(খণ্ড: ১) আল-ফিকহুল আকবার (পৃষ্ঠা: -)
الفقه الأكبر   (أبو حنيفة)

القسم: العقيدة


الكتاب: الفقه الأكبر (مطبوع مع الشرح الميسر على الفقهين الأبسط والأكبر المنسوبين لأبي حنيفة تأليف محمد بن عبد الرحمن الخميس)

المؤلف: ينسب لأبي حنيفة النعمان (ت 150هـ)

الناشر: مكتبة الفرقان - الإمارات العربية

الطبعة: الأولى، 1419هـ - 1999م

عدد الصفحات: 167

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-ফিকহুল আকবার   (আবু হানিফা)

বিভাগ: আকিদাহ


বই: আল-ফিকহুল আকবার (আবু হানিফার প্রতি সম্বন্ধযুক্ত আল-ফিকহুল আবসাত ও আল-ফিকহুল আকবার এর ওপর লিখিত আশ-শারহুল মুয়াসসার সহ মুদ্রিত, রচনায়: মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আল-খামিস)

লেখক: আবু হানিফা আন-নুমান (ওফাত ১৫০ হি.) এর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত

প্রকাশক: মাকতাবাতুল ফুরকান - সংযুক্ত আরব আমিরাত

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৯ হি. - ১৯৯৯ খ্রি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৬৭

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-ফিকহুল আকবার (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌بَيَان أصُول الْإِيمَان

 

أصل التَّوْحِيد وَمَا يَصح الِاعْتِقَاد عَلَيْهِ يجب ان يَقُول آمَنت بِاللَّه
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

ঈমানের মূলনীতিসমূহের বর্ণনা

 

তাওহীদের মূলভিত্তি এবং যার ওপর বিশ্বাস স্থাপন করা বিশুদ্ধ, সে বিষয়ে বলা আবশ্যক যে: আমি আল্লাহর প্রতি ঈমান আনলাম।
(খণ্ড: ১) আল-ফিকহুল আকবার (পৃষ্ঠা: ৭)
وَمَلَائِكَته وَكتبه وَرُسُله
এবং তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ এবং তাঁর রাসূলগণ।
(খণ্ড: ১) আল-ফিকহুল আকবার (পৃষ্ঠা: ৯)
والبعث بعد الْمَوْت وَالْقدر خَيره وشره من الله تَعَالَى
এবং মৃত্যুর পর পুনরুত্থান এবং তাকদির—তার ভালো ও মন্দ মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে।
(খণ্ড: ১) আল-ফিকহুল আকবার (পৃষ্ঠা: ১২)
والحساب وَالْمِيزَان
হিসাব ও মিযান
(খণ্ড: ১) আল-ফিকহুল আকবার (পৃষ্ঠা: ১৩)
وَالْجنَّة وَالنَّار وَذَلِكَ كُله حق
এবং জান্নাত ও জাহান্নাম এবং এ সব কিছুই সত্য।
(খণ্ড: ১) আল-ফিকহুল আকবার (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌وحدانية الله تَعَالَى

 

وَالله تَعَالَى وَاحِد لَا من طَرِيق الْعدَد وَلَكِن من طَرِيق انه لَا شريك لَهُ لم يلد وَلم يُولد وَلم يكن لَهُ كفوا أحد لَا يشبه شَيْئا من الْأَشْيَاء من خلقه وَلَا يُشبههُ شَيْء من خلقه لم يزل وَلَا يزَال بأسمائه وَصِفَاته الذاتية والفعلية
আল্লাহ তাআলার একত্ববাদ

 

আল্লাহ তাআলা এক, সংখ্যার বিচারে নয় বরং এই অর্থে যে তাঁর কোনো অংশীদার নেই। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও জন্ম দেওয়া হয়নি, আর তাঁর সমতুল্য কেউ নেই। তিনি তাঁর সৃষ্টির কোনো কিছুর সদৃশ নন এবং তাঁর সৃষ্টির কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়। তিনি তাঁর নামসমূহ এবং তাঁর সত্তাগত ও কর্মগত গুণাবলি সহ সর্বদা আছেন এবং সর্বদা থাকবেন।
(খণ্ড: ১) আল-ফিকহুল আকবার (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌الصِّفَات الذاتية والفعلية

 

اما الذاتية فالحياة وَالْقُدْرَة وَالْعلم وَالْكَلَام والسمع وَالْبَصَر والارادة وَأما الفعلية فالتخليق والترزيق والإنشاء والإبداع والصنع وَغير ذَلِك من صِفَات الْفِعْل لم يزل وَلَا يزَال بصفاته وأسمائه لم يحدث لَهُ صفة وَلَا اسْم
সত্তাগত এবং কর্মগত গুণাবলি

 

আর সত্তাগত গুণাবলি হলো জীবন, ক্ষমতা, জ্ঞান, কথা, শ্রবণ, দর্শন ও ইচ্ছা। পক্ষান্তরে কর্মগত গুণাবলি হলো সৃষ্টি করা, রিযিক দান করা, উদ্ভাবন করা, নতুনভাবে অস্তিত্বে আনা, নির্মাণ করা এবং কর্মবাচক অন্যান্য গুণাবলি। তিনি অনাদিকাল থেকে তাঁর গুণাবলি ও নামসমূহ সহকারে আছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন; তাঁর জন্য নতুন কোনো গুণ বা নাম সৃষ্টি হয়নি।
(খণ্ড: ১) আল-ফিকহুল আকবার (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌صِفَات الله أزلية

 

لم يزل عَالما بِعِلْمِهِ وَالْعلم صفة فِي الْأَزَل وقادرا بقدرته وَالْقُدْرَة صفة فِي الْأَزَل ومتكلما بِكَلَامِهِ وَالْكَلَام صفة فِي الْأَزَل وخالقا بتخليقه والتخليق صفة فِي الْأَزَل وفاعلا بِفِعْلِهِ وَالْفِعْل صفة فِي الْأَزَل وَالْفَاعِل هُوَ الله تَعَالَى وَالْفِعْل صفة فِي الْأَزَل وَالْمَفْعُول مَخْلُوق وَفعل الله تَعَالَى غير مَخْلُوق
আল্লাহর গুণাবলি অনাদি

 

তিনি অনাদিকাল থেকে তাঁর জ্ঞানের মাধ্যমে পরিজ্ঞাত এবং জ্ঞান অনাদিকালের একটি গুণ; তিনি তাঁর ক্ষমতার মাধ্যমে ক্ষমতাবান এবং ক্ষমতা অনাদিকালের একটি গুণ; তিনি তাঁর বাণীর মাধ্যমে কথা বলেন এবং বাণী অনাদিকালের একটি গুণ; তিনি তাঁর সৃষ্টি করার ক্রিয়ার মাধ্যমে স্রষ্টা এবং সৃষ্টি করা অনাদিকালের একটি গুণ; তিনি তাঁর কর্মের মাধ্যমে কর্তা এবং কর্ম অনাদিকালের একটি গুণ। আর কর্তা হলেন আল্লাহ তাআলা এবং কর্ম অনাদিকালের একটি গুণ। আর যা সৃষ্টি করা হয়েছে (মাফ'উল) তা সৃষ্টি, কিন্তু আল্লাহ তাআলার কর্ম (ফি'ল) সৃষ্টি নয়।
(খণ্ড: ১) আল-ফিকহুল আকবার (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌القَوْل فِي الْقُرْآن

 

وَصِفَاته فِي الْأَزَل غير محدثة وَلَا مخلوقة وَمن قَالَ إِنَّهَا مخلوقة أَو محدثة اَوْ وقف اَوْ شكّ فيهمَا فَهُوَ كَافِر بِاللَّه تَعَالَى واالقرآن كَلَام الله تَعَالَى فِي الْمَصَاحِف مَكْتُوب وَفِي الْقُلُوب مَحْفُوظ وعَلى الألسن مقروء وعَلى النَّبِي عليه الصلاة والسلام منزل ولفظنا بِالْقُرْآنِ مَخْلُوق وكتابتنا لَهُ مخلوقة وقراءتنا لَهُ مخلوقة وَالْقُرْآن غير مَخْلُوق
কুরআন প্রসঙ্গে বক্তব্য

 

এবং অনাদিকালে তাঁর গুণাবলি নতুন উদ্ভাবিত নয় এবং সৃজিতও নয়। আর যে ব্যক্তি বলবে যে সেগুলো সৃজিত বা নতুন উদ্ভাবিত, অথবা এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকবে কিংবা সন্দেহ পোষণ করবে, সে মহান আল্লাহর প্রতি কুফরি করল। আর কুরআন মহান আল্লাহর কালাম; যা মাসহাফসমূহে লিখিত, অন্তরসমূহে সংরক্ষিত, জিহ্বাসমূহে পঠিত এবং নবীর (তাঁর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক) ওপর অবতীর্ণ। আমাদের কুরআন উচ্চারণ করা সৃজিত, আমাদের তা লিখে রাখা সৃজিত এবং আমাদের তা পাঠ করাও সৃজিত, তবে কুরআন সৃজিত নয়।
(খণ্ড: ১) আল-ফিকহুল আকবার (পৃষ্ঠা: ২২)
وَمَا ذكره الله تَعَالَى فِي الْقُرْآن حِكَايَة عَن مُوسَى وَغَيره من الْأَنْبِيَاء عليهم السلام وَعَن فِرْعَوْن وابليس فَإِن ذَلِك كُله كَلَام الله تَعَالَى إِخْبَارًا عَنْهُم وَكَلَام الله تَعَالَى غير مَخْلُوق وَكَلَام مُوسَى وَغَيره من المخلوقين وَالْقُرْآن كَلَام الله تَعَالَى فَهُوَ قديم لَا كَلَامهم وَسمع مُوسَى عليه السلام كَلَام الله تَعَالَى كَمَا فِي قَوْله تَعَالَى {وكلم الله مُوسَى تكليما}
আল্লাহ তাআলা কুরআনে মূসা ও অন্যান্য নবীগণ (তাঁদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) এবং ফিরআউন ও ইবলিস সম্পর্কে যা কিছু বর্ণনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন, তা সবই তাদের সম্পর্কে সংবাদ হিসেবে আল্লাহ তাআলার বাণী। আর আল্লাহ তাআলার বাণী সৃষ্টি নয়, পক্ষান্তরে মূসা ও অন্যান্য সৃষ্টিজীবের কথা সৃষ্ট। কুরআন আল্লাহ তাআলার বাণী, তাই তা অনাদি, তাদের কথা নয়। মূসা (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) আল্লাহ তাআলার বাণী শ্রবণ করেছেন, যেমনটি আল্লাহ তাআলার এই বাণীতে রয়েছে: "আর আল্লাহ মূসার সাথে সরাসরি কথা বলেছেন।"
(খণ্ড: ১) আল-ফিকহুল আকবার (পৃষ্ঠা: ২৪)
وَقد كَانَ الله تَعَالَى متكلما وَلم يكن كلم مُوسَى عليه السلام وَقد كَانَ الله تَعَالَى خَالِقًا فِي الْأَزَل وَلم يخلق الْخلق فَلَمَّا كلم الله مُوسَى كَلمه بِكَلَامِهِ الَّذِي هُوَ لَهُ صفة فِي الْأَزَل وَصِفَاته كلهَا بِخِلَاف صِفَات المخلوقين يعلم لَا كعلمنا وَيقدر لَا كقدرتنا وَيرى لَا كرؤيتنا

আল্লাহ তাআলা অনাদিকাল থেকেই কথা বলার গুণের অধিকারী ছিলেন অথচ তখনো তিনি মুসা আলাইহিস সালামের সাথে কথা বলেননি। আল্লাহ তাআলা অনাদিকাল থেকেই স্রষ্টা ছিলেন অথচ তখনো তিনি সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করেননি। অতঃপর আল্লাহ যখন মুসার সাথে কথা বললেন, তিনি তাঁর সেই কালামের মাধ্যমেই কথা বললেন যা অনাদিকাল হতে তাঁর একটি গুণ। আর তাঁর সকল গুণাবলিই সৃষ্টিজীবের গুণাবলি হতে ভিন্ন; তিনি জানেন তবে আমাদের জানার মতো নয়, তিনি ক্ষমতা রাখেন তবে আমাদের ক্ষমতার মতো নয় এবং তিনি দেখেন তবে আমাদের দেখার মতো নয়।

(খণ্ড: ১) আল-ফিকহুল আকবার (পৃষ্ঠা: ২৬)
وَيتَكَلَّم لَا ككلامنا وَيسمع لَا كسمعنا وَنحن نتكلم بالآلات والحروف وَالله تَعَالَى يتَكَلَّم بِلَا آلَة وَلَا حُرُوف والحروف مخلوقة وَكَلَام الله تَعَالَى غير مَخْلُوق وَهُوَ شَيْء لَا كالأشياء وَمعنى الشَّيْء الثَّابِت بِلَا جسم وَلَا جَوْهَر وَلَا عرض وَلَا حد لَهُ وَلَا ضد لَهُ وَلَا ند لَهُ وَلَا مثل لَهُ
এবং তিনি কথা বলেন তবে আমাদের কথা বলার ন্যায় নয়, এবং তিনি শ্রবণ করেন তবে আমাদের শ্রবণের ন্যায় নয়। আমরা কথা বলি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও অক্ষরের সাহায্যে, আর আল্লাহ তাআলা কথা বলেন কোনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও অক্ষর ব্যতিরেকেই। অক্ষরসমূহ সৃষ্টি, কিন্তু আল্লাহ তাআলার কালাম সৃষ্টি নয়। তিনি এমন এক সত্তা যা অন্য কোনো সত্তার ন্যায় নয়। আর 'সত্তা' (বস্তু) অর্থ হলো এমন অস্তিত্ব যা সুসাব্যস্ত, তবে তা দেহ, সারবস্তু (জাওহার) এবং আপতিক গুণ (আরয) থেকে মুক্ত। তাঁর কোনো সীমা নেই, তাঁর কোনো প্রতিপক্ষ নেই, তাঁর কোনো সমকক্ষ নেই এবং তাঁর কোনো সদৃশ নেই।
(খণ্ড: ১) আল-ফিকহুল আকবার (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌القَوْل فِي الصِّفَات

 

وَله يَد وَوجه وَنَفس كَمَا ذكره الله تَعَالَى فِي الْقُرْآن فَمَا ذكره الله تَعَالَى فِي الْقُرْآن من ذكر الْوَجْه وَالْيَد وَالنَّفس فَهُوَ لَهُ صِفَات بِلَا كَيفَ وَلَا يُقَال إِن يَده قدرته اَوْ نعْمَته لِأَن فِيهِ إبِْطَال الصّفة وَهُوَ قَول أهل الْقدر والاعتزال وَلَكِن يَده صفته بِلَا كَيفَ وغضبه وَرضَاهُ صفتان من صِفَات الله تَعَالَى بِلَا كَيفَ
সিফাত সংক্রান্ত আলোচনা

 

আর আল্লাহর হাত, চেহারা ও নফস রয়েছে যেমনটি আল্লাহ তাআলা কুরআনে উল্লেখ করেছেন। সুতরাং আল্লাহ তাআলা কুরআনে চেহারা, আল্লাহর হাত ও নফস সম্পর্কে যা কিছু উল্লেখ করেছেন, তা কোনো ধরন ছাড়াই তাঁর সিফাত। আর এ কথা বলা যাবে না যে, আল্লাহর হাত হলো তাঁর কুদরত (ক্ষমতা) বা তাঁর নিয়ামত; কেননা এতে সিফাতকে অস্বীকার করা হয় এবং এটি কদরিয়া ও মুতাজিলাদের বক্তব্য। বরং আল্লাহর হাত হলো তাঁর সিফাত কোনো ধরন ছাড়াই এবং তাঁর ক্রোধ ও সন্তুষ্টি আল্লাহ তাআলার গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত দুটি সিফাত কোনো ধরন ছাড়াই।
(খণ্ড: ১) আল-ফিকহুল আকবার (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌القَوْل فِي الْقدر

 

خلق الله تَعَالَى الْأَشْيَاء لَا من شَيْء وَكَانَ الله تَعَالَى عَالما فِي الْأَزَل بالأشياء قبل كَونهَا وَهُوَ الَّذِي قدر الْأَشْيَاء وقضاها وَلَا يكون فِي الدُّنْيَا وَلَا فِي الْآخِرَة شَيْء الا بمشيئته وَعلمه وقضائه وَقدره وَكتبه فِي اللَّوْح الْمَحْفُوظ وَلَكِن كتبه بِالْوَصْفِ لَا بالحكم وَالْقَضَاء وَالْقدر والمشيئة صِفَاته فِي الْأَزَل بِلَا كَيفَ يعلم الله تَعَالَى فِي الْمَعْدُوم فِي حَال عَدمه مَعْدُوما وَيعلم انه كَيفَ يكون إِذا أوجده وَيعلم الله الْمَوْجُود فِي حَال وجوده وَيعلم انه كَيفَ فناؤه وَيعلم الله الْقَائِم فِي حَال قِيَامه قَائِما وَإِذا قعد فقد علمه قَاعِدا فِي حَال قعوده من غير ان يتَغَيَّر علمه اَوْ يحدث لَهُ علم وَلَكِن التَّغَيُّر وَالِاخْتِلَاف يحدث عِنْد المخلوقين
তাকদীর প্রসঙ্গে আলোচনা

 

আল্লাহ তাআলা কোনো কিছু ছাড়াই বস্তুসমূহ সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ তাআলা অনাদিকাল থেকেই বস্তুসমূহ অস্তিত্বে আসার পূর্বে সে সম্পর্কে অবগত ছিলেন। তিনিই সেই সত্তা যিনি সকল বস্তুর পরিমাণ নির্ধারণ করেছেন এবং তা ফয়সালা করেছেন। দুনিয়া ও আখিরাতে তাঁর ইচ্ছা, জ্ঞান, ফয়সালা ও তাকদীর ব্যতীত কোনো কিছুই সংঘটিত হয় না। তিনি তা লাওহে মাহফুজে লিপিবদ্ধ করেছেন; তবে তিনি তা গুণাবলির বিবরণ হিসেবে লিপিবদ্ধ করেছেন, কোনো বাধ্যতামূলক নির্দেশ হিসেবে নয়। ফয়সালা, তাকদীর ও ইচ্ছা অনাদিকাল থেকেই তাঁর গুণাবলি, যা কোনো ধরণ ব্যতিরেকেই সাব্যস্ত। আল্লাহ তাআলা কোনো অবিদ্যমান বস্তুকে তার অবিদ্যমান অবস্থায় অবিদ্যমান হিসেবে জানেন এবং যখন তিনি তাকে অস্তিত্ব দান করবেন তখন তা কেমন হবে তাও তিনি জানেন। আল্লাহ তাআলা বিদ্যমান বস্তুকে তার বিদ্যমান অবস্থায় জানেন এবং তার বিনাশ কীভাবে হবে তাও জানেন। আল্লাহ তাআলা দণ্ডায়মান ব্যক্তিকে তার দণ্ডায়মান অবস্থায় দণ্ডায়মান হিসেবে জানেন এবং যখন সে বসে পড়ে, তখন তিনি তাকে উপবিষ্ট অবস্থায় উপবিষ্ট হিসেবেই জানেন; এতে তাঁর জ্ঞানের কোনো পরিবর্তন ঘটে না কিংবা তাঁর জন্য নতুন কোনো জ্ঞানের উদ্ভব হয় না। বরং পরিবর্তন ও ভিন্নতা কেবল সৃষ্টিজীবের মধ্যেই ঘটে থাকে।
(খণ্ড: ১) আল-ফিকহুল আকবার (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌مَا فطر الله عَلَيْهِ النَّاس

 

خلق الله تَعَالَى الْخلق سليما من الْكفْر وَالْإِيمَان ثمَّ خاطبهم وامرهم ونهاهم فَكفر من كفر بِفِعْلِهِ وإنكاره وجحوده الْحق بخذلان الله تَعَالَى إِيَّاه وآمن من آمن بِفِعْلِهِ وَإِقْرَاره وتصديقه بِتَوْفِيق الله تَعَالَى إِيَّاه ونصرته لَهُ أخرج ذُرِّيَّة آدم من صلبه فجعلهم عقلاء فخاطبهم وَأمرهمْ بِالْإِيمَان ونهاهم عَن الْكفْر فأقروا لَهُ بالربوبية فَكَانَ ذَلِك مِنْهُم إِيمَانًا فهم يولدون على تِلْكَ الْفطْرَة وَمن كفر بعد ذَلِك فقد بدل وَغير وَمن آمن وَصدق فقد ثَبت عَلَيْهِ وداوم
আল্লাহ মানুষকে যে স্বভাবজাত প্রকৃতির ওপর সৃষ্টি করেছেন

 

আল্লাহ তাআলা সৃষ্টিজগতকে কুফর ও ঈমান থেকে মুক্ত অবস্থায় সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তিনি তাদের সম্বোধন করেছেন এবং তাদের আদেশ ও নিষেধ করেছেন। ফলে যে কুফরি করেছে, সে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে তাকে তাওফিকহীন করার কারণে নিজের কর্ম, অস্বীকার এবং সত্যকে প্রত্যাখ্যান করার মাধ্যমেই কুফরি করেছে। আর যে ঈমান এনেছে, সে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে তাকে তাওফিক ও সাহায্য প্রদানের ফলে নিজের কর্ম, স্বীকৃতি এবং সত্যায়নের মাধ্যমেই ঈমান এনেছে। তিনি আদমের পৃষ্ঠদেশ থেকে তার বংশধরদের বের করে এনেছেন এবং তাদের বুদ্ধিমান করেছেন। অতঃপর তিনি তাদের সম্বোধন করেছেন এবং তাদের ঈমান আনার নির্দেশ দিয়েছেন ও কুফরি করতে নিষেধ করেছেন। তখন তারা তাঁর প্রভুত্ব স্বীকার করে নিয়েছিল এবং এটিই ছিল তাদের পক্ষ থেকে ঈমান। সুতরাং তারা সেই স্বভাবজাত প্রকৃতির (ফিতরাত) ওপরই জন্মগ্রহণ করে। এরপর যে ব্যক্তি কুফরি করল, সে মূলত তা পরিবর্তন ও রূপান্তর করল। আর যে ব্যক্তি ঈমান আনল ও সত্যায়ন করল, সে তার ওপর অটল ও অবিচল থাকল।
(খণ্ড: ১) আল-ফিকহুল আকবার (পৃষ্ঠা: ৩৩)
وَلم يجْبر أحدا من خلقه على الْكفْر وَلَا على الْإِيمَان وَلَا خلقه مُؤمنا وَلَا كَافِرًا وَلَكِن خلقهمْ أشخاصا وَالْإِيمَان وَالْكفْر فعل الْعباد وَيعلم الله تَعَالَى من يكفر فِي حَال كفره كَافِرًا فَإِذا آمن بعد ذَلِك علمه مُؤمنا فِي حَال إيمَانه وأحبه من غير أَن يتَغَيَّر علمه وَصفته وَجَمِيع أَفعَال الْعباد من الْحَرَكَة والسكون كسبهم على الْحَقِيقَة وَالله تَعَالَى خَالِقهَا وَهِي كلهَا بمشيئته وَعلمه وقضائه وَقدره

আর তিনি তাঁর সৃষ্টির কাউকেই কুফর কিংবা ঈমানের ওপর বাধ্য করেননি এবং তাদেরকে মুমিন কিংবা কাফির হিসেবে সৃষ্টি করেননি; বরং তিনি তাদেরকে ব্যক্তি হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। আর ঈমান ও কুফর হলো বান্দাদের কর্ম। আল্লাহ তাআলা যে কুফরি করে, তার কুফরের অবস্থায় তাকে কাফির হিসেবে জানেন; অতঃপর সে যদি এরপর ঈমান আনে, তবে তিনি তাকে তার ঈমানের অবস্থায় মুমিন হিসেবে জানেন এবং তাকে ভালোবাসেন—তাঁর জ্ঞান ও গুণের কোনো পরিবর্তন ছাড়াই। আর নড়াচড়া ও স্থির থাকা সহ বান্দাদের সকল কর্মই প্রকৃতপক্ষে তাদের উপার্জন; আল্লাহ তাআলাই সেগুলোর স্রষ্টা এবং এ সবই তাঁর ইচ্ছা, জ্ঞান, ফয়সালা ও তকদির অনুযায়ী হয়ে থাকে।

(খণ্ড: ১) আল-ফিকহুল আকবার (পৃষ্ঠা: ৩৫)
‌‌الطَّاعَات محبوبة لله والمعاصي مقدورة غير محبوبة

 

والطاعات كلهَا كَانَت وَاجِبَة بِأَمْر الله تَعَالَى وبمحبته وبرضائه وَعلمه ومشيئته وقضائه وَتَقْدِيره والمعاصي كلهَا بِعِلْمِهِ وقضائه وَتَقْدِيره ومشيئته لَا بمحبته وَلَا برضائه وَلَا بأَمْره
আনুগত্যসমূহ আল্লাহর নিকট পছন্দনীয় এবং পাপসমূহ নির্ধারিত হলেও পছন্দনীয় নয়

 

আর সকল আনুগত্য মহান আল্লাহর নির্দেশ, তাঁর ভালোবাসা, সন্তুষ্টি, জ্ঞান, ইচ্ছা, ফয়সালা এবং নির্ধারণ অনুযায়ী হয়েছে। পক্ষান্তরে সকল পাপ তাঁর জ্ঞান, ফয়সালা, নির্ধারণ এবং ইচ্ছা অনুযায়ী সংঘটিত হলেও তা তাঁর ভালোবাসা, সন্তুষ্টি কিংবা নির্দেশ অনুযায়ী নয়।
(খণ্ড: ১) আল-ফিকহুল আকবার (পৃষ্ঠা: ৩৭)
‌‌القَوْل فِي عصمَة الْأَنْبِيَاء

 

والأنبياء عَلَيْهِم الصَّلَاة وَالسَّلَام كلهم منزهون عَن الصَّغَائِر والكبائر وَالْكفْر والقبائح وَقد كَانَت مِنْهُم زلات وخطايا
নবীগণের নিষ্পাপতা বিষয়ক আলোচনা

 

আর নবীগণ (তাঁদের ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক) সকলেই ছোট গুনাহ, বড় গুনাহ, কুফর এবং কদর্য বিষয়সমূহ থেকে পবিত্র। তবে তাঁদের থেকে কিছু বিচ্যুতি ও ত্রুটি সংঘটিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ফিকহুল আকবার (পৃষ্ঠা: ৩৯)
‌‌القَوْل فِي الرَّسُول صلى الله عليه وسلم

 

وَمُحَمّد عليه الصلاة والسلام حَبِيبه وَعَبده وَرَسُوله وَنبيه وَصفيه ونقيه وَلم يعبد الصَّنَم وَلم يُشْرك بِاللَّه تَعَالَى طرفَة عين قطّ وَلم يرتكب صَغِيرَة وَلَا كَبِيرَة قطّ
রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রসঙ্গে আলোচনা

 

আর মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর প্রিয়তম মাহবুব, তাঁর বান্দা, তাঁর রাসূল, তাঁর নবী, তাঁর মনোনীত ও পুতপবিত্র বন্ধু। তিনি কখনো মূর্তিপূজা করেননি এবং চোখের পলকের জন্যও মহান আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করেননি; আর তিনি কখনোই কোনো ছোট বা বড় গুনাহে লিপ্ত হননি।
(খণ্ড: ১) আল-ফিকহুল আকবার (পৃষ্ঠা: ৪১)
‌‌المفاضلة بَين الصَّحَابَة

 

وَأفضل النَّاس بعد النَّبِيين عَلَيْهِم الصَّلَاة وَالسَّلَام أَبُو بكر الصّديق ثمَّ عمر بن الْخطاب الْفَارُوق ثمَّ عُثْمَان بن عَفَّان ذُو النورين ثمَّ عَليّ بن أبي طَالب المرتضى رضوَان الله عَلَيْهِم أَجْمَعِينَ
সাহাবীগণের মধ্যকার শ্রেষ্ঠত্ব

 

নবীগণের (তাঁদের ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক) পর মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম হলেন আবু বকর আস-সিদ্দিক, অতঃপর উমর ইবনুল খাত্তাব আল-ফারুক, অতঃপর উসমান ইবনে আফফান যুন-নুরাইন, অতঃপর আলী ইবনে আবি তালিব আল-মুরতাদা, আল্লাহ তাঁদের সকলের ওপর সন্তুষ্ট হোন।
(খণ্ড: ১) আল-ফিকহুল আকবার (পৃষ্ঠা: ৪৩)
‌‌لَا يكفر مُسلم بذنب مَا لم يستحله

 

عابدين ثابتين على الْحق وَمَعَ الْحق نتولاهم جَمِيعًا وَلَا نذْكر أحدا من أَصْحَاب رَسُول الله إِلَّا بِخَير وَلَا نكفر مُسلما بذنب من الذُّنُوب وَإِن كَانَت كَبِيرَة إِذا لم يستحلها وَلَا نزيل عَنهُ اسْم الْإِيمَان ونسميه مُؤمنا حَقِيقَة وَيجوز ان يكون مُؤمنا فَاسِقًا غير كَافِر
কোনো মুসলিমকে গুনাহের কারণে কাফির গণ্য করা যাবে না যতক্ষণ না সে তা হালাল মনে করে

 

হকের ওপর অবিচল ও হকের অনুসারী ইবাদতকারী হিসেবে আমরা তাঁদের সকলকে বন্ধু ও অভিভাবক জ্ঞান করি। আল্লাহর রাসূলের সাহাবীদের মধ্যে কাউকেই আমরা কল্যাণ ব্যতীত স্মরণ করি না। কোনো মুসলিমকে তার কোনো গুনাহের জন্য আমরা কাফির সাব্যস্ত করি না, যদিও তা কবিরা গুনাহ হয়—যতক্ষণ পর্যন্ত না সে তাকে হালাল মনে করে। আমরা তার থেকে ঈমান নামটিকে অপসারিত করি না এবং তাকে প্রকৃত মুমিন হিসেবেই অভিহিত করি। সে ফাসিক মুমিন হতে পারে, তবে কাফির নয়।
(খণ্ড: ১) আল-ফিকহুল আকবার (পৃষ্ঠা: ৪৫)
‌‌ذكر بعض من عقائد اهل السّنة

 

وَالْمسح على الْخُفَّيْنِ سنة والتراويح فِي ليَالِي شهر رَمَضَان سنة وَالصَّلَاة خلف كل بر وَفَاجِر جَائِزَة وَلَا نقُول إِن الْمُؤمن لَا تضره الذُّنُوب وَلَا نقُول إِنَّه لَا يدْخل النَّار وَلَا نقُول إِنَّه يخلد فِيهَا
আহলুস সুন্নাহর কিছু আকিদার বর্ণনা

 

চামড়ার মোজার (খুফ্ফাইন) ওপর মাসাহ করা সুন্নাত এবং রমজান মাসের রাতগুলোতে তারাবিহ পড়া সুন্নাত। প্রত্যেক পুণ্যবান ও পাপাচারী ব্যক্তির পেছনে সালাত আদায় করা বৈধ। আমরা বলি না যে, পাপ মুমিনের কোনো ক্ষতি করে না এবং আমরা এও বলি না যে, সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে না এবং আমরা এও বলি না যে, সে সেখানে চিরস্থায়ী হবে।
(খণ্ড: ১) আল-ফিকহুল আকবার (পৃষ্ঠা: ৪৭)
وَإِن كَانَ فَاسِقًا بعد ان يخرج من الدُّنْيَا مُؤمنا وَلَا نقُول إِن حَسَنَاتنَا مَقْبُولَة وسيئاتنا مغفورة كَقَوْل المرجئة وَلَكِن نقُول من عمل حَسَنَة بِجَمِيعِ شرائطها خَالِيَة عَن الْعُيُوب الْمفْسدَة وَلم يُبْطِلهَا بالْكفْر وَالرِّدَّة والأخلاق السَّيئَة حَتَّى خرج من الدُّنْيَا مُؤمنا فَإِن الله تَعَالَى لَا يضيعها بل يقبلهَا مِنْهُ ويثيبه عَلَيْهَا

যদিও সে ফাসিক হয়, যদি সে মুমিন হিসেবে দুনিয়া থেকে বিদায় নেয়। আর আমরা মুরজিয়াদের ন্যায় এ কথা বলি না যে, আমাদের সৎকর্মসমূহ কবুলকৃত এবং আমাদের পাপসমূহ মার্জিত; বরং আমরা বলি, যে ব্যক্তি কোনো সৎকর্ম তার সমস্ত শর্তাবলি পালন করে এবং নষ্টকারী ত্রুটিসমূহ হতে মুক্ত রেখে সম্পাদন করল এবং কুফর, ধর্মত্যাগ বা মন্দ চরিত্রের দ্বারা তা বাতিল করল না, এমনকি সে মুমিন হিসেবেই দুনিয়া থেকে বিদায় নিল, তবে আল্লাহ তাআলা তা বিনষ্ট করবেন না; বরং তিনি তার নিকট থেকে তা কবুল করবেন এবং তাকে এর জন্য প্রতিদান দান করবেন।

(খণ্ড: ১) আল-ফিকহুল আকবার (পৃষ্ঠা: ৪৯)
وَمَا كَانَ من السَّيِّئَات دون الشّرك وَالْكفْر وَلم يتب عَنْهَا صَاحبهَا حَتَّى مَاتَ مُؤمنا فَإِنَّهُ مُؤمن فِي مَشِيئَة الله تَعَالَى إِن شَاءَ عذبه بالنَّار وَإِن شَاءَ عَفا عَنهُ وَلم يعذب بالنَّار أصلا والرياء إِذا وَقع فِي عمل من الْأَعْمَال فَإِنَّهُ يبطل أجره وَكَذَلِكَ الْعجب
শিরক ও কুফর অপেক্ষা নিম্নপর্যায়ের যেসব পাপাচার রয়েছে এবং সেগুলোর কর্তা যদি মুমিন অবস্থায় মৃত্যু পর্যন্ত তা থেকে তাওবা না করে থাকে, তবে সে আল্লাহ তাআলার ইচ্ছাধীন একজন মুমিন। তিনি ইচ্ছা করলে তাকে জাহান্নামের আগুনে শাস্তি দেবেন এবং ইচ্ছা করলে তাকে ক্ষমা করবেন; ফলে তাকে আদৌ জাহান্নামের আগুনে শাস্তি দেওয়া হবে না। আর রিয়া (লৌকিকতা) যখন কোনো আমলের মধ্যে সংঘটিত হয়, তখন তা আমলের প্রতিদানকে বাতিল করে দেয় এবং আত্মতৃপ্তিও তদ্রূপ।
(খণ্ড: ১) আল-ফিকহুল আকবার (পৃষ্ঠা: ৫১)
‌‌آيَات الْأَنْبِيَاء وكرامات الْأَوْلِيَاء حق

 

والآيات ثَابِتَة للأنبياء والكرامات للأولياء حق واما الَّتِي تكون لأعدائه مثل ابليس وَفرْعَوْن والدجال فِيمَا رُوِيَ الْأَخْبَار أَنه كَانَ وَيكون لَهُم لَا نسميها آيَات وَلَا كرامات وَلَكِن نسميها قَضَاء حاجاتهم وَذَلِكَ لِأَن الله تَعَالَى يقْضِي حاجات اعدائه استدراجا لَهُم وعقوبة لَهُم فيغترون بِهِ ويزدادون طغيانا وَكفرا وَكله جَائِز مُمكن
নবীদের মুজিজা এবং আউলিয়াদের কারামত সত্য

 

নবীদের জন্য মুজিজা সুসাব্যস্ত এবং আউলিয়াদের জন্য কারামত সত্য। আর তাঁর শত্রুদের জন্য যা সঙ্ঘটিত হয়—যেমন ইবলিস, ফেরাউন ও দাজ্জাল—তাদের সম্পর্কে যেসব ঘটনা বর্ণিত হয়েছে যে তা ঘটেছে বা ঘটবে, সেগুলোকে আমরা মুজিজা বা কারামত বলি না। বরং আমরা সেগুলোকে তাদের প্রয়োজন পূরণ বলি। আর তা এ কারণে যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর শত্রুদের প্রয়োজন পূরণ করেন তাদের ঢিল দেওয়ার (ইস্তিদরাজ) জন্য এবং তাদের শাস্তিস্বরূপ; ফলে তারা এতে প্রতারিত হয় এবং তাদের অবাধ্যতা ও কুফরি বৃদ্ধি পায়। আর এ সব কিছুই সম্ভব ও জায়িয।
(খণ্ড: ১) আল-ফিকহুল আকবার (পৃষ্ঠা: ৫৩)
‌‌رُؤْيَة الله فِي الْآخِرَة

 

وَكَانَ الله تَعَالَى خَالِقًا قبل ان يخلق ورازقا قبل ان يرْزق وَالله تَعَالَى يرى فِي الْآخِرَة وَيَرَاهُ الْمُؤْمِنُونَ وهم فِي الْجنَّة بأعين رؤوسهم بِلَا تَشْبِيه وَلَا كَيْفيَّة وَلَا يكون بَينه وَبَين خلقه مَسَافَة
পরকালে আল্লাহকে দেখা

 

আল্লাহ তাআলা সৃষ্টি করার পূর্বেই স্রষ্টা ছিলেন এবং রিযিক প্রদানের পূর্বেই রিযিকদাতা ছিলেন। আল্লাহ তাআলা পরকালে দৃশ্যমান হবেন এবং মুমিনগণ জান্নাতে থাকা অবস্থায় তাঁদের চর্মচক্ষু দ্বারা তাঁকে দেখবেন; কোনো সাদৃশ্য ও ধরণ ব্যতিরেকে। আর তাঁর ও তাঁর সৃষ্টির মাঝে কোনো দূরত্ব থাকবে না।
(খণ্ড: ১) আল-ফিকহুল আকবার (পৃষ্ঠা: ৫৫)
‌‌تَعْرِيف الْإِيمَان

 

وَالْإِيمَان هُوَ الْإِقْرَار والتصديق وإيمان أهل السَّمَاء وَالْأَرْض لَا يزِيد وَلَا ينقص من جِهَة الْمُؤمن بهَا وَيزِيد وَينْقص من جِهَة الْيَقِين والتصديق والمؤمنون مستوون فِي الْإِيمَان والتوحيد متفاضلون فِي الْأَعْمَال
ঈমানের পরিচয়

 

ঈমান হলো স্বীকৃতি প্রদান ও সত্যয়ন করা। আসমান ও জমিনের অধিবাসীদের ঈমান, যার ওপর ঈমান আনা হয়েছে সেই বিষয়ের দিক থেকে বৃদ্ধি পায় না এবং হ্রাসও পায় না; তবে তা ইয়াকীন (দৃঢ় বিশ্বাস) ও সত্যয়নের দিক থেকে বৃদ্ধি পায় এবং হ্রাস পায়। মুমিনগণ ঈমান ও তাওহীদের ক্ষেত্রে সমান, তবে আমলের দিক থেকে তারা একে অপরের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করে বা তাদের মধ্যে তারতম্য হয়।
(খণ্ড: ১) আল-ফিকহুল আকবার (পৃষ্ঠা: ৫৭)
‌‌علاقَة الْإِسْلَام وَالْإِيمَان

 

والاسلام هُوَ التَّسْلِيم والإنقياد لأوامر الله تَعَالَى فَمن طَرِيق اللُّغَة فرق بَين الْإِسْلَام وَالْإِيمَان وَلَكِن لَا يكون إِيمَان بِلَا اسلام وَلَا يُوجد إِسْلَام بِلَا إِيمَان وهما كالظهر مَعَ الْبَطن وَالدّين اسْم وَاقع على الْإِيمَان وَالْإِسْلَام والشرائع كلهَا
ইসলাম ও ঈমানের সম্পর্ক

 

আর ইসলাম হলো মহান আল্লাহর আদেশের প্রতি আত্মসমর্পণ ও আনুগত্য। সুতরাং ভাষাগত দিক থেকে ইসলাম ও ঈমানের মধ্যে পার্থক্য করা হয়েছে, কিন্তু ইসলাম ব্যতীত ঈমান হয় না এবং ঈমান ব্যতীত ইসলামের অস্তিত্ব পাওয়া যায় না। তারা উভয়ই পিঠ ও পেটের ন্যায়। আর ‘দ্বীন’ হলো ঈমান, ইসলাম এবং সমস্ত শরয়ি বিধিবিধানের সমষ্টিগত নাম।
(খণ্ড: ১) আল-ফিকহুল আকবার (পৃষ্ঠা: ৫৯)
‌‌معرفتنا بِاللَّه تَعَالَى

 

نَعْرِف الله تَعَالَى حق مَعْرفَته كَمَا وصف نَفسه فِي كِتَابه بِجَمِيعِ صِفَاته وَلَيْسَ يقدر اُحْدُ ان يعبد الله حق عِبَادَته كَمَا هُوَ أهل لَهُ وَلكنه يعبده بأَمْره كَمَا امْرَهْ بكتابه وَسنة رَسُوله وَيَسْتَوِي الْمُؤْمِنُونَ كلهم فِي الْمعرفَة وَالْيَقِين والتوكل والمحبة والرضاء وَالْخَوْف والرجاء وَالْإِيمَان فِي ذَلِك ويتفاوتون فِيمَا دون الْإِيمَان فِي ذَلِك كُله
মহান আল্লাহ তাআলা সম্পর্কে আমাদের পরিচিতি

 

আমরা মহান আল্লাহ তাআলাকে তাঁর যথাযথ পরিচয়ে চিনি, যেমনটি তিনি তাঁর কিতাবে নিজের সমস্ত গুণাবলি দ্বারা নিজের বর্ণনা দিয়েছেন। আর আল্লাহর যথাযথ ইবাদত করার সামর্থ্য কারো নেই যেমনটি তিনি তাঁর মর্যাদার উপযুক্ত। তবে বান্দা তাঁর আদেশ অনুযায়ী তাঁর ইবাদত করে, যেভাবে তিনি তাঁর কিতাবে এবং তাঁর রাসূলের সুন্নাহর মাধ্যমে তাকে নির্দেশ দিয়েছেন। আর আল্লাহ সংক্রান্ত পরিচিতি, দৃঢ় বিশ্বাস, তাওয়াক্কুল, মহব্বত, সন্তুষ্টি, ভয়, আশা এবং ঈমানের ক্ষেত্রে সকল মুমিন সমান। তবে তারা এই সকল ক্ষেত্রে ঈমান ব্যতীত অন্যান্য স্তরে একে অপরের থেকে কম-বেশি হয়ে থাকে।