(খণ্ড: ১) আত-তালিকাতুল হিসান আলা সহীহ ইবনি হিব্বান (পৃষ্ঠা: -)
التعليقات الحسان على صحيح ابن حبان   (ناصر الدين الألباني)

القسم: كتب السنة

الكتاب: التعليقات الحسان على صحيح ابن حبان وتمييز سقيمه من صحيحه، وشاذه من محفوظه

مؤلف الأصل: محمد بن حبان بن أحمد بن حبان بن معاذ بن مَعْبدَ، التميمي، أبو حاتم، الدارمي، البُستي (ت 354هـ)

ترتيب: الأمير أبو الحسن علي بن بلبان بن عبد الله، علاء الدين الفارسي الحنفي (ت 739هـ)

مؤلف التعليقات الحسان: أبو عبد الرحمن محمد ناصر الدين، بن الحاج نوح بن نجاتي بن آدم، الأشقودري الألباني (ت 1420هـ)

الناشر: دار با وزير للنشر والتوزيع، جدة - المملكة العربية السعودية

الطبعة: الأولى، 1424 هـ - 2003 م

عدد الأجزاء: 12 (10 أجزاء ومجلدان فهارس)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 3 شعبان 1443

সহীহ ইবনে হিব্বানের ওপর আল-তালিকাতুল হিসান   (নাসিরুদ্দীন আল-আলবানী)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ

কিতাব: সহীহ ইবনে হিব্বানের ওপর আল-তালিকাতুল হিসান এবং এর সহীহ থেকে যঈফ এবং মাহফুয থেকে শায-এর পার্থক্যকরণ

মূল লেখক: মুহাম্মদ বিন হিব্বান বিন আহমদ বিন হিব্বান বিন মুআয বিন মাবাদ, আত-তামীমী, আবু হাতিম, আদ-দারিমী, আল-বুস্তী (মৃত্যু ৩৫৪ হিজরী)

বিন্যাসকারী: আল-আমীর আবুল হাসান আলী বিন বালবান বিন আব্দুল্লাহ, আলাউদ্দীন আল-ফারিসী আল-হানাফী (মৃত্যু ৭৩৯ হিজরী)

তালিকাতুল হিসান-এর লেখক: আবু আব্দুর রহমান মুহাম্মদ নাসিরুদ্দীন, বিন আল-হাজ নূহ বিন নাজাতী বিন আদম, আল-আশকুদরী আল-আলবানী (মৃত্যু ১৪২০ হিজরী)

প্রকাশক: দার বা ওয়াযীর পাবলিশিং এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন, জেদ্দা - সৌদি আরব সাম্রাজ্য

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৪ হিজরী - ২০০৩ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ১২ (১০ খণ্ড এবং ২ খণ্ড সূচিপত্র)

[কিতাবটির নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৩ শাবান ১৪৪৩

(খণ্ড: ১) আত-তালিকাতুল হিসান আলা সহীহ ইবনি হিব্বান (পৃষ্ঠা: ১)
-[التعليقات الحسان على صحيح ابن حبان وتمييز سقيمه من صحيحه، وشاذه من محفوظه]-

مؤلف الأصل: محمد بن حبان بن أحمد بن حبان بن معاذ بن مَعْبدَ، التميمي، أبو حاتم، الدارمي، البُستي (المتوفى: 354 هـ)

ترتيب: الأمير أبو الحسن علي بن بلبان بن عبد الله، علاء الدين الفارسي الحنفي (المتوفى: 739 هـ)

مؤلف التعليقات الحسان: أبو عبد الرحمن محمد ناصر الدين، بن الحاج نوح بن نجاتي بن آدم، الأشقودري الألباني (المتوفى: 1420 هـ)

الناشر: دار با وزير للنشر والتوزيع، جدة - المملكة العربية السعودية

الطبعة: الأولى، 1424 هـ - 2003 م

عدد الأجزاء: 12 (10 أجزاء ومجلدان فهارس)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

--------------------------------------------

تنبيهات:

‌‌1 - ترقيم الكتاب حسب طبعة الشيخ الألباني وإضافة ترقيم طبعة المؤسسة - إذا كان بينهما تفاوت -، وذلك بين هلالين: () ،وبذلك يصير الكتاب مرجعا لكلا الطبعتين ،ثم أثبتنا رقم التقاسيم والأنواع.

‌‌2 - بالمطبوع قفز بين الأرقام أبقيناه كما هو (الحديث 5287 بعده 5290)

‌‌3 - ذكر الناشر في مقدمته ص 31 مايلي:

((وقع ابن حبان رحمه الله في بعض المخالفات العقائدية؛ كتأويل كثير من صفات الباري

ـ جل وعلا ـ؛ مُغايراً في ذلك منهج السلف الصالح رضي الله عنهم.

ولم يتعقَّبْه الشيخ رحمه الله بشيء من ذلك ـ ولا نحن ـ؛ وإلا لطال الكتاب، وخرج عن مقصوده؛ مُكتفين بهذه الإشارة العلمية ـ هنا ـ؛ التي تكفي اللبيب، وتغني الأريب.))

أعدّ الكتاب: خليل الراوي.
[সহীহ ইবনে হিব্বানের ওপর আত-তালিকাতুল হিসান এবং এর সহীহ থেকে যঈফ এবং মাহফুয থেকে শায-এর পার্থক্যকরণ]

মূল লেখক: মুহাম্মদ বিন হিব্বান বিন আহমাদ বিন হিব্বান বিন মুআয বিন মাবাদ, আত-তামিমি, আবু হাতিম, আদ-দারিমি, আল-বুস্তি (মৃত্যু: ৩৫৪ হিজরি)

বিন্যাসকারী: আল-আমীর আবুল হাসান আলি বিন বালবান বিন আব্দুল্লাহ, আলাউদ্দিন আল-ফারিসি আল-হানাফি (মৃত্যু: ৭৩৯ হিজরি)

আত-তালিকাতুল হিসান-এর লেখক: আবু আব্দুর রহমান মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন বিন আল-হাজ্জ নুহ বিন নাজাতি বিন আদম, আল-আশকুদি আল-আলবানি (মৃত্যু: ১৪২০ হিজরি)

প্রকাশক: দার বা ওয়াযীর পাবলিশিং এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন, জেদ্দা - সৌদি আরব কিংডম

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৪ হিজরি - ২০০৩ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ১২ (১০ খণ্ড এবং ২ খণ্ড সূচিপত্র)

[বইটির নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

--------------------------------------------

সতর্কতাসমূহ:

‌‌১ - বইটির নম্বর বিন্যাস শায়খ আলবানীর সংস্করণ অনুযায়ী করা হয়েছে এবং - যদি তাদের মধ্যে কোনো ব্যবধান থাকে তবে - মুয়াসসাসা সংস্করণের নম্বর বন্ধনীতে: () যোগ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বইটি উভয় সংস্করণের জন্য রেফারেন্স হিসেবে গণ্য হবে, এরপর আমরা 'তাকাসিম' ও 'আনওয়া' এর নম্বরগুলো সুপ্রতিষ্ঠিত করেছি।

‌‌২ - মুদ্রিত কপিতে নম্বরের ক্ষেত্রে যে বিচ্যুতি রয়েছে তা আমরা অপরিবর্তিত রেখেছি (হাদিস ৫২৮৭ এর পর ৫২৯০)।

‌‌৩ - প্রকাশক তার ভূমিকার ৩১ পৃষ্ঠায় নিম্নোক্ত কথাগুলো উল্লেখ করেছেন:

((ইবনে হিব্বান (রহিমাহুল্লাহ) কিছু আকিদাগত বিরোধে লিপ্ত হয়েছেন; যেমন মহান আল্লাহর অনেক গুণাবলির অপব্যাখ্যা করা; যা সালাফে সালেহীন (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর মানহাজের বিপরীত। শায়খ (আলবানী) (রহিমাহুল্লাহ) এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি এবং আমরাও করিনি; অন্যথায় বইটি দীর্ঘ হয়ে যেত এবং এর মূল উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত হতো। আমরা এখানে কেবল এই ইলমি ইশারার ওপরই সন্তুষ্ট থাকছি, যা বুদ্ধিমানদের জন্য যথেষ্ট এবং বিজ্ঞদের জন্য পর্যাপ্ত।))

বইটি প্রস্তুত করেছেন: খলিল আল-রাবি।
(খণ্ড: ১) আত-তালিকাতুল হিসান আলা সহীহ ইবনি হিব্বান (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌مقدمة الناشر

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له.

وأشهد أن لا إله إلا الله ـ وحده لا شريك له ـ.

وأشهد أن محمدا عبده ورسوله.

أما بعد:

فلم نجد مدخلا علمياً ـ متميزاً ـ لهذا الكتاب الجليل: ـ أعلى وأكملَ ـ مما كتبه محدث الديار المصرية الأستاذ العلامة الشيخ أحمد بن محمد شاكر؛ المتوفى سنة (1377هـ) ـ تغمَّده الله برحمته ـ.

ولقد كانت كتابته المشار إليها ـ هذه ـ مقدمة حافلة لذلك المجلد الصغير الذي حققه وأخرجه رحمه الله من ((صحيح ابن حبان)) قبل أكثر من نصف
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

প্রকাশকের ভূমিকা

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই—তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই।

এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।

অতঃপর:

এই মহান কিতাবটির জন্য আমরা এর চেয়ে উচ্চতর ও পূর্ণাঙ্গ কোনো জ্ঞানগর্ভ ও স্বতন্ত্র ভূমিকা খুঁজে পাইনি, যা লিখেছেন মিশর ভূখণ্ডের মুহাদ্দিস উস্তাদ আল্লামা শাইখ আহমাদ বিন মুহাম্মাদ শাকের; মৃত্যু (১৩৭৭ হিজরি)—আল্লাহ তাঁকে তাঁর রহমতে আবৃত করুন।

তাঁর উল্লিখিত এই লেখাটি সেই ক্ষুদ্র খণ্ডটির একটি সমৃদ্ধ ভূমিকা ছিল, যা তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) আজ থেকে অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় আগে ‘সহীহ ইবনে হিব্বান’ থেকে তাহকিক ও সম্পাদনা করে প্রকাশ করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) আত-তালিকাতুল হিসান আলা সহীহ ইবনি হিব্বান (পৃষ্ঠা: ৪)
قرن من الزمان.

ولما كانت الصلات بين أهل الحديث ـ علماء وكبراء ـ منذ قديم الزمان ـ (متصلة) و (مسلسلة): كان (صحيحاً) جداً ـ فيما نرى ـ البدء بهذا المدخل؛ قوة، وجودة ومعرفة.

وبخاصة أنه كانت تربط الشيخ العلامة أحمد بن محمد شاكر رحمه الله مع مؤلف هذا الكتاب: أستاذنا الجليل الشيخ الإمام محمد ناصر الدين الألباني رحمه الله علاقة علمية منهجية رائقة ـ وعلى وجوه عدة ـ؛ سواء في اللقاء الشخصي (1)، أم في التوجه السلفي، أم في البحث العلمي، أم في التخصصِ الحديثي.

000فهاكم عيون فوائد مقدمة (2) الأستاذ العلامة المحدث أحمد بن محمد شاكر ـ لهذا الكتاب ـ؛ بكل ما أَوْقَرَهُ فيها ـ تغمده الله برحمته ـ من علمٍ حقٍّ صواب (3):

--------------------------------------------

(1) انظر كلام شيخنا العلامة الإمام الألباني رحمه الله في بعض ذلك ـ في كتابه ((تمام

المنة)) (ص75).

‌‌(2) مع تلخيص يسير لبعض ما لم نرَ فائدة (عظمى) في إثباته ـ هنا ـ مما هو ذو فائدة قيمةٍٍٍٍ

في نفسهِ ـ هناك ـ.

‌‌(3) ثم نتناول بعدها ـ إن شاء الله ـ بمبحث منفرد ـ الكلام حول ((التعليقات الحسان 000))، وما يتعلق به من تفصيلٍ وتأصيلٍ.

ونُتْبِعُ ذلك ـ بتوفيق من الله ـ بإيراد نماذج متعددة من تعليقات شيخنا المؤلف رحمه الله، وحواشيه، وتخريجاته ـ بخطه ـ.

والموفق الله.
এক শতাব্দী কাল।

যেহেতু প্রাচীনকাল থেকেই আহলে হাদীসদের—বিদ্বান ও বরেণ্য ব্যক্তিদের—মধ্যে সম্পর্ক ছিল (অবিচ্ছিন্ন) ও (পরম্পরাগত); তাই আমাদের দৃষ্টিতে এই ভূমিকাটি দিয়ে শুরু করা অত্যন্ত (যথাযথ); যা শক্তি, উৎকর্ষ ও জ্ঞানের পরিচায়ক।

বিশেষ করে যেহেতু শায়খ আল্লামা আহমদ বিন মুহাম্মদ শাকির (রাহিমাহুল্লাহ)-এর সাথে এই গ্রন্থের লেখক—আমাদের মহান উস্তাদ শায়খ ইমাম মুহাম্মদ নাসিরুদ্দীন আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ)—এর এক স্বচ্ছ ইলমী ও মানহাজী সম্পর্ক ছিল, যা বিভিন্ন দিক থেকে পরিলক্ষিত হয়; চাই তা ব্যক্তিগত সাক্ষাতের (১) মাধ্যমে হোক, কিংবা সালাফী চিন্তাধারার ক্ষেত্রে, কিংবা ইলমী গবেষণার ক্ষেত্রে, অথবা হাদীস শাস্ত্রের বিশেষত্বের ক্ষেত্রে।

০০০ এই সেই গ্রন্থটির জন্য উস্তাদ আল্লামা মুহাদ্দিস আহমদ বিন মুহাম্মদ শাকির-এর ভূমিকার (২) বাছাইকৃত প্রধান উপকারিতাগুলো; যা তিনি এতে সন্নিবেশিত করেছেন—আল্লাহ তাকে স্বীয় রহমতে সিক্ত করুন—সত্য ও সঠিক ইলমের মাধ্যমে (৩):

--------------------------------------------

(১) এ বিষয়ে আমাদের শায়খ আল্লামা ইমাম আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর কিছু বক্তব্য দেখুন তাঁর গ্রন্থ 'তামামুল মিন্নাহ' (পৃ. ৭৫)-এ।

‌‌(২) এমন কিছু বিষয়ের সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপসহ, যেগুলোর এখানে উল্লেখ করার মধ্যে (বিরাট) কোনো উপকারিতা আমরা দেখছি না, যদিও মূল স্থানে সেগুলো অত্যন্ত মূল্যবান।

‌‌(৩) এরপর ইনশাআল্লাহ আমরা পৃথক একটি পরিচ্ছেদে 'আত-তালিকাতুল হিসান...' সংক্রান্ত আলোচনা এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিস্তারিত বিবরণ ও মূলনীতিসমূহ নিয়ে আলোচনা করব।

আল্লাহর তৌফিকে আমরা এর সাথে আমাদের শায়খ লেখকের (রাহিমাহুল্লাহ) নিজ হাতের লেখা বিভিন্ন টীকা, পাদটীকা এবং তাখরীজের নানাবিধ নমুনা যুক্ত করব।

আল্লাহই তৌফিকদাতা।
(খণ্ড: ১) আত-তালিকাতুল হিসান আলা সহীহ ইবনি হিব্বান (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله العزيز القهار، الصمد الجبار، العالم بالأسرار، الذي اصطفى سيد البشر محمد بن عبد الله بنبوته ورسالته، وحذر جميع خلقه مخالفته، فقال عز من قائل: (فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا) ـ صلوات الله عليه وعلى آله أجمعين ـ.

أما بعد:

فإن الله ـ تعالى ذكره ـ أنعم على هذه الأمة بإصطفائه بصحبة نبيه صلى الله عليه وسلم أخيار خلقه في عصره، وهم الصحابة النجباء، البررة الأتقياء، لزموه في الشدة والرخاء، حتى حفظوا عنه ما شَرعَ لأمته بأمر الله، ثم نقلوه إلى أتباعهم، ثم كذلك ـ عصراً بعد عصرٍ ـ إلى عصرنا هذا؛ وهو هذه الأسانيد المنقولة إلينا: بنقل العدل عن العدل، وهي كرامة من الله لهذه الأمة، خصهم بها دون سائر الأمم.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা মহান প্রতাপশালী, মহাপরাক্রমশালী, অমুখাপেক্ষী, সর্বজয়ী এবং সকল রহস্যের পরিজ্ঞাতা আল্লাহর জন্য; যিনি মানবজাতির সর্দার মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহকে তাঁর নবুওয়াত ও রিসালাত দিয়ে মনোনীত করেছেন এবং তাঁর সৃষ্টির সকল অংশকে তাঁর অবাধ্যতা থেকে সতর্ক করেছেন। মহান সত্তা বলেছেন: "অতএব তোমার রবের শপথ! তারা ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ না তারা তাদের বিবাদপূর্ণ বিষয়ে তোমাকে বিচারক মানবে, অতঃপর তুমি যে ফয়সালা করবে সে সম্পর্কে তাদের মনে কোনোরূপ দ্বিধা না থাকে এবং তা তারা সানন্দে মেনে নেয়।" আল্লাহর দরুদ তাঁর ওপর এবং তাঁর সকল পরিবারের ওপর বর্ষিত হোক।

অতঃপর:

আল্লাহ তা'আলা—তাঁর স্মরণ অতি উচ্চ—এই উম্মতের ওপর এই অনুগ্রহ করেছেন যে, তিনি তাঁর নবীর (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) সাহচর্যের জন্য তাঁর সমসাময়িক সৃষ্টির সর্বোত্তম ব্যক্তিদের মনোনীত করেছেন। তাঁরা হলেন মহানুভব, পুণ্যবান ও মুত্তাকী সাহাবীগণ। তাঁরা সুদিন ও দুর্দিন উভয় অবস্থায় তাঁর সঙ্গে থেকেছেন, এমনকি আল্লাহর নির্দেশে তিনি তাঁর উম্মতের জন্য যা কিছু বিধান দান করেছেন তা তাঁরা তাঁর কাছ থেকে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করেছেন। এরপর তাঁরা তা তাঁদের অনুসারীদের নিকট পৌঁছে দিয়েছেন। অতঃপর একইভাবে যুগ হতে যুগান্তরে তা আমাদের এই যুগ পর্যন্ত পৌঁছেছে; আর তা হলো আমাদের নিকট বর্ণিত এই সনদসমূহ: যা একজন ন্যায়পরায়ণ বর্ণনাকারী থেকে অপর ন্যায়পরায়ণ বর্ণনাকারীর মাধ্যমে এসেছে। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে এই উম্মতের জন্য এক বিশেষ সম্মান, যা তিনি অন্য সকল উম্মতকে বাদ দিয়ে কেবল এই উম্মতকেই দান করেছেন।
(খণ্ড: ১) আত-তালিকাতুল হিসান আলা সহীহ ইবনি হিব্বান (পৃষ্ঠা: ৬)
ثم قيض الله لكل عصر جماعة من علماء الدين، وأئمة المسلمين، يُزَكُّون رواة الأخبار، ونقلة الآثار، ليذبوا به الكذب عن وحي الملك الجبار.

فمن هؤلاء الأئمة: أبو عبد الله محمد بن إسماعيل الجعفي (1)، وأبو الحسينِ مسلم بن حجاج القشيري رضي الله عنهما: صَنَّفَا في صحيح الأخبار: كتابين مهذبين، انتشر ذكرهما في الأقطار (2).

وقد التزم الشيخان ـ البخاري ومسلم ـ أن يخرجا في كتابيهما الصحيح من الحديث، بل أعلى أنواع الحديث درجة، ولم يلتزما ـ ولا واحد منهما ـ استيعاب الصحيح كله، بل تركا كثيراً من الصحيح الذي على شرطهما، والصحيح الذي هو أقل درجة من شرطهما.

وتبعهما في صنع كتب تقتصر على صحيح الحديث كثير من الحفَّاظ الأئمة الكبار؛ منهم:

ابن خزيمة، الحافظ الكبير، إمام الأئمة، شيخ الإسلام، أبو بكر محمد بن إسحاق بن خزيمة النيسابوري، ولد سنة 223هـ، وتوفي سنة 311 هـ، عن89 سنة.

صنَّف كتابه المشهور ((صحيح ابن خزيمة)) ولم نره قط، ولا ندري! لعله

--------------------------------------------

(1) هو البخاري رحمه الله.

‌‌(2) من أول الخطبة إلى هنا: هو نص خطبة الحاكم أبي عبد الله [المتوفى سنة (405هـ)]، في كتاب (المستدرك على الصحيحين) ـ المطبوع في حيدر آباد بالهند سنة 1334 هـ.
অতঃপর আল্লাহ প্রত্যেক যুগের জন্য দ্বীনি আলেম এবং মুসলিম ইমামদের এক জামাতকে মনোনীত করেছেন, যারা সংবাদের বর্ণনাকারী এবং আছার (পরম্পরা) বাহকদের নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করেন, যাতে এর মাধ্যমে প্রতাপশালী বাদশাহর ওহী থেকে মিথ্যাকে দূর করা যায়।

এই ইমামদের মধ্যে রয়েছেন: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল আল-জু'ফী (১), এবং আবু আল-হুসাইন মুসলিম ইবনে হাজ্জাজ আল-কুশাইরী (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হোন): তাঁরা সহীহ সংবাদের ক্ষেত্রে দুটি পরিমার্জিত কিতাব রচনা করেছেন, যেগুলোর খ্যাতি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে (২)।

শায়খাইন—বুখারী ও মুসলিম—তাঁদের কিতাবদ্বয়ে সহীহ হাদীসসমূহ সংকলন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, বরং হাদীসের প্রকারভেদে সর্বোচ্চ স্তরের হাদীসগুলোই (তাঁরা গ্রহণ করেছেন)। তবে তাঁরা—কিংবা তাঁদের কেউ একজনও—সমস্ত সহীহ হাদীসকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দেননি; বরং তাঁরা অনেক সহীহ হাদীস বাদ দিয়েছেন যা তাঁদের শর্তানুযায়ী ছিল, এবং এমন সহীহ হাদীসও যা তাঁদের শর্তের চেয়ে নিম্নমানের ছিল।

শুধুমাত্র সহীহ হাদীসের ওপর সীমাবদ্ধ কিতাব রচনার ক্ষেত্রে অনেক হাফেয ও বড় বড় ইমামগণ তাঁদের অনুসরণ করেছেন; তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:

ইবনে খুজাইমাহ, মহান হাফেয, ইমামদের ইমাম, শাইখুল ইসলাম, আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে খুজাইমাহ আন-নিশাপুরী। তিনি ২২৩ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৩১১ হিজরিতে ৮৯ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।

তিনি তাঁর প্রসিদ্ধ কিতাব "সহীহ ইবনে খুজাইমাহ" রচনা করেছেন, যা আমরা কখনো দেখিনি, এবং আমরা জানি না! সম্ভবত এটি

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন আল-বুখারী (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)।

‌‌(২) খুতবার শুরু থেকে এ পর্যন্ত: এটি হলো আল-হাকিম আবু আব্দুল্লাহর [মৃত্যু (৪০৫ হিজরি)] খুতবার মূল পাঠ, যা (আল-মুস্তাদরাক আলাস-সাহীহাইন) কিতাবে রয়েছে—যা ভারতের হায়দ্রাবাদে ১৩৩৪ হিজরিতে মুদ্রিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আত-তালিকাতুল হিসান আলা সহীহ ইবনি হিব্বান (পৃষ্ঠা: ৭)
يوجد منه نسخ مخطوطة لم تصل إلينا، ولم يصل إلينا خبرها، وعسى أن يجده من يُعنى بتحقيقه ونشره نشرا علميا صحيحاً (1).

ثم تبعه تلميذه: ابن حبان، الإمام الحافظ العلامة، أبو حاتم محمد بن حبان التميمي البستي، مات سنة 356هـ، عن نحو 80 سنة.

صنف كتابه الذي سماه ((المسند الصحيح على التقاسيم والأنواع، من غير وجود قطعٍ في سندها، ولا ثبوت جرح في ناقليها))، الذي عُرف بين علماء الحديث باسم: ((التقاسيم والأنواع))، واشتهر بينهم ـ وعلى ألسنة الناس ـ باسم: ((صحيح ابن حبان)).

ثم تبعه تلميذه: الحاكم أبو عبد الله، الحافظ الكبير الحجة، إمام المحدثين في عصره، أبو عبد الله محمد بن عبد الله الضبي النيسابوري، المشهور بالحاكم، والمعروف بابن البَيِّعِ، ولد في ربيع الأول سنة 321هـ، ومات في صفر سنة 405 هـ.

صنَّف كتاب ((المستدرك على الصحيحين))، وهو معروف مطبوع، كما أشرنا إلى ذلك ـ آنفاً ـ.

وهذه الكتب ـ الثلاثة ـ هي أهم الكتب التي أُلِّفَتْ في الصحيح المجرد، بعد ((الصحيحين)) ـ للبخاري ومسلم ـ.

ولطالما فكَّرت في طبع الأولين منها: ((صحيح ابن خزيمة))، و ((صحيح ابن حبان))

--------------------------------------------

(1) وقد وجدت منه قطعة حسنة، طبعت في أربعة مجلدات، حققها الدكتور محمد مصطفى الأعظمي، وراجع تخريج أحاديثها، واستدرك كثيراً من أحكامها: شيخنا الإمام ـ مؤلف هذا الكتاب ـ الشيخ المحدث محمد ناصر الدين الألباني رحمه الله.
এর কিছু পাণ্ডুলিপি বিদ্যমান ছিল যা আমাদের কাছে পৌঁছায়নি এবং এগুলোর কোনো সংবাদও আমাদের কাছে আসেনি। আশা করা যায় যে, যারা এটি সম্পাদনা এবং সঠিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে প্রকাশ করার দায়িত্ব নিবেন তারা এটি খুঁজে পাবেন (১)।

এরপর তাঁর অনুসরণ করেছেন তাঁর ছাত্র: ইবনে হিব্বান। তিনি হলেন ইমাম, হাফেজ, আল্লামা আবু হাতিম মুহাম্মদ বিন হিব্বান আত-তামিমি আল-বুস্তি। তিনি ৩৫৬ হিজরিতে প্রায় ৮০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।

তিনি তাঁর গ্রন্থটি সংকলন করেন যার নামকরণ করেন "আল-মুসনাদ আস-সহিহ আলাত তাকাসিম ওয়াল আনওয়া, মিন গইরি উজূদি কতয়িন ফি সনাদিহা, ওয়ালা সুবূতি জারহিন ফি নাকিলিহা", যা হাদিস বিশারদদের নিকট "আত-তাকাসিম ওয়াল আনওয়া" নামে পরিচিত এবং তাঁদের মাঝে ও সাধারণ মানুষের মুখে এটি "সহিহ ইবনে হিব্বান" নামে প্রসিদ্ধ।

এরপর তাঁর অনুসরণ করেছেন তাঁর ছাত্র: আল-হাকিম আবু আব্দুল্লাহ। তিনি মহান হাফেজ ও হুজ্জাত (দলিল), তাঁর যুগের মুহাদ্দিসগণের ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আদ-দব্বি আন-নিশাপুরি। তিনি আল-হাকিম নামে মশহুর এবং ইবনে আল-বায়্যি হিসেবে পরিচিত। তিনি ৩২১ হিজরির রবিউল আউয়াল মাসে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৪০৫ হিজরির সফর মাসে মৃত্যুবরণ করেন।

তিনি "আল-মুস্তাদরাক আলাস সহিহাইন" গ্রন্থটি সংকলন করেছেন এবং এটি সুপরিচিত ও মুদ্রিত, যেমনটি আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি।

আর এই তিনটি গ্রন্থ হলো শুধুমাত্র সহিহ হাদিস সংকলনের ক্ষেত্রে রচিত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ, (বুখারি ও মুসলিমের) "সহিহাইন"-এর পর।

আমি দীর্ঘকাল যাবত এগুলোর প্রথম দুটি গ্রন্থ: "সহিহ ইবনে খুজাইমা" এবং "সহিহ ইবনে হিব্বান" ছাপানোর বিষয়ে চিন্তা করেছি।

--------------------------------------------

(১) এর একটি উত্তম অংশ পাওয়া গিয়েছে যা চার খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে। এটি সম্পাদনা করেছেন ডক্টর মুহাম্মদ মোস্তফা আল-আযামি এবং এর হাদিসগুলোর তাখরিজ পর্যালোচনা করেছেন ও এর অনেক হুকুমের (বিচারের) ওপর পর্যবেক্ষণ প্রদান করেছেন: আমাদের শাইখ ও ইমাম—এই গ্রন্থের লেখক—শাইখ মুহাদ্দিস মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানি রহিমাহুল্লাহ।
(খণ্ড: ১) আত-তালিকাতুল হিসান আলা সহীহ ইবনি হিব্বান (পৃষ্ঠা: ৮)
ثم أُحجم؛ لأن لا أجد الفرصة المواتية، وأن لا أجد نسخاً منهما ـ أو من أحدهما ـ.

وكنت أعرف ـ منذ عهدي بطلب الحديث وخدمته ـ منذ أول الشباب ـ أن الأمير علاء الدين الفارسي رتب ((صحيح ابن حبان)) على الأبواب، وسماه: ((الإحسان في تقريب صحيح ابن حبان))، وأن نسخته كاملة بدار الكتب المصرية، في 9 مجلدات كبيرة.

فلما تهيأت الفرصة ـ بعون الله وتوفيقه ـ فكرت في طبع ((ترتيبِ)) الأمير علاء الدين، على كراهيتي للتصرف في كتب الأئمة القدماء (1)، وحرصي على أن تخرج للناس على الوضع الذي صنعه عليه مؤلفوها رحمهم الله، ولكن لم أجد بُدًّا مما ليس منه بد: أنَّ كتاب ابن حبان ـ الأصلي ـ غير موجود فيما وصل إلينا من العلم بالكتب ومظانِّ وجودها (2)

أما بعد:

فهذا ((صحيح ابن حبان)) (3)، وهو الاسم الذي اخترته له، وأن لم يكن أحد

--------------------------------------------

(1) وهذا أمر اجتهادي؛ لأهل العلم فيه طرائق ـ و ((الأنظار تختلف)) ـ كما قاله الشيخ أحمد شاكر ـ نفسه ـ فيما سيأتي (ص 14) ـ.

‌‌(2) ثم قد ذكر الأستاذ شاكر رحمه الله في (مقدمته) (ص7) ـ هنا ـ وقوفه على بعض قطع من مخطوطة ((التقاسيم والأنواع)) ـ هذا ـ، ووصفها.

‌‌(3) ومعه تعليقات العلامة المحدث الألباني رحمه الله عليه ـ المسماة: ((التعليقات الحسان على صحيح ابن حبان))، وهو هذا الكتاب ـ والحمد لله ـ.
এরপর আমি পিছিয়ে যেতাম; কারণ আমি উপযুক্ত সুযোগ পেতাম না এবং সেগুলোর কোনো পান্ডুলিপি—অথবা সেগুলোর অন্তত একটিরও—খুঁজে পেতাম না।

আর আমি হাদিস অন্বেষণ ও তার খেদমতের সময় থেকেই—অর্থাৎ প্রথম যৌবন থেকেই—জানতাম যে, আমির আলাউদ্দিন আল-ফারিসি 'সহিহ ইবনে হিব্বান'কে অধ্যায় অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছেন এবং এর নাম দিয়েছেন: 'আল-ইহসান ফি তাকরিব সহিহ ইবনে হিব্বান'। আর এর পূর্ণাঙ্গ কপি মিসরের 'দারুল কুতুব'-এ ৯টি বিশাল খণ্ডে সংরক্ষিত আছে।

অতঃপর আল্লাহর সাহায্য ও তাওফিকে যখন সুযোগ তৈরি হলো, তখন আমি প্রাচীন ইমামদের কিতাবসমূহে কোনো ধরনের রদবদল করা অপছন্দ করা সত্ত্বেও (১) এবং গ্রন্থকারগণ (আল্লাহ তাঁদের ওপর রহম করুন) যেভাবে কিতাবগুলো রচনা করেছেন ঠিক সেভাবেই মানুষের সামনে তা প্রকাশ করার প্রতি আমার প্রবল আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও আমির আলাউদ্দিনের 'বিন্যাস'টি মুদ্রণের কথা চিন্তা করলাম। কিন্তু যা অনিবার্য তা থেকে নিস্তার নেই: আর তা হলো কিতাবাদি সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান এবং সেগুলো পাওয়ার সম্ভাব্য স্থানসমূহের তথ্যানুযায়ী ইবনে হিব্বানের 'মূল' কিতাবটি বর্তমানে আমাদের কাছে বিদ্যমান নেই (২)।

অতঃপর:

এটিই হলো 'সহিহ ইবনে হিব্বান' (৩), আর এটিই সেই নাম যা আমি এর জন্য চয়ন করেছি, যদিও অন্য কেউ...

--------------------------------------------

(১) এটি একটি ইজতিহাদি (গবেষণামূলক) বিষয়; আলেমদের এ ব্যাপারে বিভিন্ন পন্থা রয়েছে—এবং 'দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন হতে পারে'—যেমনটি শাইখ আহমাদ শাকির নিজেই সামনে (পৃষ্ঠা ১৪) উল্লেখ করেছেন।

‌‌(২) এরপর উস্তাদ শাকির (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) এখানে তাঁর (ভূমিকা)-র (পৃষ্ঠা ৭) অংশে এই 'আত-তাকাসিম ওয়াল আনওয়া'-এর পান্ডুলিপির কিছু অংশের সন্ধান পাওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন এবং সেগুলোর বর্ণনা দিয়েছেন।

‌‌(৩) এবং এর সাথে আল্লামা মুহাদ্দিস আলবানী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)-এর টীকা রয়েছে—যার নাম: 'আত-তালিকাতুল হিসান আলা সহিহ ইবনে হিব্বান'; আর এটিই সেই কিতাব—সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর।
(খণ্ড: ১) আত-তালিকাতুল হিসান আলা সহীহ ইবনি হিব্বান (পৃষ্ঠা: ৯)
الاسمين الذين أطلقهما عليه المؤلفان؛ فإن لكتابنا هذا ـ كما عرفت ـ مؤلفين:

أحدهما: الراوي والجامع والمختار، والمصنف ـ على نمط معين، ونظام مبتدع ـ.

والآخر: المُرَتِّبْ على الوضع الحالي، على الكتب والأبواب، التي صنفت عليها أكثر دواوين العلم، في الحديث والفقه، منذ عهد مالك في ((الموطَّإ))، ثم من تبعه من الأئمة والعلماء ،على تباين آرائهم في التقسيم والتبويب، وطرق اختيارهم في التقديم والتأخير.

وإنما اخترت هذا الاسم ـ ((صحيح ابن حبان)) ـ دون الاسمين الآخرين؛ لأنه المطابق للكتاب ـ على الحقيقة ـ؛ فعلى أي ترتيب كان؛ فهو ((صحيح ابن حبان))، وهو الاسم الأشهر والأَسْيَرُ على ألسنة المحدثين والفقهاء والمخرِّجين، وعلى ألسنة الناس كافة، يقولون ـ إذا نسبوا إليه حديثاً ـ: (أخرجه ابن حبان في ((صحيحه)))، أو: (صححه ابن حبان)، أو نحو ذلك من العبارات، فهو في لسانهم ـ أبداً: ـ ((صحيح ابن حبان)) يريدون: أنه رواه وأخرجه، واختاره وصححه، فسواء تقدم الحديث أو تأخر ـ في ترتيب ابن حبان الذي صنع ـ فهو

حديث رواه في كتابه، مختاراً له على شرطه، ومصححاً.

هذا إذا ما خَرَّجُوا منه حديثاً، أو نسبوه إليه، على الأكثر الغالب، الذي يندُرُ أن يقولوا غيره.

أما أذا ما تحدَّثُوا عن الكتاب نفسه، في كتب المصطلح، أو كتب التراجم ـ ونحوها ـ فإنهم أكثر ما يقولون في تسميته: " التقاسيم والأنواع "، وهذا
সেই দুটি নাম যা লেখকদ্বয় একে প্রদান করেছেন; কারণ আমাদের এই বইটির জন্য—যেমনটি আপনি জেনেছেন—দুজন রচয়িতা রয়েছেন:

তাঁদের একজন হলেন: বর্ণনাকারী, সংকলক, চয়নকারী এবং রচয়িতা—একটি নির্দিষ্ট শৈলী এবং উদ্ভাবিত পদ্ধতিতে—।

এবং অন্যজন হলেন: বর্তমান বিন্যাস অনুযায়ী সাজানো ব্যক্তি, যা কিতাব ও অধ্যায়ভিত্তিক বিন্যস্ত, যার ওপর ভিত্তি করে হাদীস ও ফিকহের অধিকাংশ ইলমী সংকলন রচিত হয়েছে—মালিকের 'মুয়াত্তা'র যুগ থেকে শুরু করে পরবর্তীতে যে সকল ইমাম ও আলেম এসেছেন, তাঁদের শ্রেণিবিভাগ, পরিচ্ছেদ গঠন এবং আগে-পিছে করার পদ্ধতির ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও।

আমি অন্য দুটি নামের পরিবর্তে এই নামটি—'সহীহ ইবনে হিব্বান'—বেছে নিয়েছি; কারণ এটিই প্রকৃতপক্ষে কিতাবটির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ; এটি যে বিন্যাসেই থাকুক না কেন, এটি 'সহীহ ইবনে হিব্বান'; আর মুহাদ্দিসগণ, ফকীহগণ, তাখরীজকারীগণ এবং সর্বস্তরের মানুষের মুখে এটিই সবচেয়ে প্রসিদ্ধ ও প্রচলিত নাম। তাঁরা যখন কোনো হাদীসকে এর দিকে সম্বন্ধ করেন, তখন বলেন: 'ইবনে হিব্বান তাঁর সহীহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন', অথবা 'ইবনে হিব্বান এটিকে সহীহ বলেছেন', অথবা এই জাতীয় বাক্য। তাই তাঁদের মুখে এটি সর্বদা—'সহীহ ইবনে হিব্বান'। এর দ্বারা তাঁরা বোঝাতে চান যে, তিনি এটি বর্ণনা করেছেন, উদ্ধৃত করেছেন, নির্বাচন করেছেন এবং সহীহ বলেছেন। সুতরাং ইবনে হিব্বানের তৈরিকৃত বিন্যাসে হাদীসটি আগে আসুক বা পরে—তা হলো

একটি হাদীস যা তিনি তাঁর কিতাবে বর্ণনা করেছেন, তাঁর শর্তানুযায়ী তা নির্বাচন করেছেন এবং সহীহ সাব্যস্ত করেছেন।

এটি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ঘটে থাকে যখন তাঁরা কোনো হাদীস এখান থেকে তাখরীজ করেন বা এর দিকে নিসবত করেন, যা ব্যতীত অন্য কিছু বলা বিরল।

তবে তাঁরা যখন মুসতালাহ (হাদীস শাস্ত্রের পরিভাষা) বা জীবনীগ্রন্থ এবং এই জাতীয় কিতাবসমূহে স্বয়ং গ্রন্থটি সম্পর্কে আলোচনা করেন, তখন এর নাম হিসেবে তাঁরা সবচেয়ে বেশি বলেন: "আত-তাকাসিম ওয়া আল-আনওয়া" (ভাগ ও প্রকারভেদ), আর এটিই
(খণ্ড: ১) আত-তালিকাতুল হিসান আলা সহীহ ইবনি হিব্বান (পৃষ্ঠা: ১০)
الاسم هو الذي كنا نعرف به الكتاب من أقوالهم قبل أن نراه، وكنا نظن ـ بكثرة ما كرروه وقالوه ـ أنه اسمه العلم الذي وضعه له مؤلفه الحافظ الكبير.

وفي الندرة النادرة أن يطلقوا عليه اسم "الأنواع " ـ فقط ـ؛ كما صنع الحافظ الذهبي في ترجمة ابن حبان في كتاب ((تذكرة الحافظ)) (3/ 126)، قال: (قال ابن حبان في كتاب " الأنواع ")، أو ((كتاب الأنواع والتقاسيم))! كما صنع صاحب ((كشف الظنون)) (1)!

ثم كان من توفيق الله أن وقَعَتْ لي القطعة الأولى من الكتاب، وهي قطعةٌ أستطيع أن أثق بها؛ فوجدت فيها عنوان الكتاب ـ هكذا ـ:

--------------------------------------------

(1) من عجب أن صاحب ((كشف الظنون)) اضطرب قوله في اسم الكتاب، فذكره ثلاث مرات في ثلاثة مواضع بثلاثة أسماء:

ـ سماه في (حرف التاء): ((التقاسيم والأنواع في الحديث))، (1/ 317 من طبعة الأستانة بمطبعة ((العالم)) سنة 1310ـ1311هـ)، و (1: 463 من طبعة الأستانة بالمطبعة الحكومية سنة 1360ـ1362هـ).

ـ وسماهُ في (حرف الصاد): ((صحيح ابن حبان))، (2: 77 من الطبعة الأولى)، و (2: 1075 من الطبعة الثانية).

ـ وسماه في (حرف الكاف): (كتاب ((الأنواع والتقاسيم)) لابن حبان .... وهو المعروف بـ ((صحيح ابن حبان)))، (267: 2)، (1400: 2).

وهذا الاضطراب يدلنا على أن صاحب ((كشف الظنون)) لم يَرَ الكتاب، وإنَّما وصف عما نقل من الكتب!
এটি সেই নাম যার মাধ্যমে আমরা গ্রন্থটি দেখার আগে তাদের বক্তব্য থেকে একে চিনতাম। তারা এটি এত বেশি পুনরাবৃত্তি করত এবং বলত যে, আমরা ধারণা করতাম এটিই সেই আনুষ্ঠানিক নাম যা এর রচয়িতা মহান হাফেজ গ্রন্থটির জন্য নির্ধারণ করেছেন।

খুবই বিরল ক্ষেত্রে তারা একে কেবল "আল-আনওয়া" নামে অভিহিত করতেন; যেমন হাফেজ জাহাবী ইবনে হিব্বানের জীবনীতে "তাজকিরাতুল হাফেজ" গ্রন্থে (৩/ ১২৬) করেছেন, তিনি বলেছেন: (ইবনে হিব্বান "আল-আনওয়া" গ্রন্থে বলেছেন), অথবা "কিতাবুল আনওয়া ওয়াত তাকাসিম"! যেমন "কাশফুয যুনুন" এর লেখক (১) করেছেন!

অতঃপর আল্লাহর তাওফীকে আমি গ্রন্থটির প্রথম অংশটি লাভ করি, এবং এটি এমন একটি অংশ যা আমি বিশ্বাস করতে পারি; সেখানে আমি গ্রন্থের শিরোনাম এভাবে পেলাম:

--------------------------------------------

(১) আশ্চর্যের বিষয় হলো যে, "কাশফুয যুনুন" এর লেখক গ্রন্থের নামের ব্যাপারে বিভ্রান্তিতে ছিলেন, তিনি তিনটি স্থানে তিনটি ভিন্ন নামে এটি উল্লেখ করেছেন:

— তিনি (তা হরফের অধীনে) এর নামকরণ করেছেন: "আত-তাকাসিম ওয়াল আনওয়া ফিল হাদিস", (১/ ৩১৭, আস্তানা সংস্করণ, "আল-আলাম" ছাপাখানা, ১৩১০-১৩১১ হিজরি), এবং (১: ৪৬৩, আস্তানা সংস্করণ, সরকারি ছাপাখানা, ১৩৬০-১৩৬২ হিজরি)।

— এবং (সোয়াদ হরফের অধীনে) এর নাম দিয়েছেন: "সহীহ ইবনে হিব্বান", (প্রথম সংস্করণে ২: ৭৭), এবং (দ্বিতীয় সংস্করণে ২: ১০৭৫)।

— এবং (কাফ হরফের অধীনে) এর নামকরণ করেছেন: (ইবনে হিব্বানের "কিতাবুল আনওয়া ওয়াত তাকাসিম"... যা "সহীহ ইবনে হিব্বান" নামে পরিচিত), (২: ২৬৭), (২: ১৪০০)।

আর এই বিভ্রান্তি আমাদের নির্দেশ করে যে "কাশফুয যুনুন" এর লেখক গ্রন্থটি দেখেননি, বরং তিনি অন্যান্য কিতাব থেকে যা উদ্ধৃত করা হয়েছে কেবল তা থেকেই এর বর্ণনা দিয়েছেন!
(খণ্ড: ১) আত-তালিকাতুল হিসান আলা সহীহ ইবনি হিব্বান (পৃষ্ঠা: ১১)
(المسند الصحيح على التقاسيم والأنواع،

من غير وجود قطع في سندها،

ولا ثبوت جرح في ناقليها):

فَرَجَحَ عندي ـ بل استيقنت ـ أن هذا هو الاسم الصحيح للكتاب، الاسم الذي سماه به مؤلفه، وزادني بذلك ثقة: أن الحافظ الذهبي نقل في ترجمة ابن حبان في ((تذكرة الحفاظ)) (3/ 126) بعض ما قال أبو سعيد الإدريسي (1) في الثناء على ابن حبان قال: ((كان على قضاء سمرقند زمانا، وكان من فقهاء الدين، وحُفَّاظِ الآثار، عالما بالطب والنجوم، وفنون العلم، صنَّفَ ((المسند

الصحيح))، و ((التاريخ)) 000)) إلخ.

فهذا حافظ قديم، معاصر لابن حبان، سمع من شيوخ أقدم منه، مثل أبي العباس الأصم، المتوفى سنة 346هـ قبل ابن حبان بنحو 8 سنوات ـ، وهو من طبقة الحاكم تلميذ ابن حبان.

هذا المؤرخ القديم ـ المعاصر ـ سمى الكتاب بأول الاسم ـ على القطعة

--------------------------------------------

(1) هو الحافظ العالم أبو سعيد عبد الرحمن بن محمد بن عبد الله بن ادريس، محدث سمرقند، ومصنف ((تاريخها)) كان حافظا جليل القدر، كثير الحديث، توفي مع الحاكم أبي عبد الله في سنة واحدة، سنة 405هـ.

ترجمَهُ الذهبي في ((تذكرة الحفاظ)) (3/ 249ـ250)، والسمعاني في ((الأنساب)) ((ورقة22)).

قلنا: وفي ((سير أعلام النبلاء)) (7/ 226) ـ للذهبي ـ: ((أبو سعد))، وهو الأرجح ـ إن شاء الله ـ.
(বিভাজন ও প্রকার বিন্যাসের ভিত্তিতে সহিহ মুসনাদ,

যার সনদে কোনো বিচ্ছিন্নতা নেই,

এবং এর বর্ণনাকারীদের মাঝে কোনো ত্রুটি প্রমাণিত নয়):

আমার নিকট এটিই অগ্রগণ্য হয়েছে — বরং আমি নিশ্চিত হয়েছি — যে, এটিই কিতাবটির সঠিক নাম, যা এর লেখক নিজে নামকরণ করেছেন। এ বিষয়ে আমার আত্মবিশ্বাস আরও বৃদ্ধি পেয়েছে যে, হাফেজ যাহাবি 'তাজকিরাতুল হুফফাজ' (৩/১২৬) গ্রন্থে ইবনে হিব্বানের জীবনীতে আবু সাঈদ আল-ইদ্রিসির (১) কিছু প্রশংসা বাক্য উদ্ধৃত করেছেন। তিনি বলেছেন: "তিনি (ইবনে হিব্বান) দীর্ঘ সময় সমরকন্দের কাজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ছিলেন দ্বীনের ফকিহদের অন্তর্ভুক্ত এবং আছারের (হাদিস ও ঐতিহ্যের) হাফেজ। তিনি চিকিৎসা বিজ্ঞান, জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং জ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় বিজ্ঞ ছিলেন। তিনি 'আল-মুসনাদ

আস-সহিহ' এবং 'আত-তারিখ' ইত্যাদি রচনা করেছেন।"

ইনি হলেন একজন প্রাচীন হাফেজ, যিনি ইবনে হিব্বানের সমসাময়িক ছিলেন। তিনি তাঁর চেয়েও প্রাচীন শায়খদের নিকট থেকে হাদিস শুনেছেন, যেমন আবু আব্বাস আল-আসাম (যিনি ৩৪৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন—ইবনে হিব্বানের মৃত্যুর প্রায় ৮ বছর আগে)। তিনি ইবনে হিব্বানের ছাত্র হাকেমের সমপর্যায়ের ছিলেন।

এই প্রাচীন ও সমসাময়িক ইতিহাসবিদ কিতাবটির নামের প্রথম অংশটি উল্লেখ করেছেন — একটি খণ্ডিত বর্ণনার ভিত্তিতে

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন হাফেজ ও আলেম আবু সাঈদ আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন ইদ্রিস, সমরকন্দের মুহাদ্দিস এবং 'তারিখে সমরকন্দ'-এর রচয়িতা। তিনি অত্যন্ত মর্যাদাবান হাফেজ এবং অধিক হাদিস বর্ণনাকারী ছিলেন। তিনি আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকেমের সাথে একই বছর, অর্থাৎ ৪০৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

যাহাবি তাঁর জীবনী 'তাজকিরাতুল হুফফাজ' (৩/২৪৯-২৫০) গ্রন্থে এবং সাম'আনি 'আল-আনসাব' (পৃষ্ঠা ২২) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

আমরা বলছি: যাহাবির 'সিয়ারু আলামিন নুবালা' (৭/২২৬) গ্রন্থে "আবু সাদ" নাম এসেছে এবং ইনশাআল্লাহ এটিই অধিক বিশুদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা রাখে।
(খণ্ড: ১) আত-তালিকাতুল হিসান আলা সহীহ ইবনি হিব্বান (পৃষ্ঠা: ১২)
التي أشرنا إليها ـ.

والظاهر أنه قال هذا في كتابه الذي صنفه في ((تاريخ سمرقند)).

وما يُدرينا! لعل الحافظ الذهبي اختصر اسم الكتاب، فذكر أوَّلَهُ ـ فقط ـ ((المسند الصحيح))، إذا كان أبو سعيد الإدريسي ذكره كاملا!

لكن القرائن تكاد تقطع بصحة ما اسْتَيْقَنَّا، لذكر كلمة ((المسند الصحيح)) في كلام الإدريسي ولذكر اسم ((التقاسيم والأنواع)) على ألسنة المحدثين عامة، فهما جزءان من اسم الكتاب، وليس واحد منهما بمفرده اسمًا كاملا له.

والأمير علاء الدين الفارسي لم يصنع في كتاب ابن حبان غير الترتيب والتبويب المستحدث، لم يَخْرِمَ منه كلمة، ولم يُسْقِطْ منه حرفاً (1)، أثبت الكتاب ـ كُلَّهُ ـ بنصِّهِ ـ في مواضعه في الكتاب الجديد، حتى الخطبة، وما بعدها، وخواتيم الأقسام؛ أثبتها ـ كلها ـ في مقدمة ((الإحسان))؛ فكان كتابه كما كان أصلُهُ ((صحيح ابن حبان)).

--------------------------------------------

(1) وهذا تنبيهٌ مهمٌّ جداً.

وقارن بما سيأتي (ص25 ـ 26)
যার দিকে আমরা ইঙ্গিত করেছি—।

আর বাহ্যিক দৃষ্টিতে মনে হয় যে, তিনি এটি তাঁর সেই কিতাবে বলেছেন যা তিনি ‘তারীখে সমরকন্দ’ বিষয়ে রচনা করেছেন।

আমরা কীইবা জানি! হতে পারে হাফেজ যাহাবী কিতাবটির নাম সংক্ষিপ্ত করেছেন এবং কেবল এর প্রথমাংশ—‘আল-মুসনাদ আস-সাহীহ’—উল্লেখ করেছেন, যদি আবু সাঈদ আল-ইদ্রিসী এটি পূর্ণরূপে উল্লেখ করে থাকেন!

কিন্তু আনুষঙ্গিক প্রমাণাদি আমাদের সুনিশ্চিত বিষয়টিকে প্রায় অকাট্য করে দেয়; কেননা আল-ইদ্রিসীর বক্তব্যে ‘আল-মুসনাদ আস-সাহীহ’ শব্দের উল্লেখ রয়েছে এবং সাধারণ মুহাদ্দিসগণের মুখে ‘আত-তাকাসীম ওয়াল-আনওয়া’ নামটি প্রচলিত রয়েছে। সুতরাং এ দুটিই কিতাবটির নামের অংশ, এদের কোনোটিই এককভাবে এর পূর্ণ নাম নয়।

আর আমীর আলাউদ্দীন আল-ফারিসী ইবনে হিব্বানের কিতাবে আধুনিক বিন্যাস ও অধ্যায় নির্ধারণ ছাড়া নতুন কিছু করেননি; তিনি তা থেকে একটি শব্দও বিকৃত করেননি এবং একটি হরফও বাদ দেননি (১)। তিনি কিতাবটি পূর্ণাঙ্গভাবে—এর মূল পাঠসহ—নতুন কিতাবের যথাযথ স্থানে সাব্যস্ত করেছেন, এমনকি ভূমিকা ও এর পরবর্তী অংশ এবং পরিচ্ছেদসমূহের সমাপ্তি পর্যন্ত; তিনি এ সবকিছুই ‘আল-ইহসান’-এর মুখবন্ধে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। ফলে তাঁর কিতাবটি এর মূলের মতোই ‘সহীহ ইবনে হিব্বান’ হিসেবে রয়ে গেছে।

--------------------------------------------

(১) এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবাণী।

আর সামনে (পৃষ্ঠা ২৫-২৬) যা আসবে তার সাথে তুলনা করুন।
(খণ্ড: ১) আত-তালিকাতুল হিসান আলা সহীহ ইবনি হিব্বান (পৃষ্ঠা: ১৩)
((صحيح ابن حبان))

ـ ومنزلته بين ((الصحاح))

و ((صحيح ابن حبان)) كتاب نفيس، جليل القدر، عظيم الفائدة، حرَّرَهُ مؤلفه أدق تحرير، وجوَّده أحسن تجويد، وحقق أسانيده ورجاله، وعلل ما احتاج إلى تعليل من نصوص الأحاديث وأسانيدها، وتوثق من صحبة كل حديث اختاره على شرطه، ما أظنه أخل بشيء مما التزم، إلا ما يخطئُ فيه البشر، وما لا يخلو منه عالم محقق.

وقد رتب علماء هذا الفن ونقاده هذه الكتب الثلاث ـ التي التزم مؤلفوها رواية الصحيح من الحديث وحده ـ أعني: الصحيح المجرد ـ بعد ((الصحيحين)): البخاري ومسلم ـ على الترتيب الآتي:

((صحيح ابن خزيمة)).

((صحيح ابن حبان)).

((المستدرك)) ـ للحاكم ـ.

ترجيحاً منهم لكل كتاب منها على ما بعده، في إلتزام الصحيح المجرد، وإن
((সহীহ ইবনে হিব্বান))

— এবং 'সহীহ' গ্রন্থসমূহের মাঝে এর অবস্থান

‘সহীহ ইবনে হিব্বান’ একটি অমূল্য গ্রন্থ, যা সুউচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন এবং অত্যন্ত উপকারী। এর লেখক একে অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে সংকলন করেছেন, সর্বোত্তম নিপুণতায় সুশোভিত করেছেন এবং এর সনদ ও বর্ণনাকারীদের যাচাই করেছেন। হাদীসের মূল পাঠ ও সনদের যে অংশগুলোর ব্যাখ্যার প্রয়োজন ছিল, তিনি সেগুলোর ইল্লত (ত্রুটি) বর্ণনা করেছেন। তিনি স্বীয় শর্তানুযায়ী চয়নকৃত প্রতিটি হাদীসের বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করেছেন। আমার মনে হয় না যে, তিনি স্বীয় প্রতিশ্রুত বিষয়ের কোনো ব্যত্যয় ঘটিয়েছেন; তবে মানুষ হিসেবে যে ভুল হওয়া স্বাভাবিক এবং একজন বিজ্ঞ গবেষক আলেম যা থেকে মুক্ত নন, তা ভিন্ন কথা।

এই শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞ ও সমালোচকগণ এই তিনটি গ্রন্থকে—যাদের লেখকগণ শুধুমাত্র সহীহ হাদীস বর্ণনার দায়বদ্ধতা গ্রহণ করেছেন, অর্থাৎ বিশুদ্ধ সহীহ—'সহীহাইন' (বুখারী ও মুসলিম)-এর পরে নিম্নোক্ত ক্রমে বিন্যস্ত করেছেন:

((সহীহ ইবনে খুজায়মাহ))।

((সহীহ ইবনে হিব্বান))।

((আল-মুস্তাদরাক)) — ইমাম হাকীম সংকলিত।

বিশুদ্ধ সহীহ হাদীস বর্ণনার দায়বদ্ধতা রক্ষার বিচারে তারা এই গ্রন্থগুলোর একটিকে তার পরবর্তীটির ওপর অগ্রাধিকার দিয়েছেন, যদিও...
(খণ্ড: ১) আত-তালিকাতুল হিসান আলা সহীহ ইবনি হিব্বান (পৃষ্ঠা: ১৪)
وافق هذا ـ مصادفة ـ ترتيبهم الزمني، عن غير قصد إليه (1).

ولست أدري! أيَسْلَمُ لهم ما ذهبوا إليه من تقديم ((صحيح ابن خزيمة)) في درجة الصحة على ((صحيح ابن حبان))؟! فلعله؛ فإني لم أرَ ((صحيح ابن خزيمة))، حتى أتأمله، وأقطع فيه برأي، أو أُرَجِّحَ، والأنظار تختلف.

ولكني أستطيع أن أجزم ـ أو أرجح ـ أن ابن حبان لتصحيح الحديث في كتابه شروطا دقيقة واضحة بينة، وأنه وَفَّى بما اشترط ـ كما قال الحافظ ابن حجر (2) ـ إلا ما لا يخلو منه عالم أو كتاب، من السهو والغلط، أو من اختلاف الرأي في الجرح والتعديل، والتوثيق والتضعيف، والتعليل والترجيح.

وسترى شروطه في مقدمة كتابه ـ إن شاء الله ـ؛ فقد ساقها الأمير علاء الدين الفارسي بنصها ـ حرفاً حرفاً ـ.

وهو ـ فيما رأينا من كتابه ـ قد أخرج كتابه مستقلاً، لم يبنه على ((الصحيحين)) ولا على غيرهما، إنما أخرج كتابا كاملا.

وفي ((الشذرات)) ـ في ترجمة ابن حبان ـ: ((وأكثر نُقَّادِ الحديث على أن

--------------------------------------------

(1) وقد ساق الشيخ أحمد شاكر رحمه الله في المقدمة (ص11ـ 14) ـ هنا ـ في أكثر من ثلاث صفحات ـ نقولا عن عدد من أهل الحديث ـ في تقرير هذا الترتيب، ومناقشته؛ مما لم نر ـ في هذا المقام ـ فائدة (عُظمى) في إثباته.

‌‌(2) فيما نقله عنه السيوطي في ((تدريب الراوي)) (ص31 ـ32)، وحاجي خليفة في ((كشف الظنون)) (2/ 77) ـ في نقل الشيخ شاكر في (مقدمته) (ص13) ـ.

وأصل النص في ((النكت على ابن الصلاح)) (1/ 290) للحافظ رحمه الله.
এটি কাকতালীয়ভাবে তাদের কালানুক্রমিক বিন্যাসের সাথে মিলে গেছে, যা কোনো উদ্দেশ্য প্রণোদিত ছিল না (১)।

আমি জানি না! সহীহ হওয়ার স্তরের ক্ষেত্রে 'সহীহ ইবনে হিব্বান'-এর ওপর 'सहীহ ইবনে খুজায়মা'-কে প্রাধান্য দেওয়ার ব্যাপারে তারা যে মত পোষণ করেছেন তা কি সঠিক হতে পারে?! সম্ভবত তা হতে পারে; কারণ আমি 'সহীহ ইবনে খুজায়মা' দেখিনি যে এটি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা করব এবং এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেব অথবা কোনো এক পক্ষকে প্রাধান্য দেব। আর একেকজনের দৃষ্টিভঙ্গি একেক রকম হয়ে থাকে।

তবে আমি এটি নিশ্চিত করে—অথবা জোরালোভাবে—বলতে পারি যে, ইবনে হিব্বান তাঁর গ্রন্থে হাদীস সহীহ সাব্যস্ত করার জন্য কিছু সূক্ষ্ম, স্পষ্ট ও প্রাঞ্জল শর্তারোপ করেছেন। হাফেজ ইবনে হাজার (২) যেমনটি বলেছেন—তিনি তাঁর শর্তসমূহ পূর্ণও করেছেন; কেবল ওইসব বিষয় ব্যতিরেকে যা থেকে কোনো আলিম বা কোনো কিতাবই মুক্ত নয়, যেমন: বিস্মৃতি, ভুল অথবা জারহ-তাদীল (সমালোচনা ও গুণগান), তাওষীক-তাদয়ীফ (নির্ভরযোগ্যতা ও দুর্বলতা প্রদান) এবং তালী-তারজীহ (ত্রুটি অন্বেষণ ও অগ্রাধিকার দান) সংক্রান্ত মতপার্থক্য।

ইনশাআল্লাহ আপনি তাঁর গ্রন্থের ভূমিকায় তাঁর শর্তসমূহ দেখতে পাবেন; আমীর আলাউদ্দিন আল-ফারসী তা হুবহু—অক্ষরে অক্ষরে—উদ্ধৃত করেছেন।

তাঁর কিতাব থেকে আমরা যা দেখেছি, তাতে তিনি তাঁর কিতাবটিকে স্বতন্ত্রভাবে সংকলন করেছেন; তিনি এটি 'সহীহাইন' বা অন্য কোনো গ্রন্থের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করেননি, বরং তিনি একটি পূর্ণাঙ্গ কিতাব সংকলন করেছেন।

'শাযারাত' গ্রন্থে ইবনে হিব্বানের জীবনীতে এসেছে: "অধিকাংশ হাদীস সমালোচকের মতে...

--------------------------------------------

(১) শায়খ আহমাদ শাকির (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর ভূমিকার (পৃষ্ঠা ১১-১৪) তিন পৃষ্ঠারও বেশি জায়গায় এই বিন্যাস নির্ধারণ ও এর পর্যালোচনার ক্ষেত্রে বেশ কয়েকজন মুহাদ্দিসের উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন। এই স্থানে তা প্রমাণ করার মধ্যে আমরা বড় কোনো উপকারিতা দেখছি না।

‌‌(২) যেমনটি সুয়ূতী 'তাদরীবুর রাবী' (পৃষ্ঠা ৩১-৩২) গ্রন্থে এবং হাজি খলিফা 'কাশফুয যুনুন' (২/৭৭) গ্রন্থে তাঁর থেকে উদ্ধৃত করেছেন—শায়খ শাকিরের 'ভূমিকা' (পৃষ্ঠা ১৩)-র উদ্ধৃতি অনুযায়ী। আর মূল পাঠটি হাফেজ (রহিমাহুল্লাহ)-এর 'আন-নুকাত আলা ইবনিস সালাহ' (১/২৯০) গ্রন্থে বিদ্যমান।
(খণ্ড: ১) আত-তালিকাতুল হিসান আলা সহীহ ইবনি হিব্বান (পৃষ্ঠা: ১৫)
((صحيحه)) أصحُّ من ((سنن ابن ماجه))).

وأما الحاكم أبو عبد الله؛ فإنه بنى كتابه ((المستدرك)) على ((الصحيحين))؛ التزم فيه إخراج أحاديث لم يُخَرِّجْهَا واحد منهما، على أن تكون على شرطهما، أو شرط أحدهما ـ كما هو ظاهر من صنيعه، ومن اسم كتابه ـ.

وعندي: أنه لم يتساهل في التصحيح ـ كما نبزه كثير من العلماء ـ؛ وإنما خَرَّجَ كتابه مُسَوَّدَةٌ لم تُبَيَّضْ (1)، ولم تحرر! فكان فيه ما كان من تصحيح أحاديث ضعاف، ومن إخراج أحاديث أخرجها الشيخان، أو أحدهما.

وقد استدرك عليه الحافظ الذهبي في ((تلخيصه)) كثيرا مما أخطأ فيه، ولم يَخْلُ استدراك الذهبي (2) ـ نفسه ـ أيضا ـ من خطإ في التصحيح أو التضعيف، والجرح أو التعديل؛ كما يتبين ذلك لمن مارس الكتاب، وتتبع كثيرا منه.

وليس هذا مقام تفصيل ذلك (3).

--------------------------------------------

(1) انظر كلام الحافظ ابن حجر ـ في ذلك ـ في ((لسان الميزان)) (5/ 233)

‌‌(2) فقد قال الذهبي في ((السير)) (17/ 176) ـ عن ((تلخيصه)) هذا ـ: ((ويعوز عملا وتحريرا)).

‌‌(3) ثم قال الشيخ أحمد شاكر في مقدمته (ص15):

((ثم إن ابن حبان بنى كتابه على ترتيب غير معهود لأهل العلم: بناه على خمسة أقسام، تنطوي على أربع مئة نوع، وتفنَّنَ ماشاء في التقسيم والتنويع).

ثم نقل عن بعض أهل العلم ما يبين ذلك؛ مشيرا رحمه الله إلى أن قصد ابن حبان ـ في ترتيبه ـ لتسهيل حفظه ـ لم يتحقق له!! بل العكس هو الذي جرى؛ تعسيراً وصعوبة!! ـ قائلاً ـ: ((ولعل هذا أحد العوامل في ندرة نسخه)).
(তাঁর সহীহ গ্রন্থটি) 'সুনানে ইবনে মাজাহ' অপেক্ষা অধিক বিশুদ্ধ।

আর হাকিম আবু আবদুল্লাহ; তিনি তাঁর 'আল-মুস্তাদরাক' গ্রন্থটিকে 'সহীহাইন' (বুখারী ও মুসলিম)-এর আদলে সংকলন করেছেন; সেখানে তিনি এমন সব হাদিস সংকলনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যা তাঁদের কেউ বর্ণনা করেননি, অথচ সেগুলো তাঁদের শর্তানুসারে অথবা তাঁদের যেকোনো একজনের শর্তানুসারে ছিল - যেমনটি তাঁর কর্মপদ্ধতি এবং গ্রন্থের নাম থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয়।

আমার মতে: তিনি হাদিসকে সহীহ বলার ক্ষেত্রে শিথিলতা করেননি - যেমনটি অনেক আলেম তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন; বরং তিনি তাঁর গ্রন্থটি একটি খসড়া হিসেবে সংকলন করেছিলেন যা পরিমার্জিত (১) বা চূড়ান্তভাবে সম্পাদিত হয়নি! ফলে এতে কিছু দুর্বল হাদিসকে সহীহ বলা হয়েছে এবং এমন কিছু হাদিস অন্তর্ভুক্ত হয়েছে যা শাইখাইন (বুখারী ও মুসলিম) বা তাঁদের কেউ একজন ইতোমধ্যেই বর্ণনা করেছেন।

হাফেজ যাহাবী তাঁর 'তালখিস' গ্রন্থে হাকিমের অনেক ভুলের সংশোধন করেছেন, তবে যাহাবীর নিজের এই সংশোধনও (২) হাদিসকে সহীহ বা জয়ীফ বলা এবং জারহ বা তাদিল করার ক্ষেত্রে ভুল থেকে মুক্ত নয়; যা এই গ্রন্থটি অধ্যয়নকারী এবং গভীরভাবে পর্যবেক্ষণকারীর কাছে স্পষ্ট হয়ে যায়।

আর এটি সেই বিষয়গুলো বিস্তারিত আলোচনার স্থান নয় (৩)।

--------------------------------------------

(১) এ বিষয়ে হাফেজ ইবনে হাজার-এর বক্তব্য দেখুন 'লিসানুল মিজান' (৫/২৩৩) গ্রন্থে।

‌‌(২) যাহাবী নিজেই 'আস-সিয়ার' (১৭/১৭৬) গ্রন্থে তাঁর এই 'তালখিস' সম্পর্কে বলেছেন: "এটি আরও কাজ এবং পরিমার্জনার মুখাপেক্ষী।"

‌‌(৩) এরপর শেখ আহমাদ শাকের তাঁর মুখবন্ধে (পৃ. ১৫) বলেছেন:

"অতঃপর ইবনে হিব্বান তাঁর গ্রন্থটিকে আলেমদের নিকট অপরিচিত এক বিন্যাসে সাজিয়েছেন: তিনি এটিকে পাঁচটি ভাগে ভাগ করেছেন, যা চারশত প্রকারের ওপর বিন্যস্ত, এবং তিনি বিন্যাস ও প্রকারভেদে নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী বৈচিত্র্য এনেছেন।"

এরপর তিনি কিছু আলেমের বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন যা বিষয়টি স্পষ্ট করে; তিনি (রহিমাহুল্লাহ) ইঙ্গিত করেছেন যে, মুখস্থ করা সহজ করার জন্য ইবনে হিব্বান যে বিন্যাস চেয়েছিলেন তা অর্জিত হয়নি!! বরং তার বিপরীত অর্থাৎ কাঠিন্য ও জটিলতাই সৃষ্টি হয়েছে!! - তিনি বলেন -: "সম্ভবত এটিই তাঁর গ্রন্থের পাণ্ডুলিপি বিরল হওয়ার অন্যতম কারণ।"
(খণ্ড: ১) আত-তালিকাতুল হিসান আলা সহীহ ইবনি হিব্বান (পৃষ্ঠা: ১৬)
((الإحسان. . . ))

ـ للأمير علاء الدين ـ

وعن ذلك: كان ترتيب الأمير علاء الدين الفارسي إياه ـ على الكتب والأبواب ـ عملاً جليلاً ـ حقًّا ـ؛ قرَّبَ الكتاب لطالبيه، وحافظ على أصله، بدقة الرجل العالم الثقة الأمين.

وخير ما فيه أنه أثبت عناوين الأحاديث التي كتبها ابن حبان، بنصها ـ كاملة ـ.

وفي هذه العناوين فقه ابن حبان وعلمه بالسنة ـ على المعنى الكامل التام ـ.

وأثبت ـ أيضاً ـ كل ماكتب ابن حبان بعقب الأحاديث، وهو شيء كثير، بعضه في الكلام على الرجال، وبعضه تفسير دقيق لمعاني الحديث، وبعضه تعليل فني من وجهة النظر الحديثية، إلى غير ذلك من النفائس والطرائف.

ـ (الإحسان) فهرس حقيقي لـ ((صحيح ابن حبان)):

وشيء آخر دقيق عجيب نادر، صنعه الأمير علاء الدين، لم أكن لأظن أن أجده في شيء من كتب المتقدمين، وهو الفهرس الحقيقي الكامل:
((আল-ইহসান. . . ))

— আমীর আলাউদ্দীন-এর —

এ প্রসঙ্গে কথা হলো: আমীর আলাউদ্দীন আল-ফারসি কর্তৃক কিতাব ও অধ্যায় অনুসারে এর বিন্যাস করার বিষয়টি ছিল প্রকৃতপক্ষেই একটি মহান কাজ; এটি কিতাবটিকে জ্ঞানপিপাসুদের জন্য সহজবোধ্য করে দিয়েছে এবং একজন নির্ভরযোগ্য ও আমানতদার আলিমের সূক্ষ্মতার সাথে এর মূল রূপটিকে সংরক্ষণ করেছে।

এর সবচেয়ে উত্তম দিকটি হলো, তিনি ইবনে হিব্বান কর্তৃক লিখিত হাদিসগুলোর শিরোনামসমূহ হুবহু ও পূর্ণাঙ্গভাবে এতে লিপিবদ্ধ করেছেন।

আর এই শিরোনামগুলোর মধ্যেই ইবনে হিব্বানের ফিকহ এবং সুন্নাহ সম্পর্কে তাঁর গভীর পাণ্ডিত্য—পূর্ণাঙ্গ ও সার্থক অর্থে—বিদ্যমান।

এছাড়াও ইবনে হিব্বান হাদিসগুলোর শেষে যা কিছু লিখেছিলেন, তিনি তার প্রতিটি বিষয়ই এতে অন্তর্ভুক্ত করেছেন, যা পরিমাণে অনেক। এর কিছু অংশ বর্ণনাকারীদের (রিজাল) পর্যালোচনার ক্ষেত্রে, কিছু অংশ হাদিসের অর্থের সূক্ষ্ম ব্যাখ্যায়, আর কিছু অংশ হাদিস শাস্ত্রীয় দৃষ্টিকোণ থেকে কারিগরি কারণ (তা'লীল) দর্শানোর ক্ষেত্রে নিবেদিত; এছাড়াও এতে আরও অনেক মূল্যবান ও দুর্লভ বিষয়াদি রয়েছে।

— (আল-ইহসান) ‘সহিহ ইবনে হিব্বান’-এর একটি প্রকৃত সূচিপত্র:

আমীর আলাউদ্দীন আরেকটি সূক্ষ্ম, বিস্ময়কর ও বিরল কাজ করেছেন, যা আমি পূর্ববর্তী আলিমদের কোনো কিতাবে পাওয়ার আশা করিনি; আর সেটি হলো এর পূর্ণাঙ্গ ও প্রকৃত সূচিপত্র:
(খণ্ড: ১) আত-তালিকাতুল হিসান আলা সহীহ ইবনি হিব্বান (পৃষ্ঠা: ১৭)
فقد يعلم بعض القارئين أني تحدثت في مقدمات بعض كتبي ـ وغيرها ـ، ـ كمقدمة شرحي لـ ((سنن الترمذي)) ـ في شأن الفهارس، وغلط أهل هذا العصر في ظنهم أنها عمل إفرنجي طبَّقه المستشرقون على كتبنا التي قاموا بنشرها وبيَّنت أن فكرة الفهارس فكرة عربية إسلامية، لم يعرفها الإفرنج، ولاخطرت ببالهم إلا في عصور متأخرة، وأن العرب سبقوهم بقرون طوال في ترتيب اللغة على الحروف في المعاجم، وفي كتب التراجم ـ وغيرها ـ على الحروف، كما صنع الخليل بن أحمد ـ ومن تبعه ـ في اللغة ـ (1)، وكما صنع البخاري ـ ومن تبعه ـ في التراجم ـ (2).

وبينت أن هذه محاولات للفهارس، لم يمنعهم عن جعلها فهارس حقيقية إلا عدم وجود المطابع.

أما هذا الكتاب ـ ((الإحسان)) ـ؛ فقد وجد مؤلفه الأمير علاء الدين الفارسي أمامه كتابا منظما على التقاسيم والأنواع، ولأقسامه وأنواعه أرقام، فواتته الفكرة السليمة، وأسعفه العقل النير، فجعل كتابه فِهْرِساً حقيقيا لكتاب ابن حبان؛ فوضع بإزاء كل حديث رقم النوع الذي رواه فيه ابن حبان، وبين القسم الذي فيه النوع (3).

--------------------------------------------

(1) في كتابه: ((العين)).

‌‌(2) في كتابه: ((التاريخ الكبير)).

‌‌(3) وقد ساق الشيخ أحمد شاكر في مقدمته (ص18) نص كلام الأمير علاء الدين في بيان طريقة فهرسته، وترتيبه، وهي ـ تامة ـ هنا ـ فيما يأتي من مقدمة الأمير (ص140)
পাঠকদের মধ্যে কেউ কেউ হয়তো জানেন যে, আমি আমার কিছু বইয়ের ভূমিকার শুরুতে—এবং অন্যত্রও—যেমন আমার ‘সুনানুত তিরমিযী’র ব্যাখ্যাগ্রন্থের ভূমিকায় নির্ঘণ্ট (সূচিপত্র) সম্পর্কে আলোচনা করেছি। বর্তমান যুগের মানুষের এই ধারণাটি একটি ভুল যে, এটি ইউরোপীয়দের উদ্ভাবিত কোনো কাজ যা প্রাচ্যবিদগণ আমাদের প্রকাশিত বইগুলোতে প্রয়োগ করেছেন। আমি স্পষ্ট করেছি যে, নির্ঘণ্টের ধারণাটি মূলত একটি আরবি-ইসলামী ধারণা, যা ইউরোপীয়রা জানত না এবং আধুনিক যুগের আগে তাদের মনে এই চিন্তাও আসেনি। বরং অভিধানশাস্ত্রে এবং জীবনীগ্রন্থে—ও অন্যান্য বিষয়ে—বর্ণানুক্রম অনুযায়ী ভাষাকে বিন্যস্ত করার ক্ষেত্রে আরবরা তাদের থেকে দীর্ঘ কয়েক শতাব্দী আগে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিল; যেভাবে খলিল ইবনে আহমদ—এবং তাঁর অনুসারীরা—ভাষাতত্ত্বে করেছেন (১), এবং যেভাবে ইমাম বুখারী—এবং তাঁর অনুসারীরা—জীবনীর বর্ণনায় করেছেন (২)।

আমি আরও স্পষ্ট করেছি যে, এগুলো ছিল নির্ঘণ্ট তৈরির প্রাথমিক প্রচেষ্টা; কেবল মুদ্রণযন্ত্রের অনুপস্থিতিই সেগুলোকে আধুনিক পূর্ণাঙ্গ নির্ঘণ্ট হতে বাধা দিয়েছিল।

তবে এই গ্রন্থটি—অর্থাৎ ‘আল-ইহসান’—এর ক্ষেত্রে বিষয় ভিন্ন; এর লেখক আমির আলাউদ্দিন আল-ফারিসি তাঁর সামনে এমন একটি কিতাব পেয়েছিলেন যা বিভিন্ন বিভাগ ও প্রকারে সুবিন্যস্ত ছিল এবং এর প্রতিটি বিভাগ ও প্রকারের জন্য সংখ্যা নির্ধারিত ছিল। ফলে তাঁর মাঝে সঠিক চিন্তার উদয় হয় এবং তাঁর প্রখর মেধা তাঁকে সাহায্য করে; তিনি তাঁর কিতাবটিকে ইবনে হিব্বানের কিতাবের জন্য একটি প্রকৃত নির্ঘণ্টে পরিণত করেন। তিনি প্রতিটি হাদিসের পাশে ইবনে হিব্বান বর্ণিত সেই প্রকারের নম্বর যুক্ত করেন এবং সেই প্রকারটি কোন বিভাগে রয়েছে তা-ও স্পষ্ট করে দেন (৩)।

--------------------------------------------

(১) তাঁর ‘আল-আইন’ নামক কিতাবে।

‌‌(২) তাঁর ‘আত-তারিখুল কাবীর’ নামক কিতাবে।

‌‌(৩) শাইখ আহমদ শাকির তাঁর ভূমিকার (পৃষ্ঠা ১৮) আমির আলাউদ্দিনের নির্ঘণ্ট প্রস্তুত করার পদ্ধতি ও বিন্যাস সংক্রান্ত বক্তব্যের মূল পাঠ উদ্ধৃত করেছেন। আর এটি আমির সাহেবের মূল ভূমিকার (পৃষ্ঠা ১৪০) পরবর্তী অংশে এখানে পূর্ণাঙ্গভাবে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আত-তালিকাতুল হিসান আলা সহীহ ইবনি হিব্বান (পৃষ্ঠা: ১৮)
فهذا فهرس حقيقي، صنعه عقل منظم دقيق، نافذ لماح.

ولا أذكر أني رأيت فهرساً ـ على هذا النحو ـ لمؤلف أقدم من الأمير علاء الدين (1).

وبعد ـ مرة أخرى ـ (2):

فسأبذل كل ما أستطيع من جهد ومعرفة ـ إن شاء الله ـ في تحقيق ((صحيح ابن حبان)) ـ بترتيب الأمير علاء الدين ـ؛ لعلي أوفَّق لإخراجه صحيحاً معتمدا عند أهل العلم (3)

--------------------------------------------

(1) وقد ذكر الشيخ أحمد شاكر في (مقدمته) (ص18) صنيع بعض علماء القواعد الفقهية ـ في بعض الكتب ـ شيئا من ذلك، ثم قال: (وما ندري! لعل في علمائنا الأقدمين من أمثال هذا كثير؛ خصوصا للكتب التي رتبها مؤلفوها على أقسام أو أنواع مرقمة معدودة، كما صنع ابن حبان في ((التقاسيم))، وابن رجب في ((القواعد))).

‌‌(2) وكان الشيخ شاكر رحمه الله قد كتب في (المقدمة) ـ قبل هذا ـ (ص19 ـ 20) ـ فصلا صغيرا حول (الكتب التي ألفت على ((صحيح ابن حبان))) ـ بعد كتاب ((الإحسان))) ـ؛ فذكر منها: ((موارد الضمآن)) ـ للهيثمي ـ، و ((مختصر ابن الملقن)) ـ لـ ((الصحيح)) ـ، ثم كتاب ابن الملقن في تراجم رجال ابن حبان ـ مع رجال كتب أخرى ـ، واسمه: ((إكمال تهذيب الكمال)).

وكتاب ((الموارد)) ـ المشار إليه ـ خَدَمَهُ خِدمةً جُلى شيخنا الإمام مؤلف ((التعليقات الحسان)) رحمه الله، وذلك في كتابيه: (صحيح ((موارد الضمآن)))، و (ضعيف ((موارد الضمآن))) ـ وضِمنهما المستدرك عليهما: ((الزوائد على الموارد)) ـ وهما مطبوعان سائران.

‌‌(3) وقد ذكر الشيخ أحمد شاكر رحمه الله في (مقدمته) (ص21) نبذة موجزة عن منهجه في تحقيق الكتاب، وتراجم رجاله، وما يتصل به.

ثم توفي ـ تغمده الله برحمته ـ دون إكمال أي مجلد آخر غير هذا المجلد ـ الأول ـ الصغير ـ الذي يبلغ عدد صفحاته نحوا من ثلاث مئة صفحة.
এটি একটি প্রকৃত নির্ঘণ্ট, যা তৈরি করেছে এক সুসংগঠিত, সূক্ষ্ম, প্রখর এবং তীক্ষ্ণ মেধা।

আর আমি মনে করতে পারি না যে আমি আমীর আলাউদ্দিনের (১) চেয়ে প্রাচীন কোনো লেখকের এমন ধরণের কোনো নির্ঘণ্ট দেখেছি।

আর এরপর—পুনরায়—(২):

আল্লাহ চাহেন তো আমি আমীর আলাউদ্দিনের বিন্যাসে বিন্যস্ত 'সহীহ ইবনে হিব্বান'-এর সম্পাদনার কাজে আমার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ও জ্ঞান ব্যয় করব; যাতে আমি ইলম অন্বেষণকারীদের নিকট একটি সঠিক ও নির্ভরযোগ্য সংস্করণ প্রকাশে সফল হতে পারি (৩)

--------------------------------------------

(১) শায়খ আহমদ শাকির তাঁর (ভূমিকার) (পৃ. ১৮) কোনো কোনো ফিকহী উসূলের কিতাবে কতিপয় উলামায়ে কেরামের এ ধরণের কর্মের কথা উল্লেখ করেছেন এবং এরপর বলেছেন: "আমরা জানি না! হতে পারে আমাদের প্রাচীন আলেমদের মধ্যে এ ধরণের কাজের অনেক দৃষ্টান্ত রয়েছে; বিশেষ করে ঐ সকল কিতাবের ক্ষেত্রে যেগুলোকে তাদের লেখকেরা বিভিন্ন অধ্যায় বা সংখ্যায়িত প্রকারে বিন্যস্ত করেছেন, যেমনটি ইবনে হিব্বান তাঁর 'আত-তাকাসিম' গ্রন্থে এবং ইবনে রজব তাঁর 'আল-কাওয়াইদ' গ্রন্থে করেছেন।"

‌‌(২) শায়খ শাকির (রাহিমাহুল্লাহ) এর আগে (ভূমিকার) (পৃ. ১৯-২০) 'আল-ইহসান' কিতাবটির পরে 'সহীহ ইবনে হিব্বান'-এর ওপর রচিত কিতাবসমূহ নিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত পরিচ্ছেদ লিখেছিলেন; সেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন: হাইসামীর 'মাওয়ারিদুজ জামআন', 'সহীহ'-এর ওপর 'মুখতাসার ইবনে মুলক্কিন', এরপর অন্যান্য কিতাবের রাবীদের সাথে ইবনে হিব্বানের রাবীদের জীবনী সম্পর্কে ইবনে মুলক্কিনের কিতাব, যার নাম: 'ইকমালু তাহযিবিল কামাল'।

আর উল্লেখিত 'আল-মাওয়ারিদ' কিতাবটির এক সুমহান খেদমত করেছেন আমাদের শায়খ ইমাম, 'আত-তালিকাতুল হাসান'-এর লেখক (রাহিমাহুল্লাহ), আর তা হলো তাঁর দুটি কিতাব: 'সহীহ মাওয়ারিদুজ জামআন' এবং 'যঈফ মাওয়ারিদুজ জামআন'—যার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এ দুটির মুস্তাদরাক: 'আয-যাওয়ায়েদ আলাল মাওয়ারিদ'—এবং এই দুটি গ্রন্থই মুদ্রিত ও বহুল প্রচলিত।

‌‌(৩) শায়খ আহমদ শাকির (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর (ভুমিকার) (পৃ. ২১) কিতাবটির সম্পাদনা পদ্ধতি, বর্ণনাকারীদের জীবনী এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত বর্ণনা প্রদান করেছেন।

এরপর তিনি—আল্লাহ তাকে রহমত দ্বারা আবৃত করুন—এই প্রথম ছোট খণ্ডটি ছাড়া অন্য কোনো খণ্ড পূর্ণ করার আগেই ইন্তেকাল করেন, যার পৃষ্ঠা সংখ্যা প্রায় তিনশ এর মতো।
(খণ্ড: ১) আত-তালিকাতুল হিসান আলা সহীহ ইবনি হিব্বান (পৃষ্ঠা: ১৯)
وسنجعل لأحاديث الكتاب ـ ((الإحسان)) ـ أرقاما متتابعة من أول الكتاب إلى آخره ـ إن شاء الله ـ بجوار أول كل حديث، كعادتي في كتبي.

وأما أرقام الأنواع، التي وضعها الأمير علاء الدين، فإننا سنثبتها بجوار كل عنوان من عناوينه، ـ كما سيجيء ـ؛ فنجمع بين الفائدتين، ونحرص على الميزتين ـ إن شاء الله ـ.

وأسأل الله ـ سبحانه ـ الهدى والسداد ـ والتوفيق والعون، وأن يجنبنا مزالق القلم واللسان، وأن ينصر الإسلام والمسلمين.
আর আমি এই কিতাব—‘আল-ইহসান’-এর হাদিসসমূহের জন্য কিতাবের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ক্রমানুযায়ী নম্বর প্রদান করব—ইনশাআল্লাহ—প্রতিটি হাদিসের শুরুতে, যেমনটি আমার বইসমূহে আমার রীতি।

আর আমির আলাউদ্দীন কর্তৃক নির্ধারিত প্রকারসমূহের নম্বরের ক্ষেত্রে, আমরা তা প্রতিটি শিরোনামের পাশে বহাল রাখব—যেমনটি সামনে আসবে—যাতে উভয় প্রকার উপকারিতা অর্জিত হয় এবং আমরা উভয় বৈশিষ্ট্যের প্রতি যত্নবান হতে পারি—ইনশাআল্লাহ।

আর আমি মহান আল্লাহর কাছে হিদায়াত, সঠিক পথ, তৌফিক ও সাহায্য প্রার্থনা করছি। আরও প্রার্থনা করছি তিনি যেন আমাদের লেখনী ও জবানের বিচ্যুতি থেকে রক্ষা করেন এবং ইসলাম ও মুসলিমদের বিজয় দান করেন।
(খণ্ড: ১) আত-তালিকাতুল হিসান আলা সহীহ ইবনি হিব্বান (পৃষ্ঠা: ২০)
ترجمة

الأمير علاء الدين الفارسي (1)

ـ مؤلف ((الإحسان)) ـ

(675ـ739هـ)

هو الأمير علاء الدين أبو الحسن، علي بن بلبلان بن عبد الله، الفارسي، المصري، الحنفي، الفقيه النحوي المحدث.

كان من أول المتبحرين أصولا وفروعا، عديم النظير، فقيد المثيل.

--------------------------------------------

(1) مصادر الترجمة:

((الجواهر المضية في طبقات الحنفية)) ـ لعبد القادر بن أبي الوفاء القرشي المصري ـ، ولد سنة 696 هـ، وتوفي سنة 775 هـ، طبعة حيدر آباد بالهند سنة 1332هـ (1/ 354، 355)، ((الدرر الكامنة)) ـ للحافظ ابن حجر العسقلاني ـ (3/ 32)، ((السلوك)) ـ للمقريزي ـ (2/ 2/470)، ((النجوم الزاهرة)) ـ لابن تغري بردي ـ، طبعة دار الكتب المصرية (9/ 321)، ((بغية الوعاة في طبقات اللغويين والنحاة)) ـ للسيوطي ـ (ص331)، ((حُسن المحاضرة في أخبار مصر والقاهرة))، ـ للسيوطي طبعة مصر سنة 1299هـ (1/ 267)، ((الفوائد البهية في طبقات الحنفية)) ـ للعلامة محمد عبد الحي اللكنوي الهندي ـ، طبعة مصر سنة 1324هـ (ص 118).
জীবনী

আমির আলাউদ্দীন আল-ফারিসি (১)

— ‘আল-ইহসান’-এর লেখক —

(৬৭৫—৭৩৯ হিজরি)

তিনি হলেন আমির আলাউদ্দীন আবুল হাসান, আলি ইবনে বালবান ইবনে আব্দুল্লাহ, আল-ফারিসি, আল-মিসরি, আল-হানাফি; তিনি একাধারে ফকিহ, ব্যাকরণবিদ এবং মুহাদ্দিস ছিলেন।

তিনি উসুল (মূলনীতি) এবং ফুরু (শাখা-প্রশাখা) উভয় শাস্ত্রেই অত্যন্ত পারদর্শী ও গভীর জ্ঞানসম্পন্ন পণ্ডিতদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যাঁর কোনো নজির বা সমকক্ষ ছিল না।

--------------------------------------------

(১) জীবনীর উৎসসমূহ:

আব্দুল কাদির বিন আবি আল-ওয়াফা আল-কুরাশি আল-মিসরি রচিত ‘আল-জাওয়াহিরুল মুদিয়্যাহ ফি তাবাকাতিল হানাফিয়্যাহ’ (জন্ম ৬৯৬ হি. এবং মৃত্যু ৭৭৫ হি.), হায়দ্রাবাদ, ভারত সংস্করণ ১৩৩২ হি. (১/৩৫৪, ৩৫৫); হাফিজ ইবনে হাজার আল-আসকালানি রচিত ‘আদ-দুরারুল কামিনাহ’ (৩/৩২); আল-মাকরিজি রচিত ‘আস-সুলুক’ (২/২/৪৭০); ইবনে তাগরি বারদি রচিত ‘আন-নুজুমুজ জাহিরাহ’, দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ সংস্করণ (৯/৩২১); আস-সুয়ুতি রচিত ‘বুগয়াতুল উয়াত ফি তাবাকাতিল লুগাওয়িয়্যিন ওয়ান নুহাত’ (পৃষ্ঠা ৩৩১); আস-সুয়ুতি রচিত ‘হুসনুল মুহাদারা ফি আখবারি মিসরা ওয়াল কাহিরা’, মিশর সংস্করণ ১২৯৯ হি. (১/২৬৭); আল্লামা মুহাম্মদ আব্দুল হাই আল-লাখনবি আল-হিন্দি রচিত ‘আল-ফাওয়ায়িদুল বাহিয়্যাহ ফি তাবাকাতিল হানাফিয়্যাহ’, মিশর সংস্করণ ১৩২৪ হি. (পৃষ্ঠা ১১৮)।
(খণ্ড: ১) আত-তালিকাতুল হিসান আলা সহীহ ইবনি হিব্বান (পৃষ্ঠা: ২১)
ولد سنة 675هـ

وأخذ الفقه عن الفخر بن التركماني، وشمس الدين أبي العباس أحمد السروجي، وقرأ النحو على أبي حيان، والأصول على العلاء القونوي، وسمع الحديث من الحافظ الدمياطي، ومحمد بن علي بن ساعد، وبهاء الدين بن عساكر، ـ وغيرهم ـ.

وقال الحافظ الذهبي في ((المعجم المختص)):

((سمع بقراءتي من البهاء بن عساكر، وكان تركيا عالما وقورا)).

وقال الذهبي ـ أيضاً ـ:

((كان جيد الفهم، حسن الذاكرة، مليح الشكل، وافر الجلالة)).

وقال الحافظ ابن حجر:

((صحب أرغون النائب، وعظُمت منزلته في أيام المظفر بيبرس000وكان قد عُيِّنَ مرة للقضاء؛ لسكونه وعلمه وتصونه)).

ووصفه معاصرُهُ ابن أبي الوفاء القرشي ـ وهو من طبقة تلاميذه ـ بأنه:

((الأمير الفقيه الإمام ، تفقه على السروجي ـ وغيره ـ؛ كقاضي القضاة القونوي الشافعي، ورشيد الدين بن المعلم، ونجم الدين بن اسحاق الحلبي.

وأفتى، وحصَّلَ من الكتب جملة، وجمع وأفاد)).

وقال ـ أيضاً ـ: ((رتب ((التقاسيم والأنواع)) لابن حبان، ورتب ((الطبراني)) ترتيباً حسناً على أبواب الفقه)).
তিনি ৬৭৫ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন।

তিনি ফখর ইবনুত তুর্কমানী এবং শামসুদ্দিন আবুল আব্বাস আহমদ আস-সারুজি থেকে ফিকহ শাস্ত্র গ্রহণ করেন। তিনি আবু হাইয়ানের কাছে নাহু (ব্যাকরণ) এবং আলাউল কাওনাবীর কাছে উসুল (মূলনীতি শাস্ত্র) পাঠ করেন। তিনি হাফেজ দিময়াতি, মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে সা’দ, বাহাউদ্দিন ইবনে আসাকির এবং অন্যদের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেন।

হাফেজ যাহাবী ‘আল-মু’জামুল মুখতাস’ গ্রন্থে বলেন:

“তিনি বাহাউদ্দিন ইবনে আসাকিরের নিকট থেকে আমার পাঠের মাধ্যমে (হাদিস) শ্রবণ করেছেন। তিনি তুর্কি বংশোদ্ভূত একজন পণ্ডিত ও অত্যন্ত গাম্ভীর্যপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন।”

যাহাবী আরও বলেন:

“তিনি তুখোড় বোধশক্তি, প্রখর স্মৃতিশক্তি ও সুন্দর অবয়বের অধিকারী ছিলেন এবং তিনি অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ছিলেন।”

হাফেজ ইবনে হাজার বলেন:

“তিনি নায়েব আরগুনের সান্নিধ্যে ছিলেন এবং মুজাফফর বিবারসের শাসনামলে তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি পায়... তাঁর ধীরস্থির স্বভাব, জ্ঞান এবং আত্মমর্যাদাবোধের কারণে একবার তাঁকে বিচারক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।”

তাঁর সমসাময়িক ইবনে আবিল ওয়াফা আল-কুরাশি—যিনি তাঁর ছাত্রদের স্তরের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন—তাঁকে এভাবে বর্ণনা করেছেন:

“তিনি ছিলেন আমির, ফকিহ ও ইমাম। তিনি সারুজি এবং অন্যান্যদের নিকট ফিকহ অর্জন করেছেন; যেমন কাযিউল কুযাত কাওনাবী আশ-শাফিয়ী, রশিদউদ্দিন ইবনুল মুআল্লিম এবং নাজমুদ্দিন ইবনে ইসহাক আল-হালাবী।

তিনি ফতোয়া প্রদান করেছেন, প্রচুর কিতাব সংগ্রহ করেছেন এবং সংকলন ও পাঠদানের মাধ্যমে জ্ঞান বিতরণ করেছেন।”

তিনি আরও বলেন: “তিনি ইবনে হিব্বানের ‘আত-তাকাসিম ওয়াল আনওয়া’ গ্রন্থটি বিন্যস্ত করেছেন এবং তাবারানির সংকলনগুলো ফিকহের অধ্যায় অনুযায়ী চমৎকারভাবে সাজিয়েছেন।”
(খণ্ড: ১) আত-তালিকাতুল হিসান আলা সহীহ ইবনি হিব্বান (পৃষ্ঠা: ২২)
وقال الحافظ ابن حجر: ((رتَّبَ ((صحيح ابن حبان))، و ((معجم الطبراني الكبير))، بإشارة القطب الحلبي)).

وتوفي الأمير علاء الدين ((بمنزله على شاطئ نيل مصر، في 9شوال سنة (739هـ) تسع وثلاثين وسبع مئة، ودُفِنَ بتربته خارج باب النصر)) ـ كما قال ابن أبي الوفاء القرشي ـ.

وأطبقت مصادر ترجمته ـ كلها ـ على أن وفاته كانت في سنة 739هـ، حتى الكتب المؤرخة على السنين، ذكرت وفاته فيها في وفيات تلك السنة.

ولكن أخطأ السيوطي في ((حسن المحاضرة))! فأَرَّخَ وفاته سنة731هـ، قال: ((مات بالقاهرة، في شوال سنة إحدى وثلاثين وسبع مئة)).

وقد ظننت بادئ بدء أن هذا خطأ طابع أو ناسخ، خصوصا وأن السيوطي ـ نفسه ـ أرَّخَهُ في ((بغية الوعاة)): ((سنة تسع وثلاثين وسبع مئة))! إلا أنه رجَّح عندي ـ أن الخطأ سهو من السيوطي ـ أن العلامة اللكنوي حكى عنه الروايتين، وعقَّبَ عليه بالتصحيح، فلم يكن الخطأ خاصًّا بالنسخ التي طبع عنها ((حُسن المحاضرة)) ـ كما هو واضح ـ.

رحمهم الله جميعاً وإيانا، وتجاوز عنا وعنهم، والحمد لله رب العالمين.

كتب

أحمد محمد شاكر

عفا الله عنه

َِِِ بِمَنِّهِ

الأربعاء 3 جمادى الأولى سنة 1371

30 يناير سنة 1952
হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: "তিনি কুতুব আল-হালাবির ইশারায় 'সহিহ ইবনে হিব্বান' এবং 'মু'জামুত তাবারানি আল-কাবির' বিন্যস্ত করেছেন।"

আর আমির আলাউদ্দিন—যেমনটি ইবনুল আবি আল-ওয়াফা আল-কুরাশি বলেছেন—৭৩৯ হিজরি সনের ৯ই শাওয়াল মিশরের নীল নদের তীরে তার নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেন এবং তাকে বাবুন নাসরের বাইরে তার সমাধিতে সমাহিত করা হয়।

তার জীবনী সংবলিত সকল উৎস এ বিষয়ে একমত যে তার ইন্তেকাল ৭৩৯ হিজরি সনে হয়েছিল; এমনকি সালানুসারে লিপিবদ্ধ ইতিহাসের গ্রন্থগুলোতেও উক্ত বছরের মৃত্যু তালিকায় তার ইন্তেকাল উল্লেখ করা হয়েছে।

কিন্তু আস-সুয়ূতী 'হুসনুল মুহাদারা' গ্রন্থে ভুল করেছেন! তিনি তার ইন্তেকালের তারিখ লিখেছেন ৭৩১ হিজরি। তিনি বলেছেন: "তিনি সাতশ একত্রিশ হিজরি সনের শাওয়াল মাসে কায়রোতে মৃত্যুবরণ করেন।"

আমি শুরুতে ভেবেছিলাম এটি হয়তো মুদ্রাকর বা অনুলিপিকারের ভুল, বিশেষ করে যেহেতু আস-সুয়ূতী স্বয়ং 'বুগইয়াতুল ওয়াহ' গ্রন্থে তার তারিখ লিখেছেন "সাতশ উনচল্লিশ হিজরি"! তবে আমার কাছে এটিই প্রাধান্য পেয়েছে যে—ভুলটি আস-সুয়ূতীরই অসাবধানতাবশত হয়েছে—কেননা আল্লামা আল-লাখনবী তার থেকে উভয় বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন এবং তার ওপর সংশোধনী দিয়েছেন; ফলে এটা স্পষ্ট যে ভুলটি কেবল 'হুসনুল মুহাদারা'র মুদ্রিত পাণ্ডুলিপিগুলোর জন্য নির্দিষ্ট ছিল না।

আল্লাহ তাদের সকলকে এবং আমাদের ওপর রহম করুন, এবং আমাদের ও তাদের ক্ষমা করুন। সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

লিখেছেন

আহমদ মুহাম্মদ শাকের

আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন

তাঁর অনুগ্রহে

বুধবার ৩রা জুমাদাল উলা, ১৩৭১ হিজরি

৩০ জানুয়ারি, ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) আত-তালিকাতুল হিসান আলা সহীহ ইবনি হিব্বান (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌((التعليقات الحسان على ((صحيح ابن حبان))

وتمييز سقيمه من صحيحه، وشاذه من محفوظه))

للعلامة المحدث الإمام

الشيخ محمد ناصر الدين الألباني

ـ تغمده الله برحمته ـ

يُعَدُّ هذا الكتاب العجاب من أواخر الكتب العلمية الحديثية ـ المسندة ـ التي خرَّجها ـ وصنفها ـ فضيلة الشيخ محمد ناصر الدين الألباني رحمه الله؛ ذلكم أنه ابتدأ بتخريجه ـ كما هو مثبت بخطه ـ بتاريخ: (25 محرم سنة 1413هـ)

وهوـ كذلك ـ أكبرها وأضخمها ـ ولله الحمد ـ؛ فقد بلغ عدد أحاديثه (7448) حديثا؛ وهذا ما لا يوجد في سواه.

ولقد أراد رحمه الله ابتداء ـ تسمية كتابه هذا بـ ((مختصر الإحسان في تقريب (1) صحيح ابن حبان، وتمييز سقيمه من صحيحه، وشاذه من محفوظه)) ـ كما هو ثابت بخطه ـ.

ثم كأنه رحمه الله غيَّرَ أول العنوان ـ والاختصار ـ إلى ((التعليقات الحسان على (صحيح ابن حبان)))؛ فعزا إليه في مواضع كثيرة من

--------------------------------------------

(1) وقع اسمه في (الطبعة اللبنانية) التي اتخذها الشيخ رحمه الله أصلاً لعمله ـ ويسميها: (الأصل) ـ: ((بترتيب)) ثم صححها الشيخ بخطه؛ نقلا عن مقدمة المؤلف.
((সহীহ ইবনে হিব্বান-এর ওপর আত-তালিকাতুল হিসান এবং এর সহীহ থেকে যঈফ (দুর্বল) এবং মাহফুজ থেকে শায (বিচ্ছিন্ন) বর্ণনাকে পৃথকীকরণ))

আল্লামা মুহাদ্দিস ইমাম

শাইখ মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানী

—আল্লাহ তাঁকে তাঁর রহমত দ্বারা আচ্ছাদিত করুন—

এই বিস্ময়কর কিতাবটি সেই শেষদিকের ইলমী হাদীসগ্রন্থগুলোর (মুসনাদ) অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য করা হয়, যা ফযীলাতুশ শাইখ মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানী (রহিমাহুল্লাহ) তাখরীজ ও সংকলন করেছেন; আর তা এই কারণে যে, তিনি এর তাখরীজ শুরু করেছিলেন—যেমনটি তাঁর নিজ হাতের লেখায় প্রমাণিত—২৫শে মুহাররম ১৪১৩ হিজরী তারিখে।

আর এটি একইভাবে তাঁর সবচেয়ে বড় এবং বিশাল গ্রন্থ—সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য—; কারণ এর হাদীস সংখ্যা (৭৪৪৮) এ পৌঁছেছে; যা অন্য কোথাও পাওয়া যায় না।

তিনি (রহিমাহুল্লাহ) প্রাথমিকভাবে তাঁর এই কিতাবটির নাম দিতে চেয়েছিলেন—"সহীহ ইবনে হিব্বান"-কে নিকটবর্তী করার ক্ষেত্রে (১) "মুখতাসারুল ইহসান", এবং এর সহীহ থেকে যঈফ ও মাহফুজ থেকে শায-এর পার্থক্যকরণ—যেমনটি তাঁর নিজ হাতের লেখায় স্থিরীকৃত।

এরপর সম্ভবত তিনি (রহিমাহুল্লাহ) শিরোনামের শুরু এবং সংক্ষেপণ পরিবর্তন করে "সহীহ ইবনে হিব্বান-এর ওপর আত-তালিকাতুল হিসান" করেন; ফলে তিনি অনেক স্থানে এর দিকেই সম্বন্ধ করেছেন

--------------------------------------------

(১) লেবানিজ মুদ্রণে এর নাম এসেছিল "বিন্যাসক্রমে" (বিতারতীব), যা শাইখ (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর কাজের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন—এবং তিনি একে 'আসল' (মূল) বলতেন—; এরপর শাইখ গ্রন্থকারের ভূমিকা থেকে উদ্ধৃত করে নিজ হাতের লেখায় এটি সংশোধন করেন।
(খণ্ড: ১) আত-তালিকাতুল হিসান আলা সহীহ ইবনি হিব্বান (পৃষ্ঠা: ২৪)
كتبه التي طبعت في حياته ـ بهذا العنوان ـ.

حتى في هذا الكتاب نفسه؛ عزا إليه ـ في أواخره ـ بهذا العنوان؛ كما في حديث رقم (6662) و (7284) ـ وغيرهما ـ بخطه ـ.

كتب الشيخ رحمه الله على غلاف الصفحة الأولى ـ الداخلي ـ من المجلد الأول ـ بخطه ـ نبذة من منهجه في التخريج؛ فقال:

((1ـ إذا لم يُخَرَّجِ الحديث في شيء من كتبي؛ اكتفيت بإعطاء الحكم عليه بمثل قولي: صحيح الإسناد، أو: حسن، أو: ضعيف. .

وإذا كان في ((الصحيحين)) أو أحدهما ـ؛ قلت صحيح ثم رمزتُ إليهما (1)، أو أحدهما.

2ـ وإذا قلت: حسن صحيح؛ فأعني أنه: حسن لذاته، صحيح لغيره، أي بشواهده)).

من طريقة الشيخ ـ أثناء عمله العلمي ـ أن كل صفحة كان ينتهي من مراجعتها، وضبطها: يكتب على رأسها ـ بخطه ـ كلمة: (تمت) (2).

وهذه الكلمة كما أنها موجودة في أول صفحة من الكتاب؛ فإنها

--------------------------------------------

(1) والرمز إليهما بـ (ق)، أي: متفق عليه، والبخاري: خ، ومسلم: م.

‌‌(2) وكان يكتب ـ أحياناً ـ: (انتهت).
তাঁর বইসমূহ যা তাঁর জীবদ্দশায় এই শিরোনামেই মুদ্রিত হয়েছে।

এমনকি এই কিতাবটির মধ্যেও; এর শেষাংশের দিকে তিনি এই শিরোনামেই এর দিকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন; যেমনটি হাদিস নম্বর (৬৬৬২) এবং (৭২৮৪) —ও অন্যান্যগুলোতে— তাঁর নিজ হস্তাক্ষরে রয়েছে।

শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) প্রথম খণ্ডের প্রথম পৃষ্ঠার —অভ্যন্তরীণ— প্রচ্ছদে নিজ হাতে তাঁর তাখরিজ (হাদিসের উৎস নির্দেশ) পদ্ধতির একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ লিখেছেন; তিনি বলেছেন:

((১- যদি হাদিসটি আমার কোনো কিতাবে তাখরিজ করা না থাকে; তবে আমি এর ওপর হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে আমার এই কথার ওপরই সীমাবদ্ধ থাকি: সহিহুল ইসনাদ, অথবা: হাসান, অথবা: যয়িফ। .

আর যদি তা "সহিহাইন" বা এর কোনো একটিতে থাকে—; তবে আমি সহিহ বলি এবং এরপর উভয়ের প্রতি (১) অথবা কোনো একটির প্রতি সংকেত প্রদান করি।

২- আর যখন আমি বলি: হাসান সহিহ; তখন আমার উদ্দেশ্য হলো: তা হাসান লি-যাতিহি (স্বীয় সত্তায় হাসান), এবং সহিহ লি-গয়রিহি (অন্যান্য সূত্রের মাধ্যমে সহিহ), অর্থাৎ এর শাহেদ বা সাক্ষী বর্ণনার মাধ্যমে))।

শায়খের ইলমি কাজের পদ্ধতি ছিল এই যে, প্রতিটি পৃষ্ঠা যখন তিনি পর্যালোচনা ও বিন্যাস শেষ করতেন: তখন তার উপরিভাগে নিজ হাতে লিখতেন: (সম্পন্ন) (২)।

আর এই শব্দটি যেমনটি কিতাবের প্রথম পৃষ্ঠায় বিদ্যমান; তেমনি এটি

--------------------------------------------

(১) আর উভয়ের প্রতি সংকেত হলো (ক্বাফ), অর্থাৎ: মুত্তাফাকুন আলাইহি, এবং বুখারি: খ, ও মুসলিম: ম।

‌‌(২) এবং তিনি কখনো কখনো লিখতেন: (শেষ হয়েছে)।
(খণ্ড: ১) আত-তালিকাতুল হিসান আলা সহীহ ইবনি হিব্বান (পৃষ্ঠা: ২৫)
ولله الحمد ـ موجودة في آخر صفحة من الكتاب؛ دلالة على إنهائه رحمه الله مراجعة أحاديث الكتاب ـ كله ـ.

النسخة المخطوطة التي اعتمد عليها محقق (الطبعة اللبنانية) التي اتخذها الشيخ أصلا ـ قبل وقوفه على الطبعة الثانية منشورة (1) ـ هي نفسها المتخذة لتحقيق (طبعة المؤسسة) ـ كما كتب الشيخ رحمه الله ذلك ـ بخطه ـ.

ومع ذلك؛ فقد حصل تفاوت في الترقيم بين الطبعتين (2)؛ أثبت الشيخ رحمه الله محصلته ـ بخطه ـ في آخر صفحة من الكتاب (3)؛ قائلاً:

((الرقم في (طبعة المؤسسة) (7291)؛ فالفرق (43) حديثا؛ فليُتَنبَّه لهذا)).

للشيخ رحمه الله كلمة في ((السلسلة الصحيحة)) (5/ 337 ـ 338) ـ حول ((الإحسان)) ـ عند تخريجه حديث: (ما ملأً آدميٌّ وعاءً شرًّا من بطنه 00)، قال فيها:

(((تنبيه): سقط من ((الإحسان بترتيب صحيح ابن حبان)) ـ للأمير علاء الدين ـ الطريق الأولى الصحيحة لهذا الحديث، بخلاف الطريق الثالثة اللينة، فهي ثابتة فيه برقم (5213)، مع ثبوت الطريقين ـ معا ـ في ((موارد

--------------------------------------------

(1) وهي التي يسميها الشيخ: (طبعة المؤسسة)، وتلك ـ (اللبنانية) ـ يسميها: (الأصل).

وفي ((السلسلة الصحيحة)) (7/ 1/370) إشارة إلى الطبعتين؛ وشيء من المفاضلة بينهما.

‌‌(2) وأول ذلك: رقم (329) من نسختنا ـ هذه ـ.

‌‌(3) وذلك على آخر حديث، وهو برقم (7448).
আর আল্লাহর জন্যই সকল প্রশংসা—এটি বইটির শেষ পৃষ্ঠায় বিদ্যমান; যা নির্দেশ করে যে, তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর দয়া করুন) পুরো বইটির হাদিসসমূহ পর্যালোচনা সমাপ্ত করেছেন।

যে পাণ্ডুলিপিটির ওপর (লেবানিজ সংস্করণ)-এর সম্পাদক নির্ভর করেছিলেন—যাকে শাইখ দ্বিতীয় প্রকাশিত সংস্করণ (১) দেখার আগে মূল হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন—তা হুবহু সেটিই যা (মুআসসাসা সংস্করণ) সম্পাদনার জন্য ব্যবহৃত হয়েছিল; যেমনটি শাইখ (আল্লাহ তাঁর ওপর দয়া করুন) নিজ হাতে লিখেছেন।

তাসত্ত্বেও, উভয় সংস্করণের ক্রমসংখ্যার মধ্যে কিছুটা পার্থক্য সৃষ্টি হয়েছে (২); শাইখ (আল্লাহ তাঁর ওপর দয়া করুন) বইটির শেষ পৃষ্ঠায় (৩) নিজ হাতে এর ফলাফল লিপিবদ্ধ করেছেন; তিনি বলেছেন:

(( (মুআসসাসা সংস্করণ)-এ সংখ্যাটি হলো (৭২৯১); ফলে ব্যবধান ৪৩টি হাদিসের; বিষয়টি যেন খেয়াল রাখা হয়))।

‘সিলসিলাতুস সহীহাহ’ (৫/ ৩৩৭-৩৩৮) গ্রন্থে ‘আল-ইহসান’ সম্পর্কে শাইখের (আল্লাহ তাঁর ওপর দয়া করুন) একটি বক্তব্য রয়েছে—যখন তিনি “আদম সন্তান তার পেটের চেয়ে নিকৃষ্ট কোনো পাত্র পূর্ণ করে না...” হাদিসটির তাখরীজ (উৎস নির্ণয়) করছিলেন, সেখানে তিনি বলেছেন:

(((সতর্কবার্তা): আমীর আলাউদ্দীন প্রণীত ‘আল-ইহসান বি-তারতীবি সাহীহ ইবনু হিব্বান’ থেকে এই হাদিসের প্রথম সহীহ সূত্রটি বাদ পড়েছে, তবে তৃতীয় দুর্বল সূত্রটি সেখানে বিদ্যমান এবং এটি ৫২১৩ ক্রমসংখ্যার অধীনে সাব্যস্ত হয়েছে। অথচ উভয় সূত্রই একত্রে ‘মাওয়ারিদ...’ গ্রন্থে সাব্যস্ত রয়েছে।

--------------------------------------------

(১) শাইখ এটিকে ‘মুআসসাসা সংস্করণ’ বলে অভিহিত করেছেন এবং ওই ‘লেবানিজ’ সংস্করণটিকে ‘মূল’ (আসল) বলে অভিহিত করেছেন।

আর ‘সিলসিলাতুস সহীহাহ’ (৭/ ১/৩৭০) গ্রন্থে উভয় সংস্করণের প্রতি ইঙ্গিত এবং তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের তারতম্যের কিছু বর্ণনা রয়েছে।

‌‌(২) আর এর সূচনা হলো আমাদের এই কপির ৩২৯ নং সংখ্যা থেকে।

‌‌(৩) আর এটি সর্বশেষ হাদিসের ওপর, যার সংখ্যা হলো ৭৪৪৮।
(খণ্ড: ১) আত-তালিকাতুল হিসান আলা সহীহ ইবনি হিব্বান (পৃষ্ঠা: ২৬)
الظمآن))، كما تقدمت الإشارة إلى ذلك برقميها، فلا أدري إذا كان السقط من مرتِّبه، أو ناسخه، أو طابعه!

فإن كان الأول؛ فهل كان ذلك منه قصداً، أو سهواً؟!

فإن كان الأول؛ فهل كان ذلك عن منهج التزمه فيه، منه حذف المكرر منه؟ أم كان ذلك سهوا منه؟

فإن كان الأول ـ وهذا ما أستبعدُهُ ـ؛ فَيَرِدُ عليه شيئان:

الأول: أننا في الحالة لا نستطيع أن نعتقد أن ((الإحسان)) يغني (1) عن أصله: ((صحيح ابن حِبَّان)).

والآخر: أنه يجب في هذه الحالة (2) الاحتفاظ بالمتن الصحيح إسناده، وحذف اللين إسناده، وليس العكس، كما وقع في هذا الحديث، والله أعلم. ).

قلنا: بل الطريقان موجودان، ولكن متباعد ما بين موضعيهما:

ـ فالطريق الأولى موجودة برقم: 673ـ (الطبعة اللبنانية) /674 ـ (طبعة المؤسسة).

ـ والطريق الثانية موجودة برقم: 5213 ـ (الطبعة اللبنانية) /5236 ـ طبعة المؤسسة).

--------------------------------------------

(1) قارن بما تقدم (ص12).

‌‌(2) أي: على مرتب ((الصحيح)) ـ وهو الأمير علاء الدين الفارسي ـ.
(যামআন)), যেমনটি ইতিপূর্বে এর নম্বর দুটির মাধ্যমে ইঙ্গিত করা হয়েছে, সুতরাং আমি জানি না এই বিচ্যুতি কি এর বিন্যাসকারীর পক্ষ থেকে, নাকি এর অনুলিপিকারীর পক্ষ থেকে, অথবা এর প্রকাশকের পক্ষ থেকে!

যদি প্রথমটি হয়; তবে কি তা তার পক্ষ থেকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ছিল, নাকি ভুলবশত ছিল?!

যদি প্রথমটি হয়; তবে কি তা এমন কোনো মানহাযের কারণে ছিল যা তিনি এতে অনুসরণ করেছেন, যার অন্তর্ভুক্ত হলো পুনরাবৃত্ত অংশসমূহ বাদ দেওয়া? নাকি তা তার পক্ষ থেকে ভুলবশত ছিল?

যদি প্রথমটি হয়—আর আমি এটিকে অসম্ভব মনে করি—তবে এর ওপর দুটি বিষয় আপতিত হয়:

প্রথমত: এমতাবস্থায় আমরা এই বিশ্বাস পোষণ করতে পারি না যে, ((আল-ইহসান)) (১) তার মূলগ্রন্থ: ((সহীহ ইবনে হিব্বান)) এর অভাব পূরণ করতে পারে বা তা থেকে বিমুখ করতে পারে।

দ্বিতীয়ত: এমতাবস্থায় (২) কর্তব্য ছিল যার সনদ সহীহ সেই মতনটি (মূল পাঠ) সংরক্ষণ করা এবং যার সনদ দুর্বল তা বাদ দেওয়া, এর বিপরীতটি নয়—যেমনটি এই হাদিসের ক্ষেত্রে ঘটেছে, আর আল্লাহই ভালো জানেন।)।

আমরা বলছি: বরং উভয় সূত্রই বিদ্যমান রয়েছে, কিন্তু তাদের উভয় অবস্থানের মধ্যবর্তী দূরত্ব অনেক:

— সুতরাং প্রথম সূত্রটি বিদ্যমান রয়েছে নম্বর: ৬৭৩— (লেবানিজ সংস্করণ) / ৬৭৪ — (মুয়াসসাসাহ সংস্করণ) এ।

— এবং দ্বিতীয় সূত্রটি বিদ্যমান রয়েছে নম্বর: ৫২১৩ — (লেবানিজ সংস্করণ) / ৫২৩৬ — (মুয়াসসাসাহ সংস্করণ) এ।

--------------------------------------------

(১) ইতিপূর্বে যা বর্ণিত হয়েছে তার সাথে তুলনা করুন (পৃষ্ঠা ১২)।

‌‌(২) অর্থাৎ: ‘আস-সহীহ’-এর বিন্যাসকারীর ওপর—আর তিনি হলেন আমীর আলাউদ্দিন আল-ফারিসি।
(খণ্ড: ১) আত-তালিকাতুল হিসান আলা সহীহ ইবনি হিব্বান (পৃষ্ঠা: ২৭)
وَجَلَّ من لا يسهو 000 (لَا يَضِلُّ رَبِّي وَلَا يَنْسَى).

000 وها هنا تنبيهات متعددة على طريقة عملنا في نشر هذا الكتاب المبارك؛ نجعلها بما يأتي:

1ـ قابلنا ـ مقابلة دقيقة ـ (الطبعة اللبنانية) ـ وهي (الأصل) ـ الذي اعتمد عليه الشيخ رحمه الله على (طبعة المؤسسة) ـ التي هي أدق منها وأضبط.

بحيث استدركنا مواضع التحريف، والخلل، والسقط.

ولم تَخْلُ (طبعة المؤسسة) من بعض ذلك ـ أيضاً ـ؛ مُنبِّهين ـ حَسْبُ ـ على ما رأينا فائدة جُلَّى في التنبيه عليه.

2ـ حَرَصْنَا على ضبط الأسماء والأنساب، والكنى، والألقاب ـ التي في الأسانيد ـ ما استطعنا إلى ذلك سبيلاً ـ مُتحرِّين في ذلك أعلى وجوه الصواب ـ إن شاء الله ـ.

3ـ كان بداية التفاوت في الترقيم بين الطبعتين هو الحديث رقم (331).

4ـ أثبتنا الترقيم الأصلي لأحاديث الكتاب من (الطبعة اللبنانية)؛ لكونها (الأصل) الذي اعتمده الشيخ في التخريج، وجعله عمدته في العزو.

وحتى تكتمل الفائدة ـ مجموعة ـ من الطبعتين ـ معاً ـ أثبتنا عقب كل حديث رقمه من (طبعة المؤسسة) ـ إذا كان بينهما تفاوت ـ، وذلك بين هلالين: ().
মহান তিনি যিনি ভুল করেন না... (আমার প্রতিপালক পথভ্রষ্ট হন না এবং ভুলেও যান না)।

এই বরকতময় কিতাবটি প্রকাশের ক্ষেত্রে আমাদের কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে এখানে বেশ কিছু নির্দেশনা প্রদান করা হলো; যা নিম্নরূপ:

১- আমরা লেবানিজ সংস্করণ—যা শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন—তার সাথে মুয়াসসাসাহ সংস্করণের অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে তুলনা করেছি, কারণ শেষেরটি অধিকতর নির্ভুল ও সুসংহত।

এর মাধ্যমে আমরা বিকৃতি, ত্রুটি এবং বাদ পড়া অংশগুলো সংশোধন করেছি।

মুয়াসসাসাহ সংস্করণও এ ধরনের কিছু ত্রুটি থেকে মুক্ত ছিল না; তবে আমরা কেবল সেই বিষয়গুলোতেই সতর্কতা প্রদান করেছি যেগুলোতে উল্লেখ করার মতো বিশেষ উপকারিতা রয়েছে।

২- সনদসমূহে বিদ্যমান নাম, বংশপরিচয়, উপনাম এবং উপাধিগুলো সঠিকভাবে বিন্যস্ত করার ক্ষেত্রে আমরা যথাসম্ভব সচেষ্ট হয়েছি—ইনশাআল্লাহ, এক্ষেত্রে আমরা সর্বোচ্চ নির্ভুলতা বজায় রাখার চেষ্টা করেছি।

৩- দুই সংস্করণের মধ্যে হাদিস নম্বরের পার্থক্যের সূচনা হয়েছে ৩৩১ নম্বর হাদিস থেকে।

৪- আমরা কিতাবের হাদিসগুলোর জন্য লেবানিজ সংস্করণের মূল নম্বরগুলোই বহাল রেখেছি; কারণ শায়খ হাদিস তাখরিজ বা উৎস নির্দেশের ক্ষেত্রে একেই মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং একেই হাওয়ালার প্রধান মাধ্যম বানিয়েছেন।

আর যাতে উভয় সংস্করণ থেকে সম্মিলিতভাবে উপকার লাভ পূর্ণাঙ্গ হয়, সেজন্য আমরা প্রতিটি হাদিসের শেষে মুয়াসসাসাহ সংস্করণের নম্বরটিও যোগ করে দিয়েছি—যদি উভয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকে—আর তা প্রথম বন্ধনী: () এর মধ্যে রাখা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আত-তালিকাতুল হিসান আলা সহীহ ইবনি হিব্বান (পৃষ্ঠা: ২৮)
5 ـ ثم جعلنا بعد هذا الرقم ـ الذي هو بين هلالين ـ مباشرة ـ رقم (التقاسيم والأنواع) (1)؛ الذي أثبته ابن بلبان في ((الإحسان)) ـ جاعلينه بين معقوفين: [] (2) ـ ربطا بين ترتيبه ـ هو ـ وبين الكتاب الأصل: (التقاسيم والأنواع) ـ كما بين ذلك في مقدمته ـ.

6 ـ لم يُوَحِّد القائمون على (طبعة المؤسسة) موضع إثبات رقم

--------------------------------------------

(1) وذلك نقلا عن (طبعة المؤسسة)؛ فإن (الطبعة اللبنانية) ـ (الأصل) ـ لم تُثبِتْ شيئاً من ذلك ـ أصلا .. !

وثمة مواضع ـ من هذه ـ في (طبعة المؤسسة) وضعت بين المعقوفين فيها نقاط ـ هكذا ـ[ .. : .. ]؛ أشارة إلى عدم وجود رقم (التقاسيم والأنواع) ـ.

وهناك ـ أيضاً ـ مواضع أخرى خالية من أي رقم أو أشارة! فراجعنا هذه المواضع فيما عزاه لابن حبان ـ في (التقاسيم والأنواع) ـ الحافظ ابن حجر في كتابه العظيم: ((إتحاف المهرة)) ـ وقد طبع منه إلى الآن سبعة عشر مجلدا ـ؛ مُثبتين ما نجده منها ـ وهو الأكثر ـ ولله الحمد ـ.

فأما ما لم نجده منها؛ فهو قليل جدا؛ لا يكاد يُتِمُّ عشرة أحاديث …

وهاكم أرقامها في نسختنا من ((الإحسان)) ـ ((التعليقات الحسان)) ـ، مع ما يقابلها من مواضعها في ((الإتحاف))؛ ـ لعل الله ـ تعالى ـ ييسر لنا ـ أو لغيرنا من أهل العلم وطلابه ـ وِجْدانَهَا.

وتكاد تكون ـ جميعاً ـ ساقطة من ((الإتحاف)) ـ إما من المؤلف، أو من المحقق ـ؛ وهي هذه:

حديث (3827 ـ ((الإحسان)): 7/ 312 ((الإتحاف)))، و (4054: 4/ 558)، و (5342: 9/ 53)، و (2751: 4/ 642)، و (5518: 17/ 266)، و (1045: 15/ 66)، و (1808: 6/ 48) و (2183: 6/ 168)، و (7199: 15/ 66)، و {فوق كل ذي علم عليم}.

وانظر ما تقدم (ص 17)، وما سيأتي (ص140).

‌‌(2) ولتمييز ما أضفناه ـ واستدركناه ـ من أرقام (التقاسيم والأنواع) ـ نقلا عن ((إتحاف المهرة)) ـ جعلنا استدراكاتنا بين معقوفين مكررين: [[]].
৫ — এরপর আমরা এই সংখ্যার ঠিক পরেই — যা প্রথম বন্ধনীর ভেতরে রয়েছে — সরাসরি — (আত-তাকাসিম ওয়াল-আনওয়া) (১)-এর নম্বর যুক্ত করেছি; যা ইবনু বালবান (আল-ইহসান)-এ সাব্যস্ত করেছেন — আমরা তা বর্গাকার বন্ধনীর ভেতরে রেখেছি: [] (২) — যাতে তাঁর বিন্যাস এবং মূল গ্রন্থ: (আত-তাকাসিম ওয়াল-আনওয়া)-এর মধ্যে সংযোগ স্থাপন করা যায় — যেমনটি তিনি তাঁর ভূমিকায় স্পষ্ট করেছেন —।

৬ — (মুয়াসসাসাহ সংস্করণ)-এর দায়িত্বশীলরা নম্বর স্থাপনের স্থানটি অভিন্ন রাখেননি

--------------------------------------------

(১) আর এটি (মুয়াসসাসাহ সংস্করণ) থেকে উদ্ধৃত; কারণ (লেবানিজ সংস্করণ) — (যা মূল) — এর কোনো কিছুই সাব্যস্ত করেনি — একেবারেই না .. !

আর (মুয়াসসাসাহ সংস্করণে) এর মধ্যে এমন কিছু স্থান রয়েছে যেখানে বর্গাকার বন্ধনীর ভেতরে ডট চিহ্ন দেওয়া হয়েছে — এভাবে — [ .. : .. ]; যা (আত-তাকাসিম ওয়াল-আনওয়া)-এর নম্বরের অনুপস্থিতি নির্দেশ করে।

সেখানে — আরও — কিছু স্থান রয়েছে যা কোনো নম্বর বা চিহ্ন ছাড়াই শূন্য! তাই হাফিয ইবনু হাজার তাঁর মহান গ্রন্থ: (ইতহাফুল মাহারা)-তে (যার এ পর্যন্ত সতেরোটি খণ্ড মুদ্রিত হয়েছে) — ইবনু হিব্বানের (আত-তাকাসিম ওয়াল-আনওয়া)-এর প্রতি যা সম্বন্ধ করেছেন, সেই স্থানগুলো আমরা পর্যালোচনা করেছি; এবং আমরা যা পেয়েছি তা সাব্যস্ত করেছি — আর তা-ই অধিকাংশ — এবং সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।

আর আমরা যা পাইনি, তা খুবই সামান্য; যা প্রায় দশটি হাদিসও পূর্ণ করে না …

আর আমাদের নিকট থাকা (আল-ইহসান) — (আত-তালীকাতুল হিসান) — সংস্করণের নম্বরগুলো এখানে দেওয়া হলো, সাথে (আল-ইতহাফ)-এর সমান্তরাল স্থানগুলোও উল্লেখ করা হলো; — সম্ভবত আল্লাহ — তা'আলা — আমাদের জন্য — অথবা ইলম অন্বেষী ও আলেমদের মধ্য থেকে অন্য কারো জন্য — সেগুলো খুঁজে পাওয়া সহজ করে দেবেন।

আর সেগুলো প্রায় সবই (আল-ইতহাফ) থেকে বাদ পড়ে গেছে — হয় লেখকের পক্ষ থেকে, অথবা গবেষকের পক্ষ থেকে —; আর সেগুলো হলো:

হাদিস (৩৮২৭ — (আল-ইহসান): ৭/ ৩১২ (আল-ইতহাফ)), এবং (৪০৫৪: ৪/ ৫৫৮), এবং (৫৩৪২: ৯/ ৫৩), এবং (২৭৫১: ৪/ ৬৪২), এবং (৫৫১৮: ১৭/ ২৬৬), এবং (১০৪৫: ১৫/ ৬৬), এবং (১৮০৮: ৬/ ৪৮) এবং (২১৮৩: ৬/ ১৬৮), এবং (৭১৯৯: ১৫/ ৬৬), এবং {প্রত্যেক জ্ঞানীর উপরে একজন মহাজ্ঞানী রয়েছেন}।

আর দেখুন যা পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে (পৃষ্ঠা ১৭), এবং যা সামনে আসবে (পৃষ্ঠা ১৪০)।

‌‌(২) আর (ইতহাফুল মাহারা) থেকে উদ্ধৃত (আত-তাকাসিম ওয়াল-আনওয়া)-এর যে নম্বরগুলো আমরা সংযোজন ও পরিমার্জন করেছি, সেগুলোকে আলাদা করার জন্য আমাদের পরিমার্জনগুলোকে দ্বৈত বর্গাকার বন্ধনীর মধ্যে রেখেছি: [[]]।
(খণ্ড: ১) আত-তালিকাতুল হিসান আলা সহীহ ইবনি হিব্বান (পৃষ্ঠা: ২৯)
(التقاسيم والأنواع)؛ فمرة يجعلونه في نهاية الحديث، ومرة يجعلونه في نهاية تعليق أبي حاتم!

ولقد وحَّدْنا النسق العلمي في ذلك؛ بأن جعلناها ـ جميعا ـ في سطر مستقل ـ نهاية كل حديث ـ؛ مع سَبْقها بإشارة =؛ للتنبيه.

7 ـ ومما لاحظناه على كتاب ((الإحسان)) ـ نفسه ـ أنه يوجد فيه كتب لا أبواب لها، ولكن لها فروع.

وأنه يوجد كتب لا أبواب لها، ولكن لها فصول، ثم الفروع.

ولقد جعلنا ـ على ضوء ذلك ـ أرقام الأبواب متسلسلة مع أرقام الفصول ـ على نسقٍ واحد ـ؛ لأنهما في معنى واحد.

8 ـ خلت (الطبعة اللبنانية) ـ (الأصل) ـ من ترقيم الكتب، فضلاً عن ترقيم الأبواب ـ والفصول.

ولقد فعلنا ذلك ـ كلّه ـ على وجه الصواب ـ إن شاء الله ـ.

وأما فروع الأبواب ـ والفصول ـ فلم نهتد إلى ضبط دقيق يُسَهِّلُ من ترقيمها؛ فأبقيناها كما هي ـ بدون أيِّ ترقيم ـ.

والله الهادي.

9 ـ هنالك مجموعة قليلة جدا ـ من الأحاديث ـ ساقطة في (الطبعة اللبنانية)، وهي ثابتة في (طبعة المؤسسة) (1)؛ فاستدركناها ـ جميعا ـ،

--------------------------------------------

(1) وما كان مكرراً من الأحاديث ـ فيها ـ فإنه ـ في الغالب ـ مقصود من مُرتَبِهِ الأمير علاء الدين؛ لكونه يحمل رقمين مختلفين لـ (التقاسيم والأنواع).

مع وجود أحاديث ـ أخرى مكررة في (طبعة المؤسسة) لم يتميز حالها لنا؛ هل هي من خطأ الناشر أو من اضطراب الناسخ، أو من مقصود المرتب!! فأبقيناها ـ كما هي ـ مع الإشارة والتنبيه.
(আত-তাকাসিম ওয়াল-আনওয়া); কখনও তারা একে হাদিসের শেষে স্থাপন করে, আবার কখনও একে আবু হাতিমের মন্তব্যের শেষে স্থাপন করে!

আমরা এ বিষয়ে ইলমি বিন্যাসকে একীভূত করেছি; এভাবে যে, আমরা সেগুলোকে — সবকটিকে — প্রতিটি হাদিসের শেষে একটি স্বতন্ত্র লাইনে স্থাপন করেছি এবং সতর্ক করার জন্য তার আগে একটি '=' চিহ্ন যুক্ত করেছি।

৭ — 'আল-ইহসান' গ্রন্থটি সম্পর্কে আমরা যা লক্ষ্য করেছি তা হলো, এতে এমন কিছু 'কিতাব' (অধ্যায়) রয়েছে যেগুলোর কোনো 'বাব' (পরিচ্ছেদ) নেই, তবে সেগুলোর অধীনে 'ফুরু' (শাখা) রয়েছে।

আবার এমন কিছু 'কিতাব' রয়েছে যেগুলোর কোনো 'বাব' নেই, কিন্তু সেগুলোর 'ফসল' (অনুচ্ছেদ) এবং তারপর 'ফুরু' রয়েছে।

এর আলোকে আমরা 'বাব'-এর নম্বর এবং 'ফসল'-এর নম্বরকে একই ধারাবাহিকতায় বিন্যস্ত করেছি; কেননা উভয়টি একই অর্থ বহন করে।

৮ — (লেবানিজ সংস্করণ) — (যা মূল ভিত্তি) — তাতে কিতাবসমূহের নাম্বারিং ছিল না, এমনকি পরিচ্ছেদ (বাব) ও অনুচ্ছেদ (ফসল)-এর নাম্বারিংও ছিল না।

ইনশাআল্লাহ, আমরা এই সব কিছুই সঠিক পদ্ধতিতে সম্পন্ন করেছি।

আর পরিচ্ছেদ ও অনুচ্ছেদসমূহের শাখার ক্ষেত্রে আমরা এমন কোনো সুক্ষ্ম পদ্ধতি খুঁজে পাইনি যা তাদের নাম্বারিং করাকে সহজতর করবে; তাই আমরা সেগুলোকে কোনো নাম্বারিং ছাড়াই অপরিবর্তিত রেখেছি।

আর আল্লাহই একমাত্র পথপ্রদর্শক।

৯ — সামান্য কিছু হাদিস রয়েছে যা (লেবানিজ সংস্করণে) বাদ পড়ে গিয়েছিল, কিন্তু সেগুলো (মুয়াসসাসাহ সংস্করণে) (১) বিদ্যমান ছিল; তাই আমরা সেগুলোর সবকটি সংযোজন করেছি।

--------------------------------------------

(১) এতে যে হাদিসগুলো পুনরাবৃত্তি হয়েছে, সেগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রে এর বিন্যাসকারী আমির আলাউদ্দিনের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল; কারণ সেগুলো 'আত-তাকাসিম ওয়াল-আনওয়া'-এর জন্য দুটি ভিন্ন নম্বর বহন করে।

এছাড়া (মুয়াসসাসাহ সংস্করণে) আরও কিছু হাদিস পুনরাবৃত্তি হয়েছে যার স্বরূপ আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়নি; তা কি প্রকাশকের ভুল, নাকি অনুলিপিকারীর বিভ্রান্তি, নাকি বিন্যাসকারীর উদ্দেশ্য ছিল!! তাই আমরা সেগুলোকে সেভাবেই রেখেছি এবং সাথে প্রয়োজনীয় ইঙ্গিত ও সতর্কতা প্রদান করেছি।
(খণ্ড: ১) আত-তালিকাতুল হিসান আলা সহীহ ইবনি হিব্বান (পৃষ্ঠা: ৩০)
جاعلِينها بين معقوفين، آخذين أحكامها من ((صحيح الموارد)) ـ و ((ضعيفه)) ـ، فضلا عن كتب الشيخ ـ الأخرى رحمه الله عند عدم وجودها في ذينك الكتابين ـ.

10 ـ ما حصل من أخطاء مطبعية في الترقيم ـ في الطبعتين ـ جميعاً ـ أصلحناه بحسب الاستطاعة:

أـ ما كان من قفز بين الأرقام أبقيناه كما هو؛ مع التنبيه على موضع الخلل.

ب ـ ما كان من خطإ سهل استدراكه؛ كتكرار ـ أو نحوه ـ أصلحناه، مع التنبيه والبيان.

11 ـ ما كان لنا من تعليقات ـ يسيرة جدا ـ على شي من السقط، أو الترقيم ـ أو نحوه ـ جعلنا في أخره اسم (الناشر).

وما كان خِلْوًّا من ذلك: فهو من تعليق الشيخ رحمه الله.

12 ـ هناك أحاديث لها أكثر من إسناد، دون سياق المتن؛ جعلت أرقامها في (الطبعة اللبنانية) نقاطا بين معقوفين: [ … ]، ونحن ـ تمييزاً ـ كررنا عليها رقم الحديث السابق لها وبجانبه رمز (*)؛ هكذا: [3576 / *]ـ مثلا ـ.
আমরা সেগুলোকে তৃতীয় বন্ধনীভুক্ত করেছি, সেগুলোর হুকুম বা মান গ্রহণ করেছি 'সহীহুল মাওয়ারিদ' এবং এর 'যঈফ' থেকে; এছাড়া যখন ওই কিতাবদ্বয়ে তা পাওয়া যায়নি, তখন শাইখের (রাহিমাহুল্লাহ) অন্যান্য কিতাব থেকেও সাহায্য নেওয়া হয়েছে।

১০. উভয় সংস্করণেই নাম্বারিং বা ক্রমবিন্যাসের ক্ষেত্রে যে সকল মুদ্রণজনিত ত্রুটি হয়েছিল, সাধ্যানুযায়ী আমরা সেগুলো সংশোধন করেছি:

ক- যেখানে নাম্বারের ক্ষেত্রে ব্যবধান বা সংখ্যা বাদ পড়ার মতো ঘটনা ঘটেছে, তা আমরা অপরিবর্তিত রেখেছি; তবে ত্রুটির স্থানটি সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়েছি।

খ- যে সকল ভুল সংশোধন করা সহজসাধ্য ছিল; যেমন পুনরাবৃত্তি বা অনুরূপ কিছু, সেগুলো আমরা সংশোধন করেছি এবং সেই সাথে প্রয়োজনীয় টীকা ও বর্ণনা যোগ করেছি।

১১. কোনো কিছু বাদ পড়া বা নাম্বারিং অথবা এই জাতীয় বিষয়ে আমাদের পক্ষ থেকে যে অতি সামান্য মন্তব্য বা টীকা যোগ করা হয়েছে, তার শেষে আমরা (প্রকাশক) শব্দটি লিখে দিয়েছি।

আর যে সকল টীকায় এমন কোনো চিহ্ন নেই, সেগুলো মূলত শাইখের (রাহিমাহুল্লাহ) নিজস্ব মন্তব্য।

১২. এমন কিছু হাদিস রয়েছে যেগুলোর একাধিক সনদ আছে কিন্তু মূল মতন বা পাঠ্য অংশ উল্লেখ নেই; লেবানিজ সংস্করণে সেগুলোর নম্বরের স্থানে তৃতীয় বন্ধনীর মাঝে বিন্দু ব্যবহার করা হয়েছিল: [ ... ], আমরা স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখার জন্য তার পূর্ববর্তী হাদিসের নম্বরটিই পুনরায় ব্যবহার করেছি এবং তার পাশে একটি তারকা চিহ্ন (*) যুক্ত করেছি; যেমন: [৩৫৭৬ / *]।