(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল মুফীদ ফী আদিল্লাতিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ (পৃষ্ঠা: -)
القول المفيد في أدلة الاجتهاد والتقليد   (الشوكاني)

القسم: أصول الفقه


الكتاب: القول المفيد في أدلة الاجتهاد والتقليد

المؤلف: محمد بن علي بن محمد بن عبد الله الشوكاني اليمني (ت 1250هـ)

المحقق: عبد الرحمن عبد الخالق

الناشر: دار القلم - الكويت

الطبعة: الأولى، 1396

عدد الصفحات: 109

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-কাওলুল মুফিদ ফি আদিল্লাতিল ইজতিহাদ ওয়াত তাকলিদ   (আশ-শাওকানি)

বিভাগ: উসুলুল ফিকহ


গ্রন্থ: আল-কাওলুল মুফিদ ফি আদিল্লাতিল ইজতিহাদ ওয়াত তাকলিদ

লেখক: মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আশ-শাওকানি আল-ইয়ামানি (মৃত্যু ১২৫০ হি.)

গবেষক ও সম্পাদক: আব্দুর রহমান আব্দুল খালিক

প্রকাশক: দারুল কলম - কুয়েত

সংস্করণ: প্রথম، ১৩৯৬

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১০৯

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল মুফীদ ফী আদিল্লাতিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ (পৃষ্ঠা: ১৭)
إِن الْحَمد لله نحمده ونستعينه وَنَسْتَغْفِرهُ ونعوذ بِاللَّه من شرور أَنْفُسنَا وَمن سيئات أَعمالنَا من يهده الله فَهُوَ الْمُهْتَدي وَمن يضلل فَلَا هادي لَهُ وَأشْهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله وَحده لَا شريك لَهُ وَأَن مُحَمَّدًا عَبده وَرَسُوله

أما بعد فَإِن خير الْكَلَام كَلَام الله تَعَالَى وَخير الْهدى هدى مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم وَشر الْأُمُور محدثاتها وكل محدثة بِدعَة وكل بِدعَة ضَلَالَة وكل ضَلَالَة فِي النَّار

وَبعد

فَيَقُول الْعَالم الإِمَام الْمُجْتَهد الْمُجَاهِد مُحَمَّد بن عَليّ الشَّوْكَانِيّ

طلب مني بعض الْمُحَقِّقين من أهل الْعلم أَن أجمع لَهُ بحثا يشْتَمل على تَحْقِيق الْحق فِي التَّقْلِيد أجائز هُوَ أم لَا على وَجه لَا يبْقى بعده شكّ وَلَا يقبل عِنْده تشكيك
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের কর্মসমূহের মন্দ দিকগুলো থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন, সে-ই সঠিক পথপ্রাপ্ত, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন, তার জন্য কোনো পথপ্রদর্শক নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক এবং তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।

অতঃপর, নিশ্চয়ই সর্বোত্তম বাণী হলো মহান আল্লাহর কালাম এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দীনের মধ্যে) নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, এবং প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত (بدعة), প্রতিটি বিদআতই পথভ্রষ্টতা (ضلالة), এবং প্রতিটি পথভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।

অতঃপর,

আলেম, ইমাম, মুজতাহিদ (مجتهد), মুজাহিদ মুহাম্মদ ইবনে আলী আশ-শাওকানী বলেন:

ইলম অন্বেষণকারীদের মধ্য থেকে জনৈক গবেষক আমার নিকট আবেদন করেছেন যেন আমি তাঁর জন্য তাকলীদ (تقليد) প্রসঙ্গে সত্য উদঘাটন সংবলিত একটি গবেষণাপত্র সংকলন করি; যেখানে তাকলীদ বৈধ কি না—তা এমনভাবে আলোচিত হবে যেন এরপর আর কোনো সন্দেহ অবশিষ্ট না থাকে এবং তা কোনো প্রকার সংশয় সৃষ্টির সুযোগ না দেয়।
(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল মুফীদ ফী আদিল্লাতিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ (পৃষ্ঠা: ১৮)
وَلما كَانَ هَذَا السَّائِل من الْعلمَاء المبرزين كَانَ جَوَابه على نمط علم المناظرة فَنَقُول وَبِاللَّهِ التَّوْفِيق

‌‌أَدِلَّة الْقَائِلين بِجَوَاز التَّقْلِيد

 

لما كَانَ الْقَائِل بِعَدَمِ جَوَاز التَّقْلِيد قَائِما من مقَام الْمَنْع وَكَانَ الْقَائِل بِالْجَوَازِ مُدعيًا كَانَ الدَّلِيل على مدعي الْجَوَاز وَقد جَاءَ المجوزون بأدلة

أَولا

مِنْهَا قَوْله تَعَالَى {فاسألوا أهل الذّكر إِن كُنْتُم لَا تعلمُونَ} قَالُوا فَأمر سبحانه وتعالى من لَا علم لَهُ أَن يسْأَل من هُوَ أعلم مِنْهُ

وَالْجَوَاب أَن هَذِه الْآيَة الشَّرِيفَة وَارِدَة فِي سُؤال خَاص خَارج عَن مَحل النزاع كَمَا يفِيدهُ ذَلِك السِّيَاق الْمَذْكُور قبل هَذَا اللَّفْظ الَّذِي استدلوا بِهِ وَبعده قَالَ ابْن جرير الْبَغَوِيّ وَأكْثر الْمُفَسّرين أَنَّهَا نزلت على رد الْمُشْركين لما أَنْكَرُوا الرَّسُول بشرا وَقد استوفى ذَلِك السُّيُوطِيّ فِي الدّرّ المنثور وَهَذَا هُوَ الْمَعْنى الَّذِي يفِيدهُ السِّيَاق قَالَ الله تَعَالَى {وَمَا أرسلنَا قبلك إِلَّا رجَالًا نوحي إِلَيْهِم فاسألوا أهل الذّكر إِن كُنْتُم لَا تعلمُونَ} وَقَالَ تَعَالَى {أَكَانَ للنَّاس عجبا أَن أَوْحَينَا إِلَى رجل مِنْهُم} وَقَالَ تَعَالَى
যেহেতু এই প্রশ্নকর্তা বিশিষ্ট আলেমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, তাই তাঁর উত্তরটি মুনাজারা বা বিতর্ক শাস্ত্রের (علم المناظرة) রীতি অনুযায়ী হবে। আমরা আল্লাহর নিকট থেকেই তাওফিক কামনা করে বলছি:

‌‌তাকলিদ বা অন্ধ অনুসরণ বৈধ (جواز التقليد) হওয়ার প্রবক্তাদের দলীলসমূহ

 

যেহেতু যারা তাকলিদ বা অন্ধ অনুসরণ বৈধ নয় বলে মনে করেন তারা নিষেধাজ্ঞার অবস্থানে রয়েছেন এবং যারা একে বৈধ বলেন তারা দাবিদারের অবস্থানে রয়েছেন, তাই বৈধতার দাবিদারের ওপরই প্রমাণের দায়িত্ব বর্তায়। আর বৈধতার প্রবক্তাগণ কিছু দলীল উপস্থাপন করেছেন।

প্রথমত

এর মধ্যে মহান আল্লাহর বাণী— "তোমরা যদি না জানো, তবে জ্ঞানীদের (أهل الذكر) জিজ্ঞাসা করো।" তারা বলেন যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা যার জ্ঞান নেই তাকে তার চেয়ে অধিক জ্ঞানীর কাছে জিজ্ঞাসা করার নির্দেশ দিয়েছেন।

এর উত্তর হলো, এই সম্মানিত আয়াতটি একটি বিশেষ বিষয়ের প্রশ্নের ক্ষেত্রে অবতীর্ণ হয়েছে যা বর্তমানে বিতর্কের বিষয়ের বাইরে, যেমনটি তারা যে শব্দের মাধ্যমে দলীল দিচ্ছেন তার পূর্ববর্তী ও পরবর্তী প্রেক্ষাপট (سياق) থেকে বোঝা যায়। ইবনে জারীর, বাগাভী এবং অধিকাংশ মুফাসসির বলেছেন যে, মুশরিকরা যখন রাসূলের মানুষ হওয়াকে অস্বীকার করেছিল, তখন তাদের প্রতি উত্তরেই এটি নাযিল হয়েছিল। সুয়ূতী আদ-দুররুল মানসুর কিতাবে এ বিষয়টি সবিস্তারে উল্লেখ করেছেন এবং প্রেক্ষাপট থেকে এই অর্থই স্পষ্ট হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন: "আমি তোমার পূর্বেও কেবল পুরুষদেরই পাঠিয়েছিলাম যাদের প্রতি আমি ওহী (وحي) প্রেরণ করতাম, সুতরাং তোমরা যদি না জানো তবে জ্ঞানীদের জিজ্ঞাসা করো।" আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "মানুষের জন্য কি এটি বিস্ময়কর যে, আমি তাদেরই মধ্য থেকে একজনের নিকট ওহী প্রেরণ করেছি?" এবং আল্লাহ তাআলা আরও বলেন:
(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল মুফীদ ফী আদিল্লাতিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ (পৃষ্ঠা: ১৯)
{وَمَا أرسلنَا من قبلك إِلَّا رجَالًا نوحي إِلَيْهِم من أهل الْقرى} وعَلى فرض أَن المُرَاد السُّؤَال الْعَام فالمأمور بسؤالهم هم أهل الذّكر وَالذكر هُوَ كتاب الله وَسنة رَسُوله صلى الله عليه وسلم لَا غَيرهمَا وَلَا أَظن مُخَالفا يُخَالف فِي هَذَا لِأَن هَذِه الشَّرِيعَة المطهرة إِمَّا من الله عز وجل وَذَلِكَ هُوَ الْقُرْآن الْكَرِيم أَو من رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَذَلِكَ هُوَ السّنة المطهرة وَلَا ثَالِث لذَلِك وَإِذا كَانَ الْمَأْمُور بسؤالهم هم أهل الْقُرْآن وَالسّنة فالآية الْمَذْكُورَة حجَّة على المقلدة وَلَيْسَت بِحجَّة لَهُم لِأَن المُرَاد أَنهم يسْأَلُون أهل الذّكر ليخبروهم بِهِ فَالْجَوَاب من المسؤولين أَن يَقُولُوا قَالَ الله كَذَا فَيعْمل السائلون بذلك وَهَذَا هُوَ غير مَا يُريدهُ الْمُقَلّد الْمُسْتَدلّ بِالْآيَةِ الْكَرِيمَة فَإِنَّهُ إِنَّمَا اسْتدلَّ بهَا على جَوَاز مَا هُوَ فِيهِ من الْأَخْذ بأقوال الرِّجَال من دون سُؤال عَن الدَّلِيل فَإِن هَذَا هُوَ التَّقْلِيد وَلِهَذَا رسموه بِأَنَّهُ قبُول قَول الْغَيْر من دون مُطَالبَة بِحجَّة فحاصل التَّقْلِيد أَن الْمُقَلّد لَا يسْأَل عَن كتاب الله وَلَا عَن سنة رَسُول الله صلى الله عليه وسلم بل يسْأَل عَن مَذْهَب إِمَامه فَقَط فَإِذا جَاوز ذَلِك إِلَى السُّؤَال عَن الْكتاب وَالسّنة فَلَيْسَ بمقلد وَهَذَا يُسلمهُ كل مقلد وَلَا يُنكره وَإِذا تقرر بِهَذَا أَن الْمُقَلّد إِذا سَأَلَ أهل الذّكر عَن كتاب الله وَسنة رَسُوله

“এবং আপনার পূর্বে আমি জনপদবাসীদের মধ্য থেকে পুরুষদেরই প্রেরণ করেছি, যাদের কাছে আমি ওহি (وحي) পাঠাতাম।” আর যদি ধরে নেওয়া হয় যে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সাধারণ কোনো জিজ্ঞাসা, তবে যাদেরকে জিজ্ঞাসা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তারা হলেন ‘আহলুয যিকর’ (স্মরণ বা জ্ঞানের অধিকারীগণ)। আর ‘যিকর’ হলো আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহ, এই দুটি ভিন্ন অন্য কিছু নয়। আমি মনে করি না যে কোনো দ্বিমত পোষণকারী এতে দ্বিমত করবেন, কারণ এই পবিত্র শরিয়ত হয় মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে—আর তা হলো মহাগ্রন্থ কুরআন, অথবা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে—আর তা হলো পবিত্র সুন্নাহ; এর বাইরে তৃতীয় কোনো উৎস নেই। আর যখন যাদেরকে জিজ্ঞাসা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তারা হলেন কুরআন ও সুন্নাহর ধারক-বাহকগণ, তখন উল্লিখিত আয়াতটি মুকাল্লিদদের বিপক্ষে একটি প্রমাণ (حجة), তাদের সপক্ষে কোনো প্রমাণ নয়। কেননা উদ্দেশ্য হলো তারা ‘আহলুয যিকর’-কে জিজ্ঞাসা করবে যেন তারা তাদের সে সম্পর্কে অবহিত করেন। অতঃপর উত্তরদাতাদের পক্ষ থেকে জওয়াব হবে এই বলা যে, “আল্লাহ এরূপ বলেছেন,” ফলে প্রশ্নকারীরা সেই অনুযায়ী আমল করবে। আর এটি সেই বিষয়ের পরিপন্থী যা এই পবিত্র আয়াত দ্বারা দলিল (دليل) পেশকারী মুকাল্লিদ ইচ্ছা করে। কেননা সে তো এর মাধ্যমে সেই বিষয়ের বৈধতার সপক্ষে দলিল (دليل) পেশ করে যাতে সে লিপ্ত রয়েছে, আর তা হলো দলিল (دليل) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা ব্যতিরেকেই ব্যক্তিদের কথা গ্রহণ করা। মূলত এটিই হলো তাকলিদ (تقليد)। এ কারণেই উলামায়ে কিরাম এর সংজ্ঞা দিয়েছেন এভাবে যে, প্রমাণ (حجة) তলব না করেই অন্যের কথা কবুল করে নেওয়া। সুতরাং তাকলিদ (تقليد)-এর সারকথা হলো, মুকাল্লিদ আল্লাহর কিতাব কিংবা তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে না, বরং সে কেবল তার ইমামের মাযহাব সম্পর্কেই জিজ্ঞাসা করে। অতঃপর যখন সে এটি অতিক্রম করে কিতাব ও সুন্নাহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসার স্তরে পৌঁছায়, তখন সে আর মুকাল্লিদ থাকে না। আর এটি প্রত্যেক মুকাল্লিদই স্বীকার করে এবং কেউ তা অস্বীকার করে না। আর যখন এর দ্বারা সাব্যস্ত হলো যে, মুকাল্লিদ যখন ‘আহলুয যিকর’-কে আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে...

(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল মুফীদ ফী আদিল্লাতিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ (পৃষ্ঠা: ২০)
صلى الله عَلَيْهِ وَسلم لم يكن مُقَلدًا علمت أَن هَذِه الْآيَة الشَّرِيفَة على تَسْلِيم أَن السُّؤَال لَيْسَ عَن الشَّيْء الْخَاص الَّذِي يدل عَلَيْهِ السِّيَاق بل عَن كل شَيْء من الشَّرِيعَة كَمَا يزعمه الْمُقَلّد تدفع فِي وَجهه وترغم أَنفه وتكسر ظَهره كَمَا قَرَّرْنَاهُ

ثَانِيًا

وَمن جملَة مَا استدلوا بِهِ مَا ثَبت عَنهُ صلى الله عليه وسلم أَنه قَالَ فِي حَدِيث صَاحب الشَّجَّة أَلا سَأَلُوا إِذْ لم يعلمُوا إِنَّمَا شِفَاء العي السُّؤَال وَكَذَلِكَ حَدِيث العسيف الَّذِي زنى بِامْرَأَة مستأجرة فَقَالَ أَبوهُ سَأَلت أهل الْعلم فَأَخْبرُونِي أَن على ابْني جلد مائَة وَإِن على امْرَأَة هَذَا الرَّجْم وَهُوَ ثَابت فِي الصَّحِيح قَالُوا فَلم يفكر عَلَيْهِ تَقْلِيد من هُوَ أعلم مِنْهُ

وَالْجَوَاب أَنه لم يرشدهم صلى الله عليه وسلم فِي حَدِيث صَاحب الشَّجَّة إِلَى السُّؤَال عَن آراء الرِّجَال بل أرشدهم إِلَى السُّؤَال عَن الحكم الشَّرْعِيّ الثَّابِت عَن الله وَرَسُوله صلى الله عليه وسلم وَلِهَذَا دَعَا عَلَيْهِم لما أفتوا بِغَيْر علم فَقَالَ صلى الله عليه وسلم قَتَلُوهُ قَتلهمْ الله مَعَ أَنهم قد أفتوا بآرائهم فَكَانَ الحَدِيث حجَّة عَلَيْهِم لَا لَهُم فَإِنَّهُ اشْتَمَل على أَمريْن أَحدهمَا الْإِرْشَاد لَهُم إِلَى السُّؤَال عَن الحكم الثَّابِت بِالدَّلِيلِ وَالْآخر الذَّم لَهُم على اعْتِمَاد الرَّأْي والإفتاء بِهِ وَهَذَا مَعْلُوم لكل عَالم
(রাসূলুল্লাহ) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুকাল্লিদ (مقلد) ছিলেন না। আমি জেনেছি যে এই মহান আয়াতটি—এটি মেনে নিলেও যে প্রশ্নটি কোনো নির্দিষ্ট বিষয় সম্পর্কে নয় যা প্রসঙ্গের দ্বারা ইঙ্গিত পাওয়া যায়, বরং শরীয়াহ (شريعة)-এর প্রতিটি বিষয় সম্পর্কে যেমনটি একজন মুকাল্লিদ (مقلদ) দাবি করে—তা তার মুখের ওপর নিক্ষিপ্ত হবে, তাকে লাঞ্ছিত করবে এবং তার পিঠ ভেঙে দেবে, যেমনটি আমরা সাব্যস্ত করেছি।

দ্বিতীয়ত

তারা যেসব দলীল পেশ করেছেন তার মধ্যে রয়েছে যা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সাব্যস্ত (ثبت) হয়েছে যে, তিনি জখমপ্রাপ্ত ব্যক্তির হাদিস সম্পর্কে বলেছেন: “তারা যখন জানত না তখন কেন জিজ্ঞাসা করল না? মূলত অজ্ঞতার আরোগ্য হলো জিজ্ঞাসা করা।” অনুরূপভাবে সেই শ্রমিকের হাদিস যে তার নিয়োগকর্তার স্ত্রীর সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হয়েছিল; তখন তার পিতা বলেছিলেন: “আমি জ্ঞানীদের নিকট জিজ্ঞাসা করেছি এবং তারা আমাকে জানিয়েছেন যে, আমার ছেলের শাস্তি হলো একশ বেত্রাঘাত এবং এই ব্যক্তির স্ত্রীর ওপর রজম কার্যকর হবে।” এটি সহীহ গ্রন্থে সাব্যস্ত। তারা বলেন, তিনি (রাসূল) তার চেয়ে অধিক জ্ঞানী ব্যক্তির তাকলীদ (تقليد) করার কারণে তাকে তিরস্কার করেননি।

এর উত্তর হলো, জখমপ্রাপ্ত ব্যক্তির হাদিসে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের মানুষের মতামতের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতে নির্দেশ দেননি; বরং তিনি তাদের আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সাব্যস্ত (ثابت) শারয়ী বিধান (الحكم الشرعي) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার নির্দেশ দিয়েছেন। এই কারণেই যখন তারা জ্ঞানহীনভাবে ফতোয়া প্রদান করেছেন (أفتوا), তখন তিনি তাদের বিরুদ্ধে বদদোয়া করে বলেছেন: “তারা তাকে হত্যা করেছে, আল্লাহ তাদের ধ্বংস করুন।” অথচ তারা তাদের নিজস্ব মতামতের ভিত্তিতে ফতোয়া প্রদান করেছিলেন। সুতরাং এই হাদিসটি তাদের বিপক্ষে প্রমাণ (حجة), তাদের সপক্ষে নয়। কেননা এটি দুটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করে: প্রথমটি হলো দলিল (الدليل) দ্বারা সাব্যস্ত বিধান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার নির্দেশনা; আর দ্বিতীয়টি হলো রায় (الرأي)-এর ওপর নির্ভর করা এবং তার ভিত্তিতে ফতোয়া প্রদানের নিন্দা জ্ঞাপন। এটি প্রত্যেক আলেমের নিকট সুপরিচিত।
(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল মুফীদ ফী আদিল্লাতিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ (পৃষ্ঠা: ২১)
فَإِن المرشد إِلَى السُّؤَال هُوَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَهُوَ بَاقٍ بَين أظهرهم فالإرشاد مِنْهُ إِلَى السُّؤَال وَإِن كَانَ مُطلقًا لَيْسَ المُرَاد بِهِ إِلَّا سُؤَاله صلى الله عليه وسلم أَو سُؤال من قد علم هَذَا الحكم مِنْهُ والمقلد كَمَا عرفت سَابِقًا لَا يكون مُقَلدًا إِلَّا إِذا لم يسْأَل عَن الدَّلِيل أما إِذا سَأَلَ عَنهُ فَلَيْسَ بمقلد فَكيف يتم الِاحْتِجَاج بذلك على جَوَاز التَّقْلِيد وَهل يحْتَج عَاقل على ثُبُوت شَيْء بِمَا يَنْفِيه وعَلى صِحَة أَمر بِمَا يُفِيد فَسَاده فانا لَا نطلب مِنْكُم معشر المقلدة إِلَّا مَا دلّ عَلَيْهِ مَا جئْتُمْ بِهِ فَنَقُول لكم اسألوا أهل الذّكر عَن الذّكر وَهُوَ كتاب الله وَسنة رَسُوله صلى الله عليه وسلم وأعملوا بِهِ واتركوا آراء الرِّجَال والقيل والقال ونقول كَمَا قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَلا تسْأَلُون فَإِنَّمَا شِفَاء العي السُّؤَال عَن كتاب الله وَسنة رَسُوله صلى الله عليه وسلم لَا عَن رَأْي فلَان وَمذهب فلَان فَإِنَّكُم إِذا سَأَلْتُم عَن مَحْض الرَّأْي فقد قتلكم من أفتاكم بِهِ كَمَا قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فِي حَدِيث صَاحب الشَّجَّة قَتَلُوهُ قَتلهمْ الله وَأما السُّؤَال الْوَاقِع من وَالِد العسيف فَهُوَ إِنَّمَا سَأَلَ عُلَمَاء الصَّحَابَة عَن حكم مسئلة من كتاب الله وَسنة رَسُوله صلى الله عليه وسلم وَلم يسألهم عَن آرائهم ومذاهبهم وَهَذَا يُعلمهُ كل عَالم وَنحن لَا نطلب من الْمُقَلّد إِلَّا أَن يسْأَل كَمَا سَأَلَ وَالِد العسيف وَيعْمل على مَا قَامَ عَلَيْهِ الدَّلِيل الَّذِي رَوَاهُ لَهُ الْعَالم الْمَسْئُول وَلكنه أقرّ على نَفسه بِأَن لَا يسْأَل إِلَّا

কেননা প্রশ্নের দিকে পথপ্রদর্শক হলেন স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তিনি তাদের মাঝেই উপস্থিত ছিলেন। সুতরাং তাঁর পক্ষ থেকে প্রশ্ন করার প্রতি যে দিকনির্দেশনা ছিল, তা যদিও নিঃশর্ত (مطلق), তবুও এর দ্বারা কেবল তাঁর নিকট প্রশ্ন করা অথবা এমন ব্যক্তির নিকট প্রশ্ন করা উদ্দেশ্য ছিল যিনি তাঁর কাছ থেকে এই বিধান (حكم) অবগত হয়েছেন। আর অন্ধ অনুসরণকারী (مقلد) — যেমনটি আপনি ইতিপূর্বে অবগত হয়েছেন — ততক্ষণ পর্যন্ত সে অন্ধ অনুসরণকারী (مقلد) হিসেবে পরিগণিত হয় না যতক্ষণ না সে প্রমাণ (دليل) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। পক্ষান্তরে যদি সে প্রমাণ (دليل) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে, তবে সে আর অন্ধ অনুসরণকারী (مقلد) থাকে না। এমতাবস্থায় অন্ধ অনুসরণ (تقليد)-এর বৈধতার সপক্ষে এর দ্বারা কীভাবে দলিল পেশ (احتجاج) করা সম্ভব? কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তি কি কোনো বিষয় প্রমাণের জন্য এমন কিছু দ্বারা দলিল পেশ (احتجاج) করেন যা তাকে নাকচ করে দেয়? কিংবা কোনো বিষয়ের সঠিকতা প্রমাণের জন্য কি এমন কিছু দ্বারা দলিল পেশ (احتجاج) করেন যা তার অসারতাকেই ফুটিয়ে তোলে? হে অন্ধ অনুসরণকারী (مقلدة) সম্প্রদায়! আমরা আপনাদের নিকট কেবল তা-ই দাবি করছি যা আপনাদের উপস্থাপিত প্রমাণ (دليل) দ্বারা সাব্যস্ত হয়। আমরা আপনাদের বলছি: আপনারা জ্ঞানী ব্যক্তিদের নিকট 'জিকির' তথা আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করুন, এবং সে অনুযায়ী আমল করুন। আর মানুষের ব্যক্তিগত মতামত (رأي) এবং আজেবাজে কথা বর্জন করুন। আমরা তা-ই বলি যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন: "তারা কেন জিজ্ঞাসা করল না? নিশ্চয়ই অজ্ঞতার প্রতিকার হলো প্রশ্ন করা।" আর তা হবে আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ সম্পর্কে, অমুকের ব্যক্তিগত মতামত (رأي) কিংবা অমুকের মাযহাব (مذهب) সম্পর্কে নয়। কেননা আপনারা যখন কেবল নিছক ব্যক্তিগত মতামত (رأي) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবেন, তখন যে ব্যক্তি আপনাদের সেই মর্মে ফতোয়া (فتوى) প্রদান করবে সে মূলত আপনাদের ধ্বংস করল; যেমনটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাথায় জখমপ্রাপ্ত ব্যক্তির হাদিস প্রসঙ্গে বলেছিলেন: "তারা তাকে হত্যা করেছে, আল্লাহ তাদের ধ্বংস করুন।" আর শ্রমিক (عسيف)-এর পিতার পক্ষ থেকে কৃত প্রশ্নটি ছিল মূলত সাহাবীদের (صحابة) মধ্যকার আলেমদের কাছে আল্লাহর কিতাব ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ মোতাবেক কোনো বিষয়ের বিধান (حكم) সম্পর্কে। তিনি তাদের নিকট তাদের ব্যক্তিগত মতামত (رأي) বা মাযহাব (مذهب) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেননি; আর এটি প্রত্যেক আলেমই অবগত আছেন। আমরা একজন অন্ধ অনুসরণকারীর (مقلد) নিকট কেবল এটাই চাই যে, সে যেন সেই শ্রমিক (عسيف)-এর পিতার ন্যায় প্রশ্ন করে এবং জিজ্ঞাসিত আলেম তার নিকট যে প্রমাণ (دليل) বর্ণনা করবেন, সে অনুযায়ী আমল করে। কিন্তু সে তো নিজের ব্যাপারে এটাই স্বীকার করে নিয়েছে যে সে কেবল...

(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল মুফীদ ফী আদিল্লাতিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ (পৃষ্ঠা: ২২)
عَن رَأْي إِمَامه لَا عَن رِوَايَته فَكَانَ استدلاله بِمَا اسْتدلَّ بِهِ هَهُنَا حجَّة عَلَيْهِ لَا لَهُ وَالله الْمُسْتَعَان

ثَالِثا

وَمن جملَة مَا استدلوا بِهِ مَا ثَبت أَن أَبَا بكر رضي الله عنه قَالَ فِي الْكَلَالَة أَقْْضِي فِيهَا فَإِن يكن صَوَابا فَمن الله وَإِن يكن خطأ فمني وَمن الشَّيْطَان وَالله بَرِيء مِنْهُ وَهُوَ مَا دون الْوَلَد وَالْوَالِد فَقَالَ عمر بن الْخطاب رضي الله عنه إِنِّي لأَسْتَحي من الله أَن أُخَالِف أَبَا بكر وَصَحَّ أَنه قَالَ لأبي بكر رَأينَا تبع لرأيك وَصَحَّ عَن ابْن مَسْعُود رضي الله عنه أَنه كَانَ يَأْخُذ بقول عمر رضي الله عنه وَصَحَّ أَن الشّعبِيّ قَالَ كَانَ سِتَّة من أَصْحَاب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يفتون النَّاس ابْن مَسْعُود وَعمر بن الْخطاب وَعلي بن أبي طَالب وَزيد بن ثَابت وَأبي بن كَعْب وَأَبُو مُوسَى رضي الله عنهم وَكَانَ ثَلَاثَة مِنْهُم يدعونَ قَوْلهم لقَوْل ثَلَاثَة كَانَ عبد الله يدع قَوْله لقَوْل عمر وَكَانَ أَبُو مُوسَى يدع قَوْله لقَوْل عَليّ وَكَانَ زيد يدع قَوْله لقَوْل أبي بن كَعْب

وَالْجَوَاب عَن قَول عمر أَنه قد قيل أَنه يستحي من مُخَالفَة أبي بكر فِي اعترافه بِجَوَاز الْخَطَأ عَلَيْهِ وَإِن كَلَامه لَيْسَ كُله صَوَابا مَأْمُونا عَلَيْهِ الْخَطَأ وَهَذَا وَإِن لم يكن ظَاهر لكنه يدل عَلَيْهِ وَمَا وَقع من مُخَالفَة عمر لأبي بكر
তার ইমামের মত (رأي) থেকে, তার বর্ণনা (رواية) থেকে নয়। ফলে এখানে তিনি যা দ্বারা দলিল পেশ করেছেন তা তার বিপক্ষে প্রমাণ (حجة) হিসেবে গণ্য হবে, তার পক্ষে নয়। আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি।

তৃতীয়ত

তারা যা দ্বারা দলিল পেশ করেছেন তার অন্তর্ভুক্ত হলো যা সাব্যস্ত (ثبت) হয়েছে যে, আবু বকর (রা.) 'কালালাহ' সম্পর্কে বলেছেন: "আমি এ বিষয়ে ফয়সালা দিচ্ছি; যদি তা সঠিক হয় তবে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর যদি ভুল হয় তবে তা আমার পক্ষ থেকে এবং শয়তানের পক্ষ থেকে, আর আল্লাহ তা থেকে মুক্ত। আর তা (কালালাহ) হলো সন্তান ও পিতা ব্যতীত (উত্তরাধিকারী)।" অতঃপর উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বললেন: "আমি আল্লাহর কাছে লজ্জা বোধ করি আবু বকরের বিরোধিতা করতে।" আর বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত (صحيح) যে তিনি আবু বকরকে বলেছিলেন: "আমাদের মতামত আপনার মতামতের অনুসারী।" এবং ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত (صحيح) যে তিনি উমর (রা.)-এর কথা গ্রহণ করতেন। আরও বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত (صحيح) যে আশ-শা'বী বলেছেন: রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাহাবীদের মধ্যে ছয়জন মানুষকে ফতোয়া প্রদান করতেন— ইবনে মাসউদ, উমর ইবনুল খাত্তাব, আলী ইবনে আবি তালিব, যায়েদ ইবনে সাবিত, উবাই ইবনে কা'ব এবং আবু মুসা (রা.)। তাঁদের মধ্যে তিনজন অন্য তিনজনের মতের কারণে নিজেদের মত বর্জন করতেন; আবদুল্লাহ উমরের মতের কারণে নিজের মত ত্যাগ করতেন, আবু মুসা আলীর মতের কারণে নিজের মত ত্যাগ করতেন এবং যায়েদ উবাই ইবনে কা'বের মতের কারণে নিজের মত ত্যাগ করতেন।

উমরের উক্তির উত্তর হলো— বলা হয়ে থাকে যে, তিনি আবু বকরের বিরোধিতা করতে লজ্জা বোধ করতেন তার ভুল হওয়ার সম্ভাবনা স্বীকার করে নেওয়ার ক্ষেত্রে এবং তার কথা যে সম্পূর্ণ সঠিক ও ভুল থেকে নিরাপদ নয়— তা স্বীকার করার ব্যাপারে। এটি যদিও বাহ্যত (ظاهر) স্পষ্ট নয়, তবুও এটি সেদিকেই ইঙ্গিত করে। আর উমর কর্তৃক আবু বকরের যে সকল বিরোধিতা সংঘটিত হয়েছে...
(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল মুফীদ ফী আদিল্লাতিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ (পৃষ্ঠা: ২৩)
فِي غير مَسْأَلَة كمخالفته لَهُ فِي سبي أهل الرِّدَّة وَفِي الأَرْض المغنومة فَقَسمهَا أَبُو بكر ووقفها عمر رضي الله عنهما وَفِي الْعَطاء فقد كَانَ أَبُو بكر يرى التَّسْوِيَة وَعمر يرى المفاضلة وَفِي الِاسْتِخْلَاف فقد اسْتخْلف أَبُو بكر وَلم يسْتَخْلف عمر بل جعل الْأَمر شُورَى وَقَالَ أَن اسْتخْلف فقد اسْتخْلف أَبُو بكر وَإِن لم اسْتخْلف فَإِن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لم يسْتَخْلف قَالَ ابْن عمر فوَاللَّه مَا هُوَ إِلَّا أَن ذكره رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَعلمت أَنه لَا يعدل برَسُول الله صلى الله عليه وسلم أحدا وَإنَّهُ غير مستخلف وَخَالفهُ أَيْضا فِي الْجد والأخوة فَلَو كَانَ المُرَاد بقوله أَنه يستحي من مُخَالفَة أبي بكر فِي الْكَلَالَة هُوَ مَا قَالُوهُ لَكَانَ منقوضا عَلَيْهِم بِهَذِهِ المخالفات فَإِنَّهُ صَحَّ خِلَافه لَهُ وَلم يستحي مِنْهُ فَمَا أجابوا بِهِ فِي هَذِه المخالفات فَهُوَ جَوَابنَا عَلَيْهِم فِي تِلْكَ الْمُوَافقَة وَبَيَانه إِنَّهُم إِذا قَالُوا خَالفه فِي هَذِه الْمسَائِل لِأَن اجْتِهَاده كَانَ على خلاف اجْتِهَاد أبي بكر قُلْنَا وَوَافَقَهُ فِي تِلْكَ الْمَسْأَلَة لِأَن اجْتِهَاده كَانَ مُوَافقا لاجتهاده وَلَيْسَ من التَّقْلِيد فِي شَيْء وَأَيْضًا قد ثَبت أَن عمر بن الْخطاب رضي الله عنه أقرّ عِنْد مَوته بِأَنَّهُ لم يقْض فِي الْكَلَالَة بِشَيْء واعترف أَنه لم يفهمها فَلَو كَانَ قد قَالَ بِمَا قَالَ بِهِ أَبُو بكر رضي الله عنه تقليدا لَهُ لما أقرّ بِأَنَّهُ لم يقْض فِيهَا بِشَيْء وَلَا قَالَ أَنه لم يفهمها وَلَو سلمنَا أَن عمر قلد أَبَا بكر فِي هَذِه الْمَسْأَلَة لم تقم بذلك حجَّة لما تقرر من عدم حجَّة أَقْوَال

একাধিক বিষয়ে তাঁর সাথে তাঁর (উমরের) মতপার্থক্য পরিলক্ষিত হয়, যেমন মুরতাদদের যুদ্ধবন্দীদের বিষয়ে এবং বিজিত ভূমির ব্যাপারে তাঁর সাথে তাঁর মতভেদ। আবু বকর (রা.) তা বণ্টন করে দিয়েছিলেন আর উমর (রা.) তা ওয়াকফ করে রেখেছিলেন। ভাতার ক্ষেত্রেও মতভেদ ছিল; আবু বকর (রা.) সমবণ্টনের পক্ষপাতী ছিলেন এবং উমর (রা.) মর্যাদার তারতম্যের ভিত্তিতে বণ্টনের পক্ষপাতী ছিলেন। উত্তরাধিকারী নির্ধারণের ক্ষেত্রেও আবু বকর (রা.) একজনকে স্থলাভিষিক্ত করে গিয়েছেন, কিন্তু উমর (রা.) তা করেননি বরং বিষয়টিকে পরামর্শ সভার (শুরা) ওপর ন্যস্ত করেছিলেন এবং বলেছিলেন: ‘যদি আমি কাউকে স্থলাভিষিক্ত করি, তবে আবু বকর (রা.)-ও স্থলাভিষিক্ত করেছিলেন; আর যদি আমি স্থলাভিষিক্ত না করি, তবে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) স্থলাভিষিক্ত করেননি।’ ইবনে উমর (রা.) বলেন, ‘আল্লাহর কসম, যখনই তিনি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কথা উল্লেখ করলেন, তখনই আমি বুঝে ফেললাম যে তিনি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সমতুল্য কাউকে মনে করেন না এবং তিনি কাউকে স্থলাভিষিক্ত করবেন না।’ এছাড়া দাদা ও ভাইদের উত্তরাধিকারের বিষয়েও তিনি তাঁর বিরোধিতা করেছেন। সুতরাং ‘কালালাহ’ (পিতা-মাতা ও সন্তানহীন মৃত ব্যক্তি) সংক্রান্ত বিষয়ে আবু বকর (রা.)-এর বিরোধিতা করতে তিনি লজ্জাবোধ করতেন—এই কথার মাধ্যমে যদি তাঁরা এটিই বুঝিয়ে থাকেন, তবে এই সকল মতপার্থক্যের দ্বারা তাঁদের দাবি খণ্ডিত হয়ে যায়। কেননা, তাঁর প্রতি তাঁর বিরোধিতার বিষয়টি বিশুদ্ধ (صحيح) হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে এবং তিনি তাতে লজ্জাবোধ করেননি। এই সকল মতপার্থক্যের বিষয়ে তাঁরা যে উত্তর প্রদান করবেন, সেই একই উত্তর আমরা তাঁদের ওই ঐকমত্যের বিষয়ে প্রদান করব। এর ব্যাখ্যা হলো, তাঁরা যদি বলে যে তিনি এই সকল মাসআলায় তাঁর বিরোধিতা করেছিলেন কারণ তাঁর স্বাধীন গবেষণা (اجتهاد) আবু বকর (রা.)-এর গবেষণার বিপরীত ছিল, তবে আমরা বলব: তিনি সেই নির্দিষ্ট মাসআলায় তাঁর সাথে ঐকমত্য পোষণ করেছিলেন কারণ তাঁর স্বাধীন গবেষণা (اجتهاد) তাঁর গবেষণার সাথে সংগতিপূর্ণ ছিল, এবং এটি কোনোভাবেই অন্ধ অনুসরণ (تقليد)-এর অন্তর্ভুক্ত নয়। অধিকন্তু, এটিও প্রমাণিত যে উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) তাঁর মৃত্যুর সময় স্বীকার করেছেন যে তিনি ‘কালালাহ’ সম্পর্কে কোনো ফয়সালা দেননি এবং স্বীকারোক্তি দিয়েছেন যে তিনি বিষয়টি অনুধাবন করতে পারেননি। যদি তিনি আবু বকর (রা.)-এর অভিমতকে অন্ধ অনুসরণ (تقليد) হিসেবে গ্রহণ করতেন, তবে তিনি কোনো ফয়সালা না দেওয়ার বিষয়ে কিংবা বিষয়টি না বোঝার বিষয়ে স্বীকারোক্তি দিতেন না। আর যদি আমরা মেনেও নিই যে উমর (রা.) এই মাসআলায় আবু বকর (রা.)-এর অন্ধ অনুসরণ (تقليد) করেছেন, তবুও তা কোনো দলিল (حجة) হিসেবে সাব্যস্ত হবে না; কারণ এটি সুপ্রতিষ্ঠিত যে (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ব্যতিরেকে অন্যদের) ব্যক্তিগত অভিমত দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য হয় না।

(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল মুফীদ ফী আদিল্লাতিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ (পৃষ্ঠা: ২৪)
الصَّحَابَة وَأَيْضًا غَايَة مَا فِي ذَلِك تَقْلِيد عُلَمَاء الصَّحَابَة من مَسْأَلَة من الْمسَائِل الَّتِي يخفى فِيهَا الصَّوَاب على الْمُجْتَهد مَعَ تَسْوِيَة الْمُخَالفَة فِيمَا عدا تِلْكَ الْمَسْأَلَة وَأَيْنَ هَذَا مِمَّا يَفْعَله المقلدون من تَقْلِيد الْعَالم فِي جَمِيع أُمُور الشَّرِيعَة من غير الْتِفَات إِلَى دَلِيل وَلَا تعريج على تَصْحِيح أَو تَعْلِيل وَبِالْجُمْلَةِ فَلَو سلمنَا أَن ذَلِك تَقْلِيد من عمر كَانَ دَلِيلا للمجتهد إِذا لم يُمكنهُ الِاجْتِهَاد فِي مَسْأَلَة وَأمكن غَيره من الْمُجْتَهدين الِاجْتِهَاد فِيهَا أَنه يجوز لذَلِك الْمُجْتَهد أَن يُقَلّد الْمُجْتَهد الآخر مَا دَامَ غير مُتَمَكن من الِاجْتِهَاد فِيهَا إِذا تضيقت عَلَيْهِ الْحَادِثَة وَهَذِه مَسْأَلَة أُخْرَى غير المسالة الَّتِي يريدها الْمُقَلّد وَهِي تَقْلِيد عَالم من الْعلمَاء فِي جَمِيع مسَائِل الدّين وَقبُول رَأْيه دون رِوَايَته وَعدم مُطَالبَته بِالدَّلِيلِ وَترك النّظر فِي الْكتاب وَالسّنة والتعويل على مَا يرَاهُ من هُوَ أَحْقَر الآخذين بهما فَإِن هَذَا هُوَ عين اتِّخَاذ الْأَحْبَار والرهبان أَرْبَابًا كَمَا سيأتيك بَيَانه وَأَيْضًا لَو فرض مَا زعموه من الدّلَالَة لَكَانَ ذَلِك خَاصّا بتقليد عُلَمَاء الصَّحَابَة فِي مَسْأَلَة من الْمسَائِل فَلَا يَصح إِلْحَاق غَيرهم بهم لما تقرر من المزايا الَّتِي للصحابة الْبَالِغَة إِلَى حد يقصر عَنهُ الْوَصْف حَتَّى صَار
সাহাবীগণ; অনুরূপভাবে, এর সর্বোচ্চ পর্যায় হলো সাহাবী আলেমগণের মধ্য থেকে কোনো একটি মাসআলায় তাকলিদ করা, যেখানে মুজতাহিদের নিকট সঠিক বিষয়টি অস্পষ্ট থেকে যায়, অথচ ওই মাসআলা ব্যতীত অন্য সকল ক্ষেত্রে বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলো সমান থাকে। আর মুকাল্লিদরা শরীয়াহর যাবতীয় বিষয়ে কোনো দলিলের দিকে তোয়াক্কা না করে এবং কোনো বিশুদ্ধকরণ (تصحيح) বা ত্রুটি অন্বেষণের (تعليل) প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করে যেভাবে একজন আলেমের তাকলিদ করে, তার সাথে এর তুলনা কোথায়? সংক্ষেপে বলতে গেলে, যদি আমরা মেনেও নিই যে সেটি উমর (রা.)-এর পক্ষ থেকে তাকলিদ ছিল, তবে তা কেবল সেই মুজতাহিদের জন্য দলিল হতে পারে, যার পক্ষে কোনো নির্দিষ্ট মাসআলায় ইজতিহাদ করা সম্ভব নয়, অথচ অন্য মুজতাহিদদের জন্য সেখানে ইজতিহাদ করা সম্ভব। এমতাবস্থায় ওই মুজতাহিদের জন্য অন্য মুজতাহিদের তাকলিদ করা জায়েজ হতে পারে যতক্ষণ না তিনি ইজতিহাদে সক্ষম হন এবং বিষয়টি তার জন্য সংকীর্ণ হয়ে পড়ে। এটি সেই মাসআলা থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন যা মুকাল্লিদগণ উদ্দেশ্য করে থাকে; আর তা হলো দ্বীনের সমস্ত মাসআলায় কোনো একজন আলেমের তাকলিদ করা, তার বর্ণনা (رواية) ছাড়াই কেবল তার রায় গ্রহণ করা এবং তার কাছে দলিল দাবি না করা। সেই সাথে কিতাব ও সুন্নাহর প্রতি দৃষ্টিপাত করা বর্জন করা এবং এমন ব্যক্তির মতামতের ওপর নির্ভর করা যে কিতাব ও সুন্নাহ অনুসরণকারীদের মধ্যে তুচ্ছতম; কেননা এটিই হলো আলেম ও দরবেশদের প্রতিপালক হিসেবে গ্রহণ করার নামান্তর, যেমনটি সামনে আপনার নিকট বিস্তারিত বর্ণনা করা হবে। তদুপরি, তারা যে দলিলের দাবি করে তা যদি তর্কের খাতিরে ধরেও নেওয়া হয়, তবে তা কেবল কোনো নির্দিষ্ট মাসআলায় সাহাবী আলেমগণের তাকলিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। সুতরাং অন্যদেরকে তাদের সমপর্যায়ে গণ্য করা সঠিক হবে না; কারণ সাহাবীগণের এমন সব বিশেষ মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব সাব্যস্ত হয়েছে যা বর্ণনাতীত, এমনকি তা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে...
(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল মুফীদ ফী আদিল্লাতিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ (পৃষ্ঠা: ২৫)
مثل جبل أحد من متأخري الصَّحَابَة لَا يعدل الْمَدّ من متقدميهم وَلَا نصيغه وَصَحَّ أَنهم خير الْقُرُون فَكيف نلحق بهم غَيرهم وَبعد الليتا وَالَّتِي فبمَا أوجدتمونا نصا فِي كتاب الله وَلَا فِي سنة رَسُوله صلى الله عليه وسلم وَلَيْسَت الْحجَّة إِلَّا فيهمَا وَمن لَيْسَ بمعصوم وَلَا حجَّة لنا وَلَا لكم فِي قَوْله وَلَا فِي فعله فَمَا جعل الله الْحجَّة إِلَّا فِي كِتَابه وعَلى لِسَان نبيه صلى الله عليه وسلم عرف هَذَا من عرفه وجهله من جَهله وَالسَّلَام

وَأما مَا استدلوا بِهِ من قَول عمر لأبي بكر رضي الله عنهما رَأينَا لرأيك تبع فَمَا هَذَا بِأول قَضِيَّة جَاءُوا بهَا على غير وَجههَا فَإِنَّهُم لَو نظرُوا فِي الْقِصَّة بكمالها لكَانَتْ حجَّة عَلَيْهِم لَا لَهُم وسياقها فِي صَحِيح البُخَارِيّ هَكَذَا عَن طَارق ابْن شهَاب قَالَ جَاءَ وَفد من أَسد وغَطَفَان إِلَى أبي بكر رضي الله عنه فَخَيرهمْ بَين الْحَرْب المجلية وَالسّلم المخزية فَقَالُوا هَذِه المجلية قد عرفناها فَمَا المخزية فَقَالُوا ننزع مِنْكُم الْحلقَة والكراع ونغنم مَا أصبْنَا مِنْكُم وتردون علينا مَا أصبْتُم منا وتودون لنا قَتْلَانَا وَيكون قَتْلَاكُمْ فِي النَّار وتتركون أَقْوَامًا يتبعُون أَذْنَاب الْإِبِل حَتَّى يري الله خَليفَة رَسُوله صلى الله عليه وسلم والمهاجرين أمرا يعزونكم بِهِ فَعرض أَبُو بكر مَا قَالَ على الْقَوْم فَقَامَ عمر بن الْخطاب فَقَالَ قد رَأَيْت رَأيا وسنشير عَلَيْك أما مَا ذكرت من الْحَرْب المجلية أَو السّلم المخزية فَنعم مَا ذكرت وَأما مَا ذكرت تدون قَتْلَانَا
পরবর্তী যুগের সাহাবী (الصحابة)-দের ওহুদ পাহাড় সমপরিমাণ দানও পূর্ববর্তী সাহাবীদের এক মুদ বা তার অর্ধেকের সমান হতে পারে না। এটি সুনিশ্চিতভাবে প্রমাণিত (صحّ) যে তারা সর্বোত্তম প্রজন্ম; সুতরাং অন্য কাউকে আমরা কীভাবে তাঁদের সমতুল্য করতে পারি? অনেক বাদানুবাদের পর প্রশ্ন হলো, আপনারা কি আল্লাহর কিতাব কিংবা তাঁর রাসূলের সুন্নাহ (سنة) থেকে এমন কোনো সুস্পষ্ট পাঠ (نصا) দেখাতে পেরেছেন? অথচ প্রমাণ (حجة) কেবল এই দুই উৎসেই সীমাবদ্ধ। যিনি নিষ্পাপ (معصوم) নন, তাঁর কথা বা কাজ আমাদের বা আপনাদের কারো জন্যই প্রমাণ (حجة) নয়। আল্লাহ তাআলা কেবল তাঁর কিতাবে এবং তাঁর নবীর যবানেই প্রমাণ (حجة) নির্ধারণ করেছেন। যারা এটি উপলব্ধি করার তারা করেছেন, আর যারা তা জানেন না তারা অজ্ঞই রয়ে গেছেন। ইতি।

আর তারা উমর (রা.)-এর উক্তি—"আমরা আপনার মতের অনুসারী"—যা আবু বকর (রা.)-এর উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, তা দ্বারা যে দলীল পেশ করে, তা তাদের দ্বারা ভুলভাবে উপস্থাপিত প্রথম কোনো বিষয় নয়। তারা যদি পূর্ণ বিবরণটি লক্ষ্য করত, তবে তা তাদের অনুকূলে না হয়ে প্রতিকূলে প্রমাণ (حجة) হিসেবে গণ্য হতো। সহীহ বুখারী-তে এর বর্ণনা এভাবে এসেছে: তারিক ইবনে শিহাব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আসাদ ও গাতাফান গোত্রের একটি প্রতিনিধি দল আবু বকর (রা.)-এর নিকট এল। তিনি তাদের সামনে দেশান্তরী হওয়ার যুদ্ধ অথবা লাঞ্ছনাকর শান্তির মধ্য থেকে যেকোনো একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ দিলেন। তারা বলল, "দেশান্তরী হওয়ার যুদ্ধ তো আমরা জানি, কিন্তু লাঞ্ছনাকর শান্তি কী?" তখন বলা হলো, "আমরা তোমাদের থেকে যুদ্ধের সরঞ্জাম ও ঘোড়া কেড়ে নেব, তোমাদের থেকে যা আমরা পেয়েছি তা গণিমত হিসেবে রাখব, কিন্তু তোমরা আমাদের থেকে যা নিয়েছ তা ফেরত দেবে। আর তোমরা আমাদের নিহতদের রক্তপণ দিবে, পক্ষান্তরে তোমাদের নিহতরা হবে জাহান্নামী। আর তোমরা এমন এক জাতি হিসেবে অবশিষ্ট থাকবে যারা উটের পালের পেছনে পড়ে থাকে, যে পর্যন্ত না আল্লাহ তাঁর রাসূলের খলিফা ও মুহাজিরদের এমন কোনো সিদ্ধান্ত দেখান যার মাধ্যমে তারা তোমাদের পুনরায় মর্যাদাবান করতে পারেন।" আবু বকর (রা.) এই প্রস্তাব সবার সামনে পেশ করলে উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) দাঁড়িয়ে বললেন, "আপনি একটি মত পোষণ করেছেন, আমরাও আপনাকে পরামর্শ দেব। আপনি দেশান্তরী হওয়ার যুদ্ধ ও লাঞ্ছনাকর শান্তির যে উল্লেখ করেছেন, তা অতি উত্তম। কিন্তু আমাদের নিহতদের রক্তপণ দেওয়ার বিষয়ে যা বলেছেন..."
(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল মুফীদ ফী আদিল্লাতিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ (পৃষ্ঠা: ২৬)
وَيكون قَتْلَاكُمْ فِي النَّار فَإِن قَتْلَانَا قَاتَلت فقتلت على أَمر الله أجورها على الله لَيْسَ لَهَا ديات فتتابع الْقَوْم على مَا قَالَ عمر فَفِي هَذَا الحَدِيث مَا يرد عَلَيْهِم فَإِنَّهُ قرر بعض مَا رَآهُ أَبُو بكر رضي الله عنه ورد بعضه وَفِي بعض أَلْفَاظ هَذَا الحَدِيث قد رَأَيْت رَأيا ورأينا لرأيك تبع فَلَا شكّ أَن الْمُتَابَعَة فِي بعض مَا رَآهُ أَو فِي كُله لَيْسَ من التَّقْلِيد فِي شَيْء بل الاستصواب مَا جَاءَ بِهِ فِي الآراء والحروب وَلَيْسَ ذَلِك بتقليد وَأَيْضًا قد يكون السُّكُوت عَن اعْتِرَاض بعض مَا فِيهِ مُخَالفَة من آراء الْأَمر لقصد إخلاص الطَّاعَة لِلْأُمَرَاءِ الَّتِي ثَبت الْأَمر بهَا وَكَرَاهَة الْخلاف الَّذِي أرشد صلى الله عليه وسلم إِلَى تَركه نعم هَذِه الآراء إِنَّمَا هِيَ فِي الحروب وَلَيْسَت فِي مسَائِل الدّين وَإِن تعلق بَعْضهَا بِشَيْء من ذَلِك فَإِنَّمَا على طَرِيق الاستتباع وَبِالْجُمْلَةِ فاستدلال من اسْتدلَّ بِمثل هَذَا على جَوَاز التَّقْلِيد تَسْلِيَة لهَؤُلَاء الْمَسَاكِين من المقلدة بِمَا لَا يسمن وَلَا يُغني من جوع وعَلى كل حَال فَهَذِهِ الْحجَّة الَّتِي استدلوا بهَا عَلَيْهِم لَا لَهُم لِأَن عمر رضي الله عنه قرر من قَول أبي بكر مَا وَافق اجْتِهَاده ورد مَا خَالفه وَأما مَا ذكره عَن مُوَافقَة ابْن مَسْعُود لعمر رضي الله عنهما وَأَخذه بقوله وَكَذَلِكَ رُجُوع بعض السِّتَّة الْمَذْكُورين من الصَّحَابَة إِلَى بعض لَيْسَ

এবং তোমাদের নিহতরা জাহান্নামে থাকবে, পক্ষান্তরে আমাদের যারা নিহত হয়েছে তারা আল্লাহর নির্দেশে যুদ্ধ করে নিহত হয়েছে; তাদের পুরস্কার আল্লাহর নিকট এবং তাদের জন্য কোনো রক্তপণ নেই। অতঃপর লোকেরা উমর যা বলেছিলেন তার ওপর একমত হলো। সুতরাং এই হাদিসটিতে তাদের জন্য খণ্ডন রয়েছে; কেননা তিনি আবু বকর (রা.)-এর কিছু মত গ্রহণ করেছিলেন এবং কিছু প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। এই হাদিসের কোনো কোনো পাঠে রয়েছে: 'আমি একটি মত স্থির করেছি এবং আমরা আপনার মতের অনুসারী'। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তাঁর মতের কিছু অংশ বা সমগ্র অংশ অনুসরণ করা মোটেও অন্ধ অনুসরণ (تقليد)-এর অন্তর্ভুক্ত নয়। বরং এটি যুদ্ধ ও রণকৌশল সংক্রান্ত মতামতের যথার্থতা অনুধাবন (استصواب) মাত্র, এবং তা অন্ধ অনুসরণ (تقليد) নয়। অধিকন্তু, নেতৃবৃন্দের আনুগত্যের প্রতি একনিষ্ঠতা প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে—যার নির্দেশ সুসাব্যস্ত—শাসকের কোনো কোনো ভিন্নমতের বিষয়ে নীরবতা অবলম্বন করা হতে পারে। মূলত রাসূলুল্লাহ (সা.) যে মতভেদ বর্জন করার নির্দেশনা দিয়েছেন, তা অপছন্দ করার কারণেই এই নীরবতা। হ্যাঁ, এই মতামতগুলো কেবল যুদ্ধ সংক্রান্ত এবং দ্বীনি বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত নয়। আর যদি এর কোনোটি দ্বীনের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়ও, তবে তা কেবল আনুষঙ্গিকতা (استتباع)-এর ভিত্তিতে। সারকথা হলো, যারা এই ধরনের বিষয় দিয়ে অন্ধ অনুসরণ (تقليد)-এর বৈধতার ওপর দলিল পেশ করেন, তা সেই সব নিঃস্ব অন্ধ অনুসারী (مقلدة)-দের জন্য কেবল এমন এক সান্ত্বনা যা কোনো তুষ্টি দেয় না এবং ক্ষুধাও নিবারণ করে না। সর্বাবস্থায়, তারা যে দলিল পেশ করেছে তা তাদের বিরুদ্ধেই যায়, তাদের পক্ষে নয়। কেননা উমর (রা.) আবু বকরের কথার মধ্যে কেবল সেটুকুই সমর্থন করেছেন যা তাঁর নিজস্ব ইজতিহাদ (اجتهاد)-এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল এবং যা তার পরিপন্থী ছিল তা তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। আর ইবনে মাসউদ (রা.)-এর উমর (রা.)-এর সাথে ঐকমত্য পোষণ ও তাঁর কথা গ্রহণ করা এবং একইভাবে উল্লিখিত ছয়জন সাহাবীর একে অপরের মতের দিকে ফিরে আসার বিষয়টি কোনোভাবেই...

(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল মুফীদ ফী আদিল্লাতিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ (পৃষ্ঠা: ২৭)
ببدع وَلَا مستنكر فالعالم يُوَافق الْعَالم فِي أَكثر مِمَّا يُخَالِفهُ من الْمسَائِل ولاسيما إِذا كَانَا قد بلغا أَعلَى مَرَاتِب الِاجْتِهَاد فَإِن الْمُخَالفَة بَينهمَا قَليلَة جدا وَأَيْضًا قد ذكر أهل الْعلم إِن ابْن مَسْعُود خَالف عمر فِي نَحْو مائَة مَسْأَلَة وَمَا وَافقه إِلَّا فِي نَحْو أَربع مسَائِل فَأَيْنَ التَّقْلِيد من هَذَا وَكَيف صلح مثل مَا ذكر للاستدلال بِهِ على جَوَاز التَّقْلِيد وَهَكَذَا رُجُوع بعض السِّتَّة الْمَذْكُورين إِلَى أَقْوَال بعض فَإِن هَذَا مُوَافقَة لَا تَقْلِيد وَقد كَانُوا جَمِيعًا هم وَسَائِر الصَّحَابَة إِذا ظَهرت لَهُم السّنة لم يتركوها لقَوْل أحد كَائِنا من كَانَ بل كَانُوا يعضون عَلَيْهَا بالنواجز ويرمون بآرائهم وَرَاء الْحَائِط فَأَيْنَ هَذَا من جمع المقلدين الَّذين لَا يعدلُونَ بقول من قلدوه كتابا وَلَا سنة وَلَا يخالفونه قطّ وَإِن تَوَاتر لَهُم مَا يُخَالِفهُ من السّنة وَمَعَ هَذَا فَإِن الرُّجُوع الَّذِي كَانَ يَقع من بعض الصَّحَابَة إِلَى قَول بعض إِنَّمَا هُوَ فِي الْغَالِب رُجُوع إِلَى رِوَايَته لَا إِلَى رَأْيه لكَونه أخص بِمَعْرِِفَة ذَلِك المروى مِنْهُ بِوَجْه من الْوُجُوه كَمَا يعرف هَذَا من عرف أَحْوَال الصَّحَابَة وَأما مُجَرّد الآراء المخطئة فقد ثَبت عَن أكابرهم النَّهْي عَنْهَا والتنفير مِنْهَا كَمَا سَيَأْتِي بَيَان طرف من ذَلِك إِن شَاءَ الله تَعَالَى وَإِنَّمَا كَانُوا يرجعُونَ إِلَى الرَّأْي إِذا

উদ্ভাবন (بدعة) কিংবা প্রত্যাখ্যাত (مستنكر) কিছু নয়। কেননা একজন আলেম অন্য আলেমের সাথে অধিকাংশ মাসআলাতেই একমত পোষণ করেন; কেবল অল্প কিছু ক্ষেত্রে তাঁদের মধ্যে মতপার্থক্য হয়। বিশেষ করে যখন তাঁরা উভয়েই ইজতিহাদ (اجتهاد)-এর সর্বোচ্চ স্তরে উপনীত হন, তখন তাঁদের মধ্যকার মতবিরোধ অত্যন্ত নগণ্য হয়ে থাকে। অধিকন্তু, বিজ্ঞ আলেমগণ উল্লেখ করেছেন যে, ইবনে মাসউদ প্রায় একশত মাসআলায় ওমরের বিরোধিতা করেছেন এবং কেবল চারটি মাসআলার মতো বিষয়ে তাঁর সাথে একমত হয়েছেন। সুতরাং এখানে তাকলিদ (تقليد)-এর অবকাশ কোথায়? আর এই ধরনের বর্ণনা কীভাবে তাকলিদ (تقليد)-এর বৈধতার সপক্ষে দলিল হিসেবে উপস্থাপনের যোগ্য হতে পারে? একইভাবে উল্লিখিত সেই ছয়জন ব্যক্তির একে অপরের মতের দিকে ফিরে আসা মূলত ঐকমত্য পোষণ ছিল, তাকলিদ (تقليد) নয়। তাঁরা এবং অন্য সকল সাহাবী এমন ছিলেন যে, যখনই তাঁদের সামনে সুন্নাহ সুস্পষ্ট হতো, তাঁরা কারো কথার খাতিরে তা পরিত্যাগ করতেন না, তিনি যেই হোন না কেন। বরং তাঁরা সেই সুন্নাহকে মাড়ির দাঁত দিয়ে শক্তভাবে আঁকড়ে থাকতেন এবং নিজেদের ব্যক্তিগত মতকে ছুড়ে ফেলে দিতেন। সুতরাং তাঁদের সাথে সেই মুকাল্লিদ (مقلد) বা অন্ধ অনুসারী গোষ্ঠীর তুলনা কীভাবে চলে—যারা তাদের অনুসৃত ব্যক্তির কথার বিপরীতে কুরআন কিংবা সুন্নাহর দিকে ফিরে যায় না এবং কখনোই তাঁর বিরোধিতা করে না, এমনকি যদি তাদের কাছে এর বিপরীতে সুন্নাহ মুতাওয়াতির (متواتر) সূত্রেও পৌঁছায়। এছাড়া সাহাবীদের একজনের পক্ষ থেকে অন্যজনের মতের দিকে ফিরে আসার বিষয়টি অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাঁর বর্ণনা (رواية)-এর দিকে ফিরে যাওয়া ছিল, তাঁর ব্যক্তিগত মত (رأي)-এর দিকে নয়। কেননা সেই সাহাবী কোনো না কোনো কারণে উক্ত বর্ণিত বিষয়টি সম্পর্কে অধিকতর পরিজ্ঞাত ছিলেন—সাহাবীদের অবস্থা সম্পর্কে যারা অবগত তারা এটি জানেন। আর কেবল ভুল মতামতের ব্যাপারে তাঁদের বড়দের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা এবং সেগুলো থেকে বিতৃষ্ণা সৃষ্টির বিষয়টি সুপ্রমাণিত, ইনশাআল্লাহ তাআলা সামনে এর কিয়দাংশ বর্ণিত হবে। তাঁরা কেবল তখনই ব্যক্তিগত মত (رأي)-এর দিকে ফিরে যেতেন যখন...

(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল মুফীদ ফী আদিল্লাতিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ (পৃষ্ঠা: ২৮)
أعوزهم الدَّلِيل وَضَاقَتْ عَلَيْهِم الْحَادِثَة ثمَّ لَا يبرمون أمرا إِلَّا بعد التراود والمفاوضة وَمَعَ ذَلِك فهم على وَجل وَلِهَذَا كَانُوا يكْرهُونَ تفرد بَعضهم بِرَأْي يُخَالف جَمَاعَتهمْ حَتَّى قَالَ أَبُو عُبَيْدَة السَّلمَانِي لعَلي بن أبي طَالب لرأيك مَعَ الْجَمَاعَة أحب إِلَيْنَا من رَأْيك وَحدك

رَابِعا

وَاحْتَجُّوا أَيْضا بقوله صلى الله عليه وسلم عَلَيْكُم بِسنتي وَسنة الْخُلَفَاء الرَّاشِدين المهديين من بعدِي وَهُوَ طرف حَدِيث الْعِرْبَاض ابْن سَارِيَة وَهُوَ حَدِيث صَحِيح وَقَوله صلى الله عليه وسلم اقتدوا باللذين من بعدِي أبي بكر وَعمر وَهُوَ حَدِيث مَعْرُوف مَشْهُور ثَابت فِي السّنة وَغَيرهَا وَالْجَوَاب إِن مَا سنه الْخُلَفَاء الراشدون من بعده فالأخذ بِهِ لَيْسَ إِلَّا لأَمره صلى الله عليه وسلم بِالْأَخْذِ بِهِ فَالْعَمَل بِمَا سنوه والإقتداء بِمَا فَعَلُوهُ هُوَ لأَمره صلى الله عليه وسلم لنا بِالْعَمَلِ بِسنة الْخُلَفَاء الرَّاشِدين والإقتداء بِأبي بكر وَعمر رضي الله عنهما وَلم يَأْمُرنَا بالإستنان بِسنة عَالم من عُلَمَاء الْأمة وَلَا أرشدنا إِلَى الإقتداء بِمَا يرَاهُ مُجْتَهد من الْمُجْتَهدين فَالْحَاصِل إِنَّا لم نَأْخُذ بِسنة الْخُلَفَاء وَلَا اقتدينا بِأبي بكر وَعمر إِلَّا امتثالا لقَوْله صلى الله عليه وسلم عَلَيْكُم بِسنتي وَسنة الْخُلَفَاء الرَّاشِدين المهديين من بعدِي وَبِقَوْلِهِ اقتدوا باللذين من بعدِي أبي بكر وَعمر فَكيف يسوغ لكم أَن تستدلوا بِهَذَا الَّذِي ورد فِيهِ النَّص على مَا لم يرد فِيهِ فَهَل
যখন তাদের কাছে দলিলের অভাব হতো এবং কোনো পরিস্থিতি তাদের জন্য সংকীর্ণ হয়ে আসত, তখন তারা দীর্ঘ আলাপ-আলোচনা ও পারস্পরিক পরামর্শ ছাড়া কোনো বিষয় চূড়ান্ত করতেন না। তা সত্ত্বেও তারা শঙ্কিত থাকতেন। এই কারণেই তারা তাদের জামাতের (ঐক্যবদ্ধ মত) বিপরীত কারো একক অভিমতকে অপছন্দ করতেন। এমনকি আবু উবাইদাহ আস-সালমানি আলী ইবনে আবি তালিবকে বলেছিলেন, "জামাতের সাথে থাকা আপনার অভিমত আমাদের কাছে আপনার একক অভিমতের চেয়ে বেশি প্রিয়।"

চতুর্থত

তারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীর মাধ্যমেও দলিল পেশ করেছেন: "তোমরা আমার সুন্নাহ এবং আমার পরবর্তী হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরো।" এটি ইরবাদ ইবনে সারিয়াহ বর্ণিত হাদিসের অংশবিশেষ এবং এটি একটি সহিহ (صحيح) হাদিস। এছাড়া রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণী: "আমার পরবর্তী দুই ব্যক্তি—আবু বকর ও উমরের অনুসরণ করো।" এটি একটি সুপরিচিত (معروف), প্রসিদ্ধ (مشهور) এবং সুন্নাহ ও অন্যান্য গ্রন্থে প্রমাণিত (ثابت) হাদিস। এর উত্তর হলো, তাঁর পরবর্তী খুলাফায়ে রাশেদীন যা সুন্নাহ হিসেবে প্রবর্তন করেছেন, তা গ্রহণ করার কারণ কেবল রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশ। সুতরাং তাদের প্রবর্তিত সুন্নাহর ওপর আমল করা এবং তাদের কর্মের অনুসরণ করা কেবল একারণেই যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহর ওপর আমল করার এবং আবু বকর ও উমর (রাযিআল্লাহু আনহুমা)-এর অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আমাদের উম্মতের কোনো আলেমের প্রবর্তিত পদ্ধতির অনুসরণের নির্দেশ দেননি এবং কোনো মুজতাহিদ (مجتهد)-এর ব্যক্তিগত রায়ের অনুকরণের দিকেও আমাদের দিশা দেননি। মোদ্দা কথা হলো, আমরা খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহ গ্রহণ করিনি এবং আবু বকর ও উমরের অনুসরণ করিনি কেবল রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীর আনুগত্যস্বরূপ: "তোমরা আমার সুন্নাহ এবং আমার পরবর্তী হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরো" এবং তাঁর এই বাণী: "আমার পরবর্তী দুই ব্যক্তির অনুসরণ করো।" সুতরাং যে বিষয়ে অকাট্য দলিল (نص) বিদ্যমান, তাকে সেই বিষয়ের ওপর দলিল হিসেবে উপস্থাপন করা কীভাবে সংগত হতে পারে যার ব্যাপারে কোনো অকাট্য দলিল (نص) বর্ণিত হয়নি? তবে কি...
(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল মুফীদ ফী আদিল্লাতিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ (পৃষ্ঠা: ২৯)
تَزْعُمُونَ أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ عَلَيْكُم بِسنة أبي حنيفَة وَمَالك وَالشَّافِعِيّ وَابْن حَنْبَل حَتَّى يتم لكم مَا تُرِيدُونَ فَإِن قُلْتُمْ نَحن نقيس أَئِمَّة الْمذَاهب على هَؤُلَاءِ الْخُلَفَاء الرَّاشِدين فيا عجبا لكم كَيفَ ترتقون إِلَى هَذَا المرتقى الصعب وتقدمون هَذَا الْإِقْدَام فِي مقَام الإحجام فَإِن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِنَّمَا خص الْخُلَفَاء الرَّاشِدين وَجعل سُنَنهمْ كسنته فِي إتباعها لأمر يخْتَص بهم وَلَا يتعداهم إِلَى غَيرهم وَلَو كَانَ الْإِلْحَاق بالخلفاء الرَّاشِدين سائغا لَكَانَ إِلْحَاق المشاركين لَهُم فِي الصُّحْبَة وَالْعلم مقدما على من لم يشاركهم فِي مزية من المزايا بل النِّسْبَة بَينه وَبينهمْ كالنسبة بَين الثرى والثريا فلولا أَن هَذِه المزية خَاصَّة بهم مَقْصُورَة عَلَيْهِم لم يخصهم بهَا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم دون سَائِر الصَّحَابَة فدعونا من هَذِه التحولات الَّتِي يأباها الْإِنْصَاف وليتكُمْ قلدتم الْخُلَفَاء الرَّاشِدين لهَذَا الدَّلِيل أَو قلدتم مَا صَحَّ عَنْهُم على مَا يَقُوله أئمتكم وَلَكِنَّكُمْ لم تَفعلُوا بل رميتم بِمَا جَاءَ عَنْهُم وَرَاء الْحَائِط إِذا خَالف مَا قَالَه من أَنْتُم أَتبَاع لَهُ وَهَذَا لَا يُنكره إِلَّا مكابر معاند بل رميتم بِصَرِيح الْكتاب ومتواتر السّنة إِذا جَاءَ بِمَا يُخَالف من أَنْتُم لَهُ متبعون فَإِن أنكرتم هَذَا فَهَذِهِ كتبكم أَيهَا المقلدة على البسيطة عرفونا من تتبعون من الْعلمَاء حَتَّى نعرفكم بِمَا ذَكرْنَاهُ

خَامِسًا دون جملَة مَا استدلوا بِهِ حَدِيث أَصْحَابِي كَالنُّجُومِ بِأَيِّهِمْ اقْتَدَيْتُمْ اهْتَدَيْتُمْ
আপনারা দাবি করেন যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের জন্য আবু হানিফা, মালিক, শাফেয়ী এবং ইবনে হাম্বলের সুন্নাহ অনুসরণ করা আবশ্যক, যাতে তোমাদের উদ্দেশ্য পূর্ণ হয়।" যদি আপনারা বলেন যে, "আমরা মাযহাবের ইমামগণকে এই খুলাফায়ে রাশিদীনের ওপর কিয়াস করছি", তবে আপনাদের জন্য বিস্ময়! কীভাবে আপনারা এমন এক কঠিন চড়াইয়ে আরোহণ করছেন এবং যে স্থানে বিরত থাকা উচিত সেখানে এমন দুঃসাহস দেখাচ্ছেন? কেননা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিশেষ এক কারণে কেবল খুলাফায়ে রাশিদীনকেই নির্দিষ্ট করেছেন এবং তাঁদের সুন্নাহ অনুসরণের বিষয়টিকে তাঁর নিজের সুন্নাহর সমতুল্য করেছেন, যা কেবল তাঁদের সাথেই সংশ্লিষ্ট এবং তাঁদের ব্যতীত অন্য কারো ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। আর যদি খুলাফায়ে রাশিদীনের সাথে অন্য কাউকে অন্তর্ভুক্ত করা বৈধ হতো, তবে তাঁদের সাথে সাহচর্য ও ইলমে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিবর্গকে অন্তর্ভুক্ত করা সেই ব্যক্তির তুলনায় অগ্রাধিকার পেত যার মধ্যে তাঁদের কোনো বিশেষ বৈশিষ্ট্যই নেই। বরং তাঁর এবং তাঁদের মধ্যকার অনুপাত হলো মাটি এবং সুরাইয়া নক্ষত্রের মধ্যকার পার্থক্যের মতো। যদি এই বিশেষ মর্যাদা কেবল তাঁদের জন্যই নির্দিষ্ট ও সীমাবদ্ধ না হতো, তবে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অন্যান্য সকল সাহাবীর পরিবর্তে কেবল তাঁদেরকেই বিশেষায়িত করতেন না। সুতরাং আমাদের এই সকল বিভ্রান্তিকর ব্যাখ্যা থেকে রেহাই দিন যা ইনসাফ পরিপন্থী। হায়! যদি আপনারা এই দলিলের ভিত্তিতে খুলাফায়ে রাশিদীনের তাকলীদ করতেন অথবা তাঁদের থেকে যা সহিহ (صحيح) ভাবে প্রমাণিত হয়েছে সেটির তাকলীদ করতেন যেমনটি আপনাদের ইমামগণ বলেন। কিন্তু আপনারা তা করেননি; বরং তাঁদের থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা দেয়ালের ওপাশে নিক্ষেপ করেছেন যখনই তা আপনাদের অনুসৃত ব্যক্তির মতের বিরোধী হয়েছে। আর এটি কেবল একগুঁয়ে হঠকারী ব্যতীত কেউ অস্বীকার করবে না। বরং আপনারা কিতাবুল্লাহর স্পষ্ট বক্তব্য এবং মুতাওয়াতির (متواتر) সুন্নাহকেও বর্জন করেছেন যখন তা আপনাদের অনুসৃত ব্যক্তির মতের পরিপন্থী হয়েছে। যদি আপনারা এটি অস্বীকার করেন, তবে হে মুকাল্লিদগণ, এই পৃথিবীতে আপনাদের কিতাবসমূহ বিদ্যমান; আপনারা কোন আলেমদের অনুসরণ করেন তা আমাদের জানান, যাতে আমরা যা উল্লেখ করেছি সে বিষয়ে আপনাদের অবহিত করতে পারি।

পঞ্চম: তাঁরা যেসব দলিল পেশ করেছেন তার সমষ্টির মধ্যে রয়েছে এই হাদিস: "আমার সাহাবীগণ নক্ষত্রতুল্য, তোমরা তাঁদের যাকেই অনুসরণ করবে, হেদায়েত প্রাপ্ত হবে।"
(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল মুফীদ ফী আদিল্লাতিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ (পৃষ্ঠা: ৩০)
وَالْجَوَاب إِن هَذَا الحَدِيث قد روى من طَرِيق عَن جَابر وَابْن عمر رضي الله عنهما وَصرح أَئِمَّة الْجرْح وَالتَّعْدِيل بِأَنَّهُ لم يَصح مِنْهُ شَيْء وَأَن هَذَا الحَدِيث لم يثبت عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَقد يحكم عَلَيْهِ الْحفاظ بِمَا يشفي وَيَكْفِي فَمن رام الْبَحْث عَن طرقه وَعَن تضعيفها فَهُوَ مُمكن بِالنّظرِ فِي كتاب من كتب هَذَا الشَّأْن وَبِالْجُمْلَةِ فَالْحَدِيث لَا تقوم بِهِ حجَّة ثمَّ لَو كَانَ مِمَّا تقوم بِهِ الْحجَّة فمالكم أَيهَا

উত্তর হলো, এই হাদিসটি জাবির ও ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। সমালোচনা ও গুণাগুণ নির্ধারণ (الجرح والتعديل) শাস্ত্রের ইমামগণ স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন যে, এর কোনো অংশই সহিহ (صحيح) নয় এবং এই হাদিসটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে প্রমাণিত নয়। হাফিজগণ (الحفاظ) এর বিষয়ে পর্যাপ্ত ও সন্তোষজনক সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন। সুতরাং কেউ যদি এর বর্ণনাপথ (طرق) এবং সেগুলোকে দুর্বল (تضعيف) সাব্যস্ত করার বিষয়ে অনুসন্ধান করতে চায়, তবে এই শাস্ত্রের সংশ্লিষ্ট কিতাবসমূহ পর্যালোচনার মাধ্যমে তা সম্ভব। মোদ্দাকথা হলো, এই হাদিস দ্বারা কোনো দলিল (حجة) প্রতিষ্ঠিত হয় না। এরপরও যদি এটি এমন হতো যার মাধ্যমে দলিল (حجة) সাব্যস্ত হয়, তবে হে...

(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল মুফীদ ফী আদিল্লাতিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ (পৃষ্ঠা: ৩১)
المقلدون وَله فَإِنَّهُ تضمن منقبة للصحابة ومزية لَا تُوجد لغَيرهم فَمَاذَا تُرِيدُونَ مِنْهُ فَإِن كَانَ مَا تقلدونه مِنْهُم احتجنا إِلَى الْكَلَام مَعكُمْ وَإِن كَانَ من تقلدونه من غَيرهم فاتركوا مَا لَيْسَ لكم ودعوا الْكَلَام على مَنَاقِب خير الْقُرُون وهاتوا مَا أَنْتُم بصدد الِاسْتِدْلَال عَلَيْهِ فَإِن هَذَا الحَدِيث لَو صَحَّ لَكَانَ الْأَخْذ بأقوال الصَّحَابَة لَيْسَ إِلَّا لكَونه صلى الله عليه وسلم أرشدنا إِلَى أَن الإقتداء بأحدهم أهْدى فَنحْن إِنَّمَا امتثلنا إرشاد رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وحملنا على قَوْله وتبعنا سنته فَإِنَّمَا جعله محلا للإقتداء يكون بِثُبُوت ذَلِك لَهُ بِالسنةِ وَهُوَ قَول رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَلم نخرج عَن الْعَمَل بِسنة رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَلَا قلدنا غَيره بل سمعنَا الله يَقُول {وَمَا آتَاكُم الرَّسُول فَخُذُوهُ وَمَا نهاكم عَنهُ فَانْتَهوا} وسمعناه يَقُول {قل إِن كُنْتُم تحبون الله فَاتبعُوني يحببكم الله وَيغْفر لكم ذنوبكم} وَكَانَ هَذَا القَوْل من جملَة مَا آتَانَا بِهِ فأخذناه واتبعناه فِيهِ وَلم نتبع غَيره وَلَا عولنا على مَا سواهُ فَإِن كُنْتُم تثبتون لأئمتكم هَذِه المزية قِيَاسا فَلَا اعْجَبْ مِمَّا افتريتموه وتقولتموه وَقد سبق الْجَواب عَنْكُم فِي الْبَحْث الَّذِي قبل هَذَا وبمثل هَذَا الْجَواب يُجَاب عَن احتجاجهم بقوله صلى الله عليه وسلم إِن معَاذًا قد سنّ لكم سنة وَذَلِكَ فِي شَأْن الصَّلَاة حَيْثُ أخر قَضَاء مَا فَاتَهُ مَعَ الإِمَام وَلَا يخفى عَلَيْك أَن فعل معَاذ هَذَا إِنَّمَا صَار سنة بقول رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لَا بِمُجَرَّد فعله فَهُوَ إِنَّمَا كَانَ السَّبَب بِثُبُوت السّنة وَلم تكن تِلْكَ سنة إِلَّا بقول

অনুকরণকারীগণ (المقلدون), এটি সাহাবীগণের জন্য এমন একটি মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য অন্তর্ভুক্ত করেছে যা অন্য কারো ক্ষেত্রে পাওয়া যায় না। সুতরাং আপনারা এর থেকে কী চান? যদি আপনাদের অনুকরণীয় বিষয়গুলো তাদের থেকে গৃহীত হয়, তবে আপনাদের সাথে আমাদের আলোচনার প্রয়োজন আছে। আর যদি আপনাদের অনুকরণীয় ব্যক্তিগণ অন্য কেউ হন, তবে যা আপনাদের বিষয় নয় তা ছেড়ে দিন এবং সর্বোত্তম প্রজন্মের (خير القرون) মর্যাদাহানির আলোচনা থেকে বিরত থাকুন। আপনারা যে বিষয়ে দলীল (استدلال) দিতে চাচ্ছেন তা পেশ করুন। কেননা এই হাদিসটি যদি সহিহ (صحيح) হতো, তবে সাহাবীগণের বক্তব্য গ্রহণ করা হতো কেবল একারণে যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের এই মর্মে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন যে, তাদের কোনো একজনের অনুসরণ করা অধিকতর সঠিক পথপ্রাপ্তির কারণ। সুতরাং আমরা কেবল রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নির্দেশ পালন করেছি, তাঁর বাণীর ওপর আমল করেছি এবং তাঁর সুন্নাহ (سنة) অনুসরণ করেছি। মূলত তাঁকে অনুসরণের ক্ষেত্র হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে সুন্নাহর (سنة) মাধ্যমে তা সাব্যস্ত হওয়ার কারণে, যা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী। অতএব আমরা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহ (سنة) অনুযায়ী আমল করা থেকে বিচ্যুত হইনি এবং অন্য কারো অন্ধ অনুসরণ (تقليد) করিনি। বরং আমরা আল্লাহকে বলতে শুনেছি: "রাসুল তোমাদের যা দেন তা তোমরা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো।" এবং আমরা তাঁকে বলতে শুনেছি: "বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো তবে আমার অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন।" আর এই বাণীটি ছিল সেই সবের অন্তর্ভুক্ত যা তিনি আমাদের প্রদান করেছেন, তাই আমরা তা গ্রহণ করেছি এবং এ বিষয়ে তাঁর অনুসরণ করেছি। আমরা অন্য কারো অনুসরণ করিনি এবং তিনি ব্যতিরেকে অন্য কিছুর ওপর নির্ভর করিনি। এখন আপনারা যদি কিয়াস (قياس) এর মাধ্যমে আপনাদের ইমামগণের জন্য এই বৈশিষ্ট্যের প্রমাণ দিতে চান, তবে আপনাদের উদ্ভাবিত ও মনগড়া কথার জন্য আমি আশ্চর্যান্বিত হব না। এর পূর্ববর্তী আলোচনাতেই আপনাদের বিষয়ে উত্তর প্রদান করা হয়েছে। আর অনুরূপ উত্তরের মাধ্যমেই তাদের এই যুক্তি প্রদর্শন (احتجاج)-এর জবাব দেওয়া হবে যেখানে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই মুয়াজ তোমাদের জন্য একটি পদ্ধতি বা সুন্নাহ (سنة) প্রবর্তন করেছে।" আর এটি ছিল সালাতের বিষয়, যেখানে তিনি ইমামের সাথে সালাতের ছুটে যাওয়া অংশটুকু পরে আদায় করেছিলেন। আপনার নিকট এটি অস্পষ্ট নয় যে, মুয়াজের এই আমলটি কেবল রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণীর মাধ্যমেই সুন্নাহ (سنة) হিসেবে গণ্য হয়েছে, কেবল তাঁর ব্যক্তিগত কাজের কারণে নয়। সুতরাং তিনি কেবল সুন্নাহ (سنة) সাব্যস্ত হওয়ার কারণ ছিলেন, আর সেটি কেবল রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণীর মাধ্যমেই সুন্নাহ (سنة) হিসেবে পরিগণিত হয়েছে।

(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল মুফীদ ফী আদিল্লাতিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ (পৃষ্ঠা: ৩২)
رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَهَذَا وَاضح لَا يخفى وبمثل هَذَا الْجَواب على حَدِيث أَصْحَابِي كَالنُّجُومِ يُجَاب عَن قَول ابْن مَسْعُود فِي وصف الصَّحَابَة فاعرفوا لَهُم حَقهم وتمسكوا بهديهم فَإِنَّهُم كَانُوا على الْهدى الْمُسْتَقيم

خُلَاصَة لما سبق تمّ هَهُنَا جَوَاب شَمل مَا تقدم من حَدِيث عَلَيْكُم بِسنتي وَسنة الْخُلَفَاء الرَّاشِدين وَحَدِيث اقتدوا باللذين من بعدِي وَحَدِيث أَصْحَابِي كَالنُّجُومِ وَقَول ابْن مَسْعُود وَهُوَ أَن المُرَاد بالاستنان بهم والإقتداء هُوَ أَن يَأْتِي المستن والمقتدي بِمثل مَا أَتَوا بِهِ وَيفْعل كَمَا فعلوا وهم لَا يَفْعَلُونَ فعلا لَا يَقُولُونَ قولا على وفْق فعل رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَقَوله فالإقتداء بهم هُوَ إقتداء برَسُول الله صلى الله عليه وسلم والاستنان بسننهم هُوَ استنان بِسنة رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَإِنَّمَا أرشد النَّاس إِلَى ذَلِك لأَنهم المبلغون عَنهُ الناقلون شَرِيعَته إِلَى من بعده من أمته فالعقل وَأَن كَانَ لَهُم فَهُوَ على طَرِيق الْحِكَايَة لعقل رَسُول الله صلى الله عليه وسلم كأفعال الطَّهَارَة وَالصَّلَاة وَالْحج وَنَحْو ذَلِك فهم رُوَاة لَهُ وَإِنَّمَا كَانَ مَنْسُوبا إِلَيْهِم لكَونه قَائِما بهم وَفِي التَّحْقِيق هُوَ رَاجع إِلَى مَا سنه رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فالإقتداء بهم إقتداء بِهِ والاستنان بسنتهم بِسنة رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَإِذا خَفِي عَلَيْك هَذَا فَانْظُر مَا كَانَ يَفْعَله الْخُلَفَاء الراشدون وأكابر الصَّحَابَة من عباداتهم فانك تَجدهُ حِكَايَة لما كَانَ
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আদর্শ। এটি অত্যন্ত স্পষ্ট যা গোপন নয়। আর "আমার সাহাবীগণ নক্ষত্রতুল্য" - এই হাদিসের ন্যায় ইবনে মাসউদের সেই বক্তব্যেরও উত্তর দেওয়া হয় যেখানে তিনি সাহাবীগণের বর্ণনায় বলেছেন: "তোমরা তাদের অধিকার উপলব্ধি করো এবং তাদের আদর্শকে আঁকড়ে ধরো, কেননা তারা সঠিক হেদায়েতের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন।"

পূর্ববর্তী আলোচনার সারসংক্ষেপ হলো: এখানে এমন একটি উত্তর সমাপ্ত হলো যা ইতিপূর্বে বর্ণিত "তোমাদের ওপর আমার সুন্নাত (سنة) ও খুলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাত (سنة) অপরিহার্য" শীর্ষক হাদিস, "আমার পরবর্তী দুইজনের অনুসরণ (اقتداء) করো" শীর্ষক হাদিস এবং "আমার সাহাবীগণ নক্ষত্রতুল্য" শীর্ষক হাদিসসমূহ ও ইবনে মাসউদের উক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করে। আর তা হলো এই যে, তাঁদের সুন্নাত বা রীতি গ্রহণ (استنان) এবং তাঁদের অনুসরণ (اقتداء) করার উদ্দেশ্য হলো—অনুসরণকারী ও অনুকরণকারী ব্যক্তি যেন ঠিক তেমনটিই পালন করে যা তাঁরা পালন করেছিলেন এবং তেমনটিই করে যেমনটি তাঁরা করেছিলেন। তাঁরা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কর্ম ও বাণীর সাথে পূর্ণ সংগতি রক্ষা ব্যতীত কোনো কাজ করতেন না এবং কোনো কথা বলতেন না। সুতরাং তাঁদের অনুসরণ (اقتداء) করা মূলত আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এরই অনুসরণ, এবং তাঁদের আদর্শের অনুসরণ (استنان) করা মূলত আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাত (سنة)-এরই অনুসরণ। মূলত মানুষকে একারণেই সেদিকে পথপ্রদর্শন করা হয়েছে যে, তাঁরাই ছিলেন তাঁর পক্ষ থেকে বাণী পৌঁছানো ব্যক্তিবর্গ এবং তাঁর পরবর্তী উম্মতের কাছে তাঁর শরিয়ত পৌঁছেদানকারী। অতএব তাঁদের মাঝে বিচারবুদ্ধির প্রয়োগ থাকলেও তা ছিল মূলত আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রজ্ঞার হুবহু বর্ণনা বা অনুকরণের (حكاية) পথে; যেমন পবিত্রতা, সালাত, হজ এবং এই জাতীয় কার্যাবলি। তাঁরা মূলত তাঁর বর্ণনাকারী (رواة) ছিলেন। আর বিষয়টি তাঁদের দিকে একারণেই সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে যেহেতু তা তাঁদের মাধ্যমেই সুপ্রতিষ্ঠিত ছিল, তবে প্রকৃত বিশ্লেষণে (تحقيق) তা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রবর্তিত সুন্নাত (سنة)-এর দিকেই প্রত্যাবর্তন করে। সুতরাং তাঁদের অনুসরণ (اقتداء) করা মানে তাঁরই অনুসরণ করা এবং তাঁদের সুন্নাত (سنة) পালন করা মানে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাত (سنة) পালন করা। আর বিষয়টি যদি তোমার নিকট অস্পষ্ট থাকে, তবে খুলাফায়ে রাশিদীন ও প্রবীণ সাহাবীগণের ইবাদতসমূহ লক্ষ্য করো, তবে তুমি দেখতে পাবে যে তা ছিল মূলত রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা করতেন তারই হুবহু প্রতিচ্ছবি বা বর্ণনা (حكاية)।
(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল মুফীদ ফী আদিল্লাতিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
يَفْعَله رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَإِذا اخْتلفُوا فِي شَيْء من ذَلِك فَهُوَ لاختلافهم فِي الرِّوَايَة لَا فِي الرَّأْي وَقل أَن تَجِد فعلا من تِلْكَ الْأَفْعَال صادرا عَن أحد مِنْهُم لمحض رَأْي رَآهُ بل قد لَا تَجِد ذَلِك لَا سِيمَا فِي أَفعَال الْعِبَادَات وَهَذَا يعرفهُ كل من لَهُ خبْرَة بأحوالهم وعَلى هَذَا فَمَعْنَى الحَدِيث أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم خَاطب أَصْحَابه أَن يقتدوا بِمَا يشاهدونه بِفِعْلِهِ من سنَنه وَبِمَا يشاهدون من أَفعَال الْخُلَفَاء الرَّاشِدين فَإِنَّهُم المبلغون عَنهُ العارفون بسنته المقتدون بهَا فَكل مَا يصدر عَنْهُم فِي ذَلِك صادر عَنهُ وَلِهَذَا صَحَّ عَن جمَاعَة من أكَابِر الصَّحَابَة ذمّ الرَّأْي وَأَهله وَكَانُوا لَا يرشدون أحدا إِلَّا إِلَى سنة رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لَا إِلَى شَيْء من آرائهم وَهَذَا مَعْرُوف لَا يخفى على عَارِف وَمَا نسب إِلَيْهِم من الاجتهادات وَجعله أهل الْعلم رَأيا لَهُم فَهُوَ لَا يخرج عَن الْكتاب وَالسّنة أما بتصريح أَو بتلويح وَقد يظنّ خُرُوج شَيْء من ذَلِك وَهُوَ ظن مَدْفُوع لمن تَأمل حق التَّأَمُّل وَإِذا وجد نَادرا رَأَيْت الصَّحَابِيّ يتحرج أَشد التحرج وَيُصَرح بِأَنَّهُ رَأْيه وَإِن الله بَرِيء من خطئه وينسب الْخَطَأ إِلَى نَفسه وَإِلَى الشَّيْطَان وَالصَّوَاب إِلَى الله تَعَالَى كَمَا تقدم عَن الصّديق فِي تَفْسِير الْكَلَالَة وكما يرْوى عَنهُ وَعَن غَيره فِي فَرَائض الْجد وكما كَانَ يَقُول عمر فِي تَفْسِير قَوْله تَعَالَى {وَفَاكِهَة وَأَبا} وَهَذَا الْبَحْث نَفِيس فَتَأَمّله حق تَأمله تنْتَفع بِهِ

রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা করতেন। আর যখন তাঁরা এ সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে মতভেদ করতেন, তবে তা তাঁদের বর্ণনার (الرواية) পার্থক্যের কারণে হতো, ব্যক্তিগত মতের (الرأي) কারণে নয়। এমন খুব কমই দেখা যায় যে তাঁদের কোনো আমল নিছক ব্যক্তিগত মতের (الرأي) ভিত্তিতে হয়েছে; বরং বিশেষত ইবাদত সংক্রান্ত কার্যাবলীর ক্ষেত্রে এমনটি খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। তাঁদের অবস্থা সম্পর্কে যাঁদের অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাঁরা সকলেই এটি জানেন। এর ওপর ভিত্তি করে হাদিসের মর্মার্থ হলো, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর সাহাবীদের সম্বোধন করেছেন যেন তাঁরা তাঁর আমল থেকে প্রত্যক্ষ করা সুন্নত (السنة) এবং খুলাফায়ে রাশেদীনের কার্যাবলীর অনুসরণ করেন। কেননা তাঁরাই তাঁর বার্তা প্রচারকারী, তাঁর সুন্নত (السنة) সম্পর্কে সর্বাধিক পরিজ্ঞাত এবং তাঁর একনিষ্ঠ অনুসারী। সুতরাং এ ক্ষেত্রে তাঁদের পক্ষ থেকে যা কিছু প্রকাশ পায়, তা মূলত তাঁর পক্ষ থেকেই আগত।

এই কারণেই একদল শীর্ষস্থানীয় সাহাবী থেকে ব্যক্তিগত মত (الرأي) এবং এর অনুসারীদের নিন্দা করা সহিহ (صحيح) সূত্রে প্রমাণিত হয়েছে। তাঁরা কাউকে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নত (السنة) ব্যতীত অন্য কোনো মতামতের (الرأي) দিকে পথপ্রদর্শন করতেন না। বিষয়টি সুবিদিত এবং কোনো অভিজ্ঞ ব্যক্তির কাছে তা অস্পষ্ট নয়। তাঁদের প্রতি যে সকল ইজতিহাদ (الاجتهاد) সম্বন্ধিত করা হয় এবং ওলামায়ে কেরাম সেগুলোকে তাঁদের নিজস্ব মতামত (الرأي) হিসেবে সাব্যস্ত করেন, সেগুলো আসলে কিতাব ও সুন্নতের (السنة) বাইরে নয়; হয় তা সরাসরি বিবৃতির (تصريحاً) মাধ্যমে নতুবা ইঙ্গিতের (تلويحاً) মাধ্যমে প্রমাণিত। অনেক সময় মনে হতে পারে যে এর কোনো কিছু দলিল থেকে বিচ্যুত, তবে যথাযথভাবে চিন্তা-গবেষণাকারীর কাছে এই ধারণাটি অসার। যদি কদাচিৎ এমন কিছু পাওয়াও যায়, তবে দেখা যায় সংশ্লিষ্ট সাহাবী চরম সংকোচ ও সতর্কতা অবলম্বন করেছেন এবং স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন যে এটি তাঁর ব্যক্তিগত মতামত (الرأي)। আর এর ভুলের দায়ভার আল্লাহ্‌র নয়; বরং তিনি সেই ভুলকে নিজের এবং শয়তানের দিকে সম্বন্ধিত করতেন এবং সঠিক বিষয়টিকে আল্লাহ তায়ালার দিকে সম্বন্ধিত করতেন। যেমনটি 'কালালাহ'-এর তাফসির (التفسير) প্রসঙ্গে সিদ্দীক (রা.) থেকে পূর্বে বর্ণিত হয়েছে এবং যেমনটি তাঁর ও অন্যদের থেকে দাদার মিরাস সংক্রান্ত বিধানে বর্ণিত হয়েছে। এবং যেমনটি উমর (রা.) আল্লাহ তায়ালার বাণী {وَفَاكِهَةً وَأَبًّا} এর তাফসির (التفسير) প্রসঙ্গে বলতেন। এই আলোচনাটি অত্যন্ত মূল্যবান; তাই এটি যথাযথভাবে অনুধাবন করুন, আপনি উপকৃত হবেন।

(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল মুফীদ ফী আদিল্লাতিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ (পৃষ্ঠা: ৩৪)
سادسا وَمن جملَة مَا استدلوا بِهِ قَوْله تَعَالَى {أطِيعُوا الله وَأَطيعُوا الرَّسُول وأولي الْأَمر مِنْكُم} وَقَالُوا وَأولُوا الْأَمر هم الْعلمَاء وطاعتهم تقليدهم فِيمَا يفتون بِهِ

وَالْجَوَاب أَن لِلْمُفَسِّرِينَ فِي تَفْسِير أولي الْأَمر قَوْلَيْنِ أَحدهمَا أَنهم الْأُمَرَاء وَالثَّانِي أَنهم الْعلمَاء وَلَا تمْتَنع إِرَادَة الطَّائِفَتَيْنِ من الْآيَة الْكَرِيمَة وَلَكِن أَيْن هَذَا من الدّلَالَة على مُرَاد المقلدين فَإِنَّهُ لَا طَاعَة للْعُلَمَاء وَلَا لِلْأُمَرَاءِ إِلَّا إِذا أمروا بِطَاعَة الله على وفْق شَرِيعَته وَإِلَّا فقد ثَبت عَنهُ صلى الله عليه وسلم أَنه قَالَ لَا طَاعَة لمخلوق فِي مَعْصِيّة الْخَالِق وَأَيْضًا الْعلمَاء إِنَّمَا أرشدوا غَيرهم إِلَى ترك تقليدهم ونهوا عَن ذَلِك كَمَا سَيَأْتِي بَيَان طرف مِنْهُ عَن الْأَئِمَّة الْأَرْبَعَة وَغَيرهم فطاعتهم ترك تقليدهم وَلَو فَرضنَا أَن فِي الْعلمَاء من يرشد النَّاس إِلَى التَّقْلِيد ويرغبهم فِيهِ لَكَانَ مرشدا إِلَى مَعْصِيّة الله وَلَا طَاعَة لَهُ بِنَصّ حَدِيث رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَإِنَّمَا قُلْنَا أَنه مرشد إِلَى مَعْصِيّة الله لِأَن من أرشد هَؤُلَاءِ الْعَامَّة الَّذين لَا يعْقلُونَ الْحجَج وَلَا يعْرفُونَ الصَّوَاب من الْخَطَأ إِلَى التَّمَسُّك بالتقليد كَانَ هَذَا الْإِرْشَاد مِنْهُ مستلزما لإرشادهم إِلَى ترك الْعَمَل بِالْكتاب إِلَّا بِوَاسِطَة آراء الْعلمَاء الَّذين يقلدونهم فَمَا عمِلُوا بِهِ عمِلُوا بِهِ وَمَا لم يعملوا بِهِ لم يعملوا بِهِ وَلَا يلتفتون إِلَى كتاب وَلَا سنة بل من شَرط التَّقْلِيد الَّذِي أصيبوا بِهِ أَن يقبل من إِمَامه رَأْيه وَلَا يعتزل عَن رِوَايَته وَلَا يسْأَله عَن
ষষ্ঠত, তারা যেসব দলীল দ্বারা প্রমাণ পেশ করেছেন তার অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো আর তোমাদের মধ্য থেকে উলুল আমরের (আদেশদাতার) আনুগত্য করো}। তারা বলেন যে, 'উলুল আমর' হলেন আলেমগণ এবং তাঁদের আনুগত্য করার অর্থ হলো তাঁরা যে বিষয়ে ফতোয়া প্রদান করেন তাতে তাঁদের তাকলিদ করা।

এর উত্তর হলো, 'উলুল আমর'-এর ব্যাখ্যায় মুফাসসিরগণের দুটি অভিমত রয়েছে; প্রথমটি হলো তাঁরা হলেন শাসকগণ এবং দ্বিতীয়টি হলো তাঁরা হলেন আলেমগণ। এই সম্মানিত আয়াত থেকে উভয় দলই উদ্দেশ্য হওয়া অসম্ভব নয়। কিন্তু যারা তাকলিদ করে, তাদের উদ্দেশ্যের সপক্ষে এখান থেকে দলীল কোথায়? কেননা আলেম বা শাসকদের কোনো আনুগত্য নেই যতক্ষণ না তাঁরা আল্লাহর শরীয়ত অনুযায়ী তাঁর আনুগত্যের নির্দেশ দেন। অন্যথায় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে এটি প্রমাণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "সৃষ্টিকর্তার অবাধ্যতায় সৃষ্টির কোনো আনুগত্য নেই।" তদুপরি, আলেমগণ অন্যদেরকে তাঁদের তাকলিদ বর্জন করার নির্দেশনা দিয়েছেন এবং তা থেকে বারণ করেছেন, যেমনটি চার ইমাম ও অন্যান্যদের পক্ষ থেকে সামনে এর কিছু অংশ বর্ণিত হবে। সুতরাং তাঁদের প্রকৃত আনুগত্য হলো তাঁদের তাকলিদ বর্জন করা। আর আমরা যদি ধরেও নেই যে আলেমদের মধ্যে এমন কেউ আছেন যিনি মানুষকে তাকলিদের দিকে পথপ্রদর্শন করেন এবং এতে উৎসাহিত করেন, তবে তিনি আল্লাহর অবাধ্যতার দিকেই পথপ্রদর্শক হিসেবে গণ্য হবেন এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদিসের স্পষ্ট ভাষ্য অনুযায়ী তাঁর কোনো আনুগত্য করা যাবে না। আমরা কেবল এই কারণে বলেছি যে তিনি আল্লাহর অবাধ্যতার দিকে পথপ্রদর্শক, কারণ যিনি এই সাধারণ মানুষ—যারা দলিল-প্রমাণ অনুধাবন করতে পারে না এবং ভুল ও সঠিকের পার্থক্য বুঝে না—তাদেরকে তাকলিদ আঁকড়ে ধরার পরামর্শ দেন, তাঁর এই নির্দেশনা প্রকারান্তরে তাদেরকে কিতাব (কুরআন) অনুযায়ী আমল করা বর্জন করে কেবল সেই আলেমদের মতামতের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য করে যাদের তারা তাকলিদ করে। ফলস্বরূপ, আলেমগণ যা আমল করেন তারা কেবল তা-ই আমল করে, আর তারা যা করেন না এরাও তা করে না; তারা কিতাব কিংবা সুন্নাহর দিকে ভ্রুক্ষেপও করে না। বরং তারা যে তাকলিদ নামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়েছে তার শর্তই হলো নিজ ইমামের মতামতকে গ্রহণ করা, তাঁর বর্ণনা (رواية) থেকে বিচ্যুত না হওয়া এবং তাঁকে কোনো প্রশ্ন না করা...
(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল মুফীদ ফী আদিল্লাতিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ (পৃষ্ঠা: ৩৫)
كتاب وَلَا سنة فَإِن سَأَلَهُ عَنْهُمَا خرج عَن التَّقْلِيد لِأَنَّهُ قد صَار مطالبا بِالْحجَّةِ

وَمن جملَة مَا تحب فِيهِ طَاعَة أولي الْأَمر تَدْبِير الحروب الَّتِي تدهم النَّاس وَالِانْتِفَاع بآرائهم فِيهَا وَفِي غَيرهَا من تَدْبِير أَمر المعاش وجلب الْمصَالح وَدفع الْمَفَاسِد الدُّنْيَوِيَّة وَلَا يبعد أَن تكون هَذِه الطَّاعَة فِي هَذِه الْأُمُور الَّتِي لَيست من الشَّرِيعَة فِي المرادة بِالْأَمر بطاعتهم لِأَنَّهُ لَو كَانَ المُرَاد طاعتهم فِي الْأُمُور الَّتِي شرعها الله وَرَسُوله لَكَانَ ذَلِك دَاخِلا تَحت طَاعَة الله وَطَاعَة الرَّسُول صلى الله عليه وسلم وَلَا يبعد أَيْضا أَن تكون الطَّاعَة لَهُم فِي الْأُمُور الشَّرْعِيَّة فِي مثل الْوَاجِبَات المخيرة وواجبات الْكِفَايَة أَو ألزموا بعض الْأَشْخَاص بِالدُّخُولِ فِي وَاجِبَات الْكِفَايَة لزم ذَلِك فَهَذَا أَمر شَرْعِي وَجَبت فِيهِ الطَّاعَة وَبِالْجُمْلَةِ فَهَذِهِ الطَّاعَة لأولي الْأَمر الْمَذْكُورَة فِي الْآيَة هَذِه هِيَ الطَّاعَة الَّتِي تثبت فِي الْأَحَادِيث المتواترة فِي طَاعَة الْأُمَرَاء مَا لم يأمروا بِمَعْصِيَة الله أَو يرى الْمَأْمُور كفرا بواحا فَهَذِهِ الْأَحَادِيث مفسرة لما فِي الْكتاب الْعَزِيز وَلَيْسَ ذك من التَّقْلِيد فِي شَيْء بل هُوَ فِي طَاعَة الْأُمَرَاء الَّذين غلبهم الْجَهْل والبعد عَن الْعلم فِي تَدْبِير الحروب وسياسة الأجناد وجلب مصَالح الْعباد وَأما الْأُمُور الشَّرْعِيَّة الْمَحْضَة فقد أغْنى عَنْهَا كتاب الله وَسنة رَسُوله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم
কিতাব কিংবা সুন্নাহ নয়; যদি সে তাকে এই উভয় বিষয়ে প্রশ্ন করে, তবে সে অন্ধ অনুসরণ (تقليد) থেকে বেরিয়ে গেল, কারণ সে এখন প্রমাণ (حجة) অন্বেষণকারীতে পরিণত হয়েছে।

আর উলুল আমর (أولي الأمر)-এর আনুগত্য করা যেসকল বিষয়ে আবশ্যক, তার মধ্যে রয়েছে মানুষের ওপর আপতিত যুদ্ধ পরিচালনা করা এবং এ সকল ক্ষেত্রে তাদের মতামতের সুফল গ্রহণ করা। এছাড়াও জীবনোপকরণ ব্যবস্থাপনা, জনস্বার্থ আনয়ন এবং জাগতিক ক্ষয়ক্ষতি প্রতিরোধের ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য। আর এটা অসম্ভব নয় যে, শরিয়তের অন্তর্ভুক্ত নয় এমন বিষয়গুলোতে তাদের আনুগত্য করার নির্দেশের মাধ্যমে এই আনুগত্যই উদ্দেশ্য। কারণ, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যা বিধানবদ্ধ করেছেন সেসকল বিষয়ে যদি তাদের আনুগত্য করা উদ্দেশ্য হতো, তবে তা আল্লাহ ও রাসূলুল্লাহ (সাল্লা্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আনুগত্যের অন্তর্ভুক্ত হতো। আরও অসম্ভব নয় যে, শরিয়তসম্মত বিষয়গুলোতেও তাদের আনুগত্য হতে পারে, যেমন ঐচ্ছিক ওয়াজিব (الواجبات المخيرة) এবং ফরজে কেফায়া (واجبات الكفاية)-এর মতো বিষয়গুলোতে। অথবা তারা যদি নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তিকে ফরজে কেফায়া পালনে বাধ্য করে, তবে তা পালন করা আবশ্যক হয়ে যায়। এটি একটি শরিয়তসম্মত বিষয় যাতে আনুগত্য করা ওয়াজিব। সংক্ষেপে, আয়াতে বর্ণিত উলুল আমরের এই আনুগত্য হলো সেই আনুগত্য যা নেতৃবৃন্দের আনুগত্য সম্পর্কিত নিরবচ্ছিন্ন (متواترة) হাদিসসমূহ দ্বারা প্রমাণিত, যতক্ষণ না তারা আল্লাহর অবাধ্যতার আদেশ দেয় অথবা নির্দেশিত ব্যক্তি স্পষ্ট কুফরি দেখতে পায়। সুতরাং এই হাদিসগুলো মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের ব্যাখ্যাকারী। এটি কোনোভাবেই অন্ধ অনুসরণ (تقليد)-এর অন্তর্ভুক্ত নয়, বরং এটি সেই সকল নেতৃবৃন্দের আনুগত্যের অন্তর্ভুক্ত যারা যুদ্ধ পরিচালনা, সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রণ এবং জনগণের কল্যাণ সাধনের ক্ষেত্রে অজ্ঞতা ও জ্ঞান থেকে দূরত্বের কারণে প্রভাবাধীন। আর একান্তই শরিয়তসম্মত বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল (সাল্লা্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহই যথেষ্ট।
(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল মুফীদ ফী আদিল্লাতিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ (পৃষ্ঠা: ৩৬)
سابعا وَأعلم أَن هَذَا الَّذِي سقناه هُوَ عُمْدَة أَدِلَّة المجوزين للتقليد وَقد أبطلنا ذَلِك كُله كَمَا عرفت وَلَهُم شبه غير مَا سقناه وَهِي دون مَا حررناه كَقَوْلِهِم أَن الصَّحَابَة قلدوا عمر فِي الْمَنْع من بيع الْأُمَّهَات الْأَوْلَاد وَفِي أَن الطَّلَاق يتبع الطَّلَاق وَهَذِه فِرْيَة لَيْسَ فِيهَا مرية فَإِن الصَّحَابَة مُخْتَلفُونَ فِي كلتا الْمَسْأَلَتَيْنِ فَمنهمْ من وَافق عمر اجْتِهَادًا لَا تقليدا وَمِنْهُم من خَالفه وَقد كَانَ الموافقون لَهُ يسألونه عَن الدَّلِيل ويستروونه النُّصُوص وشأن الْمُقَلّد أَن لَا يبْحَث عَن دَلِيل بل يقبل الرَّأْي وَيتْرك الرِّوَايَة وَمن لم يكن هَكَذَا فَلَيْسَ بمقلد

ثامنا وَمن جملَة مَا تمسكوا بِهِ أَن الصَّحَابَة كَانُوا يفتون وَالرَّسُول صلى الله عليه وسلم بَين أظهرهم وَهَذَا تَقْلِيد لَهُم وَيُجَاب عَن ذَلِك بِأَنَّهُم كَانُوا يفتون بالنصوص من الْكتاب وَالسّنة وَذَلِكَ رِوَايَة مِنْهُم وَلَا يشك من يفهم أَن قبُول الرِّوَايَة لَيْسَ بتقليد فَأن قبُول الرِّوَايَة هُوَ قبُول للحجة والتقليد إِنَّمَا هُوَ قبُول الرَّأْي وَفرق بَين قبُول الرِّوَايَة وَقبُول الرَّأْي فَإِن قبُول الرِّوَايَة لَيْسَ من التَّقْلِيد فِي شَيْء بل هُوَ عكس رسم الْمُقَلّد فاحفظ هَذَا فَإِن مجوزي التَّقْلِيد يغالطون بِمثل ذَلِك كثيرا فَيَقُولُونَ مثلا أَن الْمُجْتَهد هُوَ مقلد لمن روى لَهُ السّنة وَيَقُولُونَ أَن من التَّقْلِيد قبُول قَول الْمَرْأَة أَنَّهَا قد طهرت وَقبُول قَول الْمُؤَذّن أَن الْوَقْت قد دخل وَقبُول الْأَعْمَى لقَوْل من أخبر بالقبلة بل وَجعلُوا من التَّقْلِيد قبُول شَهَادَة
সপ্তমতঃ জেনে রাখুন যে, আমরা যা উল্লেখ করেছি তা-ই হলো তাকলিদ (تقليد) বৈধকারীদের প্রধান দলিলসমূহ। আর আমরা সেগুলোর সবই অসার সাব্যস্ত করেছি যেমনটি আপনি অবগত হয়েছেন। আমাদের বর্ণিত দলিলসমূহ ছাড়াও তাদের আরও কিছু সংশয় রয়েছে, তবে সেগুলো আমাদের পর্যালোচিত দলিলগুলোর চেয়েও নিম্নমানের। যেমন তাদের দাবি— সাহাবীগণ উম্মাহাতুল আওলাদ (দাসী হতে জাত সন্তানের মা) বিক্রয় নিষিদ্ধ করার বিষয়ে এবং এক তালাকের পর অপর তালাক কার্যকর হওয়ার ক্ষেত্রে উমর (রা.)-এর তাকলিদ (تقليد) করেছিলেন। এটি একটি অপবাদ যাতে কোনো সংশয় নেই। কেননা সাহাবীগণ এই উভয় মাসআলায় মতভেদ করেছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ উমর (রা.)-এর সাথে একমত হয়েছেন ইজতিহাদ (اجتهاد) বা গবেষণার ভিত্তিতে, তাকলিদ (تقليد) হিসেবে নয়। আবার তাঁদের কেউ কেউ তাঁর বিরোধিতা করেছেন। আর যারা তাঁর সাথে একমত হয়েছিলেন, তাঁরাও তাঁর নিকট দলিল (دليل) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন এবং তাঁর কাছ থেকে নস (النصوص) বা অকাট্য পাঠ শুনতে চাইতেন। অথচ একজন মুকাল্লিদ (مقلদ)-এর বৈশিষ্ট্য হলো সে দলিল (دليل) অনুসন্ধান করে না, বরং সে রায় (رأي) বা ব্যক্তিগত অভিমত গ্রহণ করে এবং বর্ণনা (رواية) বর্জন করে। আর যে ব্যক্তি এমন নয়, সে মুকাল্লিদ (مقلد) নয়।

অষ্টমতঃ তারা যেসকল বিষয় আঁকড়ে ধরেছে তার মধ্যে একটি হলো— রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর উপস্থিতিতেই সাহাবীগণ ফতোয়া প্রদান করতেন; আর এটি তাঁদের পক্ষ থেকে তাঁদের প্রতি তাকলিদ (تقليد)। এর উত্তর এই যে, তাঁরা কুরআন ও সুন্নাহর নস (النصوص) বা মূল পাঠের ভিত্তিতেই ফতোয়া দিতেন, যা মূলত তাঁদের পক্ষ থেকে একটি বর্ণনা (رواية)। আর যে ব্যক্তি সামান্য বোধশক্তিসম্পন্ন সে সন্দেহ করবে না যে, বর্ণনা (رواية) গ্রহণ করা তাকলিদ (تقليد) নয়। কারণ বর্ণনা (رواية) গ্রহণ করা হলো দলিল (حجة) বা প্রমাণ গ্রহণ করা, আর তাকলিদ (تقليد) হলো নিছক অভিমত (رأي) গ্রহণ করা। বর্ণনা (رواية) গ্রহণ করা এবং অভিমত (رأي) গ্রহণ করার মাঝে বিস্তর ব্যবধান রয়েছে। কেননা বর্ণনা (رواية) গ্রহণ করা কোনোভাবেই তাকলিদ (تقليد)-এর অন্তর্ভুক্ত নয়, বরং এটি মুকাল্লিদ (مقلদ)-এর সংজ্ঞার ঠিক বিপরীত। বিষয়টি ভালোভাবে স্মরণে রাখুন; কারণ তাকলিদ (تقليد) বৈধকারীরা প্রায়শই এ জাতীয় বিষয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। উদাহরণস্বরূপ তারা বলে থাকে যে, মুজতাহিদ (مجتهد) মূলত তাঁরই মুকাল্লিদ (مقلদ) যিনি তাঁর কাছে সুন্নাহ বর্ণনা (روى) করেছেন। তারা আরও বলে থাকে যে, কোনো মহিলার পবিত্র হওয়ার সংবাদ মেনে নেওয়া, সময় হওয়ার বিষয়ে মুয়াজ্জিনের কথা গ্রহণ করা এবং অন্ধ ব্যক্তির কিবলা নির্ধারণে অন্যের কথা গ্রহণ করাও তাকলিদ (تقليد)। এমনকি তারা সাক্ষ্য (شهادة) গ্রহণকেও তাকলিদ (تقليد)-এর অন্তর্ভুক্ত করেছে।
(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল মুফীদ ফী আদিল্লাতিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ (পৃষ্ঠা: ৩৭)
الشَّاهِد وتعديل وجرح الْجَارِح وَلَا يخفى عَلَيْك أَن هَذَا لَيْسَ من التَّقْلِيد فِي شَيْء بل هُوَ من قبُول الرِّوَايَة لَا من قبُول الرَّأْي إِذْ قبُول الرَّاوِي للدليل والمخبر بِدُخُول الْوَقْت وبالطهارة وبالقبلة وَالشَّاهِد والجارح والمزكي هُوَ من قبُول الرِّوَايَة إِذْ الرَّاوِي إِنَّمَا أخبر المروى لَهُ بِالدَّلِيلِ الَّذِي رَوَاهُ وَلم يُخبرهُ بِمَا يرَاهُ من الرَّأْي وَكَذَلِكَ الْمخبر بِدُخُول الْوَقْت إِنَّمَا أخبر بِأَنَّهُ شَاهد عَلامَة من عَلَامَات الْوَقْت وَلم يخبر بِأَنَّهُ قد دخل الْوَقْت بِرَأْيهِ وَكَذَلِكَ الْمخبر بِالطَّهَارَةِ فَإِن الْمَرْأَة مثلا أخْبرت أَنَّهَا قد شاهدت عَلامَة الطُّهْر من الْقِصَّة الْبَيْضَاء وَنَحْوهَا وَلم تخبر بِأَن ذَلِك رَأْي رَأَتْهُ وَهَكَذَا الْمخبر بالقبلة أخبر أَن جِهَتهَا أَو عينهَا هَهُنَا حَيْثُمَا تَقْتَضِيه الْمُشَاهدَة بالحاسة وَلم يخبر عَن رَأْيه وَهَكَذَا الشَّاهِد فَإِنَّهُ أخبر عَن أَمر يُعلمهُ بِأحد الْحَواس وَلم يخبر عَن رَأْيه فِي ذَلِك الْأَمر وَبِالْجُمْلَةِ فَهَذَا أوضح من أَن يخفى وَالْفرق بَين الرِّوَايَة والرأي أبين من الشَّمْس وَمن الْتبس عَلَيْهِ الْفرق بَينهمَا فَلَا يشغل نَفسه بالمعارف العلمية فَإِنَّهُ بهيمي الْفَهم وَإِن كَانَ فِي مسلاخ إِنْسَان

قَالَ ابْن حزيز منداد الْبَصْرِيّ الْمَالِكِي التَّقْلِيد مَعْنَاهُ فِي الشَّرْع الرُّجُوع الى قَول لَا حجَّة لقائله عَلَيْهِ وَذَلِكَ مَمْنُوع مِنْهُ فِي الشَّرِيعَة والإتباع مَا ثَبت عَلَيْهِ الْحجَّة إِلَى أَن قَالَ والإتباع فِي الدّين متبوع والتقليد مَمْنُوع وَسَيَأْتِي
সাক্ষী এবং সমালোচকের (الجارح) পক্ষ থেকে নির্ভরযোগ্য সাব্যস্তকরণ (تعديل) ও ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্তকরণ (جرح) সংক্রান্ত বিষয়ে এটি আপনার কাছে অস্পষ্ট নয় যে, এটি কোনোভাবেই তাকলিদ (التقليد)-এর অন্তর্ভুক্ত নয়; বরং এটি বর্ণনা (رواية) গ্রহণ করার অন্তর্ভুক্ত, ব্যক্তিগত মত (رأي) গ্রহণ করার অন্তর্ভুক্ত নয়। কেননা দলিলের সপক্ষে বর্ণনাকারীর (الراوي) বক্তব্য গ্রহণ করা এবং ওয়াক্তের প্রবেশ, পবিত্রতা ও কিবলা সম্পর্কে সংবাদদাতার তথ্য গ্রহণ করা এবং সাক্ষী, সমালোচক (الجارح) ও সত্যায়নকারীর (المزكي) বক্তব্য গ্রহণ করা মূলত বর্ণনা (رواية) গ্রহণ করারই পর্যায়ভুক্ত। কারণ বর্ণনাকারী (الراوي) কেবল সেই দলিলের সংবাদ দেন যা তিনি বর্ণনা (رواه) করেছেন, তিনি তার ব্যক্তিগত মত (رأي) থেকে কোনো সংবাদ দেননি। অনুরূপভাবে ওয়াক্ত প্রবেশের সংবাদ প্রদানকারী কেবল এই সংবাদ দেন যে তিনি ওয়াক্তের কোনো আলামত প্রত্যক্ষ করেছেন, তিনি তার ব্যক্তিগত মত (رأي) দ্বারা ওয়াক্ত প্রবেশ করেছে বলে জানাননি। একই কথা পবিত্রতার সংবাদদাতার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য; যেমন একজন নারী সংবাদ দিলেন যে তিনি শুভ্র আলামত (القصة البيضاء) বা অনুরূপ কিছু প্রত্যক্ষ করেছেন, তিনি এটি তার ব্যক্তিগত মত (رأي) হিসেবে সংবাদ দেননি। তেমনিভাবে কিবলার সংবাদ প্রদানকারী সংবাদ দেন যে কিবলার দিক বা অবস্থানটি এই দিকে, যা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে নির্ধারিত; তিনি এখানে তার ব্যক্তিগত মত (رأي) থেকে সংবাদ দেননি। সাক্ষীর বিষয়টিও অনুরূপ, কারণ তিনি এমন বিষয়ের সংবাদ দেন যা তিনি তার কোনো একটি ইন্দ্রিয় দ্বারা অবগত হয়েছেন এবং তিনি সেই বিষয়ে তার ব্যক্তিগত মত (رأي) ব্যক্ত করেননি। মোদ্দাকথা, বিষয়টি অস্পষ্ট থাকার চেয়ে অনেক বেশি স্পষ্ট এবং বর্ণনা (رواية) ও ব্যক্তিগত মত (رأي)-এর মধ্যকার পার্থক্য সূর্যের আলোর চেয়েও উজ্জ্বল। যার নিকট এই দুটির মধ্যকার পার্থক্য অস্পষ্ট মনে হয়, সে যেন নিজেকে ইলমি জ্ঞান অন্বেষণে ব্যস্ত না রাখে; কারণ সে মানুষের আবরণে থাকলেও মূলত পশুর ন্যায় বোধসম্পন্ন।

ইবনে খুওয়াইয মানদাদ আল-বাসরি আল-মালিকি বলেন: শরয়ি পরিভাষায় তাকলিদ (التقليد) অর্থ হলো এমন কোনো ব্যক্তির মতের দিকে ফিরে যাওয়া যার সপক্ষে কোনো দলিল (حجة) নেই; আর শরিয়তে এটি নিষিদ্ধ। অন্যদিকে ইত্তিবা (الإتباع) হলো যা দলিলের (حجة) মাধ্যমে প্রমাণিত। তিনি আরও বলেন: দ্বীনের ক্ষেত্রে ইত্তিবা (الإتباع) অনুসরণীয় এবং তাকলিদ (التقليد) নিষিদ্ধ। এর বিস্তারিত বিবরণ সামনে আসছে।
(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল মুফীদ ফী আদিল্লাতিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ (পৃষ্ঠা: ৩৮)
مثل هَذَا الْكَلَام لإبن عبد الْبر وَغَيره

تاسعا وَقد أورد بعض اسراء التَّقْلِيد كلَاما يُؤَيّد بِهِ دَعْوَاهُ الْجَوَاز فَقَالَ مَا مَعْنَاهُ لَو كَانَ التَّقْلِيد غير جَائِز لَكَانَ الِاجْتِهَاد وَاجِبا على كل فَرد من أَفْرَاد الْعباد وَهُوَ تَكْلِيف مَا لَا يُطَاق فَإِن الطباع البشرية مُتَفَاوِتَة فَمِنْهَا مَا هُوَ قَابل للعلوم الاجتهادية وَمِنْهَا مَا هُوَ قَاصِر عَن ذَلِك وَهُوَ غَالب الطباع وعَلى فرض إِنَّهَا قَابِلَة لَهُ جَمِيعهَا فوجوب تَحْصِيله على كل فَرد يُؤَدِّي إِلَى تبطيل المعايش الَّتِي لَا يتم بَقَاء النَّوْع بِدُونِهَا فَإِنَّهُ لَا يظفر برتبة الِاجْتِهَاد إِلَّا من جرد نَفسه للْعلم فِي جَمِيع أوقاته على وَجه لَا يشْتَغل بِغَيْرِهِ فَحِينَئِذٍ يشْتَغل الحراث والزراع والنساج والعمار وَنَحْوهم بِالْعلمِ وَتبقى هَذِه الْأَعْمَال شاغرة معطلة فَتبْطل المعايش بأسرها ويفضي ذَلِك إِلَى إنحزام نظام الْحَيَاة وَذَهَاب نوع الْإِنْسَان وَفِي هَذَا من الضَّرَر وَالْمَشَقَّة وَمُخَالفَة مَقْصُود الشَّارِع مَا لَا يخفى على أحد

وَيُجَاب عَن هَذَا التشكيك الْفَاسِد بِأَنا لَا نطلب من كل فَرد من أَفْرَاد الْعباد أَن يبلغ رُتْبَة الِاجْتِهَاد بل الْمَطْلُوب هُوَ أَمر دون التَّقْلِيد وَذَلِكَ بِأَن يكون القائمون بِهَذِهِ المعايش والقاصرون إدراكا وفهما كَمَا كَانَ عَلَيْهِ أمثالهم فِي أَيَّام الصَّحَابَة وَالتَّابِعِينَ وتابعيهم وهم خير الْقُرُون الَّذين يَلُونَهُمْ ثمَّ الَّذين يَلُونَهُمْ وَقد علم كل عَالم أَنهم لم يَكُونُوا
ইবনে আব্দুল বার এবং অন্যান্যদের থেকেও এই ধরনের বক্তব্য বর্ণিত হয়েছে।

নবমতঃ অন্ধ অনুকরণের (تقليد) কিছু অনুসারী এমন বক্তব্য পেশ করেছেন যার মাধ্যমে তারা এর বৈধতার দাবিকে সমর্থন করতে চান। সেই বক্তব্যের মর্মার্থ হলো: যদি অন্ধ অনুকরণ (تقليد) জায়েজ না হতো, তবে বান্দাদের প্রত্যেক ব্যক্তির ওপরই গবেষণা ও উদ্ভাবন (اجتهاد) করা আবশ্যক (واجب) হয়ে পড়ত। আর এটি হলো সাধ্যের অতীত কোনো বিষয়ের ওপর দায়ভার অর্পণ। কেননা মানুষের প্রকৃতি ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে; তাদের মধ্যে এমন কেউ আছে যে গবেষণামূলক (اجتهاد) জ্ঞান অর্জনে সক্ষম, আবার কেউ কেউ তা অর্জনে অক্ষম—আর অধিকাংশ মানুষের প্রকৃতিই হলো দ্বিতীয় প্রকারের। এমনকি যদি ধরে নেওয়া হয় যে সকলেই এটি অর্জনে সক্ষম, তবুও প্রত্যেকের ওপর তা অর্জন করা আবশ্যক (وجوب) করে দেওয়া জীবনযাত্রার সেই সব কাজকে অচল করে দেবে, যা ব্যতিরেকে মানবজাতির অস্তিত্ব বজায় থাকা সম্ভব নয়। কারণ, গবেষণা ও উদ্ভাবনের (اجتهاد) মর্যাদা কেবল সেই ব্যক্তিই লাভ করতে পারে যে নিজেকে সর্বক্ষণ জ্ঞানের জন্য উৎসর্গ করে এবং অন্য কোনো কাজে লিপ্ত হয় না। এমতাবস্থায় যদি লাঙলধারী, কৃষক, তন্তুবায়, স্থপতি এবং তাদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিরা জ্ঞান অর্জনে লিপ্ত হয়ে পড়ে, তবে এই সব কর্মক্ষেত্র শূন্য ও অকেজো হয়ে পড়বে। ফলে জীবনধারণের সামগ্রিক ব্যবস্থা ধ্বংস হবে এবং তা জীবনব্যবস্থার বিপর্যয় ও মানবজাতির বিলুপ্তির দিকে নিয়ে যাবে। এর মধ্যে যে ক্ষতি, কষ্ট এবং বিধানদাতার (شارع) উদ্দেশ্যের পরিপন্থী বিষয় রয়েছে, তা কারো কাছেই অস্পষ্ট নয়।

এই ভ্রান্ত সংশয়ের উত্তরে বলা হবে যে, আমরা প্রতিটি সাধারণ মানুষের কাছে গবেষণা ও উদ্ভাবনের (اجتهاد) স্তরে পৌঁছানোর দাবি করি না। বরং কাঙ্ক্ষিত বিষয়টি হলো অন্ধ অনুকরণ (تقليد) অপেক্ষা নিম্নতর একটি স্তর। আর তা হলো এই যে, জীবনযাত্রার কাজে নিয়োজিত এবং উপলব্ধি ও অনুধাবনে পিছিয়ে থাকা ব্যক্তিরা যেন তেমনই থাকে, যেমনটা তাদের সমপর্যায়ের লোকেরা সাহাবী (صحابة), তাবিঈ (تابعين) এবং তাদের অনুসারীদের (تابعين) যুগে ছিলেন। তারা হলেন সেই সর্বোত্তম প্রজন্মের লোক যাদের পরে পরবর্তী প্রজন্ম এবং তার পরে পরবর্তী প্রজন্মের আগমন ঘটেছে। আর প্রত্যেক আলিমই জানেন যে, তারা এমন ছিলেন না যে...
(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল মুফীদ ফী আদিল্লাতিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ (পৃষ্ঠা: ৩৯)
مقلدين وَلَا منتسبين إِلَى فَرد من أَفْرَاد الْعلمَاء بل كَانَ الْجَاهِل يسْأَل الْعَالم عَن الحكم الشَّرْعِيّ الثَّابِت فِي كتاب الله أَو بِسنة رَسُوله صلى الله عليه وسلم فيفتيه بِهِ وَيَرْوِيه لَهُ لفظا أَو معنى فَيعْمل بذلك من بَاب الْعَمَل بالرواية لَا بِالرَّأْيِ وَهَذَا أسهل من التَّقْلِيد فَإِن تفهم دقائق علم الرَّأْي أصعب من تفهم الرِّوَايَة بمراحل كَثِيرَة فَمَا طلبنا من هَؤُلَاءِ الْعَوام إِلَّا مَا هُوَ أخف عَلَيْهِم مِمَّا طلبه مِنْهُم الملزمون لَهُم بالتقليد وَهَذَا هُوَ الْهدى الَّذِي درج عَلَيْهِ خير الْقُرُون ثمَّ الَّذين يَلُونَهُمْ ثمَّ الَّذين يَلُونَهُمْ حَتَّى استدرج الشَّيْطَان بذريعة التَّقْلِيد من استدرج وَلم يكتف بذلك حَتَّى سَوَّلَ لَهُم الِاقْتِصَار على تَقْلِيد فَرد من أَفْرَاد الْعلمَاء وَعدم جَوَاز تَقْلِيد غَيره ثمَّ توسع فِي ذَلِك فخيل لكل طَائِفَة أَن الْحق مَقْصُور على مَا قَالَه إمامها وَمَا عداهُ بَاطِل ثمَّ أوقع فِي قُلُوبهم الْعَدَاوَة والبغضاء حَتَّى إِنَّك تَجِد من الْعَدَاوَة بَين أهل الْمذَاهب الْمُخْتَلفَة مَا لم تَجدهُ بَين أهل الْملَل الْمُخْتَلفَة وَهَذَا يعرفهُ كل من عرف أَحْوَالهم فَانْظُر إِلَى هَذِه الْبِدْعَة الشيطانية الَّتِي فرقت بَين أهل هَذِه الْملَّة الشَّرِيفَة وصيرتهم على مَا

তারা অন্ধ অনুসারী (مقلدين) ছিলেন না এবং কোনো নির্দিষ্ট আলেমের প্রতি এককভাবে সম্বন্ধযুক্তও ছিলেন না; বরং সাধারণ মানুষ আলেমদের নিকট আল্লাহর কিতাব কিংবা তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত শরয়ী বিধান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন। অতঃপর আলেম সেই বিধান অনুযায়ী ফতোয়া দিতেন এবং শব্দে শব্দে কিংবা অর্থগতভাবে তাঁর নিকট সেটি বর্ণনা (رواية) করতেন। ফলে সেই ব্যক্তি রায়ের (رأي) পরিবর্তে বর্ণনা (رواية) অনুসরণের ভিত্তিতে আমল করতেন। এটি তাকলিদ (تقليد) অপেক্ষা সহজতর; কারণ রায়ের (رأي) সূক্ষ্ম বিষয়সমূহ অনুধাবন করা বর্ণনা (رواية) বোঝার তুলনায় বহুলাংশে কঠিন। সুতরাং আমরা এই সাধারণ জনগণের নিকট কেবল তা-ই কামনা করেছি যা তাদের জন্য সহজতর, সেই বিষয়ের তুলনায় যা তাকলিদ (تقليد) এর প্রবক্তারা তাদের ওপর আবশ্যক করে দিয়েছেন। এটিই সেই হেদায়েত যার ওপর সর্বোত্তম যুগের মানুষ এবং তাদের পরবর্তী ও তারও পরবর্তী যুগের অনুসারীগণ পরিচালিত হয়েছিলেন। পরিশেষে শয়তান তাকলিদ (تقليد) এর অযুহাতে একদলকে প্রলুব্ধ করল এবং সে কেবল এতেই সীমাবদ্ধ থাকল না, বরং নির্দিষ্ট একজন আলেমের তাকলিদ (تقليد) করার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা এবং অন্য কারও তাকলিদ (تقليد) করা অবৈধ হওয়ার বিষয়টিকে তাদের সামনে সুশোভিত করল। অতঃপর এই ধারণা আরও বিস্তার লাভ করল এবং প্রতিটি দলের কাছে এমন মনে হতে লাগল যে, সত্য কেবল তাদের ইমামের বক্তব্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ এবং অন্য সবকিছু বাতিল (باطل)। এরপর শয়তান তাদের অন্তরে শত্রুতা ও বিদ্বেষ গেঁথে দিল, এমনকি বিভিন্ন মাযহাবের অনুসারীদের মধ্যে আপনি এমন শত্রুতা দেখতে পাবেন যা ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের মাঝেও পরিলক্ষিত হয় না। যারা তাদের অবস্থা সম্পর্কে অবগত তারা সকলেই বিষয়টি জানেন। সুতরাং এই শয়তানি বিদআতের (بدعة) প্রতি লক্ষ্য করুন যা এই সম্মানিত মিল্লাতের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করেছে এবং তাদের এমন এক অবস্থায় উপনীত করেছে যা...

(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল মুফীদ ফী আদিল্লাতিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ (পৃষ্ঠা: ৪০)
يرَاهُ من التباين والتقاطع والتخالف فَلَو لم يكن من شُؤْم هَذِه التقليدات والمذاهب المبتدعات إِلَّا مُجَرّد هَذِه الْفرْقَة بَين أهل الْإِسْلَام مَعَ كَونهم أهل مِلَّة وَاحِدَة وَنَبِي وَاحِد وَكتاب وَاحِد لَكَانَ ذَلِك كَافِيا فِي كَونهَا غير جَائِزَة فَإِن النَّبِي صلى الله عليه وسلم كَانَ ينْهَى عَن الْفرْقَة ويرشد إِلَى الِاجْتِمَاع ويذم المتفرقين فِي الدّين حَتَّى أَنه قَالَ فِي تِلَاوَة الْقُرْآن وَهُوَ من أعظم الطَّاعَات إِنَّهُم إِذا اخْتلفُوا تركُوا التِّلَاوَة وَأَنَّهُمْ يَتلون مَا دَامَت قُلُوبهم مؤتلفة وَكَذَا ثَبت ذمّ التَّفَرُّق وَالِاخْتِلَاف فِي مَوَاضِع من الْكتاب الْعَزِيز مَعْرُوفَة فَكيف يحل لعالم أَن يَقُول بِجَوَاز التَّقْلِيد الَّذِي كَانَ سَبَب فرقة أهل الْإِسْلَام وانتشار مَا كَانَ عَلَيْهِ من النظام والتقاطع بَين أَهله وَإِن كَانُوا ذَوي أَرْحَام

عاشرا وَقد احْتج بعض أسراء التَّقْلِيد وَمن لم يخرج عَن أَهله وَإِن كَانَ عِنْد نَفسه قد خرج مِنْهُ بِالْإِجْمَاع على جَوَازه وَهَذِه دَعْوَى لَا تصدر من ذِي قدم راسخة فِي علم الشَّرِيعَة بل لَا تصدر من عَارِف بأقوال أهل الْعلم بل لَا تصدر من عَارِف بأقوال أَئِمَّة أهل الْمذَاهب الْأَرْبَعَة فَإِنَّهُ قد صَحَّ عَنْهُم الْمَنْع من التَّقْلِيد
ব্যক্তি সেখানে যে বৈসাদৃশ্য, বিচ্ছেদ ও বিরোধিতা দেখতে পায়; সুতরাং এই অন্ধ অনুকরণ (تقليد) এবং নব উদ্ভাবিত মাজহাবসমূহের অশুভ পরিণতি হিসেবে যদি কেবল মুসলমানদের মধ্যবর্তী এই বিভক্তিই (فرقة) পরিলক্ষিত হতো—যেখানে তারা একই ধর্মাদর্শ, একই নবী ও একই কিতাবের অনুসারী—তবে তা এর অবৈধতার জন্য যথেষ্ট হতো। কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিভক্তি (فرقة) থেকে নিষেধ করতেন এবং ঐক্যের প্রতি নির্দেশ দিতেন। তিনি দ্বীনের মধ্যে বিভেদকারীদের নিন্দা করতেন, এমনকি তিনি ইবাদতসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের ক্ষেত্রেও বলেছেন যে, তারা যখন মতবিরোধে লিপ্ত হয় তখন যেন তিলাওয়াত ছেড়ে দেয়, আর যতক্ষণ তাদের অন্তরসমূহ সুসংহত থাকে ততক্ষণ যেন তারা তিলাওয়াত করে। একইভাবে মহাগ্রন্থের সুপরিচিত বিভিন্ন স্থানে বিভক্তি ও মতবিরোধের নিন্দা প্রমাণিত হয়েছে। এমতাবস্থায় একজন আলেমের পক্ষে কীভাবে সেই অন্ধ অনুকরণের (تقليد) বৈধতার কথা বলা সম্ভব, যা মুসলিম উম্মাহর বিভক্তির (فرقة) কারণ হয়েছে এবং তাদের সুশৃঙ্খল অবস্থাকে ধ্বংস করে আত্মীয়তার বন্ধন থাকা সত্ত্বেও পরস্পরের মাঝে বিচ্ছেদ সৃষ্টি করেছে?

দশম: অন্ধ অনুকরণের (تقليد) কিছু বন্দি এবং যারা এর গণ্ডি থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি—যদিও তারা মনে করে যে তারা বেরিয়ে এসেছে—তারা এর বৈধতার স্বপক্ষে সর্বসম্মত ঐকমত্য (إجماع) এর দলিল পেশ করেছে। অথচ এটি এমন এক দাবি যা শরয়ি ইলমে সুগভীর পাণ্ডিত্যের অধিকারী কোনো ব্যক্তি থেকে প্রকাশ পেতে পারে না; বরং এটি আহলে ইলমদের মতামতের সাথে পরিচিত কোনো ব্যক্তি থেকে, এমনকি চার মাজহাবের ইমামগণের বক্তব্য সম্পর্কে সম্যক অবগত কারো থেকেও প্রকাশ পেতে পারে না। কারণ তাঁদের পক্ষ থেকে অন্ধ অনুকরণ (تقليد) নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি বিশুদ্ধভাবে (صح) প্রমাণিত।
(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল মুফীদ ফী আদিল্লাতিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ (পৃষ্ঠা: ৪১)
‌‌أَقْوَال الْعلمَاء فِي النَّهْي عَن التَّقْلِيد

 

قَالَ ابْن عبد الْبر أَنه لَا خلاف بَين أَئِمَّة أهل الْأَعْصَار فِي فَسَاد التَّقْلِيد وَأورد فصلا طَويلا فِي محاججه من قَالَ بالتقليد وإلزامه بطلَان مَا يزعمه من جَوَازه فَقَالَ يُقَال لمن قَالَ بالتقليد لم قلت بِهِ وخالفت السّلف فِي ذَلِك بِهِ فَإِنَّهُم لم يقلدوا فَإِن قلت قلدت لِأَن كتاب الله تَعَالَى لَا علم لي بتأويله وَسنة رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لم أحصها وَالَّذِي قد قلدته قد علم ذَلِك فقلدت من هُوَ أعلم مني قيل لَهُ أما الْعلمَاء إِذا أَجمعُوا على شَيْء من تَأْوِيل كتاب الله أَو حِكَايَة لسنة رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَو اجْتمع رَأْيهمْ على شَيْء فَهُوَ الْحق لَا شكّ فِيهِ وَلَكِن قد اخْتلفُوا فِيمَا قلدت فِيهِ بَعضهم دون بعض فَمَا حجتك فِي تَقْلِيد بعض دون بعض وَكلهمْ عَالم وَلَعَلَّ الَّذِي رغبت عَن قَوْله أعلم من الَّذِي ذهبت إِلَى مذْهبه فَإِن قَالَ قلدته لِأَنِّي علمت أَنه صَوَاب قلت لَهُ علمت ذَلِك بِدَلِيل من كتاب أَو سنة أَو إِجْمَاع فَإِن قَالَ نعم فقد أبطل التَّقْلِيد وطولب بِمَا ادَّعَاهُ من
অন্ধ অনুসরণ (تقليد) নিষিদ্ধ হওয়া প্রসঙ্গে আলেমদের অভিমত

 

ইবনে আব্দুল বার উল্লেখ করেছেন যে, অন্ধ অনুসরণ (تقليد)-এর অসারতার বিষয়ে সকল যুগের ইমামদের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই। যারা অন্ধ অনুসরণ (تقليد)-এর প্রবক্তা, তাদের সাথে বিতর্ক এবং এর বৈধতা সংক্রান্ত তাদের দাবির অসারতা প্রমাণ করতে গিয়ে তিনি একটি দীর্ঘ অধ্যায় অবতারণা করেছেন। তিনি বলেন: যে ব্যক্তি অন্ধ অনুসরণ (تقليد)-এর প্রবক্তা, তাকে বলা হবে—কেন আপনি এটি গ্রহণ করলেন এবং এ বিষয়ে পূর্বসূরিদের (سلف) বিরোধিতা করলেন? অথচ তাঁরা তো অন্ধ অনুসরণ (تقليد) করেননি। আপনি যদি বলেন, 'আমি অন্ধ অনুসরণ (تقليد) করেছি কারণ আল্লাহর কিতাবের ব্যাখ্যা (تأويل) সম্পর্কে আমার জ্ঞান নেই এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ (سنة) আমি আয়ত্ত করতে পারিনি; আর আমি যার অন্ধ অনুসরণ (تقليد) করেছি তিনি এই বিষয়গুলো জানেন, তাই আমি আমার চেয়ে অধিকতর জ্ঞানীর অনুসরণ করেছি'—তবে তাকে বলা হবে: আলেমগণ যখন আল্লাহর কিতাবের কোনো ব্যাখ্যা (تأويل) অথবা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ (سنة) বর্ণনার ক্ষেত্রে ঐক্যমতে (إجماع) পৌঁছান অথবা কোনো বিষয়ে তাঁদের রায় এক হয়, তবে নিসন্দেহে সেটিই সত্য। কিন্তু আপনি যে বিষয়ে কয়েকজনের অন্ধ অনুসরণ (تقليد) করেছেন, সেখানে তো তাঁরা মতভেদ করেছেন। এমতাবস্থায় সবাই আলেম হওয়া সত্ত্বেও কেন আপনি কয়েকজনকে গ্রহণ করলেন আর অন্যদের বর্জন করলেন—এ বিষয়ে আপনার দলিল (حجة) কী? সম্ভবত আপনি যার বক্তব্য বর্জন করেছেন, তিনি আপনার অনুসৃত মাযহাব (مذهب)-এর ইমামের চেয়েও অধিক জ্ঞানী। যদি তিনি বলেন, 'আমি তাঁর অন্ধ অনুসরণ (تقليد) করেছি কারণ আমি জানি যে সেটি সঠিক (صواب)'—তবে তাকে বলা হবে: আপনি কি কিতাব, সুন্নাহ (سنة) অথবা ঐক্যমত (إجماع)-এর কোনো প্রমাণ (دليل) দ্বারা তা জানতে পেরেছেন? যদি তিনি বলেন 'হ্যাঁ', তবে তিনি অন্ধ অনুসরণ (تقليد)-কে নিজেই বাতিল করে দিলেন এবং তিনি যা দাবি করেছেন সে বিষয়ে তাকে প্রমাণের সম্মুখীন করা হবে।
(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল মুফীদ ফী আদিল্লাতিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ (পৃষ্ঠা: ৪২)
الدَّلِيل وَإِن قَالَ قلدته لِأَنَّهُ أعلم مني قيل لَهُ فقلدت كل من هُوَ أعلم مِنْك فَإنَّك تَجِد من ذَلِك خلقا كثيرا وَلَا تخص من قلدته إِذْ علمك فِيهِ أَنه أعلم مِنْك فَإِن قَالَ قلدته لِأَنَّهُ أعلم النَّاس قيل لَهُ فَهُوَ إِذا أعلم من الصَّحَابَة وَكفى بقوله مثل هَذَا قبحا اه مَا أردْت نَقله من كَلَامه وَهُوَ طَوِيل وَقد حكى فِي أَدِلَّة الْإِجْمَاع على فَسَاد التَّقْلِيد فَدخل فِيهِ الْأَئِمَّة الْأَرْبَعَة دُخُولا أوليا

وَحكى ابْن الْقيم عَن أبي حنيفَة وَأبي يُوسُف أَنَّهُمَا قَالَا لَا يحل لأحد أَن يَقُول بقولنَا حَتَّى يعلم من أَيْن قُلْنَاهُ وَهَذَا هُوَ تَصْرِيح بِمَنْع التَّقْلِيد لِأَن من علم بِالدَّلِيلِ فَهُوَ مُجْتَهد مطَالب بِالْحجَّةِ لَا مقلد فَإِنَّهُ الَّذِي يقبل القَوْل وَلَا يُطَالب بِحجَّة وَحكى ابْن عبد الْبر أَيْضا عَن معن بن عِيسَى بِإِسْنَاد مُتَّصِل بِهِ قَالَ سَمِعت مَالِكًا يَقُول إِنَّمَا أَنا بشر أخطئ وَأُصِيب فانظروا فِي رَأْيِي فَكل مَا وَافق الْكتاب وَالسّنة فَخُذُوهُ وكل مَا لم يُوَافق الْكتاب وَالسّنة فاتركوه

وَلَا يخفى عَلَيْك أَن هَذَا تَصْرِيح مِنْهُ بِالْمَنْعِ من تَقْلِيده لِأَن الْعَمَل بِمَا وَافق الْكتاب وَالسّنة من كَلَامه هُوَ عمل بِالْكتاب وَالسّنة وَلَيْسَ بمنسوب إِلَيْهِ وَقد أَمر أَتْبَاعه بترك مَا كَانَ من رَأْيه غير مُوَافق للْكتاب وَالسّنة وَقَالَ سَنَد بن عنان الْمَالِكِي فِي شَرحه على مدونة سَحْنُون
প্রমাণ (الدليل)। যদি তিনি বলেন, ‘আমি তাকে অন্ধ অনুসরণ (تقليد) করেছি কারণ তিনি আমার চেয়ে অধিক জ্ঞানী’, তবে তাকে বলা হবে, ‘তবে কি আপনি আপনার চেয়ে অধিক জ্ঞানী প্রত্যেক ব্যক্তিকেই অন্ধ অনুসরণ (تقليد) করবেন? কারণ আপনি এমন অসংখ্য মানুষ পাবেন। আর আপনি যাকে অন্ধ অনুসরণ (تقليد) করেছেন তাকেই কেন নির্দিষ্ট করলেন, অথচ আপনার জানামতে তিনিও কেবল আপনার চেয়ে অধিক জ্ঞানী?’ যদি তিনি বলেন, ‘আমি তাকে অন্ধ অনুসরণ (تقليد) করেছি কারণ তিনি মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ জ্ঞানী’, তবে তাকে বলা হবে, ‘তবে কি তিনি সাহাবীদের (الصحابة) চেয়েও অধিক জ্ঞানী?’ তার পক্ষ থেকে এই ধরনের উক্তি কদর্যতার জন্য যথেষ্ট। তার বক্তব্য থেকে আমি যা উদ্ধৃত করতে চেয়েছিলাম তা এখানেই শেষ হলো, যদিও তা দীর্ঘ। তিনি অন্ধ অনুসরণের (تقليد) অসারতার ওপর ইজমার (الإجماع) প্রমাণসমূহ বর্ণনা করেছেন, যার মধ্যে চার ইমামও প্রাথমিকভাবে অন্তর্ভুক্ত।

ইবনুল কায়্যিম ইমাম আবু হানিফা ও আবু ইউসুফ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁরা উভয়েই বলেছেন: ‘আমরা যেখান থেকে আমাদের মত গ্রহণ করেছি তা না জানা পর্যন্ত আমাদের কোনো কথা গ্রহণ করা কারো জন্য বৈধ নয়।’ এটি অন্ধ অনুসরণ (تقليد) নিষিদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে একটি সুস্পষ্ট বক্তব্য। কারণ যে ব্যক্তি দলিলের (الدليل) মাধ্যমে কোনো বিষয় জানে, সে হলো একজন মুজতাহিদ (مجتهد) যার কাছে প্রমাণ (الحجة) তলব করা হয়; সে মুকাল্লিদ (مقلد) নয়। কেননা মুকাল্লিদ (مقلد) হলো সেই ব্যক্তি যে কোনো প্রমাণ (الحجة) তলব ছাড়াই কথা গ্রহণ করে। ইবনে আব্দুল বার মা’ন ইবনে ঈসা থেকে একটি নিরবচ্ছিন্ন সনদ (إسناد متصل) সহকারে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: আমি মালেককে বলতে শুনেছি, ‘আমি তো কেবল একজন মানুষ; ভুলও করি আবার সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হই। তাই তোমরা আমার মতের বিচার-বিশ্লেষণ করো। যা কিছু কুরআন ও সুন্নাহর অনুকূল হবে তা গ্রহণ করো, আর যা কিছু কুরআন ও সুন্নাহর অনুকূল হবে না তা বর্জন করো।’

আপনার কাছে এটি অস্পষ্ট নয় যে, এটি তার পক্ষ থেকে তাকে অন্ধ অনুসরণ (تقليد) করার ব্যাপারে একটি সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা। কারণ তার বক্তব্য থেকে যা কুরআন ও সুন্নাহর অনুকূল তার ওপর আমল করা মূলত কুরআন ও সুন্নাহর ওপরই আমল করা এবং তা তার দিকে সম্বন্ধযুক্ত হবে না। তিনি তার অনুসারীদেরকে কুরআন ও সুন্নাহর পরিপন্থী মতসমূহ বর্জন করার নির্দেশ দিয়েছেন। সানাদ বিন আনান আল-মালিকি সাহনুনের মুদাওওয়ানার ব্যাখ্যাগ্রন্থে বলেছেন—
(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল মুফীদ ফী আদিল্লাতিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ (পৃষ্ঠা: ৪৩)
الْمَعْرُوفَة بِالْأُمِّ مَا لَفظه أما مُجَرّد الِاقْتِصَار على مَحْض التَّقْلِيد فَلَا يرضى بِهِ رجل رشيد وَقَالَ أَيْضا نفس الْمُقَلّد لَيْسَ على بَصِيرَة وَلَا يَتَّصِف من الْعلم بِحَقِيقَة إِذْ لَيْسَ التَّقْلِيد بطرِيق إِلَى الْعلم بوفاق أهل الرفاق وَإِن توزعنا فِي ذَلِك أبدينا برهانه فَنَقُول قَالَ الله تَعَالَى {فاحكم بَين النَّاس بِالْحَقِّ} وَقَالَ {فِيمَا آتاك الله} وَقَالَ {وَلَا تقف مَا لَيْسَ لَك بِهِ علم} وَقَالَ {وَأَن تَقولُوا على الله مَا لَا تعلمُونَ} وَمَعْلُوم أَن الْعلم هُوَ معرفَة الْمَعْلُوم على مَا هُوَ بِهِ فَنَقُول للمقلد إِذا اخْتلفت الْأَقْوَال وتشعبت من أَيْن تعلم صِحَة قَول من قلدته دون غَيره أَو صِحَة قربَة على قربَة أُخْرَى وَلَا يبدر كلَاما فِي ذَلِك إِلَّا انعكس عَلَيْهِ فِي نقيضه سِيمَا إِذا عرض لَهُ ذَلِك فِي مزية لإِمَام مذْهبه الَّذِي قَلّدهُ أَو قربه يُخَالِفهَا لبَعض أَئِمَّة الصَّحَابَة إِلَى أَن قَالَ أما التَّقْلِيد فَهُوَ قبُول قَول الْغَيْر من غير حجَّة فَمن أَيْن يحصل بِهِ علم وَلَيْسَ لَهُ مُسْتَند إِلَى قطع وَهُوَ أَيْضا فِي نَفسه بِدعَة محدثة لأَنا نعلم بِالْقطعِ أَن الصَّحَابَة رضوَان الله عَلَيْهِم لم يكن فِي زمانهم وعصرهم مَذْهَب لرجل معِين يدْرك ويقلد وَإِنَّمَا كَانُوا يرجعُونَ فِي النَّوَازِل إِلَى الْكتاب وَالسّنة أَو إِلَى مَا يتمحض بَينهم من النّظر عِنْد فقد الدَّلِيل وَكَذَلِكَ تابعوهم أَيْضا يرجعُونَ إِلَى الْكتاب وَالسّنة فَإِن لم يَجدوا نظرُوا إِلَى مَا

আল-উম্ম হিসেবে প্রসিদ্ধ কিতাবে বর্ণিত ভাষ্যটি হলো: কেবল নিছক অন্ধ অনুকরণের (تقليد) ওপর সীমাবদ্ধ থাকাতে কোনো বিবেকবান মানুষ সন্তুষ্ট হতে পারেন না। তিনি আরও বলেছেন, অনুকরণকারীর (مقلد) নিজস্ব কোনো অন্তর্দৃষ্টি (بصيرة) থাকে না এবং সে প্রকৃত জ্ঞানের অধিকারী হিসেবেও গণ্য হয় না; কেননা উলামায়ে কেরামের ঐকমত্য অনুযায়ী অনুকরণ (تقليد) জ্ঞান অর্জনের কোনো পথ নয়। এ বিষয়ে যদি আমাদের মাঝে কোনো দ্বিমত তৈরি হয়, তবে আমরা তার প্রমাণ পেশ করব। আমরা বলি, আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: "তুমি মানুষের মাঝে সত্যের মাধ্যমে বিচার করো।" তিনি আরও বলেছেন: "তোমাকে আল্লাহ যা প্রদান করেছেন (তার মাধ্যমে)।" আরও ইরশাদ হয়েছে: "যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই, তার অনুসরণ করো না।" এবং আল্লাহ আরও বলেন: "এবং যেন তোমরা আল্লাহর ওপর এমন কথা না বলো যা তোমরা জানো না।"

এটা সর্বজনবিদিত যে, জ্ঞান (علم) হলো কোনো বিষয়কে তার প্রকৃত বাস্তবতায় অনুধাবন করা। সুতরাং আমরা অনুকরণকারীকে (مقلদ) জিজ্ঞাসা করব—যখন বিভিন্ন মতামত প্রকাশ পায় এবং বহু ধারায় বিভক্ত হয়, তখন আপনি কীভাবে জানলেন যে আপনার অনুকরণকৃত (مقلদ) ব্যক্তির কথাটিই সঠিক, অন্যেরটি নয়? অথবা কেন একটি আমল অন্যটির চেয়ে অধিক শ্রেষ্ঠ হবে? এই বিষয়ে সে এমন কোনো কথা বলতে পারবে না যা যৌক্তিকভাবে তার নিজের বিপক্ষেই যাবে না; বিশেষ করে যদি বিষয়টি তার অনুকরণকৃত (مقلদ) ইমামের কোনো বিশেষত্বের ক্ষেত্রে হয়, অথবা এমন কোনো আমলের ক্ষেত্রে হয় যা কোনো সাহাবীর আমলের পরিপন্থী।

তিনি আরও বলেন, অনুকরণ (تقليد) হলো দলিল বা প্রমাণ (حجة) ব্যতীত অন্যের কথা গ্রহণ করে নেওয়া। সুতরাং এর মাধ্যমে কীভাবে জ্ঞান অর্জিত হতে পারে, অথচ এর কোনো অকাট্য (قطع) ভিত্তি নেই? উপরন্তু এটি স্বয়ং একটি নব-উদ্ভাবিত বিদআত (بدعة); কেননা আমরা অকাট্যভাবে (قطع) জানি যে, সাহাবায়ে কেরাম (রা.)-এর যুগে নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির এমন কোনো মাযহাব ছিল না যা অনুসরণ বা অনুকরণ (تقليد) করা হতো। বরং তাঁরা নতুন কোনো উদ্ভূত সমস্যার (نوازل) ক্ষেত্রে কুরআন ও সুন্নাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করতেন, অথবা দলিল না পাওয়া গেলে তাঁদের মধ্যকার গভীর গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্তের (نظر) ওপর নির্ভর করতেন। একইভাবে তাবেয়ীগণও কুরআন ও সুন্নাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করতেন। যদি সেখানে তাঁরা সমাধান না পেতেন, তবে তাঁরা দৃষ্টি দিতেন...

(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল মুফীদ ফী আদিল্লাতিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ (পৃষ্ঠা: ৪৪)
أجمع عَلَيْهِ الصَّحَابَة فَإِن لم يَجدوا اجتهدوا وَاخْتَارَ بَعضهم قَول صَحَابِيّ فَرَآهُ الْأَقْوَى فِي دين الله تَعَالَى ثمَّ كَانَ الْقرن الثَّالِث وَفِيه كَانَ أَبُو حنيفَة وَمَالك وَالشَّافِعِيّ وَابْن حَنْبَل فَإِن مَالِكًا توفّي سنة تسع وَسبعين وَمِائَة وَتُوفِّي أَبُو حنيفَة سنة خمسين وَمِائَة وَفِي هَذِه السّنة ولد الإِمَام الشَّافِعِي وَولد ابْن حَنْبَل سنة أَربع وَسِتِّينَ وَمِائَة وَكَانُوا على منهاج من مضى لم يكن فِي عصرهم مَذْهَب رجل معِين يتدارسونه وعَلى قريب مِنْهُم كَانَ ابتداعهم فكم من قَوْله لمَالِك ونظرائه خَالفه فِيهَا أَصْحَابه وَلَو نقلنا ذَلِك لخرجنا عَن مَقْصُود ذَلِك الْكتاب مَا ذَاك إِلَّا لجمعهم آلَات الِاجْتِهَاد وقدرتهم على ضروب الاستنباطات وَلَقَد صدق الله نبيه فِي قَوْله خير الْقُرُون قَرْني ثمَّ الَّذين يَلُونَهُمْ ثمَّ الَّذين يَلُونَهُمْ ذكر بعد قرنه قرنين والْحَدِيث فِي صَحِيح البُخَارِيّ

فالعجب من أهل التَّقْلِيد كَيفَ يَقُولُونَ هَذَا هُوَ الْأَمر الْقَدِيم وَعَلِيهِ أدركنا الشُّيُوخ وَهُوَ إِنَّمَا حدث بعد مِائَتي سنة من الْهِجْرَة وَبعد فنَاء الْقُرُون الَّذين أثنى عَلَيْهِم الرَّسُول صلى الله عليه وسلم أه

وَقد عرفت بِهَذَا أَن التَّقْلِيد لم يحدث إِلَّا بعد انْقِرَاض
সাহাবায়ে কেরাম (الصحابة) সেটির ওপর ঐকমত্য পোষণ করতেন। যদি তারা কোনো সমাধান না পেতেন, তবে তারা ইজতিহাদ (اجتهدوا) করতেন এবং তাঁদের কেউ কোনো সাহাবী (صحابي)-র বক্তব্য বেছে নিতেন, যাকে তিনি আল্লাহর দ্বীনের ক্ষেত্রে অধিক শক্তিশালী মনে করতেন। অতঃপর তৃতীয় শতাব্দী এল, যাতে ছিলেন আবু হানিফা, মালিক, শাফেয়ী এবং ইবনে হাম্বল। ইমাম মালিক ১৭৯ হিজরিতে এবং আবু হানিফা ১৫০ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। এই বছরেই ইমাম শাফেয়ী জন্মগ্রহণ করেন এবং ইবনে হাম্বল ১৬৪ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁরা পূর্বসূরিদের পদ্ধতির ওপর অটল ছিলেন; তাঁদের যুগে নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির মাযহাব (مذهب) ছিল না যা তাঁরা অধ্যয়ন করতেন। তবে তাঁদের কাছাকাছি সময়েই এর উদ্ভাবন ঘটে। ইমাম মালিক ও তাঁর সমসাময়িকদের এমন অনেক বক্তব্য রয়েছে যাতে তাঁদের অনুসারীগণ (أصحابه) তাঁর বিরোধিতা করেছেন। আমরা যদি সেসব বর্ণনা করি তবে এই কিতাবের মূল উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত হব। এর কারণ ছিল কেবল এটাই যে, তাঁরা ইজতিহাদের (الاجتهاد) উপকরণসমূহ অর্জন করেছিলেন এবং বিভিন্ন প্রকারের মাসআলা উদ্ভাবনে (الاستنباطات) সক্ষম ছিলেন। আল্লাহ তায়ালা তাঁর নবীকে তাঁর এই বাণীতে সত্য প্রতিপন্ন করেছেন: "সর্বোত্তম যুগ হলো আমার যুগ, অতঃপর যারা তাদের পরবর্তী, অতঃপর যারা তাদের পরবর্তী।" তিনি তাঁর যুগের পর আরও দুটি যুগের কথা উল্লেখ করেছেন। এই হাদিসটি সহীহ বুখারীতে বর্ণিত হয়েছে।

তাকলীদের (التقليد) অনুসারীদের জন্য বিস্ময় যে, তারা কীভাবে বলে "এটিই হলো প্রাচীন প্রথা এবং এভাবেই আমরা আমাদের শায়খদের (الشيوخ) পেয়েছি"! অথচ এটি হিজরতের দুইশ বছর পর এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাদের প্রশংসা করেছেন সেই শতাব্দীগুলোর অবসানের পরই উদ্ভূত হয়েছে। (সমাপ্ত)।

এর দ্বারা আপনি জানতে পারলেন যে, তাকলীদ (التقليد) কেবল সেই প্রজন্মের বিলুপ্তির পরেই উদ্ভূত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল মুফীদ ফী আদিল্লাতিল ইজতিহাদি ওয়াত তাকলীদ (পৃষ্ঠা: ৪৫)
خير الْقُرُون ثمَّ الَّذين يَلُونَهُمْ وَإِن حُدُوث التمذهب بمذاهب الْأَئِمَّة الْأَرْبَعَة إِنَّمَا كَانَ بعد انْقِرَاض الْأَئِمَّة الْأَرْبَعَة وَإِنَّهُم كَانُوا على نمط من تقدمهم من السّلف فِي هجر التَّقْلِيد وَعدم الِاعْتِدَاد بِهِ وَإِن هَذِه الْمذَاهب إِنَّمَا أحدثها عوام المقلدة لأَنْفُسِهِمْ من دون أَن يَأْذَن بهَا إِمَام من الْأَئِمَّة الْمُجْتَهدين وَقد تَوَاتَرَتْ الرِّوَايَة عَن الإِمَام مَالك أَنه قَالَ لَهُ الرشيد أَنه يُرِيد أَن يحمل النَّاس على مذْهبه فَنَهَاهُ عَن ذَلِك وَهَذَا مَوْجُود فِي كل كتاب فِيهِ تَرْجَمَة الإِمَام مَالك وَلَا يَخْلُو من ذَلِك إِلَّا النَّادِر وَإِذا تقرر أَن الْمُحدث لهَذِهِ الْمذَاهب والمبتدع لهَذِهِ التقليدات هم جملَة المقلدة فَقَط فقد عرفت مِمَّا تقرر فِي الْأُصُول أَنه لَا اعْتِدَاد بهم فِي الْإِجْمَاع وَإِن الْمُعْتَبر فِي الْإِجْمَاع إِنَّمَا هم المجتهدون وَحِينَئِذٍ لم يقل بِهَذِهِ التقليدات عَالم من الْعلمَاء الْمُجْتَهدين أما قبل حدوثها فَظَاهر وَأما بعد حدوثها فَمَا سمعنَا عَن مُجْتَهد من الْمُجْتَهدين أَنه يسوغ صَنِيع هَؤُلَاءِ المقلدة الَّذين فرقوا دين الله وخالفوا بَين الْمُسلمين بل أكَابِر الْعلمَاء مُنكر لَهَا

শ্রেষ্ঠ যুগসমূহ, তারপর যারা তাদের অনুগামী—নিশ্চয়ই চার ইমামের মাযহাব অনুসরণের এই নবউদ্ভাবিত ধারাটি চার ইমামের তিরোধানের পরেই সূচিত হয়েছে। আর তাঁরা (ইমামগণ) তাঁদের পূর্বসূরি (السلف) পুণ্যবানদের পথেই অটল ছিলেন, যা ছিল অন্ধ অনুসরণ (التقليد) বর্জন করা এবং একে কোনো গুরুত্ব না দেওয়া। মূলত এই মাযহাবসমূহ সাধারণ অনুসারীগণই (المقلدة) নিজেদের জন্য উদ্ভাবন করেছে, অথচ মুজতাহিদ (المجتهدين) ইমামদের কেউ এর অনুমতি প্রদান করেননি। ইমাম মালিক থেকে অবিচ্ছিন্নভাবে বর্ণিত (تواترت) হয়েছে যে, খলিফা হারুনুর রশীদ যখন তাকে বলেছিলেন যে তিনি সকল মানুষকে ইমাম মালিকের মাযহাব গ্রহণে বাধ্য করতে চান, তখন ইমাম মালিক তাকে তা করতে নিষেধ করেছিলেন। ইমাম মালিকের জীবনী (ترجمة) সম্বলিত প্রায় প্রতিটি কিতাবেই এই বর্ণনাটি বিদ্যমান, বিরল কিছু ক্ষেত্র ব্যতীত এটি কোথাও বাদ পড়েনি। যখন এটি প্রতিষ্ঠিত হলো যে, এই মাযহাবসমূহ এবং এই অন্ধ অনুসরণের (التقليدات) উদ্ভাবক ও প্রবর্তক কেবল একদল অনুসারী মাত্র, তখন উসুল (الأصول) বা মূলনীতিশাস্ত্রে যা স্থির হয়েছে তা থেকে আপনি অবগত হয়েছেন যে, ঐক্যমত্যের (الإجماع) ক্ষেত্রে তাদের কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। কেননা ঐক্যমত্যের (الإجماع) ক্ষেত্রে কেবল মুজতাহিদগণই (المجتهدون) গণ্য হন। এমতাবস্থায়, মুজতাহিদ (المجتهدين) আলেমদের মধ্য থেকে কেউই এই অন্ধ অনুকরণের (التقليدات) কথা বলেননি। এগুলোর উদ্ভবের পূর্বের বিষয়টি তো সুস্পষ্ট; আর এগুলোর উদ্ভবের পরেও আমরা কোনো মুজতাহিদের (مجتهد) পক্ষ থেকে এমনটি শুনিনি যে, তিনি এই অনুসারীদের (المقلدة) কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দিয়েছেন—যারা আল্লাহর দ্বীনকে বিভক্ত করেছে এবং মুসলিমদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছে; বরং শ্রেষ্ঠ আলেমগণ এর ঘোর বিরোধী।