(খণ্ড: ১) আল-উলুউউ লিল আলিয়্যিল গাফফার (পৃষ্ঠা: -)
العلو للعلي الغفار   (شمس الدين الذهبي)

القسم: العقيدة


الكتاب: العلو للعلي الغفار في إيضاح صحيح الأخبار وسقيمها

المؤلف: شمس الدين أبو عبد الله محمد بن أحمد بن عثمان بن قَايْماز الذهبي (ت 748هـ)

المحقق: أبو محمد أشرف بن عبد المقصود

الناشر: مكتبة أضواء السلف - الرياض

الطبعة: الأولى، 1416هـ - 1995م

عدد الصفحات: 268

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মহা ক্ষমাশীল সুউচ্চ আল্লাহর সুউচ্চতা   (শামস উদ্দীন আয-যাহাবী)

বিভাগ: আকীদা


বই: সহীহ ও যয়ীফ বর্ণনা স্পষ্টীকরণের মাধ্যমে মহা ক্ষমাশীল সুউচ্চ আল্লাহর সুউচ্চতা

লেখক: শামস উদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন উসমান বিন কায়মায আয-যাহাবী (মৃত্যু ৭৪৮ হি.)

সম্পাদক: আবু মুহাম্মাদ আশরাফ বিন আব্দুল মাকসূদ

প্রকাশক: মাকতাবাতু আদওয়াউস সালাফ - রিয়াদ

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৬ হি. - ১৯৯৫ খ্রি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৬৮

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলার প্রকাশনার তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-উলুউউ লিল আলিয়্যিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم

 

‌‌مُقَدّمَة المُصَنّف

 

‌‌لَا إِلَه إِلَّا الله عدَّة للقاء الله

 

‌‌رب يسر وأعن وتمم وَاخْتِمْ بِخَير فِي عَافِيَة يَا كريم

 

الْحَمد لله الْعلي الْعَظِيم رب الْعَرْش الْعَظِيم على نعمه السابغة الظَّاهِرَة والباطنة وَالْحَمْد لله على نعْمَة التَّوْحِيد وَأشْهد أَنْ لَا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَحده لَا شريك لَهُ شَهَادَة توجب من فَضله الْمَزِيد

وَأشْهد أَن مُحَمَّدًا عَبده وَرَسُوله خَاتم الْأَنْبِيَاء وَالشَّفِيع فِي الْيَوْم الشَّديد

صلى الله عليه وسلم وعَلى آله صَلَاة أدخرها ليَوْم الْوَعيد

أما بعد فَإِنِّي كنت فِي سنة إِحْدَى وَتِسْعين وسِتمِائَة جمعت أَحَادِيث وآثارا فِي مَسْأَلَة الْعُلُوّ وفاتني الْكَلَام على بَعْضهَا وَلم أستوعب مَا ورد فِي ذَلِك فذيلت على ذَلِك مؤلفا أَوله سُبْحَانَ الله الْعَظِيم وَبِحَمْدِهِ على حلمه بعد علمه

والآن فأرتب الْمَجْمُوع وأوضحه هُنَا وَبِاللَّهِ أستعين وَهُوَ حَسبنَا وَنعم الْوَكِيل
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

 

‌লেখকের ভূমিকা

 

‌আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের জন্য ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ এক মহান পাথেয়

 

‌হে রব! সহজ করে দিন, সাহায্য করুন, পূর্ণতা দান করুন এবং কল্যাণ ও সুস্থতার সাথে সমাপ্ত করুন, হে দয়াময়

 

সকল প্রশংসা সুউচ্চ ও মহান আল্লাহর জন্য, যিনি মহান আরশের রব; তাঁর প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য অগণিত নিআমতের জন্য। আর সকল প্রশংসা তাওহীদের নিআমতের জন্য। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই—এমন সাক্ষ্য যা তাঁর পক্ষ থেকে আরও অধিক অনুগ্রহ প্রাপ্তিকে অবধারিত করে।

আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, তিনি নবীগণের সমাপ্তিদানকারী এবং কঠিন দিবসে সুপারিশকারী।

তাঁর ও তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক—এমন এক সালাত যা আমি শাস্তির দিনের জন্য সঞ্চয় করে রাখছি।

অতপর, আমি ৬৯১ হিজরি সনে আল্লাহর সুউচ্চতা (উলুউ) সংক্রান্ত বিষয়ে বেশ কিছু হাদিস ও আছার সংগ্রহ করেছিলাম। তবে সেগুলোর কয়েকটির ওপর আলোচনা করা আমার পক্ষে সম্ভব হয়নি এবং এ বিষয়ে বর্ণিত সকল বিষয় আমি তাতে পুরোপুরি আয়ত্ত করতে পারিনি। ফলে আমি সেটির ওপর একটি পরিশিষ্ট যুক্ত করি যার শুরু ছিল: "মহান আল্লাহ অতি পবিত্র এবং তাঁরই প্রশংসা করছি—তাঁর জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও তাঁর ধৈর্য ও সহনশীলতার জন্য।"

আর এখন আমি সেই সংগৃহীত বিষয়গুলোকে বিন্যস্ত করছি এবং এখানে তা স্পষ্ট করছি। আমি আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছি, তিনি আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।
(খণ্ড: ১) আল-উলুউউ লিল আলিয়্যিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌الْآيَات وَالْأَحَادِيث الْوَارِدَة فِي الْعُلُوّ
উচ্চতা সম্পর্কে বর্ণিত আয়াত ও হাদিসসমূহ
(খণ্ড: ১) আল-উলুউউ লিল আলিয়্যিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌آيَات الإستواء والعلو

 

1 - قَالَ الله تَعَالَى وَمن أصدق من الله قيلا {إِن ربكُم الله الَّذِي خلق السَّمَاوَات وَالْأَرْض فِي سِتَّة أَيَّام ثمَّ اسْتَوَى على الْعَرْش}

2 - وَقَالَ تَعَالَى {وَهُوَ الَّذِي خلق السَّمَاوَات وَالْأَرْض فِي سِتَّة أَيَّام وَكَانَ عَرْشه على المَاء}

3 - وَقَالَ تَعَالَى فِي وصف كِتَابه الْعَزِيز {تَنْزِيلا مِمَّن خلق الأَرْض وَالسَّمَاوَات العلى الرَّحْمَن على الْعَرْش اسْتَوَى}

4 - وَقَالَ تَعَالَى {الَّذِي خلق السَّمَاوَات وَالْأَرْض وَمَا بَينهمَا فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى على الْعَرْش الرَّحْمَن}

إِلَى غير ذَلِك من آيَات الإستواء

5 - وَقَالَ تَعَالَى {ثُمَّ اسْتَوَى إِلَى السَّمَاءِ وَهِي دُخان فَقَالَ لَهَا وللأرض ائتيا طَوْعًا أَو كرها قَالَتَا أَتَيْنَا طائعين}

6 - وَقَالَ تَعَالَى {ثُمَّ اسْتَوَى إِلَى السَّمَاءِ فسواهن سبع سماوات}

7 - وَقَالَ تَعَالَى {يدبر الْأَمر من السَّمَاء إِلَى الأَرْض ثمَّ يعرج إِلَيْهِ فِي يَوْم كَانَ مِقْدَاره ألف سنة مِمَّا تَعدونَ}

8 - وَقَالَ تَعَالَى {إِلَيْهِ يصعد الْكَلم الطّيب}

9 - وَقَالَ تَعَالَى {إِنِّي متوفيك ورافعك إِلَيّ}
উপরে উঠা এবং উচ্চতা সংক্রান্ত আয়াতসমূহ

 

1 - মহান আল্লাহ বলেন—আর কথায় আল্লাহর চেয়ে অধিক সত্যবাদী আর কে হতে পারে—{নিশ্চয়ই তোমাদের রব আল্লাহ, যিনি আসমানসমূহ ও জমিন ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, এরপর তিনি আরশের উপর উঠেছেন।}

2 - মহান আল্লাহ আরও বলেন: {আর তিনিই সেই সত্তা যিনি আসমানসমূহ ও জমিন ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর আরশ ছিল পানির উপরে।}

3 - মহান আল্লাহ তাঁর সম্মানিত কিতাবের বর্ণনায় বলেন: {এটি তাঁর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ যিনি জমিন ও সুউচ্চ আসমানসমূহ সৃষ্টি করেছেন; পরম করুণাময় আরশের উপর উঠেছেন।}

4 - মহান আল্লাহ বলেন: {যিনি আসমানসমূহ, জমিন এবং এই উভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর পরম করুণাময় আরশের উপর উঠেছেন।}

এ ছাড়াও উপরে উঠা সংক্রান্ত অন্যান্য আয়াতসমূহ রয়েছে

5 - মহান আল্লাহ বলেন: {অতঃপর তিনি আসমানের দিকে উঠলেন যখন তা ছিল ধোঁয়া। অতঃপর তিনি তাকে ও জমিনকে বললেন: তোমরা উভয়ে আসো ইচ্ছায় হোক বা অনিচ্ছায়। তারা বলল: আমরা অনুগত হয়ে আসলাম।}

6 - মহান আল্লাহ বলেন: {অতঃপর তিনি আসমানের দিকে উঠলেন এবং সেগুলোকে সাত আসমানে বিন্যস্ত করলেন।}

7 - মহান আল্লাহ বলেন: {তিনি আসমান থেকে জমিন পর্যন্ত সকল বিষয় পরিচালনা করেন, অতঃপর তা তাঁর দিকেই আরোহণ করে এমন এক দিনে যার পরিমাণ তোমাদের গণনায় এক হাজার বছরের সমান।}

8 - মহান আল্লাহ বলেন: {তাঁরই দিকে পবিত্র বাক্যসমূহ আরোহণ করে।}

9 - মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয়ই আমি তোমাকে পূর্ণ গ্রহণ করব এবং তোমাকে আমার দিকে উঠিয়ে নেব।}
(খণ্ড: ১) আল-উলুউউ লিল আলিয়্যিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ১২)
10 - وَقَالَ تَعَالَى {وَمَا قَتَلُوهُ يَقِينا بل رَفعه الله إِلَيْهِ}

11 - وَقَالَ تَعَالَى فِي الْمَلَائِكَة {يخَافُونَ رَبهم من فَوْقهم}

12 - وَقَالَ تَعَالَى {أَأَمِنْتُمْ مَنْ فِي السَّمَاءِ أَنْ يخسف بكم الأَرْض فَإِذا هِيَ تمور أم أمنتم من فِي السَّمَاء أَن يُرْسل عَلَيْكُم حاصبا}

13 - وَقَالَ تَعَالَى {ذِي المعارج تعرج الْمَلَائِكَة وَالروح إِلَيْهِ}

14 - وَقَالَ تَعَالَى {وَقَالَ فِرْعَوْنُ يَا هَامَانُ ابْنِ لِي صَرْحًا لَعَلِّي أَبْلُغُ الأَسْبَابَ أَسبَاب السَّمَاوَات فَأَطَّلِعَ إِلَى إِلَهِ مُوسَى وَإِنِّي لأظنه كَاذِبًا}

إِلَى غير ذَلِك من نُصُوص الْقُرْآن الْعَظِيم جلّ منزله وَتَعَالَى قَائِله
১০ - এবং মহান আল্লাহ বলেছেন, {আর তারা তাকে নিশ্চিতভাবে হত্যা করেনি; বরং আল্লাহ তাকে নিজের দিকে তুলে নিয়েছেন।}

১১ - এবং ফেরেশতাদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেছেন, {তারা তাদের প্রতিপালককে ভয় করে, যিনি তাদের উপরে রয়েছেন।}

১২ - এবং মহান আল্লাহ বলেছেন, {তোমরা কি নিরাপদ হয়ে গেছ তাঁর থেকে, যিনি আকাশে রয়েছেন যে, তিনি তোমাদেরসহ ভূমি ধসিয়ে দেবেন না? অতঃপর হঠাৎ তা কাঁপতে থাকবে। অথবা তোমরা কি নিরাপদ হয়ে গেছ তাঁর থেকে, যিনি আকাশে রয়েছেন যে, তিনি তোমাদের ওপর কঙ্করবর্ষী ঝড় পাঠাবেন না?}

১৩ - এবং মহান আল্লাহ বলেছেন, {উচ্চ সোপানসমূহের অধিকারী, যাঁর দিকে ফেরেশতাগণ এবং রূহ আরোহণ করে।}

১৪ - এবং মহান আল্লাহ বলেছেন, {আর ফিরআউন বলল, হে হামান! আমার জন্য একটি সুউচ্চ প্রাসাদ নির্মাণ করো, যাতে আমি পথসমূহে পৌঁছাতে পারি—আকাশসমূহের পথসমূহে; যেন আমি মূসার ইলাহকে উঁকি দিয়ে দেখতে পারি। আর নিশ্চয়ই আমি তাকে মিথ্যাবাদী মনে করি।}

মহান কুরআনের এ জাতীয় আরও অনেক আয়াত রয়েছে, যাঁর অবতীর্ণকারী সুমহান এবং বক্তা সুউচ্চ।
(খণ্ড: ১) আল-উলুউউ লিল আলিয়্যিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌الْأَحَادِيث الْوَارِدَة فِي الْعُلُوّ

 

فَإِن أَحْبَبْت يَا عبد الله الْإِنْصَاف فقف مَعَ نُصُوص الْقُرْآن وَالسّنَن ثمَّ انْظُر مَا قَالَه الصَّحَابَة والتابعون وأئمة التَّفْسِير فِي هَذِه الْآيَات وَمَا حكوه من مَذَاهِب السّلف

فإمَّا أَن تنطق بِعلم وَإِمَّا أَن تسكت بحلم

ودع المراء والجدال فَإِن المراء فِي الْقُرْآن كفر كَمَا نطق بذلك الحَدِيث الصَّحِيح

وسترى أَقْوَال الْأَئِمَّة فِي ذَلِك على طبقاتهم بعد سرد الْأَحَادِيث النَّبَوِيَّة

جمع الله قُلُوبنَا على التَّقْوَى الْهوى

فإننا على أصل صَحِيح وَعقد متين من أَن الله تقدس إسمه لَا مثل لَهُ وَأَن إيمَاننَا بِمَا ثَبت من نعوته كإيماننا بِذَاتِهِ المقدسة إِذْ الصِّفَات تَابِعَة للموصوف فنعقل وجود الْبَارِي ونميز ذَاته المقدسة عَن الْأَشْبَاه من غير أَن نتعقل الْمَاهِيّة

فَكَذَلِك القَوْل فِي صِفَاته نؤمن بهَا ونعقل وجودهَا ونعلمها فِي الْجُمْلَة من غير أَن نتعقلها أَو نشبهها أَو نكيفها أَو نمثلها بِصِفَات خلقه تَعَالَى الله عَن ذَلِك علوا كَبِيرا
আল্লাহর উচ্চতা সম্পর্কিত হাদীসসমূহ

 

হে আল্লাহর বান্দা, তুমি যদি ইনসাফ কামনা করো, তবে কুরআন ও সুন্নাহর ভাষ্যগুলোর ওপর অটল থাকো। অতঃপর লক্ষ্য করো যে সাহাবীগণ, তাবিঈগণ এবং তাফসীরের ইমামগণ এই আয়াতগুলোর ব্যাপারে কী বলেছেন এবং সালাফদের মাযহাব থেকে তারা কী বর্ণনা করেছেন।

হয় তুমি ইলমের সাথে কথা বলো, নয়তো সহনশীলতার সাথে নীরব থাকো।

ঝগড়া ও বিতর্ক বর্জন করো, কেননা কুরআনের বিষয়ে ঝগড়া করা কুফরী, যেমনটি সহীহ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে।

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদীসসমূহ ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করার পর তুমি বিভিন্ন স্তরের ইমামগণের উক্তি দেখতে পাবে।

আল্লাহ আমাদের অন্তরসমূহকে তাকওয়ার ওপর একত্রিত করুন।

নিশ্চয়ই আমরা এক সঠিক মূলনীতি ও মজবুত আকিদার ওপর প্রতিষ্ঠিত যে, আল্লাহ—যার নাম পবিত্র—তাঁর কোনো সদৃশ নেই। তাঁর যেসব গুণাবলি প্রমাণিত হয়েছে, সেগুলোর প্রতি আমাদের ঈমান ঠিক তেমনি যেমনটি তাঁর পবিত্র সত্তার প্রতি আমাদের ঈমান; কেননা গুণাবলি হলো গুণান্বিত সত্তার অনুগামী। সুতরাং আমরা স্রষ্টার অস্তিত্ব অনুধাবন করি এবং তাঁর পবিত্র সত্তাকে সাদৃশ্যসমূহ থেকে পৃথক করি, তাঁর প্রকৃত স্বরূপ অনুধাবন করা ছাড়াই।

অনুরূপভাবে তাঁর গুণাবলির ক্ষেত্রেও কথা একই; আমরা সেগুলোর ওপর ঈমান আনি, সেগুলোর অস্তিত্ব অনুধাবন করি এবং সামগ্রিকভাবে সেগুলো জানি; সেগুলোর প্রকৃত স্বরূপ অনুধাবন করা, সেগুলোকে সাদৃশ্য দেওয়া, ধরণ নির্ধারণ করা কিংবা সৃষ্টির গুণাবলির সাথে তুলনা করা ছাড়াই। আল্লাহ এ সকল বিষয় থেকে অতি উচ্চ ও সুমহান।
(খণ্ড: ১) আল-উলুউউ লিল আলিয়্যিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ১৪)
فالإستواء كَمَا قَالَ مَالك الإِمَام وَجَمَاعَة مَعْلُوم والكيف مَجْهُول

‌‌فَمن الْأَحَادِيث المتواترة الْوَارِدَة فِي الْعُلُوّ

 

15 - حَدِيث مُعَاوِيَة بن الحكم السّلمِيّ قَالَ كَانَت لي غنم بَين أحد والجوانية فِيهَا جَارِيَة لي فاطلعتها ذَات يَوْم فَإِذا الذِّئْب قد ذهب مِنْهَا بِشَاة وَأَنا رجل من بني آدم فأسفت فصككتها فَأتيت النَّبِي صلى الله عليه وسلم فَذكرت ذَلِك لَهُ فَعظم ذَلِك عَليّ

فَقلت يَا رَسُول الله أَفلا أعْتقهَا قَالَ ادعها فدعوتها فَقَالَ لَهَا أَيْن الله قَالَت فِي السَّمَاء

قَالَ من أَنا قَالَت أَنْت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم

قَالَ أَعْتِقْهَا فَإِنَّهَا مُؤْمِنَةٌ // هَذَا حَدِيثٌ صَحِيح رَوَاهُ جمَاعَة من الثِّقَات عَن يحيى بن أبي كثير عَن هِلَال بن أبي مَيْمُونَة عَن عَطاء بن يسَار عَن مُعَاوِيَة السّلمِيّ أخرجه مُسلم وَأَبُو دَاوُد وَالنَّسَائِيّ وَغير وَاحِد من الْأَئِمَّة فِي تصانيفهم يمرونه كَمَا جَاءَ وَلَا يتعرضون لَهُ بِتَأْوِيل وَلَا تَحْرِيف //
সুতরাং (আরশের উপর) উঠা বিষয়টি যেমন ইমাম মালেক এবং একদল আলেম বলেছেন তা জানা আছে, আর এর ধরন বা পদ্ধতি অজ্ঞাত।

‌‌আল্লাহর সুউচ্চতা (উলুউ) বিষয়ে বর্ণিত মুতাওয়াতির হাদিসসমূহের মধ্য থেকে

 

১৫ - মুয়াবিয়া ইবনুল হাকাম আস-সুলামী থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: উহুদ ও জাওয়ানিয়ার মাঝামাঝি স্থানে আমার কিছু বকরি ছিল এবং সেগুলো দেখাশোনার জন্য আমার একজন দাসী ছিল। একদিন আমি সেখানে গিয়ে দেখতে পেলাম যে, নেকড়ে বাঘ একটি বকরি নিয়ে গেছে। আমি যেহেতু বনী আদমেরই একজন মানুষ, তাই আমিও ব্যথিত হলাম এবং তাকে একটি চড় মারলাম। এরপর আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট আসলাম এবং বিষয়টি তাঁকে জানালাম। তিনি বিষয়টিকে আমার জন্য অত্যন্ত গুরুতর (অন্যায়) হিসেবে গণ্য করলেন।

আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি তাকে মুক্ত করে দেব না? তিনি বললেন: তাকে ডাকো। আমি তাকে ডাকলাম। অতঃপর তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন: আল্লাহ কোথায়? সে উত্তর দিল: আসমানে।

তিনি জিজ্ঞেস করলেন: আমি কে? সে বলল: আপনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)।

তিনি বললেন: তাকে মুক্ত করে দাও, কারণ সে একজন মুমিনাহ। // এটি একটি সহিহ হাদিস যা ইয়াহইয়া ইবনু আবি কাসীর থেকে, তিনি হিলাল ইবনু আবি মাইমুনা থেকে, তিনি আতা ইবনু ইয়াসার থেকে এবং তিনি মুয়াবিয়া আস-সুলামী থেকে একদল নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন। ইমাম মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ এবং অন্যান্য অনেক ইমামগণ তাঁদের কিতাবসমূহে এটি বর্ণনা করেছেন; তাঁরা এটি যেভাবে এসেছে সেভাবেই বর্ণনা করেন এবং কোনো প্রকার অপব্যাখ্যা বা বিকৃতি ছাড়াই এটি গ্রহণ করেন। //
(খণ্ড: ১) আল-উলুউউ লিল আলিয়্যিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ১৫)
16 - عَن عَطاء بن يسَار قَالَ حَدَّثَنِي صَاحِبُ الْجَارِيَةِ نَفْسَهُ قَالَ كَانَتْ لِي جَارِيَةٌ تَرْعَى الْحَدِيثُ

وَفِيهِ فَمَدَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَدَهُ إِلَيْهَا وَأَشَارَ إِلَيْهَا مُسْتَفْهِمًا مَنْ فِي السَّمَاءِ قَالَتْ اللَّهُ

قَالَ فَمَنْ أَنَا قَالَتْ أَنْتَ رَسُولُ اللَّهِ

قَالَ أَعْتِقْهَا فَإِنَّهَا مُسْلِمَةٌ

17 - وَقَالَ النَّسَائِيُّ فِي تَفْسِيرِهِ فِي قَوْلِهِ تَعَالَى {ثمَّ اسْتَوَى إِلَى السَّمَاء} أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ عَنْ مَالِكٍ عَنْ هِلَال بن أُسَامَة عَن عمر بْنِ الْحَكَمِ قَالَ أَتَيْتُ رَسُولَ الله صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ جَارِيَةً لِي كَانَتْ تَرْعَى غَنَمًا لِي فَجِئْتُهَا فَفَقَدَتْ شَاةً مِنَ الْغَنَمِ فَسَأَلْتُهَا عَنْهَا فَقَالَتْ أَكَلَهُ الذِّئْبُ

فَأَسِفْتُ عَلَيْهَا وَكُنْتُ مِنْ بَنِي آدَمَ فَلَطَمْتُ وَجْهَهَا وَعَلَيَّ رَقَبَةٌ أَفَأَعْتِقَهَا فَقَالَ لَهَا رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم أَيْن الله قَالَت فِي السَّمَاء

قَالَ فَمَنْ أَنَا قَالَتْ أَنْتَ رَسُولُ اللَّهِ قَالَ فَأَعْتِقْهَا // كَذَا سَمَّاهُ مَالِكٌ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْحَكَمِ //

18 - وَقَالَ عَبْدُ الرَّزَّاقِ حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ رَجُلٍ مِنَ الأَنْصَارِ أَنَّهُ جَاءَ بِأَمَةٍ سَوْدَاءَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ عَلَيَّ عِتْقَ رَقَبَةٍ مُؤْمِنَةٍ فَإِنْ كُنْتَ تَرَى هَذِهِ مُؤْمِنَةً أَعْتِقُهَا فَقَالَ أَتَشْهَدِينَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلا اللَّهُ قَالَتْ نَعَمْ

قَالَ أَتَشْهَدِينَ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ قَالَتْ نَعَمْ

قَالَ أَتُؤْمِنِينَ بِالْبَعْثِ قَالَتْ نَعَمْ

قَالَ أعقتها // هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ أَخْرَجَهُ ابْنُ خُزَيْمَة فِي التَّوْحِيد //

19 - وَقَالَ الْمَسْعُودِيُّ عَنْ عَوْنٍ عَنْ أَخِيهِ عُبَيْدِ اللَّهِ هُوَ ابْنُ عُتْبَةَ
১৬ - আতা বিন ইয়াসার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, দাসীটির মালিক স্বয়ং আমাকে বর্ণনা করেছেন যে, তার একটি দাসী ছিল যে পশু চরাত... হাদীসটি দীর্ঘ।

তাতে রয়েছে: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দিকে হাত বাড়ালেন এবং জিজ্ঞাসুভাবে তার দিকে ইশারা করে বললেন, আকাশে কে? সে বলল, আল্লাহ।

তিনি বললেন, তবে আমি কে? সে বলল, আপনি আল্লাহর রাসূল।

তিনি বললেন, তাকে মুক্ত করে দাও, কারণ সে একজন মুমিন।

১৭ - ইমাম নাসায়ী তাঁর তাফসীর গ্রন্থে মহান আল্লাহর বাণী {অতঃপর তিনি আকাশের দিকে উঠলেন} এর ব্যাখ্যায় বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন কুতাইবা, তিনি মালিক থেকে, তিনি হিলাল বিন উসামা থেকে, তিনি উমর বিন আল-হাকাম থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার একটি দাসী ছিল যে আমার বকরি চরাত। আমি তার কাছে এসে দেখলাম একটি বকরি হারিয়ে গেছে। আমি তাকে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে সে বলল যে, সেটি নেকড়ে বাঘ খেয়ে ফেলেছে।

এতে আমি তার ওপর দুঃখিত (রাগান্বিত) হলাম এবং আমি যেহেতু আদম সন্তান (মানুষ), তাই আমি তার মুখে একটি থাপ্পড় মারলাম। এখন আমার ওপর একজন দাস মুক্ত করা আবশ্যক, আমি কি তাকে মুক্ত করে দেব? তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, আল্লাহ কোথায়? সে বলল, আকাশে।

তিনি বললেন, তবে আমি কে? সে বলল, আপনি আল্লাহর রাসূল। তিনি বললেন, তবে তাকে মুক্ত করে দাও। // ইমাম মালিক এভাবেই উমর বিন আল-হাকাম থেকে এর নামকরণ করেছেন //

১৮ - আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মা'মার, তিনি যুহরী থেকে, তিনি উবাইদুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি আনসারদের একজন ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি একজন কৃষ্ণাঙ্গ দাসী নিয়ে আসলেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার ওপর একজন মুমিন দাস মুক্ত করা আবশ্যক। যদি আপনি এই দাসীটিকে মুমিন মনে করেন, তবে আমি তাকে মুক্ত করে দেব। তখন তিনি তাকে বললেন, তুমি কি সাক্ষ্য দাও যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই? সে বলল, হ্যাঁ।

তিনি বললেন, তুমি কি সাক্ষ্য দাও যে মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল? সে বলল, হ্যাঁ।

তিনি বললেন, তুমি কি পুনরুত্থানে বিশ্বাস কর? সে বলল, হ্যাঁ।

তিনি বললেন, একে মুক্ত করে দাও। // এটি একটি সহীহ হাদীস, ইবনে খুজাইমা এটি 'আত-তাওহীদ' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন //

১৯ - আল-মাসউদী আওন থেকে, তিনি তার ভাই উবাইদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন—আর তিনি হলেন ইবনে উতবাহ।
(খণ্ড: ১) আল-উলুউউ লিল আলিয়্যিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ১৬)
عَن أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِجَارِيَةٍ أَعْجَمِيَّةٍ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ عَلَيَّ رَقَبَةٍ مُؤْمِنَةٍ فَأَعْتِقُ هَذِهِ فَقَالَ لَهَا أَيْنَ اللَّهُ فَأَشَارَتْ إِلَى السَّمَاءِ

قَالَ فَمَنْ أَنَا فَأَشَارَتْ إِلَى رَسُول الله ثُمَّ إِلَى السَّمَاءِ

قَالَ أَعْتِقْهَا فَإِنَّهَا مُؤْمِنَةٌ // رَوَاهُ جَمَاعَةٌ عَنِ الْمَسْعُودِيِّ مِنْهُمْ يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ وَإِسْنَادُهُ حَسَنٌ

فإمَّا أَن يكون عبيد الله قد سَمعه من أبي هُرَيْرَة أَو لَعَلَّه رَوَاهُ عَن الرجل الْأنْصَارِيّ فَيحْتَمل أَن يكون قَضِيَّة أُخْرَى وَيحْتَمل أَن يكون حَدِيث الزُّهْرِيّ بن عتبَة عَنهُ فِي عداد الْمُرْسل فَيكون قَوْله عَن رجل من الْأَنْصَار بِلَا سَماع

وَأما حَدِيث المَسْعُودِيّ فَفِي مُسْند الإِمَام أَحْمد وسمعناه فِي مُسْند أبي هُرَيْرَة للْقَاضِي البرقي //

20 - حَدِيثٌ لأَبِي مُعَاوِيَةَ الضَّرِيرِ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمَرْزُبَانِ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَمَعَهُ جَارِيَةٌ سَوْدَاءُ أَعْجَمِيَّةٌ فَقَالَ عَلَيَّ رَقَبَةٌ فَهَلْ تجزىء هَذِهِ عَنِّي فَقَالَ أَيْنَ اللَّهُ فَأَشَارَتْ بِيَدِهَا إِلَى السَّمَاءِ

فَقَالَ من أَنا قَالَت أَنْت رَسُول اللَّهِ

قَالَ أَعْتِقْهَا فَإِنَّهَا مُؤْمِنَةٌ // هَذَا مَحْفُوظٌ عَنْ أَبِي مُعَاوِيَةَ لَكِنَّ شَيْخَهُ قَدْ ضُعِّفَ //

21 - حَدِيث مُحَمَّد بن الشريد أَن أمه أوصته أَن يعْتق عَنْهَا رَقَبَة مُؤمنَة فَقَالَ يَا رَسُول الله إِن أُمِّي أوصت بِكَذَا وَهَذِه جَارِيَة سَوْدَاء نوبية أتجزيء عني قَالَ ائْتِنِي بهَا

فَقَالَ لَهَا أَيْن الله قَالَت فِي السَّمَاء

قَالَ من أَنا قَالَت أَنْتَ رَسُولُ اللَّهِ

قَالَ فَأَعْتِقْهَا إِنَّهَا
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে একজন অনারব দাসী নিয়ে আসল এবং বলল, হে আল্লাহর রাসূল, আমার ওপর একজন মুমিন দাস মুক্ত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে, আমি কি একে মুক্ত করব? তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, আল্লাহ কোথায়? সে আকাশের দিকে ইশারা করল।

তিনি বললেন, আমি কে? তখন সে আল্লাহর রাসূলের দিকে ইশারা করল এবং তারপর আকাশের দিকে।

তিনি বললেন, তাকে মুক্ত করে দাও, কারণ সে একজন মুমিন। // ইয়াজিদ ইবনে হারুনসহ একদল বর্ণনাকারী মাসউদী থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ হাসান।

হয় উবায়দুল্লাহ এটি আবু হুরায়রা থেকে শুনেছেন অথবা সম্ভবত তিনি এটি একজন আনসারী ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেছেন। ফলে এটি অন্য কোনো ঘটনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, আবার এটিও সম্ভব যে যুহরী ইবনে উতবার হাদিসটি তার থেকে মুরসাল হিসেবে গণ্য হবে, অর্থাৎ আনসারী ব্যক্তির থেকে তার বর্ণনাটি সরাসরি শ্রবণ ছাড়াই হয়েছে।

আর মাসউদীর হাদিসটি ইমাম আহমদের মুসনাদে রয়েছে এবং আমরা তা কাজী বারকির মুসনাদে আবু হুরায়রাতেও পেয়েছি। //

২০ - আবু মুয়াবিয়া আদ-দারীর এর হাদিস, তিনি সাঈদ ইবনে মারযুবান থেকে, তিনি ইকরিমাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এল এবং তার সাথে ছিল একজন কৃষ্ণাঙ্গ অনারব দাসী। সে বলল, আমার ওপর একজন দাস মুক্ত করার দায়িত্ব আছে, এটি কি আমার পক্ষ থেকে যথেষ্ট হবে? তিনি বললেন, আল্লাহ কোথায়? তখন সে তার হাত দিয়ে আকাশের দিকে ইশারা করল।

তিনি বললেন, আমি কে? সে বলল, আপনি আল্লাহর রাসূল।

তিনি বললেন, তাকে মুক্ত করে দাও, কারণ সে মুমিন। // এটি আবু মুয়াবিয়া থেকে সংরক্ষিত, তবে তার শায়খ দুর্বল। //

২১ - মুহাম্মাদ ইবনুল শারীদের হাদিস যে, তার মা তাকে তার পক্ষ থেকে একজন মুমিন দাস মুক্ত করার ওসিয়ত করেছিলেন। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল, আমার মা এরূপ ওসিয়ত করেছেন এবং এই মেয়েটি একজন কৃষ্ণাঙ্গ নুবী দাসী, এটি কি আমার পক্ষ থেকে যথেষ্ট হবে? তিনি বললেন, তাকে আমার কাছে নিয়ে আসো।

এরপর তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, আল্লাহ কোথায়? সে বলল, আকাশে।

তিনি বললেন, আমি কে? সে বলল, আপনি আল্লাহর রাসূল।

তিনি বললেন, তবে তাকে মুক্ত করে দাও, নিশ্চয়ই সে...
(খণ্ড: ১) আল-উলুউউ লিল আলিয়্যিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ১৭)
مُؤمنَة // كَذَا رُوِيَ هَذَا الحَدِيث وَلَيْسَ إِسْنَاده بالقائم ويروى نَحوه عَن مُحَمَّد بن الشريد بن سُوَيْد الثَّقَفِيّ عَن أبي هُرَيْرَة مَرْفُوعا

وَقيل صَوَابه عمر بن الرشيد

فَالله أعلم //

22 - حَدِيثٌ أَوَرَدَهُ أَبُو حَفْصِ بْنُ شَاهِينَ فِي الصَّحَابَةِ أَنَّهُ قَالَ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ الْعَسْكَرِيُّ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْحَارِثِ عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ حَدَّثَنَا زُهَيْر بن عباد حَدثنَا حَفْصُ بْنُ مَيْسَرَةَ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسَلَمَ عَنْ عُكَّاشَةَ الْغَنَوِيِّ أَنَّهُ كَانَتْ لَهُ جَارِيَةٌ فِي غَنَمٍ تَرْعَاهَا فَفَقَدَ مِنْهَا شَاةً فَضَرَبَ الْجَارِيَةَ عَلَى وَجْهِهَا ثُمَّ أَخْبَرَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم بِفِعْلِهِ وَقَالَ لَوْ أَعْلَمُ أَنَّهَا مُؤْمِنَةٌ لأَعْتَقْتُهَا

فَدَعَاهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ أَتَعْرِفِينِي قَالَتْ أَنْتَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم

قَالَ فَأَيْنَ اللَّهُ قَالَتْ فِي السَّمَاءِ قَالَ أَعْتِقْهَا فَإِنَّهَا مُؤْمِنَةٌ // لَا يُعْرَفُ عُكَّاشَةُ إِلا بِهَذَا الْخَبَرِ //

23 - حَدِيث أُسَامَة بن زيد اللَّيْثِيّ عَن يحيى بن عبد الرَّحْمَن ابْن حَاطِب قَالَ جَاءَ حَاطِب إِلَى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم بِجَارِيَة لَهُ فَقَالَ يَا رَسُول الله إِن عَليّ رَقَبَة فَهَل تجزيء هَذِه عني فَقَالَ لَهَا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم من أَنا قَالَت أَنْت رَسُول الله قَالَ فَأَيْنَ رَبك فَأَشَارَتْ إِلَى السَّمَاء

قَالَ أعْتقهَا فَإِنَّهَا مُؤمنَة // أخرجه القَاضِي أَبُو أَحْمد الْعَسَّال فِي كتاب الْمعرفَة //

24 - حَدِيث جَابر بن عبد الله أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ فِي خطبتة يَوْم عَرَفَة أَلا هَل بلغت فَقَالُوا نعم يرفع إصبعه إِلَى السَّمَاء وينكتها
মুমিনাহ // এই হাদিসটি এভাবেই বর্ণিত হয়েছে, তবে এর সনদ শক্তিশালী নয়। অনুরূপ বর্ণনা মুহাম্মদ ইবনে আশ-শারীদ ইবনে সুয়াইদ আস-সাকাফী হতে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর সূত্রে মারফু হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।

এবং বলা হয়েছে যে এর সঠিক রূপ হলো ওমর ইবনে আর-রাশিদ।

আল্লাহই ভালো জানেন //

২২ - আবু হাফস ইবনে শাহীন সাহাবীদের জীবনী বিষয়ক গ্রন্থে একটি হাদিস উল্লেখ করেছেন যে, তিনি বলেছেন: আলী ইবনে আহমাদ আল-আসকারী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে আল-হারিস আমার নিকট আব্দুল হামিদ হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি জুহাইর ইবনে আব্বাদ হতে, তিনি হাফস ইবনে মাইসারা হতে, তিনি জায়েদ ইবনে আসলাম হতে, তিনি উক্কাশাহ আল-গানাবী হতে বর্ণনা করেন যে, তার একটি দাসী ছিল যে ছাগল চরাত। একবার সে একটি ছাগল হারিয়ে ফেলল, ফলে সে দাসীর মুখে চড় মারল। এরপর সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তার কাজের কথা জানালো এবং বলল, যদি আমি জানতাম যে সে একজন মুমিনাহ, তবে আমি তাকে মুক্ত করে দিতাম।

তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে ডাকলেন এবং বললেন, তুমি কি আমাকে চেনো? সে বলল, আপনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

তিনি বললেন, আল্লাহ কোথায়? সে বলল, আকাশে। তিনি বললেন, তাকে মুক্ত করে দাও, কারণ সে একজন মুমিনাহ। // এই বর্ণনাটি ছাড়া উক্কাশাহকে অন্যভাবে চেনা যায় না। //

২৩ - উসামা ইবনে জায়েদ আল-লাইসী হতে বর্ণিত ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে হাতিব-এর হাদিস, তিনি বলেন: হাতিব রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে তার এক দাসীকে নিয়ে এলেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রাসূল, আমার ওপর একজন দাস মুক্ত করা আবশ্যক, এই দাসীটি কি আমার পক্ষ থেকে যথেষ্ট হবে? তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন, আমি কে? সে বলল, আপনি আল্লাহর রাসূল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমার রব কোথায়? তখন সে আকাশের দিকে ইশারা করল।

তিনি বললেন, তাকে মুক্ত করে দাও, কারণ সে একজন মুমিনাহ। // এটি কাজী আবু আহমাদ আল-আসসাল 'কিতাবুল মা'রিফাহ' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। //

২৪ - জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ হতে বর্ণিত হাদিস যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরাফাতের দিনের খুতবায় বলেছিলেন, সাবধান, আমি কি পৌঁছে দিয়েছি? তারা বললেন, হ্যাঁ। তখন তিনি আকাশের দিকে নিজের আঙুল তুলছিলেন এবং তা (মানুষের দিকে) হেলাচ্ছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল-উলুউউ লিল আলিয়্যিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ১৮)
إِلَيْهِم وَيَقُول اللَّهُمَّ اشْهَدْ // أخرجه مُسلم //

25 - حَدِيث أبي هُرَيْرَة أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ الْمَلَائِكَة يتعاقبون فِيكُم مَلَائِكَة بِاللَّيْلِ وملائكة بِالنَّهَارِ ويجتمعون فِي صَلَاة الْفجْر وَصَلَاة الْعَصْر ثمَّ يعرج إِلَيْهِ الَّذين باتوا فِيكُم فيسألهم وَهُوَ أعلم بهم كَيفَ تركْتُم عبَادي فَيَقُولُونَ أتيناهم وهم يصلونَ وتركناهم وَهُوَ يصلونَ // مُتَّفق عَلَيْهِ //

26 - حَدِيثٌ سَمِعْنَاهُ مِنْ أَحْمَدَ بْنِ هِبَةِ اللَّهِ وَجَمَاعَةٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْوَاحِد حَدثنَا إِسْمَاعِيل بن عَليّ أخبرنَا مُحَمَّد بن عَليّ النَّحْوِيّ أخبرنَا أَبُو بكر بن الْمقري حَدثنَا عَبْدَانِ بن أَحْمد حَدثنَا عَمْرو بن مُوسَى حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ يَعْلَى بْنِ عَطَاءٍ عَنْ وَكِيعِ بْنِ حُدُسٍ عَنْ أَبِي رَزِينٍ الْعُقَيْلِيِّ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيْنَ كَانَ رَبُّنَا قَبْلَ أَن يخلق السَّمَاوَات وَالأَرْضَ قَالَ كَانَ فِي عَمَاءٍ مَا فَوْقَهُ هَوَاءٌ وَمَا تَحْتَهُ هَوَاءٌ ثُمَّ خَلَقَ الْعَرْشَ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَيْهِ // رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَأَبُو دَاوُد وَابْنُ مَاجَهْ وَإِسْنَادُهُ حَسَنٌ

وَقَدْ رَواهُ شُعْبَةُ وَغَيْرُهُ عَنْ يَعْلَى وَقَالُوا عُدُسٍ بَدَلَ حُدُسٍ وَرَوَاهُ إِسْحَاقُ بْنُ رَاهَوَيْهِ عَنْ عَبْدِ الصَّمَدِ بْنِ عَبْدِ الْوَارِثِ عَنْ حَمَّادٍ وَعِنْدَهُ ثُمَّ كَانَ الْعَرْشُ فَارْتَفَعَ عَلَى عَرْشِهِ وَرَوَى حَرْبٌ عَنِ ابْنِ رَاهَوَيْهِ تَحْتَهُ هَوَاءٌ وَفَوْقَهُ هَوَاء يَعْنِي السَّحَاب //

وَقَالَ أَبُو عبيد الْعَمَاءُ الْغَمَامُ //

وَقَالَ الْحَسَنُ بْنُ عِمْرَانَ الْحَنْظَلِيُّ الْهَرَوِيُّ سَمِعْتُ أَبَا الْهَيْثَمِ خَالِدَ بْنَ يَزِيدَ الرَّازِيَّ يَقُولُ أَخْطَأَ أَبُو عَبْيٍد إِنَّمَا الْعَمَى مَقْصُورٌ وَلا يُدْرَى أَيْنَ كَانَ الرَّبُّ يَعْنِي قَبْلَ خَلْقِ الْعَرْشِ وَيُرْوَى عَنْ أَبِي رَزِينٍ حَدِيثٌ طَوِيلٌ بِإِسْنَادَيْنِ مَدَنِيَّيْنِ فِي الْبَابِ لَكِنَّهُ ضَعِيفٌ //

27 - حَدِيثُ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ عَنْ أَبِي قَابُوسٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ
তাদের নিকট এবং বলেন, হে আল্লাহ! আপনি সাক্ষী থাকুন। // মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন //

২৫ - আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিস যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: ফেরেশতারা তোমাদের নিকট পালাক্রমে যাতায়াত করেন; একদল রাতে এবং একদল দিনে। তারা ফজর ও আসরের সালাতে একত্রিত হন। অতঃপর যারা তোমাদের মাঝে রাত অতিবাহিত করেছেন তারা তাঁর (আল্লাহর) নিকট আরোহণ করেন। তখন তিনি তাদের জিজ্ঞাসা করেন—যদিও তিনি তাদের সম্পর্কে অধিক পরিজ্ঞাত—'তোমরা আমার বান্দাদের কোন অবস্থায় রেখে এসেছ?' তারা বলেন, 'আমরা যখন তাদের কাছে গিয়েছি তখন তারা সালাত আদায় করছিল এবং যখন আমরা তাদের ছেড়ে এসেছি তখনও তারা সালাত আদায় করছিল।' // মুত্তাফাকুন আলাইহি //

২৬ - একটি হাদিস যা আমরা আহমদ বিন হিবাতুল্লাহ ও একদল বর্ণনাকারীর নিকট থেকে মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ সূত্রে শুনেছি; তিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাইল বিন আলী থেকে, তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আলী আন-নাহবী থেকে, তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর বিন আল-মুকরি থেকে, তিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদান বিন আহমদ থেকে, তিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমর বিন মুসা থেকে, তিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ বিন সালামাহ থেকে, তিনি ইয়ালা বিন আতা থেকে, তিনি ওয়াকি বিন হুদুস থেকে এবং তিনি আবু রাজিন আল-উকাইলি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আসমান ও জমিন সৃষ্টির পূর্বে আমাদের রব কোথায় ছিলেন? তিনি বললেন: 'তিনি ছিলেন এক মেঘমালার (আমা) মধ্যে, যার উপরেও বাতাস ছিল এবং যার নিচেও বাতাস ছিল। অতঃপর তিনি আরশ সৃষ্টি করলেন, তারপর তিনি তার উপর উঠলেন।' // তিরমিজি, আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহ এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর সানাদ হাসান //

শু'বাহ এবং অন্যান্যরা ইয়ালা থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং তারা 'হুদুস'-এর পরিবর্তে 'উদুস' বলেছেন। ইসহাক বিন রাহওয়াই এটি বর্ণনা করেছেন আব্দুস সামাদ বিন আব্দুল ওয়ারিস থেকে, তিনি হাম্মাদ থেকে; সেখানে তাঁর বর্ণনায় রয়েছে—'অতঃপর আরশ সৃষ্টি হলো, এরপর তিনি তাঁর আরশের উপর উঠলেন।' হারব ইবনে রাহওয়াই থেকে বর্ণনা করেছেন—'তার নিচে বাতাস এবং উপরে বাতাস অর্থাৎ মেঘমালা।' //

আবু উবাইদ বলেছেন, 'আল-আমা' অর্থ হলো মেঘমালা (আল-গামাম)। //

হাসান বিন ইমরান আল-হানজালি আল-হারাবি বলেন, আমি আবুল হাইসাম খালিদ বিন ইয়াজিদ আল-রাজিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আবু উবাইদ ভুল করেছেন, মূলত এটি হলো 'আল-আমা' (সংক্ষিপ্ত আলিফসহ), এর অর্থ হলো রব কোথায় ছিলেন তা জানা যায় না—অর্থাৎ আরশ সৃষ্টির পূর্বে। এই অধ্যায়ে আবু রাজিন থেকে মদিনার দুটি সানাদসহ একটি দীর্ঘ হাদিস বর্ণিত হয়েছে, কিন্তু সেটি দুর্বল। //

২৭ - আমর বিন দিনারের হাদিস, তিনি আবু কাবুস থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন (আল-আস) থেকে...
(খণ্ড: ১) আল-উলুউউ লিল আলিয়্যিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ১৯)
الْعَاصِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ الرَّاحِمُونَ يَرْحَمُهُمُ الرَّحْمَنُ ارْحَمُوا مَنْ فِي الأَرْضِ يَرْحَمْكُمْ مَنْ فِي السَّمَاءِ // أَخْرَجَهُ أَبُو دَاوُدَ وَالتِّرْمِذِيُّ وَصَحَّحَهُ

تَفَرَّدَ بِهِ سُفْيَانُ //

28 - حَدِيثُ أَبِي الأَحْوَصِ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ جَرِيرٍ سَمِعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ مَنْ لَمْ يَرْحَمْ مَنْ فِي الأَرْضِ لَمْ يَرْحَمْهُ مَنْ فِي السَّمَاءِ // رُوَاتُهُ ثِقَاتٌ //

29 - حَدِيثُ أَبِي عَوَانَةَ وَأَبِي الأَحْوَصِ وَطَائِفَةٍ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ السَّبِيعِيِّ عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ عَنْ عبد الله بن مَسْعُود ارْحَمْ مَنْ فِي الأَرْضِ يَرْحَمْكَ مَنْ فِي السَّمَاءِ // وَرَوَاهُ عَمَّارُ بْنُ زُرَيْقٍ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ مَرْفُوعًا وَالْوَقْفُ أَصَحُّ مَعَ أَنَّ رِوَايَةَ أَبِي عُبَيْدَةَ عَنْ وَالِدِهِ فِيهَا إِرْسَالٌ //

30 - حَدِيثُ عِيسَى بْنُ طَهْمَانَ عَنْ أَنَسٍ وَثَابِتٍ أَيْضًا عَنْ أَنَسٍ أَنَّ زَيْنَبَ بِنْتَ جَحْشٍ كَانَتْ تَفْخَرُ عَلَى أَزْوَاجِ النَّبِي صلى الله عليه وسلم تَقُولُ زَوَّجَكُنَّ أَهَالِيكُنَّ وَزَوَّجَنِي اللَّهُ من فَوق سبع سماوات

وَلَفْظُ عِيسَى كَانَتْ تَقُولُ إِنَّ اللَّهَ أَنْكَحَنِي فِي السَّمَاءِ

وَفِي لَفْظٍ أَنَّهَا قَالَتْ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم زَوَّجَنِيكَ الرَّحْمَنُ مِنْ فَوْقِ عَرْشِهِ // هَذَاْ حَدِيثٌ صَحِيحٌ أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ //

31 - حَدِيث أبي سعيد قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَلا تأمنوني وَأَنا أَمِين من فِي السَّمَاء يأتيني خبر السَّمَاء صباحاً وَمَسَاء // مُتَّفق عَلَيْهِ من رِوَايَة عمَارَة بن الْقَعْقَاع عَن عبد الرَّحْمَن بن أبي نعم عَنهُ مطولا أَوله بعث عَليّ من الْيمن بذهيبة //

32 - حَدِيث أبي هُرَيْرَة أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ وَالَّذِي نَفسِي بِيَدِهِ
ইবনে আল-আস থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "দয়ালুদের প্রতি দয়াময় আল্লাহ দয়া করেন। তোমরা জমিনে যারা আছে তাদের প্রতি দয়া করো, তাহলে আসমানে যিনি আছেন তিনি তোমাদের প্রতি দয়া করবেন।" এটি আবু দাউদ ও তিরমিজি বর্ণনা করেছেন এবং তিরমিজি একে সহিহ বলেছেন।

সুফিয়ান এককভাবে এটি বর্ণনা করেছেন।

২৮ - আবুল আহওয়াস থেকে বর্ণিত, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি জারির থেকে; তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন, "যে ব্যক্তি জমিনে বসবাসকারীদের প্রতি দয়া করে না, আসমানে যিনি আছেন তিনি তার প্রতি দয়া করবেন না।" এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।

২৯ - আবু আওয়ানা, আবুল আহওয়াস এবং একদল বর্ণনাকারী আবু ইসহাক আস-সাবিঈ থেকে, তিনি আবু উবাইদাহ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন: "তুমি জমিনে যারা আছে তাদের প্রতি দয়া করো, আসমানে যিনি আছেন তিনি তোমার প্রতি দয়া করবেন।" আম্মার ইবনে জুরাইক এটি আবু ইসহাক থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তবে মাওকুফ হওয়াটাই অধিক সহিহ; যদিও আবু উবাইদাহর তার পিতা থেকে বর্ণিত বর্ণনায় ইরসাল (বিচ্ছিন্নতা) রয়েছে।

৩০ - ঈসা ইবনে তাহমান আনাস থেকে এবং সাবিতও আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, জয়নব বিনতে জাহশ রাযিয়াল্লাহু আনহা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অন্যান্য স্ত্রীদের সামনে গর্ব করে বলতেন, "তোমাদের বিয়ে দিয়েছেন তোমাদের পরিবারবর্গ, আর আল্লাহ আমার বিয়ে দিয়েছেন সাত আসমানের উপর থেকে।"

আর ঈসার বর্ণনার শব্দ হলো, তিনি বলতেন, "নিশ্চয়ই আল্লাহ আসমানে আমার বিবাহ সম্পন্ন করেছেন।"

অন্য এক বর্ণনায় এসেছে যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলেছিলেন, "দয়াময় (আল্লাহ) তাঁর আরশের উপর থেকে আপনার সাথে আমার বিয়ে দিয়েছেন।" এটি একটি সহিহ হাদিস, যা ইমাম বুখারি বর্ণনা করেছেন।

৩১ - আবু সাঈদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "তোমরা কি আমাকে আমানতদার মনে করো না? অথচ আমি আসমানে যিনি আছেন তাঁর আমানতদার। সকাল-সন্ধ্যায় আমার কাছে আসমানের খবর আসে।" এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি, যা উমারা ইবনুল কাকা আবদুর রহমান ইবনে আবু নুয়াম থেকে তাঁর সূত্রে দীর্ঘভাবে বর্ণনা করেছেন, যার শুরু হলো: "আলী ইয়ামেন থেকে কিছু স্বর্ণখণ্ড পাঠিয়েছিলেন..."।

৩২ - আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ..."
(খণ্ড: ১) আল-উলুউউ লিল আলিয়্যিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ২০)
مَا من رجل يَدْعُو امْرَأَته إِلَى فرَاشه فتأبى عَلَيْهِ إِلَّا كَانَ الَّذِي فِي السَّمَاء ساخطاً عَلَيْهَا حَتَّى يرضى عَنْهَا زَوجهَا // أخرجه مُسلم من طَرِيق يزِيد بن كيسَان عَن أبي حَازِم الْأَشْجَعِيّ عَن أبي هُرَيْرَة //

33 - حَدِيثُ عَلِيُّ بْنِ زَيْدِ بْنِ جَدْعَانَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ نَوْفَلٍ أَنَّ صَعْصَعَةَ بْنَ صُوحَانَ تَكَلَّمَ يَوْمًاً عِنْدَ عُثْمَانَ رضي الله عنه فَقَالَ فِيمَا تَقولُونَ {أُذِنَ لِلَّذِينَ يُقَاتَلُونَ بِأَنَّهُمْ ظُلِمُوا} الْآيَتَيْنِ

فَقَالَ عُثْمَان يَا أَيُّهَا النَّاسُ هَا إِنَّ هَذَا الْبَجْبَاجَ النَّفَّاجَ لَا يَدْرِي مَنْ اللَّهُ وَلا أَيْنَ اللَّهُ وَاللَّهِ مَا نَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ إِلا فِي أَصْحَابِي أُخْرِجْنَا مِنْ دِيَارِنَا بِغَيْرِ حَقٍّ

فَقَالَ أَمَّا قَوْلُكَ لَا أَدْرِي مَنْ اللَّهُ فَإِنَّ اللَّهَ رَبُّنَا وَرَبُّ آبَائِنَا الأَوَّلِينَ وَقَوْلُكَ لَا أَدْرِي أَيْنَ اللَّهُ فَإِنَّ اللَّهَ لَبِالْمِرْصَادِ // رَوَاهُ عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ فِي تَفْسِيرِهِ عَنِ الْحَسَنِ الأَشْيَبِ عَنْ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ عَنْهُ //

34 - حَدِيثُ إِسْحَاقَ بْنِ سُلَيْمَان الرَّازِيّ حَدثنَا أَبُو جَعْفَرٍ الرَّازَيُّ عَنْ عَاصِمٍ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَة قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لَمَّا أُلْقِيَ إِبْرَاهِيمُ عليه السلام فِي النَّارِ قَالَ اللَّهُمَّ إِنَّكَ وَاحِدٌ فِي السَّمَاءِ وَأَنَا فِي الأَرْضِ وَاحِدٌ أَعْبُدُكَ // هَذَا حَدِيثٌ حَسَنُ الإِسْنَادِ رَوَاهُ جَمَاعَةٌ عَنْ إِسْحَاقَ //

35 - حَدِيث محَاضِر بن الْمُوَرِّع حَدثنَا الْأَحْوَص بن حَكِيم حَدثنَا خَالِدُ بْنُ مَعْدَانَ عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقُولُ مَنْ تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ الْوُضُوءَ ثُمَّ قَامَ إِلَى الصَّلاةِ فَأَتَّمَ رُكُوعَهَا وَسُجُودَهَا وَالْقِرَاءَةَ فِيهَا قَالَتْ حَفِظَكَ اللَّهُ كَمَا حَفِظْتَنِي ثُمَّ صُعِدَ بِهَا إِلَى السَّمَاءِ
যে কোনো ব্যক্তি যখন তার স্ত্রীকে নিজ বিছানার দিকে ডাকে আর সে তা অস্বীকার করে, তবে আসমানে যিনি আছেন তিনি তার ওপর রাগান্বিত থাকেন যতক্ষণ না তার স্বামী তার প্রতি সন্তুষ্ট হয়। // মুসলিম এটি ইয়াজিদ বিন কাইসান-এর সূত্রে আবু হাজিম আল-আশজায়ি থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন। //

33 - আলি ইবনে যাইদ ইবনে জাদআন-এর হাদিস, তিনি আবদুল্লাহ ইবনুল হারিস ইবনে নাওফাল থেকে বর্ণনা করেন যে, সা'সাআ ইবনে সুহান একদিন উসমান (রা.)-এর নিকট কথা বলছিলেন। তিনি বললেন, আপনারা যে আয়াত সম্পর্কে বলেন: {যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হচ্ছে তাদেরকে [যুদ্ধের] অনুমতি দেওয়া হলো, কারণ তারা নির্যাতিত হয়েছে} - এই দুই আয়াত সম্পর্কে...

উসমান (রা.) বললেন: হে লোকসকল, দেখ এই বাচাল ও অহংকারী ব্যক্তিটি জানে না আল্লাহ কে এবং আল্লাহ কোথায়। আল্লাহর শপথ, এই আয়াতটি কেবল আমার সাথীদের ব্যাপারেই অবতীর্ণ হয়েছে; আমাদেরকে অন্যায়ভাবে আমাদের ঘরবাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল।

তিনি (সা'সাআ) বললেন: আপনার এই কথা যে আমি জানি না আল্লাহ কে—নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের প্রতিপালক এবং আমাদের আদি পূর্বপুরুষদেরও প্রতিপালক। আর আপনার এই কথা যে আমি জানি না আল্লাহ কোথায়—নিশ্চয়ই আল্লাহ ওত পেতে আছেন (সতর্ক পর্যবেক্ষণে আছেন)। // আবদ বিন হুমাইদ তাঁর তাফসিরে হাসান আল-আশইয়াব-এর সূত্রে হাম্মাদ বিন সালামাহ থেকে এবং তিনি তাঁর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। //

34 - ইসহাক ইবনে সুলাইমান আর-রাজি বর্ণিত হাদিস: আবু জাফর আর-রাজি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আসিম থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: যখন ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)-কে অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষেপ করা হলো, তখন তিনি বললেন, ‘হে আল্লাহ, আপনি আসমানে এক (অদ্বিতীয়), আর আমি জমিনে একা আপনার ইবাদত করি।’ // এই হাদিসটির সনদ হাসান; একদল বর্ণনাকারী এটি ইসহাক থেকে বর্ণনা করেছেন। //

35 - মুহাদির ইবনুল মুওয়াররি' বর্ণিত হাদিস: আল-আহওয়াস ইবনে হাকিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন খালিদ ইবনে মা'দান থেকে এবং তিনি উবাদাহ ইবনুস সামিত থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলতেন: যে ব্যক্তি ওজু করল এবং উত্তমরূপে ওজু করল, অতঃপর সালাতে দাঁড়াল এবং তার রুকু, সিজদা ও কিরাত যথাযথভাবে পূর্ণ করল, তখন সেই সালাত বলে: ‘আল্লাহ আপনাকে রক্ষা করুন যেমন আপনি আমাকে রক্ষা করেছেন’। অতঃপর তা নিয়ে আসমানের দিকে আরোহণ করা হয়।
(খণ্ড: ১) আল-উলুউউ লিল আলিয়্যিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ২১)
وَلَهَا نُورٌ وَضَوْءٌ وَفُتِحَتْ لَهَا أَبْوَابُ السَّمَاءِ حَتَّى يُنْتَهَى بِهَا إِلَى الله عزوجل فَتَشْفَعُ لِصَاحِبِهَا الْحَدِيثُ // سَمِعَهُ مُحَمَّدُ بْنُ أَسْلَمَ الطُّوسِيُّ وَغَيْرُهُ مِنْهُ وَرَوَاهُ مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ عَنِ الأَحْوَصِ أَحَدِ الضُّعَفَاءِ وَهَّاهُ ابْنُ مَعِينٍ //

36 - حَدِيثُ إِسْرَائِيلَ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ عَبْدِ الْجَبَّارِ بْنِ وَائِلٍ عَنْ أَبِيهِ أَنَّهُ صَلَّى خَلْفَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَسَمِعَ رَجُلاً قَالَ الْحَمْدُ للَّهِ حَمْدًا كَثِيرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيهِ

فَلَمَّا قَضَى رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم صَلاتَهُ قَالَ مَنْ صَاحِبُ الْكَلِمَاتِ قَالَ أَنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا أَرَدْتُ بِهَا إِلا خَيْرًا

قَالَ لَقَدْ فُتِحَتْ لَهَا أَبْوَابُ السَّمَاءِ فَمَا نَهْنَهَهَا شَيْءٌ دُونَ الرَّحْمَن

37 - حَدِيثُ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ عَطَاءٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ إِنَّ الْمَيِّتَ يَحْضُرُهُ الْمَلائِكَةُ فَإِذَا كَانَ الرَّجُلُ الصَّالِحُ قَالُوا اخْرُجِي أَيَّتُهَا النَّفْسُ الطَّيِّبَةُ كَانَتْ فِي الْجَسَدِ الطَّيِّبِ أَبْشِرِي بَرَوْحٍ وَرَيْحَانٍ وَرَبٍّ غَيْرِ غَضْبَانَ فَلا يَزَالُ يُقَالُ لَهَا ذَلِكَ حَتَّى تَخْرُجَ ثُمَّ يُعْرَجُ بِهَا إِلَى السَّمَاءِ فَيُسْتَفْتَحُ لَهَا فَيُقَال من هَذَا فَيُقَالُ فُلانٌ فَيُقَالُ مَرْحَبًا بِالنَّفْسِ الطَّيِّبَةِ فَلا يَزَالُ يُقَالُ لَهَا ذَلِكَ حَتَّى يُنْتَهَى بِهَا إِلَى السَّمَاءِ الَّتِي فِيهَا اللَّهُ تَعَالَى وَذَكَرَ الْحَدِيثَ // رَوَاهُ أَحْمَدُ فِي مُسْنَدِهِ وَالْحَاكِمُ فِي مُسْتَدْرَكِهِ وَقَالَ هُوَ عَلَى شَرْطِ الْبُخَارِيِّ وَمُسْلِمٍ وَرَوَاهُ أَئِمَّةٌ عَنِ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ //

38 - حَدِيث فِي صحيفَة همام عَن أبي هُرَيْرَة قَالَ قَالَ
এবং তার জন্য রয়েছে নূর ও দীপ্তি, এবং তার জন্য আসমানের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয় যতক্ষণ না তাকে আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়, অতঃপর সে তার পাঠকারীর জন্য সুপারিশ করে— হাদিস। মুহাম্মদ ইবনে আসলাম আত-তুসী এবং অন্যান্যরা তাঁর থেকে এটি শুনেছেন। মারওয়ান ইবনে মুয়াবিয়া আল-আহওয়াস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, যিনি দুর্বল রাবীদের একজন এবং ইবনে মাঈন তাকে দুর্বল বলেছেন।

৩৬ - ইসরাঈল থেকে বর্ণিত, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি আব্দুল জাব্বার ইবনে ওয়াইল থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পেছনে সালাত আদায় করছিলেন। তখন তিনি এক ব্যক্তিকে বলতে শুনলেন: সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, অনেক বেশি প্রশংসা, যা পবিত্র ও বরকতময়।

যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সালাত শেষ করলেন, তখন তিনি বললেন, “এই বাক্যগুলোর বক্তা কে?” সেই ব্যক্তি বলল, “আমি, হে আল্লাহর রাসূল! আর আমি এর মাধ্যমে কেবল কল্যাণই চেয়েছি।”

তিনি বললেন, “নিশ্চয়ই এর জন্য আসমানের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়েছে এবং রহমানের নিকট পৌঁছাতে কোনো কিছুই একে বাধা দিতে পারেনি।”

৩৭ - ইবনে আবি যিব থেকে বর্ণিত, তিনি মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনে আতা থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে ইয়াসার থেকে, তিনি আবু হুরাইরা থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: “নিশ্চয়ই মৃত ব্যক্তির নিকট ফেরেশতারা উপস্থিত হয়। যদি সে পুণ্যবান ব্যক্তি হয়, তবে তারা বলে: হে পবিত্র আত্মা! বের হয়ে এসো, যা একটি পবিত্র দেহে ছিলে। সুসংবাদ গ্রহণ করো আরাম, সুগন্ধি এবং এমন এক রবের, যিনি ক্রোধান্বিত নন। তার বের হওয়া পর্যন্ত তাকে এই কথাই বলা হতে থাকে। অতঃপর তাকে আসমানে নিয়ে যাওয়া হয় এবং তার জন্য দরজা খোলার অনুরোধ করা হয়। তখন জিজ্ঞেস করা হয়, ‘এ কে?’ বলা হয়, ‘অমুক’। তখন বলা হয়, ‘পবিত্র আত্মাকে স্বাগতম’। এভাবে তাকে সেই আসমান পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয় যাতে মহান আল্লাহ রয়েছেন।” এবং তিনি হাদিসটি উল্লেখ করেছেন। আহমদ তাঁর মুসনাদে এবং হাকেম তাঁর মুস্তাদরাকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন যে, এটি বুখারী ও মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহিহ। আইম্মাগণ এটি ইবনে আবি যিব থেকে বর্ণনা করেছেন।

৩৮ - হাম্মামের সহীফায় আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
(খণ্ড: ১) আল-উলুউউ লিল আলিয়্যিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ২২)
رَسُول الله صلى الله عليه وسلم كَانَ ملك الْمَوْت يَأْتِي النَّاس عيَانًا فَأتى مُوسَى عليه السلام فَلَطَمَهُ فَذهب بِعَيْنِه فعرج إِلَى ربه عزوجل فَقَالَ يَا رب بعثتني إِلَى مُوسَى فلطمني فَذهب بعيني وَلَوْلَا كرامته عَلَيْك لشققت عَلَيْهِ

قَالَ ارْجع إِلَى عَبدِي فَقل لَهُ فليضع يَده على ثَوْر فَلهُ بِكُل شَعْرَة وارت كَفه سنة يعيشها

فَأَتَاهُ فَبَلغهُ مَا أمره فَقَالَ ثمَّ مَاذَا بعد ذَلِك قَالَ الْمَوْت

قَالَ الْآن

فشمه شمة قبض فِيهَا روحه ورد الله على ملك الْمَوْت بَصَره وَفِي لفظ فلطم عينه ففقأها فَرجع فَقَالَ أرسلتني إِلَى عبد لَا يُرِيد الْمَوْت فَرد الله عَلَيْهِ عينه وَقَالَ ارْجع إِلَى عَبدِي فَقل لَهُ إِن كنت تُرِيدُ الْحَيَاة فضع يدك على متن ثَوْر وَفِيه قَالَ يَا رب فَالْآن وَقَالَ رب أدنني من الأَرْض المقدسة رمية بِحجر قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لَو كنت ثمَّ لَأَرَيْتُكُمْ قَبره إِلَى جَانب الطَّرِيق عِنْد الْكَثِيب الْأَحْمَر // مُتَّفق عَلَيْهِ //

39 - حَدِيث لجَماعَة عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بَكْرٍ السَّهْمِي حَدثنَا يَزِيدُ بْنُ عَوَانَةَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ ذَكْوَانَ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ كُنَّا جُلُوسًا ذَاتَ يَوْمٍ بِفِنَاءِ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِذْ مَرَّتْ امْرَأَةٌ مِنْ بَنَاتِهِ فَقَالَ أَبُو سُفْيَانَ مَا مَثَلُ مُحَمَّدٍ فِي بَنِي هَاشِمٍ إِلا كَمَثَلِ الرَّيْحَانَةِ فِي وَسَطِ الزِّبْلِ

فَسَمِعْتُ فَأَبْلَغْتُهُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَخَرَجَ فَصَعَدَ عَلَى مِنْبَرِهِ وَقَالَ مَا بَالُ أَقْوَالٍ تَبْلُغُنِي عَنْ أَقْوَامٍ إِنَّ اللَّهَ خَلَقَ سَمَوَاتٍ سَبْعًا فَاخْتَارَ الْعَرَب الْعليا فسكنها وأسكن سمواته مَنْ شَاءَ مِنْ خَلْقِهِ

ثُمَّ اخْتَارَ خَلْقَهُ فَاخْتَارَ بَنِي آدَمَ فَاخْتَارَ الْعَرَبَ فَاخْتَارَ مُضَرَ فَاخْتَارَ قُرَيْشًا فَاخْتَارَ بَنِي هَاشِمٍ فَاخْتَارَنِي فَلَمْ أَزَلْ خِيَارًا مِنْ خِيَارٍ فَمَنْ أَحَبَّ قُرَيْشًا فَبِحُبِّي أَحَبَّهُمْ وَمَنْ أَبْغَضَ
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, মৃত্যুর ফেরেশতা মানুষের কাছে দৃশ্যমান অবস্থায় আসতেন। তিনি মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর কাছে আসলেন, তখন মূসা তাকে চড় মারলেন এবং তার চোখ নষ্ট করে দিলেন। এরপর তিনি তার রবের কাছে উঠে গেলেন এবং বললেন, হে রব! আপনি আমাকে মূসার কাছে পাঠিয়েছেন, কিন্তু সে আমাকে চড় মেরেছে এবং আমার চোখ নষ্ট করে দিয়েছে। আপনার কাছে তার মর্যাদা না থাকলে আমি তার জন্য বিষয়টি কঠিন করে দিতাম।

তিনি (আল্লাহ) বললেন, তুমি আমার বান্দার কাছে ফিরে যাও এবং তাকে বলো সে যেন একটি ষাঁড়ের ওপর তার হাত রাখে। তার হাতের তালু যতগুলো পশম আবৃত করবে, তার বিনিময়ে সে তত বছর বেঁচে থাকবে।

অতঃপর তিনি তার কাছে আসলেন এবং তাকে যা আদেশ করা হয়েছিল তা জানালেন। মূসা (আলাইহিস সালাম) বললেন, এরপর কী হবে? তিনি বললেন, মৃত্যু।

তিনি (মূসা) বললেন, তবে এখনই।

এরপর তিনি তাকে একটি বিশেষ ঘ্রাণ নিলেন যার মাধ্যমে তার প্রাণ হরণ করা হলো। আর আল্লাহ মৃত্যুর ফেরেশতার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিলেন। অন্য এক বর্ণনায় আছে, তিনি তার চোখে চড় মারলেন এবং তা উপড়ে ফেললেন। এরপর তিনি ফিরে গিয়ে বললেন, আপনি আমাকে এমন এক বান্দার কাছে পাঠিয়েছেন যে মৃত্যু চায় না। তখন আল্লাহ তার চোখ ফিরিয়ে দিলেন এবং বললেন, আমার বান্দার কাছে ফিরে যাও এবং তাকে বলো, তুমি যদি জীবন চাও তবে একটি ষাঁড়ের পিঠের ওপর তোমার হাত রাখো। তাতে তিনি বললেন, হে রব! তবে এখনই। আর তিনি বললেন, হে রব! আমাকে পবিত্র ভূমির এক পাথর নিক্ষেপ পরিমাণ দূরত্বের কাছাকাছি পৌঁছে দিন। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আমি যদি সেখানে থাকতাম তবে তোমাদেরকে রাস্তার ধারে লাল বালুস্তূপের নিকট তার কবরটি দেখাতাম। // মুত্তাফাকুন আলাইহি //

৩৯ - এক দল বর্ণনাকারী আব্দুল্লাহ ইবনে বকর আস-সাহমী থেকে, তিনি ইয়াযিদ ইবনে আওয়ানাহ থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে যাকওয়ান থেকে, তিনি আমর ইবনে দীনার থেকে এবং তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: একদিন আমরা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আঙিনায় বসা ছিলাম, এমন সময় তাঁর এক কন্যা সেখান দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন আবু সুফিয়ান বলল, বনী হাশিমের মধ্যে মুহাম্মদের উদাহরণ হলো আবর্জনার স্তূপের মধ্যে একটি সুগন্ধি ফুলের মতো।

আমি তা শুনলাম এবং আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে তা জানালাম। তখন তিনি বের হয়ে তাঁর মিম্বরে আরোহণ করলেন এবং বললেন: কিছু লোক সম্পর্কে এমন সব কথাবার্তা কেন আমার কাছে পৌঁছাচ্ছে? নিশ্চয়ই আল্লাহ সাত আসমান সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনি সর্বোচ্চ আসমানকে মনোনীত করেছেন এবং সেখানে অবস্থান নিয়েছেন, আর তাঁর আসমানসমূহে তাঁর সৃষ্টির মধ্য হতে যাকে ইচ্ছা তাকে বসবাস করিয়েছেন।

অতঃপর তিনি তাঁর সৃষ্টির মধ্য হতে মনোনীত করেছেন; তিনি আদম সন্তানকে মনোনীত করেছেন, এরপর আরবদের মনোনীত করেছেন, এরপর মুদার গোত্রকে মনোনীত করেছেন, এরপর কুরাইশদের মনোনীত করেছেন, এরপর বনী হাশিমকে মনোনীত করেছেন এবং আমাকে মনোনীত করেছেন। সুতরাং আমি সর্বদা উত্তমদের মধ্য হতে উত্তম হিসেবেই রয়েছি। অতএব যে ব্যক্তি কুরাইশদের ভালোবাসবে, সে আমাকে ভালোবাসার কারণেই তাদের ভালোবাসবে এবং যে তাদের ঘৃণা করবে...
(খণ্ড: ১) আল-উলুউউ লিল আলিয়্যিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ২৩)
الْعَرَبَ فَبِبُغْضِي أَبْغَضَهُمْ // تَابَعَهُ حَمَّادُ بْنُ وَاقِدٍ وَغَيْرُهُ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ ذَكْوَانَ أَحَدِ الضُّعَفَاءِ وَبَعْضُهُمْ يَقُولُ فِيهِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دِينَارٍ بَدَلَ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ وَهُوَ حَدِيثٌ مُنْكَرٌ رَوَاهُ جَمَاعَةٌ فِي كُتُبِ السُّنَّةِ وَأَخْرَجَهُ ابْنُ خُزَيْمَةَ فِي كِتَابِ التَّوْحِيدِ

40 - حَدِيثُ أَبِي عَاصِمٍ الْعَبَّادَانِيِّ عَنِ الْفَضْلِ الرَّقَاشِيِّ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ عَنْ جَابِرٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم بَيْنَا أَهْلُ الْجَنَّةِ فِي نَعِيمِهِمْ إِذْ سَطَعَ لَهُمْ نَوُرٌ فَرَفَعُوا رؤوسهم فَإِذَا الرَّبُّ جل جلاله قَدْ أَشْرَفَ عَلَيْهِمْ مِنْ فَوْقِهِمْ فَقَالَ السَّلامُ عَلَيْكُمْ يَا أَهْلَ الْجَنَّةِ

فَذَلِك قَوْله عزوجل {سَلامٌ قَوْلا مِنْ رَبٍّ رَحِيمٍ} // أَخْرَجَهُ ابْنُ مَاجَهْ فِي سُنَنِهِ فِي بَابِ مَا أَنْكَرَتِ الْجَهْمِيَّةُ عَنِ ابْنِ أَبِي الشَّوَارِبِ عَنِ الْعَبَّادَانِيِّ وَإِسْنَادُهُ ضَعِيفٌ

41 - حَدِيث أبي هُرَيْرَةَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم من تصدق بِعدْل تَمْرَة من كسب طيب وَلَا يصعد إِلَى الله إِلَّا طيب فَإِنَّهَا يتقبلها بِيَمِينِهِ ويربيها لصَاحِبهَا حَتَّى تكون مثل الْجَبَل // هَذَا حَدِيث صَحِيح أخرجه البُخَارِيّ //

42 - حَدِيث أبي مُوسَى الْأَشْعَرِيّ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِن الله لَا ينَام وَلَا يَنْبَغِي لَهُ أَن ينَام يخْفض الْقسْط وَيَرْفَعهُ يرفع إِلَيْهِ عمل اللَّيْل قبل النَّهَار وَعمل النَّهَار قبل اللَّيْل حجابه النُّور وَلَو كشفه لأحرقت سبحات وَجهه كل شَيْء أدْركهُ بَصَره
আরবদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করলে তা আমার প্রতি বিদ্বেষের কারণেই হবে। হাম্মাদ বিন ওয়াকিদ এবং অন্যান্যরা মুহাম্মদ বিন জাকওয়ানের সূত্রে তাকে অনুসরণ করেছেন, যিনি দুর্বল রাবীদের একজন। তাদের কেউ কেউ এতে আমর বিন দীনারের বদলে আবদুল্লাহ বিন দীনারের কথা বলেন। এটি একটি মুনকার (অস্বীকৃত) হাদিস যা একদল আলেম সুনান গ্রন্থসমূহে বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে খুজাইমা এটি কিতাবুত তাওহীদে সংকলন করেছেন।

৪০ - আবু আসিম আল-আব্বাদানি থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি ফজল আর-রাকাশি থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনুল মুনকাদির থেকে, তিনি জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, এমতাবস্থায় যখন জান্নাতবাসীরা তাদের নিআমতের মধ্যে থাকবে, হঠাৎ তাদের জন্য একটি নূর বিচ্ছুরিত হবে। তখন তারা তাদের মাথা তুলবে এবং দেখবে মহান রব তাদের উপর থেকে তাদের দেখা দিচ্ছেন। অতঃপর তিনি বলবেন, "হে জান্নাতবাসী, তোমাদের ওপর সালাম হোক।"

আর এটিই মহান আল্লাহর বাণী: {পরম দয়ালু রবের পক্ষ হতে তাদের বলা হবে সালাম}। এটি ইবনে মাজাহ তাঁর সুনানে ‘জাহমিয়্যাহরা যা অস্বীকার করেছে’ অনুচ্ছেদে ইবনে আবুশ শাওয়ারিব থেকে, তিনি আব্বাদানি থেকে বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদটি দুর্বল।

৪১ - আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিস, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: যে ব্যক্তি বৈধ উপার্জন থেকে একটি খেজুর সমপরিমাণ সদকা করে—আর আল্লাহর কাছে পবিত্র বস্তু ছাড়া আর কিছু উঠে না—আল্লাহ তা তাঁর ডান হাতে কবুল করেন এবং তা সদকাকারীর জন্য লালন-পালন করেন যতক্ষণ না সেটি পাহাড়ের মতো হয়ে যায়। এটি একটি সহীহ হাদিস যা ইমাম বুখারী সংকলন করেছেন।

৪২ - আবু মুসা আল-াশআরি (রা.) বর্ণিত হাদিস, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ ঘুমান না এবং ঘুমানো তাঁর জন্য শোভনীয় নয়। তিনি তুলাদণ্ড (রিজক ও আমল) অবনমিত করেন এবং উন্নীত করেন। দিনের আমলের পূর্বে রাতের আমল এবং রাতের আমলের পূর্বে দিনের আমল তাঁর কাছে উঠানো হয়। তাঁর পর্দা হলো নূর। তিনি যদি তা উন্মোচন করে দেন, তবে আল্লাহর চেহারার জ্যোতি তাঁর দৃষ্টি যতদূর পৌঁছে তার সৃষ্টিজগতের সবকিছুকে পুড়িয়ে দেবে।
(খণ্ড: ১) আল-উলুউউ লিল আলিয়্যিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ২৪)
// أخرجه الشَّيْخَانِ //

43 - حَدِيثٌ أَخْبَرَنَا الْقَاضِي تَاج الدّين بن عَبْدُ الْخَالِقِ بْنُ عَبْدِ السَّلامِ ببعلبك أخبرنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ الْفَقِيهُ سنة إِحْدَى عشر وسِتمِائَة أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْبَاقِي الْحَاجِبُ أَخْبَرَنَا أَبُو الْفَضْلِ بْنُ خَيْرُونَ أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيِّ بْنُ شَاذَانَ أَخْبَرَنَا أَبُو سَهْلٍ الْقَطَّانُ حَدثنَا عبد الْكَرِيم الديرعاقولي حَدثنَا رَجَاء بن مرجا الْبَصْرِيّ حَدثنَا عِمْرَانُ بْنُ خَالِدِ بْنِ طُلَيْقٍ حَدَّثَنِي أَبِي عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ قَالَ اخْتَلَفَتْ قُرَيْشٌ إِلَى حُصَيْنٍ وَالِدِ عِمْرَانَ فَقَالُوا إِنَّ هَذَا الرَّجُلَ يَذْكُرُ آلِهَتَنَا فَنُحِبُّ أَنْ تُكَلِّمَهُ وَتَعِظَهُ فَمَشَوْا مَعَهُ إِلَى قَرِيبٍ مِنْ بَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَجَلَسُوا وَدَخَلَ حُصَيْنٌ فَلَمَّا رَآهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ أَوْسِعُوا لِلشَّيْخِ

فَقَالَ مَا هَذَا الَّذِي يبلغنَا عَنْكَ إِنَّكَ تَشْتُمُ آلِهَتَنَا وَتَذْكُرُهُمْ وَقَدْ كَانَ أَبُوكَ جَفْنَةً وَخُبْزًا

فَقَالَ إِنَّ أَبِي وَأَبَاكَ فِي النَّارِ يَا حُصَيْنُ كَمْ تَعْبُدُ إِلَهًا الْيَوْمَ قَالَ سَبْعَةً فِي الأَرْضِ وَإِلَهًا فِي السَّمَاءِ

قَالَ فَإِذَا أَصَابَكَ الضِّيقُ فَمَنْ تَدْعُو قَالَ الَّذِي فِي السَّمَاءِ

قَالَ فَإِذَا هَلَكَ الْمَالُ فَمَنْ تَدْعُو قَالَ الَّذِي فِي السَّمَاءِ وَذَكَرَ الْحَدِيثَ
শায়খাইন (বুখারী ও মুসলিম) এটি বর্ণনা করেছেন।

৪৩ - একটি হাদীস, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন কাজী তাজউদ্দীন ইবনে আব্দুল খালেক ইবনে আব্দুস সালাম বালবাক্ক নামক স্থানে, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ আল-ফকীহ ছয়শত এগারো হিজরীতে, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল বাকী আল-হাজিব, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফজল ইবনে খাইরুন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী ইবনে শাযান, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাহল আল-কাত্তান, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আব্দুল কারীম আদ-দাইরাকূলী, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন রাজা ইবনে মুরজা আল-বাসরী, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইমরান ইবনে খালিদ ইবনে ত্বলীক, তিনি বলেন: আমার পিতা তাঁর পিতার নিকট থেকে এবং তিনি তাঁর দাদার নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: কুরাইশরা ইমরানের পিতা হুসাইনের নিকট যাতায়াত করতে লাগল। তারা বলল, এই ব্যক্তি (রাসূলুল্লাহ ﷺ) আমাদের উপাস্যদের সমালোচনা করেন, তাই আমরা চাই আপনি তাঁর সাথে কথা বলুন এবং তাঁকে উপদেশ দিন। এরপর তারা তাঁর সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরজার কাছাকাছি পর্যন্ত গেল এবং তারা সেখানে বসে পড়ল, আর হুসাইন ভেতরে প্রবেশ করলেন। যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে দেখলেন, তখন বললেন: বৃদ্ধ লোকটির জন্য জায়গা প্রশস্ত করে দাও।

এরপর তিনি (হুসাইন) বললেন: আপনার পক্ষ থেকে আমাদের কাছে এসব কী সংবাদ পৌঁছাচ্ছে যে, আপনি আমাদের উপাস্যদের গালি দেন এবং তাদের সমালোচনা করেন? অথচ আপনার পিতা তো ছিলেন আতিথেয়তা ও বদান্যতার আধার।

তিনি (রাসূলুল্লাহ ﷺ) বললেন: হে হুসাইন, আমার পিতা এবং আপনার পিতা উভয়েই জাহান্নামে। আপনি আজ কতজন উপাস্যের ইবাদত করেন? তিনি বললেন: সাতজন যমীনে আর একজন আসমানে।

তিনি বললেন: যখন আপনি কোনো সংকটে পড়েন, তখন আপনি কাকে ডাকেন? তিনি বললেন: যিনি আসমানে আছেন তাঁকে।

তিনি বললেন: যখন সম্পদ ধ্বংস হয়ে যায় তখন কাকে ডাকেন? তিনি বললেন: যিনি আসমানে আছেন তাঁকে। এরপর তিনি পূর্ণ হাদীসটি উল্লেখ করেন।
(খণ্ড: ১) আল-উলুউউ লিল আলিয়্যিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ২৫)
// أَخْرَجَهُ ابْنُ خُزَيْمَةَ فِي كِتَابِ التَّوْحِيدِ وَعِمْرَانُ ضَعِيفٌ //

44 - فَقَرَأْتُ عَلَى أسْحَاق الْأَسدي أَنبأَنَا ابْن خَلِيل أَنبأَنَا عبد الْخَالِق ابْن عبد الْوَهَّاب أخبرنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَحْمَدَ الْمُؤَذِّنُ أَخْبَرَنَا أَحْمد بن مَنْصُور المغربي أخبرنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْفَضْلِ بْنِ مُحَمَّدِ بن إِسْحَاق بن خُزَيْمَة أخبرنَا جدي أَبُو بكر حَدثنَا رَجَاء بن مُحَمَّد حَدثنَا عِمْرَانُ بْنُ خَالِدِ بْنِ طُلَيْقٍ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ فَذَكَرَ الْحَدِيثَ نَحْوًا مِمَّا تَقَدَّمَ بِطُولِهِ

45 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ البعلي أخبرنَا الْبَهَاء عبد الرَّحْمَن حضورا أخبرنَا نَصْرُ بْنُ فَتْيَانَ الْفَقِيهُ أَخْبَرَنَا أَبُو مَنْصُورٍ الشَّيْبَانِيُّ أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْن ابْن الْمُهْتَدي بِاللَّه حَدثنَا مُحَمَّد بن يُوسُف العلاف حَدثنَا مُحَمَّد بن يُوسُف حَدثنَا مُحَمَّد بن علاف الْبَغَوِيّ حَدثنَا جدي حَدثنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ عَنْ شَبِيبِ بْنِ شَيْبَةَ عَنِ الْحَسَنِ عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لأَبِي كَمْ تَعْبُدُ الْيَوْمَ إِلَهًا فَقَالَ سِتَّةً فِي الأَرْضِ وَوَاحِدًا فِي السَّمَاء

قَالَ فَأَيهمْ تعده لِرَغْبَتِكَ وَرَهْبَتِكَ قَالَ الَّذِي فِي السَّمَاءِ قَالَ يَا حُصَيْنُ أَمَا إِنَّك لَو أَسْلَمْتَ عَلَّمْتُكَ كَلِمَتَيْنِ يَنْفَعَانِكَ فَلَمَّا أَسْلَمَ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ عَلِّمْنِي الْكَلِمَتَيْنِ قَالَ قُلْ اللَّهُمَّ أَلْهِمْنِي رُشْدِي وَأَعِذْنِي مِنْ شَرِّ نَفْسِي // شَبِيبٌ ضَعِيفٌ //

46 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْخَالِق بْنُ بْدَرَانَ بِنَابُلُسَ وَيُوسُفُ بْنُ أَحْمد بِدِمَشْق قَالَا حَدثنَا مُوسَى بن عبد الْقَادِر أنبأ سَعِيدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْبُسْرِيِّ أخبرنَا أَبُو الطَّاهِر المخلص حَدثنَا أَبُو الْقَاسِم الْبَغَوِيّ عبد الْجَبَّار بن عَاصِم

حَدثنَا
এটি ইবনে খুজাইমা তার কিতাবুত তাওহিদে সংকলন করেছেন এবং ইমরান দুর্বল।

৪৪ - আমি ইসহাক আল-আসাদীর নিকট পাঠ করেছি, তিনি আমাদের জানিয়েছেন যে ইবনে খালীল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আবদুল খালিক ইবনে আবদুল ওয়াহহাব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন ইসমাইল বিন আহমদ আল-মুয়াজ্জিন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আহমদ বিন মনসুর আল-মাগরিবী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন মুহাম্মদ বিন আল-ফদল বিন মুহাম্মদ বিন ইসহাক বিন খুজাইমা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আমার দাদা আবু বকর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন রাজা বিন মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন ইমরান বিন খালিদ বিন তুলাইক বিন মুহাম্মদ বিন ইমরান বিন হুসাইন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, অতঃপর তিনি ইতিপূর্বে বর্ণিত হাদিসটির অনুরূপ দীর্ঘ বর্ণনাটি উল্লেখ করেছেন।

৪৫ - আবুল হুসাইন আল-বালী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আল-বাহা আবদুর রহমান উপস্থিত থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন ফকীহ নাসর বিন ফতইয়ান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আবু মনসুর আল-শায়বানী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আবুল হুসাইন ইবনুল মুহতাদী বিল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আল-আল্লাফ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন মুহাম্মদ বিন আল্লাফ আল-বাগাওয়ী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমার দাদা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আবু মুয়াবিয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শাবীব বিন শায়বাহ থেকে, তিনি হাসান থেকে, তিনি ইমরান বিন হুসাইন থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার পিতাকে জিজ্ঞেস করলেন, "বর্তমানে তুমি কয়জন ইলাহের ইবাদত কর?" তিনি বললেন, "ছয়জন জমিনে এবং একজন আসমানে।"

তিনি (নবী) বললেন, "তোমার ভয় ও আশার ক্ষেত্রে তুমি তাদের মধ্যে কাকে গণ্য কর?" তিনি বললেন, "যিনি আসমানে আছেন তাকে।" তিনি (নবী) বললেন, "হে হুসাইন! তুমি যদি ইসলাম গ্রহণ করতে, তবে আমি তোমাকে এমন দুটি বাক্য শিখিয়ে দিতাম যা তোমার উপকারে আসত।" অতঃপর যখন তিনি ইসলাম গ্রহণ করলেন, তখন বললেন, "হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে সেই বাক্য দুটি শিখিয়ে দিন।" তিনি বললেন, "বলো: হে আল্লাহ! আমাকে সঠিক পথের দিশা দান করুন এবং আমাকে আমার নফসের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করুন।" শাবীব দুর্বল।

৪৬ - নাবলুসে আবদুল খালিক বিন বদরান এবং দামেস্কে ইউসুফ বিন আহমদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তারা উভয়ে বলেন মুসা বিন আবদুল কাদির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন সাঈদ বিন আহমদ বিন আল-বুসরী আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন আবু তাহির আল-মুখলিস আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আবুল কাসেম আল-বাগাওয়ী আবদুল জব্বার বিন আসিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন।

আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১) আল-উলুউউ লিল আলিয়্যিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ২৬)
مُبشر بن إِسْمَاعِيل الْحلَبِي حَدثنَا تَمَّامُ بْنُ نُجَيْحٍ عَنِ الْحَسَنِ عَنْ أَنَسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم مَا مِنْ حَافِظَيْنِ يَرْفَعَانِ إِلَى اللَّهِ مَا حَفِظَا يَرَى فِي أَوَّلِ الصَّحِيفَةِ خَيْرًا وَفِي آخِرِهَا خَيْرًا إِلا قَالَ اللَّهُ عز وجل لِمَلائِكَتِهِ أُشْهِدُكُمْ أَنِّي قَدْ غَفَرْتُ لِعَبْدِي مَا بَيْنَ طَرَفَيِ الصَّحِيفَةِ // تَفَرَّدَ بِهِ تَمَّامٌ أَحَدُ الضُّعَفَاءِ //

47 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ أَنْبَأَنَا أَبُو مُحَمَّدِ بْنُ قُدَامَةَ الْفَقِيهُ سَنَةَ سَبْعَ عَشْرَةَ وسِتمِائَة أخبرتنا شهدة أَنبأَنَا أَبُو عبد الله النعالي

أَنبأَنَا عَليّ ابْن مُحَمَّد أخبرنَا أَبُو جَعْفَر البخْترِي

حَدثنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ الدَّقِيقِيُّ حَدثنَا أَبُو عَليّ الْحَنَفِيّ حَدثنَا فَرْقَدُ بْنُ الْحَجَّاجِ سَمِعْتُ عُقْبَةَ بْنَ أَبِي الْحَسَنَاتِ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى إِذَا جَمَعَ الأَوَّلِينَ وَالآخِرِينَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ جَاءَ الرب تبارك وتعالى إِلَى الْمُؤْمِنِينَ فَوَقَفَ عَلَيْهِمْ عَلَى كُورٍ

فَقَالُوا لِعُقْبَةَ مَا الْكُورُ قَالَ الْمَكَانُ الْمُرْتَفِعُ فَيَقُولُ هَلْ تَعْرِفُونَ رَبَّكُمْ قَالُوا إِنَّ عَرَّفَنَا نَفْسَهُ عَرَفْنَاهُ فَيَتَجَلَّى لَهُمْ ضَاحِكًا فِي وُجُوهِهِمْ فَيَخِرُّونَ لَهُ سُجُدًا // هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ أَخْرَجَهُ ابْنُ خُزَيْمَةَ فِي كِتَابِ التَّوْحِيدِ عَنِ الْفَلاسِ عَنِ الْحَنَفِيِّ وَعِنْدَهُ عَلَى كَوْمٍ //

48 - حَدِيثُ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ حَدَّثَنِي يَزِيدُ بْنُ سِنَانٍ عَنْ سعيد بن الأجيرد عَنِ الْعُرْسِ بْنِ قَيْسٍ الْكِنْدِيِّ عَنْ عَدِيِّ بْنِ عُمَيْرَةَ قَالَ كَانَ بِأَرْضِنَا حَبْرٌ مِنَ الْيَهُودِ يُقَال لَهُ ابْن شهلا فَالْتَقَيْتُ أَنَا وَهُوَ فَقَالَ إِنِّي أَجِدُ فِي كِتَابِ اللَّهِ أَنَّ أَصْحَابَ الْفِرْدَوْسِ قَوْمٌ يَعْبُدُونَ رَبَّهُمْ عَلَى وُجُوهِهِمْ
মুবাশশির ইবনে ইসমাঈল আল-হালাবী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তাম্মাম ইবনে নুজাইহ আমাদের কাছে হাসান থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যখনই দুইজন সংরক্ষণকারী (ফেরেশতা) যা তারা সংরক্ষণ করেছেন তা আল্লাহর কাছে নিয়ে যান এবং তিনি আমলনামার শুরুতে কল্যাণ এবং শেষে কল্যাণ দেখতে পান, তখন মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহ তাঁর ফেরেশতাদের বলেন: আমি তোমাদের সাক্ষী রাখছি যে, আমি আমার বান্দার জন্য আমলনামার দুই প্রান্তের মধ্যবর্তী সবকিছু ক্ষমা করে দিয়েছি।" // এটি এককভাবে তাম্মাম বর্ণনা করেছেন, যিনি দুর্বল বর্ণনাকারীদের একজন। //

47 - আহমাদ ইবনে আব্দুল হামিদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ফকীহ আবু মুহাম্মদ ইবনে কুদামা ৬১৭ হিজরী সালে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, শাহদাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আব্দুল্লাহ আন-নিআলী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন।

আলী ইবনে মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু জাফর আল-বাখতারী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন।

মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল মালিক আদ-দাকিকী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবু আলী আল-হানাফী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, ফারকাদ ইবনে হাজ্জাজ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আমি উকবাহ ইবনে আবিল হাসানাতকে বলতে শুনেছি, আমি আবু হুরায়রা (রা.)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা যখন কিয়ামতের দিন পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলকে একত্রিত করবেন, তখন বরকতময় ও সুউচ্চ প্রতিপালক মুমিনদের কাছে আসবেন এবং একটি উঁচু স্থানের (কুর) উপর তাদের সামনে দাঁড়াবেন।"

তারা উকবাহকে জিজ্ঞেস করলেন, 'কুর' কী? তিনি বললেন, উঁচু স্থান। এরপর তিনি (আল্লাহ) বলবেন: "তোমরা কি তোমাদের প্রতিপালককে চেনো?" তারা বলবে, "যদি তিনি আমাদের কাছে নিজের পরিচয় দেন তবে আমরা তাঁকে চিনব।" তখন তিনি তাদের সামনে হাস্যোজ্জ্বল অবস্থায় প্রকাশিত হবেন, ফলে তারা তাঁর উদ্দেশ্যে সিজদায় লুটিয়ে পড়বে। // এটি একটি হাসান হাদীস। ইবনে খুজাইমা এটি 'কিতাবুত তাওহীদ'-এ আল-ফাল্লাস থেকে, তিনি আল-হানাফী থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর নিকট 'কুর'-এর পরিবর্তে 'কাউম' (উঁচু ঢিবি) শব্দ রয়েছে। //

48 - মুহাম্মদ ইবনে ইসহাকের হাদীস; ইয়াজিদ ইবনে সিনান আমার কাছে সাঈদ ইবনুল আজাইরিদ থেকে, তিনি আল-উরুস ইবনে কাইস আল-কিন্দি থেকে, তিনি আদী ইবনে উমাইরা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের এলাকায় ইহুদীদের একজন পণ্ডিত ছিলেন যাকে ইবনে শাহলা বলা হতো। আমি ও তিনি সাক্ষাৎ করলাম, তখন তিনি বললেন: "আমি আল্লাহর কিতাবে দেখতে পাই যে, জান্নাতুল ফিরদাউসের অধিবাসী হবে এমন এক সম্প্রদায় যারা তাদের প্রতিপালকের ইবাদত করবে তাদের চেহারার ওপর (সিজদাবনত হয়ে)।"
(খণ্ড: ১) আল-উলুউউ লিল আলিয়্যিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ২৭)
لَا وَاللَّهِ مَا أَعْلَمُ هَذِهِ الصّفة إِلَّا فِينَا معشر يهود وَأَجِدُ نَبِيًّا يَخْرُجُ مِنَ الْيَمَنِ لَا نَرَاهُ يَخْرُجُ إِلا مِنَّا قَالَ عَدِيٌّ فَوَاللَّهِ مَا لَبِثْتُ حَتَّى بَلَغَنَا أَنَّ رَجُلا مِنْ بَنِي هَاشِمٍ قَدْ تَنَبَّأَ فَذَكَرْتُ حَدِيث ابْن شهلا فَخَرَجْتُ إِلَيْهِ فَإِذَا هُوَ وَمَنْ تَبِعَهُ يَسْجُدُونَ عَلَى وُجُوهِهِمْ وَيَزْعُمُونَ أَنَّ إِلَهَهُمْ فِي السَّمَاءِ // هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ //

49 - قَرَأْتُ عَلَى عِيسَى بْنِ أَبِي مُحَمَّدٍ أَخْبَرَكَ عَبْدُ الْحَقِّ بْنُ خَلَفٍ أَنْبَأَ أَبُو الْمَعَالِي بن صابر أَنبأَنَا أَبُو الْقَاسِم النسيب أَنبأَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ التَّمِيمِيُّ أخبرنَا يُوسُف الميانجي حَدثنَا أَحْمد بن مُحَمَّد بن سَاكن بِالْمَيَانِجِ سَنَةَ سِتٍّ وَتِسْعِينَ وَمِائَتَيْنِ حَدثنَا أَبُو مُصْعَبِ بْنُ حَاتِمِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ أَخْبَرَنِي صَالِحُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ زَائِدَةَ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ مَا رَفَعَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم رَأْسَهُ إِلَى السَّمَاءِ إِلا قَالَ يَا مُصَرِّفَ الْقُلُوبِ ثَبِّتْ قلبِي على طَاعَتك // وَصَالح ضَعِيفٌ //

50 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْخَطِيبُ وَمُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ الْعُقَيْلِيُّ وَمُحَمّد بن المظفر قَالُوا أَنبأَنَا السخاوي أَنبأَنَا السلَفِي أَنبأَنَا الْخَلِيلُ بْنُ عَبْدِ الْجَبَّارِ بِقَزْوِينَ أخبرنَا عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ جَابِرٍ أنبأ مُحَمَّد بن النقاش حَدثنَا الْقَاسِم بن اللَّيْث حَدثنَا الْمعَافى بن سُلَيْمَان حَدثنَا فُلَيْحُ بْنُ سُلَيْمَانَ عَنْ هِلالِ بن عَليّ بْنِ يَسَارٍ عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ الحكم السّلمِيّ قَالَ كَانَت لي غَنَمٌ تَرْعَى بِالْعَذِيبِ بِالْعَرِيضِ فَكُنْتُ أَتَعَهَّدُهَا وَفِيهَا جَارِيَةٌ لِي سَوْدَاءُ فَجِئْتُهَا يَوْمًا فَفَقَدْتُ شَاةً مِنْ خِيَارِ الْغَنَمِ فَقُلْتُ أَيْنَ الْفُلانِيَّةُ قَالَتْ أَكَلَهَا
না, আল্লাহর শপথ, আমি আমাদের ইহুদি জাতি ছাড়া অন্য কারো মাঝে এই বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানি না। আমি এমন একজন নবীর বিবরণ পাচ্ছি যিনি ইয়ামেন থেকে বের হবেন, আমরা মনে করতাম তিনি আমাদের মাঝ থেকেই বের হবেন। আদি বললেন, আল্লাহর শপথ, বেশি দিন অতিবাহিত হয়নি এর মধ্যেই আমাদের নিকট সংবাদ পৌঁছাল যে, বনু হাশিম বংশের একজন লোক নবুওয়াতের দাবি করেছেন। তখন আমি ইবনে শাহলার কথা স্মরণ করলাম এবং তাঁর নিকট গেলাম। আমি দেখলাম যে তিনি এবং তাঁর অনুসারীরা তাদের চেহারার ওপর সিজদাহ করছেন এবং তারা দাবি করছেন যে তাদের ইলাহ আসমানে রয়েছেন। // এটি একটি গরিব হাদিস //

৪৯ - আমি ঈসা ইবনে আবু মুহাম্মাদের নিকট পাঠ করেছি, (তিনি বলেছেন) আব্দুল হক ইবনে খালাফ আপনাকে সংবাদ দিয়েছেন, আবুল মা’য়ালি ইবনে সাবির আমাদের জানিয়েছেন, আবুল কাসিম আন-নাসিব আমাদের জানিয়েছেন, মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুর রহমান আত-তামীমি আমাদের জানিয়েছেন, ইউসুফ আল-মিয়ানাজি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে সাকিন দুইশত ছিয়ানব্বই হিজরি সালে মিয়ানাজে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু মুসআব ইবনে হাতিম ইবনে ইসমাঈল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সালিহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে জায়িদাহ আবু সালামাহর সূত্রে আইশা (রা.) থেকে আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখনই আসমানের দিকে তাঁর মাথা তুলতেন তখনই বলতেন, "হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী! আমার অন্তরকে আপনার আনুগত্যের ওপর অবিচল রাখুন।" // এবং সালিহ দুর্বল //

৫০ - আহমদ ইবনে ইব্রাহিম আল-খাতিব, মুহাম্মাদ ইবনে আহমদ আল-উকাইলি এবং মুহাম্মাদ ইবনুল মুজাফ্ফর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাঁরা বলেছেন আস-সাখাভি আমাদের জানিয়েছেন, আস-সিলাফি আমাদের জানিয়েছেন, আল-খালীল ইবনে আব্দুল জাব্বার কাজভিনে আমাদের জানিয়েছেন, আলী ইবনুল হুসাইন ইবনে জাবির আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মাদ ইবনুন নাক্কাশ আমাদের জানিয়েছেন, আল-কাসিম ইবনুল লাইস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-মুআফা ইবনে সুলাইমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ফুলাইহ ইবনে সুলাইমান হিলাল ইবনে আলী ইবনে ইয়াসারের সূত্রে মুয়াবিয়া ইবনুল হাকাম আস-সুলামি থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার কিছু ভেড়া ছিল যা আরীযের আযিব নামক স্থানে চরত। আমি সেগুলোর দেখাশোনা করতাম। সেখানে আমার একজন কৃষ্ণাঙ্গ দাসী ছিল। একদিন আমি তার নিকট গেলাম এবং আমার উন্নতমানের ভেড়াগুলোর মধ্য হতে একটিকে হারিয়ে ফেললাম। আমি জিজ্ঞেস করলাম, "অমুকটি কোথায়?" সে বলল, ওটা খেয়ে ফেলেছে...
(খণ্ড: ১) আল-উলুউউ লিল আলিয়্যিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ২৮)
الذِّئْبُ فَأَسِفْتُ وَأَنَا مِنْ بَنِي آدَمَ فَضَرَبْتُ وَجْهَهَا

ثُمَّ نَدِمْتُ عَلَى مَا صَنَعْتُ

فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ أَضَرَبْتَ وَجْهَهَا وَعَظَّمَ ذَلِكَ تَعْظِيمًا شَدِيدًا

فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ مِنْ تَوْبَتِي أَنْ أَعْتِقَهَا

قَالَ فَائْتِنِي بِهَا قَبْلَ أَنْ تَعْتِقَهَا

فَجِئْتُهُ بِهَا فَقَالَ لَهَا مَنْ رَبُّكِ قَالَتْ اللَّهُ

قَالَ وَأَيْنَ هُوَ قَالَتْ فِي السَّمَاءِ

قَالَ فَمَنْ أَنَا قَالَتْ أَنْتَ رَسُولُ اللَّهِ

قَالَ أَعْتِقْهَا فَإِنَّهَا مُؤْمِنَةٌ // هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ //

وَهَكَذَا رَأينَا كل من يسْأَل أَيْن الله يُبَادر بفطرته وَيَقُول فِي السَّمَاء

فَفِي الْخَبَر مَسْأَلَتَانِ إِحْدَاهمَا شَرْعِيَّة قَول الْمُسلم أَيْن الله وَثَانِيهمَا قَول المسؤول فِي السَّمَاء فَمن أنكر هَاتين الْمَسْأَلَتَيْنِ فَإِنَّمَا يُنكر على الْمُصْطَفى صلى الله عليه وسلم أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيل بن عبد الرَّحْمَن أَنبأَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ الْفَقِيهُ سنة خمس عشرَة وسِتمِائَة أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْبَاقِي أنبأ أَبُو الْفضل ابْن خَيْرُونَ أَنْبَأَ أَبُو عَلِيِّ بْنُ شَاذان أخبرنَا أَبُو سهل بن زِيَاد حَدثنَا عبد الْكَرِيم بن الْهَيْثَم حَدثنَا حَيْوَة بن شُرَيْح حَدثنَا بَقِيَّةُ عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ أَبِي مَرْيَمَ عَنِ الْهَيْثَمِ بْنِ مَالِكٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَائِذٍ الأَزْدِيِّ عَنْ أَبِي الْحَجَّاجِ الثمالِي قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول الْقَبْر للْمَيت حِين يُوضَعُ فِيهِ وَيْحَكَ يَا ابْنَ آدَمَ مَا غَرَّكَ بِي إِذْ كُنْتَ تَمُرُّ بِي أَلَمْ تَعْلَمْ أَنِّي بَيْتُ الظُّلْمَةِ وَالْفِتْنَةِ وَالْوِحْدَةِ وَالدُّودِ فَإِنْ كَانَ مُصْلِحًا أَجَابَ عَنْهُ مُجِيبُ الْقَبْرِ فَيَقُولُ أَرَأَيْتَ إِنْ كَانَ يَأْمُرُ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَى عَنِ الْمُنْكَرِ فَيَقُولُ إِذًا أَعُودُ عَلَيْهِ خضرًا وَيعود جِسْمه نُورًا وَيُصْعَدُ بِرُوحِهِ إِلَى رَبِّ الْعَالَمِينَ
নেকড়ে (ছাগলটি নিয়ে গেল), ফলে আমি ব্যথিত হলাম। আমি তো আদমসন্তানদেরই একজন (মানুষ হিসেবে রাগান্বিত হই), তাই আমি তার মুখে চড় মারলাম।

অতঃপর আমি যা করেছি তার জন্য অনুতপ্ত হলাম।

এরপর আমি বিষয়টি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে উল্লেখ করলাম। তিনি বললেন, "তুমি কি তার মুখে আঘাত করেছ?" এবং তিনি বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুতর হিসেবে গণ্য করলেন।

আমি বললাম, "হে আল্লাহর রাসূল! আমার তওবার অংশ হিসেবে আমি তাকে মুক্ত করে দিতে চাই।"

তিনি বললেন, "তাকে মুক্ত করার আগে আমার কাছে নিয়ে এসো।"

আমি তাকে নিয়ে তাঁর কাছে এলাম। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, "তোমার রব কে?" সে বলল, "আল্লাহ।"

তিনি বললেন, "তিনি কোথায়?" সে বলল, "আকাশে।"

তিনি বললেন, "আমি কে?" সে বলল, "আপনি আল্লাহর রাসূল।"

তিনি বললেন, "একে মুক্ত করে দাও, কেননা সে মুমিন।" // এটি একটি সহিহ হাদিস //

এভাবেই আমরা দেখি যে, যাকে জিজ্ঞাসা করা হয় আল্লাহ কোথায়, সে তার স্বভাবজাত প্রবৃত্তি (ফিতরাত) থেকেই দ্রুত উত্তর দেয় এবং বলে "আকাশে"।

এই বর্ণনায় দুটি মাসআলা রয়েছে: প্রথমটি হলো একজন মুসলিমের এই কথাটি বলা শরয়িভাবে বৈধ যে "আল্লাহ কোথায়?" এবং দ্বিতীয়টি হলো উত্তরদাতার "আকাশে" বলা। সুতরাং যে ব্যক্তি এই দুটি বিষয়কে অস্বীকার করবে, সে মূলত মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপরই আপত্তি করল। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসমাইল বিন আব্দুর রহমান, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ বিন আহমদ আল-ফকিহ ৬১৫ হিজরি সনে, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আব্দুল বাকি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফজল ইবনে খাইরুন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী বিন শাজান, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাহল বিন যিয়াদ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আব্দুল কারিম বিন হাইসাম, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হাইওয়াহ বিন শুরাইহ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন বাকিয়্যাহ, আবু বকর বিন আবি মারিয়াম থেকে, তিনি হাইসাম বিন মালিক থেকে, তিনি আব্দুর রহমান বিন আইজ আল-আজদি থেকে, তিনি আবু আল-হাজ্জাজ আস-সুমালি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: মৃত ব্যক্তিকে যখন কবরে রাখা হয় তখন কবর তাকে বলে, "আফসোস হে আদমসন্তান! আমার সম্পর্কে কিসে তোমাকে ধোঁকায় ফেলেছিল যখন তুমি আমার পাশ দিয়ে চলাচল করতে? তুমি কি জানতে না যে আমি অন্ধকার, পরীক্ষা, একাকীত্ব এবং পোকামাকড় ও কীটের ঘর?" যদি সে পুণ্যবান হয়, তবে কবরের পক্ষ থেকে উত্তরদাতা তার পক্ষ হয়ে উত্তর দিবে এবং বলবে, "তোমার কী অভিমত যদি সে সৎকাজের আদেশ দিত এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করত?" তখন কবর বলবে, "তাহলে আমি তার জন্য সবুজ শ্যামল চারণভূমিতে পরিণত হব এবং তার দেহ নূরে রূপান্তরিত হবে আর তার রুহকে রব্বুল আলামীনের দিকে উঠিয়ে নেয়া হবে।"
(খণ্ড: ১) আল-উলুউউ লিল আলিয়্যিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ২৯)
// هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ وَابْنُ أَبِي مَرْيَمَ ضَعِيفٌ مِنْ قِبَلِ حِفْظِهِ //

52 - حَدِيثُ اللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ زِيَادَةَ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ كَعْبٍ عَنْ فَضَالَةَ بْنِ عبيد عَن أبي الدَّرْدَاء سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ مَنِ اشْتَكَى مِنْكُمْ أَوِ اشْتَكَى أَخٌ لَهُ فَلْيَقُلْ رَبَّنَا اللَّهُ الَّذِي فِي السَّمَاءِ تَقَدَّسَ اسْمُكَ أَمْرُكَ فِي السَّمَاءِ وَالأَرْضِ كَمَا رَحْمَتُكَ فِي السَّمَاءِ اغْفِرْ لَنَا حُوبَنَا وَخَطَايَانَا أَنْتَ رَبُّ الطَّيِّبِينَ أَنْزِلْ رَحْمَةً مِنْ رَحْمَتِكَ وَشِفَاءً مِنْ شِفَائِكَ عَلَى هَذَا الْوَجَعِ

فَيَبْرَأَ // أَخْرَجَهُ أَبُو دَاوُدَ وَزِيَادَةُ لَيِّنُ الْحَدِيثِ //

53 - حَدِيثُ حُسَيْن الْجعْفِيّ حَدثنَا زَائِدَةُ عَنْ عَاصِمِ بْنِ كُلَيْبٍ عَنْ مُحَارِبِ بْنِ دِثَارٍ عَنِ ابْن عمر قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم اتَّقُوا دَعْوَةَ الْمَظْلُومِ فَإِنَّهَا تَصْعَدُ إِلَى اللَّهِ كَأَنَّهَا شَرَارَةٌ // غَرِيبٌ وَإِسْنَادُهُ جَيِّدٌ //

54 - أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بن عمْرَة الْمعدل أَنبأَنَا الْحُسَيْن بن هبة الله أَنبأَنَا الْحَسَنُ بْنُ أَبِي الْحَدِيدِ سَنَةَ وَأَرْبَعمِائَة أَنبأَنَا المسدد بن عَليّ أَنبأَنَا إِسْمَاعِيل بن الْقَاسِم بحمص حَدثنَا يَعْقُوب بن إِسْحَاق بعسقلان حَدثنَا جَعْفَر بن هَارُون الْفراء حَدثنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ عَنِ الأَوْزَاعِيِّ عَنْ يَحْيَى عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ لَمَّا خَطَبَ عَلِيٌّ فَاطِمَةَ مِنْ رَسُولِ الله صلى الله عليه وسلم دخل عَلَيْهَا فَقَالَ لَهَا أَيْ بُنَيَّةُ إِنَّ ابْنَ عَمَّكِ عَلِيًّا قَدْ خَطَبَكِ فَمَا تَقُولِينَ فَبَكَتْ ثُمَّ قَالَتْ كَأَنَّكَ إِنَّمَا ادَّخَرْتَنِي لِفَقِيرِ قُرَيْشٍ فَقَالَ وَالَّذِي بَعَثَنِي
// এটি একটি গরীব হাদিস এবং ইবনে আবি মারইয়াম তার মুখস্থ শক্তির দিক থেকে দুর্বল। //

৫২ - লাইস ইবনে সাদ বর্ণিত হাদিস, তিনি যিয়াদাহ ইবনে মুহাম্মদ থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে কাব থেকে, তিনি ফাদালাহ ইবনে উবাইদ থেকে, তিনি আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, "তোমাদের মধ্যে কেউ যদি অসুস্থ হয় অথবা তার কোনো ভাই অসুস্থ হয়, তবে সে যেন বলে—হে আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ, যিনি আকাশে আছেন, আপনার নাম পবিত্র হোক, আকাশে ও পৃথিবীতে আপনার নির্দেশ (ব্যাপ্ত), আকাশে যেমন আপনার রহমত রয়েছে, (তেমনি) আমাদের পাপ ও ত্রুটিগুলো ক্ষমা করে দিন। আপনি পবিত্রদের প্রতিপালক। আপনার পক্ষ থেকে রহমত এবং আপনার পক্ষ থেকে আরোগ্য নাযিল করুন এই ব্যথার ওপর।"

ফলে সে আরোগ্য লাভ করবে। // এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন এবং যিয়াদাহ হাদিসের বর্ণনায় শিথিল। //

৫৩ - হুসাইন আল-জু’ফি বর্ণিত হাদিস, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যাইদাহ, তিনি আসিম ইবনে কুলাইব থেকে, তিনি মুহারিব ইবনে দিসার থেকে, তিনি ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "তোমরা মজলুমের বদদোয়াকে ভয় করো, কারণ তা আগুনের স্ফুলিঙ্গের ন্যায় আল্লাহর দিকে উঠে যায়।" // এটি গরীব এবং এর সনদ উত্তম। //

৫৪ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসমাইল ইবনে উমরাহ আল-মুআদ্দিল, আমাদের জানিয়েছেন আল-হুসাইন ইবনে হিবাতুল্লাহ, আমাদের জানিয়েছেন আল-হাসান ইবনে আবু আল-হাদিদ ৪০০ হিজরি সনে, আমাদের জানিয়েছেন মুসাদ্দাদ ইবনে আলী, আমাদের জানিয়েছেন ইসমাইল ইবনে কাসিম হিমসে, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াকুব ইবনে ইসহাক আসকালানে, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জাফর ইবনে হারুন আল-ফাররা, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে কাসির, তিনি আওযায়ি থেকে, তিনি ইয়াহইয়া থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যখন আলী (রা.) আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ফাতিমা (রা.)-এর বিয়ের প্রস্তাব দিলেন, তখন রাসুল (সা.) ফাতিমার নিকট প্রবেশ করলেন এবং তাকে বললেন, "হে প্রিয় কন্যা, তোমার চাচাতো ভাই আলী তোমার প্রস্তাব দিয়েছে, এ ব্যাপারে তুমি কী বলো?" তখন ফাতিমা কেঁদে ফেললেন এবং বললেন, "মনে হচ্ছে আপনি আমাকে কুরাইশদের একজন দরিদ্র ব্যক্তির জন্যই জমা রেখেছিলেন।" তখন রাসুল (সা.) বললেন, "সেই সত্তার শপথ যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন..."
(খণ্ড: ১) আল-উলুউউ লিল আলিয়্যিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৩০)
بِالْحَقِّ مَا تَكَلَّمت فِي هَذَا حَتَّى أَذِنَ اللَّهُ فِيهِ مِنَ السَّمَاءِ

فَقَالَتْ فَاطِمَةُ رَضِيتُ بِمَا رَضِيَ اللَّهُ لِي // هَذَا حَدِيثٌ مُنْكَرٌ لَعَلَّ مُحَمَّدَ بْنَ كَثِيرٍ افْتَرَاهُ فَإِنَّهُ مُتَّهَمٌ فَإِنَّ الأَوْزَاعِيَّ مَا نَطَقَ بِهِ قَطُّ وَلَمْ أَرْوِ هَذَا وَنَحْوَهُ إِلا لِلتَّزْيِيفِ وَالْكَشْفِ

وَالْفَرَّاءُ لَيْسَ بِثِقَةٍ //

55 - أَخْبَرَنَا الْحسن بن عَليّ أَنبأَنَا سَالم بن الْحسن أَنبأَنَا ابْن شاتيل أَنبأَنَا أَبُو غَالب الباقلاني حَدثنَا عبد الْملك بن مُحَمَّد حَدثنَا أَحْمد بن سلمَان النجاد حَدثنَا الْحسن بن مكرم حَدثنَا عمر بن يُونُس اليمامي 199 حَدثنَا جَهْضَمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ حَدَّثَنِي أَبُو طَيْبَةَ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عُمَيْر عَنْ أَنَسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم أَتَانِي جِبْرَائِيل عليه السلام وَفِي يَدِهِ مِرْآةٌ بَيْضَاءُ فِيهَا نُكْتَةٌ سَوْدَاءُ فَقُلْتُ مَا هَذَا يَا جِبْرَائِيل قَالَ هَذِهِ الْجُمُعَةُ يَعْرِضُهَا عَلَيْكَ رَبك عزوجل لِتَكُونَ لَكَ عِيدًا وَلِقَوْمِكَ مِنْ بَعْدِكَ تَكُونُ أَنْتَ الأَوَّلُ وَتَكُونُ الْيَهُودُ وَالنَّصَارَى مِنْ بَعْدِكَ

فَقُلْتُ مَا لَنَا فِيهَا قَالَ لَكُمْ فِيهَا خَيْرٌ

فِيهَا سَاعَةٌ مَنْ دَعَا اللَّهَ فِيهَا بِخَيْرٍ هُوَ قَسْمٌ لَهُ أَعْطَاهُ إِيَّاهُ أَوْ لَيْسَ لَهُ قسم إِلَّا ذخر لَهُ مَا هُوَ أَعْظَمَ مِنْهُ

قُلْتُ مَا هَذِهِ النُّكْتَةُ السَّوْدَاءُ فِيهَا قَالَ هِيَ السَّاعَةُ تَقُومُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَهُوَ سَيِّدُ الأَيَّامِ عِنْدَنَا وَنَحْنُ نَدْعُوهُ يَوْمَ الْمَزِيدِ فِي الْآخِرَة

قلت وَمَا تَدعُوهُ يَوْمُ الْمَزِيدِ قَالَ إِنَّ رَبَّكَ اتَّخَذَ فِي الْجَنَّةِ وَادِيًا أَفْيَحَ مِنْ مِسْكٍ أَبْيَضَ فَإِذَا كَانَ يَوْمُ الْجُمُعَةِ نَزَلَ تبارك وتعالى مِنْ عِلِّيِّينَ عَلَى كُرْسِيِّهِ ثُمَّ حَفَّ الْكُرْسِيَّ بِمَنَابَرَ مِنْ نُورٍ ثُمَّ جَاءَ النَّبِيُّونَ حَتَّى يَجْلِسُوا عَلَيْهَا ثُمَّ حَفَّ الْمَنَابِرَ بِكَرَاسِيَّ مِنْ ذَهَبٍ ثُمَّ جَاءَ الصِّدِّيقُونَ وَالشُّهَدَاءُ حَتَّى يَجْلِسُوا عَلَيْهَا ثُمَّ جَاءَ أَهْلُ الْجَنَّةِ حَتَّى يَجْلِسُوا عَلَى الْكَثِيبِ فَيَتَجَلَّى لَهُمْ رَبُّهُمْ عزوجل حَتَّى يَنْظُرُوا إِلَى وَجْهِهِ ثُمَّ يَقُولُ أَنَا
সত্যের সাথে, আমি এই বিষয়ে কথা বলিনি যতক্ষণ না আল্লাহ আকাশ থেকে এর অনুমতি দিয়েছেন।

অতঃপর ফাতিমা বললেন, আল্লাহ আমার জন্য যা পছন্দ করেছেন তাতে আমি সন্তুষ্ট। // এটি একটি মুনকার (অস্বীকৃত) হাদিস; সম্ভবত মুহাম্মদ বিন কাসির এটি উদ্ভাবন করেছে, কেননা সে অভিযুক্ত। নিশ্চয়ই আওযাঈ কখনও এটি উচ্চারণ করেননি। আর আমি এটি এবং এর অনুরূপ বর্ণনা করিনি কেবল এর ত্রুটি এবং স্বরূপ উন্মোচনের জন্য।

আর ফাররা নির্ভরযোগ্য নয়। //

55 - হাসান ইবনে আলী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, সালেম ইবনে হাসান আমাদের জানিয়েছেন, ইবনে শাতিল আমাদের জানিয়েছেন, আবু গালিব আল-বাকিলানি আমাদের জানিয়েছেন, আবদুল মালিক ইবনে মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমাদ ইবনে সালমান আন-নাজ্জাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাসান ইবনে মুকরাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উমর ইবনে ইউনুস আল-ইয়ামামি ১৯৯ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জাহযাম ইবনে আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু তাইবাহ উসমান ইবনে উমাইর থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) আমার কাছে আসলেন এবং তাঁর হাতে ছিল একটি সাদা আয়না যাতে একটি কালো বিন্দু ছিল। আমি বললাম, হে জিবরাঈল, এটি কী? তিনি বললেন, এটি জুমুয়াহ (শুক্রবার), যা আপনার রব আপনার কাছে পেশ করেছেন যেন এটি আপনার জন্য এবং আপনার পরবর্তী আপনার উম্মতের জন্য ঈদ হিসেবে গণ্য হয়। আপনি হবেন প্রথম এবং ইহুদি ও খ্রিস্টানরা হবে আপনার পরে।

আমি বললাম, এতে আমাদের জন্য কী রয়েছে? তিনি বললেন, এতে আপনাদের জন্য কল্যাণ রয়েছে।

এতে এমন একটি সময় আছে, যে সময় কোনো ব্যক্তি আল্লাহর কাছে এমন কোনো কল্যাণের দোয়া করে যা তার তকদিরে নির্ধারিত রয়েছে, তবে আল্লাহ তাকে তা দান করেন। অথবা যদি তার তকদিরে তা নির্ধারিত না থাকে, তবে তার জন্য তার চেয়েও বড় কিছু জমা করে রাখেন।

আমি বললাম, এর মধ্যে এই কালো বিন্দুটি কী? তিনি বললেন, এটি হচ্ছে কিয়ামত যা জুমুয়াহর দিনে সংঘটিত হবে। আমাদের নিকট এটি দিনসমূহের সর্দার এবং আখিরাতে আমরা একে অতিরিক্ত প্রাপ্তির দিন (ইয়াওমুল মাযিদ) বলে ডাকি।

আমি বললাম, আপনারা একে কেন অতিরিক্ত প্রাপ্তির দিন বলেন? তিনি বললেন, আপনার রব জান্নাতে সাদা মিশকের একটি সুপ্রশস্ত উপত্যকা নির্ধারণ করেছেন। যখন জুমুয়াহর দিন হয়, তখন আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা ইল্লিয়্যিন থেকে তাঁর কুরসীর ওপর নেমে আসেন। অতঃপর কুরসীকে নূরের মিম্বরসমূহ দ্বারা ঘিরে ফেলা হয়। এরপর নবীগণ এসে সেগুলোর ওপর বসেন। তারপর মিম্বরগুলোকে স্বর্ণের আসন দিয়ে ঘিরে ফেলা হয় এবং সিদ্দিক ও শহীদগণ এসে সেগুলোর ওপর বসেন। এরপর জান্নাতবাসীরা এসে বালুর ঢিবির ওপর বসেন। তখন তাদের রব মহান আল্লাহ তাদের সামনে আত্মপ্রকাশ করেন, যাতে তারা আল্লাহর চেহারার দিকে তাকাতে পারেন। অতঃপর তিনি বলেন, আমি...
(খণ্ড: ১) আল-উলুউউ লিল আলিয়্যিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৩১)
الَّذِي صَدَقْتُكُمْ وَعْدِي وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَهَذَا مَحَلُّ كَرَامَتِي فَيَسْأَلُونَهُ وَيَسْأَلُونَهُ حَتَّى تَنْتَهِيَ رَغْبَتُهُمْ فَيَفْتَحُ لَهُمْ عِنْدَ ذَلِكَ مَا لَا عَيْنٌ رَأَتْ وَلا أُذُنٌ سَمِعَتْ وَلا خَطَرَ عَلَى قَلْبِ بَشَرٍ إِلَى أَوَانِ مُنْصَرَفِ النَّاسِ مِنْ يَوْمِ الْجُمُعَةِ ثُمَّ يَصْعَدُ عَلَى كُرْسِيِّهِ وَيَصْعَدُ مَعَهُ الصِّدِّيقُونَ وَالشُّهَدَاءُ وَيَرْجِعُ أَهْلُ الْغُرَفِ إِلَى غُرَفِهِمْ دُرَّةٌ بَيْضَاءُ لَا فَصْمٌ فِيهِ وَلا نَظْمٌ أَوْ يَاقُوتَةٌ حَمْرَاءُ أَوْ زَبَرْجَدَةٌ خَضَرَاءُ فِيهَا غُرَفُهَا وَأَبْوَابُهَا مُطَّرِدَةٌ فِيهَا أَنْهَارُهَا مُتَذَلِّلَةٌ فِيهَا ثمارها فِيهَا أَزْوَاجُهَا وَخَدَمُهَا فَلَيْسُوا إِلَى شَيْءٍ أَحْوَجَ مِنْهُمْ إِلَى يَوْمِ الْجُمُعَة ليزدادوا من كرامته عزوجل وَلِيَزْدَادُوا نَظَرًا إِلَى وَجْهِهِ فَلِذَلِكَ دعِي يَوْمُ الْمَزِيدِ // هَذَا حَدِيثٌ مَشْهُورٌ وَافِرُ الطُّرُقِ أَخْرَجَهُ الإِمَامُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ فِي كِتَابِ السّنة لَهُ عَنْ عَبْدِ الأَعْلَى بْنِ حَمَّادٍ النَّرْسِي عَن عَمْرو بْنِ يُونُسَ //

56 - قَرَأْتُ عَلَى مُحَمَّدِ بن الْحسن أنبأ مُحَمَّد بن عباد أَنبأَنَا عبد الله بن رِفَاعَة السعدني أَنبأَنَا عَليّ بن الْحسن القَاضِي أَنبأَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُمَرَ الْمَالِكِيُّ أَنبأَنَا أَبُو الطَّاهِر الْمَدِينِيّ حَدثنَا يُونُس بن عبد الْأَعْلَى حَدثنَا أَسد بن مُوسَى حَدثنَا أَبُو يُوسُفَ يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدثنَا صَالِحُ بْنُ حَيَّانَ عَنْ عَبْدِ الَّلِه بْنِ بُرَيْدَةَ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ أَتَانِي جِبْرَائِيل عليه السلام وَفِي يَدِهِ كَالْمِرْآةِ الْبَيْضَاءِ فَقُلْتُ يَا جِبْرَائِيل مَا هَذِهِ قَالَ هَذِهِ الْجُمُعَةُ بَعَثَنِي اللَّهُ بِهَا إِلَيْكَ وَهُوَ عِنْدَنَا يَوْمُ
যিনি তোমাদের প্রতি আমার প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছি এবং তোমাদের ওপর আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করেছি, আর এটিই আমার সম্মানের স্থান। অতঃপর তারা তাঁর নিকট প্রার্থনা করতে থাকবে এবং প্রার্থনা করতে থাকবে যতক্ষণ না তাদের আকাঙ্ক্ষা শেষ হয়। তখন তিনি তাদের জন্য সেই সময় এমন কিছু উন্মুক্ত করবেন যা কোনো চোখ দেখেনি, কোনো কান শোনেনি এবং কোনো মানুষের অন্তরে যা কল্পনাও আসেনি, জুমার দিন মানুষের ফিরে যাওয়ার সময় পর্যন্ত। অতঃপর তিনি তাঁর কুরসির ওপর উঠবেন এবং তাঁর সাথে সিদ্দিকগণ ও শহীদগণও উপরে উঠবেন। আর উচ্চপ্রকোষ্ঠের অধিবাসীরা তাদের প্রকোষ্ঠসমূহে ফিরে যাবে, যা সাদা মুক্তার তৈরি যাতে কোনো ফাটল বা জোড়া নেই, অথবা লাল ইয়াকুত কিংবা সবুজ পান্নার তৈরি, যাতে রয়েছে কক্ষসমূহ এবং যার প্রবেশদ্বারগুলো সুবিন্যস্ত। সেখানে তাদের নহরসমূহ প্রবহমান, ফলসমূহ অবনমিত এবং সেখানে রয়েছে তাদের পত্নীগণ ও খাদেমগণ। জুমার দিনের চেয়ে বেশি মুখাপেক্ষী তারা অন্য কোনো কিছুর প্রতি হবে না, যাতে তারা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত সম্মান আরও বৃদ্ধি করতে পারে এবং তাঁর চেহারার প্রতি দৃষ্টিপাত করার সুযোগ বৃদ্ধি পায়। এ কারণেই একে 'অতিরিক্ত প্রাপ্তির দিন' বলা হয়। // এটি একটি প্রসিদ্ধ হাদীস যার অসংখ্য বর্ণনাধারা রয়েছে। ইমাম আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ তাঁর লিখিত 'কিতাবুস সুন্নাহ' গ্রন্থে আব্দুল আ’লা বিন হাম্মাদ আন-নারসি হতে, তিনি আমর বিন ইউনুস হতে এটি বর্ণনা করেছেন। //

৫৬ - আমি মুহাম্মদ বিন আল-হাসানের নিকট পাঠ করেছি, মুহাম্মদ বিন আব্বাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আব্দুল্লাহ বিন রিফায়া আস-সাদানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আলী বিন আল-হাসান আল-কাদি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আব্দুর রহমান বিন উমর আল-মালিকি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু তাহের আল-মাদিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইউনুস বিন আব্দুল আ’লা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আসাদ বিন মুসা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আবু ইউসুফ ইয়াকুব বিন ইবরাহিম আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, সালিহ বিন হাইয়ান আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আব্দুল্লাহ বিন বুরাইদা থেকে, তিনি আনাস বিন মালিক থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: জিবরাঈল আলাইহিস সালাম আমার নিকট আসলেন এবং তাঁর হাতে ছিল একটি সাদা আয়নার মতো বস্তু। আমি বললাম, হে জিবরাঈল! এটি কী? তিনি বললেন, এটি হলো জুমা, আল্লাহ এটি আপনার নিকট পাঠিয়েছেন এবং এটি আমাদের নিকট সেই দিন...
(খণ্ড: ১) আল-উলুউউ লিল আলিয়্যিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৩২)
الْمَزِيدِ إِنَّ رَبَّكَ اتَّخَذَ فِي الْجَنَّةِ وَادِيًا أَفْيَحَ مِنْ مِسْكٍ أَبْيَضَ فَإِذَا كَانَ يَوْمُ الْجُمُعَةِ نَزَلَ عَلَى كُرْسِيِّهِ وَنَزَلَ مَعَهُ النَّبِيُّونَ وَالصِّدِّيقُونَ ثُمَّ حُفَّتْ بِالْكَرَاسِيِّ مَنَابِرُ مِنْ ذَهَبٍ مُكَلَّلَةٌ بِالزَّبَرْجَدِ وَاللُّؤْلُؤِ وَالْيَاقُوتِ فَيْجَلِسُ عَلَيْهِ النَّبِيُّونَ وَالصِّدِّيقُونَ وَنَزَلَ أَهْلُ الْغُرَفِ عَلَى الْكُثْبِ مِنَ الْمِسْكِ الأَبْيَضِ فَيَتَجَلَّى لَهُمْ رَبُّهُمْ فَيَنْظُرُونَ إِلَى وَجْهِهِ ثُمَّ ارْتَفَعَ عَلَى كُرْسِيِّهِ وَارْتَفَعَ أَهْلُ الْغُرَفِ إِلَى غُرَفِهِمْ // صَالِحٌ ضَعِيفٌ

تَفَرَّدَ بِهِ عَنْهُ الْقَاضِي أَبُو يُوسُفَ //

57 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عبد الْمُنعم الْقزْوِينِي أَنبأَنَا مُحَمَّد بن سعيد بِبَغْدَاد وأنبأنا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ وَجَمَاعَةٌ قَالُوا أَنبأَنَا ابْنُ الزَّبِيدِيِّ وَأَنْبَأَ التَّاجُ أَبُو مُحَمَّدٍ الْمَغْرِبِيُّ أَنْبَأَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ الْفَقِيهُ بِبَعْلَبَكَّ قَالُوا أَنبأَنَا أَبُو زرْعَة أَنبأَنَا مِكِّيُّ بْنُ مَنْصُورٍ أَنْبَأَ أَبُو بكر الجبري حَدثنَا أَبُو الْعَبَّاس الْأَصَم ح وأنبأنا مُحَمَّد بن الْحُسَيْن أَنبأَنَا ابْنُ رِفَاعَةَ أَنْبَأَ الْخَلَفِيُّ أَنْبَأَ أَبُو الْعَبَّاسِ بْنُ الْحَاجِّ الأَشْبِيلِيُّ حَدثنَا أَبُو الْفَوَارِسِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الصَّابُونِي إملاء قَالَا حَدثنَا الرّبيع بن سُلَيْمَان حَدثنَا الشَّافِعِيُّ أَنْبَأَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنِي مُوسَى بْنُ عُبَيْدَةَ حَدَّثَنِي أَبُو الأَزْهَرِ مُعَاوِيَةُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ طَلْحَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بن عبيد ابْن عُمَيْرٍ أَنَّهُ سَمِعَ أَنَسَ بْنَ مَالك يَقُول أَتَى جِبْرَائِيل بِمِرْآةٍ بَيْضَاءَ فِيهَا نُكْتَةٌ سَوْدَاءُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ مَا هَذِهِ قَالَ هَذِهِ الْجُمُعَةُ فُضِّلْتَ بِهَا أَنْتَ وَأُمَّتُكَ وَالنَّاسُ لَكُمْ فِيهَا تَبَعٌ الْيَهُودُ وَالنَّصَارَى لَكُمْ فِيهَا خَيْرٌ وَفِيهَا سَاعَةٌ لَا يُوَافِقُهَا مُؤْمِنٌ يَدْعُو بِخَيْرٍ إِلا اسْتُجِيبَ لَهُ وَهُوَ عِنْدَنَا يَوْمُ الْمَزِيدِ فَقَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَمَا يَوْمُ الْمَزِيدِ قَالَ إِنَّ رَبَّكَ اتَّخَذَ فِي الْجَنَّةِ وَادِيًا
মাজীদের (অতিরিক্ত প্রদানের)। নিশ্চয়ই আপনার রব জান্নাতে সাদা কস্তুরীর একটি প্রশস্ত উপত্যকা নির্ধারণ করেছেন। অতঃপর যখন জুমার দিন আসে, তিনি তাঁর কুরসীর ওপর নেমে আসেন এবং তাঁর সাথে নবীগণ ও সিদ্দিকগণ নেমে আসেন। এরপর কুরসীগুলোর চারপাশে সোনা, জাবারজাদ, মুক্তা ও ইয়াকুত খচিত মিম্বরসমূহ স্থাপন করা হয়। অতঃপর নবীগণ ও সিদ্দিকগণ সেগুলোর ওপর বসেন। আর উচ্চ কক্ষের অধিবাসীরা সাদা কস্তুরীর ঢিবির ওপর অবতরণ করেন। এরপর তাদের রব তাদের সামনে আত্মপ্রকাশ করেন, তখন তারা তাঁর চেহারার দিকে তাকিয়ে থাকেন। এরপর তিনি তাঁর কুরসীর ওপর উঠে যান এবং উচ্চ কক্ষের অধিবাসীরাও তাদের কক্ষসমূহে ফিরে যান। // সালিহ (বর্ণনাকারী) দুর্বল।

কাজী আবু ইউসুফ এককভাবে এটি বর্ণনা করেছেন। //

৫৭ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ ইবন আবদিল মুনইম আল-কাযভিনী, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ ইবন সাঈদ বাগদাদে, এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলী ইবন মুহাম্মাদ ও একদল বর্ণনাকারী, তাঁরা বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনুন যাবীদী, এবং সংবাদ দিয়েছেন আত-তাজ আবু মুহাম্মাদ আল-মাগরিবী, তিনি বলেন, সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবন আহমাদ আল-ফকীহ বালবাক্কে, তাঁরা বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু যুরআহ, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মাক্কী ইবন মানসুর, তিনি বলেন, সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আল-জাবরী, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবুল আব্বাস আল-আসাম (হ); এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনু রিফাআহ, তিনি বলেন, সংবাদ দিয়েছেন আল-খালাফী, তিনি বলেন, সংবাদ দিয়েছেন আবুল আব্বাস ইবনুল হাজ আল-আশবিলী, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবুল ফাওয়ারিস আহমাদ ইবন মুহাম্মাদ আস-সাবুনী শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে, তাঁরা উভয়ে বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন রাবী ইবন সুলাইমান, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আশ-শাফিয়ী, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইব্রাহিম ইবন মুহাম্মাদ, তিনি বলেন, আমার নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুসা ইবন উবাইদাহ, তিনি বলেন, আমার নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবুল আযহার মুয়াবিয়া ইবন ইসহাক ইবন তালহা, তিনি আবদুল্লাহ ইবন উবাইদ ইবন উমাইর থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি আনাস ইবন মালিককে বলতে শুনেছেন, জিবরাঈল নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট একটি সাদা আয়না নিয়ে আসলেন যাতে একটি কালো দাগ ছিল। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জিজ্ঞাসা করলেন, "এটি কী?" তিনি বললেন, "এটি হলো জুমার দিন, যার মাধ্যমে আপনাকে ও আপনার উম্মতকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করা হয়েছে। আর মানুষ এ ক্ষেত্রে আপনাদের অনুসারী; ইহুদি ও খ্রিস্টানদের জন্য এতে কল্যাণ রয়েছে। এতে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে, কোনো মুমিন বান্দা সেই মুহূর্তে কোনো কল্যাণের দোয়া করলে তার দোয়া কবুল করা হয়। আর এটি আমাদের কাছে 'ইয়াওমুল মাজীদ' (অতিরিক্ত প্রদানের দিন)।" নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জিজ্ঞাসা করলেন, "ইয়াওমুল মাজীদ কী?" তিনি বললেন, "নিশ্চয়ই আপনার রব জান্নাতে একটি উপত্যকা নির্ধারণ করেছেন..."
(খণ্ড: ১) আল-উলুউউ লিল আলিয়্যিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৩৩)
فِيهَا كُثْبٌ مِنْ مِسْكٍ فَإِذَا كَانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ أَنْزَلَ اللَّهُ مَنْ شَاءَ من الْمَلَائِكَة وَحَوله الشُّهَداءُ وَالصِّدِّيقُونَ فَيَجْلِسُونَ مِنْ وَرَائِهِمْ عَلَى تِلْكَ الْكُثْبِ فَيَقُولُ اللَّهُ تَعَالَى أَنَا رَبُّكُمْ قَدْ صَدَقْتُكُمْ وَعْدِي فَسَلُونِي أُعْطِكُمْ فَيَقُولُونَ رَبَّنَا نَسْأَلك الرِّضَا فَيَقُول رَضِيتُ عَنْكُمْ وَلَكُمْ مَا شِئْتُمْ وَلَدَيَّ مَزِيدٌ

فَهُمْ يُحِبُّونَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ لِمَا يُعْطِيهِمْ رَبُّهُمْ مِنَ الْخَيْرِ وَهُوَ الْيَوْمُ الَّذِي اسْتَوَى فِيهِ رَبُّكَ عَلَى الْعَرْشِ وَفِيهِ خُلِقَ آدَمُ وَفِيهِ تَقُومُ السَّاعَةُ // إِبْرَاهِيم ومُوسَى ضعفاء أَخْرَجَهُ الإِمَامُ مُحَمَّدُ بْنُ إِدْرِيسَ فِي مُسْنَدِهِ وَقَدْ أَخْرَجَهُ الدَّارَقُطْنِيُّ مِنْ طَرِيقِ حَمْزَةَ بْنِ وَاصِلٍ الْمِنْقَرِيِّ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسٍ وَمِنْ طَرِيقِ عَنْبَسَةَ الرَّازِيِّ عَنْ أَبِي الْيَقْظَانِ عُثْمَانَ بْنِ عُمَيْرٍ عَن أنس عَن ابْن مُحَمَّد بن شُعَيْب بن سَابُور عَنْ عُمَرَ مَوْلَى غُفْرَةَ عَنْ أَنَسٍ

وَأَخْرَجَهُ الْقَاضِي أَبُو أْحْمَدَ الْعَسَّال فِي كتاب الْمعرفَة لَهُ عَن رِجَاله عَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ الْحَمِيدِ عَنْ لَيْثِ بْنِ أَبِي سُلَيْمٍ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي حُمَيْدٍ وَهُوَ أَبُو الْيَقْظَانِ عَنْ أَنَسٍ وَرَوَاهُ مِنْ طَرِيقِ سَلامِ بْنِ سُلَيْمَانَ عَنْ شُعْبَةَ وَإِسْرَائِيلَ وَوَرْقَاءَ عَنْ لَيْثٍ أَيْضًا

وَسَاقَهُ الدَّارَقُطْنِيُّ مِنْ رِوَايَةِ شُجَاعِ بْنِ الْوَلِيدِ عَن زِيَاد بْنِ خَيْثَمَةَ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي سُلَيْمَانَ عَنْ أَنَسٍ

وَالظَّاهِرُ أَنَّ عُثْمَانَ أَبُو الْيَقْظَانِ وَحَدَّثَ بِهِ الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ ثَابِتِ بْنِ ثَوْبَانَ عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ

وَهَذِهِ طُرُقٌ يُعَضِّدُ بَعْضُهَا بَعْضًا رزقنا الله وَإِيَّاكُم لَذَّةَ النَّظَرِ إِلَى وَجْهِهِ الْكَرِيمِ //

58 - أنبأ طَائِفَةٌ عَنْ جَمَاعَةٍ أَجَازَ لَهُمْ أَبُو عَلِيٍّ الْحَدَّادُ أَنْبَأَ أَبُو نعيم أنبأ الطَّبَرَانِيّ حَدثنَا مُحَمَّد بن زرْعَة الدِّمَشْقِي حَدثنَا هِشَام بن عمار حَدثنَا الْوَلِيد بن مسلمة عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ ثَابِتِ عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّهُ سَمِعَ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ رضي الله عنه يَقُولُ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَتَانِي
তাতে মিশকের (কস্তুরীর) স্তূপ রয়েছে। অতঃপর যখন কিয়ামতের দিন উপস্থিত হবে, আল্লাহ তাঁর ফেরেশতাদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা অবতরণ করাবেন এবং তাঁর চারপাশে শহীদ ও সিদ্দীকগণ থাকবেন। তাঁরা তাদের পেছনে সেই স্তূপগুলোর ওপর বসবেন। তখন আল্লাহ তাআলা বলবেন: আমিই তোমাদের রব, আমি তোমাদের কাছে করা আমার প্রতিশ্রুতি সত্য করেছি। সুতরাং আমার কাছে চাও, আমি তোমাদের দান করব। তখন তাঁরা বলবেন: হে আমাদের রব, আমরা আপনার সন্তুষ্টি প্রার্থনা করছি। তিনি বলবেন: আমি তোমাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছি, আর তোমাদের জন্য রয়েছে যা কিছু তোমরা চাও এবং আমার কাছে রয়েছে আরও অতিরিক্ত।

অতঃপর তাঁরা জুমার দিনকে পছন্দ করেন সেই কল্যাণের কারণে যা তাঁদের রব তাঁদের দান করেন। আর এটি সেই দিন যাতে আপনার রব আরশের ওপর উঠেছেন এবং এতেই আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং এতেই কিয়ামত সংঘটিত হবে। // ইব্রাহিম ও মুসা দুর্বল। এটি ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইদ্রিস তাঁর মুসনাদে বর্ণনা করেছেন এবং দারাকুতনি এটি হামজা ইবনে ওয়াসিল আল-মিনকারির সূত্রে কাতাদাহ থেকে, তিনি আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন। এবং আনবাসাহ আর-রাজির সূত্রে আবু ইয়াকজান উসমান ইবনে উমাইর থেকে, তিনি আনাস থেকে, তিনি ইবনে মুহাম্মদ ইবনে শুআইব ইবনে সাবুর থেকে, তিনি গুফরার মুক্তদাস উমর থেকে, তিনি আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন।

এবং কাজী আবু আহমদ আল-আসসাল তাঁর কিতাবুল মা'রিফাহ গ্রন্থে তাঁর বর্ণনাকারীদের সূত্রে জারির ইবনে আব্দুল হামিদ থেকে, তিনি লাইস ইবনে আবি সুলাইম থেকে, তিনি উসমান ইবনে আবি হুমাইদ থেকে—যিনি আবু ইয়াকজান—তিনি আনাস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। আর তিনি এটি সালাম ইবনে সুলাইমান সূত্রে শুবা, ইসরাইল এবং ওয়ারকা থেকেও লাইস থেকে বর্ণনা করেছেন।

আর দারাকুতনি এটি শুজা ইবনুল ওয়ালিদের বর্ণনায় জিয়াদ ইবনে খাইসামাহ থেকে, তিনি উসমান ইবনে আবি সুলাইমান থেকে, তিনি আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন।

আর প্রকাশ্যত উসমান হলেন আবু ইয়াকজান। ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম এটি আব্দুর রহমান ইবনে সাবিত ইবনে সাওবান থেকে, তিনি সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন।

এই সূত্রগুলো একে অপরকে শক্তিশালী করে। আল্লাহ আমাদের এবং আপনাদেরকে তাঁর মহান চেহারার দিকে তাকানোর স্বাদ নসিব করুন। //

৫৮ - আমাদের কাছে একদল ব্যক্তি এমন এক জামাআতের সূত্রে বর্ণনা করেছেন যাদেরকে আবু আলি আল-হাদ্দাদ অনুমতি প্রদান করেছেন। আবু নুয়াইম আমাদের জানিয়েছেন, তাবারানি আমাদের জানিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে জুরআহ আদ-দিমাশকি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, হিশাম ইবনে আম্মার আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, ওয়ালিদ ইবনে মুসলিমাহ আব্দুর রহমান ইবনে সাবিত থেকে আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলতে শুনেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আমার কাছে এসেছেন...
(খণ্ড: ১) আল-উলুউউ লিল আলিয়্যিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৩৪)
جِبْرَائِيل وَفِي يَدِهِ كَهَيْئَةِ الْمِرْآةِ الْحَدِيثُ بِطُولِهِ وَفِيهِ فَإِذَا كَانَ يَوْمُ الْجُمُعَةِ مِنْ أَيَّامِ الآخِرَةِ يَهْبِطُ الرب عزوجل عَنْ عَرْشِهِ إِلَى كُرْسِيِّهِ وَحَفَّ الْكُرْسِيَّ بِمَنَابِرَ مِنْ نُورٍ فَجَلَسَ النَّبِيُّونَ // غَرِيبٌ تَفَرَّدَ بِهِ الْوَلِيدُ //

59 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ إِسْحَاقَ أَنْبَأَ الْحُسَيْنُ بْنُ أَبَانٍ بِالْمَوْصِلِ أَنْبَأَ أَبُو نَصْرٍ الْيُوسُفِيُّ وَابْنُ عَقِيلٍ الْبَصْرِيُّ قَالا أَنْبَأَ أَبُو الْقَاسِمِ بن سِنَان أنبأ طَلْحَة الْكِتَابِيّ أنبأ أَحْمد بن عُثْمَان حَدثنَا عَبَّاس الدوري حَدثنَا عَليّ بن بَحر حَدثنَا عِيسَى بن يُونُس حَدثنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِنْدٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيّ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقْبَلُ اللَّهُ صَدَقَةَ الْعَبْدِ مِنْ كَسْبٍ طَيِّبٍ وَلا يَقْبَلُ الله إِلا طَيِّبًا وَلا يَصْعَدُ إِلَيْهِ إِلَّا الطّيب فَيَأْخُذُ التَّمْرَةَ فَيُرَبِّيهَا حَتَّى يَجْعَلَهَا مِثْلَ الْجَبَلِ // صَحِيحٌ //

60 - أَخْبَرَنَا القَاضِي عبد الْخَالِق أنبأ ابْنُ قُدَامَةَ أَنْبَأَ عَبْدُ اللَّهِ بن مَنْصُور ابْن الْمَوْصِلِيُّ أَنْبَأَ أَبُو الْحُسَيْنِ بْنُ الطُّيُورِيِّ أَنْبَأَ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ أنبا أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ شَاذَانَ أَنْبَأَ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّد بن الْمُفلس

حَدثنَا سعيد ابْن يحيى الْأمَوِي حَدثنَا عبد الله بن زِيَادٍ عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ حَدَّثَنِي يَزِيدُ بْنُ سِنَانٍ عَنْ سَعِيدِ ابْن الأجيرد الْكِنْدِيِّ عَنْ عَدِيِّ بْنِ عُمَيْرَةَ بن وفرة الْعَبْدِيِّ قَالَ كَانَ بِأَرْضِنَا حَبْرٌ مِنَ الْيَهُودِ يُقَالُ لَهُ ابْنُ شَهْلانَ فَذَكَرَ الْحَدِيثَ نَحْوًا مِمَّا تَقَدَّمَ

وَآخِرُهُ فَخَرَجْتُ مُهَاجِرًا إِلَى النَّبِي صلى الله عليه وسلم فَإِذَا هُوَ وَمَنْ مَعَهُ يَسْجُدُونَ عَلَى وُجُوهِهِمْ وَيَزْعُمُونَ أَنَّ إِلَهَهُمْ فِي السَّمَاءِ فَأَسْلَمْتُ
জিবরাঈল আসলেন এবং তাঁর হাতে একটি আয়নার ন্যায় বস্তু ছিল... দীর্ঘ হাদিস... এবং তাতে রয়েছে: পরকালের দিনসমূহের মধ্যে যখন জুমুআর দিন হবে, তখন মহান প্রতিপালক তাঁর আরশ থেকে তাঁর কুরসিতে নেমে আসবেন এবং কুরসিকে নূরের মিম্বরসমূহ দ্বারা পরিবেষ্টিত করবেন, অতঃপর নবীগণ সেখানে বসবেন। // এটি একটি গরিব হাদিস, আল-ওয়ালিদ এককভাবে এটি বর্ণনা করেছেন। //

৫৯ - আহমাদ ইবন ইসহাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হুসাইন ইবন আবান আল-মাওসিলিতে আমাদের জানিয়েছেন, আবু নাসর আল-ইউসুফি ও ইবন আকিল আল-বাসরি আমাদের জানিয়েছেন, তাঁরা উভয়ে বলেন যে, আবুল কাসিম ইবন সিনান আমাদের জানিয়েছেন, তালহা আল-কিতাবি আমাদের জানিয়েছেন, আহমাদ ইবন উসমান আমাদের জানিয়েছেন, আব্বাস আদ-দাওরি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, আলি ইবন বাহর আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, ঈসা ইবন ইউনুস আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, আবদুল্লাহ ইবন সাঈদ ইবন আবি হিন্দ সাঈদ ইবন আবি সাঈদ থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আল্লাহ বান্দার উত্তম উপার্জন থেকে দেওয়া সদকা কবুল করেন, আর আল্লাহ উত্তম ছাড়া অন্য কিছু কবুল করেন না। আর তাঁর দিকে কেবল উত্তম বস্তুই আরোহণ করে। অতঃপর তিনি খেজুরটি গ্রহণ করেন এবং তা লালন-পালন করেন এমনকি তিনি সেটিকে পাহাড়ের ন্যায় বিশাল বানিয়ে দেন। // সহিহ //

৬০ - বিচারক (কাযি) আব্দুল খালিক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইবন কুদামা আমাদের জানিয়েছেন, আবদুল্লাহ ইবন মানসুর ইবন আল-মাওসিলি আমাদের জানিয়েছেন, আবু আল-হুসাইন ইবনুত তুয়ুরি আমাদের জানিয়েছেন, মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল ওয়াহিদ আমাদের জানিয়েছেন, আহমাদ ইবন ইবরাহিম ইবন শাযান আমাদের জানিয়েছেন, আহমাদ ইবন মুহাম্মাদ ইবনুল মুফাল্লিস আমাদের জানিয়েছেন।

সাঈদ ইবন ইয়াহইয়া আল-উমায়ি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, আবদুল্লাহ ইবন যিয়াদ ইবন ইসহাক থেকে আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, ইয়াযিদ ইবন সিনান আমার নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন সাঈদ ইবন আল-আজইরাদ আল-কিন্দি থেকে, তিনি আদি ইবন উমাইরা ইবন ওয়াফরা আল-আবদি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমাদের ভূমিতে ইহুদিদের একজন পণ্ডিত ছিল যাকে ইবন শাহলান বলা হতো। অতঃপর তিনি পূর্ববর্ণিত হাদিসের অনুরূপ উল্লেখ করেন।

এবং এর শেষাংশ হলো: অতঃপর আমি হিজরত করে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অভিমুখে বের হলাম। সেখানে গিয়ে দেখলাম তিনি ও তাঁর সাথে যারা আছেন তারা তাদের চেহারার ওপর সিজদাবনত হচ্ছেন এবং তারা বিশ্বাস করেন যে তাদের ইলাহ আসমানে আছেন। তখন আমি ইসলাম গ্রহণ করলাম।
(খণ্ড: ১) আল-উলুউউ লিল আলিয়্যিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৩৫)
وتبعته // زِيَاد هُوَ البكائي وَعَبْدُ اللَّهِ هُوَ //

61 - وَبِهِ إِلَى سَعِيدِ بْنِ يَحْيَى الأُمَوِيِّ صَاحِبِ الْمَغَازِي قَالَ حَدثنِي أبي أخبرنَا مُحَمَّد بن إِسْحَاق عَن مُحَمَّد بْنِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ سَعْدَ بْنَ مُعَاذٍ لَمَّا حَكَمَ فِي بَنِي قُرَيْظَةَ قَالَ لَهُ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لَقَدْ حَكَمْتَ حُكْمًا حَكَمَ الله بِهِ مِنْ فَوْقِ سَبْعَةِ أَرْقِعَةٍ // هَذَا مُرْسَلٌ //

62 - حَدِيثُ مُحَمَّدِ بْنِ صَالِحٍ عَن سعد بن إِبْرَاهِيم بن سعد عَن سعد ابْن أَبِي وَقَّاصٍ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لِسَعْدِ بْنِ مُعَاذٍ لَقَدْ حَكَمْتَ فِيهِمْ بِحُكْمِ الْمَلِكِ من فَوق سبع سموات // هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ أَخْرَجَهُ النَّسَائِيُّ مِنْ طَرِيقِ أَبِي عَامِرٍ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَرَ الْعَقَدِيِّ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ صَالِحٍ التَّمَّارِ وَهُوَ صَدُوقٌ //

63 - حَدِيثُ يَحْيَى بْنِ صَاعِدٍ حَدثنَا بكر بن أُخْتِ الْوَاقِدِيِّ عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ قيس عَن أبي بن كَعْبٍ مَوْلَى عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ عَنْ مَوْلاهُ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم مَا مَنْ عَبْدٍ يَقُولُ لَا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ يُحْيِي وَيُمِيتُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ
এবং আমি তাঁকে অনুসরণ করেছি // যিয়াদ হলেন আল-বুকায়ী এবং আব্দুল্লাহ হলেন //

৬১ - এবং একই সনদে মাগাজি রচয়িতা সাঈদ বিন ইয়াহইয়া আল-উমায়ীর সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ বিন ইসহাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ বিন কাব বিন মালিক থেকে যে, সাদ বিন মুয়াজ যখন বনু কুরাইজার ব্যাপারে ফয়সালা প্রদান করেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে বললেন: "তুমি এমন এক ফয়সালা প্রদান করেছ যার মাধ্যমে আল্লাহ সাত আসমানের উপর থেকে ফয়সালা দিয়েছেন।" // এটি মুরসাল। //

৬২ - মুহাম্মাদ বিন সালিহ-এর বর্ণিত হাদিস, সাদ বিন ইবরাহিম বিন সাদ থেকে, তিনি সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাদ বিন মুয়াজকে বলেছিলেন: "তুমি তাদের মধ্যে সাত আসমানের উপর থেকে বাদশাহর (আল্লাহর) ফয়সালা অনুযায়ী ফয়সালা করেছ।" // এটি একটি সহিহ হাদিস, নাসায়ী এটি আবু আমির আব্দুল মালিক বিন উমর আল-আকাদির সূত্রে মুহাম্মাদ বিন সালিহ আত-তাম্মার থেকে বর্ণনা করেছেন, আর তিনি সত্যবাদী। //

৬৩ - ইয়াহইয়া বিন সাঈদ-এর বর্ণিত হাদিস, আল-ওয়াকিদির ভাগ্নে বকর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাইল বিন কাইস থেকে, তিনি আলী বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্বাসের মুক্তদাস উবাই বিন কাব থেকে, তিনি তাঁর মনিব থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "যে বান্দাই বলবে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসা তাঁরই, তিনি জীবন দান করেন এবং মৃত্যু দান করেন, আর তিনি সব কিছুর ওপর..."
(খণ্ড: ১) আল-উলুউউ লিল আলিয়্যিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৩৬)
شَيْءٍ قَدِيرٌ إِلا خَرَقَتْ السَّمَوَاتِ حَتَّى تُفْضِي إِلَى الله عزوجل // لَيْسَ إِسْنَادُهُ بِقَوِيٍّ مِنْ قِبَلِ إِسْمَاعِيلَ بْنِ قَيْسِ بْنِ سَعْدِ بْنِ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ فَإِنَّهُ صعيف //

64 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْخَالِقِ بْنُ عُلْوَانَ أنبانا أَبُو مُحَمَّد قدامَة أَنبأَنَا مُحَمَّد ابْن عَبْدِ الْبَاقِي وَأَنْبَأَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْحسن أَنبأَنَا أَبُو الْقَاسِم الْخرقِيّ حَدثنَا أَبُو بكر النجاد حَدثنَا مُحَمَّد بن أبي بكر حَدثنَا زَائِدِةُ بْنُ أَبِي الرِّقَادِ عَنْ زِيَادٍ النُمَيْرِيِّ عَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ فَأَدْخُلُ عَلَى رَبِّي وَهُوَ عَلَى عَرْشِهِ تبارك وتعالى // زَائِدَةُ ضَعِيفٌ وَالْمَتْنُ بِنَحْوِهِ فِي الصَّحِيحِ لِلْبُخَارِيِّ مِنْ حَدِيثِ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ فَأَسْتَأْذِنُ عَلَى رَبِّي فِي دَارِهِ فَيُؤْذَنُ لِي عَلَيْهِ

وَأَخْرَجَهُ أَبُو أَحْمَدُ الْعَسَّالُ فِي كِتَابِ الْمَعْرِفَةِ بِإِسْنَادٍ قَوِيٍّ عَنْ ثَابِتٍ عَنْ أَنَسٍ وَفِيهِ فَآتِي بَابَ الْجَنَّةِ فَيُفْتَحُ لِي فَآتِي رَبِّي تبارك وتعالى وَهُوَ عَلَى كُرْسِيِّهِ أَوْ سَرِيرِهِ فَأَخِرُّ لَهُ سَاجِدًا وَذَكَرَ الْحَدِيثَ //

65 - أَخْبَرَنَا ابْنُ قدامَة وَطَائِفَة كَمَا بِهِ قَالُوا أَنْبَأَنَا حَنْبَلٌ أَنْبَأَنَا هِبَةُ اللَّهِ بْنُ الْحُصَيْنِ أَنْبَأَنَا أَبُو عَليّ المذنب أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ الْقَطِيعِيُّ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ حَدَّثَنَا أبي حَدثنَا عَفَّان حَدثنَا هَمَّامٌ سَمِعْتُ قَتَادَةَ يُحَدِّثُ عَنْ أَنَسٍ أَنَّ مَالِكَ بْنَ صَعْصَعَةَ حَدثهُ أَن نَبِي الله حَدَّثَهُ عَنْ لَيْلَةَ أُسْرِيَ بِهِ قَالَ بَيْنَمَا أَنَا فِي الْحَطِيمِ وَرُبَّمَا قَالَ قَتَادَةُ فِي الْحِجْرِ مُضْطَجِعٌ إِذْ أَتَانِي آتٍ فَذَكَرَ الْحَدِيثَ وَفِيهِ قَالَ ثُمَّ أُتِيتُ بِدَابَّةٍ دُونَ الْبَغْلِ وَفَوْقَ الْحِمِارِ أَبيض يَقع خطوه عِنْد انْقِضَاء طَرْفِهِ قَالَ فَحُمِلْتُ عَلَيْهِ فَانْطَلَقَ بِي جِبْرَائِيل حَتَّى أَتَى بِيَ السَّمَاءَ الدُّنْيَا فَاسْتَفْتَحَ فَقِيلَ مَنْ هَذَا قَالَ جِبْرَائِيل

قِيلَ وَمَنْ
সর্বশক্তিমান কোনো কিছুই আকাশসমূহকে বিদীর্ণ করে মহান আল্লাহর নিকট পৌঁছাতে বাধা দিতে পারে না। // ইসমাইল ইবনে কায়েস ইবনে সাদ ইবনে যায়েদ ইবনে সাবিতের কারণে এর সনদ শক্তিশালী নয়, কারণ সে দুর্বল। //

৬৪ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল খালিক ইবনে উলওয়ান, আমাদের জানিয়েছেন আবু মুহাম্মদ কুদামা, আমাদের জানিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে আবদুল বাকি এবং আমাদের জানিয়েছেন আহমদ ইবনুল হাসান, আমাদের জানিয়েছেন আবু কাসিম আল-খারকি, আমাদের বলেছেন আবু বকর আন-নাজ্জাদ, আমাদের বলেছেন মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর, আমাদের বলেছেন জাইদাহ ইবনে আবির রিকাদ, তিনি জিয়াদ আন-নুমাইরি থেকে, তিনি আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: অতঃপর আমি আমার রবের নিকট প্রবেশ করব, এমতাবস্থায় যে তিনি তাঁর আরশের উপর উঠেছেন। // জাইদাহ দুর্বল, তবে এই মর্মে হাদিসের মূল পাঠ বুখারির সহিহ গ্রন্থে কাতাদা থেকে, তিনি আনাস থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে, যেখানে তিনি বলেছেন: অতঃপর আমি আমার রবের নিকট তাঁর গৃহে প্রবেশের অনুমতি চাইব, তখন আমাকে অনুমতি দেওয়া হবে।

এবং আবু আহমদ আল-আসসাল এটি ‘কিতাবুল মা’রিফা’ গ্রন্থে শক্তিশালী সনদে সাবিত থেকে, তিনি আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাতে রয়েছে: অতঃপর আমি জান্নাতের দরজায় আসব এবং আমার জন্য তা খুলে দেওয়া হবে। এরপর আমি আমার বরকতময় ও মহান রবের নিকট আসব, এমতাবস্থায় যে তিনি তাঁর কুরসি বা আসনের উপর উঠেছেন, তখন আমি তাঁর উদ্দেশ্যে সেজদায় লুটিয়ে পড়ব। এরপর তিনি পূর্ণ হাদিসটি উল্লেখ করেন। //

৬৫ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনে কুদামা এবং একদল বর্ণনাকারী তারা যেভাবে বর্ণনা করেছেন সেভাবে। তাঁরা বলেন, আমাদের জানিয়েছেন হাম্বল, আমাদের জানিয়েছেন হিবাতুল্লাহ ইবনুল হুসাইন, আমাদের জানিয়েছেন আবু আলী আল-মুযনিব, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আল-কাতিয়ি, আমাদের বলেছেন আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ, আমাদের বলেছেন আমার পিতা, আমাদের বলেছেন আফফান, আমাদের বলেছেন হাম্মাম, আমি কাতাদাকে আনাস থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, মালিক ইবনে সা’সাআ তাঁকে জানিয়েছেন যে, আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর নিকট ইসরার (মিরাজ) রাত সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমি যখন হাতিমে (সম্ভবত কাতাদা বলেছেন হিজরে) শুয়ে ছিলাম, তখন জনৈক আগন্তুক আমার নিকট এলেন। অতঃপর তিনি হাদিসটি উল্লেখ করেন এবং তাতে রয়েছে, তিনি বললেন: এরপর আমার নিকট খচ্চরের চেয়ে ছোট এবং গাধার চেয়ে বড় একটি সাদা রঙের জন্তু আনা হলো, যার পদক্ষেপ পড়ে তার দৃষ্টির শেষ সীমানায়। তিনি বলেন: আমাকে তার ওপর সওয়ার করানো হলো এবং জিবরাঈল আমাকে নিয়ে যাত্রা করলেন। শেষ পর্যন্ত তিনি আমাকে দুনিয়ার আসমানে (প্রথম আসমান) নিয়ে এলেন এবং দরজা খুলতে চাইলেন। জিজ্ঞাসা করা হলো: ইনি কে? তিনি বললেন: জিবরাঈল।

জিজ্ঞাসা করা হলো: আর কে?
(খণ্ড: ১) আল-উলুউউ লিল আলিয়্যিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ৩৭)
مَعَكَ قَالَ مُحَمَّدٌ

قِيلَ أَوَقَدْ أُرْسِلَ إِلَيْهِ قَالَ نَعَمْ فَقِيلَ مرْحَبًا بِهِ ولنعم الْمَجِيءُ جَاءَ قَالَ فَفُتِحَ فَلَمَّا خَلَصْتُ إِذَا فِيهَا آدَمُ قَالَ هَذَا أَبوك فَسَلِّمْ عَلَيْهِ فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ فَرَدَّ السَّلامَ ثُمَّ قَالَ مَرْحَبًا بِالابْنِ الصَّالِحِ وَالنَّبِيِّ الصَّالِحِ ثُمَّ صَعَدَ أَتَى السَّمَاءَ الثَّانِيَةَ فَاسْتَفْتَحَ

قِيلَ من هَذَا قَالَ جِبْرَائِيل قِيلَ وَمَنْ مَعَكَ قَالَ مُحَمَّدٌ

قيل وَقد أرسل إِلَيْهِ نَعَمْ قِيلَ مَرْحَبًا بِهِ وَنِعْمَ الْمَجِيءُ جَاءَ قَالَ فَفُتِحَ فَلَمَّا خَلَصْتُ فَإِذَا يَحْيَى وَعِيسَى وَهُمَا ابْن الْخَالَةِ قَالَ هَذَا يَحْيَى وَعِيسَى فَسَلِّمْ عَلَيْهِمَا فَسَلَّمْتُ فَرَدَّا السَّلامَ وَقَالا مَرْحَبًا بِالأَخِ الصَّالِحِ وَالنَّبِيِّ الصَّالح

ثمَّ صعد حَتَّى بى إِلَى السَّمَاءَ الثَّالِثَةَ فَاسْتَفْتَحَ فَقِيلَ مَنْ هَذَا قَالَ جِبْرَائِيل

قِيلَ وَمَنْ مَعَكَ قَالَ مُحَمَّدٌ قِيلَ وَقَدْ أُرْسِلَ إِلَيْهِ قَالَ نَعَمْ قِيلَ مَرْحَبًا بِهِ وَنِعْمَ الْمَجِيءُ جَاءَ قَالَ فَفُتِحَ فَلَمَّا خَلَصْتُ إِذَا يُوسُفُ قَالَ هَذَا يُوسُفُ فَسَلِّمْ عَلَيْهِ فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ فَرَدَّ السَّلامَ ثُمَّ قَالَ مَرْحَبًا بِالأَخِ الصَّالِحِ وَالنَّبِيِّ الصَّالِحِ

ثُمَّ صَعِدَ حَتَّى أَتَى السَّمَاءَ الرَّابِعَةَ فَاسْتَفْتَحَ قِيلَ مَنْ هَذَا قَالَ جِبْرَائِيل قِيلَ وَمَنْ مَعَكَ قَالَ مُحَمَّدٌ قِيلَ وَقَدْ أُرْسِلَ إِلَيْهِ قَالَ نَعَمْ قَالَ مَرْحَبًا بِهِ وَنِعْمَ الْمَجِيءُ جَاءَ قَالَ فَفُتِحَ فَلَمَّا خَلَصْتُ فَإِذَا إِدْرِيسُ قَالَ هَذَا إِدْرِيسُ فَسَلِّمْ عَلَيْهِ فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ فَرَدَّ السَّلامَ ثُمَّ قَالَ مَرْحَبًا بِالأَخِ الصَّالِحِ وَالنَّبِيِّ الصَّالِحِ قَالَ ثُمَّ صَعَدَ حَتَّى أَتَى السَّمَاءَ الْخَامِسَةَ فَاسْتَفْتَحَ قِيلَ مَنْ هَذَا قَالَ جِبْرَائِيل قِيلَ وَمَنْ مَعَكَ قَالَ مُحَمَّدٌ قِيلَ وَقَدْ أُرْسِلَ إِلَيْهِ قَالَ نَعَمْ قَالَ مَرْحَبًا بِهِ وَنِعْمَ الْمَجِيءُ جَاءَ

قَالَ فَفُتِحَ فَلَمَّا خَلَصْتُ فَإِذَا هَارُونُ قَالَ هَذَا هَارُونُ فَسَلِّمْ عَلَيْهِ قَالَ فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ فَرَدَّ السَّلامَ ثُمَّ قَالَ مَرْحَبًا
আপনার সাথে কে? তিনি বললেন, মুহাম্মদ।

জিজ্ঞাসা করা হলো, তাকে কি (আহ্বান করে) পাঠানো হয়েছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। অতঃপর বলা হলো, তাকে স্বাগতম এবং তার আসা কতই না উত্তম। তিনি বললেন, অতঃপর দ্বার খুলে দেওয়া হলো। যখন আমি ভেতরে প্রবেশ করলাম, তখন সেখানে আদম (আ.)-কে দেখতে পেলাম। তিনি (জিবরীল) বললেন, ইনি আপনার পিতা, তাকে সালাম দিন। আমি তাকে সালাম দিলাম, তিনি সালামের উত্তর দিলেন। এরপর বললেন, পুণ্যবান পুত্র এবং পুণ্যবান নবীর প্রতি স্বাগতম। অতঃপর তিনি উপরে উঠলেন এবং দ্বিতীয় আসমানে আসলেন ও দ্বার খুলতে বললেন।

জিজ্ঞাসা করা হলো, ইনি কে? তিনি বললেন, জিবরীল। জিজ্ঞাসা করা হলো, আপনার সাথে কে? তিনি বললেন, মুহাম্মদ।

জিজ্ঞাসা করা হলো, তাকে কি পাঠানো হয়েছে? (তিনি বললেন) হ্যাঁ। বলা হলো, তাকে স্বাগতম এবং তার আসা কতই না উত্তম। তিনি বললেন, অতঃপর দ্বার খুলে দেওয়া হলো। যখন আমি ভেতরে প্রবেশ করলাম, সেখানে ইয়াহিয়া ও ঈসা (আ.)-কে দেখতে পেলাম, তারা পরস্পর খালাতো ভাই। তিনি বললেন, এরা ইয়াহিয়া ও ঈসা, তাদের সালাম দিন। আমি তাদের সালাম দিলাম, তারা সালামের উত্তর দিলেন এবং বললেন, পুণ্যবান ভাই এবং পুণ্যবান নবীর প্রতি স্বাগতম।

এরপর তিনি আমাকে নিয়ে উপরে উঠলেন যতক্ষণ না তৃতীয় আসমানে পৌঁছালেন এবং দ্বার খুলতে বললেন। জিজ্ঞাসা করা হলো, ইনি কে? তিনি বললেন, জিবরীল।

জিজ্ঞাসা করা হলো, আপনার সাথে কে? তিনি বললেন, মুহাম্মদ। জিজ্ঞাসা করা হলো, তাকে কি পাঠানো হয়েছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। বলা হলো, তাকে স্বাগতম এবং তার আসা কতই না উত্তম। তিনি বললেন, অতঃপর দ্বার খুলে দেওয়া হলো। যখন আমি ভেতরে প্রবেশ করলাম, সেখানে ইউসুফ (আ.)-কে দেখতে পেলাম। তিনি বললেন, ইনি ইউসুফ, তাকে সালাম দিন। আমি তাকে সালাম দিলাম, তিনি সালামের উত্তর দিলেন। অতঃপর বললেন, পুণ্যবান ভাই এবং পুণ্যবান নবীর প্রতি স্বাগতম।

এরপর তিনি উপরে উঠলেন যতক্ষণ না চতুর্থ আসমানে আসলেন এবং দ্বার খুলতে বললেন। জিজ্ঞাসা করা হলো, ইনি কে? তিনি বললেন, জিবরীল। জিজ্ঞাসা করা হলো, আপনার সাথে কে? তিনি বললেন, মুহাম্মদ। জিজ্ঞাসা করা হলো, তাকে কি পাঠানো হয়েছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তাকে স্বাগতম এবং তার আসা কতই না উত্তম। তিনি বললেন, অতঃপর দ্বার খুলে দেওয়া হলো। যখন আমি ভেতরে প্রবেশ করলাম, সেখানে ইদরীস (আ.)-কে দেখতে পেলাম। তিনি বললেন, ইনি ইদরীস, তাকে সালাম দিন। আমি তাকে সালাম দিলাম, তিনি সালামের উত্তর দিলেন। অতঃপর বললেন, পুণ্যবান ভাই এবং পুণ্যবান নবীর প্রতি স্বাগতম। তিনি বললেন, এরপর তিনি উপরে উঠলেন যতক্ষণ না পঞ্চম আসমানে আসলেন এবং দ্বার খুলতে বললেন। জিজ্ঞাসা করা হলো, ইনি কে? তিনি বললেন, জিবরীল। জিজ্ঞাসা করা হলো, আপনার সাথে কে? তিনি বললেন, মুহাম্মদ। জিজ্ঞাসা করা হলো, তাকে কি পাঠানো হয়েছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তাকে স্বাগতম এবং তার আসা কতই না উত্তম।

তিনি বললেন, অতঃপর দ্বার খুলে দেওয়া হলো। যখন আমি প্রবেশ করলাম, সেখানে হারুন (আ.)-কে দেখতে পেলাম। তিনি বললেন, ইনি হারুন, তাকে সালাম দিন। তিনি বললেন, আমি তাকে সালাম দিলাম, তিনি সালামের উত্তর দিলেন। অতঃপর বললেন, স্বাগতম।