(খণ্ড: ১) মাওসূআতু বাইতিল মাকদিস ওয়া বিলাদিশ শামিল হাদিসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
موسوعة بيت المقدس وبلاد الشام الحديثية   (أحمد بن سليمان بن أيوب)

القسم: التخريج والأطراف

الكتاب: موسوعة بيت المقدس وبلاد الشام الحديثية

المؤلف: أحمد بن سليمان بن أيوب، ومجموعة من طلبة العلم

الناشر: مركز بيت المقدس للدراسات التوثيقية - قبرص

الطبعة: الأولى، 1434 هـ - 2013 م

عدد الأجزاء: 1 (مجلد واحد)

عدد الصفحات: 1348

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 16 ربيع الأول 1443

বাইতুল মাকদিস ও বিলাদুশ শাম হাদিস বিশ্বকোষ   (আহমাদ বিন সুলাইমান বিন আইয়ুব)

বিভাগ: তাখরিজ ও আতরাফ

গ্রন্থ: বাইতুল মাকদিস ও বিলাদুশ শাম হাদিস বিশ্বকোষ

লেখক: আহমাদ বিন সুলাইমান বিন আইয়ুব এবং একদল ইলম অন্বেষী ছাত্র

প্রকাশক: মার্কাজ বাইতুল মাকদিস লিদ-দিরাসাত আত-তাওসিকিয়্যাহ (বাইতুল মাকদিস সেন্টার ফর ডকুমেন্টারি স্টাডিজ) - সাইপ্রাস

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৪ হিজরি - ২০১৩ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ১ (এক খণ্ড)

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৩৪৮

[বইটির নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

(খণ্ড: ১) মাওসূআতু বাইতিল মাকদিস ওয়া বিলাদিশ শামিল হাদিসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌كلمة المركز

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد للَّه رب العالمين، والصلاة والسلام على أشرف المرسلين، سيدنا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين وبعد:

فقد اتخذ مركز بيت المقدس للدراسات التوثيقية لنفسه منذ ولادته هدفًا ينشده، وهو كشف زور الأعداء، ومحاربة مخططاتهم، وغاية يطلبها وهي إعادة بيت المقدس إلى حاضرة الإسلام، وهذا الهدف وتلك الغاية كان ينبغي ليتم تحصيلها القيام بسلسلة من الإجراءات والأعمال التي توضح -وبنفس الوقت تذيب شُبَه الأعداء -مكانة هذه المنطقة الأسيرة -بيت المقدس- في تراثنا الإسلامي، فهو يؤصل لبيت المقدس تأصيلًا شرعيًّا، علاوة على التأصيل التاريخي، هذان العاملان كفيلان في إعادة اللحمة بين المسلمين، وكفيلان أيضًا في رفع الظلم والاستبداد الذي يقع على أهلنا هناك.

إن بيت المقدس له أهميته البالغة في نظر الإسلام؛ كيف لا ونحن نردد قوله تعالى: {سُبْحَانَ الَّذِي أَسْرَى بِعَبْدِهِ لَيْلًا مِنَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ إِلَى الْمَسْجِدِ الْأَقْصَى الَّذِي بَارَكْنَا حَوْلَهُ لِنُرِيَهُ مِنْ آيَاتِنَا إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ (1)} [الإسراء: 1] علاوة على الأحاديث الكثيرة التي تشير إلى أهمية هذه المنطقة.

ومن هنا فإن المركز لا يسأم ولا يتردد في إيجاد كل ما من شأنه أن يطرح على الساحة الفكرية لدى الناس ما له صلة بنظام الإسلام لا سيَّما العقدي، والتشريعي منه، فكانت هذه الموسوعة، التي تعد إصدارًا آخر من إصداراته
কেন্দ্রের বক্তব্য

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূলগণের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ, আমাদের নেতা মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সঙ্গীদের উপর। অতঃপর:

বাইনুল মাকদিস সেন্টার ফর ডকুমেন্টারি স্টাডিজ তার সূচনালগ্ন থেকেই নিজের জন্য একটি লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে যা সে অন্বেষণ করে, আর তা হলো শত্রুদের মিথ্যাচার উন্মোচন করা এবং তাদের ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করা; আর একটি উদ্দেশ্য যা সে কামনা করে, তা হলো বাইতুল মাকদিসকে ইসলামের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনা। এই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য এমন ধারাবাহিক পদক্ষেপ ও কর্মতৎপরতা গ্রহণ করা প্রয়োজন ছিল যা আমাদের ইসলামি ঐতিহ্যে এই বন্দী জনপদ—বাইতুল মাকদিসের—মর্যাদাকে স্পষ্ট করবে এবং একই সাথে শত্রুদের সংশয়গুলোকে অপনোদন করবে। এটি বাইতুল মাকদিসের জন্য ঐতিহাসিক ভিত্তির পাশাপাশি একটি শরয়ি ভিত্তিও সুপ্রতিষ্ঠিত করে। এই দুটি বিষয় মুসলমানদের মধ্যে পুনরায় ঐক্য ফিরিয়ে আনতে এবং সেখানে আমাদের স্বজনদের ওপর আপতিত জুলুম ও স্বৈরাচার দূর করতে সহায়ক হবে।

ইসলামের দৃষ্টিতে বাইতুল মাকদিসের গুরুত্ব অপরিসীম; কেনই বা হবে না, যখন আমরা মহান আল্লাহর এই বাণী তিলাওয়াত করি: {পবিত্র সেই সত্তা, যিনি তাঁর বান্দাকে রাতে ভ্রমণ করিয়েছিলেন মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসা পর্যন্ত, যার চারপাশকে আমি বরকতময় করেছি, যেন আমি তাকে আমার নিদর্শনাদি দেখাতে পারি। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা। (১)} [আল-ইসরা: ১]। এছাড়া এই অঞ্চলের গুরুত্ব নির্দেশকারী অসংখ্য হাদিস তো রয়েছেই।

এ কারণেই কেন্দ্র কখনও ক্লান্ত হয় না এবং দ্বিধাবোধ করে না এমন সব কিছু উপস্থাপন করতে যা মানুষের বুদ্ধিভিত্তিক অঙ্গনে ইসলামের বিধান সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো—বিশেষ করে আকিদা ও শরিয়ত সংক্রান্ত বিষয়সমূহ—তুলে ধরবে। তারই ধারাবাহিকতায় এই বিশ্বকোষটি প্রণীত হয়েছে, যা কেন্দ্রের প্রকাশনাগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি সংস্করণ।
(খণ্ড: ১) মাওসূআতু বাইতিল মাকদিস ওয়া বিলাদিশ শামিল হাদিসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২)
الفريدة من نوعها، والمتعلقة ببيت المقدس والشام، ليرى القارئ الكريم ذلك السفر العجيب من أحاديث رسولنا الكريم المأثورة حول هذه المنطقة، ليعلم بعد ذلك ما الدور الموكول على عاتقه تجاه تلك المسألة العقدية، هذا من ناحية، ومن ناحية أخرى فإن المركز -كغيره من الجهود- حريص على عدم ترك تصنيع الساحة الفكرية للمسلمين للأعداء، بل هو يُكَّرِسُ جهده، ويُعدِّد إصداراته، ويُكْثر حواراته حتى يتحقق قوله تعالى: {فَإِذَا جَاءَ وَعْدُ أُولَاهُمَا بَعَثْنَا عَلَيْكُمْ عِبَادًا لَنَا أُولِي بَأْسٍ شَدِيدٍ فَجَاسُوا خِلَالَ الدِّيَارِ وَكَانَ وَعْدًا مَفْعُولًا (5) ثُمَّ رَدَدْنَا لَكُمُ الْكَرَّةَ عَلَيْهِمْ وَأَمْدَدْنَاكُمْ بِأَمْوَالٍ وَبَنِينَ وَجَعَلْنَاكُمْ أَكْثَرَ نَفِيرًا (6) إِنْ أَحْسَنْتُمْ أَحْسَنْتُمْ لِأَنْفُسِكُمْ وَإِنْ أَسَأْتُمْ فَلَهَا فَإِذَا جَاءَ وَعْدُ الْآخِرَةِ لِيَسُوءُوا وُجُوهَكُمْ وَلِيَدْخُلُوا الْمَسْجِدَ كَمَا دَخَلُوهُ أَوَّلَ مَرَّةٍ وَلِيُتَبِّرُوا مَا عَلَوْا تَتْبِيرًا} [الإسراء: 5 - 7].

وعلى هذا يكون الهدف من عمل هذه الموسوعة يمكن أن يتبلور فيما يلي:

بيان أهمية بيت المقدس على لسان المصطفى صلى الله عليه وسلم.

تنقية التراث الحديثي المقدسي، وذلك ببيان صحيحه من ضعيفه.

لتكون هذه الموسوعة مرجعًا للباحثين وطلاب العلم والدعاة.

إذكاء روح التعلق ببيت المقدس في نفوس المسلمين.

هذا واللَّه نسأل أن يؤول هذا الجهد مبكرًا لتحقيق النبوة الإلهية الواردة في تلك الآيات، وأن يثيبنا على سعينا، ويرشدنا طرق الهداية والرشاد.

وصلى اللهم على سيدنا محمد، وعلى آله وصحبه أجمعين.
অনন্য বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত এবং বায়তুল মাকদিস ও শাম সংক্রান্ত, যাতে সম্মানীত পাঠক এই অঞ্চল সম্পর্কে আমাদের প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বর্ণিত হাদীসসমূহের সেই বিস্ময়কর সংকলন প্রত্যক্ষ করতে পারেন, যেন এর মাধ্যমে তিনি এই আকীগত বিষয়ের প্রতি নিজের কাঁধে অর্পিত দায়িত্ব সম্পর্কে সম্যক অবগত হতে পারেন। এটি একদিকে যেমন উদ্দেশ্য, অন্য দিকে এই কেন্দ্রটি—অন্যান্য প্রচেষ্টার ন্যায়—মুসলিমদের বুদ্ধিবৃত্তিক অঙ্গন নির্মাণের বিষয়টি শত্রুদের হাতে ছেড়ে না দিতে অত্যন্ত সজাগ। বরং এটি তার সকল প্রচেষ্টাকে নিয়োজিত করছে, প্রকাশনার সংখ্যা বৃদ্ধি করছে এবং আলোচনার পরিধি বিস্তৃত করছে, যতক্ষণ না মহান আল্লাহর এই বাণী বাস্তবায়িত হয়: {অতঃপর যখন সেই দুই প্রতিশ্রুতির প্রথমটি আসল, তখন আমি তোমাদের বিরুদ্ধে পাঠিয়েছিলাম আমার এমন এক বান্দাদের যারা ছিল অতিশয় শক্তিশালী; তারা জনপদগুলোর ভেতরে ঢুকে পড়েছিল। আর এটি ছিল একটি বাস্তবায়নযোগ্য প্রতিশ্রুতি। (৫) এরপর আমি তোমাদেরকে তাদের ওপর পুনরায় জয়ী করলাম এবং তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দ্বারা সাহায্য করলাম এবং তোমাদেরকে সংখ্যায় অধিক করলাম। (৬) যদি তোমরা ভালো করো, তবে তা নিজেদের জন্যই করবে আর যদি তোমরা মন্দ করো, তবে তাও নিজেদের জন্য। এরপর যখন পরবর্তী প্রতিশ্রুতিটি আসল, তখন তোমাদের চেহারাগুলোকে বিষণ্ণ করার জন্য এবং তারা যেন মসজিদে প্রবেশ করে যেমনিভাবে তারা প্রথমবার প্রবেশ করেছিল এবং তারা যা কিছুর ওপর জয়ী হয় তা যেন পুরোপুরি বিধ্বস্ত করে দেয়।} [সূরা আল-ইসরা: ৫ - ৭]।

আর এর ওপর ভিত্তি করেই এই বিশ্বকোষটি প্রণয়নের লক্ষ্যসমূহ নিম্নোক্তভাবে সংজ্ঞায়িত হতে পারে:

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র জবানে বায়তুল মাকদিসের গুরুত্ব বর্ণনা করা।

বায়তুল মাকদিস সংক্রান্ত হাদীস ভাণ্ডারকে পরিশুদ্ধ করা, অর্থাৎ হাদীসসমূহের বিশুদ্ধতা ও দুর্বলতা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করা।

গবেষক, ইলম অন্বেষী এবং দাঈদের জন্য এই বিশ্বকোষকে একটি তথ্যসূত্র হিসেবে প্রস্তুত করা।

মুসলিমদের অন্তরে বায়তুল মাকদিসের সাথে সম্পৃক্ত থাকার প্রেরণা জাগ্রত করা।

পরিশেষে আমরা আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন এই প্রচেষ্টা ওই আয়াতসমূহে বর্ণিত ঐশী ভবিষ্যদ্বাণী দ্রুত বাস্তবায়নের দিকে নিয়ে যায়, আর তিনি যেন আমাদের এই প্রচেষ্টার জন্য নেকী দান করেন এবং আমাদের হেদায়েত ও সঠিক পথের দিশা দেন।

আমাদের নেতা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১) মাওসূআতু বাইতিল মাকদিস ওয়া বিলাদিশ শামিল হাদিসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌تقديم

الحمد للَّه مُعز الإسلام بنصره، ومُذل الشرك بقهره، ومُصَّرف الأمور بأمره، ومُزيد النعم بشكره، ومُستدرج الكافرين بمكره، الذي قدَّر الأيام دولًا بعدله، وجعل العاقبة للمتقين بفضله، وأفاض على العباد من طلِّه وهطله، الذي أظهر دينه على الدين كله، القاهر فوق عباده فلا يُمانَع، والظاهر على خليقته فلا يُنارع، الآمر بما يشاء فلا يُراجَع، والحاكم بما يريد فلا يُدافَع، أحمده على إظفاره وإظهاره وإعزازه لأوليائه، ونصرة أنصاره، ومطهر بيت المقدس من أدناس الشرك وأوضاره، حمد من استشعر الحمد باطن سره وظاهر إجهاره، وأشهد أن لا إله إلا اللَّه وحده لا شريك له، الأحد الصمد، الذي لم يلد ولم يولد ولم يكن له كفوًا أحد، شهادة من طهَّر بالتوحيد قلبه، وأرضى به ربه، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله، رافع الشك، وداحض الشرك، ورافض الإفك، الذي أسري به من المسجد الحرام إلى المسجد الأقصى، وعرج به منه إلى السموات العلى، إلى سدرة المنتهى، عندها جنة المأوى، ما زاغ البصر وما طغى صلى الله عليه وسلم وعلى خليفته الصديق السابق إلى الإيمان، وعلى أمير المؤمنين عمر بن الخطاب، أول من رفع عن هذا البيت شعار الصلبان، وعلى أمير المؤمنين عثمان بن عفان ذي النورين وجامع القرآن، وعلى أمير المؤمنين علي بن أبي طالب مزلزل الشرك ومكسر الأصنام، وعلى آله وأصحابه والتابعين لهم بإحسان.‌‌(1)

--------------------------------------------

‌‌(1) هذا المصدر من أول خطبة ألقيت في المسجد الأقصى في عهد الناصر صلاح الدين الأيوبي، ألقاها القاضي محيي الدين بن الزكي، ذكر فيها فضائل المسجد الأقصى وكان أول ما قال: {فَقُطِعَ دَابِرُ الْقَوْمِ الَّذِينَ ظَلَمُوا وَالْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} عند ذلك تلي التنزيل وجاء الحق وبطلت الأباطيل، وصفَّت السجادات، وكثرت السجدات، وتنوعت العبادات، وارتفعت الدعوات، ونزلت البركات، وانجلت الكربات، وأقيمت الصلوات، وأذن المؤذنون، وخرس القسيسون، وزال البوس، وطابت النفوس، =
‌উপস্থাপনা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর সাহায্যের মাধ্যমে ইসলামকে সম্মানিত করেছেন, তাঁর দাপটের মাধ্যমে শিরককে লাঞ্ছিত করেছেন, তাঁর নির্দেশে সকল বিষয় পরিচালনা করেন, তাঁর শুকরিয়ার মাধ্যমে নেয়ামত বৃদ্ধি করেন এবং তাঁর কৌশলের মাধ্যমে কাফেরদের ধাপে ধাপে পতনের দিকে নিয়ে যান। তিনিই সেই সত্তা, যিনি স্বীয় ইনসাফে দিনগুলোকে আবর্তিত করেন এবং স্বীয় অনুগ্রহে মুত্তাকীদের জন্য শুভ পরিণাম নির্ধারিত করেছেন। তিনি তাঁর বান্দাদের ওপর প্রচুর অনুগ্রহ বর্ষণ করেছেন। তিনি সেই সত্তা, যিনি তাঁর দ্বীনকে সকল দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেছেন। তিনি তাঁর বান্দাদের ওপর মহাপরাক্রমশালী, তাই কেউ তাঁকে বাধা দিতে পারে না। তিনি তাঁর সৃষ্টির ওপর প্রকাশ্য, তাই কেউ তাঁর মোকাবিলা করতে পারে না। তিনি যা ইচ্ছা করেন তারই আদেশ দেন, যা পুনর্বিবেচনা করা যায় না। তিনি যা চান সেই ফয়সালাই করেন, যা প্রতিরোধ করা যায় না। আমি তাঁর প্রশংসা করি—তাঁর সাহায্য দান, তাঁর দ্বীনের বিজয়, তাঁর বন্ধুদের মর্যাদা দান এবং তাঁর সাহায্যকারীদের নসরতের জন্য। আর শিরকের আবর্জনা ও মলিনতা থেকে বায়তুল মাকদিসকে পবিত্র করার জন্য। সেই ব্যক্তির ন্যায় আমি তাঁর প্রশংসা করি, যে তার অন্তরের অন্তঃস্থলে এবং প্রকাশ্যে আল্লাহর প্রশংসা অনুভব করে। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। তিনি অমুখাপেক্ষী ও স্বয়ংসম্পূর্ণ সত্তা, যিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং জনিতও হননি, আর তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই। এমন এক ব্যক্তির সাক্ষ্য, যে তাওহীদের মাধ্যমে নিজের অন্তরকে পবিত্র করেছে এবং এর মাধ্যমে তার রবকে সন্তুষ্ট করেছে। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। তিনি সংশয় দূরকারী, শিরক উচ্ছেদকারী এবং মিথ্যা অপবাদ প্রত্যাখ্যানকারী। তাঁকে মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং সেখান থেকে তাঁকে ঊর্ধ্বাকাশে, সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, যার নিকট জান্নাতুল মাওয়া অবস্থিত। তাঁর দৃষ্টি বিভ্রান্ত হয়নি এবং লক্ষ্যচ্যুতও হয়নি। তাঁর ওপর এবং তাঁর খলিফা সিদ্দীকের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক, যিনি ঈমানের পথে অগ্রগামী ছিলেন। আর আমীরুল মুমিনীন উমর ইবনুল খাত্তাবের ওপর, যিনি সর্বপ্রথম এই ঘর থেকে ক্রুশের প্রতীক অপসারণ করেছিলেন। আর আমীরুল মুমিনীন উসমান ইবনে আফফানের ওপর, যিনি দুই নূরের অধিকারী এবং কুরআন সংকলনকারী। আর আমীরুল মুমিনীন আলী ইবনে আবি তালিবের ওপর, যিনি শিরক প্রকম্পিতকারী এবং মূর্তিসমূহ চূর্ণকারী। আর তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবীগণ এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করেন তাঁদের সকলের ওপর।‌‌(১)

--------------------------------------------

‌‌(১) এই উৎসটি সেই প্রথম খুতবা থেকে নেওয়া হয়েছে, যা নাসির সালাহউদ্দীন আইয়ুবীর যুগে মসজিদুল আকসায় প্রদান করা হয়েছিল। কাজী মুহিউদ্দীন ইবনুল জাকি এটি প্রদান করেছিলেন, যাতে তিনি মসজিদুল আকসার ফজিলত উল্লেখ করেন। তাঁর প্রথম কথা ছিল: {অতঃপর জালিম সম্প্রদায়ের মূল উৎপাটন করা হলো এবং সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য}। তখন ওহী তিলাওয়াত করা হলো, সত্যের আগমন ঘটল এবং মিথ্যা বাতিল হয়ে গেল। জায়নামাজগুলো বিছানো হলো, সিজদাহর সংখ্যা বৃদ্ধি পেল, ইবাদত বৈচিত্র্যময় হলো, দোয়াগুলো সমুন্নত হলো, বরকত নাজিল হলো, কষ্টসমূহ দূর হলো, সালাত কায়েম হলো, মুয়াজ্জিনগণ আজান দিলেন, পাদ্রীরা স্তব্ধ হয়ে গেল, দুঃখ দূর হলো এবং প্রাণসমূহ প্রশান্ত হলো, =
(খণ্ড: ১) মাওসূআতু বাইতিল মাকদিস ওয়া বিলাদিশ শামিল হাদিসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
أمَّا بعد

فإن المسجد الأقصى يمثل عند المسلمين عقيدة راسخة لا تزول ولا تتغير؛ فإنه أول القبلتين وثاني المسجدين، لا يشد الرحل بعد المسجدين إلا إليه، ولا تعقد الخناصر بعد الموطنين إلا عليه، وإليه أسري بالنبي صلى الله عليه وسلم وصلى فيه بالأنبياء والرسل، ومنه كان المعراج إلى السموات العلى، وهو أرض المحشر والمنشر يوم التلاق، وهو مقر الأنبياء، ومقصد الأولياء، فقدره عظيم، وشرفه كبير، والإيمان بفضله وشرفه عقيدة، والجهاد لتحريره عزة، والتخاذل عن نصره ذلة، والرضى بكونه مأسورًا ومدنسًا نفاق وخسة؛ لذا فإن الصراع بيننا وبين اليهود وحلفائهم ليس صراع أرض وحدود، وانما هو صراع عقيدة ووجود، ومن نظر إلى قضية القدس بغير هذا المنظور فهو جاهل ظلوم قد تجاوز الحدود، فاليهود يخوضون ضدنا حربًا دينية، ويتقربون إلى اللَّه -زعموا- بتخريب بلادنا، وافساد أخلاقنا، وتدمير اقتصادنا، ونحن نقاوم ذلك تحت راية القومية العربية، وليست تحت راية الدعوة الإسلامية، حتى هذه القومية المزعومة لم تحرك ساكنًا، أو تغير واقعًا لمَّا ناداهم الأقصى:

نادى على أهله الأقصى فما انتفضت … إلا الحجارة تفديه وتحميه

يا ألف مليون مخلوق لو ائتلفوا … لزلزلوا الكون دانيه وقاصيه

لعلَّنا إن سمعنا صوت نائحة .... واإخوتاه انتفضنا كي نلبيه

وفي المقابل ترى اليهود يعلنونها بكل صراحة: إن حربنا معكم مقدسة، في البروتوكول الخامس من بروتوكولات حكماء صهيون يقولون: إننا نقرأ في

--------------------------------------------

= وأقبلت السعود، وأدبرت النحوس، وعُبد اللَّه الأحد الصمد الذي لم يلد ولم يولد ولم يكن له كفوًا أحد، وكبره الراكع والساجد والقائم والقاعد، وامتلأ الجامع، وسالت لرقة القلوب المدامع، وقد صدرت القول بها تيمنًا لعلَّنا نسمع مثلها عن قريب، ووقتئذٍ يفرح المؤمنون بنصر اللَّه.
এরপর

নিশ্চয়ই মুসলিমদের নিকট মসজিদুল আকসা একটি সুদৃঢ় আকিদা যা কখনো বিলীন হয় না এবং পরিবর্তন হয় না; কেননা এটি প্রথম কিবলা এবং দ্বিতীয় মসজিদ, দুই পবিত্র মসজিদ ছাড়া কেবলমাত্র এর দিকেই সফরের সরঞ্জাম বাঁধা হয় (সফরের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়), এবং দুই পবিত্র স্থানের পর এটি ছাড়া আর কিছুর প্রতিই বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করা হয় না। এখানেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রাত্রিকালীন ভ্রমণ (ইসরা) করানো হয়েছিল এবং তিনি সেখানে নবী ও রাসূলদের নিয়ে সালাত আদায় করেছিলেন, আর এখান থেকেই উর্ধ্বাকাশে মেরাজ সংঘটিত হয়েছিল। এটি হাশর ও পুনরুত্থানের ভূমি, নবীদের অবস্থানস্থল এবং আউলিয়াদের গন্তব্যস্থল। সুতরাং এর মাহাত্ম্য অপরিসীম এবং এর মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ। এর শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদায় বিশ্বাস স্থাপন করা একটি আকিদা, একে স্বাধীন করার জিহাদ একটি সম্মান, একে সাহায্য করার ক্ষেত্রে শৈথিল্য প্রদর্শন করা লাঞ্ছনা, এবং একে বন্দী ও অপবিত্র অবস্থায় থাকতে দেখে সন্তুষ্ট থাকা নিফাক ও নীচতা; তাই আমাদের এবং ইহুদি ও তাদের মিত্রদের মধ্যকার এই দ্বন্দ্ব কোনো ভূমি বা সীমানা নিয়ে দ্বন্দ্ব নয়, বরং এটি আকিদা ও অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। যে ব্যক্তি কুদসের বিষয়টিকে এই দৃষ্টিভঙ্গি ছাড়া অন্যভাবে দেখে, সে একজন মূর্খ ও জালিম যে সীমা অতিক্রম করেছে। ইহুদিরা আমাদের বিরুদ্ধে ধর্মীয় যুদ্ধ পরিচালনা করছে, এবং তারা তাদের ধারণানুযায়ী আমাদের দেশসমূহ ধ্বংস করে, আমাদের চরিত্রের অবক্ষয় ঘটিয়ে এবং আমাদের অর্থনীতি ধসিয়ে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে চায়; আর আমরা তার প্রতিরোধ করছি আরব জাতীয়তাবাদের পতাকাতলে, ইসলামী দাওয়াতের পতাকাতলে নয়। এমনকি এই কথিত জাতীয়তাবাদও কোনো নড়াচড়া করেনি বা বাস্তবতার কোনো পরিবর্তন করেনি যখন আকসা তাদের ডেকেছিল:

আকসা তার আপনজনদের ডাকল, কিন্তু পাথর ছাড়া কেউ বিদ্রোহী হয়ে ওঠেনি … যা তাকে রক্ষা করছে এবং তার জন্য উৎসর্গিত হচ্ছে

হে একশ কোটি সৃষ্টি! তারা যদি ঐক্যবদ্ধ হতো … তবে নিকট ও দূরের সমগ্র মহাবিশ্বকে প্রকম্পিত করে দিত

হয়তো যদি আমরা কোনো বিলাপকারিনীর আর্তনাদ শুনতাম .... ‘হায় ভাইয়েরা’ বলে, তবে আমরা তার ডাকে সাড়া দিতে জেগে উঠতাম

পক্ষান্তরে আপনি দেখবেন ইহুদিরা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ঘোষণা করছে: তোমাদের সাথে আমাদের যুদ্ধ হলো পবিত্র যুদ্ধ। ‘প্রটোকল অব দি এলডার্স অব জায়ন’-এর পঞ্চম প্রটোকলে তারা বলছে: আমরা পাঠ করি...

--------------------------------------------

= সৌভাগ্য জাগ্রত হলো এবং দুর্ভাগ্যের বিদায় ঘটল। সেই আল্লাহর ইবাদত করা হলো যিনি এক ও অমুখাপেক্ষী, যিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাকেও কেউ জন্ম দেয়নি এবং তাঁর সমতুল্য কেউ নেই। রুকুকারী, সেজদাকারী, দণ্ডায়মান ও উপবিষ্ট সকলে তাঁর বড়ত্ব ঘোষণা করল। মসজিদ পূর্ণ হলো এবং হৃদয়ের কোমলতায় অশ্রুধারা প্রবাহিত হলো। বরকতের আশায় এই কথাগুলো দিয়ে বক্তব্য শুরু করা হয়েছে, যাতে আমরা শীঘ্রই এমন কিছু শুনতে পাই, আর সে সময়ে মুমিনগণ আল্লাহর সাহায্যে আনন্দিত হবে।
(খণ্ড: ১) মাওসূআতু বাইতিল মাকদিস ওয়া বিলাদিশ শামিল হাদিসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
شريعة الأنبياء: أننا مختارون من اللَّه لنحكم الأرض. وفي صحيفة يديعوت أحرنوت اليهودية نشرت مقالًا في 11/ 3/ 1987 م جاء فيه: إنَّ على وسائل إعلامنا أن لا تنسى حقيقة مهمة هي جزء من استراتيجية إسرائيل في حربها مع العرب، هذه الحقيقة هي أننا نجحنا بجهودنا وجهود أصدقائنا في إبعاد الإسلام عن معركتنا مع العرب طوال ثلاثين عامًا، ويجب أن يبقى الإسلام بعيدًا عن تلك المعركة إلى الأبد، ولهذا يجب أن لا نغفل لحظة واحدة عن تنفيذ خطتنا تلك في استمرار منع استيقاظ الروح الدينية بأي شكل وبأي أسلوب ولو اقتضى الأمر الاستعانة بأصدقائنا لاستعمال العنف لإخماد أي بادرة ليقظة الروح الإسلامية في المنطقة المحيطة بنا.

وعندما أُعلنت دولة إسرائيل دولة لها كيانها واستقلالها -لا أقامها اللَّه- قام أول رئيس للوزراء وهو بن جوريون في هيئة الأمم المتحدة وقال على الملأ: قد لا يكون لنا الحق في فلسطين من منظور سياسي أو قانوني ولكن لنا الحق في فلسطين من منظور ديني، فهي أرض الموعد التي وعدنا اللَّه إياها من النيل إلى الفرات، وإنه يجب الآن على كل يهودي في أنحاء العالم بعد قيام دولة إسرائيل أن يهاجر إلى فلسطين، فإن كل يهودي لا يهاجر اليوم إلى أرض فلسطين فإنه يكفر كل يوم بالدين اليهودي.

ومع هذا التصريح والبيان من غير تلميح نرى بين صفوفنا قومًا يصرون على أن الدين لا دخل له في صراعنا مع اليهود:

أحل الكفر بالإسلام ضيمًا … يطول عليه للدين النحيب

فحق ضائع وحمى مباح … وسيف قاطع ودم صبيب

وكم من مسلم أمسى سليبًا … ومسلمة لها حرم سليب
নবীদের বিধান: আমরা আল্লাহর পক্ষ থেকে মনোনীত যাতে পৃথিবী শাসন করতে পারি। ইহুদি সংবাদপত্র 'ইয়াদিউত আহরোনত' ১১/০৩/১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করে যাতে বলা হয়েছে: আমাদের গণমাধ্যমের একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্য ভুলে গেলে চলবে না যা আরবদের সাথে যুদ্ধের ক্ষেত্রে ইসরায়েলের রণকৌশলের অংশ; সেই সত্যটি হলো, আমরা আমাদের এবং আমাদের বন্ধুদের প্রচেষ্টায় দীর্ঘ ত্রিশ বছর ধরে আরবদের সাথে আমাদের লড়াই থেকে ইসলামকে দূরে রাখতে সফল হয়েছি। ইসলামকে চিরকাল এই লড়াই থেকে দূরেই রাখতে হবে। এই কারণে আমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এক মুহূর্তের জন্যও শিথিলতা দেখানো যাবে না, যা হলো যেকোনো উপায়ে ধর্মীয় চেতনার জাগরণ রোধ করা; এমনকি আমাদের পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে ইসলামি জাগরণের যেকোনো লক্ষণ দমনে যদি আমাদের বন্ধুদের সহায়তায় সহিংসতা ব্যবহারের প্রয়োজন হয়, তবে তা-ই করতে হবে।

যখন ইসরায়েল রাষ্ট্রকে একটি স্বতন্ত্র ও স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়—আল্লাহ একে প্রতিষ্ঠিত না রাখুন—তখন প্রথম প্রধানমন্ত্রী বেন গুরিয়ন জাতিসংঘে প্রকাশ্যে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন: রাজনৈতিক বা আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে ফিলিস্তিনের ওপর আমাদের অধিকার না-ও থাকতে পারে, কিন্তু ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ফিলিস্তিনে আমাদের অধিকার রয়েছে। কারণ এটি হলো সেই প্রতিশ্রুত ভূমি যা আল্লাহ আমাদের নীল নদ থেকে ফুরাত নদী পর্যন্ত দেওয়ার ওয়াদা করেছেন। ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর এখন বিশ্বের প্রতিটি ইহুদির জন্য ফিলিস্তিনে হিজরত করা আবশ্যক। যে ইহুদি আজ ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে হিজরত করবে না, সে প্রতিদিন ইহুদি ধর্মকে অস্বীকার করছে।

ইঙ্গিতহীন এই প্রকাশ্য ঘোষণা ও বিবৃতির পরও আমরা আমাদের কাতারগুলোতে এমন কিছু লোক দেখতে পাই যারা জেদ ধরে বলে যে, ইহুদিদের সাথে আমাদের দ্বন্দ্বে ধর্মের কোনো সম্পর্ক নেই:

কুফর ইসলামের ওপর যুলুম চাপিয়ে দিয়েছে … যার কারণে দ্বীনের বিলাপ দীর্ঘায়িত হচ্ছে

অধিকার আজ বিলীন এবং পবিত্র স্থান লুণ্ঠিত … তীক্ষ্ণ তলোয়ার আর প্রবাহিত রক্ত

কত মুসলিম আজ রিক্ত-নিঃস্ব হয়েছে … আর কত মুসলিম রমণী তার সম্ভ্রম হারিয়েছে
(খণ্ড: ১) মাওসূআতু বাইতিল মাকদিস ওয়া বিলাদিশ শামিল হাদিসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
وكم من مسجد جعلوه ديرًا … على محرابه نصب الصليب

دم الخنزير فيه لهم خلوق … وتحريق المصاحف فيه طيب

أمور لو تأملهن طفل … لطفل في عوارضه المشيب

أتسبى المسلمات بكل ثغر … وعيش المسلمين إذًا يطيب

أما للَّه والإسلام حق … يدافع عنه شبان وشيب

فقل لذوي البصائر حيث كانوا … أجيبوا اللَّه ويحكمُ أجيبوا

فالقدس لن تعود إلا بالمؤمنين أصحاب العقيدة التي تقدس البيت المقدس وتطأ اليهود والشرك المدنس، ولا عزة إلا بهذا.

في العام السادس عشر من الهجرة النبوية تم فتح بيت المقدس على يد أمير المؤمنين عمر بن الخطاب رضي الله عنه، ولما قدم عمر وصلى في المسجد الأقصى أراد عمر رضي الله عنه أن يجهر بهذه العقيدة، فلما قدم بيت المقدس عرضت له مخاضة فنزل عن بعيره ونزع موقيه فأمسكهما بيده وخاض الماء ومعه بعيره، فقال له أبو عبيدة: قد صنعت اليوم صنيعًا عظيمًا عند أهل الأرض صنعت كذا وكذا قال: فصك في صدره وقال: لو غيرك يقولها يا أبا عبيدة إنكم كنتم أذل الناس وأحقر الناس وأقل الناس فأعزكم اللَّه بالإسلام، فمهما تطلبوا العزة بغيره يذلكم اللَّه. نعم واللَّه يا عمر لا عزة ولا نصرة ولا فلاح إلا باللَّه {وَلِلَّهِ الْعِزَّةُ وَلِرَسُولِهِ وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَلَكِنَّ الْمُنَافِقِينَ لَا يَعْلَمُونَ}‌‌(2).

وفي محاولة منَّا لنصرة قضية المسلمين في فلسطين شمرنا عن ساعد الجد، لجمع كل ما ورد في كتاب اللَّه وسنة نبيه صلى الله عليه وسلم عن هذه البقعة المباركة على وجه الخصوص وعن بلاد الشام قاطبةً على وجه العموم.

فلعل غافلًا ينتبه، وجاهلًا يتعلم، وناسًا يتذكر، وعالمًا يزداد علمًا ويقينًا.

--------------------------------------------

‌‌(2) المنافقون: 8.
কত মসজিদ তারা গির্জায় পরিণত করেছে … তার মেহরাবের ওপর ক্রুশ স্থাপন করা হয়েছে

তাতে শূকরের রক্ত তাদের জন্য সুগন্ধি … আর পবিত্র কুরআন পোড়ানো তাদের নিকট অতি উত্তম কাজ

এমন সব বিষয় যা যদি কোনো শিশু চিন্তা করে … তবে সেই শিশুর গালগুলোতে বার্ধক্যের শুভ্রতা নেমে আসবে

প্রতিটি সীমান্তে কি মুসলিম মহিলারা বন্দী হবে … আর তখনো কি মুসলমানদের জীবন আনন্দময় থাকবে?

আল্লাহ এবং ইসলামের কি কোনো অধিকার নেই … যার সপক্ষে যুবক ও বৃদ্ধরা লড়াই করবে?

সুতরাং প্রজ্ঞাবানরা যেখানেই থাকুক তাদের বলো … আল্লাহর ডাকে সাড়া দাও, তোমাদের দুর্ভোগ! তোমরা সাড়া দাও

নিশ্চয় কুদস কেবল সেই সকল মুমিনদের দ্বারাই ফিরে আসবে যারা এমন আকিদার অধিকারী যা পবিত্র ঘরকে (বায়তুল মাকদিস) পবিত্র জ্ঞান করে এবং ইহুদি ও অপবিত্র শিরককে পদদলিত করে; আর এটি ছাড়া কোনো সম্মান নেই।

নববী হিজরতের ষোড়শ বর্ষে আমিরুল মুমিনীন উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাতে বায়তুল মাকদিস বিজিত হয়। যখন উমর এলেন এবং মসজিদে আকসায় সালাত আদায় করলেন, উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) চাইলেন এই আকিদাকে উচ্চকিত করতে। যখন তিনি বায়তুল মাকদিস অভিমুখে আসছিলেন, তখন তার সামনে একটি জলাশয় পড়ল। তিনি তার উট থেকে নামলেন এবং চামড়ার মোজা জোড়া খুলে নিজের হাতে নিলেন এবং উটসহ পানি পার হলেন। তখন আবু উবাইদাহ তাঁকে বললেন: আপনি আজ পৃথিবীর মানুষের সামনে এক বিশাল কাজ করলেন, আপনি এই এই করলেন! তিনি (উমর) তার বুকে করাঘাত করে বললেন: ওহে আবু উবাইদাহ, যদি অন্য কেউ এ কথা বলত! নিশ্চয়ই তোমরা ছিলে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে লাঞ্ছিত, তুচ্ছ ও নগণ্য; অতঃপর আল্লাহ ইসলামের মাধ্যমে তোমাদের সম্মানিত করেছেন। সুতরাং তোমরা যখনই ইসলাম ব্যতীত অন্য কিছুর মাধ্যমে সম্মান খুঁজবে, আল্লাহ তোমাদের লাঞ্ছিত করবেন। হ্যাঁ, আল্লাহর কসম হে উমর! আল্লাহ ব্যতীত কোনো সম্মান, সাহায্য ও সফলতা নেই। "আর সম্মান তো আল্লাহরই জন্য, আর তাঁর রাসুলের জন্য এবং মুমিনদের জন্য; কিন্তু মুনাফিকরা তা জানে না।"‌‌(২)।

ফিলিস্তিনের মুসলিম ইস্যুকে সাহায্য করার একটি প্রচেষ্টায় আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে কাজ শুরু করেছি, যাতে মহান আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাহ থেকে এই বরকতময় ভূখণ্ড সম্পর্কে বিশেষভাবে এবং পুরো শাম ভূখণ্ড সম্পর্কে সাধারণভাবে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে তা সংগ্রহ করা যায়।

সম্ভবত এর মাধ্যমে কোনো গাফেল সতর্ক হবে, কোনো জাহিল শিক্ষা গ্রহণ করবে, কোনো বিস্মৃত ব্যক্তি স্মরণ করবে এবং কোনো আলেম জ্ঞান ও ইয়াকিনে সমৃদ্ধ হবে।

--------------------------------------------

‌‌(২) আল-মুনাফিকুন: ৮।
(খণ্ড: ১) মাওসূআতু বাইতিল মাকদিস ওয়া বিলাদিশ শামিল হাদিসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
ولربما استيقظت أمة من سباتها لتسترد مجدًا قد سلب منها، وأرضًا قد حُبسنا عنها، ومسجدًا قد شكى إلى اللَّه منَّا.

فجمعنا في ذلك ما ورد من الآيات، وما ثبت أو لم يثبت عن كل الأنبياء، وما أُثر عن الصحابة والتابعين والعلماء؛ ليكتمل البناء، ويتضح المقال، وينكشف ما كان مخبأً في ثنايا السطور والمصنفات، فغدت هذه الموسوعة بحمد اللَّه جامعةً لكل الفضائل والآيات، ومبينة فضل هذه البلاد على غيرها من الجارات سوى مكة والمدينة؛ فهما موطن الشرف ومهبط الوحي والفرقان.
সম্ভবত কোনো উম্মত তার দীর্ঘ তন্দ্রা থেকে জেগে উঠেছে যাতে সে তার থেকে ছিনিয়ে নেওয়া গৌরব, আমাদের জন্য রুদ্ধ করা ভূখণ্ড এবং আল্লাহর কাছে আমাদের ব্যাপারে অভিযোগকারী মসজিদকে পুনরুদ্ধার করতে পারে।

ফলে আমরা এতে পবিত্র আয়াতসমূহ হতে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে, সকল নবীগণের পক্ষ থেকে যা সাব্যস্ত হয়েছে কিংবা সাব্যস্ত হয়নি, এবং সাহাবী, তাবিঈ ও আলেমগণ হতে যা বর্ণিত হয়েছে—তা একত্রিত করেছি; যাতে নির্মাণশৈলী পূর্ণতা লাভ করে, বক্তব্য স্পষ্ট হয় এবং কিতাব ও পঙক্তিগুলোর মাঝে যা কিছু প্রচ্ছন্ন ছিল তা উন্মোচিত হয়। আল্লাহর প্রশংসায় এই বিশ্বকোষটি এখন সমস্ত ফজিলত ও আয়াতের এক পূর্ণাঙ্গ সংকলন হয়ে উঠেছে এবং মক্কা ও মদিনা ব্যতীত প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় এই ভূখণ্ডের শ্রেষ্ঠত্বকে সুনিশ্চিত করেছে; কেননা ওই দুই পবিত্র স্থান হলো সম্মানের আবাস এবং ওহী ও ফুরকান অবতীর্ণ হওয়ার কেন্দ্রস্থল।
(খণ্ড: ১) মাওসূআতু বাইতিল মাকদিস ওয়া বিলাদিশ শামিল হাদিসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌تنبيه ونصيحة

اعلم أن اللَّه تبارك وتعالى قد شرَّف بقاعًا على بقاع، ومواضع على مواضع، وشرَّف أمكنة بفضائل متعددة، وأخرى لا نصيب لها من أي فضيلة، وذلك فضل اللَّه يؤتيه من يشاء، وليست العبرة بذكر هذه الفضائل وحسب، إنما بانتفاع الإنسان بها، والحرص على الخير أينما حلّ وارتحل.

فلو جاور عند الكعبة وهي أشرف البقاع وعمد إلى المعاصي وغفل عن الطاعات فإنه لا ينتفع بشرف هذه المجاورة؛ فالفضل الذي لا خلاف فيه إنما يكمن في طاعة اللَّه وطاعة رسوله صلى الله عليه وسلم أي مكان كان، في أي بقعة كانت.

قال شيخ الإسلام رحمه الله: الإقامة في كل موضع يكون الإنسان فيه أطوع للَّه ورسوله، وأفعل للحسنات والخير، بحيث يكون أعلم بذلك، وأقدر عليه، وأنشط له، أفضل من الإقامة في موضع يكون حاله فيه في طاعة اللَّه ورسوله دون ذلك. هذا هو الأصل الجامع؛ فإن أكرم الخلق عند اللَّه أتقاهم.

والتقوى هي: ما فسّرها اللَّه تعالى في قوله: {وَلَكِنَّ الْبِرَّ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ. . .} إلى قوله {أُولَئِكَ الَّذِينَ صَدَقُوا وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُتَّقُونَ}‌‌(3)، وجماعها فعل ما أمر اللَّه به ورسوله، وترك ما نهى اللَّه عنه ورسوله صلى الله عليه وسلم.

وإذا كان هذا هو الأصل فهذا يتنوع بتنوع حال الإنسان، فقد يكون مقام الرجل في أرض الكفر والفسوق من أنواع البدع والفجور أفضل إذا كان مجاهدًا في سبيل اللَّه بيده أو لسانه، آمرًا بالمعروف، ناهيًا عن المنكر، بحيث لو انتقل عنها إلى أرض الإيمان والطاعة لقلَّت حسناته، ولم يكن فيها مجاهدًا، وإن كان أروح قلبًا، وكذلك إذا عدم الخير الذي كان يفعله في أماكن الفجور والبدع.

--------------------------------------------

‌‌(3) البقرة: 177.
সতর্কবাণী ও উপদেশ

জেনে রাখুন যে, আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা কিছু ভূখণ্ডকে অন্য ভূখণ্ডের ওপর এবং কিছু স্থানকে অন্য স্থানের ওপর মর্যাদা দান করেছেন। তিনি কিছু জায়গাকে বহুমুখী ফজিলত দ্বারা সম্মানিত করেছেন, আবার অন্য কোনো জায়গার কোনো ফজিলতই নেই। আর এটি আল্লাহর অনুগ্রহ, তিনি যাকে ইচ্ছা তা দান করেন। কেবল এই ফজিলতগুলো উল্লেখ করাই মূল উদ্দেশ্য নয়, বরং উদ্দেশ্য হলো মানুষ এর মাধ্যমে কতটা উপকৃত হলো এবং সে যেখানেই অবস্থান করুক বা ভ্রমণ করুক না কেন, কল্যাণের প্রতি কতটা আগ্রহী থাকল।

সুতরাং কেউ যদি কাবার পাশে বসবাস করে—যা সর্বশ্রেষ্ঠ ভূখণ্ড—কিন্তু সে পাপাচারে লিপ্ত হয় এবং আনুগত্যের ব্যাপারে উদাসীন থাকে, তবে সে এই নৈকট্যের মর্যাদা দ্বারা উপকৃত হতে পারবে না। কারণ যে শ্রেষ্ঠত্বের বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই, তা নিহিত রয়েছে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আনুগত্যের মধ্যে, তা যে কোনো স্থানে বা যে কোনো ভূখণ্ডেই হোক না কেন।

শাইখুল ইসলাম রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন: এমন প্রতিটি স্থানে বসবাস করা যেখানে অবস্থান করলে মানুষ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি অধিক অনুগত হতে পারে এবং নেক আমল ও কল্যাণকর কাজ বেশি করতে পারে—যেহেতু সে সম্পর্কে সে অধিক অবগত হয়, তাতে অধিক সক্ষম হয় এবং অধিক উদ্যমী হয়—তা এমন স্থানে বসবাস করার চেয়ে উত্তম যেখানে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্যের ক্ষেত্রে তার অবস্থা এর চেয়ে নিম্নতর হয়। এটিই হলো সামগ্রিক মূলনীতি; কেননা আল্লাহর নিকট সেই ব্যক্তিই সবচেয়ে বেশি মর্যাদাবান যে সবচেয়ে বেশি পরহেযগার।

আর তাকওয়া হলো তাই, যা আল্লাহ তাআলা তাঁর এই বাণীতে ব্যাখ্যা করেছেন: {কিন্তু পুণ্য হলো তার যে ঈমান আনল আল্লাহর ওপর এবং শেষ দিবসের ওপর...} তাঁর এই বাণী পর্যন্ত {তারাই তারা যারা সত্যবাদী এবং তারাই হলো মুত্তাকী}‌‌(৩), আর এর সারকথা হলো আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যা আদেশ করেছেন তা পালন করা এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা নিষেধ করেছেন তা বর্জন করা।

আর এটিই যখন মূলনীতি, তখন তা মানুষের অবস্থা ভেদে ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। কোনো ব্যক্তির জন্য কুফর ও পাপাচারের ভূমিতে এবং বিভিন্ন প্রকার বিদআত ও অনৈতিকতাপূর্ণ পরিবেশে অবস্থান করাও উত্তম হতে পারে যদি সে সেখানে হাত অথবা জিহ্বা দ্বারা আল্লাহর পথে জিহাদরত থাকে, সৎকাজের আদেশ দেয় ও অসৎকাজ থেকে নিষেধ করে; এমন অবস্থায় সে যদি সেখান থেকে ঈমান ও আনুগত্যের ভূমিতে চলে আসে তবে তার নেক আমল কমে যাবে এবং সে সেখানে মুজাহিদ হিসেবে গণ্য হবে না, যদিও এতে তার অন্তরের প্রশান্তি বৃদ্ধি পেতে পারে। একইভাবে, যদি সে পাপাচার ও বিদআতের স্থানগুলোতে যে কল্যাণকর কাজগুলো করত তা সেখানে সম্ভব না হয়।

--------------------------------------------

‌‌(৩) আল-বাকারা: ১৭৭।
(খণ্ড: ১) মাওসূআতু বাইতিল মাকদিস ওয়া বিলাদিশ শামিল হাদিসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
ولهذا كان المقام في الثغور بنية المرابطة في سبيل اللَّه تعالى أفضل من المجاورة بالمساجد الثلاثة باتفاق العلماء؛ فإن جنس الجهاد أفضل من جنس الحج، كما قال تعالى: {أَجَعَلْتُمْ سِقَايَةَ الْحَاجِّ وَعِمَارَةَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ كَمَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَجَاهَدَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ لَا يَسْتَوُونَ عِنْدَ اللَّهِ وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ (19) الَّذِينَ آمَنُوا وَهَاجَرُوا وَجَاهَدُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ. . .} الآية‌‌(4).

وسُئل النبي صلى الله عليه وسلم: أَيُّ الأَعْمَالِ أَفْضَلُ؟ قَالَ: "إيمَانٌ بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ". قِيلَ: ثُمَّ مَاذَا؟ قَالَ: "جِهَادٌ فِي سَبِيلِ اللَّهِ". قِيلَ: ثُمَّ مَاذَا؟ قَالَ:"حَجٌّ مَبْرُورٌ".

وهكذا لو كان عاجزًا عن الهجرة والانتقال إلى المكان الأفضل الذي لو انتقل إليه لكانت الطاعة عليه أهون، وطاعة اللَّه ورسوله في الموضعين واحدة؛ لكنها هناك أشق عليه، فإنه إذا استوت الطاعتان فأشقهما أفضل؛ وبهذا ناظَر مهاجرة الحبشة المقيمون بين الكفار لمن زعم أنه أفضل منهم، فقالوا: كنا عند البغضاء البعداء وأنتم عند رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم يعلِّم جاهلكم، ويطعم جائعكم، وذلك في ذات اللَّه.

وأمَّا إذا كان دينه هناك أنقص فالانتقال أفضل له، وهذا حال غالب الخلق؛ فإن أكثرهم لا يدافعون؛ بل يكونون على دين الجمهور.

فإن كون الأرض "دار كفر" أو "دار إسلام أو إيمان" أو "دار سلم" أو "حرب" أو "دار طاعة" أو "معصية" أو "دار المؤمنين" أو "الفاسقين" أوصاف عارضة، لا لازمة، فقد تنتقل من وصف إلى وصف كما ينتقل الرجل بنفسه من الكفر إلى الإيمان والعلم، وكذلك بالعكس.

وأمَّا الفضيلة الدائمة في كل وقت ومكان ففي الإيمان والعمل الصالح، كما

--------------------------------------------

‌‌(4) التوبة: 19 - 20.
এজন্য আলেমদের ঐকমত্যে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে সীমান্ত পাহারার (রিবাত) নিয়তে সেখানে অবস্থান করা তিন মসজিদে (মক্কা, মদিনা ও আল-আকসা) অবস্থান করার চেয়েও উত্তম; কেননা জিহাদের বিষয়টি হজের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তোমরা কি হাজীদের পানি পান করানো ও মসজিদুল হারামের রক্ষণাবেক্ষণকে সেই ব্যক্তির সমান গণ্য করেছ, যে আল্লাহ ও পরকালের ওপর ঈমান এনেছে এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে? তারা আল্লাহর কাছে সমান নয়। আর আল্লাহ জালেম সম্প্রদায়কে হেদায়েত দেন না। (১৯) যারা ঈমান এনেছে, হিজরত করেছে এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে...} আয়াত পর্যন্ত‌‌(৪)।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: কোন আমলটি শ্রেষ্ঠ? তিনি বললেন: "আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ওপর ঈমান আনা।" বলা হলো: তারপর কোনটি? তিনি বললেন: "আল্লাহর পথে জিহাদ করা।" বলা হলো: তারপর কোনটি? তিনি বললেন: "কবুল হওয়া হজ (হজে মাবরুর)।"

অনুরূপভাবে, কেউ যদি হিজরত করতে এবং অধিকতর উত্তম স্থানে চলে যেতে অক্ষম হয়—যেখানে গেলে আল্লাহর আনুগত্য তার জন্য সহজ হতো—এমতাবস্থায় উভয় স্থানেই আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্যের বিধান অভিন্ন; কিন্তু বর্তমান স্থানে অবস্থান করা তার জন্য অধিক কষ্টসাধ্য। আর যখন দুটি আমল সমান হয়, তখন যেটিতে কষ্ট বেশি সেটিই অধিক উত্তম। এ কারণেই আবিসিনিয়ায় (হাবশা) হিজরতকারী সাহাবীগণ, যারা কাফেরদের মধ্যে অবস্থান করছিলেন, তাদের সাথে বিতর্ক করেছিলেন যারা নিজেদের তাদের চেয়ে উত্তম মনে করতেন। তাঁরা (হিজরতকারীরা) বলেছিলেন: আমরা ছিলাম বিদ্বেষী ও দূরবর্তীদের মাঝে, আর তোমরা ছিলে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে; তিনি তোমাদের অজ্ঞদের শিক্ষা দিতেন এবং তোমাদের ক্ষুধার্তদের অন্নদান করতেন। আর আমাদের সেই অবস্থান ছিল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য।

তবে সেখানে যদি তার দ্বীন পালনে ত্রুটি ঘটে, তবে স্থান পরিবর্তন করা বা হিজরত করাই তার জন্য উত্তম। এটিই অধিকাংশ মানুষের অবস্থা; কারণ তাদের অনেকেই প্রতিকূলতা মোকাবিলা করতে পারে না, বরং তারা জনসমষ্টির ধর্মের ওপরই টিকে থাকে।

কেননা কোনো ভূখণ্ড "কুফরের দেশ" বা "ইসলাম ও ঈমানের দেশ" বা "শান্তির দেশ" বা "যুদ্ধের দেশ" বা "আনুগত্যের দেশ" বা "পাপের দেশ" অথবা "মুমিনদের আবাস" বা "ফাসেকদের আবাস" হওয়া একটি আপেক্ষিক ও পরিবর্তনশীল বৈশিষ্ট্য, কোনো স্থায়ী বা অপরিহার্য বিষয় নয়। ফলে এটি এক বৈশিষ্ট্য থেকে অন্য বৈশিষ্ট্যে স্থানান্তরিত হতে পারে, যেমন একজন ব্যক্তি নিজেই কুফর থেকে ঈমান ও জ্ঞানের দিকে ফিরে আসে, আবার একইভাবে এর বিপরীতটিও ঘটতে পারে।

আর সর্বকালে ও সর্বস্থানে স্থায়ী শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে কেবল ঈমান ও সৎকর্মের মধ্যে, যেমন

--------------------------------------------

‌‌(৪) আত-তাওবাহ: ১৯ - ২০।
(খণ্ড: ১) মাওসূআতু বাইতিল মাকদিস ওয়া বিলাদিশ শামিল হাদিসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
قال تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَالَّذِينَ هَادُوا وَالنَّصَارَى وَالصَّابِئِينَ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَعَمِلَ صَالِحًا فَلَهُمْ أَجْرُهُمْ عِنْدَ رَبِّهِمْ. . .} الآية‌‌(5). وقال تعالى: {وَقَالُوا لَنْ يَدْخُلَ الْجَنَّةَ إِلَّا مَنْ كَانَ هُودًا أَوْ نَصَارَى تِلْكَ أَمَانِيُّهُمْ قُلْ هَاتُوا بُرْهَانَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ (111) بَلَى مَنْ أَسْلَمَ وَجْهَهُ لِلَّهِ وَهُوَ مُحْسِنٌ فَلَهُ أَجْرُهُ عِنْدَ رَبِّهِ وَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ} الآية‌‌(6).

وقال تعالى: {وَمَنْ أَحْسَنُ دِينًا مِمَّنْ أَسْلَمَ وَجْهَهُ لِلَّهِ وَهُوَ مُحْسِنٌ وَاتَّبَعَ مِلَّةَ إِبْرَاهِيمَ حَنِيفًا وَاتَّخَذَ اللَّهُ إِبْرَاهِيمَ خَلِيلًا}‌‌(7).

وإسلام الوجه للَّه تعالى هو إخلاص القصد والعمل له والتوكل عليه كما قال تعالى: {إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ}‌‌(8)، وقال: {فَاعْبُدْهُ وَتَوَكَّلْ عَلَيْهِ}‌‌(9)، وقال تعالى: {عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْهِ أُنِيبُ}‌‌(10).

ومنذ أقام اللَّه حجته على أهل الأرض بخاتم رسله محمد عبده ورسول صلى الله عليه وسلم وجب على أهل الأرض الإيمان به وطاعته، واتباع شريعته ومنهاجه، فأفضل الخلق وأعلمهم وأتبعهم لما جاء به علمًا، وحالًا، وقولًا، وعملًا، هم أتقى الخلق. وأي مكان وعمل كان أعون للشخص على هذا المقصود كان أفضل في حقه؛ وإن كان الأفضل في حق غيره شيئًا آخر. ثم إذا فعل كل شخص ما هو أفضل

--------------------------------------------

‌‌(5) البقرة: 62.

‌‌(6) البقرة: 111 - 112.

‌‌(7) النساء: 125.

‌‌(8) الفاتحة: 5.

‌‌(9) هود: 123.

‌‌(10) هود: 88.
মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং যারা ইয়াহুদী হয়েছে, নাসারা ও সাবেঈন—যারাই আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান আনবে এবং নেক আমল করবে, তাদের রবের কাছে তাদের জন্য প্রতিদান রয়েছে...} আয়াত‌‌(৫)। এবং মহান আল্লাহ বলেন: {আর তারা বলে, ইয়াহুদী অথবা নাসারা ছাড়া অন্য কেউ জান্নাতে প্রবেশ করবে না। এটি তাদের অলীক আকাঙ্ক্ষা। আপনি বলুন, তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে তোমাদের প্রমাণ নিয়ে এসো। (১১১) বরং যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে নিজেকে সমর্পণ করবে এবং সে সৎকর্মশীল হবে, তবে তার রবের কাছে তার প্রতিদান রয়েছে। আর তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না।} আয়াত‌‌(৬)।

এবং মহান আল্লাহ বলেন: {আর দ্বীনের ক্ষেত্রে তার চেয়ে উত্তম কে, যে আল্লাহর কাছে নিজেকে সমর্পণ করেছে এবং সে সৎকর্মশীল, আর সে একনিষ্ঠভাবে ইবরাহীমের আদর্শ অনুসরণ করে? আর আল্লাহ ইবরাহীমকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেছেন।}‌‌(৭)।

আল্লাহ তাআলার জন্য চেহারা সমর্পণ করার অর্থ হলো তাঁর জন্য উদ্দেশ্য ও কর্মকে একনিষ্ঠ করা এবং তাঁর ওপর তাওয়াক্কুল করা, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি এবং কেবল আপনারই সাহায্য চাই}‌‌(৮), এবং তিনি বলেছেন: {অতএব তাঁরই ইবাদত করো এবং তাঁরই ওপর ভরসা করো}‌‌(৯), এবং মহান আল্লাহ বলেন: {আমি তাঁর ওপরই ভরসা করেছি এবং তাঁরই দিকে আমি প্রত্যাবর্তন করি}‌‌(১০)।

আর যখন থেকে আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দা ও রাসূল, সর্বশেষ নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাধ্যমে পৃথিবীবাসীর ওপর তাঁর প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত করেছেন, তখন থেকে তাঁর প্রতি ঈমান আনা, তাঁর আনুগত্য করা এবং তাঁর শরীয়ত ও মানহাজ অনুসরণ করা পৃথিবীবাসীর ওপর ওয়াজিব হয়ে গেছে। সুতরাং সৃষ্টির মধ্যে যারা সর্বাধিক শ্রেষ্ঠ, জ্ঞানী এবং যা তিনি নিয়ে এসেছেন ইলম, অবস্থা, কথা ও কাজের মাধ্যমে সেগুলোর সর্বাধিক অনুসারী, তারাই হলো সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে বেশি মুত্তাকী। আর কোনো ব্যক্তি এই উদ্দেশ্য পূরণে যে স্থান ও কাজে বেশি সাহায্য পায়, সেটিই তার ক্ষেত্রে সবচেয়ে উত্তম; যদিও অন্যের ক্ষেত্রে উত্তম বিষয় অন্য কিছু হতে পারে। অতঃপর যখন প্রত্যেক ব্যক্তি তা-ই করবে যা সর্বাধিক উত্তম

--------------------------------------------

‌‌(৫) আল-বাকারা: ৬২।

‌‌(৬) আল-বাকারা: ১১১ - ১১২।

‌‌(৭) আন-নিসা: ১২৫।

‌‌(৮) আল-ফাতিহা: ৫।

‌‌(৯) হুদ: ১২৩।

‌‌(১০) হুদ: ৮৮।
(খণ্ড: ১) মাওসূআতু বাইতিল মাকদিস ওয়া বিলাদিশ শামিল হাদিসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
في حقه، فإن تساوت الحسنات والمصالح التي حصلت له مع ما حصل للآخر فهما سواء، وإلا فإن أرجحهما في ذلك هو أفضلهما.

وهذه الأوقات يظهر فيها من النقص في خراب "المساجد الثلاثة" علمًا وإيمانًا ما يتبين به فضل كثير ممن بأقصى المغرب على أكثرهم. فلا ينبغي للرجل أن يلتفت إلى فضل البقعة في فضل أهلها مطلقًا، بل يعطي كل ذي حق حقه، ولكن العبرة بفضل الإنسان في إيمانه وعمله الصالح والكلم الطيب، ثم قد يكون بعض البقاع أعون على بعض الأعمال؛ كإعانة مكة حرسها اللَّه تعالى على الطواف والصلاة المضعفة ونحو ذلك، وقد يحصل في الأفضل معارض راجح يجعله مفضولًا: مثل من يجاور بمكة مع السؤال والاستشراف، والبطالة عن كثير من الأعمال الصالحة، وكذلك من يطلب الإقامة بالشام لأجل حفظ ماله وحرمة نفسه لا لأجل عمل صالح، فالأعمال بالنيات‌‌(11).

--------------------------------------------

‌‌(11) "مجموع الفتاوى" (27/ 39 - 47) بتصرف.
তাঁর ক্ষেত্রে, যদি তাঁর অর্জিত নেকি ও কল্যাণসমূহ অন্য ব্যক্তির অর্জিত নেকি ও কল্যাণের সমান হয়, তবে তারা উভয়েই সমান। অন্যথায়, এ ক্ষেত্রে যে অগ্রগণ্য হবে, সেই তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ।

আর বর্তমান সময়ে 'তিনটি মসজিদে' (মসজিদুল হারাম, মসজিদে নববী ও মসজিদে আকসা) জ্ঞান ও ঈমানের যে অবক্ষয় পরিলক্ষিত হয়, তার ফলে মাগরিবের (পশ্চিমাঞ্চল) দূরবর্তী প্রান্তের অনেক ব্যক্তির শ্রেষ্ঠত্ব তাদের অধিকাংশের ওপর স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সুতরাং কোনো ব্যক্তির জন্য কেবল স্থানের শ্রেষ্ঠত্বের ওপর ভিত্তি করে সেখানের অধিবাসীদের নিরঙ্কুশ শ্রেষ্ঠত্ব বিবেচনা করা উচিত নয়, বরং প্রত্যেককে তার প্রাপ্য মর্যাদা দেওয়া উচিত। তবে মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব বিবেচনার প্রকৃত মানদণ্ড হলো তার ঈমান, সৎকর্ম এবং উত্তম বাক্য। অধিকন্তু, কিছু স্থান বিশেষ কিছু ইবাদতের ক্ষেত্রে অধিক সহায়ক হতে পারে; যেমন মক্কা—আল্লাহ তায়ালা একে হেফাজত করুন—তাওয়াফ ও বহুগুণ সওয়াব বিশিষ্ট সালাত এবং অনুরূপ ইবাদতসমূহের জন্য সহায়ক। আবার কখনো কখনো শ্রেষ্ঠতর বিষয়ে এমন কোনো প্রবল পরিপন্থী কারণ যুক্ত হতে পারে যা তাকে নিম্নতর করে দেয়: যেমন মক্কার প্রতিবেশী হওয়া সত্ত্বেও মানুষের নিকট সাহায্য চাওয়া ও লোভাতুর থাকা এবং অনেক নেক আমল থেকে বিরত থাকা। অনুরূপভাবে, যে ব্যক্তি শাম দেশে বসবাসের সংকল্প করে কেবল নিজের সম্পদ ও জীবন রক্ষার জন্য, কোনো নেক আমলের উদ্দেশ্যে নয়; কেননা সকল আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল‌‌(১১)।

--------------------------------------------

‌‌(১১) "মাজমুউল ফাতাওয়া" (২৭/ ৩৯ - ৪৭) সংক্ষেপিত ও পরিমার্জিত।
(খণ্ড: ১) মাওসূআতু বাইতিল মাকদিস ওয়া বিলাদিশ শামিল হাদিসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌اعتقاد الفضل لبقعة بغير دليل افتراء وضلال وقول عليل

زيَّن الشيطان لكثير من الناس تقديس مواضع وأمكنة بغير برهان أو دليل، فانطلت على الجمع الغفير روايات موضوعة ذات خطر كبير، فالتساهل قد دبَّ في مثل هذه المواطن بغير نكير.

قال الشوكاني:

توسَّع المؤرخون في ذكر الأحاديث الباطلة في فضائل البلدان، ولا سيما بلدانهم؛ فإنهم يتساهلون في ذلك غاية التساهل، ويذكرون الموضوع، ولا ينبِّهون عليه، كما فعل الديبع في تاريخه الذي سماه: "قرة العيون بأخبار اليمن الميمون"، وتاريخه الآخر الذي سماه: "بغية المستفيد بأخبار مدينة زبيد" مع كونه من أهل الحديث وممن لا يخفى عليه بطلان ذلك، فليحذر المتدين من اعتقاد شيء منها أو روايته؛ فإن الكذب في هذا قد كثر، وجاوز الحد، وسببه: ما جبلت عليه القلوب من حب الأوطان والشغف بالمنشأ. اهـ.‌‌(12)

فأمر الفضائل موقوف على ثبوت النص وما لا فلا، فإنها ليست من باب الاجتهاد ولا دخل لها بالعقل والرأي، إنما مردها إلى اللَّه وإلى رسوله صلى الله عليه وسلم.

فلما غفل الناس عن هذا الأصل تقربوا إلى اللَّه تعالى -زعموا- بالذهاب إلى أماكن ومواضع ظنوا أنها فاضلة فاتخذوها مهاجرًا وعيدًا، قصدوا الخير لكنهم ضلوا السبيل.

قال شيخ الإسلام:

فمن قصد بقعة يرجو الخير بقصدها، ولم تستحب الشريعة ذلك فهو من المنكرات، وبعضه أشد من بعض، سواء كانت البقعة شجرة أو غيرها، أو قناة

--------------------------------------------

‌‌(12) "الفوائد المجموعة" (ص 436 - 437).
‌প্রমাণ ছাড়া কোনো স্থানের শ্রেষ্ঠত্বের বিশ্বাস পোষণ করা একটি অপবাদ, পথভ্রষ্টতা এবং ত্রুটিপূর্ণ বক্তব্য

শয়তান অনেক মানুষের কাছে কোনো প্রমাণ বা দলিল ছাড়াই বিভিন্ন স্থান ও জায়গাকে পবিত্র জ্ঞান করাকে সুশোভিত করে দিয়েছে। ফলে বিশাল এক জনগোষ্ঠীর মাঝে অত্যন্ত বিপজ্জনক জাল বর্ণনাগুলো ছড়িয়ে পড়েছে। এই ধরণের ক্ষেত্রগুলোতে কোনো প্রকার প্রতিবাদ ছাড়াই শিথিলতা প্রবেশ করেছে।

শাওকানি বলেছেন:

ইতিহাসবিদগণ বিভিন্ন জনপদের—বিশেষ করে তাদের নিজস্ব জনপদসমূহের—ফজিলত বর্ণনায় বাতিল হাদিসসমূহ উল্লেখ করার ক্ষেত্রে অনেক বিস্তৃতি ঘটিয়েছেন। তারা এই বিষয়ে চরম শিথিলতা প্রদর্শন করেন এবং জাল হাদিস উল্লেখ করেন অথচ সে সম্পর্কে সতর্ক করেন না। যেমনটি আদ-দায়বি তাঁর ইতিহাস গ্রন্থে করেছেন যার নাম তিনি দিয়েছেন: "কুররাতুল উয়ুন বি আখবারিল ইয়ামানিল মাইমুন", এবং তাঁর অন্য আরেকটি ইতিহাস গ্রন্থ যার নাম: "বুগইয়াতুল মুস্তাফিদ বি আখবারি মদিনাতি জাবিদ"। অথচ তিনি হাদিস বিশারদদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং এর অসারতা তাঁর কাছে গোপন থাকার কথা ছিল না। সুতরাং ধর্মপ্রাণ ব্যক্তির উচিত এগুলোর কোনো কিছু বিশ্বাস করা বা বর্ণনা করা থেকে সতর্ক থাকা; কারণ এই বিষয়ে মিথ্যাচার অনেক বেড়েছে এবং সীমা লঙ্ঘন করেছে। আর এর কারণ হলো: জন্মভূমির প্রতি ভালোবাসা এবং উৎপত্তিস্থলের প্রতি আসক্তি যা মানুষের হৃদয়ে সহজাতভাবে বিদ্যমান। সমাপ্ত।‌‌(১২)

ফজিলত বা শ্রেষ্ঠত্বের বিষয়টি দলিল সাব্যস্ত হওয়ার ওপর নির্ভরশীল; যা সাব্যস্ত নয় তা বর্জনীয়। কারণ এটি ইজতিহাদের বিষয় নয় এবং এতে বুদ্ধি বা মতামতের কোনো প্রবেশাধিকার নেই। বরং এর প্রত্যাবর্তন কেবলমাত্র আল্লাহ এবং তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে।

যখন মানুষ এই মূলনীতি থেকে গাফেল হয়ে গেল, তখন তারা তাদের ধারণামতে ফজিলতপূর্ণ স্থান ও জায়গাগুলোতে যাওয়ার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার নৈকট্য অন্বেষণ করতে শুরু করল—যেমনটি তারা দাবি করে। তারা সেগুলোকে হিজরতের স্থান ও উৎসবের স্থলে পরিণত করল। তারা কল্যাণের ইচ্ছা করেছিল কিন্তু সঠিক পথ হারিয়ে ফেলেছে।

শাইখুল ইসলাম বলেছেন:

যে ব্যক্তি কোনো একটি স্থানকে উদ্দেশ্য করে সেখানে যাওয়ার মাধ্যমে কল্যাণের আশা করে, অথচ শরিয়ত তা মুস্তাহাব করেনি, তবে তা গর্হিত কাজের অন্তর্ভুক্ত। এর কিছু অংশ অন্য অংশের চেয়ে বেশি গুরুতর। চাই সেই স্থানটি কোনো গাছ হোক বা অন্য কিছু, অথবা কোনো খাল...

--------------------------------------------

‌‌(১২) "আল-ফাওয়ায়েদুল মাজমুআহ" (পৃ. ৪৩৬ - ৪৩৭)।
(খণ্ড: ১) মাওসূআতু বাইতিল মাকদিস ওয়া বিলাদিশ শামিল হাদিসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
جارية، أو جبلًا، أو مغارةً، سواء قصدها ليصلي عندها أو ليدعو عندها، أو ليقرأ عندها، أو ليذكر اللَّه سبحانه عندها، أو لينسك عندها، بحيث يخص تلك البقعة بنوعٍ من العبادة التي لم يشرع تخصيص تلك البقعة به، لا عينًا ولا نوعًا.

وأقبح من ذلك: أن ينذر لتلك البقعة دهنًا لتنوَّر به، ويقول: إنها تقبل النذر، كما يقول بعض الضالين. فإن هذا النذر نذر معصية باتفاق العلماء، لا يجوز الوفاء به، بل عليه كفارة يمين عند كثير من أهل العلم، منهم: أحمد في المشهور عنه، وعنه رواية هي قول أبي حنيفة والشافعي وغيرهما: أنه يستغفر اللَّه من هذا النذر، ولا شيء عليه. والمسألة معروفة.

وكذلك إذا نذر طعامًا من الخبز أو غيره للحيتان التي في تلك العين أو البئر، وكذلك إذا نذر مالًا من النقد أو غيره للسدنة، أو المجاورين العاكفين بتلك البقعة، فإن هؤلاء السدنة فيهم شبه من السدنة الذين كانوا للَّاتِ والعزى ومناة، يأكلون أموال الناس بالباطل، ويصدون عن سبيل اللَّه، والمجاورون هناك فيهم شبه من العاكفين الذين قال لهم الخليل إبراهيم إمام الحنفاء صلى الله عليه وسلم: {مَا هَذِهِ التَّمَاثِيلُ الَّتِي أَنْتُمْ لَهَا عَاكِفُونَ}‌‌(13) {قَالَ أَفَرَأَيْتُمْ مَا كُنْتُمْ تَعْبُدُونَ (75) أَنْتُمْ وَآبَاؤُكُمُ الْأَقْدَمُونَ (76) فَإِنَّهُمْ عَدُوٌّ لِي إِلَّا رَبَّ الْعَالَمِينَ}‌‌(14) والذين أتى عليهم موسى عليه السلام وقومه بعد مجاوزتهم البحر كما قال تعالى: {وَجَاوَزْنَا بِبَنِي إِسْرَائِيلَ الْبَحْرَ فَأَتَوْا عَلَى قَوْمٍ يَعْكُفُونَ عَلَى أَصْنَامٍ لَهُمْ}‌‌(15).

فالنذر لأولئك السدنة والمجاورين في هذه البقاع التي لا فضل في الشريعة للمجاورين فيها: نذر معصية، وفيه شبه من النذر لسدنة الصلبان والمجاورين

--------------------------------------------

‌‌(13) الأنبياء: 52.

‌‌(14) الشعراء: 75 - 77.

‌‌(15) الأعراف: 138.
প্রবাহমান ঝর্ণা, অথবা পাহাড়, অথবা গুহা, চাই সে সেখানে সালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে যাক অথবা সেখানে দোয়া করার উদ্দেশ্যে, কিংবা সেখানে পাঠ করার উদ্দেশ্যে, অথবা সেখানে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার জিকির করার উদ্দেশ্যে, কিংবা সেখানে ইবাদত পালনের উদ্দেশ্যে; এমনভাবে যে সে সেই স্থানটিকে বিশেষ কোনো ইবাদতের জন্য নির্দিষ্ট করে নেয় যার জন্য শরীয়তে সেই স্থানটিকে নির্দিষ্ট করা হয়নি, নির্দিষ্টভাবেও নয় কিংবা সাধারণভাবেও নয়।

আর এর চেয়েও নিকৃষ্ট বিষয় হলো: সেই স্থানের জন্য তেল মানত করা যাতে তা দিয়ে প্রদীপ জ্বালানো যায়, এবং বলা যে: "সেটি মানত কবুল করে", যেমনটি কিছু পথভ্রষ্ট ব্যক্তি বলে থাকে। নিশ্চয়ই এই মানত আলেমদের সর্বসম্মতিক্রমে একটি পাপের মানত, যা পূর্ণ করা বৈধ নয়। বরং অনেক আলেমদের মতে এর জন্য কসমের কাফফারা দিতে হবে, যাদের মধ্যে ইমাম আহমাদ তার প্রসিদ্ধ মত অনুযায়ী অন্তর্ভুক্ত। এবং তার থেকে বর্ণিত অন্য একটি বর্ণনা হলো যা ইমাম আবু হানিফা, ইমাম শাফেয়ী এবং অন্যদের মত: তা হলো সে এই মানতের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে এবং তার ওপর আর কিছুই বর্তাবে না। আর এই মাসআলাটি সুপরিচিত।

তদ্রূপ কেউ যদি সেই ঝর্ণা বা কূপের মাছগুলোর জন্য রুটি বা অন্য কোনো খাবারের মানত করে; একইভাবে যদি সেই স্থানের খাদেমদের জন্য কিংবা সেখানে অবস্থানরত ইতিকাফকারীদের জন্য নগদ অর্থ বা অন্য কিছুর মানত করে। কেননা এই খাদেমদের মধ্যে লাত, উজ্জা ও মানাতের খাদেমদের সাদৃশ্য রয়েছে, যারা মানুষের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করে এবং আল্লাহর পথ থেকে বাধা প্রদান করে। আর সেখানে অবস্থানরতদের মধ্যে সেই ইতিকাফকারীদের সাদৃশ্য রয়েছে যাদের সম্পর্কে হানিফদের ইমাম খলিল ইবরাহিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন: {এই মূর্তিগুলো কী যাদের সামনে তোমরা ইতিকাফ করে বসে আছো?}‌‌(১৩) {তিনি বললেন, তোমরা কি ভেবে দেখেছ যাদের ইবাদত তোমরা করতে? (৭৫) তোমরা এবং তোমাদের অতীত পিতৃপুরুষরা? (৭৬) তারা সবাই আমার শত্রু, কেবল বিশ্বজাহানের প্রতিপালক ছাড়া।}‌‌(১৪) এবং তাদের মতো যাদের কাছে মুসা আলাইহিস সালাম এবং তার কওম সমুদ্র পার হওয়ার পর উপনীত হয়েছিলেন, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর আমি বনী ইসরাঈলকে সমুদ্র পার করে দিলাম, অতঃপর তারা এমন এক সম্প্রদায়ের কাছে পৌঁছাল যারা তাদের মূর্তিপূজায় নিবিষ্ট ছিল।}‌‌(১৫)।

সুতরাং সেই সব খাদেম এবং অবস্থানকারীদের জন্য ওইসব স্থানে মানত করা, যে স্থানগুলোতে অবস্থান করার ব্যাপারে শরীয়তে কোনো বিশেষ মর্যাদা নেই: তা একটি পাপের মানত, এবং এতে ক্রুশের খাদেম ও সেখানে অবস্থানকারীদের জন্য মানত করার সাথে সাদৃশ্য রয়েছে।

--------------------------------------------

‌‌(১৩) আল-আম্বিয়া: ৫২।

‌‌(১৪) আশ-শুআরা: ৭৫ - ৭৭।

‌‌(১৫) আল-আরাফ: ১৩৮।
(খণ্ড: ১) মাওসূআতু বাইতিল মাকদিস ওয়া বিলাদিশ শামিল হাদিসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
عندها، أو سدنة الأبداد التي بالهند والمجاورين عندها.

ثم هذا المال المنذور: إذا صرفه في جنس تلك العبادة من المشروع، مثل أن يصرفه في عمارة المساجد، أو للصالحين من فقراء المسلمين الذين يستعينون بالمال على عبادة اللَّه وحده لا شريك له كان حسنًا.

فمن هذه الأمكنة: ما يظن أنه قبر نبي، أو رجل صالح، وليس كذلك، يظن أنه مقام له وليس كذلك.

فأمَّا ما كان قبرًا له أو مقامًا: فهذا من النوع الثاني، وهذا باب واسع أذكر بعض أعيانه.

فمن ذلك: عدة أمكنة بدمشق، مثل: مشهد أُبي بن كعب خارج الباب الشرقي، ولا خلاف بين أهل العلم: أن أُبي بن كعب إنما توفي بالمدينة ولم يمت بدمشق. واللَّه أعلم قبر من هو؟ لكنه ليس بقبر أُبي بن كعب صاحب رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم بلا شك.

وكذلك مكان بالحائط القبلي بجامع دمشق يقال: إن فيه قبر هود عليه السلام، وما علمت أحدًا من أهل العلم ذكر أن هودًا النبي مات بدمشق، بل قد قيل إنه مات باليمن، وقيل: بمكة، فإن مبعثه كان باليمن، ومهاجره بعد هلاك قومه كان إلى مكة، فأما الشام فلا هي داره ولا مهاجره. فموته بها والحال هذه مع أن أهل العلم لم يذكروه بل ذكروا خلافه في غاية البعد.

وكذلك مشهد خارج الباب الغربي من دمشق يقال: إنه قبر أويس القرني، وما علمت أن أحدًا ذكر أن أويسًا مات بدمشق، ولا هو متوجه أيضًا؛ فإن أويسًا قدم من اليمن إلى أرض العراق. وقد قيل: إنه قتل بصفين، وقيل: إنه مات بنواحي أرض فارس، وقيل: غير ذلك. وأما الشام فما ذكر أحد أنه قدم إليها، فضلًا عن الممات بها.
সেখানে অথবা ভারতের মূর্তিনিবাসের সেবায়েত এবং তার আশেপাশে অবস্থানকারীদের নিকট।

অতঃপর এই মানতকৃত অর্থ: যদি তা শরীয়তসম্মত ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত কোনো কাজে ব্যয় করা হয়, যেমন তা মসজিদ নির্মাণে ব্যয় করা অথবা মুসলিমদের এমন অভাবী সৎ ব্যক্তিদের পেছনে ব্যয় করা যারা এই অর্থের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার ইবাদতে সাহায্য লাভ করে যার কোনো শরীক নেই, তবে তা উত্তম।

এই স্থানগুলোর মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যেগুলোকে কোনো নবীর কবর বা কোনো সৎ ব্যক্তির কবর মনে করা হয়, অথচ বিষয়টি তেমন নয়। ধারণা করা হয় এটি তার মাকাম বা অবস্থানস্থল, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তা নয়।

আর যা সত্যিই তার কবর বা মাকাম, তা দ্বিতীয় প্রকারের অন্তর্ভুক্ত; এটি একটি বিস্তৃত অধ্যায় যার কিছু নির্দিষ্ট উদাহরণ আমি উল্লেখ করছি।

এর মধ্যে দামেস্কের বেশ কয়েকটি স্থান রয়েছে, যেমন: বাব-ই শারকির বাইরে অবস্থিত উবাই ইবনে কাবের স্মৃতিস্থান। অথচ আলেমদের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো দ্বিমত নেই যে, উবাই ইবনে কাব মদিনায় মৃত্যুবরণ করেছেন এবং তিনি দামেস্কে মারা যাননি। আল্লাহই ভালো জানেন এটি কার কবর? তবে নিঃসন্দেহে এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবী উবাই ইবনে কাবের কবর নয়।

তদ্রূপ দামেস্কের জামে মসজিদের কিবলা সংলগ্ন প্রাচীরের একটি স্থান সম্পর্কে বলা হয় যে, সেখানে হুদ আলাইহিস সালামের কবর রয়েছে। অথচ কোনো আলেম হুদ নবী দামেস্কে মারা গেছেন বলে উল্লেখ করেছেন বলে আমার জানা নেই। বরং বলা হয়েছে যে, তিনি ইয়ামেনে মারা গেছেন, আবার বলা হয়েছে মক্কায়। কারণ তার নবুওয়াত ছিল ইয়ামেনে এবং তার কওম ধ্বংস হওয়ার পর তার হিজরত ছিল মক্কার দিকে। আর সিরিয়া তার স্বদেশও ছিল না এবং তার হিজরতস্থলও ছিল না। এমতাবস্থায় সেখানে তার মৃত্যু হওয়া—যেখানে আলেমগণ তা উল্লেখ করেননি বরং এর বিপরীতটিই উল্লেখ করেছেন—অত্যন্ত সুদূরপরাহত বিষয়।

একইভাবে দামেস্কের পশ্চিম দরজার বাইরে একটি স্মৃতিস্থান সম্পর্কে বলা হয় যে, এটি ওয়াইস আল-কারনীর কবর। অথচ আমার জানা মতে কেউ উল্লেখ করেননি যে ওয়াইস দামেস্কে মারা গেছেন, আর এর কোনো সম্ভাবনাও নেই। কারণ ওয়াইস ইয়ামেন থেকে ইরাক ভূখণ্ডে এসেছিলেন। বলা হয়ে থাকে যে, তিনি সিফফিনের যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন, আবার বলা হয় তিনি পারস্য অঞ্চলের কোনো এক প্রান্তে মৃত্যুবরণ করেছেন, এ ছাড়া অন্যান্য মতও রয়েছে। আর সিরিয়ার কথা বলতে গেলে, কেউ উল্লেখ করেননি যে তিনি সেখানে কখনো এসেছিলেন, সেখানে মৃত্যুবরণ তো অনেক পরের কথা।
(খণ্ড: ১) মাওসূআতু বাইতিল মাকদিস ওয়া বিলাদিশ শামিল হাদিসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
ومن ذلك أيضًا: قبر يقال له قبر أم سلمة زوج النبي صلى الله عليه وسلم، ولا خلاف أنها رضي الله عنها ماتت بالمدينة لا بالشام. ولم تقدم الشام أيضًا، فإن أم سلمة زوج النبي صلى الله عليه وسلم لم تكن تسافر بعد رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم. بل لعلها أم سلمة أسماء بنت يزيد بن السكن الأنصارية، فإن أهل الشام: كشهر بن حوشب ونحوه كانوا إذا حدثوا عنها قالوا: أم سلمة، وهي بنت عم معاذ بن جبل، وهي من أعيان الصحابيات. ومن ذوات الفقه والدين منهن، أو لعلها أم سلمة امرأة يزيد ابن معاوية وهو بعيد، فإن هذه ليست مشهورة بعلم ولا دين، وما أكثر الغلط في هذه الأشياء وأمثالها من جهة الأسماء المشتركة أو المغيَّرة.

ومن ذلك: مشهد بقاهرة مصر، يقال: إنه فيه رأس الحسين بن علي رضي الله عنهما، وأصله المكذوب: أنه كان بعسقلان مشهد يقال: إن فيه رأس الحسين فحمل -فيما قيل- الرأس من هناك إلى مصر، وهو باطل باتفاق أهل العلم لم يقل أحد من أهل العلم أن رأس الحسين كان بعسقلان، بل فيه أقوال ليس هذا منها، فإنه حمل رأسه إلى قدام عُبَيد اللَّه بن زياد بالكوفة حتى روى له عن النبي صلى الله عليه وسلم ما يغيظه، وبعض الناس يذكر أن الرواية كانت أمام يزيد بن معاوية بالشام ولا يثبت ذلك، فإن الصحابة المسمين في الحديث إنما كانوا بالعراق، وكذلك مقابر كثيرة لأسماء رجال معروفين قد علم أنها ليست بمقابرهم.

فهذه المواضع ليس فيها فضيلة أصلًا، وإن اعتقد الجاهلون أن لها فضيلة؛ اللهم إلا أن يكون قبرًا لرجل مسلم فيكون كسائر المسلمين ليس لها من الخصيصة ما يحسبه الجهال، وإن كانت القبور الصحيحة لا يجوز اتخاذها أعيادًا. ولا أن يفعل فيها ما يفعل عند هذه القبور المكذوبة، أو تكون قبرًا لرجل صالح غير المسمى فيكون من القسم الثاني.
এর মধ্যে এমন একটি কবরও রয়েছে যাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রী উম্মে সালামার কবর বলা হয়। অথচ এ বিষয়ে কোনো দ্বিমত নেই যে, তিনি (রাযিয়াল্লাহু আনহা) মদিনায় মারা গেছেন, শামে নয়। এমনকি তিনি কখনও শামে যানওনি; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রী উম্মে সালামা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পর আর সফর করেননি। বরং সম্ভবত এটি উম্মে সালামা আসমা বিনতে ইয়াযিদ ইবনে সাকান আল-আনসারিয়ার কবর হতে পারে; কেননা শামের অধিবাসীগণ—যেমন শাহর ইবনে হাওশাব এবং তাঁর মতো অন্যরা—যখন তাঁর থেকে বর্ণনা করতেন, তখন 'উম্মে সালামা' বলতেন। আর তিনি মুয়াজ ইবনে জাবালের চাচাতো বোন এবং নারী সাহাবীদের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি তাঁদের মধ্যে ফিকহ ও দ্বীনদারির অধিকারী ছিলেন। অথবা সম্ভবত তিনি ইয়াযিদ ইবনে মুয়াবিয়ার স্ত্রী উম্মে সালামা, তবে এই সম্ভাবনা ক্ষীণ; কেননা তিনি ইলম বা দ্বীনদারির জন্য প্রসিদ্ধ নন। এই জাতীয় বিষয়গুলোতে সমনামের কারণে অথবা নাম পরিবর্তনের কারণে ভুলের আধিক্য অনেক বেশি।

এর মধ্যে মিশরের কায়রোর একটি মাযারও রয়েছে, যার সম্পর্কে বলা হয় যে সেখানে হোসাইন ইবনে আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর মস্তক রয়েছে। এর মিথ্যা ভিত্তি হলো: আসকালানে একটি মাযার ছিল যার সম্পর্কে বলা হতো যে সেখানে হোসাইনের মস্তক রয়েছে; অতঃপর লোকমুখে যা প্রচলিত—সেখান থেকে মস্তকটি মিশরে নিয়ে আসা হয়। অথচ আলেমদের সর্বসম্মতিক্রমে এটি ভিত্তিহীন; আলেমদের মধ্যে কেউ এ কথা বলেননি যে হোসাইনের মস্তক আসকালানে ছিল। বরং এই বিষয়ে বিভিন্ন বর্ণনা রয়েছে, যার মধ্যে এটি অন্তর্ভুক্ত নয়। কেননা তাঁর মস্তকটি কুফায় উবায়দুল্লাহ ইবনে যিয়াদের সামনে নিয়ে আসা হয়েছিল, এমনকি তাঁর সামনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এমন হাদীস বর্ণনা করা হয়েছিল যা তাঁকে ক্ষুব্ধ করেছিল। কিছু লোক উল্লেখ করেন যে এই বর্ণনাটি শামে ইয়াযিদ ইবনে মুয়াবিয়ার সামনে হয়েছিল, তবে তা প্রমাণিত নয়। কেননা হাদীসে বর্ণিত সাহাবীগণ ইরাকেই অবস্থান করছিলেন। একইভাবে অনেক প্রখ্যাত ব্যক্তির নামে অনেক কবর রয়েছে, যা নিশ্চিতভাবে জানা গেছে যে সেগুলো তাঁদের কবর নয়।

সুতরাং এই স্থানগুলোর মূলত কোনো ফযিলত নেই, যদিও অজ্ঞ লোকেরা মনে করে যে এগুলোর ফযিলত রয়েছে। তবে যদি এটি কোনো মুসলিম ব্যক্তির কবর হয়, তবে তা সাধারণ মুসলিমদের কবরের মতোই গণ্য হবে; অজ্ঞরা যা ধারণা করে তেমন কোনো বৈশিষ্ট্য এতে নেই। যদিও সঠিক কবরগুলোকেও উৎসবের কেন্দ্র হিসেবে গ্রহণ করা জায়েয নেই। আর এই মিথ্যা কবরগুলোর কাছে যা করা হয়, তা প্রকৃত কবরের কাছেও করা বৈধ নয়। অথবা এটি যদি নির্দিষ্ট ব্যক্তির পরিবর্তে অন্য কোনো সৎ ব্যক্তির কবর হয়, তবে সেটি দ্বিতীয় প্রকারের অন্তর্ভুক্ত হবে।
(খণ্ড: ১) মাওসূআতু বাইতিল মাকদিস ওয়া বিলাদিশ শামিল হাদিসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
ومن هذا الباب أيضًا: مواضع يقال: إن فيها أثر النبي صلى الله عليه وسلم أو غيرها ويضاهي بها مقام إبراهيم الذي بمكة، كما يقول الجهال في الصخرة التي ببيت المقدس من أن فيها أثرًا من وطء قدم النبي صلى الله عليه وسلم، وبلغني أن بعض الجهال يزعم أنها من وطء الرب سبحانه وتعالى فيزعمون أن ذلك الأثر موضع القدم.

وفي مسجد قبلي دمشق يسمى مسجد القدم به أيضًا أثر يقال: إن ذاك أثر قدم موسى عليه السلام، وهذا باطل لا أصل له، ولم يقدم موسى دمشق ولا ما حولها.

وكذلك مشاهد تضاف إلى بعض الأنبياء أو الصالحين بناءً على أنه روي في المنام هناك، ورؤية النبي أو الرجل الصالح في المنام ببقعة لا يوجب لها فضيلة تقصد البقعة لأجلها وتتخذ مصلى بإجماع المسلمين. وإنما يفعل هذا وأمثاله أهل الكتاب، وربما صوروا فيها صورة النبي أو الرجل الصالح، أو بعض أعضائه مضاهاةً لأهل الكتاب كما كان في بعض مساجد دمشق مسجد يسمى مسجد الكف فيه تمثال كف يقال إنه كف علي بن أبي طالب رضي الله عنه حتى هدم اللَّه ذلك الوثن.

وهذه الأمكنة كثيرة موجودة في أكثر البلاد.

وفي الحجاز منها مواضع: كغار عن يمين الطريق وأنت ذاهب من بدر إلى مكة يقال إنه الغار الذي أوى النبي صلى الله عليه وسلم إليه هو وأبو بكر، وأنه الغار الذي ذكره اللَّه في قوله: {ثَانِيَ اثْنَيْنِ إِذْ هُمَا فِي الْغَارِ}‌‌(16)، ولا خلاف بين أهل العلم أن هذا الغار المذكور في القرآن الكريم إنما هو غار بجبل ثور قريب من مكة معروف عند أهل مكة إلى اليوم.

فهذه البقاع التي يعتقد لها خصيصة كائنة ما كانت ليس من الإسلام تعظيمها

--------------------------------------------

‌‌(16) التوبة: 40.
এই প্রসঙ্গের অন্তর্ভুক্ত আরও কিছু স্থান, যার ব্যাপারে বলা হয় যে সেখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বা অন্য কারো পদচিহ্ন রয়েছে এবং এগুলোকে মক্কার মাকামে ইবরাহিমের সাথে তুলনা করা হয়। যেমন বায়তুল মাকদিসের পাথরের (সাখরা) ব্যাপারে মূর্খরা বলে থাকে যে, সেখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পায়ের ছাপ রয়েছে। আমি জানতে পেরেছি যে, কিছু মূর্খ দাবি করে যে এটি সুবহানাহু ওয়া তাআলার পদচারণায় হয়েছে, তারা দাবি করে যে সেই চিহ্নটি হলো আল্লাহর পায়ের স্থান।

দামেস্কের দক্ষিণ দিকে একটি মসজিদ রয়েছে যাকে 'মসজিদে কদম' বলা হয়, সেখানেও একটি চিহ্ন রয়েছে যার ব্যাপারে বলা হয় যে সেটি মূসা আলাইহিস সালামের পায়ের চিহ্ন। এটি বাতিল এবং এর কোনো ভিত্তি নেই; মূসা আলাইহিস সালাম কখনো দামেস্কে বা এর আশেপাশে আসেননি।

একইভাবে অনেক মাজার বা স্মৃতিস্তম্ভ কোনো নবী বা নেককার ব্যক্তির সাথে সম্পৃক্ত করা হয় এই ভিত্তিতে যে, তাঁকে সেখানে স্বপ্নে দেখা গিয়েছে। অথচ মুসলমানদের ঐকমত্য অনুযায়ী, কোনো নির্দিষ্ট স্থানে নবী বা কোনো নেককার ব্যক্তিকে স্বপ্নে দেখা সেই স্থানের জন্য এমন কোনো ফজিলত সাব্যস্ত করে না যার কারণে সেই স্থানটি উদ্দেশ্য করে সেখানে যাওয়া হবে বা সেটিকে সালাতের স্থান হিসেবে গ্রহণ করা হবে। আহলে কিতাবরাই কেবল এই ধরনের কাজ করে থাকে। কখনো কখনো তারা সেখানে নবী বা কোনো নেককার ব্যক্তির ছবি বা তাদের শরীরের কোনো অঙ্গের প্রতিকৃতি তৈরি করে। আহলে কিতাবদের সাথে সাদৃশ্য রেখে দামেস্কের কোনো একটি মসজিদে একটি প্রতিকৃতি ছিল যাকে 'মসজিদুল কাফ' (হাতের তালুর মসজিদ) বলা হতো, সেখানে একটি হাতের তালুর প্রতিকৃতি ছিল এবং বলা হতো এটি আলী ইবনে আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাতের তালু। পরিশেষে আল্লাহ সেই মূর্তিকে ধ্বংস করেছেন।

এই ধরণের জায়গা অধিকাংশ দেশেই প্রচুর পরিমাণে বিদ্যমান রয়েছে।

হিজাজেও এমন কিছু স্থান রয়েছে: যেমন বদর থেকে মক্কার পথে যাওয়ার সময় রাস্তার ডানদিকে একটি গুহা রয়েছে, যার ব্যাপারে বলা হয় যে এটি সেই গুহা যেখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আবু বকর আশ্রয় নিয়েছিলেন, এবং এটিই সেই গুহা যার কথা আল্লাহ তাঁর এই বাণীতে উল্লেখ করেছেন: "সে ছিল দুজনের দ্বিতীয়জন, যখন তারা গুহায় ছিল"‌‌(১৬)। অথচ আলেমদের মধ্যে এ ব্যাপারে কোনো মতভেদ নেই যে, কুরআন মাজিদে বর্ণিত এই গুহাটি হলো মক্কার নিকটবর্তী জাবালে সাওরের গুহা, যা আজ পর্যন্ত মক্কাবাসীদের কাছে সুপরিচিত।

অতএব, এই স্থানগুলো যেগুলোর ব্যাপারে কোনো না কোনো বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে বলে বিশ্বাস করা হয়, সেগুলোর সম্মান প্রদর্শন করা ইসলামের অন্তর্ভুক্ত নয়।

--------------------------------------------

‌‌(১৬) আত-তাওবাহ: ৪০।
(খণ্ড: ১) মাওসূআতু বাইতিল মাকদিস ওয়া বিলাদিশ শামিল হাদিসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
بأي نوع من التعظيم، فإن تعظيم مكان لم يعظمه الشرع شر من تعظيم زمان لم يعظمه، فإن تعظيم الأجسام بالعبادة عندها أقرب إلى عبادة الأوثان من تعظيم الزمان، حتى إن الذي ينبغي تجنب الصلاة فيها وإن كان المصلي لا يقصد تعظيمها لئلا يكون ذلك ذريعة إلى تخصيصها بالصلاة فيها كما ينهى عن الصلاة عند القبور المحققة، وإن لم يكن المصلي يقصد الصلاة لأجلها، وكما ينهى عن إفراد الجمعة وسرر شعبان بالصوم وإن كان الصائم لا يقصد التخصيص بذلك الصوم.

فإن ما كان مقصودًا بالتخصيص مع النهي عن ذلك ينهى عن تخصيصه أيضًا بالفعل.

وما أشبه هذه الأمكنة بمسجد الضرار الذي {أَسَّسَ بُنْيَانَهُ عَلَى شَفَا جُرُفٍ هَارٍ فَانْهَارَ بِهِ فِي نَارِ جَهَنَّمَ}‌‌(17). فإن ذلك المسجد لما بني: {ضِرَارًا وَكُفْرًا وَتَفْرِيقًا بَيْنَ الْمُؤْمِنِينَ وَإِرْصَادًا لِمَنْ حَارَبَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ مِنْ قَبْلُ}‌‌(18). نهى اللَّه نبيه صلى الله عليه وسلم عن الصلاة فيه، وأمر بهدمه.

وهذه المشاهد الباطلة إنما وضعت مضاهاةً لبيوت اللَّه وتعظيمًا لما لم يعظمه اللَّه وعكوفًا على أشياء لا تنفع ولا تضر، وصدًّا للخلق عن سبيل اللَّه، وهي عبادته وحده لا شريك له بما شرعه اللَّه على لسان رسوله صلى الله عليه وسلم، واتخاذها عيدًا، والاجتماع عندها واعتياد قصدها فإن العيد من المعاودة.

ويلتحق بهذا الضرب -ولكنه ليس منه- مواضع تدعى له خصائص لا تثبت مثل كثير من القبور التي يقال إنها قبر نبي، أو قبر صالح، أو مقام نبي، أو صالح، ونحو ذلك، وقد يكون ذلك صدقًا وقد يكون كذبًا.

--------------------------------------------

‌‌(17) التوبة: 109.

‌‌(18) التوبة: 107.
যে কোনো প্রকারের সম্মান প্রদর্শনের ক্ষেত্রে, শরীয়ত যে স্থানকে সম্মান দান করেনি তাকে সম্মান করা, শরীয়ত যে সময়কে সম্মান দান করেনি তাকে সম্মান করার চেয়েও অধিক মন্দ। কারণ, কোনো বস্তুর নিকট ইবাদত করার মাধ্যমে তাকে সম্মান প্রদর্শন করা সময়ের সম্মানের চেয়ে মূর্তিপূজার অধিক নিকটবর্তী। এমনকি সেখানে সালাত পরিহার করা উচিত, যদিও সালাত আদায়কারীর উদ্দেশ্য তাকে সম্মান করা না হয়, যাতে করে এটি সেখানে সালাতকে নির্দিষ্ট করার মাধ্যমে পরিণত না হয়; যেমনটি সুনিশ্চিত কবরের নিকট সালাত আদায় করতে নিষেধ করা হয়েছে, যদিও সালাত আদায়কারী কবরের উদ্দেশ্যে সালাত পড়ার নিয়ত না করে। আর যেমনটি জুমআর দিনকে এককভাবে এবং শাবান মাসের শেষ দিনগুলোতে সিয়াম পালন করতে নিষেধ করা হয়েছে, যদিও সিয়াম পালনকারীর উদ্দেশ্য সেটিকে সিয়ামের জন্য নির্দিষ্ট করা না হয়।

কেননা, যা কোনো বিষয়ের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও নির্দিষ্ট করার উদ্দেশ্য নিয়ে করা হয়, কর্মের মাধ্যমেও তা নির্দিষ্ট করা নিষিদ্ধ।

আর এই স্থানগুলো 'মসজিদে দিরার'-এর সাথে কতই না সদৃশ, যার সম্পর্কে বলা হয়েছে: {যে ব্যক্তি তার ইমারতের ভিত্তি স্থাপন করল এক পতনোন্মুখ গর্তের কিনারায়, অতঃপর তা তাকে নিয়ে জাহান্নামের আগুনে ধসে পড়ল}‌‌(১৭)। কারণ, সেই মসজিদটি যখন নির্মাণ করা হয়েছিল: {ক্ষতিসাধন, কুফরি, মুমিনদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি এবং ইতিপূর্বে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধকারী ব্যক্তির জন্য ঘাঁটি স্বরূপ}‌‌(১৮)। আল্লাহ তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে সেখানে সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন এবং তা ধ্বংস করার নির্দেশ দিয়েছেন।

আর এই বাতিল মাশহাদ বা স্মৃতিচিহ্নগুলো আল্লাহর ঘরসমূহের সাদৃশ্য হিসেবে এবং আল্লাহ যেটিকে সম্মান দেননি তাকে সম্মান করার জন্য, আর এমন জিনিসের প্রতি একনিষ্ঠ হওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে যা কোনো উপকার বা অপকার করতে পারে না। এগুলো মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে বাধা দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে, আর আল্লাহর পথ হলো—এককভাবে আল্লাহর ইবাদত করা যাঁর কোনো শরিক নেই, সেই পদ্ধতিতে যা আল্লাহ তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জবানিতে শরীয়ত হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। আর এগুলোকে উৎসবের কেন্দ্র হিসেবে গ্রহণ করা, সেখানে সমবেত হওয়া এবং নিয়মিত সেখানে যাওয়ার উদ্দেশ্য করা (নিষিদ্ধ), কারণ উৎসবের (ঈদ) মূল হলো বারবার ফিরে আসা।

এই প্রকারের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হবে—তবে এটি সরাসরি তার অংশ নয়—এমন সব স্থান যেগুলোর ব্যাপারে এমন সব বৈশিষ্ট্যের দাবি করা হয় যা প্রমাণিত নয়। যেমন অনেক কবর যেগুলোকে কোনো নবীর কবর বা কোনো নেককার ব্যক্তির কবর বলা হয়, অথবা কোনো নবীর মাকাম (অবস্থানস্থল) বা নেককার ব্যক্তির মাকাম বলা হয়, ইত্যাদি। আর এটি সত্যও হতে পারে আবার মিথ্যাও হতে পারে।

--------------------------------------------

‌‌(১৭) আত-তাওবাহ: ১০৯।

‌‌(১৮) আত-তাওবাহ: ১০৭।
(খণ্ড: ১) মাওসূআতু বাইতিল মাকদিস ওয়া বিলাদিশ শামিল হাদিসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
وأكثر المشاهد التي على وجه الأرض من هذا الضرب، فإن القبور الصحيحة والمقامات الصحيحة قليلة جدًّا.

وكان غير واحد من أهل العلم يقول: لا يثبت من قبور الأنبياء إلا قبر نبينا محمد صلى الله عليه وسلم وغيره قد يثبت غير هذا أيضًا، مثل قبر إبراهيم الخليل عليه الصلاة والسلام، وقد يكون علم أن القبر في تلك الناحية لكن يقع الشك في عينه ككثير من قبور الصحابة التي بباب الصغير من دمشق، فإن الأرض غيرت مرات فتعيين قبر بلال أو غيره لا يكاد يثبت إلا من طريق خاصة، وان كان لو ثبت به حكم شرعي مما قد أحدث عندها.

ولكن الغرض أن نبين هذا القسم الأول من تعظيم الأمكنة التي لا خصيصة لها: إما مع العلم بأنه لا خصيصة لها، أو مع عدم العلم بأن لها خصيصة؛ إذ العبادة والعمل بغير علم منهي عنه، كما أن العبادة والعمل بما يخالف العلم منهي عنه ولو كان ضبط هذه الأمور من الدين لما أُهمل، ولما ضاع عن الأمة المحفوظ دينها المعصومة عن الخطأ.

وأكثر ما تجد الحكايات المتعلقة بهذا عن السدنة والمجاورين لها، الذين يأكلون أموال الناس بالباطل، ويصدون عن سبيل اللَّه.

وقد يحكى من الحكايات التي فيها تأثير مثل أن رجلًا دعا عندها فاستجيب له، أو نذر لها إن قضى اللَّه حاجته فقضيت حاجته ونحو ذلك، وبمثل هذه الأمور كانت تعبد الأصنام.

فإن القوم كانوا أحيانًا يخاطبون من الأوثان، وربما تقضى حوائجهم إذا قصدوها؛ ولذلك يجري لهم مثل ما يجري لأهل الأبداد من أهل الهند وغيرهم، وربما قيست على ما شرع اللَّه تعظيمه من بيته المحجوج، والحجر الأسود الذي شرع
পৃথিবীর বুকে বিদ্যমান অধিকাংশ মাজার বা দর্শনীয় স্থানই এই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত; কেননা নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত কবর এবং মাকাম বা অবস্থানস্থল অত্যন্ত নগণ্য।

একাধিক আলেম বলতেন: আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কবর ব্যতীত নবীদের কবরের মধ্যে আর কোনটিই অকাট্যভাবে প্রমাণিত নয়। তবে ইব্রাহিম খলীল (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর কবরের মতো অন্য কোনোটিও প্রমাণিত হতে পারে। আবার কখনো কখনো জানা যায় যে কবরটি অমুক অঞ্চলে অবস্থিত, কিন্তু নির্দিষ্টভাবে কবরটি শনাক্ত করার ক্ষেত্রে সন্দেহ থেকে যায়। যেমন দামেস্কের 'বাবুস সগির'-এ অবস্থিত সাহাবায়ে কেরামের অনেক কবর; কারণ এই ভূখণ্ড বারবার পরিবর্তিত হয়েছে। ফলে বিলাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বা অন্য কারো কবর নির্দিষ্ট করা প্রায় অসম্ভব, যদি না বিশেষ কোনো পন্থায় তা প্রমাণিত হয়। যদিও এর ভিত্তিতে কোনো শরয়ী বিধান সাব্যস্ত করা হলে তা সেখানে নতুন উদ্ভাবিত (বিদআত) বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত হতো।

কিন্তু উদ্দেশ্য হলো সেই সব স্থানের সম্মান প্রদর্শনের প্রথম প্রকারটি বর্ণনা করা যেগুলোর কোনো বিশেষ মর্যাদা নেই: চাই তা এই জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও হোক যে এগুলোর কোনো বৈশিষ্ট্য নেই, অথবা সেগুলোর কোনো বিশেষ বৈশিষ্ট্য আছে কি না তা না জেনেই হোক। কারণ জ্ঞানহীন ইবাদত ও আমল নিষিদ্ধ, ঠিক যেমন ইলমের পরিপন্থী ইবাদত ও আমল করাও নিষিদ্ধ। যদি এই বিষয়গুলো সুনির্দিষ্ট করা দ্বীনের অংশ হতো, তবে তা অবহেলা করা হতো না এবং এই উম্মত থেকে তা হারিয়ে যেত না—যাদের দ্বীন সংরক্ষিত এবং যারা সামগ্রিকভাবে ভুলের ঊর্ধ্বে।

এই সংক্রান্ত অধিকাংশ কিচ্ছা-কাহিনী আপনি পাবেন সেসব খাদেম এবং সেখানে অবস্থানকারীদের কাছে, যারা অন্যায়ভাবে মানুষের সম্পদ ভক্ষণ করে এবং আল্লাহর পথ থেকে বাধা প্রদান করে।

এমন সব প্রভাব সৃষ্টিকারী কাহিনীও বর্ণনা করা হয় যে, এক ব্যক্তি সেখানে দুআ করেছিল এবং তার দুআ কবুল হয়েছে, অথবা সেখানে মানত করেছিল যে যদি আল্লাহ তার প্রয়োজন পূরণ করেন তবে সে কিছু করবে, অতঃপর তার প্রয়োজন পূরণ হয়েছে ইত্যাদি। এই জাতীয় বিষয়গুলোর মাধ্যমেই অতীতে মূর্তি পূজা করা হতো।

কারণ সেই সম্প্রদায়ের লোকেরা কখনো কখনো মূর্তিদের সাথে কথা বলত এবং যখন তারা সেগুলোর উদ্দেশ্যে যেত তখন সম্ভবত তাদের প্রয়োজন পূরণ হতো। এই কারণেই তাদের ক্ষেত্রেও তেমনটি ঘটে থাকে যেমনটি ভারতের মূর্তিপূজক বা অন্যদের ক্ষেত্রে ঘটে। আবার কখনো কখনো এগুলিকে আল্লাহর শরীয়তসম্মত সম্মানিত নিদর্শনের ওপর কিয়াস করা হয়, যেমন তাঁর পবিত্র ঘর যা জিয়ারত করা হয় এবং হাজরে আসওয়াদ যা শরীয়তসম্মত করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) মাওসূআতু বাইতিল মাকদিস ওয়া বিলাদিশ শামিল হাদিসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
اللَّه استلامه وتقبيله، كأنه يمينه، والمساجد التي هي بيوته.

وإنما عبدت الشمس والقمر بالمقاييس وبمثل هذه الشبهات حدث الشرك في أهل الأرض.

وقد صحَّ عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه نهى عن النذر وقال: "إِنَّهُ لَا يَأْتِي بِخَيْرٍ، وَإِنَّمَا يُسْتَخْرَجُ بِهِ مِنَ الْبَخِيلِ". فإذا كان نذر الطاعات المعلقة بشرط لا فائدة فيه ولا يأتي بخير، فما الظن بالنذر لما لا يضر ولا ينفع.

وأمَّا إجابة الدعاء: فقد يكون سببه اضطرار الداعي وصدق التجائه، وقد يكون سببه مجرد رحمة اللَّه له، وقد يكون أمرًا قضاه اللَّه لا لأجل دعائه، وقد يكون له أسباب أخرى وإن كانت فتنة في حق الداعي.

فإنا نعلم أن الكفار قد يستجاب لهم فيسقون وينصرون، ويعافون ويرزقون مع دعائهم عند أوثانهم وتوسلهم بها.

وقد قال اللَّه تعالى: {كُلًّا نُمِدُّ هَؤُلَاءِ وَهَؤُلَاءِ مِنْ عَطَاءِ رَبِّكَ وَمَا كَانَ عَطَاءُ رَبِّكَ مَحْظُورًا}‌‌(19).

وقال تعالى: {وَأَنَّهُ كَانَ رِجَالٌ مِنَ الْإِنْسِ يَعُوذُونَ بِرِجَالٍ مِنَ الْجِنِّ فَزَادُوهُمْ رَهَقًا}‌‌(20).

وأسباب المقدورات فيها أمور يطول تعدادها ليس هذا موضع تفصيلها.

وإنما على الخلق اتباع ما بعث اللَّه به المرسلين والعلم بأن فيه خير الدنيا والآخرة، ولعلِّي إن شاء اللَّه أبيِّن بعض أسباب هذه التأثيرات في موضع آخر‌‌(21).

--------------------------------------------

‌‌(19) الإسراء: 20.

‌‌(20) الجن: 6.

‌‌(21) "اقتضاء الصراط المستقيم مخالفة أصحاب الجحيم" (ص 290 - 296).
আল্লাহ এটিকে স্পর্শ করা ও চুম্বন করার (বিধান দিয়েছেন), যেন এটি তাঁর ডান হাত; আর মসজিদসমূহ হলো তাঁর ঘর।

নিশ্চয়ই সূর্য ও চন্দ্রের ইবাদত করা হয়েছে কিয়াস বা ভুল অনুমানের ভিত্তিতে, আর এ জাতীয় সংশয়গুলোর মাধ্যমেই পৃথিবীর অধিবাসীদের মধ্যে শিরকের উদ্ভব ঘটেছে।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে সহীহভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি মানত করতে নিষেধ করেছেন এবং বলেছেন: "নিশ্চয়ই এটি কোনো কল্যাণ বয়ে আনে না, বরং এর মাধ্যমে কৃপণের কাছ থেকে (সম্পদ) বের করে নেওয়া হয়।" সুতরাং যদি শর্তযুক্ত আনুগত্যের মানত করার মধ্যে কোনো ফায়দা না থাকে এবং তা কোনো কল্যাণ বয়ে না আনে, তবে যা কোনো ক্ষতি বা উপকার করতে পারে না তার নামে মানত করার ব্যাপারে কী ধারণা হতে পারে?

আর দুয়া কবুল হওয়ার বিষয়টি: কখনো এর কারণ হতে পারে আহ্বানকারীর নিরুপায় অবস্থা এবং তার একনিষ্ঠ আশ্রয় প্রার্থনা, আবার কখনো এর কারণ হতে পারে কেবল তার প্রতি আল্লাহর দয়া, আবার কখনো এটি এমন একটি বিষয় হতে পারে যা আল্লাহ ফয়সালা করে রেখেছেন যা তার দুয়ার কারণে নয়, আবার এর অন্যান্য কারণও থাকতে পারে যদিও তা আহ্বানকারীর জন্য একটি পরীক্ষা হতে পারে।

কেননা আমরা জানি যে, কাফেরদের দুয়াও কবুল হতে পারে; ফলে তাদের বৃষ্টি দান করা হয়, সাহায্য করা হয়, সুস্থতা দান করা হয় এবং রিযিক দেওয়া হয়, অথচ তারা তাদের মূর্তিদের নিকট দুয়া করে এবং সেগুলোর অসীলা গ্রহণ করে।

আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আমি এদেরকে এবং ওদেরকে—প্রত্যেককেই আপনার রবের দান থেকে সাহায্য করি এবং আপনার রবের দান অবারিত।}‌‌(১৯)

এবং তিনি আরও বলেছেন: {মানুষের মধ্য থেকে কিছু লোক জিনের মধ্য থেকে কিছু লোকের আশ্রয় গ্রহণ করত, ফলে তারা তাদের পাপাচার বাড়িয়ে দিয়েছিল।}‌‌(২০)

আর তাকদীরে নির্ধারিত বিষয়গুলোর কারণসমূহ অনেক, যা বর্ণনা করা দীর্ঘ কাজ এবং এটি তার বিস্তারিত আলোচনার স্থান নয়।

বরং সৃষ্টির কর্তব্য হলো আল্লাহ যা দিয়ে রাসূলদের পাঠিয়েছেন তার অনুসরণ করা এবং এই জ্ঞান রাখা যে, তাতে দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ রয়েছে। ইনশাআল্লাহ আমি অন্য কোনো স্থানে এই প্রভাবগুলোর কিছু কারণ ব্যাখ্যা করব।‌‌(২১)

--------------------------------------------

‌‌(১৯) আল-ইসরা: ২০।

‌‌(২০) আল-জিন: ৬।

‌‌(২১) "ইকতিদাউস সিরাতিল মুস্তাকীম মুখালাফাতু আসহাবিল জাহীম" (পৃ. ২৯০ - ২৯৬)।
(খণ্ড: ১) মাওসূআতু বাইতিল মাকদিস ওয়া বিলাদিশ শামিল হাদিসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌حكم رواية الإسرائيليات

سترى في ثنايا هذه الموسوعة كمًّا عظيمًا من أحاديث بني إسرائيل،، والذي أثبتناه هنا إنما وضع للعلم والبيان، وليس للحجة والاعتماد، فبحمد اللَّه شريعتنا فيها الغُنية والكفاية، وشريعة من قبلنا محرفة ومبدلة بلا نهاية. {فَوَيْلٌ لِلَّذِينَ يَكْتُبُونَ الْكِتَابَ بِأَيْدِيهِمْ ثُمَّ يَقُولُونَ هَذَا مِنْ عِنْدِ اللَّهِ لِيَشْتَرُوا بِهِ ثَمَنًا قَلِيلًا فَوَيْلٌ لَهُمْ مِمَّا كَتَبَتْ أَيْدِيهِمْ وَوَيْلٌ لَهُمْ مِمَّا يَكْسِبُونَ}‌‌(22).

وقد فصل أهل العلم المرويات المنقولة عن بني إسرائيل إلى أقسام ثلاثة:

القسم الأول: ما علمنا صحته مما بأيدينا من القرآن والسنة، والقرآن هو الكتاب المهيمن، والشاهد على الكتب السماوية قبله، فما وافقه فهو حق وصدق، وما خالفه فهو باطل وكذب، قال تعالى: {وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ مُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَيْهِ مِنَ الْكِتَابِ وَمُهَيْمِنًا عَلَيْهِ فَاحْكُمْ بَيْنَهُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَاءَهُمْ عَمَّا جَاءَكَ مِنَ الْحَقِّ لِكُلٍّ جَعَلْنَا مِنْكُمْ شِرْعَةً وَمِنْهَاجًا وَلَوْ شَاءَ اللَّهُ لَجَعَلَكُمْ أُمَّةً وَاحِدَةً وَلَكِنْ لِيَبْلُوَكُمْ فِي مَا آتَاكُمْ فَاسْتَبِقُوا الْخَيْرَاتِ إِلَى اللَّهِ مَرْجِعُكُمْ جَمِيعًا فَيُنَبِّئُكُمْ بِمَا كُنْتُمْ فِيهِ تَخْتَلِفُونَ (48) وَأَنِ احْكُمْ بَيْنَهُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَاءَهُمْ وَاحْذَرْهُمْ أَنْ يَفْتِنُوكَ عَنْ بَعْضِ مَا أَنْزَلَ اللَّهُ إِلَيْكَ}‌‌(23).

وهذ االقسم صحيح، وفيما عندنا غنية عنه، ولكن يجوز ذكره وروايته للاستشهاد به، ولإقامة الحجة عليهم من كتبهم، وذلك مثل ما ذكر في صاحب موسى عليه السلام وأنه الخضر، فقد ورد في الحديث الصحيح، ومثل ما يتعلق بالبشارة

--------------------------------------------

‌‌(22) البقرة: 79.

‌‌(23) المائدة: 48 - 49.
ইসরাঈলি বর্ণনা বর্ণনার বিধান

আপনি এই বিশ্বকোষের পরতে পরতে বনী ইসরাঈলের বিপুল পরিমাণ বর্ণনা দেখতে পাবেন। আমরা এখানে যা সাব্যস্ত করেছি তা কেবলমাত্র জ্ঞান ও স্পষ্টীকরণের জন্য রাখা হয়েছে, দলিল হিসেবে গ্রহণ বা নির্ভর করার জন্য নয়। আল্লাহর প্রশংসায় আমাদের শরিয়তে পর্যাপ্ততা ও স্বয়ংসম্পূর্ণতা রয়েছে, আর আমাদের পূর্ববর্তীদের শরিয়ত সীমাহীনভাবে বিকৃত ও পরিবর্তিত। {অতএব ধ্বংস তাদের জন্য যারা নিজ হাতে কিতাব লেখে, তারপর বলে যে, এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে, যাতে তারা এর বিনিময়ে তুচ্ছ মূল্য গ্রহণ করতে পারে। সুতরাং তাদের হাত যা লিখেছে তার জন্য তাদের ধ্বংস এবং তারা যা উপার্জন করে তার জন্য তাদের ধ্বংস}‌‌(২২)।

আলেমগণ বনী ইসরাঈল থেকে বর্ণিত রেওয়ায়েতগুলোকে তিন ভাগে বিভক্ত করেছেন:

প্রথম বিভাগ: আমাদের কাছে থাকা কুরআন ও সুন্নাহর মাধ্যমে আমরা যেগুলোর সত্যতা নিশ্চিতভাবে জানতে পেরেছি। কুরআন হলো পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবসমূহের ওপর হেফাযতকারী এবং সাক্ষী। সুতরাং যা কুরআনের অনুকূল তা সত্য ও সঠিক, আর যা এর পরিপন্থী তা বাতিল ও মিথ্যা। আল্লাহ তায়ালা বলেন: {আমি আপনার প্রতি সত্যসহ কিতাব অবতীর্ণ করেছি, যা তার পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী এবং তার ওপর হেফাযতকারী। সুতরাং আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তদানুযায়ী তাদের মধ্যে বিচার করুন এবং আপনার কাছে আসা সত্য ছেড়ে তাদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করবেন না। আমি তোমাদের প্রত্যেকের জন্য একটি শরিয়ত ও কর্মপন্থা নির্ধারণ করেছি। আর আল্লাহ ইচ্ছা করলে তোমাদের এক উম্মত করতে পারতেন, কিন্তু তিনি তোমাদের যা দিয়েছেন তাতে তোমাদের পরীক্ষা করতে চান। অতএব তোমরা সৎকাজে প্রতিযোগিতা করো। আল্লাহর দিকেই তোমাদের সবার প্রত্যাবর্তন, তারপর তোমরা যে বিষয়ে মতভেদ করতে তিনি তোমাদের তা জানিয়ে দেবেন। আর (আদেশ দিচ্ছি যে) আপনি তাদের মধ্যে বিচার করুন আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তা দিয়ে, তাদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করবেন না এবং তাদের থেকে সতর্ক থাকুন যাতে আল্লাহ আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ করেছেন তার কোনো কোনোটি থেকে তারা আপনাকে বিচ্যুত করতে না পারে}‌‌(২৩)।

এই বিভাগটি সঠিক, যদিও আমাদের কাছে যা আছে তাতেই এর প্রয়োজনীয়তা পূর্ণ হয়ে যায়, তবুও সাক্ষ্য হিসেবে এবং তাদের কিতাব থেকেই তাদের বিরুদ্ধে দলিল পেশ করার জন্য এটি উল্লেখ করা ও বর্ণনা করা বৈধ। যেমনটি মূসা আলাইহিস সালামের সাথীর বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে তিনি ছিলেন খিজির, কারণ এটি সহিহ হাদিসে এসেছে, এবং যেমনটি সুসংবাদ সংক্রান্ত বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে...

--------------------------------------------

‌‌(২২) আল-বাকারাহ: ৭৯।

‌‌(২৩) আল-মায়েদাহ: ৪৮ - ৪৯।
(খণ্ড: ১) মাওসূআতু বাইতিল মাকদিস ওয়া বিলাদিশ শামিল হাদিসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
بالنبي صلى الله عليه وسلم وبرسالته، وأن التوحيد هو دين جميع الأنبياء، مما غفلوا عن تحريفه أو حرفوه، ولكن بقي شعاع منه يدل على الحق.

وفي هذا القسم ورد قوله صلى الله عليه وسلم:"بَلِّغُوا عَنِّي وَلَوْ آيَةً، وَحَدِّثُوا عَنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ وَلَا حَرَجَ، وَمَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّدًا، فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ".

قال الحافظ في "الفتح": أي لا ضيق عليكم في الحديث عنهم؛ لأنه كان تقدم منه صلى الله عليه وسلم الزجر عن الأخذ عنهم، والنظر في كتبهم، ثم حصل التوسع في ذلك، وكان النهي وقع قبل استقرار الأحكام الإسلامية، والقواعد الدينية خشية الفتنة، ثم لما زال المحذور وقع الإذن في ذلك، لما في سماع الأخبار التي كانت في زمنهم من الاعتبار.

القسم الثاني: ما علمنا كذبه مما عندنا مما يخالفه، وذلك مثل ما ذكروه في قصص الأنبياء من أخبار تطعن في عصمة الأنبياء عليهم الصلاة والسلام، كقصة يوسف، وداود وسليمان، ومثل ما ذكروه في توراتهم من أن الذبيح إسحاق لا إسماعيل، فهذا لا تجوز روايته وذكره إلا مقترنا ببيان كذبه، وأنه مما حرفوه وبدلوه، قال تعالى: {يُحَرِّفُونَ الْكَلِمَ مِنْ بَعْدِ مَوَاضِعِهِ}‌‌(24).

وفي هذا القسم ورد النهي عن النبي صلى الله عليه وسلم للصحابة عن روايته، والزجر عن أخذه عنهم، وسؤالهم عنه، قال الإمام مالك رحمه الله في حديث:"حَدِّثُوا عَنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ وَلَا حَرَجَ": المراد جواز التحدث عنهم بما كان من أمر حسن، أما ما عُلِم كذبه فلا.

القسم الثالث: ما هو مسكوت عنه، لا من هذا، ولا من ذاك، فلا نؤمن به، ولا نكذبه، لاحتمال أن يكون حقا فنكذبه، أو باطلا فنصدقه، ويجوز حكايته لما تقدم من الإذن في الرواية عنهم.

--------------------------------------------

‌‌(24) المائدة: 41.
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর রিসালাতের প্রতি, এবং তাওহীদই সকল নবীদের ধর্ম, যা তারা বিকৃত করতে ভুলে গেছে অথবা বিকৃত করেছে, তবে সেখান থেকে একটি আলোকচ্ছটা অবশিষ্ট রয়ে গেছে যা সত্যের পথ দেখায়।

এবং এই বিভাগেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এই বাণীটি এসেছে: "আমার পক্ষ থেকে একটি আয়াত হলেও পৌঁছে দাও, এবং বনী ইসরাঈল থেকে বর্ণনা করো, এতে কোনো দোষ নেই। আর যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার প্রতি মিথ্যা আরোপ করবে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।"

হাফেজ (ইবনে হাজার) 'ফাতহুল বারী' গ্রন্থে বলেছেন: অর্থাৎ তাদের সম্পর্কে আলোচনা করার ক্ষেত্রে তোমাদের ওপর কোনো সংকীর্ণতা নেই; কারণ ইতিপূর্বে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের থেকে কোনো কিছু গ্রহণ করতে এবং তাদের কিতাবসমূহের দিকে দৃষ্টিপাত করতে বারণ করেছিলেন, এরপর তাতে প্রশস্ততা আসে। এই নিষেধাজ্ঞাটি ফিতনার আশঙ্কায় ইসলামি বিধান ও ধর্মীয় মূলনীতিসমূহ সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে যখন সেই আশঙ্কার কারণ দূর হয়ে গেল, তখন তাদের থেকে বর্ণনা করার অনুমতি দেওয়া হলো, কারণ তাদের সময়ের ঘটনাবলি শোনার মধ্যে শিক্ষণীয় বিষয় রয়েছে।

দ্বিতীয় বিভাগ: যা আমাদের নিকট থাকা দলীলের বিরোধী হওয়ার কারণে আমরা এর মিথ্যা হওয়া সম্পর্কে অবগত, যেমন তারা নবীদের কাহিনীসমূহে এমন কিছু সংবাদ বর্ণনা করেছে যা নবীদের (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম) নিষ্পাপ হওয়ার গুণের ওপর আঘাত হানে, যেমন ইউসুফ, দাউদ ও সুলাইমান (আলাইহিমুস সালাম)-এর কাহিনী। এবং যেমন তারা তাদের তাওরাতে উল্লেখ করেছে যে, যবেহকৃত সন্তান ছিলেন ইসহাক, ইসমাইল নন। এই ধরনের বিষয় বর্ণনা করা এবং উল্লেখ করা বৈধ নয়, যদি না এর মিথ্যা হওয়া এবং তারা যে একে বিকৃত ও পরিবর্তন করেছে তা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করা হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন: {তারা শব্দগুলোকে তার যথাযথ স্থান থেকে বিকৃত করে}‌‌(২৪)।

এই বিভাগেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে সাহাবীদের প্রতি তা বর্ণনা করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা এসেছে এবং তাদের থেকে তা গ্রহণ করতে ও তাদের এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতে বারণ করা হয়েছে। ইমাম মালিক (রহিমাহুল্লাহ) এই হাদীসের বিষয়ে বলেন: "বনী ইসরাঈল থেকে বর্ণনা করো, এতে কোনো দোষ নেই"-এর উদ্দেশ্য হলো তাদের সম্পর্কে এমন সব ভালো বিষয় বর্ণনা করা যা অনুমোদিত, কিন্তু যা মিথ্যা বলে জানা গেছে তা নয়।

তৃতীয় বিভাগ: যে বিষয়ে নীরবতা অবলম্বন করা হয়েছে, যা এই শ্রেণীরও নয় এবং ঐ শ্রেণীরও নয়। সুতরাং আমরা তা বিশ্বাসও করি না, আবার মিথ্যাও বলি না; এই সম্ভাবনার কারণে যে, হয়তো তা সত্য এবং আমরা একে মিথ্যা বলে দিলাম, অথবা তা মিথ্যা এবং আমরা একে বিশ্বাস করে নিলাম। তবে তাদের থেকে বর্ণনা করার পূর্ববর্তী অনুমতির কারণে এটি বর্ণনা করা জায়েয।

--------------------------------------------

‌‌(২৪) আল-মায়িদাহ: ৪১।
(খণ্ড: ১) মাওসূআতু বাইতিল মাকদিস ওয়া বিলাদিশ শামিল হাদিসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
قال ابن بطال عن المهلب: هذا النهي في سؤالهم عما لا نص فيه؛ لأن شرعنا مكتفٍ بنفسه، فإذا لم يوجد فيه نص، ففي النظر والاستدلال غنًى عن سؤالهم، ولا يدخل في النهي سؤالهم عن الأخبار المصدقة لشرعنا، والأخبار عن الأمم السالفة‌‌(25).

وأكثر هذه الإسرائيليات نقله لنا كعب الأحبار ووهب بن منبه وغيرهما، وقد يصح السند إليهم، وهذا لا يعني صحة المقولة ولا الاعتماد عليها.

قال الشيخ محمد أبو شهبة: لا منافاة بين كونها صحيحة السند، أو حسنة السند، أو ثابتة السند، وبين كونها من إسرائيليات بني إسرائيل، وخرافاتهم، وأكاذيبهم، فهي صحيحة السند إلى ابن عباس، أو عبد اللَّه بن عمرو بن العاص، أو إلى مجاهد، أو عكرمة، أو سعيد بن جبير وغيرهم، ولكنها ليست متلقاة عن النبي، لا بالذات، ولا بالواسطة، ولكنها متلقاة عن أهل الكتاب الذين أسلموا، فثبوتها إلى من رويت عنه شيء، وكونها مكذوبة في نفسها، أو باطلة، أو خرافة، شيء آخر، ومثل ذلك الآراء والمذاهب الفاسدة اليوم، فهي ثابتة عن أصحابها، ومن آرائهم ولا شك، ولكنها في نفسها فكرة باطلة، أو مذهب فاسد‌‌(26).

--------------------------------------------

‌‌(25) "الإسرائيليات والموضوعات في كتب التفسير" (ص 106 - 108) بتصرف.

‌‌(26) "الإسرائيليات والموضوعات في كتب التفسير" (ص 96).
ইবনে বাত্তাল আল-মুহাল্লাব থেকে বর্ণনা করেছেন: এই নিষেধাজ্ঞা হচ্ছে সেই সব বিষয়ে প্রশ্ন করার ক্ষেত্রে যেগুলোর ব্যাপারে কোনো সুনির্দিষ্ট নস (ধর্মীয় পাঠ) নেই; কারণ আমাদের শরীয়ত স্বয়ংসম্পূর্ণ। সুতরাং যদি এতে কোনো নস পাওয়া না যায়, তবে চিন্তা-গবেষণা এবং দালিলিক অনুমানের মাধ্যমেই তাদের জিজ্ঞাসার প্রয়োজন মিটে যায়। আর আমাদের শরীয়তকে সত্যায়নকারী সংবাদ এবং পূর্ববর্তী জাতিসমূহের সংবাদ সম্পর্কে প্রশ্ন করা এই নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত নয়‌‌(২৫).

আর এই ইসরাঈলি রেওয়ায়েতগুলোর অধিকাংশই আমাদের কাছে কাব আল-আহবার, ওয়াহাব বিন মুনাব্বিহ এবং অন্যান্যদের মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে। তাদের পর্যন্ত সনদ সহীহ হতে পারে, তবে এর অর্থ এই নয় যে বক্তব্যটি সঠিক বা এর ওপর নির্ভর করা যাবে।

শায়খ মুহাম্মদ আবু শাহবাহ বলেন: কোনো বর্ণনা সহীহ সনদ, হাসান সনদ বা প্রমাণিত সনদ হওয়ার সাথে সেটি বনী ইসরাঈলের ইসরাঈলি রেওয়ায়েত, তাদের রূপকথা বা মিথ্যা হওয়ার মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই। কেননা ইবনে আব্বাস, আবদুল্লাহ বিন আমর ইবনুল আস, মুজাহিদ, ইকরিমাহ বা সাঈদ বিন জুবায়ের এবং অন্যান্যদের পর্যন্ত এর সনদ সহীহ হতে পারে, কিন্তু সেগুলো সরাসরি বা পরোক্ষভাবে নবী থেকে প্রাপ্ত নয়। বরং সেগুলো ইসলাম গ্রহণকারী আহলে কিতাবদের থেকে সংগৃহীত। সুতরাং যার কাছ থেকে এটি বর্ণিত হয়েছে তার পর্যন্ত এর বিশুদ্ধতা প্রমাণিত হওয়া এক কথা, আর বিষয়টি স্বয়ং মিথ্যা, বাতিল বা রূপকথা হওয়া অন্য কথা। ঠিক বর্তমান যুগের ভ্রান্ত মতবাদ ও আদর্শগুলোর মতোই; সেগুলো তাদের প্রবক্তাদের পক্ষ থেকে প্রমাণিত এবং নিঃসন্দেহে তাদেরই মত, কিন্তু সেটি স্বয়ং একটি বাতিল ধারণা বা ভ্রান্ত মতবাদ‌‌(২৬).

--------------------------------------------

‌‌(২৫) "আল-ইসরাঈলিয়্যাত ওয়াল মাওদুআত ফি কুতুবিত তাফসির" (পৃষ্ঠা ১০৬ - ১০৮) সংক্ষেপিত।

‌‌(২৬) "আল-ইসরাঈলিয়্যাত ওয়াল মাওদুআত ফি কুতুবিত তাফসির" (পৃষ্ঠা ৯৬)।
(খণ্ড: ১) মাওসূআতু বাইতিল মাকদিস ওয়া বিলাদিশ শামিল হাদিসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌منهج جمع الموسوعة

‌‌1 - جمع الآيات المتعلقة بهذه البقاع.

 

‌‌2 - جمع الأحاديث والآثار المتعلقة بشرح هذه الآيات.

 

‌‌3 - جمع ما ورد من السنة النبوية في كل المصنفات المطبوعات.

 

‌‌4 - استخراج ما تيسر من المخطوطات المصنفة في بلاد الشام والمسجد الأقصى.

وقد استوعبنا في ذلك عدة مصنفات اهتمت بالشام والأقصى، وقد اجتهدنا قدر استطاعتنا فى جمع ما ورد فى هذا الباب، وسنذكر ثبت بأهم المصادر المتخصصة التي اعتمدنا عليها في آخر المقدمة.

 

‌‌5 - حكمنا على كل الأحاديث والآثار بما تقتضيه قواعد أهل هذا الفن ليتبين الحق من الضلال، وسيرى القارئ أثناء القراءة عبارات قد تشكل عليه، فأقول مستعينًا باللَّه:

الحديث النبوى قسمان:

مقبول، ومردود.

فالمقبول قسمان: صحيح، وحسن، وكلاهما ينقسم إلى قسمين: صحيح لذاته، وصحيح لغيره، وحسن لذاته، وحسن لغيره.

والأقسام الأربعة داخلة تحت باب المقبول المحتج به.

وما سوى ذاك فهو الضعيف، وله مراتب بحسب قدر الضعف.

فربما كان الضعف بسبب سوء حفظ راويه، ونسميه: شاذ، أو منكر، أو خطأ، أو وهم، أو مضطرب.

وقد يكون الضعف بسبب الانقطاع فى السند، فنسميه: مرسل، أو معضل،
বিশ্বকোষ সংকলনের পদ্ধতি

১ - এই অঞ্চলগুলো সংশ্লিষ্ট আয়াতসমূহ সংগ্রহ করা।

 

২ - এই আয়াতসমূহের ব্যাখ্যার সাথে সংশ্লিষ্ট হাদিস ও আসারসমূহ সংগ্রহ করা।

 

৩ - সমস্ত মুদ্রিত গ্রন্থ থেকে সুন্নাহে নববীতে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে তা সংগ্রহ করা।

 

৪ - শাম দেশ ও মসজিদে আকসা সম্পর্কে রচিত পাণ্ডুলিপিগুলো থেকে যা সংগ্রহ করা সহজসাধ্য হয়েছে তা উদ্ধৃত করা।

আমরা এ ক্ষেত্রে শাম ও আকসা নিয়ে রচিত বেশ কিছু গ্রন্থ অন্তর্ভুক্ত করেছি এবং এই অধ্যায়ে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে তা সংগ্রহ করতে আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি। ভূমিকার শেষে আমরা আমাদের নির্ভরকৃত প্রধান বিশেষায়িত উৎসগুলোর একটি তালিকা উল্লেখ করব।

 

৫ - এই শাস্ত্রের পণ্ডিতদের নীতিমালা অনুযায়ী আমরা প্রতিটি হাদিস ও আসারের মান নির্ধারণ করেছি যাতে বিভ্রান্তি থেকে সত্য স্পষ্ট হয়ে যায়। পাঠক পাঠের সময় এমন কিছু পরিভাষা দেখতে পারেন যা তার কাছে জটিল মনে হতে পারে, তাই আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করে আমি বলছি:

হাদিসে নববী দুই প্রকার:

মাকবুল (গ্রহণযোগ্য) এবং মারদুদ (বর্জনীয়)।

মাকবুল আবার দুই প্রকার: সহিহ ও হাসান। এই উভয় প্রকার আবার দুই ভাগে বিভক্ত: সহিহ লি-যাতিহি ও সহিহ লি-গাইরিহি এবং হাসান লি-যাতিহি ও হাসান লি-গাইরিহি।

এই চারটি প্রকারই মাকবুল বা দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্যতার অন্তর্ভুক্ত।

এছাড়া যা কিছু রয়েছে তা জয়িফ (দুর্বল), আর দুর্বলতার মাত্রা অনুযায়ী এর বিভিন্ন স্তর রয়েছে।

কখনও দুর্বলতা বর্ণনাকারীর মুখস্থ শক্তির ত্রুটির কারণে হয়, যাকে আমরা শায, মুনকার, ভুল, বিভ্রম বা মুদতারিব (অসংগতিপূর্ণ) বলে অভিহিত করি।

আবার কখনও দুর্বলতা সনদের মধ্যে বিচ্ছিন্নতার কারণে হয়, যাকে আমরা মুরসাল বা মুদাল বলি।
(খণ্ড: ১) মাওসূআতু বাইতিল মাকদিস ওয়া বিলাদিশ শামিল হাদিসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
أو منقطع، أو مدلس.

وقد يكون الضعف شديدًا جدًّا، فنسميه: موضوع، أو ضعيف جدًّا، أو باطل، أو متروك، أو من الاسرائيليات.

 

‌‌6 - عرَّفنا بالبلدان المذكورة في ثنايا هذه الآثار.

 

‌‌7 - رتَّبنا الكتاب على ستة أبواب رئيسيات، وهي: كتاب الشام، كتاب بيت المقدس، كتاب الإسراء، كتاب الفقه، كتاب التفسير، كتاب الفتن.

 

‌‌8 - عنونا على كل باب بما يتفق مع المقال.

 

‌‌9 - عرَّفنا الغريب الوارد في كل هذه الآثار.

 

‌‌10 - عرَّفنا بالبلدان الواردة في سياق الأحاديث والآثار، وكان اعتمادنا في ذلك على: معجم البلدان، الموسوعة الفلسطينية، موسوعة بلادنا فلسطين.

 

‌‌11 - قمنا بعمل فهارس علمية للموسوعة، وهي كالتالي:

- فهرس الآيات القرآنية.

- فهرس أطراف الأحاديث.

- فهرس أطراف الآثار.

- فهرس الأعلام.

- فهرس الأماكن والبلدان.

- فهرس الرجال المتكلم فيهم بالجرح والتعديل.

- فهرس المصادر والمراجع.

- فهرس الموضوعات.
অথবা মুনকাতি (বিচ্ছিন্ন), অথবা মুদাল্লাস।

আর কখনও দুর্বলতা অত্যন্ত বেশি হতে পারে, তখন আমরা তাকে অভিহিত করি: মাওযু (জাল), অথবা অত্যন্ত দুর্বল, অথবা বাতিল, অথবা মাতরুক (পরিত্যক্ত), অথবা ইসরাঈলি বর্ণনা হিসেবে।

 

‌‌৬ - আমরা এই বর্ণনাগুলোর মাঝে উল্লিখিত দেশসমূহের পরিচয় প্রদান করেছি।

 

‌‌৭ - আমরা গ্রন্থটিকে ছয়টি প্রধান অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছি, আর সেগুলো হলো: শাম অধ্যায়, বায়তুল মাকদিস অধ্যায়, ইসরা অধ্যায়, ফিকহ অধ্যায়, তাফসীর অধ্যায়, ফিতনা অধ্যায়।

 

‌‌৮ - আমরা প্রতিটি অধ্যায়ের শিরোনাম দিয়েছি বিষয়বস্তুর সাথে সামঞ্জস্য রেখে।

 

‌‌৯ - আমরা এই সকল বর্ণনায় উল্লিখিত গারিীব (অপরিচিত শব্দ) সমূহের অর্থ স্পষ্ট করেছি।

 

‌‌১০ - আমরা হাদিস ও আসারসমূহের প্রেক্ষাপটে উল্লিখিত দেশসমূহের পরিচয় দিয়েছি, এবং এক্ষেত্রে আমাদের নির্ভরতা ছিল: মুজামুল বুলদান, ফিলিস্তিনি বিশ্বকোষ, এবং আমাদের দেশ ফিলিস্তিন বিশ্বকোষ-এর ওপর।

 

‌‌১১ - আমরা বিশ্বকোষটির জন্য ইলমি সূচিপত্র তৈরি করেছি, যা নিম্নরূপ:

- কুরআনের আয়াতের সূচিপত্র।

- হাদিসের প্রথমাংশের সূচিপত্র।

- আসার বা বর্ণনাসমূহের প্রথমাংশের সূচিপত্র।

- ব্যক্তিবর্গের সূচিপত্র।

- স্থান ও দেশসমূহের সূচিপত্র।

- যাদের সম্পর্কে জারহ ও তা'দীল (সমালোচনা ও প্রশংসা) করা হয়েছে এমন বর্ণনাকারীদের সূচিপত্র।

- উৎস ও রেফারেন্সের সূচিপত্র।

- বিষয়বস্তুর সূচিপত্র।
(খণ্ড: ১) মাওসূআতু বাইতিল মাকদিস ওয়া বিলাদিশ শামিল হাদিসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌فريق العمل

أتى على جمع هذه الموسوعة المباركة فترة من الزمن تقارب الثلاث سنوات، وقام بالعمل معنا في الجمع والتخريج والترتيب والفهرسة وغير ذلك عصبة من إخواننا طلاب العلم، فقد أقبلوا على تعلم العلم ورغبوا في المشاركة بسهم في هذا العمل العظيم، فهي جهود مباركة أسأل اللَّه أن يجزي خيرًا كل من شارك معنا ولو بالدعاء.

وها هي أسماء المشاركين في العمل، مرتبين على حروف المعجم:

- أحمد بن سليمان أيوب، وقد وضعت خطة العمل وبيان طريقة الجمع لأحاديث وآثار الموسوعة، وراجعت العمل مع الباحثين، وحكمت على أحاديثها وآثارها بما تقتضيه قواعد المحدثين.

- أيمن السيد عبد الفتاح شارك في التخريج.

- أيمن عبد المنعم وقد قام بالعمل في باب الاسراء والمعراج وخرج أحاديثه.

- إيهاب عبد الواحد وقد قام يجهد كبير فى جمع الموسوعة من المصنفات التي وضعناها وخرج الكثير منها.

- حسام عبد اللَّه حلمي قام بوضع الأحاديث في الأبواب المناسبة، وشارك في الفهرسة وترتيب الأبواب.

- خالد إبراهيم سيد وهو صاحب أكبر جهد في التخريج والتنسيق بين الملفات.

- سيد محمود المر قام بتعريف البلدان وعمل التراجم وشارك في الفهرسة.

- محمد أحمد إبراهيم صاحب أكبر جهد في المقابلات وشارك في الفهرسة.
কর্মীবৃন্দ

এই বরকতময় বিশ্বকোষটি সংকলন করতে প্রায় তিন বছর সময় লেগেছে। ইলম অন্বেষী আমাদের একদল ভাই এর সংকলন, তাখরিজ (উৎস নির্দেশকরণ), বিন্যাস, সূচিপত্র তৈরি এবং অন্যান্য কাজে আমাদের সাথে কাজ করেছেন। তাঁরা জ্ঞান অর্জনে আত্মনিয়োগ করেছেন এবং এই মহৎ কাজে অংশগ্রহণের আকাঙ্ক্ষা পোষণ করেছেন। এটি একটি বরকতময় প্রচেষ্টা, আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন এর সাথে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেককে উত্তম প্রতিদান দান করেন, এমনকি যারা শুধু দোয়ার মাধ্যমে শরিক হয়েছেন তাঁদেরও।

নিচে বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজানো এই কাজে অংশগ্রহণকারীদের নাম দেওয়া হলো:

- আহমদ ইবনে সুলাইমান আইয়ুব: তিনি কাজের পরিকল্পনা এবং এই বিশ্বকোষের হাদিস ও আসারসমূহ সংকলনের পদ্ধতি নির্ধারণ করেছেন। তিনি গবেষকদের সাথে কাজগুলো পর্যালোচনা করেছেন এবং মুহাদ্দিসগণের মূলনীতি অনুযায়ী হাদিস ও আসারগুলোর মান নির্ধারণ করেছেন।

- আয়মান আস-সাইয়িদ আব্দুল ফাত্তাহ: তিনি তাখরিজের কাজে অংশগ্রহণ করেছেন।

- আয়মান আব্দুল মুনইম: তিনি ইসরা ও মিরাজ অধ্যায়ে কাজ করেছেন এবং এর হাদিসগুলোর তাখরিজ করেছেন।

- ইহাব আব্দুল ওয়াহিদ: আমাদের নির্ধারিত মূল গ্রন্থগুলো থেকে বিশ্বকোষ সংকলনে তিনি অনেক পরিশ্রম করেছেন এবং সেগুলোর অধিকাংশেরই তাখরিজ করেছেন।

- হুসাম আব্দুল্লাহ হিলমি: তিনি হাদিসগুলোকে উপযুক্ত অধ্যায়সমূহে বিন্যস্ত করেছেন এবং সূচিপত্র ও অধ্যায় বিন্যাসে অংশগ্রহণ করেছেন।

- খালিদ ইবরাহিম সাইয়িদ: তাখরিজ এবং ফাইলগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধনে তাঁর শ্রম ছিল সবচেয়ে বেশি।

- সাইয়িদ মাহমুদ আল-মুরর: তিনি ভৌগোলিক স্থানসমূহের পরিচয় প্রদান এবং জীবনী রচনার কাজ করেছেন এবং সূচিপত্র তৈরিতে অংশ নিয়েছেন।

- মুহাম্মদ আহমদ ইবরাহিম: পাণ্ডুলিপি মোকাবিলা বা তুলনামূলক পাঠে তাঁর অবদান ছিল সবচেয়ে বেশি এবং তিনি সূচিপত্র তৈরিতেও অংশগ্রহণ করেছেন।
(খণ্ড: ১) মাওসূআতু বাইতিল মাকদিস ওয়া বিলাদিশ শামিল হাদিসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
- محمود عبد الحكيم وقد قام بجمع باب الفتن وتخريجه.

- ياسر كمال أحمد شارك في جميع مراحل العمل في الموسوعة، وأشرف عليها، وتولى إحضار المخطوطات، وقام بترتيب الأبواب وتقسيم الكتب.

ولا ننسى أن نشكر من قام على تنضيد الموسوعة على الحاسب: محمد فاروق، وعلي حسين، وكذلك بعض إخواننا الذين بدءوا معنا العمل ولم يتيسر لهم الإتمام، ومنهم الإخوة: إبراهيم الشيخ، ومحمد سمير، وراجي أحمد نور الدين.

وجزى اللَّه خيرًا كل من شارك معنا في هذا العمل المبارك، ونسأله سبحانه أن يجعله في موازين الحسنات، والحمد للَّه الذي بنعمته تتم الصالحات.
- মাহমুদ আব্দুল হাকিম, যিনি ফিতনা অধ্যায় সংকলন এবং এর সূত্রায়ন (তাখরীজ) সম্পন্ন করেছেন।

- ইয়াসির কামাল আহমদ বিশ্বকোষের কাজের সকল পর্যায়ে অংশগ্রহণ করেছেন এবং এর তত্ত্বাবধান করেছেন, তিনি পাণ্ডুলিপি সংগ্রহের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং অধ্যায়সমূহ বিন্যাস ও কিতাবসমূহ বিভাজনের কাজ সম্পন্ন করেছেন।

আর আমরা কম্পিউটারে বিশ্বকোষটির কম্পোজের কাজ যারা করেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে ভুলছি না: মুহাম্মদ ফারুক ও আলী হুসাইন; সেইসাথে আমাদের সেই সকল ভাইদের প্রতিও যারা আমাদের সাথে কাজ শুরু করেছিলেন কিন্তু তা সম্পন্ন করা তাদের জন্য সহজ হয়নি, তাদের মধ্যে রয়েছেন: ইবরাহিম আল-শাইখ, মুহাম্মদ সামির এবং রাজী আহমদ নূরুদ্দীন।

এই বরকতময় কাজে যারা আমাদের সাথে অংশগ্রহণ করেছেন, আল্লাহ তাদের সকলকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। আমরা তাঁর পবিত্র দরবারে প্রার্থনা করি যেন তিনি একে আমলনামার পাল্লায় নেক আমল হিসেবে কবুল করেন। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যাঁর অনুগ্রহে সকল নেক কাজ পূর্ণতা লাভ করে।
(খণ্ড: ১) মাওসূআতু বাইতিল মাকদিস ওয়া বিলাদিশ শামিল হাদিসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌كلمة شكر

نتوجه بالشكر لكل من قدم لنا العون والمساعدة على إتمام هذا المشروع العظيم، ونخص بالذكر: الأخ الفاضل الحبيب/ غنيم بن عباس.

صاحب دار الكوثر لإنفاقه على هذا العمل المبارك، وأسأل اللَّه أن يجعل هذا العمل في ميزان حسناته.

كما نشكر إخواننا بمركز بيت المقدس على ما يقومون به لنصرة القضية العامة لكل المسملمين وهي قضية فلسطين.

وأخص بالذكر الأخ الفاضل/ جهاد العايش

فهو صاحب فكرة هذا المشروع، ولطالما راودتني هذه الفكرة سابقًا، بل وكتبت في هذا بعض الرسائل وتمنيت من اللَّه أن يمد في العمر لأشارك في موسوعة شاملة للأقصى والشام، وإذا أراد اللَّه شيئًا يسَّر أسبابه.

فقد كتبت منذ ثمان سنوات رسالة بعنوان "هبوب الريح بفضائل المسجد الأقصى الجريح" ولم أستقص في الجمع، وبعد عام كتبت رسالة بعنوان "السمو إلى العنان بذكر صحيح فضائل البلدان" واقتصرت فيها على الصحيح وها أنا أقدم للموسوعة الشاملة لهذه البقعة المباركة، والحمد للَّه الذي بنعمته تتم الصالحات.

كتبه/ أحمد بن سليمان
কৃতজ্ঞতা প্রকাশ

এই মহান প্রকল্প সম্পন্ন করতে যারা আমাদের সাহায্য ও সহযোগিতা করেছেন, আমরা তাদের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি এবং বিশেষভাবে উল্লেখ করছি: সম্মানিত ও প্রিয় ভাই গনীম বিন আব্বাসকে।

যিনি দারুল কাউসারের সত্ত্বাধিকারী; এই বরকতময় কাজে তাঁর অর্থায়নের জন্য। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই কাজটিকে তাঁর নেক আমলের পাল্লায় যুক্ত করেন।

সেইসাথে আমরা 'বায়তুল মাকদিস সেন্টার'-এর ভাইদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, সমস্ত মুসলিমদের সাধারণ স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় তথা ফিলিস্তিন ইস্যুতে তাদের অবদানের জন্য।

আর বিশেষভাবে উল্লেখ করছি সম্মানিত ভাই জিহাদ আল-আয়িশ-এর নাম।

কেননা তিনিই এই প্রকল্পের পরিকল্পনাকারী। ইতিপূর্বে অনেকবার আমার মনেও এই ভাবনাটি এসেছিল, এমনকি এই বিষয়ে আমি কিছু পুস্তিকাও লিখেছিলাম এবং আল্লাহর কাছে দীর্ঘায়ু কামনা করেছিলাম যেন আমি আল-আকসা ও শাম বিষয়ক একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্বকোষে অংশগ্রহণ করতে পারি; আর আল্লাহ যখন কোনো কিছু চান, তখন তিনি তার উপায় সহজ করে দেন।

আট বছর আগে আমি "হাবুবুর রিহ বি-ফাদায়িলিল মাসজিদিল আকসা আল-জারিহ" (আহত মসজিদুল আকসার ফজিলত বিষয়ক বায়ুপ্রবাহ) শিরোনামে একটি পুস্তিকা লিখেছিলাম, তবে সেখানে সব কিছু বিস্তারিত সংকলন করা হয়নি। এর এক বছর পর আমি "আস-সুমুউ ইলাল আনান বি-জিকরি সহীহ ফাদায়িলিল বুলদান" (দেশসমূহের সহীহ ফজিলত বর্ণনার মাধ্যমে আকাশস্পর্শী উচ্চতা) শিরোনামে আরেকটি পুস্তিকা লিখেছিলাম এবং সেখানে কেবল সহীহ বর্ণনাগুলোই সীমাবদ্ধ রেখেছিলাম। আর আজ আমি এই বরকতময় ভূখণ্ড বিষয়ক পূর্ণাঙ্গ বিশ্বকোষটি পেশ করছি; সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যাঁর অনুগ্রহে সমস্ত নেক কাজ সুসম্পন্ন হয়।

লেখক: আহমদ বিন সুলাইমান
(খণ্ড: ১) মাওসূআতু বাইতিল মাকদিস ওয়া বিলাদিশ শামিল হাদিসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌ثبت أهم المصادر المتخصصة التي اعتمدنا عليها

المخطوط منها:

- "الجامع المستقصى في فضائل المسجد الأقصى": ذكره في "كشف الظنون" لابن عساكر أبي القاسم علي، والصحيح كما قاله صاحب "إتحاف الأخصا" هو لولده قاسم بن علي المتوفى سنة ستمئة هجرية، وكنا عند ذكره في موسوعتنا المباركة نقول: قال ابن عساكر في "الجامع المستقصى" تجاوزًا منا واختصارًا.

- "مثير الغرام إلى زيارة القدس والشام" للشيخ شهاب الدين أبي محمود أحمد بن محمد المقدسي الشافعي، فرغ منه في شعبان سنة اثنتين وخمسين وسبعمئة، وتوفي سنة خمس وستين وسبعمئة.

- "الروض المغرس في فضل بيت المقدس" للشيخ تاج الدين أبي النصر عبد الوهاب الحسني الدمشقي الشافعي، المتوفى سنة خمس وسبعين وثمانمئة.

- "إتحاف الأخصا بفضائل المسجد الأقصى": نُسِبَ هذا الكتاب في "كشف الظنون" لكمال الدين محمد بن محمد بن أبي شريف الشافعي المصري المتوفى سنة ست وتسعمئة، وقال: إنه ألفه في مجاورته بالقدس سنة خمس وسبعين وثمانمئة. وصحح السيد مرتضى هذه النسبة بقوله: إن الكتاب المذكور هو تأليف محمد بن أحمد المنهاجي السيوطي، ألفه سنة خمس وسبعين وثمانمئة.
আমাদের নির্ভরকৃত প্রধান বিশেষায়িত উৎসসমূহের তালিকা

তন্মধ্যে পাণ্ডুলিপিসমূহ:

- "আল-জামি আল-মুস্তাকসা ফি ফাদাইল আল-মাসজিদ আল-আকসা": এটি 'কাশফ উজ-জুনুন' গ্রন্থে আবুল কাসিম আলী ইবনে আসাকিরের প্রতি নিসবত করা হয়েছে। তবে 'ইতহাফ আল-আখাসসা'র রচয়িতার বর্ণনা অনুযায়ী সঠিক হলো এটি তাঁর পুত্র কাসিম বিন আলীর রচনা, যিনি হিজরি ছয়শ সালে মৃত্যুবরণ করেছেন। আমরা আমাদের এই বরকতময় বিশ্বকোষে এটি উল্লেখ করার সময় সংক্ষিপ্তকরণ ও সাধারণ ব্যবহারের খাতিরে বলেছি: ইবনে আসাকির 'আল-জামি আল-মুস্তাকসা' গ্রন্থে বলেছেন।

- "মুছিরুল গ্রাম ইলা জিয়ারাতিল কুদস ওয়াশ শাম", লেখক: শেখ শিহাবুদ্দিন আবু মাহমুদ আহমাদ বিন মুহাম্মদ আল-মাকদিসি আশ-শাফিয়ি। তিনি হিজরি সাতশ বাহান্ন সনের শাবান মাসে এটি সম্পন্ন করেন এবং হিজরি সাতশ পঁয়ষট্টি সনে মৃত্যুবরণ করেন।

- "আর-রাওদ আল-মুগরাস ফি ফাদলি বাইতিল মাকদিস", লেখক: শেখ তাজউদ্দিন আবুল নাসর আব্দুল ওয়াহাব আল-হাসানি আদ-দিমাশকি আশ-শাফিয়ি, যিনি হিজরি আটশ পঁচাত্তর সনে মৃত্যুবরণ করেন।

- "ইতহাফ আল-আখাসসা বি-ফাদাইল আল-মাসজিদ আল-আকসা": 'কাশফ উজ-জুনুন' গ্রন্থে এই বইটি কামালুদ্দিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আবু শরিফ আশ-শাফিয়ি আল-মিসরি-র প্রতি সম্পৃক্ত করা হয়েছে, যিনি হিজরি নয়শ ছয় সনে মৃত্যুবরণ করেন। সেখানে বলা হয়েছে যে, তিনি এটি হিজরি আটশ পঁচাত্তর সনে জেরুজালেমে অবস্থানকালে রচনা করেছেন। তবে সাইয়্যেদ মুরতাজা এই সম্পৃক্ততা সংশোধন করে বলেছেন যে: উক্ত গ্রন্থটি মুহাম্মদ বিন আহমাদ আল-মিনহাজি আস-সুয়ুতির রচনা, যা তিনি হিজরি আটশ পঁচাত্তর সনে লিখেছিলেন।
(খণ্ড: ১) মাওসূআতু বাইতিল মাকদিস ওয়া বিলাদিশ শামিল হাদিসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
المطبوع منها:

- "فتوح الشام" لأبي عبد اللَّه محمد بن عمر الواقدي، المتوفى سنة 207 هـ.

- "فضائل البيت المقدس" لأبي بكر الواسطي، المتوفى سنة 361 هـ.

- "فضائل الشام ودمشق" لأبي الحسن علي بن محمد بن صافي بن شجاع الربعي المعروف بابن أبي الهول، المتوفى سنة 444 هـ.

- "فضائل الشام" للحافظ أبي سعد عبد الكريم بن محمد السمعاني، المتوفى سنة 562 هـ.

- "تاريخ مدينة دمشق" للحافظ أبي القاسم علي بن الحسن المعروف بابن عساكر، المتوفى سنة 571 هـ.

- "فضائل القدس" للحافظ أبي الفرج عبد الرحمن بن الجوزي، المتوفى سنة 597 هـ.

- "فضائل بيت المقدس" للحافظ الضياء محمد بن عبد الواحد المقدسي، المتوفى سنة 643 هـ.

- "فضائل الشام" للحافظ شمس الدين أبي عبد اللَّه محمد بن أحمد بن عبد الهادي الدمشقي، المتوفى سنة 744 هـ.

- "فضائل القدس والشام" للإمام أبي المعالي المشرف بن المرجا بن إبراهيم المقدسي، المتوفى سنة 838 هـ.

- "الأنس الجليل بتاريخ القدس والخليل" لمجير الدين الحنبلي العليمي، المتوفى سنة 927 هـ.

- "الفتن" لنعيم بن حماد المروزي، المتوفى 229 هـ.

وسنذكر في آخر الموسوعة إن شاء اللَّه تعالى ثبت بمراجع الموسوعة.
এর মধ্য হতে মুদ্রিত গ্রন্থসমূহ:

- আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন উমর আল-ওয়াকিদি (মৃত্যু ২০৭ হিজরী) রচিত "ফুতুহুশ শাম"।

- আবু বকর আল-ওয়াসিতি (মৃত্যু ৩৬১ হিজরী) রচিত "ফাযায়িলুল বাইতিল মুকাদ্দাস"।

- আবুল হাসান আলি বিন মুহাম্মদ বিন সাফি বিন শুজা আর-রিবয়ি (মৃত্যু ৪৪৪ হিজরী), যিনি ইবনু আবিল হাওল নামে পরিচিত, রচিত "ফাযায়িলুশ শাম ওয়া দিমাস্ক"।

- হাফিজ আবু সাদ আব্দুল কারিম বিন মুহাম্মদ আস-সামআনি (মৃত্যু ৫৬২ হিজরী) রচিত "ফাযায়িলুশ শাম"।

- হাফিজ আবুল কাসিম আলি বিন আল-হাসান (মৃত্যু ৫৭১ হিজরী), যিনি ইবনে আসাকির নামে পরিচিত, রচিত "তারিখে মাদিনাতু দিমাস্ক"।

- হাফিজ আবুল ফারাজ আব্দুর রহমান বিন আল-জাওজি (মৃত্যু ৫৯৭ হিজরী) রচিত "ফাযায়িলুল কুদস"।

- হাফিজ আদ-দিয়া মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাকদিসি (মৃত্যু ৬৪৩ হিজরী) রচিত "ফাযায়িলু বাইতিল মুকাদ্দাস"।

- হাফিজ শামসুদ্দিন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আব্দুল হাদি আদ-দিমাস্কি (মৃত্যু ৭৪৪ হিজরী) রচিত "ফাযায়িলুশ শাম"।

- ইমাম আবুল মাআলি আল-মুশাররফ বিন আল-মুরজা বিন ইবরাহিম আল-মাকদিসি (মৃত্যু ৮৩৮ হিজরী) রচিত "ফাযায়িলুল কুদস ওয়াশ শাম"।

- মুজিরুদ্দিন আল-হাম্বলি আল-উলাইমি (মৃত্যু ৯২৭ হিজরী) রচিত "আল-উনসুল জলিল বি-তারিখিল কুদস ওয়াল খলিল"।

- নুয়াইম বিন হাম্মাদ আল-মারওয়াজি (মৃত্যু ২২৯ হিজরী) রচিত "আল-ফিতান"।

এবং ইনশাআল্লাহ তাআলা আমরা বিশ্বকোষের শেষে এই বিশ্বকোষের তথ্যসূত্রের তালিকাটি উল্লেখ করব।