(খণ্ড: ১)
আল-হাদীসুয যয়ীফ ওয়া হুকমুল ইহতিজাজি বিহি
(পৃষ্ঠা: -)
الحديث الضعيف وحكم الاحتجاج به القسم: علوم الحديث
الكتاب: الحديث الضعيف وحكم الاحتجاج به
المؤلف: عبد الكريم بن عبد الله الخضير
أصل الكتاب: رسالة ماجستير للمؤلف، من كلية أصول الدين بجامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية بالرياض 1402 هـ
الناشر: دار المسلم للنشر والتوزيع، الرياض
الطبعة: الأولى، 1417 هـ - 1997 م
عدد الصفحات: 482
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 16 ربيع الأول 1443
দুর্বল (ضعيف) হাদিস এবং এর মাধ্যমে দলিল হিসেবে গ্রহণের (الاحتجاج) বিধান বিভাগ: হাদিস বিজ্ঞান
গ্রন্থ: দুর্বল (ضعيف) হাদিস এবং এর মাধ্যমে দলিল হিসেবে গ্রহণের (الاحتجاج) বিধান
লেখক: আবদুল কারীম বিন আবদুল্লাহ আল-খুদাইর
মূল গ্রন্থ: লেখকের মাস্টার্স থিসিস، রিয়াদের ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের উসুল আদ-দীন অনুষদ থেকে, ১৪০২ হিজরি
প্রকাশক: দার আল-মুসলিম পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন، রিয়াদ
সংস্করণ: প্রথম، ১৪১৭ হিজরি - ১৯৯৭ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৮২
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩
(খণ্ড: ১)
আল-হাদীসুয যয়ীফ ওয়া হুকমুল ইহতিজাজি বিহি
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمةالحمد لله رب العالمين، والعاقبة للمتقين، ولا عدوان إلا على الظالمين، والصلاة والسلام على خاتم الأنبياء والمرسلين، وقائد الغر المحجلين، وعلى آله الطيبين الطاهرين، وصحابته الهداة المهتدين، وعلى جميع من تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.
أما بعد:
فقد كثر في الآونة الأخيرة النقاش حول بعض المسائل الهامة في الدين، واحتدم النزاع فيها بين من ينتسب إلى العلم، ومن هذه السائل: مسألة الاحتجاج بالحديث الضعيف؛ الذي نتج عنه الإزراء بفقهاء الأمة لذكرهم الضعيف في كتبهم، غافلين، أو متغافلين أن الفقهاء حينما ذكروها لم يعلموا بضعفها، ولكن ذكروها دون بحث عنها، وأحالوا نقدها على صيارفة الحديث، لكونهم أغنوهم عن الكشف عن درجتها، فالبحث عن كيفية رواية الأخبار من وظيفة حملة السنة النبوية، وإن كان المؤمل من طالب العلم -عموما- محدثا أو فقيها أن لا يعمل بخبر يبلغه حتى يعلم درجته، إلا أن الاختصاص بفن معين والاقتصار عليه قد يفرض على صاحبه عدم الخروج عنه إلى غيره لضيق الوقت، وتشعب العلوم.
ونتيجة حتمية لهذا النزاع وجدت نفسي وأمثالي من المبتدئين في طلب العلم بحاجة ماسة إلى مؤلف يجمع أحكام الحديث الضعيف، وجميع ما
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর শুভ পরিণাম মুত্তাকীদের জন্য, এবং সীমালঙ্ঘনকারীদের ব্যতীত আর কারো বিরুদ্ধে শত্রুতা নেই। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সর্বশেষ নবী ও রাসূলের ওপর, উজ্জ্বল মুখমণ্ডল ও হাত-পা বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নেতার ওপর, তাঁর পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন পরিবারবর্গের ওপর, হিদায়াতপ্রাপ্ত ও হিদায়াতদানকারী সাহাবীগণের ওপর এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন তাদের সবার ওপর।
অতঃপর:
সম্প্রতি দ্বীনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং যারা ইলমের সাথে সংশ্লিষ্ট তাদের মধ্যে এ নিয়ে বিতর্ক তীব্রতর হয়েছে। এর মধ্যে একটি বিষয় হলো: দুর্বল (ضعيف) হাদিসকে দলিল হিসেবে পেশ করার মাসয়ালা; যার ফলে উম্মতের ফকিহদের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করা হচ্ছে তাদের কিতাবসমূহে দুর্বল (ضعيف) বর্ণনা উল্লেখ করার কারণে। তারা বিস্মৃত হচ্ছেন বা উপেক্ষা করছেন যে, ফকিহগণ যখন এগুলো উল্লেখ করেছিলেন, তখন তারা এগুলোর দুর্বলতা সম্পর্কে অবগত ছিলেন না, বরং তারা এগুলোর উচ্চতর তদন্ত ছাড়াই তা উল্লেখ করেছেন এবং এগুলোর যাচাই-বাছাইয়ের (نقد) ভার হাদিস বিশারদদের ওপর ন্যস্ত করেছেন। কারণ তারা (হাদিস বিশারদগণ) তাদেরকে হাদিসের মান (درجة) উন্মোচনের কষ্ট থেকে অমুখাপেক্ষী করেছেন। কেননা বর্ণনার পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা করা সুন্নাহর বাহকদের কাজ। যদিও একজন তালিবে ইলম বা জ্ঞানান্বেষীর কাছে—সাধারণভাবে তিনি মুহাদ্দিস হোন বা ফকিহ—প্রত্যাশা থাকে যে, কোনো বর্ণনা তার কাছে পৌঁছলে যতক্ষণ না তিনি তার মান (درجة) জানতে পারবেন ততক্ষণ তা আমল করবেন না, তবে নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হওয়া এবং তাতে সীমাবদ্ধ থাকা সময়ের স্বল্পতা ও ইলমের শাখা-প্রশাখা বিস্তৃত হওয়ার কারণে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিকে তার নিজ বিষয়ের বাইরে অন্য বিষয়ের দিকে ধাবিত হতে বাধা প্রদান করতে পারে।
আর এই বিতর্কের অনিবার্য ফলস্বরূপ আমি এবং আমার মতো ইলম অন্বেষণে নবীনরা এমন একটি রচনার তীব্র প্রয়োজন অনুভব করেছি, যা দুর্বল (ضعيف) হাদিসের বিধানাবলি এবং এ সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয় একত্রিত করবে...
(খণ্ড: ১)
আল-হাদীসুয যয়ীফ ওয়া হুকমুল ইহতিজাজি বিহি
(পৃষ্ঠা: ৪)
يتعلق به استقلالا دون تعرض لغيره من أنواع علوم الحديث؛ خصوصا وأن الأحاديث الضعيفة غزت كثيرا من الكتب التي يكتبها بعض المعاصرين عن الإِسلام، كما شاعت على ألسنة العديد من الخطباء والوعاظ والمتحدثين، وعلى كل ما بحثه العلماء ضمن كتب علوم الحديث من بيان لأحكام الحديث الضعيف، وما وضعه بعضهم من قواعد، كما فعل ابن القيم في كتابه القيم "المنار المنيف في الصحيح والضعيف" فإني لم أجد من أفرده في تصنيف جامع مستقل، إلا ما كان من كراسة كتبها الشيخ علوي المالكي
(1) -جزاه الله خيرا- وسماها "المنهل اللطيف في أحكام الحديث الضعيف"؛ إلا أنها رسالة صغيرة لا تروي غليل الباحث إذ لا تتجاوز خمس عشرة ورقة من الحجم الصغير، وجواب كتبه الشيخ أبو الحسنات اللكهنوى
(2) ضمن أجوبة كتبها عن أسئلة عشرة سئلها
(3)، فأستعنت بالله سبحانه وتعالى وعزمت على اختيار هذا الموضوع لأنال به درجة "الماجستير" من قسم السنة النبوية في جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية، وقد جعلته مكونا من: تمهيد، وثلاثة أبواب، وخاتمة
--------------------------------------------
এটি হাদিস শাস্ত্রের (علوم الحديث) অন্যান্য প্রকারের সাথে সংমিশ্রণ না করে স্বতন্ত্রভাবে এর (দুর্বল হাদিস) সাথে সংশ্লিষ্ট; বিশেষ করে যেহেতু দুর্বল (ضعيف) হাদিসসমূহ সমসাময়িক কিছু লেখকের ইসলাম বিষয়ক অনেক বইয়ে সয়লাব হয়ে গেছে, তেমনিভাবে তা অনেক খতিব, ওয়ায়েজ এবং বক্তাদের মুখেও প্রচলিত হয়ে পড়েছে। হাদিস শাস্ত্রের (علوم الحديث) কিতাবসমূহে উলামায়ে কেরাম দুর্বল (ضعيف) হাদিসের বিধান বর্ণনার ক্ষেত্রে যা কিছু আলোচনা করেছেন এবং কেউ কেউ যে সকল মূলনীতি নির্ধারণ করেছেন—যেমন ইবনুল কাইয়্যিম তাঁর মূল্যবান গ্রন্থ "আল-মানার আল-মুনিফ ফিস সহিহ ওয়াদ দয়িফ"-এ করেছেন—তৎসত্ত্বেও আমি এমন কাউকে পাইনি যিনি এটিকে একটি স্বতন্ত্র ও পূর্ণাঙ্গ সংকলনে রূপ দিয়েছেন। তবে শায়খ আলউই আল-মালিকি
(১) —আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন— এর লেখা একটি পুস্তিকা রয়েছে, যার নাম তিনি দিয়েছেন "আল-মানহালুল লাতিফ ফি আহকামিল হাদিসিদ দয়িফ"। তবে এটি একটি ক্ষুদ্র রিসালাহ যা গবেষকের পিপাসা মেটায় না, কারণ এটি ছোট আকারের পনের পৃষ্ঠার বেশি নয়। এছাড়া শায়খ আবুল হাসানাত আল-লাখনবি
(২) কর্তৃক তাঁর নিকট জিজ্ঞাসিত দশটি প্রশ্নের উত্তরের
(৩) মধ্যে লিখিত একটি উত্তর রয়েছে। তাই আমি মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার সাহায্য প্রার্থনা করলাম এবং এই বিষয়টি বেছে নেওয়ার সংকল্প করলাম যাতে এর মাধ্যমে ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের সুন্নাহ বিভাগ থেকে "মাস্টার্স" ডিগ্রি অর্জন করতে পারি। আমি এটিকে একটি ভূমিকা, তিনটি অধ্যায় এবং একটি উপসংহারের সমন্বয়ে বিন্যস্ত করেছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হাদীসুয যয়ীফ ওয়া হুকমুল ইহতিজাজি বিহি
(পৃষ্ঠা: ৫)
على النحو التالي:-
التمهيد: ويحتوي على المباحث الآتية:-
أ- تعريف الحديث النبوي الشريف.
ب- تقسيم الخبر باعتبار وصوله إلينا.
جـ - تقسيم الخبر من حيث القبول والرد.
د- تقسيم المقبول إلى صحيح وحسن.
الباب الأول: في الحديث الضعيف ومسالك الضعف إلى الحديث، ويشتمل على تقدمة وفصلين:-
التقدمة: في تعريف الحديث الضعيف.
الفصل الأول: في المسلك الأول من مسالك الضعف إلى الحديث، وهو السقط من السند.
الفصل الثاني: في المسلك الثاني من مسالك الضعف إلى الحديث، وهو الطعن في الراوي.
الباب الثاني: في حكم الاحتجاج بالحديث الضعيف، ويشتمل على تقدمة وفصلين أيضا.
التقدمة: في الاحتجاج بالسنة النبوية.
الفصل الأول: في حكم الاحتجاج بالحديث الضعيف في الأحكام وفضائل الأعمال.
الفصل الثاني: في حكم الاحتجاج بالحديث الضعيف في تفسير كتاب
নিম্নরূপ:-
ভূমিকা (التمهيد): এটি নিম্নোক্ত পরিচ্ছেদগুলো নিয়ে গঠিত:-
ক- হাদিসে নববীর সংজ্ঞা।
খ- আমাদের কাছে পৌঁছানোর বিচারে খবরের (الخبر) প্রকারভেদ।
গ- গ্রহণ (القبول) ও প্রত্যাখ্যানের (الرد) ভিত্তিতে খবরের (الخبر) প্রকারভেদ।
ঘ- গ্রহণযোগ্য (المقبول) হাদিসের প্রকারভেদ: সহিহ (صحيح) ও হাসান (حسن)।
প্রথম অধ্যায়: দুর্বল (الضعيف) হাদিস এবং হাদিসে দুর্বলতা (الضعف) প্রবেশের পথসমূহ; এটি একটি ভূমিকা (التقدمة) ও দুটি পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:-
ভূমিকা (التقدمة): দুর্বল (الضعيف) হাদিসের সংজ্ঞার বর্ণনায়।
প্রথম পরিচ্ছেদ: হাদিসে দুর্বলতা (الضعف) প্রবেশের প্রথম পথ: সনদ (السند) থেকে বর্ণনাকারী বাদ পড়া (السقط)।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: হাদিসে দুর্বলতা (الضعف) প্রবেশের দ্বিতীয় পথ: বর্ণনাকারীর (الراوي) ওপর আপত্তি (الطعن)।
দ্বিতীয় অধ্যায়: দুর্বল (الضعيف) হাদিস দ্বারা দলিল গ্রহণের (الاحتجاج) বিধান; এটিও একটি ভূমিকা (التقدمة) ও দুটি পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত।
ভূমিকা (التقدمة): সুন্নাহ (السنة) দ্বারা দলিল গ্রহণ (الاحتجاج) প্রসঙ্গে।
প্রথম পরিচ্ছেদ: আহকাম (الأحكام) এবং ফাযায়িলে আমালের (فضائل الأعمال) ক্ষেত্রে দুর্বল (الضعيف) হাদিস দ্বারা দলিল গ্রহণের (الاحتجاج) বিধান।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কিতাবের তাফসিরের (تفسير) ক্ষেত্রে দুর্বল (الضعيف) হাদিস দ্বারা দলিল গ্রহণের (الاحتجاج) বিধান।
(খণ্ড: ১)
আল-হাদীসুয যয়ীফ ওয়া হুকমুল ইহতিজাজি বিহি
(পৃষ্ঠা: ৬)
الله وقراءة شيء منه، وفي أخبار المغازي والسير.
الباب الثالث: ويشتمل على عدة مباحث من متعلقات الحديث الضعيف، وقد قسمته إلى زمرتين جعلتهما في فصلين:-
الفصل الأول: ويشتمل على المباحث الآتية:-
1 - عناية المحدثين بالسند والمتن.
2 - حكم الرواية عن الضعفاء.
3 - أضعف الأسانيد.
الفصل الثاني: ويشتمل على المباحث الآتية:-
1 - مظان الحديث الضعيف.
2 - الكتب المصنفة في الضعفاء.
3 - الكتب المصنفة في أنواع خاصة من الحديث الضعيف.
الخاتمة: ذكرت فيها أهم النتائج التي توصلت إليها من خلال بحثي، ثم أعقبت ذلك بفهارس الأحاديث والمراجع والموضوعات.
وفي أثناء الرسالة نقلت النصوص وأقوال الأئمة من مصادرها الأصلية، ولم أشأ أن أشين هذه النقول بكثرة التعليق عليها، بل اكتفيت بتنظيمها وتنسيقها وتوضيح المراد منها، وترجيح ما أراه راجحا من أقوالهم عند الاختلاف، كل ذلك على سبيل الاختصار، حفاظا على أساليب أولئك الأئمة لما تتمتع به من دقة في التعبير، وجزالة في الأسلوب.
وفي ختام هذا التقديم أتقدم بوافر الشكر، وخالص الدعاء لفضيلة أستاذي الدكتور محمد أديب الصالح الذي تفضل مشكورا بقبول
আল্লাহ এবং তাঁর কালামের কিছু অংশ তিলাওয়াত করা, এবং যুদ্ধাভিযান (المغازي) ও জীবনচরিত (السير) বিষয়ক সংবাদসমূহের ক্ষেত্রে।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: এটি দুর্বল (الضعيف) হাদিস সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু আলোচনার অন্তর্ভুক্ত, এবং আমি একে দুইটি শ্রেণীতে বিভক্ত করে দুইটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছি:-
প্রথম অধ্যায়: এটি নিম্নোক্ত বিষয়াবলিকে অন্তর্ভুক্ত করে:-
১ - সনদ (السند) ও মতন (المتن) এর প্রতি হাদিস বিশারদদের (المحدثين) বিশেষ গুরুত্ব প্রদান।
২ - দুর্বল (الضعفاء) বর্ণনাকারীদের থেকে বর্ণনা গ্রহণের বিধান।
৩ - দুর্বলতম (أضعف) সনদসমূহ (الأسانيد)।
втоরীয় অধ্যায়: এটি নিম্নোক্ত বিষয়াবলিকে অন্তর্ভুক্ত করে:-
১ - দুর্বল (الضعيف) হাদিস প্রাপ্তির সম্ভাব্য উৎসসমূহ (مظان)।
২ - দুর্বল (الضعفاء) বর্ণনাকারীদের বিষয়ে রচিত কিতাবসমূহ।
৩ - বিশেষ প্রকারের দুর্বল (الضعيف) হাদিস বিষয়ক রচিত কিতাবসমূহ।
উপসংহার: এতে আমি আমার গবেষণার মাধ্যমে প্রাপ্ত গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলসমূহ উল্লেখ করেছি, এরপর হাদিসসমূহ, তথ্যসূত্র এবং বিষয়সূচির নির্ঘণ্ট সংযোজন করেছি।
এই গবেষণাপত্র চলাকালীন আমি মূল উৎসসমূহ থেকে মূল পাঠ (النصوص) এবং ইমামগণের উক্তি উদ্ধৃত করেছি। আমি অত্যধিক টীকা প্রদানের মাধ্যমে এই উদ্ধৃতিগুলোকে ভারাক্রান্ত করতে চাইনি, বরং সেগুলোকে সুসংগঠিত ও বিন্যস্ত করা, সেগুলোর উদ্দেশ্য স্পষ্ট করা এবং মতভেদের ক্ষেত্রে তাঁদের বক্তব্যের মধ্য থেকে যেটিকে আমি সঠিক (الراجح) মনে করেছি তাকে প্রাধান্য দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছি। এ সবকিছুই করা হয়েছে সংক্ষেপের ভিত্তিতে, যাতে সেই ইমামগণের প্রকাশভঙ্গির সূক্ষ্মতা ও শৈলীর গাম্ভীর্য অক্ষুণ্ণ থাকে।
এই মুখবন্ধের শেষে আমি আমার পরম শ্রদ্ধেয় উস্তাদ ডক্টর মুহাম্মদ আদীব আস-সালিহ এর প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা ও আন্তরিক দুআ পেশ করছি, যিনি সদয়ভাবে [এটি] গ্রহণ করার মাধ্যমে আমাকে ধন্য করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-হাদীসুয যয়ীফ ওয়া হুকমুল ইহতিজাজি বিহি
(পৃষ্ঠা: ৭)
الإشراف على هذه الرسالة؛ رغم ما يقوم به من أعمال كثيرة، ومع ذلك فلم يبخل علي بوقت ولا رأي، مما جعل لملاحظاته وتوجيهاته أكبر الأثر على إخراج هذه الرسالة.
وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين، وصلى الله وسلم على نبينا محمد، وآله وصحبه.
وكتبه
عبد الكريم بن عبد الله الخضير
এই গবেষণাপত্রটি তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে; তাঁর বহুমুখী কর্মব্যস্ততা সত্ত্বেও তিনি আমাকে সময় প্রদান কিংবা সুচিন্তিত মতামত প্রদানে কোনো কার্পণ্য করেননি, যার ফলে তাঁর মূল্যবান পর্যবেক্ষণ ও দিকনির্দেশনা এই গবেষণাপত্রটি চূড়ান্ত রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে।
পরিশেষে আমাদের নিবেদন এই যে, সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর সকল সাহাবীদের ওপর।
ইতি লেখক
আব্দুল কারীম বিন আব্দুল্লাহ আল-খুদাইর
(খণ্ড: ১)
আল-হাদীসুয যয়ীফ ওয়া হুকমুল ইহতিজাজি বিহি
(পৃষ্ঠা: ৯)
تمهيديحتوي على المباحث الآتية:-
1 - تعريف: الحديث، الخبر، الأثر، السنة، الحديث القدسي.
2 - تقسيم الخبر باعتبار وصوله إلينا:-
أ- متواتر.
ب-آحاد.
تعريف كل منهما وأقسامه.
3 - تقسيم الخبر من حيث القبول والرد:-
أ- مقبول.
ب- مردود.
تقسيم المقبول إلى:-
1 - صحيح لذاته.
2 - حسن لذاته.
3 - صحيح لغيره.
4 - حسن لغيره.
*أما المردود فسيأتي الكلام عليه في الباب الأول، وما بعده.
উপক্রমণিকাএতে নিম্নোক্ত পরিচ্ছেদসমূহ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:-
১ - সংজ্ঞা: হাদিস, খবর (خبر), আসার (أثر), সুন্নাহ (سنة), হাদিসে কুদসি (القدسي)।
২ - আমাদের নিকট পৌঁছানোর নিরিখে খবরের (خبر) শ্রেণীবিন্যাস:-
ক- মুতাওয়াতির (متواتر)।
খ- আহাদ (آحاد)।
উভয়ের সংজ্ঞা ও তাদের প্রকারভেদ।
৩ - গ্রহণযোগ্যতা ও বর্জনের নিরিখে খবরের (خبر) শ্রেণীবিন্যাস:-
ক- গ্রহণযোগ্য (مقبول)।
খ- বর্জনীয় (مردود)।
গ্রহণযোগ্য (مقبول) খবরের শ্রেণীবিন্যাস:-
১ - সহিহ লি-যাতিহি (صحيح لذاته)।
২ - হাসান লি-যাতিহি (حسن لذاته)।
৩ - সহিহ লি-গাইরিহি (صحيح لغيره)।
৪ - হাসান লি-গাইরিহি (حسن لغيره)।
*আর বর্জনীয় (مردود) বর্ণনার আলোচনা প্রথম অধ্যায় ও পরবর্তী পরিচ্ছেদগুলোতে আসবে।
(খণ্ড: ১)
আল-হাদীসুয যয়ীফ ওয়া হুকমুল ইহতিজাজি বিহি
(পৃষ্ঠা: ১০)
تعريف الحديث النبوي الشريف
التعريف اللغوي:الحديث: نقيض القديم، والحدوث نقيض القدمة، حدث الشيء يحدث حدوثا وأحدثه، فهو محدث وحديث
(1).
فالحديث ما يحدث به المحدث تحديثا، ورجل حدث: أي كثير الحديث
(2).
قال الجوهري
(3): الحديث الخبر يأتي على القليل والكثير، ويجمع على أحاديث على غير قياس
(4). كقطيع وأقاطيع
(5).
وقد ورد ذكر الحديث في القرآن على خمسة أوجه:
الأول: بمعنى الأخبار والآثار. {
… أَتُحَدِّثُونَهُمْ بِمَا فَتَحَ اللَّهُ عَلَيْكُمْ
… } الآية
(6).
الثاني: بمعنى القول والكلام { .. وَمَنْ أَصْدَقُ مِنَ اللَّهِ حَدِيثًا .. }
(7).
--------------------------------------------
পবিত্র নববী হাদিসের সংজ্ঞাশাব্দিক সংজ্ঞা:হাদিস: পুরাতন (القديم)-এর বিপরীত; আর 'হুদুছ' (الحدوث) হলো প্রাচীনত্ব (القدمة)-এর বিপরীত। কোনো কিছু সঙ্ঘটিত হওয়া অর্থে 'হাদাসা' 'ইয়াহদুছু' 'হুদুছান' ব্যবহৃত হয় এবং তিনি তা উদ্ভাবন করেছেন; অতএব সেটি নতুন উদ্ভাবিত (محدث) এবং নতুন (حديث)
(১)।
হাদিস হলো তা-ই, যা কোনো বর্ণনাকারী বর্ণনা (تحديثا) করেন। আর 'রাজুলুন হাদাস' অর্থ: অধিক কথা বলা ব্যক্তি
(২)।
আল-জাওহারী
(৩) বলেন: হাদিস হলো সংবাদ (الخبر), যা অল্প বা বিস্তর উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হয়। এর বহুবচন হিসেবে ব্যাকরণিক নিয়মের বহির্ভূত (على غير قياس) 'আহাদিস' (أحاديث) ব্যবহৃত হয়
(৪)। যেমন: 'ক্বাতী' এবং 'আক্বাতী'
(৫)।
কুরআনে হাদিস শব্দটি পাঁচটি অর্থে বর্ণিত হয়েছে:
প্রথম: সংবাদ (الأخبار) এবং নিদর্শন বা বর্ণনা (الآثار) অর্থে। { … তোমরা কি তাদের কাছে তা বর্ণনা করছ যা আল্লাহ তোমাদের কাছে উন্মুক্ত করেছেন … } আয়াত
(৬)।
দ্বিতীয়: কথা (القول) ও বাণী (الكلام) অর্থে। { .. এবং বাণীর (حديثا) ক্ষেত্রে আল্লাহর চেয়ে অধিক সত্যবাদী আর কে আছে? .. }
(৭)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হাদীসুয যয়ীফ ওয়া হুকমুল ইহতিজাজি বিহি
(পৃষ্ঠা: ১১)
الثالث: بمعنى القرآن العظيم {فَلْيَأْتُوا بِحَدِيثٍ مِثْلِهِ
… } [الطور: 34] الآية
(1).
الرابع: بمعنى القصص ذات العبر. {اللَّهُ نَزَّلَ أَحْسَنَ الْحَدِيثِ
… }
(2) الآية.
الخامس: بمعنى العبر في حديث الكفار والفجار {
… فَجَعَلْنَاهُمْ أَحَادِيثَ
… } الآية
(3).
وكل كلام يبلغ الإنسان من جهة السمع أو الوحي في يقظته أو منامه، يقال له: حديث. قال تعالى: {وَإِذْ أَسَرَّ النَّبِيُّ إِلَى بَعْضِ أَزْوَاجِهِ حَدِيثًا
… } الآية
(4).
أما النبي صلى الله عليه وسلم فقد أطلق على كلامه حديثا؛ وذلك حينما سأله أبو هريرة قائلا: "من أسعد الناس بشفاعتك يوم القيامة؟، فقال له الرسول صلى الله عليه وسلم: لقد ظننت يا أبا هريرة أن لا يسألني عن هذا الحديث أحد أولى منك لما رأيت من حرصك على الحديث"
(5).
--------------------------------------------
তৃতীয়: মহান কুরআনের অর্থে। {অতএব তারা যেন এর সদৃশ কোনো বাণী (হাদিস) নিয়ে আসে
… } [আত-তূর: ৩৪] আয়াত।
(১).
চতুর্থ: উপদেশমূলক কাহিনীর অর্থে। {আল্লাহ সর্বোত্তম বাণী (হাদিস) নাজিল করেছেন
… }
(২) আয়াত।
পঞ্চম: কাফির ও পাপাচারীদের পরিণতির উপদেশের অর্থে {
… অতঃপর আমি তাদেরকে কাহিনীর বিষয়বস্তু বানিয়েছি
… } আয়াত।
(৩).
শ্রবণ বা ওহির মাধ্যমে জাগ্রত অবস্থায় বা ঘুমের ঘোরে মানুষের কাছে পৌঁছানো প্রতিটি কথাকেই হাদিস বলা হয়। মহান আল্লাহ বলেন: {যখন নবী তাঁর কোনো এক স্ত্রীর কাছে গোপনে একটি কথা (হাদিস) বলেছিলেন
… } আয়াত।
(৪).
আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের বাণীর ক্ষেত্রেও হাদিস শব্দটির প্রয়োগ করেছেন; আর তা ছিল যখন আবু হুরায়রা তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন: "কিয়ামত দিবসে আপনার শাফায়াত (সুপারিশ) লাভে সবচেয়ে ধন্য ব্যক্তি কে হবে?" তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেছিলেন: "হে আবু হুরায়রা, হাদিসের প্রতি তোমার প্রবল আগ্রহ দেখে আমি মনে করেছিলাম যে, তোমার আগে আর কেউ এই হাদিস সম্পর্কে আমাকে জিজ্ঞাসা করবে না।"
(৫).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হাদীসুয যয়ীফ ওয়া হুকমুল ইহতিজাজি বিহি
(পৃষ্ঠা: ১২)
التعريف الاصطلاحي:عرفه الكرماني
(1) بأنه: علم يعرف به أقوال الرسول صلى الله عليه وسلم وأفعاله وأحواله
(2).
وقال شيخ الإسلام ابن تيمية
(3): "الحديث النبوي -عند الإِطلاق- ينصرف إلى ما حدث به عنه صلى الله عليه وسلم بعد النبوة من قوله وفعله وإقراره"
(4).
وعرفه الحافظ ابن حجر
(5): بأنه ما يضاف إلى النبي صلى الله عليه وسلم
(6).
--------------------------------------------
পারিভাষিক সংজ্ঞা (التعريف الاصطلاحي):আল-কিরমানি
(১) একে সংজ্ঞায়িত করেছেন এভাবে: এটি এমন একটি জ্ঞান যার মাধ্যমে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী, কর্ম ও অবস্থাসমূহ জানা যায়
(২).
শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া
(৩) বলেন: "সাধারণভাবে হাদীসে নববী বলতে নবুওয়াত প্রাপ্তির পর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত তাঁর বাণী, কর্ম ও মৌনসম্মতিকে (إقرار) বোঝায়"
(৪).
এবং হাফিজ (حافظ) ইবনে হাজার
(৫) একে সংজ্ঞায়িত করেছেন এভাবে: যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়
(৬).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হাদীসুয যয়ীফ ওয়া হুকমুল ইহতিজাজি বিহি
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وعرفه السخاوي
(1): بأنه ما أضيف إلى النبي صلى الله عليه وسلم قولا له أو فعلا أو تقريرا أو صفة حتى الحركات والسكنات في اليقظة والمنام
(2).
نقد التعريفات السابقة:تعريف الكرماني: غير شامل للتقرير، فهو غير جامع؛ ومع ذلك يقول فيه السيوطي
(3): إنه غير محرر
(4).
وتعريف شيخ الإسلام ابن تيمية: لم يذكر فيه الوصف؛ فهو غير جامع أيضا.
وتعريف الحافظ ابن حجر: مجمل، فليس بجامع ولا مانع.
وتعريف السخاوي: لم يقيد بما بعد النبوة، فهو غير مانع.
وأحسن تعريف للحديث الشريف -في نظري-: هو تعريف شيخ الإسلام ابن تيمية إذا أضيف إليه الوصف.
وهكذا: نرى هذه التعريفات تتفق في حصر الحديث بكونه ما أضيف
--------------------------------------------
ইমাম সাখাভী
(১) হাদিসের সংজ্ঞা দিয়েছেন এভাবে: যা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দিকে তাঁর কথা (قول), কাজ (فعل), অনুমোদন (تقرير) অথবা বৈশিষ্ট্য (صفة) হিসেবে সম্বন্ধ করা হয়েছে, এমনকি জাগ্রত কিংবা নিদ্রাবস্থায় তাঁর নড়াচড়া ও স্থিরতাকেও এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে
(২)।
পূর্বোক্ত সংজ্ঞাসমূহের পর্যালোচনা:কিরমানীর সংজ্ঞা: এটি অনুমোদন (تقرير) বিষয়টিকে অন্তর্ভুক্ত করেনি, তাই এটি পূর্ণাঙ্গ (جامع) নয়; তা সত্ত্বেও সুয়ূতী
(৩) এই সংজ্ঞা সম্পর্কে বলেছেন: এটি সুসংহত (محرر) নয়
(৪)।
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার সংজ্ঞা: এতে বৈশিষ্ট্যের (صفة) কথা উল্লেখ করা হয়নি; ফলে এটিও পূর্ণাঙ্গ (جامع) নয়।
হাফেজ ইবনে হাজারের সংজ্ঞা: এটি সংক্ষিপ্ত (مجمل), তাই এটি পূর্ণাঙ্গ (جامع) কিংবা ব্যবচ্ছেদকারী (مانع) কোনটিই নয়।
সাখাভীর সংজ্ঞা: এটি নবুওয়াত পরবর্তী সময়ের সাথে সীমাবদ্ধ করা হয়নি, তাই এটি ব্যবচ্ছেদকারী (مانع) নয়।
আমার মতে হাদিস শরীফের সর্বোত্তম সংজ্ঞা হলো—শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার সংজ্ঞাটি, যদি তাতে বৈশিষ্ট্য (صفة) শব্দটিও যুক্ত করা হয়।
এভাবে আমরা দেখতে পাই যে, এই সংজ্ঞাসমূহ হাদিসকে কেবল সেই বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার ক্ষেত্রে একমত হয়েছে যা সম্বন্ধ করা হয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হাদীসুয যয়ীফ ওয়া হুকমুল ইহতিজাজি বিহি
(পৃষ্ঠা: ১৪)
إلى النبي صلى الله عليه وسلم دون غيره، لكن الحافظ الطيبي
(1) ذكر أن السلف أطلقوا الحديث على أقوال الصحابة والتابعين لهم بإحسان وآثارهم وفتاواهم
(2).
الخبر: مرادف للحديث، كما تقدم في كلام الجوهري
(3). ونقله الحافظ ابن حجر عن علماء الفن
(4).
ويرى آخرون: أن الحديث ما جاء عن النبي صلى الله عليه وسلم، والخبر ما جاء عن غيره، ومن ثم قيل لمن يشتغل بالتواريخ وما شاكلها "الإخباري"، ولمن يشتغل بالسنة النبوية "المحدث"
(5).
ويرى جماعة من أهل العلم أن بين الحديث والخبر عموما وخصوصا مطلقا، فكل حديث خبر من غير عكس
(6)، على اعتبار أن الحديث هو المرفوع فقط، وأن الخبر يشمل المرفوع والموقوف
(7).
الأثر: هو مرادف للحديث أيضا، ومن ثم قيل لمن يشتغل بالحديث: "الأثري".
--------------------------------------------
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি নির্দিষ্ট, অন্য কারো প্রতি নয়। তবে হাফিজ তিবী
(১) উল্লেখ করেছেন যে, পূর্বসূরিগণ (السلف) সাহাবী (الصحابة) এবং নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারী তাবেয়ী (التابعين)-গণের বক্তব্য, তাঁদের বিবরণ (آثارهم) ও ফতোয়া (فتاواهم)-এর ক্ষেত্রেও 'হাদিস' শব্দটি প্রয়োগ করতেন
(২)。
খবর (الخبر): এটি হাদিসের সমার্থক (مرادف), যেমনটি জাওহারীর বক্তব্যে পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে
(৩)। হাফিজ ইবনে হাজার এ শাস্ত্রের পণ্ডিতদের থেকে এটি বর্ণনা করেছেন
(৪)。
অন্য অনেকে মনে করেন: হাদিস হলো যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে, আর খবর (الخبر) হলো যা অন্য কারো থেকে বর্ণিত হয়েছে। এ কারণেই যারা ইতিহাস ও অনুরূপ বিষয় নিয়ে চর্চা করেন তাদের ইতিহাসবিদ (الإخباري) বলা হয়, আর যারা সুন্নাহ নিয়ে চর্চা করেন তাদের হাদিস বিশারদ (المحدث) বলা হয়
(৫)。
একদল আলিম মনে করেন যে, হাদিস এবং খবরের মধ্যে সাধারণ ও বিশেষের নিঃশর্ত সম্পর্ক (عموما وخصوصا مطلقا) বিদ্যমান। সুতরাং প্রত্যেক হাদিসই খবর, তবে এর বিপরীতটি সঠিক নয়
(৬); এই বিবেচনায় যে, হাদিস কেবল মারফু (المرفوع)-কে বোঝায়, আর খবর মারফু (المرفوع) এবং মাওকুফ (الموقوف) উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে
(৭)。
আসার (الأثر): এটিও হাদিসের সমার্থক (مرادف), একারণেই যারা হাদিস নিয়ে চর্চা করেন তাদের আসারি (الأثري) বলা হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হাদীসুয যয়ীফ ওয়া হুকমুল ইহতিজাজি বিহি
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وقيل: هو أعم من الحديث فيشمل المرفوع والموقوف، ومنه شرح معاني الآثار
(1)، لا شتماله عليهما
(2).
ويرى الفقهاء الخراسانيون قصره على الموقوف
(3).
السنة: وهي مرادفة للحديث أيضا، فقد عرفها الحافظ ابن حجر: بأنها ما جاء عن النبي صلى الله عليه وسلم من أقواله وأفعاله وتقريره وما هم بفعله
(4).
وهي كذلك عند الأصوليين
(5) مرادفة للحديث
(6).
لكن رد اللفظين إلى أصولهما يؤكد وجود بعض الفروق الدقيقة بين الاستعمالين.
فالحديث: اسم من التحديث الذي هو الإخبار، ثم سمي به قول النبي صلى الله عليه وسلم وفعله وتقريره وصفته.
أما السنة: فإنها تبعا لأصلها اللغوي -الذي هو الطريقة- نجد أن لفظها
--------------------------------------------
বলা হয়ে থাকে: এটি (আসার) হাদিসের চেয়েও ব্যাপক, যা রাসূলুল্লাহর সাথে সম্পর্কিত (مرفوع) এবং সাহাবীর সাথে সম্পর্কিত (موقوف) উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে। শারহু মাআনিল আসার
(1) গ্রন্থটি এর অন্তর্ভুক্ত, কারণ এতে এই উভয় প্রকার বর্ণনাই রয়েছে
(2)।
খোরাসানি ফকিহগণ একে কেবল সাহাবীর সাথে সম্পর্কিত (موقوف) বর্ণনার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার পক্ষপাতী
(3)।
সুন্নাহ: এটিও হাদিসের সমার্থক। হাফেজ ইবনে হাজার একে সংজ্ঞায়িত করেছেন: নবী (সা.) থেকে তাঁর কথা, কাজ, অনুমোদন এবং তিনি যা করার সংকল্প করেছিলেন সেই হিসেবে যা বর্ণিত হয়েছে
(4)।
উসুলশাস্ত্রবিদদের (أصوليين)
(5) নিকটও এটি হাদিসের সমার্থক
(6)।
তবে শব্দ দুটির ব্যুৎপত্তিগত মূল উৎসের দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে, উভয় ব্যবহারের মধ্যে কিছু সূক্ষ্ম পার্থক্য রয়েছে।
হাদিস হলো সংবাদ প্রদান (التحديث) থেকে আগত একটি বিশেষ্য, যার অর্থ সংবাদ দেওয়া। পরবর্তীতে নবী (সা.)-এর কথা, কাজ, অনুমোদন এবং গুণাবলিকে এই নামে অভিহিত করা হয়েছে।
আর সুন্নাহ: এটি এর ভাষাগত মূল ভিত্তি—যা হলো পদ্ধতি (طريقة)—তার অনুগামী হয়ে আমরা দেখতে পাই যে এর শব্দগত
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হাদীসুয যয়ীফ ওয়া হুকমুল ইহতিজাজি বিহি
(পৃষ্ঠা: ১৬)
يوحي بأنها الطريقة التي سلكها النبي صلى الله عليه وسلم في سيرته
(1).
فإذا كان الحديث عاما يشمل قول النبي صلى الله عليه وسلم وفعله، فالسنة خاصة بأعماله
(2).
ومن هذا المنطلق ندرك معنى قول عبد الرحمن بن مهدي
(3) حين سُئِلَ عن الأوزاعي
(4)، وسفيان الثوري
(5)، ومالك بن أنس: أيهم أعلم؟
فقال: الأوزاعي إمام في السنة، وليس بإمام في الحديث، وسفيان إمام في الحديث، وليس بإمام في السنة، ومالك إمام فيهما معًا
(6).
لكن الحافظ ابن الصلاح
(7) لما سئل عن هذا الكلام أجاب: بأن السنة-
--------------------------------------------
এটি ইঙ্গিত দেয় যে, এটিই সেই পদ্ধতি যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর সীরাতে অনুসরণ করেছিলেন
(১).
সুতরাং হাদিস যদি ব্যাপক হয় যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কথা ও কাজ উভয়কে অন্তর্ভুক্ত করে, তবে সুন্নাহ তাঁর কর্মের সাথে নির্দিষ্ট
(২).
আর এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই আমরা আব্দুর রহমান ইবনে মাহদীর
(৩) বক্তব্যের মর্মার্থ বুঝতে পারি, যখন তাঁকে আওজাঈ
(৪), সুফিয়ান সাওরি
(৫) এবং মালিক ইবনে আনাস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: তাঁদের মধ্যে কে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী?
তিনি বললেন: আওজাঈ সুন্নাহর ক্ষেত্রে ইমাম (إمام), কিন্তু হাদিসের ক্ষেত্রে ইমাম (إمام) নন; আর সুফিয়ান হাদিসের ক্ষেত্রে ইমাম (إمام), কিন্তু সুন্নাহর ক্ষেত্রে ইমাম (إمام) নন; তবে মালিক উভয়ের ক্ষেত্রেই ইমাম (إمام)
(৬).
কিন্তু হাফেজ (حافظ) ইবনে সালাহকে
(৭) যখন এই বক্তব্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তিনি উত্তর দিয়েছিলেন: সুন্নাহ হলো-
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হাদীসুয যয়ীফ ওয়া হুকমুল ইহতিজাজি বিহি
(পৃষ্ঠা: ১৭)
هنا- ضد البدعة، وقد يكون الإنسان من أهل الحديث وهو مبتدع، ومالك رضي الله عنه جمع بين السنتين، فكان عالما بالسنة أي: الحديث، ومعتقد السنة، أي: كان مذهبه مذهب أهل الحق من غير بدعة
(1).
لكن هذا التوجيه غير وجيه، لأنه يلزم منه أن سفيان الثوري مع معرفته بالحديث لا يعرف البدع وأهلها، وهذا بعيد.
وأجود منه ما قاله الشيخ ولي الله الدهلوي
(2) حيث قال ما ملخصه:
"إن السلف على قسمين: قسم يستنبط من النصوص مباشرة، وآخر يستنبط من القواعد الكلية التي هذبها جماعة من الأئمة بدون التفات إلى مأخذها، فالثوري كان إماما في نقل الأحاديث، وآثار الصحابة بأسانيد صحيحة. والأوزاعي كان إماما في معرفة قواعد السلف في كل باب من أبواب الفقه، وأما الإمام مالك فكان إماما في كلا الأمرين"
(3).
لكن هذا التفريق لم يعش طويلا فيما بعد، وأضحت الكلمتان مترادفتين ولا يذكر التفريق بينهما إلا من أجل فهم مثل هذه العبارة الواردة عن ابن مهدي.
--------------------------------------------
এখানে— বিদআতের (بدعة) বিপরীত; কখনো কখনো কোনো ব্যক্তি হাদিস বিশারদগণের (أهل الحديث) অন্তর্ভুক্ত হয়েও বিদআতী (مبتدع) হতে পারেন। ইমাম মালেক (রা.) উভয় প্রকার সুন্নাহর সমন্বয় করেছিলেন। তিনি সুন্নাহ অর্থাৎ হাদিস সম্পর্কে যেমন অভিজ্ঞ ছিলেন, তেমনি সুন্নাহর আকিদাহ পোষণকারীও ছিলেন। অর্থাৎ, তার মাযহাব বা পথ ছিল বিদআতহীন (بدعة) সত্যপন্থীদের (أهل الحق) পথ।
(১)কিন্তু এই ব্যাখ্যাটি তেমন জোরালো নয়, কারণ এর দ্বারা এটি আবশ্যক হয়ে পড়ে যে, সুফিয়ান আস-সাওরী হাদিস সম্পর্কে অগাধ পাণ্ডিত্য রাখা সত্ত্বেও বিদআত (بدع) এবং এর অনুসারীদের সম্পর্কে অবগত ছিলেন না; অথচ এটি একটি দূরবর্তী সম্ভাবনা।
এর চেয়েও উত্তম ব্যাখ্যা হলো যা শাইখ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভি
(২) প্রদান করেছেন, যার সারসংক্ষেপ নিম্নরূপ:
"নিশ্চয়ই সালাফগণ দুই প্রকারের ছিলেন: একদল সরাসরি নস (نصوص) থেকে বিধান আহরণ (استنباط) করতেন, আর অন্যদল সেই সব সামগ্রিক মূলনীতি (قواعد كلية) থেকে বিধান আহরণ (استنباط) করতেন যা একদল ইমাম তাদের উৎসগুলোর দিকে দৃষ্টিপাত করা ছাড়াই সুবিন্যস্ত করেছিলেন। আস-সাওরী ছিলেন সহিহ (صحيحة) সনদসহ (أسانيد) হাদিসসমূহ এবং সাহাবীগণের আসার (آثار) বর্ণনার ক্ষেত্রে ইমাম। আর আওযাঈ ছিলেন ফিকহের প্রতিটি অধ্যায়ে সালাফদের মূলনীতিসমূহ (قواعد) অনুধাবনের ক্ষেত্রে ইমাম। কিন্তু ইমাম মালেক উভয় বিষয়েই ইমাম ছিলেন।"
(৩).
তবে এই পার্থক্য পরবর্তীতে দীর্ঘস্থায়ী হয়নি এবং শব্দ দুটি সমার্থক হয়ে পড়েছে। ইবনে মাহদী থেকে বর্ণিত এই ধরনের উক্তি বোঝার প্রয়োজন ছাড়া বর্তমানে এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্যের বিষয়টি উল্লেখ করা হয় না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হাদীসুয যয়ীফ ওয়া হুকমুল ইহতিজাজি বিহি
(পৃষ্ঠা: ১৮)
الحديث القدسي:الأحاديث النبوية، منها: ما يسنده الرسول صلى الله عليه وسلم إلى نفسه إسنادًا مباشرًا، فيسمى حديثًا بالمعنى المتقدم المتعارف عليه بين المحدثين.
ومنها: ما يحكيه النبي صلى الله عليه وسلم عن الله عز وجل بإسلوب غير إسلوب لقرآن الكريم
(1)، وهذا مع مغايرته لاسلوب القرآن الكريم إذا صح تظهر عليه النفحة الإلهية، والهيبة الربانية، والنوع الأخير هو ما اصطلح المحدثون على تسميته بالحديث القدسي.
تعريفه:القدسي: منسوب إلى القدس، والقدس: الطهارة والنزاهة، ومنه اسمه تبارك وتعالى (القدوس) أي: الطاهر المنزه عن العيوب والنقائص، ومنه الأرض المقدسة، لأنها يتقدس فيها من الذنوب. وروح القدس: جبريل لأنه خلق من طهارة
(2).
--------------------------------------------
হাদিসে কুদসি:নববি হাদিসসমূহের মধ্যে এমন কিছু হাদিস রয়েছে যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সরাসরি নিজের দিকে সম্বন্ধ (إسناد) করেন; একে মুহাদ্দিসগণের (المحدثون) নিকট প্রচলিত ও পরিচিত অর্থে হাদিস বলা হয়।
আবার কিছু হাদিস এমন রয়েছে যা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরআনুল কারিমের শৈলী ব্যতীত ভিন্ন আঙ্গিকে মহান আল্লাহ তাআলা থেকে বর্ণনা করেন
(১)। এটি কুরআনুল কারিমের শৈলী থেকে ভিন্ন হওয়া সত্ত্বেও যদি সহিহ (صحيح) সাব্যস্ত হয়, তবে এতে খোদায়ি আভা ও রব্বানি গাম্ভীর্য প্রকাশ পায়। শেষোক্ত এই প্রকারটিকেই মুহাদ্দিসগণ (المحدثون) পারিভাষিকভাবে 'হাদিসে কুদসি' হিসেবে নামকরণ করেছেন।
এর সংজ্ঞা:কুদসি: এটি 'কুদস' শব্দের দিকে সম্বন্ধযুক্ত। আর 'কুদস' শব্দের অর্থ হলো পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা। এ থেকেই মহান আল্লাহ তাআলার নাম হয়েছে 'আল-কুদ্দুস' অর্থাৎ এমন পুত-পবিত্র সত্তা যিনি যাবতীয় ত্রুটি ও অসম্পূর্ণতা থেকে মুক্ত। অনুরূপভাবে 'পবিত্র ভূমি' বলা হয়, কারণ তা গুনাহ থেকে পবিত্র হওয়ার স্থান। আর জিবরাঈল আলাইহিস সালাম-কে 'রুহুল কুদুস' বলা হয়, কারণ তাঁকে পবিত্রতা থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে
(২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হাদীসুয যয়ীফ ওয়া হুকমুল ইহতিজাজি বিহি
(পৃষ্ঠা: ১৯)
فالحديث القدسي: ما أضافه الرسول صلى الله عليه وسلم، وأسنده إلى ربه عز وجل من غير القرآن
(1).
فهو حديث، لكون الرسول صلى الله عليه وسلم هو الحاكي له عن ربه عز وجل.
وقدسي: لأنه منسوب إلى القدوس، لأنه صادر عن الله تبارك وتعالى.
صيغ الحديث القدسي:للحديث القدسي صيغتان:
إِحداهما: أن يقول الراوي: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم فيما يرويه عن ربه عز وجل.
مثال ذلك: ما روى مسلم عن أبي ذر رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم فيما يرويه عن ربه تبارك وتعالى: "إِني حرمت الظلم على نفسي وجعلته بينكم محرما فلا تظالموا
… " الحديث
(2).
الثانيه: أن يقول الراوي: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: قال الله تعالى، أو يقول الله عز وجل.
مثال ذلك: ما روى أبو هريرة رضي الله عنه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، قال: قال الله عز وجل: "إِذا هم عبدي بحسنة ولم يعملها كتبتها له حسنة
… " الحديث
(3).
--------------------------------------------
হাদিসে কুদসি (الحديث القدسي) হলো: যা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর বাণী হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর মহান রবের দিকে সম্বন্ধ করেছেন, যা কুরআনের অন্তর্ভুক্ত নয়
(১)।
এটি হাদিস, কারণ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) স্বয়ং এটি তাঁর মহান রবের পক্ষ থেকে বর্ণনাকারী।
আর এটি কুদসি: কারণ এটি ‘কুদ্দুস’ (পরম পবিত্র)-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত, যেহেতু এটি বরকতময় ও সুউচ্চ আল্লাহর পক্ষ থেকে উৎসারিত।
হাদিসে কুদসির শব্দমালা (صيغ):হাদিসে কুদসির শব্দমালার (صيغ) ক্ষেত্রে দুটি রূপ রয়েছে:
প্রথমটি: বর্ণনাকারী (الراوي) বলবেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর মহান রবের পক্ষ থেকে যা বর্ণনা করেছেন তাতে তিনি বলেছেন।
এর উদাহরণ: যা মুসলিম আবু যার (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বরকতময় ও সুউচ্চ রবের পক্ষ থেকে যা বর্ণনা করেছেন তাতে তিনি বলেছেন: “নিশ্চয় আমি নিজের ওপর জুলুম হারাম করেছি এবং তোমাদের মধ্যেও তা হারাম করেছি, সুতরাং তোমরা একে অপরের ওপর জুলুম করো না...” হাদিস
(২)।
দ্বিতীয়টি: বর্ণনাকারী (الراوي) বলবেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: মহান আল্লাহ বলেছেন, অথবা আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেছেন।
এর উদাহরণ: যা আবু হুরাইরা (রা.) রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেছেন: “যখন আমার বান্দা কোনো নেক কাজের সংকল্প করে কিন্তু তা সম্পাদন করে না, আমি তার জন্য একটি নেকি লিখে রাখি...” হাদিস
(৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হাদীসুয যয়ীফ ওয়া হুকমুল ইহতিজাজি বিহি
(পৃষ্ঠা: ২০)
تنبيه: وصف الحديث بكونه قدسيا لا يعني أنه صحيح؛ إذ أن الصحة والضعف مرجعهما إلى السند، وهذه الوصفية مرجعها إلى نسبة الكلام إلى الله تبارك وتعالى.
فعلى هذا قد يكون الحديث القدسي صحيحا، وقد يكون حسنا، وقد يكون ضعيفا.
সতর্কতা: কোনো হাদিসকে কুদসি (قدسي) হিসেবে অভিহিত করার অর্থ এই নয় যে তা সহিহ (صحيح); কেননা শুদ্ধতা (صحة) ও দুর্বলতা (ضعف) নির্ভর করে সনদের (السند) ওপর, আর এই বৈশিষ্ট্যটি নির্ভর করে মহান আল্লাহর প্রতি বাণীর সম্বন্ধ করার ওপর।
সুতরাং এই ভিত্তিতে হাদিসে কুদসি সহিহ (صحيح) হতে পারে, হাসান (حسن) হতে পারে, আবার দুর্বল (ضعيف)-ও হতে পারে।
(খণ্ড: ১)
আল-হাদীসুয যয়ীফ ওয়া হুকমুল ইহতিজাজি বিহি
(পৃষ্ঠা: ২১)
أقسام الحديث النبوي
أولا: تقسيمه باعتبار وصوله إِلينا:الحديث باعتبار وصوله إلينا، إما أن تتعدد طرقه ورواياته، أو لا تتعدد.
فإن تعددت الطرق، فلا يخلو الأمر من شيئين:-
أولهما: أن يكون التعدد بلا حصر، وتحيل العادة تواطؤ جميع رواته على الكذب، أو وقوعه منهم اتفاقا، وهذا ما يسمى في الاصطلاح بالتواتر.
ثانيهما: أن يكون محصورا بعدد معين، وهذا ما يسمى في الاصطلاح بالآحاد.
وهذا التعدد إن كان بما فوق الاثنين، فهو المسمى بالمشهور.
وإن كان بالاثنين فقط؛ فهو المسمى بالعزيز، وهذا العدد هو نهاية التعدد.
وإن لم تتعدد طرقه؛ ولو كان الانفراد في طبقة من طبقات رواته فهو ما اصطلح على تسميته بالغريب، وقد اصطلح العلماء على تسمية هذه الأقسام الثلاثة: المشهور، العزيز، الغريب: بالآحاد.
وإليك الكلام على هذه الأقسام بإيجاز:
নববী হাদিসের প্রকারভেদপ্রথমত: আমাদের নিকট পৌঁছানোর ভিত্তিতে এর শ্রেণিবিভাগ:আমাদের নিকট পৌঁছানোর বিবেচনায় হাদিস হয় এর একাধিক সূত্র (طرق) ও বর্ণনা (روايات) থাকবে, অথবা থাকবে না।
যদি সূত্রগুলো একাধিক হয়, তবে বিষয়টি দুটি বিষয়ের বাইরে নয়:-
প্রথমটি: সূত্রের সংখ্যা কোনো সীমাবদ্ধতা ছাড়াই অনেক বেশি হওয়া, এবং অভ্যাসগতভাবে সকল বর্ণনাকারীর পক্ষে মিথ্যার ওপর ঐকমত্য পোষণ করা অথবা তাদের সবার পক্ষ থেকে ঘটনাক্রমে মিথ্যা সংঘটিত হওয়া অসম্ভব হওয়া; পরিভাষায় একে মুতাওয়াতির (التواتر) বলা হয়।
দ্বিতীয়টি: সূত্রের সংখ্যা নির্দিষ্ট সীমায় সীমাবদ্ধ থাকা; পরিভাষায় একে আহাদ (الآحاد) বলা হয়।
এই বহুত্ব যদি দুইয়ের অধিক হয়, তবে তাকে মশহুর (المشهور) বলা হয়।
আর যদি তা কেবল দুই সূত্রের মাধ্যমে হয়; তবে তাকে আজিজ (العزيز) বলা হয়, আর এই সংখ্যাটিই হলো বহুত্বের শেষ সীমা।
যদি এর সূত্র একাধিক না হয়; এমনকি বর্ণনাকারীদের কোনো একটি স্তরে (طبقة) যদি একাকী বর্ণনা পাওয়া যায়, তবে পরিভাষায় তাকে গরিব (الغريب) বলা হয়। আলেমগণ এই তিনটি প্রকারকে: মশহুর (المشهور), আজিজ (العزيز) ও গরিব (الغريب)-কে আহাদ (الآحاد) হিসেবে নামকরণ করেছেন।
নিচে এই প্রকারগুলো সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো:
(খণ্ড: ১)
আল-হাদীসুয যয়ীফ ওয়া হুকমুল ইহতিজাজি বিহি
(পৃষ্ঠা: ২২)
القسم الأول: المتواتر
تعريفه:لغة: مشتق من التواتر، بمعنى التتابع. يقال: تواترت الإبل والقطا، وكل شيء إذا جاء بعضه في بعض، ولم تجئ مصطفة
(1).
واصطلاحا: ما نقله عدد لا يمكن مواطأتهم على الكذب عن مثلهم، ويستوي طرفاه والوسط، ويخبرون عن حسي لا مظنون
(2).
شروط المتواتر:للمتواتر شروط أربعة، هي:-
1 - أن يخبر به عدد كثير يحصل العلم الضروري بصدق خبرهم من غير حصر
(3) على الصحيح، ومن العلماء من عين رقمًا لأدنى العدد المطلوب، فقيل: عشرة لأنه أول جموع الكثرة، وقيل: أربعون، وقيل: سبعون عدة أصحاب موسى عليه السلام، وقيل: ثلاثمائة وبضعة عشر عدة أصحاب بدر؛ وقيل غير ذلك
(4).
2 - أن يخبروا عن علم لا عن ظن، فإن أهل بلد عظيم لو أخبروا عن طائر ظنوا أنه حمام، أو عن شخص أنهم ظنوا أنه زيد لم يحصل العلم
--------------------------------------------
প্রথম বিভাগ: মুতাওয়াতির (المتواتر)এর সংজ্ঞা:শাব্দিক অর্থ: এটি ‘তواتর’ শব্দ থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ পর্যায়ক্রম বা ধারাবাহিকতা (التتابع)। বলা হয়: উট বা কাতা পাখি একটার পর একটা এসেছে; অর্থাৎ কোনো কিছু যখন একের পর এক আসে এবং সারিবদ্ধভাবে না আসে।
(1)পারিভাষিক অর্থ: যা এমন এক বিশাল সংখ্যক বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন যাদের পক্ষে মিথ্যার উপর একমত হওয়া অসম্ভব, এবং সনদের শুরু, মধ্য ও শেষ—সর্বস্তরে বর্ণনাকারীদের সংখ্যার এই আধিক্য বজায় থাকে, আর তারা কোনো ইন্দ্রিয়লব্ধ (حسي) বিষয় সম্পর্কে সংবাদ দেন, নিছক ধারণাপ্রসূত (مظنون) কোনো বিষয় সম্পর্কে নয়।
(2) মুতাওয়াতির (المتواتر)-এর শর্তাবলি:মুতাওয়াতির (المتواتر)-এর শর্ত চারটি, সেগুলো হলো:-
1 - এমন এক বিশাল সংখ্যক লোক সংবাদ দেবেন যাদের সংবাদের সত্যতা সম্পর্কে কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা নির্ধারণ ব্যতীতই সুনিশ্চিত জ্ঞান অর্জিত হয় (শুদ্ধ অভিমত অনুযায়ী)।
(3) আলেমদের মধ্যে কেউ কেউ প্রয়োজনীয় ন্যূনতম সংখ্যা নির্দিষ্ট করেছেন। যেমন—বলা হয়েছে: দশ জন, কারণ এটিই 'জমউল কাসরাহ' বা বহুবচনের আধিক্যের প্রথম স্তর। কেউ বলেছেন: চল্লিশ জন। কেউ বলেছেন: সত্তর জন, যা মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর সাথীদের সংখ্যা ছিল। কেউ বলেছেন: তিনশত দশের কিছু বেশি, যা বদর যোদ্ধাদের সংখ্যা ছিল। এ ছাড়াও অন্যান্য মতামত বর্ণিত হয়েছে।
(4)2 - তারা যেন নিশ্চিত জ্ঞান থেকে সংবাদ প্রদান করেন, ধারণা (ظن) থেকে নয়। কারণ কোনো জনপদের অধিবাসীরা যদি এমন কোনো পাখি সম্পর্কে সংবাদ দেয় যা তারা কবুতর বলে ধারণা (ظن) করেছে, অথবা কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে সংবাদ দেয় যাকে তারা জায়েদ বলে ধারণা (ظن) করেছে, তবে এর মাধ্যমে সুনিশ্চিত জ্ঞান অর্জিত হবে না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হাদীসুয যয়ীফ ওয়া হুকমুল ইহতিজাজি বিহি
(পৃষ্ঠা: ২৩)
بكونه حمامًا أو زيدًا
(1).
3 - أن يكون علمهم مستندًا إلى أمر محس، إذ لو أخبروا عن حدوث العالم، أو عن صدق الأنبياء، لم يحصل لنا العلم، فلابد أن يستند فيه ناقلوه إلى الحواس كالسمع والبصر، لا لمجرد إدراك العقل، قال الحافظ ابن حجر: "الأخبار التي تشاع، ولو كثر ناقلوها إن لم يكن مرجعها إلى أمر حسي من مشاهدة أو سماع لا تستلزم الصدق"
(2).
4 - أن توجد هذه الشروط في جميع طبقات السند، لأن كل عصر يستقل بنفسه، فلابد من وجود الشروط فيه، ولأجل ذلك لم يحصل لنا العلم بصدق اليهود مع كثرتهم في نقلهم عن موسى عليه السلام تكذيب كل ناسخ لشريعته
(3).
أقسام التواتر:ينقسم التواتر إلى أربعة أقسام هي:
الأول: التواتر اللفظي. وهو ما تواتر لفظه ومعناه.
ومثاله: حديث "من كذب علي متعمدا فليتبوأ مقعده من النار"
(4).
فإنه نقله من الصحابة العدد الجم
(5). وقد سمى الشيخ محمد أنور
--------------------------------------------
তিনি হাম্মাম অথবা যায়েদ হওয়ার মাধ্যমে
(1).
3 - তাঁদের জ্ঞান কোনো ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে হওয়া। কেননা তাঁরা যদি মহাবিশ্বের সৃষ্টি অথবা নবিগণের সত্যতা সম্পর্কে সংবাদ দিতেন, তবে আমাদের ইলম (জ্ঞান) অর্জিত হতো না। সুতরাং বর্ণনাকারীদের অবশ্যই শ্রবণ ও দর্শনের মতো ইন্দ্রিয়সমূহের ওপর নির্ভর করতে হবে, কেবল বিবেকপ্রসূত উপলব্ধির ওপর নয়। হাফিজ ইবনে হাজার বলেন: "যেসব সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে, সেগুলোর বর্ণনাকারী অধিক হলেও যদি তার উৎস দেখা বা শোনার মতো কোনো ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত না হয়, তবে তা সত্য হওয়া অপরিহার্য করে না।"
(2).
4 - সনদের সকল স্তরে (طبقات السند) এই শর্তগুলো বিদ্যমান থাকা। কারণ প্রতিটি যুগ স্বতন্ত্র, তাই প্রতিটি যুগেই শর্তগুলো থাকা আবশ্যক। এই কারণেই ইহুদিদের সংখ্যাধিক্য থাকা সত্ত্বেও মুসা আলাইহিস সালাম থেকে তাঁদের বর্ণিত সংবাদের (যেখানে তাঁরা তাঁর শরিয়তের রহিতকারীকে অস্বীকার করেছে) সত্যতা সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান লাভ হয় না
(3).
মুতাওয়াতির (متواتر)-এর প্রকারভেদ:মুতাওয়াতির (متواتر) চার প্রকারে বিভক্ত, যথা:
প্রথম: শাব্দিক মুতাওয়াতির (التواتر اللفظي)। আর এটি হলো এমন বিষয় যার শব্দ ও অর্থ উভয়ই মুতাওয়াতির (متواتر) পর্যায়ে পৌঁছেছে।
এর উদাহরণ: হাদিস "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করল, সে যেন আগুনের মধ্যে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়"
(4).
কেননা সাহাবিদের এক বিশাল সংখ্যা এটি বর্ণনা করেছেন
(5)। আর শায়খ মুহাম্মদ আনোয়ার
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হাদীসুয যয়ীফ ওয়া হুকমুল ইহতিজাজি বিহি
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الكشميري
(1) هذا القسم بتواتر الإسناد
(2).
الثاني: التواتر المعنوي. وهو ما تواتر معناه دون لفظه.
وذلك كأحاديث رفع اليدين عند الدعاء، فقد ورد عن النبي صلى الله عليه وسلم نحو مائة حديث
(3)، كل منها فيه أنه صلى الله عليه وسلم رفع يديه في الدعاء، لكنها في قضايا متعددة، وألفاظ مختلفة، وقد سماه الكشميري: بتواتر القدر المشترك
(4).
الثالث: تواتر الطبقة. كتواتر القرآن الكريم، فقد تواتر على البسيطة شرقا وغربًا، درسا وتلاوة، حفظا وقراءة، وتلقاه الكافة عن الكافة، طبقة عن طبقة: اقرأ وارق إلى حضرة الرسالة
(5).
الرابع: تواتر العمل والتوارث. وهو أن يعمل به في كل قرن من عهد صاحب الشريعة إلى يومنا هذا جم غفير من العاملين؛ بحيث يستحيل عادة تواطؤهم على كذب أو غلط كالسواك والصلوات الخمس
(6).
--------------------------------------------
কাশ্মিরি
(১) এই বিভাগটিকে সনদের মুতাওয়াতির (تواتر الإسناد)
(২) হিসেবে অভিহিত করেছেন।
দ্বিতীয়: অর্থগত মুতাওয়াতির (التواتر المعنوي)। আর এটি হলো যার শব্দ নয় বরং অর্থ মুতাওয়াতির (تواتر) পর্যায়ের।
যেমন দোয়ার সময় হাত তোলার হাদিসসমূহ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এ বিষয়ে প্রায় একশত হাদিস
(৩) বর্ণিত হয়েছে, যার প্রত্যেকটিতে এটি আছে যে তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দোয়ার সময় হাত তুলেছেন। কিন্তু সেগুলো ভিন্ন ভিন্ন ঘটনা ও ভিন্ন ভিন্ন শব্দে বর্ণিত। কাশ্মিরি একে সাধারণ বিষয়ের নিরবচ্ছিন্নতা (تواتر القدر المشترك)
(৪) হিসেবে নামকরণ করেছেন।
তৃতীয়: স্তরগত মুতাওয়াতির (تواتر الطبقة)। যেমন পবিত্র কুরআনের মুতাওয়াতির হওয়া। এটি সমগ্র পৃথিবীতে পূর্ব থেকে পশ্চিমে পঠন-পাঠন, তিলাওয়াত, মুখস্থ ও কিরাআতের মাধ্যমে মুতাওয়াতির (تواتر) হিসেবে চলে আসছে। এক বিশাল জনসমষ্টি অন্য বিশাল জনসমষ্টির থেকে, এক স্তর অন্য স্তরের থেকে এটি গ্রহণ করেছে: পড়ুন এবং রিসালাতের সান্নিধ্য পর্যন্ত আরোহণ করুন
(৫)।
চতুর্থ: আমল ও উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত মুতাওয়াতির (تواتر العمل والتوارث)। আর তা হলো শরিয়ত প্রবর্তকের যুগ থেকে আমাদের বর্তমান সময় পর্যন্ত প্রতি শতাব্দীতে আমলকারীদের এক বিশাল জনসমষ্টির এর ওপর আমল করা; যেন সাধারণভাবে তাদের সকলের মিথ্যা বা ভুলের ওপর একমত হওয়া অসম্ভব হয়। যেমন মেসওয়াক করা এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ
(৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হাদীসুয যয়ীফ ওয়া হুকমুল ইহতিজাজি বিহি
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وهناك نوع خامس ذكره الشاطبي
(1) في الموافقات، وهو المستقرأ من جملة أدلة ظنية تضافرت على معنى واحد حتى أفادت فيه القطع، فإن للاجتماع من القوة ما ليس للافتراق، وقال: إنه شبيه بالتواتر المعنوي
(2).
والفرق بينه وبين التواتر المعنوي أن الوقائع في التواتر المعنوي كلها تدل على المطلوب مباشرة، أما هذا النوع فبعضه مباشر، وبعضه بطريق غير مباشر
(3).
حكم المتواتر:الخبر المتواتر يجب تصديقه ضرورة، لأنه مفيد للعلم القطعي الضروري؛ وإن لم يدل عليه دليل آخر، ولا حاجة إلى البحث عن أحوال رواته، وهذا أمر ظاهر لا يستريب فيه عاقل، خلافا للسمنية
(4)--------------------------------------------
وهناك نوع خامس ذكره الشاطبي
(1) في الموافقات، وهو المستقرأ من جملة أدلة ظنية تضافرت على معنى واحد حتى أفادت فيه القطع، فإن للاجتماع من القوة ما ليس للافتراق، وقال: إنه شبيه بالتواتر المعنوي
(2).
والفرق بينه وبين التواتر المعنوي أن الوقائع في التواتر المعنوي كلها تدل على المطلوب مباشرة، أما هذا النوع فبعضه مباشر، وبعضه بطريق غير مباشر
(3).
মুতাওয়াতির (المتواتر) এর বিধান (حكم):মুতাওয়াতির সংবাদ (الخبر المتواتر) বিশ্বাস করা অপরিহার্যভাবে আবশ্যক, কারণ এটি অকাট্য ও স্বতঃসিদ্ধ জ্ঞান (العلم القطعي الضروري) প্রদান করে; যদিও এর সপক্ষে অন্য কোনো দলীল না থাকে। আর এর বর্ণনাকারীদের (رواة) অবস্থা সম্পর্কে অনুসন্ধান করার কোনো প্রয়োজন নেই। এটি একটি সুস্পষ্ট বিষয় যাতে কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তি সন্দেহ পোষণ করে না, সুমানিয়াহ (السمنية) সম্প্রদায়ের মতভিন্নতা ব্যতীত।
(4)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হাদীসুয যয়ীফ ওয়া হুকমুল ইহতিজাজি বিহি
(পৃষ্ঠা: ২৬)
الذين حصروا العلوم في الحواس، وهذا مذهب باطل، لأنه لا يختلف اثنان في وجود بلدة تسمى بغداد، وإن لم يدخلاها، ولا يشك أحد في وجود الأنبياء، بل في وجود الأئمة الأربعة رحمهم الله
(1).
وقد نبه الله سبحانه وتعالى في مواضع من كتابه على إفادة التواتر العلم اليقين حيث جعله بمنزلة الرؤية البصرية، فخاطب رسوله صلى الله عليه وسلم أو المؤمنين أو غيرهم بأمثال قوله: {أَلَمْ تَرَ كَيْفَ فَعَلَ رَبُّكَ بِأَصْحَابِ الْفِيلِ}
(2). وقوله: {أَلَمْ تَرَ كَيْفَ فَعَلَ رَبُّكَ بِعَادٍ}
(3). وقوله: {أَلَمْ يَرَوْا كَمْ أَهْلَكْنَا مِنْ قَبْلِهِمْ مِنْ قَرْنٍ
… } الآية
(4). فإن هذه الوقائع كانت معلومة عندهم بالتواتر، فعبر عن علمها برؤيتها، وفيه إشارة إلى أنه جعل العلم الحاصل من التواتر بمنزلة المشاهد في القطعية
(5).
القسم الثاني: الآحاد.
تعريفه: هو ما قصر عن صفة التواتر، ولم يقع به العلم وإن روته الجماعة
(6).
فهو شامل لما رواه الواحد والاثنان والثلاثة وغيرها من الأعداد التي لا
--------------------------------------------
যারা জ্ঞানকে কেবল পঞ্চইন্দ্রিয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ করেছেন, এটি একটি অসার মতবাদ। কারণ বাগদাদ নামক একটি শহরের অস্তিত্ব সম্পর্কে দুইজন ব্যক্তির মধ্যেও কোনো মতভেদ নেই, যদিও তারা সেখানে প্রবেশ করেননি। আর নবীদের অস্তিত্ব সম্পর্কেও কেউ সন্দেহ পোষণ করে না, এমনকি চার ইমামের (আল্লাহ তাদের ওপর রহম করুন) অস্তিত্ব সম্পর্কেও কোনো সন্দেহ নেই।
(১)আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাঁর কিতাবের বিভিন্ন স্থানে মুতাওয়াতির (التواتر) বর্ণনার মাধ্যমে অর্জিত নিশ্চিত (اليقين) জ্ঞানের কার্যকারিতা সম্পর্কে সতর্ক করেছেন, যেখানে তিনি এটিকে চাক্ষুষ দর্শনের মর্যাদায় স্থান দিয়েছেন। তিনি তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে অথবা মুমিনদের কিংবা অন্যদের সম্বোধন করে এই ধরণের বাণীর মাধ্যমে বলেছেন: {আপনি কি দেখেননি আপনার পালনকর্তা হস্তীবাহিনীর সাথে কী করেছিলেন?}
(২) এবং তাঁর বাণী: {আপনি কি দেখেননি আপনার পালনকর্তা আদ বংশের সাথে কী করেছিলেন?}
(৩) এবং তাঁর বাণী: {তারা কি দেখে না যে, আমি তাদের আগে কত প্রজন্মকে ধ্বংস করেছি...} আয়াত।
(৪) কেননা এই ঘটনাগুলো তাদের কাছে মুতাওয়াতির (التواتر) এর মাধ্যমে জ্ঞাত ছিল, তাই তিনি এই জ্ঞানকে দর্শনের মাধ্যমে ব্যক্ত করেছেন। এতে ইঙ্গিত রয়েছে যে, তিনি মুতাওয়াতির (التواتر) থেকে অর্জিত জ্ঞানকে সুনিশ্চিত (القطعية) হওয়ার ক্ষেত্রে চাক্ষুষ প্রত্যক্ষণের সমতুল্য করেছেন।
(৫)
দ্বিতীয় প্রকার: আহাদ (الآحاد).
এর সংজ্ঞা: এটি এমন বর্ণনা যা মুতাওয়াতির (التواتر) এর গুণাবলি অর্জন করতে পারেনি এবং এর দ্বারা নিশ্চিত জ্ঞান অর্জিত হয় না, যদিও তা একটি দল বর্ণনা করে থাকে।
(৬)এটি এমন বর্ণনাকে অন্তর্ভুক্ত করে যা একজন, দুইজন, তিনজন বা এমন সংখ্যক বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন যা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হাদীসুয যয়ীফ ওয়া হুকমুল ইহতিজাজি বিহি
(পৃষ্ঠা: ২৭)
تشعر بأن العدد دخل بها في حيز التواتر.
أنواعه:يتنوع خبر الآحاد إلى مشهور وعزيز وغريب كما تقدم
(1).
النوع الأول: المشهور.
تعريفه:هو ما رواه ثلاثة فأكثر في كل طبقة ما لم يبلغ حد انتواتر
(2).
هذا ما يراه الحافظ ابن حجر، ويرى ابن الصلاح أن مروي الثلاثة لا يسمى مشهورًا، وإنما يسمى عزيزا
(3).
ويسمى هذا النوع بالمستفيض على رأي جماعة من أئمة الفقهاء، ومنهم من غاير بينهما بأن المستفيض يكون في ابتدائه وانتهائه سواء، والمشهور أعم من ذلك، ومنهم من عكس
(4).
المشهور عند الحنفية:يرى الحنفية أن المشهور ليس بقسم من أقسام الآحاد؛ بل هو قسم متوسط بين المتواتر والآحاد، ويخصصون المشهور بما فقد شرط التواتر في طبقة الصحابة فقط، فهو في أصله خبر آحاد، لكنه انتشر بعد ذلك وتلقاه
--------------------------------------------
এটি অনুভূত হয় যে, বর্ণনাকারীদের সংখ্যা একে মুতাওয়াতির (تواتر)-এর সীমানায় প্রবেশ করিয়েছে।
এর প্রকারভেদ:যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে, একক সংবাদ (خبر الآحاد) তিন প্রকার: প্রসিদ্ধ (مشهور), শক্তিশালী (عزيز) এবং বিরল (غريب)
(1)।
প্রথম প্রকার: প্রসিদ্ধ (المشهور)।
এর সংজ্ঞা:এটি এমন হাদিস যা প্রত্যেক স্তরে (طبقة) অন্তত তিনজন বা ততোধিক বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন, যতক্ষণ না তা মুতাওয়াতির (تواتر)-এর পর্যায়ে পৌঁছায়
(2)।
এটি হাফিজ ইবনে হাজার-এর অভিমত, তবে ইবনুস সালাহ মনে করেন যে, তিনজন কর্তৃক বর্ণিত হাদিসকে প্রসিদ্ধ (مشهور) বলা হয় না, বরং একে শক্তিশালী (عزيز) বলা হয়
(3)।
ফকিহগণের (الفقهاء) একটি দলের মতে এই প্রকারকে মুস্তাফিদ (المستفيض) বলা হয়। তাদের মধ্যে কেউ কেউ এ দুটির মধ্যে পার্থক্য করেছেন যে, মুস্তাফিদ (المستفيض) হলো যার শুরু এবং শেষ স্তরে বর্ণনাসংখ্যা সমান থাকে, আর প্রসিদ্ধ (مشهور) এর চেয়ে ব্যাপক। আবার কেউ কেউ এর বিপরীত মত পোষণ করেছেন
(4)।
হানাফিগণের নিকট প্রসিদ্ধ (المشهور):হানাফিগণ মনে করেন যে, প্রসিদ্ধ (مشهور) একক সংবাদ (الآحاد)-এর প্রকারসমূহের অন্তর্ভুক্ত নয়; বরং এটি মুতাওয়াতির (المتواتر) এবং একক সংবাদ (الآحاد)-এর মধ্যবর্তী একটি স্তর। তারা প্রসিদ্ধ (مشهور) পরিভাষাটিকে এমন হাদিসের জন্য নির্দিষ্ট করেন যা কেবল সাহাবিদের (الصحابة) স্তরে মুতাওয়াতির (تواتر)-এর শর্ত হারিয়েছে; অর্থাৎ এটি মূলত একক সংবাদ (خبر آحاد), কিন্তু পরবর্তীতে তা ব্যাপকতা লাভ করেছে এবং উম্মাহর নিকট তা গৃহীত হয়েছে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হাদীসুয যয়ীফ ওয়া হুকমুল ইহতিজাজি বিহি
(পৃষ্ঠা: ২৮)
العلماء بالقبول، فصار ينقله قوم لا يتوهم تواطؤهم على الكذب، وهم القرن الثاني بعد الصحابة رضي الله عنهم ومن بعدهم، وأولئك قوم ثقات أئمة لا يتهمون، فصار بشهادتهم وتصديقهم بمنزلة المتواتر حجة من حجج الله تعالى حتى قال الجصاص
(1): إنه أحد قسمي المتواتر
(2).
مثال المشهور:يمثل له، بقوله عليه الصلاه والسلام: "إِن الله لا يقبض هذا العلم انتزاعا ينتزعه من العباد، ولكن يقبض العلم بقبض العلماء، حتى إِذا لم يبق عالما اتخذ الناس رؤوسا جهالا فسئلوا فأفتوا بغير علم فضلوا وأضلوا"
(3).
--------------------------------------------
আলেমগণ এটি গ্রহণের ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। ফলে এটি এমন এক দল লোক বর্ণনা করতে শুরু করেছেন যাদের ব্যাপারে মিথ্যার ওপর একমত হওয়া কল্পনা করা যায় না। তারা হলেন সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-দের পরবর্তী দ্বিতীয় প্রজন্ম এবং তাদের পরবর্তীগণ। তারা নির্ভরযোগ্য (ثقات) এবং ইমাম ছিলেন যাদের অভিযুক্ত করা যায় না। তাদের সাক্ষ্য এবং সত্যায়নের ফলে এটি মুতাওয়াতির (المتواتر) পর্যায়ের মহান আল্লাহর দলীলসমূহের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এমনকি আল-জাসসাস
(১) বলেছেন: এটি মুতাওয়াতির (المتواتر)-এর দুই প্রকারের একটি
(২)।
মাশহুর (المشهور)-এর উদাহরণ:এর জন্য উদাহরণ দেওয়া হয় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণী দ্বারা: "নিশ্চয়ই আল্লাহ বান্দাদের মধ্য থেকে ছিনিয়ে নিয়ে ইলম তুলে নেবেন না, বরং তিনি আলেমদের মৃত্যু প্রদানের মাধ্যমে ইলম উঠিয়ে নেবেন। এমনকি যখন কোনো আলেম অবশিষ্ট থাকবে না, তখন মানুষ মূর্খদেরকে নেতা হিসেবে গ্রহণ করবে। এরপর তাদের নিকট ফতোয়া চাওয়া হবে এবং তারা ইলম ছাড়াই ফতোয়া দেবে। ফলে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হবে এবং অন্যদেরও পথভ্রষ্ট করবে"
(৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হাদীসুয যয়ীফ ওয়া হুকমুল ইহতিজাজি বিহি
(পৃষ্ঠা: ২৯)
تنبيه:ما تقدم هو المشهور الاصطلاحي، وهناك مشهور غير اصطلاحي، ويقصد به ما اشتهر على الألسنة من غير اعتبار أي شرط، فيشمل ما له سند واحد، وما له أكثر من إسناد، وما لا إسناد له أصلا.
ولهذا النوع أمثلة كثيرة، وصنفت فيه المصنفات المتعددة
(1)؛ إذ ليس له ضابط يضبطه إلا مجرد الشهرة على الألسنة؛ سواء كان صحيحا أو ضعيفا أو موضوعا.
فمن المشهور بين أهل الحديث خاصة حديث أنس بن مالك: "أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قنت شهرًا يدعو على رعل وذكوان"
(2).
ومن المشهور عند الفقهاء: "أبغض الحلال إلى الله الطلاق"
(3).
ومن المشهور عند الأصوليين: "رفع عن أمتي الخطأ والنسيان وما استكرهوا عليه"
(4).
--------------------------------------------
সতর্কতা:উপরে যা বর্ণিত হয়েছে তা হলো পারিভাষিক মশহুর (المشهور الاصطلاحي), আর এর বাইরে অপারিভাষিক মশহুর (مشهور غير اصطلاحي)-ও রয়েছে। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সেইসব বিষয় যা কোনো শর্তের তোয়াক্কা না করেই মানুষের মুখে মুখে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে; ফলে এর অন্তর্ভুক্ত হতে পারে এমন হাদিস যার একটি মাত্র সনদ (سند) রয়েছে, আবার যার একাধিক ইসনাদ (إسناد) রয়েছে কিংবা যার আদতেই কোনো সনদ (إسناد) নেই।
এই প্রকারের অনেক উদাহরণ রয়েছে এবং এ বিষয়ে বহু গ্রন্থ রচিত হয়েছে
(১); কারণ মানুষের মুখে প্রসিদ্ধি লাভ করা ছাড়া এর সুনির্দিষ্ট কোনো নিয়মনীতি (ضابط) নেই; চাই তা সহিহ (صحيح), যয়িফ (ضعيف) কিংবা জাল (موضوع) যাই হোক না কেন।
বিশেষ করে মুহাদ্দিসগণের নিকট প্রসিদ্ধ হাদিসগুলোর একটি হলো আনাস ইবনে মালিক (রা.) বর্ণিত হাদিস: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক মাস পর্যন্ত কুনুত পড়েছিলেন এবং রিল ও জাকওয়ান গোত্রের বিরুদ্ধে বদদোয়া করেছিলেন"
(২)।
ফকিহগণের নিকট প্রসিদ্ধ একটি হাদিস হলো: "আল্লাহর নিকট হালাল কাজগুলোর মধ্যে সবচেয়ে অপ্রিয় হলো তালাক"
(৩)।
উসুলবিদগণের নিকট প্রসিদ্ধ একটি হাদিস হলো: "আমার উম্মতের ভুলবশত কৃত কাজ, বিস্মৃতি এবং যে কাজের জন্য তারা বাধ্য হয়েছে, তা ক্ষমা করা হয়েছে (অর্থাৎ তার গুনাহ তুলে নেয়া হয়েছে)"
(৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হাদীসুয যয়ীফ ওয়া হুকমুল ইহতিজাজি বিহি
(পৃষ্ঠা: ৩০)
ومن المشهور عند النحاة: "نعم العبد صهيب لو لم يخف الله لم يعصه"
(1).
ومن المشهور عند الأدباء: "أدبني ربي فأحسن تأديبي"
(2)ومن المشهور عند الأطباء: "المعدة بيت الداء"
(3).
ومن المشهور عند العامة: "العجلة من الشيطان"
(4).
حكم المشهور:المشهور بقسميه الاصطلاحي وغير الاصطلاحي لا يوصف بكونه صحيحا أو غير صحيح، بل منه الصحيح والحسن والضعيف، ولكن
--------------------------------------------
এবং ব্যাকরণবিদদের নিকট প্রসিদ্ধ (مشهور): "সুহাইব কতই না চমৎকার বান্দা, যদি সে আল্লাহকে ভয় না-ও করত তবুও তাঁর অবাধ্য হতো না"
(১).
এবং সাহিত্যিকদের নিকট প্রসিদ্ধ (مشهور): "আমার রব আমাকে আদব শিক্ষা দিয়েছেন, অতঃপর তিনি আমার আদবকে কতই না সুন্দর করেছেন"
(২)এবং চিকিৎসকদের নিকট প্রসিদ্ধ (مشهور): "পাকস্থলী হলো সকল রোগের আবাসস্থল"
(৩).
এবং সাধারণ মানুষের নিকট প্রসিদ্ধ (مشهور): "তাড়াহুড়ো শয়তানের পক্ষ থেকে"
(৪).
প্রসিদ্ধ (مشهور) এর বিধান:পারিভাষিক এবং অপারিভাষিক—উভয় প্রকার প্রসিদ্ধ (مشهور) হাদিসকেই ঢালাওভাবে সহিহ (صحيح) বা অশুদ্ধ হিসেবে অভিহিত করা যায় না; বরং এর মধ্যে সহিহ (صحيح), হাসান (حسن) এবং দুর্বল (ضعيف) হাদিসও রয়েছে, কিন্তু
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হাদীসুয যয়ীফ ওয়া হুকমুল ইহতিজাজি বিহি
(পৃষ্ঠা: ৩১)
إذا صح المشهور الاصطلاحي كانت له ميزة ترجحه على العزيز والغريب
(1)، هذا على مذهب الجمهور؛ أما الحنفية -وتقدم بيان المشهور عندهم- فقد اختلفوا فيه. فذهب أبو بكر الرازي منهم إلى أنه مثل المتواتر، فيثبت به العلم اليقيني، لكن بطريق الاستدلال، لا بطريق الضرورة.
وذهب عيسى بن أبان
(2) منهم إلى أنه يوجب علم طمأنينة، لا علم يقين، فكأنه دون المتواتر وفوق خبر الواحد حتى جازت به الزيادة على كتاب الله
(3).
النوع الثاني: العزيز:
تعريفه:هو الحديث الذي لم يقل رواته عن اثنين في جميع طبقات السند.
سمي بذلك إما لقلة وجوده من قولهم: عز الشيء يعز، قل، فلا يكاد يوجد
(4)، أو لكونه عز أي: قوي بمجيئه من طرق أخرى من قولهم: أعزه وعززه إذا قواه وشد أزره، وفي التنزيل: {
… فَعَزَّزْنَا بِثَالِثٍ
… } الآية
(5). أي: قوينا وشددنا
(6).
--------------------------------------------
যদি পারিভাষিক মাশহুর (مشهور) সহিহ (صحيহ) হয়, তবে এর এমন বৈশিষ্ট্য থাকে যা একে আজিজ (عزيز) এবং গরিব (غريب) এর ওপর প্রাধান্য দান করে
(১)। এটি জুমহুর (جمهور) বা সংখ্যাগরিষ্ঠের মাযহাব অনুযায়ী; তবে হানাফিদের নিকট—যাদের নিকট মাশহুর (مشهور) এর সংজ্ঞা ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে—এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। তাঁদের মধ্যে আবু বকর আল-রাজি এই মত পোষণ করেছেন যে, এটি মুতাওয়াতির (متواتر) এর সমতুল্য, যার মাধ্যমে নিশ্চিত জ্ঞান (علم يقيني) সাব্যস্ত হয়; তবে তা দলীল-প্রমাণের (استدلال) মাধ্যমে, স্বতঃসিদ্ধ বা আবশ্যিক উপায়ে (ضرورة) নয়।
পক্ষান্তরে তাঁদের মধ্য থেকে ঈসা ইবনে আবান এই মত ব্যক্ত করেছেন যে, এটি প্রশান্তিদায়ক জ্ঞান (علم طمأنينة) প্রদান করে, নিশ্চিত জ্ঞান (علم يقين) নয়। ফলে এটি যেন মুতাওয়াতির (متواتر) এর নিচে এবং খবরুল ওয়াহিদ (خبر الواحد) এর উপরে; এমনকি এর দ্বারা আল্লাহর কিতাবের ওপর অতিরিক্ত (زيادة) বিধান সংযোজন করা বৈধ হয়েছে
(৩)।
দ্বিতীয় প্রকার: আজিজ (عزيز):
সংজ্ঞা:এটি এমন হাদিস যার বর্ণনাকারীদের (رواة) সংখ্যা সনদের (سند) সকল স্তরে (طبقات) দুইয়ের কম হয়নি।
এর এরূপ নামকরণ করা হয়েছে হয় এর অস্তিত্বের স্বল্পতার কারণে—যেমন আরবদের কথা: ‘বস্তুটি দুর্লভ হওয়া’, অর্থাৎ তা কমে যাওয়া, ফলে তা প্রায় পাওয়াই যায় না
(৪); অথবা এটি শক্তিশালী হওয়া (عز) থেকে গৃহীত, অর্থাৎ অন্য কোনো সূত্রের (طرق) মাধ্যমে আসার কারণে এটি শক্তিশালী হয়েছে। যেমন বলা হয়: ‘সে তাকে শক্তিশালী ও সুদৃঢ় করেছে’ যখন কেউ অন্যকে শক্তি যোগায় এবং সাহায্য করে। পবিত্র কুরআনের বাণীতে রয়েছে: { ...অতঃপর আমি তৃতীয় জন দ্বারা শক্তিশালী করেছি... }—আয়াতাংশ
(৫)। অর্থাৎ: আমি শক্তিশালী ও সুদৃঢ় করেছি
(৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হাদীসুয যয়ীফ ওয়া হুকমুল ইহতিজাজি বিহি
(পৃষ্ঠা: ৩২)
وهذا الحد هو ما اختاره الحافظ ابن حجر
(1)، أما ابن الصلاح، فيرى: أنه ما رواه اثنان أو ثلاثة
(2).
وقد تمنى صاحب فتح الملهم
(3) أن لو سمى المحدثون ما رواه الثلاثة بالعزيز، لقوله تعالى: {
… فَعَزَّزْنَا بِثَالِثٍ .. } الآية
(4)، وما رواه اثنان بالمؤزر، لقوله تعالى: {وَاجْعَلْ لِي وَزِيرًا مِنْ أَهْلِي}
(5)، لأن الاصطلاح كلما قرب من الاستعمال القرآني؛ كان أحسن وأليق
(6).
مثاله:حديث: "لا يؤمن أحدكم حتى أكون أحب إِليه من والده وولده".
فقد رواه عن النبي صلى الله عليه وسلم أنس كما في الصحيحين
(7)، وأبو هريرة كما في البخاري
(8)، ورواه عن أنس قتادة
(9)، وعبد العزيز بن صهيب
(10)،
--------------------------------------------
এবং এই সংজ্ঞা (الحد) হলো তা-ই যা হাফিজ ইবনে হাজার
(১) পছন্দ করেছেন। তবে ইবনে আল-সালাহ মনে করেন যে, এটি হলো তা যা দুই বা তিনজন বর্ণনা করেছেন
(২)।
আর 'ফাতহুল মুলহিম'
(৩) এর লেখক আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছেন যে, মুহাদ্দিসগণ যদি তিনজনের বর্ণিত বর্ণনাকে 'আজিজ' (العزيز) নামে অভিহিত করতেন—মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে: { ...অতঃপর আমি তৃতীয় জনের মাধ্যমে শক্তিশালী করেছি... } আয়াত
(৪); এবং দুইজনের বর্ণিত বর্ণনাকে 'মুয়াজ্জার' (المؤزر) নামে অভিহিত করতেন—মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে: {এবং আমার জন্য আমার পরিবার থেকে একজন সাহায্যকারী নির্ধারণ করে দিন}
(৫); কারণ পরিভাষা (الاصطلاح) যখনই কুরআনিক ব্যবহারের নিকটবর্তী হয়, তখন তা অধিক উত্তম ও উপযোগী হয়
(৬)।
উদাহরণ:হাদিস: "তোমাদের কেউ মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না আমি তার নিকট তার পিতা ও সন্তানের চেয়ে অধিক প্রিয় হই।"
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এটি আনাস বর্ণনা করেছেন যেমনটি সহীহাইন-এ
(৭) রয়েছে এবং আবু হুরায়রা বর্ণনা করেছেন যেমনটি বুখারিতে
(৮) রয়েছে। আর আনাস থেকে এটি কাতাদাহ
(৯) এবং আব্দুল আজিজ বিন সুহাইব
(১০) বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------