(খণ্ড: ১) আল-হাদাইক ফিল মাতালিবিল আলিয়াহ আল-ফালসাফিয়্যাহ আল-আইসাহ (পৃষ্ঠা: -)
الحدائق في المطالب العالية الفلسفية العويصة   (ابن السيد البطليوسي)

القسم: العقيدة


الكتاب: الحدائق في المطالب العالية الفلسفية العويصة

المؤلف: أبو محمد عبد الله بن محمد بن السيد البطليوسي (ت 521هـ)

المحقق: محمد رضوان الداية

الناشر: دار الفكر - دمشق - سورية

الطبعة: الأولى، 1408هـ - 1988م

عدد الصفحات: 134

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

উচ্চাঙ্গের ও জটিল দার্শনিক বিষয়াবলি সংক্রান্ত কাননসমূহ   (ইবনে আস-সাইয়িদ আল-বাতালইউসি)

বিভাগ: আকিদাহ


গ্রন্থ: আল-হাদাইক ফি আল-মাতালিব আল-আলিয়াহ আল-ফালসাফিয়্যাহ আল-আউয়িসাহ (উচ্চাঙ্গের ও জটিল দার্শনিক বিষয়াবলি সংক্রান্ত কাননসমূহ)

লেখক: আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আস-সাইয়িদ আল-বাতালইউসি (মৃত্যু ৫২১ হিজরি)

সম্পাদক: মুহাম্মদ রিজওয়ান আদ-দায়াহ

প্রকাশক: দারুল ফিকর - দামেস্ক - সিরিয়া

সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৮ হিজরি - ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৩৪

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-হাদাইক ফিল মাতালিবিল আলিয়াহ আল-ফালসাফিয়্যাহ আল-আইসাহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم

 

‌‌وَهُوَ حسبي

 

قَالَ عبد الله بن مُحَمَّد بن السَّيِّد البطليوسي رَحْمَة الله عَلَيْهِ سَأَلتنِي أبان الله لَك الخفيات وعصمك من الشُّبُهَات وأمدك بِنور من الْعقل يجلو عَن عين بصيرتك ظلم الْجَهْل حَتَّى ترى بِعَين لبك مَرَاتِب المعقولات كَمَا رَأَيْت بِعَين جسمك مَرَاتِب المحسوسات عَن معنى قَول الْحُكَمَاء إِن تَرْتِيب الموجودات عَن السَّبَب الأول يَحْكِي دَائِرَة وهمية تبدأ من نقطة وَترجع إِلَيْهَا ومرجعها فِي صُورَة الْإِنْسَان

وَعَن قَوْلهم إِن الْإِنْسَان تبلغ ذَاته بعد مماته إِلَى حَيْثُ يبلغ علمه فِي حَيَاته وَإِن علمه يَحْكِي أَيْضا دَائِرَة وهمية

وَعَن قَوْلهم إِن فِي قُوَّة الْعقل الجزئي أَن يتَصَوَّر بِصُورَة الْعقل الْكُلِّي

وَعَن قَوْلهم إِن الْعدَد دَائِرَة وهمية كدائرة الْآحَاد والعشرات ودائرة المئات ودائرة الألوف
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট।

 

আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল সাইয়্যেদ আল-বাতালইউসি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেছেন: আপনি আমার কাছে জানতে চেয়েছেন—আল্লাহ আপনার নিকট নিগূঢ় রহস্যসমূহ উন্মোচিত করুন, আপনাকে সংশয় থেকে রক্ষা করুন এবং আপনাকে বুদ্ধিবৃত্তিক এমন জ্যোতি দ্বারা সমৃদ্ধ করুন যা আপনার প্রজ্ঞার চক্ষু থেকে অজ্ঞতার অন্ধকার দূরীভূত করে দেয়, যাতে আপনি আপনার মেধার চক্ষু দ্বারা বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়সমূহের স্তরবিন্যাস সেভাবে প্রত্যক্ষ করতে পারেন যেভাবে আপনি আপনার চর্মচক্ষু দ্বারা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়সমূহের স্তরবিন্যাস প্রত্যক্ষ করেন—প্রজ্ঞাবানদের এই উক্তির মর্মার্থ সম্পর্কে যে, 'প্রথম কারণ থেকে অস্তিত্বশীল বস্তুসমূহের বিন্যাস একটি কাল্পনিক বৃত্তের সদৃশ যা একটি বিন্দু থেকে শুরু হয় এবং পুনরায় সেখানেই ফিরে আসে, আর মানুষের অবয়বই হলো এর আবর্তনস্থল'।

এবং তাঁদের এই উক্তি সম্পর্কে যে, 'মানুষের সত্তা তার মৃত্যুর পর সেই স্তরে উপনীত হয় যেখানে তার জ্ঞান তার পার্থিব জীবনে পৌঁছেছিল এবং তার জ্ঞানও একটি কাল্পনিক বৃত্তের সদৃশ'।

এবং তাঁদের এই উক্তি সম্পর্কে যে, 'আংশিক বুদ্ধিবৃত্তির ক্ষমতায় রয়েছে মহাবিশ্বজনীন বুদ্ধিবৃত্তির রূপ ধারণ করা'।

এবং তাঁদের এই উক্তি সম্পর্কে যে, 'সংখ্যা হলো একটি কাল্পনিক বৃত্ত, যেমন এককের বৃত্ত, দশকের বৃত্ত, শতকের বৃত্ত এবং হাজারের বৃত্ত'।
(খণ্ড: ১) আল-হাদাইক ফিল মাতালিবিল আলিয়াহ আল-ফালসাফিয়্যাহ আল-আইসাহ (পৃষ্ঠা: ৩৪)
وَعَن قَوْلهم إِن صِفَات الْبَارِي تَعَالَى لَا يَصح أَن يُوصف بهَا إِلَّا عَن طَرِيق السَّلب

وَعَن قَوْلهم إِن البارئ تَعَالَى لَا يعرف إِلَّا نَفسه

وَمَا الْبُرْهَان على بَقَاء النَّفس الناطقة بعد الْمَوْت

وَهَذِه أعزّك الله مطَالب ضيقَة المسالك وَكَثِيرًا مَا تُفْضِي بسالكها إِلَى المهالك وسأقول فِيهَا بِمَا انْتهى اليه علمي وأحاط بِهِ فهمي

وَبِاللَّهِ أَعْتَصِم من الْخَطَأ والزلل وإياه أسأَل التَّوْفِيق إِلَى الصَّوَاب من القَوْل وَالْعَمَل لَا رب غَيره
এবং তাদের এ উক্তি প্রসঙ্গে যে, মহান স্রষ্টার গুণাবলিকে নেতিবাচক পদ্ধতি (সালাব) ব্যতিরেকে বিশেষিত করা সঠিক নয়

এবং তাদের এ উক্তি প্রসঙ্গে যে, মহান স্রষ্টা কেবল নিজেকেই জানেন

আর মৃত্যুর পর প্রজ্ঞাবান আত্মার অবশিষ্ট থাকার প্রমাণ কী

আল্লাহ আপনাকে সম্মানিত করুন, এগুলো অত্যন্ত সংকীর্ণ পথবিশিষ্ট বিষয় এবং প্রায়শই এর পথিককে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়; আমি এ বিষয়ে তা-ই বলব যা আমার জ্ঞান ও উপলব্ধির সীমানায় এসেছে

আমি ভুল ও বিচ্যুতি থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি এবং তাঁর নিকটই কথা ও কাজে সঠিকতার তাওফিক কামনা করছি; তিনি ব্যতীত আর কোনো প্রতিপালক নেই।
(খণ্ড: ১) আল-হাদাইক ফিল মাতালিবিল আলিয়াহ আল-ফালসাফিয়্যাহ আল-আইসাহ (পৃষ্ঠা: ৩৫)
الْبَاب الأول فِي شرح قَوْلهم إِن تَرْتِيب الموجودات عَن السَّبَب الأول يَحْكِي دَائِرَة وهمية مرجعها إِلَى مبدئها فِي صُورَة الْإِنْسَان

 

أَقُول وَبِاللَّهِ أَعْتَصِم مخبرا عَن أغراضهم ومقاصدهم وَإِن كنت اسْتعْملت على جِهَة التَّقْرِيب ألفاظا غير ألفاظهم إِن البارئ تَعَالَى وَهُوَ الَّذِي يسمونه السَّبَب الأول وَالْعلَّة الأولى وَعلة الْعِلَل لما كَانَ هُوَ الَّذِي أَفَاضَ الموجودات وَأعْطى كل مَوْجُود مِنْهَا قسطه من الْوُجُود وَلم 0 يجز فِي الْحِكْمَة أَن تكون كلهَا فِي مرتبَة وَاحِدَة صَار بَعْضهَا أرفع من بعض وَبَعضهَا أحط من بعض وَصَارَ وجود أقربها مرتبَة مِنْهُ وساطة لوُجُود أبعدها فَلَا يُوجد أبعدها مِنْهُ إِلَّا بِوُجُود أقربها مِنْهُ وتوسطه

وَلست أُرِيد بِذكر الْقرب والبعد إِثْبَات مَكَان لِأَن البارئ
প্রথম অধ্যায়: বিদ্যমান বস্তুসমূহের বিন্যাস 'প্রথম কারণ' থেকে উদ্ভূত হয়ে একটি কাল্পনিক বৃত্ত তৈরি করে, যার প্রত্যাবর্তন তার আদি উৎসে মানুষের আকৃতিতে—এ কথার ব্যাখ্যায়।

 

আমি বলছি—এবং আমি আল্লাহর কাছেই আশ্রয় প্রার্থনা করছি—তাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে সংবাদ দিতে গিয়ে, যদিও আমি বিষয়টিকে সহজবোধ্য করার অভিপ্রায়ে তাদের ব্যবহৃত শব্দের পরিবর্তে অন্য শব্দ ব্যবহার করেছি। নিশ্চয়ই মহান স্রষ্টা—যাঁকে তারা 'প্রথম কারণ', 'আদি কার্যকারণ' এবং 'সকল কারণের মূল কারণ' বলে অভিহিত করে—যেহেতু তিনিই বিদ্যমান বস্তুসমূহকে নিঃসৃত করেছেন এবং প্রতিটি বিদ্যমান বস্তুকে তার অস্তিত্বের নির্ধারিত অংশ প্রদান করেছেন; আর প্রজ্ঞার দাবি অনুযায়ী যেহেতু এ সকল অস্তিত্ব একই স্তরে থাকা সম্ভব ছিল না, তাই তাদের কতক কতক অপেক্ষা উচ্চতর এবং কতক কতক নিম্নতর হয়েছে। আর তাঁর নিকটবর্তী স্তরের অস্তিত্ব দূরবর্তী স্তরের অস্তিত্বের জন্য মাধ্যম হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে; ফলে নিকটবর্তীর অস্তিত্ব ও তার মধ্যস্থতা ব্যতীত তাঁর থেকে দূরবর্তী কোনো কিছুর অস্তিত্ব পাওয়া সম্ভব নয়।

আর আমি নিকটবর্তী ও দূরবর্তী শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে কোনো স্থান সাব্যস্ত করতে চাচ্ছি না, কারণ স্রষ্টা...
(খণ্ড: ১) আল-হাদাইক ফিল মাতালিবিল আলিয়াহ আল-ফালসাফিয়্যাহ আল-আইসাহ (পৃষ্ঠা: ৩৬)
عز وَجل لَا يُوصف بِالْمَكَانِ وَلَا بِالزَّمَانِ وَكَذَلِكَ كل مَعْقُول لَا مَادَّة لَهُ وَإِنَّمَا أُرِيد بِذكر الْقرب والبعد مراتبها فِي الْوُجُود

وَأقرب مَا يمثل بِهِ وجود الموجودات عَنهُ تَعَالَى وجود الْأَعْدَاد عَن الْوَاحِد وَإِن كَانَ البارئ تَعَالَى لَا يجوز أَن يشبه بِشَيْء وَكَذَلِكَ صِفَاته وأفعاله وَلكنه على جِهَة التَّقْرِيب فَكَمَا أَن الثَّلَاثَة لَا تُوجد عَن الْوَاحِد إِلَّا بتوسط وجود الِاثْنَيْنِ كَذَلِك الْأَرْبَعَة لَا تُوجد إِلَّا بتوسط وجود الثَّلَاثَة والاثنين وَلَا تُوجد الْخَمْسَة إِلَّا بتوسط وجود الْأَرْبَعَة وَالثَّلَاثَة والاثنين وَكَذَلِكَ سَائِر الْأَعْدَاد

وَلِهَذَا صَار وجود كل وَاحِد عِلّة لوُجُود مَا بعده مَعَ كَون الْوَاحِد عِلّة لوُجُود جَمِيعهَا إِذْ كَانَ لَا يَصح وجود الْأَبْعَد إِلَّا بوساطة وجود الْأَقْرَب فَكَذَلِك يمثل بالتقريب وجود الموجودات عَن البارئ تَعَالَى لَا على الْحَقِيقَة

وَمَعْلُوم أَن الشَّيْء لَا يشبه بِغَيْرِهِ من جَمِيع جهاته إِنَّمَا يشبه بِهِ فِي بعض مَعَانِيه وَصِفَاته فَلَمَّا كَانَ وجود الموجودات عَنهُ تَعَالَى على هَذِه
মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহ স্থান বা কাল দ্বারা বিশেষিত হন না, এবং তেমনিভাবে এমন প্রতিটি বুদ্ধিগ্রাহ্য সত্তা যার কোনো বস্তুগত উপাদান নেই। আর নৈকট্য ও দূরত্বের আলোচনার মাধ্যমে কেবল অস্তিত্বের ক্ষেত্রে তাদের স্তরের কথা উদ্দেশ্য করা হয়েছে।

আল্লাহ তাআলা হতে বিদ্যমান বস্তুসমূহের অস্তিত্বলাভের ক্ষেত্রে সবচাইতে নিকটবর্তী উদাহরণ হলো এক (১) থেকে সংখ্যাসমূহের অস্তিত্ব লাভ। যদিও স্রষ্টা তাআলাকে কোনো কিছুর সাথে তুলনা করা বৈধ নয়, এবং তেমনিভাবে তাঁর গুণাবলি ও কার্যাবলিকেও নয়; তবে এটি কেবল বিষয়টিকে নিকটবর্তী করার (বোঝানোর) উদ্দেশ্যে। সুতরাং, যেভাবে এক থেকে তিনের অস্তিত্ব পাওয়া যায় না দুইয়ের অস্তিত্বের মাধ্যম ছাড়া, তেমনিভাবে তিন ও দুইয়ের অস্তিত্বের মাধ্যম ছাড়া চারের অস্তিত্ব পাওয়া যায় না, এবং চার, তিন ও দুইয়ের অস্তিত্বের মাধ্যম ছাড়া পাঁচের অস্তিত্ব পাওয়া যায় না। অন্যান্য সকল সংখ্যার ক্ষেত্রেও বিষয়টি একই রকম।

এই কারণেই, প্রতিটি সংখ্যার অস্তিত্ব তার পরবর্তী সংখ্যার অস্তিত্বের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, অথচ 'এক' হলো এই সবগুলোর অস্তিত্বের মূল কারণ। যেহেতু নিকটবর্তীর অস্তিত্বের মাধ্যম ছাড়া দূরবর্তীর অস্তিত্ব সম্ভব নয়, তাই স্রষ্টা তাআলা হতে বিদ্যমান বস্তুসমূহের অস্তিত্বলাভকে নিছক উদাহরণের খাতিরে এভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, প্রকৃত বাস্তবতা হিসেবে নয়।

এটি সুবিদিত যে, কোনো বস্তুকে অন্য কোনো বস্তুর সাথে তার সকল দিক থেকে তুলনা করা হয় না, বরং কেবল কিছু অর্থ ও বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রে তুলনা করা হয়। সুতরাং যখন আল্লাহ তাআলা হতে বিদ্যমান বস্তুসমূহের অস্তিত্বের বিষয়টি এই প্রকারের হলো...
(খণ্ড: ১) আল-হাদাইক ফিল মাতালিবিল আলিয়াহ আল-ফালসাফিয়্যাহ আল-আইসাহ (পৃষ্ঠা: ৩৭)
الصّفة كَانَ كَمَال كل مَوْجُود على قدر مرتبته مِنْهُ فِي الْوُجُود فَكَانَ أكملها وجودا وأقلها نقصا الْمَوْجُود الَّذِي هُوَ فِي مرتبَة الِاثْنَيْنِ تمثيلا وتقريبا لما قدمْنَاهُ من الْعدَد فِي ذَلِك ثمَّ الثَّالِث أنقص من الثَّانِي ثمَّ الرَّابِع أنقص من الثَّالِث وَهَكَذَا لم تزل الموجودات تنقص مرتبَة مرتبَة على قدر بعْدهَا من الْمرتبَة الأولى حَتَّى انْتَهَت إِلَى أنقصها مرتبَة الَّذِي لَا أنقص مِنْهُ إِذْ كَانَت مَرَاتِب الموجودات متناهية وَكَانَ إِثْبَات مَالا نِهَايَة لَهُ بِالْفِعْلِ من الْمحَال وَإِنَّمَا يَصح إثْبَاته بِالْقُوَّةِ والإمكان ثمَّ تنعكس الموجودات متصاعدة من أدناها مرتبَة إِلَى أَعْلَاهَا إِلَى أَن تَنْتَهِي إِلَى أكمل الْمَرَاتِب الَّتِي جعل لَهَا بالطبع أَن تبلغها وتسلك فِي تصاعدها المسلك الَّذِي سلكته فِي تسافلها أَعنِي أَنَّهَا لَا تصعد إِلَى الْمرتبَة الثَّانِيَة إِلَى بعد الأولى وَلَا الرَّابِعَة إِلَّا بعد الثَّالِثَة

وَبَيَان ذَلِك أَن البارئ تَعَالَى لَهُ الْمرتبَة الأولى من الْوُجُود وَهُوَ متوحد بِوُجُودِهِ لَا يشركهُ فِي وجوده شَيْء كَمَا لَا يشركهُ فِي شَيْء من صِفَاته
গুণ বা বৈশিষ্ট্য হলো, প্রতিটি বিদ্যমান সত্তার পূর্ণতা অস্তিত্বের ক্ষেত্রে তার স্তরের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে। ফলে অস্তিত্বের দিক থেকে সবচেয়ে পূর্ণ এবং ত্রুটির দিক থেকে সবচেয়ে কম হলো সেই বিদ্যমান সত্তা যা সংখ্যার উদাহরণের মাধ্যমে আমাদের পূর্বোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে দ্বিতীয় স্তরে রয়েছে। অতঃপর তৃতীয়টি দ্বিতীয়টির তুলনায় ত্রুটিপূর্ণ, এরপর চতুর্থটি তৃতীয়টির তুলনায় অধিক ত্রুটিপূর্ণ। এভাবে বিদ্যমান বস্তুসমূহ প্রথম স্তর থেকে তাদের দূরত্বের অনুপাতে স্তরে স্তরে ত্রুটিযুক্ত হতে থাকে, যতক্ষণ না তা সবচেয়ে ত্রুটিপূর্ণ স্তরে গিয়ে পৌঁছায়, যার নিচে আর কোনো ত্রুটিপূর্ণ স্তর নেই। যেহেতু বিদ্যমান সত্তাসমূহের স্তরগুলো সসীম, আর যা প্রকৃতপক্ষে অসীম তার অস্তিত্ব প্রমাণ করা অসম্ভব; বরং তা কেবল সম্ভাবনা ও সামর্থ্যের প্রেক্ষিতে প্রমাণ করা বৈধ। অতঃপর বিদ্যমান সত্তাসমূহ তাদের সর্বনিম্ন স্তর থেকে সর্বোচ্চ স্তরের দিকে বিপরীতমুখীভাবে আরোহণ করে, যতক্ষণ না তারা সেই পূর্ণতম স্তরে পৌঁছায় যা প্রকৃতিগতভাবে তাদের জন্য পৌঁছানো সাব্যস্ত করা হয়েছে। আর তারা তাদের আরোহণের ক্ষেত্রে সেই পথই অনুসরণ করে যা তারা তাদের অবরোহণের সময় অনুসরণ করেছিল; অর্থাৎ প্রথম স্তরের পর ছাড়া তারা দ্বিতীয় স্তরে আরোহণ করে না এবং তৃতীয় স্তরের পর ছাড়া চতুর্থ স্তরে আরোহণ করে না।

এর ব্যাখ্যা হলো, স্রষ্টা তাআলার জন্য অস্তিত্বের প্রথম স্তরটি নির্ধারিত এবং তিনি তাঁর অস্তিত্বে একক; তাঁর অস্তিত্বে কোনো কিছুই তাঁর অংশীদার নয়, যেমন তাঁর গুণাবলির কোনো কিছুতেও কেউ তাঁর অংশীদার নয়।
(খণ্ড: ১) আল-হাদাইক ফিল মাতালিবিল আলিয়াহ আল-ফালসাফিয়্যাহ আল-আইসাহ (পৃষ্ঠা: ৩৮)
وَأول مَوْجُود أوجده وأبدعه تَعَالَى الموجودات الَّتِي يسمونها الثواني ويسمونها الْعُقُول الْمُجَرَّدَة عَن الْمَادَّة وَهِي تِسْعَة على عدد الْآحَاد التِّسْعَة ترتبت فِي الْوُجُود عَنهُ كمراتب الْأَعْدَاد أول وثان وثالث إِلَى التَّاسِع الَّذِي هُوَ نهايتها كَمَا صَار التَّاسِع من الْعدَد نِهَايَة الْآحَاد

وَأول هَذِه الثواني بِالنِّسْبَةِ إِلَى الله تَعَالَى فِي مرتبَة الِاثْنَيْنِ على وَجه التَّقْرِيب وبالنسبة إِلَى الموجودات المبدعات فِي مرتبَة الْوَاحِد لِأَن البارئ تَعَالَى بَائِن عَن الموجودات غير مَوْصُوف بِشَيْء من صفاتها وكل وَاحِد من هَذِه التِّسْعَة مَوْجُود عَن البارئ تَعَالَى بتوسط وجود كل وَاحِد من هَذِه التِّسْعَة

ثمَّ تلِي مرتبَة هَذِه الثواني التِّسْعَة فِي الْوُجُود مرتبَة الْعقل الْمُوكل بعالم العناصر وَهُوَ الَّذِي يسمونه الْعقل الفعال وَهُوَ يُوَافق الموجودات الثواني التِّسْعَة فِي أَنه عقل مُجَرّد من الْمَادَّة مثلهَا وَإِنَّمَا فصلوه مِنْهَا وجعلوه لَهَا مرتبَة عاشرة على حِدة لوَجْهَيْنِ
মহান আল্লাহ অস্তিত্বে আনয়ন করেছেন এবং উদ্ভাবন করেছেন এমন প্রথম অস্তিত্বশীল বিষয় হলো সেই সব বিদ্যমান বস্তু যাকে তারা 'সাওয়ানি' (দ্বিতীয় পর্যায়ের অস্তিত্ব) এবং জড়বস্তু হতে মুক্ত 'বিমূর্ত বুদ্ধি' বলে অভিহিত করে। এগুলো সংখ্যাতত্ত্বের একক নয়টি সংখ্যার ন্যায় মোট নয়টি। এগুলো তাঁর থেকে অস্তিত্বের ক্রমবিন্যাসে সংখ্যার ধাপের ন্যায় বিন্যস্ত হয়েছে; যেমন প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় থেকে নবম পর্যন্ত যা এর সমাপ্তি, যেভাবে সংখ্যাতত্ত্বের নয় সংখ্যাটি এককের সমাপ্তি।

মহান আল্লাহর তুলনায় এই দ্বিতীয় পর্যায়ের অস্তিত্বগুলোর মধ্যে প্রথমটি নিকটবর্তী অর্থে দ্বিতীয় স্তরে অবস্থিত, আর উদ্ভাবিত অস্তিত্বসমূহের তুলনায় তা প্রথম স্তরে অবস্থিত। কারণ স্রষ্টা মহান আল্লাহ সৃষ্টিজগত থেকে সম্পূর্ণ পৃথক এবং সৃষ্টির কোনো গুণে গুণান্বিত নন। আর এই নয়টির প্রত্যেকটি মহান স্রষ্টার পক্ষ থেকে অস্তিত্ব লাভ করেছে এই নয়টির প্রত্যেকটির অস্তিত্বের মধ্যস্থতায়।

অস্তিত্বের ক্রমে এই নয়টি দ্বিতীয় পর্যায়ের অস্তিত্বের পরে আসে মৌলিক উপাদানের জগতের ওপর দায়িত্বপ্রাপ্ত বুদ্ধির স্তর, যাকে তারা 'সক্রিয় বুদ্ধি' বলে অভিহিত করে। এটি ঐ নয়টি দ্বিতীয় পর্যায়ের অস্তিত্বের সাথে এই বিষয়ে সাদৃশ্যপূর্ণ যে, এটিও তাদের মতো জড়বস্তু থেকে মুক্ত একটি বিমূর্ত বুদ্ধি। তারা কেবল দুটি কারণে এটিকে তাদের থেকে পৃথক করেছে এবং একে স্বতন্ত্রভাবে দশম স্তর হিসেবে গণ্য করেছে।
(খণ্ড: ১) আল-হাদাইক ফিল মাতালিবিল আলিয়াহ আল-ফালসাফিয়্যাহ আল-আইসাহ (পৃষ্ঠা: ৩৯)
أَحدهمَا أَن الثواني التِّسْعَة موكلة بالأفلاك التِّسْعَة وَالْعقل الفعال مُوكل بعالم العناصر

وَالْوَجْه الثَّانِي أَن هَذَا الْعقل الفعال تسري قوته فِي الأجرام الناطقة الَّتِي دون فلك الْقَمَر كَمَا يسري نور الشَّمْس وَعنهُ يحصل النُّطْق فِي كل مكون مستعد لقبُول الْقُوَّة الناطقة وكل مَا تجوهر من الموجودات الطبيعية فَهُوَ بِهِ مُلْحق وَهَذَا الْمَعْنى لَيْسَ بموجود فِي الثواني

وَذكروا أَن فيض الْعُقُول الْمُجَرَّدَة انْقَطع عِنْد الْعقل الفعال فَلَيْسَ بعد مرتبته إِلَّا مرتبَة النَّفس الناطقة وَإِنَّمَا وَجب أَن يَنْقَطِع فيض الْعُقُول الْمُجَرَّدَة عِنْده لِأَنَّهُ اجْتمعت فِيهِ قوى الْعُقُول التِّسْعَة كلهَا فَصَارَ مبدأ لما دونه من الموجودات كَمَا اجْتمعت قوى الْآحَاد التِّسْعَة من الْعدَد فِي الْعشْرَة فَصَارَت بذلك مبدأ لما عَداهَا من العشرات وَلذَلِك جعلُوا هَذَا الْعقل الْمُجَرّد عَن الْمَادَّة فِي مرتبَة الْعشْرَة من الْعدَد أَلا ترى أَن الْعشْرَة فِي مرتبَة الْوَاحِد وَالْعِشْرين فِي مرتبَة الِاثْنَيْنِ وَالثَّلَاثِينَ فِي مرتبَة الثَّلَاثَة حَتَّى تصير التِّسْعُونَ فِي مرتبَة التِّسْعَة فينتهي وجود العشرات فِي التسعين وَتصير المئة فِي مرتبَة الْوَاحِد
তাদের মধ্যে একটি হলো এই যে, নয়টি গৌণ বুদ্ধিবৃত্তি নয়টি আকাশমণ্ডলীর জন্য নিয়োজিত এবং সক্রিয় বুদ্ধি মৌলিক উপাদানসমূহের জগতের জন্য নিয়োজিত।

দ্বিতীয় দিকটি হলো, এই সক্রিয় বুদ্ধির শক্তি চন্দ্রলোকের নিম্নে অবস্থিত বাকশক্তিসম্পন্ন দেহসমূহের মধ্যে প্রবাহিত হয়, যেমনটি সূর্যের আলো প্রবাহিত হয়। এর মাধ্যমেই প্রতিটি সৃষ্টিতে বাকশক্তি অর্জিত হয় যা বাকশক্তি গ্রহণের জন্য প্রস্তুত। আর প্রাকৃতিক অস্তিত্বসমূহের মধ্যে যা কিছু সারবত্তা প্রাপ্ত হয়েছে তা এর সাথেই সম্পৃক্ত। এই বিষয়টি গৌণ বুদ্ধিবৃত্তিসমূহের মধ্যে বিদ্যমান নয়।

তারা উল্লেখ করেছেন যে, বিমূর্ত বুদ্ধিবৃত্তিসমূহের প্রভাবপ্রবাহ সক্রিয় বুদ্ধির নিকট এসে থেমে গিয়েছে। সুতরাং এর স্তরের পর বাকশক্তিসম্পন্ন আত্মার স্তর ব্যতীত আর কিছুই নেই। আর সক্রিয় বুদ্ধির নিকট বিমূর্ত বুদ্ধিবৃত্তিসমূহের প্রভাবপ্রবাহ বন্ধ হওয়া আবশ্যক ছিল একারণে যে, এতে নয়টি বুদ্ধিবৃত্তির সকল শক্তি একত্রিত হয়েছে। ফলে তা তার নিম্নস্তরের অস্তিত্বসমূহের মূলভিত্তিতে পরিণত হয়েছে, যেমনভাবে সংখ্যার নয়টি এককের শক্তি দশের মধ্যে একত্রিত হয়েছে এবং এর মাধ্যমে তা পরবর্তী দশকগুলোর মূলভিত্তিতে পরিণত হয়েছে। এ কারণেই তারা পদার্থ থেকে মুক্ত এই বুদ্ধিকে সংখ্যার দশম স্তরে স্থাপন করেছেন। আপনি কি দেখেন না যে, দশ হলো একের স্তরে, বিশ হলো দুইয়ের স্তরে এবং ত্রিশ হলো তিনের স্তরে, এমনকি নব্বই হয় নয়ের স্তরে? সুতরাং নব্বইয়ের মধ্যে দশকসমূহের অস্তিত্ব সমাপ্ত হয় এবং একশ' পুনরায় একের স্তরে উন্নীত হয়।
(খণ্ড: ১) আল-হাদাইক ফিল মাতালিবিল আলিয়াহ আল-ফালসাফিয়্যাহ আল-আইসাহ (পৃষ্ঠা: ৪০)
وسنزيد هَذَا بَيَانا عِنْد ذكرنَا دوائر الْعدَد الوهمية إِن شَاءَ الله تَعَالَى

ثمَّ تلِي مرتبَة الْعقل الفعال فِي الْوُجُود مرتبَة النَّفس وَهِي مُوَافقَة للعقول الْمُجَرَّدَة من الْمَادَّة فِي أَنَّهَا لَيست بجسم كَمَا أَن تِلْكَ لَيست أجساما وَهِي مُخَالفَة لَهَا فِي أَنَّهَا تُوجد مَعَ الْجِسْم وتقترن بِهِ فأكسبها ذَلِك كدرا وظلمة وَلذَلِك صَارَت نفس الْإِنْسَان تجْهَل ذَاتهَا وَلَا ترَاهَا حَتَّى تستضئ بِنور الْعقل

وَهِي فِي ذَلِك بِمَنْزِلَة رجل حصل فِي ظلمَة فَهُوَ لَا يرى جِسْمه وَلَا غَيره فَإِذا أَضَاء لَهُ الجو وسرى فِي عَيْنَيْهِ نور الشَّمْس رأى حِينَئِذٍ جسده وَمَا حوله من الجسمان كَذَلِك النَّفس تمنعها ظلمَة الْجَهْل من رُؤْيَة ذَاتهَا ورؤية الصُّور الْعَقْلِيَّة الْمُجَرَّدَة فَإِذا أَفَاضَ الْعقل نوره رَأَتْ ذَاتهَا وَغَيرهَا من المعقولات

وَلها مَرَاتِب كَثِيرَة كَمَا كَانَ للعقول الْمُجَرَّدَة الْمَذْكُورَة مَرَاتِب فَمن الْحُكَمَاء من رأى أَن مراتبها اثْنَتَا عشرَة تسع للأفلاك وَثَلَاث لما تَحت فلك الْقَمَر وَهِي
আমরা যখন কাল্পনিক সংখ্যার বৃত্তগুলো আলোচনা করব, তখন ইনশাআল্লাহ তাআলা এ বিষয়ে আরও বিশদ ব্যাখ্যা প্রদান করব।

অতঃপর অস্তিত্বের ক্ষেত্রে সক্রিয় বুদ্ধিবৃত্তির স্তরের পরেই আত্মার স্তরের অবস্থান। এটি বস্তুহীন বিমূর্ত বুদ্ধিবৃত্তিগুলোর সাথে এ দিক থেকে সাদৃশ্যপূর্ণ যে, তা শরীর বা দেহ নয়, যেমনটি সেগুলোও শরীর নয়। তবে এটি তাদের থেকে এ দিক থেকে ভিন্ন যে, এটি দেহের সাথে অস্তিত্ব লাভ করে এবং দেহের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকে; আর এটিই তাকে আবিলতা ও অন্ধকার প্রদান করেছে। এ কারণেই মানুষের আত্মা নিজ সত্তা সম্পর্কে অজ্ঞ হয়ে পড়ে এবং যতক্ষণ না বুদ্ধিবৃত্তির আলোতে আলোকিত হয়, ততক্ষণ সে নিজেকে দেখতে পায় না।

এ ক্ষেত্রে তার অবস্থা সেই ব্যক্তির মতো যে অন্ধকারের মধ্যে নিপতিত হয়েছে, ফলে সে নিজের শরীরকেও দেখতে পায় না এবং অন্য কিছুকেও না। এরপর যখন পরিবেশ আলোকিত হয় এবং তার চোখে সূর্যের আলো প্রবেশ করে, তখন সে নিজের শরীর এবং তার চারপাশে বিদ্যমান অন্যান্য বস্তুসমূহ দেখতে পায়। একইভাবে, মূর্খতার অন্ধকার আত্মাকে তার নিজ সত্তা এবং বিমূর্ত বুদ্ধিবৃত্তিক রূপসমূহ দর্শন করতে বাধা দেয়। অতঃপর বুদ্ধিবৃত্তি যখন তার আলো বিচ্ছুরিত করে, তখন আত্মা নিজ সত্তা এবং অন্যান্য বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়সমূহ দেখতে পায়।

এর বহু স্তর রয়েছে, যেমনটি ইতিপূর্বে উল্লিখিত বিমূর্ত বুদ্ধিবৃত্তিগুলোর স্তর ছিল। প্রজ্ঞাবানদের মধ্যে কেউ কেউ মনে করেন যে এর স্তর বারোটি; নয়টি স্তর আকাশমণ্ডলীয় গোলকসমূহের জন্য এবং তিনটি স্তর চন্দ্র-মণ্ডলের নিচের জগতের জন্য, আর সেগুলো হলো—
(খণ্ড: ১) আল-হাদাইক ফিল মাতালিবিল আলিয়াহ আল-ফালসাফিয়্যাহ আল-আইসাহ (পৃষ্ঠা: ৪১)
النَّفس النباتية

وَالنَّفس الحيوانية

وَالنَّفس الناطقة

وَمِنْهُم من جعلهَا خمس عشرَة مرتبَة تسع للأفلاك وَخمْس لما تَحت فلك الْقَمَر وَهِي

النَّفس النباتية وَهِي أدناها مرتبَة

وفوقها النَّفس الحيوانية

وفوقها النَّفس الناطقة

وفوقها النَّفس الفلسفية

وفوقها النَّفس النَّبَوِيَّة

فَهَذِهِ أَربع عشرَة مرتبَة وَالْخَامِسَة عشرَة مرتبَة النَّفس الْكُلية وَنحن نذْكر خَواص كل وَاحِدَة من هَذِه النُّفُوس وفصولها ليتبين صِحَة هَذَا التَّقْسِيم إِذا فَرغْنَا من هَذَا الْبَاب إِن شَاءَ الله تَعَالَى

وَنَرْجِع إِلَى مَا كُنَّا فِيهِ من مَرَاتِب الموجودات فَنَقُول إِن الَّذِي يَلِي مرتبَة النَّفس فِي الْوُجُود مرتبَة الصُّورَة ثمَّ يَلِي مرتبَة الصُّورَة مرتبَة
উদ্ভিজ্জ নফস

এবং প্রাণিজ নফস

এবং বাক্-শক্তি সম্পন্ন নফস

এবং তাদের মধ্যে কেউ কেউ একে পনেরোটি স্তরে বিভক্ত করেছেন—নয়টি স্তর আকাশমণ্ডলের জন্য এবং পাঁচটি স্তর চন্দ্র-মণ্ডলের নিম্নস্থ জগতের জন্য, আর সেগুলো হলো:

উদ্ভিজ্জ নফস, যা মর্যাদার দিক থেকে সর্বনিম্ন

তার উপরে প্রাণিজ নফস

তার উপরে বাক্-শক্তি সম্পন্ন নফস

তার উপরে দার্শনিক নফস

তার উপরে নববী নফস

সুতরাং এগুলো হলো চৌদ্দটি স্তর, আর পঞ্চদশ স্তরটি হলো সামষ্টিক নফসের স্তর। আমরা এই নফসগুলোর প্রত্যেকটির বৈশিষ্ট্য ও পরিচ্ছেদসমূহ বর্ণনা করব যাতে এই অধ্যায় সমাপ্ত করার পর এই বিভাজনের সঠিকতা স্পষ্ট হয়ে যায়, ইনশাআল্লাহ তাআলা।

বিদ্যমান বস্তুসমূহের স্তরের বিষয়ে আমরা যে আলোচনায় ছিলাম এখন তাতে ফিরে আসি। আমরা বলছি যে, অস্তিত্বের ক্ষেত্রে নফসের স্তরের পরবর্তী স্তরটি হলো রূপের স্তর, অতঃপর রূপের স্তরের পরবর্তী স্তরটি হলো...
(খণ্ড: ১) আল-হাদাইক ফিল মাতালিবিল আলিয়াহ আল-ফালসাফিয়্যাহ আল-আইসাহ (পৃষ্ঠা: ৪২)
الْجَوْهَر الْحَامِل للصورة وَإِنَّمَا جعلت مرتبَة الصُّورَة قبل مرتبَة الْجَوْهَر الْحَامِل للصورة بِوَجْهَيْنِ

أَحدهمَا أَنا بدأنا من أَعلَى مَرَاتِب الموجودات منحدرين إِلَى أدناها فَكَانَت الصُّورَة على هَذَا التَّرْتِيب قبل الْجَوْهَر الْحَامِل لَهَا وَلَو بدأنا من أدنى مَرَاتِب الموجودات متصاعدين إِلَى أَعْلَاهَا لَكَانَ الْجَوْهَر الْحَامِل للصورة قبل الصُّورَة فِي الرُّتْبَة

وَهَذَا الْجَوْهَر الْحَامِل للصورة صنفان

أرفعهما الْجَوْهَر الَّذِي يحمل صُورَة الأفلاك وَمَا فِيهَا وَأَدْنَاهَا الْجَوْهَر الَّذِي يحمل الصُّورَة الَّتِي تَحت فلك الْقَمَر وَهَذَا الْجَوْهَر الْحَامِل لصورة الموجودات الَّتِي دون فلك الْقَمَر يسمونه الهيولى وَإِنَّمَا فصل هَذَا الْجَوْهَر من الْجَوْهَر الْحَامِل لصورة الأفلاك وَمَا فِيهَا من
রূপ ধারণকারী সারবস্তু; আর রূপের স্তরকে রূপ ধারণকারী সারবস্তুর স্তরের পূর্বে দুটি কারণে রাখা হয়েছে।

এর প্রথমটি হলো, আমরা বিদ্যমান বস্তুসমূহের সর্বোচ্চ স্তর থেকে নিম্নগামী হয়ে সর্বনিম্ন স্তরের দিকে আলোচনা শুরু করেছি; তাই এই বিন্যাস অনুযায়ী রূপটি তার ধারণকারী সারবস্তুর পূর্বে অবস্থিত। আর যদি আমরা বিদ্যমান বস্তুসমূহের সর্বনিম্ন স্তর থেকে উর্ধ্বগামী হয়ে সর্বোচ্চ স্তরের দিকে শুরু করতাম, তবে মর্যাদার ক্রমানুসারে রূপ ধারণকারী সারবস্তুটি রূপের পূর্বে স্থান পেত।

আর এই রূপ ধারণকারী সারবস্তু দুই প্রকার।

তাদের মধ্যে উচ্চতর হলো সেই সারবস্তু যা মহাকাশীয় মণ্ডলসমূহ এবং তাতে যা কিছু আছে তার রূপ ধারণ করে। আর নিম্নতর হলো সেই সারবস্তু যা চন্দ্র-মণ্ডলের নিচের রূপসমূহ ধারণ করে। চন্দ্র-মণ্ডলের নিচে বিদ্যমান বস্তুসমূহের রূপ ধারণকারী এই সারবস্তুকে তারা 'হায়ুলা' বলে অভিহিত করেন। আর এই সারবস্তুকে মহাকাশীয় মণ্ডলসমূহ ও তাতে বিদ্যমান রূপ ধারণকারী সারবস্তু থেকে পৃথক করার কারণ হলো...
(খণ্ড: ১) আল-হাদাইক ফিল মাতালিবিল আলিয়াহ আল-ফালসাফিয়্যাহ আল-আইসাহ (পৃষ্ঠা: ৪৩)
الْكَوَاكِب وَإِن كَانَا قد اتفقَا فِي أَن كل وَاحِد مِنْهُمَا جَوْهَر حَامِل للصور لِأَن صور الأفلاك وَالْكَوَاكِب ثَابِتَة فِي موضوعاتها وَهَذَا الْجَوْهَر الآخر صُورَة غير ثَابِتَة لِأَنَّهُ يلبس الصُّورَة تَارَة ويخلعها تَارَة فَهُوَ مُسْتَحِيل متغير بجملته وَذَلِكَ إِنَّمَا يتَغَيَّر ويستحيل بِالْمَكَانِ وَمَا فِيهِ من اخْتِلَاف النّسَب

وَهَذِه الهيولى عِنْدهم أحط الموجودات وأنقصها مرتبَة وَمِنْهَا تبدأ الموجودات الطبيعية بالترقي صاعدة نَحْو أَعلَى مراتبها بعكس حَالهَا حِين انحدرت إِلَى أدنى مراتبها وَإِنَّمَا يكون ذَلِك لدوران الأفلاك حولهَا ولباسها للصور الَّتِي كَانَت فِيهَا بِالْقُوَّةِ ثمَّ تخرج بدوران الأفلاك إِلَى الْفِعْل كَمَا شَاءَ بارئها لَا إِلَه إِلَّا هُوَ

فَأول صُورَة لبستها الهيولى صور الْأَركان الْأَرْبَعَة الَّتِي هِيَ
নক্ষত্রসমূহ, যদিও তারা এ বিষয়ে একমত যে তাদের প্রত্যেকেই একটি সারবস্তু যা রূপ বা আকৃতি ধারণকারী, কারণ আসমানী গোলক এবং নক্ষত্রসমূহের আকৃতিসমূহ তাদের স্ব স্ব আধারে স্থিতিশীল। আর এই অন্য সারবস্তুটি একটি অস্থিতিশীল আকৃতি, কেননা এটি কখনো আকৃতি পরিধান করে আবার কখনো তা বর্জন করে। ফলে এটি এর সামগ্রিক সত্তায় পরিবর্তনশীল ও রূপান্তরযোগ্য, আর তা স্থান এবং এর মধ্যকার সম্পর্কের ভিন্নতার কারণেই কেবল পরিবর্তিত ও রূপান্তরিত হয়।

আর এই আদি উপাদান (হিউলি) তাদের নিকট বিদ্যমান বস্তুসমূহের মধ্যে নিম্নতম এবং মর্যাদার দিক থেকে সবচেয়ে অপূর্ণ। এখান থেকেই প্রাকৃতিক বস্তুসমূহ তাদের সর্বোচ্চ মর্যাদার দিকে আরোহণ করে উন্নতির দিকে যাত্রা শুরু করে, যা তাদের সর্বনিম্ন স্তরে অবতরণকালীন অবস্থার বিপরীত। আর এটি কেবল এর চারদিকে আসমানী গোলকসমূহের আবর্তন এবং এতে সুপ্ত অবস্থায় থাকা আকৃতিসমূহ পরিধানের কারণেই ঘটে থাকে, যা পরবর্তীতে আসমানী গোলকসমূহের আবর্তনের মাধ্যমে বাস্তবে প্রকাশিত হয় যেমনটি এর স্রষ্টা চেয়েছেন; তিনি ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই।

অতঃপর আদি উপাদান (হিউলি) সর্বপ্রথম যে আকৃতি পরিধান করেছিল তা হলো চারটি মূল উপাদানের আকৃতি, যা হলো-
(খণ্ড: ১) আল-হাদাইক ফিল মাতালিবিল আলিয়াহ আল-ফালসাফিয়্যাহ আল-আইসাহ (পৃষ্ঠা: ৪৪)
الأَرْض وَالْمَاء والهواء وَالنَّار فَكَانَ ذَلِك أول كَمَال لحقها ثمَّ لبست صور الْمَعَادِن بوساطة صور الْأَركان ثمَّ صور النَّبَات بوساطة صور الْمَعَادِن وصور الْأَركان ثمَّ صُورَة الْحَيَوَان غير النَّاطِق بوساطة صور النَّبَات وصور الْمَعَادِن وصور الْأَركان ثمَّ صُورَة الْإِنْسَان الَّذِي هُوَ حَيَوَان نَاطِق بتوسط صور الْحَيَوَان غير النَّاطِق وصور النَّبَات وصور الْمَعَادِن وصور الْأَركان

فَكَانَت صُورَة الْإِنْسَان أكمل الصُّور الطبيعية وَلَا مرتبَة بعْدهَا إِلَّا أَن يتجوهر الْإِنْسَان بالمعارف فَيلْحق بمرتبة المعقولات الْمُجَرَّدَة من الهيولى والمادة الشبيهة بالهيولى أَعنِي مَوْضُوع صور الأفلاك وَمَا فِيهَا فَإِذا حصل بالتجوهر فِي مرتبَة المعقولات حصل فِي الْمرتبَة الَّتِي مِنْهَا انحطت النَّفس الناطقة إِلَى الأجرام وَهِي مرتبَة الْعقل الفعال فَصَارَت الموجودات بِهَذَا الِاعْتِبَار كدائرة استدارت حَتَّى التقى طرفاها وَصَارَ الْإِنْسَان آخر الدائرة الَّذِي يرجع على أَولهَا إِلَّا أَن الْإِنْسَان عِنْدهم لَا يلْحق عِنْد تجوهره بِأول الثواني الَّذِي هُوَ أَعْلَاهَا مرتبَة وَإِنَّمَا أقْصَى كَمَاله أَن يلْحق بالمرتبة الْعَاشِرَة وَهِي مرتبَة الْعقل الفعال
মাটি, পানি, বায়ু ও আগুন; এটিই ছিল প্রথম পূর্ণতা যা তার সাথে যুক্ত হয়েছিল। এরপর তা মৌলিক উপাদানসমূহের রূপের মধ্যস্থতায় খনিজ পদার্থের রূপ ধারণ করল। এরপর খনিজ ও মৌলিক উপাদানের রূপের মধ্যস্থতায় উদ্ভিদের রূপ এবং এরপর উদ্ভিদ, খনিজ ও মৌলিক উপাদানের রূপের মধ্যস্থতায় নির্বাক প্রাণীর রূপ পরিধান করল। অতঃপর নির্বাক প্রাণী, উদ্ভিদ, খনিজ ও মৌলিক উপাদানের রূপের মধ্যস্থতায় মানুষের রূপ গ্রহণ করল, যে হলো বাকসম্পন্ন প্রাণী।

এভাবে মানুষের রূপটি হলো প্রাকৃতিক রূপসমূহের মধ্যে পূর্ণতম রূপ এবং এরপর আর কোনো স্তর নেই; তবে মানুষ যদি জ্ঞানের মাধ্যমে সারবত্তা প্রাপ্ত হয়, তবে সে হিউলি (আদি বস্তু) এবং হিউলি-সদৃশ বস্তু—অর্থাৎ আসমানি গোলক ও তার অন্তর্ভুক্ত বিষয়সমূহের রূপের আধার—থেকে মুক্ত বিমূর্ত বুদ্ধিগম্য বিষয়াবলির স্তরে উন্নীত হয়। যখন সে সারবত্তা প্রাপ্তির মাধ্যমে বুদ্ধিগম্য স্তরে পৌঁছে, তখন সে এমন এক স্তরে উপনীত হয় যেখান থেকে বাকসম্পন্ন আত্মা দেহসমূহে অবরোহণ করেছিল, আর তা হলো সক্রিয় বুদ্ধির স্তর। এই বিবেচনায় বিদ্যমান বস্তুসমূহ একটি বৃত্তের ন্যায় হয়ে গেল যা ঘুরে এসে তার দুই প্রান্তকে মিলিত করল এবং মানুষ হলো বৃত্তের শেষ অংশ যা তার শুরুতে ফিরে যায়। তবে তাদের মতে, মানুষ তার সারবত্তা প্রাপ্তির সময় 'সানি' বা দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রথমটির সাথে যুক্ত হয় না যা মর্যাদায় সর্বোচ্চ; বরং তার সর্বোচ্চ পূর্ণতা হলো দশম স্তরে পৌঁছানো, আর তা হলো সক্রিয় বুদ্ধির স্তর।
(খণ্ড: ১) আল-হাদাইক ফিল মাতালিবিল আলিয়াহ আল-ফালসাফিয়্যাহ আল-আইসাহ (পৃষ্ঠা: ৪৫)
فَهَذَا مَذْهَب أرسطا طاليس وأفلاطون وسقراط وَغَيرهم من
সুতরাং এটি অ্যারিস্টটল, প্লেটো, সক্রেটিস এবং অন্যদের মতাদর্শ যারা
(খণ্ড: ১) আল-হাদাইক ফিল মাতালিবিল আলিয়াহ আল-ফালসাফিয়্যাহ আল-আইসাহ (পৃষ্ঠা: ৪৬)
مشاهير الفلاسفة وزعمائهم الْقَائِلين بِالتَّوْحِيدِ

وَأما فلاسفة الْمَجُوس فزعموا أَن الْعُقُول الْمُفَارقَة للمادة يترقى بَعْضهَا إِلَى مرتبَة بعض حَتَّى يصير أَعْلَاهَا فِي مرتبَة البارئ عز وجل تَعَالَى الله عَمَّا يَقُول الجاهلون علوا كَبِيرا وَهَذَا القَوْل كفر مَحْض عِنْد أرسطاطاليس وَجَمِيع من ذَكرْنَاهُ لِأَنَّهُ يُوجب اسْتِحَالَة البارئ تَعَالَى عَن قَوْلهم

فَإِن قَالَ قَائِل فَكيف صَار كالدائرة وَإِنَّمَا لحق بمرتبة الْعقل الفعال على رَأْي أرسطو وَهِي الْمرتبَة الْعَاشِرَة وَإِنَّمَا كَانَ حكمه إِذا كَانَ كالدائرة أَن يرجع إِلَى الثَّانِي الَّذِي هُوَ أول مَوْجُود بَدَأَ مِنْهُ الْفَيْض

فَالْجَوَاب عَن هَذَا من وَجْهَيْن

أَحدهمَا أَن الْعقل الفعال هُوَ فِي الْمرتبَة الْعَاشِرَة عِنْدهم وَهُوَ
একত্ববাদে বিশ্বাসী প্রখ্যাত দার্শনিকগণ এবং তাদের নেতৃবৃন্দ

আর অগ্নিপূজক (মাজুস) দার্শনিকদের ক্ষেত্রে বলা যায়, তারা দাবি করেছে যে জড়পদার্থ থেকে বিযুক্ত বুদ্ধিগুলোর একেকটি অপরের স্তরে উন্নীত হয়, এমনকি তাদের মধ্যে সর্বোচ্চটি মহান স্রষ্টার (বারী) স্তরে পৌঁছে যায়। জাহেলরা যা বলে তা থেকে আল্লাহ অতি উচ্চ এবং সুমহান। এই বক্তব্য এরিস্টটল এবং আমরা যাদের উল্লেখ করেছি তাদের সকলের নিকট বিশুদ্ধ কুফর, কারণ এটি মহান স্রষ্টার ক্ষেত্রে অসম্ভব বিষয়ের অবতারণা করে, আল্লাহ তাদের বক্তব্য থেকে সুউচ্চ।

যদি কেউ প্রশ্ন করে যে, তবে এটি কীভাবে বৃত্তের ন্যায় হলো? অথচ এরিস্টটলের মতে এটি কেবল সক্রিয় বুদ্ধির স্তরে পৌঁছেছে, যা দশম স্তর। আর এটি যদি বৃত্তের মতো হতো তবে এর নিয়ম হতো এটি দ্বিতীয় স্তরে ফিরে আসবে, যা সেই প্রথম বিদ্যমান সত্তা যেখান থেকে বিচ্ছুরণ শুরু হয়েছে।

এর উত্তর দুটি দিক থেকে হতে পারে

প্রথমটি হলো, তাদের মতে সক্রিয় বুদ্ধি দশম স্তরে অবস্থিত এবং এটি
(খণ্ড: ১) আল-হাদাইক ফিল মাতালিবিল আলিয়াহ আল-ফালসাফিয়্যাহ আল-আইসাহ (পৃষ্ঠা: ৪৭)
آخر المعقولات الْمُفَارقَة عِنْد انحدار الْوُجُود وَهُوَ أَولهَا عِنْد تصاعد الْأَشْيَاء فَإِذا بلغ الْعقل الإنساني تِلْكَ الْمرتبَة كَانَ بِمَنْزِلَة رُجُوع أحد طرفِي الدائرة على الآخر

وَالْوَجْه الثَّانِي

أَن الْعقل الإنساني لَيْسَ مبدؤه من الثواني عِنْدهم إِنَّمَا مبدؤه من الْعقل الفعال فَإِذا عَاد إِلَيْهِ كَانَ بِمَنْزِلَة الدائرة

وَقد وَجب علينا أَن نصل بِهَذَا الْبَاب ذكر خَواص النُّفُوس الْخمس الَّتِي قدمنَا ذكرهَا ليتبين الْفرق بَينهَا إِذْ كَانَت الخاصية قد تقوم مقَام الْفَصْل الْجَوْهَرِي فِيمَا يتَعَذَّر تحديده

‌‌خَواص النَّفس النباتية وَتسَمى الشهوانية

 

خَواص هَذِه النَّفس النزاع إِلَى الْغذَاء وَطَلَبه والالتذاذ بِوُجُودِهِ إِذا وجدته والاستضرار بفقده إِذا فقدته واستدعاء الْمُوَافق من الأغذية وَدفع الْمُخَالف وَحفظ الشَّيْء بشخصه ونوعه
অস্তিত্বের অবতরণকালে বিমূর্ত বুদ্ধিসত্ত্বাসমূহের শেষ পর্যায় এবং বস্তুর আরোহণকালে এটিই তাদের প্রথম পর্যায়। সুতরাং মানব বুদ্ধি যখন সেই স্তরে পৌঁছায়, তখন তা বৃত্তের এক প্রান্ত অপর প্রান্তের সাথে মিলিত হওয়ার অনুরূপ হয়।

দ্বিতীয় দিক

তাদের মতে মানব বুদ্ধির উৎস 'দ্বিতীয় বুদ্ধিসত্ত্বাসমূহ' থেকে নয়; বরং এর উৎস হলো 'সক্রিয় বুদ্ধি'। সুতরাং এটি যখন তার দিকে ফিরে যায়, তখন তা একটি বৃত্তের ন্যায় হয়ে যায়।

আমাদের জন্য আবশ্যক হলো এই অধ্যায়ের সাথে সেই পাঁচটি আত্মার বৈশিষ্ট্যের আলোচনা যুক্ত করা যা আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি, যাতে তাদের মধ্যকার পার্থক্য স্পষ্ট হয়। কারণ কোনো বিষয়ের সংজ্ঞা নির্ধারণ করা দুঃসাধ্য হলে তার বৈশিষ্ট্যসমূহ সারসত্তা-বিভেদকের স্থলাভিষিক্ত হতে পারে।

‌‌উদ্ভিদজ আত্মার বৈশিষ্ট্যসমূহ, যাকে প্রবৃত্তিগত আত্মাও বলা হয়

 

এই আত্মার বৈশিষ্ট্যসমূহ হলো খাদ্যের প্রতি আকাঙ্ক্ষা ও তা অন্বেষণ করা, খাদ্য প্রাপ্তিতে আনন্দ লাভ করা, খাদ্যের অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, অনুকূল খাদ্য গ্রহণ ও প্রতিকূল খাদ্য বর্জন করা এবং বস্তুর ব্যক্তিসত্তা ও প্রজাতিকে রক্ষা করা।
(খণ্ড: ১) আল-হাদাইক ফিল মাতালিবিল আলিয়াহ আল-ফালসাফিয়্যাহ আল-আইসাহ (পৃষ্ঠা: ৪৮)
أما حفظ شخصه فَإِنَّهُ يكون بالغذاء وَأما حفظ نَوعه فبالتوليد وَيُسمى هَذَا الْحِفْظ التَّقْوِيم الطبيعي وَلها الهياكل غير اللحمية والأعضاء المتشابهة الْأَجْزَاء وَلها سبع قوى

جاذبة

وممسكة

وهاضمة

ومغذية

ودافعة

ومنمية

ومصورة

وَلها، من الشُّعُور والإحساس تَمْيِيز الْجِهَات السِّت وإرسال الْعُرُوق نَحْو الْمَوَاضِع الندية وتوجيه الْفُرُوع والأغصان نَحْو الْمَوَاضِع المتسعة والانحراف عَن الْمَوَاضِع الضيقة
ব্যক্তিগত অস্তিত্ব সংরক্ষণের বিষয়টি পুষ্টির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়, আর প্রজাতি সংরক্ষণ সম্পন্ন হয় প্রজননের মাধ্যমে। এই সংরক্ষণ প্রক্রিয়াকে প্রাকৃতিক সুবিন্যাস বলা হয়। এর রয়েছে অমাংসল কাঠামো এবং সদৃশ অংশবিশিষ্ট অঙ্গপ্রত্যঙ্গ। আর এর সাতটি শক্তি রয়েছে

আকর্ষণকারিণী

ধারণকারিণী

পরিপাককারিণী

পুষ্টিপ্রদানকারিণী

নিঃসরণকারিণী

বর্ধনকারিণী

আকৃতিদানকারিণী

এবং এর চেতনা ও অনুভূতির অন্তর্ভুক্ত হলো ছয়টি দিক পৃথক করতে পারা, আর্দ্র স্থানের দিকে শিকড়সমূহ প্রেরণ করা, প্রশস্ত স্থানের দিকে শাখা ও প্রশাখাগুলোকে পরিচালিত করা এবং সংকীর্ণ স্থান থেকে বিমুখ হওয়া।
(খণ্ড: ১) আল-হাদাইক ফিল মাতালিবিল আলিয়াহ আল-ফালসাফিয়্যাহ আল-আইসাহ (পৃষ্ঠা: ৪৯)
‌‌خَواص النَّفس الحيوانية وَتسَمى الغضبية

 

خَواص هَذِه النَّفس شَهْوَة النِّكَاح وشهوة الانتقام وشهوة الرياسة وَالْغَلَبَة وَلها الهياكل اللحمية والدموية وَقد يُوجد من هياكلها مَا لَا دم لَهُ وَلها الْأَعْضَاء الآلية وَالْحَرَكَة الإرادية الاختيارية وَلها الْحَواس الْخمس

وَمِنْهَا مَا ينقصهُ بعض الْحَواس

وَلها اللَّذَّة والألم

وَيُوجد لبعضها التخيل وَالوهم

‌‌خَواص النَّفس الإنسانية وَهِي الناطقة

 

خَواص هَذِه النَّفس الروية والفكر ومحبة الْعلم والمعرفة وَلها الهياكل المنتصبة وَالْعَمَل باليدين
প্রাণিক আত্মার বৈশিষ্ট্যসমূহ, যাকে ক্রোধপরায়ণ আত্মা বলা হয়

 

এই আত্মার বৈশিষ্ট্যসমূহ হলো যৌন আকাঙ্ক্ষা, প্রতিশোধ গ্রহণের লালসা এবং নেতৃত্ব ও আধিপত্য বিস্তারের আকাঙ্ক্ষা। এর রয়েছে রক্ত-মাংসের দেহকাঠামো, তবে এদের কোনো কোনো কাঠামোর মধ্যে রক্ত থাকে না। এর রয়েছে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গরূপী যন্ত্রসমূহ, স্বেচ্ছাধীন ঐচ্ছিক চলন এবং পঞ্চেন্দ্রিয়।

এদের মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যাদের কোনো কোনো ইন্দ্রিয়ের ঘাটতি আছে।

এর রয়েছে আনন্দ ও বেদনা।

এদের কোনো কোনোটির ক্ষেত্রে কল্পনা ও বিভ্রমের শক্তি পরিলক্ষিত হয়।

‌মানবিক আত্মার বৈশিষ্ট্যসমূহ, যা বাক্-সম্পন্ন আত্মা

 

এই আত্মার বৈশিষ্ট্যসমূহ হলো গভীর অভিনিবেশ ও চিন্তা এবং জ্ঞান ও প্রজ্ঞার প্রতি অনুরাগ। এর রয়েছে দণ্ডায়মান দেহকাঠামো এবং দুই হাতের সাহায্যে কাজ করার সক্ষমতা।
(খণ্ড: ১) আল-হাদাইক ফিল মাতালিবিল আলিয়াহ আল-ফালসাফিয়্যাহ আল-আইসাহ (পৃষ্ঠা: ৫০)
‌‌خَواص النَّفس الْحكمِيَّة الفلسفية

 

خَواص هَذِه النَّفس محبَّة الْعُلُوم النظرية الَّتِي لَا يُرَاد مِنْهَا أَكثر من الْوُقُوف على حقائقها فَقَط والحرص على معرفَة أَسبَاب الْأَشْيَاء وعللها وَالِاسْتِدْلَال بظواهر الْأُمُور على بواطنها وَمَعْرِفَة مَرَاتِب الموجودات فِي الْوُجُود وَكَيف انبعثت عَن البارئ عز وجل وَكَيف انْبَعَثَ بَعْضهَا من بعض بِمَا سرى فِيهَا من وحدانية الله تَعَالَى الَّتِي حصلت لكل مَوْجُود ذَات ينْفَصل بهَا من ذَات مَوْجُود آخر

وَبهَا يكون وجود الصُّور فِي الهيولى وَفِي الْمَوْضُوع الشبيه بالهيولى وَهُوَ الْجَوْهَر الْحَامِل لصور الأفلاك وَالْكَوَاكِب وَهل الْعَالم قديم أَو مُحدث وَمَا الْفرق بَين الأزلي والمحدث

وَمَا الْفرق بَين الأزلي الْمُطلق والأزلي الْمُضَاف

وَمَا الْفرق بَين الْمُبْدع والمكون

وَكَيف صَار الْمُبْدع وَاسِطَة بَين الأزلي والمكون
প্রাজ্ঞ ও দার্শনিক নফসের বৈশিষ্ট্যসমূহ

 

এই নফসের বৈশিষ্ট্য হলো সেই সকল তাত্ত্বিক জ্ঞানের প্রতি অনুরাগ, যেগুলোর মাধ্যমে কেবল সেগুলোর প্রকৃত স্বরূপ অবগত হওয়াই উদ্দেশ্য থাকে এবং বস্তুসমূহের কারণ ও হেতুসমূহ জানার প্রতি বিশেষ আগ্রহ রাখা। এছাড়া বিষয়ের প্রকাশ্য দিক দ্বারা তার অভ্যন্তরীণ রহস্যের ওপর প্রমাণ গ্রহণ করা এবং অস্তিত্বের জগতে বিদ্যমান বস্তুসমূহের স্তরসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা। আরও জানা যে, কীভাবে সেগুলো স্রষ্টা মহান ও মহিয়ান আল্লাহ থেকে উৎসারিত হয়েছে এবং কীভাবে একটি অন্যটি থেকে বিচ্ছুরিত হয়েছে—যা আল্লাহ তাআলার সেই একত্ববাদের প্রভাবে সম্পন্ন হয়েছে যা সবকিছুর মধ্যে সঞ্চারিত। এই একত্ববাদের মাধ্যমেই প্রতিটি বিদ্যমান বস্তুর জন্য এমন একটি স্বতন্ত্র সত্তা লাভ হয়, যার দ্বারা সে অন্য একটি বিদ্যমান বস্তুর সত্তা থেকে পৃথক হতে পারে।

এর মাধ্যমেই হিউলি (আদি উপাদান) এবং হিউলির সদৃশ বিষয়ে রূপ বা আকৃতিসমূহের অস্তিত্ব ঘটে; আর তা হলো সেই সারসত্তা যা আসমানি মণ্ডল ও নক্ষত্ররাজির রূপসমূহ ধারণ করে। এছাড়া জগত কি অনাদি নাকি নব্যসৃষ্ট, এবং অনাদি ও নব্যসৃষ্টের মধ্যে পার্থক্য কী—সেগুলোও এর অন্তর্ভুক্ত।

এবং পরম অনাদি ও আপেক্ষিক অনাদির মধ্যে পার্থক্য কী?

এবং উদ্ভাবিত ও গঠিত বস্তুর মধ্যে পার্থক্য কী?

এবং কীভাবে উদ্ভাবিত সত্তা অনাদি ও গঠিত বস্তুর মধ্যে মাধ্যম হিসেবে সাব্যস্ত হলো?
(খণ্ড: ১) আল-হাদাইক ফিল মাতালিবিল আলিয়াহ আল-ফালসাফিয়্যাহ আল-আইসাহ (পৃষ্ঠা: ৫১)
وَهل خَالق الْعَالم وَاحِد أَو أَكثر من وَاحِد

وَإِقَامَة الْبَرَاهِين على أَنه لَا يَصح أَن يكون إِلَّا وَاحِدًا لَا يشبه شَيْئا وَلَا يُشبههُ شَيْء

وَمَا الْحِكْمَة فِي وجود الْأَشْيَاء على مَا هِيَ عَلَيْهِ

وَمَا المكون مِنْهَا وَمَا الْمُبْدع

وَمَا الْفرق بَين الْفَاعِل على الْحَقِيقَة وَالْفَاعِل على الْمجَاز وَالْفَاعِل الْمُطلق وَمَا الْحِكْمَة فِي دوران الأفلاك حَرَكَة مستديرة غير مُسْتَقِيمَة

وَمَا الْوَاجِب وَمَا الْمُمكن وَمَا الْمُمْتَنع

وَكَيف صَار مَا فَوق الْأَرْبَعَة الْأَركان من حيّز الْوَاجِب وَمَا تَحت الْأَركان من حيّز الْمُمكن

وَمَا الموجودات الَّتِي أُوتيت كمالها فِي جواهرها وأفعالها وَمَا الموجودات الَّتِي لم تؤت كمالها لَا فِي جواهرها وَلَا فِي أفعالها فهما طرفان
আর জগতের স্রষ্টা কি এক নাকি একের অধিক?

এবং এ বিষয়ে প্রমাণাদি উপস্থাপন করা যে, তিনি এক হওয়া ব্যতীত অন্য কিছু হওয়া অশুদ্ধ; তিনি কোনো কিছুর সদৃশ নন এবং কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়।

আর বস্তুসমূহ যে অবস্থায় আছে সে অবস্থায় তাদের অস্তিত্বের রহস্য কী?

আর সেগুলোর মধ্য থেকে উপাদানজাত বস্তু কী এবং অনস্তিত্ব থেকে উদ্ভাবিত বস্তু কী?

আর প্রকৃত কর্তা, রূপক কর্তা এবং পরম কর্তার মধ্যে পার্থক্য কী? এবং আকাশমন্ডলীর সরল গতির পরিবর্তে বৃত্তাকার আবর্তনের রহস্য কী?

আর আবশ্যিক, সম্ভবপর এবং অসম্ভব বিষয়াবলি কী?

আর কীভাবে চার উপাদানের ঊর্ধ্বস্থিত বিষয়সমূহ আবশ্যিক ক্ষেত্রের অন্তর্ভুক্ত হলো এবং এই উপাদানের নিম্নস্থিত বিষয়সমূহ সম্ভবপর ক্ষেত্রের অন্তর্ভুক্ত হলো?

আর সেই সকল বিদ্যমান সত্তা কী কী যেগুলোকে তাদের সারসত্তা ও কর্মে পূর্ণতা দান করা হয়েছে? এবং সেই সকল বিদ্যমান সত্তা কী কী যেগুলোকে তাদের সারসত্তা কিংবা কর্মে পূর্ণতা দান করা হয়নি? এই দুটি হলো দুই প্রান্ত।
(খণ্ড: ১) আল-হাদাইক ফিল মাতালিবিল আলিয়াহ আল-ফালসাফিয়্যাহ আল-আইসাহ (পৃষ্ঠা: ৫২)
وَمَا الموجودات الَّتِي أُوتيت كمالها فِي جواهرها وَلم تؤت كمالها فِي أفعالها فَصَارَت متوسطة بَين الطَّرفَيْنِ

وَلم سكن الصِّنْف الأول فَلم تكن لَهُ حَرَكَة وتحرك الصنفان الْآخرَانِ

وَمَا الْحِكْمَة فِي وجود النواميس والنبوات فِي عَالم الْكَوْن وَالْفساد

وَمَا الْفرق بَين النُّبُوَّة وَالسحر وَالْكهَانَة والفلسفة

وَكَيف تفيض قُوَّة الْوَحْي على الْأَنْبِيَاء

وَمَا الْفرق بَين الْإِنْسَان الَّذِي يُوحى إِلَيْهِ وَالَّذِي لَا يُوحى إِلَيْهِ

وَلم صَار الْإِنْسَان مَأْمُورا مَنْهِيّا دون غَيره

ومل سمي عَالما صَغِيرا وَسمي الْعَالم إنْسَانا كَبِيرا

وَمَا السياسة وَكم أَنْوَاعهَا

فَهَذِهِ الْأُمُور كلهَا من خَاصَّة النَّفس الفلسفية أَن تعرفها
সেই সকল অস্তিত্বশীল বিষয় কী কী, যাদেরকে তাদের সত্তাগত দিক থেকে পূর্ণতা প্রদান করা হয়েছে কিন্তু তাদের কার্যাবলির ক্ষেত্রে পূর্ণতা দেওয়া হয়নি, ফলে তারা দুই প্রান্তের মধ্যবর্তী অবস্থায় উপনীত হয়েছে?

কেন প্রথম শ্রেণিটি স্থির থাকল এবং তাতে কোনো গতি থাকল না, আর কেন অপর দুই শ্রেণি গতিশীল হলো?

সৃষ্টি ও ধ্বংসের এই জগতে ঐশী বিধান ও নবুওয়াত বিদ্যমান থাকার হিকমত (প্রজ্ঞা) কী?

নবুওয়াত, জাদু, গণকগিরি এবং দর্শনের মধ্যে পার্থক্য কী?

নবীদের ওপর ওহির শক্তি কীভাবে অবতীর্ণ হয়?

যার কাছে ওহি পাঠানো হয় এবং যার কাছে ওহি পাঠানো হয় না—এই দুই মানুষের মধ্যে পার্থক্য কী?

কেন অন্য সবার পরিবর্তে কেবল মানুষই আদেশ ও নিষেধের অনুগামী হলো?

কেন মানুষকে ক্ষুদ্র জগৎ এবং এই জগৎকে বিশাল মানুষ হিসেবে অভিহিত করা হয়?

রাজনীতি কী এবং এর প্রকারভেদ কতগুলো?

এই সমস্ত বিষয় জানাই হলো দার্শনিক আত্মার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য।
(খণ্ড: ১) আল-হাদাইক ফিল মাতালিবিল আলিয়াহ আল-ফালসাফিয়্যাহ আল-আইসাহ (পৃষ্ঠা: ৫৩)
بَعْضهَا على جِهَة التَّصَوُّر وَبَعضهَا على جِهَة التَّصْدِيق من غير تصور وَلَكِن لَيست كل نفس تتعاطى الفلسفة يتهيأ لَهَا أَن تعرف ذَلِك كُله وَلَكِن تعرف بعضه

وَإِنَّمَا تتهيأ معرفَة هَذِه الْأُمُور على كمالها للنَّفس الَّتِي اتّفق لَهَا فِي فطرتها وَكَونهَا أَن فطرت وفيهَا استعداد لقبُول ذَلِك وَكَانَت هاجرة للذات مميتة للشهوات زاهدة فِي الدِّينَار وَالدِّرْهَم محبَّة للخير وَأَهله مبغضة للشر وَأَهله مرتبطة بالنواميس مكتسبة للفضائل مطرحة للرذائل قد اجْتمع لَهَا الْعلم وَالْعَمَل

فَهَذَا هُوَ الفيلسوف الْحق عِنْد ارسطو وأفلاطون وزعماء الفلاسفة

وَمن لم يكن عِنْدهم بِهَذِهِ الصّفة فَلَيْسَ بفيلسوف وَلذَلِك قَالَ أرسطو لَيْسَ الْغَرَض أَن تعلم فَقَط وَإِنَّمَا الْغَرَض أَن تعلم وتعمل وتكونوا أخيارا فضلاء مرتبطين بالنواميس
এর কিছু অংশ ধারণার প্রেক্ষিতে এবং কিছু অংশ কোনো ধারণা ছাড়াই সত্যতা প্রমাণের ভিত্তিতে। কিন্তু দর্শনচর্চাকারী প্রত্যেক আত্মার পক্ষে এই সবকিছুর পূর্ণ জ্ঞান লাভ করা সম্ভব হয় না, বরং সে এর কিয়দাংশ জানতে পারে।

বস্তুত এই বিষয়গুলোর পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান কেবলমাত্র সেই আত্মার পক্ষেই অর্জন করা সম্ভব, যার প্রকৃতি ও অস্তিত্বে এগুলো গ্রহণের যোগ্যতা নিহিত রয়েছে; যে আত্মা ভোগবিলাস বর্জনকারী, প্রবৃত্তি দমনকারী, অর্থ-সম্পদের প্রতি অনাসক্ত, কল্যাণ ও কল্যাণকামী ব্যক্তিদের প্রতি অনুরাগী, অকল্যাণ ও অকল্যাণকামী ব্যক্তিদের প্রতি বিরাগী, ঐশ্বরিক বিধানের অনুসারী, সদ্গুণ অর্জনকারী এবং হীনতা বর্জনকারী; যার মাঝে জ্ঞান ও কর্মের সমন্বয় ঘটেছে।

অ্যারিস্টটল, প্লেটো এবং দার্শনিক নেতৃবৃন্দের নিকট এটিই প্রকৃত দার্শনিক।

আর যার মাঝে এই গুণাবলি বিদ্যমান নেই, তাদের নিকট সে দার্শনিক নয়। এ কারণেই অ্যারিস্টটল বলেছিলেন: "মূল উদ্দেশ্য কেবল জ্ঞান লাভ করা নয়, বরং উদ্দেশ্য হলো জানা ও তদনুযায়ী কাজ করা এবং এমন উত্তম ও পুণ্যবান হওয়া যারা ঐশ্বরিক বিধানের সাথে সংবদ্ধ।"
(খণ্ড: ১) আল-হাদাইক ফিল মাতালিবিল আলিয়াহ আল-ফালসাফিয়্যাহ আল-আইসাহ (পৃষ্ঠা: ৫৪)
وَقَالَ اقْتُلُوا من لَا دين لَهُ

وَقَالَ أفلاطون من أَرَادَ قِرَاءَة الفلسفة فليطهر أخلاقه من الرذائل فَإِنَّهُ لَا يتَعَلَّم الفلسفة الطاهرة من كَانَ نجسا كَمَا لَا يُمكن أحد أَن يرى وَجهه فِي مَاء كدر ومرآة صدئة

‌‌خَواص النَّفس النَّبَوِيَّة

 

خَواص هَذِه النَّفس الشَّرِيفَة تلقي الْوَحْي والإلهام والاتصال بِالْعقلِ الفعال وتقويم سَائِر النُّفُوس المنحرفة عَن الْحق وتسديد الْإِنْسَان حَتَّى يفعل مَا يَنْبَغِي على الْوَجْه الَّذِي يَنْبَغِي من الْوَجْه الَّذِي يَنْبَغِي من أجل مَا يَنْبَغِي فِي الْوَقْت الَّذِي يَنْبَغِي وإكمال الْفطر النَّاقِصَة بِوَضْع السّنَن والوعظ والتذكير وَالتَّرْغِيب والترهيب والإخبار بالأشياء الَّتِي لَيست فِي قُوَّة النَّفس الفلسفية أَن تعلمهَا لِأَن النَّفس الفلسفية إِنَّمَا تتعاطى النّظر فِي الكليات خَاصَّة وَلذَلِك قَالَ أفلاطون

نَحن عاجزون عَن فهم مَا جَاءَت بِهِ الشَّرَائِع وَإِنَّمَا نعلم من ذَلِك يَسِيرا ونجهل كثيرا وَلذَلِك كَانَ أرسطو يَأْمُرنَا بِالتَّسْلِيمِ لما جَاءَت بِهِ الشَّرَائِع ويأمرنا بتأديب من تعرض لتعليل أوامرها ونواهيها وتعاطي الْخَوْض فِيهَا
এবং তিনি বলেছেন, “যার কোনো ধর্ম নেই তাকে হত্যা করো।”

এবং প্লেটো বলেছেন, “যে ব্যক্তি দর্শন অধ্যয়ন করতে চায়, সে যেন তার চরিত্রকে হীনতা থেকে পবিত্র করে। কারণ অপবিত্র ব্যক্তি পবিত্র দর্শন শিখতে পারে না, ঠিক যেমন ঘোলা পানি বা মরিচা ধরা আয়নায় কেউ নিজের মুখ দেখতে পায় না।”

‌নবুওয়াতী আত্মার বৈশিষ্ট্যসমূহ

 

এই মহিমান্বিত আত্মার বৈশিষ্ট্য হলো ওহী ও ইলহাম লাভ করা এবং সক্রিয় বুদ্ধির সাথে সংযুক্ত হওয়া। এছাড়া সত্য থেকে বিচ্যুত অন্যান্য সকল আত্মাকে সংশোধন করা এবং মানুষকে এমনভাবে পরিচালিত করা যাতে সে যা করণীয় তা যথাযথভাবে, যথাযথ পদ্ধতিতে, যথাযথ কারণে এবং যথাযথ সময়ে সম্পাদন করতে পারে। আরও রয়েছে বিধান প্রবর্তন, উপদেশ দান, স্মরণ করিয়ে দেওয়া, উৎসাহ প্রদান ও ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে অপূর্ণ স্বভাবকে পূর্ণতা দান করা এবং এমন সব বিষয়ে সংবাদ প্রদান করা যা অনুধাবন করার শক্তি দার্শনিক আত্মার নেই। কারণ দার্শনিক আত্মা কেবল বিশেষত সার্বিক বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা করে। আর এই কারণেই প্লেটো বলেছিলেন:

“শরিয়ত যা নিয়ে এসেছে তা অনুধাবনে আমরা অক্ষম। আমরা এ সম্পর্কে সামান্যই জানি এবং অনেক কিছুই আমাদের অজানা। আর এই কারণেই অ্যারিস্টটল আমাদের নির্দেশ দিতেন যেন শরিয়ত যা নিয়ে এসেছে তা আমরা নির্দ্বিধায় মেনে নেই। তিনি আরও নির্দেশ দিতেন যেন তাকে শাস্তি দেওয়া হয়, যে ব্যক্তি শরিয়তের আদেশ ও নিষেধের কারণ খুঁজতে যায় অথবা তাতে অনর্থক তর্কে লিপ্ত হয়।”
(খণ্ড: ১) আল-হাদাইক ফিল মাতালিবিল আলিয়াহ আল-ফালসাফিয়্যাহ আল-আইসাহ (পৃষ্ঠা: ৫৫)
وَهَذِه النَّفس أشرف النُّفُوس الَّتِي فِي عَالم الْأَركان وأعلاها وَهِي السائسة الْمُدبرَة لسياسة النُّفُوس وَلَا يتَّفق أَن تُوجد هَذِه النَّفس الشَّرِيفَة إِلَّا فِي ذَوي الْفطر الْكَامِلَة

وَهَذِه النَّفس لَا تحْتَاج إِلَى اكْتِسَاب المعارف والعلوم بالمقاييس والمقدمات كَمَا تحْتَاج النَّفس الفلسفية لِأَن المقاييس العلمية إِنَّمَا هِيَ قوانين وَضعهَا ذَوُو الْفطر الْكَامِلَة تسديدا وتقويما لِذَوي الْفطر النَّاقِصَة

فَإِذا اتّفق للْإنْسَان فِي أصل مولده أَن يعْطى فطْرَة كَامِلَة اسْتغنى عَن تِلْكَ المقاييس وَوجد الْأُمُور الْعَقْلِيَّة كَأَنَّهَا مصورة فِي نَفسه

وكما أَنا نجد فِي الْفطر الإنسانية فطرا فِي نِهَايَة النَّقْص قريبَة من فطر الْبَهَائِم كَذَلِك لَا محَالة أَن نجد فِيهَا فطرا فِي نِهَايَة الْكَمَال قريبَة من فطر الْمَلَائِكَة فَتكون هَذِه الْفِكر لَا تحْتَاج إِلَى تَقْوِيم بالمقاييس العلمية كَمَا لَا تحْتَاج الْمَلَائِكَة بل يكفيها أقل إِشَارَة وأيسر عبارَة وَيكون الله تبارك وتعالى قد أكمل هَذِه الْفطر فِي أصل خلقتها لتسوس الْعَالم بوساطتها
এই আত্মা হলো উপাদানসমূহের জগতের অন্তর্ভুক্ত সর্বাপেক্ষা সম্মানিত ও উচ্চতর আত্মা। এটি হলো অন্যান্য আত্মাসমূহকে পরিচালনার জন্য নিয়ামক ও ব্যবস্থাপক। এই সম্মানিত আত্মা কেবল পূর্ণাঙ্গ স্বভাবের অধিকারী ব্যক্তিদের মধ্যেই পাওয়া সম্ভব।

এই আত্মার জ্ঞান ও বিজ্ঞান অর্জনের জন্য দার্শনিক আত্মার মতো কোনো পরিমাপদণ্ড বা ভূমিকার মুখাপেক্ষী হতে হয় না। কেননা জ্ঞানতাত্ত্বিক মানদণ্ডসমূহ কেবল সেই সকল নিয়ম-কানুন যা পূর্ণাঙ্গ স্বভাবের অধিকারীরা অপূর্ণাঙ্গ স্বভাবের অধিকারীদের সঠিক পথপ্রদর্শন ও সংশোধনের জন্য প্রণয়ন করেছেন।

সুতরাং কোনো মানুষকে যদি তার জন্মের শুরুতেই পূর্ণাঙ্গ স্বভাব দান করা হয়, তবে সে সেই সকল পরিমাপদণ্ডের মুখাপেক্ষিতা থেকে মুক্ত হয়ে যায় এবং সে বুদ্ধিভিত্তিক বিষয়সমূহকে নিজের আত্মার মাঝে চিত্রিত অবস্থায় পায়।

আর যেভাবে আমরা মানুষের স্বভাবের মধ্যে অত্যন্ত ত্রুটিপূর্ণ স্বভাব দেখতে পাই যা চতুষ্পদ জন্তুর স্বভাবের কাছাকাছি, তেমনি আমরা সেখানে অবশ্যই এমন স্বভাবও পাব যা পূর্ণতার চূড়ান্ত শিখরে এবং ফেরেশতাদের স্বভাবের কাছাকাছি। ফলে এই চিন্তা-ভাবনা জ্ঞানতাত্ত্বিক পরিমাপদণ্ডের মাধ্যমে সংশোধনের প্রয়োজনবোধ করে না, যেমনটি ফেরেশতারাও করে না। বরং এর জন্য সামান্যতম ইশারা এবং সহজতম অভিব্যক্তিই যথেষ্ট। আর আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা এই সকল স্বভাবকে তাদের সৃষ্টির মূলেই পূর্ণতা দান করেছেন, যাতে এর মাধ্যমে বিশ্ব জগত পরিচালিত হয়।
(খণ্ড: ১) আল-হাদাইক ফিল মাতালিবিল আলিয়াহ আল-ফালসাফিয়্যাহ আল-আইসাহ (পৃষ্ঠা: ৫৬)
وَهَذَا يُوجب أَن تكون النُّبُوَّة إلهاما لَا اكتسابا

‌‌خَواص النَّفس الْكُلية

 

مرتبَة هَذِه النَّفس الْكُلية عِنْد من أثبتها من الفلاسفة تَحت أفق الْعقل الفعال وَالْعقل مُحِيط بهَا من جَمِيع جهاتها وَهِي مُحِيطَة بكرَة الأفلاك

وَلها فِيمَا زَعَمُوا دائرتان وَخط مُسْتَقِيم

فالدائرة الأولى مُتَّصِلَة بالفلك الْمُحِيط وَهُوَ طرفها الْأَعْلَى

والدائرة الثَّانِيَة هِيَ الطّرف الْأَدْنَى ومكانها مَرْكَز الأَرْض وَهَذَا تقريب لِأَن الْجَوَاهِر المعقولة لَا تُوصَف بالأمكنة وَلَا بالجهات السِّت وَزَعَمُوا أَن بَين طرفها الْأَعْلَى وطرفها الْأَدْنَى خطا يصل بَين الدائرتين يسمونه سلم الْمِعْرَاج وَبِه يتَّصل الْوَحْي بالأنفس
আর এটিই অপরিহার্য করে যে, নবুওয়াত হবে ইলহাম বা অনুপ্রাণন, কোনো অর্জনযোগ্য বিষয় নয়।

‌‌সমষ্টিগত আত্মার বৈশিষ্ট্যসমূহ

 

দার্শনিকদের মধ্যে যারা সমষ্টিগত আত্মার অস্তিত্ব স্বীকার করেন, তাদের মতে এর স্তর হলো সক্রিয় বুদ্ধিবৃত্তির দিগন্তের নিচে। বুদ্ধিবৃত্তি একে সব দিক থেকে পরিবেষ্টন করে আছে, আর এটি মহাকাশীয় গোলকসমূহকে পরিবেষ্টন করে আছে।

তাদের দাবি অনুযায়ী এর দুটি বৃত্ত এবং একটি সরলরেখা রয়েছে।

প্রথম বৃত্তটি পরিবেষ্টনকারী মহাকাশীয় গোলকের সাথে সংযুক্ত, যা এর ঊর্ধ্ব প্রান্ত।

দ্বিতীয় বৃত্তটি হলো নিম্ন প্রান্ত এবং এর অবস্থান হলো পৃথিবীর কেন্দ্র। এটি একটি ধারণাগত নৈকট্য মাত্র, কারণ বুদ্ধিগ্রাহ্য সত্তাসমূহকে স্থান বা ছয়টি দিক দ্বারা বিশেষিত করা যায় না। তারা দাবি করেন যে, এর ঊর্ধ্ব ও নিম্ন প্রান্তের মাঝে একটি রেখা রয়েছে যা বৃত্ত দুটির মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে; তারা একে ‘মিরাজের সিঁড়ি’ বলে অভিহিত করেন এবং এর মাধ্যমেই মানবাত্মাগুলোর সাথে ওহীর সংযোগ স্থাপিত হয়।
(খণ্ড: ১) আল-হাদাইক ফিল মাতালিবিল আলিয়াহ আল-ফালসাফিয়্যাহ আল-আইসাহ (পৃষ্ঠা: ৫৭)
الْجُزْئِيَّة الطاهرة وَبِه تنزل الْمَلَائِكَة وتصعد الْأَرْوَاح الزكية إِلَى الْعَالم الْأَعْلَى

وَلَهُم فِيهَا كَلَام طَوِيل اقتصرنا مِنْهُ على هَذِه الْجُمْلَة لِأَن غرضنا فِي هَذَا الْكتاب غير ذَلِك
পবিত্র সেই ক্ষুদ্র অংশ, যার মাধ্যমে ফেরেশতাগণ অবতরণ করেন এবং পবিত্র আত্মাগুলো ঊর্ধ্বজগতে আরোহণ করে।

এই বিষয়ে তাদের দীর্ঘ আলোচনা রয়েছে, যেখান থেকে আমরা কেবল এই সংক্ষিপ্ত বিবরণের ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছি; কারণ এই কিতাবে আমাদের উদ্দেশ্য এর বাইরে অন্য কিছু।
(খণ্ড: ১) আল-হাদাইক ফিল মাতালিবিল আলিয়াহ আল-ফালসাফিয়্যাহ আল-আইসাহ (পৃষ্ঠা: ৫৮)
الْبَاب الثَّانِي فِي شرح قَوْلهم إِن الْإِنْسَان يَحْكِي دَائِرَة وهمية وَإِن ذَاته تبلغ بعد مماته إِلَى حَيْثُ يبلغ علمه فِي حَيَاته

 

قد تَأَمَّلت أرشدنا الله وَإِيَّاك إِلَى صَوَاب القَوْل وَالْعَمَل وعصمنا من الْخَطَأ والزلل هَذَا الَّذِي قَالُوهُ واعتبرت مَا ذَكرُوهُ فَوَجَدته يحْتَمل تأويلين

أَحدهمَا أَن الْإِنْسَان يفتح نظره بِشَيْء لَا مَادَّة لَهُ وَيَنْتَهِي نظره إِلَى شَيْء لَا مَادَّة لَهُ فَيكون مرجع علمه وَنَظره إِلَى مثل مبدئه كَمَا أَن مبدأ صُورَة الْإِنْسَان من شَيْء لَا مَادَّة لَهُ وغايته أَن يعود شَيْئا لَا مَادَّة لَهُ وَلست أَعنِي مبدأ صُورَة جِسْمه الَّتِي هِيَ شكل هيولاه لِأَن هَذِه مبدؤها الْمَادَّة وَإِنَّمَا الْمَادَّة وَإِنَّمَا أَعنِي مبدأ صورته الناطقة الَّتِي بهَا
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাদের এই বক্তব্যের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে যে, মানুষ একটি কাল্পনিক বৃত্তকে উপস্থাপন করে এবং মৃত্যুর পর তার সত্তা সেই স্তরে পৌঁছায় যেখানে তার জীবিতাবস্থায় তার জ্ঞান পৌঁছেছিল।

 

আমি গভীরভাবে চিন্তা করেছি—আল্লাহ আমাদের এবং আপনাকে কথা ও কাজের সঠিকতার দিকে পরিচালিত করুন এবং আমাদেরকে ভুল ও পদস্খলন থেকে রক্ষা করুন—তারা যা বলেছে সে বিষয়ে এবং তারা যা উল্লেখ করেছে তা আমি বিবেচনা করেছি। অতঃপর আমি তা দুটি ব্যাখ্যার সম্ভাবনাযুক্ত পেয়েছি।

তন্মধ্যে একটি হলো, মানুষ এমন কিছু দিয়ে তার দৃষ্টির উন্মেষ ঘটায় যার কোনো জড় উপাদান নেই এবং তার দৃষ্টি এমন কিছুতে গিয়ে শেষ হয় যার কোনো জড় উপাদান নেই। ফলে তার জ্ঞান ও দৃষ্টির প্রত্যাবর্তনস্থল হবে তার প্রারম্ভিক অবস্থার ন্যায়। যেমন মানুষের রূপের প্রারম্ভ এমন কিছু থেকে যার কোনো জড় উপাদান নেই এবং এর চূড়ান্ত পরিণতি হলো এমন কিছুতে ফিরে যাওয়া যার কোনো জড় উপাদান নেই। আমি তার দৈহিক রূপের প্রারম্ভ বোঝাচ্ছি না যা তার আদি উপাদানের আকৃতি, কারণ এর প্রারম্ভ হলো জড় পদার্থ; বরং আমি তার সেই বাকশক্তি সম্পন্ন রূপের প্রারম্ভ বোঝাচ্ছি যার মাধ্যমে সে...
(খণ্ড: ১) আল-হাদাইক ফিল মাতালিবিল আলিয়াহ আল-ফালসাফিয়্যাহ আল-আইসাহ (পৃষ্ঠা: ৫৯)
صَار الْإِنْسَان إنْسَانا وانفصل عَن الْحَيَوَان الَّذِي لَا نطق لَهُ لِأَن هَذِه الصُّورَة مبدؤها من الْعقل الفعال ومرجعها إِلَيْهِ

وَشرح هَذِه الْجُمْلَة أَن مبدأ علم الْإِنْسَان الْأَعْدَاد الَّتِي لَا تحْتَاج فِي تفهمها إِلَى مَادَّة ثمَّ يترقى مِنْهَا إِلَى النّظر فِي الأعظام الَّتِي تحْتَاج فِي تفهمها إِلَى الْمَادَّة غير أَن مَا يحْتَاج إِلَيْهِ فِي بَعْضهَا من الْمَادَّة أقل مِمَّا يحْتَاج إِلَيْهِ فِي بعض لِأَن مبدأ الأعظام النقطة الَّتِي هِيَ مبدأ الْخط وَلَا بعد لَهَا ثمَّ الْخط الَّذِي هُوَ مبدأ السَّطْح ثمَّ السَّطْح الَّذِي هُوَ مبدأ الْجِسْم وَهَذِه يحْتَاج فِي تفهمها إِلَى مَادَّة يسيرَة فَإِذا انْتهى إِلَى النّظر فِي الْجِسْم استغرق فِي الْمَادَّة وَحصل بنظره فِي الْعلم الطبيعي ثمَّ يبْدَأ يَنْسَلِخ من الْمَادَّة قَلِيلا قَلِيلا على تدرج كَمَا ترقى إِلَيْهَا قَلِيلا قَلِيلا عِنْد نظره فِي النقطة والخط والسطح فَلَا يزَال كَذَلِك حَتَّى يُفَارق الْمَادَّة قَلِيلا وَذَلِكَ أَنه إِذا نظر فِي العناصر والمعادن فَإِنَّمَا ينظر فِي أجسام غضة لَيْسَ فِيهَا مبدأ غير الطبيعة فَإِذا صَار إِلَى
মানুষ মানুষে পরিণত হয়েছে এবং বাকশক্তিহীন প্রাণী থেকে পৃথক হয়েছে, কারণ এই রূপটির উৎস হলো সক্রিয় বুদ্ধি এবং এর প্রত্যাবর্তনও সেই দিকেই।

এই বক্তব্যের ব্যাখ্যা হলো, মানুষের জ্ঞানের সূচনা হয় সেই সব সংখ্যা দ্বারা যা বোঝার জন্য কোনো জড় পদার্থের প্রয়োজন হয় না। অতঃপর তা থেকে সে সেই সব জ্যামিতিক পরিমাপ পর্যালোচনার দিকে উন্নীত হয় যা বোঝার জন্য জড় পদার্থের প্রয়োজন পড়ে; তবে এগুলোর কোনোটির ক্ষেত্রে জড় পদার্থের প্রয়োজনীয়তা অন্যটির তুলনায় কম। কারণ জ্যামিতিক পরিমাপের সূচনা হলো বিন্দু, যা রেখার আদি উৎস এবং এর কোনো মাত্রা নেই; অতঃপর রেখা যা তলের উৎস, অতঃপর তল যা ত্রিমাত্রিক বস্তুর উৎস। আর এগুলো অনুধাবনের জন্য সামান্য জড় পদার্থের প্রয়োজন হয়। অতঃপর যখন সে ত্রিমাত্রিক বস্তু পর্যালোচনার পর্যায়ে পৌঁছায়, তখন সে জড় পদার্থের মধ্যে পূর্ণরূপে নিমগ্ন হয় এবং তার এই পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রাকৃতিক বিজ্ঞান অর্জিত হয়। এরপর সে ক্রমশ জড় পদার্থ থেকে নিজেকে মুক্ত করতে শুরু করে, ঠিক যেভাবে সে বিন্দু, রেখা ও তল পর্যালোচনার সময় ক্রমশ জড় পদার্থের দিকে অগ্রসর হয়েছিল। সে এভাবেই অগ্রসর হতে থাকে যতক্ষণ না সে জড় পদার্থ থেকে কিছুটা পৃথক হয়। আর তা একারণে যে, সে যখন মৌলিক উপাদান ও খনিজ পদার্থসমূহ নিয়ে চিন্তা করে, তখন সে মূলত এমন অপক্ব বস্তু নিয়ে আলোচনা করে যার মধ্যে প্রকৃতি ব্যতীত অন্য কোনো মূলনীতি নেই। অতঃপর যখন সে...
(খণ্ড: ১) আল-হাদাইক ফিল মাতালিবিল আলিয়াহ আল-ফালসাফিয়্যাহ আল-আইসাহ (পৃষ্ঠা: ৬০)
النّظر فِي النَّبَات وجد فِيهِ مبدأ من مبادئ النَّفس وَتسَمى هَذِه النَّفس النباتية فَيكون قد ابْتَدَأَ بالانسلاخ من الْمَادَّة قَلِيلا قَلِيلا فَإِذا صَار إِلَى النّظر فِي الْحَيَوَان غير النَّاطِق وجد أَمر النَّفس فِيهِ أقوى وَتسَمى هَذِه النَّفس الحيوانية فَيكون قد انْسَلَخَ من الْمَادَّة أَكثر فَإِذا صَار إِلَى النّظر فِي الْحَيَوَان النَّاطِق وجد فِيهِ أَمر النَّفس أقوى وَوجد فِيهِ مبدأ آخر غير النَّفس الحيوانية وَهُوَ الاستعداد لقبُول الْأُمُور المعقولات

ثمَّ يشرع بِالنّظرِ فِي أُمُور النَّفس فَيصير متوسطا بَين الْأُمُور الْعَقْلِيَّة الْمُجَرَّدَة من الْمَادَّة وَبَين الْأُمُور الجسمانية ذَوَات الْموَاد فَإِذا أمعن فِي النّظر فِي أَمر النَّفس الناطقة لاحت إِلَيْهِ المبادئ الْعَقْلِيَّة الَّتِي لَيست بمادة فَيكون قد انْسَلَخَ من الْمَادَّة كلهَا وَحصل فِي أول مَرَاتِب الْعلم الإلهي
উদ্ভিদ বিষয়ক পর্যালোচনায় নফসের একটি মূলনীতি পাওয়া যায় এবং এই নফসকে উদ্ভিজ্জ নফস বলা হয়। এর ফলে তা জড় পদার্থ থেকে ধীরে ধীরে পৃথক হতে শুরু করে। এরপর যখন বাকশক্তিহীন প্রাণীর পর্যালোচনায় আসা হয়, তখন সেখানে নফসের বিষয়টি আরও শক্তিশালী রূপে পাওয়া যায় এবং একে পাশবিক নফস বলা হয়। ফলে তা জড় বা বস্তু থেকে আরও বেশি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অতঃপর যখন বাকশক্তি সম্পন্ন প্রাণীর পর্যালোচনায় আসা হয়, তখন সেখানে নফসের বিষয়টি আরও প্রবল দেখা যায় এবং সেখানে পাশবিক নফস ছাড়াও অন্য এক মূলনীতি পাওয়া যায়, যা হলো বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়সমূহ গ্রহণের যোগ্যতা।

অতঃপর সে যখন নফসের বিষয়াবলী নিয়ে পর্যালোচনা শুরু করে, তখন সে জড়মুক্ত বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়াবলী এবং জড় পদার্থবিশিষ্ট দৈহিক বিষয়াবলীর মধ্যবর্তী এক অবস্থায় উপনীত হয়। এরপর যখন সে বাকশক্তি সম্পন্ন নফসের বিষয়ে গভীরভাবে পর্যালোচনা করে, তখন তার নিকট এমন সব বুদ্ধিবৃত্তিক মূলনীতি উদ্ভাসিত হয় যা কোনো জড় পদার্থ নয়; ফলে সে বস্তু জগত থেকে সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং ঐশী জ্ঞানের প্রথম স্তরে উপনীত হয়।
(খণ্ড: ১) আল-হাদাইক ফিল মাতালিবিল আলিয়াহ আল-ফালসাফিয়্যাহ আল-আইসাহ (পৃষ্ঠা: ৬১)
ثمَّ يشرع بِالنّظرِ فِي الْأُمُور الْعَقْلِيَّة الْمُفَارقَة للمادة فَأول مَعْقُول يصادفه بِاعْتِبَارِهِ عِنْد صُعُوده الْعقل الفعال

فَإِذا أكمل النّظر فِيهِ وَعلم مرتبته من المعقولات الْمُفَارقَة وَأَنه فِي الْمرتبَة الْعَاشِرَة صعد بِالِاعْتِبَارِ إِلَى النّظر فِي التَّاسِع ثمَّ إِلَى الثَّامِن ثمَّ إِلَى السَّابِع ثمَّ إِلَى السَّادِس حَتَّى يصير بفكره إِلَى الْمَعْقُول الأول الَّذِي هُوَ فِي مرتبَة الْوَاحِد فيجده نِهَايَة الموجودات الَّذِي أَفَادَ كل شَيْء الْوُجُود وكل مَوْجُود مفتقر إِلَيْهِ مقتبس الْوُجُود مِنْهُ فَيكون قد انْسَلَخَ من النّظر فِي الثواني التِّسْعَة وَالْعقل الفعال وَهَذِه هِيَ الَّتِي تسمى بِالْمَلَائِكَةِ المقربين والكروبيين وَيكون قد انْتهى بِاعْتِبَارِهِ وفكره إِلَى البارئ تَعَالَى فيشرع حِينَئِذٍ بِالنّظرِ فِي صِفَاته وَمَا يجوز أَن يُوصف بِهِ وَمَا لَا يجوز وَكَيف انبعثت الموجودات عَنهُ وعَلى أَي جِهَة يَصح أَن يُقَال إِنَّه فاعلها وعلتها حَتَّى لَا يلْحقهُ نقص وَكَيف دبر عَالم الأفلاك بتوسط الثواني وَالْعقل الفعال ودوران الأفلاك حول
অতঃপর তিনি জড়পদার্থবিযুক্ত বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়সমূহ পর্যালোচনায় প্রবৃত্ত হন। তাঁর এই ঊর্ধ্বারোহণের সময় আপন বিবেচনায় প্রথম যে বুদ্ধিবৃত্তিক সত্তার তিনি সাক্ষাৎ পান, তা হলো সক্রিয় বুদ্ধি (আল-আকলুল ফাউয়াল)।

যখন তিনি এই বিষয়ে পর্যালোচনা সম্পন্ন করেন এবং বিযুক্ত বুদ্ধিবৃত্তিক সত্তাসমূহের মধ্যে এর অবস্থান এবং এটি যে দশম স্তরে বিন্যস্ত তা অবগত হন, তখন তিনি স্বীয় বিবেচনার মাধ্যমে নবম স্তরের পর্যালোচনায় আরোহণ করেন, অতঃপর অষ্টমে, অতঃপর সপ্তমে, অতঃপর ষষ্ঠে, যে পর্যন্ত না তিনি আপন চিন্তার মাধ্যমে সেই প্রথম বুদ্ধিবৃত্তিক সত্তায় উপনীত হন যা 'এক'-এর স্তরে অবস্থিত। তখন তিনি একে অস্তিত্বশীল সকল বস্তুর চূড়ান্ত প্রান্ত হিসেবে দেখতে পান, যিনি প্রতিটি বস্তুকে অস্তিত্ব দান করেছেন এবং প্রতিটি বিদ্যমান সত্তা তাঁর মুখাপেক্ষী ও তাঁর নিকট হতে অস্তিত্ব লাভকারী। এভাবে তিনি নয়টি মাধ্যমিক সত্তা ও সক্রিয় বুদ্ধির পর্যালোচনা হতে উত্তীর্ণ হন; আর এরাই হলেন তারা যাদের নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতা ও কারুবিয়্যুন বলা হয়। এভাবে তিনি স্বীয় বিবেচনা ও চিন্তার মাধ্যমে মহান স্রষ্টা (বারী তা'আলা) পর্যন্ত পৌঁছে যান। অতঃপর তিনি আল্লাহর গুণাবলী এবং তাঁকে কী কী বিশেষণে বিশেষিত করা বৈধ ও কী কী বৈধ নয়, কীভাবে তাঁর থেকে অস্তিত্বশীল বস্তুসমূহ উদ্ভূত হয়েছে এবং কোন পদ্ধতিতে তাঁকে এগুলোর কর্তা ও কারণ বলা সঠিক হবে—যাতে তাঁর প্রতি কোনো প্রকার অপূর্ণতা স্পর্শ না করে—সে সম্পর্কে আলোচনা শুরু করেন। আর কীভাবে তিনি মাধ্যমিক সত্তাসমূহ ও সক্রিয় বুদ্ধির মধ্যস্থতায় নক্ষত্রজগত পরিচালনা করেছেন এবং নক্ষত্রমণ্ডলীর আবর্তন...