَالُوا فَقَالَ {بل سَوَّلت لكم أَنفسكُم أمرا} وَلم يقبل أَقْوَالهم وَلَا دموعهم بِغَيْر دَلِيل فَكيف يقبل دَاوُود عليه السلام قَول الْخصم من غير حجَّة حَتَّى يَقُول لَهُ {لقد ظلمك} هَذَا لَا يَصح فِي حَقه وَأما قَوْله للخصم {لقد ظلمك} فعنى بِهِ بخسك وغبنك فِي قَول كَانَ غَيره من الْمُبَاحَات أولى بك مِنْهُ وحد الظُّلم فِي اللِّسَان وضع الشَّيْء فِي غير مَوْضِعه وَقد قدمنَا أَن قَول قَائِل لغيره أكفلني زَوجك لَيْسَ بظُلْم مَنْهِيّ عَنهُ شرعا فَلم يبْق إِلَّا مَا ذَكرْنَاهُ فِي حَقه
وَأما قَوْله {وَإِن كثيرا من الخلطاء ليبغي بَعضهم على بعض}
আর বাদীর প্রতি তাঁর এই উক্তি {সে তোমার দুম্বাটি নিজের দুম্বাগুলোর সাথে যুক্ত করার আবেদন করে তোমার প্রতি জুলুম করেছে} প্রসঙ্গে অন্য দিক থেকে একটি আপত্তি রয়েছে, যা থেকে আমরা মুক্ত হব এবং আমরা আমাদের মূল বিষয়ের দিকে ফিরে আসব।
তারা বলে, দাউদ আলাইহিস সালাম আল্লাহর জমিনে তাঁর খলিফাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে অন্য পক্ষের কথা শোনার আগেই একজনের কথার ভিত্তিতে জুলুমের চূড়ান্ত ফয়সালা দিলেন?
এর উত্তর দুইভাবে দেওয়া সম্ভব।
প্রথমটি হলো, তিনি অপর পক্ষের কাছ থেকে এমন কোনো প্রমাণ শুনেছিলেন যা তাকে নির্দোষ প্রমাণ করে না, তখন তিনি প্রথম ব্যক্তিকে বলেছিলেন {সে তোমার প্রতি জুলুম করেছে}; অথবা অপর পক্ষ তার কথাকে সত্য বলে স্বীকার করেছিল, তখন তিনি প্রথম ব্যক্তিকে বলেছিলেন {সে তোমার প্রতি জুলুম করেছে}।
দ্বিতীয়টি হলো, তাঁর এই উক্তি {সে তোমার প্রতি জুলুম করেছে} এর মধ্যে 'যদি তোমার কথা সত্য হয়' কথাটি উহ্য ছিল, যা ব্যাকরণগতভাবে বৈধ। তবে অপর পক্ষের যুক্তি না শুনেই তাকে {সে তোমার প্রতি জুলুম করেছে} বলা কোনো ন্যায়পরায়ণ বুদ্ধিমান ব্যক্তির ক্ষেত্রেও আমরা বৈধ মনে করি না, তবে যাকে আল্লাহ প্রজ্ঞা ও অকাট্য ফয়সালার ক্ষমতা দান করেছেন তাঁর ক্ষেত্রে তা কীভাবে সম্ভব?
আপনি কি ইয়াকুব আলাইহিস সালামের অবস্থান দেখেননি, যখন তাঁর সন্তানরা সন্ধ্যায় কাঁদতে কাঁদতে তাঁর কাছে এসেছিল এবং তারা যা বলার বলেছিল, তখন তিনি বলেছিলেন {বরং তোমাদের মন তোমাদের জন্য একটি বিষয় সাজিয়ে দিয়েছে}? তিনি প্রমাণ ছাড়া তাদের কথা বা চোখের পানি গ্রহণ করেননি। সুতরাং দাউদ আলাইহিস সালাম কীভাবে প্রমাণ ছাড়া বাদীর কথা গ্রহণ করবেন এবং তাকে বলবেন {সে তোমার প্রতি জুলুম করেছে}? এটি তাঁর শানে শোভা পায় না। আর বাদীর প্রতি তাঁর এই উক্তি {সে তোমার প্রতি জুলুম করেছে} দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তোমার অধিকার খর্ব করা বা তোমাকে লোকসানে ফেলা এমন এক কথার মাধ্যমে, যার পরিবর্তে অন্য কোনো বৈধ পন্থা অবলম্বন করা তোমার জন্য অধিক উত্তম ছিল। ভাষার পরিভাষায় জুলুমের সংজ্ঞা হলো কোনো কিছুকে তার সঠিক স্থান ব্যতীত অন্য স্থানে রাখা। আর আমরা আগেই উল্লেখ করেছি যে, কোনো ব্যক্তির অন্য কাউকে এটি বলা যে 'তোমার স্ত্রীকে আমার দায়িত্বে দিয়ে দাও' তা শরীয়ত কর্তৃক নিষিদ্ধ কোনো জুলুম নয়; সুতরাং তাঁর ব্যাপারে আমরা যা উল্লেখ করেছি তা ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে না।
আর তাঁর এই উক্তি {নিশ্চয় অংশীদারদের অনেকে একে অপরের প্রতি সীমালঙ্ঘন করে থাকে}।
(খণ্ড: ১)
তানযীহুল আম্বিয়া আম্মা নুসিবা ইলাইহিম হুসালাতুল আগবিয়া
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
فَيخرج الْبَغي مخرج الظُّلم حرفا بِحرف فَإِنَّهُ إِذا سَاغَ فِي اللِّسَان والمعتاد أَن يُسمى مَالك الْكثير إِذا طلب من الْمقل قَلِيله ظَالِما فَلَا غرو أَن يُسمى بَاغِيا
وَلَو أَن رجلا كَانَ لَهُ عَبْدَانِ مطيعان لَهُ مستقيمان غَايَة مَا يمكنهما من وُجُوه الاسْتقَامَة فَأحْسن إِلَى أَحدهمَا وَأَعْطَاهُ ووسع عَلَيْهِ ورفه معيشته وَلم يحسن للْآخر بِعَين مَا ألزمهُ الله مِمَّا يتَعَيَّن للعبيد على السَّادة لسمى الْعُقَلَاء هَذَا السَّيِّد ظَالِما بَاغِيا من حَيْثُ إِنَّه أحسن لأَحَدهمَا وَلم يحسن مَعَ الآخر مَعَ تساويهما فِي الطَّاعَة والنصيحة وَالسَّيِّد مَعَ هَذَا التَّخْصِيص بِالْإِحْسَانِ لأَحَدهمَا لم يَأْتِ فِي الشَّرْع بمحظور وَلَا بمكروه بل كل مَا فعل مَعَهُمَا مُبَاح لَهُ
فَهَذَا وَجه من وُجُوه التَّخَلُّص من هَذِه الْأَقْوَال وَأَنَّهَا مُبَاحَة لقائلها وفاعل مَا وَقع مِنْهَا من غير أَن يلْحقهُ ذمّ من الشَّرْع وَلَا ثلب
وَأما قَوْله {وَقَلِيل مَا هم} فمقصوده الأكابر الْأَفْرَاد من الْمُحْسِنِينَ المؤثرين فَإِنَّهُم يحسنون فِي الْمُبَاحَات كإحسانهم فِي المشروعات فيتعاونون فِي الْعشْرَة ويتناصفون فِي الْخلطَة كَمَا قَالَ تَعَالَى {ويؤثرون على أنفسهم وَلَو كَانَ بهم خصَاصَة}
ثمَّ قَالَ {وَقَلِيل مَا هم} فَإِنَّهُم الكبريت الْأَحْمَر وَهَذَا آخر خطابه للْمَلَائكَة
فصل وَالَّذِي يكمل بِهِ هَذَا التَّفْسِير ويعضده نُكْتَة شريفة وَذَلِكَ أَن الله تَعَالَى أخبر بِمَا وَقع بَين دَاوُود عليه السلام وَبَين الْخصم من محاورة ومراجعة
সুতরাং সীমালেঙ্ঘন শব্দটি হুবহু অবিচারের অর্থেই নির্গত হয়। কেননা, ভাষা ও প্রচলিত রীতি অনুযায়ী যদি অধিক সম্পদের মালিক ব্যক্তিকে অভাবী ব্যক্তির সামান্য সম্পদের প্রত্যাশা করার কারণে 'জালেম' বলা বৈধ হয়, তবে তাকে 'সীমালঙ্ঘনকারী' বলাও আশ্চর্যের কিছু নয়।
যদি কোনো ব্যক্তির এমন দুজন দাস থাকে যারা তার প্রতি অনুগত এবং সম্ভাব্য সব দিক থেকে অত্যন্ত নিষ্ঠাবান, অতঃপর সে তাদের একজনের প্রতি অনুগ্রহ করল, তাকে দান করল, তার জীবনযাত্রাকে প্রশস্ত ও আরামদায়ক করল, কিন্তু অন্যজনের প্রতি আল্লাহ দাসদের জন্য মনিবদের ওপর যতটুকু আবশ্যক করেছেন তার অতিরিক্ত কোনো অনুগ্রহ করল না—তবে বুদ্ধিমান ব্যক্তিরা এই মনিবকে 'জালেম' ও 'সীমালঙ্ঘনকারী' আখ্যা দেবেন। এর কারণ হলো সে একজনের প্রতি অনুগ্রহ করেছে কিন্তু আনুগত্য ও শুভকামনায় সমান হওয়া সত্ত্বেও অন্যজনের প্রতি তেমনটা করেনি। অথচ একজনের প্রতি এই বিশেষ অনুগ্রহ করার কারণে শরিয়তের দৃষ্টিতে মনিব কোনো নিষিদ্ধ বা মাকরূহ কাজ করেননি; বরং তাদের উভয়ের সাথে তিনি যা করেছেন তা তার জন্য বৈধ ছিল।
এই উক্তিগুলো থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার এটি একটি পথ এবং এগুলো বক্তার জন্য এবং এর আমলকারীর জন্য বৈধ, যার ফলে শরিয়তের পক্ষ থেকে তার ওপর কোনো নিন্দা বা সমালোচনা বর্তাবে না।
আর মহান আল্লাহর বাণী—"এবং তারা সংখ্যায় অতি অল্প"—দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সেই সব মহান ব্যক্তি যারা অনুগ্রহকারী ও পরহিতৈষী। কেননা তারা বৈধ কাজগুলোতেও তেমন পুণ্য অর্জন করেন যেমনটা তারা শরিয়ত কর্তৃক বিধিবদ্ধ কাজগুলোতে করেন। তারা সামাজিক মেলামেশায় একে অপরকে সহযোগিতা করেন এবং পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইনসাফ বজায় রাখেন, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন—"এবং তারা নিজেদের ওপর অন্যদের প্রাধান্য দেয়, যদিও তারা নিজেরা অভাবগ্রস্ত থাকে।"
অতঃপর তিনি বলেছেন—"এবং তারা সংখ্যায় অতি অল্প"—কেননা তারা অত্যন্ত দুর্লভ। আর ফেরেশতাদের প্রতি তাঁর সম্বোধনের এটিই শেষ অংশ।
পরিচ্ছেদ এই তাফসিরকে যা পূর্ণতা দান করে এবং সমর্থন জোগায় তা হলো একটি মহৎ সূক্ষ্ম তত্ত্ব। আর তা হলো, মহান আল্লাহ দাউদ (আলাইহিস সালাম) এবং বিবাদমান পক্ষদ্বয়ের মধ্যে যে কথোপকথন ও আলোচনা হয়েছিল সে সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
তানযীহুল আম্বিয়া আম্মা নুসিবা ইলাইহিম হুসালাতুল আগবিয়া
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
وَأَن ذكر التكفل والعزة فِي الْخطاب كَلَامهمَا وَمَا أخبر بِهِ تَعَالَى عَن قَول قَائِل فَلَيْسَ هُوَ فِي الْإِلْزَام كَالَّذي يخبر بِهِ عَن نَفسه وَحكمه فَمن أخبر تَعَالَى أَنه ظلم وَغلب وبغى فِي المشروعات فَهُوَ ظَالِم غَالب بَاغ شرعا وَمن أخبر تَعَالَى أَنه قَالَ ظلمت وبغيت أَو قَالَ ظلم زيد وَغلب وبغى فقد يخبر عَن حَقِيقَة شَرْعِيَّة وَعَن مجازية عَادِية كَمَا تقدم فِي مِثَال السَّيِّد وَالْعَبْد
وَقد ثَبت أَن هَذِه الْأَقْوَال الَّتِي وَقعت بَين دَاوُود عليه السلام وَبَين خَصمه من المجازية العادية وَإِذا كَانَ ذَلِك لم يثبت بهَا حكم شَرْعِي وَإِذا لم يثبت حكم لم تثبت طَاعَة وَلَا مَعْصِيّة
قَالَ تَعَالَى {وَظن دَاوُد أَنما فتناه فَاسْتَغْفر ربه وخر رَاكِعا وأناب فغفرنا لَهُ ذَلِك وَإِن لَهُ عندنَا لزلفى وَحسن مآب}
هَذَا الظَّن مِنْهُ يحْتَمل أَن يكون علما وَيحْتَمل أَن يكون ظنا على معنى الظَّن الَّذِي هُوَ التَّرَدُّد فِي الشَّك مَعَ الْميل إِلَى أحد الطَّرفَيْنِ
فَإِن كَانَ بِمَعْنى الْعلم فَهُوَ أَنه لما علم أَن الْخَصْمَيْنِ ملكان وَأَنه الْمَقْصُود بالمثال وَأَنه فتن أَي اختبر وامتحن بِبَعْض الْمُبَاحَات فعوتب إِذْ لم يصبر فِيهَا صَبر المؤثرين حَتَّى قَالَ مَا قَالَ وَفعل مَا فعل فَخر رَاكِعا يَعْنِي سَاجِدا فَإِن الرُّكُوع وَالسُّجُود يُسمى كل وَاحِد مِنْهُمَا باسم الثَّانِي {وأناب} أَي تَابَ من ذَلِك ظَاهرا وَبَاطنا فَأخْبر تَعَالَى أَنه غفر لَهُ ذَلِك أَي دَرأ عَنهُ الطّلب فِيمَا رأى هُوَ أَنه ذَنْب فِي حَقه فَترك الأولى كَمَا تقدم
وَإِن كَانَ حكمه على حكم الظَّن فَيكون أَنه غلب ظَنّه على أَن الَّذِي وَقع مِنْهُ فتْنَة يتَعَلَّق فِيهَا طلب إِذْ لله تَعَالَى فِي صَرِيح الْعقل أَن يطْلب مَا شَاءَ وَيتْرك مَا شَاءَ فَأخْبر تَعَالَى أَنه لَا طلب عَلَيْهِ فِي ذَلِك
এবং সম্বোধনে জিম্মাদারি ও ক্ষমতার উল্লেখ তাদেরই বক্তব্য। আর মহান আল্লাহ কোনো বক্তার উক্তি সম্পর্কে যা সংবাদ দিয়েছেন, তা বাধ্যবাধকতার দিক থেকে তাঁর নিজের সম্পর্কে দেওয়া সংবাদ বা তাঁর বিধানের মতো নয়। সুতরাং মহান আল্লাহ শরয়ি বিধানের ক্ষেত্রে যার সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন যে সে জুলুম করেছে, পরাভূত করেছে বা সীমালঙ্ঘন করেছে, সে শরয়িভাবে জালেম, বিজয়ী ও সীমালঙ্ঘনকারী। আর আল্লাহ যার সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন যে সে বলেছে "আমি জুলুম করেছি ও সীমালঙ্ঘন করেছি" অথবা বলেছে "যায়েদ জুলুম করেছে, পরাভূত করেছে ও সীমালঙ্ঘন করেছে", তবে তা কখনো শরয়ি হাকিকত (প্রকৃত অর্থ) হতে পারে আবার কখনো সাধারণ রূপক হতে পারে, যেমনটি ইতিপূর্বে মনিব ও দাসের উদাহরণের ক্ষেত্রে অতিক্রান্ত হয়েছে।
এবং এটি প্রমাণিত যে, দাউদ (আলাইহিস সালাম) ও তাঁর প্রতিপক্ষের মধ্যে যে কথাবার্তা সংঘটিত হয়েছে তা সাধারণ রূপক পর্যায়ের। আর যখন বিষয়টি এমন, তখন এর মাধ্যমে কোনো শরয়ি বিধান সাব্যস্ত হয় না। আর যখন কোনো বিধান সাব্যস্ত হয় না, তখন সেখানে আনুগত্য বা নাফরমানিও সাব্যস্ত হয় না।
মহান আল্লাহ বলেন, "আর দাউদ ধারণা করল যে আমি তাকে পরীক্ষা করেছি, ফলে সে তার রবের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করল এবং নত হয়ে সেজদায় লুটিয়ে পড়ল এবং অনুতপ্ত হলো। অতঃপর আমি তাকে তা ক্ষমা করে দিলাম। নিশ্চয়ই আমার নিকট তার জন্য রয়েছে উচ্চ মর্যাদা ও শুভ পরিণাম।"
তাঁর এই ধারণা নিশ্চিত জ্ঞান হওয়ার সম্ভাবনা রাখে, আবার এটি এমন ধারণা হওয়ারও সম্ভাবনা রাখে যা সন্দেহের দোলাচলের মধ্যে কোনো এক দিকের প্রতি ঝুঁকে থাকাকে বোঝায়।
যদি এটি নিশ্চিত জ্ঞানের অর্থে হয়, তবে এর ব্যাখ্যা হলো—যখন তিনি জানতে পারলেন যে বিবাদমান পক্ষদ্বয় ছিল দুজন ফেরেশতা এবং এই উদাহরণের মাধ্যমে তাঁকেই উদ্দেশ্য করা হয়েছে, আর তাকে ফেতনা অর্থাৎ কোনো কোনো মুবাহ বিষয়ের মাধ্যমে পরীক্ষা ও যাচাই করা হয়েছে; তখন তাকে মৃদু তিরস্কার করা হলো যেহেতু তিনি এক্ষেত্রে আত্মত্যাগকারীদের মতো ধৈর্য ধারণ করেননি, যার ফলে তিনি যা বলার তা বলেছেন এবং যা করার তা করেছেন। এরপর তিনি রুকু অবস্থায় লুটিয়ে পড়লেন অর্থাৎ সিজদাবনত হলেন; কেননা রুকু ও সিজদার প্রত্যেকটিকে অন্যটির নামেও অভিহিত করা হয়। "আর তিনি অনুতপ্ত হলেন" অর্থাৎ বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণভাবে তা থেকে তাওবা করলেন। এরপর মহান আল্লাহ সংবাদ দিলেন যে তিনি তাকে তা ক্ষমা করে দিয়েছেন, অর্থাৎ তিনি যা নিজের ক্ষেত্রে গুনাহ মনে করেছিলেন সেই বিষয়ে আল্লাহ তার থেকে জবাবদিহিতা অপসারণ করেছেন; আর তা ছিল মূলত উত্তম কাজ বর্জন করা, যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।
আর যদি তাঁর এই ধারণাটি সাধারণ ধারণার পর্যায়ে হয়, তবে এর অর্থ হবে যে তাঁর প্রবল ধারণা হয়েছিল যে তাঁর থেকে যা প্রকাশ পেয়েছে তা একটি পরীক্ষা যাতে জবাবদিহিতা সংশ্লিষ্ট ছিল। কেননা স্পষ্ট বিচারবুদ্ধির নিরিখে মহান আল্লাহর অধিকার রয়েছে যা ইচ্ছা দাবি করার এবং যা ইচ্ছা বর্জন করার। অতঃপর মহান আল্লাহ সংবাদ দিলেন যে এ বিষয়ে তাঁর উপর কোনো দায়বদ্ধতা নেই।
(খণ্ড: ১)
তানযীহুল আম্বিয়া আম্মা নুসিবা ইলাইহিম হুসালাতুল আগবিয়া
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
شرح قصَّة سُلَيْمَان عليه السلام فِي آيَة الْفِتْنَة الْكُرْسِيّ والجسد
قَالَ تَعَالَى {وَلَقَد فتنا سُلَيْمَان وألقينا على كرسيه جسدا ثمَّ أناب} ذكر أَصْحَاب المقالات فِي أشبه أَقْوَالهم فِي هَذِه الْقِصَّة أَن سُلَيْمَان عليه السلام كَانَت لَهُ امْرَأَة من كرائمه اسْمهَا جَرَادَة وَكَانَ أَبوهَا ملكا من مُلُوك الجزائر البحرية وَكَانَ كَافِرًا فَمنهمْ من قَالَ إِنَّه خطبهَا إِلَيْهِ وَتَزَوجهَا وَمِنْهُم من قَالَ إِنَّه سباها عنفا وَكَانَ لَهَا جمال بارع فَكَانَ يُحِبهَا ويقدمها على جَمِيع نِسَائِهِ وَكَانَت عِنْد أَبِيهَا تعبد صنما فَلَمَّا فقدت ذَلِك عِنْده اكترثت وحزنت وَتغَير حسنها فَسَأَلَهَا عَن حَالهَا فَأَخْبَرته أَن ذَلِك من وحشتها
সুলাইমান আলাইহিস সালামের কাহিনীর ব্যাখ্যা পরীক্ষা, সিংহাসন এবং দেহের আয়াতের বিষয়ে
আল্লাহ তাআলা বলেন, {এবং আমি অবশ্যই সুলাইমানকে পরীক্ষা করেছি এবং তার সিংহাসনের উপর একটি দেহ নিক্ষেপ করেছি, অতঃপর সে (আল্লাহর দিকে) প্রত্যাবর্তন করেছে}। বর্ণনাকারীরা এই কাহিনীর বর্ণনায় তাদের সবচেয়ে সামঞ্জস্যপূর্ণ বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন যে, সুলাইমান আলাইহিস সালামের একজন অত্যন্ত প্রিয় স্ত্রী ছিল যার নাম ছিল জারাডাহ। তার পিতা ছিল সামুদ্রিক দ্বীপপুঞ্জের রাজাদের মধ্যে একজন এবং সে ছিল কাফির। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেন যে, তিনি তার পিতার কাছে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে তাকে বিবাহ করেছিলেন। আবার কেউ কেউ বলেন যে, তিনি তাকে যুদ্ধবন্দী হিসেবে জয় করে এনেছিলেন। তার রূপ ছিল অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর, ফলে তিনি তাকে ভালোবাসতেন এবং অন্য সকল স্ত্রীর ওপর তাকে প্রাধান্য দিতেন। সে তার পিতার নিকট থাকাকালীন মূর্তিপূজা করত। কিন্তু যখন সে সুলাইমানের কাছে এসে তা হারালো, তখন সে অত্যন্ত চিন্তিত ও বিষণ্ণ হয়ে পড়ল এবং তার চেহারার সৌন্দর্য ম্লান হয়ে গেল। তিনি যখন তাকে তার অবস্থার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, তখন সে তাকে জানালো যে, তা তার একাকীত্ব ও নিঃসঙ্গতাবোধের কারণে হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
তানযীহুল আম্বিয়া আম্মা নুসিবা ইলাইহিম হুসালাতুল আগবিয়া
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
لأَبِيهَا ورغبت إِلَيْهِ أَن يصنع لَهَا الْجِنّ تِمْثَال أَبِيهَا حَتَّى تنظر إِلَيْهِ وتتشفى بعض الشِّفَاء مِمَّا تَجِد من وحشتها لأَبِيهَا فَفعل ذَلِك لَهَا فَكَانَت تدخل هِيَ وجواريها فِي بَيت التمثال وتسجد لَهُ وتعبده هِيَ وجواريها خُفْيَة من سُلَيْمَان عليه السلام فَفعلت ذَلِك أَرْبَعِينَ يَوْمًا فسلبه الله ملكه أَرْبَعِينَ يَوْمًا
وَقيل أَيْضا إِنَّه كَانَ لَهَا أَخ وَكَانَ بَينه وَبَين رجل من بني إِسْرَائِيل خُصُومَة فَسَأَلته أَن يحكم لأَخِيهَا على خَصمه فأنعم لَهَا بذلك
وَهَاتَانِ القصتان على خلل فيهمَا أسلم من سواهُمَا فِي حق سُلَيْمَان عليه السلام فَإِنَّهُ يتَصَوَّر الْحق فيهمَا على وُجُوه سنذكرها فِيمَا بعد إِن شَاءَ الله تَعَالَى
قَالُوا وَكَانَ عُقبى أمره مَعهَا فِي هَذِه الْقِصَّة أَنه كَانَ إِذا دخل الْخَلَاء وضع عِنْدهَا الْخَاتم تَنْزِيها لَهُ أَن يدْخل بِهِ الْخَلَاء لما تضمن من أَسمَاء الله تَعَالَى فَلَمَّا أَرَادَ الله تَعَالَى سلب ملكه تمثل لَهَا على صُورَة سُلَيْمَان عليه السلام شَيْطَان يُسمى صخرا وأراها أَنه خَارج من الْخَلَاء فَأَعْطَتْهُ الْخَاتم فطار بِهِ ورماه فِي الْبَحْر فَخرج سُلَيْمَان عليه السلام فَطلب مِنْهَا الْخَاتم فَأَخْبَرته بِمَا كَانَ من أمره فَعلم أَنه قد فتن من أجلهَا فَخرج على وَجهه إِلَى الصَّحرَاء يبكي ويرغب وينيب
ثمَّ إِن الشَّيْطَان تصور على صُورَة جَسَد سُلَيْمَان عليه السلام وَقعد على كرسيه الَّذِي كَانَ يقْعد عَلَيْهِ لفصل الْقَضَاء بَين النَّاس وَهُوَ معنى قَوْله {وألقينا على كرسيه جسدا} أَي جسدا مثل جَسَد سُلَيْمَان عليه السلام وَبَقِي يخلفه على كرسيه ويعبث ببني إِسْرَائِيل غَايَة الْعَبَث بِأَحْكَام فَاسِدَة وأوامر جائرة أَرْبَعِينَ يَوْمًا حَتَّى وجد سُلَيْمَان عليه السلام خَاتمه فِي
তার পিতার প্রতি অনুরাগের কারণে সে তাঁর কাছে প্রার্থনা করল যেন জিনরা তাঁর পিতার একটি প্রতিকৃতি তৈরি করে দেয়, যাতে সে সেটির দিকে তাকাতে পারে এবং পিতার বিরহে যে একাকিত্ব সে অনুভব করছিল তা থেকে কিছুটা উপশম পায়। তিনি তার জন্য সেটিই করলেন। অতঃপর সে ও তার পরিচারিকারা সেই মূর্তির ঘরে প্রবেশ করত এবং সুলায়মান আলাইহিস সালামের অগোচরে গোপনে সে ও তার পরিচারিকারা সেটিকে সিজদা করত ও পূজা করত। সে এভাবে চল্লিশ দিন করল, ফলে আল্লাহ চল্লিশ দিনের জন্য তাঁর রাজত্ব কেড়ে নিলেন।
আরও বলা হয়েছে যে, তার এক ভাই ছিল এবং তার ও বনী ইসরাঈলের এক ব্যক্তির মধ্যে বিবাদ ছিল। সে তাঁর কাছে প্রার্থনা করল যেন তিনি তার ভাইয়ের পক্ষে তার প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ফয়সালা করেন, আর তিনি তাতে সম্মতি প্রদান করেন।
এই দুটি বর্ণনা—তাতে ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও—সুলায়মান আলাইহিস সালামের হকের ব্যাপারে অন্য সব গল্পের তুলনায় অধিক নিরাপদ। কেননা এ দুটির মধ্যে সত্যের সম্ভাবনা এমন কিছু দিক থেকে কল্পনা করা যায় যা আমরা পরবর্তীতে ইনশাআল্লাহ তাআলা উল্লেখ করব।
তাঁরা বলেন, এই ঘটনায় তাঁর পরিণাম ছিল এই যে, তিনি যখন শৌচাগারে প্রবেশ করতেন, তখন তাঁর আংটিটি তাতে আল্লাহর নামসমূহ উৎকীর্ণ থাকায় সেটির প্রতি সম্মান প্রদর্শনার্থে শৌচাগারে নিয়ে যাওয়া থেকে বিরত থাকার জন্য তার কাছে রেখে যেতেন। যখন আল্লাহ তাআলা তাঁর রাজত্ব কেড়ে নিতে চাইলেন, তখন ‘সখর’ নামক এক শয়তান সুলায়মান আলাইহিস সালামের রূপ ধারণ করে তার সামনে আবির্ভূত হলো এবং তাকে বোঝাল যে সে শৌচাগার থেকে বের হচ্ছে। তখন সে তাকে আংটিটি দিয়ে দিল। শয়তান সেটি নিয়ে উড়ে গেল এবং সমুদ্রে নিক্ষেপ করল। অতঃপর সুলায়মান আলাইহিস সালাম বের হয়ে তার কাছে আংটি চাইলেন। সে তাঁকে যা ঘটেছিল তা অবহিত করল। তখন তিনি অনুধাবন করলেন যে, তার কারণেই তিনি পরীক্ষায় নিপতিত হয়েছেন। ফলে তিনি প্রান্তরের দিকে বেরিয়ে পড়লেন, ক্রন্দন করতে লাগলেন এবং আল্লাহর কাছে বিনয় ও প্রার্থনা করতে লাগলেন।
অতঃপর শয়তান সুলায়মান আলাইহিস সালামের দেহের রূপ ধারণ করল এবং তাঁর সেই সিংহাসনে উপবেশন করল যেটিতে তিনি মানুষের মধ্যে বিচারকার্য পরিচালনার জন্য বসতেন। আর এটিই মহান আল্লাহর বাণীর মর্মার্থ: "এবং আমি তাঁর সিংহাসনের ওপর একটি দেহ নিক্ষেপ করলাম", অর্থাৎ সুলায়মান আলাইহিস সালামের দেহের মতো একটি দেহ। সে সিংহাসনে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়ে অবস্থান করল এবং ভ্রান্ত ফয়সালা ও অন্যায্য আদেশের মাধ্যমে বনী ইসরাঈলের সাথে চরম তামাশা করতে লাগল চল্লিশ দিন পর্যন্ত, যতক্ষণ না সুলায়মান আলাইহিস সালাম তাঁর আংটি খুঁজে পেলেন...
(খণ্ড: ১)
তানযীহুল আম্বিয়া আম্মা নুসিবা ইলাইহিম হুসালাতুল আগবিয়া
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
بطن حوت كَانَ قد التقمه حِين أَلْقَاهُ صَخْر فِي الْبَحْر فَلَمَّا فطن الشَّيْطَان بذلك فر على وَجهه فجَاء سُلَيْمَان عليه السلام فأخبروه بِمَا فعل الشَّيْطَان بعده فَأمر الْجِنّ بِطَلَبِهِ فجاؤوا بِهِ فَأمر أَن يعْمل لَهُ بَيت منقوب فِي حجر صلد وَجعله فِيهِ وأطبق عَلَيْهِ بِحجر آخر وألقاه فِي الْبَحْر فَبَقيَ فِيهِ إِلَى يَوْم الْبَعْث
وَهَذَا أسلم مَا قَالُوهُ فِي قصَّته عليه السلام وَزَاد فِيهَا الفجرة أَن الشَّيْطَان كَانَ يَقع على نسَاء سُلَيْمَان عليه السلام وَهن حيض وَلذَا تفطنوا أَنه لم يكن سُلَيْمَان وحاشى وكلا من هَذِه الوصمة الخسيسة أَن يَفْعَلهَا الله تَعَالَى مَعَ أنبيائه عليهم السلام وَكَيف وَالْأمة مجمعة على أَنه مَا زنت امْرَأَة نَبِي قطّ كَانَت مُؤمنَة اَوْ كَافِرَة وخيانة امْرَأَة نوح وَامْرَأَة لوط عليهما السلام إِنَّمَا كَانَت فِي إظهارهما الْإِيمَان وإخفائهما الْكفْر لَا غير وكل مَا ذَكرُوهُ فِي هَذِه الْقِصَّة تجوز لَهُ على أوجه سنذكرها بعد إِن شَاءَ الله تَعَالَى سوى هَذِه القولة الخبيثة
وَأما قصَّة التمثال الَّذِي صنع لَهَا وَمَا قيل أَنه حكم لأَخِيهَا فيتصور فِيهَا الْجَوَاز من وَجْهَيْن
أَحدهمَا أَن يكون صنع التمثال مُبَاحا لَهُ كَمَا كَانَ مُبَاحا لعيسى عليه السلام قَالَ تَعَالَى {وَإِذ تخلق من الطين كَهَيئَةِ الطير بإذني فتنفخ فِيهَا فَتكون طيرا بإذني} فصح من هَذِه الْآيَة أَن عِيسَى عليه السلام كَانَ يصور التماثيل بِإِذن الله وَكَذَلِكَ سُلَيْمَان عليه السلام إِذا صَحَّ أَنه لم يحرم عَلَيْهِ فعله فِي شَرعه وَالْأَظْهَر فِيهِ أَنه لم يحرم بِدَلِيل قَوْله تَعَالَى
একটি মাছের পেট, যা তাকে গিলে ফেলেছিল যখন সাখর তাকে সমুদ্রে নিক্ষেপ করেছিল। যখন শয়তান বিষয়টি বুঝতে পারল, তখন সে পালিয়ে গেল। এরপর সুলাইমান আলাইহিস সালাম আসলেন এবং তারা তাঁকে শয়তান তাঁর অনুপস্থিতিতে যা করেছিল সে সম্পর্কে অবহিত করল। তখন তিনি জিনদেরকে তাকে খুঁজে বের করার নির্দেশ দিলেন এবং তারা তাকে নিয়ে আসল। এরপর তিনি নির্দেশ দিলেন যেন তার জন্য একটি শক্ত পাথরের ভেতর গর্ত করে একটি ঘর তৈরি করা হয় এবং তাকে তার মধ্যে রাখা হয়। এরপর তিনি অপর একটি পাথর দিয়ে তার মুখ বন্ধ করে দেন এবং তাকে সমুদ্রে নিক্ষেপ করেন। ফলে সে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত সেখানেই রয়ে গেল।
তাঁর (আলাইহিস সালাম) কাহিনীর ব্যাপারে এটিই সবচেয়ে নিরাপদ বর্ণনা যা তারা বলেছে। তবে পাপাচারীরা এতে এ কথা বৃদ্ধি করেছে যে, শয়তান সুলাইমান আলাইহিস সালামের স্ত্রীদের সাথে তাদের ঋতুকালীন অবস্থায় মিলিত হতো, আর এ কারণেই তারা বুঝতে পেরেছিল যে সে সুলাইমান নয়। আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীদের (আলাইহিমুস সালাম) ক্ষেত্রে এমন হীন কলঙ্ক কার্যকর করা থেকে অনেক ঊর্ধ্বে ও পবিত্র। আর কেনই বা নয়, যেখানে উম্মত এ বিষয়ে একমত যে কোনো নবীর স্ত্রী কখনো ব্যভিচারে লিপ্ত হননি, চাই তিনি মুমিন হোন বা কাফির। নূহ আলাইহিস সালাম ও লুত আলাইহিস সালামের স্ত্রীদের খিয়ানত ছিল কেবল ঈমান প্রকাশ করা এবং কুফরি গোপন করার মধ্যে, অন্য কিছুতে নয়। এই কাহিনীর ব্যাপারে তারা যা কিছু উল্লেখ করেছে তার অধিকাংশের ক্ষেত্রে সঠিক ব্যাখ্যার অবকাশ রয়েছে, যা আমরা ইনশাআল্লাহ পরবর্তীতে উল্লেখ করব, কেবল এই জঘন্য উক্তিটি ছাড়া।
আর তার জন্য তৈরি করা মূর্তির কাহিনী এবং তার ভাইয়ের স্বপক্ষে বিচার করার যে কথাটি বলা হয়েছে, সে ব্যাপারে দুটি দিক থেকে বৈধতা চিন্তা করা যায়।
তার একটি হলো, মূর্তিনির্মাণ করা তাঁর জন্য বৈধ ছিল যেমনটি ঈসা আলাইহিস সালামের জন্য বৈধ ছিল। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "যখন তুমি কাদা দিয়ে পাখির অবয়বের মতো তৈরি করতে আমার অনুমতিতে, অতঃপর তুমি তাতে ফুঁ দিতে আর তা আমার অনুমতিতে পাখি হয়ে যেত।" সুতরাং এই আয়াত থেকে এটি সঠিক সাব্যস্ত হয় যে, ঈসা আলাইহিস সালাম আল্লাহর অনুমতিতে প্রতিচ্ছবি বা মূর্তি তৈরি করতেন। অনুরূপভাবে সুলাইমান আলাইহিস সালামের ক্ষেত্রেও, যদি এটি সঠিক হয় যে তাঁর শরীয়তে এটি তাঁর জন্য হারাম ছিল না। আর এ ক্ষেত্রে অধিকতর স্পষ্ট বিষয় হলো যে এটি হারাম ছিল না, যার প্রমাণ মহান আল্লাহর বাণী:
(খণ্ড: ১)
তানযীহুল আম্বিয়া আম্মা নুসিবা ইলাইহিম হুসালাতুল আগবিয়া
(পৃষ্ঠা: ৪০)
{يعْملُونَ لَهُ مَا يَشَاء من محاريب وتماثيل} والتماثيل قد تكون على صور الأناسي قَالَ امْرُؤ الْقَيْس
(وَيَا رب يَوْم قد لهوت وَلَيْلَة
… بآنسة كَأَنَّهَا خطّ تِمْثَال)
وَأما إِن عبدت هِيَ صنما من غير أَن يشْعر بِهِ سُلَيْمَان عليه السلام فَلَا بَأْس عَلَيْهِ فِي ذَلِك فَإِن الْأَنْبِيَاء عليهم السلام عنوا بالظواهر وَأمر البواطن إِلَى الله تَعَالَى وَقد كَانَ المُنَافِقُونَ يصلونَ خلف رَسُول الله صلى الله عليه وسلم ويعبدون الْأَصْنَام فِي بُيُوتهم خُفْيَة مِنْهُ جَاءَ فِي الصَّحِيح عَنهُ عليه السلام أَنه قَالَ (أمرت أَن أقَاتل النَّاس حَتَّى يَقُولُوا لَا إِلَه إِلَّا الله) الحَدِيث
… ...
… إِلَى قَوْله (وحسابهم على الله) يَعْنِي فِيمَا أبطنوه
وَأما قَوْلهم إِنَّهَا طلبت مِنْهُ أَن يحكم لأَخِيهَا على خَصمه فَقَالَ لَهَا نعم فَيجوز لَهُ أَن يَقُولهَا وَهُوَ يضمر فِي نَفسه إِذا كَانَ الْحق لَهُ لَا عَلَيْهِ ثمَّ طيب نَفسهَا ب نعم لكَون النِّسَاء تطيب أَنْفسهنَّ بِمثل هَذِه المشتبهات لضعف عقولهن وجهلهن بالحقائق وَلَا يجوز فِي حَقه سوى هَذَا بِدَلِيل أَنه لَو أضمر فِي نَفسه أَن يحكم لَهُ وَالْحكم عَلَيْهِ لوقع فِي كَبِيرَة مُحرمَة وَهِي أَن يَنْوِي أَن يحكم بالجور وحاشاه من ذَلِك وَهُوَ لَا يجوز عَلَيْهِ ذَلِك كَمَا تقدم
وَأما كَون الشَّيْطَان يخلفه على كرسيه وَيحكم بِالْبَاطِلِ فَلَيْسَ على نَبِي
{তারা তাঁর জন্য নির্মাণ করত তিনি যা চাইতেন—উপাসনালয় ও প্রতিকৃতিসমূহ} এবং প্রতিকৃতিসমূহ মানুষের আকৃতির ন্যায় হতে পারে। ইমরুল কায়েস বলেছেন—
(হে প্রতিপালক! কত দিন ও কত রাত আমি আমোদ-প্রমোদে কাটিয়েছি... এমন এক রূপসীর সাথে, যে যেন কোনো অঙ্কিত প্রতিকৃতি)
আর যদি সুলাইমান আলাইহিস সালামের অজ্ঞাতসারে তিনি (সুলাইমানের স্ত্রী) কোনো মূর্তির পূজা করে থাকেন, তবে এতে তাঁর কোনো দোষ নেই। কেননা নবীগণ আলাইহিমুস সালাম বাহ্যিক বিষয়ের ওপর দায়বদ্ধ থাকতেন, আর অভ্যন্তরীণ বিষয়ের ভার আল্লাহ তাআলার ওপর। মুনাফিকরা তো আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পেছনে নামাজ আদায় করত এবং তাঁর অগোচরে নিজেদের ঘরে গোপনে মূর্তিপূজা করত। সহিহ হাদিসে তাঁর (আলাইহিস সালাম) পক্ষ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: (আমি মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ না তারা বলে—আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই) —হাদিসের শেষ পর্যন্ত
… ...
… তাঁর এই কথা পর্যন্ত (এবং তাদের হিসাব আল্লাহর জিম্মায়), অর্থাৎ তারা অন্তরে যা গোপন করত সে বিষয়ে।
আর তাদের এই বক্তব্য যে, তিনি (স্ত্রী) তাঁর নিকট তাঁর ভাইয়ের পক্ষে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে রায় দেওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন এবং সুলাইমান তাকে 'হ্যাঁ' বলেছিলেন; তবে তাঁর জন্য এটি বলা বৈধ ছিল যদি তিনি মনে মনে এই সংকল্প পোষণ করে থাকেন যে—যদি ন্যায় তার পক্ষে থাকে, বিপক্ষে নয়। অতঃপর তিনি 'হ্যাঁ' বলে তার মনস্তুষ্টি করেছেন, কেননা নারীরা তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্বলতা ও বাস্তব সত্য সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে এ জাতীয় দ্ব্যর্থবোধক কথায় আশ্বস্ত হয়। তাঁর ক্ষেত্রে এর বাইরে অন্য কিছু হওয়া সম্ভব নয়; যার প্রমাণ হলো—যদি তিনি মনে মনে তার পক্ষেই রায় দেওয়ার সংকল্প করতেন অথচ রায় তার বিপক্ষে হওয়ার কথা ছিল, তবে তিনি একটি নিষিদ্ধ কবিরা গুনাহে লিপ্ত হতেন; আর তা হলো অন্যায় বিচারের সংকল্প করা। তিনি এ থেকে বহু ঊর্ধ্বে এবং পবিত্র, এবং তাঁর ক্ষেত্রে এমনটি হওয়া সম্ভব নয় যেমনটি পূর্বে আলোচিত হয়েছে।
আর শয়তান তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়ে তাঁর সিংহাসনে বসে বাতিল বিচার করার বিষয়টি কোনো নবীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
(খণ্ড: ১)
তানযীহুল আম্বিয়া আম্মা নুসিবা ইলাইহিম হুসালাতুল আগবিয়া
(পৃষ্ঠা: ৪১)
الله عليه السلام لَو صَحَّ فِي ذَلِك دَقِيق وَلَا جليل من الْإِثْم وَهَذَا بمثاب عِيسَى عليه السلام حِين عبد من دون الله كَمَا جَاءَ فِي الصَّحِيح عَنهُ عليه السلام قَالَ فَيَأْتُونَ عِيسَى وَلم يذكر ذَنبا فَيَقُول لست هُنَاكُم وَقد عبدت أَنا وَأمي من دون الله فَامْتنعَ عَنْهَا حَيَاء من الله
وَمَعَ ذَلِك فَالْخَبَر بَاطِل من وَجه آخر وَهُوَ أَنه لَو جَازَ أَن يخلف النَّبِي شَيْطَان على صورته ويستنبط فِي شَرِيعَته أحكاما فَاسِدَة لَكَانَ ذَلِك إخلالا بِالنُّبُوَّةِ إِذْ كَانَ يتخيل النَّاس ذَلِك فِي سَائِر أَحْكَام الْأَنْبِيَاء حَتَّى لَا يتَمَيَّز حكم النَّبِي من حكم الشَّيْطَان فيشكل الْأَمر على الْمُكَلّفين وَلَا يَتَّقُونَ أَمر بعد وَهَذَا بِمَثَابَة تَقْدِير خرق الْعَادة على أَيدي الْكَذَّابين فِي ادِّعَاء النُّبُوَّة وَهَذِه الألقية فِي هَذِه الْقِصَّة من دسائس البراهمة فِي إبِْطَال النبوات وَالله أعلم
وَأما مَا يَلِيق بِسُلَيْمَان عليه السلام فِي بَاب الأولى والمباح فِي هَذِه الْقِصَّة فَهُوَ أَنه مَا كَانَ يَقُول لامْرَأَته فِي طلب الْحُكُومَة لأَخِيهَا نعم حَتَّى يتَبَيَّن لَهُ الْحق أَو يتَبَيَّن لَهَا مَا أضمر فَيَقُول لَهَا نعم إِذا وَجب لَهُ الْحق فِيهَا فَإِنَّهُ لَا يحكم بجور وَلَا يجوز عَلَيْهِ ذَلِك
وَأما صنعه لَهَا التمثال على الْوَجْه الَّذِي تقدم فَمَا عَلَيْهِ فِي ذَلِك ذَنْب وَلَا عتب وَلَو كَانَ أَيْضا صنعه محرما لما صنعه لَهَا أصلا فَإِن صنع التمثال
আলাইহিস সালাম; যদি এই বিষয়ে সামান্য বা অধিক কোনো পাপ সাব্যস্ত হতো, তবে এটি ঈসা আলাইহিস সালামের দৃষ্টান্তের মতো হতো যখন তাকে আল্লাহর পরিবর্তে উপাসনা করা হয়েছিল। যেমনটি সহীহ বর্ণনায় তাঁর (আলাইহিস সালাম) সম্পর্কে এসেছে যে, তিনি বলেছেন: "অতঃপর তারা ঈসার কাছে আসবে এবং তিনি কোনো পাপের কথা উল্লেখ করবেন না, বরং বলবেন—আমি সেই পদের যোগ্য নই, কারণ আল্লাহকে বাদ দিয়ে আমার এবং আমার মায়ের উপাসনা করা হয়েছিল।" তাই তিনি আল্লাহর প্রতি লজ্জাবশত তা থেকে বিরত থাকবেন।
তদুপরি, এই সংবাদটি অন্য দিক থেকেও বাতিল। আর তা হলো—যদি নবীর স্থলাভিষিক্ত হয়ে কোনো শয়তান তাঁর রূপ ধারণ করা এবং তাঁর শরীয়তে ভ্রান্ত বিধান উদ্ভাবন করা বৈধ হতো, তবে তা নবুওয়াতের মর্যাদাকে ক্ষুন্ন করত। কারণ তখন মানুষ নবীদের অন্যান্য সমস্ত বিধানের ব্যাপারেও এমনটি কল্পনা করত, ফলে নবীর বিধান ও শয়তানের বিধানের মধ্যে কোনো পার্থক্য করা সম্ভব হতো না। এতে মুকাল্লাফদের (শরীয়তের বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তিরা) জন্য বিষয়টি অস্পষ্ট হয়ে পড়ত এবং এর পরে তারা কোনো নির্দেশের ব্যাপারে আর সতর্কতা অবলম্বন করত না। এটি নবুওয়াতের দাবিতে মিথ্যাবাদীদের হাতে অলৌকিক ঘটনা ঘটার সম্ভাবনার ন্যায়। আর এই গল্পের এই প্রক্ষেপিত বিষয়টি নবুওয়াত প্রথা বাতিল করার জন্য ব্রাক্ষ্মণদের ষড়যন্ত্রের অন্তর্ভুক্ত। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
আর এই ঘটনায় সুলাইমান আলাইহিস সালামের শানে যা অধিকতর উত্তম ও বৈধ বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত তা হলো—তিনি তাঁর স্ত্রীর পক্ষ থেকে তাঁর ভাইয়ের জন্য ফয়সালা চাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে 'হ্যাঁ' বলতেন না যতক্ষণ না তাঁর কাছে সত্য স্পষ্ট হতো অথবা সেই নারী যা মনে গোপন রেখেছে তা তাঁর কাছে প্রকাশিত হতো। অতঃপর তিনি তাকে বলতেন—'হ্যাঁ', যদি বিচারটি তার পক্ষে পাওনা হয়ে থাকে। কেননা তিনি কখনও অন্যায্য বিচার করতেন না এবং তাঁর ক্ষেত্রে তা সম্ভব ছিল না।
আর ইতিপূর্বে বর্ণিত পদ্ধতিতে তাঁর জন্য প্রতিকৃতি তৈরি করার বিষয়ে তাঁর ওপর কোনো পাপ বা তিরস্কার নেই। যদি তা তৈরি করা হারাম হতো, তবে তিনি আদতেই তা তার জন্য তৈরি করতেন না। কেননা প্রতিকৃতি তৈরি...
(খণ্ড: ১)
তানযীহুল আম্বিয়া আম্মা নুসিবা ইলাইহিম হুসালাতুল আগবিয়া
(পৃষ্ঠা: ৪২)
من الْكَبَائِر الَّتِي أَتَى فِيهَا الْوَعيد الْكثير فِي الحَدِيث الْمَشْهُور فِي الثَّلَاثَة الْأَصْنَاف الَّذين تلتقطهم أَعْنَاق النَّار فِي الْمَحْشَر
وَمِنْهُم من قَالَ إِنَّمَا وَقع العتاب عَلَيْهِ من جِهَة اشْتِغَاله بِعرْض الْخَيل عَلَيْهِ حَتَّى غربت الشَّمْس وفاتته صَلَاة الْعشَاء وَهَذَا أَيْضا إِذا صَحَّ فَلَيْسَ لَهُ فِي تَركهَا كسب وَلَا علقَة طلب فَإِنَّهُ نَاس وَالنَّاسِي لَا طلب عَلَيْهِ فِيمَا نَسيَه بِالْإِجْمَاع قَالَ تَعَالَى مخبرا عَن مُوسَى عليه السلام أَنه قَالَ {لَا تؤاخذني بِمَا نسيت} وَجَاء عَنهُ عليه السلام أَنه قَالَ إِنَّمَا أَنا بشر كَمَا تنسون
وَمِنْهُم من قَالَ إِنَّمَا كَانَت وهلته لما ورد بِهِ الْخَبَر فِي قَوْله لأطيفن اللَّيْلَة بمئة امْرَأَة تَلد كل امْرَأَة غُلَاما يُقَاتل فِي سَبِيل الله فَقَالَ لَهُ صَاحبه قل إِن شَاءَ الله فَلم يقل وَنسي فأطاف بِهن وَلم تَلد مِنْهُنَّ إِلَّا امْرَأَة نصف إِنْسَان قَالَ النَّبِي عليه السلام لَو قَالَ إِن شَاءَ الله لم يَحْنَث وَكَانَ أَرْجَى لِحَاجَتِهِ
এটি সেই কবীরা গুনাহসমূহের অন্তর্ভুক্ত যার ব্যাপারে প্রসিদ্ধ হাদিসে বহু সতর্কবাণী বর্ণিত হয়েছে, যেখানে ওই তিন শ্রেণির লোকের কথা এসেছে যাদেরকে হাশরের ময়দানে আগুনের ঘাড়গুলো লুফে নেবে।
তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন যে, তাঁর ওপর তিরস্কার আসার কারণ ছিল ঘোড়া পরিদর্শনে তাঁর মগ্ন থাকা, যে পর্যন্ত না সূর্য ডুবে গিয়েছিল এবং তাঁর এশার সালাত কাজা হয়ে গিয়েছিল। এটিও যদি সহিহ হয়, তবে তা ত্যাগ করার ক্ষেত্রে তাঁর কোনো ইচ্ছা বা প্রচেষ্টার সম্পৃক্ততা ছিল না, কারণ তিনি ছিলেন বিস্মৃত। আর সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিস্মৃত ব্যক্তির ওপর তার ভুলে যাওয়া বিষয়ে কোনো দায়বদ্ধতা নেই। আল্লাহ তাআলা মূসা আলাইহিস সালাম সম্পর্কে সংবাদ দিয়ে বলেছেন: {আমি যা ভুলে গিয়েছি তার জন্য আমাকে পাকড়াও করবেন না}। আর নবী আলাইহিস সালাম থেকেও বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "আমি কেবল একজন মানুষ, তোমরা যেমন ভুলে যাও আমিও তেমনি ভুলে যাই।"
তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন যে, তাঁর সেই বিচ্যুতিটি ছিল ওই সংবাদের কারণে যা তাঁর এই উক্তির ব্যাপারে বর্ণিত হয়েছে: "আজ রাতে আমি অবশ্যই একশজন স্ত্রীর নিকট গমন করব, যাঁদের প্রত্যেকেই এমন এক একজন পুত্রসন্তান প্রসব করবেন যারা আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করবে।" তখন তাঁর সাথী তাঁকে বললেন: "বলুন, যদি আল্লাহ চান।" কিন্তু তিনি তা বললেন না এবং ভুলে গেলেন। অতঃপর তিনি তাঁদের নিকট গমন করলেন, কিন্তু তাঁদের মধ্যে মাত্র একজন নারী ব্যতীত আর কেউ সন্তান প্রসব করল না, আর সেই সন্তানটিও ছিল অর্ধেক মানুষ। নবী আলাইহিস সালাম বলেছেন: "যদি তিনি 'যদি আল্লাহ চান' বলতেন, তবে তাঁর শপথ ভঙ্গ হতো না এবং এটি তাঁর উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য অধিক আশাব্যঞ্জক হতো।"
(খণ্ড: ১)
তানযীহুল আম্বিয়া আম্মা নুসিবা ইলাইহিম হুসালাতুল আগবিয়া
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
قَالُوا وَهُوَ الْجَسَد الَّذِي ألقِي على كرسيه وَهَذَا يعضده الْخَبَر الصَّحِيح وَيتَصَوَّر العتاب فِيهِ من ترك الِاسْتِثْنَاء فَإِنَّهُ أولى فَإِن كَانَ تَركه بَعْدَمَا أَمر بِهِ فَتَركه نَاسِيا
وَقد ذكر الْمُفَسِّرُونَ أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم لما طلب مِنْهُ الْيَهُود أَن يُخْبِرهُمْ عَن قصَّة أَصْحَاب الْكَهْف فَقَالَ غَدا أخْبركُم بهَا وَنسي الِاسْتِثْنَاء أَبْطَأَ الْوَحْي عَنهُ أَيَّامًا حَتَّى نزلت عَلَيْهِ الْقِصَّة وَقيل لَهُ مَعَ ذَلِك وَلَا تقولن لشَيْء إِنِّي فَاعل ذَلِك غَدا إِلَّا أَن يَشَاء الله وَاذْكُر رَبك إِذا نسيت مَعْنَاهُ إِذا نسيت الِاسْتِثْنَاء ثمَّ تذكرت فَاسْتَثْنِ بِالْمَشِيئَةِ وَفِي هَذَا أَن الِاسْتِثْنَاء بعد مُدَّة يرفع الْحَرج وَلَا يرفع الْكَفَّارَة وَلذَا أجَازه ابْن عَبَّاس رضي الله عنهما بعد سنة
فَخرج من عُمُوم مَا ذَكرْنَاهُ فِي جَمِيع الْقِصَّة أَن العتاب من الله تَعَالَى لِسُلَيْمَان عليه السلام إِذا صَحَّ إِنَّمَا كَانَ على تَركه الأولى من الْمُبَاحَات
وَالْأَظْهَر فِي هَذَا الحَدِيث أَنه ترك مَنْدُوبًا إِلَيْهِ وَمن ترك الْمَنْدُوب فَلَا إِثْم عَلَيْهِ فَهُوَ بِمَثَابَة ترك الْمُبَاح فِي نفي الذَّنب كَمَا تقدم وَالله الْمُوفق للصَّوَاب
তারা বলেছেন, এটিই সেই দেহ যা তাঁর সিংহাসনের ওপর নিক্ষেপ করা হয়েছিল এবং সহিহ হাদিস এই বক্তব্যকে সমর্থন করে। আর এর মধ্যে তিরস্কারের বিষয়টি 'ইস্তিসনা' (ইনশাআল্লাহ বলা) বর্জন করার প্রেক্ষিতে কল্পনা করা যায়, কারণ সেটি করাই ছিল অধিকতর উত্তম। আর যদি তাঁর এই বর্জন আদেশ প্রাপ্ত হওয়ার পর হয়ে থাকে, তবে তিনি তা বিস্মৃতিবশত বর্জন করেছিলেন।
মুফাসসিরগণ উল্লেখ করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে যখন ইহুদিরা আসহাবে কাহাফের ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইল, তখন তিনি বললেন, "আগামীকাল আমি তোমাদের এ বিষয়ে জানাবো।" কিন্তু তিনি 'ইস্তিসনা' করতে ভুলে গেলেন। ফলে বেশ কিছুদিনের জন্য তাঁর কাছে ওহি আসা বন্ধ হয়ে রইল, অবশেষে তাঁর প্রতি এই ঘটনা অবতীর্ণ হলো। এর সাথে সাথে তাঁকে বলা হলো: "আর আপনি কোনো বিষয়ের ক্ষেত্রে কখনো বলবেন না যে, 'আমি এটি আগামীকাল করব', আল্লাহ ইচ্ছা করলে (ইনশাআল্লাহ বলা) ব্যতীত। আর যখন আপনি ভুলে যান, তখন আপনার রবকে স্মরণ করুন।" এর অর্থ হলো: যখন আপনি 'ইস্তিসনা' করতে ভুলে যাবেন এবং পরবর্তীতে তা স্মরণে আসবে, তখন আল্লাহর ইচ্ছার কথা উল্লেখ করে ইস্তিসনা করুন। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পর ইস্তিসনা করা গুনাহ দূর করে দেয়, তবে তা কাফফারা মওকুফ করে না। এই কারণেই ইবনে আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা এক বছর পরেও এর অনুমতি দিয়েছেন।
সুতরাং আমাদের বর্ণিত এই সমগ্র ঘটনার সারসংক্ষেপ থেকে এটিই প্রতীয়মান হয় যে, আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে সুলাইমান আলাইহিস সালামের প্রতি তিরস্কার—যদি তা সাব্যস্ত হয়—তবে তা কেবল মুবাহ বা বৈধ কার্যাবলির মধ্যে যা অধিকতর উত্তম ছিল তা বর্জনের কারণে ছিল।
আর এই হাদিসের ক্ষেত্রে অধিকতর স্পষ্ট বিষয় হলো, তিনি একটি পছন্দনীয় বা মুস্তাহাব কাজ বর্জন করেছিলেন। আর যে ব্যক্তি মুস্তাহাব কাজ বর্জন করে, তার কোনো গুনাহ হয় না। সুতরাং গুনাহ না হওয়ার ক্ষেত্রে এটি মুবাহ কাজ বর্জনের মতোই, যেমনটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। আর আল্লাহই সঠিক পথের তাওফিকদাতা।
(খণ্ড: ১)
তানযীহুল আম্বিয়া আম্মা নুসিবা ইলাইহিম হুসালাতুল আগবিয়া
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
شرح قصَّة يُوسُف عليه السلام فِي إِضَافَة الله تَعَالَى لَهُ الْهم عِنْد مراودة امْرَأَة الْعَزِيز لَهُ عَن نَفسه وَالَّذِي يَنْبَغِي أَن نقدم أَولا الْإِعْلَام بِأَن يُوسُف عليه السلام كَانَ نَبيا قبل المراودة والهم وَالدَّلِيل على ذَلِك أَنه لَو لم تثبت نبوته قبل ذَلِك لم تهتم الْأمة بِذكر همه لِأَن الْعِصْمَة الْمجمع عَلَيْهَا لَا تشْتَرط للنَّبِي إِلَّا بعد ثُبُوت نبوته لَا قبلهَا وَمَعَ ذَلِك فَإِن النَّبِي لَا تثبت لَهُ مَعْصِيّة مَشْرُوع تَركهَا قبل النُّبُوَّة وَلَا بعْدهَا وسنشبع القَوْل فِي ذَلِك فِي قصَّة آدم عليه السلام إِن شَاءَ الله تَعَالَى
وَأما إِثْبَات نبوته قبل همه من الْكتاب فَمن قَوْله تَعَالَى {وَلما بلغ أشده آتيناه حكما وعلما}
وَأَجْمعُوا على أَن هَذَا الحكم وَالْعلم فِي حق يُوسُف عليه السلام أَنَّهُمَا النُّبُوَّة ثمَّ قَالَ تَعَالَى بَعْدَمَا ذكر الحكم وَالْعلم وراودته الَّتِي
ইউসুফ আলাইহিস সালামের কাহিনীর ব্যাখ্যা আজিজের স্ত্রীর পক্ষ থেকে প্রলুব্ধ করার সময় আল্লাহ তাআলা কর্তৃক ইউসুফ আলাইহিস সালামের প্রতি ‘ইচ্ছা’ (হাম্ম) আরোপ করার বিষয়ে আলোচনা। প্রথমে যা জানানো আবশ্যক তা হলো, এই প্রলোভন ও ইচ্ছার উদ্রেক হওয়ার পূর্বেই ইউসুফ আলাইহিস সালাম নবী ছিলেন। এর প্রমাণ হলো, যদি এর আগে তাঁর নবুয়ত সাব্যস্ত না হতো, তবে উম্মত তাঁর এই ইচ্ছার কথা উল্লেখ করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করত না। কারণ, যে ‘ইসমাহ’ বা নিষ্পাপত্বের ওপর ইজমা হয়েছে, তা কোনো নবীর জন্য নবুয়ত সাব্যস্ত হওয়ার পরেই শর্তযুক্ত হয়, তার আগে নয়। তা সত্ত্বেও, নবুয়তের আগে বা পরে কোনো নবীর ক্ষেত্রে এমন কোনো গুনাহ সাব্যস্ত হয় না যা বর্জন করা শরয়ি নির্দেশ। ইনশাআল্লাহ তাআলা, আদম আলাইহিস সালামের কাহিনীতে আমরা এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
আর তাঁর ইচ্ছার পূর্বেই কিতাব (কুরআন) থেকে তাঁর নবুয়ত সাব্যস্ত হওয়ার দলিল হলো মহান আল্লাহর এই বাণী: {যখন তিনি পূর্ণ যৌবনে পদার্পণ করলেন, তখন আমি তাঁকে হিকমত (প্রজ্ঞা) ও জ্ঞান দান করলাম}।
সকলে এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, ইউসুফ আলাইহিস সালামের ক্ষেত্রে এই হিকমত ও জ্ঞান বলতে নবুয়তকেই বোঝানো হয়েছে। অতঃপর মহান আল্লাহ এই হিকমত ও জ্ঞানের কথা উল্লেখ করার পরই ইরশাদ করেছেন: “আর তিনি যে মহিলার বাড়িতে ছিলেন, সে তাঁকে প্রলুব্ধ করল...”
(খণ্ড: ১)
তানযীহুল আম্বিয়া আম্মা নুসিবা ইলাইহিম হুসালাতুল আগবিয়া
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
هُوَ فِي بَيتهَا عَن نَفسه) الْآيَة
وَأما همه فَأول مَا يَنْبَغِي أَن نقدم أَن الْهم فِي اللِّسَان الْإِرَادَة لَا غير فَإِن سمي الْفِعْل هما فمجاز من بَاب تَسْمِيَة الشَّيْء باسم الشَّيْء إِذا قاربه أَو كَانَ مِنْهُ بِسَبَب فَلَمَّا كَانَت الْأَفْعَال مرتبطة بالإرادة الَّتِي هِيَ الْهم سميت هما فَيُقَال لمن نصب أواني الْخمر وَمَا يحْتَاج إِلَيْهِ شرابها هم وَكَذَلِكَ يُقَال لمن خلا بِامْرَأَة فلاعبها وَذَلِكَ لِأَن الْهم الْحَقِيقِيّ مَحَله الْقلب وَهُوَ غير محسوس فَلَمَّا لم ندركه بالحواس لم نعلمهُ فَإِذا أدركنا أَسبَابه الدَّالَّة عَلَيْهِ بالحواس قُلْنَا هم أَي فعل أفعالا دلّت على همه بهَا فِي بَاطِنه فَثَبت أَن الْهم الْحَقِيقِيّ هُوَ الْإِرَادَة لَا الْفِعْل
جَاءَ فِي الصَّحِيح عَنهُ عليه السلام أَنه قَالَ من هم بحسنة فَلم يعملها كتبت لَهُ حَسَنَة فَإِن عَملهَا كتبت لَهُ عشرا وَمن هم بسيئة فَلم يعملها لم تكْتب شَيْئا فَإِن عَملهَا كتبت سَيِّئَة وَاحِدَة الحَدِيث
فَهَذَا أدل على أَن الْهم غير الْفِعْل قَالَ الشَّاعِر
(هَمَمْت وَلم أفعل وكدت وليتني
… تركت على عُثْمَان تبْكي حلائله)
فَأخْبر أَنه هم وَلم يفعل وَإِذا كَانَ هَذَا هَكَذَا فَمَا بَال الجهلة بِاللِّسَانِ المقلدين المجازفين فِي الْحَقَائِق يَقُولُونَ قعد مِنْهَا مقْعد الرجل من الْمَرْأَة وَحل عقد نطاقها وَهُوَ ينظر إِلَى أَبِيه تَارَة والى الْملك أُخْرَى ثمَّ يعود لحل العقد
তিনি তার বাড়িতে ছিলেন তার নিজের থেকে) আয়াতটি।
আর তাঁর সংকল্পের (হাম) বিষয়টি হলো, আমাদের প্রথমে যা উপস্থাপন করা উচিত তা হলো—ভাষাগতভাবে 'হাম' বলতে একমাত্র ইচ্ছাকেই (ইরাদা) বোঝায়, অন্য কিছু নয়। যদি কোনো কর্মকে 'হাম' বলা হয়, তবে তা হবে রূপক অর্থে; অর্থাৎ কোনো বিষয়কে অন্য কোনো নামে অভিহিত করার নীতি অনুযায়ী যখন একটি বিষয় অন্যটির নিকটবর্তী হয় অথবা তার কোনো কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যেহেতু কার্যাবলি ইচ্ছার সাথে সম্পৃক্ত—যা মূলত সংকল্প বা 'হাম'—তাই কর্মকেও 'হাম' বলা হয়েছে। এজন্য যে ব্যক্তি মদের পাত্র সাজায় এবং তা পান করার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত করে, তাকে বলা হয় সে 'হাম' (সংকল্প) করেছে। অনুরূপভাবে সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রেও এটি বলা হয় যে কোনো নারীর সাথে নির্জনে একত্রিত হয়ে তার সাথে ক্রীড়া-কৌতুক করল। এর কারণ হলো প্রকৃত সংকল্পের (হাম) স্থান হলো অন্তর এবং তা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য নয়। সুতরাং আমরা যখন ইন্দ্রিয় দ্বারা তা উপলব্ধি করতে পারি না, তখন আমরা তা জানতেও পারি না। কিন্তু যখন আমরা ইন্দ্রিয় দ্বারা তার নির্দেশক কারণগুলো প্রত্যক্ষ করি, তখন বলি যে সে সংকল্প করেছে; অর্থাৎ সে এমন কিছু কাজ করেছে যা তার অভ্যন্তরীণ সংকল্পের প্রমাণ দেয়। সুতরাং এটি সাব্যস্ত হলো যে, প্রকৃত সংকল্প হলো ইচ্ছা বা ইরাদা, কাজ নয়।
সহীহ হাদীসে তাঁর (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন, "যে ব্যক্তি কোনো সৎ কাজের সংকল্প করল কিন্তু তা পালন করল না, তার জন্য একটি সওয়াব লেখা হয়; আর যদি সে তা পালন করে, তবে তার জন্য দশটি সওয়াব লেখা হয়। আর যে ব্যক্তি কোনো মন্দ কাজের সংকল্প করল কিন্তু তা করল না, তার জন্য কিছুই লেখা হয় না; কিন্তু যদি সে তা করে ফেলে, তবে একটি গুনাহ লেখা হয়।" — হাদীস।
এটি এর ওপর জোরালো প্রমাণ যে সংকল্প এবং কাজ ভিন্ন বিষয়। কবি বলেছেন:
(আমি সংকল্প করেছিলাম কিন্তু করিনি এবং আমি প্রায় করে ফেলেছিলাম, আর হায় যদি আমি
… উসমানের বিলাপকারিনী স্ত্রীদের রেখে আসতাম)
এখানে তিনি সংবাদ দিচ্ছেন যে তিনি সংকল্প করেছিলেন কিন্তু কাজ করেননি। যদি বিষয়টি এমনই হয়ে থাকে, তবে ভাষাজ্ঞানহীন সেই সব মূর্খদের কী হয়েছে যারা বাস্তব সত্যের ক্ষেত্রে অন্ধ অনুসারী ও বেপরোয়া? তারা বলে যে, তিনি তার নিকট সেভাবে উপবেশন করেছিলেন যেভাবে একজন পুরুষ নারীর নিকট উপবেশন করে এবং তিনি তার কোমরবন্ধের বাঁধন খুলেছিলেন, এমতাবস্থায় যে তিনি কখনও তাঁর পিতার দিকে তাকাচ্ছিলেন আবার কখনও ফেরেশতার দিকে, অতঃপর পুনরায় বাঁধন খোলার জন্য ফিরে আসছিলেন।
(খণ্ড: ১)
তানযীহুল আম্বিয়া আম্মা নুসিবা ইলাইহিম হুসালাতুল আগবিয়া
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
وَنحن مَعَ ذَلِك نعلم قطعا أَن أَحَدنَا على جهلنا وَعدم عصمتنا وَسُوء أدبنا لَو كَانَ على تِلْكَ الْحَالة وكشفت عَلَيْهِ أمته لانقبض وَتغَير عَلَيْهِ حَاله فَكيف بِنَا إِذا كشف علينا آبَاؤُنَا وكبراؤنا فَكيف الْمَلَائِكَة
فَانْظُر إِلَى مقت هَذِه القولة وماذا جمعت من الاجتراء والافتراء على أَنْبيَاء الله تَعَالَى مَعَ صفاقة الْوُجُوه وَعدم الْحيَاء والتهاون بِذكر المصطفين الأخيار وَقد ذكرهَا الْهَمدَانِي وَغَيره فِي شرح قصَّة يُوسُف عليه السلام مَعَ أَن الْهم فِي اللِّسَان هُوَ الخاطر الأول فَإِذا تَمَادى سمي إِرَادَة وعزما فَإِن لم يَعْتَرِضهُ نقيض سمي نِيَّة ثمَّ إِن الله تَعَالَى وَصفه بالخاطر الأول فَقَالَ {هم} وهم يَقُولُونَ فعل وصنع لَا لعا لعثرتهم وَلَا سَلامَة
فصل فَإِن قيل فَمَا الْحق الَّذِي يعول عَلَيْهِ فِي هَذَا الْهم
فَنَقُول أَولا إِن بعض الْأَئِمَّة ذكرُوا أَن الْإِجْمَاع مُنْعَقد على عصمَة بواطنهم من كل خاطر وَقع فِيهِ النَّهْي وللمحققين أَقْوَال فِي هَذَا الْهم نذْكر الْمُخْتَار مِنْهَا إِن شَاءَ الله تَعَالَى
فَمنهمْ من قَالَ إِن فِي الْكَلَام تَقْدِيمًا وتأخيرا وترتيبه أَن يكون وَلَقَد هَمت بِهِ وَلَوْلَا أَن رأى برهَان ربه لَهُم بهَا وَيكون الْبُرْهَان هُنَا النُّبُوَّة والعصمة وَمَا كاشف من الْآيَات وخوارق الْعَادَات والتقديم وَالتَّأْخِير فِي لِسَان الْعَرَب سَائِغ
এবং এতদসত্ত্বেও আমরা নিশ্চিতভাবে জানি যে, আমাদের অজ্ঞতা, নিষ্পাপ না হওয়া এবং শিষ্টাচারের অভাব থাকা সত্ত্বেও আমাদের কেউ যদি সেই অবস্থায় থাকত এবং তার জাতি বা অনুসারীরা তা দেখে ফেলত, তবে সে অবশ্যই সংকুচিত হয়ে পড়ত এবং তার অবস্থা পরিবর্তিত হয়ে যেত। তাহলে আমাদের অবস্থা কেমন হতো যখন আমাদের পিতারা এবং মুরুব্বিরা আমাদের দেখে ফেলতেন? আর ফেরেশতাদের সামনেই বা কী হতো?
অতএব, এই বক্তব্যের ঘৃণ্যতার দিকে লক্ষ্য করুন এবং দেখুন এটি আল্লাহর নবীগণের ওপর কতটুকু ধৃষ্টতা ও অপবাদ একত্রিত করেছে, সাথে রয়েছে নির্লজ্জতা, লজ্জাহীনতা এবং মনোনীত শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের স্মরণে অবজ্ঞা। আল-হামদানি ও অন্যান্যরা ইউসুফ (আলাইহিস সালাম)-এর কাহিনীর ব্যাখ্যায় এটি উল্লেখ করেছেন, অথচ ভাষাগতভাবে 'হাম' (সংকল্প/চিন্তা) হলো মনের প্রথম উদিত ধারণা। যদি তা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে তাকে 'ইরাদা' (ইচ্ছা) এবং 'আযম' (দৃঢ় সংকল্প) বলা হয়। যদি এর বিপরীতে কোনো কিছু বাধা না দেয়, তবে তাকে 'নিয়ত' (উদ্দেশ্য) বলা হয়। এরপর আল্লাহ তাআলা একে প্রাথমিক ধারণা হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেন "সে তার প্রতি সংকল্প করেছিল", অথচ তারা বলে "তিনি করেছেন এবং ঘটিয়েছেন"। তাদের এই পদস্খলনের জন্য কোনো মার্জনা নেই এবং কোনো মুক্তি নেই।
পরিচ্ছেদ যদি প্রশ্ন করা হয়, তবে এই 'হাম' (সংকল্প/চিন্তা) সম্পর্কে সঠিক ও নির্ভরযোগ্য মতটি কী?
আমরা প্রথমত বলব, নিশ্চয়ই কোনো কোনো ইমাম উল্লেখ করেছেন যে, নবীদের অভ্যন্তরীণ সত্তা এমন প্রতিটি চিন্তা থেকে মুক্ত থাকার বিষয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যা নিষেধ করা হয়েছে। গবেষকদের এই 'হাম' বা সংকল্পের বিষয়ে বিভিন্ন মত রয়েছে, আল্লাহর ইচ্ছায় আমরা তার মধ্য থেকে পছন্দনীয় মতটি উল্লেখ করব।
তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন, এই বাক্যে শব্দের আগে-পিছে হওয়ার (তাকদিম ও তা’খির) রীতি ব্যবহৃত হয়েছে এবং এর বিন্যাসটি এমন হবে: "নিশ্চয়ই নারীটি তার প্রতি সংকল্প করেছিল, আর যদি তিনি তার রবের প্রমাণ দেখতে না পেতেন তবে তিনিও তার প্রতি সংকল্প করতেন।" এখানে 'প্রমাণ' বলতে নবুওয়াত, নিষ্পাপতা এবং তিনি যে সকল নিদর্শন ও অলৌকিক বিষয় প্রত্যক্ষ করেছেন তা বোঝানো হয়েছে। আর আরবি ভাষায় শব্দের এরূপ অগ্র-পশ্চাৎ বা ক্রম পরিবর্তন প্রচলিত ও বৈধ।
(খণ্ড: ১)
তানযীহুল আম্বিয়া আম্মা নুসিবা ইলাইহিম হুসালাতুল আগবিয়া
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
وَمِنْهُم من قَالَ هم بِحكم البشرية مَعَ الْغَفْلَة عَن ارْتِكَاب النَّهْي ثمَّ ذكره الله تَعَالَى الْإِيمَان وَتَحْرِيم الْمعْصِيَة وشؤمها والوعيد عَلَيْهَا وَهُوَ الْبُرْهَان الْأَعْظَم فصرف عَنهُ السوء والفحشاء وَلذَا قَالَ بَعضهم هم وَمَا تمّ لِأَن الْعِنَايَة من ثمَّ
وَمِنْهُم من قَالَ كَاد أَن يهم لَوْلَا الْعِصْمَة السَّابِقَة فَيكون الْهم هُنَا مجَازًا
وَمِنْهُم من قَالَ هم هم الفحولية وَذَلِكَ أَنه كَانَ عليه السلام فحلا شَابًّا خلت بِهِ امْرَأَة ذَات جمال وغنج وطالبته تِلْكَ الْمُطَالبَة فاهتز هزة الْفَحْل بهز ضَرُورِيّ غير مكتسب فَسُمي ذَلِك الاهتزاز هما لكَونه من أَسبَاب الْهم كَمَا تقدم وَيكون الْهم على هَذَا التَّفْسِير ضَرُورِيًّا وَلَا طلب فِي الضروريات وَأَقُول إِنَّه إِن كَانَ هم مكتسبا لهمه وَلم يفعل فَلَا لوم وَلَا ذَنْب بِدَلِيل الحَدِيث الْمُتَقَدّم الَّذِي مِنْهُ قَوْله عليه السلام وَمن هم بسيئة فَلم يعملها لم تكْتب شَيْئا مَعْنَاهُ لم يكْتب لَهُ صَغِيرَة وَلَا كَبِيرَة وَجَاء فِي حَدِيث آخر أَن تَارِك الْخَطِيئَة من أجل الله تكْتب لَهُ حَسَنَة بِدَلِيل قَوْله تَعَالَى للْمَلَائكَة اكتبوها لَهُ حَسَنَة فَإِنَّمَا تَركهَا من جراي أَي من أَجلي وَهَذَا ينظر إِلَى قَول الله تَعَالَى {فَأُولَئِك يُبدل الله سيئاتهم حَسَنَات} وَإِذا كَانَ هَذَا فِي حق الرّعية
তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন যে, মানুষের সহজাত প্রকৃতির প্রভাবে তাঁর মধ্যে সেই সংকল্প জাগ্রত হয়েছিল, তবে তা ছিল নিষিদ্ধ কাজে লিপ্ত হওয়ার ব্যাপারে অসতর্ক থাকা অবস্থায়। এরপর আল্লাহ তাআলা তাঁকে ঈমান, পাপাচারের নিষিদ্ধতা, এর অশুভ পরিণতি ও শাস্তির কথা স্মরণ করিয়ে দেন, যা হলো ‘মহা প্রমাণ’ (বুরহানে আজম)। ফলে তিনি তাঁর থেকে মন্দ ও অশ্লীলতাকে দূর করে দেন। এই কারণেই তাঁদের কেউ কেউ বলেছেন, তিনি সংকল্প করেছিলেন কিন্তু তা পূর্ণতা পায়নি, কারণ তখন সেখানে আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ বিদ্যমান ছিল।
তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন যে, পূর্ববর্তী ‘নিষ্পাপত্ব’ (ইসমত) না থাকলে তিনি হয়তো সংকল্প করেই ফেলতেন। এমতাবস্থায় এখানে ‘সংকল্প’ শব্দটি রূপক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন যে, এই সংকল্প ছিল মূলত পুরুষোচিত সহজাত প্রবৃত্তি। কারণ তিনি (আলাইহিস সালাম) ছিলেন একজন যুবক ও সুপুরুষ এবং একজন রূপবতী ও লাস্যময়ী নারী তাঁর সাথে নির্জনে অবস্থান করে সেই প্রস্তাব দিয়েছিল। ফলে তাঁর মধ্যে এক প্রকার সহজাত পুরুষোচিত আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল যা তাঁর স্বেচ্ছায় অর্জিত ছিল না। এই আলোড়নকে ‘সংকল্প’ বলা হয়েছে কারণ এটি সংকল্পের অন্যতম কারণ হিসেবে গণ্য হয়, যা ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই সংকল্পটি ছিল সহজাত, আর সহজাত বিষয়ে কোনো দায়বদ্ধতা থাকে না। আর আমি বলি যে, যদি তাঁর এই সংকল্পটি স্বেচ্ছায় অর্জিত হতো এবং তিনি তা বাস্তবায়ন না করতেন, তবে সেক্ষেত্রেও কোনো নিন্দা বা গুনাহ হতো না। এর প্রমাণ ইতিপূর্বে বর্ণিত সেই হাদিস, যাতে তিনি (আলাইহিস সালাম) বলেছেন: “যে ব্যক্তি কোনো মন্দ কাজের সংকল্প করে কিন্তু তা সম্পন্ন করে না, তার জন্য কিছুই লেখা হয় না।” এর অর্থ হলো, তার জন্য কোনো ছোট বা বড় গুনাহ লেখা হয় না। অন্য একটি হাদিসে এসেছে যে, যে ব্যক্তি আল্লাহর ভয়ে পাপ বর্জন করে, তার জন্য একটি নেকি লেখা হয়। এর প্রমাণ হলো ফেরেশতাদের প্রতি আল্লাহ তাআলার বাণী: “তোমরা এটি তার জন্য নেকি হিসেবে লিখে রাখো, কেননা সে কেবল আমার কারণেই তা বর্জন করেছে।” এটি আল্লাহ তাআলার এই বাণীর অনুরূপ: “তবে আল্লাহ তাদের মন্দ কাজগুলোকে নেকিতে পরিবর্তন করে দেবেন।” আর যখন সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে বিধান এমন হয়...
(খণ্ড: ১)
তানযীহুল আম্বিয়া আম্মা নুসিবা ইলাইহিম হুসালাতুল আগবিয়া
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
فالأنبياء عليهم السلام أولى بِهَذَا التّرْك لَا محَالة كَيفَ وَقد أثنى الله تَعَالَى عَلَيْهِ ونزهه بقوله عِنْدَمَا قَالَت {هيت لَك قَالَ معَاذ الله إِنَّه رَبِّي أحسن مثواي إِنَّه لَا يفلح الظَّالِمُونَ} فَهَذَا مِمَّا يدل على أَنه تَركهَا من أجل الله وَأَنه مأجور فِي تَركهَا
وَإِذا كَانَ هَذَا فَلَا ذَنْب وَلَا عتب يلْحق يُوسُف عليه السلام صَغِيرا وَلَا كَبِيرا بل يكون مأجورا فِي التّرْك
فَهَذِهِ أَقْوَال تشاكه الصَّوَاب وتليق بالأكابر
وَالْأَظْهَر القَوْل الْأَخير من هَذِه الْأَقْوَال لكَونه معضودا بالْخبر وَالْآيَة
وَالله أعلم
فَإِن قيل فَإِذا لم يتَصَوَّر فِي حق يُوسُف عليه السلام ذَنْب وَلَا عتب فلأي شَيْء قَالَ بَعْدَمَا أنصفته امْرَأَة الْعَزِيز وأقرت بِفِعْلِهَا {وَمَا أبرئ نَفسِي إِن النَّفس لأمارة بالسوء إِلَّا مَا رحم رَبِّي}
قُلْنَا وَمن أَيْن لَك أَن تَقول إِنَّه قَالَهَا وَالْآيَة تَقْتَضِي أَنَّهَا من قَول امْرَأَة الْعَزِيز وَذَلِكَ أَنه لما تأدب مَعهَا بآداب الْأَحْرَار حَيْثُ قَالَ لرَسُول الْملك {ارْجع إِلَى رَبك فَاسْأَلْهُ مَا بَال النسْوَة اللَّاتِي قطعن أَيْدِيهنَّ} فخلطها مَعَهُنَّ وَذكر فعلهن وأضرب عَن ذكر فعلهَا تناصفت هِيَ وأقرت بِأَنَّهَا راودته فَقَالَت {وَمَا أبرئ نَفسِي}
على أَنه لَو ثَبت أَنه قَالَهَا لَخَرَجت لَهُ أحسن مخرج وَذَلِكَ أَنه لما
নবীগণ (আলাইহিমুস সালাম) নিঃসন্দেহে এই ত্যাগের ক্ষেত্রে অগ্রগণ্য। কীভাবে নয়? আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রশংসা করেছেন এবং তাঁকে পবিত্র ঘোষণা করেছেন তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে যে, যখন সে (মহিলাটি) বলল, ‘এসো’, তখন তিনি (ইউসুফ) বললেন, ‘আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি, নিশ্চয়ই তিনি আমার থাকার উত্তম ব্যবস্থা করেছেন। নিশ্চয়ই জালিমরা সফলকাম হয় না।’ সুতরাং এটি প্রমাণ করে যে, তিনি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে তা বর্জন করেছেন এবং এই বর্জনের কারণে তিনি সওয়াবের অধিকারী।
আর যখন বিষয়টি এমন, তখন ছোট বা বড় কোনো গুনাহ বা তিরস্কার ইউসুফ (আলাইহিস সালাম)-এর প্রতি বর্তায় না; বরং তিনি তা বর্জন করার মাধ্যমে সওয়াবের অধিকারী হবেন।
এই মতগুলোই সত্যের সদৃশ এবং বড় মাপের মনীষীদের জন্য শোভনীয়।
এই মতগুলোর মধ্যে সর্বশেষ মতটিই অধিকতর সঠিক, কারণ এটি বর্ণনা এবং আয়াতের মাধ্যমে সমর্থিত।
আর আল্লাহই ভালো জানেন।
যদি প্রশ্ন করা হয়—যদি ইউসুফ (আলাইহিস সালাম)-এর ব্যাপারে কোনো গুনাহ বা তিরস্কার কল্পনা করা না যায়, তবে আযীযের স্ত্রী যখন তাঁর প্রতি ইনসাফ প্রদর্শন করল এবং নিজের কর্মের স্বীকৃতি দিল, তখন কেন তিনি বললেন: ‘আর আমি নিজেকে পবিত্র মনে করি না; নিশ্চয়ই মানুষের প্রবৃত্তি মন্দ কাজের আদেশ দিয়ে থাকে, কেবল সে ছাড়া যার প্রতি আমার রব রহম করেছেন’?
আমরা উত্তরে বলব—আপনি কোত্থেকে জানলেন যে তিনি এটি বলেছিলেন? আয়াতের প্রেক্ষাপট নির্দেশ করে যে এটি আযীযের স্ত্রীর উক্তি। কারণ তিনি (ইউসুফ) তাঁর প্রতি মহানুভবদের ন্যায় শিষ্টাচার প্রদর্শন করেছিলেন—যখন তিনি রাজার দূতের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, ‘তুমি তোমার প্রতিপালকের কাছে ফিরে যাও এবং তাকে জিজ্ঞেস করো যে, সেই নারীদের অবস্থা কী যারা নিজেদের হাত কেটে ফেলেছিল?’ তখন তিনি তাকে (আযীযের স্ত্রীকে) ওই নারীদের সাথে সম্মিলিতভাবে উল্লেখ করেছিলেন এবং কেবল তাদের কর্মকাণ্ডের কথা বলেছিলেন, আর তার (আযীযের স্ত্রীর) একক কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করা থেকে বিরত ছিলেন। এমতাবস্থায় সে ন্যায়পরায়ণতার পরিচয় দিয়ে স্বীকার করল যে সেই তাকে প্রলুব্ধ করেছিল এবং বলল, ‘আর আমি নিজেকে পবিত্র মনে করি না’।
তা সত্ত্বেও, যদি এটি প্রমাণিত হয় যে তিনি এটি বলেছিলেন, তবে তার সর্বোত্তম ব্যাখ্যা দেওয়া সম্ভব। আর তা হলো যখন...
(খণ্ড: ১)
তানযীহুল আম্বিয়া আম্মা নুসিবা ইলাইহিম হুসালাতুল আগবিয়া
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
أنصفته بإقرارها وتبرئته قَالَ هُوَ {وَمَا أبرئ نَفسِي} على أصل الحوار لَا على نفس الْوُقُوع كَمَا قَالَ الْخَلِيل عليه السلام {واجنبني وَبني أَن نعْبد الْأَصْنَام} وَهُوَ قد أَمن بالعصمة من عبادتها وَقَالَ تَعَالَى لنبينا عليه الصلاة والسلام {وَلَئِن شِئْنَا لَنَذْهَبَنَّ بِالَّذِي أَوْحَينَا إِلَيْك} وَهُوَ تَعَالَى قد شَاءَ أَلا يذهبه والعصمة والنزاهة لَهُ على كمالها
فليت شعري إِذا كَانَ للتأويل فِي هَذِه الْقِصَّة وأمثالها مجْرى سحب ومجال للسلامة رحب فَمَا بالهم يضيقون هَذَا الْوَاسِع لَوْلَا الفضول
তিনি (সেই নারী) তার স্বীকারোক্তি ও নির্দোষ সাব্যস্ত করার মাধ্যমে তাঁর প্রতি ইনসাফ করেছেন। তিনি (ইউসুফ আলাইহিস সালাম) বলেছিলেন: {আমি আমার নফসকে নির্দোষ মনে করি না}, যা মূলত আলোচনার রীতি অনুযায়ী বলা হয়েছে, বাস্তবিক কোনো ঘটনা ঘটার ভিত্তিতে নয়। যেমনটি খলীল (ইব্রাহিম) আলাইহিস সালাম বলেছিলেন: {আপনি আমাকে ও আমার সন্তানদের মূর্তিপূজা থেকে দূরে রাখুন}, অথচ তিনি ঐশী সুরক্ষার (ইসমত) কারণে মূর্তিপূজা থেকে নিরাপদ ছিলেন। আর মহান আল্লাহ আমাদের নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামকে বলেছেন: {আর আমরা যদি ইচ্ছা করতাম, তবে আপনার নিকট যা ওহী করেছি তা অবশ্যই তুলে নিতাম}, অথচ মহান আল্লাহ তা না করারই ইচ্ছা করেছেন। তাঁর জন্য সুরক্ষা এবং পবিত্রতা পূর্ণাঙ্গ রূপেই বিদ্যমান।
হায় আফসোস! এই ঘটনা এবং এর সমজাতীয় বিষয়সমূহে যদি ব্যাখ্যার অবকাশ এবং নিরাপত্তার প্রশস্ত ক্ষেত্র থাকে, তবে অনর্থক পাণ্ডিত্য প্রদর্শন না করলে কেন তারা এই প্রশস্ত বিষয়টিকে সংকীর্ণ করে তোলে?
(খণ্ড: ১)
তানযীহুল আম্বিয়া আম্মা নুসিবা ইলাইহিম হুসালাতুল আগবিয়া
(পৃষ্ঠা: ৫০)
شرح قصَّة نَبينَا عليه الصلاة والسلام مَعَ زيد وَزَيْنَب فِي قَوْله تَعَالَى {وَإِذ تَقول للَّذي أنعم الله عَلَيْهِ وأنعمت عَلَيْهِ أمسك عَلَيْك زَوجك وَاتَّقِ الله وتخفي فِي نَفسك مَا الله مبديه وتخشى النَّاس وَالله أَحَق أَن تخشاه} إِلَى قَوْله {وَكَانَ أَمر الله مَفْعُولا}
هَذِه من الْقَصَص الَّتِي امتحن بهَا عوام هَذِه الْأمة ومقلدوهم المجازفون المقتفون مَا لَيْسَ لَهُم بِهِ علم
والقصة بِحَمْد الله أشهر وَأظْهر من أَن يتقول فِيهَا بزور أَو يدلى بغرور وَالْأولَى أَن نقدم مَا صَحَّ من الْقِصَّة ثمَّ نرْجِع إِلَى شرح الْآيَة
وَالَّذِي صَحَّ مِنْهَا أَن الْمَرْأَة هِيَ زَيْنَب بنت جحش بن أُمَيْمَة بنت عبد الْمطلب جد رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَأما بَعْلهَا فَهُوَ زيد بن حَارِثَة مولى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم ومعتقه وَكَانَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قد رباه وتبناه وَكَانَ يُسمى ابْن رَسُول الله حَتَّى أنزل الله تَعَالَى {وَمَا جعل أدعياءكم أبناءكم ذَلِكُم قَوْلكُم بأفواهكم} فنفى الْبُنُوَّة بِالدَّعْوَى وَقَالَ {ادعوهُمْ لِآبَائِهِمْ هُوَ أقسط عِنْد الله} الْآيَة فَلَمَّا أدْرك زوجه رَسُول الله صلى الله عليه وسلم زَيْنَب الْمَذْكُورَة وَبَقِي مَعهَا حَتَّى أَمر الله تَعَالَى نبيه عليه السلام أَن يَتَزَوَّجهَا أَو أخبرهُ بِهِ كَمَا سَيَأْتِي فِي شرح الْآيَة إِن شَاءَ الله تَعَالَى
মহান আল্লাহর বাণী—"স্মরণ করুন, আল্লাহ যাকে অনুগ্রহ করেছেন এবং আপনিও যার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন, আপনি তাকে বলছিলেন, 'তোমার স্ত্রীকে তোমার কাছেই রাখো এবং আল্লাহকে ভয় করো।' আর আপনি আপনার অন্তরে যা গোপন করছিলেন তা আল্লাহ প্রকাশ করে দেবেন; আপনি মানুষকে ভয় করছিলেন, অথচ আল্লাহকেই ভয় করা আপনার জন্য অধিকতর সমীচীন"—থেকে তাঁর বাণী "আল্লাহর আদেশ কার্যকর হয়েই থাকে" পর্যন্ত আয়াতের প্রেক্ষাপটে জায়েদ ও জয়নাবের সাথে আমাদের নবী (তাঁর ওপর শান্তি ও আশীর্বাদ বর্ষিত হোক)-এর ঘটনার ব্যাখ্যা এটি এমন একটি ঘটনা যার মাধ্যমে এই উম্মতের সাধারণ মানুষ এবং তাদের হঠকারী অন্ধ অনুসারীরা পরীক্ষায় নিপতিত হয়েছে, যারা কোনো জ্ঞান ছাড়াই অনুমানের বশবর্তী হয়ে চলে।
আল্লাহর প্রশংসায়, এই ঘটনাটি মিথ্যাচার বা বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেয়েও অনেক বেশি প্রসিদ্ধ ও সুস্পষ্ট। তাই প্রথমত ঘটনার সঠিক বর্ণনাটি উপস্থাপন করাই শ্রেয়, এরপর আমরা আয়াতের ব্যাখ্যার দিকে ফিরে যাব।
ঘটনার যে অংশটি বিশুদ্ধ তা হলো—উক্ত নারী ছিলেন জয়নাব বিনতে জাহাশ ইবনে উমায়মাহ বিনতে আবদুল মুত্তালিব (রাসুলুল্লাহর দাদা)। আর তাঁর স্বামী ছিলেন জায়েদ ইবনে হারিসাহ, যিনি রাসুলুল্লাহর (তাঁর ওপর শান্তি ও আশীর্বাদ বর্ষিত হোক) মুক্ত করা দাস ছিলেন। রাসুলুল্লাহ (তাঁর ওপর শান্তি ও আশীর্বাদ বর্ষিত হোক) তাকে লালন-পালন করেছিলেন এবং নিজের পালক পুত্র হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। ফলে আল্লাহ তাআলা এই আয়াত নাজিল করার পূর্ব পর্যন্ত তাকে আল্লাহর রাসুলের পুত্র বলে ডাকা হতো—"তোমাদের পালক পুত্রদের তিনি তোমাদের প্রকৃত পুত্র করেননি; এটি কেবল তোমাদের মুখের কথা।" এভাবে আল্লাহ মৌখিক সম্পর্কের ভিত্তিতে পুত্রত্ব হওয়ার বিষয়টি নাকচ করে দেন এবং বলেন—"তোমরা তাদেরকে তাদের পিতৃপরিচয়ে ডাকো, আল্লাহর নিকট এটিই অধিক ন্যায়সংগত।" (আয়াতের অংশবিশেষ)। এরপর রাসুলুল্লাহ (তাঁর ওপর শান্তি ও আশীর্বাদ বর্ষিত হোক) উক্ত জয়নাবকে জায়েদের সাথে বিবাহ দিলেন এবং তিনি তাঁর সাথে সংসার করতে থাকলেন। পরবর্তীতে আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীকে (তাঁর ওপর শান্তি হোক) তাকে বিবাহ করার নির্দেশ প্রদান করেন অথবা সে বিষয়ে অবহিত করেন, যার বিস্তারিত বিবরণ ইনশাআল্লাহ আয়াতের ব্যাখ্যায় সামনে আসবে।
(খণ্ড: ১)
তানযীহুল আম্বিয়া আম্মা নুসিবা ইলাইহিম হুসালাতুল আগবিয়া
(পৃষ্ঠা: ৫১)
وَمَا تَقوله المُنَافِقُونَ والجهلة المجازفون من أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم رَآهَا وأحبها وشغف بحبها حَتَّى كَانَ يضع يَده على قلبه وَيَقُول يَا مُقَلِّب الْقُلُوب ثَبت قلب نبيك وَيدخل عَلَيْهِ زيد الْمَسْجِد وَيَقُول (ادن مني يَا زيد) شوقا إِلَيْهَا إِلَى غير ذَلِك من هذيانات لَا يرضاها صلحاء الْمُسلمين لأَنْفُسِهِمْ فَكيف سيد الْمُرْسلين فَكل ذَلِك بَاطِل متقول
وَكَذَلِكَ قَوْلهم إِنَّه عليه السلام رَآهَا فأحبها تخرص وزور وَكَيف وَقد تربت فِي حجر رَسُول الله صلى الله عليه وسلم حَتَّى زَوجهَا لزيد على أَنه لَو أحبها كَمَا اختلقوه لم يُدْرِكهُ فِي ذَلِك الْيَوْم لوم فَإِن الْحبّ أَمر ضَرُورِيّ لَا يدْخل تَحت الْكسْب جَاءَ عَنهُ صلى الله عليه وسلم أَنه قَالَ اللَّهُمَّ إِنِّي عدلت فِيمَا أملك فَاغْفِر لي مَا لَا أملك) يَعْنِي عدلت فِيمَا أكسب فَاغْفِر لي مَا لَا أكسب فَلم يكره الْعُقَلَاء الْحبّ إِلَّا لما يكون مَعَه للمحبين من الطيش والميل وَالذكر بِمَا لَا يَنْبَغِي وَطلب الظفر بالمحبوب على الْوُجُوه الْفَاسِدَة
وَهَذِه الْأُمُور كلهَا لَا تلِيق بصلحاء الْمُسلمين فَكيف بسادات الْمُرْسلين المعصومين مِمَّا دون ذَلِك كَمَا تقدم
جَاءَ فِي الْأَثر أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم مر بِرَجُل ينشد
(أَقبلت فلاح لَهَا
… عارضان كالسبج)
মুনাফিক এবং মূর্খ অবিবেচকরা যা বলে থাকে যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে দেখেছেন এবং তাকে ভালোবেসেছেন ও তার ভালোবাসায় বিভোর হয়েছেন, এমনকি তিনি নিজের হাত নিজের হৃদয়ের ওপর রাখতেন এবং বলতেন: 'হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী, আপনার নবীর অন্তরকে অবিচল রাখুন'; আর যায়েদ যখন মসজিদে প্রবেশ করতেন তখন তিনি তার প্রতি অনুরাগের কারণে বলতেন: 'হে যায়েদ, আমার নিকটবর্তী হও'—এই ধরণের আরও অন্যান্য প্রলাপ যা নেককার মুসলমানরা নিজেদের জন্যও পছন্দ করেন না, তবে কীভাবে তা রাসূলদের সরদারের ক্ষেত্রে সম্ভব হতে পারে? এই সব কিছুই বাতিল ও বানোয়াট কথা।
একইভাবে তাদের এই দাবি যে, তিনি (আলাইহিস সালাম) তাকে দেখেছিলেন এবং তাকে ভালোবেসেছিলেন—তা ভিত্তিহীন অনুমান ও মিথ্যাচার। এটি কীভাবে সম্ভব, অথচ সে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কোলেই প্রতিপালিত হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত তিনি নিজেই তাকে যায়েদের সাথে বিবাহ দিয়েছিলেন? তা ছাড়া, তারা যেমনটা মিথ্যা রটনা করেছে যদি তিনি তাকে ভালোবাসতেনও, তবুও সেই ক্ষেত্রে তাঁর ওপর কোনো নিন্দা আসত না। কারণ ভালোবাসা একটি স্বভাবজাত বিষয় যা মানুষের অর্জনের বা আয়ত্তের বিষয় নয়। তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পক্ষ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলতেন: "হে আল্লাহ, যা আমার অধিকারে বা আয়ত্তে আছে তাতে আমি ন্যায়বিচার করেছি, সুতরাং যা আমার আয়ত্তে নেই সে বিষয়ে আমাকে ক্ষমা করুন।" অর্থাৎ, আমি আমার ইচ্ছাধীন বিষয়ে ইনসাফ করেছি, সুতরাং যা আমার ইচ্ছাধীন নয় সে বিষয়ে আমাকে ক্ষমা করুন। বুদ্ধিমান ব্যক্তিরা ভালোবাসাকে অপছন্দ করেন না, বরং তারা কেবল ভালোবাসার সাথে প্রেমিকের যে চপলতা, পক্ষপাতিত্ব, অনুচিত আলোচনা এবং মন্দ উপায়ে প্রিয়জনকে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা থাকে, কেবল তা-ই অপছন্দ করেন।
আর এই সমস্ত বিষয় নেককার মুসলমানদের জন্যই শোভন নয়, তাহলে রাসূলগণের সরদারদের জন্য কীভাবে তা শোভন হতে পারে, যারা এর চেয়েও সামান্য বিষয় থেকেও পবিত্র ও নিষ্পাপ, যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে।
বর্ণনায় এসেছে যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জনৈক ব্যক্তির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যে আবৃত্তি করছিল
(সে সামনে এলো এবং তার জন্য প্রকাশিত হলো
… কুচকুচে কালো পাথরের মতো উজ্জ্বল দুই গাল)