(খণ্ড: ১) ইখতিসাসুল কুরআন বিউদিহী ইলার রাহীমির রহমান (পৃষ্ঠা: -)
اختصاص القرآن بعوده إلى الرحيم الرحمن   (ضياء الدين المقدسي)

القسم: العقيدة


الكتاب: اختصاص القرآن بعوده إلى الرحيم الرحمن

المؤلف: ضياء الدين أبو عبد الله محمد بن عبد الواحد المقدسي (ت 643هـ)

المحقق: عبد الله بن يوسف الجديع

الناشر: مكتبة الرشد - الرياض - السعودية

الطبعة: الأولى، 1409هـ 1989م

عدد الصفحات: 38

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

পরম দয়াময় করুণাময়ের নিকট কুরআনের ফিরে যাওয়ার বৈশিষ্ট্য   (জিয়াউদ্দীন আল-মাকদিসী)

বিভাগ: আকীদা


বই: পরম দয়াময় করুণাময়ের নিকট কুরআনের ফিরে যাওয়ার বৈশিষ্ট্য

লেখক: জিয়াউদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাকদিসী (মৃ. ৬৪৩ হিজরী)

গবেষক: আব্দুল্লাহ বিন ইউসুফ আল-জুদাঈ

প্রকাশক: মাকতাবাতুর রুশদ - রিয়াদ - সৌদি আরব

সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৯ হিজরী ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৮

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) ইখতিসাসুল কুরআন বিউদিহী ইলার রাহীমির রহমান (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم

وحسبنا الله وَنعم الْوَكِيل

الْحَمْدُ لِلَّهِ حَمْدًا كَثِيرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيهِ كَمَا يُحِبُّ ربُّنَا وَيَرْضَى وَكَمَا يَنْبَغِي لِكَرَمِ وَجْهِهِ وعِزِّ جَلَالِهِ

اللَّهُمَّ وَصَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ النَّبِيِّ الْأُمِّيِّ وَعَلَى آلِهِ وَسَلِّمْ صَلَاةً تَكُونُ لَكَ رِضًا وَلِحَقِّهِ أَدَاءً وَأَعْطِهِ الْوَسِيلَةَ وَالْفَضِيلَةَ وَاجْزِهِ عَنَّا أَفْضَلَ مَا جَازَيْتَ نَبينَا عَنْ أُمَّتِهِ وَأَحْيِنَا اللَّهُمَّ عَلَى سُنَّتِهِ وَتَوَفَّنَا عَلَى مِلَّتِهِ غَيْرَ مُبَدِّلِينَ وَلَا مُفَرِّطِينَ وَلَا مَفْتُونِينَ بِفَضْلِكَ وَكَرَمِكَ يَا أَرْحَمَ الرَّاحِمِينَ

أما بعد

فَقَدْ وَرَدَ كِتَابٌ مِنْ مَدِينَةِ آمِدَ حَرَسَهَا اللَّهُ تَعَالَى يُذْكَرُ فِيهِ أَنَّ رَجُلًا قَدِمَ إِلَيْهِمْ أَنْكَرَ هَذِهِ اللَّفْظَةَ فِي ذِكْرِ الْقُرْآنِ الْعَزِيزِ أَنَّهُ إِلَى اللَّهِ تَعَالَى يَعُودُ

فَأَقُولُ وَبِاللَّهِ التَّوْفِيقُ 1 - إِن النَّبِي قَدْ قَالَ

إِنَّ الدِّينَ بَدَأَ غَرِيبًا وَسَيَعُودُ غَرِيبًا كَمَا بَدَأَ

وَقَالَ النَّبِي

لَا تَقوُمُ السَّاعَةُ حَتَّى لَا يُقَالَ فِي الْأَرْضِ اللَّهُ اللَّهُ
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য—প্রচুর, পবিত্র ও বরকতময় প্রশংসা; যেমনটি আমাদের রব পছন্দ করেন ও যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন, এবং যেমনটি তাঁর চেহারার মহত্ত্ব ও তাঁর প্রতাপের মর্যাদার জন্য সমীচীন।

হে আল্লাহ! আপনি উম্মি নবী মুহাম্মাদ ও তাঁর পরিবারবর্গের ওপর এমন রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন যা আপনার সন্তুষ্টির কারণ হয় এবং তাঁর প্রাপ্য অধিকার আদায়ের মাধ্যম হয়; তাঁকে দান করুন ‘ওয়াসীলা’ ও ‘ফযীলাত’ এবং আমাদের পক্ষ থেকে তাঁকে সেই সর্বোত্তম প্রতিদান দিন যা আপনি কোনো নবীকে তাঁর উম্মতের পক্ষ থেকে দিয়েছেন। হে আল্লাহ! আমাদের তাঁর সুন্নাহর ওপর জীবিত রাখুন এবং তাঁর মিল্লাতের ওপর আমাদের মৃত্যু দান করুন—কোনো পরিবর্তনকারী, অবহেলাকারী বা ফিতনায় পতিত হওয়া ছাড়াই; আপনার অনুগ্রহ ও বদান্যতার উসিলায়, হে শ্রেষ্ঠ দয়ালু।

অতঃপর,

আমিদ শহর (আল্লাহ তাআলা একে রক্ষা করুন) থেকে একটি পত্র এসেছে, যাতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সেখানে এক ব্যক্তি আগমন করেছেন যিনি মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের বর্ণনার ক্ষেত্রে এই বক্তব্যটিকে অস্বীকার করেছেন যে, তা আল্লাহ তাআলার দিকেই ফিরে যাবে।

আমি বলছি—আর আল্লাহর মাধ্যমেই তাওফীক লাভ হয়—১. নিশ্চয়ই নবী বলেছেন:

নিশ্চয়ই এই দ্বীন শুরু হয়েছে অচেনা অবস্থায় এবং অচিরেই তা সূচনার ন্যায় পুনরায় অচেনা অবস্থায় ফিরে যাবে।

এবং নবী বলেছেন:

ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ না জমিনে ‘আল্লাহ, আল্লাহ’ বলা বন্ধ হয়ে যায়।
(খণ্ড: ১) ইখতিসাসুল কুরআন বিউদিহী ইলার রাহীমির রহমান (পৃষ্ঠা: ২০)
2 - فَالَّذِي أَخْبَرَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ أَعْظَمُ مِنْ إِنْكَارِ هَذَا الْمُنْكِرِ لِهَذِهِ اللَّفْظَةِ الَّتِي قَدْ وَرَدَتْ فِي بَعْضِ الْأَحَادِيثِ عَنِ النَّبِيِّ وَعَن غير وَاحِد مِنْ أَصْحَابِهِ وَعَنْ بَعْضِ التَّابِعِينَ وَغَيْرِهِمْ مِنَ الْأَئِمَّةِ رِضْوَانُ اللَّهِ عَلَيْهِم 3 - غير أَن الْأَحَادِيث الَّتِي وَردت عَن النَّبِي فِي ذَلِكَ لَمْ يُخَرِّجْهَا أَصْحَابُ الصَّحِيحِ 4 - وَقَدْ وَرَدَتْ عَنْ عَلِيٍّ عليه السلام وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما 5 - وَقَالَ عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ الْمَكِّيُّ وَهُوَ مِنْ ثِقَاتِ التَّابِعِينَ وَأَئِمَّتِهِمْ

أَدْرَكْتُ مَشَايِخَنَا مُنْذُ سَبْعِينَ سَنَةً يَقُولُونَ الْقُرْآنُ كَلَامُ اللَّهِ مِنْهُ بَدَأَ وَإِلَيْهِ يعود 6 - وَقد أردك عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ مِنَ الصَّحَابَة غَيْرَ وَاحِدٍ

مِنْهُمْ عَبْدُ اللَّهِ بن عَمْرو وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبَّاسٍ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ الزُّبَيْرِ وَجَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْأَنْصَارِيُّ وَأَبُو شُرَيْحٍ الْخُزَاعِيُّ وَالْمِسْوَرُ بْنُ مَخْرَمَةَ وَسَعْدُ بن عَائِذ الْمَعْرُوف ب الْقرظ مُؤذن رَسُول الله بِقُبَاءَ وَأَبُو هُرَيْرَةَ وَالسَّائِبُ بْنُ يَزِيدَ الْكِنْدِيُّ وَأَبُو الطُّفيْلِ عَامِرُ بن وائلة رضي الله عنهم 7 - وَقَدْ قَالَهَا الْإِمَامُ أَبُو جَعْفَرٍ أَحْمَدُ بْنُ سِنَانٍ الْوَاسِطِيُّ وَهُوَ شَيْخُ الْبُخَارِيِّ وَمُسْلِمٍ وَأَبِي دَاوُدَ وَابْنِ مَاجَهْ وَالنَّسَائِيِّ
২ - রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা সংবাদ দিয়েছেন তা এই শব্দের অস্বীকারকারীর অস্বীকারের চেয়েও মহান (গুরুত্বপূর্ণ), যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত কিছু হাদীসে এসেছে এবং তাঁর একাধিক সাহাবী, কিছু তাবিঈ এবং তাঁদের পরবর্তী ইমামগণের (আল্লাহ তাঁদের সকলের ওপর সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণিত হয়েছে। ৩ - তবে এই বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হাদীসগুলো সহীহ গ্রন্থকারগণ সংকলন করেননি। ৪ - আর এটি আলী (আলাইহিস সালাম) এবং আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হয়েছে। ৫ - মক্কার আমর ইবনে দীনার, যিনি নির্ভরযোগ্য তাবিঈদের অন্তর্ভুক্ত এবং তাঁদের ইমামদের একজন, তিনি বলেছেন:

আমি সত্তর বছর যাবত আমাদের মাশায়েখদের পেয়েছি, তাঁরা বলতেন: কুরআন আল্লাহর কালাম, তাঁর থেকেই এর সূচনা এবং তাঁর দিকেই এটি ফিরে যাবে। ৬ - আমর ইবনে দীনার একাধিক সাহাবীর সাক্ষাৎ পেয়েছেন।

তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: আব্দুল্লাহ ইবনে আমর, আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস, আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়ের, জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আনসারী, আবু শুরাইহ আল-খুজাঈ, মিসওয়ার ইবনে মাখরামাহ, কুবাতে রাসূলুল্লাহর মুয়াজ্জিন হিসেবে পরিচিত সা’দ ইবনে আয়িজ আল-কারায, আবু হুরায়রা, সাইব ইবনে ইয়াযীদ আল-কিন্দি এবং আবু তুফাইল আমির ইবনে ওয়াসিলা (আল্লাহ তাঁদের সকলের ওপর সন্তুষ্ট হোন)। ৭ - আর এটি ইমাম আবু জাফর আহমদ ইবনে সিনান আল-ওয়াসিতীও বলেছেন, যিনি বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ ও নাসাঈর উস্তাদ।
(খণ্ড: ১) ইখতিসাসুল কুরআন বিউদিহী ইলার রাহীমির রহমান (পৃষ্ঠা: ২১)
8 - وَقَدْ وَرَدَتْ هَذِهِ اللَّفْظَةُ عَنْ جَمَاعَةٍ

مِنْهُمْ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ وَسُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ وَوَكِيعُ بْنُ الْجَرَّاحِ وَأَبُو نُعَيْمٍ الْفَضْلُ بْنُ دُكَيْنٍ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ 9 - وَرَوَى الْمَرْوَذِيُّ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَ قَالَ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حَنْبَلٍ رحمه الله لَقِيتُ الرِّجَالَ وَالْعُلَمَاءَ وَالْفُقَهَاءَ بِمَكَّةَ وَالْمَدِينَةِ وَالْكُوفَةِ وَالْبَصْرَةِ وَالشَّامِ وَالثُّغُورِ وَخُرَاسَانَ فَرَأَيْتُهُمْ عَلَى السُّنَّةِ وَالْجَمَاعَةِ وَسَأَلْتُ عَنْهَا الْفُقَهَاءَ فَكُلٌّ يَقُولُ الْقُرْآنُ كَلَامُ اللَّهِ غَيْرُ مَخْلُوقٍ مِنْهُ بَدَأَ وَإِلَيْهِ يَعُودُ
৮ - এবং এই শব্দটি একদল বরেণ্য মনীষীর পক্ষ থেকে বর্ণিত হয়েছে।

তাদের মধ্যে রয়েছেন আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ, সুফিয়ান আস-সাওরি, অকি’ ইবনুল জাররাহ, আবু নুআইম আল-ফদল ইবনে দুকাইন এবং আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক। ৯ - এবং আল-মারওয়াযি আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে হাম্বল (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: আমি মক্কা, মদিনা, কুফা, বসরা, শাম, সীমান্ত অঞ্চলসমূহ এবং খুরাসানে বরেণ্য ব্যক্তিত্ব, আলেম ও ফুকাহাদের সাথে সাক্ষাৎ করেছি। আমি তাদেরকে সুন্নাহ ও জামাআতের ওপর পেয়েছি এবং আমি এ বিষয়ে ফুকাহাদের জিজ্ঞাসা করেছি, তখন প্রত্যেকেই বলেছেন: কুরআন আল্লাহর কালাম, তা মাখলুক (সৃষ্ট) নয়; তাঁর থেকেই এর সূচনা হয়েছে এবং তাঁর কাছেই তা ফিরে যাবে।
(খণ্ড: ১) ইখতিসাসুল কুরআন বিউদিহী ইলার রাহীমির রহমান (পৃষ্ঠা: ২২)
10 - وَقَدْ وَرَدَتْ هَذِهِ الْمَسْأَلَةُ إِلَى مَدِينَةِ السَّلَامِ بَغْدَادَ فِي زَمَانِ مَشَايِخِ مَشَايِخِنَا فَأَجَابَ فِيهَا الشَّيْخُ الْإِمَامُ الْعَالِمُ الزَّاهِدُ أَبُو زَيْدٍ جَعْفَرُ بْنُ زَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّزَّاقِ الشَّامِيُّ السَّاكِنُ بِبَغْدَادَ بِجَوَابٍ شَافٍ وَسَمَّاهُ كِتَابَ الْبُرْهَانِ فِي نُصْرَةِ الْقُرْآنِ وَهَذَا الْكِتَابُ مَوْجُودٌ وَذَكَرَ فِيهِ أَدِلَّةً كَثِيرَةً

قَوْلُ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنه

فَالَّذِي رُوِيَ عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ عليه السلام 11 - أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الْإِمَامُ أَبُو أَحْمَدَ عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عَلِيِّ بْنِ عَلِيِّ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ الشَّافِعِيُّ بِبَغْدَادَ أنَّ أَبَا مُحَمَّدٍ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَلِيِّ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ
১০ - এবং আমাদের শাইখদের শাইখদের যুগে এই মাসআলাটি শান্তির শহর বাগদাদে এসেছিল। তখন বাগদাদে বসবাসকারী শাইখ, ইমাম, আলিম ও যাহেদ আবু যায়িদ জাফর ইবনে যায়িদ ইবনে আবদুর রাজ্জাক আশ-শামি এ ব্যাপারে একটি সন্তোষজনক উত্তর প্রদান করেছিলেন এবং তিনি এর নাম দিয়েছিলেন ‘কিতাবুল বুরহান ফি নুসরতিল কুরআন’। এই কিতাবটি বিদ্যমান রয়েছে এবং তিনি এতে অনেক দলীল উল্লেখ করেছেন।

আলী ইবনে আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর বাণী

আলী ইবনে আবি তালিব (আলাইহিস সালাম) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা হলো: ১১ - আমাদের বাগদাদে সংবাদ দিয়েছেন শাইখ ইমাম আবু আহমাদ আবদুল ওয়াহহাব ইবনে আলী ইবনে আলী ইবনে উবাইদুল্লাহ আশ-শাফিঈ যে, আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে আলী ইবনে আহমাদ ইবনে আবদুল্লাহ...
(খণ্ড: ১) ইখতিসাসুল কুরআন বিউদিহী ইলার রাহীমির রহমান (পৃষ্ঠা: ২৩)
النَّحْوِيَّ أَخْبَرَهُمْ قِرَاءَةً عَلَيْهِ أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو طَاهِرٍ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْحَسَنِ السُّيُورِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ حَدَّثَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْخَلَّالُ مِنْ لَفْظِهِ حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ أَحْمَدَ حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ خَالِدٍ الْمُكْتِبُ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْكَرِيمِ بْنُ الْهَيْثَمِ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ
আন-নাহবী তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে তাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন। শায়খ আবু তাহের আব্দুল মালিক বিন আহমদ বিন আল-হাসান আস-সুয়ুরী তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। আবু মুহাম্মাদ আল-হাসান বিন মুহাম্মাদ আল-খাল্লাল তাঁর নিজ শব্দে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। উমর বিন আহমদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। আহমদ বিন আব্দুল্লাহ বিন খালিদ আল-মুকতিব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। আব্দুল কারিম বিন আল-হাইসাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। আলী বিন...
(খণ্ড: ১) ইখতিসাসুল কুরআন বিউদিহী ইলার রাহীমির রহমান (পৃষ্ঠা: ২৪)
صَالِحٍ حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ عَدِيٍّ عَنْ مَحْبُوبِ بْنِ مُحْرِزٍ عَنِ الْأَعْمَشِ عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ يَزِيدَ التَّيْمِيِّ عَنِ الْحَارِثِ بْنِ سُوَيْدٍ قَالَ

قَالَ عَلِيٌّ عليه السلام وَقَدْ ذَكَرَ الْقُرْآنَ فَقَالَ

لَيْسَ هُوَ بِخَالِقٍ وَلَا مَخْلُوقٍ وَلَكِنَّهُ كَلَامُ اللَّهِ عز وجل مِنْهُ بَدَأَ وَإِلَيْهِ يَعُودُ

رَوَاهُ الْإِمَامُ أَبُو الْقَاسِمِ هِبَةُ اللَّهِ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ مَنْصُورٍ الطَّبَرِيُّ الْحَافِظُ فِي كِتَابِ السَّنَّةِ عَنْ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ عُمَرَ بْنِ أَحْمَدَ كَمَا رَوَيْنَاهُ

‌‌قَوْلُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما فِي ذَلِكَ

 

أَخْبَرَنَا أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ نَصْرٍ الْأَصْبَهَانِيُّ بِهَا أَنَّ
সালেহ্ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইউসুফ ইবনে আদী থেকে, তিনি মাহবুব ইবনে মুহরিজ থেকে, তিনি আল-আমাশ থেকে, তিনি ইবরাহিম ইবনে ইয়াযিদ আত-তাইমি থেকে, তিনি আল-হারিস ইবনে সুওয়াইদ থেকে, তিনি বলেন:

আলী (আলাইহিস সালাম) কুরআন সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেছেন:

এটি স্রষ্টাও নয় এবং সৃষ্টিও নয়, বরং এটি মহান আল্লাহর বাণী; তাঁর নিকট থেকেই এর সূচনা এবং তাঁর দিকেই এটি ফিরে যাবে।

এটি বর্ণনা করেছেন ইমাম আবুল কাসিম হিবাতুল্লাহ ইবনুল হাসান ইবনে মানসুর আত-তাবারী আল-হাফিজ তাঁর 'কিতাবুস সুন্নাহ' গ্রন্থে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ থেকে, তিনি উমর ইবনে আহমদ থেকে, যেভাবে আমরা তা বর্ণনা করেছি।

‌‌এই বিষয়ে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর বক্তব্য

 

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে নাসর আল-আসবাহানি সেখানে যে,
(খণ্ড: ১) ইখতিসাসুল কুরআন বিউদিহী ইলার রাহীমির রহমান (পৃষ্ঠা: ২৫)
مَحْمُودَ بْنَ إِسْمَاعِيلَ الصَّيْرَفِيَّ أَخْبَرَهُمْ وَهُوَ حَاضِرٌ أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ فَاذَشَاهِ أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ سُلَيْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَيُّوبَ الطَّبَرانِيُّ حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْقَاسِمِ بْنِ الْمُسَاوِرِ الْجَوْهَرِيُّ حَدَّثَنَا عَاصِمُ بْنُ عَلِيٍّ حَدَّثَنَا أَبِي عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُدَيْرٍ عَنْ عِكْرِمَةَ قالَ

كَانَ ابْنُ عَبَّاسٍ فِي جِنَازَةٍ فَلَمَّا وُضِعَ الْمَيِّتُ فِي لَحْدِهِ قَامَ رَجُلٌ فَقَالَ اللَّهُمَّ رَبَّ الْقُرْآنِ أَوْسِعْ عَلَيْهِ مَدَاخِلَهُ اللَّهُمَّ رَبَّ الْقُرْآنِ اغْفِرْ لَهُ فَالْتَفَتَ إِلَيْهِ ابْنُ عَبَّاسٍ فَقَالَ

مَهْ الْقُرْآنُ كَلَامُ اللَّهِ وَلَيْسَ بِمَرْبُوبٍ مِنْهُ خَرَجَ وَإِلَيْهِ يعود
মাহমুদ ইবনে ইসমাঈল আস-সাইরাফী তাদের সংবাদ দিয়েছেন এমতাবস্থায় যে তিনি উপস্থিত ছিলেন; আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ফাযাশাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; আবুল কাসিম সুলাইমান ইবনে আহমদ ইবনে আইয়ুব আত-তাবারানী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; আহমদ ইবনে আল-কাসিম ইবনে আল-মুসাবির আল-জাওহারী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; আসিম ইবনে আলী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; আমার পিতা ইমরান ইবনে হুদাইর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি ইকরিমা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

ইবনে আব্বাস এক জানাজায় উপস্থিত ছিলেন। যখন মৃত ব্যক্তিকে তার লাহদ কবরে রাখা হলো, তখন এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল, "হে আল্লাহ, হে কুরআনের প্রতিপালক, তার প্রবেশের পথ প্রশস্ত করে দিন। হে আল্লাহ, হে কুরআনের প্রতিপালক, তাকে ক্ষমা করে দিন।" তখন ইবনে আব্বাস তার দিকে ফিরে তাকালেন এবং বললেন:

থামো! কুরআন আল্লাহর কালাম এবং তা কোনো সৃষ্ট বস্তু নয়। তাঁর থেকেই তা নির্গত হয়েছে এবং তাঁর দিকেই তা ফিরে যাবে।
(খণ্ড: ১) ইখতিসাসুল কুরআন বিউদিহী ইলার রাহীমির রহমান (পৃষ্ঠা: ২৬)
هَذَا مَشْهُورٌ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ

هَكَذَا رَوَاهُ الْإِمَامُ أَبُو الْقَاسِمِ سُلَيْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ الطَّبَرَانِيُّ رحمه الله فِي كِتَابِ السُّنَّةِ

وَقَدْ رَوَاهُ الْإِمَامُ أَبُو الْقَاسِمِ هِبَةُ اللَّهِ بن الْحسن الطَّبَرِيّ رحمه الله فِي كِتَابِ السُّنَّةِ مِنْ رِوَايَةِ الْإِمَامِ الْحَافِظِ أَبِي حَاتِمٍ مُحَمَّدِ بْنِ إِدْرِيسَ الرَّازِيِّ

‌‌مَا رُوِيَ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ رضي الله عنه

13 - أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الْأَمِينُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ حَمْزَةَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي جَمِيلٍ الْقُرَشِيُّ الشَّافِعِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَنَحْنُ نَسْمَعُ بِدِمَشْقَ قِيلَ لَهُ أَخْبَرَكُمُ الْأَمِينُ أَبُو مُحَمَّد هِبَةُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْأَكْفَانِيِّ فِي صَفَرٍ سنة إِحْدَى وَعشْرين وَخَمْسمِائة قَالَ أَخْبَرَنَا الْحَافِظُ أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدٍ الصُّوفِيُّ وَأَبُو مُحَمَّدٍ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ اللَّبَّادِ قَالَا
এটি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে প্রসিদ্ধ।

এভাবেই ইমাম আবুল কাসিম সুলায়মান বিন আহমাদ আত-তাবারানি (রাহিমাহুল্লাহ) 'কিতাবুস সুন্নাহ'-তে এটি বর্ণনা করেছেন।

এবং ইমাম আবুল কাসিম হিবাতুল্লাহ বিন আল-হাসান আত-তাবারী (রাহিমাহুল্লাহ) 'কিতাবুস সুন্নাহ'-তে ইমাম হাফিজ আবু হাতিম মুহাম্মদ বিন ইদরিস আর-রাজি-এর বর্ণনা থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

আমর বিন দিনার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে

১৩ - বিশ্বস্ত শায়খ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন হামজা বিন মুহাম্মদ বিন আবি জামিল আল-কুরাশি আল-শাফিঈ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাঁর নিকট পাঠ করা হচ্ছিল এবং আমরা দামেস্কে তা শুনছিলাম। তাঁকে বলা হলো: বিশ্বস্ত আবু মুহাম্মদ হিবাতুল্লাহ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-আকফানি ৫২১ হিজরির সফর মাসে আপনাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: হাফিজ আবু মুহাম্মদ আব্দুল আজিজ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মদ আস-সুফি এবং আবু মুহাম্মদ আল-হাসান বিন আলি বিন আল-লাব্বাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাঁরা উভয়ে বলেন:
(খণ্ড: ১) ইখতিসাসুল কুরআন বিউদিহী ইলার রাহীমির রহমান (পৃষ্ঠা: ২৭)
أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي نَصْرِ بْنِ مَعْرُوفٍ قَالَ أَخْبَرَنَا أَبُو سَعِيدٍ عَمْرُو بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يحيى الدينَوَرِي قَالَ قرىء عَلَى أَبِي جَعْفَرٍ مُحَمَّدِ بْنِ جَرِيرِ بْنِ يَزِيدَ الطَّبَرِيِّ حَدَّثَكُمْ مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي مَنْصُورٍ الْآمُلِيُّ حَدَّثَنَا الْحَكَمُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْآمُلِيُّ أَبُو مَرْوَانَ قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَة قَالَ

سَمِعْتُ عَمْرَو بْنَ دِينَارٍ يَقُولُ

أَدْرَكْتُ مَشَايِخَنَا مُنْذُ سَبْعِينَ سَنَةً يَقُولُونَ الْقُرْآنُ كَلَامُ اللَّهِ مِنْهُ بَدَأَ وَإِلَيْهِ يَعُودُ
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মাদ আব্দুর রহমান বিন উসমান বিন আবু নাসর বিন মারুফ, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাঈদ আমর বিন মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া আদ-দিনাওয়ারি, তিনি বলেন, আবু জাফর মুহাম্মাদ বিন জারির বিন ইয়াজিদ আত-তাবারির নিকট পাঠ করা হয়েছে যে—মুহাম্মাদ বিন আবু মানসুর আল-আমুলি আপনাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাকাম বিন মুহাম্মাদ আল-আমুলি আবু মারওয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইবনুল উয়াইনাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন

আমি আমর বিন দিনারকে বলতে শুনেছি

আমি সত্তর বছর পূর্ব থেকে আমাদের মাশায়েখদের পেয়েছি, তারা বলতেন: কুরআন আল্লাহর কালাম, তা তাঁর থেকেই শুরু হয়েছে এবং তাঁর দিকেই ফিরে যাবে।
(খণ্ড: ১) ইখতিসাসুল কুরআন বিউদিহী ইলার রাহীমির রহমান (পৃষ্ঠা: ২৮)
14 - قَرَأْتُ عَلَى الشَّيْخِ الْجَلِيلِ أَبِي أَحْمَدَ عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عَلِيِّ بْنِ عَلِيٍّ الْأَمِينِ بِبَغْدَادَ أَخْبَرَكُمْ أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ النَّحْوِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ
১৪ - আমি বাগদাদে মহান শায়খ আবু আহমাদ আবদুল ওয়াহহাব বিন আলী বিন আলী আল-আমীনের নিকট পাঠ করেছি; আবু মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ বিন আলী বিন আহমাদ আন-নাহবী তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে আপনাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) ইখতিসাসুল কুরআন বিউদিহী ইলার রাহীমির রহমান (পৃষ্ঠা: ২৯)
وَأَنْتَ تَسْمَعُ فَأَقَرَّ بِهِ قَالَ أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو طَاهِرٍ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْحَسَنِ السُّيُورِيِّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْخَلَّالُ مِنْ لَفْظِهِ قَالَ حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ النَّاقِدُ حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ الطَّيِّبِ الْبَلْخِيُّ حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ رَاهَوَيْهِ الْحَنْظَلِيُّ قَالَ ذَكَرَ سُفْيَان بن عُيَيْنَة عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ قَالَ

أَدْرَكْتُ النَّاسَ وَقَدْ أَدْرَكَ أَصْحَابُ رَسُول الله فَمِنْ دُونِهِمْ مُنْذُ سَبْعِينَ سَنَةً كُلُّهُمْ يَقُولُونَ اللَّهُ جَلَّ اسْمُهُ الْخَالِقُ وَمَا سِوَاهُ مَخْلُوقٌ إِلَّا الْقُرْآنَ فَإِنَّهُ كَلَامُ اللَّهِ تَعَالَى مِنْهُ خَرَجَ وَإِلَيْهِ يَعُودُ
এবং আপনি শুনছিলেন, অতঃপর তিনি তা স্বীকার করলেন। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ আবু তাহির আব্দুল মালিক ইবন আহমাদ ইবন হাসান আল-সুয়ূরী, তাঁর সম্মুখে পাঠ করা হয়েছে এবং আমি শুনছিলাম। তিনি বলেন: আবু মুহাম্মাদ আল-হাসান ইবন মুহাম্মাদ আল-খাল্লাল তাঁর নিজ কণ্ঠে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: উমর ইবন মুহাম্মাদ ইবন আলী আন-নাকিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। আল-হাসান ইবনুত তাইয়িব আল-বালখী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। ইসহাক ইবন রাহওয়াইহ আল-হানজালী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: সুফিয়ান ইবন উইয়াইনাহ আমর ইবন দীনার থেকে উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন:

আমি সত্তর বছর যাবৎ এমন সব মানুষের সান্নিধ্য পেয়েছি—যাঁরা আল্লাহর রাসূলের সাহাবীগণ এবং তাঁদের পরবর্তী স্তরের ব্যক্তিবর্গকে পেয়েছিলেন—তাঁরা সকলেই বলতেন: আল্লাহ (যাঁর নাম মহিমান্বিত) হলেন স্রষ্টা এবং তিনি ব্যতীত সবকিছুই সৃষ্টি, কেবল কুরআন ব্যতীত। কেননা এটি মহান আল্লাহর কালাম; এটি তাঁর নিকট থেকেই নির্গত হয়েছে এবং তাঁর দিকেই ফিরে যাবে।
(খণ্ড: ১) ইখতিসাসুল কুরআন বিউদিহী ইলার রাহীমির রহমান (পৃষ্ঠা: ৩০)
15 - وَأَخْبَرَنَا أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ نَصْرٍ الصَّيْدَلَانِيُّ بِأَصْبَهَانَ أَنَّ أَبَا مَنْصُورٍ مَحْمُودَ بْنَ إِسْمَاعِيلَ الصَّيْرَفِيَّ أَخْبَرَهُمْ وَهُوَ حَاضِرٌ أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ فَاذَشَاهِ أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ سُلَيْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَيُّوبَ الطَّبَرَانِيُّ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدٍ التَّمَّارُ الْبَصْرِيُّ حَدَّثَنَا الْهَيْثَمُ بْنُ صَالِحٍ الْعَطَّارُ الْوَاسِطِيُّ قَالَ

كُنْتُ عِنْدَ سُفْيَانَ بْنِ عُيَيْنَةَ فِي الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ إِذْ دَخَلَ بِشْرٌ الْمَرِيسِيُّ فَقَالَ رَجُلٌ يَا أَبَا مُحَمَّدٍ تَعْرِفُ هَذَا الرَّجُلَ فَقَالَ وَمَنْ هَذَا قَالَ بِشْرٌ الْمَرِيسِيُّ قَالَ وَمَا يَقُولُ قَالَ يَقُولُ الْقُرْآنُ مَخْلُوقٌ فَقَالَ سُفْيَانُ سُبْحَانَ اللَّهِ سَمِعْتُ عَمْرَو بْنَ دِينَارٍ مُنْذُ سِتِّينَ سَنَةً يَقُولُ اللَّهُ الْخَالِقُ وَمَا دُونَهَ مَخْلَوُقٌ إِلَّا الْقُرْآنَ فَإِنَّهُ مِنْهُ بَدَأَ وَإِلَيْهِ يَعُودُ وَلَيْسَ بِمَخْلُوقٍ

رَوَى هَذَا الْإِمَامُ أَبُو الْقَاسِمِ سُلَيْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ الطَّبَرَانِيُّ وَالْإِمَامُ أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدِ بْنِ جَرِيرِ بْنِ يَزِيدَ وَالْإِمَامُ أَبُو الْقَاسِمِ هِبَةُ اللَّهِ بْنُ الْحَسَنِ فِي كُتُبِهِمْ
১৫ - এবং আসফাহানে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে নাসর আস-সায়দালানি যে, আবু মনসুর মাহমুদ ইবনে ইসমাইল আস-সায়রাফি তাদের সংবাদ দিয়েছেন এমতাবস্থায় যে তিনি উপস্থিত ছিলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হুসাইন আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ফাযাশাহ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম সুলাইমান ইবনে আহমদ ইবনে আইয়ুব আত-তাবারানি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ আত-তাম্মার আল-বাসরি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাইসাম ইবনে সালিহ আল-আত্তার আল-ওয়াসিতি, তিনি বলেন:

আমি মসজিদে হারামে সুফিয়ান ইবনে উয়ায়নাহর নিকট ছিলাম, এমতাবস্থায় বিশর আল-মারিসি প্রবেশ করল। তখন এক ব্যক্তি বলল, "হে আবু মুহাম্মদ! আপনি কি এই ব্যক্তিকে চেনেন?" তিনি বললেন, "সে কে?" সে বলল, "বিশর আল-মারিসি।" তিনি বললেন, "সে কী বলে?" সে বলল, "সে বলে যে কুরআন সৃষ্টি করা হয়েছে।" তখন সুফিয়ান বললেন, "আল্লাহ অতি পবিত্র! আমি ষাট বছর আগে আমর ইবনে দিনারকে বলতে শুনেছি, তিনি বলতেন: আল্লাহ স্রষ্টা এবং তিনি ব্যতীত যা কিছু আছে তা সৃষ্টি, কেবল কুরআন ব্যতীত; কেননা এটি তাঁর থেকেই শুরু হয়েছে এবং তাঁর দিকেই ফিরে যাবে, আর এটি সৃষ্টি নয়।"

ইমাম আবুল কাসিম সুলাইমান ইবনে আহমদ আত-তাবারানি, ইমাম আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে জারির ইবনে ইয়াজিদ এবং ইমাম আবুল কাসিম হিবাতুল্লাহ ইবনে আল-হাসান তাঁদের গ্রন্থসমূহে এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) ইখতিসাসুল কুরআন বিউদিহী ইলার রাহীমির রহমান (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌مَا ذُكِرَ عَنْ أَحْمَدَ بْنِ سِنَانٍ رضي الله عنه

 

16 - أَخْبَرَنَا أَبُو أَحْمَدَ عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عَلِيِّ بْنِ عَلِيِّ بْنِ عُبَيْدِ الله الْمَعْرُوف ب ابْن سُكَيْنَةَ الصُّوفِيُّ بِبَغْدَادَ أَنَّ أَبَا مُحَمَّدٍ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَلِيِّ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ المقرىء أَخْبَرَهُمْ قِرَاءَةً عَلَيْهِ أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْحَسَنِ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْخَلَّالُ مِنْ لَفْظِهِ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ شَاذَانَ حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَفِيرٍ قَالَ قَالَ أَبُو جَعْفَرٍ أَحْمَدُ بْنُ سِنَانٍ
আহমাদ বিন সিনান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে যা বর্ণিত হয়েছে

 

১৬ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আহমাদ আব্দুল ওয়াহহাব বিন আলী বিন আলী বিন উবাইদুল্লাহ, যিনি বাগদাদে ইবনে সুকাইনা আস-সুফি নামে পরিচিত, নিশ্চয়ই আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ বিন আলী বিন আহমাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-মুকরি তাঁদেরকে তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন যে: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল মালিক বিন আহমাদ বিন আল-হাসান, তিনি বলেন, আমাদের নিকট তাঁর নিজ মুখে বর্ণনা করেছেন আবু মুহাম্মাদ আল-হাসান বিন মুহাম্মাদ আল-খাল্লাল, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর আহমাদ বিন ইবরাহিম বিন শাযান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হুসাইন বিন মুহাম্মাদ বিন আফীর, তিনি বলেন, আবু জাফর আহমাদ বিন সিনান বলেছেন
(খণ্ড: ১) ইখতিসাসুল কুরআন বিউদিহী ইলার রাহীমির রহমান (পৃষ্ঠা: ৩২)
مَنْ زَعَمَ أَنَّ الْقُرْآنَ شَيْئَيْنَ أَوْ أَنَّ الْقُرْآنَ حِكَايَةٌ فَهُوَ وَاللَّهِ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ زِنْدِيقٌ كَافِرٌ بِاللَّهِ هَذَا الْقُرْآنُ هُوَ الْقُرْآنُ الَّذِي أَنْزَلَهُ اللَّهُ عَلَى لِسَانِ جِبْرِيلَ عَلَى مُحَمَّد لَا يُغَيَّرُ وَلَا يُبَدَّلُ لَا يَأْتِيهِ الْبَاطِلُ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ وَلَا مِنْ خَلْفِهِ تَنْزِيلٌ مِنْ حَكِيمٍ حَمِيدٍ كَمَا قَالَ اللَّهُ عز وجل ( {قُلْ لَئِنِ اجْتَمَعَتِ الإِنْسُ وَالْجِنُّ عَلَى أَنْ يَأْتُوا بِمثل هَذَا الْقُرْآن لَا يَأْتُونَ بِمِثْلِهِ} ) الْإِسْرَاء 88 وَلَوْ أَنَّ رَجُلًا حَلَفَ أَنْ لَا يَتَكَلَّمَ الْيَوْمَ ثُمَّ قَرَأَ الْقُرْآنَ أَوْ صَلَّى وَقَرَأَ الْقُرْآنَ أَوْ سَلَّمَ فِي الصَّلَاةِ لَمْ يَحْنِثْ لَا يُقَاسُ بِكَلَامِ اللَّهِ شَيْءٌ الْقُرْآنُ كَلَامُ اللَّهِ مِنْهُ بَدَأَ وَإِلَيْهِ يَعُودُ لَيْسَ مِنَ اللَّهِ تَعَالَى شَيْءٌ مَخْلُوقٌ وَلَا صِفَاتُهُ وَلَا أَسْمَاؤُهُ وَلَا عِلْمُهُ 17 - أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي الْقَاسِمِ التَّمِيمِيُّ الْمُؤَدِّبُ بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ بِأَصْبَهَانَ قُلْتُ لَهُ أَخْبَرَكُمْ أَبُو الْخَيْرِ مُحَمَّدُ بْنُ

যে ব্যক্তি ধারণা করে যে কুরআন দুইটি বস্তু অথবা কুরআন কেবল একটি বর্ণনা মাত্র, তবে সে আল্লাহর কসম—যিনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই—একজন যিনদীক এবং আল্লাহর প্রতি কাফির। এই কুরআনই সেই কুরআন যা আল্লাহ জিবরাঈলের জবানে মুহাম্মাদ-এর ওপর অবতীর্ণ করেছেন। এটি পরিবর্তিত বা রূপান্তরিত হয় না। এর সামনে কিংবা পেছন থেকে কোনো বাতিল বা মিথ্যা আসতে পারে না। এটি প্রজ্ঞাময়, প্রশংসিত সত্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ; যেমন আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালী বলেছেন: ({বলুন, যদি মানুষ ও জিন এই কুরআনের অনুরূপ আনার জন্য একত্রিত হয়, তবুও তারা এর অনুরূপ আনতে পারবে না}) আল-ইসরা ৮৮। যদি কোনো ব্যক্তি শপথ করে যে সে আজ কথা বলবে না, এরপর সে কুরআন পাঠ করে অথবা সালাত আদায় করে এবং তাতে কুরআন পাঠ করে কিংবা সালাতে সালাম প্রদান করে, সে শপথ ভঙ্গকারী হবে না। আল্লাহর কালামের সাথে কোনো কিছুর তুলনা চলে না। কুরআন আল্লাহর কালাম, তাঁর নিকট হতেই এর সূচনা এবং তাঁর দিকেই তা ফিরে যাবে। আল্লাহ তাআলার কোনো কিছুই সৃষ্টি নয়—না তাঁর গুণাবলি, না তাঁর নামসমূহ, আর না তাঁর জ্ঞান।

১৭ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবিল কাসিম আত-তামীমী আল-মুয়াদ্দিব—ইসফাহানে তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে। আমি তাঁকে বললাম: আপনাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-খাইর মুহাম্মাদ ইবনে...

(খণ্ড: ১) ইখতিসাসুল কুরআন বিউদিহী ইলার রাহীমির রহমান (পৃষ্ঠা: ৩৩)
رَجَاءَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عُمَرَ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ يُونُسَ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنْتَ تَسْمَعُ فَأَقَرَّ بِهِ أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الذَّكْوَانِيُّ أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُوسَى بْنِ مَرْدُوَيْهَ الْحَافِظُ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ ذَكَرَ مُعَلَّى بْنُ أَسَدٍ حَدَّثَنَا فُضَيْلُ بْنُ سُلَيْمَانَ عَنْ أَبِي مَالِكٍ الْأَشْجَعِيِّ عَنْ رِبْعِيٍّ عَنْ حُذَيْفَةَ

وَعَنْ أَبِي حَازِمٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَا قَالَ رَسُولُ الله
রাজাহ ইবনে ইবরাহিম ইবনে উমর ইবনুল হাসান ইবনে ইউনুস, তার নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং আপনি তা শুনছিলেন, এমতাবস্থায় তিনি তা স্বীকার করেছেন; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হুসাইন আহমাদ ইবনে আবদুর রহমান আয-যাকওয়ানি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমাদ ইবনে মুসা ইবনে মারদুওয়াইহ আল-হাফিয, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবনে জাফর, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইসমাঈল ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ, তিনি বলেন, মুআল্লা ইবনে আসাদ উল্লেখ করেছেন, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ফুযাইল ইবনে সুলাইমান, আবু মালিক আল-আশজায়ি থেকে, তিনি রিবঈ থেকে, তিনি হুযায়ফা থেকে

এবং আবু হাযিম থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তারা উভয়ে বলেন, আল্লাহর রাসূল বলেছেন:
(খণ্ড: ১) ইখতিসাসুল কুরআন বিউদিহী ইলার রাহীমির রহমান (পৃষ্ঠা: ৩৪)
يُسْرَى عَلَى كِتَابِ اللَّهِ لَيْلًا فَيُصْبِحُ النَّاسُ لَيْسَ فِي الْأَرْضِ وَلَا جَوْفِ مُسْلِمٍ مِنْهُ آيَةٌ

رَوَاهُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ بْنِ مَاجَةَ بِنَحْوِهِ عَنْ عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ
এক রাতে আল্লাহর কিতাব উঠিয়ে নেওয়া হবে, ফলে সকালে মানুষের অবস্থা এমন হবে যে পৃথিবীতে কিংবা কোনো মুসলিমের অন্তরে এর একটি আয়াতও অবশিষ্ট থাকবে না।

এটি আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াজিদ ইবনে মাজাহ অনুরূপভাবে আলী ইবনে মুহাম্মাদ থেকে বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১) ইখতিসাসুল কুরআন বিউদিহী ইলার রাহীমির রহমান (পৃষ্ঠা: ৩৫)
أَبِي مُعَاوِيةَ عَنْ أَبِي مَالِكٍ الْأَشْجَعِيِّ عَنْ رِبْعِيٍّ عَنْ حُذَيْفَةَ 18 - أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الصَّمَدِ التَّاجِرُ الْأَصْبَهَانِيُّ بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ بِهَا قُلْتُ لَهُ أَخْبَرَكُمْ أَبُو الْقَاسِمِ إِسْمَاعِيلُ بن عَليّ ابْن الْحُسَيْنِ بْنِ أَبِي نَصْرٍ الصُّوفِيُّ النَّيْسَابُورِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ أَخْبَرَنَا الْقَاضِي الْإِمَامُ أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ التَّمِيمِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحُسَيْنُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ جَعْفَرٍ الْمُعَدَّلُ أَخْبَرَنَا أَبُو إِسْحَاقَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ السِّنْدِيِّ بْنِ عَلِيِّ بْنِ بَهْرَامٍ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ زِيَادِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ
আবু মুয়াবিয়া থেকে, তিনি আবু মালিক আল-আশজায়ি থেকে, তিনি রিবঈ থেকে এবং তিনি হুযায়ফা থেকে বর্ণনা করেছেন। ১৮ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ আবু বকর আহমদ ইবনে সাঈদ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুস সামাদ আল-তাজির আল-আসবাহানি, সেখানে তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে; আমি তাঁকে বললাম: আবু আল-কাসিম ইসমাইল ইবনে আলী ইবনুল হুসাইন ইবনে আবু নাসর আস-সুফি আন-নাইসাবুরি কি আপনাদের সংবাদ দিয়েছেন তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে? (তিনি বললেন:) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন কাজি ইমাম আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী আত-তামিমি তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে; (তিনি বললেন:) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন ইবনে আহমদ ইবনে জাফর আল-মুয়াদ্দাল; (তিনি বললেন:) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবনে আস-সিন্দি ইবনে আলী ইবনে বাহরাম; তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে যিয়াদ ইবনে উবাইদুল্লাহ।
(খণ্ড: ১) ইখতিসাসুল কুরআন বিউদিহী ইলার রাহীমির রহমান (পৃষ্ঠা: ৩৬)
الزِّيَادِيُّ حَدَّثَنَا فُضَيْلٌ هُوَ ابْنُ عِيَاضٍ عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ رُفَيْعٍ عَنْ شَدَّادِ بْنِ مَعْقِلٍ قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ هُوَ ابْنُ مَسْعُودٍ رضي الله عنه

إِنَّ أَوَّلَ مَا تَفْقِدُونَ مِنْ دِينِكُمُ الْأَمَانَةُ وَآخِرَ مَا تَفْقِدُونَ مِنْهُ الصَّلَاةُ وَسَيُصَلِّي قَوْمٌ لَا دِينَ لَهُمْ وَإِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ الَّذِي بَيْنَ أَظْهُرِكُمْ يُوشِكُ أَنْ يُرْفَعَ

قَالَ قُلْتُ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ وَكَيْفَ ذَاكَ وَقَدْ أَثْبَتَهُ اللَّهُ جَلَّ وَعَزَّ فِي قُلُوِبنَا وَأَثْبَتْنَاهُ فِي مَصَاحِفِنَا

قَالَ يُسْرَى عَلَيْهِ فِي لَيْلَةٍ وَاحِدَةٍ فَلَا يُتْرَكُ مِنْهُ فِي صَدْرِ رَجُلٍ وَلَا فِي مُصْحَفٍ ثُمَّ قَرَأَ ( {وَلَئِنْ شِئْنَا لَنَذْهَبَنَّ بِالَّذِي أَوْحَينَا إِلَيْك} ) الْآيَة الْإِسْرَاء 86
যিয়াদি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ফুযাইল (যিনি ইবনে ইয়াজ) আমাদের নিকট আব্দুল আজিজ ইবনে রুফাই থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি শাদ্দাদ ইবনে মাকিল থেকে, তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ (যিনি ইবনে মাসউদ) রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন:

নিশ্চয়ই তোমাদের দ্বীন থেকে সর্বপ্রথম যা তোমরা হারাবে তা হলো আমানতদারি, এবং সর্বশেষ যা হারাবে তা হলো সালাত। অচিরেই এমন এক কওম সালাত আদায় করবে যাদের কোনো দ্বীন থাকবে না। আর তোমাদের মাঝে বিদ্যমান এই কুরআন অচিরেই উঠিয়ে নেওয়া হবে।

শাদ্দাদ বলেন, আমি বললাম: হে আবু আব্দুর রহমান! এটি কীভাবে হবে, অথচ আল্লাহ তাআলা তা আমাদের অন্তরে সুদৃঢ় করে দিয়েছেন এবং আমরাও আমাদের মুসহাফসমূহে তা সুসংরক্ষিত করেছি?

তিনি বললেন: এক রাতের মধ্যেই তা উঠিয়ে নেওয়া হবে, ফলে কোনো ব্যক্তির অন্তরে বা কোনো মুসহাফে এর কিছুই অবশিষ্ট রাখা হবে না। অতঃপর তিনি পাঠ করলেন: (আর আমি ইচ্ছা করলে আপনার নিকট যা ওহী পাঠিয়েছি তা অবশ্যই প্রত্যাহার করে নিতে পারতাম) - সূরা আল-ইসরা: ৮৬।
(খণ্ড: ১) ইখতিসাসুল কুরআন বিউদিহী ইলার রাহীমির রহমান (পৃষ্ঠা: ৩৭)
19 - وَأَخْبَرَنَا أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمد بن نصر بن بن أبي الْفَتْح الصيدلاني بقرائتي عَلَيْهِ بِأَصْبَهَانَ قُلْتُ لَهُ أَخْبَرَتْكُمْ فَاطِمَةُ بِنْتُ عَبْدِ اللَّهِ الْجَوْزَدَانِيَّةِ قِرَاءَةً عَلَيْهَا وَأَنْتَ تَسْمَعُ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رِيذَةَ أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ الطَّبَرَانِيُّ حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدَّبَرِيُّ عَنْ عَبْدِ الرَّزَّاقِ عَنْ إِسْرَائِيلَ عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنُ رُفَيْعٍ عَنْ شَدَّادِ بْنِ مَعْقِلٍ قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ مَسْعُودٍ يَقُولُ

إِنَّ أَوَّلَ مَا تَفْقِدُونَ مِنْ دِينِكُمُ الْأَمَانَةُ وَآخِرَ مَا يَبْقَى مِنْ دِينِكُمُ الصَّلَاةُ وَلَيُصَلِّيَنَّ قَوْمٌ لَا دِينَ لَهُمْ وَلَيُنْتَزَعَنَّ الْقُرْآنُ مِنْ بَيْنِ أَظْهُرِكُمْ

قَالُوا يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَلَسْنَا نَقْرَأُ الْقُرْآنَ وَقَدْ أَثْبَتْنَاهُ فِي مَصَاحِفِنَا
১৯ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনে নাসর ইবনে আবিল ফাতহ আস-সাইদালানি, আসফাহানে তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে। আমি তাঁকে বললাম: ফাতিমা বিনত আব্দুল্লাহ আল-জাওযদানিয়া কি আপনাদের সংবাদ দিয়েছেন এমতাবস্থায় যে তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং আপনি তা শুনছিলেন? তিনি বললেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে রীজাহ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সুলায়মান ইবনে আহমাদ আত-তাবারানি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসহাক ইবনে ইবরাহিম আদ-দাবারি, তিনি আব্দুর রাজ্জাক থেকে, তিনি ইসরাইল থেকে, তিনি আব্দুল আজিজ ইবনে রুফাই থেকে, তিনি শাদ্দাদ ইবনে মাকিল থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি ইবনে মাসউদকে বলতে শুনেছি:

নিশ্চয় তোমাদের দ্বীন থেকে যা তোমরা প্রথম হারাবে তা হলো আমানত (আমানতদারিতা), আর তোমাদের দ্বীনের সর্বশেষ যা অবশিষ্ট থাকবে তা হলো সালাত। আর এমন এক কওম অবশ্যই সালাত আদায় করবে যাদের কোনো দ্বীন নেই। এবং তোমাদের মধ্য থেকে অবশ্যই কুরআন ছিনিয়ে নেওয়া হবে।

তারা বলল: হে আবু আব্দুর রহমান! আমরা কি কুরআন পাঠ করছি না? অথচ আমরা তা আমাদের মাসহাফসমূহে (লিখিত পাণ্ডুলিপিতে) লিপিবদ্ধ করে রেখেছি।
(খণ্ড: ১) ইখতিসাসুল কুরআন বিউদিহী ইলার রাহীমির রহমান (পৃষ্ঠা: ৩৮)
قَالَ يُسْرَى عَلَى الْقُرْآنِ لَيْلًا فَيُذَهَبُ بِهِ مِنْ أَجْوَافِ الرِّجَالِ فَلَا يَبْقَى فِي الْأَرْضِ مِنْهُ شَيْء

كَذَا رَوَاهُ الْإِمَامُ أَبُو الْقَاسِمِ سُلَيْمَانُ بن أَحْمد الطَّبَرَانِيّ فِي كتاب المعجم الْكَبِير
তিনি বলেন: এক রাতে কুরআনের ওপর দিয়ে (এক বিশেষ পরিক্রমা) অতিক্রম করা হবে, ফলে মানুষের অন্তরসমূহ থেকে তা তুলে নেওয়া হবে এবং জমিনে তার কোনো কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।

এভাবেই ইমাম আবুল কাসিম সুলায়মান ইবনে আহমদ আত-তাবারানি তাঁর ‘আল-মুজামুল কাবীর’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।