(খণ্ড: ১) আর-রূহ - ইবনুল কাইয়্যিম - ত ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
الروح - ابن القيم - ط عطاءات العلم   (ابن القيم)

القسم: العقيدة


الكتاب: الروح

[آثار الإمام ابن قيم الجوزية وما لحقها من أعمال (26)]

المؤلف: أبو عبد الله محمد بن أبي بكر بن أيوب ابن قيم الجوزية (691 - 751)

حققه: محمد أجمل أيوب الإصلاحي

خرج أحاديثه: كمال بن محمد قالمي

راجعه: سعود بن عبد العزيز العريفي - جديع بن محمد الجديع

الناشر: دار عطاءات العلم (الرياض) - دار ابن حزم (بيروت)

الطبعة: الثالثة، 1440 هـ - 2019 م (الأولى لدار ابن حزم)

عدد الأجزاء: 2 (متسلسلة الترقيم)

قدمه للشاملة: مؤسسة «عطاءات العلم»، جزاهم الله خيرا

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 11 شوّال 1442

আর-রূহ - ইবনুল কাইয়্যিম - আতাআত আল-ইলম সংস্করণ   (ইবনুল কাইয়্যিম)

বিভাগ: আকীদা


গ্রন্থ: আর-রূহ

[ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহর রচনাবলি এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কাজ (২৬)]

লেখক: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আবি বকর বিন আইয়ুব ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ (৬৯১ - ৭৫১)

তাহকীক ও সম্পাদনা: মুহাম্মাদ আজমল আইয়ুব আল-ইসলাহী

হাদিস তখরীজ: কামাল বিন মুহাম্মাদ কালমী

পর্যবেক্ষণ: সাউদ বিন আব্দুল আজিজ আল-আরিফী - জুদাই বিন মুহাম্মাদ আল-জুদাই

প্রকাশক: দার আতাআত আল-ইলম (রিয়াদ) - দার ইবনে হাযম (বৈরুত)

সংস্করণ: তৃতীয়, ১৪৪০ হিজরী - ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ (দার ইবনে হাযমের পক্ষ থেকে প্রথম)

খণ্ড সংখ্যা: ২ (ধারাবাহিক পৃষ্ঠা নম্বরযুক্ত)

শামেলা লাইব্রেরির জন্য পেশ করেছেন: «আতাআত আল-ইলম» ফাউন্ডেশন, আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দান করুন

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ১১ শাওয়াল ১৪৪২

(খণ্ড: ১) আর-রূহ - ইবনুল কাইয়্যিম - ত ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ١)
كتاب الروح

تأليف

ابن قيم الجوزية

(691 - 751)

 

تحقيق

محمد أجمل أيوب الإصلاحي
কিতাবুর রূহ

রচনায়

ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ

(৬৯১ - ৭৫১)

 

সম্পাদনায়

মুহাম্মদ আজমল আইয়ুব আল-ইসলাহী
(খণ্ড: ১) আর-রূহ - ইবনুল কাইয়্যিম - ত ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٥)
بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيْمُ

 

‌‌مقدمة التحقيق

الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على رسوله الكريم نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.

أما بعد، فإن كتاب الروح للإمام ابن قيم الجوزية رحمه الله من الكتب النادرة في بابه. وقد وصلت إلينا كتب في النفس لابن سينا (ت 428) وابن باجَّه الأندلسي (ت 533) وفخر الدين الرازي (ت 606) وقطعة من كتاب أبي البركات البغدادي (ت 560)، ولكن كتاب ابن القيم هذا ينتمي إلى فئة أخرى من الكتب، وهي مصنفات محمد بن نصر المروزي (ت 294) وأبي يعقوب النهرجُوري (ت 303) وأبي إسحاق ابن شاقْلا (ت 369) وأبي عبد الله ابن منده (ت 395) والقاضي أبي يعلى (ت 458). ولاسيّما كتاب الحافظ ابن منده "النفس والروح" الذي هو من أهم موارد كتاب الروح، وكان كتابًا كبيرًا.

وكل هذه المصنفات لا علم لنا الآن بوجودها في خزائن الكتب، بل لابن القيم نفسه كتاب آخر كبير ألَّفه قبل كتاب الروح هذا، وسمَّاه "الروح والنفس"، وأحال عليه في هذا الكتاب وغيره، ولكن لم نقف عليه، ولا ندري أضاع فيما ضاع من نفائس تراث ابن القيم أم لا يزال مخبوءًا في زاوية من الزوايا منتظرًا من يفتش عنه ويظهره للناس؟ فكتاب الروح لابن القيم هو الكتاب الوحيد بين أيدينا اليوم من الكتب المصنفة في هذا الباب على منهج السلف.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌সম্পাদকের ভূমিকা

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর মহিমান্বিত রাসূল আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর।

অতঃপর, ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বিরচিত 'আর-রূহ' গ্রন্থটি এই বিষয়ের অনন্য গ্রন্থগুলোর একটি। ইবনে সিনা (ওফাত ৪২৮ হি.), ইবনে বাজ্জাহ আল-আন্দালুসি (ওফাত ৫৩৩ হি.), ফখরুদ্দীন আল-রাযী (ওফাত ৬০৬ হি.)-এর 'নফস' বিষয়ক গ্রন্থসমূহ এবং আবু আল-বারাকাত আল-বাগদাদী (ওফাত ৫৬০ হি.)-এর গ্রন্থের একটি অংশ আমাদের নিকট পৌঁছেছে। তবে ইবনুল কাইয়্যিমের এই গ্রন্থটি অন্য একটি শ্রেণির কিতাবভুক্ত, আর তা হলো— মুহাম্মদ ইবনে নাসর আল-মারওয়াযী (ওফাত ২৯৪ হি.), আবু ইয়াকুব আল-নাহরাজুরী (ওফাত ৩০৩ হি.), আবু ইসহাক ইবনে শাকলা (ওফাত ৩৬৯ হি.), আবু আবদুল্লাহ ইবনে মানদাহ (ওফাত ৩৯৫ হি.) এবং কাযী আবু ইয়া'লা (ওফাত ৪৫৮ হি.)-এর রচনাবলি। বিশেষত হাফেজ ইবনে মানদাহর 'আন-নাফস ওয়ার রূহ' গ্রন্থটি, যা 'আর-রূহ' কিতাবের অন্যতম প্রধান উৎস ছিল এবং এটি একটি বিশাল গ্রন্থ ছিল।

বর্তমানে গ্রন্থভাণ্ডারসমূহে এই সকল রচনার অস্তিত্ব সম্পর্কে আমাদের কোনো জ্ঞান নেই। এমনকি খোদ ইবনুল কাইয়্যিমেরই আরেকটি বিশাল গ্রন্থ ছিল যা তিনি বর্তমান এই 'আর-রূহ' কিতাবটির পূর্বে রচনা করেছিলেন এবং সেটির নাম দিয়েছিলেন 'আর-রূহ ওয়ান নাফস'; তিনি এই গ্রন্থে এবং অন্যান্য গ্রন্থে সেটির উদ্ধৃতি দিয়েছেন। কিন্তু আমরা সেই গ্রন্থটি খুঁজে পাইনি। আমরা জানি না ইবনুল কাইয়্যিমের ঐতিহ্যের হারিয়ে যাওয়া অমূল্য রত্নগুলোর সাথে এটিও হারিয়ে গেছে কি না, নাকি এটি এখনও কোনো এক নিভৃত কোণে লুকায়িত আছে এবং এমন কাউকে প্রত্যাশা করছে যে এটিকে খুঁজে বের করে মানুষের সামনে প্রকাশ করবে? সুতরাং সালাফদের মানহাজ বা পদ্ধতি অনুযায়ী এই বিষয়ে রচিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে ইবনুল কাইয়্যিমের 'আর-রূহ' গ্রন্থটিই আজ আমাদের হাতে থাকা একমাত্র কিতাব।
(খণ্ড: ১) আর-রূহ - ইবনুল কাইয়্যিম - ত ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٦)
وأصل هذا الكتاب جواب عن أسئلة سئل عنها المصنف، وهي اثنان وعشرون سؤالًا، معظمها عن أحوال البرزخ وعذاب القبر ومستقر الروح بعد الموت، ومنها أسئلة عن حقيقة النفس وقِدَمها وما إلى ذلك. والمصنف رحمه الله على طريقته في الجواب أفاض وأطنب، وبحث واستقصى، واستطرد فأفاد. فضم كتابه هذا مسائل عظيمة ومباحث مبسوطة وفوائد متنوعة في العقيدة والتفسير والحديث والفقه وتزكية النفس. وقد شهد بعض جلة العلماء بأن ابن القيم رحمه الله قد بلغ في بعض أجوبته من استيعاب وجوه القول وتتبع حجج الخصوم والرد عليها ما لا مزيد عليه. ومن ثم كان كتاب الروح موردًا عذبًا لكلِّ من ألَّف بعده في مسائل الروح وأحوال البرزخ.

وقد طبع كتاب الروح قديمًا في الهند، فكانت طبعته الأولى صدرت سنة 1318، وأعيد طبعه هناك مرات. ثم طبع في مصر سنة 1376. وبعد ذلك صدرت طبعات كثيرة.

وحُقِّق الكتاب لأول مرة سنة 1404 في رسالة علمية عن ثلاث نسخ خطية، وطبعت في الرياض سنة 1406، وكانت تلك خطوة أولى في سبيل إخراج نص الكتاب حسب المنهج العلمي.

ونشرتنا هذه خطوة جديدة في هذا السبيل. وقد اعتمدنا في تحرير نص الكتاب على ست نسخ خطية مع الاستئناس بنسختين أخريين، والرجوع إلى موارد الكتاب وغيرها، فأمكن ــ بفضل الله وحده ــ تصحيح كثير من التصحيفات والأوهام. وأرجو أن يكون النص في هذه النشرة أقرب إلى نص المؤلف مما كان عليه في النشرات السابقة.
এই গ্রন্থের মূল ভিত্তি হলো গ্রন্থকারের নিকট পেশকৃত কিছু প্রশ্নের উত্তর। প্রশ্নগুলো সংখ্যায় বাইশটি, যার অধিকাংশই বারযাখের অবস্থা, কবরের শাস্তি এবং মৃত্যুর পর রূহের অবস্থানস্থল সম্পর্কে। এছাড়াও এতে নফসের হাকীকত, এর প্রাচীনত্ব এবং এ জাতীয় বিষয়াবলি সংক্রান্ত প্রশ্ন রয়েছে। গ্রন্থকার (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) উত্তর প্রদানের ক্ষেত্রে তাঁর স্বভাবসুলভ পদ্ধতিতে বিস্তারিত ও বিশদ আলোচনা করেছেন এবং গভীর অনুসন্ধান ও পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রাসঙ্গিক বিভিন্ন বিষয়ের অবতারণা করে একে ফলপ্রসূ করেছেন। ফলে তাঁর এই গ্রন্থটি আকিদাহ, তাফসির, হাদিস, ফিকহ এবং আত্মশুদ্ধি বিষয়ক মহান মাসয়ালা, বিস্তৃত গবেষণা ও নানাবিধ তথ্যে সমৃদ্ধ হয়েছে। একদল প্রথিতযশা আলেম সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, ইবনুল কাইয়্যিম (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) তাঁর কোনো কোনো উত্তরে বিভিন্ন মতামতের সংকলন, প্রতিপক্ষের যুক্তিসমূহের অনুসন্ধান ও তা খণ্ডনের ক্ষেত্রে এমন এক শিখরে পৌঁছেছেন যার ঊর্ধ্বে আর কিছুই নেই। একারণেই 'কিতাবুর রূহ' গ্রন্থটি পরবর্তীকালে রূহ ও বারযাখের অবস্থা নিয়ে রচিত সকল গ্রন্থের জন্য একটি সুমিষ্ট ও মূল উৎস হিসেবে গণ্য হয়েছে।

’কিতাবুর রূহ’ প্রাচীনকালে ভারতে মুদ্রিত হয়েছিল; যার প্রথম সংস্করণ ১৩১৮ হিজরিতে প্রকাশিত হয় এবং সেখানে এটি কয়েকবার পুনর্মুদ্রিত হয়। অতঃপর ১৩৭৬ হিজরিতে এটি মিশরে মুদ্রিত হয়। এরপর এর আরও অনেক সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে।

গ্রন্থটি প্রথমবারের মতো ১৪০৪ হিজরিতে তিনটি পাণ্ডুলিপির ওপর ভিত্তি করে একটি শিক্ষা-গবেষণাপত্র হিসেবে সম্পাদিত হয় এবং ১৪০৬ হিজরিতে রিয়াদে মুদ্রিত হয়। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করে গ্রন্থের মূল পাঠোদ্ধারের ক্ষেত্রে এটিই ছিল প্রথম পদক্ষেপ।

আমাদের এই প্রকাশনাটি সেই পথে একটি নতুন পদক্ষেপ। গ্রন্থের পাঠ্য নির্ধারণ ও সম্পাদনায় আমরা ছয়টি পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি এবং আরও দুটি পাণ্ডুলিপির সহায়তা নিয়েছি। পাশাপাশি গ্রন্থের মূল উৎস এবং অন্যান্য তথ্যাদির শরণাপন্ন হয়েছি। ফলে—একমাত্র আল্লাহর অনুগ্রহে—অনেক অনুলিপিগত ভুল এবং বিভ্রম সংশোধন করা সম্ভব হয়েছে। আমি আশা করি, এই সংস্করণের পাঠ্যটি পূর্ববর্তী সংস্করণগুলোর তুলনায় লেখকের মূল পাণ্ডুলিপির অধিকতর নিকটবর্তী হবে।
(খণ্ড: ১) আর-রূহ - ইবনুল কাইয়্যিম - ত ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٧)
وقدمت بين يدي الكتاب فصولًا تعريفية تحدثت فيها عن نسبة الكتاب، وعنوانه، وزمن تأليفه، ومطالبه، وموارده، والصادرين عنه، وأهميته والثناء عليه، ومختصراته، وطبعاته. ثم وصفت النسخ الخطية التي اعتمدت عليها، والمنهج الذي سلكته في إعداد هذه النشرة. وقد أطلت في تحقيق نسبة الكتاب ــ مع أن الشيخ بكر أبو زيد رحمه الله قد سبق بذلك قبل زمن طويل ــ لأني رأيت فريقًا من الناس لا يزالون في ريبهم يترددون.

وآمل من العلماء والباحثين الأفاضل، إذا وقفوا على خلل أو زلل في تصحيح النص أو التعليق عليه، أن لا يغضُّوا أبصارهم، بل حقُّ العلم عليهم أن ينبِّهوا عليه متفضِّلين مشكورين.

وأشكر الإخوة المسؤولين والعاملين في أقسام المخطوطات في مكتبة الحرم المكي الشريف، ومركز الملك فيصل للبحوث والدراسات الإسلامية بالرياض على ما تكرَّموا به من تصوير النسخ المطلوبة من كتاب الروح وتيسير الاستفادة من غيرها، فجزاهم الله خير الجزاء. وقد سعى أخونا الدكتور عثمان جمعة ضميرية لتصوير مخطوطات الكتاب المحفوظة في مركز جمعة الماجد بدبي، فشكر الله سعيه وجعله في ميزان حسناته.

أسأل الله أن يتقبَّل هذا الجهد المتواضع وينفع به، وأن يجزل المثوبة لمؤلف الكتاب الإمام ابن قيم الجوزية رحمه الله. وصلَّى الله وسلَّم على نبيِّنا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.

الرياض محمد أجمل أيوب الإصلاحي

16 رمضان 1431
আমি এই গ্রন্থের শুরুতে কিছু পরিচিতিমূলক অধ্যায় যুক্ত করেছি, যাতে আমি গ্রন্থের সূত্র বা কৃতিত্ব, এর শিরোনাম, রচনার সময়কাল, আলোচ্য বিষয়সমূহ, উৎসসমূহ, গ্রন্থটি হতে যারা উদ্ধৃত করেছেন, এর গুরুত্ব ও প্রশংসা, এর সংক্ষেপিত রূপসমূহ এবং এর সংস্করণসমূহ নিয়ে আলোচনা করেছি। অতঃপর আমি সেই পাণ্ডুলিপিগুলোর বিবরণ প্রদান করেছি যেগুলোর ওপর আমি নির্ভর করেছি এবং এই সংস্করণটি প্রস্তুত করতে আমি যে পদ্ধতি অনুসরণ করেছি তা বর্ণনা করেছি। যদিও শায়খ বকর আবু যাইদ (রহিমাহুল্লাহ) দীর্ঘকাল আগেই এই গ্রন্থের কৃতিত্ব প্রমাণের বিষয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন, তথাপি আমি এই গ্রন্থের কৃতিত্ব যাচাইয়ের আলোচনায় কিছুটা দীর্ঘসূত্রতা অবলম্বন করেছি; কেননা আমি দেখেছি যে একদল মানুষ এখনও এ নিয়ে সন্দেহের দোলাচলে নিমজ্জিত রয়েছে।

আমি বিজ্ঞ আলেম ও গবেষকবৃন্দের নিকট আশা করি যে, তাঁরা যদি মূল পাঠ সংশোধন বা এর ওপর টিকা প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো ত্রুটি বা বিচ্যুতি লক্ষ্য করেন, তবে তাঁরা যেন তা এড়িয়ে না যান; বরং ইলমের দাবি হলো তাঁরা যেন অনুগ্রহপূর্বক ও কৃতজ্ঞতাভাজন হয়ে সে বিষয়ে সতর্ক করে দেন।

আমি মক্কার মাকতাবাতুল হারাম আল-মাক্কি আশ-শরিফ এবং রিয়াদের কিং ফয়সাল সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ-এর পাণ্ডুলিপি বিভাগের দায়িত্বশীল ও কর্মীদের ধন্যবাদ জানাই 'কিতাবুর রূহ'-এর প্রয়োজনীয় পাণ্ডুলিপিগুলো অনুলিপি করার সুযোগ প্রদানের জন্য এবং অন্যান্য পাণ্ডুলিপি থেকে উপকৃত হওয়া সহজ করে দেওয়ার জন্য। আল্লাহ তাঁদের সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন। আমাদের ভ্রাতা ডক্টর উসমান জুমুআহ দিমাইরিয়া দুবাইয়ের জুমুআ আল-মাজিদ সেন্টারে সংরক্ষিত এই গ্রন্থের পাণ্ডুলিপিগুলো সংগ্রহের জন্য প্রচেষ্টা চালিয়েছেন; আল্লাহ তাঁর প্রচেষ্টাকে কবুল করুন এবং এটিকে তাঁর নেক আমলের পাল্লায় যুক্ত করুন।

আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন এই বিনম্র প্রচেষ্টাকে কবুল করেন এবং এর দ্বারা সকলকে উপকৃত করেন, আর এই গ্রন্থের লেখক ইমাম ইবনুল কায়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ)-কে প্রভূত সওয়াব দান করেন। আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

রিয়াদ, মুহাম্মদ আজমল আইয়ুব আল-ইসলাহি

১৬ রমজান ১৪৩১ হিজরি
(খণ্ড: ১) আর-রূহ - ইবনুল কাইয়্যিম - ত ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٨)
‌‌تحقيق نسبة الكتاب

كتاب الروح من أشهر كتب ابن القيم. ذكره المترجمون له ضمن مؤلفاته، وأقبل على نسخه الورَّاقون، واستفاد منه أهل العلم على اختلاف مذاهبهم وطبقاتهم وعلى تباعد أزمانهم وبلدانهم. فمنهم من تلمذ لابن القيم، ومنهم من عاصره. ومنهم الحنبلي والشافعي والحنفي، ومنهم الشامي والمصري والعراقي والنجدي واليماني. ومنهم من اختصره أو لخصه وأعاد ترتيبه، ومنهم من اقتصر على النقل منه. ومنهم من أعجب به وأثنى عليه. ولكن لم نر منهم من القرن الثامن إلى القرن الرابع عشر مَن تردّد في نسبة الكتاب إلى ابن القيم. بل ألفيناهم جميعًا مطبقين على عزوه إليه عزوًا صريحًا، حتى كانت سنة 1384، إذ ظهر في مجلة "الهدي النبوي" الصادرة في القاهرة عنوان "هل كتاب الروح ليس لابن القيم؟ ". وذلك في ذيل الحلقة الثالثة من سلسلة مقالات الشيخ محمد نجيب المطيعي رحمه الله في تعقب أحاديث وحكايات واردة في كتاب الروح(1). قال الشيخ: "سألني أخي الأستاذ جميل غازي رئيس قسم الثقافة والتوجيه المعنوي بالعلاقات العامة بمحافظة الدقهلية عما إذا كان هذا الكتاب (الروح) هو لابن القيم قطعًا، أم أنه منسوب إليه؟ وهل هذا الكتاب يتفق مع منهج ابن القيم الذي عُرف بالدقة والضبط والتثبت؟ فأقول: إن هذا الكتاب لابن القيم يقينًا، وذلك للأسباب الآتية".

--------------------------------------------

(1) المجلد 29، العدد 12، شهر ذي الحجة، ص 41 ــ 42. وقد أوقفني عليه أخي الشيخ جديع بن محمد الجديع، فجزاه الله خيرًا.

গ্রন্থের সম্বন্ধের অনুসন্ধান

কিতাবুর রুহ ইবনুল কাইয়্যিমের অন্যতম সুপ্রসিদ্ধ গ্রন্থ। জীবনীকারগণ তাঁর রচনাবলির তালিকায় এটি উল্লেখ করেছেন, পাণ্ডুলিপি লিপিকারগণ এটি অনুলিপি করতে আগ্রহী ছিলেন এবং বিভিন্ন মাজহাব, স্তর, সময় ও ভূখণ্ডের আলেম সমাজ এ থেকে উপকৃত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ ইবনুল কাইয়্যিমের ছাত্র ছিলেন, আবার কেউ ছিলেন তাঁর সমসাময়িক। তাঁদের মধ্যে হাম্বলি, শাফেয়ী ও হানাফি বিদ্যমান ছিলেন; তেমনি ছিলেন সিরীয়, মিশরীয়, ইরাকি, নজদি ও ইয়েমেনি আলেমগণ। কেউ কেউ গ্রন্থটিকে সংক্ষেপ বা সারসংক্ষেপ করেছেন এবং নতুন করে বিন্যস্ত করেছেন, আবার কেউ কেবল এ থেকে উদ্ধৃতি চয়ন করেছেন। কেউ কেউ গ্রন্থটির প্রতি মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন এবং এর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন। অষ্টম শতাব্দী থেকে চতুর্দশ শতাব্দী পর্যন্ত আমরা এমন কাউকে পাইনি যিনি এই গ্রন্থটি ইবনুল কাইয়্যিমের প্রতি সম্বন্ধ করার ক্ষেত্রে কোনো প্রকার দ্বিধা পোষণ করেছেন। বরং আমরা তাঁদের সকলকেই এটি তাঁর দিকে স্পষ্টভাবে সম্বন্ধ করার বিষয়ে একমত পেয়েছি। অবশেষে ১৩৮৪ হিজরি সালে কায়রো থেকে প্রকাশিত "আল-হাদি আন-নববী" সাময়িকীতে একটি শিরোনাম প্রকাশিত হয়: "কিতাবুর রুহ কি ইবনুল কাইয়্যিমের রচনা নয়?" এটি ছিল শেখ মুহাম্মদ নাজিব আল-মুতিয়ি (রাহিমাহুল্লাহ) কর্তৃক কিতাবুর রুহ-এ বর্ণিত হাদিস ও উপাখ্যানসমূহ পর্যালোচনামূলক প্রবন্ধমালার তৃতীয় কিস্তির শেষে। শেখ বলেন: "দাকাহলিয়া প্রদেশের জনসংযোগের সংস্কৃতি ও নৈতিক নির্দেশনা বিভাগের প্রধান আমার ভাই উস্তাদ জামিল গাজি আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে, এই গ্রন্থটি (আর-রুহ) কি নিশ্চিতভাবেই ইবনুল কাইয়্যিমের, নাকি এটি তাঁর প্রতি কেবল আরোপিত? আর এই গ্রন্থটি কি ইবনুল কাইয়্যিমের সেই মানহাজ বা পদ্ধতির সাথে সংগতিপূর্ণ যা সূক্ষ্মতা, নির্ভুলতা এবং সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সুপরিচিত? উত্তরে আমি বলি: এই গ্রন্থটি নিশ্চিতভাবেই ইবনুল কাইয়্যিমের, আর তার কারণগুলো নিচে দেওয়া হলো।"

--------------------------------------------

(১) খণ্ড ২৯, সংখ্যা ১২, জিলহজ মাস, পৃষ্ঠা ৪১-৪২। আমার ভাই শেখ জুদাই বিন মুহাম্মদ আল-জুদাই আমাকে এটি অবহিত করেছেন, আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।

(খণ্ড: ১) আর-রূহ - ইবনুল কাইয়্যিম - ত ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٩)
ثم ذكر خمسة أسباب أهمُّها: ما ذكره ابن القيم في كتاب الروح أن بعضهم رأى شيخ الإسلام ابن تيمية في المنام بعد موته؛ وقال: إن ذلك لا يدل على صحة نسبة الكتاب إلى ابن القيم فحسب، بل يدل على زمن تأليفه أيضًا، وهو بعد وفاة شيخ الإسلام.

واستدل بمنهج ابن القيم في البحث وأسلوبه وموضوعات الكتاب، وقال: "والذي يشكُّ في نسبة الكتاب إلى الشيخ عليه أن يثبت من كتبه الأخرى ما يهدم القضايا البارزة في كتابه هذا".

والظاهر أن السائل ــ وهو الشيخ جميل غازي رحمه الله ــ لم يصدر في سؤاله عن دراسة لكتاب الروح، ولعل نقد الشيخ المطيعي لبعض الروايات والآثار الواردة فيه أثار في نفسه الشك في نسبة الكتاب، فكتب إليه مستفسرًا.

ثم أخرج الشيخ محمد ناصر الدين الألباني رحمه الله سنة 1398(1) كتاب "الآيات البينات في عدم سماع الأموات عند الحنفية السادات" لخير الدين الآلوسي (ت 1317) وصدّره بمقدمة ضافية ذكر فيها كتاب الروح أولًا في حاشيتها (ص 40) فقال: "كتاب الروح المنسوب لابن القيم". ثم في (ص 60) أورد كلامًا لابن القيم مع الرد عليه وقال: " … ولهذا وغيره فإني في شك كبير من صحة نسبة الروح إليه، أو لعله ألفه في أول طلبه للعلم، والله أعلم".

--------------------------------------------

(1) وهي تاريخ مقدمة الشيخ الألباني لكتاب الآلوسي. وفيها صدرت الطبعة الأولى من الكتاب فيما يبدو، فإن طبعته الثانية صدرت في العام التالي 1399.

এরপর তিনি পাঁচটি কারণ উল্লেখ করেছেন যার মধ্যে প্রধান হলো: ইবনুল কায়্যিম 'কিতাবুর রুহ' গ্রন্থে যা উল্লেখ করেছেন যে, কেউ কেউ শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহকে তাঁর মৃত্যুর পর স্বপ্নে দেখেছেন। তিনি বলেন: এটি কেবল ইবনুল কায়্যিমের প্রতি বইটির সম্বন্ধের সত্যতাই প্রমাণ করে না, বরং এটি রচনার সময়কালও নির্দেশ করে, আর তা হলো শায়খুল ইসলামের ইন্তেকালের পর।

তিনি ইবনুল কায়্যিমের গবেষণাপদ্ধতি, রচনাশৈলী এবং বইটির বিষয়বস্তুকে দলিল হিসেবে পেশ করেছেন এবং বলেছেন: "যিনি শায়খের প্রতি বইটির সম্বন্ধ নিয়ে সন্দেহ পোষণ করেন, তাঁর উচিত তাঁর অন্যান্য গ্রন্থ থেকে এমন কিছু প্রমাণ করা যা এই বইটিতে বিদ্যমান প্রধান বিষয়গুলোকে খণ্ডন করে।"

প্রতীয়মান হয় যে, প্রশ্নকারী—যিনি শায়খ জামিল গাজী (রহিমাহুল্লাহ)—তাঁর প্রশ্নটি 'কিতাবুর রুহ' সংক্রান্ত কোনো গভীর পর্যালোচনার ভিত্তিতে ছিল না। সম্ভবত শায়খ আল-মুতিয়ী সেই কিতাবে বর্ণিত কিছু বর্ণনা ও আছারের প্রতি যে সমালোচনা করেছিলেন, তা-ই তাঁর মনে বইটির সম্বন্ধ নিয়ে সন্দেহের উদ্রেক করেছিল, ফলে তিনি বিষয়টি জানতে চেয়ে তাঁকে লিখেছিলেন।

এরপর শায়খ মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানী (রহিমাহুল্লাহ) ১৩৯৮(১) হিজরিতে খাইরুদ্দিন আল-আলুসী (মৃত্যু ১৩১৭ হি.) রচিত "আল-আয়াতুল বাইয়্যিনাত ফি আদামি সামাঈল আমওয়াত ইনদাল হানাফিইয়াহ আস-সাদাত" বইটি প্রকাশ করেন এবং এর শুরুতে একটি বিস্তারিত ভূমিকা প্রদান করেন। সেখানে তিনি প্রথমে একটি টীকায় (পৃষ্ঠা ৪০) কিতাবুর রুহ সম্পর্কে উল্লেখ করে বলেন: "ইবনুল কায়্যিমের প্রতি সম্বন্ধযুক্ত কিতাবুর রুহ"। এরপর ৬০ পৃষ্ঠায় তিনি ইবনুল কায়্যিমের একটি বক্তব্য উদ্ধৃত করে তার উত্তর দেন এবং বলেন: " … এই এবং অন্যান্য কারণে 'আর-রুহ' কিতাবটি তাঁর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত হওয়ার বিশুদ্ধতা নিয়ে আমার মনে প্রবল সন্দেহ রয়েছে, অথবা হতে পারে তিনি এটি তাঁর জ্ঞানার্জনের প্রাথমিক যুগে রচনা করেছিলেন, আর আল্লাহই ভালো জানেন।"

--------------------------------------------

(১) এটি হলো আলূসীর কিতাবে শায়খ আলবানীর ভূমিকার তারিখ। দৃশ্যত এই সালেই বইটির প্রথম সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছিল, কেননা এর দ্বিতীয় সংস্করণটি পরবর্তী বছর ১৩৯৯ হিজরিতে প্রকাশিত হয়।

(খণ্ড: ১) আর-রূহ - ইবনুল কাইয়্যিম - ত ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ١٠)
وقد أصدر الشيخ بكر أبو زيد رحمه الله كتابه "ابن قيم الجوزية ــ حياته وآثاره" في عام 1400، فذكر أنه "قد انتشر على ألسنة بعض طلاب العلم أن كتاب الروح ليس لابن القيم أو أنه ألَّفه قبل اتصاله بشيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله تعالى. هذا ما تناقلته الألسن ومرّ على الأسماع في المجالس والمباحثات، ولم أر ذلك مدوَّنًا في كتاب، ولعل شيئًا من ذلك قد دُوِّن ولكن لم يتيسر الوقوف عليه"(1).

وكأن ما سمع الشيخ بكر كان صدى لما ذكره الشيخ الألباني في مقدمة "الآيات البينات"، ولكن لم يكن الكتاب المذكور قد صدر حينما أعدّ الشيخ بكر رسالته عن ابن القيم، فلم يقف عليه، كما فاته الاطلاع على سؤال الشيخ جميل غازي وجواب الشيخ محمد نجيب المطيعي. وقد رد الشيخ بكر على الشبهتين، وأثبت أن كتاب الروح لابن القيم بلا ريب، وأنه ألّفه بعد اتصاله بشيخ الإسلام لا قبله.

وذكر الشيخ بكر أنه لتحقيق هذه المسألة قرأ كتاب الروح من أوله إلى آخره قراءة المتأمل الفاحص، فتبين له أن ما تناقلته الألسن "نتائج موهومة سبيلها النقض، ونهايتها الرفض المحض، وأنها إنما انتشرت من غير دراسة ولا تحقيق".

وصدق الشيخ، فلم يكن كلام الشيخ الألباني أيضًا صادرًا عن دراسة لكتاب الروح، وإنما الذي أثار الشك في نفسه أنه وجد في كتاب الروح رأيًا واحتجاجًا مخالفًا لما عهده من منهج ابن القيم، وخادشًا لصورته المرسومة في ذهنه، ثم إن الاعتقاد بأن الموتى يسمعون هو السبب الأقوى الموجب

--------------------------------------------

(1) ابن قيم الجوزية ــ حياته، آثاره، موارده؛ دار العاصمة، 1423 (ص 254).

শেখ বকর আবু যায়দ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) ১৪০০ হিজরি সালে তাঁর "ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ—হায়াতুহু ওয়া আসারুহু" (জীবন ও কর্ম) গ্রন্থটি প্রকাশ করেন। তাতে তিনি উল্লেখ করেন যে, "কিছু ইলম অন্বেষীর মুখে এটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, 'কিতাবুর রূহ' গ্রন্থটি ইবনুল কাইয়্যিমের নয় অথবা এটি তিনি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) সাথে সাক্ষাতের পূর্বে রচনা করেছেন। এটিই মানুষের মুখে মুখে ফিরছে এবং বিভিন্ন মজলিস ও আলোচনায় শোনা গেছে। আমি কোনো গ্রন্থে এটি লিখিত অবস্থায় দেখিনি, হতে পারে এ জাতীয় কিছু লিখিত হয়েছে কিন্তু তা দেখার সুযোগ হয়নি"(১).

মনে হচ্ছে শাইখ বকর যা শুনেছিলেন তা ছিল শাইখ আলবানীর "আল-আয়াতুল বাইয়্যিনাত" গ্রন্থের ভূমিকায় যা উল্লেখ করেছেন তারই প্রতিধ্বনি। কিন্তু শাইখ বকর যখন ইবনুল কাইয়্যিম সম্পর্কে তাঁর গবেষণাপত্রটি তৈরি করছিলেন, তখন উল্লিখিত গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়নি, ফলে তিনি তা অবগত হতে পারেননি। একইভাবে শাইখ জামিল গাজীর প্রশ্ন এবং শাইখ মুহাম্মাদ নাজিব আল-মুতির জবাবটিও তাঁর অগোচরে রয়ে গিয়েছিল। শাইখ বকর এই উভয় সংশয়ের নিরসন করেছেন এবং প্রমাণ করেছেন যে, 'কিতাবুর রূহ' কোনো সন্দেহ ছাড়াই ইবনুল কাইয়্যিমের রচনা এবং তিনি এটি শাইখুল ইসলামের সান্নিধ্যে আসার পরই লিখেছেন, আগে নয়।

শাইখ বকর উল্লেখ করেছেন যে, এই বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য তিনি 'কিতাবুর রূহ' শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অত্যন্ত গভীর ও সতর্কতার সাথে পাঠ করেছেন। ফলে তাঁর নিকট এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, মানুষের মুখে মুখে যা ছড়িয়েছে তা হলো "ভ্রান্ত ধারণা প্রসূত ফলাফল যার গতিপথ খণ্ডনের দিকে এবং যার সমাপ্তি হলো চূড়ান্ত প্রত্যাখ্যান। আর এটি কোনো অধ্যয়ন ও যাচাই-বাছাই ছাড়াই ছড়িয়ে পড়েছে।"

শাইখ সত্যই বলেছেন। শাইখ আলবানীর বক্তব্যটিও 'কিতাবুর রূহ' নিয়ে কোনো গভীর গবেষণার ভিত্তিতে ছিল না; বরং তাঁর মনে সন্দেহের উদ্রেক হওয়ার কারণ ছিল এই যে, তিনি 'কিতাবুর রূহ' গ্রন্থে এমন কিছু মতামত ও দলিল দেখতে পান যা ইবনুল কাইয়্যিমের মানহাজ বা পদ্ধতির পরিপন্থী বলে তাঁর মনে হয়েছে এবং তাঁর হৃদয়ে অঙ্কিত তাঁর (ইবনুল কাইয়্যিমের) ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ণ করেছে। তাছাড়া মৃত ব্যক্তিরা শুনতে পায়—এই বিশ্বাসটিই ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী কারণ যা...

--------------------------------------------

(১) ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ—হায়াতুহু, আসারুহু, মাওয়ারিদুহু; দারুল আসিমাহ, ১৪২৩ (পৃ. ২৫৪)।

(খণ্ড: ১) আর-রূহ - ইবনুল কাইয়্যিম - ত ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ١١)
للاستغاثة بغير الله عند المبتدعة(1)، فضاق الشيخ بما ذهب إليه ابن القيم، فأنكره، وشك في نسبة الكتاب نفسه إلى ابن القيم إلا أن يكون قد ألّفه قبل اتصاله بشيخ الإسلام.

يقول الشيخ: "وأغرب ما رأيت لهم من الأدلة قول ابن القيم رحمه الله في الروح (ص 8) تحت المسألة الأولى: هل تعرف الأموات بزيارة الأحياء وسلامهم أم لا؟ فأجاب بكلام طويل جاء فيه ما نصه … ".

ثم نقل قول ابن القيم: "ويكفي في هذا تسميته المسلِّم عليهم زائرًا، ولولا أنهم يشعرون به لما صح تسميته زائرًا؛ فإن المزور إن لم يعلم بزيارة من زاره لم يصح أن يقال: زاره. هذا هو المعقول من الزيارة عند جميع الأمم. وكذلك السلام عليهم أيضًا، فإن السلام على من لا يشعر ولا يعلم بالمسلِّم محال. وقد علّم النبي صلى الله عليه وسلم أمته إذا زاروا القبور أن يقولوا: "سلام عليكم أهل الديار … وهذا السلام والخطاب والنداء لموجود يسمع ويخاطب، ويعقل ويرد، وإن لم يسمع المسلِّم الردّ".

وعقب الشيخ على ذلك قائلًا: "رحم الله ابن القيم، فما كان أغناه عن الدخول في مثل هذا الاستدلال العقلي، الذي لا مجال له في أمر غيبي كهذا؛ فوالله لو أن ناقلًا نقل هذا الكلام عنه ولم أقف أنا بنفسي عليه لما صدقته لغرابته، وبعده عن الأصول العلمية، والقواعد السلفية، التي تعلمناها منه، ومن شيخه الإمام ابن تيمية؛ فهو أشبه شيء بكلام الآرائيين والقياسيين الذي يقيسون الغائب على الشاهد، والخالق على المخلوق، وهو قياس باطل فاسد، طالما ردّ ابن القيم أمثاله على أهل الكلام والبدع؛ ولهذا وغيره

--------------------------------------------

(1) الآيات البينات (ص 25).

বিদআতিদের নিকট আল্লাহ ছাড়া অন্যের কাছে সাহায্য প্রার্থনা (ইস্তিগাসা) প্রসঙ্গে(১), শায়খ ইবনুল কাইয়্যিম যে মত গ্রহণ করেছেন তাতে বিচলিত বোধ করলেন এবং তা প্রত্যাখ্যান করলেন। এমনকি তিনি এই কিতাবটি ইবনুল কাইয়্যিমের কি না সে ব্যাপারেও সন্দেহ প্রকাশ করলেন, যদি না তিনি এটি শাইখুল ইসলামের (ইবনে তাইমিয়্যাহ) সাথে পরিচিত হওয়ার আগে লিখে থাকেন।

শায়খ বলেন: "তাদের পক্ষ থেকে উপস্থাপিত দলীলসমূহের মধ্যে আমি সবচেয়ে বিস্ময়কর যা দেখেছি তা হলো ‘আর-রূহ’ (পৃ. ৮) গ্রন্থে প্রথম মাসআলার অধীনে ইবনুল কাইয়্যিম রহ.-এর বক্তব্য: মৃত ব্যক্তিরা কি জীবিতদের যিয়ারত ও সালাম সম্পর্কে অবগত হয় কি না? এর উত্তরে তিনি দীর্ঘ আলোচনা করেছেন যার ভাষ্য হলো … "।

অতঃপর তিনি ইবনুল কাইয়্যিমের উক্তিটি উদ্ধৃত করেন: "এ বিষয়ে এটিই যথেষ্ট যে, সালাম প্রদানকারীকে ‘যিয়ারতকারী’ (পরিদর্শনকারী) হিসেবে অভিহিত করা হয়। যদি মৃতরা তা অনুভব করতে না পারত, তবে তাকে যিয়ারতকারী বলা সহীহ হতো না; কারণ যার যিয়ারত করা হচ্ছে সে যদি যিয়ারতকারীর আগমন সম্পর্কে অবগত না হয়, তবে ‘তিনি যিয়ারত করেছেন’ বলা সংগত নয়। সকল জাতির নিকট যিয়ারতের এটাই যুক্তিগ্রাহ্য অর্থ। তদ্রূপ তাদের প্রতি সালাম প্রদানের বিষয়টির ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য; কারণ যে ব্যক্তি সালাম প্রদানকারীকে অনুভব করে না বা চেনে না, তাকে সালাম দেওয়া অসম্ভব ব্যাপার। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মতকে শিক্ষা দিয়েছেন যে, তারা যখন কবর যিয়ারত করবে তখন যেন বলে: ‘হে জনপদের অধিবাসীগণ, আপনাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক …’ আর এই সালাম, সম্বোধন ও আহ্বান এমন সত্তার উদ্দেশ্যেই করা হয় যিনি বিদ্যমান, যিনি শোনেন, যাঁকে সম্বোধন করা যায়, যিনি বুঝতে পারেন এবং উত্তর দেন, যদিও সালাম প্রদানকারী সেই উত্তর শুনতে পায় না"।

শায়খ এর ওপর মন্তব্য করে বলেন: "ইবনুল কাইয়্যিমকে আল্লাহ রহম করুন, তাঁর জন্য এ ধরনের তাত্ত্বিক ও যুক্তিভিত্তিক দলীলের অবতারণা না করাই সমীচীন ছিল, যার কোনো সুযোগ এই গায়বি (অদৃশ্য) বিষয়ের ক্ষেত্রে নেই। আল্লাহর কসম, যদি কোনো বর্ণনাকারী তাঁর পক্ষ থেকে এই কথাটি বর্ণনা করতেন এবং আমি নিজে তা প্রত্যক্ষ না করতাম, তবে এর অসারতা এবং আমাদের তাঁর থেকে ও তাঁর উস্তাদ ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ থেকে শেখা ইলমী মূলনীতি ও সালাফী কায়দাকানুন থেকে এর দূরত্বের কারণে আমি তা বিশ্বাস করতাম না। এটি রায়-নির্ভর (ব্যক্তিগত মতামত) ও কিয়াস-নির্ভর (অনুমান) লোকদের বক্তব্যের সদৃশ, যারা অদৃশ্যের বিষয়কে চাক্ষুষ বিষয়ের ওপর এবং স্রষ্টাকে সৃষ্টির ওপর কিয়াস করে থাকে। অথচ এটি একটি বাতিল ও ভ্রান্ত কিয়াস, যার অনুরূপ বহু কিয়াস ইবনুল কাইয়্যিম স্বয়ং ইলমুল কালাম ও বিদআতিদের ওপর রদ (প্রত্যাখ্যান) করেছেন। একারণে এবং অন্যান্য কারণে

--------------------------------------------

(১) আল-আয়াতুল বাইয়্যিনাত (পৃ. ২৫)।

(খণ্ড: ১) আর-রূহ - ইবনুল কাইয়্যিম - ত ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ١٢)
فإني في شك كبير من صحة نسبة "الروح" إليه، أو لعله ألَّفه في أول طلبه للعلم. والله أعلم، ثم إن كلامه مردود في شطريه بأمرين … "(1).

قلت: قول ابن القيم: "فإن السلام على من لا يشعر ولا يعلم بالمسلِّم محال … وإن لم يسمع المسلِّم الردّ" نقله بعينه الحافظ ابن كثير في تفسيره (6/ 325 - 327) ضمن اقتباس طويل من كتاب الروح. فهل يدعو ذلك إلى الشك في نسبة التفسير إلى ابن كثير؟

وماذا عسى أن يقول الشيخ لو درى أن هذا الاستدلال بعينه مأخوذ من كلام شيخ الإسلام الذي قال: "وقد ثبت عنه في الصحيحين من غير وجه أنه كان يأمر بالسلام على أهل القبور، ويقول: "قولوا: السلام عليكم أهل الديار … " فهذا خطاب لهم، وإنما يخاطَب مَن يسمَع"(2).

وقال في موضع آخر: "والميت قد يعرف من يزوره. ولهذا كانت السنة أن يقال: السلام عليكم، أهل دار قوم مؤمنين … " إلخ(3).

وسيأتي عرض المسألة في فصل آخر، وإنما يعنينا هنا ما يتعلق بنسبة الكتاب. والدلائل على صحتها متوافرة متنوعة(4)، وقد قسمناها إلى قسمين: القسم الأول في الدلائل الخارجية، والقسم الثاني في الدلائل الداخلية.

--------------------------------------------

(1) الآيات البينات (ص 60).

(2) مجموع الفتاوى (24/ 363).

(3) مجموع الفتاوى (24/ 304).

(4) انظر جملة منها في كتاب "ابن قيم الجوزية ــ حياته، آثاره، موارده" للشيخ بكر بن عبد الله أبو زيد رحمه الله (ص 255 - 258).

নিশ্চয়ই তাঁর প্রতি "আর-রূহ" কিতাবটির সম্বন্ধের বিশুদ্ধতার ব্যাপারে আমি গভীর সন্দেহের মধ্যে রয়েছি, অথবা সম্ভবত তিনি তা ইলম অন্বেষণের প্রারম্ভিক যুগে রচনা করেছিলেন। আল্লাহই ভালো জানেন। উপরন্তু, তাঁর বক্তব্য দুটি কারণে উভয় অংশেই প্রত্যাখ্যাত … "(১)।

আমি বলি: ইবনুল কাইয়্যিমের বক্তব্য: "কেননা যে অনুভব করে না এবং সালাম প্রদানকারী সম্পর্কে অবগত নয় তাকে সালাম প্রদান করা অসম্ভব … যদিও সালাম প্রদানকারী জবাব শুনতে পায় না"—ঠিক এই কথাটিই হাফেজ ইবনে কাসীর তাঁর তাফসিরে (৬/৩২৫ - ৩২৭) "কিতাবুর রূহ" থেকে একটি দীর্ঘ উদ্ধৃতির অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে কি তা ইবনে কাসীরের প্রতি এই তাফসিরের সম্বন্ধের ব্যাপারে সন্দেহের উদ্রেক করে?

আর শায়খ কী-ই বা বলতেন যদি তিনি জানতেন যে, এই একই দলিল শায়খুল ইসলামের বক্তব্য থেকে নেওয়া হয়েছে, যিনি বলেছেন: "সহীহাইন-এ বিভিন্ন সূত্রে তাঁর থেকে এটি প্রমাণিত হয়েছে যে, তিনি কবরবাসীদের সালাম দেওয়ার নির্দেশ দিতেন এবং বলতেন: 'তোমরা বলো: হে গৃহবাসীরা, তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক …'। সুতরাং এটি তাঁদের প্রতি একটি সম্বোধন, আর সম্বোধন কেবল তাকেই করা হয় যে শ্রবণ করে"(২)।

তিনি অন্য এক স্থানে বলেছেন: "মৃত ব্যক্তি তাকে চিনে থাকে যে তাকে জিয়ারত করে। এই কারণেই সুন্নাহ হলো এই বলা: হে মুমিন সম্প্রদায়ের গৃহবাসীরা, তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক …" ইত্যাদি(৩)।

বিষয়টির বিস্তারিত আলোচনা অন্য একটি অধ্যায়ে আসবে, এখানে আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো কিতাবটির সম্বন্ধ সংক্রান্ত বিষয়াদি। এর বিশুদ্ধতার সপক্ষে দলিলসমূহ পর্যাপ্ত ও বৈচিত্র্যময়(৪), যা আমরা দুই ভাগে বিভক্ত করেছি: প্রথম ভাগ হলো বাহ্যিক দলিলসমূহ এবং দ্বিতীয় ভাগ হলো অভ্যন্তরীণ দলিলসমূহ।

--------------------------------------------

(১) আল-আয়াতুল বাইয়্যিনাত (পৃ. ৬০)।

(২) মাজমুউল ফাতাওয়া (২৪/৩৬৩)।

(৩) মাজমুউল ফাতাওয়া (২৪/৩০৪)।

(৪) শায়খ বকর বিন আব্দুল্লাহ আবু যায়েদ রাহিমাহুল্লাহ বিরচিত "ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ—হায়াতুহু, আসারুহু, মাওয়ারিদুহু" কিতাবে এর একটি বড় অংশ দেখুন (পৃ. ২৫৫ - ২৫৮)।

(খণ্ড: ১) আর-রূহ - ইবনুল কাইয়্যিম - ত ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ١٣)
أما القسم الأول فمن أظهر دلائله:

1) أن ابن القيم نفسه ذكره في كتابه جلاء الأفهام (557)، فلما أورد حديث أبي هريرة: "إذا خرجت روح المؤمن تلقاها ملكان" الحديث، قال: "وقد استوفيت الكلام على هذا الحديث وأمثاله في كتاب الروح". يقصد كلامه في المسألة السادسة.

2) أن الحافظ ابن رجب (ت 795) ــ وهو من تلامذة ابن القيم ــ نقل في كتابه "أهوال القبور وأحوال أهلها إلى النشور" نصوصًا عديدة من كتاب الروح ــ كما سيأتي ــ فقال في (ص 68): "وذكر شيخنا أبو عبد الله ابن القيم رحمه الله تعالى في كتاب الروح … ". ونقل حكاية. ثم قال (ص 69): "قال شيخنا"، ونقل حكاية أخرى. وانظر الحكايتين في المسألة السابعة.

3) أن أبا عبد الله محمد بن محمد بن محمد المنبجي الحنبلي (ت 785) قد ألّف كتابه "تسلية أهل المصائب" سنة 777، واستفاد فيه من كتاب الروح ونسبه إلى ابن القيم بصراحة، فقال: "قال العلامة ابن القيم رحمه الله في كتاب الروح له: حدثني صاحبنا أبو عبد الله … " (ص 271). والحكاية التي نقلها واردة في المسألة السابعة. وكذلك لما نقل ردّ ابن القيم على ما زعمه ابن حزم من عدم ردّ الأرواح في القبور إلى الأجساد قبل يوم القيامة قال: "فهذا العلامة ابن القيم رحمه الله قد كفانا مؤنة الرد بلا تكلف" (ص 278). وهذا الردّ في المسألة السادسة.

4) أن نُسَخه الخطية المنتشرة في خزائن الشرق والغرب ويبلغ عددها نحو أربعين نسخة كلها مجمعة على نسبته إلى ابن القيم. وأقدمها نسخة الظاهرية المكتوبة سنة 774 بعد وفاة ابن القيم بثلاث وعشرين سنة، وهي الأصل الذي اعتمدنا عليه في نشرتنا هذه.
প্রথম পরিচ্ছেদের সবচেয়ে স্পষ্ট প্রমাণসমূহ নিম্নরূপ:

১) ইবনুল কাইয়্যিম নিজেই তাঁর ‘জালাউল আফহাম’ (পৃ. ৫৫৭) গ্রন্থে এর উল্লেখ করেছেন। সেখানে তিনি যখন আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদীস— “মুমিনের রূহ যখন বের হয়, তখন দুজন ফেরেশতা তা গ্রহণ করে”— উল্লেখ করেন, তখন বলেন: “আমি এই হাদীস ও এই জাতীয় অন্যান্য হাদীসের বিষয়ে ‘কিতাবুর রূহ’-এ বিস্তারিত আলোচনা করেছি।” তিনি মূলত ষষ্ঠ মাসআলায় তাঁর আলোচনার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন।

২) হাফেজ ইবনে রাজাব (মৃত্যু ৭৯৫ হি.)—যিনি ইবনুল কাইয়্যিমের অন্যতম ছাত্র—তাঁর ‘আহওয়ালুল কুবুর ওয়া আহওয়ালু আহলিহা ইলাল নুশূর’ গ্রন্থে ‘কিতাবুর রূহ’ থেকে অসংখ্য উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন—যেমনটি সামনে আসবে—তিনি এর ৬৮ পৃষ্ঠায় বলেন: “আমাদের শাইখ আবু আব্দুল্লাহ ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) কিতাবুর রূহ-এ উল্লেখ করেছেন … ”। এরপর তিনি একটি ঘটনা বর্ণনা করেন। অতঃপর ৬৯ পৃষ্ঠায় বলেন: “আমাদের শাইখ বলেছেন,” এবং অন্য একটি ঘটনা উদ্ধৃত করেন। এই ঘটনা দুটি সপ্তম মাসআলায় দেখুন।

৩) আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ আল-মানবিজী আল-হাম্বলী (মৃত্যু ৭৮৫ হি.) ৭৭৭ হিজরীতে তাঁর ‘তাসলিয়াতু আহলিল মাসায়িব’ গ্রন্থটি রচনা করেন এবং এতে তিনি ‘কিতাবুর রূহ’ থেকে উপকৃত হয়েছেন ও স্পষ্টভাবে এটিকে ইবনুল কাইয়্যিমের রচনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: “আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর কিতাবুর রূহ-এ বলেছেন: আমাদের সাথী আবু আব্দুল্লাহ আমাকে জানিয়েছেন … ” (পৃ. ২৭১)। তাঁর উদ্ধৃত ঘটনাটি সপ্তম মাসআলায় বর্ণিত হয়েছে। একইভাবে ইবনে হাজম যখন দাবি করেছিলেন যে কিয়ামতের আগে কবরে রূহ পুনরায় দেহে ফিরিয়ে আনা হয় না, তখন এর বিপরীতে ইবনুল কাইয়্যিমের খণ্ডন উদ্ধৃত করে তিনি বলেন: “এই আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) কোনো প্রকার কষ্টকল্পনা ছাড়াই আমাদের পক্ষ থেকে এই খণ্ডনের দায়িত্ব সম্পন্ন করেছেন” (পৃ. ২৭৮)। আর এই খণ্ডনটি ষষ্ঠ মাসআলায় বিদ্যমান।

৪) প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের পাঠাগারগুলোতে ছড়িয়ে থাকা এর প্রায় চল্লিশটির মতো পাণ্ডুলিপি একে ইবনুল কাইয়্যিমের কিতাব হিসেবে সাব্যস্ত করার ব্যাপারে একমত। এর মধ্যে প্রাচীনতম হলো ‘জাহিরিয়া’ পাণ্ডুলিপিটি, যা ইবনুল কাইয়্যিমের ইন্তেকালের ২৩ বছর পর ৭৭৪ হিজরীতে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে; আর এটিই সেই মূল পাণ্ডুলিপি যার ওপর ভিত্তি করে আমাদের এই সংস্করণটি প্রস্তুত করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আর-রূহ - ইবনুল কাইয়্যিম - ত ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ١٤)
5) ذكره الحافظ ابن حجر (ت 852) في ترجمة ابن القيم في كتابه الدرر الكامنة (3/ 402)(1). وكذلك نسبه إليه فيما نقله منه في فتح الباري: (3/ 239)، (6/ 444، 445)، (8/ 403). ولفظه فيها جميعًا: "ابن القيم في كتاب الروح".

6) أن إبراهيم بن عمر البقاعي (ت 885)، وهو من كبار أصحاب الحافظ ابن حجر، قد اختصر كتاب الروح وأعاد ترتيبه وسماه "سر الروح". وقال في مقدمته: "فإني كاتب إن شاء الله تعالى في هذه الأوراق المقصود بالحقيقة من كتاب الروح للإمام العلامة شمس الدين محمد بن قيم الجوزية الدمشقي الحنبلي سقى الله ثراه ورحم منقلبه ومثواه … " (ص 2).

7) ذكره جلال الدين السيوطي (ت 911) في ترجمة ابن القيم في بغية الوعاة (1/ 63) ونسبه إليه في كتبه الأخرى، منها كتابه "شرح الصدور بشرح حال الموتى والقبور" الذي قال في خاتمته: "خاتمة في فوائد تتعلق بالروح لخصت أكثرها من كتاب الروح لابن القيم" (ص 414). وقد نقل نصوصًا كثيرة منه في أثناء الكتاب أيضًا فقال في موضع: "وذكر ابن القيم في كتاب الروح" (ص 245). وقال في كتاب الحبائك في أخبار الملائك: "وقال العلامة شمس الدين ابن القيم في كتاب الروح" (ص 263). ونحوه في كتاب الحاوي للفتاوي له (1/ 212)، وفيه أيضًا: " … قولان للحنابلة حكاهما ابن القيم في كتاب الروح" (2/ 165). وهذه النصوص والأقوال كلها واردة في كتاب الروح الذي بين أيدينا.

--------------------------------------------

(1) وكذلك ذكره في ترجمته السيوطي (ت 911) في بغية الوعاة (1/ 63) كما سيأتي، وابن العماد الحنبلي (ت 1089) في شذرات الذهب (8/ 290) والشوكاني (ت 1250) في البدر الطالع (2/ 143).

৫) হাফিজ ইবনে হাজার (ওফাত ৮৫২ হি.) তাঁর ‘আদ-দুরারুল কামিনাহ’ (৩/৪০২) গ্রন্থে ইবনুল কায়্যিমের জীবনীতে এটি উল্লেখ করেছেন(১)। অনুরূপভাবে তিনি ‘ফাতহুল বারী’ (৩/২৩৯), (৬/৪৪৪, ৪৪৫), (৮/৪০৩) গ্রন্থে তাঁর থেকে যা উদ্ধৃত করেছেন, তাতেও এটি তাঁর প্রতি নিসবত করেছেন। সবখানেই তাঁর শব্দমালা হলো: "কিতাবুর রূহ গ্রন্থে ইবনুল কায়্যিম।"

৬) ইবরাহিম বিন উমর আল-বিক্বায়ি (ওফাত ৮৮৫ হি.), যিনি হাফিজ ইবনে হাজারের অন্যতম প্রধান শাগরিদ ছিলেন, তিনি ‘কিতাবুর রূহ’ সংক্ষেপিত করেছেন এবং নতুনভাবে বিন্যস্ত করে এর নামকরণ করেছেন ‘সিররুর রূহ’। তিনি এর ভূমিকায় বলেছেন: "আমি এই পৃষ্ঠাগুলোতে ইনশাআল্লাহ তাআলা ইমাম আল্লামা শামসুদ্দীন মুহাম্মদ বিন কায়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ আদ-দিমাশকী আল-হাম্বলীর কিতাবুর রূহ থেকে প্রকৃত উদ্দেশ্যসমূহ লিপিবদ্ধ করছি, আল্লাহ তাঁর মাটিকে সিক্ত রাখুন এবং তাঁর প্রত্যাবর্তনস্থল ও নিবাসকে রহমত দ্বারা ধন্য করুন... … " (পৃ. ২)।

৭) জালালুদ্দীন আস-সুয়ূতী (ওফাত ৯১১ হি.) ‘বুগয়াতুল উয়াত’ (১/৬৩) গ্রন্থে ইবনুল কায়্যিমের জীবনীতে এটি উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর অন্যান্য গ্রন্থেও এটি তাঁর প্রতি নিসবত করেছেন। তার মধ্যে অন্যতম হলো তাঁর গ্রন্থ ‘শারহুস সুদূর বি-শারহি হালিল মাউতা ওয়াল কুবূর’, যার শেষে তিনি বলেছেন: "রূহ সংক্রান্ত উপকারী তথ্যাবলি নিয়ে একটি পরিশিষ্ট, যার অধিকাংশ আমি ইবনুল কায়্যিমের কিতাবুর রূহ থেকে সংক্ষেপ করেছি" (পৃ. ৪১৪)। তিনি কিতাবটির অভ্যন্তরেও এর অনেক পাঠ উদ্ধৃত করেছেন; এক স্থানে তিনি বলেছেন: "ইবনুল কায়্যিম কিতাবুর রূহ-এ উল্লেখ করেছেন" (পৃ. ২৪৫)। ‘আল-হাবায়িক ফি আখবারিল মালায়িক’ গ্রন্থে তিনি বলেছেন: "আল্লামা শামসুদ্দীন ইবনুল কায়্যিম কিতাবুর রূহ-এ বলেছেন" (পৃ. ২৬৩)। তাঁর ‘আল-হাওয়ী লিল ফাতাওয়ী’ (১/২১২) গ্রন্থেও অনুরূপ রয়েছে, আর তাতে আরও রয়েছে: " … হাম্বলী মাযহাবের দুটি অভিমত যা ইবনুল কায়্যিম কিতাবুর রূহ-এ বর্ণনা করেছেন" (২/১৬৫)। আর এই সমস্ত উদ্ধৃতি ও বক্তব্যসমূহ আমাদের হাতে থাকা কিতাবুর রূহ-এ বিদ্যমান রয়েছে।

--------------------------------------------

(১) অনুরূপভাবে তাঁর জীবনীতে আস-সুয়ূতী (ওফাত ৯১১ হি.) ‘বুগয়াতুল উয়াত’ (১/৬৩) গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন যেমন সামনে আসবে, এবং ইবনুল ইমাদ আল-হাম্বলী (ওফাত ১০৮৯ হি.) ‘শাযারাতুয যাহাব’ (৮/২৯০) গ্রন্থে এবং আশ-শাওকানী (ওফাত ১২৫০ হি.) ‘আল-বাদরুত তালি’ (২/১৪৩) গ্রন্থে।

(খণ্ড: ১) আর-রূহ - ইবনুল কাইয়্যিম - ত ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ١٥)
8) ذكر شمس الدين ابن طولون (ت 953) في كتابه الفلك المشحون (ص 42) كتابًا له بعنوان "الفتوح في حقيقة الروح"، وقال: "لخصته من كتاب الروح لابن القيم مع تتمات".

9) قد تعقب محمد بن إسماعيل الأمير الصنعاني (ت 1182) في كتابه جمع الشتيت في شرح أبيات التثبيت (ص 80) كلام ابن القيم في تلقين الميت بعد دفنه، وكذلك أشار في تأنيس الغريب (ص 175) إلى أن أدلة القائلين بخلق الأرواح قبل الأجساد واضحة، وأن ابن القيم "تكلف لردّها فما نهض ما قاله". ولكن لم يشك في نسبة كتاب الروح إليه، بل أكثر من النقل منه مع عزوه إليه، ومن ذلك قوله: "واعلم أنه قد بسط الجواب وزاد عليه ابن القيم رحمه الله في كتابه الروح، ولا غناء عن استيفاء ما ذكره، فإن المسألة مهمة والإيمان بها متعين" (ص 49)، ثم نقل نصًّا طويلًا من المسألة السابعة في الرد على منكري عذاب القبر. ومنه قوله: "قال ابن القيم في كتاب الروح" (ص 81). والجدير بالذكر أن الأمير كتب نسخة من كتاب الروح بخطه، وهي محفوظة في مكتبة ندوة العلماء بالهند. وقال في سبل السلام: "وذهب ابن القيم إلى عموم المسألة، وبسط المسألة في كتاب الروح" (2/ 113) يعني مسألة اختصاص هذه الأمة بالسؤال في القبر دون الأمم السالفة. وينظر أيضًا (2/ 114).

10) أن شمس الدين محمد بن أحمد السفَّاريني الحنبلي (1114 - 1188) ــ وهو معروف بكثرة النقل من كتب شيخ الإسلام ابن تيمية وابن القيم ــ نقل نصوصًا كثيرة من كتاب الروح في كتابيه: البحور الزاخرة في أحوال الآخرة، ولوامع الأنوار البهية، فقال في البحور عندما ذكر القول
৮) শামসুদ্দিন ইবনে তুলুন (মৃত্যু ৯৫৩ হি.) তাঁর 'আল-ফুলকুল মাশহুন' (পৃ. ৪২) গ্রন্থে তাঁর রচিত 'আল-ফুতূহু ফি হাকিকাতিল রূহ' শিরোনামের একটি গ্রন্থের কথা উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: "আমি এটি ইবনুল কাইয়্যিমের 'কিতাবুর রূহ' থেকে কিছু সংযোজনসহ সংক্ষেপ করেছি।"

৯) মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-আমির আস-সানআনি (মৃত্যু ১১৮২ হি.) তাঁর 'জামউশ শাতিত ফি শারহি আবয়াতিত তাসবিত' (পৃ. ৮০) গ্রন্থে দাফনের পর মৃত ব্যক্তিকে তালকিন করার বিষয়ে ইবনুল কাইয়্যিমের বক্তব্যের পর্যালোচনা করেছেন। একইভাবে তিনি 'তানিজুল গারিব' (পৃ. ১৭৫) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, দেহের পূর্বে রুহ সৃষ্টির প্রবক্তাদের দলিলসমূহ স্পষ্ট, এবং ইবনুল কাইয়্যিম "সেগুলো খণ্ডন করতে গিয়ে কষ্টসাধ্য ব্যাখ্যা দিয়েছেন যা গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠেনি।" তবে তিনি 'কিতাবুর রূহ' গ্রন্থটি তাঁর (ইবনুল কাইয়্যিমের) রচিত হওয়ার বিষয়ে কোনো সন্দেহ পোষণ করেননি, বরং তাঁর দিকে সম্বন্ধ করেই গ্রন্থটি থেকে প্রচুর উদ্ধৃতি দিয়েছেন। এর মধ্যে তাঁর একটি উক্তি হলো: "জেনে রাখুন, ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর 'কিতাবুর রূহ'-এ এর উত্তর বিস্তারিত দিয়েছেন এবং এতে অনেক কিছু যোগ করেছেন। তিনি যা উল্লেখ করেছেন তা পূর্ণাঙ্গভাবে গ্রহণ না করে উপায় নেই, কারণ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এর প্রতি ঈমান রাখা অপরিহার্য" (পৃ. ৪৯)। অতঃপর তিনি কবরের আজাব অস্বীকারকারীদের খণ্ডন সম্পর্কিত সপ্তম মাসআলা থেকে দীর্ঘ একটি উদ্ধৃতি প্রদান করেন। তাঁর আরও একটি উক্তি হলো: "ইবনুল কাইয়্যিম 'কিতাবুর রূহ'-এ বলেছেন" (পৃ. ৮১)। উল্লেখযোগ্য যে, আল-আমির স্বহস্তে 'কিতাবুর রূহ'-এর একটি পাণ্ডুলিপি লিখেছিলেন, যা ভারতের নদওয়াতুল উলামা লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত আছে। তিনি 'সুবুলুস সালাম' গ্রন্থে বলেছেন: "ইবনুল কাইয়্যিম এ মাসআলাটিকে সাধারণ হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং 'কিতাবুর রূহ'-এ বিষয়টি বিস্তারিত আলোচনা করেছেন" (২/১১৩); অর্থাৎ কবরে সওয়াল-জওয়াব কি শুধু এই উম্মতের বৈশিষ্ট্য নাকি পূর্ববর্তী উম্মতদের জন্যও ছিল—সেই মাসআলাটি। আরও দেখুন (২/১১৪)।

১০) শামসুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-সাফারিনি আল-হাম্বলি (১১১৪ - ১১৮৮ হি.) —যিনি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া ও ইবনুল কাইয়্যিমের গ্রন্থসমূহ থেকে অধিক উদ্ধৃতি দেওয়ার জন্য সুপরিচিত—তিনি তাঁর 'আল-বুহুরুজ জাখিরাহ ফি আহওয়ালিল আখিরাহ' এবং 'লাওয়ামিওল আনওয়ারিল বাহিয়্যাহ' গ্রন্থদ্বয়ে 'কিতাবুর রূহ' থেকে প্রচুর উদ্ধৃতি পেশ করেছেন। তিনি 'আল-বুহুর' গ্রন্থে একটি অভিমত উল্লেখ করতে গিয়ে বলেন:
(খণ্ড: ১) আর-রূহ - ইবনুল কাইয়্যিম - ত ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ١٦)
المختار عند ابن القيم في حقيقة الروح: "اختار هذا القول الإمام المحقق ابن القيم في كتابه الروح من أقوال عديدة". ثم أثنى على الكتاب فقال: "وكتابه هذا من أجلّ ما رأينا في هذا الفن بل هو أجلها وأعظمها … " (1/ 100). وكذا في كتاب لوامع الأنوار صدَّر نقوله من كتاب الروح في مواضع بقوله: "قال الإمام المحقق ابن القيم في كتاب الروح". انظر مثلًا: 2/ 8 - 10، 12، 18، 20، 21، 23، 32، 38، 52، 60، 157.

11) الشيخ عبد الله بن عبد الرحمن أبا بُطين (1194 - 1282) مفتي الديار النجدية في عهده وأحد علماء الدعوة في عهد الدولة السعودية الثاني. وكانت له عناية بكتب ابن القيم، فقد اختصر إغاثة اللهفان وبدائع الفوائد(1). وبين يدي نسخة من كتاب الروح كانت في حوزة الشيخ أبا بطين، وفي حاشيتها تعليقات بخطه. ومنها تعقيب على استدلال ابن القيم بعمل الناس على تلقين الميت بعد دفنه (ق 8/أ)، ولكن لم يبد شكًّا في نسبة الكتاب.

12) الشيخ عبد اللطيف بن عبد الرحمن بن حسن آل الشيخ (1225 - 1293) من كبار أئمة الدعوة(2)، وله رد على رجل عراقي يدعى داود بن سليمان بن جرجيس طبع بعنوان: "تحفة الطالب والجليس في كشف شبه داود بن جرجيس" جاء فيه: "ومن العجب أن هذا العراقي زعم أن ابن القيم قال في كتاب الروح … " (ص 66). ثم قال: "وكتاب الروح موجود ومسموع من المشايخ الثقات العارفين بنصوصه وأقواله وأصوله وفروعه".

--------------------------------------------

(1) انظر ترجمته في آخر الدرر السنية (16/ 2/427)، والسحب الوابلة (ص 626).

(2) ترجمته في آخر الدرر السنية (16/ 2/413)، ومشاهير علماء نجد (ص 69).

আত্মার স্বরূপ সম্পর্কে ইবনুল কাইয়্যিমের পছন্দনীয় অভিমত: "গবেষক ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম তাঁর ‘আর-রূহ’ কিতাবে বহু মতামতের মধ্য থেকে এই অভিমতটি পছন্দ করেছেন।" এরপর তিনি কিতাবটির প্রশংসা করে বলেন: "এই বিষয়ে আমাদের দেখা শ্রেষ্ঠতম গ্রন্থগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম, বরং এটিই সর্বশ্রেষ্ঠ ও মহান … " (১/ ১০০)। একইভাবে ‘লাওয়ামি আল-আনোয়ার’ গ্রন্থেও বিভিন্ন স্থানে ‘কিতাবুর রূহ’ থেকে উদ্ধৃতি প্রদানকালে তিনি বলেছেন: "গবেষক ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম তাঁর ‘কিতাবুর রূহ’-এ বলেছেন।" উদাহরণস্বরূপ দেখুন: ২/ ৮-১০, ১২, ১৮, ২০, ২১, ২৩, ৩২, ৩৮, ৫২, ৬০, ১৫৭।

১১) শায়খ আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান আবু বুতাইন (১১৯৪ - ১২৮২), তাঁর সমসাময়িক নজদ অঞ্চলের মুফতি এবং দ্বিতীয় সৌদি রাষ্ট্রের শাসনামলের দাওয়াহ ধারার অন্যতম আলিম। ইবনুল কাইয়্যিমের গ্রন্থরাজির প্রতি তাঁর বিশেষ মনোযোগ ছিল; তিনি ‘ইগাসাতুল লাহফান’ এবং ‘বাদায়িউল ফাওয়ায়িদ’ গ্রন্থদ্বয়ের সংক্ষিপ্তসার তৈরি করেছিলেন(১)। শায়খ আবু বুতাইনের মালিকানাধীন ‘কিতাবুর রূহ’-এর একটি পাণ্ডুলিপি আমার নিকট রয়েছে, যার মার্জিনে তাঁর স্বহস্তে লিখিত টীকা রয়েছে। এর মধ্যে দাফনের পর মৃত ব্যক্তিকে তালকীন করার প্রচলিত আমল দ্বারা ইবনুল কাইয়্যিমের পেশকৃত দলিলের ওপর একটি পর্যালোচনা রয়েছে (পত্র ৮/ক), তবে তিনি কিতাবটি ইবনুল কাইয়্যিমের রচিত হওয়ার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ প্রকাশ করেননি।

১২) শায়খ আবদুল লতিফ বিন আবদুর রহমান বিন হাসান আল-শায়খ (১২২৫ - ১২৯৩), দাওয়াহ ধারার অন্যতম প্রধান ইমাম(২)। দাউদ বিন সুলাইমান বিন জারজিস নামক এক ইরাকি ব্যক্তির খণ্ডনে তাঁর একটি গ্রন্থ রয়েছে, যা ‘তুহফাতুত তালিব ওয়াল জালিস ফি কাশফি শুবাহি দাউদ বিন জারজিস’ শিরোনামে মুদ্রিত হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে: "আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই ইরাকি ব্যক্তি দাবি করেছে যে ইবনুল কাইয়্যিম ‘কিতাবুর রূহ’ গ্রন্থে বলেছেন … " (পৃষ্ঠা ৬৬)। এরপর তিনি বলেন: "আর ‘কিতাবুর রূহ’ কিতাবটি বিদ্যমান রয়েছে এবং এটি এমন সব নির্ভরযোগ্য মাশায়েখদের নিকট থেকে শ্রুত যারা এর মূল পাঠ, বক্তব্য এবং এর মূলনীতি ও শাখাসমূহ সম্পর্কে সম্যক অবগত।"

--------------------------------------------

(১) তাঁর জীবনী দেখুন ‘আদ-দুরারুস সানিয়্যাহ’ (১৬/ ২/৪২৭) এর শেষে এবং ‘আস-সুহুবুল ওয়াবিলাহ’ (পৃষ্ঠা ৬২৬)।

(২) তাঁর জীবনী দেখুন ‘আদ-দুরারুস সানিয়্যাহ’ (১৬/ ২/৪১৩) এর শেষে এবং ‘মাশাহিরু উলামাই নজদ’ (পৃষ্ঠা ৬৯)।

(খণ্ড: ১) আর-রূহ - ইবনুল কাইয়্যিম - ত ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ١٧)
13) وكتاب "الآيات البينات" الذي أخرجه الشيخ الألباني رحمه الله وشكك في نسبة الكتاب إلى ابن القيم في مقدمته، لم يشك صاحبه أبو الخير نعمان بن محمود الآلوسي (ت 1317) في نسبة كتاب الروح إلى ابن القيم، فلما نقل نصًّا منه قال: "قال الحافظ ابن القيم في كتاب الروح" (ص 137) وفي موضع آخر: "وقد ردّه العلامة ابن القيم في كتاب الروح" (ص 121). وكذلك في كتابه الشهير جلاء العينين في محاكمة الأحمدين نقل نصًّا من كتاب الروح في مستقر الأرواح فقال: "وقال العلامة ابن القيم من كلام طويل في كتاب الروح ما نصه" (ص 468). وفي موضع آخر: "وفي كتاب الروح للحافظ ابن القيم بعد أن أيد وصول ثواب قراءة القرآن للأموات بأدلة كثيرة قال ما نصه" (ص 645).

وقبله والده شهاب الدين محمود بن عبد الله الآلوسي (1217 - 1270) لما ذكر في روح المعاني مذهب القائلين بجوهرية الروح وأنها ليست داخلة البدن ولا خارجة عنه قال: "ورد هذا المذهب ابن القيم في كتاب الروح بما لا مزيد عليه" (12/ 56)، ونحوه في (15/ 163، 309). وفي موضع آخر ذكر أن المعول عليه عند المحققين قولان: الأول أن الإنسان عبارة عن جسم نوراني علوي حي متحرك … إلخ. ثم قال: "وقال ابن القيم في كتابه الروح: إنه الصواب ولا يصح غيره، وعليه دلّ الكتاب والسنة وإجماع الصحابة وأدلة العقل والفطرة، وذكر له مائة دليل وخمسة أدلة فليراجع" (8/ 148).

ثم ذكر القول الثاني إنه ليس بجسم ولا جسماني وهو الروح وليس بداخل العالم ولا خارجه إلخ، ثم قال: "وللشيخ الرئيس رسالة مفردة في ذلك … وابن القيم زيف حججه في كتابه. وهو كتاب مفيد جدًّا يهب للروح روحًا ويورث للصدر شرحًا".
১৩) এবং "আল-আয়াত আল-বাইয়িনাত" নামক গ্রন্থটি যা শেখ আলবানী (রহিমাহুল্লাহ) সম্পাদনা করেছেন এবং এর ভূমিকায় কিতাবটি ইবনুল কাইয়িমের প্রতি সম্বন্ধিত হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করেছেন, সেই গ্রন্থের লেখক আবু আল-খায়ের নুমান বিন মাহমুদ আল-আলুসী (মৃত্যু ১৩১৭ হি.) "কিতাবুর রূহ" গ্রন্থটি ইবনুল কাইয়িমের রচনা হওয়ার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ পোষণ করেননি। ফলে যখনই তিনি এটি থেকে কোনো পাঠ উদ্ধৃত করেছেন, তখন বলেছেন: "হাফেজ ইবনুল কাইয়িম কিতাবুর রূহ-এ বলেছেন" (পৃ. ১৩৭) এবং অন্য স্থানে বলেছেন: "আল্লামা ইবনুল কাইয়িম কিতাবুর রূহ-এ এটি খণ্ডন করেছেন" (পৃ. ১২১)। তেমনিভাবে তার প্রসিদ্ধ গ্রন্থ "জালাউল আইনাইন ফি মুহাকামাতিল আহমাদাইন"-এ রুহসমূহের অবস্থানস্থল সম্পর্কে কিতাবুর রূহ থেকে একটি পাঠ উদ্ধৃত করে বলেছেন: "আল্লামা ইবনুল কাইয়িম কিতাবুর রূহ-এ এক দীর্ঘ আলোচনার পর যা বলেছেন তার সারসংক্ষেপ হলো" (পৃ. ৪৬৮)। অন্য এক স্থানে বলেছেন: "হাফেজ ইবনুল কাইয়িমের কিতাবুর রূহ-এ মৃতদের নিকট কুরআন তিলাওয়াতের সওয়াব পৌঁছানোর বিষয়টি বহু দলিলের মাধ্যমে সমর্থন করার পর তিনি যা বলেছেন তা হলো" (পৃ. ৬৪৫)।

তার পূর্বে তার পিতা শিহাবুদ্দীন মাহমুদ বিন আবদুল্লাহ আল-আলুসী (১২১৭ - ১২৭০), যখন তিনি "রুহুল মাআনি"-তে রুহ মৌলিক সত্তা (জাওহার) হওয়ার প্রবক্তাদের অভিমত উল্লেখ করেছেন—অর্থাৎ রুহ দেহের ভেতরেও নয় আবার বাইরেও নয়—তখন তিনি বলেছেন: "ইবনুল কাইয়িম কিতাবুর রূহ-এ এই অভিমতটিকে এমনভাবে খণ্ডন করেছেন যার ওপর আর কোনো কথা চলে না" (১২/ ৫৬); এবং অনুরূপ কথা বলেছেন (১৫/ ১৬৩, ৩০৯) পৃষ্ঠায়। অন্য এক স্থানে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, গবেষকদের নিকট নির্ভরযোগ্য অভিমত দুটি: প্রথমটি হলো—মানুষ মূলত এক নূরানী, উচ্চতর, জীবন্ত ও সচল দেহের নাম … ইত্যাদি। অতঃপর তিনি বলেছেন: "ইবনুল কাইয়িম তার কিতাবুর রূহ-এ বলেছেন: এটিই সঠিক এবং এছাড়া অন্য কিছু শুদ্ধ নয়। কুরআন, সুন্নাহ, সাহাবীগণের ইজমা এবং আকল ও ফিতরাতের দলিলসমূহ একথারই প্রমাণ দেয়। তিনি এর স্বপক্ষে একশ পাঁচটি দলিল উল্লেখ করেছেন, যা দেখে নেওয়া যেতে পারে" (৮/ ১৪৮)।

এরপর তিনি দ্বিতীয় মতটি উল্লেখ করেছেন যে, রুহ কোনো দেহ বা দেহজ বস্তু নয় এবং এটি জগতের ভেতরেও নয় আবার বাইরেও নয় ইত্যাদি। অতঃপর তিনি বলেছেন: "শায়খুর রইসের এই বিষয়ে একটি পৃথক পুস্তিকা রয়েছে … এবং ইবনুল কাইয়িম তার গ্রন্থে সেই যুক্তিগুলোকে অসার প্রমাণ করেছেন। এটি অত্যন্ত উপকারী একটি কিতাব যা আত্মাকে প্রাণ দান করে এবং বক্ষকে প্রশস্ত করে।"
(খণ্ড: ১) আর-রূহ - ইবনুল কাইয়্যিম - ত ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ١٨)
ونكتفي بهذا من الدلائل الخارجية على إثبات نسبة كتاب الروح إلى ابن القيم، وسيأتي المزيد في فصل "الصادرين عنه".

أما القسم الثاني من الدلائل، وهي التي سميناها دلائل داخلية فهي مبثوثة في الكتاب، وإليكم أبرزها:

1) ذكر ابن القيم في كتاب الروح هذا كتابًا آخر له في موضوع الروح نفسه فقال في المسألة الخامسة: "وعلى هذا ــ يعني كون الروح ذاتًا قائمة بنفسها تصعد وتنزل وتتصل وتنفصل … ــ أكثر من مائة دليل قد ذكرناها في كتابنا الكبير معرفة الروح والنفس" (ص 123).

وقد ذكر هذا الكتاب الذي وصفه هنا بالكبير في كتابه مفتاح دار السعادة (3/ 105) وفي جلاء الأفهام مرتين (ص 298، 371) وسماه كتاب الروح والنفس.

2) ذكر ابن القيم في عشرة مواضع من كتاب الروح شيخه شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله، وفي الكتاب مواضع أخرى نقل فيها كلام شيخه دون الإشارة إليه. وسيأتي تفصيلها في بحث موارد الكتاب.

3) أورد في المسألة الرابعة حديثين وقال: إن أحدهما دخل في الآخر وركب الراوي بين اللفظين، ثم قال: "وكان شيخنا أبو الحجاج يقول ذلك". يعني الحافظ أبا الحجاج يوسف بن عبد الرحمن المزي (ت 742) صاحب تهذيب الكمال وهو من شيوخ ابن القيم. وكثيرًا ما ينقل عنه ولا سيما في الحديث والرجال(1).

--------------------------------------------

(1) ابن قيم الجوزية للشيخ بكر أبو زيد (ص 177).

ইবনুল কাইয়্যিমের প্রতি 'কিতাবুর রূহ' গ্রন্থের সম্পৃক্ততা প্রমাণের বাহ্যিক দলীল হিসেবে আমরা এটুকুই যথেষ্ট মনে করছি; আর এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা "তাঁর থেকে প্রকাশিত" অধ্যায়ে আসবে।

দলীলের দ্বিতীয় প্রকার হচ্ছে অভ্যন্তরীণ দলীল, যা এই গ্রন্থেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। আর নিচে এর মধ্যে সর্বাধিক উল্লেখযোগ্যগুলো উপস্থাপন করা হলো:

১) ইবনুল কাইয়্যিম এই 'কিতাবুর রূহ' গ্রন্থে রূহ সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁর অন্য আরেকটি গ্রন্থের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি পঞ্চম মাসয়ালায় বলেছেন: "এর ওপর—অর্থাৎ রূহ একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ সত্তা যা ওপরে ওঠে, নিচে নামে, মিলিত হয় এবং বিচ্ছিন্ন হয় … —একশ’রও বেশি দলীল আমরা আমাদের বৃহৎ গ্রন্থ 'মা’রিফাতুর রূহ ওয়ান নাফস'-এ উল্লেখ করেছি" (পৃষ্ঠা: ১২৩)।

তিনি এখানে যে গ্রন্থটিকে 'বৃহৎ' হিসেবে অভিহিত করেছেন, সেটির কথা তাঁর 'মিফতাহু দারিস সা’আদাহ' (৩/১০৫) গ্রন্থে এবং 'জালাউল আফহাম' গ্রন্থে দুইবার (পৃষ্ঠা: ২৯৮, ৩৭১) উল্লেখ করেছেন এবং সেখানে বইটির নাম দিয়েছেন 'কিতাবুর রূহ ওয়ান নাফস'।

২) ইবনুল কাইয়্যিম 'কিতাবুর রূহ' গ্রন্থের দশটি স্থানে তাঁর শিক্ষক শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর কথা উল্লেখ করেছেন। এছাড়াও গ্রন্থে আরও কিছু স্থান রয়েছে যেখানে তিনি তাঁর শিক্ষকের বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন তাঁর নাম উল্লেখ ছাড়াই। গ্রন্থের উৎস বা তথ্যসূত্র বিষয়ক আলোচনায় এর বিস্তারিত বিবরণ আসবে।

৩) চতুর্থ মাসয়ালায় তিনি দুটি হাদীস উল্লেখ করে বলেছেন: এ দুটির একটি অন্যটির মধ্যে ঢুকে গেছে এবং বর্ণনাকারী শব্দ দুটির মধ্যে সংমিশ্রণ ঘটিয়েছেন। এরপর তিনি বলেছেন: "আমাদের শাইখ আবুল হাজ্জাজ এমনটিই বলতেন।" অর্থাৎ হাফেয আবুল হাজ্জাজ ইউসুফ বিন আবদুর রহমান আল-মিযযী (মৃত্যু: ৭৪২ হি.), যিনি 'তাহযীবুল কামাল' এর রচয়িতা এবং ইবনুল কাইয়্যিমের শিক্ষকদের অন্যতম। তিনি প্রায়শই তাঁর থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করেন, বিশেষ করে হাদীস ও রিজাল শাস্ত্রের ক্ষেত্রে(১)।

--------------------------------------------

(১) শাইখ বকর আবু যায়েদ প্রণীত 'ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওযিয়্যাহ' (পৃষ্ঠা: ১৭৭)।

(খণ্ড: ১) আর-রূহ - ইবনুল কাইয়্যিম - ত ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ١٩)
4) في الكتاب مباحث ومسائل ولطائف وفوائد كثيرة تكلم عليها ابن القيم في كتبه الأخرى، فكان كلامه عليها هنا وهناك واحدًا في رأيه واستدلاله وأسلوب تناوله. ومن ذلك:

1 - تفسيره لقوله تعالى: {وَإِذْ أَخَذَ رَبُّكَ مِنْ بَنِي آدَمَ مِنْ ظُهُورِهِمْ ذُرِّيَّتَهُمْ} الآية [الأعراف: 172] في المسألة الثامنة عشرة، فقد ذهب رحمه الله في تفسيرها ــ خلافًا لمذهب "أهل الحديث وكبراء أهل العلم" كما يقول ابن الأنباري ــ إلى أن المراد ما فطرهم سبحانه عليه من الإقرار بربوبيته، وأنه ربهم وفاطرهم، وأنهم مخلوقون ومربوبون، ثم أرسل إليهم رسله يذكِّرونهم بما في فطرهم وعقولهم، وقال: نظم الآية إنما يدل على هذا من وجوه متعددة، ثم ذكر عشرة وجوه. وبهذا فسرها ابن القيم في كتاب السماع (384 - 385)، واستدل بسبعة وجوه من الوجوه العشرة المذكورة في كتاب الروح.

2 - المسألة الحادية والعشرون في كتاب الروح عن النفس أواحدة هي أم ثلاث؟ ذكر فيها أن كثيرًا من الناس وقع في كلامهم أن لابن آدم ثلاث أنفس: مطمئنة ولوامة وأمارة، ثم قال: والتحقيق أنها نفس واحدة ولكن لها صفات، فتسمى باعتبار كل صفة باسم. ثم تكلم على الصفات الثلاث وأفاض في الكلام. وفي كتابه إغاثة اللهفان في مصايد الشيطان عقد الباب الحادي عشر على علاج مرض القلب من استيلاء النفس عليه. ومهد له بالكلام على النفس أواحدة هي أم ثلاث، ثم وصف الثلاث وصفًا مختصرًا بذكر الخلاف واشتقاق اللوامة من اللوم أو التلوم. وهذا كله موافق لما في كتاب الروح، والفرق بينهما في التفصيل والاختصار أو بعض الزيادة.
৪) এই কিতাবে এমন অনেক আলোচনা, মাসআলা, সূক্ষ্ম তত্ত্ব ও নানাবিধ উপকারিতা রয়েছে যা ইবনুল কাইয়্যিম তাঁর অন্যান্য গ্রন্থেও আলোচনা করেছেন। এসব বিষয়ে এখানে ও সেখানে তাঁর বক্তব্য ছিল একই এবং তাঁর অভিমত, দলিল ও উপস্থাপনশৈলীও ছিল অভিন্ন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

১ - সূরা আল-আ’রাফের ১৭২ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহর বাণী: {আর যখন আপনার রব আদম সন্তানদের পৃষ্ঠদেশ হতে তাদের বংশধরদের বের করলেন...} -এর ব্যাখ্যা। আঠারোতম মাসআলায় তিনি এর ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। ইবনুল আনবারীর বর্ণনা অনুযায়ী ‘আহলুল হাদিস ও বিজ্ঞ আলেমগণের’ মতের বিপরীতে তিনি (ইবনুল কাইয়্যিম) এই মত গ্রহণ করেছেন যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো—আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাদেরকে তাঁর রুবুবিয়্যাত বা প্রভুত্বের যে স্বীকৃতির ওপর সৃষ্টি করেছেন তা-ই; অর্থাৎ তিনি তাদের রব ও স্রষ্টা এবং তারা তাঁরই সৃষ্টি ও তাঁরই পালিত। এরপর তিনি তাদের কাছে রাসূল পাঠিয়েছেন যাতে তারা তাদের ফিতরাত ও আকলের মধ্যে সুপ্ত থাকা বিষয়গুলো তাদের স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেছেন: আয়াতের বাক্যবিন্যাসই বহুবিধ দিক থেকে এই অর্থের প্রতি ইঙ্গিত করে। অতঃপর তিনি দশটি দিক বা যুক্তি তুলে ধরেন। ইবনুল কাইয়্যিম তাঁর ‘কিতাবুস সামা’ (৩৮৪ - ৩৮৫) গ্রন্থেও এই ব্যাখ্যা দিয়েছেন এবং ‘কিতাবুর রূহ’-এ বর্ণিত দশটি যুক্তির মধ্যে সাতটি সেখানে দলিল হিসেবে পেশ করেছেন।

২ - ‘কিতাবুর রূহ’-এর একুশতম মাসআলায় আত্মা (নাফস) একটি নাকি তিনটি—এ প্রসঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। তিনি সেখানে উল্লেখ করেছেন যে, অনেক মানুষের বক্তব্যে এটি দেখা যায় যে আদম সন্তানের তিনটি আত্মা রয়েছে: মুতমাইন্নাহ (প্রশান্ত), লাওয়ামাহ (তিরস্কারকারী) এবং আম্মারাহ (প্ররোচনাদানকারী)। এরপর তিনি বলেন: সঠিক অনুসন্ধান হলো আত্মা মূলত একটিই, তবে এর বিভিন্ন গুণাবলি রয়েছে; তাই প্রতিটি গুণের বিচারে একে ভিন্ন ভিন্ন নামে ডাকা হয়। এরপর তিনি এই তিনটি গুণ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তিনি তাঁর ‘ইগাছাতুল লাহফান ফি মাসায়িদিশ শাইতান’ গ্রন্থে শয়তানের প্ররোচনা থেকে অন্তরের ব্যাধির চিকিৎসার ওপর একাদশ অধ্যায় রচনা করেছেন। সেখানে তিনি আত্মা একটি নাকি তিনটি—সেই আলোচনার মাধ্যমে প্রসঙ্গের অবতারণা করেছেন। অতঃপর তিনি মতভেদ উল্লেখপূর্বক এবং ‘লাওয়ামাহ’ শব্দটি ‘লোম’ (তিরস্কার) নাকি ‘তালম্মুম’ (অস্থিরতা) থেকে উদ্ভূত তা উল্লেখ করে তিনটি গুণের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দিয়েছেন। এই পুরো বিষয়টিই ‘কিতাবুর রূহ’-এর বর্ণনার সাথে সংগতিপূর্ণ; এ দুটির মধ্যে পার্থক্য কেবল বিস্তারিত ও সংক্ষিপ্ত হওয়ার ক্ষেত্রে কিংবা সামান্য কিছু সংযোজনের ক্ষেত্রে।
(খণ্ড: ১) আর-রূহ - ইবনুল কাইয়্যিম - ত ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٢٠)
3 - المسألة الأولى في كتاب الروح: هل تعرف الأموات بزيارة الأحياء وسلامهم عليهم أو لا؟ وقد أجاب عنها المؤلف بالإثبات. فهو يرى أن الميت يعرف زيارة الحي ويستبشر به، ويسمع سلامه عليه. ومما استدلّ به على ذلك أن السلام على من لا يشعر ولا يعلم بالمسلِّم محال.

وقد ساق في كتابه زاد المعاد الحديث الطويل المروي عن لقيط بن عامر واستخرج منه فوائد كثيرة منها:

"وقوله: (حيثما مررت بقبر كافر فقل: أرسلني إليك محمد). هذا إرسال تقريع وتوبيخ، لا تبليغ أمر ونهي. وفيه دليل سماع أصحاب أهل القبور كلام الأحياء وخطابهم لهم" (3/ 685).

4 - وفي هذه المسألة قد استشهد المؤلف ببعض الحكايات والأقوال التي نقلها من كتاب القبور لابن أبي الدنيا، باب معرفة الموتى بزيارة الأحياء. منها حكاية عاصم الجحدري، وقول محمد بن واسع، وقول الضحاك، وحكاية عن مطرف بن عبد الله، وكلها تتعلق بيوم الجمعة.

وفي زاد المعاد لما عدد خصائص يوم الجمعة قال: "الحادية والثلاثون: أن الموتى تدنو أرواحهم من قبورهم وتوافيها في يوم الجمعة، فيعرفون زوارهم ومن يمرّ بهم ويسلِّم عليهم ويتلقاهم في ذلك اليوم أكثر من معرفتهم بهم في غيره من الأيام، فهو يوم يلتقي فيه الأحياء والأموات".

ثم استشهد على ذلك بقصة مطرف، وقصة عاصم، وقول محمد بن واسع، وقول الضحاك. (1/ 415 - 416).

5 - في الفرق بين الصبر والقسوة، ذكر أن "القلوب ثلاثة: قلب قاس
৩ - ‘কিতাবুর রূহ’-এর প্রথম মাসআলা: জীবিতদের যিয়ারত এবং সালাম সম্পর্কে মৃত ব্যক্তিগণ অবগত হন কি না? লেখক এর উত্তর ইতিবাচক দিয়েছেন। তাঁর মতে, মৃত ব্যক্তি জীবিত ব্যক্তির যিয়ারত সম্পর্কে জানতে পারে, এতে আনন্দিত হয় এবং তার সালাম শুনতে পায়। এ বিষয়ে তাঁর অন্যতম দলিল হলো—যে ব্যক্তি কোনো কিছু অনুভব করে না বা সালাম প্রদানকারী সম্পর্কে জানে না, তাকে সালাম দেওয়া অসম্ভব বা অর্থহীন।

তিনি তাঁর ‘যাদুল মাআদ’ গ্রন্থে লাকিত ইবনে আমির থেকে বর্ণিত দীর্ঘ হাদিসটি উল্লেখ করেছেন এবং সেখান থেকে অনেকগুলো শিক্ষা বা উপকারিতা বের করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে:

"আর তাঁর বাণী: (যখনই তুমি কোনো কাফিরের কবরের পাশ দিয়ে অতিক্রম করবে, তখন তাকে বলো: মুহাম্মাদ আমাকে তোমার নিকট পাঠিয়েছেন)। এটি হলো তিরস্কার ও ভর্ৎসনা স্বরূপ প্রেরণ, কোনো আদেশ বা নিষেধ পৌঁছানোর জন্য নয়। এর মধ্যে কবরের অধিবাসীরা জীবিতদের কথা ও সম্বোধন শুনতে পাওয়ার প্রমাণ রয়েছে।" (৩/ ৬৮৫)।

৪ - এই মাসআলায় লেখক ইবনে আবিদ দুনইয়ার ‘কিতাবুল কুবুর’-এর ‘জীবিতদের যিয়ারত সম্পর্কে মৃতদের অবগতি’ অধ্যায় থেকে সংকলিত কিছু কাহিনী ও উক্তি উদ্ধৃত করেছেন। তার মধ্যে রয়েছে আসিম আল-জাহদারি-এর কাহিনী, মুহাম্মাদ ইবনে ওয়াসি’ ও দাহহাক-এর উক্তি এবং মুতাররিফ ইবনে আব্দুল্লাহ্ থেকে বর্ণিত একটি কাহিনী; যার সবকটিই জুমআর দিন সম্পর্কিত।

‘যাদুল মাআদ’-এ জুমআর দিনের বৈশিষ্ট্যসমূহ গণনার সময় তিনি বলেন: "একত্রিশতম: জুমআর দিনে মৃতদের রূহ বা আত্মা কবরের সন্নিকটে চলে আসে এবং সেখানে উপস্থিত হয়। ফলে ঐ দিনে তারা যিয়ারতকারী, তাদের পাশ দিয়ে অতিক্রমকারী এবং সালাম প্রদানকারীদের অন্যান্য দিনের তুলনায় অনেক বেশি চিনতে ও জানতে পারে। এটি এমন এক দিন, যাতে জীবিত ও মৃতদের সাক্ষাৎ ঘটে।"

অতঃপর তিনি এর সপক্ষে মুতাররিফ ও আসিমের কাহিনী এবং মুহাম্মাদ ইবনে ওয়াসি’ ও দাহহাক-এর উক্তি পেশ করেছেন। (১/ ৪১৫ - ৪১৬)।

৫ - ধৈর্য ও কঠোরতার মধ্যে পার্থক্যের বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, "অন্তর তিন প্রকার: কঠোর অন্তর...
(খণ্ড: ১) আর-রূহ - ইবনুল কাইয়্যিম - ত ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٢١)
غليظ بمنزلة اليد اليابسة، وقلب مائع رقيق جدًّا .. وأصح القلوب: القلب الرقيق الصافي الصلب". وترى هذه الأقسام الثلاثة ووصفها بنحو ما قال هنا في الوابل الصيب (120 - 122) وشفاء العليل (105 - 192).

6 - قوله تعالى: {يَاأَيَّتُهَا النَّفْسُ الْمُطْمَئِنَّةُ (27) ارْجِعِي إِلَى رَبِّكِ رَاضِيَةً مَرْضِيَّةً (28) فَادْخُلِي فِي عِبَادِي (29) وَادْخُلِي جَنَّتِي} [الفجر: 27 ــ 30] رجح فيه ابن القيم أن ذلك يقال للنفس المطمئنة عند الموت ويوم القيامة أيضًا. فجمع بين القولين، فلا منافاة بينهما. كذا قال في كتاب الروح في المسألة الحادية والعشرين وفي مدارج السالكين (2/ 171 - 179).

7 - المسألة الثامنة عشرة في تقدم خلق الأرواح على الأجساد أو تأخر خلقها عنها، وقد رد ابن القيم على القائلين بأن الأرواح خلقت قبل الأجساد. وقد خطَّأ قولهم هذا في روضة المحبين (120) أيضًا.

8 - المسألة السابعة في الرد على الملاحدة والزنادقة المنكرين لعذاب القبر وسعته وضيقه وكونه حفرة من حفر النار أو روضة من رياض الجنة. وقد مهد ابن القيم بثلاثة أمور أولها: "أن الرسل صلوات الله وسلامه عليهم لم يخبروا بما تحيله العقول وتقطع باستحالته، بل أخبارهم قسمان: أحدهما ما تشهد به العقول والفطر، الثاني: ما لا تدركه العقول بمجردها … ". و"الأمر الثاني أن يفهم عن الرسول صلى الله عليه وسلم مراده من غير غلو ولا تقصير، فلا يحمل كلامه ما لا يحتمله ولا يقصر به عن مراده وما قصده من الهدى والبيان".

ثم قال: "وقد حصل بإهمال ذلك والعدول عنه من الضلال والعدول عن الصواب ما لا يعلمه إلا الله، بل سوء الفهم عن الله ورسوله أصل كل
রুক্ষ ও কঠোর, যা শুষ্ক হাতের ন্যায়; এবং এমন এক অন্তর যা অত্যন্ত কোমল ও বিগলিত... আর অন্তরসমূহের মধ্যে সর্বাধিক সুস্থ ও সঠিক হলো সেই অন্তর, যা একই সাথে কোমল, স্বচ্ছ এবং দৃঢ়।" আপনি এই তিনটি প্রকার এবং এগুলোর বর্ণনা ঠিক তেমনিভাবে পাবেন যেমনটি তিনি আল-ওয়াবিল আস-সাইয়িব (১২০-১২২) এবং শিফাউল আলীল (১০৫-১৯২) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

৬ - মহান আল্লাহর বাণী: {হে প্রশান্ত আত্মা! (২৭) তুমি তোমার পালনকর্তার নিকট ফিরে এসো সন্তুষ্ট ও সন্তোষভাজন হয়ে। (২৮) অতঃপর আমার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাও (২৯) এবং আমার জান্নাতে প্রবেশ করো। (৩০)} [আল-ফাজর: ২৭-৩০] ইবনুল কাইয়্যিম রহ. এই মতটিকে প্রধান্য দিয়েছেন যে, এটি প্রশান্ত আত্মাকে মৃত্যুর সময় এবং কিয়ামতের দিনও বলা হবে। তিনি উভয় মতের মধ্যে সমন্বয় করেছেন, তাই এ দুটির মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। অনুরূপভাবে তিনি কিতাবুর রূহ-এর একবিংশতম মাসআলায় এবং মাদারিজুস সালিকীন (২/ ১৭১-১৭৯)-এ উল্লেখ করেছেন।

৭ - আঠারোতম মাসআলাটি হলো দেহের পূর্বে রূহ সৃষ্টি হওয়া বা দেহের পরে রূহ সৃষ্টি হওয়া প্রসঙ্গে। ইবনুল কাইয়্যিম রহ. তাদের প্রতিবাদ করেছেন যারা দাবি করেন যে, রূহ দেহের পূর্বে সৃষ্টি হয়েছে। তিনি রওদাতুল মুহিব্বীন (১২০) গ্রন্থেও তাদের এই বক্তব্যকে ভুল সাব্যস্ত করেছেন।

৮ - সপ্তম মাসআলাটি হলো সেই সব নাস্তিক ও ধর্মদ্রোহীদের খণ্ডন প্রসঙ্গে, যারা কবরের আজাব, কবরের প্রশস্ততা ও সংকীর্ণতা এবং কবর জাহান্নামের গর্তসমূহের একটি গর্ত হওয়া অথবা জান্নাতের বাগানসমূহের একটি বাগান হওয়ার বিষয়টিকে অস্বীকার করে। ইবনুল কাইয়্যিম রহ. তিনটি বিষয় দিয়ে এর ভূমিকা পেশ করেছেন। প্রথমত: "রাসূলগণ (তাঁদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) এমন কোনো সংবাদ দেননি যা বুদ্ধি অসম্ভব মনে করে কিংবা যার অসম্ভব হওয়ার ব্যাপারে অকাট্য সিদ্ধান্ত দেয়। বরং তাঁদের সংবাদসমূহ দুই প্রকার: এক. যা বুদ্ধি ও ফিতরাত (সহজাত প্রবৃত্তি) সাক্ষ্য দেয়। দুই. যা কেবল বুদ্ধির দ্বারা অনুধাবন করা সম্ভব নয় … "। এবং "দ্বিতীয় বিষয়টি হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উদ্দেশ্যকে কোনো প্রকার অতিরঞ্জন বা শৈথিল্য ছাড়াই অনুধাবন করা। সুতরাং তাঁর বাণীর ওপর এমন কোনো অর্থ চাপিয়ে দেওয়া যাবে না যা তা বহন করে না, আবার তাঁর হেদায়েত ও বর্ণনার উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত হওয়া যাবে না"।

অতঃপর তিনি বলেন: "এই বিষয়টিকে অবহেলা করা এবং তা থেকে বিচ্যুত হওয়ার ফলে যে পথভ্রষ্টতা ও সঠিক পথ থেকে বিচ্যুতি ঘটেছে তা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেন না। বরং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্য সম্পর্কে ভুল বোঝাই হলো সকল
(খণ্ড: ১) আর-রূহ - ইবনুল কাইয়্যিম - ত ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٢٢)
بدعة وضلالة نشأت في الإسلام، بل هو أصل كل خطأ في الأصول والفروع، ولاسيَّما إن أضيف إليه سوء القصد. فيتفق سوءُ الفهم في بعض الأشياء من المتبوع مع حسن قصده، وسوءُ القصد من التابع، فيا محنة الدين وأهله! ".

وقد عقد المؤلف الفصل الحادي والعشرين من كتابه "الصواعق المرسلة على الجهمية والمعطلة" في بيان الأسباب الجالبة للتأويل. وذكر أربعة أسباب: اثنين من المتكلم واثنين من السامع، وهما سوء الفهم وسوء القصد. وقال: "فلما حدث بعد انقضاء عصرهم ــ يعني الصحابة ــ من ساء فهمه وساء قصده وقعوا في أنواع من التأويل بحسب سوء الفهم وفساد القصد … وإذا تأملت أصول المذاهب الفاسدة رأيت أربابها قد اشتقوها من بين هذين الأصلين … " (500 - 510). وذكر في "شفاء العليل" من آثار القسوة تحريف الكلم عن مواضعه ثم قال: "وذلك من سوء الفهم وسوء القصد" (ص 106).

وفي زاد المعاد ذكر من فقه قصة قدوم وفد نجران "أن الكلام عند الإطلاق يحمل على ظاهره حتى يقوم دليل على خلافه … " وأشار إلى إيراد النصارى على قوله تعالى: {يَاأُخْتَ هَارُونَ} [مريم: 28]. قال: " … فإيراده إيراد فاسد وهو إما من سوء الفهم أو سوء القصد". (3/ 644).

5) من منهج ابن القيم في البحث أنه في المسائل الخلافية يستقصي الأقوال وحجج القائلين بها، ثم يناقشها قولًا قولًا بعرضها على الكتاب والسنة دون تعصب لهذا أو ذاك، وقد يقيم مناظرة بين الخصوم، فهذا يحتج على ذاك، ثم ذاك يرد على هذا، وهكذا حتى يظهر الصواب. ومن أمثلة ذلك
ইসলামে উদ্ভূত একটি বিদআত ও ভ্রষ্টতা, বরং এটি উসুল (মূলনীতি) এবং ফুরু’ (শাখা-প্রশাখা) সংক্রান্ত প্রতিটি ভুলের মূল উৎস; বিশেষত যদি এর সাথে অসৎ উদ্দেশ্য যুক্ত হয়। কখনও কখনও অনুসৃত ব্যক্তির কিছু বিষয়ে বুঝের ভুল ও সৎ উদ্দেশ্য থাকে, কিন্তু অনুসারীর থাকে অসৎ উদ্দেশ্য; দ্বীন এবং এর অনুসারীদের জন্য এটি কী নিদারুণ এক বিপর্যয়!

লেখক তাঁর ‘আস-সাওয়ায়িকুল মুরসালা আলাল জাহমিয়্যাতি ওয়াল মুআত্তিলেহ’ গ্রন্থের একুশতম অধ্যায়টি তা’বিল বা অপব্যাখ্যার প্রভাবক কারণসমূহ বর্ণনায় উৎসর্গ করেছেন। তিনি এখানে চারটি কারণ উল্লেখ করেছেন: দুটি বক্তার পক্ষ থেকে এবং দুটি শ্রোতার পক্ষ থেকে, আর সেগুলো হলো—বুঝের ভুল এবং অসৎ উদ্দেশ্য। তিনি বলেন: “অতঃপর তাদের (অর্থাৎ সাহাবায়ে কেরামের) যুগের অবসানের পর যখন এমন সব লোকের আবির্ভাব ঘটল যাদের বুঝের ত্রুটি এবং অসৎ উদ্দেশ্য ছিল, তখন তারা তাদের বুঝের ভুল এবং অসৎ উদ্দেশ্য অনুযায়ী বিভিন্ন প্রকার অপব্যাখ্যার মধ্যে নিপতিত হলো … আপনি যদি বাতিল মাযহাবগুলোর মূলনীতির দিকে লক্ষ্য করেন, তবে দেখবেন যে সেগুলোর প্রবক্তারা এই দুটি মূল বিষয় থেকেই সেগুলো উদ্ভাবন করেছে … ” (৫০০ - ৫১০)। তিনি ‘শিফাউল আলিল’ গ্রন্থে অন্তরের কঠোরতার অন্যতম প্রভাব হিসেবে আল্লাহর কালামকে তার নির্ধারিত স্থান থেকে বিচ্যুত করার কথা উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: “এটি বুঝের ভুল এবং অসৎ উদ্দেশ্যের কারণে হয়ে থাকে।” (পৃষ্ঠা ১০৬)।

আর ‘যাদুল মাআদ’ গ্রন্থে নাজরানের প্রতিনিধি দলের আগমনের ঘটনার ফিকহ বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, “কোনো বক্তব্য নিঃশর্তভাবে উচ্চারিত হলে তাকে তার বাহ্যিক অর্থের ওপরই প্রয়োগ করা হবে, যতক্ষণ না এর বিপরীত কোনো দলিল প্রতিষ্ঠিত হয় … ” এবং তিনি মহান আল্লাহর বাণী: {হে হারুনের বোন} [মারইয়াম: ২৮] সম্পর্কে খ্রিস্টানদের আপত্তির প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। তিনি বলেন: “ … তাদের এই আপত্তি একটি বাতিল আপত্তি, যা হয় বুঝের ভুল অথবা অসৎ উদ্দেশ্য থেকে উদ্ভূত।” (৩/ ৬৪৪)।

৫) গবেষণার ক্ষেত্রে ইবনুল কাইয়্যিমের একটি পদ্ধতি হলো, তিনি মতপার্থক্যপূর্ণ মাসআলাগুলোতে বিভিন্ন অভিমত এবং সেগুলোর প্রবক্তাদের দলিলসমূহ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুসন্ধান করেন। এরপর তিনি কোনো প্রকার গোঁড়ামি ছাড়াই প্রতিটি মতকে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে একে একে আলোচনা করেন। কখনো তিনি প্রতিপক্ষদের মধ্যে বিতর্কের অবতারণা করেন; একজন একজনের বিরুদ্ধে দলিল পেশ করেন এবং অন্যজন তার জবাব দেন। এভাবে সত্য উদ্ভাসিত হওয়া পর্যন্ত তা চলতে থাকে। এর কিছু উদাহরণ হলো-
(খণ্ড: ১) আর-রূহ - ইবনুল কাইয়্যিম - ত ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٢٣)
في كتاب الروح: مسألة مستقر الأرواح، ومسألة حقيقة النفس، ومسألة انتفاع أرواح الموتى بشيء من سعي الأحياء. فلما حشد أقوال الناس في مصير الأرواح بعد الموت في المسألة الخامسة عشرة قال: "فهذا ما تلخص لي من جميع أقوال الناس في مصير أرواحهم بعد الموت، ولا تظفر به مجموعًا في كتاب واحد غير هذا البتة. ونحن نذكر مآخذ هذه الأقوال، وما لكل قول وما عليه، وما هو الصواب من ذلك الذي دل عليه الكتاب والسنة، على طريقتنا التي منّ الله بها".

وهذه الطريقة يعرفها كل من اطلع على كتب ابن القيم.

6) قول ابن القيم في النص السابق: "ولا تظفر به مجموعًا في كتاب واحد غير هذا البتة" من العبارات المألوفة في كتب ابن القيم. وكثيرًا ما ينبِّه قارئه على قيمة المادة التي تجشم جمعها من المصادر المختلفة في مكان واحد. وهذا من سمات منهجه في التأليف. ومن أمثلة ذلك: قوله في حادي الأرواح: "فهذا نهاية إقدام الفريقين في هذه المسألة، ولعلك لا تظفر به في غير هذا الكتاب" (ص 791).

وقال فيه أيضًا: "فتأمل هذه الأبواب وما تضمنته من النقول والمباحث والنكت والفوائد التي لا تظفر بها في غير هذا الكتاب البتة … " (100).

وقال في إعلام الموقعين: "قد أتينا على ذكر فصول نافعة وأصول جامعة في تقرير القياس والاحتجاج به، لعلك لا تظفر بها في غير هذا الكتاب ولا بقريب منها" (1/ 227). وانظره أيضًا (4/ 81، 222)، وطريق الهجرتين (ص 798) وعدة الصابرين (ص 11) ومدارج السالكين (1/ 227، 400)، ومفتاح دار السعادة (1/ 276)، وبدائع الفوائد (ص 1603).
'কিতাবুর রূহ'-এ আলোচিত হয়েছে: রুহ বা আত্মাসমূহের অবস্থানস্থলের মাসআলা, নফসের হাকীকত বা স্বরূপের মাসআলা এবং জীবিতদের নেক আমলের মাধ্যমে মৃতদের রুহসমূহের উপকৃত হওয়ার মাসআলা। যখন তিনি পনেরোতম মাসআলায় মৃত্যুর পর রুহসমূহের গন্তব্য সম্পর্কে মানুষের মতামতগুলো একত্রিত করলেন, তখন তিনি বললেন: "মৃত্যুর পর রুহসমূহের গন্তব্য সম্পর্কে মানুষের সকল মতামতের সারসংক্ষেপ হলো এটিই; এই একটি কিতাব ছাড়া অন্য কোনো কিতাবে আপনি এগুলোকে এভাবে একত্রে কদাপি পাবেন না। আর আমরা এই মতগুলোর উৎস, প্রতিটি মতের স্বপক্ষে ও বিপক্ষে যুক্তি এবং কিতাব ও সুন্নাহর দলীলের ভিত্তিতে কোনটি সঠিক—তা আমাদের সেই বিশেষ পদ্ধতি অনুযায়ী উল্লেখ করব, যা আল্লাহ আমাদের দান করেছেন।"

আর এই পদ্ধতির সাথে তারা সকলেই পরিচিত যারা ইবনুল কাইয়্যিমের কিতাবসমূহ অধ্যয়ন করেছেন।

৬) পূর্বোক্ত পাঠে ইবনুল কাইয়্যিমের উক্তি: "এই কিতাব ছাড়া অন্য কোনো কিতাবে আপনি এগুলোকে এভাবে একত্রে কদাপি পাবেন না"—এটি ইবনুল কাইয়্যিমের গ্রন্থাবলিতে একটি পরিচিত অভিব্যক্তি। বিভিন্ন উৎস থেকে অনেক পরিশ্রমের বিনিময়ে এক স্থানে যে জ্ঞানগর্ভ উপাদান তিনি সংগ্রহ করেছেন, তার গুরুত্বের দিকে তিনি প্রায়শই পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এটি তাঁর রচনাশৈলী ও পদ্ধতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এর উদাহরণ হিসেবে বলা যায়: 'হাদিউল আরওয়াহ' গ্রন্থে তাঁর উক্তি: "এই মাসআলায় উভয় পক্ষের দৌড় বা চূড়ান্ত বক্তব্য হলো এটিই, সম্ভবত আপনি এই কিতাব ছাড়া অন্য কোথাও এটি পাবেন না" (পৃষ্ঠা ৭৯১)।

তিনি সেখানে আরও বলেছেন: "অতএব এই অধ্যায়গুলো এবং এতে থাকা উদ্ধৃতি, আলোচনা, সূক্ষ্ম তত্ত্ব ও উপকারিতাগুলো নিয়ে চিন্তা করুন, যা আপনি এই কিতাব ছাড়া অন্য কোথাও একেবারেই পাবেন না … " (১০০)।

তিনি 'ই’লামুল মুওয়াক্কিয়ীন' গ্রন্থে বলেছেন: "আমরা কিয়াস বা অনুমানসিদ্ধ সংগতির সপক্ষে এবং এর প্রামাণিকতা বর্ণনায় অত্যন্ত উপকারী কিছু অধ্যায় এবং ব্যাপক মূলনীতি উল্লেখ করেছি, যা সম্ভবত আপনি এই কিতাব ছাড়া অন্য কোথাও পাবেন না, এমনকি এর কাছাকাছি কিছুও পাবেন না" (১/ ২২৭)। আরও দেখুন: (৪/ ৮১, ২২২), 'তারিকুল হিজরাতাইন' (পৃষ্ঠা ৭৯৮), 'উদ্দাতুস সাবিরীন' (পৃষ্ঠা ১১), 'মাদারিজুস সালিকীন' (১/ ২২৭, ৪০০), 'মিফতাহু দারিস সা'আদাহ' (১/ ২৭৬) এবং 'বাদায়িউল ফাওয়াইদ' (পৃষ্ঠা ১৬০৩)।
(খণ্ড: ১) আর-রূহ - ইবনুল কাইয়্যিম - ত ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٢٤)
7) في آخر كتاب الروح باب طويل في الفروق، ولكن الفروق الثمانية التي ختم بها الكتاب هي خلاصة القواعد التي قامت عليها دعوة شيخ الإسلام وأصحابه في إصلاح الأمة والرجوع بها إلى الكتاب والسنة في العقيدة والعبادات والمعاملات والسلوك جميعًا. فالفروق الثلاثة: "الفرق بين توحيد المرسلين وتوحيد المعطلين، والفرق بين تنزيه الرسل وتنزيه المعطلة، والفرق بين إثبات حقائق الأسماء والصفات وبين التشبيه والتمثيل" تدور حول التوحيد. و"الفرق بين تجريد متابعة المعصوم وبين إهدار أقوال العلماء وإلغائها، والفرق بين الحكم المنزل الواجب الاتباع والحكم المؤول الذي نهايته أن يكون جائز الاتباع عند الضرورة ولا درك على مخالفه" حول تقليد الأئمة الفقهاء المجتهدين. و"الفرق بين تجريد التوحيد وبين هضم أرباب المراتب، والفرقان بين أولياء الرحمن وأولياء الشيطان، والفرق بين الحال الإيماني والحال الشيطاني" حول التصوف. ومعظم مؤلفات ابن القيم دائرة على هذه المحاور، فلا يخفى على من له شيء من الأنسة بكتبه أن كتاب الروح أيضًا قد خرج من المعدن نفسه.

8) ابن القيم رحمه الله معروف بطول النفس وإشباع الكلام والاستطراد، وبعض المباحث التي يستطرد إليها يكون أهم من الموضوع الأصلي الذي عقد الكلام عليه، وكثيرًا ما ينبه في آخر هذه الفصول والمباحث الطويلة على أن أهميتها وشدة الحاجة إليها هي التي اقتضت الإطالة فيها. فقال في كتاب الروح بعدما أورد فصولًا كثيرة في الفروق: "ولا تستطل هذا الفصل فلعله من أنفع فصول الكتاب والحاجة إليه شديدة … ".
৭) কিতাবুর রুহ-এর শেষে পার্থক্যসমূহ (আল-ফুরুক) বিষয়ে একটি দীর্ঘ অধ্যায় রয়েছে, তবে গ্রন্থটি যে আটটি পার্থক্যের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়েছে তা মূলত সেই সকল মূলনীতির নির্যাস যার ওপর ভিত্তি করে শাইখুল ইসলাম ও তাঁর অনুসারীদের উম্মাহর সংস্কার এবং আকিদা, ইবাদাত, মুয়ামালাত ও সুলুক—সব ক্ষেত্রেই কুরআন ও সুন্নাহর দিকে প্রত্যাবর্তনের দাওয়াত প্রতিষ্ঠিত ছিল। এর মধ্যে তিনটি পার্থক্য: "রাসূলগণের তাওহিদ ও গুণাবলি অস্বীকারকারীদের তাওহিদের মধ্যে পার্থক্য, রাসূলগণের পবিত্রতা বর্ণনা ও গুণাবলি অস্বীকারকারীদের পবিত্রতা বর্ণনার মধ্যে পার্থক্য এবং আল্লাহ তাআলার নাম ও গুণাবলির বাস্তবতা সাব্যস্ত করা ও সাদৃশ্য প্রদান (তাশবিহ) ও উদাহরণ প্রদানের (তামসিল) মধ্যে পার্থক্য"—তাওহিদ বিষয়ক। আর "নিষ্পাপ সত্তার (রাসূল) অনুসরণের একনিষ্ঠতা এবং আলিমদের বক্তব্য অবজ্ঞা ও বাতিল করার মধ্যে পার্থক্য, এবং অনুসরণযোগ্য অবতীর্ণ বিধান ও ব্যাখ্যাকৃত বিধানের (যা বড়জোর প্রয়োজনে অনুসরণ করা জায়েয হতে পারে এবং এর বিরোধিতাকারীর কোনো দোষ নেই) মধ্যে পার্থক্য"—মুজতাহিদ ফকিহ ইমামগণের তাকলিদ বিষয়ক। আর "তাওহিদের একনিষ্ঠতা ও উচ্চ মর্যাদার অধিকারীদের হক নষ্ট করার মধ্যে পার্থক্য, রহমানের অলি ও শয়তানের অলির মধ্যে পার্থক্য এবং ঈমানি অবস্থা ও শয়তানি অবস্থার মধ্যে পার্থক্য"—তাসাউফ বিষয়ক। ইবনুল কাইয়িমের অধিকাংশ রচনাই এই মূল বিষয়গুলোর ওপর আবর্তিত। তাই তাঁর কিতাবসমূহের সাথে যাদের কিঞ্চিৎ জানাশোনা আছে, তাদের কাছে এটি অস্পষ্ট নয় যে, কিতাবুর রুহ-ও একই খনি থেকে নির্গত।

৮) ইবনুল কাইয়িম (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর দীর্ঘ আলোচনা, প্রসঙ্গের বিস্তৃতি এবং বিষয়ের গভীরে যাওয়ার জন্য সুপরিচিত। অনেক সময় তিনি মূল বিষয়ের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ কোনো আনুষঙ্গিক বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেন। প্রায়শই তিনি এই দীর্ঘ পরিচ্ছেদ ও আলোচনার শেষে সতর্ক করে দেন যে, এর গুরুত্ব ও তীব্র প্রয়োজনীয়তার কারণেই আলোচনা দীর্ঘ করতে হয়েছে। তিনি কিতাবুর রুহ-এ পার্থক্য বিষয়ক অনেকগুলো পরিচ্ছেদ উল্লেখ করার পর বলেছেন: "এই পরিচ্ছেদটিকে দীর্ঘ মনে করবেন না, কারণ এটি সম্ভবত এই কিতাবের অন্যতম উপকারী পরিচ্ছেদ এবং এর প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত বেশি … "।
(খণ্ড: ১) আর-রূহ - ইবনুল কাইয়্যিম - ত ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٢٥)
ومن أمثلة هذا التنبيه في الكتب الأخرى: قوله في الداء والدواء: "ولا تستطل هذا الفصل فإن الحاجة إليه شديدة لكل أحد" (ص 50).

وقال في عدة الصابرين: "ولا تستطل هذا الفصل المعترض في أثناء هذه المسألة، فلعله أهم منها وانفع" (ص 359).

وقال في بدائع الفوائد: "ولا تستطل هذا الفصل فإنه أهم مما قصد بالكلام" (1/ 128)، وانظره أيضًا (1/ 268).

وقال في مفتاح دار السعادة: "ولا تستطل هذا الفصل وما فيه من نوع تكرار يشتمل على مزيد فائدة، فإن الحاجة إليه ماسة والمنفعة عظيمة" (2/ 200).

أكتفي بهذه الشواهد وهي كثيرة، وأقول أنا أيضًا لقارئ هذه المقدمة: لا تستطل هذا الفصل، فإني كنت أظن أن أمر نسبة هذا الكتاب إلى ابن القيم قد أصبح مفروغًا منه بعد التحقيق الذي دوَّنه الشيخ بكر أبو زيد رحمه الله في كتابه "ابن قيم الجوزية" كما سبق، ولكن رأيت طائفة من طلبة العلم لا يزالون يتساءلون عن صحة نسبته إلى ابن القيم، فكأن الشبهة لا تزال عالقة بالأذهان، مع أن كتاب الشيخ بكر قد صدر قبل أكثر من ثلاثين سنة، ثم أعيد طبعه أكثر من مرة، ثم صدرت نشرة الدكتور بسام العموش وأكدت نسبة الكتاب. ومن ثم أطلت في هذا المبحث بعض الإطالة، وسيأتي في الفصول القادمة ما يؤيد ذلك ويعزِّزه.
অন্যান্য কিতাবে এই সতর্কবার্তার উদাহরণগুলোর মধ্যে রয়েছে: 'আদ-দাউ ওয়াদ-দাওয়া' গ্রন্থে তাঁর উক্তি: "এই পরিচ্ছেদটি দীর্ঘ মনে করবেন না, কারণ প্রত্যেকের জন্য এর প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত তীব্র" (পৃ. ৫০)।

এবং 'উদ্দাতুস সাবিরীন' গ্রন্থে তিনি বলেছেন: "এই মাসআলার মাঝখানে আসা এই প্রাসঙ্গিক পরিচ্ছেদটিকে দীর্ঘ মনে করবেন না, কারণ এটি সম্ভবত মূল মাসআলার চেয়েও অধিক গুরুত্বপূর্ণ ও উপকারী" (পৃ. ৩৫৯)।

এবং 'বাদায়িউল ফাওয়াইদ' গ্রন্থে তিনি বলেছেন: "এই পরিচ্ছেদটিকে দীর্ঘ মনে করবেন না, কারণ এটি আলোচনার মূল উদ্দেশ্যের চেয়েও অধিক গুরুত্বপূর্ণ" (১/১২৮); আরও দেখুন (১/২৬৮)।

এবং 'মিফতাহু দারিস সা'আদাহ' গ্রন্থে তিনি বলেছেন: "এই পরিচ্ছেদ এবং এতে থাকা পুনরাবৃত্তিগুলোকে দীর্ঘ মনে করবেন না, যা অতিরিক্ত উপকারিতা বহন করে; কারণ এর আবশ্যকতা অত্যন্ত জরুরি এবং এর উপকারিতা অপরিসীম" (২/২০০)।

আমি এই উদাহরণগুলোতেই ক্ষান্ত হচ্ছি, যদিও এমন উদাহরণ অনেক রয়েছে। এই ভূমিকার পাঠকের প্রতি আমি নিজেও বলছি: এই পরিচ্ছেদটিকে দীর্ঘ মনে করবেন না। আমি মনে করেছিলাম যে, শায়খ বকর আবু যায়দ (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর 'ইবনুল কায়্যিম আল-জাওযিয়্যাহ' গ্রন্থে ইতিপূর্বে উল্লিখিত যে বিশ্লেষণ লিপিবদ্ধ করেছেন, তার ফলে ইবনুল কায়্যিমের প্রতি এই কিতাবের সম্বন্ধের বিষয়টি মীমাংসিত হয়ে গেছে। কিন্তু আমি দেখলাম যে, জ্ঞানান্বেষীদের একটি দল এখনও ইবনুল কায়্যিমের প্রতি এর সম্বন্ধের বিশুদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। মনে হচ্ছে সংশয়টি এখনও মানুষের মনে গেঁথে আছে, যদিও শায়খ বকরের কিতাবটি ত্রিশ বছরেরও বেশি সময় আগে প্রকাশিত হয়েছে, এরপর একাধিকবার পুনর্মুদ্রিত হয়েছে এবং পরবর্তীতে ড. বাসসাম আল-আমূশের সংস্করণ প্রকাশিত হয়ে কিতাবটির সম্বন্ধকে নিশ্চিত করেছে। এ কারণেই আমি এই আলোচনায় কিছুটা দীর্ঘসূত্রিতা করেছি, আর সামনের পরিচ্ছেদগুলোতে এমন কিছু আসবে যা একে সমর্থন ও সুদৃঢ় করবে।
(খণ্ড: ১) আর-রূহ - ইবনুল কাইয়্যিম - ত ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٢٦)
‌‌عنوان الكتاب

لم ينص ابن القيم في كتاب الروح على عنوانه، ولكنه أحال عليه بهذا الاسم في كتابه جلاء الأفهام (ص 557) كما سبق. وبه سماه المترجمون له كالحافظ ابن حجر والسيوطي وابن العماد وغيرهم. والناقلون منه ــ ومنهم تلميذه الحافظ ابن رجب، وشمس الدين المنبجي ــ وهم كُثْر، ذكروه بهذا الاسم أيضًا.

وهذا العنوان هو الوارد في مخطوطاته الكثيرة التي يبلغ عددها زهاء أربعين نسخة ما عدا مخطوطتين: إحداهما محفوظة في المكتب الهندي في لندن برقم (B 87) وصورتها في مركز الملك فيصل للبحوث والدراسات الإسلامية، وقد ورد عنوان الكتاب في أولها: "روح الأرواح" مع هذه الزيادة: "تحقيق أحوال ما بعد الموت والآخرة والبرزخ". وهو غلط منشؤه فيما يبدو الخلط بين ابن الجوزي وابن قيم الجوزية، فإن "روح الأرواح" كتاب لابن الجوزي في الوعظ، وهو مطبوع. ومن قبل ما خلط الوراقون بينهما فنسبوا بعض كتب ابن الجوزي إلى ابن قيم الجوزية(1).

أما المخطوطة الأخرى فهي نسخة الظاهرية التي هي أقدم نسخ الكتاب فيما نعلم، وقد اعتمدنا عليها في إعداد هذه النشرة. وقد ثبت فيها اسم الكتاب في صفحة العنوان هكذا:"كتاب الروح والنفس". وكتبت كلمة "النفس" بخط مائل.

--------------------------------------------

(1) انظر: ابن قيم الجوزية للشيخ بكر أبو زيد (26 - 27)، (202 - 208).

গ্রন্থের শিরোনাম

ইবনুল কাইয়্যিম তাঁর 'কিতাবুর রূহ' গ্রন্থে এর শিরোনাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি, তবে তিনি ইতিপূর্বে বর্ণিত তাঁর 'জালাউল আফহাম' (পৃষ্ঠা ৫৫৭) গ্রন্থে এই নামে এর উদ্ধৃতি দিয়েছেন। তাঁর জীবনীকারগণ, যেমন হাফিজ ইবনে হাজার, সুয়ূতী, ইবনুল ইমাদ এবং অন্যান্যরা একে এই নামেই অভিহিত করেছেন। গ্রন্থটি থেকে যারা উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন—যাদের মধ্যে তাঁর ছাত্র হাফিজ ইবনে রজব এবং শামসুদ্দীন আল-মানবিজী অন্যতম—তাঁরা সংখ্যায় অনেক এবং তাঁরাও একে এই নামেই উল্লেখ করেছেন।

এই শিরোনামটিই এর প্রায় চল্লিশটির মতো পাণ্ডুলিপিতে পাওয়া যায়, কেবল দুটি পাণ্ডুলিপি ব্যতীত। এর মধ্যে একটি লন্ডনের ইন্ডিয়া অফিসে (বি ৮৭) সংরক্ষিত রয়েছে এবং এর একটি অনুলিপি কিং ফয়সাল সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজে রক্ষিত আছে। সেই পাণ্ডুলিপির শুরুতে গ্রন্থটির নাম 'রূহুল আরওয়াহ' এবং এর সাথে 'তাহকীকে আহওয়ালি মা বা'দাল মাওত ওয়াল আখিরাহ ওয়াল বারযাখ' অতিরিক্ত অংশটুকু যুক্ত হয়েছে। এটি একটি ভুল, যার কারণ সম্ভবত ইবনুল জাওযী এবং ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওযিয়্যাহর মধ্যে নামগত বিভ্রান্তি। মূলত 'রূহুল আরওয়াহ' হলো ওয়ায ও নসীহত বিষয়ক ইবনুল জাওযীর একটি গ্রন্থ, যা মুদ্রিত আকারে পাওয়া যায়। ইতিপূর্বেও পাণ্ডুলিপি লেখকরা এই দুই ইমামের মধ্যে বিভ্রান্তি ঘটিয়েছেন এবং ইবনুল জাওযীর কিছু গ্রন্থকে ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওযিয়্যাহর নামে চালিয়ে দিয়েছেন(১)।

আর দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপিটি হলো যাহিরিয়া লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপি, যা আমাদের জানামতে এই গ্রন্থের প্রাচীনতম অনুলিপি এবং এই সংস্করণটি প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে আমরা এর ওপরই নির্ভর করেছি। এর শিরোনামের পাতায় গ্রন্থটির নাম এভাবে লিপিবদ্ধ আছে: "কিতাবুর রূহ ওয়ান নাফস"। এখানে "নাফস" শব্দটি বাঁকা অক্ষরে লেখা হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: শায়খ বকর আবু যায়িদ রচিত 'ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওযিয়্যাহ' (২৬ - ২৭), (২০২ - ২০৮)।

(খণ্ড: ১) আর-রূহ - ইবনুল কাইয়্যিম - ত ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٢٧)
وليس العنوان فيما أرى بخط ناسخ المخطوطة، ولا شك أن الذي كتبه لم يقرأ الكتاب كاملًا؛ فإن ابن القيم نفسه أحال فيها على كتاب آخر له كبير "في معرفة الروح والنفس"، فهذا الكتاب غيره لا محالة. ومن ثم علَّق بعض من قرأ هذه النسخة تحت العنوان المذكور بخط مائل أيضا: "قلت: الصواب ترك (والنفس)، فإن لمؤلف هذا الكتاب كتاب كبير (كذا) في معرفة الروح والنفس، أشار إليه في جواب المسألة الخامسة من هذا الكتاب. والله أعلم".

وهذا قاطع ــ كما ترى ــ في أن العنوان المكتوب في أول هذه النسخة خطأ صرف. ولعل كاتبه اجتهد في تسمية هذا الكتاب من عنده، إذ وجد النسخة غفلًا من العنوان، ورأى المؤلف قد خصص المسائل الثلاث الأخيرة لحقيقة النفس وما إليها، والمسألة الأولى منها مطولة جدًّا، فبدا له أن عنوان "الروح والنفس" أنسب لهذا الكتاب من عنوان "الروح"، وهو لا يعلم أصلًا أن للمؤلف كتابًا آخر كبيرًا بعنوان "الروح والنفس".

وهنا وقفتان:

الوقفة الأولى: أورد خير الدين الآلوسي (ت 1317) في كتابه جلاء العينين في محاكمة الأحمدين خمسة بحوث موجزة في الروح. الثاني منها في حقيقة الإنسان وقال: "إن المعول عليه عند المحققين قولان: الأول أنه عبارة عن جسم نوراني علوي … وقال المحقق ابن القيم في كتاب الروح إنه الصواب، وعليه دل الكتاب والسنة وإجماع الصحابة" إلخ (ص 168). وهذا كله منقول من روح المعاني لوالده. ولكن بعد أسطر لما ختم البحث قال: "ومن أراد الإحاطة بالأدلة والتفصيل فليرجع إلى كتب الإمام الرازي … وإلى كتاب الروح والنفس لابن القيم وروح المعاني وغيرها (ص 169).
আমার মতে শিরোনামটি পাণ্ডুলিপির অনুলিপিকারের হস্তাক্ষর নয় এবং এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, যিনি এটি লিখেছেন তিনি সম্পূর্ণ গ্রন্থটি পাঠ করেননি; কেননা ইবনুল কাইয়্যিম নিজেই এই গ্রন্থে তাঁর অন্য একটি বৃহৎ গ্রন্থ 'রুহ ও নফস পরিচিতি' সংক্রান্ত আলোচনার উদ্ধৃতি দিয়েছেন। সুতরাং এই গ্রন্থটি যে সেই বৃহৎ গ্রন্থটি নয়, তা নিশ্চিত। এ কারণেই এই অনুলিপিটি পাঠ করেছেন এমন জনৈক ব্যক্তি উল্লিখিত শিরোনামের নিচে বাঁকা অক্ষরে একটি টীকা যুক্ত করেছেন: "আমি বলছি: (ওয়ান নাফস) অংশটুকু বাদ দেওয়াটাই সঠিক, কারণ এই গ্রন্থের লেখকের 'রুহ ও নফস পরিচিতি' বিষয়ে একটি বৃহৎ গ্রন্থ রয়েছে, যার প্রতি তিনি এই গ্রন্থের পঞ্চম মাসআলার উত্তরে ইঙ্গিত করেছেন। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।"

আপনি যেমনটি দেখছেন, এটি অকাট্যভাবে প্রমাণ করে যে এই অনুলিপির শুরুতে লিখিত শিরোনামটি সম্পূর্ণ ভুল। সম্ভবত এর লেখক যখন পাণ্ডুলিপিটিতে কোনো শিরোনাম পাননি, তখন তিনি নিজ থেকেই এর নামকরণের প্রয়াস চালিয়েছেন। তিনি লক্ষ্য করেছেন যে লেখক শেষ তিনটি মাসআলা নফসের স্বরূপ ও তৎসংশ্লিষ্ট আলোচনার জন্য নির্ধারিত করেছেন এবং তার প্রথম মাসআলাটি বেশ দীর্ঘ। ফলে তাঁর কাছে মনে হয়েছে যে, এই গ্রন্থের জন্য 'আর-রুহ' শিরোনামের চেয়ে 'আর-রুহ ওয়ান নাফস' শিরোনামটিই অধিক উপযোগী; অথচ তিনি আদৌ জানতেন না যে লেখকের 'আর-রুহ ওয়ান নাফস' শিরোনামে পৃথক একটি বৃহৎ গ্রন্থ রয়েছে।

এখানে দুটি পর্যবেক্ষণ রয়েছে:

প্রথম পর্যবেক্ষণ: খায়রুদ্দিন আল-আলুসি (মৃত্যু ১৩১৭ হিজরি) তাঁর 'জালাউল আইনাইন ফি মুহাকামাতিল আহমাদাইন' গ্রন্থে রুহ সম্পর্কে পাঁচটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা উপস্থাপন করেছেন। তার মধ্যে দ্বিতীয়টি হলো মানুষের স্বরূপ প্রসঙ্গে, সেখানে তিনি বলেন: "গবেষকদের নিকট এই বিষয়ে নির্ভরযোগ্য মত দুটি: প্রথমটি হলো এটি একটি ঊর্ধ্বজাগতিক জ্যোতির্ময় সত্তা … এবং গবেষক ইবনুল কাইয়্যিম কিতাবুর রুহ-এ বলেছেন যে এটিই সঠিক মত এবং কুরআন, সুন্নাহ ও সাহাবায়ে কেরামের ইজমা এর সপক্ষেই প্রমাণ দেয়" ইত্যাদি (পৃষ্ঠা ১৬৮)। এর পুরোটাই তাঁর পিতার গ্রন্থ 'রুহুল মা’আনি' থেকে সংগৃহীত। কিন্তু কয়েক ছত্র পর যখন তিনি আলোচনা শেষ করলেন, তখন বললেন: "যারা এ সংক্রান্ত দলীল ও বিস্তারিত বিবরণ জানতে আগ্রহী তারা যেন ইমাম রাজির গ্রন্থসমূহ … এবং ইবনুল কাইয়্যিমের 'কিতাবুর রুহ ওয়ান নাফস' ও 'রুহুল মা’আনি'সহ অন্যান্য গ্রন্থের শরণাপন্ন হন" (পৃষ্ঠা ১৬৯)।
(খণ্ড: ১) আর-রূহ - ইবনুল কাইয়্যিম - ত ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٢٨)
ثم بعد صفحتين فقط تطرق إلى البحث الرابع في مستقر الأرواح، ونقل الأقوال المختلفة فيه من كتابنا هذا، ثم قال: "وإن أردت تفصيل أدلة هذه الأقوال فعليك بكتاب الروح لابن القيم عليه الرحمة" (ص 171) ثم نقل نصًّا منه.

فهل كان خير الدين رحمه الله يملك نسخة من كتاب الروح وأخرى من كتاب الروح والنفس، فكان يحيل مرة على هذه، وأخرى على تلك، إحالة مقصودة؟ لا أرى ذلك، وإنما هو من التسامح في تسمية الكتاب الذي بين أيدينا، وهو مصدر النقل، وهو المقصود بالإحالة في المواضع المذكورة.

الوقفة الثانية: ذكر الشيخ بكر أبو زيد رحمه الله في أثناء كلامه على كتاب الروح والنفس لابن القيم: "وذكره السفاريني في شرح الثلاثيات (1/ 584، 734) "(1).

قلت: يعني قول السفاريني في الموضعين: "وقال الإمام ابن القيم في كتابه (الروح الكبرى) ". وقد وصف ابن القيم كتاب الروح والنفس بأنه "كبير" فلما سمّاه السفاريني بالروح الكبرى دل ذلك على أنه قصد كتاب (الروح والنفس) ولتمييزه عن كتاب (الروح) وصفه بالكبر.

وأضيف هنا أن السفاريني في موضعين من كتابه غذاء الألباب أيضًا سماه بالروح الكبرى (1/ 360)، (2/ 173).

وقد تأملت المواضع الأربعة فلاحظت الأمور الآتية:

1) نقل في الموضع الأول (1/ 584) نصًّا قصيرًا من المسألة

--------------------------------------------

(1) ابن قيم الجوزية (ص 259).

এরপর মাত্র দুই পৃষ্ঠা পরেই তিনি রুহসমূহের আবাসস্থল সংক্রান্ত চতুর্থ আলোচনায় প্রবেশ করেন এবং আমাদের এই কিতাব থেকে এ সংক্রান্ত বিভিন্ন মত উদ্ধৃত করেন। এরপর তিনি বলেন: "আর আপনি যদি এই মতগুলোর দলিলের বিস্তারিত বিবরণ চান, তবে আপনার ইবনুল কায়্যিম—তাঁর ওপর রহমত বর্ষিত হোক—রচিত 'কিতাবুর রুহ' দেখা উচিত" (পৃ. ১৭১)। এরপর তিনি সেখান থেকে একটি পাঠ্যাংশ উদ্ধৃত করেন।

তবে খাইরুদ্দিন (রহ.)-এর কাছে কি 'কিতাবুর রুহ'-এর একটি অনুলিপি এবং 'কিতাবুর রুহ ওয়ান নাফস'-এর আরেকটি অনুলিপি ছিল, যার ফলে তিনি সচেতনভাবে কখনও এই কিতাবটির দিকে এবং কখনও অন্যটির দিকে উদ্ধৃতি প্রদান করতেন? আমি তেমনটি মনে করি না; বরং এটি আমাদের হাতের কাছে থাকা কিতাবটির নামকরণের ক্ষেত্রে শিথিলতা মাত্র, যা উদ্ধৃতির মূল উৎস এবং উল্লিখিত স্থানগুলোতে উদ্ধৃতি প্রদানের মাধ্যমে এটিকেই উদ্দেশ্য করা হয়েছে।

দ্বিতীয় পর্যবেক্ষণ: শায়খ বকর আবু যায়েদ (রহ.) ইবনুল কায়্যিমের 'কিতাবুর রুহ ওয়ান নাফস' সম্পর্কে আলোচনার এক পর্যায়ে উল্লেখ করেছেন: "আস-সাফারিনি 'শারহুস সুলাসিয়াত' (১/ ৫৮৪, ৭৩৪)-এ এটি উল্লেখ করেছেন"(১)।

আমি বলি: অর্থাৎ উভয় স্থানে সাফারিনির বক্তব্য হলো: "ইমাম ইবনুল কায়্যিম তাঁর 'আর-রুহুল কুবরা' নামক কিতাবে বলেছেন"। ইবনুল কায়্যিম 'কিতাবুর রুহ ওয়ান নাফস' কিতাবটিকে "বিশাল" হিসেবে অভিহিত করেছেন; সুতরাং সাফারিনি যখন একে 'আর-রুহুল কুবরা' নামে অভিহিত করেছেন, তখন তা একথাই প্রমাণ করে যে তিনি 'কিতাবুর রুহ ওয়ান নাফস' কিতাবটিকেই বুঝিয়েছেন এবং 'কিতাবুর রুহ' থেকে এটিকে পৃথক করার জন্য তিনি একে বৃহদাকার হিসেবে বিশেষিত করেছেন।

আমি এখানে আরও যোগ করতে চাই যে, সাফারিনি তাঁর 'গিযাউল আলবাব' কিতাবের দুটি স্থানেও একে 'আর-রুহুল কুবরা' নামে অভিহিত করেছেন (১/ ৩৬০), (২/ ১৭৩)।

আমি এই চারটি স্থান নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো লক্ষ্য করেছি:

১) তিনি প্রথম স্থানে (১/ ৫৮৪) মাসআলাটি থেকে একটি সংক্ষিপ্ত পাঠ্যাংশ উদ্ধৃত করেছেন

--------------------------------------------

(১) ইবনুল কায়্যিম আল-জাওযিয়্যাহ (পৃ. ২৫৯)।

(খণ্ড: ১) আর-রূহ - ইবনুল কাইয়্যিম - ত ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٢٩)
الملحقة بالمسألة السادسة، وهي: هل عذاب القبر على النفس أو البدن أو كليهما؟ ثم قال في الصفحة التالية (1/ 585): "قال ابن القيم في (الروح) ". ونقل نصًّا طويلًا من المسألة نفسها، فهل يعقل ــ إذا فرضنا أن السفاريني كان يملك نسخة من "الروح الصغرى" وأخرى من "الروح الكبرى" ــ أن ينقل أولًا نصًّا قصيرًا من (الكبرى) ثم ينقل بعده نصًّا آخر طويلًا من (الصغرى)؟ والنصّان من مسألة واحدة قد وردت في الصغرى، فما الذي ألجأه إلى التفريق بينهما في الإحالة؟

2) في الموضع الثاني بعد شرح الحديث الخامس والسبعين في الاستعاذة من عذاب القبر نبه السفاريني على أمرين: الأول أسباب عذاب القبر، ونقل المسألة التاسعة كاملًا إلا يسيرًا (1/ 734 - 737). ثم نقل تحت "التنبيه الثاني" نحو نصف المسألة العاشرة في المنجيات من عذاب القبر. ثم قال: "وقال ابن القيم في محل آخر من الروح" ونقل نصًّا من المسألة الرابعة عشرة في دوام عذاب القبر أو انقطاعه. فقوله في هذا النقل المتصل بالنقل السابق: "محل آخر من الروح" صريح في أن النقول الثلاثة كلها من كتاب واحد سماه في أولها "الروح الكبرى" وفي الثالث "الروح".

3) ويلاحظ أنه في الموضعين المذكورين سماه عند بداية النقل الأول بالروح الكبرى، ثم سماه بالروح.

4) أما في غذاء الألباب فنقل في الموضع الأول (1/ 360) نصًّا من فصل الفرق بين الرجاء والتمني، وفي الموضع الثاني (2/ 173) من فصل الفرق بين المهابة والكبر، ثم الفرق بين الصيانة والكبر. والفروق الثلاثة كلها من جملة الفروق الواردة في آخر كتاب الروح.
যা ষষ্ঠ মাসআলার (বিষয়ের) সাথে সংযুক্ত, আর তা হলো: কবরের আযাব কি আত্মার ওপর হয়, নাকি দেহের ওপর, নাকি উভয়টির ওপর? অতঃপর তিনি পরবর্তী পৃষ্ঠায় (১/৫৮৫) বলেন: "ইবনে আল-কাইয়্যিম (আর-রুহ) গ্রন্থে বলেছেন।" এবং তিনি উক্ত মাসআলা থেকেই একটি দীর্ঘ পাঠ উদ্ধৃত করেছেন। সুতরাং এটি কি যুক্তিযুক্ত—যদি আমরা ধরে নেই যে সাফারিনির নিকট "আর-রুহ আল-সুগরা" (ছোট রুহ) এবং "আর-রুহ আল-কুবরা" (বড় রুহ) এর দুটি পৃথক পাণ্ডুলিপি ছিল—যে তিনি প্রথমে "আল-কুবরা" থেকে একটি সংক্ষিপ্ত পাঠ উদ্ধৃত করবেন এবং এরপর "আল-সুগরা" থেকে আরেকটি দীর্ঘ পাঠ উদ্ধৃত করবেন? অথচ উভয় পাঠই একই মাসআলা সংক্রান্ত যা 'আল-সুগরা' তে বিদ্যমান ছিল, তবে উদ্ধৃতি প্রদানের ক্ষেত্রে তাকে এই পার্থক্যের দিকে কেন ধাবিত হতে হলো?

২) দ্বিতীয় স্থানে, কবরের আযাব থেকে আশ্রয় প্রার্থনা সংক্রান্ত পঁচাত্তরতম হাদিসের ব্যাখ্যার পর সাফারিনি দুটি বিষয়ে আলোকপাত করেছেন: প্রথমটি হলো কবরের আযাবের কারণসমূহ, যেখানে তিনি সামান্য অংশ ব্যতীত নবম মাসআলাটি সম্পূর্ণ উদ্ধৃত করেছেন (১/ ৭৩৪-৭৩৭)। অতঃপর তিনি "দ্বিতীয় সতর্কতা" শিরোনামের অধীনে কবরের আযাব থেকে মুক্তিদানকারী বিষয়সমূহ সংক্রান্ত দশম মাসআলার প্রায় অর্ধেক উদ্ধৃত করেছেন। এরপর তিনি বলেন: "ইবনে আল-কাইয়্যিম 'আর-রুহ' গ্রন্থের অন্য এক স্থানে বলেছেন" এবং কবরের আযাব স্থায়ী হওয়া বা বিচ্ছিন্ন হওয়া সংক্রান্ত চতুর্দশ মাসআলা থেকে একটি পাঠ উদ্ধৃত করেছেন। পূর্ববর্তী উদ্ধৃতির সাথে সংশ্লিষ্ট এই উদ্ধৃতিতে তার উক্তি: "'আর-রুহ' গ্রন্থের অন্য এক স্থান" এটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, এই তিনটি উদ্ধৃতিই মূলত একটি গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে, যার শুরুতে তিনি "আর-রুহ আল-কুবরা" এবং তৃতীয়টির ক্ষেত্রে "আর-রুহ" নাম উল্লেখ করেছেন।

৩) লক্ষ্যণীয় যে, উল্লিখিত উভয় স্থানেই তিনি প্রথম উদ্ধৃতির শুরুতে একে "আর-রুহ আল-কুবরা" বলেছেন, অতঃপর একে "আর-রুহ" হিসেবে অভিহিত করেছেন।

৪) পক্ষান্তরে 'গিজাউল আলবাব' গ্রন্থে তিনি প্রথম স্থানে (১/ ৩৬০) আশা (রাজা) এবং কামনার (তামান্নি) পার্থক্যের পরিচ্ছেদ থেকে একটি পাঠ উদ্ধৃত করেছেন এবং দ্বিতীয় স্থানে (২/ ১৭৩) গাম্ভীর্য (মাহাবাহ) ও অহংকারের (কিবর) পার্থক্য, অতঃপর আত্মমর্যাদা রক্ষা (সিয়ানাহ) ও অহংকারের পার্থক্যের পরিচ্ছেদ থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন। এই তিনটি পার্থক্যই 'আর-রুহ' গ্রন্থের শেষে বর্ণিত পার্থক্যসমূহের অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১) আর-রূহ - ইবনুল কাইয়্যিম - ত ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٣٠)
فالذي يظهر لي ــ والله أعلم ــ أن النصوص المذكورة مثل نصوص أخرى كثيرة نقلها السفاريني جميعًا من كتاب الروح هذا، وإنما سماه بالروح الكبرى في المواضع الأربعة تعظيمًا لها وتنويها بأهميته.

أما كتاب الروح والنفس الذي ذكره ابن القيم في جلاء الأفهام ومفتاح دار السعادة، ووصفه في كتاب الروح بأنه كبير، فلم نقف له على ذكر أو نقل منه في المصادر.
সুতরাং আমার নিকট যা প্রতীয়মান হয়—এবং আল্লাহই সর্বজ্ঞ—তা হলো, উল্লিখিত উদ্ধৃতিসমূহ এবং আস-সাফারিনি কর্তৃক সংগৃহীত আরও অসংখ্য পাঠ্যাংশ মূলত এই 'কিতাবুর রুহ' থেকেই গৃহীত। তিনি যে চারটি স্থানে একে 'আর-রুহুল কুবরা' হিসেবে অভিহিত করেছেন, তা গ্রন্থটির মাহাত্ম্য তুলে ধরা এবং এর গুরুত্বের প্রতি ইঙ্গিত প্রদানের জন্যই করেছেন।

পক্ষান্তরে, 'কিতাবুর রুহ ওয়ান নাফস' নামক যে গ্রন্থটির কথা ইবনুল কাইয়্যিম 'জালাউল আফহাম' এবং 'মিফতাহু দারিস সাআদাহ' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং 'কিতাবুর রুহ' গ্রন্থে সেটিকে একটি বৃহৎ কলেবরের কাজ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, অন্যান্য উৎসগ্রন্থে আমরা তার কোনো উল্লেখ বা সেখান থেকে কোনো উদ্ধৃতি খুঁজে পাইনি।
(খণ্ড: ১) আর-রূহ - ইবনুল কাইয়্যিম - ত ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٣١)
‌‌زمن تأليف الكتاب

سبق في الفصل الأول أن الشيخ الألباني رحمه الله ذكر احتمالًا، إن صحت نسبة الكتاب إلى ابن القيم، وهو أن يكون قد ألَّفه في بداية الطلب، يعني قبل اتصاله بشيخ الإسلام ابن تيمية وتأثره بفكره ومنهجه.

وقد ردَّ الشيخ بكر أبو زيد رحمه الله هذا الاحتمال بأن ابن القيم ذكر فيه شيخ الإسلام في نحو عشرة مواضع مستشهدًا بأقواله وذاكرًا لاختياراته على عادته المألوفة في عامة مؤلفاته(1). وفي أول موضع منها قال:

"وقد حدثني غير واحد ممن كان غير مائل إلى شيخ الإسلام ابن تيمية أنه رآه بعد موته وسأله عن شيء كان يشكل عليه من مسائل الفرائض وغيرها فأجابه بالصواب" (ص 96).

وهذا قاطع بأن كتاب الروح أُلِّف بعد وفاة شيخ الإسلام سنة 728.

ويؤيد هذا أن ابن القيم نقل في المسألة السابعة من الكتاب حكاية فقال: "وحدثني صاحبنا أبو عبد الله محمد بن منتاب السلامي، وكان من خيار عباد الله، وكان يتحرى الصدق … " (ص 200). وقد توفي ابن منتاب أيضًا سنة 728(2).

وقد نقل ابن القيم في المسألة التاسعة عشرة حكاية حدثه إياها القاضي نور الدين بن الصائغ. وقد ورد بعد اسمه في النسختين (ب، ط): "رحمه

--------------------------------------------

(1) ابن قيم الجوزية (ص 256).

(2) انظر ترجمته في أعيان العصر (4/ 437) والدرر الكامنة (3/ 437).

‌‌গ্রন্থ রচনার সময়কাল

প্রথম পরিচ্ছেদে ইতঃপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শায়খ আলবানী (রহিমাহুল্লাহ) একটি সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছেন—যদি ইবনুল কায়্যিমের প্রতি গ্রন্থটির সম্বন্ধ সঠিক হয়—তাহলে হতে পারে তিনি এটি তাঁর জ্ঞান অর্জনের শুরুর দিকে রচনা করেছেন, অর্থাৎ শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যার সাথে তাঁর সংযোগ ঘটার এবং তাঁর চিন্তা ও মানহাজ দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার পূর্বে।

শায়খ বকর আবু যায়েদ (রহিমাহুল্লাহ) এই সম্ভাবনাকে এই বলে নাকচ করে দিয়েছেন যে, ইবনুল কায়্যিম এই গ্রন্থে প্রায় দশটি স্থানে শায়খুল ইসলামের নাম উল্লেখ করে তাঁর উক্তি দ্বারা দলিল পেশ করেছেন এবং তাঁর অন্যান্য রচনার স্বাভাবিক অভ্যাসের ন্যায় এখানেও তাঁর পছন্দসমূহ (ইখতিয়ারাত) উল্লেখ করেছেন(১)। প্রথম স্থানে তিনি বলেছেন:

"শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যার প্রতি অনুরাগী ছিলেন না এমন একাধিক ব্যক্তি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁরা তাঁকে তাঁর মৃত্যুর পর স্বপ্নে দেখেছেন এবং ফারায়েজ (উত্তরাধিকার আইন) ও অন্যান্য মাসআলার মধ্য থেকে যা তাঁদের কাছে অস্পষ্ট ছিল সে সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছেন, আর তিনি সঠিক উত্তর প্রদান করেছেন" (পৃ. ৯৬)।

এটি অকাট্যভাবে প্রমাণ করে যে, 'কিতাবুর রূহ' শায়খুল ইসলামের মৃত্যুর পর অর্থাৎ ৭২৮ হিজরির পরে রচিত হয়েছে।

এর সমর্থনে আরও পাওয়া যায় যে, ইবনুল কায়্যিম গ্রন্থের সপ্তম মাসআলায় একটি ঘটনা বর্ণনা করে বলেছেন: "আমাদের সাথী আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন মুনতাব আস-সালামী আমাকে বর্ণনা করেছেন, যিনি আল্লাহর উত্তম বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং সর্বদা সত্য অনুসন্ধানে সচেষ্ট থাকতেন … " (পৃ. ২০০)। ইবনে মুনতাবও ৭২৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেছেন(২)।

ইবনুল কায়্যিম উনিশতম মাসআলায় কাজী নূরুদ্দীন বিন আস-সায়িগ বর্ণিত একটি ঘটনা উল্লেখ করেছেন। উভয় পাণ্ডুলিপিতে (বা ও তা) তাঁর নামের পর এসেছে: "রাহিমাহুল্লাহ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)

--------------------------------------------

(১) ইবনুল কায়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ (পৃ. ২৫৬)।

(২) তাঁর জীবনী দেখুন: আ’য়ানুল আসর (৪/৪৩৭) এবং আদ-দুরারুল কামিনাহ (৩/৪৩৭)।

(খণ্ড: ১) আর-রূহ - ইবনুল কাইয়্যিম - ত ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٣٢)
الله". فإن صح هذا كان تأليف كتاب الروح بعد وفاة القاضي في الطاعون سنة 749. ولكن لا سبيل إلى تصويب ما ورد في النسختين المذكورتين.

بل ثمة قرينة أخرى تشير إلى أن الكتاب ألف قبل سنة 740. وذلك أن كتاب ابن القيم في السماع أُلِّف جوابًا عن استفتاء كان سنة 740 كما ورد النص على ذلك في الكتاب (ص 87). وذكر فيه المؤلف من كتبه زاد المعاد (ص 202). ومن الكتب المذكورة في الزاد: جلاء الأفهام (1/ 87، 93). وفي جلاء الأفهام أحال المصنف على كتاب الروح وقال: "وقد استوفيت الكلام على هذا الحديث وأمثاله في كتاب الروح" (ص 557).

فيمكن القول بأن كتاب الروح أُلِّف قبل جلاء الأفهام، وزاد المعاد، وكتاب السماع، ما بين عامي (728) و (740).
আল্লাহ।" যদি এটি সঠিক হয়, তবে 'কিতাবুর রুহ' গ্রন্থটি ৭৪৯ হিজরিতে প্লেগ মহামারীতে কাজীর মৃত্যুর পর রচিত হয়েছিল। কিন্তু উল্লিখিত পাণ্ডুলিপি দুটিতে যা বর্ণিত হয়েছে, তা সংশোধন করার কোনো উপায় নেই।

বরং এমন আরও কিছু প্রমাণ বা ইঙ্গিত রয়েছে যা নির্দেশ করে যে, গ্রন্থটি ৭৪০ হিজরির পূর্বেই রচিত হয়েছিল। আর তা হলো এই যে, ইবনুল কাইয়্যিমের 'আস-সামা' গ্রন্থটি ৭৪০ হিজরির একটি ফতোয়ার উত্তর হিসেবে রচিত হয়েছিল, যেমনটি উক্ত গ্রন্থে (পৃষ্ঠা ৮৭) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে লেখক তাঁর অন্যান্য গ্রন্থের মধ্যে 'যাদুল মা’আদ' (পৃষ্ঠা ২০২)-এর কথা উল্লেখ করেছেন। আবার 'যাদুল মা’আদ'-এ উল্লিখিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছে 'জালাউল আফহাম' (১/ ৮৭, ৯৩)। আর 'জালাউল আফহাম' গ্রন্থে লেখক 'কিতাবুর রুহ'-এর উদ্ধৃতি দিয়েছেন এবং বলেছেন: "আমি এই হাদিস এবং এর সমজাতীয় হাদিসগুলোর উপর বিস্তারিত আলোচনা 'কিতাবুর রুহ'-এ পূর্ণাঙ্গভাবে করেছি" (পৃষ্ঠা ৫৫৭)।

সুতরাং বলা যেতে পারে যে, 'কিতাবুর রুহ' গ্রন্থটি 'জালাউল আফহাম', 'যাদুল মা’আদ' এবং 'কিতাবুস সামা' রচনার পূর্বে, ৭২৮ থেকে ৭৪০ হিজরির মধ্যবর্তী সময়ে রচিত হয়েছিল।