(খণ্ড: ১)
আল-ইমামাহ ওয়ার রাদ্দু আলাল রাফিদাহ
(পৃষ্ঠা: -)
الإمامة والرد على الرافضة القسم: العقيدة
الكتاب: الإمامة والرد على الرافضة
المؤلف: أبو نعيم أحمد بن عبد الله بن أحمد بن إسحاق بن موسى بن مهران الأصبهاني (ت 430 هـ)
المحقق: د. علي بن محمد بن ناصر الفقيهي [ت 1446 هـ]
الناشر: مكتبة العلوم والحكم - المدينة المنورة / السعودية
الطبعة: الثالثة، 1415 هـ - 1994 م
عدد الصفحات: 382
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইমামত এবং রাফিদীদের খণ্ডন বিভাগ: আকীদা
গ্রন্থ: ইমামত এবং রাফিদীদের খণ্ডন
লেখক: আবু নুআইম আহমদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আহমদ বিন ইসহাক বিন মুসা বিন মিহরান আল-আসবাহানী (মৃ. ৪৩০ হি.)
গবেষক: ড. আলী বিন মুহাম্মদ বিন নাসির আল-ফাকীহী [মৃ. ১৪৪৬ হি.]
প্রকাশক: মাকতাবাতুল উলূম ওয়াল হিকাম - মদিনা মুনাওয়ারা / সৌদি আরব
সংস্করণ: তৃতীয়، ১৪১৫ হি. - ১৯৯৪ খ্রি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৮২
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামাহ ওয়ার রাদ্দু আলাল রাফিদাহ
(পৃষ্ঠা: ২০৫)
بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم قَالَ الشَّيْخ الإِمَام الْحَافِظ أَبُو نعيم أَحْمد بن عبد الله بن أَحْمد بن إِسْحَاق سبط مُحَمَّد بن يُوسُف الْفَارِسِي رضي الله عنهم:
الْحَمد لله الْمُوفق الْمعِين وَصلى الله على مُحَمَّد الْأمين وعَلى الصفوة من صحابته وَآله وأجمعين وأسأل الله المعونة على مَا كلف والعصمة مِمَّا خوف وَعَلِيهِ أتوكل وإياه استهدي واستوفق لما يقرب من رِضَاهُ وَيبعد من عِقَابه، ويوصل إِلَى جزيل ثَوَابه، وَاعْلَم أَن النَّاس قد تشَتت آراؤهم، وَاخْتلفت أهواؤهم وانشعبوا شعبًا فصاروا فرقا مُخْتَلفين وأحزاباً متباينين قد عظمت محنتهم فِي الْإِمَامَة فِي ابْن أبي قُحَافَة، وَثبتت محبتهم لَهُم، فَمن قَائِل
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শায়খ ইমাম হাফেজ আবু নুআইম আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে ইসহাক, যিনি মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আল-ফারিসির দৌহিত্র (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন), বলেছেন:
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাওফিকদাতা ও সাহায্যকারী। আল্লাহর সালাত বর্ষিত হোক বিশ্বস্ত মুহাম্মদ এবং তাঁর সাহাবী ও পরিবারের মনোনীত ব্যক্তিবর্গের প্রতি। আমি আল্লাহর কাছে সেই সকল দায়িত্ব পালনে সাহায্য প্রার্থনা করছি যা তিনি অর্পণ করেছেন এবং সেই বিষয়গুলো থেকে সুরক্ষা চাচ্ছি যা থেকে তিনি সতর্ক করেছেন। তাঁর ওপরই আমি ভরসা করি, তাঁরই কাছে হিদায়াত ও তাওফিক যাচনা করি যা তাঁর সন্তুষ্টির নিকটবর্তী করবে, তাঁর শাস্তি থেকে দূরে রাখবে এবং তাঁর বিপুল সওয়াব পর্যন্ত পৌঁছে দেবে। জেনে রাখো যে, মানুষের চিন্তা-ভাবনাগুলো বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়েছে, তাদের খেয়ালখুশিগুলো ভিন্ন ভিন্ন হয়ে গেছে এবং তারা বহু শাখায় বিভক্ত হয়ে পড়েছে। ফলে তারা বিভিন্ন দল ও বিচ্ছিন্ন উপদলে পরিণত হয়েছে। ইবনে আবি কুহাফার ইমামত বা নেতৃত্বের বিষয়ে তাদের পরীক্ষা প্রকট হয়েছে এবং তাঁদের প্রতি ভালোবাসা সুদৃঢ় হয়েছে। অতঃপর তাদের মধ্যে কেউ বলছে—
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামাহ ওয়ার রাদ্দু আলাল রাফিদাহ
(পৃষ্ঠা: ২০৬)
قَالَ: أفضل النَّاس بعد الرَّسُول صلى الله عليه وسلم َ -
وأولاهم بِالْإِمَامَةِ بعده أَبُو بكر الصّديق رضي الله عنه ثمَّ عمر بن الْخطاب رضي الله عنه وَمِنْهُم من يَقُول: أَبُو بكر ثمَّ عمر، ثمَّ عَليّ رضي الله عنهم.وَمِنْهُم من يَقُول: أَبُو بكر، ثمَّ عمر، ثمَّ عُثْمَان، ووقف.وَمِنْهُم من يَقُول: أَبُو بكر، ثمَّ عمر، ثمَّ عُثْمَان ثمَّ عَليّ رضي الله عنهم أَجْمَعِينَ، وَذَلِكَ قَول أهل الْجَمَاعَة، والأثر من رَوَاهُ الحَدِيث وَجُمْهُور الْأمة.
তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর শ্রেষ্ঠতম মানুষ এবং
তাঁর পরে ইমামত বা নেতৃত্বের সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তি হলেন আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু, অতঃপর উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ বলেন: আবু বকর, অতঃপর উমর, তারপর আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুম।আবার তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ বলেন: আবু বকর, অতঃপর উমর, অতঃপর উসমান; এবং তাঁরা এখানেই থেমে যান।আবার তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ বলেন: আবু বকর, অতঃপর উমর, অতঃপর উসমান, তারপর আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুম আজমাইন। আর এটিই হলো আহলে জামাআত, হাদিস বর্ণনাকারী এবং উম্মতের সংখ্যাগরিষ্ঠের অভিমত।
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামাহ ওয়ার রাদ্দু আলাল রাফিদাহ
(পৃষ্ঠা: ২০৭)
وَمِنْهُم من يَقُول: أَبُو بكر وَعمر، وَيقف عِنْد عُثْمَان وَعلي.
وَمِنْهُم من يَقُول: أحقهم وأفضلهم بِالْإِمَامَةِ بعد الرَّسُول صلى الله عليه وسلم َ -
عَليّ بن أبي طَالب رضي الله عنه، وهم (الإمامية) .وكل هَذِه الْفرق مقلد فِيمَا انتحل سلفا يحْتَج بِهِ ( … ... . .) مِمَّن يخالفهم ويعاديه.واستعنت الله تَعَالَى وأودعت هَذَا الْجُزْء بَيَان الأصوب من النَّحْل والأقوم من المقالات والملل، وَأجْمع فِي ذَلِك مَا مدح الله تَعَالَى بِهِ الصفوة من
এবং তাদের মধ্যে এমন কেউ আছেন যারা বলেন: আবু বকর ও উমর, আর তারা উসমান ও আলীর ব্যাপারে বিরত থাকেন।
এবং তাদের মধ্যে এমন কেউ আছেন যারা বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পর ইমামতের জন্য তাদের মাঝে সর্বাধিক যোগ্য ও শ্রেষ্ঠ হলেন -
আলী ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু), আর তারা হলো (ইমামিয়া)।আর এই প্রতিটি দলই তাদের গ্রহণ করা মতাদর্শের ক্ষেত্রে তাদের পূর্বসূরিদের অন্ধ অনুসারী, যাদের তারা দলিল হিসেবে পেশ করে ( … ... . .) তাদের বিপরীতে যারা তাদের বিরোধিতা ও শত্রুতা করে।আমি মহান আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করেছি এবং এই খণ্ডে বিভিন্ন মতবাদের মধ্যে সর্বাধিক সঠিক এবং বক্তব্য ও ধর্মাদর্শসমূহের মধ্যে সর্বাধিক সুদৃঢ় বিষয়গুলোর বর্ণনা সন্নিবেশিত করেছি, আর এতে আমি একত্রিত করেছি যা দ্বারা আল্লাহ তাআলা তাঁর মনোনীত ব্যক্তিদের প্রশংসা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামাহ ওয়ার রাদ্দু আলাল রাফিদাহ
(পৃষ্ঠা: ২০৮)
صحابة النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ -،
وَثَبت عَن الرَّسُول صلى الله عليه وسلم َ - فِي مناقبهم وفضائلهم وَدلّ على مَرَاتِبهمْ وسوابقهم، وَمَا اجْتمع عَلَيْهِ الصَّحَابَة رضي الله عنهم بعده وهم الممدوحون على لِسَان نبيه صلى الله عليه وسلم َ -
بالخصال الحميدة والفضائل الْكَرِيمَة قَالَ الله تبارك وتعالى: {وَالسَّابِقُونَ الْأَولونَ من الْمُهَاجِرين وَالْأَنْصَار وَالَّذين اتَّبَعُوهُمْ بِإِحْسَان رَضِي الله عَنْهُم وَرَضوا عَنهُ} .وَقَالَ تبارك وتعالى: {لقد رَضِي الله عَن الْمُؤمنِينَ إِذْ يُبَايعُونَك تَحت الشَّجَرَة. .} الْآيَة، وَقَالَ تبارك وتعالى: {أُولَئِكَ الَّذين امتحن الله قُلُوبهم للتقوى لَهُم مغْفرَة وَأجر عَظِيم} وَقَالَ تبارك وتعالى: {أُولَئِكَ الَّذين هدَاهُم الله وَأُولَئِكَ هم أولُوا الْأَلْبَاب} ، وَقَالَ تبارك وتعالى: {أُولَئِكَ عَلَيْهِم صلوَات من رَبهم وَرَحْمَة، وَأُولَئِكَ هم المهتدون} وَقَالَ تبارك وتعالى: {وألزمهم كلمة التَّقْوَى، وَكَانُوا أَحَق بهَا وَأَهْلهَا} وَقَالَ تبارك وتعالى: {هُوَ الَّذِي أنزل السكينَة فِي قُلُوب الْمُؤمنِينَ ليزدادوا إِيمَانًا مَعَ إِيمَانهم} الْآيَة. وَقَالَ تَعَالَى: {مُحَمَّد رَسُول الله وَالَّذين مَعَه}
… إِلَى آخر السُّورَة، وَقَالَ: (فانقلبوا بِنِعْمَة من الله وَفضل لم يمسسهم
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ - ,
এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে তাঁদের মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে প্রমাণিত হয়েছে এবং যা তাঁদের স্তরসমূহ ও অগ্রবর্তিতার প্রমাণ দেয়, এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরে সাহাবীগণ রাদিয়াল্লাহু আনহুম যে বিষয়ে ঐক্যমত পোষণ করেছেন; আর তাঁরাই প্রশংসনীয় গুণাবলি ও সম্মানিত শ্রেষ্ঠত্বের কারণে স্বয়ং নবীর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জবানে প্রশংসিত হয়েছেন। আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা বলেন: "মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা প্রথম অগ্রগামী এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছে, আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তাঁরাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন।"
এবং তাবারাকা ওয়া তায়ালা আরও বলেন:
"অবশ্যই আল্লাহ মুমিনদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন যখন তারা গাছের নিচে আপনার কাছে বাইয়াত (শপথ) গ্রহণ করছিল..." আয়াতটি শেষ পর্যন্ত , এবং তাবারাকা ওয়া তায়ালা আরও বলেন: "এরাই তারা, যাদের অন্তরকে আল্লাহ তাকওয়ার জন্য পরীক্ষা করেছেন; তাঁদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও মহা পুরস্কার।" এবং তাবারাকা ওয়া তায়ালা আরও বলেন: "এরাই তারা, যাদের আল্লাহ হিদায়াত দান করেছেন এবং এরাই বুদ্ধিমান।" এবং তাবারাকা ওয়া তায়ালা আরও বলেন: "এদের ওপরই তাঁদের রবের পক্ষ থেকে আশীর্বাদ ও দয়া বর্ষিত হয় এবং এরাই হিদায়াতপ্রাপ্ত।" এবং তাবারাকা ওয়া তায়ালা আরও বলেন: "এবং তিনি তাঁদের জন্য তাকওয়ার বাণী অপরিহার্য করে দিলেন, আর তাঁরাই ছিল এর অধিক হকদার ও উপযুক্ত।" এবং তাবারাকা ওয়া তায়ালা আরও বলেন: "তিনিই মুমিনদের অন্তরে প্রশান্তি নাজিল করেছেন যেন তাঁদের ঈমানের সাথে আরও ঈমান বৃদ্ধি পায়" আয়াতটি শেষ পর্যন্ত। এবং তায়ালা আরও বলেন: "মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল এবং তাঁর সাথে যারা আছে"
... সূরার শেষ পর্যন্ত, এবং তিনি বলেন: "অতঃপর তারা আল্লাহর নেয়ামত ও অনুগ্রহসহ ফিরে এল, কোনো অনিষ্ট তাদের স্পর্শ করেনি"
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামাহ ওয়ার রাদ্দু আলাল রাফিদাহ
(পৃষ্ঠা: ২০৯)
سوء} ) الْآيَة، وَقَالَ تَعَالَى: {يَا أَيهَا النَّبِي حَسبك الله وَمن اتبعك من الْمُؤمنِينَ} وَقَالَ تَعَالَى: {هُوَ الَّذِي أيدك بنصره وَبِالْمُؤْمِنِينَ} .
وَقَالَ تَعَالَى: {لَكِن الرَّسُول وَالَّذين آمنُوا مَعَه} الْآيَتَيْنِ.
سمحت نُفُوسهم رضي الله عنهم بِالنَّفسِ وَالْمَال وَالْولد والأهل وَالدَّار، ففارقوا الأوطان وَهَاجرُوا الإخوان، وَقتلُوا الْآبَاء والإخوان وبذلوا النُّفُوس صابرين، وأنفقوا الْأَمْوَال محتسبين وناصبوا من ناوأهم متوكلين فآثروا رِضَاء الله على الْغناء، والذل على الْعِزّ، والغربة على الوطن.
هم الْمُهَاجِرُونَ الَّذين أخرجُوا من دِيَارهمْ وَأَمْوَالهمْ يَبْتَغُونَ فضلا من الله ورضواناً وينصرون الله وَرَسُوله أُولَئِكَ هم الصادقون حَقًا، ثمَّ إخْوَانهمْ من
মন্দ} ) - এই আয়াত। এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: {হে নবী! আপনার জন্য আল্লাহ এবং মুমিনদের মধ্যে যারা আপনার অনুসরণ করেছে তারা যথেষ্ট।} এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: {তিনিই আপনাকে তাঁর সাহায্য ও মুমিনদের দ্বারা শক্তিশালী করেছেন।}
এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: {কিন্তু রাসূল এবং যারা তাঁর সাথে ঈমান এনেছে...} - এই দুই আয়াত।
তাদের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) অন্তরসমূহ জীবন, সম্পদ, সন্তান-সন্ততি, পরিবার এবং গৃহের বিনিময়ে উদারতা প্রদর্শন করেছে। ফলে তাঁরা স্বদেশ ত্যাগ করেছেন, ভাই-বন্ধু থেকে হিজরত করেছেন, (যুদ্ধের ময়দানে) পিতা ও ভাইদের হত্যা করেছেন এবং ধৈর্য ধারণ করে প্রাণ উৎসর্গ করেছেন। তাঁরা সওয়াবের আশায় সম্পদ ব্যয় করেছেন এবং আল্লাহর ওপর ভরসা করে শত্রুদের মোকাবিলা করেছেন। ফলে তাঁরা সচ্ছলতার পরিবর্তে আল্লাহর সন্তুষ্টিকে, সম্মানের পরিবর্তে লাঞ্ছনাকে এবং স্বদেশের পরিবর্তে প্রবাস জীবনকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।
তাঁরাই হলেন সেই মুহাজির, যাদেরকে নিজেদের ঘরবাড়ি ও সম্পদ থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে; তাঁরা আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি অন্বেষণ করেন এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে সাহায্য করেন। তাঁরাই প্রকৃত সত্যবাদী। অতঃপর তাঁদের সেই সব ভাই যারা...
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামাহ ওয়ার রাদ্দু আলাল রাফিদাহ
(পৃষ্ঠা: ২১০)
الْأَنْصَار أهل الْمُوَاسَاة والإيثار أعز قبائل الْعَرَب جاراً، وَاتخذ الرَّسُول عليه السلام دَارهم أمنا وقراراً الأعفاء الصَّبْر، والأصدقاء الزهر، {وَالَّذين تبوؤ الدَّار وَالْإِيمَان من قبلهم يحبونَ من هَاجر إِلَيْهِم وَلَا يَجدونَ فِي صُدُورهمْ حَاجَة مِمَّا أُوتُوا ويؤثرون على أنفسهم وَلَو كَانَ بهم خصَاصَة} فَمن انطوت سَرِيرَته على محبتهم، ودان الله تَعَالَى بتفضيلهم ومودتهم وتبرأ مِمَّن أضمر بغضهم، فَهُوَ الفائز بالمدح الَّذِي مدحهم الله تَعَالَى بِهِ فَقَالَ: {وَالَّذين جَاءُوا من بعدهمْ يَقُولُونَ رَبنَا اغْفِر لنا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذين سبقُونَا بِالْإِيمَان. .} الْآيَة.
فالصحابة رضي الله عنهم هم الَّذين تولى الله شرح صُدُورهمْ فَأنْزل السكينَة على قُلُوبهم وبشرهم برضوانه وَرَحمته فَقَالَ: (يبشرهم رَبهم برحمة
আনসারগণ হলেন সহমর্মিতা ও আত্মত্যাগের অধিকারী এবং আরব গোত্রগুলোর মধ্যে প্রতিবেশী হিসেবে সর্বাধিক সম্মানিত। রাসূল (আলাইহিস সালাম) তাদের আবাসস্থলকে নিরাপদ ও স্থায়ী নিবাস হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। তারা ছিলেন অত্যন্ত ধৈর্যশীল, পবিত্র এবং উজ্জ্বল বন্ধু। "আর যারা তাদের পূর্বে এই জনপদে বসবাস করেছিল এবং ঈমান এনেছিল, তারা তাদের নিকট হিজরতকারীদের ভালোবাসে এবং তাদের যা দেওয়া হয়েছে সে জন্য তারা নিজেদের অন্তরে কোনো চাহিদা অনুভব করে না। আর তারা নিজেদের ওপর অন্যদের অগ্রাধিকার দেয়, যদিও তারা নিজেরা অভাবগ্রস্ত হয়।" সুতরাং যার অন্তরাত্মা তাদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছে, যে ব্যক্তি তাদের শ্রেষ্ঠত্ব ও ভালোবাসার মাধ্যমে মহান আল্লাহর ইবাদত করে এবং যারা তাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে তাদের থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করে, সে-ই সেই প্রশংসায় ধন্য যা দ্বারা মহান আল্লাহ তাদের প্রশংসা করেছেন। আল্লাহ বলেছেন: "আর যারা তাদের পরে এসেছে তারা বলে: হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের এবং আমাদের সেই ভাইদের ক্ষমা করুন যারা ঈমানের পথে আমাদের অগ্রবর্তী হয়েছে..." (আয়াত)।
সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) হলেন তারা, যাদের বক্ষ আল্লাহ উন্মোচিত করে দিয়েছেন, তাদের অন্তরে প্রশান্তি নাজিল করেছেন এবং তাঁর সন্তুষ্টি ও রহমতের সুসংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন: "তাদের প্রতিপালক তাদের নিজের পক্ষ থেকে রহমতের সুসংবাদ দিচ্ছেন..."
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামাহ ওয়ার রাদ্দু আলাল রাফিদাহ
(পৃষ্ঠা: ২১১)
مِنْهُ ورضوان} جعلهم خير أمة أخرجت للنَّاس يأمرون بِالْمَعْرُوفِ وَينْهَوْنَ عَن الْمُنكر ويطيعون الله وَرَسُوله، فجعلهم مثلا للكتابين، لأهل التَّوْرَاة وَالْإِنْجِيل، خير الْأُمَم أمته وَخير الْقُرُون قرنه، يرفع الله من أقدارهم إِذْ أَمر الرَّسُول عليه السلام بمشاورتهم لما علم من صدقهم وَصِحَّة إِيمَانهم وخالص مَوَدَّتهمْ ووفور عقلهم ونبالة رَأْيهمْ وَكَمَال نصيحتهم، وَتبين أمانتهم رضي الله عنهم أَجْمَعِينَ.
তাঁর পক্ষ থেকে এবং সন্তুষ্টি।} তিনি তাদেরকে মানবজাতির জন্য প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ জাতি হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন; তারা সৎকাজের আদেশ দেয়, অসৎকাজে নিষেধ করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে। অতঃপর তিনি তাদেরকে দুই কিতাবের অনুসারীদের জন্য—অর্থাৎ তাওরাত ও ইনজিলওয়ালাদের জন্য—এক উদাহরণ হিসেবে পেশ করেছেন। সকল উম্মতের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো তাঁর উম্মত এবং সকল যুগের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো তাঁর যুগ। আল্লাহ তাদের মর্যাদা সুউচ্চ করেছেন যখন তিনি রাসূল (আলাইহিস সালাম)-কে তাদের সাথে পরামর্শ করার নির্দেশ দেন; এটি তাদের সত্যবাদিতা, ঈমানের বিশুদ্ধতা, অকৃত্রিম ভালোবাসা, বুদ্ধিবৃত্তিক প্রাচুর্য, উন্নত চিন্তাধারা এবং পূর্ণাঙ্গ হিতাকাঙ্ক্ষার বিষয়ে আল্লাহর অবগতির কারণে। আর তাদের বিশ্বস্ততাও সুস্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। আল্লাহ তাদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামাহ ওয়ার রাদ্দু আলাল রাফিদাহ
(পৃষ্ঠা: ২১২)
خلَافَة أَمِير الْمُؤمنِينَ أبي بكر الصّديق رضي الله عنه وأرضاه 1 - حَدثنَا أَبُو بكر الطلحي، حَدثنَا عبيد بن غَنَّام، حَدثنَا أَبُو بكر بن أبي شيبَة، حَدثنَا أَبُو الْأَحْوَص، عَن مَنْصُور، عَن إِبْرَاهِيم، عَن عُبَيْدَة، عَن عبد الله قَالَ:
قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -: "
خير أمتِي الْقرن الَّذِي أَنا فِيهِ ثمَّ الَّذين يَلُونَهُمْ ". رَوَاهُ شُعْبَة، وَالثَّوْري، وَجَرِير عَن مَنْصُور.
2 - حَدثنَا عبد الله بن جَعْفَر قِرَاءَة، حَدثنَا مُوسَى بن حبيب حَدثنَا أَبُو
আমীরুল মুমিনীন আবু বকর আস-সিদ্দিক রাযিয়াল্লাহু আনহু ওয়া আরদ্বাহু-এর খিলাফত ১ - আবু বকর আত-তালহী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, উবাইদ বিন গান্নাম আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবু বকর বিন আবী শায়বাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবু আল-আহওয়াস আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, মানসুর থেকে, তিনি ইবরাহীম থেকে, তিনি উবাইদাহ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ (ইবনে মাসউদ) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "
আমার উম্মতের মধ্যে সর্বোত্তম হলো সেই প্রজন্ম যাদের মধ্যে আমি রয়েছি, অতঃপর যারা তাদের পরবর্তী।" এটি শু'বাহ, সাওরী এবং জারীর মানসুর থেকে বর্ণনা করেছেন।২ - আবদুল্লাহ বিন জাফর পাঠের মাধ্যমে আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, মুসা বিন হাবিব আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবু
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামাহ ওয়ার রাদ্দু আলাল রাফিদাহ
(পৃষ্ঠা: ২১৩)
دَاوُد، حَدثنَا هِشَام، عَن قَتَادَة، عَن زُرَارَة عَن عمرَان بن حُصَيْن قَالَ:
قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -: "
خير أمتِي الْقرن الَّذِي بعثت فيهم، ثمَّ الَّذين يَلُونَهُمْ، ثمَّ الَّذين يَلُونَهُمْ، ثمَّ يَأْتِي قوم من بعد ينذرون وَلَا يُوفونَ، ويخونون وَلَا يؤتمنون، وَيشْهدُونَ وَلَا يستشهدون، ويفشو فيهم السّمن ".
3 - حَدثنَا حبيب بن الْحسن، حَدثنَا أَبُو مُسلم الْكَجِّي، حَدثنَا أَبُو
দাউদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হিশাম, তিনি কাতাদা থেকে, তিনি যুরারা থেকে, তিনি ইমরান ইবন হুসাইন থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "
আমার উম্মতের মধ্যে সর্বোত্তম হলো সেই প্রজন্ম যাদের মধ্যে আমি প্রেরিত হয়েছি, অতঃপর যারা তাদের পরবর্তী, অতঃপর যারা তাদের পরবর্তী। এরপর এমন এক সম্প্রদায়ের আবির্ভাব ঘটবে যারা মানত করবে কিন্তু তা পূর্ণ করবে না, তারা খিয়ানত করবে এবং তাদের বিশ্বাস করা হবে না, তারা সাক্ষ্য দেবে অথচ তাদের সাক্ষ্য দিতে বলা হবে না, আর তাদের মধ্যে স্থূলতা প্রকাশ পাবে"।
৩ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাবিব ইবনুল হাসান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুসলিম আল-কাজ্জি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামাহ ওয়ার রাদ্দু আলাল রাফিদাহ
(পৃষ্ঠা: ২১৪)
عَاصِم عَن مُحَمَّد بن عجلَان، عَن أَبِيه، عَن أبي هُرَيْرَة قَالَ:
سَأَلنَا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -
عَن خير النَّاس قَالَ: أَنا وَمن معي، قيل ثمَّ من، قَالَ: الَّذين على الْأَثر.
4 - حَدثنَا سُلَيْمَان بن أَحْمد، حَدثنَا مُحَمَّد بن عُثْمَان بن أبي شيبَة حَدثنَا أَحْمد بن يُونُس، حَدثنَا زَائِدَة عَن عَاصِم عَن خَيْثَمَة عَن النُّعْمَان بن بشير قَالَ:
قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -: "
خير النَّاس قَرْني ثمَّ الَّذين يَلُونَهُمْ ثمَّ الَّذين يَلُونَهُمْ " الحَدِيث.فَلم تنكر فرقة من هَذِه الْفرق المدائح الَّتِي مدح الله بهَا أَصْحَاب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ - على لِسَان نبيه صلى الله عليه وسلم َ -
وَأَن الصَّحَابَة هم خير الْأُمَم.فَيُقَال للإمامية الطاعنين على الْمُهَاجِرين وَالْأَنْصَار اجْتِمَاعهم على تقدمة
আসিম মুহাম্মাদ বিন আজলান থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:
আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে -
মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম; তিনি বললেন: আমি এবং যারা আমার সাথে আছে। জিজ্ঞেস করা হলো, এরপর কারা? তিনি বললেন: যারা পদাঙ্ক অনুসরণকারী।৪ - সুলায়মান বিন আহমাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ বিন উসমান বিন আবু শাইবা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমাদ বিন ইউনুস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জায়িদা আসিম থেকে, তিনি খাইসামা থেকে এবং তিনি নুমান বিন বাশির থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "
মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম হলো আমার যুগ, অতঃপর যারা তাদের পরবর্তী, অতঃপর যারা তাদের পরবর্তী" - হাদীস।এই দলগুলোর কোনো দলই সেই সকল প্রশংসাকে অস্বীকার করেনি, যা আল্লাহ তাঁর নবীর যবানীতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাহাবীদের শানে বর্ণনা করেছেন -
এবং সাহাবীগণই যে সর্বোত্তম উম্মত।অতঃপর মুহাজির ও আনসারদের প্রতি অপবাদ আরোপকারী ইমামিয়াদের উদ্দেশ্যে বলা হবে—তাদের অগ্রগণ্য করার বিষয়ে তাদের ঐকমত্য সম্পর্কে...
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামাহ ওয়ার রাদ্দু আলাল রাফিদাহ
(পৃষ্ঠা: ২১৫)
الصّديق رضي الله عنه: أَكَانَ اجْتِمَاعهم عَلَيْهِ على إِكْرَاه مِنْهُ لَهُم بِالسَّيْفِ، أَو تأليف مِنْهُ لَهُم بِمَال، أَو غَلَبَة بعشيرة، فَإِن الِاجْتِمَاع لَا يَخْلُو من هَذِه الْوُجُوه، وكل ذَلِك مُسْتَحِيل مِنْهُم لأَنهم (المديحة) والمروءة وَالدّين والنصيحة، وَلَو كَانَ شَيْء من هَذِه الْوُجُوه، أَو أُرِيد وَاحِد مِنْهُم على الْمُبَايعَة كَارِهًا لَكَانَ ذَلِك مَنْقُولًا عَنْهُم ومنتشراً.
فَأَما إِذا أَجمعت الْأمة على أَن لَا إِكْرَاه، وَالْغَلَبَة والتأليف غير مُمكن مِنْهُم وَعَلَيْهِم، فقد ثَبت أَن اجْتِمَاعهم لما علمُوا مِنْهُ من الِاسْتِحْقَاق والتفضيل والسابقة وقدموه وَبَايَعُوهُ لما خصّه الله تَعَالَى بِهِ من المناقب والفضائل.
আস-সিদ্দিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু): তাঁর ব্যাপারে তাদের যে ঐক্যমত হয়েছিল, তা কি তাঁর পক্ষ থেকে তলোয়ারের মাধ্যমে তাদের ওপর কোনো জবরদস্তি ছিল, নাকি অর্থ-সম্পদ প্রদানের মাধ্যমে তাদের বশ করা ছিল, নাকি বংশীয় প্রভাবের মাধ্যমে বিজয় লাভ ছিল? কেননা এই ঐক্যবদ্ধ হওয়া এই কারণগুলোর বাইরে হওয়া সম্ভব নয়। অথচ তাদের ক্ষেত্রে এর প্রতিটিই অসম্ভব; কারণ তাঁরা ছিলেন প্রশংসিত, ব্যক্তিত্বসম্পন্ন, ধর্মপ্রাণ এবং শুভাকাঙ্ক্ষী। যদি এর কোনো একটি কারণও বিদ্যমান থাকত, কিংবা তাদের কাউকে অনিচ্ছাসত্ত্বেও বায়আতের জন্য বাধ্য করা হতো, তবে তা তাদের থেকে বর্ণিত হতো এবং লোকমুখে ছড়িয়ে পড়ত।
অতএব যখন উম্মত এই বিষয়ে একমত হয়েছে যে সেখানে কোনো জবরদস্তি ছিল না, আর প্রভাব বিস্তার বা সম্পদ দিয়ে বশ করাও তাদের পক্ষে ও তাদের ওপর সম্ভব ছিল না, তখন এটি সাব্যস্ত হলো যে, তাদের এই ঐক্যবদ্ধ হওয়া ছিল তাঁর যোগ্যতা, শ্রেষ্ঠত্ব ও অগ্রগামিতা সম্পর্কে তাদের অবগতির কারণে। আর আল্লাহ তাআলা তাঁকে যে সমস্ত মর্যাদা ও গুণাবলি দ্বারা বিশিষ্ট করেছেন, সে কারণেই তাঁরা তাঁকে অগ্রবর্তী করেছেন এবং তাঁর হাতে বায়আত গ্রহণ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামাহ ওয়ার রাদ্দু আলাল রাফিদাহ
(পৃষ্ঠা: ২১৬)
صفحة فارغة
খালি পৃষ্ঠা
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামাহ ওয়ার রাদ্দু আলাল রাফিদাহ
(পৃষ্ঠা: ২১৭)
فاذكر أَيهَا الطاعن على إِمَامَته مَا تحتج بِهِ فستعارض بنقضه فَأَما مَا خصّه الله تَعَالَى بِهِ من الْفَضَائِل والمدائح فلسنا بمنكريه وَلَا دافعيه، فَإنَّك إِن احتججت بالإخبار لزمك الْقبُول لَهَا من مخالفيك وَإِلَّا يكون أخبارك لَا لَك وَلَا على غَيْرك، فَلَو قبلت الْأَخْبَار، قبلت مِنْك، فَكَانَت لَك وَعَلَيْك.
فَإِذا احْتج بالأخبار وَقَالَ:
قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -: "
من كنت مَوْلَاهُ فعلي مَوْلَاهُ ".
অতএব, হে তাঁর ইমামতের (নেতৃত্বের) ওপর আক্রমণকারী! আপনি যার মাধ্যমে দলিল পেশ করেন তা স্মরণ রাখুন, কারণ তা খণ্ডনের মাধ্যমে আপনার বিরোধিতা করা হবে। তবে মহান আল্লাহ তাঁকে যেসব ফজিলত ও প্রশংসার মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন, আমরা তা অস্বীকারকারী নই এবং তা প্রত্যাখ্যানকারীও নই। কারণ আপনি যদি বর্ণনাসমূহের (আখবার) মাধ্যমে দলিল পেশ করেন, তবে আপনার বিরোধীদের পক্ষ থেকেও তা গ্রহণ করা আপনার জন্য আবশ্যক হয়ে পড়বে। অন্যথায় আপনার বর্ণিত সংবাদগুলো আপনার স্বপক্ষেও থাকবে না এবং অন্যের বিরুদ্ধেও কার্যকর হবে না। যদি আপনি বর্ণনাসমূহ গ্রহণ করেন, তবে আপনার নিকট থেকেও তা গ্রহণ করা হবে; ফলে তা আপনার স্বপক্ষে এবং বিপক্ষে উভয়ভাবেই গণ্য হবে।
অতঃপর যখন তিনি বর্ণনাসমূহের মাধ্যমে দলিল পেশ করেন এবং বলেন:
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "
আমি যার মাওলা, আলীও তার মাওলা। ".
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামাহ ওয়ার রাদ্দু আলাল রাফিদাহ
(পৃষ্ঠা: ২১৮)
قيل لَهُ: مَقْبُول مِنْك، وَنحن نقُول: وَهَذِه فَضِيلَة بَينه لعَلي بن أبي طَالب عليه السلام، وَمَعْنَاهُ من كَانَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ -
مَوْلَاهُ فعلي وَالْمُؤمنِينَ موَالِيه.دَلِيل ذَلِك قَول الله تبارك وتعالى: {وَالْمُؤمنِينَ وَالْمُؤْمِنَات بَعضهم أَوْلِيَاء بعض} .وَقَالَ تَعَالَى: {وَالَّذين كفرُوا بَعضهم أَوْلِيَاء بعض} .وَالْوَلِيّ والموالي فِي كَلَام الْعَرَب وَاحِد، وَالدَّلِيل عَلَيْهِ قَوْله تبارك وتعالى: {ذَلِك بِأَن الله مولى الَّذين آمنُوا وَأَن الْكَافرين لَا مولى لَهُم} أَي لَا ولي لَهُم وهم عبيده وَهُوَ مَوْلَاهُم وَإِنَّمَا أَرَادَ لَا ولي لَهُم.
وَقَالَ: {فَإِن الله هُوَ مَوْلَاهُ وَجِبْرِيل وَصَالح الْمُؤمنِينَ} .
وَقَالَ: {الله ولي الَّذين آمنُوا يخرجهم من الظُّلُمَات إِلَى النُّور}
وَقَالَ: {وَمن يتَوَلَّى الله وَرَسُوله وَالَّذين آمنُوا فَإِن حزب الله هم الغالبون} .
তাকে বলা হলো: আপনার পক্ষ থেকে এটি গ্রহণযোগ্য। এবং আমরা বলি: এটি আলী ইবনে আবি তালিব (আলাইহিস সালাম)-এর জন্য একটি সুস্পষ্ট শ্রেষ্ঠত্ব। আর এর অর্থ হলো, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যার -
মাওলা ছিলেন, আলী এবং মুমিনগণও তার মাওলা।এর প্রমাণ হলো আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার বাণী: {মুমিন পুরুষ এবং মুমিন নারীগণ একে অপরের বন্ধু}।আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {আর যারা কুফরি করেছে তারা একে অপরের বন্ধু}।আরবদের ভাষায় ‘ওয়ালি’ এবং ‘মাওয়ালি’ অভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে। এর দলিল হলো আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার বাণী: {তা এই কারণে যে, আল্লাহ মুমিনদের মাওলা এবং কাফেরদের কোনো মাওলা নেই} অর্থাৎ তাদের কোনো ওয়ালি নেই; যদিও তারা তাঁরই দাস এবং তিনি তাদের মাওলা (সৃষ্টিকর্তা ও মালিক), তবে তিনি এখানে কেবল তাদের কোনো সাহায্যকারী ওয়ালি না থাকার বিষয়টিই বুঝিয়েছেন।
তিনি আরও বলেছেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ হচ্ছেন তাঁর মাওলা এবং জিবরাঈল ও নেককার মুমিনগণও}।
তিনি আরও বলেছেন: {আল্লাহ মুমিনদের ওয়ালি, তিনি তাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন}।
তিনি আরও বলেছেন: {আর যারা আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং মুমিনদের ওয়ালি হিসেবে গ্রহণ করে, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহর দলই বিজয়ী হবে}।
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামাহ ওয়ার রাদ্দু আলাল রাফিদাহ
(পৃষ্ঠা: ২১৯)
صفحة فارغة
খালি পৃষ্ঠা
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামাহ ওয়ার রাদ্দু আলাল রাফিদাহ
(পৃষ্ঠা: ২২০)
وَإِنَّمَا هَذِه منقبة من النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ - لعَلي رضي الله عنه وحث على محبته وترغيب فِي ولَايَته لما ظهر من ميل الْمُنَافِقين 5 / ب عَلَيْهِ وبغضهم لَهُ، وَكَذَلِكَ قَالَ صلى الله عليه وسلم َ -: " لَا يحبك إِلَّا مُؤمن وَلَا يبغضك إِلَّا مُنَافِق ".
وَحكي عَن ابْن عُيَيْنَة أَن عليا رضي الله عنه وَأُسَامَة تخاصما فَقَالَ عَليّ لأسامة: أَنْت مولَايَ، فَقَالَ: لست لَك مولى إِنَّمَا مولَايَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -
فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -: " من كنت مَوْلَاهُ فعلي مَوْلَاهُ ".
وَهَذَا كَمَا يَقُول النَّاس: فلَان مولي بني هَاشم، وَمولى بني أُميَّة، وَإِنَّمَا الْحَقِيقَة وَاحِد مِنْهُم، وَمِمَّا يُؤَيّد مَا حُكيَ عَن ابْن عُيَيْنَة حَدِيث.
5 - حَدثنَا عبد الله بن جَعْفَر قِرَاءَة قَالَ حَدثنَا يُونُس بن حبيب، حَدثنَا دَاوُد حَدثنَا شُعْبَة عَن سعد بن إِبْرَاهِيم قَالَ سَمِعت عبد الرَّحْمَن الْأَعْرَج قَالَ شُعْبَة وَلَا أعلم إِلَّا عَن أبي هُرَيْرَة أَن رَسُول الله قَالَ:
الْأَنْصَار وقريش وَمُزَيْنَة " وجهينة " وغفار وَأسلم وَأَشْجَع بَعضهم موَالِي بعض لَيْسَ لَهُم دمولى ون الله وَرَسُوله.
فَظَاهر هَذَا اللَّفْظ رَافع لقَوْله: من كنت مَوْلَاهُ، لِأَنَّهُ صلى الله عليه وسلم َ -
أخبر أَن كل هَؤُلَاءِ الْقَبَائِل موَالِي الله وَرَسُوله.
বস্তুত এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর এক বিশেষ মর্যাদা বর্ণনা এবং তাঁর প্রতি ভালোবাসা পোষণ ও তাঁর বন্ধুত্ব গ্রহণে উৎসাহিতকরণ; কেননা মুনাফিকদের তাঁর প্রতি বিদ্বেষ ও ঘৃণা প্রকাশ পেয়েছিল। একইভাবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "মুমিন ব্যতীত কেউ তোমাকে ভালোবাসবে না এবং মুনাফিক ব্যতীত কেউ তোমাকে ঘৃণা করবে না।"
ইবনে উয়াইনা থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এবং উসামা বিতর্কে লিপ্ত হলেন। তখন আলী উসামাকে বললেন: "তুমি আমার মাওলা (মিত্র/মুক্তদাস)"। তিনি উত্তরে বললেন: "আমি আপনার মাওলা নই, বরং আমার মাওলা হলেন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)"।
তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "আমি যার মাওলা, আলীও তার মাওলা।"
এটি ঠিক তেমন যেমন মানুষ বলে থাকে: অমুক বনু হাশেমের মাওলা, অথবা বনু উমাইয়াহর মাওলা, অথচ প্রকৃতপক্ষে সে তাদের একজনেরই। আর ইবনে উয়াইনা থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তার সমর্থনে একটি হাদিস রয়েছে:
৫ - আমাদের কাছে আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর পাঠ করে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে ইউনুস ইবনে হাবিব বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে দাউদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে শু'বাহ সাদ ইবনে ইব্রাহিম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমি আব্দুর রহমান আল-আ'রাজকে বলতে শুনেছি, শু'বাহ বলেন আমার জানামতে এটি আবু হুরায়রা থেকেই বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
আনসার, কুরাইশ, মুযাইনা, জুহাইনা, গিফার, আসলাম এবং আশজা' গোত্রসমূহ একে অপরের মাওলা; আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ব্যতীত তাদের আর কোনো মাওলা নেই।
এই শব্দের বাহ্যিক রূপটি তাঁর সেই বাণীকে রহিত বা স্পষ্টকারী যেখানে তিনি বলেছেন: "আমি যার মাওলা...", কেননা তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
সংবাদ দিয়েছেন যে, এই সকল গোত্র আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের মাওলা (বন্ধু/অনুগত)।
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামাহ ওয়ার রাদ্দু আলাল রাফিদাহ
(পৃষ্ঠা: ২২১)
فَإِن قَالَ: قد ثَبت عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -
أَنه قَالَ لعَلي " أَنْت مني بِمَنْزِلَة هَارُون من مُوسَى ".قيل لَهُ: كَذَلِك نقُول فِي استخلافه على الْمَدِينَة فِي حَيَاته بِمَنْزِلَة هَارُون من مُوسَى، وَإِنَّمَا خرج هَذَا القَوْل لَهُ من النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ - عَام تَبُوك، إِذْ خَلفه بِالْمَدِينَةِ فَذكر المُنَافِقُونَ أَنه مله وَكره صحبته، فلحق بالرسول صلى الله عليه وسلم َ -
فَذكر لَهُ قَوْلهم فَقَالَ صلى الله عليه وسلم َ -: " بل خلفتك كَمَا خلف مُوسَى هَارُون ".
6 - حَدثنَا فاروق الْخطابِيّ حَدثنَا أَبُو مُسلم الْكَجِّي حَدثنَا مُسلم بن إِبْرَاهِيم حَدثنَا يُوسُف بن يَعْقُوب الْمَاجشون عَن ابْن الْمُنْكَدر عَن سعيد بن الْمسيب، عَن عَامر بن سعد عَن أَبِيه سعد أَنه سمع النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ -
يَقُول لعَلي: " أما ترْضى أَن تكون مني بِمَنْزِلَة هَارُون بن مُوسَى إِلَّا أَنه لَا نَبِي بعدِي ".
যদি কেউ বলে: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এটি প্রমাণিত হয়েছে যে—
তিনি আলীকে বলেছিলেন: "তুমি আমার কাছে ঠিক তেমন, যেমন মূসার কাছে হারুন ছিলেন।"তাকে বলা হবে: আমরাও তাঁর জীবদ্দশায় মদিনায় তাঁর স্থলাভিষিক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে মূসার নিকট হারুনের মর্যাদার বিষয়ে অনুরূপই বলে থাকি। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে এই কথাটি তাঁর জন্য তাবুক যুদ্ধের বছর প্রকাশ পেয়েছিল, যখন তিনি তাঁকে মদিনায় রেখে গিয়েছিলেন। তখন মুনাফিকরা রটনা করেছিল যে, তিনি (রাসূল) তাঁকে বোঝা মনে করেছেন এবং তাঁর সাহচর্য অপছন্দ করেছেন। ফলে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে গিয়ে সাক্ষাৎ করলেন এবং তাঁদের কথা তাঁর কাছে উল্লেখ করলেন। তখন তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "বরং আমি তোমাকে সেভাবেই রেখে এসেছি, যেভাবে মূসা হারুনকে রেখে গিয়েছিলেন।"৬ - আমাদের নিকট ফারুক আল-খাত্তাবি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আবু মুসলিম আল-কাজজি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন মুসলিম ইবনে ইবরাহিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন ইউসুফ ইবনে ইয়াকুব আল-মাজিশুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনুল মুনকাদির থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব থেকে, তিনি আমির ইবনে সাদ থেকে এবং তিনি তাঁর পিতা সাদ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে— আলীর উদ্দেশ্যে বলতে শুনেছেন: "তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, তুমি আমার কাছে মূসার নিকট হারুনের মর্যাদায় থাকবে? তবে পার্থক্য এই যে, আমার পরে আর কোনো নবী নেই।"
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামাহ ওয়ার রাদ্দু আলাল রাফিদাহ
(পৃষ্ঠা: ২২২)
7 - حَدثنَا مُحَمَّد بن جَعْفَر بن الْهَيْثَم، حَدثنَا جَعْفَر بن مُحَمَّد بن شَاكر الصَّائِغ، حَدثنَا مُحَمَّد بن سَابق، حَدثنَا فُضَيْل بن مَرْزُوق عَن عَطِيَّة، عَن أبي سعيد قَالَ:
خلف رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -
عليا فِي أَهله حِين غزا غزَاة تَبُوك فَقَالَ بعض النَّاس: مَا مَنعه أَن يخرج إِلَّا أَنه كره صحبته فَبلغ ذَلِك عليا عليه السلام فَقَالَ لرَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ - زعم النَّاس أَنَّك تخلفني إِلَّا أَنَّك كرهت صحبتي، فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -: "
يَا بن أبي طَالب أما ترْضى أَن تنزل مني بِمَنْزِلَة هَارُون من مُوسَى.فَإِن قَالَ الطاعن: لم يرد استخلافه على الْمَدِينَة.قيل لَهُ: هَل شَاركهُ فِي النُّبُوَّة كَمَا شَارك هَارُون مُوسَى.فَإِن قَالَ: نعم، كفر وَإِن قَالَ: لَا، قيل لَهُ فَهَل كَانَ أَخَاهُ فِي النّسَب فَإِن قَالَ: نعم فقد كذب. فَإِذا بطلت أخوة النّسَب ومشاركة النُّبُوَّة فقد صَحَّ وَجه الِاسْتِخْلَاف، وَإِن جعل استخلافه فِي حَيَاته على الْمَدِينَة أصلا فقد كَانَ صلى الله عليه وسلم َ - يسْتَخْلف فِي كل غزَاة غَزَاهَا غَيره من أَصْحَابه كَابْن أم مَكْتُوم، وخفاف بن إِيمَاء بن رَوْضَة الْغِفَارِيّ وَغَيرهمَا من خلفائه.
৭ - মুহাম্মদ বিন জাফর বিন আল-হাইসাম আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, জাফর বিন মুহাম্মদ বিন শাকির আস-সায়িগ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, মুহাম্মদ বিন সাবিক আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, ফুযাইল বিন মারজুক আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আতিয়্যাহ থেকে, তিনি আবু সাঈদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
তাবুক যুদ্ধের সময় আলীকে তাঁর পরিবারবর্গের নিকট রেখে যান। তখন কিছু মানুষ বলল: তাঁকে সাথে নিয়ে যেতে কেবল তাঁর সঙ্গ অপছন্দ করাই তাঁকে বাধা দিয়েছে। এই কথা আলীর (আলাইহিস সালাম) নিকট পৌঁছালে তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বললেন: লোকেরা ধারণা করছে যে, আপনি আমাকে পেছনে রেখে যাচ্ছেন কারণ আপনি আমার সঙ্গ অপছন্দ করছেন। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: "
হে আবু তালিবের পুত্র! তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, আমার নিকট তোমার মর্যাদা ঠিক তেমনই হবে যেমনটি হারুনের মর্যাদা ছিল মূসার নিকট? যদি কোনো আক্ষেপকারী বলে: তিনি তাকে মদীনার স্থলাভিষিক্ত করা বুঝাতে চাননি। তাকে বলা হবে: তিনি কি তাঁর সাথে নবুওয়তে অংশীদার ছিলেন যেমন হারুন মূসার সাথে অংশীদার ছিলেন? যদি সে বলে: হ্যাঁ, তবে সে কুফরি করল। আর যদি বলে: না, তাকে বলা হবে: তবে তিনি কি তাঁর বংশীয় ভাই ছিলেন? যদি সে বলে: হ্যাঁ, তবে সে মিথ্যা বলল। সুতরাং যখন বংশীয় ভ্রাতৃত্ব এবং নবুওয়তে অংশীদারিত্ব বাতিল হয়ে গেল, তখন স্থলাভিষিক্ত হওয়ার বিষয়টিই সঠিক প্রমাণিত হলো। আর যদি তাঁর জীবদ্দশায় মদীনার উপর এই স্থলাভিষিক্ত হওয়াকে মূল বিষয় হিসেবে ধরা হয়, তবে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর প্রতিটি যুদ্ধে তাঁর অন্যান্য সাহাবীদেরও স্থলাভিষিক্ত করতেন, যেমন ইবনে উম্মে মাকতুম, খুফাফ বিন ইমা বিন রওদাহ আল-গিফারি এবং তাঁর অন্যান্য স্থলাভিষিক্তগণ।
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামাহ ওয়ার রাদ্দু আলাল রাফিদাহ
(পৃষ্ঠা: ২২৩)
فَإِن احْتج بقوله عليه السلام: " عَليّ مني وَأَنا مِنْهُ ".
8 - حَدثنَا سُلَيْمَان بن أَحْمد حَدثنَا عَليّ بن عبد الْعَزِيز، حَدثنَا بن غَسَّان مَالك بن إِسْمَاعِيل، حَدثنَا إِسْرَائِيل، عَن عبد الْأَعْلَى عَن سعيد بن جُبَير عَن ابْن عَبَّاس.
إِن رجلا وَقع فِي أَب للْعَبَّاس كَانَ فِي الْجَاهِلِيَّة، فَلَطَمَهُ الْعَبَّاس، فجَاء قومه فَبلغ ذَلِك النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ -،
فَصَعدَ الْمِنْبَر وَقَالَ: أَي أهل الأَرْض تعلمُونَ أكْرم على الله؟ قَالُوا: أَنْت قَالَ: فَإِن الْعَبَّاس مني وَأَنا مِنْهُ اهـ.
অতঃপর যদি তিনি তাঁর (সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) এই বাণীর মাধ্যমে দলিল পেশ করেন যে: "আলী আমার থেকে এবং আমি তার থেকে।"
৮ - সুলাইমান বিন আহমাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আলী বিন আব্দুল আজিজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে গাসসান মালিক বিন ইসমাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসরাঈল আব্দুল আলা থেকে, তিনি সাঈদ বিন জুবায়ের থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন।
নিশ্চয়ই এক ব্যক্তি আব্বাসের জাহেলি যুগের এক পিতা (পূর্বপুরুষ) সম্পর্কে কটূক্তি করেছিল, ফলে আব্বাস তাকে একটি চড় মারলেন। অতঃপর তার সম্প্রদায় এল এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট বিষয়টি পৌঁছালে -
তিনি মিম্বারে আরোহণ করলেন এবং বললেন: তোমরা কি জানো পৃথিবীর অধিবাসীদের মধ্যে কে আল্লাহর নিকট অধিক সম্মানিত? তারা বলল: আপনি। তিনি বললেন: নিশ্চয়ই আব্বাস আমার থেকে এবং আমি তার থেকে। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামাহ ওয়ার রাদ্দু আলাল রাফিদাহ
(পৃষ্ঠা: ২২৪)
9 - حَدثنَا عبد الله بن جَعْفَر، حَدثنَا يُونُس بن حبيب، حَدثنَا أَبُو دَاوُد حَدثنَا حَمَّاد بن سَلمَة، عَن ثَابت، عَن كنَانَة بن نعيم الْهَرَوِيّ، عَن أبي بَرزَة الْأَسْلَمِيّ، أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ -
كَانَ فِي مغزى لَهُ، فَلَمَّا فرغ من الْقِتَال فَقَالَ: " وَهل تَفْقِدُونَ من أحد، لكنني أفقد جليبيباً فوجوده عِنْد سَبْعَة قد قَتلهمْ وقتلوه "، فَأخْبر النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ - فَقَالَ: قتل سَبْعَة ثمَّ قَتَلُوهُ هَذَا مني وَأَنا مِنْهُ قَالَهَا مرَّتَيْنِ أَو ثَلَاثًا، ثمَّ مَال بذراعيه هَكَذَا فبسطها فَوضع على ذراعي النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ -
حَتَّى حفر لَهُ فَمَا كَانَ لَهُ سَرِير إِلَّا ذراعي النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ - حَتَّى دفن.
فَإِن احْتج بِأَنَّهُ كَانَ رضي الله عنه ختن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -.
قيل لَهُ: قد شَاركهُ عُثْمَان بن عَفَّان وَغَيره رضي الله عنهما فِي هَذَا الْأَمر، فَإِن عُثْمَان كَانَ ختنه على ابْنَتَيْهِ.وَابْن الْعَاصِ بن الرّبيع على ابْنَته.
৯ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন জাফর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইউনুস বিন হাবিব, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ বিন সালামাহ, সাবিত থেকে, তিনি কিনানাহ বিন নুয়াইম আল-হারাউয়ি থেকে, তিনি আবু বারযাহ আল-আসলামি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -
একটি যুদ্ধে ছিলেন, যখন তিনি যুদ্ধ শেষ করলেন তখন বললেন: "তোমরা কি কাউকে হারিয়েছ? কিন্তু আমি জুলাইবিবকে খুঁজে পাচ্ছি না।" অতঃপর তাকে সাতজনের পাশে পাওয়া গেল যাদের তিনি হত্যা করেছিলেন এবং তারাও তাকে হত্যা করেছিল। অতঃপর নবীকে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সংবাদ দেওয়া হলে তিনি বললেন: "সে সাতজনকে হত্যা করেছে এরপর তারা তাকে হত্যা করেছে; এ আমার থেকে এবং আমি তার থেকে।" তিনি এটি দুই বা তিনবার বললেন। এরপর তিনি নিজের দুই বাহু এভাবে হেলে প্রসারিত করলেন এবং তাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর দুই বাহুর ওপর রাখা হলো -
যতক্ষণ না তার জন্য কবর খনন করা হলো; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর দুই বাহু ব্যতীত তার জন্য কোনো খাটিয়া ছিল না সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম - যতক্ষণ না তাকে দাফন করা হলো।
যদি কেউ এই যুক্তি দেয় যে, তিনি রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জামাতা ছিলেন।
তবে তাকে বলা হবে: উসমান বিন আফফান এবং অন্যান্যরাও রাদিয়াল্লাহু আনহুম এই বিষয়ে অংশীদার ছিলেন, কেননা উসমান তাঁর দুই কন্যার স্বামী হিসেবে তাঁর জামাতা ছিলেন।এবং আবুল আস বিন আল-রাবিও তাঁর কন্যার স্বামী ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামাহ ওয়ার রাদ্দু আলাল রাফিদাহ
(পৃষ্ঠা: ২২৫)
فَإِن
قَالَ: هُوَ الَّذِي قَالَ فِيهِ الرَّسُول صلى الله عليه وسلم َ -
لأدفعن الرَّايَة إِلَى رجل يحب الله وَرَسُوله، وَيُحِبهُ الله وَرَسُوله.قيل: قد شَاركهُ فِي هَذِه الْفَضِيلَة عدَّة من الصَّحَابَة، مِنْهُم أَبُو بكر، وَعمر، وَعُثْمَان، وَزيد، وَأُسَامَة، وَالْحسن، وَالْحُسَيْن وَعَائِشَة رضي الله عنهم.
10 - حَدثنَا أَبُو إِسْحَاق إِبْرَاهِيم بن عبد الله، حَدثنَا مُحَمَّد بن إِسْحَاق الثَّقَفِيّ، حَدثنَا قُتَيْبَة بن سعيد، حَدثنَا اللَّيْث بن سعد، عَن يزِيد بن أبي حبيب، عَن ابْن يخَامر، أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ - قَالَ:
অতঃপর
যদি বলা হয়: ইনি সেই ব্যক্তি যার সম্পর্কে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন—
আমি অবশ্যই এমন এক ব্যক্তির হাতে পতাকা অর্পণ করব যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলও তাকে ভালোবাসেন।উত্তরে বলা হয়েছে: বেশ কিছু সাহাবী এই ফযিলতে তাঁর অংশীদার হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আবূ বকর, উমর, উসমান, যায়দ, উসামাহ, হাসান, হুসাইন এবং আয়িশাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)।
১০ - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবূ ইসহাক ইব্রাহীম ইবনে আব্দুল্লাহ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আস-সাকাফী, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন কুতাইবাহ ইবনে সাঈদ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন লাইস ইবনে সাদ, ইয়াযীদ ইবনে আবী হাবীব থেকে, তিনি ইবনে ইখামির থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামাহ ওয়ার রাদ্দু আলাল রাফিদাহ
(পৃষ্ঠা: ২২৬)
اللَّهُمَّ صل على أبي بكر فَإِنَّهُ يحبك وَيُحب رَسُولك، اللَّهُمَّ صل على عمر فَإِنَّهُ يحبك وَيُحب رَسُولك، اللَّهُمَّ صل على عُثْمَان فَإِنَّهُ يحبك وَيُحب رَسُولك، اللَّهُمَّ صل على عُبَيْدَة بن الْجراح فَإِنَّهُ يحبك وَيُحب رَسُولك اللَّهُمَّ صل على عَمْرو بن الْعَاصِ فَإِنَّهُ يحبك وَيُحب رَسُولك، كَذَا رَوَاهُ يزِيد عَن مَالك بن يخَامر مُرْسلا، وَغَيره عَن معَاذ.
11 - حَدثنَا أَبُو بكر بن خَلاد، حَدثنَا أَحْمد بن إِبْرَاهِيم بن ملْحَان، حَدثنَا يحيى بن بكير، حَدثنَا اللَّيْث بن سعد، عَن ابْن شهَاب عَن عُرْوَة، عَن عَائِشَة أَن قُريْشًا أَهَمَّهُمْ شَأْن المخزومية الَّتِي سرقت فَقَالُوا:
من يكلم رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -
فِيهَا وَمن يجترئ عَلَيْهِ إِلَّا أُسَامَة بن زيد حب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -، فَكَلمهُ أُسَامَة فَقَالَ: لَا تشفع فِي حد.
হে আল্লাহ! আবু বকরের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, কেননা তিনি আপনাকে ভালোবাসেন এবং আপনার রাসূলকে ভালোবাসেন। হে আল্লাহ! উমরের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, কেননা তিনি আপনাকে ভালোবাসেন এবং আপনার রাসূলকে ভালোবাসেন। হে আল্লাহ! উসমানের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, কেননা তিনি আপনাকে ভালোবাসেন এবং আপনার রাসূলকে ভালোবাসেন। হে আল্লাহ! উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ-এর ওপর রহমত বর্ষণ করুন, কেননা তিনি আপনাকে ভালোবাসেন এবং আপনার রাসূলকে ভালোবাসেন। হে আল্লাহ! আমর ইবনুল আস-এর ওপর রহমত বর্ষণ করুন, কেননা তিনি আপনাকে ভালোবাসেন এবং আপনার রাসূলকে ভালোবাসেন। ইয়াজিদ, মালিক ইবনে ইখামির থেকে মুরসাল হিসেবে এভাবেই বর্ণনা করেছেন এবং অন্য বর্ণনাকারীগণ মুয়ায থেকে বর্ণনা করেছেন।
১১ - আবু বকর ইবনে খাল্লাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমাদ ইবনে ইবরাহীম ইবনে মালহান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, লাইস ইবনে সাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে শিহাব থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, কুরাইশরা সেই মাখযূমী নারীর বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত চিন্তিত হয়ে পড়ল যে চুরি করেছিল। তারা বলল:
কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে
এই বিষয়ে কথা বলবে এবং আল্লাহর রাসূলের প্রিয়পাত্র উসামা ইবনে যায়িদ ছাড়া আর কেই-বা তাঁর সামনে এমন সাহস দেখাতে পারে? সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - অতঃপর উসামা তাঁর সাথে কথা বললেন, তখন তিনি বললেন: নির্ধারিত দণ্ডের (হদ) বিষয়ে সুপারিশ করো না।
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামাহ ওয়ার রাদ্দু আলাল রাফিদাহ
(পৃষ্ঠা: ২২৭)
12 - حَدثنَا عبد الله بن جَعْفَر، حَدثنَا يُونُس بن حبيب، حَدثنَا أَبُو دَاوُد، حَدثنَا زَمعَة، قَالَ سَمِعت ابْن أبي مليكَة يَقُول سَمِعت أم سَلمَة الصرخة على عَائِشَة رضي الله عنها وَعَن أَبِيهَا فَقَالَت: يرحمها الله وَالَّذِي نَفسِي بِيَدِهِ لقد كَانَت أحب النَّاس كلهم إِلَى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -
إِلَّا أَبوهَا رضي الله عنه وأرضاه.
13 - حَدثنَا مُحَمَّد بن حميد حَدثنَا عبد الله بن مُحَمَّد بن نَاجِية حَدثنَا وهب بن بَقِيَّة حَدثنَا خَالِد بن عبد الله عَن خَالِد الْحذاء عَن أبي عُثْمَان حَدثنِي عَمْرو بن الْعَاصِ، أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -
بَعثه على جَيش ذَات السلَاسِل فَلَمَّا أَتَيْته قلت: أَي النَّاس أحب إِلَيْك قَالَ: عَائِشَة، قلت: من الرِّجَال قَالَ: أَبوهَا، قَالَ: ثمَّ عد رجَالًا.
14 - حَدثنَا فاروق الْخطابِيّ، حَدثنَا أَبُو مُسلم الْكَجِّي، حَدثنَا سُلَيْمَان بن حَرْب، حَدثنَا شُعْبَة، عَن عدي بن ثَابت قَالَ: سَمِعت الْبَراء
১২ - আবদুল্লাহ বিন জাফর আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, ইউনুস বিন হাবিব আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, আবু দাউদ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, জামআহ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, আমি ইবনে আবি মুলাইকাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি উম্মে সালামাহকে আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) এবং তাঁর পিতার জন্য বিলাপ করতে শুনে বলতে শুনেছি: আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন, সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ, নিশ্চয়ই তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট সকল মানুষের মধ্যে সবচেয়ে প্রিয় ছিলেন -
কেবল তাঁর পিতা (রাদিয়াল্লাহু আনহু ওয়া আরদাহু) ব্যতীত.
১৩ - মুহাম্মদ বিন হুমাইদ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন নাজিয়াহ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, ওয়াহাব বিন বাকিয়্যাহ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, খালিদ বিন আবদুল্লাহ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, খালিদ আল-হাজ্জা থেকে, তিনি আবু উসমান থেকে, তিনি বলেন, আমর বিন আল-আস আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
তাঁকে যাতুস সালাসিল অভিযানের সেনাদলের অধিনায়ক হিসেবে পাঠিয়েছিলেন। যখন আমি তাঁর নিকট আসলাম, আমি জিজ্ঞাসা করলাম: আপনার নিকট সবচেয়ে প্রিয় মানুষ কে? তিনি বললেন: আয়েশা। আমি জিজ্ঞাসা করলাম: পুরুষদের মধ্যে কে? তিনি বললেন: তাঁর পিতা। তিনি বলেন: অতঃপর তিনি কয়েকজন পুরুষের নাম গণনা করলেন.
১৪ - ফারুক আল-খাত্তাবি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, আবু মুসলিম আল-কাজ্জি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, সুলাইমান বিন হারব আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, শু'বাহ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, আদী বিন সাবিত থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি বারা-কে বলতে শুনেছি...
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামাহ ওয়ার রাদ্দু আলাল রাফিদাহ
(পৃষ্ঠা: ২২৮)
يَقُول: رَأَيْت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -
وَالْحسن وَالْحُسَيْن على عاتقة وَهُوَ يَقُول: " اللَّهُمَّ إِنِّي أحبه فَأَحبهُ ".
15 - حَدثنَا سُلَيْمَان بن أَحْمد، حَدثنَا أَبُو عوَانَة، عَن عمر بن أبي سَلمَة، عَن أَبِيه، حَدثنِي أُسَامَة بن زيد قَالَ: مَرَرْت بِالْمَسْجِدِ فَإِذا عَليّ وَالْعَبَّاس قاعدان فَقَالَا يَا أُسَامَة أَسْتَأْذن لنا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -،
فَقلت يَا رَسُول الله هَذَا عَليّ وَالْعَبَّاس بِالْبَابِ يُريدَان الدُّخُول عَلَيْك، قَالَ: " تَدْرِي مَا جَاءَ بهما؟ " قلت: لَا وَالله يَا رَسُول الله مَا أَدْرِي مَا جَاءَ بهما قَالَ: " وَلَكِنِّي قد علمت مَا جَاءَ بهما، أبين لَهما، إيذن لَهما فدخلا عَلَيْهِ "، فَقَالَ عَليّ يَا رَسُول الله جئْنَاك نَسْأَلك أَي أهلك أحب إِلَيْك؟ قَالَ: " فَاطِمَة بنت مُحَمَّد " صلى الله عليه وسلم َ - قَالَ عَليّ وَالله يَا رَسُول الله مَا عَن أهلك أَسأَلك، قَالَ: " فَأحب النَّاس إِلَيّ من أنعم الله عَلَيْهِ
তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি -
হাসান ও হুসাইন তাঁর কাঁধে ছিলেন এবং তিনি বলছিলেন: "হে আল্লাহ! আমি তাকে ভালোবাসি, সুতরাং আপনিও তাকে ভালোবাসুন" ।
১৫ - সুলাইমান বিন আহমাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আওয়ানা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উমর বিন আবি সালামাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, উসামাহ বিন যায়দ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মসজিদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন দেখলাম আলী ও আব্বাস বসে আছেন। তাঁরা বললেন, হে উসামাহ, আমাদের জন্য আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট অনুমতি প্রার্থনা করো -
ফলে আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল, এই যে আলী ও আব্বাস দরজায় দাঁড়িয়ে আছেন, তাঁরা আপনার নিকট প্রবেশের অনুমতি চান। তিনি বললেন: "তুমি কি জানো কী উদ্দেশ্যে তাঁরা এসেছেন?" আমি বললাম: আল্লাহর কসম, না হে আল্লাহর রাসূল, আমি জানি না কী উদ্দেশ্যে তাঁরা এসেছেন। তিনি বললেন: "কিন্তু আমি জানি কী উদ্দেশ্যে তাঁরা এসেছেন, আমি তাদের নিকট তা স্পষ্ট করব, তাদের অনুমতি দাও। অতঃপর তাঁরা তাঁর নিকট প্রবেশ করলেন।" এরপর আলী বললেন, হে আল্লাহর রাসূল, আমরা আপনার নিকট এসেছি আপনাকে জিজ্ঞাসা করতে যে, আপনার পরিবারের মধ্যে আপনার নিকট সবচেয়ে প্রিয় কে? তিনি বললেন: "মুহাম্মাদের কন্যা ফাতিমা" সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আলী বললেন, আল্লাহর কসম হে আল্লাহর রাসূল, আমি আপনার পরিবার সম্পর্কে (এরূপ) জিজ্ঞাসা করছি না। তিনি বললেন: "তবে মানুষের মধ্যে আমার নিকট সবচেয়ে প্রিয় সে ব্যক্তি, যার ওপর আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন"
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামাহ ওয়ার রাদ্দু আলাল রাফিদাহ
(পৃষ্ঠা: ২২৯)
وأنعمت عَلَيْهِ أُسَامَة "، ثمَّ من يَا رَسُول الله، قَالَ: " ثمَّ أَنْت " قَالَ الْعَبَّاس أجعلت عمك آخِرهم، قَالَ: " إِن عليا سَبَقَك بِالْهِجْرَةِ ".
16 - حَدثنَا مُحَمَّد بن إِسْحَاق حَدثنَا عبد الله بن عبد الْعَزِيز، حَدثنَا عَليّ بن الْجَعْد، حَدثنَا عبد الْعَزِيز الْمَاجشون، عَن عبد الله ابْن دِينَار، عَن ابْن عمر قَالَ:
قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -
لزيد بن حَارِثَة إِنَّه لمن أحب النَّاس إِلَيّ بعده. . وَهَذِه فَضِيلَة لَهُ رضي الله عنهم.فَإِن احْتج المعاند بِأَنَّهُ اسْتحق الْخلَافَة لِأَنَّهُ كَانَ أَوَّلهمْ إسلاماً طُولِبَ
...এবং যার প্রতি আপনি অনুগ্রহ করেছেন, উসামা", অতঃপর কে হে আল্লাহর রাসূল? তিনি বললেন: "অতঃপর আপনি।" আব্বাস (রা.) বললেন: "আপনি কি আপনার চাচাকে তাদের সবার শেষে রাখলেন?" তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই আলী হিজরতের ক্ষেত্রে আপনার অগ্রগামী।"
১৬ - আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল আজিজ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আলী ইবনে আল-জাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আব্দুল আজিজ আল-মাজিশুন বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ ইবনে দিনার থেকে, তিনি ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন:
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জায়েদ ইবনে হারিসা সম্পর্কে বলেছেন -
"নিশ্চয়ই সে তার পরে আমার নিকট মানুষের মধ্যে অন্যতম প্রিয়।" এটি তার জন্য একটি মর্যাদা (ফযীলত), আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন।যদি কোনো হঠকারী ব্যক্তি এই যুক্তি দেয় যে, তিনি খিলাফতের অধিক হকদার ছিলেন কারণ তিনি তাদের মধ্যে সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, তবে তাকে প্রমাণ প্রদানের দাবি জানানো হবে...
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামাহ ওয়ার রাদ্দু আলাল রাফিদাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩০)
بِبَيَان مَا ذكره، فَإِن قَالَ: روى ذَلِك عَنهُ وَعَن غَيره.
قيل لَهُ: قد رُوِيَ خلاف ذَلِك عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ -
فَإِن كنت تحتج بالأخبار فَإِذا تَعَارَضَت الْأَخْبَار سَقَطت.
17 - حَدثنَا سُلَيْمَان بن أَحْمد حَدثنَا بكر بن سهل حَدثنَا عبد الله بن صَالح حَدثنِي مُعَاوِيَة بن صَالح عَن أبي يحيى سُلَيْمَان بن عَامر، وضمرة بن حبيب وَأبي طَلْحَة نعيم بن زِيَاد كل هَؤُلَاءِ سَمعه من أبي أُمَامَة الْبَاهِلِيّ صَاحب النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ -
قَالَ:سَمِعت عَمْرو بن عبسه السّلمِيّ، قَالَ: أتيت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ - " وَهُوَ " نَازل بعكاظ فَقلت يَا رَسُول الله من مَعَك فِي هَذَا الْأَمر قَالَ: رجلَانِ أَبُو بكر وبلال فَأسْلمت عِنْد ذَلِك فَلَقَد رأيتي رَابِع الْإِسْلَام.
18 - حَدثنَا أَبُو بكر بن مَالك، حَدثنَا عبد الله بن أَحْمد بن حَنْبَل، ثَنَا أبي، حَدثنَا يزِيد بن هَارُون، حَدثنَا جرير بن عُثْمَان بن سليم بن عَامر عَن عَمْرو بن عبسه قَالَ، أتيت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -
وَهُوَ نَازل بعكاظ فَقلت من مَعَك
তিনি যা উল্লেখ করেছেন তার বর্ণনার মাধ্যমে। সুতরাং যদি সে বলে: এটি তাঁর থেকে এবং অন্যদের থেকে বর্ণিত হয়েছে।
তাকে বলা হবে: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এর বিপরীত বর্ণিত হয়েছে -
সুতরাং আপনি যদি বর্ণনাগুলোর মাধ্যমে দলিল পেশ করেন, তবে যখন বর্ণনাগুলোর মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়, তখন তা অকার্যকর হয়ে যায়।১৭ - সুলাইমান ইবন আহমাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, বকর ইবন সাহল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবন সালিহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুআবিয়াহ ইবন সালিহ আবু ইয়াহইয়া সুলাইমান ইবন আমির, দামরাহ ইবন হাবিব এবং আবু তালহা নুআইম ইবন যিয়াদ থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন; তারা প্রত্যেকেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবী আবু উমামা আল-বাহিলি থেকে এটি শুনেছেন -
তিনি বলেন:আমি আমর ইবন আবাসা আস-সুলামীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট আসলাম "যখন তিনি" উকাজে অবস্থান করছিলেন। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, এই কাজে আপনার সাথে কে আছেন? তিনি বললেন: দুইজন লোক, আবু বকর ও বিলাল। ফলে আমি তখন ইসলাম গ্রহণ করলাম এবং নিজেকে ইসলামের চতুর্থ ব্যক্তি হিসেবে দেখলাম।
১৮ - আবু বকর ইবন মালিক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবন আহমাদ ইবন হাম্বল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াযিদ ইবন হারুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জারির ইবন উসমান ইবন সালিম ইবন আমির আমর ইবন আবাসা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট আসলাম -
যখন তিনি উকাজে অবস্থান করছিলেন, তখন আমি বললাম: আপনার সাথে কে আছেন?
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামাহ ওয়ার রাদ্দু আলাল রাফিদাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩১)
على هَذَا الْأَمر قَالَ: حر وَعبد، ومعنا أَبُو بكر وبلال.
19 - حَدثنَا سُلَيْمَان بن أَحْمد حَدثنِي أَحْمد بن خُلَيْد الْحلَبِي، حَدثنَا أَبُو تَوْبَة أَحْمد بن الرّبيع بن نَافِع حَدثنَا مُحَمَّد
… الْحر عَن عَمْرو بن عبسة قَالَ: أتيت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -
أول مَا بعث وَهُوَ يَوْمئِذٍ مستخف، فَقلت فَمن مَعَك على هَذَا الْأَمر قَالَ: حر وَعبد يَعْنِي أَبَا بكر وبلال.
20 - حَدثنَا أَبُو بكر بن مَالك حَدثنَا عبد الله بن أَحْمد بن حَنْبَل حَدثنِي أبي حَدثنَا مُحَمَّد بن جَعْفَر حَدثنَا شُعْبَة عَن يعلى بن عَطاء عَن يزِيد بن طلق عَن عبد الرَّحْمَن بن الْبَيْلَمَانِي عَن عَمْرو بن عبسة قَالَ: أتيت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -
فَقلت: يَا رَسُول الله من أسلم مَعَك؟ قَالَ: " حر وَعبد ".
21 - حَدثنَا أَحْمد بن مُحَمَّد بن أَحْمد حَدثنَا عبد الله بن مُحَمَّد بن شبرويه، حَدثنَا إِسْحَاق بن رَاهَوَيْه أخبرنَا أَبُو شامة، حَدثنَا هَاشم بن هَاشم قَالَ: سَمِعت سعيد بن الْمسيب يَقُول، سَمِعت سَعْدا يَقُول: مَا أسلم أحد فِي الْيَوْم الَّذِي أسلمت فِيهِ وَلَقَد مكثت سَبْعَة أَيَّام وَإِنِّي لثلث الْإِسْلَام.
এই বিষয়ের ওপর তিনি বললেন: একজন স্বাধীন ব্যক্তি এবং একজন দাস; এবং আমাদের সাথে আবু বকর ও বিলাল ছিলেন।
১৯ - সুলাইমান বিন আহমদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমদ বিন খুলাইদ আল-হালাবি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু তাওবাহ আহমদ বিন আর-রাবি বিন নাফি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ... আল-হুর আমর বিন আবাসাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট আসলাম
যখন তিনি প্রথম প্রেরিত হয়েছিলেন এবং সেদিন তিনি আত্মগোপনকারী ছিলেন। আমি বললাম, "এই বিষয়ের ওপর আপনার সাথে কে আছেন?" তিনি বললেন: "একজন স্বাধীন ব্যক্তি এবং একজন দাস," অর্থাৎ আবু বকর এবং বিলাল।২০ - আবু বকর বিন মালিক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ বিন আহমদ বিন হাম্বল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ বিন জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শু'বাহ ইয়া'লা বিন আতা থেকে, তিনি ইয়াজিদ বিন তালক থেকে, তিনি আব্দুর রহমান বিন আল-বাইলামানি থেকে, তিনি আমর বিন আবাসাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট আসলাম এবং
বললাম: "হে আল্লাহর রাসূল, আপনার সাথে কে ইসলাম গ্রহণ করেছেন?" তিনি বললেন: "একজন স্বাধীন ব্যক্তি এবং একজন দাস।" ২১ - আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন শুবরাওয়াইহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসহাক বিন রাহওয়াইহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু শামাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হাশিম বিন হাশিম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি সাঈদ বিন আল-মুসায়্যিবকে বলতে শুনেছি, আমি সাদকে বলতে শুনেছি: আমি যে দিনে ইসলাম গ্রহণ করেছি সেদিন আর কেউ ইসলাম গ্রহণ করেনি। আমি সাত দিন পর্যন্ত অতিবাহিত করেছি এমতাবস্থায় যে আমি ছিলাম ইসলামের এক-তৃতীয়াংশ।
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামাহ ওয়ার রাদ্দু আলাল রাফিদাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩২)
فَإِن احْتج بالموضوعات فِي أَخْبَار الروافض:
قيل لَهُ: إِن اعتللت بذلك الزمناك قبُول أخبارهم وَمَا يَرْوُونَهُ فِي مثل الشِّيعَة، وَأَنَّهُمْ مشتركون وَغير ذَلِك من الْأَخْبَار الَّتِي لَا ثُبُوت لَك وَلَا لغيرك فِيهَا، وَيُقَال لَهُ: مَا هَذِه الْأَخْبَار الَّتِي تحتج بهَا الشِّيعَة؟ .
فَإِن قَالَ: أوصى إِلَيْهِ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -
وعهد إِلَيْهِ، وَأَنه القَاضِي لدينِهِ والقائم بعهده، الْمُنجز موعده، وَمَا شاكله من موضوعاتهم وأباطيلهم.قيل لَهُ: قد رُوِيَ من الْوُجُوه المرتضى خِلَافه وَذَلِكَ:22 - مَا حدّثنَاهُ الطلحي حَدثنَا عبيد بن غَنَّام حَدثنَا أَبُو بكر بن أبي شيبَة حَدثنِي عبد الله بن نمير، وَأَبُو مُعَاوِيَة، عَن الْأَعْمَش عَن شَقِيق، عَن مَسْرُوق، عَن عَائِشَة رضي الله عنها وَعَن أَبِيهَا قَالَت:
وَمَا ترك رَسُول الله درهما وَلَا دِينَارا وَلَا شَاة وَلَا بَعِيرًا وَلَا أوصى بِشَيْء.
23 - حَدثنَا أَبُو إِسْحَاق بن حَمْزَة، وحبِيب بن الْحسن، قَالَا: حَدثنَا
যদি রাফেজিদের বর্ণনার জাল বিষয়গুলো নিয়ে দলিল পেশ করা হয়:
তাকে বলা হবে: যদি তুমি সেগুলো দিয়ে অজুহাত দাও, তবে আমরা তোমাকে তাদের সেইসব বর্ণনা গ্রহণ করতে বাধ্য করব যা তারা শিয়াদের মতো ব্যক্তিদের সম্পর্কে বর্ণনা করে, এবং তারা যে শরীক (অংশীদার) ছিল এবং এ জাতীয় অন্যান্য বর্ণনা যেগুলোর কোনো ভিত্তি তোমার কাছে নেই আর অন্য কারো কাছেও নেই। তাকে আরও বলা হবে: এই বর্ণনাগুলো কী যা দিয়ে শিয়ারা দলিল পেশ করে?
যদি সে বলে: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার প্রতি অসিয়ত করেছেন -
এবং তাকে দায়িত্ব দিয়েছেন, আর তিনি তার দ্বীনের ফয়সালাকারী, তার অঙ্গীকার পূর্ণকারী, তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নকারী এবং তাদের এই জাতীয় অন্যান্য জাল ও বাতিল কথাগুলো।তাকে বলা হবে: গ্রহণযোগ্য সূত্রসমূহ থেকে এর বিপরীতটি বর্ণিত হয়েছে, আর তা হলো:২২ - তালহি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উবাইদ বিন গান্নাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু বকর বিন আবি শায়বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ বিন নুমাইর এবং আবু মুআবিয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমাশ থেকে, তিনি শাকীক থেকে, তিনি মাসরুক থেকে, তিনি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) এবং তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোনো দিরহাম, কোনো দিনার, কোনো বকরি কিংবা কোনো উট রেখে যাননি এবং তিনি কোনো কিছুর অসিয়ত করেননি।
২৩ - আবু ইসহাক বিন হামজাহ এবং হাবীব বিন হাসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তারা উভয়ে বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামাহ ওয়ার রাদ্দু আলাল রাফিদাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩৩)
يُوسُف القَاضِي، حَدثنَا عَمْرو بن مَرْزُوق، حَدثنَا مَالك بن مغول عَن طَلْحَة بن مصرف قَالَ:
سَأَلت عبد الله بن أبي أوفى هَل كَانَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -
أوصى؟ قَالَ: لَا.قلت: فَكتب على الْمُسلمين أَو أَمر الْمُسلمين بِالْوَصِيَّةِ وَلم يوص. قَالَ: أوصى بِكِتَاب الله.قَالَ: فَقَالَ هزيل (أَبُو بكر) كَانَ يتأمر على وَصِيّ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -، يود أَبُو بكر أَنه وجد عهدا؛ من رَسُول الله فخزم أَنفه بخزام " ثَنَا " عَلَيْهِ لوَصِيَّة رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ - ".
ইউসুফ আল-কাদি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমর ইবনে মারজুক, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মালিক ইবনে মিগওয়াল, তালহা ইবনে মুসাররিফ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
আমি আবদুল্লাহ ইবনে আবু আওফাকে জিজ্ঞাসা করলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি -
কোনো ওসিয়ত করেছিলেন? তিনি বললেন: না।আমি বললাম: তবে তিনি মুসলিমদের ওপর ওসিয়ত লিখে দিয়েছেন অথবা মুসলিমদের ওসিয়ত করার আদেশ করেছেন, অথচ তিনি নিজে ওসিয়ত করেননি? তিনি বললেন: তিনি আল্লাহর কিতাবের ওসিয়ত করেছেন।তিনি বলেন: তখন হুযাইল বললেন, (আবু বকর) কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওসীর ওপর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন? সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -, আবু বকর আকাঙ্ক্ষা করতেন যে যদি তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকে কোনো অঙ্গীকার পেতেন, তবে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সেই ওসিয়তের কারণে "আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন" সে অনুযায়ী নিজের নাকে লাগাম পরিয়ে তা মেনে নিতেন।