(খণ্ড: ১)
যাম্মুত তাবীল
(পৃষ্ঠা: -)
ذم التأويل القسم: كتب السنة
الكتاب: ذم التأويل
المؤلف: أبو محمد موفق الدين عبد الله بن أحمد بن محمد بن قدامة الجماعيلي المقدسي ثم الدمشقي الحنبلي، الشهير بابن قدامة المقدسي (ت 620هـ)
المحقق: بدر بن عبد الله البدر
الناشر: الدار السلفية - الكويت
الطبعة: الأولى، 1406
عدد الصفحات: 48
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ব্যাখ্যার নিন্দা বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: ব্যাখ্যার নিন্দা (ধাম্মুত তাবীল)
লেখক: আবু মুহাম্মদ মুওয়াফফাকুদ্দিন আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে কুদামা আল-জামাঈলি আল-মাকদিসি অতঃপর আদ-দিমাশকি আল-হাম্বলি, যিনি ইবনে কুদামা আল-মাকদিসি নামে পরিচিত (মৃত্যু ৬২০ হিজরি)
তাহকিক: বদর ইবনে আবদুল্লাহ আল-বদর
প্রকাশক: আদ-দারুস সালাফিয়্যাহ - কুয়েত
সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৬
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৮
[কিতাবের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
যাম্মুত তাবীল
(পৃষ্ঠা: ৮)
ذمّ التَّأْوِيلبِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم وَبِه الْمُسْتَعَان وَعَلِيهِ التكلان
1 - الْحَمد لله عَالم الْغَيْب وَالشَّهَادَة نَافِذ الفضاء والإرادة المتفرد بتدبير الْإِنْشَاء والإعادة وَتَقْدِير الشَّقَاء والسعادة خلق فريقا للإختلاف وفريقا لِلْعِبَادَةِ وَقسم المنزلين بَين الْفَرِيقَيْنِ للَّذين أساءوا السوءى وللذين أَحْسنُوا الْحسنى وَزِيَادَة وَصلى الله على سيدنَا مُحَمَّد الْمُصْطَفى وَآله صَلَاة يشرف بهَا معاده
2 - أما بعد فَإِنِّي أَحْبَبْت أَن أذكر مَذْهَب السّلف وَمن اتبعهم بِإِحْسَان رَحْمَة الله عَلَيْهِم فِي أَسمَاء الله تَعَالَى وَصِفَاته ليسلك سبيلهم من أحب الإقتداء بهم والكون مَعَهم فِي الدَّار الْآخِرَة إِذا كَانَ كل تَابع فِي الدُّنْيَا مَعَ متبوعه فِي الْآخِرَة وسالك حَيْثُ سلك مَوْعُودًا بِمَا وعد بِهِ متبوعه من خير وَشر دلّ على هَذَا قَوْله تَعَالَى {وَالسَّابِقُونَ الْأَولونَ من الْمُهَاجِرين وَالْأَنْصَار وَالَّذين اتَّبَعُوهُمْ بِإِحْسَان رَضِي الله عَنْهُم وَرَضوا عَنهُ} ] التَّوْبَة 100 [وَقَوله سُبْحَانَهُ {وَالَّذين آمنُوا وَاتَّبَعتهمْ ذُرِّيتهمْ بِإِيمَان ألحقنا بهم ذُرِّيتهمْ} [الطّور 21 [وَقَالَ حاكيا عَن إِبْرَاهِيم عليه السلام {فَمن تَبِعنِي فَإِنَّهُ مني} ] إِبْرَاهِيم 36 [وَقَالَ فِي ضد ذَلِك {وَمن يُشَاقق الرَّسُول من بعد مَا تبين لَهُ الْهدى وَيتبع غير سَبِيل الْمُؤمنِينَ نوله مَا تولى}
তাবিলের নিন্দাপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করছি এবং তাঁরই ওপর ভরসা রাখছি।
১ - সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি দৃশ্য ও অদৃশ্যের পরিজ্ঞাত, ফয়সালা ও ইচ্ছা বাস্তবায়নকারী, সৃষ্টি ও পুনরুত্থান পরিচালনার ক্ষেত্রে অদ্বিতীয় এবং দুর্ভাগ্য ও সৌভাগ্যের নির্ধারণকারী। তিনি একদল সৃষ্টি করেছেন মতভেদের জন্য এবং অন্যদল তাঁর ইবাদতের জন্য। তিনি উভয় দলের জন্য গন্তব্যস্থল নির্ধারিত করেছেন; যারা মন্দ কাজ করেছে তাদের জন্য রয়েছে মন্দ প্রতিদান, আর যারা নেক আমল করেছে তাদের জন্য রয়েছে কল্যাণ এবং তার অধিক। আল্লাহ তাআলা আমাদের নেতা মনোনীত মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারের প্রতি এমন রহমত বর্ষণ করুন, যার মাধ্যমে তাঁর প্রত্যাবর্তনের স্থান সম্মানিত হয়।
২ - অতঃপর, আমি আল্লাহ তাআলার নামসমূহ ও তাঁর গুণাবলির (সিফাত) ক্ষেত্রে সালাফে সালেহীন এবং নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীদের—আল্লাহ তাঁদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন—আদর্শ উল্লেখ করা সমীচীন মনে করেছি। যাতে যারা তাঁদের অনুসরণ করতে এবং পরকালে তাঁদের সাথে থাকতে পছন্দ করেন, তারা যেন তাঁদের পথ অনুসরণ করতে পারেন। কারণ দুনিয়াতে প্রত্যেক অনুসারী আখেরাতে তাঁর অনুসৃত ব্যক্তির সাথেই থাকবেন এবং অনুসারী সেখানেই গমণ করবেন যেখানে তাঁর অনুসৃত ব্যক্তি গমণ করেছেন; আর তাঁর অনুসৃত ব্যক্তিকে কল্যাণ বা অকল্যাণের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, অনুসারীও সেটারই প্রতিশ্রুতিপ্রাপ্ত হবেন। আল্লাহ তাআলার এই বাণী এর প্রমাণ দেয়: "মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা প্রথম অগ্রগামী এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসরণ করেছে, আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে।" [আত-তাওবাহ্: ১০০] এবং মহান আল্লাহর বাণী: "যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের সন্তান-সন্ততি ঈমানের সাথে তাদের অনুগামী হয়েছে, আমি তাদের সন্তানদের তাদের সাথে মিলিত করে দেব।" [আত-তূর: ২১] তিনি ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন: "সুতরাং যে আমার অনুসরণ করবে, সে আমার দলভুক্ত।" [ইবরাহিম: ৩৬] এবং এর বিপরীতে তিনি বলেছেন: "কারও কাছে হেদায়েত স্পষ্ট হওয়ার পর সে যদি রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে এবং মুমিনদের পথ ছাড়া অন্য পথ অনুসরণ করে, তবে সে যে পথ অবলম্বন করেছে আমি তাকে সে পথেই ছেড়ে দেব।"
(খণ্ড: ১)
যাম্মুত তাবীল
(পৃষ্ঠা: ৯)
] النِّسَاء 115 [وَقَوله تَعَالَى {يَا أَيهَا الَّذين آمنُوا لَا تَتَّخِذُوا الْيَهُود وَالنَّصَارَى أَوْلِيَاء بَعضهم أَوْلِيَاء بعض وَمن يَتَوَلَّهُمْ مِنْكُم فَإِنَّهُ مِنْهُم} [الْمَائِدَة 51 [وَقَالَ {فاتبعوا أَمر فِرْعَوْن وَمَا أَمر فِرْعَوْن برشيد يقدم قومه يَوْم الْقِيَامَة فأوردهم النَّار} ] هود 97 98 [فجعلهم أتباعا لَهُ فِي الْآخِرَة إِلَى النَّار حِين اتَّبعُوهُ فِي الدُّنْيَا
3 - وَجَاء فِي الْخَبَر أَن الله يمثل لكل قوم مَا كَانُوا يعْبدُونَ فِي الدُّنْيَا من حجر أَو شجر أَو شمس أَو قمر أَو غير ذَلِك ثمَّ يَقُول أَلَيْسَ عدلا مني أَن أولي كل إِنْسَان مَا يَتَوَلَّاهُ فِي الدُّنْيَا ثمَّ يَقُول لتتبع كل أمة مَا كَانَت تعبد فِي الدُّنْيَا فيتبعونهم حَتَّى يهوونهم فِي النَّار
4 - فَكَذَلِك كل من اتبع إِمَامًا فِي الدُّنْيَا فِي سنة أَو بِدعَة أَو خير أَو شَرّ كَانَ مَعَه فِي الْآخِرَة فَمن أحب الْكَوْن مَعَ السّلف فِي الْآخِرَة وَأَن يكون موعودأ بِمَا وعدوا بِهِ من الجنات والرضوان فليتبعهم بِإِحْسَان وَمن اتبع غير سبيلهم
] আন-নিসা ১১৫ [ এবং মহান আল্লাহর বাণী {হে মুমিনগণ, তোমরা ইহুদি ও খ্রিস্টানদের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো না; তারা একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, সে তাদেরই একজন গণ্য হবে} [ আল-মায়েদাহ ৫১ [ এবং তিনি বলেছেন {অতঃপর তারা ফিরআউনের নির্দেশের অনুসরণ করল, অথচ ফিরআউনের নির্দেশ সঠিক ছিল না। কিয়ামতের দিন সে তার সম্প্রদায়ের অগ্রভাগে থাকবে এবং তাদের জাহান্নামের আগুনে নিয়ে যাবে} ] হুদ ৯৭ ৯৮ [ সুতরাং তিনি তাদের দুনিয়াতে তাকে অনুসরণ করার কারণে আখিরাতেও আগুনের দিকে তার অনুসারী করে দিয়েছেন।
3 - এবং বর্ণনায় এসেছে যে, আল্লাহ প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য তারা দুনিয়াতে যা কিছু ইবাদত করত—পাথর, গাছ, সূর্য, চন্দ্র বা অন্য যা কিছু—তা মূর্ত করবেন। অতঃপর তিনি বলবেন, ‘এটা কি আমার পক্ষ থেকে ইনসাফ নয় যে, আমি প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার সাথেই সম্বন্ধযুক্ত করে দেব যাকে সে দুনিয়াতে অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করেছিল?’ তারপর তিনি বলবেন, ‘প্রত্যেক উম্মত দুনিয়াতে যার ইবাদত করত তার অনুসরণ করুক।’ তখন তারা তাদের অনুসরণ করবে এমনকি তারা তাদের নিয়ে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষিপ্ত হবে।
4 - একইভাবে, যে ব্যক্তি দুনিয়াতে সুন্নাহ কিংবা বিদআত অথবা ভালো কিংবা মন্দের ক্ষেত্রে কোনো ইমাম বা নেতার অনুসরণ করবে, সে আখিরাতেও তার সাথেই থাকবে। সুতরাং যে ব্যক্তি আখিরাতে সালাফদের (পূর্বসূরিদের) সঙ্গী হতে চায় এবং জান্নাত ও সন্তুষ্টির যে প্রতিশ্রুতি তাঁদের দেওয়া হয়েছে তা লাভ করতে পছন্দ করে, সে যেন নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করে। আর যে ব্যক্তি তাঁদের পথ ব্যতীত অন্য কোনো পথ অনুসরণ করবে...
(খণ্ড: ১)
যাম্মুত তাবীল
(পৃষ্ঠা: ১০)
دخل فِي عُمُوم قَوْله تَعَالَى {وَمن يُشَاقق الرَّسُول من بعد مَا تبين لَهُ الْهدى وَيتبع غير سَبِيل الْمُؤمنِينَ نوله مَا تولى} الْآيَة [النِّسَاء 115]
5 - وَجعلت هَذَا الْكتاب على ثَلَاثَة أَبْوَاب
الْبَاب الأول فِي بَيَان مَذْهَبهم [وسبيلهم]
وَالثَّانِي فِي الْحَث على اتباعهم [وَلُزُوم أَثَرهم]
وَالثَّالِث فِي بَيَان صَوَاب مَا صَارُوا إِلَيْهِ وَأَن الْحق فِيمَا كَانُوا عَلَيْهِ ونسأل الله تَعَالَى أَن يهدينا وَسَائِر الْمُسلمين إِلَى صراطه الْمُسْتَقيم ويجعلنا وإياهم من وَرَثَة جنَّة النَّعيم برحمته آمين
আল্লাহ তাআলার এই বাণীর ব্যাপকতার অন্তর্ভুক্ত হবে: "আর যে ব্যক্তি তার কাছে হিদায়েত স্পষ্ট হওয়ার পর রাসূলের বিরোধিতা করে এবং মুমিনদের পথ ভিন্ন অন্য পথের অনুসরণ করে, আমি তাকে সেদিকেই ফেরাব যেদিকে সে ফিরেছে" - আয়াত [আন-নিসা ১১৫]
৫ - আর আমি এই গ্রন্থটিকে তিনটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছি
প্রথম অধ্যায়: তাঁদের মাযহাব [ও তাঁদের পথ] বর্ণনায়
দ্বিতীয় অধ্যায়: তাঁদের অনুসরণে [ও তাঁদের পদাঙ্ক আঁকড়ে থাকায়] উৎসাহিত করা প্রসঙ্গে
তৃতীয় অধ্যায়: তাঁরা যে পথ অবলম্বন করেছেন তার সঠিকতা এবং সত্য যে তাঁদের আদর্শেই নিহিত—তা বর্ণনায়; আর আমরা আল্লাহ তাআলার কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের ও সকল মুসলিমকে তাঁর সরল পথের দিশা দান করেন এবং তাঁর রহমতে আমাদের ও তাঁদেরকে জান্নাতুন নাঈমের উত্তরাধিকারীদের অন্তর্ভুক্ত করেন। আমীন।
(খণ্ড: ১)
যাম্মুত তাবীল
(পৃষ্ঠা: ১১)
فِي بَيَان مَذْهَبهم فِي صِفَات الله تَعَالَى6 - وَمذهب السّلف رَحْمَة الله عَلَيْهِم الْإِيمَان بِصِفَات الله تَعَالَى وأسمائه الَّتِي وصف بهَا نَفسه فِي آيَاته وتنزيله أَو على لِسَان رَسُوله من غير زِيَادَة عَلَيْهَا وَلَا نقص مِنْهَا وَلَا تجَاوز لَهَا وَلَا تَفْسِير وَلَا تَأْوِيل لَهَا بِمَا يُخَالف ظَاهرهَا وَلَا تَشْبِيه بِصِفَات المخلوقين وَلَا سمات الْمُحدثين بل أمروها كَمَا جَاءَت وردوا علمهَا إِلَى قَائِلهَا وَمَعْنَاهَا إِلَى الْمُتَكَلّم بهَا
7 - وَقَالَ بَعضهم ويروى ذَلِك عَن الشَّافِعِي رَحْمَة الله عَلَيْهِ آمَنت بِمَا جَاءَ عَن الله على مُرَاد الله وَبِمَا جَاءَ عَن رَسُول الله على مُرَاد رَسُول الله صلى الله عليه وسلم
8 - وَعَلمُوا أَن الْمُتَكَلّم بهَا صَادِق لَا شكّ فِي صدقه فصدقوه وَلم يعلمُوا حَقِيقَة مَعْنَاهَا فَسَكَتُوا عَمَّا لم يعلموه وَأخذ ذَلِك الآخر وَالْأول ووصى بَعضهم بَعْضًا بِحسن الإتباع وَالْوُقُوف حَيْثُ وقف أَوَّلهمْ وحذروا من التجاوز لَهُم والعدول عَن طريقهم وبينوا لَهُم سبيلهم ومذهبهم ونرجوا أَن يجعلنا الله تَعَالَى مِمَّن اقْتدى بهم فِي بَيَان مَا بَينُوهُ وسلوك الطَّرِيق الَّذِي سلكوه
9 - وَالدَّلِيل على أَن مَذْهَبهم مَا ذَكرْنَاهُ أَنهم نقلوا إِلَيْنَا الْقُرْآن الْعَظِيم وأخبار الرَّسُول صلى الله عليه وسلم نقل مُصدق لَهَا مُؤمن بهَا قَابل لَهَا غير مرتاب فِيهَا وَلَا شَاك
আল্লাহ তাআলার গুণাবলি সম্পর্কে তাঁদের মাযহাব বর্ণনার পরিচ্ছেদ৬ - এবং সালাফদের—আল্লাহ তাঁদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন—মাযহাব হলো আল্লাহ তাআলার সেই সমস্ত গুণাবলি ও নামের ওপর ঈমান আনা, যা তিনি তাঁর আয়াত ও অবতীর্ণ কিতাবে অথবা তাঁর রাসূলের মুখে নিজের জন্য বর্ণনা করেছেন; তাতে কোনো প্রকার বৃদ্ধি না করে, তা থেকে কোনো কিছু হ্রাস না করে, তা অতিক্রম না করে এবং তার প্রকাশ্য অর্থের পরিপন্থী কোনো ব্যাখ্যা বা অপব্যাখ্যা না করে। আর সৃষ্টির গুণাবলির সাথে সদৃশ না করে এবং নবোদ্ভূতদের বৈশিষ্ট্যের সাথে তুলনা না করে; বরং সেগুলো যেভাবে এসেছে সেভাবেই তা বহাল রেখেছেন এবং এর গূঢ় জ্ঞান এর প্রবক্তার প্রতি এবং এর অর্থ এর বক্তার প্রতি সোপর্দ করেছেন।
৭ - তাঁদের কেউ কেউ বলেছেন—এবং এটি ইমাম শাফেয়ী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) থেকেও বর্ণিত হয়েছে—আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে যা এসেছে তার ওপর আল্লাহর উদ্দেশ্য অনুযায়ী ঈমান এনেছি, এবং আল্লাহর রাসূলের পক্ষ থেকে যা এসেছে তার ওপর আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উদ্দেশ্য অনুযায়ী ঈমান এনেছি।
৮ - এবং তাঁরা জানতেন যে, এগুলোর বক্তা সত্যবাদী, যাঁর সত্যবাদিতায় কোনো সন্দেহ নেই, ফলে তাঁরা তাঁকে সত্য বলে গ্রহণ করেছেন। কিন্তু তাঁরা এর অর্থের প্রকৃত স্বরূপ জানতেন না, তাই তাঁরা যা জানতেন না সে বিষয়ে নীরবতা অবলম্বন করেছেন। পরবর্তীগণ পূর্ববর্তীদের কাছ থেকে এটি গ্রহণ করেছেন এবং একে অপরকে যথাযথ অনুসরণের এবং তাঁদের প্রথম প্রজন্ম যেখানে থেমেছেন সেখানে থেমে যাওয়ার উপদেশ দিয়েছেন। তাঁরা তাঁদের সীমা অতিক্রম করা এবং তাঁদের পথ থেকে বিচ্যুত হওয়ার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন এবং তাঁদের পথ ও মাযহাব স্পষ্ট করেছেন। আমরা আশা করি আল্লাহ তাআলা আমাদের তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করবেন যারা তাঁদের স্পষ্টীকৃত বিষয়ের বর্ণনায় তাঁদের অনুসরণ করে এবং তাঁরা যে পথে চলেছেন সেই পথে চলে।
৯ - আমাদের উল্লিখিত বিষয়টিই যে তাঁদের মাযহাব, তার প্রমাণ হলো—তাঁরা আমাদের নিকট সুমহান কুরআন এবং রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাদীসসমূহ এমনভাবে বর্ণনা করেছেন যে তাঁরা তা সত্য বলে বিশ্বাসকারী, তার প্রতি ঈমান আনয়নকারী এবং তা গ্রহণকারী ছিলেন; তাতে তাঁদের কোনো দ্বিধা বা সন্দেহ ছিল না।
(খণ্ড: ১)
যাম্মুত তাবীল
(পৃষ্ঠা: ১২)
فِي صدق قَائِلهَا وَلم يفسروا مَا يتَعَلَّق بِالصِّفَاتِ مِنْهَا وَلَا تأولوه وَلَا شبهوه بِصِفَات المخلوقين إِذْ لَو فعلوا شَيْئا من ذَلِك لنقل عَنْهُم وَلم يجز أَن يكتم بِالْكُلِّيَّةِ إِذْ لَا يجوز التواطؤ على كتمان مَا يحْتَاج إِلَى نَقله ومعرفته لجَرَيَان ذَلِك فِي الْقبْح مجْرى التواطؤ على نقل الْكَذِب وَفعل مَا لَا يحل بل بلغ من مبالغتهم فِي السُّكُوت عَن هَذَا إِنَّهُم كَانُوا إِذا رَأَوْا من يسْأَل عَن الْمُتَشَابه بالغوا فِي كَفه تَارَة بالْقَوْل العنيف وَتارَة بِالضَّرْبِ وَتارَة بِالْإِعْرَاضِ الدَّال على شدَّة الْكَرَاهَة لمسألته
10 - وَلذَلِك لما بلغ عمرا رضي الله عنه أَن صبيغا يسْأَل عَن الْمُتَشَابه أعد لَهُ عراجين النّخل فَبَيْنَمَا عمر يخْطب قَامَ فَسَأَلَهُ عَن {والذاريات ذَروا فَالْحَامِلَات وقرا} [الذاريات 12] وَمَا بعْدهَا فَنزل عمر فَقَالَ مَا اسْمك قَالَ أَنا عبد الله صبيغ قَالَ عمر وَأَنا عبد الله عمر إكشف رَأسك فكشفه فَرَأى عَلَيْهِ شعرًا فَقَالَ لَهُ لَو وَجَدْتُك محلوقا لضَرَبْت الَّذِي فِيهِ عَيْنَاك بِالسَّيْفِ ثمَّ أَمر فَضرب ضربا شَدِيدا وَبعث بِهِ إِلَى الْبَصْرَة وَأمرهمْ أَن لَا يجالسوه فَكَانَ بهَا كالبعير الأجرب لَا يَأْتِي مَجْلِسا إِلَّا قَالُوا عَزمَة أَمِير الْمُؤمنِينَ فَتَفَرَّقُوا عَنهُ حَتَّى تَابَ وَحلف بِاللَّه مَا بَقِي يجد مِمَّا كَانَ فِي نَفسه شَيْئا فَأذن عمر فِي مُجَالَسَته فَلَمَّا خرجت الْخَوَارِج أُتِي فَقيل لَهُ هَذَا وقتك فَقَالَ لَا نفعتني موعظة العَبْد الصَّالح
তার বক্তার সত্যবাদিতার প্রতি [বিশ্বাস রেখে] তারা এর সিফাত বা গুণাবলি সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর কোনো ব্যাখ্যা দেননি, সেগুলোর অপব্যাখ্যা করেননি এবং সেগুলোকে সৃষ্টির গুণাবলির সাথে সদৃশও করেননি। কারণ তারা যদি এমন কিছু করতেন তবে তা অবশ্যই তাদের থেকে বর্ণিত হতো। আর এমন বিষয় সম্পূর্ণরূপে গোপন রাখা সম্ভব ছিল না; কেননা যা বর্ণনা করা এবং জানা আবশ্যক তা গোপন করার ব্যাপারে একমত হওয়া ততটাই জঘন্য যতটা মিথ্যা বর্ণনার ওপর একমত হওয়া বা কোনো অবৈধ কাজ করা জঘন্য। বরং এ বিষয়ে মৌনতা অবলম্বনে তাদের কঠোরতা এতটাই ছিল যে, যখনই তারা দেখতেন কেউ মুতাশাবিহ বিষয় সম্পর্কে প্রশ্ন করছে, তারা তাকে নিবৃত্ত করতে কঠোরতা প্রদর্শন করতেন; কখনো রুঢ় বাক্যের মাধ্যমে, কখনো প্রহারের মাধ্যমে, আবার কখনো বিমুখতা প্রদর্শনের মাধ্যমে যা উক্ত প্রশ্নের প্রতি তাদের তীব্র অসন্তুষ্টি প্রকাশ করত।
১০ - এ কারণেই যখন উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট সংবাদ পৌঁছাল যে, সাবিগ মুতাশাবিহ বিষয়ে প্রশ্ন করে, তখন তিনি তার জন্য খেজুরের শক্ত ডাল প্রস্তুত করে রাখলেন। একদিন উমর (রা.) যখন খুতবা দিচ্ছিলেন, তখন সে দাঁড়িয়ে তাকে {শপথ ধূলি-বিক্ষিপ্তকারী বায়ুর, অতঃপর ভারবহনকারী মেঘমালার} এবং এর পরবর্তী আয়াতগুলো সম্পর্কে প্রশ্ন করল। উমর (রা.) নেমে এলেন এবং বললেন, তোমার নাম কী? সে বলল, আমি আল্লাহর বান্দা সাবিগ। উমর (রা.) বললেন, আর আমি আল্লাহর বান্দা উমর। তোমার মাথা অনাবৃত করো। সে মাথা অনাবৃত করলে তিনি তাতে চুল দেখতে পেলেন। তিনি তাকে বললেন, যদি আমি তোমাকে মাথা মুণ্ডানো অবস্থায় পেতাম, তবে অবশ্যই তরবারি দিয়ে তোমার গর্দান উড়িয়ে দিতাম। এরপর তিনি নির্দেশ দিলেন এবং তাকে কঠোরভাবে প্রহার করা হলো। অতঃপর তাকে বসরায় পাঠিয়ে দেওয়া হলো এবং সেখানকার লোকদের নির্দেশ দিলেন তারা যেন তার সাথে না বসে। ফলে সে সেখানে চর্মরোগগ্রস্ত উটের মতো হয়ে গেল; সে কোনো মজলিসে উপস্থিত হলেই তারা বলত, আমিরুল মুমিনীনের কঠোর নির্দেশ! অতঃপর তারা তার নিকট থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেত। শেষ পর্যন্ত সে তওবা করল এবং আল্লাহর নামে শপথ করে বলল যে, তার অন্তরে (সন্দেহের) যা ছিল তার কিছুই আর অবশিষ্ট নেই। এরপর উমর (রা.) তার সাথে উঠাবসার অনুমতি দিলেন। পরবর্তীতে যখন খারিজিদের উদ্ভব হলো, তখন তার কাছে এসে বলা হলো, এটাই আপনার উপযুক্ত সময়। সে বলল, না, সেই নেক বান্দার (উমর) উপদেশ আমার উপকারে এসেছে।
(খণ্ড: ১)
যাম্মুত তাবীল
(পৃষ্ঠা: ১৩)
11 - وَلما سُئِلَ مَالك بن أنس رضي الله عنه فَقيل لَهُ يَا أَبَا عبد الله {الرَّحْمَن على الْعَرْش اسْتَوَى} [طه 5] كَيفَ اسْتَوَى فَأَطْرَقَ مَالك وعلاه الرحضاء يَعْنِي الْعرق وانتظر الْقَوْم مَا يجِئ مِنْهُ فِيهِ فَرفع رَأسه إِلَيْهِ وَقَالَ الاسْتوَاء غير مَجْهُول والكيف غير مَعْقُول وَالْإِيمَان بِهِ وَاجِب وَالسُّؤَال عَنهُ بِدعَة وأحسبك رجل سوء وَأمر بِهِ فَأخْرج
12 - وَقد نقل عَن جمَاعَة مِنْهُم الْأَمر بالكف عَن الْكَلَام فِي هَذَا وإمرار أَخْبَار الصِّفَات كَمَا جَاءَت وَنقل جمَاعَة من الْأَئِمَّة أَن مَذْهَبهم مثل مَا حكينا عَنْهُم
13 - أخبرنَا الشَّيْخ أَبُو بكر عبد الله بن مُحَمَّد بن أَحْمد النقور أَنبأَنَا أَبُو بكر أَحْمد بن عَليّ بن الْحسن الطريثيثي إِذْنا قَالَ أخبرنَا أَبُو الْقَاسِم هبة الله بن الْحسن الطَّبَرِيّ قَالَ أَنبأَنَا أَحْمد بن مُحَمَّد بن حَفْص أَنبأَنَا أَحْمد بن مُحَمَّد بن الْمسلمَة حَدثنَا سهل بن عُثْمَان بن سهل قَالَ سَمِعت
১১ - যখন মালিক ইবনে আনাস (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) জিজ্ঞাসিত হলেন এবং তাঁকে বলা হলো: হে আবু আব্দুল্লাহ! {পরম করুণাময় আরশের উপর উঠেছেন} [ত্বহা ৫], তিনি কীভাবে উঠেছেন? তখন মালিক মাথা নিচু করলেন এবং তাঁর শরীর থেকে ঘাম ঝরতে লাগল। উপস্থিত লোকজন অপেক্ষা করতে লাগল যে তিনি এ বিষয়ে কী বলবেন। এরপর তিনি তাঁর মাথা তুললেন এবং বললেন: "উঠা" বিষয়টি অজ্ঞাত নয়, এর ধরন বা প্রক্রিয়া বুদ্ধিগ্রাহ্য নয়, এর ওপর ঈমান আনা ওয়াজিব এবং এ সম্পর্কে প্রশ্ন করা বিদআত। আমি মনে করি তুমি একজন মন্দ লোক। এরপর তিনি তাকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন।
১২ - তাঁদের একটি দলের পক্ষ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, এ বিষয়ে কথা বলা থেকে বিরত থাকতে হবে এবং গুণাবলি সংক্রান্ত বর্ণনাগুলোকে যেভাবে এসেছে সেভাবেই অতিবাহিত করতে হবে (অপরিবর্তিত রাখতে হবে)। একদল ইমাম বর্ণনা করেছেন যে, তাঁদের অনুসৃত পথ বা মাযহাব ঠিক তেমনই যা আমরা তাঁদের পক্ষ থেকে বর্ণনা করেছি।
১৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ আবু বকর আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-নাকুর, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমদ ইবনে আলী ইবনে আল-হাসান আত-তুরাইথীথী অনুমতিক্রমে, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম হিবাতুল্লাহ ইবনে আল-হাসান আত-তাবারী, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাফস, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-মাসলামা, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সহল ইবনে উসমান ইবনে সহল, তিনি বলেন আমি শুনেছি...
(খণ্ড: ১)
যাম্মুত তাবীল
(পৃষ্ঠা: ১৪)
إِبْرَاهِيم بن الْمُهْتَدي يَقُول سَمِعت دَاوُد بن طَلْحَة يَقُول سَمِعت عبد الله بن أبي حنيفَة الدوسي يَقُول سَمِعت مُحَمَّد بن الْحسن يَقُول اتّفق الْفُقَهَاء كلهم من الشرق إِلَى الغرب على الْإِيمَان بِالْقُرْآنِ وَالْأَحَادِيث الَّتِي جَاءَ بهَا الثِّقَات عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فِي صفة الرب عز وجل من غير تَفْسِير وَلَا وصف وَلَا تَشْبِيه فَمن فسر شَيْئا من ذَلِك فقد خرج مِمَّا كَانَ عَلَيْهِ النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَفَارق الْجَمَاعَة فَإِنَّهُم لم يصفوا وَلم يفسروا وَلَكِن آمنُوا بِمَا فِي الْكتاب وَالسّنة ثمَّ سكتوا فَمن قَالَ بقول جهم فقد فَارق الْجَمَاعَة لِأَنَّهُ وَصفه بِصفة لَا شَيْء
14 - وَقَالَ مُحَمَّد بن الْحسن فِي الْأَحَادِيث الَّتِي جَاءَت إِن الله يهْبط إِلَى السَّمَاء الدُّنْيَا وَنَحْو هَذَا من الْأَحَادِيث إِن هَذِه الْأَحَادِيث قد روتها الثِّقَات فَنحْن نرويها ونؤمن بهَا وَلَا نفسرها
ইব্রাহিম ইবনুল মুহতাদি বলেন, আমি দাউদ ইবনে তালহাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি আব্দুল্লাহ ইবনে আবি হানিফা আদ-দাওসিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি মুহাম্মদ ইবনুল হাসানকে বলতে শুনেছি: পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত সকল ফকিহগণ মহান রবের গুণাবলি সম্পর্কে কুরআন এবং নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের মাধ্যমে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত হাদিসসমূহের ওপর ঈমান আনার বিষয়ে একমত হয়েছেন; কোনো ব্যাখ্যা, ধরন বর্ণনা কিংবা সাদৃশ্য প্রদান ছাড়াই। সুতরাং যে ব্যক্তি এর কোনো কিছুর ব্যাখ্যা করবে, সে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে আদর্শের ওপর ছিলেন তা থেকে বিচ্যুত হলো এবং জামাআত থেকে বিচ্ছিন্ন হলো। কেননা তাঁরা কোনো গুণারোপ করেননি এবং কোনো ব্যাখ্যাও করেননি, বরং তাঁরা কিতাব ও সুন্নাহর বিষয়ের ওপর ঈমান এনেছেন এবং অতপর চুপ থেকেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি জাহমের মতানুসারে কথা বলবে, সে জামাআত থেকে বিচ্ছিন্ন হলো; কারণ সে তাঁকে এমনভাবে বিশেষিত করেছে যার কোনো অস্তিত্ব নেই।
১৪ - এবং মুহাম্মদ ইবনুল হাসান সেই সকল হাদিস সম্পর্কে বলেন, যাতে বর্ণিত হয়েছে যে আল্লাহ দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন এবং এই জাতীয় অন্যান্য হাদিসসমূহ সম্পর্কে তিনি বলেন: নিশ্চয়ই এই হাদিসগুলো নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীগণ বর্ণনা করেছেন, তাই আমরা এগুলো বর্ণনা করি এবং এগুলোর ওপর ঈমান আনি এবং আমরা এর কোনো ব্যাখ্যা করি না।
(খণ্ড: ১)
যাম্মুত তাবীল
(পৃষ্ঠা: ১৫)
15 - أخبرنَا الْمُبَارك بن عَليّ الصَّيْرَفِي إِذْنا أَنبأَنَا أَبُو الْحسن مُحَمَّد بن مَرْزُوق ابْن عبد الرازق الزَّعْفَرَانِي أَنبأَنَا الْحَافِظ أَبُو بكر أَحْمد بن عَليّ بن ثَابت الطّيب قَالَ أما الْكَلَام فِي الصِّفَات فَإِن مَا رُوِيَ مِنْهَا فِي السّنَن الصِّحَاح مَذْهَب السّلف رضي الله عنهم إِثْبَاتهَا وإجراؤها على ظَاهرهَا وَنفي الْكَيْفِيَّة والتشبيه عَنْهَا وَالْأَصْل فِي هَذَا أَن الْكَلَام فِي الصِّفَات فرع على الْكَلَام فِي الذَّات ويحتذى فِي ذَلِك حذوه ومثاله فَإِذا كَانَ مَعْلُوما أَن إِثْبَات رب الْعَالمين عز وجل إِنَّمَا هُوَ إِثْبَات وجود لَا إِثْبَات تَحْدِيد وتكييف فَكَذَلِك إِثْبَات صِفَاته إِنَّمَا هُوَ إِثْبَات وجود لَا إِثْبَات تَحْدِيد وتكييف فَإِذا قُلْنَا لله تَعَالَى يَد وَسمع وبصر فَإِنَّمَا هُوَ إِثْبَات صِفَات أثبتها الله تَعَالَى لنَفسِهِ وَلَا نقُول إِن معنى الْيَد الْقُدْرَة وَلَا أَن معنى السّمع وَالْبَصَر الْعلم وَلَا نقُول إِنَّهَا الْجَوَارِح وَلَا نشبهها بِالْأَيْدِي والأسماع والأبصار الَّتِي هِيَ جوارح وأدوات الْفِعْل ونقول إِنَّمَا ورد إِثْبَاتهَا لِأَن التَّوْقِيف ورد بهَا وَوَجَب نفي التَّشْبِيه عَنْهَا لقَوْله تبارك وتعالى {لَيْسَ كمثله شَيْء وَهُوَ السَّمِيع الْبَصِير} [الشورى 11] وَقَوله عز وجل {وَلم يكن لَهُ كفوا أحد} [الْإِخْلَاص 4]
১৫ - আল-মুবারক বিন আলী আস-সাইরাফি আমাদের অনুমতিক্রমে সংবাদ দিয়েছেন যে, আবুল হাসান মুহাম্মদ বিন মারজুক ইবনে আব্দুর রাজ্জাক আজ-জাফরানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, হাফেজ আবু বকর আহমদ বিন আলী বিন সাবিত আল-খাতিব বলেছেন: গুণাবলি (সিফাত) সংক্রান্ত আলোচনার ক্ষেত্রে, বিশুদ্ধ সুন্নাহ বা হাদিসসমূহে যা বর্ণিত হয়েছে, সেগুলোর ব্যাপারে সালাফদের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হন) মাযহাব হলো সেগুলোকে সাব্যস্ত করা এবং সেগুলোকে তাদের বাহ্যিক অর্থের ওপর বহাল রাখা, আর সেগুলো থেকে ধরণ বা প্রকৃতি এবং সাদৃশ্য অস্বীকার করা। এই বিষয়ের মূলনীতি হলো, গুণাবলি (সিফাত) সংক্রান্ত আলোচনা হলো মহান আল্লাহর সত্তা (জাত) সংক্রান্ত আলোচনারই একটি শাখা এবং এক্ষেত্রে ঠিক সেই নীতি ও উদাহরণই অনুসরণ করা হয়। সুতরাং যখন এটি জানা কথা যে, বিশ্বজগতের প্রতিপালক মহান আল্লাহর অস্তিত্ব সাব্যস্ত করা কেবল তাঁর অস্তিত্বের স্বীকৃতি, তাঁর কোনো সীমানা নির্ধারণ বা ধরণ সাব্যস্ত করা নয়; তেমনিভাবে তাঁর গুণাবলিকে (সিফাত) সাব্যস্ত করাও কেবল সেগুলোর অস্তিত্বের স্বীকৃতি, সেগুলোর কোনো সীমানা বা ধরণ সাব্যস্ত করা নয়। অতএব যখন আমরা বলি যে, আল্লাহর হাত, শ্রবণ ও দৃষ্টি আছে, তখন এটি কেবল সেসব গুণাবলিকেই সাব্যস্ত করা যা আল্লাহ তাআলা নিজের জন্য সাব্যস্ত করেছেন। আর আমরা বলি না যে, হাতের অর্থ হলো ক্ষমতা, কিংবা শ্রবণ ও দৃষ্টির অর্থ হলো জ্ঞান। আর আমরা এ কথাও বলি না যে এগুলো শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, কিংবা সেগুলোকে আমরা মানুষের হাত, শ্রবণ ও দৃষ্টির সাথে সাদৃশ্য প্রদান করি না, যা মূলত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও কাজের মাধ্যম। বরং আমরা বলি যে, এগুলোর বর্ণনা যেহেতু এসেছে তাই এগুলোকে সাব্যস্ত করা হয়েছে, আর এগুলোর ক্ষেত্রে সাদৃশ্য অস্বীকার করা আবশ্যক; কারণ আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা বলেছেন: "কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়, আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা" [সুরা আশ-শুরা: ১১] এবং মহান আল্লাহর বাণী: "এবং তাঁর সমতুল্য কেউ নেই" [সুরা আল-ইখলাস: ৪]।
(খণ্ড: ১)
যাম্মুত তাবীল
(পৃষ্ঠা: ১৬)
16 - أخبرنَا مُحَمَّد بن حَمْزَة بن أبي الصَّقْر قَالَ أَنبأَنَا أَبُو الْحسن عَليّ بن أَحْمد ابْن مَنْصُور بن قبيس الغساني أَنبأَنَا أبي قَالَ قَالَ أَبُو عُثْمَان إِسْمَاعِيل بن عبد الرَّحْمَن الصَّابُونِي إِن أصخاب الحَدِيث المتمسكين بِالْكتاب وَالسّنة يعْرفُونَ رَبهم تبارك وتعالى بصفاته الَّتِي نطق بهَا كِتَابه وتنزيله وَشهد لَهُ بهَا رَسُوله على مَا وَردت بِهِ الْأَخْبَار الصِّحَاح وَنَقله الْعُدُول الثِّقَات وَلَا يَعْتَقِدُونَ تَشْبِيها لصفاته بِصِفَات خلقه وَلَا بكيفونها تكييف المشبهة وَلَا يحرفُونَ الْكَلم عَن موَاضعه تَحْرِيف الْمُعْتَزلَة والجهمية وَقد أعاذ الله أهل السّنة من التحريف والتكييف وَمن عَلَيْهِم بالتفهيم والتعريف حَتَّى سلكوا سَبِيل التَّوْحِيد والتنزيه وَتركُوا القَوْل بالتعطيل والتشبيه وَاتبعُوا قَوْله عز من قَائِل {لَيْسَ كمثله شَيْء وَهُوَ السَّمِيع الْبَصِير} [الشورى 11]
১৬ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন হামযাহ বিন আবিস সাকর, তিনি বলেন, আমাদের খবর দিয়েছেন আবুল হাসান আলী বিন আহমদ ইবনে মানসুর বিন কুবাইস আল-গাসসানি, আমাদের খবর দিয়েছেন আমার পিতা, তিনি বলেন, আবু উসমান ইসমাঈল বিন আব্দুর রহমান আস-সাবুনী বলেছেন: নিশ্চয়ই কিতাব ও সুন্নাহর ধারক আসহাবুল হাদিসগণ (হাদিস বিশারদগণ) তাঁদের বরকতময় ও সুমহান প্রতিপালককে তাঁর সেই সকল গুণাবলির মাধ্যমে চিনে থাকেন, যা তাঁর কিতাব ও অবতীর্ণ ওহীতে ব্যক্ত হয়েছে এবং যাঁর পক্ষে তাঁর রাসুল সাক্ষ্য দিয়েছেন; যা সহিহ বর্ণনাসমূহে বর্ণিত হয়েছে এবং ন্যায়পরায়ণ ও নির্ভরযোগ্য রাবিগণ বর্ণনা করেছেন। তাঁরা আল্লাহর গুণাবলিকে তাঁর সৃষ্টির গুণাবলির সাথে সদৃশ মনে করেন না এবং মুশাব্বিহদের (সাদৃশ্য প্রদানকারী) মতো সেগুলোর কোনো ধরণ বা প্রকৃতি (তাকিয়িফ) নির্ধারণ করেন না। তাঁরা মুতাজিলা ও জাহমিয়াদের মতো শব্দসমূহকে সেগুলোর মূল স্থান থেকে বিকৃত (তাহরিফ) করেন না। আল্লাহ তাআলা আহলে সুন্নাহকে তাহরিফ (বিকৃতি) ও তাকিয়িফ (ধরণ নির্ধারণ) থেকে রক্ষা করেছেন এবং সঠিক বুঝ ও পরিচিতি দানের মাধ্যমে তাঁদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন, যাতে তাঁরা তাওহিদ ও তানযিহ-এর (পবিত্রতা ঘোষণা) পথ অবলম্বন করেন এবং তাঁরা তা'তিল (গুণাবলি অস্বীকার) ও তাশবিহ (সাদৃশ্য প্রদান) বর্জন করেছেন। তাঁরা মহান আল্লাহর এই বাণীর অনুসরণ করেছেন: "কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয় এবং তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।" [আশ-শুরা: ১১]
(খণ্ড: ১)
যাম্মুত তাবীল
(পৃষ্ঠা: ১৭)
17 - وَذكر الصَّابُونِي الْفُقَهَاء السَّبْعَة وَمن بعدهمْ من الْأَئِمَّة وسمى خلقا كثيرا من الْأَئِمَّة وَقَالَ كلهم متفقون لم يُخَالف بَعضهم بَعْضًا وَلم يثبت عَن وَاحِد مِنْهُم وَاحِد مِنْهُم مَا يضاد مَا ذَكرْنَاهُ
18 - أخبرنَا الشريف أَبُو الْعَبَّاس مَسْعُود بن عبد الْوَاحِد بن مطر الْهَاشِمِي قَالَ أَنبأَنَا الْحَافِظ أَبُو الْعَلَاء صاعد بن سيار الْهَرَوِيّ أَنبأَنَا أَبُو الْحسن عَليّ ابْن مُحَمَّد الْجِرْجَانِيّ أَنبأَنَا أَبُو الْقَاسِم حَمْزَة بن يُوسُف السَّهْمِي أَنبأَنَا أَبُو بكر أَحْمد بن إِبْرَاهِيم الْإِسْمَاعِيلِيّ قَالَ اعْمَلُوا رحمنا الله وَإِيَّاكُم أَن مَذْهَب أهل الحَدِيث أهل السّنة وَالْجَمَاعَة الْإِقْرَار بِاللَّه وَمَلَائِكَته وَكتبه وَرُسُله وَقبُول مَا نطق بِهِ كتاب الله تَعَالَى وَصحت بِهِ الرِّوَايَة عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لَا معدل عَمَّا ورد بِهِ وَلَا سَبِيل إِلَى رده إِذْ كَانُوا مأمورين بِاتِّبَاع الْكتاب وَالسّنة مَضْمُونا لَهُم الْهدى فيهمَا مشهودا لَهُم بِأَن نَبِيّهم صلى الله عليه وسلم يهدي إِلَى صِرَاط مُسْتَقِيم محذرين فِي مُخَالفَته الْفِتْنَة وَالْعَذَاب الْأَلِيم ويعتقدون أَن الله تَعَالَى مدعُو بأسمائه الْحسنى وموصوف بصفاته الَّتِي سمى وَوصف بهَا نَفسه وَوَصفه بهَا نبيه صلى الله عليه وسلم خلق آدم بِنَفسِهِ و {يَدَاهُ مبسوطتان ينْفق كَيفَ يَشَاء} [الْمَائِدَة 64] بِلَا اعْتِقَاد كَيفَ وَأَنه عز وجل {اسْتَوَى على الْعَرْش} وَلم يذكر كَيفَ كَانَ استواؤه
১৭ - আস-সাবুনী সাতজন ফকীহ এবং তাঁদের পরবর্তী ইমামদের কথা উল্লেখ করেছেন এবং বহু সংখ্যক ইমামের নাম নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তাঁরা সকলেই ঐক্যমত পোষণ করেছেন, তাঁদের কেউ একে অপরের বিরোধিতা করেননি। আর আমরা যা উল্লেখ করেছি তার পরিপন্থী কোনো কিছু তাঁদের কারো পক্ষ থেকে প্রমাণিত হয়নি।
১৮ - আশ-শরীফ আবুল আব্বাস মাসউদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন মাতার আল-হাশিমী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: হাফেজ আবুল আলা সায়েদ বিন সাইয়ার আল-হারাউয়ী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবুল হাসান আলী ইবনে মুহাম্মদ আল-জুরজানী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবুল কাসিম হামজাহ বিন ইউসুফ আস-সাহমী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর আহমদ বিন ইব্রাহিম আল-ইসমাঈলী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আপনারা জেনে রাখুন—আল্লাহ আমাদের ও আপনাদের প্রতি রহম করুন—আহলে হাদিস তথা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের মাযহাব হলো আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ এবং তাঁর রাসূলগণের প্রতি স্বীকৃতি প্রদান করা এবং আল্লাহর কিতাব যা বলেছে এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা বিশুদ্ধ বর্ণনায় এসেছে তা গ্রহণ করা। যা বর্ণিত হয়েছে তা থেকে বিচ্যুত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই এবং তা প্রত্যাখ্যান করার কোনো পথ নেই। কেননা তারা কিতাব ও সুন্নাহ অনুসরণ করার জন্য আদিষ্ট ছিলেন, যে দুটিতে তাঁদের জন্য হেদায়েতের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে এবং তাঁদের জন্য সাক্ষ্য দেওয়া হয়েছে যে, তাঁদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সরল পথের দিকে পরিচালিত করেন। আর তাঁর বিরোধিতার ক্ষেত্রে ফিতনা ও যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে। তাঁরা বিশ্বাস করেন যে, আল্লাহ তাআলাকে তাঁর সুন্দর নামসমূহের মাধ্যমে আহ্বান করা হবে এবং তিনি তাঁর সেই সকল গুণে গুণান্বিত যেগুলোর মাধ্যমে তিনি স্বয়ং নিজের গুণ বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর গুণ বর্ণনা করেছেন। তিনি আদমকে নিজে সৃষ্টি করেছেন এবং {আল্লাহর দুই হাত প্রসারিত, তিনি যেভাবে ইচ্ছা দান করেন} [আল-মায়িদাহ: ৬৪], কোনো ধরণ নির্ধারণ ছাড়াই। আর তিনি মহাপরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত, {আরশের উপর উঠেছেন} এবং তাঁর এই উঠার ধরণ কেমন ছিল তা উল্লেখ করা হয়নি।
(খণ্ড: ১)
যাম্মুত তাবীল
(পৃষ্ঠা: ১৮)
19 - وَقَالَ يحيى بن عمار فِي رسَالَته نَحن وأئمتنا من أَصْحَاب الحَدِيث وَذكر الْأَئِمَّة وعد مِنْهُم وَمن قبلهم من الصَّحَابَة وَمن بعدهمْ لَا يسْتَحل أحد منا مِمَّن تقدم أَو تَأَخّر أَن يتَكَلَّف أَو يقْصد إِلَى قَول من عِنْده فِي الصِّفَات أَو فِي تَفْسِير كتاب الله عز وجل أَو مَعَاني حَدِيث رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَو زِيَادَة على مَا فِي النَّص أَو نُقْصَان مِنْهُ وَلَا نغلو وَلَا نشبه وَلَا نزيد على مَا فِي الْكتاب وَالسّنة
20 - وَقَالَ الإِمَام مُحَمَّد بن إِسْحَاق بن خُزَيْمَة إِن الْأَخْبَار فِي صِفَات الله مُوَافقَة لكتاب الله تَعَالَى نقلهَا الْخلف عَن السّلف قرنا بعد قرن من لدن الصَّحَابَة وَالتَّابِعِينَ إِلَى عصرنا هَذَا على سَبِيل الصِّفَات لله تَعَالَى والمعرفة وَالْإِيمَان بِهِ وَالتَّسْلِيم لما أخبر الله تَعَالَى فِي تَنْزِيله وَنبيه الرَّسُول صلى الله عليه وسلم عَن كِتَابه مَعَ اجْتِنَاب التَّأْوِيل والجحود وَترك التَّمْثِيل والتكييف
21 - أخبرنَا أَبُو بكر عبد الله بن مُحَمَّد بن أَحْمد قَالَ أَنبأَنَا أَبُو بكر الطريثيثي إجَازَة أَنبأَنَا أَبُو الْقَاسِم هبة الله أَنبأَنَا مُحَمَّد بن أَحْمد بن عبيد أَنبأَنَا مُحَمَّد بن الْحسن أَنبأَنَا أَحْمد بن زُهَيْر حَدثنَا عبد الْوَهَّاب بن نجدة الحوطي حَدثنَا بَقِيَّة حَدثنَا الْأَوْزَاعِيّ قَالَ كَانَ الزُّهْرِيّ وَمَكْحُول يَقُولَانِ أمروا هَذِه الْأَحَادِيث كَمَا جَاءَت
১৯ - ইয়াহইয়া বিন আম্মার তাঁর রিসালায় বলেছেন: আমরা এবং আসহাবুল হাদীসের অন্তর্ভুক্ত আমাদের ইমামগণ—তিনি ইমামদের কথা উল্লেখ করেছেন এবং তাঁদের মধ্য থেকে সাহাবীগণ, তাঁদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তীগণের নাম গণনা করেছেন—আমাদের পূর্ববর্তী বা পরবর্তী কেউ আল্লাহর সিফাত (গুণাবলি) সম্পর্কে, অথবা মহান আল্লাহর কিতাবের তাফসীরের ক্ষেত্রে, কিংবা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসের অর্থের বর্ণনায় নিজের পক্ষ থেকে কোনো কথা বলার চেষ্টা বা সংকল্প করাকে বৈধ মনে করেন না। এছাড়া দলিলে (নস) যা আছে তার ওপর কোনো কিছু বৃদ্ধি করা বা তা থেকে কোনো কিছু হ্রাস করাকেও তাঁরা বৈধ গণ্য করেন না। আমরা কোনো বাড়াবাড়ি করি না, কোনো সাদৃশ্য প্রদান করি না এবং কুরআন ও সুন্নাহতে যা আছে তার অতিরিক্ত কোনো কিছু বৃদ্ধি করি না।
২০ - ইমাম মুহাম্মদ বিন ইসহাক বিন খুযাইমাহ বলেছেন: আল্লাহর সিফাত সংক্রান্ত হাদীসসমূহ মহান আল্লাহর কিতাবের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সাহাবী ও তাবেঈদের সময় থেকে আমাদের এই যুগ পর্যন্ত যুগ পরম্পরায় উত্তরসূরীরা পূর্বসূরীদের থেকে এগুলো বর্ণনা করে আসছেন। এগুলো আল্লাহর সিফাত হিসেবে গ্রহণ করা, তা জানা, তাতে ঈমান আনা এবং মহান আল্লাহ তাঁর অবতীর্ণ কিতাবে যা খবর দিয়েছেন ও তাঁর নবী রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কিতাব থেকে যা বর্ণনা করেছেন তার প্রতি আত্মসমর্পণের ভিত্তিতে বর্ণিত হয়েছে; সাথে সাথে অপব্যাখ্যা, অস্বীকার এবং সদৃশকরণ ও ধরণ নির্ধারণ বর্জন করা হয়েছে।
২১ - আবু বকর আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আবু বকর আত-তরাইছীছি আমাদের ইজাযতক্রমে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আবুল কাসিম হিবাতুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন উবাইদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, মুহাম্মদ বিন হাসান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আহমদ বিন যুহায়ের আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আব্দুল ওয়াহহাব বিন নাজদাহ আল-হাওতী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, বাকিয়্যাহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, আল-আওযাঈ বলেছেন: যুহরী এবং মাকহুল বলতেন, "এই হাদীসগুলো যেভাবে এসেছে সেভাবেই এগুলোকে অতিবাহিত হতে দাও।"
(খণ্ড: ১)
যাম্মুত তাবীল
(পৃষ্ঠা: ১৯)
22 - قَالَ أَبُو الْقَاسِم حَدثنَا مُحَمَّد بن رزق الله حَدثنَا عُثْمَان بن أَحْمد حَدثنَا عِيسَى بن مُوسَى قَالَ سَمِعت أبي يَقُول سَمِعت سُفْيَان بن عُيَيْنَة يَقُول كل مَا وصف الله تَعَالَى بِهِ نَفسه فِي الْقُرْآن فقراءته تَفْسِيره وَلَا كَيفَ وَلَا مثل
23 - وَعَن أَحْمد بن نصر أَنه سَأَلَ سُفْيَان بن عُيَيْنَة فَقَالَ حَدِيث عبد الله أَن الله يَجْعَل السَّمَاء على اصبع وَحَدِيث إِن قُلُوب الْعباد بَين اصبعين من أَصَابِع الرَّحْمَن وَإِن الله يعجب أَو يضْحك مِمَّن يذكرهُ فِي
২২ - আবু আল-কাসিম বলেন, মুহাম্মদ বিন রিজকুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উসমান বিন আহমদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ঈসা বিন মুসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি সুফিয়ান বিন উয়াইনাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলতেন: আল্লাহ তাআলা কুরআনে নিজের যে গুণাবলি বর্ণনা করেছেন, তা পাঠ করাই তার ব্যাখ্যা; এর কোনো ধরণ নেই এবং কোনো সদৃশ নেই।
২৩ - আহমদ বিন নাসর থেকে বর্ণিত যে, তিনি সুফিয়ান বিন উয়াইনাহকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, অতঃপর তিনি বলেন: আবদুল্লাহর বর্ণিত হাদীস যে, আল্লাহ আসমানকে একটি আঙুলের ওপর রাখবেন, এবং হাদীস যে, নিশ্চয়ই বান্দাদের অন্তরসমূহ রহমানের আঙুলসমূহের মধ্য হতে দুটি আঙুলের মাঝে রয়েছে, এবং নিশ্চয়ই আল্লাহ বিস্ময় প্রকাশ করেন অথবা হাসেন সেই ব্যক্তির প্রতি যে তাঁকে স্মরণ করে...
(খণ্ড: ১)
যাম্মুত তাবীল
(পৃষ্ঠা: ২০)
الْأَسْوَاق وَأَنه عز وجل ينزل إِلَى السَّمَاء الدُّنْيَا كل لَيْلَة وَنَحْو هَذِه الْأَحَادِيث فَقَالَ هَذِه الْأَحَادِيث نرويها ونقربها كَمَا جَاءَت بِلَا كَيفَ
24 - وَقَالَ أَبُو بكر الْخلال أَخْبرنِي أَحْمد بن مُحَمَّد بن وَاصل الْمُقْرِئ حَدثنَا الْهَيْثَم بن خَارِجَة حَدثنَا الْوَلِيد بن مُسلم قَالَ سَأَلت مَالك بن أنس وسُفْيَان الثَّوْريّ وَاللَّيْث بن سعد وَالْأَوْزَاعِيّ عَن الْأَخْبَار الَّتِي فِي الصِّفَات فَقَالُوا أمروها كَمَا جَاءَت
25 - قَالَ يحيى بن عمار وَهَؤُلَاء أَئِمَّة الْأَمْصَار فمالك إِمَام أهل الْحجاز وَالثَّوْري إِمَام أهل الْعرَاق وَالْأَوْزَاعِيّ إِمَام أهل الشَّام وَاللَّيْث إِمَام أهل مصر وَالْمغْرب
26 - وَقَالَ أَبُو عبيد مَا أدركنا أحدا يُفَسر هَذِه الْأَحَادِيث وَنحن لَا نفسرها
27 - وَذكر عَبَّاس الدوري قَالَ سَمِعت يحيى بن معِين يَقُول شهِدت زَكَرِيَّا ابْن عدي سَأَلَ وَكِيع بن الْجراح فَقَالَ يَا أَبَا سُفْيَان هَذِه الْأَحَادِيث
বাজারসমূহ এবং (এই যে) তিনি পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত, প্রতি রাতে দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করেন এবং এ জাতীয় হাদীসসমূহ। অতঃপর তিনি বললেন: আমরা এই হাদীসগুলো বর্ণনা করি এবং যেভাবে এসেছে সেভাবেই সেগুলোকে গ্রহণ করি, কোনো ধরন (কাইফ) নির্ধারণ ছাড়াই।
২৪ - আবু বকর আল-খাল্লাল বলেন, আমাকে আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ওয়াসিল আল-মুকরি সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাইসাম ইবনে খারিজাহ হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মালিক ইবনে আনাস, সুফিয়ান আস-সাওরী, লাইস ইবনে সাদ এবং আল-আওযায়ীকে আল্লাহর গুণাবলী (সিফাত) সংক্রান্ত বর্ণনাগুলো সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি। তখন তাঁরা বললেন: এগুলো যেভাবে এসেছে সেভাবেই তা অতিক্রম হতে দাও (অপরিবর্তিত অবস্থায় বহাল রাখো)।
২৫ - ইয়াহইয়া ইবনে আম্মার বলেন, এঁরা হলেন বিভিন্ন জনপদের ইমাম। মালিক হলেন হিজাজবাসীর ইমাম, সাওরী হলেন ইরাকবাসীর ইমাম, আওযায়ী হলেন সিরিয়াবাসীর ইমাম এবং লাইস হলেন মিশর ও মাগরিবের ইমাম।
২৬ - আবু উবায়দ বলেন, আমরা এমন কাউকে পাইনি যিনি এই হাদীসগুলোর ব্যাখ্যা প্রদান করেন, আর আমরাও এগুলোর ব্যাখ্যা করি না।
২৭ - আব্বাস আদ-দুরী উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন, আমি ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি উপস্থিত ছিলাম যখন যাকারিয়া ইবনে আদী ওয়াকী ইবনুল জাররাহকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তিনি বলেছিলেন: হে আবু সুফিয়ান, এই হাদীসগুলো...
(খণ্ড: ১)
যাম্মুত তাবীল
(পৃষ্ঠা: ২১)
يَعْنِي مثل الْكُرْسِيّ مَوضِع الْقَدَمَيْنِ فَقَالَ أدركنا إِسْمَاعِيل بن أبي خَالِد وسُفْيَان ومسعرا يحدثُونَ بِهَذِهِ الْأَحَادِيث وَلَا يفسرون شَيْئا
28 - قَالَ أَبُو عمر بن عبد الْبر روينَا عَن مَالك بن أنس وسُفْيَان الثَّوْريّ وسُفْيَان ابْن عُيَيْنَة وَالْأَوْزَاعِيّ وَمعمر بن رَاشد فِي حَدِيث الصِّفَات أَنهم كلهم قَالُوا أمروها كَمَا جَاءَت
29 - قَالَ رجل من فُقَهَاء الْمَدِينَة إِن الله تبارك وتعالى علم علما علمه الْعباد وَعلم علما لم يُعلمهُ الْعباد فَمن يطْلب الْعلم الَّذِي لم يُعلمهُ الْعباد لم يَزْدَدْ مِنْهُ إِلَّا بعدا وَالْقدر مِنْهُ
30 - وَقَالَ سعيد بن جُبَير مَا لم يعرفهُ البدريون فَلَيْسَ من الدّين
31 - قَالَ أَبُو عمر مَا جَاءَ عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم من نقل الثِّقَات أَو جَاءَ عَن الصَّحَابَة رضي الله عنهم فَهُوَ علم يدان بِهِ وَمَا أحدث بعدهمْ وَلم يكن لَهُ أصل فِيمَا جَاءَ عَنْهُم فبدعة وضلالة وَمَا جَاءَ فِي أَسمَاء الله وَصِفَاته عَنْهُم سلم لَهُ وَلم يناظر فِيهِ كَمَا لم يناظروا فِيهِ
32 - وَقَالَ أَبُو بكر الْخلال أخبرنَا الْمَرْوذِيّ قَالَ سَأَلت أَبَا عبد الله عَن
অর্থাৎ যেমন কুরসি হলো আল্লাহর দুই পায়ের রাখার স্থান। তিনি বললেন, আমরা ইসমাইল বিন আবি খালিদ, সুফিয়ান এবং মিসআরকে পেয়েছি, তারা এই হাদিসগুলো বর্ণনা করতেন এবং কোনো ব্যাখ্যা করতেন না।
২৮ - আবু ওমর বিন আব্দুল বার বলেন, আমরা মালিক বিন আনাস, সুফিয়ান সাওরি, সুফিয়ান ইবনে উইয়ায়না, আওযায়ী এবং মা'মার বিন রাশিদ থেকে গুণাবলী সংক্রান্ত হাদিস সম্পর্কে বর্ণনা পেয়েছি যে, তারা সকলেই বলেছেন: "এগুলোকে যেভাবে এসেছে সেভাবেই যেতে দাও (অর্থাৎ কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই মেনে নাও)।"
২৯ - মদিনার ফকিহদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি বলেছেন, আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা এমন কিছু জ্ঞান জানেন যা তিনি বান্দাদের শিখিয়েছেন এবং এমন কিছু জ্ঞান জানেন যা তিনি বান্দাদের শেখাননি। সুতরাং যে ব্যক্তি এমন জ্ঞান সন্ধান করে যা তিনি বান্দাদের শেখাননি, সে তা থেকে কেবল দূরত্বই বৃদ্ধি করে, আর তাকদিরও তারই অন্তর্ভুক্ত।
৩০ - সাঈদ বিন জুবাইর বলেন, যা বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সাহাবায়ে কেরাম জানতেন না, তা দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত নয়।
৩১ - আবু ওমর বলেন, নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা এসেছে অথবা সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকে যা এসেছে, তা-ই হলো এমন জ্ঞান যা দ্বারা দ্বীন পালন করা হয়। আর তাদের পরে যা নতুন উদ্ভাবিত হয়েছে এবং তাদের থেকে বর্ণিত বিষয়ের মধ্যে যার কোনো ভিত্তি নেই, তা বিদআত ও ভ্রষ্টতা। আর আল্লাহর নাম ও গুণাবলী সম্পর্কে তাদের থেকে যা এসেছে তা মেনে নিতে হবে এবং সে বিষয়ে বিতর্ক করা যাবে না, যেমন তারাও সে বিষয়ে বিতর্ক করেননি।
৩২ - আবু বকর আল-খাল্লাল বলেন, আল-মারওয়াযি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আমি আবু আব্দুল্লাহকে জিজ্ঞাসা করলাম...
(খণ্ড: ১)
যাম্মুত তাবীল
(পৃষ্ঠা: ২২)
أَخْبَار الصِّفَات فَقَالَ نمرها كَمَا جَاءَت
33 - قَالَ وَأَخْبرنِي عَليّ بن عِيسَى أَن حنبلا حَدثهمْ قَالَ سَأَلت أَبَا عبد الله عَن الْأَحَادِيث الَّتِي تروى إِن الله تبارك وتعالى ينزل كل لَيْلَة إِلَى السمآء الدُّنْيَا وَأَن الله يرى وَإِن الله يضع قدمه وَمَا أشبهه فَقَالَ أَبُو عبد الله نؤمن بهَا ونصدق بهَا وَلَا كَيفَ وَلَا معنى وَلَا نرد مِنْهَا شَيْئا ونعلم أَن مَا جَاءَ بِهِ الرَّسُول حق إِذا كَانَت بأسانيد صِحَاح وَلَا نرد على رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَوْله وَلَا يُوصف الله تَعَالَى بِأَكْثَرَ مِمَّا وصف بِهِ نَفسه أَو وَصفه بِهِ رَسُوله بِلَا حد وَلَا غَايَة {لَيْسَ كمثله شَيْء وَهُوَ السَّمِيع الْبَصِير} [الشورى 11] وَلَا يبلغ الواصفون صفته وَصِفَاته مِنْهُ وَلَا نتعدى الْقُرْآن والْحَدِيث فَنَقُول كَمَا قَالَ وَنصفه كَمَا وصف نَفسه وَلَا نتعدى ذَلِك نؤمن بِالْقُرْآنِ كُله محكمه ومتشابهه وَلَا نزيل عَنهُ صفة من صِفَاته لشناعة شنعث
34 - وَذكر شيخ الْإِسْلَام أَبُو الْحسن عَليّ بن أَحْمد بن يُوسُف الْقرشِي الهكاري قَالَ أَنبأَنَا أَبُو الْقَاسِم عبد الله بن الْحسن بن مُحَمَّد بن الْخلال
গুণাবলি সম্পর্কিত বর্ণনাগুলো সম্পর্কে তিনি বলেছেন: আমরা সেগুলো যেভাবে এসেছে সেভাবেই অতিক্রম করাব।
33 - তিনি বলেছেন, আলী ইবনে ঈসা আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, হাম্বল তাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু আব্দুল্লাহকে (ইমাম আহমাদ) সেই সব হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি যেগুলোতে বর্ণিত হয়েছে যে, আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা প্রতি রাতে দুনিয়ার আসমানে নেমে আসেন, এবং আল্লাহকে দেখা যাবে, এবং আল্লাহ তাঁর পা রাখবেন, এবং এই জাতীয় বিষয়াদি। তখন আবু আব্দুল্লাহ বললেন: আমরা এগুলোর প্রতি ঈমান রাখি এবং এগুলোকে সত্য বলে বিশ্বাস করি; এর কোনো ধরন বা অর্থ নির্ধারণ ছাড়াই। আমরা এর কোনো কিছুই প্রত্যাখ্যান করি না এবং আমরা জানি যে, রাসূল যা নিয়ে এসেছেন তা সত্য, যদি তার সনদগুলো সহিহ হয়। আর আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোনো কথা প্রত্যাখ্যান করি না। আল্লাহ তাআলা নিজেকে যেভাবে গুণান্বিত করেছেন বা তাঁর রাসূল তাঁকে যেভাবে গুণান্বিত করেছেন, তার চেয়ে বেশি কিছু দিয়ে তাঁকে গুণান্বিত করা যাবে না; কোনো সীমা বা ব্যাপ্তি নির্ধারণ ছাড়াই। "কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়, আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।" বর্ণনাকারীরা তাঁর গুণের প্রকৃত ব্যাখ্যায় পৌঁছাতে পারে না এবং তাঁর গুণাবলি তাঁর সত্তা থেকেই সাব্যস্ত। আমরা কুরআন ও হাদিসের সীমা অতিক্রম করি না; সুতরাং তিনি যা বলেছেন আমরা তা-ই বলি এবং তিনি নিজেকে যেভাবে গুণান্বিত করেছেন আমরা সেভাবেই তাঁর গুণ বর্ণনা করি এবং আমরা তা লঙ্ঘন করি না। আমরা পুরো কুরআনের প্রতি ঈমান রাখি—এর মুহকাম এবং মুতাশাবিহ উভয় অংশের প্রতি। আর কোনো নিন্দুকের নিন্দার কারণে আমরা তাঁর গুণাবলি থেকে কোনো গুণকে বাতিল করি না।
34 - এবং শাইখুল ইসলাম আবুল হাসান আলী বিন আহমাদ বিন ইউসুফ আল-কুরাশি আল-হাক্কারি উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেছেন: আবুল কাসেম আব্দুল্লাহ বিন আল-হাসান বিন মুহাম্মাদ বিন আল-খাল্লাল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
যাম্মুত তাবীল
(পৃষ্ঠা: ২৩)
حَدثنَا مُحَمَّد بن الْعَبَّاس المخلص أَنبأَنَا أَبُو بكر بن أبي دَاوُد حَدثنَا الرّبيع بن سُلَيْمَان قَالَ سَأَلت الشَّافِعِي رضي الله عنه عَن صِفَات من صِفَات الله تَعَالَى فَقَالَ حرَام على الْعُقُول أَن تمثل الله تَعَالَى وعَلى الأوهام أَن تحده وعَلى الظنون أَن تقطع وعَلى النُّفُوس أَن تفكر وعَلى الضمائر أَن تعمق وعَلى الخواطر أَن تحيط وعَلى الْعُقُول أَن تعقل إِلَّا مَا وصف بِهِ نَفسه فِي كِتَابه أَو على لِسَان نبيه صلى الله عليه وسلم
35 - وَقَالَ يُونُس بن عبد الْأَعْلَى سَمِعت أَبَا عبد الله مُحَمَّد بن إِدْرِيس الشَّافِعِي يَقُول وَقد سُئِلَ عَن صِفَات الله تَعَالَى وَمَا يُؤمن بِهِ فَقَالَ لله تَعَالَى أَسمَاء وصفات جَاءَ بهَا كِتَابه وَأخْبر بهَا نبيه صلى الله عليه وسلم لَا يسع أحدا من خلق الله تَعَالَى قَامَت عَلَيْهِ الْحجَّة ردهَا لِأَن الْقُرْآن نزل بهَا وَصَحَّ عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم القَوْل بهَا فَإِن خَالف ذَلِك بعد ثُبُوت الْحجَّة عَلَيْهِ فَهُوَ كَافِر بِاللَّه تَعَالَى فَأَما قبل ثُبُوت الْحجَّة عَلَيْهِ من جِهَة الْخَبَر فمعذور بِالْجَهْلِ لِأَن علم ذَلِك لَا يدْرك بِالْعقلِ وَلَا بِالرُّؤْيَةِ وَلَا بالفكر
36 - وَقَالَ ابْن وضاح كل من لقِيت من أهل السّنة يصدق بهَا لحَدِيث التنزل وَقَالَ ابْن معِين صدق بِهِ وَلَا تصفه وَقَالَ أَقروهُ وَلَا تحدوه
মুহাম্মদ ইবনুল আব্বাস আল-মুখলিস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, আবু বকর ইবনে আবি দাউদ আমাদের জানিয়েছেন, রাবী ইবনে সুলাইমান বলেছেন, আমি শাফিঈ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে মহান আল্লাহর গুণাবলি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বললেন: মহান আল্লাহর সদৃশ নির্ধারণ করা বিবেকের জন্য হারাম, তাঁকে সীমাবদ্ধ করা ধারণার জন্য হারাম, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া অনুমানের জন্য হারাম, চিন্তা করা নফসের জন্য হারাম, গভীরে প্রবেশ করা অন্তঃকরণের জন্য হারাম, তাঁকে পরিবেষ্টন করা কল্পনার জন্য হারাম এবং কোনো কিছু অনুধাবন করা বিবেকের জন্য হারাম; তবে মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবে নিজের যে বর্ণনা দিয়েছেন অথবা তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জবানিতে যা বর্ণিত হয়েছে তা ব্যতীত।
৩৫ - ইউনুস ইবনে আবদিল আ'লা বলেন, আমি আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইদরিস আশ-শাফিঈকে বলতে শুনেছি—যখন তাঁকে আল্লাহর গুণাবলি এবং কিসের ওপর ঈমান আনতে হবে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল—তিনি বললেন: মহান আল্লাহর এমন কিছু নাম ও গুণাবলি রয়েছে যা তাঁর কিতাবে এসেছে এবং তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সে সম্পর্কে জানিয়েছেন। আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে যার নিকট দলিল (হুজ্জাত) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তার পক্ষে তা প্রত্যাখ্যান করার কোনো অবকাশ নেই; কারণ কুরআন তা নিয়ে অবতীর্ণ হয়েছে এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে এ সম্পর্কিত বক্তব্য সহীহভাবে প্রমাণিত হয়েছে। সুতরাং দলিল প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর যদি কেউ এর বিরোধিতা করে, তবে সে মহান আল্লাহর সাথে কুফরি করল। আর সংবাদের মাধ্যমে দলিল পৌঁছানোর পূর্বে কেউ যদি না জানার কারণে বিরোধিতা করে, তবে সে অজ্ঞতার কারণে ওজরপ্রাপ্ত। কারণ এই জ্ঞান বিবেক, চাক্ষুষ দর্শন কিংবা চিন্তার মাধ্যমে লাভ করা সম্ভব নয়।
৩৬ - ইবনে ওয়াজ্জাহ বলেন, আহলে সুন্নতের মধ্য থেকে আমি যাদের সাথেই সাক্ষাৎ করেছি, তারা (আল্লাহর) নিচে নামা সংক্রান্ত হাদিসের কারণে এগুলোকে সত্য বলে বিশ্বাস করেন। ইবনে মাঈন বলেছেন, একে সত্য বলে বিশ্বাস করো এবং এর ধরণ বর্ণনা করো না। তিনি আরও বলেছেন, একে স্বীকার করে নাও এবং এর কোনো সীমা নির্ধারণ করো না।
(খণ্ড: ১)
যাম্মুত তাবীল
(পৃষ্ঠা: ২৪)
37 - وَرُوِيَ عَن الْحسن الْبَصْرِيّ أَنه قَالَ لقد تكلم مطرف على هَذِه الأعواد بِكَلَام مَا قيل قبله وَلَا يُقَال بعده قَالُوا وَمَا هُوَ يَا أَبَا سعيد قَالَ قَالَ الْحَمد لله الَّذِي من الْإِيمَان بِهِ الْجَهْل بِغَيْر مَا وصف بِهِ نَفسه
38 - وَقَالَ سَحْنُون من الْعلم بِاللَّه السُّكُوت عَن غير مَا وصف بِهِ نَفسه
39 - أخبرنَا أَبُو الْحسن سعد الله بن نصر بن الدجاجي الْفَقِيه قَالَ أَنبأَنَا الإِمَام الزَّاهِد أَبُو مَنْصُور مُحَمَّد بن أَحْمد الْخياط أَنبأَنَا أَبُو طَاهِر عبد الْغفار بن مُحَمَّد بن جَعْفَر أَنبأَنَا أَبُو عَليّ بن الصَّواف أَنبأَنَا بشر بن مُوسَى أَنبأَنَا أَبُو بكر عبد الله بن الزبير الْحميدِي قَالَ أصُول السّنة فَذكر أَشْيَاء ثمَّ قَالَ وَمَا نطق بِهِ الْقُرْآن والْحَدِيث مثل {وَقَالَت الْيَهُود يَد الله مغلولة غلت أَيْديهم} [الْمَائِدَة 64] وَمثل {وَالسَّمَاوَات مَطْوِيَّات بِيَمِينِهِ} [الزمر 67] وَمَا أشبه هَذَا من الْقُرْآن والْحَدِيث لَا نزيد فِيهِ وَلَا نفسره ونقف على مَا وقف عَلَيْهِ الْقُرْآن وَالسّنة ونقول {الرَّحْمَن على الْعَرْش اسْتَوَى} وَمن زعم غير هَذَا فَهُوَ معطل جهمي
৩৭ - হাসান বসরী (রহ.) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন, মুতাররিফ এই মিম্বরের ওপর দাঁড়িয়ে এমন কথা বলেছেন যা তার আগে বলা হয়নি এবং তার পরেও বলা হবে না। তারা জিজ্ঞেস করল, হে আবু সাঈদ! সেই কথাটি কী? তিনি বললেন, তিনি বলেছেন: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যাঁর প্রতি ঈমানের অন্তর্ভুক্ত হলো তিনি নিজেকে যা দিয়ে গুণান্বিত করেছেন তার বাইরে অন্য কিছু সম্পর্কে অজ্ঞ থাকা।
৩৮ - সাহনুন (রহ.) বলেছেন, আল্লাহ সম্পর্কে ইলম বা জ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত হলো তিনি নিজেকে যা দিয়ে গুণান্বিত করেছেন তার বাইরে অন্য বিষয়ে নীরব থাকা।
৩৯ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ফকিহ আবুল হাসান সা’দুল্লাহ বিন নাসর বিন আদ-দাজাজি, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইমাম যাহিদ আবু মানসুর মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-খাইয়্যাত, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তাহের আব্দুল গাফফার বিন মুহাম্মদ বিন জাফর, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী বিন আস-সাওয়াফ, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন বিশর বিন মুসা, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আব্দুল্লাহ বিন আল-জুবায়ের আল-হুমায়দী। তিনি সুন্নাহর মূলনীতিসমূহ বর্ণনা করতে গিয়ে বেশ কিছু বিষয় উল্লেখ করেন, অতঃপর বলেন: কুরআন ও হাদিসে যা বর্ণিত হয়েছে, যেমন— "ইয়াহূদীরা বলে: আল্লাহর হাত আবদ্ধ, তাদের হাতই আবদ্ধ হোক" [আল-মায়িদাহ: ৬৪], এবং যেমন— "আর আকাশমণ্ডলী তাঁর ডান হাতে ভাঁজ করা থাকবে" [আয-যুমার: ৬৭], এবং কুরআন ও হাদিসের এ জাতীয় বিষয়সমূহ; আমরা এতে কোনো কিছু বৃদ্ধি করি না এবং এর ব্যাখ্যা করি না। বরং কুরআন ও সুন্নাহ যেখানে থেমেছে আমরা সেখানেই থেমে যাই এবং আমরা বলি— "পরম করুণাময় আরশের উপর উঠেছেন"। যে ব্যক্তি এর বিপরীতে কিছু দাবি করবে, সে একজন মুআত্তিল জাহমি।
(খণ্ড: ১)
যাম্মুত তাবীল
(পৃষ্ঠা: ২৫)
40 - أخبرنَا يحيى بن مَحْمُود إجَازَة قَالَ أَنبأَنَا جدي الْحَافِظ أَبُو الْقَاسِم قَالَ مَا جَاءَ فِي الصِّفَات فِي كتاب الله تَعَالَى أَو رُوِيَ بالأسانبد الصَّحِيحَة فمذهب السّلف رَحْمَة الله عَلَيْهِم إِثْبَاتهَا وإجراؤها على ظَاهرهَا وَنفي الْكَيْفِيَّة عَنْهَا لِأَن الْكَلَام فِي الصِّفَات فرع على الْكَلَام فِي الذَّات وَإِثْبَات الذَّات إِثْبَات وجود لَا إِثْبَات كَيْفيَّة فَكَذَلِك إِثْبَات الصِّفَات وعَلى هَذَا مضى السّلف كلهم وَقد سبق ذكرنَا لقَوْل مَالك حِين سُئِلَ عَن كَيْفيَّة الاسْتوَاء
41 - وروى قُرَّة بن خَالِد عَن الْحسن عَن أمه عَن أم سَلمَة أَنَّهَا قَالَت فِي قَول الله تَعَالَى {الرَّحْمَن على الْعَرْش اسْتَوَى} الاسْتوَاء غير مَجْهُول والكيف غير مَعْقُول وَالْإِقْرَار بِهِ إِيمَان والجحود لَهُ كفر
42 - وَقَالَ ربيعَة بن أبي عبد الرَّحْمَن الاسْتوَاء غير مَجْهُول والكيف غير مَعْقُول وَمن الله الرسَالَة وَمن الرَّسُول الْبَلَاغ وعلينا التَّصْدِيق
40 - ইয়াহইয়া বিন মাহমুদ আমাদের এজাজত সূত্রে খবর দিয়েছেন, তিনি বলেন, আমার দাদা হাফিজ আবুল কাসিম আমাদের অবহিত করেছেন, তিনি বলেন: মহান আল্লাহর কিতাবে গুণাবলী সম্পর্কে যা কিছু এসেছে অথবা সহীহ সনদে যা বর্ণিত হয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে সালাফদের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন) মাযহাব হলো সেগুলো সাব্যস্ত করা, সেগুলোকে তাদের প্রকাশ্য অর্থের ওপর বহাল রাখা এবং সেগুলোর ধরন বা কাইফিয়াত অস্বীকার করা। কেননা গুণাবলী বিষয়ক আলোচনা হলো সত্তা বিষয়ক আলোচনার একটি শাখা। আর আল্লাহর সত্তাকে সাব্যস্ত করা হলো তাঁর অস্তিত্বকে সাব্যস্ত করা, তাঁর ধরন সাব্যস্ত করা নয়; গুণাবলী সাব্যস্ত করার বিষয়টিও ঠিক তেমনি। সমস্ত সালাফ এই নীতির ওপরই অতিবাহিত হয়েছেন। আর ইমাম মালিককে যখন উপরে ওঠার ধরন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন তাঁর বক্তব্য আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি।
41 - আর কুররাহ বিন খালিদ হাসান থেকে, তিনি তাঁর মা থেকে এবং তিনি উম্মে সালামাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, মহান আল্লাহর বাণী {দয়াময় রহমান আরশের উপর উঠেছেন} সম্পর্কে তিনি বলেছেন: উপরে ওঠা (ইস্তিওয়া) অজানা নয় এবং এর ধরন বিবেকগ্রাহ্য নয়; এর প্রতি স্বীকৃতি দেওয়া ঈমান এবং একে অস্বীকার করা কুফর।
42 - রাবিয়া বিন আবি আবদুর রহমান বলেছেন: উপরে ওঠা (ইস্তিওয়া) অজানা নয় এবং এর ধরন বিবেকগ্রাহ্য নয়; আল্লাহর পক্ষ থেকে এসেছে বার্তা (রিসালাত), রাসুলের দায়িত্ব হলো তা পৌঁছে দেওয়া এবং আমাদের দায়িত্ব হলো তা সত্য বলে মেনে নেওয়া।
(খণ্ড: ১)
যাম্মুত তাবীল
(পৃষ্ঠা: ২৬)
43 - وَهَذِه الْأَقْوَال الثَّلَاثَة مُتَقَارِبَة الْمَعْنى وَاللَّفْظ فَمن الْمُحْتَمل أَن يكون ربيعَة وَمَالك بلغهما قَول أم سَلمَة فاقتديا بهَا وَقَالا مثل قَوْلهَا لصِحَّته وَحسنه وَكَونه قَول إِحْدَى أَزوَاج النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَمن الْمُحْتَمل أَن يكون الله تَعَالَى وفقهما للصَّوَاب وألهمهما من القَوْل السديد مثل مَا ألهمهما
44 - وَقَوْلهمْ الاسْتوَاء غير مَجْهُول أَي غير مَجْهُول الْوُجُود لِأَن الله تَعَالَى أخبر بِهِ وَخَبره صدق يَقِينا لَا يجوز الشَّك فِيهِ وَلَا الإرتياب فِيهِ فَكَانَ غير مَجْهُول لحُصُول الْعلم بِهِ وَقد رُوِيَ فِي بعض الْأَلْفَاظ الاسْتوَاء مَعْلُوم
45 - وَقَوْلهمْ الكيف غير مَعْقُول لِأَنَّهُ لم يرد بِهِ تَوْقِيف وَلَا سَبِيل إِلَى مَعْرفَته بِغَيْر تَوْقِيف
46 - والجحود بِهِ كفر لِأَنَّهُ رد لخَبر الله وَكفر بِكَلَام الله وَمن كفر بِحرف مُتَّفق عَلَيْهِ فَهُوَ كَافِر فَكيف بِمن كفر بِسبع آيَات ورد خبر الله تَعَالَى فِي سَبْعَة مَوَاضِع من كِتَابه وَالْإِيمَان بِهِ وَاجِب لذَلِك
47 - وَالسُّؤَال عَنهُ بِدعَة لِأَنَّهُ سُؤال عَمَّا لَا سَبِيل إِلَى علمه وَلَا يجوز الْكَلَام فِيهِ وَلم يسْبق فِي ذَلِك فِي زمن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَلَا من بعده من أَصْحَابه
48 - فقد ثَبت مَا ادعيناه من مَذْهَب السّلف رَحْمَة الله عَلَيْهِم بِمَا نَقَلْنَاهُ عَنْهُم جملَة وتفصيلا واعتراف الْعلمَاء من أهل النَّقْل كلهم بذلك وَلم أعلم عَن أحد مِنْهُم خلافًا فِي هَذِه الْمَسْأَلَة بل قد بَلغنِي عَمَّن يذهب إِلَى
43 - এই তিনটি বক্তব্য অর্থ এবং শব্দের দিক থেকে কাছাকাছি। সম্ভবত রাবীআহ এবং মালিকের নিকট উম্মে সালামার বক্তব্যটি পৌঁছেছিল, ফলে তাঁরা তাঁর অনুসরণ করেছিলেন এবং এর বিশুদ্ধতা ও সৌন্দর্যের কারণে এবং এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জনৈক স্ত্রীর বক্তব্য হওয়ার কারণে তাঁর অনুরূপ কথা বলেছিলেন। আবার এও সম্ভব যে, আল্লাহ তাআলা তাঁদের সঠিক পথের তাওফিক দান করেছিলেন এবং তাঁদের অন্তরে তেমন সঠিক কথা জাগ্রত করে দিয়েছিলেন যেমনটি তিনি তাকে (উম্মে সালামাকে) দান করেছিলেন।
44 - আর তাঁদের কথা 'উঠা অজ্ঞাত নয়' অর্থাৎ এর অস্তিত্ব অজ্ঞাত নয়, কারণ আল্লাহ তাআলা এ সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন এবং তাঁর সংবাদ নিশ্চিতভাবে সত্য, যাতে কোনো সন্দেহ বা সংশয় পোষণ করা জায়েজ নয়। সুতরাং এ বিষয়ে জ্ঞান অর্জিত হওয়ার কারণে তা অজ্ঞাত নয়। কোনো কোনো শব্দে 'উঠা জানা আছে' বলেও বর্ণিত হয়েছে।
45 - আর তাঁদের কথা 'ধরন অবোধগম্য', কারণ এ সম্পর্কে কোনো অহি বা বর্ণনা আসেনি এবং অহি বা বর্ণনা ছাড়া তা জানার কোনো পথ নেই।
46 - আর একে অস্বীকার করা কুফরি, কারণ এটি আল্লাহর সংবাদকে প্রত্যাখ্যান করা এবং আল্লাহর কালামকে অস্বীকার করার শামিল। আর যে ব্যক্তি কোনো সর্বসম্মত অক্ষরের ব্যাপারে কুফরি করে সে-ই যদি কাফির হয়, তবে যে ব্যক্তি সাতটি আয়াত অস্বীকার করে তার অবস্থা কেমন হবে? অথচ আল্লাহ তাআলার সংবাদ তাঁর কিতাবের সাতটি স্থানে বর্ণিত হয়েছে। এই কারণেই এর প্রতি ঈমান আনা ওয়াজিব।
47 - আর এ সম্পর্কে প্রশ্ন করা বিদআত, কারণ এটি এমন বিষয় সম্পর্কে প্রশ্ন করা যা জানার কোনো পথ নেই এবং এ বিষয়ে কথা বলা জায়েজ নয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে কিংবা তাঁর পরবর্তী সাহাবীদের যুগে এ বিষয়ে কোনো নজির ছিল না।
48 - সুতরাং সালাফদের (আল্লাহ তাঁদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন) মাযহাব সম্পর্কে আমরা যা দাবি করেছি, তা আমরা তাঁদের থেকে সমষ্টিগত ও বিস্তারিতভাবে যা বর্ণনা করেছি তার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে এবং হাদীস বিশারদ সকল আলেমই তা স্বীকার করেছেন। এই মাসআলায় আমি তাঁদের কারো পক্ষ থেকে কোনো ভিন্ন মত জানি না, বরং আমার কাছে এমন ব্যক্তিদের কথা পৌঁছেছে যারা এই মত পোষণ করেন যে...
(খণ্ড: ১)
যাম্মুত তাবীল
(পৃষ্ঠা: ২৭)
التَّأْوِيل لهَذِهِ الْأَخْبَار والآيات الِاعْتِرَاف بِأَن مَذْهَب السّلف فِيمَا قُلْنَاهُ وَرَأَيْت لبَعض شيوخهم فِي كِتَابه قَالَ اخْتلف أَصْحَابنَا فِي أَخْبَار الصِّفَات فَمنهمْ من أمرهَا كَمَا جَاءَت من غير تَفْسِير وَلَا تَأْوِيل مَعَ نفي التَّشْبِيه عَنْهَا وَهُوَ مَذْهَب السّلف فَحصل الْإِجْمَاع على صِحَة مَا ذَكرْنَاهُ وَالْحَمْد لله
এই সংবাদসমূহ ও আয়াতগুলোর ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে এটি স্বীকার করে নেওয়া যে, আমরা যা বলেছি তা-ই সালাফদের মাযহাব। আমি তাদের জনৈক শায়খের কিতাবে দেখেছি যে তিনি বলেছেন: আমাদের সাথীবৃন্দ সিফাত (গুণাবলি) সংক্রান্ত সংবাদগুলোর ব্যাপারে মতভেদ করেছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ এগুলোকে কোনো প্রকার ব্যাখ্যা (তাফসির) ও রূপক অর্থ (তাবিল) ছাড়াই যেভাবে এসেছে সেভাবেই ছেড়ে দিয়েছেন এবং এগুলোর থেকে সাদৃশ্যারোপকে অস্বীকার করেছেন; আর এটিই হলো সালাফদের মাযহাব। সুতরাং আমরা যা উল্লেখ করেছি তার সঠিকতার ওপর ইজমা (ঐক্যমত্য) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ১)
যাম্মুত তাবীল
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الْبَاب الثَّانِي فِي بَيَان وجوب اتباعهم والحث على لُزُوم مَذْهَبهم وسلوك سبيلهم وَبَيَان ذَلِك من الْكتاب وَالسّنة وأقوال الْأَئِمَّة49 - وَأما الْكتاب فَقَوْل الله تَعَالَى {وَمن يُشَاقق الرَّسُول من بعد مَا تبين لَهُ الْهدى وَيتبع غير سَبِيل الْمُؤمنِينَ نوله مَا تولى ونصله جَهَنَّم وَسَاءَتْ مصيرا} [النِّسَاء 115] فتوعد على اتِّبَاع غير سبيلهم بِعَذَاب جَهَنَّم ووعد متبعهم بالرضوان وَالْجنَّة فَقَالَ تَعَالَى {وَالسَّابِقُونَ الْأَولونَ من الْمُهَاجِرين وَالْأَنْصَار وَالَّذين اتَّبَعُوهُمْ بِإِحْسَان رَضِي الله عَنْهُم وَرَضوا عَنهُ} [التَّوْبَة 100] فوعد المتبعين لَهُم بِإِحْسَان بِمَا وعدهم بِهِ من رضوانه وجنته والفوز الْعَظِيم
50 - وَمن السّنة قَول النَّبِي صلى الله عليه وسلم عَلَيْكُم بِسنتي وَسنة الْخُلَفَاء الرَّاشِدين المهديين من بعدِي عضوا عَلَيْهَا بالنواجذ وَإِيَّاكُم ومحدثات الْأُمُور فَإِن كل محدثة بِدعَة وكل بِدعَة ضَلَالَة
51 - فَأمر بالتمسك بِسنة خلفائه كَمَا أَمر بالتمسك بسنته وَأخْبر أَن المحدثات بدع وضلالة وَهُوَ مَا لم يتبع فِيهِ سنة رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَلَا سنة أَصْحَابه
দ্বিতীয় অধ্যায়: তাঁদের অনুসরণ করার আবশ্যকতা, তাঁদের মাজহাব আঁকড়ে ধরা ও তাঁদের পথে চলার প্রতি উৎসাহিতকরণ এবং কুরআন, সুন্নাহ ও ইমামগণের বাণীর আলোকে তার বর্ণনা।49 - আর কুরআন থেকে প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আর যে ব্যক্তি তার কাছে হেদায়েত স্পষ্ট হওয়ার পর রাসূলের বিরোধিতা করে এবং মুমিনদের পথ ভিন্ন অন্য পথ অনুসরণ করে, আমি তাকে সেদিকেই ফিরিয়ে দেব যেদিকে সে ফিরেছে এবং তাকে জাহান্নামে দগ্ধ করব; আর তা কতই না মন্দ আবাস।} [আন-নিসা: ১১৫]। সুতরাং তিনি তাঁদের পথ ভিন্ন অন্য পথ অনুসরণের ওপর জাহান্নামের আজাবের হুমকি দিয়েছেন এবং তাঁদের অনুসারীদের জন্য সন্তুষ্টি ও জান্নাতের ওয়াদা করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {আর মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা প্রথম অগ্রগামী এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছে, আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তাঁরাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন।} [আত-তাওবাহ: ১০০]। অতএব তিনি নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীদের জন্য সেই জান্নাত, সন্তুষ্টি ও মহাসাফল্যের ওয়াদা করেছেন যার ওয়াদা তিনি তাঁদের জন্য করেছিলেন।
50 - আর সুন্নাহ থেকে প্রমাণ হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী: "তোমরা আমার সুন্নাহ এবং আমার পরে হেদায়েতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরো। তা মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে রাখো। আর তোমরা নবউদ্ভুদ বিষয়াবলী থেকে বেঁচে থাকো। কারণ প্রতিটি নবউদ্ভুদ বিষয়ই বিদআত এবং প্রতিটি বিদআতই পথভ্রষ্টতা।"
51 - সুতরাং তিনি তাঁর নিজের সুন্নাহ আঁকড়ে ধরার নির্দেশের ন্যায় তাঁর খলিফাদের সুন্নাহ আঁকড়ে ধরারও নির্দেশ দিয়েছেন। আর তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, নবউদ্ভুদ বিষয়াবলী হলো বিদআত ও পথভ্রষ্টতা; আর তা হলো এমন বিষয় যাতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহ কিংবা তাঁর সাহাবীগণের সুন্নাহ অনুসরণ করা হয়নি।
(খণ্ড: ১)
যাম্মুত তাবীল
(পৃষ্ঠা: ২৯)
52 - وَعَن عبد الله بن عَمْرو رضي الله عنهما قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم ليَأْتِيَن على أمتِي مَا أَتَى على بني إِسْرَائِيل حذوا النَّعْل بالنعل حَتَّى لَو كَانَ فيهم من يَأْتِي أمه عَلَانيَة لَكَانَ فِي أمتِي من يفعل ذَلِك إِن بني إِسْرَائِيل افْتَرَقُوا على ثِنْتَيْنِ وَسبعين فرقة وَيزِيدُونَ عَلَيْهَا مِلَّة وَفِي رِوَايَة وَأمتِي ثَلَاثًا وَسبعين مِلَّة كلهَا فِي النَّار إِلَّا وَاحِدَة قَالُوا يَا رَسُول الله من الْوَاحِدَة قَالَ مَا أَنا عَلَيْهِ وأصحابي وَفِي رِوَايَة الَّذِي أَنا عَلَيْهِ وأصحابي
53 - فَأخْبر النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَن الْفرْقَة النَّاجِية هِيَ الَّتِي تكون على مَا كَانَ عَلَيْهِ هُوَ وَأَصْحَابه فمتبعهم إِذا يكون من الْفرْقَة النَّاجِية لِأَنَّهُ على مَا هم عَلَيْهِ ومخالفهم من الاثنتين وَالسبْعين الَّتِي فِي النَّار وَلِأَن من لم يتبع السّلف رَحْمَة الله عَلَيْهِم وَقَالَ فِي الصِّفَات الْوَارِدَة فِي الْكتاب وَالسّنة قولا من تِلْقَاء نَفسه لم يسْبقهُ إِلَيْهِ السّلف فقد أحدث فِي الدّين وابتدع وَقد قَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم كل محدثة بِدعَة وكل بِدعَة ضَلَالَة
৫২ - আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, "নিশ্চয়ই আমার উম্মতের ওপর তা-ই আসবে যা বনী ইসরাঈলের ওপর এসেছিল, এক জোড়া জুতো যেমন অপর জুতোর সমান হয় ঠিক তেমন। এমনকি যদি তাদের মধ্যে এমন কেউ থেকে থাকে যে তার মায়ের সাথে প্রকাশ্যে ব্যভিচার করেছে, তবে আমার উম্মতের মধ্যেও এমন কেউ থাকবে যে তা করবে। নিশ্চয়ই বনী ইসরাঈল বাহাত্তরটি দলে বিভক্ত হয়েছিল এবং তারা তার ওপর আরও বৃদ্ধি করেছিল। আর এক বর্ণনায় রয়েছে, আমার উম্মত তেহাত্তরটি দলে বিভক্ত হবে, যার সবকটিই জাহান্নামে যাবে একটি ছাড়া।" তারা জিজ্ঞেস করলেন, "হে আল্লাহর রাসূল! সেই একটি দল কোনটি?" তিনি বললেন, "আমি ও আমার সাহাবীগণ যার ওপরে আছি।" অন্য এক বর্ণনায় আছে, "যার ওপরে আমি ও আমার সাহাবীগণ রয়েছি।"
৫৩ - অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সংবাদ দিয়েছেন যে, মুক্তিপ্রাপ্ত দল হলো সেটিই, যারা সেই আদর্শের ওপর থাকবে যার ওপর তিনি এবং তাঁর সাহাবীগণ ছিলেন। সুতরাং তাদের অনুসারী ব্যক্তি তখন মুক্তিপ্রাপ্ত দলের অন্তর্ভুক্ত হবে, কারণ সে তাদের আদর্শের ওপর রয়েছে। আর তাদের বিরোধিতাকারী ব্যক্তি সেই বাহাত্তর দলের অন্তর্ভুক্ত হবে যারা জাহান্নামে যাবে। কারণ, যে ব্যক্তি সালাফদের (আল্লাহ তাদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন) অনুসরণ করেনি এবং কুরআন ও সুন্নাহতে বর্ণিত গুণাবলি (সিফাত) সম্পর্কে নিজের পক্ষ থেকে এমন কথা বলেছে যা ইতিপূর্বে সালাফগণ বলেননি, সে দ্বীনের মধ্যে নতুন কিছু উদ্ভাবন করেছে এবং বিদআতে লিপ্ত হয়েছে। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, "প্রত্যেক নব-উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, আর প্রত্যেক বিদআতই ভ্রষ্টতা।"
(খণ্ড: ১)
যাম্মুত তাবীল
(পৃষ্ঠা: ৩০)
54 - وروى جَابر قَالَ كَانَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول أما بعد فَأحْسن الحَدِيث كتاب الله وَخير الْهَدْي هدي مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم وَشر الْأُمُور محدثاتها وكل بِدعَة ضَلَالَة أخرجه مُسلم فِي صَحِيحه
55 - وَعَن عَائِشَة رضي الله عنها قَالَت قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم من أحدث فِي أمرنَا مَا لَيْسَ مِنْهُ فَهُوَ رد يَعْنِي مَرْدُود
56 - وروى عبد الله بن عكيم قَالَ كَانَ عمر يَعْنِي بن الْخطاب رضي الله عنه يَقُول إِن أصدق القيل قيل الله أَلا وَإِن أحسن الْهَدْي هدي مُحَمَّد وَشر الْأُمُور محدثاتها وكل محدثة ضَلَالَة
57 - وَعَن الْأسود بن هِلَال قَالَ قَالَ عبد الله يَعْنِي بن مَسْعُود رضي الله عنه إِن أحسن الْهَدْي هدي مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم وَإِن أحسن الْكَلَام كَلَام الله وَإِنَّكُمْ ستحدثون وَيحدث لكم وكل محدثة ضَلَالَة وكل ضَلَالَة فِي النَّار
54 - জাবির (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতেন: "অতঃপর, সর্বোত্তম কথা হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম কাজ হলো (দ্বীনের মধ্যে) নতুন উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ এবং প্রতিটি বিদ'আতই পথভ্রষ্টতা।" ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন।
55 - আয়িশা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের বিষয়ে এমন কিছু নতুন উদ্ভাবন করল যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যানযোগ্য।" অর্থাৎ তা প্রত্যাখ্যাত।
56 - আবদুল্লাহ ইবনে উকাইম হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমর অর্থাৎ ইবনুল খাত্তাব (রা.) বলতেন: "নিশ্চয়ই সবচেয়ে সত্য কথা হলো আল্লাহর কথা। জেনে রেখো, সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মাদের পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম কাজ হলো (দ্বীনের মধ্যে) নতুন উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ এবং প্রতিটি নতুন উদ্ভাবিত বিষয়ই পথভ্রষ্টতা।"
57 - আসওয়াদ ইবনে হিলাল হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ অর্থাৎ ইবনে মাসঊদ (রা.) বলেছেন: "নিশ্চয়ই সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পথনির্দেশ এবং সর্বোত্তম কথা হলো আল্লাহর কথা। আর অচিরেই তোমরা নতুন নতুন বিষয় উদ্ভাবন করবে এবং তোমাদের জন্য নতুন নতুন বিষয় উদ্ভাবিত হবে। মনে রেখো, প্রতিটি নতুন উদ্ভাবিত বিষয়ই পথভ্রষ্টতা এবং প্রতিটি পথভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।"
(খণ্ড: ১)
যাম্মুত তাবীল
(পৃষ্ঠা: ৩১)
58 - وَقَالَ عبد الله اتبعُوا وَلَا تبتدعوا فقد كفيتم وكل بِدعَة ضَلَالَة
59 - وَقَالَ إِنَّا نقتدي وَلَا نبتدي وَنَتبع وَلَا نبتدع وَلنْ نضل مَا تمسكنا بالأثر
60 - وَقَالَ رَحْمَة الله عَلَيْهِ عَلَيْكُم بِالْعلمِ قبل أَن يقبض وَقَبضه أَن يذهب أَهله وَإِنَّكُمْ سَتَجِدُونَ قوما يَزْعمُونَ أَنهم يدعونَ إِلَى كتاب الله وَقد نبذوه وَرَاء ظُهُورهمْ فَعَلَيْكُم بِالْعلمِ وَإِيَّاكُم والبدع وَإِيَّاكُم والتنطع وَإِيَّاكُم والتعمق وَعَلَيْكُم بالعتيق
61 - وَقَالَ أَنا لغير الدَّجَّال أخوف عَلَيْكُم من الدَّجَّال أُمُور تكون من كبرائكم فأيما مرية أَو رجيل أدْركهُ ذَلِك الزَّمَان فالسمت الأول فَإنَّا الْيَوْم على السّنة
58 - আবদুল্লাহ বলেন: তোমরা অনুসরণ করো এবং বিদআত করো না, কেননা তোমাদের জন্য যথেষ্ট করা হয়েছে; আর প্রতিটি বিদআতই হলো পথভ্রষ্টতা।
59 - তিনি বলেন: আমরা কেবল অনুসরণ করি এবং নতুন কোনো কিছুর উদ্ভাবন করি না; আমরা অনুসরণ করি এবং বিদআত করি না; আর যতক্ষণ আমরা আছারের (পূর্বসূরীদের ঐতিহ্যের) ওপর অটল থাকব, ততক্ষণ আমরা পথভ্রষ্ট হব না।
60 - তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বলেন: ইলম তুলে নেওয়ার পূর্বেই তোমরা তা অর্জন করো; আর ইলম তুলে নেওয়া হলো তার বাহকদের প্রস্থান। তোমরা অচিরেই এমন এক সম্প্রদায়ের দেখা পাবে যারা দাবি করবে যে তারা আল্লাহর কিতাবের দিকে আহ্বান জানাচ্ছে, অথচ তারা একে নিজেদের পিঠের পেছনে নিক্ষেপ করেছে। সুতরাং তোমরা ইলমকে আঁকড়ে ধরো; আর বিদআত থেকে বেঁচে থাকো, অহেতুক গভীর পাণ্ডিত্য ও চুলচেরা বিশ্লেষণ থেকে বেঁচে থাকো এবং অতিরঞ্জন থেকে বেঁচে থাকো; আর তোমরা প্রাচীন ও আদি আদর্শের ওপর অবিচল থাকো।
61 - তিনি বলেন: আমি তোমাদের জন্য দাজ্জাল ব্যতীত অন্য এমন কিছু বিষয় নিয়ে দাজ্জালের চেয়েও বেশি আশঙ্কা করি; আর তা হলো তোমাদের নেতৃস্থানীয়দের পক্ষ থেকে প্রকাশিত নানাবিধ বিষয়। সুতরাং যে নারী বা পুরুষ সেই সময়ের সম্মুখীন হবে, সে যেন আদি পথকে আঁকড়ে ধরে; কেননা আমরা আজ সুন্নাহর ওপর রয়েছি।
(খণ্ড: ১)
যাম্মুত তাবীল
(পৃষ্ঠা: ৩২)
62 - وَقَالَ ابْن مَسْعُود من كلن مِنْكُم متأسيا فليتأسى بأصحاب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَإِنَّهُم كَانُوا أبر هَذِه الْأمة قلوبا وأعمقها علما وأقلها تكلفا وأقومها هَديا وأحسنها حَالا قوم اخْتَارَهُمْ الله لصحبة نبيه وَإِقَامَة دينه فاعرفوا لَهُم فَضلهمْ واتبعوهم فِي آثَارهم فَإِنَّهُم كَانُوا على الْهدى الْمُسْتَقيم
63 - وَذكر الْحسن الْبَصْرِيّ أَصْحَاب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَقَالَ إِنَّهُم كَانُوا أبر هَذِه الْأمة قلوبا وأعمقها علما وأقلها تكلفا قوم اخْتَارَهُمْ الله عز وجل لصحبة نبيه صلى الله عليه وسلم فتشبهوا بأخلاقهم وطرائقهم فَإِنَّهُم وَرب الْكَعْبَة على الْهدى الْمُسْتَقيم
64 - وَقَالَ إِبْرَاهِيم لم يدّخر لكم شَيْء خبئ عَن الْقَوْم لفضل عنْدكُمْ
65 - وَقَالَ حُذَيْفَة يَا معشر الْقُرَّاء خُذُوا طَرِيق من قبلكُمْ فوَاللَّه لَئِن اسْتَقَمْتُمْ لقد سبقتم بَعيدا وَلَئِن تَرَكْتُمُوهُ يَمِينا وَشمَالًا لقد ضللتم ضلالا بَعيدا
66 - وروى نوح الْجَامِع قَالَ قلت لأبي حنيفَة رخمه الله مَا تَقول فِيمَا
62 - এবং ইবনে মাসউদ বলেছেন, তোমাদের মধ্যে যে কেউ অনুসরণ করতে চায় সে যেন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের অনুসরণ করে। কারণ তারা ছিলেন এই উম্মতের মধ্যে সবচেয়ে পবিত্র হৃদয়ের অধিকারী, ইলমে সবচেয়ে গভীর, কৃত্রিমতায় সবচেয়ে কম এবং হেদায়েতের পথে সবচেয়ে সুদৃঢ় ও সবচেয়ে উত্তম অবস্থার অধিকারী। তারা এমন এক কওম যাদের আল্লাহ তাঁর নবীর সাহচর্য এবং তাঁর দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য মনোনীত করেছেন। অতএব তোমরা তাদের মর্যাদা স্বীকার করো এবং তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করো, কারণ তারা সরল সঠিক হেদায়েতের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন।
63 - এবং হাসান বসরী আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের কথা উল্লেখ করে বলেছেন: তারা ছিলেন এই উম্মতের মধ্যে সবচেয়ে পবিত্র হৃদয়ের অধিকারী, ইলমে সবচেয়ে গভীর এবং কৃত্রিমতায় সবচেয়ে কম। তারা এমন এক কওম যাদের মহান আল্লাহ তাঁর নবীর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহচর্যের জন্য মনোনীত করেছেন। অতএব তোমরা তাদের চরিত্র ও পদ্ধতির অনুসরণ করো, কেননা কাবার রবের কসম, তারা সরল সঠিক হেদায়েতের ওপর ছিলেন।
64 - এবং ইব্রাহিম বলেছেন, তোমাদের কোনো শ্রেষ্ঠত্বের কারণে তোমাদের জন্য এমন কিছু অবশিষ্ট রাখা হয়নি যা সেই কওমের নিকট থেকে গোপন রাখা হয়েছিল।
65 - এবং হুযায়ফা বলেছেন, হে ক্বারীদের দল! তোমরা তোমাদের পূর্ববর্তীদের পথ অবলম্বন করো। আল্লাহর কসম, যদি তোমরা (সেই পথে) অটল থাকো তবে তোমরা অনেক দূর এগিয়ে যাবে। আর যদি তোমরা তা ত্যাগ করে ডানে বা বামে চলে যাও, তবে তোমরা ঘোর বিভ্রান্তিতে পথভ্রষ্ট হবে।
66 - এবং নূহ আল-জামি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু হানিফাকে (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বললাম, আপনি সেই বিষয়ে কী বলেন যা...
(খণ্ড: ১)
যাম্মুত তাবীল
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
أحدث النَّاس من كَلَام فِي الْأَعْرَاض والأجسام فَقَالَ مقالات الفلاسفة عَلَيْك بالأثر وَطَرِيقَة السّلف وَإِيَّاك وكل محدثة فَإِنَّهَا بِدعَة
67 - أخبرنَا عَليّ بن عَسَاكِر الْمُقْرِئ حَدثنَا الْأمين أَبُو طَالب اليوسفي أَنبأَنَا أَبُو إِسْحَاق الْبَرْمَكِي أَنبأَنَا أَبُو بكر بن بخيت أَنبأَنَا عمر بن مُحَمَّد الْجَوْهَرِي أَنبأَنَا الْأَثْرَم أَنبأَنَا عبد الله بن صَالح عَن عبد الْعَزِيز بن عبد الله بن أبي سَلمَة أَنه قَالَ عَلَيْك بِلُزُوم السّنة فَإِنَّهَا لَك بِإِذن الله عصمَة فَإِن السّنة إِنَّمَا جعلت عصمَة ليستن بهَا ويقتصر عَلَيْهَا فَإِنَّمَا سنّهَا من قد علم مَا فِي خلَافهَا من الزلل وَالْخَطَأ والحمق والتعميق فارض لنَفسك بِمَا رَضوا بِهِ لأَنْفُسِهِمْ فَإِنَّهُم على علم وقفُوا وببصر نَافِذ كفوا وَلَهُم على كشفها كَانُوا أقوى وبفضل لَو كَانَ فِيهَا أَحْرَى وَإِنَّهُم لَهُم السَّابِقُونَ فلئن كَانَ الْهدى مَا أَنْتُم عَلَيْهِ لقد سبقتموهم إِلَيْهِ وَلَئِن حدث حدث بعدهمْ فَمَا أحدثه إِلَّا من اتبع غير سبيلهم وَرغب بِنَفسِهِ عَنْهُم وَلَقَد وصفوا مِنْهُ مَا يَكْفِي وَتَكَلَّمُوا مِنْهُ بِمَا يشفي فَمَا دونهم مقصر وَلَا فَوْقهم محسر لقد قصر دونهم أنَاس فجفوا وطمع آخَرُونَ فغلوا وَإِنَّهُم فِيمَا بَين ذَلِك لعلى هدى مُسْتَقِيم
মানুষ 'আরাজ' (অকস্মাৎ গুণাবলী) এবং 'আজসাম' (বস্তুপিণ্ড) সম্পর্কে যে কথা উদ্ভাবন করেছে, তা দার্শনিকদের বক্তব্য। আপনার জন্য অপরিহার্য হলো 'আসার' (সালাফদের বর্ণনা) এবং সালাফদের পথ অনুসরণ করা; আর নবউদ্ভাবিত বিষয় থেকে বেঁচে থাকা, কারণ তা বিদআত।
৬৭ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলি ইবনে আসাকির আল-মুকরি, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আল-আমিন আবু তালিব আল-ইউসুফি, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইসহাক আল-বারমাকি, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর ইবনে বাখিত, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উমর ইবনে মুহাম্মদ আল-জাওহারি, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-আশরাম, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ ইবনে সালিহ, তিনি আব্দুল আজিজ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবি সালামাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: আপনার ওপর সুন্নাহ আঁকড়ে ধরা অপরিহার্য, কারণ আল্লাহর অনুমতিতে এটি আপনার জন্য সুরক্ষা। সুন্নাহকে সুরক্ষাস্বরূপ নির্ধারণ করা হয়েছে যেন তা অনুসরণ করা হয় এবং তার ওপরই সীমাবদ্ধ থাকা হয়। সুন্নাহ তো তিনিই প্রবর্তন করেছেন যিনি এর বিপরীত পথের পদস্খলন, ভুল, মূর্খতা এবং অতিরঞ্জনের বিষয়গুলো জানতেন। সুতরাং তারা নিজেদের জন্য যাতে সন্তুষ্ট ছিলেন, আপনিও নিজের জন্য তাতেই সন্তুষ্ট থাকুন। কেননা তারা জ্ঞানের ভিত্তিতেই বিরত হয়েছেন এবং তীক্ষ্ণ অন্তর্দৃষ্টির ফলেই বিরত থেকেছেন। গূঢ় রহস্য উন্মোচনের ক্ষেত্রে তারাই ছিলেন অধিক শক্তিশালী এবং কোনো ফযিলত থাকলে তারাই ছিলেন সেটার অধিক যোগ্য। তারাই হলেন অগ্রগামী। যদি হেদায়েত এমন কিছু হয় যা আপনারা বর্তমানে অবলম্বন করেছেন, তবে আপনারা তো তাদের চেয়েও হেদায়েতে অগ্রগামী হয়ে গেলেন! আর যদি তাদের পরে কোনো নতুনের উদ্ভব ঘটে থাকে, তবে তা কেবল তারাই উদ্ভাবন করেছে যারা তাদের পথ পরিহার করেছে এবং তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। তারা এ বিষয়ে যথেষ্ট বর্ণনা দিয়েছেন এবং নিরাময় পাওয়ার মতো কথা বলেছেন। সুতরাং তাদের নিচে যারা রয়েছে তারা ত্রুটিপূর্ণ, আর যারা তাদের উপরে যেতে চায় তারা ক্লান্ত ও শ্রান্ত। কিছু মানুষ তাদের চেয়ে পিছিয়ে থেকেছে ফলে তারা কঠোরতা অবলম্বন করেছে, আর কিছু মানুষ উচ্চাকাঙ্ক্ষা করে সীমালঙ্ঘন করেছে। আর তারা এই দুইয়ের মাঝে এক সরল সঠিক পথের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
যাম্মুত তাবীল
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
68 - أخبرنَا أَبُو الْفَتْح مُحَمَّد بن عبد الْبَاقِي أَنبأَنَا حمد بن أَحْمد الْحداد أَنبأَنَا الْحَافِظ أَبُو نعيم بِإِسْنَادِهِ عَن عمر بن عبد الْعَزِيز بِنَحْوِ من هَذَا الْكَلَام
69 - وَقَالَ الْأَوْزَاعِيّ رحمه الله عَلَيْك بآثار من سلف وَإِن رفضك النَّاس وَإِيَّاك وآراء الرِّجَال وَإِن زخرفوها لَك بالْقَوْل
70 - وَقَالَ أَبُو إِسْحَاق سَأَلت الْأَوْزَاعِيّ فَقَالَ اصبر نَفسك على السّنة وقف حَيْثُ وقف الْقَوْم وَقل بِمَا قَالُوا وكف عَمَّا كفوا عَنهُ واسلك سَبِيل سلفك الصَّالح فَإِنَّهُ يسعك مَا وسعهم وَلَو كَانَ هَذَا يَعْنِي مَا حدث من الْبدع خيرا مَا خصصتهم بِهِ دون أسلافكم فَإِنَّهُ لم يدّخر عَنْهُم خير خبئ لكم دونهم لفضل عنْدكُمْ وهم أَصْحَاب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم الَّذِي اخْتَارَهُمْ الله لصحبة نبيه صلى الله عليه وسلم وَبَعثه فيهم ووصفهم بِهِ فَقَالَ {مُحَمَّد رَسُول الله وَالَّذين مَعَه أشداء على الْكفَّار رحماء بَينهم تراهم ركعا سجدا يَبْتَغُونَ فضلا من الله ورضوانا} [الْفَتْح 29]
71 - وَقَالَ الإِمَام أصُول السّنة عندنَا التَّمَسُّك بِمَا كَانَ عَلَيْهِ أَصْحَاب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم والإقتداء بهم وَترك الْبدع وكل بِدعَة فَهِيَ ضَلَالَة
72 - وَقَالَ عَليّ بن الْمَدِينِيّ مثل ذَلِك
৬৮ - আবুল ফাতহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল বাকি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, হামদ বিন আহমদ আল-হাদ্দাদ আমাদের জানিয়েছেন, হাফেজ আবু নুআইম তাঁর সনদে উমর বিন আব্দুল আজিজ থেকে এই ধরনের কথার অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
৬৯ - ইমাম আওযাঈ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: তুমি সালাফদের (পূর্বসূরিদের) পদাঙ্ক অনুসরণ করো, যদিও মানুষ তোমাকে প্রত্যাখ্যান করে। আর তুমি লোকদের ব্যক্তিগত মতামত থেকে বেঁচে থাকো, যদিও তারা তাদের কথাকে তোমার সামনে সুশোভিত করে উপস্থাপন করে।
৭০ - আবু ইসহাক বলেন, আমি আওযাঈকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: তুমি সুন্নাহর ওপর নিজেকে অবিচল রাখো এবং সেই সম্প্রদায় (সাহাবীগণ) যেখানে থেমেছেন তুমিও সেখানে থামো। তারা যা বলেছেন তুমিও তাই বলো এবং তারা যা থেকে বিরত থেকেছেন তুমিও তা থেকে বিরত থাকো। আর তুমি তোমার নেককার পূর্বসূরিদের (সালাফে সালেহীন) পথ অনুসরণ করো, কেননা তাদের জন্য যা যথেষ্ট ছিল তোমার জন্যও তা যথেষ্ট হবে। আর যদি এটি—অর্থাৎ নব উদ্ভাবিত বিদআতসমূহ—উত্তম হতো, তবে তোমাদের বাদ দিয়ে কেবল তাদের জন্য তা নির্দিষ্ট করা হতো না। কেননা তাদের বাদ দিয়ে তোমাদের কোনো শ্রেষ্ঠত্বের কারণে তোমাদের জন্য আলাদা কোনো কল্যাণ জমা রাখা হয়নি। তাঁরা ছিলেন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবী, যাঁদের আল্লাহ তাঁর নবীর সাহচর্য লাভের জন্য মনোনীত করেছিলেন এবং তাঁদের মাঝেই তাঁকে প্রেরণ করেছিলেন এবং তাঁদের গুণ বর্ণনা করে আল্লাহ বলেন: {মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল এবং তাঁর সাথে যারা আছে তারা কাফিরদের প্রতি অত্যন্ত কঠোর এবং নিজেদের মধ্যে অত্যন্ত দয়ালু। তুমি তাদের রুকু ও সিজদারত অবস্থায় দেখতে পাবে, তারা আল্লাহর পক্ষ থেকে অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি অন্বেষণ করে।} [সূরা আল-ফাতহ: ২৯]
৭১ - ইমাম (আহমদ ইবনে হাম্বল) বলেছেন: আমাদের নিকট সুন্নাহর মূলনীতি হলো আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীগণ যে আদর্শের ওপর ছিলেন তা মজবুতভাবে ধারণ করা, তাঁদের অনুসরণ করা এবং বিদআত বর্জন করা; আর প্রতিটি বিদআতই হলো পথভ্রষ্টতা।
৭২ - আলী ইবনুল মাদীনীও অনুরূপ কথা বলেছেন।
(খণ্ড: ১)
যাম্মুত তাবীল
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
73 - فقد ثَبت وجوب اتِّبَاع السّلف رَحْمَة الله عَلَيْهِم بِالْكتاب وَالسّنة وَالْإِجْمَاع وَالْعبْرَة دلّت عَلَيْهِ فَإِن السّلف لَا يخلوا من أَن يَكُونُوا مصيبين أَو مخطئين فَإِن كَانُوا مصيبين وَجب اتباعهم لِأَن اتِّبَاع الصَّوَاب وَاجِب وركوب الْخَطَأ فِي الِاعْتِقَاد حرَام وَلِأَنَّهُم إِذا كَانُوا مصيبين كَانُوا على الصِّرَاط الْمُسْتَقيم ومخالفهم مُتبع لسبيل الشَّيْطَان الْهَادِي إِلَى صِرَاط الْجَحِيم وَقد أَمر الله تَعَالَى بِاتِّبَاع سَبيله وصراطه وَنهى عَن اتِّبَاع مَا سواهُ فَقَالَ {وَأَن هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبعُوهُ وَلَا تتبعوا السبل فَتفرق بكم عَن سَبيله ذَلِكُم وَصَّاكُم بِهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُون} [الْأَنْعَام 153]
74 - وَإِن زعم زاعم أَنهم مخطئون كَانَ قادحا فِي حق الْإِسْلَام كُله لِأَنَّهُ إِن جَازَ أَن يخطئوا فِي هَذَا جَازَ خطؤهم فِي غَيره من الْإِسْلَام كُله وَيَنْبَغِي أَن لَا تنقل الْأَخْبَار الَّتِي نقلوها وَلَا تثبت معجزات النَّبِي صلى الله عليه وسلم الَّتِي رووها فَتبْطل الرِّوَايَة وتزول الشَّرِيعَة وَلَا يجوز لمُسلم أَن يَقُول هَذَا وَلَا يَعْتَقِدهُ وَلِأَن السّلف رَحْمَة الله عَلَيْهِم لَا يخلوا إِمَّا أَن يَكُونُوا علمُوا تَأْوِيل هَذِه الصِّفَات أَو لم يعلموه فَإِن لم يعلموه فَكيف علمناه نَحن وَإِن علموه فوسعهم إِن يسكتوا عَنهُ وَجب أَن يسعنا مَا وسعهم وَلِأَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم من جملَة سلفنا الَّذين سكتوا عَن تَفْسِير الْآيَات وَالْأَخْبَار الَّتِي الصِّفَات وَهُوَ حجَّة الله على خلق الله أَجْمَعِينَ يجب عَلَيْهِم اتِّبَاعه وَيحرم عَلَيْهِم خِلَافه وَقد شهد الله تَعَالَى بِأَنَّهُ على الصِّرَاط الْمُسْتَقيم وَأَنه يهدي إِلَيْهِ وَأَن من اتبعهُ أحبه الله وَمن عَصَاهُ فقد عَصا الله {وَمن يعْص الله وَرَسُوله فقد ضل ضلالا مُبينًا}
৭৩ - কুরআন, সুন্নাহ, ইজমা এবং যুক্তির নিরিখে সালাফদের (আল্লাহ তাঁদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন) অনুসরণ করার আবশ্যকতা প্রমাণিত হয়েছে। কারণ সালাফগণ হয় সত্যের ওপর ছিলেন অথবা ভুলের ওপর। যদি তাঁরা সত্যের ওপর হয়ে থাকেন, তবে তাঁদের অনুসরণ করা ওয়াজিব; কারণ সত্যের অনুসরণ করা ওয়াজিব এবং আকীদার ক্ষেত্রে ভুলের ওপর চলা হারাম। তদুপরি, তাঁরা যখন সত্যের ওপর ছিলেন, তখন তাঁরা সিরাতুম মুস্তাকিমের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন এবং তাঁদের বিরোধীরা শয়তানের পথের অনুসারী, যে জাহান্নামের পথের দিকে আহ্বান করে। আল্লাহ তাআলা তাঁর পথ ও সিরাত অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছেন এবং তা ছাড়া অন্য সব পথ অনুসরণ করতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেন: "আর এটিই আমার সরল পথ, সুতরাং তোমরা এরই অনুসরণ করো এবং অন্য সব পথের অনুসরণ করো না, কারণ তা তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে। তিনি তোমাদেরকে এই নির্দেশ দিয়েছেন যাতে তোমরা মুত্তাকী হতে পার।" [আল-আনআম ১৫৩]
৭৪ - আর যদি কোনো দাবিদার দাবি করে যে তাঁরা ভুলের ওপর ছিলেন, তবে তা পুরো ইসলামের বিরুদ্ধেই কলঙ্ক লেপন হবে। কারণ যদি এই বিষয়ে তাঁদের ভুল করা সম্ভব হয়, তবে ইসলামের অন্যান্য সকল বিষয়েও তাঁদের ভুল হওয়া সম্ভবপর হয়ে পড়বে। তখন তাঁদের বর্ণিত হাদীসসমূহ নকল করা উচিত হবে না এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যেসব মুজিজা তাঁরা বর্ণনা করেছেন তাও প্রমাণিত হবে না; ফলে রেওয়াত বা বর্ণনার ধারা বাতিল হয়ে যাবে এবং শরীয়ত বিলুপ্ত হবে। কোনো মুসলিমের জন্য এ জাতীয় কথা বলা বা বিশ্বাস করা সমীচীন নয়। তাছাড়া সালাফগণ (আল্লাহ তাঁদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন) হয় এই সিফাতসমূহের তাবিল (ব্যাখ্যা) জানতেন অথবা জানতেন না। যদি তাঁরা না জেনে থাকেন, তবে আমরা কীভাবে তা জানলাম? আর যদি তাঁরা তা জেনে থাকেন এবং এ বিষয়ে নীরব থাকা তাঁদের জন্য যথেষ্ট হয়ে থাকে, তবে তাঁদের জন্য যা যথেষ্ট ছিল আমাদের জন্যও তা যথেষ্ট হওয়া আবশ্যক। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বয়ং আমাদের সালাফদের অন্তর্ভুক্ত, যিনি সিফাত সংক্রান্ত আয়াত ও হাদীসসমূহের ব্যাখ্যা প্রদান থেকে নীরব থেকেছেন। অথচ তিনি আল্লাহর সমস্ত সৃষ্টির ওপর আল্লাহর হুজ্জাত বা দলিল, যাঁর অনুসরণ করা ওয়াজিব এবং যাঁর বিরোধিতা করা হারাম। আল্লাহ তাআলা সাক্ষ্য দিয়েছেন যে তিনি সিরাতুম মুস্তাকিমের ওপর রয়েছেন এবং তিনি সেই পথেই হেদায়াত করেন। আর যে ব্যক্তি তাঁর অনুসরণ করবে আল্লাহ তাকে ভালোবাসবেন, আর যে তাঁর অবাধ্য হবে সে প্রকৃত অর্থে আল্লাহরই অবাধ্য হবে: "যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হয়, সে স্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় লিপ্ত হয়।"
(খণ্ড: ১)
যাম্মুত তাবীল
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
[الْأَحْزَاب 36] {وَمن يعْص الله وَرَسُوله ويتعد حُدُوده يدْخلهُ نَارا خَالِدا فِيهَا وَله عَذَاب مهين} [النِّسَاء 14]
[আল-আহযাব ৩৬] {আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হয় এবং তাঁর সীমালঙ্ঘন করে, তিনি তাকে আগুনে প্রবেশ করাবেন, যেখানে সে চিরস্থায়ী হবে; আর তার জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাকর শাস্তি।} [আন-নিসা ১৪]