(খণ্ড: ১)
তামহীদুল আওয়াইল ওয়া তালখীসুল দালাইল
(পৃষ্ঠা: -)
تمهيد الأوائل وتلخيص الدلائل (الباقلاني)
القسم: العقيدة
الكتاب: تمهيد الأوائل في تلخيص الدلائل
المؤلف: محمد بن الطيب بن محمد بن جعفر بن القاسم، القاضي أبو بكر الباقلاني المالكي (ت 403هـ)
المحقق: عماد الدين أحمد حيدر
الناشر: مؤسسة الكتب الثقافية - لبنان
الطبعة: الأولى، 1407هـ - 1987م
عدد الصفحات: 558
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
মৌলিক বিষয়সমূহের ভূমিকা এবং দলিলসমূহের সারসংক্ষেপ (আল-বাকিল্লানি)
বিভাগ: আকিদাহ
গ্রন্থ: মৌলিক বিষয়সমূহের ভূমিকা এবং দলিলসমূহের সারসংক্ষেপ
লেখক: মুহাম্মদ বিন তাইয়িব বিন মুহাম্মদ বিন জাফর বিন আল-কাসিম, বিচারক আবু বকর আল-বাকিল্লানি আল-মালিকি (মৃত্যু: ৪০৩ হিজরি)
সম্পাদক: ইমাদউদ্দীন আহমদ হায়দার
প্রকাশক: মুয়াসসাসাতুল কুতুব আল-সাকাফিয়্যাহ - লেবানন
সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৭ হিজরি - ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৫৮
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে মিল রয়েছে]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
তামহীদুল আওয়াইল ওয়া তালখীসুল দালাইল
(পৃষ্ঠা: ২৩)
بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم الله الْمعِين الْحَمد لله قامع الأباطيل ومدحض الأضاليل وهادي من اختصه برحمته إِلَى سَوَاء السَّبِيل ومضل الناكب عَن النهج الْمُسْتَقيم والحايد عَن واضحات الْحجَج ونيرات الْبَرَاهِينأَحْمَده حمد معترف بِأَنَّهُ لَا شبه لَهُ يُسَاوِيه وَلَا ضد ينازعه ويناويه وَأَنه مَالك الْخلق ومنشئه ومعيده ومبديه ومفقره ومغنيه وراحمه ومبتليه لَا مَالك فَوْقه يزجره وَلَا قاهر ينهاه ويأمره وَإِن الْخلق جَمِيعًا فِي قَبضته ومتقلبون بمشيئته ومتصرفون بَين حُدُوده ومراسمه وَلَا معقب لحكمه وَلَا راد لأَمره وَلَا اعْتِرَاض لمخلوق فِي قَضَائِهِ وَقدرهوأرغب إِلَيْهِ فِي الصَّلَاة على خيرته من خلقه مُحَمَّد خَاتم النبين وَإِمَام الْمُتَّقِينَ كَمَا أوضح السَّبِيل وأنار الدَّلِيل وعَلى إخوانه من الْمُرْسلين وَأهل بَيته الطاهرين وَأَصْحَابه المنتخبين وَمن بعدهمْ من التَّابِعين وأسأله التَّوْفِيق لإصابة مَا بِهِ أمرنَا والاقتداء بالسلف الصَّالح من أمة نَبينَا وصرفنا عَن الْميل إِلَى الحايد عَن ديننَا والطاعن على ملتناأما بعد فقد عرفت إِيثَار سيدنَا الْأَمِير أَطَالَ الله فِي دوَام الْعِزّ بَقَاءَهُ وأدام بالتمسك بالتقوى وَلُزُوم الطَّرِيقَة المثلى نعماءه وَمن بإرشاده وهداه وَجعل لَهُ من وافر عقله وحزمه واعظا وَمن علو همته وسؤدده زاجرا ورقيبا وَمن استكانته لرَبه تَعَالَى والخنوع لطاعته سَامِعًا ومطيعا حَتَّى يلْحقهُ اعْتِقَاد فعل الْخَيْر وإيثاره بِأَهْل النجَاة والسلامة ويبلغه بِمَا يتيحه لَهُ من ذَلِك
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সাহায্যকারী আল্লাহ। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি বাতিলকে চূর্ণকারী, ভ্রষ্টতাকে খণ্ডনকারী, এবং যাকে তিনি আপন রহমতের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন তাকে সঠিক পথের দিশা প্রদানকারী; আর যিনি সরল পথ থেকে বিচ্যুত এবং সুস্পষ্ট দলীল ও উজ্জ্বল প্রমাণাদি থেকে বিমুখ ব্যক্তিকে পথভ্রষ্টকারী।আমি তাঁর এমন প্রশংসা করছি যা এই স্বীকৃতির বহিঃপ্রকাশ যে, তাঁর সমকক্ষ কোনো সাদৃশ্য নেই এবং তাঁর সাথে বিবাদ বা শত্রুতা করার মতো কোনো প্রতিপক্ষ নেই। তিনি সৃষ্টির মালিক, এর উদ্ভাবক, এর পুনরাবর্তনকারী, এর সূচনাকারী, অভাবগ্রস্তকারী, অভাবমুক্তকারী, রহমতদানকারী এবং পরীক্ষাকারী। তাঁর উপরে এমন কোনো মালিক নেই যে তাঁকে ধমক দেবে, কিংবা এমন কোনো পরাক্রমশালী নেই যে তাঁকে নিষেধ করবে বা আদেশ করবে। নিশ্চয়ই সমস্ত সৃষ্টি আল্লাহর হাতের মুঠোয়, তারা তাঁর ইচ্ছায় আবর্তিত হয় এবং তাঁর নির্ধারিত সীমানা ও বিধিনিষেধের মাঝে পরিচালিত হয়। তাঁর হুকুমকে কেউ রদ করার নেই, তাঁর আদেশকে কেউ রুখে দেওয়ার নেই, এবং তাঁর ফয়সালা ও তকদিরে কোনো সৃষ্টির আপত্তি করার সুযোগ নেই।আমি তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি তাঁর সৃষ্টির মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি—নবীগণের মোহর এবং মুত্তাকীদের ইমাম মুহাম্মাদ-এর ওপর রহমত বর্ষণ করেন, যিনি পথকে সুস্পষ্ট করেছেন এবং দলিলকে উজ্জ্বল করেছেন। আরও রহমত বর্ষিত হোক তাঁর ভাই রসূলগণের ওপর, তাঁর পবিত্র আহলে বাইত, তাঁর মনোনীত সাহাবীগণ এবং তাদের পরবর্তী তাবেয়ীদের ওপর। আমি তাঁর কাছে তাওফিক প্রার্থনা করছি যাতে আমরা সেই সঠিক বিষয়গুলো অর্জন করতে পারি যার আদেশ আমাদের দেওয়া হয়েছে, এবং আমাদের নবীর উম্মতের মধ্য থেকে সালাফে সালেহীনদের অনুসরণ করতে পারি; আর তিনি যেন আমাদের দ্বীন থেকে বিচ্যুত এবং আমাদের মিল্লাতের নিন্দাকারীদের দিকে ঝুঁকে পড়া থেকে আমাদের রক্ষা করেন।অতঃপর, আমি আমাদের নেতা আমিরের অগ্রাধিকার প্রদানের বিষয়টি অবগত হয়েছি—আল্লাহ দীর্ঘস্থায়ী সম্মানের সাথে তাঁর হায়াত বৃদ্ধি করুন এবং তাকওয়া অবলম্বন ও সর্বোত্তম পথ আঁকড়ে ধরার মাধ্যমে তাঁর ওপর নেয়ামতসমূহ অব্যাহত রাখুন। আল্লাহ তাঁকে সঠিক দিকনির্দেশনা ও হেদায়েত দান করেছেন এবং তাঁর অগাধ বুদ্ধি ও বিচক্ষণতাকে তাঁর জন্য নসিহতকারী বানিয়েছেন; তাঁর উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও শ্রেষ্ঠত্বকে করেছেন বাধা প্রদানকারী ও প্রহরী; এবং তাঁর রবের প্রতি বিনয় ও আনুগত্যকে করেছেন শ্রবণকারী ও মান্যকারী। এর ফলে সৎকাজ করার বিশ্বাস ও অগ্রাধিকার দেওয়া তাঁকে মুক্তিপ্রাপ্ত ও নিরাপদ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করবে এবং আল্লাহ এর মাধ্যমে তাঁকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষে পৌঁছে দেবেন।
(খণ্ড: ১)
তামহীদুল আওয়াইল ওয়া তালখীসুল দালাইল
(পৃষ্ঠা: ২৪)
ويوفقه لأقصى منَازِل أهل الزلفة والكرامة لعمل كتاب جَامع مُخْتَصر مُشْتَمل على مَا يحْتَاج إِلَيْهِ فِي الْكَشْف عَن معنى الْعلم وأقسامه وطرقه ومراتبه وضروب المعلومات وحقائق الموجودات وَذكر الْأَدِلَّة على حدث الْعَالم وَإِثْبَات محدثه وَأَنه مُخَالف لخلقه وعَلى مَا يجب كَونه عَلَيْهِ من وحدانيته وَكَونه حَيا عَالما قَادِرًا فِي أزله وَمَا جرى مجْرى ذَلِك من صِفَات ذَاته وَأَنه عَادل حَكِيم فِيمَا أنشأه من مخترعاته من غير حَاجَة مِنْهُ إِلَيْهَا وَلَا محرك وداع وخاطر وَعلل دَعَتْهُ إِلَى إيجادها تَعَالَى عَن ذَلِك وَجَوَاز إرْسَاله رسلًا إِلَى خلقه وسفراء بَينه وَبَين عباده وَأَنه قد فعل ذَلِك وَقطع الْعذر فِي إِيجَاب تصديقهم بِمَا أبانهم بِهِ من الْآيَات وَدلّ بِهِ على صدقهم من المعجزات وجمل من الْكَلَام على سَائِر أهل الْملَل الْمُخَالفين لملة الْإِسْلَام من الْيَهُود وَالنَّصَارَى وَالْمَجُوس وَأهل التَّثْنِيَة وَأَصْحَاب الطبائع والمنجمينونعقب ذَلِك بِذكر أَبْوَاب الْخلاف بَين أهل الْحق وَأهل التجسيم والتشبيه وَأهل الْقدر والاعتزال والرافضة والخوارج وَذكر جمل من مَنَاقِب الصَّحَابَة وفضائل الْأَئِمَّة الْأَرْبَعَة وَإِثْبَات إمامتهم وَوجه التَّأْوِيل فِيمَا شجر بَينهم وَوُجُوب مُوَالَاتهمْ وَلنْ آلو جهدا فِيمَا يمِيل إِلَيْهِ سيدنَا الْأَمِير حرس الله مهجته وَأَعْلَى كَعبه من الإختصار وتحرير الْمعَانِي والأدلة والألفاظ وسلوك طَرِيق العون على تَأمل مَا أودعهُ هَذَا الْكتاب وَإِزَالَة الشكوك فِيهِ والارتياب وَأَنا بحول الله وقوته أسارع إِلَى امْتِثَال مَا رسمه وأقف عِنْده وَإِلَى الله جلّ ذكره أَرغب فِي حسن التَّوْفِيق والإمداد بالتأييد والتسديد
এবং তিনি (আল্লাহ) তাঁকে নৈকট্যশীল ও সম্মানিত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ মর্যাদায় পৌঁছানোর তাওফিক দান করুন এমন একটি সংক্ষিপ্ত অথচ পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ রচনার মাধ্যমে, যা ইলম বা জ্ঞানের অর্থ, এর প্রকারভেদ, পদ্ধতি ও স্তরসমূহ, তথ্যের বিভিন্ন প্রকার এবং অস্তিত্বশীল বস্তুসমূহের হাকিকত উন্মোচনে যা কিছু প্রয়োজন তা অন্তর্ভুক্ত করবে। এতে জগত সৃষ্টির নব্যতা, এর স্রষ্টাকে সাব্যস্তকরণ, তিনি যে তাঁর সৃষ্টিজগত থেকে ভিন্ন এবং তাঁর একত্ববাদ, অনাদিকাল থেকে তাঁর চিরঞ্জীব, সর্বজ্ঞ ও সর্বশক্তিমান হওয়া এবং এ জাতীয় তাঁর সত্তাগত গুণাবলি যা হওয়া আবশ্যক তা উল্লেখ করা হবে। আরও উল্লেখ করা হবে যে, তিনি তাঁর উদ্ভাবিত সৃষ্টিসমূহের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচারক ও প্রজ্ঞাময়; এসব সৃষ্টির প্রতি তাঁর কোনো প্রয়োজন নেই এবং কোনো চালিকাশক্তি, আহ্বানকারী, মনের সংকল্প বা কারণ তাঁকে এগুলো সৃষ্টি করতে প্ররোচিত করেনি—তিনি এসব থেকে সুউচ্চ ও পবিত্র। আরও থাকবে তাঁর সৃষ্টির নিকট রাসূল প্রেরণ এবং তাঁর ও তাঁর বান্দাদের মাঝে দূত পাঠানোর বৈধতা; আর তিনি যে প্রকৃতপক্ষে তা করেছেন এবং রাসূলদের সত্যতা নিশ্চিত করার জন্য যেসব নিদর্শন তিনি প্রকাশ করেছেন এবং মুজিজার মাধ্যমে তাঁদের সত্যবাদিতার যে প্রমাণ দিয়েছেন তার মাধ্যমে ওজর-আপত্তির পথ বন্ধ করে দিয়েছেন। এছাড়া ইসলাম ধর্মের বিরোধী অন্যান্য ধর্মাবলম্বী যেমন ইহুদি, খ্রিস্টান, অগ্নিপূজক, দ্বৈতবাদী, প্রকৃতিবাদী এবং জ্যোতিষীদের সম্পর্কে আলোচনার সংক্ষিপ্ত সারও এতে থাকবে।আমরা এর পরপরই সত্যপন্থী এবং শরীরবাদী, সাদৃশ্যবাদী, কদরিয়া, মুতাজিলা, রাফেজি ও খারেজিদের মধ্যকার মতপার্থক্যের অধ্যায়গুলো উল্লেখ করব। সাথে সাথে সাহাবায়ে কেরামের সুমহান মর্যাদা, চার ইমামের ফজিলত, তাঁদের ইমামত সাব্যস্তকরণ, তাঁদের মাঝে সংঘটিত বিবাদসমূহের ব্যাখ্যার ধরণ এবং তাঁদের প্রতি ভালোবাসা ও আনুগত্যের আবশ্যকতা উল্লেখ করব। আমাদের নেতা আমির—আল্লাহ তাঁর প্রাণ রক্ষা করুন এবং তাঁর মর্যাদা সমুন্নত করুন—সংক্ষিপ্তকরণ, অর্থ, দলিল ও শব্দমালার পরিমার্জন এবং এই কিতাবে যা কিছু নিহিত আছে তা নিয়ে গভীর চিন্তায় সহায়ক পদ্ধতি অনুসরণ এবং সংশয় ও সন্দেহ দূরীকরণের যে ইচ্ছা পোষণ করেছেন, তা পালনে আমি কোনো ত্রুটি করব না। আর আমি আল্লাহর শক্তি ও সামর্থ্যের মাধ্যমে তাঁর নির্দেশিত বিষয়গুলো পালনে সচেষ্ট হচ্ছি এবং সে অনুযায়ী অগ্রসর হচ্ছি। আমি সুমহান আল্লাহর নিকট উত্তম তাওফিক এবং সাহায্য ও সঠিক দিকনির্দেশনা প্রার্থনা করছি।
(খণ্ড: ১)
তামহীদুল আওয়াইল ওয়া তালখীসুল দালাইল
(পৃষ্ঠা: ২৫)
بَاب الْكَلَام فِي حَقِيقَة الْعلم وَمَعْنَاهُ فَإِن قَالَ قَائِل مَا حد الْعلم عنْدكُمْ قُلْنَا حَده أَنه معرفَة الْمَعْلُوم على مَا هُوَ بِهِ وَالدَّلِيل على ذَلِك أَن هَذَا الْحَد يحصره على مَعْنَاهُ وَلَا يدْخل فِيهِ مَا لَيْسَ مِنْهُ وَلَا يخرج مِنْهُ شَيْئا هُوَ مِنْهُ وَالْحَد إِذا أحَاط بالمحدود على هَذِه السَّبِيل وَجب أَن يكون حدا ثَابتا صَحِيحا فَكل مَا حد بِهِ الْعلم وَغَيره وَكَانَت حَاله فِي حصر الْمَحْدُود وتمييزه من غَيره وإحاطته بِهِ حَال مَا حددنا بِهِ الْعلم وَجب الِاعْتِرَاف بِصِحَّتِهِ وَقد ثَبت أَن كل علم تعلق بمعلوما فَإِنَّهُ معرفَة لَهُ وكل معرفَة لمعلوم فَإِنَّهَا علم بِهِ فَوَجَبَ تَوْثِيق الْحَد الَّذِي حددنا بِهِ الْعلم وَجَعَلنَا تَفْسِيرا لِمَعْنى وَصفه بِأَنَّهُ علمفَإِن قَالَ قَائِل فَلم رغبتم عَن القَوْل بِأَنَّهُ معرفَة الشَّيْء على مَا هُوَ بِهِ إِلَى القَوْل بِأَنَّهُ معرفَة الْمَعْلُوم على مَا هُوَ بِهِ قيل لما قَامَ من الدَّلِيل على أَن الْمَعْلُوم يكون شَيْئا وَمَا لَيْسَ بِشَيْء وَلِأَن الْمَعْدُوم مَعْلُوم وَلَيْسَ بِشَيْء وَلَا مَوْجُود فَلَو قُلْنَا حَده أَنه معرفَة الشَّيْء على مَا هُوَ بِهِ لخرج الْعلم بِمَا لَيْسَ بِشَيْء من المعلومات المعدومات عَن أَن يكون علما وَذَلِكَ مُفسد لَهُ فَوَجَبَ صِحَة مَا قُلْنَاهُ وَبِاللَّهِ التَّوْفِيق
ইলমের হাকীকত ও এর অর্থ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ যদি কোনো প্রশ্নকারী প্রশ্ন করেন যে, আপনাদের নিকট ইলমের সংজ্ঞা কী? আমরা বলব: ইলমের সংজ্ঞা হলো জ্ঞাত বিষয়কে তা বাস্তবে যেমন আছে তেমনভাবে জানা। এর প্রমাণ হলো, এই সংজ্ঞাটি ইলমকে তার অর্থের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখে এবং যা ইলমের অন্তর্ভুক্ত নয় তাকে এতে প্রবেশ করায় না, আবার যা ইলমের অংশ তাকে তা থেকে বের করে দেয় না। আর সংজ্ঞা যখন সংজ্ঞায়িত বিষয়কে এভাবে পরিবেষ্টন করে, তখন তা একটি সুপ্রতিষ্ঠিত ও সঠিক সংজ্ঞা হওয়া অপরিহার্য। সুতরাং ইলম বা অন্য যেকোনো বিষয়ের যে সংজ্ঞা প্রদান করা হয়, তার অবস্থা যদি সংজ্ঞায়িত বিষয়কে সীমাবদ্ধ করা, একে অন্য থেকে পৃথক করা এবং একে পরিবেষ্টন করার ক্ষেত্রে আমাদের বর্ণিত ইলমের সংজ্ঞার অনুরূপ হয়, তবে তার বিশুদ্ধতা স্বীকার করে নেওয়া আবশ্যক। আর এটি প্রমাণিত যে, প্রতিটি ইলম যা কোনো জ্ঞাত বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়, তা মূলত সেই বিষয়েরই মারিফাত (পরিচয়); এবং জ্ঞাত বিষয় সম্পর্কে প্রতিটি মারিফাতই হলো সেই বিষয়ে ইলম। সুতরাং আমরা ইলমের যে সংজ্ঞা দিয়েছি এবং যা দ্বারা আমরা একে 'ইলম' হিসেবে গুণান্বিত করার অর্থের ব্যাখ্যা দিয়েছি, তার যথার্থতা নিশ্চিত করা আবশ্যক।যদি কোনো প্রশ্নকারী প্রশ্ন করেন যে, কেন আপনারা "বস্তুকে তার প্রকৃত অবস্থায় জানা" বলার পরিবর্তে "জ্ঞাত বিষয়কে তার প্রকৃত অবস্থায় জানা" বলাকে গ্রহণ করলেন? উত্তরে বলা হবে: কারণ এই মর্মে দলিল বিদ্যমান যে, জ্ঞাত বিষয় 'বস্তু' হতে পারে আবার 'বস্তু নয়' এমন কিছুও হতে পারে। কেননা যা অস্তিত্বহীন তা-ও জ্ঞাত বিষয় হতে পারে, অথচ তা কোনো 'বস্তু' নয় এবং বিদ্যমানও নয়। সুতরাং আমরা যদি বলতাম, এর সংজ্ঞা হলো "বস্তুকে তার প্রকৃত অবস্থায় জানা", তবে জ্ঞাত অস্তিত্বহীন বিষয়গুলো—যা কোনো বস্তু নয়—সেগুলো সম্পর্কে জ্ঞান থাকাটা 'ইলম' হওয়া থেকে বহির্ভূত হয়ে যেত। আর এটি সংজ্ঞাকে ত্রুটিপূর্ণ করে দিত। অতএব আমরা যা বলেছি তার সঠিক হওয়া অপরিহার্য। আর আল্লাহর তৌফিকই কাম্য।
(খণ্ড: ১)
তামহীদুল আওয়াইল ওয়া তালখীসুল দালাইল
(পৃষ্ঠা: ২৬)
بَاب الْكَلَام فِي أَقسَام الْعُلُوم فَإِن قَالَ قَائِل فعلى كم وَجه تَنْقَسِم الْعُلُوم قيل لَهُ على وَجْهَيْن فَعلم قديم وَهُوَ علم الله عز وجل وَلَيْسَ بِعلم ضَرُورَة وَلَا اسْتِدْلَال وَعلم مُحدث وَهُوَ كل مَا يعلم بِهِ المخلوقون من الْمَلَائِكَة وَالْجِنّ وَالْإِنْس وَغَيرهم من الْحَيَوَانبَاب فِي أَقسَام الْعلم الْمُحدث فَإِن قَالَ قَائِل فعلى كم وَجه تَنْقَسِم عُلُوم المخلوقين قيل لَهُ على قسمَيْنِ فقسم مِنْهَا علم ضَرُورَة وَالثَّانِي مِنْهَا علم نظر واستدلالوَهَذِه الثَّلَاثَة الْعُلُوم الَّتِي وصفناها غير مُخْتَلفَة فِيمَا لَهُ يكون الشَّيْء علما من كَونهَا معرفَة للمعلوم على مَا هُوَ بِهِ وَقد تقدم القَوْل فِي إِيضَاح ذَلِكبَاب الْعلم الضَّرُورِيّ فَإِن قيل فَمَا معنى وصفكم للضروري مِنْهَا بِأَنَّهُ ضَرُورِيّ على مواضعة الْمُتَكَلِّمين قيل لَهُ معنى ذَلِك أَنه علم يلْزم نفس الْمَخْلُوق لُزُوما لَا يُمكنهُ مَعَه الْخُرُوج عَنهُ وَلَا الانفكاك مِنْهُ وَلَا يتهيأ لَهُ الشَّك فِي مُتَعَلّقه وَلَا الارتياب بِهِ وَحَقِيقَة وَصفه بذلك فِي اللُّغَة أَنه مِمَّا أكره الْعَالم بِهِ على وجوده
জ্ঞানের প্রকারভেদ বিষয়ক পরিচ্ছেদ যদি কোনো প্রশ্নকারী প্রশ্ন করে যে, জ্ঞান কত প্রকারে বিভক্ত? তাকে বলা হবে, তা দুই প্রকার: একটি হলো অনাদি (কাদীম) জ্ঞান, যা মহান আল্লাহর জ্ঞান; এবং তা আবশ্যিক (জরুরি) কিংবা গবেষণালব্ধ (ইস্তিদলালি) জ্ঞান নয়। আর দ্বিতীয়টি হলো সৃষ্ট (মুহদাস) জ্ঞান, যা ফেরেশতা, জিন, মানুষ এবং অন্যান্য প্রাণীকুলসহ সকল সৃষ্টির অর্জিত জ্ঞান।সৃষ্ট জ্ঞানের প্রকারভেদ বিষয়ক পরিচ্ছেদ যদি কোনো প্রশ্নকারী প্রশ্ন করে যে, সৃষ্টির জ্ঞান কত প্রকারে বিভক্ত? তাকে বলা হবে, তা দুই ভাগে বিভক্ত: এর একটি হলো আবশ্যিক (জরুরি) জ্ঞান এবং দ্বিতীয়টি হলো তাত্ত্বিক পর্যবেক্ষণ ও গবেষণালব্ধ (নাজারি ও ইস্তিদলালি) জ্ঞান।আমরা যে তিন প্রকার জ্ঞানের বিবরণ দিয়েছি, কোনো বিষয় সম্পর্কে ‘জ্ঞান’ হওয়ার হাকিকত বা বাস্তবতার ক্ষেত্রে সেগুলোর মাঝে কোনো পার্থক্য নেই। অর্থাৎ জ্ঞাত বিষয়কে তার প্রকৃত অবস্থায় জানার নামই জ্ঞান। এই বিষয়ের বিশদ ব্যাখ্যা ইতিপূর্বেই অতিক্রান্ত হয়েছে।আবশ্যিক (জরুরি) জ্ঞান বিষয়ক পরিচ্ছেদ যদি প্রশ্ন করা হয়, ইলমুল কালাম শাস্ত্রবিদদের পরিভাষা অনুযায়ী ‘জরুরি’ জ্ঞানকে ‘জরুরি’ বা আবশ্যিক হিসেবে অভিহিত করার অর্থ কী? তাকে বলা হবে, এর অর্থ হলো এটি এমন জ্ঞান যা সৃষ্টির সত্তায় এমনভাবে অপরিহার্য হয়ে পড়ে যে, তা থেকে বের হয়ে আসা বা তা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া তার পক্ষে সম্ভব হয় না। এমনকি এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কোনো প্রকার সন্দেহ বা সংশয় পোষণ করার সুযোগও তার থাকে না। অভিধানে এর নামকরণের প্রকৃত রহস্য এই যে, এটি এমন এক জ্ঞান যা জ্ঞাত ব্যক্তিকে তার অস্তিত্ব স্বীকারে বাধ্য করে।
(খণ্ড: ১)
তামহীদুল আওয়াইল ওয়া তালখীসুল দালাইল
(পৃষ্ঠা: ২৭)
لِأَن الِاضْطِرَار فِي اللُّغَة هُوَ الْحمل وَالْإِكْرَاه وَهُوَ الإلجاء وكل هَذِه الْأَلْفَاظ بِمَعْنى وَاحِد فَلَا فرق عِنْدهم بَين قَول الْقَائِل اضطره السُّلْطَان إِلَى تَسْلِيم مَاله وَبيع عقاره وَبَين قَوْله أكرهه على ذَلِك وَحمله عَلَيْهِ وألجأه إِلَيْهِ فَالْوَاجِب بِمَا وصفناه أَن يكون مَا قُلْنَا هُوَ معنى وصف الْعلم وَغَيره بِأَنَّهُ ضَرُورَةوَقد يُوصف الْعلم وَغَيره من الْأَجْنَاس بِأَنَّهُ ضَرُورَة على معنى أَن الْعَالم بِهِ مُحْتَاج إِلَيْهِ لِأَن الضَّرُورَة فِي اللُّغَة تكون بِمَعْنى الْحَاجة يدل على ذَلِك قَوْلهم فلَان مُضْطَر إِلَى تكفف النَّاس وسؤالهم يعنون أَنه مُحْتَاج إِلَى ذَلِك وَمِنْه قَوْله تَعَالَى {فَمن اضْطر غير بَاغ وَلَا عَاد} وَقَوله {إِلَّا مَا اضطررتم إِلَيْهِ} وَهُوَ الَّذِي يُريدهُ الْمُسلمُونَ بقَوْلهمْ إِن الْمُضْطَر إِلَى أكل الْميتَة قد أُبِيح لَهُ أكلهَا يعنون بِهِ الْمُحْتَاج إِلَى ذَلِك فَكل مُحْتَاج إِلَى علم أَو غَيره من الْأَجْنَاس فَهُوَ مُضْطَر إِلَى مَا احْتَاجَ إِلَيْهِبَاب الْعلم النظري فَإِن قيل فَمَا معنى تسميتكم للضرب الآخر مِنْهَا علم نظر واستدلال قيل لَهُ مرادنا بذلك أَنه علم يَقع بعقب اسْتِدْلَال وتفكر فِي حَال المنظور فِيهِ أَو تذكر نظر فِيهِ فَكل مَا احْتَاجَ من الْعُلُوم إِلَى تقدم الْفِكر والروية وَتَأمل حَال الْمَعْلُوم فَهُوَ الْمَوْصُوف بقولنَا علم نَظَرِي
কারণ ভাষাগতভাবে 'আল-ইযতিরার' (অপরিহার্যতা বা বাধ্যবাধকতা) হলো চাপিয়ে দেওয়া, বাধ্য করা এবং নিরুপায় করা। এই সকল শব্দই এক ও অভিন্ন অর্থবোধক। সুতরাং তাদের নিকট কোনো ব্যক্তির এই কথার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই যে, "সুলতান তাকে তার সম্পদ হস্তান্তর করতে এবং স্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করতে বাধ্য করেছেন", এবং তার এই উক্তির মধ্যে যে, "তিনি তাকে সেটির ওপর বাধ্য করেছেন, তা তার ওপর চাপিয়ে দিয়েছেন এবং তাকে সেটির দিকে নিরুপায় করেছেন"। সুতরাং আমরা যা বর্ণনা করেছি, সেই অনুযায়ী এটিই আবশ্যক যে, জ্ঞান এবং অন্য কিছুকে 'যরুরি' (অপরিহার্য) হিসেবে অভিহিত করার অর্থও তা-ই হবে যা আমরা বলেছি।আবার জ্ঞান এবং অন্যান্য প্রকারের বিষয়কেও কখনও 'যরুরত' বা অপরিহার্যতা হিসেবে বর্ণনা করা হয় এই অর্থে যে, যে ব্যক্তি তা জানে সে তার মুখাপেক্ষী। কারণ ভাষাগতভাবে 'যরুরত' শব্দটি 'প্রয়োজন' বা 'মুখাপেক্ষিতা' অর্থেও ব্যবহৃত হয়। তাদের এই উক্তি এর প্রমাণ দেয় যে, "অমুক ব্যক্তি মানুষের কাছে হাত পাততে এবং সাহায্য প্রার্থনা করতে নিরুপায় (মুযতার)", যার দ্বারা তারা বোঝাতে চান যে সে সেটির মুখাপেক্ষী। আল্লাহ তাআলার এই বাণীও অনুরূপ: "তবে যে ব্যক্তি নিরুপায় হয়ে পড়ে, যদি সে অবাধ্য বা সীমালঙ্ঘনকারী না হয়" এবং তাঁর বাণী: "তবে যার প্রতি তোমরা নিরুপায় হয়ে পড়"। এটিই সেই অর্থ যা মুসলিমগণ তাদের এই বক্তব্যের মাধ্যমে উদ্দেশ্য করেন যে, "মৃত প্রাণী ভক্ষণের জন্য যে ব্যক্তি নিরুপায়, তার জন্য তা খাওয়া বৈধ করা হয়েছে"; এর দ্বারা তারা সেটির মুখাপেক্ষী ব্যক্তিকে বুঝিয়ে থাকেন। সুতরাং জ্ঞান বা অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে যে ব্যক্তি যা কিছুর মুখাপেক্ষী হবে, সে তার প্রতি নিরুপায় বা বাধ্য।অধ্যায়: চিন্তাপ্রসূত জ্ঞান যদি প্রশ্ন করা হয় যে, জ্ঞানের অপর প্রকারটিকে আপনাদের চিন্তাপ্রসূত (নজর) এবং প্রমাণনির্ভর (ইসতিদলাল) জ্ঞান নামকরণের অর্থ কী? তবে উত্তরে বলা হবে: আমাদের উদ্দেশ্য হলো এটি এমন এক জ্ঞান যা কোনো বিষয়ের অবস্থা সম্পর্কে প্রমাণ অনুসন্ধান ও চিন্তা-গবেষণার পর অর্জিত হয়, অথবা সে সম্পর্কে পূর্বে করা কোনো চিন্তা স্মরণ করার ফলে অর্জিত হয়। সুতরাং যে সকল জ্ঞানের ক্ষেত্রে চিন্তা-ভাবনা, গভীর মনোযোগ এবং জ্ঞাত বিষয়ের অবস্থা পর্যবেক্ষণের আবশ্যকতা থাকে, তাকেই আমাদের পরিভাষায় 'চিন্তাপ্রসূত জ্ঞান' বলা হয়।
(খণ্ড: ১)
তামহীদুল আওয়াইল ওয়া তালখীসুল দালাইল
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وَقد يَجْعَل مَكَان هَذِه الْأَلْفَاظ لَام نقل الْعلم النظري هُوَ مَا بني على علم الْحس والضرورة أَو على مَا بني الْعلم بِصِحَّتِهِ عَلَيْهِمَا وَمعنى قَوْلنَا فِي هَذَا الْعلم إِنَّه كسبي أَنه مِمَّا وجد بالعالم وَله عَلَيْهِ قدرَة محدثة وَكَذَلِكَ شَيْء شركه فِي ذَلِك أَعنِي الْعلم فِي وجود الْقُدْرَة المحدثة عَلَيْهِ فَهُوَ كسب لمن وجد بِهِبَاب الْكَلَام فِي مدارك الْعُلُوم فَإِن قَالَ قَائِل فَمن كم وَجه يَقع الْعلم بالمعلوم إِذا كَانَ ضَرُورَة قيل لَهُ من سِتَّة طرق فَمِنْهَا الْحَواس الْخمس وَهِي حاسة الْبَصَر وحاسة السّمع وحاسة الذَّوْق وحاسة الشم وحاسة اللَّمْس وقصدنا بِذكر الحاسة هَا هُنَا الْإِدْرَاك الْمَوْجُود بالحواس لَا الْأَجْسَام المؤتلفة على الصُّورَة الَّتِي مَا حصل عَلَيْهَا من الْأَجْسَام سميناه عينا وأنفا وأذنا وفما ويدافَكل علم حصل عِنْد إِدْرَاك حاسة من هَذِه الْحَواس فَهُوَ علم ضَرُورَة يلْزم النَّفس لُزُوما لَا يُمكن مَعَه الشَّك فِي الْمدْرك وَلَا الارتياب بِهِ وكل حاسة من هَذِه الْحَواس تخْتَص فِي وقتنا هَذَا على عَادَة جَارِيَة بِإِدْرَاك جنس أَو أَجنَاس
কখনো কখনো এই শব্দগুলোর পরিবর্তে তাত্ত্বিক জ্ঞানের বর্ণনার জন্য ‘লাম’ অক্ষরটি ব্যবহার করা হয়। তাত্ত্বিক জ্ঞান হলো যা ইন্দ্রিয়জাত জ্ঞান ও আবশ্যিক জ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত, অথবা যা এ দুটির ওপর ভিত্তি করে সঠিক প্রমাণিত জ্ঞানের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এই জ্ঞানকে ‘অর্জিত’ (কাসবি) বলার অর্থ হলো, এটি জ্ঞান অন্বেষণকারীর মাধ্যমে অর্জিত হয় এবং এর ওপর তার একটি সৃষ্ট ক্ষমতা রয়েছে। অনুরূপভাবে, যে কোনো বিষয় যা এক্ষেত্রে এই জ্ঞানের অংশীদার হয়—অর্থাৎ যার অস্তিত্বে সৃষ্ট ক্ষমতার প্রভাব রয়েছে—তা যার মধ্যে অর্জিত হয়, তার জন্য তা ‘অর্জন’ (কাসব) হিসেবে গণ্য হয়।জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমসমূহ সম্পর্কিত আলোচনা যদি কেউ প্রশ্ন করে: আবশ্যিক জ্ঞানের ক্ষেত্রে জ্ঞাত বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান কতটি উপায়ে অর্জিত হয়? তাকে বলা হবে: ছয়টি উপায়ে। তার মধ্যে রয়েছে পঞ্চেন্দ্রিয়: দর্শনেন্দ্রিয়, শ্রবণেন্দ্রিয়, স্বাদ গ্রহণেন্দ্রিয়, ঘ্রাণেন্দ্রিয় এবং স্পর্শেন্দ্রিয়। এখানে ‘ইন্দ্রিয়’ উল্লেখ করার মাধ্যমে আমাদের উদ্দেশ্য হলো ইন্দ্রিয় দ্বারা লব্ধ উপলব্ধি, ওইসব দেহাংশ নয় যা নির্দিষ্ট অবয়বে গঠিত হওয়ার পর আমরা সেগুলোকে চোখ, নাক, কান, মুখ ও হাত বলে অভিহিত করি।সুতরাং এই ইন্দ্রিয়গুলোর কোনোটির উপলব্ধির মাধ্যমে যে জ্ঞানই অর্জিত হয়, তা আবশ্যিক জ্ঞান। এটি মনের ওপর এমনভাবে অপরিহার্য হয়ে পড়ে যে, অনুভূত বিষয়ের ব্যাপারে কোনো প্রকার সন্দেহ বা সংশয়ের অবকাশ থাকে না। আর এই ইন্দ্রিয়গুলোর প্রত্যেকটি আমাদের বর্তমান সময়ে প্রচলিত রীতি অনুযায়ী বিশেষ কোনো শ্রেণি বা বস্তুসমূহ উপলব্ধির জন্য নির্দিষ্ট।
(খণ্ড: ১)
তামহীদুল আওয়াইল ওয়া তালখীসুল দালাইল
(পৃষ্ঠা: ২৯)
فحاسة الرُّؤْيَة تدْرك بهَا الْيَوْم الألوان والأكوان والأجسام وحاسة السّمع يدْرك بهَا الْكَلَام والأصوات وحاسة الشم تدْرك بهَا الأراييح وحاسة الذَّوْق تدْرك بهَا الطعوم وحاسة اللَّمْس وكل عُضْو فِيهِ حَيَاة تدْرك بهَا الْحَرَارَة والبرودة واللين والخشونة والرخاوة والصلابة على قَول من زعم أَن الخشونة والرخاوة واللين والصلابة معَان زَائِدَة تُوجد بالجواهر كالحرارة والبرودةوَالضَّرْب السَّادِس مِنْهَا ضَرُورَة تخترع فِي النَّفس ابْتِدَاء من غير أَن تكون
দর্শনেন্দ্রিয় দ্বারা বর্তমানে রঙ, জগতসমূহ এবং বস্তুসমূহ উপলব্ধি করা যায়; শ্রবণেন্দ্রিয় দ্বারা কথা ও শব্দসমূহ উপলব্ধি করা যায়; ঘ্রাণেন্দ্রিয় দ্বারা সুগন্ধিসমূহ উপলব্ধি করা যায়; স্বাদেন্দ্রিয় দ্বারা স্বাদসমূহ উপলব্ধি করা যায়; এবং স্পর্শেন্দ্রিয় ও প্রতিটি জীবন্ত অঙ্গ দ্বারা উষ্ণতা, শীতলতা, কোমলতা, রুক্ষতা, শিথিলতা ও কাঠিন্য উপলব্ধি করা যায়—তাদের মতানুসারে যারা মনে করেন যে রুক্ষতা, শিথিলতা, কোমলতা ও কাঠিন্য হলো অতিরিক্ত অর্থ বা গুণ যা উষ্ণতা ও শীতলতার ন্যায় মৌলিক সত্তার মধ্যে বিদ্যমান থাকে।এবং এগুলোর ষষ্ঠ প্রকার হলো সেই আবশ্যিক জ্ঞান যা প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো মাধ্যম ছাড়াই সরাসরি মনে উদ্ভাবিত হয়...
(খণ্ড: ১)
তামহীদুল আওয়াইল ওয়া তালখীসুল দালাইল
(পৃষ্ঠা: ৩০)
مَوْجُودَة بِبَعْض هَذِه الْحَواس كعلم الْإِنْسَان بِنَفسِهِ وَمَا يجده فِيهَا من الصِّحَّة والسقم واللذة والألم وَالْغَم والفرح وَالْقُدْرَة وَالْعجز والإرادة وَالْكَرَاهَة والإدراك والعمى وَغير ذَلِك مِمَّا يحدث فِي النَّفس مِمَّا يُدْرِكهُ الْحَيّ إِذا وجد بِهِ وَمِنْه أَيْضا الْعلم الْوَاقِع بِقصد الْمُتَكَلّم إِلَى مَا يقْصد وَمن يَقْصِدهُ بخطابه دون غَيره وَأَنه قَاصد إِلَى اكْتِسَاب مَا يُوجد بِهِ من ضروب مقدوراته من الْكَلَام وَغَيره وَمِنْه أَيْضا الْعلم بِأَن الْأَجْسَام مَتى كَانَت مَوْجُودَة فَلَا بُد من أَن تكون مجتمعة متماسة الأبعاض أَو مفترقة متباينة وَأَن الْخَبَر عَن وجود الشَّيْء وَأَنه على بعض الْأَوْصَاف لَا بُد أَن يكون صدقا أَو كذبا وَأَن الْخَبَرَيْنِ المتضاد مخبرهما لَا يجوز أَن يَكُونَا جَمِيعًا صدقا أَو كذبا وَمَا جرى مجْرى ذَلِك من الْأُمُور المنقسمة فِي الْعقل إِلَى أَمريْن لَا وَاسِطَة بَينهمَاوَمِنْه أَيْضا الْعلم بخجل الخجل ووجل الوجل وَالْعلم بالشجاعة والجبن وَالْبر والعقوق والتحية والاستهزاء وَالْوَاقِع عِنْد مُشَاهدَة الإمارات وَمِنْه أَيْضا الْعلم المخترع فِي النَّفس بِمَا تَوَاتر الْخَبَر عَن كَونه واستفاض عَن وجوده نَحْو الْعلم الْوَاقِع عِنْد إِخْبَار المخبرين عَن الصين وخراسان وَفَارِس وكرمان وَعَن ظُهُور مُوسَى وَعِيسَى وَمُحَمّد صلى الله عليه وسلم وعَلى جَمِيع
এই সকল ইন্দ্রিয়সমূহের কিছুর দ্বারা লব্ধ (জ্ঞান), যেমন মানুষের নিজের সম্পর্কে জ্ঞান এবং তার মধ্যে সে যা অনুভব করে—সুস্থতা ও অসুস্থতা, স্বাদ ও বেদনা, দুঃখ ও আনন্দ, সক্ষমতা ও অক্ষমতা, ইচ্ছা ও অনীহা, উপলব্ধি ও অন্ধত্ব এবং নফসের মধ্যে যা কিছু ঘটে যা একজন জীবিত সত্তা তার অস্তিত্বকালে উপলব্ধি করে। এবং এর অন্তর্ভুক্ত হলো বক্তার অভিপ্রায় সম্পর্কে লব্ধ জ্ঞান—যা সে উদ্দেশ্য করে এবং তার সম্বোধনের মাধ্যমে যাকে সে উদ্দেশ্য করে অন্যকে নয়, এবং সে তার সক্ষমতা অনুযায়ী কথাবার্তা ও অন্যান্য বিষয়ের যা কিছু তার দ্বারা প্রকাশিত হয় তা অর্জনে সচেষ্ট। আরও এর অন্তর্ভুক্ত হলো এই জ্ঞান যে, জড়বস্তু (দেহ) যখন বিদ্যমান থাকে, তখন অবশ্যই সেটির অংশসমূহ হয় পরস্পর মিলিত ও স্পর্শরত অবস্থায় থাকবে, অথবা বিচ্ছিন্ন ও পৃথক অবস্থায় থাকবে। এবং কোনো কিছুর অস্তিত্ব সম্পর্কে সংবাদ এবং তার কোনো গুণের বিবরণ দেওয়া হলে তা অবশ্যই সত্য অথবা মিথ্যা হবে। এবং একই বিষয়ে দুটি পরস্পরবিরোধী সংবাদ একই সাথে সত্য হওয়া বা মিথ্যা হওয়া অসম্ভব। এছাড়া বুদ্ধিগ্রাহ্য এমন সকল বিষয় যা এমন দুটি ভাগে বিভক্ত যেগুলোর মধ্যে তৃতীয় কোনো মাধ্যম বা পথ নেই।এবং এর অন্তর্ভুক্ত হলো লজ্জিত ব্যক্তির লজ্জা ও ভীত ব্যক্তির ভীতি সম্পর্কে জ্ঞান; এবং সাহসিকতা, ভীরুতা, সদাচরণ, অবাধ্যতা, অভিবাদন ও উপহাস সম্পর্কে জ্ঞান—যা বিভিন্ন আলামত বা চিহ্ন প্রত্যক্ষ করার মাধ্যমে অর্জিত হয়। আরও এর অন্তর্ভুক্ত হলো মুতাওয়াতির বা বহুসূত্রে বর্ণিত সংবাদ ও যার অস্তিত্বের সংবাদ সুপ্রসিদ্ধ হওয়ার মাধ্যমে নফসের মধ্যে সৃষ্ট জ্ঞান; যেমন সংবাদদাতাদের দেওয়া চীন, খোরাসান, পারস্য ও কেরমান সম্পর্কে প্রাপ্ত সংবাদ এবং মূসা, ঈসা ও মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও সকলের আবির্ভাব সম্পর্কে অর্জিত জ্ঞান।
(খণ্ড: ১)
তামহীদুল আওয়াইল ওয়া তালখীসুল দালাইল
(পৃষ্ঠা: ৩১)
النَّبِيين وَالْخَبَر عَن الوقائع والفتن والممالك والدول وَغير ذَلِك من الْأُمُور الْحَاصِل الْخَبَر عَنْهَا من قوم قطع الْعذر نقلهم وَوَجَب الْعلم عِنْد خبرهمفَكل هَذِه الْعُلُوم الْوَاقِعَة لنا بالمعلومات الَّتِي وصفناها تُوجد مخترعة فِي النَّفس وجدت هَذِه الْحَواس وَمَا يُوجد بهَا من الإدراكات أَو لم تُوجد سوى الْعلم الْوَاقِع عِنْد الْخَبَر الْمُتَوَاتر وَالْعلم بخجل الخجل ووجل الوجل وَقصد القاصد إِلَى من يَقْصِدهُ وَمَا يَقْصِدهُ بِكَلَامِهِ فَإِنَّهُ وَمَا جرى مجْرَاه فِي وقتنا هَذَا مضمن بِوُجُود الْإِدْرَاك للْخَبَر عَن الْمَعْلُوم بمشاهدة الإمارات الَّتِي عِنْد مشاهدتها يَقع الْعلم بِمَا ذَكرْنَاهُ وَقد يَصح أَن يخترع الله الْعلم بِوُجُود الْمخبر عَنهُ من غير سَماع خبر عَنهُ فِي الزَّمن الَّذِي يَصح فِيهِ خرق الْعَادَات وَإِظْهَار المعجزات وَخُرُوج الْأُمُور عَمَّا هِيَ فِي الْعَادة عَلَيْهِ وتسميتهم الإدراكات الْمَوْجُودَة بالحواس لمسا وذوقا وشما إِنَّمَا جرت عَلَيْهَا على سَبِيل الْمجَاز والاتساع لما بَينه وَبَينهَا من التَّعَلُّق على طريقتهم فِي التَّجَوُّز بإجراء اسْم الشَّيْء على مَا قاربه وناسبه وَتعلق بِهِ ضربا من التَّعَلُّق والإدراك فِي الْحَقِيقَة شَيْء غير اللَّمْس واتصاف سَائِر الْحَواس بالمحسوسات وأماكنها وَغَيره من ضروب الِاتِّصَالبَاب الْكَلَام فِي الِاسْتِدْلَال فَإِن قَالَ قَائِل فعلى كم وَجه يَنْقَسِم الِاسْتِدْلَال قيل لَهُ على وُجُوه يكثر تعدادها فَمِنْهَا أَن يَنْقَسِم الشَّيْء فِي الْعقل على قسمَيْنِ أَو أَقسَام يَسْتَحِيل أَن تَجْتَمِع
নবীগণের সংবাদ এবং ঘটনাবলি, ফিতনা-বিপর্যয়, রাজ্য ও রাষ্ট্রসমূহ এবং অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে খবর, যা এমন এক জনগোষ্ঠীর মাধ্যমে প্রাপ্ত যাদের বর্ণনা ওজুহাত খণ্ডন করে দেয় এবং যাদের খবরের মাধ্যমে জ্ঞান লাভ করা আবশ্যক হয়ে পড়ে।আমরা যে তথ্যগুলো বর্ণনা করেছি তার মাধ্যমে আমাদের কাছে অর্জিত এই সমস্ত জ্ঞান অন্তরে সৃজিত অবস্থায় পাওয়া যায়; এই ইন্দ্রিয়গুলো এবং সেগুলোর মাধ্যমে অর্জিত সংবেদনসমূহ বিদ্যমান থাকুক বা না থাকুক। তবে মুতাওয়াতির সংবাদের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান, এবং লজ্জিত ব্যক্তির লজ্জা, ভীত ব্যক্তির ভয় এবং কোনো উদ্দেশ্যকারীর উদ্দেশ্য—সে কার প্রতি উদ্দেশ্য করছে এবং তার কথার মাধ্যমে কী উদ্দেশ্য করছে—সেই সংক্রান্ত জ্ঞানের বিষয়টি ভিন্ন। কারণ এটি এবং আমাদের বর্তমান সময়ে এর সমপর্যায়ের বিষয়গুলো, পরিচিত বিষয় সম্পর্কে সংবাদ লাভের সংবেদনের অস্তিত্বের সাথে সংশ্লিষ্ট; যা এমন কিছু নিদর্শন পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ঘটে যা দেখলে আমাদের উল্লিখিত বিষয়ে জ্ঞান অর্জিত হয়। আর এটিও সঠিক হতে পারে যে, আল্লাহ সেই সময়কালে কোনো সংবাদ শোনা ছাড়াই সংবাদকৃত বিষয়টির অস্তিত্ব সম্পর্কে জ্ঞান সৃষ্টি করে দিতে পারেন, যে সময়ে অলৌকিক ঘটনা সংঘটিত হওয়া, মোজেজা প্রকাশ পাওয়া এবং বিষয়াবলি স্বাভাবিক নিয়মের বাইরে চলে যাওয়া সম্ভব। আর ইন্দ্রিয়লব্ধ সংবেদনসমূহকে স্পর্শ, আস্বাদন ও ঘ্রাণ হিসেবে তাদের নামকরণ মূলত রূপক এবং সম্প্রসারিত অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে; কারণ এগুলোর মাঝে এক প্রকার সম্পর্ক বিদ্যমান। এটি তাদের রূপক অলংকারের সেই পদ্ধতি অনুযায়ী যেখানে কোনো বস্তুর নাম তার নিকটবর্তী, সামঞ্জস্যপূর্ণ বা কোনোভাবে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ওপর প্রয়োগ করা হয়। আর উপলব্ধি বা সংবেদন প্রকৃতপক্ষে স্পর্শ এবং অন্যান্য ইন্দ্রিয়কে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়সমূহ, সেগুলোর স্থান ও অন্যান্য প্রকারের সংযোগের সাথে বিশেষিত করা থেকে ভিন্নতর একটি বিষয়।অনুচ্ছেদ: দলীল ভিত্তিক যুক্তিপ্রদান বিষয়ক আলোচনা যদি কোনো প্রশ্নকারী জিজ্ঞাসা করেন যে, দলীল ভিত্তিক যুক্তিপ্রদান কত প্রকারে বিভক্ত? তবে তাকে বলা হবে, এটি অনেক প্রকারে বিভক্ত যার সংখ্যা প্রচুর। তার মধ্যে একটি হলো—বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে কোনো বিষয়কে দুই বা ততোধিক ভাগে বিভক্ত করা, যা একত্রে মিলিত হওয়া অসম্ভব।
(খণ্ড: ১)
তামহীদুল আওয়াইল ওয়া তালখীসুল দালাইল
(পৃষ্ঠা: ৩২)
كلهَا فِي الصِّحَّة وَالْفساد فَيبْطل الدَّلِيل أحد الْقسمَيْنِ فَيَقْضِي الْعقل على صِحَة ضِدّه وَكَذَلِكَ إِن أفسد الدَّلِيل سَائِر الْأَقْسَام صحّح الْعقل الْبَاقِي مِنْهَا لَا محَالة نَظِير ذَلِك علمنَا باستحالة خُرُوج الشَّيْء عَن الْقدَم وَالْحَدَث فَمَتَى قَامَ الدَّلِيل على حَدثهُ بَطل قدمه وَلَو قَامَ على قدمه لأفسد حَدثهُوَمِنْهَا أَن يجب الحكم وَالْوَصْف للشَّيْء فِي الشَّاهِد لعِلَّة مَا فَيجب الْقَضَاء على أَن من وصف بِتِلْكَ الصّفة فِي الْغَائِب فَحكمه فِي أَنه مُسْتَحقّ لَهَا لتِلْك الْعلَّة حكم مستحقها فِي الشَّاهِد لِأَنَّهُ يَسْتَحِيل قيام دَلِيل على مُسْتَحقّ الْوَصْف بِتِلْكَ الصّفة مَعَ عدم مَا يُوجِبهَا وَذَلِكَ كعلمنا أَن الْجِسْم إِنَّمَا كَانَ جسما لتأليفه وَأَن الْعَالم إِنَّمَا كَانَ عَالما لوُجُود علمه فَوَجَبَ الْقَضَاء بِإِثْبَات علم كل من وصف بِأَنَّهُ عَالم وتأليف كل من وصف بِأَنَّهُ جسم أَو مُجْتَمع لِأَن الحكم الْعقلِيّ الْمُسْتَحق لعِلَّة لَا يجوز أَن يسْتَحق مَعَ عدمهَا وَلَا لوُجُود شَيْء يُخَالِفهَا لِأَن ذَلِك يُخرجهَا عَن أَن تكون عِلّة للْحكموَمن ذَلِك أَن يسْتَدلّ بِصِحَّة الشَّيْء على صِحَة مثله وَمَا هُوَ فِي مَعْنَاهُ وباستحالته على اسْتِحَالَة مثله وَمَا كَانَ بِمَعْنَاهُ كاستدلالنا على إِثْبَات قدرَة الْقَدِيم سُبْحَانَهُ على خلق جَوْهَر ولون مثل الَّذِي خلقه وإحياء ميت مثل الَّذِي أَحْيَاهُ وَخلق الْحَيَاة فِيهِ مرّة أُخْرَى بعد أَن أَمَاتَهُ وعَلى اسْتِحَالَة خلق شَيْء من جنس السوَاد والحركات لَا فِي مَكَان فِي الْمَاضِي كَمَا اسْتَحَالَ ذَلِك فِي جنسهما الْمَوْجُود فِي وقتنا هَذَاوَقد يسْتَدلّ بتوقيف أهل اللُّغَة لنا على أَنه لَا نَار إِلَّا حارة ملتهبة وَلَا إِنْسَان إِلَّا مَا كَانَت لَهُ هَذِه البنية على أَن كل من خبرنَا من الصَّادِقين بِأَنَّهُ رأى
বিষয়গুলোর সঠিকতা ও অসারতার ক্ষেত্রে প্রমাণ যখন দুটি ভাগের একটিকে বাতিল করে দেয়, তখন বিবেক তার বিপরীতটির সঠিকতা সাব্যস্ত করে। তেমনিভাবে, যদি প্রমাণ অন্য সকল ভাগকে বাতিল করে দেয়, তবে বিবেক অবশ্যই অবশিষ্টটিকে সঠিক বলে গণ্য করে। এর দৃষ্টান্ত হলো আমাদের এই জ্ঞান যে, কোনো জিনিসের অনাদিত্ব (কাদিম হওয়া) এবং নতুনত্ব (হাদিস হওয়া)-এর বাইরে থাকা অসম্ভব। সুতরাং যখন কোনো বিষয়ের নতুনত্বের ওপর প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন তার অনাদিত্ব বাতিল হয়ে যায়, আর যদি তার অনাদিত্বের ওপর প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হতো, তবে তা তার নতুনত্বকে বাতিল করে দিত।তার মধ্যে একটি হলো, দৃশ্যমান জগতে (শাহেদ) কোনো একটি কারণে কোনো জিনিসের জন্য কোনো বিধান বা বৈশিষ্ট্য আবশ্যক হওয়া। এমতাবস্থায় অদৃশ্যের (গায়েব) ক্ষেত্রেও যিনি সেই গুণে গুণান্বিত, সেই একই কারণে তিনি সেই গুণের অধিকারী হবেন বলে বিচার করা আবশ্যক, যেমনটি দৃশ্যমান জগতে তার অধিকারীর ক্ষেত্রে বিধান হয়ে থাকে। কেননা যে কারণটি কোনো গুণকে আবশ্যক করে, সেই কারণের অনুপস্থিতিতে ওই গুণে গুণান্বিত হওয়ার ওপর কোনো প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হওয়া অসম্ভব। যেমন আমাদের এই জ্ঞান যে, কোনো বস্তু কেবল তার সংগঠনের কারণেই দেহ (জিসম) হিসেবে গণ্য হয় এবং জ্ঞানী ব্যক্তি কেবল তার জ্ঞানের অস্তিত্বের কারণেই জ্ঞানী হয়। সুতরাং যাকে জ্ঞানী হিসেবে বর্ণনা করা হয় তার জ্ঞান সাব্যস্ত করা এবং যাকে দেহ বা সমন্বিত বস্তু হিসেবে বর্ণনা করা হয় তার গঠন সাব্যস্ত করা আবশ্যক। কারণ কোনো কারণের প্রেক্ষিতে সাব্যস্ত হওয়া বুদ্ধিবৃত্তিক বিধান সেই কারণের অনুপস্থিতিতে সাব্যস্ত হওয়া বৈধ নয়, কিংবা এমন কিছুর উপস্থিতিতেও নয় যা তার পরিপন্থী; কারণ তা একে বিধানের কারণ হওয়া থেকে বিচ্যুত করবে।এর অন্তর্ভুক্ত আরও হলো, কোনো বিষয়ের সঠিকতা থেকে তার সদৃশ বা সমার্থবোধক বিষয়ের সঠিকতার ওপর দলিল পেশ করা, এবং কোনো বিষয়ের অসম্ভবতা থেকে তার সদৃশ বা সমার্থবোধক বিষয়ের অসম্ভবতার ওপর দলিল পেশ করা। যেমন মহান অনাদি আল্লাহর কুদরতের ওপর আমাদের দলিল পেশ করা যে, তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার অনুরূপ মৌলিক সত্তা (জওহর) ও রং সৃষ্টি করতে সক্ষম, এবং তিনি যাকে জীবিত করেছেন তার অনুরূপ মৃতকে জীবিত করতে এবং তাকে মৃত্যু প্রদানের পর পুনরায় তার মধ্যে জীবন সৃষ্টি করতে সক্ষম। তদ্রূপ কালো রং এবং গতির মতো কোনো কিছুকে অতীতে কোনো স্থান ছাড়াই সৃষ্টি করা অসম্ভব হওয়ার ওপর দলিল পেশ করা, যেমনটি বর্তমানে এ জাতীয় জিনিসের ক্ষেত্রে অসম্ভব।আবার কখনও ভাষাবিদদের নির্দেশনার মাধ্যমে দলিল পেশ করা হয় যে, উত্তপ্ত ও প্রজ্জ্বলিত হওয়া ছাড়া কোনো আগুন নেই এবং এই শারীরিক গঠন থাকা ছাড়া কোনো মানুষ নেই। এই ভিত্তিতে যে, সত্যবাদীদের মধ্যে যারা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে তারা দেখেছেন...
(খণ্ড: ১)
তামহীদুল আওয়াইল ওয়া তালখীসুল দালাইল
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
نَارا أَو إنْسَانا وَهُوَ من أهل لغتنا يقْصد إِلَى إفهامنا أَنه مَا شَاهد إِلَّا مثل مَا سمي بحضرتنا نَارا أَو إنْسَانا لَا نحمل بعض ذَلِك على بعض لَكِن بِمُوجب الِاسْم وموضوع اللُّغَة وَوُجُوب اسْتِعْمَال الْكَلَام على مَا استعملوه وَوَضعه حَيْثُ وضعوهوَقد يسْتَدلّ بالمعجزة على صدق من ظَهرت على يَده لِأَنَّهَا تجْرِي مجْرى الشَّهَادَة لَهُ ويستدل على صدق الْمخبر الَّذِي أخبر عَنهُ النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَنه لَا يكذب وَكَذَلِكَ يسْتَدلّ بِخَبَر من خبر عَن صدقه صَاحب المعجزة على صدق من أخبر عَنهُ أَنه لَا يكذبوَقد يسْتَدلّ أَيْضا على بعض القضايا الْعَقْلِيَّة وعَلى الْأَحْكَام الشَّرْعِيَّة بِالْكتاب وَالسّنة وَإِجْمَاع الْأمة وَالْقِيَاس الشَّرْعِيّ المنتزع من الْأُصُول الْمَنْطُوق بهَا وَمَا جرى مجْرى الْقيَاس على الْعلَّة من ضرب الِاجْتِهَاد الَّذِي يسوغ الحكم بِمثلِهِ من الشَّرْع على مَذْهَب القايسين فَكل هَذِه الْأَدِلَّة السمعية جَارِيَة فِي الْكَشْف عَن صِحَة الْقيَاس مجْرى مَا قدمنَا ذكره من الْأَحْكَام الْعَقْلِيَّة وَإِن كَانَ فرعا لأدلة الْعُقُول وقضاياها وَفِيمَا أومأنا إِلَيْهِ من وُجُوه الِاسْتِدْلَال كِفَايَة وتنبيه على مَا أضربنا عَن ذكرهبَاب آخر فِي معنى الدَّلِيل وَالِاسْتِدْلَال فَإِن قَالَ قَائِل فَمَا معنى الدَّلِيل عنْدكُمْ قيل لَهُ هُوَ المرشد إِلَى معرفَة الْغَائِب عَن الْحَواس وَمَا لَا يعرف باضطرار وَهُوَ الَّذِي ينصب من
আগুন অথবা মানুষ, এবং তিনি যদি আমাদের ভাষাভাষী লোক হন তবে তিনি আমাদের এটিই বুঝাতে চান যে, তিনি যা প্রত্যক্ষ করেছেন তা আমাদের নিকট 'আগুন' বা 'মানুষ' হিসেবে নাম দেওয়া বিষয়ের অনুরূপই। আমরা এর একটিকে অন্যটির ওপর আরোপ করি না, বরং শব্দের দাবি, ভাষার বিষয়বস্তু এবং মানুষ যেভাবে কথা ব্যবহার করে এবং যে স্থানে তা প্রয়োগ করে, সে অনুযায়ী শব্দ ব্যবহার করা আবশ্যক।মুজিযা বা অলৌকিক নিদর্শনের মাধ্যমে সেই ব্যক্তির সত্যতার দলিল পেশ করা হয় যার হাতে তা প্রকাশ পেয়েছে, কারণ এটি তার সপক্ষে সাক্ষ্য প্রদানের স্থলাভিষিক্ত। তেমনিভাবে সেই সংবাদদাতার সত্যতার ওপর দলিল পেশ করা হয় যার সম্পর্কে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি মিথ্যা বলেন না। অনুরূপভাবে মুজিযার অধিকারী ব্যক্তি যার সত্যতার সংবাদ দিয়েছেন, তার সংবাদের মাধ্যমে এমন ব্যক্তির সত্যতার দলিল গ্রহণ করা হয় যার সম্পর্কে বলা হয়েছে যে তিনি মিথ্যা বলেন না।কখনো কখনো কিতাব, সুন্নাহ, উম্মতের ইজমা এবং সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত মূলনীতি থেকে উৎসারিত শরয়ি কিয়াসের মাধ্যমে বিভিন্ন বুদ্ধিবৃত্তিক সিদ্ধান্ত ও শরয়ি বিধানের ওপর দলিল পেশ করা হয়। এছাড়া কারণের ওপর ভিত্তি করে কিয়াসের সমপর্যায়ভুক্ত এমন ইজতিহাদের মাধ্যমেও দলিল দেওয়া হয় যার মাধ্যমে কিয়াসপন্থীদের মাজহাব অনুযায়ী শরয়ি বিধান প্রদান বৈধ। সুতরাং এই সকল শ্রুতিগত দলিলসমূহ কিয়াসের বিশুদ্ধতা উন্মোচনের ক্ষেত্রে ইতিপূর্বে বর্ণিত বুদ্ধিবৃত্তিক বিধানসমূহের মতোই কার্যকর, যদিও তা বুদ্ধিবৃত্তিক দলিল ও সিদ্ধান্তসমূহের একটি শাখা। দলীল গ্রহণের যে দিকগুলোর প্রতি আমরা ইঙ্গিত করেছি তা যথেষ্ট এবং যা আমরা উল্লেখ করা থেকে বিরত থেকেছি সে বিষয়ে সতর্ককারী।দলিল ও ইস্তিদলালের (দলিল প্রয়োগ) অর্থ সংক্রান্ত অন্য একটি পরিচ্ছেদ যদি কোনো প্রশ্নকারী প্রশ্ন করেন: আপনাদের নিকট দলিলের অর্থ কী? তাকে বলা হবে: দলিল হলো এমন পথপ্রদর্শক যা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য নয় এমন বিষয় এবং যা অকাট্যভাবে জানা যায় না এমন বিষয় সম্পর্কে জ্ঞানের দিকে ধাবিত করে। এটি এমন যা স্থাপন করা হয়...
(খণ্ড: ১)
তামহীদুল আওয়াইল ওয়া তালখীসুল দালাইল
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
الأمارات ويورد من الْإِيمَاء والإشارات مِمَّا يُمكن التَّوَصُّل بِهِ إِلَى معرفَة مَا غَابَ عَن الضَّرُورَة والحس وَمِنْه سمي دَلِيل الْقَوْم دَلِيلا وَصمت الْعَرَب أثر اللُّصُوص دَلِيلا عَلَيْهِم لما أمكن معرفَة مكانهم من جِهَته وَمِنْه وسمت الأميال والعلامات المنصوبة والنجوم الهادية أَدِلَّة لما أمكن أَن يتعرف بهَا مَا يلْتَمس علمهوَإِنَّمَا سمي ناصب الْآيَات والأمارات الَّتِي يُمكن التَّوَصُّل بهَا إِلَى معرفَة الْمَعْلُوم دَلِيلا مجَازًا واتساعا لما بَينه وَبَين الدَّلِيل الَّذِي هُوَ الأمارات والتأثيرات من التَّعَلُّق وَإِنَّمَا الدَّلِيل فِي الْحَقِيقَة هُوَ مَا قدمنَا ذكره من الْأَسْبَاب المتوصل بهَا إِلَى معرفَة الْغَائِب عَن الضَّرُورَة والحواس من الأمارات والعلامات وَالْأَحْوَال الَّتِي يُمكن بهَا معرفَة المستنبطات وَهَذَا الدَّلِيل وَصفنَا حَاله هُوَ الدّلَالَة وَهُوَ الْمُسْتَدلّ بِهِ وَهُوَ الْحجَّةوَأما الِاسْتِدْلَال وَالنَّظَر فَهُوَ تَقْسِيم الْمُسْتَدلّ وفكره فِي الْمُسْتَدلّ عَلَيْهِ وتأمله لَهُ وَقد يُسمى ذَلِك أَيْضا دَلِيلا وَدلَالَة مجَازًا واتساعا لما بَينهمَا من التَّعَلُّق وَقد تسمى الْعبارَة المسموعة الَّتِي تنبىء عَن اسْتِدْلَال الْقلب وَنَظره وتأمله نظرا واستدلالا مجَازًا واتساعا لدلالتها عَلَيْهِ وَقد ذكرنَا صُورَة الِاسْتِدْلَال بِتَغَيُّر الْأَجْسَام على إِثْبَات صانعها وتقصينا طرفا من الْكَلَام فِي الْأَبْوَاب الَّتِي قدمنَا ذكرهَا فِي كتاب كَيْفيَّة الاستشهاد فِي الرَّد على أهل الْجحْد والعناد بِمَا نستغني بِهِ عَن التردادبَاب الْكَلَام فِي أَقسَام المعلومات جَمِيع المعلومات على ضَرْبَيْنِ مَعْدُوم وموجود فالموجود هُوَ الشَّيْء الثَّابِت الْكَائِن لِأَن معنى الشَّيْء عندنَا أَنه مَوْجُود يدل على ذَلِك قَول أهل
নিদর্শনসমূহ এবং ইশারা ও ইঙ্গিতসমূহ পেশ করা হয় যার মাধ্যমে এমন বিষয় জানা সম্ভব হয় যা স্বতঃসিদ্ধ জ্ঞান ও ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য অনুভূতির আড়ালে থাকে। আর এ কারণেই কাফেলার পথপ্রদর্শককে ‘প্রমাণ’ বা পথপ্রদর্শক বলা হয়। আর আরবরা চোরদের পদাঙ্ককেও তাদের জন্য প্রমাণ হিসেবে গণ্য করেছে, কারণ এর মাধ্যমেই তাদের অবস্থান জানা সম্ভব হয়। আর এ থেকেই মাইলফলক, স্থাপিত চিহ্নসমূহ এবং পথপ্রদর্শক নক্ষত্রসমূহকে ‘প্রমাণসমূহ’ হিসেবে নামকরণ করা হয়েছে, কারণ এগুলোর মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব হয়।আর যিনি নিদর্শন ও চিহ্নসমূহ স্থাপন করেছেন—যার মাধ্যমে জ্ঞাতব্য বিষয় সম্পর্কে জানা যায়—তাঁকে রূপকভাবে এবং ব্যাপক অর্থে ‘প্রমাণ’ বলা হয়; কারণ তাঁর এবং প্রকৃত প্রমাণ (যা নিদর্শন ও প্রভাবসমূহ) এর মধ্যে গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান। মূলত প্রকৃতপক্ষে ‘প্রমাণ’ হলো সেই সমস্ত মাধ্যম যা আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি, যার দ্বারা স্বতঃসিদ্ধ জ্ঞান ও ইন্দ্রিয় অনুভূতির অগোচরে থাকা বিষয়গুলো জানা যায়—যেমন নিদর্শনসমূহ, চিহ্নসমূহ এবং এমন অবস্থাসমূহ যার মাধ্যমে গবেষণালব্ধ বিষয়গুলো জানা সম্ভব। আর আমরা যে দলীলের বর্ণনা দিলাম তা-ই হলো নির্দেশনা, তা-ই প্রমাণের মাধ্যম এবং তা-ই হলো দলিল বা প্রমাণ।আর প্রমাণ অনুসন্ধান ও তাত্ত্বিক চিন্তা হলো প্রমাণ অনুসন্ধানকারীর বিভাজন প্রক্রিয়া এবং প্রমাণিতব্য বিষয়ের ওপর তার চিন্তা ও গভীর অভিনিবেশ। একেও রূপকভাবে এবং ব্যাপক অর্থে প্রমাণ ও নির্দেশনা বলা হয়ে থাকে, কারণ তাদের উভয়ের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক রয়েছে। আবার যে শ্রবণযোগ্য বাক্য হৃদয়ের প্রমাণ অনুসন্ধান, তাত্ত্বিক চিন্তা ও গভীর অনুধ্যান সম্পর্কে সংবাদ দেয়, তাকেও রূপকভাবে এবং ব্যাপক অর্থে তাত্ত্বিক চিন্তা ও প্রমাণ অনুসন্ধান বলা হয়, কারণ এটি সেই চিন্তার প্রতি দিকনির্দেশনা দেয়। আর আমরা বস্তুজগতের পরিবর্তনের মাধ্যমে এর স্রষ্টার অস্তিত্ব প্রমাণের পদ্ধতি বর্ণনা করেছি। আমরা অস্বীকারকারী ও হঠকারীদের খণ্ডন বিষয়ক ‘প্রমাণ উপস্থাপন পদ্ধতি’ নামক গ্রন্থে ইতিপূর্বে উল্লিখিত বিষয়গুলোতে বিস্তারিত আলোচনা করেছি, যা এখানে পুনরায় আলোচনা করার প্রয়োজন নেই।জ্ঞাত বিষয়সমূহের প্রকারভেদ সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ সমস্ত জ্ঞাত বিষয় দুই প্রকার: অবিদ্যমান এবং বিদ্যমান। বিদ্যমান হলো সেই বস্তু যা সাব্যস্ত ও অস্তিত্বশীল; কারণ আমাদের নিকট ‘বস্তু’ শব্দের অর্থ হলো বিদ্যমান। এ বিষয়ে বিজ্ঞজনদের উক্তি প্রমাণ করে যে...
(খণ্ড: ১)
তামহীদুল আওয়াইল ওয়া তালখীসুল দালাইল
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
اللُّغَة شَيْء إِثْبَات وَقَوْلهمْ لَيْسَ بِشَيْء نفي يبين ذَلِك أَن الْقَائِل يَقُول مَا أخذت من زيد شَيْئا وَلَا سَمِعت مِنْهُ شَيْئا وَلَا رَأَيْت شَيْئا نفي للمذكور وَقَوْلهمْ أخذت شَيْئا وَسمعت شَيْئا وَرَأَيْت شَيْئا إِثْبَات للمذكور وَرُجُوع إِلَى كَائِن مَوْجُود فَوَجَبَ أَن يكون كل مَوْجُود شَيْئا وكل شَيْء مَوْجُوداوالمعدوم مُنْتَفٍ لَيْسَ بِشَيْء فَمِنْهُ مَعْلُوم مَعْدُوم لم يُوجد قطّ يَصح أَن يُوجد وَهُوَ الْمحَال الْمُمْتَنع الَّذِي لَيْسَ بِشَيْء وَهُوَ القَوْل المتناقض نَحْو اجْتِمَاع الضدين وَكَون الْجِسْم فِي مكانين وَمَا جرى مجْرى ذَلِك مِمَّا لم يُوجد قطّ وَلَا يُوجد أبدا وَمِنْه مَعْدُوم لم يُوجد قطّ وَلَا يُوجد أبدا وَهُوَ مِمَّا يَصح وَيُمكن أَن يُوجد نَحْو مَا علم الله أَنه لَا يكون من مقدوراته وَأخْبر أَنه لَا يكون من نَحْو رده أهل الْمعَاد إِلَى الدُّنْيَا وَخلق مثل الْعَالم وأمثال ذَلِك مِمَّا علم وَأخْبر أَنه لَا يَفْعَله وَإِن كَانَ مِمَّا يَصح فعله لَهُ وَمَعْلُوم مَعْدُوم فِي وقتنا هَذَا وسيوجد فِيمَا بعد نَحْو الْحَشْر والنشر وَالْجَزَاء وَالثَّوَاب وَالْعِقَاب وَقيام السَّاعَة وأمثال ذَلِك مِمَّا أخبر تَعَالَى أَنه سيفعله وَعلم أَنه سيوجد وَمَعْلُوم آخر هُوَ مَعْدُوم فِي وقتنا هَذَا وَقد كَانَ مَوْجُودا قبل ذَلِك نَحْو مَا كَانَ وتقضى من أحوالنا وتصرفنا من كلامنا وقيامنا وقعودنا الَّذِي كَانَ فِي أمس يَوْمنَا وتقضى وَمضى وَمَعْلُوم آخر مَعْدُوم
ভাষাগতভাবে ‘বস্তু’ (শাই) শব্দটি কোনো কিছু ইতিবাচকভাবে সাব্যস্তকরণকে বোঝায়, আর তাদের উক্তি ‘এটি কিছুই নয়’ হলো নেতিবাচক অস্বীকার। এটি এ বিষয়টিকে স্পষ্ট করে যে, কোনো বক্তা যখন বলে: “আমি জায়েদ থেকে কিছুই গ্রহণ করিনি”, “তার থেকে কিছুই শুনিনি” এবং “কিছুই দেখিনি”, তখন এটি উল্লিখিত বিষয়গুলোর একটি নেতিবাচক অস্বীকার। আর তাদের উক্তি “আমি কিছু গ্রহণ করেছি”, “কিছু শুনেছি” এবং “কিছু দেখেছি”—এটি উল্লিখিত বিষয়গুলোর একটি ইতিবাচক সাব্যস্তকরণ এবং তা একটি বিদ্যমান অস্তিত্বশীল সত্তার দিকে প্রত্যাবর্তন। সুতরাং এটি আবশ্যক যে, প্রত্যেক বিদ্যমান বিষয়ই একটি ‘বস্তু’ এবং প্রত্যেক ‘বস্তু’ই বিদ্যমান।আর যা অস্তিত্বহীন (মাদূম), তা অপসারিত ও প্রত্যাখ্যাত; তা কোনো ‘বস্তু’ নয়। এর মধ্যে এমন কিছু জ্ঞাত অস্তিত্বহীন বিষয় রয়েছে যা কখনো বিদ্যমান ছিল না এবং যা অস্তিত্ব লাভ করা অসম্ভব ও নিষিদ্ধ, যা মূলত কোনো ‘বস্তু’ নয়। আর তা হলো স্ববিরোধী উক্তি; যেমন—দুই বিপরীত বিষয়ের একত্র হওয়া, কোনো দেহের একই সাথে দুই স্থানে অবস্থান করা এবং এ জাতীয় বিষয়াবলি যা কখনো বিদ্যমান ছিল না এবং কখনো হবেও না। আবার এর মধ্যে এমন কিছু অস্তিত্বহীন বিষয় রয়েছে যা কখনো বিদ্যমান ছিল না এবং কখনো হবেও না, তবে তা অস্তিত্ব লাভ করা সম্ভব ও সংগত। যেমন—আল্লাহ তাআলা তাঁর সক্ষমতাধীন (মাকদুরাত) এমন বিষয় সম্পর্কে যা জানেন যে তা ঘটবে না এবং তিনি তা না হওয়ার সংবাদ দিয়েছেন। যেমন—পরকালের অধিবাসীদের দুনিয়ায় পুনরায় ফিরিয়ে আনা, এই জগতের মতো আরেকটি জগত সৃষ্টি করা এবং এ জাতীয় বিষয়াবলি যা তিনি জানেন এবং সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি তা করবেন না, যদিও তা সম্পাদন করা তাঁর জন্য সম্ভবপর। আবার এমন কিছু জ্ঞাত অস্তিত্বহীন বিষয় রয়েছে যা আমাদের বর্তমান সময়ে অস্তিত্বহীন, কিন্তু ভবিষ্যতে তা অস্তিত্ব লাভ করবে। যেমন—হাশর, নশর, প্রতিদান, সওয়াব, শাস্তি, কিয়ামত সংঘটিত হওয়া এবং এ জাতীয় বিষয়াবলি, যে সম্পর্কে মহান আল্লাহ সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি অচিরেই তা করবেন এবং তিনি জানেন যে তা অস্তিত্বশীল হবে। এছাড়া আরেকটি জ্ঞাত বিষয় রয়েছে যা বর্তমানে অস্তিত্বহীন, অথচ ইতিপূর্বে তা অস্তিত্বশীল ছিল। যেমন—আমাদের অবস্থা ও কর্মের মধ্যকার যা কিছু অতিক্রান্ত ও শেষ হয়ে গেছে; যেমন আমাদের কথা বলা, দাঁড়ানো ও বসার মতো বিষয়সমূহ যা আমাদের গত হওয়া দিনে ছিল এবং তা শেষ হয়ে অতিবাহিত হয়ে গেছে। এবং অন্য একটি জ্ঞাত বিষয় যা অস্তিত্বহীন...
(খণ্ড: ১)
তামহীদুল আওয়াইল ওয়া তালখীসুল দালাইল
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
هُوَ مَقْدُور وَيُمكن أَن يكون وَيُمكن أَن لَا يكون وَلَا يدرى هَل يكون أم لَا يكون نَحْو مَا يقدر الله تَعَالَى عَلَيْهِ مِمَّا لَا نعلم أيفعله أم لَا يَفْعَله نَحْو تَحْرِيك السَّاكِن من الْأَجْسَام وتسكين المتحرك مِنْهَا وأمثال ذَلِكبَاب الْكَلَام فِي الموجودات والموجودات كلهَا على ضَرْبَيْنِ قديم وَلم يزل ومحدث لوُجُوده أولفالقديم هُوَ الْمُتَقَدّم فِي الْوُجُود على غَيره وَقد يكون لم يزل وَقد يكون مستفتح الْوُجُود دَلِيل ذَلِك قَوْلهم بِنَاء قديم يعنون أَنه الْمَوْجُود قبل الْحَادِث بعده وَقد يكون الْمُتَقَدّم بِوُجُودِهِ على مَا حدث بعده مُتَقَدما إِلَى غَايَة وَهُوَ الْمُحدث الْمُؤَقت الْمَوْجُودوَقد يكون مُتَقَدما إِلَى غير غَايَة وَهُوَ الْقَدِيم جلّ ذكره وصفات ذَاته لِأَنَّهُ لَو كَانَ مُتَقَدما إِلَى غَايَة يؤقت بهَا فَقَالَ إِنَّه قبل الْعَالم بعام أَو مائَة ألف عَام لأفاد تَوْقِيت وجوده أَنه مَعْدُوم قبل ذَلِك الْوَقْت وَالله يتعالى عَن ذَلِك
এটি সক্ষমতাধীন এবং তা হওয়া সম্ভব আবার না হওয়াও সম্ভব; এবং তা হবে কি হবে না তা জানা যায় না। যেমন আল্লাহ তাআলা যে বিষয়ের ওপর সক্ষম অথচ আমরা জানি না তিনি তা করবেন কি করবেন না; উদাহরণস্বরূপ—স্থির বস্তুকে গতিশীল করা কিংবা গতিশীল বস্তুকে স্থির করা এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়।বিদ্যমান বস্তুসমূহ (মওজুদাত) প্রসঙ্গে আলোচনার অধ্যায় সকল বিদ্যমান বস্তু দুই প্রকার: অনাদি (কাদিম) যা সর্বদা বিদ্যমান ছিল, এবং সৃষ্ট (মুহদাস) যার অস্তিত্বের সূচনা রয়েছে।সুতরাং প্রাচীন (কাদিম) হলো অস্তিত্বের দিক থেকে যা অন্য সবকিছুর অগ্রবর্তী। এটি কখনো অনাদি হতে পারে, আবার কখনো এমন কিছু হতে পারে যার অস্তিত্বের সূচনা আছে। এর প্রমাণ হলো তাদের কথা—'প্রাচীন অট্টালিকা', যার মাধ্যমে তারা বোঝাতে চায় যে এটি পরবর্তীকালে সৃষ্ট অট্টালিকার পূর্বে বিদ্যমান ছিল। আর অস্তিত্বের মাধ্যমে যা কিছু পরবর্তী সৃষ্টির অগ্রবর্তী হয়, তা কখনো একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত অগ্রবর্তী হয়; আর তা হলো সেই সৃষ্ট ও সাময়িক বিদ্যমান বস্তু।আবার যা কোনো সীমা ব্যতিরেকে অগ্রবর্তী, তা হলেন অনাদি সত্তা (আল্লাহ), যাঁর স্মরণ অত্যন্ত মহিমান্বিত, এবং তাঁর সত্তাগত গুণাবলি। কারণ তিনি যদি এমন কোনো সীমা পর্যন্ত অগ্রবর্তী হতেন যার মাধ্যমে সময় নির্ধারিত হয় এবং বলা হতো যে তিনি এই জগতের এক বছর বা এক লক্ষ বছর পূর্বে ছিলেন, তবে তাঁর অস্তিত্বের সময়কাল নির্ধারণের দ্বারা এটিই প্রকাশ পেত যে তিনি সেই সময়ের পূর্বে অস্তিত্বহীন ছিলেন; অথচ আল্লাহ তাআলা এ থেকে অত্যন্ত পবিত্র ও সুউচ্চ।
(খণ্ড: ১)
তামহীদুল আওয়াইল ওয়া তালখীসুল দালাইল
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
والمحدث هُوَ الْمَوْجُود من عدم يدل على ذَلِك قَوْلهم حدث بفلان حَادث من مرض أَو صداع إِذا وجد بِهِ بعد أَن لم يكن وَحدث بِهِ حدث الْمَوْت وأحدث فلَان فِي هَذِه الْعَرَصَة بِنَاء أَي فعل مَا لم يكن قبلبَاب أَقسَام المحدثات والمحدثات كلهَا تَنْقَسِم ثَلَاثَة أَقسَام فجسم مؤلف وجوهر مُنْفَرد وَعرض مَوْجُود بالأجسام والجواهرفالجسم هُوَ الْمُؤلف يدل على ذَلِك قَوْلهم رجل جسيم وَزيد أجسم من عَمْرو إِذا كثر ذَهَابه فِي الْجِهَات وَلَيْسَ يعنون بالمبالغة فِي قَوْلهم أجسم وجسيم إِلَّا كَثْرَة الْأَجْزَاء المنضمة والتأليف لأَنهم لَا يَقُولُونَ أجسم فِيمَن كثرت علومه وَقدره وَسَائِر تصرفه وَصِفَاته غير الِاجْتِمَاع حَتَّى إِذا كثر الِاجْتِمَاع فِيهِ يتزايد أَجْزَائِهِ قيل أجسم وَرجل جسيم فَدلَّ بذلك على أَن قَوْلهم جسم مُفِيد للتأليفوالجوهر هُوَ الَّذِي يقبل من كل جنس من أَجنَاس الْأَعْرَاض عرضا وَاحِدًا لِأَنَّهُ مَتى كَانَ كَذَلِك كَانَ جوهراوَمَتى خرج عَن ذَلِك خرج عَن أَن يكون جوهراوَالدَّلِيل على إثْبَاته علمنَا بِأَن الْفِيل أكبر من الذّرة فَلَو كَانَ لَا غَايَة لمقادير الْفِيل وَلَا لمقادير الذّرة لم يكن أَحدهمَا أَكثر مقادير من الآخر وَلَو كَانَ كَذَلِك لم يكن أَحدهمَا أكبر من الآخر كَمَا أمه لَيْسَ بِأَكْثَرَ مقادير مِنْهُ
মুহদাছ (সৃষ্ট বস্তু) হলো যা অনস্তিত্ব থেকে অস্তিত্ব লাভ করেছে। এর প্রমাণ হলো মানুষের এই উক্তি—অমুক ব্যক্তির রোগ বা মাথাব্যথার মতো কোনো ঘটনার উদ্ভব (হুদুছ) হয়েছে, যখন তা ইতিপূর্বে না থাকার পর তার মধ্যে পরিলক্ষিত হয়। তদ্রূপ বলা হয়, তার মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, অথবা অমুক ব্যক্তি এই প্রাঙ্গণে একটি ইমারত নতুন তৈরি করেছে—অর্থাৎ সে এমন কিছু করেছে যা আগে ছিল না।সৃষ্ট বস্তুসমূহের প্রকারভেদ সংক্রান্ত অধ্যায় সকল সৃষ্ট বস্তু তিনটি ভাগে বিভক্ত: সংযোজিত দেহ (জিসম), অবিভাজ্য একক সত্তা (জওহর) এবং দেহ ও একক সত্তার আশ্রয়ে বিদ্যমান থাকা আপতিক গুণ (আরাজ)।দেহ (জিসম) হলো যা সংযোজিত। এর প্রমাণ হলো মানুষের উক্তি—বিশালদেহী (জাসিম) ব্যক্তি, এবং যায়েদ আমর অপেক্ষা অধিক দেহধারী (আজসাম)—যখন সব দিকে তার আয়তন বৃদ্ধি পায়। তারা 'আজসাম' এবং 'জাসিম' শব্দ দ্বারা আধিক্য বুঝাতে কেবল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও অংশের মিলন এবং তার গঠনকেই বুঝিয়ে থাকে। কারণ, তারা এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে 'আজসাম' বলে না যার জ্ঞান, ক্ষমতা এবং সম্মিলন ব্যতীত অন্যান্য কার্যাবলি ও গুণাবলি অনেক বেশি; বরং যখন তার মধ্যে অবয়বের সম্মিলন ও অংশের বৃদ্ধি ঘটে, তখনই তাকে 'আজসাম' বা বিশালদেহী ব্যক্তি বলা হয়। এতে প্রমাণিত হয় যে, তাদের পরিভাষায় 'জিসম' শব্দটি গঠন বা বিন্যাসের অর্থ প্রদান করে।আর জওহর (মৌলিক সত্তা) হলো তা, যা প্রতিটি শ্রেণির আপতিক গুণের মধ্য থেকে একটি গুণ গ্রহণ করে; কেননা যখনই এটি এরূপ হয়, তখনই তা জওহর হিসেবে গণ্য হয়।আর যখন তা এর বহির্ভূত হয়ে যায়, তখন তা আর জওহর থাকে না।এটি প্রমাণের দলিল হলো আমাদের এই জ্ঞান যে, হাতি পিপীলিকা অপেক্ষা বড়। যদি হাতির পরিমাপের কোনো শেষ না থাকত এবং পিপীলিকার পরিমাপেরও কোনো শেষ না থাকত, তবে একটির পরিমাপ অন্যটির চেয়ে বেশি হতো না। আর যদি বিষয়টি এমন হতো, তবে একটি অন্যটির চেয়ে বড় হতো না, যেমনটি তার পরিমাপ অন্যটির চেয়ে বেশি না হলে হয়ে থাকে।
(খণ্ড: ১)
তামহীদুল আওয়াইল ওয়া তালখীসুল দালাইল
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
بَاب الْكَلَام فِي الْأَعْرَاض والأعراض هِيَ الَّتِي لَا يَصح بَقَاؤُهَا وَهِي الَّتِي تعرض فِي الْجَوَاهِر والأجسام وَتبطل فِي ثَانِي حَال وجودهَا وَالدَّلِيل على أَن هَذَا فَائِدَة وصفهَا بِأَنَّهَا أَعْرَاض قَوْله تَعَالَى {تُرِيدُونَ عرض الدُّنْيَا وَالله يُرِيد الْآخِرَة} فَسمى الْأَمْوَال أعراضا إِذْ كَانَ آخرهَا إِلَى الزَّوَال والبطلان وَقَول أهل اللُّغَة عرض بفلان عَارض من حمى أَو جُنُون إِذا لم يدم بِهِ ذَلِك وَمِنْه أَيْضا قَول الله تَعَالَى إِخْبَارًا عَن الْكفَّار فِي اعْتِقَادهم فِيمَا أظلهم من الْعَذَاب أَنه عَارض لما اعتقدوا أَنه مِمَّا لَا دوَام لَهُ {هَذَا عَارض مُمْطِرنَا}بَاب الْكَلَام فِي إِثْبَات الْأَعْرَاض وَالدَّلِيل على إِثْبَات الْأَعْرَاض تحرّك الْجِسْم بعد سكونه وسكونه بعد حركته وَلَا بُد أَن يكون ذَلِك كَذَلِك لنَفسِهِ أَو لَعَلَّه فَلَو كَانَ متحركا لنَفسِهِ مَا جَازَ سكونه وَفِي صِحَة سكونه بعد تحركه دَلِيل على أَنه متحرك لعِلَّة هِيَ الْحَرَكَةوَهَذَا الدَّلِيل هُوَ الدَّلِيل على إِثْبَات الألوان والطعوم والأراييح والتأليف والحياة وَالْمَوْت وَالْعلم وَالْجهل وَالْقُدْرَة وَالْعجز وَغير ذَلِك من ضروبهاوَيدل على ذَلِك أَن الْجِسْم لَا يَخْلُو من أَن يكون متحركا لنَفسِهِ أَو لِمَعْنى ويستحيل أَن يكون متحركا لنَفسِهِ لِأَن ذَلِك لَو كَانَ كَذَلِك لوَجَبَ أَن
আরাজ (আকস্মিক গুণাবলি) সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ আরাজ বা আকস্মিক গুণ হলো সেগুলো, যা স্থায়ী হওয়া অসম্ভব। এগুলো জাওয়াহির (মৌলিক পদার্থ) ও আজসাম (বস্তু বা দেহ)-এর মধ্যে আপতিত হয় এবং অস্তিত্ব লাভের দ্বিতীয় মুহূর্তেই বিলুপ্ত হয়ে যায়। এগুলোর পরিচয় হিসেবে আরাজ (ক্ষণস্থায়ী) বিশেষণ ব্যবহারের যৌক্তিকতার প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: “তোমরা দুনিয়ার নশ্বর সরঞ্জাম (আরাজ) কামনা করছো, আর আল্লাহ আখেরাত চান।” এখানে তিনি ধন-সম্পদকে ‘আরাজ’ নামে অভিহিত করেছেন, কারণ এগুলোর সমাপ্তি ঘটে বিনাশ ও বিলুপ্তির মাধ্যমে। ভাষাবিদদের বক্তব্যও অনুরূপ; তারা বলেন: “অমুক ব্যক্তির ওপর জ্বর বা উন্মাদনার একটি আপদ (আরিজ) এসেছে”, যখন তা তার মাঝে স্থায়ী হয় না। মহান আল্লাহ কাফেরদের সম্পর্কে সংবাদ দিতে গিয়ে তাদের এই বিশ্বাসের কথা উল্লেখ করেছেন যে, তাদের ওপর যখন আযাব ছায়া ফেলেছিল তখন তারা তা স্থায়ী হবে না মনে করে বলেছিল: “এটি একটি মেঘ (আরদ), যা আমাদের ওপর বৃষ্টি বর্ষণ করবে।”আরাজ (আকস্মিক গুণাবলি) সাব্যস্তকরণ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ আরাজ সাব্যস্ত করার প্রমাণ হলো দেহের স্থির থাকার পর গতিশীল হওয়া এবং গতিশীল থাকার পর স্থির হওয়া। এই অবস্থাটি দেহটির নিজস্ব স্বভাবের কারণে অথবা কোনো কারণের (ইল্লত) প্রেক্ষিতে হওয়া অপরিহার্য। যদি দেহটি তার নিজ সত্তার কারণেই গতিশীল হতো, তবে তার পক্ষে স্থির হওয়া সম্ভব হতো না। সুতরাং গতির পর দেহের স্থির হওয়া সম্ভব হওয়াই প্রমাণ করে যে, দেহটি একটি নির্দিষ্ট কারণ বা গুণের প্রেক্ষিতে গতিশীল হয়েছে, আর সেই কারণটি হলো ‘গতি’ (হারাকাত)।এই একই প্রমাণ বর্ণ, স্বাদ, ঘ্রাণ, সংযুক্তি, জীবন, মৃত্যু, জ্ঞান, অজ্ঞতা, সক্ষমতা, অক্ষমতা এবং এই জাতীয় অন্যান্য সকল প্রকার বৈশিষ্ট্য সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।এর ওপর দলীল হলো এই যে, কোনো দেহ হয় তার নিজ সত্তার কারণে গতিশীল হবে অথবা কোনো অর্থের (গুণের) কারণে। কিন্তু বস্তুর নিজ সত্তার কারণে গতিশীল হওয়া অসম্ভব; কারণ যদি তা হতো তবে আবশ্যক হতো যে—
(খণ্ড: ১)
তামহীদুল আওয়াইল ওয়া তালখীসুল দালাইল
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
لَا يُوجد من جنسه فِي ذَلِك الْوَقْت إِلَّا مَا كَانَ متحركا أَلا ترى أَن السوَاد إِذا كَانَ سوادا لنَفسِهِ لم يجز أَن يُوجد من جنسه مَا لَيْسَ بسواد وَفِي الْعلم بِأَنَّهُ قد يُوجد من جنس الْجَوَاهِر والأجسام المتحركة مَا لَيْسَ بمتحرك دَلِيل على أَن المتحرك فِيهَا لَيْسَ بمتحرك لنَفسِهِ وَأَنه للحركة كَانَ متحركاوَمِمَّا يدل على ذَلِك علمنَا بِأَن الْإِنْسَان تَارَة يقدر على التحرك ويعجز عَنهُ أُخْرَى وَقد ثَبت أَنه لَا بُد لقدرته من تعلق بمقدور وَكَذَلِكَ الْقَدِيم تَعَالَى يقدر عِنْد الْمُوَحِّدين وَعند من أثْبته من الْمُلْحِدِينَ النافين للأعراض على تَحْرِيك الْجِسْم تَارَة وعَلى تسكينه أُخْرَى فَلَا يَخْلُو أَن يكون مَقْدُور الْقُدْرَة على تَحْرِيك الْجِسْم هُوَ إِحْدَاث الْجِسْم وإيجاده أَو إِحْدَاث معنى فِيهِ أَو إعدامه أَو إعدام معنى مِنْهُ أَو لَا لنَفسِهِ أَو لِمَعْنى تعلق بِنَفسِهِويستحيل أَن تكون الْقُدْرَة على ذَلِك لَا تعلق لَهَا بمقدور كَمَا يَسْتَحِيل وجود علم لَا تعلق لَهُ بِمَعْلُوم وَذكر لَا تعلق لَهُ بمذكورويستحيل أَن يكون مَقْدُور الْقُدْرَة هُوَ إِيجَاد الْجِسْم وإحداثه لِأَنَّهُ إِنَّمَا يَتَحَرَّك فِي الثَّانِي من حَال وجوده مَعَ اسْتِحَالَة حُدُوثه وتجدده فِي ذَلِك الْوَقْت وَلِأَن ذَلِك إِن كَانَ كَذَلِك فقد صَحَّ وَثَبت حُدُوث الْجِسْم وَهَذَا هُوَ الَّذِي نبتغيه بِإِثْبَات الْأَعْرَاضوَإِن قيل يَسْتَحِيل أَن يكون مَقْدُور الْقُدْرَة إعدام معنى من الْجِسْم لِأَن ذَلِك الْمَعْنى لَا يَخْلُو أَن يكون جسما أَو عرضا فَإِن كَانَ جسما أقرُّوا بِجَوَاز عدم الْجِسْم وَصَحَّ بذلك حُدُوثه لِاسْتِحَالَة عدم الْقَدِيم عندنَا وَعِنْدهم وَذَلِكَ
সেই সময়ে তার স্বগোত্রীয় এমন কিছুই বিদ্যমান নেই যা গতিশীল নয়। আপনি কি দেখেন না যে, কালো রঙ যদি তার নিজস্ব সত্তার কারণেই কালো হতো, তবে তার স্বগোত্রীয় এমন কিছুর অস্তিত্ব সম্ভব হতো না যা কালো নয়। আর এই জ্ঞান যে—বস্তু ও গতিশীল দেহের স্বগোত্রীয় এমন কিছুর অস্তিত্ব সম্ভব যা গতিশীল নয়—তা এই বিষয়ের প্রমাণ যে, সেগুলোর মধ্যে যা গতিশীল তা স্বীয় সত্তার কারণে গতিশীল নয়, বরং গতির কারণেই তা গতিশীল।এর স্বপক্ষে আরও একটি প্রমাণ হলো আমাদের এই জ্ঞান যে, মানুষ কখনো নড়াচড়া করতে সক্ষম হয়, আবার কখনো তাতে অক্ষম হয়। আর এটি প্রমাণিত যে, সক্ষমতার জন্য অবশ্যই একটি সক্ষমতা-সংশ্লিষ্ট বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত হওয়া আবশ্যক। তদ্রূপ অনাদি আল্লাহ তাআলা—একত্ববাদীগণের নিকট এবং সেইসব নাস্তিকদের নিকট যারা আল্লাহকে স্বীকার করে কিন্তু আপতিত গুণাবলি অস্বীকার করে—কখনো কোনো বস্তুকে গতিশীল করতে সক্ষম এবং কখনো তাকে স্থির করতে সক্ষম। সুতরাং বস্তুকে গতিশীল করার সক্ষমতার বিষয়টি নিম্নোক্ত বিষয়গুলো থেকে মুক্ত নয়: হয় তা বস্তুর নতুন সৃষ্টি ও অস্তিত্ব দান, অথবা তাতে কোনো গুণের সূচনা করা, অথবা তাকে ধ্বংস করা, অথবা তা থেকে কোনো গুণকে বিলুপ্ত করা, অথবা তা স্বীয় সত্তার কারণে নয় বরং তার সত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট কোনো গুণের কারণে।আর এর ওপর সক্ষমতা থাকা অথচ সক্ষমতা-সংশ্লিষ্ট বিষয়ের সাথে তার কোনো সম্পৃক্ততা না থাকা অসম্ভব, যেমনটা জ্ঞাত বিষয় ছাড়া জ্ঞান থাকা অসম্ভব এবং উল্লেখিত বিষয় ছাড়া উল্লেখ থাকা অসম্ভব।সক্ষমতা-সংশ্লিষ্ট বিষয়টি বস্তুর অস্তিত্ব দান ও তার নবসৃষ্টি হওয়া অসম্ভব; কারণ বস্তুটি তার অস্তিত্ব লাভের দ্বিতীয় অবস্থায় গতিশীল হয়, অথচ সেই সময়ে তার নতুন করে সৃষ্টি হওয়া বা নবায়ন হওয়া অসম্ভব। আর যদি বিষয়টি এমনই হয়, তবে বস্তুর নশ্বরতা বা নতুন সৃষ্টি হওয়া সত্য ও প্রমাণিত হলো; আর এটিই হলো সেই বিষয় যা আমরা আপতিত গুণাবলি প্রমাণের মাধ্যমে অন্বেষণ করছি।যদি বলা হয় যে, সক্ষমতা-সংশ্লিষ্ট বিষয়টি বস্তু থেকে কোনো গুণের বিলোপ ঘটানো—এটি অসম্ভব; কারণ সেই গুণটি হয় কোনো বস্তু হবে অথবা কোনো আপতিত গুণ হবে। যদি তা বস্তু হয়, তবে তারা বস্তুর বিনাশের সম্ভাবনাকে স্বীকার করে নিল, আর এর মাধ্যমে বস্তুর নশ্বরতা বা নতুন সৃষ্টি হওয়া প্রমাণিত হলো; কারণ আমাদের এবং তাদের উভয়ের নিকটেই অনাদি সত্তার বিনাশ অসম্ভব। আর এটি...
(খণ্ড: ১)
তামহীদুল আওয়াইল ওয়া তালখীসুল দালাইল
(পৃষ্ঠা: ৪০)
مَا أردناه وَإِن كَانَ عرضا فقد أقرُّوا بِوُجُود الْأَعْرَاض وَعدمهَا بعد الْوُجُود وَهَذَا مَا رمنا إثْبَاته وَلِأَن عدم معنى من الْجِسْم لَيْسَ بِشَيْء يحدث وَلَا يكْتَسب فمحال تعلق الْقُدْرَة بِمَا لَيْسَ بِمَعْنى يحدث ويكتسب فَبَطل هَذَا القَوْلوَلِأَن الْجِسْم لَو تحرّك فِي جِهَة بِعَينهَا وَإِلَى محاذاة بِعَينهَا لعدم معنى مِنْهُ مَعَ صِحَة تحركه مَعَ عدم ذَلِك الْمَعْنى إِلَى غير تِلْكَ الْجِهَة والمحاذاة لم يكن بِأَن يَتَحَرَّك إِلَى الْجِهَة والمحاذاة الَّتِي تحرّك إِلَيْهَا أولى من تحركه إِلَى غَيرهَا وَفِي الْعلم بِكَوْنِهِ أولى بالتحرك إِلَى مَا تحرّك إِلَيْهِ وأحق بِهِ فِي ذَلِك الْوَقْت دَلِيل على بطلَان هَذَا القَوْلوَلِأَن الْجِسْم أَيْضا لَو تحرّك لعدم معنى مِنْهُ لم يكن هُوَ بالتحرك أولى من غَيره من الْأَجْسَام لِأَن ذَلِك الْمَعْنى الَّذِي عدم مِنْهُ لَيْسَ هُوَ فِيهِ وَلَا فِي غَيره فَيجب لذَلِك تحرّك كل مَا لَيْسَ فِيهِ ذَلِك الْمَعْنى وَفِي الْعلم بِبُطْلَان هَذَا دَلِيل على فَسَاد هَذَا القَوْلويستحيل أَيْضا أَن يكون مَقْدُور الْقُدْرَة على تَحْرِيك الْجِسْم مَا لَيْسَ هُوَ نفس الْجِسْم وَلَا معنى سواهُ لِأَن مَا لَيْسَ هُوَ نَفسه وَلَا معنى غَيره لَيْسَ بِشَيْء يَصح أَن يكون حَادِثا أَو مكتسبا فَبَطل أَيْضا هَذَا الْوَجْه وَصَحَّ بذلك أَن قدرَة الْقَادِر على تَحْرِيك الْجِسْم قدرَة على فعل معنى فِيهِ أَو اكتسابه وَهَذَا هُوَ معنى قَوْلنَا إِن المتحرك كَانَ متحركا بالفاعلوَيدل على أَن قدرَة الْإِنْسَان على المتحرك لَا يجوز أَن تكون قدرَة على نَفسه علمنَا وهم باستحالة كَون الْإِنْسَان فَاعِلا للأجسام وَأَنه لَو صَحَّ ذَلِك وَأَن يقدر على نَفسه لصَحَّ أَن يقدر على مثله وَمِمَّا يدل أَيْضا على أَنه لَا يجوز أَن يكون المتحرك متحركا لَا لنَفسِهِ وَلَا لعِلَّة أَن ذَلِك لَو كَانَ كَذَلِك لصار قَوْلنَا فِيهِ إِنَّه متحرك لقبا لَا فَائِدَة تَحْتَهُ ولجرى مجْرى تسميتنا زيدا زيدا وَذَلِكَ بَاطِل وَلِأَن ذَلِك لَو كَانَ كَذَلِك لم يكن هُوَ بالتحرك أولى من غَيره ولخرج قَوْلنَا متحرك عَن أَن يكون لَهُ مثبتا
আমরা যা চেয়েছি তা যদি একটি 'আরায' (অস্থায়ী গুণ)ও হয়, তবুও তারা 'আরায' সমূহের অস্তিত্ব এবং অস্তিত্বের পর তাদের অনস্তিত্বের কথা স্বীকার করেছেন; আর এটাই আমরা প্রমাণ করতে চেয়েছি। তদুপরি, দেহ থেকে কোনো একটি গুণের অনুপস্থিতি এমন কিছু নয় যা সৃষ্টি হয় কিংবা অর্জিত হয়। সুতরাং যা কোনো সৃষ্ট বা অর্জিত বিষয় নয়, তার সাথে কুদরত বা ক্ষমতার সম্পৃক্ত হওয়া অসম্ভব। ফলে এই অভিমতটি বাতিল হয়ে গেল।এছাড়াও, বস্তুটি যদি কোনো নির্দিষ্ট গুণের অনুপস্থিতির কারণে কোনো নির্দিষ্ট দিকে এবং নির্দিষ্ট সমান্তরালে গতিশীল হয়—অথচ সেই গুণের অনুপস্থিতি সত্ত্বেও ঐ নির্দিষ্ট দিক বা সমান্তরাল ব্যতীত অন্য কোনো দিকে তার গতিশীল হওয়া সম্ভব ছিল—তবে যে দিকে এবং যে সমান্তরালে সে গতিশীল হয়েছে, তা অন্য দিকের চেয়ে অগ্রগণ্য হওয়ার কোনো কারণ থাকতো না। আর যে দিকে সে গতিশীল হয়েছে, সেই সময়ে সেটিই গতিশীল হওয়ার জন্য অধিকতর উপযুক্ত ও যোগ্য হওয়ার বিষয়টি জানা থাকা এই অভিমতটি বাতিল হওয়ার প্রমাণ।তদুপরি, কোনো গুণের অনুপস্থিতির কারণে যদি বস্তুটি গতিশীল হতো, তবে সেই বস্তুটি অন্য বস্তুর তুলনায় গতিশীল হওয়ার জন্য অধিক উপযুক্ত হতো না। কারণ যে গুণের অনুপস্থিতির কারণে সেটি গতিশীল হয়েছে, তা যেমন তার মাঝে নেই, তেমনি অন্য বস্তুর মাঝেও নেই। ফলে যে সব বস্তুর মাঝে সেই গুণটি নেই, তাদের প্রত্যেকেরই গতিশীল হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে। এই বিষয়টি বাতিল হওয়া নিশ্চিতভাবেই এই অভিমতের অসারতা প্রমাণ করে।একইভাবে, বস্তুকে গতিশীল করার ক্ষেত্রে কুদরতের লক্ষ্যবস্তু এমন কিছু হওয়া অসম্ভব যা স্বয়ং বস্তুটিও নয় এবং অন্য কোনো গুণও নয়। কারণ যা স্বয়ং বস্তু নয় এবং অন্য কোনো গুণও নয়, তা এমন কোনো বিষয় হতে পারে না যা সৃষ্টি হওয়া বা অর্জিত হওয়া সম্ভব। ফলে এই দিকটিও বাতিল সাব্যস্ত হলো। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হলো যে, বস্তুকে গতিশীল করার ক্ষেত্রে সক্ষম সত্তার কুদরত মূলত তার মাঝে কোনো একটি গুণ সৃষ্টি করা অথবা তা অর্জন করার কুদরত। আর এটাই আমাদের এই কথার অর্থ যে, গতিশীল বস্তু কর্তার মাধ্যমে গতিশীল হয়।গতিশীল বস্তুর ওপর মানুষের ক্ষমতা যে স্বয়ং বস্তুর ওপর ক্ষমতা হওয়া বৈধ নয়, তার প্রমাণ হলো আমাদের এবং তাদের এই জ্ঞান যে, মানুষের পক্ষে বস্তু সৃষ্টি করা অসম্ভব। যদি স্বয়ং বস্তুর ওপর ক্ষমতা থাকা সঠিক হতো, তবে তার সদৃশ বস্তুর ওপরও ক্ষমতা থাকা সঠিক হতো। আরও একটি বিষয় যা প্রমাণ করে যে, গতিশীল বস্তু স্বয়ং নিজের কারণে অথবা কোনো কারণ ছাড়া গতিশীল হওয়া বৈধ নয়, তা হলো—যদি বিষয়টি তেমনই হতো, তবে আমাদের 'বস্তুটি গতিশীল' বলাটি কেবল একটি অর্থহীন উপাধিতে পরিণত হতো। এর দৃষ্টান্ত হতো যেমন আমরা জায়েদকে 'জায়েদ' বলে ডাকি। অথচ তা বাতিল। তদুপরি, বিষয়টি যদি তেমনই হতো, তবে বস্তুটি গতিশীল হওয়ার ক্ষেত্রে অন্য বস্তুর চেয়ে অগ্রগণ্য হতো না এবং আমাদের 'গতিশীল' বলাটি কোনো ইতিবাচক বৈশিষ্ট্য সাব্যস্ত করার পর্যায়ভুক্ত থাকতো না।
(খণ্ড: ১)
তামহীদুল আওয়াইল ওয়া তালখীসুল দালাইল
(পৃষ্ঠা: ৪১)
ومخبرا عَنهُ وَإِن كَانَ إِثْبَاتًا وخبرا لِأَنَّهُ غير رَاجع إِلَى نفس الْجِسْم وَلَا إِلَى معنى سواهُ وَذَلِكَ بَاطِل بِاتِّفَاق وَهَذَا يحِيل أَن يكون شَيْء من الْأَوْصَاف مُسْتَحقّا لَا لنَفس وَلَا لعِلَّة وَفِي بعض مَا أومأنا إِلَيْهِ دَلِيل على إِثْبَات الْأَعْرَاضبَاب الْكَلَام فِي إِثْبَات حدث الْعَالم جَمِيع الْعَالم الْعلوِي والسفلي لَا يخرج عَن هذَيْن الجنسين أَعنِي الْجَوَاهِر والأعراض وَهُوَ مُحدث بأسره وَالدَّلِيل على حَدثهُ مَا قدمْنَاهُ من إِثْبَات الْأَعْرَاضوالأعراض حوادث وَالدَّلِيل على حدوثها بطلَان الْحَرَكَة عِنْد مَجِيء السّكُون لِأَنَّهَا لَو لم تبطل عِنْد مَجِيء السّكُون لكانا موجودين فِي الْجِسْم مَعًا ولوجب لذَلِك أَن يكون متحركا سَاكِنا مَعًا وَذَلِكَ مِمَّا يعلم فَسَاده ضَرُورَةوَالدَّلِيل على حُدُوث الْأَجْسَام أَنَّهَا لم تسبق الْحَوَادِث وَلم تُوجد قبلهَا وَمَا لم يسْبق الْمُحدث مُحدث كَهُوَ إِذْ كَانَ لَا يَخْلُو أَن يكون مَوْجُودا مَعَه أَو
এবং তাঁর সম্পর্কে সংবাদ দানকারী, যদিও তা সাব্যস্তকরণ ও তথ্য প্রদানমূলক হয়; কারণ এটি স্বয়ং দেহের (বস্তু) দিকে প্রত্যাবর্তন করে না এবং তা ছাড়া অন্য কোনো অর্থের দিকেও নয়। আর সর্বসম্মতিক্রমে এটি বাতিল। এটি কোনো বৈশিষ্ট্য কোনো সত্তা বা কোনো কারণ ছাড়াই সাব্যস্ত হওয়াকে অসম্ভব করে দেয়। আমরা যা কিছুর প্রতি ইঙ্গিত করেছি, তার মধ্যেই আপতিক গুণাবলি (আ’রাজ) প্রমাণের দলিল রয়েছে।অধ্যায়: জগতের নবোদ্ভব প্রমাণের আলোচনা উর্ধ্বজগত ও নিম্নজগতের সমগ্র জগত এই দুই প্রকারের বাইরে নয়, অর্থাৎ: সারবস্তু (জাওয়াহির) ও আপতিক গুণাবলি (আ’রাজ)। এর পুরোটাই নবোদ্ভূত। এর নবোদ্ভবের প্রমাণ হলো যা আমরা ইতিপূর্বে আপতিক গুণাবলি প্রমাণের ক্ষেত্রে পেশ করেছি।আর আপতিক গুণাবলি হলো নবোদ্ভূত। এগুলোর নবোদ্ভবের প্রমাণ হলো স্থিরতা আসার সময় গতির বিলুপ্তি। কারণ স্থিরতা আসার সময় যদি গতি বিলুপ্ত না হতো, তবে উভয়ই একই সাথে বস্তুতে বিদ্যমান থাকতো। ফলে একই সাথে বস্তুকে গতিশীল ও স্থির হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়তো, যার অসারতা স্বতঃসিদ্ধভাবে জানা যায়।আর বস্তুসমূহের নবোদ্ভবের দলিল হলো এই যে, এগুলো নবোদ্ভূত বিষয়াবলির (হাওয়াদিছ) পূর্বে অতিবাহিত হয়নি এবং সেগুলোর আগে বিদ্যমান ছিল না। আর যা নবোদ্ভূত বিষয়ের পূর্বে অতিবাহিত হয় না, তা সেটির মতোই নবোদ্ভূত। যেহেতু এটি হয় তার সাথে বিদ্যমান থাকা থেকে মুক্ত নয় অথবা
(খণ্ড: ১)
তামহীদুল আওয়াইল ওয়া তালখীসুল দালাইল
(পৃষ্ঠা: ৪২)
بعده وكلا الْأَمريْنِ يُوجب حُدُوثهوَالدَّلِيل على أَن الْجِسْم لَا يجوز أَن يسْبق الْحَوَادِث أَنا نعلم باضطرار أَنه مَتى كَانَ مَوْجُودا فَلَا يَخْلُو أَن يكون متماس الأبعاض مجتمعا أَو متباينا مفترقا لِأَنَّهُ لَيْسَ بَين أَن تكون أجزاؤه متماسة أَو متباينة منزلَة ثَالِثَة فَوَجَبَ أَلا يَصح أَن يسْبق الْحَوَادِث وَمَا لم يسْبق الْحَوَادِث فَوَاجِب كَونه مُحدثا إِذْ كَانَ لَا بُد أَن يكون إِنَّمَا وجد مَعَ وجودهَا أَو بعْدهَا
এর পরে, এবং এই উভয় বিষয়ই এর নব্যতা (সৃষ্টি হওয়া) অনিবার্য করে।আর দেহ যে নব্য ঘটনাবলির (হাওয়াদিস) অগ্রবর্তী হতে পারে না তার প্রমাণ হলো—আমরা অকাট্যভাবে জানি যে, এটি যখনই বিদ্যমান থাকে, তখন তা হয় তার অংশগুলোর সাথে পরস্পর সংযুক্ত ও একত্রিত অবস্থায় থাকে, অথবা পরস্পর বিচ্ছিন্ন ও পৃথক অবস্থায় থাকে। কারণ এর অংশগুলো সংযুক্ত থাকা অথবা বিচ্ছিন্ন থাকার মাঝে তৃতীয় কোনো অবস্থা নেই। সুতরাং এটি সাব্যস্ত হলো যে, দেহের পক্ষে নব্য ঘটনাবলির পূর্বে থাকা সঠিক নয়। আর যা নব্য ঘটনাবলির পূর্বে থাকতে পারে না, তার নব্য (মুহদাস) হওয়া অনিবার্য; কারণ তা অবশ্যই হয় সেগুলোর সাথেই অস্তিত্ব লাভ করেছে অথবা সেগুলোর পরে।
(খণ্ড: ১)
তামহীদুল আওয়াইল ওয়া তালখীসুল দালাইল
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
فَأَي الْأَمريْنِ ثَبت وَجب بِهِ الْقَضَاء على حُدُوث الْأَجْسَامبَاب الْكَلَام فِي إِثْبَات الصَّانِع وَلَا بُد لهَذَا الْعَالم الْمُحدث المصور من مُحدث مُصَور وَالدَّلِيل على ذَلِك أَن الْكِتَابَة لَا بُد لَهَا من كَاتب وَلَا بُد للصورة من مُصَور وللبناء من بَان وَأَنا لَا نشك فِي جهل من خبرنَا بِكِتَابَة حصلت لَا من كَاتب وصياغة لَا من صائغ فَوَجَبَ أَن تكون صور الْعَالم وحركات الْفلك مُتَعَلقَة بصانع صنعها إِذْ كَانَت ألطف وأعجب صنعا من سَائِر مَا يتَعَذَّر وجوده لَا من صانع من الحركات والتصويراتوَيدل على ذَلِك علمنَا بتقدم بعض الْحَوَادِث على بعض وَتَأَخر بَعْضهَا عَن بعض مَعَ الْعلم بتجانسها وَلَا يجوز أَن يكون الْمُتَقَدّم مِنْهَا مُتَقَدما لنَفسِهِ وجنسه لِأَنَّهُ لَو تقدم لنَفسِهِ لوَجَبَ تقدم كل مَا هُوَ من جنسه وَكَذَلِكَ لَو تَأَخّر الْمُتَأَخر مِنْهَا لنَفسِهِ وجنسه لم يكن الْمُتَقَدّم مِنْهَا بالتقدم أولى مِنْهُ بالتأخر وَفِي الْعلم بِأَن الْمُتَقَدّم من المتماثلات لم يكن بالتقدم أولى مِنْهُ بالتأخر دَلِيل على أَن لَهُ مقدما قدمه وَجعله فِي الْوُجُود مَقْصُورا على مَشِيئَتهوَيدل على ذَلِك أَيْضا علمنَا بِصِحَّة قبُول كل جسم من أجسام الْعَالم لغير مَا حصل عَلَيْهِ من التَّرْكِيب وَصِحَّة كَون المربع مِنْهَا مدورا وَكَون المدور مربعًا وَكَون مَا هُوَ بِصُورَة بعض الْحَيَوَان بِصُورَة غَيره وانتقال كل جسم عَن شكله إِلَى غَيره من الأشكال فَلَا يجوز أَن يكون مَا اخْتصَّ مِنْهَا بشكل معِين مَخْصُوص إِنَّمَا اخْتصَّ بِهِ لنَفسِهِ أَو لصِحَّة قبُوله لَهُ لِأَن ذَلِك لَو كَانَ كَذَلِك لوَجَبَ قبُوله لكل شكل يَصح قبُوله لَهُ فِي وَقت وَاحِد حَتَّى يجْتَمع فِيهِ
সুতরাং এই দুই বিষয়ের মধ্যে যেটিই সাব্যস্ত হোক না কেন, তার মাধ্যমেই বস্তুসমূহের নশ্বরতার ওপর সিদ্ধান্ত অবধারিত হয়।স্রষ্টা সাব্যস্তকরণ সংক্রান্ত আলোচনা এই নশ্বর ও সুবিন্যস্ত জগতের জন্য অবশ্যই একজন সৃষ্টিকর্তা ও রূপদানকারী প্রয়োজন। এর প্রমাণ এই যে, যে কোনো লেখার জন্য একজন লেখক, কোনো প্রতিকৃতির জন্য একজন রূপকার এবং কোনো অট্টালিকার জন্য একজন নির্মাণকারী থাকা অপরিহার্য। আর আমরা এমন কোনো ব্যক্তির মূর্খতার ব্যাপারে বিন্দুমাত্র সন্দেহ করি না যে আমাদেরকে এমন কোনো লেখার সংবাদ দেয় যা লেখক ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছে অথবা এমন কোনো কারুকাজ যা কোনো কারিগর ছাড়াই তৈরি হয়েছে। সুতরাং জগতের চিত্রসমূহ এবং গ্রহ-নক্ষত্র ও মহাকাশের গতিসমূহ অবশ্যই একজন স্রষ্টার সাথে সম্পর্কিত হওয়া আবশ্যক যিনি এগুলো সৃষ্টি করেছেন; কারণ অন্যান্য সব ধরণের গতি ও চিত্র যা একজন নির্মাতা ছাড়া অস্তিত্বশীল হওয়া অসম্ভব বলে মনে করা হয়, এগুলোর নির্মাণশৈলী তার চেয়েও অধিক সূক্ষ্ম ও আশ্চর্যজনক।এর আরও প্রমাণ হলো সমজাতীয় হওয়া সত্ত্বেও কিছু নতুন বিষয়ের অন্যগুলোর আগে ঘটা এবং কিছু পরে ঘটা সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান। যা আগে ঘটেছে তা নিজ সত্তার গুণে বা নিজ শ্রেণির কারণে অগ্রগামী হওয়া সম্ভব নয়। কারণ যদি সে নিজ সত্তার কারণেই অগ্রগামী হতো, তবে তার শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত অন্য সবকিছুই অগ্রগামী হওয়া আবশ্যক হতো। একইভাবে, যা পরে এসেছে তা যদি তার নিজ সত্তার কারণে পিছিয়ে থাকত, তবে অগ্রগামী বিষয়টির আগে আসার বিষয়টি পিছিয়ে যাওয়ার তুলনায় অধিক যৌক্তিক হতো না। সমজাতীয় বিষয়গুলোর মধ্যে যেটি আগে এসেছে সেটি পরে আসার তুলনায় আগে আসার কোনো অগ্রাধিকার রাখে না—এই বোধদয় একথাই প্রমাণ করে যে, তার জন্য একজন অগ্রগামীকারী রয়েছেন যিনি তাকে এগিয়ে দিয়েছেন এবং অস্তিত্বের ক্ষেত্রে তাকে তাঁর ইচ্ছাধীন করে রেখেছেন।এর আরও প্রমাণ হলো আমাদের এই জ্ঞান যে, জগতের প্রতিটি বস্তুর পক্ষেই তার বর্তমান কাঠামোর বাইরে অন্য যে কোনো কাঠামো গ্রহণ করা সম্ভব। যেমন: বর্গাকার কোনো কিছুর বৃত্তাকার হওয়া সম্ভব এবং বৃত্তাকার কোনো কিছুর বর্গাকার হওয়া সম্ভব, কিংবা কোনো প্রাণীর আকৃতি অন্য কোনো প্রাণীর আকৃতিতে রূপান্তরিত হওয়া এবং প্রতিটি বস্তুর এক রূপ থেকে অন্য রূপে স্থানান্তরিত হওয়া সম্ভব। সুতরাং কোনো বস্তু বিশেষ কোনো আকৃতি দ্বারা বিশিষ্ট হওয়া তার নিজ সত্তার কারণে বা শুধুমাত্র সেই আকৃতি গ্রহণের সক্ষমতা থাকার কারণে হওয়া সম্ভব নয়। কারণ যদি বিষয়টি এমনই হতো, তবে বস্তুটির পক্ষে সম্ভব সকল আকৃতি একযোগে গ্রহণ করা আবশ্যক হতো এবং ফলে সব ধরণের আকৃতি তার মাঝে একত্রিত হয়ে যেত।
(খণ্ড: ১)
তামহীদুল আওয়াইল ওয়া তালখীসুল দালাইল
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
جَمِيع الأشكال المتضادة وَفِي فَسَاد ذَلِك دَلِيل على بطلَان هَذَا القَوْل وَوُجُوب الْعلم بِأَن كل ذِي شكل مِنْهَا إِنَّمَا حصل كَذَلِك بمؤلف أَلفه وقاصد قصد كَونه كَذَلِكبَاب فِي أَن الْمُحدث لَيْسَ فَاعِلا لنَفسِهِ وَالدَّلِيل على أَنه لَيْسَ بفاعل لنَفسِهِ أَن مِنْهُ الْموَات والأعراض الَّتِي لَا يَصح أَن تحيا وَالْفَاعِل لَا يكون إِلَّا حَيا قَادِرًا وَلِأَن الْحَيّ مِنْهُ كَانَ مواتا فِي بَدْء أمره وجاهلا بِنَفسِهِ وَكَيْفِيَّة تركيبه وَلنْ يجوز أَن يصنع المحكمات إِلَّا حَيّ عَالم قَادر وَلَيْسَ يجوز أَن يكون كل شَيْء مِنْهُ فعل غَيره لِأَن الْمَخْلُوق لَا يفعل فِي غَيره شَيْئا وسنبين ذَلِك فِيمَا بعد إِن شَاءَ الله وَأَيْضًا فَإِنَّهُ لَو صَحَّ أَن يفعل الْمُحدث غَيره وَمَا هُوَ مثل لَهُ لصَحَّ أَن يفعل نَفسه إِذْ كَانَت بِمَعْنى مَا هُوَ فعل لَهُ وَمن جنسه وَلما اسْتَحَالَ ذَلِك بِمَا قدمنَا أَولا صَحَّ أَن لجَمِيع الْعَالم خَالِقًا غَيره لَيْسَ مِنْهُبَاب فِي أَنه لَا يجوز أَن يكون صانع المحدثات مشبها لَهَا وَلَا يجوز أَن يكون صانع المحدثات مشبها لَهَا لِأَنَّهُ لَو أشبههَا لَكَانَ لَا يَخْلُو أَن يشبهها فِي الْجِنْس أَو فِي الصُّورَة وَلَو أشبههَا فِي الْجِنْس لَكَانَ مُحدثا كهي ولكانت قديمَة كَمَا أَنه قديم لِأَن المشتبهين هما مَا سد أَحدهمَا مسد صَاحبه وناب مَنَابه وَدَلِيل ذَلِك أَن السوادين المشتبهين يسدان فِي المنظر مسدا وَاحِدًا وَكَذَلِكَ البياضان والتأليفان وَلَو أشبههَا فِي الصُّورَة والتأليف لم يكن شَيْئا وَاحِد ولوجب أَن يكون لَهُ مُصَور جَامع لِأَن الصُّورَة لَا تقع إِلَّا من مُصَور لما قدمْنَاهُ من قبل ولوجب أَن يكون من جنس الْجَوَاهِر المتماسة وَأَن يكون مُحدثا كهي وَذَلِكَ محَال
সমস্ত বিপরীতমুখী আকৃতিসমূহ এবং এর অসারতার মধ্যেই এই বক্তব্যের অসারতার প্রমাণ নিহিত। এটি জানা আবশ্যক যে, এগুলোর মধ্যে প্রতিটি আকৃতি বিশিষ্ট সত্তা কেবল একজন বিন্যাসকারীর মাধ্যমেই সেরূপ হয়েছে যিনি তা বিন্যাস করেছেন এবং একজন সংকল্পকারীর মাধ্যমেই হয়েছে যিনি তা সেরূপ হওয়ার সংকল্প করেছেন।পরিচ্ছেদ: সৃষ্টি বা যা নতুনভাবে অস্তিত্বে এসেছে তা নিজের স্রষ্টা নয় এটি নিজের স্রষ্টা না হওয়ার প্রমাণ হলো, এর মধ্যে এমন সব জড় পদার্থ ও ক্ষণস্থায়ী গুণাবলি রয়েছে যাদের জীবিত হওয়া সম্ভব নয়, অথচ কর্তা কেবল জীবিত ও ক্ষমতাবানই হয়ে থাকে। তদুপরি, সৃষ্টির মধ্যে যা জীবিত তা তার সূচনালগ্নে জড় ছিল এবং নিজের সম্পর্কে ও নিজের গঠনের প্রকৃতি সম্পর্কে অজ্ঞ ছিল। আর প্রাণময়, জ্ঞানী ও ক্ষমতাবান সত্তা ব্যতীত কোনো নিপুণ বস্তু নির্মাণ করা সম্ভব নয়। আর সৃষ্টির প্রতিটি বস্তু অন্যের কাজ হওয়াও সম্ভব নয়, কারণ সৃষ্টি অন্য কিছুর ওপর কোনো প্রভাব বা কাজ সৃষ্টি করতে পারে না। ইনশাআল্লাহ আমরা পরবর্তীতে এটি ব্যাখ্যা করব। তদুপরি, যদি নতুনভাবে অস্তিত্বে আসা কোনো বস্তু তার সদৃশ অন্য কোনো বস্তু সৃষ্টি করা সঠিক হতো, তবে তার জন্য নিজেকে সৃষ্টি করাও সঠিক হতো। কারণ সেটি তার কাজের অর্থেই এবং সমগোত্রীয়। যেহেতু পূর্বে বর্ণিত দলীল অনুযায়ী তা অসম্ভব সাব্যস্ত হয়েছে, তাই এটি প্রমাণিত হলো যে, সমগ্র জগতের একজন স্রষ্টা আছেন যিনি জগত থেকে ভিন্ন এবং জগতের অন্তর্ভুক্ত নন।পরিচ্ছেদ: নতুনভাবে অস্তিত্বে আসা বস্তুসমূহের কারিগর তাদের সদৃশ হওয়া অসম্ভব নতুনভাবে অস্তিত্বে আসা বস্তুসমূহের নির্মাতার পক্ষে তাদের সদৃশ হওয়া বৈধ নয়। কারণ তিনি যদি তাদের সদৃশ হতেন, তবে হয় তিনি তাদের স্বজাতীয় হতেন অথবা তাদের রূপের সদৃশ হতেন। যদি তিনি স্বজাতীয় হতেন, তবে তিনি তাদের মতোই নতুন বা সৃষ্টি হতেন, অথবা তারা তাঁর মতোই অনাদি হতো। কেননা সদৃশ বস্তু হলো তা-ই যেখানে একটি অন্যটির স্থান দখল করে এবং অন্যটির স্থলাভিষিক্ত হয়। এর প্রমাণ হলো, দুটি সদৃশ কালো রঙ দর্শনের ক্ষেত্রে একই স্থান দখল করে, অনুরূপ দুটি সাদা রঙ এবং দুটি বিন্যাসও। আর যদি তিনি রূপ ও কাঠামোগত বিন্যাসের দিক থেকে তাদের সদৃশ হতেন, তবে তিনি এক ও একক সত্তা হতেন না এবং সেক্ষেত্রে তাঁর জন্য একজন রূপদানকারী ও একত্রকারীর প্রয়োজন অবধারিত হতো। কেননা আমরা পূর্বে যা বর্ণনা করেছি সেই অনুযায়ী, রূপদানকারী ব্যতীত কোনো রূপের উদ্ভব ঘটে না। সেক্ষেত্রে এটিও অনিবার্য হতো যে, তিনি স্পর্শযোগ্য মৌলিক পদার্থের সমগোত্রীয় হবেন এবং তাদের মতোই নতুন বা সৃষ্টি হবেন; আর এটি অসম্ভব।
(খণ্ড: ১)
তামহীদুল আওয়াইল ওয়া তালখীসুল দালাইল
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
بَاب فِي أَنه لَا يجوز أَن يكون فَاعل المحدثات مُحدثا وَلَا يجوز أَن يكون فَاعل المحدثات مُحدثا بل يجب أَن يكون قَدِيما وَالدَّلِيل على ذَلِك أَنه لَو كَانَ مُحدثا لاحتاج إِلَى مُحدث لِأَن غَيره من الْحَوَادِث إِنَّمَا احْتَاجَ إِلَى مُحدث من حَيْثُ كَانَ مُحدثا وَكَذَلِكَ القَوْل فِي محدثه إِن كَانَ مُحدثا فِي وجوب حَاجته إِلَى مُحدث آخر وَذَلِكَ محَال لِأَنَّهُ كَانَ يَسْتَحِيل وجود شَيْء من الْحَوَادِث إِذا كَانَ وجوده مَشْرُوطًا بِوُجُود لَا غَايَة لَهُ من الْحَوَادِث شَيْئا قبل شَيْء وَهَذَا هُوَ الدَّلِيل على إبِْطَال قَول من زعم من أهل الدَّهْر أَن الْحَوَادِث لَا أول لوجودهابَاب الْكَلَام فِي أَن صانع الْعَالم وَاحِد وَلَيْسَ يجوز أَن يكون صانع الْعَالم اثْنَيْنِ وَلَا أَكثر من ذَلِك وَالدَّلِيل على ذَلِك أَن الِاثْنَيْنِ يَصح أَن يختلفا وَيُوجد أَحدهمَا ضد مُرَاد الآخر فَلَو اخْتلفَا وَأَرَادَ أَحدهمَا إحْيَاء جسم وَأَرَادَ الآخر إماتته لوَجَبَ أَن يلحقهما الْعَجز أَو وَاحِدًا مِنْهُمَا لِأَنَّهُ محَال أَن يتم مَا يُريدَان جَمِيعًا لتضاد مراديهما فَوَجَبَ أَن لَا يتما أَو يتم مُرَاد أَحدهمَا فَيلْحق من لم يتم مُرَاده الْعَجز أَو لَا يتم مرادهما فيلحقهما الْعَجز وَالْعجز من سمات الْحَدث وَالْقَدِيم الْإِلَه لَا يجوز أَن يكون عَاجِزابَاب فِي أَن صانع الْعَالم حَيّ فَإِن قَالَ قَائِل فَمَا الدَّلِيل على أَن صانع الْأَشْيَاء حَيّ قيل لَهُ الدَّلِيل على ذَلِك أَنه فَاعل عَالم قَادر وَالْفَاعِل الْعَالم الْقَادِر لَا يكون إِلَّا حَيايبين ذَلِك أَنه لَو جَازَ أَن تظهر الْأَفْعَال المحكمات مِمَّن لَيْسَ بحي وَلَا عَالم وَلَا
সৃষ্টিসমূহের কর্তার সৃজিত হওয়া অসম্ভব হওয়া বিষয়ক অনুচ্ছেদ সৃষ্টিসমূহের কর্তার সৃজিত হওয়া বৈধ নয়, বরং তাঁর অনাদি হওয়া আবশ্যক। এর দলিল হলো এই যে, তিনি যদি সৃজিত হতেন তবে তাঁরও একজন স্রষ্টার প্রয়োজন হতো; কারণ অন্যান্য সৃষ্টিসমূহ সৃজিত হওয়ার কারণেই স্রষ্টার মুখাপেক্ষী হয়েছে। তদ্রূপ তাঁর স্রষ্টা সম্পর্কেও একই কথা প্রযোজ্য হবে যে, যদি তিনিও সৃজিত হন তবে তাঁরও অন্য একজন স্রষ্টার মুখাপেক্ষী হওয়া আবশ্যক হবে। আর এটি অসম্ভব; কারণ কোনো সৃষ্টির অস্তিত্ব লাভ করাই অসম্ভব হয়ে পড়ত যদি তার অস্তিত্ব অসীম সংখ্যক সৃষ্টির অস্তিত্বের ওপর শর্তযুক্ত হতো, যেখানে একটির পূর্বে আরেকটি অবস্থান করে। দাহরিয়া সম্প্রদায়ের (কালবাদীদের) সেই দাবি বাতিল করার পক্ষে এটিই দলিল, যারা মনে করে যে সৃষ্টিজগতের অস্তিত্ব লাভের কোনো সূচনা নেই।বিশ্বজগতের কারিগর এক হওয়া বিষয়ক আলোচনা বিশ্বজগতের স্রষ্টা দুজন বা তার অধিক হওয়া বৈধ নয়। এর দলিল হলো এই যে, দুজন হওয়ার ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে মতবিরোধ হওয়া এবং একজনের ইচ্ছা অন্যজনের ইচ্ছার বিপরীতে হওয়া সম্ভব। সুতরাং যদি তারা মতবিরোধ করেন এবং একজন কোনো শরীরকে জীবিত করতে চান আর অন্যজন তাকে মৃত্যু দিতে চান, তবে হয় উভয়েই অক্ষমতায় পতিত হবেন অথবা তাদের একজন অক্ষম হবেন। কারণ তাদের উভয়ের উদ্দেশ্য পূর্ণ হওয়া অসম্ভব, যেহেতু তাদের ইচ্ছা পরস্পরবিরোধী। অতএব, আবশ্যক হলো হয় তাদের কারও উদ্দেশ্যই পূর্ণ হবে না, অথবা একজনের উদ্দেশ্য পূর্ণ হবে; যার ফলে যার উদ্দেশ্য পূর্ণ হলো না সে অক্ষমতায় পর্যবসিত হবে। অথবা উভয়ের উদ্দেশ্যই পূর্ণ হবে না, ফলে উভয়েই অক্ষম বলে গণ্য হবেন। আর অক্ষমতা হলো সৃষ্টির বৈশিষ্ট্য, এবং অনাদি ইলাহ অক্ষম হওয়া অসম্ভব।বিশ্বজগতের কারিগর চিরঞ্জীব হওয়া বিষয়ক অনুচ্ছেদ যদি কেউ প্রশ্ন করে যে, বস্তুসমূহের কারিগর যে জীবিত—তার দলিল কী? তাকে বলা হবে: এর দলিল হলো এই যে, তিনি এমন এক কর্তা যিনি মহাজ্ঞানী ও সর্বশক্তিমান; আর মহাজ্ঞানী ও সর্বশক্তিমান কর্তা চিরঞ্জীব না হয়ে পারেন না।এটি এভাবেই স্পষ্ট হয় যে, যদি এমন কারো পক্ষ থেকে সুনিপুণ কর্মসমূহ প্রকাশ পাওয়া সম্ভব হতো যে জীবিত নয় বা জ্ঞানী নয় বা
(খণ্ড: ১)
তামহীদুল আওয়াইল ওয়া তালখীসুল দালাইল
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
قَادر لم ندر لَعَلَّ مَا يظْهر من النَّاس من الْكِتَابَة والصياغة وَسَائِر التَّصَرُّف يظْهر مِنْهُم وهم موتى جماد عَجزه وَلم نذر لَعَلَّ السَّائِل لنا عَن هَذَا السُّؤَال المناظر لنا على تَصْحِيح مذْهبه وَإِبْطَال قَوْلنَا ميت أَو موَات وَهَذَا تجاهل من رَاكِبه وَجحد لما نَحن إِلَى إثْبَاته مضطرون فَوَجَبَ أَن يكون الصَّانِع عَالما قَادِرًا حَيابَاب فِي أَن الصَّانِع عَالمفَإِن قَالَ قَائِل وَمَا الدَّلِيل على صِحَة مَا تذهبون إِلَيْهِ فِي أَنه عَالم قيل لَهُ يدل على ذَلِك وجود الْأَفْعَال المحكمات مِنْهُ لِأَن الْأَفْعَال المحكمات لَا تقع منا على تَرْتِيب ونظام كالصياغة وَالتِّجَارَة وَالْكِتَابَة والنساجة إِلَّا من عَالم وأفعال الله تَعَالَى أدق وَأحكم فَكَانَت أولى بِأَن تدل على أَنه حَيّ عَالمبَاب فِي أَن الصَّانِع سميع بَصِير مُتَكَلم فَإِن قَالَ قَائِل فَمَا الدَّلِيل على أَنه سميع بَصِير مُتَكَلم قيل لَهُ الدَّلِيل على ذَلِك أَنه قد ثَبت أَنه حَيّ بِمَا وصفناه والحي يَصح أَن يكون متكلما سميعا بَصيرًا وَمَتى عري من هَذِه الْأَوْصَاف مَعَ صِحَة وَصفه بهَا فَلَا بُد من أَن يكون مَوْصُوفا بأضدادها من الخرس وَالسُّكُوت والعمى والصمم وكل هَذِه الْأُمُور آفَات قد اتّفق على أَنَّهَا تدل على حدث الْمَوْصُوف بهَا فَلم يجز وصف الْقَدِيم بِشَيْء مِنْهَا فَوَجَبَ أَن يكون سميعا بَصيرًا متكلما
সক্ষম, আমরা জানি না সম্ভবত মানুষের পক্ষ থেকে যে লেখালেখি, কারুকার্য এবং অন্যান্য কর্মকাণ্ড প্রকাশ পায়, তা তাদের পক্ষ থেকে এমন অবস্থায় প্রকাশ পায় যখন তারা মৃত, জড় পদার্থ ও অক্ষম। আমরা জানি না সম্ভবত এই প্রশ্নকারী যে আমাদের সাথে তার মতবাদ সঠিক করা এবং আমাদের বক্তব্য বাতিল করার বিষয়ে বিতর্ক করছে, সে মৃত বা প্রাণহীন। এটি গ্রহণকারীর পক্ষ থেকে একটি অজ্ঞতা এবং এমন বিষয়ের অস্বীকার যা প্রমাণ করতে আমরা বাধ্য। সুতরাং এটি আবশ্যক যে স্রষ্টা জ্ঞানী, সক্ষম ও চিরঞ্জীব।পরিচ্ছেদ: স্রষ্টা জ্ঞানী হওয়া প্রসঙ্গেযদি কোনো প্রশ্নকারী বলে, "তিনি যে জ্ঞানী—এ বিষয়ে আপনাদের মতবাদের নির্ভুলতার প্রমাণ কী?" তবে তাকে বলা হবে: তাঁর পক্ষ থেকে সুনিপুণ কার্যাবলীর অস্তিত্বই এর প্রমাণ। কারণ সুনিপুণ কার্যাবলী যেমন কারুকার্য, ব্যবসা, লেখালেখি এবং বয়নশিল্প আমাদের পক্ষ থেকে কোনো শৃঙ্খলা ও নিয়ম অনুযায়ী সম্পন্ন হয় না একজন জ্ঞানী ব্যক্তি ছাড়া। আর মহান আল্লাহর কার্যাবলী তো আরও সূক্ষ্ম ও সুনিপুণ, তাই সেগুলো তিনি যে চিরঞ্জীব ও জ্ঞানী—তা প্রমাণ করার অধিকতর যোগ্য।পরিচ্ছেদ: স্রষ্টা শ্রবণকারী, দর্শনকারী ও কথা বলেন এমন হওয়া প্রসঙ্গে যদি কোনো প্রশ্নকারী বলে, "তবে তিনি যে শ্রবণকারী, দর্শনকারী ও কথা বলেন—তার প্রমাণ কী?" তবে তাকে বলা হবে: এর প্রমাণ হলো আমাদের বর্ণনা অনুযায়ী এটি প্রমাণিত হয়েছে যে তিনি চিরঞ্জীব। আর যিনি চিরঞ্জীব, তাঁর ক্ষেত্রে কথা বলা, শ্রবণ করা এবং দর্শন করা সম্ভব। যখন তিনি এই গুণাবলি ধারণ করার যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও তা থেকে শূন্য হবেন, তখন অবশ্যই তাঁকে এর বিপরীত গুণাবলি যেমন বাকহীনতা, নীরবতা, অন্ধত্ব এবং বধিরতা দ্বারা গুণান্বিত হতে হবে। আর এ সকল বিষয় হলো ত্রুটি, যা যার মধ্যে পাওয়া যায় তার নশ্বরতা বা নতুনভাবে সৃষ্টি হওয়ার প্রমাণ দেয় বলে সর্বসম্মতভাবে স্বীকৃত। সুতরাং অনাদি সত্তাকে এগুলোর কোনোটি দ্বারা গুণান্বিত করা বৈধ নয়। অতএব এটি আবশ্যক যে তিনি শ্রবণকারী, দর্শনকারী ও কথা বলেন।
(খণ্ড: ১)
তামহীদুল আওয়াইল ওয়া তালখীসুল দালাইল
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
بَاب فِي أَنه مُرِيد فَإِن قَالَ قَائِل فَمَا الدَّلِيل على أَنه مُرِيد قيل لَهُ وجود الْأَفْعَال مِنْهُ وَتقدم بَعْضهَا على بعض فِي الْوُجُود وَتَأَخر بَعْضهَا عَن بعض فِي الْوُجُود فلولا أَنه قصد إِلَى إِيجَاد مَا أوجد مِنْهَا لما وجد وَلَا تقدم من ذَلِك مَا تقدم وَلَا تَأَخّر مِنْهُ مَا تَأَخّر مَعَ صِحَة تقدمه بَدَلا من تَأَخره وتأخره بَدَلا من تقدمهبَاب فِي الرِّضَا وَالْغَضَب وأنهما من الْإِرَادَة فَإِن قَالَ قَائِل فَهَل تَقولُونَ إِنَّه تَعَالَى غَضْبَان رَاض وَإنَّهُ مَوْصُوف بذلك قيل لَهُ أجل وغضبه على من غضب عَلَيْهِ وَرضَاهُ عَمَّن رَضِي عَنهُ هما إِرَادَته لإثابة المرضي عَنهُ وعقوبة المغضوب عَلَيْهِ لَا غير ذَلِكفَإِن قَالَ قَائِل فَمَا الدَّلِيل على أَن غضب الْبَارِي جلّ وَعز وَرضَاهُ وَرَحمته وَسخطه هُوَ إِرَادَته لإثابة المرضي عَنهُ ولمنفعة من رَضِي عَنهُ وعقاب من غضب عَلَيْهِ وإيلامه وضرره قيل لَهُ الدَّلِيل على ذَلِك أَن الْغَضَب وَالرِّضَا إِمَّا أَن يَكُونَا إِرَادَة للنفع والضر أَو يكون الْغَضَب تغير الطَّبْع ونفور النَّفس والرضى السّكُون بعد تغير الطَّبْع وَلَا يجوز أَن يكون الْبَارِي جلّ وَعز ذَا طبع يتَغَيَّر وينفر ويسكن وَلَا مِمَّن يألم ويرق من حَيْثُ ثَبت قدمه وغناه عَن اللَّذَّة وَامْتِنَاع تألمه بِشَيْء ينفر عَنهُ ويتألم لإدراكه إِذْ لَيست هَذِه الْأَشْيَاء من جنسه وشكله أَو مضادة لَهُ أَو منافرة
তিনি যে ইচ্ছুক (মুরীদ) সে বিষয়ের পরিচ্ছেদ যদি কোনো প্রশ্নকারী জিজ্ঞাসা করেন যে, তিনি যে ইচ্ছুক তার দলীল কী? তাকে বলা হবে: তাঁর পক্ষ থেকে কাজসমূহের অস্তিত্ব লাভ করা এবং অস্তিত্বের ক্ষেত্রে সেগুলোর কতককে কতকের আগে আসা এবং কতককে কতকের পরে হওয়া। সুতরাং তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তা সৃষ্টির ইচ্ছা যদি তাঁর না থাকত, তবে তা অস্তিত্ব লাভ করত না। আর যে সব কাজ আগে হয়েছে তা আগে হতো না এবং যা পরে হয়েছে তা পরে হতো না, অথচ আগের কাজ পরে হওয়া এবং পরের কাজ আগে হওয়াও সম্ভব ছিল।সন্তুষ্টি ও ক্রোধ এবং এ দু’টি যে ইচ্ছার (ইরাদা) অন্তর্ভুক্ত, সে বিষয়ের পরিচ্ছেদ যদি কোনো প্রশ্নকারী জিজ্ঞাসা করেন যে, আপনারা কি বলেন যে আল্লাহ তাআলা রাগান্বিত হন এবং সন্তুষ্ট হন এবং তিনি এ গুণে গুণান্বিত? তাকে বলা হবে: হ্যাঁ। আর যার প্রতি তিনি ক্রোধান্বিত হন তার প্রতি তাঁর ক্রোধ এবং যার প্রতি তিনি সন্তুষ্ট হন তার প্রতি তাঁর সন্তুষ্টি মূলত যার প্রতি তিনি সন্তুষ্ট তাকে পুরস্কৃত করার ইচ্ছা এবং যার প্রতি তিনি ক্রোধান্বিত তাকে শাস্তি প্রদানের ইচ্ছা ব্যতীত আর কিছু নয়।যদি কোনো প্রশ্নকারী জিজ্ঞাসা করেন যে, স্রষ্টা জাল্লা ওয়া আয্য-এর ক্রোধ, সন্তুষ্টি, রহমত এবং অসন্তুষ্টি যে মূলত যার প্রতি তিনি সন্তুষ্ট তাকে পুরস্কৃত করার ও তাকে উপকৃত করার ইচ্ছা এবং যার প্রতি তিনি ক্রোধান্বিত তাকে শাস্তি প্রদান, যাতনা ও ক্ষতি করার ইচ্ছা—তার দলীল কী? তাকে বলা হবে: এর দলীল হলো, ক্রোধ ও সন্তুষ্টি হয় উপকার ও অপকার করার ইচ্ছা হবে, নতুবা ক্রোধ হলো স্বভাবের পরিবর্তন ও প্রবৃত্তির বিরাগ হওয়া এবং সন্তুষ্টি হলো স্বভাব পরিবর্তনের পর শান্ত হওয়া। আর স্রষ্টা জাল্লা ওয়া আয্য এমন কোনো স্বভাবের অধিকারী হওয়া অসম্ভব যা পরিবর্তিত হয়, বিরাগ হয় বা শান্ত হয়; এবং তিনি এমন কেউ নন যিনি যাতনা পান বা বিগলিত হন। কারণ তাঁর অনাদিত্ব এবং তৃপ্তি বা আনন্দ থেকে তাঁর অমুখাপেক্ষিতা সাব্যস্ত হয়েছে। আর তাঁর পক্ষে এমন কোনো কিছু দ্বারা কষ্ট পাওয়া অসম্ভব যা থেকে তিনি বিমুখ হন বা যা অনুভবের কারণে কষ্ট পান; যেহেতু এই বিষয়গুলো তাঁর সমজাতীয় বা সদৃশ নয়, কিংবা তাঁর বিরোধী বা প্রতিকূল নয়।
(খণ্ড: ১)
তামহীদুল আওয়াইল ওয়া তালখীসুল দালাইল
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
لصفاته لما قَامَ من الدَّلِيل على أَنه لَيْسَ بِذِي جنس وَلَا نوع وَلَا شكل وَلَا ملتذ وَلَا متألم وَلَا منتفع وَلَا مستضر فَثَبت بذلك أَن رِضَاهُ وغضبه وَسخطه إِنَّمَا هِيَ إِرَادَته وقصده إِلَى نفع من الْمَعْلُوم أَنه يَنْفَعهُ وضرر من سبق علمه وَخَبره أَنه يضرّهُ لَا غير ذَلِك وَكَذَلِكَ الْحبّ والبغض وَالْولَايَة والعداوة هُوَ نفس الْإِرَادَة للنفع والأضرار فَقَطمَسْأَلَة فِي أَنه لَا يجوز عَلَيْهِ الشَّهْوَةفَإِن قَالَ قَائِل فَهَل تجوز عَلَيْهِ الشَّهْوَة قيل لَهُ إِن أَرَادَ السَّائِل بوصفه بالشهوة الْإِرَادَة لأفعاله فَذَلِك صَحِيح فِي الْمَعْنى غير أَنه قد أَخطَأ وَخَالف الْأمة فِي وَصفه الْقَدِيم بالشهوة إِذْ لم يكن ذَلِك من أَوْصَافه وأسمائه وَإِن أَرَادَ بوصفه بالشهوة توقان النَّفس وميل الطَّبْع إِلَى الْمَنَافِع وَاللَّذَّات فَذَلِك محَال مُمْتَنع عَلَيْهِ لما قد مر من قبلبَاب فِي أَنه لم يزل حَيا عَالما قَادِرًا سميعا بَصيرًا متكلما مرِيدا فَإِن قَالَ قَائِل وَلم زعمتم أَن الصَّانِع لم يزل حَيا عَالما قَادِرًا سميعا بَصيرًا متكلما مرِيدا كَمَا أَنه الْيَوْم مَوْصُوف بذلك قيل لَهُ لِأَنَّهُ لَو كَانَ فِيمَا لم يزل غير حَيّ وَلَا عَالم وَلَا قَادر وَلَا سميع وَلَا بَصِير وَلَا مُتَكَلم وَلَا مُرِيد لَكَانَ لم يزل مَيتا عَاجِزا أخرس ساكتا فتعالى عَن ذَلِكوَلَو كَانَ لم يزل مَوْصُوفا بِالْمَوْتِ الَّذِي يضاد الْحَيَاة وَالْعلم وَالْقُدْرَة لَكَانَ إِنَّمَا يُوصف بذلك لنَفسِهِ أَو لعِلَّة قديمَة وَلَو كَانَ لنَفسِهِ كَذَلِك لاستحال أَن يحيا مَا دَامَت
তাঁর গুণাবলির ক্ষেত্রে, যেহেতু প্রমাণ দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে তিনি কোনো লিঙ্গ বা জাতি, প্রকার বা আকৃতির অন্তর্ভুক্ত নন এবং তিনি আনন্দভোগকারী, ব্যথাপ্রাপ্ত, উপকৃত বা ক্ষতিগ্রস্ত নন; তাই এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, তাঁর সন্তুষ্টি, ক্রোধ ও অসন্তুষ্টি মূলত তাঁর সেই ইচ্ছা ও সংকল্প যা দ্বারা তিনি তাকেই উপকার করেন যাকে উপকার করবেন বলে পরিজ্ঞাত এবং তাকেই ক্ষতিগ্রস্ত করেন যার ব্যাপারে তাঁর পূর্বজ্ঞান ও সংবাদ অনুযায়ী তিনি ক্ষতি করবেন, এ ছাড়া অন্য কিছু নয়। একইভাবে ভালোবাসা ও ঘৃণা এবং বন্ধুত্ব ও শত্রুতা কেবল উপকার ও অপকার করার ইচ্ছাই মাত্র।আকাঙ্ক্ষা বা লালসা তাঁর জন্য জায়েজ না হওয়ার বিষয়ে মাসয়ালাযদি কেউ প্রশ্ন করে: তাঁর জন্য কি আকাঙ্ক্ষা জায়েজ? তাকে বলা হবে: প্রশ্নকারী যদি আকাঙ্ক্ষা গুণের মাধ্যমে তাঁর কার্যাবলির 'ইচ্ছা' উদ্দেশ্য করে থাকেন, তবে অর্থের দিক থেকে তা সঠিক, কিন্তু অনাদি সত্তাকে 'আকাঙ্ক্ষা' দ্বারা গুণান্বিত করার ক্ষেত্রে তিনি ভুল করেছেন এবং উম্মতের ইজমার বিরোধিতা করেছেন; কারণ এটি তাঁর গুণাবলি বা নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত নয়। আর তিনি যদি আকাঙ্ক্ষা গুণের মাধ্যমে আত্মার লালসা এবং উপকার ও আনন্দের প্রতি স্বভাবজাত ঝোঁক উদ্দেশ্য করেন, তবে তা তাঁর জন্য অসম্ভব ও নিষিদ্ধ, যা ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে।তিনি অনাদিকাল থেকেই চিরঞ্জীব, সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান, সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা, বাকশক্তিসম্পন্ন ও ইচ্ছাকারী হওয়ার পরিচ্ছেদ যদি কেউ প্রশ্ন করে: আপনারা কেন মনে করেন যে স্রষ্টা অনাদিকাল থেকেই চিরঞ্জীব, সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান, সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা, বাকশক্তিসম্পন্ন ও ইচ্ছাকারী, যেমনটি তিনি বর্তমানে এসব গুণে গুণান্বিত? তাকে বলা হবে: কারণ তিনি যদি অনাদিকালে জীবিত, জ্ঞানী, সক্ষম, শ্রবণকারী, দর্শক, বাকশক্তিসম্পন্ন এবং ইচ্ছাকারী না হতেন, তবে তিনি অনাদিকাল থেকে মৃত, অক্ষম, বাকহীন ও নীরব থাকতেন; মহান আল্লাহ তা থেকে বহুগুণ ঊর্ধ্বে।আর যদি তিনি অনাদিকাল থেকে মৃত্যু দ্বারা গুণান্বিত হতেন যা জীবন, জ্ঞান ও ক্ষমতার বিপরীত, তবে তিনি এর দ্বারা গুণান্বিত হতেন তাঁর সত্তাগত কারণে অথবা কোনো অনাদি হেতুর কারণে। যদি তা তাঁর সত্তাগত কারণেই হতো, তবে যতক্ষণ তাঁর সত্তা বিদ্যমান থাকতো ততক্ষণ তাঁর জীবিত হওয়া অসম্ভব হতো।
(খণ্ড: ১)
তামহীদুল আওয়াইল ওয়া তালখীসুল দালাইল
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
نَفسه كائنة وَكَذَلِكَ لَو كَانَ على مَا ذكرالسائل لعِلَّة قديمَة لاستحال أَن يحيا الْيَوْم لِاسْتِحَالَة عدم مَوته الْقَدِيم لِأَن الْقَدِيم لَا يجوز عَدمه وَإِذا اسْتَحَالَ ذَلِك اسْتَحَالَ أَن يفعل وَيُوجد مِنْهُ مَا يدل على أَنه الْيَوْم حَيّ قَادر وَفِي صِحَة ذَلِك مِنْهُ ووجوده دَلِيل على أَنه لم يزل حَيا وَكَذَلِكَ لَو كَانَ لم يزل حَيا وَهُوَ غير مُتَكَلم وَلَا سميع وَلَا بَصِير وَلَا مُرِيد وَلَا عَالم وَلَا قَادر لوَجَبَ أَن يُوصف بأضداد هَذِه الصِّفَات فِي أزله من الخرس وَالسُّكُوت والصمم والعمى والاستكراه والسهو وَالْجهل وَالْعجز فتعالى عَن ذَلِك أجمعوَلَو كَانَ لم يزل مَوْصُوفا بِهَذِهِ الْأَوْصَاف لنَفسِهِ أَو لِمَعْنى قديم لاستحال خُرُوجه عَنْهَا وَوَصفه بضدها لِاسْتِحَالَة عدم الْقَدِيم ولوجب أَن يكون فِي وقتنا هَذَا غير حَيّ وَلَا عَالم وَلَا قَادر وَلَا سميع وَلَا بَصِير وَذَلِكَ خلاف إِجْمَاع الْمُسلمينبَاب فِي أَن الْقَدِيم لَا يجوز عَلَيْهِ الْعَدَم فَإِن قَالَ قَائِل وَلم قُلْتُمْ إِن الْقَدِيم لَا يجوز أَن يعْدم قيل لَهُ لأجل أَنه لَو عدم لصَحَّ وجوده بعد عَدمه على سَبِيل الْحُدُوث كَمَا أَنه قد صَحَّ لَهُ الْوُجُود من قبل فَلَو حدث لَكَانَ مُحدثا لنَفسِهِ قَدِيما لنَفسِهِ إِذْ لنَفسِهِ كَانَ قَدِيما وَنَفسه قد وجدت لما حدثت وَهِي تِلْكَ النَّفس بِعَينهَا ومحال أَن يكون الْقَدِيم قَدِيما لنَفسِهِ مُحدثا لنَفسِهِ كَمَا يَسْتَحِيل أَن يكون السوَاد سوادا لنَفسِهِ بَيَاضًا لنَفسِهِوَيدل على ذَلِك أَيْضا أَنه لَو جَازَ عدم الْقَدِيم بعد وجوده لوَجَبَ أَن تكون
তার সত্তা বিদ্যমান। তদ্রূপ, প্রশ্নকারী যা উল্লেখ করেছে তা যদি কোনো অনাদি কারণের ওপর ভিত্তি করে হতো, তবে তাঁর পক্ষে আজ জীবিত থাকা অসম্ভব হতো। কারণ তাঁর অনাদি মৃত্যু না হওয়া অসম্ভব হতো; যেহেতু যা অনাদি তার বিলুপ্তি জায়েয নয়। আর যখন তা অসম্ভব হতো, তখন তাঁর পক্ষ থেকে এমন কিছু করা বা এমন কিছু প্রকাশ পাওয়া অসম্ভব হতো যা নির্দেশ করে যে তিনি আজ চিরঞ্জীব ও সর্বশক্তিমান। তাঁর পক্ষ থেকে এর বিশুদ্ধতা ও অস্তিত্বই প্রমাণ করে যে তিনি অনাদিকাল থেকেই চিরঞ্জীব। একইভাবে, তিনি যদি অনাদিকাল থেকেই চিরঞ্জীব হতেন অথচ বাকশক্তিহীন, শ্রবণশক্তিহীন, দৃষ্টিশক্তিহীন, ইচ্ছাশক্তিহীন, জ্ঞানহীন ও ক্ষমতাহীন হতেন—তবে অনাদিকালে তাঁকে এসব গুণাবলির বিপরীত গুণ তথা বোবা হওয়া, নীরব থাকা, বধিরতা, অন্ধত্ব, অনিচ্ছা, বিস্মৃতি, অজ্ঞতা এবং অক্ষমতা দ্বারা বিশেষিত করা আবশ্যক হতো। আল্লাহ এই সবকিছু থেকে অতীব পবিত্র ও মহান।যদি তিনি অনাদিকাল থেকেই তাঁর সত্তার কারণে অথবা কোনো অনাদি অর্থের কারণে এই গুণাবলি দ্বারা বিশেষিত হতেন, তবে তা থেকে তাঁর বেরিয়ে আসা এবং এর বিপরীতে বিশেষিত হওয়া অসম্ভব হতো; কারণ অনাদি বিষয়ের অস্তিত্বহীন হওয়া অসম্ভব। আর সেক্ষেত্রে বর্তমান সময়ে তাঁর জীবিত না থাকা, জ্ঞানী না থাকা, ক্ষমতাবান না থাকা, শ্রবণকারী না থাকা এবং দ্রষ্টা না থাকা আবশ্যক হয়ে পড়ত, যা মুসলিমদের ঐকমত্যের পরিপন্থী।পরিচ্ছেদ: অনাদি সত্তার ওপর অস্তিত্বহীনতা বা ধ্বংস প্রযোজ্য না হওয়া প্রসঙ্গে যদি কোনো প্রশ্নকারী বলে, "আপনারা কেন বলছেন যে অনাদি সত্তার বিলুপ্তি বা ধ্বংস হওয়া সম্ভব নয়?" তবে তাকে বলা হবে—এজন্য যে, যদি তা বিলুপ্ত হতো তবে বিলুপ্তির পরে নতুনভাবে অস্তিত্ব লাভ করা সম্ভব হতো, যেমন ইতিপূর্বে তাঁর অস্তিত্ব সম্ভব ছিল। যদি তা নতুনভাবে সৃষ্টি হতো, তবে তিনি নিজেই নিজের স্রষ্টা হতেন এবং নিজেই অনাদি হতেন; যেহেতু তিনি সত্তাগতভাবেই অনাদি ছিলেন এবং নতুন সৃষ্টির সময় সেই একই সত্তার অস্তিত্ব পাওয়া যেত। অথচ অনাদি সত্তার পক্ষে একই সাথে সত্তাগতভাবে অনাদি হওয়া এবং সত্তাগতভাবে নব্যসৃষ্ট হওয়া অসম্ভব, যেমন কালো রঙের পক্ষে একই সাথে সত্তাগতভাবে কালো হওয়া এবং সত্তাগতভাবে সাদা হওয়া অসম্ভব।এর ওপর আরও প্রমাণ হলো যে, অনাদি সত্তার অস্তিত্বের পর যদি তার বিলুপ্তি হওয়া সম্ভব হতো, তবে তা আবশ্যক হতো যে—
(খণ্ড: ১)
তামহীদুল আওয়াইল ওয়া তালখীসুল দালাইল
(পৃষ্ঠা: ৫০)
ذَاته مِمَّا يَصح عَلَيْهَا الْعَدَم تَارَة والوجود أُخْرَى وَلَو كَانَت كَذَلِك لجرت مجْرى سَائِر الذوات المحدثات الَّتِي يجوز عَلَيْهَا الْعَدَم تَارَة والوجود أُخْرَى وَلَو كَانَت كَذَلِك لاحتاجت إِلَى موجد يوجدها كَمَا أَن الْحَوَادِث الَّتِي هَذِه سَبِيلهَا لَا تكون بالوجود أولى مِنْهَا بِالْعدمِ إِلَّا عِنْد قصد قَاصد وَإِرَادَة مُرِيد تكون مَوْجُودَة بإرادته ومتعلقة بمشيئتهفَلَمَّا لم يجز تعلق الْقَدِيم بمحدث لم يجز عَلَيْهِ الْعَدَم بعد وجودهبَاب فِي أَن صنع الله للْعَالم لَيْسَ لغَرَض فَإِن قَالَ قَائِل فَهَل تَقولُونَ إِن صانع الْعَالم صنعه بعد أَن لم يصنعه لداع دَعَاهُ إِلَى فعله ومحرك حركه وباعث بَعثه وغرض أزعجه وخاطر اقْتضى وجود الْحَوَادِث مِنْهُ أم صنعه لَا لشَيْء مِمَّا سَأَلت عَنهُ قيل إِنَّه تَعَالَى صنع الْعَالم لَا لشَيْء مِمَّا سَأَلت عَنهُ فَإِن قيل وَمَا الدَّلِيل على ذَلِك قيل الدَّلِيل عَلَيْهِ أَن الدَّوَاعِي المزعجات والخواطر والأغراض إِنَّمَا تكون وَتجوز على ذِي الْحَاجة الَّذِي يَصح مِنْهُ اجتلاب الْمَنَافِع وَدفع المضار وَذَلِكَ أَمر لَا يجوز إِلَّا على من جَازَت عَلَيْهِ الآلام وَاللَّذَّات وميل الطَّبْع والنفور وكل ذَلِك دَلِيل على حدث من وصف بِهِ وَحَاجته إِلَيْهِ وَهُوَ مُنْتَفٍ عَن الْقَدِيم تَعَالَى وَكَذَلِكَ الْأَسْبَاب المزعجة المحركة الباعثة على الْأَفْعَال إِنَّمَا تحرّك الغافل وتنبه الْجَاهِل وتخطر للخائف والراجي الَّذِي يخَاف الاستضرار بترك الْأَفْعَال ويرجو بإيقاعها الصّلاح وَالِانْتِفَاع وَالله يتعالى عَن ذَلِك لِأَنَّهُ عَالم بِمَا يكون قبل أَن يكون وَبِمَا تؤول إِلَيْهِ عواقب الْأُمُور وَيعلم السِّرّ وأخفى وَلَا يجوز على من
তাঁর সত্তা এমন বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত যার ওপর কখনো অনস্তিত্ব আর কখনো অস্তিত্ব প্রযোজ্য হওয়া বৈধ; আর যদি তা এমন হতো, তবে তা অন্যান্য সকল নতুন সৃষ্ট সত্তার ন্যায় হতো যাদের ওপর কখনো অনস্তিত্ব আর কখনো অস্তিত্ব প্রযোজ্য হওয়া সম্ভব। আর যদি তা এমন হতো, তবে তাঁর একজন অস্তিত্বদানকারীর প্রয়োজন হতো যিনি তাঁকে অস্তিত্ব দান করবেন; কারণ নতুন সৃষ্ট বিষয়সমূহ যেগুলোর পদ্ধতি এমনই, সেগুলো কোনো সংকল্পকারীর সংকল্প এবং কোনো ইচ্ছাকারীর ইচ্ছা ব্যতিরেকে অনস্তিত্বের চেয়ে অস্তিত্বের জন্য অধিক উপযুক্ত হয় না, বরং সেগুলো তাঁর ইচ্ছার মাধ্যমেই অস্তিত্বশীল হয় এবং তাঁর অভিপ্রায়ের সাথে সম্পৃক্ত থাকে।যেহেতু অনাদি সত্তার কোনো নতুন সৃষ্ট বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল হওয়া অসম্ভব, তাই অস্তিত্ব লাভের পর তাঁর ওপর অনস্তিত্ব আপতিত হওয়া অসম্ভব।পরিচ্ছেদ: জগত সৃষ্টিতে আল্লাহর কোনো গূঢ় উদ্দেশ্য নেই যদি কোনো প্রশ্নকারী প্রশ্ন করে: আপনারা কি বলেন যে, জগত স্রষ্টা এটিকে—পূর্বে সৃষ্টি না করার পর—এমন কোনো প্রবর্তকের কারণে সৃষ্টি করেছেন যা তাঁকে এই কাজের দিকে আহ্বান করেছে, অথবা কোনো চালিকাশক্তি যা তাঁকে চালিত করেছে, কিংবা কোনো প্রেরণা যা তাঁকে উদ্দীপ্ত করেছে, অথবা কোনো উদ্দেশ্য যা তাঁকে উদ্বেলিত করেছে, কিংবা কোনো চিন্তা যা তাঁর থেকে এই নতুন সৃষ্ট বস্তুসমূহের অস্তিত্বকে অনিবার্য করেছে? নাকি তিনি আপনার জিজ্ঞাসিত বিষয়গুলোর কোনোটি ছাড়াই এটি সৃষ্টি করেছেন? উত্তরে বলা হবে যে, আল্লাহ তাআলা আপনার জিজ্ঞাসিত বিষয়গুলোর কোনোটি ছাড়াই জগত সৃষ্টি করেছেন। যদি প্রশ্ন করা হয়: এর প্রমাণ কী? উত্তরে বলা হবে: এর প্রমাণ হলো, অস্থিরকারী প্রবর্তকসমূহ, চিন্তাভাবনা এবং উদ্দেশ্যসমূহ কেবল অভাবী ব্যক্তির ক্ষেত্রেই হওয়া সম্ভব ও বৈধ, যার পক্ষ থেকে উপকার লাভ এবং অপকার প্রতিহত করা সম্ভব। আর এটি কেবল তারই ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে যার ওপর বেদনা, আনন্দ, স্বভাবজাত প্রবৃত্তি এবং বিরাগ প্রযোজ্য হওয়া সম্ভব। এ জাতীয় বৈশিষ্ট্যে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হওয়া সেই সত্তার নশ্বরতা এবং ওই বিষয়গুলোর প্রতি তাঁর মুখাপেক্ষিতার প্রমাণ। অথচ অনাদি মহান সত্তা এসব থেকে পবিত্র। একইভাবে কোনো কাজের প্রতি উদ্বুদ্ধকারী, চালিতকারী এবং প্রেরণাদায়ী কারণসমূহ কেবল অসতর্ক ব্যক্তিকে নাড়া দেয়, মূর্খকে সজাগ করে এবং সেই ভীত ও আশাবাদী ব্যক্তির মনে উদয় হয় যে কাজ বর্জন করলে ক্ষতির আশঙ্কা করে এবং তা সম্পাদন করলে সংশোধন ও উপকারের আশা রাখে। আল্লাহ তাআলা এসব থেকে অনেক ঊর্ধ্বে, কারণ তিনি কোনো কিছু হওয়ার আগেই তা জানেন এবং সবকিছুর পরিণাম সম্পর্কে অবগত। তিনি গোপন এবং অতি গোপন রহস্য সম্পর্কেও জানেন। আর এমন সত্তার ক্ষেত্রে এটি বৈধ নয় যে—
(খণ্ড: ১)
তামহীদুল আওয়াইল ওয়া তালখীসুল দালাইল
(পৃষ্ঠা: ৫১)
هَذِه صفته خطور الْأَمر بِبَالِهِ كَالَّذي لم يكن عَالما بِهِ وَلَا أَن تبعثه الدَّوَاعِي والبواعث على أَفعاله وَذَلِكَ إِنَّا إِذا قُلْنَا لفاعلنا مَا الَّذِي دعَاك إِلَى الْفِعْل وحركك على إِيقَاعه وَمَا الْغَرَض فِي دون غَيره وَفِي فعله دون تَركه والانصراف عَنهُ فَإِنَّمَا نأله ليخبرنا أقصد بذلك اجتلاب مَنْفَعَة أَو دفع مضرَّة أم لَا فَإِن قَالَ فعله لَا لاجتلاب مَنْفَعَة وَلَا لدفع مضرَّة مَعَ علمه بِوُقُوعِهِ وَجب الْقَضَاء على تسفيهه لِأَنَّهُ مِمَّن يحْتَاج إِلَى جر الْمَنَافِع وَدفع المضار وَهُوَ مَأْمُور بذلك وإيقاعه الْفِعْل عَارِيا من الْقَصْد إِلَى ذَلِك والتصدي لَهُ سفه وَخلاف لما وَجب عَلَيْهِ وَالْقَدِيم تَعَالَى لَيْسَ بِذِي حَاجَة وَلَا مِمَّن يلْزمه الانقياد وَالطَّاعَة فَلم يجز أَن يُقَاس على فاعلنامَسْأَلَة فِي أَن الْقَدِيم لم يفعل الْعَالم لعِلَّة فَإِن قَالَ قَائِل فَهَل تَقولُونَ إِن الْقَدِيم فعل الْعَالم لعِلَّة أوجبت حُدُوثه مِنْهُ قيل لَهُ لَا لِأَن الْعِلَل لَا تجوز عَلَيْهِ لِأَنَّهَا مَقْصُورَة على جر الْمَنَافِع وَدفع المضار وَيدل على ذَلِك أَيْضا أَنه لَو كَانَ تَعَالَى فَاعِلا للْعَالم لعِلَّة أوجبته لم تخل تِلْكَ الْعلَّة من أَن تكون قديمَة أَو محدثة فَإِن كَانَت قديمَة وَجب قدم الْعَالم لقدم علته وَألا يكون بَين الْعلَّة الْقَدِيمَة وَبَين وجود الْعَالم إِلَّا مِقْدَار زمَان الإيجاد وَذَلِكَ يُوجب حُدُوث الْقَدِيم لِأَن مَا لم يكن قبل الْمُحدث إِلَّا بِزَمَان أَو أزمنه محدودة وَجب حُدُوثه لِأَن فَائِدَة تَوْقِيت وجود الشَّيْء هُوَ أَنه كَانَ مَعْدُوما قبل تِلْكَ الْحَال فَلَمَّا لم يجز حُدُوث الْقَدِيم لم يجز أَن يكون الْعَالم مُحدثا لعِلَّة قديمَة وَإِن كَانَت تِلْكَ الْعلَّة محدثة فَلَا يَخْلُو
এটি তাঁর বৈশিষ্ট্য—তাঁর মনে কোনো বিষয় উদয় হওয়া এমন ব্যক্তির মতো নয় যে বিষয়টি সম্পর্কে জানত না, আর তাঁর কার্যাবলির ওপর কোনো প্রেরণা বা চালিকাশক্তি তাঁকে প্ররোচিত করে না। আর এর কারণ হলো, আমরা যখন আমাদের মধ্য থেকে কোনো কর্ম সম্পাদনকারীকে বলি, "কিসে তোমাকে এই কাজে উদ্বুদ্ধ করল এবং এর বাস্তবায়নে তোমাকে পরিচালিত করল? আর অন্য কিছুর পরিবর্তে এতে এবং তা বর্জন করার পরিবর্তে সম্পাদনে তোমার উদ্দেশ্য কী ছিল?", তখন আমরা তাকে মূলত এই উদ্দেশ্যে জিজ্ঞাসা করি যেন সে আমাদের জানায় যে এর মাধ্যমে সে কি কোনো উপকার লাভ করতে চেয়েছে নাকি কোনো অপকার দূর করতে চেয়েছে। যদি সে বলে যে সে কাজটি কোনো উপকার লাভ বা অপকার দূর করার জন্য করেনি (যদিও সে কাজটি সংঘটিত হওয়ার ব্যাপারে অবগত ছিল), তবে তাকে নির্বোধ বলে সাব্যস্ত করা আবশ্যক হবে; কারণ সে এমন একজন যার উপকার লাভ ও অপকার দূর করার প্রয়োজন রয়েছে এবং সে এর জন্য আদিষ্টও বটে। সুতরাং কোনো লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য ব্যতিরেকে কাজ করা বোকামি এবং তার ওপর যা আবশ্যক তার পরিপন্থী। আর অনাদি সত্তা তাআলা কোনো অভাবগ্রস্ত নন এবং এমনও নন যার ওপর আনুগত্য ও বাধ্যবাধকতা আবশ্যক। অতএব, তাঁকে আমাদের মতো কোনো কর্ম সম্পাদনকারীর সাথে তুলনা করা বৈধ নয়।মাসআলা: অনাদি সত্তা জগতকে কোনো কারণ বা হেতু (ইল্লাত) বশত সৃষ্টি করেননি। যদি কোনো প্রশ্নকারী বলে: "আপনারা কি বলেন যে অনাদি সত্তা জগতকে এমন কোনো কারণ বা হেতুর (ইল্লাত) জন্য সৃষ্টি করেছেন যা তাঁর পক্ষ থেকে এর সৃষ্টিকে অনিবার্য করেছে?" তাকে উত্তরে বলা হবে: না। কারণ তাঁর ক্ষেত্রে কোনো কারণ বা হেতু প্রযোজ্য নয়, যেহেতু হেতুগুলো কেবল উপকার লাভ এবং অপকার প্রতিরোধের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এর ওপর প্রমাণ এও যে, যদি আল্লাহ তাআলা কোনো অনিবার্য কারণের দরুন জগতকে সৃষ্টি করতেন, তবে সেই কারণটি অনাদি অথবা নব্যসৃষ্ট হওয়ার বাইরে হতো না। যদি কারণটি অনাদি হতো, তবে কারণ অনাদি হওয়ার দরুন জগতকেও অনাদি হওয়া আবশ্যক হতো। আর অনাদি কারণ ও জগতের অস্তিত্বের মাঝে কেবল সৃষ্টির সময়টুকুই ব্যবধান থাকত। এটি অনাদি সত্তার নব্যসৃষ্ট হওয়াকে আবশ্যক করে তুলত, কারণ যা কোনো নব্যসৃষ্ট বিষয়ের পূর্বে কেবল নির্দিষ্ট সময় বা ক্ষণ পর্যন্ত ছিল, তার নব্যসৃষ্ট হওয়া আবশ্যক। কারণ কোনো জিনিসের অস্তিত্বের সময় নির্ধারণের তাৎপর্যই হলো এই যে, উক্ত সময়ের আগে তা অস্তিত্বহীন ছিল। যেহেতু অনাদি সত্তার নব্যসৃষ্ট হওয়া অসম্ভব, তাই জগত কোনো অনাদি কারণের দ্বারা সৃষ্ট হওয়াও অসম্ভব। আর যদি সেই কারণটি নব্যসৃষ্ট হয়ে থাকে, তবে তা এই অবস্থার বাইরে নয় যে-