(খণ্ড: ১) আল-হুজ্জাতু ফী বায়ানিল মাহাজ্জাহ (পৃষ্ঠা: -)
الحجة في بيان المحجة   (إسماعيل التيمي الأصبهاني)

القسم: كتب السنة

الكتاب: الحجة في بيان المحجة وشرح عقيدة أهل السنة

المؤلف: إسماعيل بن محمد بن الفضل بن علي القرشي الطليحي التيمي الأصبهاني، أبو القاسم، الملقب بقوام السنة (ت 535 هـ)

المحقق: محمد بن ربيع بن هادي عمير المدخلي [جـ 1]- محمد بن محمود أبو رحيم [جـ 2]

الناشر: دار الراية - السعودية / الرياض

الطبعة: الثانية، 1419 هـ - 1999 م

عدد الأجزاء: 2

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-হুজ্জাহ ফি বায়ানিল মাহাজ্জাহ   (ইসমাইল আত-তাইমি আল-আসবাহানি)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ

কিতাব: আল-হুজ্জাহ ফি বায়ানিল মাহাজ্জাহ ওয়া শারহু আকিদাতি আহলিস সুন্নাহ

লেখক: ইসমাইল বিন মুহাম্মদ বিন আল-ফজল বিন আলি আল-কুরাশি আত-তালিহি আত-তাইমি আল-আসবাহানি, আবু আল-কাসিম, কাওয়ামুস সুন্নাহ উপাধিতে ভূষিত (মৃত্যু ৫৩৫ হিজরি)

সম্পাদক: মুহাম্মদ বিন রবি বিন হাদি উমাইর আল-মাদখালি [১ম খণ্ড]- মুহাম্মদ বিন মাহমুদ আবু রহিম [২য় খণ্ড]

প্রকাশক: দারুর রায়াহ - সৌদি আরব / রিয়াদ

সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪১৯ হিজরি - ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ২

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-হুজ্জাতু ফী বায়ানিল মাহাজ্জাহ (পৃষ্ঠা: ৯৩)
‌‌بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم

 

الْحَمد لله الَّذِي أبان معالم الْحق فأوضحها، وأنار مناهج الدّين فبينها، وَأنزل الْقُرْآن فصرف فِيهِ الْحجَج، وَأرْسل مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم َ -‌‌ فَقطع بِهِ الْعذر، فَبلغ الرَّسُول وَبَالغ واجتهد وجاهد، وَبَين للْأمة السَّبِيل، وَشرع لَهُم الطَّرِيق لِئَلَّا يَقُولُوا: مَا جَاءَنَا من بشير وَلَا نَذِير، ولينذر من كَانَ حَيا ويحق الْحق على الْكَافرين، وَإِلَى الله أَرغب فِي حسن التَّوْفِيق لما يقرب إِلَيْهِ من صَوَاب القَوْل وَالْفِعْل، وأستعفيه من الْخَطَأ والزلل إِنَّه ولي الْعِصْمَة والتوفيق، وَبِيَدِهِ الْهِدَايَة والتسديد.

وَحين رَأَيْت قوام الْإِسْلَام بالتمسك بِالسنةِ، وَرَأَيْت الْبِدْعَة قد كثرت، والوقيعة فِي أهل السّنة قد فَشَتْ، وَرَأَيْت اتِّبَاع السّنة عِنْد قوم نقيضة،
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

 

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সত্যের নিদর্শনসমূহ প্রকাশ করেছেন এবং তা সুস্পষ্ট করেছেন, এবং দ্বীনের পথসমূহকে আলোকিত করেছেন ও তা বর্ণনা করেছেন, এবং কুরআন নাযিল করেছেন যাতে বিবিধ দলিল-প্রমাণ পেশ করেছেন, এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে প্রেরণ করেছেন—যাতে তাঁর মাধ্যমে ওজর-আপত্তির পথ বন্ধ হয়ে যায়। অতঃপর রাসূল (সা.) রিসালাতের বাণী পৌঁছে দিয়েছেন, এবং তিনি চূড়ান্ত প্রচেষ্টা, পরিশ্রম ও জিহাদ করেছেন। তিনি উম্মতের জন্য সঠিক পথ সুস্পষ্ট করেছেন এবং তাদের জন্য বিধান বিধিবদ্ধ করেছেন, যাতে তারা বলতে না পারে: "আমাদের নিকট কোনো সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী আসেনি।" আর যাতে তিনি জীবিতদের সতর্ক করতে পারেন এবং কাফেরদের বিরুদ্ধে সত্য সাব্যস্ত হয়। আমি আল্লাহর কাছে সেই উত্তম তাওফীক কামনা করি যা সঠিক কথা ও কাজের মাধ্যমে তাঁর নৈকট্য লাভে সহায়ক হয়, এবং আমি তাঁর কাছে ভুল ও পদস্খলন থেকে নিরাপত্তা চাইছি। নিশ্চয়ই তিনি সুরক্ষা ও তাওফীকের অধিকারী, এবং আল্লাহর হাতেই রয়েছে হিদায়াত ও সঠিক পথপ্রদর্শন।

যখন আমি দেখলাম যে সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার মাধ্যমেই ইসলামের স্থায়িত্ব এবং আমি দেখলাম যে বিদআত বৃদ্ধি পেয়েছে ও আহলুস সুন্নাহর সমালোচনা ছড়িয়ে পড়েছে, আর একদল লোকের নিকট সুন্নাহর অনুসরণ করা দোষের বিষয় হিসেবে গণ্য হচ্ছে,
(খণ্ড: ১) আল-হুজ্জাতু ফী বায়ানিল মাহাজ্জাহ (পৃষ্ঠা: ৯৪)
والخوض فِي الْكَلَام دَرَجَة رفيعة، رَأَيْت أَن أملي كتابا فِي السّنة يعْتَمد عَلَيْهِ من قصد الِاتِّبَاع وجانب الابتداع، وَأبين فِيهِ اعْتِقَاد أَئِمَّة السّلف، وَأهل السّنة فِي الْأَمْصَار، والراسخين فِي الْعلم فِي الأقطار، ليلزم الْمَرْء اتِّبَاع الْأَئِمَّة الماضين، ويجانب طَريقَة المبتدعين، وَيكون من صالحي الْخلف لصالحي السّلف، (وسميته كتاب " الْحجَّة فِي بَيَان المحجة وَشرح التَّوْحِيد وَمذهب أهل السّنة) . أعاذنا الله من مُخَالفَة السّنة وَلُزُوم الابتداع، وَجَعَلنَا مِمَّن يلْزم طَرِيق الِاتِّبَاع وَصلى الله على مُحَمَّد أفضل صَلَاة وأزكاها وأطيبها وأنماها، وَأَحْيَانا على مِلَّته، وأماتنا على سنته، وحشرنا فِي زمرته، إِنَّه الْمُنعم الْوَهَّاب.

কালাম বা শাস্ত্রীয় আলোচনায় নিমগ্ন হওয়া একটি উচ্চতর পর্যায়; আমি সংকল্প করলাম যে সুন্নাহর বিষয়ে এমন একটি গ্রন্থ শ্রুতিলিখন করাব, যার ওপর ওই ব্যক্তি নির্ভর করবে যে অনুসরণের সংকল্প করেছে এবং বিদআত বর্জন করেছে। আমি এতে সালাফ ইমামগণের, বিভিন্ন জনপদের আহলুস সুন্নাহর এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ইলমে সুগভীর প্রজ্ঞাসম্পন্ন আলেমদের আকিদা বা বিশ্বাস বর্ণনা করব; যাতে ব্যক্তি পূর্ববর্তী ইমামগণের অনুসরণ করা আবশ্যক করে নেয় এবং বিদআতীদের পথ পরিহার করে, আর এভাবে সে পুণ্যবান সালাফদের জন্য একজন পুণ্যবান উত্তরসূরি হতে পারে। (আমি এর নামকরণ করেছি "কিতাবুল হুজ্জাহ ফি বায়ানিল মাহাজ্জাহ ওয়া শারহিত তাওহিদ ওয়া মাজহাবি আহলিস সুন্নাহ")। আল্লাহ আমাদের সুন্নাহর বিরোধিতা এবং বিদআত আঁকড়ে ধরা থেকে রক্ষা করুন এবং আমাদের তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন যারা অনুসরণের পথ সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে। আল্লাহ মুহাম্মাদের ওপর সর্বোত্তম, পবিত্রতম, উৎকৃষ্টতম এবং ক্রমবর্ধমান সালাত বর্ষণ করুন। তিনি আমাদের তাঁর আদর্শের ওপর জীবিত রাখুন, তাঁর সুন্নাহর ওপর মৃত্যু দান করুন এবং তাঁর দলের অন্তর্ভুক্ত করে আমাদের পুনরুত্থিত করুন; নিশ্চয়ই তিনি পরম অনুগ্রহকারী ও মহা দাতা।

(খণ্ড: ১) আল-হুজ্জাতু ফী বায়ানিল মাহাজ্জাহ (পৃষ্ঠা: ৯৫)
‌‌بَابٌ فِي التَّوْحِيدٍ

 

‌‌1 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَمْرٍو عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ أَنا وَالِدِي أَنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ نَا أَبُو مَسْعَودٍ أَحْمَدُ بْنُ الْفُرَاتِ أَنا أَبُو مَعْمَرٍ عَبْدُ اللَّهِ ابْنُ عَمْرٍو نَا عَبْدُ الْوَارِثِ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنِي حُسَيْنٌ الْمُعَلِّمُ حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بُرَيْدَةَ عَنْ يَحْيَى بْنِ يَعْمُرَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -‌‌ كَانَ يَقُولُ: " اللَّهُمَّ لَكَ أَسْلَمْتُ وَبِكَ آمَنْتُ وَعَلَيْكَ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْكَ أَنَبْتُ وَبِكَ خَاصَمْتُ، أَعُوذُ بِعِزَّتِكَ لَا إِلَهَ إِلا أَنْتَ أَنْ تُضِلَّنِي أَنْتَ الْحَيُّ الَّذِي لَا تَمُوتُ وَالْجِنُّ وَالإِنْسُ يموتون ".
‌‌তওহীদ অধ্যায়

 

‌‌১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আমর আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার পিতা, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ ইবনে ইব্রাহিম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মাসউদ আহমদ ইবনুল ফুরাত, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মা’মার আব্দুল্লাহ ইবনে আমর, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল ওয়ারিস ইবনে সাঈদ, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন হুসাইন আল-মুয়াল্লিম, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে বুরাইদাহ, ইয়াহইয়া ইবনে ইয়া’মুর থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতেন: ‌‌ "হে আল্লাহ, আপনার নিকটই আমি আত্মসমর্পণ করেছি, আপনার প্রতিই ঈমান এনেছি, আপনার ওপরই ভরসা করেছি, আপনার দিকেই রুজু করেছি এবং আপনার সাহায্যেই বিতর্ক করেছি। আমি আপনার সম্মানের অসীলায় আশ্রয় প্রার্থনা করছি—আপনি ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই—যাতে আপনি আমাকে বিভ্রান্ত না করেন। আপনিই সেই চিরঞ্জীব যিনি মৃত্যুবরণ করবেন না, আর জিন ও মানুষ মৃত্যুবরণ করবে।" ‌
(খণ্ড: ১) আল-হুজ্জাতু ফী বায়ানিল মাহাজ্জাহ (পৃষ্ঠা: ৯৬)
‌‌2 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَمْرٍو أَنا وَالِدِي أَنا خَيْثَمَةُ بن سُلَيْمَان ثَنَا مُحَمَّد بن عَوْف ابْن سُفْيَانَ نَا أَبُو الْمُغِيرَةِ عَبْدُ الْقُدُّوسِ بْنُ الْحَجَّاجِ نَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي مَرْيَمَ عَنْ ضَمْرَةَ بْنِ حَبِيبٍ عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ رضي الله عنه أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ -‌‌ كَانَ يَدْعُو فَيَقُولُ: " أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلا أَنْتَ وَحْدَكَ لَا شَرِيكَ لَكَ، لَكَ الْمُلْكُ وَلَكَ الْحَمْدُ، وَأَنْتَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُكَ وَرَسُولُكَ، وَأَشْهَدُ أَنَّ وَعْدَكَ حَقٌّ وَلِقَاءَكَ حَقٌّ، وَالسَّاعَةَ آتِيَةٌ لَا رَيْبَ فِيهَا، وَأَنَّكَ تَبْعَثُ مَنْ فِي الْقُبُورِ ".

‌‌3 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَمْرٍو أَنا وَالِدِي حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ صَالِحٍ وَغَيْرُهُ قَالا: نَا أَبُو زُرْعَةَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَمْرٍو ثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ نَا خَلَفُ بْنُ خَلِيفَةَ، عَنْ حَفْصِ بْنِ عَمْرٍو ابْنِ أَخِي أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رضي الله عنه قَالَ: " كنت جَالِسا مَعَ النَّبِي فِي الْمَسْجِدِ. إِذْ دَخَلَ رَجُلٌ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ قَالَ: " اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ بِأَنَّ لَكَ الْحَمْدَ لَا إِلَهَ إِلا أَنْتَ الْمَنَّانُ بَدِيعُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ يَا ذَا الْجَلالِ وَالإِكْرَامِ يَا حَيّ يَا قيوم، فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ - "‌‌ لَقَدْ دَعَا اللَّهَ بِاسْمِهِ الَّذِي إِذَا دُعِيَ بِهِ أَجَابَ، وَإِذَا سُئِلَ بِهِ أَعْطَى ".
২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আমর, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার পিতা, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন খাইসামাহ বিন সুলাইমান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন আওফ ইবনে সুফিয়ান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-মুগীরাহ আব্দুল কুদ্দুস ইবনুল হাজ্জাজ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর বিন আবি মারইয়াম, তিনি দামরাহ বিন হাবীব থেকে, তিনি আবু আদ-দারদা থেকে, তিনি যায়িদ বিন সাবিত (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) - দোয়া করতেন এবং বলতেন: "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, আপনি একক, আপনার কোনো শরিক নেই, রাজত্ব আপনারই এবং সকল প্রশংসা আপনারই, আর আপনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আপনার বান্দা ও রাসুল। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনার প্রতিশ্রুতি সত্য, আপনার সাথে সাক্ষাৎ সত্য, কিয়ামত নিশ্চিতভাবে আসবে—এতে কোনো সন্দেহ নেই এবং আপনি কবরে শায়িতদের পুনরুত্থিত করবেন।" .

৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আমর, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার পিতা, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম বিন সালিহ ও অন্যান্যরা, তারা উভয়ে বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু যুরআহ আব্দুর রহমান বিন আমর, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাঈদ বিন মানসুর, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন খালাফ বিন খলিফাহ, তিনি হাফস বিন আমর (আনাস বিন মালিকের ভ্রাতুষ্পুত্র) থেকে, তিনি আনাস বিন মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আমি মসজিদে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে বসে ছিলাম। এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি প্রবেশ করল এবং দুই রাকাত সালাত আদায় করল, অতঃপর বলল: 'হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট প্রার্থনা করছি এই উসিলায় যে, সকল প্রশংসা আপনারই, আপনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, আপনি পরম দাতা, আসমান ও জমিনের অতুলনীয় স্রষ্টা, হে মহিমা ও সম্মানের অধিকারী, হে চিরঞ্জীব, হে মহাবিশ্বের ধারক।' তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন - সে আল্লাহকে তাঁর সেই নামে ডেকেছে, যে নামে ডাকলে তিনি সাড়া দেন এবং যা দিয়ে চাইলে তিনি দান করেন। "
(খণ্ড: ১) আল-হুজ্জাতু ফী বায়ানিল মাহাজ্জাহ (পৃষ্ঠা: ৯৭)
‌‌4 - أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ الْحَسَنُ بْنُ أَحْمَدَ السَّمَرْقَنْدِيُّ الْحَافِظ نَا عبد الصَّمد ابْن نصر العاصمي أَنا أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عُمَرَ الْبُحَيْرِي نَا أَحْمد ابْن عَبْدِ الرَّحْمَنِ نَا عَمِّي حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِلالٍ أَنَّ أَبَا الرِّجَالِ حَدَّثَهُ عَنْ أُمِّهِ عَمْرَةَ عَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ -‌‌ بَعَثَ رَجُلا عَلَى سَرِيَّةٍ فَكَانَ يَقْرَأُ لأَصْحَابِهِ فِي صلَاتهم فيختم بقل هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ فَلَمَّا رَجَعُوا ذَكَرُوا ذَلِكَ لرَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -، فَقَالَ: سَلَوهُ لأَيِّ شَيْءٍ
৪ - হাফেজ আবু মুহাম্মদ হাসান বিন আহমদ সমরকান্দি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুস সামাদ ইবনে নাসর আল-আসেমি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উমর আল-বুহাইরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমদ ইবনে আবদুর রহমান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আমার চাচা আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, আমর ইবনুল হারিস আমার কাছে বর্ণনা করেছেন সাঈদ ইবনে আবি হিলাল থেকে, আবুুর রিজাল তাঁর কাছে বর্ণনা করেছেন তাঁর মা আমরাহ থেকে, তিনি আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - এক ব্যক্তিকে একটি ক্ষুদ্র বাহিনীর অভিযানে পাঠালেন। তিনি তাঁর সঙ্গীদের সালাতে ইমামতি করার সময় কিরাত পড়তেন এবং ‘কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ’ (সুরা ইখলাস) দিয়ে শেষ করতেন। যখন তাঁরা ফিরে আসলেন, তখন তাঁরা আল্লাহর রাসুলের নিকট বিষয়টি উল্লেখ করলেন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -। তখন তিনি বললেন: তাকে জিজ্ঞাসা করো, সে কেন এমনটি করত?
(খণ্ড: ১) আল-হুজ্জাতু ফী বায়ানিল মাহাজ্জাহ (পৃষ্ঠা: ৯৮)
يَصْنَعُ ذَلِكَ فَسَأَلُوهُ فَقَالَ: لأَنَّهَا صِفَةُ الرَّحْمَنِ فَأَنَا أُحِبُّ أَنْ أَقْرَأَ بِهَا. قَالَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم َ -‌‌ أَخْبِرُوهُ أَنَّ اللَّهَ يُحِبُّهُ ".

‌‌5 - أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ الْحَسَنُ أَنا عَبْدُ الصَّمَدِ نَا أَبُو الْعَبَّاسِ الْبَحِيرِيُّ نَا أَبُو حَفْصٍ الْبَحِيرِيُّ نَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ نَا وَكِيعٌ وَعَبْدُ الأَعْلَى وَأَبُو عَاصِمٍ قَالُوا: أَنا زَكَرِيَّا بْنُ إِسْحَاقَ الْمَكِّيُّ عَنْ يَحْيَى بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ صَيْفِيٍّ عَنْ أَبِي مَعْبَدٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنه أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ -‌‌ بَعَثَ مُعَاذًا إِلَى الْيَمَنِ فَقَالَ: " إِنَّكَ تَأْتِي أَهْلَ كِتَابٍ فَادْعُهُمْ إِلَى شَهَادَةِ أَنْ لَا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَأَنَّ
তিনি এমনটি করতেন, তাই তাঁরা তাঁকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি বললেন: "কারণ এটি দয়াময়ের (রহমানের) গুণাবলি বর্ণনা করে, তাই আমি এটি পাঠ করতে ভালোবাসি।" আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন -‌‌ তাঁকে জানিয়ে দাও যে, আল্লাহ তাঁকে ভালোবাসেন ".

‌‌৫ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মাদ আল-হাসান, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুস সামাদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল আব্বাস আল-বাহিরি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু হাফস আল-বাহিরি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমর ইবনে আলী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ওয়াকি, আবদুল আ’লা এবং আবু আসিম; তাঁরা বললেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন জাকারিয়া ইবনে ইসহাক আল-মাক্কি, ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে সাইফি থেকে, তিনি আবু মা’বাদ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -‌‌ মুআযকে ইয়ামেনে প্রেরণ করেছিলেন এবং বলেছিলেন: "নিশ্চয়ই তুমি আহলে কিতাবদের একটি সম্প্রদায়ের নিকট যাচ্ছ, সুতরাং তুমি তাদের এই সাক্ষ্য দেওয়ার প্রতি আহ্বান জানাবে যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং নিশ্চয়ই...
(খণ্ড: ১) আল-হুজ্জাতু ফী বায়ানিল মাহাজ্জাহ (পৃষ্ঠা: ৯৯)
مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، فَإِنْ هُمْ أَطَاعُوا لَكَ بِذَلِكَ فَأَعْلِمْهُمْ أَنَّ اللَّهَ تَعَالَى افْتَرَضَ عَلَيْهِمْ خَمْسَ صَلَوَاتٍ فِي كُلِّ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ، فَإِنْ هُمْ أَطَاعُوا لَكَ بِذَلِكَ فَأَعْلِمْهُمْ أَنَّ اللَّهَ تَعَالَى افْتَرَضَ عَلَيْهِمْ صَدَقَةً فِي أَمْوَالِهِمْ تُؤْخَذُ مِنْ أَغْنِيَائِهِمْ فَتُرَدُّ عَلَى فُقَرَائِهِمْ، فَإِنْ هُمْ أَطَاعُوا لَكَ بِذَلِكَ فَإِيَّاكَ وَكَرَائِمَ أَمْوَالِهِمْ، وَاتَّقِ دَعْوَةَ الْمَظْلُومِ فَإِنَّهُ لَيْسَ بَيْنَهَا وَبَيْنَ اللَّهِ حِجَابٌ ".

‌‌6 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَمْرِو بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، أَنا وَالِدِي، أَنا مُحَمَّد ابْن مُحَمَّدِ بْنِ يُونُسَ حَدَّثَنَا أُسَيْدُ بْنُ عَاصِمٍ، نَا أَبُو سُفْيَان صَالح ابْن مِهْرَانَ، نَا النُّعْمَانُ بْنُ عَبْدِ السَّلامِ، نَا مَالِكُ بْنُ مِغْوَلٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ عَنْ أَبِيهِ رضي الله عنه " أَنَّ النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ -‌‌ سَمِعَ رَجُلا يَقُولُ: اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ بِأَنَّكَ لَا إِلَهَ إِلا أَنْتَ الأَحَدُ الصَّمَدُ (الَّذِي) لَمْ تَلِدْ وَلَمْ تُوْلَدْ وَلَمْ يَكُنْ لَكَ كفوا أحد فَقَالَ
মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল। যদি তারা আপনার এই আহ্বানে আনুগত্য করে, তবে তাদের জানিয়ে দিন যে, আল্লাহ তাআলা তাদের ওপর প্রতি দিন ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেছেন। যদি তারা এতেও আনুগত্য প্রকাশ করে, তবে তাদের জানিয়ে দিন যে, আল্লাহ তাআলা তাদের সম্পদের ওপর সদকা (জাকাত) ফরজ করেছেন, যা তাদের ধনীদের থেকে গ্রহণ করা হবে এবং তাদের দরিদ্রদের মাঝে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। যদি তারা এই নির্দেশ মেনে নেয়, তবে তাদের শ্রেষ্ঠ ও পছন্দনীয় সম্পদসমূহ গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকবেন। আর মজলুমের বদদোয়াকে ভয় করুন, কেননা তার ও আল্লাহর মাঝে কোনো পর্দা নেই।

‌‌৬ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আমর ইবন আবদিল ওয়াহহাব ইবন মুহাম্মাদ ইবন ইসহাক, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার পিতা, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন ইউনুস, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন উসাইদ ইবন আসিম, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু সুফিয়ান সালিহ ইবন মিহরান, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন নুমান ইবন আবদিস সালাম, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মালিক ইবন মিগওয়াল, তিনি আবদুল্লাহ ইবন বুরাইদাহ থেকে, আর তিনি তার পিতা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক ব্যক্তিকে বলতে শুনলেন: "হে আল্লাহ, আমি আপনার নিকট প্রার্থনা করছি এই উসিলায় যে, নিশ্চয়ই আপনিই আল্লাহ, আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, আপনি একক, অমুখাপেক্ষী, যিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং যাকেও জন্ম দেওয়া হয়নি, আর আপনার সমকক্ষ কেউ নেই।" তখন তিনি (নবী) বললেন
(খণ্ড: ১) আল-হুজ্জাতু ফী বায়ানিল মাহাজ্জাহ (পৃষ্ঠা: ১০০)
رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -: "‌‌ لَقَدْ دَعَا اللَّهَ بِاسْمِهِ الَّذِي إِذَا دُعِيَ بِهِ أَجَابَ، وَإِذَا سُئِلَ بِهِ أَعْطَى ".

‌‌7 - أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ الصَّابُونِيُّ أَنا عَبْدُ الْغَافِرِ الْفَارِسِيُّ، نَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى، نَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سُفْيَانَ، نَا مُسْلِمٌ حَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، نَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ عَنْ أَبِي مَالِكٍ عَنْ أَبِيهِ أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم َ -‌‌ يَقُولُ: " مَنْ وَحَّدَ اللَّهَ - وَفِي رِوَايَةِ مَرْوَانَ عَنْ أَبِي مَالِكٍ مَنْ قَالَ: لَا إِلَهَ إِلا اللَّهُ - وَكَفَرَ بِمَا يُعْبَدُ مِنْ دُونِ اللَّهِ حَرُمَ مَالُهُ وَدَمُهُ وَحِسَابُهُ عَلَى اللَّهِ ".
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -: "‌‌ নিশ্চয়ই সে আল্লাহকে তাঁর এমন এক নামে ডেকেছে, যে নামে ডাকলে তিনি সাড়া দেন এবং যা দ্বারা তাঁর নিকট প্রার্থনা করলে তিনি দান করেন। ".

‌‌৭ - আবু বকর আস-সাবুনী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবদুল গাফির আল-ফারিসী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইব্রাহীম ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুসলিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, যুহাইর ইবনে হারব আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইয়াজিদ ইবনে হারুন আবু মালিক থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: "‌‌ যে ব্যক্তি আল্লাহর একত্ববাদ ঘোষণা করল — এবং মারওয়ানের বর্ণনায় আবু মালিক থেকে (এভাবে এসেছে): যে ব্যক্তি বলল: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই — এবং আল্লাহ ব্যতীত অন্য যাদের ইবাদত করা হয় তাদের অস্বীকার করল, তার ধন-সম্পদ ও রক্ত (হানি করা) হারাম হয়ে গেল এবং তার হিসাবের ভার আল্লাহর ওপর। ".
(খণ্ড: ১) আল-হুজ্জাতু ফী বায়ানিল মাহাজ্জাহ (পৃষ্ঠা: ১০১)
‌‌فَصْلٌ

 

‌‌[فِي الإِيمَانِ بِصِفَاتِ اللَّهِ وَالْفَرْقِ بَيْنَ صِفَاتِ الْخَالِقِ وَالْمَخْلُوقِ]

 

قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ رحمه الله:

" إِنَّ الأَخْبَارَ فِي صِفَاتِ اللَّهِ عز وجل جَاءَتْ مُتَوَاتِرَةً عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ -‌‌ مُوَافِقَةً لِكِتَابِ اللَّهِ عز وجل، فَنَقَلَهَا الْخَلَفُ عَنِ السَّلَفِ قَرْنًا بَعْدَ قَرْنٍ مِنْ لَدُنِ الصَّحَابَةِ وَالتَّابِعِينَ إِلَى عَصْرِنَا هَذَا عَلَى سَبِيلِ إِثْبَاتِ الصِّفَاتِ لِلَّهِ وَالْمَعْرِفَةِ وَالإِيمَانِ بِهِ، وَالتَّسْلِيمِ لِمَا أَخْبَرَ اللَّهُ بِهِ فِي تَنْزِيلِهِ وَبَيَّنَهُ الرَّسُولُ عَنْ كِتَابِهِ مَعَ اجْتِنَابِ التَّأْوِيلِ وَالْجُحُودِ وَترك التَّمْثِيل
পরিচ্ছেদ

 

‌[আল্লাহর গুণাবলীতে বিশ্বাস এবং স্রষ্টা ও সৃষ্টির গুণাবলীর মধ্যে পার্থক্য প্রসঙ্গে]

 

আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:

"নিশ্চয়ই মহান আল্লাহর গুণাবলী সম্পর্কিত বর্ণনাগুলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে মুতাওয়াতির সূত্রে বর্ণিত—‌যা মহান আল্লাহর কিতাবের সাথে সংগতিপূর্ণ। সাহাবী ও তাবিঈদের সময় থেকে আমাদের এই যুগ পর্যন্ত পরবর্তী প্রজন্মগুলো পূর্ববর্তী প্রজন্মের নিকট থেকে যুগের পর যুগ ধরে এগুলো বর্ণনা করে আসছেন। এই বর্ণনাগুলো আল্লাহর গুণাবলী সাব্যস্ত করা, সে সম্পর্কে জ্ঞান লাভ ও তাতে ঈমান আনা এবং আল্লাহ তাঁর অবতীর্ণ কিতাবে যা সংবাদ দিয়েছেন ও রাসূল তাঁর কিতাব থেকে যা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন তার প্রতি আত্মসমর্পণের ভিত্তিতে বর্ণিত হয়েছে; এক্ষেত্রে অপব্যাখ্যা, অস্বীকার এবং সাদৃশ্য প্রদান বর্জন করা হয়েছে।"
(খণ্ড: ১) আল-হুজ্জাতু ফী বায়ানিল মাহাজ্জাহ (পৃষ্ঠা: ১০২)
وَالتَّكْيِيفِ، وَأَنَّهُ عز وجل أَزَلِيٌّ بِصِفَاتِهِ وَأَسْمَائِهِ الَّتِي وصف بهَا نَفسه وَوَصفه الرَّسُول صلى الله عليه وسلم َ -‌‌ غَيْر زَائِلَةٍ عَنْهُ وَلا كَائِنَة دُونَهُ، فَمَنْ جَحَدَ صِفَةً مِنْ صِفَاتِهِ بَعْدَ الثُّبُوتِ كَانَ بِذَلِكَ جَاحِدًا، وَمَنْ زَعَمَ أَنَّهَا مُحْدَثَةٌ لَمْ تَكُنْ ثُمَّ كَانَتْ عَلَى أَيِّ مَعْنًى تَأَوَّلَهُ دَخَلَ فِي حُكْمِ التَّشْبِيهِ بِالصِّفَاتِ الَّتِي هِيَ مُحْدَثَةٌ فِي الْمَخْلُوقِ زَائِلَة بِفَنَائِهِ غَيْرَ بَاقِيَةٍ وَذَلِكَ أَنَّ اللَّهَ عز وجل امْتَدَحَ نَفْسَهُ بِصِفَاتِهِ تَعَالَى، وَدَعَا
এবং স্বরূপ নির্ধারণ, আর নিশ্চয়ই তিনি (মহান ও প্রতাপশালী) তাঁর সেই সকল গুণাবলি ও নামসমূহ সহ অনাদি যার মাধ্যমে তিনি নিজেকে বিশেষিত করেছেন এবং রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে বিশেষিত করেছেন - যা তাঁর থেকে অপসৃত হওয়ার নয় এবং তাঁর সত্তা ব্যতিরেকে অস্তিত্বশীল নয়। সুতরাং যে ব্যক্তি (প্রমাণিত) হওয়ার পর তাঁর গুণাবলির কোনো একটিকে অস্বীকার করল, সে এর মাধ্যমে অস্বীকারকারী বলে গণ্য হবে। আর যে ব্যক্তি ধারণা করল যে এগুলো নবসৃষ্ট, যা আগে ছিল না অতঃপর অস্তিত্ব লাভ করেছে—সে যে অর্থেই এর ব্যাখ্যা করুক না কেন—সে ঐ সকল গুণের সাথে সাদৃশ্য স্থাপনের (তাশবিহ) বিধানের অন্তর্ভুক্ত হবে যা সৃষ্টির মধ্যে নবসৃষ্ট এবং সৃষ্টির বিনাশের সাথে যা বিলুপ্ত হয়ে যায় ও অবশিষ্ট থাকে না। আর তা এই কারণে যে, আল্লাহ (মহান ও প্রতাপশালী) নিজের প্রশংসা করেছেন তাঁর সুউচ্চ গুণাবলি দ্বারা, এবং তিনি আহ্বান করেছেন...
(খণ্ড: ১) আল-হুজ্জাতু ফী বায়ানিল মাহাজ্জাহ (পৃষ্ঠা: ১০৩)
عباده إِلَى مدحه بذلك، وَصدق الْمُصْطَفى صلى الله عليه وسلم َ -،‌‌ وَبَيَّنَ مُرَادَ اللَّهِ فِيمَا أَظْهَرَ لِعِبَادِهِ مِنْ ذِكْرِ نَفْسِهِ وَأَسْمَائِهِ وَصِفَاتِهِ فَقَالَ، " كَتَبَ رَبُّكُمْ على نَفسه الرَّحْمَة ".

وَقَالَ النَّبِي
صلى الله عليه وسلم َ - قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: " إِنِّي حَرَّمْتُ الظُّلْمَ عَلَى نَفسِي "، وَقَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ -‌‌ بَيَانًا لِقَوْلِهِ:

‌‌9 - " إِنَّ اللَّهَ كَتَبَ كِتَابًا عَلَى نَفْسِهِ فَهُوَ عِنْدَهُ، إِنَّ رَحْمَتِي غَلَبَتْ غَضَبِي ".

فَبَيَّنَ مُرَادُ اللَّهِ تَعَالَى فِيمَا أَخْبَرَ عَنْ نَفْسِهِ، وَبَيَّنَ أَنَّ نَفسهُ قَدِيمٌ غَيْر فَانٍ، وَأَنَّ ذَاتَهُ لَا يُوصَفُ إِلا بِمَا وَصَفَ، وَوَصفه النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ -،‌‌ لِأَن المجاوز
তাঁর বান্দাদের এর মাধ্যমে তাঁর প্রশংসা করার দিকে (আহ্বান করেছেন), এবং মুস্তাফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সত্য বলেছেন -,এবং আল্লাহ তাঁর নিজের আলোচনা, তাঁর নামসমূহ এবং তাঁর গুণাবলি সম্পর্কে তাঁর বান্দাদের সামনে যা প্রকাশ করেছেন, সে বিষয়ে আল্লাহর উদ্দেশ্য তিনি বর্ণনা করেছেন। অতঃপর তিনি বলেছেন, "তোমাদের প্রতিপালক তাঁর নিজের ওপর রহমত লিখে নিয়েছেন"।

এবং নবী
(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: "নিশ্চয়ই আমি আমার নিজের ওপর জুলুম হারাম করেছি", এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর বাণীর ব্যাখ্যাস্বরূপ বলেছেন:

৯ - "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর নিজের ওপর একটি কিতাব (বিধান) লিখে রেখেছেন যা তাঁর নিকট সংরক্ষিত আছে: নিশ্চয়ই আমার রহমত আমার ক্রোধের ওপর বিজয়ী হয়েছে।"

অতঃপর তিনি আল্লাহ তাআলা নিজের সম্পর্কে যা সংবাদ দিয়েছেন তার উদ্দেশ্য বর্ণনা করেছেন, এবং এটি স্পষ্ট করেছেন যে তাঁর সত্তা অনাদি ও অবিনশ্বর, এবং তাঁর সত্তাকে কেবলমাত্র সেই গুণেই গুণান্বিত করা যাবে যা দ্বারা তিনি নিজেকে গুণান্বিত করেছেন অথবা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে গুণান্বিত করেছেন, কারণ যে ব্যক্তি সীমা অতিক্রম করে
(খণ্ড: ১) আল-হুজ্জাতু ফী বায়ানিল মাহাজ্জাহ (পৃষ্ঠা: ১০৪)
وصفهما يُوجب الْمُمَاثلَة، والتمثيل والتشبيه لَا يكون إِلا بِالتَّحْقِيقِ، وَلا يَكُونُ بِاتِّفَاقِ الأَسْمَاءِ، وَإِنَّمَا وَافَقَ اسْمُ النَّفْسِ اسْمَ نَفْسِ الإِنْسَانِ الَّذِي سَمَّاهُ اللَّهُ نَفْسًا مَنْفُوسَةً، وَكَذَلِكَ سَائِرَ الأَسْمَاءِ الَّتِي سَمَّى بِهَا خَلْقَهُ، إِنَّمَا هِيَ مُسْتَعَارَةٌ لِخَلْقِهِ مَنَحَهَا عِبَادَهُ لِلْمَعْرِفَةِ فَمِنَ الصِّفَاتِ الَّتِي وَصَفَ بِهَا نَفْسَهُ وَمَنَحَ خَلْقَهُ الْكَلام، فَاللَّهُ تَعَالَى يَتَكَلَّمُ كَلامًا أَزَلِيًّا غَيْرَ مُعَلَّمٍ وَلا مُنْقَطِعٍ، فَبِهِ يَخْلُقُ الأَشْيَاءَ، وَبِكَلامِهِ دَلَّ عَلَى صِفَاتِهِ الَّتِي لَا يَسْتَدْرِكُهَا مَخْلُوقٌ، وَلا يَبْلُغُهَا وَصْفُ وَاصِفٍ، وَالْعَبْدُ مُتَكَلِّمٌ بِكَلامٍ مُحْدَثٍ مُعلمٍ مُخْتَلِفٍ، فَإِنَّ بفنَائِهِ وَوَصْفِ وَجْهِهِ، فَقَالَ: {كُلُّ شَيْء هَالك إِلَّا وَجهه} فَأَخْبَرَ عَنْ فَنَاءِ وُجُوهِ الْمَخْلُوقِينَ وَبَقَاءِ وَجْهِهِ، وَوَصَفَ نَفْسَهُ بِالسَّمْعِ وَالْبَصَرِ فَقَالَ: {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْء وَهُوَ السَّمِيع الْبَصِير} وَأَخْبَرَ أَنَّهُ سَمِيعٌ مِنْ كُلِّ الْجِهَاتِ لِكُلِّ الأَصْوَاتِ بَصِيرٌ بِكُلِّ الأَشْيَاءِ مِنْ كُلِّ الْجِهَاتِ، لَمْ يَزَلْ يَسْمَعُ وَيُبْصِرُ، وَلا يَزَالُ كَذَلِكَ، وَوَصَفَ عِبَادَهُ بِالسَّمْعِ وَالْبَصَرِ الْمُحْدَثِ الْمَخْلُوقِ الْفَانِي بِفَنَائِهِ الَّذِي يَكِلُّ وَيَعْجِزُ عَنْ جَمِيعِ حَقِيقَةِ الْمَسْمُوعِ وَالْمُبْصَرِ، وَوَصَفَ نَفْسَهُ بِالْعِلْمِ وَالْقُدْرَةِ، وَالرَّحْمَةِ، وَمَنَحَهَا عِبَادَهُ لِلْمَعْرِفَةِ عِنْدَ الْوُجُودِ فِيهِمْ وَالنَّكِرَة عِنْد

উভয়ের গুণাবলি বর্ণনা করা সাদৃশ্যকে আবশ্যক করে না; কেননা সাদৃশ্য প্রদান ও তুলনা করা কেবল বাস্তব স্বরূপের ভিত্তিতেই হয়ে থাকে, কেবল নামের মিল থাকার কারণে নয়। আল্লাহর 'নফস' (সত্তা) নামটির সাথে মানুষের 'নফস' (প্রাণ) নামের যে মিল রয়েছে, তার কারণ হলো আল্লাহ মানুষের সেই নফসকে 'সৃষ্ট প্রাণ' হিসেবে অভিহিত করেছেন। একইভাবে অন্যান্য যেসব নামে তিনি তাঁর সৃষ্টিকে অভিহিত করেছেন, সেগুলো মূলত তাঁর সৃষ্টির জন্য রূপক হিসেবে ব্যবহৃত, যা তিনি তাঁর বান্দাদেরকে অনুধাবনের সুবিধার্থে দান করেছেন। তিনি যেসব গুণে নিজেকে গুণান্বিত করেছেন এবং তাঁর সৃষ্টিকেও তা দান করেছেন, তার মধ্যে একটি হলো 'কালাম' (কথা বলা)। মহান আল্লাহ এমন এক অনাদি কালামের মাধ্যমে কথা বলেন যা কারো কাছ থেকে শেখা নয় এবং যা বিচ্ছিন্ন হয় না। এর মাধ্যমেই তিনি সকল বস্তু সৃষ্টি করেন এবং তাঁর এই কালামের মাধ্যমেই তিনি তাঁর এমন সব গুণের পথ দেখিয়েছেন যা কোনো সৃষ্টি আয়ত্ত করতে পারে না এবং কোনো বর্ণনাকারীর বর্ণনা সেখানে পৌঁছাতে পারে না। অন্যদিকে বান্দা হলো এমন কথার মাধ্যমে কথা বলে যা নবসৃষ্ট, যা শিক্ষা করতে হয় এবং যা বৈচিত্র্যময়। অতঃপর তিনি সৃষ্টির নশ্বরতা ও তাঁর নিজ মুখমণ্ডলের বর্ণনা দিয়ে বলেছেন: "তাঁর মুখমণ্ডল ব্যতীত সবকিছুই ধ্বংসশীল।" এর মাধ্যমে তিনি সৃষ্টির মুখমণ্ডলের বিনাশ এবং তাঁর নিজ মুখমণ্ডলের অবিনশ্বরতার কথা জানিয়েছেন। তিনি নিজেকে শ্রবণ ও দর্শন গুণে গুণান্বিত করে বলেছেন: "কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়, আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।" তিনি অবহিত করেছেন যে, তিনি সকল দিক থেকে সকল শব্দ শোনেন এবং সকল দিক থেকে সকল বস্তু দেখেন; তিনি অনাদিকাল থেকেই শুনছেন ও দেখছেন এবং ভবিষ্যতেও সর্বদা এভাবেই থাকবেন। পক্ষান্তরে তিনি তাঁর বান্দাদেরকে এমন শ্রবণ ও দর্শন শক্তির অধিকারী হিসেবে বর্ণনা করেছেন যা নবসৃষ্ট, সৃজিত এবং তাদের বিনাশের সাথে বিনাশশীল, যা সমস্ত শ্রুতিগোচর ও দৃশ্যমান বিষয়ের প্রকৃত স্বরূপ অনুধাবনে ক্লান্ত ও অক্ষম হয়ে পড়ে। তিনি নিজেকে জ্ঞান, ক্ষমতা ও করুণার গুণে গুণান্বিত করেছেন এবং এগুলো তাঁর বান্দাদেরকে দান করেছেন যেন তাদের মধ্যে এর অস্তিত্বের সময় তারা পরিচিতি লাভ করতে পারে এবং অনুপস্থিতির সময় তা অজ্ঞাত থাকে...

(খণ্ড: ১) আল-হুজ্জাতু ফী বায়ানিল মাহাজ্জাহ (পৃষ্ঠা: ১০৫)
وُجُودِ الْمُضَادِ فِيهِمْ، فَجَعَلَ ضِدَّ الْعِلْمِ فِي خَلْقِهِ الْجَهْلَ وَضِدَّ الْقُدْرَةِ الْعَجْزَ، وَضِدَّ الرَّحْمَةِ الْقَسْوَةَ، فَهِيَ مَوْجُودَةٌ فِي الْخَلْقِ غَيْر جَائِزَةٍ عَلَى الْخَالِقِ، فَوَافَقَتِ الأَسْمَاءُ وَبَايَنَتِ الْمَعَانِي مِنْ كُلِّ الْجِهَاتِ لَمْ يَزَلْ وَلا يَزَالُ مَوْصُوفًا بِالْعِلْمِ غَيْرَ مُعَلَّمٍ بَاقٍ غَيْرَ فَانٍ، وَالْعَبْدُ مُضْطَرٌّ إِلَى أَنْ يَتَعَلَّمَ مَا لَمْ يعلم، ثُمَّ يَنْسَى ثُمَّ يَمُوت وَيَذْهَبَ عِلْمُهُ وَاللَّهُ عز وجل مَوْصُوفٌ بِالْعِلْمِ بِجَمِيعِ الأَشْيَاءِ مِنْ كُلِّ الْجِهَاتِ دَائِمًا بَاقِيًا، فَفِيمَا ذَكَرْنَا دَلِيلٌ عَلَى جَمِيعِ الأَسْمَاءِ وَالصِّفَاتِ الَّتِي (لَمْ) نَذْكُرْهَا، وَإِنَّمَا يَنْفِي التَّمْثِيلُ وَالتَّشْبِيهُ النِّيَّةَ وَالْعِلْمَ بِمُبَايَنَةِ الصِّفَاتِ وَالْمَعَانِي وَالْفَرْق بَيْنَ الْخَالِقِ وَالْمَخْلُوقِ فِي جَمِيعِ الأَشْيَاءِ فِيمَا يُؤَدِّي إِلَى التَّمْثِيلِ وَالتَّشْبِيهِ عِنْدَ أَهْلِ الْجَهْلِ وَالزَّيْغِ وَوُجُوب الإِيمَانِ بِاللَّهِ وَبِأَسْمَائِهِ وَصِفَاتِهِ الَّتِي وَصَفَ بِهَا نَفْسَهُ وَأَخْبَرَ عَنهُ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -، وَأَنَّ أَسَامِيَ الْخَلْقِ وَصِفَاتَهُمْ وَافَقَتْهَا فِي الاسْمِ (و) باينتها فِي جَمِيعِ الْمَعَانِي لِحُدُوثِ خَلْقِهِ وَفَنَائِهِمْ، وَأَزَلِيَّةِ الْخَالِقِ وَبَقَائِهِ، وَبِمَا أَظْهَرَ مِنْ صِفَاتِهِ وَمَنَعَ اسْتِدْرَاكَ كَيْفِيَّتِهَا فَقَالَ: {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيع الْبَصِير} . وَإِنَّمَا ذَكَرْنَا هَذَا الْفَصْلَ لِئَّلا يَتَعَلَّقَ الضَّالُّونَ عَنِ الْهِدَايَةِ الزَّائِغُونَ عَنْ كِتَابِ اللَّهِ تَعَالَى وَكَلَام رَسُوله

فَتَأَوَّلُوا الصِّفَاتَ وَالأَسْمَاءَ الَّتِي فِي كِتَابِهِ وَنَقَلَهَا الْخَلَفُ الصَّادِقُ عَنِ السَّلَفِ الطَّاهِرِ عَنِ اللَّهِ تَعَالَى وَعَن رَسُوله صلى الله عليه وسلم َ -‌‌ الَّذِينَ نَقَلُوًا دِينَ اللَّهِ وَأَحْكَامَهُ، وَبَلَّغُوا
তাদের মাঝে বৈপরীত্য বিদ্যমান, ফলে তিনি তাঁর সৃষ্টির মধ্যে জ্ঞানের বিপরীতে মূর্খতা, ক্ষমতার বিপরীতে অক্ষমতা এবং দয়ার বিপরীতে কঠোরতা সৃষ্টি করেছেন। সুতরাং এগুলো সৃষ্টির মাঝে বিদ্যমান থাকলেও স্রষ্টার ক্ষেত্রে তা হওয়া অসম্ভব। অতএব নামগুলো সদৃশ হলেও সকল দিক থেকে এগুলোর অর্থ ভিন্ন। তিনি অনাদিকাল থেকে এবং অনন্তকাল পর্যন্ত জ্ঞানের গুণে গুণান্বিত, তিনি কারো নিকট থেকে শিক্ষিত হননি; তিনি চিরস্থায়ী, অবিনশ্বর। আর বান্দা যা জানে না তা শিখতে বাধ্য হয়, এরপর সে ভুলে যায়, অতঃপর মৃত্যুবরণ করে এবং তার জ্ঞান বিলুপ্ত হয়ে যায়। অথচ আল্লাহ আযযা ওয়া জাল সর্বদা সকল দিক থেকে সকল বিষয় সম্পর্কে জ্ঞানের গুণে গুণান্বিত এবং চিরস্থায়ী। আমরা যা উল্লেখ করেছি তাতে সেই সকল নাম ও গুণের প্রমাণ রয়েছে যা আমরা উল্লেখ করিনি। মূলত জাহেল ও সত্যত্যাগী লোকদের নিকট যা সাদৃশ্যকরণ ও তুলনার দিকে ধাবিত করে, গুণাবলী ও অর্থের ভিন্নতা এবং সকল বিষয়ে স্রষ্টা ও সৃষ্টির মধ্যবর্তী পার্থক্য সম্পর্কে জানার মাধ্যমেই কেবল সেই সাদৃশ্যকরণ ও তুলনাকে নাকচ করা যায়। আর আল্লাহর প্রতি এবং তাঁর সেই সকল নাম ও গুণের প্রতি ঈমান আনা আবশ্যক যার মাধ্যমে তিনি নিজেকে গুণান্বিত করেছেন এবং যার সংবাদ আল্লাহর রাসূল (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন) দিয়েছেন। আর নিশ্চয়ই সৃষ্টির নাম ও গুণাবলী নামের ক্ষেত্রে সদৃশ হলেও সকল অর্থের দিক থেকে ভিন্ন; কারণ সৃষ্টি নতুনভাবে সৃষ্ট ও নশ্বর, আর স্রষ্টা অনাদি ও চিরস্থায়ী। তিনি তাঁর গুণাবলীর যা প্রকাশ করেছেন সেগুলোর ধরণ উপলব্ধি করা তিনি নিষিদ্ধ করেছেন, তাই তিনি বলেছেন: "কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়, আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।" আমরা এই পরিচ্ছেদটি এইজন্যই উল্লেখ করেছি যেন হিদায়াত থেকে বিচ্যুত এবং মহান আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের বাণী থেকে বিমুখ পথভ্রষ্টরা সংশয়ে লিপ্ত না হতে পারে

এবং তারা যেন সেই সব গুণ ও নামের অপব্যাখ্যা না করতে পারে যা তাঁর কিতাবে বর্ণিত হয়েছে এবং যা পবিত্র পূর্বসূরিদের থেকে সত্যবাদী উত্তরসূরিরা মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন)-এর পক্ষ থেকে বর্ণনা করেছেন— যারা আল্লাহর দ্বীন ও তাঁর বিধানসমূহ বর্ণনা করেছেন এবং প্রচার করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-হুজ্জাতু ফী বায়ানিল মাহাজ্জাহ (পৃষ্ঠা: ১০৬)
جَمِيعَ أَمْر اللَّهِ الَّتِي أُمِرُوا بِإِبْلاغِهَا مِنَ الصِّفَاتِ وَغَيْرِهَا مِنْ أُمُورِ الدِّينِ، وَاجْتَنَبُوا وَعِيدَ اللَّهِ (تَعَالَى) فِي كِتَابِهِ قَالَ اللَّه تَعَالَى: {إِنَّ الَّذِينَ يَكْتُمُونَ مَا أَنْزَلْنَا مِنَ الْبَيِّنَاتِ وَالْهُدَى مِنْ بَعْدِ مَا بَيَّنَّاهُ لِلنَّاسِ فِي الْكتاب أُولَئِكَ يلعنهم الله ويلعنهم اللاعنون} . فَبَلَّغُوا كَمَا أَمَرَهُمُ اللَّهُ تَعَالَى لَمْ تَأْخُذُهُمْ فِي اللَّهِ لَوْمَةُ لائِمٍ خَلَفًا عَنْ سَلَفٍ، جَعَلَنَا اللَّهُ تَعَالَى مِمَّنْ يَتَّبِعُهُمْ بِإِحْسَانٍ إِنَّهُ وَلِيُّ ذَلِكَ بِرَحْمَتِهِ ".

‌‌فَصْلُ

 

‌‌10 - أَبُو عَمْرٍو عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ أَنا وَالِدِي، أَنا أَحْمد ابْن عَمْرٍو أَبُو الطَّاهِرِ، نَا يُونُسُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى نَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، عَنْ يُونُس ابْن يَزِيدَ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه عَنِ النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ -

‌‌وَعَنْ مَالِكٍ عَنْ أَبِي الزِّنَادِ عَنِ الأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه أَنَّ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ - قَالَ: " أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَقُولُوا: لَا إِلَهَ إِلا اللَّهُ فَإِذَا قَالُوا لَا إِلَهَ إِلا اللَّهُ فَقَدْ عَصَمُوا مِنِّي دِمَاءَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ إِلا بِحَقِّهَا وَحِسَابُهُمْ عَلَى اللَّهِ عز وجل ".
আল্লাহর সমস্ত বিষয় যা তাদের পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, হোক তা আল্লাহর গুণাবলি (সিফাত) সংক্রান্ত অথবা দ্বীনের অন্যান্য বিষয়াবলি, এবং তারা আল্লাহ তাআলার কিতাবে বর্ণিত ধমকি থেকে নিজেদের রক্ষা করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "নিশ্চয়ই যারা গোপন করে আমরা যা নাজিল করেছি স্পষ্ট প্রমাণাদি এবং হেদায়েত, মানুষের জন্য কিতাবে তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করার পর, আল্লাহ তাদের লানত করেন এবং লানতকারীরাও তাদের লানত করে।" তারা সেভাবেই পৌঁছে দিয়েছেন যেভাবে আল্লাহ তাআলা তাদের নির্দেশ দিয়েছিলেন; আল্লাহর পথে কোনো নিন্দুকের নিন্দা তাদের বিচলিত করেনি, যা ধারাবাহিকভাবে উত্তরসূরিরা পূর্বসূরিদের থেকে লাভ করেছেন। আল্লাহ তাআলা আমাদের তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন যারা নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসরণ করে, নিশ্চয়ই তিনি তাঁর রহমতের মাধ্যমে এর অভিভাবক।"

‌‌পরিচ্ছেদ

 

‌‌১০ - আবু আমর আব্দুল ওয়াহহাব বিন মুহাম্মাদ বিন ইসহাক, আমাদের নিকট আমার পিতা বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আহমদ ইবনে আমর আবু তাহের বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইউনুস বিন আব্দুল আলা বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ বিন ওয়াহাব বর্ণনা করেছেন, ইউনুস ইবনে ইয়াজিদ থেকে, তিনি যুহরি থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে -

‌‌এবং মালেক থেকে, তিনি আবু যিনাদ থেকে, তিনি আরায থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমি মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ না তারা বলে: 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই'। যখন তারা বলবে 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই', তখন তারা আমার থেকে তাদের জান ও মাল নিরাপদ করে নিল, তবে ইসলামের বিধান অনুযায়ী হকের বিষয়টি ভিন্ন; আর তাদের হিসাব আল্লাহ আজ্যা ওয়া জাল্লা-র কাছে।"
(খণ্ড: ১) আল-হুজ্জাতু ফী বায়ানিল মাহাজ্জাহ (পৃষ্ঠা: ১০৭)
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْفَقِيهُ فِي كِتَابِهِ وَغَيْرُهُ قَالا: أَنا أَبُو عبد الرَّحْمَن ابْن أَحْمَدَ بْنِ الْحَسَنِ، أَنا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ السّلمِيّ قَالَ: سَمِعت أَبَا نصر أَحْمد ابْن مُحَمَّد بْنَ حَامِدٍ الْجزي يَقُولُ: سَمِعْتُ أَبِي يَقُولُ: قُلْتُ لأَبِي الْعَبَّاسِ ابْنِ سُرَيْجٍ مَا التَّوْحِيدُ؟ قَالَ: تَوْحِيدُ أَهْلِ الْعِلْمِ وَجَمَاعَةِ الْمُسْلِمِينَ: أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، وَتَوْحِيدُ أَهْلِ الْبَاطِلِ مِنَ الْمُسْلِمِينَ الْخَوْضُ فِي الأَعْرَاضِ وَالأَجْسَامِ، وَإِنَّمَا بُعِثَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ -‌‌ بِإِنْكَارِ ذَلِكَ.

فَصْلٌ

 

فِي النَّهْيِ عَنْ طَلَبِ التَّكْيِيفِ فِي ذَاتِ اللَّهِ وَصِفَاتِهِ

 

‌‌11 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، أَنا وَالِدِي، أَنا مُحَمَّد ابْن الْحُسَيْنِ بْنِ الْحَسَنِ، أَنا أَحْمَدُ بْنُ يُوسُفَ السُّلَمِيُّ، نَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، نَا
আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-ফকিহ তাঁর কিতাবে এবং অন্যান্য মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের জানিয়েছেন আবু আব্দুর রহমান ইবনে আহমাদ ইবনে আল-হাসান, আমাদের জানিয়েছেন আবু আব্দুর রহমান আস-সুলামি, তিনি বলেন: আমি আবু নাসর আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে হামিদ আল-জাযীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: আমি আবুল আব্বাস ইবনে সুরায়জকে জিজ্ঞাসা করলাম, তাওহীদ কী? তিনি বললেন: আলেম সমাজ ও মুসলিম জামায়াতের তাওহীদ হলো: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল। আর মুসলিমদের মধ্য হতে বাতিলপন্থীদের তাওহীদ হলো আকস্মিক গুণাবলি ও দেহ নিয়ে অনর্থক তর্কে লিপ্ত হওয়া। অথচ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রেরিত হয়েছেন এসকল বিষয় অস্বীকার করার জন্য।

পরিচ্ছেদ

 

আল্লাহর সত্তা ও তাঁর গুণাবলির ধরন অনুসন্ধান করা থেকে নিষেধ প্রসঙ্গে

 

১১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক, আমাদের জানিয়েছেন আমার পিতা, আমাদের জানিয়েছেন মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন ইবনুল হাসান, আমাদের জানিয়েছেন আহমাদ ইবনে ইউসুফ আস-সুলামি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ ইবনে ইউসুফ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন...
(খণ্ড: ১) আল-হুজ্জাতু ফী বায়ানিল মাহাজ্জাহ (পৃষ্ঠা: ১০৮)
سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ عَنْ جَعْفَرِ بْنِ بُرْقَانَ عَنْ يَزِيدَ بْنِ الأَصَمِّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -: "‌‌ لَيَسْأَلَنَّكُمُ النَّاسُ عَنْ كُلِّ شَيْءٍ حَتَّى يَسْأَلُوكُمْ، هَذَا اللَّهُ خَلَقَ كُلَّ شَيْءٍ فَمَنْ خَلَقَ اللَّهَ ".

‌‌12 - أَخْبَرَنَا وَالِدِي مُحَمَّدُ بْنُ الْفَضْلِ رحمه الله، أَنا سَعِيدُ بْنُ أَبِي سَعِيدٍ، أَنا مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ الْمَرْوَزِيُّ، نَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُف الْفربرِي، ثَنَا مُحَمَّد ابْن إِسْمَاعِيلَ الْبُخَارِيُّ، نَا يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ، نَا اللَّيْثُ عَنْ عَقِيلٍ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -: "‌‌ يَأْتِي الشَّيْطَانُ أَحَدَكُمْ فَيَقُولُ مَنْ خَلَقَ كَذَا مَنْ خَلَقَ كَذَا؟ حَتَّى يَقُولَ: مَنْ خَلَقَ رَبَّكَ، فَإِذَا بَلَغَهُ فَلْيَسْتَعِذْ بِاللَّهِ وَلْيَنْتَهِ ". قَالَ (الشَّيْخُ) (الإِمَامُ رحمه الله أَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ - بِالْكَفِّ وَالانْتِهَاءِ عَنِ الْمُحَاجَّةِ وَالْمُنَاظَرَةِ فِي شَأْنِ الرَّبِّ عز وجل بِالْمَعْقُولِ وَاجْتِنَابِ مَا يُوَرِّثُ شُبْهَةً فِي الْقُلُوبِ وَالاسْتِعَاذَة بِاللَّهِ لِيَعْصِمَهُ فَلا يَتَسَلَّط الشَّيْطَانُ عَلَيْهِ فَيُضِلّهُ.
সুফিয়ান আস-সাওরি জাফর ইবনে বুরকান থেকে, তিনি ইয়াজিদ ইবনে আসম থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "‌‌অবশ্যই মানুষ তোমাদেরকে প্রতিটি বিষয় সম্পর্কে প্রশ্ন করতে থাকবে, এমনকি তারা তোমাদের জিজ্ঞেস করবে—এই তো আল্লাহ সবকিছু সৃষ্টি করেছেন, তবে আল্লাহকে কে সৃষ্টি করেছে?".

‌‌১২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার পিতা মুহাম্মাদ ইবনুল ফজল (রাহিমাহুল্লাহ), তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সাঈদ ইবনে আবি সাঈদ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ ইবনে উমর আল-মারওয়াযি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ ইবনে ইউসুফ আল-ফিরাবরি, তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল আল-বুখারি, তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর, তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আল-লাইস উকাইল থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি বলেন: আমাকে উরওয়াহ ইবনুয যুবাইর সংবাদ দিয়েছেন যে আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "‌‌তোমাদের কারো কাছে শয়তান আসে এবং বলে, ‘অমুক জিনিস কে সৃষ্টি করেছেন? অমুক জিনিস কে সৃষ্টি করেছেন?’ এমনকি এক পর্যায়ে সে বলে, ‘তোমার প্রতিপালককে কে সৃষ্টি করেছেন?’ সুতরাং যখন সে এই পর্যায়ে পৌঁছাবে, তখন সে যেন আল্লাহর নিকট আশ্রয় চায় এবং এ থেকে বিরত থাকে।’ (শেখ) (ইমাম রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মহান রবের (মহামহিম) সত্তা সম্পর্কে যুক্তি-তর্ক ও বাদানুবাদ করা থেকে বিরত থাকতে ও ক্ষান্ত হতে নির্দেশ দিয়েছেন; সেই সাথে হৃদয়ে সংশয় তৈরি করে এমন বিষয় বর্জন করতে এবং আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করতে বলেছেন, যাতে আল্লাহ তাকে রক্ষা করেন এবং শয়তান তার ওপর প্রভাব বিস্তার করে তাকে বিভ্রান্ত করতে না পারে।
(খণ্ড: ১) আল-হুজ্জাতু ফী বায়ানিল মাহাজ্জাহ (পৃষ্ঠা: ১০৯)
‌‌‌‌فَصْلٌ

 

‌‌فِي تَرْكِ التَّفْكِيرِ فِي شَأْنِ الرَّبِّ عز وجل

 

‌‌13 - أَخْبَرَنَا طَلْحَةُ بْنُ الْحُسَيْنِ الصَّالْحَانِيُّ رحمه الله أَنا جَدِّي أَبُو ذَرٍّ الصَّالْحَانِيُّ نَا أَبُو مُحَمَّدِ بْنُ حَيَّانَ، نَا يُوسُفُ بن يَعْقُوب النَّيْسَابُورِي بِبَغْدَاد، نَا أَحْمد ابْن عُثْمَانَ أَبُو الْجَوْزَاءِ، نَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ عبد الْوَارِث، نَا عبد الْجَلِيل ابْن عَطِيَّةَ الْقَيْسِيُّ، نَا شَهْرُ بْنُ حَوْشَبٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلامٍ رضي الله عنه قَالَ: " خرج رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -‌‌ عَلَى نَاسٍ مِنْ أَصْحَابِهِ وَهُمْ يَتَفَكَّرُونَ فِي خلق الله فَقَالَ: " فيمَ تتفكرون؟ قَالَ: نَتَفَكَّرُ فِيمَا خَلَقَ اللَّهُ، قَالَ: فَلا تَتَفَكَّرُوا فِي اللَّهِ، وَلَكِنْ تَفَكَّرُوا فِيمَا خَلَقَ اللَّهُ "، وَرُوِيَ عَنِ ابْنِ عُمَرَ رضي الله عنه عَن

‌‌14 - النَّبِي قَالَ: " تَفَكَّرُوا فِي كُلِّ شَيْءٍ، وَلا تَفَكَّرُوا فِي ذَاتِ اللَّهِ ".

فَصْلٌ

 

‌‌فِي الاجْتِنَابِ مِنَ الْمُحْدَثَاتِ

 

‌‌15 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادٍ وَغَيْرُهُ قَالا: أَنا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ ابْن الْمَرْزُبَانِ، نَا مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْحَكَمِ، نَا مُحَمَّد بن سُلَيْمَان، نَا إِبْرَاهِيم
‌‌‌পরিচ্ছেদ

 

‌‌মহান রবের মহিমা সম্পর্কে চিন্তা করা বর্জন প্রসঙ্গে

 

‌‌১৩ - তালহা বিন আল-হুসাইন আস-সালহানি (রহিমাহুল্লাহ) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আমার দাদা আবু যার আস-সালহানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আবু মুহাম্মাদ বিন হাইয়ান আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইউসুফ বিন ইয়াকুব আন-নিসাবুরি বাগদাদে আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আহমদ ইবনে উসমান আবু আল-জাওজা আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবদুস সামাদ বিন আব্দুল ওয়ারিস আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আব্দুল জলীল ইবনে আতিয়্যাহ আল-কায়সি আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, শাহর বিন হাওশাব আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর কিছু সাহাবীর নিকট আসলেন যখন তাঁরা আল্লাহর সৃষ্টি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করছিলেন। তিনি বললেন: 'তোমরা কী নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করছ?' তাঁরা বললেন: 'আল্লাহ যা সৃষ্টি করেছেন আমরা তা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করছি।' তিনি বললেন: 'তোমরা আল্লাহকে নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করো না, বরং আল্লাহর সৃষ্টি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করো' এবং ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:

‌‌১৪ - 'তোমরা প্রতিটি বিষয় নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করো, কিন্তু আল্লাহর সত্তা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করো না'।"

পরিচ্ছেদ

 

‌‌নব-উদ্ভাবিত বিষয়াবলি থেকে বেঁচে থাকা প্রসঙ্গে

 

‌‌১৫ - আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মাদ বিন জিয়াদ এবং অন্যরা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাঁরা বলেন: আহমদ বিন মুহাম্মাদ ইবনুল মারজুবান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, মুহাম্মাদ বিন ইব্রাহিম বিন আল-হাকাম আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মুহাম্মাদ বিন সুলাইমান আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইব্রাহিম...
(খণ্ড: ১) আল-হুজ্জাতু ফী বায়ানিল মাহাজ্জাহ (পৃষ্ঠা: ১১০)
ابْن سعد عَن أيبه عَنِ الْقَاسِمِ عَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها قَالَت: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -: "‌‌ مَنْ أَحْدَثَ فِي أَمْرِنَا مَا لَيْسَ مِنْهُ فَهُوَ رَدٌّ ".

قَالَ الشَّيْخُ (الإِمَامُ) رحمه الله: " أَنْكَرَ السَّلَفُ الْكَلامَ فِي الْجَوَاهِرِ وَالأَعْرَاضِ وَقَالُوا: لَمْ يَكُنْ عَلَى عَهْدِ الصَّحَابَةِ وَالتَّابِعِينَ رَضِيَ الله عَن
ইবনে সাদ তাঁর পিতা থেকে, তিনি আল-কাসিম থেকে, তিনি আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন -: "‌‌ যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের বিষয়ে এমন কিছু নতুন উদ্ভাবন করবে যা তার অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যানযোগ্য।"

শায়খ (ইমাম) রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন: "সালাফগণ জাওয়াহির (মৌলিক পদার্থ) এবং আরাদ (আকস্মিক গুণাবলী) সংক্রান্ত তাত্ত্বিক আলোচনাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং তাঁরা বলেছেন: সাহাবী ও তাবেয়ীগণের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) যুগে এর কোনো অস্তিত্ব ছিল না
(খণ্ড: ১) আল-হুজ্জাতু ফী বায়ানিল মাহাজ্জাহ (পৃষ্ঠা: ১১১)
الصَّحَابَةِ وَرَحِمَ التَّابِعِينَ، وَلا يَخْلُو أَنْ يَكُونُوا سَكَتُوا عَنْ ذَلِكَ وَهُمْ عَالِمُونَ بِهِ فَيَسَعُنَا السُّكُوتُ عَمَّا سَكَتُوا عَنْهُ، أَوْ يَكُونُوَا سَكَتُوا عَنْهُ وَهُمْ غَيْرُ عَالِمِينَ بِهِ فَيَسَعُنَا أَنْ لَا نَعْلَمَ مَا لَمْ يَعْلَمُوهُ، وَالْحَدِيثُ الَّذِي ذَكَرْنَاهُ يَقْتَضِي أَنَّ مَا تَكَلَّمَ فِيهِ الآخِرُونُ مِنْ ذَلِكَ وَلَمْ يَتَكَلَّمْ فِيهِ الأَوَّلُونَ يَكُونُ مَرْدُودًا.

قَالَ عُلَمَاءُ السَّلَفِ: مَا وَجَدْنَا أَحَدًا مِنَ الْمُتَكَلِّمِينَ فِي مَاضِي الأَزْمَانِ إِلَى يَوْمِنَا هَذَا رَجَعَ إِلَى قَوْلِ خَصْمِهِ، وَلا انْتَقَلَ عَنْ مَذْهَبِهِ إِلَى مَذْهَبِ مُنَاظِرِهِ، فَدَلَّ أَنَّهُمُ اشْتَغَلُوا بِمَا تَرْكُهُ خَيْرٌ مِنَ الاشْتِغَالِ بِهِ، وَقَدْ ذَمَّ السَّلَفُ الْجِدَالَ فِي الدِّينِ وَرَوَوْا فِي ذَلِكَ أَحَادِيثَ وَهُمْ لَا يَذُمُّونَ مَا هُوَ الصَّوَاب.

أخبرنَا أَبُو عَليّ نصر الله بْنُ أَحْمَدَ الْخُشْنَامِيُّ بِنَيْسَابُورَ، أَنا أَبُو سَعِيدٍ
সাহাবীগণ এবং তাবেঈগণের ওপর রহম করুন; বিষয়টি এমন হতে পারে না যে তারা এ সম্পর্কে অবগত থাকা সত্ত্বেও নীরব ছিলেন, এমতাবস্থায় তারা যে বিষয়ে নীরব থেকেছেন আমাদের জন্যও সে বিষয়ে নীরব থাকাই প্রশস্ত। অথবা তারা এ বিষয়ে অবগত ছিলেন না বলেই নীরব ছিলেন, এমতাবস্থায় তারা যা জানতেন না তা আমাদের না জানাটাই সমীচীন। আর আমরা যে হাদীসটি উল্লেখ করেছি তা এই দাবি করে যে, এ বিষয়ে পরবর্তীগণ যা বলেছেন অথচ পূর্ববর্তীগণ তা বলেননি, তা প্রত্যাখ্যাত হবে।

সালাফ উলামায়ে কেরাম বলেছেন: অতীত কাল থেকে আমাদের এই দিন পর্যন্ত আমরা কালামশাস্ত্রবিদদের মধ্যে এমন কাউকে পাইনি যিনি তার প্রতিপক্ষের মতের দিকে ফিরে এসেছেন, কিংবা স্বীয় মাযহাব হতে সরে গিয়ে তার সাথে বিতর্ককারীর মাযহাবে প্রবেশ করেছেন। সুতরাং এটি প্রমাণ করে যে, তারা এমন বিষয়ে লিপ্ত হয়েছেন যা লিপ্ত হওয়ার চেয়ে বর্জন করাই ছিল কল্যাণকর। আর সালাফগণ দ্বীনের বিষয়ে ঝগড়া-বিবাদের নিন্দা করেছেন এবং এ প্রসঙ্গে হাদীস বর্ণনা করেছেন, অথচ তারা যা সঠিক তার নিন্দা করেন না।

নিসাবুরে আবু আলী নাসরুল্লাহ বিন আহমাদ আল-খুশনামী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু সাঈদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন...
(খণ্ড: ১) আল-হুজ্জাতু ফী বায়ানিল মাহাজ্জাহ (পৃষ্ঠা: ১১২)
الصَّيْرَفِيُّ، نَا مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ الأَصَمُّ، نَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ الْحَارِثِيُّ، نَا أَبُو أُسَامَةَ عَنِ الْفَزَارِيِّ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدٍ قَالَ: قَالَ الأَوْزَاعِيُّ: وَقَدْ سُئِلَ أَمُؤْمِنٌ أَنْتَ حَقًّا؟ فَقَالَ: إِنَّ الْمَسَأَلَةَ عَمَّا سُئِلَ عَنْهُ مِنْ ذَلِكَ بِدْعَةٌ، وَالشَّهَادَةُ عَلَيْهِ تَعَمُّقٌ لَمْ نُكَلَّفْهُ فِي دِينِنَا، وَلَمْ يُشَرِّعْهُ نَبِيُّنَا، لَيْسَ لِمَنْ سَأَلَ ذَلِكَ فِيهِ إِمَامٌ إِلا مِثْله الْقَوْل بِهِ جدل وَالْمُنَازَعَة فِيهِ حَدَث وَلَعمري مَا شَهَادَتُكَ لِنَفْسِكَ بِالَّتِي تُوجِبُ لَكَ تِلْكَ الْحَقِيقَةَ إِنْ لَمْ تَكُنْ كَذَلِكَ وَلا تَرْككَ الشَّهَادَةَ لِنَفْسِكَ بِهَا بِالَّذِي يُخْرِجُكَ مِنَ الإِيمَانِ إِنْ كُنْتَ كَذَلِكَ وَإِنَّ الَّذِي يَسْأَلُكَ عَنْ إِيمَانِكَ لَيْسَ يَشُكُّ فِي ذَلِكَ مِنْكَ، وَلَكِنَّهُ يُرِيدُ أَنْ يُنَازِعَ اللَّهَ عِلْمَهُ فِي ذَلِكَ حِينَ يَزْعُمُ أَنَّ عِلْمَهُ وَعِلْمَ اللَّهِ فِي ذَلِكَ سَوَاءٌ، فَاصْبِرْ نَفْسَكَ عَلَى السُّنَّةِ وَقِفْ حَيْثُ وَقَفَ الْقَوْمُ وَقُلْ فِيمَا قَالُوا وَكُفَّ عَمَّا كَفُّوا عَنْهُ وَاسْلُكْ سَبِيلَ سَلَفِكَ الصَّالِحِ فَإِنَّهُ يَسَعُكَ مَا وَسِعَهُمْ. لَقَدْ كَانَ أَهْلُ الشَّامِ فِي غَفْلَةٍ مِنْ هَذِهِ الْبِدْعَةِ حَتَّى قَذَفَهَا إِلَيْهُمْ بَعْضُ أَهْلِ الْعِرَاقِ مِمَّنْ دَخَلَ فِي تِلْكَ الْبِدْعَةِ بَعْدَ مَا رَدَّهَا عَلَيْهِ عُلَمَاؤُهُمْ وفقهاؤهم.

আস-সাইরাফি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব আল-আসাম্ম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন আব্দুল হামিদ আল-হারিসী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু উসামাহ, ফাযারী ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ থেকে, তিনি বলেন: ইমাম আওযায়ী বলেছেন—তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: "আপনি কি প্রকৃতপক্ষে একজন মুমিন?" তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই যে বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে, সেই প্রশ্নটিই একটি বিদআত। আর এর পক্ষে সাক্ষ্য প্রদান করা হলো এমন এক গভীর বাড়াবাড়ি যার দায়িত্ব আমাদের দ্বীনের মধ্যে দেওয়া হয়নি এবং আমাদের নবীও তা বিধিবদ্ধ করেননি। যে ব্যক্তি এ বিষয়ে প্রশ্ন করে, তার জন্য তার মতোই ব্যক্তি ছাড়া আর কেউ ইমাম বা অনুসরণীয় নেই। এ নিয়ে কথা বলা হলো বিতর্ক এবং এ বিষয়ে বিবাদ করা হলো একটি নব-উদ্ভাবিত বিষয়। আমার জীবনের কসম! তোমার নিজের পক্ষে নিজের সাক্ষ্য দেওয়া তোমাকে সেই হাকিকত বা প্রকৃত মর্যাদায় পৌঁছে দেবে না, যদি তুমি প্রকৃতপক্ষে তা না হও। তেমনিভাবে নিজের পক্ষে সেই সাক্ষ্য প্রদান বর্জন করা তোমাকে ঈমান থেকে বের করে দেবে না, যদি তুমি প্রকৃতপক্ষে মুমিন হয়ে থাকো। আর যে ব্যক্তি তোমাকে তোমার ঈমান সম্পর্কে জিজ্ঞেস করছে, সে তোমার ব্যাপারে সেই বিষয়ে কোনো সন্দেহ করছে না; বরং সে এ বিষয়ে আল্লাহর ইলম বা জ্ঞানের সাথে বিবাদ করতে চাচ্ছে, যখন সে দাবি করছে যে এ ব্যাপারে তার জ্ঞান এবং আল্লাহর জ্ঞান সমান। সুতরাং তুমি সুন্নাহর ওপর নিজেকে অবিচল রাখো এবং পূর্বসূরী জাতি যেখানে থেমেছেন তুমিও সেখানে থামো। তাঁরা যা বলেছেন তুমিও তা-ই বলো, আর তাঁরা যা থেকে বিরত থেকেছেন তুমিও তা থেকে বিরত থাকো। তুমি তোমার সালাফে সালেহীনের পথ অনুসরণ করো, কারণ তাঁদের জন্য যা যথেষ্ট ছিল তোমার জন্যও তা-ই যথেষ্ট হবে। সিরিয়াবাসী এই বিদআত সম্পর্কে অসতর্ক ছিল, যতক্ষণ না ইরাকের এমন কিছু লোক এটি তাদের নিকট ছড়িয়ে দেয় যারা নিজেরা এই বিদআতে লিপ্ত হয়েছিল, অথচ তাদের আলেম ও ফকিহগণ তাদের নিকট এটি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।"

(খণ্ড: ১) আল-হুজ্জাতু ফী বায়ানিল মাহাজ্জাহ (পৃষ্ঠা: ১১৩)
‌‌فَصْلٌ

 

‌‌فِي ذِكْرِ مَنْ عَابَ الْكَلامَ وَذَمَّهُ من الْأَئِمَّة
অনুচ্ছেদ

 

ইমামগণের মধ্য থেকে যারা ইলমুল কালামের সমালোচনা ও নিন্দা করেছেন তাদের বর্ণনা প্রসঙ্গে
(খণ্ড: ১) আল-হুজ্জাতু ফী বায়ানিল মাহাজ্জাহ (পৃষ্ঠা: ১১৪)
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْفَقِيه فِي كِتَابه، نَا عبد الرَّحْمَن ابْن أَحْمَدَ بْنِ الْحَسَنِ، أَنا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّلَمِيُّ، أَنا مُحَمَّدُ بْنُ مَحْمُودٍ الْفَقِيهُ الْمَرْوَزِيُّ بِهَا، نَا مُحَمَّدُ بْنُ عُمَيْرٍ الرَّازِيُّ، نَا أَبُو يَحْيَى زَكَرِيَّا بْنُ أَيُّوبَ الْعَلافُ التُجِيبِيُّ، نَا يُونُسُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، نَا أَشْهَبُ بن عبد الْعَزِيز، قَالَ: سَمِعت مَالك ابْن أَنَسٍ يَقُولُ: " إِيَّاكُمْ وَالْبِدَعَ فَقِيلَ: يَا أَبَا عَبْدِ اللَّهِ وَمَا الْبِدَعُ؟ قَالَ: أَهْلُ الْبِدَعِ الَّذِينَ يَتَكَلَّمُونَ فِي أَسْمَاءِ اللَّهِ وَصِفَاتِهِ وَكَلامِهِ وَعِلْمِهِ وَقُدْرَتِهِ، وَلا يَسْكُتُونَ عَمَّا سَكَتَ عَنْهُ الصَّحَابَةُ وَالتَّابِعُونَ لَهُمْ بِإِحْسَانٍ ".

আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আল-ফকিহ তাঁর কিতাবে আমাদের অবহিত করেছেন, আবদুর রহমান ইবনে আহমদ বিন আল-হাসান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আবদুর রহমান আস-সুলামী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ বিন মাহমুদ আল-ফকিহ আল-মারওয়াযী সেখানে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ বিন উমাইর আর-রাযী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু ইয়াহইয়া জাকারিয়া বিন আইয়ুব আল-আল্লাফ আত-তুজীবী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইউনুস বিন আবদিল আলা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আশহাব বিন আবদুল আজিজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি মালিক ইবনে আনাসকে বলতে শুনেছি: "তোমরা বিদআত হতে সাবধান থাকো।" জিজ্ঞেস করা হলো: "হে আবু আবদুল্লাহ, বিদআত কী?" তিনি বললেন: "বিদআতী হলো তারা যারা আল্লাহর নামসমূহ, তাঁর গুণাবলী, তাঁর কালাম, তাঁর জ্ঞান এবং তাঁর ক্ষমতা নিয়ে আলোচনা করে এবং সাহাবীগণ ও নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীগণ যে বিষয়ে নীরব থেকেছেন, সে বিষয়ে তারা নীরব থাকে না।"

(খণ্ড: ১) আল-হুজ্জাতু ফী বায়ানিল মাহাজ্জাহ (পৃষ্ঠা: ১১৫)
قَالَ: وَأَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّلَمِيُّ قَالَ: سَمِعت أَبَا الْوَلِيد حسان ابْن مُحَمَّدٍ الْفَقِيهُ يَقُولُ سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ إِسْحَاقَ بن خُزَيْمَة يَقُول: سَمِعت يُونُس ابْن عَبْدِ الأَعْلَى يَقُولُ: أَتَيْتُ الشَّافِعِيَّ رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَيْهِ بَعْدَ مَا كَلَّمَهُ حَفْصٌ الْفَرْد فَقَالَ: غِبْتَ عَنَّا يَا أَبَا مُوسَى. ثُمَّ قَالَ الشَّافِعِيُّ: لَقَدِ اطَّلَعْتُ مِنْ أَهْلِ الْكَلامِ عَلَى شَيْءٍ وَاللَّهِ مَا تَوَهَّمْتُهُ قَطُّ، وَلأَنْ يُبْتَلَى الْمَرْءُ بِمَا نَهَى اللَّهُ عَنْهُ خَلا الشِّرْكَ بِاللَّهِ خَيْرٌ لَهُ مِنْ أَنْ يُبْتَلَى بِالْكَلامِ ".

قَالَ: وَأَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّلَمِيُّ، أَنا أَبُو الْقَاسِمِ بْنُ مَتُّوَيْهِ الْبَلْخِيُّ، نَا حَاتِمُ بْنُ رُسْتُمٍ عَنْ نُوحٍ الْجامع قَالَ: قُلْتُ لأَبِي حَنِيفَةَ رحمه الله مَا
তিনি বলেন: এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুর রহমান আস-সুলামী, তিনি বলেন: আমি আবুল ওয়ালিদ হাসান ইবনে মুহাম্মাদ আল-ফকিহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক ইবনে খুজাইমাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি ইউনুস ইবনে আব্দুল আলাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি শাফিয়ী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর কাছে আসলাম হাফস আল-ফারদ তাঁর সাথে কথা বলার পর। তখন তিনি বললেন: “হে আবু মুসা, আপনি আমাদের থেকে অনুপস্থিত ছিলেন।” অতঃপর শাফিয়ী বললেন: “আমি ইলমুল কালামের অনুসারীদের থেকে এমন কিছু অবগত হয়েছি যা আল্লাহর কসম আমি কখনো কল্পনাও করিনি। শিরক ব্যতীত আল্লাহ যা কিছু নিষিদ্ধ করেছেন, কোনো ব্যক্তি তাতে লিপ্ত হওয়া তার জন্য ইলমুল কালামে লিপ্ত হওয়ার চেয়ে উত্তম।”

তিনি বলেন: এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুর রহমান আস-সুলামী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম ইবনে মাততুওয়াইহ আল-বালখি, আমাদের বর্ণনা করেছেন হাতিম ইবনে রুস্তম, নূহ আল-জামি থেকে, তিনি বলেন: আমি আবু হানিফা (রহমাহুল্লাহ)-কে বললাম...
(খণ্ড: ১) আল-হুজ্জাতু ফী বায়ানিল মাহাজ্জাহ (পৃষ্ঠা: ১১৬)
تَقُولُ فِيمَا أَحْدَثَ النَّاسُ مِنَ الْكَلامِ وَالأَعْرَاضِ وَالأَجْسَامِ، فَقَالَ: مَقَالاتُ الْفَلاسِفَةِ، عَلَيْكَ بِالآيَةِ وَطَرِيقَةِ السَّلَفِ، وَإِيَّاكَ وَكُلَّ مُحْدَثَةٍ فَإِنَّهَا بِدْعَةٌ ".

أخبرنَا مُحَمَّد بن مُحَمَّد بن عبد الْوَهَّاب الْمَدِينِيّ أَنا أَبُو عبد الله الْحُسَيْن ابْن إِبْرَاهِيم الْجمال، نَا عبد الله بن جعفرٍ، نَا أَحْمد بن مهْدي، نَا بعض أَصْحَابنَا واسْمه عَليّ بن عمروسٍ الْبَغْدَادِيّ عَن بشر بن الْوَلِيد قَالَ: قَالَ أَبُو يُوسُف: " لَا تَطْلُبن ثَلَاثًا بثلاثٍ: لَا تطلب الدّين بالخصومات فَإِنَّهُ لم يمعن فِيهِ أحدٌ إِلَّا قيل زنديقٌ، وَلَا تطلب المَال بالكيمياء فَإِنَّهُ لم يمعن فِيهِ أحدٌ إِلَّا أفلس، وَلَا تطلب الحَدِيث بِكَثْرَة الرِّوَايَة حَتَّى تَأتي بِمَا لَا يعرف فَيُقَال كذابٌ ".

قَالَ (ابْن مهْدي) وبلغنا عَن أبي يُوسُف أَنه قَالَ: الْمعرفَة بالْكلَام هُوَ الْجَهْل.
মানুষেরা ইলমুল কালাম, জড়পদার্থ ও দেহ সম্পর্কে যে নতুন বিষয়গুলো উদ্ভাবন করেছে সে সম্পর্কে আপনি কী বলেন? তিনি বললেন: "এগুলো দার্শনিকদের মতবাদ। আপনি আয়াত এবং সালাফদের পদ্ধতির ওপর অবিচল থাকুন এবং প্রত্যেক নব-আবিষ্কৃত বিষয় থেকে বেঁচে থাকুন, কেননা নিশ্চয়ই তা বিদআত।"

মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব আল-মাদিনী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন ইবনে ইবরাহিম আল-জাম্মাল আমাদের জানিয়েছেন, আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, আহমাদ ইবনে মাহদি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, আমাদের জনৈক সাথী—যাঁর নাম আলী ইবনে আমরুস আল-বাগদাদী—বিশর ইবনুল ওয়ালিদ থেকে আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু ইউসুফ বলেছেন: "তিনটি বিষয়কে অন্য তিনটির মাধ্যমে অন্বেষণ কোরো না: তর্কের মাধ্যমে দ্বীন অন্বেষণ কোরো না, কারণ যে কেউ এতে গভীরভাবে নিমগ্ন হয়েছে তাকেই যিনদিক বলা হয়েছে; কিমিয়ার মাধ্যমে সম্পদ অন্বেষণ কোরো না, কারণ যে কেউ এতে মগ্ন হয়েছে সে-ই নিঃস্ব হয়েছে; আর বর্ণনার প্রাচুর্যের মাধ্যমে হাদিস অন্বেষণ কোরো না, যার ফলে তুমি এমন সব বিষয় নিয়ে আসবে যা অপরিচিত এবং তোমাকে মিথ্যাবাদী বলা হবে।"

(ইবনে মাহদি) বলেন, আবু ইউসুফ থেকে আমাদের নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে তিনি বলেছেন: "ইলমুল কালামের জ্ঞানই হলো প্রকৃত মূর্খতা।"
(খণ্ড: ১) আল-হুজ্জাতু ফী বায়ানিল মাহাজ্জাহ (পৃষ্ঠা: ১১৭)
وَرُوِيَ من غير هَذَا الطَّرِيقِ عَنْ أَبِي يُوسُفَ: " مَنْ طَلَبَ الدِّينَ بِالْكَلامِ تَزَنْدَقَ وَمَنْ طَلَبَ غَرِيبَ الْحَدِيثِ كَذَبَ، وَمَنْ طَلَبَ الْمَالَ بِالكيمياء أَفْلَسَ ".

أَخْبَرَنَا أَبُو عَمْرٍو عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ أَنا وَالِدي، أَنا مُحَمَّد ابْن يَعْقُوبَ بْنِ يُوسُفَ قَالَ: سَمِعْتُ الرَّبِيعَ بْنَ سُلَيْمَان يَقُول: سَمِعت مُحَمَّد ابْن إِدْرِيسَ الشَّافِعِيُّ وَنَاظَرَهُ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْعِرَاقِ وَخَرَجَ إِلَى شَيْءٍ مِنَ الْكَلامِ فَقَالَ: " هَذَا مِنَ الْكَلامِ دَعْهُ " وَقَالَ: مَنْ أَظْهَرَ الْعَصَبِيَّةَ وَالْكَلامَ وَدَعَى إِلَيْهَا فَهُوَ مَرْدُودُ الشَّهَادَةِ " وَلأَنْ يَلْقَى الْعَبْدُ رَبَّهُ عز وجل بِكُلِّ ذَنْبٍ مَا خَلا الشِّرْكَ خَيْرٌ لَهُ مِنْ أَنْ يَلْقَاهُ بِشَيْءٍ مِنَ الأَهْوَاءِ ".

‌‌فَصْلٌ

 

‌‌فِي ذِكْرِ الْفِرْقَةِ النَّاجِيَةِ

 

‌‌16 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَدْنَانَ سِبْطُ أَبِي نِزَارٍ أَنا جَدِّي الْمُطَهَّرُ بْنُ أَبِي نِزَارٍ أَنا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ يَعْقُوبَ، أَنا أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عُثْمَانَ الْفَسَوِيُّ، نَا يَعْقُوبُ بْنُ سُفْيَانَ الْفَسَوِيُّ، نَا قَبِيصَةُ بْنُ عُقْبَةَ، نَا سُفْيَانُ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ
আবু ইউসুফ (রহ.) থেকে এই সূত্র ব্যতীত অন্য সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে: "যে ব্যক্তি কালাম শাস্ত্রের (তর্কশাস্ত্র) মাধ্যমে দ্বীন অনুসন্ধান করবে সে যিন্দিক (ধর্মত্যাগী) হয়ে যাবে, যে ব্যক্তি অপরিচিত বা দুর্লভ হাদিস অনুসন্ধান করবে সে মিথ্যাবাদী হবে, এবং যে ব্যক্তি কিমিয়ার (তৈরি করার বিদ্যা) মাধ্যমে সম্পদ অনুসন্ধান করবে সে নিঃস্ব হবে।"

আবু আমর আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব ইবনে ইউসুফ বলেছেন: আমি রাবি ইবনে সুলাইমানকে বলতে শুনেছি: আমি মুহাম্মদ ইবনে ইদ্রিস আশ-শাফেয়ীকে বলতে শুনেছি—ইরাকের এক লোক তাঁর সাথে বিতর্ক করার সময় কালাম শাস্ত্রের কোনো বিষয় টেনে আনলে তিনি বলেন: "এটি কালাম শাস্ত্রের বিষয়, এটি বর্জন করো।" তিনি আরও বলেন: "যে ব্যক্তি গোঁড়ামি ও কালাম শাস্ত্র প্রকাশ করবে এবং এর দিকে আহ্বান করবে, তার সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়।" এবং "বান্দার তার মহান রবের সাথে শির্ক ব্যতীত অন্য যেকোনো গুনাহ নিয়ে সাক্ষাৎ করা, প্রবৃত্তির খেয়াল-খুশির (বিদআত) কোনো বিষয় নিয়ে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করার চেয়ে উত্তম।"

‌‌পরিচ্ছেদ

 

‌‌নাজাতপ্রাপ্ত (মুক্তিপ্রাপ্ত) দল প্রসঙ্গে

 

‌‌১৬ - আবু আদনান সিবতু আবি নিযার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আমার দাদা মুতাহহার ইবনে আবি নিযার আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, উবায়দুল্লাহ ইবনে ইয়াকুব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আলী আল-হাসান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উসমান আল-ফাসায়ি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইয়াকুব ইবনে সুফিয়ান আল-ফাসায়ি আমাদের বর্ণনা করেছেন, কাবিছাহ ইবনে উকবাহ আমাদের বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আমাদের বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান থেকে...
(খণ্ড: ১) আল-হুজ্জাতু ফী বায়ানিল মাহাজ্জাহ (পৃষ্ঠা: ১১৮)
ابْن زِيَادِ بْنِ أَنْعَمَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -: "‌‌ لَيَأْتِيَنَّ عَلَى أُمَّتِي مَا أَتَى عَلَى بَنِي إِسْرَائِيلَ حَذْوَ النَّعْلِ بِالنَّعْلِ حَتَّى لَوْ كَانَ فِيهِمْ مَنْ يَأْتِي أُمَّهُ عَلانِيَةً لَكَانَ فِي أُمَّتِي مَنْ يَفَعْلُ ذَلِكَ، إِنَّ بَنِي إِسْرَائِيلَ افْتَرَقُوا على اثْنَتَيْنِ وَسَبْعِينَ مِلَّةً، وَتَزِيدُونَ عَلَيْهَا مِلَّةً كُلُّهَا فِي النَّارِ إِلا وَاحِدَةً، فَقَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا هِيَ؟ قَالَ: الَّذِي أَنَا عَلَيْهِ وَأَصْحَابِي ".
ইবনে জিয়াদ ইবনে আনআম, আবদুল্লাহ ইবনে বুরাইদ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "‌‌নিশ্চয়ই আমার উম্মতের ওপর তা-ই আসবে যা বনী ইসরাঈলের ওপর এসেছিল, এক জুতার সাথে অপর জুতার সামঞ্জস্যের মতো। এমনকি যদি তাদের মধ্যে এমন কেউ থাকে যে তার মায়ের সাথে প্রকাশ্যে ব্যভিচার করেছে, তবে আমার উম্মতের মধ্যেও এমন কেউ থাকবে যে তা করবে। নিশ্চয়ই বনী ইসরাঈল বাহাত্তরটি দলে বিভক্ত হয়েছিল, আর তোমরা তার ওপর আরও একটি দল বৃদ্ধি করবে, যার সবকটিই জাহান্নামে যাবে একটি ব্যতীত। তারা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! সেটি কোনটি? তিনি বললেন: যেটির ওপর আমি এবং আমার সাহাবীগণ রয়েছি।"
(খণ্ড: ১) আল-হুজ্জাতু ফী বায়ানিল মাহাজ্জাহ (পৃষ্ঠা: ১১৯)
‌‌17 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الْغَفَّارِ بْنِ أَشْتَهْ، نَا أَبُو سعيد النقاش، نَا مُحَمَّد ابْن إِبْرَاهِيمَ، نَا مُوسَى بْنُ إِسْحَاقَ، نَا مِنْجَابُ بْنُ الْحَارِثِ، أَنا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ عَنِ الأَفْرِيقِيِّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، ح، قَالَ أَبُو سَعِيدٍ: وَأَنا الإِمَامُ أَبُو بَكْرٍ الإِسْمَاعِيلِيُّ، نَا يَعْقُوبُ بْنُ يُوسُفَ بْنِ الْحَكَمِ، نَا بُنْدَارٌ، نَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، نَا سُفْيَانُ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زِيَادٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -: "‌‌ لَيَأْتِيَنَّ عَلَى أُمَّتِي مَا أَتَى عَلَى بَنِي إِسْرَائِيلَ … " وَذَكَرَ الْحَدِيثَ وَفِي آخِرِهِ قِيلَ: مَنْ هُمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: مَنْ كَانَ عَلَى مِثْلِ مَا أَنَا عَلَيْهِ الْيَوْمَ وَأَصْحَابِي.

‌‌18 - (و) أخبرنَا أَبُو عَدْنَانَ، أَنا جَدِّي، أَنا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ يَعْقُوبَ، نَا الْحَسَنُ بْنُ عُثْمَانَ الْفَسَوِيُّ، نَا يَعْقُوبُ بْنُ سُفْيَانَ، نَا أَبُو صَالِحٍ عبد الله ابْن صَالِحٍ، نَا مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ أَنَّ الأَوْزَاعِيَّ حَدَّثَهُ أَنَّ يَزِيدَ الرَّقَاشِيَّ حَدَّثَهُ أَنَّهُ سَمِعَ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ _ رضي الله عنه يَقُولُ: وَأَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الْغَفَّارِ أَنا أَبُو سَعِيدٍ النَّقَّاشُ، أَنا عُمَرُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْقَاسِمِ النَّهَاوَنْدِيُّ، نَا مُحَمَّدُ بْنُ أَيُّوبَ بْنِ يَحْيَى، نَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى الْفَرَّاءُ أَنا عِيسَى بْنُ يُونُسَ (ح) قَالَ أَبُو سَعِيدٍ النَّقَّاشُ: (ح) وَأَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ إِبْرَاهِيم، نَا عَليّ ابْن الْعَبَّاس البَجلِيّ، نَا عمر ابْن مُحَمَّدِ بْنِ الْحَسَنِ، نَا أَبِي، نَا فُضَيْلُ بْنُ عِيَاضٍ (ح) قَالَ أَبُو سَعِيدٍ النَّقَّاشُ: وَأَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْمُحَسِّنِ الصَّوَّافُ، نَا بشر بن مُوسَى، نَا مُعَاوِيَة ابْن
১৭ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ বিন আব্দুল গাফফার বিন আশতাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু সাঈদ আন-নাক্কাশ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুসা ইবনে ইসহাক, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মিনজাব বিন আল-হারিস, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলী বিন মুশহির, তিনি আফরিকী থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন বুরাইদ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন আমর থেকে, (হ), আবু সাঈদ বলেন: এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইমাম আবু বকর আল-ইসমাঈলী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াকুব বিন ইউসুফ বিন আল-হাকাম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বুন্দার, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান বিন মাহদী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান, তিনি আব্দুর রহমান বিন যিয়াদ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন আমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "‌‌নিশ্চয়ই আমার উম্মতের ওপর তা-ই আসবে যা বনী ইসরাঈলের ওপর এসেছিল... " এবং তিনি হাদীসটি উল্লেখ করেন এবং এর শেষে জিজ্ঞাসা করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল, তারা কারা? তিনি বললেন: যারা সেই পথের ওপর থাকবে যার ওপর আজ আমি এবং আমার সাহাবীগণ আছি।

‌১৮ - (এবং) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আদনান, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার দাদা, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উবায়দুল্লাহ বিন ইয়াকুব, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হাসান বিন উসমান আল-ফাসাবী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াকুব বিন সুফিয়ান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু সালিহ আব্দুল্লাহ ইবনে সালিহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুয়াবিয়া বিন সালিহ যে আল-আওযাঈ তাকে হাদীস বর্ণনা করেছেন যে ইয়াযিদ আর-রাক্কাশি তাকে হাদীস বর্ণনা করেছেন যে তিনি আনাস বিন মালিক (রা.)-কে বলতে শুনেছেন: এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ বিন আব্দুল গাফফার, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাঈদ আন-নাক্কাশ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উমর বিন আহমাদ বিন আল-কাসিম আন-নাহাওয়ান্দী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আইয়ুব বিন ইয়াহইয়া, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম বিন মুসা আল-ফাররা, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ঈসা বিন ইউনুস (হ) আবু সাঈদ আন-নাক্কাশ বলেন: (হ) এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন ইব্রাহিম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী ইবনে আল-আব্বাস আল-বাজালি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উমর বিন মুহাম্মদ বিন আল-হাসান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমার পিতা, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ফুদাইল বিন ইয়াদ (হ) আবু সাঈদ আন-নাক্কাশ বলেন: এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন আল-মুহাসসিন আস-সাওয়াফ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বিশর বিন মুসা, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুয়াবিয়া বিন...
(খণ্ড: ১) আল-হুজ্জাতু ফী বায়ানিল মাহাজ্জাহ (পৃষ্ঠা: ১২০)
عَمْرٍو، نَا أَبُو إِسْحَاقَ الْفَزَارِيُّ، كُلُّهُمْ عَنِ الأَوْزَاعِيِّ قَالَ: حَدَّثَنِي يَزِيدُ الرَّقَاشِيُّ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -: "‌‌ إِنَّ بَنِي إِسْرَائِيلَ تَفَرَّقَتْ عَلَى إِحْدَى وَسَبْعِينَ فِرْقَةً، وَإِنَّ أُمَّتِي تَفْتَرِقُ عَلَى اثْنَيْنِ وَسَبْعِينَ فِرْقَةً كُلُّهَا فِي النَّارِ إِلا وَاحِدَةً وَهِيَ الْجَمَاعَةُ "، وَفِي رِوَايَةِ يَعْقُوبَ بْنِ سُفْيَانَ " وَإِنَّ أُمَّتِي سَتَفْتَرِقُ عَلَى كَذَا وَسَبْعِينَ فِرْقَةً " وَفِي رِوَايَتِهِ فَقِيلَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ: وَمَا هَذِهِ الْوَاحِدَةُ؟ فَقَبَضَ يَدَهُ وَقَالَ الْجَمَاعَةُ: {وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ الله جَمِيعًا وَلَا تفَرقُوا} .

‌‌19 - قَالَ: وَحَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ سُفْيَانَ، ثَنَا عَمْرُو بن عُثْمَان نَا عمار ابْن يُوسُفَ حَدَّثَنِي صَفْوَانُ بْنُ عَمْرٍو عَنْ رَاشِدِ بْنِ سَعِيدٍ عَنْ عَوْفِ بْنِ مَالِكٍ (رضي الله عنه) قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -: "‌‌ افْتَرَقَتِ الْيَهُودُ عَلَى إِحْدَى وَسَبْعِينَ فِرْقَةً فَوَاحِدَةٌ فِي الْجَنَّةِ وَسَبْعُونَ فِي النَّارِ، وَافْتَرَقَتِ النَّصَارَى على اثْنَتَيْنِ وَسَبْعِينَ فِرْقَةً فَوَاحِدَةٌ فِي الْجَنَّةِ وَإِحْدَى وَسَبْعُونَ فِي النَّارِ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَتَفْتَرِقَنَّ أُمَّتِي عَلَى ثَلاثٍ وَسَبْعِينَ فِرْقَةً فَوَاحِدَةٌ فِي الْجَنَّةِ وَثِنْتَانِ وَسَبْعُونَ فِي النَّارِ ".

قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَنْ هُمْ؟ قَالَ: " هُمُ الْجَمَاعَةُ ".

قَالَ الشَّيْخُ (الإِمَامُ رحمه الله قَوْلَهُ: مَا أَنَا عَلَيْهِ وأصحابي الَّذِي كَانَ عَلَيْهِ صلى الله عليه وسلم َ - وَأَصْحَابُهُ مَا مَضَى عَلَيْهِ أَئِمَّةُ الدِّينِ الْمَشْهُورُونَ فِي الْآفَاق قَالَ عمر
আমর, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইসহাক আল-ফাজারি, তাঁরা সকলেই আওজায়ি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াজিদ আর-রাকাশি আনাস বিন মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "‌‌নিশ্চয়ই বনী ইসরাঈল একাত্তরটি দলে বিভক্ত হয়েছিল, আর আমার উম্মত বাহাত্তরটি দলে বিভক্ত হবে, যার সবকটিই জাহান্নামে যাবে একটি ব্যতীত; আর সেটি হলো আল-জামাআহ।", এবং ইয়াকুব বিন সুফিয়ানের বর্ণনায় রয়েছে "আর অচিরেই আমার উম্মত সত্তরোর্ধ্ব এতটি দলে বিভক্ত হবে" এবং তাঁর বর্ণনায় রয়েছে যে, জিজ্ঞাসা করা হলো: হে আল্লাহর রাসুল! এই একটি দল কোনটি? তখন তিনি তাঁর হাত মুষ্টিবদ্ধ করলেন এবং বললেন: আল-জামাআহ; (অর্থাৎ) {তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরো এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না।}।

‌‌১৯ - তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইয়াকুব বিন সুফিয়ান বর্ণনা করেছেন, আমর বিন উসমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আম্মার বিন ইউসুফ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, সাফওয়ান বিন আমর রাশিদ বিন সাঈদ থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আউফ বিন মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "‌‌ইয়াহুদিরা একাত্তরটি দলে বিভক্ত হয়েছিল, যার মধ্যে একটি জান্নাতে এবং সত্তরটি জাহান্নামে। আর নাসারারা বাহাত্তরটি দলে বিভক্ত হয়েছিল, যার মধ্যে একটি জান্নাতে এবং একাত্তরটি জাহান্নামে। আর সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ, অবশ্যই আমার উম্মত তিয়াত্তরটি দলে বিভক্ত হবে, যার মধ্যে একটি জান্নাতে এবং বাহাত্তরটি জাহান্নামে।"。

জিজ্ঞাসা করা হলো: হে আল্লাহর রাসুল! তারা কারা? তিনি বললেন: "তারা হলো আল-জামাআহ।"

শাইখ (ইমাম রহমাতুল্লাহি আলাইহি) তাঁর কথা: "আমি এবং আমার সাহাবীগণ যার ওপর প্রতিষ্ঠিত" সম্পর্কে বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও তাঁর সাহাবীগণ যার ওপর ছিলেন এবং দিগন্তজুড়ে প্রসিদ্ধ দ্বীনের ইমামগণ যার ওপর অতিবাহিত হয়েছেন। উমর বলেন
(খণ্ড: ১) আল-হুজ্জাতু ফী বায়ানিল মাহাজ্জাহ (পৃষ্ঠা: ১২১)
ابْن عَبْدِ الْعَزِيزِ رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَيْهِ (سَنَّ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم َ -‌‌ وَوُلاةُ الأَمْرِ مِنْ بَعْدِهِ سُنَنَا الأَخْذُ بِهَا تَصْدِيقٌ لِكِتَابِ اللَّهِ عز وجل وَاسْتِكْمَالٌ لِطَاعَتِهِ وَقُوَّةٌ عَلَى دِينِ اللَّهِ عز وجل لَيْسَ لأَحَدٍ تَغْيِيرُهَا وَلا تَبْدِيلُهَا وَلا النَّظَرُ فِي رَأْيِ مَنْ خَالَفَهَا فَمَنِ اقْتَدَى بِمَا سَنُّوا اهْتَدَى، وَمَنِ اسْتَبْصَرَ بِهَا مُبْصِرٌ، وَمَنْ خَالَفَهَا وَاتَّبَعَ غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ وَلاهُ اللَّهُ مَا تَوَلَّى وَأَصْلاهُ جَهَنَّمَ وَسَاءَتْ مَصِيرًا. وَقَالَ الزُّهْرِيُّ: " الاعْتِصَامُ بِالسُّنَّةِ نَجَاةٌ وَالْعِلْمُ يُقْبَضُ قَبْضًا سَرِيعًا وَنَعْشُ الْعِلْمِ ثَبَاتُ الدِّينِ وَالدُّنْيَا وَذَهَابُ ذَلِكَ كُلِّهِ فِي ذَهَابِ الْعِلْمِ ".

وَقَالَ أُبَيُّ بْنُ كَعْبٍ رضي الله عنه: " عَلَيْكُمْ بِالسَّبِيلِ وَالسُّنَّةِ فَإِنَّهُ مَا عَلَى الأَرْضِ عَبْدٌ عَلَى السَّبِيلِ وَالسُّنَّةِ ذَكَرَ الرَّحْمَنَ فَفَاضَتْ عَيْنَاهُ مِنْ خَشْيَةِ اللَّهِ فَيُعَذِّبُهُ أَبَدًا،
ইবনে আব্দুল আজিজ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর পরবর্তী শাসকগণ এমন সব সুন্নত বা আদর্শ নির্ধারণ করে গেছেন যা গ্রহণ করা মহান আল্লাহর কিতাবের সত্যায়ন, তাঁর আনুগত্যের পূর্ণতা এবং আল্লাহর দ্বীনের ওপর শক্তিশালী হওয়ার মাধ্যম। এগুলো পরিবর্তন বা পরিবর্ধন করার এবং যারা এর বিরোধিতা করে তাদের মতামতের প্রতি লক্ষ্য করার অধিকার কারো নেই। সুতরাং যে ব্যক্তি তাঁদের প্রবর্তিত সুন্নতের অনুসরণ করবে সে সঠিক পথ পাবে, আর যে ব্যক্তি এর মাধ্যমে সত্য প্রত্যক্ষ করতে চাইবে সে সফল হবে। আর যে ব্যক্তি এর বিরোধিতা করবে এবং মুমিনদের পথ ছাড়া অন্য পথ অনুসরণ করবে আল্লাহ তাকে সেদিকেই পরিচালিত করবেন যেদিকে সে ফিরেছে এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন, আর তা কতই না নিকৃষ্ট গন্তব্য।" ইমাম যুহরী বলেন: "সুন্নতকে আঁকড়ে ধরাই হলো মুক্তি। ইলম অতি দ্রুত তুলে নেওয়া হবে। ইলমের পুনরুজ্জীবন হলো দ্বীন ও দুনিয়ার স্থায়িত্ব, আর ইলম চলে যাওয়ার মাধ্যমেই এই সবকিছুর অবসান ঘটবে।"

উবাই ইবনে কাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: "তোমরা সঠিক পথ ও সুন্নতের ওপর অবিচল থাকো। কেননা জমিনের বুকে এমন কোনো বান্দা নেই, যে সঠিক পথ ও সুন্নতের ওপর প্রতিষ্ঠিত থেকে রহমানকে স্মরণ করার ফলে আল্লাহর ভয়ে তার চক্ষুদ্বয় অশ্রুসিক্ত হয়, যাকে আল্লাহ কখনো আজাব দেবেন,