(খণ্ড: ১) তাহরীমুন নাজার ফী কুতুবিল কালাম (পৃষ্ঠা: -)
تحريم النظر في كتب الكلام   (ابن قدامة)

القسم: العقيدة


الكتاب: تحريم النظر في كتب الكلام

المؤلف: أبو محمد موفق الدين عبد الله بن أحمد بن محمد بن قدامة الجماعيلي المقدسي ثم الدمشقي الحنبلي، الشهير بابن قدامة المقدسي (ت 620هـ)

المحقق: عبد الرحمن بن محمد سعيد دمشقية

الناشر: عالم الكتب - السعودية - الرياض

الطبعة: الأولى، 1410هـ - 1990م

عدد الصفحات: 72

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইলমুল কালামের কিতাবসমূহ পাঠ করার ওপর নিষেধাজ্ঞা   (ইবনে কুদামা)

বিভাগ: আকীদা


গ্রন্থ: ইলমুল কালামের কিতাবসমূহ পাঠ করার ওপর নিষেধাজ্ঞা

লেখক: আবু মুহাম্মদ মুওয়াফফাকুদ্দীন আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন কুদামা আল-জাম্মায়িলী আল-মাকদিসী অতঃপর আদ-দিমাশকী আল-হাম্বলী, যিনি ইবনে কুদামা আল-মাকদিসী নামে পরিচিত (মৃত্যু ৬২০ হিজরী)

গবেষক: আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ সাঈদ দিমাসকিয়া

প্রকাশক: আলামুল কুতুব - সৌদি আরব - রিয়াদ

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১০ হিজরী - ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭২

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) তাহরীমুন নাজার ফী কুতুবিল কালাম (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم

 

الْحَمد لله حمدا موافيا لنعمه مكافئا لمزيده وَأشْهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله وَحده لَا شريك لَهُ شَهَادَة مخلص فِي توحيده وَأشْهد أَن مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم عَبده وَرَسُوله خَاتم أنبيائه وَخير عباده صلى الله عليه وسلم وعَلى آله وصحابته وَسَائِر المتمسكين بسنته المحتذين لطريقه

أما بعد فإنني وقفت على فضيحة ابْن عقيل الَّتِي سَمَّاهَا نصيحة
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এমন প্রশংসা যা তাঁর নেয়ামতসমূহের অনুকূল এবং তাঁর উত্তরোত্তর অনুগ্রহের সমতুল্য। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই—এমন ব্যক্তির সাক্ষ্য যে তাঁর একত্ববাদে একনিষ্ঠ। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসূল, তাঁর নবীদের সিলমোহর এবং তাঁর বান্দাদের মধ্যে সর্বোত্তম। আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং যারা তাঁর সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে ও তাঁর পথ অনুসরণ করে তাদের সবার ওপর।

অতঃপর, আমি ইবনে আকীলের সেই কেলেঙ্কারি সম্পর্কে অবগত হয়েছি যেটিকে সে ‘নসিহত’ (উপদেশ) নামে অভিহিত করেছে।
(খণ্ড: ১) তাহরীমুন নাজার ফী কুতুবিল কালাম (পৃষ্ঠা: ৩১)
وتأملت مَا اشْتَمَلت عَلَيْهِ من الْبدع القبيحة والشناعة على سالكي الطَّرِيق الْوَاضِحَة الصَّحِيحَة فَوَجَدتهَا فضيحة لقائلها قد هتك الله تَعَالَى بهَا ستره وَأبْدى بهَا عَوْرَته وَلَوْلَا أَنه قد تَابَ إِلَى الله عز وجل مِنْهَا وتنصل وَرجع عَنْهَا واستغفر الله تَعَالَى من جَمِيع مَا تكلم بِهِ من الْبدع أَو كتبه بِخَطِّهِ أَو صنفه أَو نسب إِلَيْهِ لعددناه فِي جملَة الزَّنَادِقَة وألحقناه بالمبتدعة المارقة

وَلكنه لما تَابَ وأناب وَجب أَن تحمل مِنْهُ هَذِه الْبِدْعَة والضلالة على أَنَّهَا
আর আমি তাতে নিহিত কদর্য বিদআতসমূহ এবং সুস্পষ্ট ও সঠিক পথের পথিকদের প্রতি যে জঘন্য অপবাদ রয়েছে তা নিয়ে গভীর চিন্তা করলাম। অতঃপর আমি একে এর প্রবক্তার জন্য একটি কলঙ্ক হিসেবে পেলাম, যার মাধ্যমে মহান আল্লাহ তার গোপনীয়তা উন্মোচিত করে দিয়েছেন এবং তার দোষসমূহ প্রকাশ করে দিয়েছেন। আর যদি এমন না হতো যে তিনি এর জন্য মহান ও প্রতাপশালী আল্লাহর নিকট তওবা করেছেন, তা থেকে দায়মুক্ত হয়েছেন, তা থেকে ফিরে এসেছেন এবং যে সকল বিদআত তিনি উচ্চারণ করেছেন, নিজ হাতে লিখেছেন, সংকলন করেছেন অথবা যা তার দিকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে সে সবকিছুর জন্য মহান আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন, তবে অবশ্যই আমরা তাকে জিন্দিকদের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করতাম এবং পথভ্রষ্ট বিদআতীদের সাথে তাকে শামিল করতাম।

কিন্তু যেহেতু তিনি তওবা করেছেন এবং আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করেছেন, তাই তার থেকে প্রকাশ পাওয়া এই বিদআত ও ভ্রষ্টতাকে এমনভাবে গ্রহণ করা আবশ্যক যে...
(খণ্ড: ১) তাহরীমুন নাজার ফী কুতুবিল কালাম (পৃষ্ঠা: ৩২)
كَانَت قبل تَوْبَته فِي حَال بدعته وزندقته

ثمَّ قد عَاد بعد تَوْبَته إِلَى نَص السّنة وَالرَّدّ على من قَالَ بمقالته الأولى بِأَحْسَن كَلَام وأبلغ نظام وَأجَاب على الشّبَه الَّتِي ذكرت بِأَحْسَن جَوَاب وَكَلَامه فِي ذَلِك كثير فِي كتب كبار وصغار وأجزاء مُفْردَة وَعِنْدنَا من ذَلِك كثير

فَلَعَلَّ إحسانه يمحو إساءته وتوبته تمحو بدعته فَإِن الله تَعَالَى يقبل التَّوْبَة عَن عبَادَة وَيَعْفُو عَن السَّيِّئَات

وَلَقَد كنت أعجب من الْأَئِمَّة من أَصْحَابنَا الَّذين كفروه وأهدروا دَمه وأفتوا بِإِبَاحَة قَتله وحكموا بزندقته قبل تَوْبَته وَلم أدر أَي شَيْء أوجب هَذَا فِي حَقه وَمَا الَّذِي اقْتضى أَن يبالغوا فِيهِ هَذِه الْمُبَالغَة حَتَّى وقفت على هَذِه الفضيحة

فَعلمت أَن بهَا وبأمثالها استباحوا دَمه

وَقد عثرت لَهُ على زلات قبيحة وَلَكِن لم أجد عَنهُ مثل هَذِه الَّتِي بَالغ فِيهَا فِي تهجين السّنة مُبَالغَة لم يبالغها معتزلي وَلَا غَيره

وَكَانَ أَصْحَابنَا يُعَيِّرُونَهُ بالزندقة

فَقَالَ الشَّيْخ أَبُو الْخطاب مَحْفُوظ بن أَحْمد الكلواذاني رَحمَه الله تَعَالَى فِي قصيدته يَقُول فِيهَا

(ومذ كنت من أَصْحَاب أَحْمد لم أزل … أُنَاضِل عَن أعراضهم وأحامي)

(وَمَا صدني عَن نصْرَة الْحق مطمع … وَلَا كنت زنديقا حَلِيف خصام)

يعرض بِابْن عقيل حَيْثُ نسب إِلَى ذَلِك
এগুলো ছিল তাঁর তাওবার পূর্বে তাঁর বিদআত ও যিন্দিকীর (ধর্মদ্রোহিতা) অবস্থায়।

অতঃপর তিনি তাওবার পর সুন্নাহর সুস্পষ্ট ভাষ্যের দিকে ফিরে আসেন এবং তাঁর পূর্বের মতামতের প্রবক্তাদের খণ্ডন করেন সর্বোত্তম কথা ও অত্যন্ত অলঙ্কৃত ভাষায়। তিনি উত্থাপিত সংশয়গুলোর চমৎকার উত্তর প্রদান করেছেন এবং বড় ও ছোট কিতাবসমূহ ও স্বতন্ত্র পুস্তিকাসমূহে এ বিষয়ে তাঁর অনেক বক্তব্য রয়েছে, যা আমাদের কাছে প্রচুর পরিমাণে বিদ্যমান।

সম্ভবত তাঁর এই সদাচরণ তাঁর মন্দ কাজকে এবং তাঁর তাওবা তাঁর বিদআতকে মিটিয়ে দেবে। কেননা আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের তাওবা কবুল করেন এবং পাপসমূহ ক্ষমা করেন।

আমি আমাদের মাযহাবের সেই ইমামদের ব্যাপারে বিস্মিত হতাম যারা তাঁকে কাফির বলেছিলেন, তাঁর রক্ত বৈধ ঘোষণা করেছিলেন, তাঁকে হত্যা করার বৈধতার ফতোয়া দিয়েছিলেন এবং তাওবার পূর্বে তাঁর ওপর যিন্দিকীর হুকুম দিয়েছিলেন। আমি জানতাম না যে, তাঁর ক্ষেত্রে কোন বিষয়টি এমনটি অবধারিত করেছিল এবং কী কারণে তাঁরা এ ব্যাপারে এতোটা কঠোরতা অবলম্বন করেছিলেন, যতক্ষণ না আমি এই ন্যাক্কারজনক বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হলাম।

তখন আমি বুঝতে পারলাম যে, এর কারণে এবং এর অনুরূপ বিষয়গুলোর মাধ্যমেই তাঁরা তাঁর রক্তকে বৈধ সাব্যস্ত করেছিলেন।

আমি তাঁর আরও কিছু কুৎসিত পদস্খলন খুঁজে পেয়েছি, তবে সুন্নাহকে কলঙ্কিত করার ক্ষেত্রে তাঁর এই পর্যায়ের বাড়াবাড়ি আমি আর দেখিনি, যেমনটি কোনো মুতাজিলা বা অন্য কেউ করেনি।

আর আমাদের সঙ্গীরা তাঁকে যিন্দিকী হওয়ার দায়ে অভিযুক্ত করতেন।

শাইখ আবুল খাত্তাব মাহফুজ বিন আহমদ আল-কালওয়াযানী (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর কাসিদার মধ্যে বলেছেন:

(আমি যখন থেকে আহমদের অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়েছি, তখন থেকেই আমি নিরন্তর … তাঁদের মান-সম্মান রক্ষার্থে লড়াই করে যাচ্ছি এবং তাঁদের সুরক্ষা দিচ্ছি)

(কোনো লোভ আমাকে সত্যের সাহায্য করা থেকে বিরত রাখতে পারেনি … আর না আমি বিবাদে লিপ্ত কোনো যিন্দিক ছিলাম)

তিনি এখানে ইবনে আকীলের প্রতি ইঙ্গিত করছিলেন, যেহেতু তাঁর প্রতিই এমন অপবাদ আরোপ করা হয়েছিল।
(খণ্ড: ১) তাহরীমুন নাজার ফী কুতুবিল কালাম (পৃষ্ঠা: ৩৩)
وَبَلغنِي أَن سَبَب تَوْبَته أَنه لما ظَهرت مِنْهُ هَذِه الفضيحة أهْدر الشريف أَبُو جَعْفَر رَحمَه الله تَعَالَى دَمه وَأفْتى هُوَ وَأَصْحَابه بِإِبَاحَة قَتله

وَكَانَ ابْن عقيل يخفى مَخَافَة الْقَتْل فَبَيْنَمَا هُوَ يَوْمًا رَاكب فِي سفينة فَإِذا فِي السَّفِينَة شَاب يَقُول تمنيت لَو لقِيت هَذَا الزنديق ابْن عقيل حَتَّى أَتَقَرَّب إِلَى الله تَعَالَى بقتْله وإراقة دَمه

فَفَزعَ وَخرج من السَّفِينَة وَجَاء إِلَى الشريف أبي جَعْفَر فَتَابَ واستغفر

وَهَا أَنا أذكر تَوْبَته وصفتها بِالْإِسْنَادِ ليعلم أَن مَا وجد من تصانيفه مُخَالفا للسّنة فَهُوَ مِمَّا تَابَ مِنْهُ فَلَا يغتر بِهِ مغتر وَلَا يَأْخُذ بِهِ أحد فيضل وَيكون الْآخِذ بِهِ كحاله قبل تَوْبَته فِي زندقته وَحل دَمه

أخبرنَا الشَّيْخ الإِمَام الثِّقَة الْمسند أَبُو حَفْص عمر بن مُحَمَّد بن طبرزد الْبَغْدَادِيّ بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ فِي ذِي الْقعدَة سنة ثَلَاث وسِتمِائَة بمسجدنا المحروس بِظَاهِر دمشق حرسها الله تَعَالَى قلت لَهُ أخْبركُم القَاضِي الْأَجَل الْعَالم أَبُو بكر مُحَمَّد بن عبد الْبَاقِي بن مُحَمَّد الْبَزَّار إجَازَة إِن لم يكن سَمَاعا قَالَ حضرت يَوْم الِاثْنَيْنِ الثَّامِن من الْمحرم سنة خمس وَسِتِّينَ وَأَرْبَعمِائَة تَوْبَة الشَّيْخ الإِمَام أبي الْوَفَاء بن عقيل فِي مَسْجِد الشريف أبي جَعْفَر رَحمَه الله تَعَالَى فِي نهر مُعلى وَحضر فِي ذَلِك الْيَوْم خلق كثير

قَالَ

يَقُول عَليّ بن عقيل إِنَّنِي أَبْرَأ إِلَى الله تَعَالَى من مَذَاهِب المبتدعة الاعتزال وَغَيره وَمن صُحْبَة أربابه وتعظيم أَصْحَابه والترحم على أسلافهم والتكثر بأخلاقهم وَمَا كنت علقته وَوجد بخطي من مذاهبهم وضلالاتهم فَأَنا تائب إِلَى الله سُبْحَانَهُ تَعَالَى من كِتَابَته وقراءته وَإنَّهُ لَا يحل لي كِتَابَته وَلَا قِرَاءَته وَلَا اعْتِقَاده

وَذكر شَيْئا آخر ثمَّ قَالَ فَإِنِّي أسْتَغْفر الله وَأَتُوب إِلَيْهِ من مُخَالطَة المبتدعة الْمُعْتَزلَة وَغَيرهم ومكاثرتهم والترحم عَلَيْهِم والتعظيم لَهُم فَإِن
আমি জানতে পেরেছি যে, তাঁর তওবার কারণ ছিল যখন তাঁর পক্ষ থেকে এই কেলেঙ্কারি প্রকাশ পেল, তখন শরীফ আবু জাফর (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) তাঁর রক্তকে বৈধ ঘোষণা করেন এবং তিনি ও তাঁর সাথীরা তাঁকে হত্যার ফতোয়া প্রদান করেন।

ইবন আকীল হত্যার ভয়ে আত্মগোপন করে থাকতেন। একদা তিনি একটি নৌকায় আরোহী ছিলেন, এমতাবস্থায় নৌকার এক যুবককে বলতে শুনলেন, "আমি আকাঙ্ক্ষা করি যদি এই যিনদীক ইবন আকীলের সাক্ষাৎ পেতাম, তবে তাঁকে হত্যা করে এবং তাঁর রক্ত প্রবাহিত করে আল্লাহ তাআলার নৈকট্য লাভ করতাম।"

এতে তিনি আতঙ্কিত হলেন এবং নৌকা থেকে নেমে শরীফ আবু জাফরের নিকট এসে তওবা ও ইস্তিগফার করলেন।

এখন আমি তাঁর তওবা ও এর বিবরণ সনদসহ উল্লেখ করছি যাতে জানা যায় যে, তাঁর রচনাবলির মধ্যে যা কিছু সুন্নাহর পরিপন্থী পাওয়া যায়, তা থেকে তিনি তওবা করেছেন। সুতরাং কোনো বিভ্রান্ত ব্যক্তি যেন তা দেখে প্রতারিত না হয় এবং কেউ যেন তা গ্রহণ না করে নতুবা সে পথভ্রষ্ট হবে, আর তা গ্রহণকারীর অবস্থা হবে তওবা করার পূর্বে তাঁর (ইবন আকীলের) যিনদীকী ও রক্ত বৈধ হওয়ার অবস্থার ন্যায়।

নির্ভরযোগ্য ইমাম, শায়খ ও মুসনিদ আবু হাফস উমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে তাবারযাদ আল-বাগদাদী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। ৬০৩ হিজরীর যিলকদ মাসে দামেস্কের উপকণ্ঠে (আল্লাহ তাআলা একে রক্ষা করুন) আমাদের সুরক্ষিত মসজিদে আমি তাঁর সামনে এটি পাঠ করেছি। আমি তাঁকে বললাম, মহান বিচারক ও আলিম আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল বাকী ইবনে মুহাম্মদ আল-বাযযার কি আপনাদের নিকট (ইজাযাতসূত্রে, যদি সরাসরি শ্রবণ না হয়ে থাকে) বর্ণনা করেছেন? তিনি বললেন: আমি ৪৬৫ হিজরীর ৮ই মহররম সোমবার দিন 'নাহরে মুআল্লা' নামক স্থানে শরীফ আবু জাফরের (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) মসজিদে শায়খ ইমাম আবু আল-ওয়াফা ইবন আকীলের তওবার সময় উপস্থিত ছিলাম এবং সেদিন এক বিশাল জনসমাবেশ হয়েছিল।

তিনি বললেন:

আলী ইবন আকীল বলেন, "আমি আল্লাহ তাআলার নিকট বিদআতী মতবাদসমূহ—মুতাযিলা ও অন্যান্য মতবাদ—থেকে সম্পর্কহীনতা প্রকাশ করছি। বিমুখতা প্রকাশ করছি তাদের নেতৃবৃন্দের সংস্রব, তাদের অনুসারীদের সম্মান প্রদান, তাদের পূর্বসূরিদের জন্য রহমতের দোয়া করা এবং তাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের অধিক বর্ণনা করা থেকে। তাদের মতবাদ ও ভ্রষ্টতা সম্পর্কে আমি যা কিছু লিখেছি এবং আমার হস্তাক্ষরে যা কিছু পাওয়া গেছে, আমি তা লেখা ও পাঠ করা থেকে মহান আল্লাহর নিকট তওবা করছি। আমার জন্য তা লেখা, পাঠ করা বা বিশ্বাস করা বৈধ নয়।"

তিনি আরও কিছু বিষয় উল্লেখ করে বললেন, "আমি বিদআতী মুতাযিলা ও অন্যদের সাথে মেলামেশা করা, তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি করা, তাদের প্রতি রহমতের দোয়া করা এবং তাদের সম্মান প্রদর্শন করা থেকে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তওবা করছি। কারণ..."
(খণ্ড: ১) তাহরীমুন নাজার ফী কুতুবিল কালাম (পৃষ্ঠা: ৩৪)
ذَلِك كُله حرَام لَا يحل لمُسلم فعله لقَوْل النَّبِي صلى الله عليه وسلم من عظم صَاحب بِدعَة فقد أعَان على هدم الْإِسْلَام

وَقد كَانَ سيدنَا الشريف أَبُو جَعْفَر أدام الله علوه وحرس على كافتنا ظله وَمن مَعَه من الشُّيُوخ والأتباع سادتي وإخواني أحسن الله عَن الدّين والمروة جزاءهم مصيبين فِي الْإِنْكَار عَليّ لما شاهدوه بخطي فِي الْكتب الَّتِي أَبْرَأ إِلَى الله تَعَالَى مِنْهَا واتحقق أنني كنت مخطئا غير مُصِيب

وَمَتى حفظ عَليّ مَا يُنَافِي هَذَا الْخط وَهَذَا الْإِقْرَار فلإمام الْمُسلمين أعز الله سُلْطَانه مكافاتي على ذَلِك بِمَا يُوجِبهُ الشَّرْع من ردع ونكال وإبعاد وَغير ذَلِك وأشهدت الله تَعَالَى وَمَلَائِكَته وأولي الْعلم على جَمِيع ذَلِك غير مجبر وَلَا مكره وباطني وظاهري فِي ذَلِك سَوَاء

قَالَ الله تَعَالَى {وَمن عَاد فينتقم الله مِنْهُ وَالله عَزِيز ذُو انتقام}

ثمَّ كتب الشُّهُود خطوطهم وَهَذِه نسختها

أشهدني الْمقر على إِقْرَاره بِجَمِيعِ مَا تضمنه هَذَا الْكتاب وَكتب عبد الله بن رضوَان فِي الْمحرم سنة خمس وَسِتِّينَ وَأَرْبَعمِائَة

بِمثل ذَلِك أشهدني وَكتب مُحَمَّد بن عبد الرَّزَّاق بن أَحْمد بن السّني فِي التَّارِيخ

أشهدني الْمقر على إِقْرَاره بِجَمِيعِ مَا تضمنه هَذَا الْكتاب وَكتب الْحسن بن عبد الْملك بن مُحَمَّد بن يُوسُف بِخَطِّهِ

سَمِعت إِقْرَار الْمقر بذلك وَكتب مُحَمَّد بن أَحْمد بن الْحسن

أشهدني الْمقر على نَفسه بذلك وَكتب عَليّ بن عبد الْملك بن مُحَمَّد بن يُوسُف آخرهَا

وَكتب مُحَمَّد بن عبد الْبَاقِي بن مُحَمَّد بن عبد الله وَحضر فِي هَذَا الْيَوْم فِي مَسْجِد الشريف خلق كثير
এসবই হারাম, কোনো মুসলমানের জন্য তা করা বৈধ নয়। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "যে ব্যক্তি কোনো বিদআতিকে সম্মান করল, সে ইসলাম ধ্বংসে সহায়তা করল।"

আমাদের নেতা শরীফ আবু জাফর—আল্লাহ তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি করুন এবং আমাদের সকলের ওপর তাঁর ছায়া দীর্ঘায়িত করুন—এবং তাঁর সাথে থাকা শায়েখগণ ও অনুসারীবৃন্দ, যাঁরা আমার মনিব ও ভাই—আল্লাহ তাঁদের দ্বীন ও মুরুওয়াতের (মানবীয় গুণাবলির) সর্বোত্তম প্রতিদান দিন—তাঁরা আমার লিখিত সেই বইগুলো দেখে আমার যে প্রতিবাদ করেছেন তাতে তাঁরা সঠিক ছিলেন। আমি সেই বইগুলো থেকে মহান আল্লাহর কাছে দায়মুক্ত ঘোষণা করছি এবং দৃঢ়ভাবে স্বীকার করছি যে আমি ভুল ছিলাম এবং সত্য পথে ছিলাম না।

ভবিষ্যতে যদি আমার পক্ষ থেকে এই লিখিত বক্তব্য ও স্বীকৃতির পরিপন্থী কিছু পাওয়া যায়, তবে মুসলমানদের ইমাম—আল্লাহ তাঁর ক্ষমতাকে শক্তিশালী করুন—শরীয়ত অনুযায়ী আমাকে শাস্তি দেওয়ার, দমন করার, বহিষ্কার করার বা এই জাতীয় অন্য কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার রাখেন। আমি মহান আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাকুল এবং জ্ঞানী ব্যক্তিদের এই সবকিছুর ওপর সাক্ষী রাখছি। আমি বাধ্য হয়ে বা জবরদস্তির শিকার হয়ে এটি করছি না, বরং আমার অন্তর ও প্রকাশ্য উভয়ই এ ক্ষেত্রে সমান।

মহান আল্লাহ বলেছেন, {যে পুনরায় এটি করবে, আল্লাহ তার থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করবেন। আর আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রতিশোধ গ্রহণকারী।}

এরপর সাক্ষীগণ তাঁদের স্বাক্ষর করলেন এবং এটি তার অনুলিপি:

স্বীকারোক্তিদানকারী ব্যক্তি আমাকে এই দলিলের অন্তর্ভুক্ত সকল বিষয়ের ওপর সাক্ষী রেখেছেন এবং আব্দুল্লাহ বিন রেদওয়ান ৪৬৫ হিজরির মুহাররম মাসে এটি লিখেছেন।

অনুরূপভাবে আমাকেও সাক্ষী করা হয়েছে এবং মুহাম্মদ বিন আব্দুর রাজ্জাক বিন আহমদ বিন আস-সুন্নি উক্ত তারিখে এটি লিখেছেন।

স্বীকারোক্তিদানকারী ব্যক্তি আমাকে এই দলিলের অন্তর্ভুক্ত সকল বিষয়ের ওপর সাক্ষী রেখেছেন এবং আল-হাসান বিন আব্দুল মালিক বিন মুহাম্মদ বিন ইউসুফ স্বহস্তে এটি লিখেছেন।

আমি স্বীকারোক্তিদানকারীর স্বীকারোক্তি শুনেছি এবং মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আল-হাসান এটি লিখেছেন।

স্বীকারোক্তিদানকারী ব্যক্তি আমাকে নিজের ওপর এই বিষয়ে সাক্ষী রেখেছেন এবং আলী বিন আব্দুল মালিক বিন মুহাম্মদ বিন ইউসুফ এর শেষে লিখেছেন।

মুহাম্মদ বিন আব্দুল বাকি বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ লিখেছেন: এই দিনে শরীফের মসজিদে বহু মানুষের সমাগম হয়েছিল।
(খণ্ড: ১) তাহরীমুন নাজার ফী কুতুবিল কালাম (পৃষ্ঠা: ৩৫)
فَهَذِهِ الفضيحة من جملَة مَا تَابَ مِنْهُ إِلَى الله تَعَالَى وَأقر بِأَنَّهُ ضلال وبدعة وَأَنه مَتى وجد بِخَطِّهِ وَجَبت مُقَابلَته عَلَيْهِ وينتقم الله مِنْهُ

فَكيف يحْتَج بقول هَذَا مُحْتَج أَو يغتر بِهِ مغتر أَو يَقُول بِهِ قَائِل أَو يتَعَلَّق بِهِ مُتَعَلق مَعَ شَهَادَة قَائِله عَلَيْهِ بالضلال وَإِجْمَاع الْعلمَاء من أهل بلدته على استتابته مِنْهُ وإهدار دَمه بِهِ وبأمثاله وَهَذَا أدل شَيْء على خطئه وضلاله وَإِن كَانَت هَذِه الْمقَالة صدرت مِنْهُ بعد تَوْبَته فَهَذَا دَلِيل على زندقته وإصراره على بدعته ورجوعه إِلَى ضلالته

فَإِن معنى الزندقة إِظْهَار الْحق واعتقاد خِلَافه وَهُوَ النِّفَاق الَّذِي كَانَ على عهد رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَيُسمى الْيَوْم الزندقة

وَهَذَا الرجل قد صنف فِي نفي تَأْوِيل الصِّفَات وَالرَّدّ على متأولها جُزْءا مُفردا وصنف فِي الْحَرْف وَالصَّوْت جُزْءا مُفردا وصنف كتاب الِانْتِصَار للسّنة وَغَيرهَا من الْكتب وملأها من السّنة وَالرَّدّ على المبتدعة

فَإِن كَانَ يظْهر ذَلِك ويبطن هَذَا ويعتقده فَهُوَ زنديق فَكيف يجوز أَن يحْتَج مُحْتَج بمقالته أَو يرضى لنَفسِهِ بِمثل حَاله أَو يضل بضلالته ونعوذ بِاللَّه تَعَالَى وَلَا يظنّ بِهِ هَذَا وَلَكِن لما علمت مِنْهُ حالتان حَالَة بِدعَة وَحَالَة تَوْبَة نسبنا كل مَا وجد من كَلَامه من الْبدع إِلَى حَالَة الْبِدْعَة لَا غير

وَمَا عادتي ذكر معائب أَصْحَابنَا وإنني لأحب ستر عَوْرَاتهمْ وَلَكِن وَجب بَيَان حَال هَذَا الرجل حِين اغْترَّ بمقالته قوم واقتدى ببدعته طَائِفَة من أَصْحَابنَا وشككهم فِي اعْتِقَادهم حسن ظنهم فِيهِ واعتقادهم أَنه من جملَة دعاة السّنة

فَوَجَبَ حِينَئِذٍ كشف حَاله وَإِزَالَة حسن ظنهم فِيهِ ليزول عَنْهُم اغترارهم بقوله وينحسم الدَّاء بحسم سَببه

فَإِن الشَّيْء يَزُول من حَيْثُ ثَبت وَبِاللَّهِ التَّوْفِيق والمعونة ونسأل الله تَعَالَى أَن يثبتنا على الْإِسْلَام وَالسّنة

وعَلى كل حَال فَهُوَ قد نفر من التَّقْلِيد وَأنكر حسن الظَّن بالمشايخ

فَكيف يحسن الظَّن فِيمَن يُنكر حسن الظَّن بِهِ وَكَيف يقبل قَول من ينْهَى
এই কেলেঙ্কারিটি সেই সব বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত যা থেকে তিনি আল্লাহ তাআলার নিকট তাওবা করেছেন এবং স্বীকার করেছেন যে এটি ভ্রষ্টতা ও বিদআত। তিনি আরও স্বীকার করেছেন যে, যখনই এটি তাঁর স্বহস্তে লেখা পাওয়া যাবে, তখন তাঁর সাথে এর মোকাবিলা করা আবশ্যক এবং আল্লাহ তাঁর থেকে প্রতিশোধ নেবেন।

সুতরাং কীভাবে কোনো দলিলদাতা এর মাধ্যমে দলিল পেশ করতে পারে, অথবা কীভাবে কোনো প্রতারিত ব্যক্তি এর দ্বারা প্রতারিত হতে পারে, অথবা কোনো প্রবক্তা এটি বলতে পারে কিংবা কোনো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এর সাথে লেগে থাকতে পারে? অথচ এর প্রবক্তা নিজেই নিজের বিরুদ্ধে এটি ভ্রষ্টতা বলে সাক্ষ্য দিয়েছেন এবং তাঁর শহরের আলেমগণ তাঁকে এ থেকে তাওবা করানো এবং এ ধরনের বক্তব্যের কারণে তাঁর রক্তপাত বৈধ হওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। এটিই তাঁর ভুল ও ভ্রষ্টতার সবচেয়ে বড় প্রমাণ। আর যদি এই বক্তব্য তাঁর তাওবার পরে তাঁর থেকে প্রকাশ পেয়ে থাকে, তবে তা তাঁর যিন্দিক হওয়া, বিদআতের ওপর অটল থাকা এবং পুনরায় ভ্রষ্টতায় ফিরে যাওয়ার প্রমাণ।

কেননা যিন্দিকাহর অর্থ হলো সত্যকে প্রকাশ করা এবং অন্তরে তার বিপরীত বিশ্বাস পোষণ করা; আর এটিই সেই নিফাক যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে বিদ্যমান ছিল এবং বর্তমানে একেই যিন্দিকাহ বলা হয়।

এই ব্যক্তি আল্লাহর সিফাতসমূহের অপব্যাখ্যা অস্বীকার করে এবং অপব্যাখ্যাকারীদের খণ্ডন করে একটি স্বতন্ত্র পুস্তিকা রচনা করেছেন। এছাড়া তিনি হরফ ও সাওত বিষয়ে স্বতন্ত্র পুস্তিকা এবং কিতাবুল ইন্তিসার লিস-সুন্নাহ সহ আরও অনেক কিতাব রচনা করেছেন এবং সেগুলোকে সুন্নাহর আলোচনা ও বিদআতিদের খণ্ডনে পরিপূর্ণ করেছেন।

সুতরাং তিনি যদি সেগুলো প্রকাশ করেন আর অন্তরে এটি গোপন রাখেন ও বিশ্বাস করেন, তবে তিনি একজন যিন্দিক। এমতাবস্থায় কোনো ব্যক্তির জন্য তাঁর বক্তব্য দিয়ে দলিল পেশ করা, অথবা তাঁর মতো অবস্থায় থাকা নিজের জন্য পছন্দ করা, কিংবা তাঁর ভ্রষ্টতার মাধ্যমে বিভ্রান্ত হওয়া কীভাবে বৈধ হতে পারে? আমরা আল্লাহ তাআলার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। তবে তাঁর সম্পর্কে এমন ধারণা করা হয় না; বরং যেহেতু তাঁর দুটি অবস্থার কথা জানা গেছে—একটি বিদআতি অবস্থা এবং অন্যটি তাওবার অবস্থা—তাই তাঁর বক্তব্যে যা কিছু বিদআত পাওয়া গেছে সেগুলোকে আমরা কেবল তাঁর বিদআতি অবস্থার দিকেই সম্বন্ধযুক্ত করেছি, অন্য কিছুর দিকে নয়।

আমাদের সাথীদের দোষ-ত্রুটি আলোচনা করা আমার অভ্যাস নয় এবং আমি তাঁদের দোষসমূহ গোপন রাখতেই ভালোবাসি। কিন্তু এই ব্যক্তির অবস্থা বর্ণনা করা তখন ওয়াজিব হয়ে পড়েছে যখন একদল লোক তাঁর বক্তব্যে প্রতারিত হয়েছে এবং আমাদের সাথীদের একটি গোষ্ঠী তাঁর বিদআতের অনুসরণ করেছে। তাঁর প্রতি তাঁদের সুধারণা এবং তিনি সুন্নাহর দাঈদের অন্তর্ভুক্ত—এই বিশ্বাস তাঁদের আকিদাকে সংশয়পূর্ণ করে তুলেছে।

ফলে সেই সময়ে তাঁর প্রকৃত অবস্থা উন্মোচন করা এবং তাঁর প্রতি তাঁদের সুধারণা দূর করা আবশ্যক হয়ে পড়েছিল, যাতে তাঁর বক্তব্যের দ্বারা তাঁদের প্রতারিত হওয়া বন্ধ হয় এবং ব্যাধির কারণটি মূলোৎপাটনের মাধ্যমে ব্যাধিটি নির্মূল হয়।

কেননা কোনো বস্তু যেখান থেকে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সেখান থেকেই তা অপসারিত হয়। আল্লাহর কাছেই তাওফিক ও সাহায্য প্রার্থনা করছি। আমরা আল্লাহ তাআলার কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের ইসলাম ও সুন্নাহর ওপর অটল রাখেন।

যাই হোক না কেন, তিনি তাকলিদ থেকে বিমুখ হয়েছিলেন এবং মাশায়েখদের প্রতি সুধারণা রাখাকে অস্বীকার করেছিলেন।

সুতরাং যে ব্যক্তি নিজের প্রতি সুধারণা পোষণ করাকেই অস্বীকার করে, তার প্রতি কীভাবে সুধারণা পোষণ করা যায়? আর যে ব্যক্তি নিষেধ করে, তার কথা কীভাবে গ্রহণ করা যায়?
(খণ্ড: ১) তাহরীমুন নাজার ফী কুতুবিল কালাম (পৃষ্ঠা: ৩৬)
عَن قبُول قَول غَيره وَيَنْبَغِي لنا أَن نقبل قَوْله فِي نَفسه فيساء الظَّن بِهِ وَلَا نقبل قَوْله فِي غَيره كمن أقرّ بِشَيْء عَلَيْهِ وعَلى غَيره قبل قَوْله عَلَيْهِ وَلم يقبل على غَيره

وَهَا أَنا أُجِيب عَن مقَالَته إِن شَاءَ الله تَعَالَى فصلا فصلا وَأبين عوار كَلَامه فرعا وأصلا بِتَوْفِيق الله ومعونته

أما قَوْله إِنَّا كُنَّا أعزاء بَين أهل الْمذَاهب فها نَحن الْيَوْم سَبْعُونَ منفيون محصورون إِلَى آخر كَلَامه

فَهَذَا إِيمَاء مِنْهُ إِلَى أَن أسلافنا رَحِمهم الله تَعَالَى كَانُوا على قَول وَنحن على غَيره وأننا أحدثنا مقَالَة غير مقالتهم استحققنا بهَا الْعقُوبَة

وَهَذَا كذب وفرية وَقَول من لَا حَيَاء لَهُ وَلَا دين فليخبرنا أَي شَيْء أحدثناه وَأي مقَالَة خَالَفنَا فِيهَا أسلافنا فَإِن قَالَ تركْتُم تَأْوِيل الْآيَات وَالْأَخْبَار الْوَارِدَة فِي الصِّفَات وَادّعى أَن السّلف تأولوها وفسروها فقد أفك وافترى وَجَاء بالطامة الْكُبْرَى

فَإِنَّهُ لَا خلاف فِي أَن مَذْهَب السّلف الْإِقْرَار وَالتَّسْلِيم وَترك التَّعَرُّض للتأويل والتمثيل

ثمَّ إِن الأَصْل عدم تأويلهم فَمن ادّعى أَنهم تأولوها فليأت ببرهان عل قَوْله

وَهَذَا لَا سَبِيل إِلَى مَعْرفَته إِلَّا بِالنَّقْلِ وَالرِّوَايَة

فلينقل لنا ذَلِك عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَو عَن صحابته أَو عَن أحد من التَّابِعين أَو الْأَئِمَّة المرضيين

ثمَّ الْمُدَّعِي لذَلِك من أهل الْكَلَام وهم أَجْهَل النَّاس بالآثار وَأَقلهمْ علما بالأخبار وأتركهم للنَّقْل

فَمن أَيْن لَهُم علم بِهَذِهِ وَمن نقل مِنْهُم شَيْئا لم يقبل نَقله وَلَا يلْتَفت إِلَيْهِ

وَإِنَّمَا لَهُم الْوَضع وَالْكذب وزور الْكَلَام

وَلَا خلاف بَين أهل النَّقْل سنيهم وبدعيهم فِي أَن مَذْهَب السّلف رضي الله عنهم فِي صِفَات الله سبحانه وتعالى الْإِقْرَار بهَا والإمرار لَهَا
অন্যের কথা গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকা। আমাদের উচিত তার নিজের সম্পর্কে তার বক্তব্য গ্রহণ করা, যার ফলে তার প্রতি কুধারণা সৃষ্টি হয়; তবে অন্যের ব্যাপারে তার কথা আমরা গ্রহণ করব না। যেমন কেউ যদি নিজের এবং অন্যের বিরুদ্ধে কোনো কিছুর স্বীকৃতি দেয়, তবে তার নিজের বিরুদ্ধে দেওয়া স্বীকৃতি গ্রহণ করা হয়, কিন্তু অন্যের বিরুদ্ধে তা গ্রহণ করা হয় না।

আর এই যে আমি, আল্লাহ তাআলা চাইলে, তার বক্তব্যের জবাব দিচ্ছি প্রতিটি পরিচ্ছেদ ধরে ধরে এবং আল্লাহর তাওফিক ও সাহায্যে তার কথার ত্রুটিসমূহ এর শাখা-প্রশাখা ও মূলসহ সবিস্তারে বর্ণনা করছি।

তার এই বক্তব্যের ব্যাপারে যে— "আমরা বিভিন্ন মাযহাবের অনুসারীদের মধ্যে সম্মানিত ছিলাম, অথচ আজ আমরা সত্তরজন নির্বাসিত ও অবরুদ্ধ"—তার বক্তব্যের শেষ পর্যন্ত।

এটি তার পক্ষ থেকে একটি ইঙ্গিত যে, আমাদের পূর্বসূরিগণ (আল্লাহ তাআলা তাদের ওপর রহম করুন) এক মতাদর্শের ওপর ছিলেন আর আমরা অন্য মতাদর্শের ওপর; এবং আমরা তাদের মতাদর্শের বাইরে নতুন কোনো মতবাদ উদ্ভাবন করেছি, যার কারণে আমরা শাস্তির যোগ্য হয়েছি।

এটি একটি মিথ্যা ও অপবাদ এবং এমন ব্যক্তির কথা যার কোনো লজ্জা ও দ্বীন নেই। সে আমাদের বলুক আমরা নতুন কী উদ্ভাবন করেছি এবং কোন বক্তব্যে আমরা আমাদের পূর্বসূরিদের বিরোধিতা করেছি? সে যদি বলে যে, "আপনারা সিফাত বা গুণাবলি সংক্রান্ত আয়াত ও হাদিসসমূহের অপব্যাখ্যা (তাউইল) বর্জন করেছেন" এবং দাবি করে যে পূর্বসূরিগণ সেগুলোর অপব্যাখ্যা ও ব্যাখ্যা করেছেন, তবে সে চরম মিথ্যাচার ও অপবাদ আরোপ করল এবং এক মহাপাপ নিয়ে এল।

কেননা এতে কোনো মতভেদ নেই যে, পূর্বসূরিদের (সালাফ) মাযহাব হলো সিফাতসমূহের স্বীকৃতি দেওয়া, আত্মসমর্পণ করা এবং অপব্যাখ্যা ও সাদৃশ্য প্রদানের অসারতা থেকে বিরত থাকা।

অতঃপর মূলনীতি হলো তারা কোনো রূপ অপব্যাখ্যা করেননি। সুতরাং যে দাবি করে যে তারা অপব্যাখ্যা করেছেন, সে যেন তার দাবির পক্ষে প্রমাণ পেশ করে।

আর এটি জানার কোনো পথ নেই উদ্ধৃতি ও বর্ণনা ব্যতীত।

অতএব সে যেন আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), তাঁর সাহাবীগণ কিংবা তাবেয়িগণের কেউ অথবা নির্ভরযোগ্য ইমামগণের কাছ থেকে আমাদের কাছে তা উদ্ধৃত করে।

তদুপরি এই দাবিদার হলো ইলমুল কালামের অনুসারী, অথচ তারা আছার (বর্ণনা) সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অজ্ঞ, সংবাদ সম্পর্কে সবচেয়ে কম জ্ঞানের অধিকারী এবং উদ্ধৃতি বর্জনে সবচেয়ে এগিয়ে।

সুতরাং এ বিষয়ে তাদের জ্ঞান আসবে কোথা থেকে? আর তাদের মধ্য থেকে কেউ যদি কোনো কিছু উদ্ধৃত করে, তবে তার উদ্ধৃতি গ্রহণযোগ্য হবে না এবং তার প্রতি ভ্রুক্ষেপও করা হবে না।

তাদের কাজই হলো জালিয়াতি, মিথ্যাচার এবং অসার বাক্যব্যয়।

উদ্ধৃতি বিশারদদের মধ্যে—চাই তারা সুন্নাহর অনুসারী হোক বা বিদআতি হোক—এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার সিফাত বা গুণাবলির ক্ষেত্রে পূর্বসূরিদের (সালাফ) মাযহাব হলো সেগুলো স্বীকার করা এবং যেভাবে এসেছে সেভাবেই রেখে দেওয়া।
(খণ্ড: ১) তাহরীমুন নাজার ফী কুতুবিল কালাম (পৃষ্ঠা: ৩৭)
وَالتَّسْلِيم لقائلها وَترك التَّعَرُّض لتفسيرها بذلك جَاءَت الْأَخْبَار عَنْهُم مجملة
এবং এর প্রবক্তার প্রতি সমর্পণ করা ও এর ব্যাখ্যায় হস্তক্ষেপ বর্জন করা; এভাবেই তাঁদের পক্ষ থেকে বর্ণনাগুলো সংক্ষিপ্তাকারে এসেছে।
(খণ্ড: ১) তাহরীমুন নাজার ফী কুতুবিল কালাম (পৃষ্ঠা: ৩৮)
ومفصلة

فَروِيَ عَن مَالك بن أنس وَالْأَوْزَاعِيّ وسُفْيَان الثَّوْريّ وسُفْيَان بن عُيَيْنَة وَمعمر بن رَاشد فِي الْأَحَادِيث فِي الصِّفَات أمروها كَمَا جَاءَت

وَقَالَ أَبُو عمر بن عبد الْبر فِي كتاب الْعلم مَا جَاءَ عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم من نقل الثِّقَات وَصَحَّ عَن الصَّحَابَة رضي الله عنهم فَهُوَ علم يدان بِهِ

وَمَا أحدث بعدهمْ وَلم يكن لَهُ أصل فِي مَا جَاءَ عَنْهُم فَهُوَ بِدعَة وضلالة

وَمَا جَاءَ فِي أَسمَاء الله وَصِفَاته عَنْهُم نسلم لَهُ وَلم نناظر كَمَا لم يناظروا

وَرَوَاهَا السّلف وسكتوا عَنْهَا وَكَانُوا أعمق النَّاس علما وأوسعهم فهما وَأَقلهمْ تكلفا وَلم يكن سكوتهم عَن عي

فَمن لم يَسعهُ مَا وسعهم فقد خَابَ وخسر

وروى مُحَمَّد بن الْحسن صَاحب أبي حنيفَة أَنه أجمع أهل الْعلم فِي الْمشرق وَالْمغْرب على أَن هَذِه الْأَحَادِيث الَّتِي جَاءَت فِي الصِّفَات لَا تفسر أَو كَمَا قَالَ

وَقَالَ حنبلي سَأَلت أَبَا عبد الله أَحْمد بن مُحَمَّد بن حَنْبَل رضي الله عنه عَن هَذِه الْأَحَادِيث الَّتِي تروي أَن الله تبارك وتعالى يرى وَأَنه ينزل إِلَى سَمَاء الدُّنْيَا وَأَنه يضع قدمه وَمَا أشبه ذَلِك

فَقَالَ أَبُو عبد الله رَضِي الله
এবং বিস্তারিতভাবে।

মালিক ইবনে আনাস, আওযায়ী, সুফিয়ান আস-সাওরী, সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ এবং মা’মার ইবনে রাশিদ থেকে আল্লাহর গুণাবলি সম্পর্কিত হাদিসসমূহের ব্যাপারে বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁরা বলেছেন: এগুলো যেভাবে এসেছে সেভাবেই সেগুলোকে অতিক্রম করতে দাও (অপরিবর্তিত রাখো)।

আবু ওমর ইবনে আব্দুল বার তাঁর ‘কিতাবুল ইলম’-এ বলেছেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের মাধ্যমে যা বর্ণিত হয়েছে এবং সাহাবায়ে কেরাম (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে যা সহীহভাবে প্রমাণিত হয়েছে, তা-ই হলো সেই জ্ঞান যা দ্বীন হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।

আর তাদের পরে যা উদ্ভাবিত হয়েছে এবং তাদের থেকে আসা বর্ণনার মধ্যে যার কোনো ভিত্তি নেই, তা বিদআত ও পথভ্রষ্টতা।

আল্লাহর নাম ও গুণাবলি সম্পর্কে তাঁদের থেকে যা এসেছে, আমরা তা মেনে নিই এবং আমরা এ নিয়ে কোনো বিতর্ক করি না, যেমন তাঁরাও কোনো বিতর্ক করেননি।

সালাফগণ এগুলো বর্ণনা করেছেন এবং এ ব্যাপারে নীরবতা অবলম্বন করেছেন। তাঁরা ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে গভীর জ্ঞানের অধিকারী, সবচেয়ে প্রশস্ত বোধশক্তিসম্পন্ন এবং কৃত্রিমতা বা অহেতুক কড়াকড়িতে সবচেয়ে কম লিপ্ত। তাঁদের এই নীরবতা কোনো অক্ষমতার কারণে ছিল না।

সুতরাং তাঁদের জন্য যা যথেষ্ট ছিল, কারো জন্য যদি তা যথেষ্ট না হয়, তবে সে ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত হলো।

আবু হানিফার সাথী মুহাম্মদ ইবনুল হাসান বর্ণনা করেছেন যে, পূর্ব ও পশ্চিমের আলেমগণ এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, আল্লাহর গুণাবলি সম্পর্কে যে হাদিসগুলো এসেছে সেগুলোর কোনো ব্যাখ্যা করা যাবে না— অথবা তিনি যেমনটি বলেছেন।

জনৈক হাম্বলী বলেন, আমি আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাম্বল (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে সেই সব হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যাতে বর্ণিত হয়েছে যে, আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলাকে দেখা যাবে, তিনি দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করেন, তিনি আল্লাহর পা রাখেন এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে।

আবু আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন
(খণ্ড: ১) তাহরীমুন নাজার ফী কুতুবিল কালাম (পৃষ্ঠা: ৩৯)
عَنهُ نؤمن بهَا ونصدق بهَا وَلَا نرد مِنْهَا شَيْئا إِذا كَانَت بأسانيد صِحَاح

وَلَا نرد على الرَّسُول صلى الله عليه وسلم قَوْله

ونعلم أَن مَا جَاءَ بِهِ الرَّسُول صلى الله عليه وسلم حق وَلَا يُوصف الله تَعَالَى بِأَكْثَرَ مِمَّا وصف بِهِ نَفسه بِلَا حد وَلَا غَايَة {لَيْسَ كمثله شَيْء وَهُوَ السَّمِيع الْبَصِير}

فَنَقُول كَمَا قَالَ وَنصفه كَمَا وصف نَفسه لَا نتعدى ذَلِك وَلَا نزيل عَنهُ صفة من صِفَاته لشناعة شنعت

نؤمن بِهَذِهِ الْأَحَادِيث ونقرها ونمرها كَمَا جَاءَت بِلَا كَيفَ وَلَا معنى إِلَى على مَا وصف بِهِ نَفسه تبارك وتعالى وَهُوَ كَمَا وصف نَفسه سميع بَصِير بِلَا حد وَلَا تَقْدِير

صِفَاته مِنْهُ وَله

لَا نتعدى الْقُرْآن والْحَدِيث وَالْخَبَر وَلَا نعلم كَيفَ ذَاك إِلَّا بِتَصْدِيق الرَّسُول صلى الله عليه وسلم وتثبيت الْقُرْآن

وَقَالَ أَبُو عبد الله حَدثنَا وَكِيع يَوْمًا بِحَدِيث من هَذِه الْأَحَادِيث فاقشعر زَكَرِيَّاء بن عدي فَقَالَ وَكِيع وَغَضب أدركنا الْأَعْمَش وسُفْيَان يحدثُونَ بِهَذِهِ الْأَحَادِيث وَلَا يُنْكِرُونَهَا

وَهَذَا مِمَّا لَا نعلم فِيهِ بَين سلفنا رحمهم الله اخْتِلَافا وَالْمُنكر لَهُ إِمَّا جَاهِل أَو متجاهل قَلِيل الدّين وَالْحيَاء لَا يخَاف من الله تَعَالَى إِذا كذب وَلَا يستحيي من النَّاس إِذا كذب

وَنحن على طَريقَة سلفنا وجادة أَئِمَّتنَا وَسنة نَبينَا صلى الله عليه وسلم مَا أحدثنا قولا وَلَا زِدْنَا زِيَادَة بل آمنا بِمَا جَاءَ وأمررناه كَمَا جَاءَ وَقُلْنَا بِمَا قَالُوا وسكتنا عَمَّا سكتوا عَنهُ وسلكنا حَيْثُ سلكوا فَلَا وَجه لنسبة الْخلاف والبدعة إِلَيْنَا

وَإِنَّمَا تكلم ابْن عقيل على حَال نَفسه فِي حَال بدعته

حِين أحدث فِي دين الله عز وجل وَخَالف سلفه وأئمته وسَادَة أهل مذْهبه وَاتبع أهل الْكَلَام والبدع وَفَارق السّنة وَأخذ فِي الْبِدْعَة أهْدر دَمه وأخيف سربه وَقصد بالأذى والتشريد والإخافة والتطريد وَصَارَ ذليلا حَقِيرًا فنسب حَاله إِلَى من سواهُ وَجعل الْحَدث مِنْهُ حَادِثا مِمَّن عداهُ وكسى وَصفه لغيره وعير أهل السّنة بِمثل ذَنبه

كَمَا قيل رمتني بدائها وانسلت
আমরা তাঁর থেকে বর্ণিত বিষয়গুলোর ওপর ঈমান রাখি, সেগুলো সত্য বলে স্বীকার করি এবং তার কোনো কিছুই প্রত্যাখ্যান করি না, যদি তা সহিহ সনদে বর্ণিত হয়।

আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণীর প্রতিবাদ করি না।

আমরা জানি যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা নিয়ে এসেছেন তা সত্য। মহান আল্লাহ নিজেকে যেভাবে গুণান্বিত করেছেন, তাঁর জন্য তার অতিরিক্ত কোনো বিশেষণ আরোপ করা যায় না; এর কোনো সীমা বা সমাপ্তি নেই। "তাঁর সদৃশ কিছুই নেই, আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।"

সুতরাং তিনি যেভাবে বলেছেন আমরা সেভাবেই বলি এবং তিনি নিজেকে যেভাবে গুণান্বিত করেছেন আমরা সেভাবেই তাঁর গুণ বর্ণনা করি। আমরা তা অতিক্রম করি না এবং কোনো কুৎসিত সমালোচনার কারণে তাঁর গুণাবলির কোনোটিকেই অপসারিত করি না।

আমরা এই হাদিসগুলোর ওপর ঈমান রাখি, এগুলো স্বীকার করি এবং যেভাবে এসেছে সেভাবেই কোনো ধরন (কাইফ) বা অর্থ (ব্যাখ্যা) ছাড়াই অতিবাহিত করি—কেবল আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা নিজেকে যেভাবে বর্ণনা করেছেন সেভাবেই। তিনি নিজেকে যেভাবে বর্ণনা করেছেন সেভাবেই তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা, কোনো সীমা বা পরিমাপ ছাড়াই।

তাঁর গুণাবলি তাঁরই সত্তা থেকে এবং তাঁরই জন্য।

আমরা কুরআন, হাদিস এবং আছারের সীমা লঙ্ঘন করি না। আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সত্যায়ন এবং কুরআনের সাব্যস্তকরণের মাধ্যম ব্যতীত আমরা তার ধরন সম্পর্কে অবগত নই।

আবু আব্দুল্লাহ বলেন: ওকী একদিন আমাদের কাছে এই হাদিসগুলোর মধ্য থেকে একটি হাদিস বর্ণনা করলেন, তখন যাকারিয়া ইবনে আদি শিহরিত হলেন। ওকী রাগান্বিত হয়ে বললেন: আমরা আমাশ এবং সুফিয়ানকে পেয়েছি, তাঁরা এই হাদিসগুলো বর্ণনা করতেন এবং এগুলো অস্বীকার করতেন না।

এটি এমন একটি বিষয় যাতে আমাদের পূর্বসূরিদের (সালাফ)—আল্লাহ তাঁদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন—মধ্যে কোনো মতভেদ আছে বলে আমাদের জানা নেই। যে ব্যক্তি এটি অস্বীকার করে, সে হয় মূর্খ অথবা মূর্খ সেজে থাকা স্বল্প দ্বীন ও লজ্জাবোধ সম্পন্ন ব্যক্তি; যে মিথ্যা বলার সময় মহান আল্লাহকে ভয় পায় না এবং মানুষের কাছেও লজ্জা পায় না।

আমরা আমাদের পূর্বসূরিদের পথ, আমাদের ইমামগণের মূলধারা এবং আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহর ওপর অটল আছি। আমরা নতুন কোনো কথা উদ্ভাবন করিনি এবং অতিরিক্ত কিছুই যোগ করিনি। বরং যা এসেছে তাতে আমরা ঈমান এনেছি এবং তা যেভাবে এসেছে সেভাবেই অতিবাহিত করেছি। তাঁরা যা বলেছেন আমরাও তা-ই বলেছি এবং তাঁরা যা থেকে নীরব থেকেছেন আমরাও তা থেকে নীরব থেকেছি। তাঁরা যে পথে চলেছেন আমরাও সেই পথে চলেছি। সুতরাং আমাদের ওপর কোনো মতভেদ বা বিদআতের সম্বন্ধ করার কোনো পথ নেই।

ইবনে আকিল কেবল তার বিদআতের অবস্থায় নিজের অবস্থার ওপর ভিত্তি করেই কথা বলেছেন।

যখন তিনি মহান আল্লাহর দ্বীনে নতুন কিছু উদ্ভাবন করলেন এবং তাঁর পূর্বসূরি, ইমামগণ ও তাঁর মাজহাবের শ্রেষ্ঠ আলেমদের বিরোধিতা করলেন, আর কালাম শাস্ত্রবিদ ও বিদআতিদের অনুসরণ করলেন এবং সুন্নাহ ত্যাগ করে বিদআতে লিপ্ত হলেন, তখন তাঁর রক্ত বৈধ করা হলো, তাঁর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলো এবং তিনি কষ্টদান, নির্বাসন, ভীতি প্রদর্শন ও বিতাড়নের লক্ষ্যবস্তু হলেন। তিনি লাঞ্ছিত ও তুচ্ছ হয়ে পড়লেন। অতঃপর তিনি নিজের অবস্থাকে অন্যদের দিকে সম্বন্ধ করলেন এবং নিজের উদ্ভাবিত বিষয়কে অন্যদের উদ্ভাবন বলে চালিয়ে দিলেন। নিজের দোষ অন্যের ওপর চাপালেন এবং আহলুস সুন্নাহকে নিজের পাপের মতো পাপে দোষারোপ করলেন।

যেমন বলা হয়ে থাকে: "সে নিজের রোগ আমার ওপর চাপিয়ে দিয়ে সটকে পড়ল।"
(খণ্ড: ১) তাহরীমুন নাজার ফী কুতুবিল কালাম (পৃষ্ঠা: ৪০)
أما أهل السّنة المتبعون للآثار السالكون طَرِيق السّلف الأخيار فَمَا عَلَيْهِم غَضَاضَة وَلَا يلحقهم عَار مِنْهُم الْعلمَاء الْعَامِلُونَ وَمِنْهُم الْأَوْلِيَاء والصالحون وَمِنْهُم الأتقياء الْأَبْرَار والأصفياء والأخيار أهل الولايات والكرامات وَأهل الْعِبَادَات والاجتهادات بذكرهم تزين الْكتب والدفاتر وأخبارهم تحسن المحافل والمحاضر تحيا الْقُلُوب بِذكر أخبارهم وَتحصل السَّعَادَة باقتفاء آثَارهم بهم قَامَ الدّين وَبِه قَامُوا وبهم نطق الْكتاب وَبِه نطقوا وهم مفزع الْخلق عِنْد اشتداد الْأُمُور عَلَيْهِم فالملوك فَمن دونهم يقصدون زياراتهم ويتبركون بدعائهم ويستشفعون إِلَى الله سبحانه وتعالى بهم

فَنحْن أَصْحَاب المقامات الفاخرة وَلنَا شرف الدُّنْيَا وَالْآخِرَة وَمن نظر فِي كتب الْعلمَاء الَّتِي أفردت لذكر الْأَوْلِيَاء لم يجد فِيهَا إِلَّا منا وَمَتى نقلت الكرامات لم تنقل إِلَّا عَنَّا وَمَتى أَرَادَ واعظ أَو غَيره يطيب مَجْلِسه ويزينه زينه بأخبار بعض زهادنا أَو كرامات عبادنَا أَو وصف عُلَمَائِنَا وَعند ذكر صالحينا تنزل الرَّحْمَة وتطيب الْقُلُوب ويستجاب الدُّعَاء ويكشف الْبلَاء وَللَّه در الْقَائِل

(ذهبت دولة أَصْحَاب الْبدع … ووهى حبلهم ثمَّ انْقَطع)

(وتداعى بانصداع شملهم … حزب إِبْلِيس الَّذِي كَانَ جمع)

(هَل لكم بِاللَّه فِي بدعتكم … من فَقِيه أَو إِمَام يتبع)
তবে আহলুস সুন্নাহ, যারা আসার (বর্ণনাসমূহ) অনুসরণকারী এবং নেককার সালফদের পথ অবলম্বনকারী, তাঁদের ওপর কোনো ত্রুটি নেই এবং কোনো কলঙ্ক তাঁদের স্পর্শ করে না। তাঁদের মাঝে রয়েছেন আমলকারী আলেমগণ, আউলিয়া ও নেককারগণ, এবং মুত্তাকী-পূণ্যবানগণ, মনোনীত ও শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিবর্গ। তাঁরা বেলায়াত ও কেরামতের অধিকারী এবং ইবাদত ও কঠোর সাধনার ধারক-বাহক। তাঁদের স্মরণে কিতাব ও দপ্তরাদি সুশোভিত হয় এবং তাঁদের সংবাদসমূহ মজলিস ও মাহফিলসমূহকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করে। তাঁদের জীবনবৃত্তান্ত স্মরণে অন্তরসমূহ পুনর্জীবিত হয় এবং তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণে সৌভাগ্য অর্জিত হয়। তাঁদের মাধ্যমেই দ্বীন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং দ্বীনের মাধ্যমেই তাঁরা প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। তাঁদের মাধ্যমেই কিতাব (কুরআন) কথা বলেছে এবং কিতাবের মাধ্যমেই তাঁরা কথা বলেছেন। যখন মানুষের ওপর বিষয়াদি কঠিন হয়ে পড়ে, তখন তাঁরাই সৃষ্টির আশ্রয়স্থলে পরিণত হন। ফলে রাজা-বাদশাহ এবং তাঁদের নিম্নস্থ ব্যক্তিবর্গ তাঁদের সাক্ষাতের সংকল্প করেন, তাঁদের দোয়ার মাধ্যমে বরকত তালাশ করেন এবং মহান আল্লাহর নিকট তাঁদের উসিলায় সুপারিশ প্রার্থনা করেন।

সুতরাং আমরাই গৌরবময় মর্যাদার অধিকারী এবং আমাদের জন্যই ইহকাল ও পরকালের শ্রেষ্ঠত্ব। যে ব্যক্তি আউলিয়াদের বর্ণনায় উৎসর্গীকৃত আলেমদের কিতাবসমূহের দিকে দৃষ্টিপাত করবে, সে সেখানে আমাদের ভিন্ন অন্য কাউকে পাবে না। যখনই কোনো কেরামতের বর্ণনা উদ্ধৃত করা হয়, তখন তা আমাদের পক্ষ থেকেই উদ্ধৃত হয়। আর যখন কোনো ওয়াজকারী বা অন্য কেউ তার মজলিসকে সুন্দর ও সুশোভিত করতে চায়, তখন সে তা আমাদের কতিপয় যাহিদদের সংবাদ, আমাদের ইবাদতগুজারদের কেরামত অথবা আমাদের আলেমদের গুণাবলি দ্বারা সজ্জিত করে। আমাদের নেককারদের স্মরণের সময় রহমত নাজিল হয়, অন্তরসমূহ প্রফুল্ল হয়, দোয়া কবুল হয় এবং বিপদ দূরীভূত হয়। আর কতই না চমৎকার বলেছেন কবি:

(বিদআতপন্থীদের রাজত্ব বিলীন হয়েছে … এবং তাদের রশি দুর্বল হয়ে ছিন্ন হয়ে গেছে।)

(তাদের ঐক্য চূর্ণ হওয়ার ফলে ছত্রভঙ্গ হয়ে গেছে … ইবলিসের সেই দল যা সে সমবেত করেছিল।)

(আল্লাহর কসম! তোমাদের এই বিদআতের সপক্ষে … কি কোনো ফকিহ বা অনুসরণযোগ্য ইমাম আছে?)
(খণ্ড: ১) তাহরীমুন নাজার ফী কুতুবিল কালাম (পৃষ্ঠা: ৪১)
(مثل سُفْيَان أخي الثَّوْريّ الَّذِي … علم النَّاس خفيات الْوَرع)

(أَو سُلَيْمَان أخي التيم الَّذِي … هجر النّوم لهول المطلع)

(أَو إِمَام الْحَرَمَيْنِ مَالِكًا … ذَلِك الْبَحْر الَّذِي لَا ينتزع)

(أَو فَقِيه الشَّام أوزاعيها … ذَاك لَو قارعه القرا قرع)

(أَو فَتى الْإِسْلَام أَعنِي أحمدا … ذَاك حصن الدّين إِن حصن منع)

(لم يخف سوطهم إِذْ خوفوا … لَا وَلَا سيفهم حِين لمع) الرمل

أما هُوَ حزبه من أهل الْكَلَام فَمَا ذكرهم إِلَّا ذمهم والتحذير مِنْهُم والتنفير من مجالستهم وَالْأَمر بمباينتهم وهجرانهم وَترك النّظر فِي كتبهمْ لَا يثبت لأحد مِنْهُم قدم فِي الْولَايَة وَلَا يقوم لَهُم فِي الصَّالِحين راية وَلَا يكون لأحد مِنْهُم كَرَامَة وَلَا يرَوْنَ رَبهم فِي الْآخِرَة وَلَا كرامه يكذبُون بكرامات الصَّالِحين وَيُنْكِرُونَ نعْمَة الله على عباده الْمُؤمنِينَ فهم فِي الدُّنْيَا ممقوتون وَفِي الْآخِرَة معذبون لَا يفلح مِنْهُم أحد وَلَا يوفق لاتباع رشد

قَالَ الإِمَام أَحْمد لَا يفلح صَاحب كَلَام أبدا وَلَا يرى أحد نظر فِي الْكَلَام إِلَّا فِي قلبه دغل

وَقَالَ الإِمَام الشَّافِعِي مَا ارتدى أحد بالْكلَام فأفلح

وَقَالَ حكمي فِي أهل الْكَلَام أَن يضْربُوا بِالْجَرِيدِ وَيُطَاف بهم فِي العشائر والقبائل وَيُقَال هَذَا جَزَاء من ترك الْكتاب وَالسّنة وَأخذ فِي الْكَلَام

وَقَالَ أَبُو يُوسُف من طلب الْعلم بالْكلَام تزندق

وَقَالَ أَبُو عمر بن عبد الْبر أجمع أهل الْفِقْه والْآثَار من جَمِيع أهل الْأَمْصَار أَن أهل
(যেমন সুফিয়ান সাওরির ভাই যিনি … মানুষকে তাকওয়ার গোপন রহস্যসমূহ শিখিয়েছেন)

(অথবা সুলায়মান আত-তাইমির ভাই যিনি … কিয়ামতের হুলুস্থুল পরিস্থিতির ভয়ে নিদ্রা ত্যাগ করেছিলেন)

(অথবা দুই হারামের ইমাম মালিক … তিনি সেই সমুদ্র যাকে নিঃশেষ করা যায় না)

(অথবা শামের ফকিহ আওযাঈ … যাঁর সাথে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী বিতর্ক করতে এলে তিনি তাকে পরাস্ত করতেন)

(অথবা ইসলামের যুবক অর্থাৎ আহমাদ … তিনি দ্বীনের এমন এক দুর্গ যা রক্ষা করা হলে তা নিরাপত্তা প্রদান করে)

(তিনি তাদের চাবুককে ভয় পাননি যখন তারা ভয় দেখিয়েছিল … না, এমনকি তাদের তরবারিকেও না যখন তা চমকে উঠেছিল) আর-রামল ছন্দ

আর তিনি ও তাঁর দল আহলুল কালাম সম্পর্কে যা উল্লেখ করেছেন তা তো কেবল তাদের নিন্দা করা, তাদের থেকে সতর্ক করা, তাদের মজলিস থেকে দূরে থাকার জন্য ঘৃণা সৃষ্টি করা এবং তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা ও সম্পর্ক ছিন্ন করার নির্দেশ দেওয়া এবং তাদের কিতাবগুলো দেখা বর্জন করার নির্দেশ। তাদের কারো জন্য বেলায়েতে (আল্লাহর বন্ধুত্বে) কোনো দৃঢ় পদচিহ্ন সাব্যস্ত হয়নি এবং সৎকর্মশীলদের মধ্যে তাদের কোনো নিশান উড্ডীন হয়নি। তাদের কারো জন্য কোনো কারামত নেই এবং তারা পরকালে তাদের প্রতিপালককে দেখতে পাবে না, আর তাদের জন্য কোনো সম্মানও নেই। তারা সৎকর্মশীলদের কারামতকে অস্বীকার করে এবং ঈমানদার বান্দাদের ওপর আল্লাহর নেয়ামতসমূহকে অস্বীকার করে। তারা দুনিয়াতে ঘৃণিত এবং আখেরাতে শাস্তিপ্রাপ্ত। তাদের কেউ সফল হবে না এবং সঠিক পথ অনুসরণের তাওফিকও পাবে না।

ইমাম আহমাদ বলেছেন: ইলমে কালামের অনুসারী কখনো সফল হবে না। আর যে ব্যক্তি ইলমে কালামের চর্চা করে তার অন্তরে বিভ্রান্তি ও কপটতা ছাড়া আর কিছুই দেখা যায় না।

ইমাম শাফেয়ী বলেছেন: যে ব্যক্তি ইলমে কালামকে নিজের ভূষণ বানিয়েছে সে সফল হয়নি।

তিনি আরও বলেছেন: আহলুল কালামের প্রতি আমার ফয়সালা হলো, তাদেরকে খেজুরের ডাল দিয়ে পেটানো হবে এবং বিভিন্ন গোত্র ও বংশের মধ্যে ঘুরানো হবে, আর বলা হবে: এটিই ওই ব্যক্তির প্রতিদান যে কিতাব ও সুন্নাহ বর্জন করে ইলমে কালাম গ্রহণ করেছে।

আবু ইউসুফ বলেছেন: যে ইলমে কালামের মাধ্যমে জ্ঞান অন্বেষণ করবে সে ধর্মত্যাগী (যিন্দিক) হয়ে যাবে।

আবু ওমর ইবনে আবদিল বার বলেছেন: সকল জনপদের ফকিহ ও আছার বা হাদিস বিশারদগণ একমত হয়েছেন যে, আহলুল...
(খণ্ড: ১) তাহরীমুন নাজার ফী কুতুবিল কালাম (পৃষ্ঠা: ৪২)
الْكَلَام أهل بدع وزيغ لَا يعدون عِنْد الْجَمِيع فِي طَبَقَات الْعلمَاء وَإِنَّمَا الْعلمَاء أهل الْأَثر والمتفقه فِيهِ

وَقَالَ أَحْمد بن إِسْحَاق الْمَالِكِي أهل الْأَهْوَاء والبدع عِنْد أَصْحَابنَا هم أهل الْكَلَام فَكل مُتَكَلم من أهل الْأَهْوَاء والبدع أشعريا كَانَ أَو غير أشعري لَا تقبل لَهُ شَهَادَة ويهجر ويؤدب على بدعته فَإِن تَمَادى عَلَيْهَا استتيب مِنْهَا

وذم أهل الْكَلَام كثير وَابْن عقيل من أهل الْكَلَام وَهُوَ فِي هَذِه الْحَالة ينصر مَذْهَبهم فَلذَلِك تكلمنا عَلَيْهِ وَذكرنَا عيوبه لدُخُوله فِي جُمْلَتهمْ ودعايته إِلَى طريقهم

‌‌فصل

 

وَأما قَوْله فَإِن الأحمق من اغْترَّ بأسلافه وَسكن إِلَى مقَالَة أشياخه آنسا بتقليدهم من غير بحث عَن مقالتهم فَهَذَا كَلَام مَسْمُوم رَدِيء يُشِير بِهِ إِلَى ذمّ اتِّبَاع طَريقَة السّلف الصَّالح رضي الله عنهم ويعيب مَا مدحه أَئِمَّتنَا رَحْمَة الله عَلَيْهِم وَمَا أوصونا بِهِ من لُزُوم طريقهم والاهتداء بهديهم وَيَدْعُو إِلَى مقَالَة أهل الْكَلَام وَالنَّظَر فِي المعقولات وَهُوَ علم الْكَلَام الَّذِي ذكرنَا عَن الْأَئِمَّة رَحْمَة الله عَلَيْهِم ذمه وإفضاءه بِصَاحِبِهِ إِلَى الزندقة والبدعة وَعدم الْفَلاح

وَقد ظهر برهَان قَوْلهم فِي ابْن عقيل فَإِنَّهُ حِين اشْتغل بِهِ وآثره على علم الْأَثر صَار زنديقا دَاعِيَة إِلَى ترك اتِّبَاع السّلف الْمُتَّفق على صوابهم الْمجمع على هدايتهم الَّذين أخبر الله تَعَالَى بِرِضَاهُ عَنْهُم واختياره لَهُم ومدحهم وَأثْنى عَلَيْهِم وحسبك بِمن مدحه الله تَعَالَى وَأثْنى عَلَيْهِ وَخبر من وصّى بهم النَّبِي صلى الله عليه وسلم وحث النَّاس على اتباعهم والاقتداء بهم

ثمَّ لم يزل أَئِمَّتنَا وعلماؤنا يحثوننا على التَّمَسُّك بهديهم وَالسير بسيرتهم فجَاء هَذَا الْمِسْكِين يحذرنا مِنْهُم وَيُرِيد منا أَن نسيء الظَّن بهم
কালাম শাস্ত্রের অনুসারীরা বিদআত ও বিভ্রান্তির লোক, সর্বসম্মতিক্রমে তারা ওলামাদের স্তরের অন্তর্ভুক্ত নন। বরং আলেম তো কেবল তারাই যারা আসারের (হাদিস ও আসার) অনুসারী এবং সে বিষয়ে ব্যুৎপত্তি লাভ করেছেন।

আহমদ ইবনে ইসহাক আল-মালিকী বলেছেন: আমাদের সাথীদের মতে প্রবৃত্তি পূজারী ও বিদআতিরা হলো কালাম শাস্ত্রবিদরা। সুতরাং প্রত্যেক কালাম শাস্ত্রবিদই প্রবৃত্তি পূজারী ও বিদআতি, সে আশআরী হোক বা অন্য কিছু; তার সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে না, তাকে বর্জন করা হবে এবং তার বিদআতের জন্য তাকে শাস্তি দেওয়া হবে। যদি সে এতে অবিচল থাকে, তবে তাকে তওবা করতে বলা হবে।

কালাম শাস্ত্রের অনুসারীদের নিন্দা অনেক বর্ণিত হয়েছে। ইবনে আকীল কালাম শাস্ত্রের অনুসারীদের একজন ছিলেন এবং তিনি এই অবস্থায় তাদের মাযহাবকে সাহায্য করতেন। এ কারণেই আমরা তার সমালোচনা করেছি এবং তার দোষ-ত্রুটি উল্লেখ করেছি, কারণ তিনি তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিলেন এবং তাদের পদ্ধতির দিকে দাওয়াত দিতেন।

‌‌পরিচ্ছেদ

 

আর তার এই কথা—"নিশ্চয়ই সে ব্যক্তি নির্বোধ যে তার পূর্বসূরিদের দ্বারা প্রতারিত হয়েছে এবং তাদের মতাদর্শ অনুসন্ধান না করেই কেবল তাদের তাকলিদে অভ্যস্ত হয়ে নিজ শিক্ষকদের কথায় আশ্বস্ত হয়েছে"—এটি একটি বিষাক্ত ও নিকৃষ্ট কথা। এর মাধ্যমে তিনি সালাফে সালেহীন (আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) এর পথ অনুসরণের নিন্দা করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। আমাদের ইমামগণ (আল্লাহ তাদের প্রতি রহমত বর্ষণ করুন) যা প্রশংসা করেছেন এবং তাদের পথ আঁকড়ে ধরার ও তাদের হেদায়েতের মাধ্যমে পথ চলার যে অসিয়ত করেছেন, তিনি সে বিষয়টিকে ত্রুটিপূর্ণ সাব্যস্ত করছেন। তিনি কালাম শাস্ত্রবিদদের কথা এবং যুক্তি-নির্ভর বিষয়গুলো নিয়ে গবেষণার দিকে আহ্বান জানাচ্ছেন; যা সেই কালাম শাস্ত্র, যার নিন্দা সম্পর্কে আমরা ইমামদের (আল্লাহ তাদের প্রতি রহমত বর্ষণ করুন) পক্ষ থেকে উল্লেখ করেছি যে এটি তার অনুসারীকে যিন্দিক হওয়া, বিদআত এবং ব্যর্থতার দিকে নিয়ে যায়।

ইবনে আকীলের ক্ষেত্রে তাদের কথার প্রমাণ সুস্পষ্ট হয়েছে। কারণ যখন তিনি এতে লিপ্ত হলেন এবং একে আসার (হাদিস) শাস্ত্রের ওপর প্রাধান্য দিলেন, তখন তিনি একজন যিন্দিক হয়ে গেলেন এবং সালাফদের অনুসরণ ত্যাগ করার দাওয়াত দিতে লাগলেন—যাদের সঠিক হওয়ার ব্যাপারে সকলে একমত এবং যাদের হেদায়েতপ্রাপ্ত হওয়ার ওপর ঐক্যমত হয়েছে; যাদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ তাঁর সন্তুষ্টির খবর দিয়েছেন, যাদের তিনি মনোনীত করেছেন, প্রশংসা করেছেন এবং গুণগান গেয়েছেন। মহান আল্লাহ যার প্রশংসা ও গুণগান করেছেন এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যাদের ব্যাপারে অসিয়ত করেছেন এবং মানুষকে তাদের অনুসরণ ও অনুকরণ করতে উৎসাহিত করেছেন, তাদের ব্যাপারে সংবাদই আপনার জন্য যথেষ্ট।

অতঃপর আমাদের ইমাম ও আলেমগণ সর্বদা আমাদেরকে তাদের হেদায়েতকে শক্তভাবে ধারণ করার এবং তাদের জীবনপদ্ধতি অনুযায়ী চলার উৎসাহ দিয়ে আসছেন। অথচ এই মিসকীন এসে আমাদের তাদের থেকে সতর্ক করছে এবং চাচ্ছে যে আমরা যেন তাদের ব্যাপারে কুধারণা পোষণ করি।
(খণ্ড: ১) তাহরীমুন নাজার ফী কুতুবিল কালাম (পৃষ্ঠা: ৪৩)
ونهجر طريقتهم ونصير إِلَى اتِّبَاع أهل الْكَلَام والاقتداء بهم وَهَذَا من أدل الْأَشْيَاء على ضلاله وقبح مقاله فَإِنَّهُ لَوْلَا مُخَالفَته لَهُم وسلوكه غير طريقتهم لما نفرنا مِنْهُم

على أَنه قد قَالَ فِي آخر هَذِه الْمقَالة فَالله الله الزموا طَريقَة السّلف الصَّالح فناقض كَلَامه هَذَا تسترا بعد أَن فَضَح نَفسه وكشف السّتْر عَنْهَا بذمه لقَولهم وتنفيره من اتباعهم ودعايته إِلَى مخالفتهم

ولسنا مِمَّن يقبل قَوْله فِي ذمّ من مدحه الله تَعَالَى وَرَسُوله صلى الله عليه وسلم وَالْأَئِمَّة وَلَا نهجر طَريقَة من أمرنَا بسلوكها لقَوْله

قَالَ الله تَعَالَى {وَالسَّابِقُونَ الْأَولونَ من الْمُهَاجِرين وَالْأَنْصَار وَالَّذين اتَّبَعُوهُمْ بِإِحْسَان رَضِي الله عَنْهُم وَرَضوا عَنهُ} وَقَالَ سبحانه وتعالى {مُحَمَّد رَسُول الله وَالَّذين مَعَه} الْآيَة

وَقَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم خير النَّاس قَرْني ثمَّ الَّذين يَلُونَهُمْ

وَقَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم لَا تسبوا أَصْحَابِي فَإِن أحدكُم لَو أنْفق مثل أحد ذَهَبا مَا بلغ مد أحدهم وَلَا نصيفه

وَقَالَ صلى الله عليه وسلم إِن الله اختارني وَاخْتَارَ أَصْحَابِي فَجعل لي مِنْهُم أصهارا وأنصارا

وَقَالَ صلى الله عليه وسلم عَلَيْكُم بِسنتي وَسنة الْخُلَفَاء الرَّاشِدين المهديين من بعدِي عضوا عَلَيْهَا بالنواجذ
এবং আমরা তাদের পথ বর্জন করব এবং ইলমুল কালামপন্থীদের অনুসরণ ও অনুকরণের দিকে ধাবিত হব। এটি তার পথভ্রষ্টতা এবং তার বক্তব্যের কদর্যতার অন্যতম শক্তিশালী প্রমাণ। কারণ, সে যদি তাদের বিরোধিতা না করত এবং তাদের পথ ছাড়া অন্য পথ অবলম্বন না করত, তবে আমরা তাদের থেকে বিমুখ হতাম না।

অথচ সে এই প্রবন্ধের শেষে বলেছে: 'আল্লাহর দোহাই, তোমরা সালাফে সালেহীনের পথ আঁকড়ে ধরো'। সে নিজেকে অপদস্থ করার পর এবং তাদের বক্তব্যের নিন্দা করার মাধ্যমে, তাদের অনুসরণ থেকে বিমুখ করার মাধ্যমে এবং তাদের বিরোধিতার প্রতি আহ্বান করার মাধ্যমে নিজের পর্দা উন্মোচন করার পর, আত্মগোপনের উদ্দেশ্যে এই কথার দ্বারা স্ববিরোধী অবস্থান নিয়েছে।

যাদের প্রশংসা আল্লাহ তাআলা, তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং ইমামগণ করেছেন, তাদের নিন্দায় আমরা কারও কথা গ্রহণ করার লোক নই। আর তার কথার কারণে আমরা এমন কারো পথ বর্জন করব না, যার পথে চলার জন্য আমাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা প্রথম অগ্রগামী এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসরণ করেছে, আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে।} এবং সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: {মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল এবং যারা তাঁর সাথে আছে...} আয়াত শেষ পর্যন্ত।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম হলো আমার যুগের লোক, অতঃপর যারা তাদের পরবর্তী হবে।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: তোমরা আমার সাহাবীদের গালি দিও না। কেননা তোমাদের কেউ যদি ওহুদ পাহাড় সমপরিমাণ স্বর্ণও ব্যয় করে, তবুও তাদের একজনের এক মুদ (অঞ্জলি) বা তার অর্ধেকের সমপরিমাণ সওয়াবে পৌঁছাবে না।

রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাকে মনোনীত করেছেন এবং আমার জন্য আমার সাহাবীদের মনোনীত করেছেন। অতঃপর তাদের মধ্য থেকে আমার জন্য বৈবাহিক আত্মীয় ও সাহায্যকারী নির্ধারণ করেছেন।

রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: তোমাদের জন্য অপরিহার্য হলো আমার সুন্নাহ এবং আমার পরবর্তী হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহ অনুসরণ করা। তোমরা একে মাড়ির দাঁত দিয়ে শক্ত করে কামড়ে ধরে থাকো।
(খণ্ড: ১) তাহরীমুন নাজার ফী কুতুবিল কালাম (পৃষ্ঠা: ৪৪)
وَقَالَ صلى الله عليه وسلم اقتدوا بالذين من بعدِي أَبُو بكر وَعمر وَقَالَ صلى الله عليه وسلم أَصْحَابِي كَالنُّجُومِ بِأَيِّهِمْ اقْتَدَيْتُمْ اهْتَدَيْتُمْ

وَقَالَ صلى الله عليه وسلم حِين ذكر الْفرق إِنَّهَا كلهَا فِي النَّار إِلَّا وَاحِدَة قيل من الْوَاحِدَة قَالَ مَا أَنا عَلَيْهِ وأصحابي

ويروى عَن ابْن مَسْعُود رضي الله عنه أَنه قَالَ إِن الله نظر فِي قُلُوب الْعباد فَوجدَ قلب مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم خير قُلُوب الْعباد فَبَعثه برسالته

ثمَّ نظر فِي قُلُوب الْعباد فَوجدَ قُلُوب أَصْحَابه خير قُلُوب الْعباد بعده فاختارهم لصحبة نبيه ونصرته صلى الله عليه وسلم وَلم يزل أَئِمَّتنَا يحثوننا على اتِّبَاع سبيلهم والاهتداء بهديهم

وَقَالَ ابْن مَسْعُود رضي الله عنه من كَانَ مِنْكُم متأسيا فليتأس بأصحاب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَإِنَّهُم كَانُوا أبر هَذِه الْأمة قلوبا وأعمقها علما وأقلها تكلفا وأقربها هَديا وأحسنها حَالا قوم اخْتَارَهُمْ الله لصحبة نبيه صلى الله عليه وسلم وَإِقَامَة دينه فاعرفوا لَهُم فَضلهمْ وَاتبعُوا آثَارهم فَإِنَّهُم كَانُوا على الْهدى الْمُسْتَقيم

وَرُوِيَ عَن الْحسن الْبَصْرِيّ رَحمَه الله تَعَالَى بعض هَذَا الْكَلَام أَو قريب مِنْهُ
এবং তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, "তোমরা আমার পরবর্তী দুই ব্যক্তির অনুসরণ করো—আবু বকর ও উমর।" এবং তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, "আমার সাহাবীগণ নক্ষত্রতুল্য, তাঁদের মধ্যে তোমরা যারই অনুসরণ করবে, হিদায়াত প্রাপ্ত হবে।"

এবং তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিভিন্ন দল বা ফিরকা সম্পর্কে আলোচনার সময় বলেছেন, "সেগুলোর সবই জাহান্নামে যাবে, কেবল একটি ব্যতীত।" জিজ্ঞাসা করা হলো, "সেই একটি দল কোনটি?" তিনি বললেন, "আমি ও আমার সাহাবীগণ যার ওপর প্রতিষ্ঠিত।"

ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেন, "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা বান্দাদের অন্তরের প্রতি দৃষ্টিপাত করেছেন এবং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অন্তরকে বান্দাদের সকল অন্তরের চেয়ে শ্রেষ্ঠ হিসেবে পেয়েছেন। অতঃপর তিনি তাঁকে তাঁর রিসালাত দিয়ে পাঠিয়েছেন।"

"অতঃপর তিনি (মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরে) বান্দাদের অন্তরের প্রতি পুনরায় দৃষ্টিপাত করেছেন এবং তাঁর সাহাবীদের অন্তরসমূহকে শ্রেষ্ঠ হিসেবে পেয়েছেন। তাই তিনি তাঁদেরকে তাঁর নবীর সাহচর্য ও তাঁর দ্বীনের সাহায্যের জন্য মনোনীত করেছেন।" আমাদের ইমামগণ নিরন্তর আমাদেরকে তাঁদের পথ অনুসরণ এবং তাঁদের হিদায়াতের মাধ্যমে পথ চলার ব্যাপারে উৎসাহিত করেছেন।

ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন, "তোমাদের মধ্যে যারা কারো আদর্শ গ্রহণ করতে চায়, তারা যেন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীদের আদর্শ গ্রহণ করে। কারণ তাঁরা ছিলেন এই উম্মতের মধ্যে সবচেয়ে পবিত্র হৃদয়ের অধিকারী, ইলমের দিক থেকে সবচেয়ে গভীর, কৃত্রিমতায় সবচেয়ে কম, হিদায়াতের দিক থেকে সবচেয়ে নিকটবর্তী এবং সামগ্রিক অবস্থার দিক থেকে সবচেয়ে উত্তম। তাঁরা এমন এক দল যাদেরকে আল্লাহ তাঁর নবীর সাহচর্য ও তাঁর দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য মনোনীত করেছেন। অতএব তোমরা তাঁদের মর্যাদা অনুধাবন করো এবং তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করো; কেননা তাঁরা সঠিক হিদায়াতের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন।"

হাসান বসরী (রাহিমাহুল্লাহ) থেকেও এই বক্তব্যের কিছু অংশ অথবা এর অনুরূপ কথা বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) তাহরীমুন নাজার ফী কুতুবিল কালাম (পৃষ্ঠা: ৪৫)
وَقَالَ ابْن مَسْعُود رضي الله عنه اتبعُوا وَلَا تبتدعوا فقد كفيتم

وَقَالَ رضي الله عنه إِنَّا نقتدي وَلَا نبتدي وَنَتبع وَلَا نبتدع وَلنْ نضل مَا تمسكنا بالأثر

وَقَالَ رضي الله عنه أَنا لغير الدَّجَّال أخوف عَلَيْكُم من الدَّجَّال أُمُور تكون من كبرائكم فأيما مرية أَو رجيل أدْرك ذَلِك الزَّمَان فالسمت الأول فَأَنا الْيَوْم على السّنة

وَقَالَ حُذَيْفَة بن الْيَمَان يَا معشر الْقُرَّاء خُذُوا طَرِيق من قبلكُمْ فوَاللَّه لَئِن اسْتَقَمْتُمْ لقد سبقتم سبقا بَعيدا وَلَئِن تَرَكْتُمُوهُ يَمِينا وَشمَالًا لقد ضللتم ضلالا بَعيدا

وَقَالَ الإِمَام أَحْمد رضي الله عنه أصُول السّنة عندنَا التَّمَسُّك بِمَا كَانَ عَلَيْهِ أَصْحَاب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم والاقتداء بهم وَترك الْبدع وكل بِدعَة ضَلَالَة

وَرُوِيَ عَن عمر بن عبد الْعَزِيز رضي الله عنه كَلَام مَعْنَاهُ قف حَيْثُ وقف الْقَوْم فَإِنَّهُم عَن علم وقفُوا وببصر ناقد قد كفوا وَإِنَّهُم على كشفها كَانُوا أقوى وبالفضل لَو كَانَ فِيهَا أَحْرَى فلئن قُلْتُمْ حدث بعدهمْ فَمَا أحدثه إِلَّا من سلك غير سبيلهم وَرغب بِنَفسِهِ عَنْهُم وَلَقَد تكلمُوا مِنْهُ بِمَا يَكْفِي ووصفوا مِنْهُ مَا يشفي فَمَا دونهم مقصر وَمَا فَوْقهم مجسر لقد قصر عَنْهُم
ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন, তোমরা অনুসরণ করো এবং বিদআত করো না, কেননা তোমাদের জন্য (সুন্নাহই) যথেষ্ট।

তিনি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আরও বলেছেন, নিশ্চয়ই আমরা ইত্তিবা করি, নব-উদ্ভাবন করি না; আমরা অনুসরণ করি এবং বিদআত করি না; আর আমরা যতক্ষণ পর্যন্ত আছর (সাহাবীদের আদর্শ) আঁকড়ে থাকব, ততক্ষণ পর্যন্ত পথভ্রষ্ট হব না।

তিনি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আরও বলেছেন, আমি তোমাদের জন্য দাজ্জাল অপেক্ষা দাজ্জাল ভিন্ন অন্য বিষয়ে অধিক আশঙ্কিত; আর তা হলো তোমাদের বড়দের (নেতা বা আলেমদের) পক্ষ থেকে উদ্ভূত নানাবিধ বিষয়। সুতরাং যে কোনো নারী বা পুরুষ সেই সময়ের দেখা পাবে, সে যেন পূর্ববর্তীদের পথ অবলম্বন করে; কেননা আমি আজ সুন্নাহর ওপর রয়েছি।

হুযায়ফা ইবনুল ইয়ামান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন, হে কারী সমাজ! তোমরা তোমাদের পূর্ববর্তীদের পথ অবলম্বন করো। আল্লাহর কসম! তোমরা যদি সোজা পথে অবিচল থাকো, তবে তোমরা অনেক অগ্রগামী হবে। আর যদি তোমরা তা বর্জন করে ডানে-বামে চলে যাও, তবে তোমরা ঘোর বিভ্রান্তিতে পতিত হবে।

ইমাম আহমাদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন, আমাদের নিকট সুন্নাহর মূলনীতি হলো—রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীগণ যে বিষয়ের ওপর ছিলেন তা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা, তাঁদের অনুসরণ করা এবং বিদআত বর্জন করা; আর প্রতিটি বিদআতই পথভ্রষ্টতা।

উমর বিন আব্দুল আজিজ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে এমন কথা বর্ণিত হয়েছে যার অর্থ হলো—সেখানেই থেমে যাও যেখানে কওম (সাহাবীগণ) থেমেছেন। কেননা তাঁরা জেনেশুনেই থেমেছিলেন এবং গভীর দূরদর্শিতার সাথেই তাঁরা বিরত হয়েছিলেন। তাঁরা বিষয়টি উন্মোচনে অধিক শক্তিশালী ছিলেন এবং এতে যদি কোনো শ্রেষ্ঠত্ব থাকত তবে তাঁরাই তা অর্জনে অধিক উপযুক্ত ছিলেন। যদি তোমরা বলো যে তাঁদের পরে নতুন কিছু উদ্ভাবিত হয়েছে, তবে তা কেবল তারাই উদ্ভাবন করেছে যারা তাঁদের পথ ব্যতীত অন্য পথ অবলম্বন করেছে এবং তাঁদের থেকে বিমুখ হয়েছে। অথচ তাঁরা এ বিষয়ে যা যথেষ্ট তা বলে গেছেন এবং আরোগ্যদায়ক বর্ণনা দিয়েছেন। তাঁদের নিচে অবস্থান করা হলো ত্রুটিপূর্ণ আর তাঁদের ঊর্ধ্বে যাওয়া হলো ধৃষ্টতা। নিশ্চয়ই একদল লোক তাঁদের চেয়ে পিছিয়ে থাকার কারণে ত্রুটি করেছে।
(খণ্ড: ১) তাহরীমুন নাজার ফী কুতুবিল কালাম (পৃষ্ঠা: ৪৬)
قوم فجفوا وطمح آخَرُونَ عَنْهُم فغلوا وَإِنَّهُم فِيمَا بَين ذَلِك لعلى هدى مُسْتَقِيم

وَقَالَ الْأَوْزَاعِيّ إِمَام أهل الشَّام رَحمَه الله تَعَالَى أَصْبِر نَفسك على السّنة وقف حَيْثُ وقف الْقَوْم واسلك سَبِيل سلفك الصَّالح فَإِنَّهُ يسعك مَا وسعهم وَقل بِمَا قَالُوا وكف عَمَّا كفوا وَلَو كَانَ هَذَا خيرا مَا خصصتم بِهِ دون أسلافكم فَإِنَّهُ لم يدّخر عَنْهُم خير خبئ لكم دونهم لفضل عنْدكُمْ وهم أَصْحَاب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم اخْتَارَهُمْ الله تَعَالَى وَبَعثه فيهم ووصفهم فَقَالَ {مُحَمَّد رَسُول الله وَالَّذين مَعَه أشداء على الْكفَّار رحماء بَينهم} الْآيَة

وَسَأَلَ رجل الْحسن بن زِيَاد اللؤْلُؤِي عَن زفر بن الْهُذيْل أَكَانَ ينظر فِي الْكَلَام فَقَالَ سُبْحَانَ الله مَا أحمقك مَا أدْركْت مشيختنا زفر وَأَبا يُوسُف وَأَبا حنيفَة وَمن جالسنا وأخذنا عَنْهُم يهمهم غير الْفِقْه والاقتداء بِمن تقدمهم

فَهَؤُلَاءِ الْأَئِمَّة وَهَذَا قَوْلهم يحثوننا على اتِّبَاع سلفنا والاقتداء بهم

أفترانا نَتْرُك قَول الله سبحانه وتعالى وَقَول رَسُوله صلى الله عليه وسلم وَوَصِيَّة أَئِمَّتنَا فِي ترك اتِّبَاع سلفنا ونقبل قَول ابْن عقيل فِي قَوْله دعوا الِاقْتِدَاء بهم وقلدوني
একদল লোক যারা বিমুখ হয়েছে এবং অন্য একদল যারা তাদের থেকে অগ্রগামী হয়ে সীমা লঙ্ঘন করেছে, আর তারা এর মধ্যবর্তী অবস্থানে সঠিক পথের ওপর রয়েছে।

সিরিয়াবাসীদের ইমাম আল-আওযাঈ (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেছেন: নিজেকে সুন্নাহর ওপর অবিচল রাখো এবং সেই সম্প্রদায় যেখানে থেমেছেন তুমিও সেখানে থামো। তোমার নেককার পূর্বসূরিদের (সালাফ আস-সালেহীন) পথ অনুসরণ করো, কারণ তাদের জন্য যা যথেষ্ট ছিল তা তোমার জন্য যথেষ্ট হবে। তারা যা বলেছে তুমিও তা-ই বলো এবং তারা যা থেকে বিরত থেকেছে তুমিও তা থেকে বিরত থাকো। যদি এতে কোনো কল্যাণ থাকত, তবে তোমাদের পূর্বসূরিদের বাদ দিয়ে তোমাদের জন্য তা নির্দিষ্ট করা হতো না। তোমাদের কোনো বিশেষ শ্রেষ্ঠত্বের কারণে তাদের থেকে কোনো কল্যাণ গোপন রেখে তোমাদের জন্য জমা করে রাখা হয়নি। তারা ছিলেন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবী। আল্লাহ তাআলা তাঁদের মনোনীত করেছেন এবং তাঁদের মাঝে রাসূল পাঠিয়েছেন এবং তাঁদের প্রশংসা করে বলেছেন: "মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল এবং যারা তাঁর সাথে আছে তারা কাফিরদের প্রতি অত্যন্ত কঠোর এবং নিজেদের মধ্যে অত্যন্ত দয়ালু" (আয়াতের শেষ পর্যন্ত)।

এক ব্যক্তি হাসান ইবনে যিয়াদ আল-লুলুয়ীকে যুফার ইবনুল হুযাইল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন যে, তিনি কি ইলমুল কালাম বা বিতর্কশাস্ত্র নিয়ে চর্চা করতেন? তিনি বললেন: "সুবহানাল্লাহ! তুমি কতই না নির্বোধ! আমি আমাদের শায়খ যুফার, আবু ইউসুফ, আবু হানিফা এবং যাদের সাথে আমরা বসেছি ও যাদের থেকে ইলম গ্রহণ করেছি, তাঁদের কাউকে ফিকহ এবং তাঁদের পূর্বসূরিদের অনুসরণের বাইরে অন্য কোনো বিষয় নিয়ে চিন্তিত হতে দেখিনি।"

এঁরাই হলেন ইমাম এবং এই হলো তাঁদের বক্তব্য; তাঁরা আমাদের পূর্বসূরিদের অনুসরণ ও অনুকরণের ব্যাপারে উৎসাহিত করছেন।

তুমি কি মনে করো আমরা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার বাণী, তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী এবং আমাদের ইমামদের অসিয়ত ছেড়ে দিয়ে আমাদের পূর্বসূরিদের অনুসরণ ত্যাগ করব, আর ইবন আকীলের কথা গ্রহণ করব যেখানে তিনি বলেছেন— "তাদের অনুসরণ করা ছেড়ে দাও এবং আমার অন্ধ অনুসরণ করো"?
(খণ্ড: ১) তাহরীমুন নাজার ফী কুতুবিল কালাম (পৃষ্ঠা: ৪৭)
وَاتبعُوا قولي وَقَول أمثالي من الْمُتَكَلِّمين

ولسان حَاله يَقُول أَنا الْكثير الزلات أَنا الْمَعْرُوف بالبدع والضلالات أَنا الْكثير العثار أَنا الْجَاهِل بالآثار أَنا الْمُخْتَار علم الْكَلَام المذموم على علم نَبينَا الْمُخْتَار فَاتبعُوني ودعوا اتِّبَاعه فَإِنَّهُ يدعوكم إِلَى النجَاة وَأَنا أدعوكم إِلَى النَّار

ثمَّ لَا خلاف بَيْننَا أَن الْإِجْمَاع حجَّة قَاطِعَة فَإِذا اجْتمعت الصَّحَابَة رضي الله عنهم على أَمر ثمَّ اتبعهم عَلَيْهِ أَئِمَّة التَّابِعين واقتدى بهم من بعدهمْ من الْأَئِمَّة فِي كل عصر وزمان وحث بَعضهم بَعْضًا على التَّمَسُّك بِهِ وحذروا أَصْحَابهم من مُخَالفَته فَكيف يُقَال لمتبع ذَلِك أَحمَق مغتر إِنَّمَا الأحمق المغتر الْمُخطئ المبتدع هُوَ الْمُخَالف لذَلِك الرَّاغِب عَنهُ

قَالَ الله تَعَالَى {وَمن يُشَاقق الرَّسُول من بعد مَا تبين لَهُ الْهدى وَيتبع غير سَبِيل الْمُؤمنِينَ نوله مَا تولى ونصله جَهَنَّم وَسَاءَتْ مصيرا}

فَإِن قَالَ إِنَّمَا أمرْتُم بِالِاجْتِهَادِ والمصير إِلَى مَا دلّ عَلَيْهِ الدَّلِيل ونهيتم عَن التَّقْلِيد المذموم قُلْنَا الْجَواب عَن هَذَا من أوجه أَحدهَا أَن طَرِيق
এবং তোমরা আমার কথা এবং আমার মতো কালামশাস্ত্রবিদদের কথা অনুসরণ করো।

অথচ তার অবস্থার জবান বলছে: আমি অনেক পদস্খলনের অধিকারী, আমি বিদআত ও গোমরাহির জন্য সুপরিচিত, আমি অনেক হোঁচট খাওয়া লোক, আমি আসার (পূর্বসূরিদের বর্ণনা) সম্পর্কে অজ্ঞ, আমি আমাদের মনোনীত নবীর ইলমের উপরে নিন্দিত ইলমুল কালামকে বেছে নিয়েছি। সুতরাং তোমরা আমাকে অনুসরণ করো এবং তাঁর অনুসরণ ছেড়ে দাও; কেননা তিনি তোমাদেরকে নাজাতের দিকে ডাকছেন আর আমি তোমাদেরকে আগুনের দিকে ডাকছি।

অতঃপর আমাদের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই যে, ইজমা একটি চূড়ান্ত দলিল। সুতরাং যখন সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) কোনো বিষয়ের ওপর একমত হয়েছেন, অতঃপর তাবেঈ ইমামগণ তাঁদের অনুসরণ করেছেন এবং পরবর্তী যুগের ইমামগণও সকল যুগে ও সময়ে তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন, এবং একে অপরকে তা আঁকড়ে ধরার ব্যাপারে উৎসাহিত করেছেন ও তাঁদের অনুসারীদেরকে এর বিরোধিতা করা থেকে সতর্ক করেছেন, তবে কীভাবে সেই ব্যক্তির অনুসরণকারীকে নির্বোধ ও প্রতারিত বলা যায়? বরং প্রকৃত নির্বোধ, প্রতারিত, ভ্রান্ত ও বিদআতি হলো সেই ব্যক্তি, যে এর বিরোধিতা করে এবং তা থেকে বিমুখ থাকে।

আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর যে ব্যক্তি তার কাছে হেদায়েত স্পষ্ট হওয়ার পর রাসুলের বিরোধিতা করে এবং মুমিনদের পথ ছাড়া অন্য পথ অনুসরণ করে, আমি তাকে সে পথেই ছেড়ে দেব যা সে বেছে নিয়েছে এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করব, আর তা কতই না নিকৃষ্ট আবাস।}

যদি সে বলে: তোমাদেরকে তো কেবল ইজতিহাদ করার এবং দলিলের নির্দেশিত বিষয়ের দিকে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আর তোমাদেরকে নিন্দিত তাকলীদ থেকে নিষেধ করা হয়েছে; তবে এর উত্তরে আমরা বলব, এর জবাব কয়েকটি দিক থেকে দেওয়া যায়, যার প্রথমটি হলো যে পথ
(খণ্ড: ১) তাহরীমুন নাজার ফী কুতুবিল কালাম (পৃষ্ঠা: ৪৮)
السّلف قد ثَبت بِالدَّلِيلِ الْقَاطِع سَلَامَته وَصِحَّة حجَّته من الْكتاب وَالسّنة وَالْإِجْمَاع فَلَا حَاجَة إِلَى الْكَشْف عَن صِحَّته بِدَلِيل آخر

الثَّانِي أَن فِي هَذَا القَوْل إلزاما للعامة بِالِاجْتِهَادِ فِي دقائق الْأُمُور والاعتقادات وَهَذَا خطأ من وُجُوه

أَحدهَا أَن فِيهِ تخطئة رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَإِن النَّبِي صلى الله عليه وسلم لم يَأْمر أحدا من أمته بِعلم الْكَلَام وَالنَّظَر فِي أَدِلَّة الْعُقُول ليعرف بِهِ صِحَة معتقده بل قنع مِنْهُم بِمُجَرَّد الْإِسْلَام

وَقَالَ صلى الله عليه وسلم أمرت أَن أقَاتل النَّاس حَتَّى يَقُولُوا لَا إِلَه إِلَّا الله فَإِذا قالوها عصموا مني دِمَاءَهُمْ وَأَمْوَالهمْ إِلَّا بِحَقِّهَا وحسابهم على الله عز وجل أفترى بِكَوْن النَّبِي صلى الله عليه وسلم مخطئا فِي قبُول ذَلِك مِنْهُم وقناعته بِمُجَرَّد إسْلَامهمْ من أَن يتعلموا علم الْكَلَام وينظروا فِي الْعرض والجوهر والجسم وَيكون المتكلمون هم المصيبون فِي خطأ من لم يتَعَلَّم ذَلِك وَلم ينظر فِيهِ فَإِن كَانَ هَذَا هَكَذَا فَلْيَدعُوا لأَنْفُسِهِمْ شَرِيعَة ودينا غير دين الْإِسْلَام ويدعوا دين مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم

الثَّانِي أَن تَكْلِيف الْعَامَّة الِاجْتِهَاد تَكْلِيف مَا لَا يُطَاق

فَإِنَّهُم لَو اشتغلوا بِعلم مَا يصيرون بِهِ مجتهدين لانقطعوا عَن المعايش والحراثة والزراعة وَخَربَتْ الدُّنْيَا وَهلك الْخلق وَانْقطع النَّسْل وَترك الْجِهَاد وَخَربَتْ الدُّنْيَا وَلَا سَبِيل إِلَى هَذَا وَقد قَالَ الله تَعَالَى {لَا يُكَلف الله نفسا إِلَّا وسعهَا}
কিতাব, সুন্নাহ এবং ইজমা থেকে অকাট্য প্রমাণের মাধ্যমে সালাফদের বিশুদ্ধতা এবং তাদের দলিলের সঠিকতা প্রমাণিত হয়েছে, তাই অন্য কোনো প্রমাণের মাধ্যমে এর বিশুদ্ধতা অন্বেষণ করার প্রয়োজন নেই।

দ্বিতীয়ত, এই বক্তব্যের মধ্যে সাধারণ মানুষকে জটিল বিষয়াবলি এবং আকিদাহর সূক্ষ্ম বিষয়গুলোতে ইজতিহাদ করতে বাধ্য করার অবকাশ রয়েছে, আর এটি কয়েকটি কারণে ভুল।

তার মধ্যে একটি হলো, এতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ভুল সাব্যস্ত করা হয়; কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মতের কাউকে ইলমুল কালাম (তত্ত্ববিদ্যা) শিখতে এবং যুক্তিনির্ভর প্রমাণের প্রতি দৃষ্টিপাত করতে নির্দেশ দেননি যাতে তারা এর মাধ্যমে তাদের বিশ্বাসের সঠিকতা জানতে পারে; বরং তিনি তাদের থেকে কেবল ইসলাম গ্রহণেই সন্তুষ্ট ছিলেন।

এবং তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমি মানুষের সাথে লড়াই করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। যখন তারা তা বলবে, তখন তারা আমার থেকে তাদের রক্ত ও সম্পদ নিরাপদ করে নিল—হক বা ন্যায্য কারণ ব্যতীত—আর তাদের হিসাব মহান আল্লাহর জিম্মায়।" আপনি কি মনে করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের থেকে এটি গ্রহণ করে এবং তাদের ইলমুল কালাম না শিখিয়ে ও 'আরদ' (আকস্মিক গুণ), 'জাওহার' (মৌলিক সত্তা) ও 'জিসম' (দেহ) নিয়ে গবেষণা না করানো সত্ত্বেও কেবল তাদের ইসলাম গ্রহণের উপর সন্তুষ্ট থেকে ভুল করেছিলেন? আর মুতাকাল্লিমুনরাই (কালাম শাস্ত্রবিদ) কি সেই ব্যক্তির ভুল ধরার ক্ষেত্রে সঠিক যারা এগুলো শেখেনি বা এতে দৃষ্টিপাত করেনি? যদি বিষয়টি এমনই হয়, তবে তারা নিজেদের জন্য ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো শরিয়ত ও দ্বীন দাবি করুক এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দ্বীন ছেড়ে দিক।

দ্বিতীয়ত, সাধারণ মানুষকে ইজতিহাদের দায়িত্ব প্রদান করা তাদের সাধ্যাতীত বিষয়ের দায়িত্ব দেওয়ার শামিল।

কেননা তারা যদি এমন জ্ঞান অর্জনে লিপ্ত হয় যার মাধ্যমে তারা মুজতাহিদ হতে পারবে, তবে তারা জীবন-জীবিকা, হালচাষ এবং কৃষিকাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। ফলে পৃথিবী বিরান হয়ে যাবে, সৃষ্টিজগত ধ্বংস হবে, বংশধারা বিচ্ছিন্ন হবে, জিহাদ পরিত্যক্ত হবে এবং দুনিয়া ধ্বংস হয়ে যাবে। আর এর কোনো পথ নেই। অথচ মহান আল্লাহ বলেছেন: "আল্লাহ কোনো প্রাণের ওপর তার সাধ্যাতীত বোঝা চাপিয়ে দেন না।"
(খণ্ড: ১) তাহরীমুন নাজার ফী কুতুবিল কালাম (পৃষ্ঠা: ৪৯)
الثَّالِث أَن الْإِجْمَاع مُنْعَقد على أَن الْعَامَّة لَا يكلفون الِاجْتِهَاد فِي أحكامهم وَأَن لَهُم تَقْلِيد الْعلمَاء فِي أُمُورهم وَكَذَلِكَ أَمرهم الله تَعَالَى بسؤال عُلَمَائهمْ فَقَالَ {فاسألوا أهل الذّكر إِن كُنْتُم لَا تعلمُونَ}

الرَّابِع أَن فِي القَوْل بِوُجُوب الِاجْتِهَاد على الْكل حكما على عَامَّة الْخلق بالضلال لتضييعهم الْوَاجِب عَلَيْهِم

وَإِنَّمَا الَّذِي قيل إِنَّه لَا يجوز لَهُم التَّقْلِيد هُوَ الْأَمر الظَّاهِر الَّذِي قد علموه لظُهُوره من غير احْتِيَاج إِلَى تَعب وَلَا فكر وَلَا نظر كتوحيد الله سبحانه وتعالى ورسالة مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم وَمَعْرِفَة وجوب الصَّلَوَات الْخمس وَصَوْم رَمَضَان وَسَائِر الْأَركان الَّتِي اشْتهر وُجُوبهَا وَعلم ذَلِك بِالْإِجْمَاع عَلَيْهَا فَلَا يحْتَاج فِيهِ إِلَى بحث وَلَا نظر فَهَذَا لَا يجوز تقليدهم فِيهِ

وَأما دقائق الاعتقادات وتفاصيل أَحْكَام الْعِبَادَات والبياعات فَمَا يَقُول بِوُجُوب اجتهادهم فِيهَا إِلَّا جَاهِل وَهُوَ بَاطِل بِمَا ذَكرْنَاهُ

ثمَّ إِن اغْترَّ مغتر بقول ابْن عقيل هَذَا وَلم يقنع بِاتِّبَاع سلفه وَلَا رَضِي بِاتِّبَاع أئمته وَلم يجوز تقليدهم فِي مثل السُّكُوت عَن تَأْوِيل الصِّفَات الَّتِي وَقع الْكَلَام فِيهَا فَكيف يصنع فَهَل لَهُ سَبِيل إِلَى معرفَة الصَّحِيح من ذَلِك بِاجْتِهَاد نَفسه وَنظر عقله وَمَتى يَنْتَهِي إِلَى حد يُمكنهُ التَّمْيِيز بَين صَحِيح الدَّلِيل وفاسده فَهَذَا ابْن عقيل الَّذِي زعم أَنه استفرغ وَسعه فِي علم الْكَلَام مَعَ الذكاء والفطنة فِي طول زَمَانه مَا أَفْلح وَلَا وفْق لرشد بل أفْضى أمره إِلَى ارْتِكَاب الْبدع المضلات وَالْخَطَأ الْقَبِيح ومفارقة الصَّوَاب حَتَّى استتيب من مقَالَته وَأقر على نَفسه ببدعته وضلالته

فَأَنت أَيهَا المغتر بقوله هَذَا مَتى تبلغ إِلَى دَرَجَته فَإِذا بلغتهَا فَمَا الَّذِي أعْجبك من حَالَته حَتَّى تقتدي بِهِ وَقد ذكرنَا مَا قَالَه الْأَئِمَّة فِي ذمّ الْكَلَام وَأَهله ونسأل الله السَّلامَة

الْوَجْه الْخَامِس إننا إِذا نَظرنَا فِي الدَّلِيل وَجَدْنَاهُ يقْضِي خلاف مَا دَعَا
তৃতীয়ত, এ বিষয়ে ইজমা বা ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত যে, সাধারণ জনগণকে তাদের বিধিবিধানের ক্ষেত্রে ইজতিহাদ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়নি, বরং তাদের জন্য নিজেদের বিষয়ে আলেমদের তাকলিদ করা বৈধ। অনুরূপভাবে আল্লাহ তাআলা তাদের আলেমদের জিজ্ঞাসা করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, "তোমরা যদি না জানো, তবে জ্ঞানীদের জিজ্ঞাসা করো।"

চতুর্থত, সকলের ওপর ইজতিহাদ ওয়াজিব হওয়ার কথা বলার অর্থ হলো সাধারণ সৃষ্টির ওপর গোমরাহি বা পথভ্রষ্টতার হুকুম দেওয়া; কারণ তারা তাদের ওপর অর্পিত ওয়াজিবকে নষ্ট করেছে।

তবে যে বিষয়ে বলা হয়েছে যে তাদের জন্য তাকলিদ জায়েজ নেই, তা হলো সেই সব সুস্পষ্ট বিষয় যা কোনো পরিশ্রম, চিন্তা বা গবেষণা ছাড়াই তাদের কাছে সুস্পষ্ট; যেমন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার তাওহিদ, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর রিসালাত, পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের আবশ্যকতা জানা, রমজানের রোজা এবং অন্যান্য রুকনসমূহ যার আবশ্যকতা প্রসিদ্ধ এবং ইজমার মাধ্যমে তা জানা গেছে। সুতরাং এতে কোনো অনুসন্ধান বা গবেষণার প্রয়োজন নেই; আর এসব বিষয়ে তাদের জন্য তাকলিদ করা জায়েজ নয়।

আর আকিদাহর সূক্ষ্ম বিষয়াবলী এবং ইবাদত ও ক্রয়-বিক্রয়ের বিধিবিধানের বিস্তারিত মাসআলার ক্ষেত্রে কেবল একজন মূর্খ ব্যক্তিই তাদের ওপর ইজতিহাদ ওয়াজিব হওয়ার কথা বলতে পারে। আমরা যা উল্লেখ করেছি তার ভিত্তিতে এটি বাতিল।

এরপর যদি কোনো প্রতারিত ব্যক্তি ইবনে আকিলের এই কথায় বিভ্রান্ত হয় এবং তার সালাফদের অনুসরণ করে তুষ্ট না হয়, কিংবা তার ইমামদের অনুকরণে সন্তুষ্ট না থাকে এবং যে সিফাত বা গুণাবলী নিয়ে আলোচনা হয়েছে সেগুলোর তাবিল বা ব্যাখ্যা থেকে বিরত থাকার মতো বিষয়ে তাদের তাকলিদ করাকে বৈধ মনে না করে, তবে সে কী করবে? তার কি নিজের ইজতিহাদ এবং বুদ্ধিবৃত্তিক বিবেচনার মাধ্যমে সেগুলোর সঠিক জ্ঞান লাভ করার কোনো পথ আছে? সে কখন এমন পর্যায়ে পৌঁছাবে যেখানে সে সঠিক ও ভুল দলিলের মধ্যে পার্থক্য করতে সক্ষম হবে? এই যে ইবনে আকিল, যিনি দাবি করেছিলেন যে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে প্রখর মেধা ও বিচক্ষণতা নিয়ে ইলমুল কালামে তার সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছেন, তিনি সফল হতে পারেননি এবং সঠিক পথের দিশাও পাননি। বরং তার পরিণতি তাকে পথভ্রষ্ট বিদআত ও জঘন্য ভুল এবং সত্য পরিত্যাগের দিকে নিয়ে গেছে, এমনকি শেষ পর্যন্ত তাকে তার বক্তব্য থেকে তওবা করানো হয়েছিল এবং তিনি নিজের বিদআত ও পথভ্রষ্টতার কথা স্বীকার করেছিলেন।

সুতরাং হে তার কথায় প্রতারিত ব্যক্তি! তুমি কখন তার স্তরে পৌঁছাবে? আর যদি তুমি সেই স্তরে পৌঁছাও, তবে তার অবস্থার কোন বিষয়টি তোমাকে বিমোহিত করল যে তুমি তার অনুসরণ করবে? ইলমুল কালাম এবং কালামপন্থীদের নিন্দায় ইমামগণ যা বলেছেন তা আমরা উল্লেখ করেছি; আর আমরা আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা প্রার্থনা করি।

পঞ্চম দিক: আমরা যদি দলিলের দিকে তাকাই, তবে দেখতে পাই যে তা তিনি যেদিকে আহ্বান করেছেন তার বিপরীত ফয়সালা দেয়।
(খণ্ড: ১) তাহরীমুন নাজার ফী কুতুবিল কালাম (পৃষ্ঠা: ৫০)
إِلَيْهِ ابْن عقيل من الْإِيمَان بِالْآيَاتِ وأخبار الصِّفَات مَعَ الْإِقْرَار وَالتَّسْلِيم وَترك التَّأْوِيل والتعطيل والتشبيه والتمثيل على مَا هُوَ مَذْهَب السّلف الصَّالح وَالْأَئِمَّة المرضيين رَحْمَة الله عَلَيْهِم أَجْمَعِينَ

وَبَيَان ذَلِك من وُجُوه تِسْعَة

أَحدهَا قَول الله سبحانه وتعالى {هُوَ الَّذِي أنزل عَلَيْك الْكتاب مِنْهُ آيَات محكمات هن أم الْكتاب وَأخر متشابهات فَأَما الَّذين فِي قُلُوبهم زيغ فيتبعون مَا تشابه مِنْهُ ابْتِغَاء الْفِتْنَة وابتغاء تَأْوِيله} فذم مُتبع التَّأْوِيل وقرنه بمبتغي الْفِتْنَة فِي الذَّم وَجعل ابتغاءه لذَلِك عَلامَة على الزيغ فَدلَّ ذَلِك على أَن ابتغاءه غير جَائِز

ثمَّ قطعهم عَمَّا أَملوهُ وحجبهم عَن بُلُوغ مَا ابتغوه بقوله سبحانه وتعالى {وَمَا يعلم تَأْوِيله إِلَّا الله}

ثمَّ قَالَ سبحانه وتعالى {والراسخون فِي الْعلم يَقُولُونَ آمنا بِهِ كل من عِنْد رَبنَا وَمَا يذكر إِلَّا أولُوا الْأَلْبَاب}

ثمَّ سَأَلُوا رَبهم أَن لَا يجعلهم مثل متبعي التَّأْوِيل الزائغين فَقَالُوا {رَبنَا لَا تزغ قُلُوبنَا بعد إِذْ هديتنا}

الْوَجْه الثَّانِي أَنه لَو كَانَ تَأْوِيل ذَلِك وَاجِبا لبينه النَّبِي صلى الله عليه وسلم لأمته فَإِنَّهُ لَا يجوز تَأْخِير الْبَيَان عَن وقته وَلِأَنَّهُ لَو وَجب علينا التَّأْوِيل لوَجَبَ عَلَيْهِ صلى الله عليه وسلم فَإِنَّهُ صلى الله عليه وسلم مسَاوٍ لنا فِي الْأَحْكَام وَلَو وَجب عَلَيْهِ لما أخل بِهِ وَلِأَنَّهُ صلى الله عليه وسلم حَرِيص على أمته لم يكتم عَنْهُم شَيْئا أمره الله بِهِ

وَقد قَالَ الله تَعَالَى {يَا أَيهَا الرَّسُول بلغ مَا أنزل إِلَيْك من رَبك وَإِن لم تفعل فَمَا بلغت رسَالَته}

الْوَجْه الثَّالِث أَنه قد ثَبت أَن مَذْهَب السّلف رضي الله عنهم وَمن بعدهمْ من الْأَئِمَّة فِي هَذِه الْآيَات الْإِقْرَار والإمرار والرضاء وَالتَّسْلِيم من غير تَأْوِيل وَلَا تَعْطِيل وَقد بَينا بِالدَّلِيلِ أَن مَذْهَبهم الْحق وَأَنَّهُمْ على الْهدى الْمُسْتَقيم فَلَا يجوز مُخَالفَة سبيلهم وَلَا الْعُدُول عَن طريقهم
ইবনে আকীল আয়াতসমূহ এবং সিফাত (গুণাবলি) সম্পর্কিত সংবাদসমূহের প্রতি ঈমান আনার বিষয়ে যে মত পোষণ করেছেন, যার সাথে রয়েছে স্বীকৃতি ও আত্মসমর্পণ এবং ব্যাখ্যা (তাবিল), অস্বীকার (তা’তিল), সাদৃশ্য প্রদান (তাশবিহ) ও উদাহরণ প্রদান (তামসিল) বর্জন করা; যা সালাফে সালেহীন এবং সন্তোষভাজন ইমামগণের মাযহাব ছিল, আল্লাহ তাঁদের সকলের ওপর রহমত বর্ষণ করুন।

আর এর বর্ণনা নয়টি দিক থেকে হতে পারে।

প্রথমটি হলো আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার বাণী: {তিনিই সেই সত্তা যিনি আপনার ওপর কিতাব নাযিল করেছেন, যার কিছু আয়াত মুহকাম (সুস্পষ্ট), যা কিতাবের মূল; আর অন্যগুলো মুতাশাবিহ (অস্পষ্ট)। অতঃপর যাদের অন্তরে বক্রতা রয়েছে, তারা ফিতনা সৃষ্টি এবং ব্যাখ্যা অন্বেষণের উদ্দেশ্যে মুতাশাবিহ আয়াতগুলোর অনুসরণ করে।} এখানে তিনি ব্যাখ্যার অনুসারীকে নিন্দা করেছেন এবং নিন্দার ক্ষেত্রে তাকে ফিতনা অন্বেষণকারীর সাথে যুক্ত করেছেন, আর ব্যাখ্যার অন্বেষণকে বক্রতার চিহ্ন হিসেবে গণ্য করেছেন। এটি প্রমাণ করে যে তা অন্বেষণ করা বৈধ নয়।

অতঃপর তিনি তাদের প্রত্যাশা থেকে তাদের বিচ্ছিন্ন করেছেন এবং তাদের অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানো থেকে তাদের বিরত রেখেছেন তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: {আর আল্লাহ ব্যতীত কেউ এর ব্যাখ্যা জানে না।}

অতঃপর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: {আর যারা জ্ঞানে সুগভীর, তারা বলে—আমরা এর ওপর ঈমান এনেছি, সবকিছুই আমাদের রবের পক্ষ থেকে; আর কেবল বুদ্ধিমানগণই উপদেশ গ্রহণ করে।}

অতঃপর তারা তাদের রবের নিকট প্রার্থনা করল যেন তিনি তাদেরকে পথভ্রষ্ট ব্যাখ্যার অনুসারীদের মতো না করেন, ফলে তারা বলল: {হে আমাদের রব, আপনি আমাদের পথপ্রদর্শন করার পর আমাদের অন্তরসমূহকে বক্র করে দেবেন না।}

দ্বিতীয় দিক: যদি সেই সবের ব্যাখ্যা (তাবিল) করা ওয়াজিব হতো, তবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অবশ্যই তাঁর উম্মতের জন্য তা বর্ণনা করতেন। কেননা যথাসময় থেকে বর্ণনা বিলম্বিত করা জায়েয নয়। আর যদি আমাদের ওপর ব্যাখ্যা করা ওয়াজিব হতো, তবে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ওপরও তা ওয়াজিব হতো; কারণ তিনি বিধি-বিধানের ক্ষেত্রে আমাদের সমান। আর যদি তাঁর ওপর এটি ওয়াজিব হতো, তবে তিনি এতে কোনো ত্রুটি করতেন না। এছাড়া তিনি তাঁর উম্মতের প্রতি অত্যন্ত হিতাকাঙ্ক্ষী ছিলেন এবং আল্লাহ তাঁকে যা নির্দেশ দিয়েছিলেন তার কিছুই তিনি তাদের কাছে গোপন করেননি।

আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {হে রাসূল, আপনার রবের পক্ষ থেকে আপনার নিকট যা নাযিল করা হয়েছে তা পৌঁছে দিন; যদি আপনি তা না করেন তবে আপনি তাঁর রিসালাত পৌঁছালেন না।}

তৃতীয় দিক: এটি প্রমাণিত যে, এই আয়াতসমূহের ব্যাপারে সালাফ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) এবং তাঁদের পরবর্তী ইমামগণের মাযহাব ছিল—কোনো প্রকার ব্যাখ্যা (তাবিল) ও অস্বীকার (তা’তিল) ছাড়াই একে স্বীকৃতি দেওয়া, যেভাবে আছে সেভাবে চলতে দেওয়া, সন্তুষ্ট থাকা এবং আত্মসমর্পণ করা। আমরা দলীলসহ বর্ণনা করেছি যে তাঁদের মাযহাবই সত্য এবং তাঁরা সরল সঠিক পথের ওপর প্রতিষ্ঠিত। অতএব তাঁদের পথের বিরোধিতা করা এবং তাঁদের পথ থেকে বিচ্যুত হওয়া জায়েয নয়।
(খণ্ড: ১) তাহরীমুন নাজার ফী কুতুবিল কালাম (পৃষ্ঠা: ৫১)
الْوَجْه الرَّابِع أَن التَّأْوِيل حكم على الله عز وجل بِمَا لَا يُعلمهُ المتأول وَتَفْسِير مُرَاده بِمَا لَا يعلم أَنه أَرَادَهُ

فَإِن أَكثر مَا عِنْد المتأول أَن هَذِه اللَّفْظَة تحْتَمل هَذَا الْمَعْنى فِي اللُّغَة وَلَيْسَ يلْزم من مُجَرّد إحتمال اللَّفْظ للمعنى أَن يكون مرَادا بِهِ فَإِنَّهُ كَمَا يحْتَمل هَذَا الْمَعْنى يحْتَمل غَيره وَقد يحْتَمل مَعَاني أخر لَا يعلمهَا

وَلَيْسَ لَهُ إحاطة بِمُقْتَضى اللُّغَات لَا سِيمَا الْمُتَكَلِّمين فَإِنَّهُم بعداء من معرفَة اللُّغَات والعلوم النافعة

وَقد حرم الله تَعَالَى عَلَيْهِ القَوْل بِغَيْر علم فَقَالَ تَعَالَى {قل إِنَّمَا حرم رَبِّي الْفَوَاحِش مَا ظهر مِنْهَا وَمَا بطن وَالْإِثْم وَالْبَغي بِغَيْر الْحق وَأَن تُشْرِكُوا بِاللَّه مَا لم ينزل بِهِ سُلْطَانا وَأَن تَقولُوا على الله مَا لَا تعلمُونَ}

الْوَجْه الْخَامِس أَن التَّأْوِيل حدث فِي الدّين

فَإِن الْحَدث كل قَول فِي الدّين مَاتَت الصَّحَابَة رضي الله عنهم على السُّكُوت عَنهُ

وَالْحَدَث فِي الدّين هُوَ الْبِدْعَة الَّتِي حذرناها نَبينَا صلى الله عليه وسلم وَأخْبرنَا أَنَّهَا شَرّ الْأُمُور فَقَالَ عليه الصلاة والسلام شَرّ الْأُمُور محدثاتها

وَقَالَ صلى الله عليه وسلم عَلَيْكُم بِسنتي وَسنة الْخُلَفَاء الرَّاشِدين المهديين من بعدِي عضوا عَلَيْهَا بالنواجذ وَإِيَّاكُم ومحدثات الْأُمُور فَإِن كل محدثة بِدعَة وكل بِدعَة ضَلَالَة والمتأول تَارِك لسنة رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَسنة الْخُلَفَاء الرَّاشِدين وَهُوَ مُحدث مُبْتَدع ضال بِحكم الْخَبَر الْمَذْكُور

الْوَجْه السَّادِس أَن التَّأْوِيل تكلّف وحمق وتنطع وَكَلَام بِالْجَهْلِ وَتعرض للخطر فِيمَا لَا تَدْعُو إِلَيْهِ حَاجَة

فَإِنَّهُ لَا حَاجَة لنا إِلَى علم معنى مَا أَرَادَ الله تَعَالَى من صِفَاته جلّ وَعز فَإِنَّهُ لَا يُرَاد مِنْهَا عمل وَلَا يتَعَلَّق بهَا
চতুর্থ দিক হলো, তাবিল (রূপক ব্যাখ্যা) হলো মহান আল্লাহ সম্পর্কে এমন বিষয়ে সিদ্ধান্ত প্রদান করা যা তাবিলকারী জানে না এবং তাঁর উদ্দেশ্যকে এমনভাবে ব্যাখ্যা করা যা সে জানে না যে আল্লাহ তা-ই চেয়েছেন।

কেননা একজন তাবিলকারীর কাছে বড়জোর এতটুকুই থাকে যে, এই শব্দটি অভিধানে এই অর্থ বহন করার সম্ভাবনা রাখে। অথচ কেবল শব্দের অর্থের সম্ভাব্যতা থেকে এটা জরুরি হয়ে যায় না যে, আল্লাহ তা-ই উদ্দেশ্য করেছেন। কারণ শব্দটি যেমন এই অর্থটি বহন করার সম্ভাবনা রাখে, তেমনি এটি অন্য অর্থও বহন করতে পারে এবং সম্ভবত এমন আরও অনেক অর্থ বহন করে যা সে জানেই না।

আর ভাষাগত আবশ্যকতা সম্পর্কে তার কোনো সম্যক জ্ঞান নেই, বিশেষ করে মুতাকাল্লিমদের (কালামশাস্ত্রবিদ), কারণ তারা ভাষা এবং উপকারী জ্ঞান অর্জন থেকে অনেক দূরে।

অথচ আল্লাহ তাআলা তাঁর সম্পর্কে না জেনে কথা বলা হারাম করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {বলুন, আমার প্রতিপালক তো হারাম করেছেন প্রকাশ্য ও গোপন অশ্লীলতা, আর পাপ ও অন্যায় বিদ্রোহ, আর আল্লাহর সাথে তোমাদের এমন কিছু শরিক করা যার কোনো প্রমাণ তিনি অবতীর্ণ করেননি এবং আল্লাহ সম্পর্কে এমন কিছু বলা যা তোমরা জানো না।}

পঞ্চম দিক হলো, তাবিল দ্বীনের মধ্যে একটি নব-উদ্ভাবিত বিষয়।

কেননা দ্বীনের মধ্যে নব-উদ্ভাবন হলো এমন প্রতিটি বক্তব্য, যে ব্যাপারে সাহাবীগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) নীরব থেকে মৃত্যুবরণ করেছেন।

আর দ্বীনের মধ্যে নব-উদ্ভাবনই হলো সেই বিদআত, যে সম্পর্কে আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের সতর্ক করেছেন এবং আমাদের জানিয়েছেন যে তা নিকৃষ্টতম বিষয়। তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বলেছেন: "সর্বনিকৃষ্ট বিষয় হলো নব-উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ।"

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরও বলেছেন: "তোমরা আমার সুন্নাত এবং আমার পরবর্তী হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরো। তা মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে থাকো। আর তোমরা নব-উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ থেকে বেঁচে থাকো; কেননা প্রতিটি নব-উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত এবং প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা।" সুতরাং তাবিলকারী ব্যক্তি আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাত এবং খুলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাত বর্জনকারী। উক্ত হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী সে একজন নব-উদ্ভাবক, বিদআতি ও ভ্রষ্ট।

ষষ্ঠ দিক হলো, তাবিল হলো অনর্থক কষ্টকল্পনা, বোকামি, অতিরঞ্জন এবং অজ্ঞতাবশত কথা বলা। পাশাপাশি এমন বিষয়ে নিজেকে বিপদের সম্মুখীন করা যেটির কোনো প্রয়োজন নেই।

কেননা মহান আল্লাহ তাঁর গুণাবলি (সিফাত) দ্বারা কী উদ্দেশ্য করেছেন তা জানার আমাদের কোনো প্রয়োজন নেই; কারণ এগুলোর থেকে কোনো আমল বা কাজ উদ্দিষ্ট নয় এবং এগুলোর সাথে কোনো আমল সম্পৃক্ত নয়।
(খণ্ড: ১) তাহরীমুন নাজার ফী কুতুবিল কালাম (পৃষ্ঠা: ৫২)
تَكْلِيف سوى الْإِيمَان بهَا

وَيُمكن الْإِيمَان بهَا من غير علم مَعْنَاهَا

فَإِن الْإِيمَان بِالْجَهْلِ صَحِيح

فَإِن الله تَعَالَى أَمر بِالْإِيمَان بملائكته وَكتبه وَرُسُله وَمَا أنزل إِلَيْهِم وَإِن كُنَّا لَا نَعْرِف من ذَلِك إِلَّا التَّسْمِيَة

وَقَالَ سبحانه وتعالى {قُولُوا آمنا بِاللَّه وَمَا أنزل إِلَيْنَا وَمَا أنزل إِلَى إِبْرَاهِيم} الْآيَة

وَقد نهينَا عَن التبدي والتنطع والتكلف

وَقَالَ الله تَعَالَى لنَبيه صلى الله عليه وسلم {قل مَا أَسأَلكُم عَلَيْهِ من أجر وَمَا أَنا من المتكلفين}

الْوَجْه السَّابِع أَنه لَو كَانَ التَّأْوِيل وَاجِبا لم يخل إِمَّا أَن يجب على الْأَعْيَان أَو على من قَامَ عِنْده دَلِيله

فَإِن وَجب على الْأَعْيَان وَلزِمَ الْخلق كلهم من عدم الْمعرفَة بدليله فَفِيهِ تَكْلِيف القَوْل بِالْجَهْلِ والتهجم على صِفَات الله سبحانه وتعالى وَكتابه وآياته بالتخرص والحدس

وَهَذَا حرَام بالإتفاق

وَإِن كَانَ غير وَاجِب على من لَا يُعلمهُ فَكيف يأمرون بِهِ عَامَّة النَّاس وَمن لَا يُعلمهُ وَيُنْكِرُونَ عَلَيْهِم تَركه وَلَو كَانُوا ذَوي تقوى أعفوا الْعَامَّة عَن التَّأْوِيل وَأمرُوهُمْ بترك التَّعَرُّض لما لَا يعْملُونَ

الْوَجْه الثَّامِن أَن التَّأْوِيل قَول فِي كتاب الله عز وجل وَسنة رَسُوله صلى الله عليه وسلم بِالرَّأْيِ وَمن قَالَ فِي كتاب الله بِرَأْيهِ وَإِن أصَاب فقد أَخطَأ

وَقد قَالَ أَبُو
এগুলোর প্রতি ঈমান আনা ব্যতীত অন্য কোনো বাধ্যবাধকতা নেই

আর এর অর্থ না জেনেও এগুলোর প্রতি ঈমান আনা সম্ভব

কেননা অজ্ঞতা সত্ত্বেও (অর্থাৎ গূঢ় অর্থ না জেনেও) ঈমান আনা সঠিক

কারণ আল্লাহ তাআলা তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ এবং তাঁদের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তার প্রতি ঈমান আনার নির্দেশ দিয়েছেন, যদিও আমরা এগুলোর নাম ব্যতীত আর কিছুই জানি না

আর তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: {তোমরা বলো, আমরা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছি এবং যা আমাদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে এবং যা ইব্রাহিমের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে}—আয়াতটি

আর আমাদেরকে বেদুইনসুলভ আচরণ, বাড়াবাড়ি এবং কৃত্রিমতা অবলম্বন করতে নিষেধ করা হয়েছে

আর আল্লাহ তাআলা তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলেছেন: {বলুন, আমি এর বিনিময়ে তোমাদের কাছে কোনো প্রতিদান চাই না এবং আমি কৃত্রিমতা অবলম্বনকারীদের অন্তর্ভুক্ত নই}

সপ্তম দিক হলো, যদি তাবিল (ব্যাখ্যা) করা ওয়াজিব হতো, তবে তা হয় প্রত্যেকের জন্য ব্যক্তিগতভাবে ওয়াজিব হতো, নতুবা যার নিকট এর প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তার ওপর ওয়াজিব হতো

যদি তা প্রত্যেকের ওপর ওয়াজিব হতো এবং দলীল না জানা সত্ত্বেও সকল সৃষ্টির ওপর তা আবশ্যক হতো, তবে এতে অজ্ঞতার ভিত্তিতে কথা বলার এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার গুণাবলি, তাঁর কিতাব ও আয়াতসমূহের ব্যাপারে ধারণা ও অনুমানের ভিত্তিতে দুঃসাহস প্রদর্শনের বাধ্যবাধকতা তৈরি হতো

আর এটি সর্বসম্মতিক্রমে হারাম

আর যদি তা ওই ব্যক্তির ওপর ওয়াজিব না হয় যে তা জানে না, তবে তারা কীভাবে সাধারণ মানুষ এবং যারা জানে না তাদের তা করার নির্দেশ দেয় এবং তা বর্জন করার কারণে তাদের নিন্দা করে? তারা যদি পরহেজগার হতো তবে সাধারণ মানুষকে তাবিলের দায় থেকে অব্যাহতি দিত এবং তারা যা জানে না সে বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা বর্জন করতে নির্দেশ দিত

অষ্টম দিক হলো, তাবিল হলো আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহর ব্যাপারে নিজের মতামতের ভিত্তিতে কথা বলা। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে নিজের মতের ভিত্তিতে কথা বলবে, সে যদি সঠিকও হয় তবুও সে ভুল করল

আর আবু
(খণ্ড: ১) তাহরীমুন নাজার ফী কুতুবিল কালাম (পৃষ্ঠা: ৫৩)
بكر الصّديق رضي الله عنه حِين سُئِلَ عَن الْأَب فَقَالَ أَي سَمَاء تُظِلنِي وَأي أَرض تُقِلني إِذا قلت فِي كتاب الله تَعَالَى مَا لَا أعلم

الْوَجْه التَّاسِع أَن المتأول يجمع بَين وصف الله تَعَالَى بِصفة مَا وصف بهَا نَفسه وَلَا أضافها إِلَيْهَا وَبَين نفي صفة أضافها الله تَعَالَى إِلَيْهِ

فَإِذا قَالَ معنى اسْتَوَى استولى فقد وصف الله تَعَالَى بالإستيلاء وَالله تَعَالَى لم يصف بذلك نَفسه وَنفى صفة الاسْتوَاء مَعَ ذكر الله تبارك وتعالى لَهَا فِي الْقُرْآن فِي سَبْعَة مَوَاضِع

أفما كَانَ الله سبحانه وتعالى قَادِرًا على أَن يَقُول استولى حَتَّى جَاءَ الْمُتَكَلف المتأول فتطرف وتحكم على الله سُبْحَانَهُ وعَلى رَسُوله تَعَالَى الله عَمَّا يَقُول الظَّالِمُونَ علوا كَبِيرا

وَإِذا انسد بَاب التَّأْوِيل من هَذِه الطّرق كلهَا مَعَ أَن فِي وَاحِد مِنْهَا كِفَايَة لم يبْق إِلَّا الطَّرِيق الْوَاضِح وَالْقَوْل السديد وسلوك سَبِيل الله تَعَالَى الَّتِي دلّت على استقامتها الْآثَار وسلكها الصَّحَابَة الْأَبْرَار وَالْأَئِمَّة الأخيار وَمضى عَلَيْهَا الصالحون واقتفاها المتقون وَأوصى بلزمها الْأَئِمَّة الناصحون
আবু বকর সিদ্দিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) যখন 'আব' (তৃণলতা) সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হলেন, তখন তিনি বললেন, "কোন আকাশ আমাকে ছায়া দেবে এবং কোন জমিন আমাকে আশ্রয় দেবে যদি আমি আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে এমন কথা বলি যা আমি জানি না?"

নবম দিক হলো এই যে, অপব্যাখ্যাকারী ব্যক্তি আল্লাহ তাআলাকে এমন গুণাবলী দ্বারা বিশেষিত করার এবং আল্লাহ তাআলা নিজের জন্য যে গুণ সাব্যস্ত করেছেন তা অস্বীকার করার বিষয়ের মধ্যে সমন্বয় ঘটায়, অথচ আল্লাহ নিজেকে সেই গুণে (অপব্যাখ্যাকারীর উদ্ভাবিত গুণ) বিশেষিত করেননি এবং নিজের দিকে তা সম্বন্ধযুক্তও করেননি।

যখন সে বলে যে, 'উঠা'-এর অর্থ হলো 'কর্তৃত্ব লাভ করা', তখন সে আল্লাহ তাআলাকে 'কর্তৃত্ব লাভ' করার গুণে গুণান্বিত করল অথচ আল্লাহ তাআলা নিজেকে সেভাবে বিশেষিত করেননি। পাশাপাশি সে 'উঠা'র গুণটিকে অস্বীকার করল, যদিও আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা পবিত্র কুরআনের সাতটি স্থানে তা উল্লেখ করেছেন।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা কি 'কর্তৃত্ব লাভ' কথাটি বলতে সক্ষম ছিলেন না? অথচ এই কষ্টকল্পনাকারী অপব্যাখ্যাকারী এসে আল্লাহ সুবহানাহু এবং তাঁর রাসূলের ওপর নিজের মনগড়া ব্যাখ্যা ও নিয়ন্ত্রণ চাপিয়ে দিল। জালিমরা যা বলে আল্লাহ তাআলা তা থেকে বহুগুণ ঊর্ধ্বে এবং সুমহান।

যখন এই সমস্ত পন্থায় অপব্যাখ্যার পথ রুদ্ধ হয়ে গেল—যদিও এর মধ্যে একটিই যথেষ্ট ছিল—তখন আর সুস্পষ্ট পথ, সঠিক কথা এবং আল্লাহ তাআলার সেই পথে চলা ব্যতীত আর কোনো পথ বাকি রইল না, যার সঠিকতা ও দৃঢ়তার প্রমাণ বিভিন্ন বর্ণনা প্রদান করেছে এবং যে পথে পুণ্যবান সাহাবীগণ ও শ্রেষ্ঠ ইমামগণ চলেছেন। সৎকর্মপরায়ণ ব্যক্তিগণ সেই পথেই চলেছেন, পরহেজগারগণ সেই পথই অনুসরণ করেছেন এবং হিতাকাঙ্ক্ষী ইমামগণ সেই পথ আঁকড়ে ধরার অসিয়ত করেছেন।
(খণ্ড: ১) তাহরীমুন নাজার ফী কুতুবিল কালাম (পৃষ্ঠা: ৫৪)
الصادقون وَهِي الْإِيمَان بالألفاظ والآيات وَالْأَخْبَار بِالْمَعْنَى الَّذِي أَرَادَهُ الله تَعَالَى وَالسُّكُوت عَمَّا لَا نعلمهُ من مَعْنَاهَا وَترك الْبَحْث عَمَّا لم يكلفنا الله الْبَحْث عَنهُ من تَأْوِيلهَا وَلم يطلعنا على علمه وَاتِّبَاع طَرِيق الراسخين الَّذين أثنى الله عَلَيْهِم فِي كِتَابه الْمُبين حِين قَالُوا {آمنا بِهِ كل من عِنْد رَبنَا}

فَهَذَا الطَّرِيق السَّلِيم الَّذِي لَا خطر على سالكه وَلَا وَحْشَة على صَاحبه وَلَا مَخَافَة على مقتفيه وَلَا ضَرَر على السائر فِيهِ من سلكه سلم وَمن فَارقه عطب وَنَدم وَهُوَ سَبِيل الْمُؤمنِينَ الَّذِي دلّت عَلَيْهِ السّنة وسلكه صَالح الْأمة {وَمن يُشَاقق الرَّسُول من بعد مَا تبين لَهُ الْهدى وَيتبع غير سَبِيل الْمُؤمنِينَ نوله مَا تولى ونصله جَهَنَّم وَسَاءَتْ مصيرا}

وعائب هَذِه الْمقَالة لَا يَخْلُو إِمَّا أَن يعيب الْإِيمَان بالألفاظ أَو السُّكُوت عَن التَّفْسِير أَو الْأَمريْنِ مَعًا

فَإِن عَابَ الْإِيمَان بالألفاظ فَهِيَ قَول رب الْعَالمين وَرَسُوله الصَّادِق الآمين صلى الله عليه وسلم فعائبها كَافِر بِاللَّه الْعَظِيم

وَلِأَن عائب الْإِيمَان بِمَا لَا يَخْلُو من أَن يكون مُؤمنا بهما أَو كَافِرًا فَإِن كَانَ مُؤمنا بهما فَكيف يعيب مَا هُوَ عَلَيْهِ وَإِن كفر بهما خرج من الْإِسْلَام وَكفر بِالْإِيمَان

قَالَ الله تَعَالَى {وَمَا يجْحَد بِآيَاتِنَا إِلَّا الْكَافِرُونَ}

وَإِن عَابَ السُّكُوت عَن التَّفْسِير أَخطَأ

فإننا لَا نعلم لَهَا تَفْسِيرا وَمن لم يعلم شَيْئا وَجب عَلَيْهِ السُّكُوت عَنهُ وَحرم عَلَيْهِ الْكَلَام فِيهِ

قَالَ الله تَعَالَى {وَلَا تقف مَا لَيْسَ لَك بِهِ علم}

وَذكر الله تَعَالَى فِي الْمُحرمَات

{وَأَن تَقولُوا على الله مَا لَا تعلمُونَ}

وَإِذا فعلنَا مَا أوجب الله تبَارك
সত্যবাদীরা; আর তা হলো শব্দসমূহ, আয়াতসমূহ এবং বর্ণনাগুলোর প্রতি মহান আল্লাহ যে অর্থ ইচ্ছা করেছেন সেই অর্থের ওপর ঈমান আনা এবং যে অর্থের বিষয়ে আমরা জানি না সে বিষয়ে নীরব থাকা, আর যার ব্যাখ্যা নিয়ে মহান আল্লাহ আমাদের উপর দায়িত্ব অর্পণ করেননি এবং যার জ্ঞান আমাদের দেননি সে বিষয়ে অনুসন্ধান করা বর্জন করা। আর সেই সুদৃঢ় জ্ঞানসম্পন্নদের পথ অনুসরণ করা যাদের প্রশংসা আল্লাহ তাঁর সুস্পষ্ট কিতাবে করেছেন যখন তারা বলেছিল, "আমরা এর প্রতি ঈমান এনেছি, সবটুকুই আমাদের রবের পক্ষ থেকে।"

সুতরাং এটিই হলো সেই নিরাপদ পথ যার পথিকের কোনো ঝুঁকি নেই, যার সঙ্গীর কোনো একাকীত্ব নেই, যার অনুসারীর কোনো ভয় নেই এবং যার ওপর বিচরণকারীর কোনো ক্ষতি নেই। যে ব্যক্তি এতে চলল সে নিরাপদ থাকল এবং যে এটি ছেড়ে দিল সে ধ্বংস হলো ও অনুতপ্ত হলো। এটিই মুমিনদের পথ যেদিকে সুন্নাহ পথপ্রদর্শন করেছে এবং উম্মতের সৎকর্মশীলরা যে পথে চলেছেন। "আর যে ব্যক্তি তার কাছে হিদায়াত সুস্পষ্ট হওয়ার পর রাসূলের বিরোধিতা করবে এবং মুমিনদের পথ ছাড়া অন্য পথ অনুসরণ করবে, আমি তাকে সেদিকেই ফিরিয়ে দেব যেদিকে সে ফিরেছে এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করব, আর তা কতই না নিকৃষ্ট গন্তব্য।"

আর যে ব্যক্তি এই উক্তির দোষ অন্বেষণ করে সে হয় শব্দগুলোর ওপর ঈমান আনার দোষ ধরে অথবা ব্যাখ্যা না করে নীরব থাকার দোষ ধরে অথবা উভয় বিষয়েরই দোষ ধরে।

যদি সে শব্দগুলোর ওপর ঈমান আনার দোষ ধরে, তবে সেগুলো তো বিশ্বজগতের রব এবং তাঁর সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী। সুতরাং এর দোষ অন্বেষণকারী মহান আল্লাহর প্রতি কাফির।

কারণ ঈমানের দোষ অন্বেষণকারী এ দুটির ওপর হয় মুমিন হবে অথবা কাফির হবে। যদি সে এ দুটির ওপর মুমিন হয়, তবে সে কিসের ওপর প্রতিষ্ঠিত আছে তারই দোষ কীভাবে ধরে? আর যদি সে এ দুটির প্রতি কুফরি করে, তবে সে ইসলাম থেকে বের হয়ে গেল এবং ঈমানের প্রতি কুফরি করল।

মহান আল্লাহ বলেছেন, "আর কাফিররা ছাড়া আর কেউ আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করে না।"

আর যদি সে ব্যাখ্যা না করে নীরব থাকার দোষ ধরে, তবে সে ভুল করল।

কেননা আমরা এগুলোর কোনো ব্যাখ্যা জানি না, আর যে ব্যক্তি কোনো বিষয়ে জানে না তার জন্য সে বিষয়ে নীরব থাকা ওয়াজিব এবং সে বিষয়ে কথা বলা তার জন্য হারাম।

মহান আল্লাহ বলেছেন, "আর যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই তার অনুসরণ করো না।"

এবং মহান আল্লাহ হারাম বিষয়সমূহের মধ্যে উল্লেখ করেছেন

"আর আল্লাহ সম্পর্কে এমন কিছু বলা যা তোমরা জানো না।"

আর যখন আমরা তা পালন করলাম যা বরকতময় আল্লাহ ওয়াজিব করেছেন
(খণ্ড: ১) তাহরীমুন নাজার ফী কুতুবিল কালাম (পৃষ্ঠা: ৫৫)
وَتَعَالَى علينا وَتَركنَا مَا حرمه فَلَا وَجه لعيبنا بِهِ وَإِنَّمَا الْعَيْب على من خَالف ذَلِك وعابه

وَأَيْضًا فَإِن عائب هَذِه الْمقَالة عائب على رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَإِنَّهُ كَانَ يُؤمن بِاللَّه وكلماته وَلم يُفَسر شَيْئا من ذَلِك وَلَا بَين مَعْنَاهُ

وَمن عَابَ على رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَلَيْسَ بِمُؤْمِن بِهِ صلى الله عليه وسلم وَمن عَابَ على رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَهُوَ الْمُخطئ الآثم الْمَعِيب المذموم

ثمَّ العائب لَهَا عائب على الراسخين الَّذين أثنى الله تَعَالَى عَلَيْهِم وَالْأَمر الَّذِي مدحهم الله تَعَالَى بِهِ من التَّسْلِيم وَالْإِيمَان

ثمَّ هُوَ مزر على السّلف أَجْمَعِينَ

وَلَا مرية فِي خطأ من عَابَ هَؤُلَاءِ كلهم وبدعته وضلالته

وَإِذا دَخَلنَا نَحن فِي جملَة الَّذين أثنى الله تَعَالَى عَلَيْهِم وَصوب فعلهم وَقَوْلهمْ لم يضرنا عيب مفتون مُبْتَدع مخذول

وَإِذا سلكنا سَبِيل رَبنَا عز وجل الَّتِي رضيها لنا لم نبال برغم أنف من سلك سَبِيل إِبْلِيس اللعين المفضية بِهِ إِلَى سَوَاء الْجَحِيم

(وَإِذا أتتك مذمتي من نَاقص … فَهِيَ شَهَادَة لي بِأَنِّي فَاضل)
এবং মহান আল্লাহ আমাদের উপর যা নির্ধারণ করেছেন এবং আমরা যা তিনি হারাম করেছেন তা বর্জন করেছি, সুতরাং আমাদের দোষারোপ করার কোনো অবকাশ নেই। বরং দোষ তারই যে এর বিরোধিতা করে এবং একে ত্রুটিপূর্ণ মনে করে।

তদুপরি, এই বক্তব্যের দোষ অন্বেষণকারী মূলত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দোষ অন্বেষণকারী। কেননা তিনি আল্লাহর প্রতি এবং তাঁর বাণীসমূহের প্রতি ঈমান রাখতেন এবং এগুলোর কোনো কিছুরই ব্যাখ্যা করেননি এবং এর অর্থও বর্ণনা করেননি।

আর যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দোষ ধরে, সে তাঁর প্রতি ঈমানদার নয়। আর যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দোষ ধরে, সে-ই ভ্রান্ত, পাপী, দোষী এবং নিন্দিত।

তদুপরি, এর দোষ অন্বেষণকারী মূলত সেই গভীর জ্ঞানের অধিকারী (রাসিকীন) ব্যক্তিবর্গের দোষ অন্বেষণকারী যাদের মহান আল্লাহ প্রশংসা করেছেন, এবং তিনি তাদের আত্মসমর্পণ ও ঈমানের যে গুণের কারণে প্রশংসা করেছেন তারও দোষ অন্বেষণকারী।

তদুপরি, সে সমস্ত সালাফ বা পূর্বসূরিদের প্রতি অবজ্ঞাকারী।

আর যারা এই সকলের দোষ ধরে, তাদের ভুল, বিদআত এবং পথভ্রষ্টতার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই।

আর যখন আমরা সেই দলভুক্ত হলাম যাদের মহান আল্লাহ প্রশংসা করেছেন এবং যাদের কর্ম ও কথাকে সঠিক সাব্যস্ত করেছেন, তখন কোনো ফিতনাগ্রস্ত, বিদআতি ও লাঞ্ছিত ব্যক্তির নিন্দা আমাদের কোনো ক্ষতি করবে না।

আর যখন আমরা আমাদের মহিমান্বিত রবের সেই পথে চললাম যা তিনি আমাদের জন্য পছন্দ করেছেন, তখন আমরা সেই ব্যক্তির নাক ধুলোয় ধূসরিত হওয়া সত্ত্বেও তার প্রতি ভ্রূক্ষেপ করি না যে অভিশপ্ত ইবলিসের পথে চলে, যা তাকে প্রজ্জ্বলিত জাহান্নামের মাঝখানে নিয়ে যায়।

(আর যখন কোনো ত্রুটিপূর্ণ ব্যক্তির পক্ষ থেকে আমার নিন্দা তোমার কাছে পৌঁছায় … তখন তা আমার পূর্ণতারই সাক্ষ্য দেয়।)
(খণ্ড: ১) তাহরীমুন নাজার ফী কুতুবিল কালাম (পৃষ্ঠা: ৫৬)
وعَلى كل فَلَيْسَ لنا قَول نعاب بِهِ

إِن عيبت علينا الْأَلْفَاظ الَّتِي آمنا بهَا فَمَا عيب إِلَّا قَائِلهَا وَلَا كفرُوا إِلَّا بالمتكلم بهَا وَهُوَ الَّذِي يجازيهم على كفرهم وإلحادهم

وَإِن عيب علينا السُّكُوت فَلَيْسَ السُّكُوت بقول وَلَا ينْسب إِلَى سَاكِت قَول

وَإِن قَالُوا قد اعتقدتم التشبية مِنْهَا فقد كذبُوا علينا ونسبوا إِلَيْنَا مَا قد علم الله تَعَالَى براءتنا مِنْهُ

ثمَّ لَيْسَ لَهُم اطلَاع على قُلُوبنَا وَإِنَّمَا يعبر عَمَّا فِي الْقلب اللِّسَان وألسنتا تصرح بِنَفْي التَّشْبِيه والتمثيل والتجسيم فَلَيْسَ لَهُم أَن يتحكموا علينا بِأَن ينسبوا إِلَيْنَا مَا لم يظْهر منا وَلم يصدر عَنَّا

وَالْإِثْم على الْكَاذِب دون المكذوب كَمَا أَن حد الْقَذْف على الْقَاذِف لَا على الْمَقْذُوف وكفانا مدحا وَبَرَاءَة أَن خصومنا لَا يَجدونَ لنا عَيْبا يعيبوننا بِهِ هم فيصادقون وَنحن بِهِ مقرون وَإِنَّمَا يعيبوننا بكذبهم وَلَو قدرُوا على عيب لما احتاجوا إِلَى الْكَذِب

‌‌فصل

 

وَأما قَوْله إِن الْإِخْبَار يجب إطراحها لِأَنَّهَا أَخْبَار آحَاد وَقد ثَبت بأدلة الْعُقُول الْقطع بِنَفْي التَّشْبِيه والتجسيم فَالْجَوَاب عَنهُ من وَجْهَيْن

أَحدهمَا بَيَان وجوب قبُول هَذِه الْأَخْبَار لوَجْهَيْنِ أَحدهمَا اتِّفَاق الْأَئِمَّة عل نقلهَا وروايتها وتخريجها فِي الصِّحَاح وَالْمَسَانِيد وتدوينها فِي الدَّوَاوِين وَحكم الْحفاظ المتفقين عَلَيْهَا بِالصِّحَّةِ وعَلى رواتها بالإتقان وَالْعَدَالَة فطرحها مُخَالف للْإِجْمَاع خَارج عَن أهل الِاتِّفَاق فَلَا يلْتَفت إِلَيْهِ وَلَا يعرج عَلَيْهِ وَالثَّانِي أَن رُوَاة هَذِه الْأَخْبَار هم نقلة الشَّرِيعَة ورواة الْأَحْكَام وَعَلَيْهِم
যা-ই হোক, আমাদের এমন কোনো কথা নেই যার কারণে আমাদের নিন্দা করা যায়।

যদি আমাদের ওপর সেই শব্দগুলোর জন্য দোষারোপ করা হয় যেগুলোর প্রতি আমরা ঈমান এনেছি, তবে দোষারোপ মূলত সেই শব্দগুলোর বক্তার প্রতিই বর্তাবে। তারা মূলত সেই সত্তার প্রতিই কুফরি করল যিনি এগুলো বলেছেন, আর তিনিই তাদের কুফরি ও নাস্তিকতার জন্য তাদের প্রতিফল দেবেন।

আর যদি আমাদের নীরবতার জন্য নিন্দা করা হয়, তবে নীরবতা কোনো কথা নয়, আর কোনো নীরব ব্যক্তির দিকে কোনো কথাকে সম্বন্ধযুক্ত করা যায় না।

আর যদি তারা বলে যে আপনারা এগুলোর মাধ্যমে সাদৃশ্যকরণে (তাশবিহ) বিশ্বাস করেছেন, তবে তারা আমাদের ওপর মিথ্যাচার করল এবং আমাদের ওপর এমন কিছুর দায় চাপালো যা থেকে আল্লাহ তাআলা জানেন যে আমরা মুক্ত।

তদুপরি, আমাদের অন্তরের খবর রাখার কোনো সুযোগ তাদের নেই; বরং অন্তরে যা থাকে তা জিহ্বা প্রকাশ করে। আর আমাদের জিহ্বা স্পষ্টভাবে সাদৃশ্যকরণ (তাশবিহ), উপমাসৃষ্টি (তামসিল) এবং অঙ্গসংস্থান (তাজসিম) অস্বীকার করার ঘোষণা দেয়। সুতরাং আমাদের প্রতি জবরদস্তি করার কোনো অধিকার তাদের নেই যে, তারা আমাদের দিকে এমন কিছু সম্বন্ধযুক্ত করবে যা আমাদের থেকে প্রকাশ পায়নি বা আমাদের থেকে নির্গত হয়নি।

আর পাপ মিথ্যাবাদীর ওপর বর্তাবে, যার ওপর মিথ্যা আরোপ করা হয়েছে তার ওপর নয়—যেমন অপবাদের দণ্ড অপবাদকারীর ওপর বর্তায়, যার ওপর অপবাদ দেওয়া হয়েছে তার ওপর নয়। আমাদের প্রশংসা ও নির্দোষিতার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, আমাদের বিরোধীরা আমাদের মাঝে এমন কোনো দোষ খুঁজে পায় না যার দ্বারা তারা আমাদের নিন্দা করবে এবং তারা সত্যবাদী প্রমাণিত হবে ও আমরা তা স্বীকার করে নেব। বরং তারা তাদের মিথ্যার মাধ্যমেই আমাদের নিন্দা করে; যদি তারা সত্যিকারের কোনো দোষ খুঁজে পাওয়ার ক্ষমতা রাখত, তবে তাদের মিথ্যার আশ্রয় নেওয়ার প্রয়োজন হতো না।

পরিচ্ছেদ

 

আর তার এ কথার ব্যাপারে যে—এই সংবাদসমূহ বর্জন করা আবশ্যক কারণ এগুলো একক বর্ণনা (খবরে ওয়াহিদ), এবং যুক্তিনির্ভর দলিলের মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে সাদৃশ্যকরণ ও অঙ্গসংস্থান অস্বীকার করা প্রমাণিত হয়েছে—তবে এর উত্তর দুইভাবে দেওয়া যায়।

প্রথমত, এই সংবাদসমূহ গ্রহণ করা আবশ্যক হওয়ার বর্ণনাও দুটি দিক থেকে। প্রথমটি হলো: ইমামগণ এগুলো বর্ণনা করতে, রিওয়ায়েত করতে এবং সহিহ ও মুসনাদ গ্রন্থগুলোতে এগুলো সংকলন করতে একমত হয়েছেন এবং সংকলনসমূহে তা লিপিবদ্ধ করেছেন। এই সংবাদসমূহের বিশুদ্ধতার ব্যাপারে একমত হওয়া হাফেজগণ এগুলোর বিশুদ্ধতার এবং এর বর্ণনাকারীদের গভীর জ্ঞান ও ন্যায়পরায়ণতার রায় দিয়েছেন। সুতরাং এগুলোকে বর্জন করা সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের (ইজমা) পরিপন্থী এবং ঐক্যবদ্ধ ইমামদের পথ থেকে বিচ্যুত হওয়া, তাই এর প্রতি ভ্রুক্ষেপ করা যাবে না এবং এর ওপর নির্ভর করা যাবে না। দ্বিতীয়ত, এই সংবাদসমূহের বর্ণনাকারীরাই হলেন শরীয়তের বহনকারী এবং বিধানসমূহের বর্ণনাকারী, আর তাদের ওপরই...
(খণ্ড: ১) তাহরীমুন নাজার ফী কুতুবিল কালাম (পৃষ্ঠা: ৫৭)
الِاعْتِمَاد فِي بَيَان الْحَلَال وَالْحرَام فِي الدّين

وَإِذا أبطلنا قَوْلهم بتأويلنا وَجب رد قَوْلهم ثمَّ فَتبْطل الشَّرِيعَة وَيذْهب الدّين

الْجَواب الثَّانِي أننا لَا نسلم لَهُ فِي جَمِيعهَا أَنَّهَا أَخْبَار آحَاد

فَإِن مِنْهَا مَا نقل من طرق كَثِيرَة متواطئة يصدق بَعْضهَا بَعْضًا وَيشْهد بَعْضهَا لبَعض

فَهِيَ وَإِن لم تتواتر آحادها لَكِن حصل من الْمَجْمُوع الْقطع وَالْيَقِين بِثُبُوت أَصْلهَا وَيَكْفِي ذَلِك فِي التَّوَاتُر

فإننا نقطع بسخاء حَاتِم وشجاعة عَليّ وَعدل عمر وَعلم عَائِشَة وَخِلَافَة الْخُلَفَاء الْأَرْبَعَة وَلم ينْقل إِلَيْنَا فِيهَا خبر وَاحِد متواتر لَكِن تظاهرت الْأَخْبَار بهَا وَصدق بَعْضهَا بَعْضًا وَلم يُوجد لَهَا مكذب فَحصل التَّوَاتُر بالمجموع

كَذَا هَهُنَا

وَأما مَا يموه بِهِ من نفي التَّشْبِيه والتجسيم فَإِنَّمَا هُوَ شَيْء وَضعه المتكلمون وَأهل الْبدع توسلا بِهِ إِلَى إبِْطَال السّنَن ورد الْآثَار وَالْأَخْبَار والتمويه على الْجُهَّال والأغمار ليوهموهم إِنَّمَا قصدنا التَّنْزِيه وَنفي التَّشْبِيه

وَهَذَا مثل عمل الباطنية فِي التَّمَسُّك بِأَهْل الْبَيْت وَإِظْهَار بحثهم إيهاما للعامة أَنهم قصدُوا نَصرهم

وَإِنَّمَا تستروا بهم إِلَى إبِْطَال الشَّرِيعَة والتمكن من عيب الصَّحَابَة وَالْخُلَفَاء الرَّاشِدين رضوَان الله عَلَيْهِم بنسبتهم إِلَيْهِم وظلم أهل الْبَيْت والتعدي عَلَيْهِم

كَذَلِك طَائِفَة الْمُتَكَلِّمين والمبتدعة تمسكوا بِنَفْي التَّشْبِيه توسلا إِلَى عيب أهل الْآثَار وَإِبْطَال الْأَخْبَار وَإِلَّا فَمن أَي وَجه حصل التَّشْبِيه إِن كَانَ التَّشْبِيه حَاصِلا من الْمُشَاركَة فِي الْأَسْمَاء والألفاظ فقد شبهوا الله تَعَالَى حَيْثُ أثبتوا لَهُ صِفَات من السّمع وَالْبَصَر وَالْعلم وَالْقُدْرَة والإرادة والحياة مَعَ الْمُشَاركَة فِي ألفاظها

وَللَّه تِسْعَة وَتسْعُونَ اسْما لَيْسَ فِيهَا مَا لَا يُسمى بِهِ غَيره إِلَّا اسْم الله تَعَالَى والرحمن وسائرها يُسمى بهَا غَيره سبحانه وتعالى وَلم يكن ذَلِك تَشْبِيها وَلَا تجسيما

ثمَّ كَيفَ يعْملُونَ فِي الْآيَات الْوَارِدَة فِي الصِّفَات فَهَل لَهُم سَبِيل إِلَى
দ্বীনের মধ্যে হালাল ও হারাম বর্ণনার ক্ষেত্রে নির্ভরতা।

আর আমরা যদি আমাদের ব্যাখ্যার মাধ্যমে তাদের বক্তব্যকে বাতিল করি, তবে তাদের বক্তব্যকে প্রত্যাখ্যান করা আবশ্যক হয়ে পড়ে, ফলে শরীয়ত বাতিল হয়ে যায় এবং দ্বীন বিলুপ্ত হয়ে যায়।

দ্বিতীয় উত্তর হলো: আমরা তাদের এই দাবিতে একমত নই যে, এগুলোর সবগুলোই একক বর্ণনা (আখবার-ই-আহাদ)।

কেননা এগুলোর মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা এমন অনেকগুলো সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যা একটি অন্যটিকে সত্যায়ন করে এবং একটি অপরটির সাক্ষ্য দেয়।

সুতরাং সেগুলো যদিও এককভাবে মুতাওয়াতির নয়, তবে সমষ্টিগতভাবে সেগুলোর মূল সত্যতার ব্যাপারে নিশ্চিত জ্ঞান ও দৃঢ় বিশ্বাস অর্জিত হয়েছে এবং মুতাওয়াতির হওয়ার জন্য এটুকুই যথেষ্ট।

কেননা আমরা হাতেমের দানশীলতা, আলীর বীরত্ব, উমরের ন্যায়বিচার, আয়েশার ইলম এবং চার খলিফার খিলাফতের ব্যাপারে নিশ্চিত জ্ঞান রাখি, অথচ এগুলোর ব্যাপারে আমাদের কাছে একটিমাত্র মুতাওয়াতির বর্ণনাও পৌঁছেনি; বরং এ সংক্রান্ত বর্ণনাগুলো ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে এবং একটি অন্যটিকে সত্যায়ন করেছে এবং এগুলোর কোনো অস্বীকারকারী পাওয়া যায়নি, ফলে সমষ্টিগতভাবে তা মুতাওয়াতির পর্যায়ে পৌঁছেছে।

এখানেও বিষয়টি ঠিক তেমনই।

আর সাদৃশ্য (তাশবিহ) ও দেহদান (তাজসিম) অস্বীকার করার যে বিভ্রান্তি তারা ছড়ায়, তা মূলত কালামশাস্ত্রবিদ ও বিদআতিদের উদ্ভাবিত একটি বিষয়। তারা এর মাধ্যমে সুন্নাহকে বাতিল করা এবং আসার ও হাদিসগুলোকে প্রত্যাখ্যান করার পথ তৈরি করতে চায় এবং মূর্খ ও অবুঝদের বিভ্রান্ত করতে চায় যাতে তারা মনে করে যে, আমাদের উদ্দেশ্য কেবল আল্লাহকে ত্রুটিমুক্ত ঘোষণা (তানজিহ) করা এবং সাদৃশ্য অস্বীকার করা।

আর এটি বাতেনী সম্প্রদায়ের কর্মকাণ্ডের মতো, যারা আহলে বায়তের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে এবং তাদের বিষয়ে আলোচনা সামনে নিয়ে আসে যাতে সাধারণ মানুষের মাঝে এই ধারণা তৈরি হয় যে তারা আহলে বায়তকে সাহায্য করতে চায়।

অথচ তারা তাদের আড়ালে শরীয়তকে বাতিল করতে চায় এবং সাহাবী ও খুলাফায়ে রাশেদীনের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) প্রতি দোষারোপের পথ প্রশস্ত করতে চায়—তাদেরকে জালেম সাব্যস্ত করে এবং তারা আহলে বায়তের ওপর জুলুম ও সীমালঙ্ঘন করেছেন বলে প্রচার করে।

একইভাবে কালামশাস্ত্রবিদ ও বিদআতি গোষ্ঠীও সাদৃশ্য (তাশবিহ) অস্বীকারের ধুয়া তুলে আহলে আসারদের (হাদিস অনুসারীদের) ওপর দোষারোপ করার এবং হাদিসগুলোকে বাতিল করার পায়তারা করে। অন্যথায়, কোন্ দিক থেকে সাদৃশ্য তৈরি হয়? যদি নাম ও শব্দের মিল থাকার কারণে সাদৃশ্য ঘটে থাকে, তবে তো তারাও আল্লাহ তাআলার জন্য শ্রবণ, দর্শন, জ্ঞান, ক্ষমতা, ইচ্ছা ও জীবনের মতো গুণাবলি সাব্যস্ত করার মাধ্যমে আল্লাহকে সৃষ্টির সাথে সাদৃশ্যযুক্ত করেছে, কারণ এই শব্দগুলোর ব্যবহারের ক্ষেত্রে মিল রয়েছে।

আর আল্লাহর নিরানব্বইটি নাম রয়েছে, যার মধ্যে 'আল্লাহ' এবং 'আর-রাহমান' নাম দুটি ছাড়া এমন কোনো নাম নেই যা অন্য কারো জন্য ব্যবহার করা হয় না। তাঁর বাকি নামগুলো অন্যদের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়, কিন্তু তা (আল্লাহর ক্ষেত্রে ব্যবহার করা) কোনো সাদৃশ্য দান বা দেহদান হিসেবে গণ্য হয় না।

অতঃপর, সিফাত (গুণাবলি) সম্পর্কিত আয়াতগুলোর ক্ষেত্রে তারা কী করবে? তাদের কি এমন কোনো পথ আছে...
(খণ্ড: ১) তাহরীমুন নাজার ফী কুতুবিল কালাম (পৃষ্ঠা: ৫৮)
ردهَا أَو طَرِيق فِي إِبْطَالهَا أَو يثبتونها مَعَ التَّشْبِيه فِي زعمهم وَلَقَد علمُوا إِن شَاءَ الله أَن لَا تَشْبِيه فِي شَيْء من هَذَا وَلَكنهُمْ قبحهم الله تَعَالَى يبهتون وَلَا يستحيون

وَإِن كَانَ الله تَعَالَى قد أعمى قُلُوبهم حَتَّى ظنُّوا ذَلِك فَمَا هُوَ بِبَعِيد

فقد رَأينَا من ينْسب قَول الله تَعَالَى وَقَول رَسُوله صلى الله عليه وسلم إِلَيْنَا على وَجه الْعَيْب لنا بهَا فَيَقُول أَنْتُم تَقولُونَ {الرَّحْمَن على الْعَرْش اسْتَوَى}

وَأَنْتُم تَقولُونَ {وكلم الله مُوسَى تكليما} وَأَنْتُم تَقولُونَ ينزل الله كل لَيْلَة إِلَى سَمَاء الدُّنْيَا

وَهَذَا كَلَام الله تبارك وتعالى الَّذِي {لَا يَأْتِيهِ الْبَاطِل من بَين يَدَيْهِ وَلَا من خَلفه تَنْزِيل من حَكِيم حميد} وَكَلَام رَسُوله صلى الله عليه وسلم حملتهم العصبية وعمى الْقلب على أَن جَعَلُوهُ كلَاما لنا ثمَّ عابوه علينا

وَمن عَابَ كتاب الله عز وجل وَسنة رَسُوله صلى الله عليه وسلم فَلَيْسَ بِمُسلم

وَمن جعل كَلَام الله عز وجل كلَاما لغيره فَهُوَ جَاهِل غبي

وَسمعت بعض أَصْحَابنَا يَقُول سَمِعت قوما يَقُولُونَ الْحَنَابِلَة يَقُولُونَ {الرَّحْمَن على الْعَرْش اسْتَوَى}

قَالَ فَقلت لَهُم يَا قوم الله الله إِنَّكُم لتنسبون إِلَى الْحَنَابِلَة شَيْئا مَا يصلحون لَهُ وَلَا يبلغون إِلَيْهِ

هَذَا قَول الله سبحانه وتعالى {قل لَئِن اجْتمعت الْإِنْس وَالْجِنّ على أَن يَأْتُوا بِمثل هَذَا الْقُرْآن لَا يأْتونَ بِمثلِهِ وَلَو كَانَ بَعضهم لبَعض ظهيرا}

فجعلتموه قولا للحنابلة ورفعتم قدرهم حَتَّى جعلتموهم أَهلا لذَلِك

وَإِنَّمَا يحصل التَّشْبِيه والتجسيم مِمَّن حمل صِفَات الله سبحانه وتعالى على صِفَات المخلوقين فِي الْمَعْنى وَنحن لَا نعتقد ذَلِك وَلَا ندين بِهِ بل نعلم أَن الله تبارك وتعالى {لَيْسَ كمثله شَيْء وَهُوَ السَّمِيع الْبَصِير}
তারা এটাকে প্রত্যাখ্যান করার অথবা একে বাতিল করার পথ খোঁজে, অথবা তাদের দাবি অনুযায়ী তারা সাদৃশ্যারোপের সাথে একে সাব্যস্ত করে। তারা আল্লাহ চাহেন তো জানে যে এর কোনো কিছুতেই কোনো সাদৃশ্যারোপ নেই। কিন্তু আল্লাহ তাআলা তাদের চেহারা বিকৃত করুন, তারা অপবাদ দেয় এবং লজ্জাবোধ করে না।

আর যদি আল্লাহ তাআলা তাদের অন্তরকে অন্ধ করে দিয়ে থাকেন যার ফলে তারা এরূপ ধারণা করে, তবে তা অসম্ভব কিছু নয়।

আমরা এমন ব্যক্তিদের দেখেছি যারা আল্লাহ তাআলার বাণী এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীকে আমাদের দিকে দোষারোপের উদ্দেশ্যে সম্বন্ধ করে এবং বলে, "তোমরা বলছ যে রহমান আরশের উপর উঠেছেন।"

এবং "তোমরা বলছ যে আল্লাহ মূসার সাথে সরাসরি কথা বলেছেন" এবং "তোমরা বলছ যে আল্লাহ প্রতি রাতে দুনিয়ার আসমানে নেমে আসেন।"

অথচ এটি আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার কালাম, যার সামনে বা পিছন থেকে কোনো মিথ্যা আসতে পারে না, এটি প্রজ্ঞাময় ও প্রশংসিত আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। এটি তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা। কিন্তু গোঁড়ামি এবং অন্তরের অন্ধত্ব তাদের বাধ্য করেছে একে আমাদের কথা হিসেবে গণ্য করতে, অতঃপর তারা এর কারণে আমাদের নিন্দা করেছে।

আর যে ব্যক্তি আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা-র কিতাব এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর নিন্দা করে, সে মুসলিম নয়।

আর যে ব্যক্তি আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা-র কালামকে অন্য কারো কালাম বানিয়ে দেয়, সে মূর্খ ও নির্বোধ।

আমি আমাদের কিছু সাথীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি একদল লোককে বলতে শুনেছি তারা বলছে: "হাম্বলিরা বলে যে রহমান আরশের উপর উঠেছেন।"

তিনি বলেন, আমি তাদের বললাম, হে জাতি! আল্লাহকে ভয় করো! তোমরা হাম্বলিদের প্রতি এমন কিছু সম্বন্ধ করছ যার যোগ্য তারা নয় এবং সেখানে তারা পৌঁছাতেও পারে না।

এটি তো আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার বাণী: "বলুন, যদি মানুষ ও জিন এই কুরআনের অনুরূপ আনার জন্য একত্রিত হয়, তবে তারা এর অনুরূপ আনতে পারবে না, যদিও তারা একে অপরের সাহায্যকারী হয়।"

অথচ তোমরা একে হাম্বলিদের কথা বানিয়ে দিলে এবং তাদের মর্যাদা এতই বৃদ্ধি করলে যে তাদেরকে এর যোগ্য সাব্যস্ত করলে!

মূলত সাদৃশ্যারোপ এবং দেহরূপ প্রদান তো তার পক্ষ থেকেই ঘটে, যে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার গুণাবলিকে অর্থের দিক থেকে সৃষ্টির গুণাবলির সাথে তুলনা করে। অথচ আমরা তা বিশ্বাস করি না এবং একে ধর্ম হিসেবে গ্রহণ করি না। বরং আমরা জানি যে, আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার সদৃশ কিছুই নেই, আর তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা।