(খণ্ড: ১)
লুমআতুল আদিল্লাহ ফী কাওয়াইদি আকাইদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: -)
لمع الأدلة في قواعد عقائد أهل السنة والجماعة القسم: العقيدة
الكتاب: لمع الأدلة في قواعد عقائد أهل السنة والجماعة
المؤلف: عبد الملك بن عبد الله بن يوسف بن محمد الجويني، أبو المعالي، ركن الدين، الملقب بإمام الحرمين (ت 478هـ)
المحقق: فوقية حسين محمود
الناشر: عالم الكتب - لبنان
الطبعة: الثانية، 1407هـ - 1987م
عدد الصفحات: 130
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের আকিদার মূলনীতিসমূহে প্রমাণের আলোকচ্ছটা বিভাগ: আকিদা
বই: আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের আকিদার মূলনীতিসমূহে প্রমাণের আলোকচ্ছটা
লেখক: আব্দুল মালিক বিন আব্দুল্লাহ বিন ইউসুফ বিন মুহাম্মদ আল-জুওয়াইনি, আবু আল-মাআলি, রুকন উদ্দীন, ইমামুল হারামাইন উপাধিতে ভূষিত (মৃত্যু ৪৭৮ হিজরি)
সম্পাদক: ফাওকিয়া হুসাইন মাহমুদ
প্রকাশক: আলম আল-কুতুব - লেবানন
সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪০৭ হিজরি - ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৩০
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
লুমআতুল আদিল্লাহ ফী কাওয়াইদি আকাইদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ৮৫)
بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيموَبِه ثقتي وَهُوَ حسبي وَكفى
الْحَمد لله الْعَلِيم القاهر الْحَكِيم الَّذِي وَجب لَهُ الْقدَم واستحال فِي تعاليه تَجْوِيز الْعَدَم وَالصَّلَاة على النَّبِي مبيد الْبَاطِل وموضح الْحق بواضحات الدَّلَائِل
هَذَا وَقد استدعيتم أرشدكم الله عز وجل ذكر لمع من الْأَدِلَّة فِي قَوَاعِد عقائد أهل السّنة وَالْجَمَاعَة
فاستخرت الله تَعَالَى فِي إسعافكم بمناكم وَالله الْمُسْتَعَان وَعَلِيهِ التكلان
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।তাঁর ওপরই আমার ভরসা এবং তিনি আমার জন্য যথেষ্ট ও পর্যাপ্ত।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সর্বজ্ঞানী, মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়; যাঁর জন্য অনাদিত্ব সাব্যস্ত এবং যাঁর সুউচ্চ মর্যাদায় অস্তিত্বহীনতার সম্ভাবনা অসম্ভব। এবং দরুদ বর্ষিত হোক সেই নবীর ওপর, যিনি বাতিলকে বিনাশকারী এবং সুস্পষ্ট দলিলের মাধ্যমে সত্যকে উন্মোচনকারী।
অতঃপর, আপনারা—আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা আপনাদের সঠিক পথে পরিচালিত করুন—আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদার মূলনীতিসমূহের কিছু দালিলিক আলোকপাত করার জন্য অনুরোধ করেছেন।
তাই আপনাদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে আমি মহান আল্লাহর নিকট কল্যাণ প্রার্থনা করেছি; আল্লাহই সাহায্যস্থল এবং তাঁর ওপরই একান্ত নির্ভরতা।
(খণ্ড: ১)
লুমআতুল আদিল্লাহ ফী কাওয়াইদি আকাইদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ৮৬)
1 -
الْعَالم وحدوثه
الأَصْل فِي حُدُوث الْعَالم وَوُجُود الصَّانِع) اعلموا وفقكم الله أَن الأولى تَقْدِيم عِبَارَات اصْطلحَ الموحدون عَلَيْهَا ابْتِغَاء مِنْهُم لجمع الْمعَانِي الْكَثِيرَة فِي الْأَلْفَاظ الوجيزة
فَمَا أَطْلقُوهُ الْعَالم فَإِن قيل مَا الْعَالم وَلم سمي الْعَالم عَالما
قُلْنَا الْعَالم عِنْد سلف الْأمة عبارَة عَن كل مَوْجُود سوى الله تَعَالَى
وَعند خلف الْأمة عبارَة عَن الْجَوْهَر والأعراض
فَأَما قَوْله لم سمي الْعَالم عَالما
فَأَما الْعَالم فمشتق من الْعلم والعلامة
وَإِنَّمَا سمي الْعلم علما لِأَنَّهُ أَمارَة مَنْصُوبَة على وجود صَاحب الْعلم
১ -
জগত এবং এর সৃষ্টি হওয়া
জগতের সৃষ্টি হওয়া এবং স্রষ্টার অস্তিত্বের মূলনীতি) জেনে রাখুন—আল্লাহ আপনাদের তাওফিক দান করুন—একত্ববাদীগণ (মুওয়াহ্হিদগণ) যে সকল পরিভাষা নির্ধারণ করেছেন, তা আগে উপস্থাপন করা উত্তম। এর মাধ্যমে তাদের উদ্দেশ্য হলো সংক্ষিপ্ত শব্দের মাঝে বহুবিধ অর্থকে একত্রিত করা।
তারা যেটিকে 'জগত' (আল-আলাম) হিসেবে অভিহিত করেছেন, সে বিষয়ে যদি প্রশ্ন করা হয় যে—জগত কী এবং কেন জগতকে জগত বলা হয়?
আমরা বলব: উম্মতের সালাফগণের নিকট আল্লাহ তাআলা ব্যতীত বিদ্যমান প্রতিটি বস্তুর নামই হলো জগত।
আর উম্মতের খালাফগণের নিকট জগত হলো জাওহার (মৌলিক সত্তা) ও আরাজ (আপতিক গুণাবলি)-এর সমষ্টি।
আর কেন জগতকে জগত বলা হয়—এই প্রশ্নের উত্তরে বলা যায়:
জগত (আলাম) শব্দটি 'ইলম' (জ্ঞান) এবং 'আলামত' (চিহ্ন) থেকে উদ্ভূত।
মূলত জ্ঞানকে জ্ঞান (ইলম) বলা হয়েছে কারণ এটি জ্ঞানসম্পন্ন সত্তার অস্তিত্বের ওপর স্থাপিত একটি সুস্পষ্ট নিদর্শন।
(খণ্ড: ১)
লুমআতুল আদিল্লাহ ফী কাওয়াইদি আকাইদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ৮৭)
فَكَذَلِك الْعَالم بجواهره وأعراضه وأجزائه وأبعاضه دلَالَة دَالَّة على وجود الرب سبحانه وتعالى
فَإِن قيل مَا حد الْجَوْهَر وَمَا حَقِيقَة الْعرض
قُلْنَا الْجَوْهَر قد ذكرت لَهُ حدودا شَتَّى غير أَنا نقتصر على ثَلَاثَة مِنْهَا فَنَقُول الْجَوْهَر المتحيز
وَقيل الْجَوْهَر مَاله حجم
وَقيل الْجَوْهَر مَا يقبل الْعرض
فَأَما الْعرض فقد قيل مَا يقوم بالجوهر
وَقيل مَا يطْرَأ على الْجَوَاهِر كالألوان والطعوم والروائح والعلوم وَالْقدر والإرادات الْحَادِثَة وأضدادها والحياة وَالْمَوْت
وَقيل الْعرض مَا يَسْتَحِيل عَلَيْهِ الْبَقَاء
ثمَّ أعلم أَن الْمَوْجُود يَنْقَسِم إِلَى قديم وحادث
فالقديم هُوَ الْمَوْجُود الَّذِي لَا أول لوُجُوده
والحادث هُوَ الْمَوْجُود الَّذِي لَهُ أول
فَإِن قيل مَا الدَّلِيل على حُدُوث الْعَالم
قُلْنَا الدَّلِيل عَلَيْهِ أَن أجرام الْعَالم وأجسامها لَا تَخْلُو عَن الْأَعْرَاض الْحَادِثَة وَمَا لَا يَخْلُو عَن الْحَادِث حَادث
একইভাবে এই জগৎ তার সকল সারাংশ, আকস্মিক গুণাবলী, অংশ ও অবয়বসমূহসহ মহান প্রতিপালক পবিত্র ও মহান সত্তার অস্তিত্বের ওপর এক নির্দেশক প্রমাণ।
যদি প্রশ্ন করা হয় যে, সারাংশের সংজ্ঞা কী এবং আকস্মিক গুণের প্রকৃত রূপ কী?
আমরা বলি, সারাংশের নানাবিধ সংজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে, তবে আমরা তার মধ্য থেকে কেবল তিনটির ওপর সীমাবদ্ধ থাকব। আমরা বলি: সারাংশ হলো স্থান দখলকারী সত্তা।
আবার বলা হয়েছে: সারাংশ হলো তা-ই যার আয়তন রয়েছে।
আরও বলা হয়েছে: সারাংশ হলো তা-ই যা আকস্মিক গুণাবলী গ্রহণ করে।
আর আকস্মিক গুণের ব্যাপারে বলা হয়েছে যে, তা হলো যা সারাংশের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত থাকে।
আরও বলা হয়েছে: আকস্মিক গুণ হলো তা-ই যা সারাংশের ওপর আপতিত হয়, যেমন বর্ণ, স্বাদ, ঘ্রাণ, জ্ঞান, সক্ষমতা, নবোদ্ভূত ইচ্ছা ও তাদের বিপরীতসমূহ এবং জীবন ও মৃত্যু।
আরও বলা হয়েছে: আকস্মিক গুণ হলো তা-ই যার স্থায়িত্ব অসম্ভব।
অতঃপর জেনে রাখুন যে, বিদ্যমান বস্তু দুই ভাগে বিভক্ত: অনাদি ও নবোদ্ভূত।
অনাদি হলো সেই বিদ্যমান সত্তা যার অস্তিত্বের কোনো শুরু নেই।
নবোদ্ভূত হলো সেই বিদ্যমান বস্তু যার অস্তিত্বের শুরু আছে।
যদি প্রশ্ন করা হয় যে, জগতের নবোদ্ভূত হওয়ার প্রমাণ কী?
আমরা বলি, এর প্রমাণ হলো যে জগতের পিণ্ড ও দেহসমূহ নবোদ্ভূত গুণাবলী থেকে মুক্ত নয়; আর যা নবোদ্ভূত বিষয় থেকে মুক্ত নয়, তা নিজেও নবোদ্ভূত।
(খণ্ড: ১)
লুমআতুল আদিল্লাহ ফী কাওয়াইদি আকাইদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ৮৮)
السُّؤَال على هَذَا الْكَلَام من أَرْبَعَة أوجه
الأول لَا نسلم ثُبُوت الْأَعْرَاض
وَلَئِن سلمنَا ثُبُوت الْأَعْرَاض فَلَا نسلم حدوثها
وَلَئِن سلمنَا حدوثها فَلَا نسلم اسْتِحَالَة خلو الْجَوْهَر عَن هَذِه الْأَعْرَاض الْحَادِثَة
وَالرَّابِع لم قلت إِن مَا لَا يَخْلُو عَن الْحَادِث حَادث
أما السُّؤَال الأول إِنْكَار ثُبُوت الْأَعْرَاض
الدَّلِيل على ثُبُوت الْأَعْرَاض أَن الْعَاقِل إِذا رأى جوهرا سَاكِنا ثمَّ رَآهُ متحركا فقد أدْرك التَّفْرِقَة الضرورية 118 وَبَين هَاتين الْحَالَتَيْنِ
وَتلك التَّفْرِقَة لَا تَخْلُو
إِمَّا أَن ترجع إِلَى ذَات الْجَوْهَر
أَو إِلَى معنى زَائِد على الْجَوْهَر
اسْتَحَالَ أَن يُقَال ترجع التَّفْرِقَة إِلَى ذَات الْجَوْهَر لِأَن الْجَوْهَر فِي الْحَالَتَيْنِ مُتحد وَالشَّيْء لَا يُخَالف نَفسه فَلَا يَقع الِافْتِرَاق إِلَّا بَين ذاتين فصح ووضح بذلك أَن التَّفْرِقَة رَاجِعَة إِلَى معنى زَائِد على الْجَوْهَر وَذَلِكَ هُوَ الْعرض الَّذِي ادعيناه
এই আলোচনার উপর প্রশ্ন চারটি দিক থেকে হতে পারে।
প্রথমত: আমরা 'আরাজ' (আকস্মিক গুণাবলি)-এর অস্তিত্ব স্বীকার করি না।
আর যদি আমরা 'আরাজ'-এর অস্তিত্ব স্বীকারও করে নিই, তবে সেগুলোর নতুনভাবে সৃষ্টি হওয়া (হুুদুুছ) আমরা স্বীকার করি না।
আর যদি আমরা সেগুলোর সৃষ্টি হওয়াও মেনে নিই, তবে 'জাওহার' (মূলসত্তা) এই সৃষ্ট 'আরাজ' থেকে মুক্ত থাকা অসম্ভব—একথা আমরা স্বীকার করি না।
চতুর্থত: আপনি কেন বললেন যে, যা সৃষ্ট বিষয় থেকে মুক্ত নয়, তা নিজেই সৃষ্ট?
প্রথম প্রশ্নের ক্ষেত্রে, যা ছিল 'আরাজ'-এর অস্তিত্ব অস্বীকার করা।
'আরাজ'-এর অস্তিত্বের প্রমাণ হলো এই যে, একজন বিবেকসম্পন্ন ব্যক্তি যখন কোনো জাওহারকে স্থির দেখে এবং পরবর্তীতে তাকে গতিশীল দেখে, তখন সে এই দুই অবস্থার মধ্যে একটি আবশ্যিক পার্থক্য ১১৮ উপলব্ধি করে।
আর সেই পার্থক্যটি নিম্নোক্ত অবস্থা থেকে মুক্ত নয়:
হয় এটি জাওহারের মূলসত্তার দিকেই ফিরে যাবে,
অথবা জাওহারের অতিরিক্ত অন্য কোনো বিষয়ের দিকে ফিরে যাবে।
পার্থক্যটি জাওহারের মূলসত্তার দিকে ফিরে যায়—একথা বলা অসম্ভব; কারণ জাওহার উভয় অবস্থায় অভিন্ন, আর কোনো বস্তু নিজের বিরোধিতা করে না। সুতরাং পার্থক্য কেবল দুটি ভিন্ন সত্তার মাধ্যমেই ঘটে থাকে। এর মাধ্যমে এটি সঠিক ও স্পষ্ট প্রমাণিত হলো যে, এই পার্থক্য জাওহারের অতিরিক্ত অন্য একটি বিষয়ের দিকে প্রত্যাবর্তন করে। আর সেটিই হলো 'আরাজ', যা আমরা দাবি করেছি।
(খণ্ড: ১)
লুমআতুল আদিল্লাহ ফী কাওয়াইদি আকাইদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ৮৯)
وَالسُّؤَال الثَّانِي منع حُدُوث الْأَعْرَاض
وَالدَّلِيل على حُدُوث الْأَعْرَاض أَنا نرى الْأَعْرَاض المتضادة تتعاقب على محالها فنستيقن حُدُوث الطَّارِئ مِنْهَا من حَيْثُ وجدت ونعلم حُدُوث السَّابِق مِنْهَا من حَيْثُ عدمت
إِذْ لَو كَانَت قديمَة لاستحال عدمهَا لِأَن الْقدَم يُنَافِي الْعَدَم وَإِن مَا ثَبت لَهُ الْقدَم اسْتَحَالَ عَلَيْهِ الْعَدَم
وَالدَّلِيل على اسْتِحَالَة تعري الْجَوَاهِر عَن الْأَعْرَاض
أَن الْجَوَاهِر شاغلة للأحياز والجواهر الشاغلة للأحياز غير مجتمعة وَلَا مفترقة بِحَال بل باضطرار يعلم أَنَّهَا لَا تَخْلُو عَن كَونهَا مجتمعة أَو مفترقة
وَذَلِكَ يقْضِي باستحالة خلوها عَن الِاجْتِمَاع والافتراق
وَكَذَلِكَ نعلم ببديهة الْعُقُول اسْتِحَالَة تعري الأجرام عَن الاتصاف بالتحرك والسكون واللبث فِي الْمحَال والزوال والانتقال
وكل ذَلِك يُوضح اسْتِحَالَة تعري الْجَوَاهِر عَن الْأَعْرَاض
দ্বিতীয় প্রশ্ন: আকসসমূহের (আকরাজ) নশ্বরতাকে অস্বীকার করা প্রসঙ্গে।
আকসসমূহের নশ্বরতার প্রমাণ হলো—আমরা দেখি যে বিপরীতধর্মী আকসসমূহ তাদের আধারে একে অপরের স্থলাভিষিক্ত হয়। ফলে আমরা নবাগত আকসটির অস্তিত্ব লাভের মাধ্যমে তার নশ্বরতা সম্পর্কে নিশ্চিত হই এবং পূর্ববর্তী আকসটির বিলুপ্তির মাধ্যমে তার নশ্বরতা সম্পর্কে জানতে পারি।
কেননা সেগুলো যদি অনাদি হতো, তবে সেগুলোর বিলুপ্তি অসম্ভব হতো; কারণ অনাদিত্ব বিলুপ্তির পরিপন্থী। আর যার জন্য অনাদিত্ব সাব্যস্ত হয়, তার জন্য বিলুপ্তি অসম্ভব।
জওহরসমূহ (মৌলিক সত্তা) আকস থেকে মুক্ত থাকা অসম্ভব হওয়ার প্রমাণ হলো:
জওহরসমূহ স্থান দখলকারী। আর স্থান দখলকারী জওহরসমূহ কোনো অবস্থাতেই মিলন বা বিচ্ছেদ থেকে মুক্ত নয়। বরং আবশ্যিকভাবে জানা যায় যে, এগুলো সম্মিলিত থাকা অথবা পৃথক থাকা থেকে শূন্য হতে পারে না।
আর এটি মিলন ও বিচ্ছেদ থেকে সেগুলোর মুক্ত থাকা অসম্ভব হওয়াকেই নির্দেশ করে।
তদ্রূপ আমরা আমাদের বিচারবুদ্ধির স্বতঃস্ফূর্ত জ্ঞানে জানি যে, বস্তুসমূহ গতি, স্থিতি, কোনো স্থানে অবস্থান করা, সেখান থেকে অপসৃত হওয়া এবং স্থানান্তরিত হওয়া—এসব বৈশিষ্ট্য থেকে মুক্ত থাকা অসম্ভব।
আর এ সবকিছুই জওহরসমূহের আকস থেকে মুক্ত থাকা অসম্ভব হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করে।
(খণ্ড: ১)
লুমআতুল আদিল্লাহ ফী কাওয়াইদি আকাইদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ৯০)
وَالدَّلِيل على اسْتِحَالَة حوادث لَا أول لَهَا
أَن حَقِيقَة الْحَادِث مَاله أول
وَإِذن كَانَ حَقِيقَة كل حَادث أَن يكون لَهُ أول فَبَان كَثْرَة الْحَوَادِث لَا تخرج عَن حَقِيقَتهَا فَيكون للْكُلّ أول
وَهَذَا كالجوهر فَإِن حَقِيقَة الْجَوْهَر كَونه متحيزا فبالكثرة لَا يخرج عَن حَقِيقَته وَيكون الْكل متحيزا فَكَذَلِك هَهُنَا إِذا ثبتَتْ الْأَعْرَاض وَثَبت حدوثها وَثَبت اسْتِحَالَة تعري الْجَوَاهِر عَنْهَا وَبَطل قَول الدهري بِأَن الْحَوَادِث لَا أول لَهَا فيترتب على ذَلِك أَن الْجَوَاهِر لَا تسبق الْأَعْرَاض الْحَادِثَة وَمَا لَا يسْبق الْحَادِث حَادث على الِاضْطِرَار من غير حَاجَة إِلَى نظر وافتكار
وَالدَّلِيل على أَن الْعَالم لَهُ صانع
অনাদি বা শুরুহীন সৃষ্টিপরম্পরা অসম্ভব হওয়ার প্রমাণ
নিশ্চয়ই সৃষ্টির প্রকৃত স্বরূপ হলো যার আদি বা শুরু রয়েছে
আর যেহেতু প্রতিটি সৃষ্টির প্রকৃত স্বরূপই হলো তার শুরু থাকা, তাই এটি স্পষ্ট যে সৃষ্টির সংখ্যাধিক্য তাকে তার মূল স্বরূপ থেকে বিচ্যুত করে না; অতএব সামগ্রিকভাবে সবকিছুরই শুরু রয়েছে
এটি জওহরের (মৌলিক পদার্থ) ন্যায়; কেননা জওহরের প্রকৃত স্বরূপ হলো তা স্থান দখলকারী হওয়া। সুতরাং জওহরের আধিক্য তাকে তার প্রকৃত স্বরূপ থেকে বের করে দেয় না এবং সমষ্টিগতভাবে সবকিছুই স্থান দখলকারী হয়। তদ্রূপ এখানেও, যখন আরায (আকস্মিক গুণাবলি) এবং সেগুলোর সৃষ্টি হওয়া প্রমাণিত হলো, আর জওহরের পক্ষে আরায থেকে মুক্ত থাকা অসম্ভব সাব্যস্ত হলো এবং দাহরিদের (বস্তুবাদী নাস্তিক) এই দাবি বাতিল হয়ে গেল যে সৃষ্টির কোনো শুরু নেই, তখন এর অনিবার্য ফলস্বরূপ এটি প্রমাণিত হয় যে, জওহরসমূহ নশ্বর বা সৃষ্ট আরাযের পূর্বে অস্তিত্বশীল হতে পারে না। আর যা সৃষ্টির পূর্বে থাকতে পারে না, তা কোনো গভীর চিন্তা ও গবেষণা ছাড়াই স্বতঃস্ফূর্তভাবে সৃষ্টি হিসেবে গণ্য
আর বিশ্বজগতের একজন কারিগর (স্রষ্টা) থাকার প্রমাণ হলো:
(খণ্ড: ১)
লুমআতুল আদিল্লাহ ফী কাওয়াইদি আকাইদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ৯১)
أَنه قد صَحَّ حُدُوث الْعَالم بِالدّلَالَةِ الَّتِي ذَكرنَاهَا
والحادث جَائِز الْوُجُود إِذا يجوز تَقْدِير وجوده بَدَلا عَن عَدمه وَيجوز تَقْدِير عَدمه بَدَلا عَن وجوده فَلَمَّا اخْتصَّ بالوجود الْمُمكن بَدَلا عَن الْعَدَم الْجَائِز افْتقر إِلَى مُخَصص وَهُوَ الصَّانِع تَعَالَى
ويستحيل أَن يكون مُخَصص الْعَالم طبيعة كَمَا صَار إِلَيْهِ الطائعيون
ويستحيل أَن يكون عِلّة مُوجبَة كَمَا صَار إِلَيْهِ الْأَوَائِل لِأَن تِلْكَ الطبيعة لَا تَخْلُو إِمَّا أَن تكون قديمَة أَو حَادِثَة
فَإِن كَانَت قديمَة لزم قدم آثارها فَإِن الطبيعة عِنْد مثبتها لَا اخْتِيَار لَهَا وَهِي مُوجبَة آثارها عِنْد ارْتِفَاع الْمَوَانِع وَقد صَحَّ حدوثها
আমরা যে প্রমাণের কথা উল্লেখ করেছি, তার মাধ্যমে জগতের নশ্বরতা প্রমাণিত হয়েছে।
আর যা নশ্বর, তার অস্তিত্ব সম্ভবপর; কারণ তার অনস্তিত্বের স্থলে অস্তিত্ব কল্পনা করা যেমন সম্ভব, তেমনি অস্তিত্বের স্থলে অনস্তিত্ব কল্পনা করাও সম্ভব। সুতরাং যখন তা সম্ভাব্য অনস্তিত্বের পরিবর্তে সম্ভাব্য অস্তিত্বের সাথে বিশিষ্ট হলো, তখন তা একজন নির্ধারণকারীর মুখাপেক্ষী হলো; আর তিনি হলেন মহান স্রষ্টা।
আর জগতের এই নির্ধারণকারী কোনো 'প্রকৃতি' হওয়া অসম্ভব, যেমনটি প্রকৃতিবাদীরা মনে করে থাকে।
এবং এটি কোনো 'অনিবার্য কারণ' হওয়াও অসম্ভব, যেমনটি প্রাচীন দার্শনিকগণ মনে করতেন। কারণ সেই প্রকৃতি হয় অনাদি হবে, না হয় নশ্বর হবে।
যদি তা অনাদি হয়, তবে তার প্রভাবসমূহও অনাদি হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে। কারণ প্রকৃতির প্রবক্তাদের মতে প্রকৃতির কোনো নিজস্ব পছন্দ বা ইচ্ছাশক্তি নেই এবং প্রতিবন্ধকতা অপসারিত হলে তা অনিবার্যভাবে প্রভাব সৃষ্টি করে। অথচ জগতের নশ্বরতা ইতিপূর্বেই প্রমাণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
লুমআতুল আদিল্লাহ ফী কাওয়াইদি আকাইদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ৯২)
وَإِن كَانَت الطبيعة حَادِثَة افْتَقَرت إِلَى طبيعة أُخْرَى ثمَّ الْكَلَام فِي تِلْكَ الطبيعة كَالْكَلَامِ فِي تِلْكَ الطبيعة كَالْكَلَامِ فِي هَذِه الطبيعة
وينساق هَذَا القَوْل إِلَى إِثْبَات حوادث لَا أول لَهَا وَقد تبين بطلَان ذَلِك
فوضح بذلك أَن مُخَصص الْعَالم صانع مُخْتَار مَوْصُوف بالاقتدار وَالِاخْتِيَار
আর যদি প্রকৃতি নব্যসৃষ্ট হয়, তবে তা অন্য এক প্রকৃতির মুখাপেক্ষী হবে। অতঃপর সেই প্রকৃতি সম্পর্কে আলোচনাও হবে এই প্রকৃতির আলোচনার ন্যায়।
আর এই বক্তব্যটি এমন সব নব্যসৃষ্ট বিষয় সাব্যস্ত করার দিকে পরিচালিত করে যার কোনো শুরু নেই, অথচ এর অসারতা সুস্পষ্ট হয়ে গেছে।
সুতরাং এর দ্বারা পরিষ্কার হলো যে, জগতের বিশেষত্বদানকারী হলেন একজন স্বেচ্ছাধীন কারিগর, যিনি ক্ষমতা ও ইচ্ছার গুণে গুণান্বিত।
(খণ্ড: ১)
লুমআতুল আদিল্লাহ ফী কাওয়াইদি আকাইদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ৯৩)
2 -
الله وَصِفَاته 11 -
ظ فصل صانع الْعَالم أزلي الْوُجُود قديم الذَّات لَا مفتتح لوُجُوده وَلَا مُبْتَدأ لثُبُوته
وَالدَّلِيل عَلَيْهِ أَنه تَعَالَى لَو كَانَ حَادِثا لشارك الْحَوَادِث فِي الافتقار إِلَى مُحدث
ثمَّ الْكَلَام فِي محدثه ينزل منزلَة الْكَلَام فِيهِ ويتسلسل القَوْل وَيُؤَدِّي ذَلِك إِلَى إِثْبَات حوادث لَا أول لَهَا
وَقد سبق بطلَان ذَلِك
2 -
আল্লাহ এবং তাঁর গুণাবলি 11 -
পরিচ্ছেদ বিশ্বজগতের নির্মাতা অনাদি অস্তিত্বসম্পন্ন এবং সত্তাগতভাবে চিরন্তন; তাঁর অস্তিত্বের কোনো শুরু নেই এবং তাঁর সাব্যস্ত হওয়ার কোনো আরম্ভ নেই।
এর প্রমাণ হলো, আল্লাহ তাআলা যদি নব্য (সৃষ্ট) হতেন, তবে অন্যান্য নব্য বিষয়ের ন্যায় তিনিও একজন সৃষ্টিকর্তার মুখাপেক্ষী হওয়ার অন্তর্ভুক্ত হতেন।
অতঃপর তাঁর সৃষ্টিকর্তার প্রসঙ্গেও সেই একই আলোচনা আসবে যা তাঁর নিজের ক্ষেত্রে করা হয়েছে। এর ফলে বিষয়টি অসীম পর্যায়ক্রমের (তাসালসুল) দিকে ধাবিত হবে, যা এমন সব নব্য বিষয় সাব্যস্ত করার দিকে নিয়ে যাবে যার কোনো শুরু নেই।
আর ইতিপূর্বেই এই বিষয়ের অসারতা প্রমাণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
লুমআতুল আদিল্লাহ ফী কাওয়াইদি আকাইদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ৯৪)
فصل صانع الْعَالم حَيّ عَالم بِجَمِيعِ المعلومات قَادر على جَمِيع المقدورات
فَإنَّا ببداهة الْعُقُول تعلم اسْتِحَالَة صُدُور الْأَفْعَال من الْعَاجِز عَنْهَا
وَكَذَلِكَ يستيقن كل لَبِيب أَن الْأَفْعَال المحكمة المتقنة الْوَاقِعَة على أحسن تَرْتِيب ونظام وإتقان وإحكام لَا تصدر إِلَّا من عَالم بهَا
وَمن جوز صُدُور خطّ منظوم على تَرْتِيب مَعْلُوم من غير عَالم بالخط كَانَ من الْمَعْقُول خَارِجا وَفِي تيه الْجَهْل والجا
وَإِذا ثَبت كَون صانع الْعَالم عَالما قَادِرًا فبالاضطرار يعلم كَونه حَيا إِذْ يَسْتَحِيل أَن يَتَّصِف بِالْعلمِ وَالْقُدْرَة ميت أَو جماد وتجويز ذَلِك مراغمة وعناد
পরিচ্ছেদ বিশ্বজগতের স্রষ্টা চিরঞ্জীব, যাবতীয় জ্ঞাত বিষয় সম্পর্কে পূর্ণ পরিজ্ঞাত এবং সমস্ত সম্ভাব্য বস্তুর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান।
কেননা আমরা বিবেকের স্বতঃসিদ্ধ ধারণায় জানি যে, কোনো কার্যে অক্ষম ব্যক্তি থেকে সেই কাজ প্রকাশ পাওয়া অসম্ভব।
তেমনিভাবে প্রত্যেক বুদ্ধিমান ব্যক্তি সুনিশ্চিতভাবে জানেন যে, সর্বোত্তম বিন্যাস, শৃঙ্খলা, নিপুণতা ও সুদৃঢ়তার সাথে সম্পন্ন হওয়া সুশৃঙ্খল ও নিখুঁত কাজগুলো সেই কাজ সম্পর্কে জ্ঞান রাখা ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারো থেকে প্রকাশ পেতে পারে না।
আর যে ব্যক্তি লিপিবিদ্যা সম্পর্কে জ্ঞান রাখে না এমন কারো থেকে নির্দিষ্ট বিন্যাসে সুসংবদ্ধ কোনো লেখা প্রকাশ পাওয়া সম্ভব মনে করে, সে বুদ্ধিবিবেচনার গণ্ডি বহির্ভূত এবং অজ্ঞতার অরণ্যে বিভ্রান্ত।
যখন বিশ্বজগতের স্রষ্টার মহাজ্ঞানী ও সর্বশক্তিমান হওয়া প্রমাণিত হলো, তখন অনিবার্যভাবে তাঁর চিরঞ্জীব হওয়াও সাব্যস্ত হলো। কেননা মৃত কিংবা জড় পদার্থের জ্ঞান ও ক্ষমতায় গুণান্বিত হওয়া অসম্ভব; আর এটাকে সম্ভব মনে করা মূলত সত্যের বিরোধিতা ও হঠকারিতা।
(খণ্ড: ১)
লুমআতুল আদিল্লাহ ফী কাওয়াইদি আকাইদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ৯৫)
فصل صانع الْعَالم مُرِيد على الْحَقِيقَة عِنْد أهل الْحق
وَأنكر الكعبي كَونه مرِيدا على الْحَقِيقَة وَزعم أَنه تَعَالَى لَو وصف بِكَوْنِهِ مرِيدا لأفعال نَفسه فَالْمُرَاد بذلك أَنه خَالِقهَا ومنشئها وَلَو وصف بِكَوْنِهِ مرِيدا لبَعض أَعمال الْعباد فَالْمُرَاد بذلك أَنه أَمر بهَا
وَزعم أَن كَون الْإِلَه عَالما بِوُقُوع الْحَوَادِث فِي أَوْقَاتهَا على خَصَائِص صفاتها يُغني عَن تعلق الْإِرَادَة بهَا
وَهَذَا بَاطِل إِذْ لَو أغْنى كَونه عَالما عَن كَونه مرِيدا لأغنى كَونه عَالما عَن كَونه قَادِرًا وَلَيْسَ كَذَلِك
وَأَيْضًا قد وافقونا على افتقار أَفعَال الْمُحدثين إِلَى إرادتهم
পরিচ্ছেদ সত্যের অনুসারীদের (আহলুল হক) মতে বিশ্বজগতের স্রষ্টা প্রকৃত অর্থেই ইচ্ছাকারী।
আর আল-কাব্বি তাঁর প্রকৃত অর্থে ইচ্ছাকারী হওয়াকে অস্বীকার করেছেন এবং দাবি করেছেন যে, আল্লাহ তাআলাকে যদি তাঁর নিজ কার্যাবলির ক্ষেত্রে ইচ্ছাকারী হিসেবে বর্ণনা করা হয়, তবে তার অর্থ হলো তিনি সেগুলোর স্রষ্টা ও উদ্ভাবক। আর যদি বান্দাদের কিছু কার্যাবলির ক্ষেত্রে তাঁকে ইচ্ছাকারী হিসেবে বর্ণনা করা হয়, তবে তার অর্থ হলো তিনি সেগুলোর নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি আরও দাবি করেছেন যে, ইলাহ (উপাস্য) কর্তৃক ঘটনাবলি তাদের নির্দিষ্ট সময়ে এবং তাদের সুনির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যে ঘটার বিষয়ে অবগত থাকাই সেগুলোর সাথে ইচ্ছার (ইরাদা) সংশ্লিষ্টতা থেকে অমুখাপেক্ষী করে দেয়।
এটি অসার; কেননা যদি তাঁর ‘জ্ঞানী’ হওয়া তাঁকে ‘ইচ্ছাকারী’ হওয়া থেকে অমুখাপেক্ষী করত, তবে তাঁর ‘জ্ঞানী’ হওয়া তাঁকে ‘ক্ষমতাবান’ হওয়া থেকেও অমুখাপেক্ষী করত, অথচ বিষয়টি তেমন নয়।
তাছাড়া সৃষ্টজীবের কার্যাবলি তাদের নিজস্ব ইচ্ছার মুখাপেক্ষী হওয়ার বিষয়ে তাঁরাও আমাদের সাথে একমত হয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
লুমআতুল আদিল্লাহ ফী কাওয়াইদি আকাইদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ৯৬)
ذهب معتزلة الْبَصْرَة إِلَى أَن الْبَارِي تَعَالَى مُرِيد بِإِرَادَة حَادِثَة ثَابِتَة لَا فِي مَحل
وَالَّذِي قَالُوهُ بَاطِل لِأَن الْحَوَادِث إِنَّمَا افْتَقَرت إِلَى إِرَادَة لحدوثها
وَلَو كَانَت الْإِرَادَة حَادِثَة لافتقرت أَيْضا إِلَى إِرَادَة أُخْرَى لحدوثها
ثمَّ يُؤَدِّي إِثْبَات ذَلِك إِلَى إِثْبَات إرادات لَا نِهَايَة لَهَا
فَإِذا بطلت هَذِه الْمذَاهب لم يبْق بعد ذَلِك إِلَّا الْقطع بِمَا صَار إِلَيْهِ أهل الْحق من وصف الْبَارِي سبحانه وتعالى بِكَوْنِهِ مرِيدا بِإِرَادَة قديمَة أزلية
বসরা অঞ্চলের মুতাযিলাগণ এই মত পোষণ করেন যে, মহান স্রষ্টা এমন এক নবোদ্ভূত ইচ্ছার দ্বারা ইচ্ছুক যা কোনো আধার ছাড়াই প্রতিষ্ঠিত।
তারা যা বলেছে তা অসার, কারণ নবোদ্ভূত বিষয়সমূহ কেবল তাদের সৃষ্টির জন্যই ইচ্ছার মুখাপেক্ষী হয়।
যদি সেই ইচ্ছা নিজেই নবোদ্ভূত হতো, তবে তাও তার সৃষ্টির জন্য অন্য একটি ইচ্ছার মুখাপেক্ষী হতো।
অতঃপর এটি প্রমাণ করতে গেলে অসীম পরম্পরায় অসংখ্য ইচ্ছার অস্তিত্ব সাব্যস্ত করতে হবে।
সুতরাং যখন এই মতবাদসমূহ বাতিল হয়ে গেল, তখন সত্যপন্থীদের অনুসৃত মতের ওপর নিশ্চিত হওয়া ব্যতীত আর কিছু বাকি থাকে না; আর তা হলো মহান স্রষ্টাকে অনাদি ও চিরন্তন ইচ্ছার অধিকারী হিসেবে বর্ণনা করা।
(খণ্ড: ১)
লুমআতুল আদিল্লাহ ফী কাওয়াইদি আকাইদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ৯৭)
فصل صانع الْعَالم سميع وبصير مُتَكَلم
إِذْ قد ثَبت كَونه حَيا والحي لَا يَخْلُو عَن الاتصاف بِالسَّمْعِ وَالْبَصَر وَالْكَلَام وأضدادها
وأضداد هَذِه الصِّفَات نقائص
والرب سبحانه وتعالى يتقدس عَن سمات النَّقْص
فصل
الرب سبحانه وتعالى بَاقٍ وَاجِب الْوُجُود
إِذْ قد ثَبت بِمَا قدمْنَاهُ قدمه
وَالْقَدِيم يَسْتَحِيل عَدمه بِاتِّفَاق من الْعُقَلَاء وَذَلِكَ يُصَرح بِكَوْنِهِ بَاقِيا 119 ومستمر الْوُجُود
পরিচ্ছেদ জগতের স্রষ্টা সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা এবং কথা বলেন
যেহেতু তাঁর চিরঞ্জীব হওয়া প্রমাণিত হয়েছে, আর চিরঞ্জীব সত্তা শ্রবণ, দর্শন, কথা এবং এগুলোর বিপরীত গুণাবলি দ্বারা বিশেষিত হওয়া থেকে মুক্ত থাকে না
আর এই গুণাবলির বিপরীতগুলো হলো ত্রুটিসমূহ
আর রব সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা অসম্পূর্ণতার চিহ্নসমূহ থেকে পবিত্র
পরিচ্ছেদ
রব সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা চিরস্থায়ী এবং যার অস্তিত্ব অত্যাবশ্যকীয়
যেহেতু আমরা পূর্বে যা আলোচনা করেছি তার মাধ্যমে তাঁর অনাদিত্ব প্রমাণিত হয়েছে
আর জ্ঞানীদের ঐকমত্য অনুযায়ী অনাদি সত্তার বিনাশ অসম্ভব; এবং এটি তাঁর চিরস্থায়ী ১১৯ ও নিরবচ্ছিন্ন অস্তিত্বসম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে ব্যক্ত করে।
(খণ্ড: ১)
লুমআতুল আদিল্লাহ ফী কাওয়াইদি আকাইদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ৯৮)
فصل صانع الْعَالم وَاحِد عِنْد أهل الْحق
وَالْوَاحد الْحَقِيقِيّ هُوَ الشَّيْء الَّذِي لَا يَنْقَسِم
وَالدَّلِيل على وحدانية الْإِلَه أَنا لَو قَدرنَا إِلَهَيْنِ اثْنَيْنِ وفرضنا عرضين ضدين وقدرنا إِرَادَة أَحدهمَا لأحد الضدين وَإِرَادَة الثَّانِي للثَّانِي فَلَا يَخْلُو من أُمُور ثَلَاثَة إِمَّا أَن تنفذ إرادتهما
أَو لَا تنفذ إرادتهما أَو تنفذ إِرَادَة أَحدهمَا دون الآخر
واستحال أَن تنفذ إرادتهما لِاسْتِحَالَة اجْتِمَاع الضدين واستحال أَيْضا أَلا تنفذ إرادتهما لتمانع الإلهين وخلو الْمحل عَن كلا الضدين
পরিচ্ছেদ সত্যপন্থীদের নিকট মহাবিশ্বের স্রষ্টা এক।
আর প্রকৃত এক বলতে এমন সত্তাকে বোঝায় যা বিভাজ্য নয়।
ইলাহর একত্বের প্রমাণ হলো, যদি আমরা দুজন ইলাহ কল্পনা করি এবং দুটি পরস্পরবিরোধী আপতিক গুণ বা বৈশিষ্ট্যের ধারণা করি, আর ধরে নিই যে তাদের একজনের ইচ্ছা একটি গুণের প্রতি এবং দ্বিতীয়জনের ইচ্ছা অন্য গুণের প্রতি, তবে বিষয়টি তিনটি অবস্থার বাইরে হবে না: হয় তাদের উভয়ের ইচ্ছা বাস্তবায়িত হবে,
অথবা তাদের কারও ইচ্ছাই বাস্তবায়িত হবে না, অথবা একজনের ইচ্ছা বাস্তবায়িত হবে কিন্তু অন্যজনের হবে না।
উভয়ের ইচ্ছা বাস্তবায়িত হওয়া অসম্ভব, কারণ দুটি বিপরীত বিষয়ের একত্র হওয়া অসম্ভব। আর উভয়ের ইচ্ছা বাস্তবায়িত না হওয়াও অসম্ভব, কারণ এর ফলে দুই ইলাহর পারস্পরিক প্রতিবন্ধকতা প্রকাশ পায় এবং বিষয়টি উভয় বিপরীত গুণ থেকে শূন্য হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে।
(খণ্ড: ১)
লুমআতুল আদিল্লাহ ফী কাওয়াইদি আকাইদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ৯৯)
فَإِذا بَطل القسمان تعين الثَّالِث
وَهُوَ أَن تنفذ إِرَادَة أَحدهمَا دون الآخر
فَالَّذِي لَا تنفذ إِرَادَته فَهُوَ المغلوب المقهور المستكره
وَالَّذِي نفذت إِرَادَته فَهُوَ الْإِلَه الْقَادِر على تَحْصِيل مَا يَشَاء
فَإِن قيل لم لَا يجوز أَن يتوافقا أبدا وَلَا يختلفا قطّ
قُلْنَا إِن لم نجوز اخْتِلَافهمَا فِي الْإِرَادَة كَانَ محالا
إِذْ وجود أَحدهمَا وَوُجُود صِفَاته يَسْتَحِيل أَن يمْنَع الثَّانِي من أَن يُرِيد مَا يَصح إِرَادَته عِنْد تَقْدِير الِانْفِرَاد وَالْعَاجِز منحط عَن رُتْبَة الربوبية وَذَلِكَ مَضْمُون قَوْله تَعَالَى {لَو كَانَ فيهمَا آلِهَة إِلَّا الله لفسدتا} أَي لتناقضت أحكامهما عِنْد تَقْدِير القادرين على الْكَمَال
فصل الْقَدِيم الْبَارِي سبحانه وتعالى عَالم بِعلم قديم قَادر بقدرة قديمَة حَيّ بحياة قديمَة
সুতরাং যখন (পূর্ববর্তী) দুটি বিকল্প বাতিল হয়ে গেল, তখন তৃতীয়টি নির্ধারিত হলো।
আর তা হলো, তাদের দুজনের মধ্যে একজনের ইচ্ছা কার্যকর হবে, কিন্তু অপরজনের হবে না।
যার ইচ্ছা কার্যকর হয় না, সে হলো পরাজিত, পরাভূত ও বাধ্য।
আর যার ইচ্ছা কার্যকর হয়েছে, তিনিই সেই ইলাহ যিনি যা ইচ্ছা তা অর্জন করতে সক্ষম।
যদি প্রশ্ন করা হয় যে, কেন এমন হওয়া সম্ভব নয় যে তারা সর্বদা একমত হবে এবং কখনো মতপার্থক্য করবে না?
আমরা বলব, যদি আমরা তাদের ইচ্ছার ক্ষেত্রে মতপার্থক্য হওয়াকে অসম্ভব মনে করি, তবে তা হবে অবাস্তব।
কেননা একজনের অস্তিত্ব ও তার গুণাবলির উপস্থিতি দ্বিতীয়জনকে এমন কিছু ইচ্ছা করা থেকে বাধা দেওয়া অসম্ভব, যা একক সত্তা হিসেবে কল্পনা করার সময় ইচ্ছা করা বৈধ ছিল; আর অক্ষম সত্তা প্রভুত্বের মর্যাদা থেকে বিচ্যুত। আর এটিই মহান আল্লাহর বাণীর মর্মার্থ: "যদি আকাশ ও পৃথিবীতে আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো ইলাহ থাকত, তবে উভয়ই ধ্বংস হয়ে যেত"; অর্থাৎ পূর্ণ ক্ষমতাসম্পন্ন সত্তা কল্পনা করলে তাদের বিধানের মধ্যে বৈপরীত্য দেখা দিত।
পরিচ্ছেদ অনাদি স্রষ্টা (আল-বারি) সুবহানাহু ওয়া তাআলা অনাদি জ্ঞানের মাধ্যমে সর্বজ্ঞ, অনাদি ক্ষমতার মাধ্যমে সর্বশক্তিমান এবং অনাদি জীবনের মাধ্যমে চিরঞ্জীব।
(খণ্ড: ১)
লুমআতুল আদিল্লাহ ফী কাওয়াইদি আকাইদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ১০০)
وَذهب لمعتزلة إِلَى أَن الْبَارِي تَعَالَى عَن قَوْلهم
حَيّ عَالم قَادر بِنَفسِهِ وَلَيْسَ لَهُ قدرَة وَلَا علم وَلَا حَيَاة
دليلنا فِي الْمَسْأَلَة أَن نقُول
قد تقرر فِي الْعُقُول أَن مَا يعلم بِهِ الْمَعْلُوم علم
فَلَو علم الْبَارِي تَعَالَى الْمَعْلُوم بِنَفسِهِ لَكَانَ نَفسه علما إِذْ كل مُتَعَلق بِمَعْلُوم تعلق إحاطة بِهِ علم
وَقد تحكمت الْمُعْتَزلَة فِي صِفَات الْبَارِي تَعَالَى فَزَعَمت أَنه عَالم حَيّ قَادر بِنَفسِهِ مُرِيد بِإِرَادَة حَادِثَة
فَلَو عكس عاكس مَا قَالُوهُ وَزعم أَنه عَالم بِعلم حَادث مُرِيد بِنَفسِهِ لم يَجدوا بَين مَا اعتقدوه وَبَين مَا ألزموه فصلا
فَإِن قَالُوا لَو كَانَ الْبَارِي تَعَالَى مرِيدا بِنَفسِهِ لَكَانَ مرِيدا لكل مُرَاد
মুতাযিলাগণ এই মত গ্রহণ করেছেন যে, মহান স্রষ্টা—তাদের বক্তব্য হতে তিনি পবিত্র—
নিজ সত্তা দ্বারাই চিরঞ্জীব, সর্বজ্ঞ ও সর্বশক্তিমান; এবং তাঁর কোনো ক্ষমতা, জ্ঞান বা জীবন নেই।
এই বিষয়ে আমাদের দলিল হলো এই যে, আমরা বলি:
বিবেক-বুদ্ধিতে এটি সুপ্রতিষ্ঠিত যে, যার মাধ্যমে জ্ঞাত বিষয় সম্পর্কে অবগত হওয়া যায়, তা-ই হলো ‘জ্ঞান’।
সুতরাং মহান স্রষ্টা যদি তাঁর নিজ সত্তা দ্বারা জ্ঞাত বিষয়সমূহ জানতেন, তবে তাঁর সত্তাই ‘জ্ঞান’ হয়ে যেত; কেননা পরিবেষ্টনকারী সম্পর্কের মাধ্যমে জ্ঞাত বিষয়ের সাথে যা কিছু সংশ্লিষ্ট হয়, তা-ই ‘জ্ঞান’।
আর মুতাযিলাগণ মহান স্রষ্টার গুণাবলির ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাচারিতা করেছে। তারা দাবি করেছে যে, তিনি নিজ সত্তা দ্বারাই সর্বজ্ঞ, চিরঞ্জীব ও সর্বশক্তিমান; অথচ তিনি ‘ইচ্ছাকারী’ এক সৃষ্ট ইচ্ছার মাধ্যমে।
সুতরাং যদি কোনো বিপক্ষবাদী তাদের বক্তব্যকে উল্টে দেয় এবং দাবি করে যে, তিনি এক সৃষ্ট জ্ঞানের মাধ্যমে সর্বজ্ঞ, কিন্তু নিজ সত্তা দ্বারা ইচ্ছাকারী; তবে তারা তাদের নিজেদের বিশ্বাস এবং তাদের ওপর যা আরোপিত হয়েছে—এ দুয়ের মাঝে কোনো পার্থক্য খুঁজে পাবে না।
তারা যদি বলে: মহান স্রষ্টা যদি নিজ সত্তা দ্বারাই ‘ইচ্ছাকারী’ হতেন, তবে তিনি প্রত্যেকটি ইচ্ছাকৃত বিষয়ের জন্যই ইচ্ছাকারী হতেন।
(খণ্ড: ১)
লুমআতুল আদিল্লাহ ফী কাওয়াইদি আকাইদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ১০১)
كَمَا أَنه تَعَالَى لما كَانَ عَالما بِنَفسِهِ كَانَ عَالما بِكُل مَعْلُوم
قُلْنَا هُوَ بَاطِل على فَسَاد مذهبكم ومعتقدكم بِكَوْن الْبَارِي تَعَالَى قَادِرًا فَإِن ذَلِك من صِفَات النَّفس عنْدكُمْ
ثمَّ يخْتَص كَون الْإِلَه قَادِرًا عنْدكُمْ بِبَعْض المقدورات
وَلَا يَتَّصِف الرب عز وجل بالاقتدار على مقدورات الْعباد
وَقد صرحت نُصُوص من كتاب الله تَعَالَى بِإِثْبَات الصِّفَات مِنْهَا قَوْله تَعَالَى {وَمَا تحمل من أُنْثَى وَلَا تضع إِلَّا بِعِلْمِهِ}
وَقَالَ عز من قَائِل {أنزلهُ بِعِلْمِهِ}
وَقَالَ سُبْحَانَهُ متمدحا مثنيا على نَفسه إِن الله هُوَ الرَّزَّاق ذُو الْقُوَّة المتين
ঠিক যেমন আল্লাহ তাআলা নিজের সত্তা সম্পর্কে অবগত হওয়ার কারণে প্রতিটি জ্ঞেয় বিষয় সম্পর্কে অবগত।
আমরা বলি, স্রষ্টা তাআলার ‘কাদির’ (ক্ষমতাবান) হওয়া সংক্রান্ত আপনাদের ভ্রান্ত মতাদর্শ ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে এটি বাতিল; কেননা আপনাদের নিকট এটি সত্তাগত গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত।
অতঃপর আপনাদের নিকট ইলাহ-এর ‘কাদির’ হওয়া কেবল নির্দিষ্ট কিছু সক্ষমতাধীন বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট।
এবং রব আজ্জা ওয়া জাল্লা বান্দাদের সক্ষমতাধীন বিষয়াবলির ওপর ক্ষমতা রাখার গুণে গুণান্বিত নন।
অথচ আল্লাহ তাআলার কিতাবের বিভিন্ন অকাট্য পাঠ (নুসুস) স্পষ্টভাবে গুণাবলি সাব্যস্ত করার বিষয়টি ব্যক্ত করেছে, যার মধ্যে মহান আল্লাহর এই বাণী অন্যতম: “কোনো নারীই গর্ভধারণ করে না এবং সন্তান প্রসব করে না তাঁর ইলম (জ্ঞান) ব্যতীত।”
মহান সত্তা আরও ইরশাদ করেছেন: “তিনি তা তাঁর ইলমের সাথেই নাযিল করেছেন।”
সুবহানাহু ওয়া তাআলা নিজের প্রশংসা ও মহিমা বর্ণনা করে ইরশাদ করেছেন: “নিশ্চয়ই আল্লাহই হলেন রিযিকদাতা, প্রবল শক্তির অধিকারী এবং সুদৃঢ়।”
(খণ্ড: ১)
লুমআতুল আদিল্লাহ ফী কাওয়াইদি আকাইদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ১০২)
أثبت لنَفسِهِ الْقُوَّة وَهِي الْقُدْرَة بِاتِّفَاق الْمُفَسّرين
فصل وَقد ذكرنَا أَن الْبَارِي تَعَالَى مُتَكَلم
فَاعْلَم أَن كَلَامه قديم أزلي لَا مُبْتَدأ لوُجُوده وَذهب الْمُعْتَزلَة والنجارية والزيدية والإمامية والخوارج إِلَى أَن كَلَام الله تَعَالَى حَادث
119 - ظ وامتنعت طوائف من هَؤُلَاءِ من إِطْلَاق القَوْل بِكَوْنِهِ مخلوقا فَسَموهُ حَادِثا ومحدثا
وَأطلق الْمُتَأَخّرُونَ من الْمُعْتَزلَة قَوْلهم بِكَوْنِهِ مخلوقا
وَالدَّلِيل على قدم كَلَام الله تَعَالَى أَنه لَو كَانَ حَادِثا لم يخل من أُمُور ثَلَاثَة
তিনি নিজের জন্য শক্তি সাব্যস্ত করেছেন, যা মুফাসসিরগণের ঐকমত্য অনুযায়ী আল্লাহর ক্ষমতাকে বোঝায়।
পরিচ্ছেদ আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি যে, মহান স্রষ্টা কথা বলেন (মুতাকাল্লিম)।
অতএব জেনে রাখুন যে, তাঁর কালাম (কথা) অনাদি ও চিরন্তন, তাঁর অস্তিত্বের কোনো সূচনা নেই। পক্ষান্তরে মুতাজিলা, নাজ্জারিয়া, যায়দিয়া, ইমামিয়া এবং খারেজিরা এই মত পোষণ করেছে যে, মহান আল্লাহর কালাম নতুনভাবে সৃষ্ট (হাদিস)।
১১৯ - এদের মধ্য থেকে কিছু দল একে স্পষ্টভাবে 'মাখলুক' বা সৃষ্ট বলতে বিরত থেকেছে, তবে তারা একে 'হাদিস' (নতুন) এবং 'মুহদাস' (উদ্ভূত) বলে অভিহিত করেছে।
আর পরবর্তী যুগের মুতাজিলাগণ স্পষ্টভাবে একে 'মাখলুক' বা সৃষ্ট হওয়ার কথা ব্যক্ত করেছে।
মহান আল্লাহর কালাম অনাদি হওয়ার দলিল হলো, এটি যদি নতুনভাবে সৃষ্ট হতো, তবে তা তিনটি অবস্থার বাইরে হতো না।
(খণ্ড: ১)
লুমআতুল আদিল্লাহ ফী কাওয়াইদি আকাইদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ১০৩)
إِمَّا أَن يقوم بِذَات الْبَارِي تَعَالَى
أَو يقوم بجسم من الْأَجْسَام
أَو يقوم لَا بِمحل بَطل قِيَامه بِهِ إِذْ يَسْتَحِيل قيام الْحَوَادِث بِذَات الْبَارِي تَعَالَى فَإِن الْحَوَادِث لَا تقوم إِلَّا بحادث
وَبَطل قيام كَلَامه بجسم إِذْ يلْزم أَن يكون الْمُتَكَلّم ذَلِك الْجِسْم
وَيبْطل قيام الْكَلَام لَا بِمحل فَإِن الْكَلَام الْحَادِث عرض من الْأَعْرَاض ويستحيل قيام الْأَعْرَاض بأنفسها إِذْ لوجاز ذَلِك فِي ضرب مِنْهَا لزم فِي سائرها
فصل الْكَلَام الْحَقِيقِيّ شَاهدا حَدِيث النَّفس
হয় এটি মহান স্রষ্টার সত্তায় বিদ্যমান থাকবে
অথবা কোনো জড়দেহের সাথে বিদ্যমান থাকবে
অথবা কোনো আধার ছাড়াই বিদ্যমান থাকবে। তাঁর (আল্লাহর) সত্তায় এর বিদ্যমান থাকা বাতিল সাব্যস্ত হলো, কেননা মহান স্রষ্টার সত্তার সাথে নশ্বর বিষয়ের অবস্থান অসম্ভব; কারণ নশ্বর বিষয় কেবল নশ্বর বস্তুর সাথেই বিদ্যমান থাকে
আর কোনো জড়দেহের সাথে তাঁর বাণীর বিদ্যমান থাকা বাতিল, কেননা সেক্ষেত্রে অবধারিতভাবে ওই জড়দেহটিই হবে বক্তা
আর কোনো আধার ছাড়া বাণীর বিদ্যমান থাকাও অসম্ভব; কেননা সৃষ্ট বাণী হলো একটি গুণ (আরাজ), আর গুণাবলির পক্ষে স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে বিদ্যমান থাকা অসম্ভব; কারণ যদি কোনো এক প্রকার গুণের ক্ষেত্রে তা সম্ভব হয়, তবে সব গুণের ক্ষেত্রেই তা হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়বে
পরিচ্ছেদ দৃশ্যমান জগতে প্রকৃত কথা হলো মনের কথা।
(খণ্ড: ১)
লুমআতুল আদিল্লাহ ফী কাওয়াইদি আকাইদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ১০৪)
وَهُوَ الَّذِي تدل عَلَيْهِ الْعبارَات المتواضع عَلَيْهَا وَقد تدل عَلَيْهِ الخطوط والرموز والإشارات
وكل ذَلِك أَمَارَات على الْكَلَام الْقَائِم بِالنَّفسِ وَلذَلِك قَالَ الأخطل
(إِن الْكَلَام لفي الْفُؤَاد وَإِنَّمَا
… جعل اللِّسَان على الْفُؤَاد دَلِيلا)
وَمن الشواهد على ذَلِك من كتاب الله عز وجل فِي الْإِخْبَار عَن الْمُنَافِقين قَوْله تَعَالَى
{إِذا جَاءَك المُنَافِقُونَ قَالُوا نشْهد إِنَّك لرَسُول الله} الْآيَة وَنحن نعلم أَن الله تَعَالَى لم يكذبهم فِي إقرارهم وَإِنَّمَا يكذبهم فِيمَا تجنه سرائرهم وتكنه ضمائرهم
এটিই সেই বিষয় যা প্রচলিত শব্দাবলী দ্বারা নির্দেশিত হয় এবং কখনও কখনও এটি রেখা, প্রতীক ও ইশারা দ্বারাও নির্দেশিত হতে পারে।
আর এ সবই নফসে বিদ্যমান কালামের (আভ্যন্তরীণ কথোপকথন) নিদর্শন মাত্র, আর একারণেই আখতাল বলেছেন:
(নিশ্চয়ই কথা তো হৃদয়েই নিহিত থাকে, আর জিহ্বাকে তো হৃদয়ের
… পরিচায়ক হিসেবেই নির্ধারণ করা হয়েছে)
মহান আল্লাহর কিতাবে মুনাফিকদের সম্পর্কে সংবাদ প্রদানের ক্ষেত্রে এর অন্যতম প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণী:
{যখন আপনার নিকট মুনাফিকরা আসে, তখন তারা বলে: আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আপনি নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল} - আয়াতাংশ এবং আমরা জানি যে মহান আল্লাহ তাদের মৌখিক স্বীকৃতির ক্ষেত্রে তাদের মিথ্যা প্রতিপন্ন করেননি, বরং তিনি তাদের মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছেন তাদের অন্তরে যা তারা লুকিয়ে রেখেছে এবং তাদের মনে যা গোপন রয়েছে সে বিষয়ে।
(খণ্ড: ১)
লুমআতুল আদিল্লাহ ফী কাওয়াইদি আকাইদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ১০৫)
إِذا ثَبت أَن الْقَائِم بِالنَّفسِ كَلَام وَلَيْسَ هُوَ حروفا منتظمة وَلَا أصواتا مقطعَة من مخارج الْحُرُوف فليستيقن الْعَاقِل أَن الْكَلَام الْقَدِيم لَيْسَ بحروف وَلَا أصوات وَلَا ألحان وَلَا نغمات
فَإِن الْحُرُوف تتوالى وتترتب وَيَقَع بَعْضهَا مَسْبُوقا بِبَعْض وكل مَسْبُوق حَادث
فصل وَكَلَام الله تَعَالَى مقروء بألسنة الْقُرَّاء مَحْفُوظ بِحِفْظ الْحفظَة مَكْتُوب فِي الْمَصَاحِف على الْحَقِيقَة
وَالْقِرَاءَة أصوات القارئين ونغماتهم
যখন এটি প্রমাণিত হলো যে, সত্তার সাথে বিদ্যমান গুণটি একটি কথা এবং তা কোনো সুশৃঙ্খল বর্ণমালা নয় এবং বর্ণসমূহের মাখরাজ থেকে নির্গত কোনো বিচ্ছিন্ন ধ্বনিও নয়, তখন বুদ্ধিমান ব্যক্তির নিশ্চিত হওয়া উচিত যে, আল্লাহর অনাদি কথা কোনো বর্ণ, শব্দ, সুর বা মূর্ছনা নয়।
কেননা বর্ণসমূহ পর্যায়ক্রমিক ও সুবিন্যস্ত থাকে এবং একটির পেছনে অন্যটি অবস্থান করে; আর যা কিছুরই কোনো পূর্বসূরী থাকে, তা-ই নতুন সৃষ্ট।
পরিচ্ছেদ আর মহান আল্লাহর কালাম ক্বারীগণের জিহ্বায় পঠিত হয়, হাফেজদের হিফযের মাধ্যমে সংরক্ষিত হয় এবং প্রকৃতপক্ষে তা মাসহাফসমূহে লিখিত।
আর কিরাআত হলো পাঠকারীদের কণ্ঠস্বর ও তাদের সুরের মূর্ছনা।
(খণ্ড: ১)
লুমআতুল আদিল্লাহ ফী কাওয়াইদি আকাইদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ১০৬)
وَهِي من الْأَفْعَال الَّتِي يُؤمر بهَا وَيُنْهِي عَنْهَا ويثاب الْمُكَلف عَلَيْهَا وَقد يُعَاقب على تَركهَا
وَكَلَام الله تَعَالَى وَهُوَ الْمَعْلُوم الْمَفْهُوم مِنْهَا
وَالْحِفْظ صفة الْحَافِظ
وَالْمَحْفُوظ كَلَام الله عز وجل
وَالْكِتَابَة أحرف منظومة وأشكال مرقومة وَهِي حوادث وَالْمَفْهُوم مِنْهَا كَلَام الله تَعَالَى كَمَا أَن الله تَعَالَى مَكْتُوب مَعْلُوم مَذْكُور وَهُوَ غير ذكر الذَّاكِرِينَ وَعلم الْعَالمين وَكِتَابَة الْكَاتِبين
এটি এমন সব কর্মের অন্তর্ভুক্ত যা করার আদেশ দেওয়া হয় এবং যা থেকে নিষেধ করা হয়, যার জন্য মুকাল্লাফকে (দায়বদ্ধ ব্যক্তি) সওয়াব প্রদান করা হয় এবং তা বর্জনের দায়ে কখনো শাস্তি প্রদান করা হতে পারে।
আর মহান আল্লাহর কালাম হলো তাই যা তা থেকে জ্ঞাত ও উপলব্ধ।
আর মুখস্থ করা (হিফজ) হলো মুখস্থকারীর গুণ।
আর যা মুখস্থ করা হয়েছে (মাহফুজ) তা হলো মহান আল্লাহর কালাম।
আর লেখা হলো সুশৃঙ্খল বর্ণমালা এবং অঙ্কিত রূপসমূহ, যা নব্যসৃষ্ট। আর তা থেকে যা বুঝা যায় তা হলো মহান আল্লাহর কালাম; ঠিক যেমন মহান আল্লাহ লিখিত, জ্ঞাত এবং উল্লিখিত, অথচ তিনি যিকরকারীদের যিকর, জ্ঞানীদের জ্ঞান এবং লেখকদের লেখা থেকে ভিন্ন।
(খণ্ড: ১)
লুমআতুল আদিল্লাহ ফী কাওয়াইদি আকাইদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ১০৭)
بَاب ذكر مَا يَسْتَحِيل فِي أَوْصَاف الْبَارِي تَعَالَى يشْتَمل على فُصُول
وَجُمْلَة القَوْل فِيهِ
أَن كل مَا يدل على الْحَوَادِث وعَلى سمة النَّقْص
فالرب يتعالى ويتقدس عَنهُ
وَهَذِه الْجُمْلَة 120 وتتبين بفصول تشْتَمل على تفصيلات مِنْهَا
أَن الرب تَعَالَى متقدس عَن الِاخْتِصَاص بالجهات والاتصاف بالمحاذاة لَا تحيط بِهِ الأقطار وَلَا تكتنفه الأقتار ويجل عَن قبُول الْحَد والمقدار
মহান স্রষ্টার গুণাবলিতে যা অসম্ভব তার বর্ণনার পরিচ্ছেদ; এটি কয়েকটি অনুচ্ছেদ সংবলিত।
এ বিষয়ে সারসংক্ষেপ হলো—
যা কিছু নশ্বরতা এবং ত্রুটির চিহ্নের ওপর প্রমাণ পেশ করে,
রব্ব তা থেকে সুউচ্চ ও পবিত্র।
আর এই সারসংক্ষেপটি ১২০ এবং এটি বিস্তারিত বিবরণ সংবলিত কয়েকটি অনুচ্ছেদের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে, যার মধ্যে রয়েছে—
নিশ্চয়ই রব্ব তাআলা দিকসমূহের সাথে নির্দিষ্ট হওয়া এবং (সৃষ্টির) মুখোমুখি হওয়ার বৈশিষ্ট্য গ্রহণ থেকে পবিত্র। কোনো দিক তাঁকে বেষ্টন করতে পারে না এবং কোনো অঞ্চল তাঁকে পরিবেষ্টিত করতে পারে না। তিনি সীমা ও পরিমাণ গ্রহণের ঊর্ধ্বে।
(খণ্ড: ১)
লুমআতুল আদিল্লাহ ফী কাওয়াইদি আকাইদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ১০৮)
وَالدَّلِيل على ذَلِك
أَن كل مُخْتَصّ بِجِهَة شاغل لَهَا متحيز وكل متحيز قَابل لملاقاة الْجَوَاهِر ومفارقتها وكل مَا يقبل الِاجْتِمَاع والافتراق لَا يَخْلُو عَنْهَا وَمَا لَا يَخْلُو عَن الِاجْتِمَاع والافتراق حَادث كالجواهر
فَإِذا ثَبت تقدس الْبَارِي عَن التحيز والاختصاص بالجهات فيرتب على ذَلِك تعاليه عَن الِاخْتِصَاص بمَكَان وملاقاة أجرام وأجسام
فَإِن سئلنا عَن قَوْله تَعَالَى {الرَّحْمَن على الْعَرْش اسْتَوَى}
قُلْنَا المُرَاد ب الاسْتوَاء الْقَهْر وَالْغَلَبَة والعلو
وَمِنْه قَول الْعَرَب اسْتَوَى فلَان على المملكة أَي استعلى عَلَيْهَا واطردت لَهُ
وَمِنْه قَول الشَّاعِر
(قد اسْتَوَى بشر على الْعرَاق
… من غير سيف وَدم مهراق)
এবং এর প্রমাণ হলো
নিশ্চয়ই প্রতিটি বস্তু যা কোনো নির্দিষ্ট দিকের সাথে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত, তা সেই দিক দখলকারী ও স্থান পরিগ্রহকারী এবং প্রত্যেক স্থান পরিগ্রহকারী বস্তু মৌলিক পদার্থের মিলন ও বিচ্ছেদের যোগ্য এবং যা কিছু মিলন ও বিচ্ছেদ গ্রহণ করে তা এ থেকে মুক্ত থাকতে পারে না এবং যা মিলন ও বিচ্ছেদ থেকে মুক্ত থাকতে পারে না তা মৌলিক পদার্থের ন্যায় নতুন সৃষ্ট।
সুতরাং যখন স্রষ্টার স্থান পরিগ্রহ করা এবং নির্দিষ্ট দিকের সাথে বিশিষ্ট হওয়া থেকে পবিত্রতা প্রমাণিত হলো, তখন এর দ্বারা সাব্যস্ত হয় যে তিনি কোনো নির্দিষ্ট স্থানে থাকা এবং জড়বস্তু ও শরীরের সাথে মিলিত হওয়া থেকে ঊর্ধ্বে।
যদি আমাদের নিকট আল্লাহ তাআলার এই বাণী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয় যে, {পরম করুণাময় আরশের উপর উঠেছেন}
আমরা বলি যে, ইস্তিওয়া (উঠা) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো প্রভাব, বিজয় এবং উচ্চতা।
এর অন্তর্ভুক্ত হলো আরবদের কথা যে, 'অমুক ব্যক্তি রাজ্যের উপর উঠেছেন' অর্থাৎ তিনি এর ওপর প্রভাব বিস্তার করেছেন এবং তা তার জন্য সুসংহত হয়েছে।
এর অন্তর্ভুক্ত হলো কবির উক্তি
(বিশর ইরাকের উপর উঠেছেন
… কোনো তলোয়ার এবং প্রবাহিত রক্ত ছাড়াই)
(খণ্ড: ১)
লুমআতুল আদিল্লাহ ফী কাওয়াইদি আকাইদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ১০৯)
فصل الرب سبحانه وتعالى يتقدس عَن قبُول الْحَوَادِث
وانفق على ذَلِك أهل الْملَل والنحل
وَخَالف إِجْمَاع الْأمة طَائِفَة نبغوا من سجستان لقبوا بالكرامية
فزعموا أَن الْحَوَادِث تطرأ على ذَات الْبَارِي تَعَالَى عَن قَوْلهم وَهَذَا نَص مَذْهَب الْمَجُوس
وَالدَّلِيل على اسْتِحَالَة قيام الْحَوَادِث بِذَات الْبَارِي تَعَالَى أَنَّهَا لَو قَامَت بِهِ لم يخل عَنْهَا
وَمَا لم يخل عَن الْحَوَادِث حَادث
পরিচ্ছেদ রব সুবহানাহু ওয়া তাআলা সৃষ্টিগত নতুন অবস্থার সঞ্চার বা নশ্বর গুণাবলি (হাওয়াদ্দিস) গ্রহণ করা থেকে পবিত্র।
এ বিষয়ে সকল ধর্ম ও মতাদর্শের অনুসারীরা একমত হয়েছেন।
আর উম্মাহর এই ঐকমত্যের (ইজমা) বিরোধিতা করেছে সিজিস্তান থেকে উদ্ভূত এক দল, যাদের কাররামিয়া বলা হয়।
তারা দাবি করেছে যে, স্রষ্টার সত্তার ওপর সৃষ্টিগত নতুন অবস্থার সঞ্চার ঘটে—আল্লাহ তাদের বক্তব্য থেকে অনেক ঊর্ধ্বে—আর এটি মূলত অগ্নিউপাসক মাজুসদের সুস্পষ্ট মতবাদ।
মহান স্রষ্টার সত্তায় সৃষ্টিগত নতুন অবস্থার সঞ্চার হওয়া অসম্ভব হওয়ার প্রমাণ হলো, যদি তা তাঁর সত্তায় সংঘটিত হতো, তবে তিনি তা থেকে মুক্ত থাকতেন না।
আর যা সৃষ্টিগত নতুন অবস্থা থেকে মুক্ত নয়, তা নিজেই সৃষ্ট বা নশ্বর।
(খণ্ড: ১)
লুমআতুল আদিল্লাহ ফী কাওয়াইদি আকাইদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ১১০)
إِرَادَة الله وَإِرَادَة العَبْدفصل
الْحَوَادِث كلهَا تقع مُرَادة لله تَعَالَى نَفعهَا وضرها وَخَيرهَا وشرها
وَذَهَبت الْمُعْتَزلَة وَمن تَبِعَهُمْ من أهل الْأَهْوَاء إِلَى أَن الْوَاجِبَات والمندوبات من الطَّاعَات مُرَادة لله تَعَالَى وَقعت أَو لم تقع
والمعاصي وَالْفَوَاحِش تقع وَالله تَعَالَى كَارِه لَهَا غير مُرِيد لوقوعها وَهِي تقع على كره
والمباحات وَمَا لَا يدْخل تَحت التَّكْلِيف من أَفعَال الْبَهَائِم والمجانين تقع وَهُوَ لَا يريدها وَلَا يكرهها
وَإِذا دللنا على أَن الرب سبحانه وتعالى خَالق لجَمِيع الْحَوَادِث فيترتب على ذَلِك أَنه مُرِيد لما خلق قَاصد إِلَى إبداع مَا اخترع
আল্লাহর ইচ্ছা ও বান্দার ইচ্ছাপরিচ্ছেদ
সকল সৃষ্ট বিষয় ও ঘটনা মহান আল্লাহর ইচ্ছাতেই সংঘটিত হয়—তার উপকার ও অপকার এবং ভালো ও মন্দ উভয়ই তাঁর ইচ্ছাধীন।
মুতাজিলা এবং তাদের অনুসারী প্রবৃত্তি পূজারীদের অভিমত হলো, আনুগত্যমূলক কাজের মধ্যে ওয়াজিব ও মুস্তাহাব বিষয়গুলো আল্লাহ তাআলার ইচ্ছাধীন, তা বাস্তবে সংঘটিত হোক বা না হোক।
আর নাফরমানি ও অশ্লীল কাজসমূহ সংঘটিত হয় অথচ আল্লাহ তাআলা তা অপছন্দ করেন এবং সেগুলোর সংঘটন তিনি চান না; বরং তাদের মতে এগুলো তাঁর অনিচ্ছায় সংঘটিত হয়।
আর মুবাহ (বৈধ) কাজ এবং চতুষ্পদ জন্তু ও পাগলের কর্মকাণ্ডের মতো যেসব বিষয় শরিয়তের বিধানের অন্তর্ভুক্ত নয়, সেগুলো সংঘটিত হয় অথচ তিনি তা ইচ্ছাও করেন না এবং অপছন্দও করেন না।
যখন আমরা প্রমাণ করেছি যে, মহান প্রতিপালক সকল নব্য বিষয়ের স্রষ্টা, তখন এর মাধ্যমেই সাব্যস্ত হয় যে, তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার ইচ্ছাকারী এবং যা উদ্ভাবন করেছেন তার সংকল্পকারী।
(খণ্ড: ১)
লুমআতুল আদিল্লাহ ফী কাওয়াইদি আকাইদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ১১১)
ثمَّ نقُول
قد قَضَت الْعُقُول بِأَن قُصُور الْإِرَادَة وَعدم نُفُوذ الْمَشِيئَة من أصدق الأمارات الدَّالَّة على سمات النَّقْص والاتصاف بِالْعَجزِ والقصور
وَمن ترشح للْملك ثمَّ كَانَ لَا ينفذ مُرَاده فِي أهل مَمْلَكَته عد ضَعِيف الْمِنَّة ومضاع الفرصة
فَإِذا كَانَ ذكل يزري على من ترشح للْملك فَكيف يجوز ذَلِك فِي صفة ملك الْمُلُوك وَرب الأرباب
فَإِن قَالُوا
الرب سبحانه وتعالى قَادر على أَن يرد الْخَلَائق إِلَى طَاعَته قهرا وقسرا وَيظْهر آيَة تظل رِقَاب الْجَبَابِرَة لَهَا خاضعة
এরপর আমরা বলব
বিবেকসমূহ এই সিদ্ধান্ত প্রদান করেছে যে, ইচ্ছার অপূর্ণতা এবং অভিপ্রায়ের অকার্যকারিতা হলো ত্রুটির বৈশিষ্ট্যাবলি এবং অক্ষমতা ও দুর্বলতায় বিশেষিত হওয়ার অন্যতম অকাট্য প্রমাণ।
আর যে ব্যক্তি রাজত্বের জন্য মনোনীত হয় এবং এরপর তার রাজ্যের প্রজাদের ওপর তার ইচ্ছা কার্যকর হয় না, তাকে দুর্বল শক্তির অধিকারী এবং সুযোগ বিনষ্টকারী হিসেবে গণ্য করা হয়।
সুতরাং, এটি যদি পার্থিব রাজত্বের দাবিদারের জন্য মর্যাদাহানিকর হয়, তবে রাজাধিরাজ এবং সকল পালনকর্তার প্রতিপালকের গুণের ক্ষেত্রে তা কীভাবে সম্ভব হতে পারে?
তারা যদি বলে
পবিত্র ও সুমহান প্রতিপালক সৃষ্টিজগতকে জোরপূর্বক এবং বলপ্রয়োগের মাধ্যমে তাঁর আনুগত্যে ফিরিয়ে আনতে এবং এমন এক নিদর্শন প্রকাশ করতে সক্ষম, যার সামনে প্রতাপশালী স্বৈরাচারীদের মস্তকসমূহ নত হয়ে থাকবে।
(খণ্ড: ১)
লুমআতুল আদিল্লাহ ফী কাওয়াইদি আকাইদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ১১২)
قُلْنَا
من فَاسد أصلكم أَنه لَا يجوز فِي حكمه إِجْبَار الْخَلَائق على الطَّاعَات واضطرارهم إِلَى الْخيرَات وَلَا يُرِيد مِنْهُم الْإِيمَان إجبارا وَإِنَّمَا يُريدهُ مِنْهُم اخْتِيَارا فَمَا يُريدهُ لَا يقدر عَلَيْهِ وَمَا لَا يقدر عَلَيْهِ لَا يُريدهُ
وَقد أجمع سلف الْأمة وَخَلفهَا على كلمة لَا يجحدها معتز إِلَى الْإِسْلَام وَهِي قَوْلهم {مَا شَاءَ الله كَانَ وَمَا لم يَشَأْ لم يكن}
والآيات الشاهدة لأهل الْحق لَا تحصى كَثْرَة
وَمِنْهَا
قَوْله تَعَالَى {وَلَو شَاءَ الله لجمعهم على الْهدى} 120 ظ وَمِنْهَا قَوْله تَعَالَى
{فَمن يرد الله أَن يهديه يشْرَح صَدره لِلْإِسْلَامِ وَمن يرد أَن يضله يَجْعَل صَدره ضيقا حرجا}
وَمِنْهَا قَوْله تَعَالَى
{وَلَو أننا نزلنَا إِلَيْهِم الْمَلَائِكَة} إِلَى آخر الْآيَة
আমরা বললাম
আপনাদের ভ্রান্ত মূলনীতি থেকে (উৎপন্ন) যে, তাঁর বিধানে সৃষ্টিজগতকে আনুগত্যের ওপর বাধ্য করা এবং কল্যাণের প্রতি তাদের বিবশ করা বৈধ নয়; এবং তিনি তাদের থেকে জোরপূর্বক ঈমান চান না, বরং তিনি তাদের থেকে তা ঐচ্ছিক হিসেবে চান; ফলে তিনি যা চান তার ওপর সক্ষম হন না এবং যার ওপর তিনি সক্ষম নন তা তিনি চান না
উম্মতের পূর্বসূরি ও উত্তরসূরিগণ এমন একটি বাক্যের ওপর ঐকমত্য পোষণ করেছেন যা ইসলামের সাথে সম্বন্ধযুক্ত কেউ অস্বীকার করে না, আর তা হলো তাঁদের এই উক্তি: "আল্লাহ যা চেয়েছেন তা হয়েছে, আর যা তিনি চাননি তা হয়নি"
আর সত্যপন্থীদের পক্ষে সাক্ষ্যদানকারী আয়াতসমূহ সংখ্যায় অগুনতি
সেগুলোর মধ্যে রয়েছে
মহান আল্লাহর বাণী: "আর আল্লাহ যদি চাইতেন, তবে অবশ্যই তাদের হিদায়াতের ওপর একত্রিত করতেন।" এবং সেগুলোর মধ্যে রয়েছে মহান আল্লাহর বাণী:
"সুতরাং আল্লাহ যাকে হিদায়াত দিতে চান, তার বক্ষকে ইসলামের জন্য উন্মুক্ত করে দেন, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করতে চান, তার বক্ষকে সংকীর্ণ ও অতি সংকুচিত করে দেন"
এবং সেগুলোর মধ্যে রয়েছে মহান আল্লাহর বাণী:
"আর যদি আমি তাদের কাছে ফেরেশতা পাঠাতাম..." আয়াতের শেষ পর্যন্ত
(খণ্ড: ১)
লুমআতুল আদিল্লাহ ফী কাওয়াইদি আকাইদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ১১৩)
فَإِن احْتَجُّوا بقوله تَعَالَى {وَلَا يرضى لِعِبَادِهِ الْكفْر}
فَالْجَوَاب أَن نقُول
أَرَادَ الله تَعَالَى بالعباد الموفقين لطاعته المخلصين لعبادته وَهُوَ مثل قَوْله تَعَالَى {عينا يشرب بهَا عباد الله}
وَإِنَّمَا أَرَادَ الْأَوْلِيَاء الأتقياء من الْعباد الَّذين لم يرد لَهُم الرب الْكفْر لم يكفروا
وَرُبمَا يحتجون بقوله تَعَالَى
{سَيَقُولُ الَّذين أشركوا لَو شَاءَ الله مَا أشركنا وَلَا آبَاؤُنَا وَلَا حرمنا من شَيْء} إِلَى قَوْله (
… {حَتَّى ذاقوا بأسنا} )
وَوجه الدَّلِيل من الْآيَة أَن الله رد على الْكفَّار قَوْلهم
{لَو شَاءَ الله مَا أشركنا}
যদি তারা মহান আল্লাহর এই বাণী দ্বারা দলিল পেশ করে যে, {আর তিনি তাঁর বান্দাদের জন্য কুফরি পছন্দ করেন না}
তবে উত্তর হলো এই যে, আমরা বলব—
আল্লাহ তাআলা ‘বান্দা’ বলতে তাঁর আনুগত্যের তাওফিকপ্রাপ্ত ও ইবাদতে একনিষ্ঠ বান্দাদের উদ্দেশ্য করেছেন। আর এটি মহান আল্লাহর এই বাণীর মতো: {একটি ঝরনা, যেখান থেকে আল্লাহর বান্দারা পান করবে}
প্রকৃতপক্ষে তিনি বান্দাদের মধ্য থেকে সেই সব মুত্তাকি ওলিদের উদ্দেশ্য করেছেন, যাদের জন্য প্রতিপালক কুফরি চাননি, ফলে তারা কুফরি করেনি
আবার সম্ভবত তারা মহান আল্লাহর এই বাণী দ্বারা দলিল পেশ করবে—
{মুশরিকরা বলবে, আল্লাহ যদি চাইতেন তবে আমরা শিরক করতাম না এবং আমাদের পিতৃপুরুষেরাও করত না এবং আমরা কোনো কিছু হারামও করতাম না} তাঁর এই কথা পর্যন্ত (
… {যতক্ষণ না তারা আমার শাস্তি আস্বাদন করল} )
আর আয়াতটি থেকে দলিল গ্রহণের প্রেক্ষিত হলো এই যে, আল্লাহ কাফেরদের এই উক্তিটিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন:
{যদি আল্লাহ ইচ্ছা করতেন তবে আমরা শিরক করতাম না}