(খণ্ড: ১)
আল-ফিকহুল আবসাত
(পৃষ্ঠা: -)
الفقه الأبسط القسم: العقيدة
الكتاب: الفقه الأبسط (مطبوع مع الشرح الميسر على الفقهين الأبسط والأكبر المنسوبين لأبي حنيفة تأليف محمد بن عبد الرحمن الخميس)
المؤلف: ينسب لأبي حنيفة النعمان (ت 150 هـ)
الناشر: مكتبة الفرقان - الإمارات
الطبعة: الأولى، 1419 هـ - 1999 م
عدد الصفحات: 167
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-ফিকহুল আবসাত বিভাগ: আকিদাহ
গ্রন্থ: আল-ফিকহুল আবসাত (আবু হানিফার প্রতি সম্বন্ধযুক্ত আল-ফিকহুল আবসাত এবং আল-ফিকহুল আকবার গ্রন্থের ওপর মুহাম্মদ ইবনে আব্দুর রহমান আল-খামিস রচিত ‘আশ-শারহুল মুয়াসসার’ এর সাথে মুদ্রিত)
লেখক: আবু হানিফা আন-নুমান (মৃত্যু ১৫০ হি.)-এর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত
প্রকাশক: মাকতাবাতুল ফুরকান - সংযুক্ত আরব আমিরাত
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৯ হি. - ১৯৯৯ খ্রি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৬৭
[গ্রন্থের নম্বরবিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-ফিকহুল আবসাত
(পৃষ্ঠা: ৭৬)
بسم الله الرحمن الرحيم الْحَمد لله رب الْعَالمين وَالصَّلَاة وَالسَّلَام على سيدنَا مُحَمَّد وَآله وَصَحبه أَجْمَعِينَ
روى الإِمَام أَبُو بكر بن مُحَمَّد الكاساني عَن أبي بكر عَلَاء الدّين مُحَمَّد بن احْمَد السَّمرقَنْدِي قَالَ أخبرنَا أَبُو الْمعِين مَيْمُون بن مُحَمَّد بن مَكْحُول النَّسَفِيّ أخبرنَا أَبُو عبد الله الْحُسَيْن بن على الكاشغري الملقب بِالْفَضْلِ قَالَ أخبرنَا ابو مَالك نصران بن نصر الْخُتلِي عَن عَليّ بن الْحسن بن مُحَمَّد الغزال عَن أبي الْحسن عَليّ بن أَحْمد الْفَارِسِي حَدثنَا نصير بن يحيى الْفَقِيه قَالَ سَمِعت أَبَا مُطِيع الحكم بن عبد الله الْبَلْخِي يَقُول
من أصُول أهل السّنة وَالْجَمَاعَة سَأَلت أَبَا حنيفَة النُّعْمَان بن ثَابت رَضِي الله تَعَالَى عَنهُ وعنهم الْفِقْه الْأَكْبَر فَقَالَ الا تكفر احدا من اهل الْقبْلَة بذنب وَلَا تَنْفِي احدا من الْإِيمَان
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সঙ্গীদের ওপর।
ইমাম আবু বকর বিন মুহাম্মদ আল-কাসানি আবু বকর আলাউদ্দিন মুহাম্মদ বিন আহমাদ আস-সামারকান্দি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল মুঈন মাইমুন বিন মুহাম্মদ বিন মাকহুল আন-নাসাফি। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন বিন আলী আল-কাশগারি, যার উপাধি আল-ফাদল। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মালিক নাসরান বিন নাসর আল-খুতলি, তিনি আলী বিন হাসান বিন মুহাম্মদ আল-গাজ্জাল থেকে, তিনি আবুল হাসান আলী বিন আহমাদ আল-ফারিসি থেকে। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন নাসির বিন ইয়াহইয়া আল-ফকিহ। তিনি বলেন: আমি আবু মুতি আল-হাকাম বিন আব্দুল্লাহ আল-বালখিকে বলতে শুনেছি:
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের মূলনীতিসমূহ হতে আমি আবু হানিফা নুমান বিন সাবিত (আল্লাহ তাআলা তাঁর এবং তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-কে 'আল-ফিকহুল আকবার' সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: তুমি কিবলাহ অনুসারীদের কাউকে কোনো পাপের কারণে কাফের বলবে না এবং কাউকে ঈমান থেকে বহিষ্কার করবে না।
(খণ্ড: ১)
আল-ফিকহুল আবসাত
(পৃষ্ঠা: ৭৮)
وَأَن تَأمر بِالْمَعْرُوفِ وتنهى عَن الْمُنكر وَتعلم ان مَا أَصَابَك لم يكن ليخطئك وان مَا أخطأك لم يكن ليصيبك وَلَا تتبرأ من أحد من أَصْحَاب رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم
আর আপনি সৎকাজের আদেশ দেবেন এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করবেন; আর এ কথা জানবেন যে, যা আপনার নিকট পৌঁছেছে তা আপনাকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার ছিল না এবং যা আপনাকে পাশ কাটিয়ে গেছে তা আপনার নিকট পৌঁছানোর ছিল না; আর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের মধ্য থেকে কারো সাথেই সম্পর্ক ছিন্ন করবেন না।
(খণ্ড: ১)
আল-ফিকহুল আবসাত
(পৃষ্ঠা: ৮০)
وَلَا توالي أحدا دون اُحْدُ وان ترد امْر عُثْمَان وَعلي إِلَى الله تَعَالَى
এবং আপনি একজনকে বাদ দিয়ে অন্যজনের প্রতি বিশেষ আনুগত্য পোষণ করবেন না এবং উসমান ও আলীর বিষয়টি মহান আল্লাহর নিকট সোপর্দ করবেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ফিকহুল আবসাত
(পৃষ্ঠা: ৮২)
أفضل الْفِقْه وتعريف الْإِيمَان وأركانه وَقَالَ ابو حنيفَة رضي الله عنه الْفِقْه فِي الدّين لأَفْضَل من الْفِقْه فِي الْأَحْكَام وَلِأَن يتفقه الرجل كَيفَ يعبد ربه خير لَهُ من ان يجمع الْعلم الْكثير قَالَ أَبُو مُطِيع قلت فَأَخْبرنِي عَن أفضل الْفِقْه قَالَ ابو حنيفَة ان يتَعَلَّم الرجل الايمان بِاللَّه تَعَالَى والشرائع وَالسّنَن وَالْحُدُود وَاخْتِلَاف الْأمة واتفاقها
قَالَ قلت فَأَخْبرنِي عَن الْإِيمَان فَقَالَ حَدثنِي ابْن مرْثَد عَن يحيى بن يعمر قَالَ قلت لِابْنِ عمر رضي الله عنهما أَخْبرنِي عَن الدّين مَا هُوَ قَالَ عَلَيْك بِالْإِيمَان فتعلمه
قلت فَأَخْبرنِي عَن الْإِيمَان مَا هُوَ فَأخذ بيَدي فَانْطَلق الى شيخ فأقعدني الى جنبه فَقَالَ إِن هَذَا يسْأَل عَن الْإِيمَان كَيفَ هُوَ
শ্রেষ্ঠ ফিকহ এবং ঈমানের সংজ্ঞা ও তার রুকনসমূহ এবং আবু হানিফা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: দ্বীনের বিষয়ে ফিকহ (গভীর জ্ঞান) অর্জন করা বিধিবিধানের ফিকহ অর্জনের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। একজন ব্যক্তির তার প্রতিপালকের ইবাদত কীভাবে করতে হয় তা শেখা তার জন্য প্রচুর ইলম জমা করার চেয়ে উত্তম। আবু মুতি বলেন, আমি বললাম: আমাকে শ্রেষ্ঠ ফিকহ সম্পর্কে অবহিত করুন। আবু হানিফা বললেন: তা হলো ব্যক্তির আল্লাহ তাআলার প্রতি ঈমান, শরয়ি বিধানাবলি, সুন্নাতসমূহ, হুদুদ (দণ্ডবিধি) এবং উম্মতের মতভেদ ও ঐকমত্য সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা।
তিনি বলেন, আমি বললাম: আমাকে ঈমান সম্পর্কে অবহিত করুন। তখন তিনি বললেন: ইবনে মারসাদ ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ামুর থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে বললাম: আমাকে দ্বীন সম্পর্কে বলুন যে তা কী? তিনি বললেন: তোমার জন্য ঈমান আবশ্যক, তাই তা শিক্ষা করো।
আমি বললাম: আমাকে ঈমান সম্পর্কে বলুন যে তা কী? তখন তিনি আমার হাত ধরলেন এবং একজন শায়খের কাছে নিয়ে গেলেন এবং আমাকে তাঁর পাশে বসিয়ে দিলেন। অতঃপর বললেন: নিশ্চয়ই এই ব্যক্তি ঈমান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছে যে তা কেমন।
(খণ্ড: ১)
আল-ফিকহুল আবসাত
(পৃষ্ঠা: ৮৪)
فَقَالَ وَالشَّيْخ كَانَ مِمَّن شهد بَدْرًا مَعَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَقَالَ ابْن عمر كنت الى جنب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَهَذَا الشَّيْخ معي إِذْ دخل علينا رجل حسن اللمة متعمما نحسبه من رجال الْبَادِيَة فتخطى رِقَاب النَّاس فَوقف بَين يَدي رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُول الله مَا الْإِيمَان قَالَ شَهَادَة ان لَا اله الا الله
তিনি বললেন, আর সেই শাইখ তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে বদর যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন। অত:পর ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পাশে ছিলাম এবং এই শাইখও আমার সাথে ছিলেন। এমতাবস্থায় সুন্দর কেশধারী ও পাগড়ি পরিহিত এক ব্যক্তি আমাদের নিকট আসলেন, যাকে আমরা মরুচারী গ্রাম্য লোকদের একজন মনে করছিলাম। তিনি মানুষের ঘাড় ডিঙ্গিয়ে এগিয়ে আসলেন এবং আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন। এরপর তিনি বললেন, "হে আল্লাহর রাসূল! ঈমান কী?" তিনি বললেন, "এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই।"
(খণ্ড: ১)
আল-ফিকহুল আবসাত
(পৃষ্ঠা: ৮৬)
وان مُحَمَّدًا عَبده وَرَسُوله وتؤمن بملائكته
এবং নিশ্চয়ই মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর বান্দা ও তাঁর রাসূল এবং আপনি তাঁর ফেরেশতাগণের প্রতি ঈমান আনবেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ফিকহুল আবসাত
(পৃষ্ঠা: ৮৭)
وَكتبه وَرُسُله
এবং তাঁর কিতাবসমূহ ও তাঁর রাসূলগণ
(খণ্ড: ১)
আল-ফিকহুল আবসাত
(পৃষ্ঠা: ৮৯)
وَالْيَوْم الآخر وَالْقدر خَيره وشره من الله تَعَالَى
এবং শেষ দিবস এবং তকদির—তার ভালো ও মন্দ আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে।
(খণ্ড: ১)
আল-ফিকহুল আবসাত
(পৃষ্ঠা: ৯১)
فَقَالَ صدقت فتعجبنا من تَصْدِيقه رَسُول الله صلى الله عليه وسلم مَعَ جهل اهل الْبَادِيَة فَقَالَ يَا رَسُول الله مَا شرائع الْإِسْلَام فَقَالَ إقَام الصَّلَاة وإيتاء الزَّكَاة وَصَوْم رَمَضَان وَحج الْبَيْت لمن اسْتَطَاعَ اليه سَبِيلا والاغتسال من الْجَنَابَة
فَقَالَ صدقت فتعجبنا لقَوْله بتصديقه رَسُول الله صلى الله عليه وسلم كَأَنَّمَا يُعلمهُ
فَقَالَ يَا رَسُول الله وَمَا الْإِحْسَان
অতঃপর তিনি বললেন, "আপনি সত্য বলেছেন।" মরুচারী আরবদের অজ্ঞতা সত্ত্বেও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি তাঁর এই সত্যায়ন দেখে আমরা বিস্ময়বোধ করলাম। তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, "হে আল্লাহর রাসূল, ইসলামের বিধানসমূহ কী কী?" তিনি উত্তর দিলেন, "সালাত কায়েম করা, যাকাত প্রদান করা, রমজানের সিয়াম পালন করা, সামর্থ্য থাকলে বায়তুল্লাহর হজ করা এবং জানাবাত থেকে গোসল করা।"
তিনি বললেন, "আপনি সত্য বলেছেন।" রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি তাঁর এই সত্যায়নমূলক উক্তিতে আমরা বিস্মিত হলাম, যেন তিনি তাঁকে শিক্ষা দিচ্ছিলেন।
অতঃপর তিনি বললেন, "হে আল্লাহর রাসূল, ইহসান কী?"
(খণ্ড: ১)
আল-ফিকহুল আবসাত
(পৃষ্ঠা: ৯২)
قَالَ ان تعْمل لله كَأَنَّك ترَاهُ فَإِن لم تكن ترَاهُ فَإِنَّهُ يراك
قَالَ صدقت
فَقَالَ يَا رَسُول الله مَتى السَّاعَة فَقَالَ المسؤول عَنْهَا بِأَعْلَم من السَّائِل ثمَّ مضى فَلَمَّا توَسط النَّاس لم نره فَقَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم إِن هَذَا جِبْرِيل أَتَاكُم ليعلمكم معالم دينكُمْ
তিনি বললেন, "আপনি আল্লাহর ইবাদত এমনভাবে করবেন যেন আপনি তাঁকে দেখছেন; আর যদি আপনি তাঁকে দেখতে না পান, তবে নিশ্চয়ই তিনি আপনাকে দেখছেন।"
তিনি বললেন, "আপনি সত্য বলেছেন।"
অতঃপর তিনি বললেন, "হে আল্লাহর রাসূল! কিয়ামত কখন হবে?" তিনি বললেন, "এই বিষয়ে যাকে প্রশ্ন করা হচ্ছে তিনি প্রশ্নকারীর চেয়ে অধিক অবগত নন।" অতঃপর তিনি চলে গেলেন। যখন তিনি লোকজনের ভিড়ের মাঝে অদৃশ্য হয়ে গেলেন, আমরা তাঁকে আর দেখতে পেলাম না। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "নিশ্চয়ই ইনি জিবরাঈল; তিনি তোমাদের নিকট এসেছিলেন তোমাদের দ্বীনের নিদর্শনসমূহ শিক্ষা দেওয়ার জন্য।"
(খণ্ড: ১)
আল-ফিকহুল আবসাত
(পৃষ্ঠা: ৯৪)
حكم من كذب بالخلق اَوْ انكر مَعْلُوما من الدّين بِالضَّرُورَةِ قَالَ أَبُو مُطِيع قلت لأبي حنيفَة رحمه الله فَإِذا استيقن بِهَذَا وَأقر بِهِ فَهُوَ مُؤمن قَالَ نعم
إِذا أقرّ بِهَذَا فقد أقرّ بجملة الْإِسْلَام وَهُوَ مُؤمن
فَقلت إِذا أنكر بِشَيْء من خلقه فَقَالَ لَا ادري من خَالق هَذَا
قَالَ فَإِنَّهُ كفر لقَوْله تَعَالَى {خَالق كل شَيْء} فَكَانهُ قَالَ لَهُ خَالق غير الله وَكَذَلِكَ لَو قَالَ لَا اعْلَم ان الله فرض عَليّ الصَّلَاة وَالصِّيَام وَالزَّكَاة فَإِنَّهُ قد كفر
لقَوْله تَعَالَى {وَأقِيمُوا الصَّلَاة وَآتوا الزَّكَاة} وَلقَوْله تَعَالَى {كتب عَلَيْكُم الصّيام} وَلقَوْله تَعَالَى {فسبحان الله حِين تمسون وَحين تُصبحُونَ وَله الْحَمد فِي السَّمَاوَات وَالْأَرْض وعشيا وَحين تظْهرُونَ} فَإِن قَالَ أُؤْمِن بِهَذِهِ الْآيَة
সৃষ্টিকে অস্বীকারকারী বা দ্বীনের অত্যাবশ্যকীয় কোনো বিষয়কে অস্বীকারকারীর বিধান আবু মুতি বলেন, আমি আবু হানিফা (রাহিমাহুল্লাহ)-কে বললাম, যদি কেউ এ বিষয়ে নিশ্চিত বিশ্বাস রাখে এবং এটি স্বীকার করে, তবে কি সে মুমিন? তিনি বললেন, হ্যাঁ।
যখন সে এটি স্বীকার করল, তবে সে ইসলামের সামগ্রিক বিষয়গুলো স্বীকার করল এবং সে একজন মুমিন।
আমি বললাম, যদি সে সৃষ্টির কোনো কিছুকে অস্বীকার করে এবং বলে, "আমি জানি না এর স্রষ্টা কে?"
তিনি বললেন, তবে সে কুফরি করল; কারণ মহান আল্লাহর বাণী হলো—{তিনি সর্বকিছুর স্রষ্টা}। ফলে সে যেন বলল যে, আল্লাহ ব্যতীত এর অন্য কোনো স্রষ্টা রয়েছে। তেমনিভাবে, যদি সে বলে, "আমি জানি না যে আল্লাহ আমার উপর সালাত, সিয়াম ও জাকাত ফরজ করেছেন," তবে সে কুফরি করল।
কারণ মহান আল্লাহর বাণী হলো—{তোমরা সালাত কায়েম করো ও জাকাত প্রদান করো}, এবং মহান আল্লাহর বাণী—{তোমাদের ওপর সিয়াম ফরজ করা হয়েছে}, এবং মহান আল্লাহর বাণী—{সুতরাং তোমরা আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করো যখন তোমরা সন্ধ্যায় উপনীত হও এবং যখন ভোরে উপনীত হও। আর আসমানসমূহ ও জমিনে সকল প্রশংসা কেবল তাঁরই; এবং বিকেলে ও যখন তোমরা জোহরের সময়ে উপনীত হও}। অতঃপর সে যদি বলে, "আমি এই আয়াতের প্রতি ঈমান রাখি—"
(খণ্ড: ১)
আল-ফিকহুল আবসাত
(পৃষ্ঠা: ৯৬)
وَلَا أعلم تَأْوِيلهَا وَلَا اعْلَم تَفْسِيرهَا فَإِنَّهُ لَا يكفر لِأَنَّهُ مُؤمن بالتنزيل ومخطىء فِي التَّفْسِير الخطا فِي التاويل لَا يكفر بِهِ الْمَرْء وَالْجَاهِل فِي أَرض الشّرك لَا يكفر قلت لَهُ لَو أقرّ بجملة الاسلام فِي أَرض الشّرك وَلَا يعلم شَيْئا من الْفَرَائِض والشرائع وَلَا يقر بِالْكتاب وَلَا بِشَيْء من شرائع الْإِسْلَام الا انه مقرّ بِاللَّه تَعَالَى وبالإيمان وَلَا يقر بِشَيْء من شرائع الْإِيمَان فَمَاتَ أهوَ مُؤمن
قَالَ نعم قلت وَلَو لم يعلم شَيْئا وَلم يعْمل بِهِ الا أَنه مقرّ بِالْإِيمَان فَمَاتَ
قَالَ هُوَ مُؤمن
تَعْرِيف أبي حنيفَة للْإيمَان وتفويض الْأَعْمَال إِلَى الله تَعَالَى وكل ميسر لما خلق لَهُ قلت لأبي حنيفَة أَخْبرنِي عَن الْإِيمَان
قَالَ أَن تشهد ان لَا إِلَه الا الله وَحده لَا شريك لَهُ وَتشهد بملائكته وَكتبه وَرُسُله وجنته وناره وقيامته وخيره وشره
আমি এগুলোর ব্যাখ্যা জানি না এবং এগুলোর তাফসিরও জানি না, তবে এতে সে কাফির হবে না। কারণ সে অবতীর্ণ বাণীর (তানজিল) প্রতি বিশ্বাসী এবং তাফসিরের ক্ষেত্রে ভুলকারী। ব্যাখ্যার (তাউইল) ক্ষেত্রে ভুলের কারণে কোনো ব্যক্তিকে কাফির ঘোষণা করা যায় না এবং শিরকের ভূমিতে বসবাসকারী অজ্ঞ ব্যক্তিও কাফির হয় না। আমি তাঁকে বললাম, যদি কেউ শিরকের ভূমিতে ইসলামের সামগ্রিক বিষয়ের স্বীকৃতি দেয় কিন্তু ফরজসমূহ ও শরিয়তের বিধানাবলি সম্পর্কে কিছুই জানে না, আর সে কিতাবের প্রতি কিংবা ইসলামের কোনো বিধানের প্রতি স্বীকৃতি দেয় না, কেবল আল্লাহ তাআলা ও ঈমানের প্রতি স্বীকৃতি দেয় কিন্তু ঈমানের কোনো বিধানের প্রতি স্বীকৃতি দেয় না এবং এমতাবস্থায় সে মারা যায়; তবে সে কি মুমিন?
তিনি বললেন, হ্যাঁ।
আমি বললাম, যদি সে কিছুই না জানে এবং কোনো আমলও না করে, কেবল ঈমানের স্বীকৃতি দেয় এবং মারা যায়?
তিনি বললেন, সে মুমিন।
ঈমান সম্পর্কে আবু হানিফার সংজ্ঞা এবং আমলসমূহ আল্লাহ তাআলার ওপর ন্যস্ত করা এবং প্রত্যেকে যার জন্য সৃষ্টি হয়েছে তার জন্য তা সহজ হওয়া। আমি আবু হানিফাকে বললাম, আমাকে ঈমান সম্পর্কে বলুন।
তিনি বললেন, তুমি সাক্ষ্য দেবে যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; এবং সাক্ষ্য দেবে তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসুলগণ, তাঁর জান্নাত, জাহান্নাম, কিয়ামত এবং তকদিরের ভালো ও মন্দের প্রতি।
(খণ্ড: ১)
আল-ফিকহুল আবসাত
(পৃষ্ঠা: ৯৮)
وَتشهد انه لم يُفَوض الْأَعْمَال الى اُحْدُ وَالنَّاس صائرون الى مَا خلقُوا لَهُ والى مَا جرت بِهِ الْمَقَادِير فَقلت لَهُ رَأَيْت إِن أقرّ هَذَا كُله لكنه قَالَ الْمَشِيئَة إِلَيّ إِن شِئْت آمَنت وَإِن شِئْت لم اؤمن لقَوْله تَعَالَى {فَمن شَاءَ فليؤمن وَمن شَاءَ فليكفر}
فَقَالَ ذَلِك فِي زَعمه أَلا ترى الى قَوْله تَعَالَى {كلا إِنَّه تذكرة فَمن شَاءَ ذكره وَمَا يذكرُونَ إِلَّا أَن يَشَاء الله}
আর আপনি সাক্ষ্য দিবেন যে, তিনি আমলসমূহ কারো নিকট অর্পণ করেননি এবং মানুষ সেদিকেই ধাবিত হচ্ছে যার জন্য তাদের সৃষ্টি করা হয়েছে এবং তাকদীরের বিধান অনুযায়ী তাদের জন্য যা নির্ধারিত হয়েছে। তখন আমি তাঁকে বললাম, আপনার কি মত যদি সে এই সব কিছু স্বীকার করে কিন্তু বলে যে, 'ইচ্ছা তো আমারই; আমি চাইলে ঈমান আনব আর চাইলে ঈমান আনব না,' মহান আল্লাহর এই বাণীর প্রেক্ষিতে: {অতএব যার ইচ্ছা সে ঈমান আনুক এবং যার ইচ্ছা সে কুফরি করুক}?
অতঃপর তিনি বললেন, এটি তার ধারণা মাত্র। আপনি কি মহান আল্লাহর এই বাণীর প্রতি লক্ষ্য করেননি: {কখনোই নয়, নিশ্চয় এটি একটি উপদেশ। সুতরাং যার ইচ্ছা সে তা স্মরণ রাখুক। আর তারা স্মরণ করবে না, যতক্ষণ না আল্লাহ ইচ্ছা করেন}?
(খণ্ড: ১)
আল-ফিকহুল আবসাত
(পৃষ্ঠা: ১০০)
وَقَالَ تَعَالَى {وَمَا تشاؤون إِلَّا أَن يَشَاء الله} وَقَوله تَعَالَى {فَمن شَاءَ فليؤمن وَمن شَاءَ فليكفر} هَذَا وَعِيد وَلِهَذَا لم يكفر لِأَنَّهُ لم يرد الْآيَة وَإِنَّمَا اخطأ فِي تَأْوِيلهَا وَلم يرد بِهِ تنزيلها
قلت لَهُ إِن قَالَ إِن إصابتي مُصِيبَة فَسُئِلت أَهِي مِمَّا ابتلاني الله بهَا اَوْ هِيَ مِمَّا اكْتسبت أجَاب قَائِلا لَيست هِيَ مِمَّا ابتلاني الله بهَا
أيكفر قَالَ لَا قلت وَلم قَالَ لِأَن الله تَعَالَى قَالَ {مَا أَصَابَك من حَسَنَة فَمن الله وَمَا أَصَابَك من سَيِّئَة فَمن نَفسك}
أَي بذنبك وانا قدرته عَلَيْهِ وَقَالَ {وَمَا أَصَابَكُم من مُصِيبَة فبمَا كسبت أَيْدِيكُم} أَي بذنوبكم
وَقَالَ تَعَالَى {يضل من يَشَاء وَيهْدِي من يَشَاء}
قَالَ الا انه اخطأ فِي التَّأْوِيل وَمعنى قَوْله (يحول بَين الْمَرْء وَقَلبه) أَي بَين الْمُؤمن وَالْكفْر وَبَين الْكَافِر وَالْإِيمَان
আল্লাহ তাআলা বলেছেন, {আর তোমরা ইচ্ছা করতে পারো না যদি না আল্লাহ ইচ্ছা করেন} এবং মহান আল্লাহর বাণী {সুতরাং যার ইচ্ছা সে ঈমান আনুক এবং যার ইচ্ছা সে কুফরি করুক} এটি একটি সতর্কবাণী, আর একারণেই সে কাফির হবে না, কারণ সে আয়াতটিকে প্রত্যাখ্যান করেনি, বরং সে এর ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে ভুল করেছে এবং এর নাজিল হওয়াকে অস্বীকার করার উদ্দেশ্য তার ছিল না।
আমি তাকে বললাম, যদি কেউ বলে যে "আমার যে বিপদ হয়েছে", অতঃপর তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো এটি কি আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষা নাকি এটি আমার অর্জিত বিষয়? সে উত্তরে বলল, "এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষা নয়"।
সে কি কাফির হয়ে যাবে? তিনি বললেন, না। আমি বললাম, কেন? তিনি বললেন, কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন {আপনার নিকট যে কল্যাণ পৌঁছে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর আপনার নিকট যে মন্দ পৌঁছে তা আপনার নিজের পক্ষ থেকে।}
অর্থাৎ আপনার পাপের কারণে, অথচ আমিই তা তার ওপর নির্ধারণ করেছি। এবং তিনি বলেছেন {তোমাদের ওপর যে বিপদ আপতিত হয় তা তোমাদের হাত যা অর্জন করেছে তার কারণে}, অর্থাৎ তোমাদের পাপসমূহের কারণে।
এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন {তিনি যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করেন।}
তিনি বললেন, তবে সে ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে ভুল করেছে। আর তাঁর বাণী (তিনি মানুষ ও তার অন্তরের মাঝে অন্তরায় হন)-এর অর্থ হলো: মুমিন ও কুফরির মাঝে এবং কাফির ও ঈমানের মাঝে।
(খণ্ড: ১)
আল-ফিকহুল আবসাত
(পৃষ্ঠা: ১০২)
كَلَامه عَن الِاسْتِطَاعَة قَالَ أَبُو حنيفَة رحمه الله إِن الِاسْتِطَاعَة الَّتِي يعْمل بهَا العَبْد الْمعْصِيَة هِيَ بِعَينهَا تصلح لَان يعْمل بهَا الطَّاعَة وَهُوَ معاقب فِي صرف الِاسْتِطَاعَة الَّتِي احدثها الله تعالي فِيهِ وَأمره ان يستعملها فِي الطَّاعَة دون الْمعْصِيَة قلت فَإِن قَالَ الله تَعَالَى لم يجْبر عباده على ذَنْب ثمَّ يعذبهم عَلَيْهِ فَمَا نقُول لَهُ
সক্ষমতা সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য আবু হানিফা (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, নিশ্চয়ই যে সক্ষমতার মাধ্যমে বান্দা অবাধ্যতার কাজ করে, তা হুবহু সেই সক্ষমতাই যা আনুগত্যের কাজ করার জন্যও উপযুক্ত। আর আল্লাহ তাআলা তার মধ্যে যে সক্ষমতা সৃষ্টি করেছেন তা (পাপের পথে) ব্যয় করার কারণে সে শাস্তিযোগ্য হবে, অথচ তিনি তাকে তা আনুগত্যের কাজে ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছিলেন, অবাধ্যতার কাজে নয়। আমি বললাম: যদি সে বলে যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের কোনো পাপের কাজে বাধ্য করেননি অথচ তিনি তাদের সেই কাজের জন্য শাস্তি দেবেন, তবে আমরা তাকে কী বলব?
(খণ্ড: ১)
আল-ফিকহুল আবসাত
(পৃষ্ঠা: ১০৩)
الرَّد على من زعم ان الله لم يخلق الشَّرّ قَالَ لَهُ هَل يُطيق العَبْد لنَفسِهِ ضرا وَلَا نفعا فَإِن قَالَ لَا لأَنهم مَجْبُورُونَ فِي الضّر والنفع مَا خلا الطَّاعَة وَالْمَعْصِيَة فَقيل لَهُ هَل خلق الله الشَّرّ فَإِن قَالَ نعم خرج من قَوْله وَإِن قَالَ لَا كفر لقَوْله تَعَالَى {قل أعوذ بِرَبّ الفلق من شَرّ مَا خلق} أخبر ان الله تَعَالَى خلق الشَّرّ
قلت فَإِن قَالَ ألستم تَقولُونَ إِن الله شَاءَ الْكفْر وَشاء الْإِيمَان
فَإِن قُلْنَا نعم يَقُول أَلَيْسَ الله تَعَالَى يَقُول {هُوَ أهل التَّقْوَى وَأهل الْمَغْفِرَة} نقُول نعم
যারা দাবি করে যে আল্লাহ মন্দ সৃষ্টি করেননি তাদের খণ্ডন তাকে বলা হলো, বান্দা কি নিজের জন্য কোনো অপকার বা উপকারের সামর্থ্য রাখে? যদি সে বলে "না", কারণ আনুগত্য ও পাপাচার ব্যতীত ক্ষতি ও উপকারের ক্ষেত্রে তারা বাধ্য, তবে তাকে বলা হবে, আল্লাহ কি মন্দ সৃষ্টি করেছেন? যদি সে বলে "হ্যাঁ", তবে সে তার বক্তব্য থেকে বিচ্যুত হলো। আর যদি সে বলে "না", তবে সে কুফরি করল। কারণ মহান আল্লাহর বাণী: {বলুন, আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি উষার রবের নিকট, তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার মন্দ হতে}। তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে আল্লাহ তাআলা মন্দ সৃষ্টি করেছেন।
আমি বললাম, যদি সে বলে, আপনারা কি বলেন না যে আল্লাহ কুফরি এবং ঈমান উভয়ই ইচ্ছা করেছেন?
যদি আমরা বলি "হ্যাঁ", তবে সে বলবে, আল্লাহ তাআলা কি বলেননি যে, {তিনিই তাকওয়ার যোগ্য এবং ক্ষমা করার অধিকারী}? আমরা বলব "হ্যাঁ"।
(খণ্ড: ১)
আল-ফিকহুল আবসাত
(পৃষ্ঠা: ১০৫)
فَيَقُول أهوَ أهل الْكفْر فَمَا نقُول لَهُ قَالَ نقُول هُوَ أهل لمن يَشَاء الطَّاعَة وَلَيْسَ بِأَهْل لمن يَشَاء الْمعْصِيَة
فَإِن قَالَ إِن الله تَعَالَى لم يَشَأْ أَن يُقَال عَلَيْهِ الْكَذِب فَقل لَهُ الْفِرْيَة على الله من الْكَلَام والمنطق ام لَا فَإِن قَالَ نعم
فَقل من علم آدم الْأَسْمَاء كلهَا فَإِن قَالَ الله
فَقل الْكفْر من الْكَلَام ام لَا فَإِن قَالَ نعم
فَقل من انطق الْكَافِر فَإِن قَالَ الله
خصموا انفسهم لِأَن الشّرك من النُّطْق وَلَو شَاءَ الله لما انطقهم بِهِ
قلت فَإِن قَالَ إِن الرجل
অতঃপর তিনি বলেন: তিনি কি কুফরের অধিকারী? আমরা তাকে কী বলব? তিনি বললেন: আমরা বলব, তিনি যার জন্য আনুগত্য ইচ্ছা করেন তার জন্য তিনি আনুগত্যের অধিকারী, আর যার জন্য অবাধ্যতা ইচ্ছা করেন তার জন্য তিনি অবাধ্যতার অধিকারী নন।
যদি সে বলে: আল্লাহ তাআলা চাননি যে তাঁর সম্পর্কে মিথ্যা বলা হোক, তবে তাকে বলুন: আল্লাহর ওপর অপবাদ দেওয়া কি কথা ও বাক্যের অন্তর্ভুক্ত নয়? যদি সে বলে: হ্যাঁ।
তবে বলুন: কে আদমকে সমস্ত নাম শিক্ষা দিয়েছেন? যদি সে বলে: আল্লাহ।
তবে বলুন: কুফর কি কথার অন্তর্ভুক্ত নয়? যদি সে বলে: হ্যাঁ।
তবে বলুন: কে কাফিরকে কথা বলিয়েছেন? যদি সে বলে: আল্লাহ।
তারা নিজেরাই নিজেদের যুক্তিতে পরাস্ত হলো, কেননা শিরক কথা বলারই অংশ, আর আল্লাহ যদি না চাইতেন তবে তাদের তা দিয়ে কথা বলাতেন না।
আমি বললাম: যদি সে বলে যে নিশ্চয়ই সেই ব্যক্তি
(খণ্ড: ১)
আল-ফিকহুল আবসাত
(পৃষ্ঠা: ১০৬)
إِن شَاءَ فعل وَإِن شَاءَ لم يفعل
وَإِن شَاءَ أكل وَإِن شَاءَ لم يَأْكُل وَإِن شَاءَ شرب وَإِن شَاءَ لم يشرب
قَالَ فَقل لَهُ هَل حكم الله على بني إِسْرَائِيل ان يعبروا الْبَحْر وَقدر على فِرْعَوْن الْغَرق فَإِن قَالَ نعم قل لَهُ فَهَل يَقع من فِرْعَوْن ان لَا يسير فِي طلب مُوسَى وَألا يغرق هُوَ وَأَصْحَابه فَإِن قَالَ نعم فقد كفر وَإِن قَالَ لَا نقض قَوْله السَّابِق
তিনি চাইলে করেন এবং না চাইলে করেন না।
এবং তিনি চাইলে আহার করেন এবং না চাইলে আহার করেন না, আর তিনি চাইলে পান করেন এবং না চাইলে পান করেন না।
তিনি বললেন: তাকে বলুন, আল্লাহ কি বনী ইসরাঈলের জন্য সমুদ্র পার হওয়া নির্ধারণ করেছিলেন এবং ফিরআউনের জন্য নিমজ্জিত হওয়া অবধারিত করেছিলেন? যদি সে বলে ‘হ্যাঁ’, তবে তাকে বলুন: তবে ফিরআউনের পক্ষ থেকে কি এটি ঘটা সম্ভব ছিল যে সে মূসার অন্বেষণে বের হবে না এবং সে ও তার সঙ্গীরা নিমজ্জিত হবে না? যদি সে বলে ‘হ্যাঁ’, তবে সে কুফরি করল, আর যদি সে বলে ‘না’, তবে সে তার পূর্ববর্তী উক্তি খণ্ডন করল।
(খণ্ড: ১)
আল-ফিকহুল আবসাত
(পৃষ্ঠা: ১০৭)
بَاب فِي الْقدر
قَالَ حَدثنَا عَليّ بن احْمَد عَن نصير بن يحيى قَالَ سَمِعت أَبَا مُطِيع يَقُول قَالَ ابو حنيفَة رضي الله عنه حَدثنَا حَمَّاد عَن إِبْرَاهِيم عَن عبد الله بن مَسْعُود رضي الله عنهم قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم (إِن خلق احدكم يجمع فِي بطن امهِ أَرْبَعِينَ يَوْمًا نُطْفَة ثمَّ علقَة مثل ذَلِك ثمَّ مُضْغَة مثل ذَلِك ثمَّ يبْعَث الله اليه ملكا يكْتب عَلَيْهِ رزقه واجله وشقي ام سعيد وَالَّذِي لَا إِلَه غَيره إِن الرجل ليعْمَل عمل اهل النَّار حَتَّى مَا يكون بَينه وَبَينهَا الا ذِرَاع فَيَسْبق عَلَيْهِ الْكتاب فَيعْمل بِعَمَل أهل الْجنَّة فَيَمُوت فيدخلها وَإِن الرجل ليعْمَل بِعَمَل اهل الْجنَّة حَتَّى مَا يكون بَينه وَبَينهَا الا ذِرَاع فَيعْمل بِعَمَل اهل النَّار فَيَمُوت فيدخلها)
তকদীর সংক্রান্ত অধ্যায়
তিনি বলেন, আলী ইবনে আহমদ আমাদের কাছে নাসির ইবনে ইয়াহইয়া থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি আবু মুতীকে বলতে শুনেছি যে, আবু হানিফা (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) বলেছেন, হাম্মাদ আমাদের কাছে ইব্রাহিম থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (আল্লাহ তাঁদের ওপর সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন (নিশ্চয়ই তোমাদের প্রত্যেকের সৃষ্টি তার মায়ের পেটে চল্লিশ দিন পর্যন্ত শুক্রাণু হিসেবে জমা থাকে, এরপর একইভাবে রক্তপিণ্ড হিসেবে থাকে, এরপর একইভাবে মাংসপিণ্ড হিসেবে থাকে। এরপর আল্লাহ তার কাছে একজন ফেরেশতা পাঠান, যিনি তার রিযিক, আয়ু এবং সে কি হতভাগা নাকি সৌভাগ্যবান—তা লিখে দেন। সেই সত্তার কসম, যাঁর ব্যতীত অন্য কোনো ইলাহ নেই, কোনো ব্যক্তি জাহান্নামীদের আমল করতে থাকে, এমনকি তার ও জাহান্নামের মাঝে মাত্র এক হাতের দূরত্ব অবশিষ্ট থাকে, তখন তার ওপর তাকদীরের লিখন প্রবল হয় এবং সে জান্নাতীদের আমল শুরু করে, অতঃপর সে মৃত্যুবরণ করে এবং জান্নাতে প্রবেশ করে। আর কোনো ব্যক্তি জান্নাতীদের আমল করতে থাকে, এমনকি তার ও জান্নাতের মাঝে মাত্র এক হাতের দূরত্ব অবশিষ্ট থাকে, তখন সে জাহান্নামীদের আমল শুরু করে, অতঃপর সে মৃত্যুবরণ করে এবং জাহান্নামে প্রবেশ করে।)
(খণ্ড: ১)
আল-ফিকহুল আবসাত
(পৃষ্ঠা: ১০৮)
بَاب فِي الْبَغي وَالْخُرُوج على الإِمَام
قلت فَمَا تَقول فِيمَن يَأْمر بِالْمَعْرُوفِ وَينْهى عَن الْمُنكر فيتبعه على ذَلِك نَاس فَيخرج على الْجَمَاعَة هَل ترى ذَلِك
قَالَ لَا قلت وَلم وَقد امْر الله تَعَالَى وَرَسُوله بِالْأَمر بِالْمَعْرُوفِ وَالنَّهْي عَن الْمُنكر وَهَذَا فَرِيضَة وَاجِبَة
فَقَالَ هُوَ كَذَلِك لَكِن مَا يفسدون من ذَلِك أَكثر مِمَّا يصلحون من سفك الدِّمَاء وَاسْتِحْلَال الْمَحَارِم وانتهاب الْأَمْوَال وَقد قَالَ الله تَعَالَى {وَإِن طَائِفَتَانِ من الْمُؤمنِينَ اقْتَتَلُوا فأصلحوا بَينهمَا فَإِن بَغت إِحْدَاهمَا على الْأُخْرَى فَقَاتلُوا الَّتِي تبغي حَتَّى تفيء إِلَى أَمر الله}
قلت فنقاتل الفئة الباغية بِالسَّيْفِ قَالَ نعم تَأمر وتنهي فَإِن قبل والا قَاتلته فَتكون مَعَ الفئة العادلة وَإِن كَانَ الإِمَام جائرا لقَوْل النَّبِي عليه الصلاة والسلام (لَا يضركم جور من جَار وَلَا عدل من عدل لكم أجركُم وَعَلِيهِ وزره) قلت لَهُ
ইমামের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ও অবাধ্যতা বিষয়ক অধ্যায়
আমি বললাম, যে ব্যক্তি সৎকাজের আদেশ প্রদান করে এবং অসৎকাজের নিষেধ করে এবং এই উদ্দেশ্যে কিছু লোক তার অনুসরণ করে, অতঃপর সে মুসলিম জামাআতের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে—এ ব্যাপারে আপনার অভিমত কী? আপনি কি একে বৈধ মনে করেন?
তিনি বললেন, না। আমি বললাম, কেন? অথচ আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূল সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের নির্দেশ দিয়েছেন এবং এটি একটি আবশ্যকীয় ফরজ কাজ।
তিনি বললেন, বিষয়টি এমনই, কিন্তু তারা এর মাধ্যমে সংশোধনের চেয়ে বিপর্যয়ই বেশি সৃষ্টি করে; যেমন—রক্তপাত ঘটানো, নিষিদ্ধ বিষয়সমূহকে বৈধ সাব্যস্ত করা এবং ধন-সম্পদ লুণ্ঠন করা। অথচ আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আর মুমিনদের দুই দল যদি যুদ্ধে লিপ্ত হয়, তবে তোমরা তাদের মধ্যে ফয়সালা করে দাও। অতঃপর তাদের এক দল যদি অন্য দলের ওপর বিদ্রোহ করে, তবে তোমরা বিদ্রোহী দলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো, যতক্ষণ না তারা আল্লাহর নির্দেশের দিকে ফিরে আসে।}
আমি বললাম, তবে কি আমরা বিদ্রোহী দলের বিরুদ্ধে তলোয়ার নিয়ে যুদ্ধ করব? তিনি বললেন, হ্যাঁ; তুমি তাদের আদেশ করবে এবং নিষেধ করবে, যদি তারা মেনে নেয় তবে ভালো, অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে। এমতাবস্থায় তুমি ন্যায়নিষ্ঠ দলের সঙ্গী হবে, যদিও ইমাম অত্যাচারী হন। কেননা নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম বলেছেন: (কোনো অত্যাচারীর জুলুম তোমাদের ক্ষতি করবে না এবং কোনো ন্যায়বিচারের সুফলও তোমাদের জন্য হবে না; তোমাদের জন্য রয়েছে তোমাদের প্রতিদান এবং তার ওপর বর্তাবে তার পাপের বোঝা)। আমি তাকে বললাম...
(খণ্ড: ১)
আল-ফিকহুল আবসাত
(পৃষ্ঠা: ১১০)
مَا تَقول فِي الْخَوَارِج المحكمة قَالَ هم أَخبث الْخَوَارِج قلت لَهُ أتكفرهم قَالَ لَا وَلَكِن نقاتلهم على مَا قَاتلهم الْأَئِمَّة من اهل الْخَيْر وَعلي وَعمر بن عبد الْعَزِيز
قلت
মুহাক্কিমা খারেজিদের ব্যাপারে আপনি কী বলেন? তিনি বললেন, তারা খারেজিদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্ট। আমি তাকে বললাম, আপনি কি তাদের কাফের বলেন? তিনি বললেন, না; বরং আমরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব যেমনটি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন কল্যাণের ধারক ইমামগণ এবং আলী ও ওমর ইবনে আবদুল আজিজ।
আমি বললাম
(খণ্ড: ১)
আল-ফিকহুল আবসাত
(পৃষ্ঠা: ১১১)
فَإِن الْخَوَارِج يكبرُونَ وَيصلونَ ويتلون الْقُرْآن أما تذكر حَدِيث أبي امامة رضي الله عنه حِين دخل مَسْجِد دمشق فَإِذا فِيهِ رُؤُوس نَاس من الْخَوَارِج فَقَالَ لأبي غَالب الْحِمصِي يَا أَبَا غَالب هَؤُلَاءِ نَاس من اهل أَرْضك فَأَحْبَبْت أَن أعرفك من هَؤُلَاءِ هَؤُلَاءِ كلاب اهل النَّار وهم شَرّ قَتْلَى تَحت أَدِيم السَّمَاء وَأَبُو امامة فِي ذَلِك يبكي فَقَالَ ابو غَالب يَا أَبَا امامة مَا يبكيك إِنَّهُم كَانُوا مُسلمين وانت تَقول لَهُم مَا أسمع قَالَ اهؤلاء يَقُول الله تَعَالَى فيهم {يَوْم تبيض وُجُوه وَتسود وُجُوه فَأَما الَّذين اسودت وُجُوههم أكفرتم بعد إيمَانكُمْ فَذُوقُوا الْعَذَاب بِمَا كُنْتُم تكفرون وَأما الَّذين ابْيَضَّتْ وُجُوههم فَفِي رَحْمَة الله هم فِيهَا خَالدُونَ} قَالَ لَهُ أَشَيْء تَقوله برأسك ام سمعته من رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ إِنِّي لَو لم أسمعهُ مِنْهُ الا مرّة اَوْ مرَّتَيْنِ اَوْ ثَلَاث مَرَّات الى سبع مَرَّات مَا حَدَّثتكُمُوهُ
কেননা খাওয়ারিজরা তাকবির দেয়, সালাত আদায় করে এবং কুরআন তিলাওয়াত করে। আপনি কি আবু উমামা (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সেই হাদীসটি স্মরণ করেন না যখন তিনি দামেস্কের মসজিদে প্রবেশ করলেন এবং সেখানে খাওয়ারিজদের একদল লোকের মাথা দেখতে পেলেন? তখন তিনি আবু গালিব আল-হিমসিকে বললেন, "হে আবু গালিব, এরা আপনার অঞ্চলের লোক। আমি চেয়েছি আপনাকে এদের পরিচয় জানিয়ে দিতে; এরা হলো জাহান্নামীদের কুকুর এবং আসমানের নিচে নিহতদের মধ্যে নিকৃষ্টতম।" এই কথা বলার সময় আবু উমামা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কাঁদছিলেন। আবু গালিব বললেন, "হে আবু উমামা, কিসে আপনাকে কাঁদাচ্ছে? অথচ তারা তো মুসলিম ছিল, আর আপনি তাদের সম্পর্কে এমন কথা বলছেন যা আমি শুনছি।" তিনি বললেন, "এরা তারাই যাদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {যেদিন কতগুলো মুখ উজ্জ্বল হবে এবং কতগুলো মুখ কালো হয়ে যাবে। যাদের মুখ কালো হবে (তাদের বলা হবে), তোমরা কি ঈমান আনার পর কুফরি করেছিলে? সুতরাং তোমরা যা কুফরি করতে তার জন্য আজ আজাব আস্বাদন করো। আর যাদের মুখ উজ্জ্বল হবে, তারা আল্লাহর রহমতে থাকবে, সেখানেই তারা চিরকাল অবস্থান করবে।}" তিনি (আবু গালিব) তাকে বললেন, "আপনি কি এটি আপনার নিজ মস্তিষ্ক থেকে বলছেন নাকি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছ থেকে শুনেছেন?" তিনি বললেন, "আমি যদি এটি তাঁর কাছ থেকে একবার, দুবার বা তিনবার, এমনকি সাতবার পর্যন্ত না শুনতাম, তবে আমি তোমাদের কাছে তা বর্ণনা করতাম না।"
(খণ্ড: ১)
আল-ফিকহুল আবসাত
(পৃষ্ঠা: ১১৩)
فَكفر الْخَوَارِج كفر النعم كفر بِمَا أنعم الله تَعَالَى عَلَيْهِم
قلت الْخَوَارِج إِذا خَرجُوا وحاربوا وأغاروا ثمَّ صَالحُوا هَل يتبعُون بِمَا فعلوا قَالَ لَا غَرَامَة عَلَيْهِم بعد سُكُون الْحَرْب وَلَا حد عَلَيْهِم وَالدَّم كَذَلِك لَا قصاص فِيهِ
قلت وَلم ذَلِك قَالَ للْحَدِيث الَّذِي جَاءَ انه لما وَقعت الْفِتْنَة بَين النَّاس فِي قتل عُثْمَان رضي الله عنه فاجتمعت الصَّحَابَة رضي الله عنهم على ان من أصَاب دَمًا فَلَا قَود عَلَيْهِ وَمن أصَاب فرجا حَرَامًا بِتَأْوِيل فَلَا حد عَلَيْهِ وَمن أصَاب مَالا بِتَأْوِيل فَلَا تبعة عَلَيْهِ الا ان يُوجد المَال بِعَيْنِه فَيرد الى صَاحبه
قلت إِن قَالَ قَائِل لَا اعرف الْكَافِر كَافِرًا
قَالَ هُوَ مثله قلت فَإِن
অতএব খারেজীদের কুফর হলো নিয়ামতের কুফর, আল্লাহ তাআলা তাদের প্রতি যে নিয়ামত দান করেছেন তার প্রতি কুফর।
আমি বললাম, খারেজীরা যখন বিদ্রোহ করে, যুদ্ধ করে এবং লুণ্ঠন করে, এরপর তারা যদি সন্ধি করে, তবে তারা যা করেছে সে কারণে কি তাদের পাকড়াও করা হবে? তিনি বললেন, যুদ্ধ থেমে যাওয়ার পর তাদের ওপর কোনো জরিমানা নেই, তাদের ওপর কোনো দণ্ডবিধি নেই এবং রক্তের ক্ষেত্রেও অনুরূপ, তাতে কোনো কিসাস নেই।
আমি বললাম, কেন এমন হবে? তিনি বললেন, সেই হাদিসের কারণে যা বর্ণিত হয়েছে যে, যখন উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে মানুষের মধ্যে ফিতনা দেখা দিয়েছিল, তখন সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) এই বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছিলেন যে, যারা রক্তপাত ঘটিয়েছে তাদের ওপর কোনো কিসাস নেই; যারা ভুল ব্যাখ্যার ভিত্তিতে নিষিদ্ধ যৌনাচার করেছে তাদের ওপর কোনো দণ্ডবিধি নেই; এবং যারা ভুল ব্যাখ্যার ভিত্তিতে সম্পদ গ্রহণ করেছে তাদের ওপর কোনো দায়বদ্ধতা নেই, তবে যদি সেই সম্পদটি অবিকল পাওয়া যায়, তবে তা তার মালিকের নিকট ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
আমি বললাম, যদি কোনো ব্যক্তি বলে যে, আমি কাফেরকে কাফের হিসেবে জানি না।
তিনি বললেন, সেও তার মতোই। আমি বললাম, তবে যদি...
(খণ্ড: ১)
আল-ফিকহুল আবসাত
(পৃষ্ঠা: ১১৫)
قَالَ لَا أَدْرِي ايْنَ مصير الْكَافِر قَالَ هُوَ جَاحد لكتاب الله تَعَالَى وَهُوَ كَافِر
القَوْل فِيمَن يشك فِي إيمَانه قلت لَهُ فَمَا تَقول لَو ان رجلا قيل لَهُ أمؤمن انت قَالَ الله أعلم قَالَ هُوَ شَاك فِي إيمَانه
قلت فَهَل بَين الْكفْر وَالْإِيمَان منزلَة الا النِّفَاق وَهُوَ اُحْدُ الثَّلَاثَة إِمَّا مُؤمن أَو كَافِر اَوْ مُنَافِق قَالَ لَا لَيْسَ بمنافق من يشك فِي إيمَانه
قلت لم قَالَ لحَدِيث صَاحب معَاذ بن جبل وَابْن مَسْعُود حَدثنِي حَمَّاد عَن حَارِث بن مَالك وَكَانَ من أَصْحَاب معَاذ بن جبل الْأنْصَارِيّ فَلَمَّا حَضَره الْمَوْت بَكَى
(তিনি) বললেন: যে ব্যক্তি বলে আমি জানি না কাফিরের গন্তব্য কোথায়, সে আল্লাহ তাআলার কিতাব অস্বীকারকারী এবং সে একজন কাফির।
যে ব্যক্তি নিজের ঈমানের ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করে তার বর্ণনা আমি তাঁকে বললাম: আপনার অভিমত কী যদি কোনো ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করা হয় যে আপনি কি মুমিন? এবং সে উত্তর দেয়: আল্লাহ ভালো জানেন। তিনি বললেন: সে ব্যক্তি তার ঈমানের ব্যাপারে সন্দিহান।
আমি বললাম: কুফর ও ঈমানের মাঝে নিফাক ছাড়া কি অন্য কোনো স্তর আছে? অথচ মানুষ তো এই তিনটির কোনো একটি হয়: মুমিন, কাফির অথবা মুনাফিক। তিনি বললেন: না, যে তার ঈমানের ব্যাপারে সন্দেহ করে সে মুনাফিক নয়।
আমি জিজ্ঞেস করলাম: কেন? তিনি বললেন: মুয়াজ ইবনে জাবাল ও ইবনে মাসউদের সাথীর বর্ণিত হাদিসের কারণে। হাম্মাদ আমার কাছে হারিস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন, যিনি আনসারী মুয়াজ ইবনে জাবালের সাথীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যখন তার মৃত্যু উপস্থিত হলো, তিনি কাঁদতে লাগলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ফিকহুল আবসাত
(পৃষ্ঠা: ১১৭)
قَالَ معَاذ مَا يبكيك يَا حَارِث قَالَ مَا يبكيني موتك قد علمت ان الْآخِرَة خير لَك من الأولى لَكِن من الْمعلم بعْدك ويروى من الْعلم بعْدك قَالَ مهلا وَعَلَيْك بِعَبْد الله بن مَسْعُود
فَقَالَ لَهُ أوصني
فَأَوْصَاهُ بِمَا شَاءَ الله ثمَّ قَالَ احذر زلَّة الْعَالم
قَالَ فَمَاتَ معَاذ وَقدم الْحَارِث الْكُوفَة إِلَى أَصْحَاب عبد الله بن مَسْعُود فَنُوديَ بِالصَّلَاةِ فَقَالَ الْحَارِث قومُوا الى هَذِه الدعْوَة حق لكل مُؤمن سَمعه ان يُجيب فنظروا اليه وَقَالُوا إِنَّك لمُؤْمِن
قَالَ نعم إِنِّي لمُؤْمِن
فتغامزوا بِهِ فَلَمَّا خرج عبد الله قيل لَهُ ذَلِك فَقَالَ لِلْحَارِثِ مثل قَوْلهم فَنَكس الْحَارِث رَأسه وَبكى وَقَالَ رحم الله معَاذًا فَأخْبر بِهِ ابْن مَسْعُود فَقَالَ لَهُ إِنَّك لمُؤْمِن قَالَ نعم قَالَ فَتَقول إِنَّك من اهل الْجنَّة قَالَ رحم الله معَاذًا فَإِنَّهُ اوصاني ان احذر زلَّة الْعَالم وَالْأَخْذ بِحكم الْمُنَافِق
قَالَ
মুআজ বললেন, হে হারিস! তোমাকে কিসে কাঁদাচ্ছে? তিনি বললেন, আপনার মৃত্যু আমাকে কাঁদাচ্ছে না, কারণ আমি জানি যে ইহকাল অপেক্ষা পরকাল আপনার জন্য অধিক উত্তম। তবে আপনার পরে শিক্ষক কে হবেন? (অন্য বর্ণনায় রয়েছে: আপনার পরে ইলম কার নিকট পাওয়া যাবে?) তিনি বললেন, স্থির হও, তুমি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদকে আঁকড়ে ধরো।
অতঃপর তিনি তাকে বললেন, আমাকে উপদেশ দিন।
তিনি তাকে আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী উপদেশ দিলেন, এরপর বললেন, আলেমের পদস্খলন হতে সতর্ক থেকো।
বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর মুআজ ইন্তেকাল করলেন এবং হারিস কুফায় আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদের সঙ্গীদের নিকট আসলেন। যখন নামাজের জন্য আহ্বান (আজান) করা হলো, হারিস বললেন, এই আহ্বানের দিকে দাঁড়াও; এটি শোনা মাত্রই উত্তর দেওয়া প্রত্যেক মুমিনের জন্য কর্তব্য। তারা তার দিকে তাকালো এবং বলল, তুমি কি সত্যিই একজন মুমিন?
তিনি বললেন, হ্যাঁ, আমি অবশ্যই একজন মুমিন।
তখন তারা তাকে নিয়ে ইশারা-ইঙ্গিতে বিদ্রূপ করতে লাগল। যখন আব্দুল্লাহ বের হলেন, তাকে বিষয়টি জানানো হলো। তিনিও হারিসকে তাদের মতই কথা বললেন। হারিস তখন মাথা নিচু করলেন এবং কাঁদতে লাগলেন। তিনি বললেন, আল্লাহ মুআজের প্রতি রহম করুন। ইবনে মাসউদকে এই সংবাদ দেওয়া হলো। এরপর তিনি তাকে বললেন, তুমি কি মুমিন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তবে কি তুমি নিজেকে জান্নাতবাসী মনে করো? হারিস বললেন, আল্লাহ মুআজের প্রতি রহম করুন, তিনি আমাকে উপদেশ দিয়েছিলেন যেন আমি আলেমের পদস্খলন এবং মুনাফিকের হুকুম গ্রহণ করা থেকে সতর্ক থাকি।
তিনি বললেন...
(খণ্ড: ১)
আল-ফিকহুল আবসাত
(পৃষ্ঠা: ১১৯)
فَهَل من زلَّة رَأَيْت قَالَ نشدتك بِاللَّه أَلَيْسَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم كَانَ وَالنَّاس يَوْمئِذٍ على ثَلَاث فرق مُؤمن فِي السِّرّ وَالْعَلَانِيَة وَكَافِر فِي السِّرّ وَالْعَلَانِيَة ومنافق فِي السِّرّ وَمُؤمن فِي الْعَلَانِيَة فَمن أَي الثَّلَاث انت قَالَ اما إِذا ناشدتني بِاللَّه فَإِنِّي مُؤمن فِي السِّرّ وَالْعَلَانِيَة
قَالَ فَلم لمتني حَيْثُ قلت إِنِّي مُؤمن قَالَ اجل هَذِه زلتي فادفنوها عَليّ فرحم الله معَاذًا
قلت لأبي حنيفَة رحمه الله فَمن قَالَ إِنِّي من اهل الْجنَّة قَالَ كذب لَا علم لَهُ بِهِ
তবে কি আপনি কোনো বিচ্যুতি দেখেছেন? তিনি বললেন: আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিচ্ছি, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময় কি মানুষ তিন দলে বিভক্ত ছিল না? প্রকাশ্যে ও গোপনে মুমিন, প্রকাশ্যে ও গোপনে কাফির, আর গোপনে মুনাফিক কিন্তু প্রকাশ্যে মুমিন। আপনি এই তিনটির মধ্যে কোনটি? তিনি বললেন: যেহেতু আপনি আমাকে আল্লাহর কসম দিয়েছেন, সেহেতু আমি গোপনে ও প্রকাশ্যে মুমিন।
তিনি বললেন: তবে আমি যখন বললাম 'আমি মুমিন', তখন কেন আপনি আমাকে তিরস্কার করলেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ, এটি ছিল আমার বিচ্যুতি, তোমরা একে আমার সাথেই দাফন করে দাও। আল্লাহ মুআযের প্রতি দয়া করুন।
আমি আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলাইহিকে বললাম: যে ব্যক্তি বলে 'আমি জান্নাতবাসীদের অন্তর্ভুক্ত', তার সম্পর্কে কী বলেন? তিনি বললেন: সে মিথ্যা বলেছে, এ বিষয়ে তার কোনো জ্ঞান নেই।
(খণ্ড: ১)
আল-ফিকহুল আবসাত
(পৃষ্ঠা: ১২১)
الْمُؤمن قد يعذب بذنوبه قَالَ وَالْمُؤمن من يدْخل الْجنَّة بِالْإِيمَان فيعذب فِي النَّار بالأحداث
قلت فَإِن قَالَ إِنَّه من اهل النَّار قَالَ كذب لَا علم لَهُ بِهِ قد يئس من رَحمَه الله تَعَالَى قَالَ أَبُو حنيفَة رحمه الله يَنْبَغِي ان يَقُول أَنا مُؤمن حَقًا
لِأَنَّهُ لَا يشك فِي إيمَانه قلت أَيكُون إيمَانه كَإِيمَانِ الْمَلَائِكَة قَالَ نعم
قلت وَإِن قصر عمله فَإِنَّهُ مُؤمن حَقًا قَالَ فَحَدثني بِحَدِيث حَارِثَة ان النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ لَهُ كَيفَ أَصبَحت قَالَ أَصبَحت مُؤمنا حَقًا
قَالَ انْظُر مَا تَقول فَإِن لكل حق حَقِيقَة فَمَا حَقِيقَة إيمانك فَقَالَ عزفت نَفسِي عَن الدُّنْيَا حَتَّى اظمأت نهاري وأسهرت ليلِي فَكَأَنِّي أنظر الى
মুমিন তার পাপের কারণে শাস্তি পেতে পারে তিনি বললেন, মুমিন হলো সেই ব্যক্তি যে ঈমানের বদৌলতে জান্নাতে প্রবেশ করবে, তবে কৃতকর্মের (গুনাহের) কারণে তাকে জাহান্নামে শাস্তি দেওয়া হবে।
আমি বললাম, যদি কেউ বলে যে সে জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত, তিনি বললেন, সে মিথ্যা বলেছে, এ বিষয়ে তার কোনো জ্ঞান নেই। সে মহান আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়েছে। আবু হানিফা (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, একজন ব্যক্তির বলা উচিত যে 'আমি প্রকৃতই মুমিন'।
কেননা সে তার ঈমানের ব্যাপারে কোনো সন্দেহ পোষণ করে না। আমি বললাম, তার ঈমান কি ফেরেশতাদের ঈমানের ন্যায় হবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ।
আমি বললাম, যদিও তার আমল ত্রুটিপূর্ণ হয় তবুও কি সে প্রকৃত মুমিন? তিনি বললেন, তবে আমাকে হারিসার হাদিসটি শোনাও, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বলেছিলেন: "তোমার সকাল কেমন হয়েছে?" তিনি উত্তর দিলেন: "আমি প্রকৃত মুমিন হিসেবে সকাল করেছি।"
তিনি বললেন: "তুমি যা বলছ তা ভেবে দেখো, কারণ প্রতিটি সত্যেরই একটি হাকিকত (বাস্তবতা) থাকে। সুতরাং তোমার ঈমানের হাকিকত কী?" তখন তিনি বললেন: "আমার নফস দুনিয়া থেকে বিমুখ হয়েছে, ফলে আমি আমার দিনগুলোকে পিপাসার্ত রেখেছি এবং রাতগুলোকে জাগ্রত রেখেছি, যেন আমি তাকিয়ে দেখছি..."
(খণ্ড: ১)
আল-ফিকহুল আবসাত
(পৃষ্ঠা: ১২৩)
عرش رَبِّي وكاني أنظر الى اهل الْجنَّة يتزاورون فِيهَا وَكَأَنِّي انْظُر الى اهل النَّار حِين يتعاوون فِيهَا فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أصبت فَالْزَمْ
أصبت فَالْزَمْ ثمَّ قَالَ من سره ان ينظر إِلَى رجل نور الله قلبه فَلْينْظر إِلَى حَارِثَة
ثمَّ قَالَ يَا رَسُول الله ادْع الله لي بِالشَّهَادَةِ فَدَعَا لَهُ بهَا فاستشهد
আমার রবের আরশ; আর আমি যেন জান্নাতবাসীদের দেখছি যে তারা সেখানে পরস্পর যিয়ারত করছে, এবং আমি যেন জাহান্নামীদের দেখছি যখন তারা সেখানে আর্তচিৎকার করছে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তুমি সত্যে উপনীত হয়েছ, সুতরাং এর ওপর অটল থাকো।
তুমি সত্যে উপনীত হয়েছ, সুতরাং এর ওপর অটল থাকো। অতঃপর তিনি বললেন: যাকে এমন কোনো ব্যক্তিকে দেখে আনন্দিত হতে হয় যার অন্তর আল্লাহ আলোকিত করেছেন, সে যেন হারিসার দিকে তাকায়।
অতঃপর সে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর কাছে আমার জন্য শাহাদাতের দুআ করুন। তিনি তার জন্য সেই দুআ করলেন এবং সে শাহাদাত বরণ করল।
(খণ্ড: ১)
আল-ফিকহুল আবসাত
(পৃষ্ঠা: ১২৪)
الْكفَّار يُؤمنُونَ عِنْد المعاينة قلت فَمَا بَال أَقوام يَقُولُونَ لَا يدْخل الْمُؤمن النَّار قَالَ لَا يدْخل النَّار الا كل مُؤمن قلت وَالْكَافِر قَالَ هم يُؤمنُونَ يَوْمئِذٍ
قلت وَكَيف ذَلِك قَالَ لقَوْله تَعَالَى {فَلَمَّا رَأَوْا بأسنا قَالُوا آمنا بِاللَّه وَحده وكفرنا بِمَا كُنَّا بِهِ مُشْرِكين فَلم يَك يَنْفَعهُمْ إِيمَانهم لما رَأَوْا بأسنا} الْآيَة
قَالَ أَبُو حنيفَة رحمه الله من قتل نفسا بِغَيْر حق أَو سرق اَوْ قطع الطَّرِيق اَوْ فجر اَوْ فسق اَوْ زنى اَوْ شرب اَوْ سكر فَهُوَ مُؤمن فَاسق وَلَيْسَ بِكَافِر
কাফিররা চাক্ষুষ দর্শনের সময় ঈমান আনে আমি বললাম, তবে সেই লোকদের অবস্থা কী যারা বলে যে মুমিন জাহান্নামে প্রবেশ করবে না? তিনি বললেন, প্রত্যেক মুমিনই কেবল জাহান্নামে প্রবেশ করবে। আমি বললাম, আর কাফির? তিনি বললেন, সেদিন তারা ঈমান আনবে।
আমি বললাম, সেটি কীভাবে? তিনি বললেন, মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে: {অতঃপর তারা যখন আমার শাস্তি প্রত্যক্ষ করল, তখন বলল, আমরা এক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনলাম এবং আমরা তাঁর সাথে যাদের শরিক করতাম তাদের অস্বীকার করলাম। কিন্তু যখন তারা আমার শাস্তি প্রত্যক্ষ করল, তখন তাদের ঈমান তাদের কোনো উপকারে আসল না} (আয়াত)।
আবু হানিফা (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করল, অথবা চুরি করল, অথবা ডাকাতি করল, অথবা পাপাচার করল, অথবা অবাধ্যতা করল, অথবা ব্যভিচার করল, অথবা মদ্যপান করল, অথবা মাতাল হলো, সে একজন ফাসিক মুমিন; সে কাফির নয়।