(খণ্ড: ১) তাফসীরু আসমাইল্লাহিল হুসনা লিজ-জাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: -)
تفسير أسماء الله الحسنى للزجاج   (الزجاج)

القسم: العقيدة


الكتاب: تفسير أسماء الله الحسنى

المؤلف: إبراهيم بن السري بن سهل، أبو إسحاق الزجاج (ت 311هـ)

المحقق: أحمد يوسف الدقاق

الناشر: دار الثقافة العربية

عدد الصفحات: 65

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-জুজ্জাজ রচিত আসমাউল হুসনার ব্যাখ্যা   (আল-জুজ্জাজ)

বিভাগ: আকিদাহ


বই: আসমাউল হুসনার ব্যাখ্যা

লেখক: ইবরাহিম বিন আস-সাররি বিন সাহল, আবু ইসহাক আল-জুজ্জাজ (মৃত্যু ৩১১ হিজরি)

সম্পাদক: আহমদ ইউসুফ আদ-দাক্কাক

প্রকাশক: দারুস সাকাফাহ আল-আরাবিয়্যাহ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৫

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) তাফসীরু আসমাইল্লাহিল হুসনা লিজ-জাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌تَفْسِير أَسمَاء الله تَعَالَى التِّسْعَة وَالتسْعين

فَسرهَا أَبُو إِسْحَاق إِبْرَاهِيم بن السّري الزّجاج رحمه الله وَنور حفرته

‌‌بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم

 

قَالَ الشَّيْخ أَبُو بكر عبد الله بن مُحَمَّد الْحَنْبَلِيّ رحمه الله قَرَأت على أبي عَليّ الْحسن بن أَحْمد الْفَارِسِي النَّحْوِيّ ثمَّ نقلته من خطه قَالَ أَبُو إِسْحَاق إِبْرَاهِيم بن السّري الزّجاج رحمه الله هَذِه تفاسير الْأَسَامِي الَّتِي رويت عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فِي قَوْله (إِن لله تِسْعَة وَتِسْعين اسْما مائَة إِلَّا وَاحِدَة) وَقد كَانَ القَاضِي إِسْمَاعِيل بن إِسْحَاق رحمه الله طلبَهَا منا فأمليناها عَلَيْهِ ثمَّ نسخت لنا بعد

قَالَ أَبُو عَليّ وقرأتها عَلَيْهِ فِي مجْلِس وَاحِد

حَدثنَا أَبُو عَليّ قَالَ أخبرنَا أَبُو إِسْحَاق قَالَ حَدثنَا إِسْمَاعِيل بن إِسْحَاق قَالَ حَدثنَا صَفْوَان بن صَالح الثَّقَفِيّ قَالَ حَدثنَا الْوَلِيد بن مُسلم قَالَ حَدثنَا شُعَيْب بن أبي حَمْزَة قَالَ حَدثنَا أَبُو الزِّنَاد عَن الْأَعْرَج عَن أبي هُرَيْرَة قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم (إِن لله تِسْعَة وَتِسْعين اسْما مائَة إِلَّا وَاحِدَة إِنَّه
মহান আল্লাহর নিরানব্বইটি নামের ব্যাখ্যা

এটি ব্যাখ্যা করেছেন আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবনুল সাররি আজ-জাজ্জাজ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন এবং তাঁর কবরকে আলোকিত করুন)

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

 

শায়খ আবু বকর আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ আল-হাম্বলি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেন: আমি আবু আলী আল-হাসান ইবনে আহমাদ আল-ফারিসি আন-নাহউয়ির নিকট এটি পাঠ করেছি, অতপর তাঁর পাণ্ডুলিপি থেকে এটি নকল করেছি। আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবনুল সাররি আজ-জাজ্জাজ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেন: এগুলো হচ্ছে সেই সব নামের ব্যাখ্যা যা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এই বাণীর প্রেক্ষিতে তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে: "নিশ্চয় আল্লাহর নিরানব্বইটি নাম রয়েছে, যা এক কম একশত।" আর নিশ্চয়ই কাযী ইসমাঈল ইবনে ইসহাক (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) আমাদের কাছে এগুলো চেয়েছিলেন, তখন আমরা তাঁকে তা বলে লিখে দিয়েছিলাম (ইমলা করিয়েছিলাম), অতপর পরবর্তীতে তা আমাদের জন্য অনুলিপি করা হয়েছে।

আবু আলী বলেন: আমি তাঁর নিকট এক মজলিসেই এটি পাঠ করেছি।

আবু আলী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু ইসহাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইসমাঈল ইবনে ইসহাক আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: সাফওয়ান ইবনে সালিহ আস-সাকাফি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: শুআইব ইবনে আবু হামজাহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু যিনাদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আল-আরাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয় আল্লাহর নিরানব্বইটি নাম রয়েছে, এক কম একশত। নিশ্চয় তিনি..."
(খণ্ড: ১) তাফসীরু আসমাইল্লাহিল হুসনা লিজ-জাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ২২)
وتر يحب الْوتر من أحصاها دخل الْجنَّة)

فَأول مَا نفسره من ذَلِك قَوْله من أحصاها

إعلم أَن الْعَرَب تعبر عَن كَثْرَة الشَّيْء وسعته بالحصى يُقَال عِنْده حَصى من النَّاس أَي جمَاعَة وَقَالَ الشَّاعِر

(ولسنا إِذا عد الْحَصَى بأقلة … )

وَقَالَ الْكُمَيْت

(لكم مَسْجِدا الله المزوران والحصى … لكم قبصه من بَين أثرى وأقترا)

وَيُقَال حصيت الْحَصَى إِذا عددته وأحصيته إِذا ميزته بعضه من بعض

وَقَالَ الشَّاعِر

(ويربي على عد الرمال عديدنا … ونحصى الْحَصَاة بل تزيد على الْعد) وإحصاء الْعد من هَذَا
...বেজোড়, তিনি বেজোড়কে ভালোবাসেন, যে ব্যক্তি এগুলোকে আয়ত্ত করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।)

এখান থেকে আমরা প্রথমে তাঁর এই বাণীর ব্যাখ্যা করব: ‘যে ব্যক্তি এগুলোকে আয়ত্ত করবে’

জেনে রাখুন, আরবরা কোনো জিনিসের আধিক্য এবং প্রশস্ততা বোঝাতে ‘কাঁকর’ শব্দের মাধ্যমে ভাব প্রকাশ করে। বলা হয়ে থাকে, ‘তার কাছে মানুষের কাঁকর রয়েছে’ অর্থাৎ একটি বিশাল জনসমষ্টি। কবি বলেছেন:

(আর আমরা যখন কাঁকর গণনা করা হয় তখন সংখ্যায় অল্প নই … )

আল-কুমাইত বলেছেন:

(আল্লাহর যিয়ারতকৃত দুটি মসজিদ তোমাদেরই, আর কাঁকরের ন্যায় আধিক্যও তোমাদের... তোমাদের জন্য রয়েছে এমন এক বিশাল সংখ্যা যা সচ্ছল ও অসচ্ছল সবার মাঝেই বিস্তৃত … )

বলা হয়ে থাকে ‘আমি কাঁকর গণনা করেছি’ (হাসাইতুল হাসা) যখন আমি তা সংখ্যায় গণনা করি; আর ‘আমি তা আয়ত্ত করেছি’ (আহসাইতুহু) বলা হয় যখন আমি সেগুলোকে একে অপর থেকে পৃথক ও সুনির্দিষ্ট করি।

কবি বলেছেন:

(আমাদের সংখ্যা বালুকণার গণনার চেয়েও বৃদ্ধি পায় … আর আমরা কাঁকরকেও গণনা করি বরং তা গণনার সীমা ছাড়িয়ে যায়) আর সংখ্যার পূর্ণাঙ্গ পরিমাপ বা গণনা এই অর্থ থেকেই এসেছে।
(খণ্ড: ১) তাফসীরু আসমাইল্লাহিল হুসনা লিজ-জাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ২৩)
والحصاة الْعقل أَيْضا قَالَ الشَّاعِر

(وَإِن لِسَان الْمَرْء مَا لم تكن لَهُ … حَصَاة على عوراته لدَلِيل)

وَيُقَال أحصيت الشَّيْء إِذا أطقته واتسعت لَهُ وَقَالَ الله عز اسْمه {علم أَن لن تحصوه فَتَابَ عَلَيْكُم} أَرَادَ وَالله أعلم لن تطيقوه

وَقَالَ الشَّاعِر

(فأقع إِنَّك لَا تحصي بني جشم … وَلَا تطِيق علاهم أَيَّة وقفُوا) يُرِيد لَا تطِيق بني جشم

فَيحْتَمل أَن يكون معنى قَوْله صلى الله عليه وسلم (من أحصاها) من أَكثر عَددهَا حَتَّى صَارَت حصاته لِكَثْرَة عده إِيَّاهَا

وَيجوز أَن يكون مَعْنَاهُ من أطاقها أَي من أطَاق تمييزها وتفهمها فَحذف الْمُضَاف من قَوْله تَعَالَى {علم أَن لن تحصوه} الخ
‘হাসাহ’ (حصاة) শব্দটির অর্থ বুদ্ধিও হয়ে থাকে। কবি বলেন:

(আর মানুষের জিহ্বা, যতক্ষণ না তার দোষত্রুটির ওপর তার কোনো নিয়ন্ত্রণ বা বুদ্ধি থাকে, ততক্ষণ তা নির্দেশকই থাকে।)

আর বলা হয়, ‘আমি বিষয়টিকে আয়ত্ত করেছি’ (আহসাইতু) যখন আমি তাতে সক্ষম হই এবং এর ব্যাপ্তি রাখি। আল্লাহ তাআলা বলেন: {তিনি জানেন যে তোমরা তা আয়ত্ত করতে পারবে না, তাই তিনি তোমাদের ক্ষমা করেছেন}। এর দ্বারা তিনি—আল্লাহই ভালো জানেন—উদ্দেশ্য করেছেন যে, তোমরা এর সামর্থ্য রাখবে না।

আর কবি বলেন:

(সুতরাং তুমি বসে পড়ো, কারণ তুমি বনু জুশামকে আয়ত্ত করতে পারবে না এবং তারা যেখানেই অবস্থান করুক না কেন তাদের উচ্চ মর্যাদার মোকাবিলা করার সামর্থ্যও তোমার নেই)। তিনি উদ্দেশ্য করেছেন যে, তুমি বনু জুশামের মোকাবিলা করার সামর্থ্য রাখবে না।

সুতরাং এটা সম্ভব যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী ‘যে ব্যক্তি এগুলো গণনা (আহসাহা) করবে’—এর অর্থ হলো: যে ব্যক্তি এগুলোর গণনা এত অধিক করবে যে, বারবার গণনার আধিক্যের কারণে তা তার বুদ্ধিমত্তার অংশে পরিণত হবে।

আর এটাও জায়েয যে, এর অর্থ হবে—যে ব্যক্তি এগুলোর সামর্থ্য রাখে; অর্থাৎ যে ব্যক্তি এগুলোর পার্থক্য নিরূপণ ও অনুধাবনের সামর্থ্য রাখে। এক্ষেত্রে মহান আল্লাহর বাণী {তিনি জানেন যে তোমরা তা আয়ত্ত করতে পারবে না} ইত্যাদির মতো মুদাফ (সম্বন্ধপদ) বিলুপ্ত করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) তাফসীরু আসমাইল্লাহিল হুসনা লিজ-জাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ২৪)
وَيجوز أَن يكون مَعْنَاهُ من عقلهَا وتدبر مَعَانِيهَا من الْحَصَاة الَّتِي هِيَ الْعقل وَقد تقدم ذكره

وَقَالَ مُحَمَّد بن يزِيد مَعْنَاهُ عِنْدِي من عدهَا من الْقُرْآن لِأَن هَذِه الْأَسَامِي كلهَا مفرقة فِي الْقُرْآن فَكَأَنَّهُ أَرَادَ من تتبع جمعهَا وتأليفها من الْقُرْآن وعانى فِي جمعهَا مِنْهُ الكلفة وَالْمَشَقَّة دخل الْجنَّة

قَالَ أَبُو إِسْحَاق وَيجوز أَن يكون معنى قَوْله دخل الْجنَّة الْأَمْن من الْعَذَاب وَتَحْصِيل الثَّوَاب بِمَنْزِلَة من قد دخل الْجنَّة

وَفِي النَّاس من لَا يعد اسْم الله من هَذِه الْجُمْلَة وَيَقُول إِن هَذِه الْأَسْمَاء كلهَا مُضَافَة إِلَى الله فَكيف يعد هُوَ مِنْهَا وَمِنْهُم من يفْسد هَذَا الرَّأْي ويهجنه وَيَزْعُم أَن اسْم الله الْأَعْظَم هُوَ قَوْلنَا الله ويعدها من الْجُمْلَة وَلَا يعد مَالك الْملك ذُو الْجلَال وَالْإِكْرَام إِلَّا اسْما وَاحِدًا
এবং এটাও সম্ভব যে এর অর্থ হলো—যে ব্যক্তি এগুলো অনুধাবন করেছে এবং এর অর্থসমূহ নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করেছে; যা ‘হাসাত’ (পাথর বা দৃঢ়তা) শব্দ থেকে গৃহীত যার অর্থ বুদ্ধি, এবং ইতিপূর্বে এর উল্লেখ গত হয়েছে।

মুহাম্মদ ইবনে ইয়াজিদ বলেন, আমার নিকট এর অর্থ হলো—যে ব্যক্তি এগুলো কুরআন থেকে গণনা করেছে। কারণ এই নামসমূহ সব কুরআনের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে রয়েছে। সুতরাং তিনি যেন বুঝাতে চেয়েছেন যে, যে ব্যক্তি কুরআন থেকে এগুলো অনুসন্ধান, সংগ্রহ ও সংকলন করার চেষ্টা করেছে এবং এগুলো সংগ্রহ করতে গিয়ে শ্রম ও কষ্ট স্বীকার করেছে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

আবু ইসহাক বলেন, তাঁর বাণী ‘জান্নাতে প্রবেশ করবে’-এর অর্থ আজাব থেকে নিরাপদ থাকা এবং সওয়াব অর্জন করাও হতে পারে, যা জান্নাতে প্রবেশকারী ব্যক্তির মর্যাদার সমতুল্য।

মানুষের মধ্যে এমন লোকও আছে যারা ‘আল্লাহ’ নামটিকে এই সমষ্টির অন্তর্ভুক্ত করেন না। তারা বলেন যে, এই সমস্ত নামই আল্লাহর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত, সুতরাং তিনি নিজে কীভাবে সেগুলোর অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন? আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ এই মতটিকে অসার ও ত্রুটিপূর্ণ মনে করেন এবং দাবি করেন যে, ‘আল্লাহ’ শব্দটিই হলো আল্লাহর মহান নাম। তারা একে ওই সমষ্টির অন্তর্ভুক্ত করেন এবং ‘মালিকুল মুলক যুল জালালি ওয়াল ইকরাম’-কে কেবল একটি নাম হিসেবে গণ্য করেন।
(খণ্ড: ১) তাফসীরু আসমাইল্লাহিল হুসনা লিজ-জাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ২৫)
وَاحْتج من يَقُول إِن اسْم الله الْأَعْظَم إِمَّا الله وَإِمَّا الرَّحْمَن بقوله عز وجل {قل ادعوا الله أَو ادعوا الرَّحْمَن أيا مَا تدعوا فَلهُ الْأَسْمَاء الْحسنى}

وَأما الْكَلَام فِي قَوْلنَا الله فعلى وَجْهَيْن لفظا وَمعنى أما اللَّفْظ فعلى قَوْلَيْنِ أَحدهمَا أَن أَصله إلاه فعال وَيُقَال بل أَصله لاه فعل

وَلَا تلْتَفت إِلَى مَا ذكره فِي كتاب الْقُرْآن فَإِن الصَّحِيح مَا ذكرهَا هُنَا

وَاخْتلفُوا فِي هَل هُوَ مُشْتَقّ أم غير مُشْتَقّ

فَذَهَبت طَائِفَة إِلَى أَنه مُشْتَقّ وَذهب جمَاعَة مِمَّن يوثق بِعِلْمِهِ إِلَى أَنه غير مُشْتَقّ وعَلى هَذَا القَوْل الْمعول وَلَا تعرج على قَول من ذهب إِلَى أَنه مُشْتَقّ من وَله يوله وَذَلِكَ لِأَنَّهُ لَو كَانَ مِنْهُ لقيل فِي تفعل مِنْهُ توله لِأَن الْوَاو فِيهِ وَاو فِي توله وَفِي إِجْمَاعهم على أَنه تأله بِالْهَمْز مَا يبين أَنه لَيْسَ من وَله وَأنْشد أَبُو زيد لرؤية
যারা বলেন যে আল্লাহর মহান নাম (ইসমে আজম) হলো হয় ‘আল্লাহ’ অথবা ‘আর-রহমান’, তারা মহান আল্লাহর এই বাণী দ্বারা দলিল পেশ করেন: {বলুন, তোমরা আল্লাহ নামে ডাকো অথবা রহমান নামে ডাকো, তোমরা যে নামেই ডাকো না কেন, তাঁর জন্যই রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ।}

আর আমাদের ‘আল্লাহ’ শব্দটির আলোচনার দুটি দিক রয়েছে: শব্দগত এবং অর্থগত। শব্দগত দিক থেকে দুটি অভিমত রয়েছে; একটি হলো এর মূল হলো ‘ইলাহ’, যা ‘ফি’আল’ ওজনে। আবার বলা হয় যে, এর মূল হলো ‘লাহ’, যা ‘ফাল’ ওজনে।

কুরআন বিষয়ক কিতাবে তিনি যা উল্লেখ করেছেন তার দিকে ভ্রুক্ষেপ করো না, কারণ এখানে তিনি যা উল্লেখ করেছেন সেটিই সঠিক।

এটি কি কোনো শব্দ থেকে ব্যুৎপন্ন (মুশতাক) নাকি ব্যুৎপন্ন নয়—এ বিষয়ে তারা মতভেদ করেছেন।

একদল অভিমত দিয়েছেন যে এটি ব্যুৎপন্ন। আর যাদের জ্ঞানের ওপর আস্থা রাখা যায় তাদের একটি জামাত মনে করেন যে এটি ব্যুৎপন্ন নয়, আর এই অভিমতটির ওপরই নির্ভর করা হয়েছে। যারা মনে করেন এটি ‘ওয়ালাহা ইয়ালাহু’ থেকে ব্যুৎপন্ন, তাদের কথার দিকে মনোযোগ দিও না। কারণ যদি এটি সেখান থেকে হতো, তবে ‘তাফাউল’ বাব থেকে একে ‘তাওয়াল্লাহা’ বলা হতো, কারণ এতে ‘ওয়াও’ বর্ণটি ‘তাওয়াল্লাহা’ শব্দের ন্যায় বর্তমান। আর হামজা সহযোগে এটি ‘তাআল্লাহা’ হওয়ার ব্যাপারে তাদের ঐকমত্য এটিই স্পষ্ট করে যে, এটি ‘ওয়ালাহা’ থেকে আসেনি। আবু জায়িদ রুয়বার কবিতা থেকে পাঠ করেছেন:
(খণ্ড: ১) তাফসীরু আসমাইল্লাহিল হুসনা লিজ-জাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ২৬)
(لله در الغانيات المده … سبحن واسترجعن من تألهي)

قَالَ وَيُقَال تأله فلَان إِذا فعل فعلا يقربهُ من الْإِلَه

فَإِن قَالَ قَائِل مَا أنْكرت أَنه من بَاب وَله وَإِنَّمَا قلب على حد أحد وأناة مَا وجد عَنهُ مندوحة لقلَّة ذَلِك وشذوذه عَن الْقيَاس

وَمعنى قَوْلنَا إلاه إِنَّمَا هُوَ الَّذِي يسْتَحق الْعِبَادَة وَهُوَ تَعَالَى الْمُسْتَحق لَهَا دون من سواهُ

وَأَنا أذكر كل هَذِه الْأَسْمَاء على مَا جَاءَت بِهِ الرِّوَايَة الَّتِي قدمنَا ذكرهَا وأفسرها على مَا يبلغهُ علمنَا وتتسع لَهُ معرفتنا وَالله نسْأَل الْعِصْمَة والتوفيق لما يقربنا مِنْهُ قولا وفعلا إِنَّه على مَا يَشَاء قدير

هُوَ الله الَّذِي لَا إِلَه إِلَّا هُوَ الرَّحْمَن الرَّحِيم الْملك القدوس السَّلَام الْمُؤمن الْمُهَيْمِن الْعَزِيز الْجَبَّار المتكبر الْخَالِق البارئ المصور الْغفار القهار الْوَهَّاب الرَّزَّاق
(সুন্দরী রমণীদের জন্য আল্লাহর অনুগ্রহ বর্ষিত হোক … তারা আমার ইবাদতে মগ্ন হওয়া দেখে তাসবিহ পাঠ করল এবং ইস্তিরজা পড়ল)

তিনি বলেন, যখন কেউ এমন কাজ করে যা তাকে ইলাহ বা উপাস্যের নিকটবর্তী করে, তখন বলা হয় 'অমুক ব্যক্তি তাআল্লাহা (ইবাদত বা তাকওয়া অবলম্বন করেছে)'।

যদি কোনো প্রশ্নকারী বলে যে, এটি 'ওয়ালাহা' (বিস্ময় বা ব্যাকুলতা) ধাতু থেকে হওয়ার বিষয়টি আপনি কেন অস্বীকার করছেন না? বরং এটি 'আহাদ' ও 'আনাহ' শব্দের ন্যায় ওজনে গঠিত হয়েছে—এমন মত থেকে বিচ্যুত হওয়ার অবকাশ নেই, কারণ এ জাতীয় রূপান্তর বিরল এবং তা ব্যাকরণগত নিয়মের ব্যতিক্রম।

আমাদের 'ইলাহ' বলার অর্থ হলো—যিনি ইবাদত বা উপাসনা পাওয়ার যোগ্য; আর মহান আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ প্রকৃত ইবাদতের যোগ্য নয়।

আমি এই প্রতিটি নাম পূর্বে উল্লেখিত বর্ণনা অনুযায়ী উল্লেখ করছি এবং আমার অর্জিত ইলম ও প্রজ্ঞা অনুযায়ী সেগুলোর ব্যাখ্যা করছি। আমরা আল্লাহর কাছে হেফাযত এবং এমন কথা ও কাজের তাওফিক প্রার্থনা করি যা আমাদের তাঁর নৈকট্য দান করে। নিশ্চয়ই তিনি যা ইচ্ছা করেন সে বিষয়ে সর্বশক্তিমান।

তিনিই আল্লাহ, যিনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই; পরম করুণাময়, অতি দয়ালু, অধিপতি, অতি পবিত্র, শান্তিদাতা, নিরাপত্তা দানকারী, রক্ষক, মহাপরাক্রমশালী, প্রতাপশালী, অতি মর্যাদাশীল, স্রষ্টা, উদ্ভাবক, রূপদানকারী, পরম ক্ষমাশীল, কঠোর দমনকারী, অতি দাতা, রিযিকদাতা।
(খণ্ড: ১) তাফসীরু আসমাইল্লাহিল হুসনা লিজ-জাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ২৭)
الفتاح الْعَلِيم الْقَابِض الباسط الْخَافِض الرافع الْمعز المذل السَّمِيع الْبَصِير الحكم الْعدْل اللَّطِيف الْخَبِير الْحَلِيم الْعَظِيم الغفور الشكُور الْعلي الْكَبِير الحفيظ المقيت الحسيب الْجَلِيل الْكَرِيم الرَّقِيب الْمُجيب الْوَاسِع الْحَكِيم الْوَدُود الْمجِيد الْبَاعِث الشَّهِيد الْحق الْوَكِيل الْقوي المتين الْوَلِيّ الحميد المحصي المبدي المعيد المحيي المميت الْحَيّ القيوم الْوَاجِد الْمَاجِد الْوَاحِد الْأَحَد الصَّمد الْقَادِر المقتدر الْمُقدم الْمُؤخر الأول الآخر الظَّاهِر الْبَاطِن الْوَالِي المتعالي الْبر التواب المنتقم الْعَفو الرؤوف مَالك الْملك ذُو الْجلَال وَالْإِكْرَام المقسط الْجَامِع الْغَنِيّ الْمُغنِي الْمَانِع الضار النافع النُّور الْهَادِي البديع الْبَاقِي الْوَارِث الرشيد الصبور

فقد عددنا الْأَسْمَاء كلهَا على مَا جَاءَ بِهِ الْخَبَر الَّذِي قدمْنَاهُ وَمر الْكَلَام مِنْهَا فِي قَوْلنَا الله
মহাবিজয়ী, সর্বজ্ঞ, সংকীর্ণকারী, প্রশস্তকারী, অবনতকারী, উন্নীতকারী, সম্মানদানকারী, লাঞ্ছনাকারী, সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা, পরম বিচারক, ন্যায়নিষ্ঠ, সূক্ষ্মদর্শী, সম্যক পরিজ্ঞাত, পরম সহিষ্ণু, সুমহান, পরম ক্ষমাশীল, গুণগ্রাহী, সমুন্নত, অতি মহান, মহা রক্ষক, জীবনোপকরণ দানকারী, হিসাব গ্রহণকারী, মহিমান্বিত, পরম মহানুভব, মহানিৰীক্ষক, সাড়াদানকারী, প্রাচুর্যময়, প্রজ্ঞাময়, পরম প্রেমময়, পরম গৌরবান্বিত, পুনরুত্থানকারী, প্রত্যক্ষদর্শী, পরম সত্য, পরম কর্মবিধায়ক, মহাশক্তিধর, সুদৃঢ়, পরম অভিভাবক, চির প্রশংসিত, পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব রক্ষক, আদি স্রষ্টা, পুনর্বার সৃষ্টিকারী, জীবনদানকারী, মৃত্যুদানকারী, চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক, যা ইচ্ছা তাই লাভকারী, পরম মর্যাদাবান, অদ্বিতীয়, এক, অমুখাপেক্ষী, ক্ষমতাশালী, পরম সামর্থ্যবান, অগ্রবর্তীকারী, পশ্চাদবর্তীকারী, অনাদি, অনন্ত, প্রকাশ্য, অপ্রকাশ্য, সর্বময় কর্তা, সর্বোচ্চ, পরম কল্যাণকারী, তওবা কবুলকারী, প্রতিশোধ গ্রহণকারী, পরম মার্জনাকারী, অত্যন্ত মমতাশীল, সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী, মহিমা ও মহানুভবতার অধিকারী, ন্যায়পরায়ণ, একত্রকারী, পরম অভাবমুক্ত, অভাবমোচনকারী, প্রতিরোধকারী, অকল্যাণকারী, কল্যাণকারী, পরম জ্যোতি, পথপ্রদর্শক, অনন্য স্রষ্টা, চিরস্থায়ী, পরম উত্তরাধিকারী, সৎপথ পরিচালক, পরম ধৈর্যশীল।

আমরা ইতিপূর্বে যে বর্ণনা পেশ করেছি, সেই অনুযায়ী সকল নামসমূহ গণনা করেছি এবং 'আল্লাহ' শব্দ সম্পর্কে আলোচনার সময় এ সংক্রান্ত আলোচনা অতিক্রান্ত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) তাফসীরু আসমাইল্লাহিল হুসনা লিজ-জাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ২৮)
فَأَما الرَّحْمَن والرحيم فهما اسمان رقيقان وَأَحَدهمَا أرق من الآخر

2 - الرَّحْمَن يخْتَص بِاللَّه سبحانه وتعالى وَلَا يجوز إِطْلَاقه فِي غَيره

وَقَالَ بعض أهل التَّفْسِير الرَّحْمَن الَّذِي رحم كَافَّة خلقه بِأَن خلقهمْ وأوسع عَلَيْهِم فِي رزقهم

3 - والرحيم خَاص فِي رَحمته لِعِبَادِهِ الْمُؤمنِينَ بِأَن هدَاهُم إِلَى الْإِيمَان وَهُوَ يثيبهم فِي الْآخِرَة الثَّوَاب الدَّائِم الَّذِي لَا يَنْقَطِع
আর 'আর-রাহমান' ও 'আর-রাহিম' হলো দুটি কোমল গুণবাচক নাম এবং এদের একটি অপরটি অপেক্ষা অধিকতর কোমল।

২ - 'আর-রাহমান' নামটি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার জন্য নির্দিষ্ট এবং তিনি ব্যতীত অন্য কারো ক্ষেত্রে এর প্রয়োগ বৈধ নয়।

কোনো কোনো তাফসিরবিদ বলেন: 'আর-রাহমান' হলেন তিনি যিনি তাঁর সমস্ত সৃষ্টির প্রতি দয়া করেছেন—তাদেরকে সৃষ্টি করার মাধ্যমে এবং তাদের রিযিক প্রশস্ত করার মাধ্যমে।

৩ - আর 'আর-রাহিম' তাঁর মুমিন বান্দাদের প্রতি দয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ; তিনি তাদেরকে ঈমানের পথে পরিচালিত করেছেন এবং তিনি পরকালে তাদেরকে এমন চিরস্থায়ী প্রতিদান প্রদান করবেন যা কখনো শেষ হবে না।
(খণ্ড: ১) তাফসীরু আসমাইল্লাহিল হুসনা লিজ-জাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ২৯)
وَقد قَالُوا رحمان الْيَمَامَة وَإِنَّمَا قيل لَهُ ذَلِك على جِهَة الِاسْتِهْزَاء بِهِ والتهكم

فَأَما الْفَائِدَة فِي إِعَادَة هَاتين اللفطتين مَعَ الِاشْتِقَاق وَاللَّفْظ وَاحِد فَهِيَ لما ذَكرْنَاهُ من تزايد معنى فعلان فِي رحمان وعمومه فِي الْخلق كلهم أَلا ترى أَن بِنَاء فعلان إِنَّمَا هُوَ لمبالغة الْوَصْف

يُقَال فلَان غَضْبَان وإناء ملآن وَإِنَّمَا هُوَ للممتلى غَضبا وَمَاء فَلهَذَا حسن الْجمع بَينهمَا

وَفِيه وَجه آخر وَهُوَ أَنه إِنَّمَا حسن ذَلِك لما فِي التَّأْكِيد من التكرير

وَقد جَاءَ مثله فِي الْقُرْآن قَالَ الله عز اسْمه {فغشيهم من اليم مَا غشيهم} وَلَو قَالَ فغشيهم مَا غشي لَكَانَ الْكَلَام مُسْتَقِيمًا

وَكَذَلِكَ قَوْلهم المَال بيني وَبَين زيد وَبَين زيد وَبَين عَمْرو وَلَو قَالَ بَين زيد وَعَمْرو لَكَانَ مفهوما وَقَالَ بَين الْأَشَج وَبَين قيس باذخ بخ بخ لوالده وللمولود

وَقَالُوا فِي الْكَلَام هُوَ جاد مجد وَمثله كثير
তারা 'ইয়ামামার রহমান' বলেছিল, আর তাকে কেবল উপহাস এবং বিদ্রূপ করার ছলে এটি বলা হতো।

আর এই শব্দদ্বয়ের মূল ধাতু এক হওয়া সত্ত্বেও এদের পুনরাবৃত্তির উপযোগিতা সেই কারণে যা আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি; তা হলো 'রহমান' শব্দে 'ফালান' (Fa'lan) ওজনের কারণে অর্থের আধিক্য বিদ্যমান এবং তা সমস্ত সৃষ্টির জন্য ব্যাপক। আপনি কি লক্ষ্য করেন না যে, 'ফালান' গঠনটি মূলত কোনো গুণের আধিক্য বা আতিশয্য প্রকাশের জন্য ব্যবহৃত হয়?

যেমন বলা হয় 'অমুক ব্যক্তি অত্যন্ত ক্রুদ্ধ' এবং 'পাত্রটি কানায় কানায় পূর্ণ'; এটি মূলত ক্রোধে কিংবা পানিতে পরিপূর্ণ হওয়ার ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়। এই কারণেই শব্দ দুটির (রহমান ও রহীম) একত্রে ব্যবহার চমৎকার হয়েছে।

এর আরেকটি দিক এই যে, পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে যে তাকিদ বা গুরুত্ব সৃষ্টি হয়, তার কারণেও এটি সুন্দর হয়েছে।

কুরআনেও অনুরূপ উদাহরণ এসেছে। মহান আল্লাহ বলেন: "অতঃপর সমুদ্র তাদের যেভাবে আচ্ছন্ন করার ছিল সেভাবেই আচ্ছন্ন করে ফেলল।" যদি বলা হতো "তাদের আচ্ছন্ন করল যা আচ্ছন্ন করেছিল", তবে বাক্যটি ব্যাকরণগতভাবে সঠিক হতো (কিন্তু পুনরাবৃত্তিতে অলঙ্কারিক সৌন্দর্য প্রকাশ পেয়েছে)।

অনুরূপভাবে তাদের বক্তব্য: "সম্পদটি আমার ও যায়েদের মাঝে এবং যায়েদ ও আমরের মাঝে।" অথচ যদি বলা হতো "যায়েদ ও আমরের মাঝে", তবে তাও বোধগম্য হতো। কবি বলেছেন: "আশাজ এবং কায়েসের মাঝে এক সুউচ্চ মর্যাদা রয়েছে; ধন্য তার পিতা এবং ধন্য সেই নবজাতক!"

তারা কথাবার্তায় আরও বলে থাকে: "সে অত্যন্ত কঠোর পরিশ্রমী"; এমন উদাহরণ আরও অনেক রয়েছে।
(খণ্ড: ১) তাফসীরু আসমাইল্লাহিল হুসনা লিজ-জাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ৩০)
4 - الْملك أصل الْملك فِي الْكَلَام الرَّبْط والشد يُقَال ملكت الْعَجِين أملكهُ ملكا إِذا شددت عجنه وَيُقَال أملكوا الْعَجِين فَإِنَّهُ أحد الريعين

وإملاك الْمَرْأَة من هَذَا إِنَّمَا هُوَ ربطها بِالزَّوْجِ

وَقَالَ أَصْحَاب الْمعَانِي الْملك النَّافِذ الْأَمر فِي ملكه إِذْ لَيْسَ كل مَالك ينفذ أمره وتصرفه فِيمَا يملكهُ فالملك أَعم من الْمَالِك وَالله تَعَالَى مَالك المالكين كلهم والملاك إِنَّمَا استفادوا التَّصَرُّف فِي أملاكهم من جِهَته تَعَالَى

5 - القدوس يُقَال قدوس وقدوس وَالضَّم أَكثر وَفِي التَّفْسِير إِنَّه الْمُبَارك فِي قَوْله تَعَالَى

{ادخُلُوا الأَرْض المقدسة الَّتِي كتب الله لكم} وَقد قيل أَيْضا إِنَّه هُنَا المطهرة وَالتَّقْدِيس التَّطْهِير وَقيل للسطل قدس لِأَنَّهُ يتَطَهَّر فِيهِ

وَمثله قَوْلهم للسطيحة مطهرة لأَنهم كَانُوا يتطهرون مِنْهَا

وَقَالَ لي بَعضهم إِن أصل الْكَلِمَة سرياني وَإنَّهُ فِي الأَصْل قدشا وهم يَقُولُونَ فِي دعواتهم قديش قديش فأعربته الْعَرَب قَالَت قدوس

6 - السَّلَام قَالَ أهل اللُّغَة يُقَال سلمت على فلَان تَسْلِيمًا
৪ - আল-মালিক (অধিপতি): শব্দশাস্ত্রে 'মুলক' শব্দের মূল ভিত্তি হলো মজবুত করা ও শক্তভাবে বাঁধা। বলা হয়, 'আমি আটা মলেছি', যখন সেটি শক্তভাবে মাখানো হয়। আরও বলা হয়, 'আটা শক্ত করে মাখো, কারণ এটি বরকতের দুই প্রকার বৃদ্ধির একটি।' আর নারীর বিবাহকে (ইমলাক) এই অর্থেই ব্যবহার করা হয়, কারণ এটি তাকে স্বামীর সাথে আবদ্ধ করে। শব্দার্থবিদগণ বলেছেন, 'মালিক' হলেন তিনি যার নির্দেশ তার রাজত্বে কার্যকর হয়; কারণ প্রত্যেক স্বত্বাধিকারী তার মালিকানাধীন বিষয়ে নিজ নির্দেশ ও কর্মকাণ্ড কার্যকর করতে সক্ষম হয় না। সুতরাং 'মালিক' (রাজা/অধিপতি) শব্দটি সাধারণ 'মালিক' (স্বত্বাধিকারী) অপেক্ষা অধিক ব্যাপক। আর মহান আল্লাহ সকল মালিকের মালিক। দুনিয়ার মালিকগণ তাদের মালিকানাধীন বিষয়ে ব্যবহারের যে অধিকার লাভ করে, তা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকেই প্রাপ্ত হয়।

৫ - আল-কুদ্দুস: এটি 'কুদ্দুস' এবং 'কাদ্দুস' উভয়ভাবেই উচ্চারিত হয়, তবে প্রথম বর্ণে পেশ যোগে (কুদ্দুস) উচ্চারণটিই অধিক প্রচলিত। তাফসীরে বলা হয়েছে, মহান আল্লাহর বাণী— "তোমরা সেই পবিত্র ভূমিতে প্রবেশ করো যা আল্লাহ তোমাদের জন্য নির্ধারিত করেছেন"—এখানে এর অর্থ হলো বরকতময়। আরও বলা হয়েছে যে, এখানে এর অর্থ হলো পবিত্র। 'তাকদিস' মানে হলো পবিত্র করা। পানির পাত্রকে 'কুদুস' বলা হয় কারণ তা দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করা হয়। অনুরূপভাবে তারা ছোট চামড়ার পাত্রকে 'মিতহারা' বলে থাকে, কারণ তারা তা দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করত। কেউ কেউ আমাকে বলেছেন যে, এই শব্দের মূল উৎস হলো সুরইয়ানি (সিরিয়াক) ভাষা। মূল শব্দটি ছিল 'কাদশা'। তারা তাদের প্রার্থনায় 'কাদিশ কাদিশ' বলত, অতঃপর আরবরা একে আরবি ছাঁচে ফেলে 'কুদ্দুস' বলেছে।

৬ - আস-সালাম: ভাষাবিদগণ বলেন, বলা হয় 'আমি অমুক ব্যক্তিকে সালাম (অভিবাদন) জানিয়েছি'।
(খণ্ড: ১) তাফসীরু আসমাইল্লাহিল হুসনা লিজ-জাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ৩১)
وَسلَامًا وَقَالَ بَعضهم فِي قَول الله عز وجل {وَإِذا خاطبهم الجاهلون قَالُوا سَلاما} أَرَادَ وَالله أعلم تسلما مِنْهُ وَبَرَاءَة

وَقَالَ مُحَمَّد بن يزِيد معنى وَصفنَا الله تَعَالَى بِأَنَّهُ السَّلَام مِنْهُ وَإِنَّمَا تَأَول قَوْلهم سلم الله على فلَان وَسَلام الله عَلَيْهِ

وَقَالَ النمر بن تولب

(سَلام الْإِلَه وريحانه … وَرَحمته وسماء دُرَر)

وَيُقَال السَّلَام هُوَ الَّذِي سلم من عَذَابه من لَا يسْتَحقّهُ

7 - الْمُؤمن أصل الْإِيمَان التَّصْدِيق والثقة وَقَالَ الله عز قَائِلا {وَمَا أَنْت بِمُؤْمِن لنا} أَي لفرط محبتك ليوسف لَا تصدقنا

وَيُقَال إِنَّمَا سمى الله نَفسه مُؤمنا لِأَنَّهُ شهد بوحدانيته فَقَالَ تَعَالَى {شهد الله أَنه لَا إِلَه إِلَّا هُوَ} كَمَا شَهِدنَا نَحن

وَحكى أَبُو زيد الْأنْصَارِيّ مَا آمَنت أَن أجد صحابة أومن إِيمَانًا أَي مَا وثقت
এবং সালামস্বরূপ। আর তাঁদের কেউ কেউ মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর বাণী {এবং যখন মূর্খরা তাদের সম্বোধন করে, তখন তারা বলে: সালাম} সম্পর্কে বলেছেন: আল্লাহই ভালো জানেন, এর দ্বারা তাদের থেকে নিষ্কৃতি ও দায়মুক্তি উদ্দেশ্য করা হয়েছে।

মুহাম্মদ ইবনে ইয়াজিদ বলেছেন, আল্লাহ তাআলাকে 'আস-সালাম' গুণে গুণান্বিত করার অর্থ হলো তাঁর পক্ষ থেকেই নিরাপত্তা আসে। তিনি মূলত মানুষের এই উক্তিকে ব্যাখ্যা করেছেন: 'আল্লাহ অমুককে নিরাপদ রাখুন' এবং 'তার ওপর আল্লাহর পক্ষ থেকে সালাম বর্ষিত হোক'।

আন-নামির ইবনে তাওলাব বলেছেন:

(ইলাহের সালাম ও তাঁর করুণা ... এবং তাঁর রহমত ও বারিবর্ষণকারী আকাশ)

বলা হয়ে থাকে, আস-সালাম তিনিই, যাঁর আজাব বা শাস্তি থেকে তারা নিরাপদ থাকে যারা এর যোগ্য নয়।

৭ - আল-মু'মিন: ঈমানের মূল ভিত্তি হলো সত্যায়ন এবং আস্থা। মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর আপনি আমাদের বিশ্বাস করবেন না} অর্থাৎ ইউসুফের প্রতি আপনার অতিশয় ভালোবাসার কারণে আপনি আমাদের সত্যায়ন করবেন না।

বলা হয়ে থাকে যে, আল্লাহ নিজেকে 'মু'মিন' নামে অভিহিত করেছেন কারণ তিনি নিজের একত্বের সাক্ষ্য দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আল্লাহ সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, নিশ্চয়ই তিনি ছাড়া অন্য কোনো সত্য ইলাহ নেই}, যেমনটি আমরা সাক্ষ্য দিয়েছি।

আবু যায়েদ আল-আনসারি বর্ণনা করেছেন: 'আমি কোনো সঙ্গী পাওয়ার ব্যাপারে আশ্বস্ত হতে পারিনি', অর্থাৎ আমি আস্থা রাখতে পারিনি।
(খণ্ড: ১) তাফসীরু আসমাইল্লাহিল হুসনা লিজ-জাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ৩২)
فَمَعْنَى الْمُؤمن إِذا وَصفنَا بِهِ المخلوقين هُوَ الواثق بِمَا يَعْتَقِدهُ المستحكم الثِّقَة

وَيُقَال إِنَّه فِي وصف الله تَعَالَى يُفِيد أَنه الَّذِي أَمن من عَذَابه من لَا يسْتَحقّهُ

8 - الْمُهَيْمِن فسر الْقُرْآن على أوجه كَثِيرَة يُقَال إِنَّه الشَّاهِد تَقول فلَان مهيمنى على فلَان إِذا كَانَ شَاهِدي عَلَيْهِ

وَقَالَ مُحَمَّد بن يزِيد تخاصم أَعْرَابِيَّانِ إِلَى عمَارَة بن عقيل بن بِلَال بن جرير فِي بعض الْأَمر فَقَالَ لأَحَدهمَا أَلَك مهيمن فَقَالَ مهيمني حِجَارَة اللابة

وَقَالَ الشَّاعِر

(وَلَا تدخر قولا فَأَنت الْمُهَيْمِن … )

وَيُقَال إِن الْمُهَيْمِن الرَّقِيب الْحَافِظ وَيُقَال بل الْمُهَيْمِن أَصله المؤيمن فأبدلت الْهمزَة هَاء كَمَا قَالُوا هرقت المَاء وأرقته وهنرت الثَّوْب وأنرته وهرحت الدَّابَّة وأرحتها وهياك وَإِيَّاك

وَقَالَ الراجز

(إياك أَن تمنى بشعشعان … )

وَقَالُوا هَذَا الَّذِي فعل وأذا الَّذِي فعل
সৃষ্টিজীবের গুণ হিসেবে যখন আমরা 'মুমিন' শব্দ ব্যবহার করি, তখন এর অর্থ হলো এমন ব্যক্তি যে তার বিশ্বাসের ওপর আস্থাশীল এবং যার বিশ্বাস সুদৃঢ়।

বলা হয় যে, মহান আল্লাহর গুণের ক্ষেত্রে এর অর্থ দাঁড়ায়, তিনি এমন সত্তা যিনি আযাব পাওয়ার যোগ্য নন এমন ব্যক্তিকে তাঁর আযাব থেকে নিরাপত্তা দেন।

৮ - আল-মুহাইমিন: কুরআনে এর অনেকভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। বলা হয় যে, এর অর্থ হলো 'সাক্ষী'। আপনি বলবেন, 'অমুক ব্যক্তি অমুকের ওপর আমার মুহাইমিন (সাক্ষী)', যখন সে তার ওপর আমার সাক্ষী হয়।

মুহাম্মদ ইবনে ইয়াজিদ বলেন, কোনো একটি বিষয়ে দুই জন গ্রাম্য আরব উমারা ইবনে আকিল ইবনে বিলাল ইবনে জারিরের নিকট বিবাদ নিয়ে এলো। তখন তিনি তাদের একজনকে বললেন, "তোমার কি কোনো মুহাইমিন (সাক্ষী) আছে?" সে উত্তর দিল, "লাবার (অগ্নিগিরির কৃষ্ণবর্ণ পাথুরে ভূমি) পাথরগুলোই আমার মুহাইমিন (সাক্ষী)।"

জনৈক কবি বলেছেন:

(আর কোনো কথা গোপন করো না, কেননা তুমিই মুহাইমিন … )

বলা হয় যে, মুহাইমিন হলো 'রাকিব' (তত্ত্বাবধায়ক) ও 'হাফিজ' (সংরক্ষণকারী)। আবার বলা হয় যে, 'মুহাইমিন' শব্দের মূল উৎস হলো 'মুআইমিন', যেখানে হামজাকে 'হা' দ্বারা পরিবর্তন করা হয়েছে; যেমনটি তারা 'আরাকতুল মা' (আমি পানি ঢাললাম) এর স্থলে 'হারাকতুল মা' বলে, 'আনারতুস সাওব' (আমি পোশাকে নকশা করলাম) এর স্থলে 'হানারতুস সাওব' বলে, 'আরাহতুদ দাব্বাহ' (আমি পশুটিকে বিশ্রাম দিলাম) এর স্থলে 'হারাহতুদ দাব্বাহ' বলে এবং 'ইয়্যাকা' এর স্থলে 'হাইয়্যাকা' বলে থাকে।

জনৈক রাজাজ ছন্দ রচয়িতা কবি বলেছেন:

(সাবধান থেকো যেন তুমি কোনো দীর্ঘদেহী ব্যক্তির কবলে না পড়ো … )

আর তারা বলে থাকে 'হাযাল্লাযি ফাআলা' (এই সেই যে করেছে) এবং 'আযাল্লাযি ফাআলা'।
(খণ্ড: ১) তাফসীরু আসমাইল্লাহিল হুসনা লিজ-জাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
وَقَالَ الْقَائِل

(وَأتوا صواحبها فَقُلْنَ أذا الَّذِي … منح الْمَوَدَّة غَيرنَا وجفانا)

وَقَالَ بَعضهم الْمُهَيْمِن اسْم من أَسمَاء الله تَعَالَى وَهُوَ غير مُشْتَقّ

وَقَالَ النمر بن تولب

(جَزَاك الْمُهَيْمِن دَار الْجنان … ولقاك مني الْجَزَاء المجيدا)

9 - الْعَزِيز أصل ع ز ز فِي الْكَلَام الْغَلَبَة والشدة وَيُقَال عزني فلَان على الْأَمر إِذا غلبني عَلَيْهِ

وَقَالَ الله تَعَالَى ذكره {فعززنا بثالث} أَرَادَ وَالله أعلم قوينا أمره وشددناه وَقَالَ تَعَالَى {وعزني فِي الْخطاب} أَرَادَ غلبني

وَقَالَ جرير

(يعز على الطَّرِيق بمنكبيه … كَمَا ابترك الخليع على القداح)
আর বক্তা বলেছেন

(এবং তোমরা তার সঙ্গিনীদের নিকট যাও, তখন তারা বলল: এই কি সেই ব্যক্তি যে … আমাদের ছেড়ে অন্যকে ভালোবাসা দান করেছে এবং আমাদের প্রতি রূঢ়তা প্রদর্শন করেছে?)

এবং তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: 'আল-মুহাইমিন' মহান আল্লাহর নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত একটি নাম এবং এটি কোনো শব্দমূল থেকে নির্গত নয়।

আর আল-নামির বিন তাওলাব বলেছেন:

(আল-মুহাইমিন আপনাকে জান্নাতুন নাঈম প্রতিদান হিসেবে দান করুন … এবং আমার পক্ষ থেকে আপনাকে এক মহান প্রতিদান প্রদান করুন।)

৯ - আল-আজিজ: পরিভাষায় ‘আইন-যা-যা’ এর মূল অর্থ হলো প্রাধান্য বিস্তার ও কঠোরতা। আর বলা হয়, ‘অমুক ব্যক্তি কোনো বিষয়ে আমার ওপর জয়ী হয়েছে’ যখন সে আমাকে তাতে পরাজিত করে।

আর আল্লাহ তাআলা উল্লেখ করেছেন: {অতঃপর আমরা তৃতীয় একজনের মাধ্যমে শক্তিশালী করেছি}। আল্লাহই ভালো জানেন, এর অর্থ হলো আমরা তার বিষয়টিকে শক্তিশালী ও সুদৃঢ় করেছি। আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {এবং সে বিতর্কে আমাকে পরাজিত করেছে}, অর্থাৎ সে বিজয়ী হয়েছে।

আর জারীর বলেছেন:

(সে তার স্কন্ধদ্বয় দিয়ে পথের ওপর প্রবল হয় … যেমন জুয়াড়ি তীরের ওপর উপুড় হয়ে পড়ে।)
(খণ্ড: ১) তাফসীরু আসমাইল্লাহিল হুসনা লিজ-জাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ৩৪)
وَيُقَال عزه يعزه وَالله تَعَالَى هُوَ الْغَالِب كل شَيْء فَهُوَ الْعَزِيز الَّذِي ذل لعزته كل عَزِيز

وَقَالَ أَبُو كَبِير الْهُذلِيّ وَوصف عقَابا واعتظلت فِي جبل

(حَتَّى انْتَهَيْت إِلَى فرَاش عزيزة … سَوْدَاء رَوْثَة أنفها كالمخصف)

10 - الْجَبَّار أصل جبر فِي الْكَلَام إِنَّمَا وضع للنماء والعلو وَيُقَال جبر الله الْعظم إِذا نماه وَقَالَ العجاج

(قد جبر الدّين الْإِلَه فجبر … )

وَيُقَال نَخْلَة جبارَة إِذا فَاتَت الْيَد وفواتها الْيَد علو وَزِيَادَة

وَقَالَ الشَّاعِر

(طَرِيق وجبار رواء أُصُوله … عَلَيْهِ أبابيل من الطير تنعب)
এবং বলা হয়, 'আজ্জাহু ইয়া'ইজ্জুহু' (তিনি তাকে পরাভূত করেছেন)। আর আল্লাহ তাআলা হলেন প্রতিটি জিনিসের ওপর বিজয়ী; সুতরাং তিনি হলেন আল-আজিজ (মহাপরাক্রমশালী), যাঁর পরাক্রমের সামনে প্রতিটি শক্তিশালী সত্তা হীনতা স্বীকার করেছে।

আবু কাবীর আল-হুযালী একটি শিকারি ঈগলের বর্ণনা দিতে গিয়ে এবং পাহাড়ে তার অবস্থানের কথা উল্লেখ করে বলেছেন:

(এমনকি আমি এক শক্তিশালী ঈগলের বাসায় পৌঁছালাম … যেটি ছিল কালো বর্ণের, যার নাকের অগ্রভাগ ছিল চর্মকারের সূঁচের মতো।)

১০ - আল-জাব্বার: ভাষাতত্ত্বে 'জাবর' শব্দের মূল উৎস মূলত প্রবৃদ্ধি এবং উচ্চতার অর্থে ব্যবহৃত হয়। বলা হয়, 'আল্লাহ হাড় জোড়া দিয়েছেন বা বর্ধিত করেছেন' যখন তিনি তাকে প্রবৃদ্ধি দান করেন। আল-আজ্জাজ বলেছেন:

(নিশ্চয়ই ইলাহ দ্বীনকে সুসংহত করেছেন, ফলে তা সুসংহত হয়েছে … )

আর কোনো খেজুর গাছ যখন উচ্চতার কারণে হাতের নাগালের বাইরে চলে যায়, তখন তাকে 'জাব্বারা' বলা হয়; আর হাতের নাগালের বাইরে থাকা মূলত উচ্চতা এবং আধিক্যকেই বোঝায়।

কবি বলেছেন:

(দীর্ঘ পথ এবং বিশাল উঁচু খেজুর গাছ যার গোড়া সজীব ও সতেজ … যার ওপর ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি চিৎকার করছে।)
(খণ্ড: ১) তাফসীরু আসমাইল্লাহিল হুসনা লিজ-জাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ৩৫)
وَالله تَعَالَى عَال على خلقه بصفاته الْعَالِيَة وآياته الْقَاهِرَة وَهُوَ الْمُسْتَحق للعلو والجبروت تَعَالَى

11 - المتكبر هُوَ متفعل من الْكبر وأصل تفعل فِي الْكَلَام مَوْضُوع لمن تعاطى الشَّيْء وَلَيْسَ هُوَ من أَهله يُقَال تحلم فلَان وتعظم وَقَالَ

(تحلم عَن الأدنين واستبق ودهم … وَلنْ تَسْتَطِيع الْحلم حَتَّى تحلما)

يَقُول لَا تبلغ فِيهِ مبلغا رَضِيا حَتَّى تتعاطاه وَلَا مُسْتَحقّ لصفة الْكبر والتكبر إِلَّا الله سُبْحَانَهُ كَمَا رُوِيَ عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم حاكيا عَن ربه

أَنه قَالَ سُبْحَانَهُ {الْكِبْرِيَاء رِدَائي فَمن نَازَعَنِي رِدَائي قصمته}

12 - الْخَالِق أصل الْخلق فِي الْكَلَام التَّقْدِير يُقَال خلقت الشَّيْء خلقا إِذا قدرته وَقَالَ زُهَيْر يمدح رجلا
আল্লাহ তাআলা তাঁর সুউচ্চ গুণাবলি এবং বিজয়ী নিদর্শনাবলি দ্বারা তাঁর সৃষ্টির ওপর সুউচ্চ এবং তিনি উচ্চতা ও শ্রেষ্ঠত্বের প্রকৃত হকদার। সুউচ্চ তিনি।

১১ - আল-মুতাকাব্বির শব্দটি 'কিবর' (বড়ত্ব) থেকে মুতাফাউয়িল ওজনে গঠিত। আর ভাষাগতভাবে 'তাফাউ'ল' ওজনের মূল ব্যবহার হয় এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে যে এমন কোনো গুণের চর্চা করে যার সে যোগ্য নয়। যেমন বলা হয়, অমুক ব্যক্তি ধৈর্য ধারণের চেষ্টা করেছে (তাহাল্লামা) এবং নিজেকে বড় দেখিয়েছে (তাআজ্জামা)। আর কবি বলেছেন:

(নিকটাত্মীয়দের প্রতি সহনশীল হও এবং তাদের ভালোবাসা অবশিষ্ট রাখো... আর তুমি ততক্ষণ পর্যন্ত প্রকৃত সহনশীলতা অর্জন করতে পারবে না যতক্ষণ না তুমি সহনশীল হওয়ার চেষ্টা করবে)

তিনি বলছেন যে, তুমি এতে সন্তোষজনক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারবে না যতক্ষণ না তুমি এর চর্চা করবে। আর আল্লাহ সুবহানাহু ছাড়া বড়ত্ব ও অহংকারের গুণের প্রকৃত হকদার আর কেউ নেই, যেমনটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর রবের পক্ষ থেকে বর্ণনা করেছেন যে,

তিনি সুবহানাহু বলেছেন, {অহংকার আমার চাদর, সুতরাং যে ব্যক্তি আমার চাদর নিয়ে আমার সাথে টানাটানি করবে, আমি তাকে চূর্ণ করে দেব।}

১২ - আল-খালিক, ভাষাগতভাবে 'খালক' শব্দের মূল অর্থ হলো পরিমাপ বা নির্ধারণ করা। বলা হয়ে থাকে, 'আমি বস্তুটির খালক করেছি' অর্থাৎ যখন আপনি তা পরিমাপ করেন। কবি জুহাইর এক ব্যক্তির প্রশংসা করে বলেছেন:
(খণ্ড: ১) তাফসীরু আসমাইল্লাহিল হুসনা লিজ-জাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ৩৬)
ولأنت تفري مَا خلقت وَبَعض الْقَوْم يخلق ثمَّ لَا يفري

يَقُول أَنْت إِذا قدرت أَمرك قطعته أَي تتمّ على عزمك فِيهِ وتمضيه وَلست مِمَّن يشرع فِي الْأَمر ثمَّ يَبْدُو لَهُ فيتركه

وَقَالَ الْحجَّاج وَإِنَّمَا احتججنا بِكَلَامِهِ لِأَنَّهُ كَانَ بَقِيَّة الفصاحة

إِنِّي لَا أخلق إِلَّا فريت تمدح بِهَذَا الْمَعْنى الَّذِي ذَكرْنَاهُ

وَقَالَ الله تَعَالَى ذكره {وتخلقون إفكا} أَي تقدرونه وتهيئونه

وَمِنْه قَوْلهم حَدِيث مختلق يُرَاد أَنه قدر تَقْدِير الصدْق وَهُوَ كذب

فالخلق فِي اسْم الله تَعَالَى هُوَ ابْتِدَاء تَقْدِير النشء
আর আপনি যা পরিকল্পনা করেন তা সম্পন্ন করেন, অথচ কিছু লোক পরিকল্পনা করে কিন্তু তা সম্পন্ন করে না।

তিনি বলেন, আপনি যখন কোনো বিষয়ের ফয়সালা করেন তখন তা চূড়ান্ত করেন, অর্থাৎ আপনি আপনার সংকল্প অনুযায়ী তা পূর্ণ ও বাস্তবায়িত করেন। আপনি তাদের অন্তর্ভুক্ত নন যারা কোনো কাজ শুরু করার পর তাতে অন্য কোনো দিক প্রকাশ পায় আর সে কারণে তা বর্জন করে।

আল-হাজ্জাজ বলেছেন—আর আমরা তাঁর কথা দ্বারা দলিল পেশ করেছি কারণ তিনি ছিলেন বিশুদ্ধ বাগ্মিতার অবশিষ্টাংশ—

"আমি যা পরিকল্পনা করি তা সম্পন্ন করি।" আমরা যে অর্থের কথা উল্লেখ করেছি তা দ্বারা তিনি এই গুণের প্রশংসা করেছেন।

মহান আল্লাহ বলেন: {এবং তোমরা মিথ্যা উদ্ভাবন করো} অর্থাৎ তোমরা তা পরিকল্পনা ও প্রস্তুত করো।

আর এ থেকেই তাদের কথা 'বানোয়াট (মুখতালাক) হাদিস', যার অর্থ হলো একে সত্যের আদলে সাজানো হয়েছে অথচ তা মিথ্যা।

সুতরাং মহান আল্লাহর নামের ক্ষেত্রে 'খালক' (সৃষ্টি) হলো অস্তিত্বদানের সূচনালগ্নে নির্ধারণ করা।
(খণ্ড: ১) তাফসীরু আসমাইল্লাহিল হুসনা লিজ-জাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ৩৭)
فَالله تَعَالَى خَالِقهَا ومنشئها وَهُوَ متممها ومدبرها {فَتَبَارَكَ الله أحسن الْخَالِقِينَ}

13 - البارئ يُقَال برأَ الله الْخلق فَهُوَ يبرؤهم برءا إِذا فطرهم

والبرء خلق على صفة فَكل مبروء مَخْلُوق وَلَيْسَ كل مَخْلُوق مبروءا وَذَلِكَ لِأَن الْبُرْء من تبرئة الشَّيْء من الشَّيْء من قَوْلهم برأت من الْمَرَض وبرئت من الدّين أَبْرَأ مِنْهُ فبعض الْخلق إِذا فصل من بعض سمي فاعلة بارئا وَفِي الْأَيْمَان {لَا وَالَّذِي فلق الْحبَّة وبرأ النَّسمَة}

وَقَالَ أَبُو عَليّ هُوَ الْمَعْنى الَّذِي بِهِ انفصلت الصُّور بَعْضهَا من بعض فصورة زيد مُفَارقَة لصورة عَمْرو وَصُورَة حمَار مُفَارقَة لصورة فرس فَتَبَارَكَ الله خَالِقًا وبارئا

14 - المصور هُوَ مفعل من الصُّورَة وَهُوَ تَعَالَى مُصَور كل صُورَة لَا على مِثَال احتذاه وَلَا رسم ارتسمه تَعَالَى عَن ذَلِك علوا كَبِيرا

15 - الْغفار أصل الغفر فِي الْكَلَام السّتْر والتغطية يُقَال اصبغ ثَوْبك فَهُوَ أَغفر للوسخ أَي أحمل لَهُ وأستر
আল্লাহ তাআলাই সেগুলোর সৃষ্টিকর্তা এবং উদ্ভাবক, আর তিনি সেগুলোর পূর্ণতাদানকারী এবং পরিচালক। {অতএব আল্লাহ বরকতময়, যিনি সর্বোত্তম স্রষ্টা।}

১৩ - আল-বারি (উদ্ভাবক): বলা হয়, আল্লাহ সৃষ্টিজগতকে অস্তিত্ব দান করেছেন, সুতরাং তিনি তাদের সৃষ্টি করেন যখন তিনি তাদের অনস্তিত্ব থেকে অস্তিত্বে আনেন।

আর ‘বুরউ’ বা উদ্ভাবন হলো কোনো নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের ওপর সৃষ্টি করা। সুতরাং প্রত্যেক উদ্ভাবিত বস্তু সৃজিত, কিন্তু প্রত্যেক সৃজিত বস্তু (এই বিশেষ অর্থে) উদ্ভাবিত নয়। এর কারণ হলো, ‘বুরউ’ শব্দটি কোনো বস্তুকে অন্য বস্তু থেকে পৃথক বা মুক্ত করা থেকে এসেছে। যেমন তাদের উক্তি: 'আমি রোগ থেকে আরোগ্য লাভ করেছি' এবং 'আমি ঋণ থেকে মুক্ত হয়েছি'। সুতরাং সৃষ্টির এক অংশ যখন অন্য অংশ থেকে পৃথক হয়, তখন এর কর্তাকে ‘বারি’ (উদ্ভাবক) বলা হয়। আর শপথের বাক্যে এসেছে: {না, সেই সত্তার কসম যিনি শস্যদানা বিদীর্ণ করেছেন এবং প্রাণ সৃষ্টি করেছেন।}

আবু আলী বলেন, এটি এমন এক অর্থ যার মাধ্যমে রূপসমূহ একে অপরের থেকে পৃথক হয়। ফলে যায়দের রূপ আমরের রূপ থেকে ভিন্ন হয় এবং গাধার রূপ ঘোড়ার রূপ থেকে ভিন্ন হয়। অতএব আল্লাহ বরকতময় স্রষ্টা ও উদ্ভাবক হিসেবে।

১৪ - আল-মুসাব্বির (রূপদানকারী): এটি ‘সূরাহ’ (রূপ) শব্দ থেকে উদ্গত। আর আল্লাহ তাআলা প্রতিটি রূপের রূপদানকারী, কোনো পূর্ববর্তী নমুনা অনুসরণ ছাড়াই এবং কোনো নকশা বা চিত্র ছাড়াই; তিনি তা থেকে অনেক মহান ও ঊর্ধ্বে।

১৫ - আল-গাফফার (অতি ক্ষমাশীল): ভাষায় ‘গাফর’ এর মূল অর্থ হলো গোপন করা এবং ঢেকে রাখা। বলা হয়, তোমার কাপড়টি রঞ্জিত করো, তবে তা ময়লাকে বেশি আড়াল করবে। অর্থাৎ তা ময়লাকে ধারণ করবে এবং ঢেকে রাখবে।
(খণ্ড: ১) তাফসীরু আসমাইল্লাহিল হুসনা লিজ-জাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ৩৮)
وَمعنى الغفر فِي الله سُبْحَانَهُ هُوَ الَّذِي يستر ذنُوب عباده ويغطيهم بستره كَمَا جَاءَ فِي الدُّعَاء يَا ستار استرنا بسترك الْحسن الْجَمِيل

وكما جَاءَ فِي الْخَبَر الْمَأْثُور عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَنه كَانَ يَقُول فِي دُعَائِهِ لاتهتك أستارنا وَلَا تبل أخبارنا وَلَا تكلنا إِلَى أَنْفُسنَا طرفَة عين

16 - القهار الْقَهْر فِي وضع الْعَرَبيَّة الرياضة والتذليل يُقَال قهر فلَان النَّاقة إِذا راضها وذللها وَأنْشد أَبُو عَمْرو الشَّيْبَانِيّ

(عواص مراحا لم يدن لقاهر … )

وَالله تَعَالَى قهر المعاندين بِمَا أَقَامَ من الْآيَات والدلالات على وحدانيته وقهر جبابرة خلقه بعز سُلْطَانه وقهر الْخلق كلهم بِالْمَوْتِ

17 - الْوَهَّاب هُوَ فعال من قَوْلك وهبت أهب هبة وَالْهِبَة تمْلِيك الشَّيْء بِلَا مثل والمثل فِي الشَّرْع على وَجْهَيْن قيمَة وَثمن وَالله تَعَالَى وهاب الهبات كلهَا

18 - الرَّزَّاق الرزق إِبَاحَة الِانْتِفَاع بالشَّيْء على وَجه يحسن ذَلِك قَالَ الله تَعَالَى {وَمن رزقناه منا رزقا حسنا فَهُوَ ينْفق مِنْهُ سرا وجهرا} وَالله تَعَالَى هُوَ الرَّزَّاق وَهُوَ الرازق
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার ক্ষেত্রে 'আল-গফর' (ক্ষমা) এর অর্থ হলো তিনিই সেই সত্তা যিনি তাঁর বান্দাদের পাপসমূহ গোপন করেন এবং তাঁর পর্দার মাধ্যমে তাদের আবৃত রাখেন, যেমনটি দোয়ায় এসেছে: হে গোপনকারী, আপনি আমাদের আপনার উত্তম ও সুন্দর পর্দার মাধ্যমে আবৃত করুন।

এবং যেমনটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হাদীসে এসেছে যে, তিনি তাঁর দোয়ায় বলতেন: আপনি আমাদের পর্দা ছিন্ন করবেন না, আমাদের গোপন বিষয় প্রকাশ করবেন না এবং চোখের পলকের জন্যও আমাদের নিজেদের ওপর ছেড়ে দেবেন না।

১৬ - আল-কাহহার। আরবি ভাষাবিদ্যায় 'কাহর' অর্থ হলো বশ করা এবং অনুগত করা। বলা হয় যে, অমুক ব্যক্তি উটনীকে 'কাহর' করেছে অর্থাৎ যখন সে সেটিকে প্রশিক্ষণ দিয়ে বশীভূত করেছে। আবু আমর আশ-শায়বানি আবৃত্তি করেছেন:

(এমন উচ্ছল অবাধ্য যারা কোনো দমনকারীর সামনে মাথা নত করেনি … )

আর আল্লাহ তাআলা তাঁর একত্ববাদের সপক্ষে প্রতিষ্ঠিত নিদর্শনাবলী ও প্রমাণাদির মাধ্যমে বিরুদ্ধবাদীদের পরাভূত করেছেন, তাঁর কর্তৃত্বের প্রতাপ দিয়ে সৃষ্টির মধ্যকার জবরদস্তদের অবদমিত করেছেন এবং মৃত্যুকে দিয়ে সকল সৃষ্টিকে পরাভূত করেছেন।

১৭ - আল-ওয়াহহাব। এটি আপনার বলা 'ওয়াহাবতু' (আমি দান করেছি), 'আহাব' (আমি দান করি), 'হিবাহ' (দান) শব্দমূল থেকে আধিক্যবোধক রূপ। আর 'হিবাহ' হলো কোনো বিনিময় ছাড়াই কোনো জিনিসের মালিকানা প্রদান করা। শরিয়তে বিনিময় দুই প্রকার: মূল্য ও দাম। আর আল্লাহ তাআলা হলেন সকল প্রকার দানের পরম দাতা।

১৮ - আর-রাজ্জাক। 'রিজক' হলো যথাযথ পন্থায় কোনো বস্তু থেকে উপকৃত হওয়ার অনুমতি প্রদান করা। আল্লাহ তাআলা বলেন, {যাকে আমি আমার পক্ষ থেকে উত্তম রিজিক দান করেছি, সে তা থেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে}। আর আল্লাহ তাআলাই হলেন পরম রিজিকদাতা এবং অন্নদাতা।
(খণ্ড: ১) তাফসীরু আসমাইল্লাহিল হুসনা লিজ-জাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ৩৯)
19 - الفتاح هُوَ من قَوْلك فتحت الْبَاب أفتحه فتحا ثمَّ كثر واتسع فِيهِ حَتَّى سمي الْحَاكِم فاتحا وَذَلِكَ لِأَنَّهُ يفتح المستغلق بَين الْخَصْمَيْنِ وأنشدوا

(أَلا أبلغ بني عَمْرو رَسُولا … فَإِنِّي عَن فتاحتكم غَنِي)

وَالله تَعَالَى ذكره فتح بَين الْحق وَالْبَاطِل فأوضح الْحق وَبَينه وأدحض الْبَاطِل وأبطله فَهُوَ الفتاح

20 - الْعَلِيم الْعَلِيم والعالم بِمَعْنى وَاحِد وفعيل وفاعل يَشْتَرِكَانِ فِي كثير من الصِّفَات

قَالُوا ضريب وضارب وعريف وعارف وأنشدوا

(أَو كلما وَردت عكاظ قَبيلَة … بعثوا إِلَيّ عريفهم يتوسم)
১৯ - আল-ফাত্তাহ: এটি আপনার এই বক্তব্য থেকে উদ্ভূত যে, 'আমি দরজা খুলেছি, আমি এটি খুলি, খোলা'। এরপর এর অর্থের প্রসার ঘটেছে এবং তা ব্যাপকতা লাভ করেছে এমনকি বিচারককে 'ফাতাহ' (মীমাংসাকারী) হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। এটি এ কারণে যে, তিনি বিবাদমান দুই পক্ষের মধ্যকার জটিলতা নিরসন বা উন্মোচন করেন। আর তারা কবিতা আবৃত্তি করেছেন:

(সাবধান, বনু আমরের নিকট এক বার্তা পৌঁছে দাও... নিশ্চয়ই আমি তোমাদের বিচার-মীমাংসা হতে অমুখাপেক্ষী)

আর আল্লাহ তাআলা সত্য ও মিথ্যার মাঝে মীমাংসা করে দিয়েছেন, ফলে তিনি সত্যকে সুস্পষ্ট ও ব্যাখ্যাত করেছেন এবং মিথ্যাকে পরাভূত ও বাতিল করেছেন। অতএব তিনিই আল-ফাত্তাহ।

২০ - আল-আলিম: আল-আলিম এবং আল-আলিম একই অর্থবোধক। আর 'ফাইল' ও 'ফাইল' রূপ দুটি অনেক গুণের ক্ষেত্রে পরস্পর অংশীদার হয়ে থাকে।

তারা বলেন: 'দারীব' ও 'দারিব' এবং 'আরীফ' ও 'আরিফ'। আর তারা কবিতা আবৃত্তি করেছেন:

(নাকি যখনই কোনো গোত্র উকাজ মেলায় আসে... তারা তাদের বিজ্ঞ ব্যক্তিকে আমার নিকট পাঠায় নিপুণভাবে পর্যবেক্ষণ করার জন্য)
(খণ্ড: ১) তাফসীরু আসমাইল্লাহিল হুসনা লিজ-জাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ৪০)
وَحسن الْإِعَادَة لاخْتِلَاف معنييهما لِأَن الْعَلِيم فِيهِ صفة زَائِدَة على مَا فِي الْعَالم

وَحكي عَن قطرب أَن قَوْلنَا عليم فِي اسْم الله تَعَالَى يُفِيد الْعلم بالغيوب فَفِي إِعَادَة اللَّفْظَيْنِ الْآن معنى حسن

21 - 22 الْقَابِض الباسط الْأَدَب فِي هذَيْن الاسمين أَن يذكرَا مَعًا لِأَن تَمام الْقُدْرَة بذكرهما مَعًا أَلا ترى أَنَّك إِذا قلت إِلَى فلَان قبض أَمْرِي وَبسطه دلا بمجموعها أَنَّك تُرِيدُ أَن جَمِيع أَمرك إِلَيْهِ

وَتقول لَيْسَ إِلَيْك من أَمْرِي بسط وَلَا قبض وَلَا حل وَلَا عقد أَرَادَ لَيْسَ إِلَيْك مِنْهُ شَيْء وَقَالَ الشَّاعِر

(مَتى لَا مَتى أدركتم لَا أبالكم … بِأَيْدِيكُمْ اللَّذَّات بسطي أَو قبضي)

23 - الْخَافِض الْخَفْض ضد الِارْتفَاع وَتقول فلَان فِي خفض من الْعَيْش أَي فِي دعة ولين وطمأنينة وَقَالَ أَبُو عَليّ هُوَ ضد قَوْلهم هُوَ فِي عَيْش رتب لِأَن من هُوَ فِي ارْتِفَاع ونشز من الأَرْض لَا يطمئن من هُوَ فِي وهدة ودعة وَهُوَ الله سبحانه وتعالى يخْفض من اسْتحق الْخَفْض من أعدائه وَيرْفَع من اسْتحق الرّفْع من أوليائه وكل ذَلِك حِكْمَة مِنْهُ وصواب
এবং শব্দ দুটির অর্থের ভিন্নতার কারণে এর পুনরাবৃত্তি করা উত্তম হয়েছে; কেননা 'সর্বজ্ঞ' শব্দের মধ্যে এমন এক অতিরিক্ত বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা 'জ্ঞানী' শব্দের মধ্যে নেই।

কুতরুব থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, মহান আল্লাহর নামের ক্ষেত্রে আমাদের 'সর্বজ্ঞ' বলা গায়েবি বিষয়াবলির জ্ঞানের অর্থ প্রকাশ করে। সুতরাং শব্দ দুটির পুনরাবৃত্তির মাঝে এখন একটি সুন্দর অর্থ বিদ্যমান রয়েছে।

২১ - ২২ সংকীর্ণকারী ও প্রশস্তকারী: এই নাম দুটির ক্ষেত্রে শিষ্টাচার হলো এই যে, এদেরকে একত্রে উল্লেখ করা হবে; কারণ এদের একত্রে উল্লেখ করার মাধ্যমেই পূর্ণ ক্ষমতা প্রকাশিত হয়। আপনি কি দেখেন না যে, আপনি যখন বলেন, 'অমুকের নিকট আমার বিষয়ের সংকীর্ণতা ও প্রশস্ততা ন্যস্ত', তখন এই সমষ্টির মাধ্যমে আপনি এটাই বোঝাতে চান যে আপনার যাবতীয় বিষয় তার নিয়ন্ত্রণাধীন?

আপনি আরও বলেন, 'আমার বিষয়ের কোনো প্রশস্ততা, সংকীর্ণতা, সমাধান বা জটিলতা আপনার হাতে নেই'—এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যে এর কোনো কিছুই আপনার কর্তৃত্বে নেই। জনৈক কবি বলেছেন:

(কখন, ওহে কখন তোমরা বুঝতে পারবে—তোমাদের পিতা না থাকুক—যে তোমাদের হাতেই রয়েছে পরম সুখসমূহ, আমার প্রশস্ততা কিংবা আমার সংকীর্ণতা।)

২৩ - অবনমনকারী: 'অবনমন' হলো উচ্চতার বিপরীত। আপনি বলেন, 'অমুক ব্যক্তি জীবনের স্বাচ্ছন্দ্যে আছে', অর্থাৎ সে পরম আরাম, কোমলতা ও স্থিরতায় রয়েছে। আবু আলী বলেন, এটি তাদের উক্তি 'সে বন্ধুর বা অসম জীবনে আছে'-এর বিপরীত; কারণ যে ব্যক্তি ভূমির উঁচু ও বন্ধুর স্থানে থাকে, সে ঐ ব্যক্তির মতো স্থিরতা পায় না যে সমতল ও আরামদায়ক নিচু স্থানে থাকে। আর তিনি হলেন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা, যিনি তাঁর শত্রুদের মধ্যে যারা অবনমিত হওয়ার যোগ্য তাদের অবনমিত করেন এবং তাঁর বন্ধুদের মধ্যে যারা উন্নীত হওয়ার যোগ্য তাদের উন্নীত করেন। আর এর প্রতিটিই তাঁর পক্ষ থেকে প্রজ্ঞা ও সঠিক সিদ্ধান্ত।
(খণ্ড: ১) তাফসীরু আসমাইল্লাহিল হুসনা লিজ-জাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ৪১)
24 - الرافع هُوَ الَّذِي يرفع من اسْتحق الرّفْع من أوليائه يرفع مَنْزِلَتهمْ فِي الدُّنْيَا بإعزاز كلمتهم ويرفعهم فِي الْآخِرَة بارتفاع درجتهم فَلهُ الْحَمد وَالشُّكْر على نعيم الدَّاريْنِ

25 - الْمعز وَهُوَ تَعَالَى يعز من شَاءَ من أوليائه والإعزاز على ضروب إعزاز من جِهَة الحكم وَالْفِعْل وإعزاز من جِهَة الحكم وإعزاز من جِهَة الْفِعْل

فَالْأول هُوَ مَا يَفْعَله الله تَعَالَى بِكَثِير من أوليائه فِي الدُّنْيَا ببسط حَالهم وعلو شَأْنهمْ فَهُوَ إعزاز حكم وَفعل

وَالْوَجْه الثَّانِي مَا يَفْعَله تَعَالَى ذكره بأوليائه من قلَّة الْحَال فِي الدُّنْيَا وَأَنت ترى من لَيْسَ فِي دينه فَوْقه فِي الرُّتْبَة فَذَلِك امتحان من الله تَعَالَى لوَلِيِّه وَهُوَ يثيبه إِن شَاءَ الله على الصَّبْر عَلَيْهِ

وَالْوَجْه الثَّالِث مَا يَفْعَله الله تَعَالَى بِكَثِير من أعدائه من بسط الرزق وعلو الْأَمر وَالنَّهْي وَظُهُور الثروة فِي الْحَال فِي الدُّنْيَا فَذَلِك إعزاز فعل لَا إعزاز حكم وَله فِي الْآخِرَة عِنْد الله الْعقَاب الدَّائِم وَإِنَّمَا ذَلِك إملاء من الله تَعَالَى لَهُ واستدراج

وَقد قَالَ الله تَعَالَى ذكره {إِنَّمَا نملي لَهُم ليزدادوا إِثْمًا وَلَهُم عَذَاب مهين}

26 - المذل الله تَعَالَى يذل طغاة خلقه وعتاتهم حكما وفعلا فَمن كَانَ مِنْهُم فِي ظَاهر أُمُور الدُّنْيَا ذليلا فَهُوَ ذليل حكما وفعلا وَقد أذلّهم أَيْضا بِأَن أمرنَا باستعبادهم
২৪ - আর-রাফি' (উন্নতকারী) হলেন তিনি, যিনি তাঁর বন্ধুদের মধ্য থেকে যারা উন্নীত হওয়ার যোগ্য তাদের উন্নত করেন; তিনি দুনিয়াতে তাঁদের কথার মর্যাদা বৃদ্ধির মাধ্যমে তাঁদের মর্যাদা উন্নত করেন এবং আখিরাতে তাঁদের স্তর বৃদ্ধির মাধ্যমে তাঁদের উন্নত করেন। সুতরাং উভয় জগতের নিআমতের জন্য তাঁরই প্রশংসা ও শুকরিয়া।

২৫ - আল-মুয়িযয (সম্মান দানকারী); আর তিনি মহান তাঁর বন্ধুদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা সম্মানিত করেন। আর সম্মান দান কয়েক প্রকারের হয়: বিধানগত ও কার্যগত দিক থেকে সম্মান দান, কেবল বিধানগত দিক থেকে সম্মান দান এবং কেবল কার্যগত দিক থেকে সম্মান দান।

প্রথম প্রকার হলো তা, যা আল্লাহ তাআলা দুনিয়াতে তাঁর অনেক বন্ধুর ক্ষেত্রে তাঁদের অবস্থার প্রশস্ততা এবং তাঁদের মর্যাদার উচ্চতা প্রদানের মাধ্যমে করে থাকেন; সুতরাং তা হলো বিধানগত ও কার্যগত উভয় দিক থেকেই সম্মান দান।

দ্বিতীয় প্রকার হলো তা, যা আল্লাহ তাআলা তাঁর বন্ধুদের ক্ষেত্রে দুনিয়াতে অবস্থার স্বল্পতার মাধ্যমে করে থাকেন। এমতাবস্থায় আপনি হয়তো এমন কাউকে দেখেন যে দ্বীনের দিক থেকে তাঁর চেয়ে উঁচুতে নয়, অথচ পার্থিব পদমর্যাদায় তাঁর উপরে রয়েছে; তা হলো আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে তাঁর বন্ধুর জন্য এক পরীক্ষা এবং এর ওপর ধৈর্য ধারণ করার কারণে আল্লাহ চাইলে তিনি তাকে পুরস্কৃত করবেন।

তৃতীয় প্রকার হলো তা, যা আল্লাহ তাআলা তাঁর অনেক শত্রুর ক্ষেত্রে দুনিয়াতে রিযিকের প্রশস্ততা, আদেশ-নিষেধের ক্ষমতা এবং তাৎক্ষণিক ধন-সম্পদের প্রাচুর্য প্রকাশের মাধ্যমে করে থাকেন; এটি কেবল কার্যগত সম্মান দান, বিধানগত সম্মান দান নয়। আর আখিরাতে আল্লাহর নিকট তার জন্য রয়েছে স্থায়ী শাস্তি; বস্তুত এটি আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে তাকে দেওয়া অবকাশ ও ক্রমে ক্রমে ধ্বংসের দিকে টেনে নেওয়া (ইস্তিদরাজ)।

আর আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আমি তো তাদেরকে অবকাশ দেই কেবল এজন্য যে, যাতে তারা তাদের পাপ বৃদ্ধি করে, আর তাদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাকর শাস্তি}

২৬ - আল-মুযিল (অপমানকারী); আল্লাহ তাআলা তাঁর সৃষ্টির অবাধ্য ও উদ্ধতদের বিধানগত ও কার্যগতভাবে অপদস্থ করেন। সুতরাং দুনিয়ার বাহ্যিক বিষয়ে তাদের মধ্যে যারা লাঞ্ছিত, তারা বিধানগত ও কার্যগত উভয়ভাবেই লাঞ্ছিত। আর তিনি তাঁদের এভাবেও অপদস্থ করেছেন যে, তিনি আমাদেরকে তাঁদের দাসে পরিণত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) তাফসীরু আসমাইল্লাহিল হুসনা লিজ-জাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ৪২)
وإلزام الصغار عَلَيْهِم وَأخذ الجزى عَنْهُم كَمَا قَالَ تَعَالَى ذكره {حَتَّى يُعْطوا الْجِزْيَة عَن يَد وهم صاغرون}

27 - السَّمِيع هُوَ فعيل فِي معنى فَاعل وَقد تقدم فِي مثله القَوْل وَالله تَعَالَى سامع وَسميع وَيَجِيء على قِيَاس قَول قطرب أَن يَقُول فِي سميع إِنَّه الَّذِي يسمع السِّرّ وسامع فِي كل شَيْء

وَيَجِيء فِي كَلَامهم سمع بِمَعْنى أجَاب من ذَلِك مَا يَقُوله الْمُصَلِّي عِنْد رُجُوعه من الرُّكُوع سمع الله لمن حَمده فسر على أَنه بِمَعْنى اسْتَجَابَ

وَقد أنْشد أَبُو زيد فِي النَّوَادِر

(دَعَوْت الله حَتَّى خفت أَلا … يكون الله يسمع مَا أَقُول)

أَي لَا يُجيب

28 - الْبَصِير هَذَا فعيل فِي معنى مفعل كَمَا جَاءَ أَلِيم فِي معنى مؤلم
এবং তাদের ওপর হীনতা ও লাঞ্ছনা আরোপ করা এবং তাদের নিকট থেকে জিযিয়া গ্রহণ করা, যেমন আল্লাহ তাআলা উল্লেখ করেছেন {যতক্ষণ না তারা বিনীত হয়ে নিজ হাতে জিযিয়া প্রদান করে}

২৭ - আস-সামি' (সর্বশ্রোতা) শব্দটি 'ফাইল' (কর্তা) এর অর্থে 'ফায়ীল' ওজনে এসেছে এবং এ জাতীয় শব্দের আলোচনা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। আল্লাহ তাআলা সামি' (শ্রবণকারী) এবং সামি' (সর্বশ্রোতা)। কুতরুব-এর মতের কিয়াস অনুযায়ী 'সামি' (সর্বশ্রোতা) সম্পর্কে বলা হয় যে, তিনি গোপন বিষয় শ্রবণ করেন এবং 'সামি' (শ্রবণকারী) সকল বিষয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়।

আর তাদের (আরবদের) কথাবার্তায় 'সামি'য়া' (শুনেছেন) শব্দটি 'সাড়া দিয়েছেন' অর্থেও ব্যবহৃত হয়। যেমন মুসল্লি রুকু থেকে ওঠার সময় বলে থাকে: 'আল্লাহ ঐ ব্যক্তির প্রশংসা শুনেছেন (কবুল করেছেন) যে তাঁর প্রশংসা করে', যার ব্যাখ্যা করা হয়েছে যে এটি 'সাড়া দিয়েছেন' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

আবু যায়দ 'আন-নাওয়াদির' গ্রন্থে পাঠ করেছেন:

(আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছি এমনকি আমি ভয় পাচ্ছিলাম যে... আল্লাহ আমি যা বলছি তা শুনবেন না)

অর্থাৎ তিনি সাড়া দেবেন না।

২৮ - আল-বাসীর (সর্বদ্রষ্টা), এটি 'মুফয়িল' এর অর্থে 'ফায়ীল' ওজনে এসেছে, যেমন 'আলিম' শব্দটি 'মু’লিম' (যন্ত্রণাদায়ক) অর্থে এসেছে।
(খণ্ড: ১) তাফসীরু আসমাইল্লাহিল হুসনা লিজ-জাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ৪৩)
وَقَالَ الشَّاعِر

(أَمن رَيْحَانَة الدَّاعِي السَّمِيع … )

وَإِنَّمَا جَاءَ ذَلِك لِأَن مفعلا اسْم الْفَاعِل من أفعل ومطرد فِيهِ اطراد فَاعل فِي فعل

29 - الحكم وَالْحكم وَالْحَاكِم بِمَعْنى وَاحِد وأصل ح ك م فِي الْكَلَام الْمَنْع وَسمي الْحَاكِم حَاكما لِأَنَّهُ يمْنَع الْخَصْمَيْنِ من التظالم وَحِكْمَة الدَّابَّة سميت حِكْمَة لِأَنَّهَا تَمنعهُ من الجماح

وَفِي كتب السلاطين الْقَدِيمَة واحكم فلَانا عَن ذَلِك الْأَمر بِمَعْنى امنعه

قَالَ أَبُو عَليّ وَمثل مَجِيء حَاكم وَحكم بِمَعْنى وَاحِد قَول النَّاس فلَان سَالم وَسلم وهما ذُو السّلم وَهُوَ الصُّلْح

وَقَالَ الشَّاعِر

(أغاضر إِنَّنِي سلم … لأهْلك فاقبلي سلمي)
এবং কবি বলেছেন

(এটি কি আহ্বানকারী ও শ্রবণকারী রায়হানার পক্ষ থেকে … )

আর এটি এ কারণেই এসেছে যে, 'মুফয়িল' হলো 'আফয়ালা' এর কর্তৃবাচক বিশেষ্য এবং এটি তাতে সেভাবেই নিয়মিতভাবে ব্যবহৃত হয় যেভাবে 'ফায়ালা' এর ক্ষেত্রে 'ফায়িল' নিয়মিতভাবে ব্যবহৃত হয়।

২৯ - আল-হাকাম, আল-হাকাম এবং আল-হাকিম একই অর্থবোধক। আর আরবী ভাষায় 'হা-কা-মিম' মূলবর্ণের মূল অর্থ হলো নিবৃত্ত করা বা বাধা প্রদান করা। বিচারককে 'হাকিম' এই জন্য বলা হয় যে, তিনি বিবাদমান দুই পক্ষকে একে অপরের ওপর জুলুম করা থেকে নিবৃত্ত করেন। পশুর লাগামকেও 'হিকমাহ' বলা হয় কারণ তা পশুকে অবাধ্য হওয়া থেকে বিরত রাখে।

এবং প্রাচীন সুলতানদের দাপ্তরিক নথিপত্রে 'অমুককে সেই বিষয় থেকে আহকিম (নিবৃত্ত) করো' কথাটি 'তাকে বাধা প্রদান করো' অর্থে ব্যবহৃত হতো।

আবু আলী বলেন: 'হাকিম' এবং 'হাকাম' শব্দদ্বয় একই অর্থে আসার দৃষ্টান্ত হলো মানুষের এই কথা—'অমুক ব্যক্তি সালিম ও সালাম'। এ দুটি শব্দ দ্বারা সন্ধি ও শান্তির অধিকারী হওয়া বুঝায়।

এবং কবি বলেছেন

(হে গাদির, নিশ্চয়ই আমি তোমার পরিবারের সাথে শান্তিতে রয়েছি … অতএব তুমি আমার শান্তি প্রস্তাব গ্রহণ করো)
(খণ্ড: ১) তাফসীরু আসমাইল্লাহিল হুসনা লিজ-জাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ৪৪)
وَكَذَلِكَ قَوْلهم وَاسِط ووسط وَقَالَ الله عز وجل {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أمة وسطا}

فَالله تَعَالَى هُوَ الْحَاكِم وَهُوَ الحكم بَين الْخلق لِأَنَّهُ الحكم فِي الْآخِرَة وَلَا حكم غَيره

والحكام فِي الدُّنْيَا إِنَّمَا يستفيدون الحكم من قبله تَعَالَى علوا كَبِيرا

30 - الْعدْل أصل هَذِه اللَّفْظَة من قَوْلهم عدلت عَن الطَّرِيق أعدل عَنْهَا عدلا وعدولا وَإِنَّمَا سمي الْعدْل والعادل لِأَنَّهُمَا عدلا عَن الْجور إِلَى الْقَصْد وَالله تَعَالَى عَادل فِي أَحْكَامه وقضاياه عَن الْجور

فأفعاله حَسَنَة وَهُوَ كَمَا قَالَ {وَالله يقْضِي بِالْحَقِّ وَالَّذين يدعونَ من دونه لَا يقضون بِشَيْء}

31 - اللَّطِيف أصل اللطف فِي الْكَلَام خَفَاء المسلك ودقة الْمَذْهَب

واستعماله فِي الْكَلَام على وَجْهَيْن يُقَال فلَان لطيف إِذا وصف بصغر الجرم وَفُلَان لطيف إِذا وصف بِأَنَّهُ محتال متوصل إِلَى أغراضه فِي خَفَاء مَسْلَك وَفُلَان لطيف فِي علمه يُرَاد بِهِ أَنه دَقِيق الفطنة حسن الاستخراج لَهُ

فَهَذَا الَّذِي يسْتَعْمل مِنْهُ وَهُوَ فِي وصف الله يُفِيد أَنه المحسن إِلَى عباده فِي خَفَاء وَستر من حَيْثُ لَا يعلمُونَ
একইভাবে তাদের বক্তব্য 'ওয়াসিত' এবং 'ওয়াসাত'। আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা বলেছেন, {এবং এভাবেই আমি তোমাদেরকে এক মধ্যপন্থী জাতি বানিয়েছি}।

সুতরাং আল্লাহ তাআলাই হলেন বিচারক এবং তিনিই সৃষ্টির মাঝে চূড়ান্ত মীমাংসাকারী। কেননা পরকালেও তিনিই মীমাংসাকারী এবং তিনি ব্যতীত অন্য কোনো বিচারক নেই।

আর দুনিয়ার বিচারকগণ মূলত তাঁর পক্ষ থেকেই বিচারকার্য পরিচালনার ক্ষমতা লাভ করেন; তিনি সুউচ্চ এবং অতি মহান।

৩০ - আল-আদল (ন্যায়পরায়ণ)। এই শব্দটির মূল উৎস হলো তাদের কথা 'আমি পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছি' থেকে। মূলত 'আদল' (ন্যায়বিচার) এবং 'আদিল' (ন্যায়বিচারক)-কে এই নামকরণ করা হয়েছে কারণ তারা জুলুম বা অন্যায় থেকে বিচ্যুত হয়ে ন্যায়ের দিকে ফিরে আসে। আর আল্লাহ তাআলা তাঁর বিধান ও ফয়সালাসমূহে জুলুম থেকে বিমুক্ত ও ন্যায়পরায়ণ।

সুতরাং তাঁর কার্যাবলি উত্তম। তিনি যেমনটি বলেছেন: {এবং আল্লাহ সত্যের সাথে ফয়সালা করেন, আর তারা তাঁর পরিবর্তে যাদেরকে ডাকে তারা কোনো কিছুরই ফয়সালা করতে পারে না}।

৩১ - আল-লাতিফ (সূক্ষ্মদর্শী)। শব্দের ব্যবহারে 'লুতফ'-এর মূল অর্থ হলো কর্মপদ্ধতি গোপন হওয়া এবং পন্থার সূক্ষ্মতা।

কথাবার্তায় এর ব্যবহার দুই ভাবে হয়: বলা হয় অমুক ব্যক্তি 'লাতিফ' যখন তার দেহাবয়ব ক্ষুদ্র হয়। আবার অমুক ব্যক্তি 'লাতিফ' বলা হয় যখন তাকে এমন বিচক্ষণ হিসেবে বর্ণনা করা হয় যে অত্যন্ত গোপনীয় পন্থায় তার উদ্দেশ্য হাসিল করে। আবার বলা হয় অমুক ব্যক্তি তার জ্ঞানে 'লাতিফ', এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তিনি অত্যন্ত সূক্ষ্ম মেধার অধিকারী এবং কোনো বিষয় উদ্ঘাটনে অত্যন্ত দক্ষ।

সুতরাং এটিই এর ব্যবহারের ক্ষেত্র। আর আল্লাহর গুণের ক্ষেত্রে এটি বুঝায় যে, তিনি তাঁর বান্দাদের প্রতি এমনভাবে গোপনে ও অলক্ষ্যে অনুগ্রহকারী যা তারা উপলব্ধিও করতে পারে না।
(খণ্ড: ১) তাফসীরু আসমাইল্লাহিল হুসনা লিজ-জাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ৪৫)
ويسبب لَهُم أَسبَاب معيشتهم من حَيْثُ لَا يحتسبون وَهَذَا مثل قَول الله تَعَالَى {وَيَرْزقهُ من حَيْثُ لَا يحْتَسب}

فَأَما اللطف الَّذِي هُوَ قلَّة الْأَجْزَاء فَهُوَ مِمَّا لَا يجوز عَلَيْهِ سُبْحَانَهُ

32 - الْخَبِير قَالَ أَبُو عَليّ أَخذ هَذِه الْكَلِمَة أَبُو إِسْحَاق من قَوْلهم خبرت الأَرْض إِذا شققتها وَفُلَان خَبِير بالشَّيْء إِذا كَانَ عَالما بِهِ

وَكَأَنَّهُ هُوَ الَّذِي بحث عَن ذَلِك الشَّيْء حَتَّى شقّ عَنهُ الأَرْض قَالَ أَبُو عَليّ وَهُوَ عندنَا من الْخَبَر الَّذِي يسمع لِأَن معنى الْخَبِير الْعَالم وَقَالَ

(إِذا لاقيت قومِي فأسأليهم … كفى قوما بِصَاحِبِهِمْ خَبِيرا) فالعلم أبدا مَعَ الْخَبَر فَمَا حَاجَة أبي إِسْحَاق إِلَى أَن يَأْخُذهُ من الْخَبَر والشق

33 - الْحَلِيم هُوَ الَّذِي لَا يعاجل بالعقوبة فَكل من لَا يعاجل بالعقوبة سمي فِيمَا بَيْننَا حَلِيمًا وَلَيْسَ قَول من قَالَ إِن الْحَلِيم هُوَ من لَا يُعَاقب بصواب أما سمع قَول الشَّاعِر الفصيح وَأَظنهُ كثيرا
তিনি তাদের জন্য তাদের জীবনোপকরণের উপায়সমূহ এমনভাবে তৈরি করেন যা তারা কল্পনাও করতে পারে না। আর এটি আল্লাহ তাআলার এই বাণীর মতো: {এবং তিনি তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দান করেন যা সে কল্পনাও করতে পারে না}।

পক্ষান্তরে সূক্ষ্মতা (লুতফ) যা উপাদানের স্বল্পতা অর্থে ব্যবহৃত হয়, তা মহান আল্লাহর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হওয়া জায়েজ নয়।

৩২ - আল-খাবির (পরিণাম পরিজ্ঞাত)। আবু আলী বলেন, আবু ইসহাক এই শব্দটি তাদের কথা ‘আমি জমি চাষ (খাবারতু) করেছি’ থেকে গ্রহণ করেছেন—যখন আমি তা বিদীর্ণ করেছি; আর অমুক ব্যক্তি কোনো বিষয়ে ‘খাবির’ বা অভিজ্ঞ, যখন সে সে বিষয়ে জ্ঞানী হয়।

আর মনে হয় যেন সে-ই সেই বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান করেছে এমনকি সেটির জন্য মাটি বিদীর্ণ করেছে। আবু আলী বলেন, আমাদের নিকট এটি ‘খবর’ (সংবাদ) থেকে এসেছে যা শোনা হয়, কারণ ‘খাবির’ এর অর্থ হলো ‘আলিম’ (জ্ঞানী)। আর কবি বলেছেন:

(তুমি যখন আমার কওমের সাথে সাক্ষাৎ করবে তখন তাদের জিজ্ঞাসা করো... কোনো জাতির জন্য তাদের সঙ্গীর অভিজ্ঞতা সম্পন্ন হওয়াই যথেষ্ট)। সুতরাং জ্ঞান সর্বদা খবরের সাথেই থাকে, এমতাবস্থায় সংবাদ এবং বিদীর্ণ করার অর্থ থেকে এটি গ্রহণ করার জন্য আবু ইসহাকের কী প্রয়োজন ছিল?

৩৩ - আল-হালিম (পরম সহিষ্ণু)। তিনি হলেন সেই সত্তা যিনি শাস্তি প্রদানে তাড়াহুড়ো করেন না। সুতরাং আমাদের মাঝে যে ব্যক্তি শাস্তি প্রদানে ত্বরান্বিত করে না তাকেই ‘হালিম’ বলা হয়। আর যে ব্যক্তি বলে যে ‘হালিম’ হলো সে যে আদৌ শাস্তি দেয় না—তার কথা সঠিক নয়। সে কি প্রাঞ্জল কবির কথা শোনেনি? আর আমি মনে করি তিনি হলেন কুসাইয়ির:
(খণ্ড: ১) তাফসীরু আসমাইল্লাহিল হুসনা লিজ-জাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ৪৬)
(حَلِيمًا إِذا مَا نَالَ عاقب مُجملا … أَشد الْعقَاب أَو عفالم يثرب)

وَوصف الله تَعَالَى بالحلم المخلوقين فَقَالَ تَعَالَى {فبشرناه بِغُلَام حَلِيم}

34 - الْعَظِيم الْمُعظم فِي صفة الله تَعَالَى يُفِيد عظم الشَّأْن وَالسُّلْطَان وَلَيْسَ المُرَاد بِهِ وَصفه بِعظم الْأَجْزَاء لِأَن ذَلِك من صِفَات المخلوقين تَعَالَى الله عَن ذَلِك علوا

35 - الغفور هُوَ فعول من قَوْلهم غفرت الشَّيْء إِذا سترته وَقد مر ذكره قبل

وفعول مَوْضُوع للْمُبَالَغَة وَكَذَلِكَ فعال وَإِنَّمَا جَازَ تكرارهما وَإِن كَانَا بِمَعْنى وَاحِد وَأَنت لَا تكَاد تَقول فِي الْكَلَام فلَان تروك للفواحش تراك لَهَا وصدوف عَن القبائح صداف عَنْهَا لمعنيين

أَحدهمَا أَن اخْتِلَاف الْمَوْضِعَيْنِ يحسن من ذَاك مَالا يحسن مَعَ الْمُجَاورَة أَلا تراهم أَجمعُوا على أَن الإيطاء مَعَ بعد الْموضع لَيْسَ هُوَ مثله مَعَ قرب الْموضع

وَالْوَجْه الآخر أَن هَذَا يحسن فِي صِفَات الله تَعَالَى ذكره وَإِن كَانَ لَا يحسن فِي أسامي المخلوقين وصفاتهم لأَنهم لم يبلغُوا قطّ فِي صفة من الصِّفَات وَالله تَعَالَى المتناهي فِي هَذِه الصِّفَات الَّتِي تمدح بهَا فَيحسن فِيهِ سُبْحَانَهُ من ذَلِك مَا لَا يحسن فِي غَيره
(সহনশীল, যখন তিনি ক্ষমতা লাভ করেন তখন সুন্দরভাবে শাস্তি দেন … কঠোরতম শাস্তি, অথবা তিনি তিরস্কার ছাড়াই ক্ষমা করেন)

মহান আল্লাহ সৃষ্টির গুণ বর্ণনা করতে গিয়ে সহনশীলতা (হিলম) শব্দ ব্যবহার করেছেন। মহান আল্লাহ বলেছেন: {অতএব আমি তাকে এক সহনশীল পুত্রের সুসংবাদ দিলাম}

৩৪ - আল-আজিম (মহান): মহান আল্লাহর গুণ হিসেবে এটি তাঁর শান ও ক্ষমতার মহত্ব প্রকাশ করে। এর মাধ্যমে তাঁর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের বিশালতা বোঝানো উদ্দেশ্য নয়, কারণ সেটি সৃষ্টির বৈশিষ্ট্য; আল্লাহ তাআলা এসব থেকে বহু ঊর্ধ্বে।

৩৫ - আল-গফুর (পরম ক্ষমাশীল): এটি 'ফাউল' ছাঁচে গঠিত, যা আরবদের বক্তব্য 'আমি বস্তুটি আবৃত করেছি' থেকে এসেছে যখন আমি তা গোপন করি। ইতিপূর্বে এর উল্লেখ হয়েছে।

'ফাউল' শব্দটি আধিক্য (মুবালাগা) বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, একইভাবে 'ফাউআল' শব্দটিও। যদিও উভয় শব্দের অর্থ একই, তবুও তাদের পুনরাবৃত্তি করা জায়েজ। অথচ সাধারণ কথায় আপনি সচরাচর এমনটি বলেন না যে, অমুক ব্যক্তি অশ্লীলতা বর্জনকারী (তারুক), এটি বর্জনকারী (তাররাক); কিংবা মন্দ কাজ থেকে বিমুখ (সাদুফ), তা থেকে বিমুখ (সাদ্দাফ)। এর দুটি কারণ রয়েছে:

প্রথমটি হলো, দুটি ভিন্ন স্থানে ব্যবহারের সৌন্দর্য পাশাপাশি ব্যবহারের মতো নয়। আপনি কি দেখেন না যে, ভাষাবিদগণ এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, দূরবর্তী স্থানে একই অন্ত্যমিলের পুনরাবৃত্তি (আইতা) নিকটবর্তী স্থানে পুনরাবৃত্তির মতো (ত্রুটিপূর্ণ) নয়।

দ্বিতীয় দিকটি হলো, মহান আল্লাহর গুণাবলির ক্ষেত্রে এটি শোভনীয়, যদিও সৃষ্টিজীবের নাম ও গুণের ক্ষেত্রে তা শোভনীয় নয়। কারণ তারা কোনো গুণেই কখনো পূর্ণতায় পৌঁছাতে পারেনি, অথচ মহান আল্লাহ ঐ সকল প্রশংসনীয় গুণাবলির চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছেন। তাই তাঁর পবিত্র সত্তার ক্ষেত্রে যা শোভনীয়, অন্য কারো ক্ষেত্রে তা নয়।
(খণ্ড: ১) তাফসীরু আসমাইল্লাহিল হুসনা লিজ-জাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ৪৭)
وَيَجِيء على قِيَاس قَول أبي عَليّ قطرب أَن يكون الغفور فِي ذنُوب الْآخِرَة والغفار الَّذِي يسترهم فِي الدُّنْيَا وَلَا يفضحهم وَالْوَجْه هُوَ الَّذِي ذكره أَبُو إِسْحَاق

36 - الشكُور هُوَ فعول من الشُّكْر وأصل الشُّكْر فِي الْكَلَام الظُّهُور وَمِنْه يُقَال شكير النبت وشكر الضَّرع إِذا امْتَلَأَ وامتلاؤه ظُهُوره

وَيُقَال دَابَّة شكور وَهُوَ السَّرِيع السّمن فسرعة سمنه ظُهُور أثر صَاحبه عَلَيْهِ

وَقَالَ الشَّاعِر

(وَلَا بُد من غَزْوَة فِي الرّبيع … حجون تكل الوقاح الشكورا)

فَكَأَن الشُّكْر من الله تَعَالَى هُوَ إثابته الشاكر على شكره فَجعل ثَوَابه للشكر وقبوله للطاعة شكرا على طَريقَة
আবু আলি কুতরুবের বক্তব্যের সাদৃশ্য অনুযায়ী বলা যায় যে, ‘আল-গফুর’ হলো আখিরাতের গুনাহসমূহের ক্ষেত্রে এবং ‘আল-গফফার’ হলেন তিনি, যিনি দুনিয়াতে তাদের দোষ গোপন রাখেন এবং তাদের লাঞ্ছিত করেন না। তবে সঠিক মতটি হলো যা আবু ইসহাক উল্লেখ করেছেন।

৩৬ - ‘আশ-শাকুর’ শব্দটি ‘শুক্র’ থেকে ‘ফাউল’ ওজনে এসেছে। শাব্দিকভাবে ‘শুক্র’ শব্দের মূল অর্থ হলো প্রকাশ পাওয়া। এ থেকে বলা হয় উদ্ভিদের অঙ্কুরোদগম হওয়া এবং পশুর ওলান দুধে ভরে যাওয়া, যখন তা পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে; আর তার এই পরিপূর্ণতাই হলো তার প্রকাশ পাওয়া।

আরও বলা হয় ‘শাকুর’ চতুষ্পদ জন্তু, যা অত্যন্ত দ্রুত হৃষ্টপুষ্ট হয়ে ওঠে; তার এই দ্রুত হৃষ্টপুষ্ট হওয়া হলো তার ওপর তার মালিকের অনুগ্রহের প্রভাবের বহিঃপ্রকাশ।

কবি বলেছেন:

(বসন্তকালে একটি যুদ্ধ অনিবার্য... এমন এক শক্তিশালী উট যা শক্ত খুরবিশিষ্ট হৃষ্টপুষ্ট পশুকেও ক্লান্ত করে দেয়)

অতএব, মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে ‘শুক্র’ বা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার অর্থ হলো কৃতজ্ঞতাকারীকে তার কৃতজ্ঞতার জন্য প্রতিদান প্রদান করা। ফলে তাঁর পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতার সওয়াব দান করা এবং আনুগত্য কবুল করাকেই রূপকভাবে ‘শুক্র’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) তাফসীরু আসমাইল্লাহিল হুসনা লিজ-জাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ৪৮)
الْمُقَابلَة كَمَا قَالَ عز اسْمه {فَمن اعْتدى عَلَيْكُم فاعتدوا عَلَيْهِ بِمثل مَا اعْتدى عَلَيْكُم}

37 - الْعلي هُوَ فعيل فِي معنى فَاعل فَالله تَعَالَى عَال على خلقه وَهُوَ عَليّ عَلَيْهِم بقدرته وَلَا يجب أَن يذهب بالعلو ارْتِفَاع مَكَان إِذْ قد بَينا أَن ذَلِك لَا يجوز فِي صِفَاته تقدست وَلَا يجوز أَن يكون على أَن يتَصَوَّر بذهن أَو يتجلى لطرف تَعَالَى عَن ذَلِك علوا كَبِيرا

38 - الْكَبِير وَالْكبر هَا هُنَا أَيْضا يُرَاد بِهِ كبر الْقُدْرَة وَلَا يجوز أَن يذهب بِهِ مَذْهَب زِيَادَة الْأَجْزَاء على مَا بَينا أَنه لَا يجوز فِي هَذِه الْأَسْمَاء

39 - الحفيظ هُوَ فعيل فِي معنى فَاعل وَالله حَافظ وحفيظ كَمَا قَالَ الله تَعَالَى {فَالله خير حَافِظًا وَهُوَ أرْحم الرَّاحِمِينَ}

40 - المقيت قَالَ أهل اللُّغَة إِن المقيت المقتدر على الشَّيْء وَقَالَ الله عز ذكره {وَكَانَ الله على كل شَيْء مقيتا} يُرِيد وَالله أعلم مقتدرا
প্রতিদান হিসেবে, যেমন তিনি যাঁর নাম মহিমান্বিত বলেছেন: {অতঃপর যে তোমাদের ওপর সীমালঙ্ঘন করেছে, তোমরাও তার ওপর অনুরূপ সীমালঙ্ঘন করো যেরূপ সে তোমাদের ওপর করেছে}।

৩৭ - আল-আলী (মহাসমুন্নত) শব্দটি 'ফায়ীল' ওজনে 'ফায়েল' (কর্তা) এর অর্থে ব্যবহৃত। সুতরাং আল্লাহ তাআলা তাঁর সৃষ্টির ওপরে উচ্চ এবং তিনি তাঁর কুদরত বা ক্ষমতার মাধ্যমে তাদের ওপর সমুন্নত। 'উচ্চতা' দ্বারা স্থানিক উচ্চতা বা উঁচুতে অবস্থান উদ্দেশ্য গ্রহণ করা আবশ্যক নয়, কারণ আমরা ইতিপূর্বেই বর্ণনা করেছি যে তাঁর পবিত্র গুণাবলীর ক্ষেত্রে তা বৈধ নয়। আর এমনটিও জায়েজ নয় যে তাঁকে মনের কল্পনা দ্বারা ধারণা করা হবে কিংবা চর্মচক্ষুর সামনে (সীমাবদ্ধভাবে) প্রকাশিত হবে; তিনি তা থেকে অনেক অনেক ঊর্ধ্বে।

৩৮ - আল-কাবীর (মহা মহান); এখানে মহত্ত্ব বলতে ক্ষমতার মহত্ত্ব বা কুদরতের বিশালতা উদ্দেশ্য। একে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আধিক্য বা অবয়বের বিশালতা অর্থে গ্রহণ করা জায়েজ নয়, যেমনটি আমরা বর্ণনা করেছি যে আল্লাহর এসব নামের ক্ষেত্রে তা বৈধ নয়।

৩৯ - আল-হাফীজ (মহা রক্ষক) শব্দটি 'ফায়ীল' ওজনে 'ফায়েল'-এর অর্থে ব্যবহৃত। আল্লাহ হলেন হেফাজতকারী ও মহা রক্ষক, যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {অতঃপর আল্লাহই শ্রেষ্ঠ রক্ষক এবং তিনিই শ্রেষ্ঠ দয়ালু}।

৪০ - আল-মুকীত। ভাষাবিদগণ বলেছেন যে, আল-মুকীত অর্থ কোনো বিষয়ের ওপর ক্ষমতাবান। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর আল্লাহ সর্ববিষয়ের ওপর মুকীত (ক্ষমতাবান/সংরক্ষণকারী)}। এর দ্বারা—আল্লাহই ভালো জানেন—ক্ষমতাবান উদ্দেশ্য করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) তাফসীরু আসমাইল্লাহিল হুসনা লিজ-জাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ৪৯)
وَقَالَ الشَّاعِر

(أَلِي الْفضل أم عَليّ إِذا حوسبت … إِنِّي على الْحساب مقيت)

41 - الحسيب يجوز أَن يكون من حسبت الْحساب وَيجوز أَن يكون أحسبني الشَّيْء إِذا كفاني وَقَالَ الشَّاعِر

(ونحسبه إِن كَانَ لَيْسَ بجائع … )

فَالله تَعَالَى محسب أَي كَاف فَيكون فعيلا فِي معنى مفعل كأليم وَنَحْوه وَيجوز أَن يكون من حسبت الْحساب فَالله تَعَالَى مَحْسُوب عطاياه وفواضله

وَقَالَ الشَّاعِر

(إِن يدع زيد بني ذهل لمغضبة … نغضب لزرعة إِن الْفضل مَحْسُوب)
এবং কবি বলেছেন

(আমার কি শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে নাকি আমার ওপর দায় বর্তাবে যখন আমার হিসাব নেওয়া হবে... নিশ্চয়ই আমি হিসাবের ওপর সক্ষম/সাক্ষী)

৪১ - আল-হাসিব (হিসাব গ্রহণকারী/পর্যাপ্ততা দানকারী) শব্দটি ‘হাসাবতুল হিসাব’ (আমি হিসাব গণনা করেছি) থেকে হওয়া সম্ভব, আবার ‘আহসাবানিশ শাই’ থেকেও হওয়া সম্ভব যার অর্থ যখন কোনো কিছু আমার জন্য যথেষ্ট হয়। এবং কবি বলেছেন

(এবং আমরা তাকে যথেষ্ট পরিমাণে প্রদান করি যদি সে ক্ষুধার্ত না থাকে... )

সুতরাং আল্লাহ তাআলা হলেন মুহসিব অর্থাৎ পর্যাপ্ততা দানকারী। ফলে ‘ফাইল’ (হাসিব) শব্দটি ‘মুফইল’ (মুহসিব) এর অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যেমন ‘আলিম’ এবং এই জাতীয় শব্দসমূহ। আর এটি ‘হাসাবতুল হিসাব’ (হিসাব গণনা করা) থেকেও হওয়া সম্ভব, সেক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলার দান ও অনুগ্রহসমূহ সুপরিগণিত।

এবং কবি বলেছেন

(যদি যায়িদ বনু যুহলকে কোনো ক্রোধের কারণে আহ্বান করে... তবে আমরা যুরআর জন্য ক্রোধান্বিত হই, নিশ্চয়ই অনুগ্রহ সুপরিগণিত)