(খণ্ড: ১)
তাকরীবুল বুগইয়াহ বিতরতীবি আহাদীসিল হিলয়াহ
(পৃষ্ঠা: -)
تقريب البغية بترتيب أحاديث الحلية القسم: كتب السنة
الكتاب: تقريب البغية بترتيب أحاديث الحلية
المؤلف: نور الدين علي بن أبي بكر الهيثمي (ت 807 هـ)
وأتمه: شهاب الدين أبو الفضل أحمد بن علي بن محمد بن حجر العسقلاني (ت 852 هـ) [كذا على غلاف المطبوع، ولا ندري مصدره!!]
المحقق: محمد حسن محمد حسن إسماعيل
الناشر: دار الكتب العلمية، بيروت - لبنان
الطبعة: الأولى، 1420 هـ - 1999 م
عدد الأجزاء: 3
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 16 ربيع الأول 1443
হিলয়ার হাদিসসমূহের বিন্যাস পদ্ধতিতে তাকরিবুল বুগইয়া বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: হিলয়ার হাদিসসমূহের বিন্যাস পদ্ধতিতে তাকরিবুল বুগইয়া
লেখক: নুরউদ্দিন আলি বিন আবি বকর আল-হাইসামি (মৃত্যু ৮০৭ হিজরি)
এবং সমাপ্ত করেছেন: শিহাবুদ্দিন আবুল ফজল আহমদ বিন আলি বিন মুহাম্মদ বিন হাজার আল-আসকালানি (মৃত্যু ৮৫২ হিজরি) [মুদ্রিত কপির মলাটে এমনই রয়েছে, তবে আমরা এর উৎস জানি না!!]
মুহাক্কিক: মুহাম্মদ হাসান মুহাম্মদ হাসান ইসমাইল
প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত - লেবানন
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২০ হিজরি - ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ৩
[কিতাবের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩
(খণ্ড: ১)
তাকরীবুল বুগইয়াহ বিতরতীবি আহাদীসিল হিলয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
ترجمة الحافظ الهيثمي
اسمه ونسبه:هو علي بن أبي بكر بن سليمان بن أبي بكر بن عمر بن صالح المصري.
كنيته: أبو الحسن، ولقبه: نور الدين.
نسبته: ينتسب بالهيثمي نسبة إلى محلة أبي الهيثم - قرية بمصر، وهو يعرف به أكثر من غيره.
مولده:ولد في شهر رجب سنة خمس وثلاثين وسبعمائة، ونشأ في بقعة منعزلة هادئة، فإن أباه كان صاحب حانوت في صحراء الفسطاط التي بينها وبين المقطم، فنشأ في تلك البقعة الهادئة، وقرأ القرآن.
طلبه للعلم:لما بلغ من العمر خمسة عشر عامًا مال إلى طلب العلم، فسافر إلى القاهرة بحثًا عن العلم، فتتلمذ على العلماء والمشايخ وشائت المقادير أن يلتقي الحافظ زين الدين العراقي، فصحبه ولازمه أشد الملازمة، ولم يفارقه في الحضر، ولا في السفر حتى مات، فسمع معه من ابتداء طلبه على أبي الفتح الميدومي، وابن الملوك، وابن القُطرواني، وغيرهم من المصريين.
ومن ابن الخباز وابن الحموي، وابن قيم الضيائية وغيرهم من الشاميين.
ثم رحل معه جميع رحلاته، وحج معه جميع حجاته، ورافقه في جميع مسموعه بمصر، والقاهرة، والحرمين، وبيت المقدس، ودمشق، وبعلبك، وحلب، وحماة، وطرابلس، وغيرها، وربما سمع الزين بقراءته.
ولم ينفرد أحدهما عن الآخر بسماع أو شيخ إلا في أشياء قليلة.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
হাফেজ আল-হাইসামীর জীবনী
তাঁর নাম ও বংশপরিচয়:তিনি হলেন আলী ইবনে আবু বকর ইবনে সুলাইমান ইবনে আবু বকর ইবনে উমর ইবনে সালিহ আল-মিসরী।
তাঁর কুনিয়াত (উপনাম): আবুল হাসান এবং তাঁর লকব (উপাধি): নূরুদ্দিন।
তাঁর নিসবত (সম্বন্ধ): তাঁকে ‘হাইসামি’ বলা হয় ‘মাহাল্লাতু আবি হাইসাম’-এর দিকে সম্বন্ধ করে, যা মিশরের একটি গ্রাম। তিনি অন্য যে কোনো পরিচয়ের চেয়ে এই নামেই বেশি পরিচিত।
তাঁর জন্ম:তিনি ৭৩৫ হিজরি সনের রজব মাসে জন্মগ্রহণ করেন এবং একটি নির্জন শান্ত পরিবেশে বেড়ে ওঠেন। কারণ তাঁর পিতা ফুস্তাত মরুভূমিতে একটি দোকানের মালিক ছিলেন, যা ফুস্তাত ও মুকাত্তাম পাহাড়ের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত ছিল। ফলে তিনি সেই শান্ত পরিবেশে লালিত-পালিত হন এবং কুরআন পাঠ সম্পন্ন করেন।
তাঁর জ্ঞান অন্বেষণ:যখন তাঁর বয়স পনেরো বছর হলো, তখন তিনি জ্ঞান অন্বেষণের দিকে ঝুঁকলেন। ফলে বিদ্যার্জনের উদ্দেশ্যে কায়রো ভ্রমণ করেন এবং বিভিন্ন আলিম ও মাশায়েখদের নিকট শিক্ষা গ্রহণ করেন। তাকদীরের লিখন অনুযায়ী তাঁর সাথে হাফেজ যাইনুদ্দিন আল-ইরাকির সাক্ষাৎ ঘটে। এরপর তিনি তাঁর সাথে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে লেগে থাকেন এবং আমৃত্যু আবাসে কিংবা সফরে কোনো অবস্থাতেই তাঁর সঙ্গ ত্যাগ করেননি। তিনি তাঁর জ্ঞান অন্বেষণের শুরু থেকেই তাঁর সাথে আবুল ফাতহ আল-মাইদুমি, ইবনুল মুলুক, ইবনুল কুতরাওয়ানি এবং অন্যান্য মিশরীয় আলিমদের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেন।
এবং ইবনুল খাব্বায, ইবনুল হামাভি, ইবনে কাইয়্যিম আদ-দিয়াইয়্যাহসহ অন্যান্য শামী (সিরীয়) আলিমদের নিকট থেকেও শিক্ষা লাভ করেন।
অতঃপর তিনি তাঁর সাথে তাঁর সকল সফরে সফরসঙ্গী হন, তাঁর সাথে প্রতিটি হজ পালন করেন এবং মিশর, কায়রো, হারামাইন (মক্কা ও মদিনা), বায়তুল মাকদিস, দামেস্ক, বালবাক, আলেপ্পো (হালাব), হামাহ, ত্রিপোলি (তারাবুলুস) ও অন্যান্য স্থানে তাঁর সাথে সকল শ্রবণ মজলিসে উপস্থিত ছিলেন। অনেক সময় যাইনুদ্দিন (ইরাকি) তাঁর (হাইসামির) পাঠের মাধ্যমেও শ্রবণ করেছেন।
অল্প কিছু বিষয় ব্যতীত শ্রবণ অথবা উস্তাদের ক্ষেত্রে তাঁদের একজন অন্যজন থেকে পৃথক হননি।
(খণ্ড: ১)
তাকরীবুল বুগইয়াহ বিতরতীবি আহাদীসিল হিলয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
اعتناء الحافظ العراقي بالهيثمي:رأى الحافظ العراقي فيه حسن الخلق، والجد في الطلب، وحدة الذهن، وفهمًا ثاقبًا، وذاكرة قوية، فاهتم به كثيرًا، واعتنى به عناية فائقة، فزوجه بنته خديجة، وأفاده بكتبه وتصانيفه، بل قرأ عليه الهيثمي أكثرها، وتخرج به في الحديث، ودربه في إفراد زوائد كتب المعاجم الثلاثة للطبراني، ومسانيد أحمد، والبزار، وأبي يعلى - على الكتب الستة، ثم مر عليها الحافظ العراقي وحررها، وعمل خطبها.
خدمته لشيخه واحترامه له:عرفانًا بالجميل لشيخه، وتقديرًا لجهوده المخلصة، وتوجيهه السليم، خدمه الحافظ الهيثمي في الحضر والسفر خدمة منقطعة النظير.
قال الحافظ ابن حجر: وقد عاشرتهما مدة، فلم أرهما يتركان قيام الليل، ورأيت من خدمته لشيخنا (العراقي) وتأدبه معه من غير تكلف، لذلك ما لم أره لغيره، ولا أظن أحدًا يقوى عليه.
وقال - أيضًا - كان لا يسأم ولا يضجر من خدمة الشيخ.
وقال البرهان الحلبي: غالب نهاره في اشتغال وكتابة مع ملازمة خدمة الشيخ في أمر وضوئه، وثيابه، ولا يخاطبه إلا بسيدي حتى كان في أمر خدمته كالعبد.
ولم يزل على تقدير شيخه، وتوقيره حتى بعد وفاته.
قال العلامة السخاوي: "بعد وفاة الشيخ أكثروا عنه، ومع ذلك فلم يغير حاله، ولا تصدر، ولا تمشيخ، وكان مع كونه شريكًا للشيخ يكتب عنه الأمالي"، بحيث كتب عنه جميعها، وربما استملى عليه، ويحدث بذلك عن الشيخ، ولا في نفسه إلا لمن يضايقه.
أخلاقه وصفاته:كان رحمه الله نموذج سلفنا الصالح في الزهد، والتقوى، والتواضع، ومحبة الخير للناس، وغير ذلك من الصفات الحميدة.
হাইসামীর প্রতি হাফেজ ইরাকীর যত্ন:হাফেজ ইরাকী তাঁর মধ্যে উত্তম চরিত্র, ইলম অন্বেষণে একনিষ্ঠতা, তীক্ষ্ণ মেধা, গভীর বোধশক্তি এবং প্রবল স্মরণশক্তি প্রত্যক্ষ করেছিলেন। ফলে তিনি তাঁর প্রতি অত্যন্ত মনোযোগী হন এবং তাঁর বিশেষ যত্ন নেন। তিনি তাঁর কন্যা খাদিজাকে তাঁর সাথে বিবাহ দেন এবং নিজের কিতাব ও রচনাবলি দ্বারা তাঁকে উপকৃত করেন; বরং হাইসামী তাঁর অধিকাংশ কিতাবই তাঁর নিকট পাঠ করেছেন। তিনি তাঁর মাধ্যমেই হাদিসশাস্ত্রে ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন। তাবারানীর তিনটি মু'জাম, মুসনাদে আহমদ, বাযযার এবং আবু ইয়া’লার সেই সকল অতিরিক্ত হাদিস (যা কুতুবে সিত্তাহ-তে নেই) পৃথক করার ক্ষেত্রে তিনি তাঁকে প্রশিক্ষণ দেন। পরবর্তীতে হাফেজ ইরাকী সেগুলো পর্যালোচনা ও পরিমার্জন করেন এবং সেগুলোর ভূমিকা লিখে দেন।
উস্তাদের খিদমত ও তাঁর প্রতি সম্মান প্রদর্শন:উস্তাদের অনুগ্রহের স্বীকৃতিস্বরূপ এবং তাঁর একনিষ্ঠ প্রচেষ্টা ও সঠিক নির্দেশনার মূল্যায়নে হাফেজ হাইসামী অবস্থানকালে ও সফরকালে নজিরবিহীনভাবে তাঁর খিদমত করেছেন।
হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: আমি দীর্ঘকাল তাঁদের উভয়ের সান্নিধ্যে ছিলাম, আমি তাঁদের কখনো তাহাজ্জুদ বর্জন করতে দেখিনি। আমাদের শায়খের (ইরাকী) প্রতি তাঁর খিদমত এবং কোনো প্রকার কৃত্রিমতা ছাড়াই তাঁর প্রতি তাঁর শিষ্টাচার আমি এমনভাবে দেখেছি যা অন্য কারো ক্ষেত্রে দেখিনি। আমার মনে হয় না যে, অন্য কেউ এতে সক্ষম হবে।
তিনি আরও বলেন—তিনি শায়খের খিদমত করতে গিয়ে কখনো ক্লান্ত বা বিরক্ত হতেন না।
বুরহান আল-হালাবী বলেন: তাঁর দিনের অধিকাংশ সময় ব্যস্ততা ও লেখালেখিতে অতিবাহিত হতো, সেই সাথে শায়খের উজু ও পোশাক-পরিচ্ছদের খিদমতে তিনি সর্বদা নিয়োজিত থাকতেন। তিনি তাঁকে ‘সাইয়্যিদী’ (আমার সর্দার) ব্যতীত সম্বোধন করতেন না, এমনকি খিদমতের ক্ষেত্রে তিনি দাসের ন্যায় ছিলেন।
শায়খের ইন্তেকালের পরেও তিনি তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শনে অবিচল ছিলেন।
আল্লামা সাখাভী বলেন: “শায়খের ইন্তেকালের পর মানুষ তাঁর নিকট ব্যাপকভাবে সমবেত হতে থাকে, তাসত্ত্বেও তিনি নিজের অবস্থায় কোনো পরিবর্তন আনেননি, নিজেকে বড় বলে জাহির করেননি কিংবা শায়খগিরি দেখাননি। তিনি শায়খের সহকর্মী হওয়া সত্ত্বেও তাঁর নিকট থেকে ‘আমালী’ (শ্রুতিলিপি) লিখতেন”, যার ফলে তিনি তাঁর সকল আমালী লিখে নিয়েছিলেন। কখনো কখনো তিনি শায়খের নিকট পাঠের জন্য আবেদন জানাতেন এবং শায়খের পক্ষ থেকে তা বর্ণনা করতেন। তাঁর মনে কারো প্রতি কোনো সংকীর্ণতা ছিল না, কেবল সেই ব্যক্তি ব্যতীত যে তাঁকে উত্যক্ত করত।
তাঁর চরিত্র ও গুণাবলি:তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) দুনিয়াবিমুখতা (জুহদ), তাকওয়া, বিনয় এবং মানুষের প্রতি কল্যাণকামিতাসহ অন্যান্য প্রশংসনীয় গুণাবলির ক্ষেত্রে আমাদের সালাফে সালেহীনের এক অনন্য আদর্শ ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
তাকরীবুল বুগইয়াহ বিতরতীবি আহাদীসিল হিলয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
قال ابن حجر رحمه الله: كان رحمه الله هينًا لينًا خيرًا دينًا محبًا في أهل الخير، لا يسأم ولا يضجر من خدمة الشيخ، وكتابة الحديث، كان سليم الفطرة، كثير الخير، كثير الاحتمال للأذى - خصوصًا من جماعة الشيخ.
وقال ابن فهد: وكان - رحمة الله تعالى عليه - إمامًا عالمًا حافظًا ورعًا زاهدًا متقشفًا متواضعًا خيرًا هينًا لينًا ساكنًا، سليم الفطرة، شديد الإنكار للمنكر، كثير الاحتمال محبًا للغرباء، وأهل الدين والعلم والحديث، كثير التودد إلى الناس مع العبادة والاقتصاد، والتعفف، وكان رحمه الله من محاسن القاهرة، ومن أهل الخير، غالب أوقاته في اشتغال وكتابة، كثير التلاوة بالليل والتهجد.
وكان - تغمده الله تعالى برحمته - استحضاره كثيرًا للمتون، يجيب عنها بسرعة فيعجب ذلك شيخنا الحافظ زين الدين العراقي، وربما رجح في حفظ المتون عليه.
وقال السخاوي: وكان عجبًا في الدين والتقوى والزهد، والإقبال على العلم والعبادة والأوراد، وخدمة الشيخ، وعدم مخالطة الناس في شيء من الأمور، والمحبة في الحديث وأهله.
وقال - أيضًا - والثناء على دينه وزهده وورعه ونحو ذلك كثير جدًا، بل هو في ذلك كلمة اتفاق.
مؤلفاته:تقدمت الإشارة أن الحافظ العراقي أشار عليه بتخريج زوائد مسند أحمد، وساعده على ذلك بكتبه، وآرائه السديدة، ومشورته المفيدة، وشجعه بتحريره، وكتابة خطبه ونحو ذلك، وحتى حبب إليه هذا العمل، واختص بجمع الأحاديث الزائدة على الكتب الستة، وبلغ ما كتبه في الزوائد ثمانية كتب: وهي:
1 - غاية المقصد في زوائد مسند أحمد.
جمع فيه ما انفرد به الإمام أحمد في مسنده عن الكتب الستة من حديث بتمامه أو من حديث فيه زيادة على ما في الكتب الستة، ورتّبها على أبواب الفقه، وقد حقق النصف الأول منه، قام بتحقيقه الدكتور سيف الرحمن مصطفى، والدكتور حمزة الهندي.
ইবনে হাজার (আল্লাহ তাকে রহম করুন) বলেন: তিনি (আল্লাহ তাকে রহম করুন) ছিলেন কোমল স্বভাবের, নম্র, নেককার, ধার্মিক এবং ভালো মানুষদের প্রতি ভালোবাসা পোষণকারী। শাইখের খিদমত এবং হাদিস লিখনের কাজে তিনি কখনো ক্লান্ত বা বিরক্ত হতেন না। তিনি ছিলেন সুস্থ স্বভাবের অধিকারী, অত্যন্ত কল্যাণকামী এবং কষ্ট সহ্য করার অসীম ক্ষমতা সম্পন্ন—বিশেষ করে শাইখের সাথীদের পক্ষ থেকে আসা কষ্টের ক্ষেত্রে।
ইবনে ফাহদ বলেন: তিনি—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—ছিলেন একজন ইমাম, আলিম, হাফিজ, পরহেজগার, দুনিয়াবিমুখ, অনাড়ম্বর, বিনয়ী, নেককার, নম্র, কোমল এবং স্থির প্রকৃতির মানুষ। তিনি ছিলেন নির্মল স্বভাবের অধিকারী, অন্যায়ের কঠোর প্রতিবাদকারী, অত্যন্ত সহনশীল এবং প্রবাসী ও দ্বীন, ইলম ও হাদিস চর্চাকারীদের প্রতি ভালোবাসা পোষণকারী। ইবাদত, পরিমিতিবোধ এবং আত্মমর্যাদার পাশাপাশি তিনি মানুষের সাথে অত্যন্ত হৃদ্যতা বজায় রাখতেন। তিনি (আল্লাহ তাকে রহম করুন) কায়রোর গৌরব এবং পুণ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তাঁর অধিকাংশ সময় ব্যয় হতো ইলমি ব্যস্ততা ও লেখালেখিতে। তিনি রাতে প্রচুর তিলাওয়াত ও তাহাজ্জুদ পালন করতেন।
তিনি—আল্লাহ তাআলা তাঁকে তাঁর রহমতে আবৃত করুন—প্রচুর মূলপাঠ (মতন) স্মরণে রাখতে পারতেন এবং সেগুলো থেকে দ্রুত উত্তর দিতেন। এটি আমাদের শাইখ হাফিজ জাইন আল-দীন আল-ইরাকিকে মুগ্ধ করত এবং কখনও কখনও তিনি মতন হিফজের ক্ষেত্রে তাঁর ওপরও প্রাধান্য পেতেন।
সাখাভী বলেন: দ্বীনদারি, তাকওয়া, দুনিয়াবিমুখতা, ইলম ও ইবাদতের প্রতি একাগ্রতা, নিয়মিত আমল (আওরাদ), শাইখের খিদমত এবং বৈষয়িক কোনো বিষয়ে মানুষের সাথে মেলামেশা না করা এবং হাদিস ও হাদিসবিদদের প্রতি ভালোবাসার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন এক বিস্ময়।
তিনি আরও বলেন: তাঁর দ্বীনদারি, দুনিয়াবিমুখতা এবং পরহেজগারিতা ইত্যাদির প্রশংসা অনেক বেশি, বরং এ বিষয়ে সকলের ঐকমত্য রয়েছে।
তাঁর রচনাবলি:পূর্বে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, হাফিজ ইরাকি তাঁকে মুসনাদে আহমদের অতিরিক্ত হাদিসসমূহ (যাওয়াইদ) সংকলনের পরামর্শ দিয়েছিলেন এবং তিনি তাঁর কিতাবসমূহ, সঠিক মতামত এবং উপকারী পরামর্শের মাধ্যমে তাঁকে সাহায্য করেছিলেন। তিনি তাঁকে সম্পাদনা, ভূমিকা লিখন ইত্যাদির মাধ্যমে উৎসাহিত করেছিলেন, এমনকি এই কাজটি তাঁর কাছে প্রিয় করে তুলেছিলেন। তিনি কুতুবে সিত্তাহর অতিরিক্ত হাদিসসমূহ সংগ্রহে আত্মনিয়োগ করেছিলেন। জাওয়াইদ বা অতিরিক্ত হাদিস বিষয়ে তাঁর রচিত কিতাব সংখ্যা আটটি পর্যন্ত পৌঁছেছে, সেগুলো হলো:
১ - গায়াতুল মাকসাদ ফি জাওয়াইদি মুসনাদি আহমাদ।
তিনি এতে ইমাম আহমদ তাঁর মুসনাদে কুতুবে সিত্তাহর বাইরে এককভাবে যে সমস্ত পূর্ণাঙ্গ হাদিস বর্ণনা করেছেন অথবা যেসব হাদিসে কুতুবে সিত্তাহর তুলনায় অতিরিক্ত অংশ রয়েছে, সেগুলো একত্র করেছেন এবং ফিকহের অধ্যায় অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছেন। এর প্রথমার্ধ তাহকিক করা হয়েছে; এটি তাহকিক করেছেন ডক্টর সাইফুর রহমান মুস্তফা এবং ডক্টর হামজা আল-হিন্দি।
(খণ্ড: ১)
তাকরীবুল বুগইয়াহ বিতরতীবি আহাদীসিল হিলয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
2 - كشف الأستار عن مسند البزار.
جمع فيه زوائد مسند البزار على الكتب الستة، وقد طبع هذا الكتاب في أربعة أجزاء بتحقيق الشيخ حبيب الرحمن الأعظمي.
3 - المقصد العلي في روائد أبي يعلى الموصلي.
خرج فيه الهيثمي رحمه الله روائد مسند أبي يعلى على الكتب الستة، ورتبها على أبواب الفقه، وقد طبع بتحقيق الدكتور نايف بن هاشم.
4 - البدر المنير في زوائد المعجم الكبير.
جمع فيه رحمه الله زوائد المعجم الكبير للطبراني، على الكتب الستة - وهو مخطوط.
5 - مجمع البحرين في زوائد المعجمين - الأوسط والصغير - للإمام الطبراني.
6 - مجمع الزوائد ومنبع الفوائد. ولما فرغ الحافظ الهيثمي رحمه الله من جمع زوائد مسند أحمد، ومسند البزار، ومسند أبي يعلى، وروائد المعاجم الثلاثة للطبراني. جمع زوائد هذه الكتب الستة في كتاب سماه مجمع الزوائد ومنبع الفوائد، وحذف أسانيدها، وتكلم عقب كل حديث لبيان درجة الحديث من صحة، وحسن، وضعف، وغير ذلك.
وهذا الكتاب من أهم كتب السنة بعد الأصول الستة، ومن يطلع عليه يخضع لجلالة قدر مؤلفه في الحديث، وهو مطبوع في عشرة أجزاء.
7 - موارد الظمآن إلى زوائد ابن حبان. جمع فيه المؤلف زوائد صحيح ابن حبان على الصحيحين - صحيح البخاري، وصحيح مسلم، ورتبها على الأبواب الفقهية، وقد طبع هذا الكتاب مرارًا.
8 - بغية الباحث عن زوائد مسند الحارث، وقد طبع في مجلد.
وللهيثمي رحمه الله مؤلفات في ترتيب بعض الكتب التي كانت تصعب الاستفادة منها إلا بجهد، وصرف وقت طويل، فرتبها على حروف الهجاء ليسهل على الباحث الرجوع إليها بيسر وسهولة وبجهد أقل، ووقت أقصر، فمنها:
২ - কাশফুল আসতার আন মুসনাদিল বাজ্জার।
এতে তিনি কুতুবে সিত্তাহর (ছয় কিতাব) ওপর মুসনাদিল বাজ্জারের অতিরিক্ত হাদিসগুলো জমা করেছেন। এই বইটি শাইখ হাবিবুর রহমান আল-আযমীর তাহকীকে চার খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে।
৩ - আল-মাকসাদুল আলি ফি যাওয়াইদ আবি ইয়ালা আল-মাওসিলি।
এতে ইমাম হাইসামী (রহিমাহুল্লাহ) কুতুবে সিত্তাহর ওপর মুসনাদে আবি ইয়ালার অতিরিক্ত হাদিসগুলো বের করেছেন এবং সেগুলোকে ফিকহী অধ্যায় অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছেন। এটি ডক্টর নায়েফ বিন হাশিমের তাহকীকে মুদ্রিত হয়েছে।
৪ - আল-বদরুল মুনীর ফি যাওয়াইদিল মুজামিল কাবীর।
এতে তিনি (রহিমাহুল্লাহ) কুতুবে সিত্তাহর ওপর তাবারানির মুজামুল কাবীরের অতিরিক্ত হাদিসগুলো জমা করেছেন - এটি পাণ্ডুলিপি আকারে রয়েছে।
৫ - মাজমাউল বাহরাইন ফি যাওয়াইদিল মুজামাইন - আল-আওসাত ওয়াস সাগীর - ইমাম তাবারানির।
৬ - মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ। যখন হাফেজ হাইসামী (রহিমাহুল্লাহ) মুসনাদে আহমদ, মুসনাদুল বাজ্জার, মুসনাদে আবি ইয়ালা এবং তাবারানির তিনটি মুজামের অতিরিক্ত হাদিসগুলো সংগ্রহের কাজ শেষ করলেন, তখন তিনি এই ছয়টি কিতাবের অতিরিক্ত হাদিসগুলোকে একটি কিতাবে জমা করেন এবং এর নাম দেন 'মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ'। তিনি এগুলোর সনদসমূহ বাদ দিয়ে দেন এবং প্রতিটি হাদিসের পরে হাদিসের মান তথা সহিহ, হাসান, জয়িফ ইত্যাদি বর্ণনা করেছেন।
এই কিতাবটি উসূলে সিত্তাহর (ছয়টি মূল কিতাব) পরে সুন্নাহর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কিতাব। যে ব্যক্তি এটি পর্যবেক্ষণ করেন, তিনি হাদিস শাস্ত্রে এর লেখকের সুউচ্চ মর্যাদার নিকট মস্তক অবনত করেন। এটি দশ খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে।
৭ - মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা যাওয়াইদ ইবনি হিব্বান। এতে লেখক সহিহাইন —সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম— এর ওপর সহিহ ইবনে হিব্বানের অতিরিক্ত হাদিসগুলো জমা করেছেন এবং সেগুলোকে ফিকহী অধ্যায় অনুযায়ী সাজিয়েছেন। এই কিতাবটি বহুবার মুদ্রিত হয়েছে।
৮ - বুগইয়াতুল বাহিস আন যাওয়াইদ মুসনাদিল হারিস, এটি এক খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে।
হাইসামী (রহিমাহুল্লাহ)-এর আরও কিছু রচনা রয়েছে সেই সকল কিতাব বিন্যস্ত করার ক্ষেত্রে, যেখান থেকে ফায়দা হাসিল করা কষ্টসাধ্য ছিল এবং যাতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হতো। তাই তিনি সেগুলোকে বর্ণানুক্রমিক সাজিয়েছেন যাতে গবেষকদের জন্য সহজে এবং অল্প শ্রমে ও কম সময়ে সেগুলোর দিকে ফিরে আসা (রেফারেন্স গ্রহণ) সম্ভব হয়। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:
(খণ্ড: ১)
তাকরীবুল বুগইয়াহ বিতরতীবি আহাদীসিল হিলয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
9 - ترتيب ثقات ابن حبان. مخطوط.
10 - ترتيب ثقات العجلي.
وقد طبع هذا الكتاب في مجلدين بتحقيق الشيخ عبد العليم بن عبد العظيم البستوي.
11 - ترتيب الأحاديث المسندة في حلية الأولياء للحافظ أبي نعيم ورتبها على الأبواب، ومات عنه وهو مسود، فبيضه وأكمله ابن حجر رحمه الله.
كما رتب:
12 - أحاديث الغيلانيات.
13 - وأحاديث الخلعيات.
14 - وفوائد أبي تمام.
15 - والأفراد للدارقطني.
رتبها على الأبواب.
ذكر ذلك الحافظ السخاوي في الضوء اللامع.
وفاته:توفي رحمه الله في ليلة الثلاثاء التاسع والعشرين من شهر رمضان المعظم سنة سبع وثمان مئة، ولم يخلف بعده مثله.
9 - ইবনে হিব্বানের 'সিকাত' গ্রন্থের বিন্যাস। পাণ্ডুলিপি।
10 - আল-ইজলির 'সিকাত' গ্রন্থের বিন্যাস।
এই কিতাবটি শায়খ আব্দুল আলিম বিন আব্দুল আজিম আল-বাস্তাওয়ি-এর সম্পাদনায় দুই খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে।
11 - হাফেজ আবু নুআইমের 'হিলয়াতুল আউলিয়া' গ্রন্থের মুসনাদ হাদিসসমূহের বিন্যাস; তিনি এটি অধ্যায় অনুযায়ী সাজিয়েছেন। এটি খসড়া অবস্থায় রেখে তিনি ইন্তেকাল করেন, অতঃপর ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) এটিকে পরিমার্জিত ও সম্পন্ন করেন।
তিনি আরও বিন্যাস করেছেন:
12 - আল-গাইলানিয়্যাত-এর হাদিসসমূহ।
13 - এবং আল-খুলায়িয়্যাত-এর হাদিসসমূহ।
14 - এবং আবু তাম্মামের ফাওয়াইদ।
15 - এবং আদ-দারাকুতনির আল-আফরাদ।
তিনি এগুলো অধ্যায় অনুযায়ী বিন্যাস করেছেন।
হাফেজ সাখাভি 'আদ-দউ আল-লামি' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন।
তাঁর মৃত্যু:তিনি (রহিমাহুল্লাহ) ৮০৭ হিজরি সনের মহিমান্বিত রমজান মাসের ২৯ তারিখ মঙ্গলবার রাতে ইন্তেকাল করেন এবং তিনি তাঁর পরে নিজের মতো আর কাউকে রেখে যাননি।
(খণ্ড: ১)
তাকরীবুল বুগইয়াহ বিতরতীবি আহাদীসিল হিলয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
ترجمة الحافظ ابن حجر العسقلانيهو: شهاب الدين أبو الفضل أحمد بن علي بن محمد بن علي بن محمود بن أحمد، المعروف بابن حجر، الكناني، العسقلاني، الشافعي، المصري المولد والمنشأ والدار، والوفاة.
ولد في شعبان سنة 773 هـ، في منزل كان يقع على شاطيء النيل بمصر، وكناه أبوه بأبي الفضل، تشبهًا ببعض قضاة مكة، ولقبه بشهاب الدين.
شهرته:وأما شهرته بابن حجر، فقد اختلفت المصادر في اعتباره اسمًا أو لقبًا، وإذا كان لقبًا هل هو أحد أجداده فطغى على العائلة كلها؟، أم أنه لقب لحرفة أو مهنة أو صناعة.
قال السخاوي: "هو لقب لبعض آبائه"، وهو الراجح، وذهب بعضهم إلى أنه نسبة إلى آل حجر، وهم يسكنون الجنوب الآخر على بلاد الجريد وأرضهم قابس.
أصله:جاء في "المجمع المؤسس" نقلًا عن أبيه وبخط يد الحافظ أنه من قبيلة كنانة.
نشأته:نشأ الحافظ ابن حجر يتيمًا حيث مات أبوه وهو في الرابعة من عمره، وماتت أمه قبل ذلك وهو طفل، فاصبح في وصاية زكي الدين أبي بكر الخروبي، وكان تاجرًا كبيرًا، وقد اعتنى به غاية العناية، فأدخله المكتب بعد أن اكتمل عمره خمس سنوات، فأكمل حفظ القرآن الكريم وله تسع سنين على يد محمد بن عبد الرزاق السفطي.
ولما بلغ الحادية عشرة من عمره سنة 784 هـ، حج مع زكي الدين الخروبي وجاور بمكة والقدس، هنالك اشتغل بالإعادة.
হাফেজ ইবনে হাজার আল-আসকালানির জীবনীতিনি হলেন: শিহাবুদ্দিন আবুল ফজল আহমদ ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে মাহমুদ ইবনে আহমদ, যিনি ইবনে হাজার হিসেবে পরিচিত; কেনানি, আসকালানি, শাফেয়ি; মিশরেই যাঁর জন্ম, বেড়ে ওঠা, আবাস এবং মৃত্যু।
তিনি ৭৭৩ হিজরির শাবান মাসে মিশরের নীল নদের তীরে অবস্থিত একটি বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। মক্কার কোনো এক বিচারকের সাথে সাদৃশ্য রেখে তাঁর পিতা তাঁর কুনিয়াত (উপনাম) রাখেন 'আবুল ফজল' এবং লকব (উপাধি) দেন 'শিহাবুদ্দিন'।
তাঁর খ্যাতি:ইবনে হাজার হিসেবে তাঁর খ্যাতির বিষয়ে সূত্রগুলোর মধ্যে মতভেদ রয়েছে—এটি কোনো নাম নাকি উপাধি? আর যদি এটি উপাধি হয়ে থাকে, তবে কি এটি তাঁর কোনো পূর্বপুরুষের নাম ছিল যা পুরো পরিবারের ওপর প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে? নাকি এটি কোনো পেশা বা শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট উপাধি?
সাখাভি বলেন: "এটি তাঁর কোনো এক পূর্বপুরুষের উপাধি", আর এটিই অধিক গ্রহণযোগ্য মত। কেউ কেউ মনে করেন এটি 'আলে হাজার' (হাজার পরিবার)-এর দিকে সম্পৃক্ত, যারা জারিদ অঞ্চলের অপর প্রান্তে দক্ষিণাংশে বসবাস করত এবং তাদের ভূমি ছিল গাবেস।
তাঁর বংশমূল:'আল-মুজামুল মুয়াসসিস' গ্রন্থে তাঁর পিতার সূত্রে এবং স্বয়ং হাফেজের হস্তাক্ষরে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি কেনানা গোত্রের অন্তর্ভুক্ত।
বেড়ে ওঠা:হাফেজ ইবনে হাজার এতিম হিসেবে বেড়ে ওঠেন। তাঁর বয়স যখন চার বছর তখন তাঁর বাবা ইন্তেকাল করেন এবং তার আগেই তাঁর মা ইন্তেকাল করেছিলেন যখন তিনি শিশু ছিলেন। ফলে তিনি জাকিউদ্দিন আবু বকর আল-খাররুবির তত্ত্বাবধানে আসেন, যিনি ছিলেন একজন বড় ব্যবসায়ী। তিনি তাঁর অত্যন্ত যত্ন নেন এবং পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার পর তাঁকে মক্তবে ভর্তি করে দেন। নয় বছর বয়সেই তিনি মুহাম্মদ ইবনে আব্দুর রাজ্জাক আস-সাফতির কাছে পবিত্র কুরআন হিফজ সম্পন্ন করেন।
৭৮৪ হিজরিতে যখন তাঁর বয়স এগারো বছর হলো, তখন তিনি জাকিউদ্দিন আল-খাররুবির সাথে হজ পালন করেন এবং মক্কা ও বায়তুল মোকাদ্দাসে অবস্থান করেন। সেখানে তিনি পাঠ পুনরাবৃত্তিতে ব্যস্ত থাকেন।
(খণ্ড: ১)
তাকরীবুল বুগইয়াহ বিতরতীবি আহাদীসিল হিলয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
وحفظ بعد رجوعه مع الخروبي إلى مصر سنة 786 هـ "عمدة الأحكام" للمقدسي، و "مختصر ابن الحاجب" في الأصول، و "ملحقة الإعراب" للهروي، وألفية العراقي، وألفية ابن مالك، والتنبيه في فروع الشافعية للشيراري.
تميز ابن حجر بسرعة الحفظ، وبلغ من أمره أنه حفظ سورة مريم في يوم واحد، وكان حفظه تأملًا على طريقة الأذكياء، واشتغل مدة بالتجارة بعد موت الخروبي سنة 787 هـ، ولما بلغ التاسعة عشرة من عمره نظر في فنون الأدب.
طلبه للحديث:تمثل سنة 793 هـ منعطفًا في حياة ابن حجر، حيث حُبِبَ إليه علم الحديث النبوي فأقبل عليه بكليته، وكان شيخه في هذا العلم زين الدين العراقي (806 هـ)، الذي لازمه عشر سنوات، وأرخ لهذه الفترة بقوله "رفع الحجاب، وفتح الباب، وأقبل العزم المصمم على التحصيل، ووفق للهداية إلى سواء السبيل".
فقرأ على مُسنِدي القاهرة ومصر الكثير في مدة قصيرة، ووقع له سماع متصل عالٍ لبعض الأحاديث، وقال ابن فهد المكي: "وجد في طلب العلوم فبلغ الغاية القصوى"، لحظ الألحاظ لابن فهد (230).
زوجاته:تزوج ابن حجر عندما بلغ عمره خمسًا وعشرين عامًا وذلك سنة (798 هـ) من أنس ابنة القاضي كريم الدين عبد الكريم بن أحمد بن عبد العزيز، ناظر الجيش، وهي من أسرة معروفة بالرئاسة والحشمة والعلم، فاعتنى بها، وأسمعها الحديث المسلسل بالأولية علي شيخه حافظ العصر الزين العراقي والشريف بن الكويك، وحصل لها جملة من الإجازات باستدعاءات عدد من الحفاظ والمسندين، كما استصحبها معه إلى الحج سنة 815 هـ، وحدثت بحضور زوجها، وقرأ عليها الفضلاء، واستولدها عدة بنات هن: زين خاتون، وفرحة، وغالبة، ورابعة، وفاطمة، ولم تلد ذكرًا، وكان كثير التبجيل لها، وهي عظيمة الرغبة فيه.
كما تزوج أرملة الزين أبي بكر الأمشاطي، ورزق منها آمنة، ولم تعش طويلًا حيث ماتت في شوال سنة 836 هـ، وبموتها طلق أمها.
৭৮৬ হিজরিতে আল-খারুবির সাথে মিশরে ফিরে আসার পর তিনি মাকদিসি-র "উমদাতুল আহকাম", উসূল শাস্ত্রে ইবনে হাজিবের "মুখতাসার", হারাবীর "মুলহাতুল ই’রাব", ইরাকির "আলফিয়্যাহ", ইবনে মালিকের "আলফিয়্যাহ" এবং শাফেয়ি ফিকহের শাখাগুলোতে শিরাজির "আত-তানবিহ" মুখস্থ করেন।
ইবনে হাজার দ্রুত মুখস্থ করার শক্তিতে অনন্য ছিলেন। তাঁর অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, তিনি মাত্র একদিনে সূরা মারইয়াম মুখস্থ করেছিলেন। তাঁর মুখস্থ করার পদ্ধতি ছিল অত্যন্ত মেধাবীদের মতো গভীর চিন্তাশীল। ৭৮৭ হিজরিতে আল-খারুবির মৃত্যুর পর তিনি কিছুকাল ব্যবসায় লিপ্ত ছিলেন। যখন তাঁর বয়স উনিশ বছর হলো, তখন তিনি সাহিত্যকলার প্রতি মনোনিবেশ করেন।
হাদিস শিক্ষা:৭৯৩ হিজরি ছিল ইবনে হাজারের জীবনে একটি মোড় পরিবর্তনের বছর। এ সময়ে তাঁর নিকট নববী হাদিসের ইলম প্রিয় হয়ে ওঠে এবং তিনি পূর্ণরূপে এর প্রতি নিবিষ্ট হন। এ শাস্ত্রে তাঁর শায়খ ছিলেন যয়নুদ্দীন আল-ইরাকি (৮০৬ হি.), যাঁর সান্নিধ্যে তিনি দশ বছর অতিবাহিত করেন। এই সময়কাল সম্পর্কে তিনি বর্ণনা করেছেন: "পর্দা উন্মোচিত হয়েছে, দ্বার খুলে গিয়েছে, ইলম অর্জনের জন্য সুদৃঢ় সংকল্প জাগ্রত হয়েছে এবং সঠিক পথের দিশা লাভের তৌফিক হয়েছে।"
তিনি অল্প সময়ের মধ্যে কায়রো ও মিশরের শীর্ষ মুসনিদদের কাছে প্রচুর পাঠ করেন এবং কিছু হাদিসের ক্ষেত্রে তাঁর উচ্চতর ও নিরবচ্ছিন্ন শ্রবণ অর্জিত হয়। ইবনে ফাহদ আল-মাক্কি বলেন: "তিনি জ্ঞান অন্বেষণে এতটাই সাধনা করেছিলেন যে, উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছেছিলেন।" (ইবনে ফাহদ কৃত লাহজুল আলহাজ, পৃষ্ঠা ২৩০)।
তাঁর স্ত্রীগণ:ইবনে হাজার যখন পঁচিশ বছর বয়সে উপনীত হন, তখন ৭৯৮ হিজরিতে তিনি সেনাবাহিনীর পরিদর্শক কাজী কারীমুদ্দীন আব্দুল কারীম ইবনে আহমদ ইবনে আব্দুল আজিজের কন্যা 'আনাস'-কে বিবাহ করেন। তিনি নেতৃত্ব, শালীনতা ও জ্ঞানের জন্য সুপরিচিত একটি পরিবারের সদস্য ছিলেন। ইবনে হাজার তাঁর প্রতি বিশেষ যত্নশীল ছিলেন। তিনি তাঁকে তাঁর শায়খ, সমকালের হাফেজ যয়নুদ্দীন আল-ইরাকি এবং আশ-শরিফ ইবনুল কুয়াইকের নিকট 'হাদিসে মুসালসাল বিল আওয়ালিয়্যাহ' শ্রবণ করান। অনেক হাফেজ ও মুসনিদগণের আবেদনের প্রেক্ষিতে তাঁর জন্য বেশ কিছু 'ইজাজত' সংগ্রহ করা হয়। তিনি ৮১৫ হিজরিতে হজের সফরেও তাঁকে সাথে নিয়েছিলেন। তিনি তাঁর স্বামীর উপস্থিতিতে হাদিস বর্ণনা করতেন এবং গুণী ব্যক্তিগণ তাঁর কাছে হাদিস পাঠ করতেন। তাঁর গর্ভে ইবনে হাজারের বেশ কয়েকজন কন্যা সন্তান জন্মলাভ করেন; তাঁরা হলেন: যয়ন খাতুন, ফারহাহ, গালিবাহ, রাবিআহ এবং ফাতিমা। তাঁর কোনো পুত্র সন্তান জন্মায়নি। ইবনে হাজার তাঁকে অনেক সম্মান করতেন এবং তিনিও স্বামীর প্রতি অত্যন্ত অনুরাগী ছিলেন।
এ ছাড়াও তিনি যয়ন আবু বকর আল-আমশাতির বিধবা স্ত্রীকে বিবাহ করেন এবং তাঁর গর্ভে আমিনা নামে এক কন্যা সন্তান লাভ করেন। তবে সে বেশিদিন বেঁচে থাকেনি; ৮৩৬ হিজরির শাওয়াল মাসে সে মৃত্যুবরণ করে। তার মৃত্যুর পর তিনি তার মাতাকে তালাক দেন।
(খণ্ড: ১)
তাকরীবুল বুগইয়াহ বিতরতীবি আহাদীসিল হিলয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
وتزوج ليلى ابنة محمود بن طوعان الحلبية، عندما سافر مع الأشراف سنة 836 هـ، إلى آمد، ولم يرزق منها بأولاد.
هذا ورغبة منه في مولود ذكر تسرى بـ (خاص ترك) سارية زوجته، وأنجب منها ولده الوحيد بدر الدين أبي المعالي محمد، سنة 815 هـ، وكان حريصًا على تعليمه وتهذيبه، فحفظ القرآن وصلى بالناس كما كانت العادة جارية في 826 هـ، وأسمعه الحديث على الواسطي وجماعة.
وبلغ من حرصه واهتمامه به أن صنف كتابه: "بلوغ المرام من أدلة الأحكام" لأجله، وكتب هو عن والده كثيرًا من مجالس الإملاء، واشتغل بالقيام بأمر القضاء والأوقاف.
رحلاته في طلب العلم:الرحلة في طلب العلم تقليد مبكر في تاريخ علماء المسلمين، ومظهر من مظاهر التعليم الإسلامي، يلجأ إليه الطالب بعد أن يستكمل ثقافته المحلية بسماعه وقراءته على علماء بلده، وشغف ابن حجر بالعلم كان مبكرًا، وكذلك حرصه على أن يكون بالحديث النبوي عالما متبحرًا ورأسًا فيه لا يحلق
… هذا ما يستلزم شد الرحال والطواف في البلدان متتبعًا لمواطن العلماء والشيوخ والمسندين للتخرج بهم والانتفاع بملازمتهم والقراءة عليهم ورحل داخل مصر وخارجها.
ففي سنة 793 هـ، رحل إلى قوص وغيرها من بلاد صعيد مصر، نسمع من علمانها نظمهم.
وفي سنة 797 هـ، رحل إلى الإسكندرية وبها التقى بجماعة من المحدثين والمسندين منهم: شمس الدين الجزري (ت 834 هـ)، وابن الفراط (ت 803 هـ)، وابن سليمان الفيش (ت 798 هـ)، وابن البوري (799 هـ)، وغيرهم حيث ورد ذكرهم في كتابه: "الدر المضيئة في فوائد الإسكندرية".
وفي شوال سنة (799 هـ)، توجه إلى الحجاز وما أن وصل إلى الطور حتى لقي جماعة من العلماء، منهم: الرضي الزبيدي (ت 821 هـ)، والصلاح الأقفسي (ت 820 هـ)، والنجم المرجاني (ت 827 هـ) فقرأ عليهم جميعًا.
তিনি ৮৩৬ হিজরিতে আশরাফদের (অভিজাতদের) সাথে আমেদে যাওয়ার সময় মাহমুদ ইবনে তুআন আল-হালাবিয়্যার কন্যা লায়লাকে বিয়ে করেন। তাঁর গর্ভে তাঁর কোনো সন্তান হয়নি।
পুত্রসন্তান লাভের কামনায় তিনি তাঁর স্ত্রী সারিয়ার দাসী (খাস তুর্ক)-কে গ্রহণ করেন এবং তাঁর গর্ভে ৮১৫ হিজরিতে তাঁর একমাত্র পুত্র বদরুদ্দিন আবুল মাআলি মুহাম্মদ জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পুত্রের শিক্ষা ও আদব-কায়দার ব্যাপারে অত্যন্ত যত্নশীল ছিলেন। ফলে ছেলে কুরআন হিফজ করেন এবং প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী ৮২৬ হিজরিতে ইমামতি করেন। তিনি তাঁকে ওয়াসিতি ও একদল আলেমের কাছে হাদিস শ্রবণ করান।
পুত্রের প্রতি তাঁর গভীর যত্ন ও মনোযোগের নিদর্শন হলো, তিনি তাঁর জন্যই তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘বুলুগুল মারাম মিন আদিল্লাতিল আহকাম’ রচনা করেন। তাঁর পুত্র তাঁর পিতার নিকট থেকে অসংখ্য ইমলা মজলিসের (শ্রুতলিপি) বর্ণনা লিখে রেখেছিলেন এবং বিচারিক ও ওয়াকফ সংক্রান্ত দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত ছিলেন।
ইলম অন্বেষণে তাঁর সফরসমূহ:ইলম অন্বেষণে সফর করা মুসলিম আলেমদের ইতিহাসে একটি প্রাচীন ঐতিহ্য এবং ইসলামী শিক্ষার অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য। নিজ শহরের আলেমদের নিকট শ্রবণ ও পঠনের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করার পর ছাত্ররা এই পথ বেছে নেয়। ইলমের প্রতি ইবনে হাজারের আগ্রহ ছিল শৈশব থেকেই। একইভাবে নববী হাদিসের ক্ষেত্রে একজন অগাধ পণ্ডিত এবং শীর্ষস্থানীয় ইমাম হওয়ার প্রতিও তাঁর প্রবল আগ্রহ ছিল, যা তাঁকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়
… আর এজন্য প্রয়োজন ছিল দেশ-দেশান্তরে সফর করা এবং আলেম, শাইখ ও মুসনিদগণের (যাঁদের নিকট হাদিসের সনদ রয়েছে) সন্ধানে ঘুরে বেড়ানো, যাতে তাঁদের নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করা যায় এবং তাঁদের সান্নিধ্য ও পাঠ থেকে উপকৃত হওয়া যায়। তিনি মিশরের ভেতরে ও বাইরে বহু সফর করেন।
৭৯৩ হিজরিতে তিনি কুস ও উচ্চ মিশরের (সাঈদ মিসর) অন্যান্য অঞ্চলে সফর করেন এবং সেখানকার আলেমদের নিকট থেকে তাঁদের রচিত কাব্য শোনেন।
৭৯৭ হিজরিতে তিনি আলেকজান্দ্রিয়া সফর করেন এবং সেখানে একদল মুহাদ্দিস ও মুসনিদের সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হয়। তাঁদের মধ্যে ছিলেন: শামসুদ্দিন আল-জাযারি (মৃত্যু ৮৩৪ হি.), ইবনুল ফুরাত (মৃত্যু ৮০৩ হি.), ইবনে সুলাইমান আল-ফিশ (মৃত্যু ৭৯৮ হি.), ইবনুল বুরি (মৃত্যু ৭৯৯ হি.) এবং আরও অনেকে। তাঁদের বিবরণ তাঁর ‘আদ-দুরারুল মুদিয়্যাহ ফি ফাওয়াইদিল ইস্কান্দারিয়া’ নামক গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।
৭৯৯ হিজরির শাওয়াল মাসে তিনি হিজাজের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। ‘তূর’ নামক স্থানে পৌঁছানোর পরপরই তিনি একদল আলেমের সাক্ষাৎ পান, যাঁদের মধ্যে ছিলেন: আর-রাদি আয-যাবাদি (মৃত্যু ৮২১ হি.), আস-সালাহ আল-আকফাসি (মৃত্যু ৮২০ হি.) এবং আন-নাজম আল-মারজানি (মৃত্যু ৮২৭ হি.)। তিনি তাঁদের সকলের নিকট পাঠ গ্রহণ করেন।
(খণ্ড: ১)
তাকরীবুল বুগইয়াহ বিতরতীবি আহাদীসিল হিলয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
وفي اليمن التقى بابن الخياط الشافعي (ت 811 هـ)، وكان قد مهر في الفقه، وسمع من فوائده.
والتقى في زبيد بكل من: ابن عبد الصمد الجبرتي (806 هـ)، وأحمد بن أبي بكر الناشري (815 هـ)، وكانت إليه رئاسة الفتوى ببلده، والشريف ابن المقري (ت 837 هـ)، وقد مهر في الفقه والعربية والأدب واستفاد منه الكثير.
وفي عدن لقي الرضي بن المستأذن (ت 816 هـ)، وسمع من شعره، وفي زبيد التقى بالمجد الفيروز آبادي (ت 817 هـ)، فناوله القاموس المحيط، كما اتصل لابن جميع (803 هـ).
وتوجه مرة ثانية لليمن سنة 608 هـ)، بعد عودته، ولكن لقي متاعب كثيرة نتيجة لغرق المركب وغرق جميع ما معه من الأمتعة والكتب والنقد، ثم رحل إلى الحجاز، للحج والمجاورة والاشتغال غير مرة، والتقى بالعلماء، ومنهم زين الدين عبد الرحمن بن محمد بن طولوبغا السيفي (ت 825 هـ)، فأخذ شيئًا من مروياته.
ورحل إلى الشام سنة 802 هـ، قاصدًا بلاد الشام، والتقى بعدد كبير من المسندين والعلماء، وأقام بدمشق مائة يوم ومسموعه في تلك المدة نحو ألف جزء حديثية.
هذا وطوف البلاد الشامية وحلب وحمص وحماة وغيرها.
شيوخه:اجتمع لابن حجر من الشيوخ ما لم يجتمع لاحد من أهل عصره، فمنهم:
1 - الرهان التنوخي (ت 800 هـ)، في معرفة القراءات.
2 - الزين العراقي (ت 806 هـ) في معرفة الحديث ومتعلقاته.
3 - الحافظ الهيثمي (ت 807 هـ)، في حفظ المتون واستحضارها.
4 - السراج البلقيني (ت 805 هـ)، في سعة الحفظ وكثرة الاطلاع.
5 - ابن الملقن (ت 804 هـ)، في فترة التصانيف.
6 - المجد الشيرازي (ت 871 هـ) في حفظ اللغة والاطلاع عليها.
এবং ইয়ামেনে তিনি ইবনুল খাইয়াত আশ-শাফিয়ী (মৃত্যু ৮১১ হিজরি)-এর সাথে সাক্ষাৎ করেন, যিনি ফিকহ শাস্ত্রে বিশেষ ব্যুৎপত্তি অর্জন করেছিলেন এবং তিনি তাঁর নিকট থেকে অনেক জ্ঞানগর্ভ বিষয় শ্রবণ করেন।
এবং জাবিদে তিনি ইবনে আবদুস সামাদ আল-জাবারতি (৮০৬ হিজরি), আহমাদ ইবনে আবু বকর আন-নাশিরি (৮১৫ হিজরি)—যাঁর ওপর নিজ শহরে ফতোয়া প্রদানের প্রধান দায়িত্ব ন্যস্ত ছিল—এবং আশ-শরিফ ইবনুল মুকরি (মৃত্যু ৮৩৭ হিজরি)-এর সাথে সাক্ষাৎ করেন; তিনি ফিকহ, আরবি ভাষা ও সাহিত্যে পারদর্শী ছিলেন এবং তিনি তাঁর নিকট থেকে অনেক উপকৃত হন।
এবং আদেনে তিনি আর-রাদি বিন আল-মুস্তা’যিন (মৃত্যু ৮১৬ হিজরি)-এর সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁর রচিত কবিতা শ্রবণ করেন। জাবিদে তিনি আল-মাজদ আল-ফিরোজাবাদি (মৃত্যু ৮১৭ হিজরি)-এর সাথে সাক্ষাৎ করেন, যিনি তাঁকে ‘আল-কামুস আল-মুহিত’ গ্রন্থটি প্রদান করেন। এছাড়াও তিনি ইবনে জামি‘ (৮০৩ হিজরি)-এর সাথে যোগাযোগ করেন।
ফিরে আসার পর ৬০৮ হিজরি সালে তিনি দ্বিতীয়বার ইয়ামেনে গমন করেন, কিন্তু নৌকাডুবির ফলে তিনি অনেক বিপত্তির সম্মুখীন হন এবং তাঁর সাথে থাকা সমস্ত মালামাল, বইপত্র ও অর্থকড়ি ডুবে যায়। এরপর তিনি হজ পালন, হারামে অবস্থান এবং জ্ঞানচর্চার উদ্দেশ্যে একাধিকবার হিজাজে ভ্রমণ করেন এবং ওলামায়ে কেরামের সাথে সাক্ষাৎ করেন; তাঁদের মধ্যে ছিলেন জাইনুদ্দিন আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে তুলুবুগা আস-সাইফি (মৃত্যু ৮২৫ হিজরি), যাঁর নিকট থেকে তিনি কিছু বর্ণনা গ্রহণ করেন।
তিনি শাম অভিমুখে যাত্রা করে ৮০২ হিজরি সালে সেখানে পৌঁছেন এবং বিপুল সংখ্যক মুসনিদ ও আলেমদের সাথে সাক্ষাৎ করেন। তিনি দামেস্কে একশ দিন অবস্থান করেন এবং সেই সময়ে তাঁর শ্রবণকৃত হাদিস গ্রন্থের পরিমাণ ছিল প্রায় এক হাজার হাদিস-জুয।
এভাবেই তিনি শামের বিভিন্ন শহর এবং হালাব, হিমস, হামাতসহ অন্যান্য অঞ্চল পরিভ্রমণ করেন।
তাঁর শিক্ষকগণ:ইবনে হাজারের নিকট এমন বিপুল সংখ্যক শিক্ষকের সমাবেশ ঘটেছিল যা তাঁর সমসাময়িক আর কারো ভাগ্যে জোটেনি। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:
১ - আল-বুরহান আত-তানুখি (মৃত্যু ৮০০ হিজরি), কিরাত শাস্ত্রের জ্ঞানে।
২ - আজ-জাইন আল-ইরাকি (মৃত্যু ৮০৬ হিজরি), হাদিস শাস্ত্র ও এর সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহের জ্ঞানে।
৩ - আল-হাফিজ আল-হাইসামি (মৃত্যু ৮০৭ হিজরি), হাদিসের মতন মুখস্থ ও তা তাৎক্ষণিক উপস্থাপনের ক্ষেত্রে।
৪ - আস-সিরাজ আল-বুলকিনি (মৃত্যু ৮০৫ হিজরি), স্মৃতিশক্তির বিশালতা ও গবেষণার প্রাচুর্যে।
৫ - ইবনুল মুলাক্কিন (মৃত্যু ৮০৪ হিজরি), গ্রন্থ রচনার আধিক্যের ক্ষেত্রে।
৬ - আল-মাজদ আশ-শিরাজি (মৃত্যু ৮৭১ হিজরি), ভাষাজ্ঞান ও এর গবেষণায়।
(খণ্ড: ১)
তাকরীবুল বুগইয়াহ বিতরতীবি আহাদীসিল হিলয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
7 - الغماري (ت 802 هـ)، في معرفة العربية ومتعلقاتها وحفظها.
8 - المحب بن هشام (ت 799 هـ) سمع عليه: علوم الحديث لابن الصلاح، وحكايات أبي علي الفقيه.
9 - العز بن جماعة (ت 819 هـ)، وغيرهم كثير، وانظر "المجمع المؤسس للمعجم المفهرس" فقد ذكر فيه شيوخه كلهم نساء ورجال.
جهوده العلمية:تصدر الحافظ ابن حجر للإقراء، والتدريس، والإملاء في المدارس والمجالس، وأفتى بدار العدل، وتولى مشيخة عدد من المدارس وأنظارها والخطابة في عدد من الجوامع كما تولى القضاء.
أما من ناحية التدريس، فقد درس بالمدرسة الشيخونية ما بين سنة 811 إلى ستة 827 هـ الفقه.
كما درس الفقه أيضًا في الخروبية، البدهلة وبالشريفية الفخرية، والصالحية النجمية، والصلاحية الجاورة للإمام الشافعي، ودرس الحديث بالمدرسة الجمالية الجديدة، وبالبيرسية، والجمالية المستجدة، والحسنية .... وغيرها.
وتولى مشيخة البيرسية فأملى فيها نحوًا من عشرين سنة ثم انتقل إلى دار الحديث الكاملية بين القصرين.
ودرس التفسير بالمدرسة الحسينية والمنصورية وتصدر للأسماع بالمحمودية.
وكانت طريقته في إلقاء الدروس متميزة عن أقرانه، ويظهر فيها جانب الإبداع بالنظر لما يثيره من مسائل تقوم على الاستنباط والتشكيك والنقد.
وتولى ابن حجر تدريس الحديث وقد اكتملت له أسبابه، فعهد إليه السلطان فرج بن برقوق بعقد مجالس إملائية في المدرسة الشيخونية عام 808 هـ، وإنما كان يناط بوظيفة التدريس إلى أبرز رجالات العصر.
وتولى القضاء استقلالًا في السابع والعشرين من المحرم سنة 827 هـ، بتفويض من الملك الأشرف برسباي بالقاهرة، وسرعان ما ندم على قبوله هذا المنصب.
৭ - আল-গুমারি (মৃত্যু ৮০২ হিজরি), আরবি ভাষা শিক্ষা, এর সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি এবং তা আয়ত্ত করার ক্ষেত্রে।
৮ - আল-মুহিব্ব ইবনে হিশাম (মৃত্যু ৭৯৯ হিজরি), তাঁর নিকট শ্রবণ করেছেন: ইবনুস সালাহ-এর ‘উলূমুল হাদীস’ এবং আবু আলী আল-ফকীহ-এর কাহিনীসমূহ।
৯ - আল-ইয ইবনে জামাআহ (মৃত্যু ৮১৯ হিজরি) এবং আরও অনেকে। দেখুন "আল-মুজামুল মুয়াসসিস লিল মুজামুল মুফাহরাস", এতে তিনি তাঁর সকল নারী ও পুরুষ শিক্ষকদের কথা উল্লেখ করেছেন।
তাঁর ইলমী প্রচেষ্টা:হাফেজ ইবনে হাজার কিরাত (তিলাওয়াত), পাঠদান এবং মাদরাসা ও মজলিসসমূহে হাদীস শ্রুতলিপিকরণের (ইমলা) জন্য নিজেকে নিয়োজিত করেন। তিনি 'দারুল আদল'-এ ফতোয়া প্রদান করেন এবং বেশ কিছু মাদরাসার প্রধান ও তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও বিভিন্ন জামে মসজিদে খুতবা প্রদান এবং বিচারকের (কাজী) দায়িত্বও পালন করেন।
পাঠদানের ক্ষেত্রে তিনি ৮১১ হিজরি থেকে ৮২৭ হিজরি পর্যন্ত শায়খুনিয়্যাহ মাদরাসায় ফিকহ শাস্ত্র পড়িয়েছেন।
এছাড়াও তিনি আল-খারুবিয়্যাহ, আল-বাদহালাহ, আশ-শারিফিয়্যাহ আল-ফাখরিয়্যাহ, আস-সালিহিয়্যাহ আন-নাজমিয়্যাহ এবং ইমাম শাফেঈর পাশ্ববর্তী আস-সালাহিয়্যাহ মাদরাসায় ফিকহ পড়িয়েছেন। আল-জামালিয়্যাহ আল-জাদিদাহ, আল-বায়বারসিয়্যাহ, আল-জামালিয়্যাহ আল-মুস্তাজাদ্দাহ, আল-হাসানিয়্যাহ এবং অন্যান্য মাদরাসায় তিনি হাদীসের পাঠদান করেন।
তিনি আল-বায়বারসিয়্যাহ-এর শায়খ বা প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং সেখানে প্রায় বিশ বছর হাদীস শ্রুতলিপি (ইমলা) করান। এরপর তিনি বাইনাল কাসরাইন-এ অবস্থিত 'দারুল হাদীস আল-কামিলিয়্যাহ'-তে স্থানান্তরিত হন।
তিনি আল-হুসাইনিয়্যাহ এবং আল-মানসুরিয়্যাহ মাদরাসায় তাফসীর পড়িয়েছেন এবং আল-মাহমুদীয়াহ মাদরাসায় হাদীস শ্রবণ ও পাঠের মজলিসে প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
পাঠদানের ক্ষেত্রে তাঁর পদ্ধতি সমসাময়িকদের থেকে স্বতন্ত্র ছিল। তাঁর পাঠে উদ্ভাবনী দিক প্রকাশ পেত, কারণ তিনি ইস্তিনবাত (গবেষণামূলক উদ্ভাবন), সংশয় ও সমালোচনামূলক বিভিন্ন বিষয় উত্থাপন করতেন।
ইবনে হাজার হাদীস পাঠদানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন যখন তাঁর মাঝে এর পূর্ণ যোগ্যতা অর্জিত হয়। সুলতান ফারাজ ইবনে বারকুক তাকে ৮০৮ হিজরিতে শায়খুনিয়্যাহ মাদরাসায় ইলমী ইমলার মজলিস পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করেন। বস্তুত সেই যুগের বিশিষ্ট ব্যক্তিদেরকেই কেবল পাঠদানের এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব প্রদান করা হতো।
তিনি কায়রোতে সুলতান আল-আশরাফ বার্সবে-এর পক্ষ থেকে নিয়োজিত হয়ে ৮২৭ হিজরির ২৭শে মহররম স্বতন্ত্রভাবে প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। কিন্তু শীঘ্রই তিনি এই পদ গ্রহণের জন্য অনুতপ্ত হন।
(খণ্ড: ১)
তাকরীবুল বুগইয়াহ বিতরতীবি আহাদীসিল হিলয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
ولذلك لم يلبث طويلًا حيث صرف نفسه في ذي القعدة من السنة نفسها، ولم يلبث يصرف ثم يعاد إلى وظيفة القضاء، وإلى أن عزل نفسه في جمادى الآخرة في السنة التي توفي نيها سنة 852 هـ.
وتولى الخطابة بالجامع الأزهر عوضًا عن خطبة تاج الدين محمد بن رزين (ت سنة 819 هـ)، ثم تولى الخطابة بجامع عمرو بن العاص، وكان لخطبه وقع في قلوب السامعين.
ثم نهض بمهمة الإفتاء بدار العدل سنة 815 هـ، وامتازت فتاويه بالإيجاز مع حصول الغرض منها.
تلاميذه:وقد أخذ عنه كل من:
1 - الإمام شيخ الإسلام زكريا بن محمد الأنصاري.
2 - الإمام شمس الدين محمد بن عبد الرحمن السخاوي.
3 - الإمام العز بن فهد المكي.
4 - البرهان البقاعي.
5 - الشرف عبد الحق السنباطي، وغيرهم.
مصنفاته:تزيد مصنفاته على مائة وخمسين مصنفًا، وهي من حيث مادتها تعالج مواضيع متعددة ومتنوعة.
ومن حيث كمالها فإن منها ما كمل وبيض، أو كمل وشرع في تبييضه، أو كمل وهو في المسودة، ومنها ما لم يكمل إلا أنه كتب منه قدر النصف أو يزيد، ومنها ما شرع في تأليفه.
أما من حيث سعتها فمنها ما يقع في مجلدات، ومنها ما يقع في أجزاء، أو كراريس أو أسفار، ومنها المختصر ومنها المطوّل ومن تصانيفه:
এজন্য তিনি দীর্ঘকাল সেখানে অবস্থান করেননি, বরং একই বছরের যুল-কাদ মাসে নিজেকে অব্যাহতি দেন। এরপর তাকে অব্যাহতি প্রদান এবং পুনরায় বিচারকের পদে নিয়োগ প্রদানের ধারা চলতে থাকে, অবশেষে ৮৫২ হিজরিতে তাঁর মৃত্যুর বছরে জুমাদাল আখিরা মাসে তিনি চূড়ান্তভাবে পদত্যাগ করেন।
তিনি তাজউদ্দীন মুহাম্মদ ইবনে রাযীন (মৃত্যু ৮১৯ হি.)-এর পরিবর্তে আল-আযহার জামে মসজিদে খুতবা প্রদানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। অতঃপর তিনি আমর ইবনুল আস জামে মসজিদে খুতবা প্রদানের দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর খুতবাগুলো শ্রোতাদের হৃদয়ে গভীর প্রভাব বিস্তার করত।
অতঃপর তিনি ৮১৫ হিজরিতে দারুল আদলে ফতোয়া প্রদানের দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর ফতোয়াগুলো সংক্ষেপ হওয়া সত্ত্বেও মূল উদ্দেশ্য অর্জনে অনন্য ছিল।
তাঁর ছাত্রবৃন্দ:তাঁর নিকট শিক্ষা গ্রহণ করেছেন:
১ - ইমাম শাইখুল ইসলাম যাকারিয়া ইবনে মুহাম্মদ আল-আনসারী।
২ - ইমাম শামসুদ্দীন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুর রহমান আস-সাখাভী।
৩ - ইমাম ইয্য বিন ফাহদ আল-মাক্কী।
৪ - আল-বুরহান আল-বিকায়ী।
৫ - আশ-শরাফ আব্দুল হক আস-সুনবাতী এবং অন্যান্য।
তাঁর রচনাবলী:তাঁর রচনাবলীর সংখ্যা দেড়শতেরও অধিক। বিষয়বস্তুর দিক থেকে এগুলো বহুবিধ ও বৈচিত্র্যময়।
পূর্ণতার বিচারে এগুলোর মধ্যে কিছু এমন যা সম্পূর্ণ হয়েছে এবং পরিচ্ছন্ন পাণ্ডুলিপিতে রূপান্তরিত হয়েছে, অথবা সম্পূর্ণ হয়েছে এবং পরিচ্ছন্ন পাণ্ডুলিপিতে রূপান্তরের কাজ শুরু হয়েছে, অথবা সম্পূর্ণ হয়েছে কিন্তু খসড়া অবস্থায় রয়ে গেছে। আবার কিছু এমন যা সম্পূর্ণ হয়নি কিন্তু অর্ধেক বা তার বেশি লেখা হয়েছে, এবং কিছু এমন যা রচনা শুরু করা হয়েছিল।
আর আয়তনের দিক থেকে এগুলোর মধ্যে কিছু রয়েছে একাধিক খণ্ডে সমাপ্ত, কিছু রয়েছে কয়েক খণ্ডে বা ছোট পুস্তিকা কিংবা পত্রে বিভক্ত। এগুলোর মধ্যে সংক্ষিপ্ত এবং বিস্তারিত উভয় ধরনের রচনাই রয়েছে। তাঁর রচনাবলীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
(খণ্ড: ১)
তাকরীবুল বুগইয়াহ বিতরতীবি আহাদীসিল হিলয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
في علوم القرآن:
1 - أسباب النزول
… مجلد .. غير موجود.
2 - الإتثان في جمع أحاديث فضائل القرآن. مختصر. غير موجود.
3 - ما وقع في القرآن من غير لغة العرب.
في أصول الحديث:
1 - نخبة الفكر في مصطلح أهل الأثر، مطبوع.
2 - نزهة النظر في توضيح نخبة الفكر، مطبوع.
وفي شرح الحديث:
1 - فتح الباري، ومطبوع عدة طبعات، وله مقدمة باسم: هدي الساري.
2 - النكت على تنقيح الزركشي على البخاري.
طرق الحديث:
1 - تغليق التعليق، مطبوع.
2 - الوقوف على ما في صحيح مسلم من الموقوف، مطبوع بمكتبة القرآن.
3 - القول السدد في الذب عن مسند أحمد، مطبوع.
وفي تخريج الحديث:
1 - الاستدراك على شيخه العراقي في تخريج الإحياء.
2 - تخريج أحاديث منتهى السول.
3 - تخريج أحاديث أذكار النووي، طبع منه جزآن.
4 - التمييز في تخريج أحاديث الوجيز للغزالي في مجلدين.
5 - الدراية في تخريج أحاديث الهداية، مطبوع.
কুরআন বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে:
১ - আসবাবুন নুযুল
… এক খণ্ড .. বিদ্যমান নেই।
২ - আল-ইতকান ফী জাময়ি আহাদিসি ফাদাইলিল কুরআন। সংক্ষিপ্তসার। বিদ্যমান নেই।
৩ - কুরআনে আরবি ভাষা ব্যতীত অন্য যা কিছু এসেছে।
হাদিস শাস্ত্রের মূলনীতিতে:
১ - নুখবাতুল ফিকার ফী মুসত্বলাহি আহলিল আসার, মুদ্রিত।
২ - নুযহাতুন নাযার ফী তাওদীহি নুখবাতিল ফিকার, মুদ্রিত।
এবং হাদিসের ব্যাখ্যায়:
১ - ফাতহুল বারী, এটি একাধিক সংস্করণে মুদ্রিত হয়েছে এবং এর ‘হাদয়ুস সারী’ নামক একটি ভূমিকা রয়েছে।
২ - আন-নুকাত আলা তানকীহিয যারকাশী আলাল বুখারী।
হাদিসের সনদ বা সূত্রসমূহ:
১ - তাগলিকুত তালীক, মুদ্রিত।
২ - আল-উকুফ আলা মা ফী সহীহি মুসলিম মিনাল মাওকুফ, মাকতাবাতুল কুরআন থেকে মুদ্রিত।
৩ - আল-কাওলুল মুসাদ্দাদ ফীয যাব্বি আন মুসনাদি আহমাদ, মুদ্রিত।
এবং হাদিসের উৎস নির্ণয়ে (তাখরিজ):
১ - আল-ইস্তিদরাক আলা শাইখিহিল ইরাকী ফী তাখরিজিল ইহইয়া।
২ - তাখরিজু আহাদিসি মুনতাহাস সূল।
৩ - তাখরিজু আহাদিসি আযকারিন নাওয়াবী, এর দুটি খণ্ড মুদ্রিত হয়েছে।
৪ - আত-তাময়ীয ফী তাখরিজি আহাদিসিল ওয়াজীয় লিল গাযযালী, দুই খণ্ডে।
৫ - আদ-দিরায়াহ ফী তাখরিজি আহাদিসিল হিদায়াহ, মুদ্রিত।
(খণ্ড: ১)
তাকরীবুল বুগইয়াহ বিতরতীবি আহাদীসিল হিলয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
في كتب الأطراف:
1 - إتحاف المهرة بأطراف العشرة.
2 - النكت الظراف على الأطراف، مطبوع بأسفل تحفة الأشراف للمزي.
كتب الزوائد:
1 - المطالب العالية بزوائد المسانيد الثمانية، مطبوع.
كتب الفقه:
1 - بلوغ المرام من أدلة الأحكام، مطبوع.
المعاجم والمشيخات:
1 - تجريد أسانيد الكتب المشهورة والأجزاء المنثورة، المسمى: "بالمعجم المفهرس"، ومنه نسخة مخطوطة بدار الكتب.
2 - المعجم المؤسس للمعجم المفهرس، وهو الآخر ما زال مخطوطًا.
كتب الرجال:
1 - الإصابة في تمييز الصحابة، مطبوع.
2 - لسان الميزان، مطبوع.
3 - تهذيب التهذيب، مطبوع.
4 - تقريب التهذيب، مطبوع، ومنه عدة نسخ خطية منها نسخة بخط الحافظ ابن حجر، محفوظة بدار الكتب المصرية.
5 - تعجيل المنفعة برجال الأئمة الأربعة، مطبوع.
6 - الإيثار بمعرفة رواة الأثار، مطبوع.
7 - نزهة الألباب في الألقاب، مطبوع.
আতরাফ (বিবরণী বিন্যাস) বিষয়ক গ্রন্থাবলি:
১ - ইতহাফুল মাহারা বি আতরাফিল আশারা।
২ - আন-নুকাতুয যিরাফ আলাল আতরাফ, এটি মিজ্জি রচিত তুহফাতুল আশরাফের নিচে মুদ্রিত।
যাওয়াইদ (অতিরিক্ত হাদীস) বিষয়ক গ্রন্থাবলি:
১ - আল-মাতালিবুল আলিয়া বি যাওয়াইদিল মাসানিদিল সামানিয়্যাহ, মুদ্রিত।
ফিকহ বিষয়ক গ্রন্থাবলি:
১ - বুলুগুল মারাম মিন আদিল্লাতিল আহকাম, মুদ্রিত।
মু'জাম ও মাশায়াখাত (মাশায়েখগণের তালিকা) বিষয়ক গ্রন্থাবলি:
১ - তাজরীদু আসানিদিল কুতুবিল মাশহুরা ওয়াল আজযাইল মানসুরা, যার নাম: "আল-মু'জামুল মুফাহরাস", এবং এর একটি পাণ্ডুলিপি দারুল কুতুবে সংরক্ষিত আছে।
২ - আল-মু'জামুল মুআসসিস লিল মু'জামিল মুফাহরাস, এটিও এখনও পাণ্ডুলিপি অবস্থায় রয়েছে।
রিজাল (বর্ণনাকারী) শাস্ত্রের গ্রন্থাবলি:
১ - আল-ইসাবাহ ফী তাময়িযিস সাহাবাহ, মুদ্রিত।
২ - লিসানুল মীযান, মুদ্রিত।
৩ - তাহযীবুত তাহযীব, মুদ্রিত।
৪ - তাকরীবুত তাহযীব, মুদ্রিত, এবং এর বেশ কিছু পাণ্ডুলিপি রয়েছে যার মধ্যে একটি হাফেয ইবনে হাজারের স্বহস্তে লিখিত এবং তা মিসরের দারুল কুতুবে সংরক্ষিত।
৫ - তা'জীলুল মানফায়া বি রিজালিল আইম্মাতিল আরবাআ, মুদ্রিত।
৬ - আল-ইসার বি মা'রিফাতি রুওয়াতিল আসার, মুদ্রিত।
৭ - নুযহাতুল আলবাব ফিল আলকাব, মুদ্রিত।
(খণ্ড: ১)
তাকরীবুল বুগইয়াহ বিতরতীবি আহাদীসিল হিলয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
المناقب:
1 - ترجمة ابن تيمية، مخطوط.
2 - توالي التأسيس بمعالي ابن إدريس، مطبوع.
3 - الزهر النضر في حال الخضر، مطبوع.
كتب التاريخ:
1 - الدرر الكامنة في أعيان المائة الثامنة، مخطوط، ومطبوع.
2 - إنباء الغمر بأبناء العمر، مطبوع.
3 - رفع الإصر عن قضاة مصر، مطبوع.
كتب أخرى:
1 - الغنية في مسألة الرؤية، مطبوع.
2 - الإمتاع بالأربعين المتباينة السماع، مطبوع.
3 - تعريف المنتبه بتحرير المشتبه، مطبوع.
4 - تعريف أهل التقديس بمراتب الموصوفين بالتدليس، مطبوع.
5 - النكت على ابن الصلاح، مطبوع.
6 - ردع المجرم عن سب المسلم، مطبوع.
7 - المقترب في المضطرب.
وغيرها كثير من المصنفات النافعة بإذن الله تعالى.
وفاته:توفي رحمه الله في اليوم الثامن والعشرين من ذي الحجة سنة 852 هـ. وكان ممن حمل نعشه السلطان، ودفن بتربة بني الخروبي بالقرب من الإمام الليث بن سعد.
গুণাবলি ও জীবনী:
১ - ইবনে তাইমিয়্যাহর জীবনী, পাণ্ডুলিপি।
২ - তাওয়ালি আত-তাসিস বি-মাআলি ইবনে ইদ্রিস, মুদ্রিত।
৩ - আয-যাহরুন নাযর ফি হালি আল-খিদর, মুদ্রিত।
ইতিহাসের কিতাবসমূহ:
১ - আদ-দুরারুল কামিনাহ ফি আইয়ানিল মিআতিস সামিনাহ, পাণ্ডুলিপি ও মুদ্রিত।
২ - ইনবাউল গুমর বি-আবনাউল উমর, মুদ্রিত।
৩ - রাফউল ইসর আন কুদাতি মিসর, মুদ্রিত।
অন্যান্য কিতাবসমূহ:
১ - আল-গুনিয়াহ ফি মাসআলাতির রু’ইয়াহ, মুদ্রিত।
২ - আল-ইমতা’ বিল আরবাঈন আল-মুতাবায়িনাতাস সামা’, মুদ্রিত।
৩ - তারিফুল মুনতাবিহ বি-তাহরীরিল মুশতাবীহ, মুদ্রিত।
৪ - তারিফু আহলিত তাকদিস বি-মারাতিবিল মাউসুফিনা বিত তাদলীস, মুদ্রিত।
৫ - আন-নুকাাত আলা ইবনুস সালাহ, মুদ্রিত।
৬ - রাদউল মুজরিম আন সাব্বিল মুসলিম, মুদ্রিত।
৭ - আল-মুকতারিব ফিল মুদতারিব।
এবং আল্লাহ তাআলার ইচ্ছায় আরও অনেক উপকারী রচনা রয়েছে।
তাঁর মৃত্যু:তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) ৮৫২ হিজরীর ২৮শে যিলহজ্জ মৃত্যুবরণ করেন। যারা তাঁর জানাযার খাটিয়া বহন করেছিলেন তাদের মধ্যে সুলতানও ছিলেন, এবং তাঁকে ইমাম লাইস বিন সা'দ-এর কবরের নিকটবর্তী বনী খুরুবী গোরস্তানে দাফন করা হয়।
(খণ্ড: ১)
তাকরীবুল বুগইয়াহ বিতরতীবি আহাদীসিল হিলয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
ورثاه الشهاب قائلًا:
قد بكت السحب على
… قاضي القضاة بالمطر
وانهدم الركن الذي
… كان مشيدًا من حجر
مصادر ترجمته:
1 - الجواهر والدرر للسخاوي، وهو مخطوط تحت فن تاريخ/ 4768 ومحفوظ بدار الكتب المصرية.
2 - الضوء اللامع (2/ 36 - وما بعدها).
3 - شذرات الذهب (7/ 270).
4 - حسن المحاضرة (1/ 363).
5 - الأعلام (1/ 178)
… وغيرها كثير.
শিহাব তাকে শোকগাথায় স্মরণ করে বলেছেন:
মেঘমালা বৃষ্টির মাধ্যমে
… প্রধান বিচারপতির ওপর রোদন করেছে
আর সেই স্তম্ভটি ধসে পড়েছে যা
… পাথর দিয়ে নির্মিত হয়েছিল
তাঁর জীবনীর উৎসসমূহ:
১ - সাখাভি বিরচিত আল-জাওয়াহির ওয়াল-দুরার, এটি ইতিহাস বিষয়ক ৪৭৬৮ নং পাণ্ডুলিপি এবং মিশরের দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ-তে সংরক্ষিত।
২ - আদ-দউ আল-লামি (২/ ৩৬ - এবং পরবর্তী)।
৩ - শাযারাতুয যাহাব (৭/ ২৭০)।
৪ - হুসনুল মুহাদারা (১/ ৩৬৩)।
৫ - আল-আ’লাম (১/ ১৭৮)
… এবং আরও অনেকে।
(খণ্ড: ১)
তাকরীবুল বুগইয়াহ বিতরতীবি আহাদীসিল হিলয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وصف المخطوطاعتمدنا في تحقيق هذا الكتاب بفضل الله الواحد الأحد الفرد الصمد على النسخة الخطية الكائنة في دار الكتب المصرية تحت رقم 904 حديث.
وتقع في مجلدين أعاننا الله على إخراجه في الصورة اللائقة.
ولا يسعني في النهاية إلا أن أقدم الشكر لمشايخي الذين أخرجوني من حيز الجهل إلى حيز العلم.
والأستاذ/ فتحي صالح توفيق [جمع تصويري/ كومبيوتر]
طالب العلم/ محمد فارس
পাণ্ডুলিপির বিবরণএক, অদ্বিতীয়, একক ও অমুখাপেক্ষী আল্লাহর অনুগ্রহে আমরা এই গ্রন্থটি সম্পাদনার ক্ষেত্রে মিশরের ‘দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ’-তে ৯০৪ হাদিস নম্বরে সংরক্ষিত পাণ্ডুলিপিটির ওপর নির্ভর করেছি।
এটি দুই খণ্ডে বিন্যস্ত। আল্লাহ আমাদের এটিকে উপযুক্ত অবয়বে প্রকাশ করতে সাহায্য করেছেন।
পরিশেষে আমি আমার উস্তাদদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি, যারা আমাকে অজ্ঞতার সীমানা থেকে বের করে জ্ঞানের আঙিনায় নিয়ে এসেছেন।
এবং জনাব ফাতহি সালেহ তাওফিক [কম্পিউটার বিন্যাস]
ইলম অন্বেষী: মুহাম্মাদ ফারিস
(খণ্ড: ১)
তাকরীবুল বুগইয়াহ বিতরতীবি আহাদীসিল হিলয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
صفحة مخطوط
পাণ্ডুলিপির পৃষ্ঠা
(খণ্ড: ১)
তাকরীবুল বুগইয়াহ বিতরতীবি আহাদীসিল হিলয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
صفحة مخطوط
পাণ্ডুলিপির পৃষ্ঠা
(খণ্ড: ১)
তাকরীবুল বুগইয়াহ বিতরতীবি আহাদীসিল হিলয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
صفحة مخطوط
পাণ্ডুলিপির পৃষ্ঠা
(খণ্ড: ১)
তাকরীবুল বুগইয়াহ বিতরতীবি আহাদীসিল হিলয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
صفحة مخطوط
পাণ্ডুলিপির পৃষ্ঠা
(খণ্ড: ১)
তাকরীবুল বুগইয়াহ বিতরতীবি আহাদীসিল হিলয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
وبه نستعين
الحمد لله الذي خلق السموات والأرض، وجعل الظلمات والنور. وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، شهادة تقي قائلها يوم الحساب وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله الذي أخرجنا به من الظلمات إلى النور صلى الله عليه وعلى آله وصحبه صلاة تشرح الصدور، وتوجب لقائلها في الدنيا والآخرة السرور. وبعد
(1):
فإن شيخي وسيدي شيخ الإسلام زين الدين العراقي الذي رحل إلى تصانيفه وعلومه من المشرق والمغرب، فسأله بعض طلبته جمع ما في حلية الأولياء من الحديث المرفوع لكي ينتفعوا به فيما يريدونه من التخريج وغيره، فأشار إليّ بذلك، وقال لي سيدي الشيخ ولي الدين العراقي المذكور نفعنا الله به وبعلومه: "ليس في هذا تعب عليك، إنما هو مجرد ترتيب" وقد رتبته على ما أذكره، وأسال الله النفع به وبما كتبته لي وللمسلمين آمين.
وهذه فهرسته التي رتبته عليها:
كتاب الإيمان، كتاب العلم، كتاب الطهارة، كتاب الصلاة، كتاب الجنائز، وفيه ما يتعلق بكفارات الذنوب بالأمراض، كتاب الزكاة، كتاب الصيام، كتاب الحج، كثاب الأضاحي والعقيقة والوليمة وما يتعلق بالمولود، كتاب الصيد والذبائح، كتاب البيوع، كتاب الأحكام، كتاب الأيمان والنذور، كثاب العتق، كتاب الوصايا، كتاب الفرائض، كتاب النكاح، كتاب الطلاق، كتاب الأطعمة، كتاب الأشربة، كتاب اللباس، كتاب التعبير، كتاب الحدود والسير، كتاب الخلافة والإمارة، كتاب الجهاد، كتاب الفتن، كتاب البر والصلة، كتاب ذكر الأنبياء - صلى الله على نبينا وعليهم -، كتاب علامات نبوة رسولنا صلى الله عليه وسلم، كتاب المناقب، كتاب الأذكار، كتاب الأدعية، كتاب المواعظ، كتاب التوبة، كتاب الزهد، كتاب البعث والحشر، كتاب صفة النار، كتاب صفة الجنة، وهو آخره.
--------------------------------------------
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
এবং আমরা তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করি।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করেছেন এবং অন্ধকার ও আলো তৈরি করেছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরিক নেই; এমন এক সাক্ষ্য যা বিচার দিবসে এর পাঠকারীকে রক্ষা করবে। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসূল, যাঁর মাধ্যমে তিনি আমাদের অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে এনেছেন। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের ওপর এমন রহমত বর্ষিত হোক যা বক্ষসমূহকে প্রশস্ত করে এবং দুনিয়া ও আখেরাতে এর পাঠকারীর জন্য আনন্দ অবধারিত করে। অতঃপর
(১):
নিশ্চয়ই আমার শায়খ ও সরদার শায়খুল ইসলাম জয়নুদ্দীন আল-ইরাকি—যাঁর সংকলিত কিতাবসমূহ এবং ইলম অর্জনের জন্য পূর্ব ও পশ্চিম থেকে মানুষ সফর করত—তাঁকে তাঁর কিছু ছাত্র 'হিলয়াতুল আওলিয়া' গ্রন্থে বর্ণিত 'মারফু' হাদিসসমূহ একত্রিত করার জন্য অনুরোধ করেন, যাতে তাঁরা তাখরিজ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজে এর দ্বারা উপকৃত হতে পারেন। তিনি আমাকে এ কাজের নির্দেশ প্রদান করেন। আর উল্লিখিত আমার সরদার শায়খ অলিউদ্দীন আল-ইরাকি—আল্লাহ আমাদের তাঁর ও তাঁর ইলমের দ্বারা উপকৃত করুন—আমাকে বললেন: "এতে তোমার কোনো ক্লান্তি বা কষ্ট নেই, এটি স্রেফ একটি বিন্যাস মাত্র।" আমি একে সেই অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছি যা আমি উল্লেখ করছি। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি এর মাধ্যমে এবং আমি যা লিখেছি তার মাধ্যমে আমাকে ও মুসলিমদের উপকৃত করেন। আমিন।
আর এটিই হলো সেই সূচিপত্র যে অনুযায়ী আমি কিতাবটি বিন্যস্ত করেছি:
ঈমান অধ্যায়, ইলম অধ্যায়, পবিত্রতা অধ্যায়, সালাত অধ্যায়, জানাজা অধ্যায়—এবং এতে অসুস্থতার মাধ্যমে গুনাহের কাফফারা হওয়া সংক্রান্ত বিষয়াদি রয়েছে, জাকাত অধ্যায়, সিয়াম অধ্যায়, হজ অধ্যায়, কোরবানি, আকিকা ও ওলিমা এবং নবজাতক সংক্রান্ত অধ্যায়, শিকার ও জবেহকৃত পশুপাখি অধ্যায়, ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায়, বিচারিক বিধান অধ্যায়, শপথ ও মানত অধ্যায়, দাস মুক্তি অধ্যায়, অসিয়ত অধ্যায়, ফরায়েজ অধ্যায়, বিবাহ অধ্যায়, তালাক অধ্যায়, খাদ্যদ্রব্য অধ্যায়, পানীয় অধ্যায়, পোশাক অধ্যায়, স্বপ্নের ব্যাখ্যা অধ্যায়, দণ্ডবিধি ও যুদ্ধাভিযান অধ্যায়, খেলাফত ও নেতৃত্ব অধ্যায়, জিহাদ অধ্যায়, ফিতনা অধ্যায়, সদাচরণ ও আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা অধ্যায়, আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামের আলোচনা অধ্যায় (আমাদের নবী ও তাঁদের সকলের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক), আমাদের রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুয়তের নিদর্শনসমূহ অধ্যায়, মর্যাদা (মানাকিব) অধ্যায়, জিকির অধ্যায়, দোয়া অধ্যায়, উপদেশ অধ্যায়, তওবা অধ্যায়, জুহদ (দুনিয়া বিমুখতা) অধ্যায়, পুনরুত্থান ও হাশর অধ্যায়, জাহান্নামের বর্ণনা অধ্যায়, জান্নাতের বর্ণনা অধ্যায়; যা এর সর্বশেষ অংশ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাকরীবুল বুগইয়াহ বিতরতীবি আহাদীসিল হিলয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
كتاب(1) التوحيد(2) باب فيما يحرم دم العبد وماله
1 - حدثنا أبو بكر الطلحي، ثنا الحسين بن جعفر القتات، ثنا جندل بن والق، ثنا عبيد الله بن عمرو الرقي، عن ليث، عن مجاهد، عن أبي هريرة، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "أمرت أن أقاتل الناس حتى يقولوا: لا إله إلا الله، فإذا قالوا: لا إله إلا الله عصموا مني دماءهم وأموالهم إلا بحقها، وحسابهم على الله"
(3).
--------------------------------------------
তাওহীদ(২) কিতাব(১) বান্দার রক্ত ও সম্পদ যে কারণে হারাম হয় সেই বিষয়ক অধ্যায়
১ - আবু বকর আত-ত্বালহী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হুসাইন ইবনে জাফর আল-কাত্তাত আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জানদাল ইবনে ওয়ালিক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উবাইদুল্লাহ ইবনে আমর আর-রাক্কী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন লাইস থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমি মানুষের সাথে যুদ্ধ করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ না তারা বলে: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। অতঃপর যখন তারা বলবে: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তখন তারা আমার থেকে তাদের রক্ত ও সম্পদ নিরাপদ করে নিল, তবে তার হকের ক্ষেত্র ব্যতীত; আর তাদের হিসাব আল্লাহর জিম্মায়।"
(৩).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাকরীবুল বুগইয়াহ বিতরতীবি আহাদীসিল হিলয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
2 - حدثنا محمد بن علي بن سهل بن الإمام، ثنا الفضل بن صالح الهاشمي ثنا صالح بن عبد الله الترمذي، ثنا سفيان بن عامر، عن عبد الله بن طاوس، قال: أشهد على أبي طاوس، قال: أشهد على جابر بن عبد الله، أنه قال: أشهد على رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه قال: "أمرت أن أقاتل الناس حتى يقولوا: لا إله إلا الله، فإذا قالوها عصموا مني دماءهم وأموالهم إلا بحقها، وحسابهم على الله"
(1).
3 - حدثنا سليمان بن أحمد، ثنا أبو عبد الملك أحمد بن إبراهيم الدمشقي ثنا سليمان بن عبد الرحمن، ثنا الصلت بن عبد الرحمن الزبيدي
(2)، ثنا سفيان الثوري، عن عبد الرحمن بن عبد الله، عن قتادة، عن أبي مجلز
(3)، عن أبي عبيدة، في عبد الله، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إذا شرع أحدكم بالرمح إلى الرجل فإن كان سنانه عند ثغرة نحره فقال لا إله إلا الله، فليرفع عنه الرمح"
(4).
4 - حدثنا سليمان بن أحمد، ثنا محمد بن عمرو بن خالد الحراني، ثنا أبي ثنا زهير، عن سماك بن حرب، عن النعمان بن سالم، عن أوس بن أوس الثقفي، قال: دخل علينا رسول الله صلى الله عليه وسلم ونحن في قبة مسجد المدينة، فأتاه رجل فساره بشيء لا ندري ما يقول، فقال: "اذهب فقل لهم يقتلوه" ثم قال:
--------------------------------------------
2 - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আলী বিন সাহল বিন আল-ইমাম, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আল-ফদল বিন সালিহ আল-হাশিমি, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সালিহ বিন আব্দুল্লাহ আত-তিরমিযী, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান বিন আমির, তিনি আব্দুল্লাহ বিন তাউস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আমার পিতা তাউসের ব্যাপারে সাক্ষ্য দিচ্ছি, তিনি বলেছেন: আমি জাবির বিন আব্দুল্লাহর ব্যাপারে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে তিনি বলেছেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ব্যাপারে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে তিনি বলেছেন: "আমি মানুষের সাথে যুদ্ধ করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ না তারা বলে: আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। যখন তারা তা বলবে, তারা আমার থেকে তাদের রক্ত ও সম্পদ নিরাপদ করে নেবে, তবে এর হকের (শরয়ি বিধানের) ক্ষেত্রে নয়; আর তাদের হিসাব আল্লাহর ওপর।"
(১).
3 - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সুলাইমান বিন আহমাদ, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু আব্দুল মালিক আহমাদ বিন ইব্রাহিম আদ-দিমাশকি, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সুলাইমান বিন আব্দুর রহমান, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আল-সালত বিন আব্দুর রহমান আল-যাবাইদি
(২), তিনি সুফিয়ান আস-সাওরি থেকে, তিনি আব্দুর রহমান বিন আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি আবু মিজলায
(৩) থেকে, তিনি আবু উবাইদাহ থেকে, আব্দুল্লাহর সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যখন তোমাদের কেউ কারো দিকে বর্শা তাক করে, এমনকি তার বর্শার ফলক যদি তার কণ্ঠনালীর উপরিভাগে থাকে, আর সে তখন বলে 'আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই', তবে সে যেন তার থেকে বর্শাটি সরিয়ে নেয়।"
(৪).
4 - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সুলাইমান বিন আহমাদ, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আমর বিন খালিদ আল-হাররানি, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আমার পিতা, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন যুহাইর, তিনি সিমাক বিন হারব থেকে, তিনি নুমান বিন সালিম থেকে, তিনি আওস বিন আওস আস-সাকাফি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে আসলেন যখন আমরা মদীনার মসজিদের একটি গম্বুজের নিচে ছিলাম। তখন এক ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে কানে কানে কিছু বলল যা আমরা বুঝতে পারিনি। তিনি বললেন: "যাও এবং তাদের বলো তাকে হত্যা করতে।" এরপর তিনি বললেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাকরীবুল বুগইয়াহ বিতরতীবি আহাদীসিল হিলয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
"أخاله يشهد أن لا إله إلا الله" فقال: نعم، فقال: "اذهب فقل لهم يرسلوه، فإني أمرت أن أقاتل الناس حتى يقولوا: لا إله إلا الله، فإذا قالوها حرمت عليّ دماؤهم وأموالهم إلا بأمر، وكان حسابهم على الله عز وجل "
(1).
5 - حدثنا سليمان بن أحمد، ثنا علي بن عبد العزيز، ثنا أبو همام الدلال ثنا سفيان الثوري، عن أبي إسحاق، عن حارثة بن مضرب، عن الفرات بن حيان وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم قد أمر بقتله، وكان عينًا لابي سفيان وحليفًا، فمر على حلقة من الأنصار وقال: إني مسلم، فقال رجل منهم: يا رسول الله يقول إني مسلم؟ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: لا إن منكم رجالًا نكِلُهُمْ إلى إيمانهم منهم الفرات بن حيَّان"
(2).
6 - حدثنا أبو بكر خلاد، ثنا الحارث بن أبي أسامة، ثنا أبو النضر هاشم بن القاسم، ثنا أبو جعفر الرازي، عن يونس بن عبيد، عن الحسن عن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "أمرت أن أقاتل الناس حتى يقولوا: لا إله إلا الله، ويقيموا الصلاة، ويؤتوا الزكاة فإذا فعلوا ذلك عصموا مني دماءهم وأموالهم إلا بحقها وحسابهم على الله"
(3).
--------------------------------------------
"আমি মনে করি সে সাক্ষ্য দিচ্ছে যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই" তখন তিনি বললেন: "হ্যাঁ", অতঃপর তিনি বললেন: "যাও এবং তাদেরকে বলো যেন তাকে ছেড়ে দেয়। কারণ আমি মানুষের সাথে যুদ্ধ করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ না তারা বলে: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই। যখন তারা তা বলবে, তখন তাদের রক্ত ও সম্পদ আমার নিকট নিরাপদ হয়ে যাবে, তবে নির্দিষ্ট আইনি কারণ ব্যতীত; আর তাদের হিসাব মহান ও মহিয়ান আল্লাহর নিকট ন্যস্ত"
(১).
৫ - সুলাইমান বিন আহমাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আলী বিন আব্দুল আজিজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু হাম্মাম আদ-দাল্লাল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আস-সাওরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ইসহাক থেকে, তিনি হারিসা বিন মুদাররিব থেকে, তিনি ফুরাত বিন হাইয়ান থেকে বর্ণনা করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে হত্যার আদেশ দিয়েছিলেন, কারণ সে আবু সুফিয়ানের গুপ্তচর ও মিত্র ছিল। অতঃপর সে আনসারদের একটি মজলিসের পাশ দিয়ে অতিক্রম করার সময় বলল: "আমি একজন মুসলিম।" তখন তাদের মধ্য থেকে একজন লোক বলল: "হে আল্লাহর রাসূল! সে বলছে যে সে একজন মুসলিম?" তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "অবশ্যই তোমাদের মধ্যে এমন কিছু লোক রয়েছে যাদেরকে আমরা তাদের ঈমানের ওপরই ছেড়ে দিই, তাদের মধ্যে ফুরাত বিন হাইয়ান অন্যতম"
(২).
৬ - আবু বকর খাল্লাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-হারিস বিন আবি উসামা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আন-নাসর হাশিম বিন আল-কাসিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু জাফর আর-রাজি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইউনুস বিন উবাইদ থেকে, তিনি হাসান থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমি মানুষের সাথে যুদ্ধ করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ না তারা বলে: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, সালাত কায়েম করে এবং যাকাত প্রদান করে। যখন তারা তা করবে, তখন তারা আমার নিকট থেকে তাদের রক্ত ও সম্পদ নিরাপদ করে নেবে, তবে ইসলামের হকের বিষয়টি ভিন্ন; আর তাদের হিসাব আল্লাহর নিকট ন্যস্ত"
(৩).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাকরীবুল বুগইয়াহ বিতরতীবি আহাদীসিল হিলয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
وقال في ابن المبارك:
7 - حدثنا أبو إسحاق إبراهيم بن حمزة
(1)، ثنا إبراهيم بن هاشم، ثنا أحمد بن جميل (ح).
وحدثنا أبو أحمد محمد بن أحمد، ثنا الحسن بن سفيان، ثنا حبان
(2) بن موسى، قالا: ثنا عبد الله بن المبارك، أنبا حميد، عن أنس بن مالك، أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "أمرت أن أقاتل الناس حتى يشهدوا أن لا إله إلا الله وأن محمدًا رسول الله، واستقبلوا قبلتنا وصلوا صلاتنا
(3)، وأكلوا ذبيحتنا، حُرِّمت علينا دماؤهم وأموالهم إلا بحقها لهم ما للمسلمين، وعليهم ما على المسلمين"
(4).
قلت: وأعاده بسنده ومتنه باختصار.
قال في محمد بن معروف العطار:
8 - حدثنا أبو عمر محمد بن عبد الله بن معروف
(5)، حدثني أبي، ثنا يحى بن سعيد القطان، ثنا نعيم بن حكيم
(6)، ثنا أبو مريم، قال: سمعت
--------------------------------------------
ইবনুল মুবারক সম্পর্কে তিনি বলেন:
৭ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ইসহাক ইবরাহিম ইবনে হামযাহ
(১), আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবরাহিম ইবনে হাশিম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে জামিল (হা)।
এবং আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আহমাদ মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাসান ইবনে সুফিয়ান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হিব্বান
(২) ইবনে মুসা, তাঁরা উভয়ই বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হুমাইদ, আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমি মানুষের সাথে যুদ্ধ করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল। আর তারা যদি আমাদের কিবলামুখী হয়, আমাদের মতো সালাত আদায় করে
(৩) এবং আমাদের জবেহকৃত পশু ভক্ষণ করে, তবে তাদের রক্ত ও সম্পদ আমাদের জন্য হারাম হয়ে গেল, তবে হকের বিষয় ভিন্ন; তাদের জন্য তাই হবে যা মুসলিমদের জন্য নির্ধারিত এবং তাদের ওপরও তাই বর্তাবে যা মুসলিমদের ওপর বর্তায়"
(৪)।
আমি বলছি: তিনি এটি এর সনদ ও মতনসহ সংক্ষেপে পুনরায় বর্ণনা করেছেন।
মুহাম্মদ ইবনে মারুফ আল-আত্তার সম্পর্কে তিনি বলেন:
৮ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু উমর মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মারুফ
(৫), আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আমার পিতা, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন নুআইম ইবনে হাকিম
(৬), আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মারিয়াম, তিনি বলেন: আমি শুনেছি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাকরীবুল বুগইয়াহ বিতরতীবি আহাদীসিল হিলয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
أبا الدرداء يقول: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "من مات وهو يشهد أن لا إله إلا الله - أو قال - لا بشرك بالله شيئًا دخل الجنة"
(1).
9 - حدثنا أحمد بن القاسم بن الريان، ثنا أبو الزنباع روح بن الفرج، ثنا عمرو بن خالد الحراني، ثنا عيسى بن يونس، ثنا سفيان الثوري، عن منصور، عن هلال بن يساف، عن الأغر، عن أبي هريرة، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "من قال لا إله إلا الله أنجته يومًا من الدهر أصابه قبلها ما أصابه"
(2).
وقال في الثوري:
10 - حدثنا أحمد بن جعفر بن معبد، ثنا أحمد بن مهدي، ثنا عمرو بن خالد المصري، ثنا عيسى بن يونس، عن سفيان بن سعيد، عن منصور عن هلال بن يساف، عن الأغر، عن أبي هريرة، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "من قال لا إله إلا الله أنجته يومًا من دهره أصابه ما أصابه قبل ذلك"
(3).
وقال في ابن مهدي:
11 - حدثنا عبد الله بن محمد بن جعفر، ثنا محمد بن العباس بن أيوب، ثنا عمرو بن علي، ثنا عبد الرحمن بن مهدي، ثنا سليمان بن المغيرة، حدثني ثابت البناني، عن أنس بن مالك، قال: حدثني محمود بن الربيع، عن عتبان بن مالك، قال: فلقيت عتبان بن مالك فحدثني أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "ليس أحد يشهد أن لا إله إلا الله فتأكله أو فتطعمه النار". قال أنس: فأعجبني، فقلت لابني: اكتبه
(4).
--------------------------------------------
আবু দারদা (রা.) বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি: "যে ব্যক্তি এই সাক্ষ্য দিয়ে মারা যাবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই— অথবা তিনি বললেন— আল্লাহর সাথে কোনো কিছুকে শরিক না করে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।"
(১).
৯ - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনুল কাসিম ইবনুর রাইয়ান, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবুয যাম্বা রুহ ইবনুল ফারাজ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আমর ইবনে খালিদ আল-হাররানি, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ঈসা ইবনে ইউনুস, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান আস-সাওরি, মানসুর থেকে, তিনি হিলাল ইবনে ইয়াসাফ থেকে, তিনি আল-আগার থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলবে, তা কোনো একদিন তাকে মুক্তি দেবে, যদিও তার আগে তার যা হওয়ার তা ঘটে থাকে।"
(২).
আর সাওরি সম্পর্কে তিনি বলেছেন:
১০ - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে জাফর ইবনে মাবাদ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে মাহদি, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আমর ইবনে খালিদ আল-মিসরি, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ঈসা ইবনে ইউনুস, সুফিয়ান ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি মানসুর থেকে, তিনি হিলাল ইবনে ইয়াসাফ থেকে, তিনি আল-আগার থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলবে, তা কোনো একদিন তাকে তার সময়কাল থেকে মুক্তি দেবে, যদিও তার আগে তার যা হওয়ার তা ঘটে থাকে।"
(৩).
আর ইবনে মাহদি সম্পর্কে তিনি বলেছেন:
১১ - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে জাফর, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনুল আব্বাস ইবনে আইয়ুব, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আমর ইবনে আলী, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান ইবনে মাহদি, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সুলাইমান ইবনুল মুগিরা, আমার কাছে বর্ণনা করেছেন সাবিত আল-বুনানি, তিনি আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে, তিনি বলেন: মাহমুদ ইবনুর রবি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন ইতবান ইবনে মালিক (রা.) থেকে, তিনি বলেন: আমি ইতবান ইবনে মালিকের সাথে সাক্ষাৎ করলে তিনি আমার কাছে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "এমন কোনো ব্যক্তি নেই যে এই সাক্ষ্য দেয় যে আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, আর আগুন তাকে গ্রাস করে বা তাকে আহার করে।" আনাস (রা.) বলেন: বিষয়টি আমার কাছে চমৎকার লেগেছিল, তাই আমি আমার ছেলেকে বললাম: এটি লিখে নাও।
(৪).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাকরীবুল বুগইয়াহ বিতরতীবি আহাদীসিল হিলয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
12 - حدثنا أبو بكر بن خلاد، ثنا الحارث بن أبي أسامة، ثنا عبد الوهاب بن عطاء، ثنا سعيد بن أبي عروبة، عن قتادة، عن مسلم بن يسار، عن حمران بن أبان، عن عثمان بن عفان، عن عمر بن الخطاب، قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "إني لأعلم كلمة لا يقولها عبد حقًا إلا حرم على النار، لا إله إلا الله"
(1).
13 - حدثنا أبو بكر بن خلاد، ثنا الحارث بن أبي أسامة، ثنا عبد الوهاب بن عطاء (ح)،
وحدثنا محمد بن أحمد بن الحسن في جماعة قالوا: ثنا أبو مسلم الكشي، ثنا معاذ بن عوذ الله - واللفظ له - قالا. ثنا سليمان التيمي، عن أنس بن مالك، قال: خرج النبي صلى الله عليه وسلم ومعاذ بالباب فقال: "يا معاذ" فقال: لبيك يا رسول الله قال: "من مات لا يشرك بالله شيئًا دخل الجنة" قال معاذ: ألا أخبر الناس؟ قال: "لا دعهم فليتنافسوا في الأعمال فإني أخاف أن يتكلوا"
(2).
وقال في شعبة
14 - حدثنا عبد الله بن محمد بن جعفر، ثنا يونس بن حبيب، ثنا أبو داود (ح).
وحدثنا محمد بن أحمد بن الحسن، ثنا عبد الله بن أحمد بن حنبل، حدثني أبي، ثنا محمد بن جعفر، فالا: ثنا شعبة، عن قتادة، عن أنس، أن النبي صلى الله عليه وسلم قال لمعاذ: "اعلم أنه من مات يشهد أن لا إله إلا الله، وأني رسول الله دخل الجنة"
(3).
--------------------------------------------
১২ - আবু বকর বিন খাল্লাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-হারিস বিন আবি উসামা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল ওয়াহাব বিন আতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাঈদ বিন আবি আরুবাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি কাতাদা থেকে, তিনি মুসলিম বিন ইয়াসার থেকে, তিনি হুমরান বিন আবান থেকে, তিনি উসমান বিন আফফান থেকে, তিনি উমর বিন আল-খাত্তাব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "আমি অবশ্যই এমন একটি কালেমা জানি, কোনো বান্দা সত্যনিষ্ঠভাবে তা পাঠ করলে তার জন্য জাহান্নাম হারাম হয়ে যায়, তা হলো 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই'।"
(১).
১৩ - আবু বকর বিন খাল্লাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-হারিস বিন আবি উসামা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল ওয়াহাব বিন আতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (হ),
এবং মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন আল-হাসান একদল লোকের মধ্যে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তারা বলেছেন: আবু মুসলিম আল-কাশশি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুয়ায বিন আউযুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন — এবং শব্দাবলী তার — তারা উভয়ে বলেছেন: সুলায়মান আত-তাইমি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আনাস বিন মালিক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হলেন এবং মুয়ায দরজার কাছে ছিলেন, তখন তিনি বললেন: "হে মুয়ায", তিনি উত্তর দিলেন: "হে আল্লাহর রাসূল, আমি উপস্থিত"। তিনি বললেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরিক না করে মারা যাবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।" মুয়ায বললেন: "আমি কি মানুষকে এ সংবাদ দেব না?" তিনি বললেন: "না, তাদেরকে ছেড়ে দাও যাতে তারা নেক আমলে প্রতিযোগিতা করতে পারে, কারণ আমি ভয় করি যে তারা (এর ওপর) ভরসা করে বসে থাকবে।"
(২).
এবং শু'বাহ-এর বর্ণনায় তিনি বলেন:
১৪ - আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইউনুস বিন হাবিব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু দাউদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (হ)।
এবং মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন আল-হাসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ বিন আহমাদ বিন হাম্বল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ বিন জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তারা উভয়ে বলেছেন: শু'বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি কাতাদা থেকে, তিনি আনাস থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুয়াযকে বললেন: "জেনে রাখো, যে ব্যক্তি এই সাক্ষ্য দিয়ে মারা যাবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।"
(৩).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাকরীবুল বুগইয়াহ বিতরতীবি আহাদীসিল হিলয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
وقال بعده:
15 - حدثنا سليمان بن أحمد، ثنا بكر بن مقبل، ثنا إسماعيل بن إبراهيم صاحب الهروي، ثنا أبي، ثنا شعبة، عن سليمان التيمي، عن أنس بن مالك، أن معاذ بن جبل كان رديف النبي صلى الله عليه وسلم فقال: "بشر الناس أنه من مات لا يشرك بالله شيئًا دخل الجنة". فقال: إني أخشى أن يتكلوا عليها. قال: "فلا"
(1).
وقال بعده:
16 - حدثنا محمد بن أحمد بن الحسن، ثنا عبد الله بن أحمد بن حنبل، حدثني أبي، ثنا محمد بن جعفر، ثنا شعبة، قال: سمعت أبا حمزة جارنا عن أنس بن مالك، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لمعاذ بن جبل: "اعلم أنه من مات يشهد
(2) أن لا إله إلا الله دخل الجنة"
(3).
وقال بعده:
17 - حدثنا عبد الله بن جعفر
(4)، وأحمد بن إسحاق، قالا: ثنا محمد بن يحيى بن منده، ثنا بندار محمد بن بشار، ثنا ابن أبي عدي، ثنا شعبة، عن صدقة عن أنس بن مالك، أن النبي صلى الله عليه وسلم قال لمعاذ بن جبل: "من قال لا إله إلا الله دخل الجنة"
(5).
--------------------------------------------
তিনি এরপর বলেন:
১৫ - আমাদের নিকট সুলাইমান ইবন আহমদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বকর ইবন মুকবিল হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আল-হারাবির সাথী ইসমাঈল ইবন ইবরাহীম হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শু’বাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি সুলাইমান আত-তাইমী থেকে, তিনি আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, মুয়াজ ইবন জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাহনের পেছনে বসা ছিলেন। তখন তিনি বললেন: "মানুষকে সুসংবাদ দাও যে, যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরিক না করা অবস্থায় মারা যাবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।" তিনি (মুয়াজ) বললেন: আমি আশঙ্কা করছি যে তারা এর ওপরই ভরসা করে বসে থাকবে। তিনি বললেন: "তাহলে (এখনই) বলো না"
(১)।
তিনি এরপর বলেন:
১৬ - আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবন আহমদ ইবন আল-হাসান হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবদুল্লাহ ইবন আহমদ ইবন হাম্বল হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবন জাফর আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শু’বাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আমাদের প্রতিবেশী আবু হামযাহকে আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুয়াজ ইবন জাবালকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন: "জেনে রেখো, যে ব্যক্তি এই সাক্ষ্য দিয়ে মারা যাবে যে আল্লাহ ছাড়া কোনো (সত্য) উপাস্য নেই, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে"
(৩)।
তিনি এরপর বলেন:
১৭ - আমাদের নিকট আবদুল্লাহ ইবন জাফর
(৪) এবং আহমদ ইবন ইসহাক বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবন ইয়াহইয়া ইবন মানদাহ হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বুন্দার মুহাম্মদ ইবন বাশার হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইবন আবি আদি হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শু’বাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি সাদাকাহ থেকে, তিনি আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুয়াজ ইবন জাবালকে বলেছেন: "যে ব্যক্তি বলবে যে আল্লাহ ছাড়া কোনো (সত্য) উপাস্য নেই, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে"
(৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাকরীবুল বুগইয়াহ বিতরতীবি আহাদীসিল হিলয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
وقال بعده:
18 - حدثنا [سليمان بن أحمد، ثنا أحمد بن محمد بن صدقة]
(1)، ثنا بشر بن آدم ثنا عبد الله بن عبد الواحد الحنفي، ثنا أبي، عن شعبة، عن عياش الكلبي
(2) أنه سمع أنس بن مالك يقول: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "من مات وهو يشهد أن لا إله إلا الله وأن محمدًا وسول الله دخل الجنة"
(3).
وقال بعده:
19 - حدثنا أبو محمد بن حيان، ثنا أبو بكر بن معدان، ثنا أبو مسعود، ثنا نصر بن حماد، ثنا شعبة، عن يونس بن عبيد، عن حميد بن هلال، عن هصان بن كاهل
(4)، عن عبد الرحمن بن سمرة، عن معاذ بن جبل، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "من لقي الله يشهد أن لا إله إلا الله، وأني وسول الله، يرجع ذلك إلى قلب موقن دخل الجنة"
(5).
وقال بعده:
20 - حدثنا محمد بن أحمد بن الحسن، ثنا عبد الله بن أحمد بن حنبل، حدثني أبي، ثنا محمد بن جعفر (ح).
--------------------------------------------
এবং তিনি এরপর বলেছেন:
১৮ - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন [সুলাইমান ইবনে আহমদ, তিনি বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাদাকাহ থেকে], তিনি বর্ণনা করেছেন বিশর ইবনে আদম থেকে, তিনি বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল ওয়াহিদ আল-হানাফি থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি শু'বাহ থেকে, তিনি আইয়াশ আল-কালবি থেকে যে, তিনি আনাস ইবনে মালিককে বলতে শুনেছেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি এই সাক্ষ্য দিয়ে মৃত্যুবরণ করবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।"
এবং তিনি এরপর বলেছেন:
১৯ - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু মুহাম্মদ ইবনে হাইয়ান, তিনি বর্ণনা করেছেন আবু বকর ইবনে মা'দান থেকে, তিনি বর্ণনা করেছেন আবু মাসউদ থেকে, তিনি বর্ণনা করেছেন নাসর ইবনে হাম্মাদ থেকে, তিনি বর্ণনা করেছেন শু'বাহ থেকে, তিনি ইউনুস ইবনে উবাইদ থেকে, তিনি হুমাইদ ইবনে হিলাল থেকে, তিনি হাসসান ইবনে কাহিল থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে সামুরাহ থেকে, তিনি মুয়াজ ইবনে জাবাল থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে এই সাক্ষ্য দিয়ে সাক্ষাৎ করবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল, এবং এটি তার নিশ্চিত হৃদয়ের বিশ্বাস থেকে হবে, তবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।"
এবং তিনি এরপর বলেছেন:
২০ - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে আল-হাসান, তিনি বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে হাম্বল থেকে, তিনি বলেন আমার পিতা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে জাফর থেকে (হ)।
--------------------------------------------