(খণ্ড: ১) আত-তাবসীর ফিদ দীন ওয়া তামীযুল ফিরকাতিন নাজিয়াহ আনিল ফিরাকিল হালিকীন (পৃষ্ঠা: -)
التبصير في الدين وتمييز الفرقة الناجية عن الفرق الهالكين   (الأسفراييني، أبو المظفر)

القسم: العقيدة


الكتاب: التبصير في الدين وتمييز الفرقة الناجية عن الفرق الهالكين

المؤلف: طاهر بن محمد الأسفراييني، أبو المظفر (ت 471هـ)

المحقق: كمال يوسف الحوت

الناشر: عالم الكتب - لبنان

الطبعة: الأولى، 1403هـ - 1983م

عدد الصفحات: 196

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

দ্বীনের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত দলসমূহ থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত দলের পার্থক্য নিরূপণ   (আল-ইসফারায়িনী, আবু আল-মুজাফফর)

বিভাগ: আকিদাহ


গ্রন্থ: দ্বীনের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত দলসমূহ থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত দলের পার্থক্য নিরূপণ

লেখক: তাহির বিন মুহাম্মদ আল-ইসফারায়িনী, আবু আল-মুজাফফর (মৃত্যু ৪৭১ হিজরি)

সম্পাদক: কামাল ইউসুফ আল-হূত

প্রকাশক: আলম আল-কুতুব - লেবানন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৩ হিজরি - ১৯৮৩ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৯৬

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আত-তাবসীর ফিদ দীন ওয়া তামীযুল ফিরকাতিন নাজিয়াহ আনিল ফিরাকিল হালিকীন (পৃষ্ঠা: ১৩)
قَالَ الإِمَام الْكَبِير حجَّة الْمُتَكَلِّمين أَبُو المظفر الإِسْفِرَايِينِيّ

‌‌بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم

 

الْحَمد لله رب الْعَالمين وَالصَّلَاة وَالسَّلَام على رَسُوله مُحَمَّد وَآله أَجْمَعِينَ وَأَصْحَابه البررة الطاهرين

اعلموا أسعدكم الله إِن الله تبارك وتعالى أَمر عَبده بمعرفته فِي ذَاته وَصِفَاته وعدله وحكمته وكماله فِي صفته ونفوذ مَشِيئَته وَكَمَال مَمْلَكَته وَعُمُوم قدرته وَلَا تتكامل الْمعرفَة بذلك كُله إِلَّا بِنَفْي النقائص عَنهُ وبإثبات أَوْصَاف الْكَمَال لَهُ من غير أَن يشوبه شَيْء من بدع المبتدعين وإلحاد الْمُلْحِدِينَ وَكَانَ أمره تَعَالَى متضمنا لأمرين الْمعرفَة بِمَا أوجب مَعْرفَته والإحاطة بِمَا أوجب عَلَيْهِ مجانبته حَتَّى إِذا اجْتمع لَهُ الوصفان تحقق لَهُ وصف الْإِيمَان على سَبِيل الإتقان والإيقان والمفارقة لما يوسوس لكثير مِنْهُم من الشّبَه وحبائل الشَّيْطَان فَيكون إيمَانه كَمَا أخبر الله تَعَالَى بِهِ عَن إِيمَان خَلِيل الرَّحْمَن حِين قَالَ {إِنِّي وجهت وَجْهي للَّذي فطر السَّمَاوَات وَالْأَرْض حَنِيفا وَمَا أَنا من الْمُشْركين} أثنى عَلَيْهِ لهَذِهِ الْمعرفَة لجمعه بَين الْمعرفَة بِكَمَال أَوْصَافه وميله عَن كل معبود يُخَالِفهُ فِي وَصفه فوصفه أَي الله تَعَالَى الْخَلِيل بِكَوْنِهِ حَنِيفا أَي مائلا عَن عبَادَة الْأَوْثَان وحبائل الشَّيْطَان وَمَا يُخَالِفهُ من الطّرق والأديان وبمثله أقرّ رَسُوله الْمُصْطَفى عليه السلام حِين قَالَ إِن الَّذين فرقوا دينهم وَكَانُوا شيعًا لست مِنْهُم فِي شَيْء إِنَّمَا أَمرهم إِلَى الله ثمَّ ينبئهم بِمَا كَانُوا
মহান ইমাম, মুতাকাল্লিমদের দলিল, আবু আল-মুজাফফর আল-ইসফারায়িনী বলেছেন:

‌‌পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

 

সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং তাঁর রাসূল মুহাম্মদ, তাঁর সকল বংশধর এবং তাঁর নেককার ও পবিত্র সাহাবীবৃন্দের প্রতি দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।

আপনারা জেনে রাখুন—আল্লাহ আপনাদের সৌভাগ্য দান করুন—নিশ্চয়ই আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা তাঁর বান্দাকে তাঁর সত্তা, গুণাবলি, ইনসাফ, হিকমত, তাঁর গুণের পূর্ণতা, তাঁর ইচ্ছার কার্যকারিতা, তাঁর রাজত্বের পূর্ণতা এবং তাঁর ক্ষমতার ব্যাপকতা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের নির্দেশ দিয়েছেন। আর এসকল বিষয়ের জ্ঞান পূর্ণতা পায় না তাঁর থেকে দোষ-ত্রুটি অপনোদন করা ছাড়া এবং তাঁর জন্য পূর্ণতার গুণাবলি সাব্যস্ত করা ছাড়া; এমনভাবে যাতে বিদআতীদের নব উদ্ভাবিত কোনো বিষয় বা মুলহিদদের নাস্তিকতার সংমিশ্রণ না ঘটে। আর মহান আল্লাহর নির্দেশটি দুটি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে: যা জানা আবশ্যক তা জানা এবং যা পরিহার করা আবশ্যক তা চেনা; যতক্ষণ না এই দুটি বৈশিষ্ট্যের সমন্বয় ঘটে, ততক্ষণ পর্যন্ত দৃঢ়তা ও নিশ্চিত বিশ্বাসের সাথে তার জন্য ঈমানের গুণটি অর্জিত হয় না এবং অনেকের মনে যে সংশয় ও শয়তানের প্ররোচনা তৈরি হয় তা থেকে সে পৃথক হতে পারে না। ফলে তার ঈমান হবে তেমন, যেমনটি মহান আল্লাহ খলিলুর রহমানের ঈমান সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন যখন তিনি বলেছিলেন {নিশ্চয়ই আমি একনিষ্ঠভাবে আমার অভিমুখ সেই সত্তার দিকে করলাম যিনি আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করেছেন এবং আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই}। আল্লাহ এই জ্ঞানের কারণেই তাঁর প্রশংসা করেছেন, যেহেতু তিনি তাঁর পূর্ণ গুণাবলির জ্ঞান এবং তাঁর গুণাবলির পরিপন্থী প্রত্যেক উপাস্য থেকে বিমুখ হওয়ার সমন্বয় ঘটিয়েছেন। অতঃপর আল্লাহ খলিলকে ‘হানিফ’ বিশেষণে বিশেষায়িত করেছেন, অর্থাৎ মূর্তিপূজা, শয়তানের ফাঁদ এবং এর বিরোধী সকল পথ ও ধর্ম থেকে বিমুখ হওয়া। এবং অনুরূপভাবে তিনি তাঁর মনোনীত রাসূল (আলাইহিস সালাম)-কে স্বীকৃতি দিয়েছেন যখন তিনি বলেছিলেন: নিশ্চয়ই যারা তাদের দ্বীনকে খণ্ডবিখণ্ড করেছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে, তাদের সাথে আপনার কোনো সম্পর্ক নেই; তাদের বিষয়টি আল্লাহর নিকট সোপর্দ, অতঃপর তিনি তাদের জানিয়ে দেবেন যা তারা করত।
(খণ্ড: ১) আত-তাবসীর ফিদ দীন ওয়া তামীযুল ফিরকাতিন নাজিয়াহ আনিল ফিরাকিল হালিকীন (পৃষ্ঠা: ১৪)
يَفْعَلُونَ) وَقَالَ {فَاعْلَم أَنه لَا إِلَه إِلَّا الله} فَأمره بالمعرفة ومغادرة كل دين يُخَالِفهُ فِي حَقِيقَته وَأمره أَن يخبر عَن نَفسه بِصفة مَعْرفَته الجامعة لوصفي النَّفْي وَالْإِثْبَات وَمَعْرِفَة مَا يجب مَعْرفَته ومجانبة مَا تجب مجانبته فَقَالَ {قل إِنَّنِي هَدَانِي رَبِّي إِلَى صِرَاط مُسْتَقِيم دينا قيمًا مِلَّة إِبْرَاهِيم حَنِيفا وَمَا كَانَ من الْمُشْركين} وَأمر سُبْحَانَهُ الكافة بِكَلِمَة الْإِيمَان لَا إِلَه إِلَّا الله جمع فِيهَا بَين النَّفْي وَالْإِثْبَات وَقدم النَّفْي على الْإِثْبَات ليعلم أَن الْإِثْبَات لَا يحصل إِلَّا بصيانته عَن كل مَا يتَضَمَّن مُخَالفَته وَهَكَذَا جمع فِي سُورَة الْإِخْلَاص بَين النَّفْي وَالْإِثْبَات فوصف نَفسه بأوصاف الْكَمَال فِي قَوْله {قل هُوَ الله أحد الله الصَّمد} وَنفي عَن نَفسه النُّقْصَان بقوله {لم يلد وَلم يُولد وَلم يكن لَهُ كفوا أحد} حَتَّى قَالَ أهل المعارف فِي تَحْقِيق صفة الصَّمد أَنه يتَضَمَّن إِثْبَات كل صفة لَا يتم الْخلق إِلَّا بهَا وَنفي كل صفة لَا يجوز وَصفه بهَا لِأَن الصَّمد فِي اللُّغَة هُوَ السَّيِّد الَّذِي يرجع إِلَيْهِ فِي الْحَوَائِج وَهَذَا يُوجب لَهُ إِثْبَات صِفَات الْكَمَال الَّتِي يتم بهَا إتساق الْأَفْعَال وَقد جَاءَ إِيضَاح اللُّغَة فِي تَفْسِيره أَن الصَّمد هُوَ الَّذِي لَا جَوف لَهُ وَهَذَا يتَضَمَّن نفي النِّهَايَة وَنفي الْحَد والجهة وَنفي كَونه جسما أَو جوهرا لِأَن من اتّصف بِشَيْء من تِلْكَ الْأَوْصَاف لم يسْتَحل اتصافه بالتركيب وَوُجُود الْجوف لَهُ وتقرر بِهَذِهِ الْجُمْلَة وجوب الْمعرفَة بِالنَّفْيِ وَالْإِثْبَات والتمييز بَين الْحق وَالْبَاطِل وَمن لم يتَحَقَّق لَهُ معرفَة نفي صفة الْبَاطِل لم يتَحَقَّق لَهُ معرفَة إِثْبَات صفة الْمعرفَة بِالْحَقِّ

وَقد كَانَ أَصْحَاب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يسألونه عَن الْحق لصِحَّة الإعتقاد والمعرفة وَعَن الْبَاطِل وَالشَّر للتمكن من المجانبة حَتَّى قَالَ حُذَيْفَة بن الْيَمَان كَانَ النَّاس
(তারা যা করে) এবং তিনি বলেছেন {অতএব জেনে রাখুন যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই}। সুতরাং তিনি তাঁকে জ্ঞান অর্জন করার এবং এমন প্রতিটি দ্বীন বর্জন করার নির্দেশ দিয়েছেন যা তাঁর হাকীকত বা প্রকৃত স্বরূপের বিরোধী। তিনি তাঁকে নির্দেশ দিয়েছেন নিজের সম্পর্কে তাঁর জ্ঞানের সেই বিশেষত্ব বর্ণনা করতে যা নেতিবাচকতা (নফি) ও ইতিবাচকতা (ইসবাত)—উভয় বৈশিষ্ট্যের ধারক, এবং যা জানা আবশ্যক তা জানা এবং যা বর্জন করা আবশ্যক তা বর্জন করার নির্দেশ দিয়েছেন। অতঃপর তিনি বলেছেন, {বলুন, নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক আমাকে সরল পথের দিশা দিয়েছেন, যা একটি সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন এবং ইব্রাহীমের মিল্লাত (আদর্শ), যিনি ছিলেন একনিষ্ঠ এবং তিনি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না}। আর সুবহানাহু ওয়া তাআলা সকলকে ঈমানের বাণী 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই'-এর নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে তিনি নেতিবাচকতা ও ইতিবাচকতাকে একত্রিত করেছেন। তিনি ইতিবাচকতার পূর্বে নেতিবাচকতাকে স্থান দিয়েছেন যাতে এটি জানা যায় যে, ইতিবাচকতা ততক্ষণ অর্জিত হয় না যতক্ষণ না তাকে এমন সব কিছু থেকে রক্ষা করা হয় যা তার পরিপন্থী। অনুরূপভাবে, তিনি সূরা আল-ইখলাসেও নেতিবাচকতা ও ইতিবাচকতাকে একত্রিত করেছেন। তিনি নিজের সত্তাকে পূর্ণতার গুণাবলীতে গুণান্বিত করেছেন তাঁর এই বাণীতে: {বলুন, তিনিই আল্লাহ, এক ও অদ্বিতীয়। আল্লাহ অমুখাপেক্ষী।} এবং তিনি নিজের সত্তা থেকে ত্রুটি-বিচ্যুতি নাকচ করেছেন তাঁর এই বাণীতে: {তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং জন্ম নেননি। এবং তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই।} এমনকি আধ্যাত্মিক জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গ 'আস-সামাদ' গুণের বিশ্লেষণে বলেছেন যে, এটি এমন প্রতিটি গুণ সাব্যস্ত করাকে অন্তর্ভুক্ত করে যা ছাড়া সৃষ্টি সম্পন্ন হওয়া সম্ভব নয় এবং এমন প্রতিটি গুণ নাকচ করাকে অন্তর্ভুক্ত করে যার দ্বারা তাঁকে বিশেষায়িত করা বৈধ নয়। কারণ আভিধানিক অর্থে 'আস-সামাদ' হলেন সেই মহান অধিপতি, যাঁর নিকট সকল প্রয়োজনে প্রত্যাবর্তন করা হয়। আর এটি তাঁর জন্য সেই সকল পূর্ণতার গুণাবলী সাব্যস্ত করাকে আবশ্যক করে যার মাধ্যমে কর্মসমূহের সুসমন্বয় সম্পন্ন হয়। ভাষাগত ব্যাখায় আরও স্পষ্ট করা হয়েছে যে, 'আস-সামাদ' হলেন তিনি যাঁর কোনো অভ্যন্তরভাগ বা শূন্যগর্ভ নেই। আর এটি প্রান্তসীমা নাকচ করা, সীমা ও দিক নাকচ করা এবং তাঁর দেহ বা জড়বস্তু হওয়াকে নাকচ করাকে অন্তর্ভুক্ত করে। কারণ যে এই গুণগুলোর কোনো একটির দ্বারা বিশেষায়িত হবে, তার ক্ষেত্রে গঠন বা অবয়ব এবং অভ্যন্তরভাগ থাকা অসম্ভব নয়। এর মাধ্যমে নেতিবাচকতা ও ইতিবাচকতার দ্বারা জ্ঞান অর্জন করা এবং সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করার আবশ্যকতা সুপ্রতিষ্ঠিত হলো। যার নিকট মিথ্যার গুণাবলী নাকচ করার বিষয়টি নিশ্চিত হয়নি, তার নিকট সত্যের দ্বারা মা'রিফাত বা জ্ঞান সাব্যস্ত হওয়ার বিষয়টিও নিশ্চিত হবে না।

আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ আকিদাহ ও মা'রিফাতের বিশুদ্ধতার জন্য সত্য সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞাসা করতেন এবং বর্জন করার সক্ষমতা অর্জনের জন্য মিথ্যা ও মন্দ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন। এমনকি হুজায়ফা ইবনুল ইয়ামান বলেছেন যে, মানুষ (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কল্যাণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করত)...
(খণ্ড: ১) আত-তাবসীর ফিদ দীন ওয়া তামীযুল ফিরকাতিন নাজিয়াহ আনিল ফিরাকিল হালিকীন (পৃষ্ঠা: ১৫)
يسْأَلُون رَسُول الله صلى الله عليه وسلم عَن الْخَيْر وَكنت أسأله عَن الشَّرّ وَإِنَّمَا كَانَ يَفْعَله لتصح لَهُ مجانبته لِأَن من لم يعرف الشَّرّ يُوشك أَن يَقع فِيهِ كَمَا قَالَ الشَّاعِر

(عرفت الشَّرّ لَا للشر لَكِن لتوقيه … وَمن لَا يعرف الشَّرّ من النَّاس يَقع فِيهِ)

وَقد أخبر رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَنه سَيظْهر فِي زمن الْإِسْلَام من الْفرق الْمُخْتَلفَة مَا ظهر فِي الْأَدْيَان قبله فَقَالَ افْتَرَقت الْيَهُود إِحْدَى وَسبعين فرقة وافترقت النَّصَارَى اثْنَتَيْنِ وَسبعين فرقة وتفترق أمتِي ثَلَاثًا وَسبعين فرقة كلهم فِي النَّار إِلَّا وَاحِدَة فَقيل يَا رَسُول الله من النَّاجِية فَقَالَ مَا أَنا عَلَيْهِ وأصحابي وَفِي خبر آخر أَنه قَالَ الْجَمَاعَة

وروى عبد الله بن عمر بن الْخطاب أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ فِي تَفْسِير قَوْله تَعَالَى يَوْم تبيض وُجُوه وَتسود وُجُوه فَأَما الَّذين اسودت وُجُوههم أكفرتم بعد إيمَانكُمْ فَذُوقُوا الْعَذَاب بِمَا كُنْتُم تكفرون إِن الَّذين ابْيَضَّتْ وُجُوههم هم الْجَمَاعَة وَالَّذين اسودت وُجُوههم أهل الْأَهْوَاء فَبين رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَن هَذِه الْأمة يلبس بهَا وينسب إِلَى جُمْلَتهَا كثير من أهل الْأَهْوَاء يفارقونهم فِي حَقِيقَة الْإِيمَان وَإِن كَانُوا يلتبسون بهم فِي ظَاهر الْحَال فَلَا بُد لِلْمُؤمنِ من أَن يعرف حَالهم حَتَّى يتَمَيَّز عَنْهُم ويصون عقيدته عَمَّا هم عَلَيْهِ من الْبدع وَلَا يكون كمن وَصفه الله حَيْثُ قَالَ {وَمَا يُؤمن أَكْثَرهم بِاللَّه إِلَّا وهم مشركون} وَقد قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لَا يدْخل الْجنَّة من كَانَ فِي قلبه مِثْقَال ذرة من الْكبر وَلَا يبْقى فِي النَّار من كَانَ
তারা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কল্যাণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করত, আর আমি তাঁকে অকল্যাণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতাম। তিনি এটি করতেন যেন তাঁর পক্ষে তা থেকে দূরে থাকা নিশ্চিত হয়; কারণ যে ব্যক্তি অকল্যাণ সম্পর্কে অবগত নয়, তার তাতে পতিত হওয়ার উপক্রম হয়। যেমন কবি বলেছেন:

(আমি অকল্যাণকে চিনেছি অকল্যাণের উদ্দেশ্যে নয়, বরং তা থেকে বাঁচার জন্য … আর মানুষের মধ্যে যে অকল্যাণ চিনে না, সে তাতে পতিত হয়।)

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন যে, ইসলামের যুগে এমন বিভিন্ন দল প্রকাশ পাবে যেমনটি পূর্ববর্তী ধর্মগুলোতে প্রকাশ পেয়েছিল। তিনি বলেছেন: "ইয়াহুদিরা একাত্তর দলে বিভক্ত হয়েছিল, নাসারা (খ্রিস্টানরা) বাহাত্তর দলে বিভক্ত হয়েছিল, আর আমার উম্মত তিয়াত্তর দলে বিভক্ত হবে। তারা সকলেই জাহান্নামী, কেবল একটি দল ব্যতীত।" তখন জিজ্ঞেস করা হলো: "হে আল্লাহর রাসূল! মুক্তিপ্রাপ্ত দল কোনটি?" তিনি বললেন: "আমি এবং আমার সাহাবীগণ যার ওপর প্রতিষ্ঠিত।" অন্য এক বর্ণনায় তিনি বলেছেন: "আল-জামায়াত।"

আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর ইবনুল খাত্তাব বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহান আল্লাহর এই বাণীর ব্যাখ্যায়—"সেদিন কিছু মুখমণ্ডল উজ্জ্বল হবে এবং কিছু মুখমণ্ডল কালো হবে; তবে যাদের মুখমণ্ডল কালো হবে, (তাদের বলা হবে:) তোমরা কি ঈমান আনার পর কুফরি করেছিলে? সুতরাং তোমরা কুফরি করার কারণে আযাব ভোগ করো"—বলেছেন: "নিশ্চয়ই যাদের মুখমণ্ডল উজ্জ্বল হবে তারা হলো আল-জামায়াত, আর যাদের মুখমণ্ডল কালো হবে তারা হলো প্রবৃত্তিপূজারী (আহলে আহওয়া)।" সুতরাং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্পষ্ট করেছেন যে, এই উম্মতের সাথে অনেক প্রবৃত্তিপূজারী মিশে থাকবে এবং এর অন্তর্ভুক্ত বলে পরিচিত হবে, যারা ঈমানের প্রকৃত হাকীকতের ক্ষেত্রে তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হবে, যদিও বাহ্যিকভাবে তারা তাদের সাথে সদৃশ হবে। অতএব, একজন মুমিনের জন্য তাদের অবস্থা সম্পর্কে জানা আবশ্যক যেন সে তাদের থেকে নিজেকে পৃথক করতে পারে এবং তাদের বিদআতসমূহ থেকে নিজের আকিদাকে রক্ষা করতে পারে। আর সে যেন তাদের মতো না হয় যাদের সম্পর্কে আল্লাহ বর্ণনা করে বলেছেন: {তাদের অধিকাংশ আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, তবে তারা মুশরিক (শিরককারী)}। আর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যার অন্তরে অণু পরিমাণ অহংকার থাকবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না, আর জাহান্নামে সে অবশিষ্ট থাকবে না যার..."
(খণ্ড: ১) আত-তাবসীর ফিদ দীন ওয়া তামীযুল ফিরকাতিন নাজিয়াহ আনিল ফিরাকিল হালিকীন (পৃষ্ঠা: ১৬)
فِي قلبه مِثْقَال ذرة من الْإِيمَان وَإِنَّمَا يحصل مِثْقَال ذرة من الْإِيمَان بإعتقاد صَحِيح سليم عَن جَمِيع شوائب الْبدع والإلحاد وأنواع الْكفْر وَمَا لم يتَبَيَّن الْعَاقِل أَوْصَاف الْبدع وَأَهْلهَا لم يَتَقَرَّر لَهُ حَقِيقَة الْإِيمَان المستخلص عَن جَمِيعهَا وَكَلَام النَّبِي صلى الله عليه وسلم صدق ووعده حق وَهَذَا الَّذِي أخبر عَن وجود فرق الضلال فِيمَا بَين الْمُسلمين لَا محَالة كَائِن

وَقد اخْتلف مَشَايِخ أهل التَّحْقِيق من عُلَمَاء الْمُسلمين فِيهِ فَقَالَ بَعضهم لم يتكامل وجود هَذِه الْفرق من أهل الْبدع بَين الْمُسلمين بعد وَإِنَّمَا وجد بَعضهم وسيوجد بعدهمْ قبل يَوْم الْقِيَامَة جَمِيعهم فَإِن مَا أخبر الرَّسُول صلى الله عليه وسلم كَائِن لَا محَالة وَقَالَ الْبَاقُونَ وهم الَّذين يتتبعون التواريخ ويفتشون عَن المقالات المنقولة من أَرْبَاب الْمذَاهب المتسمة بسمة الْإِسْلَام أَن تَمام هَذِه الْفرق الضَّالة قد وجدت فِي زمرة الاسلام وَوَجَب على الْمَرْء المحصل أَن يُمَيّز عقيدته عَن عقائدهم الْفَاسِدَة وَدينه عَن أديانهم الضَّالة وَقد ظهر فِي بِلَاد الْإِسْلَام أَقوام من أهل الْبدع يخدعون الْعَوام وَيلبسُونَ عَلَيْهِم الْأَدْيَان وينتسبون إِلَى فريقي أهل السّنة وَالْجَمَاعَة أَصْحَاب الحَدِيث والرأي ويستظهرون بصدور لَا يعرف حَالهم من صُدُور أهل الْإِسْلَام ليتقوى بهم على خداع أهل الْغرَّة من الْمُسلمين ويظهرون بِهِ للأغمار أَن لَهُم الْغَلَبَة وَالْقُوَّة وَلَا يعرف الْجَاهِل بأحوالهم إِن الْبَاطِل قد يكون لَهُ جَوْلَة ثمَّ يسْقط كَمَا سَارَتْ بِهِ الامثال على لِسَان الكافة أَن الْبَاطِل يجول جَوْلَة ثمَّ يضمحل وكما يُقَال الْحق أَبْلَج وَالْبَاطِل لجلج وَقَالَ تَعَالَى {يثبت الله الَّذين آمنُوا بالْقَوْل الثَّابِت فِي الْحَيَاة الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَة ويضل الله الظَّالِمين وَيفْعل الله مَا يَشَاء}

فَأَرَدْت أَن أجمع كتابا فارقا بَين الْفَرِيقَيْنِ جَامعا بَين وصف الْحق وخاصيته وَالْإِشَارَة إِلَى حججه وَوصف الْبَاطِل وحد شبهه لِيَزْدَادَ المطلع عَلَيْهِ استيقانا فِي
কারো অন্তরে অণু পরিমাণ ঈমান থাকে। আর অণু পরিমাণ ঈমান কেবল তখনই অর্জিত হয় যখন আকিদা হয় সঠিক এবং সকল প্রকার বিদআত, ইলহাদ ও কুফরের কলুষতা থেকে মুক্ত। যতক্ষণ পর্যন্ত কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তির কাছে বিদআত ও বিদআতিদের বৈশিষ্ট্যগুলো স্পষ্ট না হবে, ততক্ষণ তার জন্য এই সমস্ত কিছু থেকে পরিশুদ্ধ প্রকৃত ঈমান অর্জন করা সম্ভব নয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কথা সত্য এবং তাঁর প্রতিশ্রুতি হক। মুসলমানদের মধ্যে বিভ্রান্ত ফিরকাগুলোর অস্তিত্ব সম্পর্কে তিনি যে সংবাদ দিয়েছেন, তা অবশ্যই সংঘটিত হবে।

মুসলিম উলামায়ে কেরামের মধ্যে যারা তাহকীককারী মাশায়েখ, তারা এ বিষয়ে মতভেদ করেছেন। তাদের কেউ কেউ বলেছেন, মুসলমানদের মধ্যে এই বিদআতি ফিরকাগুলোর পূর্ণ বিকাশ এখনও সম্পন্ন হয়নি; বরং তাদের মধ্য থেকে কিছু আত্মপ্রকাশ করেছে এবং কিয়ামতের পূর্ব পর্যন্ত অবশিষ্ট সবাই আত্মপ্রকাশ করবে। কেননা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা সংবাদ দিয়েছেন তা অনিবার্যভাবেই ঘটবে। আর অবশিষ্টগণ—যারা ইতিহাস অনুসন্ধান করেন এবং ইসলামের নামে পরিচিত বিভিন্ন মাজহাবের অনুসারীদের থেকে বর্ণিত বক্তব্যগুলো নিয়ে গবেষণা করেন—তারা বলেন যে, এই সমস্ত বিভ্রান্ত ফিরকা ইতিমধ্যে ইসলামের গণ্ডিতে আত্মপ্রকাশ করেছে। ফলে একজন জ্ঞান অন্বেষণকারী ব্যক্তির ওপর ওয়াজিব হলো তার আকিদাকে তাদের ফাসিদ আকিদা থেকে এবং তার দ্বীনকে তাদের বিভ্রান্ত ধর্ম থেকে পৃথক করা। মুসলিম দেশগুলোতে এমন কিছু বিদআতি গোষ্ঠীর উদ্ভব ঘটেছে যারা সাধারণ মানুষদের ধোঁকা দেয় এবং তাদের কাছে দ্বীনকে অস্পষ্ট করে তোলে। তারা নিজেদেরকে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের দুই পক্ষ—আহলে হাদীস ও আহলে রায়ের সাথে সম্পৃক্ত বলে দাবি করে। তারা ইসলামের এমন সব বরেণ্য ব্যক্তিদের আশ্রয় গ্রহণ করে যাদের প্রকৃত অবস্থা সাধারণের কাছে পরিচিত নয়, যাতে তাদের মাধ্যমে অসতর্ক মুসলমানদের ধোঁকা দেওয়ার শক্তি সঞ্চয় করতে পারে। এর মাধ্যমে তারা অনভিজ্ঞদের সামনে জাহির করে যে, বিজয় ও শক্তি তাদেরই পক্ষে। কিন্তু তাদের অবস্থা সম্পর্কে অজ্ঞ ব্যক্তি জানে না যে, বাতিলের সাময়িক দাপট থাকতে পারে কিন্তু পরে তা নিপতিত হয়; যেমনটি প্রবাদে সর্বজনবিদিত যে, বাতিল ক্ষণিকের জন্য দাপট দেখায় তারপর বিলীন হয়ে যায়। আর যেমনটি বলা হয়, সত্য সুষ্পষ্ট এবং বাতিল দ্বিধাগ্রস্ত। আল্লাহ তাআলা বলেন, {আল্লাহ মুমিনদেরকে দুনিয়ার জীবনে ও আখিরাতে সুদৃঢ় বাণীর মাধ্যমে অবিচল রাখেন, আর আল্লাহ জালিমদেরকে বিভ্রান্ত করেন এবং আল্লাহ যা ইচ্ছা তা-ই করেন}।

তাই আমি এমন একটি কিতাব সংকলন করার ইচ্ছা করলাম যা এই দুই দলের মধ্যে পার্থক্যকারী হবে, যেখানে সত্যের বিবরণ ও তার বৈশিষ্ট্যের সমন্বয় থাকবে এবং সত্যের দলীলগুলোর প্রতি ইঙ্গিত থাকবে, আর বাতিলের বিবরণ ও তার সংশয়গুলোর সীমা নির্ধারণ করা হবে, যাতে এর পাঠক এ বিষয়ে সুনিশ্চিত হতে পারেন।
(খণ্ড: ১) আত-তাবসীর ফিদ দীন ওয়া তামীযুল ফিরকাতিন নাজিয়াহ আনিল ফিরাকিল হালিকীন (পৃষ্ঠা: ১৭)
دينه وتحقيقا فِي يقينه فَلَا ينفذ عَلَيْهِ تلبيس المبطلين وَلَا تَدْلِيس الْمُخَالفين للدّين وقسمته بحول الله وقوته على خَمْسَة عشر بَابا جَامِعَة لبَيَان أَوْصَاف عقائد أهل الدّين وفضائح أهل الزيغ والملحدين وَالله تَعَالَى ولي التَّوْفِيق لإتمامه بفضله وإنعامه أَنه على مَا يَشَاء قدير وبالفضل والأحسان جدير

الْبَاب الأول فِي بَيَان أول خلاف ظهر فِي الْإِسْلَام بعد وَفَاة رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَمَا ظهر من الْخلاف فِي أَيَّام الصَّحَابَة أَو قَرِيبا مِنْهُم

الْبَاب الثَّانِي فِي بَيَان فرق الْأمة على الْجُمْلَة

الْبَاب الثَّالِث فِي تَفْصِيل مقالات الروافض وَبَيَان فضائحهم

الْبَاب الرَّابِع فِي بَيَان مقالات الْخَوَارِج وَبَيَان فضائحهم

الْبَاب الْخَامِس فِي تَفْصِيل مقالات الْقَدَرِيَّة الملقبة بالمعتزلة وَبَيَان فضائحهم

الْبَاب السَّادِس فِي تَفْصِيل مقالات المرجئة وَبَيَان فضائحهم

الْبَاب السَّابِع فِي تَفْصِيل مقالات النجارية وَبَيَان فضائحهم

الْبَاب الثَّامِن فِي تَفْصِيل مقالات الضرارية وَبَيَان فضائحهم

الْبَاب التَّاسِع فِي تَفْصِيل مقالات البكرية وَبَيَان فضائحهم

الْبَاب الْعَاشِر فِي تَفْصِيل مقالات الْجَهْمِية وَبَيَان فضائحهم

الْبَاب الْحَادِي عشر فِي تَفْصِيل مقالات الكرامية وَبَيَان فضائحهم

الْبَاب الثَّانِي عشر فِي تَفْصِيل مقالات المشبهة وَبَيَان فضائحهم

الْبَاب الثَّالِث عشر فِي بَيَان فرق ينتسبون إِلَى دين الْإِسْلَام وَلَا يعدون فِي جملَة الْمُسلمين وَلَا يكونُونَ من جملَة الإثنتين وَالسبْعين وهم أَكثر من عشْرين فرقة

الْبَاب الرَّابِع عشر فِي بَيَان مقالات أَقوام من الْمُلْحِدِينَ كَانُوا قبل ظُهُور دولة الْإِسْلَام وَإِنَّمَا أذكر جملَة مِنْهُم

الْبَاب الْخَامِس عشر فِي بَيَان اعْتِقَاد أهل السّنة وَالْجَمَاعَة وَبَيَان مَا لَهُم من المفاخر والمحاسن والْآثَار فِي الدّين وَذكرت فِي كل بَاب مَا يَقْتَضِيهِ شَرطه على حد الإقتصار والإعتدال مصونا من الأملال والإكثار بِفضل الله وتوفيقه
তাঁর দ্বীনকে সংরক্ষিত করতে এবং তাঁর বিশ্বাসকে সুদৃঢ় করতে, যাতে বাতিলপন্থীদের বিভ্রান্তি এবং দ্বীনবিরোধীদের প্রতারণা তাঁর ওপর কার্যকর না হয়। আল্লাহর শক্তি ও সামর্থ্যের মাধ্যমে আমি একে পনেরটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছি, যা মূলত দ্বীনদারদের আকিদার বৈশিষ্ট্য এবং পথভ্রষ্ট ও নাস্তিকদের কলঙ্কসমূহ বর্ণনার সমষ্টি। আল্লাহ তাআলাই তাঁর অনুগ্রহ ও করুণায় এটি সম্পন্ন করার তাওফিক দানকারী; নিশ্চয়ই তিনি যা চান তা করতে সক্ষম এবং তিনি অনুগ্রহ ও ইহসানের যোগ্য।

প্রথম অধ্যায়: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইন্তেকালের পর ইসলামে প্রথম যে মতভেদ দেখা দিয়েছিল এবং সাহাবীগণের যুগে বা তাঁদের নিকটবর্তী সময়ে যেসব মতভেদ প্রকাশ পেয়েছিল তার বর্ণনা।

দ্বিতীয় অধ্যায়: সামগ্রিকভাবে উম্মতের দলসমূহের বর্ণনা।

তৃতীয় অধ্যায়: রাফেজীদের মতবাদসমূহের বিস্তারিত বিবরণ এবং তাদের কলঙ্কসমূহের বর্ণনা।

চতুর্থ অধ্যায়: খারেজীদের মতবাদসমূহের বর্ণনা এবং তাদের কলঙ্কসমূহের বর্ণনা।

পঞ্চম অধ্যায়: মুতাযিলা নামে পরিচিত কাদারিয়াদের মতবাদসমূহের বিস্তারিত বিবরণ এবং তাদের কলঙ্কসমূহের বর্ণনা।

ষষ্ঠ অধ্যায়: মুরজিয়াদের মতবাদসমূহের বিস্তারিত বিবরণ এবং তাদের কলঙ্কসমূহের বর্ণনা।

সপ্তম অধ্যায়: নাজ্জারিয়াদের মতবাদসমূহের বিস্তারিত বিবরণ এবং তাদের কলঙ্কসমূহের বর্ণনা।

অষ্টম অধ্যায়: দিরারিয়াদের মতবাদসমূহের বিস্তারিত বিবরণ এবং তাদের কলঙ্কসমূহের বর্ণনা।

নবম অধ্যায়: বাকরিয়াদের মতবাদসমূহের বিস্তারিত বিবরণ এবং তাদের কলঙ্কসমূহের বর্ণনা।

দশম অধ্যায়: জাহমিয়াদের মতবাদসমূহের বিস্তারিত বিবরণ এবং তাদের কলঙ্কসমূহের বর্ণনা।

একাদশ অধ্যায়: কাররামিয়াদের মতবাদসমূহের বিস্তারিত বিবরণ এবং তাদের কলঙ্কসমূহের বর্ণনা।

দ্বাদশ অধ্যায়: মুসাব্বিহাদের (সাদৃশ্যবাদীদের) মতবাদসমূহের বিস্তারিত বিবরণ এবং তাদের কলঙ্কসমূহের বর্ণনা।

ত্রয়োদশ অধ্যায়: এমন দলসমূহের বর্ণনা যারা ইসলাম ধর্মের দিকে নিজেদের সম্বন্ধ করে, কিন্তু তারা মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত গণ্য নয় এবং তারা বাহাত্তর দলেরও অন্তর্ভুক্ত নয়; তারা সংখ্যায় বিশটিরও বেশি দল।

চতুর্দশ অধ্যায়: নাস্তিকদের এমন কিছু গোষ্ঠীর মতবাদসমূহের বর্ণনা যারা ইসলামী রাষ্ট্রের আত্মপ্রকাশের পূর্বে বিদ্যমান ছিল; আমি কেবল তাদের একটি অংশ উল্লেখ করব।

পঞ্চদশ অধ্যায়: আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদার বর্ণনা এবং দ্বীনের ক্ষেত্রে তাদের গৌরবময় কার্যাবলি, সৌন্দর্য ও নিদর্শনাদির বর্ণনা। আমি প্রতিটি অধ্যায়ে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের দাবি অনুযায়ী সংক্ষিপ্ত ও মধ্যমপন্থা অবলম্বন করে আলোচনা করেছি, যাতে ক্লান্তি ও অতিরঞ্জন থেকে রক্ষা পাওয়া যায়; আর তা আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাওফিকেই সম্পন্ন হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আত-তাবসীর ফিদ দীন ওয়া তামীযুল ফিরকাতিন নাজিয়াহ আনিল ফিরাকিল হালিকীন (পৃষ্ঠা: ১৯)
الْبَاب الأول فِي بَيَان أول خلاف ظهر بعد الْمُصْطَفى صلى الله عليه وسلم وَفِي أَيَّام الصَّحَابَة أَو قَرِيبا من عَهدهم

 

أعلم أَن الْمُسلمين وَقت النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَبعد وَفَاته كَانُوا على طَرِيق وَاحِدَة لم يكن بَينهم خلاف ظَاهر وَمن كَانَ بَينهم من الْمُخَالفين الْمُنَافِقين مَا كَانَ يتَمَكَّن من إِظْهَار مَا كَانَ يستسره من أخباره فَكَانَ أول خلاف ظهر بَين الْمُسلمين اخْتلَافهمْ فِي وَفَاة رَسُول الله صلى الله عليه وسلم حَتَّى قَالَ قوم مِنْهُم أَنه لم يمت وَلكنه رفع كَمَا رفع عِيسَى بن مَرْيَم وارتفع هَذَا الْخلاف ببركات أبي بكر الصّديق رضي الله عنه حِين صعد الْمِنْبَر وخطب خطْبَة وتلا عَلَيْهِم قَوْله تَعَالَى {إِنَّك ميت وَإِنَّهُم ميتون} ثمَّ قَالَ من كَانَ يعبد مُحَمَّدًا فَإِن مُحَمَّدًا قد مَاتَ وَمن كَانَ يعبد رب مُحَمَّد فَإِنَّهُ حَيّ لَا يَمُوت فسكنت النُّفُوس وإطمأنت الْقُلُوب واذعنت لَهُ الرّقاب وَاعْتَرَفت الكافة بِمَا ظهر من الْأَمر وَزَالَ الْخلاف

الثَّانِي أَنهم اخْتلفُوا فِي مَوضِع دَفنه صلى الله عليه وسلم قَالَ قومإ إِنَّه يدْفن بِمَكَّة لِأَنَّهَا مولده وَبهَا قبلته وَبهَا مشاعر الْحَج وَبهَا نزل عَلَيْهِ الْوَحْي وَبهَا قبر جده إِسْمَاعِيل عليه السلام

وَقَالَ آخَرُونَ إِنَّه ينْقل إِلَى بَيت الْمُقَدّس فَإِن بِهِ تربة الْأَنْبِيَاء ومشاهدهم صلوَات الرَّحْمَن عَلَيْهِم

وَقَالَ أهل الْمَدِينَة أَنه يدْفن فِي الْمَدِينَة لِأَنَّهَا مَوضِع هجرته وَأَهْلهَا أهل
প্রথম পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পরবর্তী সময়ে এবং সাহাবীগণের যুগে অথবা তাঁদের যুগের নিকটবর্তী সময়ে যে প্রথম মতভেদ প্রকাশ পেয়েছিল তার বর্ণনা।

 

জেনে রাখুন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময়ে এবং তাঁর ওফাতের পর মুসলমানগণ একই পথে ছিলেন; তাঁদের মধ্যে কোনো প্রকাশ্য মতভেদ ছিল না। আর বিরোধীদের মধ্যে যারা মুনাফিক ছিল, তারা তাদের অন্তরে যা গোপন রাখত তা প্রকাশ করতে সক্ষম হতো না। সুতরাং মুসলমানদের মধ্যে সর্বপ্রথম যে মতভেদটি প্রকাশ পায় তা ছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওফাত সংক্রান্ত মতভেদ। এমনকি তাঁদের মধ্য থেকে একদল বলেছিল যে, তিনি মারা যাননি, বরং তাঁকে তুলে নেওয়া হয়েছে যেমনটি ঈসা ইবনে মারিয়াম আলাইহিস সালামকে তুলে নেওয়া হয়েছিল। আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু এর বরকতে এই মতভেদ দূরীভূত হয় যখন তিনি মিম্বারে আরোহণ করেন এবং খুতবা দেন। তিনি তাঁদের সামনে মহান আল্লাহর এই বাণী তিলাওয়াত করেন: “নিশ্চয়ই আপনি মরণশীল এবং তারাও মরণশীল।” অতঃপর তিনি বলেন, “যে ব্যক্তি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইবাদত করত, সে জেনে রাখুক যে মুহাম্মাদ মৃত্যুবরণ করেছেন; আর যে ব্যক্তি মুহাম্মাদের রবের ইবাদত করত, সে জেনে রাখুক যে তিনি চিরঞ্জীব, তাঁর মৃত্যু নেই।” তখন মানুষের আত্মা শান্ত হলো, অন্তরসমূহ প্রশান্তি লাভ করল, সকলে তাঁর আনুগত্য মেনে নিল এবং উপস্থিত সকলেই যা প্রকাশিত হয়েছিল তা স্বীকার করে নিল এবং মতভেদ দূরীভূত হলো।

দ্বিতীয়ত: তাঁরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দাফনের স্থান নিয়ে মতভেদ করেন। একদল বলেছিল যে, তাঁকে মক্কায় দাফন করা হবে কারণ তা তাঁর জন্মভূমি, সেখানে তাঁর কিবলা ও হজের রোকনসমূহ অবস্থিত, সেখানেই তাঁর ওপর ওহি নাজিল হয়েছিল এবং সেখানে তাঁর পূর্বপুরুষ ইসমাইল আলাইহিস সালামের কবর রয়েছে।

অন্যরা বলেছিল যে, তাঁকে বায়তুল মুকাদ্দাসে নিয়ে যাওয়া হবে কারণ সেখানে নবীদের পবিত্র ভূমি ও তাঁদের স্মৃতিবিজড়িত স্থানসমূহ রয়েছে—তাঁদের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।

মদিনাবাসীগণ বলেছিল যে, তাঁকে মদিনায় দাফন করা হবে কারণ তা তাঁর হিজরতের স্থান এবং এর অধিবাসীগণ হলেন...
(খণ্ড: ১) আত-তাবসীর ফিদ দীন ওয়া তামীযুল ফিরকাতিন নাজিয়াহ আনিল ফিরাকিল হালিকীন (পৃষ্ঠা: ২০)
نصرته فَزَالَ هَذَا الْخلاف ببركة الصّديق حِين روى أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ الْأَنْبِيَاء يدفنون حَيْثُ يقبضون فقبلوا مِنْهُ رِوَايَته وَرَجَعُوا إِلَى قَوْله ودفنوه فِي حجرته

الثَّالِث اخْتلَافهمْ فِي بَاب الامامة فَقَالَت الْأَنْصَار منا إِمَام ومنكم إِمَام وَطَالَ بَينهم الْكَلَام فِي ذَلِك حَتَّى صعد الصّديق رضي الله عنه الْمِنْبَر وخطب ثمَّ تَلا وَعَلَيْهِم قَوْله تَعَالَى {للْفُقَرَاء الْمُهَاجِرين الَّذين أخرجُوا من دِيَارهمْ وَأَمْوَالهمْ يَبْتَغُونَ فضلا من الله ورضوانا وينصرون الله وَرَسُوله أُولَئِكَ هم الصادقون} قَالَ فسمانا الصَّادِقين ثمَّ أَمر الْمُؤمنِينَ أَي الله تَعَالَى أَن يَكُونُوا مَعَ الصَّادِقين بقوله تَعَالَى {يَا أَيهَا الَّذين آمنُوا اتَّقوا الله وَكُونُوا مَعَ الصَّادِقين} وروى لَهُم أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ الْأَئِمَّة من قُرَيْش فصدقوه فِي رِوَايَته ونزلوا على قَضيته وَاتَّفَقُوا على قَوْله فَزَالَ هَذَا الْخلاف أَيْضا ببركة الصّديق ثمَّ حدث فِيهِ خلاف قوم من الْخَوَارِج حَيْثُ قَالُوا بِجَوَاز الْخلَافَة فِي غير قُرَيْش كَمَا نذكرهُ إِن شَاءَ الله تَعَالَى

الْخلاف لَا يكون خطرا إِلَّا إِذا كَانَ فِي أصُول الدّين وَلم يكن اخْتِلَاف بَينهم فِي ذَلِك بل كَانَ اخْتِلَاف من يخْتَلف فِي فروع الدّين مثل مسَائِل الْفَرَائِض فَلم يَقع خلاف يُوجب التفسيق والتبري هَكَذَا جرى الْأَمر على السداد أَيَّام أبي بكر وَعمر وَصدر من زمَان عُثْمَان ثمَّ اخْتلف فِي أَمر عُثْمَان وَخرج عَلَيْهِ قوم مِنْهُم فَكَانَ من أمره مَا كَانَ

ثمَّ بعد ذَلِك حدث الِاخْتِلَاف فِي أَمر عَليّ وَفِي حَال أَصْحَاب الْجمل وصفين وَفِي حَال الْحكمَيْنِ وَظهر من ذَلِك خلاف الْخَوَارِج فِي أَيَّام عَليّ رضي الله عنه كَمَا
তাঁর সহযোগিতায় সিদ্দীকের বরকতে এই মতভেদ দূরীভূত হয়, যখন তিনি বর্ণনা করেন যে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘নবীগণকে সেখানেই দাফন করা হয় যেখানে তাঁদের মৃত্যু হয়।’ ফলে তারা তাঁর এই বর্ণনা গ্রহণ করেন এবং তাঁর সিদ্ধান্তের দিকে ফিরে আসেন এবং তাঁকে তাঁর কামরাতেই দাফন করেন।

তৃতীয় মতভেদটি ছিল ইমামত বা নেতৃত্ব সংক্রান্ত। আনসারগণ বললেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে একজন নেতা এবং তোমাদের পক্ষ থেকে একজন নেতা থাকবে।’ এ বিষয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা চলল, শেষ পর্যন্ত সিদ্দীক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) মিম্বরে আরোহণ করলেন এবং ভাষণ দিলেন। এরপর তিনি তাদের সামনে মহান আল্লাহর এই বাণী পাঠ করলেন: ‘(এই সম্পদ) সেই দরিদ্র মুহাজিরদের জন্য যারা নিজেদের ঘরবাড়ি ও সম্পদ থেকে বিতাড়িত হয়েছে, যারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি অন্বেষণ করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে সাহায্য করে। তারাই হলো সত্যবাদী।’ তিনি বললেন, (আল্লাহ) আমাদের ‘সত্যবাদী’ বলে অভিহিত করেছেন। এরপর আল্লাহ তাআলা মুমিনদের আদেশ করেছেন তারা যেন সত্যবাদীদের সাথে থাকে; তিনি ইরশাদ করেছেন: ‘হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সত্যবাদীদের সাথে থাকো।’ এবং তিনি তাদের কাছে বর্ণনা করলেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘ইমামগণ কুরাইশ বংশ থেকে হবেন।’ তারা তাঁর এই বর্ণনাকে সত্য বলে গ্রহণ করলেন এবং তাঁর ফয়সালার অনুগত হলেন ও তাঁর বক্তব্যে একমত হলেন। এভাবে সিদ্দীকের বরকতে এই মতভেদটিও দূর হলো। পরবর্তীতে খারিজিদের একটি দল এ বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করে; তারা কুরাইশ ব্যতীত অন্য বংশে খেলাফত বৈধ হওয়ার কথা বলে, যা আমরা ইনশাআল্লাহ সামনে উল্লেখ করব।

মতভেদ তখনই বিপজ্জনক হয় যখন তা দ্বীনের মূলনীতিতে (উসূলে দ্বীন) হয়ে থাকে। তাদের মধ্যে এই বিষয়ে কোনো মতভেদ ছিল না; বরং তা ছিল দ্বীনের শাখা-প্রশাখায় মতভেদকারীদের ন্যায়, যেমন উত্তরাধিকার সংক্রান্ত মাসয়ালাসমূহ। তাই সেখানে এমন কোনো মতভেদ ঘটেনি যা কাউকে ফাসেক সাব্যস্ত করা বা সম্পর্ক ত্যাগের কারণ হতে পারে। আবু বকর ও উমরের যুগে এবং উসমানের শাসনামলের শুরুর দিকে সবকিছু এভাবেই সঠিক ও সুশৃঙ্খলভাবে চলেছিল। এরপর উসমানের বিষয়ে মতভেদ দেখা দেয় এবং একদল লোক তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে, ফলে তাঁর ভাগ্যে যা ঘটার তা-ই ঘটল।

এরপর আলীর ব্যাপারে এবং জঙ্গে জামাল ও সিফফীনের অংশগ্রহণকারীদের অবস্থা এবং দুই সালিসের বিষয়ে মতভেদ দেখা দেয়। এ থেকেই আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর যুগে খারিজিদের বিরোধ প্রকাশ পায়, যেমন...
(খণ্ড: ১) আত-তাবসীর ফিদ দীন ওয়া তামীযুল ফিরকাতিন নাজিয়াহ আনিল ফিরাকিল হালিকীন (পৃষ্ঠা: ২১)
سَنذكرُهُ فِيمَا بعد إِن شَاءَ الله تَعَالَى

وَظهر فِي وقته أَيْضا خلاف السبأية من الروافض وهم الَّذين قَالُوا إِن عليا إِلَه الْخلق حَتَّى أحرق عَليّ جمَاعَة مِنْهُم وَظهر بعد ذَلِك سَائِر أَصْنَاف الروافض كَمَا نذكرهُ فِيمَا بعد إِن شَاءَ الله تَعَالَى

وَظهر فِي أَيَّام الْمُتَأَخِّرين من الصَّحَابَة خلاف الْقَدَرِيَّة وَكَانُوا يَخُوضُونَ فِي الْقدر والاستطاعة كمعبد الْجُهَنِيّ وغيلان الدِّمَشْقِي وجعد بن دِرْهَم وَكَانَ يُنكر عَلَيْهِم من كَانَ قد بَقِي من الصَّحَابَة كَعبد الله بن عمر وَعبد الله بن عَبَّاس وَعبد الله بن أبي أوفى وَجَابِر وَأنس وَأبي هُرَيْرَة وَعقبَة بن عَامر الْجُهَنِيّ وأقرانهم وَكَانُوا يوصون إِلَى أخلافهم بِأَن لَا يسلمُوا عَلَيْهِم وَلَا يعودوهم إِن مرضوا وَلَا يصلوا عَلَيْهِم إِذا مَاتُوا ثمَّ ظهر بعدهمْ فِي زمَان الْحسن الْبَصْرِيّ بِالْبَصْرَةِ خلاف وَاصل ابْن عَطاء الغزال فِي الْقدر وَفِي القَوْل بِمَنْزِلَة بَين المنزلتين وَوَافَقَهُ عَمْرو بن عبيد فِيمَا أحدثه من الْبِدْعَة فطردهم الْحسن الْبَصْرِيّ من مَجْلِسه فاعتزلوه بأتباعهم
আমরা এটি পরবর্তীতে বর্ণনা করব, ইনশাআল্লাহ তাআলা।

তাঁর সময়ে রাফেজিদের সাবায়িয়া উপদলের বিরোধও প্রকাশ পায়, যারা দাবি করেছিল যে আলী সৃষ্টির ইলাহ; এমনকি আলী তাদের এক দলকে আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছিলেন। এর পর রাফেজিদের অন্যান্য শাখা প্রকাশ পায়, যেভাবে আমরা পরবর্তীতে তা বর্ণনা করব ইনশাআল্লাহ তাআলা।

সাহাবীগণের শেষ যুগে কাদারিয়াদের বিরোধ প্রকাশ পায়। তারা তাকদির ও সক্ষমতা নিয়ে বিতর্কে লিপ্ত হতো, যেমন মা’বাদ আল-জুহানি, গাইলান আদ-দিমাশকি এবং জা’দ ইবনে দিরহাম। তখন অবশিষ্ট সাহাবাগণ তাদের প্রতিবাদ করতেন, যেমন আবদুল্লাহ ইবনে উমর, আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস, আবদুল্লাহ ইবনে আবি আওফা, জাবির, আনাস, আবু হুরায়রা, উকবা ইবনে আমির আল-জুহানি এবং তাঁদের সমসাময়িকগণ। তাঁরা তাঁদের পরবর্তীদের প্রতি অসিয়ত করতেন যেন তারা তাদের সালাম না দেয়, তারা অসুস্থ হলে দেখতে না যায় এবং তারা মারা গেলে তাদের জানাজা না পড়ে। অতঃপর তাঁদের পরে বসরায় হাসান বসরীর সময়ে তাকদির এবং 'দুই অবস্থানের মধ্যবর্তী এক অবস্থান' সংক্রান্ত বিষয়ে ওয়াসিল ইবনে আতা আল-গাজ্জালের বিরোধ প্রকাশ পায়। আমর ইবনে উবাইদ এই নবউদ্ভাবিত বিদআতে তার সাথে একমত হয়। তখন হাসান বসরী তাঁদেরকে তাঁর মজলিস থেকে বহিষ্কার করেন, ফলে তারা তাদের অনুসারীদের নিয়ে তাঁর থেকে আলাদা হয়ে যায়।
(খণ্ড: ১) আত-তাবসীর ফিদ দীন ওয়া তামীযুল ফিরকাতিন নাজিয়াহ আনিল ফিরাকিল হালিকীন (পৃষ্ঠা: ২২)
جانبا من الْمَسْجِد فسموا معتزلة لإعتزالهم مجَالِس الْمُسلمين وَقَوْلهمْ بِمَنْزِلَة بَين المنزلتين وزعمهم أَن الْفَاسِق الملي لَا مُؤمن وَلَا كَافِر وَأَن الْفُسَّاق من أهل الْملَّة خَرجُوا من الْإِيمَان وَلم يبلغُوا الْكفْر وَأَنَّهُمْ مَعَ الْكفَّار فِي النَّار خَالِدين مخلدين لَا يجوز لله تَعَالَى أَن يغْفر لَهُم وَأَنه لَو غفر لَهُم لخرج من الْحِكْمَة وَلما أظهرُوا هَذِه الْمقَالة هجرهم الْمُسلمُونَ وخذلوهم كَمَا كَانَ قد أوصى إِلَيْهِم أسلافهم من الصَّحَابَة

ثمَّ ظهر خلاف النجارية فِي أَيَّام الْمَأْمُون الْخَلِيفَة واستعد جمَاعَة مِنْهُم بِالريِّ ونواحيها ثمَّ ظهر أَيْضا دَعْوَة الباطنية من حمدَان قرمط وَعبد الله بن مَيْمُون القداح وَلَا يعدون من فرق الْمُسلمين فَإِنَّهُم فِي الْحَقِيقَة على دين الْمَجُوس كَمَا شرحنا أديانهم فِي كتاب الْأَوْسَط

ثمَّ ظهر فِي زمَان مُحَمَّد بن طَاهِر بن عبد الله بن طَاهِر بخراسان خلاف الكرامية كَمَا نذكرهُ فِيمَا بعد إِن شَاءَ الله تَعَالَى
মসজিদের এক পার্শ্বে অবস্থান নিল, ফলে মুসলমানদের মজলিস থেকে তাদের বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে তাদের মু'তাযিলা নামকরণ করা হলো। তাদের মতবাদ ছিল ‘দুই অবস্থানের মধ্যবর্তী এক অবস্থান’ এবং তাদের দাবি ছিল যে, মুসলিম মিল্লাতের অন্তর্ভুক্ত ফাসেক ব্যক্তি মুমিনও নয়, আবার কাফেরও নয়। তারা মনে করত যে মিল্লাতভুক্ত ফাসেকরা ঈমান থেকে বের হয়ে গেছে কিন্তু কুফরে পৌঁছায়নি এবং তারা জাহান্নামের আগুনে কাফেরদের সাথে চিরস্থায়ীভাবে অবস্থান করবে। আল্লাহ তাআলার জন্য তাদের ক্ষমা করা বৈধ নয়; আর যদি তিনি তাদের ক্ষমা করেন তবে তা প্রজ্ঞার পরিপন্থী হবে। তারা যখন এই মতবাদ প্রকাশ করল, তখন মুসলমানরা তাদের বর্জন করল এবং লাঞ্ছিত করল, যেমনটি তাদের পূর্বসূরি সাহাবীগণ তাদের অসিয়ত করেছিলেন।

এরপর খলিফা মামুনের যুগে নাজ্জারিয়াদের বিরোধ প্রকাশ পায় এবং রায় ও এর আশপাশ এলাকায় তাদের একটি দল সুসংগঠিত হয়। এরপর হামদান কারমাত ও আবদুল্লাহ ইবনে মাইমুন আল-কাদ্দাহর পক্ষ থেকে বাতেনিয়াদের দাওয়াতও প্রকাশ পায়। তারা মুসলমানদের কোনো দলের অন্তর্ভুক্ত নয়, কেননা তারা প্রকৃতপক্ষে অগ্নিপূজকদের (মজুসি) ধর্মের ওপর প্রতিষ্ঠিত, যেমনটি আমরা ‘কিতাবুল আওসাত’-এ তাদের ধর্মমতের বর্ণনায় ব্যাখ্যা করেছি।

এরপর খোরাসানে মুহাম্মাদ ইবনে তাহির ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে তাহিরের যুগে কাররামিয়াদের বিরোধ প্রকাশ পায়, যা আমরা ইনশাআল্লাহ পরবর্তীতে আলোচনা করব।
(খণ্ড: ১) আত-তাবসীর ফিদ দীন ওয়া তামীযুল ফিরকাতিন নাজিয়াহ আনিল ফিরাকিল হালিকীন (পৃষ্ঠা: ২৩)
الْبَاب الثَّانِي فِي بَيَان فرق الْأمة على الْجُمْلَة

 

اعْلَم أَن الله حقق فِي افْتِرَاق هَذِه الْأمة مَا أخبر بِهِ الرَّسُول صلى الله عليه وسلم من افْتِرَاق هَذِه الْأمة إِلَى ثَلَاث وَسبعين فرقة وَاحِدَة مِنْهَا نَاجِية وَالْبَاقُونَ فِي النَّار فَأَما الاثنتان وَالسَّبْعُونَ فعشرون مِنْهُم الروافض من جُمْلَتهمْ الزيديون وهم ثَلَاث فرق الجارودية والسليمانية والأبترية وَمن جُمْلَتهمْ الكيسانية وهم فرقتان كَمَا نبينه فِيمَا بعد

وَمن جملَة الروافض الإمامية وهم خمس عشرَة فرقة المحمدية والباقرية والناووسية والشميطية والعمارية والإسماعيلية والمباركية والموسوية والقطعية والإثنا عشرِيَّة والهشامية والزرارية واليونسية والشيطانية والكاملية فَهَذِهِ جملَة فرق الروافض الَّذين يعدون فِي زمرة الْمُسلمين

فَأَما البيانية والمغيرية والمنصورية والجناحية والخطابية والحلولية مِنْهُم فَلَا يعدون فِي زمرة الْمُسلمين لأَنهم كلهم يَقُولُونَ بآلهية الْأَئِمَّة كَمَا نفصله فِيمَا بعد إِن شَاءَ الله تَعَالَى

وَعِشْرُونَ مِنْهُم الْخَوَارِج وهم المحكمة الأولى والأذارقة والنجدات والصفرية والعجاردة والأباضية فالعجاردة مِنْهُم فرق كالخازمية والشعيبية
দ্বিতীয় অধ্যায়: সামগ্রিকভাবে উম্মাহর দলসমূহের বর্ণনায়

 

জেনে রাখুন যে, আল্লাহ তাআলা এই উম্মতের বিভক্তির বিষয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা সংবাদ দিয়েছেন তা সত্য হিসেবে বাস্তবায়ন করেছেন। সংবাদটি ছিল এই উম্মত তিয়াত্তর দলে বিভক্ত হওয়া সম্পর্কে, যাদের মধ্যে একটি দল নাজাতপ্রাপ্ত এবং অবশিষ্টরা জাহান্নামী। এই বাহাত্তর দলের মধ্যে বিশটি দল হলো রাফেজি; তাদের অন্তর্ভুক্ত হলো জাইদিয়া যারা তিনটি উপদল: জারুদিয়া, সুলাইমানিয়া এবং আবতারিয়া। আর তাদের অন্তর্ভুক্ত হলো কায়সানিয়া, তারা দুইটি উপদল, যা আমরা পরবর্তীতে বর্ণনা করব।

রাফেজিদের অন্তর্ভুক্ত হলো ইমামিয়া এবং তারা পনেরোটি উপদল: মুহাম্মদিয়া, বাকিরিয়া, নাউসিয়া, শুমাইতিয়া, আম্মারিয়া, ইসমাইলিয়া, মুবারাকিয়া, মুসাওয়িয়া, কাতঈয়াহ, ইছনা আশারিয়া, হিশামিয়া, জুরারিয়া, ইউনুসিয়া, শায়তানিয়া এবং কামিলিয়া। এই হলো সামগ্রিকভাবে রাফেজিদের সেই দলসমূহ যাদেরকে মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করা হয়।

পক্ষান্তরে তাদের মধ্য থেকে বায়ানিয়া, মুগিরিয়া, মানসুরিয়া, জানাহিয়াহ, খাত্তাবিয়া এবং হুলুলিয়াদেরকে মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করা হয় না। কারণ তারা সবাই ইমামদের উপাস্য হওয়ার (ইলাহ হওয়ার) দাবি করে, যেমনটি আমরা আল্লাহ তাআলা চাইলে পরবর্তীতে বিস্তারিত বর্ণনা করব।

আর তাদের মধ্যে বিশটি দল হলো খারিজি; তারা হলো মুহাক্কিমায়ে উলা, আজারিকা, নাজদাত, সুফরিয়া, আজারিদা এবং ইবাদিয়া। আজারিদাদের মধ্যে আবার বিভিন্ন উপদল রয়েছে যেমন খাযিমিয়া এবং শুআইবিয়া।
(খণ্ড: ১) আত-তাবসীর ফিদ দীন ওয়া তামীযুল ফিরকাতিন নাজিয়াহ আনিল ফিরাকিল হালিকীন (পৃষ্ঠা: ২৪)
والشيبانية والمعبدية والرشيدية والمكرمية والحمزية والإبراهيمية والواقفية

والأباضية مِنْهُم أَربع فرق الحفصية والحارثية واليزيدية وَأَصْحَاب طَاعَة لَا يُرَاد بهَا الله تَعَالَى وَلَا يعد اليزيدية من فرق الْإِسْلَام لأَنهم جوزوا فسخ شَرِيعَة الْإِسْلَام وَذَلِكَ خلاف أجماع الْمُسلمين وَمن جملَة العجاردة فرقة يُقَال لَهُم الميمونية وَلَا يعدون من فرق الْمُسلمين لأَنهم يجوزون التَّزَوُّج ببنات الْبَنَات ويبيحونه وَذَلِكَ خلاف مَا عَلَيْهِ الْمُسلمُونَ

وَعِشْرُونَ مِنْهُم الْقَدَرِيَّة الْمُعْتَزلَة كل فريق مِنْهُم يكفر سَائِرهمْ وهم الواصلية والهذلية والعمروية والنظامية والأسوارية والمعمرية والإسكافية والجعفرية والبشرية والمردارية والهشامية والثمامية والجاحظية والخابطية والحمارية والخياطية والشحامية وَأَصْحَاب صَالح قبَّة والمؤنسية والكعبية والجبائية والبهشمية وفرقتان من هَذِه الْجُمْلَة لَا يعدَّانِ من فرق الاسلام وهما الخابطية والحمارية كَمَا نذكرهُ فِيمَا بعد

وَثَلَاث فرق هم المرجئة فريق مِنْهُم يجمعُونَ بَين الإرجاء فِي الْإِيمَان وَبَين القَوْل بِالْقدرِ كَأبي شمر وَمُحَمّد بن شبيب الْبَصْرِيّ والخالدية فؤلاء مرجئون قدريون وفريق مِنْهُم يجمعُونَ القَوْل بالارجاء فِي الايمان وَبَين قَول جهم كَمَا سَنذكرُهُ فِيمَا بعد فَهَؤُلَاءِ هم مرجئون جهميون

وفريق جوزوا القَوْل بالارجاء وَلَا يَقُولُونَ بالجبر وَلَا بِقدر وهم فِيمَا بَينهم خمس فرق اليونسية والغسانية والثوبانية والتومنية والمريسية فَصَارَت المرجئة على هَذَا التَّفْصِيل سبع فرق
শাইবানিয়া, মাবাদিয়া, রাশিদিয়া, মাকরামিয়া, হামজিয়া, ইব্রাহিমিয়া এবং ওয়াকিফিয়া।

এবং ইবাদিয়াদের মধ্যে চারটি দল রয়েছে: হাফসিয়া, হারিসিয়া, ইয়াজিদিয়া এবং এমন এক দল যারা মনে করে আনুগত্যের মাধ্যমে মহান আল্লাহকে উদ্দেশ্য করা হয় না। ইয়াজিদিয়াদের ইসলামের দলসমূহের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করা হয় না, কারণ তারা ইসলামি শরিয়ত রহিত করা বৈধ মনে করে, যা মুসলমানদের ইজমার পরিপন্থী। আর আজারিদাদের অন্তর্ভুক্ত একটি দল রয়েছে যাদের মাইমুনিয়া বলা হয়; তাদেরও মুসলমানদের দলসমূহের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করা হয় না, কারণ তারা নাতনিদের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া বৈধ মনে করে এবং একে হালাল গণ্য করে, যা মুসলমানদের ঐকমত্যের পরিপন্থী।

তাদের মধ্যে বিশটি দল হলো ক্বাদারিয়া মুতাজিলা, যাদের প্রতিটি দল অপর দলকে কাফির মনে করে। তারা হলো: ওয়াসিলিয়া, হুযাইলিয়া, আমরবিয়া, নাজ্জামিয়া, আসওয়ারিয়া, মুআম্মারিয়া, ইসকাফিয়া, জাফারিয়া, বিশরিয়া, মুরদারিয়া, হিশামিয়া, সুমামিয়া, জাহ্যিিয়া, খাবিতিইয়া, হিমারিয়া, খাইয়াতিয়া, শাহহামিয়া, সালিহ কুব্বার অনুসারীগণ, মুনিসিয়া, কাব্বিয়া, জুব্বায়িয়া এবং বাহশামিয়া। এই সমূহের মধ্যে দুটি দলকে ইসলামের দলসমূহের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করা হয় না, আর তারা হলো খাবিতিইয়া এবং হিমারিয়া, যা আমরা পরবর্তীতে বর্ণনা করব।

এবং তিনটি দল হলো মুরজিয়া। তাদের একটি দল ঈমানের ক্ষেত্রে ইরজা এবং ক্বাদারিয়া মতবাদকে একত্রিত করে, যেমন আবু শামার, মুহাম্মাদ বিন শাবিব আল-বাসরি এবং খালিদিয়া; এরা হলো মুরজিয়া-ক্বাদারিয়া। অন্য একটি দল ঈমানের ক্ষেত্রে ইরজা এবং জাহমের মতবাদকে একত্রিত করে, যেমনটি আমরা পরবর্তীতে বর্ণনা করব; এরা হলো মুরজিয়া-জাহমিয়া।

এবং আরেকটি দল যারা ইরজার মতবাদ পোষণ করে কিন্তু জবর বা ক্বাদারের কথা বলে না। তারা নিজেদের মধ্যে পাঁচটি দল: ইউনুসিয়া, গাসসানিয়া, সাওবানিয়া, তুমানিয়া এবং মুরিসিয়া। সুতরাং এই বিস্তারিত বর্ণনা অনুযায়ী মুরজিয়ারা সাতটি দলে বিভক্ত হলো।
(খণ্ড: ১) আত-তাবসীর ফিদ দীন ওয়া তামীযুল ফিরকাতিন নাজিয়াহ আনিল ফিরাকিল হালিকীন (পৃষ্ঠা: ২৫)
وَفرْقَة هم البكرية وَفرْقَة هم النجارية المقيمون بِالريِّ ونواحيها وهم أَكثر من عشر فرق فِيمَا بَينهم كالبرغوثية والزعفرانية والمستدركة وَغَيرهم ويعدون فرقة وَاحِدَة وَفرْقَة هم الضرارية وَفرْقَة هم الْجَهْمِية وَفرْقَة هم كرامية خُرَاسَان وهم ثَلَاث فرق الحقائقية والطرائقية والإسحاقية ويعدون فرقة وَاحِدَة لِأَن بعض فرقهم لَا يكفر بَعْضًا فَهَؤُلَاءِ الَّذين ذَكَرْنَاهُمْ اثْنَتَانِ وَسَبْعُونَ فرقة

والفرقة الثَّالِثَة وَالسَّبْعُونَ هِيَ النَّاجِية وهم أهل السّنة وَالْجَمَاعَة من أَصْحَاب الحَدِيث والرأي وَجُمْلَة فرق الْفُقَهَاء الَّذين اخْتلفُوا فِي فروع الشَّرِيعَة الَّتِي لَا يجْرِي فِيهَا التبري والتكفير وهم من أخبر النَّبِي صلى الله عليه وسلم عَنْهُم بقوله الْخلاف بَين أمتِي رَحمَه وَالله ولي الْعِصْمَة من كل إلحاد وبدعة
এবং একটি দল হলো বকরিয়াহ। এবং অন্য একটি দল হলো নাজ্জারিয়াহ, যারা রাই ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে বসবাসকারী; তারা নিজেদের মধ্যে দশটিরও বেশি উপদলে বিভক্ত, যেমন: বারগুসিয়াহ, জা’ফারানিয়াহ, মুস্তাদরাকাহ এবং অন্যান্য; তবে তারা একটি দল হিসেবেই পরিগণিত হয়। এবং একটি দল হলো দ্বিরারিয়াহ। এবং একটি দল হলো জাহমিয়াহ। এবং একটি দল হলো খুরাসানের কাররামিয়াহ, যারা তিনটি উপদলে বিভক্ত: হাকাইকিয়াহ, তরাইকিয়াহ এবং ইসহাকিয়াহ; তারা একটি দল হিসেবেই গণ্য হয় কারণ তাদের এক উপদল অন্য উপদলকে কাফির বলে গণ্য করে না। সুতরাং যাদের কথা আমরা উল্লেখ করেছি, তারা বাহাত্তরটি দল।

আর তিয়াত্তরতম দলটি হলো নাজাতপ্রাপ্ত দল, যারা হলো আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা’আত—তথা হাদীস ও রায়ের অনুসারীগণ এবং ফকীহদের সেই সকল দল যারা শরীয়তের এমন সব গৌণ মাসয়ালায় মতভেদ করেছেন যাতে পারস্পরিক সম্পর্কচ্ছেদ বা কাফির আখ্যা দেওয়ার অবকাশ নেই। তারা হলেন সেই সকল ব্যক্তি যাদের সম্পর্কে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সংবাদ দিয়ে বলেছেন: "আমার উম্মতের মতভেদ হলো রহমত।" আর আল্লাহই সকল ধর্মদ্রোহিতা ও বিদআত থেকে সুরক্ষার মালিক।
(খণ্ড: ১) আত-তাবসীর ফিদ দীন ওয়া তামীযুল ফিরকাতিন নাজিয়াহ আনিল ফিরাকিল হালিকীন (পৃষ্ঠা: ২৭)
الْبَاب الثَّالِث فِي تَفْصِيل مقالات الروافض وَبَيَان فضائحهم

 

أعلم أَن الروافض يجمعهُمْ ثَلَاث فرق الزيدية والإمامية

‌‌والكيسانية الزيدية

 

فَأَما الزيدية مِنْهُم فَثَلَاث فرق الجارودية والسليمانية والأبترية

الجارودية

فَأَما الجارودية فهم أَتبَاع أبي الْجَارُود وَكَانَ مذْهبه أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم نَص على
তৃতীয় অধ্যায়: রাফেজিদের মতাদর্শের বিস্তারিত বিবরণ এবং তাদের কলঙ্কসমূহ উন্মোচন প্রসঙ্গে

 

জেনে রাখুন যে, রাফেজিদের তিনটি দল অন্তর্ভুক্ত করে: জায়দিয়াহ, ইমামিয়াহ

‌‌এবং কায়সানিয়াহ। জায়দিয়াহ

 

তাদের মধ্যে জায়দিয়াহরা আবার তিনটি উপদলে বিভক্ত: জারুদিয়াহ, সুলাইমানিয়াহ এবং আবতারিয়াহ।

জারুদিয়াহ

জারুদিয়াহদের কথা বলতে গেলে, তারা আবু আল-জারুদের অনুসারী। তার মতাদর্শ ছিল এই যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) স্পষ্ট নির্দেশনা (নস) দিয়েছিলেন...
(খণ্ড: ১) আত-তাবসীর ফিদ দীন ওয়া তামীযুল ফিরকাতিন নাজিয়াহ আনিল ফিরাকিল হালিকীন (পৃষ্ঠা: ২৮)
إِمَامه عَليّ بِالصّفةِ لَا بالإسم وَكَانَ من مذْهبه أَن الصَّحَابَة كفرُوا كلهم بتركهم بيعَة عَليّ ومخالفتهم النَّص الْوَارِد عَلَيْهِ وَكَانَ يَقُول إِن الإِمَام بعده الْحسن بن عَليّ ثمَّ بعده الْحُسَيْن بن عَليّ وَيكون بعدهمَا الْإِمَامَة شُورَى فِي أولادهما فَمن خرج من أَولا دهما شاهرا سَيْفه دَاعيا إِلَى دينه وَكَانَ عَالما ورعا فَهُوَ الإِمَام

وَزعم قوم من الجارودية أَن الإِمَام المنتظر مُحَمَّد بن عبد الله بن الْحسن بن الْحسن بن عَليّ بن أبي طَالب وَيَقُولُونَ أَنه لم يمت وَلم يقتل

وَزعم قوم مِنْهُم أَن المنتظر مُحَمَّد بن الْقَاسِم صَاحب الطالقان وَأَنه لم يمت وَلم يقتل

وَزعم قوم مِنْهُم أَن المنتظر يحيى بن عمر الَّذِي قتل بِالْكُوفَةِ وهم لَا يصدقون بقتْله

السليمانية

وَأما السليمانية فهم أَتبَاع سُلَيْمَان بن جرير الزيدي وَكَانَ يَقُول إِن الْإِمَامَة شُورَى وَمَتى مَا عقدهَا اثْنَان من اخيار الْأَئِمَّة لمن يصلح لَهَا فَهُوَ إِمَام فِي الْحَقِيقَة وَكَانَ يقر بامامة أبي بكر وَعمر وَيجوز إِمَامَة الْمَفْضُول وَكَانَ يَقُول إِن الصَّحَابَة تركُوا الْأَصْلَح بتركهم بيعَة عَليّ فَإِنَّهُ كَانَ أولى بهَا وَكَانَ إعراضهم عَنهُ
তাঁর মতে ইমাম হলেন আলী, গুণের মাধ্যমে, নামের মাধ্যমে নয়। তাঁর মাযহাব ছিল এই যে, সাহাবীগণ আলীর বায়আত বর্জন করার কারণে এবং তাঁর স্বপক্ষে বর্ণিত স্পষ্ট ভাষ্য অমান্য করার কারণে সকলেই কাফির হয়ে গিয়েছেন। তিনি বলতেন, তাঁর পর ইমাম হলেন হাসান ইবনে আলী, অতঃপর তাঁর পর হুসাইন ইবনে আলী। তাঁদের পর ইমামতি তাঁদের সন্তানদের মধ্যে পরামর্শের ভিত্তিতে হবে। সুতরাং তাঁদের সন্তানদের মধ্য থেকে যে ব্যক্তি তরবারি হাতে বিদ্রোহ করবে এবং নিজের দ্বীনের দিকে দাওয়াত দিবে এবং সে আলেম ও পরহেজগার হবে, তবে সেই হবে ইমাম।

জারুদিয়াদের একটি দল দাবি করে যে, প্রতীক্ষিত ইমাম হলেন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে হাসান ইবনে হাসান ইবনে আলী ইবনে আবি তালিব এবং তারা বলে যে, তিনি মৃত্যুবরণ করেননি এবং তাঁকে হত্যাও করা হয়নি।

তাদের মধ্য থেকে একদল দাবি করে যে, প্রতীক্ষিত ইমাম হলেন তালকানের অধিপতি মুহাম্মদ ইবনে আল-কাসিম এবং তিনি মারা যাননি ও তাঁকে হত্যা করা হয়নি।

তাদের মধ্যে একদল দাবি করে যে, প্রতীক্ষিত ইমাম হলেন ইয়াহইয়া ইবনে উমর যিনি কুফায় নিহত হয়েছেন, কিন্তু তারা তাঁর নিহত হওয়ার বিষয়টি বিশ্বাস করে না।

সুলাইমানিয়া

আর সুলাইমানিয়া হলো সুলাইমান ইবনে জারির আজ-জাইদির অনুসারীবৃন্দ। সে বলত যে, ইমামতি হলো পরামর্শের ভিত্তিতে; যখনই নেককার ইমামদের মধ্য হতে দুইজন ব্যক্তি যোগ্য কারো জন্য ইমামতির চুক্তি সম্পাদন করবেন, তখন তিনি বাস্তবে ইমাম হবেন। সে আবু বকর ও উমরের ইমামতের স্বীকৃতি দিত এবং অপেক্ষাকৃত কম যোগ্য ব্যক্তির ইমামতকেও বৈধ মনে করত। সে বলত যে, সাহাবীগণ আলীর বায়আত বর্জন করে অধিকতর উত্তম বিষয়টি বর্জন করেছেন, কেননা তিনিই ছিলেন এর জন্য অধিকতর যোগ্য, আর তাঁর থেকে তাঁদের বিমুখ হওয়া ছিল...
(খণ্ড: ১) আত-তাবসীর ফিদ দীন ওয়া তামীযুল ফিরকাতিন নাজিয়াহ আনিল ফিরাকিল হালিকীন (পৃষ্ঠা: ২৯)
خطأ لَا يُوجب كفرا وَلَا فسقا وَهَؤُلَاء كَانُوا يكفرون عُثْمَان بِسَبَب مَا أَخذ عَلَيْهِ من الْأَحْدَاث وكفرهم أهل السّنة وَالْجَمَاعَة بتكفيرهم عُثْمَان وَرُبمَا يدعى هَؤُلَاءِ جريرية

ج الأبترية

فَأَما الأبترية مِنْهُم فهم أَتبَاع الْحسن بن صَالح بن حَيّ وَكثير النواء الملقب بالأبتر وَقَول هَؤُلَاءِ كَقَوْل السليمانية غير أَنهم يتوقفون فِي عُثْمَان وَلَا يَقُولُونَ فِيهِ خيرا وَلَا شرا وَقد أخرج مُسلم بن الْحجَّاج حَدِيث الْحسن بن صَالح بن حَيّ فِي الْمسند الصَّحِيح لما أَنه لم يعرف مِنْهُ هَذِه الْخِصَال فأجراه على ظَاهر الْحَال

وَأعلم أَن السليمانية والأبترية يكفرون الجارودية مِنْهُم لتكفيرهم أَبَا بكر وَعمر وَمن تابعهما من الصَّحَابَة وَجَمِيع فرق الزيدية يجمعهُمْ القَوْل بتخليد أهل الْكَبَائِر فِي النَّار ووافقوا الْقَدَرِيَّة فِي هَذَا الْمَعْنى ووافقوا الْخَوَارِج أَيْضا فِي أَن فساق الْملَّة كفار يخلدُونَ فِي النَّار مَعَ الْكفَّار ويقنطون من رَحْمَة الله وَلَا ييأس من روح الله إِلَّا الْقَوْم الْكَافِرُونَ وَهَؤُلَاء الْفرق الثَّلَاثَة إِنَّمَا يسمون زيدية لقَولهم بإمامة زيد بن عَليّ ابْن الْحُسَيْن بن عَليّ فِي وقته وإمامه ابْنه يحيى بن زيد فِي وقته وَكَانَ أَمر زيد هَذَا
একটি ভুল যা কুফর বা ফাসিকি সাব্যস্ত করে না। আর তারা উসমানকে কাফের বলত তাঁর ওপর আনীত কিছু ঘটনার কারণে। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত তাদের তাকফির করেছে উসমানকে তাকফির করার কারণে। সম্ভবত এদের জারীরিয়া বলা হয়।

গ. আবতারিয়্যা

তাদের মধ্যে আবতারিয়্যারা হলো হাসান ইবনে সালিহ ইবনে হাই এবং কাসীর আন-নাওয়া—যাঁর উপাধি ছিল আল-আবতার—এর অনুসারী। এদের বক্তব্য সুলায়মানিয়্যাদের বক্তব্যের মতোই, তবে তারা উসমানের ব্যাপারে বিরত থাকে; তারা তাঁর সম্পর্কে ভালো বা মন্দ কিছুই বলে না। ইমাম মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ তাঁর সহীহ মুসনাদে হাসান ইবনে সালিহ ইবনে হাইয়ের হাদিস বর্ণনা করেছেন, কারণ তিনি তার মধ্যে এই বৈশিষ্ট্যগুলো সম্পর্কে অবগত ছিলেন না, ফলে তিনি তাকে বাহ্যিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে গ্রহণ করেছেন।

জেনে রাখুন যে, সুলায়মানিয়্যা ও আবতারিয়্যারা তাদের মধ্য থেকে জারুদিয়্যাদের কাফের মনে করে, যেহেতু জারুদিয়্যারা আবু বকর, উমর এবং তাঁদের অনুসারী সাহাবীদের কাফের বলে। জাইদিয়াদের সকল দলই কবীরা গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তিদের জাহান্নামে চিরস্থায়ী হওয়ার বক্তব্যের ওপর ঐক্যবদ্ধ। এই অর্থে তারা কাদরিয়্যাদের সাথে একমত হয়েছে। তারা খাওয়ারিজদের সাথেও একমত হয়েছে যে, এই মিল্লাতের ফাসিকরা কাফের, যারা কাফেরদের সাথে জাহান্নামে চিরকাল থাকবে। তারা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়; অথচ কাফের সম্প্রদায় ছাড়া আল্লাহর রহমত থেকে কেউ নিরাশ হয় না। এই তিনটি দলকে জাইদিয়্যা বলা হয় এ কারণে যে, তারা তাদের সময়ে জাইদ ইবনে আলী ইবনুল হুসাইন ইবনে আলীর ইমামতের প্রবক্তা ছিল এবং তাঁর সময়ে তাঁর পুত্র ইয়াহইয়া ইবনে জাইদের ইমামতের প্রবক্তা ছিল। আর জাইদের বিষয়টি ছিল এমন যে-
(খণ্ড: ১) আত-তাবসীর ফিদ দীন ওয়া তামীযুল ফিরকাতিন নাজিয়াহ আনিল ফিরাকিল হালিকীন (পৃষ্ঠা: ৩০)
أَنه بَايعه خَمْسَة آلَاف من أهل الْكُوفَة فَأخذ يُقَاتل بهم يُوسُف بن عمر الثَّقَفِيّ عَامل هِشَام بن عبد الْملك فَلَمَّا اشْتَدَّ بهم الْقِتَال قَالَ الَّذين بَايعُوهُ آه مَا تَقول فِي أبي بكر وَعمر فَقَالَ زيد أثنى عَلَيْهِمَا جدي عَليّ وَقَالَ فيهمَا حسنا وَإِنَّمَا خروجي على بني أُميَّة فَإِنَّهُم قَاتلُوا جدي عليا وَقتلُوا جدي حُسَيْنًا فَخَرجُوا عَلَيْهِ ورفضوه فسموا رافضة بذلك السَّبَب وهجروه كلهم وَلم يبْق مِنْهُم إِلَّا نضر بن خُزَيْمَة الْعَبْسِي وَمُعَاوِيَة بن إِسْحَاق بن زيد بن حَارِثَة مَعَ مِقْدَار مِائَتي رجل فَأتى الْقَتْل على جَمِيعهم وَقتل زيد وَدفن فَأخْرج بعده من الْقَبْر وأحرق وهرب ابْنه يحيى ابْن زيد إِلَى خُرَاسَان وَصَارَ إِلَى نَاحيَة جوزجان وَخرج على نصر بن سيار وَالِي خُرَاسَان فَبعث نصر بن سيار إِلَيْهِ سلم بن أحوز الْمَازِني فِي ثَلَاثَة آلَاف من الْمُقَاتلَة فاستشهد يحيى بن زيد فِي ذَلِك الْقِتَال ومشهده بجوزجان

‌‌الكيسانية

 

وَأما الكيسانية فهم أَتبَاع مُخْتَار بن أبي عبيد الثَّقَفِيّ الَّذِي كَانَ قَامَ يطْلب ثأر الْحُسَيْن بن عَليّ بن أبي طَالب وَكَانَ يقتل من يظفر بِهِ مِمَّن كَانَ قَاتله بكربلاء وَهَؤُلَاء الكيسانية فرق يجمعهُمْ القَوْل بنوعين من الْبِدْعَة

أَحدهمَا تَجْوِيز البداء على الله تَعَالَى تَعَالَى الله عَن قَوْلهم علوا كَبِيرا
কুফার পাঁচ হাজার অধিবাসী তাঁর কাছে বায়আত গ্রহণ করেন। এরপর তিনি তাঁদের নিয়ে হিশাম বিন আব্দুল মালিকের গভর্নর ইউসুফ বিন উমর আস-সাকাফির বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করেন। যখন যুদ্ধ তীব্রতর হলো, তখন যারা তাঁর হাতে বায়আত হয়েছিল তারা বলল, "আহ! আপনি আবু বকর ও উমর সম্পর্কে কী বলেন?" যায়েদ বললেন, "আমার দাদা আলী তাঁদের উভয়ের প্রশংসা করেছেন এবং তাঁদের সম্পর্কে উত্তম কথা বলেছেন। আমি কেবল বনু উমাইয়ার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছি কারণ তারা আমার দাদা আলীর সাথে যুদ্ধ করেছে এবং আমার দাদা হুসাইনকে হত্যা করেছে।" তখন তারা তাঁর বিরুদ্ধাচরণ করল এবং তাঁকে বর্জন করল। এই কারণেই তাদের 'রাফেজি' (প্রত্যাখ্যানকারী) বলা হয়। তারা সবাই তাঁকে পরিত্যাগ করল, কেবল নযর বিন খুজাইমা আল-আবসি এবং মুয়াবিয়া বিন ইসহাক বিন যায়েদ বিন হারিসাহ সহ প্রায় দুইশত লোক তাঁর সাথে অবশিষ্ট রইল। এরপর তাঁরা সকলেই নিহত হলেন। যায়েদও নিহত হলেন এবং তাঁকে দাফন করা হলো। পরবর্তীকালে তাঁকে কবর থেকে বের করে পুড়িয়ে ফেলা হলো। তাঁর পুত্র ইয়াহইয়া ইবনে যায়েদ খোরাসানে পালিয়ে যান এবং জুযজান অঞ্চলে পৌঁছান। সেখানে তিনি খোরাসানের গভর্নর নাসর বিন সাইয়ারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন। তখন নাসর বিন সাইয়ার তাঁর বিরুদ্ধে তিন হাজার যোদ্ধা সহ সালম বিন আহওয়াজ আল-মাযিনিকে প্রেরণ করেন। সেই যুদ্ধে ইয়াহইয়া ইবনে যায়েদ শাহাদাত বরণ করেন এবং তাঁর মাজার বা সমাধিস্থল জুযজানে অবস্থিত।

‌‌কায়সানিয়া

 

আর কায়সানিয়া হলো মুখতার বিন আবু উবাইদ আস-সাকাফির অনুসারী, যে হুসাইন বিন আলী বিন আবু তালিবের রক্তের বদলা নিতে দাঁড়িয়েছিল। কারবালায় যারা তাঁকে (হুসাইনকে) হত্যা করেছিল, তাদের মধ্য থেকে যাকে সে কবজায় পেত তাকেই হত্যা করত। এই কায়সানিয়ারা বিভিন্ন উপদলে বিভক্ত, যাদের দুটি বিদআতি মতবাদ একত্রিত করেছে।

তার একটি হলো—আল্লাহ তাআলার ক্ষেত্রে 'বাদা' (সিদ্ধান্তের পরিবর্তন) হওয়া সম্ভব বলে মনে করা। তারা যা বলে, আল্লাহ তাআলা তা থেকে বহুগুণ ঊর্ধ্বে ও পবিত্র।
(খণ্ড: ১) আত-তাবসীর ফিদ দীন ওয়া তামীযুল ফিরকাতিন নাজিয়াহ আনিল ফিরাকিল হালিকীন (পৃষ্ঠা: ৩১)
الثَّانِي قَوْلهم بامامة مُحَمَّد بن الْحَنَفِيَّة ثمَّ اخْتلفُوا فِي سَبَب إِمَامَته فَمنهمْ من قَالَ إِن سَبَب إِمَامَته أَن عَليّ بن أبي طَالب رضي الله عنه دفع الرَّايَة إِلَيْهِ يَوْم الْجمل وَقَالَ لَهُ

(أطعنهم طعن أَبِيك تحمد … لَا خير فِي حَرْب إِذا لم توقد)

(بالمشرفي والقنا المشرد … )

وَمِنْهُم من قَالَ أَن سَبَب إِمَامَته ان الْإِمَامَة كَانَت لعَلي ثمَّ لِلْحسنِ ثمَّ للحسين وَقد أوصى حُسَيْن بهَا لِأَخِيهِ مُحَمَّد بن الْحَنَفِيَّة فِي الْوَقْت الَّذِي كَانَ يهرب من الْمَدِينَة ويقصد مَكَّة إِذْ كَانَ مطالبا ببيعة يزِيد بن مُعَاوِيَة وَهَؤُلَاء الَّذين يَقُولُونَ بإمامة مُحَمَّد بن الْحَنَفِيَّة

أالكربية

وَقوم مِنْهُم يُقَال لَهُم الكربية أَصْحَاب أبي كرب الضَّرِير يَقُولُونَ إِن مُحَمَّد بن الْحَنَفِيَّة لم يمت وَلم يقتل وَأَنه فِي جبل رضوى وَعِنْده عين من المَاء وَعين من الْعَسَل يتَنَاوَل مِنْهُمَا وَعِنْده أَسد ونمر تحفظانه من الْأَعْدَاء إِلَى أَن يُؤذن لَهُ فِي الْخُرُوج وَهُوَ الْمهْدي المنتظر عِنْدهم

وَقوم من الكيسانية أقرُّوا بِمَوْتِهِ ثمَّ اخْتلفُوا فَقَالَ قوم مِنْهُم ان الْإِمَامَة بعده رجعت إِلَى ابْن أَخِيه عَليّ بن الْحُسَيْن زين العابدين
দ্বিতীয়ত, মুহাম্মাদ ইবনে আল-হানাফিয়্যাহ-এর ইমামত সংক্রান্ত তাদের অভিমত। অতঃপর তারা তাঁর ইমামতের কারণ নিয়ে মতভেদ করেছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন যে, তাঁর ইমামতের কারণ হলো আলী ইবনে আবু তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) উটের যুদ্ধের দিন তাঁর হাতে পতাকা তুলে দিয়েছিলেন এবং তাঁকে বলেছিলেন—

(তোমার পিতার মতো তাদের বর্শা বিদ্ধ করো যাতে তুমি প্রশংসিত হও … যে যুদ্ধে অগ্নি প্রজ্বলিত হয় না তাতে কোনো কল্যাণ নেই)

(মাশরাফি তরবারি ও লক্ষ্যভেদী বর্শার দ্বারা … )

আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেন যে, ইমামতের এই কারণ হলো—ইমামত প্রথমে আলীর জন্য ছিল, এরপর হাসানের জন্য, অতঃপর হুসাইনের জন্য। আর হুসাইন যখন ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়ার বায়আত গ্রহণের দাবির কারণে মদিনা থেকে বেরিয়ে মক্কার দিকে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি তাঁর ভাই মুহাম্মাদ ইবনে আল-হানাফিয়্যাহর অনুকূলে ওসিয়ত করে যান। এরাই তারা যারা মুহাম্মাদ ইবনে আল-হানাফিয়্যাহর ইমামতের কথা বলে থাকে।

আল-কারবিয়্যাহ

তাদের মধ্যে একদলকে কারবিয়্যাহ বলা হয়, যারা আবু কারব আদ-দারিরের অনুসারী। তারা বলে যে, মুহাম্মাদ ইবনে আল-হানাফিয়্যাহ মৃত্যুবরণ করেননি এবং তাঁকে হত্যাও করা হয়নি। তিনি 'রাদওয়া' পাহাড়ে অবস্থান করছেন। তাঁর কাছে একটি পানির ঝরনা ও একটি মধুর ঝরনা রয়েছে যা থেকে তিনি পানাহার করেন। তাঁর কাছে একটি সিংহ ও একটি চিতা রয়েছে যারা তাঁকে শত্রুদের থেকে রক্ষা করে, যতক্ষণ না তাঁকে আত্মপ্রকাশের অনুমতি দেওয়া হয়। আর তাদের নিকট তিনিই হলেন প্রতীক্ষিত মাহদি।

কায়সানিয়্যাহদের একদল তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি স্বীকার করেছে, অতঃপর তারা মতভেদ করেছে। তাদের একদল বলেছে যে, তাঁর পর ইমামত তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র আলী ইবনে আল-হুসাইন জয়নুল আবেদিনের নিকট ফিরে গিয়েছে।
(খণ্ড: ১) আত-তাবসীর ফিদ দীন ওয়া তামীযুল ফিরকাতিন নাজিয়াহ আনিল ফিরাকিল হালিকীন (পৃষ্ঠা: ৩২)
ب الهاشمية

وَقَالَ قوم أَنَّهَا رجعت إِلَى ابْنه أبي هَاشم عبد الله بن مُحَمَّد بن الْحَنَفِيَّة ثمَّ قَالَ قوم رجعت بعد أبي هَاشم إِلَى مُحَمَّد بن عبد الله بن عَبَّاس بِوَصِيَّة أبي هَاشم لَهُ بهَا وَهَذَا قَول ابْن الراوندي وَأَتْبَاعه

ج البيانية

وَقَالَ قوم رجعت إِلَى بَيَان بن سمْعَان التَّمِيمِي وَهَؤُلَاء قوم يلقبون بالبيانية وهم من جملَة الغلاة يدعونَ آلهية بَيَان بن سمْعَان ويزعمون أَن روح الْإِلَه حل فِي أبي هَاشم ثمَّ رَجَعَ إِلَى بَيَان

وَقَالَ قوم بل رجعت إِلَى عبد الله بن عَمْرو بن حَرْب وَكَانُوا يدعونَ آلهيته وَكَانَ كثير الشَّاعِر وَالسَّيِّد الْحِمْيَرِي من جملَة الكيسانية كَانَا ينتظران مُحَمَّد بن الْحَنَفِيَّة وَلَهُمَا فِي ذَلِك أشعار كَثِيرَة فمما قَالَه السَّيِّد الْحِمْيَرِي فِي مَعْنَاهُ
খ হাশিমিয়্যা

একদল লোক বলেছে যে এটি তাঁর পুত্র আবু হাশিম আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-হানাফিয়্যার দিকে ফিরে গিয়েছে। অতঃপর অন্য একদল বলেছে যে আবু হাশিমের পর এটি আবু হাশিমের ওসীয়ত অনুযায়ী মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাসের দিকে ফিরে গিয়েছে। এটি ইবনুর রাওয়ান্দি ও তাঁর অনুসারীদের বক্তব্য।

গ বায়ানিয়্যা

অন্য একদল বলেছে যে এটি বায়ান ইবনে সামআন আত-তামিমীর দিকে ফিরে গিয়েছে। এই দলটি বায়ানিয়্যা নামে অভিহিত এবং তারা চরমপন্থীদের (গুলাত) অন্তর্ভুক্ত। তারা বায়ান ইবনে সামআনের দেবত্ব দাবি করে এবং দাবি করে যে ইলাহের রূহ আবু হাশিমের মধ্যে প্রবিষ্ট হয়েছিল, অতঃপর তা বায়ানের দিকে ফিরে এসেছে।

অন্য একদল বলেছে যে বরং এটি আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে হারবের দিকে ফিরে গিয়েছে এবং তারা তাঁর দেবত্ব দাবি করত। কবি কুসাইয়ির এবং আস-সাইয়্যিদ আল-হিময়ারী কায়সানিয়্যাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন; তাঁরা দুজনেই মুহাম্মদ ইবনে আল-হানাফিয়্যার প্রতীক্ষায় ছিলেন। এ বিষয়ে তাঁদের অনেক কবিতা রয়েছে। এই অর্থে আস-সাইয়্যিদ আল-হিময়ারী যা বলেছেন তা হলো:
(খণ্ড: ১) আত-তাবসীর ফিদ দীন ওয়া তামীযুল ফিরকাতিন নাজিয়াহ আনিল ফিরাকিল হালিকীন (পৃষ্ঠা: ৩৩)
(أَلا قل للْوَصِيّ فدتك نَفسِي … أطلت بذلك الْجَبَل المقاما)

(أضرّ بمعشر والوك منا … وسموك الْخَلِيفَة والإماما)

(وعادوا فِيك أهل الأَرْض طرا … مقامك عِنْدهم سِتِّينَ عَاما)

المختارية

وَأول من قَامَ ببدعة الكيسانية ودعا إِلَى إِمَامَة مُحَمَّد بن الْحَنَفِيَّة الْمُخْتَار ابْن أبي عبيد أَخذ فِي طلب ثأر الْحُسَيْن بن عَليّ وظفر بأعدائه وَلما تمّ لَهُ الظفر فِي حروب كَثِيرَة اغْترَّ بِنَفسِهِ فَأخذ يتَكَلَّم بأسجاع كأسجاع الكهنة وَلما بلغ خبر كهانته إِلَى مُحَمَّد بن الْحَنَفِيَّة خَافَ أَن يَقع بِسَبَبِهِ فتْنَة فِي الدّين وهم ليقْبض عَلَيْهِ فَلَمَّا علم بِهِ الْمُخْتَار وَخَافَ على نَفسه مِنْهُ اخْتَار قَتله بحيلة فَقَالَ لِقَوْمِهِ الْمهْدي مُحَمَّد بن الْحَنَفِيَّة وَأَنا على ولَايَته غير أَن للمهدي عَلامَة وَهِي أَن يضْرب عَلَيْهِ بِالسَّيْفِ فَلَا يحيك فِيهِ السَّيْف وَأَنا أجرب هَذَا السَّيْف على مُحَمَّد بن الْحَنَفِيَّة فَإِن حاك فِيهِ فَلَيْسَ بمهدي

فَلَمَّا بلغ إِلَى مُحَمَّد بن الْحَنَفِيَّة هَذَا الْخَبَر خَافَ أَن يقْتله بِمَا ذَكرْنَاهُ من حيلته فتوقف حَيْثُ كَانَ ثمَّ إِن السبأية خدعوا الْمُخْتَار وَقَالُوا لَهُ أَنْت حجَّة الزَّمَان وَحَمَلُوهُ على دَعْوَى النُّبُوَّة فادعاها وَزعم أَن أسجاعه وَحي يُوحى إِلَيْهِ ثمَّ قويت شوكته واستفحل أمره حَتَّى قصد جندا من جنود مُصعب بن الزبير فَهَزَمَهُمْ وَأسر جمَاعَة مِنْهُم فيهم سراقَة بن مرداس الْبَارِقي فَلَمَّا قدم إِلَى الْمُخْتَار احتال وَقَالَ لم تهزمنا جندك وَلَا أسرنا قَوْمك وَلَكِن الْمَلَائِكَة الَّذين جاؤوا لنصرتك وَنَصره جندك هم الَّذين هزمونا فَاعْفُ عَنَّا فَأَنا لم نعلم أَنَّك على الْحق والآن فقد
(অহো, ওসী বা উত্তরাধিকারীকে বলো, আমার প্রাণ আপনার জন্য উৎসর্গ হোক … আপনি ঐ পাহাড়ে আপনার অবস্থান দীর্ঘায়িত করেছেন)

(এটি আমাদের মধ্য থেকে সেই দলের ক্ষতি করেছে যারা আপনার আনুগত্য করেছিল … এবং আপনাকে খলিফা ও ইমাম বলে সম্বোধন করেছিল)

(এবং আপনার কারণে তারা সারা পৃথিবীর সকল মানুষের শত্রু হয়ে গেছে … তাদের নিকট আপনার অবস্থান ছিল ষাট বছর)

আল-মুখতারিয়্যাহ

কায়সানিয়্যাহ বিদআতের প্রথম প্রবর্তক এবং যিনি মুহাম্মদ বিন আল-হানাফিয়্যাহর ইমামতের দিকে আহ্বান জানিয়েছিলেন, তিনি হলেন আল-মুখতার ইবনে আবি উবায়েদ। তিনি হুসাইন ইবনে আলীর হত্যার প্রতিশোধ নিতে শুরু করেন এবং তাঁর শত্রুদের ওপর বিজয়ী হন। যখন বহু যুদ্ধে তাঁর বিজয় সুসম্পন্ন হলো, তখন তিনি আত্মঅহংকারী হয়ে উঠলেন এবং গণকদের মতো ছন্দবদ্ধ বাক্যে কথা বলতে শুরু করলেন। যখন তাঁর এই গণকগিরির সংবাদ মুহাম্মদ বিন আল-হানাফিয়্যাহর নিকট পৌঁছাল, তখন তিনি আশঙ্কা করলেন যে তাঁর কারণে দ্বীনের মধ্যে কোনো ফিতনা সৃষ্টি হতে পারে এবং তিনি তাঁকে বন্দি করার সংকল্প করলেন। মুখতার যখন এটি জানতে পারলেন এবং নিজের জীবনের ওপর আশঙ্কা করলেন, তখন তিনি এক কৌশলে তাঁকে হত্যার পথ বেছে নিলেন। তিনি তাঁর কওমকে বললেন, "মুহাম্মদ বিন আল-হানাফিয়্যাহ হলেন মাহদী এবং আমি তাঁর কর্তৃত্বের অধীনে আছি; তবে মাহদীর একটি নিদর্শন হলো এই যে, তাঁকে তলোয়ার দিয়ে আঘাত করা হলেও তা তাঁর দেহে কোনো কাজ করবে না। আমি এই তলোয়ারটি মুহাম্মদ বিন আল-হানাফিয়্যাহর ওপর পরীক্ষা করব; যদি তা তাঁর ওপর কার্যকর হয়, তবে তিনি মাহদী নন।"

যখন এই সংবাদ মুহাম্মদ বিন আল-হানাফিয়্যাহর নিকট পৌঁছাল, তখন তিনি আমাদের বর্ণিত কৌশলের মাধ্যমে হত্যার শিকার হওয়ার ভয়ে যেখানে ছিলেন সেখানেই অবস্থান করলেন। এরপর সাবায়িয়্যাহরা মুখতারকে প্ররোচিত করল এবং তাঁকে বলল, "আপনিই এই জামানার হুজ্জত (প্রমাণ)" এবং তারা তাঁকে নবুওয়াতের দাবির দিকে ধাবিত করল। অতঃপর তিনি নবুওয়াত দাবি করলেন এবং ধারণা করলেন যে, তাঁর ছন্দবদ্ধ বাক্যগুলো হলো ওহী যা তাঁর নিকট অবতীর্ণ হয়। এরপর তাঁর শক্তি বৃদ্ধি পেল এবং তাঁর বিষয়গুলো সুদৃঢ় হলো, এমনকি তিনি মুসআব ইবনে যুবায়েরের এক সেনাদলকে আক্রমণ করে তাদের পরাজিত করলেন এবং তাদের মধ্য থেকে একদলকে বন্দি করলেন যাদের মধ্যে সুরাকা ইবনে মিরদাস আল-বারিকীও ছিলেন। তাঁকে যখন মুখতারের নিকট উপস্থিত করা হলো, তখন তিনি কৌশল অবলম্বন করে বললেন, "আপনার সৈন্যরা আমাদের পরাজিত করেনি এবং আপনার কওমও আমাদের বন্দি করেনি; বরং যে ফেরেশতারা আপনাকে ও আপনার বাহিনীকে সাহায্য করতে এসেছিলেন, তারাই আমাদের পরাজিত করেছেন। সুতরাং আমাদের ক্ষমা করুন, কেননা আমরা জানতাম না যে আপনি হকের ওপর আছেন, আর এখন তো আমরা তা জেনে গেছি।"
(খণ্ড: ১) আত-তাবসীর ফিদ দীন ওয়া তামীযুল ফিরকাতিন নাজিয়াহ আনিল ফিরাকিল হালিকীন (পৃষ্ঠা: ৩৪)
علناه فَعَلَيْك أقسم بِحَق أُولَئِكَ الْمَلَائِكَة الَّذين كَانُوا على أَفْرَاس بلق قَائِمين بنصرتك أَن تَعْفُو عَنَّا فَعَفَا عَنْهُم وَعَاد سراقَة إِلَى جند مُصعب بن الزبير بِالْبَصْرَةِ وَأَنْشَأَ هَذِه الأبيات وَبعث بهَا إِلَى الْمُخْتَار

(أَلا بلغ أَبَا إِسْحَاق أَنِّي … رَأَيْت البلق دهما مصمتات)

(أرِي عَيْني مَا لم ترأياه … كِلَانَا عَالم بالترهات)

(كفرت بوحيكم وَجعلت نذرا … عَليّ قتالكم حَتَّى الْمَمَات)

وَاعْلَم أَن السَّبَب الَّذِي جوزت الكيسانية البداء على الله تَعَالَى أَن مُصعب ابْن الزبير بعث إِلَيْهِ عسكرا قَوِيا فَبعث الْمُخْتَار إِلَى قِتَالهمْ أَحْمد بن شميط مَعَ ثَلَاثَة آلَاف من الْمُقَاتلَة وَقَالَ لَهُم أوحى إِلَيّ أَن الظفر يكون لكم فَهزمَ ابْن شميط فِيمَن كَانَ مَعَه فَعَاد إِلَيْهِ فَقَالَ أَيْن الظفر الَّذِي قد وعدتنا فَقَالَ لَهُ الْمُخْتَار هَكَذَا كَانَ قد وَعَدَني ثمَّ بدا فانه سبحانه وتعالى قد قَالَ يمحو الله مَا يَشَاء وَيثبت وَعِنْده أم الْكتاب ثمَّ خرج الْمُخْتَار إِلَى قتال مُصعب وَرجع مهزوما إِلَى الْكُوفَة فَقَتَلُوهُ بهَا

وَاعْلَم أَن الكيسانية اخْتلفُوا فِي حبس مُحَمَّد بن الْحَنَفِيَّة بجبل رضوى فَمنهمْ من قَالَ كَانَ ذَلِك عُقُوبَة لَهُ على خُرُوجه بعد قتل الْحُسَيْن بن عَليّ إِلَى يزِيد بن مُعَاوِيَة وَطلب الْأمان مِنْهُ وقبوله الْعَطاء من قبله وعَلى أَنه خرج من مَكَّة فِي أَيَّام ابْن الزبير وَقصد عبد الْملك بن مَرْوَان ثمَّ انْصَرف من الطَّرِيق وَعدل إِلَى الطَّائِف وَكَانَ بهَا عبد الله بن عَبَّاس فَتوفي عبد الله بن عَبَّاس وَصلى عَلَيْهِ بهَا مُحَمَّد بن الْحَنَفِيَّة وَدَفنه هُنَاكَ ثمَّ قصد الْيمن فَلَمَّا بلغ شعب رضوى توفّي هُنَاكَ وَدفن وَالَّذين يَقُولُونَ بانتظاره يُنكرُونَ مَوته ويزعمون أَنه غيب عَن النَّاس إِلَى أَن يُؤذن لَهُ فِي الْخُرُوج

وَقَالَ قوم من الكيسانية لَا نَدْرِي سَبَب حَبسه هُنَاكَ وَللَّه فِي حَبسه سر لَا يُعلمهُ إِلَّا هُوَ هَذَا تَفْصِيل قَول الكيسانية من الروافض
...আমরা তাকে প্রকাশ করেছি। সুতরাং আমি আপনার নিকট সেই ফেরেশতাদের দোহাই দিয়ে শপথ করছি যারা আপনার সাহায্যের জন্য শ্বেত-শুভ্র ঘোড়ায় সওয়ার ছিলেন যে, আপনি আমাদের ক্ষমা করে দিন। অতঃপর তিনি তাদের ক্ষমা করে দিলেন। সুরাকা বসরার মুসআব ইবনুল জুবায়েরের সেনাবাহিনীর কাছে ফিরে গেল এবং এই কবিতাগুলো রচনা করে আল-মুখতারের কাছে পাঠালো।

(জেনে রেখো, আবু ইসহাককে সংবাদ দাও যে আমি … শ্বেত-শুভ্র ঘোড়াগুলোকে ঘোর কালো ও নিরেট দেখেছি।)

(আমার চোখ দুটিকে এমন কিছু দেখানো হয়েছে যা তারা আগে কখনও দেখেনি … আমরা উভয়েই অলীক কল্পনা সম্পর্কে অবগত।)

(আমি তোমাদের তথাকথিত ওহীর সাথে কুফরি করলাম এবং মৃত্যু পর্যন্ত … তোমাদের বিরুদ্ধে লড়াই করার মানত করলাম।)

জেনে রাখুন, কায়সানিয়া সম্প্রদায় আল্লাহ তাআলার ক্ষেত্রে যে 'বাদা' (সিদ্ধান্ত পরিবর্তন) হওয়া জায়েজ মনে করেছে তার কারণ হলো, মুসআব ইবনুল জুবায়ের তার (মুখতারের) বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী বাহিনী প্রেরণ করেছিলেন। তখন মুখতার তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য আহমাদ বিন শুমাইতকে তিন হাজার যোদ্ধা সহ পাঠালেন এবং তাদের বললেন: "আমার কাছে ওহী এসেছে যে বিজয় তোমাদেরই হবে।" কিন্তু ইবনে শুমাইত তার সঙ্গীদের নিয়ে পরাজিত হলেন। তিনি মুখতারের কাছে ফিরে এসে বললেন, "আপনি আমাদের যে বিজয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা কোথায়?" তখন মুখতার তাকে বললেন, "তিনি (আল্লাহ) আমাকে এভাবেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে তাঁর সিদ্ধান্তের পরিবর্তন (বাদা) হয়েছে; কারণ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: 'আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন মুছে ফেলেন এবং যা ইচ্ছা স্থির রাখেন, আর তাঁর নিকটেই রয়েছে মূল কিতাব'।" এরপর মুখতার স্বয়ং মুসআবের বিরুদ্ধে যুদ্ধে বের হলেন এবং পরাজিত হয়ে কুফায় ফিরে এলেন, যেখানে তারা তাকে হত্যা করল।

জেনে রাখুন, কায়সানিয়া সম্প্রদায় মুহাম্মদ ইবনুল হানাফিয়াকে 'রাদওয়া' পাহাড়ে বন্দি করার বিষয়ে মতভেদ করেছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন যে, এটি ছিল হুসাইন ইবনে আলীর শাহাদাতের পর ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়ার কাছে গিয়ে তার কাছে নিরাপত্তা প্রার্থনা করা এবং তার পক্ষ থেকে উপঢৌকন গ্রহণের শাস্তি। আবার কেউ বলেছেন, ইবনুল জুবায়েরের শাসনামলে তিনি মক্কা থেকে বের হয়ে আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ানের কাছে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন, কিন্তু পথিমধ্যে ফিরে গিয়ে তায়েফে অবস্থান করেন। সেখানে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস অবস্থান করছিলেন। অতঃপর আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস সেখানে ইন্তেকাল করেন এবং মুহাম্মদ ইবনুল হানাফিয়া তাঁর জানাজা পড়ান ও তাঁকে সেখানে দাফন করেন। এরপর তিনি ইয়েমেনের দিকে যাত্রা করেন এবং যখন 'রাদওয়া' উপত্যকায় পৌঁছালেন, তখন সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয় এবং তাঁকে দাফন করা হয়। আর যারা তাঁর প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় আছে, তারা তাঁর মৃত্যুকে অস্বীকার করে এবং দাবি করে যে, তিনি মানুষের দৃষ্টি থেকে আড়ালে (গায়েব) আছেন যতক্ষণ না তাঁকে বের হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।

কায়সানিয়াদের একটি দল বলেছে: আমরা সেখানে তাঁর বন্দি থাকার কারণ জানি না; তাঁর এই বন্দি দশায় আল্লাহর এমন কোনো রহস্য রয়েছে যা তিনি ছাড়া আর কেউ জানে না। এটিই ছিল রাফেজিদের অন্তর্ভুক্ত কায়সানিয়া সম্প্রদায়ের মতামতের বিস্তারিত বিবরণ।
(খণ্ড: ১) আত-তাবসীর ফিদ দীন ওয়া তামীযুল ফিরকাতিন নাজিয়াহ আনিল ফিরাকিল হালিকীন (পৃষ্ঠা: ৩৫)
‌‌الإمامية

 

أما الإمامية مِنْهُم فهم خمس عشرَة فرقة

‌‌الكاملية

 

أحداهما الْكَامِلَة وهم أَتبَاع أبي كَامِل يَقُولُونَ أَن الصَّحَابَة كلهم كفرُوا بتركهم بيعَة على وَكفر على أَيْضا بِتَرْكِهِ قِتَالهمْ إِذْ كَانَ وَاجِبا عَلَيْهِ أَن يقاتلهم كَمَا قَاتل أهل صفّين والجمل وَكَانَ بشار بن برد الشَّاعِر مِنْهُم لما سُئِلَ عَن الصَّحَابَة فَقَالَ كفرُوا فَقيل لَهُ مَا تَقول فِي عَليّ فَأَنْشد قَول الشَّاعِر

(وَمَا شَرّ الثَّلَاثَة أم عَمْرو … بصاحبك الَّذِي لَا تصحبيا)

وبشار هَذَا زَاد على الكاملية بنوعين من الْبِدْعَة

أَحدهمَا أَنه كَانَ يَقُول بالرجعة قبل الْقِيَامَة كَمَا كَانَ يَقُولهَا الرَّجْعِيَّة من الروافض

وَالثَّانِي انه كَانَ يَقُول بتصويب إِبْلِيس فِي تَفْضِيل النَّار على الأَرْض وَلذَلِك قَالَ

(الأَرْض مظْلمَة وَالنَّار مشرقة … وَالنَّار معبودة مذ كَانَت النَّار)

ووفق الله سُبْحَانَهُ الْمهْدي بن مَنْصُور الْخَلِيفَة حَتَّى غرقه وَأَتْبَاعه فِي دجلة ذَلِك لَهُم خزي فِي الدُّنْيَا وَلَهُم فِي الْآخِرَة عَذَاب عَظِيم

‌‌المحمدية

 

وهم يَقُولُونَ بانتظار مُحَمَّد بن عبد الله بن الْحسن بن عَليّ بن أبي طَالب وَيَقُولُونَ أَنه لم يمت وَأَنه حَيّ فِي جبل حاجر من نَاحيَة نجد وانه يُقيم هُنَاكَ إِلَى ان يُؤذن لَهُ فِي الْخُرُوج فَيخرج ويملأ الأَرْض عدلا كَمَا ملئت جورا وَكَانَ الْمُغيرَة بن سعيد الْعجلِيّ على هَذَا الْمَذْهَب وَكَانَ يَدْعُو النَّاس إِلَيْهِ وَدخل فِي دَعوته جمَاعَة من أهل الْمَدِينَة وَأهل مَكَّة وَأهل الْيمن فَجمع مِنْهُم عسكرا وَغلب على نواحي الْبَصْرَة وَاسْتولى فريق من جنده على نواحي الْمغرب وَكَانَ ذَلِك مِنْهُم فِي زمن الْمَنْصُور فَبعث إِلَيْهِم عِيسَى بن مُوسَى بِجَيْش عَظِيم فاستشهد مُحَمَّد بن عبد الله ابْن الْحُسَيْن بِالْمَدِينَةِ وَاخْتلف أَصْحَاب الْمُغيرَة فِي حَاله فَمنهمْ من أقرّ بقتْله وَخَرجُوا على الْمُغيرَة وَقَالُوا إِن الْمُغيرَة صدق فِيمَا ذكر أَن مُحَمَّدًا لم يقتل وَإِنَّمَا غَابَ عَن أعين النَّاس فِي جبال حاجر إِلَى أَن يُؤذن لَهُ فِي الْخُرُوج فَيخرج وَيملك الأَرْض ويبايعه بَين الرُّكْن وَالْمقَام سَبْعَة عشر رجلا يجيئون لأَجله وَيُعْطِي كل وَاحِد مِنْهُم حرفا من حُرُوف اسْم الله الْأَعْظَم فهم يهزمون العساكر فِي ذَلِك وَهَؤُلَاء يَزْعمُونَ ان الَّذِي قَتله عِيسَى بن مُوسَى بِالْمَدِينَةِ كَانَ شَيْطَانا تصور فِي صُورَة مُحَمَّد وانه لم يقتل فِي الْحَقِيقَة وأصحابنا يَقُولُونَ لَهُم جوابكم ان ترتكبوا مثل هَذِه الخرافات فَهَلا انتظرتم الْحُسَيْن بن عَليّ وقلتم انه لم يقتل وهلا انتظرتم عَليّ بن أبي طَالب وقلتم أَن الَّذِي قَتله ابْن ملجم كَانَ شَيْطَانا تصور بِصُورَة عَليّ

‌‌الباقرية

 

وَهَؤُلَاء يَقُولُونَ أَن الْإِمَامَة كَانَت فِي أَوْلَاد عَليّ إِلَى أَن انْتهى الامر إِلَى مُحَمَّد بن
ইমামিয়্যাহ

 

তাদের মধ্য হতে ইমামিয়্যাহরা হলো পনেরটি উপদল।

‌‌কামিলিয়্যাহ

 

তাদের একটি হলো কামিলিয়্যাহ; তারা আবু কামিল-এর অনুসারী। তারা বলে যে, সকল সাহাবী আলীর আনুগত্যের বায়আত ত্যাগ করার কারণে কাফির হয়ে গেছেন, আর আলীও কাফির হয়ে গেছেন তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ত্যাগ করার কারণে; যেহেতু সিফফীন ও জামালের অধিবাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার মতো তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করাও তাঁর ওপর ওয়াজিব ছিল। কবি বাশশার ইবনে বুরদ তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। যখন তাকে সাহাবীদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো, তিনি বললেন: তারা কুফরি করেছে। তাকে বলা হলো: আলীর ব্যাপারে আপনি কী বলেন? তখন তিনি কবির পঙ্ক্তি আবৃত্তি করলেন:

(তিনজনের মধ্যে নিকৃষ্টজন উম্মে আমরের সেই সাথী নয় যার সঙ্গ আপনি ত্যাগ করেছেন … )

আর এই বাশশার কামিলিয়্যাহদের মতবাদের ওপর আরও দুই প্রকার বিদআত যোগ করেছিলেন।

তার একটি হলো, তিনি কিয়ামতের পূর্বে 'রাজআহ' বা প্রত্যাবর্তনে বিশ্বাস করতেন, যেমনটি রাফেজীদের মধ্য হতে রাজইয়্যাহরা বলে থাকে।

দ্বিতীয়টি হলো, মাটির ওপর আগুনের শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি ইবলিসকে সঠিক মনে করতেন। আর একারণেই তিনি বলেছিলেন:

(মাটি অন্ধকারাচ্ছন্ন আর আগুন দীপ্তিময় … আগুন যখন থেকে আছে তখন থেকেই তা উপাস্য।)

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা খলীফা মাহদী বিন মনসুরকে তাওফীক দান করেছিলেন, ফলে তিনি তাকে ও তার অনুসারীদের দজলা নদীতে ডুবিয়ে মারেন। এটি তাদের জন্য দুনিয়াতে লাঞ্ছনা এবং আখিরাতে তাদের জন্য রয়েছে মহাশাস্তি।

‌‌মুহাম্মাদিয়্যাহ

 

তারা মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে হাসান ইবনে আলী ইবনে আবি তালিবের প্রতীক্ষায় থাকার কথা বলে। তারা বলে যে, তিনি মৃত্যুবরণ করেননি এবং তিনি নজদ অঞ্চলের হাজের পাহাড়ে জীবিত আছেন। তিনি সেখানে অবস্থান করবেন যতক্ষণ না তাকে বের হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়; এরপর তিনি বের হবেন এবং পৃথিবীকে ইনসাফে ভরে দেবেন যেভাবে তা অন্যায়ে ভরে গিয়েছিল। মুগীরা ইবনে সাঈদ আল-ইজলী এই মতবাদের ওপর ছিলেন এবং তিনি মানুষকে এর দিকে আহ্বান জানাতেন। মদীনা, মক্কা ও ইয়ামানের একদল লোক তার আহ্বানে সাড়া দেয়। তিনি তাদের নিয়ে একটি সেনাবাহিনী গঠন করেন এবং বসরার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোতে বিজয়ী হন। তার বাহিনীর একটি দল মাগরিব অঞ্চলের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে। এটি ছিল মনসুরের শাসনামলে। এরপর ঈসা ইবনে মুসা তাদের বিরুদ্ধে এক বিশাল বাহিনী প্রেরণ করেন। ফলে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে হাসান মদীনায় শহীদ হন। তখন মুগীরার অনুসারীরা তার ব্যাপারে মতভেদ করল। তাদের কেউ কেউ তার নিহত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে নিল এবং মুগীরার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করল। আর একদল বলল যে, মুগীরা যা বলেছিলেন তা-ই সত্য; মুহাম্মাদ নিহত হননি, বরং তিনি মানুষের দৃষ্টি থেকে হাজের পাহাড়ে আত্মগোপন করেছেন যতক্ষণ না তাকে বের হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। এরপর তিনি বের হবেন এবং পৃথিবীর মালিক হবেন। রুকন ও মাকামের মধ্যস্থলে সতেরজন ব্যক্তি তার হাতে বায়আত গ্রহণ করবে যারা তার জন্যই আসবে। তিনি তাদের প্রত্যেককে আল্লাহর ইসমে আজমের একটি করে অক্ষর প্রদান করবেন, যার মাধ্যমে তারা সকল বাহিনীকে পরাজিত করবে। এরা দাবি করে যে, ঈসা ইবনে মুসা মদীনায় যাকে হত্যা করেছেন সে ছিল মূলত একটি শয়তান যে মুহাম্মাদের আকৃতি ধারণ করেছিল, আর বাস্তবে তিনি নিহত হননি। আমাদের সাথীরা তাদের উত্তরে বলেন: তোমাদের এই ধরণের রূপকথা মেনে নেওয়ার চেয়ে হুসাইন ইবনে আলীর প্রতীক্ষায় থাকা এবং তিনি নিহত হননি বলা তোমাদের জন্য কেন সহজ হলো না? আর আলী ইবনে আবি তালিবের ব্যাপারে কেন বললে না যে, ইবনে মুলজিম যাকে হত্যা করেছিল সে ছিল মূলত একটি শয়তান যে আলীর আকৃতি ধারণ করেছিল?

‌‌বাকিরিয়্যাহ

 

এরা বলে যে, ইমামত আলীর সন্তানদের মধ্যে ছিল যতক্ষণ না বিষয়টি মুহাম্মাদ ইবনে...
(খণ্ড: ১) আত-তাবসীর ফিদ দীন ওয়া তামীযুল ফিরকাতিন নাজিয়াহ আনিল ফিরাকিল হালিকীন (পৃষ্ঠা: ৩৬)
وَيَقُولُونَ أَنه لم يمت وَأَنه حَيّ فِي جبل حاجر من نَاحيَة نجد وانه يُقيم هُنَاكَ إِلَى ان يُؤذن لَهُ فِي الْخُرُوج فَيخرج ويملأ الأَرْض عدلا كَمَا ملئت جورا وَكَانَ الْمُغيرَة بن سعيد الْعجلِيّ على هَذَا الْمَذْهَب وَكَانَ يَدْعُو النَّاس إِلَيْهِ وَدخل فِي دَعوته جمَاعَة من أهل الْمَدِينَة وَأهل مَكَّة وَأهل الْيمن فَجمع مِنْهُم عسكرا وَغلب على نواحي الْبَصْرَة وَاسْتولى فريق من جنده على نواحي الْمغرب وَكَانَ ذَلِك مِنْهُم فِي زمن الْمَنْصُور فَبعث إِلَيْهِم عِيسَى بن مُوسَى بِجَيْش عَظِيم فاستشهد مُحَمَّد بن عبد الله ابْن الْحسن بِالْمَدِينَةِ وَاخْتلف أَصْحَاب الْمُغيرَة فِي حَاله فَمنهمْ من أقرّ بقتْله وَخَرجُوا على الْمُغيرَة وَقَالُوا انه كذب فِي قَوْله يملك الأَرْض فَإِنَّهُ قتل وَمَا ملك وَمِنْهُم من قَالَ إِن الْمُغيرَة صدق فِيمَا ذكر أَن مُحَمَّدًا لم يقتل وَإِنَّمَا غَابَ عَن أعين النَّاس فِي جبال حاجر إِلَى أَن يُؤذن لَهُ فِي الْخُرُوج فَيخرج وَيملك الأَرْض ويبايعه بَين الرُّكْن وَالْمقَام سَبْعَة عشر رجلا يجيئون لأَجله وَيُعْطِي كل وَاحِد مِنْهُم حرفا من حُرُوف اسْم الله الْأَعْظَم فهم يهزمون العساكر فِي بذلك وَهَؤُلَاء يَزْعمُونَ ان الَّذِي قَتله عِيسَى بن مُوسَى بِالْمَدِينَةِ كَانَ شَيْطَانا تصور فِي صُورَة مُحَمَّد وانه لم يقتل فِي الْحَقِيقَة وأصحابنا يَقُولُونَ لَهُم جوابكم ان ترتكبوا مثل هَذِه الخرافات فَهَلا انتظرتم الْحُسَيْن بن عَليّ وقلتم انه لم يقتل وهلا انتظرتم عَليّ بن أبي طَالب وقلتم أَن الَّذِي قَتله ابْن ملجم كَانَ شَيْطَانا تصور بِصُورَة عَليّ

‌‌الباقرية

 

وَهَؤُلَاء يَقُولُونَ أَن الْإِمَامَة كَانَت فِي أَوْلَاد عَليّ إِلَى أَن انْتهى الامر إِلَى مُحَمَّد بن
তারা বলে যে, তিনি মারা যাননি এবং তিনি নজদ অঞ্চলের হাজির পাহাড়ে জীবিত আছেন। তিনি সেখানে অবস্থান করবেন যতক্ষণ না তাকে বের হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। এরপর তিনি বের হবেন এবং পৃথিবীকে ন্যায়বিচারে পূর্ণ করে দেবেন, যেমন তা অন্যায়-অবিচারে পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল। মুগীরা ইবনে সাঈদ আল-ইজলী এই মতবাদের অনুসারী ছিলেন এবং তিনি মানুষকে এর দিকে আহ্বান জানাতেন। মদিনা, মক্কা ও ইয়ামেনবাসীদের একটি দল তার দাওয়াতে সাড়া দেয়। তিনি তাদের নিয়ে একটি বাহিনী গঠন করেন এবং বসরার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলো জয় করেন। তার সেনাবাহিনীর একটি দল মাগরিব (পশ্চিম) অঞ্চলের ওপর কর্তৃত্ব লাভ করে। এটি ছিল মানসুরের শাসনামলে। অতঃপর মানসুর তাদের বিরুদ্ধে ঈসা ইবনে মুসাকে এক বিশাল বাহিনীসহ প্রেরণ করেন। ফলে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনুল হাসান মদিনায় শহীদ হন। তখন মুগীরার অনুসারীরা তার অবস্থা নিয়ে মতভেদে লিপ্ত হয়। তাদের মধ্যে কেউ কেউ তার নিহত হওয়াকে স্বীকার করে নেয় এবং তারা মুগীরার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে এই বলে যে, সে তার এই দাবিতে মিথ্যা বলেছে যে তিনি (মুহাম্মদ) পৃথিবীর মালিক হবেন; কেননা তিনি তো নিহত হয়েছেন অথচ মালিক হতে পারেননি। আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলে যে, মুগীরা যা উল্লেখ করেছেন তাতে সত্য বলেছেন যে, মুহাম্মদ নিহত হননি, বরং তিনি হাজির পাহাড়ে মানুষের দৃষ্টি থেকে অদৃশ্য হয়ে গেছেন এবং বের হওয়ার অনুমতি না পাওয়া পর্যন্ত সেখানেই থাকবেন। এরপর তিনি বের হবেন এবং পৃথিবীর রাজত্ব লাভ করবেন। রুকন ও মাকামের মধ্যবর্তী স্থানে সতেরোজন লোক তার হাতে বায়আত গ্রহণ করবে যারা কেবল তার জন্যই আসবে। তিনি তাদের প্রত্যেককে আল্লাহর ইসমে আজমের একটি করে বর্ণ (হরফ) দান করবেন, যার মাধ্যমে তারা বিশাল বাহিনীকে পরাজিত করবে। এরা দাবি করে যে, মদিনায় ঈসা ইবনে মুসা যাকে হত্যা করেছে সে ছিল এক শয়তান, যে মুহাম্মদের রূপ ধারণ করেছিল এবং তিনি বাস্তবে নিহত হননি। আমাদের সাথীরা (আলেমগণ) তাদের উত্তরে বলেন: তোমাদের এই উত্তর তো কেবল এমন সব অলীক কল্পনা ও রূপকথাকে প্রশ্রয় দেওয়া। তবে কেন তোমরা হুসাইন ইবনে আলীর অপেক্ষা করলে না এবং কেন বললে না যে তিনি নিহত হননি? কেন তোমরা আলী ইবনে আবি তালিবের অপেক্ষা করলে না এবং কেন বললে না যে, ইবনে মুলজাম যাকে হত্যা করেছে সে ছিল এক শয়তান যে আলীর রূপ ধারণ করেছিল?

‌‌বাকিরিয়্যাহ

 

এরা বলে যে, ইমামত আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সন্তানদের মধ্যে ছিল, যতক্ষণ না তা মুহাম্মদ ইবন পর্যন্ত গড়ায়।
(খণ্ড: ১) আত-তাবসীর ফিদ দীন ওয়া তামীযুল ফিরকাতিন নাজিয়াহ আনিল ফিরাকিল হালিকীন (পৃষ্ঠা: ৩৭)
عَليّ بن الْحُسَيْن الباقر وهم ينتظرونه وَلَا يصدقون بِمَوْتِهِ وَيَقُولُونَ إِن سَبَب إِمَامَته أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم أخبر جَابر بن عبد الله الْأنْصَارِيّ أَن سيطول عمره وَيدْرك أَيَّامه وَقَالَ لَهُ اقْرَأ مني عليه السلام وَكَانَ جَابر آخر من مَاتَ بِالْمَدِينَةِ من الصَّحَابَة وَكَانَ قد كف بَصَره فِي آخر عمره فَجَاءَت جَارِيَة وَوضعت فِي حجره صَبيا وَقَالَت هَذَا عَليّ ابْن الْحُسَيْن بن عَليّ فَادى جَابر الْأَمَانَة وبلغه سَلام جده وَتُوفِّي جَابر فِي ليلته فَرد هَؤُلَاءِ أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أخبر عمر وعليا بِأَنَّهُمَا يدركان رجلا اسْمه أويس الْقَرنِي وَأَمرهمَا أَن يبلغاه سَلام رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَذَلِكَ لَا يُوجب أَن يكون هُوَ الْمهْدي المنتظر فَإِنَّهُ اسْتشْهد فِي حَرْب صفّين كَذَلِك التَّسْلِيم على مُحَمَّد بن عَليّ لَا يُوجب كَونه مهديا منتظرا

‌‌الناووسية

 

وهم أَتبَاع رجل من أهل الْبَصْرَة كَانَ ينْسب إِلَى ناووس كَانَ هُنَاكَ وهم يسوقون الْإِمَامَة فِي أَوْلَاد عَليّ إِلَى جَعْفَر بن مُحَمَّد الصَّادِق ويزعمون أَنه لم يمت وَأَنه الْمهْدي المنتظر وَجَمَاعَة من السبأية يوافقونهم فِي هَذَا القَوْل ويزعمون أَنه كَانَ يعلم كلما يحْتَاج إِلَى عمله من دين أَو دنيا عَقْلِي وشرعي ويقلدونه فِي جملَة أَبْوَاب الدّين حَتَّى لَو سُئِلَ وَاحِد مِنْهُم عَن جَوَاز الرُّؤْيَة على الله تَعَالَى وَعَن نفي خلق الْقُرْآن أَو عَن إِثْبَات الصِّفَات أَو غير ذَلِك لَكَانَ جَوَابه أَن يَقُول إِنَّا نقُول فِيهِ بقول جَعْفَر وَلَا نَدْرِي مَا قَول جَعْفَر فِيهِ غير أَنهم يتفقون فِي تَكْفِير أبي بكر وَعمر وَلَو طردوا أصلهم فِي تَقْلِيده لاجابوا بِهِ أَيْضا عَلَيْهِ
আলী বিন আল-হুসাইন আল-বাকির; তারা তাঁর জন্য অপেক্ষা করে এবং তাঁর মৃত্যুতে বিশ্বাস করে না। তারা বলে যে, তাঁর ইমামতের কারণ হলো—নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জাবির বিন আব্দুল্লাহ আল-আনসারীকে সংবাদ দিয়েছিলেন যে তাঁর হায়াত দীর্ঘ হবে এবং তিনি তাঁর (বাকিরের) সময়ের নাগাল পাবেন, আর তিনি তাঁকে বলেছিলেন: “আমার পক্ষ থেকে তাঁকে সালাম জানাবে।” জাবির ছিলেন মদিনার সর্বশেষ মৃত্যুবরণকারী সাহাবী এবং শেষ জীবনে তিনি দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছিলেন। জনৈক দাসী এসে তাঁর কোলে একটি শিশুকে রেখে বলল, “ইনি হলেন আলী বিন আল-হুসাইন বিন আলী।” তখন জাবির সেই আমানত আদায় করলেন এবং তাঁর দাদার (নবীজির) সালাম তাঁকে পৌঁছে দিলেন। জাবির সেই রাতেই ইন্তেকাল করেন। এর প্রতিবাদে এরা বলে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উমর ও আলীকে সংবাদ দিয়েছিলেন যে তাঁরা উওয়াইস আল-কারনী নামক এক ব্যক্তির দেখা পাবেন এবং তাঁদেরকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন তাঁরা তাঁকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সালাম পৌঁছে দেন। আর এটি তাঁকে ‘প্রতীক্ষিত মাহদী’ হওয়া আবশ্যক করে না; কারণ তিনি সিফফীনের যুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন। একইভাবে, মুহাম্মদ বিন আলীর প্রতি সালাম পৌঁছানো তাঁর ‘প্রতীক্ষিত মাহদী’ হওয়াকে অপরিহার্য করে না।

‌‌নাওউসিয়্যাহ

 

তারা বসরার জনৈক ব্যক্তির অনুসারী যাকে সেখানকার নাওউস নামক স্থানের দিকে সম্বন্ধ করা হতো। তারা আলীর বংশধরদের মধ্যে জাফর বিন মুহাম্মদ আস-সাদিক পর্যন্ত ইমামতকে পরিচালিত করে এবং দাবি করে যে তিনি মৃত্যুবরণ করেননি বরং তিনিই প্রতীক্ষিত মাহদী। সাবায়িয়াদের একটি দল এই মতবাদে তাদের সাথে একমত এবং তারা দাবি করে যে, দীন বা দুনিয়া সংক্রান্ত যৌক্তিক ও শরয়ি যা কিছু পালন করা প্রয়োজন, তার সবকিছুই তিনি জানতেন। দীনের সকল বিষয়ে তারা তাঁর অন্ধ অনুসরণ (তাকলীদ) করে; এমনকি তাদের কাউকে যদি মহান আল্লাহর দর্শন লাভ জায়েজ হওয়া সম্পর্কে, কুরআনের সৃষ্টি হওয়া অস্বীকার করা সম্পর্কে, সিফাতসমূহ সাব্যস্ত করা সম্পর্কে কিংবা এ জাতীয় অন্য কিছু সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়, তবে তার উত্তর হয় এই যে, “জাফর এ বিষয়ে যা বলেন আমরাও তা-ই বলি”, অথচ তারা জানে না এ বিষয়ে জাফরের বক্তব্য কী। তবে তারা আবু বকর ও উমরের তাকফীরের (কাফির বলা) বিষয়ে একমত। তারা যদি জাফরকে অনুসরণের ক্ষেত্রে তাদের মূলনীতিটি সব ক্ষেত্রে বজায় রাখত, তবে এই বিষয়েও তাঁর কথা অনুযায়ীই উত্তর দিত।
(খণ্ড: ১) আত-তাবসীর ফিদ দীন ওয়া তামীযুল ফিরকাতিন নাজিয়াহ আনিল ফিরাকিল হালিকীন (পৃষ্ঠা: ৩৮)
‌‌الشميطية

 

فالشميطية مِنْهُم هم أَتبَاع يحيى بن شميط وَهَؤُلَاء يَقُولُونَ إِن الْإِمَامَة صَارَت من جَعْفَر إِلَى ابْنه مُحَمَّد بن جَعْفَر وَأَنَّهَا تَدور فِي أَوْلَاده وَأَن المنتظر وَاحِد من أَوْلَاده

‌‌العمارية

 

العمارية مِنْهُم وَهَؤُلَاء يَقُولُونَ إِن الْإِمَامَة صَارَت من جَعْفَر إِلَى أكبر أَوْلَاده عبد الله الَّذِي كَانَ يدعى أفطح وَهَؤُلَاء يدعونَ الأفطحية بِسَبَبِهِ

‌‌الإسماعيلية

 

وهم يَزْعمُونَ أَن الْإِمَامَة صَارَت من جَعْفَر إِلَى ابْنه إِسْمَاعِيل وكذبهم فِي هَذِه الْمقَالة جَمِيع أهل التواريخ لما صَحَّ عِنْدهم من موت إِسْمَاعِيل قبل أَبِيه جَعْفَر وَقوم من هَذِه الطَّائِفَة يَقُولُونَ بإمامة مُحَمَّد بن إِسْمَاعِيل وَهَذَا مَذْهَب الإسماعيلية من الباطنية

‌‌الموسوية

 

الثَّامِنَة الموسوية مِنْهُم وَهَؤُلَاء يَزْعمُونَ إِن الْإِمَامَة صَارَت بعد جَعْفَر إِلَى ابْنه مُوسَى بن جَعْفَر وَأَنه حَيّ لم يمت وَأَنه المنتظر وَيَقُولُونَ أَنه دخل دَار الرشيد وَلم يخرج وَنحن نشك فِي مَوته وَهَذَا القَوْل مِنْهُم يُوجب عَلَيْهِم أَن يشكوا فِي إِمَامَته كَمَا شكوا فِي حَيَاته على أَن هَذَا القَوْل هوس مِنْهُم لِأَن مشْهد مُوسَى بن جَعْفَر مَشْهُور بِبَغْدَاد فِي الْجَانِب الغربي يزار ويتبرك بِهِ ولهؤلاء الموسوية لقب آخر وَهُوَ أَنهم يدعونَ الممطورة لِأَن زُرَارَة بن أعين قَالَ لَهُم يَوْمًا أَنْتُم أَهْون فِي عَيْني من الْكلاب الممطورة أَرَادَ الْكلاب الَّتِي ابتلت بالمطر وَالنَّاس يطردونهم ويتحرزون مِنْهُم

‌‌المباركية

 

وهم أَيْضا يَقُولُونَ بإمامة مُحَمَّد بن إِسْمَاعِيل كَمَا نذكرهُ بعد

‌‌القطعية

 

القطعية مِنْهُم سموا بذلك لأَنهم ساقوا الْإِمَامَة بعد جَعْفَر إِلَى ابْنه مُوسَى ثمَّ قطعُوا بِمَوْت مُوسَى وَقَالُوا إِن الْمهْدي المنتظر مُحَمَّد بن الْحسن بن عَليّ بن مُحَمَّد بن عَليّ الرِّضَا بن مُوسَى الكاظم وَهَؤُلَاء يدعونَ الأثنى عشرِيَّة لأَنهم ادعوا إِن الإِمَام المنتظر هُوَ الثَّانِي عشر من أَوْلَاد عَليّ بن أبي طَالب ثمَّ اخْتلف هَؤُلَاءِ فِي سنة وَفَاة أَبِيه فَمنهمْ من قَالَ إِنَّه كَانَ ابْن أَربع سِنِين وَمِنْهُم من قَالَ ابْن ثَمَان سِنِين ثمَّ قَالَ قوم مِنْهُم إِنَّه كَانَ إِمَامًا وَادي الطَّاعَة فِي ذَلِك الْوَقْت وَكَانَ عَالما بِجَمِيعِ معالم الدّين وَقَالَ قوم إِنَّه كَانَ إِمَامًا على معنى أَنه سيصير إِمَامًا إِذا بلغ وَأَنه غَابَ عَن أعين النَّاس إِلَى أَن يُؤذن لَهُ فِي الْخُرُوج

‌‌الهشامية

 

الهشامية مِنْهُم وهم فريقان أَصْحَاب ابْن الحكم الرافضي وَأَصْحَاب هِشَام بن سَالم الجواليقي وَالْفَرِيقَانِ جَمِيعًا يدينون بالتشبيه والتجسيم وَإِثْبَات الْحَد وَالنِّهَايَة
শুহাইতিয়াহ

 

তাদের মধ্যে শুহাইতিয়াহ হলো ইয়াহইয়া ইবনে শুহাইতের অনুসারী। তারা বলে যে, ইমামত জাফর থেকে তার পুত্র মুহাম্মদ ইবনে জাফরের কাছে হস্তান্তরিত হয়েছে এবং এটি তার সন্তানদের মধ্যেই আবর্তিত হতে থাকবে, আর প্রতীক্ষিত ইমাম হলেন তার সন্তানদেরই একজন।

‌‌আম্মারিয়াহ

 

আম্মারিয়াহও তাদেরই অন্তর্ভুক্ত। তারা বলে যে, ইমামত জাফর থেকে তার জ্যেষ্ঠ পুত্র আবদুল্লাহর নিকট চলে গেছে, যাকে 'আফতাহ' বলা হতো। এ কারণে তাদেরকে 'আফতাহিয়াহ' বলা হয়।

‌‌ইসমাইলিয়াহ

 

তারা দাবি করে যে, ইমামত জাফর থেকে তার পুত্র ইসমাইলের নিকট হস্তান্তরিত হয়েছে। সকল ইতিহাসবিদ তাদের এই দাবিকে মিথ্যা সাব্যস্ত করেছেন, কারণ জাফর (আ.)-এর জীবদ্দশাতেই ইসমাইলের মৃত্যুর বিষয়টি তাদের নিকট ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত। এই দলের একটি গোষ্ঠী মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইলের ইমামতের কথা বলে এবং এটিই বাতেনি ইসমাইলিদের মাযহাব।

‌‌মুসাওইয়াহ

 

অষ্টম দলটি হলো মুসাওইয়াহ। তারা দাবি করে যে, জাফরের পর ইমামত তার পুত্র মুসা ইবনে জাফরের নিকট চলে গেছে। তিনি জীবিত, মারা যাননি এবং তিনিই প্রতীক্ষিত ইমাম। তারা বলে যে, তিনি রশিদের প্রাসাদে প্রবেশ করেছিলেন এবং আর বের হননি, তাই আমরা তার মৃত্যুর ব্যাপারে সন্দিহান। তাদের এই বক্তব্য ইমামতের ব্যাপারেও তাদের মনে সংশয় সৃষ্টি করাকে আবশ্যক করে দেয়, যেমনটি তারা তার জীবনের ব্যাপারে সংশয় প্রকাশ করেছে। অথচ তাদের এই কথাটি একটি অলীক কল্পনা মাত্র, কারণ বাগদাদের পশ্চিম অংশে মুসা ইবনে জাফরের মাজার অত্যন্ত প্রসিদ্ধ, যেখানে মানুষ জিয়ারত করতে যায় এবং বরকত লাভ করে। এই মুসাওইয়াহদের আরেকটি উপাধি রয়েছে, আর তা হলো 'মামতুরাহ' (বৃষ্টিভেজা)। কারণ জুরারাহ ইবনে আ'ইয়ান একদিন তাদেরকে বলেছিলেন, "আমার চোখে তোমরা বৃষ্টিভেজা কুকুরের চেয়েও তুচ্ছ।" তিনি সেই সব কুকুরদের বুঝিয়েছেন যারা বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়ার কারণে মানুষ তাদের তাড়িয়ে দেয় এবং তাদের থেকে দূরে থাকে।

‌‌মুবারকিয়াহ

 

তারাও মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইলের ইমামতের কথা বলে, যেমনটি আমরা পরবর্তীতে উল্লেখ করব।

‌‌ক্বাতয়্যাহ

 

তাদের মধ্যে ক্বাতয়্যাহ নামে একটি দল আছে; তাদেরকে এ নামে ডাকা হয় কারণ তারা জাফরের পর ইমামতকে তার পুত্র মুসা পর্যন্ত নিয়ে গেছেন এবং এরপর মুসার মৃত্যুর ব্যাপারে তারা নিশ্চিত হয়েছেন (ক্বাত' করেছেন)। তারা বলে যে, প্রতীক্ষিত মাহদি হলেন মুহাম্মদ ইবনুল হাসান ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী আর-রিদা ইবনে মুসা আল-কাজিম। এদেরকে ইসনা আশারিয়াহ (দ্বাদশী) বলা হয়, কারণ তারা দাবি করে যে প্রতীক্ষিত ইমাম হলেন আলী ইবনে আবু তালিবের বংশধরদের মধ্যে দ্বাদশতম ইমাম। অতঃপর তার পিতার মৃত্যুর সময় তার বয়স নিয়ে তারা মতভেদ করেছে। তাদের কেউ কেউ বলেছেন যে তখন তার বয়স ছিল চার বছর, আবার কেউ বলেছেন আট বছর। তাদের একদল বলে যে তিনি ওই সময়েই ইমাম ছিলেন এবং আনুগত্য পাওয়ার যোগ্য ছিলেন এবং দ্বীনের সমস্ত বিষয় সম্পর্কে সম্যক অবগত ছিলেন। অন্য একদল বলে যে তিনি ইমাম ছিলেন এই অর্থে যে প্রাপ্তবয়স্ক হলে তিনি ইমাম হবেন, এবং তিনি মানুষের দৃষ্টির আড়ালে চলে গেছেন যতক্ষণ না তাকে আত্মপ্রকাশের অনুমতি দেওয়া হবে।

‌‌হাশেমিয়াহ

 

হাশেমিয়াহ হলো তাদেরই দুটি দল। একটি রাফেজি ইবনুল হাকামের অনুসারী এবং অন্যটি হিশাম ইবনে সালিম আল-জাওয়ালিকীর অনুসারী। উভয় দলই আল্লাহর সাদৃশ্যদান (তাশবিহ), দেহধারণ (তাজসিম) এবং আল্লাহর জন্য সীমা ও প্রান্ত সাব্যস্ত করার আকিদায় বিশ্বাসী।
(খণ্ড: ১) আত-তাবসীর ফিদ দীন ওয়া তামীযুল ফিরকাতিন নাজিয়াহ আনিল ফিরাকিল হালিকীন (পৃষ্ঠা: ৩৯)
يخرج وَنحن نشك فِي مَوته وَهَذَا القَوْل مِنْهُم يُوجب عَلَيْهِم أَن يشكوا فِي إِمَامَته كَمَا شكوا فِي حَيَاته على أَن هَذَا القَوْل هوس مِنْهُم لِأَن مشْهد مُوسَى بن جَعْفَر مَشْهُور بِبَغْدَاد فِي الْجَانِب الغربي يزار ويتبرك بِهِ ولهؤلاء الموسوية لقب آخر وَهُوَ أَنهم يدعونَ الممطورة لِأَن زُرَارَة بن أعين قَالَ لَهُم يَوْمًا أَنْتُم أَهْون فِي عَيْني من الْكلاب الممطورة أَرَادَ الْكلاب الَّتِي ابتلت بالمطر وَالنَّاس يطردونهم ويتحرزون مِنْهُم

‌‌المباركية

 

وهم أَيْضا يَقُولُونَ بإمامة مُحَمَّد بن إِسْمَاعِيل كَمَا نذكرهُ بعد

‌‌القطعية

 

القطعية مِنْهُم سموا بذلك لأَنهم ساقوا الْإِمَامَة بعد جَعْفَر إِلَى ابْنه مُوسَى ثمَّ قطعُوا بِمَوْت مُوسَى وَقَالُوا إِن الْمهْدي المنتظر مُحَمَّد بن الْحسن بن عَليّ بن مُحَمَّد بن عَليّ الرِّضَا بن مُوسَى الكاظم وَهَؤُلَاء يدعونَ الأثنى عشرِيَّة لأَنهم ادعوا إِن الإِمَام المنتظر هُوَ الثَّانِي عشر من أَوْلَاد عَليّ بن أبي طَالب ثمَّ اخْتلف هَؤُلَاءِ فِي سنة وَفَاة أَبِيه فَمنهمْ من قَالَ إِنَّه كَانَ ابْن أَربع سِنِين وَمِنْهُم من قَالَ ابْن ثَمَان سِنِين ثمَّ قَالَ قوم مِنْهُم إِنَّه كَانَ إِمَامًا وَادي الطَّاعَة فِي ذَلِك الْوَقْت وَكَانَ عَالما بِجَمِيعِ معالم الدّين وَقَالَ قوم إِنَّه كَانَ إِمَامًا على معنى أَنه سيصير إِمَامًا إِذا بلغ وَأَنه غَابَ عَن أعين النَّاس إِلَى أَن يُؤذن لَهُ فِي الْخُرُوج

‌‌الهشامية

 

الهشامية مِنْهُم وهم فريقان أَصْحَاب ابْن الحكم الرافضي وَأَصْحَاب هِشَام بن سَالم الجواليقي وَالْفَرِيقَانِ جَمِيعًا يدينون بالتشبيه والتجسيم وَإِثْبَات الْحَد وَالنِّهَايَة
তিনি আবির্ভূত হবেন অথচ আমরা তাঁর মৃত্যু নিয়ে সংশয়ে থাকব—তাদের এই উক্তিটি তাদের জন্য তাদের জীবনের ন্যায় ইমামতের বিষয়েও সংশয় পোষণ করাকে আবশ্যক করে তোলে। উপরন্তু, তাদের এই দাবিটি একটি প্রলাপ মাত্র; কারণ বাগদাদের পশ্চিম পার্শ্বে মূসা ইবনে জাফরের মাজার সুপ্রসিদ্ধ, যেখানে যিয়ারত করা হয় এবং বরকত হাসিল করা হয়। এই মুসাউইয়াহদের আরেকটি উপাধি রয়েছে, আর তা হলো তাদেরকে 'মামতুরাহ' বলা হয়। কেননা যুরারাহ ইবনে আ'ইয়ান একদিন তাদের বলেছিলেন: "আমার দৃষ্টিতে তোমরা বৃষ্টিতে ভেজা কুকুরের চেয়েও অধম।" তিনি এর দ্বারা সেই সব কুকুরদের বুঝিয়েছেন যারা বৃষ্টিতে ভিজে গেছে এবং মানুষ তাদের তাড়িয়ে দেয় ও তাদের থেকে দূরে থাকে।

‌‌মুবারাকিয়্যাহ

 

তারাও মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইলের ইমামতের প্রবক্তা, যেমনটি আমরা পরবর্তীতে উল্লেখ করব।

‌‌কাতইয়্যাহ

 

তাদের মধ্যে কাতইয়্যাহদের এই নামে নামকরণ করা হয়েছে কারণ তারা জাফরের পর ইমামতকে তাঁর পুত্র মূসার দিকে পরিচালিত করেছে, অতঃপর তারা মূসার মৃত্যুর ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছে। তারা বলেছে যে, প্রতীক্ষিত মাহদী হলেন মুহাম্মদ ইবনুল হাসান ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী আর-রিদা ইবনে মূসা আল-কাযিম। এদেরকে ইসনা আশারিয়্যাহ বলা হয় কারণ তারা দাবি করে যে, প্রতীক্ষিত ইমাম হলেন আলী ইবনে আবি তালিবের বংশধরদের মধ্য থেকে দ্বাদশ ব্যক্তি। অতঃপর তারা তাঁর পিতার ইন্তেকালের সময় (সন্তানের) বয়স নিয়ে মতভেদ করেছে; তাদের কেউ বলেছে তখন তাঁর বয়স ছিল চার বছর, আবার কেউ বলেছে আট বছর। অতঃপর তাদের একদল বলেছে যে, তিনি সেই সময়েই ইমাম ছিলেন এবং তাঁর আনুগত্য করা আবশ্যক ছিল, আর তিনি দ্বীনের সকল বিষয় সম্পর্কে অবগত ছিলেন। অন্য একদল বলেছে যে, তিনি এই অর্থে ইমাম ছিলেন যে তিনি প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর ইমাম হবেন, এবং তিনি মানুষের দৃষ্টি থেকে আত্মগোপন করেছেন যতক্ষণ না তাঁকে আত্মপ্রকাশের অনুমতি প্রদান করা হয়।

‌‌হিশামিয়্যাহ

 

তাদের মধ্যে হিশামিয়্যাহরা দুই দল: রাফেযী ইবনুল হাকামের অনুসারী এবং হিশাম ইবনে সালিম আল-জাওয়ালিকীর অনুসারী। উভয় দলই তাশবীহ (সাদৃশ্য প্রদান), তাজসিম (দেহ সাব্যস্তকরণ) এবং আল্লাহর জন্য সীমা ও প্রান্ত সাব্যস্ত করার মতবাদে বিশ্বাসী।
(খণ্ড: ১) আত-তাবসীর ফিদ দীন ওয়া তামীযুল ফিরকাতিন নাজিয়াহ আনিল ফিরাকিল হালিকীন (পৃষ্ঠা: ৪০)
حَتَّى قَالَ هِشَام بن الحكم أَنه نور يتلألأ كقطعة من السبيكة الصافية أَو كلؤلؤة بَيْضَاء والجواليقي يَقُول بالصورة وَإِثْبَات اللَّحْم وَالدَّم وَالْيَد وَالرجل وَالْأنف وَالْأُذن وَالْعين وَإِثْبَات الْقلب وَالْعقل بِأول وهلة يعلم أَن من كَانَت هَذِه مقَالَته لم يكن لَهُ فِي الْإِسْلَام حَظّ

‌‌الثَّانِيَة عشرَة أحد هذَيْن الْفَرِيقَيْنِ من الهشامية

 

‌‌الزرارية

 

الزرارية مِنْهُم وهم أَتبَاع زُرَارَة بن أعين وَقد كَانَ على مَذْهَب القطعية الَّذين كَانُوا يَقُولُونَ بإمامة عبد الله بن جَعْفَر ثمَّ انْتقل عَنهُ فَكَانَ يَقُول بِمذهب الموسوية وَكَانَ يَقُول إِن الله تَعَالَى لم يكن عَالما وَلَا قَادِرًا ثمَّ خلق لنَفسِهِ علما وحياة وقدرة وارادة وسمعا وبصرا وَجرى على قِيَاس قَوْلهم قوم من بصرية الْقَدَرِيَّة فَقَالُوا كَلَام الله مَخْلُوق لَهُ وإرادته مخلوقة لَهُ وَزَاد عَلَيْهِ الكرامية فَقَالُوا إِن أَرَادَتْهُ وإدراكاته حَادِثَة

‌‌اليونسية

 

اليونسية وهم أَتبَاع يُونُس بن عبد الرَّحْمَن القمي وَكَانَ فِي الْإِمَامَة على مَذْهَب القطعية وَكَانَ مفرطا فِي التَّشْبِيه حَتَّى كَانَ يَقُول إِن حَملَة الْعَرْش يحملون إِلَه الْعَرْش وَهُوَ أقوى مِنْهُم كَمَا أَن الكركي تحمله أرجله وَهُوَ أقوى من أرجله والعاقل لَا يستجزىء أَن يَقُول مثل هَذَا الْكَلَام

‌‌الشيطانية

 

الشيطانية مِنْهُم وهم أَتبَاع مُحَمَّد بن عَليّ بن النُّعْمَان الرافضي الَّذِي كَانَ يلقب
এমনকি হিশাম ইবনে আল-হাকাম বলতেন যে, তিনি একটি উজ্জ্বল নূর, যা একটি স্বচ্ছ গলানো ধাতুর টুকরার মতো অথবা একটি সাদা মুক্তার মতো। আল-জাওয়ালিকি আকৃতির কথা এবং মাংস, রক্ত, আল্লাহর হাত, আল্লাহর পা, নাক, কান, চোখ, অন্তর ও বুদ্ধি সাব্যস্ত করার কথা বলেন। প্রথম দৃষ্টিতেই বোঝা যায় যে, যার বক্তব্য এমন হবে, ইসলামে তার কোনো অংশ নেই।

‌‌দ্বাদশ: হিশামিয়াদের এই দুই দলের একটি

 

‌‌জুরারিয়া

 

তাদের মধ্যে জুরারিয়া হলো জুরারা ইবনে আয়ান-এর অনুসারী। তিনি কাতয়িয়া মাযহাবের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা আব্দুল্লাহ ইবনে জাফরের ইমামতের কথা বলত। এরপর তিনি তা থেকে সরে এসে মুসায়িয়া মাযহাবের অনুসারী হন। তিনি বলতেন যে, আল্লাহ তাআলা জ্ঞানী বা কাদির (ক্ষমতাবান) ছিলেন না, এরপর তিনি নিজের জন্য ইলম (জ্ঞান), হায়াত (জীবন), কুদরত (ক্ষমতা), ইরাদা (ইচ্ছা), শ্রবণ ও দৃষ্টি সৃষ্টি করেছেন। তাদের এই বক্তব্যের অনুকরণে বসরার একদল কাদরিয়া মতাবলম্বীরা বলেছে যে, আল্লাহর কালাম তাঁর সৃষ্ট এবং তাঁর ইচ্ছাও তাঁর সৃষ্ট। কাররামিয়ারা এতে আরও বৃদ্ধি করে বলেছে যে, তাঁর ইচ্ছা ও উপলব্ধিগুলো নতুনভাবে সৃষ্ট।

‌‌ইউনুসিয়া

 

ইউনুসিয়া হলো ইউনুস ইবনে আব্দুর রহমান আল-কুম্মির অনুসারী। ইমামতের ক্ষেত্রে তিনি কাতয়িয়া মাযহাবের অনুসারী ছিলেন। তিনি তাশবিহ বা সাদৃশ্য প্রদানের ক্ষেত্রে এতই বাড়াবাড়ি করতেন যে, এমনকি তিনি বলতেন, আরশ বহনকারীরা আরশের ইলাহকে বহন করে, অথচ তিনি তাদের চেয়েও বেশি শক্তিশালী; যেমন সারস পাখিকে তার পা বহন করে, অথচ সে তার পায়ের চেয়েও বেশি শক্তিশালী। কোনো বিবেকবান ব্যক্তি এই ধরনের কথা বলার অনুমতি দিতে পারেন না।

‌‌শায়তানিয়া

 

তাদের মধ্যে শায়তানিয়া হলো মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনে আন-নুমান রাফেজির অনুসারী, যাকে উপাধি দেওয়া হয়েছিল
(খণ্ড: ১) আত-তাবসীর ফিদ দীন ওয়া তামীযুল ফিরকাতিন নাজিয়াহ আনিল ফিরাকিল হালিকীন (পৃষ্ঠা: ৪১)
بِشَيْطَان الطاق وَكَانَ فِي الْإِمَامَة على مَذْهَب القطعية وَكَانَ يَقُول إِن الله تَعَالَى لَا يعلم الشَّرّ قبل أَن يكون كَمَا كَانَ يَقُوله هِشَام بن الحكم وَقد كَانَ يُوَافق هشاما الجواليقي فِي كثير من بدعه

وَاعْلَم أَن الزيدية والإمامية مِنْهُم من يكفر بَعضهم بَعْضًا والعداوة بَينهم قَائِمَة دائمة والكيسانية يعدون فِي الإمامية وَاعْلَم أَن جَمِيع من ذَكَرْنَاهُمْ من فرق الإمامية متفقون على تَكْفِير الصَّحَابَة وَيدعونَ أَن الْقُرْآن قد غير عَمَّا كَانَ وَوَقع فِيهِ الزِّيَادَة وَالنُّقْصَان من قبل الصَّحَابَة ويزعمون أَنه قد كَانَ فِيهِ النَّص على إِمَامَة عَليّ فاسقطه الصَّحَابَة عَنهُ ويزعمون أَنه لَا اعْتِمَاد على الْقُرْآن الْآن وَلَا على شَيْء من الْأَخْبَار المروية عَن الْمُصْطَفى صلى الله عليه وسلم ويزعمون أَنه لَا اعْتِمَاد على الشَّرِيعَة الَّتِي فِي ايدي الْمُسلمين وينتظرون إِمَامًا يسمونه الْمهْدي يخرج وَيُعلمهُم الشَّرِيعَة وَلَيْسوا فِي الْحَال على شَيْء من الدّين وَلَيْسَ مقصودهم من هَذَا الْكَلَام تَحْقِيق الْكَلَام فِي الْإِمَامَة وَلَكِن مقصودهم اسقاط كلفة تَكْلِيف الشَّرِيعَة عَن أنفسهم حَتَّى يتوسعوا فِي استحلال الْمُحرمَات الشَّرْعِيَّة ويعتذروا عِنْد الْعَوام بِمَا يعدونه من تَحْرِيف الشَّرِيعَة وتغيير الْقُرْآن من عِنْد الصَّحَابَة وَلَا مزِيد على هَذَا النَّوْع من الْكفْر إِذْ لَا بَقَاء فِيهِ على شَيْء من الدّين

وَأما الهشامية فَإِنَّهُم أفصحوا عَن التَّشْبِيه بِمَا هُوَ كفر مَحْض بإتفاق جَمِيع الْمُسلمين وهم الأَصْل فِي التَّشْبِيه وَإِنَّمَا أخذُوا تشبيههم من الْيَهُود حِين نسبوا إِلَيْهِ الْوَلَد وَقَالُوا عَزِيز ابْن الله وأثبتوا لَهُ الْمَكَان وَالْحَد وَالنِّهَايَة والمجيء والذهاب تَعَالَى الله عَن ذَلِك علوا كَبِيرا وَلِهَذَا الْمَعْنى شبه النَّبِي صلى الله عليه وسلم الروافض باليهود فَقَالَ الروافض يهود هَذِه الْأمة وَقَالَ الشّعبِيّ إِن الروافض شَرّ من الْيَهُود وَالنَّصَارَى فَإِن الْيَهُود سئلوا عَن أَخْبَار ملتهم فَقَالُوا أَصْحَاب مُوسَى
শয়তান আল-তাক সম্পর্কে; সে ইমামতের ক্ষেত্রে কাতঈয়্যাহ মাযহাবের অন্তর্ভুক্ত ছিল। সে বলত যে, আল্লাহ তাআলা কোনো মন্দ সংঘটিত হওয়ার আগে তা জানেন না, যেমনটি হিশাম ইবনে আল-হাকাম বলত। সে তার অনেক বিদআতের ক্ষেত্রে হিশাম আল-জাওয়ালিকির সাথে একমত ছিল।

জেনে রাখুন যে, যায়দিয়্যাহ ও ইমামিয়্যাহদের মধ্যে এমন অনেকে রয়েছে যারা একে অপরকে কাফির সাব্যস্ত করে এবং তাদের মধ্যকার শত্রুতা বিদ্যমান ও স্থায়ী। কায়সানিয়্যাহদের ইমামিয়্যাহদের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করা হয়। জেনে রাখুন যে, ইমামিয়্যাহদের যেসব ফিরকার কথা আমরা উল্লেখ করেছি, তারা সবাই সাহাবীগণকে কাফির সাব্যস্ত করার বিষয়ে একমত। তারা দাবি করে যে, কুরআন তার আদি রূপ থেকে পরিবর্তিত হয়ে গেছে এবং সাহাবীগণের পক্ষ থেকে এতে হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটেছে। তারা ধারণা করে যে, কুরআনে আলীর ইমামতের ব্যাপারে স্পষ্ট বর্ণনা ছিল, কিন্তু সাহাবীগণ তা বাদ দিয়ে দিয়েছেন। তারা আরও মনে করে যে, বর্তমান কুরআনের ওপর এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত কোনো হাদীসের ওপর কোনো নির্ভরতা নেই। তারা মনে করে যে, মুসলমানদের হাতে থাকা বর্তমান শরীয়তের ওপর কোনো নির্ভরতা নেই। তারা জনৈক ইমামের অপেক্ষা করে যাকে তারা ‘মাহদী’ বলে ডাকে; তিনি আত্মপ্রকাশ করে তাদের শরীয়ত শিক্ষা দেবেন। বর্তমানে তারা দ্বীনের কোনো কিছুর ওপরই প্রতিষ্ঠিত নেই। এই আলোচনার মাধ্যমে তাদের উদ্দেশ্য ইমামত সংক্রান্ত কোনো বিষয়ের সত্যতা যাচাই করা নয়, বরং তাদের উদ্দেশ্য হলো নিজেদের ওপর থেকে শরীয়তের বিধানের বোঝা সরিয়ে ফেলা; যাতে তারা অবাধে শরীয়ত কর্তৃক নিষিদ্ধ বিষয়গুলোকে হালাল করে নিতে পারে। আর সাধারণ মানুষের কাছে তারা অজুহাত পেশ করে যে, সাহাবীগণ শরীয়ত বিকৃত করেছেন এবং কুরআন পরিবর্তন করেছেন। এই ধরণের কুফরের চেয়ে বড় আর কিছু নেই, কারণ এর মাধ্যমে দ্বীনের কোনো কিছুই অবশিষ্ট থাকে না।

আর হিশামিয়্যাহদের কথা হলো, তারা এমন স্পষ্ট ‘তাশবিহ’ (সাদৃশ্য দান) প্রকাশ করেছে যা সকল মুসলমানের ঐকমত্যে স্পষ্ট কুফর। তারাই হলো ‘তাশবিহ’-এর মূল উৎস। তারা তাদের এই তাশবিহ বা সাদৃশ্যবাদ ইহুদীদের কাছ থেকে গ্রহণ করেছে, যখন তারা আল্লাহর প্রতি সন্তান আরোপ করেছিল এবং বলেছিল ‘উজাইর আল্লাহর পুত্র’। তারা আল্লাহর জন্য স্থান, সীমা, প্রান্ত, আগমন এবং প্রস্থান সাব্যস্ত করেছে। আল্লাহ তাআলা এসব থেকে অনেক ঊর্ধ্বে। এ কারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রাফেযীদের ইহুদীদের সাথে তুলনা করেছেন এবং বলেছেন: “রাফেযীরা হলো এই উম্মতের ইহুদী।” আর শা’বী (রহ.) বলেছেন: “নিশ্চয়ই রাফেযীরা ইহুদী ও খ্রিস্টানদের চেয়েও নিকৃষ্ট। কেননা যখন ইহুদীদের তাদের জাতির শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন তারা বলেছিল: মূসার সাথীবর্গ।”
(খণ্ড: ১) আত-তাবসীর ফিদ দীন ওয়া তামীযুল ফিরকাতিন নাজিয়াহ আনিল ফিরাকিল হালিকীন (পৃষ্ঠা: ৪২)
وَالنَّصَارَى سئلوا عَن أَخْبَار ملتهم فَقَالُوا الحواريون الَّذين كَانُوا مَعَ عِيسَى عليه السلام وسئلت الرافضة عَن شَرّ هَذِه الْأمة فَقَالُوا أَصْحَاب مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم فَلَا جرم يكون سيف الْحق مسلولا عَلَيْهِم إِلَى يَوْم الْقِيَامَة وَلَا يرى لَهُم قدم ثَابت وَلَا كلمة مجتمعة وَلَا راية مَنْصُوبَة وَلَا ينصرهم أحد الأصار مخذولا لشؤم بدعتهم وَالْعجب أَنهم يَتَكَلَّمُونَ فِي الصَّحَابَة ويسيئون القَوْل فيهم وَلَا يتأملون كتاب الله حَيْثُ أثنى عَلَيْهِم بقوله سُبْحَانَهُ {مُحَمَّد رَسُول الله وَالَّذين مَعَه أشداء على الْكفَّار رحماء بَينهم تراهم ركعا سجدا يَبْتَغُونَ فضلا من الله ورضوانا سِيمَاهُمْ فِي وُجُوههم من أثر السُّجُود ذَلِك مثلهم فِي التَّوْرَاة وَمثلهمْ فِي الْإِنْجِيل} إِلَى آخر السُّورَة فَأثْنى عَلَيْهِم كَمَا ترى فَأخْبر أَن صفتهمْ مذكروة فِي التَّوْرَاة والأنجيل كَمَا أخبر بِهِ كزرع أخرج شطئه وفئازره فاستغلظ فَاسْتَوَى على سوقه يعجب الزراع ليغيظ بهم الْكفَّار حَتَّى قَالَ أَبُو إِدْرِيس الْمُفَسّر أَن ظَاهر هَذِه الْآيَة يُوجب أَن الروافض كفار لِأَن قُلُوبهم غيظا من الصَّحَابَة وعداوة لَهُم أَلا ترَاهُ يَقُول {ليغيظ بهم الْكفَّار} فَبين أَن من كَانَ فِي قلبه غيظ مِنْهُم من الْكفَّار

وروى عَن ابْن عَبَّاس رضي الله عنه أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ سَيكون فِي آخر الزَّمَان قوم لَهُم نبز يُقَال لَهُم الروافض يرفضون الْإِسْلَام فاقتلوهم فَإِنَّهُم مشركون وروى عَن ابْن عمر رضي الله عنه أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ يَا عَليّ تكون أَنْت فِي الْجنَّة وشيعتك يكونُونَ فِي الْجنَّة وسيكون بعدِي قوم يدعونَ ولايتك يدعونَ الرافضة فَإِن وَجَدتهمْ فأقتلهم فأنهم مشركون فَقَالَ عَليّ وَمَا علامتهم يَا رَسُول الله فَقَالَ لَا يكون لَهُم جُمُعَة وَلَا جمَاعَة ويشتمون أَبَا بكر وَعمر

وَاعْلَم أَن هَذِه الْمقَالة الَّتِي رويناها عَن الروافض لَيست مِمَّا يسْتَدلّ على
খ্রিস্টানদের যখন তাদের ধর্মের ইতিহাস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়, তারা বলে তারা হলো হাওয়ারী (শিষ্যগণ), যারা ঈসা আলাইহিস সালামের সাথে ছিলেন। আর রাফেযীদের যখন এই উম্মতের নিকৃষ্টতম ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়, তারা বলে তারা হলো মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীগণ। সুতরাং এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, কিয়ামত পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে হকের তলোয়ার কোষমুক্ত থাকবে, তাদের কোনো দৃঢ় পদক্ষেপ দেখা যাবে না, তাদের কোনো ঐক্যবদ্ধ কথা থাকবে না, কোনো উত্তোলিত পতাকা থাকবে না এবং তাদের কেউ সাহায্য করবে না; বরং তাদের বিদআতের অশুভ পরিণতির কারণে তারা লাঞ্ছিত হবে। আশ্চর্যের বিষয় এই যে, তারা সাহাবীগণ সম্পর্কে আলোচনা করে এবং তাঁদের ব্যাপারে মন্দ কথা বলে, অথচ তারা আল্লাহর কিতাব নিয়ে চিন্তা করে না, যেখানে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁদের প্রশংসা করে বলেছেন: {মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল এবং যারা তাঁর সাথে আছে তারা কাফিরদের প্রতি কঠোর, নিজেদের মধ্যে দয়ালু; তুমি তাদের রুকু ও সিজদাহরত অবস্থায় আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি অন্বেষণ করতে দেখবে। তাদের চিহ্ন তাদের মুখমণ্ডলে সিজদার প্রভাবে বিদ্যমান। তাওরাতে তাদের উদাহরণ এরূপ এবং ইঞ্জিলেও তাদের উদাহরণ এরূপ...} সূরার শেষ পর্যন্ত। অতঃপর তিনি তাঁদের প্রশংসা করেছেন যেমনটি আপনি দেখছেন। তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, তাঁদের বৈশিষ্ট্য তাওরাত ও ইঞ্জিলেও বর্ণিত হয়েছে, যেমনটি তিনি সংবাদ দিয়েছেন: যেমন একটি চারাগাছ যা তার অঙ্কুর বের করল, অতঃপর তাকে শক্ত করল, এরপর তা পুষ্ট হলো এবং আপন কাণ্ডের ওপর সোজা হয়ে উঠল, যা চাষীদের আনন্দ দেয়, যেন এর মাধ্যমে তিনি কাফিরদের ক্রোধান্বিত করতে পারেন। এমনকি মুফাসসির আবু ইদ্রিস বলেছেন যে, এই আয়াতের বাহ্যিক অর্থ একথাই সাব্যস্ত করে যে রাফেযীরা কাফির, কারণ তাদের অন্তর সাহাবীগণের প্রতি ক্ষোভ ও শত্রুতায় পূর্ণ। আপনি কি দেখছেন না যে তিনি বলছেন {যেন তাদের মাধ্যমে তিনি কাফিরদের ক্রোধান্বিত করতে পারেন}? সুতরাং তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, যাদের অন্তরে তাঁদের প্রতি ক্ষোভ রয়েছে তারা কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত।

এবং ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "শেষ যামানায় এমন এক সম্প্রদায়ের উদ্ভব হবে যাদের একটি উপনাম থাকবে, তাদের রাফেযী বলা হবে, তারা ইসলামকে বর্জন করবে। সুতরাং তোমরা তাদের হত্যা করো, কারণ তারা মুশরিক।" এবং ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "হে আলী, তুমি জান্নাতে থাকবে এবং তোমার অনুসারীরাও জান্নাতে থাকবে। আর অচিরেই আমার পরে এমন এক সম্প্রদায়ের উদ্ভব হবে যারা তোমার প্রতি আনুগত্যের দাবি করবে যাদের রাফেযী বলা হবে। যদি তুমি তাদের পাও তবে তাদের হত্যা করো, কারণ তারা মুশরিক।" আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল, তাদের চিহ্ন কী?" তিনি বললেন: "তারা জুমুআ ও জামাআতে উপস্থিত হবে না এবং তারা আবু বকর ও উমরকে গালি দেবে।"

আর জেনে রাখুন যে, রাফেযীদের সম্পর্কে আমরা যে উক্তিটি বর্ণনা করেছি তা এমন বিষয় নয় যা থেকে দলীল গ্রহণ করা যায়...
(খণ্ড: ১) আত-তাবসীর ফিদ দীন ওয়া তামীযুল ফিরকাতিন নাজিয়াহ আনিল ফিরাকিল হালিকীন (পৃষ্ঠা: ৪৩)
فَسَادهَا فَإِن الْعَاقِل ببديهة الْعقل يعلم فَسَادهَا وينكر عَلَيْهَا فَلَا يُمكن أَن تحمل مِنْهُم هَذِه المقالات إِلَّا على أَنهم قصدُوا بهَا إِظْهَار مَا كَانُوا يضمرونه من الْإِلْحَاد وَالشَّر بموالاة قوم من أَشْرَاف أهل الْبَيْت وَإِلَّا فَلَيْسَ لَهُم دَلِيل يعتمدون عَلَيْهِ ويجعلون خرافات مقالاتهم إِلَيْهِ حَتَّى أَنهم لما رَأَوْا الجاحظ يتوسع فِي التصانيف ويصنف لكل فريق قَالَت لَهُ الروافض صنف لنا كتابا فَقَالَ لَهُم لست أَدْرِي لكم شُبْهَة حَتَّى أرتبها واتصرف فِيهَا فَقَالُوا لَهُ إِذا دللتنا على شَيْء نتمسك بِهِ فَقَالَ لَا أرى لكم وَجها أَلا أَنكُمْ إِذا أردتم أَن تقولواشيئا مِمَّا تزعمونه أَنه قَول جَعْفَر بن مُحَمَّد الصَّادِق لَا اعرف لكم سَببا تستندون إِلَيْهِ غير هَذَا الْكَلَام فَتمسكُوا بحمقهم وغباوتهم بِهَذِهِ السوءة الَّتِي دلهم عَلَيْهَا وَكلما أَرَادوا أَن يختلقوا بِدعَة أَو يخترعوا كذبة نسبوها إِلَى ذَلِك السَّيِّد الصَّادِق وَهُوَ عَنْهَا منزه وَعَن مقالتهم فِي الدَّاريْنِ بَرِيء حَتَّى حكى عَنهُ إِنَّه قَالَ كَادَت الروافض أَن تنصر عليا فنسبته إِلَى الْعَجز وكادت الْمُعْتَزلَة أَن توَحد رَبهَا فشركته وأرادت أَن تعدل رَبهَا فجورته أَو لفظ هَذَا مَعْنَاهُ
এর অসারতা; কেননা বিবেকসম্পন্ন ব্যক্তি তার স্বাভাবিক বিচারবুদ্ধি দ্বারাই এর অসারতা বুঝতে পারে এবং তা প্রত্যাখ্যান করে। সুতরাং তাদের এই বক্তব্যগুলোকে কেবল এই উদ্দেশ্যেই গ্রহণ করা সম্ভব যে, তারা আহলে বায়তের একদল মহান ব্যক্তির প্রতি আনুগত্য প্রদর্শনের আড়ালে তাদের অন্তরে গোপন রাখা নাস্তিকতা ও অনিষ্টকে প্রকাশ করতে চেয়েছিল। অন্যথায়, তাদের কাছে এমন কোনো নির্ভরযোগ্য দলিল নেই যার ওপর তারা ভরসা করতে পারে এবং যার দিকে তাদের অলীক বক্তব্যসমূহকে সম্পৃক্ত করতে পারে। এমনকি তারা যখন দেখল যে জাহিয তার গ্রন্থাবলীকে সম্প্রসারিত করছেন এবং প্রতিটি মতাবলম্বী দলের জন্য লিখছেন, তখন রাফেজিরা তাকে বলল, ‘আমাদের জন্য একটি কিতাব রচনা করে দিন’। তিনি তাদের বললেন, ‘আমি তোমাদের এমন কোনো সংশয় বা যুক্তির কথা জানি না যা আমি সাজাতে পারি এবং তা নিয়ে কাজ করতে পারি’। তখন তারা তাকে বলল, ‘তাহলে আমাদের এমন কিছু বাতলে দিন যা আমরা আঁকড়ে ধরতে পারি’। তিনি বললেন, ‘আমি তোমাদের জন্য কোনো পথ দেখছি না; কেবল এটি ছাড়া যে, তোমরা যখনই তোমাদের দাবিকৃত কোনো কথা বলবে, তখন বলবে এটি জাফর ইবনে মুহাম্মদ আস-সাদিকের উক্তি। তোমাদের জন্য এই কথা ছাড়া নির্ভরযোগ্য অন্য কোনো উপায় আমার জানা নেই’। এরপর তারা তাদের নির্বুদ্ধিতা ও মূর্খতার বশবর্তী হয়ে এই মন্দ বিষয়টিই আঁকড়ে ধরল যার পথ তিনি তাদের দেখিয়েছিলেন। ফলে যখনই তারা কোনো বিদআত রচনা বা মিথ্যা উদ্ভাবন করতে চাইত, তখনই তারা তা সেই সত্যবাদী মহান ব্যক্তির প্রতি সম্পৃক্ত করত। অথচ তিনি এসব থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র এবং উভয় জগতেই তাদের বক্তব্য থেকে মুক্ত। এমনকি তাঁর পক্ষ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন, ‘রাফেজিরা আলীকে সাহায্য করতে চেয়েছিল, কিন্তু তারা তাকে অক্ষমতার সাথে সম্পৃক্ত করেছে; এবং মুতাজিলাগণ তাদের রবকে এক সাব্যস্ত করতে চেয়েছিল, কিন্তু তারা তাঁর সাথে শিরক করেছে; আর তারা তাদের রবকে ন্যায়পরায়ণ সাব্যস্ত করতে চেয়েছিল, কিন্তু তারা তাঁকে জালেম প্রতিপন্ন করেছে’ অথবা এর সমার্থক কোনো বক্তব্য।