(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদ লিল মাতুরীদী
(পৃষ্ঠা: -)
التوحيد للماتريدي القسم: العقيدة
الكتاب: التوحيد
المؤلف: محمد بن محمد بن محمود، أبو منصور الماتريدي (ت 333هـ)
المحقق: د. فتح الله خليف
الناشر: دار الجامعات المصرية - الإسكندرية
عدد الصفحات: 401
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-মাতুরিদীর আত-তাওহীদ বিভাগ: আকীদা
গ্রন্থ: আত-তাওহীদ
লেখক: মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন মাহমুদ, আবু মনসুর আল-মাতুরিদী (মৃত্যু ৩৩৩ হি.)
সম্পাদক: ড. ফাতহুল্লাহ খুলাইফ
প্রকাশক: দারুল জামিআতিল মিসরিয়্যাহ - আলেকজান্দ্রিয়া
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪০১
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদ লিল মাতুরীদী
(পৃষ্ঠা: ৩)
بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم الحمدلله الَّذِي كل حمد حمد بِهِ من دونه فراجع بِالْحَقِيقَةِ إِلَيْهِ حمدا يوافي نعمه ويكافئ من يَده ويبلغ رِضَاهُ ونسأله أَن يصلى على من ختم بِهِ الرسَالَة وعَلى إخوانه من الْمُرْسلين وعَلى أوليائه أَجْمَعِينَ ونستعصم بِهِ من الزلل ونرغب إِلَيْهِ فِيمَا يكرمنا من القَوْل وَالْعَمَل
إبِْطَال التَّقْلِيد وَوُجُوب معرفَة الدّين بِالدَّلِيلِقَالَ الشَّيْخ أَبُو مَنْصُور رحمه الله أما بعد فَإنَّا وجدنَا النَّاس مختلفي الْمذَاهب فِي النَّحْل فِي الدّين متفقين على إختلافهم فِي الدّين على كلمة وَاحِدَة أَن الَّذِي هُوَ عَلَيْهِ حق وَالَّذِي عَلَيْهِ غَيره بَاطِل على اتِّفَاق جُمْلَتهمْ من أَن كلا مِنْهُم لَهُ سلف يُقَلّد فَثَبت أَن التَّقْلِيد لَيْسَ مِمَّا يعْذر صَاحبه لإصابة مثله ضِدّه على أَنه لَيْسَ فِيهِ سوى كَثْرَة الْعدَد اللَّهُمَّ إِلَّا أَن يكون لأحد مِمَّن ينتهى القَوْل إِلَيْهِ حجَّة عقل يعلم بهَا صَدَقَة فِيمَا يدعى وبرهان يقهر المنصفين على إِصَابَته الْحق فَمن إِلَيْهِ مرجعه فِي الدّين بِمَا يُوجب تَحْقِيقه عَنهُ فَهُوَ المحق وعَلى كل وَاحِد مِنْهُم معرفَة الْحق فِيمَا يدين هُوَ بِهِ كَأَن الَّذِي دَان بِهِ هُوَ مَعَ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যাঁর ব্যতীত যা কিছু প্রশংসিত হয় তার প্রকৃত প্রশংসা মূলত তাঁরই প্রতি প্রত্যাবর্তন করে; এমন প্রশংসা যা তাঁর নেয়ামতসমূহের সমতুল্য হয় এবং আল্লাহর হাতের দানসমূহের প্রতিদান স্বরূপ হয় এবং তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন করে। আমরা তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি তাঁর ওপর দরুদ বর্ষণ করেন যাঁর মাধ্যমে রিসালাত বা নবুওয়াতের সমাপ্তি ঘটেছে এবং তাঁর অন্যান্য রাসুল ভাইদের ওপর এবং তাঁর সকল ওলীদের ওপর। আমরা তাঁর কাছে পদস্খলন থেকে সুরক্ষা চাই এবং তাঁর কাছে এমন কথা ও কাজের তাওফিক কামনা করি যা আমাদের সম্মানিত করবে।
তাকলিদ বাতিলকরণ এবং দলিলের মাধ্যমে দ্বীন জানার আবশ্যকতাশাইখ আবু মনসুর (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেন: অতঃপর, আমরা মানুষকে তাদের ধর্ম ও মতাদর্শে ভিন্ন ভিন্ন মতাবলম্বী হিসেবে দেখতে পাই, অথচ দ্বীনের ক্ষেত্রে তারা এই মতভেদে একমত যে, প্রত্যেকেই মনে করে সে নিজে যে পথের ওপর আছে তা সত্য এবং অন্য যা কিছুর ওপর অন্যেরা আছে তা বাতিল। তাদের সকলের ঐকমত্য এই যে, তাদের প্রত্যেকেরই এমন কোনো পূর্বসূরি রয়েছে যাকে তারা অন্ধ অনুসরণ (তাকলিদ) করে। সুতরাং এটি প্রমাণিত হলো যে, তাকলিদ এমন কোনো বিষয় নয় যার জন্য তার অনুসারীকে ওজর বা অজুহাত প্রদর্শনের সুযোগ দেওয়া যায়, কারণ তার প্রতিপক্ষও ঠিক একইভাবে অন্যের অনুসরণ করছে এবং এতে সংখ্যার আধিক্য ছাড়া আর কোনো প্রমাণ নেই। তবে হ্যাঁ, যার কাছে মতের পরিসমাপ্তি ঘটে, তাঁর যদি এমন কোনো যৌক্তিক প্রমাণ থাকে যার মাধ্যমে তাঁর দাবির সত্যতা জানা যায় এবং এমন দলীল থাকে যা ইনসাফকারীদের সত্য প্রাপ্তিতে বাধ্য করে, তবে দ্বীনের ক্ষেত্রে যার প্রত্যাবর্তন তার দিকে হবে যা তার থেকে সত্যতাকে সুনিশ্চিত করে, সে-ই সত্যপন্থী। আর তাদের প্রত্যেকের ওপরই আবশ্যিক হলো সেই সত্যকে জানা যার মাধ্যমে সে ইবাদত বা আনুগত্য করছে, যেন সে যার মাধ্যমে আনুগত্য করছে তা...
(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদ লিল মাতুরীদী
(পৃষ্ঠা: ৪)
أَدِلَّة صدقه وَشَهَادَة الْحق لَهُ قد حصرهم إِذْ مُنْتَهى حجج كل مِنْهُم مَا يضْطَر التَّسْلِيم لَهُ لَو ظفر بهَا وَقد ظَهرت لمن ذكرت وَلَا يجوز ظُهُور مثلهَا لضده فِي الدّين لما يتناقض حجج مَا غلبت حججه وَأظْهر تمويه أَسبَاب الشّبَه فِي غَيره وَلَا قُوَّة إِلَّا بِاللَّه الْعَظِيم
السّمع وَالْعقل هما أصل مَا يعرف بِهِ الدّينثمَّ أصل مَا يعرف بِهِ الدّين إِذْ لابد أَن يكون لهَذَا الْخلق دين يلْزمهُم الإجتماع عَلَيْهِ وأصل يلْزمهُم الْفَزع إِلَيْهِ وَجْهَان أَحدهمَا السّمع وَالْآخر الْعقل
وَأما السّمع فَمَا لَا يَخْلُو بشر من انتحاله مذهبا يعْتَمد عَلَيْهِ وَيَدْعُو غَيره إِلَيْهِ حَتَّى شاركهم فِي ذَلِك أَصْحَاب الشكوك والتجاهل فضلا عَن الَّذِي يقر بِوُجُود الْأَشْيَاء وتحقيقها على ذَلِك جرت سياسة مُلُوك الأَرْض من سيرة كل مِنْهُم مَا راموا تَسْوِيَة أُمُورهم عَلَيْهِ وتأليف مَا بَين قُلُوب رعيتهم بِهِ وَكَذَلِكَ أَمر الَّذين ادعوا الرسَالَة وَالْحكمَة وَمن قَامَ بتدبير أَنْوَاع الصِّنَاعَة وَبِاللَّهِ المعونة والنجاة
وَأما الْعقل فَهُوَ أَن كَون هَذَا الْعَالم للفناء خَاصَّة لَيْسَ بحكمة وَخُرُوج كل ذِي عقل فعله عَن طَرِيق الْحِكْمَة قَبِيح عَنهُ فَلَا يحْتَمل أَن يكون الْعَالم الَّذِي الْعقل مِنْهُ جُزْء مؤسسا على غير الْحِكْمَة أَو مجعولا عَبَثا
তাঁর সত্যতার প্রমাণাদি এবং তাঁর সপক্ষে সত্যের সাক্ষ্য তাদের বেষ্টন করে নিয়েছে; কেননা তাদের প্রত্যেকের দলিলের চূড়ান্ত পর্যায় হলো এমন বিষয় যার কাছে আত্মসমর্পণ করতে তারা বাধ্য হতো যদি তারা তা লাভ করত। আমি যাদের কথা উল্লেখ করেছি তাদের নিকট তা প্রকাশ পেয়েছে। দ্বীনের ক্ষেত্রে তাঁর বিরোধীদের জন্য অনুরূপ কিছু প্রকাশ পাওয়া অসম্ভব; কারণ যার দলিলসমূহ বিজয়ী হয়েছে, তার দলিলের সাথে কোনো কিছু সাংঘর্ষিক হওয়া অসম্ভব। আর তিনি অন্যদের মধ্যে থাকা সংশয়ের কারণসমূহের অসারতা প্রকাশ করে দিয়েছেন। মহান আল্লাহ ছাড়া কোনো শক্তি নেই।
শ্রুত জ্ঞান এবং বিবেক হলো দ্বীন চেনার মূল ভিত্তিঅতঃপর যার মাধ্যমে দ্বীন চেনা যায় তার মূল ভিত্তি দুটি দিক থেকে; যেহেতু এই সৃষ্টির জন্য অবশ্যই এমন একটি দ্বীন থাকা প্রয়োজন যার ওপর তাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া আবশ্যক এবং এমন একটি মূল ভিত্তি থাকা প্রয়োজন যার দিকে তাদের প্রত্যাবর্তন করা আবশ্যক। এর মধ্যে একটি হলো শ্রুত জ্ঞান এবং অন্যটি হলো বিবেক।
আর শ্রুত জ্ঞানের বিষয়টি হলো এমন যে, কোনো মানুষই এমন কোনো মতবাদ গ্রহণ করা থেকে মুক্ত নয় যার ওপর সে নির্ভর করে এবং অন্যকে তার দিকে আহ্বান করে। এমনকি সন্দেহবাদী ও অজ্ঞতার ভানকারীরাও এতে অংশীদার, তাদের কথা তো বলাই বাহুল্য যারা বস্তুর অস্তিত্ব ও সত্যতাকে স্বীকার করে। এই নীতির ওপরেই পৃথিবীর রাজন্যবর্গের শাসনব্যবস্থা পরিচালিত হয়েছে; তারা প্রত্যেকেই তাদের কার্যাবলি সুশৃঙ্খল করতে এবং প্রজাসাধারণের হৃদয়ে সম্প্রীতি স্থাপনের জন্য এর আশ্রয় নিয়েছেন। একইভাবে যারা নবুয়ত ও হিকমতের দাবি করেছেন এবং যারা বিভিন্ন প্রকার শিল্পকর্মের ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত ছিলেন, তাদের ব্যাপারটিও তদ্রূপ। আল্লাহর কাছেই সাহায্য ও মুক্তি কাম্য।
আর বিবেকের বিষয়টি হলো এই যে, এই জগৎ কেবল ধ্বংস হয়ে যাওয়ার জন্য সৃষ্টি হওয়া প্রজ্ঞার পরিচায়ক নয়। প্রতিটি বিবেকবান সত্তার কর্ম যদি প্রজ্ঞার পথ থেকে বিচ্যুত হয়, তবে তা তার জন্য নিন্দনীয়। সুতরাং এমনটি হতে পারে না যে, এই জগৎ—বিবেক যার একটি অংশ—তা প্রজ্ঞা ব্যতিরেকে প্রতিষ্ঠিত হবে অথবা উদ্দেশ্যহীনভাবে সৃষ্টি করা হবে।
(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদ লিল মাতুরীদী
(পৃষ্ঠা: ৫)
وَإِذا ثَبت ذَلِك دلّ أَن إنْشَاء الْعَالم للبقاء لَا للفناء
ثمَّ كَانَ الْعَالم بِأَصْلِهِ مَبْنِيا على طبائع مُخْتَلفَة ووجوه متضادة وبخاصة الَّذِي هُوَ مَقْصُود من حَيْثُ الْعقل الَّذِي يجمع بَين الْمُجْتَمع وَيفرق بَين الَّذِي حَقه التَّفْرِيق وَهُوَ الَّذِي سمته الْحُكَمَاء الْعَالم الصَّغِير فَهُوَ على أهواء مُخْتَلفَة وطبائع مُتَشَتِّتَة وشهوات ركبت فيهم غالبة لَو تركُوا وَمَا عَلَيْهِ جبلوا لتنازعوا فِي تجاذب الْمَنَافِع وأنواع الْعِزّ والشرف وَالْملك وَالسُّلْطَان فيعقب ذَلِك التباغض ثمَّ التقاتل وَفِي ذَلِك التفاني وَالْفساد الَّذِي لَو أَمر كَون الْعَالم لَهُ لبطلت الْحِكْمَة فِي كَونه مَعَ مَا جعل الْبشر وَجَمِيع الْحَيَوَان غير مُحْتَمل للبقاء إِلَّا بالأغذية وَمَا بِهِ قوام أبدانهم إِلَى المدد الَّتِي جعلت لَهُم فَلَو لم يرد بتكوينهم سوى فنائهم لم يحْتَمل إنْشَاء مَا بِهِ بقاؤهم وَإِذ ثَبت ذَا لَا بُد من أصل يؤلف بَينهم ويكفهم عَن التَّنَازُع والتباين الَّذِي لَدَيْهِ الْهَلَاك والفناء
فَلَزِمَ طلب أصل يجمعهُمْ عَلَيْهِ لغاية مَا احْتمل وسعهم الْوُقُوف عَلَيْهِ على أَن الأحق فِي ذَلِك إِذْ علم بحاجة كل مِمَّن يُشَاهد وضرورة كل من المعاين أَن لَهُم مُدبرا عَالما بأحوالهم وَبِمَا عَلَيْهِ بقاؤهم وَأَنه جبلهم على الْحَاجَات لَا يدعهم وَمَا هم عَلَيْهِ من الْجَهْل وَغَلَبَة الْأَهْوَاء مَعَ مَا لَهُم من الْحَاجة فِي معرفَة مَا بِهِ معاشهم وبقاؤهم دون أَن يُقيم لَهُم من يدلهم على ذَلِك ويعرفهم ذَلِك وَلَا بُد من أَن يَجْعَل لَهُ دَلِيلا وبرهانا يعلمُونَ خصوصه بِالَّذِي خصّه بِهِ من الْإِمَامَة
যখন এটি প্রমাণিত হলো, তখন এটি নির্দেশ করে যে বিশ্বজগত সৃষ্টি করা হয়েছে টিকে থাকার জন্য, ধ্বংস হওয়ার জন্য নয়।
অতঃপর, বিশ্বজগত তার মূলে বিভিন্ন প্রকৃতি এবং পরস্পরবিরোধী বৈশিষ্ট্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত। বিশেষভাবে যা বিবেকের বিচারে উদ্দিষ্ট, যা একত্রিত বস্তুকে একত্র করে এবং যা পৃথক হওয়া যোগ্য তাকে পৃথক করে; আর একেই প্রাজ্ঞজনরা 'ক্ষুদ্র জগত' হিসেবে অভিহিত করেছেন। সুতরাং তা বিভিন্ন খেয়ালখুশি, বিক্ষিপ্ত স্বভাব এবং তাদের মধ্যে গেঁথে দেওয়া প্রবল প্রবৃত্তির ওপর সংস্থাপিত। যদি তাদেরকে তাদের স্বভাবজাত প্রকৃতির ওপর ছেড়ে দেওয়া হতো, তবে তারা উপযোগিতা অন্বেষণ এবং বিভিন্ন প্রকার মর্যাদা, সম্মান, রাজত্ব ও কর্তৃত্বের লড়াইয়ে বিবাদে লিপ্ত হতো। এর ফলে পারস্পরিক বিদ্বেষ এবং পরবর্তীতে রক্তপাত জন্ম নিত। আর এর মধ্যেই নিহিত রয়েছে বিনাশ ও বিশৃঙ্খলা; যদি বিশ্বজগতের সৃষ্টির উদ্দেশ্য এটাই হতো, তবে তার সৃষ্টির পেছনে বিদ্যমান প্রজ্ঞা নিরর্থক হয়ে যেত। তদুপরি, তিনি মানুষ ও সকল প্রাণীকে এমনভাবে সৃষ্টি করেছেন যে, খাদ্য এবং দেহের স্থায়িত্ব বজায় রাখার উপকরণ ছাড়া তাদের জন্য নির্ধারিত সময় পর্যন্ত বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। যদি তাদের সৃষ্টির পেছনে কেবল তাদের ধ্বংস সাধনই উদ্দেশ্য হতো, তবে তাদের টিকে থাকার উপকরণসমূহ সৃষ্টি করা হতো না। যখন এটি প্রমাণিত হলো, তখন অবশ্যই এমন একটি মূলনীতির প্রয়োজন যা তাদের মধ্যে সংহতি স্থাপন করবে এবং বিবাদ ও অনৈক্য থেকে তাদের বিরত রাখবে, যার পরিণাম হলো বিনাশ ও ধ্বংস।
তাই এমন একটি মূল ভিত্তি অনুসন্ধান করা আবশ্যক যা তাদেরকে ঐক্যবদ্ধ করবে, যাতে তারা তাদের সাধ্যানুযায়ী সত্যের ওপর স্থির হতে পারে। আর এক্ষেত্রে সবচাইতে যথাযথ বিষয় হলো—যেহেতু প্রত্যেক প্রত্যক্ষকারী ও পর্যবেক্ষণকারীর অভাব এবং অপরিহার্য প্রয়োজন সম্পর্কে অবগত হওয়া গেছে—নিশ্চয়ই তাদের একজন পরিচালক রয়েছেন যিনি তাদের অবস্থা এবং কিসে তাদের স্থায়িত্ব নিহিত সে সম্পর্কে সম্যক অবগত। তিনি তাদেরকে অভাবী হিসেবে সৃষ্টি করেছেন; তাই তিনি তাদেরকে তাদের মূর্খতা ও প্রবৃত্তির প্রাবল্যের ওপর ছেড়ে দিতে পারেন না, বিশেষ করে যখন তাদের জীবনোপকরণ ও টিকে থাকার পথ জানার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। এমতাবস্থায় তিনি অবশ্যই এমন কাউকে নিযুক্ত করবেন যিনি তাদেরকে সেই পথ প্রদর্শন করবেন এবং তা শিক্ষা দেবেন। আর অবশ্যই তার জন্য এমন একটি নিদর্শন ও প্রমাণ নির্ধারণ করতে হবে, যার মাধ্যমে তারা নেতৃত্বের জন্য তার বিশেষত্ব সম্পর্কে জানতে পারবে।
(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদ লিল মাতুরীদী
(পৃষ্ঠা: ৬)
لَهُم وأحوجهم إِلَيْهِ فِيمَا عَلَيْهِ أَمرهم فَيكون فِي ذَلِك مَا بَينا من صدق من يَنْتَهِي قَوْله إِلَى قَول من دلّ عَلَيْهِ الْعَالم بِأَمْر الْعَالم أَنه هُوَ الَّذِي جعله المفزع لَهُم وَالْمُعْتَمد وَلَا قُوَّة إِلَّا بِاللَّه
قَالَ أَبُو مَنْصُور رحمه الله ثمَّ اخْتلف فِي الْأَسْبَاب الَّتِي بهَا يعلم الْمصَالح وَالْحق والمحاسن من أضدادها فَمنهمْ من يَقُول هُوَ مَا يَقع فِي قلب كل مِنْهُم حسنه لزمَه التَّمَسُّك بِهِ وَمِنْهُم من يَقُول يعجز الْبشر عَن الْإِحَاطَة بِالسَّبَبِ وَلَكِن يتَمَسَّك بِمَا ألهم لما يكون ذَلِك مِمَّن لَهُ تَدْبِير الْعَالم
قَالَ الشَّيْخ رحمه الله وهما بعيدان من أَن يَكُونَا من أَسبَاب الْمعرفَة لِأَن وُجُوه التضاد والتناقض فِي الْأَدْيَان بَين ثمَّ عِنْد كل وَاحِد مِنْهُم أَنه المحق ومحال أَن يكون سَبَب الْحق يعْمل هَذَا الْعَمَل لما تصور الْبَاطِل بِنَفس صُورَة الْحق فمحال الثِّقَة بِمن ظهر كذبه كل هَذَا الظُّهُور مَعَ مَا كَانَ مُعْتَقدًا لمَذْهَب بإعتقاد الْحق بِمَا ذكرت عِنْد ضِدّه وَفِي إلهامه أَنه مُبْطل وَلم يكن لوَاحِد مِنْهُمَا دَلِيل غير الَّذِي لآخر فِي خطابه وَذَلِكَ نوع مَا لَا يدْفع الإختلاف والتضاد اللَّذين بهما التفاني وعَلى ذَلِك يبطل إِعْلَام الْقرعَة فِيمَا يعجز عَنهُ ذُو الْعقل وَلم يَجْعَل فِي الحكم الْجَبْر على الرِّضَا إِذْ هِيَ تخرج مُخْتَلفا وَكَذَلِكَ أَمر الْقَائِف فَلم يجز أَن يَكُونَا سببى الْحق وَلَا قُوَّة إِلَّا بِاللَّه
তাদের জন্য এবং তাদের প্রয়োজনে যার ওপর তাদের বিষয়াদি নির্ভরশীল, এতে আমরা যা বর্ণনা করেছি তা সেই ব্যক্তির সত্যতা সম্পর্কেই ফুটে ওঠে যার বক্তব্য শেষ পর্যন্ত তাঁরই বক্তব্যে পৌঁছায় যিনি জগৎ সম্পর্কে সম্যক অবগত এবং জগৎকে সেই সত্তার দিকে পরিচালিত করেছেন যে তিনি হলেন তাদের আশ্রয়স্থল ও নির্ভরস্থল। আর আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো শক্তি নেই।
আবু মনসুর (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: এরপর সেইসব মাধ্যম সম্পর্কে মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে যার দ্বারা কল্যাণ, সত্য ও সৌন্দর্যকে তাদের বিপরীত বিষয়গুলো থেকে পৃথক করা যায়। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেন, এটি হলো তা-ই যার সৌন্দর্য কারো অন্তরে উদিত হয় এবং তার জন্য সেটি আঁকড়ে ধরা আবশ্যক হয়ে পড়ে। আবার কেউ কেউ বলেন, মানুষ প্রকৃত কারণটি পরিবেষ্টন করতে অক্ষম, তবে তাকে সেই অনুপ্রেরণা বা ইলহামই আঁকড়ে ধরতে হবে যা তার অন্তরে উদিত হয়, কারণ তা বিশ্বজগতের পরিচালক সত্তার পক্ষ থেকেই হয়ে থাকে।
শায়খ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: জ্ঞানের মাধ্যম হওয়ার ক্ষেত্রে এই উভয় মতই সত্য থেকে দূরে। কেননা ধর্মগুলোর মধ্যে বৈপরীত্য ও বিরোধের দিকগুলো সুস্পষ্ট; অথচ তাদের প্রত্যেকের নিকট ধারণা এই যে, সেই সত্যের ওপর আছে। এমতাবস্থায় সত্য লাভের মাধ্যম এমন কাজ করবে—তা অসম্ভব; কারণ তখন বাতিল বা মিথ্যা ঠিক সত্যের রূপ ধারণ করে। সুতরাং যার মিথ্যাচার এভাবে সুস্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয়েছে, তার ওপর আস্থা রাখা অসম্ভব। উপরন্তু, এক ব্যক্তি তার মতবাদকে সত্য মনে করে যা বিশ্বাস করছে, তার বিরোধী পক্ষও ঠিক তা-ই মনে করছে, অথচ তার ইলহাম অনুযায়ী অপরজন বাতিলপন্থি। তাদের একজনের নিকট এমন কোনো দলিল নেই যা অপরজনের নিকট নেই। আর এটি এমন এক পদ্ধতি যা সেই মতভেদ ও বৈপরীত্য দূর করতে পারে না যার ফলে ধ্বংস অনিবার্য হয়ে পড়ে। এরই ভিত্তিতে লটারির মাধ্যমে জ্ঞান অর্জনের দাবি বাতিল হয়ে যায়—যেসব ক্ষেত্রে বুদ্ধিমান ব্যক্তি অক্ষম হন; আর ফয়সালার ক্ষেত্রে কারো সন্তুষ্টির ওপর জবরদস্তি আরোপ করা হয়নি, কারণ লটারির ফলাফল ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। একইভাবে পদচিহ্ন বিশারদ (কাইফ)-এর বিষয়টিও একইরূপ। সুতরাং এই দুটি বিষয় সত্য লাভের মাধ্যম হওয়া বৈধ নয়। আর আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো শক্তি নেই।
(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদ লিল মাতুরীদী
(পৃষ্ঠা: ৭)
السبل الموصلة إِلَى الْعلم هِيَ العيان وَالْأَخْبَار وَالنَّظَرقَالَ الشَّيْخ أَبُو مَنْصُور رحمه الله ثمَّ السَّبِيل الَّتِي يُوصل بهَا الى الْعلم بحقائق الْأَشْيَاء العيان وَالْأَخْبَار وَالنَّظَر فالعيان مَا يَقع عَلَيْهِ الْحَواس وَهُوَ الأَصْل الَّذِي لَدَيْهِ الْعلم الَّذِي لَا ضد لَهُ من الْجَهْل فَمن قَالَ بضده من الْجَهْل فَهُوَ الَّذِي يُسمى منكره كل سامع مكابرا تأبى طبيعة الْبَهَائِم أَن يكون ذَلِك رتبتها إِذْ أكل مِنْهَا يعلم مَا بِهِ بَقَاؤُهَا وفناؤها وَمَا يتلذذ بِهِ ويتألم وَصَاحب هَذَا يُنكر ذَلِك وَأجْمع أَن لَا يناظر مَعَ من كَانَ ذَلِك قَوْله إِذْ لَا يثبت إِنْكَاره وَلَا حُضُوره بِنَفسِهِ والمناظرة فِي مائية الشَّيْء أَو هستيته وَهُوَ لَهما وللدفع جَمِيعًا دَافع وَلكنه يمازج فَيُقَال لَهُ تعلم بأنك تنفى فَإِن قَالَ لَا بَطل نَفْيه وَإِن قَالَ نعم أثبت نَفْيه فَيصير بِمَا يدْفع دافعا لدفعه ويؤلم بالألم الشَّديد من قطع الْجَوَارِح ليَدع تعنته إِذْ نَحن نعلم أَنه يعلم العيان إِذْ هُوَ علم الضَّرُورَة وَلكنه بقوله مُتَعَنتًا وَحقّ مثله مَا ذكرت ليجزع ويضجر فيقابل بتعنت مثله فينهتك لَدَيْهِ ستره وَلَا قُوَّة إِلَّا بِاللَّه
قَالَ الشَّيْخ رحمه الله وَالْأَخْبَار نَوْعَانِ من أنكر جملَته لحق بالفريق الأول لِأَنَّهُ أنكر إِنْكَاره إِذْ إِنْكَاره خبر فَيصير مُنْكرا عِنْد إِنْكَاره إِنْكَاره مَعَ مَا فِيهِ جهل نسبه وإسمه ومائيته وَاسم جوهره وَاسم كل شَيْء فَيجب بِهِ جهل محسوس وعجزه عَن أَن يخبر عَن شَيْء عاينه إِذا خبر بِهِ فَكيف يبلغ هُوَ إِلَى الْعلم بِمَا يبلغهُ مِمَّا غَابَ عَنهُ أَو مَتى يعلم مَا بِهِ معاشه وغذاؤه وكل ذَلِك يصل
জ্ঞানে পৌঁছানোর মাধ্যমসমূহ হলো প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণ, সংবাদ এবং যৌক্তিক চিন্তাশেখ আবু মনসুর (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, অতঃপর বস্তুর প্রকৃত স্বরূপ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের পথসমূহ হলো: প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণ, সংবাদ এবং যৌক্তিক চিন্তা। প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণ হলো তাই যা ইন্দ্রিয় দ্বারা অনুভূত হয়। এটি এমন এক মূলভিত্তি যা এমন জ্ঞান প্রদান করে যার বিপরীতে কোনো অজ্ঞতা নেই। অতএব, যে ব্যক্তি এর বিপরীতে অজ্ঞতার কথা বলে, প্রত্যেক শ্রবণকারী তাকে সত্য অস্বীকারকারী একগুঁয়ে হিসেবে অভিহিত করবে। এমনকি চতুষ্পদ জন্তুর স্বভাবও এই স্তরকে মেনে নিতে অস্বীকার করে; কারণ তাদের প্রত্যেকেই জানে কিসে তাদের অস্তিত্ব টিকে থাকে এবং কিসে ধ্বংস হয়, এবং কিসে তারা আনন্দ পায় আর কিসে কষ্ট পায়। অথচ এই মতের অনুসারী ব্যক্তি তা অস্বীকার করে। আর এ ব্যাপারে ঐকমত্য হয়েছে যে, যার বক্তব্য এমন হবে তার সাথে বিতর্ক করা যাবে না; কারণ তার এই অস্বীকার করা এবং তার নিজের উপস্থিতিই সাব্যস্ত হয় না। বিতর্ক হয় কোনো জিনিসের স্বরূপ বা অস্তিত্ব নিয়ে, অথচ সে এই উভয়টি এবং যেকোনো দাবি প্রত্যাখ্যান করার বিষয়টিকেই অস্বীকার করে। তবে তাকে এই বলে নিরস্ত করা যায় যে, 'তুমি কি জানো যে তুমি অস্বীকার করছ?' যদি সে বলে 'না', তবে তার এই অস্বীকার করা বাতিল হয়ে গেল। আর যদি সে বলে 'হাঁ', তবে সে তার অস্বীকার করার বিষয়টিকে সাব্যস্ত করল। ফলে সে যা অস্বীকার করছিল, তার মাধ্যমেই সে নিজের অস্বীকারের অস্বীকারকারী হয়ে গেল। আর এমন ব্যক্তিকে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কর্তনের ন্যায় তীব্র ব্যথা দিয়ে কষ্ট দেওয়া উচিত যাতে সে তার এই একগুঁয়েমি ত্যাগ করে। কারণ আমরা জানি যে সে প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণ সম্পর্কে অবগত, যেহেতু এটি অপরিহার্য জ্ঞান। কিন্তু সে তার বক্তব্যের মাধ্যমে একগুঁয়েমি করছে। তার মতো লোকের প্রাপ্য তাই যা আমি উল্লেখ করেছি, যেন সে আতঙ্কিত ও বিরক্ত হয় এবং তাকে তার অনুরূপ একগুঁয়েমি দ্বারা মোকাবিলা করা হয়, ফলে তার সামনে তার আবরণ উন্মোচিত হয়ে যায়। আর আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো শক্তি নেই।
শেখ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, সংবাদ দুই প্রকার। যে ব্যক্তি সামগ্রিকভাবে সংবাদকে অস্বীকার করে, সে প্রথম দলের অন্তর্ভুক্ত হবে। কারণ সে তার নিজের অস্বীকার করাকেই অস্বীকার করল, যেহেতু তার এই অস্বীকার করাও একটি সংবাদ। ফলে তার এই অস্বীকারের সময় সে তার অস্বীকারের অস্বীকারকারী হয়ে যায়। এর সাথে সাথে এতে তার বংশপরিচয়, নাম, স্বরূপ, তার সত্তার নাম এবং প্রতিটি জিনিসের নাম সম্পর্কে অজ্ঞতা সাব্যস্ত হয়। এর ফলে আবশ্যিকভাবে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয় সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং কোনো কিছু পর্যবেক্ষণ করার পর তা সংবাদ আকারে বর্ণনা করতে তার অক্ষমতা প্রকাশ পায়। এমতাবস্থায় সে তার থেকে অনুপস্থিত বিষয়গুলো সম্পর্কে যে সংবাদ পৌঁছে, তার জ্ঞান কীভাবে লাভ করবে? অথবা সে কীভাবে জানবে কিসে তার জীবনোপকরণ ও খাদ্য রয়েছে? অথচ এ সবই সংবাদের মাধ্যমেই পৌঁছায়।
(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদ লিল মাতুরীদী
(পৃষ্ঠা: ৮)
إِلَيْهِ بالْخبر مَعَ مَا فِيهِ الكفران بعظيم نعم الله عَلَيْهِ وبأصل مَا حمد هُوَ بِهِ وَبِمَا فضل بِهِ على الْبَهَائِم من النُّطْق بِالسَّمْعِ وَذَلِكَ نِهَايَة المكابرة
قَالَ أَبُو مَنْصُور رحمه الله ثمَّ لَا يُوصل بهما إِلَى إِدْرَاك المحاسن والمساوئ الَّتِي لَا يعْمل الْعُقُول على الْإِحَاطَة بهَا إِلَّا بإستعمال الألسن بالتكلم بهَا وإدناء السّمع إِلَيْهَا وَحقّ مناظرة هَذَا وَإِن كَانَت مناظرته سفها فيمازج أَيْضا فَنَقُول لَهُ عِنْد إِنْكَاره الْخَبَر مَا تَقول فَإِن عَاد إِلَيْهِ فَاعْلَم أَنه قبل خبرك حَيْثُ عَاد إِلَى قَوْله وَهُوَ استعادتك الْخَبَر وَإِن لم يعد إِلَيْهِ كفيت شَره وحمدت الله وضحكت مِنْهُ
وَمثله لمن يُنكر العيان تَقول لَهُ مَا تَقول فَإِن عَاد إِلَيْهِ ظهر لَك أَنه يُعلمهُ وَلكنه يتعنت وَإِن لم يعد إِلَيْهِ كفيت شَره وشكرت الله تَعَالَى على مَا ألهمك أَو تضربه وتؤلم فَإِنَّهُ لَا يقدر أَن يضجر أَو يقابلك بالعتاب لما لَا يحْتَمل ذَلِك إِلَّا بِتَسْمِيَة فعلك وَذَلِكَ يعرف بالْخبر وَقد أنكرهُ وَلَا قُوَّة إِلَّا بِاللَّه
ثمَّ إِذْ قد لزم قبُول الْأَخْبَار بضرورة الْعقل لزم قبُول أَخْبَار الرُّسُل إِذْ لَا خبر أظهر صدقا من خبرهم بِمَا مَعَهم من الْآيَات الْمُوَضّحَة صدقهم إِذْ لَا يُوجد خبر يطمئن إِلَيْهِ الْقلب مِمَّا بَينا من المعارف الَّتِي يصير مُنكر ذَلِك مُتَعَنتًا بضرورة الْعقل أوضح صدقا من أَخْبَار الرُّسُل صلوَات الله عَلَيْهِم فَمن أنكر ذَلِك فَهُوَ أَحَق من يقْضى عَلَيْهِ بالتعنت والمكابرة ثمَّ الْأَخْبَار الَّتِي تَنْتَهِي إِلَيْنَا من الرُّسُل تَنْتَهِي على ألسن من يحْتَمل مِنْهُم الْغَلَط وَالْكذب إِذْ لَيْسَ مَعَهم دَلِيل الصدْق وَلَا برهَان الْعِصْمَة فَحق مثله النّظر فِيهِ فَإِن كَانَ مثله مِمَّا لَا يُوجد
সংবাদের মাধ্যমে তাঁর কাছে তথ্য পৌঁছানো সত্ত্বেও তাতে আল্লাহর মহান নিআমতসমূহের প্রতি অকৃতজ্ঞতা এবং সেই মূল বিষয়ের প্রতিও অস্বীকার রয়েছে যার মাধ্যমে তিনি প্রশংসিত হয়েছেন এবং যার দ্বারা শ্রবণের মাধ্যমে কথা বলার সক্ষমতা দিয়ে তাঁকে চতুষ্পদ জন্তুদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া হয়েছে। আর এটি হঠকারিতার চূড়ান্ত সীমা।
আবু মনসুর (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেন, অতঃপর এই দুইয়ের (জিহ্বা ও কর্ণ) মাধ্যমে সেই সব ভালো-মন্দের উপলব্ধি অর্জন করা সম্ভব নয় যা বুদ্ধি এককভাবে আয়ত্ত করতে পারে না, যতক্ষণ না কথা বলার জন্য জিহ্বার ব্যবহার এবং শোনার জন্য কানকে নিকটবর্তী করা হয়। আর এই ব্যক্তির সাথে বিতর্কের নিয়ম হলো—যদিও তার সাথে বিতর্ক করা বোকামি তবুও এতে লিপ্ত হওয়া যায়—আমরা তার সংবাদ অস্বীকারের সময় তাকে বলব, "আপনি কী বলছেন?" যদি সে পুনরায় তা বলে, তবে জেনে রাখুন যে সে আপনার সংবাদ গ্রহণ করেছে, যেহেতু সে তার নিজের কথায় ফিরে এসেছে যা হলো আপনার নিকট সংবাদটি পুনরায় জানতে চাওয়া। আর যদি সে তা না করে, তবে আপনি তার অনিষ্ট থেকে রক্ষা পেলেন, আল্লাহর প্রশংসা করলেন এবং তাকে দেখে হাসলেন।
অনুরূপভাবে যে ব্যক্তি চাক্ষুষ দর্শনকে অস্বীকার করে, তাকে আপনি বলবেন, "আপনি কী বলছেন?" যদি সে পুনরায় তা বলে, তবে আপনার কাছে স্পষ্ট হয়ে যাবে যে সে এটি জানে কিন্তু সে কেবল একগুঁয়েমি করছে। আর যদি সে পুনরায় না বলে, তবে আপনি তার অনিষ্ট থেকে রক্ষা পেলেন এবং আল্লাহ তাআলা আপনাকে যা ইলহাম করেছেন তার জন্য তাঁর শুকরিয়া আদায় করলেন। অথবা আপনি তাকে প্রহার করলেন ও ব্যথিত করলেন; এমতাবস্থায় সে বিরক্ত হতে পারবে না অথবা আপনাকে তিরস্কার করতে পারবে না, কারণ আপনার কাজটির নামকরণ করা ছাড়া এটি সম্ভব নয়, আর তা সংবাদের মাধ্যমেই জানা যায়, অথচ সে সংবাদকে অস্বীকার করেছে। আর আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো শক্তি নেই।
অতঃপর যেহেতু বুদ্ধিবৃত্তিক অপরিহার্যতার কারণে সংবাদ গ্রহণ করা আবশ্যক, তাই রাসূলদের সংবাদ গ্রহণ করাও আবশ্যক। কারণ তাঁদের সংবাদের চেয়ে অধিকতর সত্য সংবাদ আর নেই, যেহেতু তাঁদের সাথে তাঁদের সত্যতা স্পষ্টকারী নিদর্শনসমূহ বিদ্যমান। কেননা এমন কোনো সংবাদ নেই যার ওপর অন্তর প্রশান্ত হতে পারে—আমরা ইতিপূর্বে বুদ্ধিবৃত্তিক অপরিহার্যতার ভিত্তিতে যেসব জ্ঞানের কথা বর্ণনা করেছি যা অস্বীকারকারী ব্যক্তি একগুঁয়ে হিসেবে গণ্য হয়—তা রাসূলদের (তাঁদের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক) সংবাদের চেয়ে অধিক স্পষ্ট ও সত্য নয়। সুতরাং যে ব্যক্তি এটি অস্বীকার করে, সে-ই একগুঁয়েমি ও হঠকারিতার ফয়সালা পাওয়ার অধিক যোগ্য। অতঃপর রাসূলদের পক্ষ থেকে আমাদের কাছে যে সংবাদসমূহ পৌঁছায়, তা এমন ব্যক্তিদের মাধ্যমে পৌঁছায় যাঁদের ক্ষেত্রে ভুল বা মিথ্যার সম্ভাবনা থাকে, যেহেতু তাঁদের কাছে সত্যতার দলিল বা নিষ্পাপত্বের প্রমাণ নেই। তাই এই জাতীয় সংবাদের ক্ষেত্রে বিচার-বিশ্লেষণ করা আবশ্যক। সুতরাং যদি বিষয়টি এমন হয় যা পাওয়া যায় না
(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদ লিল মাতুরীদী
(পৃষ্ঠা: ৯)
كذبا قطّ فَهُوَ الَّذِي من انْتهى إِلَيْهِ مثله لزمَه حق شُهُود القَوْل مِمَّن اتَّضَح الْبُرْهَان على عصمته وَذَلِكَ وصف خبر الْمُتَوَاتر إِن كلا مِنْهُم وَإِن لم يقم دَلِيل على عصمته فَإِن الْخَبَر مِنْهُم إِذا بلغ ذَلِك الْحَد ظهر صدقه وَثبتت عصمَة مثله على الْكَذِب وَإِن أمكن خلاف ذَلِك فِي كل على الْإِشَارَة وَهَكَذَا القَوْل فِيمَا طَرِيقه الإجتهاد وَإِن احْتمل خطأ كل على الإنفراد والغلط فَإِنَّهُم لم يتفقوا بِمن يوفقهم لذَلِك ليظْهر حَقه إِذْ الآراء لَا تُؤدِّي إِلَيْهِ بعد اخْتِلَاف الْأَهْوَاء وتفرق الهمم لذات ذِي الرَّأْي دون لطف الْعَزِيز الحميد الَّذِي يملك إِظْهَار حَقه وعصمة خلقه فِيمَا شَاءَ وَلَا قُوَّة إِلَّا بِاللَّه
وَخبر آخر لَا يبلغ هَذَا الْقدر فِي إِيجَاب الْعلم وَالشَّهَادَة بِأَنَّهُ الْحق عَن نَبِي الرَّحْمَة فَيجب الْعَمَل بِهِ وَالتّرْك بالإجتهاد وَالنَّظَر فِي أَحْوَال الروَاة وَالظَّاهِر مِمَّا ظهر حَقه وجوازه فِي السّمع الَّذِي قد أحيط ثمَّ يعْمل بِمَا يغلب عَلَيْهِ الْوَجْه وَإِن احْتمل الْغَلَط إِذْ رُبمَا يعْمل بِهِ فِي علم الْحس الَّذِي هُوَ أرفع طرق الْعلم بِضعْف الْحَواس وببعد المحسوس ولطفه على أَن ترك الْعَمَل بِهِ وَالْعَمَل جَمِيعًا لَا يرجع فِيهِ إِلَى الْإِحَاطَة وَإِلَى أَيهمَا مَال كَانَ فِي ذَلِك إِعْرَاض عَن حق الْخَبَر فَلذَلِك لزم القَوْل فِيهِ بالإجتهاد بِالْوَجْهَيْنِ وَلَا قُوَّة إِلَّا بِاللَّه
ثمَّ الأَصْل فِي لُزُوم القَوْل بِعلم النّظر وُجُوه أَحدهمَا الإضطرار إِلَيْهِ فِي علم الْحس وَالْخَبَر وَذَلِكَ فِيمَا يبعد من الْحَواس أَو يلطف وَفِيمَا يرد من الْخَبَر أَنه فِي نوع مَا يحْتَمل الْغَلَط أَولا ثمَّ آيَات الرُّسُل وتمويهات السَّحَرَة وَغَيرهم فِي التَّمْيِيز بَينهَا وَفِي تعرف الْآيَات بِمَا يتَأَمَّل فِيهَا من قوى الْبشر وأحوال الْآتِي بهَا
মোটেও কোনো মিথ্যা নয়। যার কাছে এরূপ বর্ণনা পৌঁছায়, তার জন্য ওই ব্যক্তির বক্তব্যের সত্যতা সাক্ষ্য দেওয়া অনিবার্য হয়ে পড়ে, যার নিষ্পাপতা বা নির্ভুলতার ওপর সুস্পষ্ট দলিল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আর এটিই হলো মুতাওয়াতির সংবাদের বৈশিষ্ট্য। যদিও তাদের প্রত্যেকের ব্যক্তিগত নির্ভুলতার ওপর কোনো দলিল নেই, তবুও তাদের থেকে আগত সংবাদ যখন সেই সীমায় পৌঁছায়, তখন তার সত্যতা প্রকাশ পায় এবং সে ধরনের বর্ণনাকারীদের মিথ্যার ঊর্ধ্বে থাকা প্রমাণিত হয়, যদিও পৃথকভাবে প্রত্যেকের ক্ষেত্রে এর বিপরীত কিছু ঘটা সম্ভব হতে পারে। অনুরূপভাবে যে বিষয়ের পথ হলো ইজতিহাদ, তার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। যদিও ব্যক্তিগতভাবে প্রত্যেকের ভুল বা ভ্রান্তির সম্ভাবনা থাকে, কিন্তু তারা এমন সত্তার তাওফিকে ভুল পথে একমত হন না যিনি সত্য প্রকাশ করেন; কারণ প্রবৃত্তির ভিন্নতা এবং ব্যক্তিগত স্বার্থে সংকল্পের বিভাজনের পর মানুষের রায় বা অভিমত সত্য পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না, যদি না মহা-পরাক্রমশালী ও প্রশংসিত আল্লাহর অনুগ্রহ থাকে, যিনি নিজের সত্য প্রকাশ করার এবং নিজের সৃষ্টিকে যা ইচ্ছা ভুল থেকে রক্ষা করার মালিক। আর আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো শক্তি নেই।
আর অন্য প্রকার সংবাদ যা রহমতের নবীর পক্ষ থেকে আগত হয়েও জ্ঞান প্রদান এবং তা সত্য হওয়ার সাক্ষ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে এই পর্যায়ে পৌঁছায় না, সে ক্ষেত্রে সে অনুযায়ী আমল করা এবং ইজতিহাদের মাধ্যমে নিজস্ব রায় ত্যাগ করা আবশ্যক। আর বর্ণনাকারীদের অবস্থা এবং শ্রুত বিষয়ের মধ্য থেকে যা সত্য ও অনুমোদিত হিসেবে প্রকাশ পায় তা পর্যালোচনা করা জরুরি। এরপর যার ওপর প্রবল ধারণা প্রতিষ্ঠিত হয়, সে অনুযায়ী আমল করা হবে, যদিও ভুলের সম্ভাবনা থাকে। কারণ অনেক সময় ইন্দ্রিয়জাত জ্ঞানের ক্ষেত্রেও—যা জ্ঞানের সর্বোচ্চ স্তর—ইন্দ্রিয়ের দুর্বলতা কিংবা অনুভূত বিষয়ের দূরত্ব ও সূক্ষ্মতার কারণে এর ওপর ভিত্তি করে আমল করা হয়। তাছাড়া, আমল করা বা বর্জন করা কোনোটিই পূর্ণাঙ্গ পরিবেষ্টনকারী জ্ঞানের ওপর নির্ভর করে না। এই দুটির যে কোনো এক দিকে ঝুঁকে পড়লে তা সংবাদের হকের দিক থেকে বিমুখতা হবে। এই কারণেই উভয় দিক বিবেচনা করে ইজতিহাদের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা আবশ্যক। আর আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো শক্তি নেই।
অতঃপর পর্যবেক্ষণলব্ধ জ্ঞান বা গবেষণামূলক বক্তব্য আবশ্যক হওয়ার মূল ভিত্তি কয়েকটি বিষয়। তার মধ্যে একটি হলো—ইন্দ্রিয়জাত জ্ঞান এবং সংবাদের ক্ষেত্রে এর প্রয়োজনীয়তা অনিবার্য হয়ে পড়া; যা মূলত এমন সব বিষয়ের ক্ষেত্রে ঘটে যা ইন্দ্রিয় থেকে দূরে থাকে বা সূক্ষ্ম হয়। আর সংবাদের ক্ষেত্রে এটি তখন প্রয়োজন হয় যখন তা এমন পর্যায়ের হয় যাতে প্রাথমিকভাবে ভুলের সম্ভাবনা থাকে। এরপর রাসুলগণের নিদর্শন এবং জাদুকর ও অন্যদের বিভ্রান্তির মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করার ক্ষেত্রেও এটি প্রয়োজন। আর নিদর্শনসমূহ চেনার ক্ষেত্রে মানুষের সামর্থ্য এবং তা নিয়ে আগত ব্যক্তির অবস্থা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করার মাধ্যমেই এটি সম্ভব হয়।
(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদ লিল মাতুরীদী
(পৃষ্ঠা: ১০)
ليظْهر الْحق بنوره وَالْبَاطِل بظلمته وعَلى ذَلِك دلّ الله بِالَّذِي ثَبت بالأدلة المعجزة أَنه مِنْهُ من نَحْو الْقُرْآن الَّذِي عجز الْإِنْس وَالْجِنّ أَن يَأْتُوا بِمثلِهِ مَعَ الْأَمر بِهِ بقوله {سنريهم آيَاتنَا فِي الْآفَاق} إِلَى آخر السُّورَة وَقَوله {أَفلا ينظرُونَ إِلَى الْإِبِل} وَقَوله {إِن فِي خلق السَّمَاوَات وَالْأَرْض} وَقَوله {وَفِي أَنفسكُم أَفلا تبصرون} وَغير ذَلِك مِمَّا رغب فِي النّظر وألزم الإعتبار وَأمر بالتفكر والتدبر وَأخْبر أَن ذَلِك يوقفهم على الْحق وَيبين لَهُم الطَّرِيق وَلَا قُوَّة إِلَّا بِاللَّه
مَعَ مَا لَيْسَ لمن يُنكر النّظر على دَفعه دَلِيل سوى النّظر فَدلَّ ذَلِك على لُزُوم النّظر بِمَا بِهِ دَفعه مَعَ مَا لَا بُد من معرفَة مَا فِي الْخلق من الْحِكْمَة إِذْ لَا يجوز فعل مثله عَبَثا وَمَا فِيهِ من الدّلَالَة على من أنشأه أَو على كَونه بِنَفسِهِ أَو حدث أَو قدم وكل ذَلِك مِمَّا لَا سَبِيل إِلَى الْعلم بِهِ إِلَّا بِالنّظرِ على أَن الْبشر خص بِملك تَدْبِير الْخَلَائق والمحنة فِيهَا وَطلب الْأَصْلَح لَهُم فِي الْعُقُول وَاخْتِيَار المحاسن فِي ذَلِك وإتقاء مضادة ذَلِك وَلَا سَبِيل إِلَى معرفَة ذَلِك إِلَّا بإستعمال الْعُقُول بِالنّظرِ فِي الْأَشْيَاء على أَن مفزع الْكل عِنْد النوائب وَاعْتِرَاض الشّبَه إِلَى النّظر فِي ذَلِك والتأمل فَدلَّ أَنه يدل على الْحَقَائِق ويوصل بِهِ إِلَيْهَا على نَحْو الْفَزع عِنْد اشْتِبَاه اللَّوْن إِلَى الْبَصَر وَالصَّوْت إِلَى السّمع وَكَذَا كل شَيْء إِلَى الحاسة الَّتِي بهَا دركها فَمثله النّظر وَلَا قُوَّة إِلَّا بِاللَّه
على أَن محَاسِن الْأَشْيَاء ومساويها وَمَا قبح من الْأَفْعَال وَمَا حسن مِنْهَا فَإِنَّمَا نِهَايَة الْعلم بعد وُقُوع الْحَواس عَلَيْهَا وورود الْأَخْبَار فِيهَا إِذا أُرِيد تَقْرِير كل جِهَة من ذَلِك فِي الْعُقُول والكشف عَن وُجُوه مَا لَا سَبِيل إِلَى ذَلِك إِلَّا بِالتَّأَمُّلِ وَالنَّظَر فِيهَا وعَلى ذَلِك أَمر المكاسب الضارة والنافعة على أَن الْبشر جبل
যাতে সত্য তার নূর দ্বারা এবং মিথ্যা তার অন্ধকার দ্বারা প্রকাশ পায়। আল্লাহ এমন বিষয়ের মাধ্যমে এর ওপর দিকনির্দেশনা দিয়েছেন যা মুজিযাপূর্ণ দলিলের মাধ্যমে প্রমাণিত যে তা তাঁর পক্ষ থেকে, যেমন কুরআনের মতো, যার অনুরূপ কিছু নিয়ে আসতে মানুষ ও জিন অক্ষম হয়েছে। এর সাথে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন এই বলে যে, {আমরা শীঘ্রই তাদেরকে দিগন্তসমূহে এবং তাদের নিজেদের মধ্যে আমাদের নিদর্শনাবলী দেখাবো} সূরার শেষ পর্যন্ত, এবং তাঁর বাণী {তারা কি উটের প্রতি লক্ষ্য করে না?}, এবং তাঁর বাণী {নিশ্চয় আসমান ও জমিন সৃষ্টিতে}, এবং তাঁর বাণী {এবং তোমাদের নিজেদের মধ্যেও, তোমরা কি দেখ না?}। এ ছাড়া আরও যা কিছু পর্যবেক্ষণে উৎসাহিত করে, শিক্ষা গ্রহণকে অপরিহার্য করে, চিন্তা ও গবেষণার নির্দেশ দেয় এবং সংবাদ দেয় যে, তা তাদেরকে সত্যের ওপর উপনীত করবে এবং তাদের জন্য পথ স্পষ্ট করে দেবে। আর আল্লাহ ছাড়া কোনো শক্তি নেই।
সেই সাথে যারা পর্যবেক্ষণকে অস্বীকার করে, তাদের কাছে এটি খণ্ডন করার জন্য পর্যবেক্ষণ ব্যতীত আর কোনো দলিল নেই। সুতরাং এটি সেই পর্যবেক্ষণের আবশ্যকতাকেই প্রমাণ করে যা দ্বারা তারা একে খণ্ডন করতে চাচ্ছে। এর পাশাপাশি সৃষ্টির মধ্যে যে হিকমত বা প্রজ্ঞা রয়েছে তা জানাও অপরিহার্য, কেননা এ জাতীয় কাজ উদ্দেশ্যহীনভাবে হওয়া বৈধ নয়। আর এতে তার ওপরও দলিল রয়েছে যিনি একে অস্তিত্ব দান করেছেন, অথবা এটি নিজে নিজে অস্তিত্বশীল হওয়ার ওপর, কিংবা এটি নব্য সৃষ্ট হওয়া না অনাদি হওয়ার ওপর। এর কোনোটিই পর্যবেক্ষণ ব্যতীত জানার কোনো উপায় নেই। তদুপরি মানুষকে সৃষ্টিজগত পরিচালনার ক্ষমতা এবং এতে পরীক্ষার মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করা হয়েছে, আর তাদের আকল বা বুদ্ধিবৃত্তির মাধ্যমে তাদের জন্য যা অধিকতর কল্যাণকর তা অন্বেষণ করা, উত্তম বিষয় নির্বাচন করা এবং এর বিপরীত বিষয় থেকে বেঁচে থাকার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। আর বস্তুর পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে আকলের ব্যবহার ব্যতীত এসব জানার কোনো পথ নেই। অধিকন্তু, বিপদে এবং সংশয়ের সম্মুখীন হলে সকলের আশ্রয়স্থল হলো সে বিষয়ে পর্যবেক্ষণ ও চিন্তা করা। সুতরাং এটি প্রমাণ করে যে, পর্যবেক্ষণই প্রকৃত সত্যের ওপর পথপ্রদর্শন করে এবং সত্য পর্যন্ত পৌঁছায়। যেমন বর্ণ নিয়ে সংশয় দেখা দিলে দৃষ্টিশক্তির দিকে এবং শব্দ নিয়ে সংশয় হলে শ্রবণশক্তির দিকে ফিরে যাওয়া হয়। তদ্রূপ প্রতিটি বিষয়কে সেই ইন্দ্রিয়ের দিকে ফিরিয়ে নেওয়া হয় যার মাধ্যমে তা উপলব্ধি করা সম্ভব; পর্যবেক্ষণের বিষয়টিও ঠিক তেমনি। আর আল্লাহ ছাড়া কোনো শক্তি নেই।
তদুপরি বস্তুর সৌন্দর্য ও কদর্যতা এবং কর্মের মন্দ ও ভালো দিকসমূহ সম্পর্কে জ্ঞানের চূড়ান্ত পর্যায় হলো ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য হওয়ার পর এবং এ সংক্রান্ত সংবাদ আসার পর। যখন এর প্রতিটি দিক আকলের মাধ্যমে সুদৃঢ় করার এবং সেসব দিকের রহস্য উন্মোচনের ইচ্ছা করা হয় যা পর্যবেক্ষণ ও চিন্তা ব্যতীত সম্ভব নয়। তদ্রূপ ক্ষতিকর ও লাভজনক উপার্জনের বিষয়গুলোও; মানুষ জন্মগতভাবেই...
(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদ লিল মাতুরীদী
(পৃষ্ঠা: ১১)
على طبيعة وعقل وَمَا يُحسنهُ الْعقل غير الَّذِي ترغب فِيهِ الطبيعة وَمَا يقبحه غير الَّذِي ينفر عَنهُ الطَّبْع أَو يكون بَينهمَا مُخَالفَة مرّة وموافقة ثَانِيًا لَا بُد من النّظر فِي كل أَمر والتأمل ليعلم حَقِيقَة أَنه فِي أَي فن وَنَوع مِمَّا ذكرنَا وَلَا قُوَّة إِلَّا بِاللَّه
الدَّلِيل على حدث الْأَعْيَانقَالَ الشَّيْخ أَبُو مَنْصُور رحمه الله الدَّلِيل على حدث الْأَعْيَان هُوَ شَهَادَة الْوُجُوه الثَّلَاثَة الَّتِي ذكرنَا من سبل الْعلم بالأشياء فَأَما الْخَبَر فَمَا ثَبت عَن الله تَعَالَى من وَجه يعجز الْبشر عَن دَلِيل مثله لأحد إِنَّه أخبر أَنه خَالق كل شَيْء وبديع السَّمَاوَات وَالْأَرْض وَأَن لَهُ ملك مَا فِيهِنَّ وَقد بَينا لُزُوم القَوْل بالْخبر وَلَيْسَ أحد من الْأَحْيَاء ادّعى لنَفسِهِ الْقدَم أَو أَشَارَ إِلَى معنى يدل على فدمه بل لَو قَالَ لعرف كذبه هُوَ بِالضَّرُورَةِ وَكَذَا كل من حَضَره بِمَا رَأَوْهُ صَغِيرا وَيذكر ابتداؤه أَيْضا لذَلِك لزم القَوْل بِحَدَث الْأَحْيَاء ثمَّ الْأَمْوَات تَحت تَدْبِير الْأَحْيَاء فهم أَحَق بِالْحَدَثِ وَالله الْمُوفق
وَعلم الْحس وَهُوَ أَن كل عين من الْأَعْيَان يحس محاطا بِالضَّرُورَةِ مَبْنِيا بِالْحَاجةِ والقدم هُوَ شَرط الْغِنَا لِأَنَّهُ يسْتَغْنى بقدمه عَن غَيره والضرورة وَالْحَاجة يحوجانه إِلَى غَيره فَلَزِمَ بِهِ حَدثهُ وَأَيْضًا أَن كل شَيْء جَاهِل يَبْدُو حَاله عَاجز عَن إصْلَاح مَا يفْسد مِنْهُ فِي الْحَال الَّتِي هُوَ فِيهَا مَوْصُوف بالكمال فِي الْقُوَّة وَالْعلم إِذا كَانَ ذَلِك حَيا وَلَو كَانَ مَيتا فسلطان الْحَيّ عَلَيْهِ جَار ثَبت
প্রকৃতি ও বিবেক প্রসঙ্গে; বিবেক যা ভালো মনে করে তা প্রকৃতি যা কামনা করে তার থেকে ভিন্ন হতে পারে, এবং বিবেক যা মন্দ মনে করে তা প্রকৃতি যা থেকে বিমুখ হয় তার থেকে ভিন্ন হতে পারে, অথবা তাদের মধ্যে কখনো বিরোধ এবং আবার কখনো মিল থাকতে পারে। প্রতিটি বিষয়ে অবশ্যই দৃষ্টিপাত ও গভীর চিন্তা করতে হবে যাতে জানা যায় যে তা আমাদের বর্ণিত কোন বিভাগ ও প্রকারের অন্তর্ভুক্ত। আর আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো শক্তি নেই।
বস্তুনিচয়ের নশ্বরতার প্রমাণশায়খ আবু মনসুর (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, বস্তুনিচয়ের নশ্বরতার প্রমাণ হলো জ্ঞানের সেই তিনটি মাধ্যমের সাক্ষ্য যা আমরা জিনিসের জ্ঞান অর্জনের পথ হিসেবে উল্লেখ করেছি। সংবাদের ক্ষেত্রে তা হলো মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এমনভাবে প্রমাণিত সংবাদ যেটির অনুরূপ দলিল পেশ করতে মানুষ অক্ষম; তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি প্রতিটি বস্তুর স্রষ্টা এবং আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর অভিনব উদ্ভাবক, আর এগুলোর মাঝে যা কিছু আছে তার রাজত্ব তাঁরই। আমরা সংবাদের ভিত্তিতে কথা বলার আবশ্যকতা ইতিপূর্বে বর্ণনা করেছি। জীবিতদের মধ্য থেকে কেউ নিজের জন্য অনাদিত্বের দাবি করেনি অথবা এমন কোনো অর্থের দিকে ইঙ্গিত করেনি যা তার অনাদিত্ব প্রমাণ করে। বরং সে যদি এমন দাবি করত, তবে সে নিজেই আবশ্যিকভাবে তার মিথ্যা সম্পর্কে জানত, এবং তার উপস্থিতিতে যারা আছে তারাও জানত; কেননা তারা তাকে ছোট হিসেবে দেখেছে এবং তার শুরুর কথা উল্লেখ করা হয়। এজন্যই জীবিতদের নশ্বরতার কথা স্বীকার করা আবশ্যক হয়েছে। অতঃপর মৃতরা তো জীবিতদের পরিচালনার অধীন, তাই তারা নশ্বর হওয়ার অধিক যোগ্য। আর আল্লাহই সঠিক পথের তাওফিকদাতা।
আর ইন্দ্রিয়লব্ধ জ্ঞান হলো এই যে, প্রতিটি বস্তুকেই আবশ্যিকভাবে সীমাবদ্ধ এবং প্রয়োজনের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত হিসেবে অনুভব করা যায়। আর অনাদিত্ব হলো অমুখাপেক্ষিতার শর্ত, কারণ অনাদি সত্তা স্বীয় অনাদিত্বের কারণে অন্য সব কিছু থেকে অমুখাপেক্ষী হন। কিন্তু সীমাবদ্ধতা ও প্রয়োজন কোনো বস্তুকে অন্যের মুখাপেক্ষী করে তোলে, ফলে এর মাধ্যমে তার নশ্বরতা প্রমাণিত হয়। এছাড়াও প্রতিটি বস্তু অজ্ঞ, তার অবস্থা প্রকাশিত হয় এবং সে নিজের কোনো বিষয়ের ক্ষতি হলে তা সংশোধন করতে অক্ষম, এমনকি যখন সে পূর্ণ শক্তি ও জ্ঞানের অধিকারী হিসেবে পরিচিত থাকে—যদি সে জীবিত হয়। আর যদি সে মৃত হয়, তবে তার ওপর জীবিতের কর্তৃত্ব সাব্যস্ত থাকে।
(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদ লিল মাতুরীদী
(পৃষ্ঠা: ১২)
أَنه لم يكن وَاحِد مِنْهُمَا إِلَّا بِغَيْرِهِ وَإِذا ثَبت الْغَيْر لزم الْحَدث إِذْ الْقدَم يمْنَع الْكَوْن لغيره
وَأَيْضًا أَن كل محسوس لَا يَخْلُو عَن إجتماع طبائع مُخْتَلفَة ومتضادة مِمَّا حَقّهَا التنافر والتباعد لأنفسها ثَبت إجتماعها بغَيْرهَا وَفِي ذَلِك حَدثهُ وَالله الْمُوفق
وَأَيْضًا أَن الْعَالم ذُو أَجزَاء وأبعاض وَيعلم أَكثر أَبْعَاضه أَنه حَادث بعد أَن لم يكن وَيعلم نماؤه وإتساعه وَكبره لزم ذَلِك فِي كُله إِذْ لَا يصير إجتماع أَجزَاء متناهية غير متناهية
وَأَيْضًا أَن مِنْهُ طيب وخبيث وصغير وكبير وَحسن وقبيح وَنور وظلمة وَهَذِه آيَات التَّغَيُّر والزوال وَفِي التَّغَيُّر والزوال فنَاء وهلاك إِذْ مَعْلُوم أَن الإجتماع يُؤَكد ويقوى ويعظم دَلِيله النشر وَأَنه إِذا تفرق بَطل ذَلِك فَثَبت أَن ذَلِك آيَة الفناء وَمَا احْتمل الفناء لم يجز كَونه بِنَفسِهِ
وَيلْزم أَيْضا إحتمال الإبتداء وَلَيْسَ لقَوْل من يَقُول يغيب عَن الْأَبْصَار وَلَا يفنى معنى لما علم الْعَالم بالبصر لَا بالدلائل وَبِه يدعى الْقدَم فقد زَالَ ذَلِك مَعَ مَا أَنا بَينا من وهنه وَلَا فرق بَين حَيَاة تفنى وَبَين ذَاته وَلَا قُوَّة إِلَّا بِاللَّه
وعَلى ذَلِك طَرِيق علم الإستدلال مَعَ مَا أَنه لَا يَخْلُو الْجِسْم من حَرَكَة أَو سُكُون وَلَيْسَ لَهَا الإجتماع فيزول من جملَة أوقاته نصف الْحَرَكَة وَنصف السّكُون وكل ذِي نصف متناه على أَنَّهُمَا إِذْ لَا يَجْتَمِعَانِ فِي الْقدَم لزم حدث أحد الْوَجْهَيْنِ ويبطلانه أَن يكون مُحدثا فِي الْأَزَل لزم فِي الآخر وَفِي ذَلِك حدث مَا لَا يَخْلُو عَنهُ
وَأَيْضًا أَن كل جسم لَا يَخْلُو عَن سُكُون دَائِم أَو حَرَكَة دائمة أَو هما وَمَا هُوَ عَلَيْهِ مِنْهُمَا مَدْفُوع إِلَيْهِ مسخر بِهِ ومجعول لمنافع غير وَإِذا كَانَ ذَلِك وصف جَوَاهِر الْعَالم الَّتِي لَا تُوصَف بِالْحَيَاةِ ثَبت أَنَّهَا محدثة إِذْ هِيَ لَا على مَا هِيَ بِنَفسِهَا وَلَكِن على تسخيرها وتذليلها وإستعمالها فِي حوائج غَيرهَا وَإِذا ثَبت ذَلِك فِي أصل
যে তাদের প্রত্যেকটি অন্যটির সাহায্য ব্যতীত অস্তিত্বশীল হতে পারে না। আর যখন অন্যের মুখাপেক্ষিতা প্রমাণিত হয়, তখন তার নতুন হওয়া (সৃষ্টি হওয়া) আবশ্যক হয়; কারণ অনাদিত্ব অন্য কারও মুখাপেক্ষী হওয়াকে প্রতিরোধ করে।
আরও কথা হলো, প্রতিটি ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বস্তু বিভিন্ন এবং পরস্পরবিরোধী স্বভাবের সমষ্টি থেকে মুক্ত নয়, যাদের প্রকৃতি হলো পরস্পর থেকে বিমুখ হওয়া ও দূরে থাকা। সুতরাং এটি প্রমাণিত হয় যে, অন্যের মাধ্যমেই তাদের এই সমন্বয় ঘটেছে, আর এটাই তার নতুন হওয়ার (সৃষ্টি হওয়ার) প্রমাণ। আল্লাহই তাওফিকদাতা।
আরও কথা হলো, এই জগৎ বিভিন্ন অংশ ও অবয়বের সমষ্টি। এর অধিকাংশ অংশ সম্পর্কে জানা যায় যে, তা পূর্বে বিদ্যমান না থাকার পর অস্তিত্ব লাভ করেছে। এর প্রবৃদ্ধি, প্রশস্ততা এবং বিশালতাও জানা যায়। সুতরাং তা সমগ্র জগতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হওয়া আবশ্যক; কারণ সসীম অংশসমূহের সমষ্টি কখনও অসীম হতে পারে না।
আরও কথা হলো, এর মধ্যে রয়েছে পবিত্র ও অপবিত্র, ছোট ও বড়, সুন্দর ও কুৎসিত, আলো ও অন্ধকার। এগুলো পরিবর্তন ও বিলুপ্তির নিদর্শন। আর পরিবর্তন ও বিলুপ্তির মধ্যে রয়েছে বিনাশ ও ধ্বংস। কারণ এটি সুবিদিত যে, সমন্বয় বা একীভূত হওয়া অস্তিত্বকে সুসংহত, শক্তিশালী ও মহিমান্বিত করে—যার প্রমাণ হলো বিস্তার; আর যখন তা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তখন তা বিলুপ্ত হয়। সুতরাং প্রমাণিত হলো যে, এটি নশ্বরতার নিদর্শন। আর যা নশ্বরতা বা ধ্বংস হওয়ার সম্ভাবনা রাখে, তা স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে অস্তিত্বশীল হতে পারে না।
আরও আবশ্যক হয় সূচনার সম্ভাবনা রাখা। যে ব্যক্তি বলে যে, এটি দৃষ্টি থেকে অদৃশ্য হয়ে যায় কিন্তু ধ্বংস হয় না, তার এই উক্তির কোনো অর্থ নেই; কেননা জগৎকে দর্শনের মাধ্যমেই জানা যায়, শুধু দলিলের মাধ্যমে নয়। এর মাধ্যমেই অনাদিত্বের দাবি করা হয়। অথচ আমি যা বর্ণনা করেছি তার দুর্বলতার কারণে সেই দাবি দূরীভূত হয়ে গেছে। বিনাশশীল জীবন এবং তার সত্তার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো শক্তি নেই।
এরই ভিত্তিতে যুক্তিপ্রমাণের পদ্ধতি পরিচালিত হয়। তাছাড়া কোনো বস্তু গতি অথবা স্থিতি থেকে মুক্ত নয় এবং এই দুটি একসাথে থাকাও সম্ভব নয়। ফলে এর সময়ের সমষ্টি থেকে গতির অর্ধেক এবং স্থিতির অর্ধেক বিলুপ্ত হয়। আর যার অর্ধেক রয়েছে, তা সসীম। উপরন্তু, যেহেতু অনাদিত্বে এই দুটি একত্রিত হওয়া সম্ভব নয়, তাই যেকোনো একটির নতুন হওয়া (সৃষ্টি হওয়া) আবশ্যক। আর উভয়ের অনাদিতে সৃষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা বাতিল হলে অন্যটির ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য হয়। এর মাধ্যমে সেই জিনিসের নতুন হওয়া প্রমাণিত হয়, যা থেকে জগৎ মুক্ত নয়।
আরও কথা হলো, প্রতিটি বস্তু হয় স্থায়ী স্থিতি, না হয় স্থায়ী গতি অথবা উভয়ের সংমিশ্রণ থেকে মুক্ত নয়। সেগুলোর যে অবস্থায় বস্তুটি থাকে, তাতে সে চালিত ও বশীভূত এবং অন্যের উপকারের নিমিত্তে তৈরি। আর যখন জগতের মৌলিক পদার্থগুলোর অবস্থা এমন হয়, যেগুলোকে জীবন দ্বারা গুণান্বিত করা যায় না, তখন প্রমাণিত হয় যে সেগুলো নশ্বর বা সৃষ্ট। কারণ সেগুলো স্বীয় সত্তার গুনাগুণ অনুযায়ী পরিচালিত নয়, বরং অন্যের বশীভূত হয়ে এবং অন্য কারও প্রয়োজনে ব্যবহৃত হওয়ার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। আর যখন এটি মূল পদার্থের ক্ষেত্রে প্রমাণিত হয়...
(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদ লিল মাতুরীদী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الْجَوَاهِر والأحياء الَّذين هم فِيهَا وَبهَا نقر وننتفع وهم مجبولون عَن الْحَاجَات وَالْمَنَافِع أَحَق بذلك وَالله الْمُوفق
وَدَلِيل آخر أَن الْعَالم لَا يَخْلُو من أَن يكون قَدِيما على مَا عَلَيْهِ أَحْوَاله من إجتماع وتفرق وحركة وَسُكُون وخبيث وَطيب وَحسن وقبيح وَزِيَادَة ونقصان وَهن حوادث بالحس وَالْعقل إِذْ لَا يجوز إجتماع الضدين فَثَبت التَّعَاقُب وَفِيه الْحَدث وَجَمِيع الْحَوَادِث تَحت الْكَوْن بعد أَن لم تكن فَكَذَلِك مَا لَا يَخْلُو عَنَّا وَلَا يسبقها أَو كَانَ إنْشَاء عَن أصل لَا بِهَذِهِ الصّفة أَو انْتقل إِلَيْهَا بإعتراضها فِيهِ فَإِن كَانَ ذَلِك ثَبت أَن هَذَا الْعَالم حَادث وَبَطل قَول من يُنكر الْحُدُوث وَإِن كَانَ غير هَذَا فَإِن كَانَ الأول هُوَ المنشئ لَهُ فَهُوَ قَوْلنَا هُوَ الْبَارِي وسموه هيولى وَإِن كَانَ على الإنتقال إِلَيْهِ فَذهب الأول وَصَارَ هَذَا غَيره فَهَذَا مُحدث بِمَا لم يكن هُوَ الأول وَالْأول مُحدث بِمَا هلك لما انْتقل إِلَى الثَّانِي مَعَ مَا لَا يكون شَيْء من شَيْء من أَن يكون مستجنا فِيهِ فَيظْهر أَو مُحدثا فِيهِ فيتولد وَيخرج أَو يتْلف الأول فَيكون الثَّانِي فَالْأول كَالْوَلَدِ وَالشَّيْء الْمَوْضُوع فِي الْوِعَاء ومحال كَون أَضْعَاف مَا فِيهِ فِيمَا هُوَ فِيهِ لذَلِك يبطل القَوْل بِكَوْن الْإِنْسَان من النُّطْفَة وَالشَّجر فِي الْحبّ وعَلى ذَلِك من يَقُول بالبروز بِالْقُوَّةِ مَعَ مَا كَانَ فِي ذَلِك إِيجَاب حدث ذَاته لِأَن الْقُوَّة عَلَيْهِ غَيره إِذْ هُوَ وجد بِالْفِعْلِ لَا بِالْقُوَّةِ أَو تلف الأول نَحْو النُّطْفَة ثمَّ النَّسمَة وَنَحْو ذَلِك فَيصير الأول هَالكا حَتَّى لَا يبْقى لَهُ الْأَثر وَالثَّانِي حَادِثا حَتَّى لم يبْق من الأول فِيهِ أثر وَفِي ذَلِك حدث الأول وَالثَّانِي
فَإِن قَالَ قَائِل إِذا جَازَ عنْدكُمْ بَقَاء الْأَعْيَان فِي الْآخِرَة بِمَا لَا يبْقى لم لَا جَازَ قدمهَا بِمَا لَا يتَقَدَّم
قيل لوجوه أَحدهَا للتناقض وَهُوَ أَن معنى الْحَدث هُوَ الْكَوْن بعد ان لم يكن فَمن لَا يسْبقهُ فَفِيهِ حَقِيقَة فَالْقَوْل فِيهِ بالقدم ينْقضه وَمعنى الْبَقَاء
বস্তুসমূহ এবং তার মধ্যে স্থিত জীবসমূহ, যাদের মাধ্যমে আমরা স্বীকৃতি প্রদান করি এবং উপকৃত হই এবং যারা অভাব ও উপকারের ওপর স্বভাবজাতভাবে সৃজিত, তারাই এর অধিক হকদার। আর আল্লাহই তাওফীকদাতা।
অন্য একটি দলিল হলো এই যে, জগত তার বর্তমান অবস্থাসমূহ যেমন—একত্রিত হওয়া, পৃথক হওয়া, গতিশীল হওয়া, স্থির থাকা, মন্দ ও উত্তম হওয়া, সুন্দর ও কুৎসিত হওয়া এবং বৃদ্ধি ও হ্রাস পাওয়া—এগুলো থেকে মুক্ত থাকা অসম্ভব। আর ইন্দ্রিয় ও বিবেকের বিচারে এগুলো হলো নবসৃষ্ট বিষয়, কারণ দুটি বিপরীত বিষয়ের একত্রে অবস্থান করা অসম্ভব। সুতরাং এগুলোর পর্যায়ক্রমিক উপস্থিতি সাব্যস্ত হলো এবং এতেই এর নবসৃষ্টির প্রমাণ রয়েছে। আর সকল নবসৃষ্ট বস্তুই অস্তিত্বহীন থাকার পর অস্তিত্ব লাভের অন্তর্ভুক্ত। অনুরূপভাবে যা আমাদের থেকে পৃথক নয় এবং যা তার (নবসৃষ্ট গুণাবলীর) পূর্বেও ছিল না; অথবা এটি এমন এক মূল থেকে সৃষ্ট যা এই গুণের অধিকারী ছিল না, অথবা এতে আপতিত গুণাবলীর কারণে এটি এই অবস্থায় রূপান্তরিত হয়েছে। যদি বিষয়টি এমন হয়, তবে প্রমাণিত হলো যে এই জগত নবসৃষ্ট এবং যারা জগত সৃষ্টি হওয়াকে অস্বীকার করে তাদের বক্তব্য বাতিল হয়ে গেল। আর যদি বিষয়টি এর ভিন্ন হয়—যদি আদি সত্তাই এর উদ্ভাবক হন, তবে এটিই আমাদের বক্তব্য যে তিনি হলেন স্রষ্টা, আর তারা একে 'হায়ুলা' বা আদি উপাদান বলে অভিহিত করেছে। আর যদি এটি রূপান্তরের মাধ্যমে হয়ে থাকে যে আদিটি বিলুপ্ত হয়েছে এবং এটি অন্য কিছুতে পরিণত হয়েছে, তবে এটি নবসৃষ্ট—যেহেতু এটি আদি সত্তার মতো নয়। আর আদি সত্তাটিও নবসৃষ্ট ছিল—যেহেতু দ্বিতীয়টিতে রূপান্তরিত হওয়ার সময় সেটি ধ্বংস হয়ে গেছে। কোনো বস্তু অন্য বস্তু থেকে হওয়ার অর্থ হয় সেটি তাতে সুপ্ত থেকে প্রকাশিত হওয়া, কিংবা তাতে নবসৃষ্ট হয়ে উৎপন্ন ও নির্গত হওয়া, অথবা প্রথমটি ধ্বংস হয়ে দ্বিতীয়টি অস্তিত্ব লাভ করা। প্রথমটি সন্তানের মতো অথবা পাত্রে রাখা বস্তুর মতো। আর কোনো আধারের ভেতর তার কয়েকগুণ বেশি কিছু থাকা অসম্ভব। একারণেই বীর্যের ভেতর সশরীরে মানুষ এবং বীজের ভেতর বৃক্ষ থাকার মতবাদ বাতিল হয়ে যায়। একই কথা তাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য যারা একে কেবল সুপ্ত ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করে, কারণ এতেও সত্তার নবসৃষ্টির আবশ্যকতা দেখা দেয়; যেহেতু কোনো বস্তুর ওপরকার 'ক্ষমতা' তার চেয়ে ভিন্ন বিষয়, কারণ বস্তুটি বাস্তবে অস্তিত্ব লাভ করেছে, কেবল সুপ্ত ক্ষমতায় নয়। অথবা প্রথমটি (যেমন বীর্য) বিলুপ্ত হয়ে দ্বিতীয়টি (যেমন মানুষ) সৃষ্টি হওয়া—এক্ষেত্রে প্রথমটি এমনভাবে বিলুপ্ত হয় যে তার কোনো চিহ্ন অবশিষ্ট থাকে না এবং দ্বিতীয়টি নতুনভাবে সৃষ্টি হয় যাতে প্রথমটির কোনো চিহ্ন থাকে না। আর এর মাধ্যমে প্রথম ও দ্বিতীয় উভয়েরই নবসৃষ্টি প্রমাণিত হয়।
যদি কোনো প্রশ্নকারী প্রশ্ন করে: আপনাদের নিকট যদি আখিরাতে সত্তাসমূহের স্থায়িত্ব এমন বিষয়ের মাধ্যমে সম্ভব হয় যা স্থায়ী নয়, তবে কেন সত্তাসমূহের অনাদিত্ব এমন বিষয়ের মাধ্যমে সম্ভব হবে না যা অনাদি নয়?
উত্তরে বলা হবে, এর কয়েকটি কারণ রয়েছে। প্রথমত: এটি স্ববিরোধী। কেননা নবসৃষ্টির অর্থই হলো অস্তিত্বহীন থাকার পর অস্তিত্ব লাভ করা। সুতরাং যার পূর্বে অস্তিত্বহীনতা নেই, নবসৃষ্টির হাকিকত বা বাস্তবতা তার মাঝেই বিদ্যমান। এমতাবস্থায় তাকে অনাদি বলা উক্ত ধারণাকেই খণ্ডন করে। আর স্থায়িত্বের অর্থ হলো...
(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদ লিল মাতুরীদী
(পৃষ্ঠা: ১৪)
هُوَ الْكَوْن فِي مُسْتَأْنف الْوَقْت مَعَه غير أَو لَا لذَلِك اخْتلفَا وَالثَّانِي أَن القَوْل بِالَّذِي ذكرت من الْبَقَاء إِنَّمَا هُوَ سَمْعِي فإمَّا أَن تسلم لي ذَلِك فَيجب حدث الْأَعْيَان لما بِهِ عَرفْنَاهُ أَو لَا تسلم فَيبْطل حجاجه بالسمعي على الْإِنْكَار بِهِ وَالله الْمُسْتَعَان
وَأَيْضًا إِن الشَّيْء إِذا لم يكن إِلَّا بِغَيْر يتقدمه وَذَلِكَ شَرط كل الأغيار فَيبْطل كَون الْجَمِيع وَلَا كَذَلِك أَمر الْبَقَاء أَلا يرى أَن من قَالَ لآخر لَا تَأْكُل شَيْئا حَتَّى تَأْكُل غَيره وَكَذَا كل غير فِيهِ ذَلِك الشَّرْط فبقى أبدا غير آكل وَلَو قَالَ كلما أكلت لقْمَة فَكل أُخْرَى فَهُوَ يبْقى أبدا فِي الْأكل فَمثله الأول وعَلى ذَلِك أَمر تضَاعف الْحساب إِنَّه إِذا لم يَجْعَل لَهُ ابْتِدَاء مِنْهُ يبْدَأ لَا يجوز وجود شَيْء مِنْهُ بتة وَإِذا حصل الْبِدَايَة يجوز أَن يبْقى فِيهِ فِيمَا يزِيد ثمَّ يزِيد دَائِما وَلَا قُوَّة إِلَّا بِاللَّه
مَعَ مَا يذكر أَوَائِل الْحساب فِي كل عدد إِذْ بِهِ بلغ ذَلِك وَلَا يذكر نهايتها لذَلِك اخْتلفَا
وَأَيْضًا أَنا لَو توهمنا أَن لَا جسم وَأَنه يجوز وجود عرض قبل عرض لم يجز وجود شَيْء مِنْهُ إِذْ لم يَجْعَل لَهُ أولية وإبتداء وَيجوز الْوُجُود أبدا بِلَا نِهَايَة لَهُ فَمثله مَا لَا يَخْلُو عَنهُ من الْأَعْرَاض وَالله الْمُوفق
وَأَيْضًا أَن كل حَرَكَة أَو إجتماع نشِير إِلَيْهِ هُوَ نِهَايَة مَا مضى من ذَلِك النَّوْع فمحال وجود نِهَايَة الْمَاضِي بِلَا إبتداء لَهُ وَلَا قُوَّة إِلَّا بِاللَّه
وَأَيْضًا أَن قد يُوصف جسم بِالْبَقَاءِ مَعَ بَقَاء وَاحِد وَإِن كَانَ ذَلِك الْبَقَاء لَا يبْقى وَلَا يُوصف جسم مَعَ حدث وَاحِد لَا يَخْلُو بِالْعدمِ عَنهُ فَكَذَلِك مَا كثر مِنْهُ على أَن حُدُوث الْبَقَاء فِي الْجِسْم هُوَ سَبَب إبقائه ويدوم بَقَاؤُهُ على دوَام
এটি হলো সময়ের নবসূচনায় তার সাথে অন্য কিছুর অস্তিত্ব থাকা বা না থাকা, যার কারণে তারা ভিন্ন হয়েছে। দ্বিতীয়ত, স্থায়িত্ব (বাকা) সম্পর্কে আপনি যা উল্লেখ করেছেন তা কেবল শ্রুতিগত (সাময়ী) দলীল নির্ভর। হয় আপনি আমার কাছে এটি স্বীকার করবেন, ফলে যে মাধ্যমে আমরা তা জানতে পেরেছি তার ভিত্তিতে বস্তুসমূহের (আ'ইয়ান) নব্যতা বা সৃষ্ট হওয়া (হুদুথ) আবশ্যক হবে; অথবা আপনি তা স্বীকার করবেন না, ফলে সেই শ্রুতিগত দলীলের মাধ্যমে অস্বীকারকারীর বিরুদ্ধে যুক্তি উপস্থাপন বাতিল হয়ে যাবে। আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি।
আরও বলা যায়, যদি কোনো বস্তু তার পূর্ববর্তী অন্য কোনো ভিন্ন বস্তু ব্যতীত অস্তিত্ব লাভ করতে না পারে এবং এটি যদি প্রতিটি ভিন্ন বস্তুর ক্ষেত্রে শর্ত হয়, তবে সকল কিছুর অস্তিত্বই অসম্ভব হয়ে পড়বে। কিন্তু স্থায়িত্বের (বাকা) বিষয়টি এমন নয়। আপনি কি লক্ষ্য করেন না যে, কেউ যদি অন্যকে বলে, "তুমি অন্য কিছু না খাওয়া পর্যন্ত কোনো কিছুই খাবে না", এবং প্রতিটি ভিন্ন খাবারের ক্ষেত্রে যদি এই একই শর্ত থাকে, তবে সে চিরকাল না খেয়েই থেকে যাবে। কিন্তু যদি সে বলে, "যখনই তুমি একটি লোকমা খাবে, তখনই আরেকটি খাবে", তবে সে চিরকাল খাওয়া চালিয়ে যেতে পারবে। প্রথম উদাহরণটি এর অনুরূপ। আর এ কারণেই গণনার সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টি এমন যে, যদি এর কোনো প্রারম্ভিক বিন্দু না থাকে যেখান থেকে শুরু হবে, তবে এর কোনো কিছুর অস্তিত্বই আদৌ সম্ভব নয়। আর যখন সূচনা অর্জিত হয়, তখন তাতে যা বৃদ্ধি পায় তা সর্বদা বৃদ্ধি পেতে থাকা সম্ভব। আর আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো শক্তি নেই।
এর সাথে গণনার শুরুর অংশগুলো প্রতিটি সংখ্যার ক্ষেত্রে উল্লেখ করা হয়, কারণ এর মাধ্যমেই তা ঐ সংখ্যায় পৌঁছেছে; কিন্তু এর শেষ সীমার কথা উল্লেখ করা হয় না, এ কারণেই তারা ভিন্ন হয়েছে।
আরও বলা যায়, আমরা যদি কল্পনা করি যে কোনো দেহ (জিসম) নেই এবং একটি গুণের (আরাজ) পূর্বে অন্য একটি গুণের অস্তিত্ব সম্ভব, তবে এর কোনো কিছুই অস্তিত্ব লাভ করতে পারবে না যতক্ষণ না তার জন্য কোনো প্রারম্ভিকতা ও সূচনা সাব্যস্ত করা হয়। অথচ কোনো শেষ সীমা ছাড়াই চিরকাল অস্তিত্বশীল থাকা সম্ভব। সুতরাং দেহ যে সমস্ত গুণ (আরাজ) থেকে মুক্ত হতে পারে না, সেগুলোর অবস্থাও তদ্রূপ। আর আল্লাহই তাওফীকদাতা।
আরও বলা যায়, আমরা যে কোনো গতি বা সম্মিলনের (ইজতিমা) দিকে ইঙ্গিত করি না কেন, তা সেই জাতীয় বিষয়ের অতীত অংশের সমাপ্তি মাত্র। সুতরাং প্রারম্ভ ব্যতীত অতীতের কোনো কিছুর সমাপ্তি ঘটা অসম্ভব। আর আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো শক্তি নেই।
আরও বলা যায়, কোনো দেহকে একটি মাত্র স্থায়িত্বের (বাকা) সাথে স্থায়িত্বের গুণে গুণান্বিত করা হতে পারে, যদিও সেই স্থায়িত্ব নিজে স্থায়ী হয় না। তবে কোনো দেহকে এমন একটি নব্যতা বা উৎপত্তির (হুদুথ) সাথে গুণান্বিত করা হয় না যা বিলুপ্ত না হয়ে বিদ্যমান থাকে। তদ্রূপ যার আধিক্য রয়েছে তার ক্ষেত্রেও একই কথা। তাছাড়া দেহে স্থায়িত্বের (বাকা) উদ্ভব হওয়াই তাকে অবশিষ্ট রাখার কারণ, এবং এর স্থায়িত্ব সর্বদা নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যমান থাকে।
(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদ লিল মাতুরীদী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
تتَابع الْبَقَاء فِيهِ وَلَا يجوز أَن يكون سَبَب قدم الْجِسْم حُدُوث عرض فِيهِ فَصَارَ هُوَ عديله وقرينه فَلذَلِك لَا يتقدمه وَالله الْمُوفق
وعارض بعض من يَقُول بِهَذَا لما لَا يُوجد الشَّيْء بِلَا لون ثمَّ لَا يجب أَن يكون لونا وَذَلِكَ لَا معنى لَهُ لما أَن الْحَدث هُوَ وصف الْكَوْن بعد أَن لم يكن فَإِذا وجد غَيره غير مُفَارقَة وَفِيه هَذَا الْوَصْف لزمَه هَذَا الحكم وَلَيْسَ اللَّوْن بلون لِمَعْنى يُوجد فِي المتلون بِهِ لذَلِك اخْتلفَا لَكِن جملَة الْجِسْم إِذْ لَا يَخْلُو من الألوان فَلَا يسبقها وَلَكِن يسْبق وَاحِدًا فواحدا وَكَذَلِكَ أَمر الإحداث
وَمن قَالَ لَا يعلم صنع شَيْء لَا من شَيْء فَهُوَ الْمُقدر بالموجود حسا والمعارف نَفسهَا خَارِجَة عَن الْحس وَكَذَلِكَ القَوْل بيجوز وَلَا يجوز وَكَذَلِكَ مَا يدعى من التَّفَرُّق لَا الْهَلَاك لَا نعرفه بالحس ثمَّ قَالَ بِهِ فَمثله مَا نَحن فِيهِ مَعَ مَا كَانَ فِيهِ عقل وَسمع وبصر وروح وَغير ذَلِك مِمَّا لَا يدرى مِم صنع فَذَلِك يمنعهُ القَوْل بِمَا قَالَ وَأَيْضًا إِنَّه إِذا يكن أحد يخبرنا عَن قدمه أَو كَانَ أزليا من جَوْهَر الْعَالم فَلَا وَجه للْعلم بِهِ إِلَّا بالإستدلال
ثمَّ لَا نعلم كِتَابَة بِلَا كَاتب وَلَا تفَرقا إِلَّا بمفرق وَكَذَلِكَ الإجتماع وَكَذَلِكَ السّكُون وَالْحَرَكَة فَيلْزم فِي جملَة الْعَالم ذَلِك إِذْ هُوَ مؤلف مفرق بل الأعجوبة فِي تأليف الْعَالم أرفع فَهُوَ أَحَق أَن لَا يتفرق وَلَا يجْتَمع إِلَّا بِغَيْرِهِ ثمَّ كل مَا فِي الشَّاهِد من التَّأْلِيف وَالْكِتَابَة يكون أحدث مِمَّن بِهِ كَانَ فَمثله جَمِيع الْعَالم إِذْ هُوَ فِي معنى مَا ذكرت وَبِاللَّهِ التَّوْفِيق
وَلَو تكلّف الإستقصاء فِي مثل هَذَا ليخرج عَن طوق الْبشر إِذْ مَا من شَيْء مِمَّا يحس أَو يسمع بِهِ من أَجزَاء الْعَالم إِلَّا وَدلَالَة حَدثهُ ظَاهِرَة من جَهله بإبتداء حَاله وبإصلاح مَا يفْسد أَو ينشيء مثله وعجزه عَمَّا بِهِ حفظ نَفسه أَو تقليبه عَن جوهره مَعَ مَا فِيهِ الْخَبيث والقبيح والذليل والمهان الَّذِي لَوْلَا تَدْبِير غَيره فِيهِ مَا احْتمل أَن يكون كَذَلِك وَبِاللَّهِ التَّوْفِيق
স্থায়িত্বের অনুক্রম এতে বিদ্যমান থাকে এবং দেহের অনাদিত্বের কারণ এতে কোনো আকস্মিক গুণের (আরায) সৃষ্টি হওয়া বৈধ নয়, যার ফলে তা তার সমকক্ষ ও সহচর হয়ে যায়; আর এই কারণে তা তার আগে অবস্থান করতে পারে না। আর আল্লাহই তাওফিকদাতা।
যারা এই কথা বলেন তাদের কেউ কেউ আপত্তি তুলেছেন যে, কোনো বস্তু যেহেতু রঙ ছাড়া পাওয়া যায় না, তাই এটি রঙ হওয়া আবশ্যক নয়। তবে এই আপত্তির কোনো অর্থ নেই; কেননা নবসৃষ্টি (হুদুস) হলো কোনো কিছু অস্তিত্বহীন থাকার পর অস্তিত্বশীল হওয়ার একটি অবস্থা। সুতরাং যখন অন্য কোনো বিষয় তাকে ছেড়ে যায় না এবং তাতে এই বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকে, তখন সেই বিধানটি তার ওপরও আবশ্যক হয়। রঙ নিজে কোনো রঙ নয় এমন কোনো গুণের কারণে যা রঙিন বস্তুর মধ্যে বিদ্যমান থাকে, সেই কারণেই তারা ভিন্ন ভিন্ন। কিন্তু যেহেতু দেহের সামগ্রিক রূপ রঙ থেকে মুক্ত নয়, তাই তা রঙগুলোর আগে থাকতে পারে না, তবে এটি একের পর এক বিষয়কে অতিক্রম করে। আর নবসৃষ্টির বিষয়টিও তদ্রূপ।
আর যে ব্যক্তি বলে যে, কোনো কিছু থেকে ছাড়া (শূন্য থেকে) কোনো বস্তু তৈরির বিষয় জানা যায় না, সে মূলত ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিদ্যমান বস্তুর নিরিখে তা পরিমাপ করে। অথচ জ্ঞানসমূহ নিজেই ইন্দ্রিয়ের ঊর্ধ্বে। একইভাবে কোনো কিছু জায়েয হওয়া বা না হওয়ার বিষয়টিও ইন্দ্রিয়বহির্ভূত। আর ধ্বংস নয় বরং বিচ্ছিন্ন হওয়ার যে দাবি করা হয়, তাও আমরা ইন্দ্রিয় দ্বারা জানতে পারি না। অতঃপর সে যখন এটি দাবি করে, তখন তার উদাহরণ হলো সেই বিষয়ের মতো যা নিয়ে আমরা আলোচনা করছি—যেমন বুদ্ধি, শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি, রুহ এবং অন্যান্য বিষয় যা কী দিয়ে তৈরি তা জানা যায় না। এই বিষয়গুলো তাকে তার অনুরূপ উক্তি করা থেকে বিরত রাখে। তদুপরি, যদি কেউ আমাদের এর অনাদিত্ব সম্পর্কে সংবাদ না দেয় অথবা এটি যদি জগতের মূল উপাদানের (জাওহার) মতো অনাদি হয়ে থাকে, তবে যুক্তিনির্ভর প্রমাণ (ইস্তিদলাল) ছাড়া এটি জানার কোনো উপায় নেই।
অতঃপর, আমরা লেখক ছাড়া কোনো লেখা জানি না, এবং বিচ্ছিন্নকারী ছাড়া কোনো বিচ্ছিন্নতা জানি না। একইভাবে একত্র হওয়া, স্থিতি এবং গতির বিষয়টিও। সুতরাং জগতের সামগ্রিক ক্ষেত্রেও এটি আবশ্যক, যেহেতু এটি সুবিন্যস্ত ও বিশ্লিষ্ট। বরং জগতের বিন্যাসের মধ্যকার বিস্ময়কর বিষয়টি আরও উচ্চতর। তাই অন্য কারো হস্তক্ষেপ ছাড়া এটি বিচ্ছিন্ন হওয়া বা একত্রিত না হওয়াই অধিক যুক্তিযুক্ত। অতঃপর দৃশ্যমান জগতে বিন্যাস ও লিখনের যা কিছু আছে তা যার মাধ্যমে তা অস্তিত্ব লাভ করেছে তার চেয়ে পরবর্তী সময়ের। সুতরাং সমগ্র জগতের অবস্থা তদ্রূপ, যেহেতু তা উল্লিখিত অর্থের অন্তর্ভুক্ত। আর আল্লাহর তাওফীকেই সকল কাজ সম্পন্ন হয়।
যদি এই জাতীয় বিষয়ে পূর্ণ অনুসন্ধানের চেষ্টা করা হয়, তবে তা মানুষের সাধ্যাতীত হয়ে পড়বে। কেননা জগতের অংশসমূহের মধ্য থেকে যা কিছু অনুভব করা যায় বা শোনা যায়, তার প্রত্যেকটির মধ্যেই তার নবসৃষ্টির (হুদুস) প্রমাণ সুস্পষ্ট। এটি প্রতীয়মান হয় তার অবস্থার সূচনা সম্পর্কে তার অজ্ঞতা থেকে, যা নষ্ট হয়ে যায় তা সংশোধন করতে না পারা থেকে, অথবা তার অনুরূপ কিছু সৃষ্টি করতে না পারা এবং নিজেকে রক্ষা করতে তার অক্ষমতা থেকে, অথবা তার মূল সত্তা (জাওহার) থেকে নিজেকে পরিবর্তন করতে না পারা থেকে। এছাড়া এতে মন্দ, কুৎসিত, হীন ও তুচ্ছ বিষয়সমূহ বিদ্যমান, যা অন্য কারো পরিচালনা ব্যতীত এমন হওয়া সম্ভব ছিল না। আর আল্লাহর তাওফীকেই সকল কাজ সম্পন্ন হয়।
(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদ লিল মাতুরীদী
(পৃষ্ঠা: ১৬)
ثمَّ مَعْلُوم أَن تكون الْحَرَكَة والسكون والإجتماع والتفرق غير الْجِسْم إِذْ قد يكون جسما مُتَفَرقًا يجْتَمع ومتحركا يسكن فَلَو كَانَ لنَفسِهِ يكون كَذَلِك لم يكن ليحتمل مضادات الْأَحْوَال على بَقَاء الْجِسْم بِحَالهِ وعَلى هَذَا يخرج الفناء والبقاء إِذْ قد يُوجد غير بَاقٍ وَلَا فان فِي أَوْقَات فَيلْزم أَن يكون غَيره وَكَذَلِكَ من أَرَادَ بَقَاء الشَّيْء أَو فناءه يقْصد إِلَى غير الْوَجْه الَّذِي يقْصد بِالْآخرِ ثَبت أَنَّهُمَا غيران يحلان
وَكثير من الْمُعْتَزلَة يَقُولُونَ بِهَذَا فِي الأول ويأبون فِي الْبَقَاء والفناء مَعَ مَا يبطل قَوْلهم إِذْ كَانَ مُخْتَلفا بِنَفسِهِ فِي إحتمال ذَلِك وَلَو جَازَ ذَلِك وَجَاز بَقَاء الْأَجْسَام بأنفسها لجَاز كَونهَا لَا بِغَيْر على أَن هَذَا بالمعتزلة أولى لأَنهم لَا يجْعَلُونَ من الله إِلَى جملَة الْعَالم غير الْعَالم بِهِ كَانَ الْعَالم إِذْ الْإِرَادَة يجعلونها من الْعَالم وَالْفِعْل كَذَلِك وذاته كَانَ مَوْجُودا عِنْدهم وَلم يكن الْعَالم وَلم يحدث شَيْء سوى كَون الْعَالم فَإِذا كَانَ بِنَفسِهِ وَبِه يبْقى وَفِي ذَلِك فَسَاد التَّوْحِيد وَلَا قُوَّة إِلَّا بِاللَّه
ثمَّ قد ثَبت التغاير وَاخْتلف أهل الْكَلَام فِي مائية اسْم ذَلِك فَمنهمْ من يُسَمِّيه عرضا وَمِنْهُم من يُسَمِّيه صفة وَحقّ هَذِه الْمَسْأَلَة التَّسْلِيم لما يجْرِي الإصطلاح بِهِ لما يُرَاد بِالتَّسْمِيَةِ والتعريف وإفهام المُرَاد فَأَي شَيْء يعْمل ذَلِك كفى وَلَا يعرف الإسم بِالْعقلِ وَالْقِيَاس كَذَلِك قَوْلنَا فِي تخطئة قَول الكعبي إِنَّه لما ثَبت أَنه لَيْسَ بجسم بَان أَنه عرض
অতঃপর এটি সুবিদিত যে, গতি, স্থিতি, সম্মিলন এবং পৃথকীকরণ দেহের সত্তা হতে ভিন্ন বিষয়; কেননা দেহ কখনো পৃথক অবস্থায় থাকে যা পরে সম্মিলিত হয়, আবার কখনো গতিশীল অবস্থায় থাকে যা পরে স্থির হয়। যদি এই বৈশিষ্ট্যগুলো দেহের অপরিহার্য সত্তাগত বিষয় হতো, তবে দেহের স্থায়িত্ব বজায় থাকা অবস্থায় তা পরস্পরবিরোধী অবস্থাসমূহ ধারণ করতে সক্ষম হতো না। এরই ভিত্তিতে ধ্বংস ও স্থায়িত্বের বিষয়টিও পৃথক হয়ে যায়; কারণ কোনো সময় তা স্থায়ী বা ধ্বংসশীল হওয়া ব্যতীতও বিদ্যমান থাকতে পারে, ফলে এটি প্রমাণিত হয় যে এগুলো বস্তু থেকে ভিন্নতর বিষয়। তদ্রূপ, যিনি কোনো বস্তুর স্থায়িত্ব অথবা ধ্বংস কামনা করেন, তিনি একটি অবস্থার পরিবর্তে ভিন্ন একটি অবস্থাকেই উদ্দেশ্য করেন। এর দ্বারা সাব্যস্ত হলো যে, এই উভয়টি ভিন্ন বিষয় যা বস্তুর ওপর আপতিত হয়।
মুতাযিলাদের অনেকে প্রথমোক্ত বিষয়ের ক্ষেত্রে এই কথা বললেও স্থায়িত্ব ও ধ্বংসের ক্ষেত্রে তা অস্বীকার করে। অথচ তাদের এই দাবি অসার; কারণ বিপরীতমুখী অবস্থা গ্রহণের যোগ্যতার বিচারে এই উভয়টি একই প্রকারের। যদি দেহের পক্ষে নিজ সত্তার মাধ্যমে স্থায়ী হওয়া সম্ভব হতো, তবে অন্য কিছুর কারণ ছাড়াই তার অস্তিত্ব বজায় রাখাও সম্ভব হতো। বস্তুত মুতাযিলাদের জন্য এই কথা বলাই অধিক সংগত, কারণ তারা জগত সৃষ্টির ক্ষেত্রে আল্লাহর পক্ষ হতে জগত ব্যতিরেকে অন্য কোনো বিষয়কে সাব্যস্ত করে না। কেননা তারা ইচ্ছাকে জগতেরই অংশ মনে করে এবং কর্মকেও তদ্রূপ গণ্য করে। তাদের মতে আল্লাহর সত্তা বিদ্যমান ছিল এবং তখন জগতের কোনো অস্তিত্ব ছিল না, আর জগতের অস্তিত্ব লাভের বাইরে নতুন কিছু সংঘটিত হয়নি। সুতরাং জগত যদি নিজ সত্তার মাধ্যমে বিদ্যমান ও স্থায়ী হয়, তবে তাতে তাওহীদের বিপর্যয় ঘটে। আর আল্লাহ ব্যতীত কোনো শক্তি নেই।
অতঃপর এই ভিন্নতা প্রমাণিত হওয়ার পর ইলমুল কালামের বিশেষজ্ঞগণ এর নামকরণের স্বরূপ নিয়ে মতভেদ করেছেন। তাদের মধ্যে কেউ একে ‘আরায’ (আকস্মিক গুণ) এবং কেউ একে ‘সিফাত’ (গুণ) হিসেবে অভিহিত করেছেন। এই বিষয়ের দাবি হলো, কোনো নাম প্রদান, সংজ্ঞায়ন ও উদ্দেশ্য বুঝানোর ক্ষেত্রে প্রচলিত পরিভাষাকে গ্রহণ করা। যা দ্বারা উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায় তা-ই যথেষ্ট। বুদ্ধি বা কিয়াসের মাধ্যমে নাম নির্ধারণ করা যায় না। তদ্রূপ কাবীর মতবাদকে ভ্রান্ত প্রমাণের ক্ষেত্রে আমাদের বক্তব্য হলো যে, যখন এটি সাব্যস্ত হলো যে তিনি দেহ নন, তখন এটি স্পষ্ট হলো যে তা একটি ‘আরায’।
(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদ লিল মাতুরীদী
(পৃষ্ঠা: ১৭)
قَالَ أَبُو مَنْصُور رحمه الله وَإِنَّمَا يجب ذَلِك إِذا سلم أَن مَا سوى الْجِسْم من الْخلق عرض وَفِي كتاب الله تَسْمِيَة الْعرض على إِرَادَة أعين الْأَشْيَاء كَقَوْلِه تَعَالَى {تُرِيدُونَ عرض الدُّنْيَا} وَقَوله {لَو كَانَ عرضا قَرِيبا} فعلى هَذَا تَسْمِيَة ذَلِك صفة أقرب إِلَى الْأَسْمَاء الإسلامية وَلَا قُوَّة إِلَّا بِاللَّه
الدَّلِيل على أَن للْعَالم مُحدثاقَالَ أَبُو مَنْصُور رحمه الله ثمَّ الدَّلِيل على أَن للْعَالم مُحدثا أَنه ثَبت حَدثهُ بِمَا بَينا وَبِمَا لَا يُوجد شَيْء مِنْهُ فِي الشَّاهِد يجْتَمع بِنَفسِهِ وَيفرق ثَبت أَن ذَلِك كَانَ بِغَيْرِهِ وَالله الْمُوفق
وَالثَّانِي أَن الْعَالم لَو كَانَ بِنَفسِهِ لم يكن وقتا أَحَق بِهِ من وَقت وَلَا حَال أولى بِهِ من حَال وَلَا صفة أليق بِهِ من صفة وَإِذا كَانَ على أَوْقَات وأحوال وصفات مُخْتَلفَة ثَبت أَنه لم يكن بِهِ وَلَو كَانَ لجَاز أَن يكون كل شَيْء لنَفسِهِ أحوالا هِيَ أحسن الْأَحْوَال وَالصِّفَات وَخَيرهَا فَيبْطل بِهِ الشرور والقبائح فَدلَّ وجود ذَلِك على كَونه بِغَيْرِهِ وَالله الْمُوفق
وَأَيْضًا أَن الْعَالم نَوْعَانِ حَيّ وميت وكل حَيّ جَاهِل بإبتدائه عَاجز عَن إنْشَاء مثله وَإِصْلَاح مَا فسد مِنْهُ وَقت قوته وكماله فَثَبت أَنه كَانَ بِغَيْرِهِ وَالْمَيِّت أَحَق بذلك
وَأَيْضًا أَن الْعَالم لَا يَخْلُو كل عين مِنْهُ إِلَى مَا يحْتَملهُ من الْأَعْرَاض قهرا وَمَا اعْتَرَضَهُ من الْأَعْرَاض لَا قيام لَهَا وَلَا وجود دونه فَثَبت بذلك دُخُول كل وَاحِد مِنْهُمَا تَحت حَاجَة الآخر فَيبْطل أَن يكون بِنَفسِهِ مُحْتَاجا إِلَى غير بِهِ يُوجد وَيقوم وَلَا قُوَّة إِلَّا بِاللَّه
আবু মনসুর (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) বলেছেন: আর এটি তখনই আবশ্যক হয় যখন এটি মেনে নেওয়া হয় যে সৃষ্টি জগতের যা কিছু শরীর নয় তা হলো আরজ (আকস্মিক গুণ)। আর আল্লাহর কিতাবে বস্তুর মূল সত্তা বোঝানোর উদ্দেশ্যে 'আরজ' শব্দের প্রয়োগ রয়েছে, যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: "তোমরা দুনিয়ার নশ্বর সামগ্রী কামনা করছ" এবং তাঁর বাণী: "যদি তা নিকটবর্তী কোনো নশ্বর সামগ্রী হতো"। অতএব, এই প্রেক্ষিতে সেটিকে 'সিফাত' (গুণ) হিসেবে অভিহিত করা ইসলামি পরিভাষাগুলোর অধিকতর নিকটবর্তী। আর আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো শক্তি নেই।
জগতের যে একজন উদ্ভাবক রয়েছেন তার প্রমাণআবু মনসুর (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) বলেছেন: অতঃপর জগৎ যে নতুন সৃষ্ট, তার প্রমাণ হলো যে আমরা যা বর্ণনা করেছি তার মাধ্যমে এর নতুনত্ব সাব্যস্ত হয়েছে। এছাড়া দৃশ্যমান জগতে এমন কিছুই পাওয়া যায় না যা নিজে নিজে একত্রিত হয় বা পৃথক হয়; যা থেকে প্রমাণিত হয় যে তা অন্য কোনো সত্তার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। আর আল্লাহই তৌফিকদাতা।
দ্বিতীয়ত, জগৎ যদি নিজে নিজেই অস্তিত্ব লাভ করত, তবে কোনো একটি সময় অন্য সময়ের চেয়ে এর জন্য অধিক উপযুক্ত হতো না, কোনো একটি অবস্থা অন্য অবস্থার চেয়ে অধিক অগ্রাধিকার পেত না এবং কোনো একটি গুণ অন্য গুণের চেয়ে অধিক মানানসই হতো না। যেহেতু এটি বিভিন্ন সময়, অবস্থা ও বৈচিত্র্যময় গুণের ওপর বিদ্যমান, তাই প্রমাণিত হয় যে এটি নিজে নিজে অস্তিত্ব লাভ করেনি। যদি তা নিজে নিজেই হতো, তবে প্রতিটি বস্তুর জন্য নিজের ক্ষেত্রে সর্বোত্তম অবস্থা ও গুণাবলী এবং শ্রেষ্ঠ বৈশিষ্ট্যগুলো গ্রহণ করা সম্ভব হতো, যার ফলে সকল মন্দ ও কদর্যতা বিলুপ্ত হতো। সুতরাং এগুলোর বিদ্যমানতা প্রমাণ করে যে জগতের অস্তিত্ব অন্য কারও মাধ্যমে হয়েছে। আর আল্লাহই তৌফিকদাতা।
আরও কথা হলো, জগৎ দুই প্রকার: জীবন্ত ও মৃত। প্রত্যেক জীবন্ত সত্তাই তার সূচনালগ্ন সম্পর্কে অজ্ঞাত এবং নিজের অনুরূপ কিছু সৃষ্টি করতে কিংবা পূর্ণ শক্তি ও পূর্ণতার সময়েও নিজের কোনো ত্রুটি সংশোধন করতে অক্ষম। সুতরাং প্রমাণিত হলো যে তা অন্য কারও মাধ্যমে অস্তিত্ব লাভ করেছে; আর মৃত বস্তুর ক্ষেত্রে এটি আরও বেশি প্রযোজ্য।
আরও বিষয় হলো, জগতের প্রতিটি বস্তুগত সত্তা তার ওপর আপতিত বিভিন্ন আরজ (আকস্মিক গুণাবলী) ধারণ করতে বাধ্য। আর যেসব আরজ বস্তুর ওপর আপতিত হয়, বস্তু ছাড়া সেগুলোর কোনো স্থিতি বা অস্তিত্ব নেই। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, তাদের প্রত্যেকেই একে অপরের মুখাপেক্ষী। সুতরাং যা অন্য কিছুর মুখাপেক্ষী হয়ে অস্তিত্ব লাভ করে ও টিকে থাকে, তার নিজে নিজে অস্তিত্বমান হওয়া অসম্ভব। আর আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো শক্তি নেই।
(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদ লিল মাতুরীদী
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وَأَيْضًا أَن كل عين مَا اجْتمع فِيهِ الطبائع المتضادة الَّتِي من طبعها التنافر لم يجز أَن يكون بِنَفسِهِ يجْتَمع ثَبت أَن لَهُ جَامعا وَالله الْمُوفق
وَأَيْضًا أَن كل عين مُحْتَاج إِلَى آخر بِهِ يقوم وَيبقى من الأغذية وَغَيرهَا مِمَّا لَا يحْتَمل أَن يبلغ علمه مَا بِهِ بَقَاؤُهُ أَو كَيفَ يسْتَخْرج ذَلِك ويكتسب فَثَبت أَنه بعليم حَكِيم لَا بِنَفسِهِ وَبِاللَّهِ النجَاة والعصمة
وَأَيْضًا أَنه لَو كَانَ بِنَفسِهِ لَكَانَ يبْقى بِهِ وَيكون على حد وَاحِد فَلَمَّا لم يملك دلّ على أَنه كَانَ بِغَيْرِهِ
وَأَيْضًا لَا يَخْلُو كَونه بِنَفسِهِ من أَن كَانَ بعد الْوُجُود فَيبْطل كَونه بِهِ لما كَانَ مَوْجُودا بِغَيْرِهِ أَو قبله وَمَا هُوَ قبله كَيفَ يُوجد نَفسه مَعَ مَا لَو كَانَ بِهِ قبل الْوُجُود لتوهم أَن لايوجد فَيكون عديما فَاعِلا وَذَلِكَ محَال وَيشْهد لما ذكرنَا أَمر الْبناء وَالْكِتَابَة والسفن أَنه لَا يجوز كَونهَا إِلَّا بفاعل مَوْجُود فَمثله مَا نَحن فِيهِ وَبِاللَّهِ التَّوْفِيق
قَالَ أَبُو مَنْصُور رحمه الله وأصل ذَلِك أَنه لَا يعاني مِنْهُ شَيْء إِلَّا فِيهِ حِكْمَة عَجِيبَة وَدلَالَة بديعة مِمَّا يعجز الْحُكَمَاء عَن إِدْرَاك مَا ئيته وَكَيْفِيَّة خُرُوجه على مَا خرج وَعلم كل أحد مِنْهُم بقصور على مَا عِنْده من الْحِكْمَة وَالْعلم عَن إِدْرَاك كنه ذَلِك فَهَذِهِ الضَّرُورَة وَغَيرهَا دلَالَة حِكْمَة مبدعها وخالقها وَلَا قُوَّة إِلَّا بِاللَّه
وَأَيْضًا أَنه لَو جَازَ أَن يكون الْعَالم يبْدَأ من قبل نَفسه بمره لجائز أَن يذهب كُله بِمرَّة فَإِذا لم يكن بل كَانَ على الإختلاف حَتَّى لم يكن تخْتَلف عَلَيْهِ الْأَحْوَال إِلَّا بالأغيار نَحْو حَيّ يَمُوت ومتفرق يجْتَمع وصغير يكبر وخبيث يطيب أبدا يتَغَيَّر بأغيار تحدث فعلى ذَلِك جملَته لَا يحْتَمل أَن يكون لَا بِغَيْرِهِ وَلَو جَازَ ذَا لجَاز أَن تَتَغَيَّر ألوان الثَّوْب بِنَفسِهِ لَا بأصباغ أَو السَّفِينَة تصير
আরও বিষয় এই যে, প্রতিটি সত্তা যাতে বিপরীতধর্মী স্বভাবসমূহ একত্রিত হয়েছে—যে স্বভাবগুলোর ধর্মই হলো পরস্পর থেকে বিমুখ থাকা—তা নিজ থেকে একত্রিত হওয়া সম্ভব নয়। এতে প্রমাণিত হয় যে, সেগুলোর একজন একত্রকারী রয়েছেন। আর আল্লাহই তাওফীকদাতা।
আরও বিষয় এই যে, প্রতিটি সত্তা টিকে থাকার ও অবশিষ্ট থাকার জন্য অন্য কিছুর মুখাপেক্ষী, যেমন খাদ্য ও অন্যান্য সামগ্রী। যার জন্য এটা সম্ভব নয় যে তার জ্ঞান সেই পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছাবে যা দ্বারা তার স্থায়িত্ব নিশ্চিত হয় অথবা কীভাবে তা আহরণ ও অর্জন করা যায়। সুতরাং প্রমাণিত হলো যে, সে এক মহাজ্ঞানী ও প্রজ্ঞাময় সত্তার মাধ্যমেই বিদ্যমান, নিজের দ্বারা নয়। আর আল্লাহর কাছেই মুক্তি ও নিরাপত্তা।
আরও বিষয় এই যে, যদি সে নিজ থেকেই বিদ্যমান হতো, তবে সে নিজের মাধ্যমেই টিকে থাকত এবং এক অবস্থায় অটল থাকত। যেহেতু সে এর অধিপতি নয়, তাই এটি প্রমাণ করে যে সে অন্য কারো মাধ্যমে বিদ্যমান।
আরও বিষয় এই যে, তার নিজ থেকে অস্তিত্বমান হওয়া দুটি অবস্থার বাইরে নয়: হয় তা অস্তিত্ব লাভের পরে হয়েছে, তবে নিজের দ্বারা অস্তিত্বমান হওয়ার বিষয়টি বাতিল হয়ে যায় যেহেতু সে অন্য কারো দ্বারা অস্তিত্ব লাভ করেছে; অথবা অস্তিত্ব লাভের আগে হয়েছে। আর যা অস্তিত্বের পূর্বে তা কীভাবে নিজেকে অস্তিত্ব দান করবে? তদুপরি, যদি অস্তিত্ব লাভের আগে সে নিজের দ্বারা হতো, তবে কল্পনা করা যেত যে সে অস্তিত্বহীন ছিল, ফলে সে একজন 'অস্তিত্বহীন কর্তা' হিসেবে গণ্য হতো, যা অসম্ভব। আমরা যা উল্লেখ করেছি তার প্রমাণ হলো দালানকোঠা নির্মাণ, লিখন এবং জাহাজের বিষয়সমূহ, যা একজন বিদ্যমান কর্তা ছাড়া হওয়া সম্ভব নয়। আমরা যে বিষয়ে আলোচনা করছি তার উদাহরণও অনুরূপ। আর আল্লাহর নিকট থেকেই তাওফীক প্রার্থিত।
আবু মনসুর (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: এর মূল ভিত্তি হলো এই যে, যা কিছুই প্রত্যক্ষ করা হয়, তার প্রতিটির মাঝেই রয়েছে বিস্ময়কর হিকমত এবং চমৎকার নিদর্শন, যার স্বরূপ এবং যেভাবে তা প্রকাশ পেয়েছে তা উপলব্ধি করতে প্রাজ্ঞ ব্যক্তিগণও অক্ষম। তাদের প্রত্যেকেই নিজের হিকমত ও জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও এর গূঢ় রহস্য উপলব্ধি করার ক্ষেত্রে নিজের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে অবগত। সুতরাং এই আবশ্যকতা এবং অন্যান্য বিষয়সমূহ এর উদ্ভাবক ও স্রষ্টার প্রজ্ঞার নিদর্শন। আর আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো শক্তি নেই।
আরও বিষয় এই যে, যদি জগৎ একবারে নিজ থেকে শুরু হওয়া সম্ভব হতো, তবে তা একবারে বিলুপ্ত হওয়াও সম্ভব হতো। যেহেতু বিষয়টি তা নয়, বরং এটি বৈচিত্র্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত, এমনকি এর অবস্থাগুলোর পরিবর্তনও বাহ্যিক প্রভাবক ছাড়া ঘটে না—যেমন জীবিতের মৃত্যু হওয়া, বিচ্ছিন্ন জিনিসের একত্রিত হওয়া, ছোট থেকে বড় হওয়া এবং অপবিত্রের পবিত্র হওয়া—যা সর্বদা আগন্তুক প্রভাবকের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়। সুতরাং এর সামগ্রিক অবস্থা অন্য কারো মাধ্যম ছাড়া হওয়া সম্ভব নয়। যদি এটি সম্ভব হতো, তবে রঞ্জক দ্রব্য ছাড়াই কাপড়ের রঙ নিজ থেকে পরিবর্তিত হওয়া কিংবা জাহাজের তৈরি হওয়া সম্ভব হতো...
(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদ লিল মাতুরীদী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
على مَا هِيَ عَلَيْهَا بذاتها فَإِذا لم تكن وَلَا بُد من عليم ينشئها قدير بِهِ يكون فَكَذَلِك مَا نَحن فِيهِ وَبِاللَّهِ التَّوْفِيق
وَيبعد أَيْضا كَون الْعَالم بِنَفسِهِ بِمَا فِيهِ من دلَالَة الْعلم بِمَا هُوَ عَلَيْهِ وَالْقُدْرَة عَلَيْهِ ومحال وجود مثله بعاجز جَاهِل فَكيف بالمعدوم الفاني وَبِاللَّهِ التَّوْفِيق
وَدلَالَة كَون الْعَالم لَا من شَيْء هِيَ حدوثها وَقد بَينا ذَلِك
مَسْأَلَة مُحدث الْعَالم وَاحِد قَالَ أَبُو مَنْصُور رحمه الله وَالدّلَالَة أَن مُحدث الْعَالم وَاحِد لَا أَكثر السّمع وَالْعقل وَشَهَادَة الْعَالم بالخلقة فَأَما السّمع فَهُوَ اتِّفَاق القَوْل على إختلافهم على الْوَاحِد إِذْ من يَقُول بِالْأَكْثَرِ يَقُول بِهِ على أَن الْوَاحِد اسْم لإبتداء الْعدَد وَاسم للعظمة وَالسُّلْطَان والرفعة وَالْفضل كَمَا يُقَال فلَان وَاحِد الزَّمَان ومنقطع القرين فِي الرّفْعَة وَالْفضل والجلال وَمَا جَاوز ذَلِك لَا يحْتَمل غير الْعدَد والأعداد لَا نِهَايَة لَهَا من حَيْثُ الْعدَد وَفِي تَحْقِيق مَا يعد يخرج عَن النِّهَايَة الْعدَد فَيجب أَن يكون الْعَالم غير متناه إِذْ لَو كَانَ من كل مِنْهُم شَيْء وَاحِد فَيخرج الْجُمْلَة عَن التناهي بِخُرُوج الْمُحدثين وَذَلِكَ بعيد ثمَّ مَا من عدد يشار إِلَيْهِ إِلَّا وَأمكن من الدَّعْوَى أَن يُزَاد عَلَيْهِ وَينْقص مِنْهُ فَلم يجب القَوْل بِشَيْء لما لَا حَقِيقَة لذَلِك بِحَق الْعدَد لَا يُشَارك فِيهِ غَيره لذَلِك بَطل القَوْل بِهِ وَبِاللَّهِ التَّوْفِيق
এটি আপন সত্তাগতভাবে যে অবস্থায় আছে সেভাবেই বিদ্যমান। সুতরাং যদি এমন হওয়া সম্ভব না হয়, তবে অবশ্যই এমন একজন সর্বজ্ঞাত থাকা আবশ্যক যিনি একে সৃষ্টি করেন এবং এমন একজন সর্বশক্তিমান প্রয়োজন যার মাধ্যমে এটি অস্তিত্ব লাভ করে। আমরা যে বিষয়ে আলোচনা করছি তার বিষয়টিও তদ্রূপ। আর আল্লাহর পক্ষ থেকেই তাওফিক লাভ হয়।
এটিও অসম্ভব যে জগৎ নিজেই নিজেকে সৃষ্টি করেছে, কারণ এর মাঝে বিদ্যমান জ্ঞান এবং ক্ষমতার প্রমাণাদি এর বর্তমান অবস্থার সাক্ষ্য দেয়। একজন অক্ষম ও মূর্খ সত্তার পক্ষ থেকে এমন কিছুর অস্তিত্ব লাভ করা অসম্ভব; তাহলে যা একেবারেই অস্তিত্বহীন ও নশ্বর, তার ক্ষেত্রে এটি কীভাবে সম্ভব? আর আল্লাহর পক্ষ থেকেই তাওফিক লাভ হয়।
জগৎ যে কোনো কিছু থেকেই (অনস্তিত্ব থেকে) অস্তিত্ব লাভ করেছে তার প্রমাণ হলো এর নবসৃষ্ট হওয়া, যা আমরা ইতিপূর্বে বর্ণনা করেছি।
মাসআলা: জগতের উদ্ভাবক একজন আবু মনসুর রহিমাহুল্লাহ বলেন, জগতের উদ্ভাবক যে একজন, একাধিক নন, তার প্রমাণ হলো ওহী (নকলি দলিল), আকল (যুক্তি) এবং সৃষ্টির গঠনশৈলীর মাধ্যমে জগতের সাক্ষ্য। ওহী বা শ্রুত প্রমাণের বিষয়টি হলো, মানুষের মাঝে নানা মতভেদ থাকা সত্ত্বেও 'এক' সত্তার বিষয়ে তাদের বক্তব্যের ঐকমত্য। কারণ যারা একাধিকের কথা বলে, তারাও 'এক' শব্দটিকে সংখ্যার সূচনা হিসেবে অথবা মাহাত্ম্য, রাজত্ব, উচ্চ মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের নাম হিসেবে ব্যবহার করে। যেমন বলা হয়ে থাকে: অমুক ব্যক্তি তার সময়ের অদ্বিতীয় এবং মর্যাদা, শ্রেষ্ঠত্ব ও মহিমায় তার কোনো সমকক্ষ নেই। আর যা এর ঊর্ধ্বে তা কেবল সংখ্যাকেই নির্দেশ করে, অথচ সংখ্যার দিক থেকে সংখ্যার কোনো শেষ নেই। যখন গণনাকৃত বিষয়ের স্বরূপ অনুসন্ধান করা হয়, তখন তা সংখ্যার সীমাবদ্ধতাকে ছাড়িয়ে যায়। এমতাবস্থায় জগৎকে অসীম হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে; কারণ যদি তাদের প্রত্যেকের পক্ষ থেকে একটি করেও বস্তু থাকত, তবে উদ্ভাবকদের অসীমতার কারণে তাদের সমষ্টিও অসীম হয়ে যেত। আর বিষয়টি অত্যন্ত অবাস্তব। তদুপরি, এমন কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যার দিকে ইঙ্গিত করা সম্ভব নয় যেটিতে বাড়ানো বা কমানোর অবকাশ নেই। সুতরাং এমন কোনো সংখ্যার প্রবক্তা হওয়া আবশ্যক নয় যার সংখ্যার বিচারে কোনো প্রকৃত বাস্তবতা নেই এবং যাতে অন্য কেউ অংশীদার হতে পারে না। এই কারণেই সেই মতবাদটি বাতিল গণ্য হয়েছে। আর আল্লাহর পক্ষ থেকেই তাওফিক লাভ হয়।
(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদ লিল মাতুরীদী
(পৃষ্ঠা: ২০)
وَبعد فَإِنَّهُ لم يذكر عَن غير الْإِلَه الَّذِي يعرفهُ أهل التَّوْحِيد دَعْوَى الإلهية وَالْإِشَارَة إِلَى أثر فعل مِنْهُ يدل على ربوبيته وَلَا وجد فِي شَيْء معنى أمكن إِخْرَاجه عَن حمله وَلَا بعث رسلًا بِالْآيَاتِ الَّتِي تقهر الْعُقُول ويبهر لَهَا فَتثبت أَن القَوْل بذلك خيال ووسواس
وَأَيْضًا مَجِيء الرُّسُل بِالْآيَاتِ الَّتِي يضْطَر من شَهِدَهَا أَنَّهَا فعل من لَو كَانَ مَعَه شريك ليمنعهم عَن إظهارها إِذْ بذلك إبِْطَال ربوبيتهم وألوهيتهم فَإِذا لم يُوجد وَلَا منعُوا عَن ذَلِك مَعَ كَثْرَة المكابرين لَهُم والعاندين مِمَّن لَو أَحبُّوا وجود الإبصار لَهُم فِي إِظْهَار آياتهم لوجدوا فَثَبت أَن ذَلِك إِنَّمَا سلم للرسل لما لم يكن الْإِلَه الْحق والخالق لِلْخلقِ غير الْوَاحِد القهار الَّذِي قهر كل متعنت مكابر عَن التمويه فضلا من التَّحْقِيق وَلَا قُوَّة إِلَّا بِاللَّه
ثمَّ دلَالَة الْعقل أَنه لَو كَانَ أَكثر من وَاحِد مَا احْتمل وجود الْعَالم إِلَّا بالإصطلاح وَفِي ذَلِك فَسَاد الربوبية وَمعنى آخر أَن كل شَيْء يُرِيد اُحْدُ مِمَّن ينْسب إِلَيْهِ إثْبَاته يُرِيد الآخر نَفْيه وَمَا يُرِيد أَحدهمَا إيجاده يُرِيد الآخر إعدامه وَكَذَلِكَ فِي الْإِبْقَاء والإفناء وَفِي ذَلِك تنَاقض وتناف فَدلَّ الْوُجُود على مُحدث الْعَالم وَاحِد تَدْبيره
مَعَ مَا كَانَ الْأَمر الْمُعْتَاد بَين الْمُلُوك بذل الوسع مِنْهُم فِي قهر أشكالهم ليَكُون الْملك للقاهر وَمنع كل مِنْهُم غَيره عَن إِنْفَاذ حكمه وَإِظْهَار سُلْطَانه مَا اسْتَطَاعَ فَإذْ لم يكن بل نفذ سُلْطَان الْعَزِيز الْحَكِيم ثَبت أَنه الْوَاحِد وَهَذَا تَأْوِيل قَوْله {قل لَو كَانَ مَعَه آلِهَة كَمَا يَقُولُونَ إِذا لابتغوا إِلَى ذِي الْعَرْش سَبِيلا} وَالْأول على مَا أودع قَوْله {لَو كَانَ فيهمَا آلِهَة إِلَّا الله لفسدتا}
وَأَيْضًا أَنه لَو كَانَ مَعَ الله إِلَه لأظهر الآخر حكمته وَفصل فعله من فعل
অতঃপর, তাওহিদপন্থীরা যে ইলাহকে চেনেন তিনি ছাড়া অন্য কারো পক্ষ থেকে ইলাহ হওয়ার দাবি অথবা তাঁর রুবুবিয়াতের প্রমাণ দেয় এমন কোনো কর্মের নিদর্শনের কথা উল্লেখ করা হয়নি। এমন কোনো বিষয়ের মাঝে এমন কোনো অর্থ পাওয়া যায়নি যা তার প্রকৃত অর্থ থেকে বিচ্যুত করা সম্ভব, আর এমন কোনো রাসূলকেও পাঠানো হয়নি যাঁকে এমন সব নিদর্শন দেওয়া হয়েছে যা বুদ্ধিকে পরাভূত করে এবং লক্ষ্যকে বিভ্রান্ত করে দেয়; ফলে প্রমাণিত হয় যে, তদ্রূপ দাবি করা নিছক কল্পনা ও কুমন্ত্রণা ছাড়া আর কিছু নয়।
এছাড়াও, রাসূলগণ এমন সব অলৌকিক নিদর্শন নিয়ে এসেছেন যা প্রত্যক্ষকারীকে এটি মানতে বাধ্য করে যে, তা এমন এক সত্তার কাজ যার সাথে যদি কোনো শরিক থাকত তবে সে তাদের সেসব প্রকাশ করতে বাধা দিত। কারণ এতে তাদের রুবুবিয়াত ও উলুহিয়াত অসার প্রমাণিত হতো। যেহেতু চরম হঠকারী ও বিরুদ্ধাচরণকারীদের ব্যাপক উপস্থিতি সত্ত্বেও তারা বাধাগ্রস্ত হননি—যাদের মধ্যে এমন লোকও ছিল যারা রাসূলদের নিদর্শন প্রকাশের সময় কোনো ছিদ্রান্বেষণ করতে চাইলে তা পেত—সেহেতু প্রমাণিত হলো যে, তা কেবল রাসূলগণের পক্ষেই সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। কারণ সত্য ইলাহ এবং সৃষ্টির স্রষ্টা সেই এক ও পরাক্রমশালী সত্তা ছাড়া আর কেউ নন, যিনি প্রত্যেক দাম্ভিক হঠকারীকে প্রতারণা করা থেকে পরাভূত করেছেন, সত্য অনুধাবন তো বহু দূরের কথা। আর আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো শক্তি নেই।
অতঃপর বুদ্ধিবৃত্তিক দলীল এই যে, যদি একের অধিক ইলাহ থাকত তবে পারস্পরিক সমঝোতা ছাড়া এই জগতের অস্তিত্ব টিকে থাকা সম্ভব হতো না। আর তাতে রুবুবিয়াতের মহিমা বিলুপ্ত হতো। অন্য একটি বিষয় হলো, যাদের ইলাহ হিসেবে গণ্য করা হয় তাদের একজন যদি কোনো কিছু সৃষ্টি করতে চাইত তবে অন্যজন তা নাকচ করতে চাইত। একজন যা অস্তিত্বশীল করতে চাইত অন্যজন তা ধ্বংস করতে চাইত। একইভাবে স্থায়িত্ব দান ও বিনাশের ক্ষেত্রেও। এতে চরম বৈপরীত্য ও সংঘাত সৃষ্টি হতো। সুতরাং জগতের বিদ্যমানতা প্রমাণ করে যে, এর নির্মাতা একজন এবং তাঁর ব্যবস্থাপনাও এক।
এর পাশাপাশি রাজাদের মধ্যে চিরাচরিত নিয়ম হলো, তারা তাদের প্রতিদ্বন্দ্বীদের পরাভূত করতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালায় যাতে রাজত্ব একক অধিপতির অধীনে থাকে এবং প্রত্যেকেই অন্যের নির্দেশ বাস্তবায়ন ও ক্ষমতা প্রকাশে সাধ্যমতো বাধা দেয়। যেহেতু তেমনটি ঘটেনি বরং পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময় সত্তার কর্তৃত্বই কার্যকর হয়েছে, তাই প্রমাণিত হলো যে তিনিই একমাত্র সত্তা। আর এটাই আল্লাহর এই বাণীর ব্যাখ্যা: "বলুন, তারা যা বলে সেই অনুযায়ী যদি তাঁর সাথে আরও ইলাহ থাকত, তবে তারা আরশের অধিপতির দিকে কোনো পথ খুঁজত।" আর প্রথম বিষয়টি আল্লাহর এই বাণীর অন্তর্ভুক্ত: "যদি এ দুটিতে (আসমান ও জমিনে) আল্লাহ ছাড়া আরও ইলাহ থাকত তবে উভয়ই ধ্বংস হয়ে যেত।"
তদুপরি, যদি আল্লাহর সাথে অন্য কোনো ইলাহ থাকত, তবে সেই দ্বিতীয় জনও তার প্রজ্ঞা প্রকাশ করত এবং তার কাজকে আল্লাহর কাজ থেকে পৃথক করত।
(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদ লিল মাতুরীদী
(পৃষ্ঠা: ২১)
الله الْحق ليعلم بِهِ قدرته وسلطانه فَإذْ لم يفعل بَان أَن الله المتوحد بالإلهية والمتفرد بالربوبية وَذَلِكَ معنى قَوْله {وَمَا كَانَ مَعَه من إِلَه إِذا لذهب كل إِلَه بِمَا خلق} وَكَذَلِكَ قَوْله {أم جعلُوا لله شُرَكَاء خلقُوا كخلقه}
ثمَّ وَجه الإصطلاح يدل على الْعَجز وَالْجهل مَعَ مَا لَو كَانَ كَذَلِك لم يكن الْأَمر لوَاحِد فِي نسبه الْخلق وتحقيقه لَهُ إِلَّا من حَيْثُ يقهرهم ويدخلهم تَحت قدرته وصنعه وَالله الْمُوفق
وَأَيْضًا أَنه لَو كَانَ مَعَ الله إِلَه لَا يَخْلُو من أَن يقدر على فعل يسره من الآخر أَو لَا وَكَذَلِكَ الله سُبْحَانَهُ مِنْهُ فَإِن قدرا جَمِيعًا ملك كل وَاحِد مِنْهُمَا تجهيل الآخر وَفِي ذَلِك زَوَال الربوبية وَإِن لم يقدرا عجز كل وَاحِد مِنْهُمَا وَالْعجز يسْقط الألوهية أَو قدر أَحدهمَا دون الآخر فَهُوَ الرب وَالْآخر مربوب مَعَ مَا كَانَ علم الْغَيْب علم الربوبية فَمن لَيْسَ لَهُ فَهُوَ مربوب ثمَّ لَا يَخْلُو أَيْضا من قدرَة كل وَاحِد مِنْهُمَا على غَيره فِي منع مَا يروم الْفِعْل بِغَيْرِهِ ويريده أَولا فَيكون فيهمَا إِمْكَان خُرُوج كل عَن الْقُدْرَة وَتَحْقِيق عجز وَذَلِكَ يسْقط الربوبية أَو يقدر الْوَاحِد خَاصَّة فَيكون هُوَ الرب سُبْحَانَهُ
وَأما دلَالَة الإستدلال بالخلق فَهُوَ أَنه لَو كَانَ أَكثر من وَاحِد لتقلب فيهم التَّدْبِير نَحْو أَن تحول الْأَزْمِنَة من الشتَاء والصيف أَو تحول خُرُوج الْإِنْزَال وينعها أَو تَقْدِير السَّمَاء وَالْأَرْض أَو تسيير الشَّمْس وَالْقَمَر والنجوم أَو أغذية الْخلق أَو تَدْبِير معاش جَوَاهِر الْحَيَوَان فَإذْ دَار كُله على مَسْلَك وَاحِد وَنَوع من التَّدْبِير وإنساق ذَلِك على سنَن وَاحِد لَا يتم بمدبرين لذَلِك لزم القَوْل بِالْوَاحِدِ وَبِاللَّهِ التَّوْفِيق
وَالثَّانِي أَن الْأَجْنَاس على اختلافها وتباعد مَا بَينهَا من نَحْو السَّمَاء وَالْأَرْض وأطراف الأَرْض وَجعل أرزاق أَهلهَا مُتَّصِلَة بالمنافع حَتَّى كَانَ كل أَنْوَاع
সত্য ইলাহ আল্লাহ, যাতে এর মাধ্যমে তাঁর কুদরত ও রাজত্ব জানা যায়। যখন তিনি তা করেননি, তখন স্পষ্ট হয়ে গেল যে আল্লাহ ইলাহ হিসেবে একক এবং রুবুবিয়্যাত বা প্রভুত্বে অদ্বিতীয়। আর এটিই তাঁর এই বাণীর মর্মার্থ: "তাঁর সাথে অন্য কোন ইলাহ নেই; যদি থাকত তবে প্রত্যেক ইলাহ নিজ নিজ সৃষ্টি নিয়ে পৃথক হয়ে যেত।" এবং তাঁর এই বাণীর ক্ষেত্রেও তাই: "নাকি তারা আল্লাহর এমন সব অংশীদার সাব্যস্ত করেছে যারা তাঁর সৃষ্টির মতো সৃষ্টি করেছে?"
অতঃপর আপস-মীমাংসার বিষয়টি অক্ষমতা ও অজ্ঞতার প্রমাণ দেয়; তদুপরি যদি বিষয়টি এমনই হতো, তবে সৃষ্টি ও এর বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কর্তৃত্ব কেবল একজনের থাকতো না, যদি না তিনি তাদের পরাভূত করে নিজের ক্ষমতা ও নির্মাণের অধীনে আনতেন। আর আল্লাহই তাওফীকদাতা।
তদুপরি, আল্লাহর সাথে যদি অন্য কোন ইলাহ থাকতো, তবে বিষয়টি এমন হওয়া অনিবার্য যে, একজন অপরজনের থেকে কোন কাজ গোপন করতে সক্ষম হতেন কি না; আল্লাহর সুবহানাহু ওয়া তাআলার ক্ষেত্রেও একই কথা। যদি তারা উভয়েই সক্ষম হতেন, তবে তাদের প্রত্যেকের জন্য অপরজনকে অজ্ঞ প্রমাণিত করার সুযোগ থাকতো, আর এতে রুবুবিয়্যাত বা প্রভুত্ব বিলুপ্ত হতো। আর যদি তারা সক্ষম না হতেন, তবে তারা প্রত্যেকেই অক্ষম সাব্যস্ত হতেন, আর অক্ষমতা ইলাহ হওয়ার যোগ্যতাকে নস্যাৎ করে। অথবা যদি তাদের একজন সক্ষম হন এবং অন্যজন না হন, তবে তিনিই হবেন রব বা প্রভু আর অপরজন হবে মাখলুক বা সৃষ্টি। এর সাথে ইলমে গায়েব বা অদৃশ্যের জ্ঞান হলো রুবুবিয়্যাতের জ্ঞান; সুতরাং যার এই জ্ঞান নেই সে মাখলুক। পুনরায়, এটিও এই সম্ভাবনা থেকে মুক্ত নয় যে, তাদের প্রত্যেকের একে অপরের উপর সক্ষমতা থাকতো কি না এমন বিষয়ে বাধা দিতে যা অন্যজন করতে চায় বা ইচ্ছা করে। এমতাবস্থায় উভয়ের ক্ষেত্রেই ক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকতো এবং অক্ষমতা প্রমাণিত হতো, যা রুবুবিয়্যাতকে নাকচ করে দেয়। অথবা কেবল একজনই বিশেষ ক্ষমতা সম্পন্ন হতেন, তবে তিনিই হতেন রব সুবহানাহু ওয়া তাআলা।
আর সৃষ্টির মাধ্যমে দলীলের দিকটি হলো এই যে, যদি ইলাহ একজনের অধিক হতেন তবে তাদের মধ্যে ব্যবস্থাপনায় বৈচিত্র্য ও বিশৃঙ্খলা দেখা দিত; যেমন শীত ও গ্রীষ্মের ঋতু পরিবর্তন, বৃষ্টিবর্ষণ ও শস্যের পরিপক্কতা, আকাশ ও পৃথিবীর পরিমাপ নির্ধারণ, সূর্য, চন্দ্র ও নক্ষত্ররাজির আবর্তন, সৃষ্টির খাদ্যসংস্থান কিংবা প্রাণিকুলের জীবনোপকরণ পরিচালনার ক্ষেত্রে। যেহেতু এই সবকিছুই একটিমাত্র পদ্ধতিতে ও একই ধরণের ব্যবস্থাপনায় আবর্তিত হচ্ছে এবং একক নিয়মে সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হচ্ছে যা দুজন পরিচালক দ্বারা সম্পন্ন হওয়া সম্ভব নয়, তাই ইলাহ একক হওয়ার বিষয়টি মানা অনিবার্য। আর আল্লাহর সাহায্যেই তাওফীক লাভ হয়।
দ্বিতীয়ত, বিভিন্ন প্রকার সৃষ্টি তাদের ভিন্নতা ও পারস্পরিক দূরত্ব সত্ত্বেও, যেমন আকাশ ও পৃথিবী এবং পৃথিবীর প্রান্তসমূহ, আর এদের অধিবাসীদের রিযিককে উপকারের সাথে এমনভাবে সংশ্লিষ্ট করা হয়েছে যে সকল প্রকার...
(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদ লিল মাতুরীদী
(পৃষ্ঠা: ২২)
الْخَارِج من الأَرْض يكون بِأَسْبَاب السَّمَاء وحاجات كل أهل الْبلدَانِ منتشرة فِي جَمِيع الْأَطْرَاف ومعاش الْبشر مجعول فِي أَنْوَاع المكاسب على هَذَا أَمر الْجَمِيع فَلَو كَانَ ذَلِك لعدد لم يحْتَمل أَن ترجع مَنَافِعهَا إِلَى من لَهُ الْعَالم من الْخلق على اخْتِلَاف الْعَالم ثَبت أَن مُدبر ذَلِك كُله وَاحِد وعَلى مَا ذكرت الْأَوْقَات من اللَّيْل وَالنَّهَار والساعات وَدخُول بعض فِي بعض على قدر الْحَاجَات وَهَذَا وَالله أعلم معنى قَوْله {مَا ترى فِي خلق الرَّحْمَن من تفَاوت} فَهَذَا مَعَ مَا جعلت الْأَجْسَام وَهِي الْأَعْيَان على جِهَات سِتّ ثَبت أَن مُدبر كل على اخْتِلَاف الْأَجْنَاس وَاحِد حَتَّى جمع الْكل تَحت معنى وَاحِد وَلَا قُوَّة إِلَّا بِاللَّه
وَالثَّالِث أَنه لَا يُوجد جَوْهَر وَاحِد يرجع بجوهره إِلَى معنى وَاحِد من الضَّرَر أَو النَّفْع أَو الْخَبيث أَو الطّيب أَو النِّعْمَة أَو الْبلَاء بل كل شَيْء يُوصف بالخبث فَهُوَ يصير طيبا من وَجه غير من لَهُ خبث وَكَذَلِكَ سَائِر الصِّفَات وعَلى ذَلِك أَحْوَال الْأَشْيَاء إِنَّهَا لَيست على نفع بِكُل حَال أَو ضَرَر بِكُل حَال ثَبت أَن مُدبر ذَلِك كُله وَاحِد حَتَّى جمع فِي كل وُجُوه المضار وَالْمَنَافِع وَلم يَجْعَل شَيْئا ذَا نوع ليعلم أَنه عَن أصل يرجع إِلَى جوهره أَو عَن تَدْبِير عدد يفعل كل جِهَة فيتناقض بِمَا تفرد كل بالجهة الَّتِي هِيَ مِنْهُ وَلَا قُوَّة إِلَّا بِاللَّه
وَأَيْضًا أَن الْأَعْيَان ترَاهَا تَحت حد الْأَجْسَام كلهَا وَهِي مجتمعة على طبائع متضادة حَقّهَا التنافر والتباعد بِمَا بَينهَا من التعادي الَّذِي لَو توهم تَركهَا وطباعها لَكَانَ فِي ذَلِك فَسَاد الْكل فَثَبت أَن مُدبر الْجَمِيع بَينهَا وَاحِد يجمعهُمْ باللطف وَيحبس ضَرَر كل عَن غَيره بالحكمة العجيبة الَّتِي لَا تبلغها الأوهام وَلَو كَانَ لعدد لجرى فِيهَا حق الإختلاف والتضاد على مَا عَلَيْهِ إِرَادَة الفاعلين من السِّرّ بغيرهم وبصنع غَيرهم ليتبين صنعه وَبِاللَّهِ النجَاة
وَأمكن الْجمع بَين الحرفين فِي جَمِيع مَا يَنْتَهِي إِلَيْهِ الإعتبار من الْإِشَارَة إِلَى الدّلَالَة إِنَّهَا تخرج على النّظر إِلَى الْأَحْوَال وَالْأَفْعَال فالأحوال هِيَ أَن يَكُونُوا
ভূমি থেকে যা উৎপন্ন হয় তা আকাশের কার্যকারণের মাধ্যমে ঘটে এবং সমস্ত জনপদের মানুষের প্রয়োজন সকল প্রান্তে ছড়িয়ে রয়েছে। মানুষের জীবনযাত্রা বিভিন্ন প্রকার পেশার ওপর নির্ভরশীল; সবার অবস্থাই এমন। যদি স্রষ্টা একাধিক হতেন তবে সৃষ্টির বিভিন্নতা সত্ত্বেও তাদের উপকারসমূহ সৃষ্টির অধিকারীর কাছে ফিরে আসা সম্ভব হতো না। এটি প্রমাণিত যে এই সবকিছুর ব্যবস্থাপক একজনই। আমি রাত, দিন এবং সময়ের যে উল্লেখ করেছি এবং প্রয়োজনের নিরিখে একটির অপরটির মধ্যে প্রবেশ করা—আল্লাহই ভালো জানেন—এটিই তাঁর এই বাণীর মর্ম: "দয়াময় আল্লাহর সৃষ্টিতে তুমি কোনো অসামঞ্জস্য দেখবে না।" এটি সেই সবের সাথে যা দেহসমূহকে অর্থাৎ সত্তাসমূহকে ছয়টি দিকে বিন্যস্ত করা হয়েছে। এর দ্বারা সাব্যস্ত হয় যে সকল প্রকারের ভিন্নতা সত্ত্বেও প্রত্যেকের ব্যবস্থাপক একজনই, এমনকি তিনি সবকিছুকে একটিই অর্থের অধীনে একত্র করেছেন। আর আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো শক্তি নেই।
তৃতীয়ত, এমন কোনো একক মৌলিক পদার্থ পাওয়া যায় না যা তার আপন সত্তার দিক থেকে কেবল ক্ষতি বা কেবল উপকার, কিংবা কেবল অপবিত্র বা কেবল পবিত্র, অথবা কেবল নিয়ামত বা কেবল বিপদের অর্থের দিকে প্রত্যাবর্তন করে। বরং যে জিনিসকে অপবিত্র বলে বর্ণনা করা হয়, তা অন্য কোনো দিক থেকে পবিত্র হয়ে ওঠে যা অপবিত্র নয়। অন্যান্য গুণাবলির ক্ষেত্রেও বিষয়টি তদ্রূপ। বস্তুর অবস্থা এমন যে তা সব অবস্থায় কেবল উপকারী নয় আবার সব অবস্থায় কেবল ক্ষতিকরও নয়। এটি প্রমাণ করে যে এই সবকিছুর ব্যবস্থাপক একজনই, এমনকি তিনি সবকিছুর মধ্যে ক্ষতি ও উপকারের সকল দিক একত্র করেছেন। তিনি কোনো জিনিসকে কেবল এক প্রকার স্বভাবজাত করেননি যাতে এটি জানা যায় যে তা এমন কোনো মূল থেকে উদ্ভূত যা তার আপন সত্তার দিকে ফিরে যায়, অথবা একাধিক ব্যবস্থাপকের ব্যবস্থাপনা থেকে উদ্ভূত যারা একেকটি দিক পরিচালনা করে, যার ফলে তারা প্রত্যেকে নিজ নিজ দিকের বৈশিষ্ট্যে একক হওয়ার কারণে একে অপরের সাথে দ্বন্দ্বে লিপ্ত হতো। আর আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো শক্তি নেই।
আরও দেখা যায় যে বস্তুগত সত্তাসমূহ সমস্ত দেহের সীমানার অধীনে রয়েছে এবং সেগুলো পরস্পরবিরোধী প্রকৃতির ওপর একত্রিত হয়েছে যেগুলোর সহজাত বৈশিষ্ট্য হলো পারস্পরিক বিকর্ষণ ও দূরত্ব। যদি সেগুলোকে তাদের নিজস্ব প্রকৃতির ওপর ছেড়ে দেওয়া হতো বলে কল্পনা করা হয়, তবে তাতে সবকিছুর ধ্বংস অনিবার্য হতো। সুতরাং প্রমাণিত হলো যে এই সবকিছুর মাঝে একজন ব্যবস্থাপক আছেন যিনি তাঁর অনুগ্রহের দ্বারা তাদের একত্র করেছেন এবং তাঁর সেই বিস্ময়কর প্রজ্ঞার মাধ্যমে এক বস্তুর ক্ষতি অন্য বস্তু থেকে প্রতিহত করেছেন যেখানে কল্পনাও পৌঁছাতে পারে না। যদি ব্যবস্থাপক একাধিক হতো, তবে তাদের মধ্যে পারস্পরিক বিরোধ ও বৈপরীত্যের নিয়ম কার্যকর হতো, যেমনটি অন্যকে পাশ কাটিয়ে নিজের কাজ প্রকাশ করার ক্ষেত্রে বা অন্যের কাজের বিপরীতে নিজের কাজ জাহির করার ক্ষেত্রে সক্রিয় কর্তাদের ইচ্ছার ধরন হয়ে থাকে। আর আল্লাহর মাধ্যমেই মুক্তি লাভ হয়।
এবং যে সব বিষয়ের ওপর বিচার-বিবেচনা শেষ হয় সেগুলোর মধ্যে নিদর্শনের প্রতি ইশারা করার ক্ষেত্রে দুটি দিককে একত্র করা সম্ভব হয়েছে; আর তা হলো অবস্থা ও কর্মের প্রতি দৃষ্টিপাতের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ। অবস্থাগুলো হলো এই যে তারা...
(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদ লিল মাতুরীদী
(পৃষ্ঠা: ২৩)
فِي جَمِيع مَعَاني الربوبية سَوَاء فَيكون فِي ذَلِك تدافع وتمانع مَعَ مَا كَانَ ذَلِك صفة فَرد سموهُ عددا أَو تخْتَلف فَيكون الأتم لَهَا أَحَق بالربوبية وَأما الْأَفْعَال فَمَا ذكرت من اتساق جَمِيع الْعَالم مَعَ تنَاقض الطبائع وتضادها صَارَت كَأَنَّهَا أشكال فِي قوام بعض بِبَعْض وَكَون بعض لبَعض عونا وناصرا فِي الْبَقَاء وَإِن كَانُوا بِالْوَجْهِ الَّذِي ذكرت ثَبت أَن ذَلِك التألف مَعَ التضاد لَا يحْتَمل إِلَّا بمدبر حَكِيم عليم لطيف لَا يُنَازع فِي التَّدْبِير وَلَا يُخَالف فِي التَّقْدِير وَلَا قُوَّة إِلَّا بِاللَّه
وَإِذا ثَبت القَوْل بوحدانية الله تَعَالَى والألوهية لَهُ لَا على جِهَة وحدانية الْعدَد إِذْ كل وَاحِد فِي الْعدَد لَهُ نصف وأجزاء لزم القَوْل بتعاليه عَن الْأَشْبَاه والأضداد إِذْ فِي إِثْبَات الضِّدّ نفى إلهيته وَفِي التشابه نفى وحدانيته إِذْ الْخلق كلهم تَحت إسم الأشكال والأضداد وهما علما احْتِمَال الفناء والعدم وَنفى التَّوْحِيد عَن الْخلق
وَالله وَاحِد لَا شَبيه لَهُ دَائِم قَائِم لَا ضد لَهُ وَلَا ند وَهَذَا تَأْوِيل قَوْله {لَيْسَ كمثله شَيْء} وأصل ذَلِك أَن كل ذِي مثل وَاقع تَحت الْعدَد فَيكون أَقَله أثنين وكل ذِي ضد تَحت الفناء إِذْ يهْلك ضِدّه وعَلى ذَلِك كل شَيْء سواهُ لَهُ ضد يفنى بِهِ وشكل يعد لَهُ وَيصير بِهِ زوجا فحاصل تَأْوِيل قَوْله وَاحِد أَي فِي العظمة والكبرياء وَفِي الْقُدْرَة وَالسُّلْطَان وَوَاحِد بالتوحد عَن الْأَشْبَاه والأضداد وَلذَلِك بَطل القَوْل فِيهِ بالجسم وَالْعرض إِذْ هما تَأْوِيلا الْأَشْيَاء وَإِذ ثَبت ذَا بَطل تَقْدِير جَمِيع مَا يُضَاف إِلَيْهِ من الْخلق ويوصف بِهِ من الصِّفَات بِمَا يفهم مِنْهُ لَو أضيف إِلَى الْخلق وَوصف بِهِ وَبِاللَّهِ التَّوْفِيق
وَفِي ذَلِك ظُهُور تعنت المشبهة وَذَلِكَ سَبَب إلحاد من ألحد أَنه ظن بِهِ مَا احتمله الشَّاهِد فَمنهمْ من جعله أحد الْأَعْيَان وَأنكر الصَّانِع للْعَالم وأدعى أَنه على مَا عَلَيْهِ فِي الْأَزَل وَمِنْهُم من صيره مُحْتملا للحوادث وَأنكر حَدثهُ
রুবুবিয়্যাহর (প্রভুত্বের) সকল অর্থে যদি তারা সমান হতো, তবে সেখানে পারস্পরিক সংঘাত ও বাধা সৃষ্টি হতো, যদিও তারা তাকে সংখ্যার দিক থেকে একক বৈশিষ্ট্য হিসেবে গণ্য করত। অথবা যদি তারা ভিন্ন হতো, তবে যার মধ্যে পূর্ণতা বেশি সে-ই রুবুবিয়্যাহর জন্য বেশি যোগ্য হতো। আর কর্মের ক্ষেত্রে, আপনি বিশ্বজগতের যে সুশৃঙ্খল বিন্যাসের কথা উল্লেখ করেছেন—প্রকৃতির বৈপরীত্য ও বিরোধ থাকা সত্ত্বেও—তা এমনভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়েছে যেন তারা একে অপরের অস্তিত্বের ভিত্তি এবং একে অপরের স্থায়িত্বের জন্য সাহায্যকারী ও সহায়ক। যদি বিষয়টি আপনার বর্ণিত রূপেই হয়ে থাকে, তবে এটি প্রমাণিত হয় যে, এই বৈপরীত্য সত্ত্বেও যে সংহতি বিদ্যমান, তা একজন প্রজ্ঞাবান, সর্বজ্ঞ ও সূক্ষ্মদর্শী পরিচালক ব্যতীত সম্ভব নয়, যাঁর পরিচালনায় কেউ বিতর্ক করে না এবং যাঁর নির্ধারণে কেউ বিরোধিতা করে না। আর আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো শক্তি নেই।
যখন মহান আল্লাহর একত্ববাদ এবং তাঁর উলুহিয়্যাহর বিষয়টি প্রমাণিত হলো, তখন তা সংখ্যার একত্বের ভিত্তিতে নয়; কারণ সংখ্যার প্রতিটি একের অর্ধেক ও অংশ থাকে। সুতরাং তাঁর সদৃশ ও বিরোধী থেকে পবিত্র হওয়ার বিষয়টি আবশ্যক হয়ে পড়ে। কারণ বিরোধীর সাব্যস্তকরণে তাঁর ইলাহ হওয়ার বিষয়টি নাকচ হয়ে যায় এবং সদৃশ সাব্যস্তকরণে তাঁর একত্ববাদ নাকচ হয়ে যায়। যেহেতু সৃষ্টিজগত সদৃশ ও বিরোধীর সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত, আর এ দুটি বিষয় হলো ধ্বংস ও অনস্তিত্বের চিহ্ন এবং সৃষ্টির থেকে একত্ববাদকে নাকচকারী।
আল্লাহ এক, তাঁর কোনো সদৃশ নেই; তিনি চিরঞ্জীব ও চিরস্থায়ী, তাঁর কোনো বিরোধী বা সমকক্ষ নেই। আর এটিই তাঁর এই বাণীর ব্যাখ্যা: "তাঁর সদৃশ কিছুই নেই।" এর মূল ভিত্তি হলো, সদৃশ সম্পন্ন প্রত্যেকটি বিষয় সংখ্যার অন্তর্ভুক্ত, ফলে তার সর্বনিম্ন সংখ্যা হয় দুই। আর বিরোধী সম্পন্ন প্রত্যেকটি বিষয় ধ্বংসশীল, কারণ তার বিরোধী তাকে ধ্বংস করে দেয়। তদ্রূপ আল্লাহ ব্যতীত অন্য সকল কিছুর বিরোধী রয়েছে যার দ্বারা সে ধ্বংস হয় এবং সদৃশ রয়েছে যার দ্বারা সে জোড়ায় পরিণত হয়। সুতরাং তাঁর 'এক' হওয়ার ব্যাখ্যার সারসংক্ষেপ হলো: তিনি মহিমা ও বড়ত্বে এবং ক্ষমতা ও কর্তৃত্বে এক। তিনি সদৃশ ও বিরোধী থেকে মুক্ত হওয়ার মাধ্যমে এক। এ কারণেই তাঁর ক্ষেত্রে দেহ (জিসম) বা আকস্মিক গুণ (আরাদ) হওয়ার দাবি বাতিল হয়ে যায়, কারণ এ দুটি হলো সৃষ্টবস্তুর ব্যাখ্যা। আর যখন এটি প্রমাণিত হলো, তখন সৃষ্টির দিকে সম্বন্ধযুক্ত হয় এমন সবকিছুর পরিমাপ এবং যেসব গুণাবলি দ্বারা তাঁকে গুণান্বিত করা হয়, সৃষ্টির ক্ষেত্রে ব্যবহার করলে যা বোঝা যেত—তা মহান আল্লাহর ক্ষেত্রে বাতিল হয়ে গেল। আর আল্লাহর মাধ্যমেই তাওফিক লাভ হয়।
আর এর মাধ্যমেই মুশাব্বিহাদের (সাদৃশ্যবাদীদের) একগুঁয়েমি প্রকাশ পায়। আর এটিই ওইসব পথভ্রষ্টদের নাস্তিকতার কারণ, যারা আল্লাহ সম্পর্কে তেমন ধারণা করেছে যা দৃশ্যমান জগতে সম্ভব। তাদের মধ্যে কেউ কেউ তাঁকে একটি বস্তু হিসেবে গণ্য করেছে এবং জগতের স্রষ্টাকে অস্বীকার করেছে; তারা দাবি করেছে যে জগত অনাদিকাল থেকে যে অবস্থায় আছে সেভাবেই আছে। আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ তাঁকে পরিবর্তনশীল বিষয়ের আধার বানিয়েছে এবং তাঁর অনাদিত্বকে অস্বীকার করেছে।
(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদ লিল মাতুরীদী
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وَزعم أَن غَيره حوادث اعترضت بقوته وهم أَصْحَاب الهيولي والمسلمون لَزِمَهُم القَوْل بهستيته ضَرُورَة فَقَالُوا وَنَفَوْا عَنهُ جَمِيع مَا احْتمل غَيره إِذْ احْتمل غَيره التَّفَاضُل فِي الذوات والإختلاف فِي الصِّفَات أَو احْتمل غَيره الإستحالة والتغير بِمَا يتَمَكَّن فِيهِ الزِّيَادَة وَالنُّقْصَان وَإِن كَانَ بعض ذَلِك ثوابت فَهُوَ نوع الْمُحْتَمل لذَلِك على أَن ثباته بالتسخير على مَا هُوَ عَلَيْهِ من دوَام الْحَرَكَة أَو السّكُون أَو بإحتمال التضاد الَّذِي هُوَ آفَة الْمَوْجُود بِمَا فِيهِ إحتمال الفناء وَوُجُود الْأَشْبَاه لَهُ ليبطل عَنهُ صفة الْكَمَال والتمام أَو تمكن النِّهَايَة لَهُ وَالْحَد الَّذِي يتَوَهَّم مَعَه الأتم والأنقص والأوفر والأقصر فَهَذِهِ الْوُجُوه من آيَات حدث الْعَالم وأدلة محدثة فَلَو كَانَ لمحدثه مِمَّا بِهِ عرف حدث الْعَالم وَأَن لَهُ مُحدثا ليلحقه من ذَلِك الْوَجْه مَا لحق غَيره وَفِيه فَسَاد الْعَالم وشهادته على مُحدث حَكِيم عليم متعال عَن الْأَشْبَاه والأضداد مَعَ مَا كَانَ كل غير لَهُ حدث من جَمِيع الْوُجُوه فَلَو كَانَ لشَيْء مِنْهُ شبه يسْقط عَنهُ من ذَلِك الْقدَم أَو عَن غَيره الْحَدث وَلَا قُوَّة إِلَّا بِاللَّه
على أَن الشّبَه من كل جِهَة فِي الْخلق مُمْتَنع لما يصير وَاحِدًا وَإِنَّمَا يكون فِي جِهَة دون جِهَة فَلَو وصف بالشبه بِغَيْرِهِ بِجِهَة فَيصير من ذَلِك الْوَجْه كَأحد الْخلق وَلَا قُوَّة إِلَّا بِاللَّه
قَالَ الشَّيْخ أَبُو مَنْصُور رحمه الله وَلَيْسَ فِي إِثْبَات الْأَسْمَاء وَتَحْقِيق الصِّفَات تشابه لنفى حقائق مَا فِي الْخلق عَنهُ كالهستية والثبات وَلَكِن الْأَسْمَاء لما لم يحْتَمل التَّعْرِيف وَلَا تَحْقِيق الذَّات بِحَق الربوبية إِلَّا بذلك إِذْ لَا وَجه لمعْرِفَة غَائِب إِلَّا بِدلَالَة الشَّاهِد ثمَّ إِذا أُرِيد الْوَصْف بالعلو والجلال فَذَلِك طَرِيق الْمعرفَة فِي الشَّاهِد وَإِمْكَان القَوْل إِذْ لَا يحْتَمل وسعنا الْعرْفَان بِالتَّسْمِيَةِ بِغَيْر الَّذِي شاهدنا وَلَا الْإِشَارَة إِلَى مَا لَا نَأْخُذ من الْحس وَحقّ العيان لَو احْتمل وسعنا ذَلِك لقلنا ذَلِك
এবং তিনি দাবি করেছেন যে, তিনি ব্যতীত অন্য সবকিছু হলো এমন নবসৃষ্ট বস্তু যা তাঁর শক্তির মাধ্যমে অস্তিত্ব লাভ করেছে; তারা হলো হিউলি (আদি উপাদান)-র মতবাদে বিশ্বাসী। আর মুসলমানদের জন্য অপরিহার্যভাবে তাঁর অস্তিত্ব (হেস্তিয়াত) স্বীকার করা আবশ্যক হয়েছে; তাই তারা তা বলেছেন এবং তাঁর থেকে এমন সব কিছু অস্বীকার করেছেন যা অন্য সবকিছুর ক্ষেত্রে সম্ভব। কেননা তিনি ছাড়া অন্য সবকিছু সত্তাগত তারতম্য এবং গুণাবলির পার্থক্যের সম্ভাবনা রাখে, অথবা তা অসম্ভবতা ও পরিবর্তনের সম্ভাবনা রাখে যার মাধ্যমে তাতে হ্রাস ও বৃদ্ধি ঘটা সম্ভব। যদিও এর কিছু বিষয় অপরিবর্তনীয় বলে মনে হয়, তবুও তা সেই প্রকারেরই অন্তর্ভুক্ত যা পরিবর্তনের সম্ভাবনা রাখে; কারণ সেগুলোর স্থায়িত্ব হলো তাঁর বশ্যতা স্বীকারের মাধ্যমে, চাই তা নিরবচ্ছিন্ন গতি বা স্থিরতার ওপর হোক, কিংবা বিপরীতধর্মী বিষয়ের সংমিশ্রণে হোক—যা বিদ্যমান বস্তুর জন্য একটি ত্রুটি—যার মধ্যে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা এবং সদৃশ বস্তুর অস্তিত্ব বিদ্যমান থাকে। যেন তা থেকে পূর্ণতা ও সমাপ্তির গুণ বিলুপ্ত হয়, অথবা তার জন্য কোনো সমাপ্তি বা সীমানা নির্ধারিত হয় যার প্রেক্ষিতে পূর্ণতর, অপূর্ণতর, পর্যাপ্ততর বা সংক্ষিপ্ততর হওয়ার কল্পনা করা যায়। এই দিকগুলো হলো জগত নতুনভাবে সৃষ্টি হওয়ার নিদর্শন এবং এর একজন স্রষ্টা থাকার প্রমাণ। সুতরাং জগতের স্রষ্টার যদি এমন কোনো গুণ থাকত যা দিয়ে জগতের সৃষ্টি হওয়া প্রমাণিত হয়, তবে তাঁর ক্ষেত্রেও সেই দিক থেকে তাই প্রযোজ্য হতো যা জগতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এতে জগতের বিনাশ অনিবার্য হতো এবং একজন প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ স্রষ্টার প্রতি জগতের সাক্ষ্যও অর্থহীন হয়ে পড়ত, যিনি সদৃশ ও বিপরীত বস্তু থেকে বহু ঊর্ধ্বে। অথচ তিনি ব্যতীত অন্য যা কিছু আছে তা সর্বদিক দিয়েই নবসৃষ্ট। সুতরাং যদি কোনো কিছুর সাথে তাঁর সাদৃশ্য থাকত, তবে তাঁর থেকে অনাদিত্বের গুণটি যেমন বিলুপ্ত হতো, তেমনি অন্য সবকিছুর জন্য নতুনভাবে সৃষ্টি হওয়ার বিষয়টিও অসার হয়ে যেত। আর আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো শক্তি নেই।
তাছাড়া সৃষ্টির মধ্যে সব দিক থেকে সাদৃশ্য থাকা অসম্ভব, কারণ তবে তা এক ও অভিন্ন হয়ে যেত। বরং সাদৃশ্য কেবল নির্দিষ্ট কোনো দিক থেকেই হয়ে থাকে। সুতরাং যদি তাঁকে অন্য কারো সাথে কোনো এক দিক থেকে সদৃশ হিসেবে বর্ণনা করা হয়, তবে তিনি সেই দিক থেকে সৃষ্টির মতো হয়ে যাবেন। আর আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো শক্তি নেই।
শায়খ আবু মনসুর (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: নামসমূহ সাব্যস্ত করা এবং গুণাবলি নিশ্চিত করার মধ্যে কোনো সাদৃশ্য নেই; কারণ সৃষ্টির মধ্যে বিদ্যমান বিষয়গুলোর বাস্তবতা—যেমন তাদের অস্তিত্ব ও স্থায়িত্ব—তাঁর থেকে অস্বীকার করা হয়েছে। কিন্তু নামসমূহ ছাড়া পরিচয় লাভ করা এবং রুবুবিয়্যাতের হাকিকত অনুযায়ী তাঁর সত্তাকে উপলব্ধি করা সম্ভব নয়। কেননা দৃশ্যমান জগতের প্রমাণ ছাড়া অদৃশ্যের পরিচয় লাভের কোনো উপায় নেই। অতঃপর যখন উচ্চমর্যাদা ও মহিমা দিয়ে গুণগান করার ইচ্ছা করা হয়, তখন দৃশ্যমান জগতের মাধ্যমেই পরিচয়ের পথ সুগম হয় এবং তা বলা সম্ভব হয়। কারণ যা আমরা চাক্ষুষ করেছি তা ব্যতীত অন্য কোনো নামকরণের মাধ্যমে পরিচয় লাভ করা আমাদের সামর্থ্যের বাইরে, আর যা আমরা ইন্দ্রিয় ও চাক্ষুষ অভিজ্ঞতার মাধ্যমে অর্জন করিনি সেদিকে ইঙ্গিত করাও আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। যদি আমাদের সামর্থ্যে তা থাকত, তবে আমরা অবশ্যই তা বলতাম।
(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদ লিল মাতুরীদী
(পৃষ্ঠা: ২৫)
لَكنا اردنا بِهِ مَا يسْقط الشّبَه من قَوْلنَا عَالم لَا كالعلماء وَهَذَا النَّوْع فِي كل مَا نُسَمِّيه بِهِ وَنصفه وَالله الْمُوفق
مَعَ مَا كَانَ التشابه الَّذِي تقدره أوهامنا لَيْسَ عَن قَول اللِّسَان نقدره بل بِمَا كُنَّا نَعْرِف الشّبَه بَين الذاتين والفعلين فَإلَى ذَلِك يرجع وَهَهُنَا عِنْد التَّسْمِيَة وَذَلِكَ يحققه لَو لم يكن لَهما اسْم عرفا بِهِ وَوصف وَصفا بِهِ فَإِذا كَانَ الله سُبْحَانَهُ فِيمَا اعتقدنا وحدانيته اعتقدنا غير شَبيه بالمعروفين فِي تَسْمِيَة الْآحَاد لم يلْزمنَا التَّسْمِيَة بِمَا تعرفنا مَا لَوْلَا الإسم لم يجب التَّشْبِيه بالإسم لذَلِك وَلَا قُوَّة إِلَّا بِاللَّه
على أَن من نفى الْأَسْمَاء وَالصِّفَات من الفلسفة لم يقل بالتعطيل وكل مُثبت مَعْنَاهُ فِي التَّحْقِيق نفى التعطيل ثمَّ لم يجب بِهِ التشابه فَمثله فِي الْأَسْمَاء
وَإِذا لم يحققوا فَمَا يَقُولُونَ لَو قيل لَهُم مَا تَعْبدُونَ وَإِلَى مَاذَا تدعون وَبِأَيِّ دين تدينون وَمن أَمركُم ونهاكم عَمَّا تنهون وتؤمرون وَمن بِهِ بَدْء الْعَالم الْعلوِي والسفلي وبمن كَانَ أولية الْأَشْيَاء ليرجعوا إِلَى معنى يقرب إِلَى الْفَهم أَو يلْحقُوا بمنكري حدث الْعَالم ويبطلوا قَوْلهم فِي الأول إِنَّه الْعقل أَو الأَصْل السَّابِق أَو الروحاني الأول أَو مَا قَالُوا فِي ذَلِك وَفِي ذَلِك اخْتِيَار الْحيرَة والتمسك بِالْجَهْلِ وَدفع مَا يعرف غير الْعَالم بِهِ وَلَا قُوَّة إِلَّا بِاللَّه
ثمَّ نذْكر طرفا من الشّبَه الَّتِي اعْترض من استحوذ عَلَيْهِ الشَّيْطَان وَصَرفه بهَا عَمَّا ظهر من الْبَيَان ليعلم أَن الَّذِي بَعثه على مَا اخْتَار خدعة نَفسه بتسويل عدوه وَذَلِكَ لَا بتقصير من الله فِي نصب الْبُرْهَان وَلَا قُوَّة إِلَّا بِاللَّه
فَنَقُول سَوَّلَ الشَّيْطَان لمنكر العيان بِمَا قد يخرج على غير الَّذِي حَسبه
তবে আমরা এর দ্বারা এমন কিছু উদ্দেশ্য নিয়েছি যা আমাদের এই উক্তি থেকে সাদৃশ্যের সম্ভাবনা দূর করে দেয় যে, তিনি 'আলেম' (মহাজ্ঞানী) কিন্তু সাধারণ আলেমদের মতো নন। আর আমরা তাঁকে যে নামেই নামকরণ করি বা যে গুণেই গুণান্বিত করি, তার প্রতিটির ক্ষেত্রেই এই নীতি প্রযোজ্য। আর আল্লাহই তাওফিকদাতা।
এর পাশাপাশি, আমাদের কল্পনাপ্রসূত যে সাদৃশ্য তা জিহ্বার উচ্চারণের কারণে আমরা নির্ধারণ করি না; বরং এটি আমরা নির্ধারণ করি দুটি সত্তা এবং দুটি কাজের মধ্যে আমরা যে সাদৃশ্য সম্পর্কে অবগত ছিলাম তার মাধ্যমে। সুতরাং বিষয়টি সেদিকেই প্রত্যাবর্তন করে। এখানে নামকরণের ক্ষেত্রেও বিষয়টি তাই। আর এটি তা-ই সাব্যস্ত করে যদি তাদের এমন কোনো নাম না থাকত যার মাধ্যমে তারা পরিচিতি পেত অথবা এমন কোনো গুণ না থাকত যা দ্বারা তাদের গুণান্বিত করা হতো। সুতরাং যখন মহান আল্লাহ আমাদের বিশ্বাসের ক্ষেত্রে তাঁর একত্ববাদে এমন হন যে, আমরা তাঁকে একক ব্যক্তিবর্গের নামকরণের ক্ষেত্রে পরিচিত বিষয়াদির সদৃশ নয় বলে বিশ্বাস করি, তখন আমাদের জন্য এমন কোনো নামকরণের আবশ্যকতা থাকে না যা আমরা জেনেছি—এমনকি সেই নাম না থাকলেও নামের কারণে সাদৃশ্য হওয়া আবশ্যক হতো না। আর আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো শক্তি নেই।
তদুপরি, দর্শনের অনুসারীদের মধ্য থেকে যারা নাম ও গুণাবলী অস্বীকার করেছে, তারা মূলত 'তাতিল' (সম্পূর্ণ রিক্ততা) এর কথা বলেনি। আর যে ব্যক্তিই এর অর্থ সাব্যস্ত করেছে, প্রকৃতপক্ষে সে 'তাতিল'কেই অস্বীকার করেছে, তারপরও এর মাধ্যমে সাদৃশ্য আবশ্যক হয়নি। সুতরাং নামসমূহের ক্ষেত্রেও বিষয়টি একইরূপ।
আর তারা যদি তা সাব্যস্ত না করে, তবে তাদের যখন জিজ্ঞাসা করা হবে যে তোমরা কার ইবাদত করো, কিসের দিকে আহ্বান করো, কোন দ্বীন পালন করো, কে তোমাদের আদেশ করে এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করা হয় তা থেকে কে নিষেধ করে, কার মাধ্যমে উচ্চজগত ও নিম্নজগতের সূচনা এবং কার মাধ্যমে বস্তুসমূহের অস্তিত্বের শুরু—তখন তারা কী বলবে? যাতে তারা এমন একটি অর্থের দিকে ফিরে আসে যা বুঝের কাছাকাছি হয়, অন্যথায় তারা জগত সৃষ্টির অনাদিত্ব অস্বীকারকারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে এবং তাদের এই কথা বাতিল হয়ে যাবে যে, সৃষ্টির মূলে রয়েছে 'আকল' (বুদ্ধি) বা 'সাবেক মূল' (পূর্ববর্তী মূলনীতি) বা 'প্রথম আধ্যাত্মিক সত্তা' অথবা তারা এ বিষয়ে যা বলেছে। আর এর মধ্যে রয়েছে বিভ্রান্তি বেছে নেওয়া, মূর্খতাকে আঁকড়ে ধরা এবং যা জগতের সাধারণ মানুষ জানে না তাকে প্রতিরোধ করা। আর আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো শক্তি নেই।
এরপর আমরা এমন কিছু সংশয় উল্লেখ করব যা শয়তান কর্তৃক প্ররোচিত ব্যক্তিরা উত্থাপন করেছে এবং যার মাধ্যমে শয়তান তাদের সুস্পষ্ট বর্ণনা থেকে সরিয়ে নিয়েছে। যাতে এটি জানা যায় যে, সে যা বেছে নিয়েছে তার পেছনে চালিকাশক্তি ছিল তার শত্রুর (শয়তানের) প্ররোচনায় নিজের নফসের ধোঁকা। আর এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে দলিল প্রদর্শনে কোনো ত্রুটির কারণে নয়। আর আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো শক্তি নেই।
সুতরাং আমরা বলছি যে, শয়তান চাক্ষুষ সত্য অস্বীকারকারীর সামনে বিষয়গুলোকে এমনভাবে সুশোভিত করেছে যা তার ধারণার বিপরীতে প্রকাশিত হতে পারে।
(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদ লিল মাতুরীদী
(পৃষ্ঠা: ২৬)
المتأمل فِيهِ ليصده عَن عبَادَة الرَّحْمَن المؤوف بَصَره أَو الَّذِي تنازعه نَفسه فِي الْمَنَام أَو الَّذِي يبعد عَنهُ أَو يدق عَن الْإِحَاطَة ثمَّ لم يعْمل عَلَيْهِ كيد الشَّيْطَان فِي الصّرْف عَن الملاذ وكف النَّفس عَن الشَّهَوَات ويوقيه من الْجَوَاهِر المؤذية وصون النَّفس عَن اقتحام النيرَان والبحار وَلَو كَانَ عَن حَقِيقَة جهل ينْطق لَكَانَ لَا بَقَاء لَهُ لما يقتحم المهالك وَيمْتَنع عَن تنَاول الأغذية فَثَبت أَن الَّذِي دَعَا إِلَى مَا يَقُوله حب اللَّذَّات والميل إِلَى الشَّهَوَات مَعَ مَا فِي الَّذِي ذكر من اخْتِلَاف الْأَحْوَال وَتبين الْخلاف دَلِيل كَاف على أَنه قد علم العيان حَيْثُ أخبر عَن الْخلاف لما ذكر من الحسبان وَعِنْدنَا أَن ذَلِك بِمَعْنى العيان إِن المؤوف وَفِي حَال الْمَنَام والبعد والدقة لَا يصل إِلَى حقائق الْأَشْيَاء وَعند الإرتفاع يصل فَذَلِك الَّذِي أوجب من الإختلاف هُوَ حق العيان لم يجز أَن يُنكره وعَلى مثله قَول مثبتي العيان ومنكري الْخَبَر بِمَا قد يظْهر فِيهِ الْكَذِب بعد أَن ينتشر بِهِ القَوْل
ثمَّ قد قيل الْإِخْبَار فِي العيان اللذيذة والجواهر الشهية فِي الإنتفاع مِمَّا لَوْلَا الْإِخْبَار عَمَّا فِيهِ من اللَّذَّة مَا احْتمل عَاقل المخاطرة بِنَفسِهِ من الإمتحان وَكَذَلِكَ اتقاء المضار من غير أَن سبق مِنْهُم الإمتحان فَمَا نالوا إِلَّا بالإخبار وعَلى ذَلِك المكاسب والحيل والحذر وَنَحْو ذَلِك مِمَّا يرجع مَنَافِع ذَلِك إِلَى أبدانهم ودنياهم وَكَذَلِكَ المضار فَثَبت أَن الَّذِي بعث هَذَا إِلَى التَّكْذِيب مَا فِي القَوْل بِهِ من إِثْبَات الحرمات وكف النَّفس عَن الشَّهَوَات فَيصير السَّبَب الَّذِي بِهِ خدع الشَّيْطَان هَذَا الصِّنْف هُوَ السَّبَب الَّذِي خدع الصِّنْف الأول مَعَ مَا يُوجد ذَلِك فِي العيان من الْوَجْه الَّذِي بَينا وَلم يمْنَع هَؤُلَاءِ القَوْل بِهِ فَمثله فِي الأول لِأَنَّهُ يظْهر الْكَذِب فِي الْإِخْبَار بِمَا اعْترض الْمخبر من الْآفَات الَّتِي تحملهم عَلَيْهِ
যে ব্যক্তি এর প্রতি চিন্তা-ভাবনা করে যাতে এটি তাকে পরম করুণাময় আল্লাহর ইবাদত থেকে বিমুখ করে দেয়, যার দৃষ্টিশক্তি রোগাক্রান্ত অথবা ঘুমের ঘোরে যার নফস তার সাথে বিবাদ করে অথবা যা তার থেকে দূরে অবস্থান করে অথবা যা পরিবেষ্টন করার ক্ষেত্রে অতি সূক্ষ্ম; অতঃপর স্বাদ-আহ্লাদ থেকে ফিরিয়ে রাখার এবং নফসকে কুপ্রবৃত্তি থেকে বিরত রাখার ক্ষেত্রে শয়তানের চক্রান্ত তার ওপর কার্যকর হয়নি, আর ক্ষতিকারক বস্তুসমূহ থেকে তাকে রক্ষা করা এবং আগুন ও সমুদ্রে ঝাঁপ দেওয়া থেকে নফসকে হেফাজত করার ক্ষেত্রেও নয়। যদি সে প্রকৃত মূর্খতা থেকেই কথা বলত, তবে তার কোনো স্থায়িত্ব থাকত না, যেহেতু সে ধ্বংসাত্মক কাজে লিপ্ত হতো এবং খাদ্য গ্রহণ থেকে বিরত থাকত। সুতরাং এটি প্রমাণিত হলো যে, সে যা বলছে তার মূল চালিকাশক্তি হলো উপভোগের আকাঙ্ক্ষা এবং কুপ্রবৃত্তির প্রতি ঝোঁক। এর পাশাপাশি অবস্থার যে ভিন্নতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে এবং সেই পার্থক্যের প্রকাশই এ কথার যথেষ্ট দলিল যে, সে চাক্ষুষ প্রত্যক্ষণের বিষয়টি অবগত হয়েছে। যেহেতু সে অনুমানের ভিত্তিতে যে পার্থক্যের কথা উল্লেখ করেছে, তা মূলত পার্থক্যের সংবাদ প্রদানই। আমাদের নিকট এর অর্থ হলো চাক্ষুষ প্রত্যক্ষণ। নিশ্চয়ই যার দৃষ্টি রোগাক্রান্ত অথবা যে ঘুমের ঘোরে আছে কিংবা দূরত্বের কারণে অথবা সূক্ষ্মতার কারণে সে বস্তুর হাকীকত বা প্রকৃত অবস্থায় পৌঁছাতে পারে না, কিন্তু এই প্রতিবন্ধকতা দূর হলে সে তথায় পৌঁছাতে পারে। সুতরাং এই যে পার্থক্যের সৃষ্টি হয়েছে, তা চাক্ষুষ প্রত্যক্ষণেরই বাস্তবতা, যা অস্বীকার করা কারো জন্য বৈধ নয়। চাক্ষুষ প্রত্যক্ষণে বিশ্বাসী এবং সংবাদকে অস্বীকারকারীদের বক্তব্যও অনুরূপ, কেননা কোনো কথা প্রচার হওয়ার পর সংবাদদাতার কারণে তাতে মিথ্যার প্রকাশ ঘটতে পারে।
অতঃপর বলা হয়েছে যে, চাক্ষুষ দেখার ক্ষেত্রে আনন্দদায়ক বিষয় এবং উপকারের ক্ষেত্রে আকাঙ্ক্ষিত বস্তুসমূহের সংবাদ প্রদান এমন একটি বিষয় যে, যদি এগুলোর স্বাদের ব্যাপারে সংবাদ দেওয়া না হতো, তবে কোনো বিবেকবান ব্যক্তি পরীক্ষার মাধ্যমে নিজেকে ঝুঁকির মুখে ফেলত না। একইভাবে পূর্ব কোনো পরীক্ষা ছাড়াই ক্ষতিকর বিষয়সমূহ থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব হয়েছে যা তারা কেবল সংবাদের মাধ্যমেই লাভ করেছে। আর এরই ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে উপার্জন, কলাকৌশল, সতর্কতা এবং অনুরূপ বিষয়সমূহ যার উপকারিতা তাদের শরীর ও পার্থিব জগতের দিকেই প্রত্যাবর্তন করে; একইভাবে অপকারিতাও। সুতরাং প্রমাণিত হলো যে, যা একে মিথ্যারোপে উদ্বুদ্ধ করেছে তা হলো এই মতবাদের মধ্যে হারাম কার্যাবলি সাব্যস্ত হওয়া এবং নফসকে কুপ্রবৃত্তি থেকে বিরত রাখার বিষয়টি। ফলে শয়তান এই শ্রেণীকে যে কারণে ধোঁকা দিয়েছে, সেই একই কারণে সে প্রথম শ্রেণীকেও ধোঁকা দিয়েছে। চাক্ষুষ প্রত্যক্ষণের ক্ষেত্রে আমরা যে দিকটি বর্ণনা করেছি তার উপস্থিতিতেও তারা একে স্বীকার করতে বাধা দেয়নি। আর প্রথমটির ক্ষেত্রেও দৃষ্টান্ত অনুরূপ, কেননা সংবাদদাতার ওপর আপতিত বিভিন্ন ত্রুটির কারণে সংবাদে মিথ্যা প্রকাশ পেতে পারে, যা তাদের সেই পথে ধাবিত করে।
(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদ লিল মাতুরীদী
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وَبعد فقد ظهر صدق كثير من الْأَخْبَار فَلم يكن أحد الْوَجْهَيْنِ بِهِ أولى من الآخر إِلَّا بِدَلِيل يُوضح وَالله الْمُوفق
وَقد يُعَامل بالمعاملة الوحشة وَضرب مِمَّا يُؤْذِيه ويؤلمه حَتَّى يضْطَر إِلَى القَوْل بِمَا لَا يحْتَمل مَعْرفَته إِلَّا بالْخبر وَلَا قُوَّة إِلَّا بِاللَّه
وعَلى مثله قَول المقرين بِعلم العيان وَالْخَبَر المنكرين لعلم الإستدلال على عقله لوجوه الْمَنَافِع فِي الدُّنْيَا ولعواقب مأمولة لَيْسَ عِنْده علم من جِهَة العيان وَالْخَبَر وَإِنَّمَا ذَلِك بالإستدلال وَمَا فِي ذَلِك من ظنون الْإِصَابَة وَكَذَا معرفَة صدق الْإِخْبَار وَكذبه مَعَ مَا يُقَال لَهُ فِي كل شَيْء يعلم مِمَّا لَيْسَ فِيهِ علم الْحس بِمَ علمت ذَلِك فَإِن قَالَ بالْخبر يسْأَل عَن معرفَة صدقه وَكذبه وَتدْخل ذَلِك فِي جَمِيع الملاذ والمضار مِمَّا يتقى وَيُؤْتى مَعَ مَا كَانَت الضَّرُورَة تلْزم النّظر بِمَا عاين وَسمع ليعلم منشأ الْعَالم أَو حَدثهُ وَقدمه
وَبعد فَإِنَّهُ لَيْسَ فِي شَيْء يمْنَع الإستدلال لَهُ خبر فِي الْمَنْع أَو عيان فَكَأَنَّهُ بالإستدلال يمْنَع القَوْل بِهِ وَلَا قُوَّة إِلَّا بِاللَّه
وَبعد فَإِن معرفَة إِنْسَان أَو نَار أَو شَيْء بِالَّذِي شوهد مرّة لَا يخرج إِلَّا على الإستدلال بِالَّذِي عرف وَلَو لم يدله للزمه أَن لَا يُعَامل أحدا قطّ ثمَّ لَا يقبل تَعْلِيم أحد لِأَنَّهُ لَا دَلِيل عِنْده يعلم أَنه من وَيجوز أَن يُوجد بِخَبَرِهِ أَو لَا ثَبت أَن كل ذَلِك إستدلال وَهُوَ لَازم وَلَا قُوَّة إِلَّا بِاللَّه
مَسْأَلَةفِي دلَالَة الشَّاهِد على الْغَائِب
قَالَ أَبُو مَنْصُور رحمه الله ثمَّ اخْتلف فِي وَجه دلَالَة الشَّاهِد على الْغَائِب فَمنهمْ من يَقُول على مثله إِذْ هُوَ أصل للَّذي غَابَ عَنهُ وَلَا يُخَالف الأَصْل
অতঃপর অনেক সংবাদের সত্যতা প্রকাশ পেয়েছে, তাই স্পষ্টকারী কোনো প্রমাণ ব্যতীত দুই দিকের কোনো একটি অপরটির চেয়ে অধিক অগ্রগণ্য হবে না। আর আল্লাহই তাওফীকদাতা।
এবং কখনো কখনো তাকে রূঢ় আচরণ ও মারধরের মাধ্যমে কষ্ট দেওয়া হয় যা তাকে যাতনা দেয়, এমনকি সে এমন কথা বলতে বাধ্য হয় যার জ্ঞান সংবাদ ব্যতীত অর্জন করা সম্ভব নয়। আর আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো শক্তি নেই।
আর এর অনুরূপ হলো সেই ব্যক্তিদের বক্তব্য যারা চাক্ষুষ দর্শন ও সংবাদের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞানকে স্বীকার করে কিন্তু যৌক্তিক অনুমানের (ইসতিদলাল) জ্ঞানকে অস্বীকার করে; অথচ দুনিয়ার নানাবিধ উপকারিতা এবং কাঙ্ক্ষিত পরিণতির ক্ষেত্রে তার বুদ্ধিবৃত্তিক জ্ঞান রয়েছে যা চাক্ষুষ দর্শন বা সংবাদের মাধ্যমে অর্জিত হয়নি, বরং তা কেবল যৌক্তিক অনুমানের মাধ্যমেই অর্জিত। আর তাতে সঠিক হওয়ার ধারণাও নিহিত থাকে। অনুরূপভাবে সংবাদের সত্যতা ও মিথ্যা হওয়ার জ্ঞানও তেমনি। এর সাথে তাকে প্রতিটি বিষয়ে—যা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য নয়—জিজ্ঞেস করা হয়: 'তুমি এটি কীভাবে জানলে?' সে যদি বলে সংবাদের মাধ্যমে, তবে তাকে সেই সংবাদের সত্যতা ও মিথ্যা হওয়ার উপায় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। এই বিষয়টি সকল প্রকার স্বাদ ও ক্ষতিকর বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত যা বর্জন করা হয় বা গ্রহণ করা হয়। সেই সাথে এই প্রয়োজনীয়তাও অপরিহার্য হয়ে পড়ে যে, সে যা দেখেছে এবং শুনেছে তা নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করবে যাতে জগতের উৎপত্তি অথবা এর সৃষ্টি ও অনাদিত্ব সম্পর্কে জানা যায়।
অতঃপর এমন কোনো বিষয় নেই যা যৌক্তিক অনুমানকে বাধা দেয়, যে বিষয়ে বাধার সপক্ষে কোনো সংবাদ বা চাক্ষুষ প্রমাণ রয়েছে। সুতরাং মনে হচ্ছে যেন সে যৌক্তিক অনুমানের মাধ্যমেই তা বলতে নিষেধ করছে। আর আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো শক্তি নেই।
অতঃপর একবার দেখা কোনো মানুষ বা আগুন বা কোনো বস্তু সম্পর্কে জ্ঞান কেবল পূর্বপরিচিত বিষয়ের ওপর যৌক্তিক অনুমানের মাধ্যমেই অর্জিত হয়। যদি সে এটিকে যুক্তি হিসেবে না মানত, তবে সে কখনো কারো সাথে কোনো লেনদেন করতে পারত না। এমনকি কারো শিক্ষা গ্রহণ করাও তার পক্ষে সম্ভব হতো না, কারণ তার কাছে এমন কোনো দলীল নেই যার মাধ্যমে সে জানতে পারে এটি কার পক্ষ থেকে, এবং তার সংবাদের মাধ্যমে তা সাব্যস্ত হওয়া সম্ভব কি না। প্রমাণিত হলো যে, এই সমস্ত বিষয়ই যৌক্তিক অনুমান এবং তা অপরিহার্য। আর আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো শক্তি নেই।
মাসআলাদৃশ্যমান বস্তু দ্বারা অদৃশ্য বস্তুর প্রমাণের বিষয়ে
আবু মনসুর (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: অতঃপর দৃশ্যমান বস্তু দ্বারা অদৃশ্য বস্তুর প্রমাণের পদ্ধতির ব্যাপারে মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেন: দৃশ্যমান বস্তু দ্বারা অনুরূপ অদৃশ্য বস্তুর প্রমাণ পাওয়া যায়, কেননা দৃশ্যমান বিষয়টিই অদৃশ্যের জন্য মূল ভিত্তি স্বরূপ, আর কোনো কিছু তার মূলের পরিপন্থী হয় না।
(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদ লিল মাতুরীদী
(পৃষ্ঠা: ২৮)
فَرعه مَعَ مَا كَانَ طَرِيق معرفَة الْغَائِب الشَّاهِد وَقِيَاس الشَّيْء نَظِيره فبه أثبتوا قدم الْعَالم إِذْ الشَّاهِد يدل على مثله فَصَارَ الْغَائِب بِهِ عَالما أَيْضا ثمَّ هُوَ يدل فِي كل وَقت على مثله قبله وَفِي ذَلِك إِيجَاب الْقدَم للْكُلّ
وَمِنْهُم من يَقُول مَا من وَقت يتَوَهَّم فِيهِ ابْتِدَاء الْعَالم إِلَّا وَقد يتَوَهَّم قبله فَيبْطل لَهُ الْغَايَة
وَمِنْهُم من يَقُول يدل على الْمثل وَالْخلاف ودلالته على الْخلاف أوضح لِأَن من شَاهد شَيْئا من الْعَالم يدله على حَدثهُ أَو قدمه وَقدمه وحدثه لَيْسَ هُوَ مثلهمَا وَلَا نظيرهما ثمَّ يدله على محدثه أَو كَون بِنَفسِهِ وهما خِلَافه ثمَّ يدله على حِكْمَة فَاعله وسفهه وإختياره وطبعه وكل ذَلِك خلاف لما شَاهده وَلَا يدله على أَن لَهُ مثلا إِذْ لَو كَانَ يدله لَكَانَ يجب أَن يتَوَهَّم كل من عاين نَفسه أَن يكون كل الْعَالم مثله وَذَلِكَ بعيد فَثَبت أَن الْجَوْهَر لَا يُحَقّق رُؤْيَة مثله غَائِبا ويحقق أحد الْوُجُوه الَّتِي ذَكرنَاهَا لَكِن إِذا عرفت كَيْفيَّة الْمشَاهد إِذا أخْبرت بِتِلْكَ الْكَيْفِيَّة لغَائِب علمت أَنه مثله لَا أَن ذَلِك يُحَقّق الْمثل وَقد يجوز أَن يدل على مثله بِهَذَا الْوَجْه وَبِمَا عرف يعْنى الْجِسْم وَالنَّار فَيعرف كل جسم ونار وَإِن لم يشهده وَلَا قُوَّة إِلَّا بِاللَّه
وَمَا زعم من الأَصْل وَالْفرع فمقلوب لما كَانَ الْقَدِيم والقدم وَلم يكن مَا بِهِ إستدلال فَلذَلِك لم يجب جعله فرعا لهَذَا بل هُوَ الأَصْل لكَون هَذَا بِهِ
ثمَّ كل كَائِن بِغَيْرِهِ من طَرِيق الْعقل خَارج عَن جوهره فِي الشَّاهِد كالبناء وَالْكِتَابَة وكل أَنْوَاع الْأَفْعَال والأقوال الَّتِي هِيَ أغيار لمن كن بهم لم يجز أَن يلحقهم بالجوهر وَالصّفة فَمثله الَّذِي بِهِ الْعَالم
على أَنه جَازَ فِي الشَّاهِد إِثْبَات مَا لَا يدْرك وَلَا يحاط بِهِ نَحْو السّمع وَالْبَصَر وَالروح وَالْعقل والهوى وَنَحْو ذَلِك وَمَا يدْرك نَحْو الْأَجْسَام الكثيفة فَلَو كَانَت هِيَ قديمَة الأَصْل فَيجب أَن يكون كل نوع يتَوَلَّد وَيحدث من جوهره الْعقل من الْعقل وَكَذَلِكَ الْبَصَر والسمع وَمَعْلُوم الإختلاف بَين كل جَوْهَر والمتولد
এর শাখাটি হলো যে, অদৃশ্যকে জানার মাধ্যম হলো দৃশ্যমান জগত এবং কোনো বস্তুকে তার সদৃশ বস্তুর সাথে তুলনা করা। এর মাধ্যমেই তারা জগতের অনাদিত্ব প্রমাণ করার চেষ্টা করেছে। কারণ দৃশ্যমান বস্তু তার সদৃশ বস্তুর অস্তিত্ব নির্দেশ করে, ফলে অদৃশ্যটিও এর মাধ্যমে জগত হয়ে যায়। অতঃপর এটি প্রতি মুহূর্তে তার পূর্ববর্তী সদৃশ বস্তুর অস্তিত্বের প্রমাণ দেয়, আর এর মাধ্যমেই সবকিছুর অনাদিত্ব অনিবার্য হয়ে পড়ে।
তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলে, এমন কোনো সময় কল্পনা করা যায় না যেখানে জগতের সূচনা হয়েছে বলে মনে করা হবে, বরং তার আগেও সময়ের কল্পনা করা যায়; ফলে জগতের কোনো শেষ বা সীমা তার কাছে বাতিল হয়ে যায়।
আবার তাদের কেউ কেউ বলে যে, এটি সদৃশ ও বৈসাদৃশ্য উভয়টির প্রমাণ দেয়। তবে বৈসাদৃশ্যের প্রমাণটি অধিকতর স্পষ্ট। কারণ যে ব্যক্তি জগতের কোনো কিছু প্রত্যক্ষ করে, তা তাকে সেই বস্তুর সৃষ্টি হওয়া অথবা অনাদিত্বের দিকে পরিচালিত করে। অথচ সেই বস্তুর অনাদিত্ব ও সৃষ্টি হওয়া বিষয় দুটি তাদের সদৃশ বা অনুরূপ নয়। অতঃপর তা তাকে তার স্রষ্টা অথবা নিজ সত্তায় অস্তিত্বশীল হওয়ার বিষয়ের দিকে পরিচালিত করে, আর এ উভয়টিই তার বিপরীত। তারপর তা তাকে তার কর্তার প্রজ্ঞা ও নির্বুদ্ধিতা, এবং তার ইচ্ছা ও স্বভাবের দিকে পরিচালিত করে, যার প্রতিটিই তার প্রত্যক্ষকৃত বিষয়ের বিপরীত। এটি তাকে এই প্রমাণ দেয় না যে তার কোনো সদৃশ রয়েছে। কারণ যদি তা সদৃশ হওয়ার প্রমাণ দিত, তবে যে ব্যক্তি নিজেকে দেখেছে তার পক্ষে জগতকে নিজের সদৃশ কল্পনা করা আবশ্যক হয়ে পড়ত, যা অবাস্তব। সুতরাং প্রমাণিত হলো যে, কোনো সত্তা অদৃশ্যে তার সদৃশ দেখার বিষয়টি নিশ্চিত করে না, বরং এটি আমাদের উল্লিখিত দিকগুলোর কোনো একটিকে নিশ্চিত করে। তবে যখন আপনি কোনো দৃশ্যমান বস্তুর অবস্থা সম্পর্কে জানবেন এবং সেই অবস্থা সম্পর্কে কোনো অদৃশ্য বস্তু নিয়ে আপনাকে সংবাদ দেওয়া হবে, তখন আপনি জানতে পারবেন যে সেটি তার সদৃশ; এর মানে এই নয় যে তা সদৃশ হওয়াকে নিশ্চিত করে। সম্ভবত এই পন্থায় এবং পরিচিত বিষয়ের মাধ্যমে—যেমন দেহ ও অগ্নি—এটি সদৃশ হওয়ার প্রমাণ দিতে পারে; ফলে প্রতিটি দেহ ও অগ্নি সম্পর্কে জানা সম্ভব হয় যদিও তা প্রত্যক্ষ না করা হয়। আর আল্লাহ ছাড়া কোনো শক্তি নেই।
আর মূল ও শাখা সম্পর্কে যা দাবি করা হয়েছে তা উল্টো। যেহেতু অনাদি সত্তা ও অনাদিত্ব বিদ্যমান ছিল এবং তখন কোনো দলিল বা প্রমাণের মাধ্যম ছিল না, তাই একে এর শাখা বানানো আবশ্যক নয়; বরং এটিই মূল, কারণ এর মাধ্যমেই সবকিছুর অস্তিত্ব।
অতঃপর বুদ্ধিবৃত্তিক উপায়ে অন্যের মাধ্যমে অস্তিত্বশীল প্রতিটি বিষয়ই দৃশ্যমান জগতে তার মূল সত্তা থেকে পৃথক, যেমন নির্মাণ ও লিখন। একইভাবে সকল প্রকার কর্ম ও কথা যা সেই কর্তার সত্তা থেকে ভিন্ন, তাদেরকে সত্তা ও গুণের সাথে যুক্ত করা জায়েজ নয়। আর জগত যার মাধ্যমে অস্তিত্বশীল তার দৃষ্টান্তও তদ্রূপ।
তদুপরি, দৃশ্যমান জগতে এমন কিছু প্রমাণ করা সম্ভব যা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য নয় এবং পরিবেষ্টনযোগ্য নয়, যেমন শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি, রুহ, বুদ্ধি, প্রবৃত্তি ইত্যাদি। আর যা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য তা হলো স্থূল দেহসমূহ। যদি সেগুলো মূলে অনাদি হতো, তবে আবশ্যক হতো যে প্রতিটি প্রকার তার মূল সত্তা থেকে উৎপন্ন ও সৃষ্টি হবে—যেমন বুদ্ধি থেকে বুদ্ধি, এবং একইভাবে দৃষ্টি ও শ্রবণ। অথচ প্রতিটি মূল সত্তা ও তা থেকে উৎপন্ন বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য সুস্পষ্ট।
(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদ লিল মাতুরীদী
(পৃষ্ঠা: ২৯)
مِنْهُ فِي ذَلِك فَلَزِمَ الْكَوْن وَالْحَدَث إِن كَانَ مُخْتَلفا وَفِي تثبيت الإختلاف بطلَان أَن يكون الَّذِي فِي وصف الْقدَم عَالما أَو على مَا عَلَيْهِ صفته وَفِي ذَلِك إِثْبَات حدث الْعَالم بِمن لَيْسَ كمثله
وَبعد فَإِن الْكِتَابَة تدل على الْكَاتِب وَمن لَا يدل على كيفيته أَو مثله لَا يجوز أَن يكون ملكا أَو بشرا أَو جنا فَتكون الْكِتَابَة غير دَالَّة على مائية الْكَاتِب وكيفيته وَلَا على مثلهَا وَهِي تدل على كَاتب مَا فَمثله الْعَالم بِمَا فِيهِ يدل على مُحدث مَا لَا يدل على كيفيته ومائيته وَكَذَلِكَ الْبناء والنسخ والنجر والصناعات لذَلِك لزم الْقيَاس فِي إِثْبَات صانع الْعَالم بالعالم بِمَا فِيهِ من الْعَجَائِب والأشياء الَّتِي لَا يحْتَمل كَونهَا إِلَّا بِحَكِيم عليم وَلَا يجب بِهِ تعرف الْكَيْفِيَّة لَهُ والمائية وَلَا قُوَّة إِلَّا بِاللَّه
قَالَ الشَّيْخ أَبُو مَنْصُور رحمه الله وَالْأَصْل أَن دلَالَة الْعَالم مُخْتَلفَة على اخْتِلَاف جهاته دلّ احْتِمَاله الإستحالة والزوال وإجتماع الأضداد فِي عين فِي حَال على حَدثهُ ثمَّ دلّ جَهله بمباديه وعجزه عَن إصْلَاح مَا فسد مِنْهُ أَنه لم يكن بِنَفسِهِ ثمَّ دلّ اجْتِمَاع الْأَحْوَال المتضادة وإتساق جَوَاهِر الْخلق على الإستقامة على أَن مُدبر الْكل ومحدثه وَاحِد وَيدل أَيْضا اتساقه وإستقامته وَحفظ الأضداد فِي عين على قدرَة مدبره وحكمته وَعلمه فاختلفت جِهَات الدّلَالَة فِيمَا عَلَيْهِ دلالات العيان فَصَارَ دَلِيل إِثْبَات الْمُحدث عجز الْمُحدث وَدَلِيل علمه لما اتسق جَهله بِنَفسِهِ فَصَارَ وجود الدّلَالَة بِهِ على الْخلاف لَا الْوِفَاق
وأصل آخر أَيْضا أَن الضروريات والحاجات هِيَ الَّتِي دلّت على غير فَلم يجز أَن يحْتَمل مَا أحتمل هُوَ لما يحوج إِلَى غير ثمَّ ذَلِك إِلَى آخر إِلَى مَا لَا نِهَايَة لَهُ وَذَلِكَ فَاسد وَالله أعلم
এতে তার থেকে অস্তিত্ব ও সৃষ্টি হওয়া অবধারিত হয় যদি তা ভিন্ন ভিন্ন হয়। আর ভিন্নতা সাব্যস্ত করার মধ্যে ঐ সত্তার অনাদি হওয়ার গুণের ক্ষেত্রে জ্ঞানী হওয়া বা তাঁর গুণের প্রকৃত অবস্থার ওপর থাকা বাতিল হয়ে যায়। এর মাধ্যমেই এমন এক সত্তার দ্বারা মহাবিশ্বের নতুনত্বের প্রমাণ পাওয়া যায় যার সদৃশ কেউ নেই।
এরপর, লিখন যেমন লেখকের অস্তিত্বের প্রমাণ দেয়; আর যা কারো ধরন বা সদৃশ হওয়ার ইঙ্গিত দেয় না, তার পক্ষে ফেরেশতা, মানুষ বা জিন হওয়া অসম্ভব। সুতরাং লিখন লেখকের স্বরূপ বা ধরন অথবা তার সদৃশ হওয়ার ব্যাপারে কোনো প্রমাণ দেয় না, বরং তা কেবল একজন লেখকের অস্তিত্বের প্রমাণ দেয়। অনুরূপভাবে, এই মহাবিশ্ব তার মধ্যকার সবকিছুসহ একজন সৃষ্টিকর্তার প্রমাণ দেয়, কিন্তু তাঁর ধরন বা স্বরূপের প্রমাণ দেয় না। একইভাবে ভবন নির্মাণ, অনুলিপি তৈরি, সূত্রধরগিরি এবং বিভিন্ন শিল্পকর্মের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। এজন্যই মহাবিশ্বের মধ্যকার বিস্ময়কর বস্তুসমূহ এবং এমন সব বিষয় যা একজন প্রজ্ঞাবান ও সর্বজ্ঞ সত্তা ছাড়া অস্তিত্ব লাভ করা অসম্ভব—সেগুলোর মাধ্যমে মহাবিশ্বের কারিগরের অস্তিত্ব প্রমাণের জন্য কিয়াস করা আবশ্যক। তবে এর দ্বারা তাঁর ধরন বা স্বরূপ জানা আবশ্যক হয়ে পড়ে না। আর আল্লাহ ছাড়া কোনো শক্তি নেই।
শায়খ আবু মনসুর (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, মূলনীতি হলো যে মহাবিশ্বের নিদর্শনসমূহ এর বিভিন্ন দিকের পার্থক্যের কারণে ভিন্ন ভিন্ন হয়। এর অসম্ভব হওয়া ও বিলীন হওয়ার সম্ভাবনা এবং একই সময়ে একই সত্তার মধ্যে বিপরীতমুখী বিষয়ের সহাবস্থান এর নতুনত্বের (সৃষ্টি হওয়ার) প্রমাণ দেয়। অতঃপর নিজের সূচনা সম্পর্কে এর অজ্ঞতা এবং নিজের মধ্যকার কোনো কিছু নষ্ট হলে তা সংশোধন করতে এর অক্ষমতা প্রমাণ করে যে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সৃষ্টি হয়নি। এরপর পরস্পরবিরোধী অবস্থার মিলন এবং সৃষ্টির মূল উপাদানসমূহের সঠিক বিন্যাস প্রমাণ করে যে, এই সবকিছুর পরিচালক ও উদ্ভাবক একজনই। একইভাবে এর সুশৃঙ্খলতা, সুবিন্যস্ততা এবং একই সত্তার মধ্যে বিপরীতমুখী বিষয়গুলোর সংরক্ষণ এর পরিচালকের ক্ষমতা, প্রজ্ঞা ও জ্ঞানের প্রমাণ দেয়। ফলে দৃশ্যমান বিষয়গুলোর প্রমাণের দিকগুলো ভিন্ন ভিন্ন হলো। সুতরাং সৃষ্টির অক্ষমতাই স্রষ্টাকে প্রমাণের দলিলে পরিণত হলো, এবং শৃঙ্খলিত হওয়া সত্ত্বেও নিজের সম্পর্কে সৃষ্টির অজ্ঞতাই স্রষ্টার জ্ঞানের দলিলে পরিণত হলো। ফলে প্রমাণের উপস্থিতি সাদৃশ্যের ভিত্তিতে নয় বরং বৈসাদৃশ্যের ভিত্তিতে সাব্যস্ত হলো।
অন্য একটি মূলনীতি হলো, আবশ্যকতা ও প্রয়োজনীয়তাই অন্যের দিকে ধাবিত হওয়ার প্রমাণ দেয়। সুতরাং যা অন্যের মুখাপেক্ষী হওয়ার বৈশিষ্ট্য ধারণ করে, তাকে পুনরায় এমন কিছুর দিকে ধাবিত করা জায়েজ নয় যা নিজেই অন্যের মুখাপেক্ষী, এবং এভাবে চলতেই থাকলে তা অসীম পর্যন্ত পৌঁছাবে। আর এটি বাতিল। আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদ লিল মাতুরীদী
(পৃষ্ঠা: ৩০)
أقاويل من يدعى قدم الْعَالمقَالَ أَبُو مَنْصُور تمّ ذكر أقاويل من يدعى قدم الْعَالم على مَا عَلَيْهِ من كَون شَيْء من شَيْء إِلَى مَا لَا نِهَايَة لَهُ بِلَا منشئ بِمَا كَذَلِك شهده وَالشَّاهِد دَلِيل الْغَائِب فَيلْزم ذَلِك فِي الَّذِي غَابَ لِأَنَّهُ لَو جَازَ إِيجَاب خلاف العيان بالعيان لجَاز إِيجَاب إِنْسَان وجسم بِخِلَاف الْمَعْقُول على أَن فِيهِ إِيجَاب الْخُرُوج من التَّصَوُّر فِي الْوَهم والتقدر فِي الْعقل وَذَلِكَ آيَة النفى فَمثله اعْتِقَاد شَيْء لَا من شَيْء نَحْو الْأَوْقَات إِنَّهَا تقع تباعا وَقد اعتبرها بِمَا لَا وَقت يتَوَهَّم كَونه إِلَّا وَأمكن توهم ذَلِك قبله إِلَى مَا لَا نِهَايَة لَهُ وَاعْتبر أَيْضا بِجَوَاز الْبَقَاء بِمَا لَا يبْقى
وَمِنْهُم من يَقُول يكون شَيْء بِشَيْء إِلَى مَا لَا نِهَايَة لَهُ بمنشيء حَكِيم وجعلوه عِلّة كَون الْعَالم ومحال كَون الْعلَّة وَلَا مَعْلُول مَعَ مَا لَا يَخْلُو من لَا يُوصف بِالْقُدْرَةِ والجود فِي الْقدَم وَذَلِكَ آيَة الْعَجز وَالْحَاجة أَو يُوصف فَيجب الْمَقْدُور عَلَيْهِ وإفاضة الْجُود على كل شَيْء وَمَا ذكر من التَّوَهُّم لَهُم أَيْضا
وَمِنْهُم من يَقُول بقدم الطينة وَهِي الأَصْل وَحدث الصَّنْعَة
قَالَ أَبُو مَنْصُور رحمه الله فَقَوله بقدم الطينة لما ذكرنَا من رفع كَون شَيْء لَا عَن شَيْء ثمَّ كَانَ كل شَيْء حدث عَن شَيْء حدث عِنْد انقلاب الأول وهلاكه نَحْو مَا يحدث من النُّطْفَة والبيضة
وَمِنْهُم من جعل حَدثهُ بعوارض حلت بالطينة فَانْقَلَبت على مَا عَلَيْهِ الطبائع من الإعتدال والإختلاف
وَمِنْهُم من جعل حَدثهُ بالباري
وَمِنْهُم من قَالَ بِالْأَصْلِ وَسَماهُ هيولي
قَالَ الشَّيْخ أَبُو مَنْصُور رحمه الله فجملة مَا ذهب إِلَيْهِ هَؤُلَاءِ دفع مَا لَا
জগৎ অনাদি হওয়ার দাবিদারদের বক্তব্যআবু মানসুর বলেন, জগৎ অনাদি হওয়ার দাবিদারদের বক্তব্য উল্লেখ করা সম্পন্ন হয়েছে। তাদের মূলনীতি হলো—কোনো নির্মাতা ছাড়াই এক বস্তু থেকে অন্য বস্তু অনাদিকাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে অস্তিত্ব লাভ করে আসছে; কারণ তারা দৃশ্যমান জগতে এমনটিই প্রত্যক্ষ করে। আর দৃশ্যমান জগতই অদৃশ্যের প্রমাণ। সুতরাং অদৃশ্যের ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য হওয়া আবশ্যক। কেননা, যদি দৃশ্যমান বিষয়ের মাধ্যমে দৃশ্যমান বিষয়ের বিপরীতে কোনো কিছু সাব্যস্ত করা বৈধ হতো, তবে বিবেকের পরিপন্থী কোনো মানুষ বা দেহের অস্তিত্ব সাব্যস্ত করাও বৈধ হতো। অথচ এতে এমন কিছু সাব্যস্ত করা হয় যা কল্পনার অতীত এবং বিবেকের পরিমাপের বাইরে, যা মূলত অস্তিত্বহীনতারই লক্ষণ। এর অনুরূপ হলো কোনো কিছু থেকে কোনো কিছু সৃষ্টি না হওয়ার বিশ্বাস, যেমন সময়; যা একের পর এক সংঘটিত হয়। তারা সময়কে এমনভাবে বিবেচনা করেছে যে, প্রতিটি সময়ের পূর্বে অন্য একটি সময়ের অস্তিত্ব কল্পনা করা সম্ভব এবং এভাবে তা অনাদিকাল পর্যন্ত বিস্তৃত। তারা নশ্বর বস্তুর অস্তিত্বের মাধ্যমে স্থায়িত্বের বৈধতাকেও বিবেচনা করেছে।
তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেন, একজন প্রজ্ঞাবান নির্মাতার মাধ্যমে অনাদিকাল ধরে এক বস্তু থেকে অন্য বস্তু সৃষ্টি হয়ে আসছে। তারা তাকে জগতের অস্তিত্বের ‘কারণ’ (ইল্লাত) হিসেবে গণ্য করেছেন। অথচ ‘কার্য’ (মা’লুল) ছাড়া ‘কারণ’ থাকা অসম্ভব। তদুপরি, অনাদিকালে যদি তাকে কুদরত (ক্ষমতা) ও মহানুভবতার গুণে গুণান্বিত করা না হয়, তবে তা অক্ষমতা ও মুখাপেক্ষিতার লক্ষণ। আর যদি গুণান্বিত করা হয়, তবে যার ওপর কুদরত খাটানো হবে তার অস্তিত্ব এবং প্রতিটি বস্তুর ওপর মহানুভবতার প্রবাহ অনিবার্য হয়ে পড়ে। তাদের উল্লিখিত ভ্রান্ত ধারণাগুলোও অনুরূপ কল্পনানির্ভর।
তাদের মধ্যে কেউ কেউ আদি উপাদান বা ‘তিনা’র অনাদিত্বের কথা বলেন, যা মূল উৎস; আর রূপ বা কারুকার্যকে তারা নশ্বর (সৃষ্ট) মনে করেন।
আবু মানসুর (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘তিনা’ বা আদি উপাদানের অনাদিত্ব সম্পর্কে তাদের বক্তব্যের কারণ হলো আমাদের বর্ণিত সেই যুক্তি—অর্থাৎ কোনো কিছু থেকে কোনো কিছু সৃষ্টি না হওয়ার ধারণাকে নাকচ করা। অতঃপর, এক বস্তু থেকে অন্য যে বস্তুই সৃষ্টি হয়েছে, তা পূর্ববর্তী বস্তুর রূপান্তর ও বিনাশের মাধ্যমেই ঘটেছে; যেমন বীর্য ও ডিম্বাণু থেকে যা সৃষ্টি হয়।
তাদের মধ্যে কেউ কেউ এই নশ্বরতাকে আদি উপাদানে আপতিত কিছু আকস্মিক গুণের (আওয়ারিদ) ফল হিসেবে গণ্য করেছেন, যা স্বভাবজাত ভারসাম্য ও বৈচিত্র্যের ভিত্তিতে রূপান্তরিত হয়েছে।
তাদের মধ্যে কেউ কেউ একে স্রষ্টার (বারী) মাধ্যমে সৃষ্ট বলে গণ্য করেছেন।
তাদের মধ্যে কেউ কেউ এক মূল সত্তার কথা বলেছেন এবং তার নাম দিয়েছেন ‘হায়ুলা’ (আদি বস্তু)।
শায়খ আবু মানসুর (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এদের মতবাদের সারকথা হলো এমন বিষয়কে অস্বীকার করা যা—
(খণ্ড: ১)
আত-তাওহীদ লিল মাতুরীদী
(পৃষ্ঠা: ৩১)
يتَصَوَّر فِي الْوَهم وَلَا يتَمَثَّل فِي النَّفس إِذْ كَذَلِك وجد لم يحْتَمل قُلُوبهم إِيجَاب خِلَافه
فَيُقَال أيتصور فِي أوهامكم دفع مَا لَا يتَمَثَّل فِي النَّفس فَإِن قَالَ نعم كَابر لمشاركتنا إِيَّاه فِي ذِي الصُّور وَلَيْسَ يتَصَوَّر دَفعه هَذَا فِي أوهامنا وَإِن قَالَ لَا بل تَقْدِيره فَيُقَال لَهُ مَتى يتَصَوَّر فِي الْوَهم قدم الشَّيْء أَو بَقَاؤُهُ بعد التَّفَرُّق وَأَن يصير بِحَيْثُ لَا يَأْخُذهُ الْبَصَر وَقد يَقُول بذلك كُله وَمَعَ ذَلِك فِي الْأَنْفس مَا لَا يتَمَثَّل فِي الْأَنْفس من السّمع وَالْبَصَر وَجرى قوى جَوْهَر وَاحِد من الطَّعَام وتولد قُوَّة الْجَوَاهِر الْمُخْتَلفَة بِهِ كالسمع وَالْبَصَر والفهم وَالْيَد وَالرجل وَغَيرهَا مِمَّا يُنكر مثله فِي تِلْكَ الْجُمْلَة بالأدلة
ثمَّ يُقَال لَهُ لَا يعدو كَون الشَّيْء من الشَّيْء من أَن يكون مستجنا فِيهِ فَظهر ومحال أَن يكون الْإِنْسَان بكليته وَالشَّجر بكليته مَعَ مَا يُثمر فِي ذَلِك الأَصْل أَو جَمِيع الْبشر بجوهرهم يكونُونَ فِي أصل المَاء الَّذِي كَانَ فِي صلب فيسع الشَّيْء الْوَاحِد مَا لَا يُحْصى من الْأَضْعَاف وَذَلِكَ مِمَّا لَا يحْتَمل تمثله فِي نفس صَحِيحَة وَلَا يصبر عَلَيْهِ عقل سليم وَذَلِكَ يبطل قَوْله كَون الشَّيْء من الشَّيْء لِأَنَّهُ بكليته لم يكن من النُّطْفَة
وَلَيْسَ لَهُ أَن يدعى كَونه فِي الأغذية لِأَنَّهُ يبلغ فِي وقتا فِي الْعظم لَا يزْدَاد الْبَتَّةَ وَتلك الأغذية كلهَا مَوْجُودَة أَو فِيهَا زِيَادَة بالجوهر وَكم من جَوْهَر يسمن وَآخر يَأْكُل ذَلِك عمره فَلَا يظْهر وَترى التوت وورقه يَأْكُلهُ نعم فَيخرج من كل غير الَّذِي يخرج من غَيره وَكَذَلِكَ التَّمْر وَغَيره فَهَذَا يبين أَن ذَلِك لَيْسَ
এটি কল্পনায় চিত্রিত হয় না এবং অন্তরে প্রতিভাত হয় না; যেহেতু বিষয়টি এভাবেই বিদ্যমান রয়েছে, তাই তাদের অন্তর এর বিপরীত কিছু মেনে নিতে সক্ষম হয়নি।
অতঃপর বলা হবে, তোমাদের কল্পনায় কি এমন কিছু অস্বীকার করা সম্ভব যা অন্তরে প্রতিভাত হয় না? যদি সে বলে 'হ্যাঁ', তবে সে হঠকারিতা করল, কারণ রূপবিশিষ্ট বস্তুর ক্ষেত্রে আমরাও তার অংশীদার এবং আমাদের কল্পনায় এর খণ্ডন সম্ভব নয়। আর যদি সে বলে 'না, বরং এর অনুমান করা যায়', তবে তাকে বলা হবে: কোনো জিনিসের অনাদিত্ব বা বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর তার স্থায়িত্ব এবং এমন অবস্থায় পরিণত হওয়া যা দৃষ্টির অগোচর থাকে—তা কখন কল্পনায় ধরা পড়ে? অথচ সে এই সবকটি বিষয়ই স্বীকার করে থাকে। এর পাশাপাশি অন্তরের মাঝে শ্রবণ ও দর্শনের মতো এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা অন্তরে (পূর্ব হতে) প্রতিভাত হয় না। আবার খাদ্যের একই জওহর (উপাদান) থেকে বিভিন্ন শক্তির প্রবাহ এবং তার মাধ্যমে শ্রবণ, দর্শন, অনুধাবন, হাত, পা ও অন্যান্য ভিন্নধর্মী জওহরের শক্তি উৎপন্ন হওয়া—এমন বিষয় যা দলীলের ভিত্তিতে সেই সামগ্রিক ব্যবস্থায় অস্বীকার করা হয়।
অতঃপর তাকে বলা হবে: একটি বস্তু থেকে অন্য একটি বস্তুর উদ্ভব হওয়ার বিষয়টি এর বাইরে নয় যে, এটি তার মধ্যে সুপ্ত ছিল এবং পরে প্রকাশিত হয়েছে। অথচ এটি অসম্ভব যে, মানুষ তার পূর্ণ সত্তাসহ এবং গাছ তার ফলদানকারী পূর্ণ সত্তাসহ সেই মূল উৎসে বিদ্যমান থাকবে; অথবা সকল মানুষ তাদের মূল সত্তাসহ সেই পানির (বীর্যের) উৎসে বিদ্যমান থাকবে যা পৃষ্ঠদেশে ছিল। ফলে একটি একক বস্তু অগণিত গুণ ধারণ করবে—এটি এমন বিষয় যা একটি সুস্থ মনে প্রতিভাত হওয়া সম্ভব নয় এবং সুস্থ বিবেকও এটি সহ্য করতে পারে না। আর এটি তার সেই দাবিকে বাতিল করে দেয় যে একটি বস্তু অন্য বস্তু থেকে (পূর্ণরূপে) তৈরি হয়েছে, কারণ মানুষ তার পূর্ণতাসহ নুতফা বা শুক্রাণুর মধ্যে বিদ্যমান ছিল না।
তার পক্ষে খাদ্যের মধ্যে এর (পূর্ণাঙ্গ মানুষের) অস্তিত্ব দাবি করার সুযোগ নেই, কারণ সে এক সময় এমন এক শারীরিক পূর্ণতায় পৌঁছায় যখন তার বৃদ্ধি একেবারেই থেমে যায়, অথচ তখনো সেই সব খাদ্য বিদ্যমান থাকে বা তাতে জওহরের (মৌলিক উপাদানের) আধিক্য থাকে। কত এমন শরীর আছে যা স্থূল হয়, আবার অন্য কেউ সারা জীবন ধরে তা গ্রহণ করেও তার শরীরে কোনো বহিঃপ্রকাশ ঘটে না। আপনি তুঁত ফল ও এর পাতা দেখেন যা গবাদিপশু ভক্ষণ করে, ফলে প্রত্যেকের থেকে ভিন্ন ভিন্ন বস্তু নির্গত হয়। তেমনিভাবে খেজুর ও অন্যান্য জিনিসের ক্ষেত্রেও একই কথা। সুতরাং এটি স্পষ্ট করে যে, বিষয়টি এমন নয়...