(খণ্ড: ১) ফুতইয়া ওয়া জাওয়াবুহা ফী যিকরিল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: -)
فتيا وجوابها في ذكر الاعتقاد   (أبو العلاء الهمذاني)

القسم: العقيدة


الكتاب: فتيا وجوابها في ذكر الاعتقاد وذم الاختلاف

المؤلف: الحسن بن أحمد بن الحسن بن أحمد بن محمد بن سهل أبو العلاء العطار الهمذاني (ت 596هـ)

المحقق: عبد الله بن يوسف الجديع

الناشر: دار العاصمة - الرياض - السعودية

الطبعة: الأولى، 1409هـ

عدد الصفحات: 73

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আকিদা বা বিশ্বাসের বর্ণনায় ফতোয়া ও তার উত্তর   (আবু আল-আলা আল-হামাদানি)

বিভাগ: আকিদা


বই: আকিদা বা বিশ্বাসের বর্ণনা এবং মতভেদের নিন্দায় ফতোয়া ও তার উত্তর

লেখক: আল-হাসান বিন আহমাদ বিন আল-হাসান বিন আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন সাহল আবু আল-আলা আল-আত্তার আল-হামাদানি (মৃত্যু ৫৯৬ হিজরি)

সম্পাদক: আবদুল্লাহ বিন ইউসুফ আল-জুদাই

প্রকাশক: দারুল আসিমাহ - রিয়াদ - সৌদি আরব

সংস্করণ: প্রথম، ১৪০৯ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭৩

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) ফুতইয়া ওয়া জাওয়াবুহা ফী যিকরিল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌فِيهِ فُتْيَا وَجَوَابُهَا أَجَابَ عَنْهَا الإِمَامُ الْحَافِظُ النَّاقِدُ شَيْخُ الإِسْلامِ وَأَوْحَدُ الأَنَامِ

أَبُو الْعَلاءِ الْحَسَنُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ مُحَمَّدٍ الْعَطَّار الهمذاني بَارك الله فِي عمره
এতে রয়েছে একটি ফতোয়া ও তার উত্তর, যার উত্তর প্রদান করেছেন ইমাম, হাফিজ, সমালোচক, শাইখুল ইসলাম এবং সৃষ্টির মধ্যে অনন্য

আবু আল-আলা হাসান বিন আহমাদ বিন আল-হাসান বিন মুহাম্মাদ আল-আত্তার আল-হামাদানি, আল্লাহ তাঁর হায়াতে বরকত দান করুন।
(খণ্ড: ১) ফুতইয়া ওয়া জাওয়াবুহা ফী যিকরিল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم

 

كتب الشَّيْخ الإِمَام الْعَالم أَبُو الْعَبَّاس أَحْمد بن الْحُسَيْن بن مُحَمَّد الْمُقْرِئ الْعِرَاقِيّ أيده الله إِلَى الشَّيْخ الإِمَام الْحَافِظ الأوحد أبي الْعَلاءِ الْحَسَنُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ أَحْمد بن مُحَمَّد الْعَطَّار الهمذاني أبقاه الله

‌‌نَص الْفتيا

 

أما بعد حمد الله على نعمه المتظاهرة وأياديه المتظافرة وَالصَّلَاة على نبيه مُحَمَّد ذِي المعجزات الباهرة والآيات الزاهرة وعَلى عترته الطاهرة وصحابته الفاخرة وَالسَّلَام على حَضْرَة سيدنَا الشَّيْخ الإِمَام الْعَالم الْحَافِظ الثِّقَة قطب الدّين زين الْإِسْلَام صدر الْأَئِمَّة قدوة الْمُحدثين والحفاظ نَاصِر السّنة أستاذ الْقُرَّاء والأدباء أَطَالَ الله بَقَاءَهُ إطالة تبلغ بِهِ إِلَى غَايَة السَّعَادَة وتنيله من
পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

শাইখ, ইমাম, আলেম আবু আব্বাস আহমাদ বিন হুসাইন বিন মুহাম্মাদ আল-মুক্বরি আল-ইরাকি (আল্লাহ তাঁকে শক্তিশালী করুন) শাইখ, ইমাম, অনন্য হাফেজ আবুল আলা আল-হাসান বিন আহমাদ বিন আল-হাসান বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আল-আত্তার আল-হামাদানি (আল্লাহ তাঁকে দীর্ঘজীবী করুন)-এর সমীপে লিখেছেন—

‌‌ফতোয়ার মূল পাঠ

 

অতঃপর, আল্লাহর প্রকাশ্য নিয়ামতসমূহ এবং তাঁর ধারাবাহিক হাতসমূহের জন্য তাঁর প্রশংসা করছি; এবং সালাত বর্ষিত হোক তাঁর নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি, যিনি সুস্পষ্ট মুজিজা ও উজ্জ্বল নিদর্শনসমূহের অধিকারী, এবং তাঁর পবিত্র বংশধর ও গৌরবময় সাহাবীগণের প্রতি। এবং আমাদের নেতা শাইখ, ইমাম, আলেম, নির্ভরযোগ্য হাফেজ, কুতুবুদ্দীন, যাইনুল ইসলাম, ইমামগণের অগ্রজ, মুহাদ্দিস ও হাফেজগণের আদর্শ, সুন্নাহর সাহায্যকারী, ক্বারী ও সাহিত্যিকদের উস্তাদ এর প্রতি সালাম—আল্লাহ তাঁর হায়াতকে এমনভাবে দীর্ঘায়িত করুন যা তাঁকে পরম সৌভাগ্যের শিখরে পৌঁছে দেয় এবং তাঁকে দান করে...
(খণ্ড: ১) ফুতইয়া ওয়া জাওয়াবুহা ফী যিকরিল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ২৮)
خيرات الدُّنْيَا وَالْآخِرَة نِهَايَة الْإِرَادَة وجازاه بِالْحُسْنَى وَزِيَادَة وَأعَاد على كَافَّة أهل السّنة من بركاته وأمتعهم بطول حَيَاته

كتَابنَا هَذَا إِلَيْهِ من دمشق أم الشَّام عمرها الله بِالْإِسْلَامِ مُعرب عَن وَلَاء صَافِيَة موارده نَاطِق بإخلاص بادية شواهده ونفوس تتلظى بالأسف عَلَيْهِ وَقُلُوب تطير من الشوق إِلَيْهِ وَكَيف لَا وَهُوَ الْآن قدوة الْأَنَام وَشَيخ الْإِسْلَام وَبَقِيَّة السّلف وَصَالح الْخلف وناشر الحَدِيث فِي الْآفَاق وَعين خُرَاسَان وَالْعراق وَمن سَار سير النَّهَار حَدِيثه وزان قدم فَضله حَدِيثه وَأَحْيَا الْآثَار بعد الدُّثُور وأنعشها من العثور وَله الْفضل الظَّاهِر وَالْأَصْل الطَّاهِر والنبل الزاهي الزَّاهِر وَالْعلم الوافي الوافر وَالْقَوْل الْكَاف والورع الشاف

وَإِلَى الله سُبْحَانَهُ نرغب فِي تيسير الإجتماع بِحَضْرَتِهِ الْعَالِيَة على أحسن الْأَحْوَال وتبليغنا بِهِ نِهَايَة الآمال وَأَن يوفقه لمحابه من الْأَعْمَال

وَلم يزل خدمه ورعاته عازمين على مُكَاتبَته والتيمن بمعرفته والتهجم على مفاتحته والأقدار تصد وتمنع والأعذار ترد وتقطع إِلَى أَن بلغ الْكتاب أَجله فسطروا هَذِه الْجُمْلَةَ

وَكَانَ السَّبَبُ الْمُسْتَدْعِي لِصُدُورِهَا مَا قَدْ ظَهَرَ مِنَ الْفَسَادِ وَانْتَشَرَ مِنَ الْبِدَعِ فِي أَقْطَارِ الْبِلادِ وَعَظُمَ مِنَ الْخَطْبِ وَطَمَّ وَخَصَّ من الْفِتَن وَعم بِحَيْثُ أَن جمَاعَة من أهل السّنة نسجت فيهم الآراء
দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ, যা সকল সংকল্পের চরম লক্ষ্য। আল্লাহ তাকে সর্বোত্তম প্রতিদান ও সমৃদ্ধি দান করুন এবং তার বরকতসমূহ সকল আহলুস সুন্নাহর ওপর ফিরিয়ে দিন এবং তার দীর্ঘ জীবনের মাধ্যমে তাদের উপকৃত হওয়ার সুযোগ দিন।

আমাদের এই পত্রটি তার প্রতি দামেস্ক থেকে প্রেরিত—যা শামের জননী, আল্লাহ একে ইসলাম দ্বারা আবাদ রাখুন। এটি এমন এক আনুগত্যের বহিঃপ্রকাশ যার উৎস অতি নির্মল, যা এমন এক ইখলাসের বার্তাবাহক যার নিদর্শনসমূহ সুস্পষ্ট; আর এমন একদল নফস যারা তার বিচ্ছেদে আফসোসে দগ্ধ হচ্ছে এবং এমন কতিপয় অন্তর যা তার দর্শনের ব্যাকুলতায় উড়ে যেতে চাইছে। আর কেনই বা এমন হবে না, অথচ তিনি বর্তমানে সৃষ্টির আদর্শ, শায়খুল ইসলাম, সালাফদের অবশিষ্টাংশ, খালাফদের মধ্যে যোগ্যতম, দিগন্তজুড়ে হাদিস প্রচারকারী এবং খুরাসান ও ইরাকের নয়নমণি। যার সুনাম দিবালোকের ন্যায় সর্বত্র বিচরণ করে এবং যার শ্রেষ্ঠত্বের পদমর্যাদাকে তার হাদিস বর্ণনা সুশোভিত করেছে। যিনি বিলুপ্ত হওয়ার পর আছারসমূহকে পুনর্জীবিত করেছেন এবং পতন থেকে সেগুলোকে উদ্ধার করেছেন। তার রয়েছে প্রকাশ্য শ্রেষ্ঠত্ব, পবিত্র বংশমর্যাদা, প্রদীপ্ত আভিজাত্য, সমৃদ্ধ ও প্রভূত ইলম, পর্যাপ্ত বক্তব্য এবং অন্তরের প্রশান্তিদায়ক তাকওয়া।

আমরা মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন সর্বোত্তম অবস্থায় তার মহান সান্নিধ্যে আমাদের একত্রিত হওয়া সহজ করে দেন এবং তার অসিলায় আমাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছে দেন, আর তাকে আল্লাহ পছন্দ করেন এমন আমলসমূহের তাওফিক দান করেন।

তার সেবক ও অনুসারীরা সর্বদা তাকে পত্র লেখার, তার পরিচয়ের মাধ্যমে বরকত লাভের এবং তার সাথে আলাপচারিতা শুরুর সংকল্প রাখতেন; কিন্তু তাকদির বারবার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছিল এবং ওজর-আপত্তিগুলো সেই সুযোগ নস্যাৎ করে দিচ্ছিল। অবশেষে যখন এই পত্রের নির্ধারিত সময় উপস্থিত হলো, তখন তারা এই বাক্যগুলো লিপিবদ্ধ করলেন।

এটি প্রেরণের মূল কারণ ছিল সেই বিপর্যয় যা প্রকাশ পেয়েছে এবং সেই বিদআত যা দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর ও ভয়াবহ হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং ফিতনাগুলো বিশেষ ও সাধারণ উভয় স্তরে এমনভাবে বিস্তার লাভ করেছে যে, আহলুস সুন্নাহর একটি জামাআতের মধ্যে নানাবিধ বিভ্রান্ত মতবাদ গেঁথে দেওয়া হয়েছে।
(খণ্ড: ১) ফুতইয়া ওয়া জাওয়াবুহা ফী যিকরিল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ২৯)
فَكَانَتْ هَذِهِ هِيَ الْفِتْنَةُ الْعَظِيمَةُ وَالْمِحْنَةُ الْجَسِيمَةُ لِأَن الْخُصُوم قد قل بهم الإستيناس وَوَقع بهم الإِيَاسُ فَلا كَلامَ فِيهِمْ وَلا نُشِيرُ إِلَيْهِمْ وَلا نَعْنِيهِمْ وَإِنَّمَا الشَّكْوَى إِلَى اللَّهِ تَعَالَى مِنْ قَوْمٍ إِلَى مَذْهَبِ أَحْمَدَ رضي الله عنه يَنْتَمُونَ وَبِالسُّنَّةِ يَتَوَسَّمُونَ وَيَدَّعُونَ التَّمَسُّكَ بِقَوْلِهِ وَفِعْلِهِ وَيُقِرُّونَ بِفَضْلِهِ وَنُبْلِهِ وَهُمْ مَعَ ذَلِكَ يخالفون نصوصه ويطرحون عُمُومه وخصوصه فكأنهم يَدْعُونَ إِلَيْهِ وَيَبْعُدُونَ مِنْهُ وَيَنْهَوْنَ عَنْهُ وَيَنْأَوْنَ عَنْهُ وَجَمِيعُ مَا يُرَدُّ عَلَيْهِمْ مِنَ السُّنَّةِ الثَّابِتَةِ يَنْفُرُونَ عَنْهَا وَيَجْبُنُونَ مِنْهَا وَيُسَلِّطُونَ عَلَى مَا جَاءَ فِي الصِّفَاتِ مِنَ الأَخْبَارِ وَالآيَاتِ مَا سَلَّطَهُ الْمُتَكَلِّمُونَ مِنَ التَّأْوِيلِ وَيَسْلُكُونَ فِيهِ مسالك أهل الْإِلْحَاد والتعطيل وَنحن نشكو إِلَى سَيِّدِنَا مَا قَدْ وَقَعْنَا فِيهِ وَنُشِيرُ إِلَى بعض مَالا يمكننا اسْتِقْصَاؤُهُ

فَمِنْ ذَلِكَ أَنَّهُمْ قَالُوا إِنَّ هَذِهِ الأَحَادِيثَ الْوَارِدَةَ فِي الصِّفَاتِ جَمِيعَهَا إِنَّمَا رَوَاهَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ وَكَانَ يُلْقِيهَا إِلَيْهِ شَيْطَانٌ لِيُضِّلَ بِهَا أَهْلَ الْحَقِّ أَوْ كَمَا قَالُوا وَمَا صَحَّ مِنْهَا فَهُوَ أَخْبَارُ أَحَادٍ لَا
এটিই ছিল এক মহাফিৎনা এবং বিশাল পরীক্ষা, কারণ বিরোধীদের সাথে সখ্যতা কমে গেছে এবং তাদের ব্যাপারে নিরাশা জন্মেছে। সুতরাং তাদের সম্পর্কে কোনো কথা নেই, আমরা তাদের দিকে ইশারাও করি না এবং তাদের উদ্দেশ্যও করি না। বরং মহান আল্লাহর কাছে অভিযোগ সেই কওমের ব্যাপারে, যারা ইমাম আহমাদ (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) এর মাযহাবের দিকে নিজেদের সম্বন্ধ করে, সুন্নাহর চিহ্ন ধারণ করে এবং তাঁর কথা ও কাজের ওপর অটল থাকার দাবি করে, আর তাঁর মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করে। এতৎসত্ত্বেও তারা তাঁর ভাষ্যসমূহের বিরোধিতা করে এবং তাঁর বর্ণনাগুলোর সাধারণ ও বিশেষ দিকগুলোকে বর্জন করে। মনে হয় যেন তারা তাঁর দিকে আহ্বান করছে অথচ তাঁর থেকে দূরে সরছে, এবং তাঁর থেকে বিরত রাখছে ও নিজেরাও দূরে থাকছে। সুপ্রমাণিত সুন্নাহ থেকে যা কিছু তাদের সামনে পেশ করা হয়, তারা তা থেকে বিমুখ হয় এবং তা গ্রহণে ভীরুতা প্রদর্শন করে। সিফাত বা গুণাবলি সংক্রান্ত যেসব হাদীস ও আয়াত এসেছে, সেগুলোর ওপর তারা মুতাকাল্লিমদের উদ্ভাবিত অপব্যাখ্যা চাপিয়ে দেয় এবং এক্ষেত্রে তারা ধর্মত্যাগী ও গুণাবলি অস্বীকারকারীদের পথ অনুসরণ করে। আমরা আমাদের রবের কাছে সেই অবস্থার অভিযোগ করছি যার মধ্যে আমরা নিপতিত হয়েছি এবং আমরা এমন কিছু বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করছি যা পুরোপুরি সবিস্তারে বর্ণনা করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।

এর অন্তর্ভুক্ত হলো এই যে, তারা বলে: সিফাত বা গুণাবলি সম্পর্কে বর্ণিত এই সকল হাদীস কেবল হাম্মাদ ইবনে সালামাহ বর্ণনা করেছেন এবং কোনো শয়তান এগুলো তাঁর কাছে পৌঁছে দিত যাতে এর মাধ্যমে সে সত্যপন্থীদের পথভ্রষ্ট করতে পারে—অথবা তারা যেমনটি বলে। আর এগুলোর মধ্যে যা সহীহ, তা হলো কেবল একক বর্ণনা যা (পরবর্তী পৃষ্ঠায় দ্রষ্টব্য)...
(খণ্ড: ১) ফুতইয়া ওয়া জাওয়াবুহা ফী যিকরিল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ৩০)
يُوجِبُ الْعِلْمَ وَلا يَصِحُّ الاحْتِجَاجُ بِهِ

فَإِذَا أَرَيْنَاهُمْ كَلامَ السَّلَفِ عَلَيْهَا قَالُوا هَذَا مَذْهَبُ أَهْلِ الْحَدِيثِ وَلا يَلْزَمُ الْفُقُهَاءَ الأَخْذُ بِهِ

وَمَهْمَا سَمِعُوهُ مِنْ أَحَادِيثِ الصِّفَاتِ تَأَوَّلُوهُ وَصَرَفُوهُ عَنْ حَقِيقَتِهِ أَوْ رَدُّوهُ

وَمِنْ ذَلِكَ أَنَّهُمْ يُنْكِرُونَ إِطْلاقَ الْقَوْلِ بِأَنَّ اللَّهَ تَعَالَى فِي السَّمَاءِ حَتَّى يَقُولُوا فِي أَيِّ سَمَاءٍ

وَيُنْكِرُونَ القَوْل بِأَن الله سُبْحَانَهُ فِي جِهَةِ الْعُلُوِّ وَيَقُولُونَ بِأَنَّهُ فِي جِهَةٍ وَإِنَّمَا نقُول هُوَ على السَّمَاء ويبدلون لقطَة فِي ب على
এটি ইলম বা নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করে কিন্তু এর মাধ্যমে দলিল উপস্থাপন করা বিশুদ্ধ নয়।

অতঃপর যখন আমরা তাদের কাছে এই বিষয়ে সালাফদের বক্তব্য পেশ করি, তখন তারা বলে, এটি আহলে হাদিসদের মাজহাব এবং ফকিহদের জন্য এটি গ্রহণ করা আবশ্যক নয়।

আর সিফাত বা গুণাবলি সংক্রান্ত হাদিস থেকে তারা যা-ই শোনে, সেটিরই তারা তাবিল করে এবং একে এর প্রকৃত অর্থ থেকে বিচ্যুত করে অথবা তা প্রত্যাখ্যান করে।

এর অন্তর্ভুক্ত হলো, আল্লাহ তাআলা আকাশে আছেন—এ কথাটি নিঃশর্তভাবে বলাকে তারা অস্বীকার করে, এমনকি তারা বলে, ‘কোন আকাশে?’

তারা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা উচ্চতার দিকে আছেন—এ কথাটি অস্বীকার করে এবং তারা বলে যে, এটি দিক সাব্যস্ত করা। আমরা তো কেবল বলি যে তিনি আকাশের উপরে, আর তারা ‘ফি’ শব্দটিকে ‘আলা’ শব্দ দ্বারা পরিবর্তন করে দেয়।
(খণ্ড: ১) ফুতইয়া ওয়া জাওয়াবুহা ফী যিকরিল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ৩১)
قَالُوا وَلا نَقُولُ بِأَنَّهُ سُبْحَانَهُ فِي مَكَانٍ لأَنَّ ذَاكَ مِنْ صِفَاتِ الأَجْسَامِ

وَعَرَضْنَا عَلَيْهِمْ كتب السّنة ك التَّوْحِيد لابْنِ مَنْدَهْ وَالْحُجَّةُ لأَبِي الْفَضْلِ رَحِمَهُمَا اللَّهُ وَغَيْرُهُمَا مِنْ كُتُبِ السَّلَفِ فَقَالُوا هَذِهِ صُحُفٌ لَا تنطق

وَقد أعضل الْبَأْس واشتمل مِنْهُمُ الْيَأْسُ وَخِيفَ مَا هُوَ أَشَدُّ مِنْ هَذَا

وَالْكُلُّ رَاضُونَ بِمَا يُصْدَرُ مِنْ جِهَتِهِ وَبِمَا يُشِير إِلَيْهِ سعادته

وَكَثِيرٌ مِنْ أَصْحَابِنَا يُخَالِطُ أَرْبَابَ الْكَلامِ وَالْجِدَالِ وينقل عَنْهُم فضيع الْأَقْوَال وَيُلْقِيه إِلَى الْعَوام والأغمار الأغتام

وَقَدْ عَظُمَتِ الْبَلِيَّةُ وَشَمِلَتِ الْفِتْنَةُ وَكَثُرَتِ الْحِيرَةُ وَالْمُخَلَّطُ أَكْبَرُ فِي الصُّدُورِ مِنَ الْمُحَقَّقِ
তারা বলেছে এবং আমরা বলি না যে, তিনি (সুবহানাহু ওয়া তায়ালা) কোনো স্থানে রয়েছেন, কারণ এটি হলো দেহবিশিষ্ট বস্তুর গুণাবলীর অন্তর্ভুক্ত।

এবং আমরা তাদের নিকট সুন্নাহর কিতাবসমূহ পেশ করেছি, যেমন ইবনে মান্দাহর 'আত-তাওহিদ' এবং আবু আল-ফাদলের 'আল-হুজ্জাহ' (আল্লাহ তাদের উভয়ের প্রতি রহমত বর্ষণ করুন) এবং সালাফদের অন্যান্য কিতাবসমূহ; কিন্তু তারা বলেছে, এগুলো এমন সব পাণ্ডুলিপি যা কথা বলে না।

আর দুর্দশা কঠিন হয়ে পড়েছে এবং তাদের মধ্যে হতাশা ছেয়ে গেছে, আর এর চেয়েও ভয়াবহ কিছুর আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এবং সকলে তার পক্ষ থেকে যা জারি করা হয় এবং তার মহোদয় যেদিকে ইঙ্গিত করেন তাতে সন্তুষ্ট।

এবং আমাদের অনেক সঙ্গী ইলমে কালাম ও বিতর্কবাজদের সাথে মেলামেশা করে এবং তাদের থেকে জঘন্য সব উক্তি বর্ণনা করে এবং সেগুলো সাধারণ মানুষ ও অজ্ঞ-অর্বাচীনদের মাঝে ছড়িয়ে দেয়।

আর বিপদ প্রকট হয়েছে, ফিতনা ব্যাপক হয়েছে এবং বিভ্রান্তি বৃদ্ধি পেয়েছে; মানুষের অন্তরে সত্যনিষ্ঠার চেয়ে বিভ্রান্তিই অধিক গেঁথে আছে।
(খণ্ড: ১) ফুতইয়া ওয়া জাওয়াবুহা ফী যিকরিল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ৩২)
وَمَعَ ذَلِكَ فَقَدْ قَلَّ أَنْصَارُنَا وَمَاتَ أَصْحَابُنَا وَاتَّفَقَ لَنَا وَفَاةُ الْقَاضِي الإِمَامِ أَبِي يَعْلَى وَوَفَاةُ الْوَزِيرِ عَوْنِ الدِّينِ رَحِمَهُمَا اللَّهُ وَقَدْ كُنَّا لَا نخلو مِنْ طَارِقٍ مِنْ أَهْلِ السُّنَّةِ مُحَدِّثٍ أَوْ وَاعِظٍ أَوْ فَقِيهٍ كَالْقَاضِي السَّلَمَاسِيِّ وَغَيْرِهِ وَقَدِ انْقَطَعَتِ الطَّرِيقُ وَقَلَّ مَجِيءُ أَهْلِ السُّنَّةِ إِلَيْنَا وَكَثْرَة طُرُوقُ أَهْلِ الْبِدَعِ الشَّامَ

وَمِنَ الْعَجَبِ أَنَّ سيدنَا مدالله فِي عُمْرِهِ مَعَ قُرْبِ الْمَكَانِ لَمْ يَجْعَلْ لَنَا حَظًّا وَلَوْ شَهْرًا مِنَ الزَّمَانِ فَإِنْ لَمْ يَخْفُ بِهِ الرِّكَابُ فَقَدْ تَعَيَّنَ عَلَيْهِ الْجَوَابُ وَالدَّلالَةُ عَلَى الْقَوْلِ الصَّوَابُ وَتَخْلِيصُهُمْ بِجَوَابِهِ مِنْ أَيْدِي الأَصْحَابِ مَعَ عِلْمِهِ بِتَحْرِيمِ الْكِتْمَانِ وَأَنه لَا يجوز تَأْخِير

والمأثور من تفضله أَنْ يُنَعِمَّ وَيُحَقِّقَ هَذِهِ الْمَسَائِلَ بِأَوْضَحِ الدَّلائِلِ وَيَذْكُرَ الْحُكْمَ فِي الْمُشَارِ إِلَيْهِمْ وَيُحَذِّرَ مِنْ أَهْلِ الْبِدَعِ وَيُبَيِّنَ مَا فِي ذَلِكَ مِنَ الإِثْمِ وَالْفَسَادِ وَيَهْدِيَهُمْ إِلَى سَوَاءِ الصِّرَاطِ وَيُمَيِّزَ الْغُلُوَّ فِي الْحَقِّ وَالاشْتِطَاطَ فَهُمْ يَنْسِبُونَ الْمُثْبَتَ للسّنة الذاب
তাসত্ত্বেও আমাদের সাহায্যকারীগণ কমে গিয়েছেন এবং আমাদের সাথীগণ মৃত্যুবরণ করেছেন। আমাদের নিকট বিচারক ইমাম আবু ইয়ালা এবং উজির আউন উদ্দীনের—আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন—মৃত্যুর ঘটনাটি ঘটে গিয়েছে। আমরা আহলুস সুন্নাহর কোনো না কোনো আগমনকারী থেকে কখনও বঞ্চিত থাকতাম না, তিনি কোনো মুহাদ্দিস হোন বা ওয়ায়েজ অথবা ফকিহ হোন, যেমন বিচারক সালামাসি এবং অন্যরা। এখন যাতায়াতের পথ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং আমাদের নিকট আহলুস সুন্নাহর আগমন কমে গিয়েছে, আর শামে বিদআতিদের আনাগোনা বৃদ্ধি পেয়েছে।

আশ্চর্যের বিষয় এই যে, আমাদের সাইয়্যেদ—আল্লাহ তাঁর হায়াত বৃদ্ধি করুন—নিকটবর্তী হওয়া সত্ত্বেও আমাদের জন্য সামান্য সময়ও বরাদ্দ করেননি, এমনকি এক মাস কালও নয়। যদি তাঁর সওয়ারি আসা সহজ না হয়, তবে তাঁর ওপর উত্তর প্রদান করা, সঠিক বক্তব্যের দিকে দিকনির্দেশনা দেওয়া এবং তাঁর উত্তরের মাধ্যমে সঙ্গীদের হাত থেকে তাদের উদ্ধার করা অবধারিত হয়ে পড়েছে; বিশেষ করে ইলম গোপন রাখা হারাম হওয়া এবং বিলম্ব করা জায়েজ না হওয়ার বিষয়টি তাঁর জানা থাকা সত্ত্বেও।

তাঁর অনুগ্রহ থেকে এটিই প্রত্যাশিত যে, তিনি মেহেরবানি করে এই মাসআলাগুলোকে সুস্পষ্ট দলিলের মাধ্যমে সুপ্রতিষ্ঠিত করবেন এবং যাদের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে তাদের ব্যাপারে শরয়ি বিধান বর্ণনা করবেন। বিদআতিদের ব্যাপারে সতর্ক করবেন এবং এর মধ্যে যে পাপ ও ফাসাদ নিহিত রয়েছে তা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করবেন। তিনি তাদের সরল পথের দিশা দেবেন এবং হকের ক্ষেত্রে অতিরঞ্জন ও সীমালঙ্ঘনের মাঝে পার্থক্য করবেন। কেননা তারা সুন্নাহর সাব্যস্তকারী ও প্রতিরক্ষাকারীর প্রতি সম্বন্ধ করে...
(খণ্ড: ১) ফুতইয়া ওয়া জাওয়াবুহা ফী যিকরিল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
عَنْهَا إِلَى الْغُلُوِّ فِي الدِّينِ وَالْخُرُوجِ مِنْ نَهْجِ الصَّالِحِينَ وَيُضِيفُونَ إِلَيْنَا بِإِثْبَاتِ الصِّفَاتِ التَّجْسِيمَ والتشبيه كَمَا زعم أهل الزيغ والتمويه

والمسؤول مِنْهُ أَنْ يُثْبِتَ الْجَوَابَ فِي بَاقِي الْوَرَقَةِ وَظَهْرِهَا لِيَكُونَ أَشْرَفَ لَهَا وَأَغْلَى لِمَهْرِهَا وَإِنِ اتَّسَعَ وَقْتُهُ لِتَصْنِيفِ كِتَابٍ فِي ذَلِكَ يَرْجِعُ إِلَيْهِ فَهُوَ قدوة الْأَنَام وَحجَّة الْإِسْلَام وَأَمْرُهُ مُطَاعٌ وَقَوْلُهُ مَسْمُوعٌ وَقَدْرُهُ عِنْدَنَا جَلِيلٌ وَذِكْرُهُ جَمِيلٌ

وَقَدْ كَتَبْنَا عَلَى ظَهْرِهَا اسْتِجَازَةً فَإِنْ أَنْعَمَ وَأَجَازَ فَيَذْكُرُ لَنَا مُصَنَّفَاتِهِ وَعُدَّتَهَا وفنونها لنقف على مَعْرفَتهَا

وَلَا يخلينا من همته وأدعيته فَنحْن نَدْعُو لَهُ بِظَهْرِ الْغَيْبِ

وَإِنْ كَتَبَ الْجَوَابَ وَكَانَ بِالْقربِ مِنْهُ من عُلَمَاء السّنة وفقهاء الشَّافِعِيَّة مُوَافق فليأخذ لنا خطه بذلك لنفرح أَهْلُ السُّنَّةِ وَتَقْوَى مِنْهُمُ الْمِنَّةُ فَقَدْ كَثُرَ الْمُخَالف وَقل الموالف وَاللَّهُ الْمُسْتَعَانُ

ثَبَّتَنَا اللَّهُ وَإِيَّاهُ عَلَى السُّنَّةِ وَالإِيمَانِ إِنَّهُ سَمِيعٌ قَرِيبٌ

وَكَتَبَ الشَّيْخُ الإِمَامُ الْحَافِظ أَبُو الْعَلَاء أدام الله علوه -

‌‌نَص الْجَواب

 

الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى مُحَمَّدٍ خَاتَمِ النَّبِيِّينَ وَرَسُولِ رَبِّ الْعَالَمِينَ وَعَلَى آلِهِ وَأَصْحَابِهِ الطَّيِّبِينَ الطَّاهِرِينَ ثُمَّ
তা থেকে দ্বীনের ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি এবং সৎকর্মশীলদের পথ থেকে বিচ্যুত হওয়ার দিকে (ধাবিত করে)। আর তারা আল্লাহর গুণাবলি (সিফাত) সাব্যস্ত করার কারণে আমাদের প্রতি 'তাজসিম' (সাকারবাদ) ও 'তাশবিহ' (সাদৃশ্যদান) এর অপবাদ আরোপ করে, যেমনটি পথভ্রষ্ট ও প্রতারক গোষ্ঠী দাবি করে থাকে।

আর তাঁর নিকট আরজ এই যে, তিনি যেন উত্তরটি কাগজের অবশিষ্ট অংশে এবং এর অপর পৃষ্ঠায় লিপিবদ্ধ করেন, যাতে তা এই কাগজের জন্য অধিক সম্মানজনক এবং এর মূল্যের জন্য অধিক মর্যাদাশীল হয়। আর যদি তাঁর সময় সুযোগ দেয় এই বিষয়ে একটি স্বতন্ত্র কিতাব রচনা করার, যার দিকে প্রত্যাবর্তন করা যায়; কারণ তিনি হলেন সৃষ্টির আদর্শ ও হুজ্জাতুল ইসলাম (ইসলামের দলিল)। তাঁর নির্দেশ মান্য করা হয়, তাঁর কথা গ্রহণযোগ্য, আমাদের নিকট তাঁর মর্যাদা সুমহান এবং তাঁর খ্যাতি অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

আমরা এর অপর পৃষ্ঠায় একটি ইজাজত (অনুমতি) প্রার্থনা লিখেছি। যদি তিনি অনুগ্রহ করে ইজাজত দান করেন, তবে তিনি যেন আমাদের নিকট তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ, সেগুলোর সংখ্যা এবং বিষয়াবলি উল্লেখ করেন, যাতে আমরা সেগুলো সম্পর্কে অবগত হতে পারি।

আর তিনি যেন আমাদের তাঁর সদিচ্ছা ও দোয়া থেকে বঞ্চিত না করেন; কারণ আমরা তাঁর অগোচরে তাঁর জন্য দোয়া করে থাকি।

আর তিনি যখন উত্তরটি লিখবেন, তখন তাঁর সান্নিধ্যে আহলে সুন্নাহর আলেম এবং শাফেয়ী ফুকাহাদের মধ্যে যদি কেউ একমত পোষণকারী থাকেন, তবে তিনি যেন আমাদের জন্য তাঁদের দস্তখত বা সমর্থন গ্রহণ করেন; যাতে আহলে সুন্নাহর অনুসারীরা আনন্দিত হয় এবং তাদের শক্তি বৃদ্ধি পায়। কেননা বর্তমানে বিরোধীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং মিত্রদের সংখ্যা কমে গেছে। আর আল্লাহই একমাত্র সাহায্যকারী।

আল্লাহ আমাদের এবং তাঁকে সুন্নাহ ও ঈমানের ওপর অটল রাখুন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও অতি নিকটবর্তী।

আর শেখ, ইমাম, হাফেজ আবুল আলা—আল্লাহ তাঁর সুউচ্চ মর্যাদা চিরস্থায়ী করুন—লিখেছেন:

‌‌উত্তরের মূল পাঠ

 

সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর, যিনি সর্বশেষ নবী ও বিশ্বজাহানের প্রতিপালকের রাসূল, এবং তাঁর পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর। অতঃপর—
(খণ্ড: ১) ফুতইয়া ওয়া জাওয়াবুহা ফী যিকরিল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ৩৪)
سَلامُ اللَّهِ وَتَحِيَّاتُهُ وَبَرَكَاتُهُ عَلَى إِخْوَانِي مِنْ أَهْلِ السُّنَّةِ بِأُمِّ الشَّامِ دِمَشْقَ حَمَاهَا اللَّهُ مِنْ حَوَادِثِ الأَيَّامِ

أَمَّا بَعْدُ

فَإِنَّ كِتَابَكُمْ وَرَدَ عَلَيَّ فِي شَهْرِ اللَّهِ الأَصَمِّ رَجَبٍ من سنة اثْنَتَيْنِ وَسِتِّينَ وخمسمئة فسررت بوروده ووقفت على فصوله وعقوده وشكرت الله على وَسَأَلته أَن يثبت فِي السّنة أقدامكم وَيجْرِي فِي حِفْظِهَا وَنَشْرِهَا أَقْلامُكُمْ وَأَنْ يَجْعَلَنَا وَإِيَّاكُمْ مِنَ الْحَوَادِثِ وَالْفِتَنِ وَالْكَوَارِثِ وَالْمِحَنِ فِي مَعْقِلٍ لَا يُرَامُ وَمَوْئِلٍ لَا يُنَالُ وَلا يُضَامُ

فَأَما مَا ذكرْتُمْ فِي الْكتاب من تغير الزَّمَانِ وَانْتِكَاسِهِ وَتَقَلُّبِهِ وَانْعِكَاسِهِ وَدُثُورِ السُّنَّةِ وَخُمُولِهَا وَظُهُورِ الْبِدْعَةِ وَشُمُولِهَا وَمَا حَدَثَ هُنَالِكَ بَيْنَ الْأَصْحَاب من التناكر وَالتَّحَاسُدِ وَالتَّدَابُرِ وَالتَّبَاعُدِ وَمَا يُقَارِبُ هَذِهِ الْحَوَادِثَ وَيُدَانِيهَا وَيُنَاسِبُهَا وَيُضَاهِيهَا فَإِنَّهَا مُصِيبَةٌ ظَهَرَتْ فِي الأَقْطَارِ وَبَلِيَّةٌ انْتَشَرَتْ فِي سَائِرِ الْقُرَى وَالأَمْصَارِ نَعُوذ بِاللَّه من الْحور بعد الكور وَمِنَ الْكُفْرِ بَعْدَ الإِيمَانِ وَمِنَ الشَّكِّ بَعْدَ الإيقان

(وقدعاد مَاءُ الأَرْضِ بَحْرًا فَزَادَنِي … إِلَى حُزْنِي أَنْ أُبْحِرَ الْمَشْرَبَ الْعَذْبَ)

قَدِ اسْتَخَرْتُ اللَّهَ تَعَالَى وَذَكَرْتُ فِي جَوَابِ كِتَابِكُمْ مَا تَيَسَّرَ عَلَى سَبِيلِ الإِيجَازِ وَالاخْتِصَارِ دُونَ الإِطَالَةِ وَالإِكْثَارِ لأَنِّي ذكرت هَذَا
আল্লাহর সালাম, অভিবাদন ও বরকত বর্ষিত হোক শাম দেশের জননী দামেশকে অবস্থানরত আমার আহলে সুন্নাত ভাইদের প্রতি। আল্লাহ শহরটিকে সময়ের দুর্যোগসমূহ থেকে রক্ষা করুন।

অতঃপর,

পাঁচশত বাষট্টি হিজরির আল্লাহর মাস আল-আসাম রজব মাসে আপনাদের পত্রটি আমার নিকট পৌঁছেছে। এটি প্রাপ্তিতে আমি আনন্দিত হয়েছি এবং এর প্রতিটি অনুচ্ছেদ ও বিষয়বস্তু অবগত হয়েছি। আমি আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি এবং তাঁর নিকট প্রার্থনা করছি যেন তিনি সুন্নাহর ওপর আপনাদের পা সুদৃঢ় রাখেন এবং এর সংরক্ষণ ও প্রসারে আপনাদের কলমকে সচল রাখেন। আর যেন তিনি আমাদের ও আপনাদেরকে যাবতীয় দুর্ঘটনা, ফিতনা, বিপর্যয় ও পরীক্ষা থেকে এমন এক দুর্ভেদ্য দুর্গে ও নিরাপদ আশ্রয়ে রাখেন, যেখানে কেউ পৌঁছাতে পারবে না এবং যা আক্রান্ত হবে না।

পত্রে আপনারা সময়ের পরিবর্তন, এর অবনতি, বিশৃঙ্খলা ও বিপর্যস্ত অবস্থা, সুন্নাহর বিলুপ্তি ও নিস্তেজ হওয়া এবং বিদআতের প্রকাশ ও ব্যাপকতা সম্পর্কে যা উল্লেখ করেছেন; আর সেখানে সাথীদের মধ্যে পারস্পরিক অস্বীকৃতি, হিংসা, বিমুখতা ও দূরত্বের যে চিত্র ফুটে উঠেছে এবং এই জাতীয় যা কিছু ঘটছে—তা মূলত এমন এক বিপদ যা সব প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে এবং এমন এক পরীক্ষা যা সকল জনপদ ও শহরে বিস্তার লাভ করেছে। আমরা আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই ভালো অবস্থার পর মন্দ অবস্থায় পতিত হওয়া থেকে, ঈমানের পর কুফরি থেকে এবং সুনিশ্চিত বিশ্বাসের পর সংশয় থেকে।

(জমিনের পানি সমুদ্রে পরিণত হয়েছে, যা আমার দুঃখ বাড়িয়ে দিয়েছে … কেননা সুপেয় পানির উৎসটিও নোনা হয়ে গেছে)

আমি মহান আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করেছি এবং আপনাদের পত্রের জবাবে দীর্ঘসূত্রতা ও বাহুল্য বর্জন করে সংক্ষেপে ও সারসংক্ষেপে যা সহজসাধ্য হয়েছে তা উল্লেখ করেছি। কারণ আমি এটি উল্লেখ করেছি—
(খণ্ড: ১) ফুতইয়া ওয়া জাওয়াবুহা ফী যিকরিল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ৩৫)
الْمَعْنَى وَمَا يَتَعَلَّقُ بِهِ وَيُشَاكِلُهُ وَيُشَابِهُهُ وَيُمَاثِلُهُ فِي كتابي الموسوم ب الْجمل وَالْغَايَاتِ فِي بَيَانِ الْفِتَنِ وَالآيَاتِ

اعْلَمُوا عَافَاكُمُ اللَّهُ أَنَّ اللَّهَ تَعَالَى قَدْ أَخْبَرَنَا فِي النَّبَأِ الْعَظِيمِ وَالذِّكْرِ الْحَكِيمِ مَا ابْتُلِينَا بِهِ مِنَ اخْتِلافِ الأُمَّةِ وَانْتِقَاضِ عُرَى الإِسْلامِ وَالسُّنَّةِ فَقَالَ تَعَالَى

{وَلَوْ شَاءَ رَبُّكَ لآمَنَ مَنْ فِي الأَرْضِ كُلُّهُمْ جَمِيعًا أَفَأَنْتَ تُكْرِهُ النَّاسَ حَتَّى يَكُونُوا مُؤْمِنِينَ وَمَا كَانَ لِنَفْسٍ أَنْ تُؤْمِنَ إِلا بِإِذْنِ اللَّهِ وَيَجْعَلُ الرِّجْسَ عَلَى الَّذِينَ لَا يَعْقِلُونَ قُلِ انْظُرُوا مَاذَا فِي السَّمَاوَات وَالأَرْضِ وَمَا تُغْنِي الآيَاتُ وَالنُّذُرُ عَنْ قَوْمٍ لَا يُؤمنُونَ} يُونُس 99 - 101

وَقَالَ تَعَالَى

{وَلَوْ شَاءَ رَبُّكَ لَجَعَلَ النَّاسَ أُمَّةً وَاحِدَةً وَلا يَزَالُونَ مُخْتَلِفِينَ إِلا مَنْ رَحِمَ رَبُّكَ وَلِذَلِكَ خَلَقَهُمْ وَتَمَّتْ كَلِمَةُ رَبِّكَ لأَمْلأَنَّ جَهَنَّمَ مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ} هود 118 - 119

وَقَالَ تَعَالَى

{وَلَوْ شِئْنَا لآتَيْنَا كُلَّ نَفْسٍ هُدَاهَا وَلَكِنْ حَقَّ الْقَوْلُ مِنِّي لأَمْلأَنَّ جَهَنَّمَ مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ} السَّجْدَة) 13

فَأَمَّا بَيَانُ ذَلِك من الْأَثر ف

1 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْفَضْلِ جَعْفَرُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ بن مُحَمَّد بن مَحْمُود الثَّقَفِيّ أخبرنَا أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ
অর্থ এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি এবং যা এর সদৃশ ও সমরূপ, তা আমার 'আল-জুমাল ওয়াল গায়াত ফি বায়ানিল ফিতানি ওয়াল আয়াত' নামক কিতাবে রয়েছে।

আপনারা জেনে রাখুন—আল্লাহ আপনাদের নিরাপদ রাখুন—নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ আমাদের মহা-সংবাদ এবং প্রজ্ঞাপূর্ণ স্মারকে সেই বিষয়গুলো অবহিত করেছেন যার মাধ্যমে উম্মতের মধ্যে মতবিরোধ সৃষ্টি এবং ইসলাম ও সুন্নাহর রজ্জু ছিঁড়ে যাওয়ার দ্বারা আমাদের পরীক্ষা করা হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেছেন:

{আর তোমার রব যদি ইচ্ছা করতেন তবে জমিনে যারা আছে তারা সবাই একত্রে ঈমান আনত; তবে কি তুমি মানুষের ওপর জবরদস্তি করবে যাতে তারা মুমিন হয়ে যায়? আর আল্লাহর অনুমতি ছাড়া ঈমান আনা কোনো ব্যক্তির পক্ষেই সম্ভব নয়। আর যারা অনুধাবন করে না তিনি তাদের ওপর কলুষতা আরোপ করেন। তুমি বলো, 'তোমরা লক্ষ্য করো আসমান ও জমিনে কী আছে।' আর যারা ঈমান আনে না, তাদের জন্য নিদর্শনাবলি ও সতর্ককারীগণ কোনো উপকারে আসে না।} ইউনুস ৯৯ - ১০১

এবং মহান আল্লাহ বলেছেন:

{আর তোমার রব যদি ইচ্ছা করতেন তবে সব মানুষকে এক উম্মতভুক্ত করে দিতেন; কিন্তু তারা সর্বদা মতবিরোধ করতে থাকবে—তবে তারা নয় যাদের প্রতি তোমার রব দয়া করেছেন। আর এজন্যই তিনি তাদের সৃষ্টি করেছেন। আর তোমার রবের কথা পূর্ণ হয়েছে যে, 'আমি অবশ্যই জিন ও মানুষ উভয়কে দিয়ে জাহান্নাম পূর্ণ করব।'} হুদ ১১৮ - ১১৯

এবং মহান আল্লাহ বলেছেন:

{আর আমি যদি ইচ্ছা করতাম তবে প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার হিদায়াত দান করতাম; কিন্তু আমার পক্ষ থেকে এ কথা চূড়ান্ত হয়ে গেছে যে, 'আমি অবশ্যই জিন ও মানুষ উভয়কে দিয়ে জাহান্নাম পূর্ণ করব।'} আস-সাজদাহ ১৩

আর আছার (বর্ণনা) থেকে এর ব্যাখ্যা হলো:

১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফজল জাফর বিন আবদুল ওয়াহিদ বিন মুহাম্মদ বিন মাহমুদ আস-সাকাফি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন...
(খণ্ড: ১) ফুতইয়া ওয়া জাওয়াবুহা ফী যিকরিল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ৩৬)
أَحْمد بن عبد الرَّحْمَن أخبرنَا أَبُو بَكْرٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ فُورَكِ بْنِ عَطَاءٍ الْمُقْرِئُ الْقَبَّابُ أخبرنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ أَبِي عَاصِم النَّبِيل حَدثنَا أَبُو الرّبيع حَدثنَا حَمَّاد بن زيد حَدثنَا أَيُّوبُ عَنْ أَبِي قِلابَةَ عَنْ أَبِي أَسْمَاءَ عَنْ ثَوْبَانَ قَالَ

قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم

إِنَّ اللَّهَ زَوَى لِي الأَرْضَ فَأُرِيتُ مَشَارِقَهَا وَمَغَارِبَهَا وَإِنَّ أُمَّتِي سَيَبْلُغُ مُلْكُهَا مَا زُوِيَ لِي مِنْهَا وَأُعْطِيتُ الْكَنْزَيْنِ الأَحْمَرَ وَالأَبْيَضَ وَإِنِّي سَأَلْتُ رَبِّي أَنْ لَا يُهْلِكَنَا بِسَنَةٍ عَامَّةٍ وَأَنْ لَا يُسَلِّطَ
আহমাদ বিন আবদুর রহমান; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন ফুরাক বিন আতা আল-মুকরি আল-কাব্বাব; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমাদ বিন আমর বিন আবি আসিম আন-নাবিল; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আর-রাবি; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ বিন যায়িদ; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আইয়ুব; তিনি আবু কিলাবাহ থেকে, তিনি আবু আসমা থেকে, তিনি সাওবান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন—

আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন—

নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার জন্য জমিনকে গুটিয়ে দিয়েছেন, ফলে আমি এর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তসমূহ প্রত্যক্ষ করেছি। আর অচিরেই আমার উম্মতের রাজত্ব সেই পর্যন্ত বিস্তৃত হবে, যতটুকু আমার জন্য গুটিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর আমাকে লাল ও সাদা—উভয় ধনভাণ্ডার দান করা হয়েছে। আমি আমার রবের নিকট প্রার্থনা করেছি যেন তিনি আমাদের সর্বগ্রাসী দুর্ভিক্ষের দ্বারা ধ্বংস না করেন এবং যেন তিনি তাদের ওপর এমন কাউকে কর্তৃত্বশীল না করেন...
(খণ্ড: ১) ফুতইয়া ওয়া জাওয়াবুহা ফী যিকরিল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ৩৭)
عَلَيْهِمْ عَدُوًّا مِنْ سِوَى أَنْفُسِهِمْ فَيَسْتَبِيحَ بَيْضَتَهُمْ وَإِنَّ رَبِّي قَالَ يَا مُحَمَّدُ إِنِّي إِذَا قضيت قَضَاء فَإِنَّهُ لَا يرد وَإِنِّي أَعطيتك لأُمَّتِكَ أَنْ لَا أُهْلِكَهُمْ بِسَنَةٍ عَامَّةٍ وَأَنْ لَا أُسَلِّطَ عَلَيْهِمْ عَدُوًّا مِنْ سِوَى أَنْفُسِهِمْ فَيَسْتَبِيحَ بَيْضَتَهُمْ وَلَوِ اجْتَمَعَ عَلَيْهِمْ مِنْ بَيْنِ أَقْطَارِهَا حَتَّى يَكُونَ بَعْضُهُمْ يُهْلِكُ بَعْضًا وَبَعْضُهُمْ يَسْبِي بَعْضًا وَإِنَّ أَخْوَفَ مَا أَخَافُ عَلَى أُمَّتِي الأَئِمَّةُ الْمُضِلُّونَ وَلا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَلْحَقُ قَبَائِلُ مِنْ أُمَّتِي بِالْمُشْرِكِينَ وَحَتَّى تُعْبَدُ الأَوْثَانُ وَإِنَّهُ يَكُونُ فِي أُمَّتِي ثَلاثُونَ كُلُّهُمْ يَزْعُمُ أَنَّهُ نَبِيٌّ وَلا نَبِيَّ بَعْدِي وَأَنَّهُ لَا تَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِي عَلَى الْحَقِّ ظَاهِرِينَ لَا يَضُرُّهُمْ مَنْ خَذَلَهُمْ حَتَّى يَأْتِيَ أَمْرُ اللَّهِ وَهُمْ كَذَلِكَ

هَذَا // حَدِيثٌ صَحِيحٌ // مِنْ حَدِيثِ أَبِي قِلابَةَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدٍ الْجَرَمِيِّ الْبَصْرِيِّ عَنْ أَبِي أَسْمَاءَ عَمْرِو بْنِ مَرْثَدٍ الرَّحَبِيِّ الشَّامِيِّ عَنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ ثَوْبَانَ مَوْلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم

رَوَاهُ أَبُو الْحُسَيْنِ مُسْلِمُ بْنُ الْحَجَّاجِ الْقُشَيْرِيُّ النَّيْسَابُورِيُّ فِي كِتَابِهِ الصَّحِيحِ عَنْ أَبِي الرَّبِيعِ سُلَيْمَانَ بْنِ دَاوُدَ الزَّهْرَانِيِّ الْبَصْرِيِّ وَأَبِي رَجَاءٍ قُتَيْبَةَ بْنِ سَعِيدِ بْنِ جَمِيلِ بْنِ طَرِيفِ بْنِ عْبَدِ اللَّهِ الْبَغْلانِيِّ الْبَلْخِيِّ كِلاهُمَا عَنْ أَبِي إِسْمَاعِيلَ حَمَّادِ بْنِ زَيْدِ بْنِ دِرْهَمٍ الأَزْدِيِّ الْجَهْضَمِيِّ مَوْلاهُمُ الْبَصْرِيُّ عَنْ أَبِي بَكْرٍ أَيُّوبَ بْنِ أَبِي تَمِيمَةَ وَاسْمُ أَبِي تَمِيمَةَ كَيْسَانُ الْعَنْزِيِّ مَوْلاهُمُ السَّخْتِيَانِيُّ الْبَصْرِيُّ
তাদের ওপর তাদের নিজেদের ব্যতিরেকে এমন কোনো শত্রু চাপিয়ে দেবেন না, যে তাদের মূল ভিত্তিকে সমূলে বিনাশ করবে। আর নিশ্চয়ই আমার রব বলেছেন, "হে মুহাম্মদ! আমি যখন কোনো ফয়সালা করি, তখন তা আর রদ করা হয় না। আমি আপনার উম্মতের জন্য আপনাকে এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছি যে, আমি তাদেরকে ব্যাপক দুর্ভিক্ষের মাধ্যমে ধ্বংস করব না এবং তাদের ওপর তাদের নিজেদের ছাড়া অন্য কোনো বহিরাগত শত্রু চাপিয়ে দেব না, যে তাদের অস্তিত্বকে সমূলে বিনাশ করবে; যদিও পৃথিবীর সকল প্রান্তের মানুষ তাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়। যতক্ষণ না তারা একে অপরকে ধ্বংস করবে এবং একে অপরকে বন্দী করবে।" আর আমি আমার উম্মতের জন্য যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি ভয় পাই, তা হলো বিভ্রান্তকারী নেতৃবৃন্দ। আর কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না আমার উম্মতের কিছু গোত্র মুশরিকদের সাথে মিলিত হয় এবং যতক্ষণ না মূর্তিপূজা করা হয়। আর অচিরেই আমার উম্মতের মধ্যে ত্রিশজন মিথ্যাবাদীর আবির্ভাব ঘটবে, যাদের প্রত্যেকেই নিজেকে নবী বলে দাবি করবে, অথচ আমার পরে আর কোনো নবী নেই। আর আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা হকের ওপর বিজয়ী থাকবে; যারা তাদের অপদস্থ করতে চাইবে তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না, যতক্ষণ না আল্লাহর নির্দেশ (কিয়ামত) আসবে এবং তারা এই অবস্থাতেই অটল থাকবে।

এটি একটি সহীহ হাদীস; যা আবু কিলাবাহ আবদুল্লাহ ইবন যায়দ আল-জারামী আল-বাসরী-এর সূত্রে বর্ণিত হাদীস হতে গৃহীত, তিনি আবু আসমা আমর ইবন মারসাদ আর-রাহাবী আশ-শামী থেকে, তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আযাদকৃত দাস আবু আবদুল্লাহ সাওবান থেকে বর্ণনা করেছেন।

আবু আল-হুসাইন মুসলিম ইবন আল-হাজ্জাজ আল-কুশাইরী আন-নিশাপুরী তাঁর সহীহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন আবু আল-রাবী সুলাইমান ইবন দাউদ আজ-জাহারানী আল-বাসরী এবং আবু রাজা কুতাইবা ইবন সাঈদ ইবন জামিল ইবন তরীফ ইবন আবদুল্লাহ আল-বাগলানী আল-বালখী থেকে, তাঁরা উভয়েই আবু ইসমাঈল হাম্মাদ ইবন যায়দ ইবন দিরহাম আল-আযদি আল-জাহদামি তাঁদের আযাদকৃত দাস আল-বাসরী থেকে, তিনি আবু বকর আইয়ুব ইবন আবি তামীমাহ থেকে—আর আবু তামীমাহ-এর নাম হলো কায়সান আল-আনযি তাঁদের আযাদকৃত দাস আস-সাখতিয়ানি আল-বাসরী।
(খণ্ড: ১) ফুতইয়া ওয়া জাওয়াবুহা ফী যিকরিল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ৩৮)
وَعَنْ أَبِي خَيْثَمَةَ زُهَيْرِ بْنِ حَرْبِ بْنِ شَدَّادٍ النَّسَوِيِّ وَأَبِي مُوسَى مُحَّمَدِ بْنِ الْمُثَنَّى بْنِ عُبَيْدِ بْنِ قَيْسٍ الزَّمِنِ الْعَنَزِيِّ الْبَصْرِيِّ وَأَبِي بَكْرٍ مُحَمَّدِ بْنِ بَشَّارِ بْنِ عُثْمَانَ بْنِ جَارُودِ بْنِ كَيْسَانَ بُنْدَارٍ الْعَبْدِيِّ الْبَصْرِيِّ وَأَبِي يَعْقُوبَ إِسْحَاقَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مَخْلَدٍ وَهُوَ ابْنُ رَاهُوَيْهِ الْحَنْظَلِيِّ الْمَرْوَزِيُّ عَنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ مُعَاذِ بْنِ هِشَامٍ عَنْ أَبِيهِ أَبِي بَكْرٍ هِشَامِ بْنِ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ وَاسْمُ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ سَنْبَرٌ الدَّسْتُوَائِيُّ الْبَصْرِيُّ عَنْ أَبِي الْخَطَّابِ قَتَادَةَ بْنِ دِعَامَةَ بْنِ قَتَادَة بن عَزِيز بن عَمْرو بن ربيعَة بْنِ الْحَارِثِ بْنِ سَدُوسِ بْنِ شَيْبَانَ بْنِ ذُهْلِ بْنِ ثَعْلَبَةَ بْنِ عُكَابَةَ بْنِ صَعْبِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ بَكْرِ بْنِ وَائِلِ بْنِ قَاسِطِ بْنِ هِنْبِ بْنِ أَفْصَى بْنِ دُعْمِيِّ بْنِ جَدِيلَةَ بْنِ أَسَدِ بْنِ رَبِيعَةَ بْنِ نِزَارِ بْنِ مَعْدِ بْنِ عَدْنَانَ وَقِيلَ قَتَادَةَ بْنِ دِعَامَةَ بْنِ عُكَابَةَ بْنِ عَزِيزِ بْنِ كَرِيمِ بْنِ الْحَارِثِ الأَعْمَى السَّدُوسِيِّ الْبَصْرِيِّ عَنْ أبي قلَابَة
এবং আবু খাইসামা যুহাইর বিন হারব বিন শাদ্দাদ আন-নাসায়ী, আবু মুসা মুহাম্মদ বিন আল-মুসান্না বিন উবাইদ বিন কায়স আজ-জামিন আল-আনাযী আল-বাসরী, আবু বকর মুহাম্মদ বিন বাশশার বিন উসমান বিন জারুদ বিন কায়সান বুন্দার আল-আবদী আল-বাসরী এবং আবু ইয়াকুব ইসহাক বিন ইব্রাহিম বিন মাখলাদ—যিনি ইবনু রাহওয়াইহ আল-হানজালী আল-মারওয়াযী—থেকে বর্ণিত; তাঁরা আবু আব্দুল্লাহ মুআয বিন হিশাম থেকে, তিনি তাঁর পিতা আবু বকর হিশাম বিন আবু আব্দুল্লাহ (আবু আব্দুল্লাহর নাম ছিল সানবার আদ-দাস্তুওয়ায়ী আল-বাসরী) থেকে, তিনি আবু আল-খাত্তাব কাতাদাহ বিন দিআমাহ বিন কাতাদাহ বিন আযীয বিন আমর বিন রাবীআহ বিন আল-হারিস বিন সাদূস বিন শায়বান বিন যুহল বিন সালাবাহ বিন উকাবাহ বিন সা'ব বিন আলী বিন বকর বিন ওয়াইল বিন কাসিত বিন হিনব বিন আফসা বিন দু'মী বিন জাদিলাহ বিন আসাদ বিন রাবীআহ বিন নিযার বিন মা'দ বিন আদনান থেকে—এবং বলা হয় যে, তিনি হলেন কাতাদাহ বিন দিআমাহ বিন উকাবাহ বিন আযীয বিন কারীম বিন আল-হারিস আল-আমা আস-সাদূসী আল-বাসরী—তিনি আবু কিলাবাহ থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) ফুতইয়া ওয়া জাওয়াবুহা ফী যিকরিল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ৩৯)
وَلِهَذَا الْحَدِيثِ طُرُقٌ كَثِيرَةٌ ذَكَرْنَاهَا مَعَ تَفْسِيرِ الْحَدِيثِ فِي كِتَابِ الْجُمَلِ وَالْغَايَاتِ فِي بَيَانِ الْفِتَن والآيات فاستطلنا إيرادها هَهُنَا

2 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْحسن بن أَحْمد بن مُحَمَّد الْمُقْرِئ أخبرنَا أَبُو نُعَيْمٍ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ إِسْحَاقَ بْنِ مُوسَى بْنِ مِهْرَانَ الْحَافِظ أخبرنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ
এই হাদিসের অনেকগুলো সূত্র রয়েছে যা আমরা ফিতনা ও নিদর্শনসমূহের বর্ণনায় 'কিতাবুল জুমাল ওয়াল গায়াত' গ্রন্থে হাদিসটির ব্যাখ্যাসহ উল্লেখ করেছি, তাই এখানে সেগুলো পুনরায় উল্লেখ করে দীর্ঘ করলাম না।

২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলি আল-হাসান ইবনে আহমদ ইবনুল হাসান ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আল-মুকরি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু নুআইম আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে ইসহাক ইবনে মুসা ইবনে মিহরান আল-হাফিয, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমদ ইবনে
(খণ্ড: ১) ফুতইয়া ওয়া জাওয়াবুহা ফী যিকরিল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ৪০)
يُوسُف بن خَلاد الْعَطَّار النصيبي حَدثنَا أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ غَالِبِ بْنِ حَرْبٍ تَمْتَامُ الضَّبِّيُّ

قَالَ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ وَحدثنَا أَبُو الْقَاسِمِ سُلَيْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَيُّوبَ بن مطير اللَّخْمِيّ الطَّبَرَانِيّ حَدثنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ الْبَغَوِيُّ قَالَا

حَدثنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ الْقَعْنَبِيُّ عَنْ مَالِكٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَابِرِ بْنِ عَتِيكٍ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَتِيكٍ أَنَّهُ قَالَ

جَاءَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ فِي بَنِي مُعَاوِيَةَ مِنْ قُرَى الأَنْصَارِ فَقَالَ هَلْ تَدْرِي أَيْنَ صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ مَسْجِدِكُمْ هَذَا
ইউসুফ বিন খাল্লাদ আল-আত্তার আন-নাসিবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু জাফর মুহাম্মদ বিন গালিব বিন হারব তামতাম আদ-দাব্বি।

আহমাদ বিন আব্দুল্লাহ বলেন এবং আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল কাসিম সুলাইমান বিন আহমাদ বিন আইয়ুব বিন মুতায়ের আল-লাখমি আত-তাবারানি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল হাসান আলী বিন আব্দুল আজিজ আল-বাগাউয়ি; তারা উভয়েই বলেন:

আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন মাসলামাহ আল-কা'নাবি, মালিক থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ বিন জাবির বিন আতিক থেকে, তিনি জাবির বিন আতিক থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন:

আব্দুল্লাহ বিন উমর আনসারদের গ্রামগুলোর অন্তর্ভুক্ত বনি মুয়াবিয়া পল্লীতে আমাদের নিকট আসলেন। অতঃপর তিনি বললেন, "তুমি কি জানো তোমাদের এই মসজিদের কোন স্থানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করেছেন?"
(খণ্ড: ১) ফুতইয়া ওয়া জাওয়াবুহা ফী যিকরিল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ৪১)
قَالَ قُلْتُ نَعَمْ فَأَشَرْتُ إِلَى نَاحِيَةٍ مِنْهُ

فَقَالَ هَلْ تَدْرُونَ مَا الثَّلاثُ اللاتِي دَعَا بِهِنَّ فِيهِ

قُلْتُ نَعَمْ

فَقَالَ أَخْبَرَنِي بِهِنَّ

فَقُلْتُ دَعَا بِأَنْ لَا يُظْهِرَ عَلَيْهِمْ عَدُوًّا مِنْ غَيْرِهِمْ وَلا يُهْلِكَهُمْ بِالسِّنِينَ فَأُعْطِيهَا وَدَعَا بِأَنْ لَا يُجْعَلَ بَأْسُهُمْ بَيْنَهُمْ فَمَنَعَهَا

قَالَ صَدَقْتَ فَلَمْ يَزَلِ الْهَرْجُ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ

وَلِهَذَا الحَدِيث أَيْضا ومتابعات ذَكَرْنَاهَا فِي كِتَابِ جُمُلِ الْغَايَاتِ

3 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بن أَحْمد الْمُقْرِئ أخبرنَا أَحْمد بن عبد الله الْحَافِظ حَدثنَا سُلَيْمَان بن أَحْمد حَدثنَا أَحْمد بن خُلَيْد حَدثنَا
তিনি বললেন, আমি বললাম হ্যাঁ, অতঃপর আমি সেটির একটি প্রান্তের দিকে ইশারা করলাম।

তখন তিনি বললেন, তোমরা কি জানো সেই তিনটি বিষয় কী, যা তিনি সেখানে প্রার্থনা করেছিলেন?

আমি বললাম, হ্যাঁ।

তিনি বললেন, আমাকে সেগুলো সম্পর্কে অবহিত করো।

তখন আমি বললাম, তিনি প্রার্থনা করেছিলেন যেন তাদের ওপর বিজাতীয় কোনো শত্রুকে প্রবল না করা হয় এবং যেন দুর্ভিক্ষের মাধ্যমে তাদেরকে ধ্বংস না করা হয়, ফলে তাঁকে তা প্রদান করা হলো। আর তিনি প্রার্থনা করেছিলেন যেন তাদের মাঝে পারস্পরিক লড়াই বা কলহ সৃষ্টি না হয়, কিন্তু তা তাঁকে দেওয়া হয়নি।

তিনি বললেন, তুমি সত্য বলেছ। ফলে কিয়ামত পর্যন্ত এই বিশৃঙ্খলা ও রক্তপাত চলতেই থাকবে।

এই হাদিসের আরও কিছু সমর্থক বর্ণনা রয়েছে যা আমরা ‘জুমুলুল গায়াত’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছি।

৩ - হাসান ইবনে আহমাদ আল-মুুকরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-হাফিজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, সুলাইমান ইবনে আহমাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমাদ ইবনে খুলাইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১) ফুতইয়া ওয়া জাওয়াবুহা ফী যিকরিল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ৪২)
أَبُو الْيَمَان الحكم بن نَافِع حَدثنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي مَرْيَمَ عَنْ رَاشِدِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ قَالَ

سُئِلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَنْ هَذِهِ الآيَةِ {قُلْ هُوَ الْقَادِرُ عَلَى أَنْ يَبْعَثَ عَلَيْكُمْ عَذَابًا مِنْ فَوْقِكُمْ أَوْ مِنْ تَحْتِ أَرْجُلِكُمْ} الْأَنْعَام 65

فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم

إِنَّهَا كَائِنَةٌ وَلَمْ يَأْتِ تَأْوِيلُهَا بَعْدُ

رَوَاهُ الإِمَامُ أَحْمَدُ رضي الله عنه

4 - أَخَبْرَنَاهُ أَبُو طَالِبٍ عَبْدُ الْقَادِرِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْقَادِرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ يُوسُفَ الْيُوسُفِيُّ وَأَبُو الْقَاسِمِ هِبَةُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ
আবু আল-ইয়ামান আল-হাকাম ইবনে নাফে আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আবু বকর ইবনে আবি মারইয়াম থেকে, তিনি রাশিদ ইবনে সাদ থেকে, তিনি সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে এই আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: {বলুন, তিনি তোমাদের উপর তোমাদের উপরের দিক থেকে অথবা তোমাদের পায়ের নিচ থেকে আজাব পাঠাতে সক্ষম} [আল-আনআম: ৬৫]

তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন:

নিশ্চয়ই এটি ঘটবে এবং এর ব্যাখ্যা (বাস্তবায়ন) এখনও আসেনি।

ইমাম আহমাদ (রা.) এটি বর্ণনা করেছেন।

৪ - আমাদের কাছে এটি বর্ণনা করেছেন আবু তালিব আব্দুল কাদির ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল কাদির ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আল-ইউসুফি এবং আবু আল-কাসিম হিবাতুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে...
(খণ্ড: ১) ফুতইয়া ওয়া জাওয়াবুহা ফী যিকরিল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ৪৩)
عَبْدِ الْوَاحِدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الشَّيْبَانِيّ قَالَا أخبرنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ مُحَّمَدٍ الْوَاعِظ التَّمِيمِي

وَأخْبرنَا أَبُو طَالِبٍ عَبْدُ الْقَادِرِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْيُوسُفِيُّ أَيْضًا وَأَبُو الْعِزِّ أَحْمَدُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ بن مُحَمَّد العكبراوي قَالَا أخبرنَا أَبُو مُحَمَّدٍ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ مُحَّمَدِ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْجَوْهَرِيُّ قَالا
আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে আহমাদ ইবনে ইবরাহিম আল-শাইবানী, তারা উভয়ে বলেছেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী আল-হাসান ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মাদ আল-ওয়ায়েজ আল-তামিমী

এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তালিব আব্দুল কাদির ইবনে মুহাম্মাদ আল-ইউসুফীও এবং আবু আল-ইজ্জ আহমাদ ইবনে উবাইদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ আল-উকবরাওয়ী, তারা উভয়ে বলেছেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মাদ আল-হাসান ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আল-হাসান ইবনে আব্দুল্লাহ আল-জওহারী, তারা উভয়ে বলেছেন।
(খণ্ড: ১) ফুতইয়া ওয়া জাওয়াবুহা ফী যিকরিল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ৪৪)
أخبرنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ حَمْدَانَ بن مَالك الفطيعي قَالَ حَدثنَا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بن مُحَمَّد بن حَنْبَل حَدثنِي أبي حَدثنَا أَبُو الْيَمَان حَدثنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ رَاشِدِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ فَذكر نَحوه
আবু বকর আহমদ বিন জাফর বিন হামদান বিন মালিক আল-কাতিয়ি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আবু আবদুর রহমান আবদুল্লাহ বিন আহমদ বিন মুহাম্মাদ বিন হাম্বল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আবুল ইয়ামান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু বকর বিন আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন রাশিদ বিন সাদ থেকে, তিনি সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস থেকে, অতঃপর তিনি এর অনুরূপ উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) ফুতইয়া ওয়া জাওয়াবুহা ফী যিকরিল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ৪৫)
وَلْنَذْكُرِ الآنَ بَعْضَ مَا وَرَدَ فِي اسْتِحَالَةِ قَوَاعِدِ الإِسْلامِ وَمَا يَظْهَرُ عِنْدَ ذَلِكَ مِنْ حَوَادِثِ الأَيَّامِ

5 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ غَانِمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ بْنِ أَيُّوب بن زِيَاد الْبُرْجِي حَدثنَا أَبُو نُعَيْمٍ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَحْمد الْحَافِظ حَدثنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ أَحْمد بن فَارس حَدثنَا أَبُو بشر يُونُس بن حبيب حَدثنَا أَبُو دَاوُد الطَّيَالِسِيّ حَدثنَا شَيْبَانُ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ رِبْعِيِّ بْنِ حِرَاشٍ عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ نَاجِيَةَ الْكَاهِلِيِّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ

أَنّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ

تَدور رحى الإِسْلامِ لِخَمْسٍ أَوْ سِتٍّ أَوْ سَبْعٍ وَثَلاثِينَ
এখন আমরা ইসলামের বিধি-বিধানের পরিবর্তন এবং সেই সময়ে দিনকালের যেসব ঘটনাবলি প্রকাশ পাবে, সে বিষয়ে যা বর্ণিত হয়েছে তার কিছু অংশ উল্লেখ করব।

৫ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-কাসিম গানিম বিন মুহাম্মদ বিন উবাইদুল্লাহ বিন উমর বিন আইয়ুব বিন যিয়াদ আল-বুরজি, তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু নুআইম আহমাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ আল-হাফিয, তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন জাফর বিন আহমাদ বিন ফারিস, তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু বিশর ইউনুস বিন হাবিব, তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু দাউদ আত-তায়ালিসি, তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন শাইবান, তিনি মানসুর থেকে, তিনি রিবঈ বিন হিরাশ থেকে, তিনি বারা বিন নাজিয়াহ আল-কাহিলি থেকে, আর তিনি আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ থেকে বর্ণনা করেন যে,

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:

ইসলামের যাঁতাকল পঁয়ত্রিশ, ছত্রিশ অথবা সাইত্রিশ বছর পর্যন্ত আবর্তিত হবে।
(খণ্ড: ১) ফুতইয়া ওয়া জাওয়াবুহা ফী যিকরিল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ৪৬)
فَإِنْ يَهْلَكُوا فَسَبِيلُ مَنْ هَلَكَ وَإِنْ يَقُمْ لَهُمْ دِينُهُمْ يَقُمْ لَهُمْ سَبْعِينَ عَامًا

فَقَالَ عُمَرُ يَا رَسُولَ اللَّهِ بِمَا مَضَى أَوْ بِمَا بَقِيَ

فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم

بِمَا بَقِيَ
যদি তারা ধ্বংস হয়ে যায়, তবে তারা তাদেরই পথ অনুসরণ করবে যারা ইতিপূর্বে ধ্বংস হয়েছে। আর যদি তাদের জন্য তাদের দ্বীন প্রতিষ্ঠিত থাকে, তবে তা সত্তর বছর পর্যন্ত প্রতিষ্ঠিত থাকবে।

অতঃপর উমর (রা.) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! যা অতিবাহিত হয়েছে তার হিসেবে, নাকি যা অবশিষ্ট আছে তার হিসেবে?

আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন,

যা অবশিষ্ট আছে তার হিসেবে।
(খণ্ড: ১) ফুতইয়া ওয়া জাওয়াবুহা ফী যিকরিল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ৪৮)
6 - أخبرنَا الْحسن بن أَحْمد الْمُقْرِئ أخبرنَا أَحْمد بن عبد الله الْحَافِظ أخبرنَا الْقَاضِي أَبُو أَحْمَدَ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ إِبْرَاهِيم بن سُلَيْمَان الْعَسَّال حَدثنَا أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ الله بن أبي عون النَّسَائِيّ حَدثنَا عَليّ بن حجر حَدثنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ بْنِ جَابِرٍ عَنِ الْوَضِينِ بْنِ عَطَاءٍ عَنْ يَزِيدَ بْنِ مَرْثَدٍ عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ قَالَ

قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم

خُذُوا الْعَطَاءَ مَا دَامَ عَطَاءً فَإِذَا كَانَ رِشْوَةً عَلَى الدِّينِ فَلا تَأْخُذُوهُ وَلَسْتُمْ بِتَارِكِيهِ يَمْنَعُكُمْ مِنْ ذَلِكَ الْفَقْرُ وَالْمَخَافَةُ أَلا إِنَّ رَحَى بَنِي مَرْجٍ قَدْ دَارَتْ أَلا وَإِنَّ رَحَى الإِيمَانِ دَائِرَةٌ فَدُورُوا مَعَ الْكِتَابِ حَيْثُ مَا دَارَ أَلا وَإِنَّ الْكِتَابَ وَالسُّلْطَانَ سَيَفْتَرِقَانِ فَلا تُفَارِقُوا الْكِتَابَ أَلا إِنَّهُ سَيَكُونُ عَلَيْكُمْ أُمَرَاءُ يَقْضُونَ لأَنْفُسِهِمْ مَالا يَقْضُونَ لَكُمْ إِنْ عَصَيْتُمُوهُمْ قَتَلُوكُمْ وَإِنْ أَطَعْتُمُوهُمْ أَضَلُّوكُمْ

قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ نَصْنَعُ

قَالَ كَمَا صَنَعَ أَصْحَابُ عِيسَى بْنِ مَرْيَمَ نُشِرُوا
৬ - আল-হাসান বিন আহমাদ আল-মুকরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আহমাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-হাফিয আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আল-কাযী আবু আহমাদ মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন ইবরাহীম বিন সুলাইমান আল-আসসাল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আবু জাফর মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আবি আউন আন-নাসাঈ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আলী বিন হুজর আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান বিন ইয়াযীদ বিন জাবির আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ওয়াদীন বিন আতা থেকে, তিনি ইয়াযীদ বিন মারছাদ থেকে, তিনি মুআয বিন জাবাল থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

ততক্ষণ উপহার গ্রহণ করো যতক্ষণ তা উপহার হিসেবে থাকে, কিন্তু যখন তা দ্বীনের বিনিময়ে ঘুষে পরিণত হয়, তখন তা গ্রহণ করো না। আর তোমরা তা ছাড়বে না; দারিদ্র্য ও ভয় তোমাদের তা করা থেকে বিরত রাখবে। জেনে রেখো, বনী মারজের যাতাকল ঘুরেছে। সাবধান, ঈমানের যাতাকল ঘুরছে, সুতরাং কিতাব (কুরআন) যেদিকে ঘোরে তোমরাও সেদিকে ঘোরো। সাবধান, কিতাব এবং রাষ্ট্রক্ষমতা অচিরেই একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে, সুতরাং তোমরা কিতাব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ো না। সাবধান, শীঘ্রই তোমাদের ওপর এমন শাসকবর্গ আসবে যারা নিজেদের জন্য এমন ফয়সালা করবে যা তোমাদের জন্য করবে না। যদি তোমরা তাদের অবাধ্য হও তবে তারা তোমাদের হত্যা করবে, আর যদি তাদের আনুগত্য করো তবে তারা তোমাদের পথভ্রষ্ট করবে।

তারা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কী করব?

তিনি বললেন: ঈসা ইবনে মারিয়ামের সাথীরা যা করেছিল তা-ই করো; তাদেরকে করাত দিয়ে চেরা হয়েছিল
(খণ্ড: ১) ফুতইয়া ওয়া জাওয়াবুহা ফী যিকরিল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ৪৯)
بِالْمَنَاشِيرِ وَحُمِلُوا عَلَى الْخَشَبِ مَوْتٌ فِي طَاعَةِ اللَّهِ خَيْرٌ مِنْ حَيَاةٍ فِي مَعْصِيَةِ اللَّهِ

7 - أخبرنَا الْحسن بن أَحْمد الْمُقْرِئ أخبرنَا أَحْمد بن عبد الله الْحَافِظ حَدثنَا أَبُو عَمْرو بن حمدَان حَدثنَا الْحسن بن سُفْيَان حَدثنَا كثير بن عبيد الْحذاء حَدثنَا مُحَمَّدُ بْنُ حُمَيْرٍ
করাত দিয়ে (বিদীর্ণ করা) এবং কাষ্ঠখণ্ডে (শূলে) চড়ানো; আল্লাহর আনুগত্যে মৃত্যু আল্লাহর অবাধ্যতায় জীবন ধারণ অপেক্ষা উত্তম।

৭ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাসান বিন আহমদ আল-মুকরি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ বিন আব্দুল্লাহ আল-হাফিয, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আমর বিন হামদান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাসান বিন সুফিয়ান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কাসীর বিন উবাইদ আল-হিযা, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন হুমাইর।
(খণ্ড: ১) ফুতইয়া ওয়া জাওয়াবুহা ফী যিকরিল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ৫০)
عَنْ مَسْلَمَةَ بْنِ عَلِيٍّ عَنْ عُمَرَ بْنِ ذَرٍّ عَنْ أَبِي قِلابَةَ عَنْ أَبِي مُسْلِمٍ الْخَوْلانِيِّ عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ بْنِ الْجَرَّاحِ رضي الله عنه عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رضي الله عنه قَالَ

أَخَذَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِلِحْيَتِي وَأَنَا أَعْرِفُ الْحُزْنَ فِي وَجْهِهِ فَقَالَ

إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ أَتَانِي جِبْرِيلُ آنِفًا فَقَالَ إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ فَقُلْتُ أَجَلْ إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ فَمِمَّ ذَاكَ يَا جِبْرِيلُ قَالَ إِنَّ أُمَّتَكَ مُفْتَتِنَةٌ بَعْدَكَ بِقَلِيلٍ مِنْ دَهْرٍ غَيْرَ كَثِيرٍ فَقُلْتُ فِتْنَةُ كُفْرٍ أَوْ فِتْنَةُ ضَلالَةٍ فَقَالَ كُلٌّ سَيَكُونُ فَقُلْتُ وَمِنْ أَيْنَ وَأَنَا تَارِكٌ فِيهِمْ كِتَابُ اللَّهِ فَقَالَ بِكِتَابِ اللَّهِ يَفْتَتِنُونَ وَذَلِكَ مِنْ قِبَلِ أُمَرَائِهِمْ وَقُرَّائِهِمْ يَمْنَعُ الأُمَرَاءُ النَّاسَ الْحُقُوقَ فَيَظْلِمُونَ حُقُوقَهُمْ وَلا يُعْطَوْنَهَا فَيَقْتَتِلُونَ وَيَفْتَتِنُونَ وَيَتْبَعُ الْقُرَّاءُ أَهْوَاءَ الأُمَرَاءِ فَيَمُدُّونَهُمْ فِي الْغَيِّ ثُمَّ لَا يُقْصِرُونَ فَقُلْتُ كَيْفَ يَسْلَمُ مَنْ سَلِمَ مِنْهُمْ قَالَ بِالْكَفِّ وَالصَّبْرِ إِنْ أُعْطُوا الَّذِي لَهُمْ أَخَذُوهُ وَإِنْ مُنِعُوهُ تَرَكُوهُ
মাসলামাহ বিন আলী হতে, তিনি উমর বিন যার হতে, তিনি আবু কিলাবাহ হতে, তিনি আবু মুসলিম আল-খাওলানি হতে, তিনি আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হতে, তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার দাড়ি ধরলেন, এমতাবস্থায় আমি তাঁর চেহারায় দুঃখের ছাপ দেখতে পেলাম। অতঃপর তিনি বললেন:

নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর এবং নিশ্চয়ই আমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তনকারী। এইমাত্র জিবরীল আমার নিকট আসলেন এবং বললেন, 'নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর এবং নিশ্চয়ই আমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তনকারী।' আমি বললাম, 'হ্যাঁ, নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর এবং নিশ্চয়ই আমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তনকারী। হে জিবরীল! এর কারণ কী?' তিনি বললেন, 'আপনার পরবর্তী অল্প কিছুকাল পরেই আপনার উম্মত ফিতনায় পতিত হবে।' আমি বললাম, 'তা কি কুফরির ফিতনা নাকি গোমরাহির ফিতনা?' তিনি বললেন, 'তার সবই ঘটবে।' আমি বললাম, 'তা কোথা থেকে আসবে অথচ আমি তাদের মাঝে আল্লাহর কিতাব রেখে যাচ্ছি?' তিনি বললেন, 'আল্লাহর কিতাবের মাধ্যমেই তারা ফিতনায় পড়বে। আর তা হবে তাদের শাসক ও ক্বারীগণের পক্ষ থেকে। শাসকরা মানুষকে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করবে, ফলে তারা তাদের হকের ওপর জুলুম করবে এবং তা তাদের প্রদান করা হবে না। তখন তারা একে অপরের সঙ্গে লড়াইয়ে লিপ্ত হবে এবং ফিতনায় পড়বে। আর ক্বারীগণ শাসকদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করবে, ফলে তারা তাদেরকে ভ্রষ্টতার পথে টেনে নিয়ে যাবে এবং এতে কোনো শিথিলতা করবে না।' আমি বললাম, 'তাদের মধ্যে যারা নিরাপদ থাকতে চায় তারা কিভাবে রক্ষা পাবে?' তিনি বললেন, 'হাত গুটিয়ে রাখা (বিরত থাকা) এবং ধৈর্য ধারণ করার মাধ্যমে; যদি তাদের প্রাপ্য অধিকার দেওয়া হয় তবে তারা তা গ্রহণ করবে, আর যদি বঞ্চিত করা হয় তবে তারা তা ছেড়ে দেবে।'
(খণ্ড: ১) ফুতইয়া ওয়া জাওয়াবুহা ফী যিকরিল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ৫১)
‌‌وَمِمَّا جَاءَ فِي اخْتِلافِ التَّأْوِيلِ وَتَنَافُرِ الْقُلُوبِ

 

8 - مَا أخبرنَا الْحسن بن أَحْمد المقريء أخبرنَا أَحْمد بن عبد الله الْحَافِظ حَدثنَا سُلَيْمَان بن أَحْمد حَدثنَا أَحْمد بن عبد الْوَهَّاب حَدثنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ

قَالَ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ وَحدثنَا سُلَيْمَان بن أَحْمد حَدثنَا أَحْمد بن خُلَيْد حَدثنَا أَبُو الْيَمَان قَالَا حَدثنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي مَرْيَمَ عَنْ حَبِيبِ بْنِ عُبَيْدٍ عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ قَالَ

قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم

يَكُونُ فِي آخِرِ الزَّمَانِ قَوْمٌ إِخْوَانُ الْعَلانِيَةِ أَعْدَاءُ السَّرِيرَةِ

قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ يَكُونُ ذَلِكَ

قَالَ ذَلِكَ لِرَغْبَةِ بَعْضِهِمْ إِلَى بَعْضٍ وَرَهْبَةِ بَعْضِهِمْ مِنْ بَعْضٍ
ব্যাখ্যার ভিন্নতা এবং হৃদয়ের পারস্পরিক বিচ্ছিন্নতা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে

 

৮ - আল-হাসান বিন আহমাদ আল-মুকরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-হাফিজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, সুলাইমান বিন আহমাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আল-মুগীরা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন।

আহমাদ বিন আব্দুল্লাহ বলেন, এবং সুলাইমান বিন আহমাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমাদ বিন খুলাইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আল-ইয়ামান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; তাঁরা উভয়ে বলেন, আবু বকর বিন আবি মারিয়াম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাবিব বিন উবাইদ থেকে, তিনি মুআয বিন জাবাল থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:

শেষ জামানায় এমন এক সম্প্রদায়ের উদ্ভব হবে যারা প্রকাশ্যে একে অপরের ভাই হবে কিন্তু গোপনে একে অপরের শত্রু হবে।

জিজ্ঞেস করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল! এটা কীভাবে হবে?

তিনি বললেন: তা হবে তাদের একে অপরের প্রতি জাগতিক স্বার্থের লালসা এবং একে অপরের প্রতি ভীতির কারণে।
(খণ্ড: ১) ফুতইয়া ওয়া জাওয়াবুহা ফী যিকরিল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ৫২)
9 - أخبرنَا مَحْمُود بن إِسْمَاعِيل أخبرنَا أَحْمد بن مُحَمَّد بن الْحُسَيْن أخبرنَا سُلَيْمَان بن أَحْمد حَدثنَا عمربن حَفْص السدُوسِي حَدثنَا عَاصِم بن عَليّ حَدثنَا قَيْسُ بْنُ الرَّبِيعِ عَنْ إِيَادِ بْنِ لَقِيطٍ عَنْ رَجُلٍ مِنْهُمْ يُقَالُ لَهُ قُرَيْظَةُ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا مُوسَى يَقُولُ

سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ السَّاعَةِ وَأَنَا شَاهِدٌ فَقَالَ

لَا يَعْلَمُهَا إِلا اللَّهُ وَلا يُجْلِيهَا لِوَقْتِهَا إِلا هُوَ وَلَكِنْ سَأُحَدِّثُكُمْ بِمَشَارِطِهَا وَمَا بَيْنَ يَدَيْهَا أَلا إِنَّ بَيْنَ يَدَيْهَا فتنا وهرجا
৯ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মাহমুদ ইবনে ইসমাঈল, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-হুসাইন, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সুলায়মান ইবনে আহমদ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উমর ইবনে হাফস আস-সাদূসী, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আসীম ইবনে আলী, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কায়স ইবনুর রাবী, তিনি ইয়াদ ইবনে লাকীত থেকে, তিনি তাদের মধ্যকার জনৈক ব্যক্তি যাকে কুরাইজাহ বলা হয় তার থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আবু মূসাকে বলতে শুনেছি:

আমি উপস্থিত থাকাকালীন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো, তখন তিনি বললেন:

আল্লাহ ব্যতীত আর কেউ তা জানেন না এবং নির্ধারিত সময়ে তিনি ব্যতীত আর কেউ তা প্রকাশ করবেন না। তবে আমি তোমাদেরকে এর আলামতসমূহ এবং এর প্রাক্কালের বিষয়াদি সম্পর্কে অবহিত করব। জেনে রেখো, নিশ্চয়ই এর প্রাক্কালে ফিতনা এবং হারজ (বিশৃঙ্খলা ও হত্যাকাণ্ড) রয়েছে।
(খণ্ড: ১) ফুতইয়া ওয়া জাওয়াবুহা ফী যিকরিল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ৫৩)
فَقِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَمَّا الْفِتَنُ فَقَدْ عَرَفْنَاهَا أَرَأَيْتَ الْهَرْجَ مَا هُوَ

قَالَ هُوَ بِلِسَانِ الْحَبَشَةِ الْقَتْلُ وَأَنْ يُلْقَى بَيْنَ النَّاسِ التَّنَاكُرُ فَلا يُعْرَفُ أَحَدٌ وَتَجِفُّ قُلُوبُ النَّاسِ وَتَبْقَى رَجْرَاجَةً لَا تَعْرِفُ مَعْرُوفًا وَلا تُنْكِرُ مُنْكَرًا

10 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ أَحْمَدَ المقريء أخبرنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يُوسُفَ بْنِ إِسْمَاعِيلَ بْنِ شَمَّةَ وَأَبُو بَكْرٍ مُحَمَّد
অতঃপর জিজ্ঞাসা করা হলো, “হে আল্লাহর রাসূল! ফিতনা সম্পর্কে তো আমরা অবগত হয়েছি, আপনি কি বলবেন ‘আল-হারজ’ কী?”

তিনি বললেন, “হাবশী ভাষায় এর অর্থ হলো হত্যা। আর মানুষের মাঝে পারস্পরিক অনীহা ও অপরিচিতি ছড়িয়ে দেওয়া হবে, ফলে কেউ কাউকে চিনতে পারবে না। মানুষের অন্তরসমূহ শুষ্ক হয়ে যাবে এবং তা অস্থির ও কম্পমান অবস্থায় থাকবে; যা কোনো সৎ কাজকে সৎ বলে চিনবে না এবং কোনো মন্দ কাজকেও মন্দ বলে বর্জন করবে না।”

১০ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী আল-হাসান ইবনে আহমাদ আল-মুকরি, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ইউসুফ ইবনে ইসমাইল ইবনে শাম্মাহ এবং আবু বকর মুহাম্মদ
(খণ্ড: ১) ফুতইয়া ওয়া জাওয়াবুহা ফী যিকরিল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ৫৪)
بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رِيذَةَ

وَأَخْبَرَنَا أَبُو مَنْصُورٍ مَحْمُودُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ مُحَمَّد أخبرنَا أَبُو الْحُسَيْن أَحْمد بن مُحَمَّد بن الْحُسَيْن قَالُوا

أخبرنَا أَبُو الْقَاسِمِ سُلَيْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَيُّوبَ اللَّخْمِيّ قَالَ حَدثنَا مُحَمَّد بن عَليّ الصَّائِغ الْمَكِّيّ حَدثنَا مُحَمَّد بن مُعَاوِيَة النَّيْسَابُورِي حَدثنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ الْحَرَّانِيُّ عَنْ خُصَيْفٍ عَنْ مُجَاهِدٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنه قَالَ

قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم

سَيَجِيءُ أَقْوَامٌ فِي آخِرِ الزَّمَانِ تَكُونُ وُجُوهُهُمْ وُجُوهَ الآدَمِيِّينَ وَقُلُوبُهُمْ قُلُوبَ الشَّيَاطِينِ أَمْثَالُ الذِّئَابِ الضَّوَارِي لَيْسَ فِي قُلُوبِهِمْ شَيْءٌ مِنَ الرَّحْمَةِ سَفَّاكُونَ لِلدِّمَاءِ لَا يَرِعُونَ عَنْ قَبِيحٍ إِنْ تَابَعْتَهُمْ وَارَبُوكَ وَإِنْ تَوَارَيْتَ عَنْهُمُ اغْتَابُوكَ وَإِنْ حَدَّثُوكَ كَذَّبُوكَ وَإِنِ ائْتَمَنْتَهُمْ خَانُوكَ صَبِيُّهُمْ عَارِمٌ وَشَابُّهُمْ شَاطِرٌ وَشَيْخُهُمْ لَا يَأْمُرُ بِمَعْرُوفٍ وَلا يَنْهَى عَنْ مُنْكَرٍ الاعْتِزَازُ بِهِمْ ذُلٌّ وَطَلَبُ مَا فِي أَيْدِيهِمْ فَقْرٌ الْحَلِيمُ فِيهِمْ غاوي وَالآمِرُ بِالْمَعْرُوفِ مُتَّهَمٌ الْمُؤْمِنُ فِيهِمْ مُسْتَضْعَفٌ وَالْفَاسِقُ فِيهِمْ مُشَرَّفٌ السُّنَّةُ فِيهِمْ
...ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে রীজাহ।

এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মনসুর মাহমুদ ইবনে ইসমাঈল ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হুসাইন আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-হুসাইন, তাঁরা বলেন:

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-কাসিম সুলায়মান ইবনে আহমাদ ইবনে আইয়ুব আল-লাখমী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আলী আস-সায়িগ আল-মাক্কী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে মুয়াবিয়া আন-নাইসাবুরী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে সালামাহ আল-হাররানী, তিনি খুসাইফ থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:

শেষ জামানায় এমন কিছু সম্প্রদায়ের আবির্ভাব ঘটবে যাদের চেহারা হবে মানুষের মতো, কিন্তু তাদের অন্তর হবে শয়তানের অন্তরের মতো। তারা হবে হিংস্র নেকড়ের ন্যায়, যাদের হৃদয়ে দয়ার লেশমাত্র থাকবে না। তারা হবে চরম রক্তপাতকারী, কোনো জঘন্য কাজ থেকে তারা বিরত থাকবে না। তুমি যদি তাদের অনুসরণ করো, তবে তারা তোমার সাথে প্রতারণা করবে; আর যদি তাদের থেকে আড়ালে থাকো, তবে তারা তোমার গীবত (পরনিন্দা) করবে। তারা তোমার সাথে কথা বললে মিথ্যা বলবে, আর যদি তুমি তাদের বিশ্বাস করে কোনো কিছু আমানত রাখো, তবে তারা তোমার সাথে খিয়ানত (বিশ্বাসঘাতকতা) করবে। তাদের শিশু হবে অবাধ্য ও দুষ্ট প্রকৃতির, তাদের যুবক হবে ধূর্ত এবং তাদের বৃদ্ধরা সৎ কাজের আদেশ দেবে না ও অসৎ কাজে বাধা দেবে না। তাদের মাধ্যমে সম্মান অন্বেষণ করা হলো লাঞ্ছনা, আর তাদের কাছে যা আছে (তাদের হাতের সম্পদ) তা প্রার্থনা করা হলো দারিদ্র্য। তাদের মাঝে সহনশীল ব্যক্তি পথভ্রষ্ট হিসেবে গণ্য হবে এবং সৎ কাজের আদেশদাতা হবে অভিযুক্ত। তাদের মধ্যে মুমিন ব্যক্তি হবে দুর্বল ও হীনবল, আর পাপাচারী হবে সম্মানিত। তাদের মাঝে সুন্নাহ হলো...
(খণ্ড: ১) ফুতইয়া ওয়া জাওয়াবুহা ফী যিকরিল ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ৫৫)
بِدْعَةٌ وَالْبِدْعَةُ سُنَّةٌ وَعِنْدَ ذَلِكَ يُسَلِّطُ اللَّهَ عَلَيْهِم شرارهم وَيَدْعُو خيارهم فَلا يُسْتَجَابُ لَهُمْ
বিদআত এবং বিদআত হবে সুন্নাহ; আর সেই সময়ে আল্লাহ তাদের ওপর তাদের মধ্যকার নিকৃষ্ট ব্যক্তিদের কর্তৃত্ব দান করবেন। তখন তাদের মধ্যকার শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিরা দুআ করবে, কিন্তু তাদের দুআ কবুল করা হবে না।