(খণ্ড: ১) উসুলুস সুন্নাহ লি আহমাদ বিন হাম্বল (পৃষ্ঠা: -)
أصول السنة لأحمد بن حنبل   (أحمد بن حنبل)

القسم: العقيدة


الكتاب: أصول السنة

المؤلف: أبو عبد الله أحمد بن محمد بن حنبل بن هلال بن أسد الشيباني (ت 241هـ)

الناشر: دار المنار - الخرج - السعودية

الطبعة: الأولى، 1411هـ

عدد الصفحات: 63

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আহমদ ইবনে হাম্বলের উসুলুস সুন্নাহ   (আহমদ ইবনে হাম্বল)

বিভাগ: আকীদা


কিতাব: উসুলুস সুন্নাহ

লেখক: আবু আব্দুল্লাহ আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন হাম্বল বিন হিলাল বিন আসাদ আশ-শাইবানী (মৃত্যু ২৪১ হিজরি)

প্রকাশক: দারুল মানার - আল-খারজ - সৌদি আরব

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১১ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৩

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) উসুলুস সুন্নাহ লি আহমাদ বিন হাম্বল (পৃষ্ঠা: ১)
أصُول السّنة لإِمَام أهل السّنة أَحْمد بن حَنْبَل رحمه الله

 

حَدثنَا الشَّيْخ أَبُو عبد الله يحيى ابْن أبي الْحسن بن الْبَنَّا قَالَ أخبرنَا وَالِدي أَبُو عَليّ الْحسن بن عمر بن الْبَنَّا قَالَ أخبرنَا أَبُو الْحُسَيْن عَليّ بن مُحَمَّد بن عبد الله بن بَشرَان الْمعدل قَالَ أَنا عُثْمَان بن أَحْمد بن السماك قَالَ ثَنَا أَبُو مُحَمَّد الْحسن بن عبد الوهاب أَبُو النبر قِرَاءَة عَلَيْهِ من
আহলুস সুন্নাহর ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাহিমাহুল্লাহ) প্রণীত উসুলুস সুন্নাহ

 

শায়খ আবু আবদুল্লাহ ইয়াহইয়া ইবনে আবিল হাসান ইবনুল বান্না আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আবু আলী আল-হাসান ইবনে ওমর ইবনুল বান্না আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আল-হুসাইন আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে বাশরান আল-মুয়াদ্দিল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: উসমান ইবনে আহমাদ ইবনে আস-সাম্মাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু মুহাম্মদ আল-হাসান ইবনে আবদুল ওয়াহহাব আবু আন-নাবার তার নিকট পাঠ করার মাধ্যমে আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, যা থেকে-
(খণ্ড: ১) উসুলুস সুন্নাহ লি আহমাদ বিন হাম্বল (পৃষ্ঠা: ১৪)
كِتَابه فِي شهر ربيع الأول من سنة ثَلَاث وَتِسْعين وَمِائَتَيْنِ 293 هـ قَالَ ثَنَا أَبُو جَعْفَر مُحَمَّد بن سُلَيْمَان الْمنْقري الْبَصْرِيّ بتنيس قَالَ حَدثنِي عَبدُوس بن ملك الْعَطَّار قَالَ سَمِعت أَبَا عبد الله أَحْمد بن حَنْبَل رضي الله عنه يَقُول:

 

أصُول السّنة عندنَا التَّمَسُّك بِمَا كَانَ عَلَيْهِ أَصْحَاب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم والاقتداء بهم
তাঁর কিতাব ২৯৩ হিজরি সালের রবিউল আউয়াল মাসে। তিনি বলেন, তিন্নিসে আবু জাফর মুহাম্মাদ ইবনে সুলাইমান আল-মানকারি আল-বাসরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবদুস ইবনে মালিক আল-আত্তার আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ ইবনে হাম্বল (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-কে বলতে শুনেছি:

 

আমাদের নিকট সুন্নাহর মূলনীতি হলো আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবাগণ যে আদর্শের ওপর ছিলেন তা শক্তভাবে আঁকড়ে ধরা এবং তাঁদের অনুসরণ করা।
(খণ্ড: ১) উসুলুস সুন্নাহ লি আহমাদ বিন হাম্বল (পৃষ্ঠা: ১৫)
وَترك الْبدع وكل بِدعَة فَهِيَ ضَلَالَة وَترك الْخُصُومَات فِي
এবং বিদআতসমূহ বর্জন করা এবং প্রত্যেক বিদআতই পথভ্রষ্টতা, আর ঝগড়া-বিবাদ বর্জন করা...
(খণ্ড: ১) উসুলুস সুন্নাহ লি আহমাদ বিন হাম্বল (পৃষ্ঠা: ১৬)
الدّين وَالسّنة تفسر الْقُرْآن وَهِي دَلَائِل الْقُرْآن وَلَيْسَ فِي السّنة قِيَاس وَلَا تضرب لَهَا الْأَمْثَال وَلَا تدْرك
দ্বীন এবং সুন্নাহ কুরআনের ব্যাখ্যা প্রদান করে এবং তা কুরআনের প্রমাণসমূহ। সুন্নাহর ক্ষেত্রে কোনো কিয়াস (যৌক্তিক অনুমান) নেই, এর জন্য কোনো উদাহরণ পেশ করা যাবে না এবং তা (কেবল বুদ্ধি দ্বারা) উপলব্ধি করা যায় না।
(খণ্ড: ১) উসুলুস সুন্নাহ লি আহমাদ বিন হাম্বল (পৃষ্ঠা: ১৭)
بالعقول وَلَا الْأَهْوَاء إِنَّمَا هُوَ الإتباع وَترك الْهوى وَمن السّنة اللَّازِمَة الَّتِي من ترك مِنْهَا خصْلَة لم يقبلهَا ويؤمن بهَا لم يكن من أَهلهَا

 

‌‌1 - الْإِيمَان بِالْقدرِ خَيره وشره والتصديق بالأحاديث فِيهِ وَالْإِيمَان بهَا لَا يُقَال لم وَلَا كَيفَ إِنَّمَا
বুদ্ধিবৃত্তি কিংবা প্রবৃত্তির মাধ্যমে নয়, বরং তা কেবল অনুসরণ এবং প্রবৃত্তি বর্জনের বিষয়। আর অপরিহার্য সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত হলো এমন বিষয়, যার কোনো একটি বৈশিষ্ট্যও যদি কেউ বর্জন করে, তা গ্রহণ না করে এবং তাতে বিশ্বাস স্থাপন না করে, তবে সে এর অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত হবে না।

 

‌‌১ - ভাগ্যের (তকদির) ভালো ও মন্দের প্রতি ঈমান আনা এবং এ সংক্রান্ত হাদিসসমূহকে সত্য বলে সত্যায়ন করা ও সেগুলোর প্রতি ঈমান আনা। 'কেন' বা 'কীভাবে'—তা বলা যাবে না; বরং কেবল...
(খণ্ড: ১) উসুলুস সুন্নাহ লি আহমাদ বিন হাম্বল (পৃষ্ঠা: ১৮)
هُوَ التَّصْدِيق وَالْإِيمَان بهَا وَمن لم يعرف تَفْسِير الحَدِيث ويبلغه عقله فقد كفي ذَلِك وَأحكم لَهُ فَعَلَيهِ الْإِيمَان بِهِ وَالتَّسْلِيم مثل حَدِيث الصَّادِق المصدوق
তা হলো সেগুলোর প্রতি সত্যায়ন ও ঈমান আনয়ন। আর যে ব্যক্তি হাদিসের ব্যাখ্যা জানে না এবং যার বুদ্ধি তা উপলব্ধি করতে পারে না, তবে তার জন্য তা-ই যথেষ্ট এবং তার জন্য তা সুদৃঢ় করা হয়েছে; সুতরাং তার কর্তব্য হলো এর ওপর ঈমান আনা ও আত্মসমর্পণ করা, যেমন সত্যবাদী ও সত্যয়নকৃত (রাসূল)-এর হাদিস।
(খণ্ড: ১) উসুলুস সুন্নাহ লি আহমাদ বিন হাম্বল (পৃষ্ঠা: ১৯)
وَمثل مَا كَانَ مثله فِي الْقدر وَمثل أَحَادِيث الرُّؤْيَة كلهَا وَإِن نبت عَن الأسماع واستوحش مِنْهَا المستمع وَإِنَّمَا عَلَيْهِ الْإِيمَان بهَا وَأَن
এবং তাকদিরের ক্ষেত্রে এর অনুরূপ বিষয়াবলি এবং (আল্লাহকে) দেখার সকল হাদিসের ক্ষেত্রেও একই হুকুম; যদিও তা শ্রবণে শ্রুতিকটু মনে হয় এবং শ্রবণকারী তাতে বিচলিত বোধ করে। তার ওপর কেবল এগুলোর প্রতি ঈমান আনা আবশ্যক এবং...
(খণ্ড: ১) উসুলুস সুন্নাহ লি আহমাদ বিন হাম্বল (পৃষ্ঠা: ২০)
لَا يرد مِنْهَا حرفا وَاحِد وَغَيرهَا من الْأَحَادِيث المأثورات عَن الثِّقَات وَأَن لَا يُخَاصم أحدا وَلَا يناظره وَلَا يتَعَلَّم الْجِدَال فَإِن الْكَلَام فِي الْقدر والرؤية وَالْقُرْآن وَغَيرهَا من السّنَن مَكْرُوه ومنهي عَنهُ لَا يكون

সে এগুলোর একটি অক্ষরও প্রত্যাখ্যান করবে না এবং নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের থেকে বর্ণিত অন্যান্য হাদীসসমূহও (প্রত্যাখ্যান করবে না)। আর সে যেন কারো সাথে বিবাদ বা বিতর্ক না করে এবং তর্কবিদ্যা শিক্ষা না করে। কেননা তাকদির, (আল্লাহর) দর্শন, কুরআন এবং এই জাতীয় অন্যান্য সুন্নাহর বিষয়গুলোতে অনর্থক আলোচনা করা অপছন্দনীয় ও নিষিদ্ধ; সে হবে না...

(খণ্ড: ১) উসুলুস সুন্নাহ লি আহমাদ বিন হাম্বল (পৃষ্ঠা: ২১)
صَاحبه وَإِن أصَاب بِكَلَامِهِ السّنة من أهل السّنة حَتَّى يدع الْجِدَال ويؤمن بالآثار
তার সঙ্গী—যদিও তার কথা সুন্নাহ অনুযায়ী হয়—ততক্ষণ আহলে সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত হবে না, যতক্ষণ না সে বিতর্ক বর্জন করে এবং আসারসমূহের (বর্ণনাগুলোর) প্রতি ঈমান আনয়ন করে।
(খণ্ড: ১) উসুলুস সুন্নাহ লি আহমাদ বিন হাম্বল (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌2 - (وَالْقُرْآن كَلَام الله وَلَيْسَ بمخلوق)

وَلَا يصف وَلَا يَصح أَن يَقُول لَيْسَ بمخلوق قَالَ فَإِن كَلَام الله لَيْسَ ببائن مِنْهُ وَلَيْسَ مِنْهُ شَيْء مخلوقا وَإِيَّاك ومناظرة من أخذل فِيهِ وَمن قَالَ بِاللَّفْظِ وَغَيره وَمن وقف فِيهِ فَقَالَ لَا أَدْرِي مَخْلُوق أَو لَيْسَ بمخلوق وَإِنَّمَا هُوَ كَلَام الله فَهَذَا صَاحب بِدعَة مثل من قَالَ هُوَ مَخْلُوق وَإِنَّمَا هُوَ كَلَام الله لَيْسَ
২ - (কুরআন আল্লাহর কালাম এবং তা সৃষ্টি নয়)

এবং বর্ণনা করা যায় না এবং এটি বলাও সঠিক নয় যে এটি সৃষ্টি নয়। তিনি বলেন, কেননা আল্লাহর কালাম তাঁর থেকে পৃথক নয় এবং তাঁর কোনো কিছুই সৃষ্টি নয়। আর আপনি তাদের সাথে বিতর্ক করা থেকে সাবধান থাকুন যারা এ বিষয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে এবং যারা উচ্চারণ (লফজ) ও অন্যান্য বিষয়ে কথা বলেছে। আর যে ব্যক্তি এ বিষয়ে স্থবিরতা অবলম্বন করে এবং বলে, 'আমি জানি না এটি সৃষ্টি নাকি সৃষ্টি নয়, বরং এটি আল্লাহর কালাম'—তবে সে একজন বিদআতি, ঠিক সেই ব্যক্তির মতো যে বলে এটি সৃষ্টি। বরং এটি আল্লাহর কালাম, তা সৃষ্টি নয়।
(খণ্ড: ১) উসুলুস সুন্নাহ লি আহমাদ বিন হাম্বল (পৃষ্ঠা: ২৩)
بمخلوق

 

‌‌3 - وَالْإِيمَان بِالرُّؤْيَةِ يَوْم الْقِيَامَة كَمَا رُوِيَ عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم من الْأَحَادِيث الصِّحَاح

 

‌‌4 - وَأَن النَّبِي قد رأى ربه فَإِنَّهُ مأثور عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم صَحِيح رَوَاهُ قَتَادَة عَن عِكْرِمَة عَن ابْن
সৃষ্ট দ্বারা

 

‌‌৩ - কিয়ামত দিবসে (আল্লাহর) দর্শনে বিশ্বাস স্থাপন করা যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বিশুদ্ধ হাদীসসমূহে বর্ণিত হয়েছে

 

‌‌৪ - এবং নিশ্চয়ই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর রবকে দেখেছেন কেননা এটি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত একটি সহীহ বর্ণনা, যা কাতাদাহ ইকরিমা থেকে এবং তিনি ইবনে (আব্বাস) থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) উসুলুস সুন্নাহ লি আহমাদ বিন হাম্বল (পৃষ্ঠা: ২৪)
عَبَّاس وَرَوَاهُ الحكم بن إبان عَن عِكْرِمَة عَن ابْن عَبَّاس وَرَوَاهُ عَليّ بن زيد عَن يُوسُف بن مهْرَان عَن ابْن عَبَّاس والْحَدِيث عندنَا على ظَاهره كَمَا جَاءَ عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَالْكَلَام فِيهِ بِدعَة وَلَكِن نؤمن بِهِ كَمَا جَاءَ على ظَاهره وَلَا نناظر فِيهِ أحدا
আব্বাস। এটি বর্ণনা করেছেন আল-হাকাম বিন ইবান, ইকরিমা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে। এবং এটি বর্ণনা করেছেন আলী বিন যায়েদ, ইউসুফ বিন মিহরান থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে। হাদিসটি আমাদের নিকট তার বাহ্যিক মর্মের ওপর (অটল) যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এসেছে। এ বিষয়ে (তর্কমূলক) কথা বলা বিদআত; বরং আমরা এর ওপর ঈমান রাখি যেমনটি এটি তার বাহ্যিক মর্মের ওপর এসেছে এবং আমরা এ নিয়ে কারো সাথে বিতর্কে লিপ্ত হই না।
(খণ্ড: ১) উসুলুস সুন্নাহ লি আহমাদ বিন হাম্বল (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌5 - وَالْإِيمَان بالميزان يَوْم
৫ - এবং মিজানের প্রতি ঈমান আনয়ন করা দিবসে
(খণ্ড: ১) উসুলুস সুন্নাহ লি আহমাদ বিন হাম্বল (পৃষ্ঠা: ২৬)
الْقِيَامَة كَمَا جَاءَ (يُوزن العَبْد يَوْم الْقِيَامَة فَلَا يزن جنَاح بعوضة)
কিয়ামত, যেমনটি বর্ণিত হয়েছে (কিয়ামতের দিন বান্দাকে ওজন করা হবে, তখন তার ওজন একটি মশার ডানার সমানও হবে না)
(খণ্ড: ১) উসুলুস সুন্নাহ লি আহমাদ বিন হাম্বল (পৃষ্ঠা: ২৭)
ويوزن أَعمال الْعباد كَمَا جَاءَ فِي الْأَثر وَالْإِيمَان بِهِ والتصديق بِهِ والإعراض عَن من رد
বান্দাদের আমলসমূহ ওজন করা হবে যেমনটি বর্ণনায় এসেছে; এর ওপর ঈমান আনা ও একে সত্য বলে স্বীকার করা এবং যে ব্যক্তি এটি প্রত্যাখ্যান করে তার থেকে বিমুখ থাকা আবশ্যক।
(খণ্ড: ১) উসুলুস সুন্নাহ লি আহমাদ বিন হাম্বল (পৃষ্ঠা: ২৮)
ذَلِك وَترك مجادلته

 

‌‌6 - وَأَن الله تَعَالَى يكلمهُ الْعباد يَوْم الْقِيَامَة لَيْسَ بَينهم وَبَينه ترجمان والتصديق بِهِ
সেটি এবং এ নিয়ে তর্ক-বিতর্ক বর্জন করা

 

‌‌৬ - আর নিশ্চয়ই কিয়ামতের দিন বান্দাগণ আল্লাহ তাআলার সাথে কথা বলবে, তাদের ও তাঁর মাঝে কোনো দোভাষী থাকবে না এবং তা সত্য বলে বিশ্বাস করা।
(খণ্ড: ১) উসুলুস সুন্নাহ লি আহমাদ বিন হাম্বল (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌7 - وَالْإِيمَان بالحوض وَأَن لرَسُول الله حوضا يَوْم الْقِيَامَة يرد عَلَيْهِ أمته عرضه مثل طوله مسيرَة شهر آنيته كعدد نُجُوم السَّمَاء على مَا صحت بِهِ الْأَخْبَار من غير وَجه
৭ - হাওযের প্রতি ঈমান এবং এটি বিশ্বাস করা যে, কিয়ামতের দিন আল্লাহর রাসূলের একটি হাওয থাকবে যেখানে তাঁর উম্মত পানি পানের জন্য উপস্থিত হবে; এর প্রস্থ ও দৈর্ঘ্য সমান—এক মাসের পথ। এর পানপাত্রের সংখ্যা আকাশের নক্ষত্ররাজির ন্যায়, যেমনটি বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত সহীহ হাদীসসমূহ দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) উসুলুস সুন্নাহ লি আহমাদ বিন হাম্বল (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌8 - الْإِيمَان بِعَذَاب الْقَبْر

 

‌‌9 - وَأَن هَذِه الْأمة تفتن فِي قبورها وتسأل عَن الْإِيمَان وَالْإِسْلَام
৮ - কবরের আযাবের প্রতি ঈমান

 

৯ - এবং এই উম্মত তাদের কবরে পরীক্ষার সম্মুখীন হবে এবং তাদের ঈমান ও ইসলাম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে
(খণ্ড: ১) উসুলুস সুন্নাহ লি আহমাদ বিন হাম্বল (পৃষ্ঠা: ৩১)
وَمن ربه وَمن نبيه ويأتيه مُنكر وَنَكِير كَيفَ شَاءَ وَكَيف أَرَادَ وَالْإِيمَان بِهِ والتصديق بِهِ
এবং তাঁর রব কে এবং তাঁর নবী কে; আর তাঁর নিকট মুনকার ও নাকির আসবে যেভাবে তিনি চেয়েছেন এবং যেভাবে তিনি ইচ্ছা করেছেন, এবং এর প্রতি ঈমান আনা ও একে সত্য বলে বিশ্বাস করা।
(খণ্ড: ১) উসুলুস সুন্নাহ লি আহমাদ বিন হাম্বল (পৃষ্ঠা: ৩২)
‌‌10 - وَالْإِيمَان بشفاعة النَّبِي صلى الله عليه وسلم وبقوم يخرجُون من النَّار بَعْدَمَا احترقوا وصاروا فحما فَيُؤْمَر بهم إِلَى نهر على بَاب الْجنَّة كَمَا جَاءَ الْأَثر كَيفَ شَاءَ وكما شَاءَ إِنَّمَا هُوَ الْإِيمَان بِهِ والتصديق بِهِ
১০ - নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শাফায়াতের প্রতি ঈমান আনয়ন করা এবং এমন এক সম্প্রদায়ের প্রতি (ঈমান আনা) যারা দগ্ধ হয়ে কয়লায় পরিণত হওয়ার পর জাহান্নাম থেকে বের হবে; অতঃপর আসার বা বর্ণনা অনুযায়ী যেভাবে আল্লাহ চেয়েছেন এবং যেমনটি চেয়েছেন, তাদের জান্নাতের দরজায় অবস্থিত একটি নহরের দিকে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে। এটি কেবল তার প্রতি ঈমান আনয়ন এবং একে সত্য বলে বিশ্বাস করার বিষয়।
(খণ্ড: ১) উসুলুস সুন্নাহ লি আহমাদ বিন হাম্বল (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌11 - وَالْإِيمَان أَن الْمَسِيح الدَّجَّال خَارج مَكْتُوب بَين عَيْنَيْهِ كَافِر وَالْأَحَادِيث الَّتِي جَاءَت فِيهِ وَالْإِيمَان بِأَن ذَلِك كَائِن
‌১১ - এবং এই বিশ্বাস পোষণ করা যে, মাসীহ দাজ্জাল আত্মপ্রকাশ করবে, যার দুই চোখের মধ্যবর্তী স্থানে ‘কাফির’ কথাটি লেখা থাকবে এবং তার সম্পর্কে যে সকল হাদীস বর্ণিত হয়েছে সেগুলোর প্রতি ঈমান আনা এবং এই বিশ্বাস রাখা যে, নিশ্চয়ই তা সংঘটিত হবে।
(খণ্ড: ১) উসুলুস সুন্নাহ লি আহমাদ বিন হাম্বল (পৃষ্ঠা: ৩৪)
‌‌12 - وَأَن عِيسَى ابْن مَرْيَم عليه السلام ينزل فيقتله بِبَاب لد

 

‌‌13 - وَالْإِيمَان قَول وَعمل يزِيد وَينْقص كَمَا جَاءَ فِي الْخَبَر (أكمل الْمُؤمنِينَ إِيمَانًا أحْسنهم
১২ - এবং ঈসা ইবনে মারিয়াম আলাইহিস সালাম অবতরণ করবেন অতঃপর তিনি তাকে লুদ্দ ফটকে হত্যা করবেন।

 

১৩ - এবং ঈমান হলো কথা ও কাজ, যা বৃদ্ধি পায় এবং হ্রাস পায় যেমনটি বর্ণনায় এসেছে (মুমিনদের মধ্যে ঈমানে পূর্ণতম হলো তাদের মধ্যে সর্বোত্তম...
(খণ্ড: ১) উসুলুস সুন্নাহ লি আহমাদ বিন হাম্বল (পৃষ্ঠা: ৩৫)
خلقا) (وَمن ترك الصَّلَاة فقد كفر) (وَلَيْسَ من الْأَعْمَال شَيْء تَركه كفر إِلَّا الصَّلَاة) من تَركهَا فَهُوَ كَافِر وَقد أحل الله قَتله

 

‌‌14 - وَخير هَذِه الْأمة بعد نبيها
সৃষ্টি)। (এবং যে ব্যক্তি সালাত ত্যাগ করল, সে অবশ্যই কুফরি করল) (এবং আমলসমূহের মধ্যে সালাত ব্যতীত এমন কিছু নেই যা ত্যাগ করা কুফরি) যে ব্যক্তি তা ত্যাগ করল সে কাফির এবং আল্লাহ তার হত্যা বৈধ করেছেন।

 

১৪ - তাঁর নবীর পরে এই উম্মতের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি
(খণ্ড: ১) উসুলুস সুন্নাহ লি আহমাদ বিন হাম্বল (পৃষ্ঠা: ৩৬)
أَبُو بكر الصّديق ثمَّ عمر بن الْخطاب ثمَّ عُثْمَان بن عَفَّان نقدم هَؤُلَاءِ الثَّلَاثَة كَمَا قدمهم أَصْحَاب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لم يَخْتَلِفُوا فِي ذَلِك
আবু বকর আস-সিদ্দিক, অতঃপর উমর ইবনুল খাত্তাব, অতঃপর উসমান ইবনে আফফান। আমরা এই তিনজনকে অগ্রাধিকার প্রদান করি যেমনিভাবে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীগণ তাঁদেরকে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন; তাঁরা এ বিষয়ে কোনো মতভেদ করেননি।
(খণ্ড: ১) উসুলুস সুন্নাহ লি আহমাদ বিন হাম্বল (পৃষ্ঠা: ৩৭)
ثمَّ بعد هَؤُلَاءِ الثَّلَاثَة أَصْحَاب الشورى الْخَمْسَة عَليّ بن أبي طَالب وَالزُّبَيْر وعبد الرحمن بن عَوْف وَسعد وَطَلْحَة كلهم للخلافة وَكلهمْ إِمَام وَنَذْهَب فِي ذَلِك إِلَى حَدِيث ابْن عمر (كُنَّا نعد وَرَسُول الله صلى الله عليه وسلم حَيّ وَأَصْحَابه
অতঃপর এই তিনজনের পর শুরার (পরামর্শ সভার) পাঁচজন সদস্য হলেন আলী বিন আবু তালিব, যুবাইর, আব্দুর রহমান বিন আউফ, সাদ এবং তালহা; তাঁরা সকলেই খিলাফতের যোগ্য এবং তাঁদের প্রত্যেকেই ইমাম। আর এই বিষয়ে আমরা ইবনে উমরের বর্ণিত হাদিসের দিকেই প্রত্যাবর্তন করি (যেখানে তিনি বলেছিলেন): "আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) জীবিত থাকাকালে আমরা এবং তাঁর সাহাবীবৃন্দ গণনা করতাম..."
(খণ্ড: ১) উসুলুস সুন্নাহ লি আহমাদ বিন হাম্বল (পৃষ্ঠা: ৩৮)
متوافرون أَبُو بكر ثمَّ عمر ثمَّ عُثْمَان ثمَّ نسكت ثمَّ من بعد أَصْحَاب الشورى أهل بدر من الْمُهَاجِرين ثمَّ أهل بدر من الْأَنْصَار من أَصْحَاب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم على قدر الْهِجْرَة والسابقة أَولا فأولا)
তারা পর্যাপ্ত সংখ্যায় বিদ্যমান ছিলেন: আবু বকর, তারপর উমর, তারপর উসমান, এরপর আমরা চুপ থাকব। এরপর শুরা সদস্যগণ, এরপর মুহাজিরদের মধ্য হতে বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীগণ, তারপর আনসারদের মধ্য হতে বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীগণ—রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীদের মধ্য থেকে হিজরত এবং অগ্রগণ্যতার মর্যাদা অনুযায়ী ক্রমানুসারে।)
(খণ্ড: ১) উসুলুস সুন্নাহ লি আহমাদ বিন হাম্বল (পৃষ্ঠা: ৩৯)
ثمَّ أفضل النَّاس بعد هَؤُلَاءِ أَصْحَاب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم الْقرن
অতঃপর এদের পর মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলেন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ, যারা সেই প্রজন্মের অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১) উসুলুস সুন্নাহ লি আহমাদ বিন হাম্বল (পৃষ্ঠা: ৪০)
الَّذِي بعث فيهم كل من صَحبه سنة أَو شهرا أَو يَوْمًا أَو سَاعَة وَرَآهُ فَهُوَ من أَصْحَابه لَهُ الصُّحْبَة
যাঁকে তাদের মাঝে প্রেরণ করা হয়েছে, তাঁর সাথে যে ব্যক্তি এক বছর, এক মাস, এক দিন কিংবা এক মুহূর্ত সাহচর্য লাভ করেছে এবং তাঁকে দেখেছে, সে তাঁর সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত; সে সাহচর্যের মর্যাদাপ্রাপ্ত।
(খণ্ড: ১) উসুলুস সুন্নাহ লি আহমাদ বিন হাম্বল (পৃষ্ঠা: ৪১)
على قدر مَا صَحبه وَكَانَت سابقته مَعَه وَسمع مِنْهُ وَنظر إِلَيْهِ نظر فأدناهم صُحْبَة أفضل من الْقرن الَّذِي لم يروه وَلَو لقوا الله بِجَمِيعِ الْأَعْمَال كَانَ هَؤُلَاءِ الَّذين صحبوا النَّبِي صلى الله عليه وسلم ورأوه وسمعوا مِنْهُ أفضل لصحبتهم من التَّابِعين وَلَو عمِلُوا كل أَعمال الْخَيْر
তাঁর সাহচর্যের পরিমাণ, তাঁর সাথে তাঁর ইসলামের অগ্রবর্তিতা, তাঁর থেকে শ্রবণ এবং তাঁর প্রতি দৃষ্টিপাতের পরিমাপ অনুযায়ী (মর্যাদা নির্ধারিত হবে)। ফলে তাঁদের মধ্যে সাহচর্যে যিনি সর্বনিম্ন, তিনিও ওই প্রজন্মের চেয়ে শ্রেষ্ঠ যারা তাঁকে দেখেনি; এমনকি তারা যদি সকল প্রকার আমল নিয়ে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করে। যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহচর্য লাভ করেছেন, তাঁকে দেখেছেন এবং তাঁর থেকে শ্রবণ করেছেন, তাঁরা কেবল তাঁদের সাহচর্যের কারণেই তাবেঈদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ, যদিও তারা সকল প্রকার নেক আমল সম্পাদন করে।