(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুল আকাইদ
(পৃষ্ঠা: -)
قواعد العقائد القسم: العقيدة
الكتاب: قواعد العقائد
المؤلف: أبو حامد محمد بن محمد الغزالي الطوسي (ت 505هـ)
المحقق: موسى محمد علي
الناشر: عالم الكتب - لبنان
الطبعة: الثانية، 1405هـ - 1985م
عدد الصفحات: 285
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ক্বাওয়াইদুল আকাইদ বিভাগ: আক্বিদা
কিতাব: ক্বাওয়াইদুল আকাইদ
লেখক: আবু হামিদ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল-গাজালি আত-তুসি (মৃত্যু ৫০৫ হিজরি)
সম্পাদক: মুসা মুহাম্মদ আলি
প্রকাশক: আলিমুল কুতুব - লেবানন
সংস্করণ: দ্বিতীয়، ১৪০৫ হিজরি - ১৯৮৫ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৮৫
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুল আকাইদ
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
مُقَدّمَة الْحَمد لله المبديء المعيد الفعال لما يُرِيد ذِي الْعَرْش الْمجِيد والبطش الشَّديد الْهَادِي صفوة العبيد إِلَى الْمنْهَج الرشيد والمسلك السديد
ভূমিকা সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি প্রথমবার অস্তিত্বদানকারী ও পুনরায় ফিরিয়ে আনয়নকারী, যা ইচ্ছা তা-ই সম্পাদনকারী, মহিমান্বিত আরশের অধিকারী এবং কঠোর পাকড়াওকারী; যিনি তাঁর মনোনীত বান্দাদের সঠিক পথ ও সুদৃঢ় পন্থার দিকে পথপ্রদর্শনকারী।
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুল আকাইদ
(পৃষ্ঠা: ৫০)
الْمُنعم عَلَيْهِم بعد شَهَادَة التَّوْحِيد بحراسة عقائدهم عَن ظلمات التشكيك والترديد السالك بهم إِلَى اتِّبَاع رَسُوله الْمُصْطَفى واقتفاء آثَار صَحبه الأكرمين الْمُكرمين بالتأييد والتسديد المتجلي لَهُم فِي ذَاته وأفعاله بمحاسن أَوْصَافه الَّتِي لَا يُدْرِكهَا إِلَّا من ألْقى السّمع وَهُوَ شَهِيد الْمُعَرّف إيَّاهُم أَنه فِي ذَاته وَاحِد لَا شريك لَهُ فَرد لَا مثيل لَهُ صَمد لَا ضد لَهُ مُنْفَرد لَا ند لَهُ وَأَنه وَاحِد قديم لَا أول لَهُ أزلي لَا بداية لَهُ مُسْتَمر الْوُجُود لَا آخر لَهُ أبدي لَا نِهَايَة لَهُ قيوم لَا انْقِطَاع
যিনি তাওহীদের সাক্ষ্য প্রদানের পর তাদের আকিদাকে সন্দেহ ও সংশয়ের অন্ধকার থেকে রক্ষা করার মাধ্যমে তাদের ওপর অনুগ্রহ করেছেন; যিনি তাদের তাঁর মনোনীত রাসূলের অনুসরণ এবং তাঁর সেই সব অতীব সম্মানিত ও মর্যদাবান সাহাবীদের পদাঙ্ক অনুসরণের পথে পরিচালিত করেন, যাঁরা ঐশ্বরিক সাহায্য ও সঠিক পথের দিশা লাভের মাধ্যমে সমর্থিত; যিনি তাঁর সত্তা ও কার্যাবলিতে তাঁর সেই সুন্দর গুণাবলির মাধ্যমে তাঁদের নিকট উদ্ভাসিত হন, যা কেবল সেই ব্যক্তিই অনুধাবন করতে পারে যে উপস্থিত চিত্তে মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করে; যিনি তাদের এই পরিচয় দান করেছেন যে, তিনি তাঁর সত্তায় এক, যাঁর কোনো শরিক নেই; তিনি একক, যাঁর কোনো সদৃশ নেই; তিনি অমুখাপেক্ষী, যাঁর কোনো প্রতিপক্ষ নেই; তিনি অনন্য, যাঁর কোনো সমকক্ষ নেই; এবং তিনি এক ও অনাদি, যাঁর কোনো শুরু নেই; তিনি প্রাক-অস্তিত্ব সম্পন্ন চিরন্তন, যাঁর কোনো প্রারম্ভ নেই; তিনি অস্তিত্বে নিরবচ্ছিন্ন, যাঁর কোনো শেষ নেই; তিনি অনন্ত, যাঁর কোনো সমাপ্তি নেই; তিনি অবিনশ্বর ধারক, যাঁর কোনো ছেদ নেই।
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুল আকাইদ
(পৃষ্ঠা: ৫১)
لَهُ دَائِم لَا انصرام لَهُ لم يزل مَوْصُوفا بنعوت الْجلَال لَا يقْضى عَلَيْهِ بالانقضاء والانفصال بتصرم الآباد وانقراض الْآجَال بل هُوَ الأول وَالْآخر وَالظَّاهِر وَالْبَاطِن وَهُوَ بِكُل شَيْء عليم
التَّنْزِيه وَأَنه لَيْسَ بجسم مُصَور وَلَا جَوْهَر مَحْدُود مُقَدّر وَأَنه لَا يماثل الْأَجْسَام لَا فِي التَّقْدِير وَلَا فِي قبُول الانقسام وَأَنه لَيْسَ بجوهر وَلَا تحله الْجَوَاهِر وَلَا بِعرْض وَلَا تحله الْأَعْرَاض بل لَا يماثل مَوْجُودا وَلَا يماثله
তাঁর স্থায়িত্ব চিরন্তন, যার কোনো বিচ্ছেদ নেই। তিনি অনাদি কাল থেকে মহিমার গুণাবলীতে গুণান্বিত। যুগের অবসান বা আয়ুর সমাপ্তি তাঁর ওপর বিনাশ বা বিচ্ছেদের ফয়সালা দেয় না। বরং তিনিই আদি, তিনিই অন্ত, তিনিই প্রকাশ্য এবং তিনিই গোপন; আর তিনি সর্ববিষয়ে সম্যক পরিজ্ঞাত।
পবিত্রতা বর্ণনা আর নিশ্চয়ই তিনি কোনো রূপবিশিষ্ট শরীর নন এবং কোনো সীমাবদ্ধ বা পরিমাপযোগ্য মৌলিক সত্তা (জাওহার) নন। পরিমাপ কিংবা বিভাজ্যতা গ্রহণের ক্ষেত্রে তিনি কোনো শরীরের সদৃশ নন। তিনি জাওহার নন এবং কোনো জাওহার তাঁর সত্তায় প্রবিষ্ট হয় না। তিনি কোনো আকস্মিক গুণ (আরাজ) নন এবং কোনো আরাজ তাঁর ওপর আপতিত হয় না। বরং তিনি কোনো বিদ্যমান বস্তুর সদৃশ নন এবং কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়।
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুল আকাইদ
(পৃষ্ঠা: ৫২)
مَوْجُود لَيْسَ كمثله شَيْء وَلَا هُوَ مثل شَيْء وَأَنه لَا يحده الْمِقْدَار وَلَا تحويه الأقطار وَلَا تحيط بِهِ الْجِهَات وَلَا تكتنفه الأرضون وَلَا السَّمَوَات وَأَنه مستوي على الْعَرْش على الْوَجْه الَّذِي قَالَه وبالمعنى الَّذِي أَرَادَهُ اسْتِوَاء منزهاً عَن المماسة والاستقرار والتمكن والحلول والانتقال لَا يحملهُ الْعَرْش بل الْعَرْش وَحَمَلته محمولون بلطف قدرته ومقهورون فِي قَبضته وَهُوَ فَوق الْعَرْش وَالسَّمَاء وَفَوق كل شَيْء إِلَى تخوم الثرى فوقية لَا تزيده قرباً إِلَى الْعَرْش وَالسَّمَاء كَمَا لَا تزيده بعدا عَن الأَرْض وَالثَّرَى بل هُوَ رفيع الدَّرَجَات عَن الْعَرْش وَالسَّمَاء كَمَا أَنه رفيع الدَّرَجَات عَن الأَرْض وَالثَّرَى وَهُوَ مَعَ ذَلِك قريب
তিনি বিদ্যমান, তাঁর সদৃশ কোনো কিছু নেই এবং তিনিও কোনো কিছুর সদৃশ নন। কোনো পরিমাণ তাঁকে সীমাবদ্ধ করতে পারে না এবং কোনো ভূখণ্ড তাঁকে ধারণ করতে পারে না। দিকসমূহ তাঁকে বেষ্টন করে না এবং যমীনসমূহ ও আসমানসমূহ তাঁকে পরিবেষ্টিত করে রাখে না। তিনি আরশের উপর উঠেছেন সেই পদ্ধতিতে যেভাবে তিনি বলেছেন এবং সেই অর্থে যা তিনি উদ্দেশ্য করেছেন; এমন এক উঠা যা স্পর্শ করা, স্থিতি লাভ করা, আস্তানা গাড়া, বিলীন হওয়া এবং স্থান পরিবর্তন করা থেকে পবিত্র। আরশ তাঁকে বহন করে না, বরং আরশ এবং এর বহনকারীরা তাঁর কুদরতের অনুগ্রহে বাহিত এবং তাঁর হাতের মুঠোয় বিজিত। তিনি আরশ ও আসমানের উপরে এবং মাটির গভীর তলদেশ পর্যন্ত সবকিছুর উপরে। এই উপরিত্ব আরশ ও আসমানের সাথে তাঁর নৈকট্য বৃদ্ধি করে না, যেমনটি তা যমীন ও মাটি থেকে তাঁর দূরত্ব বাড়িয়ে দেয় না। বরং তিনি আরশ ও আসমান থেকে সুউচ্চ মর্যাদাবান, যেমনটি তিনি যমীন ও মাটি থেকেও সুউচ্চ মর্যাদাবান। এবং তা সত্ত্বেও তিনি নিকটবর্তী।
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুল আকাইদ
(পৃষ্ঠা: ৫৩)
من كل مَوْجُود وَهُوَ أقرب إِلَى العَبْد من حَبل الوريد وَهُوَ على كل شَيْء شَهِيد إِذا لَا يماثل قربه قرب الْأَجْسَام كَمَا لَا تماثل ذَاته ذَات الْأَجْسَام وَأَنه لَا يحل فِي شَيْء وَلَا يحل فِيهِ شَيْء تَعَالَى عَن أَن يحويه مَكَان كَمَا تقدس عَن أَن يحده زمَان بل كَانَ قبل أَن خلق الزَّمَان وَالْمَكَان وَهُوَ الْآن على مَا عَلَيْهِ كَانَ وَأَنه بَائِن عَن خلقه بصفاته لَيْسَ فِي ذَاته سواهُ وَلَا فِي سواهُ ذَاته وَأَنه مقدس عَن التَّغْيِير والانتقال لَا تحله الْحَوَادِث وَلَا تعتريه الْعَوَارِض بل لَا يزَال فِي نعوت جَلَاله منزهاً عَن الزَّوَال وَفِي صِفَات كَمَاله مستغنياً عَن زِيَادَة الاستكمال وَأَنه فِي ذَاته مَعْلُوم الْوُجُود بالعقول مرئي الذَّات بالأبصار
তিনি সকল বিদ্যমান বস্তুর চেয়েও নিকটবর্তী এবং তিনি বান্দার গ্রীবাস্থিত ধমনীর চেয়েও অধিক নিকটবর্তী। তিনি প্রতিটি বিষয়ের ওপর প্রত্যক্ষদর্শী; যেহেতু তাঁর নিকটবর্তী হওয়া দেহসমূহের নিকটবর্তী হওয়ার সদৃশ নয়, যেমন তাঁর সত্তা দেহসমূহের সত্তার সদৃশ নয়। তিনি কোনো কিছুর মধ্যে প্রবিষ্ট হন না এবং কোনো কিছু তাঁর মধ্যে প্রবিষ্ট হয় না; তিনি স্থান কর্তৃক পরিবেষ্টিত হওয়া থেকে সুউচ্চ, যেমন তিনি কাল কর্তৃক সীমাবদ্ধ হওয়া থেকে পবিত্র। বরং স্থান ও কাল সৃষ্টির পূর্বেও তিনি বিদ্যমান ছিলেন এবং তিনি এখন তেমনই আছেন যেমনটি তিনি অনাদিকাল থেকে ছিলেন। তিনি তাঁর গুণাবলির মাধ্যমে তাঁর সৃষ্টিজগত থেকে পৃথক; তাঁর সত্তার মধ্যে তিনি ব্যতীত অন্য কিছু নেই এবং অন্য কোনো কিছুর মধ্যে তাঁর সত্তা নেই। তিনি পরিবর্তন ও স্থানান্তরণ থেকে পবিত্র; কোনো নশ্বর ঘটনা তাঁর মধ্যে প্রবিষ্ট হয় না এবং কোনো আপতিক পরিবর্তন তাঁকে স্পর্শ করে না। বরং তিনি অনাদিকাল থেকে তাঁর মহিমার গুণাবলির মাঝে বিলুপ্তি থেকে মুক্ত এবং তাঁর পূর্ণতার গুণাবলির মাঝে উত্তরোত্তর পূর্ণতা লাভের মুখাপেক্ষীহীন অবস্থায় বিরাজমান। তাঁর সত্তার অস্তিত্ব বিবেকের মাধ্যমে পরিজ্ঞাত এবং তাঁর সত্তা দৃষ্টির মাধ্যমে দর্শনযোগ্য।
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুল আকাইদ
(পৃষ্ঠা: ৫৪)
نعْمَة مِنْهُ ولطفاً بالأبرار فِي دَار الْقَرار وإتماماً مِنْهُ للنعيم بِالنّظرِ إِلَى وَجهه الْكَرِيم
الْحَيَاة وَالْقُدْرَة وَأَنه تَعَالَى حَيّ قَادر جَبَّار قاهر لَا يَعْتَرِيه قُصُور وَلَا عجز وَلَا تَأْخُذهُ سنة وَلَا نوم وَلَا يُعَارضهُ فنَاء وَلَا موت وَأَنه ذُو الْملك والملكوت والعزة والجبروت لَهُ السُّلْطَان والقهر والخلق وَالْأَمر وَالسَّمَوَات مَطْوِيَّات بِيَمِينِهِ وَالْخَلَائِق مقهورون فِي قَبضته وَأَنه الْمُنْفَرد بالخلق والاختراع المتوحد
এটি তাঁর পক্ষ থেকে এক নিআমত এবং চিরস্থায়ী আবাসে পুণ্যবানদের প্রতি তাঁর অনুগ্রহ এবং তাঁর সম্মানিত চেহারার দিকে তাকানোর সুযোগ প্রদানের মাধ্যমে নিআমতের পূর্ণতা স্বরূপ।
জীবন ও ক্ষমতা এবং তিনি মহান, চিরঞ্জীব, সর্বশক্তিমান, মহাপরাক্রমশালী, বিজয়ী; কোনো ত্রুটি বা অক্ষমতা তাঁকে স্পর্শ করে না এবং তাঁকে তন্দ্রা বা নিদ্রা আচ্ছন্ন করে না এবং বিনাশ বা মৃত্যু তাঁর ওপর আপতিত হয় না। এবং তিনি পার্থিব ও অপার্থিব রাজত্ব, মর্যাদা ও মহিমার অধিকারী; সার্বভৌমত্ব, প্রতাপ, সৃষ্টি ও আদেশ কেবল তাঁরই। আসমানসমূহ তাঁর ডান হাতে গুটিয়ে থাকবে এবং সৃষ্টিজগত তাঁর হাতের মুঠোয় বশীভূত। এবং তিনি সৃষ্টি ও উদ্ভাবনে অনন্য ও একক।
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুল আকাইদ
(পৃষ্ঠা: ৫৫)
بالإيجاد والإبداع خلق الْخلق وأعمالهم وَقدر أَرْزَاقهم وآجالهم لَا يشذ عَن قَبضته مَقْدُور وَلَا يعزب عَن قدرته تصاريف الْأُمُور لَا تحصى مقدوراته وَلَا تتناهى معلوماته
الْعلم وَأَنه عَالم بِجَمِيعِ المعلومات مُحِيط بِمَا يجْرِي من تخوم الْأَرْضين إِلَى أَعلَى السَّمَوَات وَأَنه عَالم لَا يعزب عَن علمه مِثْقَال ذرة فِي الأَرْض وَلَا فِي السَّمَاء بل
অস্তিত্ব দান ও অনন্য সৃষ্টির মাধ্যমে তিনি সৃষ্টিজগত ও তাদের কর্মসমূহ সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের রিজিক ও আয়ু নির্ধারণ করেছেন। কোনো নির্ধারিত বিষয়ই তাঁর আয়ত্তের বাইরে যায় না এবং তাঁর ক্ষমতার অগোচরে কোনো বিষয়াবলির পরিবর্তন ঘটে না। তাঁর নির্ধারিত বিষয়সমূহ অগণিত এবং তাঁর জ্ঞান অসীম।
জ্ঞান এবং নিশ্চয়ই তিনি সমস্ত জ্ঞাত বিষয় সম্পর্কে অবগত; পৃথিবীর গভীরতম তলদেশ থেকে আসমানসমূহের সর্বোচ্চ শিখর পর্যন্ত যা কিছু ঘটে, তা তাঁর পরিবেষ্টনকারী জ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত। এবং তিনি এমন এক জ্ঞানী যে, আসমান বা জমিনের অণু পরিমাণ কোনো কিছুই তাঁর জ্ঞানের অগোচরে থাকে না, বরং
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুল আকাইদ
(পৃষ্ঠা: ৫৬)
يعلم دَبِيب النملة السَّوْدَاء على الصَّخْرَة الصماء فِي اللَّيْلَة الظلماء وَيدْرك حَرَكَة الذَّر فِي جو الْهَوَاء وَيعلم السِّرّ وأخفى ويطلع على هواجس الضمائر وحركات الخواطر وخفيات السرائر بِعلم قديم أزلي لم يزل مَوْصُوفا بِهِ فِي أزل الآزال لَا بِعلم متجدد حَاصِل فِي ذَاته بالحلول والانتقال
الإرداة وَأَنه تَعَالَى مُرِيد للكائنات مُدبر للحادثات فَلَا يجْرِي فِي الْملك والملكوت قَلِيل أَو كثير صَغِير أَو كَبِير خير أَو شَرّ نفع أَو ضرّ إِيمَان أَو كفر عرفان أَو نكر فوز أَو خسران زِيَادَة أَو نُقْصَان طَاعَة أَو عصيان إِلَّا بِقَضَائِهِ وَقدره وحكمته ومشيئته فَمَا شَاءَ كَانَ وَمَا لم يَشَأْ لم يكن لَا يخرج عَن
তিনি অন্ধকার রাতে নিরেট পাথরের ওপর কালো পিপীলিকার পদচারণা সম্পর্কে অবগত এবং তিনি বায়ুমণ্ডলে অণু-পরমাণুর গতিবিধি প্রত্যক্ষ করেন। তিনি গোপন বিষয় ও যা অতি গোপন তা জানেন এবং অন্তরের কুমন্ত্রণা, মনের কল্পনা ও গোপনতম রহস্যসমূহ পর্যবেক্ষণ করেন। তাঁর এই জ্ঞান অনাদি ও শাশ্বত, যা দ্বারা তিনি অনাদিকাল থেকে গুণান্বিত; এটি কোনো নতুন অর্জিত জ্ঞান নয় যা তাঁর সত্তায় অনুপ্রবেশ বা পরিবর্তনের মাধ্যমে সৃষ্টি হয়।
ইচ্ছা (আল-ইরাদাহ) আর নিশ্চয়ই তিনি সুউচ্চ মহান, সমস্ত সৃষ্টির ইচ্ছাকারী ও সকল ঘটনার পরিচালক। সুতরাং এই দৃশ্যমান ও অদৃশ্য জগতে অল্প বা অধিক, ক্ষুদ্র বা বৃহৎ, কল্যাণ বা অকল্যাণ, উপকার বা অপকার, ঈমান বা কুফর, পরিচয় বা অস্বীকৃতি, বিজয় বা পরাজয়, বৃদ্ধি বা হ্রাস, আনুগত্য বা অবাধ্যতা—যাই সংঘটিত হয় না কেন, তা কেবল তাঁরই ফয়সালা, তকদির, হিকমত ও ইচ্ছার মাধ্যমেই ঘটে। অতএব তিনি যা ইচ্ছা করেন তা হয়, আর যা তিনি ইচ্ছা করেন না তা হয় না। এর বাইরে কিছুই...
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুল আকাইদ
(পৃষ্ঠা: ৫৭)
مَشِيئَته لفتة نَاظر وَلَا فلتة خاطر بل هُوَ المبديء المعيد الفعال لما يُرِيد لَا راد لأَمره وَلَا معقب لقضائه وَلَا مهرب لعبد عَن مَعْصِيَته إِلَّا بتوفيقه وَرَحمته وَلَا قُوَّة لَهُ على طَاعَته إِلَّا بمشيئته وإرادته فَلَو اجْتمع الْإِنْس وَالْجِنّ وَالْمَلَائِكَة وَالشَّيَاطِين على أَن يحركوا فِي الْعَالم ذرة أَو يسكنوها دون إِرَادَته ومشيئته لعجزوا عَن ذَلِك وَأَن إِرَادَته قَائِمَة بِذَاتِهِ فِي جملَة صِفَاته لم يزل كَذَلِك مَوْصُوفا بهَا مرِيدا فِي أزله لوُجُود الْأَشْيَاء فِي أَوْقَاتهَا الَّتِي قدرهَا فَوجدت فِي أَوْقَاتهَا كَمَا أَرَادَهُ فِي أزله من غير تقدم وَلَا تَأَخّر بل وَقعت على وفْق علمه وإرادته من غير تبدل وَلَا تغير دبر الْأُمُور لَا بترتيب أفكار وَلَا تربص زمَان فَلذَلِك لم يشْغلهُ شَأْن عَن شَأْن
তাঁর ইচ্ছা কোনো দর্শনকারীর দৃষ্টিপাত বা মনের কোনো আকস্মিক চিন্তা নয়; বরং তিনিই আদি স্রষ্টা, পুনরাবর্তনকারী এবং যা ইচ্ছা করেন তা সুসম্পন্নকারী। তাঁর নির্দেশের কোনো রদবদলকারী নেই, তাঁর ফয়সালার কোনো পরিবর্তনকারী নেই। তাঁর তাওফিক ও রহমত ব্যতীত কোনো বান্দার পক্ষেই তাঁর অবাধ্যতা থেকে পলায়ন করার সুযোগ নেই, আর তাঁর ইচ্ছা ও অভিপ্রায় ব্যতীত তাঁর আনুগত্য করার কোনো শক্তিও তার নেই। যদি মানুষ, জিন, ফেরেশতা এবং শয়তান সকলে মিলে জগতের একটি অণু পরিমাণও নড়াচড়া করতে চায় অথবা তাকে স্থির করতে চায় তাঁর ইচ্ছা ও অভিপ্রায় ব্যতিরেকে, তবে তারা তা করতে অক্ষম হবে। নিশ্চয়ই তাঁর ইচ্ছা তাঁর গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত হয়ে তাঁর সত্তায় বিদ্যমান। তিনি অনাদি কাল থেকেই এই গুণে গুণান্বিত এবং অনাদি কাল থেকেই তাঁর নির্ধারিত সময়ে বস্তুসমূহের অস্তিত্বের ব্যাপারে ইচ্ছাকারী। ফলে বস্তুসমূহ তাঁর অনাদি ইচ্ছার অনুরূপ তাদের নির্ধারিত সময়েই অস্তিত্ব লাভ করেছে, কোনো রূপ অগ্রগামিতা কিংবা পশ্চাৎগামিতা ব্যতিরেকেই। বরং কোনো রূপ বদল বা পরিবর্তন ছাড়াই তা তাঁর জ্ঞান ও ইচ্ছার অনুকূলে সংঘটিত হয়েছে। তিনি বিষয়াবলি পরিচালনা করেছেন কোনো চিন্তার বিন্যাস কিংবা সময়ের প্রতীক্ষা ছাড়াই। আর এই কারণেই কোনো কাজ তাঁকে অন্য কোনো কাজ থেকে বিমুখ বা ব্যতিব্যস্ত করে না।
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুল আকাইদ
(পৃষ্ঠা: ৫৮)
السّمع وَالْبَصَر وَأَنه تَعَالَى سميع بَصِير يسمع وَيرى لَا يعزب عَن سَمعه مسموع وَإِن خَفِي وَلَا يغيب عَن رُؤْيَته مرئي وَإِن دق وَلَا يحجب سَمعه بُعد وَلَا يدْفع رُؤْيَته ظلام يرى من غير حدقة وأجفان وَيسمع من غير أَصْمِخَة وآذان كَمَا يعلم بِغَيْر قلب ويبطش بِغَيْر جارحة ويخلق بِغَيْر آلَة إِذْ لَا تشبه صِفَاته صِفَات الْخلق كَمَا لَا تشبه ذَاته ذَوَات الْخلق
الْكَلَام وَأَنه تَعَالَى مُتَكَلم آمُر ناه وَاعد متوعد بِكَلَام أزلي قديم قَائِم بِذَاتِهِ
শ্রবণ ও দর্শন এবং নিশ্চয়ই তিনি মহান, সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা; তিনি শোনেন ও দেখেন। কোনো শ্রবণযোগ্য বিষয়ই তাঁর শ্রবণ থেকে গোপন থাকে না, তা যত গোপনেই হোক না কেন; এবং কোনো দৃশ্যমান বস্তু তাঁর দর্শনের আড়ালে থাকে না, তা যত সূক্ষ্মই হোক না কেন। কোনো দূরত্ব তাঁর শ্রবণে বাধা সৃষ্টি করে না এবং কোনো অন্ধকার তাঁর দর্শনকে প্রতিহত করে না। তিনি চোখের মণি ও পাপড়ি ছাড়াই দেখেন এবং কর্ণকুহর ও কান ছাড়াই শোনেন; যেমন তিনি হৃদয় ছাড়াই জানেন, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ছাড়াই পাকড়াও করেন এবং কোনো যন্ত্র ছাড়াই সৃষ্টি করেন। কেননা তাঁর গুণাবলি সৃষ্টির গুণাবলির সদৃশ নয়, যেমন তাঁর সত্তা সৃষ্টির সত্তাসমূহের সদৃশ নয়।
কালাম (কথা বলা) এবং নিশ্চয়ই তিনি মহান, কথা বলেন; তিনি আদেশদাতা, নিষেধকারী, অঙ্গীকারকারী ও ভীতি প্রদর্শনকারী। তাঁর এই কালাম (কথা) অনাদি ও চিরন্তন, যা তাঁর সত্তার সাথে অনাদিকাল থেকে বিদ্যমান।
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুল আকাইদ
(পৃষ্ঠা: ৫৯)
لَا يشبه كَلَام الْخلق فَلَيْسَ بِصَوْت يحدث من انسلال هَوَاء أَو اصطكاك أجرام وَلَا بِحرف يَنْقَطِع بإطباق شفة أَو تَحْرِيك لِسَان وَأَن الْقُرْآن والتوراة وَالْإِنْجِيل وَالزَّبُور كتبه الْمنزلَة على رسله عليهم السلام وَأَن الْقُرْآن مقروء بالألسنة مَكْتُوب فِي الْمَصَاحِف مَحْفُوظ فِي الْقُلُوب وَأَنه مَعَ ذَلِك قديم قَائِم بِذَات الله تَعَالَى لَا يقبل الِانْفِصَال والافتراق بالانتقال إِلَى الْقُلُوب والأوراق وَأَن مُوسَى صلى الله عليه وسلم سمع كَلَام الله بِغَيْر صَوت وَلَا حرف كَمَا يرى الْأَبْرَار ذَات الله تَعَالَى فِي الْآخِرَة من غير جَوْهَر وَلَا عرض وَإِذا كَانَت لَهُ هَذِه الصِّفَات كَانَ حَيا عَالما قَادِرًا مرِيدا سميعاً بَصيرًا متكلماً بِالْحَيَاةِ وَالْقُدْرَة وَالْعلم والإرادة والسمع وَالْبَصَر وَالْكَلَام لَا بِمُجَرَّد الذَّات
এটি সৃষ্টির বাণীর সদৃশ নয়; সুতরাং এটি বায়ু নির্গমনের ফলে সৃষ্ট কোনো শব্দ নয় কিংবা কোনো জড়বস্তুর ঘর্ষণজাত শব্দও নয় এবং তা এমন কোনো অক্ষরও নয় যা ওষ্ঠদ্বয় নিমীলিত করা কিংবা জিহ্বা সঞ্চালনের মাধ্যমে পরিসমাপ্ত হয়। আর নিশ্চয়ই কুরআন, তাওরাত, ইঞ্জিল ও যাবুর তাঁর প্রেরিত রাসুলগণের (তাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) ওপর অবতীর্ণ তাঁর কিতাবসমূহ। কুরআন জিহ্বা দ্বারা পঠিত, মাসহাফসমূহে লিখিত এবং অন্তরে সংরক্ষিত; তা সত্ত্বেও এটি অনাদি, যা মহান আল্লাহর সত্তার সাথে বিদ্যমান। এটি হৃদয় ও কাগজের পাতায় স্থানান্তরিত হওয়ার মাধ্যমে বিচ্ছিন্নতা ও পৃথকীকরণ গ্রহণ করে না। মুসা (আল্লাহর রহমত ও শান্তি তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) শব্দ ও অক্ষর ব্যতিরেকেই আল্লাহর বাণী শ্রবণ করেছেন, যেমন পুণ্যবানগণ পরকালে মহান আল্লাহর সত্তাকে কোনো জড় উপাদান বা আপতিক গুণ ব্যতিরেকেই দর্শন করবেন। যেহেতু তাঁর এই গুণাবলি রয়েছে, তাই তিনি চিরঞ্জীব, সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান, ইচ্ছাকারী, সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা ও বাকশক্তিসম্পন্ন; যা তাঁর জীবন, ক্ষমতা, জ্ঞান, ইচ্ছা, শ্রবণ, দর্শন ও বাকশক্তির মাধ্যমে সাব্যস্ত, কেবল নিছক সত্তার মাধ্যমে নয়।
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুল আকাইদ
(পৃষ্ঠা: ৬০)
الْأَفْعَال وَأَنه سبحانه وتعالى لَا مَوْجُود سواهُ إِلَّا هُوَ حَادث بِفِعْلِهِ وفائض من عدله على أحسن الْوُجُوه وأكملها وأتمها وأعدلها وَأَنه حَكِيم فِي أَفعاله عَادل فِي أقضيته لَا يُقَاس عدله بِعدْل الْعباد إِذْ العَبْد يتَصَوَّر مِنْهُ الظُّلم بتصرفه فِي ملك غَيره وَلَا يتَصَوَّر الظُّلم من الله تَعَالَى فَإِنَّهُ لَا يُصَادف لغيره ملكا حَتَّى يكون تصرفه فِيهِ ظلما فَكل مَا سواهُ من إنسٍ وجن ومَلَكٍ وَشَيْطَان وسماءٍ وَأَرْض وحيوانٍ ونبات وجماد وجوهرٍ وعَرَض ومدركٍ ومحسوس حادثٌ اخترعه بقدرته بعد الْعَدَم اختراعاً وأنشأه إنْشَاء بعد أَن لم يكن شَيْئا إِذْ كَانَ فِي الْأَزَل مَوْجُودا وَحده وَلم يكن مَعَه غَيره فأحدث الْخلق بعد ذَلِك إِظْهَارًا لقدرته وتحقيقاً لما سبق من إِرَادَته ولِمَا حق فِي الْأَزَل من كَلمته لَا
কর্মসমূহ নিশ্চয়ই তিনি পবিত্র ও মহান; তিনি ব্যতীত অন্য কোনো অস্তিত্বশীল সত্তা নেই যা তাঁর কর্ম দ্বারা নবসৃষ্ট নয় এবং যা তাঁর ইনসাফ থেকে সর্বোত্তম, পূর্ণাঙ্গতম, পরিপূর্ণ ও ন্যায়নিষ্ঠ পন্থায় উৎসারিত নয়। তিনি তাঁর কর্মসমূহে প্রজ্ঞাবান এবং তাঁর ফয়সালাসমূহে ন্যায়পরায়ণ। তাঁর ইনসাফকে বান্দাদের ইনসাফের সাথে তুলনা করা যায় না; কেননা অন্যের মালিকানাধীন বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার মাধ্যমে বান্দার পক্ষ থেকে যুলুম বা অন্যায়ের ধারণা করা সম্ভব, কিন্তু আল্লাহ তাআলার ক্ষেত্রে যুলুমের কোনো ধারণা করা যায় না। কারণ তিনি অন্য কারও মালিকানার সম্মুখীন হন না যে, তাতে তাঁর হস্তক্ষেপ যুলুম হতে পারে। সুতরাং মানুষ, জিন, ফেরেশতা, শয়তান, আসমান, জমিন, প্রাণী, উদ্ভিদ, জড়বস্তু, সারবস্তু, গুণ এবং যা কিছু ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য ও অনুভূত—তিনি ব্যতীত যা কিছু আছে সবই নবসৃষ্ট, যা তিনি অস্তিত্বহীনতার পর তাঁর কুদরত দ্বারা উদ্ভাবন করেছেন এবং কোনো কিছুই বিদ্যমান না থাকার পর তিনি তা সৃষ্টি করেছেন। যেহেতু অনাদিকাল থেকে কেবল তিনিই অস্তিত্বশীল ছিলেন এবং তাঁর সাথে অন্য কেউ ছিল না। অতঃপর তিনি তাঁর কুদরত প্রকাশ করার জন্য এবং তাঁর পূর্বনির্ধারিত ইচ্ছা ও অনাদিকালে সাব্যস্ত হওয়া তাঁর বাণীর বাস্তবায়নের নিমিত্তে সৃষ্টিজগতকে অস্তিত্ব দান করেছেন; কোনো...
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুল আকাইদ
(পৃষ্ঠা: ৬১)
لافتقاره إِلَيْهِ وَحَاجته وَأَنه متفضل بالخلق والاختراع والتكليف لَا عَن وجوب ومتطول بالإنعام والإصلاح لَا عَن لُزُوم فَلهُ الْفضل وَالْإِحْسَان وَالنعْمَة والامتنان إِذْ كَانَ قَادِرًا على أَن يصب على عباده أَنْوَاع الْعَذَاب ويبتليهم بضروب الآلام والأوصاب وَلَو فعل ذَلِك لَكَانَ مِنْهُ عدلا وَلم يكن مِنْهُ قبيحاً وَلَا ظلما وَأَنه عز وجل يثيب عبادَهُ الْمُؤمنِينَ على الطَّاعَات بِحكم الْكَرم والوعد لَا بِحكم الِاسْتِحْقَاق واللزوم لَهُ إِذْ لَا يجب عَلَيْهِ لأحد فعل وَلَا يتَصَوَّر مِنْهُ ظلم وَلَا يجب عَلَيْهِ حق وَأَن حَقه فِي الطَّاعَات وَجب على الْخلق بإيجابه على أَلْسِنَة أنبيائه عليهم السلام لَا بِمُجَرَّد الْعقل وَلكنه بعث الرُّسُل
তাঁর প্রতি সৃষ্টির মুখাপেক্ষিতা ও অভাবের কারণে; এবং তিনি সৃষ্টি করা, উদ্ভাবন করা এবং বিধান পালনের দায়িত্ব অর্পণ করার মাধ্যমে অনুগ্রহকারী, কোনো আবশ্যকতা থেকে নয়; এবং তিনি নেয়ামত দান ও সংশোধন করার মাধ্যমে করুণাকারী, কোনো বাধ্যবাধকতা থেকে নয়। সুতরাং সকল শ্রেষ্ঠত্ব, কল্যাণ, নেয়ামত ও অনুকম্পা তাঁরই; যেহেতু তিনি তাঁর বান্দাদের ওপর বিভিন্ন প্রকার আজাব বর্ষণ করতে এবং তাদের নানা ধরণের ব্যথা ও ব্যাধিতে লিপ্ত করতে সক্ষম। আর তিনি যদি তা করতেন, তবে তা তাঁর পক্ষ থেকে ন্যায়বিচারই হতো এবং তা কোনো মন্দ কাজ বা জুলুম হতো না। এবং তিনি, মহা পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত, তাঁর মুমিন বান্দাদের আনুগত্যের বিনিময়ে পুরস্কার দান করেন কেবল তাঁর মহানুভবতা ও প্রতিশ্রুতির কারণে, তাঁদের কোনো প্রাপ্য অধিকার বা তাঁর ওপর কোনো আবশ্যকতা থেকে নয়। কারণ কারও জন্য কোনো কাজ করা তাঁর ওপর আবশ্যক নয়, তাঁর পক্ষ থেকে কোনো জুলুমের কল্পনা করা যায় না এবং তাঁর ওপর কোনো অধিকার সাব্যস্ত হওয়া আবশ্যক নয়। আর আনুগত্যের ক্ষেত্রে তাঁর যে অধিকার, তা সৃষ্টির ওপর আবশ্যক হয়েছে তাঁর নবীগণের (তাঁদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) বাণীর মাধ্যমে তা আবশ্যক করে দেওয়ার কারণে, কেবল বিবেকের দ্বারা নয়; বরং তিনি রাসূলগণকে প্রেরণ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুল আকাইদ
(পৃষ্ঠা: ৬২)
وَأظْهر صدقهم بالمعجزات الظَّاهِرَة فبلّغوا أمره وَنَهْيه ووعده ووعيده فَوَجَبَ على الْخلق تصديقهم فِيمَا جَاءُوا بِهِ
معنى الْكَلِمَة الثَّانِيَة وَهِي الشَّهَادَة للرسول بالرسالة وَأَنه بعث النَّبِي الْأُمِّي الْقرشِي مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم برسالته إِلَى كَافَّة الْعَرَب والعجم وَالْجِنّ وَالْإِنْس فنسخ بِشَرِيعَتِهِ الشَّرَائِع إِلَّا مَا قَرَّرَهُ مِنْهَا وفضله على
এবং তিনি সুস্পষ্ট মুজিযাসমূহের মাধ্যমে তাদের সত্যতা প্রকাশ করেছেন। ফলে তারা তাঁর আদেশ, নিষেধ, প্রতিশ্রুতি এবং হুঁশিয়ারি পৌঁছে দিয়েছেন। সুতরাং সৃষ্টির ওপর তাদের আনীত বিষয়সমূহে তাদেরকে সত্যয়ন করা আবশ্যক হয়ে পড়েছে।
দ্বিতীয় বাক্যের অর্থ, আর তা হলো রাসূলের রিসালাতের সাক্ষ্য প্রদান করা এবং নিশ্চয়ই তিনি উম্মী কুরাইশী নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তাঁর রিসালাতসহ সকল আরব, অনারব, জিন ও ইনসানের প্রতি প্রেরণ করেছেন। অতঃপর তিনি তাঁর শরীয়তের মাধ্যমে পূর্ববর্তী সকল শরীয়তকে রহিত করেছেন, তবে তিনি সেগুলোর মধ্য থেকে যা বহাল রেখেছেন তা ব্যতীত। এবং তিনি তাঁকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন...
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুল আকাইদ
(পৃষ্ঠা: ৬৩)
سَائِر الْأَنْبِيَاء وَجعله سيد الْبشر وَمنع كَمَال الْإِيمَان بِشَهَادَة التَّوْحِيد وَهُوَ قَول لَا إِلَه إِلَّا الله مَا لم تقترن بهَا شَهَادَة الرَّسُول وَهُوَ قَوْلك مُحَمَّد رَسُول الله وألزم الْخلق تَصْدِيقه فِي جَمِيع مَا أخبر عَنهُ من أُمُور الدُّنْيَا وَالْآخر وَأَنه لَا يتَقَبَّل إيمانُ عبدٍ حَتَّى يُؤمن بِمَا أخبر بِهِ بعد الْمَوْت وأوله سُؤال مُنكر
অন্যান্য সকল নবীগণ এবং তাঁকে মানবজাতির নেতা করেছেন। আর তিনি তাওহীদের সাক্ষ্য—যা হলো ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই’ এই বাণী—এর মাধ্যমে ঈমানের পূর্ণতাকে ততক্ষণ পর্যন্ত রুদ্ধ রেখেছেন যতক্ষণ না তার সাথে রাসূলের সাক্ষ্য—যা হলো আপনার এই কথা যে ‘মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল’—যুক্ত হয়। তিনি সৃষ্টির ওপর দুনিয়া ও আখিরাতের যাবতীয় বিষয় যা তিনি সংবাদ দিয়েছেন, তার সব কিছুতে তাঁকে সত্য বলে মেনে নেওয়াকে আবশ্যক করেছেন। আর কোনো বান্দার ঈমান ততক্ষণ পর্যন্ত কবুল করা হবে না, যতক্ষণ না সে মৃত্যুর পরবর্তী বিষয়সমূহ সম্পর্কে তিনি যা সংবাদ দিয়েছেন তার ওপর ঈমান আনবে, যার প্রথমটি হলো মুনকারের সওয়াল।
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুল আকাইদ
(পৃষ্ঠা: ৬৪)
وَنَكِير وهما شخصان مهيبان هائلان يقعدان العَبْد فِي قَبره سويا ذَا روح وجسد فيسألانه عَن التَّوْحِيد والرسالة ويقولان لَهُ من رَبك وَمَا دينك وَمن نبيك وهما فتانا الْقَبْر وسؤالهما أَو فتْنَة بعد الْمَوْت
এবং নাকির; তারা দু'জন অত্যন্ত গাম্ভীর্যপূর্ণ ও ভয়াবহ সত্তা, যারা বান্দাকে তার কবরে রূহ ও দেহসহ পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় বসাবেন। অতঃপর তারা তাকে তাওহীদ ও রিসালাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবেন এবং তাকে বলবেন: তোমার রব কে? তোমার দ্বীন কী? এবং তোমার নবী কে? তারা দু'জন কবরের পরীক্ষক এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদই হলো মৃত্যুর পরবর্তী পরীক্ষা।
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুল আকাইদ
(পৃষ্ঠা: ৬৫)
وَأَن يُؤمن بِعَذَاب الْقَبْر وَأَنه حق وَحكمه عدل على الْجِسْم وَالروح على مَا يَشَاء وَأَن يُؤمن بالميزان ذِي الكفتين وَاللِّسَان وَصفته فِي العِظَمِ أَنه مثل طَبَقَات السَّمَوَات وَالْأَرْض توزن فِيهِ الْأَعْمَال بقدرة الله تَعَالَى والصنج يَوْمئِذٍ مَثَاقِيل الذَّر والخردل تَحْقِيقا لتَمام الْعدْل وتوضح صَحَائِف الْحَسَنَات فِي صُورَة حَسَنَة فِي كفة النُّور فيثقل بهَا الْمِيزَان على قدر درجاتها عِنْد الله
এবং কবরের আজাবের প্রতি ঈমান আনা যে তা সত্য এবং শরীর ও রুহের ওপর আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী এর ফয়সালা ইনসাফপূর্ণ। আর দুই পাল্লা ও একটি কাঁটা বিশিষ্ট মিজানের প্রতি ঈমান আনা; এর বিশালত্বের বিবরণ এই যে, তা আসমান ও জমিনের স্তরসমূহের ন্যায়। মহান আল্লাহর কুদরতে এতে আমলসমূহ ওজন করা হবে। পূর্ণ ইনসাফ কায়েমের লক্ষ্যে সেদিন বাটখারাগুলো হবে অণু ও সরিষা দানা সমপরিমাণ। পুণ্যসমূহের আমলনামা সুন্দর অবয়বে নূরের পাল্লায় প্রকাশিত হবে এবং আল্লাহর নিকট সেগুলোর মর্যাদার স্তর অনুযায়ী তার মাধ্যমে মিজানের পাল্লা ভারী হবে।
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুল আকাইদ
(পৃষ্ঠা: ৬৬)
بِفضل الله وتطرح صَحَائِف السَّيِّئَات فِي صُورَة قبيحة فِي كفة الظلمَة فيخف بهَا الْمِيزَان بِعدْل الله
وَأَن يُؤمن بِأَن الصِّرَاط حق وَهُوَ جسر مَمْدُود على متن جَهَنَّم أحد من السَّيْف وأدق من الشعرة تزل عَلَيْهِ أَقْدَام الْكَافرين بِحكم الله سُبْحَانَهُ فَتَهْوِي بهم إِلَى النَّار وَتثبت عَلَيْهِ أَقْدَام الْمُؤمنِينَ بِفضل الله فيساقون إِلَى دَار الْقَرار
আল্লাহর অনুগ্রহে মন্দ কাজের আমলনামাগুলো একটি কুৎসিত আকৃতিতে অন্ধকারের পাল্লায় নিক্ষেপ করা হবে, ফলে আল্লাহর ন্যায়বিচারের কারণে তার মাধ্যমে মিযান হালকা হয়ে যাবে।
এবং বিশ্বাস স্থাপন করা যে সিরাত সত্য; আর তা হলো জাহান্নামের পিঠের ওপর প্রসারিত একটি সেতু, যা তলোয়ারের চেয়ে ধারালো এবং চুলের চেয়েও সূক্ষ্ম। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার ফয়সালায় তার ওপর কাফিরদের পাগুলো পিছলে যাবে এবং তা তাদেরকে জাহান্নামের আগুনের দিকে নিপতিত করবে, আর আল্লাহর অনুগ্রহে মুমিনদের পাগুলো তার ওপর অটল থাকবে, অতঃপর তাদেরকে চিরস্থায়ী আবাসের দিকে পরিচালিত করা হবে।
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুল আকাইদ
(পৃষ্ঠা: ৬৭)
وَأَن يُؤمن بالحوض المورود حَوْض مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم يشرب مِنْهُ الْمُؤمنِينَ قبل دُخُول الْجنَّة وَبعد جَوَاز الصِّرَاط من شرب مِنْهُ شربة لم يظمأ بعْدهَا أبدا عرضه مسيرَة شهر مَاؤُهُ أَشد بَيَاضًا من اللَّبن وَأحلى من الْعَسَل حوله أَبَارِيق عَددهَا بِعَدَد نُجُوم السَّمَاء فِيهِ مِيزَابَانِ يصبَّانِ فِيهِ من الْكَوْثَر
وَأَن يُؤمن بِالْحِسَابِ تفَاوت النَّاس فِيهِ إِلَى مناقش فِي الْحساب وَإِلَى مسامح فِيهِ وَإِلَى من يدْخل الْجنَّة بِغَيْر حِسَاب وهم المقربون فيسألُ
এবং হাউজে মাওরূদের (আগমনের স্থান) প্রতি ঈমান রাখা, যা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাউজ; মুমিনগণ জান্নাতে প্রবেশের পূর্বে এবং সিরাত পার হওয়ার পর তা থেকে পান করবেন। যে ব্যক্তি তা থেকে এক ঢোক পান করবে, সে আর কখনোই তৃষ্ণার্ত হবে না। এর প্রশস্ততা এক মাসের পথ। এর পানি দুধের চেয়েও অধিক সাদা এবং মধুর চেয়েও অধিক মিষ্টি। এর চতুর্দিকে আসমানের নক্ষত্ররাজির সমসংখ্যক পানপাত্র রয়েছে। এতে দুটি নালা রয়েছে যা কাওসার থেকে এতে পানি প্রবাহিত করে।
এবং হিসাবের প্রতি ঈমান রাখা; এতে মানুষের অবস্থার তারতম্য ঘটবে—কারো হিসাব হবে পুঙ্খানুপুঙ্খ, কারো প্রতি হিসাবের ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শন করা হবে, আবার কেউ কোনো হিসাব ছাড়াই জান্নাতে প্রবেশ করবেন—তারা হলেন নৈকট্যপ্রাপ্ত (মুকাররাবুন)। অতঃপর জিজ্ঞাসা করা হবে...
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুল আকাইদ
(পৃষ্ঠা: ৬৮)
اللهُ تَعَالَى من يَشَاء من الْأَنْبِيَاء عَن تَبْلِيغ الرسَالَة وَمن شَاءَ من الْكفَّار عَن تَكْذِيب الْمُرْسلين وَيسْأل المبتدعة عَن السّنة وَيسْأل الْمُسلمين عَن الْأَعْمَال
وَأَن يُؤمن بِإِخْرَاج المُوَحِّدين من النَّار بعد الانتقام حَتَّى لَا يبْقى فِي جَهَنَّم موحد بِفضل الله تَعَالَى فَلَا يخلد فِي النَّار موحد
মহান আল্লাহ নবীগণের মধ্য হতে যাকে ইচ্ছা রিসালাত পৌঁছে দেওয়া সম্পর্কে এবং কাফিরদের মধ্য হতে যাকে ইচ্ছা রাসূলগণকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন; তিনি বিদআতিদের সুন্নাহ সম্পর্কে এবং মুসলিমদেরকে আমলসমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন।
এবং এ বিষয়ে ঈমান রাখা যে, মহান আল্লাহর অনুগ্রহে একত্ববাদীদেরকে শাস্তি প্রদানের পর জাহান্নাম থেকে বের করে আনা হবে, এমনকি জাহান্নামে কোনো একত্ববাদী অবশিষ্ট থাকবে না; সুতরাং কোনো একত্ববাদীই জাহান্নামে চিরস্থায়ী হবে না।
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুল আকাইদ
(পৃষ্ঠা: ৬৯)
وَأَن يُؤمن بشفاعة الْأَنْبِيَاء ثمَّ الْعلمَاء ثمَّ الشُّهَدَاء ثمَّ سَائِر الْمُؤمنِينَ على حسب جاهه ومنزلته عِنْد الله تَعَالَى وَمن بَقِي من الْمُؤمنِينَ وَلم يكن لَهُ شَفِيع أخرج بِفضل الله عز وجل فَلَا يخلد فِي النَّار مُؤمن بل يخرج مِنْهَا من كَانَ فِي
এবং নবীগণের, অতঃপর আলেমগণের, অতঃপর শহীদগণের এবং মহান আল্লাহর নিকট তাদের মর্যাদা ও অবস্থানের ভিত্তিতে অবশিষ্ট মুমিনদের সুপারিশের ওপর ঈমান আনতে হবে। আর মুমিনদের মধ্য থেকে যারা অবশিষ্ট থাকবে এবং যাদের কোনো সুপারিশকারী থাকবে না, তাদেরকে মহান আল্লাহর অনুগ্রহে বের করে আনা হবে। অতএব কোনো মুমিনই জাহান্নামে চিরস্থায়ী হবে না; বরং সেখান থেকে তাকে বের করে আনা হবে যার মধ্যে ছিল...
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুল আকাইদ
(পৃষ্ঠা: ৭০)
قلبه مِثْقَال ذرة من الْإِيمَان وَأَن يعْتَقد فضل الصَّحَابَة رضي الله عنهم وترتيبهم وَأَن أفضل النَّاس بعد النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَبُو بكر ثمَّ عمر ثمَّ عُثْمَان ثمَّ عَليّ رضي الله عنهم وَأَن يحسن الظَّن بِجَمِيعِ الصَّحَابَة ويثني عَلَيْهِم كَمَا أثنى الله عز وجل وَرَسُوله صلى الله عليه وسلم وَعَلَيْهِم أَجْمَعِينَ
তার অন্তরে অণু পরিমাণ ঈমান রয়েছে এবং সাহাবীগণের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) মর্যাদা ও তাঁদের ক্রমমর্যাদায় বিশ্বাস পোষণ করা। আর এই বিশ্বাস রাখা যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পর মানবজাতির মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলেন আবু বকর, অতঃপর উমর, অতঃপর উসমান, অতঃপর আলী (আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)। এবং সকল সাহাবীর প্রতি সুধারণা পোষণ করা এবং তাঁদের প্রশংসা করা, ঠিক যেভাবে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁদের সকলের প্রশংসা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুল আকাইদ
(পৃষ্ঠা: ৭১)
فَكل ذَلِك مِمَّا وَردت بِهِ الْأَخْبَار وَشهِدت بِهِ الْآثَار فَمن اعْتقد جَمِيع ذَلِك موقناً بِهِ كَانَ من أهل الْحق وعصابة السّنة وفارَقَ رَهْطَ الضلال وحِزْبَ الْبِدْعَة
فنسأل الله كَمَال الْيَقِين وَحسن الثَّبَات فِي الدّين لنا ولكافة الْمُسلمين برحمته إِنَّه أرْحم الرَّاحِمِينَ وَصلى الله على سيدنَا مُحَمَّد وعَلى كل عبد مصطفى
এই সবই এমন বিষয় যা বিভিন্ন বর্ণনায় এসেছে এবং আছারসমূহ যার সাক্ষ্য প্রদান করেছে। সুতরাং যে ব্যক্তি দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে এই সবকিছুর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করল, সে সত্যপন্থী এবং সুন্নাহর জামাআতের অন্তর্ভুক্ত হলো এবং সে বিভ্রান্ত গোষ্ঠী ও বিদআতি দল থেকে পৃথক হয়ে গেল।
অতএব আমরা আল্লাহর কাছে তাঁর রহমতে আমাদের জন্য এবং সকল মুসলিমের জন্য পূর্ণাঙ্গ ইয়াকিন ও দ্বীনের ওপর উত্তম অবিচলতা প্রার্থনা করছি। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু। আর আল্লাহ আমাদের নেতা মুহাম্মাদ এবং প্রত্যেক মনোনীত বান্দার ওপর রহমত বর্ষণ করুন।
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুল আকাইদ
(পৃষ্ঠা: ৭৩)
الْفَصْل الثَّانِي فِي وَجه التدريج إِلَى الْإِرْشَاد وترتيب دَرَجَات الإعتقاد
পথপ্রদর্শনের ক্ষেত্রে ক্রমিক অনুসরণের পদ্ধতি এবং বিশ্বাসের স্তরসমূহ বিন্যস্তকরণ বিষয়ক দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুল আকাইদ
(পৃষ্ঠা: ৭৫)
أعلم أَن مَا ذَكرْنَاهُ فِي تَرْجَمَة العقيدة يَنْبَغِي أَن يقدم إِلَى الصَّبِي فِي أول نشوه ليحفظه حفظا ثمَّ لَا يزَال ينْكَشف لَهُ مَعْنَاهُ فِي كبره شَيْئا فَشَيْئًا فابتداؤه الْحِفْظ ثمَّ الْفَهم ثمَّ الإعتقاد والإيقان والتصديق بِهِ وَذَلِكَ مِمَّا يحصل فِي الصَّبِي بِغَيْر برهَان فَمن فضل الله سُبْحَانَهُ على قلب الْإِنْسَان أَن شَرحه فِي أول نشوة للْإيمَان من غير حَاجَة إِلَى حجَّة وبرهان وَكَيف يُنكر ذَلِك
জেনে রাখুন যে, আকিদার ব্যাখ্যায় আমরা যা উল্লেখ করেছি, তা শিশুর বেড়ে ওঠার শুরুতেই তার সামনে পেশ করা উচিত যাতে সে তা মুখস্থ করে নেয়। অতঃপর বড় হওয়ার সাথে সাথে ধীরে ধীরে এর অর্থ তার কাছে উন্মোচিত হতে থাকে। সুতরাং এর সূচনা হবে মুখস্থকরণের মাধ্যমে, তারপর অনুধাবন, অতঃপর বিশ্বাস, দৃঢ় প্রত্যয় এবং সত্যয়ন। আর তা শিশুর মাঝে কোনো যুক্তি-প্রমাণ ছাড়াই অর্জিত হয়। মানুষের অন্তরের ওপর মহান আল্লাহর অন্যতম অনুগ্রহ হলো এই যে, তিনি শৈশবেই কোনো দলিল ও প্রমাণের প্রয়োজন ছাড়াই ঈমানের জন্য তার বক্ষকে উন্মুক্ত করে দেন। আর এটি কীভাবে অস্বীকার করা যায়?
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুল আকাইদ
(পৃষ্ঠা: ৭৬)
وَجَمِيع عقائد الْعَوام مباديها التَّلْقِين الْمُجَرّد والتقليد الْمَحْض نعم يكون الإعتقاد الْحَاصِل بِمُجَرَّد التَّقْلِيد غير خَال عَن نوع من الضعْف فِي الإبتداء على معنى أَنه يقبل الْإِزَالَة بنقيضه لَو ألْقى إِلَيْهِ فَلَا بُد من تقويته وإثباته فِي نفس الصَّبِي والعامي حَتَّى يترشح وَلَا يتزلزل وَلَيْسَ الطَّرِيق فِي تقويته وإثباته أَن يعلم صَنْعَة الجدل وَالْكَلَام بل يشْتَغل بِتِلَاوَة الْقُرْآن وَتَفْسِيره وَقِرَاءَة الحَدِيث ومعانيه ويشتغل بوظائف الْعِبَادَات فَلَا يزَال إعتقاده يزْدَاد رسوخا بِمَا يقرع سَمعه من أَدِلَّة الْقُرْآن وحججه وَبِمَا يرد عَلَيْهِ من شَوَاهِد الْأَحَادِيث
সাধারণ মানুষের যাবতীয় আকিদার ভিত্তি হলো কেবল দীক্ষাদান এবং নিছক অনুকরণ। হ্যাঁ, নিছক অনুকরণের মাধ্যমে অর্জিত বিশ্বাস শুরুতে এক প্রকার দুর্বলতা থেকে মুক্ত থাকে না; এই অর্থে যে, যদি তার সামনে এর বিপরীত কিছু উপস্থাপন করা হয়, তবে তা অপসারিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সুতরাং শিশু এবং সাধারণ মানুষের অন্তরে একে শক্তিশালী ও সুপ্রতিষ্ঠিত করা আবশ্যক, যাতে তা বদ্ধমূল হয় এবং বিচলিত না হয়। আর একে শক্তিশালী ও সুপ্রতিষ্ঠিত করার পথ এটি নয় যে তাকে বিতর্কবিদ্যা ও কালাম শাস্ত্র শিক্ষা দেওয়া হবে; বরং সে কুরআন তিলাওয়াত ও এর তাফসির, হাদিস পাঠ ও এর মর্মার্থ অনুধাবন এবং ইবাদতের আমলসমূহে মশগুল হবে। এর ফলে কুরআনের যেসব দলিল ও প্রমাণাদি তার কর্ণকুহরে প্রতিধ্বনিত হবে এবং হাদিসের যেসব সাক্ষ্য তার সামনে আসবে, তার মাধ্যমে তার বিশ্বাস ক্রমাগত সুদৃঢ় হতে থাকবে।
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুল আকাইদ
(পৃষ্ঠা: ৭৭)
وفوائدها وَبِمَا يسطع عَلَيْهِ من أنوار الْعِبَادَات ووظائفها وَبِمَا يسري إِلَيْهِ من مُشَاهدَة الصَّالِحين ومجالستهم وسيماهم وسماعهم وهيآتهم فِي الخضوع لله عز وجل وَالْخَوْف مِنْهُ والإستكانة لَهُ فَيكون أول التَّلْقِين كإلقاء بذر فِي الصَّدْر وَتَكون هَذِه الْأَسْبَاب كالسقي والتربية لَهُ حَتَّى يَنْمُو ذَلِك الْبذر ويقوى ويرتفع شَجَرَة طيبَة راسخة أَصْلهَا ثَابت وفرعها فِي السَّمَاء
وَيَنْبَغِي أَن يحرس سَمعه من الجدل وَالْكَلَام غَايَة الحراسة فَإِن مَا يشوشه الجدل أَكثر مِمَّا يمهده وَمَا يُفْسِدهُ أَكثر مِمَّا يصلحه بل تقويته بالجدل تضاهي ضرب الشَّجَرَة بالمدقة من الْحَدِيد رَجَاء تقويتها بِأَن تكْثر أجزاؤها وَرُبمَا يفتتها ذَلِك ويفسدها وَهُوَ الْأَغْلَب والمشاهدة تكفيك فِي هَذَا بَيَانا فناهيك بالعيان برهانا
এবং এর উপকারিতাগুলো, এবং ইবাদতের নূর ও তার কার্যাবলি থেকে যা তার ওপর উদ্ভাসিত হয় এবং নেককারদের পর্যবেক্ষণ, তাঁদের সাহচর্য, তাঁদের বাহ্যিক লক্ষণ, তাঁদের কথা শ্রবণ এবং মহান আল্লাহর প্রতি তাঁদের বিনয়, ভয় ও দীনহীনতার যে অবস্থা তার মাঝে সঞ্চারিত হয়; ফলে প্রাথমিক দীক্ষা অন্তরে বীজ বপনের মতো হয় এবং এই মাধ্যমগুলো তার জন্য সেচন ও পরিচর্যার মতো কাজ করে, যতক্ষণ না সেই বীজটি বৃদ্ধি পায়, শক্তিশালী হয় এবং একটি পবিত্র ও সুদৃঢ় বৃক্ষে পরিণত হয়, যার মূল স্থির এবং শাখা আকাশে বিস্তৃত।
এবং বিতর্ক ও কালামশাস্ত্র থেকে নিজের শ্রবণশক্তিকে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে রক্ষা করা উচিত। কেননা বিতর্ক যতটুকু ভিত্তি গড়ে দেয়, তার চেয়ে বেশি বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে; এবং যতটুকু সংশোধন করে, তার চেয়ে বেশি কলুষিত করে। বরং বিতর্কের মাধ্যমে একে শক্তিশালী করার চেষ্টা করা বৃক্ষকে লোহার মুগুর দিয়ে আঘাত করার সদৃশ— এই আশায় যে এর অংশসমূহ বৃদ্ধি পেয়ে তা শক্তিশালী হবে; অথচ সম্ভবত এটি গাছটিকে চূর্ণ-বিচূর্ণ ও ধ্বংস করে দিবে, আর সচরাচর এমনটিই ঘটে থাকে। এ বিষয়ে বর্ণনা করার জন্য চাক্ষুষ পর্যবেক্ষণই তোমার জন্য যথেষ্ট, আর প্রত্যক্ষ দর্শনই হলো শ্রেষ্ঠ প্রমাণ।
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুল আকাইদ
(পৃষ্ঠা: ৭৮)
فقس عقيدة أهل الصّلاح والتقى من عوام النَّاس بعقيدة الْمُتَكَلِّمين والمجادلين فترى إعتقاد الْعَاميّ فِي الثَّبَات كالطود الشامخ لَا تحركه الدَّوَاهِي وَالصَّوَاعِق وعقيدة المتلكم الحارس إعتقاده بتقسيمات الجدل كخيط مُرْسل فِي الْهَوَاء تفيئه الرِّيَاح مرّة هَكَذَا وَمرَّة هَكَذَا إِلَّا من سمع مِنْهُم دَلِيل الإعتقاد فتلقفه تقليدا كَمَا تلقف نفس الإعتقاد تقليدا إِذْ لَا فرق فِي التقلد بَين تعلم الدَّلِيل أَو تعلم الْمَدْلُول فتلقين الدَّلِيل شَيْء والإستدلال بِالنّظرِ شَيْء آخر بعيد عَنهُ
ثمَّ الصَّبِي إِذا وَقع نشوه على هَذِه العقيدة إِن اشْتغل بكسب الدُّنْيَا
সুতরাং সাধারণ মানুষের মধ্য থেকে পুণ্যবান ও আল্লাহভীরু ব্যক্তিদের আকিদাকে কালামশাস্ত্রবিদ ও বিতর্ককারীদের আকিদার সাথে তুলনা করো। তখন তুমি সাধারণ মানুষের বিশ্বাসকে দৃঢ়তার দিক থেকে এক সুউচ্চ পাহাড়ের ন্যায় দেখতে পাবে, যাকে কোনো মহাবিপদ বা বজ্রপাতও বিচলিত করতে পারে না। আর সেই কালামশাস্ত্রবিদের আকিদা—যে বিতর্কের বিন্যাসের মাধ্যমে নিজের বিশ্বাসকে পাহারা দেয়—তা বাতাসে ঝুলন্ত এক সুতার মতো, যাকে বাতাস একবার এদিকে আবার ওদিকে দুলিয়ে দেয়। তবে তাদের মধ্য থেকে যে ব্যক্তি আকিদার দলিল শ্রবণ করেছে এবং আকিদার মতোই সেই দলিলকেও অন্ধ অনুকরণের মাধ্যমে গ্রহণ করেছে (সে স্বতন্ত্র); কেননা অনুকরণের ক্ষেত্রে দলিলের শিক্ষা এবং দলিল দ্বারা যা প্রমাণিত হয় তার শিক্ষার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। সুতরাং দলিল মুখস্থ করানো এক বিষয়, আর গভীর চিন্তা ও পর্যালোচনার মাধ্যমে দলিল অন্বেষণ করা সম্পূর্ণ ভিন্ন এক বিষয় যা তা থেকে অনেক দূরে।
অতঃপর কোনো শিশু যখন এই আকিদার ওপর বেড়ে ওঠে, যদি সে পার্থিব উপার্জনে লিপ্ত হয়।
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদুল আকাইদ
(পৃষ্ঠা: ৭৯)
لم ينفتح لَهُ غَيرهَا وَلكنه يسلم فِي الْآخِرَة بإعتقاد أهل الْحق إِذا لم يُكَلف الشَّرْع أجلاف الْعَرَب أَكثر من التَّصْدِيق الْجَازِم بِظَاهِر هَذِه العقائد فَأَما الْبَحْث والتفتيش وتكلف نظم الْأَدِلَّة فَلم يكلفوه أصلا وَإِن أَرَادَ أَن يكون من
তার জন্য এটি ব্যতীত অন্য কিছু উন্মোচিত হয়নি, তবে তিনি সত্যপন্থীদের আকিদা পোষণের মাধ্যমে পরকালে মুক্তি পাবেন; যেহেতু শরিয়ত অমার্জিত আরবদেরকে এই আকিদাগুলোর বাহ্যিক প্রসঙ্গের ওপর দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপনের অতিরিক্ত কোনো দায়িত্ব প্রদান করেনি। আর গবেষণা, অনুসন্ধান এবং দলীল-প্রমাণ বিন্যস্ত করার কষ্টসাধ্য কাজ তাদের ওপর আদপেই চাপিয়ে দেওয়া হয়নি। আর তিনি যদি হতে চান...