(খণ্ড: ১)
যাওয়াইদুল আহাদিসিল ওয়ারিদাতু ফী ফাদায়িলিস সাহাবাহ
(পৃষ্ঠা: -)
زوائد الأحاديث الواردة في فضائل الصحابة القسم: التخريج والأطراف
الكتاب: زوائد الأحاديث الواردة في فضائل الصحابة، في كتاب: المطالب العالِية لابن حجر، على الأحاديث الواردة في فضائل الصحابة في الكتب التسعة ومسنديّ أبي بكر البزار، وأبي يَعلى الموصلي، والمعاجم الثلاثة لأبِي القاسم الطبراني والمستدرك عليها
المؤلف: سعود بن عيد بن عمير الصاعدي
الناشر: عمادة البحث العلمي- الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة
الطبعة: الأولى، 1436 هـ - 2015 م
عدد الصفحات: 183
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 16 ربيع الأول 1443
সাহাবীগণের ফজিলত বিষয়ক হাদীসসমূহের অতিরিক্ত সংগ্রহ বিভাগ: তাখরিজ ও আতরাফ
বই: সাহাবীগণের ফজিলত বিষয়ক হাদীসসমূহের অতিরিক্ত সংগ্রহ, যা নিম্নোক্ত গ্রন্থে রয়েছে: ইবনে হাজারের 'আল-মাতালিব আল-আলিয়া', যা নয়টি কিতাব, আবু বকর আল-বাজ্জার ও আবু ইয়ালা আল-মাওসিলীর দুই মুসনাদ এবং আবুল কাসেম আত-তাবারানির তিন মুজাম ও তার মুস্তাদরাকসমূহে বর্ণিত সাহাবীগণের ফজিলত সংক্রান্ত হাদীসসমূহের অতিরিক্ত সংগ্রহ।
লেখক: সাউদ বিন ঈদ বিন উমাইর আস-সাঈদী
প্রকাশক: বৈজ্ঞানিক গবেষণা বিভাগ- মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৬ হিজরি - ২০১৫ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৮৩
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩
(খণ্ড: ১)
যাওয়াইদুল আহাদিসিল ওয়ারিদাতু ফী ফাদায়িলিস সাহাবাহ
(পৃষ্ঠা: ১)
المملكة العربية السعودية
وزارة التعليم العالي
الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة
عِمادة البحث العلمي
رقم الإصدار (183)
سلسلة الكتب والبحوث المحكَّمة (29)
زَوَائِدُ الأَحَادِيثِ الوَارِدَةِ في
فَضَائِلِ الصَّحَابَةِ
رِضْوَانُ اللهِ تَعَالَى عَلَيْهِمْ جَمِيعًا
في كتاب: المطالب العالِية
للحافِظِ أَحْمَدَ بْنِ عَلِيِّ بْنِ حَجَرٍ العَسْقَلَانِيّ (ت 852 هـ)
على الأحاديث الواردة في فضائل الصحابة في الكتب التسعة ومسنديّ أبي بكر البزار
وأبي يَعلى الموصلي، والمعاجم الثلاثة لأبِي القاسم الطبراني والمستدرك عليها
جمع وَدِراسَة
تَأليفُ
أ. د سعود بن عيد بن عمير الصَّاعدي
عُضو هَيئَةِ التَّدريسِ بِالجَامِعَةِ الإسْلَاميَّةِ بِالمَدِينَةِ المنَوَّرَة
الطَّبعَة الأولى
1436 - هـ / 2015 م
সৌদি আরব সাম্রাজ্য
উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়
মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
বৈজ্ঞানিক গবেষণা অনুষদ
প্রকাশনা সংখ্যা (১৮৩)
পিয়ার-রিভিউড বই ও গবেষণা সিরিজ (২৯)
সাহাবীদের ফযীলত সম্পর্কে বর্ণিত অতিরিক্ত হাদিসসমূহ
সাহাবীদের ফযীলত
তাদের সকলের ওপর মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি বর্ষিত হোক
গ্রন্থ: আল-মাতালিব আল-আলিয়াহ
হাফেজ আহমদ বিন আলী বিন হাজার আল-আসকালানী (মৃত্যু ৮৫২ হি.) রচিত
নয়টি হাদিস গ্রন্থ (কুতুবুত তিসআহ), আবু বকর আল-বাজার ও আবু ইয়ালা আল-মাওসিলির দুটি মুসনাদ, আবুল কাসিম আত-তাবারানির তিনটি মুজাম এবং সেগুলোর মুস্তাদরাক সমূহে বর্ণিত সাহাবীদের ফযীলত বিষয়ক হাদিসগুলোর ওপর অতিরিক্ত হিসেবে
সংকলন ও গবেষণা
রচনায়
প্রফেসর ড. সাউদ বিন ঈদ বিন উমাইর আল-সাঈদী
মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মণ্ডলীর সদস্য
প্রথম সংস্করণ
১৪৩৬ - হিজরি / ২০১৫ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
যাওয়াইদুল আহাদিসিল ওয়ারিদাতু ফী ফাদায়িলিস সাহাবাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
مقدِّمة معالي مدير الجامعة الإسلاميَّةالحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على نبينا محمد، وعلى آله وصحبه أجمعين. وبعد:
فإن العلم أشَرف ما رَغِب فيه الراغب، وأفضل ما طلب وجد فيه الطالب، وأنفع ما كسبه واقتناه الكاسب؛ لأن شرفه يثمر على صاحبه، وفضله يَنْمى عند طالبه، قال الله تعالى: {قُلْ هَلْ يَسْتَوِي الَّذِينَ يَعْلَمُونَ وَالَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ} [الزمر: 9] فمنع سبحانه المساواة بين العالم والجاهل لما قد خص به العالم من فضيلة العلم، ومن هنا رغب الشرع وأكد على أهمية طلبه، ومما يدل على فضل العلم أن الله أمر نبيه صلى الله عليه وسلم أن يسأله مزيدًا من العلم فقال: {وَقُلْ رَبِّ زِدْنِي عِلْمًا} [طه: 114].
وقال صلى الله عليه وسلم: "مَنْ سَلَكَ طَرِيقًا يَلْتَمِسُ فِيهِ عِلْمًا، سَهَّلَ اللهُ لَهُ يهِ طَرِيقًا إِلَى الْجَنَّةِ"
(1)، وقال: "مَنْ يُرِدِ اللهُ يهِ خَيْرًا يُفَقِّهْهُ فِي الدِّينِ"
(2).
فالعلم من أعظم منن الله تعالى على عباده، ومن أعظم العبادات التي يتعبد العبدُ بها ربَّه تبارك وتعالى، وهو من أعظم ما ينفق العبد فيها وقته.
ولذلك كان نشر العلم المستمد من الكتاب والسنة وفهم السلف الصالح وبذله هو الهدف الأسمى لمؤسس هذه الدولة المباركة الملك عبد العزيز رحمه الله ولأبنائه كذلك من بعده، ففي عهد خادم الحرمين الشريفين
--------------------------------------------
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত পরিচালকের ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা সৃষ্টিকুলের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সকল সাহাবীর প্রতি। অতঃপর:
নিশ্চয়ই জ্ঞান হলো সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ বস্তু যার প্রতি কোনো আগ্রহী ব্যক্তি আগ্রহী হতে পারে, এবং সর্বোত্তম বিষয় যা কোনো অন্বেষণকারী অন্বেষণ করতে পারে ও যার জন্য শ্রম দিতে পারে, এবং সবচেয়ে উপকারী বস্তু যা কোনো অর্জনকারী অর্জন ও সংগ্রহ করতে পারে; কারণ এর মর্যাদা এর অধিকারীর নিকট ফলপ্রসূ হয় এবং এর শ্রেষ্ঠত্ব এর শিক্ষার্থীর নিকট বৃদ্ধি পায়। আল্লাহ তাআলা বলেন: {বলুন, যারা জানে আর যারা জানে না তারা কি সমান হতে পারে?} [আয-যুমার: ৯]। সুতরাং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আলেম ও জাহেলের মধ্যে সমতা অস্বীকার করেছেন, কারণ তিনি আলেমকে জ্ঞানের শ্রেষ্ঠত্বের মাধ্যমে বিশেষায়িত করেছেন। আর এখান থেকেই শরীয়ত জ্ঞান অন্বেষণের প্রতি উৎসাহিত করেছে এবং এর গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছে। জ্ঞানের শ্রেষ্ঠত্বের একটি প্রমাণ হলো যে, আল্লাহ তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে তাঁর কাছে জ্ঞান বৃদ্ধির প্রার্থনা করার নির্দেশ দিয়েছেন; তিনি বলেছেন: {এবং বলুন, হে আমার প্রতিপালক! আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করুন।} [ত্বহা: ১১৪]।
এবং তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি জ্ঞান অন্বেষণের জন্য কোনো পথ অবলম্বন করে, আল্লাহ তার মাধ্যমে তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেন"
(১)। তিনি আরও বলেছেন: "আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের গভীর বুঝ দান করেন"
(২)।
সুতরাং জ্ঞান হলো বান্দাদের ওপর মহান আল্লাহর শ্রেষ্ঠ অনুগ্রহগুলোর একটি, এবং মহান ইবাদতগুলোর অন্যতম যার মাধ্যমে বান্দা তার বরকতময় ও সুউচ্চ প্রতিপালকের ইবাদত করে। আর এটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিষয় যার পেছনে বান্দা তার সময় ব্যয় করে।
আর এই কারণেই কুরআন ও সুন্নাহ থেকে প্রাপ্ত এবং সালাফে সালেহীনের বুঝ অনুযায়ী জ্ঞান প্রচার ও বিলিয়ে দেওয়া ছিল এই বরকতময় রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা বাদশাহ আব্দুল আজিজ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) এবং তাঁর পরবর্তী সন্তানদের সর্বোচ্চ লক্ষ্য। সুতরাং দুই পবিত্র মসজিদের খাদেমের যুগে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাওয়াইদুল আহাদিসিল ওয়ারিদাতু ফী ফাদায়িলিস সাহাবাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
الملك عبد الله بن عبد العزيز -حفظه الله- شهد التعليم المزيد من المنجزات والقفزات العملاقة على امتداد الوطن بوصف التعليم ركيزة مهمة من الركائز التي تعتمد عليها الدولة في تحقيق التقدم ومواكبة التطورات العلمية في العالم، فازدهر التعليم العالي وارتقت الجامعات، وزادت أعدادها، ومن هذه الجامعات العملاقة، الجامعة الإسلامية بالمدينة النبوية، فهي صرح شامخ، يضرف بأن يكون إحدى المؤسسات العلمية والثقافية والدعوية الرائدة، التي تعمل على هدي الشريعة الإسلامية السمحة، فقامت بتنفيذ السياسة التعليمية بتوفير التعليم الجامعي والدراسات العليا، والنهوض بالبحث العلمي والقيام بالتأليف والترجمة والنشر، وخدمة المجتمع في نطاق اختصاصها.
ومن هنا فعمادة البحث العلمي بالجامعة تهتم بالبحوث العلمية نضرًا وجمعًا وترجمةً وتحكيمًا داخل الجامعة وخارجها؛ من أجل النهوض بالبحث العلمي، والتشجيع والحث على التأليف والنَّشر، ومن ذلك: [زوائد الأحاديث الواردة في فضائل الصحابة
… ] تأليف: أ. د/ سعود بن عيد الصاعدي.
نسأل الله تعالى أن يرزقنا العلم النافع والعمل الصالح، وأن يوفقنا لما يحب ويرضى، وصلى الله وسلم وبارك على نبينا محمد وعلى آله وأصحابه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.
مدير الجامعة الإسلاميَّة
أ. د/ عبد الرحمن بن عبد الله السند
বাদশাহ আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজ -আল্লাহ তাকে হিফাযত করুন- এর আমলে শিক্ষাখাত দেশব্যাপী ব্যাপক অর্জন ও বিশাল অগ্রগতির সাক্ষী হয়েছে। শিক্ষাকে এমন এক গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করা হয় যার ওপর রাষ্ট্র উন্নতি লাভ এবং বিশ্বের বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির সাথে তাল মিলিয়ে চলার ক্ষেত্রে নির্ভর করে। ফলে উচ্চশিক্ষা সমৃদ্ধ হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মান উন্নত হয়েছে এবং সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সুবৃহৎ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো মদিনা নববীস্থ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়। এটি একটি সুউচ্চ মিনার, যা অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ইলমি, সাংস্কৃতিক ও দাওয়াহ প্রতিষ্ঠান হওয়ার গৌরব ধারণ করে। এটি উদার ইসলামি শরীয়াহর নির্দেশনায় পরিচালিত হয়। এটি স্নাতক ও উচ্চতর গবেষণার সুযোগ প্রদান, বৈজ্ঞানিক গবেষণার উন্নয়ন এবং গ্রন্থ রচনা, অনুবাদ ও প্রকাশনার কাজ পরিচালনা করার মাধ্যমে তার কর্মপরিধির ভেতরে সমাজসেবা ও শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন করে চলেছে।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈজ্ঞানিক গবেষণা অনুষদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে ও বাইরে বৈজ্ঞানিক গবেষণার পর্যালোচনা, সংগ্রহ, অনুবাদ ও মূল্যায়নের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে; যেন বৈজ্ঞানিক গবেষণার মানোন্নয়ন ঘটে এবং গ্রন্থ রচনা ও প্রকাশনার প্রতি উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা সৃষ্টি হয়। তারই অংশ হলো: [সাহাবীগণের ফযীলত সম্পর্কে বর্ণিত অতিরিক্ত হাদীসসমূহ
… ] রচনা: প্রফেসর ড. সাউদ বিন ঈদ আস-সাঈদী।
আমরা মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের উপকারী ইলম ও নেক আমল দান করেন এবং আমাদের সেই তাওফীক দেন যা তিনি পছন্দ করেন ও যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন। আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদের সকলের ওপর আল্লাহর রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষিত হোক।
ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক
প্রফেসর ড. আব্দুর রহমান বিন আব্দুল্লাহ আস-সানাদ
(খণ্ড: ১)
যাওয়াইদুল আহাদিসিল ওয়ারিদাতু ফী ফাদায়িলিস সাহাবাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
المقدَّمَةإن الحمد لله، نستعينه، ونستغفره، ونعوذ به من شرور أنفسنا، من يهد الله فلا مُضِلَّ له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله.
{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ (102)} آل عمران، {يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا (1)} النساء، {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا (70) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا (71)} الأحزاب
(1).
أما بعد؛ فإن خير الحديث كتاب الله، وخير الهُدى هدى محمد صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها، وكل بدعة ضلالة
(2).
فإن الله -جل ثناؤه- قد بعث محمدًا صلى الله عليه وسلم بالتوحيد رحمة للعالمين، هاديًا ومبشرًا، وداعيًا ونذيرًا، فمن أطاعه دخل الجنة، ومن
--------------------------------------------
ভূমিকানিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ প্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং তোমরা মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না। (১০২)} আল-ইমরান, {হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের সেই প্রতিপালককে ভয় করো যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের কাছে সাহায্য চাও এবং রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়তার বিষয়ে (সতর্ক থাকো)। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন। (১)} আন-নিসা, {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। (৭০) তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই এক মহা সাফল্য অর্জন করল। (৭১)} আল-আহযাব
(১)।
অতঃপর; নিশ্চয়ই সর্বোত্তম বাণী হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মদ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন)-এর পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দীনের মধ্যে) নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, আর প্রতিটি বিদআতই হলো পথভ্রষ্টতা
(২)।
নিশ্চয়ই আল্লাহ -যাঁর প্রশংসা সুউচ্চ- মুহাম্মদ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন)-কে তাওহীদসহ বিশ্ববাসীর জন্য রহমতস্বরূপ, পথপ্রদর্শক, সুসংবাদদাতা, আহ্বানকারী এবং সতর্ককারী হিসেবে প্রেরণ করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি তাঁর আনুগত্য করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে, আর যে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাওয়াইদুল আহাদিসিল ওয়ারিদাতু ফী ফাদায়িলিস সাহাবাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
عصاه دخل النار. قال -تعالى-: {يَاأَيُّهَا النَّبِيُّ إِنَّا أَرْسَلْنَاكَ شَاهِدًا وَمُبَشِّرًا وَنَذِيرًا (45) وَدَاعِيًا إِلَى اللَّهِ بِإِذْنِهِ وَسِرَاجًا مُنِيرًا (46) وَبَشِّرِ الْمُؤْمِنِينَ بِأَنَّ لَهُمْ مِنَ اللَّهِ فَضْلًا كَبِيرًا (47) وَلَا تُطِعِ الْكَافِرِينَ وَالْمُنَافِقِينَ وَدَعْ أَذَاهُمْ وَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ وَكَفَى بِاللَّهِ وَكِيلًا (48)} [سورة الأحزاب].
ولم يمت صلى الله عليه وسلم ويختر الرفيق الأعلى إلا بعد أن بلَّغ الرسالة، وأدَّى الأمانة، ونصح الأمة، وجاهد في الله حق جهاده، قال الله -تعالى-: {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا}
(1)، ولم يترك خيرًا إلا وقد دلَّ الأمة عليه، ولا شرًّا إلا وقد حذّر الأمة منه؛ فقد روى مسلم
(2) من حديث عبد الله بن عمرو بن العاص رضي الله عنهما قال: اجتمعنا إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: (إنه لم يكن نبى قبلي إلّا كان حقًا عليه أن يدل أمته على خير ما يعلمه لهم، وينذرهم شر ما يعلمه لهم)، وروى -أيضًا-
(3) من حديث عبد الرحمن بن يزيد أنه قيل لسلمان: قد علمكم نبيكم صلى الله عليه وسلم كل شيء، حتى الخراءة؟ قال: أجل.
وتواتر عنه صلى الله عليه وسلم أمره أصحابه رضي الله عنهم أن
--------------------------------------------
যে তাঁর অবাধ্য হলো সে জাহান্নামে প্রবেশ করল। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "হে নবী! আমি আপনাকে পাঠিয়েছি সাক্ষ্যদাতা, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে। (৪৫) আর আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ্বানকারী ও উজ্জ্বল প্রদীপ হিসেবে। (৪৬) আর আপনি মুমিনদের সুসংবাদ দিন যে, তাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে রয়েছে বিশাল অনুগ্রহ। (৪৭) আর আপনি কাফির ও মুনাফিকদের আনুগত্য করবেন না, তাদের দেওয়া কষ্ট উপেক্ষা করুন এবং আল্লাহর ওপর ভরসা করুন; আর কর্মবিধায়ক হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট। (৪৮)" [সূরা আল-আহজাব]।
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মৃত্যুবরণ করেননি এবং মহান বন্ধুর (আল্লাহর) সান্নিধ্য বেছে নেননি যতক্ষণ না তিনি রিসালাত পৌঁছে দিয়েছেন, আমানত আদায় করেছেন, উম্মতকে উপদেশ দিয়েছেন এবং আল্লাহর পথে যথাযথভাবে জিহাদ করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: "আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম, তোমাদের ওপর আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে ইসলামকে পছন্দ করলাম।"
(১) তিনি এমন কোনো কল্যাণ ছেড়ে যাননি যার দিকে উম্মতকে দিকনির্দেশনা দেননি, আর এমন কোনো অকল্যাণ ছেড়ে যাননি যে বিষয়ে উম্মতকে সতর্ক করেননি। ইমাম মুসলিম
(২) আব্দুল্লাহ বিন আমর ইবনুল আস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে একত্রিত হলাম, তখন তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই আমার পূর্বে এমন কোনো নবী অতিবাহিত হননি যাঁর ওপর এ দায়িত্ব ছিল না যে, তিনি তাঁর উম্মতকে সেই উত্তম বিষয়গুলোর দিকে পথপ্রদর্শন করবেন যা তিনি তাদের জন্য কল্যাণকর বলে জানেন এবং সেই মন্দ বিষয়গুলো থেকে সতর্ক করবেন যা তিনি তাদের জন্য ক্ষতিকর বলে জানেন।" তিনি আরও
(৩) আব্দুর রহমান বিন ইয়াজিদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, সালমান (রা.)-কে বলা হলো: তোমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কি তোমাদের সব কিছু শিখিয়েছেন, এমনকি মলত্যাগ করার পদ্ধতিও? তিনি বললেন: হ্যাঁ।
আর তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে মুতাওয়াতির সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি তাঁর সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-দের নির্দেশ দিয়েছেন যেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাওয়াইদুল আহাদিসিল ওয়ারিদাতু ফী ফাদায়িলিস সাহাবাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
يبلغوا عنه، فقد قال لهم: (ليبلّغ الشاهد الغائب)
(1)، وقد وعوا ما حدثهم النبي صلى الله عليه وسلم به، وفقهوه، وأحسنوا العمل به، وتعليمه، ونشره، وصبروا على ذلك كله، لما أراده الله بهم من الخير، وحباهم به من حسن الفهم، وجودة الإدراك، وقوة الحفظ، وعمق العلم، وشدة الرغبة في الخير. قال ابن القيم رحمه الله
(2): (كانوا أبرّ قلوبًا، وأعمق علمًا، وأقل تكلفًا، وأقرب إلى أن يوفقوا لما لم نوفق له نحن؛ لما خصهم الله -تعالى- به من توقد الأذهان، وفصاحة اللسان، وسعة العلم، وسهولة الأخذ، وحسن الإدراك، وسرعته
… وحسن القصد، وتقوى الرب -تعالى-؛ فالعربية طبيعتهم وسليقتهم، والمعاني الصحيحة مركوزة في فطرهم وعقولهم) ا هـ.
وقد كانوا على مشرب واحد، وعقيدة واحدة، تقيّضوا منهج النبي صلى الله عليه وسلم، واستنّوا بسنته، وتخلقوا بأخلاقه، وبلّغوا عنه صلى الله عليه وسلم الدِّين الذي بعثه الله به، ونشروه في البلاد، ولم يكتموا منه شيئًا. ولهم في ذلك من السعي المشكور، والعمل المبرور ما كان من أسباب حفظ الدين وصيانته، وتبليغ الشرع وإذاعته، وردع الضّال وإهانته
(3).
والتأسي بهم، ولزوم طريقتهم لزوم للجماعة؛ لأنهم أساسها الذي تبنى
--------------------------------------------
তারা তাঁর পক্ষ থেকে প্রচার করেন, কেননা তিনি তাদের বলেছেন: (উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেয়)
(১)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের কাছে যা বর্ণনা করেছেন তা তারা আত্মস্থ করেছেন, তা উপলব্ধি করেছেন এবং তার ওপর আমল করা, তা শিক্ষা দেওয়া ও প্রচার করার ক্ষেত্রে সর্বোত্তম অবদান রেখেছেন। আল্লাহ তাদের জন্য যে কল্যাণের ইচ্ছা করেছিলেন, তার কারণে তারা এই সবকিছুর ওপর ধৈর্য ধারণ করেছেন। আল্লাহ তাদের দান করেছেন উত্তম সমঝশক্তি, চমৎকার অনুধাবন ক্ষমতা, প্রবল স্মৃতিশক্তি, গভীর জ্ঞান এবং কল্যাণের প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা। ইবনুল কাইয়্যিম রহিমাহুল্লাহ বলেন
(২): (তারা ছিলেন সর্বাধিক পুণ্যবান হৃদয়ের অধিকারী, গভীর জ্ঞানের অধিকারী এবং লৌকিকতামুক্ত। তারা এমন সব বিষয়ে তাওফিকপ্রাপ্ত হওয়ার অধিক নিকটবর্তী ছিলেন, যা আমাদের ভাগ্যে জোটেনি। কারণ মহান আল্লাহ তাদের বিশেষায়িত করেছিলেন প্রখর মেধা, প্রাঞ্জল ভাষা, প্রশস্ত জ্ঞান, সহজে গ্রহণ করার ক্ষমতা, উত্তম ও দ্রুত অনুধাবন শক্তি... এবং সৎ উদ্দেশ্য ও মহান রবের তাকওয়া দ্বারা। আরবি ভাষা ছিল তাদের প্রকৃতি ও স্বভাবজাত বিষয়, আর সঠিক অর্থসমূহ তাদের স্বভাব ও বিবেকের মাঝে প্রোথিত ছিল) সমাপ্ত।
তারা এক ও অভিন্ন আদর্শ এবং আকিদাহর ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মানহাজ বা পথকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরেছিলেন, তাঁর সুন্নাহকে অনুসরণ করেছিলেন, তাঁর চরিত্রে চরিত্রবান হয়েছিলেন এবং আল্লাহ যে দ্বীনসহ তাঁকে প্রেরণ করেছিলেন, তা তাঁর পক্ষ থেকে প্রচার করেছিলেন। তারা দেশে দেশে তা ছড়িয়ে দিয়েছিলেন এবং তার কোনো কিছুই গোপন করেননি। এ ক্ষেত্রে তাদের এমন প্রশংসনীয় প্রচেষ্টা এবং কবুলযোগ্য আমল রয়েছে যা দ্বীন হেফাযত ও সংরক্ষণের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে গণ্য। একইভাবে শরীয়ত প্রচার ও প্রসার এবং পথভ্রষ্টদের প্রতিহত ও লাঞ্ছিত করার কারণ হিসেবে গণ্য
(৩)।
তাদের অনুসরণ করা এবং তাদের পথকে আঁকড়ে ধরা মূলত জামাআতের সাথেই থাকা; কারণ তারাই হলো সেই ভিত্তি যার ওপর এটি নির্মিত
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাওয়াইদুল আহাদিসিল ওয়ারিদাতু ফী ফাদায়িলিস সাহাবাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
عليه، ومنارها الذي يُقتدى به، ومن لم يأخذ عنهم فقد ضل وابتدع، والضلالة وأهلها في النار
(1).
وعلى منوالهم سار أهل الحديث، يسعون في طلبه، ويسهرون على كتبه وحفظه، ويجاهدون في تبليغه ونشره، حتى قال الإمام الشافعي رحمه الله: (إذا رأيتُ رجلًا من أصحاب الحديث فكأني رأيت النبي صلى الله عليه وسلم حيًّا) ا هـ. وقال -مرَّة-: (إذا رأيتُ رجلًا من أهل الحديث فكأني رأيت رجلًا من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم) ا هـ. وإنما قال هذا لأنهم متبعون آثار النبي صلى الله عليه وسلم، مقتدون به، وفي مقام أصحابه رضي الله عنهم من تبليغ حديثه إلى الأمة، ونشره فيها
(2).
وحبُّ النبيّ صلى الله عليه وسلم، وأصحابه رضي الله عنهم دين واجب، وشريعة لازمة، تُرفع به الدرجات، وتُمحى به السيئات، ويُردّ به على من غرق في لجُج الظلمات، والأمور المبتدعات، فأبغضهم وآذاهم، وبغير الحق وصفهم ونعتهم، وبميزان الهوى والجور وزنهم وقدّرهم.
قال شيخ الإسلام محمد بن عبد الوهاب رحمه الله
(3) في جواب لمن سأله عن عقيدته: (وأؤمن بأن نبينا محمدًا صلى الله عليه وسلم خاتم النبيين والمرسلين، ولا يصح إيمان عبد حتى يؤمن برسالته، ويشهد بنبوته. وأن أفضل أمته: أبو بكر الصديق، ثم عمر الفاروق، ثم عثمان ذو النورين،
--------------------------------------------
এর ওপর, এবং তাদের আলোকবর্তিকা যা অনুসরণ করা হয়। আর যে ব্যক্তি তাদের থেকে গ্রহণ করেনি, সে নিশ্চিতভাবেই পথভ্রষ্ট হয়েছে এবং বিদআতে লিপ্ত হয়েছে। আর পথভ্রষ্টতা ও তার অনুসারীরা জাহান্নামে
(১)।
আর তাদের পথেই আহলে হাদিসগণ চলেছেন; তাঁরা ইলম অর্জনে সচেষ্ট থাকেন, এর কিতাবসমূহ সংকলন ও মুখস্থ করার জন্য রাত জেগে পরিশ্রম করেন এবং এর প্রচার ও প্রসারে জিহাদ করেন। এমনকি ইমাম শাফিঈ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: (আমি যখন আহলে হাদিসের কোনো ব্যক্তিকে দেখি, তখন মনে হয় যেন আমি স্বয়ং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে জীবিত দেখছি।) সমাপ্ত। তিনি অন্য এক সময় বলেছেন: (আমি যখন আহলে হাদিসের কোনো ব্যক্তিকে দেখি, তখন মনে হয় যেন আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাহাবীদের মধ্য থেকে কোনো একজনকে দেখছি।) সমাপ্ত। তিনি এ কথা এ কারণেই বলেছেন যে, তাঁরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পদাঙ্ক অনুসরণকারী, তাঁর অনুগামী এবং উম্মতের কাছে তাঁর হাদিস পৌঁছে দেওয়া ও তা প্রচার করার ক্ষেত্রে সাহাবীদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) স্থলাভিষিক্ত
(২)।
আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) প্রতি ভালোবাসা একটি ওয়াজিব দীন এবং অপরিহার্য শরিয়ত; যার মাধ্যমে মর্যাদা বৃদ্ধি পায়, পাপরাশি মিটে যায় এবং এর দ্বারা তাদের প্রতিবাদ করা হয় যারা অন্ধকারের অতল গহ্বরে ও বিদআতি কর্মকাণ্ডে নিমজ্জিত হয়েছে, ফলে তাদের প্রতি ঘৃণা পোষণ করেছে ও তাদের কষ্ট দিয়েছে, এবং সত্য ব্যতিরেকে তাদের গুণাগুণ বর্ণনা করেছে এবং প্রবৃত্তি ও অবিচারের মানদণ্ডে তাদের পরিমাপ ও মূল্যায়ন করেছে।
শাইখুল ইসলাম মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব (রাহিমাহুল্লাহ)
(৩) তাঁর আকিদা সম্পর্কে প্রশ্নকারীর জবাবে বলেছেন: (আর আমি বিশ্বাস করি যে, আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্বশেষ নবী ও রাসূল। কোনো বান্দার ঈমান ততক্ষণ পর্যন্ত সঠিক হবে না, যতক্ষণ না সে তাঁর রিসালাতের ওপর ঈমান আনবে এবং তাঁর নবুওয়াতের সাক্ষ্য দেবে। আর তাঁর উম্মতের মধ্যে সর্বোত্তম হলেন: আবু বকর সিদ্দীক, অতঃপর উমর ফারুক, অতঃপর উসমান যুন-নুরাইন,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাওয়াইদুল আহাদিসিল ওয়ারিদাতু ফী ফাদায়িলিস সাহাবাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
ثم علي المرتضى، ثم بقية العشرة، ثم أهل بدر، ثم أهل الشجرة أهل بيعة الرضوان، ثم سائر الصحابة رضي الله عنهم. وأتولى أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم، وأذكر محاسنهم، وأترضى عنهم، وأستغفر لهم، وأكف عن مساوئهم، وأسكت عما شجر بينهم، وأعتقد فضلهم؛ عملًا بقوله -تعالى-: {وَالَّذِينَ جَاءُوا مِنْ بَعْدِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالْإِيمَانِ وَلَا تَجْعَلْ فِي قُلُوبِنَا غِلًّا لِلَّذِينَ آمَنُوا رَبَّنَا إِنَّكَ رَءُوفٌ رَحِيمٌ}
(1)، وأترضى عن أمهات المؤمنين المطهرات من كل سوء) ا هـ.
ومن أبغض الصحابة رضي الله عنهم فهو من أهل الأهواء، الذين قدموا هوى النفوس على محبة الله، ومحبة رسوله صلى الله عليه وسلم. والله -جل ثناؤه-، ورسوله صلى الله عليه وسلم أحبوا الصحابة، ورضوا عنهم. ومن أحب الله، ورسوله صلى الله عليه وسلم محبة صادقة من قلبه أوجب له ذلك أن يحب بقلبه ما يحبه الله، ورسوله صلى الله عليه وسلم، ويكره ما يكرهه الله ورسوله صلى الله عليه وسلم، ويرضي ما يرضي الله ورسوله صلى الله عليه وسلم، ويسخط ما يسخط الله ورسوله صلى الله عليه وسلم، وأن يعمل بجوارحه بمقتضى هذا الحب
(2).
والمبغض فِعله ردٌّ على الله -سبحانه- في كتابه، وعلى رسوله صلى الله عليه وسلم في سنته من الرضا عن الصحابة، وإثبات عدالتهم، وقوة
--------------------------------------------
এরপর আলী আল-মুরতজা, তারপর অবশিষ্ট দশজন (জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত), তারপর বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীগণ, তারপর শাজারাহর (গাছের নিচের) অধিবাসী তথা বায়আতে রিদওয়ানকারীগণ, অতঃপর সকল সাহাবী—আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন। আমি আল্লাহর রাসূল—তাঁর উপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক—এর সাহাবীদের আনুগত্য করি ও ভালোবাসি, তাঁদের মহৎ গুণাবলি বর্ণনা করি, তাঁদের প্রতি সন্তুষ্টি জ্ঞাপন করি, তাঁদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করি, তাঁদের দোষ-ত্রুটি আলোচনা থেকে বিরত থাকি, তাঁদের পারস্পরিক মতবিরোধ সম্পর্কে নীরবতা অবলম্বন করি এবং তাঁদের শ্রেষ্ঠত্বে বিশ্বাস রাখি; এটি মহান আল্লাহর বাণীর অনুসরণস্বরূপ: "আর যারা তাঁদের পরে এসেছে তারা বলে—হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের এবং আমাদের সেই ভাইদের ক্ষমা করুন যারা ঈমানের পথে আমাদের অগ্রগামী হয়েছেন, আর মুমিনদের প্রতি আমাদের অন্তরে কোনো বিদ্বেষ রাখবেন না। হে আমাদের পালনকর্তা! নিশ্চয়ই আপনি অতিশয় দয়ালু ও পরম করুণাময়"
(১), এবং আমি সকল প্রকার কলুষতা থেকে মুক্ত মুমিনদের পবিত্র মাতাগণের প্রতি সন্তুষ্টি জ্ঞাপন করি। সমাপ্ত।
আর যে ব্যক্তি সাহাবীদের—আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন—প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে, সে মূলত প্রবৃত্তি পূজারীদের অন্তর্ভুক্ত, যারা আল্লাহর ভালোবাসা এবং তাঁর রাসূল—তাঁর উপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক—এর ভালোবাসার ওপর নিজেদের নফসের প্রবৃত্তিকে প্রাধান্য দিয়েছে। অথচ মহান আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল—তাঁর উপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক—সাহাবীদের ভালোবেসেছেন এবং তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূল—তাঁর উপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক—কে অন্তর থেকে অকৃত্রিমভাবে ভালোবাসে, সেই ভালোবাসা তার জন্য এটি আবশ্যক করে দেয় যে, সে তার অন্তর দিয়ে তা-ই ভালোবাসবে যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ভালোবাসেন এবং তা-ই অপছন্দ করবে যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল অপছন্দ করেন। আর সে তাতেই সন্তুষ্ট হবে যাতে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সন্তুষ্ট হন এবং তাতেই অসন্তুষ্ট হবে যাতে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল অসন্তুষ্ট হন এবং সে তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দ্বারা এই ভালোবাসার দাবি অনুযায়ী আমল করবে
(২)।
বিদ্বেষ পোষণকারীর এই আচরণ মূলত মহান আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূল—তাঁর উপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক—এর সুন্নাহর মাধ্যমে সাহাবীদের প্রতি ঘোষিত সন্তুষ্টি, তাঁদের ন্যায়পরায়ণতা সাব্যস্তকরণ এবং বলিষ্ঠ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাওয়াইদুল আহাদিসিল ওয়ারিদাতু ফী ফাদায়িলিস সাহাবাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
إيمانهم، وحُسن جهادهم، وعلو مكانتهم، وأنهم من أهل الجنان، والرياض الحسان، رحمةٌ للأبرار، وغيضٌ على الكفار، لا يجوز سبهم، ولا التنقّص منهم، لهم الأوصاف العالية، والمآثر الغالية
… قال البربهاري رحمه الله
(1): (واعلم أن الأهواء كلها رديئة، تدعو كلها إلى السيف
(2). وأردؤها، وأكفرها: الروافض، والمعتزلة، والجهمية، فإنهم يردون الناس على التعطيل، والزندقة. واعلم أن من تناول أحدًا من أصحاب محمد صلى الله عليه وسلم فاعلم أنه إنما أراد محمدًا صلى الله عليه وسلم، وآذاه في قبره. وإذا ظهر لك من إنسان شيء من البدع فاحذره، فإن الذي أخفى عنك أكثر مما أظهر) اهـ.
وكنتُ -ولله الحمد- قد جمعت ودرست ما ورد في الكتب التسعة، ومسندي أبي بكر البزار، وأبي يعلى الموصلي، والمعاجم الثلاثة لأبي القاسم الطبراني من الأحاديث الواردة في سنة النبي صلى الله عليه وسلم في فضائلهم العالية، ومناقبهم السامية في بحث مقدم لنيل الشهادة العالمية العالية الدكتوراه من قسم فقه السنة ومصادرها في كلية الحديث الشريف والدراسات الإسلامية في الجامعة الإسلامية في المدينة المنورة، وهو الآن تحت الطباعة في عمادة البحث العلمي فيها للمرة الثانية، وسوف يصدر قريبًا -إن شاء الله تعالى- في اثني عشر مجلدًا، اشتملت على (2022) ألفين واثنين
--------------------------------------------
তাদের ঈমান, তাদের জিহাদের সৌন্দর্য, তাদের সুউচ্চ মর্যাদা, এবং তারা জান্নাত ও মনোরম উদ্যানসমূহের অধিবাসী, নেককারদের জন্য রহমত এবং কাফেরদের জন্য ক্ষোভের কারণ; তাদেরকে গালি দেওয়া জায়েজ নয় এবং তাদের কোনো মানহানি করাও বৈধ নয়। তাদের রয়েছে সুউচ্চ গুণাবলি এবং মূল্যবান কীর্তিসমূহ
… ইমাম বারবাহারী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন
(১): (জেনে রেখো, সমস্ত কুপ্রবৃত্তিই নিকৃষ্ট, এগুলো সবই তরবারি ধারণের (বিদ্রোহের) দিকে আহ্বান করে
(২)। আর এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট এবং কুফরির নিকটতর হলো: রাফেজি, মুতাজিলা এবং জাহমিয়্যা সম্প্রদায়; কেননা তারা মানুষকে আল্লাহর গুণাবলি অস্বীকার (তাতীল) এবং ধর্মহীনতার (যান্দাকাহ) দিকে পরিচালিত করে। আর জেনে রেখো, যে ব্যক্তি মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীদের মধ্য থেকে কোনো একজনের সমালোচনা করল, তবে জেনে নাও যে সে মূলত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কেই উদ্দেশ্য করেছে এবং তাকে তাঁর কবরে কষ্ট দিয়েছে। আর যদি তোমার কাছে কোনো ব্যক্তির পক্ষ থেকে বিদআতের কোনো কিছু প্রকাশ পায়, তবে তার থেকে সতর্ক থেকো; কেননা সে তোমার কাছে যা গোপন রেখেছে তা প্রকাশ করা বিষয়ের চেয়ে অনেক বেশি) উদ্ধৃতি সমাপ্ত।
এবং আমি—সকল প্রশংসা আল্লাহর—নয়টি (প্রধান হাদীস) গ্রন্থ, আবু বকর আল-বাযযার ও আবু ইয়ালা আল-মাওসিলির মুসনাদদ্বয় এবং আবুল কাসেম আত-তাবারানির তিনটি মুজাম-এ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহে বর্ণিত তাঁদের সুউচ্চ মর্যাদা ও মহান গুণাবলি সম্পর্কিত হাদীসসমূহ সংগ্রহ ও অধ্যয়ন করেছি। এটি মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদীস শরীফ ও ইসলামী শিক্ষা অনুষদের ‘ফিকহুস সুন্নাহ ও তার উৎসসমূহ’ বিভাগ হতে উচ্চতর আন্তর্জাতিক ডিগ্রী ‘পিএইচডি’ অর্জনের লক্ষ্যে পেশকৃত একটি গবেষণা ছিল। যা বর্তমানে সেখানে বৈজ্ঞানিক গবেষণা ডীনশিপে দ্বিতীয়বারের মতো মুদ্রণাধীন রয়েছে এবং অতি শীঘ্রই—ইনশাআল্লাহ তাআলা—বারো খণ্ডে প্রকাশিত হবে, যা দুই হাজার দুই (২০০২) টি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাওয়াইদুল আহাদিসিল ওয়ারিদাতু ফী ফাদায়িলিস সাহাবাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وعشرين حديثًا في فضائل الصحابة -من غير عدّ المكرر، والطرق، والشواهد، وهي كثيرة جدًّا، ولو عددتها لبلغ عددها أضعاف العدد المرقوم-.
وحيث إني -ولله الحمد- لم أنقطع عن خدمة هذا الموضوع الجليل، والباب النبيل استدكتُ على البحث المذكور من خلال المطالعة، والبحث ما فاتني من الأحاديث، وبلغت إلى حين وقت الكتابة (51) واحدًا وخمسين حديثًا، درستها وخرّجتها، وسوف أنشرها في الوقت المناسب -إن شاء الله تعالى-.
واستقرأتُ عددًا من المصنفات في الحديث والتأريخ، وجمعت منها عددًا كثيرًا في موضوعه، ومن ذلك أني قد سبرت واستقرأت المجلدات الغالية، الموسومة: بالمطالب العالية بزوائد المسانيد الثمانية، للحافظ أحمد بن علي بن حجر العسقلاني (ت / 852 هـ)، فوقفت فيها على (40) أربعين حديثًا من الزوائد على الأصل، والمستدرك عليه، فأفردتها في هذا البحث، ورتبتها، ودرستها على ضوء الخطة والمنهج العامّين للأصل؛ لما في ذلك من التشاكل والاتحاد، ودفع الاختلاف والتضاد.
والحافظ ابن حجر رحمه الله جمع في كتابه الحافل: زوائد ثمانية مسانيد عالية، وقعت له كاملة على الكتب الستة ومسند الإمام أحمد، وهي مسانيد: أبي داود الطيالسي (ت / 204 هـ)، وعبد الله بن الزبير الحميدي (ت / 219 هـ)، ومسدد بن مسرهد (ت / 228 هـ)، وأبي بكر بن أبي شيبة (ت / 235 هـ)، وابن أبي عمر محمد بن يحيى (ت / 243 هـ)، وأحمد بن منيع
...এবং বিশটি হাদিস সাহাবাগণের ফযিলত সম্পর্কে—পুনরাবৃত্তি, বিভিন্ন সূত্র এবং সাক্ষী বর্ণনা গণনা করা ছাড়াই; আর এগুলো সংখ্যায় অনেক বেশি, যদি আমি সেগুলো গণনা করতাম তবে তা উল্লেখিত সংখ্যার কয়েকগুণ বেশি হতো।
যেহেতু আমি—আল্লাহর প্রশংসা—এই মহান বিষয় এবং মহৎ অধ্যায়ের খিদমত থেকে বিচ্ছিন্ন হইনি, তাই আমি অধ্যয়ন ও গবেষণার মাধ্যমে উক্ত গবেষণায় ইতিপূর্বে বাদ পড়া হাদিসগুলো যুক্ত করেছি। লেখা চলাকালীন সেই হাদিসগুলোর সংখ্যা (৫১) একান্নটিতে পৌঁছেছে। আমি সেগুলো নিয়ে গবেষণা ও তাখরিজ সম্পন্ন করেছি এবং ইনশা-আল্লাহ তাআলা উপযুক্ত সময়ে সেগুলো প্রকাশ করব।
আমি হাদিস ও ইতিহাসের বহু গ্রন্থ তন্ন তন্ন করে দেখেছি এবং এ বিষয়ে সেখান থেকে অনেক হাদিস সংগ্রহ করেছি। এর অংশ হিসেবে আমি হাফেজ আহমদ বিন আলী বিন হাজার আল-আসকালানি (মৃত্যু ৮৫২ হিজরি) রচিত ‘আল-মাতালিবুল আলিয়া বি যাওয়াইদিল মাসানিদিল সামানিয়া’ নামক মহামূল্যবান খণ্ডগুলো গভীর মনোযোগের সাথে পাঠ ও পর্যালোচনা করেছি। সেখানে আমি মূল গ্রন্থ এবং এর মুসতাদরাকের অতিরিক্ত (যাওয়ায়েদ) এমন (৪০) চল্লিশটি হাদিসের সন্ধান পেয়েছি, যা আমি এই গবেষণায় আলাদা করে সংকলন করেছি, বিন্যস্ত করেছি এবং মূল গ্রন্থের সাধারণ পরিকল্পনা ও পদ্ধতির আলোকে সেগুলো অধ্যয়ন করেছি; যাতে বিষয়ের সামঞ্জস্য ও অভিন্নতা বজায় থাকে এবং বৈচিত্র্য ও বৈপরীত্য দূর হয়।
হাফেজ ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর এই সমৃদ্ধ গ্রন্থে আটটি উচ্চমর্যাদাপূর্ণ মুসনাদ গ্রন্থের অতিরিক্ত (যাওয়ায়েদ) হাদিসগুলো সংকলন করেছেন, যা তিনি কুতুবে সিত্তা ও ইমাম আহমদের মুসনাদ গ্রন্থের অতিরিক্ত হিসেবে পূর্ণাঙ্গভাবে পেয়েছিলেন। সেই মুসনাদগুলো হলো: আবু দাউদ আত-তায়ালিসি (মৃত্যু ২০৪ হিজরি), আবদুল্লাহ বিন যুবায়ের আল-হুমাইদি (মৃত্যু ২১৯ হিজরি), মুসাদ্দাদ বিন মুসারহাদ (মৃত্যু ২২৮ হিজরি), আবু বকর বিন আবি শায়বা (মৃত্যু ২৩৫ হিজরি), ইবনে আবি উমর মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া (মৃত্যু ২৪৩ হিজরি) এবং আহমদ বিন মানি'।
(খণ্ড: ১)
যাওয়াইদুল আহাদিসিল ওয়ারিদাতু ফী ফাদায়িলিস সাহাবাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
(ت / 244 هـ)، وعبد بن حميد (ت / 249 هـ)، والحارث بن أبي أسامة (ت / 282 هـ).
ووقع له قدر النصف من مسند إسحاق بن راهويه (ت / 238 هـ)
(1)، فتتبع ما فيه، فصارت جملة العدد: تسعة، مع نقص قدر النصف من مسند إسحاق، ورتب ما جمعه على أبواب الأحكام الفقهية، وشرطه فيه وضحه بقوله: (ذِكر كل حديث ورد عن صحابي لم يخرجه الأصول السبعة من حديثه، ولو أخرجوه أو بعضهم من حديث غيره، مع التنبيه عليه أحيانًا)
(2) ا هـ. وهو شرطي -كذلك- في هذا البحث.
والمسانيد المذكورة هي اليوم عندنا على خمسة أقسام:
الأول: ما وصل إلينا كاملًا، وهما مسندا: أبي داود الطيالسي، والحميدي.
وافاني: ما وصل إلينا بعض منه، وهما مسندا: أبي بكر بن أبي شيبة، وإسحاق بن راهويه.
والثالث: ما وصلت إلينا زوائده، وبعض أوراق منه
(3)، وهو مسند: الحارث ابن أبي أسامة. فقد جمع الهيثمي زوائده على الكتب الستة في بغية الباحث، وجمع الحافظ زوائده على الكتب المذكورة ومسند الإمام أحمد في
--------------------------------------------
(মৃত্যু / ২৪৪ হিজরী), এবং আবদ বিন হুমাইদ (মৃত্যু / ২৪৯ হিজরী), এবং আল-হারিস ইবনে আবি উসামা (মৃত্যু / ২৮২ হিজরী)।
এবং তিনি ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ-এর মুসনাদের (মৃত্যু / ২৩৮ হিজরী)
(১) প্রায় অর্ধেক অংশ পেয়েছিলেন, এরপর তিনি এর মধ্যে যা আছে তা অনুসন্ধান করেন। ফলে মোট সংখ্যা দাঁড়ায় নয়টি, যদিও ইসহাকের মুসনাদের প্রায় অর্ধেক অংশ অসম্পূর্ণ ছিল। তিনি তার সংগৃহীত বিষয়গুলোকে ফিকহী আহকামের অধ্যায় অনুযায়ী বিন্যস্ত করেন। তিনি এতে তার শর্তটি তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে স্পষ্ট করেছেন: (এমন প্রতিটি হাদিস উল্লেখ করা যা কোনো সাহাবী থেকে বর্ণিত হয়েছে অথচ সাতটি মূল গ্রন্থ (উসূল আস-সাবআ) তার সেই হাদিসটি উদ্ধৃত করেনি, যদিও তারা বা তাদের কেউ কেউ অন্য কোনো সাহাবীর বর্ণনা থেকে তা উদ্ধৃত করে থাকে, মাঝে মাঝে সে বিষয়ে সতর্কীকরণসহ)
(২) সমাপ্ত। আর এটিই এই গবেষণায় আমারও শর্ত।
এবং উল্লিখিত মুসনাদগুলো বর্তমানে আমাদের কাছে পাঁচ ভাগে বিভক্ত:
প্রথমত: যা আমাদের কাছে পূর্ণাঙ্গভাবে পৌঁছেছে, আর সেগুলো হলো: আবু দাউদ আত-তায়ালিসি এবং আল-হুমাইদীর মুসনাদদ্বয়।
দ্বিতীয়ত: যার কিছু অংশ আমাদের কাছে পৌঁছেছে, আর সেগুলো হলো: আবু বকর ইবনে আবি শাইবা এবং ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ-এর মুসনাদদ্বয়।
তৃতীয়ত: যার কেবল অতিরিক্ত (জাওয়াইদ) অংশ এবং কিছু পৃষ্ঠা আমাদের কাছে পৌঁছেছে
(৩), আর তা হলো: আল-হারিস ইবনে আবি উসামার মুসনাদ। আল-হাইসামি 'বোগইয়াতুল বাহিস' গ্রন্থে কুতুবে সিত্তাহ-এর ওপর এর অতিরিক্ত হাদিসগুলো সংগ্রহ করেছেন এবং হাফেজ (ইবনে হাজার) উল্লিখিত কিতাবসমূহ এবং ইমাম আহমদের মুসনাদের ওপর এর অতিরিক্ত হাদিসগুলো সংগ্রহ করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাওয়াইদুল আহাদিসিল ওয়ারিদাতু ফী ফাদায়িলিস সাহাবাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
المطالب العالية.
والرابع: ما وصل إلينا منتخب منه، وهو مسند: عبد بن حميد.
والأخير: ما لم يصل إلينا -فيما أعلم-، وهي مسانيد: مسدد، وابن أبي عمر، وأحمد بن منيع.
আল-মাতালিবুল আলিয়া।
এবং চতুর্থটি হলো: যার কেবল একটি নির্বাচিত অংশ আমাদের নিকট পৌঁছেছে, আর তা হলো: মুসনাদে আবদ ইবনে হুমাইদ।
আর সর্বশেষগুলো হলো: যেগুলো আমাদের নিকট পৌঁছেনি—আমার জানামতে—এবং সেগুলো হলো: মুসাদ্দাদ, ইবনে আবি উমর এবং আহমাদ ইবনে মানি‘-এর মুসনাদসমূহ।
(খণ্ড: ১)
যাওয়াইদুল আহাদিসিল ওয়ারিদাতু ফী ফাদায়িলিস সাহাবাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
خطة البحثبعد استقراء كتاب المطالب العالية، وجمع أحاديث البحث منه، وتأمّلها بنَيتُ خطته معتمدًا على البناء العام لخطة الأصل، كما يلي:
كتبت البحث في مقدمة -بيّنت فيها خطته، ومنهجه-، وأربعة فصول، وخاتمة، وفهارس.
فأما الفصل الأول: فذكرت فيه ما ورد في فضل مَن آمن برسول الله صلى الله عليه وسلم، وصحبه رضي الله عنهم.
وأما الفصل الثاني: فذكرت فيه الأحاديث الواردة في فضائلهم حسب القبائل، والطوائف، وفيه خمسة مباحث:
المبحث الأول: ما ورد في فضائل قرابته صلى الله عليه وسلم، وأهل بيته.
المبحث الثاني: ما ورد في فضائل المهاجرين والأنصار، جميعًا.
المبحث الثالث: ما ورد في فضائل الأنصار -ولم يشركهم فيها أحد-، وفيه مطلبان:
المطلب الأول: ما ورد في فضائلهم على وجه العموم.
المطلب الثاني: ما ورد في أيِّ دورهم خير.
المبحث الرابع: ما ورد في فضائل بكر بن وائل.
المبحث الخامس: ما ورد في فضائل مُزينة.
وأما الفصل الثالث: فذكرت فيه الأحاديث الواردة في فضائل
গবেষণা পরিকল্পনা‘আল-মাতালিবুল আলিয়া’ গ্রন্থটি পুঙ্খানুপুঙ্খ অধ্যয়ন, তা থেকে গবেষণার হাদিসসমূহ সংগ্রহ এবং সেগুলো নিয়ে চিন্তা-ভাবনার পর, মূল গ্রন্থের পরিকল্পনার সাধারণ কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে আমি এর পরিকল্পনাটি নিম্নরূপ সাজিয়েছি:
আমি গবেষণাটি একটি ভূমিকা —যাতে এর পরিকল্পনা ও পদ্ধতি ব্যাখ্যা করেছি— চারটি অধ্যায়, একটি উপসংহার এবং নির্ঘণ্টের সমন্বয়ে লিখেছি।
প্রথম অধ্যায়: এতে আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর ঈমান আনয়নকারী এবং তাঁর সাহাবী রাদিয়াল্লাহু আনহুমদের মর্যাদা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তা উল্লেখ করেছি।
দ্বিতীয় অধ্যায়: এতে আমি বিভিন্ন গোত্র ও দল ভেদে তাঁদের মর্যাদা সম্পর্কে বর্ণিত হাদিসগুলো উল্লেখ করেছি, আর এতে পাঁচটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটাত্মীয় এবং তাঁর আহলে বাইতের মর্যাদা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মুহাজির ও আনসারদের সম্মিলিত মর্যাদা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: আনসারদের একক মর্যাদা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে —যাতে অন্য কেউ অংশীদার নয়— এবং এতে দুটি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: সাধারণভাবে তাঁদের মর্যাদা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।
দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: তাঁদের কোন ঘরগুলো (গোত্রগুলো) শ্রেষ্ঠ সে সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: বকর বিন ওয়ায়েলের মর্যাদা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: মুযাইনার মর্যাদা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।
তৃতীয় অধ্যায়: এতে আমি মর্যাদা সম্পর্কে বর্ণিত হাদিসগুলো উল্লেখ করেছি...
(খণ্ড: ১)
যাওয়াইদুল আহাদিসিল ওয়ারিদাতু ফী ফাদায়িলিস সাহাবাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
الصحابة من الرجال، وفيه مبحثان:
المبحث الأول: ما ورد في ما اشترك فيه جماعة منهم، وفيه ثلاثة مطالب:
المطلب الأول: ما ورد في فضائل الخلفاء الأربعة الراشدين، وغيرهم.
المطلب الثاني: ما ورد في فضائل أبي بكر، وعمر، وغيرهما.
المطلب الثالث: ما ورد في فضائل الحسنين.
المبحث الثاني: ما ورد في تفصيل فضائلهم على الانفراد، وفيه مطلبان:
المطلب الأول: من عرفوا بأعيانهم، وفيه واحد وعشرون قسمًا:
القسم الأول: ما ورد في فضائل أبي بكر الصديق رضي الله عنه.
القسم الثاني: ما ورد في فضائل عمر بن الخطاب رضي الله عنه.
القسم الثالث: ما ورد في فضائل عثمان بن عفان رضي الله عنه.
القسم الرابع: ما ورد في فضائل عليّ بن أبي طالب رضي الله عنه.
القسم الخامس: ما ورد في فضائل سعد بن أبي وقاص رضي الله عنه.
القسم السادس: ما ورد في فضائل عبد الرحمن بن عوف رضي الله عنه.
القسم السابع: ما ورد في فضائل جعفر بن أبي طالب رضي الله عنه.
القسم الثامن: ما ورد في فضائل جندب بن جنادة أبي ذر الغفاري رضي الله عنه.
القسم التاسع: ما ورد في فضائل حذيفة بن اليمان رضي الله عنه.
পুরুষ সাহাবীগণ, এবং এতে দুইটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁদের একটি দলের যৌথ মর্যাদা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে, এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: চারজন খুলাফায়ে রাশিদীন এবং অন্যদের ফযীলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: আবু বকর, উমর এবং তাঁদের ব্যতীত অন্যদের ফযীলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: হাসান ও হুসাইন (হাসানাইন)-এর ফযীলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁদের প্রত্যেকের পৃথক পৃথক ফযীলতের বিস্তারিত বিবরণ সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে, এতে দুইটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: যাঁরা সুনির্দিষ্টভাবে পরিচিত, এতে একুশটি ভাগ রয়েছে:
প্রথম ভাগ: আবু বকর সিদ্দীক (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর ফযীলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।
দ্বিতীয় ভাগ: উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর ফযীলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।
তৃতীয় ভাগ: উসমান ইবনে আফফান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর ফযীলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।
চতুর্থ ভাগ: আলী ইবনে আবু তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর ফযীলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।
পঞ্চম ভাগ: সাদ ইবনে আবু ওয়াক্কাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর ফযীলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।
ষষ্ঠ ভাগ: আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর ফযীলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।
সপ্তম ভাগ: জাফর ইবনে আবু তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর ফযীলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।
অষ্টম ভাগ: জুনদুব ইবনে জুনাদা আবু যার আল-গিফারী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর ফযীলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।
নবম ভাগ: হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর ফযীলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
যাওয়াইদুল আহাদিসিল ওয়ারিদাতু ফী ফাদায়িলিস সাহাবাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
القسم العاشر: ما ورد في فضائل الحسن بن علي رضي الله عنهما.
القسم الحادي عشر: ما ورد في فضائل الحسين بن علي رضي الله عنهما.
القسم الثاني عشر: ما ورد في فضائل خزيمة بن ثابت رضي الله عنه.
القسم الثالث عشر: ما ورد في فضائل سلمان الفارسي رضي الله عنه.
القسم الرابع عشر: ما ورد في فضائل عبد الله بن الأرقم رضي الله عنه.
القسم الخامس عشر: ما ورد في فضائل عبد الله بن سلام الإسرائيلي رضي الله عنه.
القسم السادس عشر: ما ورد في فضائل عبد الله بن قيس الأنصاري رضي الله عنه.
القسم السابع عشر: ما ورد في فضائل عبد الله بن مسعود رضي الله عنه.
القسم الثامن عشر: ما ورد في فضائل عمرو بن العاص السهمي رضي الله عنه.
القسم التاسع عشر: ما ورد في فضائل عويمر بن قيس أبي الدرداء الأنصاري رضي الله عنه.
القسم العشرون: ما ورد في فضائل معاوية بن أبي سفيان صخر بن حرب رضي الله عنهما.
القسم الحادي والعشرون: ما ورد في فضائل النابغة الجعدي -رضى الله عنه-.
দশম পরিচ্ছেদ: হাসান বিন আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর ফযীলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।
একাদশ পরিচ্ছেদ: হুসাইন বিন আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর ফযীলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।
দ্বাদশ পরিচ্ছেদ: খুযায়মাহ বিন সাবিত (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ফযীলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।
ত্রয়োদশ পরিচ্ছেদ: সালমান আল-ফারিসী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ফযীলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।
চতুর্দশ পরিচ্ছেদ: আবদুল্লাহ বিন আরকাম (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ফযীলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।
পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ: আবদুল্লাহ বিন সালাম আল-ইসরাঈলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ফযীলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।
ষোড়শ পরিচ্ছেদ: আবদুল্লাহ বিন কায়স আল-আনসারী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ফযীলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।
সপ্তদশ পরিচ্ছেদ: আবদুল্লাহ বিন মাসঊদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ফযীলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।
অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ: আমর ইবনুল আস আস-সাহমী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ফযীলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।
উনবিংশ পরিচ্ছেদ: উওয়াইমির বিন কায়স আবু দারদা আল-আনসারী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ফযীলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।
বিংশ পরিচ্ছেদ: মুআবিয়া বিন আবু সুফিয়ান সাখর বিন হারব (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর ফযীলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।
একুশতম পরিচ্ছেদ: নাবিকা আল-জাদী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ফযীলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
যাওয়াইদুল আহাদিসিল ওয়ারিদাতু ফী ফাদায়িলিস সাহাবাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
المطلب الثاني: من لم يُسَم (المبهمون)، وفيه فرعان:
- الفرع الأول: من نسبوا إلى بعض البلاد أو الصفات، وفيه قسمان:
القسم الأول (وهو القسم الثاني والعشرون): ما ورد في فضائل شاب من أهل اليمن رضي الله عنه.
القسم الثاني (وهو القسم الثالث والعشرون): ما ورد في فضائل رجل كان مقعدًا رضي الله عنه، كان في زمن النبي صلى الله عليه وسلم.
- الفرع الثاني: من لم ينسبوا.
وأما الفصل الرابع: فذكرت فيه الأحاديث الواردة في فضائل الصحابيات، وفيه مبحثان:
المبحث الأول: ما ورد في ما اشترك فيه جماعة منهن، وفيه:
ما ورد في فضائل خديجة، وفاطمة جميعًا رضي الله عنهما.
المبحث الثاني: ما ورد في تفصيل فضائل الصحابيات على الانفراد، وتحته قسمان:
القسم الأول: ما ورد في فضائل عائشة بنت أبي بكر الصديق رضي الله عنهما.
القسم الثاني: ما ورد في فضائل فاطمة الزهراء رضي الله عنها بنت رسول الله صلى الله عليه وسلم.
ثم ذكرت خاتمة البحث.
ثم الفهارس العلمية، وهي على هذا النحو:
1 - فهرس الآيات القرآنية.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: যাদের নাম উল্লেখ করা হয়নি (অনির্ধারিত ব্যক্তিগণ), এবং এতে দুটি উপ-শাখা রয়েছে:
- প্রথম উপ-শাখা: যারা কোনো কোনো দেশ বা গুণের প্রতি সম্পৃক্ত, এবং এতে দুটি অংশ রয়েছে:
প্রথম অংশ (যা দ্বাবিংশ অংশ): ইয়ামেনের জনৈক যুবকের (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) ফযিলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।
দ্বিতীয় অংশ (যা ত্রয়োবিংশ অংশ): নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে বিদ্যমান জনৈক পঙ্গু ব্যক্তির (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) ফযিলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।
- দ্বিতীয় উপ-শাখা: যাদের সম্পৃক্ত করা হয়নি।
আর চতুর্থ অধ্যায়: এতে আমি নারী সাহাবীদের ফযিলত সম্পর্কে বর্ণিত হাদিসগুলো উল্লেখ করেছি, এবং এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁদের একটি দলের যৌথ ফযিলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে, এবং তাতে রয়েছে:
খাদিজা ও ফাতিমা (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) উভয়ের ফযিলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: পৃথকভাবে নারী সাহাবীদের ফযিলতের বিস্তারিত বিবরণ সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে, এবং এর অধীনে দুটি অংশ রয়েছে:
প্রথম অংশ: আবু বকর সিদ্দিক (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর কন্যা আয়েশার ফযিলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।
দ্বিতীয় অংশ: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কন্যা ফাতিমা আয-যাহরা (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর ফযিলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।
অতঃপর আমি গবেষণার উপসংহার উল্লেখ করেছি।
এরপর গবেষণামূলক নির্ঘণ্টসমূহ, যা নিম্নরূপ:
১ - কুরআনের আয়াতসমূহের নির্ঘণ্ট।
(খণ্ড: ১)
যাওয়াইদুল আহাদিসিল ওয়ারিদাতু ফী ফাদায়িলিস সাহাবাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
2 - فهرس الأحاديث النبوية.
3 - فهرس الأشعار.
4 - فهرس الألفاظ الغريبة المفسرة.
5 - فهرس الأعلام.
6 - فهرس القبائل والطوائف.
7 - فهرس المصادر والمراجع.
8 - فهرس الموضوعات.
২ - নববী হাদীসসমূহের নির্ঘণ্ট।
৩ - কবিতাসমূহের নির্ঘণ্ট।
৪ - ব্যাখ্যাত দুর্লভ শব্দাবলির নির্ঘণ্ট।
৫ - ব্যক্তিবর্গের নির্ঘণ্ট।
৬ - গোত্র ও দলসমূহের নির্ঘণ্ট।
৭ - উৎস ও তথ্যসূত্রসমূহের নির্ঘণ্ট।
৮ - বিষয়সূচি।
(খণ্ড: ১)
যাওয়াইদুল আহাদিসিল ওয়ারিদাতু ফী ফাদায়িলিস সাহাবাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
منهج كتابة البحثسرتُ في جمع ودراسة أحاديث البحث على منهج الأصل، وقد قلت
(1) فيه:
(سرت في إعداد البحث بعد التوكل على الله تبارك وتعالى والاعتماد عليه وحده لا شريك له على المنهج التالي:
*
أولًا: نطاق مصدر الأحاديث الواردة في البحث1 - أساس مصدر أحاديث البحث: المطالب العالية بزوائد المسانيد الثمانية للحافظ ابن حجر العسقلاني رحمه الله، معتمدًا الطبعة التي بضبط: أيمن أبو يماني، وأشرف صلاح، ونشر: مؤسسة قرطبة، والمكتبة المكية، الطبعة الأولى، سنة / 1418 هـ.
2 - جمعت زوائد الأحاديث الواردة في فضائل الصحابة رضي الله عنهم من مصدر أحاديث البحث- من المظان، وغيرها- عن طريق السبر، والاستقراء.
3 - جمعت ما وقفت عليه من طرق الأحاديث -المشار إليها-، وزيادات متونها، وشواهدها من سائر كتب السنة.
*
ثانيًا: تراجم الرواة1 - ترجمت للرواة المختلف فيهم، أو الضعفاء -على اختلاف
--------------------------------------------
গবেষণা রচনার পদ্ধতিআমি গবেষণার হাদিসসমূহ সংগ্রহ ও পর্যালোচনার ক্ষেত্রে মূল পদ্ধতির অনুসরণ করেছি এবং এতে আমি বলেছি
(১):
(আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার ওপর ভরসা করে এবং একমাত্র তাঁরই ওপর নির্ভর করে—যাঁর কোনো শরিক নেই—আমি নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে গবেষণাটি প্রস্তুত করার কাজ পরিচালনা করেছি:
*
প্রথমত: গবেষণায় বর্ণিত হাদিসসমূহের উৎসের পরিধি১ - গবেষণার হাদিসসমূহের মূল উৎস: হাফেজ ইবনে হাজার আল-আসকালানি (রাহিমাহুল্লাহ) রচিত ‘আল-মাতালিব আল-আলিয়া বি-জাওয়াইদ আল-মাসানিদ আস-সামানিয়া’। আমি আয়মান আবু ইয়ামানি ও আশরাফ সালাহ কর্তৃক সম্পাদিত এবং মুআসসাসাতু কুরতুবা ও আল-মাকতাবাতুল মাক্কিয়্যাহ থেকে ১৪১৮ হিজরি সনে প্রকাশিত প্রথম সংস্করণটির ওপর নির্ভর করেছি।
২ - আমি গবেষণার হাদিসগুলোর মূল উৎস থেকে সাহাবায়ে কিরামের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) মর্যাদা সম্পর্কিত অতিরিক্ত (জাওয়াইদ) হাদিসগুলো সেগুলোর সম্ভাব্য উৎস ও অন্যান্য স্থান থেকে পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধান ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সংগ্রহ করেছি।
৩ - আমি উল্লেখিত হাদিসসমূহের যে সকল সূত্র (তরীক), মূল পাঠের অতিরিক্ত অংশ এবং সুন্নাহর অন্যান্য কিতাব থেকে প্রাপ্ত সেগুলোর সমর্থক বর্ণনাগুলো (শাওয়াহিদ) সংগ্রহ করেছি।
*
দ্বিতীয়ত: বর্ণনাকারীদের জীবনী১ - যে সকল বর্ণনাকারীর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে মতভেদ রয়েছে অথবা যারা দুর্বল—তাদের বিভিন্ন প্রকারভেদ অনুযায়ী—আমি তাদের জীবনী আলোচনা করেছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাওয়াইদুল আহাদিসিল ওয়ারিদাতু ফী ফাদায়িলিস সাহাবাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
مراتبهم- فقط، من الكتب الأصيلة في التأريخ، والجرح والتعديل.
2 - اخترت في مراتبهم ما يناسب أحوالهم جرحًا، أو تعديلًا بناءً على ما يقتضيه النظر في ما سار عليه جمهور أهل الحديث في قواعد الجرح والتعديل، وضوابطهما، مع الاستئناس بأحكام الحافظَيْن: الذهبي، وابن حجر، في كتبهما.
3 - ترجمت لهم في أول موضع وردوا فيه، وإذا تكرر أحدهم مع الأصل فإني أذكر مرتبته، ولا أحيل على مكان ترجمته -اكتفاءً بفهرس أعلام الأصل؛ خشية التطويل-.
4 - سميت من اتفقت مصادر الحديث على ذكره منهم بكنيته، أو لقبه، ونسبت من وقع احمه مهملًا، جاعلًا ذلك بين قوسين.
*
ثالثًا: التخريج، والحكم على الأحاديث1 - بدأت في تخريجها بالطريق الذي أورده الحافظ، ثم ذكرت ما وقفت عليه من طرقها، وشواهدها، مع الكلام عليها.
2 - نبهت على اختلاف الألفاظ إذا كان هناك اختلاف، أو تعدد في الألفاظ بين ما أورده الحافظ ابن حجر وما هو مثبت في مصادر أحاديث كتابه، أو الكتب التي انتخب أصحابها منها، أو جمعوا فيها زوائدها على الكتب الستة.
3 - نقلت في التخريج ما وقفت عليه من أقوال النقاد، وأحكامهم على الأحاديث، أو بعض طرقها وأسانيدها.
তাদের স্তরসমূহ- কেবল, ইতিহাস এবং জারহ ও তা'দীল (সমালোচনা ও সত্যায়ন) শাস্ত্রের মৌলিক গ্রন্থসমূহ হতে।
২ - আমি তাদের স্তরের ক্ষেত্রে এমন বিষয়াংশ নির্বাচন করেছি যা জারহ (সমালোচনা) বা তা'দীল (সত্যায়ন) এর বিচারে তাদের অবস্থার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ; এটি জারহ ও তা'দীল এর নীতিমালা ও নিয়মের ক্ষেত্রে জমহুর মুহাদ্দিসগণের অনুসৃত পদ্ধতির ওপর গবেষণার ভিত্তিতে করা হয়েছে। সেই সাথে দুই হাফেজ: যাহাবী ও ইবনে হাজার-এর কিতাবসমূহে প্রদত্ত সিদ্ধান্তগুলোকেও সহায়ক হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।
৩ - তাদের নাম যেখানে প্রথমবার এসেছে সেখানেই আমি তাদের জীবনী বর্ণনা করেছি। আর যদি মূল পাঠের সাথে তাদের কারও নামের পুনরাবৃত্তি ঘটে, তবে আমি কেবল তার স্তর উল্লেখ করেছি এবং তার জীবনীর পূর্ববর্তী স্থানের উদ্ধৃতি প্রদান করিনি—দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কায় মূল গ্রন্থের ব্যক্তিবর্গের নির্ঘণ্টের ওপর নির্ভর করে।
৪ - হাদিসের উৎসসমূহ যাদেরকে তাদের উপনাম বা উপাধি দ্বারা উল্লেখ করার ব্যাপারে একমত হয়েছে, আমি তাদের সেই নামেই অভিহিত করেছি। আর যাদের নাম অস্পষ্টভাবে এসেছে, তাদের বংশপরিচয় উল্লেখ করেছি এবং তা বন্ধনীর মধ্যে রেখেছি।
*
তৃতীয়ত: তাখরিজ এবং হাদিসের মান নির্ধারণ১ - আমি হাদিসের তাখরিজ শুরু করেছি হাফেজ যে সূত্রটি উল্লেখ করেছেন তার মাধ্যমে। এরপর আমি হাদিসের অন্যান্য যেসব সূত্র ও সাক্ষী বর্ণনা পেয়েছি তা উল্লেখ করেছি এবং সেগুলোর ওপর আলোচনা করেছি।
২ - আমি শব্দের পার্থক্যের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রেখেছি, যদি হাফেজ ইবনে হাজার যা উল্লেখ করেছেন এবং তার কিতাবের হাদিসের উৎসসমূহে যা সাব্যস্ত হয়েছে তার মধ্যে শব্দের কোনো ভিন্নতা বা আধিক্য থাকে; অথবা এমন কিতাবসমূহ যেগুলোর সংকলকগণ সেখান থেকে হাদিস চয়ন করেছেন কিংবা কুতুবে সিত্তার অতিরিক্ত হাদিসসমূহ সেখানে জমা করেছেন।
৩ - আমি তাখরিজের ক্ষেত্রে হাদিস বিশারদগণের বক্তব্য এবং হাদিসের ওপর অথবা সেগুলোর কোনো কোনো সূত্র ও সনদের ওপর তাদের প্রদত্ত সিদ্ধান্ত যা আমি পেয়েছি তা উদ্ধৃত করেছি।
(খণ্ড: ১)
যাওয়াইদুল আহাদিসিল ওয়ারিদাতু ফী ফাদায়িলিস সাহাবাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
4 - ذكرت ما ترجح لدي في الحكم على أسانيد الأحاديث ومتونها؛ بناء على ما يقتضيه النظر في ما سار عليه جمهور أهل الحديث، واختاروه من القواعد، والضوابط.
*
رابعًا: عزو المادّة العلميةأ- عزوت إلى الكتب التسعة، ونحوها من المصنفات الحديثية المشهورة بذكر أحماء أصحابها، لشهرة نسبتها إليهم، ومعرفة أهل العلم لها.
2 - عزوت إلى سائر مصادر، ومراجع البحث بذكر أرقام: الأجزاء، والصحائف، وهذا إذا كان الكتاب متعدد الأجزاء، وإلّا فإني أعزو إلى أرقام الصحائف فحسب، وإذا رُقِمت نصوص أي منها سواء أكانت أحاديث أم تراجم أم نصوص فإني أذكر أرقامها.
3 - عزوت الآيات الواردة في ثنايا البحث إلى مواضعها في القرآن الكريم، بذكر رقمها، واسم سورتها.
4 - اختصرت أسماء بعض المصنفات المتداولة، المشهورة عند أهل العلم، أو ذكرتها باسم شهرتها من حيث موضوعها مع نسبتها لمصنفها اختصارًا، وذِكرًا لا يوقع القارئ في التباسها بغيرها -إن شاء الله تعالى-
… ومن ذلك: تفسير الطبري (واسمه: جامع البيان عن تأويل آي القرآن)، والفتح (أقصد به: فتح الباري للحافظ ابن حجر)، ونحو ذلك.
وإذا أشكل شيء من ذلك على القارئ الكريم فليعد إلى فهرس المصادر، والمراجع؛ فإنه سيجد -إن شاء الله- ما يعالج ما استشكله.
৪ - আমি হাদীসের সনদ ও মতনগুলোর (মূল পাঠ) ওপর হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে আমার নিকট যা অগ্রগণ্য মনে হয়েছে তা উল্লেখ করেছি; আর এটি হাদিস বিশারদগণের অনুসৃত পদ্ধতি এবং তাদের নির্ধারিত মূলনীতি ও নিয়মনীতির আলোকে করা হয়েছে।
*
চতুর্থত: ইলমি উপকরণের উৎস নির্দেশক- আমি কুতুবে তিসআহ (নয়টি কিতাব) এবং অনুরূপ অন্যান্য প্রসিদ্ধ হাদিস গ্রন্থের ক্ষেত্রে তাদের রচয়িতাদের নাম উল্লেখ করে উৎস নির্দেশ করেছি; কারণ এই গ্রন্থগুলো তাদের দিকে নিসবত বা সম্পৃক্ত হওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত প্রসিদ্ধ এবং আলেমদের নিকট তা সুপরিচিত।
২ - আমি গবেষণার অন্যান্য উৎস ও রেফারেন্সের ক্ষেত্রে খণ্ড ও পৃষ্ঠা নম্বর উল্লেখ করেছি; এটি সেই ক্ষেত্রে যেখানে কিতাবটি একাধিক খণ্ড বিশিষ্ট। অন্যথায় আমি কেবল পৃষ্ঠা নম্বর উল্লেখ করেছি। আর যদি কোনো গ্রন্থের পাঠসমূহ নম্বরকৃত থাকে—তা হাদিস হোক, জীবনী হোক বা অন্য কোনো পাঠ—তবে আমি সেগুলোর নম্বর উল্লেখ করেছি।
৩ - গবেষণার ভেতরে উল্লিখিত আয়াতগুলোকে আল-কুরআনের সংশ্লিষ্ট স্থানের দিকে নির্দেশ করেছি, যেখানে আয়াতের নম্বর ও সূরার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
৪ - আলেমদের নিকট প্রচলিত ও প্রসিদ্ধ কিছু গ্রন্থের নাম আমি সংক্ষেপ করেছি, অথবা বিষয়বস্তুর দিক থেকে সেগুলোর প্রসিদ্ধ নাম উল্লেখ করে রচয়িতার দিকে সম্পৃক্ত করেছি। এই সংক্ষেপায়ন এমনভাবে করা হয়েছে যেন পাঠক অন্য কোনো কিতাবের সাথে বিভ্রান্তিতে না পড়েন—ইনশাআল্লাহ তাআলা—এর উদাহরণ হলো: তাফসিরে তবারি (যার প্রকৃত নাম: জামিউল বায়ান আন তাবিলি আয়িল কুরআন), এবং আল-ফাতহ (এর দ্বারা আমি হাফেজ ইবনে হাজারের ফাতহুল বারিকে বুঝিয়েছি), এবং অনুরূপ অন্যান্য।
যদি সম্মানিত পাঠকের নিকট এ বিষয়ে কোনো অস্পষ্টতা দেখা দেয়, তবে তিনি যেন উৎস ও রেফারেন্সের সূচিপত্র দেখে নেন; সেখানে তিনি ইনশাআল্লাহ তার অস্পষ্টতা দূর করার মতো সমাধান খুঁজে পাবেন।
(খণ্ড: ১)
যাওয়াইদুল আহাদিসিল ওয়ারিদাতু ফী ফাদায়িলিস সাহাবাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
5 - عزوت إلى البحث الذي جمعت هذه الأحاديث الزوائد عليه باسم: (الأصل).
*
خامسًا: تنظيم النَّص1 - ذكرت سياق الحديث كما ساقه الحافظ سندًا، ومتنًا، مع كلامه عليه -إن وجِد-، وقد اختصره إذا كان متنه فيه طول، ثم أتبعته بفاصل من الرموز، يفصل بين كلامه، وكلامي، ثم أتبعت ذلك بالدراسة، والتخريج، والحكم على الحديث، وفصلت بين كل حديث وآخر بسطر فارغ.
2 - نظَّمت الأحاديث الواردة في موضوع البحث على الطريقة العامَّة نفسها التي سرت عليها في الأصل.
3 - بدأت بما ورد من الأحاديث في فضائلهم على وجه الإجمال، ثم ما ورد في فضائلهم على وجه التخصيص، مع تقديم فضائل الرجال على فضائل النساء.
4 - رتبت الأحاديث على فصول، ومباحث، ومطالب ذات عنوانات تميزها -على وفق ما تقدم توضيحه في الخطة-، وذكرت عقب كل منها خلاصة مختصرة إذا تعددت أحاديثها.
5 - رتبت الأحاديث الواردة في فضائلهم على الانفراد على أقسام مرقمة ومسلسلة، كل فضائل صحابي منهم في قسم -مرتبون على حسب حروف المعجم-، ثم ذكرت من اختُلف في احمه اختلافًا شديدًا ولا مرجح، ثم ختمت بمن لم يسم منهم -كل في موضعه-، مرتبون على حسب
৫ - আমি সেই গবেষণার বরাত দিয়েছি যেখানে এই অতিরিক্ত হাদিসগুলো (জাওয়াইদ) সংকলন করা হয়েছে এবং এর নাম দিয়েছি: (আল-আসল)।
*
পঞ্চম: পাঠ্য বিন্যাস১ - হাফেজ যেভাবে হাদিসের সনদ ও মতন (মূল পাঠ) বর্ণনা করেছেন, আমি সেই প্রেক্ষাপট অনুযায়ীই তা উল্লেখ করেছি, সাথে তার মন্তব্যও (যদি থাকে) যুক্ত করেছি। যদি মতন দীর্ঘ হয় তবে আমি তা সংক্ষেপ করেছি। অতঃপর আমি একটি প্রতীকী বিভাজক চিহ্ন দিয়েছি যা তার বক্তব্য এবং আমার বক্তব্যের মাঝে পার্থক্য করবে। এরপর আমি হাদিসটির গবেষণা, তাখরিজ এবং হুকুম বর্ণনা করেছি এবং প্রতিটি হাদিসের মাঝে একটি খালি লাইন দিয়ে পৃথক করেছি।
২ - আমি এই গবেষণার অন্তর্ভুক্ত হাদিসগুলোকে সেই সাধারণ পদ্ধতিতেই বিন্যস্ত করেছি যা আমি ‘আল-আসল’-এ অনুসরণ করেছি।
৩ - আমি প্রথমে তাদের সামগ্রিক ফজিলত বিষয়ক হাদিসগুলো দিয়ে শুরু করেছি, এরপর তাদের বিশেষ ফজিলতসমূহ উল্লেখ করেছি। এক্ষেত্রে পুরুষদের ফজিলতকে নারীদের ফজিলতের ওপর অগ্রাধিকার দিয়েছি।
৪ - আমি হাদিসগুলোকে বিভিন্ন অধ্যায়, পরিচ্ছেদ এবং অনুচ্ছেদে বিন্যস্ত করেছি যেগুলোর পৃথক শিরোনাম রয়েছে—যেমনটি কর্মপরিকল্পনায় ইতিপূর্বে স্পষ্ট করা হয়েছে। কোনো বিষয়ে একাধিক হাদিস থাকলে তার শেষে একটি সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ উল্লেখ করেছি।
৫ - আমি তাদের প্রত্যেকের স্বতন্ত্র ফজিলত বিষয়ক হাদিসগুলোকে নম্বরযুক্ত ও ধারাবাহিক বিভিন্ন অংশে সাজিয়েছি। প্রত্যেক সাহাবীর ফজিলত একটি নির্দিষ্ট অংশে রাখা হয়েছে—যা বর্ণানুক্রমিকভাবে বিন্যস্ত। এরপর যাদের নামের ব্যাপারে তীব্র মতভেদ রয়েছে এবং কোনোটিই প্রাধান্যযোগ্য নয় তাদের কথা উল্লেখ করেছি। পরিশেষে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়নি তাদের বিবরণ দিয়ে শেষ করেছি—প্রত্যেকে তার নিজ নিজ স্থানে—এবং তারা বিন্যস্ত হয়েছে...
(খণ্ড: ১)
যাওয়াইদুল আহাদিসিল ওয়ারিদাতু ফী ফাদায়িলিস সাহাবাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
حروف المعجم كذلك.
6 - بدأت في فضائل الرجال منهم على الانفراد بما ورد من الأحاديث في فضائل جماعة من العشرة المبشرين بالجنة، وبدأت في فضائل النساء على الانفراد بالأحاديث الواردة في فضائل بعض أزواج النبي صلى الله عليه وسلم.
7 - بدأت في كل فصل -وما كان في معناه- بالأحاديث المقبولة، ثم بالأحاديث المردودة.
8 - راعيت تقديم الفضائل التي ورد فيها أكثر من حديث على ما ورد فيه حديث واحد عن رسول الله صلى الله عليه وسلم.
9 - إذا ورد متن الحديث الواحد، أو معناه عن أكثر من واحد عن النبي صلى الله عليه وسلم فإني أذكر حديث كل واحد منهم على حده، وأجعله نصا مستقلًا، وقد أجمع بين حديثين -أو أكثر- لسبب يقتضيه التخريج.
10 - رتبت المتابعات، والشواهد على حسب وفيات مخرجيها، خاتمًا بمن لم أقف على سنة وفاته منهم.
*
سادسًا: خدمة النَّص1 - رقمت الأحاديث داخل فصولها، ومباحثها -ونحوهما- ترقيمًا يربط بعضها ببعض، وهو على ضربين: ترقيم عام للكتاب أجمع، وترقيم خاص لكل فصل، أو مبحث -أو نحوهما-.
বর্ণমালার ক্রমও তদ্রূপ।
৬ - আমি পুরুষদের ফযীলতের ক্ষেত্রে জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজন সাহাবীর (আশারায়ে মুবাশশারাহ) একটি দলের ফযীলত সম্পর্কে বর্ণিত হাদীসগুলোর মাধ্যমে পৃথকভাবে আলোচনা শুরু করেছি এবং নারীদের ফযীলতের ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কতিপয় স্ত্রীর ফযীলত সম্পর্কে বর্ণিত হাদীসগুলোর মাধ্যমে পৃথকভাবে আলোচনা শুরু করেছি।
৭ - আমি প্রতিটি অধ্যায়ে —এবং এর সমগোত্রীয় বিষয়ে— প্রথমে গ্রহণযোগ্য হাদীসগুলো এবং পরবর্তীতে বর্জনীয় হাদীসগুলো উল্লেখ করার মাধ্যমে শুরু করেছি।
৮ - যেসব ফযীলতের বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে একের অধিক হাদীস বর্ণিত হয়েছে, সেগুলোকে আমি কেবল একটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে এমন ফযীলতগুলোর ওপর অগ্রাধিকার প্রদান করেছি।
৯ - যখন কোনো একটি হাদীসের মূল পাঠ (মতন) বা তার মর্ম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে একাধিক বর্ণনাকারীর মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে, তখন আমি তাদের প্রত্যেকের হাদীস পৃথকভাবে উল্লেখ করেছি এবং সেটিকে একটি স্বতন্ত্র পাঠ হিসেবে গণ্য করেছি। তবে কখনো কখনো তাখরীজ (হাদীসের উৎস নির্দেশ) এর প্রয়োজনে দুই বা ততোধিক হাদীসকে একত্রে সমন্বিত করেছি।
১০ - আমি মুতাবা'আত (সমর্থনমূলক বর্ণনা) এবং শাওয়াহিদ (সাক্ষ্যমূলক বর্ণনা) গুলোকে তাদের সংকলকদের মৃত্যুসন অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছি এবং পরিশেষে তাদের উল্লেখ করেছি যাদের মৃত্যুসন আমি জানতে পারিনি।
*
ষষ্ঠ: পাঠ-সম্পাদনা১ - আমি হাদীসগুলোকে সেগুলোর অধ্যায়, পরিচ্ছেদ এবং এ জাতীয় বিভাজনগুলোর অভ্যন্তরে এমনভাবে সংখ্যায়িত করেছি যা একটিকে অন্যটির সাথে সংযুক্ত করে। এই সংখ্যায়ন পদ্ধতি দুই প্রকার: সম্পূর্ণ কিতাবটির জন্য একটি সাধারণ ক্রমিক নম্বর এবং প্রতিটি অধ্যায়, পরিচ্ছেদ বা এ জাতীয় বিভাজনের জন্য একটি বিশেষ ক্রমিক নম্বর।
(খণ্ড: ১)
যাওয়াইদুল আহাদিসিল ওয়ারিদাতু ফী ফাদায়িলিস সাহাবাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
2 - ضبطت متونها بالشكل، كتبتها بخط عريض.
3 - وضعت علامات الترقيم المناسبة، واهتممت بها.
4 - إذا تكرر الحديث رقمته، وخرجته في الموضع الأنسب له، وأحلت عليه في المواضع الأخرى من غير ترقيم، مع ذكر الشاهد فيه، وعزوه إلى بعض من رواه، ودرجته من حيث الثبوتُ وعدمُه.
5 - ضبطت الألفاظ المشكلة، وأسماء الرواة، وكناهم، وألقابهم المشتبهة، ونحوها، بالحروف -حسب الإمكان-.
وذلك عند أول ورود لها، ثم إذا تكرر شيء منها فأضبطه بالحركات، ولا أحيل على موضعها الأول.
6 - شرحت الألفاظ الغريبة من كتب غريب الحديث، أو الشروح الحديثية، أو المعاجم اللغوية -على حسب ما يقتضيه المقام-، وذلك عند أول ورود لها، ثم إذا تكرر شيء منها فلا أشرحه، ولا أحيل على الموضع الأول لكل لفظ منها -اكتفاء بالفهارس الخاصة بها-.
7 - عرّفت بالأماكن، والوقائع -غير المشهورة- من الكتب الأصيلة التي اعتنت ببيانها، والتعريف بها، سواء القديمة أم الحديثة، وذلك عند أول ورود لها، ثم إذا تكرر شيء من ذلك فلا أُعرف به، ولا أحيل على مكان التعريف به-؛ اكتفاء بالفهارس الخاصة بها، (وهذا المنهج في كل ما تكرر مما هو داخل في النقاط المتقدمة إنما وضعته، وسرت عليه خشية التكرار، والتطويل-) اهـ.
2 - আমি এর মূল পাঠসমূহকে হরকত দিয়ে স্বরচিহ্নিত করেছি এবং বড় অক্ষরে লিখেছি।
3 - আমি যথাযথ যতিচিহ্ন প্রয়োগ করেছি এবং এর প্রতি বিশেষ যত্ন নিয়েছি।
4 - কোনো হাদিস পুনরাবৃত্ত হলে আমি সেটিকে নম্বর দিয়েছি এবং তার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত স্থানে সেটির তাখরিজ (উৎস বর্ণনা) করেছি। অন্যান্য স্থানে নম্বর ছাড়াই সেই স্থানের দিকে নির্দেশ করেছি, সাথে সেখানে মূল বিষয়টি (শাহিদ) উল্লেখ করেছি এবং যারা এটি বর্ণনা করেছেন তাদের কয়েকজনের দিকে সম্বন্ধ করেছি এবং গ্রহণযোগ্যতা ও অগ্রহণযোগ্যতার বিচারে এর মান উল্লেখ করেছি।
5 - আমি জটিল শব্দাবলি, বর্ণনাকারীদের নাম, তাদের উপনাম (কুনিয়া), বিভ্রান্তিকর উপাধি (লকব) এবং অনুরূপ বিষয়গুলোকে বর্ণমালার মাধ্যমে—সাধ্যানুযায়ী—সুস্পষ্ট করেছি।
তা প্রথমবার উল্লেখের সময় করেছি; এরপর যদি তার কোনোটির পুনরাবৃত্তি ঘটে তবে আমি কেবল হরকত দিয়ে তা চিহ্নিত করেছি এবং প্রথম স্থানের উদ্ধৃতি দিইনি।
6 - আমি দুর্বোধ্য শব্দগুলোকে 'গারিবুল হাদিস' বিষয়ক গ্রন্থাবলি, হাদিসের ব্যাখ্যাগ্রন্থ অথবা অভিধানসমূহ থেকে—প্রয়োজন অনুযায়ী—ব্যাখ্যা করেছি। তা প্রথমবার আসার সময় করেছি; এরপর যদি তার কোনোটির পুনরাবৃত্তি ঘটে তবে আমি সেটির ব্যাখ্যা করিনি এবং সেই শব্দের প্রথম স্থানের দিকে নির্দেশও করিনি—বরং সেগুলোর জন্য নির্দিষ্ট সূচিপত্রের ওপর নির্ভর করেছি।
7 - আমি স্বল্প পরিচিত স্থান ও ঘটনাবলিকে মৌলিক গ্রন্থাবলি থেকে—পুরানো হোক বা নতুন—পরিচয় করিয়ে দিয়েছি যেগুলো এগুলোর বর্ণনা ও পরিচিতি প্রদানের ক্ষেত্রে গুরুত্বারোপ করেছে। তা প্রথমবার আসার সময় করেছি; এরপর যদি তার কোনোটির পুনরাবৃত্তি ঘটে তবে আমি পুনরায় তার পরিচয় দিইনি এবং যে স্থানে পরিচয় দেওয়া হয়েছে সেটির উদ্ধৃতিও দিইনি—বরং সেগুলোর জন্য নির্দিষ্ট সূচিপত্রের ওপর নির্ভর করেছি। (আর পূর্বোক্ত পয়েন্টসমূহের অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি পুনরাবৃত্তিমূলক বিষয়ের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতিটি আমি কেবল এজন্যই গ্রহণ করেছি এবং অনুসরণ করেছি যেন পুনরাবৃত্তি ও দীর্ঘসূত্রতা পরিহার করা যায়—সমাপ্ত)।
(খণ্ড: ১)
যাওয়াইদুল আহাদিসিল ওয়ারিদাতু ফী ফাদায়িলিস সাহাবাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
*
سابعًا: الخاتمةوذكرت فيها خُلاصة موجزة عن البحث، وأهم النتائج التي ظهرت لي منه، والتوصيات.
*
ثامنًا: الفهارسوذكرت فيها عددًا من الفهارس التي تمكِّن القارئ من الوصول إلى ما يبغيه من البحث بيسر، وسهولة).
والله عز وجل أسأل أن أكون مع تقصيري
(1) قد أديتُ شيئًا من حقِّ الأصحاب المفترض، وأن لا يجعل في ذلك للهوى والميل من غرض، ويسدّ الخلل، ويرفع الزلل، وينفع بهذا البحث، ويجزي خيرًا من نبّه على ملحوظة فيه؛ فإني طالب للحق مبتغيه.
وأصلي وأسلم على نبينا محمد الأمين، وعلى آله المطهرين، وأصحابه الطيبين صلاة وسلامًا دائمين إلى يوم الدين، وأن يجعلني ربي وإياهم ممن قال فيهم: {إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ يَهْدِيهِمْ رَبُّهُمْ
--------------------------------------------
সপ্তম: উপসংহারএতে আমি গবেষণার একটি সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ এবং তা থেকে আমার নিকট প্রতীয়মান হওয়া প্রধান ফলাফলসমূহ ও সুপারিশমালা উল্লেখ করেছি।
অষ্টম: নির্ঘণ্টএতে আমি বেশ কিছু নির্ঘণ্ট যুক্ত করেছি যা পাঠককে গবেষণার কাঙ্ক্ষিত বিষয়ে সহজ ও সাবলীলভাবে পৌঁছাতে সক্ষম করবে।
আমি সুমহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি যেন আমার ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকা সত্ত্বেও
(১) আমি সাহাবীগণের (রাসূলের সাথীদের) আবশ্যকীয় হকের কিছু অংশ আদায় করতে সক্ষম হয়ে থাকি; আর তিনি যেন এতে প্রবৃত্তি বা কোনো ব্যক্তিস্বার্থের উদ্দেশ্য না রাখেন, যাবতীয় ত্রুটি সংশোধন করে দেন, ভুলভ্রান্তি দূর করেন এবং এই গবেষণার মাধ্যমে উপকার দান করেন। আর যিনি এতে কোনো বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তাকে তিনি সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন; কেননা আমি সত্যের অন্বেষী এবং তার প্রত্যাশী।
আমি আমাদের বিশ্বস্ত নবী মুহাম্মদ, তাঁর পবিত্র পরিবারবর্গ এবং তাঁর উত্তম সাহাবীগণের ওপর কিয়ামত পর্যন্ত চিরস্থায়ী দরুদ ও সালাম পেশ করছি। আর আমার প্রতিপালক যেন আমাকে এবং তাঁদেরকে এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করেন যাদের সম্পর্কে তিনি বলেছেন: {নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, তাদের প্রতিপালক তাদেরকে হেদায়েত দান করবেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাওয়াইদুল আহাদিসিল ওয়ারিদাতু ফী ফাদায়িলিস সাহাবাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
بِإِيمَانِهِمْ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهِمُ الْأَنْهَارُ فِي جَنَّاتِ النَّعِيمِ (9) دَعْوَاهُمْ فِيهَا سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَتَحِيَّتُهُمْ فِيهَا سَلَامٌ وَآخِرُ دَعْوَاهُمْ أَنِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ (10)}
(1).
--------------------------------------------
তাদের ঈমানের কারণে তাদের নিচ দিয়ে নহরসমূহ প্রবাহিত হয় নিয়ামতপূর্ণ জান্নাতসমূহের মধ্যে (৯)। সেখানে তাদের প্রার্থনা হবে—'হে আল্লাহ! আপনি পবিত্র', সেখানে তাদের পারস্পরিক অভিবাদন হবে 'সালাম' এবং তাদের শেষ প্রার্থনা হবে—'নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য' (১০)।}
(১).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাওয়াইদুল আহাদিসিল ওয়ারিদাতু ফী ফাদায়িলিস সাহাবাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الفصل الأول
ما ورد في فضل من آمن برسول الله صلى الله عليه وسلم وصَحبِه
প্রথম পরিচ্ছেদ
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি যারা ঈমান এনেছেন এবং তাঁর সাহচর্য লাভ করেছেন, তাঁদের মর্যাদা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে
(খণ্ড: ১)
যাওয়াইদুল আহাদিসিল ওয়ারিদাতু ফী ফাদায়িলিস সাহাবাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
الفصل الأول: ما ورد في فصل من آمن برسول الله صلى الله عليه وسلم وصَحبِه1 - [1] قال الحافظ أبو الفضل أحمد بن علي بن محمد العسقلاني، الضهير بابن حجر رحمه الله، وأثابه الجنة- في المطالب العالية بزوائد المسانيد الثمانية
(1):
وقال أبو بكر
(2): حدثنا زيد بن الحباب
(3) عن موسى بن عُبيدة عن محمد ابن كعب عن عوف بن مالك رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (يَاليتَني لَقِيتُ إِخوَاني). قالوا: يا رسول الله، ألسنا إخوانك وأصحابك؟ قال: (بلى، وَلكنَّ قَومًا يَجيئونَ مِنْ بَعدِكُمْ يؤمِنُونَ بِي إِيمانُكُمْ، وَيُصدِّقُوني تَصدِيقُكُمْ، وَيَنصرُوني نَصرُكُمْ، فيَالَيتَني قدْ لَقِيتُ إِخْوَاني).
* * *
وفي الإسناد: موسى بن عبيدة، وهو: أبو عبد العزيز الرّبذيّ
(4)، ضعفه
--------------------------------------------
প্রথম অধ্যায়: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ঈমান আনয়নকারী ও তাঁর সাহচর্য লাভকারীদের ফযিলত প্রসঙ্গে যা বর্ণিত হয়েছে১ - [১] হাফিজ আবুল ফদল আহমদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ আল-আসকালানী, যিনি ইবনে হাজার নামে পরিচিত—আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন এবং তাঁকে জান্নাতে প্রতিদান দান করুন—তাঁর 'আল-মাতালিব আল-আলিয়াহ বি জাওয়াইদ আল-মাসানিদ আস-সামানিয়াহ'
(১) গ্রন্থে বলেছেন:
এবং আবু বকর
(২) বলেন: আমাদের নিকট যায়িদ বিন আল-হুবাব
(৩) বর্ণনা করেছেন মুসা বিন উবাইদাহ থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন কাব থেকে, তিনি আউফ বিন মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (হায়! আমি যদি আমার ভাইদের সাথে সাক্ষাৎ করতে পারতাম)। তাঁরা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমরা কি আপনার ভাই এবং আপনার সঙ্গী নই? তিনি বললেন: (হ্যাঁ, তবে এক সম্প্রদায় তোমাদের পরে আসবে যারা তোমাদের ঈমানের মতোই আমার প্রতি ঈমান আনবে, এবং তোমাদের সত্যায়নের মতোই আমাকে সত্যায়ন করবে, এবং তোমাদের সাহায্যের মতোই আমাকে সাহায্য করবে। হায়! আমি যদি আমার ভাইদের সাথে সাক্ষাৎ করতে পারতাম)।
* * *
আর এই সনদে রয়েছেন: মুসা বিন উবাইদাহ, তিনি হলেন: আবু আব্দুল আজিজ আল-রাবাদি
(৪), তাকে দুর্বল আখ্যা দেয়া হয়েছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাওয়াইদুল আহাদিসিল ওয়ারিদাতু ফী ফাদায়িলিস সাহাবাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
جماعة، وتركه آخرون، وقالوا إنه منكر الحديث. وبضعفه أعل حديثه البوصيري في الإتحاف
(1). وسائر رواة الإسناد محتج بهم.
ولا أعلم أحدًا تابع الربذي على لفظ حديثه هذا. وقوله فيه: (يُؤمِنُونَ بي إِيمانُكُمْ، وَيُصدِّقُوني تَصدِيقُكُمْ، وَيَنصرُوني نَصرُكُمْ) منكر.
والمعروف: ما ورد عن النّبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: (وددت أنا قد رأينا إخواننا). قالوا: أولسنا إخوانك، يا رسول الله؟ قال: (أنتم أصحابي، وإخواننا الذين لم يأتوا بعد). ونحوه من الأحاديث
(2).
2 - [2] قال الحافظ رحمه الله
(3):
وقال الطيالسي
(4): حدثنا موسى بن مُطير
(5) عن أبيه عن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (لَو أَنَّ لِرَجُلٍ أُحُدًا ذَهبًا فَأَنفَقَهُ في سَبيلِ اللهِ، وَفي الأَرَامِلِ، وَالمسَاكِينِ، وَاليتَامَى
(6) لِيُدرِكَ فَضْلَ رَجُلٍ مِنْ أَصحَابي سَاعَةً مِن النَّهارِ ما أَدرَكَهُ أَبَدًا).
--------------------------------------------
একদল তাকে গ্রহণ করেছেন, এবং অন্যেরা তাকে বর্জন করেছেন এবং বলেছেন যে তিনি মুনকারুল হাদিস (পরিত্যক্ত হাদিস বর্ণনাকারী)। আল-বুসিরি আল-ইতহাফ গ্রন্থে তার দুর্বলতার কারণে তার হাদিসটিকে ত্রুটিপূর্ণ সাব্যস্ত করেছেন
(১)। আর সনদের অন্যান্য সকল বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য।
আর আমি জানি না যে কেউ এই হাদিসের শব্দাবলির ক্ষেত্রে আর-রাবাজিকে অনুসরণ করেছেন। আর এতে তার এই কথা: (তারা আমার প্রতি তোমাদের ঈমানের মতো ঈমান আনবে, তোমাদের সত্যায়নের মতো আমাকে সত্যায়ন করবে এবং তোমাদের সাহায্যের মতো আমাকে সাহায্য করবে) এটি মুনকার (অগ্রহণযোগ্য)।
আর প্রসিদ্ধ হলো যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: (আমি আকাঙ্ক্ষা করি যদি আমরা আমাদের ভাইদের দেখতে পেতাম)। তারা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমরা কি আপনার ভাই নই? তিনি বললেন: (তোমরা হলে আমার সাহাবী, আর আমাদের ভাই হলো তারা যারা এখনো আসেনি)। এবং এর সমজাতীয় হাদিসসমূহ
(২)।
২ - [২] হাফেজ রহিমাহুল্লাহ বলেছেন
(৩):
আত-তায়ালিসি বলেছেন
(৪): আমাদের কাছে মুসা বিন মুতাইর হাদিস বর্ণনা করেছেন
(৫) তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (যদি কোনো ব্যক্তির ওহুদ পাহাড় সমপরিমাণ স্বর্ণ থাকে এবং সে তা আল্লাহর পথে, এবং বিধবা, মিসকিন ও এতিমদের
(৬) জন্য ব্যয় করে দিনের সামান্য সময়ের জন্য আমার কোনো সাহাবীর মর্যাদা অর্জনের উদ্দেশ্যে, তবে সে তা কখনোই অর্জন করতে পারবে না)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাওয়াইদুল আহাদিসিল ওয়ারিদাতু ফী ফাদায়িলিস সাহাবাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
وفي الإسناد: موسى بن مُطير، وهو كوفي متروك الحديث، كذبه يحيى ابن معين -وتقدم-. وأبوه هو: مطير بن أبي خالد، قال فيه أبو زرعة
(1): (ضعيف الحديث) اهـ. وقال أبو حاتم
(2): (متروك الحديث) اهـ. وذكره العقيلي
(3)، وابن الجوزي
(4) في الضعفاء؛ فالإسناد: واه.
والمتن فيه نكارةٌ؛ لأن المعروف ما رواه: الشيخان من حديث أبي سعيد الخدري قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (لَا تَسُبُّوا أَحَدًا مِنْ أَصْحَابي، فإنَّ أحدَكُمْ لَو أنفقَ مثلَ أُحُدٍ ذهبًا مَا أدركَ مُدَّ
(5) أحَدِهِمْ، ولَا نصيفَه
(6))، ونحوه من الأحاديث
(7)، وفيها كفاية، وغُنية.
--------------------------------------------
এই সনদে রয়েছে: মুসা ইবনে মুতাইর, সে একজন কুফিবাসী এবং তার হাদীস পরিত্যাজ্য, ইয়াহইয়া ইবনে মায়ীন তাকে মিথ্যাবাদী বলেছেন—যা পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে। আর তার পিতা হলো: মুতাইর ইবনে আবি খালিদ, তার সম্পর্কে আবু যুরআ
(১) বলেছেন: (সে দুর্বল হাদীস বর্ণনাকারী) সমাপ্ত। এবং আবু হাতিম
(২) বলেছেন: (সে পরিত্যাজ্য হাদীস বর্ণনাকারী) সমাপ্ত। আর উকাইলি
(৩) এবং ইবনুল জাওযী
(৪) তাকে দুর্বলদের তালিকায় উল্লেখ করেছেন; সুতরাং সনদটি অত্যন্ত দুর্বল।
আর এর মূল পাঠে অস্বীকৃতি রয়েছে; কারণ সুপরিচিত বর্ণনা সেটিই যা শাইখাইন (বুখারী ও মুসলিম) আবু সাঈদ আল-খুদরী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: (তোমরা আমার সাহাবীদের কাউকে গালি দিও না, কেননা তোমাদের কেউ যদি ওহুদ পাহাড় সমপরিমাণ স্বর্ণও ব্যয় করো, তবুও তাদের একজনের এক মুদ
(৫) বা তার অর্ধেক
(৬) পরিমাণ সওয়াবের সমান পৌঁছাতে পারবে না), এবং এ জাতীয় অন্যান্য হাদীসসমূহ
(৭), যা যথেষ্ট ও স্বয়ংসম্পূর্ণ।
--------------------------------------------